Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Sikhorini
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
শিখুরিণী।
প্রথম অংশ
[প্রাকৃত বিপ্রলম্ভ, শান্তরতি ও উজ্জ্বলরাশ্রিত
পদাবলী। ]
‘রসে। বৈ সঃ রসং হেবায়ং লব্ধ নন্দী ভব
শ্রনি
প্রকাশিত
শ্রীধাম বৃন্দাবন।
শ্রীদেবকীনন্দন যন্ত্রে, নিত্যস্বরূপ ব্রহ্মচারী কর্তৃক
মুদ্রিত।
শ্রীচৈতন্যাব্দ ৪৪৮
মূল • আনা
No text on this page.
রাধাবিনোদসেবানিরত
অদোষদর্শী, গুণগ্রাহী, রসতত্ব,
পরম ভাগবত
রাজর্ষি শ্রীল রায় বনমালী রায় বাহাদুর
মহােদয়েব
একরকমলে
শিখরিণী
প্রীতির নিদর্শন স্বরূপ
সাদরে
অর্পিত হইল।
No text on this page.
মঙ্গলাচরণ -
-
“রসে। বৈ সঃ বসং হেবায়ং লব্ধ নিন্দী ভবতি।”
শ্রুতি।
লুম-ঝিঝিট-মধ্যমান।
৫
প্রেম অমূল্য রতন !
মিলে, হৃদি-জলনিধি করিলে মন্থন।
স্বভাব সরল করে,
গরিমা গরল হরে,
সকল সুখের তরে, বিধির সুজন।
রাজ-রাজেশ্বর,
প্রেম মূরতিধর,,
প্রেমে বাঁধা চরাচর—নিখিল ভুবন !
১২৮৭৩৯৪।
No text on this page.
শ্রীগুরুবে নমঃ।
মুলতান-আড়,
গুরু কল্পতরু, পতিত-পাবন ।
সাপ্রকাশ, তমােনাশ, ভব-পাশ-খণ্ডন।
হে দেবেশ দয়াময় !
শান্তিদাতা সাশ্রয় ।
সুকল্যাণ পয়ােনিধি, দুঃখ-তাপ-বারণ !
অজ্ঞান তিমির-হর,
প্রেম-মুরতি-ধর,
শ্রীরামবল্লভ জয় !-ভকতি-ভূমণ।
অন্ধের আধার ঘোর,
ব্যর্থীর নয়ন তাের,
কে ঘুচায় তােমা বিনা, হে ভয়-ভঞ্জন।
শুভ সম্পদময়
ফেহি দাসে পদাশ্রয়,
চরণে শরণাগত সখা অকিঞ্চন।
No text on this page.
শিখরিণী।
প্রথম অংশ।
প্রথম স্তর।
প্রকৃত বিপ্রলম্ভ।
কেদারা-আড়াঠেকা।
কি জানি কেমন করে মন! :
কারণ কেন হয় হেন উচাটন।
দিবা নিশি গর গর,
হিয়া মাঝ থর থর,
আকুল পরাণ অতি বিকল জীবন।
পরাণ পুত দলি,
সাধ আশা গেছে চলি,
ব্যখা মাখা হে কৰে ৰিচণ।
২
শিখরিণী।
বেদনার ডাের দিয়ে,
ফে যেন বেঁধেছে হিয়ে,
বাসনা, বিজনে বসি’ কাদি সারাক্ষণ।
ভাবনার শেষ নাই,
কি ভাবি, ভেবে না পাই,
কেমন এ ব্যাধি, মােরে কবে কোন জন?
কোন্ তত্ত্বে মত্ত মন,
কারে করে অন্বেষণ,
• কাব তরে ভেবে মরি, কোথা বা সে জন?
অজানা সুখের দেশে,
যেন রে চলেছি ভেসে,
কোথা শেষ ?—শেষ কিরে হবে না কখন ? ১।
সুরট মােল্লার-একতালা।
আজো সেই কথা জাগে মনে।
না জানি কি ক্ষণে,
দেখা তার সনে,
নয়নে নয়নে।
সে কি দৃষ্টি-সুধা বৃষ্টিপাত যেন,
হদি আবিলতা করি প্রক্ষালন,
প্রাকৃত বিপ্রলম্ভ ।
চকিতে এ চিতে করিল আসন,
অবাক হইনু সে ভাব দর্শনে ।
সহসা বহিল দখিণানিল,
পিক, পাপিয়া ঝঙ্কার দিল,
মােহিনী মৰতি প্রকৃতি ধবিল,
হবযে হাসিল চাদ গগনে।
ঈদযেব মাঝে সুধা প্ৰবন,
নিমেষে অমন হইল সৃন,
স্নেহ প্রতি রসে ভরিল জীবন,
প্রতি শিরা মাঝে সুধা সঞ্চরণে!
এক দিনও আশা কৰিনিক হাব,
এক দিনও ফিরে চাহিনি আবাৰ,
সাধ কবে কই ভাবিনি ত জাল,
তবু সেই দেখি গাথা ধীনে জ্ঞানে?
.
সে যে কে, কিছু নাহি জানি তার,
যে হােক, সে হোক, কি তায় অামার,
শত ভাবময় সেই আঁখি তার,
চির'আঁকা হয়ে আছে মোর প্রাণে ! ২।
৪
শিখরিণ।
ভৈরবী—যৎ।
কি জানি কি আছে মাখা তােমার বয়ানে।
নয়ন ফিরাতে নারি, চাহিলে ও মুখ পানে!
মনে করি নাই ।
অবােধ বালিকা কভু,
বেতাব প্ৰেম লাভ করিবারে পারে ।
স্বরগ দিয়াছ কবে,
স্নেহ করি এ দাসীরে,
স্থান দে’ছ হৃদয়ের নিভৃত আগারে।
বুঝিনা কেমন সুখ,
দেখিলে তােমার মুখ,
কি এক উল্লাসে যেন ভরে উঠে মন ।
ভুলে যাই অপনারে,
মনে হয় একেবারে,
আব কেহ নাই শুধু আমরা দুজন।
পারিজাত পরিমল,
স্বরগের পুণ্য ফল,
বলােক, ব্ৰহ্মলােক সে সুখ কি ধরে-
যে সুখ তােমার মুখ দাসীরে বিতরে।
প্রাকৃত বিপ্রলম্ভ
৫
সারা দিন, সারা নিশি,
এমনি সমুখে বসি,
হাসি মাখা মুখ খানি দেখায়ে আমার
আর কিছু নাহি চাই,
আর কোন সাধ নাই,
দাসীর এ ভিক্ষা নাথ! তােমার চরণে।।
সিন্ধু ভৈরবী-আড়া।
কেন প্রাণ দেখিবাবে হারে তাের এ যান।
বল কি হরষে ভাস’ লভি তার দরশন ?
নিশি দিন চোকে চোকে,
এত যে দিছিস রেখে,
বুও দরশ তৃষা মিটিবে না কি কখন ?
বদনে অমিয়া রে,
নয়নে পীযুষ ঝরে,
তাই বুঝি অনিমিষে পিতে সাধ অনুক্ষণ? ৪।
ক
সােহিনী-বাহার-ঝাঁপতাল।
কে বলে নয়ন তব শুধুই অমিয়া রে ?
ক? সুধাধাব দেখি, কছু বিষ বাণ ধরে।
৬
শিখরিণী।
ধনু কুঞ্চিত করে, কুটিল অপাঙ্গ শরে,
হানিয়া মরম তল, আকুল ব্যাকুল করে!
কভু স্নিগ্ধ শাস্তি ছায়ে, সুশীতল মৃদু বায়ে,
জুড়ায় এ শান্ত প্রাণ, শান্তিময় সমাদরে ।
কভু তীব্র হলাহল, ঢালিয়া মরম তল,
শান্তির আলয় মাের ছিন্ন ভিন্ন চূর্ণ করে।
কভু শান্ত নীলােৎপল, কভু চকিত চঞ্চল,
কভু দিঠি সকরুণ, কভু নত লাজ ভরে।
কন্তু প্রতি মেই মাথা, কভু বা অশনি ঢাকা,
বুঝিতে নারিনু দেবি! ও আঁখি কি গুণ ধরে! ৫
ভৈরবী-যৎ।
জানি কি আছে সখা! তােমার নয়নে
গরমে শিহরে প্রাণ, যদি চাহি মুখ পানে।
কেমন আপনা ভুলি’,
যদি কভু মুখ তুলি’,
চাহিতে নয়নে হয় নয়ন মিলন।
যেন অপরাধীকত,
লাজ ভক্স আকুলিত,
অধীর ব্যাকুল চিত, হয় গাে তখন।
৭
প্রাকৃত বিপ্রলম্ভ।
nmn
~~~~~~
কখনাে আদর করি,
স্নেহে দুটী হাত ধরি,
সুধাইতে কত শত মধুর বচন।
ফুটিতে আধ বুলি,
আধেক যেতাম ভুলি,
কি জানি কেমন প্রাণ হইত তখন।
কে তুমি?-কেন গাে মােরে,
বাঁধ এত মেহ ডােরে,
তুমি কি গাে স্বরগের করুণ দেবতা?
দেবতা না হবে যদি,
এত স্নেহ মাখা হদি-
কার আছে ?-কার এত করুণা মমতা?
ঝিঝিট-খাম্বাজ-কাওয়ালী।
কি আর চাহিবে দাসী, কিবা আছে চাহিদার।
তুমি ত আমারই নাথ! আমিত তােমার।
বল কি চাহিব আর,
তুমিত সকল সার,
। যে ধনী, এ ধনে ধনী, অভাব কি আছে তার।
শিখরুণী।
অঘেগ্য যে জন, তারে,
কেবা বল সমাদরে ?
তবু ত ত্যজনি তারে, সে গুণ কি তুলিবার ?
দাসী বলে রেখে গর,
আর কিছু নাহি চায়,
ও চরণে মতি যেন রহে চির দিন তার। ৭।
পাহাড়ী-গাড়া।
সাধ যায় প্রাণ সখা। মানস মন্দিরে,
রাখি তোমা নিশি দিবা, পূজি’ সমাদরে।
আনন্দ-অধীর প্রাণে,
স্থাপি হৃদি সিংহাসনে,
নির্নিমেষে দেখি মুখ, অলস আবেশ ভরে!
তিলেক বিচ্ছেদ ভয়,
আর যেন নাহি রত্ন,
প্রাণে প্রাণ গাখা হ’র থাক হে অন্তরে।
প্রাকৃত বিপ্রলম্ভ।
৯
বেহাগ-কাওয়ালী ।
জানি ও পদ তব কি গুণধরে ।
এত যে মরম জ্বালা, নিমেষে শীতল করে।
দাসী বলে নাহি চাও, হাসি মুখে না সুধা,
ভুলিব সকল দুঃখ, রাখ পদ হৃদি’পবে।
সরগ লতিব হাতে, দাও চরণ মাপে,
কোথা দুঃখ তার, যার ও চরণ অধিকাবে! ৯।
সিন্ধু-কাফি-আড়াঠেকা।
ভাবি, তােমায় বিব না, দেবতায় দিব মন
কায় মনে ভগবানে কৰি আত্ম সমর্পণ
তুমি ভাব সাধ করে,
দুঃখ পাই তোমা তরে ;
আমি ত ভুলিতে যাই, ভুলিতে বাড়ে বেদন।
কামনা,যাতনামূল,
জগত শুধুই সুর
বুৰি, বুঝে না তু প্রাণ, হয় তবু উচাটন।
শিখরিণী ।
ইষ্ট দেবে স্থাপি হৃদে,
ধ্যানে বসি আঁখি মুদে,
চকিতে বুঝিতে পারি, সে ধ্যান তােরই ধ্যান।
কি ধ্যান করিব তার, তুমি হৃদে সারাক্ষণ ! ১০।
কাফি-ঝাঁপতাল।
কেমন এ প্রেম-প্রথা বুঝিবারে নারি।
সে হাসে বিরলে বসি, আমি কেঁদে মরি ।
যে কভু হবে না মাের,
তারি ভাবে মন তাের,
যে সাধে হয় না তার, যে দলে হয় গো তারি।
যত মােরে ঠেলে পায়,
তুত প্রাণ তারে চায়,
যে চাহে তারে ত প্রাণ, দেখিতে চাহে না ফিরি (১১।
সিন্ধু-ভৈরবী-আড়াঠেকা।
স ভাল যদি না বাসে আমায়।
আমি কেন ভুলিব তাহায় !
প্রাকৃত বিপ্রলম্ভ।
১১
বিরলে গােপনে বৃসি,
স্মরিব সে মুখ শশী,
সে কেন ভাবিবে মােরে, আমি ত ভাবিৰ তায়।
আমি কেহ নহি তার,
সে ত মাের আপনার
জীবন সৰ্বস্ব মােরবিকায়েছি তার পায় ! ১২।
বিঝিট-খাম্বাজ-মধ্যমান।
সে কি জানে, কি যাতনা প্রাণে! (তারি অদর্শনে।)
তা হলে কি ভুলে র’ত, নিতান্ত অধীনী জনে।
মাের বুক ভরা ব্যথা,
তার শুধু মুখের কথা,
আমি কাদি তার তরে, সে হাসে গােপনে! ১৩।
খাম্বাজ-কাওয়ালী।
সে কেন দুত এত, যারে এ হৃদয় চায়!
বুঝলে বুঝে না মন, তবু তারি দিকে ধায়।
শিখরিণী ।
কত মতে ছলে কলে,
আরেক দর্শন পেলে,
কি হয় প্রাণের মাঝে, সে কথা কহিব কায় ।
স্বর্গের বিভব যত,
তুচ্ছ হ’তে তুচ্ছ সেত--
চরণে ঠেলিতে পারি,—সে যদি বারেক চায়। ১৪
সিন্ধু-ভৈরবী-আড়াঠেকা।
ভাল বেসে ভাল থাক’, যাবে তুমি ভাল বাস,
এ বাসনা ভিন্ন আর নাহি সখা! কোন আশ ।
প্রেমের পিয়াসী নই,
কভু ওচবণ বই,
ছিল না গো এ দাসীব সে সুখ তিয়াষ ।
রাস বা না বাল ভাল,
ভাল থাক, এই ভাল,
সুখী হও, এই সুখ, নাহি অন্য অভিলাষ। ১৫
প্রাকৃত বিপ্রলম্ভ।
বসন্ত বাহার-আড়া।
কোথা পাস এত বারি বল আঁখি অভাগারে
লুকায়ে রেখেছ বুঝি জলনিধি হৃদাগারে ?
জনমিলি যেই ক্ষণ,
আরস্থিলি বিষণ,
যুগ যুগান্তর হ’ল, তবু ত থামিল নারে।
আর কত কাল ধরি,
অাখি ! তাের অশ্রুবারি,
ঢালিবি এ মতলে, এত অবিরাম ধাবে।
কেন তাের এ মােন?
কাব লাগি এ বেদন।
কেন দুঃখ ব্যথা লয়ে, জনমিলি এ সংসারে। ১৬
বাগেশ্রী—আড়াঠেকা।
কার লাগি অনুরাগী অবােধ হৃদয় ?
পাষাণে বাসিয়া ভাল বল কিবা কলােম ?
ভাবিয়া আপন জন,
যাহারে সঁপিলিমন,
তাহারই হৃদরে আজি গুণার উদয় !
শিখরিণী চরণের মূলে যার, দিলি প্রাপ্ত উপহার, এই কিরে হ’ল তার মেহ বিনিময় ! ফেটে যা’ ফেটে যা’ বুক, চাহি না ধরাব সুখ, মিছে আশা, ভাল বাসা, সে যদি নিদয়! ১৭ . জয়জয়ন্তি-আড়া। যার লাগি প্রাণ কাদে সে কেন বুঝেনা প্রাণ! দয়া লেশ নাহি তার, হৃদে কানে বিষ বাণ । আমি কাদি যার তবে, সে ত গাে চাহে না ফিরে, কাদি কাদি সাধি যত, তত করে হতমান। হবে বিধি অকরুণ । কেন হেন নিদারুণ- কৰিলি রে তার হৃদি, ঘারে হৃদে করি ধ্যান । ১৮।
প্রকৃত বিপ্রলম্ভ ।
পীলু-বারােয়া-ঠুংরি। ।
হবে অবােধ হৃদয়।
অকারণে কেন এত আকুলিত হয় !
সে যে দেবী স্বরগের,
কেন মর্ত-মানবের,
দারুণ মবম ব্যথা বুঝিবে গােয় !
অথবা দেবতা হলে,
পদতলে দলে দলে,
দিত না ফেলিয়ে প্রাণ এত উপেক্ষা।
জানি সে আমার নহে,
তবু কেন চিত দহে,
কেন বিষবহ্নিময় মরম নিলয় !
মনে করি ভুলে যাই,
স্মৃতির বিনাশ নাই,
অভাগারই হৃদে রহি’, দহে অভাগায়।.১৯।
বিবিই-একতালা।
মুখ সাধ সব, • • গিয়াছে ফুরায়ে
আছে শুধু জাগি,বেদনা
।
শিখরিণী ।
পার কুয়াসা,
কল্পনা কুহেলী,
গিয়েছে, মিটেছে বাসনা।
আর কারাে তরে,
ভাবনা নাই,
নিভূত হৃদয় মাঝার,-
কেবল বেদনা,
বেদনা ভয়ে,
করে শুধু হাহাকার !
আপনা বলিতে,
আপনা ভাবিতে,
আর কেহ মাের নাই।
হই মৰু ধু,
শিখা-খাস বহে তাই।
তবে যে এ আঁখি,
ৰৱৰে সতত,
এ শুধু আনন্দ শোর।
কেহ নাহি ধর,
সৰ কাছে তার,
সেই সুখে আছি ভাের। ২।
উগরে অনল,
ভৈরবী-আড়াঠেকা।
কেমনে ভুলিলে খশৈশব পন?
আর কি সে সবকছু হবে না গণ?
প্রাকৃত বিপ্লল।
১৭
সেই মৃদু বায়ু ভরে,
দুলিছে নলিনী সরে,
আকাশে সুহাস শশী ভাসিছে তেমন
ভবে কেন সেই ভাব নাহিক এখন ?
তখন যে কত আশা,
কত স্নেহ ভালবাসা,
রেখেছিনু সঙ্গোপনে করিয়ে যতন,
কোন্ প্রাণে বিসজ্জিব সে সব এখন?
সজনে কি নিরজনে,
স্বপনে কি জাগরণে,
যে জাগিত অনুদিন মানস-মােহন,
কেমনে ভুলিব, সেকি ভুলিবার ধন?
ভুলিতে পার দাসীরে,
দাসী কি ভুলিতে পারে ?
চির দিন পূতঃ প্রেমে পূজিবে চূরণ,
স্বামীর চরণে বাধা সতীর জীবন। ২১।
1
(3)
গিরিণ।
টোরী-ভৈরবী-মধ্যমান।
s, দেখা ফিরে ফিরে কেন হয় ?
কেন তার দেখা মিলে যেন আপন নয়।
মনে করি যাব না গাে,
আর দেখা দেব না গো,
ফাটুক মরম-তল কহিব না কায়,
তবু হৃদি মাঝে কেন হয় গাে উদয় ।
হারে রে অভাগা বালা।
এত যে লভিলি জালা,
দহি দহি ভন্ম হল মরম নিলয়,
বু কেন তার তরে আকুল হৃদয়।
কেন হেন ভাল বাসা,
কেন হেন মুখ আশা ?
নাহি হেথা নেই সুধা, আছে হলাহল,
নক-হৃদি থি’ হায় লভিলি কি ফল ?
অনন্ত দুঃখের সাথে,
কেঁদে কেদে পথে পথে,
বেড়া তুই দিয়াতে, করিতে জীবন লয়,
যাস নারে তার কাছে, যে দুঃখে কাতর নয়।
T
প্রাকৃত বিপ্রলম্ভ।
ঝিঝিট খাম্বাজ-টুংরী।
বাতুক প্রাণের আলা জলুক হৃদয়,
এ জীবনে সে যাতনা দেখাবার নয়।
পাতকী কি যেতে পারে দেবতার কাছে!
দেবতারে সে কলঙ্ক পরশয় পাছে।
না-না আর যাবনা গাে দেখাব না জদি,
জলি জ্বলিয়া কছু নিবে যায় যদি,
ষাক, যাক—নিবে যাক শুন্য হােক প্রাণ,
হৃদয় অশান হোক পাষাণ সমান।
ভালবাসা, প্রতি, স্নেহ যা একে একে,
সুখী হব, সুখে রব তারে ভাল দেখে। ২৩
ঝিঝিট—একতালা।
উথলি উথলি, হেলি’ হেলি’:দুলি',
কোথা প্রেমময়ী অচল বালা!
কিবা সুখ আশে, .
কিবা অভিলাষে,
চলেছ ভূষিয়া শহর মালা?
কার গুণ গাও,
কার গা কও,
কারে বা জানাও মরম-বেদন।
२०
শিখরিণী।
কঠোর ধরায়,
কেহ নাহি হয়,
বুঝিবারে চায় ব্যথীর লােদন ।
কাঁদ’ লুঠ’ পায়,
ফিরে নাহি চায়,
হাসিয়ে পলায়, করি অবহেলা !
দিবে যাবে প্রাণ,
সেত তার প্রাণ,
দিবে না,—দিবে লাে দারুণ জ্বালা! ২৪
ভৈরব—একতালা।
কাল মেষ রাশি,
যাইবে চলিয়ে,
আবার তপন গগন গায়,
উদিবে আসিয়ে, আনন্দে ভাসিয়ে,
সরসে নলিনী হাসিবে তায়।
প্রদোষ আসিবে, হরষে মাতিবে,
যতেক কানন-কুসুম কুল,
শশধর করে,
চল বাত ভরে,
আনন্দে উথলি’ দুলিবে মৃদুল।
দেখিতে দেখিতে,
সবার হৃদয়,
* সুখ করে পুনঃ ভাসিবে রে।
প্রাকৃত বিপ্রলম্ভ ।
২১
অভাগা হৃদয়,
এক ভাবে সদা,
অনন্ত জ্বালায় জ্বলিবে বে ।
নাহি সুখ লেশ,
নিয়ত হৃদয় ভাসিয়ে খায় ।
জীবন আলােক,
দেখিতে দেখিতে,
এমনি করিয়া নিবিবে হয় । ২৫।
দুঃখের পাথাবে,
লগ্নীযৎ।
কত মম,
এত দুঃখ লভিলি, হৃদয় ভাঙিলি,
তবু মানা মানিবি না !
কিশাের জীবন, কঁদিয়া যাপিলি,
তবু আশা ত্যজিবি না !
সুখময় স্বপন,
দেখিলি আশা ভরে।
যত সুখ সাধ,
কত নব বাসনা,
রাখিলি হৃদি ভরে
করুণ নয়নে, চেয়ে র’লি মুখ পানে,
আশা কহিল কত কানে।
২২
শিখরিণী।
টুটিল স্বপন,
ঘুচিল ভরম,
বাজিল দারুণ প্রাণে!
সুধীর শ্বাস,
বহিল সুধীরে,
চাপিলি ধীরে হৃদয়।
তিতিল অঞ্চল,
তিতিল ক্ষিতিল,
ভাঙিল মরম নিলয়
যে শঠ আশা,
এত দুঃখ দিল,
তবু তারে দলিবি না !
ও করুণ মুখ পানে,
যেন ফিবে চাহিল,
তারে তবু ভুলিবি না ! ২৬।
কালাংড়াযৎ।
ভাল বাস না বাস, বল মুখে, ভাল বাসি।
গােপন মরম কথা কাজ কি,প্রকাশি?
আছি ভাল ভাবে ভাের,
তোমা স্বপন ঘাের,
হােক মােহ, মােহ মাের হয়ে থা অবিনাশী।
প্রকৃত বিপ্রলম্ভ। ২৩ তােমার মন তুমি জান, আমি ত দিয়েছি প্রাণ, সেত আর ফিরিবে না;—চির বাঁধা পদে দলী। ২৭। বাগেশ্রী-আড়াঠেকা। কাদ-কাদ লাে যামিনি। অজস্র নয়নাসারে ভাসাও মেদিনী। হাস’ হাস’ অট্টহাস, ভাষ’ ভাষ’ বজ্র ভাষ, কার তরে?-কে শুনিবে তােমার কাহিনী । কেহ ফিরে চাহিবে না, কেহ খাস ফেলিবে না, হেরি তাের কালী-মাখা বিষন্ন মুখানি কঠোর কঠোরতম, শীলা, শেল, বক্স সম- মানৰ প্রকৃতি মতি, জান না কি ধনি । বিষাদ মরম-গাথা, প্রাণের প্রয় কথা, নীরবে খুলিয়ে প্রাণ গা’লাে আপনি।
শিখুরিণী।
যদি কেহ নাহি শুনে,
তুলিয়ে পরের কানে,
কি ফল বলল তায়, লভিবি স্বজনি। ২৮
বেহাগ-আড়াঠেকা।
সুখের কল্পনা মম এ হৃদয়ে ছিল যত,
বিসর্জিব কাল-স্রোতে আজি গাে জনম মত
এ হৃদয়ে যত আশা,
আছে মেহ ভালবাসা,
নিমেষে ফুরাবে সব, যা’ছিল মুখের ব্রত।
আর কাছে কাদিব না,
আর কভু দেখাব না,
কি বিরাজে হৃদি মাঝে আকুলি’ সতত।
রাখিলে না পদতলে,
ডাকিলে না দাসী বলে,
ঘৃণার হাসিলে কত, দেখি পদে অনুরত!-
তা বয়ে ভেব না মনে,
দেনা পেয়েছি প্রাণে,
ভাল বালি না বলে হয়েছি ব্যথিত।
।
প্রকৃত বিপ্রলম্ভ
২৫
ভাল বাসা চাহি নাই,
কন্তু ভাল বাসি নাই,
শুধু তােমা দেব-ভাবে ভাবিয়াছি অবিরত! ২৯।
পীলু—যৎ।
আজি নাখ। অভাগিনী এই শেষ ভিক্ষা চায়,
হাসি-মুখে এ দাসীরে দাও হে চির বিদায়।
প্রবােধে কি প্রয়ােজন,
বুঝেছি তােমার মন,
মুখের আদর সখা। কেন আর তায়।
ছিড়ে ফেল স্নেহ পাশ,
একটী সুদীর্ঘ শ্বাস,
ফেলিবে না অভাগিনী, দুঃখ করিবেনা তায় ৩০
ভৈরবী—কাওয়ালী ।
দাড়াওদাড়াও সখা! চাই এক বার ।
আঁখি ভরে দেখে যাই মুখনি তােমার ।
শিখরিণ।
(যদি) কহিতে দাসীর সনে,
প্রীতি নাহি পাও মনে,
কয়াে না, কয়াে না কথা, হাস একবার।
বিজনে গহনে ফিষি,
কাদিব তােমারে স্মরি,
(ও চরণে মতি যদি থাকে গাে আমার,
জনমে জনমে দাসী হইব তােমার! ৩১।
ঝিঝিট-মধ্যমান।
যাই-যাই, জনমের মত দেখে যাই।
দাড়াব না-দাড়াতে গাে দাসী আসে নাই।
শেষ দেখা দেখে যাব বলে,
এত কাছে এসেছি গাে চলে,
দেখিব ও মুখ খানি, আর কোন সাধ নাই
আর গাে অমন ক'রে,
ঘৃণার কুটী ভরে,
চেয়ো না গাে, ক্ষমা কর,বড় প্রাণে ব্যথা পাই! ৩২।
E
প্রাকৃত বিল। ২১ ঝিঝিট-খাম্বাজ-মধ্যমান। কে বলে প্রণয় সুধা,এ যে ধু ইলাহল। শুনিতে সুখের বটে, পিয়ে যে সে বুঝে ফল। ধক ধক করে প্রাণ, দিবা নিশি আন্চা, বিষানল জ্বলে শুধু হিয়ামাঝে অবিরল। সুধা অমে কেন হয়, সবে বিষ পিতে ধায়, সে যে মরিচীকাময়, মরুভূমে যথা জল! ৩৩। টোরী ভৈরবী—আড়াঠেকা। এ বিশাল বিশ্ব মাঝে কে আমি হেথায় ! দুঃখ, ব্যথা ভার বহি’ চলেছি কোথায় ? দাড়াবার তিল ঠাই- কিছু নাই, কেহ নাই, তবু আমি কোথা যাই, কিসের আশায় ? ছিল হন,এক দিন, সহসা হয়েছেন, কই মধুরশােল হেরেছি ধরায়।
শিখরিণী।
আর আজি একি দেখি,
যে দিকে ফিরাই আঁখি,
বিরস নীরস বিশ্ব শ্মশানের প্রায় !
করুণা মমতা ভরা
এই কিরে সেই ধরা ?
এ যে দেখি পূর্ণ সৰ বিদ্বেষ ঘুণায়।
কোথায় জুড়াই প্রাণ,
জুড়াবার নাহি কান,
হে বিধি দয়ার নিধি! দাও ঠাই পায় ।
.
কানাড়-আড়া।
কই দুঃখ-কোথা দুঃখ ? হরষে
উথলে
বুক,
সুখ হাসি ভরা দেখি এ বিশ্ব আধার ।
সবাই আনন্দে ভাসে, সবাই মধুর হাসে,
শান্তিময় শােভা ময় নিখিল সংসার!
হাবিধি ! তবু একি! কেন প্রাণ থাকি থাকি,
পূর্ব স্মৃতি তুলি পুনঃ বাড়ায় আঁধার ।
দাও বল এ হৃদয়ে,
ব পূতঃ নাম ল'য়ে,
যেন গো বহিতে পারি এ যেনা ভার। ৩৪।
প্রাকৃত
বিপ্রলম্ভ।
১৯
বারােয়াযৎ।
হায় বিধি! তুমি কি হে বধির এমন ?
পশে না কি তব কানে প্রাণের বােদন ?
পড়েছে দারুণ কাজ,
ছিড়েছে মর্মের মাঝ,
আছি মাত্র দাড়াইয়ে স্থাণুর মতন।
হৃদয়ের প্রতি শিরা,
মরমের প্রতি গিরা,
দীর্ণ চূর্ণ, বহি’ ঘাের প্রলয় পবন।
অশ্রু নয়-রক্ত শ্রুতি,
নিশ্বাস-প্রলয় গীতি
ক্ষীণ রেশ উঠে, হৃদি করি বিদারণ! ৩৫।
ঝিঝিটনএকতালা।
গারে পাপিয়া, পিছ পিহু বলে,
ঢাল রে অমিয়া তান।
গুন গুণ স্বরে
গারে ভ্রমরা,
মাহুক পয প্রাণ।
শিখরিণী ।
চকোরী,
হাস শশধর,
হাসাও মেদিনী
ঢালি ঢালি সুধারাশি;
চকোর চকো
পুলক পরাণে
শশী সুধা কর পান।
সুধাকর করে,
ঝকি ফুল বালা,
মধুর মৃদুল বাতে।
হেলি’ হেলি’ দুলি
হাসি হাসি মুখে,
গাবে হরষ গান!
বিয়োেগ বিধূরা
কাদেরে কাতর মনে,
হাসি রাশি মাঝে, দাও রে ডুবায়ে,
ব্যথীর ব্যথিত প্রাণ। ৩৭।
শুধু অভাগিনী
কাফি-সিন্ধু-ঠেকা।
প্রণয়ের প্রতিদান নাহি কি ধরায় ?
এত ভালবাসা কিগাে ব্যর্থ সমুদায় ?
ভাল বাসি আমি যারে,
সে ভাল বাসিবে ফিরে,
আঁখিতে আঁখিতে বাধি রাখিবে আমায়।
প্রাকৃত বিপ্রলম্ভ।
৩১
বুঝিবে মরম ব্যথা,
জানিবে মনের কথা,
এক মন, এক প্রাণ হব’ দু’জনায়।
একের বিচ্ছেদ আর,
সহিবে না কেহ কার,
চির দিন গাঁথা রবে, হিয়ায় হিয়ায়।
তেমন যদি না হয়,
এ প্রেমে কি লােদয় ?
তবে কেন হাহাকার,-মুখের কথায় ? ৩৮
ভৈরব—একতালা।
সাপয়ে হৃদয়,
চাহ বিনিময়,
কেন ভাল বাসা বাসিলি এমন ?
মাহে দিবা নিশি জ্বালা, চিত্ত বিকলা,
কামনা অনলে সহে প্রাণ মন!
কায় মন দিয়ে, আপনা ভুলিয়ে,
পারিবিনা খুলি চালিতে জীবন?
তৰেমুছে ফেল স্মৃতি, .সে রম মূরতি,
হৃদি হতে চির কম নিসন।
শিখরিণী।
এ প্রেম পিয়াসা, নহে ভালবাসা,
রূপের তিয়াসা মরম-পীড়ন।
ভাল বাস যদি, পূর্ণ তব হৃদি,
(যাচিবার আর, কি আছে তােমার ?)
প্রেম মন্দাকিনী বহি’ অনুক্ষণ,
স্নিগ্ধ কুসুমিত হৃদি-কুঞ্জবন! ৩৯।
শিখরিণী।
দ্বিতীয় স্তর।
শান্ত-রতি।
সােহিনী-বাহার-ঝাঁপতাল।
কালের করাল স্রোতে ভাসিয়া চলেছি সবে;
কে জানে কোথায় এই মহাযাত্রা সাঙ্গ হবে ।
আসিলাম কোথা হতে,
চলেছি বা কোন্ পথে,
পরিণাম কিবা তার, কে মােরে কবে ?
কি মহা উদ্দেশ্য ধরে
কোথা লয়ে যায় মােরে,
দিহীন, ফুলহীন;আঁধার এ ভবে।
কে আমি কোথায় যাই ?
সত্যই কি কূল নাই?
কেহ কি নাই গো হেথা, খত ধবে সবে?
(৩)
শিখরি । থাক যদি কেহ হেথা, '' একবার কই কথা, চিরদিন দুঃখ-ব্যথা বহিতে কি হবে? বড় শ্রান্তি, শান্তি চাই, কেমনে গাে শান্তি পাই? কিসে বা জুড়ায় প্রাণ, কি উপায় তবে ? বল, বল, কথা কও, কেবা তুমি?ষেবা ই- শরণ লইনু পদে ;-যা হবার হবে। বেহাগ-কাওয়ালী। ; কেন মন সুখ আশা, কার তরে লালায়িক্ত ? অসার' অনিত্য বিশ্ব, মােহ মায়া বিজড়িত। সংসার তরুর তলে, শান্তি পাবে ভেবেছিলে, কোথা শান্তি ? দুখ জালা হয় হৈথ দ্বিশিত'! কেবা পুত্র কোয়া, অবিদ্যা মােহের ছায়া, নাহি মুখ তৃপ্তির, খধু বি বিড়ম্বিত। ন
শান্ত-রতি ।
একমাত্র সারাৎসার,
এ নিখিল বিশ্বধার,
চাল প্রাণ পদে তঁার, পাবে শাস্তি সুনিশ্চিত।
বিঝিট খাম্বাজ-ঠুংরি।
অমাথ-নাথ প্রভু দীন শয়ণ।
তােমারই ভরসা করে এ পতিত জন।
বড় জ্বালা প্রাণে অহরহ,
কিসে এ দাই ঘুচে কই কই,
শীত চরণে ভুলে লহসহ,
কিতাপীর তাপ প্রভু! হাে বিমােন! ৩!
।
সুখের লাগিয়া,
কীর্তনের সুর, লােফা।
এমিলি জগৎ
কোথায় পাইনি সুখ,
যাহাৰে ধৰিলি, সুখের বলি,
সেই দিব ছায়েছ?
শিখার।
সুর বলিয়া,
পরাণ ভরিয়া
কাম অন্ধতমঃ,
পিইলি সে কত ;
পরিণাম ফল,
উঠিল গরল,
পাইলি বেদনা হত।
মােহ, মায়া ,
ঘেরিয়া রেখেছে তােরে।
কেমনে বাঁচিবি,
কিসে বা এড়াবি,
ডুবিলি প্রমাদ ঘােরে !
আর কেন প্রাণ,
আপন কল্যাণ,
বুঝিয়া সুপথে চল ।
কলে, ছিড়ি মায়াজালে,
জগদীশ জয়! বল।
যােহের ছানা,
কামনা তিনা,
সকলি পলাৰে দূরে।
গাৰি শামি,
শভিৰি বিকাশ,
যাগিৰি আৰপুরে।।
শান্ত-তি।
ইমন কল্যাণ-আড়াঠেকা'।
চাহ একবার।
কাদি কাদি, বুক বাঁধি, ফিরিব গাে কত কার ?
খুঁজি সকল ঠাই,
আপনার কেহ নাই,
জুফাতে এসেছি তাই, চরণে তােমার।
শুমি হে তোমারি নাম,
প্রেম-করুণা ধাম,
তুমি কি দিবে না স্থান হবে না আপনার?
তুমিও যদি না চাও,
মনােব্যথা না সুধাও,
কোথা যাব বলে দাও, কে আছে আমার।
বড় আপমায় বলে,
দি প্রাণ পদতলে,
রাখ বা না রাখ পদে, যা হয় বিচার ।।
টোরী,কাওয়ালী।
দিন গেল হে দীন-শরণ!
মিছে আসা ব্যথা এ দেখার।
।
শিখণিী।
Anna
হিয়া কাপে থরহরি,
•হেৰি ভৰ কাল বারি,
নিবার এই কাণবারি-এ ভয়, দিয়ে জর চরণ।
শুনেছি তােমার নাম,
সৰ্ব্ব সুখ-শান্তি-ধাম,
সে সাহসে এসেছি হে জানাতে মনােবেদন।
তব অনুগত জন,
পায় তব চরণ,
ধু কি বঞ্চিত হবে, অধম এ আকিঞ্চন।
পুরবী—আড়াঠেকা।
৫
এ ভব-সাগর মাঝে তুমি হে ভৰাৰ !
দীনের দুৰিতহারী, বিপদ-ভয়-বারণ!
সততার আধার তুমি,
শ্রাণের প্রীতির ভূমি,
করুণ-বরুণাগার, শান্তি-সুখ কারণ।
অবে কাতর প্রাণে,
যে চাহেতৈম খান,
ভূর্ণ পূর্ণকাম সেই লভ মহালয়-বন।
।
শান্তরতি।
um
এখন দয়াল পানে,
যে জন চাহিতে জানে,
দুঃখ তাপ কোথা তার? হৃদে শান্তিনিকেতন।
জয় জয় বিশ্বনাথ ।
করি শত প্রণিপাত,
চরণে দাও স্থান, দই শরণ।।
সিন্ধু-ভৈরবী-আড়াঠেকা।
বুক ভরা দুঃখ লয়ে এলেছি কাছে।
ভয়েরি, দুঃখী বলে, না দেখ পাছে।
কত দুঃখ পেয়েছি গাে,
কত জা সহেছি গাে,
দেখিৰে কি বুকে মাের, কি ব্যথা বাজে।
কেহ নাই আপনার
স্থান নাই হার
তাই গাে
কা।
শ
শিরিণ।
তুমিও কি সুধাবে না ? •
খি-জল মুছবে না ?
তবে কার কাছে যাৰ, কে কার আছে?
ইম-কাওয়ালী।
জয় জগদীশ জগ-বন্দন!
পাপ, তাপ, বাধি মােন-ভৰ খণ্ডন।
অনাদি অখিল কাবণ,
সকল জীব-জীবন,
বিধি-ভৰজনন, নিখিল-ভয়বারণ।
দেব দেব দয়াধন,
পতিতজন পাবন,
ভকত মনােমােহন, যােগীজন-রঞ্জন! ৯।
মুলতান—একতালা।
নয়নের নয়ন তুমি ৰণের অবণ,
बौपानी बीवन बन, बाणे-
শান্ত-তি।
৪১
অচিন্ত্য, আঁশেষ, অরূপ, অব্যয়,
ভূবঃ তপঃ সৰ্ব্বলােকয়,
সাশ্রয়, জুমা, কারণ-কারণ।
তুমি প্রণব, পাতা, জনয়িতা,
জ্ঞানদ, জ্ঞানময়, বিশ্ব-বিধাতা,
গুণাতীত, গুণময়, সত্য সনাতন!
আনন্দ-চিঘন স্বরূপ তােমার,
প্ৰেষ্ঠ পরমেশ শ্রেষ্ঠ সবার,
অপাপবিদ্ধ, চি-সম্পদ-শােভন।
শান্তি বিতর সবে, শান্তিনিকেতন।১০।
ঝিঝিট—একতালা।
।
দেব দেব দয়াময়, দু বিমােন।
পাপবারী, তাপহারী, হে সুখ-সন।
ভূমি সৰ্ব্ব চকুম,
নিখিল ভয়ের ভয়,
জ্ঞানদাতা,কাম জুলাবন।
শিখরিণী।
তােমারি কৃপায় সবে,
বচিয়া হয়েছি তবে,
তৰ সম হিতকারী কে আছে এমন।
যা কিছু যখন চাই,
কিছুই অভাব নাই,
সকলই তােমারই কৃপা, তুমিই কারণ!
তােমার চরণ কভু,
যেন ভুলি না হে প্রভু!
যা করি, তােগারে যেন থাকে হে মরণ।
তব পদে ভক্তি মতি,
দেহ সবে নুমতি,
জ হয় কুতি, হে দীন-বরণ !১১।
ভৈরবী--আড়া।
’ ক্ষ্মি আপ বলি ছিল হে আমার।
অকপটে কিছু সঁপি চঙ্গণে তোমার।
চেয়েছিলাম,
করেছি মুখ,
এৰি শিক্ষাৰ মহে কাৰ!
১৩
ঙ্গে প্রেম, কোথ হেথা ?
শুধুই মুখের কথা,
বু নিজ খ তৃপ্তি বাসনা সবার।
একমাত্র ভৰ পদ,
শুভ, সুখ-শান্তি,
তোমা হীন হয়ে, শুধু যাতনা অপার ।
তােমারে সঁপিনু প্রাণ,
রাখ, আর যে বিধান,
তুমি ত মঙ্গলময়, জেনেছি এবার।
দেবে দুঃখ ক্ষতি নাই,
শুধু নাথ। এই চাই,
ও চরণ শক্তি যে খাৰুে অনিবার। ১২।
আলেয়া-খয়রা।
.
बाबाज
প্রাণ,
• ম নয়ন,
দেয়ে অতুল চাঙ্গণ।
সুধা করে, স পায় নিঝরে,
#ঃ শিখরিণ। : ব্যয় কমল পরে, অমলকমল পদ- খিয়ে যতনে, @তির মনে, দেঋরে মানস-মােহন। কত করুণা, কত নেই, প্রেম, ফুটাইছে ও চরণ! ও প্রেম প্রকাশে, রবি শশী হাসে, বু বিকাশে, পুলকে ভাসে ত্রিভুবন! ১৩। সুরট-মােল্লার—একতালা। কৰ কিৰ ভয়, গাও বিহু জয়, এয়ােল্লাসে পূর্ণ কর ভূমণ্ডল। তিনি সকলেরি, সকলি তাহারি, বের কাণ্ডারী জুড়াবার স্থল। ক রক্ষাও তাহাই আলয়, পারি ঋলয় মােদের আশ্রয় ; আশ্রিত জনের আছ কি ভয়, ম্য বিলে বল।
শান্ত-রতি। ১৫ চিন্ময়-বৰ কৰুণানিধান, যে বিধি জীবেরে করেন বিধান, বরিযে সতত ওত সুকল্যাণ, নাবিল চিত হয় সুনিল। ১৪। আলেয়া-একতালা। হয়ে , হৃদয়-নাথ ! প্রেম- পতন! ও পরশ-রসে, অমস প্রাণ, লভুক কনক বরণ ! আকুল ব্যাকুল, অধীর পরাণ, রাখিতে হৃদয়ে হৃদয়ে, কবে বা সে দিন, হবে হে আমার, জুভাবে তাপিত জীবন । অসৎ আমি হে, তুমিত সুৰাধ সুজন। খিত চিকি, জুড়াতে পাবে না, থাকিতে অভয় চরণ!১৫। যদিও অধম,
শিখরি ।
কাফি-মিশ্র-একতালা।
কত ভালবাস এ দীন জমে।
বিলে উথলে মন, বারি বহে নয়মে!
সুদীন অনাথ আমি,
ভুমি ত্রিভুবন-বামী,
কেন অপরশ জনে, এত মেহ কি কারণে s ?
আমােগ্য যে জন অতি,
শুধু বিষয়েতে মতি,
তবু ভালবাসি তারে, স্থান দে’ছ চরণে !১৬।
ভৈরবী-ঝাঁপতাল।
অনন্ত মােটর-বি আঁধার
পিছে তব মহিমা অপার
যে দিকে ফিরাই আমি আঁখি,
ছৰ প্রেয় মুখ সেদিকে সুখি,
অবাকহইয়ে আমি চেয়ে থাকি,
ঝখে হয়লি জােৰ
শান্ত-রতি।
অলিমিখে দেখি তৰ উষা হাসি,
কল কল কাকলী বাজে বাঁশী,
কুল, নীল, লাজ, ভয় সকলি নাশি,
আত্মদান করে প্রাণ পদে তোমার !১৭।
টোরী-ভৈরবী-আড়া।
কে সুন্দর! রূপ নাকি নাকি তােমার ?
তনি হে, অরূপ তুমি, নিরুপাধি নিরাকার।
হে শােভনু সুন্দর।
মােহন মূরতিধর।
তুমি অরূপ, বিশ্বে এ রূপ কাহার?
: দেখেছি'ভূধর শিরে;
বিপ্রতীরে,
উপলে য়ে চারুছৰিলে যেরূপ, সে কি তার?
সাথে কি
কায় উর্মী চুখিচুৰি:-
দান্তে মিছিলি ল কাহার?
L
.
5.
শিখরিণী।
rnMAAN
nam anno
দার্মিনী নীরদ কোলে,
পাপে প্রসূন দোলে,
বিচিত্র বিহগ কুল, সে রূপ কাহার?
তপনের তীব্র ভাতি,
শশীর বিমল কাতি,
ইবার মুকুট জ্যোতিঃ, কার রূপে ইজিয়ার?
দলের দয়া ধর্ম,
প্রণয়ীর হৃদি মৰ্ম্ম,
কানীর জ্ঞানের প্রভা, প্রভায় কাহার ?
তুমি হে অরূপ যত,
চিনেছি, লুকাবে কত ?
অরূপ-তাই কি ৰূপে ছেয়েছ সংসার? ১
জীৰে জয়,
মি-একতালা।
আর কিয়ের ভর রেখেছি।
নে যে রে , ৯
बिन हर बम पहि
ধাঁধার,
• রূপ আধার,
মেরেছি, কাটিয়ে নিছি-
শান্ত-রতি।
~~~~~
~~~~~~,
সেই সন্ধ-তমে,
অন্ধপুরে,
বন্ধ করে রেখে দিছি।
আপনা হতে,
আপন যে জন,
সন্ধান পেয়ে, তায় ধরেছি।
তারে আপন জেনে,
আপন বলে
চরণ তলে প্রাণ সঁপেছি।
সার বচন,
* কিসের শমন ?
ভারি ভুরি বুঝে নি’ছি;
বকেয়া হল,
উল দিয়ে,
অধিকার তার ললাপ করেছি।১১।
টোরী-ভৈরবীযৎ।
আর আমার ভাবনা কিসের, যার ভাবনা
তারে দিছি।
হাছের কাল সাঙ্গ করে,নির্ভাবনামৰসে আছি।
করে যা হয় :
কিরকে
মিহাপনা কেন, মিছে কথাৰ মৰি বঁটি।
*)
৫
শিখব্রিণ।
গিয়েছিনু খুজতে দুরে,
চেয়ে দেখি আপন পুরে,
ভুতের ব্যাগার খাটলাম শুধু, থেকে এত কাছাকাছি।
ফেরে সাথে ছায়ার মত,
করে স্নেহ যত্ন কত,
আদর মাখা প্রাণ খানি তার, ভাব দেখে ভুলে গিছি।২
শিখরিণী।
তৃতীয় স্তর।
উজল-রস—বিপ্রলম্ভ ও সম্মিলন।
০
শ্রীগুরুদেবঃ।
মনােহরসাহী।
জয়ী রাস-বল্লভ রসিক-শেখর।
জনমে জনমে সখা তােমারি কিঙ্কর।
ধন্য কৃপা, ধন্য প্রভু চরণ প্রভাব,
বিজাতী’ পাইল ক্ষণে স্বজাতি-স্বভাব ।
পলক্ষ্ময়ে গিরি, মূক শাস্ত্র আলাপ,
তােমারি কৃপায় শুনি; না ছিল প্রত্যয়।
এবে সে অধমে দিয়া বুঝি প্রমাণ, ,
সকলি সম্ভবে; কৃপা বলবান।
ভুক্তি, মুক্তি, সিন্ধি বাসব কৈলে চুর,
এতি জোর প্রভু : করুণা প্রচুর।
৫২
শিখারী।
বুঝাইলে গােরারসস্বাধামে তত্ব,
অকাম-রমণ সহ বিলাস মহত্ত্ব।
মহাগৰিনীৰ ভাৰ সুধা-সিন্ধু সীমা,
পিয়াইলে হীন জনে, কি কব মহিমা!
তব পাদপদ্ম রে সে সাধন,
চরণে মধূপ করি রাখ অনুক্ষণ! ২।
পূর্বরাগ।
শ্রীগৌরচন্দ্র।
রতির্যা সঙ্গমাৎ পূৰ্ব্বং দর্শন শ্রবণাদিজা।
তগােরুন্মীলতি প্রাজ্ঞৈঃ পূর্বরাগঃ স উচ্যতে
কি অপরূপ রূপ, হেরি সুরধুনী কূলে।
নয়ন ফিরাতে নারি বিকাই বিনা মূলে।
কি দিয়ে গড়েছে বিধি গোঁর সুরে!
অতুল, অনুপ রূপ, মুনিজন-মন ভুলে! ।
কষিত কনক কঁতি
শত শশধর গতি,
উলি মুখ জ্যোতি, সুখ উছুলে।
উল--বিপ্রলম্ভ ও সম্মিলন।
কথা কয় হাসি হাসি,
যেন মােহনীয়া ধাশী,..
পাগল করিল সবে, মধুর বােলে।
চাচর চিকুরে চূড়া,
মল্লিক মালিকা যে,
মালতীর মালা গলে মৃদুল দোলে।
চন্দনে চর্চিত কায়,
হীরকে খচিত ভায়
কনক মন্দর, ভূষি’ বিবিধ ফুলে।
বিনােদ ছন্দে গতি,
মন্থর মধুর অতি,
চরণে নুপুর রাজে, মৃদু কাকলে !
যে দেখে লুঠয়ে পার,
যেথা যার সাথে ধায়,
কুল, শীল, লাজ, মান ভাসায়ে অকুলে।
। ও চরণ হৃদে ধরি,
ইহ পরকাল হরি,
এই সাধ, এ সাধ কি বাৰে বিফলে ।
সখায় কি লইকেন আপন বলে ? ২।
৫৪
শিখরিণী।
মলিন বন,
অৰুণ নাম,
হত দীঘল খাগ।
অতি ভীত চিত, চমকে সতত,
বুঝি কিসের ত্রাস।
সুবধুনী কূলে, বকুলের মুলে,
কি জানি দেখেছে কারে।
থিব নহে মন,
সদা উচাটন,
দেখিবারে ধায় তারে!
কখন বিবিধ,
কুষম দূষণে,
সাজয়ে আপন কায়।
কতু বা ধূলী,
ধূসর অঙ্গ,
বিবশা বালিকা প্রায় !
আন ছলা করি, বলে, হরি! হরি।
কি বুকে বিষম ব্যথা।
নিঝরে নয়নে,
হে আনমনে,
না পায় শুনিতে কথা ।
গােরাচাদ মাের,
শের সাগর,
নাগরীর ভাবে ভােয়!
এ রস গরিমা, এৰি হিয়,
‘গা মা পাল ওর। ৩।
উজল-রস-বিপ্রলম্ভ ও সম্মিলন।
কি নাম বলিলি বলু জুড়াল শ্রবণ !
(নি) আবেশে অবশ তুই ঝত্রে দু’নয়ন।
যেন কত সুধা ঢেলে,
পূতঃ প্রেম মন্ত্র বলে,
স্বর্গের সুষমা দিয়ে, করেছে গঠন।
খাম শ্যাম শ্যাম নাম,
আনন্দ অমৃত ধাম,
যত বলি, তত মুখে ভরে উঠ মন।
বল বল
নামে কিবা আছে গুণ,
খুলে দেয় প্রাণ মাৰে মৃধা প্রৰণ।
উজলিয়া কোন্ ধাৰ,
আছিল রে হেন নাম,
সুখস্পর্শ, প্রাণায়াম, অমূল রতন।
যার নামে এত সুধা ফুলে,
• পলকে ত্ৰিতাপ হরে,
না জানি বনি। হায় সে জন যেন।
শুনি পুন,
৫৬.
শিখরিখ ।
এ সখি! এক বাত কহি তােয় !
কালীয়দমন যেই,
চুড়ে পাখি দেই,
বেরি বেরি কাহে পেখত মােয়?
বংশী ফুফার,
মিঠি মিঠি হাসত,
জাগত রিঝ মাঝ অবহি।
চলয়িতে চরণ,
খলতই পুনঃ পুনঃ
ঝাট আলু চলি তবহি।
সে রূপ লাবনী,
চুড়াক টাননী,
হেরি হেরি মন ভাের;
অতনু শর কিয়ে, হানল মঝু হিয়ে,
লখয়িতে ধনু যাের ।
বারি বরণ ত,
মেহে বিজরী জন্ম,
পিন্ধন পীত বসন।
নগঞ্জন,
চঞ্চল লােচন,
বাউরী কর ম ন !
কগীম তাল বন-হা মেলে,
নাসায় শোকে গজমতি।
এর কম অষয় বলি,
ৰাহ শাল, গজ-শকি।
T
উজ্জল-রস—বিপ্রলম্ভ ও সম্মিলন। comum mi নিন্দি চম্পক কলী, সবই কলি, পেলব, পরশ-মেদুর! হাসি হাসি’ চাহত, জগত জুড়ায়, হােয়ত কুল, শীল চূর। তছু কিয়ে নাম ধাম, নাহি জানত হাম, এ সখি? কহবি হামায়! সখ কত হাসি, জানি কাহে গােপসি, সােই-যশো-দুলাল স্যাম রায় ।। এ সখি ! কহ উপায়। ছৈনে দরশন, পাওয়ৰ হাম পুনঃ নিমিখ যুগ জং ভায়। সখী কইত ধনি। কাহেই মুগধিনী, 'দেখলি লম্পট যােই । অথছ বঁধই চিহ, লতই সতি, কিয়ে কইকুলারী ভাই। রাই কহতফেরি, ক ন সহয়। ফরম, করম, ফুল, শল-
শিখরিণী।
দি জলালী,
দেহ বনমালী,
নাহি সহে ধৈরষ তিল।
অৰ কহি মরম বাত।
ইই তনু মন,
কৈলু সমর্পণ,
পহিলহি দরশন সাথ!
যব মুঝে মিলায়বি, প্রাণদান দেয়বি,
নতু তিন উপায় বিধান।
আনহ আগ জ্বালি, ইহ তনু ঢালি,
অব জুড়ায় প্রাণ!
সখা কহত বালা। কথি লাগি উতলা,
অবহু মিলয়ৰ কান।
তুৈছে অনুক্ষণ,
হােয়ত কামুক পরাণ! ৬।
যৈছে তুয়া মন,
সমুঝলি তুলা মন,
বিতির নি, রমণীর মণি,
কৈ সমর্পণ।
জানি তুমি,
পুরুষ রতন,
রুতন
এ ধনী পল দিত।
উজ্জ্বল-রস-বিলও সম্মিলন।
কটু না ভাবি,
झना कति
দুঃখ না দেখি,
বুঝয়ি পীরিতি রীত।
যতন করবি,
আরতি করবি অতি।
বড় সােহাগিনী, অলপে মানিনী--
কোমলা বালিকা মতি।
প্রাণের অধিক, মাে সবার পিয়,
সার সরবল ধন।
দোষ ঢাকৰি,
গুণ দেখবি,
ভাবিয়া আপন জন।
মুগধা বালিকা, কুসুম কলিকা,
ভাল মন্দ নাহি সুরে,
ৰােলৰি, নবি, বাত মানবি,
কৰি মরম বুঝে!
দেহ গেহ সব,
তুই সে মাধব
• হৃদয়-আজ তুই?
পি পি মেলি, নিতি হালি খেলি
শরিতি দেহ।।
শিখরি ।
অভিসার ।
আলীক সঙ্গে,
বজনীরব,
এই সব
আঁধার অতি রাতিয়া ।
খাম প্রসঙ্গে
বাই হত মাতিমা।
যমুনা পুলিনে,
কেলী-বিপিনে,
সহসা ফুরয়ে বঁাশরী।
গুনি চমকি,
উঠয়ি ঝনকি,
নিকষয়ি গেহ নাগরী।
কুঞ্জর গতি,
চলল সতী,
বিদগধ-রাজ-মােহিনী।
ধনীক সঙ্গে,
সাজল রঙ্গে,
যতই রস ভামিনী।
নীলিম বসন,
রতন ভুষণ,
পহিহি ব্ৰজালিকা।
গীমক তলে,
সুরভি কুষম মালিক।
বেণী দে,
ঠমকি চাই,
মন বর দিয়া। ',
মৃদুল দোলে,
জ্জ্বল- রবিপ্রলম্ভ ও সম্মিলন। । আকুল হৃদি, চঞ্চল মতি, হেরয়িতে প্রাণ বঁধুয়া। তৈরণ যবে, যমুনা তীরে, কুঞ্জ-ভবন ঘহি। রাস-রসিক, চতুব নাক, বেনু ফুরত তঁাহ। রাজ কুন্ডারী, বরজ দুলারী, হেরি দুরহি নাথ। ঋনকি চলত, নূপুর বাজত, হরষে পুলক গাত।৮। মিলন। t মীর কলে, # ঝুনু বােলে, চকিতে চমকি উঠি- আওসরি হরি হেরয়ি প্যারী, চাহত এক দিঠি। করলেই করে, , - আরতি ভরে, বৈঠাল পাশে। গহক বাত, বেরি পুত, র করুণ ভাবে। . ।
শিখরিণী।
গীত-বয়ন,
পিঁধন বসনে,
ছম ঘম বারে।
পেথি মুখ,
উথলে বুক,
জীগল ভাখি লােরে।
‘চিত-শােহিনি। মনােমমাহিনি।
কহত বনােয়ারী।
‘তুহি ধেয়ান, তুহি জেয়ান,
জীবাতু হামারি।
আঁখি আঁধার,
জীবন ভার,
বিহুম তুয়া সঙ্গ।
সখা কই রই,
পিয় পিয়া সহ,
মিলই অঙ্গে অঙ্গ। ৯।
দান। •
সুরট-মােল্লার-একতালা।
গগন ছাইল নিবিড় ঘনে,
ভীম পবন বহিছে সঘনে,
কুৰতী মােরা কূলে দাড়াইয়ে :
** কতেক আর!
উজ্জ্বল-রস-বিপ্রলম্ভ ও সম্মিলন।
নিৰিয়া আসিছে তপন ভাতি,
আঁধার করিয়ে আসিছে রাতি
আকুল অধীর হৃদয় অতি,
কেমনে হইব পার?
গােকুল-বাসিনী মােরা আহিরিণী,
দধি দুধ ল’য়ে করি বিকিকিনি,
বার হয়েছিনু কি ক্ষণ না জানি,
এ ফল ফলিল তার !
তরী খানি লয়ে এস হে নিকটে,
রাখ কথা, আজ তার হে শঙ্কটে,
যে মন চাহিৰে দিব অকপটে,
করাে না সংশয় তার।
ঐ দেখ পুনঃ গৰ্বলে ঘন,, ,
দামিনী মককে পুলকে যেন
রাসে হি কাপ মুন,
কিৰ কাহায়ে আর।
T
আছে,এম নাহিকমা,
দেয়ত্রিংশয়,
শরিণী।
যাই কোথায়, ডাকি বা কাহায়
শরণ লইৰ কাৰ।
কুলে এই কুলে সকল ঠাই,
এই খানি বই আর তরী নাই,
সহ হে ধরিতে সঁপি সবাই,
ও পরে জীবন চার। ১
হাসিহাসি খাম কহেন সুন্দরি
আসিছে তুফন রুদ্র রূপ ধরি,
ণ তরী লয়ে কেমনে হে তরি,
কেন কি বার বার !
.
একে গুরু ভার আতরণ ভরে,
এ ছার আছে তার পর,
এই ভার বল কে বহিতে পারে,
এই ৰা সাহস কার?
তা আভরণ ফেলধিতালা,
সঞ্চয় শরকেএস সরবল।
~~~~~~~~
-রস--বিল ও সম্মিলন।
man
ৰস হে নির্ভয়ে, ইওনা উতলা,
এখনি করে দিন।
শুনি,তরী’ পরে, গােপিকা মণ্ডলী,
আসিয়ে বসিল আনন্দে উথলি’,
একে একে সব আভরণ খুলি,
দিল ফেলি জলে সকল সম্ভার।
বলে, গুন গুন নবীন কাণ্ডারি।
পালিনু সকল আদেশ তমারি,
বিকে নাই যেই ক্ষীর, সর, ননী-
ও দেখি আঁখিজাক সবার! ১১।
ভিসারিকা।
যা পর্যৎসুক চিত্ততি মদেন মদনে নচ।
আত্মভিৱেৎ কান্তি সর ছবভিসারিকা।
যােহরী।.
নিভূত নিকেতনে,
অভিনীগণ সনে,
H
E
গিরিখ।
.
শ্যাম-সােহাগিনী, নব অনুরাগিনী,
শ্যাম-নাশসে দোয়!
সবহু সহচর,
খেলি পাখন,
গগনমো উদল আলি;
ফুল ফুল-কুল,
চখরী চঞ্চল,
ঘুঘট খুলল কুমু হাসি’
সতে বনমে,
বগত পঞ্চমে,
রাধা নাম লেই স্বী।
শ্রবণহি পৈঠল,
গরুষ লাগল,
সব চিত তেল উদাসী।
রাইক সযতনে,
সাজাও সখীগণে,
চলল ভেটিছে বকান।
ঝারী গাগরী লােই, কুহুমম কে,
লওয়ল-কোই পাননি।
অগুরু চন্দন ঘূৰি, লওৱল কঠোর পুরি,
ভোলওল খারি, ভলি।
পিনে মুনীল ৰাস, সমীফ যা শাশ,
ময়লগমন বৰগােমী।
পুষ্প-বুক যত, দূৰহি চায়,
গন্ধু ও
লে;
.
উজ্জ্বল-রম-বিলও সম্মিলন।
৩৭
শ্ৰীমতী কুঁহি পরি,
চলতধরি ,,
মঙীর গঞ্জে ফল ফলে।
অবসই ফুঞ্জ গেহ,
উতরল সখীসহ,
চঞ্চলচরণে সবে পারি।
কাহা মুরলীধর, রসিয়া নাগর,
কুঞ্জ ভবনে কোই নাই।
ইতি উতি চায়,
চারি দিশি ধার,
সখীগণ ঢুড়ে বুলি বুলি।
ধ্যান’গন্তরে, বৈঠল কিশােরী
রােহ হাহ লি। ১২।
বসিকসজা।
ভৱেদ্ধাসমাসে সজ্জিতাঙ্গ রতলিয়া।
নিশ্চিত্যাগমৰং ভক্তারেক্ষণ-পরায়
বাইক অধীর দেখি, কক প্রিয় সখী,
ব্যাকুল হলিধনি কাছে?
বশি লোকে “অব যাও,
অহিদখৰি-না
এৰে ধৰি পৰে কহ, কৈল পেই,
সাগৰ কমিমােহন।
-
निपत्रिने
রাই কহে যেমতি, নাহক অভিমতি,
ঐছন করহ শােভন।
আনহ মালিকা গাঁথি, আন ফুল নন জাতি,
কৈরব, কুবলয়, ঝটি।
নব কিশলয় মঞা, তাহে ফুল দল দিয়া,
রচই শেষ পরিপাট
মৃগমদ চলন,
কেশর কুমকুম
ভোজ্য, ভান্থল থরে থরে
সবহু সভার,
সাজাহ চারিধাৰ,
গন্ধদীপ জলই সত্ত্বরে।
পিয়াক মনােমত,
দ্রব্য আছয়ে যত,
রাখ আমি করি বিধান।
রাখ নি কুম্ভ ঝারি, আদেশই শারী,
গাহুক ম ণ গান।
ও কি শক দেখিসখি! কোথাও কাজে না লখি,
অথছ বিশ্ব কি কারণ।
নিথর নীরব সৰ ! ও বুঝি পায় ?
খােসখা হত। ১৩।
।
উল-বিল ও সম্মিলন।
উৎকণ্ঠিতা।”
সা স্যাদুকতি, যা বাসং নৈতি দ্রুতং প্রিয়।
তস্যানাগমনে হেতুং চিয়ন্ত্যাঃ ৩চা ভৃশং।
কত আশা করে, ব্যাকুল অন্তরে,
আই কাননে ধাই।
কে জানিত পিয়া, আমারে বঞ্চিকা,
হব আন ঠাই।
কুঞ্জ সাজা,
শেষ বিছায়,
গাঁথি কুফ হার।
সুরভি-ছাগল,
দুঃখ হও সার।
ভেবে ছিনু মনে,
কর যত কথা।
এত সাধ আশা,
সলিল বৃথা!-
তাম্বুল শুকাল,
মিলি সখা সনে,
4
গয়াল বসু
নিষ তেল যৰে;',
পশি গমুনা,
.
সৰ গুৰু গৰ। ১৪।
৭;
শিখরিখ।
11
বিপলব্ধ।
যস্যা দূতীং স্বয়ং প্ৰেষ্য সময়েনাগত প্রিয়ঃ
শােন্তী তং বিনা দুস্থা বিপ্রলা চ সা স্মৃত
শী অয়ে যায়,
গাধার লুকায়,
অবহি উদিবে ভানু।
বিফলে রজনী, যাপি জনি।
কোথায় রহল কানু।
কে জানিত পিয়া, কুলিশ-হিয়া,
উপরে নাগর-রাজ।
শঠের কথায়,
কেন বা আমায়,
আনিলি বিপিন মাঝ ।
ঢুড়ি টুড়ি সবে, অৰহি ফিরিৰে
বিল বেদনা বহি।
विवि पत्र,
করম আমার,
কারণ দুঃখ সহি।
সকলে, সেগা ফেবি জলে,
ফি জমাখিয়ে আয় ।
গিয়াছেকছি
-বলয়।
L
L
।
উজ্জল-রস-বিপ্লব
সুম্মিলন।
মান।
খণ্ডিতা।
জনিত্বাপ্রণয়ঃ স্নেহাৎ কুচিৎমানতাং জেৎ।
মেহাম্মান কচিদ্ভুদ্য প্রণয়ত্ব মথাশ
তে।
ন
অন্যয়া সহ কাস্য মৃষ্টে সম্ভোগ লক্ষণে ।
ঈর্ষা কষায়িতাত্মাসৌ খণ্ডিতা খলু কথ্যতে ॥
শ্রীগৌরচন্দ্র।
কণিত লােচন,
গল বহ ঘন,
বিষাদে মরি মুখ খানি।
কহে গােরাহায় হয়। এ কহৰুকার,
কাছে বিহিবাম নাহিজামি!
দুলি ফুল,ফল, গাঁথি, জাগি পােকায়াতি,
বিষৰ ওৰৰ:কাশ
साना साना छ, সাওল হক,
s
হাল
শিখরিণ।
ভাল করল কালা, অনলে মিটল জল,
এৰে কহু মরমক ৰাত ।
রিঝ ফাটৰ, তবু
নাহি মিল কতু
নিপট কপট শঠ সাখ।
নিয়ে করবি তারে, পশিতে নিকু দ্বারে,
ঐ আসে নিজ কানাই।
খৃষ্ট লম্পট সনে,
কিবা কাজ আলাপনে,
কই যায় চলি আন ঠাই!১৬।
তবু ভাল মেনে, দেখি বিহানে,
পথ ভুলে হেথা নাকি ?
কহ কিবা পাশে,
কিসের শাসে
লালসে
এ পথে তাে সখি?
ফাদে হে লম্পট।
বসিকন্তু বউ,
(হেরে সরমে অরিয়ে যাই
সির প্রভাতে, ও মুখ দেখাতে,
লাজু কি তার নাই
সে জন সিক, তৰ প্ৰাণাধিকা,
বুঝেছি তােমারে হেরে।
৭ উচ্ছল-রস-বি সম্মিলন। mnim কা, ৰ'লে কি তাই, অনুরাগ-ভার, শিরে ৰহি কেহ ফেরে। মরি কি শোভন, ও বেশ ভূষণ! ও কি দেখি হিয়া যাবে। অতনুর বশে, বিজয় কেতনে, বুঝি সে জাকিয়া দেছে! কারাে পরিহাস, কাহারাে বিনাশ, তােমার ক্ষতি বা কি? যা হবার হয়েছে, সকলি স’হেছে, আর কি রেখে বাকি ? রাজার ঝিয়ারী, আনিয়ে বিপিন মাঝে। ভাল সে ব্যভার, দেখালে, তােমার, তােমারই এ নীতি সাজে। বৃথা যেন হেথা, যাও ছিলে যে, দেখি লম্পটমুখ। : নিবে তোমার, যাও ১। ‘কুলের বহুরী, . ; করে স্বাবু, ।
পঃ
শিরিণী ।
।
কই কহ এ সখি ।
কাহে ভেলি বিমুখী,
করুণ-নয়ন মেলি চাই!
তুই সব দয়াবতী,
মউদার-মতি,
নিখিল জগজন মাহ।
আলিসে গোয়ানু রাতি,
জাগয়ি ফাটল ছাতি,
নাহি বুঝি বিহি পরবন্ধ !
দুরাসে খাই খাই,
তবহু সােয়া নাই,
বুঝ ভাগ অতি মন্দ।
ক্ষম’সবে দয়াগুণে,
কর যাতে সুবিচার হোয়।
বেরি এক হামে ধনি। দেখাও গাে মানিনী,
হিট গান দেহ সবে মােয়!১৮।
নিরূপরাধ জনে,
.
কাহে কম সুৰধিনী রাখে।
চলোনালােই পাওলি কোপাবে
শার-চাকুণ্ড :
কাকেৰিষদ মেয়ে ঝাঁপ ১১,
খাে না ও
E
উল-রস-বি
সম্মিলন।
৭
ভাব জানত মােয়,
পাস তুহারি হােয়,
শরণাগতোনইই, কই কোন সাধে! ১৯
F
তু বড় ঢেট মাধব! মিছকহসি কাহে ?
কাহে আওয়লি, তাহ শাহ চলি,
ভুয়া মন বাধা থাহে।
যাে নব নাগরী,
রসের আগরী,
ৰিহি সে মিলান্স তােহে।
তছু অনুরাগ,
লাগয়ি বয়ানে,
দেখায়লি ভাল মােহে
দুজন যে জন,
অলপে চিনু,
বুব যে সৰ গীত।
হক আচার,
ভাল সে বুঝল চিহ্ন।
কুরু
তেলি
ঘুচল তুহৰি দুৰ
কপট ব্যাধের,
অল্পী
4
3
শিখরিণী।
অধিক ৰচন,
ফহসি কহে,
কোন্ সমুফৰি মােহে ?
ৰচন ছােড়লি,
তুই যাহ চলি,
দুঃখ পাবি কাহে! ২।
দুহা
খুন শুন হে বর-মা।
বহুত মিনতি কৰু, তুয়া চরণ ধৰু,
অবহি রইলি কাহে বামা?
এতই কঠিন চিত, নহ ভুয়া সমুচিত,
কম মােহে, দেহ মন দান।
অনুগত দাস ত্যজি’, রহৰি মান ভলি,
ইহ কোন্ ধরম বিধান।
কাছে দুঃখ দেয়সি,
রিঝে ৰাজ হানসি
কাহে কৰু ইহ নিঠুরাই!
চরণ-নখ পাশে,
তিল ঠাম দেই পাশে,
তুয়া হাড়ি আঁহ হাম যাই।
ত্যৰি দুখৰ মৰ দেহু ছেড়ি,
চলু হম কুক ঠা।
আই কি
পাহি নিল ।
• '.
উজ্জল-স—বিলও সম্মিলন।
৭৭
ছিছি মানিনি। মুগধিনি। এতই অৰােথিনী
বুঝিলিনা আপন হিত!
পরম জুলহনে,
ঠেললি
ও চরণে,
এমতি কঠিন তুয়া চিত।
শ্যাম সু-খনি,
শ্যাম নয়ন মণি,
শাম তুয়া সরবধন।
সােঋমে ত্যজয়ি ধনি ইহ দিন যামিনী,
কৈছনে গোয়াবি জীবন?
বসিয়া নাগর,
লুঠ চরণ পর,
চাহ নাহে মােদের শপথি।
পরাণ বম বলি, লেহ হিয়?’ পর তুলি,
ঘরে সখা মেক-অতিথি। ২২।
মিত চলত, শাঁখ মুছত, হেত ফিরি ফিরি।
বেনেনিই, কর কি নাই অবশ ডাকৰ ফেরি।
छ
প্রেম পিঙ্গাসাক্ষি আয়ােস দেল।
বিঝ ফাট’গয়ন
এই ক্লয়া না তেল।
কাদিহগুলি, ৰখক সহ হাবাসি।
চিরদিনগি
সেই বিদায় হাসি।
;
E
শিখরিণ।
৮
রাই——বহু ত্যজল, নাহি ভাল, তেল দারুণ বাম।
এ ছার পরাণ, অথই তেজৰ জপয়ি শ্রীরাধানাম!
মাের—মানিনী ধনী, বহল কুঞ্জে, উপে? হামায়।
দেখবি সবে, প্রাণাধিকা যাহে, মাহি দুংখ পায় ।
বিরহ তাপে যব, সুখ-সর কায়ব,
কি করব সর-সােহাগিনী।
মােই ভাবি অন্তর,
হােয়ত দর জ্বর,
কৈছে জীয়ব কমলিনী! ২৩।
কলহান্তরিত ।
নিরত্তোমনাকাতো নমপি স্বয়া পুরু।
সনুতাপযু দীনা কলহান্তরিত ভবেৎ।
ফ্রিগৌরচন্দ্র।.. ।
অবনতমাণেঘপি গোরা দ্বিমণি।
অঝােরে বখশিয়ে নিকারিণী
বিষালে বিঘল চিত
শি।
উজ্জ্বল-রস-বিপ্রলম্ভ ও সম্মিলন।
E
'কেন বা হওল মাের সে হেন দুর্মতি-
মিছা মান লাগি'হারায় প্রাণপতি!
এবে হয় কিবা কক্ষ, নিকষে জীবন।
এক বেরি আনি দেখা মাের শ্যামধন! ২৪
এখন কি করি মা?বল গাে আমায়।
বড় জ্বালা প্রাণে, যায়প্রাণ যায় ।
মিছে মানের লাগি কেন,
বল কোন প্রৰ হেন,
প্রাণাধিক শ্যামনে দিলাম বিদায়।
সেই কাদা বদন তায়,
হৃদে জাগে অনিবার,
চলে গেল, তবু আমি ফিরালাম না তার।
তােরা ত মা কাছে ছিটি
*নে আমায় বুঝাইলি,
ছি ছি! অন্যদিকে ক্ষত দুস্থাছি তাহায়
সাবিলচারে: ২০ ;
চাকি-শাই কঠিন’হিমায় ।
}
শিখরিণ।
কোথা গেল গুণধাম,
একবার দেখা খান,
মরি প্রাণে, অর্শনে, বাঁচা গাে আমার ! a৫।
|
শ্যাম কই!--আমার শ্যাম কই! প্রাণ ।
সহেনা সহেনা, বঁচিল, বঁাচিনা, শ্যাম বই।
বুকে রেখে যারে সােথ না পাই,
সদা মনে হয় হারাই হারাই,
জাঁখি আড় হতে কভু দিই নাই,
পলক ফেলিতে পাছে হায়া হই।
তত ভালবাসা, আদর আরতি,
শ্যাম বিনে কে জানে প্রেম-রীতি,
মিছে মানে হারা হই গুণনিধি,
ছি ছি। কুরমের কথা কারে বল কই!
মা,
ওগো । বিনে দে
সরিজগৎ সংসার,
সে যে
মাের,
এলে হায় হয়ে কিকেই।
উল-রস বিপ্রলম্ভ ও সম্মিলন।
--- ~~
লাইক দশা হেরি, এবােখয়ি বেলি বেনি,
তুরিতে চলল দূরী।
আকুল”অন্তরে,
বন নায়ে,
ছুঁড়ল সব আতি পাতি।
দেখল গিরি সানু, তাহ নাহি কায়,
খাল কুণ্ডক ঠাম।
চারি পাব বেঢ়ি, গেল ফেরি ফেরি,
তবহি না মিলিল শ্যাম।
নিকু নিধুবন, কেলী-নিকেতন,
সবই খুজল যাই।
দেখল বংশীবট,
শ্যাম কুতট,
শ্যামনগর কঁহাে নাই।
দুতী ভীত চিত,
প্রমাদ গণহ,
“কিয়ে করল নিঠুরাই !
এতই উপেখ, সহই না পাই,
হে ছােড়ৰ অৰগাই ?”
পুনহ ভাৰত,
সহবােধ,
দুর রসিক কান
অশই কোই ঠা, পিরহব ঋণ,
কথিলাগি ছেড়ৰ প্রাণ।
()
শিখরিণী।
দূতী হেলে দূরে,
ধাওল ঝটপট,
তপন তনয়া তট,
rধীর সমীর ধাম-মাহ।
নীল তরু মূলে,
ধরণী লুঠত বর নাহ।
ধূলী-ধূসর কায়, বেণু লুঠত পায়,
নয়নে গত শত ধার!
গদ গদ ভাষত, হা হা রাই! বটত,
শুনি দূতী তবধ আকার! ২৭।
চতুর সহচরী,
চলল ধরি ধরি,
ধনীক চরণ ধ্বনি শুনি,
আঁখ মেলি হরি,
দূতীক বদন হৈরি,
উঠল সুভাগ গণি।
“এ জগামিনি!
মঝু দুখ জানি,
আওলি কি তুই মৰু পাশ ?
হেন দশা হৰ, পুনঃ কি বােলায়,
হােয়ব ইহ দুঃখ নাশ ?”
সহচরী বােসত, কাহে কুকারত,
বহুত আছয়ে মন্তু কাম।
উজ্জ্বল-রস-বিপ্রলম্ভও সম্মিলন।
man
পিছু না বােলাও,
দেও কাজে যাও,
কৈছনে ঠারব হাম। ,
নাগর বেলত পুনঃ,
এ সখি ! শুন শুন,
কাহে করত নিঠুরাই !
রাই তেয়াগল,
তুহু সৰ তেয়াগলি,
হাম যাওৰ কোন ঠাই।”
গদ গদ স্বরে,
সহচরী অন্তরে,
ভীগল করুণ লেহে।
কইতহি “আও সাথ, কহৰ তুয়া বাত,
করব তব হিত বাহে।
ছােড় লম্পট রীত,
শােধ শঠ চিত,
তুয়া লাগি কহব হাম।
রী বাণী,
বহু মানয়ি,
হরষে চলত বর শ্যাম।২৮।
মিলন।
4
শ্যাম সুনাগরে, মিলারল আনি,
বর নাগরী হি।
৮৪
শিখরিণী।
চাহে দুহে দুই',
হাসে নং ছ,
বাত না বােলত কোহি।
সব সহচরী,
দেইকরতারী,
হাসত মৃদু মন্দ।
হরষ বরষা,
বরষে হরষে,
হেরয়ি শ্যাম চল !
ক শারিকা,
বােলই মধুর,
ফুটল ফুল কুলে।
মধূপ গুঞ্জে,
পপুঞ্জে পুঞ্জে,
ইতি উতি খায় বুলে।
কোকিলা গায়ত, ময়ূরী নাচত,
ঝঙ্কার করত পাপিয়া।
পুলক পূরত,
সবই
উথলল সব ছাতিয়া! ২৯।
উজ্জ্বল-রস-বিপ্রলম্ভ ও সম্মিলন।
প্রেম-বৈচিত্ত।
প্রিয়স্য সন্নিকহেপি প্রেমােৎকর্ষ স্বভাবতঃ ।
যা বিশ্লেষধিয়াৰ্ত্তিন্ত প্রেমবৈচিত্ত মুচ্যতে।
রসিক সুজন দুছ, দুহে দুহ, মুহুঃ মুহু,
নেহারত বিভাের হিয়ায়।
রসাবেশে হেরি হেরি, বাহ পাশে হরি,
বাধল বিনােদিনী কায় ।
হরি! হরি! কিয়ে তেল অপরূপ শােভা।
নৰ নীরদ তনু,
বিজরী বেঢ়ল জন্ম
পিয়াসী চাতকী মনােলােভা ?
বহু ক্ষণ দুহু জন, রহণ অচেতন,
রু-মদির মুহ: পানে।
চকিতে চমকি ধনী, ঘাের পরমাদ গণি,
রােই কহে আকুল পরাশে!
ও সখি!—এ সখি! কাহাে না বধুরা লখি,
কাহা গেলা কানু গুণধাম?
কোন দোষে দোষী হাম, বিহি ভেল মােরে বাম,
হিয়া হতে কাঢ়ি নিল শ্যাম।
।
শিখরিণী।
কিয়ে কৰু কঁহা যাও, কৈছনে কানু পাও,
পিয়া লাগি ফাটত বুক!
ভিক মাগি এহ,
শ্যামে আনি দেহ,
ঘুচব তব ইহ দুঃখ।
শ্যাম হাসি কত,
কাহে ধনী রােয়ই,
তুয়া ছােড়ি যাওৰ কথি?
রিঝ মাঝ ইহ,
রহতই অহরহ,
তুহ প্রাণ, ধ্যান, জ্ঞান, গতি! ২৯।
প্রােষিত ভর্তৃকা।
বা
প্রধাস।
কুতশ্চিৎ কাৎ যস্যা বিদূরভেবেৎ পতিঃ।
তদসঙ্গম দুঃখার্ভা সা স্যাৎ প্রােষিত ভর্তৃকা ।
বিরহে বকুল গােরা বিষাদিত মন।
হাহা কৃষ্ণ । গদ গদ প্রলাপ বচন।
পূৱ ভাৰতে পহু হইলা বিভাের ;
নয়নে গলয়ে ধাতুপতই পাের।
উজ্জ্বল-রস—বিপ্রলম্ভও সম্মিলন।
৮৭
হাহা কঁহা প্রাণনাথ নব-ঘন-শ্যাম !
কিবা অপরাধ জানি মােরে তেল বম।
কে বুঝিফেহিয়া মাঝে কি দারুণ দুঃখ !
ব্রজেন্দ্র-নন্দন বিনা ফাটে মাের বুক।
নিদয় হইয়া পিয়া গেল পরবাসে।
শ্রীগৌরাঙ্গ ভাব হেরি কাদে গােরাদাসে। ৩০।
আমার গােরা কেন কাঁদে?-কেন কিসের লাগি ?
ভাব নিধির ভাব আজ একি দেখি।
গােরার কি ভাব অন্তরে হলো।
সদা গর গর,
হিয়া জর জর,
কাদিয়া আকুল ভেল।
বপি আন মনে,
কমল নয়নে,
গায়ে শতেক ধারা!
কারে কি সুধায়,
ইতিউতি চায়,
যেমতি পাগল পারা ।
যায় গড়ি গড়ি, এ
মুখে ফেন বহি যায় ।
কতু থির থাকি, উয়ে চমকি,
চিতে না সােথ পা।
কভু ভূমে পড়ি,
।
শিখরিণী ।
.
{
কভু ভাব থােরে, আপনা নেহারে,
বসনে ঝাঁপিছে কায় ।
করে কর আপি, হি। মাঝ ঝাপি,
পরাণে পরাণ পায় !
কভু বা নিয়ড়ে,
হেরে বা কাহারে,
দুবাহু পৰি ধায়।
কেন বা এম,
কি ভাবে মগন,
সখা নাহি ভাবি পায়! ৩১।
আর কি দিবে না দেখা শ্যাম গুণমণি !
আর কি লেবিতে পাব চরণ দুখান।
আর কি বঁধুয়া আসি বসিবে না পাশে?
সুধাবে না মনােব্যথা সুমধুর ভাষে ?
মালা গাঁথি দিব গলে, মুখে দিব পান,
সে হাসি দেখিয়ে মাের জুড়াবে পরাণ ।
অগুরুর পাখা দিয়ে করিব ৰীজন,
তার প্রতি লাগি এ মাের জীবন।
জাদ গেছে চলি, আছে হাহাকার।
মুখ হল গাধ পা, মি দেহভাৱ ! ৩২।
জ্জ্বল-রস-বিপ্রলম্ভ ও সম্মিলন।
দিবা নিশি দহে প্রাণ ঝরে দু’নুয়ন!
কোথায় যাই, কিসে পাই, শ্যাম প্রাণধন।
আর কি গােকুল বলি’ মনে আছে তার?
কার এত ছিল বল, গেছে এত কার ?
নাহি জানি গুণমণি কেমন যে আছে !
কে সেবে মনের মত, থাকি সদা কাছে।
ভাবিতে ভাবিতে মাের ধসিল পাঁজর।
সহেনা যাতনা আর ফাটিছে অন্তর।
কি লাগি হল সখা নিঠুর এমন ?
পাবে নাকি অভাগিনী আর দরশন? ৩৩।
এইত পুলিনে গাে—এইত পুলিনে,
প্রাণ বঁধুয়া মোর বিরাজ করিত।
চরণে চরণ দিয়ে,
অধরে মুরলী লয়ে,
বামে চুড়া হেলাইয়ে, ধাঁকা হয়ে দাড়াই।
যাখা মাখা রাধা মন,
ৰাজিত 'বাঁশরী ঘৰে
গােকুল আকুলির লহরী খেলি;-
।
৯০
শিখরিণী।
যত বিধুরা ব্ৰজের বালা,
জুড়াতে মরম জালা,
সরম ভরম ভুলি’ ছুটিযে আসিত।
সুমধুর বেণু তানে,
তৃণ ছাড়ি ধেনুগণে,
অবাক বিভাের প্রাণে, মুখ চাহি’ পাড়াত ।
পবন স্তম্ভিত হত,
যমুনা উজান ব’ত,
পুলক-আবেশ রসে গােকুল ভাসিত
সে ব্ৰজের হৃদয় রাজ,
হানিয়ে মরমে বাজ,
অ্যাজিয়ে গােকুল আজ, কোথায় রহিল গাে-
শুধু দরশন আশে,
আহে প্রাণ হৃদাবাসে,
পুনঃ কি আমার শ্যাম হবে গাে আমার ।
নৈলে-দেগে। বিদায় মােরে,
যাইগাে জনম ভরে,
নারিগাে সহিতে প্রাণে এ মাহনা আর। ৩
.
উজ্জ্বল-রস—বিপ্রলম্ভ ও সম্মিলন।
nin
তােরা আয় গাে, আমি যাইগো,
যাই, আমার শ্যাম যেখানে।
উহু মরি মরি, ধৈর্য ধরিতে নারি,
সহেনা, সহেনা, যাতনা প্রাণে!
কাল কাল করে কতকাল হল,
পলে পলে মমার আশা যে ফুরাল,
কইত এল না, মিছে এ ছলনা,
প্রাণত আর এবােধ না মানে !
থাক্ তাের, আমি আপনি যাইয়ে,
কাদিয়ে, লুঠায়ে, চরণে ধরিয়ে,
প্রাণের বেদনা সকল কহিয়ে,
বধুরে ফিরায়ে আনিব এখানে।
নাদি যাইতে-যাই যমুনায়,
দেখি যদি মাের এ জ্বালা জুড়ায়,
তােরা সবে ফিরে যাগাে ব্ৰজপুর,
আমি ত ফিরে আর যান। সেখানে। ৩৫।
শিখরিণী। প্রতি দিবসে বহি আশে, আশ, আসিবে মাের গাম ! কেবা জানে পিয়া, কঠিন হইয়া, এতেক হব বাম। না বুঝি কি আশে, কোন লালসে, নিকবে না প্রাণ এহ। যদি গুণ"ণি, ভুলল অধীনী, কি কাজে রাখই দেহ! মনে ভৰি পুনঃ, কাহার পরাণ, বধি, বধ ভাগী হব। কি আছে আমার, ইহ প্রাণ তার, জীবন যৌবন সব। তবু দহে প্রাণ, সদা আশ্চান, আগুণ জ্বলিছে বুকে। তাম নাগর, রহণ প্রবাসে, অভাগী রহে কি সুখে! পুনঃ কি মাধ, এ ব্ৰজে পাওয়ব, ঘুচৰ মনের ব্যথা! আকুলিত চিতে, সখা ধাওয়ল' তথা। ৩৬। . বঁধুয়া ভেটিতে,
উজ্জ্বল-রস-বিপ্রলম্ভ ও সম্মিলন।
কুঞ্জ কানন, যমুনা তীর,
মাধৰী বিতান, ধীর সমীর,
ক িত আছে যা ছিল যেমন,
যার তরে সখি! এ সুখ সদন,
বলে ও মােরে কোথায় সে ন ?
এত গুণনি কার আছে পিয়া,
কারায়েছি তবু ফাটে নাই হিয়া,
কি ধিক বি!ি শীলা শেল দিয়া,
গড়েছে আমার দেহ প্রাণ মন!
এক বিনা ব্ৰজ হয়েছে আঁধার,
নীরস বিয়স সব কার,
কোথার মাধব ! য়ে প্রাণধার।
এনে দাও ওগাে বাঁচাও জীবন।
এরি দুঃখ নাই, এই খে, মনে,
দেখাত হলো না শ্যাম্বৰধু সনে,
দেখা তবে সেই এমাের নিদানে,
খামচি ন তমালের বন।
৯৪
শিখরিণী
মাের তরেতোবা দুঃখ পেলি ক'ত,
কি দিব, কি আছে দিবার মত,
দিনু খুলি’ মাের আভরণ যত,
পরি’ তােরা মােরে করিস্ স্মরণ !
যায় প্রাণ যায়, হ’ল ওষ্ঠাগত,
পিয়াসে মরি মা চিত আকুলিত,
শুনা এইবার শ্যাম সুচরিত,
মরি’ যেন পুনঃ পাই আচরণ। ৩৭।
রাইক দশা হেরি, তুরিতে সহচরী,
ধাওয়ল কামুক উদ্দেশে ।
নাশমিতে অশিব, নাম লেয়ত শিব,
জপতহি মনের আবেশে !
হা-হা গােপীশ্বর। গােপ-শুভঙ্কর!
করংবিহিত বিধান।
বিয়ােগ-বিধুরা-বলা, কত সহৰ স্বালা,
দেহ বর তছু পিয় দান।
যমুনা উতরিতে, . হেৰত চারি ভীতে,
সবই শুভ লক্ষণ।
উজ্জ্বল-স-বিপ্রলম্ভ ও সম্মিলন।
যমুনার জল ভরি কক্ষে কুম্ভ করি,
চলে রাম মহাস আনন।
আৰু এক গােপবালা, লই মাথে দধি ডালা,
হেলি দুলি আগু চলি যায়।
হেরে অদুরে পথে, ধেনুগণ বংস সাথে,
সবে গোঠ পানে দ্রুত ধায়।
দেখল দ্বিজবরে, ‘পুথি শােয়ে করে,
বাম বাহু নাচে অচম্বিতে।
সবহু সুলক্ষণ,
শুভ নিদর্শন,-
হরষে গণত দূতী চিতে।
পুছত পন্থক দূর,,
যাহা হত শ্যামরায়।
এক রাম আগু আসি, কহত হাসি হাসি,
তােরণ পন্থ ইহ ভায়! ৩৮।
উতরল মধুপুর,
দূতী ত্বরিত পদে,
ধাওল তােরণ পথে,
হেরে বারে বহুত প্রহরী।
বিষাদে মলিন মুখ,
দ্বিগুণ বাড়ল দুঃখ,
কৈছনে ভেটৰ হরি!
শিখৰিী ।
থ
ঐছন সপ্তম দ্বার,
কৈছনে উতর,
কৈছে মিলব বঁধু পাশে।
অন্তর থর থব,
লােচন ঝর ঝর,
ভাবিতে তেল নৈরাশে!
পুনহি নাইক মুখ,
জাগল অন্তবে,
তৈখনে বাধল হিয়া।
অবশই মাধবে,
মিলায় তা সনে,
অবশই ভেটব পিয়া।
কৃতাঞ্জলি-পুটে,
বিনয় করুণ পিঠে,
কতই শুন বাপ দ্বারি !
কৃপা করি কই,
কৈছনে রাজ সনে,
মিলৰ হাম হীনা নারী!
বারী
কহে কোন্ তুই,
কিবা তুয়া আয়।
এনয়িতে উপজয় হল।
এত সাহস ভারী, ভই কাঙালিনী নারী,
যাবি রাজলকাশ? ৩৯।
-
শুনি দুতীক মরম ব্যথা,
বারী বুফল সবই কথা।
উজ্জ্বল-রস-ৰপ্ৰস্তুও সম্মলন। পুছই আমি, সহচরী লই- উতরল যাহা মাধৰ হই কামুক হেরয়ি সুদিন মানি’ - প্রণমি, রুহল যােড়ি পাণি। আনন্দে পুলক সকল পাত, লােচন ছল ছল, অবনত মাপ। সখা ৰুহ অন্তু দুঃখক নিশি, উন্নত্ব সুপ-ভা, হাসল দিশি। ১। (ঝাপতাল।) এন এন রাধা-মননামােহন। বেঁধেছ কি হিয়ে, শীলা শেল দিয়ে, বধিতে গােপীয় জীবন! । (ছােট দৃশকুশী !) পাতি নানা ছলা কলা, মঙ্গায়ে গােকুলবালা, সাধু হয়ে এলে আর ঠাই। ৫ মােহনীয় রূপ রাশি, রমণী বধের ফাঁশি, জানিলে হে দেখৃিত কে চুাই ! (৭}
শিখরিণী।
এতত’ পাষাণ তুর্মি, গিয়া যদি ব্রঙ-ভূমি,
দেখ বঁধু আপন নয়নে
দেখিলে রাধার মুখ, ফাটিবে তােমার বুক,
বড় ব্যথা বাজিবে হে প্রাণে।
(একতালা।}
[ এস, হে, এস এস, ও কাঙ্গালিনি-নাথ ।
যদি নাহি কথা কও,
রাই বলে না সুধাও,
শুধু চোকেব দেখা দেখে যাও !
এক বার বাধার দশা দেখে যাও !-
ও ব্রজ-জীবন নাথ ! )
( ঝাঁপতাল।
আলুলিত কেশ বাস, সম্বনে বহে স্বাস,
হা হা রবে লুঠিতে ধরায় ।
শ্যাম, শ্যাম, শ্যাম রবে, ধনিয়া পুলিন বন,
বিয়ােগিনী কঁদে উভয় ?
ক্ষণহ বিচেতন,
ক্ষণেক বা চেতন,
খির রহে ক্ষণে-ক্ষণে দ্রুত ধায়।
নবীন নীরদ হেরি’, ধন বলে হরি! হরি।
বাহ তুলি’ হৃদে ল’তে চায়।
উজ্জ্বল-রস-বিপ্রলম্ভ ও সম্মিলন।
৯৯
( খয়রা। )
যমুনা নেহাবি’, ভরমে 'তুহারি,
ছুটিয়ামিলিতে চায়,
মানে বারণ,
সদা উচাটন,
যেন পাগলিনী প্রায় !
(ছােট দশকুর্শী।)
দেখে এনু নাগরী, কমল-শেযােপরি,
চন্দন লেপিছে সখী গায়।
তবু নাহি নিবারণ, দেহে তাপ অনুক্ষণ,
পলকে চন্দন কি যায় ।
(খয়রা।)
নিঠুর মাধব। কি আর কহিব,
রাধার মরম ব্যথা!
দেখি মনে লয়,
এবার নিশ্চয়,
মরিবে তোমার রাধা !
(ঝাঁপতাল।}
কি দোষ তােমার,
করম সবার,
দিয়ে যাও শেষ দরশন।
শিখরিণী।
১০. . .,.
(ধারা।)
ও পদরাজিব রাজ, রাখিয়ে হিয়ার মাঝে,
আমি শয়নে সখা! মুদিৰে নয়ন! ৪২।
তুয়া লাগি নিশি দিন, ভাবিতে তনু ক্ষীণ,
চৌদশী চাদ প্রমাণ।
নয়নেতে নিদ নাই,
যামিনী দিবস রাই,
বসি রহে এক সমান।
ঐ আসে -কই এল ? কালি বলি, চলি গেল,
উৎকায় চাহে বাহিরিতে।
দেহ অতি দুরবল,
চলিতেহ নাহিবল,
নারে আর উঠিতে বসিতে।
সােণার কমল রাই, আর সেই রূপ নাই,
বিয়াতে মলিন মুখ খানি।
* চিন্তার্জাগরদ্বেগৌতানবং মলিনাঙ্গতা।
প্রলাপােকাধিরুন্মাদো মােহাে মৃত্যুদশা দশ।
উজ্জ্বল-রস-বিপ্রলম্ভ ও সম্মিলন।
১০
কিবা করে, কিবা কয়, কভু মৌণ ধরি রয়,
কিবাভাৰ কিছু নাহি জানি।
কভু দেহে ঝাঁপে বাস, কভু উষ্ণ বহে শ্বাস,
কভু শীত, কভু তাপ অতি!
কঃ কাদে, কভু হাসে, কভু দূর করে বাসে,
যেন ঘোর উন্মাদের মতি
বত্ব হাহা! করি ধায়, পড়ি’ ভূমে মােহ যায়,
দেখিতে লাগয়ে চিতে ভয়!
এখনাে জীবন আছে, জানি কি ঘটে পাছে,
এবে কর যে বিচার হয়! ৪৩।
কেন গােপীর গরব বাড়ালে ?
যদি শেষ রাখিতে নারিলে
।
অতুল গমূল নিধি—কেন দীন জনে দেখালে ?
উঠায়ে অচলে, কেন অতলে ডুবালে ?
=
ও অমিয় মধুর স্বর, কেন তারে শুনালে?
গে যে ছিল ভাল, র’ত কাল, কেন ভাল বুঝালে ?
১২
শিখরিণী ।
মন ভোরা, জ্ঞানহরা, কেন রূপ দেখালে ?
সার সরবস তার, কেন ছলে হরিল ?
সুস্বাদু দিযে, পীরিতি বলিয়ে, কি গরল পিয়ালে ?
এখন–তখন রাইয়ের জীবন!—খুব মেনে বাদ সাধিলে !৪৪।
সুন্দরি ! নিছুই গসি, কোন্ হামে পুছসি!
রােই রােই দিন যায় ।
বিধি-বন্ধ, করম মন্দ,
তাই দুঃখ পাওলু হেথায় ! ।
গরণ হােয়ত বৰ সে সব হামার,
সােথ না পাও চিতে, বাসি আঁধিয়ার।
যৈখনে আওয়লু তছু লােচন লাের,
কৈছনে ভুলব ?-মঝু হিয়া ভাের।
কৈছনে ভুলব সে কাতর বাণি!.
কৈছনে ভুলব সাে যুগ পাণি।
নিশি দিশি ধকধকি পােড়য়ে পরাণ ।
আন কাজে রছ, তব তাহাৰি ধেয়ান।
ক্ষণহু বিলম্বন সহয়ি না পারি।
অই যাওয়ৰ চলি, শাহ মেমো প্যারী।
উজ্জ্বল-রস-বিপ্রলম্ভ ও সম্মিলন।
নাহি জান রাজবালা কৈছন আছে ।
সখা কহ আও চলি, হেরব পাছে। ৪৫।
সহচরী সাথে,
অবনত মাখে,
আসি কুঞ্জ মাঝ ।
চাহিতে না পারে,
বচন না ফুরে,
দাড়াল নাগর রাজ।
ধরণী শযােপরি, শুতি ছিল নাগরী,
হরিতে উঠল বসি।
নাগর হেরিমে,
চর বিছায়ে,
কহল মধুর হাসি। ৪৬।
হেন কি করেছ, কাহে এত লাজ,
তুমিত হামারি পিয়া।
এস বঁধু এস
হাসনে বস,
পাতিয়া রেখেছি হিমা।
বিধাতা বিমুখ,
দিল এত দুঃখ,
ভাগ যতেক মন্দ।
পাওয়পু সুখ,
ভাগল দুঃখ,
হেয়ি মুখ-চুন।
শিখরিণ।
T
কাহ বল এল,
আঁখি ছল ছল,
শােচ কি লাগি আৰু ?
করমে যে ছিল,
সকলি ফুলিল,
কি দুঃখ করিব তার।
তুমিত বঁধুয়া,
পরবাসী হঞ,
ভাল ত ছিলে হে মুখে।
আছি লয়ে আশা,
মিটাব পিয়াসা,
পুনঃ দেখি চাদ মুখে।
হেসে কথা কও,
পবাণ জুড়াও,
চাহ হে ভুলিয়ে মুখ।
সখা কহ, পিয়,
মিলন রসে,
ঘুচল সকল দুঃখ। ৪৭।
বাৰিদ বিজরী, চাদ চকোর, কাঞ্চন নীলমণি,
অঙ্গে অঙ্গে, মিলল রঙ্গে, বিনােদ বিনােদিনী।
অপরূপ দুই লােগ,
দুহে দু'হ মনােলােকা,
অথিৰ অধীর, হৃদয়,দু'হার, আঁখি পালটিতে নারে!
উজ্জ্বল-রস-বিপ্রলম্ভ ও সম্মিলন।
আঁখিতে আঁখিতে বধি
হিয়ায় হিয়ায় গাখি,
রসেব পাথারে, না জানে সাঁতারে, দুহে নিমগল দুহাবে।
মঞ্জু কু মাঝে,
উজল যুগল রাজে,
পির পিয়ারসে, অলস আবেশে, মঞ্জরী সেবে পায় ।
কোয়েলা কুজে কুহু,
পাপিয়া বােল পি,
ভ্রমরা গঞ্জে, বঞ্চিত সখা, কিঞ্চিৎ ও রস চায়! ৪৮।
নিবেদন।
মদির নয়নে,
বঁধু ! তুমি সে নয়ন-মুশি!
দেখিতে তােমায়,
সদা প্রাণ চায়,
নিমিখে প্রমাদ গণি।
মােহনীয়া দিঠি,
অধরে মধুর হাসি।
শতেক বনে, বাঁধিয়ে পরাণে,
করল তােমার দাসী ।
১০৬
শিখরিণী।
আমার যে ছিল,
হরল সকল,
প্রাণ, মুন, দেহ, গেহ।
এবে সাধ সুখ,
তােমারই ও মুখ,
পীরিতি তােমারই লেহ।
অভাব রস,
সুনাম অবশঃ,
তােমারি সকল মাের।
তুমি বুঝ যেই, মনােকথা সেই,
তােমাতেই ছিত ভাের!
কি বলিব আমি, কিনা জান তুমি,
গােপন মরমকথা।
চিরাশ্রিত দাসী,
সেবা অভিলাষী,
চরণে শরণাগতা।
কেন এই কর,
দাসী যে তােমার,
তারে কি এতই সাজে ?
সখা যে যােগ্য,
চরণ রেপুর,
গযােগ্য জগৎ মাঝে। ৪৯।
উজ্জ্বলস—প্রিলম্ভ ও সম্মিলন।
১০৭
স্বাধীন-ভর্তৃকা। •
যস্যা: প্রেমগুণাকৃষ্ট প্রিয় পার্শ্বং ন মুঞ্চতি।
বিচিত্র সংভ্রমাসক্তা সা স্যাৎ স্বাধীন-ভর্তৃকা।
বঁধু। কেন বাধা বলে বাঁশরী ?
আহিরী কুলের বালা,
ঘরে মাের শত আল
কেমনে ও ধ্বনি শুনি ধৈরষ ধরি।
তোমায় কবিহে মানা, আর বাশী বাজায়ােনা,
নাম ধ’বে ডাকে বাঁশী, সরমে মরি।
যদি হ’তে কুলনারী, বুঝিতে বেদনা ভারি,
কি দুঃখে যাপয়ে দিন কুলের বহুরী।
শিখা ও মুরলী মােরে,
বাজাই ও নাম ধরে,
নাগর হইয়ে তােমা করিব নাগরী !
দাও পরাইয়ে ধড়া,
ব্যাধি দাও শিরে চুড়া,
ও সুরভি বনমালা দাও গলে পরি ।
ফুল-আভরণ দিয়ে, দাও মােরে সাঙ্গাইছে,
কেশর কস্তুরী দিয়ে লেখ হৃদি’পরি।
কৌস্তভ হৃদয়ে ধরি,
চরণে নূপুর পরি,
বাঁকা হয়ে দাড়াইয়ে বাঁশী ফুকরি ।
sol
শিখরিণ।
দুজনে অধীব প্রাণে, দুহু মুখ পানে,
নির্নিমেষে চেয়ে রই দিবা বিভাববী।
বহি যাক বাবাত,
হােক শত বজ্রপাত,
মােরা রব আত্মহারা জগৎ পাসবি’। ৫০।
৮:০০
পরিশিষ্ট
০-
প্রার্থনা।
মনােহর-সাহী।
বাসবহ প্রভু ! করুণা সাগব ।
মােব সম কেহ নাই, অধম পামর ।
ত্রিতাপে তাপিত তনু, ব্যাকুল জীবন,
নিবাব এ তাপ প্রভু! দিয়া শ্রীচরণ।
সহজ দয়াল তুমি আসিয়াছি শুনে,
'তরিল ভুবন, প্রভাে! তব দয়া গুণে !
আযােগ্য, অসমতি, অতি অভাজন,
পতিত-পাবন বিনে, কে করে পাবন।
• বড় ভরসায় পদে সপিলাম নাথ,
কৃপা করি লং মাসে করি আফাৎ।
তুমি না করিলে দয়া জুড়াই কোথায়ু?
শরণ লইল সখা শ্রীচরণ-ছার ! ১।
১১০
শিখরিণী ।
বিনয়েব খনি, গোর শিবােমণি,
গৌরাঙ্গ ভাবেতে পাের!
গােবা-গুণময়,
উদার-হৃদ,
অপরশে দিল কোর!
পঁহু মােৰ দয়ার ঠাকুর।
তন্ময় চিত,
ভাবে গদগদ,
পীরিতি রসের পুর।
প্রেমে গর, গব,
হিয়া থর থর,
বুয়ে অাঁখি অবিরাম।
পই ঐনিবাস, পুনহু প্রকাশ,
যেন এ ধরণী ধাম !
সিদ্ধান্তের খনি, ভক্ত চুড়ামণি,
ব্ৰজের নবীন চঁাদ।
অপার মহিমা, কেবা করু সীমা,
গােপীর পীরিতি ফাঁদ!
সে রূপলাবনি,
করুণ চাহনি,
* অরুণ চরণ শােভা !
হেন দশা হব, পুনঃ কি হের,
সখার মানস-লােভা!২।
পরিশিষ্ট।
১১১
হা হা মাের গৌর কিশোর ।
হসিত বয়ান,
করুপ নয়ান,
তনু মন রস ভাের! •
তুহু পীরিতি সাগর, রসিক নাগর,
পতিতপাবন জানি।
মৰু হিষা মন, শ্রীপদে অর্পণ,
কৈনু শীতল মানি।
তুই গুণনিধি, দয়াব অবধি,
তুয়া সম কেহ নাই ।
তুহু তাপিত জনার, সুখের পাথার,
ডুবিয়া সােয়াৎ পাই।
ঐ অকূলের তরী,
পরম ভরসা
বিনামূলে তাই, বিকায়িং পাম,
রাখিও চরণে ধরি।
বঁধু ! নিদয় হয়াে না, তেগ করাে না,
গতি-মতি-হীন অতি!
তুই জগতের-পতি,
জগতে খেয়াতি,
সখা বা যাইবে কতি? ৩।
পদ তুহারি,
১১২ শিখরিণী। শচীনন্দন, . ভজন সাধন, ও নাম গলার হার। ক্ষপঃ পঃ ধান, শ্রবণ মনন, দেহের গেহের সার। কহ বিশ্বম্ভর, গৌর শুনব, শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নাম ;- সুচিবে যাতনা, বিষয়-বাসনা, লভিবে প্রাণারাম ! ব্রজের সভার, প্রতি-রস-সার, ভাবিনীর মহাভাব- মিলে অবহেলে, সে নাম শরিলে, লতি’ স্বরূপ। অকপটে সরে গাও গাও তবে, বুসরাজ-গােরা গুণ। কিছু নাহি আর, সেই পদ সার, গাও গাও পুনঃ পুনঃ। মনে, স্বপনে, সজনে, বিজনে, গাও তাহারি শীলা ; নিলে চরিত, গলে পশু-চিত, রবুয়ে দাৰু শীল।
។ . -" माइनिगा मान र माय यहि, मनगि फर! . कम P ना मान 587 नारान सि माया। मौन "न, मा निक राम उदय ! ' '६, गादे, पाक कमान कि, माद कृपाय, र मछ, सिर-मावस करि । - 1 महसून, मा-कमान सिं. एक गमन, यमप सोपा C 1 दिद कर.. मारली (1). मि" .
১১৪
শিখরিণী ।
যদি পার হে আমারে,
তারিতে দুরে,
৬বে জানি কৃপা-ধাম !
অধম অঙ্গান,
আমার সমান,
কেহ নাই ভবে আর ।
যদি দয়াকর,
সখা সুপামর,
অনায়াসে হয় পার।
কিবা শ্যামল সুন্দর, মুরতি মনাের,
ইন্দ্রনীল নিভ ভাতি।
শিরে চুড়া বাঁকা,
উড়ে শিখি-পাখা,
শ্রীমুখে কোটী-চাঁদ-দ্যুতি !
বন-হার গলে,
গুঞ্জ-মালা দোলে,
উরসে কৌস্তুভ রতন ?
হৃদি-পরে লেখা,
ভৃগু-পদ-রেখা,
কটী-তটে পীতবসন।
রাধা-গাধা-সুর,
মুরলী মধুর,
রাজিত কোমল করে-
বিহগ কাকলে,
ব্যাকুলা গােপিকা স্বরে।
যমুনা উছলে,
পরিশিষ্ট।
চাহে এক চিঠি,
হাসে মিঠি মিঠি,
বঙ্কিম-নয়ন-ঠামে।
নবীনা নাগল্পী,
ব্রজের কিশােরী,
বিরাজে ব্ৰজ-বঁধু বামে।
জুছ ৰূপ মাধুরী, দুহে দোহা নেহারি,
উভে উভ ডুবিতে চায়।
সখার মিনতি,
রন্থ রতি মতি,
কিশােরী কিশাের পায়।
জয় দেব! জয় দেব! জয় জয় ভব ভয় হামি
জয়--সুজন-পালক, অসত-নাশক,
পাপ-তাপ দুঃখ বারি !
জয়-অঘ-বক-নাশন,
কালীয়-মর্দন,
গােবর্ধন-গিরি ধারি!
জয়যাতনহারক,
পাতকতাক,
ভকত-হৃদি বিহারি ।
জয় গােবিননাদন,
-কুঞ্জন চারি।
জয়-রসিক-শেখর,
মােহ-বেণ পারি।
গােপিকা-রজন, ”
পী বাৰ,
১১৬
শিখরিণী।
জয়—মহাভাবের, রাধা-মনাের,
ব্ৰঞ্জ-বধূ-চিত-হারি!
কু কপাদান,
ীন জন যাচে,
সখা তব কৃপায় ভিখার্বী।
৩ হাের ঠারই দোননে।
পিয়াসিনী,
ইহ চাতকিনী,
জুড়ায়, তব দরশ-রস পাণে! ঐ
চাহি চাহি কত গত দিন মাসা,
পিৰ পিৰ আশে বাত পিয়ালা,
কৰই মিটায় এ খর তিয়াসা,
ককাল গােয়ব জলদ ধেয়ানে!
তুহি প্যারাে! নব নীরধর,
রাধা-দামিনী-দে নলকে তুই পর,
ৰখি সুধাসার চাতকী অধর পর,
জিয়াও বধু! ইহ ভিখ জানে।
মঞ্জরীগণ ঘেরি দেই করতারি,
হাস মিষ্টি মিঠি রাধা বনােয়ারী,
উছসি ভুবন, হাসসুধা-রসে-
হিব উষর চাতকী পরাণে ।
পরিশিষ্ট।
-
প্রভাতী। .
রামাঞ্চলী—একতালা ।
গৌরসুন্দর,
প্রভু বিশ্বম্ভর,
জয়শ্রীশচীনন্দন, গদাধর-জীবন,
শ্রীবাস-অঙ্গণ-মৰ্ত্তন।
জয়—দ্বিজ-কুল-উজ্জ্বল,
নিজ-ন-বৎসল,
শ্রীমুখ সরসিজ-সােতন।
জ - কনক-রুচির,
সর্বগুণাশ্রয় পরাৎপর ।
জয়-প্রেম মূরতি-ধর,
রসরাজ-মহাভাব একাধার!
জয়-কুটিল ফুল, অপাঙ্গ চঞ্চল,
নন-খঞ্জন-গঞ্জন!
জয়-সংকীৰ্ত্তনপর,
কলি-কুলুষহর,
ভব-ভয়-তারপ-কারণ!
জয় -মায়াপুরেশ্বর,
ভ্রাম্বর ধর,
বিষ্ণুপ্রিয়েশ্বর প্রিয়ম্বদ।
জয় -নবদ্বীপ প্রাণ,
আৰ্ত্তজনা,
দীন-জনসমুখ-সম্পদ।
১১৮
জয়াদ্বৈত স্তুত,
শিখরিণী ।
minn
স্বরূপ বন্দিত,
জগদানন্দ প্রাণাধর।
জয়-গজপতি পাবন, রামানন্দ-প্রাণ,
হরিদাসেশ্বর সারাৎসার!
জয-গগাবিন্দ-সেবিত, মুরারী পূজিত,
মুকুল, বন্ধুভ-পাবন ।
জয়শ্রীরূপ-প্রাণধন, সনাতন-জীবন,
সার্বভৌম-চিত-শােধন।
জয়—নিত্যানন্দময়, রঘুনাথায়,
গােপীনাথ-ভীতি বারণ ।
জয়সচল জগন্নাথ,
গােপালভট্ট তাত,
প্রকাশানন্দ উদ্ধারণ ।
জয়-ভবান্ধি-ভেলক, কল্মষ-পাবক,
ভকত বৎসল দয়াঘন।
যাচে কৃপালেশ,
সথা দাসাভাস,
দেহি দেহি দীমে বর-চরণ।
রামকেলী-একতালা।
জয়-যশোদানন্দন, রাধিকা জীবন,
গােপিকা রঞ্জন মােহন।
পরিশিষ্ট। . জন্ম-মদন-মােহন, মদন-মর্দন, বদন নীলাজ শােভন। ৩ জয়নবঘন লাগুন, পীতবাস পিন্ধন, শিরে শিখগুক ভূষণ ! জয় -বৃন্দাবিপিন ধন, ধেনুগণ চারণ, দ্বিজ মন-ম-ঘন-নাশন। জয় -কেশী-বিঘাতন, মধুমুর নাশ, কালীয় বিষধর গঞ্জন! জয়শানুবাৰ্দন, ব্রজ-জন প্রাণ, গােপেশ হরষ বর্ধন। জয় -শকট ভঞ্জন, কৈটভ-শাসন, যমল অর্জুন-মােচন! জুর-ই-গৰ্বহর, গগাবর্ধন-ধর, বিরিঞ্চি-বন্দন পাবন। জা-পুতনাঘাতন, অধ-বকু-নাশন, 'রাসেশ্বর, হর- বন। জয়-গােণশ্বরেশ্বর, কুণ্ড-তট চর, কেলী কলারস মন । জয়-বেণুবাদনপর, গােপীবাসহর, তপন তনক্সা-তট শােভন।
১২০
শিখরিণী।
min
জয়-নমালাধর,
সুরসপন্স,
নিধুবন নিকুঞ্জ বিচরণ।
জয়কৃষ্ণগােবিন্দ,
কেশব মুকুন্দ,
গােকুলানন্দ দামােদর।
জয়-শ্রীশ্যামসুন্দর,
কৌস্তুভ উবঃধর,
শ্রীবৎসলাঞ্ছিত মনােহর ।
জয়ত্রিশােকতারক,
ত্রিতাপহার,
মাধব, মনােজ-মর্থন।
শং সদাসে,
শ্রীপদ-যুগ-পাশে,
ভব-পাশ-বন্ধন-খণ্ডন।
আরাত্রিক।
তাম্বুল সম্পুটে ভরি,
শচীর মলিন পরে,
হরষিত অন্তরে,
বৈঠল গৌরাঙ্গ সুন্দর।
দাড়াইল নরহরি,
চামর দুলাম গদাধর।
কেহ গন্ধু দীপ জলে, অগুরু চলন ভালে
দিল কেহ, আনন্দ অন্তরে।
পরিশিষ্ট।
১২১
রত্ব ীপ আরতি, গােত কপূর বাতি,
শচীমাতা আনিল সত্বরে !
বহু বেরি অশীদি’
মুছায়ে বদন-শশী,
দিঠি ভরি হেরয়ে মুখ ।
অতি 'অনুরাগ ভরে,
মধুর আরতি করে,
আনন্দে উথলয়ে বুক।
ভরিয়ে কনক থালা,
গাঁথি নানা পুষ্পমালা,
আর যত ফুল আভরণ,
আনি সাজাইল গােরা, আনন্দে হৃদয় ভাের,
হরিধ্বনি হরিল ভুবন !
মৃদঙ্গ মধুর বাজে,
করতাল শখ গাঙ্গে,
পুরনারী দেয় হলাহলী।
উঠরােলে ভক্তগণ,
গাহে হরিসংকীৰ্ত্তন,
কেহ বা নাচয়ে বাহু তুলি।
ব্রহ্মা, শিবু যােড় করে, অন্তরীক্ষেতি করে,
বষয়ে কুম-আসার!
মপুলকে দেবগণ,
আসি করে দরশন,
একলে বঞ্চিত সখা ছার।
১২২
শিখরিণী।
মধু কুঞ্জ বনে,
মরত আসনে,
বৈঠল বরজ-দুলারী।
পিন্ধনে নীল-বাস, সুধাধরে মৃদু হাস,
রূপে তিন ভুবন উজারি! ধ্ৰু ।
জয় জয় বৃষভানু-রাজ-কুঙারি ।
কিয়ে কম স্নিগ্ধরূপ, কিয়ে সুধা-রস-কূপ,
বিভাের সুবধ নয়ন চকোরী।
শ্রীচরণ সরসীজে, ভকত মধুপ রাজে,
সুধা পিতে কতই উল্লাস!
ঐকর-নখর-পরে, শশধর দ্যুতি ক্ষরে,
কোটি চাদ বদনে প্রকাশ !
যেন মণি-যুত ফণী, দুলে বিননিত বেণী,
নাসাপুটে গজমতি রাজে!
কলানিধি কলাজিনি, সুছাঁদ ললাট খানি,
সিথক সিন্দুর শুভ সাজে!
কমল মুকোমল,
স্নিগ্ধ নিয়ম,
কৰুণ নয়ন হাসি চায় ।
সে দিঠি পরতাপে, হাসে চরাচর,
অযুত জগত জুড়ায় ।
পরিশিষ্ট।
১২৩
মৃদঙ্গ মন্দিবা,
E
প্রিয়সখী ললিতা, মধুর আরতি করে,
কেহ করে মঙ্গল গান।
মুরজ মুরলী বীণা,
ধ্বনি উঠে গগন সমান ।
দেবগণ হবষে,
কুসুম বরষে,
পুলকে পূরিত প্রাণ!
ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব,
আসি করযােড়ে সব,
করে তিঁহ আরতি গান।
মিনতি শ্ৰীমতী, বার বার নতি,
অনুমতি দেই সেবিকায়-
মঞ্জরীগণ সনে,
অতি পুলকিত মনে,
সখা সেবে তব যুগ পায় ।
নিভৃত নিকুঞ্জ মাঝে, রতন আসন সাজে,
হে বসি’ যুগল কিশাের।
মধুর সুধীর হাসে,
নানা রসযুত ভাষে,
ভাবরসে উভয়ে বিভোর।
দেখি সন্ধ্যা সমাগত,
ল’য়ে সখীগণ যত,
বহুদীপ, আরতি সম্ভার
১২৪
শিখরিণী।
{
রাধাশ্যাম জয় দিয়ে, দাড়াল মণ্ডলী হয়ে,
গৰ গর অন্তর সবার।
নানা যন্ত্র সুর তান,
উঠিল মঙ্গল গান,
তনু মন হরষে পূরিল।
আনন্দের নাহি ওর, নাচে গানে সবে তাের,
সুধ-সিন্ধু উথলি উঠিল
অন্তরীক্ষে দেবগণ,
করে সবে ববিষণ,
গন্ধ, মাল, কুসুম-আসার!
রসময় কুঞ্জবন,
প্রীতি-রসে নিমগণ,
একলে বঞ্চিত সখা ছার!
সংকীৰ্ত্তন।
আমার প্রাণ ল’য়ে—ঐ গােরা যায়-
(বাহ হেলাইয়ে, দোলাইয়ে।)
ত্রিজগৎ মাতাইয়ে, সাইয়ে রূপের ছটায়।
পুলকে পূরিত কায়,
কণ্টকিত তরু প্রায়,
(গােরা) কভু হাসে, কভু নাচে, কভু বা লুঠায়।
কভু কাপে পরহরি, মুখে হা হা হরি! রিহ।
বিরহে ব্যাকুল হয়ে কাদিয়ে বেড়ায়।
পরিশিষ্ট।
নীলাচল-নাথে হোর, পুলক আবেশে ভরি’,
জজ-জগগ-বলি’ হৃদে ল’তে গয়!
বচন না ফুরে মুখে,
ছুটা হাত ধরি বুকে,
গদগদ হয়ে ডাকি কাঁদিয়ে কাদায়।
ভাবের আবেশে গােরা,
তনু মন রসভেরা,
প্রেমের পাথারে ভাসি সবার সায়।
আলিঙ্গন পাশে বধি, আচণ্ডালে বলে কাদি,
(একবার) হরি বলে কিনে লও, ধরি সবার পায়।
শীগোরাঙ্গ প্রেমনিধি, দয়াল নিত্যানন্দ।
হরে কৃষ্ণ হরে রাম, রাধে গােবিন্দ ।
গােরা গুণনিধি,
কৃপার অবধি,
কেহ নাই ভবে আর।
যে জন শরণ,
লমেছে চরণ,
সে জানে সে গুণ তার ।
একবার অকপট হয়ে,
গৌরাঙ্গ বলিয়ে,
ডাকিয়ে দেখনা বৃদন।
শিখরিণী।
দুঃখ-জালাময়-
তাপিত হৃদয়,
জুড়াবে, নিবিব দহন।
শ্রীগৌরাঙ্গ নাম,
শান্তি-সুখ-ধাম,
প্রেমদ-আনন্দ-সদন।
মিছে কি রটনা
বারেক রটনা,
মজিবি, বুঝিবি যখন।
যখন ধার দেখিয়ে,
উঠিবি কাঁদিয়ে,
খুজিবি কে আছে আপন।
কুল মান ধন,
গৃহ পরিজন,
কি আর করিবে তখন?
তবে, কেমনে পারি,
সে প্রাণের হরি,
যে জন শন শাসন।
পরিশিষ্ট।
১২৭
হবে, ভজরে ভজবে,
মজরে মজরে,
লওরে শ্রীপদে শরণ! •
শাস্ত্র বেদ বিধি,
সবে দেয় বিধি,
হরি নাম সর্বসার।
বিনে হরি নাম,
দিতে নিত্যধাম,
ক্ষমতা আছে বা কার ?
তবে কেমনে ভুলিলি,
কিসে বা মজিলি,
ডুবিলি মােহে বা কার ?
হারা হয়ে তরী,
তৃণপাত ধরি,
সাধ কেন বাঁচিবার ?
এখনো বদনে,
করে সনে,
মধুব
শ্রীহরি নাম ।
১২৮
শিখরিণী ।
পাপ তাপ যাবে,
শমন পলাবে,
লভিবি আনন্দ-যম।
গােরা নটবাজে,
বাঁধি হিয় মাঝে,
পরায়ে পীরিতি ডােব।
স্বরূপ স্বভাবে,
ভাবিনী ভাবে,
বহিবি সতত হাের।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যার্পণমন্তু
সম
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.