Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Arati
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
আরতি
শ্রীনলিনী মােহন শাস্ত্রী
৪
এন, এম, রায় চৌধুরী এন্ড কোং
১১, কলেজ স্কোয়ার
কলিকাতা।
প্রকাশক এন, এম, রায় চৌধুরী.প্রাপ্রাইটর
এন, এম, রায় চৌধুরী এণ্ড কোং
১১, কলেজ স্কোয়ার, কলিকাতা।
প্রিন্টার-নারায়ণ চন্দ্র দাস
দি বেঙ্গল ইকনমিক্যাল প্রিন্টিং ওয়ার্কস
১২, ক্লাইভ ষ্ট্ৰীট, কলিকাতা।
যে মােরে সর্বস্ব দেছে, তারে দিতে তুচ্ছ এই দান
সরমে মরমে মরি ; তবু দিতে হবে প্রতিদান ;
ভাষায় রচেছি রাজ্য হৃদয় মথিয়া তুলি বাণী
সে সাম্রাজ্যে, হে কল্যাণি, তােমারেই করে দিনু রাণী।
No text on this page.
ভূমিকা
এই কবিতাসঞ্চয়খানির কিছু বিশেষত্ব আছে, তাই এই
পরিচয়পত্র।
এ কবি নবীন নন যদিও এই হ’ল তার প্রথম প্রকাশিত
গ্রন্থ। কবিতা তিনি পঁচিশ বছরের ওপর ধ'রে লিখে আসছেন
তবে তা তিনি প্রকাশ করেননি। এটা প্রতিকূল সমালােচনার
ভয় হেতু যে নয় তাঁর কবিক্ষমতাই তার পরিচয়। কবিতা
তিনি তার নিজের খেয়ালেই লিখে যেতেন কোন দিন প্রকাশ
করবেন এ চিন্তা তার মনে জাগত না। যে কবিতার প্রেরণা
যশের আকাঙ্ক্ষায় নয়, নিছক মনের আবেগে তার দাম
কতখানি, পাঠক বিবেচনা করবেন।
আমাদের সকলের একান্ত ইচ্ছায়ই তার এই কাব্য
সঞ্চয় আজ প্রকাশ করবার অনুমতি পেয়েছি। কবিতা
নির্বাচনের ভার এবং সাজানর ভার সম্পূর্ণ আমার ওপর ছিল।
কবিতাগুলি নানা বয়সের লেখা হলেও বিষয় অনুসারে তা
সাজান হয়েছে। কবিতাগুলি তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত।
দ্বিতীয় হ’তে সপ্তদশ সংখ্যক কবিতার বিষয় দেবতা, অষ্টাদশ
হ’তে উনত্রিংশ সংখ্যক কবিতার বিষয় নারী এবং ত্রিংশ হ'তে
শেষ পর্যন্ত বহির্জগত। কবির মনকে বাহিরের জিনিষ তিন
ভাবে প্রেরণা দিয়েছে—এক দেবতা ভাবে, দুই প্রিয়জন ভাবে
ও তিন সাধারণ বস্তু ভাবে। এই তিন জাতীয় প্রেরণাকে
ভিত্তি করে কাব্যসঞ্চয়টীকে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া
শ্রীহিরণয় বন্দ্যোপাধ্যায়
১লা অগ্রহায়ণ, ১৩৩৮
শুদ্ধিপত্র। অশুদ্ধ পংক্তি পৃষ্ঠা ৭ ১২ ১৮ বন্দে শিথী দিয়ে বাণি বন্ধে শিখী দিও বাণী ১৪ ৬ খােলা খেলা ২১ রবে দূরে ২৪ বাবদূক কালাের কোলের। ৩৭ ৬ ৩৭। ১১ তান নাহি আত্ম জ্ঞানে তাল নাই আত্মা জানে | 6 0 তােমার সমাস ৬২ ৭ মাথে মাতা ১৩ ৭১ ১৯ কোকে ১১৪ ১৩
No text on this page.
আরতি
মুক্তি।
*
বন্ধ ছিলে খাতার পাতায়
অন্ধকারের অন্ধকারায়
আজ তােমাদের মুক্তি দিলেম
হাজার লােকের চোখের তারায় !
যেই আনন্দ বেদনাতে
বেরিয়েছিলে শারদ প্রাতে
আজ শিশিরের ঝরাপাতে
কাঁপন যেন না তার হারায়
আরতি
কোন চোখে যে ঝরূবে বারি-
কোন চোখে বা ফুটবে হাসি—
কোন চোখে বা জাগবে বিরাগ—
আজ মিছে সে ভাবনা রাশি ;
পাখী সেত আপনি ডাকে
সুর দিয়ে তার বেদনাকে
কার তারিফের আশায় থাকে ?
তান ছুটে তার তারায় তারায় !
অন্ধদিনের বন্ধুরা মাের,
দুঃখে সুখে মৌনী সাথী,
এ বন্ধুরে দিলেম ছাড়ি
আপন তানে যাওহে মাতি'-
নদী যেমন আপন বেগে
গুহার আঁধার স্বপ্নে জেগে
কোন পাগলের পরশ লেগে
বেরিয়ে পড়ে লক্ষ ধারায় !
আরতি।
ত
আমার দেবতা তুমি
আম্রমুকুল গন্ধে
কবির গীতিকা ছন্দে
রবির আলােকে চন্দ্র কিরণে
মুক্তির মাঝে বন্ধে ;-
দেবতা আমার শত সাধনার চরণ তােমার বন্দে।
তুমি
তুমি
তুমি
তুমি
সিন্ধু উরমি ভঙ্গে,
তুমি
শিখীর পুচ্ছ রঙ্গে,
তুমি
উষার শিশিরে মলয় সমীরে
নিশার তিমির অঙ্গে;
উৎকটে তুমি, সুন্দরে তুমি,—দূরে তুমি—তুমি সঙ্গে
৪
আরতি
তুমি কোমলতা মাঝে চণ্ড,
তুমি
ক্ষমার ভিতরে দণ্ড,
তুমি
শত সাফল্যে পণ্ড;
এস এ হৃদয়ে করুণ কঠোর পূর্ণ অথচ খণ্ড
মৌনীর মাঝে মহাপ্রগন্ত
তুমি
বকুল মালতী কুঞ্জে,
তুমি
কোকিল ভ্রমর গুঞ্জে,
তুমি মধুর নূপুরশিঞ্জনে,তুমি—
শারদ জলদ পুঞ্জে ;
তব প্রেম সুধা নিখিল বিশ্বে অবিশেষে সবে ভুঞ্জে
তুমি প্রলয়ের ঘাের শঙ্খে,
তুমি বজ্রের মহাতঙ্কে,
তুমি
শরতের নীল নিৰ্ম্মল নভে,
বরষার তুমি পঙ্কে ;
তুমি দাও ভয়, ভয়ে দয়াময় তুমি তুলে লও অঙ্কে
আরতি।
মুনি
পায়নি তােমারে জল্পে,
তুমি
প্রথিত তথাপি গল্পে,
তুমি
অনাদি অসীম
তবু
পরিমিত
আপন রচিত কল্পে ;-
ভূমা তুমি রহ অণিমার মাঝে, উচিতে অধিকে অল্পে।
তুমি
সবার ভিতরে সৰ্ব্ব,
তুমি দুৰ্বল জন গৰ্ব্ব,
তুমি শােক রজনীর ক্রন্দন মাঝে,
শুভ আনন্দ পৰ্ব ;
তুমি দাও দেব দেহের দর্প, তুমিই কর তা খৰ্ব্ব
তুমি ভালয় অথচ মন্দে,
তুমি
আলােয় অথচ ধন্দে,
তুমি কালােয় ধবলে মিছে কোলাহলে
কবির গীতিকা ছন্দে ;-
সাধনার ধন মম আরাধন তােমার চরণ বলে ।
৬
আরতি।
সদানন্দ।
শত তানন্দ শত আশঙ্কা
শত অতৃপ্তি মাঝে
সুন্দর তব হৃদয়ানন্দ
বন্দ্য মূরতি রাজে;
ধনী দীন খল সাধু অন্তরে,
সিন্ধু সলিলে, মরু প্রান্তরে,
মন্দিরে, গৃহে, গিরি করে,
তব মন্দিরা বাজে
শত আনন্দ শত আশঙ্কা
শত অতৃপ্তি মাঝে
নব জীবনের প্রথম আলােকে
বিহগ উঠিলে ডাকি
হে-করুণাময়, মরণের ছায়া
মায়ায় রাখিলে ঢাকি
আরতি।
৭
একদা আবার জীবন বলে
মরণ নামিলে করুণ ছন্দে
বাজালে বিষাণ কি মহানন্দে
শিব শঙ্কর সাজে
শত আশঙ্কা শত অতৃপ্তি
শত আৰ্ত্ততা মাঝে!
সিন্ধু মথিয়া গরল উঠিল,
বিশ্ব কপিল ত্রাসে ;
হে নীলকণ্ঠ, সৃষ্টি রাখিতে
সে বিষে পুরিলে গ্রাসে ;
তখনাে তােমার শুভ ওঙ্কার
দিক্ দিগন্তে দিল ঝঙ্কার
বিস্মিত চোখে বিশ্ব পুলকে
শুদ্ধ তােমার কাযে.
শত আত্ততা শত আশঙ্কা
শত ক্রন্দন মাঝে!
আরতি। অশিব যজ্ঞে দক্ষ যেদিন দুঃখ বরণ করে, কাপিল বিশ্ব সতী দেহপাতে তােমার টনক নড়ে ; সতী ফিরে দাও শুধু এই চাই দাড়ালে সভায় ক্ষণকাল তাই- তব আনন্দ কিছু কমে নাই সেদিন ধ্বংস সাঝে শত আৰ্তত শত আশঙ্কা শত ক্রন্দন মাঝে । বিশ্ব বিজয়ী মদন যখন মারিল পুষ্প শর, কামনা বিহীন তােমার দৃষ্টি পড়িল তাহার পর- সন্ন্যাসী তব জ্বলিল নয়ান, চূড়ার চন্দ্রে ভাতিল বয়ান, ভস্মাবশেষ রহিল শয়ান তখন ধূলির মাঝে ; প্রণব ছন্দে কি মহানন্দে তােমার বিষাণ বাজে।
আরতি ৯ যবে সুমন্ত আশ্রম হতে গঙ্গারে করে দূর, অপবাদ ভয়ে নাহি দিল ঠাই মানব অসুর সুর- ধূর্জটি তুমি পাগলের বেশে, নিরপরাধারে তুমি নিলে কেশে, পাষাণও গেল সে করুণায় ভেসে মুছিয়া সকল লাজে শত আশঙ্কা শত অতৃপ্তি শত আনন্দ মাঝে! । চিতার ভস্ম বিভূতি তােমার, বৃষভ বাহন তব,- সঙ্গের সাথী নন্দী ভৃঙ্গী, ওগাে চির অভিনব ।
১০
আরতি।
ধূস্তর ফুলে তৃপ্ত ভিখারী
সব সম্পদ হেলায় নেহারি
সুন্দর হর শ্মশান বিহারী
তােমার মূরতি রাজে
শত আনন্দ শত আশঙ্কা
শত ক্রন্দন মাঝে।
আরতি ।
বন্দনা
হে আমার চির সুন্দর,
হে আমার চির পূজ্য,
এসে ভরি হৃদি কলর
বাজিলে মরণ পূৰ্য্য ;
ইঙ্গিতে বিহগ কুহরে,
নদী চলে লহরে হরে,
মহাদেশে সমীর শিহরে,
ফুটে তারা শশী সূৰ্য্য ;
হে আমার চির সুন্দর,
হে আমার চির পূজ্য।
আরতি
জীবনের কূট পন্থায়
সব চেয়ে ধ্রুব সঙ্গী,
রাজ সাজে রহি কন্থায়
সম তব আঁখি-ভঙ্গী
আলােকে আঁধারে নাই ভেদ,-
দুঃখ দৈন্যে নাই খেদ,-
বাসনার তব সব ছেদ,-
সকল কামনা তুচ্ছ ;
হে আমার চির সুন্দর,
হে আমার চির পূজ্য!
তােমার করুণ। মণ্ডিত
ফুটে বেল যুথি চম্পা ;
সকল মাধুরী খণ্ডিত
পেলে ও অনুকম্পা ;
তব (শাভা লয়ে নভো গায়
রামধন্য তবে শােভা পায়,
তব রূপে তব গরিমায়
সুন্দর শিথী পুচ্ছ ;
হে আমার চির সুন্দর,
হে আমার চির পূজ্য।
আরতি। তব নামে সব গৌরব তুমি নাশ সব শঙ্কা কুসুমের তুমি সৌরভ বিজয়ের জয় ডঙ্কা- তুমি সরলতা জলীয়ের তুমিই দাঢ্য কঠিনের অসীমতা তুমি গগণের জগতের নীতি গুহ্য ; হে আমার চির সুন্দর, হে আমার চির পূজ্য ! সম্পদে তুমি সঙ্কোচ- দুঃখের তুমি শিক্ষা দৈন্যের তুমি সন্তোষ মন্ত্রের তুমি দীক্ষা- জীবনের তুমি নিশ্বাস, ভক্তির তুমি বিশ্বাস, ১৪ আরতি। হতাশার তুমি আশ্বাস, যুক্তির তুমি যােজ্য ; হে আমার চির সুন্দর, হে আমার চির পূজ্য! বিশ্ব তােমার মন্দির- তােমার মহিমা সৰ্ব্ব ;- তােমারে ভুলিয়া বন্দীর হৃদয়ে কতনা গৰ্ব্ব । নিওনা প্রভু সে অপরাধ, দয়া করে দিয়ে দিও বাদ, ব্যথিত চরণে, দীন নাথ, বাজিলে মরণ তূর্য; হে আমার চির সুন্দর হে আমার চির পূজ্য।
আরতি।
ভ্রম।
-
অসীম তােমারে মনে সসীম কল্পনা করি,
নিগুণ সগুণ ভাবি দয়া চাই তব, হরি,
নিজে শত করি পাপ পাই তারি অনুতাপ
দোষারােপ করি তবু নির্বিকার তবােপরি।
তুমি দেব সবজান-তুমিত চেতনা ময়-
মায়িক জগতে মিথ্যা জন্ম মৃত্যু জরাভয় ;-
আজি ভেঙ্গে দাও ভুল
অকূলে মিলাও কূল
নলিন ঝরিয়া যাক তােমার স্বরূপ স্মরি।
ক
১৬ আরতি। কাছে। #ঃ কাছেই তুমি আছ আমার, প্রভু, হাত বাড়াইলেই বাধ আলিঙ্গনে । বাতাস তােমার উষ্ণ শ্বাসের মত গয়ে এসে লাগছে ক্ষণেক্ষণে । স্পন্দ বুকে তােমার চরণ ধ্বনি, তােমার বাণি কঁাকণ রণরণি, তােমার হাসি ঠিকরে মালার মণি তােমার প্রতি আঁখির বরষণ। তবুহে নাথ, এমন মনের ভুল- অন্তরে যা’ বাইরে খুজে মরি, মিলন মাঝে বিরহ গান গাই, কাছে চাহি দূরই বেশী করি ! চোখে কাণে পাওয়াই আমার পুজি- তাইত তােমায় পাইনা সােজাসুজি, ইন্দ্রিয় সব বন্ধ করেই বুঝি দেখব তুমি গাথা প্রাণের সনে !
আরতি। ১৭ মন কাড়া। সেদিন তুমি এমনি ভাবে চেয়েছ, প্রাণের তারে ঝঙ্কারিয়া গেয়েছ, সুরলহরে জোয়ার ডাকে— কুলের বাধা থাকে না থাকে- ফুলিয়া উঠি লক্ষ পাকে ছেয়েছ। সেদিন তুমি এমনি ভাবে চেয়েছ! সেদিন পাখী গেয়েছে বসি বকুলে, বসেছে অলি সরসত- মুকুলে,
১৮
আরতি।
মরাল ছিলে পদ্ম বনে,
কলস লয়ে ঘাটের কোণে
আমারে তুমি অনবধানে
পেয়েছ !
সেদিন তুমি এমনি ভাবে
চেয়েছ।
এমনি করে আমারে লহ
কাড়িয়া
আপন করে কালিমা মলা
ঝাড়িয়া ;
তােমারে হেরি মরমে মরি,
চরণ কিসে বরণ করি ?
পসারি করে ধরিতে বুকে
ধেয়েছ ;
সেদিন তুমি এমনি ভাবে
চেয়েছ।
আরতি। ১৯ আমার সকল কাজে আমার সকল কাজে, প্রভু, আমার সকল কাজে তােমার কর রেখা পড়ে তােমার গতি বাজে। বর্ষা-বাদল ক্ষুব্ধ প্রাণে তােমার বীণা ঝিমিয়ে আনে, জীবন-ফুলের পাতায় তােমার- দখিন হাওয়া নাচে ! কোথাও কিছু তীব্র আঘাত কোথাও ঝিমির ঝিমির কোথাও সােণার আলােক রেখা- কোথাও ঘন তিমির । হউক ভুলে-হউক দুলে- লুকিয়ে কোথাও কোথাও খুলে নামাও নীচে-ধর তুলে উঠা পড়ার মাঝে!
আরতি।
ছুটছি কোথাও, পড়ছি কোথাও,
দাড়িয়ে আছি কোথা,-
ঘুম-জাগরণ-মালা আমার
তােমার বিনাননা তা
অশ্রু আমার তােমার বারি ;
হে মাের রথের রশ্মিধারী,
চালাও সকল যশােমাঝে-
চালাও সকল লাজে !
আমার সকল কাজে, প্রভু,
আমার সকল কাজে।
আরতি। সারথি। সারথি—আমার সারথি, জীবন-দ্বাপরে মহা সংগ্রামে বিমুখ যখন ঘুমাই আরামে জাগাতে আমারে নিয়ত এধামে ঘঘাষিয়াছ তব ভারতী। আমি বুঝি নাই সে গীতাছ- করিয়াছি অবহেলা; পূজার গােষ্ঠে গােপাল সাজায়ে তােমারে করেছি খােলা ; বাজায়েছ মম বিবেক বাঁশরী মনে করে দিতে যে সুর পাশরি, পারিনি চিনিতে চিনি চিনি করি মঙ্গল ওই মূরতি । সারথি-আমার সারথি !
আরতি
আমি ভাবিয়াছি আমারি আদেশে
তুমি চালাইছ রথ,-
ভাবি নাই কোথা হইতে প্রয়াণ
দেখালে পথ ;
সখা ভাবিয়াছি—ভেবেছি ভৃত্য,
সেই অপরাধ ক্ষমেছ নিত্য ;
অর্ঘ্য আশিষে ভরেছ চিত্ত
করিয়া প্রেমের আরতি ।
সারথি—আমার সারথি।
সংযত কর রিপু তুরঙ্গ
জ্ঞানের রশ্মি টানি’;-
করি দাসত্ব-তবু মনে মনে
রথীর গরব মানি।
মহারথি, ভাঙ্গ বৃথা অভিমান,
বন্ধনে কর মুক্তি প্রদান ;
আলেয়ার আলাে ছায়া ভােজবাজী
সকলেরি থােক বিরতি ;
সারথি-আমার সারথি।
আরতি। এসনা কান্ত রূপে। ভৈরব ভীম - এস ধূমকেতু যাহা অযােগ্য ভেঙ্গে চুরে দাও ত্রাসে প্রাণিকুল ঝঞ্চা শিখায় চড়ি’ উল্কা বজ্ৰ ধরি’! কি কাজ তাহার ভিড়ে ? ভাঙিবার মত নীড়ে। তুলুক আৰ্ত্তরব। ক্ষণিকের তরে সব ভগ্ন মাটির স্তুপে ; ভুলুক স্বার্থ চেয়ে চেয়ে নিজ এসনা, দেবতা, কোমল কান্ত রূপে। বহুকাল ধরি’ শিখেছি পরের অলস বিলাসে নবনীর মত আজ ভরে দাও শান্তিতে করি’ বাস করিতে সৰ্ব্বনাশ ; অঙ্গ পড়েছে ঢলে কোমল শয্যাতলে ; রিক্ত বিশ্বে তুলি, মাখাইয়া দাও ধূলি, মরুক অন্ধকূপে ; কোমল কান্ত রূপে। ধূলার শিশুরে মণ্ডুক তার আজ এসনা, দেবতা,
২৪
আরতি
আজ তুমি এস
ভণ্ডামি যত
যারা করে কাজ
•
ঘৃণ্য বলিয়া
ন্যায়ের দণ্ড ধরি’
খণ্ড খণ্ড করি;
মাথার ঘৰ্ম্ম ফেলি
তাদের রেখেছে ঠেলি
নামাও তাদের শির
দাড়াও, কর্মবীর।
বসে সে বৃষ্টি ধূপে।
কোমল কান্ত রূপে।
রবে দূরে যত,
কৰ্মীর পাশে
কাদা ধূলা মাখি’
তুমি এসনা, দেবতা,
অন্তর যার
অশুচি নিরয় চেয়ে
বাহ আচারে মরিতে সে আসে ধেয়ে
হৃদয় যাহার ঘৃণিত পিশুন খনি
শিখাও টীকায়
সে সাজে সাধুর মণি।
উদার চরিত কাঙালের দুখ বহি’
অহরহ রহে সমাজ পীড়ন সহি।
সে যাতনা তুমি কেমনে রহিবে চুপে?
এস কাঙালের হরি, বজ্র কঠোর রূপে।
আরতি
শােধন
-:+:
পলকা আমার ঠুনকো আমার যেথা
সেইখানেতে ঘা মেরেছ, গুণী,
ছিড়েছ জাল আলগা বাধন দেখে
যেন তাহা নূতন করি বুনি।
ধূলার উপর ধূলা আসি ক্রমে
বহু যুগের পাথর গেছে জমে,
শস্যে সবুজ হবে বলেই রাজা
পাথর কেটে বহাও সুরধুনী।
আমায় ত আর রাখছ না, নাথ, শিশু,
পিতার গরব নিতেই হবে মােরে,
জাতে হবে তােমার বাঁধা বিধি,
দেখতে হবে সৃজন করে করে ;
রথীর আসন না যদি নিই ধরে,
চাকার তলে যেতেই হবে মােরে ;
লাগামখানা আমার হাতে দিয়ে
উদাস হয়ে দাড়িয়েছ, হে মুনি!
আরতি
পরাজয়ের বর দিয়েছ মােরে
দুঃখ যেন জয় করিতে পারি,
রুদ্র তেজে শুষেছ সব স্নেহ
ঢালবাে বলে শান্তি শীতল বারি।
ভাঙ্গন-সে ত গড়ার প্ররােচনা-
বাঁধন—সে ত মুক্তিরই বেদনা-
বিশ্ব-শিখীর পুচ্ছ দোলার সাড়া
বজ কঠোর মেঘের রবে শুনি।
আরতি ২৭ আঘাত কর আঘাত কর আঘাত কর- আঘাত কর মােরে- পীড়ন কর দহন কর পেষণ কর জোরে। বজ তব অগ্নি তব, হে প্রভু, বুক পাতিয়া লব ; স্বর্ণ মম বলয় হবে কঠোর তব করে । আঘাত কর আঘাত কর আঘাত কর মােরে। মলিন যাহা যাক সে খসে, হ’ক সে পুড়ে ছাই, অনত যাহা পিটিয়া পাতে আনত কর তাই ;
২৮ আরতি। তুলায় শুয়ে আদুরে ছেলে জীবন যাপি কি অবহেলে ! কাজের মত মানুষ কর- কঠিন ভব ঘােরে— আঘাত কর আঘাত কর- আঘাত কর মােরে! সকল আশা ব্যর্থ কর কর হে কর দূর ; সােণার সুখ-স্বপ্ন মম ভাঙিয়া কর চুর ; নিঙাড়ি সারে বাহিরে আনন,- অসারে তব দণ্ড হাননা ; শুদ্ধ হব নিঠুর ঘায়ে বিষের জ্বলে জরে ; আঘাত কর আঘাত কর আঘাত কর মােরে
আরতি।
ভুল করিতে
দাও।
ভুল করিতে দাও হে আমায়-
এমনি বারে বারে
ফুল দিয়ে ঠিক সত্যকে মন
চিতে যেন পারে ;
শশুর চলা পড়ার মাঝে
লক্ষ যে ভুল লুকিয়ে আছে,
তাই সে নেচে দাড়ায় হেসে
ভৃগুপাতের ধারে ;
ভুল করিতে দাও হে আমায়
এমনি বারে বারে।
স্বস্তি সে ত জড়ের জীবন,
দাও মােরে ব্যস্ততা,
বিপদরাশি বরণ করার
দাও সে স্বাধীনতা।
আরতি।
বিজ্ঞ যারা সুসাবধানী
তাঁদের নিষেধ নাইক মানি,
হাল ছেড়ে না বসি যেন
উতল পারাবারে
ভুল করিতে দাও হে আমায়
এমনি বারে বারে।
আরতি
অমিল কবে ঘুচবে
বুকের ভাবে মুখের ভাষায়-
শতের কাজে মনের আশায়-
অমিল কবে ঘুচবে মরি মরি !
সাদা কথায় সহজ ভাবে
তােমায় কবে বলা যাবে
নিছক শুধু “হরি আমার হরি”।
অলঙ্কারে বিশেষণে সীমা তােমার আছি শুধু টানি’
লুকাই যাহা তােমার কাছে সতত তার চলছে কানাকানি-
আলাে ছেড়ে আলেয়াতে মত্ত হয়ে মস্তকে কর হানি,
লােক দেখানাে কত না ছল করি ;
অমিল কবে ঘুচবে মরি মরি !
কবে চর্ম বিহীন চক্ষে
কবে মৰ্ম্ম গােপন কক্ষে-
শিশুর মত ডাকুব ডাকার নেশায়
৩২ আরতি। পাখীর মত সহজ সুরে তােমার নামে কণ্ঠ পূরে গাইব কবে শুধু গানের পেশায় ! নামের মানে কথার মানে নাই বা বুঝি, বুঝতে নাহি চাই- তােমার সে নাম তমার বলে আনন্দেতে মত্ত হয়ে গাই; দ্বিধা হীনের অসংশয়ে আমার মাঝে তােমায় যদি পাই অসঙ্কোচে সকল পরিহরি, এমনি অমিল ঘুচবে কবে মরি।
আরতি
পূর্ণিমা
চাঁদের আলাের ঢেউ লেগেছে
নিঝুম রাতে ঘুমের মাঝে
গােপন প্রাণের স্বপ্ন আমার
তােমার ছায়া দোদুল রাজে!
অর্ঘ্য দেওয়া পার মত
কাপছে হৃদয় অবিরত ;
ভাসিয়ে নে যাও, ডুবিয়ে নে যাও
যেথায় তােমার নূপুর বাজে!
তােমার কোমল স্পর্শ দিয়া
হর্ষ জাগাও শিরায় শিরায় ।
শূন্য জীবন বেলাভূমি
ভরিয়া যা মুক্তা হীরায়।
৩৪
আরতি
আঁকা চোখের বাঁকা ঠারে
এমন ঘন জ্যোৎস্না হারে।
ফুটিয়ে তোেল মােহন হাসি
দাড়াও বারেক মােহন-সাজে!
গােপন প্রাণের আঁধার রাতের
হে সুন্দরি ! হে পূর্ণিমা!
নিত্য ঢালাে বিমল আলাে ;
কোথায় আদি কোথায় সীমা ?
তােমার উদয় ভাবছি যবে
এই ত সেদিন আমার ভবে,
তােমার মাঝের নিত্য নারী
ক্ষমার হাসি হাসছে লাজে ।
আরতি।
তৃপ্তি
আমারে দিয়াছ যাহা তাহাই প্রচুর মানি’
অযথা বিলাপে যেন অশান্তি না মনে আনি ;
যা কিছু আমার বলে
ছুড়ে ফেলে দেছ কোলে
হাসি মুখে দিই যেন তুমি যদি লও টানি ;
কারে দেছ স্বর্ণ রথ
কাহারে দেখাও পথ
হে প্রভু তা ল’য়ে যেন নাহি করি দ্বেষ গ্লানি;
শত দুঃখ সুখ মাঝে তব মূৰ্ত্তি যেন রাজে
আমার দীনতা মাঝে বাজে যেন তব বাণী ;
সব যবে হবে ভুল
অকূলে পাব না কুল
অন্ধকার চারিধার কেঁপে উঠে মহাপ্রাণী ;
সেদিন আমার মাথে
সকরুণ আঁখি পাতে
হে প্রভু তুলিয়া দিও তােমার ও পা দুখানি।
আরতি।
লক্ষী পূর্ণিমায়
এই এসেছে তােমার আলাে
আমার কক্ষ বাতায়নে।
ঘুচল আজি সকল কালাে
তােমার পুলক লাগা মনে!
ভেঙেছে বাঁধ জোৎস্না স্রোতে।
নামূল শ্ৰী ওই এই জগতে
বিলাতে তার আঁচিল হতে
কী সম্পদে জাগাজনে।
শিহরিত আজ সমীরণ
দিগ্বিদিকে বার্তা বহি
“ঘুমাস নে আজ ঘুমাস নে মন
মনের বনে চছে কহি’!
পরশ তব লাগছে এসে
এই যে আমার পাঁজর ঘেঁষে !
আজ যেন ঠিক সম্পদে সে
ধরে রাখি আপন মনে।
আরতি
৩৭
মহা অমানিশা
••
আঁধারের কি নাই কোন শ্রী
তাই দেখালে তােমার কালাে !
আজ মনে এই সার জেনেছি
তােমার দেওয়া সকল ভালাে
চোখ যেখানে ঠিক্রে আসে
জমাট ঘন কোলের পাশে
অন্ধ সুরের ছন্দ ভাসে,
অরূপ সেথা ঝলমলা লাে !
দোলে যেন ওই মহাকাল
সীমাহারা একটি রাতে।
শ্যামা মায়ের ওই শােন তান
নৃত্য দোদুল চরণ পাতে।
Ob আরতি এক রঙে সব রঙের কাপন এক অসীমে পর ও আপন- ভেঙে লক্ষ সুরের স্বপন ঋঋ সুরে সুর মিলালাে। আঁধারের কি নাই কোন শ্ৰী তাই দেখালাে তােমার কালাে এমনি যবনিকা ঢাকা পয়লা বাকের ওই ওধারে, এমনি কালাে মসীমাখা ওই মােহনার পর পারে ;- ঝিকিমিকি স্রোতের জলে তারার প্রতিবিম্ব জ্বলে, আকাশ চেয়ে কুতূহলে মেনি গানে মীড় লাগালাে অধািরের কি নাই কোন শ্ৰী তাই দেখালাে তােমার কালাে !
আরতি
৩১
আজ কী কালাে গালচে পাতা
ঝিঝির ডাকে লিপ্তাসনে
আজ নেমেছে ভুবন মাঝে
পূর্ণ রূপে আঁধার বনে।
সুন্দরের এই ছায়া বাজী
মনের কালি ঘুচাৰু আজি,
সাজিয়ে পূজার ফুলের সাজি
ঘরে ঘরে প্রদীপ জ্বলাে ।
আঁধারের কি নাহি কোন ঐ
তাই দেখালাে তােমার কালাে।
৪০ আরতি। রমণী। আমার ভগ্ন জীবন প্রাতে ঢালাে সুধার ধারা, শুভ্র আলাে আঁধার রাতে, ওগাে তােমরা কারা ? কোথায় যে কোন বকুল বনে গন্ধ আকুল অলির সনে, মন্দ সমীরণের স্বনে মেল আঁখির তারা, আমার ভগ্ন জীবন প্রাতে ওগাে তােমরা কারা ? সবার স্বার্থ মাঝে রাজে বিমল স্বার্থ ত্যাগ- শত অনাদরের মাঝে এতই অনুরাগ !
আরতি
৪১
আমি ভাবি তােমরা সবে
ধরার বুঝি কেউনা হবে,
এসেছ এ দুখের ভবে
পথিক পথহারা !
আমার আঁধার রাতে আলাে
তােমরা সবে কারা ?
বিধির পাশে কাতর ভাষে
এক ভিক্ষা মাগি
থেকো সদাই মােদের বাসে
আনন্দেতে জাগি ;
লক্ষ্য হতে কোনও মতে
ভ্রংশ যেন না হয় পথে ;
দৃষ্টি রাখি আদর্শতে
ছুট পবন পারা;
আমার ভয় জীবন প্রাতে
তােমরা সুখ তারা।
82
আরতি।
গাথা।
:0;
এতবার আমি করেছি যতন
তােমারে চিনিতে, সই,
ফিরেছি নিরাশ মনে বার বার ;
চিনিতে পেরেছি কই ?
কর পুলকিত আমার জীবন,
কর আলােকিত আমার ভুবন,
জানিনা কে তুমি? মত্ত পবন
উপহাস করে ওই ।
এতবার আমি করেছি যতন
তােমারে চিনিতে, সই
আমি ভাবি পিক রসালের শাখে
কি বৃথা কাকলী করে
যদি সে শুনিত তােমার কণ্ঠ
লাজে বুঝি যেত মরে
হেরিলে তােমার যুগল লােচনে
হরিণী পলাত গহন বিজনে,
চকোর লুকাত চাঁদের পিছনে
সরম কাতর হই।
এতবার আমি করেছি যতন
তােমারে চিনিতে, সই
আরতি ৪৩ কেমনটি চাই তােমায় আমি কেমনটি চাই- পাই ভেবে মনে ; কতই নূতন কল্পনা সে জাগে প্রতিক্ষণে । চতি পীড়ক মিথ্যা রবে দিচ্ছে তাড়া জগৎ যবে, শ্যামা সারি হওগগা ভাবি আমার কুঞ্জ বনে, ঝঙ্কারিয়া শিষেগানে— ভরে দাও এ নীরব প্রাণে, বেসুর তারে লাগায়ে সুর- মিলাও কলম্বনে। আবার ভাবি মনে- দিগ্বিদিকের নানা রাগে নেত্রে যবে ধাঁধা লাগে,
৪৪
আরতি।
ইন্দ্রধনু হয়ে দাড়াও
আমার গগন কোণে,
রঙের পরে রঙ ফলায়ে
ব্যাকুল নয়ন মন ভুলায়ে
সব কালিমা মুছিয়া দাও
আলাের আবরণে
==
নাসায় আসে কতই গন্ধ
বুঝিনা, হায়, ভাল মন্দ ।
হতবুদ্ধি তখন ভাবি মনে
মৃগনাভির মত এস
আমার গৃহাঙ্গনে,
ওতপ্রােত সকল দিশি
অঙ্গে তুমি রঙ্গে মিশি’
অচেতনে চেতনা দাও
রহি সঙ্গোপনে।
আরতি ৪৫ কখন ভাবি মনে- কত যে রস না পাই দিশা। জিহ্বামূলে ছুটুলে নেশা গঙ্গা জলের মত এস তৃষ্ণা নিবারণে, ধৌত করি বিবােধ নাশি— অন্তরে সে কলুষ রাশি মধুর মত মুখে জড়াও চুম্বনে চুম্বনে ! কঠিন পরশ এ সংসারে আঘাত পেয়ে বারে বারে ফুলের মত, ভাবি, এস- আমার তপােবনে, কভু পূজার থালি ভরে- কখন বা বুকের পরে- দেবীর বেশে—রাণীর বেশে বাঁধ আলিঙ্গনে।
৪৬
আরতি।
আমার মরুতে কুসুম ফোটালে কে ?
আমার স্বস্তিতে ধুম
জোটালে কে ?
সে যে তুমি সে যে তুমি গাে
জীবন বন্ধু জীবন বন্ধু মাের!
আমার মোনের মাঝে কে দিয়েছে ভাষা?
আমার হতাশার মাঝে কে এনেছে আশা ?
আমার নিরালা কুঞ্জে কে নিয়েছে বাসা ?
আমার বালুচরে স্রোত ছুটাল কে?
সে যে তুমি সে যে তুমি গাে
হৃদয় দয়িত হৃদয় দয়িত মাের।
আমার শুষ্কতা সব রসিয়া উঠিল
নব ফুল পল্লবে,-
আমার কুঞ্জ কুটীর ভরিয়া উঠিল
গুন কলরবে,
-
আরতি।
৪৭
আমার উদ্যমহীন জীবনের মাঝে
নব সরসতা আনি কে ভরিলে কাজে ?
আমার অনায়াস দিন তূলার শয়ন
লয়ে অবাধে ধূলায় লােটালে কে ?
সে যে তুমি সে যে তুমি গাে
পরাণ রাণীটি পরাণ রাণীটি মাের
৪৮
আরতি।
কপােত কূজন
কপােত কুজন করিব দুজন
নির্জনে ;
চাইনা সঙ্গী—ছাড়িব সুজন
দুর্জনে ;
চাদের কিরণে ভরিবে ভুবন,-
ফুলের পরাগে উড়িবে পবন,-
বিধাতা শিল্পী প্রেমের ভবন
সজ্জন !
চখা-চখী হবে নীরব বনানী
অন্তরে ;
মূচ্ছিত হবে নদী কল বাণী
মন্থরে,-
দূরে গিরিবর দাঁড়াবে নীরবে,
চকোরী মত্ত জোছনা গরবে,
পুলক আনিবে বহিয়া দুয়ারে
খঞ্জনে!
আরতি।
৪৯
ভরা পরাণের পীযুষ ক্ষরিবে
অবিরল,
সােহাগে আদরে নয়ন করিবে
ছল ছল !
মােটা মােটা কথা বেশ বুঝা যায়
প্রেমের কাকলী সে যে বুঝা দায়
জীবন বিকায় শুধু কানা কড়ি
অর্জনে !
কপােত কূজন করিব দুজন
নির্জনে !
- =
নূপুর উঠিবে চরণের শেষে
গুঞ্জরি,
শােভিবে কবরী-বদ্ধ ও কেশে
মঞ্জরী,
হবে ভূমিতল সহজ শয়ন ;-
মিলন মাধুরী করিব চয়ন,
খেলিবে বিজলী তােমার নয়ন
অঞ্জনে!
কপােত কূজন করিব দুজন
নির্জনে।
আরতি।
কথা থেমে যাবে প্রাণ মন হরি’
চুম্বনে,
হাসি থেমে যাবে সুকোমল পরি-
রম্ভণে,
হৃদয় উঠিবে কঁপি দুরু দুরু,
চাহনির নাই শেষ—নাই সুরু,
তা হবে বঙ্কিম ভুরু
ন
=
কপােত কূজন করিব দুজন
নির্জনে !
মধু, তরুলতা, মধু
রবি শশী,
তারাদল,
মধু দিন রাত উঠিবে উলসি
মধু-জল,
মধু বাত ঋতু নাচিবে মধুর
হৃদয়ের তালে পরাণ বঁধুর,
শুনিব কি মধু গান সিন্ধুর
গর্জনে !
কপােত কূজন করিব দুজন
নির্জনে!
আরতি।
৫১
একটি
শুনিব কথা
একটি শুনিব কথা জীবনের
সেই গান !
প্রিয়তম সেই সুরে ভরিয়া উঠিবে কান।
একবার মধুহাসি হেরিব ও আঁখি কোনে-
নয়ন ভরিয়া রবে, আজীবন দরশনে।
একটি পরশ লাগি’ জীবনের অভিলাষ
পূর্ণ হবে চূর্ণ হবে !–ওতঃপ্রােত চারিপাশ !
তারপরে নাই ক্ষতি যা থাক্ চোখ কান
আনন্দ আনিবে বহি সেই স্মৃতি—সেই ধ্যান।
নাই দেখি নাই শুনি এ বিশ্বের কলরােল
অসীমের সুধা স্পন্দ প্রাণে শুধু দিবে দোল !
লাখ যুগ যাবে চলি নিমেষের মত হয়ে
লাখাে বিশ্ব দিবে সাড়া দয়িতের শিবালয়ে !
শুনে যদি বাড়ে ক্ষুধা সে শুনা ত শুনা নয়!
যে দেখা না তৃপ্তি আনে সে দেখা কি দেখা হয় ?
আরতি।
পরশের মাঝে নাই প্রাণের প্রেমের যােগ
আকাঙ্খ মিটেনা তাই,—বার বার চাহে ভােগ।
আমি চাই সেই দেখা—সেই শুনা—সে পরশ,
একটি আঘাতে সুরে ক্ষরে যাহে বিশ্বাস,
অনন্তের মাঝে যাহা আপনাতে ভরপুর,
নানা ছন্দে নানা সুরে আনে যেই একসুর !
---
আরতি
ভাষার সীমা
0:
তােমার বচনে যে সুধা রচনা
গানে তা কেমনে আনি ?
তােমার নয়নে যে বিজলী খেলে
কোথা পাব তার বাণী ?
তােমার চরণ নূপুর ধ্বনিতে
যেই তাল বাজে মম ধমনীতে,
ভাষা দিয়ে তারে ফুটাইব গীতে
সে শকতি নাহি মানি।
তােমার বচনে যে সুধা ক্ষরিছে
গানে তা কেমনে আনি ?
নীরব মৌনী ভক্তের মত
শুনি তাই মধু ছন্দ
শ্রবণে আমার এলাইয়া পড়ে
বিশ্বের গীতি বন্ধ !
৫৪
আরতি।
ভাষা নাই তাই মরি আমি লাজে
বুঝতে পারি না কি প্রীতি বিরাজে
তব কঙ্কন রণ-রণি মাঝে
হারাই পরাণখানি।
তােমার বচনে যে সুধা ক্ষরিছে
গানে তা কেমনে আনি ?
কঠিন হৃদয় মনে কর যদি
করি আমি অবহেলা
যদি ভাব মনে অর্ঘ্য বহিয়া
অকাজে কাটাই বেলা
পাছে এ নীরব ধ্যানের পূজায়
হৃদয় দেবতা তৃপ্তি না পায়,
ভাষা খুঁজে ফিরি মরি শঙ্কায়
ব্যর্থ সাধন মানি।
তােমার বচনে যে সুধা ক্ষরিছে
গানে তা কেমনে আনি ?
আরতি।
৫৫
চরম মান
আজকে আমি জয়ীর মত
আছি ফিরে, রাণি,
শুদ্ধ বলে তােমার মুখে
দুটো মধুর বাণী !
পথে যখন বেরিয়েছিলাম
অস্ফুট আলােকে
ভাবিনি ত আমার পানে
চাইবে হাজার চোখে !
হাজার আঁখি আমার পরে
পড়ল যবে ঘুরে
কাজটি আঁখির কথা
এল পরাণ পূরে!
চারিধারে উঠল বটে
জয়ধ্বনি গাহি,
সবার উপর তবু তােমার
অনুমােদন চাহি।
আরতি।
হাজার হাতে পড়ল যবে
জয়ের করতালি
কিসের আমােদ? তুমি যদি
না দাও হৃদয় ডালি।
কত সুনাম পারিতােষিক
পদক পরিপাটি
তােমার মুখে মেঘলা হলে
সকল আমার মাটি ।
যখন তুমি চেয়ে থাক
সূর্যালােকের সম,
মাটিই আমার সােণা দেখায়
উজল মনােরম!
তাই যখনি উঠে পথে
বিজয় কল গীতি
দেখতে চাহি চোখে তােমার
উছলে কি প্রীতি !
হর্ষে যদি বিমল ধারা
তােমার চোখে বহে,
বিশ্ব তখন চক্ষে আমার
লুপ্ত হয়ে রহে !
আরতি
কর্ণে যবে পিযুষ ঢালে
সােহাগ বচন রাশি,
সব পদকের সেরা ভাবি
তােমার স্মিত হাসি।
কাকণ বাঁধা বাহুর পাশে
বাঁধ যখন গলে,
বিশ তখন বেশী কি ধন
দিবে আমার কোলে
৫৮
আরতি।
অভিলাষ
;
ঝঞ্চা তােমার বন্ধ্র তােমার
দিও আমায় দিও;
প্রিয়ার পথে উড়িয়ে রেখ
মলয় উত্তরীয় ;
সকল কাঁটা সইব যদি
আমার পায়েই ফুটে,
ছড়িয়ে রেখ পুষ্প শুধ,
প্রিয়ার চরণপুটে ;
আঁচড় সে কি সইতে পারে
কোমল ফুলরেণু ?
দাগ। যদি দেবেই, প্রভু,
এ বুকে আঁকিয়ে।
—-
বিদ্রোহী সে আমিই, প্রভু,
দণ্ড হানাে শিরে
ব্যস্ত তবু কোরাে না মাের
এস্ত হরিণীরে।
অারতি
চকিত চোখে চাইবে সে যে
মৌন বেদনায়
তার চেয়ে মাের মরণ ভালাে
সইবনা সে তায়!
রুদ্র রােষে জ্বালিয়ে দিব
হিংসানলের শিখা
ভক্তি ভয়ের পূর্ণাহুতি
তায় হবে জানিয়াে ।
আমার মাথায় চাপিয়ে দিও
অপমানের বােঝ
লজ্জাভারে নবে না শির
ঘাড় রবে সে সােজা !
পরশ যদি কর, প্রভু,
প্রিয়ার সরমখানি
মরমে তার বাজবে বড়
সইবে না সে গ্লানি।
প্রলয় তব আমার পথে
করুক মাতামাতি,
প্রিয়ার ঘরে চাঁদের আলাের
আলপনা টানিও।
আরতি
আমার মানবী।
মানবী আমার তুমি, নহ তুমি দেবী,
তাই এত ভালবাসি ; পতি পদ সেবি
কর না পাদক জলপান, নিশিদিন
কথা কও সাধারণ—বিশেষত্ব হীন--
সরল মনের ভাব ভাষাতে প্রকাশ ;
ভালবাসা, অভিমান হাবভাব হাস
ঈর্ষা রােষ ত্রুটি দোষ মানবীর মত,
ঝাঁধা বাড়া শেজ রচা তেমনি নিয়ত।
নীরব সেবার মাঝে আছে তবু গীতি,
মুখর গঞ্জনা মাঝে আছে মৌন প্রীতি ;
ত্রুটি দোষ আছে তাই হৃদয়ের দ্বারে
মানবের প্রাণ লয়ে পরশি তােমারে।
হে বাঞ্ছিতে নহ তুমি কল্পিত আমার
চিরন্তন উৎস তবু মম কল্পনার।
আরতি।
ভবভূতি।
ভারত কবি সভার সেরা মুকুট মণি হে ভব-ভূতি,
ভােমার প্রীতি তােমার গীতি ভরেছে গেহ ভরেছে শ্রুতি
ভরেছে প্রাণ আত্মজ্ঞানে! তৃপ্তি মানে তােমার ভাষে ;
করুণ তব তরুণ হয়ে ঝুরিছে নব অরুণাকাশে !
পরশে প্রিয়া—আকুল হিয়া ! তােমার বাণী মুখরি উঠে
স্বপ্ন না এ জাগিয়া আছি’! ‘দহিছে নাএ উৎস ছুটে ?
বুঝিতে নারি অমৃত বারি কে না কি বুঝি ছিটাল দেহে।
‘নিঙাড়ি চঁাদে সঞ্জীবনে লেপিল বুঝি কোমল স্নেহে!
হে কবি তব অমৃত বাণী মােহন একি মন্ত্র জানে-
বিরহে ঢাকে প্রেমের ছায়ে প্রেমের মাঝে বিরহ আনে।
অনাদি যত বেদনারাশি স্পন্দি উঠে সুখের বুকে,
আনন্দ সে দুলিতে থাকে-ফুলিতে থাকে গভীর দুখে।
কাব্য তব শাস্ত্র মত হয়নি বলে তােমারে দোষে,
জানেনা তারা তােমার মত না হলে তবে অশাস্ত্র সে ;
৬২
আরতি
হৃদয় যাহে ভরিয়া উঠে, প্লাবিয়া উঠে সকল কূলে
উলসি উঠে—উছলি উঠে, মূরছি পড়ে—পড়ে সে চুলে,
প্রাকৃত জনে প্রাকৃত ছাড়ি দেখায় যাহা দিব্য জ্যোতি,
হৃদয় তারে অর্ঘ্য দিয়া কাব্য মাঝে করিবে নতি।
নিয়ম দেবে যে জন সেবে তৃণের রসে সে মজগুল,
পুষ্পে যদি না পায় মধু রসিক জানে কাহার ভুল!
প্রথিত হেরি তােমার মালা প্রতীচ্যেরা নিল না গলে,
সীতার ব্যথা ঢাকিয়া গেল বিলাস বাসে শকুন্তলে!
আবেগ তব চিরাভিনব ব্যর্থ হল তাদের কাছে।
কি দোষ তব, হে গৃঢ় কবি ? তােমার যাহা তােমারি আছে!
মালার শােভা কি মনােলােভ ভক্ত জানে সাধক জানে!
তাপস কবি দেবীরে তব সাজালে তাহে মুক্ত প্রাণে!
জানি হে জানি কল্পনাতে তাকিতে মাথে সীতার ছবি
লক্ষধারে অশ্রু তব শ্মশ্রুরাশি ভরেছে, কবি।
কেবল প্রিয় বিরহ নহে জান কি বহে সুতের ব্যথা।
কেমনে জানে লেখনী তব জননী প্রাণে গােপন কথা ।
কেমনে তব বাণীতে ফুটে হৃদয় মাঝে শেলের মত
মরম ভেদী সে হাহাকার জীবনব্যাপী বিরহ এত ।
আরতি।
মর্ত্যে তুমি করেছ পূত ফুটায়ে সেথা স্বর্গ দ্যুতি
লাঞ্ছিতারে মাথায় তুলে শিবের মত, হে ভব-ভূতি
ভারত ভূমে চিরন্তন মূরতি দিয়ে গড়িলে নারী,
কমণ্ডলু ভরিয়া দিলে ঢালিয়া তাহে করুণা বারি ।
সে যেন দিল গঙ্গাজলে তপি আদিকবির প্রাণে
মূর্তি দিল ব্যথারে তরি আভাসে যাহা আছিল গানে।
লােকের ভাল মন্দ বলা উড়ায়ে দিলে স্নিগ্ধ হাসে।
সীতার মত অনলে কত দহিল সবে তােমারে ভাষে।
বহ্নি হল নিৰ্বাপিত স্বর্ণ সীতা উজলি উঠে
সকল কোলাহলের পরে তােমার কল কাকলী ফুটে।
প্রেমের হাটে পড়িল সাড়া নূতন এল কি অনুভূতি।
কাব্যে আন যুগান্তর ভারত ভূমে, হে ভবভূতি !
৬৪
আরতি
রবীন্দ্র নাথ।
অনেক কঁাটাই গােলাপ হয়ে
ছড়িয়ে দেছে গন্ধ।
অনেক শরৎ শিউলি ফুলে
শিউরেছে নিঃসন্দ’!
কবি তােমার গানের খাতায়
ভরেছে যে পাতায় পাতায়
কত নিদাঘ বসন্তেরি
হিল্লোলিত ছন্দ!
তবু তােমার বাঁশীর তানে
ফুরায়নি আনন্দ।
কোথায় দূরে অচিন পুরে
চেনা যু’য়ের ইঙ্গিত
তােমার প্রাণে আকুল তানে
জাগিয়ে দিলে সঙ্গীত।
তিন বছরের ভােমার প্রিয়া
গলিয়েছে অতরুন হিয়া,
আরতি
প্রান্তরে কোন প্রান্তে ছিল
লজ্জিত আকন্দ,
আজও তােমার বাঁশীর গানে
জাগিয়েছে আনন্দ!
কাল বােশেখী রক্ত আঁখি,
জটা প্রলয় রুক্ষ ;
রুদ্র বিষাণ,-তবু মােদের
সইবে এ সব দুঃখ,
এমনি যদি হাওয়ায় উড়ে
আনে উষার বক্ষ ফুড়ে
নন্দনেরি ময়ুখ মাখা
স্বর্ণ মকরন্দ
দীপ্তিতে যে রবির মত
ভাঙবে তম অন্ধ !
চির নবীন তরুণ রবি !
শিশির হিয়া টল মল !
ভােরের পাখী নীড়ের কোণে
যার ইসারায় চঞ্চল ।
৬
আরতি
নিঝরে যার লাগবে দোলা,
জাগবে বুঝি পাগলা ভােলা,
ফুলে ফুলে পাপড়ি খােলা,
ঘুচবে চোখে ধন্ধ
এমনি রবি মিলায় যদি
রাতের, নিরানন্দ।
আমরা সবাই খােস হিসাবী
আমরা আছি কাল গুণে,
জীবন তােমার ভরে উঠুক
আরও অনেক ফাল্গুনে,
অনেক বাদল কদম গাছে
লাগাক নেশা ময়ুর নাচে,
কুঞ্জে হউক মুঞ্জরিত
ঢের আরও বসন্ত।
চির নবীন কবি রহ
জাগাতে আনন্দ।
আরতি
চিত্তরঞ্জন
কাঙাল দেশে-কাঙাল ব্ৰতীকাঙাল মহারাজ।
সব তেয়াগি করিলে কিগাে কাঙাল সেবা কাজ।
চরম ত্যাগে মােদের ভাগে করিলে কিবা দান?
“জীবনজয়ী মরণ মম, মরণজয়ী প্রাণ”।
ভক্ত কবি, শক্ত করি কোমল তব হিয়া
গৰ্বিতেরে খর্ব কর কঠিন বাণী নিয়া ;
চরম ত্যাগে মােদের ভাগে করিলে কিবা দান ?-
“বাক্যজয়ী মৌন মম, মৌনজয়ী গান”
জন্মভূমি ভক্ত, ওগাে মুক্তিকামী বীর,
ধৰ্ম্ম তব মৰ্ম্মলেহি অনত তব শির ;
চরম ত্যাগে মােদের ভাগে করিলে কিবা দান ?-
“কামনাজয়ী বিরতি মম, বিরাগজয়ী টান”।
আরতি
ভাইদ্বিতীয়া
“ভাইদ্বিতীয়ার ফোটা নেবে,” বােনটি আমায় ডাকে
বােনটি আমার বাংলা দেশের কোণটি নিয়ে থাকে—
ভয়ে কঁপে বুকের আশা জীয়ায় তবু মুখের ভাষা
ক্ষুদ্র দুটি হাত দিয়ে সে যমের দুয়ার ঢাকে।
“ভাইদ্বিতীয়ার ফোটা নেবে,” বােনটি আমার ডাকে!
হায়রে অবােধ দুঃসাহসী, সকল দুয়ার খােলা
এমনি যদি একটি দিনে যমকে যেত ভােলা-
সত্যি যদি পড়ত কাটা, ভাইটি হত লােহার ভাটা,
হাতের চাপে পড়ত আঁটা লক্ষ জীবন ফঁাকে!
“ভাইদ্বিতীয়ার ফোটা নেবে,” বােনটি তবু হাঁকে!
ঘুমিওনা ভাই ঘুমিওনা ভাই পারুল দিদির দেশ,
দেহের পাতে জীবন হেথায় হয়না ত’ নিঃশেষ
এ দেশে ভাই মরণ কোলে নির্বিবাদে জীবন দোলে-
সেই জীবনের আশায় হেথায় বােনটি চেয়ে থাকে,
‘ভাইদ্বিতীয়ার ফেঁটা নেবে,” তারি আশায় হাঁকে।
আরতি
জীবন শুধু কামড়ে মাটি পড়ে থাকা নয়—
অনিশ্চিতের মাঝে বােনের তাই এ অসংশয় !
উঠবে তুমি বীরের সাজে, লাগবে দেশের দশের কাজে,
কীর্তি তােমার—মূর্তি না হ’ ঘুরূবে পাকে পাকে,
“ভাইদ্বিতীয়ার ফোটা নেবে,” বােনটি ত তাই ডাকে।
“ভাইদ্বিতীয়ার ফোটা নেবে,” বােনটি আমায় ডাকে—
বােনটি আমার কাঙাল দেশের কোণটি নিয়ে থাকে
ভয়ে কাঁপে বুকের আশা জীয়ায় তবু মুখের ভাষা
দুহাত দিয়ে কীর্তিনাশা যমের দুয়ার ঢাকে,
“ভাইদ্বিতীয়ার ফোঁটা নেবে,” বােনটি আমায় ডাকে।
আরতি
নৌকা বাহন
:০;
কবে হবে নৌকা বাওয়া শেষ
কোথাও কিছু দেখিনা উদ্দেশ!
এই নদীতে ধরেছি হাল
কত সন্ধ্যা সকাল বিকাল ;
কত ঝড়ে দিয়ে সামাল
পাকিয়ে দিলাম কেশ,
নৌকা কবে বাওয়া হবে শেষ?
নূতন বধূ কলস কাখে ক'রে
ঘাটে এসে জল নিয়েছে ভরে,
অলস গতি পদক্ষেপে
অঙ্গলতা উঠছে কেপে,
কাকণধ্বনি গগন ব্যেপে
নীরব অবশেষ।
কখন হবে নৌকা বাওয়া শেষ?
আরতি
৭১
জপের মালা নামের ঝুলি ল'য়ে
প্রৌঢ়া আসি গেছে শিবালয়ে,
সেই কি বুঝে পূজার মানে-
দেবতা কি তারেই টানে ?
আমি চেয়ে শ্রোতের পানে
আলুথালু বেশ ;
নৌকা কবে বাওয়া হবে শেষ ?
হাঁসগুলাে সব জলের পরে ভাসে,
কপােত ডাকে লুকিয়ে পাতার পাশে,
ডাহুক ব’সে কেশের বনে,
মাছরাঙাটা আড়নয়নে
রত আহার অন্বেষণে,
মাঠে চরে মেষ ;
কখন হবে নৌকা বাওয়া শেষ?
१२
আরতি
জেলেরা সব জাল ফেলেছে ঘিরে,
ছেলেরা সব খেলছে তীরে তীরে,
কচ্ছি আমি আনাগােনা,
এক নিমিষের দেখাশােনা,
খর স্রোতে পেরিয়ে গেল
দেশের পরে দেশ;
নৌকা কবে বাওয়া হবে শেষ ?
ক
কোথায় যাব ঠিকানা নাই ঠিক,
জানিনাত’ ধরেছি কোন দিক,
আরােহী সব উঠে নামে,
চাহেনা কেউ ডাইনে বামে ;-
একি ভীষণ অবিশ্রামে
যাত্রা নিরুদ্দেশ।
নৌকা কবে বাওয়া হবে শেষ ?
আরতি
৭৩
যা হয় কিছু
ভাবছি আমি গাইব কি আজ গান,
বছ তুমি যা হয় কিছু গাও;
ভাবছ তুমি কি করিবে দান,
বলছি আমি যা হয় কিছু দাও
যা হয় কিছু ল’য়ে এমনি ধারা
মনের মিলে আমরা দুখহারা!
বলছি আমি এই দিকেতে যাই,
তুমি বলছ ওদিক পানে চল ;
তুমি বলছ এই গীতিটা গাই,
আমি বলছি সে গল্পটা বল ;-
তর্ক করে ছলছলিলে চোখ,
শেষ মীমাংসা যা হয় কিছু হক !
৭৪
আরতি
প্রখর শীতে বদ্ধ ঘরের মাঝে
ভাবছি মনে যা হয় কিছু করি,
ভাবছ তুমি এমন মধুর সাঁঝে
এলােচুলে যা হয় কিছু পরি,
ভাবতে ভাবতে সময় চলে যায়,
যুব বক্ষ কেঁদে বলে—“হায় !
ইচ্ছে করে মুক্ত করে দ্বার
উড়িয়া যাই যা হয় কিছুর দেশে,
ফেলে রেখে সকল জ্বালা ভার
স্বাধীন বায়ু পরশ করি কেশে ;
জানি না, হায়, কোথায় গেলে পরে
চলিবে দিন যা হয় কিছু করে !
কোথায় গেলে কলম ধ'রে তবে
ইচ্ছে হবে যা হয় কিছু লিখি,
যে কোন বই খুলে মনে লবে
হয় ত’ আহা যা হয় কিছু শিখি ?
তুমি যেথায় পঁড়িয়ে সদাই পাশে
যা হয় কিছু বলবে স্মিত হাসে !
আরতি
৭৫
যেথায় আমার কথায় তােমার মনে
উঠবে জেগে যা হয় কিছু কথা;
জড়িয়ে গলা দৃঢ় আলিঙ্গনে
জানাবে কোন সজল আকুলতা,
আমি যেথা যা হয় কিছু বলে
মুছিয়ে দিব তােমার নয়ন জলে।
তখন তােমার রক্তিমাভ মুখে
ফুটবে না কি যা হয় কিছু হাসি ?
যা হয় কিছু ভাববে না কি সুখে ?
যা হয় কিছু নূতন আশার রাশি
উঠবে না কি জেগে তােমার প্রাণে
যা হয় কিছু নূতনতর তানে?
তুমি হয়ত’ যা হয় কিছু লয়ে
পণ করিবে কইব না আর কথা;
আমি তখন যা হয় কিছু ক’য়ে
ভেঙে দিব তােমার নীরবতা ;
দেখেছি প্রায় সবাই ঝগড়া শেষে
যা হয় কিছু বলে মিটায় হেসে।
৭৬
অতি
হয়ত তুমি রইবে দূরে দূরে,
আমি তখন তােমার কাছে যাব
যা হয় কিছু একটা ছুতােয় ঘুরে,
তখন তুমি করবে কি আর ভাব!
আমি বলি আর কিছু না পারাে
যা হয় কিছুর কাছে তুমি হারাে!
ধরেছি তান যা হয় কিছু বলে,
যা হয় কিছু সােজা মানুষ নহে;
ধারে না ধার কিছুই ফলাফলে,
শতেক হারে অবিজিত রহে ;
যা হয় কিছুর প্রভাব ভাব যদি
ভয়ে কেপে উঠবে নিরবধি ।
ববি কহে, ওগাে যা হয় কিছু,
কি ক্ষমতা তােমার চমৎকার ;
জগৎ মাঝে সবায় করে নীচু
চরণ তলে বসাও আপনার!
কবির বুঝি ছিল না আর কাজ
তাই তােনারে স্মরণ করে আজ।
আরতি
৭৭
সােণার বঙ্গ
বঙ্গ, তােমার মাটির ক্ষিতি
আমার কাছে সােণার বাড়া
নই কারাে পাশ এমন ঋণী
তােমার কাছে যেমন ধারা ;
তােমার স্নেহ অঙ্গে মাখি,
তােমার কোলে ঘুমিয়ে থাকি,
তােমার মধুকণ্ঠ পাখী
কাণের কাছে দিচ্ছে সাড়া ;
বঙ্গ তােমার মাটির ক্ষিতি
আমার কাছে সােণার বাড়া
তােমার মাঠে সােণার বরণ
শস্য পেয়ে জীবন ধরি,
তােমার নদীর স্বচ্ছ জলে
তৃষ্ণাজ্জ্বালা শীতল করি,
৭৮
আরতি
আম্র কাঁঠাল গাছে ঘেরা
তােমার কানন সবার সেরা,
যুথী জাতী গােলাপেরা
যােগিজনের হৃদয় কাড়া !
বঙ্গ তােমার মাটির ক্ষিতি
আমার কাছে সােণার বাড়া!
বর্ষা কালে কোথায় পাবে
কাদম্বিনী এমন কালাে।
শরৎ রাতে জ্যোৎস্না মাখা
কোথায় পাবে এমন আলাে।
কোথায় এমন মলয় হাওয়া
সুনীল আকাশ তারায় ছাওয়া
সূর্য্যি মামার এমন দয়া
কোন দেশে আর তােমা ছাড়া
বঙ্গ তােমার মাটির ক্ষিতি
আমার কাছে সােণার বাড়া ।
অারতি
৭৯
উৰ্ম্মি
কত ঘাত আসে কত ফিরে যায়
সাগর তীরে ;
উদার মৌনী হে ভূমা আকাশ,
দেখিছ ধীরে !
কত ঢেউ উঠে পড়ে অকারণ,
কত ভাঙে গড়ে কে করে বারণ,
কতই ঝটিকা মৃদু সমীরণ
কাদিয়া ফিরে,
বেলাভূমি শেষে মুকুতার দেশে
সাগর তীরে।
কত ঢেউ আসে কত ফিরে যার
মানব মনে,
অনাদি অসীম হের উদাসীন,
বিরতি সনে।
কত আশা পূরে বৃথা কত হয়-
কত লাভ ক্ষতি জয় পরাজয় ;-
আরতি
হউক বিফল—কিছু নাহি ভয়
বাসনাগণে,
তুমি যদি প্রভু পাশে পাশে থাক
জীবন রণে!
কত ভুল থাকে কত ভেঙে যায়
স্বপন মাঝে,
সব করি দূর, হে লাজহরণ,
মুছাও লাজে ।
পদে পদে হয় কতই প্রমাদ,
কত ত্রুটি দোষ, কত অপরাধ,
কত অতৃপ্তি, কত অবসাদ
সকল কাজে,
সব কর আলাে কিরণে তােমার
জীবন সঁঝে।
আরতি
৮১
মধুরা রজনী
সান্ধ্য গগনে অতি সুলগনে
সূৰ্য্য মগনে হাসিয়া—
শুক্লা রজনী আমি ও সজনী
যেতেছি দুজনে ভাসিয়া!
কুমুদবন্ধু গগনে ইন্দু
কত সুধা তবে বরষে
হাসিয়া হাসিয়া চলেছে ভাসিয়া
আমাদেরি মত হরযে!
পবন স্নিগ্ধ গগন স্নিগ্ধ
নিম্নে স্নিগ্ধ জলধি-
দূরে ছায়াময় কানন নিচয়-
সুখের নাহিক অবধি ।
সমীর মন্দ ফুলের গন্ধ
আনে তথা হ’তে সুদূরে-
উঠে রিণিঝিনি মৃদু কিঙ্কিণী
প্রিয়ার চরণ নূপুরে !
৮২
আরতি
সহসা আকাশে মেঘ উড়ে আসে,
বহে ভীম বেগে সমীরণ ;
সিন্ধু শ্বসিয়া আসিল রুষিয়া
তরণীর সাথে দিতে রণ ।
সজল চক্ষে আমার বক্ষে
ভয়ে ছুটে আসে সজনী ;-
আজ ভাবি মনে হলনা জীবনে
তেমন মধুরা রজনী।
আরতি to সর্বনাশের কাল দরিদ্র ফুকারি’ কাঁদে, ‘গেল কাঙালের ধন’ জমি গেল জমা গেল, বিষয় নিশ্বাসে ঘন, আত্মীয় মরিল যার সে কাঁদিছে, ‘গেল প্রাণ- মানী গণে পরমাদ রাখিতে নারিয়া মান ;- যাক, প্রাণ যাক, মান যাক, অর্থ যাক, বাস অমূল্য অনেক যায়, তবু নহে সৰ্ব্বনাশ ; মনােদুখে কবি কাঁদে, ‘গেল ভাব গেল ভাষা- গেল বটে সব গেল, যবে ভেঙে গেল আশা।
৮৪
আরতি
এখনাে বন্ধন
এক কড়া কাণা কড়ি তাও চোরে নিল হরি’,
পারের সম্বল নাই—নিকট শমন,
তবু ত্যজিলি না, মন, মােহ আবরণ ?
এখনাে বন্ধন?
তরী ভগ্ন মগ্ন ওরে
তৃণ করে ধর জোরে-
তাও কোথা ভেসে গেল-নামিল মরণ,
তবু মনে আশা হবে তীরে উতরণ ?
এখনাে বন্ধন ?
ঝরিয়া পড়েছে ফুল
নিৰ্বাপিত দীপকুল
পিঞ্জরে নিদ্রিত শুক মিলিত নয়ন,
শূন্য আজি—শূন্য আজি বাসক শয়ন,
এখনাে বন্ধন ?
আরতি ৮৫ বকুল মরিল কিনা বদন মদিরা বিনা অশােক না লভি’ মরে রমণী চরণ, কণ্টকে আবৃত মম নিকুঞ্জ কানন ; এখনাে বন্ধন ? • পদ্মগুলি সরােবরে একে একে গেল মরে, শৈবালে ভরিল জল কটু আস্বাদন- ঘাটের সােপান ভগ্ন ত্যক্ত বিচরণ এখনাে বন্ধন ? শেষ হয়ে এল আয়ু, হাহা রবে মত্ত বায়ু ঘিরিয়া তাণ্ডব নৃত্যে উল্লাসে মগন, ছুটিয়া আসিল কাছে অশুভ লগন ; এখনাে বন্ধন ?
৮৬
আরতি
শেষ আশা মিলাল রে
দিক হতে দিগন্তরে,
বাজিল প্রলয়-শঙ্খ গভীর নিঃস্বন ;
পরাণে এখনাে মায়া? হায় মূঢ় মন !
এখনাে বন্ধন ?
এখনাে ঘুচেনি আশা,
মিটেনি কি ভালবাসা,
বক্ষোমাঝে আকাক্ষার থামেনি স্পন্দন ?
অতৃপ্তি এখনাে আনে নয়নে ক্রন্দন ?
এখনাে বন্ধন ?
প্রাণ গেছে তবু স্মৃতি ? প্রেম গেছে তবু গীতি?
রবি গেছে তবু নভে রয়েছে কিরণ ?
সৰ্বস্ব ঘুচিলে তবু নহে সমাপন ?
এখনাে বন্ধন ?
আরতি
৮৭
এখনাে কি দুঃখ সুখে
কৰ্ম্মপথ অভিমুখে
সমান আবেগভরে ছুটিবে জীবন?
নৈরাশ্যে এখনাে আশা আঁধারে তপন ?
এখনাে বন্ধন ?
bit
আরতি
অধিকন্তু ন দোষায়
বলেছ কহিতে কথা, আমি গাহিয়াছি গান ;
চাহ শুধু ভালবাসা আমি দিয়া দিছি প্রাণ ;
মান চাহ নাই ভুলে
তবু নিছি শিরে তুলে
দিছি অযাচিত ভাবে সবার অধিক মান ;
ভিখারী যাচিছ কিছু—যাহা ছিল সব ভুলে
তুলিয়া দিয়াছি তব করুণ চরণমূলে ;
বলেছ চাহিতে ফিরে, চাহি মুগ্ধ আঁখি নীরে ;
বলেছ ভুলিতে ব্যথা—তুলিয়াছি সুখতান ;
বলিলে সােহাগভরে “কহ মােরে প্রিয়তম,”
কহিলাম প্রিয়-ভাষ যত জানা ছিল মম
বলেছ চলিতে জোরে ছুটেছি আবেগভরে ;
বহি শিরে অকাতরে কর যা আদেশ দান ;
আরতি
৮৯
তােমার সামান্য যাহা বৃহৎ আমার কাছে ;
তােমার করুণা ধারা ঢাকি মােরে নামিয়াছে ;
তুমি যা দিয়াছ প্রভু তুচ্ছ ভাবি নাই কভু,
তৃষাৰ্তে দিয়াছ জল, সুধা ব’লে করি পান।
৯০
আরতি
সব্বমত্যন্ত গর্হিতম
বেশী গন্ধ পাব বলে চাপিয়া ধরিনু ফুলে,
ঝরিয়া পড়িল দল আমারি চরণ মূলে ;
নিত্য দেখিবার আশে
মৃগটিরে রজ্জ্ব পাশে
বাঁধি শেষে অনুতাপে মরি নিজ মনােভুলে ;
পাপিয়া গাহিত গান বসিয়া বকুল গাছে,
পিঞ্জরে ধরিনু তারে সদাই রাখিতে কাছে ;
চিরতরে দিয়ে ফাঁকি কোথা চলে গেল পাখী,
বকুল জানাল ব্যথা সমীরণে হেলে দুলে ;
-
অনল রহিয়া দূরে তাপ দিতেছিল ভাল,
নয়নে ঢালিতেছিল কি মৃদু–কি স্নিগ্ধ আলাে,
শুধু বেশী আশা করে
ল’য়েছি হৃদয়ে ধরে,
দহন লভেছি, হায়, শুধু তারে বুকে তুলে ;
আরতি
৯১
যে যাহা করিতে বলে করে বসি বেশী তার ;
চারিধারে চাপা হাসি তাই উঠে বারে বার ;
তাই যার ভাল করি
নিরানন্দ পরিহরি’
সে কখনাে শুভ ইচ্ছা করে নাই মন খুলে।
৯২
আরতি
কেন
গাই নাই গান?
সবে যবে কহে কথা ভাল তবে নীরবতা,
কারাে তাহে দহে না পরাণ ;
মহাতর্ক যেথা রাজে এ গীতি কি সেথা সাজে
ক্ষীণ তরি সহে কি তুফান ?
তাই গাই নাই গান।
লিখি নাই গীতি?
সব কথা হলে শেষ ভুলে বৃথা দন্দ দ্বেষ
আনি প্রাণে সুমহান্ প্রীতি ;
যে ব্যথা গিয়েছে ভুলে পুন তার কথা তুলে
ব্যথা দেওয়া নহে ভাল রীতি;
তাই লিখি নাই গীতি।
আরতি
నం
কহি নাই কথা ?
মীমাংসিত তর্ক মাঝে কথা কারাে নাহি সাজে ;
কহিলেও শুনে না কেহ তা';
কথা পাছে নাহি থাকে
এই ভয় মুখ ঢাকে,
ফেলে রাখে শুধু নীরবতা ;
তাই কহি নাই কথা।
ই
আরতি
প্রতিনিবৃত্ত
কেন গেছি ফিরে ?
ল’য়ে শুধু বৃথা দু সব দ্বার করি বন্ধ
বসেছিলে মােহ-অন্ধ আপন মন্দিরে,
পাই নাই কোন সাড়া তাই গেছি ফিরে।
কবে গেছি ফিরে ?
যখন বকুল বনে
বসন্তের সমীরণে
নবস্ফুট ফুলকুল সুগন্ধ বিকিরে,
বিহঙ্গ মধুর রবে দিপ্তি পূরিত যবে
জলধি তরঙ্গ তুলে নাচিছে গম্ভীরে,
যখন প্রমত্ত মদে অনশ্বর এ সম্পদে
ভাবিতেছ রমণীর মুখর মঞ্জীরে
করাঘাত করি দ্বারে তবে গেছি ফিরে
আরতি
কোথা গেছি ফিরে ?
সুখে দুঃখে অনাশক্ত যে আমার চির
পরহিত ব্ৰত যার মনের মন্দিরে,
হেলার অতিথি আমি তথা গেছি ফিরে।
আরতি
স্মৃতি
ফুল কলি গেল ঝরে,
বােলাে না গিয়াছে মরে’
নিৰ্মম বচনে ;
বােলাে শুধু ‘গেছে চলে
আবার ফুটিবে বলে
নবীন জীবনে।
জেগে থাক্-
নয়নে মুছিয়া যা
তপ্ত অশ্রুরাশি ;
স্মৃতিটুকু রাখ তুলে
আপনার মনােমূলে,
ফেললা না বিনাশি।
আরতি ১৭ ধৈৰ্য্য ধর মূঢ় প্রাণী, শিরে সুমঙ্গল বাণী কর উচ্চারণ ; বৃথা কোলাহলে আর কোরাে না অশুভ তার বিদায়ের ক্ষণ। আজি বুঝে দেখ বেশ ধ্বংস নয়নহে শেষ- ক্ষণিক বিরাম শুধু রূপ হতে স্মৃতি, শুধু বস্তু হতে গীতি, দেহ হতে নাম যাবে যদি কেন আসে? প্রত্যুত্তর দেয়না সে গিয়াছে কোথায় ; যে গিয়াছে পরপারে, সে কি না বলিতে পারে কি আছে তথায় ?
৯৮
আরতি
যখন সে গেল ঝরে,
গেল বুঝি—গেল মরে
ভাবিছ নীরবে,
অজানিত
তখন কি ফুটেছে সে
অপূৰ্ব বিভবে ?
দূর দেশে
আরম্ভ না সমাপন ?
সুপ্তি না এ জাগরণ
কে দিবে বুঝায়ে ?
মহৎ উদ্দেশ্য খানি
প্রকৃতি গােপনে টানি
রেখেছে লুকায়ে ।
কঁদিতেছে আজি যারা,
বৃথা ফেল অশ্রুধারা-
সেত শুনিবে না !
এ নহে ত ক্ষুব্ধ চিতে
এ জন্মের বিপণীতে
বৃথা বেচাকেনা।
আরতি
রুদ্ধ কর অশ্রুকণা,
আজি আর গাহিওনা
বিষাদের গান ;
শুধু মনে রাখ তার
মুখখানি সুধাধার
কোমল পরাণ।
মনে রাখ স্তব্ধ শােকে
কি হাসি খেলিত চোখে,
ফুরিত অধরে!
কি লাবণ্য গেল টুটে,
কি সুগন্ধ গেল ছুটে,
রেখ মনে করে
থামিল কি কল ভাষা,
ডুবিল কি নব আশা
প্রথম বিকাশে।
মৃদু অঙ্গ পরশন,
সচকিত দরশন,
কম্পিত তরাসে!
১০ ০
আরতি
থামিয়াছে সব আজি,
নিবাও প্রদীপ রাজি
এ দীন কুটীরে,
কোলের ও বীণাখানি
দূরে ফেলে দাও টানি’
গাইও না ফিরে।
ফুল কলি গেল ঝরে,
বােলােনা গিয়েছে মরে
নির্মম বচনে ;
স্মৃতিটুকু রাখ তুলে
আপন হৃদয় মূলে
যতনে গােপনে
আরতি
sos
সাগর দোলা
এমনি করে দে দুলিয়ে
দে ভুলিয়ে সকল কাজে
শুনি যেন বিশ্ব মায়ের
রাতুল পায়ের নূপুর বাজে!
অসীমের যাত্রাপথে
উৰ্ম্মি রথে এমনি দোলা
হেরি যেন তাণ্ডবে সে
নটের বেশে পাগলা ভােলা।
বাঁধা ধরা নিয়ম ভাঙা
তপ্ত রাঙা আঁখির ঝাঁঝে
স্মিত মুখী গৌরী মায়ের
রাতুল পায়ের নূপুর বাজে
জীবনের স্রোতের টানে
প্রেমের বানে এমনি সাড়া
যেন সব ভেঙে চুরে--
নূতন সুরে সকল কাড়া-
১০২
আরতি
যেন সব বিধি বিধান
ধরে ডুবান তুফান মাঝে!
পাগলের বিশৃঙ্খলায়
কার রাঙা পায় নূপুর বাজে!
বহে আসে কোন সে সুদূর
যক্ষ বধূর তপ্ত শ্বাসে
আমাদের প্রতিদিনের
কর্মহীনের ব্যস্ততা সে !
মনে হয় সৃষ্টি ছাড়া
তােলা পাড়া দোলার সাজে।
ওধারে কোন পাশে যে
ফুলের শেজে নূপুর বাজে!
আরতি
ছুটি
ছু
কবির দুটি গানের খাতায়-
আলাের দুটি গাছের পাতায়
ধরার ছুটি স্রোতস্বিনীর জলে ;
ছেলের ছুটি খেলার মাঠে
বধূর ছুটি পুকুর ঘাটে
ফুলের ছুটি উদ্ভুয়মান ফলে ;
নদীর ছুটি সিন্ধু দোলে
জলের ছুটি মেঘের কোলে
মেঘের ছুটি বৃষ্টিধারা পাতে;
তােমার ছুটি বিশ্ব ঘিরে,
জন্ম পারে মৃত্যু তীরে,
রাঙা উষায় কৃষ্ণ-ঘন রাতে ।
তারার ছুটি নবীন উষায়—
ধারার ছুটি শস্য ভূষায়—
শিশির কণার ছুটি পাতায় ঘাসে ;
শিশুর ছুটি মায়ের বুকে
বুড়ার ছুটি
যুবার ছুটি প্রেয়সী-নাগপাশে ;
শিশুর মুখে-
১০৪
আরতি
পাখীর ছুটি আকাশ জুড়ে
শাখীর ছুটি পাতাল ফুড়ে
হাওয়ার ছুটি
দিগ্বিদিকে বহে ;
তােমার ছুটি—অবাক মানি !
বিশ্ব ছাড়ি—বিশ্বে টানি’
সবায় চাওয়া-কারে চাওয়াই নহে !
দিনের ছুটি সন্ধ্যাগমে—
বীণের ছুটি গানের শমে—
প্রাণের দুটি বৈতরণী তীরে ;
গড়ার ছুটি ভাঙন কোলে
সবার ছুটি প্রলয় দোলে
হাসির ছুটি আকুল নয়ননীরে ;-
আশার ছুটি হতাশ চোখে—
ভাষার ছুটি রুদ্র শােকে—
দেহের ছুটি শ্মশান ভূমিতলে ;
তােমার ছুটি মুক্তি বন্ধে
দুঃখে সুখে ভূমানন্দে
সমান রহে—সমান ভাবেই চলে
=
আরতি
আষাঢ়ে
-*:-
আষাঢ়ে উঠল দেয়া
গগন ভালে
অঝােরে না ধারা
তাল বেতালে ;
কেতকী তুলল মাথা
অশােকে ফুল পাতা
কলিকা শিউরল ওই
চাপার ডালে !
কি যে কি জাগল ব্যথা
বিন কারণে!
হৃদয়ে মেঘলা যেন
লাগল রণে ;
বেদনা চাল ভারে,
ঝরিল নেত্র ধারে,
কি কথা বলব কারে
কোন সকালে !
আরতি
দাদুরী এক তারাতে
তুলল তানে,
ময়ুরী ডুরে উঠে
আকুল প্রাণে ;
উড়েছে বকের শ্রেণী,
মানিনীর মান ভাঙেনি,
গাহিছে “বউ কথা কও”
ডালিম ডালে
আরতি
১০৭
শারদীয়া
( ১ )
আগমনী
।
আগমনীর সুর লেগেছে
এবার গানে- আমার গানে।
বাদল দিনের বন্যা টুটে
শরৎ এবার ফুল ধানে।
এবার শুধুই আবাহনে
ঢেউ খেলে যায় শিউলিবনে-
পদ্মদলের দোল পবনে
হাত ছানি দেয় কাহার পানে।
১০৮ আরতি ; এবার শুধু স্বাগত গান হর্ষ তরল শিশির পাতে, এবার শুধু আশার আলাে আমার মুক্ত জানালাতে ; ঘাের রজনী ওই ঘুরে যায় পূর্ব গগনে গােলাপ সাজায় ! নহবতে কে ওই বাজায় এবার সানাই করুণ তানে ? এবার তরীর খুলেছে পাল- কি অনুকূল বইছে হাওয়া। এবার ত আর হাল ছাড়া নয়- নয়ত স্রোতের প্রসাদ চাওয়া! এবার শুধু শ্যামার শিষে উমার আশীষ রইবে মিশে, এবার তীরে ভিড়বে তরী সব আকূতির অবসানে! আগমনীর সুর লেগেছে এবার গানে-আমার গানে।
আরতি
১০৯
( ২ )
শারদ মেঘ
শারদ মেলায়
তুলা মেঘ রইনু দূরে
নীলিমার রঙিন খেলায়
পবনের পরীর পুরে ;
ও বনের শিউলিগুলি !
তােমাদের যাইনি ভুলি’
দিতে জল ধাই আকুলি
গাহি গান মুক্ত সুরে ;
=
শরতের প্রভাত বেলায়
ফুটেছ পদ্ম রাশি,
চির দিন এমনি হেলায়
ফুটে থাক্ মুখের হাসি
তােমাদের সব বেদনা
মধুপে দেয় চেতনা ;
আমি দিই শিশির কণা
দরদীর নেত্র ঝুরে-
১১০
আরতি
বিজলীর বেগ যদি বয়-
গােপনে হিয়ার পুরে,
পরাণে টান যদি রয়-
যে থাকে থানা দূরে
তােমাদের এ উৎসবে
প্রতি তার র’বেই রবে-
গীতি তার স্মৃতির রবে
নাচাবে মন ময়ুরে !
আরতি
১১১
( ৩ )
শিউলি ফুল
ডাক দিয়েছে শুভ্র মেঘে
“শিউলি, তুমি আছ জেগে ?”
শুনেছি তা শয়ন থেকে,
আর ঘুমানাে নয় !
এবার মােরা পড়ব ঝরে
অসঙ্কোচে ধরার’পরে,
বিছিয়ে যাব স্তরে স্তরে
সারা কানন ময়!
ধূলায় লােটার সাধ না জানি ;
ছিড়বে বোঁটার বাঁধনখানি
বাবে প্রাণে বিষম মানি,
তবু ঝরার নেশা
১১২
আরতি
জানা ত নাই কিছুই ভবে,
অজানারেই চিতে হবে,
অচিন পথের মহােৎসবে
ছাড়তে হবে ভয় !
আর ঘুমানাে নয় !
ওই যে জলদ সব তেয়াগী
ডাক দিয়েছে,—“আছ জাগি” ?
ওর কি ব্যথা মােদের লাগি
শিশির জলে মেশা !
আমরা হ’ব অমনি ধারা
বিশ্ব লােপী সৰ্ব্ব হারা,
বিলিয়ে জীবন ভাঙব কারা
ক জীবন জয় !
আর ঘুমানাে নয়!
সব বিলানাে গভীর প্রেমে
যে ক্ষণে ভাই যাব নেমে,
পল অনুপল যাবে থেমে
অনন্ত নিমেষে।
আরতি
১১৩
উঠব বধূর কঁাকন কোলে,
প্রিয়ার গলার মালার দোলে,
জাগব নব হিয়ার কোলে
মরণ এত নয়।
আর ঘুমানাে নয়
১১৪
আরতি
( ৪ )
পদ্ম ফুল
আজ শরতের ওড়না ওড়ে
অভ্র কোলে--কি হিল্লোলে।
জলের কলি চলনা দুলি—
ওরি তালে আয় সকলে!
নীল আকাশের
দোলনা দোলে
অভ্র কোলে
কী হিল্লোলে !
তা সকলে—আয় সকলে।
আয়রে কোকে কৈরবেরা --
আয়ু নলিনী শেওলা ঘেরা
রক্ত কমল সবার সেরা-
নেচে নেচে আয়রে চলে।
আরতি
১১৫
শুভ্র মেঘের দোদুল হাওয়ার
লেগেছে আজ পরশ গায়ে,
আজ সরসীর সরস নাচের
নাচন সাড়া পড়ছে পায়ে ;-
আজকে কি আর থির থাকা যায় ?
যেমন যে র’ আয় ছুটে আয়
আজ পবনের নবীন দোলায়
দু মােরা রঙীন দোলে ।
কমল কলি আয় সকলে ।
অলির গুণ গানেই নহে
মােদের চরম সার্থকতা,
আজ বিকাশের বেদনাতে
বুঝেছি ভাই সার সে কথা;
রিক্ত দানে মেঘের ডাকে
ঘা দেছে সেই বেদনাকে,
আজ আমাদের পূর্ণতাকে
দানের প্রাণে পাবই বলে।
১১৬
আরতি
নীল আকাশে
দোলনা দোলে
অভ্র কোলে
কি হিল্লোলে !
অমল কলি
আয় সকলে।
আরতি
১১৭
( ৫ )
ভ্রমর
মউবনে গুঞ্জন,-
চঞ্চল যৌবন,-
উৰ্ম্মির কম্পনে
আমরা ও উন্মন।
শিহরিত শিউলিতে
ঝর ঝর চৌদল,
ঘরে ফিরে কলসীতে
জল ভরে বউদল,
কন্ কন্ বেজে উঠে
ছল ভরে কঙ্কন !
আমরাও উন্মন ।
সরসীর নীরে নীরে
কমলের সৌরভ,
সরসীর তীরে তীরে
ভামিনীর গৌরব,
১১৮
আরতি
কুঞ্চিত কেশদাম
শিথিলিত বন্ধন!
অলিকুল উন্মন !
ওই শােন মদকল
কলরব হংসের,
ওই হের ঝলমল
কর্ণাবতংসের,
এই লও অবদল
পবনের চুম্বন!
আমরা ভ্রমর দল
আমরাও উন্মন।
নদ-নদী থই থই
নির্মল জলধার,
ভরা পালে তরী ওই
চলে বেগে আপনার,
অমলিন্ জ্যোৎস্নায়
স্নান করে ঝাউবন ।
আমরাও উন্মন !
আরতি
১১৯
শরতের উৎসবে
চঞ্চল যৌবন,
আমরাও অলি সবে
তুলি সেথা গুঞ্জন,
নৃত্যের মঞ্চের
অধিকারী খঞ্জন!
আমরাও উন্মন ।
১২০
আরতি
( ৬ )
মরাল
মানসে আজ মন ধরেনা-
টান্ দিয়েছে কোন্ অচেনা !
শারদ মেঘের কোল ঘেসে চল,
ঝুরিয়ে মদকল ;
ডাক শুনে সব চাইবে লােকে
উৰ্দ্ধ পানে ডাগর চোখে ;-
সাদায় সাদা মিলিয়ে র’ব—
বাড়বে কুতূহল !
চল, উড়ে ভাই চল,
“কোথায় প্রিয়া ?” “কোথায় প্রিয়া ?”-
সুর সে নিরন্তর,
ওই মানিনীর মান ভেঙে যায়
অশ্রু ঝর-ঝর !
আরতি
১২১
বাদলে আজ লুকাল কে
উজল মণি কাজল চোখে ?
আজ আর মিছে চাটুবাণী—
আজ আর মিছে ছল
চল,
উড়ে ভাই চল, !
সরােবরে অথই জলে
দাড়াব ঘাড় তুলে
সাদা পদ্মবনের পাশে ;-
বিশ্ব যাবে ভুলে !
হঠাৎ মােদের কলরবে
চমক ভেঙে দিব সবে !
বালুর তটে ফেনার মত
রইব অচঞ্চল!
আরতি
এমনি ফুটে উঠুক মােদের
লুকোচুরি খেলা
আজ শরতের দুপুর রােদের
আলাে ছায়ার বেলা ।
আজ নলিনীর পুরােভাগে
প্রজাপতির নাচন লাগে,
কানায় কানায় উঠছে ভরে
মন-সরসীতল ।
আজ এরে ভাই সালানাে দায়
চল, উড়ে ভাই চল ।
আরতি ( ৭ ) শরৎ ও সকলের গান শরৎ- অনেক দিনের পরে দ্বারে আবার এসেছি। আমারে মনে আছে কি ? শিশির ধােয়া বনের পথে ধরার পূর্ণ মনােরথে আঁজলা ভরা স্নেহের রসে ভরে দিয়েছি। আমারে মনে আছে কি? ! সকলে— ভুলতে পারি তােমারে যে ভাবলে কিসে? ছিঃ তােমার আশে দুয়ার পাশে ছুটে এসেছি। তােমার আগমনের সাড়া হিয়ায় করে ভােলা পাড়া তাইত মােরা মাতােয়ারা হেথায় জুটেছি !
১২৪ আরতি শিউলি ও পদ্ম—শিউলি আমি ঝছি বনে- পদ্ম আমার দোল পবনে- ভুলতে পারি তােমারে যে ভাবলে কিসে ? ছিঃ ? অলি ও মরাল—অলি আমি মরছি ঘুরে- মরাল আমি তুলছি সুরে ভুলতে পারি তােমারে যে ভাবলে কিসে? ছিঃ !- মেঘ- অভ্র আমি কার লাগি আজ ধরেছি এই ভিখারী সাজ- ভুলতে পারি তােমারে যে ভাবলে কিসে? ছিঃ !- সকলে = মনে আছে তােমায় সখা শুভ্র কেশের গৌরবে মনে আছে চন্দ্ররাকা উজল বেশের সৌরভে ভুলিনি যে কানে কানে গানটি শুনেছি। আছে মনে দোয়েল খামার শিষে তােমার জয় গানে, আছে মনে শস্যশ্যামল ঢেউখেলান ময়দানে, ভুলতে পারি তােমারে যে ভাবলে কিসে? ছিঃ ! ?
আরতি
শরৎ- অনেক দিনের পরে ধরায় নেমে এসেছি।
কি দিব দান ভেবে দেখিনি
এবার শুধু আমার অসীম মহিমাতেই মণ্ডিয়া
হতাশ চোখের উদাস আলােক চাইরে যেতে খণ্ডিয়া ;
রিক্ততা কই? বাইরে না সে ? দেখ ভেবে মন দিয়া
কে আজ ভিখারী ?
কৰ্ম্মভীরু মনে যে দীন
সেই ভিখারী, সে আজি হীন ;
তাহার তরে শিশির তুহিন
অশ্রু ফেলেছি ;
বন্যা পারে ভাসিয়ে নিতে অতিরেকের ভার,
অনেকটা তার আবর্জনা অনেক অদরকার,
পূর্ণ তারে ধরূতে নারে লুটের কাছে তার ;
দখল বনেদী ;
বাইরে ত সে নেই বসে,
নিজেই ফুটে নিজের রসে ;-
অনেক দিনের
পুরাণাে সে
বার্তা এনেছি ;
১২৬
আরতি
অনেক দিনের পরে বঁধূ দারে এসেছি ;
কি আবাহন দেবে সবে আজ তােমাদের এ উৎসবে
আজ বিকাশের দোল গরবে
প্রাণে পেলে কি ?
সকলে—কি আবাহন দিব সবে আজ আমাদের এ উৎসবে
আজ বিকাশের দোল গরবে
প্রাণে পেয়েছি।
আরতি
১২৭
নিবেদন
তােমার মন্দির দারে, হে বঙ্গ ভারতি,
যশস্বী পূজারি কত করিছে আরতি ;
তার মাঝে স্নেহহীন
আমার প্রদীপ ক্ষীণ
প্রকাশিছে হীনজ্যোতি—মলিন মূরতি
তবু তুমি জান, মাগাে, সঙ্গীতে
নূতন
গাইতে তােমার স্তব করেছি যতন ;
করি নাই অবহেলা,
পথে ঘাটে মিছে খেলা,
সাধ পূর্ণ নহে তবু বিফল সাধন।
সে শুধু মা শক্তিহীন-সাধ্য নাই বলে
ভগ্নবীণা লয়ে আসি তব পদতলে ;
ভক্তিতে, বিশ্বাস আছে,
পড়িনা কাহারাে কাছে।
হারিনা নয়ন জলে অবনী মণ্ডলে।
১২৮
আরতি
তাই যবে ঘৃণা ভরে তব ভক্ত গণ
দলে যায়, নির্বিবাদে সহি সে বেদন ;
পরেরে করিয়া দ্বেষ
যে প্রতিভা হয় শেষ
তার মত হতভাগ্য কাহার জীবন ?
তবু যদি দীপ মম জ্বলিতে না পারে,
সমালােচকের তীব্র গরল ফুত্বারে
হয় যদি নিৰ্বাপিত,
নহি তাহে ক্ষুব্ধ চিত ;
কি খেদ পিছায় যদি যােগ্যতা বিচারে
তােমার নিকটে, মাগাে, মম ক্ষীণ বাণী
রুদ্ধ নাহি হবে কভু বেশ মনে জানি ;
মগ্নরে আনিতে কুলে,
দুৰ্ব্বলে ধরিতে তুলে,
প্রসারিত তব কর, হে দেবি কল্যাণি !
আরতি
১২৯
ক্ষুদ্র বা মহান্ ব’লে করনা বিশেষ,
যে যা দেয় তাই লও নাহি ঘৃণা লেশ ;
উছলিত মহাসিন্ধু
যে আদেশে, বারিবিন্দু
তুমি জান সমভাবে বহে সে আদেশ ।
সে সাহসে আজি, মাগাে, শুষ্ক বনফুলে
রচি’ অর্ঘ্য আসিয়াছি তব পাদমূলে,
যথা শক্তি রচি’ গান
করেছি চরণে দান ;
কে করিবে অপমান তুমি নিলে তুলে ?
আরতি
কবিতার প্রতি
যতই তােমায় বিদায় দিছি বারে বারে,
ঘুরে ফিরে আবার আসি তােমার দ্বারে ;
তােমার বাণী তােমার হাসি,
বলতে বাধে, ‘ভাল বাসি,
মুগ্ধ তবু তােমারই ওই আঁখির ঠারে
--
প্রাণের তারে বুলালে কর করুণ স্নেহে-
পুলক যেন তড়িৎ ছুটে সকল দেহে,
ঘুর লেগে যায় নম্র শিরে—
ঝাপসা দুচোখ সুখের নীরে,
পারে গিয়ে তাকিয়ে থাকি তােমার পারে
আরতি
১৩১
নাইবা দিলে ললাটে মাের বিজয় টীকা
জ্বালিয়ে দেছ পরাণে মাের হােমের শিখা;
জ্বলবে তাহা জ্বলবে তাহা
সঙ্গোপনে ;-স্বাহা ! স্বাহা !
নাইবা হল আতস বাজি পথের ধারে।
সমাপ্ত
No text on this page.
সুচী বিষয় পৃষ্ঠা be r ৪০০ ১ ক্তি আমার দেবতা তুমি সদানন্দ ~ বন্দনা ১১ ... ০ ভ্রম ৩০০ ০ ০ ০ কাছে ১৬ ১৭ p ০ ০ ০ মন কাড়া আমার সকল কাজে সারথি ১৯ ০০০ s ২১ ২৩ ••• এসনা কান্ত রূপে ০ শােধন ০০০ আঘাত কর ৫০০ ০ ভুল করিতে দাও ২৯ অমিল কবে ঘুচবে ০ ০ ০ ৩১ ••• পূর্ণিমা তৃপ্তি ৩৫ লক্ষ্মী পূর্ণিমায় ৮ + ১ s০ বিষয় পৃষ্ঠা te D০e ৬০০ ।০০ ৪০ মহা অমানিশা রমণী গাথা কেমনটি চাই ০ ০০ ০৮০ ৪২ ৮ ৬ ০ ৪৩ । ৪৬ ৮০০ ৪৮. ৫০০ ০ ০ ০ ০ ০ ০ pp ৫৫ ••• ••• ৫৮ ৬০ ৬১ কপােত কূজন একটি শুনিব কথা ভাষার সীমা চরম মান অভিলাষ আমার মানবী ভবভূতি রবীন্দ্রনাথ চিত্তরঞ্জন ভাইদ্বিতীয় নৌকা বাহন যা হয় কিছু সােনার বঙ্গ উৰ্ম্মি ten ০৮ ০৪০ ৬৪ ৬৭ ••• ৪০০ ৩৮ ••• ••• ০ ০ ০ ৭০ ০০ ৭৩ ৭৭ ০০ ৭৯ মধুরা রজনী ••• ৮১ ৮৩ সর্বনাশের কাল ০ ০ ০ এখনাে বন্ধন ৮৪ vo বিষয় পৃষ্ঠা ০০ ) অধিকন্তু ন দোষায় সৰ্বমত্যন্তং গর্হিত bob . ••• ৯ ৯২ ৯৪ ০ ০ ০ ০০৫ ০০ ০ ০০ ০ ১০১ ১০৩ প্রতিনিবৃত্ত স্মৃতি সাগর দোলা ছুট আষাঢ়ে শারদীয়া (১) আগমনী (২) শারদ মেঘ (৩) শিউলিফুল ১০৭ ০৫ ১০১ ১১১ (৪) পদ্মফুল ৫৪ ০ ১১৪ ৫০০ ১১৭ b০০ ০০৫ ১২০ (৫) ভ্রমর (৬) মরাল (৭) শরৎ ও সকলের গান নিবেদন কবিতার প্রতি ১২৩ ০৮০ ১২৭ -
No text on this page.
No text on this page.