Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Rabon Badh
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
রাবণবধ।
পৌরাণিক-ইতিবৃত্তমূলক:দৃশ্যকাব্য।
“নমি আমি, কবি-গুৰু তব পদাম্বুজে
“বাল্মীকি, হে ভারতের শিরঃচুড়ামণি
“কৃত্তিবাস কীৰ্ত্তিবাস কবি-
“বঙ্গভূমি অলঙ্কার
মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
অগিরিশচন্দ্রঘােষ প্রণীত
(ন্যাসন্তাল থিয়েটরে অভিনীত)
হরিমােহন মুখােপাধ্যায় কর্তৃক প্রকাশিত।
কলিকাতা
৪২, জিগজ্যাগ লেন
No text on this page.
নাট্যোল্লিখিত ব্যক্তিগণ পুরুষগণ। ব্রহ্মা মহাদেব ইন্দ্র অগ্নি রাম লক্ষণ হনুমান সুগ্রীব স্ত্রীগণ। দুর্গা কালী সীতা নিকষা মন্দোদরী সরমা ব্রিজটা বিভীষণ সারণ বানরসেনাগণ, রাক্ষসসেনানায়ক, দূত, সৈনিকাণ, তাল, বেতাল, প্রমথগণ, যােগিনীগণ, অপ্সরাগণ, গন্ধর্বগণ ইত্যাদি। অশুদ্ধি শােধন। गर्छ পংক্তি ১৪ ০ ০ ০ অশুদ্ধ ভুবনজয়ী রাক্ষসগণ স্মরণ ভুবনবিজয়ী ০ রাক্ষসগণে শরণ ০ ০ ০
No text on this page.
,,
পরম পূজনীয়
শ্ৰীযুক্ত মহারাজা যতীন্দ্রমােহন ঠাকুর
বাহাদুর সি, এস, আই, মহােদয়
এচরণে।
}
ক্ষুদ্র যজ্ঞের ফলাফলও যজ্ঞেশ্বর হরিতে অর্পিত হয়।
এই দৃশ্যকাব্য খানি জন-পালক রাজকরে, অৰ্পণ করি-
লাম। মহাত্মন্ ! নিজ গুণে গ্রহণ করিবেন, কমল
হইলেও ভানু করেই বিকাশ পায় ইতি।
কলিকাতা
বাগবাজার
গিরিশচন্দ্র ঘােষ।
১২৮৮ সাল
#
.
No text on this page.
তৃতীয় অঙ্ক। ১২ দৈত্য বিনাশিনী মায়। সংস্কল্প করিয়ে, রহিনু বসিয়ে, আন তুলি শতাষ্ট নলিনী। ( হনুমানের প্রস্থান) আএিতে অভয়া, দেশা পদছায়া, আশুতােষ জায়া, ছায়া কায়া মহামায়া। পিত তনয়, চাহে গাে আশ্রয়, দেহ রণ জয়, জয়ত্তি বিজয়া জয়া ॥ রক্ষ দক্ষবালা, কল্যাণ কমলা, জানাই মা জ্বালা, রণজয়ী রাঙ্গা পদে। বরদে বর দে, নিবীড় নীরদে, জয়দে সুভদে, তার মা বিপদ দে। রক্ষরণে রক্ষ, বিরূপাক্ষ বক্ষ- বিহারিণী বামা, বগলা বিমলা তারা। জয় ভদ্রকালী, নিশানাথ ভালী, জয় মুণ্ডমালী, মানব মালিন্য ইরা। গীত। টোরী ভৈরবী -আড়াঠেকা গন্ধর্বগণ। রাখমা রাখমা, রমা রণরঙ্গিনী। উমেশ হৃদয় বাস, দিগবাস অঙ্গিনী। বরদে বর দে শ্যামা, বিপদ বারিণী বামা, শুভদে শিব সঙ্গিনী, অশিব ভয় ভঙ্গিনী । * রাবণবধ নাটক। ( নীলপদ্ম লইয়া হনুমানের প্রবেশ।) এস বৎস পবন ভনয়, এসহে রাঘৰ সখা। (নীলপদ্ম লইয়া স্তব) ৰুদ্ৰবেশী, ব্যোমকেশী, অট্টহাসি ভীষণা। দৈত্যহন্তা, রক্ত দন্তা, উগ্র তুণ্ডা, 1 লিহি লােহ রসনা। উগ্রচণ্ডা, চণ্ডঘাতী চণ্ডিকে। ফেরােল, গণ্ডগােল, ফঃ ফণি মণ্ডিকে। লিহি লিহি, হিহি হিহি, ভীম ভাষ ভাষিণী। বিশ্ব কাণ্ড, লণ্ড ভণ্ড, দণ্ডপাণি ভাসিনী । লম্ফ ঝম্প, শূকম্প, দৈত্য দম্ভ বারিণী। চন্দ্রপালী, নৃত্যকালী, খড়গ শূল ধারিণী। ধ ধক্, অগ্নি ভালে ভৈরবী। কোটি রবি, বহি ছবি, বিরূপাক্ষ কৈরবী। ঝক ঝক,
তৃতীয় অঙ্ক।
ধেই ধেই, থেই থেই,
ভূত প্রেত ডাকিনী।
নৃত্য সঙ্গে,
ঘাের ডাকে হকিনী।
ছিন্নমন্তে,
মুণ্ডমালা দলনা।
শবারূঢ়া,
T;
ব্যোম চড়া,
ধূত্র নেত্র ললনা।
রক্ত মগ্ন,
রক্তলগ্ন,
দেবী রক্ত দন্তিকে।
রক্তবীজ হন্তিকে।
সর্বনাশী, সর্বগ্রাসী,
শক্তি শিব শঙ্করী।
জয়ং দেহি, জয়ং দেহি,
দেহিমে ভয়ঙ্করী ॥
একি, কোথা এক নীলােৎপল আর ।
রাম।
প্রভু, শতাষ্ট গণেছে দাস।
তবে কোথা হারা’ল নলিনী ?
যাও পুনঃ দেবীদহে,
আন এক পদ্ম আর।
প্রভু পরাৎপর, ভুবনের সার,
দেবীদহে নাহি পদ্ম আর ।
রাবণবধ নাটক।
বুঝি বনমালী, ছলিতে তােমারে কালী,
হরেছেন নীলােৎপল।
ভাল, বুঝিব ছলনা
মােরে নীলােৎপল আঁখি,
সুংসারে সকলে বলে ;
আনরে লক্ষণ ধনুর্বাণ,
এক আঁখি দেবী পদতলে,
অর্পিব এখনি ভাই,
সংকল্প না হবে ভঙ্গ,
দেখি রঙ্গ রণ-রঙ্গিনী,
কত দুঃখ দেন আর।
নমস্তে বরদে, রাখ রাঙ্গা পদে
তাপিতে, তারিণী তারা।
শিবে শুভঙ্করী, শুভদে শঙ্করী,
পরাৎপরা সারাৎসারা।
শ্রীপদ নলিনী, বিপদ দলনী,
রাখ মা রাজীব পদে।
পড়ে ঘাের দায়, ডাকি মা তােমায়,
তার মা দুস্তর হুদে ॥
ইচ্ছাময়ী শ্যামা, কল্পতৰু বামা,
কমলা কমল আঁখি।
কাতর কিঙ্কর,
বরাভয় কর,
লুকালি কাতরে ডাকি।
তৃতীয় অঙ্ক।
দুর্গে দুর্গ-অরি, দেবী দিগম্বরী,
হররমা এলােকেশী।
দুন্তার সমর,
পাইয়াছি উর,.
সুহাসিনী ঘাের বেশী।
দিওনা যন্ত্রণা, হর বরাঙ্গনা,
কেন মা ছলনী দাসে।
নলিন নয়না, কর মা কৰুণা,
নলিন নয়ন ভাষে।
পাষাণ নন্দিনী,
জননী পাষাণী,
পাষাণী পাষাণ প্রাণ।
নীলােৎপল আঁখি, নে মা পদে রাখি,
কর মা কৰুণা দান।
কি কর কি কর দয়াময় ।
ওহে গােলােক-বিহারি,
দেখ স্মরি পূর্বের বারতা,-
আছিল রাবণ তব দ্বারী ;
উদ্ধারিতে নিজ দাসে,
অবতীর্ণ হয়েছ ভূতলে ;
কার পূজা কর তুমি,
কি প্রভেদ তােমায় আমায়!
তবে যে পূজেছ মােরে,
সে কেবল কfিচার,
আপন মহিমা ওবে।
পরমা প্রকৃতির জানকী ;
দুর্গা।
রাবণবধ নাটক।
হেন সাধ্য কিবা, ধরে দশানন,
হরিতে তাহারে রঘুবীর ?
অন্নপূর্ণা রূপে, নিত্য নিশিযােগে,
ঘুমাইলে চেড়িদল,
পশিয়া অশােক বনে,
পরমান্নে ভুঞ্জাই সীতায়।
ছাড়িনু লঙ্কা ছাড়িনু রাবণে ;
মম বরে নাশ তারে, হে রাবণ অরি।
দুষ্ট চেড়িগণে যত মেরেছে সীতায়,
হের সে সকল চিঃ মম কায়,
আর আমি না পারি সহিতে সে তাড়না
অপ্সরীগণের প্রবেশ।
গীত।
টোরীটিমেতেতালা
সকলে। জয় হর হৃদি নিবাসিনী,
মা শমন ত্রাসিনী।
নিবীড় নিৰুপমা, তম রূপা ভীষণা,
ঈশানী ঈশ্বরী, ঈশান আসনা,
নলকে চপলা পদে, ভীম ভাষ ভাষিণী ।
চতুর্থ অঙ্ক।
প্রথম দৃশ্য।
রাবণ, মন্দোদরী, শুক, সারণ, ইত্যাদি।
মন্দো। বীরকাৰ্য্য ভুলি কি হেতু হে লঙ্কেশ্বর,
ত্যজি রণ-স্থল, এ অলস ভাব,
চারি দিন আজি?
আপনি শঙ্করী সহায় তােমার রখে,
তবে রঘুনাথে, কি হেতু না দেহ রণ?
নিঃসহায় নিৰুপায় যবে,
পশিল সংগ্রামে তুমি,
শুনি নিষেধ বাণী কারাে ;
বীরাঙ্গনা করে উত্তেজনা তােমা,
দেহ চারি দ্বারে না,
ঝনা সম অস্ত্রবলে,.
বিনাশ সম্মুখ অরি।
সারণ। হে লঙ্কাপতি,
এ মিনতি মাে সবার তব পদে,
কেন নব ভাব, হে ভুপাল তব ?
ক
* •
৫৬
রাবণবধ নাটক।
শুনি রণের সংবাদ,
কভু অবসাদ জন্মে নাই তব মনে।
গর্জে নর বানরীয় চমু লঙ্কাদ্বারে,
মহেশ্বরী সহায় তােমার,
দম এ দুরন্ত রিপু, দানব-দলনী-বলে ;
নহে দেহ আজ্ঞা মে সবারে,
স্মরি জগৎ-ঈশ্বরী,
জয় কালী রবে পশি রনে।
নির্বোধ তােমরা সবে, .
বােধ-হীনা নারী মন্দোদরী।
ফুরায় বিবাদ, নাশিলে শ্রীরামে আজি
কিন্তু পেয়েছি যে দুঃখ,
সমুচিত প্রতিশােধ তার দিব আমি;
সীতা লয়ে কোলে,
সম্মুখে তাহার, করিব বিহার,
তবে শােক নিভিবে আমার।
মন্দো। বােধ-হীনা আমি !
ভেবেছ কি মনে, সুবােধ লঙ্কার ভুপ,
দুর্বল তাড়নে হইবেন প্রীত
দীন-জন-গতি.জগদম্বে ?
জানিনু নিশ্চয় লঙ্কার ক্ষয় !
অকারণে কেন এখানে রহিব আমি ।
যাও তুমি অশােক কাননে,
পশি দেবাগারে আমি,
চতুর্থ অঙ্ক।
পূজি দিগম্বরে তােমার মঙ্গল হেতু ;
সতী নারী অধিক কি পারে আর।
ধন্য তব বিলাস-বাসনা।
ইন্দ্রজিত অনন্ত-শয়নে,
সীতার লালসা আজো জাগে তব মনে !
কে রক্ষিতে পারে তারে হায়,
বিধি বাদী যা’র প্রতি।
(নেপথ্যে “জয়রাম)
শুন পুনঃ বানরের সিংহনাদ ;
ভক্ত বিনা কে রাখিতে পারে,
ভক্তাধীনা ভগবতী।
বুঝি কৃপাময়ী, করেছেন কৃপা,
কাতর রাঘবে আজি
নহে চারি দ্বারে অকস্মাৎ,
কি হেতু ভূপতি গর্জিছে বিকট ঠাট?
অহঙ্কারে গেলে ছারে খারে !
(প্রস্থান)
;
রাবণ।
হে শুক সারণ, কর অন্বেষণ,
নিরানন্দ বৈরীবৃন্দ,
কি হেতু গর্জিল অকস্মাৎ ?
আদ্যাশক্তি তুষ্টা মম স্তবে,
তবে কি শক্তিপ্রভাবে,
আসিছে রাখব, পুনঃ পশিতে আহৰে?
রাবণবধ নাটক।
সারণ।
হও সুসজ্জিত নেতৃবৃন্দ,
আক্রমণ করিব এখনি।
(প্রস্থান)
পরম মায়াবী রঘুপতি,
ব্রহ্মা আদি দেবতা সহায় তার ;
নিশ্চয় কি মায়ার প্রভাবে,
ভুলায়েছে আজি মহামায়া ;
যা থােক তা হােকু ভালে,
প্রাণপণে যুঝিব রাজার পক্ষে।
(প্রস্থান)
দ্বিতীয় দৃশ্য।
অশোক কানন।
সীতা।
সীতা, সরমা।
শুন লো সরমে প্রাণ-সই,
ঘাের নিশাকালে, ঘুমাইলে চেড়িদল,
কে রমণী নলিনী-নিন্দিত পাণি,
বীণা ধনি বিনিন্দিত বাণী,
চতুর্থ অঙ্ক।
বসিয়ে শিয়রে, কন বিধুমুখী,
“আমি রে জননী তাের” ;
পরমান্ন দেন মুখে ,
তেঁই লাে সজনী, নিরাহারে বাচে প্রাণ।
কয়দিন রণের বারতা নাহি শুনি ;
কেহ কহে দুৰ্বাদলশ্যাম,
পরাভব রাবণের রণে ;
কেহ বলে দনুজদলনী
দিয়াছেন আশ্রয় রাবণে,
মানুষ পরাণে কি পারে করিতে রাম।
প্রত্যয় তাহে না মানি কভু ।
কভু কি সম্ভবে,
জগদম্বে ত্যজিবেন তনয়ারে,
দীনদয়াময়ী নামে রটিবে কলঙ্ক র ?
কাদি দিবানিশি, আমি অরিপুরে,
স্মরি দুর্গ-অরি পদযুগ।
ইন্দ্ৰজিত হত যেই দিনে,
এসেছিল মােরে, কাটিতে রাবণ ;
সে অবধি দিন কত, আসে নাই মূঢ়।
ক্রমে দিন চারি, নিত্য আসে মম পাশে ;
শুধায় শােণিত মম,
হেরিলে তাহার ছায়া,
মহামায়া পদ করি ধ্যান ;
পুনঃ আসে পুনঃ যায় ফিরে।
রাবণবধ নাটক
রাবণের প্রবেশ।
রা। চন্দ্রাননি, এখন ভজ মােরে ।
সতী নারী সাধে সদা পতির কল্যাণ ;
ভজিলে মােরে, পতিত পাবনী বরে,
পতি ভব পড়িবে সমরে আজি।
করু আলিঙ্গন দান,
চাহ যদি পতির কল্যাণ ;
নাহি তব পতির শকতি আর,
বিনাশিতে লঙ্কাপতি,
হৈমবতী সহায় আমার,
বলেনি কি চেড়িগণে?
তােষ সংগােপনে মাের মন,
চাহ যদি পতি দরশন।
ওরে মূঢ়মতি,
নাহি কিরে সতী তাের ঘরে,
ছলে কভু ভুলে সতী নারী?
বােধ-হীন তুমি, তাই ভাব মনে,
ত্যজিয়ে সীতায় দুঃখিনী,
জননী তার অসিত বরণী,
সাপক্ষ হবেন তাের?
সতীর আদর্শ দক্ষতা !
(নেপথ্যে জয়রাম")
বাবণ। পুনঃ কি ভিখারী রাম পশিল সমরে ?
যে হয় সে হাে আজি
সীতা।
চতুর্থ অঙ্ক।
৬১
যাব পুনঃ রণস্থলে,
বিলম্বে নাহিক কাষ।
একজন দূতের প্রবেশ।
মজিল সকলি লঙ্কাপতি,
অশুদ্ধ হয়েছে চণ্ডী।
রাবণ।
কি কহিলি মূঢ় দূত,
শতধা বিদীর্ণ এখন হ’লনা মুণ্ড তাের।
বৃহস্পতি করে চণ্ডী পাঠ।
দূত। হায় লঙ্কাপতি!
শমন সমান অরি বীর হনুমান,
পশি পূজাগৃহে কাড়িয়া লয়েছে পৃথি,
প্রথম মাহাত্ম্য তিন শ্লোক
পুঁছিয়াছে মূঢ়মতি।
স্বচক্ষে দেখেছি রক্ষনাথ,
খট হতে উঠে তেজোরাশি
থাইল উত্তর মুখে,
বােম্ বােম্ রবে বেষ্টিত পিশাচলে
ভূতনাথ শূন্যে কৈল দেবী আরাধনা,
তাথেই তাথেই নাচিল ডাকিনীগণে;
দেখিনু প্রাচীর হতে,
রাঘব শিবির সমুজ্জ্বল চরণ প্রভায়।
রাবণ। ভাল, না চাহি সাহায্য কারে,
ব্ৰহ্মা বরে মম মৃত্যুশর মম ঘরে,
রাবণবধ নাটক।
দেবের অবধ্য জনে
কি করিতে পারে নরে ?
বাজাও দুন্দুভি
সাজি চতুরঙ্গে রণরঙ্গে মাতিব সত্বর।
(দূত ও রাবণের প্রস্থান)
সরমা। চল আজি মম পুরে দেবি,
চেড়িদল বিকল সকলে
অশুভ বারতা শুনি;
বুঝি এতদিনে বিপদ-বারিণী
বারিল বিপদ তব।
দৈববলে আছিল অজেয় লঙ্কাপতি,
এবে দেব বাম তার প্রতি,
অবশ্য হইবে ক্ষয় রামের সংগ্রামে।
ঘুচিল কুদিন তব,
সুদিন আগত বিধুমুখি।
চল লাে সজনি, চল যাই তব পুরে;
নাহি জীব আর,
পুনঃ যদি আইসে দশানন
ভেটিতে আমায়।
(উভয়ের প্রস্থান)
তৃতীয় দৃশ্য।
মন্দির সম্মুখ।
ব্রিজটা ও বৃদ্ধ ব্রাহ্মণবেশে হনুমান।
হনুমান। খেয়ে পূজোর কলা গণ্ডা গণ্ডা,
তুই বেটী হয়েছিস ষণ্ডা,
উগ্রচণ্ডা বাক্যি বেটী ছাড়তাে।
দ্বোরে ছিল চাপদেড়ে,
বামুন দেখে দেছে ছেড়ে,
বেটী এলি থােবনা নেড়ে,
ব্রিজটা। বুড়াের ভেলা বাড়তাে।
দাড়া লাগাই তােরে তিন সেটা,
কপালে কেটেছিস ফোটা,
মাথায় তাের তরমুজের বোটা
উপড়ে নেব টেনে।
ভাল চাস তাে সর বেহায়া,
নইলে এখনি দেব হায়া, * *
হনুমান। তুই বেটী তাে আচ্ছা ভ্যান ভেনে।।
গাইতে এলুম রাজার জয়,
ফিতে বলিস, ফিরি না হয়,
আক্কেল দেবাে রাজার কাছে বলে।
৬৪
রাবণবধ নাটক।
দুটো কদু।
ব্রিজটা। ভাল চাস তােসর বুড়াে,
নইলে এখনি খাবি হুড়াে,
যেমন এয়েছিস তেমনি যাতে চলে।
হনুমান। উঃ! বেটীর কিবা বকা ঠাম,
রঙ যেন পাকা জাম,
বুকের উপর
দুলছে
ব্রিজটা। তত বেটার কি রূপের ছটা,
ঘোঙা সৰু পেটটা মােটা,
বাকির মধ্যে লেজ নাইকো সুদু।
হনুমান। বেটীর নাকের কিবা খাজ,
চলে যায় তিন খানা জাহাজ,
অমন মুখে পড়েনা বাজ,
আমায় বলিস বুড়াে।
ত্রিজটা। আমরি কি ভঙ্গিমা,
তােমার রূপের নাইকো সীমা,
চাক মুখে জ্বেলে দিব নুত।
মন্দোদরীর প্রবেশ।
মলো। কিহেতু ত্ৰিজটে দুয়ারে এ গণ্ডগোল ?
হনুমান। আসিয়াছি, রাণী মন্দোদরী,
রাজার কল্যাণ হেতু ;
গণনা শাস্ত্রেতে বড়ই পণ্ডিত আমি ;
দুলায়ে দুবাহু, মেলিয়ে বদন রাহু,
ঘাগী মাগী করিছে বিবাদ।
চতুর্থ অঙ্ক ।
৩৫
মন্দো। কে তুমি হে দ্বিজবর ?
হনুমান। যােগী আমি, ছিনু এতদিন যােগে,
লঙ্কায় দুর্যোগ জানি নাই সেকারণে ;
অকস্মাৎ টলিল আসন,
চাহিদু নয়ন মেলি,
দেখিলাম গণনায় লঙ্কার দুর্গতি যত,
দুষ্ট গ্রহ-কোপে অনিষ্ট ঘটেছে পুরে ;
কর আয়ােজন রাণী,
গ্রহশান্তি করি গাইব রাজার জয়।
মন্দো। এস তবে মন্দির ভিতরে দ্বিজবর।
(মন্দোদরীও হনুমানের মন্দির মধ্যে গমন)
ব্রিজটা। কোথা থেকে এলাে কাপ,
আমার বুকে লাগছে হাঁপ,
ধ্যানে ছিলেন সর্বনাশীর বেটা।
এটা সেটা কথা কয়ে,
রাণীর দিলে মন ভুলিয়ে,
আমি হলে লাগাতেম বিশ ঝাটা।
(প্রস্থান)
চতুর্থ দৃশ্য
মন্দিরভ্যন্তর।
মন্দোদরী ও হনুমান।
হনুমান। গ্রহশান্তি কিবা প্রয়ােজন আর
দেখিনু গণিয়ে,
শত রামে কি করিতে পারে ?
জয় লঙ্কেশ্বর!
বিদায় হইনু আমি।
মন্দো। একি দ্বিজবর !
করলাম আয়ােজন গ্রহশান্তি হেতু,
তবে ফিরে যাও কি কারণ?
হনুমান। গ্রহশান্তি নাহি প্রয়ােজন,
স্মরণ হইল এবে,
আছে মৃত্যুর তব ঘরে,
অন্য অস্ত্রে নাহিক রাজার ক্ষয়,
তবে আর কি ভয় রাখবে।
মন্দো। বুঝিলাম সুপণ্ডিত তুমি দ্বিজ ।
ডরি বিভীষণে,
কি জানি সে যদি দেয় এ সন্ধান কয়ে।
হনুমান। ক’রনা ছলনা মন্দোদরী,
রাখিয়ায় অস্ত্র লয়ে তুমি
ব্রার অজ্ঞাত স্থানে;
চতুর্থ অঙ্ক।
সে তত্ত কেমনে জানিবে গো বিভীষণ ;
তবে যদি শঙ্কা হয় চিতে,
কহ মােরে কোথা আছে বাণ,
করিব চেতনা মন্ত্রবলে ;
আপনি শমন
মরিবে পরশে তাঁর মন্ত্রের প্রভাবে।
মলো। রাখিয়াছি অস্ত্র সংগােপনে,
কিন্তু ভরি দেখাইতে স্থান
হনুমান। ভাল ভাল,
হউক রাজার জয় চলিলাম তবে।
মন্দো। ত্যজ রােষ দ্বিজবর,
অবােধ রমণী আমি ;
কর অস্ত্র পূজা,
আছে অস্ত্র স্তম্ভের ভিতর।
হনুমান। নাহি প্রয়ােজন আয়,
তবু পূজি তব অনুরােধে ;
যাও রাণী,
স্বহস্তে আনগে তুলি অতসী কুসুম।
(মন্দোদরীর প্রস্থান)
হনুমান। (স্তম্ভ ভাঙ্গিয়া বাণ গ্রহণ)
কে বােঝে নারীর রীতি।
ছিল অস্ত্র ব্রহ্মার অজ্ঞাত স্থানে,
দিল তুলি অরাতির করে ;
জয় রাম।
(প্রস্থান)
পঞ্চম অঙ্ক।
প্রথম দৃশ্য।
শিবির।
লক্ষণ ও বিভীষণ।
বিভীষণ। করিনু কঠোর তপ ভাই তিন জনে,
সদয় হলেন পদ্মযােনি,
চাহিল নিদ্রার বর কুম্ভকর্ণ বলী,
তথাস্তু বলিল ব্রহ্মা,
বর শুনি শাপ অনুমানি
করিলাম মিনতি চরণে ;
তেঁই পুনঃ করিল বিধান বিধি,
ছয় মাসান্তর জাগরণ একদিন,
অকালে ভাঙ্গিলে নিদ্রা মরণ সে দিনে ;
ভয়ে নিৰুপায়ে অকালে জাগালে দশানন,
তেঁই শূর পড়িল রামের শরে,
নহে তাঁর রনে ছিলনা নিস্তার কারাে।
চতুর্মুখ, সদয় হইয়া দাসে
দিলেন অমর বর।
চাহিল অমর বর ভাই লঙ্কেশ্বর,
কমণ্ডলু-পানি না দিল সে বর তারে,
কিন্তু বীর প্রকারে অমর ;
পঞ্চম অঞ্চ।
৩
দেখেছ স্বচক্ষে বীরমনি,
লাগিয়াছে যােড়া
ছিন্ন হস্ত পদ শির রণে;
বিধি দত্ত মৃত্যুবাণ বিনা
মরিবে অন্য শরে।
লক্ষণ। তুমিওহে রক্ষোত্তম
নাহি জান কোথা সেই বাণ,
কেমনে সন্ধান তার পাবে হনুমান ?
দেখি বিঘ্ন সীতার উদ্ধারে পদে পদে।
বিভীষণ। হের দূরে বীরমণি,
গর্জিছে রাক্ষস ঠাট
ধর ধর ডাকে সবে,
ভঙ্গীয়ান কপিসেনা।
লক্ষণ। সত্য রক্ষবর,
প্রবল হ’ল কি অরি রামের সম্মুখে !
চল দোহে যাই ণীব্র পশি রণস্থলে।
বিভীষণ। লঙ্ঘিতে রামের আজ্ঞা
হয় উচিত বীরবর ;
তিষ্ঠ নূর,
যতক্ষণ নাহি আইসে ইনু।
লগমন। শুন শুন হাহাকার রবে ,
নাদিছে বানর সেনা,
ছােট নহে কাষ,
হের সুগ্রীব অাপনি পলায় সমর ত্যজি,
রাবণবধ নাটক ।
পারি রহিতে আর,
রহ অস্ত্র প্রতীক্ষায় তুমি
হনুমানের প্রবেশ।
হনুমান। আনিয়াছি অস্ত্র বীরবর।
সকলে । জয় রায়।
লক্ষণ। চল শীঘ্র রণস্থলে রাঘব-বান্ধব ;
নহি পঞ্চানন আমি,
কি সাধ্য আমার
বর্ণিতে তােমার গুন, ভীমবাহু
চল শীঘ্র বিলম্ব না সহে-
দূতের প্রবেশ।
চল শীঘ্র বীরমনি,
অচেতন রাম রঘুমণি
দারুণ রাক্ষস-শরে ;
পলায় বানর সেনা,
পাছে পাছে ধাইছে রাক্ষস,
নাহি জানি এতক্ষণ কি হয় সংগ্রামে।
(সকলের প্রস্থান)
দ্বিতীয় দৃশ্য।
রণস্থল।
রাম, রাবণ ও উভয় পক্ষের সৈন্যগণ।
রাবণ।
এই শক্তি থর ভুজে!
চাহ ক্ষমা,
নহে রক্ষা নাহি তাের রণে।
(উভয়ের যুদ্ধ
(লক্ষণ, বিভীষণ ও হনুমানের প্রবেশ)
লক্ষণ। কেন অন্য মন রণে রঘুবীর !
লহ রাবণের মৃত্যুতীর,
আনিয়াছে হনুমান,
প্রতিজ্ঞা পালন কর নারায়ণ
বধিয়ে দুর্মদ রিপু।
(রাবণের প্রতি)
ত্যজ অহুঙ্কার, ত্যজ সিংহনাদ,
তাের মৃত্যু শর,
হেররে পামর মাের হাতে।
রাবণ। কি মিথ্যা কথা !
লক্ষণ। নহে মিথ্যা বাণী,
হের মৃত্যু নিকট তােমার।
(রামচন্দ্রকে বাণ প্রদান
৭২ রাবণবধ নাটক । রাবণ। রাণী মন্দোদরি, তুমিও হয়েছ অরি। রণে ক্ষমা দেহ রে রাক্ষস। (রামচন্দ্র রাবণকে অস্ত্রাঘাত ও রাবণের পতন) সকলে। জয় রাম! (স্বর্গ হইতে পুষ্প বৃষ্টি) রাম। সাবধান কপিসেনা, কেহ নাহি স্পর্শ লঙ্কেশরে ; নাপালাও রক্ষসেনা, ত্যজ অস্ত্র দানিনু অভয়। বিভীষণ। ভাই নহি আমি রে চণ্ডাল- তেই তব মরণ সন্ধান কহিনু অরির কানে। ওঠ ভাই ধর পুনঃ ধনু, বিনাশ সম্মুখ অরি। চন্দ্র সূৰ্য যতদিন উদিবে জগতে, রহিবে অখ্যাতি মম ; জ্বলিবে স্মৃতি চিনল সম হৃদে ; ধর্ম অনুরােধে করিনু অধর্ম, মুঢ় আমি, কলুর সংসার সংহার কারণ, ধরেছিল গর্ভে মােরে নিকষা জননী। হা ভ্রাতঃ! হা ভুবন বিজয়ি ! দমি পুরন্দরে প্রাণ দিলে নরের সমরে ? ৱাৰণ। ভাই বিভীষণ। দারুণ প্রহারে বিকল শরীর মম,
পঞ্চম অঙ্ক।
নত
কঁাদ আমার লাগি,
জীবনে মরণে সম দৰ্পেকাটাইনু আমি ;
ডাকি আন হেথা মিতা তব,
এ অন্তিমে,
হেরিব পরম রিপু পরম ঈশ্বরে,
তােমার প্রসাদে ভাই
পবিত্র রাক্ষসকুল তমার জনমে ?
চল রে লক্ষণ ভাই রাৰণ সমীপে,
আছে যুদ্ধ রীতি হেন,
যবে নিপীড়িত অরি,
বীর ভুলে বৈরি গব;
বিশেষতঃ বীর লঙ্কেশ্বর,
ত্রিভুবনে ছিল রাজা,
রাজনীতি উচিত শিখিতে তার ঠাই।
হরেছিল জনক নন্দিনী,
বুঝে দেখ মনে, কভু নহে সামান্য রাবণ,
প্রাণ দিল পণ রক্ষা হেতু।
লক্ষণ। হে প্রভু! হে রঘুকুল গৰ্ব !
হে অনাথ বান্ধব ! যথা যাবে তুমি,
যাব আমি তােমার পশ্চাতে ছায়া সম।
বিভীষণ। হের লঙ্কানাথ,
এসেছেন রঘুনাথ ভেটিতে তােমায়।
রাবণ।
দেহ দয়াময় শ্রীচরণ শিরে,
যতক্ষণ পাপদেহে রহে প্রাণ,
৭
রাবণবধ নাটক।
রাম।
রহ প্রভু আমার নিকটে ;
ভক্তিস্তুতি নাহি জানি মূঢ়মতি আমি,
নিজগুণে করহে কৰুণ,
অরিরূপী কৰুণানিদান।
ধন্য বীর তুমি ত্রিভুবন মাঝে ;
জয় পরাজয় নহে আয়ত্ত অধীন।
কিন্তু বীরধর্ম নাহি ভুলে বীর ;
নিঃসহায় তুমি বীরবর,
যুঝিয়াছ একের ;
দেব অবতার বীরবৃন্দ সাপ আমার,
কম্পিত তােমার দাপে;
ত্যজে দেহ দেহগত প্রাণী,
কিন্তু কে কবে এ ভবে,
ত্যজিয়াছে দেহ সম্মুখ সমরে,
তােমা হেন বীরদাপে!
লহ পদধূলি, বাঞ্ছা যদি তব চিতে,
দিতেছি হে তব ইচ্ছা মতে।
এক ভিক্ষা দেহ লঙ্কেশ্বর,
রাজকার্যে সুপণ্ডিত তুমি,
রাজপুত্র আমি,
কিন্তু কিশােরে হে বনচারী,
কহ উপদেশ কথা,
যুচুক মালিন্য মাের তােমার প্রসাদে।
হে অখিলপতি। অপার মহিমা তব,
রাবণ।
পঞ্চম অঙ্ক।
তেই চাহ উপদেশ রাক্ষসের ঠাই ;
সত্য রঘুনাথ,
ভাগ্যবান আমি কে করিবে অস্বীকার ;
আপনি অখিলপতি
আসিয়াছ রাজনীতি শিক্ষা হেতু
আমার সদনে ;
এ চরম কালে,
পাইনু পরম ছাত্র পরম ঈশ্বর!
কহি শুন যথা জ্ঞান তােমার সদনে :-
সুকর্মে কর’না হেলা, কুকর্মে বিলম্ব শ্রেয়ঃ,
এ নীতি নীতির সার।
শুন পূর্বের কাহিনী,
দণ্ডিবারে দণ্ডপাণি দিনু হানা
হেরিনু নরককুণ্ড, শঙ্কার আবাস স্থান,
ছায়া-কায়া প্রাণী মিছে অসংখ্য তথা,
গণ্ডগােল, বিলাপের রােল চারিদিকে,
আভাহীন বহূিপ, না বহে পবন,
নিৰুপম মাচ্ছন্ন দিক্ ;
যাের ঘনঘটা,
নীল বিজলির ছটা, রহি রহি,
বর্জনাদে বধির শ্রবণ,
সে ঘোর আরব ভেদি
হাহাকার ধ্বনি পশিল শ্রবণে ;
ভেবেছিনু বুজাই কুণ্ড,
রাবণবধ নাটক।
ঘুচাইব পাপীর যন্ত্রণা ;
গড়িব স্বর্গের সিঁড়ি ;
সিঞ্চি লবণ-সমুদ্র-নীর,
ক্ষীরপূর্ণ করিব সাগর ;
কিন্তু আজ কাল করি
রহিল মনের সাধ মনে ;
বাধিল সমর অতঃপর ;
সূর্পণখা উপদেশে আনিনু সীতায়,
বিলম্ব না কৈনু তায়,
নেহার দুর্গতি তার বিষময় ফল।
জড়িত রসনা, না সরে বচন আর
সম্মুখে দাড়াও প্রভু
ধনেশ্বর! লহ ফিরি রথ তব
দেখরে দেখরে রথ,
সারথি মুরলিধারি শ্যাম,
বংশীরবে করে আবাহন ;
কার এ সুন্দর পুরী,
শতলঙ্কাপুরী লাঞ্ছিত সৌন্দর্য্যে যার?
আনন্দ! আনন্দ অপার, এ পুর আমার,
আনন্দের ধাম নাচিছে আনন্দময় !
বিভীষণ। সে আনন্দধাম কভু না হেরিব আমি!
রাম। কর আক্ষেপ মিত্রবর ;
তােমায় আমায় নাহি ভেদ,
সৰ্বস্থানে জীবনে মরণে,
পঞ্চম অঙ্ক।
৭
চিরানন্দে বঞ্চে সাধুজন ;
নাহি প্রয়ােজন মিত্রবর
রহিয়ে এ স্থানে,
উদ্দীপন হবে শােক
দেখিয়া জ্যেষ্ঠের দশা।
বিভীষণ। দেহ আজ্ঞা ক্ষণকাল রহি এই স্থানে,
বহুযত্নে পুত্র সম পালিয়াছিলেন ভাই,
সাধু আমি,
রাম।
শােধ দিনু ভার, বধিয়া রাজায়।
ক্ষম রঘুমণি,
কঠোর নয়নে একবিন্দু অশ্রুবারি!
দেহ আজ্ঞা প্রভু,
করি রাজার সৎকার বিধিমতে।
তব যােগ্য বাক্য মিত্রবর!
দেহ আজ্ঞা রক্ষগণে আনিতে চন্দনকাষ্ঠ ;
ভাণ্ডারের ধন,
অকাতরে দীনজনে কর বিতরণ।
(বিভীষণ ব্যতীত সকলের প্রস্থান)
মন্দোদরীর প্রবেশ ।
মন্দো। হায় নাথ কোথা গেলে ত্যজিয়ে আমায়।
ছিনু ভুবনের রাণী,
সাজাইলে পতি-পুত্র-হীনা অনাথিনী ;
কোন অপরাধে ঠেলিলে হেপায় ।
রাবণবধ নাটক।
কি দোষে করেছ রােষ গুণমণি,
ধুলায় শুয়ে আছি।
শূন্য স্বর্ণপুরী, শূন্য পারিজাত-শয্যা তব !
ওঠ নাথ,
চাহ ফিরে বারেক অধিনী পানে ;
চেয়ে দেখ চারিদিকে অরি ;
করে হাহাকার তবাতি প্রজাগণ ;
সুসজ্জিত রথ তব,
পুনঃ ধর ধনু, বিনাশ বানর নরে।
করিলে কঠোর তপ, স্বহস্তে ছেদিয়া শিৰ,
এই কি হে তার পরিণাম।
শঙ্কর শঙ্করী ত্যজিল তােমারে
এ বিপত্তি কালে !
কেন রা আনিলে এ কালসাপিনী সীতা ।
বীরভূমি লঙ্কা বীর হীনা,
হে বিধি,
কি দোষে সাধিলে হেন বাদ!
ওঠ নাথ, তােষ পুনঃ মধুর বচনে,
কঁদিছে চরণে রাণী মন্দোদরী।
বিভীষণ। বুদ্ধিমতি সতী নারী তুমি,
কি বুঝাব আমি যে তােমায়।
নয়ন সলিলে কভু নাহি ফিরে
গত জীবজন ;
ভাগ্যবান পতি তব,
পঞ্চম অঙ্ক।
মন্দো।
পড়ি সম্মুখ সমরে
গেছে চলি বৈকুণ্ঠ ভুবনে।
বল বিভীষণ,
এ সংসারে কার প্রাণ ধৈর্য্য ধরে,
নেহারি,
রাবণ সমান স্বামী ধূলায় শায়িত ?
হাহারবে কঁদ লঙ্কাপুরি,
খসিল তােমার চূড়া !
গগন বিদারি বিলাপ হে রক্ষবৃন্দ,
কৰ্বর গৌরব ঘুচিল রে এতদিনে।
ছিল লঙ্কা সংসারের সার,
এবে ছার খার, রাবণ বিহনে !
নিতান্ত পাষাণী আমি,
নহে ভুবন বিজয়ী স্বামী ভুপতিত,
এখন রয়েছে দেহে প্রাণ!
কার কাছে জানাব মনের জ্বালা,
নাহি স্বামী, কোথায় করিব অভিমান,
ফুরাল সকলি এতদিনে।
কহ বিভীষণ, কোথা সে রাঘব
বারেক হেরিব আমি পতিঘাতী অরি।
শুনেছি হে তিনি দয়াময় ;
ছিল পতি মম বৈরী তাঁর
কিন্তু কোন্ অপরাধে,
অপরাধী শ্রীচরণে রাণী মন্দোদরী ?
০
রাবণবধ নাটক ।
কোন্ দোষে দোষী লঙ্কার সুন্দরী যত ?
ওই শুন ঘরে ঘরে বিলাপের রােল,
কঁদে পতি-পুত্ৰ-হীনা নারী ;
বারেক সুধাব রামে,
কেন হেন বজ্রাঘাত অবলার হৃদে।
(প্রস্থান)
তৃতীয় দৃশ্য
শিবির।
রাম, লক্ষণ।
মাম।
ভাগ্যহীন মম সম কেবা এ ভুবনে !
অযযাধ্যার পতি
পিতা ত্যজিলেন মাের শােকে প্রাণ ;
স্বর্ণকান্তি তুমিরে লক্ষণ,
ইন্দ্রাসন যােগ্য ভাই,
বনচারী আমার কারণে ;
সতী নারী জানকী সুন্দরী,
স্বহস্তে সঁপিনু ভাই রাক্ষসের করে ;
মরিল জটায়ু পক্ষী-রাজ পিতৃসখা,
আমা হেতু
পঞ্চম অঙ্ক।
৮১
করিলাম বালির নিধন;
কিস্কিন্ধ্যা পূরিনু হাহারবে ।
উদ্ভব সগর বংশে,
সে সাগরে পরানু শৃঙ্খল ;
স্বর্ণলঙ্কাপুরী শ্মশান সমান মম শরে ।
দেখ চারিদিকে ভূপতিত
ভুবন বিজয়ী রথী ;
পর্বত আকার কপি,
হাতে লয়ে পৰ্বত পাষাণ,
লম্বমান ধরণী শয়নে ;
শৃগাল কুকুর ডােল,
কঠোর চঞ্চুর ধনি গৃধিনীর,
শুন কান দিয়া, বিনাইয়া কঁাদে বামাকুল,
পতি পুত্র শােকে তাপিত অবলা প্রাণ!
যাও ফিরি অযােধ্যানগরে ভাই,
বনচারী রব চিরদিন,
ব্রহ্মচর্য উচিত আমার,
খাইত্তে মহাপাপ!
লক্ষণ। রযুমণি, কর দয়া পদাশ্রিত জুনে,
শুনি তব বিলাপ বচন,
জীবন ধরিতে নারি ।
মন্দোদরীর প্রবেশ।
রাম।
দেখ দেখ জানকী আমার,
আপনি এসেছে হেথা ;
৮২
রাবণবধ নাটক।
মন্দো।
জন্মএয়াে হও গুণবতী—
কহ কে তুমি সুন্দরী,
অবিরল নয়নের বারি, মুকুতার সারি,
ঝরে কুরঙ্গ নয়নে কি কারণে?
শুন মম পরিচয় রঘুমণি!
দানব সম্ভবা আমি ।
কভু কি শুনেছ রাম,
ভুবন বিজয়ী ময়দানব নাম ?
তাহার নন্দিনী দাসী,
যার মহাশেলে টলিল
ভুবন,
অচেতন ঠাকুর লক্ষণ।
দশানন স্বামী মম,
ছিল মম ইন্দ্রজিত সুত,
দেখেছ স্বচক্ষে বীরমণি,
মম পতি-পুত্র-ভুজ তেজ ;
এবে অনাথিনী,
পতিঘাতী অরির সম্মুখে।
ভাল, খাক নাহি তায়;
কিন্তু এই খেদ, রহিল হে মনে,
পাতিয়ে ছলনা, ভুলায়ে ললনা,
হরিলে পতির মৃত্যু-বান ;
ভগবান কৰুণা-নিধান তুমি,
স -চুড়া :ম পতি মম
পতিত তবশরে,
(
পঞ্চম অঙ্ক।
পুনঃ ছল পাতি রঘুমণি,
দিলে জন্ম এয়াে বর ;
থরে থরে বিধে আছে বুকে,
• দিয়েছ যতেক জ্বালা ;
সহেছি সকল, সহিব সকল,
সহিয়াছি ইন্দ্রজিত হত শােক।
কিন্তু নারী আমি, অধিক কি পারি আর,
রটাইৰ ভবে মিথ্যাবাদী রঘুমণি!
কেন লজ্জা দেহ ধুিমুখি !
রাম।
সতী তুমি,
;
এয়াে রবে চিরদিন নিজ পুণ্য ফলে,
সতীর প্রসাদে,
মিথ্যা না হইবে মম বাণী ;
রাবণের চিতা,
কভু না নিভিবে সুলােচনে।
স্মরিলে তােমার নাম প্রাতে,
পাপহীন হবে নর ;
যাওরে লক্ষণ ভাই,
কহ কপিগণে আনিবারে চড়ুৰ্দোল ;
গৃহে যাও রাণী মন্দোদরী ;
ভাগ্যহীন আমি,
আমারে না বল মন্দ বােল ।
বুঝে দেখ মনে, বিধির নির্বন্ধ সব,
নিমিত্তের ভাগী মাত্র আমি,
৮৪
রাবণবধ নাটক ।
কর’না আমায় অপরাধী।
(মন্দোদরীর প্রস্থান)
চল সবে সাগরের কূলে,
দেখি গিয়ে রাজার সৎকার,
বীর শ্রেষ্ঠ দশানন।
লক্ষণ। যদি আজ্ঞা হয় দাসে,
প্রেরি
দূত আনিতে সীতায়।
যথা ইচ্ছা কর ভাই, অনর্থের মূল সীতা।
(সকলের প্রস্থান)
চতুর্থ দৃশ্য।
রাজপথ।
বিভীষণ, হনুমান, সৈন্যগণ ও চতুর্দোলে সীতা
বিভীষণ। দুই বা রহ সবে মধ্যে দেহ পথ,
আসিছেন সীতা দেবী,
জনম সফল হরে হেরি মা জানকী।
হনুমান। দেখরে দেখরে কপিগণ,
মার তরে কয়েছ দুস্কর রণ,
মা জানকী দেখ আঁধি মেলি ;
পঞ্চম অঞ্চ।
.
কর সবে সার্থক জীবন,
ববে না শমন র !
সৈন্যগণের গীত
যােগিয়া-একতালা
আর কারে কর শঙ্কা, বাজাও বাজাও ডঙ্কা,
বাজাও দুন্দুভি ভেরী ভেদিয়া গগন।
ফুলের সৌরভ ধায়, ফুল বরষিয়ে যায়,
ফুলযান, ফুল্ল প্রাণ, ফুলে বিমােহন।
জয় মা জানকী সতী, জয় জয় রঘুপতি,
জয় অগতির গতি ভুবন পাবন।
ঘুচিল ঘুচিল ভয়, গাও সবে জয় জয়,
শ্রীরাম জয়রাম নাম ডাক ত্রিভুবন ॥
পঞ্চম দৃশ্য
শিবির।
রাম, লক্ষণ, বিভীষণ, হনুমান ইত্যাদি উপস্থিত।
লক্ষণ। রঘুবীর! বুঝি আসিছেন সীতা দেবী--
আসুক জানকী, নাহি মম প্রয়োজন।
-
৮৬
রাবণবধ নাটক।
সীতার প্রবেশ।
শুন শুন জনক নন্দিনি ;
রঘু বধু তুমি,
করিলাম দুস্কর সমর,
রাখিতে বংশের মান ;
ছিলে দশমাস রাক্ষরে ঘরে,
অযযাধ্যা নগরে,
না পারি লইতে তােমারে,
পারিব কুলে দিতে কালী।
যথা ইচ্ছা করহ গমন ;
যাও তব জনক সদনে ইচ্ছা যদি,
কিস্কিন্ধ্যা নগরে, সুগ্রীবের ঘরে,
থাক গিয়ে যদি সাধ মনে,
কিম্বা রহ লঙ্কাপুরে, যথা ইচ্ছা তব।
এইকি লিখেছ ভালে, রে দারুণ বিধি !
হে নাথ। এ পদাশ্রিত জনে,
কি কারণে ঠেল পায় ?
জাগরণে শয়নে স্বপনে,
রামনাম বিনে, কভু নাহি জানে দাসী ;
গুণমণি!
নাহি সাধ মনে হইতে তােমার রাণী,
যাচুি নাহি সিংহাসন,
মাত্র আকিঞ্চন, সেবিব রাজীব পদ,
তাহে নাথ কর’ বঞ্চনা।
সীতা।
পঞ্চম অঙ্ক।
কোন্ দোষে অপরাধী আচরণে ?
কহ অধিনীরে কেন ত্যজ গুণনিধি ?
সতী নারী আমি, কহি চন্দ্র সূৰ্য্য সাক্ষী করি,
সাক্ষী মম দিবস শর্বরী,
সাক্ষী ৰুক্ষন কেশ, মলিন বসন,
সাক্ষী শীর্ণ কয়,
সাক্ষী আপাদ মস্তক বেত্রাঘাত,
সাক্ষী বয়ানে নোেদন চিঃ
সাক্ষী দেখ নয়নের নীর,
ঝরিতেছে অবিরল,
সাক্ষী পবন-নন্দন হনু,
সাক্ষী বিভীষণ, সাক্ষী নাথ তােমার অন্তর ।
তবে যদি,
নিতান্ত ঠেলিলে পদে, রাজীবলােচন,
নাহি খেদ আর,
পাইয়াছি পতি দরশন।
আজ্ঞা দেহ অনুচরে সাজাইতে চিতা,
হয়ে ইষষু,
ত্যজি দেহ স্বামীর সম্মুখে !
বাছা হনুমান আমিরে জননী তাের ;
ভজিলেন স্বামী,
চাব কার মুখপানে আর?
তুমিরে সন্তান মাের,
সাজাইয়া দেইচি, :
•••
রাবণবধ নাটক।
দেব নর দেখুক সাক্ষাতে,
সতী নারী না ডরে অনলে।
হনুমান। সম্বর রােদন মাতা ।
আছে পুত্র তব, কি ভয় গেী জননী তােমার ?
বনবাসী পুত্র তাের সীতা,
কুটারে আদরে তাের রাখিবে জননী,
ত্যজ শােক জনক-দুহিতা!
রাম।
সতী নারী যদি তুমি,
সতীত্ব প্রভাব তব দেখাও ভুবনে।
কররে লক্ষণ চিতা আয়ােজন।
হনুমান। ঝাপ দিব সাগর সলিলে,
ত্যজিৰ এ পাপ তনু!
সীতা। স্থির হও বাছাধন ;
সতী আমি,
কি সাধ্য অনল পারে পরশিতে মােরে ;
বিদ্যমানে দেখাৰ সবারে,
অনল শীতল সতীতেজে।
লক্ষণের প্রবেশ ।
লক্ষণ। করিয়াছি চিতা আয়ােজন,
সাগরের কূলে প্রভু।
সীতা।
কেন রে লক্ষণ তুমি না সন্তাষ মােরে ?
লক্ষণ। জ্যেষ্ঠ অনুগামী মাত !
(স্বগত) কে মাগাে সুমিত্রা জননী,
পঞ্চম অঞ্চ।
ন
দিয়াছিলে গর্ভে স্থান!
কেনরে দারুণ বিধি, সাধিলি এ বাদ !
ধিক্ ধিক্ জন্ম মম, ধিক্ ধনুর্বাণ
পিরে লগমণ নামে!
বড় সাধ ছিল মনে,
বসিবেন রাম সিংহাসনে,
বামে দেবী জনক-নন্দিনী,
সফল করিব জন্ম ছত্র ধরি শিরে।
সেই আশে বঞ্চিলাম বনে,
অকাতরে অনাহারে অনিদ্রায়,
করিনু দুষ্কর রণ,
ধরিলাম শক্তি-শেল বুকে ।
হায় সকলি বিফল।
স্বহস্তে রচিনু আমি জানকীর চিতা !
নাহি জানি,
কোন্ দোষে দোষী দাস প্রভুর চরণে,
কি কারণে হেন বজ্রাঘাত, হায় হায় !!!
চল হনুমান,
চল কপিগণ, সাগরের তীয়ে
পুত্র হেন মানি তােমা সবে,
দেখাইব সতীত্ব প্রভাব।
(হনুমান ব্যতীত সকলের প্রস্থান)
হনুমান। যদি অগ্নিকুণ্ডে আজি পুড়ে সীতা দেবী,
অগ্নি নাম রাখিব না আর ।
৯
রাবণবধ নাটক।
উপাড়িব চন্দ্র সূৰ্য নভঃস্থল,
সৃষ্টি আজ দিব রসাতল !
না রাখিব দেবতার নাম,
যদি পতিপ্রাণ, জনক-নন্দিনী,
প্রাণ ত্যজে দাৰুণ অনলে!
(প্রস্থান)
ষষ্ঠ দৃশ্য।
সমুদ্র তীর।
সীগ, রাম, লক্ষণ, বিভীষণ ইত্যাদি।
সীতা।
(চিত প্রজ্জ্বলিত)
সাক্ষী হও, জগত জননী তারা,
সাক্ষী হও, দেব পঞ্চানন,
সাক্ষী হও, পদ্মযােনি,
সাক্ষী হও,
পুরন্দর সনে দেবতা তেত্রিশ কোটি,
সাক্ষী হও,
ভূচর খেচর, দেব যক্ষর,
: পং অফ।
}
বিদ্যাধর অষ্টবসু দিকপাল আদি।
রামের চরণ বিনা,
অন্য কভু যদি মনে পেয়ে থাকে স্থান,
ভযু হক এ প শরীর
।
নহে যেন,
পর্শে অনল মােরে কর আশীর্বাদ।
রক্ষ নিস্তারিণী ।
নমি মহা গুৰু, রামচরণে।
(সীতার অগ্নি প্রবেশ)
কাম। হা সীতা! হা ননীর পুলি!
(মুচ্ছা)
লক্ষণ। ওঠ ওঠ রাজীবনােচন,
পারি বুঝিতে তব মায়া, মায়াময় ;
সীতার বর্জন, আপনি করিলে প্রভু
রাম।
ভাইরে লক্ষণ ! আনি দেহ সীতা মােরে।
ধিক্ ধিক্! জন্ম রাজ কুলে,
কলঙ্কেসতত ডর ;
কলঙ্কের ভয়ে,
ত্যজিলাম প্রাণের বনিতাসীতা
চলে গেলে জানকী আমার,
কুশাঙ্কুর বিধিত চরণে,
দেখিতাম ফিরে ফিরে তিলে শতবার :
'
দেখ চেয়ে,
রাবষ নাটক।
পর্বত প্রমাণ বঃ গর্জে নতঃস্থলে ;
আর কি পাবরে,
কুসুম নির্মিতা জানকী আমার ভাই।
কা সীতা! হা জাকী আমার ।
আরে আরে দারুণ অনল,
এও বল তোর বুকে,
হার নিধি হরিলি আমার ?
ফিরে দেহ সীতা মোর,
দেং মম হৃদয় রতন,
রামের সর্বস্ব ধন ফিরে দে অনল ।
দেখ নাই লঙ্কার দুর্গতি ,
এত দর্প তের, উত্তর না দেহ মোরে ?
আনরে লক্ষণ, আন ধনুর্বাণ,
অনন্ত সলিলে সৃষ্টি ডুবাব এখনি।
সীতাকে লইয়া ব্রহ্মা ও অগ্নির চিত।
হইতে উখান।
ব্রহ্ম।।
কি হেতু হে রোষ চিন্তামণি!
নাহি জানি কিসের বােদন
আমি ব্ৰহ্মা নারি বুঝিবারে তব লীলা,
পন্য মায়া মায়াময়,
মায়ায় বিস্তৃত আছমব !
পৰমা প্রকৃতি ভষ্ম হইবে অনলে,
ইি গহ নাশিতে অনল ।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.