Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Sadhan Gan

Debi,shibdasi · 2010/02/7

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

সাধন গান
2.
প্রণেত্রী
শ্ৰীমতী শিবদাসীদেবী
মূল্য:
19০ আনা মাত্র

No text on this page.

বিজ্ঞাপন।
গান মানুষের চিত্তাকর্ষণ করে, একাগ্রতা আনয়ন করে।
তাই আজ হৃদয়ের আবেগে গুরুর কৃপায় অবকাশ সময়ে যে
সকল গীত রচনা করিয়াছিলাম, তাহা অদ্য পত্রিকাকারে
“সাধন গান” নাম দিয়া প্রকাশ করিলাম। আমার এই
গান যদি সাধকের সাধন পথের কিঞ্চিৎমাত্র সহায় হয়, তবে
আমি আমার শ্রম সফল মনে করিব। সহর মুর্শিদাবাদনিবাসী
সঙ্গীত বিদ্যাপারদশী সৈয়দ কাদের হােসেন সাহেব, আমার
রচিত গানগুলির সুর ও তাল বসাইয়া দিয়াছেন, সে জন্য আমি
তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞ। ইতি ৫ই জুলাই ১৯৩৩ সাল।

No text on this page.

উৎসর্গ
পরমারাধ্য পূজ্যপাদ—
শ্ৰীশ্রীস্বামী দ্বারিকানাথ দেব তপস্বী
সাধুবাবার
শ্রীচরণ কনলে-
-পুস্পাঞ্জলী স্বরূপে
এই গ্রন্থ অর্পিত হইল।

No text on this page.

সাধন গান।
সাধু বন্দনা।
ইমণকল্যাণ—তাল দাদরা ।
জয় জয় জয়,
সাধুবাবার জয়,
এ ভারত মাঝে হয়েছেন ধন্য।
দিতে অজ্ঞানের,
জ্ঞান ভক্তি দেব,
তুমি বিনা আর কে পারিবে অন্য ।
যেতেছে সংসার,
হয়ে ছারখার,
পাপেতে মতি ভারতবাসী।
না মানে সদাচার,
সব কদাচার,
যার যা ইচ্ছা করিছে বসি।
কত লােকে দেব
ভক্তি জ্ঞান দিয়ে,
দেখাইয়া দিলে পথ মনােহর।
প্রতি দেশে দেব
করিয়া আশ্রম,
ধৰ্ম্ম প্রচার করহ সুন্দর।

२
সাধন গান।
কত নরনারী,
ত্রিতাপ জ্বালায়,
নাশিছে শেষে আপন প্রাণ।
পাইলে তারা,
ঐ দেব সঙ্গ,
রাখিবে তারা আপন প্রাণ।
উদ্ধার জগৎ,
তুমি গাে মহৎ,
গাবে তব জয় ভারতবাসী।
আমি গাে তাম,
কি জানি নিয়ম,
তব কৃপার কেবল অভিলাষি।
তব আশীৰ্বাদ,
গুরুকৃপাবলে,
ভবনদী যেন হই গো পার ।
তব করে এই,
দিনু আমার,
সাধন গান বই উপহার।
শরণাগতা
শিবদাসী ।
গুরুবন্দনা।
কেদারা--চোতাল
নমস্তে সুর',
প্রভু কল্পতরু, .
তুমি সারাৎসার অনাদি আদি।
পৃক্তি নিরবধি,
পিতা ত্রিলােচন,
সেই পিতা তুমি দয়ার নিধি।

সাধন গান তব কৃপাবলে, হৃদয়ের বল, বাড়ে যেন মাের দ্বিগুণ হয়ে । বাসন কামনা, ধৰ্ম্ম তেজ বলে, পুড়ে যেন যায় ছাই হয়ে তােমার চরণে, রাখিয়া ভকতি, সাধনে যেন গােয় উন্নত হই। মা বলে যারে, আমার বিশ্বাস, কৃপা যেন মােরে ব্রহ্মময়ী। অজ্ঞান তনয়া শত অপরাধি তার অপরাধ ক্ষমিও পিতা। আমরা উভয়ে, লয়েছি আশ্রয়, শিখাইয়া দিও জ্ঞানের কথা। অচলা ভক্তি, থাকুক মােদের, তব পদ যেন সদা ধেয়াই। জানি ভকতি, আমি মুঢ়মতি, নিজ গুণে যাহা কর গগ তাই। তােমার পদেতে, মােদের বিশ্বাস, ও পদে শরণ লইনু তাই। তব আশীর্বাদ, পুরে গাে কামনা, অন্তিমে যেন মােক্ষ পাই।

৪
সাধন গান।
রামপ্রসাদি-আখেমটা ।
মনরে আমার বুদ্ধিনাশা।
তারা বােলে ভবের মাঝে, খেলবি আয়রে নূতন পাশা।
পাঁচ সাত কড়া হাতে নিয়ে, খেলবি যথাস্থানে গিয়ে ;
খেলতে জানলে পাঁচে দশ ; জিতে নিয়ে আসবি খাসা।
বড় যদি হবিরে মত শক্তি-খটি এটে ধর।
খেললে পাশা মিলব খাসা, যা ইচ্ছা তখন তাইরে কর।
তারা বলে ঝাপ দিবি মন, জ্ঞান-সমুদ্রের অগাধ জলে।
ভক্তি প্রেমকে সঙ্গে নিবি রতন আছে বহু তলে
শিবদাসী কয় শিখলে খেল। জিতের বাজী পণ করিলে
ঠিক ভাবে মন ফেল পাশা, হার হবেনা কোন কালে।
শিবেরবন্দনা।
কেদারা-সুরাকতাল
জয় জয় প্রভু ত্রিলােচন দানব-দর্পহারী
তব জয় গানে উকি বিশ্ব পুলকে শিহরি।
বাজুক ভীম করতাল বাজুক মৃদঙ্গ ভেরী
নমামি চরণে জাগহে শঙ্কর ত্রিপুরারী।
পশু পক্ষী সব হর হর রবে শব্দ করুক সবে
যত দেবগণ আন্দে নাচিয়ে তােমার মহিমা গাবে।

সাধন গান।
৫
বৃষভ লইয়ে নন্দী মহাকাল ভৃঙ্গি নাচুক দিয়ে তালে তাল
দুধারে নাচুক ভৈরব বেতাল ব্যোম্ বা রবে বাজায়ে গাল
গ্রহ তারা সব বৃক্ষাদি পবন, তব নামে সব হউক মগন
নাচুক পৃথিবীর নরনারীগণ শিবগুণ গা’ক সবে।
শঙ্কর নামে জাগুক বিশ্ব দশদি আলো হবে
ওহে মহাকাল সংসার জঞ্জাল জীবের দুর্গতি ঘুচাবে কবে ?
মায়ের শরণ লও।
হাম্বির—একতলা
আয় আয় মাগাে,
চলে আয় আজি
ডাকে যে তয়া তাের
আমি ভব ধামে
জীবন সংগ্রামে
বিক্ষত দেহ মাের
জগৎজননী
করুণারূপিণী
দিয়েছ করুণা ধারা
কৃপা পরকাশি
হৃদে প্রেমরাশি
আপনি ঢেলেছ তারা
আমি অভাগিনী
জনম দুখিনী
শরণ লইনু তাের।

৬
সাধন গান।
ত্রিতাপহারিণী
তুমি মা তারিণী
ঘুচা মা নয়ন তাের।
চিন্ময়ী তারা
তুমি দুখ হর
শরণ লয়েছি তােমা
সঙ্কট ঘােরে
কৃপাময়ী মােরে
তার দয়াময়ী শ্যামা।
তুমি ছাড় ছল।
ওগাে রাজবালা
ছলনা ক’র না মােরে।
কপটির পাকে,
পড়িয়ে বিপাকে,
সদা ডাকি তাই তােরে।
লুকোচুরী খেলা, ছাড় গিরিবালা,
দয়া করে রাখ পায় ।
ভক্ত শিবদাসী
তাই দিবানিশি
কাতরে তােমায় চায়।
হাম্বির-একতাল।
(ওমা) আসবি কি দয়া করে, আয় আয় চলে আয়
(ওগো) তাের, দয়া দয়াময়ী বল ভবে কেব। পায়।
(ওমা) স্বর্গেতে দেবতা পূজে হয়ে কৃতাঞ্জলি
পাতালেতে ভক্তিভরে বেঁধেছিল বলি

সাধন গান।
৭
আদ্যাশক্তি তুই মাগাে অনন্তরূপিনী
জ্ঞানহীনা আমি তাের, মহিমা না জানি
ভক্তিহীনা শিবদাসী সেই আজি তােরে চায়
ঠেলিস না তারিণী মােরে কৃপা করে রাখ পায়।
(ওমা) শারদে বরদে শুভদে কালী
(ওমা) কেবল কালী কালী বলে
আমার দেহ মন হল কালী
সংসার যাতনা অশেষ বেদনা
আর তাে সহেনা প্রাণে।
(ওমা) অশান্তি আগুন, বাড়িছে দ্বিগুণ
ধিকি ধিকি জ্বলে প্রাণে।
(ওমা) জনম অবধি ও পদ ধেয়াই
কিবা ফল দিলি তারা
যদি দয়া কর ; হে রণরঙ্গিনী
কৃপা করে আয় ত্বরা।
ভাবের ঘরে মানসী প্রতিমা।
সিন্ধু-একতাল
আমার মানসী প্রতিমা রূপের গরিমা দেখিব এবার তােরে।
ও তাের ধরেছি চরণ, ছাড়িব না পণ কেমনে ভুলিবি মােরে।

সাধন গান।
এ নারী হৃদয় ভাঙ্গিয়া চুরিয়া দিব মা চরণে তাের
আমার সঙ্গে কপট ছলনা করিস মা তুই ঘাের।
যে তােরে চেনেনা তাহারে ছলনা করিবি মাগাে তুই।
আমি যে তোমারে চিনেছি জননী পেয়েছি যে স্নেহ মুই
এই ক্ষুদ্র হৃদয়ের ক্ষুদ্র ভালবাসা স্নেহময় ক্ষুদ্র প্রাণ
আমি করেছি যে তাের চরণে লিপ্ত দিবি নাকি প্রতিদান
জগজজননী তারা ত্রিনয়ণী প্রাণের প্রতিমা মাের
চিত্তপটেতে দাড়াগাে জননী তুলি গাে চিত্র তাের
ও তাের চরণে নূপুর, বাজিবে মধুর, দিব আমি করতালি
তাের ভক্ত শিবদাসী যুগল চরণ হৃদয়ে লইবে তুলি।
খাম্বাজ-একতাল
ক্ষণে দেখা দেয়, ক্ষণেতে লুকায় কেরে আমার হৃদয় মাঝে
এ যে চমকে চপল উজল শ্যামলা এলোকেশী বেশে ঐ বিরাঞ্জে
কিবা রূপের মাধুরী আহা মরি মরি নােড়শী শ্যামা ভুবন মাঝে
দেখিয়া যে মাের ধাঁধিল নয়ন সরেনা যে মন গৃহ কাজে
কখম দেখি যে মেঘের মাকে কখন দেখিযে গৃহে বিরাজে।
কভু নারী বেশে তারা রক্তবস্ত্ৰপরা কখন দেখি যে পুরুষ সাজে
সাপিনী কেশ দেখিয়া সভয়ে লুকায় তাহার বিবর মাঝে
নখর দেখিয়া চঁাদ পলাইল রূপসী রমণী পালায় লাজে।

সাধন গান।
দ্বিজ কন্যা শিবদাসী ভনে, দেখা দেয় মা আমায় ক্ষণে ক্ষণে
কখন দেখি যে হৃদয়মাঝে কখন দেখি যে দেওয়ালে আঁকা
শুনিয়া চরণ-নূপুর-ধ্বনি ময়ুর নাচে মেলিয়া পাখা
শুন গাে জননী আমি অভাগিনী জনম জনম দিও মা দেখা।
রামপ্রসাদী- একতলা
মন তাের এত ভাবনা কিসে।
তারা বলে বসবি জপে, ছােবে না তােরে নিদ্রা এসে।
যখন দেখবি উঠবে কাশি, ডাবি ওগগা এলােকেশী
দুর করে দে এসব জ্বালা, নইলে আমি পারব কিসে ।
ডুবাবি মন মনের মাঝে, চিন্তা করবি চরণরাজে ;
কর ধরে জপ করবি মন, পদ্মাসনে থাকবি বসে।
শিবদাসী বিভীষিকা যখন তােকে ঘিরবে এসে
মাকে বলে দুর করে দে, জয়ী হবি মন সকল শেষে।
বাউল সুর—একতালা।
মাগাে তােরে ছেড়ে ভবের মাঝে,
পরবাে কি মা লােভর মালা।
তা না হলে এক ছেড়েদি আরেক আশে,
আশার নেশ বিষম জ্বালা |

সাধন গান।
জুটে যায় অর্থ আশা, যায় না নেশা,
মা আমার লক্ষীছাড়া।
আমায় নিয়ে, টানাটানি করে সর্বনাশী,
খেলি খেলা সৃষ্টিছাড়া।
ফেল্‌ছে কত পাকে, মরি বিপাকে
দেহ মন্টা ছারখার।
আবার মায়া দেখিয়ে বল মাগাে
ভালই আমি করবাে তােমার ।
ও তােমার ভালাের জ্বালায় জ্বলে মরি,
ডেকে মরি তবু তােকে।
বিপদে পড়লে পরে, দাড়াস্ সরে
দেখিস্ নাকো তুই আমাকে ।
হয়েছি রােগে জ্বরা বল মা তারা,
সাধন ভজন করতে নারি।
দেখছি মনে ভেবে,
তুমি বিনে,
উপায় নাই গাে মা শঙ্করী।
ভক্তি প্রেমের, শক্ত ভোয়ে,
বাঁধবাে তােমার পা দুখানি।
শিবদাসী কয়, মায়ে মেয়ে,
হবে এবার জানাজানি ।
২

সাধন গান।
রামপ্রসাদি—কাওয়ালি ।
খেতে বােস মনরে পাজি।
এমন খেলা খেবি রে মন,
যাতে জিততে পারবি বাজী।
ভবের খেলা খেতে গিয়ে,
দু দশ কড়া হাতে নিয়ে ;
লাভে-মূলে হারাইলি,
ফুরিয়ে গেল সকল পূজি।
ভক্ত শিবদাসী বলে,
মন সপ মার চরণতলে,
তারা বলে থাকো বসে
কি করবে সেই যমটা পাজী।
ছায়ানট-একতালা।
•
আমায় আজ কেন কালী দেখ না চেয়ে।
“য়ন মুদে তারা বলে, মন রাখি তাের চরণতলে
দিবানিশি ভাবি বসে নীলবরণি কাল মেয়ে।
{ ওমা) আসৃবি যাবি নিশিদিন,
ভেবে তনু মন

সাধন গান।
আমি যে মা দীনহীন,
আছি যে গাে পথ চেয়ে।
হইলে দ্বিপ্রহর নিশি, গগনে উদিত শশী,
আমি ভাবি শ্যামা এসে, কোলে নেবে নিজ মেয়ে।
দ্বিজকন্যা শিবদাসী, (বলে) প্রেম তাশ্রুজলে ভাসি,
কালী আমার পায়ের মাঝি, পার করবে হয়ে নেয়ে।
বেহাগ খাম্বাজ-কাওয়ালী।
মাগাে আমার এই বাসনা,
যেন দিয়ে প্রাণ মন করিয়ে য'ত
(আমি) করতে পারি তাের সাধনা।
এ বিশ্ব সংসার মাঝে ; ঘুরে বেড়াই মা
নানা কাজে ;
মিথ্য। ভ্রমে মায়ার বশে,
তাের যেন নাম ভূলিনা।
বাধা বিঘ্ন যত ধরে, কাটে যেন তাের
নামের জোরে :
ব্ৰহ্মময়ী অস্ত্র সহায় করে
কিছুতে যেন টলিনা।

সাধন গান ।
আমার হয় যেন গাে মন্ত্রের সাধন
কার্টের সাধন কি শরীর পতন।
আমি জগৎ মাঝে ক’রবাে সাহস
কিছুতে যেন ডরিনা।
ভক্ত শিবদাসী কয়—
ভূত, প্রেত, দৈত্য, মানুষ হয়
ব্যাঘ, ভালুক আর হিংস্র জন্তু,
কেউ যেন কিছু করে না।
বেহাগ-তেতালা।
অপূর্ব আনন্দ রসে,
ডুবিল মন ভাবাবেশে
সুগন্ধে ভরিল মন প্রাণ ।
(আমি) ঘরের ভিতর গিয়া, ফিরিতে না পারি আর
আকুল করিল হৃদি প্রাণ।
পুলকে
হরিল জ্ঞান
চেতনা রহিত প্রাণ
আমি গাহি কালী নাম গান।
মা আমার নয়নতারা,
শকতি দিও গাে তারা
করি তব প্রেম সুধা পান।
ভক্ত শিবদাসী কয়,
তুমি তাে সামান্যা নয়,
কর মােরে প্রেম ভক্তি দান।

১৪ সাধন গান। কামােদ-একতালা। শ্যামা তােমারে জপিয়া, তোমারে পূজিয়া গতি যদি নাহি পায় মা জীবে । তবে আর কেনে, এ মর ভুবনে কে আর তােমার নামটী লবে। ওমা শয়নে স্বপনে, প্রতি ক্ষণে ক্ষণে যে ডাকে তােমারে মাগাে তারা। দুঃখে দুঃখে দগ্ধে তারে ক'র মা তাহারে চিত্ত হারা। তােমার চরণ করে যে ধারণ- চোখের জলে সে হয় দৃষ্টিহারা। এই জগৎ মাঝে, পাপী তাপী যত চারিদিকে তার করছে তাড়া। সত্যের জয় নাইকো হেথা, মিথ্যার জয় জগৎ মাঝে। যার যা ইচ্ছা বলছে করছে, তবুও আছি মা আপন কাজে। আক্ষেপ হৃদয়ে শিবদাসী কয়, শ্যামা মায়ের নামে কই হল জয়। ধর্মের পরিণমি এইরূপ হয়, তাকে দগ্ধে মরতে হয় জগৎ মাঝে।

সাধন গান।
১৫.
ঝিঝি ট-একতালা।
শ্যামা, তােমাতে আমাতে মুখেরি কথাতে
হবে কিগাে পরিচয়।
এবার মা হারে কি মেয়ে হারে,
দেখি কান্ বা হয় গাে জয় :
মাের কেন দেখাও ভয়, সে মেয়ে এ নয়
জগৎ জননী তারা।
তােমার মেয়ে কি যেমন তেমন হয়,
ঠিক পায় মা মাতৃধারা।
তবে আর কেনে, তনয়ার সনে
লুকোচুরী খেলা কর।
যখন দিয়েছছা যন্ত্রণা, আমি ছাড়িব না,
এখন যা ইচ্ছা তাই মা কর।
সংসার মাঝারে, নরক দুস্তরে,
ঘাের পা শুধু খ ই।
তয়ায় তারিণী, তার নিস্তারিণী
দিবানিশি ডাকি তাই
ওগাে নিদয় নিষ্ঠুর, চপলা চঞ্চলা
শুন গিরিরাজ বালা।
তাের শিবদাসী, ভূলিবার নয়
ছাড় মা সকল ছল কলা ।

সাধন গান ।
ওগাে হরহৃদি বিলাসিনী শ্যামা।
ঐ তােমার নামে, তােমার প্রেমে
আমার চিত্ত বাঁধিও মা।
তুমি আমার বৃন্দাবনের বিলাসিনী রাই
তােমার প্রেমে মত্ত হয়ে যেন
তােমাকেই মা পাই।
মনের আঁধার টুটে গিয়ে
জুলুক প্রাণে আলাে।
তােমার দয়ায় তােমার কথায়
;
হয় যেন মাের ভালাে।
ভক্ত শিবদাসী কয় মা-
তামার মন অলি,
তােমার চরণ মধু খাবার তরে
সদাই যাবে চলি।
কবিতা।
শুন শুন শুন শুন মাগাে বলি ।
আমার এই হৃদয় মাঝে, মােহন সাজে
একবার নৃত্য কর গাে কালী।
যেন হয় মা আমার, জনম সফল
আর কিছু নাহি চাই।

সাধন গান।
১৭
যেন জনম জনম, করিয়ে সাধন,
ঐ তব পদ পাই।
তারা বলে আমি ঝাপ দিমু মাগাে
ও রাঙ্গা চরণতলে।
ও তাের, চরণমাঝারে নুপুর হইব
আমি বাজিব কালী কালী বলে।
জল, স্থল, মহাব্যোম,
ও তাের চরণে করিছে নতি।
তােমার মহিমা, কি বল জানি
আমি যে মা হীনমতি।
স্বর্গেতে দেবতাগণ তব নাম গায়।
পাতালেতে শেষ রাজা
পূজে তােমার পায়।
মাের নাহি ফুলদল, নাহি গঙ্গাজল,
নাহি আর বলিদান
কি আছে আমার, কি দিব তােমায়
আছে শুধু
এই প্রাণ।
এখন যা কর, তা কর মাগো
পড়ে আছ চরণ হলে।
ও তাের চরণপদ্মেতে ভ্রমর হইব,
আমি গুঞ্জরিব তা বলি।
যেন সেই শেষ দিনে, তার। তারা বলে,
জীবন যায় গাে কালী।

১৮
সাধন গান ।
ঝিঝিট—একতালা।
আমার জেগেছে প্রাণ মায়ের ডাকে।
আমি দেখবাে এবার ডেকে ডেকে
দেখি মেয়ে ফেলে মা কদিন থাকে।
ছেলে মেয়ে কালে পরে
মা হয়ে স্থির রইতে পারে
ওম। আমি যে তাের দুঃখী মেয়ে
তুই আস্ব নেকে। আমার ডাকে।
আমি মেয়ে জ্ঞান হারা,
তাই বলে কি নিদয় তারা,
মাতৃস্নেহ কি এমনি ধারা
দেখবি নিকে। তুই আমাকে।
যদি হই মা অপরাধী,
তাের চরণে নিরবধি
কত দুঃখ দিলে মােকে।
আর কেন বঞ্চনা মােরে
গনি মা মা বলে ডাকছি কত
তুই কি মা ববির এত
শুনতে পানে কোন মত
বল কেমনে আর ডাকি তােরে।

সাধন গান।
১৯
বেহাগ-কাওয়ালী ।
মাগাে তুমি ঘুমায়ােনা আর।
উঠগগা জগৎমাতা হচ্ছে কত অবিচার ।
চক্ষু
মেলি
দেখ মা ভবে
অন্যায় কাত্যাচার কত হবে,
যার যা ইচ্ছা করছে সবে
কেহ ধারে না ধর্মের বার।
সাধু মাগাে চোর হয়
চোর যে মা সাধু হয়
মিথ্যা দিয়ে সত্য ঢাকে
খেলে না সত্যের দ্বার।
অবাক হচ্ছি দেখে শুনে,
মানুণকে মানুষ নাহি মা গনে,
কারাে কথা কেউ না শুনে,
সবই হ’ল একাকার।
শিবদাসী কেঁদে বলে
রাখ গাে মা চরণতলে,
ও তাের কালী নামের সার্থকতা
বুঝে আমি দেখবাে এবার।

সাধন
গান।
শঙ্কর-একতালা।
আঁধার রজনী অমাবস্যা রাতে
আমি দেখিনু ঘুমেরি বশে।
যেন চতুভূজা শ্যামা মুক্তকেশী বামা
দাঁড়ায়ে আমার পাশে।
আমায় কিবা মন্ত্র দিল, প্রাণ শিহরিল
ভুলায়ে ফেলিল মােরে।
কি অপূর্ব শােভা হেরিনু নয়নে,
সেদিন স্বপন ঘােরে।
রক্ত বিকসিত, পদ কোকনদ
নখরে হেরি দিম।
উন্সিল
মুখে বিমল ভাতিমা,
দেহেতে আচষ্য গরিমা।
যেন মেঘের বরণ হরিল চেতন
প্রাণ মন করে চুরি
যে তারে হেরিবে সেই ভুলে যাবে
কেটে যাবে মায়া ডুরি।
দীনা দ্বিজ-কন্য। শিবদাসী কয়
সে কালী তাে সামান্য মেয়ে নয়,
ও তার রূপের ছটায়
চমকিত ত্রিভুবন নরনারী।
এ

সাধন গান ।
২১
বিভাস- একতাল
ভক্তি প্রেমের শক্তিরূপিনী জগৎজননী তারা।
ও সে উজল বরণী শিবের ঘরণী আমার নয়ন তারা।
বহুদিন হ’তে চাহিতে খুজিতে আমার সিল নয়ন পথে।
নহে অজানা অচেনা, যেন কত জানাশুনা বুঝিয়াছি বিধিমতে।
এতদিন হ’তে ঘুরিয়াছি বৃথা শুধু নকলের তরে।
আসল বলিয়া যা কিছু ধরেছি নকল হইল পরে।
এখন মিলেছে তামার আসল যাহা ঠিক প্রাণে প্রাণে মিলে।
ও সে হরহৃদি, করিয়ে যতন লইব সাধন বলে।
ভক্ত শিবদাসী বলে মাগো আর কতই করিবি খেলা।।
ও তুই নব নব ভাব করিয়ে বারণ কর কত মত ছলা।
ও মনরে তুমি সার করেছ তারার চরণ
তােমার আবার ভয়
জগৎমাঝে মায়ের নামে
পাপের পরাজয়।
তুমি চক্ষু মুদে ডাক বসে ধরবে না
কোন বিপ্ন এসে--
বাবা তােমার আছে যে মন সে যে মৃত্যুঞ্জয়।

সাধন গান ।
দিয়ে ভক্তি প্রেমের শক্ত দড়ি
বাঁধ সেই যুগল চরণ 'তরী ।
যত ঢেউ উঠুক নারে মন
সে তরী ডুববার তাে নয়।
শিবদাসী যে মায়ের মেয়ে
দেখবে জগৎবাসী চেয়ে
মানুষের চোখ আপনি ফুটবে
কানা তাে কেউ নয়।
বাগে-তেওরা।
গেল বিফলে দিন হলো না সাধন
যাতনা পাই মা ভবে।
ওগো ত্রিনয়না বলে দেনা মােরে
দিন পাব আমি কবে।
কত দিন এল কত যায় দিন,
ঘুচিবে নাকি মা দীনার দুর্দিন।
আমার আঁধার জীবন আলােকিত হয়ে
প্রাণ চির শান্তি পাবে।
আকুল বাসনা জাগিছে অন্তর
কিরূপেতে মেটে সেই ইচ্ছা মাের ;

৪ধন গান ।
২৩
তুমি ইচ্ছাময়ী হৃদয়েতে মাের
আমার সে সাধ মিটিবে কবে ।
আসিবে কি মাগাে সেই মহা দিন
যেদিন তারা তারা বলে হব জ্ঞানহীন
আমি আনন্দে নাচিব নাম গাহিব
আমার প্রেমবারি চোখে ববে।
দীন শিবদাসীর মনে বড় আশা
অল্পে তার মাগাে মিটে না পিপাসা
আকুল পিয়াসা তাের ভালবাসা
আমি পূর্ণ লভিৰ কবে।
যােগীয়া-দাদরা।
যতন করে খোঁজরে মন
মিলবে রতন অবহেলে।
শক্ত হয়ে করে কাজ
আর প্রাণ দাও মার পদতলে।
লাগলে ক্ষুধা, পাবে সুধা
পেটের জ্বালায় ভেবে মর।
মাকে ডেকে গলা ধরে
স্তন্য দুগ্ধ মন পান রে কর।
উঠতে বসতে, খেতে, শুতে
ভাব মাকে দিনে রেতে
বলবে ডেকে মাগাে আমার
সব বাসনা পূর্ণ কর ।

২৪
সাধন গান।
ছায়ানট--একতালা।
অল্পে তৃপ্তি হয় না মা মাের
শুন গাে তারা ও শঙ্করী ।
মনে হয় মা দিবানিশি
দেখবাে তােমায় নয়ন ভরি।
ঝুলবাে তােমার গলা ধরে
কাদ’ব ডাক’ৰ মা মা করি।
আবার নিজ হাতে করাইয়ে স্নান
সিদুর দি সিথি ভরি।
চরণ দুটী হতে পারে, আলতা পরাব রেখা করে
চক্ষুতে
দিৰ কজ্জ্বল।
বঞ্জ অলঙ্কার পরাব ধরি
চরিয়ে দেব চঁচর কেশ,
দেখে যেন ভােলে মহেশ।
সে যে আমার পাগল বাবা
শ্মশ'নেতে বেড়ায় ঘুরি।
শােন মা তারা এলােকেশী,
ও সেই পাগল বাবায় গৃহবাসী
করবে তাের এই শিবদাসী
বাবার স্নেহ লৰ কাড়ি।

সাধন গান। ২৫ বিভাস-দাদরা। আমার এই ব্রহ্মময়ীর চরণ হাটে কে আসবিরে আয়। সকাল করে আয়রে চলে বৃথায় সময় কেটে যায়। পাবি ধন মনের মতন নূতন নূতন অপূর্ব রতন। বিনামূলে সব পাবিরে কেবল খানিক খাটতে হয় । ছেড়ে দেরে লােভর মালা ন বাইরে রাখ সব মায়ার খেলা, তান্তরে জ্ঞানের জ্বালরে আল সব পরিস্কার হয়ে যায়। সুমতি কুমতি যােগ- করায় রে সব ফল ভােগ, কুমতিতে ধরে যারে- লক্ষীছাড়া হয়ে যায়। শিবদাসীর কথা নেরে সুমতিকে ধররে জোরে অবিদ্যা জড়তাগুলি ঝেড়ে ফেলে চলে আয়।

সাধন গান।
সাহানা-একতালা
কালী পদ সার কর মন আমার,
হৃদে ভাব সদা কালী।
ও নাম জপিতে জপিতে পাইবি দেখিতে
অধীর হয়ে না রলি ;
মনরে তুমি কালী কর সার—
কালী করবেন পার
কাল ভয় তােমার রবে না
ও মন লহ কালী পদাশ্রয়, দূর হবে ভয়
যাতনা বিষাদ পাবে না ।
অজ্ঞান তিমির নাশিয়া রে মন,
জ্ঞান অলােক জ্বালি-
মাতা, পিতা, ভ্রাতা, স্বামী, পুত্র, ভগ্নী-
সব হবে তাের কালী ।
কালী হবে তাের গৃহ ঘর দ্বার
কালী হবে তাের ঐশ্বৰ্য ভাণ্ডার
কালী হবে রে মন তাের প্রতিবাসী
রক্ষক হইবে কালী ।
মন তুমি ভেবো না, ভেব না বিফল ভাবনা
চিন্তা ছাড় তুমি মনে
যে চিন্তাময়ীর নাম, জপিবে রে মন
তার চিন্তা হবে কেন ?

সাধন গান।
২৭
১
মন তােমায় ভেবাে না কো বলি
পাবে তুমি কালী যেদিন সময় হবে-
সে দিন ভেদিয়া পৃথিবী, মায়ের মুরতি
নিশ্চয় দেখা দিবে।
তিলক-একতালা।
মা, আমি স্বপনে পেয়েছি, যতনে রেখেছি
আমার হৃদয় মাঝারে।
আমি, নির্জনে পূজিব যতনে ভাবিব
বলিব না আর কাহারে।
ওমা তােমার চরণে আমার পরাণে
বাঁধিলাম নিগড় বাঁধনে,
দেখি ও চরণ হৃদয় হইতে
ছাড়াইয়া লবে কেমনে।
আমি প্রেম ফুলে ভক্তি চন্দনে
পূজিব চরণ তােমারি
আমার নয়নের জল হবে গঙ্গা জল,
মন বিল্বদল আমারি।

২৮
সাধন গান ।
দেহ হবে তােমার কৈলাস ভবন
মস্তক অর্ঘ্য তােমারি
প্রাণ হবে তােমার স্বর্ণ সিংহাসন--
হস্ত হবে অসি আমারি।
আমার কর্ণ হবে চরণ নূপুর
নয়ন হবে মুণ্ডমালা
আমি দেহের রক্তকতা করিব
চরণ করিব চেলা।
বদন করিব ঢাক ঢোল বাদ্য
ভক্তি সুধা আতপ কলা।
জ্ঞান করিব ঘৃতেরি প্রদীপ
জুলিবে নিশি বেলা।
দেহের মধ্যে ছয়টা রিপু
বলি দেব পদে তােমারি
ভক্ত শিব দাসীর দেহ মন প্রাণ
সবি যে মাগো তােমারি।
কানেংড়া-একতালা ।
আয়গাে মায় পাগল ম মাের
প্রাণের তারা পূর্ণশশী
রাখবাে তােমায় যতন করে
সেবিব পদ দিবানিশি।

সাধন গান।
২৯
বাবা পাগল তুমিও পাগল
আমিও তাের পাগলী মেয়ে
সেবকগুলি বদ্ধ পাগল
যে নেবে তাের চরণ চেয়ে।
তুমি আপনি হাস আপনি নাচ
আপনি দাও মা করলি,
ভক্তগুলি সব ঠিক তাই
যত পাগলের খেলা কালী ।
তােমার এই পাগলা হাটে
নৃত্য গীতের পশার বটে-
সঙ্গীগুলি নাচে হাসে
ঢুলে পড়ে মা লুটে পুটে
শিবদাসী কয় পাগলা হাটে-
হাঁসা দা সবই আছে
যত দুঃখ তত মুখ মন
বৃথা সময় কাটাস পাছে।

৩০ সাধন গান। রামপ্রসাদী-আড় গেমটা। আঃ মন তুই স্নানে যাবি। ও সেই কালী হ্রদের কাল জলে কালী বলে স্নান করিবি। হবেরে তাের জ্ঞান লাভ কেটে যাবে মোহ পাপ- হবে কালী চরণ লাভ তামায়াসে মােক্ষ পাৰি । ও মন, কালী হ্রদে করলে মান- দূর হবে তাের অজ্ঞান অনায়াসে কালী বলে ভব পারে চলে যাবি। ও মন, কালী কালী বলে যারা কোন দুঃখ পায় না তারা একেবারে মুক্তিলাভ চতুর্বর্গ সবই পাবি। ভক্ত শিবদাসী বলে স্নান করে সেই কাল জলে কালী বলে মন মাতালে নাচ ওরে মন তােরে বলি। মায়ের কাজ মা খুব করেছি আমি মনে মনে ভাবি তাই।

সাধন গান।
যত করি ভাল কাজ
ততই দুঃখ অধিক পাই।
নন্ত পরীক্ষা ঘােরে
ঘুরিয়ে আনলে তুমি মােরে,
শেষ কালেতে সংসার মাঝে
হাবু ডুবু খেয়ে যাই।
তুমি নামটা নিয়ে জগৎ মাতা
এত দয়া শিখলে কোথা,
এতই আমার মাথা ব্যথা
কেবল তােকে ডেকেই যাই।
মা হয়ে মা মেয়ের পানে
ফিরে চেয়ে দেখিনে কেনে
তবু আমার হয় গাে মনে
ও তাের চরণ দুটী যদি পাই।
ঝিঝিট-একতালা।
তুমি মাগাে সতী কালী
কেন তােমার এমন বেশ
তােমার পদতলে লুটাইতেছে
যােগী বেশে আপনি মহেশ।

সাধন গান ।
দেখ না মা তুই চক্ষু মেলে
পতি যে তাের পদ তলে
মনের সুখে দাঁড়িয়ে আছ
নাইকো তােমার লাজের লেশ।
আমার উলঙ্গিনী বেশে শ্যামা
করেতে খর্পর ধরে মা
এলায়ে চুলের রাশি
ধরে আছ মায়ার বেশ ।
ওমা কুবের ভাণ্ডারী যার
বসনের কি অভাব তার
কোন দুঃখে ওমা কালী
ধর কাঙ্গালিনীর বেশ।
দুলছে গলে মুণ্ডমালা, তার পাশেতে জবার মালা
মুখে নর রক্ত ধারা, এ তাের মা কেমন বেশ।
নারী হয়ে চার হাত করি, এক হাতেতে মুণ্ড ধরি
নাচ্ছ যে মা তালে তালে নাই কি তাের সরমের লেশ
ভক্ত শিবদাসীর বলা, ছাড় এ সব মায়ার খেলা
ও তােমার মনের কথা যায় না বলা,
কখন ধর কিবা বেশ।

সাধন গান ।
মাল-একতালা।
সমরে এল কে রণরঙ্গিণী
পুলকে ধরা হাসে।
ধনির পদে কঁপে ধর।
ও সে উলঙ্গিনী পারা
পৃথিবী কাপিল তাহারি ত্রাসে।
লােল জিহ্বা হ’তে ঝরিতেছে লালা
গলে দুলিতেছে নরমুণ্ড মালা
দুই ধারে দুই ডাকিনী যােগিনী
অট্ট অট্ট হাসে।
বাম করে শােভে উলঙ্গ কৃপাণ
দক্ষিণ করেতে বরাভয় দান
আর কটী শুধুই শােভিছে
অন্য করে মুণ্ড সাজে।
আমার চতুভুজা শ্যামা
মুক্তকেশী বামা
এলােকেশে ঐ বিরাজে
শববেশে শিব পদতলে রয়,
রােমকূপ দেবতার আলয়,
বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড পদতলে রয়,
এসেছে ভুবন মাঝে।

৩৪
সাধন গান
হুঙ্কার বলে ডাকিছে ডাকিনী
হাঃ হাঃ হিঃ হিঃ রবে হাসিছে যােগিনী
হিলি কিলি রবে নাচিছে শাঙ্কিনী
মাভৈঃ মাভৈঃ রবে।
যত পৃথিবীর নরনারীগণ
ভক্তি ভাবে সবে হইয়ে মগন
মা মা শব্দে ডাকিতে ডাকিতে
পদেতে পড়িবে সবে।
ভক্ত শিবদাসী ডাকিতেছে সব,
দেখরে চাহিয়া যতেক মানব
ঐ এলােকেশী শ্যামা পূর্ণশশী বামা
চরণে নুপুর শােভে।
}
*
সাহানা-তেতলি।।
{ মা) , কত দিন কাদিয়াছি, কতদিন ডাকিয়াছি
পূজিতেছি চরণ তােমার।
(আমি) ক্ষুধা তৃষ্ণা ত্যাগ করি, শােক দুঃখ পরিহরি—
মা মা বলি ডাকি অনিবার।
( আমি) সংসার মাঝেতেকি, কোন দিক নাহি দেখি
এই কি মা তােমার বিচার।

সাধন গান ।
(তুমি) নাম নিয়ে জগন্মাতা, নিষ্ঠুরত! লিলে কোথা
কেবল ছলনা কর আর।
( মাগাে) কঠিন তােমার হিয়া, নাহি কোন দয়া মায়া।
কে আজ ডাকিবে ততরে হার।
( তুমি ) হয়েছ প্রবীন জ্ঞাণী, বালিক। ত নহ জানি
ও খেলাত সাজে না তােমার।
(মাগাে) তােমার চরণ তলে, পড়ে আছি পাব বলে
তবু দয়া হয় না তােমার।
(তুমি) হইলে নিদয়া এত, আমি ধরি কোন পথ
বলে দাও মা তুমি সারাৎসার।
( মাগাে) আর তরে ডাকবাে কত ; প্রাণ মাের ওষ্ঠাগত
দেহ মন চলে না যে তার।
( তােরে) আগে যদি জানিতাম, চরণ না পৃজিতাম
কলঙ্ক হবে নামেতে তােমার।
কবিতা।
রাত্রিতে শয়নাবেশে, চক্ষু মুদি অনায়াসে
মনে মনে করি আমি ধ্যান।
(আমার) আসিল জীবন্ত ছবি, যেন চিত্রিত করিল কবি,
তুলি দিয়ে মার মুখখান।

সাধন গান।
দাড়াইল গৃহ মাঝে, মােহন মুরতি সাজে
অপূর্ব সে পদ দুই খানা।
চরণে নূপূর সাজে, রুণু, রুণু, রুণু, বাজে
ধরিবারে
চক্ষু
মেলিলাম।
অদৃশ্য হইল মাতা, প্রাণে গিয়ে বাজে ব্যথা
মনে হয় হায় কি করিলাম।
নির্দয় হইল মাতা, মােরে না কহিল কথা,
খুজে দেখি মার পা দুখান।
ভক্ত শিবদাসী বলে, নীল সাগরের সেই কালাে জলে,
ত্যজিব আমার তনুখান।
সাহানা-কাহাৰ্ব্বা।
নারী বলে আমার পরে
সবাই মিলে করে জোর
জগৎ মাঝে একেলা আমি
হয়ে আছি যেন চোর ।
দেহ মনটা করলে মাটী
বার ভুতে জুটে পুটে
মরছি কেবল প্রাণটা নিয়ে
সদাই ভূতের বেগার খেটে ।
-

সাধন গান।
৩৭
দেহের মধ্যে ছয়টা রিপু
তারা দিচ্ছে কুমন্ত্রণা
ক্রোধ রিপুতে করলে মাটী,
নইলে আমি খাঁটী সােণ।
যত তার্থ আসে যায়-
কেবল চোখে দেখে মরি
কেঁদে শিবদাসী কয় আমি
হয়ে আছি মা দীন ভিখারী।
ভূপালী–তেওড়া।
আমায় পাগল পাগল করে লােকে
ভাবের পাগল কজন হয় ?
ওরে মায়ের প্রেমে মওঁ হলে
আনন্দে সে নাচে গায়।
কালী প্রেমের বইছে ধারা
স্রোতে বাধা কেব| দেয়।
ভাবুক ভিন্ন ভাব বুঝে না
অজ্ঞান ও যেবা পায়।

৩৮ সাধন গান। পাশের দ্বারায় আনব’ মাকে নৃত্য করবেন তামার তারা সেই সঙ্গে নাচবাে আমি হয়ে পাগলিনী পারা। ক’র কৃপা মাগাে কালী তােমার কৃপা কেবা পায়- ভক্ত শিবদাসী বলে মা আমায় দয়া করা উচিৎ হয়। । রাগিনী-টিমে তেতালা। সে ত একলা রাখে না মােরে যে আসিবার লাগি দয়াময়ী সদা, উকি ঝুকি ঘরে মারে । সে যে দয়ার আধার খনি, ওতার দয়া আছে বলে নাম ধরিয়াছে তারা জগজ্জননী। সে যে অতি স্নেহ করে মােরে সেই কারণেতে তাহার চরণ- ধরিয়াছি আমি জোরে।

সাধন গান।
৩৯
সে যে পতিত পাবনী তারা,
ও সে পতিতে তরাতে আসে পৃথিবীতে
যে ডাকে তারা তারা।
s
।
ও তার চরণ পাবার লাগি,
শত বর্ষ ধরে, তপস্যা করে
কত শত সিদ্ধ যােগী ।
সে যে শরণাগতরে রাখে
ও সে দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন
সদাই করিয়া থাকে।
যে মা বলে কাতরে ডাকে
সেই তন্দ্রাঘােরে আসিয়জননী
তারে কোলে করে বসে থাকে।
সে যে দুর্গতি নাশিনী শ্যামা,
ও সে তনয়ায় তরাতে, আসিবে ধরাহে
হইবে নামের মা
৮
আমি হই ক্ষুদ্র নারী জাতি
জানি তার নামের মহিমা
নাহি জানি স্তব স্তুতি।
যদি তার চরণ যােগ্যা হতে পারি—
তখন তার চরণ দুখানি
লইব মস্তকে ধরি।

৪
সাধন গান।
সে যে অতি ভাল বাসে মােরে
আমি ও তাহারে ভালবাসি বটে—
কিন্তু কি দিব তারে।
খেদে ভক্ত শিবদাসী কয়
মায়ের সে করুণা মায়ের সে দান
শােধ করা নাহি যায় ।
দেশ-তেতালা।
ও আমার শিব হৃদি রাণী
ও মা তুমি আমার ভজন পুজন
তুমি পূণ্য জানি।
তুমি আমার যাগ যজ্ঞ তুমি আমার জ্ঞান
তুমি আমার সতীর্থ তুমি ব্ৰত দান।
তুমি আমার গয়া গঙ্গা প্রয়াগ মথুরা কাশী
তুমি বৃন্দাবন তােমায় বড় ভালবাসি।
তুমি আমার হরিদ্বার অযােধ্যা আর লঙ্কা
তুমি না থাকিলে আমি মনে পাই শঙ্কা।
শিবদাসী বলে তােমায় কৈলাস হতে আনি
আমার হৃদ মাঝারে করবাে তােমায় রাণী

সাধন গান'।
৪১
সুরট-কাওয়ালী ।
ও আমার গিরি রাজবালা
এস মা এস মা শ্যামা তুমি যে মা হররম
ব্ৰহ্মাণী ইন্দ্রাণী তুমি কল্যাণী কমলা।
তুমি লমী সরস্বতী ইন্দ্রের শচী সাবিত্রী
তুমি আমার ব্রহ্মা বিষ্ণু তুমি বাবা ভােলা।
তুমি চন্দ্র সূৰ্য তারা, গ্রহ নক্ষত্র অঙ্গরা
তুমি মাগাে বরুণ কুবের বিদ্যুৎ চপলা ।
ভক্ত শিবদাসী কয়, গঙ্গা মনসা মা সব হয়-
যমরাজ ইজ এ সব হয় ময়ের খেলা।
বি ঝিট–তােলা।
আমায় কে শােনালে কালী নাম গান
শ্রবণ ভিতর গিয়া চক্ষু জলে ভাসে হিয়া
হৃদয়ে ধরিল আসি তানা
অপূর্ব মধুর সুরে, মায়ে নাম গান করে,
পুলকে ভরিল মম প্রাণ।
দাও মা সুস্বর তারা হৃদয়ে অমৃত ধারা
করিব মা তব নাম গান।
৫

৪২
সাধন গান।
রােগ শােক করে মুক্তি হৃদয়ে দাও মা শক্তি
রচি যেন তব নাম গান।
কেঁদে শিবদাসী কয় দুষ্ট লােকে মন্দ গায়
করি ব'লে তব নাম গান।
ঝিঝিট-তেতালা।
দন্ত বিকসিত মুক্তার গাথনি
কে ঐ রমণী শ্মশানে হায়।
বামা হাসিছে খেলিছে জিহ্বা মেলিছে
উলাঙ্গিনী বেশে দাড়াইয়ে রয়।
এলায়ে চাচর চিকুর জাল
শােভিছে হস্তে নর কপাল।
যেন কমল তুলিয়া মুখখানি গড়িল
চন্দন বিন্দু শােভিত তায়।
নরশির মাল শােভিছে গলে
ঘন ঘন নিতম্ব দোলে
করতলে অসি ভালে শােভে শশী
অলক্ত রাগ রঞ্জিত পায়-
রক্ত জবা মালা কে দিল গলে
ভবেরে রেখেছ তব পদতলে ;
ওমা এসেছে শ্মশানে, কেন কি কারণে
লাজ লজ্জা চকু খেয়ে।

সাধন গান। ৪৩ দ্বিজ কন্যা শিবদাসী ভনে- মা বিরাজে আমার সর্বস্থানে কি বা সে শশ্মশানে কি বা সে মশানে সরম ধরম সব তেয়াগিয়ে। ভৈরব-তেতালা। জাগাে কালী জগৎ মাঝে নইলে কলি প্রবল হয়। মানুষের কি দোষ আছে জ্ঞান হারা হয়ে রয়। ক কা কালিকা রবে আদি অন্ত বেদে কবে- অজ্ঞান নাশ মা শিবে নইলে জগৎ উলুটে যায়। আনন্দেতে মগ্ন যারা হিংসা দ্বেষ মা করে তারা ভাবে না কেবল ছার সংসার- এখানে কেবল দুঃখ রয়। হাসছে মানুষ সারা বেলা রাত্রের মধ্যে দুখ জালা

৪৪
সাধন গান।
এ কেবল মা মায়ার খেলা
এখানে কি শান্তি রয়।
বিপদে পড়িবে যবে
তখন ডাবে কোথা শিবে
পার হলে তােকে ভুলে যাবে
তখন কালী কে বা হয়,
মানুষ গুলাে জ্ঞান হারা
দৃষ্টি শক্তি পায় না তারা
জ্ঞান দৃষ্টি দিয়ে তাদের
তরাইতে উচিৎ হয়।
ভৈরবী-খেমটা।
মাগাে তুমি লুকায়াে না আর
তামি সব তেয়াগিয়ে, এক মন হয়ে
তােমারে করেছি সার।
দিবা নিশি ভাবি তারা ব্ৰহ্মময়ী,
শােন মা ব্রহ্মময়ী তবে কথা কই
তুমি বই ভবে কে আছে আমার,
আমার তুমি তােমার হয়ে রই।
কালী বলে যদি যায় এ জীবন,
তবু ছাড়িব না ও রাঙ্গা চরণ,

সাধন গান। ৪৫ তবে দিয়ে দরশন কেন লুকাইলি ও রণ রঙ্গিনী কি খেলা খেলিলি, শিবদাসী কয় কালী করােনা ছলনা শােন্ শবাসনা তারা ত্রিনয়না তােমারে ভেবেছি ও পদ ধরেছি তরি যদি ভব পারাবার। ঝিঝিট বেহাগ-একতালা। আসিয়ে এ পৃথীবীতে সয়েছি মা বিষম জ্বালা তাই ডাকি মা ও মা রা শরীর হলাে মা ঝালাপালা। সাজিয়ে সংসারী সাজে খেলেছি মা অনেক খেলা, এখন ধূলা ঝেড়ে কোলে নে মা হলাে যে গাে বিকাল বেলা। ডুবে গেছে চন্দ্র সূর্য নাইকো যে মা পৃথিবীতে। ভবের এ ইন্ধকারে আর- থাকতে নারি কোন মতে। মায়াচ্ছন্ন সংসারে, রাখে জীবে মােহের ঘােনে ঘুম ভাঙ্গলে কেঁদে উঠে মা কোথা মা কোথা করে। - ৪৬ সাধন গান। দ্বিজ কন্যা শিবদাসী মা পড়েছে বিষম ঘােরে- তারা নামের সার্থকতা বুঝিয়ে নেবে কে ভব পারে। মধু মাধ। সারঙ্গ-কাওয়ালী। আমার কালী নামাবলী অঙ্গে। কর্ণে শুব কালী নাম মুখে বলবাে কালী নাম জপিৰ কালী নাম ব’সে রঙ্গে। হেরিব কালাে জল, খাব কালাে ফল করিব কালী নগরেতে বাস চোখে দেখবাে কাল কাক কোকিল কাসাপ- করিব কালাে ঘরে বাস । আমি কালাে বস্ত্র পরি, কাল শয্যায় শােব হস্তে লইৰ কালাে ঝুলি। আমি কালাে পথে হাটৰ কালাে মানুষ দেখিব হেরিব চলে কাল ধূলি।

সাধন গান।
৪৭
আমি কালাে ভাল বাসিব কাল মেঘ দেখিব
বাস করিব কালাে মানুষের সঙ্গে
আমি দেখিব কাল কেশ
নিজে হব কালাে বেশ
মাখিব কালী চরণামৃত অঙ্গে।
বাগে—একতালা।
কালী প্রেম ভাব সাগরে
ডুবে যা মন শােরে বলি।
দিবানিশি রসনা তাের
বলে যেন কালী কালী।
কালী প্রেমের বইছে নদী,
ডুবে যারে সেই সাগরে।
খুজে মিবে রতন,
তাতে শক্তিরূপা মুক্তা ধরে!
কারাে কথা শুনি না রে মন
কালী নাম গুণগানে যাওরে মাতি।
হবেরে তাের কাৰ্য্য সিদ্ধি
চাদ জ্যোছনা উঠবে ভাতি!

সাধন গান ।
বিজ কন্যা শিবদাসী কয়
হলে পরে আপনি,
কে আর তাের করবে কি মন
আপন মনকে কর মাটী।
বাগে
-তেতলা।
আমার এই ভাঙ্গা ঘরে দুপুর রাতে
চাদের মেলা।
যুগল বেশে শিব কালী
আপন মনে করছে খেলা
হাসছে মা ত্রিনয়নী
কইছে কথা শিবের সনে।
শুনছেন ত্রিপুরারী
খেলছেন আমার কালীর সনে।
সাদা বরণ শিবের আমার
কাল বরণ এলােকেশী-
ওরে, এক ধারেতে ডমরু অসি
একধারেতে করে অসি—
সাদা কালােয় মেশামিশি
কি শােভা হয়েছে ভাল

সাধন গান।
৪৯
ঘরের ভিতর চাদের ঘটা
যুগল চঁাদে আমায় দিচ্ছে আলাে।
শিবদাসীর প্রাণের ভিতর
যুগল চঁাদের লাগলাে খেলা
আমি ভাসিয়ে তরী কালী প্রেমে
কাটিয়ে যাব ভবের খেলা।
দরবারী কানেড়াতেতালা।
মনের কথা বলব তােমায়
শুনে যা গাে ব্ৰহ্মময়ী।
এবার আমি বলি আৰু তুমি শুন মা
আর যেন কারে নাহি কই।
যখন দুঃখ হয় গাে মনে,
কইব কথা তােমার সনে
আমি কাঁদি ডাকি আপন মনে
আমি আপন ভাবে আপনি বই।
আমার এ প্রাণের কথা
কেউ ত বুঝে না মাতা,
বলতে গেলে যেথা সেথা
মােরে পাগল বলে কৃপাময়ী।

সাধন গান।
জগৎটা মা এমনি অন্ধ
করতে চায় আমার কালী বলা বন্ধ,
হাসে আমজা মারে মা
বলে গান কচ্ছে শুন ঐ।
শােন্ মা রা শবাসনা,
ভাবুকের ভাব কেউ বুঝে না,
মিছামিছি দেয় যাতনা
মানীর মান মা রাখে কই।
আমি তাই ডাকি মা সদাই তােরে
বলব কথা আর বা কারে,
দুঃখ যে কেউ বুঝে না রে,
উলটে ব্যথা দেয় গাে ঐ।
তােমার সনে আমার কথা
বললে দুঃখ যায় গো মাতা,
তাই বলি মা আছ কোথা
দেখা দেয়গা দয়াময়ী।
যােগীয়া-তেতালা।
আমি তাই ডাকি কালী, ওগাে মুণ্ডমালী
ভবে এসে হল আমার যাতনা সার,
যদি ভবে এসে পূৰ্ব্ব কৰ্ম্ম-বশে
দুঃখ সমুদ্রে দেব কি সাঁতার।

সাধন গান ।
এ জলধি তলে কূল নাহি পাই,
কোথা হতে আসি কোথা ভেসে যাই।
এ জলধি মাগাে কেমনে তরিব,
ভাবি তাই মনে হব কি পার।
সদা মনে হয় কোথায় বা যাই
কারে বা যাতল বেদনা জানাই,
তুমি না বুঝিলে কে বুঝিবে আর
রিণী গাে কর আমারে নিস্তার।
দুঃখ সিন্ধু মাের ছিল মা কক্ষে
ক্রমে ক্রমে এসে বসিল বক্ষে,
শিবদাসী কয় মা কেমনে পাই রক্ষে
তােমার চরণ করেছি সার।
বৃন্দাবনী সারঙ্গ
তেতলাি।
হৃদি মাঝে চিতার আগুন
জ্বলছে যে মা নিশিদিন।
ভাবনা যাতনা সহিতে সহিতে
দিন দিন হ’ল দেহ মন ক্ষীণ।
অনেকের মা দেখি চেয়ে
দুঃখের পরে সুখই আসে।

৫২
সাধন গান।
আমার কপালে সুখ নাই কো
পাই না শান্তি দৈব বশে।
বল দেখি মা শুধাই তােরে
করব কত কৰ্ম্ম আর।
ধৰ্ম্ম করতে কৰ্ম্ম সারা
এই হ’ল কি তাের বিচার।
সুখ দুঃখ দুটী জিবি
সংসার মাঝে আসে যায়।
আমার মত চির দুঃখী
এ ভবেতে কেহই নয়।
করে যতন ছেচে সাগর
রত্ন নাহি মিলে আমার।
রত্ন তুলিতে বিষ উঠিল
আমার কাদা ঘাটা হ’ল মা সার।
শিবদাসীর কথা রাখ মা
জালিও না মােরে আর।
দুঃখী জনে দয়া করে
তােমার কালী নাম কর সার।

সাধন গান ।
কানেংড়া--একতালা।
অপূর্ব দর্শন কবিতা)
মায়ের পূজা করছি বসে, এল এলােকেশী
পৃষ্ঠ ভরা চর চুল করতলে অসি
হাতে মুক্ত করে অসি দিগম্বরী হয়ে
মুণ্ডমালা গলায় দিয়ে অমনি এলাে ধেয়ে।
জগন্নাথ দেখিবারে আশা ছিল বড়,
বাঞ্ছাকল্পতরু মাতা বাসনা পুরাল।
বলেছিনু মাগাে আমি পরাধীন মেয়ে,
তোের চরণে সতীর্থ দেখবাে আমি চেয়ে।
মায়ের পদতল দিয়ে এল জগন্নাথ পুরী,
জগন্নাথ বলদেব সুভদ্রারে দেখি নয়ন ভরি।
আশ্চৰ্য্য ভাবেতে হইল অপূর্ব দর্শন,
ঘরে বসি তীর্থ ফল পাইমু এখন।
ভক্ত শিবদাসী বলে শুন ভারতবাসী,
মায়ের পদে মী সবে রাখবে দিবানিশি।
কোন কষ্ট রবে না—আর আনন্দেতে রবে,
ঘরে বসি সতীর্থ দরশন পাবে।

৫৪
সাধন গান।
মালকোষ তেতালা।
এ বিশ্ব সংসার সৃজিত যাহার,
গাও জগৎবাসী তাহার জয়।
এই যে সংসার, এ মায়ার খেলা,
এখানে এ সব কিছুই নয়।
ধরিয়ে সুতান, কর বিভু গান,
. আমলে নাচিয়া মন প্রাণ খুলে।
যেন সুস্বর লহরি, ধরিয়া মাধুরী,
চৌদিকে যেন যায়রে চলে।
তাঁর দয়ায় সকলি হয়,
কেন তার নাম যাওরে ভুলে।
শােক দুঃখ সব পলাইবে দূরে,
ভব পারাবারে যাবেরে চলে।
খােলরে নয়ন হের ত্রিভুবন,
জীবের দুঃখ দেখ চক্ষু মেলে।
যাতনা যাইবে, সকলি পাইবে,
বিশ্বপতির পদে মন সঁপিলে।
কাতর হৃদয়ে শিবদাসী কয়,
নিরানন্দ যায় তায় ডাকিলে।
কর মন প্রাণ তায় সমর্পণ,
নাচরে গাহরে দুবাহু তুলে

সাধন গান।
৫৫
আশাবরী-একতালা।
জগৎ জননী তারা ত্রিনয়নী, আমি প্রণমি চরণে জননী,
তােমারি লীলা এ তােমারি খেলা কেন দুঃখ দেও তারিণী।
সুখের সংসার হয়েছে শ্মশান আসিয়া ভবের মাঝারে,
মনে হয় বনে, অথবা শ্মশানে খুজিয়া দেখিব তােমারে।
তব চরণ তলে,পড়ে আছি ব'লে ত্রিতাপে জ্বলি গাে তারিণী
তাপিত তনয়া ওমা ভব জায়া, কবে দেখা দিবে জননী,
চিন্তা তাপে জরা, ও মা চিন্তা হরা, হর হর চিন্তা জননী।
শিবদাসী তনয়া, ডাকে গিরি জায়া শিবে গাে শ্মশানবাসিন
কবিতা।
ও মা আসিবি গৃহ মাঝে আয় আয় চলে আয়,
ও গাে এলােকেশে দুলে দুলে নূপুর দিয়ে পায়।
রুনু ঝুণু বাজুক নূপুর সুমধূর শব্দ উঠুক তায়,
চরণ মাঝে পদ্ম আঁকা আলতা শােভা পায়।
মুক্তকেশী চতুভূজা করে অসি লয়ে,
শিব সঙ্গে দাড়াও আসি আলতা পায়ে দিয়ে ।
রক্ত জবা ফুল মালা সাজবে গলদেশে,
রশির মুণ্ডমালা শােভে তার পাশে।

৫৬
সাধন গান ।
হাতে নরমুণ্ড
ছিল লােল জিহ্বা আর,
মাথায় সােণার মুকুট আর যত অলঙ্কার।
কাণেতে হীরার দুল সিথায় সিন্দুর দিয়ে,
ছােট ছেলে কার্ত্তিক আসৰে হাতটী ধরিয়ে।
পদতলে সরস্বতী পুথি কোলে লয়ে,
বীণা যন্ত্রে কালী গুণ গাবে গাে বসিয়ে ।
দৌড়ে এসে নারদ মুনি করিবে প্রণাম,
বীণা যন্ত্রে গাইবে নারদ কালী গুণ গান।
ভক্ত শিবদাসী বলে শুন ভারতবাসী
এই রূপেতে আলাের ভিতর শ্যামা পূর্ণশশী,
দেখেছিনু কৈলাশপুরী অপূর্ব সুন্দর
জীবন্ত প্রতিমা দেখি কঁপি থর থর ।
শিবের গীত
শঙ্করা--তেওরা।
একি লীলা কর ভােলা বুঝিতে না পারি,
লইয়ে ত্রিশূল করে, আসিতেছে রূপ ধ'রে
দাড়াইলে গৃহ মাঝে ওহে বিনধারী।
সুন্দর মূরতি তব তােমায় কি দিব হে ভব
কি ফুলে পূজিব তােমায় ওহে ত্রিপুরারী

সাধন গান।
কোন মন্ত্র বলে পরে, আসিৰে হে মম ঘরে,
কোন সে সাধন বলে, আমার বাবে নয়ন বারি ।
কর্মময় জীবন মাের, ঢেকেছে তমসা ঘাের
আসিবে কি আলাে পুনঃ আঁধার নিবারি।
ভক্ত শিবদাসী কয়, শােন প্রভু দয়াময়,
নিজগুণে কর ক্ষমা আমি জ্ঞানহীণ নারী।
আশা-একতালা।
কেঁদে কেঁদে ডাকছি শ্যামা
আর কত কাঁদাবি মােরে,
প্রাণের ব্যথা বেড়েই গেল
কাঁদতে যে আর পারি নারে।
আমার বলিতে ছিল যারা
একে একে যাচ্ছে তারা,
আমি কি মা দুঃখের বােঝ
বইতে বসে থাকবে ভবে।
বাড়িয়ে দিয়ে দুঃখের বােঝ
বসে বসে দেখছে মঙ্গ,
দেখনা চেয়ে মোরে প্রাণ ফেটে যায়
মরি ভেবে।
৪

৫৮ সাধন গান। সিন্ধুর—তেতালা। শ্যামা তােমারে জপিয়া তােমারে পূজিয়া গতি যদি নাহি পায় মা জীবে, তবে আর কেনে এ মর ভুবনে কে আর তােমার নামটী লবে। ওম শয়নে স্বপনে প্রতি ক্ষণে ক্ষণে যে কে তােমারে মাগো তার, দুঃখে দুঃখে দগ্ধে তারে- কর মা তাহারে চিত্তহার। তােমার চরণ করেছে যে ধ্যান- চোখের জলে সে হয় দৃষ্টিহার।। জগৎ মাঝে, পাপী তাপী যত চারি দিকে তায় করছে তারা। সত্যের জয় নাই মা হেথা, মিথ্যার জয় জগৎ মাঝে, যার ইচ্ছা ৰ’লছে করছে- তবুও আছি মা আপন কাজে। আক্ষেপ হৃদয়ে শিবদাসী কয় শ্যামা মায়ের নামে কই হ’ল জয় ধম্মের পরিণাম এইরূপই হয়, তাকে দগ্ধে মরতে হয় জগৎ মাঝে।

সাধন গান ।
৫৯
ঝিঝিট-একাল।
মাগাে দিও না দিও না ফাকি
আমি ঐ পদ লব যতনে সেবিব
হৃদয় মন্দিরে রাখি।
তুমি মাের প্রাণের উপাস্য দেবতা
তােমা সম আর ত্রিভুবনে কোথা
তােমার চরণে জানাৰ বেদনা
যখন যেখানে থাকি ।
দিবা নিশি যেন ও পদ ধেয়াই
নিশি দিন যেন তব নাম গাই
বিপদে আপদে সম্পদে যেন
তব পদে মতি রাখি।
শিবদাসী কয় মা আমিত অজ্ঞান
কি জানি জ্ঞান ভক্তির সন্ধান
তব তত্ত্ব কথা আমি পাব কোথ।
মােরে দিও মাকে। আর ফঁাকি ।

সাধন গান।
বেহাগ গাজ-দদিরা।
আসছে আমার মা জননী
নূপুর পায়ে দিয়ে,
আদর করে নিই গাে তারে
সে যে বড় অভিমানী মেয়ে।
দুলে দুলে আসছে চ'লে
এলােকেশী হ'য়ে,
নেংটা মেয়ে আসছে আমার
চতুভূজা হয়ে।
মাথায় মুকুট কাণে দুল
গলে মুক্তা মালা,
হেট মুখে চেয়ে দেখি তার
চরণ তলে ভােলা।
নাচ দেখি মা তালে তালে
দেখি আঁখি মেলে,
হবে আশা মনে আমার
চরণ পাব বলে।
লােকের কাছে বলি বলে
মায়ের অভিমান,
ইস্যুতে আসতে রাগ করে আবার
পেছন ফিরে যান।

সাধন গান।
হাতে মুণ্ড করে অসি
শ্যামা দিগম্বরী,
আমি যে তাের অবােধ মেয়ে
ক্ষমা কর শরুরী।
মাথা কুটে পায়ে ধরে
ভাঙ্গবাে তােমার মান,
লােকে শুলে তােরি মাগাে
বাড়িবে সম্মান।
ভক্ত শিবদাসী বলে মা তুই গাে লাজুক মেয়ে,
ঐ জগৎবাসী আছে যে তাের আশা পথ চেয়ে।
পরজ-একতালা।
ভজন পূজন নাই মা আমার
তােমার চরণ সার,
যেন, তব পদে মতি থাকে দিবারাতি
জানি সাধনা আর।
এ ভব সাঝারে অকুল দুরে
তুমি মাের কর্ণধার,
তব যুগল চরণ হইবে তরণী
তাই ধরে হব পার।

সাধন গান ।
তুমি মা আমার আমি মা তােমার
আর কেহ মাের নাই,
আমি মা মা বলিয়ে আকুল হইয়ে
দিবা নিশি ডাকি তাই।
শঙ্কট বারিণী করুণা রূপিনী
কোথা ওগাে ভব জায়া,
ও তাের কাতর কিঙ্করী স্মরে গাে শঙ্করী
দেহ তারে পদ ছায়া।
ওগাে ত্রিদিব বাসিনী ত্রিলােক পালিনী
ত্রিতাপ নাশিনী শ্যামা,
আমায় দূর কর রােষ হও পরিতােষ
নিজগুণে কর ক্ষমা।
দিবানিশি কত শত অপরাধ
করি মা চরণে তাের,
এই দাও প্রসাদ সেবা অপরাধ
ঘটাইও না তুমি মাের।
পুরা মা আমার মনের বাসনা
ত্রিতাপ নাশ গাে কালী,
আমি সার ভাবিয়া ধরেছি চরণ
পরাণ দিয়াছি ডালি।

সাধন গান।
পিলু বায়ােয়-দাদরা।
আমার আয় গাে কালী ধরা মাঝে
অসি ধরা করালিনী,
ওমা নৃত্য করে আয় মা শ্যামা
ত্রি জগৎ মনমােহিনী।
ভবের বুকে পা দিয়ে মা
দাঁড়াও আসি গৃহ মাঝে,
আমি আশা করি আছি বসে
দেখবাে বলে চরণ রাজে।
তুলে জবা থরে থরে
সাজাইয়া মা রাখবাে ঘরে,
পূজিব বলে চরণ তােমার
ভক্তি ভরে মা শিবাণী
আনবাে কমল যতন করে
বিপত্ৰ সাজি ভরে-
দেব তােমার চরণ তলে
প্রাণের কালী ঐ তারিণী ।
আমি গাঁথবাে মালা যতন করে
পরাতে মা তােমার গলে,
সাজাবাে তােমায় পুষ্প সাজে
দেখবাে আমি আঁখি মেলে।

৬৪ সাধন গান। বাটি ভরে রক্ত চন্দন রাখবাে কত যতন ক'রে, মনে সাধ আছে আমার মাখাব তােমায় আদর করে। ধূপ গুগগুল কপূরদি কুঙ্কুমাদি বাটি পুরে, সাজায়ে রেখেছি শ্যামা তাের পূজা করবার তরে । অতপ চাল পাকা কলা নৈবেদ্যাদি যতন করে- পায়সাম লুচি মেঠাই রেখেছি মা তােগের তরে। শঙ্খ ঘণ্টা কাসর বাদ্য বাজাব মা জোরে জোরে আমার আসবে বলে মা জননী চরণ নূপুর বাজবে ঘরে। কৌটা ভরে সিন্দুর টুকুম রেখেছি মা যতন ক'রে, তাের সিঁথিতে দেব বলে আছি কত আশা করে। শিশি তা আতা রাখবে। রক্ত চেলি রাখবে আর-

সাধন গান।
আসবি কখন জনী গাে
পথ চেয়ে কত থাকবে আর ।
মুখে কালী কালী রব
জগৎ দেখবাে কালী ময়,
হৃদয় মাঝে দেখবাে কালী
সেই কালীতে আমার হয়।
প্রাণে ভক্তি প্রেমের তুফান
উঠবে ঢেউ থরে থরে,
জ্ঞানের বাতি জ্বলবে পাণে
ও সে কালী নামের জোরে।
কর্ণে শুনব কালী রব
কিঙ্কিনী নূপুর ধ্বনি।
তাের চরণে লিপ্ত হব
আর কিছু চাইনে জননী,
ভক্ত শিব দাসীর বাঞ্ছা
শুন গাে মা নারায়নী।
সাধকেরি বাঞ্ছা পূর্ণ কর
নানারূপ ধারিণী ।

সাধন গান।
আশাবরী-কাওয়ালী
মা তুই আমার নয়ন তারা
ওগাে তােরে না দেখিলে ক্ষণে ক্ষণে
আমি হই যে গাে জ্ঞান হারা।
ও তাের অতুল রূপের রাশি
প্রতি ক্ষণে ক্ষণে নয়নের কোণে
উঠিতেছে মাের ভাসি।
মা তুই আমার হৃদয় রবি
তােরে ভালবাসি বলে দিবানিশি আমি
তােরই কথা ভাবি।
ও তুই আমার একেবারে হবি কবে?
ও সে দেখে যেন জগৎবাসী
মুগ্ধ হয়ে রবে।
আমায় শকতি দিও গাে তার।
ধৰ্ম্মে কৰ্ম্মে যেন মা আমার
প্রাণেতে পড়ে গাে সারা।
আমি ধরিতে তােরে যে পারি না
কত দিনে আমি ধরিব মা তােরে
তাহা তাে আমি জানি না।
তাের গায়ের পাই তাে ঘ্রাণ
দিবা নিশি যেন সেই গন্ধে মাের
ভরে থাকে মন প্রাণ।

সাধন গান
আমি তাের সত্য ভক্ত যদি হই।
বহু বহু ক্রিয়া দিয়ে মােরে
দাও মা কৃপাময়ী ।
তাের ভক্ত শিবদাসী বলে
জগৎ মাঝে শক্তি প্রচার করে
আমি যাব চলে।
রামকেলী--কাওয়ালী।
শ্যামা কালাে বলে তােমায় কে ?
ঐ কালাের মাঝে ভুবন আলাে
আমার নয়ন লেগেছে।
কালাে বরণ এলােকেশী
করতলে ধরে অসি-
মা যে পূর্ণশশী
ভূতলে নেমে এসেছে
গলে নর মুণ্ড মালা
চরণ তলে পড়ে ভােলা
ডাকিনী যােগিনীর খেলা
তাট্ট টু হেসেছে

সাধন গান।
ভৈরবী-খেমটা
এসেছিমা ভবের মাঝে
খেতে দুদিন মায়ার খেলা,
তাই বলে কি পরতে হবে
কাঞ্চন ছেড়ে কাচের মালা ।
অনিতা শখের আশে, দেশ বিদেশে
অর্থ আশে বৃথা দিন যায়,
সদা সংসার কাৰ্যে রত, ভাবতে পরমার্থ
আমার সময় নাহি হয়।
প্রতিদিন মনে করি বসে মা তাের
চরণ পূজিৰ আমি,
ভাবতে গেলে তােরে কাৰ্য এসে পড়ে
উপায় করগাে তুমি।
আক্ষেপ হৃদয়ে শিবদাসী কয়
সংসার নরক ঘাের,
এতে শান্তি কভু নাই রাগ হয় তাই
কেবল যতনা মোর।

সাধন গান।
পরজ কাননড়া-একতালা।
আলােক মূর্তিতে নয়নের পথে
কে ঐ রমণী দাড়ায়ে রয়,
যেন অগ্নিময় জ্বালা চাহিতে পারি না
চক্ষু যেন বা ঝলসি যায়।
বামা একবার আসে পুনর্বার যায়
কখন দাড়ায় হয়ে আকা বাঁকা,
ও তার চলিতে চরণ কাপিল ভুবন
আমার প্রাণেতে থাকিল আঁকা।
ও মাের প্রাণের পুতলি শুন গাে বলি
যেও না মাগাে ফিরিয়া আর,
তুমি না থাকিলে বাঁচিব না প্রাণে
সকলি দেখি যে শূন্যাকার
করে এ রাঙ্গা চরণ হৃদয়ে ধারণ
সার্থক জীবন করি।
তোমার চরণে পরাণ বাঁধা
জান তাে মা শঙ্করী,
যদি গাে তােমারে ধরিবারে পরি
তবে তাে হইব জয়ী
ভক্ত শিবদাসী কেঁদে বলে মাগাে
হবে আমি বিজয়ী।

সাধন গান ।
পিলু বারঠুংরী।
মাগাে তুমি আমার হৃদ্ পিঞ্জরের
বড় সাধের পােষা পাখী,
ভক্তি ভােলা প্রেম ছাতু
যতন ক'রে খাইয়ে রাখি।
ভালবাসা জল দিয়ে মন ফল খাওয়াইয়ে
কত মত শুনবাে বলি শ্রবণ পাতিয়ে রাখি।
দেহ পিঞ্জর ভাঙ্গবে যবে
সেই দিন তুমি উড়ে যাবে
নতুবা তােমায় আমায় সারা জীবন মাখামাখি ।
কবিতা।
সন্ধ্যার পর শয়ানে থাকি নির্জনে আছি একাকী
কেঁদে কেঁদে ডাকি কালী বলে
হইল অপূর্ব দৃষ্টি, দেওয়ালেতে ছায়া মূর্তি
যেন নেচে যায় গাে তালে তালে।
মায়ের কখা দেখি বিরাট মূর্তি
কখন সে ছােট অতি
পুলকে হরিল মন জ্ঞান,

সাধন গান।
থাকে থাকে মুক্তির ভিভর বিদ্যুৎ চমকে ঘােতর
আনন্দে নাচিল মন প্রাণ।
কত কথা বলিলাম উত্তর না পাইলাম
প্রণাম করিনু ভক্তি ভরে,
বহুক্ষণ থাকি তাহ, আর না দেখিনু আহা
চলি গেল সেই শূন্য পরে ।
খানিক পরে মধুর সুরে নূপুরের শব্দ করে
বহু দূরে যাচ্ছে যেন চলে,
ভক্ত শিবদাসী বলে বাড়ী প্রদক্ষিন করে
নূপুর ধ্বনি যায় তালে তালে ।
খানিক বন্ধ হয় তাহা আবার ব্রাজিল আহা
নূপুর ধ্বনি
পুনঃ শূন্য পরে,
এরূপ নূপুর ধ্বনি জীবনে আর না শুনি
ভ্রমে যেন মা পুনঃ শূন্য পরে।
গীত।
বল কেন ওরে মন লিপ্ত অকারণ
সংসার জঞ্জালে মগ্ন অনিবার,
মাত; পিতা ভ্রাতা, স্বামী ভগ্নি বৃথা
তুমি কার কে হবে রে তােমার।

সাধন গাম।
হ'য়ে বন্ধ মায়া ঘােরে, ভেবােনাকো ওরে
কররে কালীর চরণ সার,
ত্যজ অসার ভাৱনা সাধনে কামনা
পুরিবে বাসনা হবে রে পার।
ছেড়ে অসৎ সঙ্গ লহ সাধু সঙ্গ
নির্জনে সাধরে আপন কাল,
ছাড়ি ঐহিক বাসনা কর পরমার্থ সাধনা
সজাগ কররে হৃদয় গ'ল।
ওরে সকলি অনিত্য এই কর্মক্ষেত্র
মাখেতে দেও রে শরীর গলি,
ফলাকাঙ্খী কিছু হয়ােনারে মন
আপনি বিচার করিবে কালী।
বলে ভক্ত শিবদাসী কেন মন উদাসী
বৃথা চিন্তা সব দেও রে ছেড়ে,
হও রে মায়ের উপযুক্ত মেয়ে
কার সাধ্য তােমার করিবে কি রে ।

সাধন গান।
৭৩
যােগিয়া-একতাল
মাগাে আমি ত্রিতাপের জ্বালায় মরি
ঘেরে অবিদ্যা জড়ত তারা শােনেনা মাের কথা
তাদের কিরূপে শাসন করি।
পঞ্চভূত ছয় রিপু মহাবল
দশেন্দ্রিয়গণ করে কোলাহল
আবার সংসার জ্বালা হলাে মা প্রবল
সদা অন্ধকার হেরি।
বাসনা কামনা ছেড়েও ছাড়ে না
মায়া রাক্ষসীর সদা আনাগােনা
মিটিল না মাের ঐহিক বাসনা
আমি আশার ছলনে মরি।
আমার আমার করি অনিবার
কে আমার আমি হবই বা কার
আমার সাধনা হলাে না মনই ছলনা,
মুখেই শ্যামা শ্যামা করি।
শিবদাসীর ছিল মনে আশা
শ্যামা মায়ের পায়ে মিশে যাব খাসা
আমার মিটিল না আশা, প্রবল পিপাসা
আমি মিথ্যা ঘুরে মরি।

৭৪ সাধন গান । ভৈরবী মিশ্র-একতালা। আমি শ্মশানে যাইব শ্যামাকে ধরিব দিব প্রাণ পদতলে, ভষ্ম মাখিব নাচিব গাহিব আনন্দে দু বাহু তুলে। যাবে মরম বেদনা ঘুচিবে কামনা বিষয় বাসনা আর, হব দীন ভিখারী শ্মশান বিহারী থাকিবে বাধা আর । আমি একলা হাসিব গাহিব কাঁদিব সঙ্গে লব না কারে, আমি নির্জনে পূজিব, বিরলে সাধিব গােপনে রাখিব তারে। অবিদ্যা জড়তা দূর করে দেব রাখিব না অভিমান, তারা বলে আমি নির্ভয়ে থাকিব যায় যাবে তাতে প্রাণ। পাপ পরাজয় দেখাবে। জগতে ধর্ম ধার্মিকেরে রাখে। শিবদাসীর মন হওরে চেতন- ভাকরে সদা মাকে। পাপ

সাধন গান।
৫
পিলু ভৈরবী-দাদরা।
মােরে বিপাকে ফেলিল তারা
এ পাকে বিপাকে ডুবে মরি পাকে
আবার দুইদিকে আসে তাড়া।
তৃষ্ণা দুই আছে মা প্রবল,
রােগের যাতনা হরে বুদ্ধি বল ;
কি বা ধরি আর কি বা ছাড়ি বল
আমি হয়ে আছি জ্যান্তে মরা।
অজ্ঞান তমঃ মােহ অন্ধকার
মাঝে মাঝে এসে ঘেরে চারিধার,
কর গাে জননী শঙ্কটেতে পার
আমি হয়ে আছি দিশে হারা।
ভক্ত শিবদাসী খেয়ে মরে পাক
তারা বলে তাই সদা দেয় ডাক।
কুল কুণ্ডলিনী কূল দিও মােরে
ক’রনা চরণ ছাড়া।

৭৬
ধন গান।
ভৈরবী-খেমটা।
মাগাে আমার মনটা বড়ই ঠাটা
যত করি তারে শাসন ততই বাধায় লেঠা,
দিয়ে যদি জ্ঞান দড়ি মন ব্যাটাকে বন্ধন করি
বায়ু আসি মাথায় চড়ি বাধায় মহা ঘটা।
ব’কে মরি আপন মনে, পরে কিছু থাকেনা মনে
নানা উৎপাত আমার সনে হ’ল মহা লেঠা।
শিবদাসী কয় মা শঙ্করী, বায়ু বেটাকে দূর
ঐ মনের মাঝে বসিয়ে দেও মা ভক্তি প্রেমের খুটা।
করি ;
বারয় দাদরী।
এখনাে কি দণ্ড দেওয়া হয়নি সারা
এলােকেশী,
অধম তনয়ার প্রতি
বাদ সাধিলি মুক্তকেশী।
আমার নয়ন জলে বয়ান ভাসে
কাপি মা সদা তরাসে,
রোগে শােকে দেহ জুরা
ছাড়ে না চিন্তা রাক্ষসী।

সাধন গান।
৭৭
ফুরাইল সংসার খেলা,
দেখা দে মা এই বেলা
অনিত্য এই মায়ার বাঁধন
হলােনা সাধনা আর।
ভবের মাঝে সব অসার,
আসা যাওয়া বার বার ;
হৃদি জ্বালা অনিবার
সব ফক্কা শূন্যাকার।
গতস্য শােচনা নাস্তি ;
আর দিও না মােরে শাস্তি
শিবদাসীর ভয়ং নাস্তি
কর তুমি মা এবার।
আশাবরী কাওয়ালী
.
মাগাে আমার সকলি হয় ভুল
মিথ্যা
ভুলের
মিথ্যা আশায়
ভেবে হই মা আকুল।
প্রতিদিন
ভুল
করি শত শত
ভুলের মধ্যেতে ঘুরি অবিরত
ভুল তাে গেল না, চেতনা এলাে না,
নাহি দেখি কোন কূল।

সাধন গান ।
সুপথ বিপথ তাও তত চিনি না;
কোথা পা দি ভেবেও দেখিনা
কবে পঁাড়াব সত্য পথে
সার । জগতে
হও তুমি অনুকুল।
চক্ষু অন্ধ তােমারে চিনি না,
ভকতি প্রেম কি তাও তাে জানি না ;
ঘুচিল মা মাের বিষয় বাসনা,
ঐহিক ত্যজিয়ে পরমার্থ বাসনা ;
গর্ব অভিমান ছেড়েও ছাড়ে না ;
আমি দিবানিশি করি ভুল।
শিবদাসী কয় মা এই মহা ভুলে
দাড়াতে না পারি সত্য পথে চলে ;
দাঁড়াতে গেলে টেনে এনে ফেলে
আমার একুলে গেল দুকুল।
অদৃষ্টেতে মাের কুসঙ্গী জুটে
সাধু সঙ্গ মাের কদাচিত ঘটে—
এ মহা শঙ্কটে আছি করপুটে
মােরে অকুল দেও গাে কুল।

সাধন গান ।
৭৯
ভৈরবী-কাওয়ালী।
শ্যামা, তুমি মা পরমাগতি,
তােমার চরণে এ মহা বন্ধনে
যেন সদা থাকে মতি।
ভক্তি পাশ অস্ত্রে বাঁধি যেন তরে,
প্রেম মহাবাণ সন্ধান করে
;
রসনা ধনুক যেন সদা নাম করে
বদন করে স্তব স্তুতি।
অবিদ্যা জড়তা দূর হয়ে যাবে
ব্ৰহ্মময়ীর নামে হৃদি শান্তি পাবে
চঞ্চলতা আর কিছু না থাকিবে
সর্ব রিপু পরাজয়।
শিবদাসী কয় মা হরগগা আঁধার
হৃদয়ে দেও জ্ঞান ভক্তির সঞ্চার
কৃপায় শঙ্করী, তমঃ নাশ করি
আত্ম দরশন যেন মাের হয়।
রাগিনী-আড় খেমটা।
কালী কৈবল্যদায়িনী তারা,
বারে বারে লক্ষ্য ভ্রষ্ট হয়ে
আমি হবাে কি গাে পথহারা।

৮০
সাধন গান।
আমার সব তুমি বুদ্ধি বল
সহায় হইয়ে আলাে দেখাইয়ে
পথেতে লইয়ে চল।
মাগাে করনা চাতুরী আর
উঠছি নামছি সদা ঘুরিতেছি
কঠিন ধৰ্ম্মের দ্বার।
পথে কত শত বাধা আছে
চলিতে যাইতে উঠিতে পড়িতে
মরমে মরি গাে পাছে,
তােমার স্মরণ লইনু তাই।
করিয়ে যতন পরম রতন যেন গাে আমি পাই
ও তাের শিবদাসী জ্ঞানহারা
অনন্ত শক্তি হৃদয়ের বল
মােরে দিও তুমি তারা।
সাহানা মিঠুংরী।
শুন শুন বলি ত্যজিয়ে সকলি
চিন্তাময়ী মাকে ডাকরে তবে,
বৃথা গেল দিন কিছু না করিলি
পারের উপায় কি তাের হবে ।

সাধন গান।
যেদিন আসিবে শমন বল দেখি মন
সেদিন তােরে কে রাখিবে,
মাতা ভাই বােন স্বামী বন্ধু জন
তারা কি তাের সঙ্গে যাবে।
দেখ যত ধন জন, সব অকারণ
ছায়াবাজী সম না থাকিবে,
ও সব আসতে যেতে লাগে না দেরী
শেষকালে তাের দুকূল যাবে।
এখন সময় থাকতে কবে কাজ
চিরকাল কি অন্ধ হয়ে রবে,
ওরে মলে পরে হাড় মাংস তাের
শেয়াল কুকুরে খাবে।
শিবদাসী কয় ত্যজে আলস্য
জড় দেহ জাগরে তবে,
নইলে কি কি ঘটতে কাদা গােলক ধাধায়
বারে বারে তুই আসবি ভবে।
( সমাপ্ত )

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Sadhan Gan

Author
Debi,shibdasi
Title
Sadhan Gan
File name
Sadhan Gan
Text
OCR done
Citation
1933
Published
2010/02/7
Publisher
N.a
Language
Sanskrit
Pages
94
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Lyrics
Keywords
Sadhu Bandana
DLI number
513193
Barcode
4990010020193.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
FZAXaOJ5twk
Download PDF

Sadhan Gan