Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Dasatwashrinkhala
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
দাসত্বশৃঙ্খল।
১৯®=
কপনে! নয়নে একি করি দরশন ?
কোথায় আনিলে মােরে কারাগার মাঝে ?
কেন গো বন্দিনী আজি ভারত জননী ?
শােকে শীর্ণ।(যথা সীতা অশােক কাননে।)
শ্ৰীকালীকৃষ্ণ চক্রবর্তী কর্তৃক
বিরচিত।
“Whoever thinks a fuullless piece to see,
Thinks what ne'er was, nor is, nor c'er shall be."
কলিকা
হিতৈষী যন্ত্রে মুক্তি।
কৃষ্ণদাস পালের লেন নং১।
১২৮৩।
মুল্য ॥ আট আনা।
No text on this page.
মানসিক ভাব।
.
© ALT
দেখিলাম একদিন প্রতিবেশী
রহিয়াছে মনােহর এক
“বুলি” বলি নানাবিধ ম
দৃঢ়শৃঙ্খলেতে বদ্ধ যুগল চ
উড়ে যেতে চায় পাখী না পারে উড়িতে,
বিপাকে পড়িয়া পড়ে “রাধাকৃষ্ণ” নাম।
“ড়” হতে আঁখি মুদি লাগিল ঝুলিতে,
প্রতিবেশী বলে “পড় বাবা আত্মারাম” ।
সেভাব দেখিয়া আশা হইল আমার,
ধরিয়া নুতন পাখী পুষিব যতনে।
স্বহস্তে গঠিয়া আমি শৃঙ্খল তাহার,
পরাইয়া দিব তার যুগল চরণে।
প্রতিবেশী গৃহে যেতে কিছুক্ষণ পরে,
বসিলাম নির্জনেতে কষ্পনার সনে।
ণ বিবেচনা করিয়া অন্তরে,
গঠিৰ শৃঙ্খল জগ্ৰে ভাবিলাম মনে
স্বভাব-“হাপােরে” দিয়া যন্ত্রণা-অঙ্গার,
লইয়া “দাসত্ব-লৌহ” দগ্ধ করিলাম।
পরিশ্রম “হাতুড়িতে” করিয়া প্রহার,
দাসত্ব-শৃঙ্খল এই যত্নে গঠিলাম।
ভারতবাসীর মুন-শুকপাখী-পায়,
আবদ্ধ হইয়া দিলে দারুণ যন্ত্রণা।
ভাঙ্গিতে শৃঙ্খল যবে করিবে উপায়,
সফল গঠন মম হবে বিবেচনা ॥
গ্রন্থকার ।
উপহার।
'অভিন্নহৃদয় যুক্ত বাবু শ্যামাচরণ ঘােষ
অকপট-চরিতেযু।
কিশাের বয়সে,
কমনীয় বেশ,
কোমল বদনে রসের সার।
আধাে আধাে বুলি, শুনিতে সে বেস,
সখার বচন সুখের হার।
বালক স্বভাব,
খেলায় মগন,
হামাগুড়ি দিয়া ছুটিয়া চলি।
হাসি কচি কচি,
বিকাশি দর্শন,
হরষে ফুটিত মানস কলি।
এখন নাহি সে,
সুখের সময়,
বিষম যৌবন কঠিন মন।
পাষাণ মাঝারে,
রয়েছে প্রণয়,
হৃদয়-খনির উজল ধন।
স্নেহের মণির,
জ্যোতির প্রভাবে,
মানস আগার করেছে আলাে।
থাকি একসনে,
সদা এক ভাবে,
কবিতা শুনিতে বাসহে ভাল ।
বিলুপ্ত গুপ্তের, কবিতা কাননে,
বিবিধ বরণ কুসুম তুলি।
সাদরে তুষিতে,
তোমার শ্রবণে,
মুখে মুখে বলি কতই বুলি ॥ :
এক মনে তাহা,
করিতে শ্রবণ,
থামিতনা তব আশার আশা।
বলিতে বলহে,
বল প্রিয়জন,
মরি কি মধুর শুনিতে ভাষা।
আহা কি তােমার,
কমল বদন,
কবিতার স্রোত বহিছে তায়।
কোথায় পাইব,
তােমার মতন,
ছাড়িবনা যদি জীবন যায় ॥
আমিও তোমার,
আগ্রহ দর্শনে,
পাঁচে ফুলে সাজি সাজাই যত।
প্রধান কবির,
কবিতার সনে,
নিজের কবিতা শুনাই কত।
I/
যথায় পলাশ,
গন্ধসার সনে,
থাকিয়া তাহার সুবাস পায়।
সেরূপ আমার,
কবিতা শ্রবণে,
কতই প্রশংসা করিতে হায় !!
অাদেশ মারে,
বাড়াইলে মান,
এ সখআমার সুন্দর কবি।
শুনিয়া সে বাণি
হই হত জ্ঞান,
ভাবি জোনাকীকে বলেন রবি।
ক্রমে যত তুমি,
জানিতে পারলে,
কবিতা লেখার ক্ষমতা মাের।
করি বিরাগ, আশা বাড়াইলে,
হলাে আরাে দৃ স্নেহের তাের ।
সে অবধি মনে,
হইল বাসনা,
সরল সখার কোমল পায়।
অাছে কি এমন,
সুচারু গহনা,
পরায়ে যতনে সাজাই ভয় ।
ভাবের গৃহেতে,
করিয়া প্রবেশ,
স্বভাবের চর্ম খুঁজিয়া পাই।
দাসত্ব-শৃঙ্খল,
উপানহ শেষ,
বিবিধ যতনে গঠিমু তাই ।
lpo
কোয়ােনাহে রােষ, দেখি উপহার,
ধর অভিনব পাদুকা ধর।
এদীন জনার,
এই উপহার,
সখাহে যতনে চরণে পর।
খড়দহ
বসম্বাদ
শ্ৰীকালীকৃষ্ণ চক্রবর্তী
সন ১১৮৩ সাল
দাসত্ব শৃঙ্খল।
ঈশ্বরপাসনা।
স্বপনে।
মন বিহঙ্গ আমার~--
করনঃ ভাবনা সেই ভবধবে করিছ ভাবনা কার ?
জেনে শুনে কেন এখন ভ্রান্ত,
ঠেকে দেখে ছিছি না হও ক্ষান্ত,
সময় থাকতে হওরে শান্ত,
হয়ােনা ভ্রষ্টাচার ।
বিষয় কাননে অবিরত চর,
বড় ঋপু-পাখী তব সহচর,
বসুরূপ বিষফুল আশা কর,
পান কর মায়া-বর।
মায়িক ভবেতে এলে কি জন্য,
করিতে কেবল ক্রিয়া জঘন্য,
ভূতের সকাশে হতেছ গণ্য,
বহিছ কলুষ ভার।
দাসত্বশৃঙ্খল।
থেকনাকো আর বিষয় কাননে,
উড়ে চল পাখী শম উপবনে,
থাকিবে সুখেতে বিবেকের সনে,
ভাবনা কি আছে তার ?
রােগ, শােক, মায়া, ক্লেশ হবে নাশ,
বৈরাগ্য তরুতে হবে চিরবাস,
ছিন্ন হবে তব মােহরূপ পাশ,
হবেনা জনম আর ।
জ্ঞান-গুরু তব হইবে নিষ্কাম,
ছাইৰে “পড় বাবা আত্মারাম,”
জগত জীবন জগদীশ নাম,
ভব নদে হবে পার।
নিদাঘ, শরত, শিশির, হেমন্ত,
বরমা, বসন্ত, তপন, কৃতান্তু,
যাহার সৃজিত ধরণী অনন্ত,
তারে সুর একবার।
প্রথম দর্শন।
কুসুমে
কীট।
ঝম করে চন্দ্রিকা বসন,
রতনে খচিত নিচোল * গগন,
পত্র-মৰ্ম্মরিত, ভূষণ-শিঞ্জিত,
সুরভি বাতাস, প্রকৃতি-নিশ্বাস,
মুপুর নিক্কণ ঝিল্লীর রব।
ফুল ফুলকুল দোলে রস ভরে,
ধবল বরণ শৃঙ্গ উচ্চ করে,
তুষার আলয়, ওই হিমালয়,
স্বভাব শােভায়, দ্রব হয়ে যায়,
ঝর ঝর্ ঝরে ঝরণা সব
দেখে ব্ৰহ্মদেশ পূরবে বসিয়া,
বঙ্গ-তখাতের সহিত মিলিয়া,
পরিখার প্রায়, দক্ষিণ সীমায়,
ভারতসাগর, তরঙ্গ আকর,
প্রকৃতি সতীর মুকুতা-মালা।
* ওজু না।
দাসত্বশৃঙ্খল ।
পশ্চিমে আরবসাগর দুর্জয়,
দারুণ চঞ্চল স্থির কভু নয়,
বেলুচির * সনে, প্রেম আলাপনে,
সদা বাস করে, সুখে কাল হরে,
কাছে সলিমান, রয়েছে হালা ।
হার্দি-স্মৃতিপটে স্বপনের প্রায়,
বিগত মূরতি আঁকিয়া দেখায়,
ওই ধৰ্ম্মরাজ, করিছে বিরাজ,
সত্য-এক শেয, দেখালেন বেস্,
তুলনা তাহার আর কি হয়
ভীম, দুর্যোধন ক্রোধে ধরি গদা,
বীরত্বের পরিচয় দেয় সদা,
দাতার প্রধান, কর্ণবলবান,
বধি পুত্র প্রাণ, দ্বিজে করে দান ;
রত্নগর্ভা কি এ ভারত নয়
তার পরে এক মণি দেখা যায়,
আদিত্য মলিন আদিত্য না প্রভায়,
?
?
* বেলুচিস্থান।
। হাল। পৰ্কত।
+ সলিমান পর্বত।
এ বিক্রমাদিত্য।
দাসত্বশৃঙ্খল।
বিদ্যায় মণ্ডিত, তুলনা রহিত,
ভুজ-তেজবলে, দলে অরি দলে,
সভা মাঝে নটি মাণিক জ্বলে।
একতা সাহস ভ্রাতা বসি পাশে,
স্বাধীনতা সহােদরা সহ হাসে,
কমল আসনা, কণকবরণ,
ভারতে কমলা, আছেন অচলা,
কেহ নাহি পারে লইতে বলে।
বােধ হয় শােভা-দেবীর প্রাসাদ,
হেরিলে বিগত সকল বিষাদ,
বড়ঋতুগণ, জড়িত তােরণ,
দেব ভাষা ভা, দ্বারে দ্বারপাল,
সোণার ভাত সকলে কয়।
উড়ে উর্বরতা পতাকা অদ্ভুত,
আদিত্য অভাবে ক্ষেত্র, রজপুত,
সমরে মরণ, সরগে গমন,
করি অনুমান, তুচ্ছ ভাবি প্রাণ,
প্রকৃতি-প্রহরী হইয়া রয় ।
দাসত্বল।
সুখ সরােবরে সন্তোষ কাল,
সুরভি-নিশ্বাসে করে চল্ চল্,
ভারত মাতার, কুসুমের হার,
কোন কীট দলে, পশে নাই বলে,
এমন সময় একিরে একি ?
পড়িল যবন কীটের লালসা,
পারেনা সহসা করিতে ভরসা,
আসে আর যায়, ভয়েতে পলায়,
শেষে গিজিনিতে, পারিল আসিতে,
বাসার সুমার হইল দেখি।
লাহাের গ্রহণভাব মনােগত,
সদা চিন্তা কিসে করে করগত,
কালান্তের কাল, তথায় ভূপাল,
জয়পাল নাম, সর্বগুণধাম,
দিত আসিতে যবনগণে।
হইয়া সব # স্বপনের দাস,
লাহাের ভূপতি হতে অভিলাষ,
* গিজনীর অধিপতী আলগিনের সবগিন নামক
দাসত্বশৃঙ্খল ।
জিগীষা প্রভায়, হেরে হেরে যায়,
তাহার তনয়, মামুদ দুর্জয়,
জয়পালে বন্দী করিল রণে ।
প্রাণভয়ে ধাইতেছে সেনাস,
বিপক্ষের দলে জয় জয় রব,
ভাঙ্গে ঘর দ্বার, করে অত্যাচার,
নর নারী যত, মরে শত শত,
রহে লাহােরে হিন্দুর “ ছিট”।
করিল যবন ভারতাক্রমণ,
অন্য রাজগণ মুদিত নয়ন,
জয়পাল সনে, যােগ দিলে রণে,
হতােনা এমন, আলস্যে এখন,
সন্তোষ-কমলে পশিল কীট।
ইতি প্রথম দর্শন
এক জন ক্রীতদাস ছিল। এক দিন সে এরূপ স্বপ্ন দেখে
যে ভবিষ্যতে ভারতবর্ষের রাজা হইবে। তদবধি ভারতবর্ষ
আক্রমণে তার একান্ত বাসনা। পরে স্বীয় প্রভু-কন্যার
পাণিগ্রহণ করিয়া আলগিনের পরলােকান্তে গিজনির
অধিপতী হইয়া ভারতীক্রমণ করে।
২
দ্বিতীয় দর্শন।
যবন কৰলৈ !!
?
কেন এ দুর্দশা তব ছায়া প্রাণেশ্বর ?
মাঠর, পিঙ্গল, দণ্ড কোথা সহচর
পরিধি হইতে আসি, অংশুপুঞ্জ রাশি রাশি,
রায়, বৃক্ষের শিরে প্রাসাদ উপর।
সাজাত আতপ দানে দীন-পর্ণঘর ।
সুবর্ণের হার দিয়া তটিনীর গলে।
ভাসাইত স্বেদ নীরে যত শ্রমীদলে ।
দে জল দে জল রবে, কঁাদায়ে চাতক সবে,
ডুবাত পঙ্কিল জলে মহিষ সকলে।
বাম্পাকারে বারি শােষি লইত সবলে।
নীরদ কি বল সব করিল হরণ?
ঝটিকা-নিশ্বাস তাই ছাড়ে প্রভঞ্জন।
ঝম ঝম্ বর্ষে জল, ঘন পড়ে বর্ষোপল,
অাধার গগন পথে করে বিচরণ।
ভাই কি না দেখি তােমা দিবস রমণ ?
দাসত্বশৃঙ্খল।
অথবা ভারত-ভাবী দুর্দশা কারণ।
শােক-বস্ত্রে করিয়াছ অঙ্গ-আবরণ।
বাছলে অবিরল, ফেলিতেছ নেত্ৰ-জল,
প্রবল ঝটিকা শ্বাস হতেছে পতন।
কি হবে দিবসনাথ ভাবিলে এখন ?
গত হইয়াছে দেব ! ভাবিবার কাল।
ওই দেখ বন্দীভাবে আছে জয়পাল ।
অনুপায়ে সন্ধি করি, বন্দীভাব পরিহরি,
“ত্রে রাজ্য দিয়া অগ্নি প্রবেশে ভূপাল ।
দেখিল পিতার মৃত্যু সে অনঙ্গপাল ।
অশ্রুবিন্দু বার বার শােকে বিসর্জিয়া।
রহিলেন মামুদের অধীন হইয়া।
পিতৃ-শােক-দগ্ধ মন, স্নিগ্ধ আশে কার ,
দারুণ বিদ্ৰোহানল দিলেন জ্বালিয়?
গোপনেতে বহু সৈন্য সংগ্রহ করিয়ঃ ।
দুরন্ত মামুদ ক্রোধে হইয়া অজ্ঞান।
অনঙ্গপালেরে দিতে প্রতিফল দান ।
দাসত্বশৃঙ্খল।
ঘােতর করি রণ, বধি হিন্দু-সেনাগণ,
ক্রমে অবরােধ আসি করে মূলতান।
হারিয়া অনঙ্গপাল করিল প্রস্থান ।
দূত আসি মামুদেরে দিল সমাচার।
গিজনি-উত্তর সীমা নিয়েছে তার।
হইল চিন্তিত অতি, যবনের অধিপতী,
সামন্ত করিল তার বশ্যতা স্বীকার।
তাতেই স্বীকৃত হয়ে গেল দুরাচার ।
তাতারের সৈন্যদলে করিয়া দমন।
হৃদয়ে উদয় অঙ্গের নির্যাতন।
যবন সেনানী সঙ্গে, ভারতে আসিয়া রঙ্গে,
সমর তরঙ্গে অঙ্গ দিয়া বিসর্জন।
জীবনাশা অসি-ভেলা করিল গ্রহণ।
এদিকে অনঙ্গপাল ছিল সচেতন।
সাধ্যমতে করিছে সমর আয়ােজন।
গােয়ালীয়, কালিঞ্জুর, কনােজ, উজীনেশ্বর,
পাঠাইল বহু সৈন্য সাহায্য কারণ।
সংশয়-আবর্তে মগ্ন মামুদের মন ।
দাত্বশৃঙ্খল ।
অাত্ম রক্ষা-আশে পেশােয়ার সাম্রধান।
শিবির স্থাপিয়া ভয়ে করে অবস্থান ।
ধম; হিন্দু-বীরবালা, গলাইয়া হার, বাল',
স্বদেশ রক্ষণ হেতু করিতেছে দান।
অনঙ্গপালের পূর্ণ করে অকুলান।
কি কাৰ্য্য করিলে তাহা বীরাঙ্গণাগণ !
বীর মদে কার এতে নাহি মাতে মন ?
বিধাতার বর কন্যা, জন্মেই ভারত-ধন',
নাচিল উৎসাহ রসে হিন্দু সেনাগণ।
গর্জয়া যবনগণে করে আক্রমণ।
ধম; ধনু ধন্য অস্ত্র শিক্ষা সবাকার ।
অাজি রণে শমনের নাহিক নিস্তার ।
গলা বৃষ্টি অবিরত, হতাহত শত শত,
অ-মুষ্টি মুও ছিন্ন করে অনিবার।
(পশােয়ার” গলে পরিলেন শহর !!
যবন নিক্ষিপ্ত শৰু, আস বায়ু বলে।
তনঙ্গপালের করি-কুম্ভ ভেদি চলে
দাসত্বশৃঙ্খল।
দ্বিরদ ব্যথিত মনে, পৃষ্ঠ দেশ দিয়া রণে,
পলাইল, হিন্দু সেনা হেরিয়া সকলে।
ছত্র ভঙ্গ হইয়া পড়িল দলে দলে ।
হায়রে সাহস ভরে যদি সৈন্যগণ।
দারুণ সমর মদে হইত মগন ।
তাহলে যবনরাজ, জয়ী কিরে হয় আজ,
ওই দেখ বধে পলায়িতের জীবন।
আসিয়া নাগরকুট * করিল লুণ্ঠন !!
ফিরিল স্বদেশে তথা হতে দুরাচার।
পুনঃ ধন-লােভ-আশা মনে জাগে তার ॥
সৈন্য সাজাইয়া দেশে, আসিল ভীষণ বেশে,
স্ব তুল্য স্থান ধরণীর অহঙ্কার।
কাশ্মীর লুণ্ঠন করি করে ছারখার !!
বার বার রণবেশে ভারতে আসিয়া।
হিন্দু-দেবকীৰ্ত্তি যত ফেলিল নাশিয়া।
প্রবল প্রবহ-প্রায়, কাণ্যকুজ মুখে ধায়,
তত্র নরপতি আশু বিপদ ভাবিয়া।
হইল শরণাগত কর প্রদানিয়া ॥
নাগরকূট প্রদেশ ।
দাসত্বশৃঙ্খল।
কনােজ রাজের এই নীচ আচরণে।
ক্রোধিত হইল যত হিন্দু-রাজগলে ।
কালিঞ্জর-রবর, যুদ্ধ করি ঘােরর,
নাশিল যবন-সেবি দুৰ্বল রাজনে।
সেই ক্রোধে মামুদ আলিল পুনঃরণে ॥
কালির ভূপতিরে দমি বাহু-বলে।
নােমনাথ লক্ষে চালাইল সৈন্যদলে ।
আজমীর জয় করি, গুর্জর লইল হরি,
সােমনাথ ভাঙ্গিয়া ফেলিল ধরাতলে।
হিন্দু-দেবমূৰ্ত্তি ওই যবন কবলে !!
ইতি দ্বিতীয় দর্শন।
তৃতীয় দর্শন
পাগলিনী।
স্ববাসে মলিন বেশে উষা চলিল।
ধরার নীহার ক্রমে রবি শেঠিল।
কুমুদিনী বিষাদিনী আঁখি মুদিল।
মরাল সদলে জ্বল মাঝে পশিল ।
ভাব ভরে কমলিনী মুখ খুলিল।
গুমানেতে সুবাসিনী মৃদু দুলিল ॥
নিষাদ লইয়া ফাঁদ বনে আসিল।
শ্বাপদ সভয়ে স্বস্ব দেহ ঢাকিল।
পবন চালনে তরু ঘন নাড়ছে।
পলিত * পলাশ + শাখা হতে পাড়ছে।
বৃন্তহতে বু বু ফুল ঝরিছে।
ফুলপ্রসু ও যেন ঈশ পদ পূজিছে।
বারণ ব্যাকুল অতি বারি বিহনে।
হয় না স্বীকার হয় ভার বহনে ।
প। । পত্র। এ ফুলগাছ।
দাসত্বশৃঙ্খল।
ঈষদুষ্ণ সারাণী ভানু করেতে।
কোপনা রয়েছে যেন কোপ ভরেতে ।
চাতক কাতর ভাবে চাহি নীরদে।
উৰ্বমুখে বলে দুঃখে ত্বরা নীর দে।
কাননে চপলভাবে শিশুগুলিত।
পরস্পরে করে খেলা বসি ধূলিতে।
পাশে একি পুনঃ দেখি তরুমূলেতে।
মনোহরা বাস পরা এলো চুলেতে ।
শােভিছেন স্বভাবের বনফুলেতে।
এরমণী শিরােমণি নারী কূলেতে ।
কাচা সোণ তুলনাত নয় রূপেতে।
উপমান বটে সে পাগু রােগেতে ।
বােধ হয় বর্ণতুলি ভুলি করেতে।
কল্পনা কামিনী কবি হৃদিপটেতে।
* না।
স্থির মনে সঙ্গোপনে ভাব সহিতে।
একেছেন নব ছবি শােক নাশিতে ।
কিম্বা ইনি হররাণী বসি কাননে।
পালন করেন পশু-শিশু যতনে।
দাসত্বশৃঙ্খল।
কাছে বসি খুলি অসি নত শিরেরে ।
কোন বীর কথা কহে ধীরে ধীরেরে ।
প্রবল নিশ্বাস-বায়ু বহে নাসাতে।
হতাশ কি হয়েছেন মন-আশাতে ।
পাশে বসি শুরূপসী কেরে বালিকা ?
মধুমাখা দেহ খানি স্নেই কলিকা।
মম রবে ছুটে উঠে দেবী কোলেতে।
ব্রজের কিশােরী যেন দোলে দোলেতে ।
তঙ্কে করি দয়াবতী মুখ চুম্বিল।
কমল নয়ন দুটি জলে ভাসিল ।
খেদে কন কেন মন শােকে মজিল ?
দেখে মুগ
ফাটে
বুক
একি হইল ?
এই ভয় বুঝি মাগো তােকে হারাবে।
এ জনম মত আর কভুনা পাবো ?
তাদেববলে বলে সুতা মার রোদনে ।
কেদন! কেদনা ওমা ধলি চলণে।
কেন কল বয় ডা ডা আছে নিকতে ?
এল বলে কে আতিতে পালে দগতে ? ”
১৭
দাসত্বশৃঙ্খল।
ছােট ছােট হাত দিয়া মার বদনে।
রােদন বারণ করে অতি যতনে ।
কহে বীর কেন দেবি ভাবগো ভাবী।
তােমার আশীষে আমি কিছুনা ভাবি
কি ভাবনা বীরমাতা থাকো পুলকে।
সাগরা ধরা শাসি আমি পলকে ।
সহােদর-বাহু-শাখা-ছায়ে ভগিনী।
চির কাল রবে মুখে মনতােষিণী।
তুমি মাগাে সর্বেশ্বরী আছে মহীতে।
ভুলনা কাহার হয় তব সহিতে?
তব অনুমতি পেলে ঘাের আহবে |
অসি করে নমি পদে সাজিবে সবে ॥
পারিবেনা অরিকুল কভু আসিতে।
বিনাশিতে পারি একা এই অসিতে।
অগ্রজ আছেন হিন্দু মন-কাননে।
কে পারে তুলিতে শির তাঁর শাসনে
বলেন মলিন মুখে বনবাসিনী।
একতা! জননী তব বড় দুঃখিনী।
* যুদ্ধে।
দাসত্বশৃঙ্খল।
যুধিষ্ঠির ধর্মবীর কোথা রহিল।
ভীম, দুৰ্য্যোধন, কর্ণ হত হইল।
বিলুপ্ত বিক্রমাদিত্য ভারতমণি।
বগত হইয়াছে আমার শনি
কত সুত হত হইয়াছে মরিরে।
কেন প্রাণ আছে অবলার শরীরে ?
এখন হতেছে এই মনে ভাবনা।
যারা আছে তারা পাছে পায় যাতনা ?
সদা ভেবে মরি শিশুগুলি কারণে।
পাছে মারা যায় তারা অন্ন বিহনে।
সহােদরে সহােদরে থেক মিলনে।
ঘটেনাক দ্বন্দ্ব যেন কোন কারণে।
বলিলাম হিতবাণি ও যাদুমণি।
পাগলিনী অনাথিনী তব জননী !!
ইতি তৃতীয় দর্শন।
চতুর্থ দর্শন।
বন্দীনী !!
মধ্যাহ্-তরণি-ময়খ প্রখর,
তাপিত মেদিনী এমী সকাতর,
দৰু দর ঘাম, ঝরে অবিশ্রাম,
তবু করে শ্রম পূরাতে উদর।
পথে পান্থকুল ঘাের পিপাসায়,
লইছে আশ্রয় তরুর ছায়ায়।
পাদা-হৃদয়, দয়ার আলয়,
বিস্তারিয়া শাখা অতিথি বাঁচায় ॥
অনল মিশ্রিত গরল পবন,
উষ্ণ ধূলিকণা করিছে বহন।
মহিষ সকল, হইয়া বিকল,
শালক্রমে করে গাত্ৰকগুন।
পৰ্বত গহ্বরে কেশরী শুইয়া,
তুলিতেছে হাই কাতর হইয়া ।
নাহি উঠিবার, ক্ষমতা হার,
সম্মুখে শিকার যায় পলাইয়া ।
দাসত্বশৃঙ্খল ।
গাভীকুল ছায়া করিয়া গ্রহণ,
আঁখি মুদি করে চর্বিত চর্বন।
চাতক বাসায়, ঘাের পিপাসায়,
দেজল দে জল বলে অনুক্ষণ
লক্ ল ল লেহনি ঝুলিছে,
ধুকে ধুকে পথে কুকুর চলছে।
স্রোতস্বতী নীরে, নামি ধীরে ধীরে,
চক্ চল্ চল্ জীবন লেহিছে।
তার কাননে এমন সময়,
একিরে মূরতি দেখে হয় ভয় ?
নয়ন লােহিত, বরণ অসিত,
শমনের দূত অনুভব হয়।
সম্মুখে দাঁড়ায়ে চিত্রের পুত্তলি,
অঙ্গের জ্যোতিতে খেলিছে বিজলী
অবলা বয়স, হবে চতুর্দশ,
হৃদয়ে শােভিছে কমলের কলি
দাসত্বশৃঙ্খল।
ইন্দীবর নেত্র আকর্ণ বিস্তার,
মার্জিত রদন মুকুতার হার।
পয়ােধি মন্থনে, সুধার কারণে,
হলেন মােহিনী হরি কি আবার?
কুনুমাঙ্গী কিবা সুষমার ডালা,
নয়নের জলে ভাসিছেন বালা।
কাহার নন্দিনী, ভুবন-বন্দিনী,
হৃদয়েতে কিবা পশিয়াছে জ্বালা ?
সরােদনে কন হায় হায় হায়,
বিপক্ষ আসিয়া হরিল আমায়।
বিষাদে এখন, দহিছে জীবন,
সহােদরগণ রহিল কোথায় ?
ভীষণ মূরতি এমন সময়,
গম্ভীর স্বরেতে অবলারে কয়।
কেন অকারণ, করিস্ রােদন,
স্বাধীনতা তাের জীবন সংশয় !!
২২
দাসত্বশৃঙ্খল।
আসিয়াছি আমি প্রভু আদেশেতে,
হতেছি তৎপর আদিষ্ট কৰ্ম্মেতে।
নিকট মরণ, হয়েছে এখন,
বলি লগ্ন অসি তুলিল উর্ধেতে
}
প্রবল বেগেতে সমীর যথায়
বহিয়া কদলীতরুরে কঁপায়।
তথা থর থর, বালা কলেবর,
অসি হেরি ঘন কঁপিতেছে হায় !!
নয়নেন্দীবর ভাসিল সলিলে,
আলােড়িত মন চিন্তার অনিলে ।
ওরে দুরাশয়, দয়া নাহি হয়,
কি ফল হইবে অবলা বধিলে ॥
?
মাভৈঃ মাভৈঃ ভয় কি কারণে ?
আর কি সাহস হয় তার মনে
শরীর দুলিল, পশ্চাতে হেলিল,
নিবারেণ ভয় অবনী শয়নে ॥
দাসত্বশৃঙ্খল।
১৩
ধন্য ধন্য মূচ্ছ ত্রিদিববাসিনি,
বিপন্নজনার যন্ত্রনা হারিণি।
কুসুম-বরণী, দেখিয়া রমণী,
করিলে গো কোলে অভয় দায়িনি।
ধরণী মাঝারে জানি গাে সরলে,
স্নেহের মূরতি অবলা সকলে।
দীনের কুটিরে, ভূপতি মন্দিরে,
নারী-দঃ-দীপ সমভাবে জ্বলে।
সংসার হ্রদেতে বারি রূপা হয়,
খেলে মুখে তাহে নর মীনচয় ।
রমণী জীবন, হলে তাদর্শন,
মীনের জীবন সতত সংশয়!!
হেন অবলারে মুচ্ছিতা দেখিয়া,
নিষ্ঠুর নয়ন লোহিত করিয়া ।
নত কল্পি আসি, পাশে আছে বমি,
সংজ্ঞারূপ-পথ পানেতে চাহিয়া।
২৪
দাসত্বশৃঙ্খল।
(বিজন বিপিনে হরি যে প্রকার,
সম্মুখে দেখিয়া নিদ্রিত শিকার।
নিদ্রাভঙ্গ আশে, বসি তার পাশে,
সৃণি লেহন করে বার বার ॥)
সংজ্ঞা প্রাপ্তে বালা বসেন উঠিয়া,
বলেন ঘাতুকে বিনয় করিয়া।
একে শােকে ক্ষীণ, স্বজন বিহীনা,
বধিতেছ মােরে কি দোষ পাইয়া ?
“শােনে কি চোরেতে ধর্মের কাহিনী,
কহে দুষ্ট অপরাধ নাহি জানি।
প্রভুর আজ্ঞায়, এনেছি তােমায়,
বলি কোষ হতে অসি লয় টানি।
ঝনাৎ ঝলসি উর্ধেতে উঠিতে,
যবন-ভূপতি আসি আচম্বিতে ?
ঘাতুকেরে কন, কারখােধন,--
হবে এ বালারে কারায় রাখিতে।
দাসত্বশৃঙ্খল।
বধােনা বখােনা বধােনা জীবন,
শৃঙ্খলেতে বদ্ধ করহ চরণ।
শুনি সেই স্বর, মূৰ্ত্তি ভয়ঙ্কর,
বালারে লইয়া হলাে অদর্শন।
যবনের দুর্গ ভীষণ আকার,
দেখে হয় হৃদে উদয় শঙ্কার।
নানা অস্ত্র করে, অটল সমরে,
রক্ষীগণ রক্ষা করিতেছে দ্বার ।
উঠে প্রতিধ্বনি শােক প্রদায়িনী,
আৰ্যজাতি হৃদি বিদীর্ণ কারিণী।
যাতনা সহেনা, জীবন রহেনা,
কে উদ্ধারে মােরে হয়েছি বন্দীনী !!
ইতি চতুর্থ দর্শন।
পঞ্চম দর্শন
অভাগিনী !
দেখিতে ভীষণ নদ নামেতে ভৈরব
সলিল লবণময় নক্রপূর্ণ সব !!
পরিসর আম্প বটে গভীর অধিক।
প্রবল স্রোতের বেগ আছে স্বাভাবিক
দুই পাশে শালবন বিস্তারিয়া বাহু।
গ্রাসিতে পথিক শমী বস্তু যথা রাহু।
বনলতা নারে পা িবভাবে রয়।
নদীপতি কর্ণে যেন গুপ্ত কথা কয়।
শাৰ্দল বহুন সুখে ভ্রমে ভটোপরে
শমন স্বালয়ে যেন নন্দে বিহুরে ॥
দলে দলে জলে ভসে মহিষ হরষে।
ক্ষুদ্রজীব প্রাণ ভয়ে বারি না পরশে ।
হিঋতু নিশা শেষে উষা কুলবালা।
নীহারের কুফুলে সাজায়েছে ডালা #
কুসুম উষার-মুখ নয়ন-রঞ্জন।
মৃদুভাবে রবির করিছে চুম্বন !
२१
?
দাসত্বশৃঙ্খল।
একি কেন শােভাদেবী এভাবে আসীনা ?
কি শােকে আনন্দময়ী হলেন মলিনা ?
বিগলিত কেশপাশ পৃষ্ঠে দুলিতেছে।
মৃদু মৃদু ভাবে দুটি ওষ্ঠ নড়িতেছে।
পড়িতেছে নেত্ৰ নীর অবনী-উপর।
উঠিতেছে ধীরে ধীরে হৃদভেদি স্বর
কোথা স্বাধীনতা দেবি রহিলে এখন
আর কিগাে তব নাহি পাব দরশন ?
কেন হৃদিপদ্ম আজি মলিন হইল
সুখের অবাস মম কে আসি হরিল ?
যবন-ছলনা-জাল ক্ৰমে বিস্তারিল।
সন্তোষ-কুসুম-দলে কীট প্রবেশিল ।
জাননা ভারতমাতা বিপদের লেশ।
জ্বরায় সহিতে কিগো হলে তব ক্লেশ ?
মুখে না নিসরে আর নিদারুণ কথা।
হরণ হয়েছে মরি জ্যোতিষ্মতি-লতা।
নয়নাদায়িনী বন্দীনী কারাগারে।
কেবা আর স্বাধীনতা দেবীরে উদ্ধারে ॥
নিরবিলা বিষাদিনী শােক অশ্রুধারে।
একাকিনী অনাথিনী কে প্রবােধে রে ?
দাসত্বশৃঙ্খল।
লােহিত লােচন দেহ সুষমার হ্রদ।
পরিধান দীর্ঘ দেহে বীর-পরিচ্ছদ।
আসি শােভাদেবী পদে নত করে শির।
চুম্বিয়া কপােল দেবী ত্যজে নেত্রনীর।
শিক্ত হলাে শিরোরুহ শােক অশ্রুজলে।
যথায় তুষার বিন্দু নবদুর্বাদলে ৷
সলােদনে বিষাদিনী কন বীরবরে।
দুৰ্জ্জন দলন মম হৃদয় বিদরে !!
তব ভগ্নী স্বাধীনতা বন্দীনী এখন।
দহিছে দারুণ দুঃখে অভাগিনী মন !!
ঝরিল দেবীর নেত্রে বা বার নীর।
শােকে, ক্রোধে গর্জিয়া কহিল মহাবীর।
স্থির হও দেবী আর করােনা ভাবনা।
এখনি ঘুচাব তব মানস যন্ত্রণা।
পশিব সমরে আমি নাশিব সকল।
দেখিব কতই বলী যবনের দল।
শােণিতের স্রোতে এই অসি ভাসাইব।
বাহু বলে ভগিনীরে উদ্ধার আনিব ।
শুনি দেবী কন ওরে দুর্জন দলন ।
স্বাধীনতা শশাকে সদা দহিতেছে মন !!
দাসত্বশৃঙ্খল।
২১
বিজনে বসিয়া কাঁদি আমি একাকিনী।
বাঁচাও জীবনে বাছা হই অভাগিনী!!
ইতি পঞ্চম দর্শন।
-
ষষ্ঠ দর্শন।
পিঞ্জরভঙ্গ !!
মনদুঃখে স্রোতস্বতী,
হাসিয়া পশ্চিমবালা, করে লয়ে স্বর্ণধাল।
যতনে মনি * মণি তদুপরি রেখেছে।
হয়ে অতি ঈর্ষাবতী,
অভিমানে লােহিত বসনে মুখ ঢেকেছে।
কাল নিশা আগমনে, ভ্রমর ব্যাকুল মনে,
ম্লান মুখে বিষাদ পরাগ গায়ে মেখেছে।
ভুবন মােহিনী সতী,
পূৰ্বাঙ্গনা রূপবতী,
স্বামীর গমনে বড় বিপদেতে ঠেকেছে।
প্রকৃতি প্রফুল্ল মনে, ভুলাইতে প্রিয় জনে,
অনুরাগে বিনােদিনী নীলাম্বরী পরিল।
গলে তারকার মালা, তরুণমাদানে বালা,
অবনী গৃহেতে দীপকীট-দীপ জ্বালিল।
লাহাের-হৃদয় পরে, সাহস-পতাকা ধরে,
মদভরে কাহার জিনী 1 সব রয়েছে?
দুর্গম পরিখা মাঝে । অবিনাশী দুর্গ সাজে,
বিক্রান্ত ! অশান্তু যত গুপ্ত ভাব ধরেছে।
সূৰ্য্য।
। সৈন্য।
বলবান সৈন্য।
দাসত্বশৃঙ্খল ।
জাংঘিক১অতঃসর, অসিহেতি,৩ অভিসরঃ
পদিক৫ বৰ্মিত আদি কত জন তায়রে ।
শােভে প্রহরণ নন। দারুণ শমন-থান,
কার সাধ্য সে দুর্ভেদ্য দুর্গ মধ্যে যায় রে ?
ঘেরিলেক হেন কালে, নিবিড় ধমর জালে,
রােধিল দর্শন পথ ঘাের শব্দ হয়রে।
ঝলসিছে ঘন অসি, খসি পড়ে রবি শশী,
বােধ হয় পলকেতে সৃষ্টি হৰে লয় রে!!
শব্দ হয় ঘােরতর, মাররে বিপক্ষ নর,
দুষ্টান রাজাজ্ঞার অবহেলা করেছে।
দেখাও বিষম বল, দু: যাক রসাতল,
করেফেল সমভূমি আর কেন রয়েছে ?
দুর্গবাসী চমকিত,
সভয়ে ব্যাকুল চিত,
দড় বড় গিয়া সবে জোরে “তােপ” দাগিল।
ছুটে গােল হয়ে লাল, যেন কাল ঠুকে তাল
বিনাশিতে ত্রিভুবন রণমদে মাতিল।
হিন্দুদের আশালােপ, পুড়ে গেল দাড়ি গোপ,
উড়ে গেল কত সেনা পেলে প্রতিফলরে ।
১ দ্রুতগমনশীল ;
{ অনুচর।
২ অগ্রগামী।
৫ পেয়াদা।
৩ অসিধারী।
৬ কবচযুক্ত পুৰুষ
দাসত্বশৃঙ্খল ।
হত হয়ে তত বল, ভারতীয় সৈন্যদল,
জিনিবারে আজি ১ আশু প্রকাশিল ছলরে ।
সাহসেতে অদভুত,
ছুটিলেক গুপ্তদূত,
গিয়া দুবাসীদলে বলে থাম রণেতে।
বলেছেন মহারাজ, যুদ্ধে আর নাহি কাজ,
করবেন সন্ধি এবে তােমাদের সনেতে ।
থেমে গেল দুই দল, নিবিল সমরানল,
সভয়ে যবনগণ সন্ধি আশা করিল।
আচম্বিতে রণবেশে, দুামধ্যে সৈন্য এসে,
দুর্জয় সমর-প্রিয় সেনাগণে ঘেরিল ।
ঝন্ ঝন্ চলে আসি,
দেহ হতে শির খুসি,
ভূমে পড়ে শােণিতের স্রোত বয়ে যায় রে।
দুর্গ হলাে ছারখার, ঘনশব্দ হাহাকার,
প্রাণভয়ে যবনেরা পলাইতে চায় রে |
বিক্রান্ত স্বদেশীদল,
প্রকাশিয়া বাহুবল,
জারে ধরে অরিগণে কারাগারে রাখিল ।
ক্রেদপূর্ণ কারা ঘরে, বায়ু না প্রবেশ করে,
নিশ্বাস হইয়া রুদ্ধ কত শত মরিল ।
১ যুদ্ধ।
দাসত্বশৃঙ্খল।
৩৩
বন্দীগণ আর্তস্বরে, ব্যোমপথ ভেদ করে,
পাষাণ-হৃদয় গলে সেই দশা দেখিলে।
শকুনি গৃধিনীগণে, শব খায় ফুল্ল মনে,
ভাসিতেছে করপদ শােণিতের সলিলে ।
যেখানেতে একাকিনী, রয়েছেন বিষাদিনী,
সখেদেতে সেনাপতি সেইখানে চলিল।
দেখি দশা ভগিনীর, হৃদয় না হয় স্থির,
বিষা দেতে মহাবীর আঁখি নীরে ভাসিল ।
বলে ভগ্নি গৃহে চলল,
কষ্ট যত গত হলাে
কারাগার ভাঙ্গিয়াছি আর কিবা ভাবনা ?
বিদেশীরা
র অতি,
আহা দিয়া কি দুগতি,
রেখেছে তােমারে কত পাইয়াছি যাতনা ।
কাঁদিয়া কুমারী কহে,
দুঃখেতে হৃদয় দহে,
দেখ ভ্রাত! ভগিনীর কিবা দশা হয়েছে।
এই দুরাচার যত,
কষ্ট
দেছে বিধিমত,
আমার পাষাণ-প্রাণ বলে তাই সয়েছে ।
দুর্জনদলন কন, শােকানলে দহে মন,
কেঁদোনা ভগিনি! দুঃখ দিওনা গাে অন্তরে !
আবাসে চল এখনি, উঠিলেন বিষাদিনী,
উড়ে যথা বিহঙ্গিনী ভঙ্গ করি পিঞ্জরে !!
ইতি ষষ্ঠ দর্শন।
ঐ
সপ্তম দর্শন
গৃহমূষিক ।
গরজে যামিনীচর।
ঘোরা তমস্বিনী, নীরব ধরণী,
ঘুমে তাচেতন নর।
গরজে যামিনীচর ॥
থেকেথেকে ঝিল্লিরব।
তাহারের আসে, সুনীল আকাশে,
ছুটে করপক্ষ সব।
থেকে থেকে ঝিল্লিরব ।
নীরস পলাশ পরে।
চলে কীটভু, ভুদার ভল্লুক,
মচ মচ মচ্ করে ।
নীরস পলাশ পরে ।
ফেরব ফুকারে তায়।
নীহারের জল, যেন মুক্তাফল,
= শূকর।
দাসত্বশৃঙ্খল।
৫
দূৰ্ব্বাদলে শােভা পায়।
কেরব ফুকারে তায়।
ওই জ্বলে দপ দপ।
একিরে কাননে, হেরিনু নয়নে,
অসি খোলা ধপ ধপ।
ওই জ্বলে দ দ ৷৷
.
?
কাহার বাহিনী সব
বমিরূ ঝমর, চলেছে বিস্তর,
বদনেতে নাহি রব।
কাহার বাহিনী সব।
?
বারণেতে টানে তাে।
যদিন ৯ অগ্রেতে, সমর বেশেতে,
চলিয়াছি করি কো৷
বারণেতে টানে তােপ।
চক্রব্যুহ
+ চমৎকার।
বাজিছে পটহ,
ভেদি পরিগ্রহ, এ
# অশ্বারােহী সৈন্য । সৈন্য-বেষ্টিতব্যুহ।
এ সৈন্য পশ্চাৎ ভাগ।
৩৬
দাসত্বশৃঙ্খল।
জয় করে সাধ্যকার ?
চক্রবুহ
চমৎকার।
নগরেতে সেনা ছুটে।
ওই গােলন্দাজ, করিল আওয়াজ,
দেহ শিহরিয়া উঠে।
নগরেতে সেনা ছুটে।
}
চারিদিক ধূমাকার।
উড়ে গেল ঘর, প্রসাদ বিস্তর,
শব্দ হয় মা মা।
চারিদিক ধূমাকার।
জাগে আৰ্যজাতিগণ।
কোমল শয্যায়, মায়াবী মায়ায়,
ঘুমে ছিল অচেতন।
জাগে আর্যজাতিগণ |
না জানে বিপদলেশ।
নিশীথ সময়,
গােলা বৃষ্টি হয়,
গেল গেল উড়ে দেশ।
জানে বিপদ লেশ ।
দাসত্বশৃঙ্খল ।
বিষাদে সাজিল সব।
দেখিতে দেখিতে, অরি-বাহিনীতে,
ঘেরিলেক করি রব।
বিষাদে সাজিল সব।
ক্রোধে বলে সেনাগণ।
কর ঘাের রণ, মার শত্রুগণ,
অপমানে দহে মন।
ক্রোধে বলে সেনাগণ।
মরিছে স্বদেশী দল।
হতে প্রস্তুত, শমনের দূত,
প্রকাশিল আমি বল।
মরিছে স্বদেশী দল।
উঠিতেছে আৰ্ত্তরব।
শিরে অকস্মাৎ, অশনি নিপাত,
রাশি রাশি হলো শব।
উঠিতেছে আৰ্ত্তরব।
সমরেতে হিন্দুরাজ।
বিপদ দেখিয়া, উঠেন কাপিয়া,
দাসত্বশৃঙ্খলি।
শির হতে খসে তাজ।
সমরেতে হিন্দুরাজ।
নয়ন সলিলে ভাসি।
বিষাদে কহিল, কে দুর্গ নাশিল,
কাহার জিনী আসি?
নয়ন সলিলে ভাসি।
নৃপ-শিরে গোলা পড়ে।
ছুটিয়া রুধির, উড়ে গেল শির,
ভাঙ্গিল পাদপ ঝড়ে।
নৃপ-শিরে গোলাপড়ে।
জয় ম্লেচ্ছরাজ জয়।
উঠিলেক স্বর,
বিপক্ষ ভিতর,
দূর হলাে অরিভয়।
জয় ম্লেচ্ছরাজ জয়।
শােণিতে ধরণী লাল।
মরি বিষাদেতে, গৃহমূষিকেতে,
কাটিল প্রণয়জাল।
শােণিতে ধরণী লাল ॥
দাসত্বশৃঙ্খল।
বিপক্ষে দলে পশি।
স্বদেশ-নাশক, গিরিকা * বঞ্চ,
রয়েছে পিঞ্জরে বসি।
বিপক্ষে দলে পশি।
হইল বিদেশী-দাস।
বিমানে প্রাসাদ, নিরমিতে সাধ,
চাদ ধরিবারে আশ ।
হইল বিদেশী-দাস।
.
ভাঙ্গিল দুয়াশা ছল।
কি কব অধিক, সে গৃহ-মূষিক,
পাইল করমফল।
ভাঙ্গিল দুরাশা ছল।
ইতি সপ্তম দর্শন।
* ক্ষুদ্র মূষিক।
অষ্টম দর্শন।
উস-আগমনে যত দিগঙ্গনাগণ,
গগন-প্রাঙ্গণ করিবারে পরিষ্কার।
রবি-জ্যোতি-সম্মার্জনী করিয়া গ্রহণ,
তান্তর করেন আবর্জন-অন্ধকার।
নীহারের ছড়াদান করিয়া সকলে,
শীতল-সমীর-ধূলি করিয়া গ্রহণ।
লইয়া ভ্রমর-যমদূতিকার * ছলে,
মাজিলেন বামাগণ কুসুম-বাসন ॥
স্নান করি নারীগণ কামনার জলে,
প্রাণী-আয়ু-পাকস্থানে গমন করিয়া ।
সময়-ইন্ধন যত্নে আহরি সকলে,
আরম্ভিলা পাক শূন্য-অন্তিকা জ্বালিয়া।
# ভিন্তিড়ি ।
+ উনান।
৪১
দাসত্বশৃঙ্খল।
প্রভাকর বৈশ্বানর হইল সবার,
মৃত্যুরূপ পাকস্থলী উষ্ণ হইতেছে।
আৰ্যজাতি অশ্রুপাত কটাহের বার,
ধংসতা তণ্ডুলগুল ফুটি উঠিতেছে।
শৈবলিনী উপকূলে সােপান উপরে,
কেরে মণবক বসি বদন বিরম ?
আহা মরি কি ভাবনা পশিয়া অন্তরে,
করিয়াছে বারিপূর্ণ নেত্ৰ-তামরস * ।
ঈষত্ গোঁপের রেখা ভুরু শরাসন,
তার নীচে শােভিতেছে আকর্ণ নয়ন।
বােধ হয় হবে শীঘ্র বারি বরিষণ,
তাই হইতেছে রামধনু দরশন।
মরি কিবা সুলােহিত অধরপল্লব,
আজানুলম্বিত বাহু প্রশস্ত হৃদয়।
বীরের লক্ষণ অঙ্গে শােভিতেছে সব,
বয়স ষােড়শবর্ষ অধিকতাে নয়।
* পদ্ম।
৪২
দাসত্বশৃঙ্খল।
গোলাপকুসুমদল অঙ্গের বরণ,
কেন বসি এ রতন সােপান উপরে ?
অযতনে রহিয়াছে কর্ষিত কাঞ্চন,
“মণিকার” বিনা মণি আদর কে করে
?
বহুমূল্য পরিচ্ছদ অঙ্গ-আবরণ,
“কড়াবিন্”*“তােজদানে” পাশে দুলিতেছে
মুখখানি ভার ভার চিন্তায় মগন,
বাম দিকে কোম-মধ্যে অসি ঝুলিতেছে ।
হৃদয় দহিছে তাঁর চিন্তার দহনে,
থেকে থেকে পড়িতেছে হৃদি-ভেদি শ্বাস।
বলিছেন যুবরাজ আপনার মনে,
এত দিনে আমাদের হলো সৰ্ব্বনাশ !!
হায় এই ধরাধামে এই ভাগার,
এ দেহ রয়েছে কেন বলিতে না পারি ?
বহুন করিতে বুঝি শােকপ ভার,
অথবা কি কৰ্ম্ম ভােগ ভুগি আপনারি ।
* বন্দুক বিশেষ।
। বন্দুকধার।
দাসত্বশৃঙ্খল।
দেহধারী হয়ে কত সহিব যাতনা,
ক্রমে বৃদ্ধি পায় যেন বারিধির জল।
চিন্তা-অনিলের সহ হইয়া ঘটনা,
প্রবল বেগেতে উঠে তরঙ্গ সকল ।
আহা জরা অবস্থায় মম জননীর,
নিদারুণ শােক হৃদে পশিল তাহার,
“দুর্জন-দলন” রণে ত্যজেছে শরীর,
আহা ভ্রাত দেখা তব পাবনাক আর ?
কোথা ভগ্নি। স্বাধীনতা রহিল এখন,
চিরকাল রবে কি গো দাসত্ববন্ধনে ?
দেখ সহােদর তব করিছে রােদন,
তােষ আসি দয়াবতি মধুর বচনে !!
হায় কষ্ট ভােগে মম যত সহােদর,
স্মরিলে সে দুঃখ আহা বিদরে হৃদয়।
নয়নেতে শােক-জল বহে নিরন্তর,
যেরূপ বরিষে বারি ঘন বরিষায়।
৪
দাসত্বশৃঙ্খল ।
বাম করে বামগও করিয়া স্থাপন,
এইরূপ ভাবিছেন বসিয়া নবীন,
এমন সময় শব্দ শুনিয়া ভীষণ,
ঘুরিল সুষমাজলে অক্ষিরূপ-মীন ।
“কড়াবিন” সব্যহন্তে উঠিল রুষিয়া,
কড়, কড়, ঘনশব্দ হইল তাহার।
রহিলেক শপথ প্রতীক্ষা করিয়া,
বােধ হয় ছাড়িবে সে সধূম ফুৎকার |
এক একি দ্রুতপদে কে এল বালিকা,
রুণ আতঙ্গে অঙ্গ কঁপে থর থর !
কে রে মলিনা আজি স্নেহের কলিকা,
বলে “ডা নিচালী গ্লাচিবে চত্বল !”
বলিতে বলিতে হায় !!
একরে একিরে,
মূরতি ভীষণা,
করালবদনে রদন শােভা ?
'ক লক লক
লােহিত বরণ,
শােভিছে লেহনি শােণিত লােভা !!
৭
দাসত্বশস্থল।
দ” দপ্ জ্বলে,
ক্রোধ হুতাশন,
ঘন ঘন ঘন ঘুরিছে আঁখি।
হুহুহুহু বহে,
নিশ্বাস পবন,
ভাঙে কুমারের ভরসা শাখী ।
ধরে ধরে ধরে,
প্রসারিছে কর,
থর থর বীর কঁপিছে রােষে।
গুড়, গুম্ ধূমে,
ব্যাপ্ত চরাচর,
উঠিলেক অসি গরজি কোষে।
ঝনা বানাত
ঝন ঝন ঝন্
গুম গুম্ দুম্ সমর ঘাের।
হলো প্রতিনি,
করোনাক রণ,
ও যে কুহুকিনী যাদুরে মাের ।
হারিল কুমার,
রাক্ষনী কুষিল,
ধরিয়া কুমার কুমারী করে ।
যেন আকর্ষণী,
ফল আকর্ষিল,
চলিল লইয়া আপন ঘরে ।
এমন সময় ওই । -
অদূরে উঠিল যে ৪ রােদনের ধ্বনি,
হাহা কোথা গেলে মম কনিষ্ট নন্দন ?
৪৬
দাসত্বশৃঙ্খল।
আয় আর্যজাতি-বল কঁদিছে জননী,
সুখদা মায়ের মায়া দিলি বিসর্জন ?
ভারত কাননে বসি যাহা ভাবিলাম,
অভাগিনী-অদৃষ্টেতে ফলিল কি তাই?
সুখদারে কোলে লয়ে এই বলিলাম,
বুৰি মনতােষিণি গো তােমারে হারাই।
সে সময় কচি কচি অঙ্গুলি নির্দেশে,
মধ্যম ভ্রাতারে তব দেখাইয়া দিয়া ।
কত বুবাইলে গাে মা ধরি গলদেশে,
সে সব স্মরিয়া মম বিদারছে হিয়া।
প্রাণ যায় দেখা দেরে প্রাণের রতন,
কোন পাপে এই দশা হইল তােমার ?
শঙ্কা নিশাচরী আসি করিল হরণ,
এই কি দেখিতে হলো ভারত মাতার ?
হায় দুষ্ট যবনেরা এদেশে আসিয়া,
শিল ভীষণ বেশে অসি করি করে।
মম ভুত জয়পালে অনতে দহিয়া,
হানিল শােকের শেল অবলা-অন্তরে !!
দাসত্বশৃঙ্খল ।
গিজনীতে যবনের দৃঢ় দুর্গ করি
রহিলেক, ছদ্ম ভাবে দূত পাঠাইয়া।
লয়ে গেল স্বাধীনতা মায়াতে আবার,
শান্তির কুসুম-বন বলেতে নাশিয়া :
উহু বুক ফেটে যায় হইলে স্মরণ,
বিপক্ষ-মঙ্গল-দাস তাসি করি করে।
কাশিতে সুতারে মম করিয়া মনন,
লয়ে গেল ক্রর জলনিধি-তটোপরে ।
ভাগ্যক্রমে নিকটেতে প্রভু আমি তার,
স্বাধীনতা-প্রাণনাশ করি নিবারণ।
কারাবদ্ধ করিলেক সেই দুরাচার,
কতই দিতেছে ক্লেশ দুরাচারগণ
?
কেনরে প্রলয়কাল আসেনা আবার,
হয়ে যাক্ মম বক্ষ সব জলময়।
না থাকে ধরায় যেন প্রাণীর সঞ্চার,
বারিগর্ভ হােক্ মম বিশ্রাম আলয়।
কোথায় তনয় মম দুর্জন দলন,
একবার ভর্গিনীরে করিলে উদ্ধার ।
৪৮
দাসত্বশৃঙ্খল।
নিশীথ সময় আসি অরি সেনাগণ,
আমরি করিল বীর তােমারে সংহার !
“দুর্জন দলন” দাস বিশ্বাস-ঘাতক,
স্বার্থপর, ভণ্ড “গৃহমূষিক” নামেতে।
গ্রাসিল আপন প্রভু দুরাত্মা বঞ্চক,
মিলিত হইয়া দুষ্ট বিপক্ষ সনেতে ।
পাইয়াছে পাপী নিজ কর্মরূপ ফল,
দুরাশা তাহার যত হইয়াছে লয় ।
তাহারাই পদে দেছে দাসত্ব শৃঙ্খল,
মিত্র ভাবি লয়েছিল যাদের আশ্রয় ।
হেন কালে অশ্ব পরে করি আরােহণ,
আসিলেন এক যুব দুঃখিনীর পাশে।
সবল শরীর রূপে নয়ন-রঞ্জন,
করে প্রভাময় অসি অরিভয় নাশে।
সজল নয়ন দুটি ঘুরিতেছে ঘন,
যথা সরােবরে ভাসে সুনীল কমল।
ঘন ঘন বহিতেছে নিশ্বাস পবন,
হয়েছে মলিন আহা মুখ শতদল !!
দাসত্বশৃঙ্খল ।
৪৯
আসিয়া বলেন মাগাে হলে সর্বনাশ,
কনিষ্ঠতনয়া আর তনয় তােমার ।
উভয়ে রাক্ষসী করে হয়েছে বিনাশ,
আর নাহি জননি গো মঙ্গল সবার !!
কি বলিলে বলে মাতা পড়েন ঢলিয়া,
ধরাপরে স্বর্ণলতা হয়ে অচেতন।
কিঞ্চিৎপরেতে মাতা মন্বিত পাইয়া,
বলেন ‘একতা” বেঁচে কি সুখ এখন ?
ত্বরায় দেহরে বাছা চিতা সাজাইয়া,
জ্বলিত অনলে আমি এখনি পশিব।
যাইতেছে চিন্তানলে হৃদয় দহিয়া,
অবলা প্রবল শােক কেমনে সহিব ?
এমন সময় শুনি ভীষণ গর্জন,
একিরে প্রলয় কাল এলো কি আবার ?
কত শত গিরি, তরু হতেছে পতন,
মুহুর্তে সকল জীব হবে কি সংহার ?
চমকেন দুঃখিনী “একতা” চমকিল,
কপিল হস্তের অসি করি থর থর।
দাসত্বশৃঙ্খল।
বোধ হয় শস্ত্র দিক্-সৃণি লেহিল,
বিপক্ষ শােণিত পান করিবে সত্বর।
চারিদিকে কুমারের নয়ন ঘুরিছে,
সম্মুখে বিকট মূৰ্ত্তি দিল দরশন।
কটা কটা দীর্ঘ জটা মস্তকে শােভিছে,
ওষ্ঠদ্বয় স্থল অতি লােহিত দশন ।
হা হা রবে উচ্চহাস্য বদনে তাহার,
আসিতেছে দুরাচার বাহু প্রমারিয়া।
বিকট আনন ক্রোধে করিয়া বিস্তার,
কুমারেরে ধরিবারে চলিল ধাইয়া।
বিকৃত স্বরেতে বলে ওরে বীরবর,
জার কোথা পলায়ন করিবি 'এখন। ?
ভারতে আমার অরি তুইরে প্রখর,
পাইয়াছি বহু দিন করি অন্বেষণ ।
রুষিল একতা ঝুকে অরিনিসূদন, *
বােধ হয় রক্ষবক্ষে পশিবে সত্বর।
# অসি।
দাসত্বশৃঙ্খল।
ক্রোধে উঠিলেন বীর করিয়া গর্জন,
বীর মদে ঘুরিয়া উঠিল দুই কর ।
কৌণপ * উপরে অসি পড়ে ঝন্ ঝন্,
নিবারিছে রক্ষ তাহা পাদপ চালনে।
হইল তুমুল যুদ্ধ দেখিতে ভীষণ,
(ভীম যথা যুবো বক রাক্ষসের সনে ॥)
করিলেক শিলাবৃষ্টি দুর্বার কৌণপ,
সিতে করেন ছিন্ন সমর কুশল।
আনিলেক ক্রোধে রক্ষ গর্জিয়া পাদপ,
একতার শস্ত্রাঘাতে হইল বিফল ।
হইল উভয়ে রণ অতি ঘােরতর,
ছিন্ন ভিন্ন হলাে অসি শিলার প্রহারে।
সমরেতে ক্লান্ত কুমারের কলেবর,
দ্রুত আসি যাতুন * ধরিল কুমারে।
একতার এই দশা করি দরশন,
উঠিলেন পাগলিনী হাহাকার করি।
* রাক্ষস।
দাসত্বশৃঙ্খল
ধরপরে স্বর্ণলতা হইল পতন,
লইল দারুণ-শােক চেতনারে হরি !!
ব্যোমপথে প্রতিধ্বনি উঠিল কাঁদিয়া,
বলয়ে ভারতশিরে লার্গিল দহন।
যাতুন কুমারেরে লইল ধরিয়া,
অপহৃত হলাে হায় একতা রতন !
ইতি অষ্টম দর্শন।
নবম দর্শন
জালে সিংহ !
রবি ছবি করিয়া গােপন।
সরসীতে সরেজীরে, ভাসাইয়া শােকনীরে,
অচলে করেন গমন।--
হইল পশ্চিমদিক লােহিত বরণ।
বােধ হয় ওতো নয় লােহিত বরণ |
ভুলাইতে নিজপতি, অনুরাগে ধরা-সতী,
করেছেন সীমন্তেতে সিন্দুর ধারণ।
অথবা-তামু, ল রাগ হয় দরশন।
মৃদুল পবনে দোলে মহীরুহগণ।
পাতা, শাখা নড়িতেছে, যেন ডেকে বলিতেছে,
এসো এসো ফিরে এসাে দিবসরমণ।
করােনা করােনা তুমি অন্তেতে গমন।
এমন সময় ওই গভীর গহনে।
শব্দ হয় মর মর, মচ মচ সর সর,
৫৪
দাসত্বশৃঙ্খল।
খট খট খুর-ধ্বনি আঘাতে শ্রবণে ।
কে যায় পাঠক চল দেখিগে নয়নে।
আলােকিত হলো বন অঙ্গের প্রভায়।
ঘােড় চড়া যােড়া পরা, হাতে অশ্বরাস ধরা,
নিশার সময় যুবা চলেছে কোথায় ?
ওই যা তামসে আসি ঢাকিল তাহায় !!
গগনে নিবিড় মেঘ দিল দরশন।
ঘুট ঘুট অন্ধকার, দৃষ্টি আর চলা ভার,
হইতেছে কড় কড়, বারিদ গর্জন।
বিপাকে পথিক বুঝি হারায় জীবন।
চক্ মক্ চল্ ম বিদ্যুত্ নলকে।
ওই সঙ্গে এলাে ঝড়,
শিল পড়ে তড়, তড়?
ঝম্ ঝম্ জলে ধরা ভাসিল পলকে।
এমন বিপদে বনে বাঁচিবে বল কে ?
বর্ষিল মুষলধারে প্রায় দ্বিপ্রহর।
থেমে গেল বৃষ্টি ঝড়, কোথা শব্দ কড়, কড়,
ওই যে নির্মলভাব ধরেছে অম্বর।
কেও তরুমূলে শুয়ে হইয়ে কাতর ?
দাসত্বশৃঙ্খল ।
যাইনা নিকটে গিয়া করি দরশন।
আহা কিবা দেখিলাম, একেবারে মােহিলাম,
ভুলে গেল মন হেরে ও চারু-বদন।
কেনরে ধরায় পড়ে ভুবনমােহন
?
নাসার তুলনা বাঁশি কখনই নয়।
কঠিন সে কাষ্ঠ বাঁশি দেখিলেই পায় হাসি,
সেকি উপমান যার ছিদ্র অঙ্গময়।
বাদ্যছলে রােদনেতে রত তাই রয় ।
?
কার সহ দিই বল আঁখির তুলনা
বুঝি রূপ-সিন্ধুজলে, খেলে মীন কুতুহলে,
কিম্বা মীনকেতু কেতু হয় বিবেচনা।
অথবা কি বিধাতার কৌশল রচনা ।
মুদিত নয়ন দুটী গভীর নিদ্রায়।
কে ইনি বিজন বনে, চিনি যেন করি মনে,
ইতিপূৰ্বে অশ্ব-পৃষ্ঠে দেখেছি ইহয়।
তিনিই তাে বটে এই পড়িয়া ধুলায়
ওই যে কটিতে বাঁধা পাঁচ হাতিয়ার।
একিরে নির্ভীকান্তর, যেন আপনার ঘর,
দাসত্বশৃঙ্খল।
মুখে নিদ্রা যান বুকে ধরি তরবার।
কিন্তু নিকটেতে নাই অশ্বটী তাহার ।
এমন সময় শুনি কল কল ধ্বনি।
ছুটে বেগে পশুগণ, ত্যজিয়া গহন বন ?
নিদ্রা ত্যজি বীরবর উঠেন তখনি।
হইল চকিত তার মানস অমনি।
প্রাচীদিকে নেত্র তার হইল পতন।
আসিতেছে অস্ত্রধারী, অস্ত্র হাতে সারি সারি,
ধবল-বরণ সব মূরতি ভীষণ।
সাক্ষাৎ শমন প্রায় এক এক জন
মশাল জ্বলিছে দেখ সকলেরি হাতে।
মাঝে ওই কি সুন্দর, অশ্বপৃষ্ঠে করি ভর,
হীরক মুকুট বালমিছে যার মাথে।
উজ্জ্বল হইল বন বীরের প্রভাতে ।
সকলেরি রক্ত লিপ্ত কৃপাণ ভীষণ ।
প্রধান একথা বলে, আমাদের ভুজবলে,
থাকিবেনা নিরাপদে আৰ্য্য জাতিগণ।
তবে মম “ভয়বীর ?? নাম অকারণ।
দাসত্বশৃঙ্খল।
হইল যুবার দুটী আঁখি ছল ছল।
কহিল চিন্তায় মন, শ্বাস পড়ে ঘন ঘন,
মলিন হইল দুঃখে বদনকমল ।
কিন্তু অন্তরের ক্রোধ রহিল প্রবল ।
তখনই বীরমদে মত্ত হলাে মন।
দুই আঁখি হলাে লাল, ঝঙ্কারিল করবাল,
দশমে দর্শনে ক্রোধে করেন ঘর্ষণ।
বলেন ঘৃণিত প্রাণে কিবা প্রয়ােজন ?
সেই শব্দে সেনাগণ চমক চাহিল।
বলে ভয়বীরবর, ওই সেই ধর ধর,
ছুটে সেনাগণ সব ধরিতে আসিল।
ক্রোধেতে যুবক অসি হানিতে লাগিল
বলেন সমরে ভয় করি কি কখন ?
এই তীক্ষ্ণ অস্ত্র করে,
পশিলাম এ সমরে,
দেখি কেমনেতে বাঁচে তােদের জীবন?
সহজে কি দাসত্বেতে হইব বন্ধন ?
ভ্রাম্যমাণ হস্তুে অসি মণ্ডল আকার।
কাটেন কাহারো শির, কোন বীর দুই চির,
দাসত্বশৃঙ্খল।
একিরে এমন শিক্ষা দেখি নাই আর ?
বিপক্ষে দলে শব্দ হয় হাহাকার !!
করিছেন বীরবর ভয়ানক রণ।
ঘন চলে তরবার, ঝক ঝকে আভা তার,
বলেন হরিব সব বিপক্ষ জীবন।
সহজে কি অরিহন্তে হইব পতন
?
সহস্র সহস্র বীর গেল যমালয়।
“যথা সপ্তরথীগণে, যুঝে অভিমন্যুসনে”
একা বীর সবারে করেন পরাজয়।
দ্বিতীয় এ অভিমন্যু অনুভব হয়।
অসংখ্য বিপক্ষপক্ষ কুমারে ঘেরিল।
এ দুঃখ কহিব কারে, একা বীর সব মারে,
বলিয়া সকল সৈন্য রুষিয়া উঠিল।
হান স্থান করে সবে অসি প্রহরিল।
তথাপিও মহাবীর ন্যুন নহে বলে।
অসি ঘােরে ঘন করে, যথা সমীরণ ভরে,
অগণন মহীরুহ পড়ে ধরাতলে।
সেই মত অস্ত্রাঘাতে পড়িছে সকলে।
দাসত্বশৃঙ্খল ।
বলিছেন “ আমি জ্যেষ্ঠ হই একতার।
সাহস ” আমার নাম, না রবে বিদেশী নাম,
এ ভারত হতে লােপ হইবে এবার।
হরেছি “স্বাধীনতা ,, ভগিনী আমার ?
কি বলিব অগ্রে যদি আমি জানিতাম।
তা হলে কি বাসস্থান, সহজে পেতি দান,
কীট, সম দুষ্টাণে প্রাণে বধিতা
অদ্য মম পূর্ণ হলো পূর্ব মনস্কাম।
ওহে কিরে দ্রুত অসি ঘুরিল আবার ?
কটকট কাটে মুণ্ড, রাশি রাশি হস্তিশুণ্ড,-
পড়িতেছে, মেঘ হতে যেন পড়ে ধার ।
গেলরে সকল সৈন্য রক্ষা নাহি আর।
এল
হেনকালে “ভয়বীর” ক্রোধে তুলি অসি ।
হানিলেন অপির , অসি ছিন্ন ভাব ধরি,
হস্ত হতে ধরাতলে পড়িলেক খসি।
বিমান হইতে যেন ভূমে পড়ে শশী ।
অন্য বীরে চর্ম তার করিল ছেদন।
শূন্য হলাে দুই কর, দ্রুত আমি বীরেশ্বর,
দাসত্বশৃঙ্খল।
সাপটিয়া কুমারেরে করিল ধারণ
তখনি ধরিল আসি আরো কতজন।
যুবার অঙ্গেতে রক্ত ঝরে ঝ ঝর।
ঘাের শস্ত্রাঘাতে হয়, অবশ হয়েছে কায়,
তথাপিও ক্রোধে কাঁপিছেন থ থ।
ব্যালগ্রাহী * করবদ্ধ যথা অজগর !!
বিপক্ষ পক্ষেতে হলো জয় জয় ধ্বনি।
সকলেই হেসে কয়,
এ বীর সামান্য নয়,
কিন্তু জালে পড়িয়াছে কেশরী আপনি
হেনকালে অস্তগত হইল রজনী |
কোথায় সে প্রকৃতির তিমির-বরণ ?
ওই পূৰ্ব্বা নারীগলে, সুৰ্য্যকান্ত-মণি জ্বলে,
কিম্বা কাল-নির্ণেজক । কাচিয়া বসন।
নির্মল করিয়া করে ধরাকে অর্পণ।
ৰিকট কটক সব হেসে হেসে বলে।
“এ সাহস বীরবর,” করিয়াছে যে সমর,
সাপুড়িয়া।
রজক ।
৬১
দত্বশৃঙ্খল।
উচিত ইহারে বাঁধা দাস্বত্ব শৃঙ্খলে।
সসৈন্যেতে “ভয়বীর” নিজ দেশে চলে ।
ঝরিতেছে শােকবার কল্পনা নয়নে।
মিশ্রিত করুণস্বরে, সুখনাশ শব্দ করে,
সুধা আশে উঠে বিষ সমুদ্র মন্থনে।
পড়িয়াছে জালে সিংহ সহায় বিহনে !!
ইতি নবম দশন
দশম দর্শন।
দীপ নিৰ্ব্বাণ !!
নিদাঘ সময় সন্ধ্যা-সমীরণ।
বহিছে, কাপয়ে কিশলয়গণ।
বিহঙ্গম সব, করে কলরব,
বুঝি কাঁদিতেছে দিগঙ্গনাগণ।
নিশা আগমনে বিষাদে তপন।
‘অন্তর্গিার পরে করিল গমন।
কৌমুদীবসনা, যামিনী ললনা
অবনীতে আসি দিল দরশন।
ব? ঝ তীরে তরঙ্গের রব।
বােধ হয় যেন খাইয়া আসব ।
ভারতে নাশিতে, হাসিতে হাসিতে,
রুকে তাল ঠোকে অরি-মল সব ॥
বীরদাপে ভয়ে হইয়ে মগন।
করে স্রোতস্বতী দক্ষিণে গমন।
ওতে! ভাটা নয়, অনুভব হয়,
ভারতশোণিত শােষে শত্রুগণ।
দাসত্বশৃঙ্খল।
৬৩
বিপক্ষের দপ কার দরশন।
ব্যাকুলিত ভাবে ধীর সমীরণ।
সন্ স স্বরে, হাহাকার করে,
আর্যজাতি ভাবি করিয়া স্মরণ।
ভারতের যত ভীরু জীবগণ।
বিশ্রাম-আশয়ে করিল শয়ন।
নিদ্রা-নিশাচরী, মােহমন্ত্ৰ রি,
সংজ্ঞা-মহামণি করিল হরণ।
কাপিল হৃদয় কাঁপিল কানন।
নদ নদী আর গিরি উপবন ।
উঠিতেছে স্বর, ভেদিয়া অম্বর,
প্রাণ যায় রাখ আৰ্য-বীরগণ ।
স্বভাব নীরব অচল পবন।
আর্যজাতি মােহ-ঘুমে অচেতন।
প্রকৃতি-সুন্দরী, ভাবি শঙ্কা স্মরি,
পরিলেন দুঃখে মলিন বসন !!
শুনি আহা সেই স্বকরুণ স্বর।
শ্বাপদসমুহ শােকেতে কাতর।
দাসত্বশৃঙ্খল।
খাড়া কার কাণ, চিত্রের নির্মাণ,
নদীতীরে দাঁড়াইল থরে থর।
হেন কালে শুনি “কামান আওয়াজ
শব্দ হয় জয় জয় মহারাজ ।
হলাে দরশন, লােহিত বরণ,
উড়িছে নিশান আসিছে জাহাজ।
তরঙ্গিত হলো তটিনীর জল।
ঝপ ঝপ ঝপ কল কল কল।
জলযান পরে, খােলা অসি করে,
ধপ ধপ ধপ, শােভিছে সকল ।
অয় আয় ঘুম ঘুম পাড়াইয়া।
হিন্দুজাতিগণে মায়াতে ছলিয়া।
হরিল সকল, যা ছিল সম্বল,
নে যায় স্বদেশে জাহাজে তুলিয়া।
একিরে একিরে হলো অকস্মাৎ।
বিনামেঘে হিন্দুশিরে বজাযাত।
কেনরে এখন, কেঁদে ওঠে মন,
জীবগণ নেত্রে হয় ধারাপাত !!
দাসত্বশৃঙ্খল।
৬৫
ওই বরারােহী জাহাজ পরেতে।
মলিন বদনে করুণ স্বরেতে ।
করেন রোদন, বলে কে এমন,
রাখিবে আমারে বিপক্ষ-করেতে ?
আয় রে “একতা” বীর অবতার।
কিরূপ দুর্দশা দেখনা আমার ।
তােদের জননী, বড় অভাগিনী,
না পারি ত্যজিতে মায়া সবাকার ৷
উঠিল উথলি তটিনীর জল।
অকস্মাৎ ধরা করে টলমল।
ঘােরতর স্বরে, ধরণী বিদরে,
ভারতবাসীরা হইল চঞ্চল।
বৰ্ম্মে দেহ ঢাকা লােহিত লােচন।
নাসিকায় বহে নিশ্বাস পবন ।
দন্তের ঘর্ষণ, মেঘের গর্জন,
উঠে নীর হতে সাক্ষাৎ শমন !
করিল সঘনে ক্রোধেতে চীৎকার।
ভারতবাসীরা জাগাে একবার।
দাসত্বশৃঙ্খল।
হলোরে এবার, সব ছারখার,
ভারতের আর নাহিক নিস্তার ।
ওরে মূঢ় ভারতীয় ভ্রাতৃগণ !
এখন তােদের মুদিত নয়ন ।
ধিরে জীবনে, ৰিপদ ঘটনে,
ক্রোধে উত্তেজিত হয় না কি মন ?
জলধির জল রুষিয়া উঠিল।
জাহাজেতে তাল ঠুকিতে লাগিল।
বীচি মাল। ভেদি, বারি হৃদি ছেদি,
বেগে জলযান চলিতে লাগিল।
বিষাদে অধর করিয়া দংশন।
পুনঃ কহে বীর করিয়া গর্জন।
ওরে ভীরু জীব, স্বদেশে অশিব,
ঘটিতেছে নাহি কর দরশন।
?
কমল কাননে করুণ। প্রকাশি।
কমলবাসিনী হিন্দু দুঃখ নাশি।
ছিলেন হরষে, ছলনার বসে,
হতে হলো তারে বিপাক্ষদাসী ?
দাসত্বশৃঙ্খল।
না দেখি উপায় কঁাদি বীরবর।
করিয়া বাহির ব্যোমভেদি স্বর।
স্বদেশ রক্ষণে, ঘাের ক্রোধ মনে,
করেন আঘাত বিপক্ষ উপর ।
৬
ঘাের ধূমজালে ঢাকিল অম্বর।
উথলে সাগর ছুটে বনচর ॥
লোহিত বরণ, গােলা অগণন,
হাসি চুম্বিলেক বীরের অধর।
কোথা গেল সেই দেহ জ্যোতিয়া ?
কেন কেঁদে উঠে আমাদের প্রাণ।
রক্ষক বিহনে, অরি-সমীরণে,
ভারত-প্রদীপ হইল নিৰ্ব্বাণ !!
ইতি দশম দর্শন।
একাদশ দর্শন।
চরণে শৃঙ্খল !!
আহা মরি নানাবিধ সুরসাল ফলে।
শাখা সহ অবনত মহীরুহাণ,
এমন উর্বর ভূমি দেখোন নয়ন,
জান কি পাঠক! একে কোন স্থান বলে ?
কি করে জানিবে তুমি অবগত নই।
বিখ্যাত ভারতবর্ষ নামেতে কানন,
আর্যজাতি রক্ষা পায় ইহার কারণ,
এখানেতে কমলার বাস অহরহ।
আমাদের ভাগ্যক্রমে সময় সাগরে।
গড়ায়ে পড়েছে সেই সুখের অয়ন,
আমার এদেশে ছিল স্বাধীনতা ধন,
হরণ করেছে তাহা যবন তরে ।
বল দেখি আছ তুমি কি ভাবে পাঠক !
আহা সে সুখের দিন গিয়াছে কোথায়,
বেড়াইতে ইচ্ছাধীনে যথার তথায়,
দাসত্ব-শৃখলে এবে চরণ আটক।
দাদৃশৃঙ্খল।
১৯
তুমি বলে নয় যত আৰ্ষ্যজাতিগণ।
ইয়াছে বদ্ধ যুবনের কারাগারে,
কহ নাহি তাহাদের উদ্ধারিতে পারে,
আপনার দোষে তারা লয়েছে বন্ধন।
যখান ধরিয়া টানে দাসত্ব-শৃঙ্খল।
তখনি করসহিত দেয় দরশন,
অহােরাত্ৰ আজ্ঞা মােট করিয়া বহন,
তথাপি চাবুক খায় এমনি দুর্বল।
ওই দেখ নরক সদৃশ কারাগারে।
চরণে শৃঙ্খল পরা এলােথেলো কেশ,
মলিন বদন খানি বিগলিত বেশ,
সিক্ত হইতেছে বক্ষস্থল অশ্রুধারে।
আহা মরি অন্ন বিনা অস্থি চর্মসার।
চেনে কি ইহারে ওহে হিন্দু ভ্রাতাগণ !
ভারত-জননী ইনি হয় কি স্মরণ ?
হায় রে,কি দশা দেখ হয়েছে মাতার ?
নিশ্বাস পড়ছে মার হৃদয় ভেদিয়া।
হায় হায় একি দশা হয়েছে হার,
দাসত্বশৃঙ্খল।
দারুণ যাতনা সহি কার হাহাকার,
বলেন “কি ফল মম এ দেহ রাখিয়া
কোথা স্বাধীনতা সুতা রহিলে এখন
আর্যজাতি হৃদি-পদ্মভাব সরােবর,
তথায় তােমার বাস ছিল নিরন্তর,
অসি সহ পার্শ্বচর হিন্দু অগণন ।
শান্তির কুসুমদলে কীট প্রবেশিয়া।
ছিন্ন ভিন্ন করিলেক সুখরূপ দল,
বিমাদ পবন তাহে হইল প্রবল,
নাশিল বিপদরূপ বরষা আসিয়া।
ভারত-কাননে আমি শিশুগুলি লয়ে।
ভাবিতেছিলাম মন-বিষাদে বসিয়া,
সুখদা সুতারে যত্নে কোলেতে লইয়া,
আমাদের ভবিষ্যৎ বিপদের ভয়ে।
সম্মুখেতে ছিল বসি একতা নন্দন।
মম চিন্তানলে বরষিতে শান্তি জল,
সাহস স্বরূপ কত বচন সরল
কহিল, করিতে সুস্থ আমার এ মন ।
দাসত্বশৃঙ্খল।
তখন ছিলাম আমি পাগলিনী মত।
বলিলাম ওরে বাপ একতা কুমার,
দহিতেছে চিন্তানলে হৃদয় আমার,
ভ্রাতৃগণে সমভাবে থেকোরে সতত।
হায়রে শুনিনু কিছু দিন পরে তার ।
ভাবি শঙ্কা ক্ৰমে মম নিকট হয়েছে,
কারাগারে “স্বাধীনতা” বন্ধনে রয়েছে,
শাকজলে পূর্ণ হলাে নয়ন আমার !!
এই চির-দুঃখিনীর প্রবল নন্দন।
“দুজ্জনদলন” নাম খ্যাত জাৰ্যদেশ,
বিপক্ষ দুর্গেতে ক্রোধে করিয়া প্রবেশ,
ছলে বলে বিনাশিল অরি অগণন ॥
যন্ত্রণার ওমাে গৃহে বিপক্ষে রাশিয়া।
এনেছিল স্বাধীনতা-ভগিনী উদ্ধার,
পুনঃ শত্রুগণ মায়া-বাগুরা বিস্তারি,
হরিল সুতারে মম সুতেরে নাশিয়া
কেন রে জীবন নাহি হয় বহির্গত।
কি কল বিফল এই শরীর ধরণে,
৭২,
দাসত্বশৃঙ্খল ।
আহ পুত্রগণ মারা যায় অনশনে,
তাহাতে আদেশ তার বহে অবিরত !!
যবনে সতত মারে শাসন চাবুক।
অত কষ্ট সহ্য করে ভীরু বলে তাই,
মরি মরি বাছাদের লইয়া বালাই,
এ দেখে আমার কেন ফাটেনাক বুক।
কোথ। ভারতের “বল” ওরে বাছাধন ?
হিন্দু-আশা নদীতটে ছিলেরে বসিয়া,
৬শঙ্কা” নামে নিশাচী তথায় আসিয়া,
আহা গুণাকর তোমা করেছে হরণ !!
ভারত-জননী আমি বড় অভাগিনী।
যে সময়ে মায়াবিনী করিল হরণ,
বলেছি তখনি ডেকে ওরে যাদুধন,
সাবধান সাবধান ও যে কুহকিনী।
আহা নিশাচরী করি তােমারে হরণ।
করিয়াছে সর্বনাশ মায়া বিস্তারিয়া,
বােধ হীন হিন্দুদের হৃদয়ে পশিয়া,
মার সুখদারে মম করেছে নিধন !!
দাসত্বশৃঙ্খল।
৩
।
সুখদা নন্দিনি কোথা গেলে গো আমার
নিশাচরী ভয়ে এলে ভ্রাতার সদনে,
আহা আহা উভয়েতে পড়িলে বন্ধনে,
এ জনমে পুনঃ দেখ পাবনা কি আর?
?
কোথা গেলে যাদুধন “একতা” কুমার
সজল নয়নে এসে বলিলে যখন,
জননি? অন্দিনী তব কনিষ্ট নন্দন,
উভয়ে রাক্ষসী করে হয়েছে সংহার |
শুনিয়া দারুণ বাণী করি হাহাকার
সুত, সুতা শশাকে মম ঝরিল নয়ন,
আহারে আবার যাহা হইল ঘটন,
মনে হলে দেহে প্রাণ ধরা হয় ভার ।
পরশ্রীকাতর নামে আসি নিশাচর।
ভাসাইয়া দুঃখিনীরে বিপদ পাথারে,
আহা আক্ৰমণ আমি করিল বাছারে,
হইল “একতা” সহ দারুণ সমর।
হায় এই দুঃখিনীর “একতা” নন্দন।
পর একাতর রক্ষ হারায়ে সমরে,
৭৪
দাসত্বশৃঙ্খল।
অহা মরি বাছার বাঁধিয়া করে করে,
হরিয়া বক্ষের ধন করিল গমন।
শুনরে অবােধ যত ভীরু পুত্রগণ !
কেন করেছিলে দ্বন্দ্ব একতার সনে,
মধ্যম ভ্রাতারে ত্যাগ করিলি কেমনে,
চিরকাল জননীরে কালি রােদন ?
হায় হায় যত মনে পড়ছে আমার।
ততই হতেছে শােকে বিদীর্ণ হৃদয়,
কেন এই অভাগীর মরণ না হয়,
সহেনা সহেনা জ্বালা সহেনারে আর !!
কোথায় “সাহস” বীর দেরে দরশন ?
তয় ” সেনাপতি তােরে লয়ে গেছে বলে,
জ্যষ্ঠ সুত আয় যাদু ভাসি নেত্ৰজলে,
তােম বিনা কষ্ট পায় তৰ ভ্ৰাতৃগণ !!
ভ্রমণ করিতে ছিলে আনন্দকাননে।
মনসুখে অশ্বোপরে কার আরোহণ,
হেন কালে কাল-বর্ষা দিল দরশন,
দ্বন্দ্ব ঝড়ে তোমারে রাখিল অচেতনে ছু
দাল।
সসৈন্যে তথায় আসি ভয় বীরবর।
একাকী পাইয়া তোমা করে আক্রমণ,
করিলে তুমুল যুদ্ধ পাইয়া চেতন,
পাঠাইলে কত জনে শমননগর ।
বিবাদ পবনে আর কাল বরষায়।
তােমার সবল দেহ ছিলরে দুর্বল,
ঘেরিল অসংখ্য তাহে বিপক্ষের দল,
তাই পরাজয় হায় করেছে তােমায় !!
এমন সময় শব্দ করি হাহাকার।
দ্রুতপদে এলেন কল্পনা সহচরী,
বলেন কি কর ওমা ভারত-সুন্দরি,
ভীষণ অশনি শিরে পড়েছে তােমার !!
বাণিজ্য” নামেতে সেই যবন নন্দন।
বিকট “একতা” দাস ছিল তার সনে,
লভ্য রূপ জলযান আনিয়া গোপনে,
ওমা এদেশের লক্ষনী করল হরণ !!
অরি করে কমলারে করিতে রক্ষণ।
“ভারতমঙ্গল” নামে যেই বীরবর,
দাসত্বস্থল।
নার হতে উঠি ঘাের করেন সমর,
ভারতীয় ভ্রাতৃগণে করিয়া ভৎসন।
আহা তার আর্তরবে ভেদিল পাষাণ।
বনচর জলচর উঠিল কাদিয়া,
প্রবল বিপক্ষ-গোলা বর্ষিত হইয়া,
আৰ্য্য-গৃহ-দীপ-শিখা হইল নিৰ্বাণ !!
এই কথা শুনি দেবী কল্পনাবদনে।
বলেন “কি নাই ওমা ভারতমঙ্গল,
প্রাণ যায় কে ভেদিল মম বক্ষস্থল,
আর দেখা হবেনা মা কমলার সনে
???
বলিত বলিতে মাতা পড়েন চলির! ।
মুদিত নয়নতারা রহিত চেতন,
পাশেতে কল্পনা দেবী করেন রােদন,
অনুতাপে তনু
তার যাইছে দহিয়া।
উঠরে উঠরে যত ভারত সন্তান।
কত কাল রবে আর মুদিত নয়ন,
হৃদি হতে হিংসা দ্বন্দ্ব দেহ বিসর্জন,
লহ লহ হাতে লহ একতা-কৃপাণ ।
দাসত্বশৃঙ্খল।
নিবারিতে জননীর নয়ন আমার ।
ভারত কুশলপ্রদ হৃদয়ের ধন,
বাণিজ্য ভ্রাতাকে সবে করহ বরণ,
ইহা ভিন্ন উপায় না দেখি কিছু আর ?
?
কোথায় স্নেচ্ছের বাস হয় কি স্মরণ
কেবল বাণিজ্য দেৰে করিয়া সেবন,
কত দূর করিয়াছে শ্রবৃদ্ধি সাধন,
দেখ রে ভারতবাসী বিকাশি নয়ন।
যথ সদাগুতি করে সর্বত্র গমন।
সেই রূপ যবনের উন্নতি সাধনে,
রােপিয়! উদ্দেশ্য বীজ হৃদয় কাননে,
নানা দেশে অর্থ হেতু করিছে ভ্রমণ |
আসিল ভারতে দেখ কেমন কৌশলে ?
কেবল বাণিজ্য দেবে করিয়া সহায়,
রেখেছে অতুল কীৰ্ত্তি জনমি ধরায়,
শুদ্ধ মাত্র বিদ্যারূপ মহামণি বলে ।
রােমের আদিম দশা কররে স্মরণ।
ছিল সে সামান্য ভাবে কে চিনিত তারে,
দাসত্বশৃঙ্খল!
আধুনিক “গউডের” দশ সহকারে,
তুলনা তাহার হায় হইত তখন।
দেশের বৃদ্ধি হেতু রােমবাসিগণে।
ভাসাইয়া নানা দেশে বাণিজ্যের তার,
যশের মুকুট মাতৃভূমি শিয়ােপরি—
স্থাপিবারে, যত্ন করে ছিল প্রাণপণে।
সময়েতে কৃতকার্য হয়েছে এখন।
ওই রােমে কীৰ্ত্তিকেতু কর দরশন,-
উড়িতেছে, ধরাতে যাহার অতুলন,
পলক বিহীন হয় হেরিলে নয়ন।
শুনেছ “চীনের” নাম ভারতীয়গণ ?
অদ্ভুত ক্ষমতা ধরে পুত্রগণ যার,
এখনাে করেনি যার দাসত্ব স্বীকার,
কেবল বাণিজ্য তার প্রধান কারণ।
যে যে দেশ শ্রেষ্ঠ করিতেছ দরশন।
রুষিয়া, সিয়া, চীন, রােম মনােহর,
শােভিছে ইংলণ্ড ওই নেত্ৰ সুখকর,
বাণিজ্যই সকলের প্রধান কারণ।
দাসত্বশৃঙ্খল ।
২৯
ধিক্ ধিক্ আমাদের মানব জীবনে।
ভারত-মাতার দশা হেরিনা নয়নে,
চির কাল রব মােরা দাসত্ব-বন্ধনে,
তাহা ভাল, নাহি যাব বিদেশ ভ্রমণে ॥
আলস্য কৃপণভাব যত্নে পরিহরি।
স্বদেশে বিজ্ঞান বিদ্যা কররে প্রচার,
হয়ােনা বশবর্তী গুণি-জুগুপ্সার,
উঠাও ভারত নদে বিদ্যার লহরি।
হিংসা নিশাচর ত্বরা দেই তাড়াইয়া।
কি চাসা কি কুলবালা সবাকার মন,
বিদ্যায় বিমল জ্যোতি করুক ধারণ,
নাহি যায় যেন বৃথা সময় বহিয়া।
রাখ গুণবান মান দেই পুরস্কার।
তা হলে উৎসাহ মনে হইবে সবার,
ভারতে বিবিধ বিদ্যা হইবে প্রচার,
সুখ-সূৰ্য্য সমুদিত হবে পুনর্বার।
* নিন্দার ।
দাসত্বশৃঙ্খল।
কররে ভারতবাসী বাণিজ্য সম্বল।
উদ্ধারিতে কমলারে যত্ন কর সবে,
যত দিন জাতিভেদ আৰ্যদেশে রবে,
তত দিন পদে রবে দাসত্ব-শৃঙ্খল !!
ওরে যতনে গীত ভারত-মঙ্গল।
স্বদেশ প্রবৃদ্ধি হেতু কর প্রাণপণ,
এখন কি তােমাদের হয়নি চেতন,
এই দেখ পদে শােভে দাসত্ব-শৃঙ্খল ।
হইয়াছে সকলের শরীর দুর্বল।
অনুভাবে বােধ হয় হিংসার পীড়নে,
করিয়াছ দ্বন্দ্ব সবে একতার সনে,
তাই পদে শােভে ওই দাসত্ব-শৃঙ্খল !!
বিদেশ গমনে সবে কি হেতু বিকল।
নাহ ভ্রাতাকে যত্নে কররে বরণ,
নতকাল রবে আর পশুর মতন,
ওই দেখ পদে শােভে দাসত্ব-শৃঙ্খল!
ইতি একাদশ দর্শন।
দ্বাদশ দর্শন।
প্রতিনি।
t
বিমান আসনে কেও আসীনা সুন্দরীরে,
রূপের প্রভায়।
করিতেছে তম দূর, উঠিছে মধুর সুর,
রূপসীর অধরেতে মােহন বীণায়।
আমরি সুন্দরী ও কি রাগিণী বাজায় ?
থেমনা থেমনা শুভে বাজাও আবার গো,
কোমল অধরে।
ললিতে আলাপ করি, করেতে বাঁশরি ধরি,
ধ্বনিত করহ তুমি হিন্দুর অন্তরে।
কাননে, নগরে আর পর্বত গহ্বরে।
উঠিল চপলা বাল ত্যজিয়া আসন রে,
দ্রুতব্লেগে ধায়।
কখন আকাশে উঠে, কভু ধরপরে ছুটে,
দাসত্বশৃঙ্খল।
অনুরনাশিনী যেন রণমাঝে হায় !
উলঙ্গিনী অসি করে নাচিয়া বেড়ায় ।
ওই যে করুণ স্বরে করিছেন গানরে,
ভারত-জননি!
কেন কর হাহাকার, না পাবে সে দিন আর,
শােভিবে না তব ভালে সুখদিনমণি।
চিরকাল রােদনেতে ভিজাবে অরনী !!
এখন তােমার দেবি ! এই প্রার্থনার গাে,
যেন ধরায়।
শেষের সে দিন আসি, সমস্ত ফেলুক নাশি,
নগর, ভূধর, হয়ে যাক জলময়।
কালের করেতে সব জীব হাে লয় ।
কীলাল গর্ভেতে দেবি হউক তােমার গো,
আবাসের স্থান।
নাহি দেখি কোন প্রাণী, শােক, দুঃখ নাহি জনি
শান্তিই পরম সুখ হবে অনুমান।
জগদীশ গানে তব মগ্ন হবে প্রাণ।
দাসত্বশৃঙ্খল ।
৮৩
এত বলি নীরবিলা ভুবন মােহিনীরে,
ঝরিল নয়ন!
কর চ্যুত হলাে বীণা, অবলা শােকেতে ক্ষীণা
অসিত হইল আহা হর্মিত বদনা-
সিক্ত হলো নেত্ৰনীরে হৃদয়-বন !!
ইতি দ্বাদশ দর্শন।
ত্রয়ােদশ দর্শন।
বিদায়।
ভাে বিভো! এ দাস আজি করি কৃতাঞ্জলি,
নমিয়া উদ্দেশে চাহিতেছে অবসর।
মরু, তরু, ষড়ঋতু যা দেখি সকলি,
প্রকাশে মহিমা তব ওহে সৃষ্টিকর।
কোথা হে হিরণ্যগর্ভ পতিতপাবন,
নামলাম তব বলে এভব আসরে।
কবিতার শশী করে করিয়া গ্রহণ,
বামন হইয়া দিনু পাঠকের করে ।
করেছ ভারতচন্দ্রে যেই রুচি দান,
কিন্তু দেব সেই রুচি নাহিক আমার ।
নাহি চাহি হতে আমি তাহার সমান,
অন্য রুচি দেহ মােরে ওহে বিশ্বাধার !!
সঙ্কীর্ণ হৃদয় মম সঙ্কীর্ণ মানস,
নাহি চাহি “বটতলা” কবির আসন।
দাসত্বশৃঙ্খল।
৮৫
“তাহাদের প্রধান সম্বল আদিরস,
সে রস রসনা করিবে না আস্বাদন।
ওহে মনােময় মনে কত ভাব ধর,
নীরস বিশাল পত্রহীন তরুগণে।
মহিমায় ফল ফুলে অবনত কর,
কি অসাধ্য ভবারাধ্য তব ত্রিভুবনে ?
এই দেব ! নিরামলে দাসত্ব-শৃঙ্খল,
উপলক্ষ মাত্র তুমি করিয়া আমায় ।
বলিতে পারিনা কাৰ্য্য হবে কি সফল,
পঙ্গুতে লজায় গিরি তােমার কৃপায় ।
ইতি ত্রয়ােদশ দর্শন।
সম্পন।
..
দাসত্বশৃঙ্খলের এয়ােদশ দর্শন পৰ্য্যন্ত।
করিলাম। ইহাতে উত্তম কল্পনা শক্তি ও কবিত্ব
শক্তি প্রদর্শিত হইয়াছে; যদিও ইহার কোন কোন
অংশ পরিবর্তসহ তথাপি ইহা উৎকৃষ্ট বাঙ্গালা
কাব্য মধ্যে পরিগণিত হইতে পারে। ইহা *
মুদ্রাঙ্কিত করিয়া ইস্কুলের পাঠ্য পুস্তক করিয়া দিলে
বালক বালিকাগণের পক্ষে অনেক উপকার হইবার
সম্ভাবনা ইতি।
এই পৌষ ১২৮০।
পুরাণ প্রকাশ যন্ত্র
মাণিকতলা ষ্ট্রীট নং ৭৯। জগনােহন শৰ্ম্মা।
দাসত্বশৃঙ্খল কাব্য খানির আমি আদ্যোপান্ত
পাঠ করিয়া নিরতিশয় পুলকিত হইলাম, ইহা ১ম
হইতে ১৩শ অধ্যায়ে সম্পূর্ণ, এই কাব্য খানি
পৰ্যালােচনা করিয়া দেখিলাম ইহা কোন গ্রন্থ
হইতে সংকলিত বা সংগৃহীত নহে গ্রন্থকারের
স্বকপােল কল্পিত এবং ইহাও মুক্তকণ্ঠে স্বীকাৰ্য্য
যে সুকুমারমতি বালক বালিকাগণের এক খানি
উপযােগী পাঠ্য পুস্তক হইল।
ইত্যলং ১৩ই মাঘ
খড়দহ
শ্ৰীযােগীন্দ্রনারায়ণ বসু।
কৈলাসচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক মুদ্রিত।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.