Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Geetangshuk Ed. 1st
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
শীতাংশুক মমতা মিত্র
No text on this page.
গীতাংশু
শ্রীমমতা মিত্র
দাম এক টাকা
উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
বিচিত্রা নিকেতন লিঃ
২৭১, ফড়িয়াপুকুর স্ট্রীট, কলিকাত'
প্রথম সংস্করণ
ফাগুন, ১৩৪৩
শনিরন প্রেস, ২৫২ মােহনবাগান মাে,
কলিকাতা হইতে প্রবােধ নান কর্তৃক মুদ্রিত
উৎসর্গ
শ্ৰীমতী মনীষা ও শ্ৰীমতী আরতি দত্ত
প্রাণ-প্রতিমা
সুচী চ ••• ••• ৮ । ৫। । . . ••• ২৯ . . . ০ ০ ০ ••• ••• অমন ক'রে চেও না ওই আজ অমল স্নিগ্ধ সুনীল আজ ফাগুনের পূর্ণিমাতে আজকে আমার ফুল -কাননে আজ কী আবেশ হেরি আজি সব ভােল পােল আলােক লভি' সূৰ্য্যমুখী আসিব ব'লে ওই যে বাঁকা আজিকে তনু ঘিরে আমি শুনব না তাে কারও কথা উৎসবেতে দিলেম কারে এদিক ওদিক যাস নে কেবল একটি দুটি করে তােমার এলে তুমি জীবনে মাের এস প্রিয়ের ঘরে . এ . s so ৪৩ ৮ ••• ••• ৬. ১১ ০ ০ ০ ৮০ ৩ ৫ ০ ০ একে একে সব কামনা ৬৭ ০ ০ ০ ওরে কারে দেখে শারদপ্রাতে ০ ০ ০ ও বন্ধু গাে আমার ••• ৩৭ ১৩ ••• r pp ৩ ••• ৬ ৫. . ••• ••• কালাে গগনের বক্ষ ভেদিয়া কাটুল বুঝি বিরহেরি কুসুম-ছাওয়া পথ দিয়ে আজ কেমন করে জীবন আমার গভীর রাতে টুটিল ঘুম গেলে তুমি বাদল-রাতে ঘুমিয়ে আছ তুমি যে আজ ঘুমের মাঝে পরশ পাই চারু চামেলি-রাশি চাও যদি গাে দূরে দূরে জানি মনে কাছে পাওয়া ১৪ . . . . ০ ০ ০ ••• ••• ••• ••• ••• ••• ••• ৪১ ••• ১ ••• ২৮ ••• তুমি আমার কল্পনা যে তুমি তাে মগন ছিলে তােমার কাছে বন্ধু আমি তােমার কাছে গােপন করে তােমায় আমায় অনাদি কাল তােমায় খুঁজে অন্ধ হল তােমায় ছেড়ে যাব এবার। ... ••• ০ ০ ০ ০ ০ ০ ••• ৬১ থাল গতি কোন্খানে তার • ০০৮ per ••• ••• দিন শেষে রবি নিলে ছুটি দুরে যত যাও গাে সরে দূর হ’তে বারে বারে দুঃখ, তােমায় ভক্তি ভরে • ০০০ ৪১ ৭১ ০ ০ ০ ১২ নয়ন আড়ালে যে বারি নতুন করে হােক পরিচয় নিশীথে চলে হিমেল বায় ২৪ ৫০০ ••• . ৫। ০০ ১২ পরশনে কার কোমল কমল পরাণ তব রইল ঘিরে পরাণ-পুরে যে সাধ-মুকুল পাঠালে কোন্ সুদুর হতে ফিরায়ে মুখ থেক না আর বন্ধু যদি না এল তাে বাদল শেষে শরৎ বুঝি বাহির থেকে দুঃখ যত ভাবিস তােরা একলা দিবস ০ ০ ০ ৪৪ • ০ ০ ৫ ০ • ০ ০ ০ ৩ মনের কথা মনমহলে মিলিয়ে আছে নিরালা মাের এ ০ ০ ৪৭ যদি আমার জীবন মাঝে যেমন আছ নীরব হয়ে যে কালিমা ছিল আমার এ ০০ ৫ 92 ২ লােকের কাছে বুকের বেদন ••• •••
২০
০০০
•••
১৮
০ ০ ০
+ + ১
শরৎ-প্রাতে আলােক ফোটে
শারদ-মধু-সাঁঝে
এবণ-রজনী ধীরে
শিশির ভেজা চরণ ফেলে
সহসা যেটুকু কাছে এসে
স্বপনে যার মধুর বাণী
স্মরণ আমি করব না তাে
স্তব্ধ রাতে চিত্ত আমার
সে নাই মেলিল চেতন-লােকে
•••
১৪
•••
৪৮
৬
০
হ’ল যে মাের অহঙ্কারের
হারাই নি তােল তারে আমি
ধূসর
সাঝে
* ৪
n. b
No text on this page.
গীতাংশুক
১
তুমি আমার কল্পনা যে
স্বপন অভিনব,
তােমার মাঝে হারিয়ে গিয়ে
সফল আমি হব।
আমার প্রাণের পুলক-রাশি
হবে তােমার মুখের হাসি ;
বন্ধু, তােমার দুটি চোখের
দৃষ্টি হয়ে বুব।
গীতাংশুক
কবিতা-ফুল অর্ঘ্য হয়ে
পড়বে তােমার পায়ে,
গীতাংশুক যে যতন করে
জড়াব ওই গায়ে।
কণ্ঠে তােমার হব গাে সুর,
চিত্তে হব আবেশ মধুর ;
জীবন মরণ দুবে আমার
চলার ছন্দে তব।
২
গীতাংশুক
২
পরাণ তব রইল ঘিরে
কঠিন আবরণ,
কী আছে ওর অন্তরালে
জাতে যে চায় মন।
কতই ঠেলি দুয়ারে ওই
আগল তবু খুলল গাে কই ?
হৃৎ-মৃণালে প্রাণের কমল
নিদ্রা-অচেতন।
ব’তে চাহি যে বাণী তাই
যত্নে আবার ঢাকি,
দেখব বলে চাইতে গিয়ে
লাজে ফিরাই আঁখি।
হে প্রিয়, আজ শুভক্ষণে
প্রীতির মুকুল ফুটুক মনে,
আমার প্রাণে মিলাও তােমার
প্রাণের পশন।
গতংক
L।
মনের কথা মন-মহলে
লুকানন যে রইল না,
হিয়ার মণি হৃদয় মম
বইল না রে বইল না।
কেমন করে গােপন বাণী
নয়ন তােমার নিল টানি,
আমার নিধি আমারে আর
সােহগে তাে সইল না,-
লুকানাে যে রইল না।
সাতরাজারি মাণিকটিরে
রেখেছিলেম অন্তরে,
লীলা ভরে নিলে তারে
মােহন তােমার মন্তরে।
হৃৎ-কমলের পাপড়ি খুলে
তােমারি ওই শ্রবণ-মূলে
সুধায় ভরা কথাটি কি
তােমারে সে কইল না?
লুকানাে যে রইল না।
গীতাংশুক
৪
তােমার কাছে, বন্ধু, আমি
চিরনূতন রব,
ক্ষণেক ভরে অবসাদে
ভ’ব না মন তব।
শরৎ যেমন খামখেয়ালী
এক ভাবেতে রয় না খালি,
তেমনি আমি নিত্য-নবীন
লীলা-চপল হব।
বুঝতে তুমি পাবে না তাে
কী রবে মাের মনে,
থাক্ব ঢাকা রহস্যের
নিবিড় আবরণে।
আলো ছায়ার মােহন মায়ায়
রব ঘিরে সদাই তােমায়,
রােজ প্রভাতে দেখবে তুমি
মূরতি মাের নব।
গীতাংশুক
ঘুমিয়ে আছ তুমি যে আজ
সুখের শয়ন পাতি’,
এমনি করে তােমার দ্বারে
জাগব সারা রাতি।
‘আমি
ঘুমের ঘরে ওই অধরে
হাসির কুসুম ফুটলে পরে
তাই দিয়ে গাে স্বপন-মালা
যত্নে লব গাঁথি।
বিবশ হয়ে চাদের আলাে
লুটায় আঙিনায়,
বিভল বাতাস সকল দেহে
পরশ করে যায়।
বারেক তরে জানবে না’
কারে তুমি জাগিয়ে রাখ,
নিদ্রাহারা নয়নে কার
জ্বলে প্রেমের ভাতি
গীতাংশুক
তােমার কাছে গােপন করে
কিছুই নাহি রাখব,
যেমন আমি তেনি রূপে
পাশে তােমার থাব।
আমায় তুমি দেখতে পাবে
দোষে গুণে এনি ভাবে
অন্ধকারের আবরণে
হৃদয় নাহি ঢাকব।
মুকুলিত জীবন মম
দিলেম পায়ের পরে,
খােল, খােল পাপড়ি তাহার
এটি একটি করে।
আপন হতে দিনে দিনে
আমায় তুমি লবে চিনে,
তােমার প্রীতির পরগ আমি
সকল দেহে মাখব।
গীতাংশুক
পরাণ-পুরে যে সাধ-মুকুল
পাপড়ি মেলে তার
আজ নিশীথে, বন্ধু, তােমায়
জানাই বারেবার।
-
প্রিয়, তুমি আমার দিকে
চাও হে যদি অনিমিখে—
দৃষ্টি আমার দেখবে কেবল
আঁখির কিরণ-ধার।
চিত্ত মম তৃষায় আকুল
মধুর সােহাগ লাগি,
তােমারি কর-পল্লবেরি
পরশ শুধু মাগি।
জ্যোৎস্না লুটায় এই কাননে,
স্নিগ্ধ মায়া ঘনায় মনে ;
বন্ধু, খােল গােপন তােমার
মন-মহলের দ্বার।
গীতাংশুক
ফিরায়ে মুখ থেকো না আর
নিবিড় অভিমানে,
তােমায় আমি দিলেম কিব
বলব মৃদু তানে।
মূল্য দিয়ে উজল বরণ
দিই নি তােমায় মাণিক রতন,-
দিলেম একে হৃদয়খানি
মােহন গানে গানে।
কেউ জানে না তােমার তরে
কী ধন আমি আনি,
তােমার কথায় উঠল ভরে
আমার কাব্যখানি।
জালিয়ে হিয়ার গন্ধ-ধূপে
আঁকি তােমায় নানা রূপে
সেই নিধি মাের অঞ্জলি যে
বলব কানে কানে।
১
গীতাংশুক
দূরে যত যাও গাে সরে
নিকট তােমার ততই হই,
প্রাণ মিশেছে তােমার প্রাণে--
ফাকি দিতে পারলে কই ?
কাছে থেকে চোখ ভুলালে
তােমার উজল আঁখির আলাে,
তখন কিছু চাই নি যে আর
শুধু তােমার পরশ বই।
নিকষ কালো মেঘের কোলে
আলােক-লতা লুকিয়েছে,
নাই রে পাশে সে আজ যে-জন
নয়ন আমার ভুলিয়েছে।
হয়েছে শেষ চোখের খেলা,
এল প্রাণের মিলন-বেলা
পেয়েছি যে নিবিড় ভাবে,
আর তাে আমি রিক্ত নই।
১•
গীতাংশুক
এদিক ওদিক যাস্ নে কেবল
কেমন থােকা তুই,
আয় রে কাছে সােহাগে তাের
কোমল তনু ছুই।
ডাগর দু’টি কমল চোখে
মিষ্টি চেয়ে ভােলা লােকে,
তাের হাসিতে ঝরে পড়ে
বকুল বেলা যুঁই।
উষার প্রথম কিরণ-কণা
তুই কি মােদের ঘরে?
মায়ের কোলে এলি রে তুই
কোন্ দেবতার বরে ?
ভাবনা জাগে মনের মাঝে
এই দেখি এই দেখি না যে
সােয়াস্তি নাই দিনে রাতে;
কোথায় তােরে থুই?
১১
গীতাংশুক
১১
পাঠালে কোন্ সুদূর হতে
আজি আমার দ্বারে
তরুণ তােমার প্রাণের ভীরু
লাজুক বাসনারে।
থাকি আঁখির অন্তরালে
অন্তরেতে দীপ কে জ্বালে ?
ভকতি-ফুল কে গাে আমায়
দিলে অঝোর ধারে ?
চাপার গন্ধে মাতাল দিনে
হঠাৎ-পাওয়া নিধি-
তুমি আমার ভাইটি চাপা,
আমি পারুল দিদি।
মধুর তােমার আবেদনে
ঘনায় হরষ আমার মনে,
উছল স্নেহে তােমারে “ভাই”
ডাছি বারে বারে।
১২
গীতাংশুক
কালো গগনের বক্ষ ভেদিয়া
দামিনী চমক হানে,
মত্ত বাতাস কোন্ বিরহীর
বেদন বহিয়া আনে।
তরুণী তটিনী আজি চঞ্চল,
কেঁপে কেঁপে জাগে ঢেউ উচ্ছল,
গভীর রজনী--আঁধার অতল
বিরাজিছে সবখানে।
কত যুগ যুগ সঞ্চিত ব্যথা
অশ্রু আকারে, হায়,
মেঘ-দল হ'তে পড়িছে ঝরিয়া
আজি ধরণীর পায়।
এ-ঘাের নিশীথে শুনি কিঙ্কিণী,
কে গাে নদী-কূলে এলে একাকিনী ?
কলস ভাসায়ে হে অভিসারিনি,
কোথা যাবে কার টানে ?
গীতাংশুক
গেলে তুমি বাদল রাতে
উতল সমীরণে,
জালে না কী বালা করে
ছিল আমার মনে।
অন্ধকারের বক্ষখানি
আমার বেদন বইল জানি,
ব্যথায় মম মেতেছে রাত
আকুল বরষণে।
সেদিকারের দুঃখ আজি
স্বর্ণ হ’ল কি রে ?
চঁদের আলো হেসেছে ওই
নিশার তিমির চিরে।
হৃদয়-পুরের সাত-মহলে
লক্ষ পুলক-মাণিক জ্বলে,
বরণ করে নিলেম তােমায়
চিত্ত-সিংহাসনে।
১৪
গীতাংশুক
১৪
---
গভীর রাতে টুটিল ঘুম
নয়ন মেলি’ জেগে
শুনেছি ওই গগন মাঝে
মাদল বাজে মেঘে।
কে যেন এই বৃষ্টি-জলে
নাচেরি সুর বাজিয়ে চলে,
ছন্দে তারি চিত্তে মম
লাগিল দোল বেগে।
বারিধারার পরশ লাগে
কদম-কেয়া-বুকে,
ভিজে মাটির গন্ধখানি
আকুল হ’ল সুখে।
নিবিড় ঘন শ্রাবণ-রাতে
স্বপন নামে আঁখির পাতে,
হরষ জাগে হৃদয়-তলে
সজল বায়ু লেগে।
গীতাংশুক
বাদল শেষে শরৎ বুঝি
এসেছে আজ প্রাতে,
পূরব-লােকে দুয়ার খােল
রবি আপন হাতে।
রাতের ঘন আঁধার টুটি
সােনার আলাে উঠছে ফুটি,
নবীন বেশে নিখিল-ধরা
বিপুল সুখে মাতে।
শয়ন পাতে শিউলিগুলি
সবুজ তৃণ-কোলে,
বনেরি ওই আঁচলখানি
শিশির-ভরে দোলে।
যে-জন আছে সুদূর-পুরে
তাহার লাগি পরাণ ঝুরে,
উদাস মম নয়ন দুটি
মগন বেদনাতে।
১৬
গীতাংশুক
আজ অমল স্নিগ্ধ সুনীল বরণ
আকাশ দেখি যে,
কে সুন্দরী আলস ভরে
আঁচল বিছিয়েছে।
শুভ্র শুচি মেঘের মেলা
দেখছি যে রে সারা বেলা,
ওই আঁচল-ঝরা রশ্মি-রাশি
নয়ন ভুলিয়েছে।
হাসূলে পরে মাণিক কুড়ােয়
মত্ত ধরণী,
অভিমানে মুক্তো ঝরে
ভেজায় সরণী।
ওর
খেয়ালী ও জানিস নাকি ?
আপনাকে সে রয় না ঢাকি,
শরৎরাণী হাসির আমেজ
ওষ্ঠে ফুটিয়েছে।
১৭
গীতাংশুক
১৭
শিশির-ভেজা চরণ ফেলে
কনক-রঙা আঁচলখানি
লুটিয়ে ভূয়ে কে আজ এলে?
অরুণ-আলো সােহাগ ভরে
তরুণ তৃণ পরশ করে,
সলিল ভারে অলস নদী
বইছে ধীরে উজান ঠেলে।
বিদায় নিল বাদল আজি,
ধরার দ্বারে শরৎ এল
ভরিয়া তার ঋতুর সাজি।
শেফালি আর কাশের রাশে
অমল মিঠা সমীর ভাসে,
সুনীল বেশে গগন চাহে
বৃষ্টি-বােয়া নয়ন মেলে।
গীতাংশুক
১৮
ওরে
কারে দেখে শারদপ্রাতে
ফুল্ল ধরণী,
এই ঘাটে কার ভিড়েছে আজ
সােনার তরণী।
রাঙা পায়ের আলতা-রাগে
মুগ্ধ ভুবন আজ যে জাগে,
পরশে ওর সরস হল
সকল সরণী।
তারি
ওগাে
হাতে
নয়ন দু’টির আলাে সবার
ভােলায় আশঙ্কা,
দশ প্রহরণ নয় রে--ও যে
জয়েরি ডঙ্কা।
ওরই হাসির কিরণখানি
কইছে কানে আশার বাণী,
শরৎ-কোলে পায় রে শােভা
হিরণ-বরণী ।
ওযে
গীতাংশুক
১১
শরৎ-প্রাতে আলােক ফোটে
মেঘের ফাঁকে ফাঁকে,
শিউলি তারি বরণ লাগি
আলপনা যে আঁকে।
সােনার আলাে অঙ্গে মেখে
কে ওই আসে সুদূর থেকে
দেখ না চেয়ে নাম ধরে ও
তােরেই যে রে ডাকে
রবির আলাে চমক হানে
দু’টি নয়ন-পাতে,
জীয়ন-কাঠি মরণ-কাঠি
দু’খানি ওর হাতে।
দু’ধারে ফুল ফুটিয়ে চলে,
আশার বাণী ওই তাে বলে,
অর্ঘ্য দে রে চরণে ওর
আজিকে আপনাকে।
২
গীতাংশুক
শারদ মধু-সাঁঝে মনোেমাঝে তুমি জানি
মােহন নব আশা ভালবাসা দিলে আনি।
নয়ন ঘিরে তব অভিনব আছে মায়া-
আমার দু’টি আঁখি নিল মাখি’ তারি ছায়া।
নিমেষ হয়ে হার আঁখি-তারা বলে বাণী,
মােহন নব আশা ভালবাসা দিলে আনি।
মনের কথা কত অবিরত ফেলে শ্বাস,
হয় না সে যে তবু মুখে কভু পরকাশ।
তােমার আঁখি দু’টি আছে ফুটি’—ঢালে আলাে,
সােহাগ দেয় স্নেহে মাের দেহে-বাসে ভালাে।
ভাষা যে নাহি চলে, আঁখি বলে কথাখানি,
রঙিন নব আশা ভালবাসা দিলে আনি।
গীতাংশুক
হেমন্তেরি
ধূসর
সাঝে
নতুন পথে চলি,
যাবার বেলায় বন্ধু, তােমায়
একটি কথা বলি,
ছিলে আমার মনের মাঝে
সেই কথাটি জালে না যে,
দেখলে না তাে দিয়েছিলেম
প্রাণেরি অঞ্জলি।
অনেক কিছু বোেঝর ছিল
লও নি তুমি বুঝে,
মনের কথা চোখের কোলে
পেলে না হয় খুজে।
বিদায়-দিনে
চুপে চুপে
দিলেম হৃদয় অর্ঘ্যরূপে,
হয়তো নিজের অগােচরে
যাবে গাে তা’য় দলি।
-২২
গীতাংশুক
২২
এটি দু’টি করে তােমার
হােক না বাতি জ্বালা
কোমল হাতে আজকে সাঝে
উজাড় করে ডালা।
গৃহের দ্বারে আঙন পরে
সাজাও বধূ যতন ভরে
গগন-বুকে তারার মত
শােভন আলাে-মালা
আজ নিশীথে আঁধার যেন
রয় কোনখান,
সকল কোণে ফিরিয়ে আঁখি
প্রদীপ কর দান।
দীপান্বিতা আজ যে ফিরে,
আলাও আলো জ্বালাও ধীরে,
তামসী-রাত উজল রূপে
উঠুক হয়ে আলা।
গীতাংশুক
নিশীথে চলে হিমেল-বায়,
চামেলি-বাস-বিভােল রাতি
স্বপনে কী যে কহিতে চায়।
তােমারে দেখি’ ঘুমের মাঝে
ঘরেতে মন রহিল না যে,
কে যেন মােরে ডাকিল “আয়”।
তাই তাে তব দুয়ার-তলে
জানাতে চাহি গােপন কথা
বীণার তারে গানের ছলে।
খোল গাে দ্বার, খােল গাে খােল,
আমার পানে নয়ন তােল,
আবেশ-ভরা নিশি যে যায়।
২৪
গীতাংশুক
২৪
আজ ফাগুনের পূর্ণিমাতে
এল আবার দোল,
সরম ভুলে, হৃদয় আমার,
ঘােষ্টাখানি খােল।
আবীরে আর কুঙ্কুমেতে
শিথিল হিয়া উঠল মেতে,
এই ধরণীর চিত্ত-বীণা
ব’ছে শােন্ কী বােল।
সব রমণী লাগায় যে রঙ
প্রিয়জনের গায়ে,
আমি দিলেম প্রাণেরি রঙ
আমার প্রিয়ের পায়ে।
পেয়ে যাহার প্রেমের পরশ
পরাণ মম রঙিন সরস---
তারি চরণ মন রে আমার
রাঙিয়ে আজি তােল।
৩
গীতাংশুক
২৫
দিন-শেষে রবি নিলে ছুটি
সন্ধ্যার অঞ্চল-ছায়ে
ঘুম ভেঙে মােরা সবে উঠি।
হর্ষের রসাবেশে মাতি’
সব মনে মায়া-জাল গাঁথি,
বিশ্বের অঙ্গনে গন্ধের সম্ভার
আনি মাের বন্ধন টুটি।
মধু-ভার হৃৎ-কোষে রাখি’
দিন-ভর নিদ্রায় থাকি।
চঞ্চল চৈতালী নিশি
মন্থর হয় বাস মিশি’,
কলি মােরা হামুর
সৌরভে
ভরপূর
নিখিলের অন্তর লুটি।
২৬
গীতাংশুক
আজকে আমার ফুল-কাননে
দখিন হাওয়া বয়-
পাবে সে কি যুথী বেলার
প্রাণের পরিচয় ?
নীলাকাশে তারায় তারায়
যে কথা হয় নীরব ধারায়--
সেই বারতা জাগায় নেশা
আমার চিত্তময়।
রূপালি রঙ মেখে কে আজ
আলাের মুঠি হানে?
এমন রাতে মনের কথা
কইব তােমার কানে।
আজকে প্রিয়, এই নিরালায়
রব কেবল তােমায় আমায়,
লব বুঝে প্রাণে তােমার
লুকিয়ে কী যে রয়।
২৭
গীতাংশুক
২৭
তুমি তত মগন ছিলে
আপন ধ্যানের মাঝে,
কার আগমনী আজ
সহসা হৃদয়ে বাজে ?
একে একে মেলে দল
তব প্রাণ-শতদল,
কারে স্মরি’ মুখ তব
রাঙা হ’ল মধু-লাজে ?
পুণ্য তিথি যে আজ
মিলনের কথা আনে,
স্বপন-জড়ানাে আঁখি
তােল ধীরে ওর পানে।
কত না দিবস ধরে
কামনা করেছ ওরে,
সেই এল দ্বারে তব
অতুল মােহন সাজে।
২৮
গীতাংশুক
২৮
আজ কী আবেশ হেরি তােমার
বিভােল দু চোখে ?
চিত্ত-তলে রক্ত-ধারা
উতল পুলকে।
আজিকে কোন্
উৎসবেতে
সাজলি মালায় চন্দনেতে,
কুসুম শােভে কাজল-কালাে
শিথিল অলকে।
তরুণ-বুকে
কিশােরী-প্রেম
ফিরত গুঞ্জরি,
আজকে সে কার পরশ-আশায়
উঠল মুঞ্জরি'।
যে ছিল তাের গােপন ধ্যানে
তারেই
বধূ,
পাবি প্রাণে,
সলাজ নয়ন তুলিয়া দেখ,
অতিথ এল কে।
গীতাংশুক
কুসুম-ছাওয়া পথ দিয়ে আজ
আয় গাে বধূ আয়,
আক্তা-পরা পায়ের পরশ
পড়ুক আঙিনায়।
অচিন-ঘরে নবীন এলে
প্রাণে আশার প্রদীপ জ্বেলে,
সে ভবনে বহাও তুমি
দক্ষিণেরি বায়।
ঘুম-দেশেরি রাজকুমারী
নিদ্র-মগন ছিলে,
সােনার কাঠি ছুইয়ে কে ও
জাগিয়ে আজি দিলে ?
জন্ম জন্ম কতই ও যে
কাটাল গাে তােমার খোঁজে
কোমল রঙিন চোখে সে আজ
তোমার পানে চায়।
গীতাংশুক
পরশনে কার কোমল কমল সম
মেলিয়াছে দল সকল হৃদয় মম।
এ কি সুধা ঝরে
মাের প্রাণ পরে।
নিখিল ধরণী লাগে চোখে নিরুপম।
রহি’ রহি’ আজি আমার পরাণ মাঝে
পুলক-মধুর আগমনী কার বাজে।
যে ফিরেছে খুঁজি
সেই আসে বুঝি
জীবন-মাঝারে জৗবনের প্রিয়তম।
৩১
গীতাংশুক
৩১
এলে তুমি জীবনে মাের
পরম বরণীয়,
হৃদয় মম প্রণমে ওই
চরণ রমণীয়।
মানস-লােকে মিলিয়ে ছিলে—
রূপ ধরে আজ দেখা দিলে ;
পরাণ হ’তে বাহির হয়ে
এলে পরাণ-প্রিয়।
চাদের আলাে বসন হয়ে
জড়িয়ে তােমায় ধরে,
মধ্য দিনের তপন হল
কিরীট ললাট পরে।
বসন্তেরি লাবণ্য যে
ঘুরে ফিরে তােমায় খোঁজে,
মুগ্ধ আমি তােমার রূপে
অনির্বচনীয়।
৩২
গীতাংশুক
আজি সব ভােলাে, ভােলাে,
নিমীল নয়ন-পাতা
ক্ষণেকের তরে খােলদা
অবগুণ্ঠনখানি
মন হ’তে ফেলল টানি’,
মরমের কথা তব
কানে কানে আজি বলে।
যত কথা আছে মনে
আভাস ফুটুক্ তার
ওই দু’টি আঁখি-কোণে।
নয়নের জলে মিশি’
গেছে কেটে কত নিশি,
আঁধার জীবন মম
আলাে দিয়ে ভরে তোেলল
গীতাংশুক
অমন করে চেয়াে না ওই
মােহন আঁখি-কোণে,
আড়াল কর প্রদীপখানি,
সরম লাগে মনে।
নিভিয়ে ফেল নিলাজ আলো,
আঁধার মাঝে ফুটবে ভালাে
নিলীন আছে যে-কথাটি
আমার হৃদয়-বনে।
যে বাণী মাের প্রধান হয়ে
হিয়ার মাঝে জাগে--
আললা তারে ঢাতে চাহে,
আঁধার তারে মাগে।
উজল বাতি নিভে গেলে
পরাণখানি ধরূব মেলে,
অন্ধকারে মনের কথা
শুনাে সঙ্গোপনে।
৩3
গীতাংশুক ৩৪ সহসা যেটুকু কাছে এসে পড়ে জেনেছি তুচ্ছ নয়, তনু মন ঘিরে মধুর পুলকে অমৃতের ধারা বয়। এই যে কেমনে তােমার আঙুলে অঙ্গুলি মম জড়ায়েছে ভুলে, সে পরশ তব পরাণে আমার করে মােহ সঞ্চয়। == তব আঙুলের যে কথা মনের কোরকেতে ছিল- হয় নাই পরকাশ, ঈষৎ ছোয়াতে আজি সে যে পেল ভাষ যে বাণী ফোটে নি অধরে কখন, পাছে দেখ ভয়ে তুলি নি নয়ন, সে বার সাথে সহজে আজিকে হ’ল তব পরিচয়।
গীতাংশুক
৩৫
যেমন আছ নীরব হয়ে
এই তো প্রিয় ভালাে,
শুধু নয়ন হ’তে নয়নে মাের
প্রীতির কিরণ ঢালল।
নাই বা তুমি বলে বাণী,
তবু বুঝব তােমার চিত্তখানি,
নীরবতার অন্ধকারে
পাব উজল আলাে।
কথায় শুধু বাড়ে তিয়াস
মন যে ভরে নাকো,
প্রাণের কথা ঢাকি প্রাণে,
তুমিও তারে ঢাকো।
এই যে আছ আমার পাশে
আনন্দে আজ হৃদয় হাসে,
সকল কথাই নিলেম বুঝে,
ঘুচল মনের কালাে।
গীতাংশুক
বন্ধু গাে আমার,
খেয়াল মত বাজাও মম
পরাণ-বীণার তার।
জীয়ন-কাঠি ছুইয়ে দিলে
অসাড় জীবনে,
তাই তাে আবার ফুল আলাে
আমার ভুবনে।
আশা-মুকুল নতুন করে
জাগে মনের ধার,-
রঙ ধরলে প্রাণের 'পরে
তুমি দোসর-সার।
গীতাংশুক
তােমায় আমায় অনাদি-কাল
এনি
পরিচয়,
প্রণয়-ধারা আমার বুকে
ফল সম বয়।
কী ধন বহি মনের মাঝে
বাইরে কেহ জানে না যে ;
“এত পুলক কিসের তরে”
বন্ধুজনে কয়।
রূপে রসে ভরা ফাগুন
সবার মুখে শুনি,
কেউ জানে না বক্ষে মম
বাজে কী ফানী।
গােলাপ রঙিন লােকে বলে-
চিত্তে আমার যে প্রেম জ্বলে
তাহার রঙে রাঙা গােলাপ
মানে পরাজয়।
গীতাংশুক
৩
আলােক লভি’ সূর্যমুখী
চায় রে চোখ,
প্রিয়ের ছোঁয়ায় উজল তাহার
মরম-লােক।
তােমার আঁখি তেমনি করে
আলােয় আমায় দিক্ না ভরে,
কাটুক্ নিশা,-হৃদয়-পুরে
প্রভাত হােক।
অন্ধকারে করে ভুবন
আলাের ধ্যান,
ফুটলে উষা সবিতা দেয়
নতুন প্রাণ।
তেমনি তােমার আবির্ভাবে
কিরণে মন ছেয়ে যাবে,
স’বে দূরে সকল তিমির
দুঃখ শােক।
৩৯
গীতাংশুক
চারু চামেলি-রাশি
মেলিছে আঁখি,
সুরভি-সুধা মােরে
যায় যে ডাকি।
নিখিল-হিয়া-পাতে
স্বপন-মালা গাঁথে,
আবেশ দেয় ও যে
নয়নে আঁকি।
গন্ধ মাখি’ বায়ু
পুলকে ফিরে,
মায়ায় ঘেরা রাতি
বাড়িছে ধীরে।
কব না আজি কথা,
মধুর নীরবতা,-
তােমার হাতে শুধু
হাতটি রাখি।
-
গীতাংশুক
দূর হতে বারে বারে
ছুয়ে সে যে যায় চলে,
চরণের ধ্বনিখানি
হিল্লোল বুকে তােলে।
আবেশ জাগায় প্রাণে,
নয়নে স্বপন আনে,
চকিত
মধুর
হাসি
সমুখে আমার দোলে
ভােরের আকাশে চেয়ে
তারি মুখ মনে জাগে,
রঙিন প্রভাতে যেন
তাহারি পরশ লাগে।
সুদূর বাঁশীর স্বরে
পরাণ কেমন করে,
বাতাসে দিয়েছে ধরা
যে কথা যায় নি বলে।
৪১
৪
গীতাংশুক
৪১
নয়ন-আড়ালে
যে বারি লুকানাে আছে
তারি দুটি ফোটা
চাহি আমি তব কাছে।
ভরি’ সারা মন
রবে অমূখণ
এমন কিছু গাে
আজি মাের হিয়া যাচে।
তব পাশে থাকা
ফুরাবে আমার যবে
বেদনার দান
সম্বল হয়ে রবে।
ধন নিরুপম
সেই হবে মম
দুটি ফোটা জল
ফেলে যদি যাও পাছে।
৪২
গীতাংশুক
৪২
আসিব বলে ওই যে বাঁকা
পথটি বেয়ে গেলে,
সেদিন হতে এইখানেতে
আছি নয়ন মেলে।
হয়তাে যবে আসিবে ফিরে
আঁধার ঘন নামিবে ধীরে-
তাইতাে আমি রেখেছি মম
প্রাণেরি দীপ জ্বেলে
সেই আলােতে দেখিতে পাবে
চেনা এ পথখানি,
আমার প্রেম কানে তােমার
কবে অভয়বাণী।
সকল বেলা এমন করে
মালিকা গাঁথি আশার ডােরে,
দিবস আসে, রজনী আসে,
তুমিই নাহি এলে।
গীতাংশুক
৪৩
বন্ধু যদি না এল তাে
বন্ধ কর দ্বার,
এ ঘরে বিরহিনী
গাথ’ অশ্রু-হার।
উজল দুটি নয়ন-দীপে
আশার আলাে এল নিভে,
মােছ, মােছ কাজল-রেখা,
ছাড় অলঙ্কার ;
বন্ধ কর দ্বার।
ফানেরি বাতাস কানে
কী কথা আর কয়?
স্নিগ্ধ হেসে চন্দ্রমা যে
মিছেই চেয়ে রয়।
গন্ধ-ব্যাকুল পুষ্প-বীথি
রইল জেগে-কই অতিথি ?
জীবন-বনের পথেতে আজ
ব্যর্থ অভিসার,
বন্ধ কর দ্বার।
৪৪
গীতাংশুক
৪৪
( অনুবাদ)
এস প্রিয়ের ঘরে ।
আর কত বা থাকূব বল চেয়ে পথের পরে?
শঙ্কা কিছু নেই গাে তােমার-রেখ না ভয় মনে,
তুমি এলে ভ’রূবে হৃদয় সুখের শিহরণে।
এ দেহমন দেব ডালি তােমার রাঙা পায়ে,
কাটবে জীবন মােহন শ্যামের কমল-চরণ-ছায়ে
ও তার কোমল প্রেমের ছায়ে ।
কাতর অশ্রু ঝরে :
তুমি এলে উঠবে গাে ঢেউ পুলক-সরােবরে।
বিলম্ব মাের সহে না যে-কাটে না দিন আর,
তােমার লাগি’ ছেড়েছি সব-কাজল, তিলক, হার
অনন্ত এই সময় যেন নেইক’ তুমি বলে,
জন্ম-জন্ম দাসী মীরা হিয়ার আগল খেলে
আজি বন্ধ আগল খােলে।
৪৫
গীতাংশুক
৪৫
থামল গতি কোন্খানে তার,
বাঁধল কোথায় ঘর ?
মনের মানুষ এক নিমেষে
উঠল হয়ে পর।
অনেক হেসে, অনেক সেধে
প্রেমের রাখী দিলেম বেঁধে ;
ও তার
মন-কুসুমে নাই পরিমল
সইল না তাই ভর।
কে দেবে হায় সান্ত্বনা আর
প্রাণ যে নাহি বােঝে,
অ-পাথার চোখের কোলে
মুক্তি আপন খোঁজে।
হারিয়ে গেছে, হারিয়ে গেছে,
তাই তো হিয়ার সুর থেমেছে,
সমুখে মাের মিলিয়ে আসে
স্বপ্ন-সরােবর।
৪)
গীতাংশুক
৪৬
মিলিয়ে আছে নিরালা মাের
গােপন হিয়া মাঝে,
অনাদিকাল সেথায় তারি
আসনখানি রাজে।
স্বপন কত, অগাধ আশা
আবেগ-মাখা সােহাগ-ভাষা-
সকল দিয়ে গড়েছি তায়
প্রভাতকালে, সাঁঝে।
-
রচেছি এই
বুকের নিধি
নিত্য তিলে তিলে,
ভুবন খুজে উপমা তার
কোথাও নাহি মিলে।
দেখতে কেহ না পায় চোখে
কে আছে মোের মানস-লােকে,
আমিই জানি চিত্তে মম
মিলন-গীতি বাজে।
৪৭
গীতাংশুক
৪৭
সে
নাই মেলিল চেতন-লােকে
হৃদয়-শতদল,
স্বপ্ন মাঝে মিলেছে তাে
আমার কাম্য-ফল।
দিন যে তীব্র আলােক জ্বালে--
রয় না কিছু অন্তরালে,
প্রকাশ করে অন্তরের
গভীর অন্তস্তল।
আমি চাহি রহস্য যে
আলাে ছায়ায় মেশা
নয়ন মনে সেই তাে আমার
জাগায় মদির নেশা।
তৃপ্তি এলে তৃষ্ণা পূরে-
তাই তত থাকি দূরে দূরে,
স্বপন-লােকে পাই যে তাহার
প্রেমের পরিমল।
গীতাংশুক
৪৮
জানি মনে কাছে-পাওয়া
নয় তত বড় পাওয়া,
দূর থেকে যে চিত্তে লাগে
তােমার প্রেমের হাওয়া।
কুঁড়ির বুকে গন্ধখানি
জাগে কখন নাহি জানি,
ফুটলে কুসুম গন্ধ করে
স্বপ্নে আসা-যাওয়া।
তেনি ভালবাসার সুরভি আজ
জেনেছে মাের মন,
বুঝেছি যে হাওয়ায় ভাসে
তার। গন্ধ অনুক্ষণ।
তারি সৌরভেতে অবিরত
চেতনা মাের মূচ্ছাগত ;
তাই তাে আমার মন ভরেছে,
শেষ হয়েছে চাওয়া।
৪১
গীতাংশুক
৪৯
চাও যদি গাে দূরে দূরে
রাখতে আপনায়,
নিঃশেষে দান করতে যদি
চিত্ত নাহি চায়-
ক’ব না জোর, চাই না আমি,
নই তােদরশ-পরশ-কামী,
তােমারি সাধ ক’ব পূরণ
থাক’ কল্পনায়।
মনের মাঝে হয় তো আছে
অনেক ত্রুটি দোষ,
সে সব দেখে চাই না পেতে
গভীর অসন্তোষ।
মােহের কাজল দূরের থেকে
নয়নে মাের দাও না একে,
সােনার স্বপন দেখব তখন
নিবিড় নিরালায়।
গীতাংশুক
ঘুমের মাঝে পরশ পাই
হৃদয়-পাতে,
স্বপন হয়ে দেয় সে দেখা
নীরব রাতে।
দিনের বেলা আমার মনে
ঘুমিয়ে থাকে গােপন কোণে,
আড়াল হ’তে মিলন-মালা
লুকিয়ে গাঁথে।
স্বপনে আসে আমার কাছে
আঁধার হলে,
নি-মহলে অলখ-হাতে
আগল খােলে।
বুঝি নে তার কেমন মায়া,
নিশায় ফেলে আপন ছায়া,
মিলিয়ে যায় মােহন ছবি
আলাের সাথে।
গীতাংশুক
লােকের কাছে বুকের বেদন
গােপন করে রই,
মন কাঁদে মাের সারাটি দিন
নীরবে দুখ সই।
যে ছিল মাের ভুবন জুড়ে
কোথায় সে আজ রইল দূরে?
মনের মানুষ নাই রে পাশে
কারে
মনের কথা কই?
কৰ্ম্মভরা দিনের শেষে
আসে যখন রাতি
তখন আমি অশ্রু-জলে
ব্যথার মালা গাঁথি।
রুদ্ধ হিয়ার আগল খুলে
বিষাদরাশি ওঠে দুলে,
আষাঢ় মেঘের বারিধারা
নয়নে মাের লই।
গীতাংশুক
৫২
শ্রাবণ-রজনী ধীরে
মেঘ-কুন্তল খােলে,
বন্ধু বিরহে আজ
হৃদয়-কমল দোলে।
আমার পরাণ-পুরে
বিষাদের ছায়া ঘুরে
সে কি আজ নিল কায়া
কাজল-আকাশ-কোলে ।
অতীতে মেঘের মুখে
প্রিয়-কথা গেছে শােনা,
আজিকার মেঘ কেন
নাহি দেয় সান্ত্বনা ?
ওগাে শােন, কাছে তার
বলে এস একবার
নিবিড় বেদনা মাের
ভুবনে তুফান তােলে।
গীতাংশুক
তােমায় খুজে অন্ধ হল
আমার নয়ন দুটি,
শুকিয়ে গেল জীবন-কুসুম
বারেক শুধু ফুটি।
গভীর বেদন হৃদয়-তলে
নীরব ধারায় ব’হে চলে,
আনন্দেরি জগৎ হতে
পেলেম আমি ছুটি
দুঃখ-হরা মৃত্যু ওগাে
লও আমারে ডাকি,
জুড়াও বেদন আমায় তব
শীতল কোলে রাখি।
হিম-অধরে করুণ হেসে
দাড়াও আমার কাছে এসে,
জীবনখানি দিৰ সপি
চরণতলে লুটি।
৫৪
গীতাংশুক
৫৪
==
স্বপনে যার মধুর বাণী
পশিল তাের কানে
যাহার কথা দিবস নিশি
জাগিয়া রয় প্রাণে,
থাকিস বসে গৃহের কোণে
যাহার লাগি’ উদাস মনে
সেই যে আজি এসেছে কোন্
অলখ মৃদু টানে।
শ্রান্ত রবি নিল রে ঠাই
দিগন্তেরি কোলে,
আকাশ ভরে উঠেছে ওই
তারকা-দীপ জ্বলে।
স্বপন আজি সত্য বেশে
সমুখে দেখ, দাড়ায় এসে,
পরম ক্ষণে নয়ন মেলে
চা’ রে প্রিয়ের পানে
গীতাংশুক
কাটল বুঝি বিরহেরি
নিবিড় অন্ধকার,
বন্ধু, তােমায় বারে বারে
করি নমস্কার।
অাজ
আমার ব্যথার মৃণাল পরে
সুখের কুসুম পরশ করে,
কণ্ঠে তােমার পরাব তাই
দুঃখ-সুখের হার।
পথের চিহ্ন আছে তােমার
চরণ দুটি ঘিরে,
ধুইয়ে দেব আমি যে আজ
উতল নয়ন-নীরে।
আমায় তুমি দেখবে বলে
জীবন-বধূ ঘােটা খােলে,
মুগ্ধ তােমার চাহনি যে
পরম পুরস্কার।
আমার
গীতাংশুক
স্মরণ আমি ক’ব না তত
বন্ধু তােমার নাম,
শুধু চিত্ত আমার থাকুক জুড়ে
তােমার দৃষ্টি অবিরাম।
নাই যে আমার নামের মায়া,
আমি দেখব কেবল চোখের ছায়া ;
ওই তাে আমার পরশমণি—
আমি ওরেই দেব দাম।
রাম্ব কোথায় ওই চাহনি
শুধাই ফিরে ফিরে,
থাকুক্ ও মাের সমস্ত মন
সব চেতনা ঘিরে।
চাদের আলাে স্বপ্নাবেশে
যেমন ধীরে ধরায় মেশে
মূচ্ছহত দৃষ্টি তােমার
আমার চিত্তে মিশালাম।
তেমনি
গীতাংশুক আজিকে তনু ঘিরে অমৃত-ধারা ফিরে তুমি যে কাছে মাের এসেছ, তাই তাে আঁখি-কোলে স্বপন-মায়া দোলে মিলায়ে চোখে চোখ হেসেছ। তােমার খুশী তরে কণ্ঠে সুধা ঝরে, জ্বলেছে আলো মনোে- কাননে, তােমারি কথা ওই শ্রবণ ভরে লই- তাই তাে ফোটে হাসি আননে। আমার আঁখি-আগে কী নব অনুরাগে আজিকে তুমি প্রিয় ভেসেছ, পুলকে অনুখন দুলিছে মম মন ; তুমি যে ভাল মােরে বেসেছ।
গীতাংশুক
নতুন করে হােল্ক পরিচয়
তােমার সনে,
নয়ন আমার দেখুক আজি
আপন জনে।
সুরের জালে আমায় ঘিরে
হারানাে-ধন এলে ফিরে,
প্রাণ-প্রতিমা এলে প্রাণের
অন্বেষণে।
আজকে ওগগা বাতাস আনে
কার বারতা,
শ্রাবণ-ধারায় বাজে কাহার
মনের কথা।
নতুন করে চোখের কোলে
মায়া-কাজল আবার দোলে,
একি নেশা লাগলে আজ
আমার মনে ।
গীতাংশুক
উৎসবেতে দিলেম কারে
কনক অলঙ্কার,
দিয়েছি বা কারেও আমি
শােভন উপহার।
কেউ যে খুশী লভি’ সে ধন,
উজল দেখি কারও আনন,
আনন্দে মাের কাটে মনের
অতল অন্ধকার।
সবাই চায়,
তােমায় আমি দিলেম কিবা
জাতে
মূল্য দিয়ে কেনা জিনিস
সাজে কি ওই গায়?
দিলেম বেদন পুলক-রাশি
আমার আশা অশ্রু হাসি,
তােমার পায়ে সঁপেছি প্রাণ
আমার
তাই তাে অহঙ্কার।
গীতাংশুক
তােমায় ছেড়ে যাব এবার
করেছি এই পণ,
নইলে যে গাে আজকে আমার
ভরে না আর মন।
নাই যে কিছু পাওয়ার মাঝে,
কাটার মত বক্ষে বাজে,
কী শূন্যতা লাগে আমার
চিত্তে অনুক্ষণ।
সে যে
আপন হতে তােমায় আমি
দিলেম ছেড়ে আজি,
ত্যাগেরি সুর বুকের বীণায়
উঠুক এবার বাজি।
থাকব না আর মােহের ঘােরে,
সফল হ’ব এমনি করে,
খ্যানের লােকে পাব তােমায়
আমি
আরাধনার ধন।
গীতাংশুক
===
হারাই নি তাে তারে আমি
রয়েছে মাের কাছে,
আমার মনের গোপন-লােকে
মিলিয়ে সে যে আছে।
আমার
সেই আমারি হৃদয়বাসী
ফোটায় মুখে মধুর হাসি,
চোখের আলাে হয়ে সে যে
নয়নে মাের নাচে।
জানি না তাে কিছুই তােরা-
পাস্ না আভাস তার,
এমন করে তাই আমারে
শুধা বারে বার।
আছে সে মাের প্রাণ-কমলে,
সদাই আমার সঙ্গে চলে,
সেই আমারে চালায় যে রে
থেকে আমার পাছে।
৬২
গীতাংশুক
৬২
ভাবি তাের একলা দিবস
কাটাই কেমন করে,
জালি না তাে সে যে আমার
রয়েছে মন ভরে।
==
সেই তো আমার বুকের কাছে
প্রাণ হয়ে আজ মিলিয়ে আছে,
বেঁধেছে রে সে যে আমায়
অলখ-প্রীতির ডােরে।
কেমন করে দেখবি তাের—
তােদের
নাই যে তেমন চোখ,
তারে পেয়ে ধন্য হল
আমার চিত্ত-লােক।
;
পরশ-পুলক চাই নে আমি,
চোখের চাওয়া গেছে থামি”;
ধ্যানে তারে পেয়েছি আজ,
যায় না সে আর সরে
গীতাংশুক
স্তব্ধ রাতে চিন্তু আমার
সুপ্তি-সােপান-পারে
দাড়াল আজ এসে এ-কোন্
স্বপন-পুরীর দ্বারে।
যারে আমি চেতন-লােকে
পেলেম না হয় দেখতে চোখে--
আকাভিক্ষতের মিলল দেখা
ঘুম-দেশেরি ধারে।
সেই
বস্তু-লােকে নাই মিলিল—
দুঃখ তাহে নাই,
স্বপ্ন-লােকে পাশে তারি
হয়েছে মাের ঠাই।
।
তাই তাে আজি এক নিমেষে
বিষাদ আমার হর্ষে মেশে ;
এমনি করে রজনী যায়
স্বপন-অভিসারে।
ওগাে
৩১
গীতাংশুক
৬৪
হ’ল যে মাের অহঙ্কারের
এবার অবসান,
লােভ করেছি -তাই তাে পেলেম
নিবিড় অপমান।
হাত বাড়িয়ে অনেক দূরে
মরেছি যে মিথ্যে ঘুরে
দুরাশা মাের তাই শােনাল
পরাজয়ের গান
চাই নে ওগাে দু’হাত ভরে
আমি চাই নে রতন মণি,
কান পেতে রােজ শু শুধু
তােমার অলখ চরণ-ধ্বনি।
আজকে
আমি অবহেলে
লােভকে আমার দিলেম ঠেলে,
ফিরিয়েছি মুখ—এবার তুমি
কর পরশ দান।
গীতাংশুক
কেমন করে জীবন আমার
সহজ স্রোতে বয়
দুঃখ আজি আমার কাছে
দুঃখ শুধু নয়।
এ-জীবনের বেদন যত
হ’ল যে আজ সুধার মত,
বাসনা-বিষ নাই তাে রে আর
হয়েছে তার ক্ষয়।
আমি
কেমন করে জানাই তােদের
পেলেম দেখা কার,
কে সে আমার ঘুচিয়ে দিল
হিয়ার অন্ধকার ।
অশরীরী অরূপ তিনি,
ধ্যানের আলােয় তারে চিনি,
আপনি এসে প্রাণের সাথে
করল পরিচয়।
গীতাংশুক
একে একে সব কামনা
হয় যে আমার ক্ষয়,
তাই তাে এবার তােমার সাথে
ঘটছে পরিচয়।
যে আঘাতে চোখের কোলে
ক্লান্ত করুণ বিষাদ দোলে
অশ্রু আমার মুক্তা হয়ে
ওই
কমল-পায়ে রয়।
সেই
ওগাে তােমায় আমি দেবার মত
কিছুই নাহি পাই,
ব্যর্থতা মাের তােমার পায়ে
পায় যেন আজ ঠাই।
হয় নি সফল যে সব আশা,
যে ভাব মম পায় নি ভাষা-
তােমার প্রসাদ পেলে তারা
ধন্য যে আজ হয়।
গীতাংশুক
আমি
তন্ব না তাে কারও কথা,
মান্ব না কো মানা,
সঙ্কেতে তাঁর চালাই শুধু
আমার পরাণখানা।
অন্তরেতে আছেন যিনি
নির্দেশেতে তঁারে চিনি;
হবে না ভুল, সত্য-পথে
হবে জীবন আনা।
আমি
এলা নহি, আমার মাঝে
পেয়েছি কার দেখা,
মধুর পরশ চিত্ত-কোষে
হয়েছে আজ লেখা।
এ
একা থেকেও তাই তত আমি
পূর্ণ আছি দিবস-যামী,
সাধন-পথে তার সাথেতে
চলছে চেনা জানা।
গীতাংশুক
}
যদি আমার জীবন মাঝে
তােমায় নাহি পাই
আমার দুঃখ তাহে নাই।
সাধন যদি থাকে তবে
কামনা মাের পূর্ণ হবে,
প্রাপ্য যদি হয় গাে মম
পূবে প্রার্থনাই।
জোর করে এই সংসারেতে
পাওয়া কি সব যায় ?
হৃদয় ভরে ব্যর্থতায়।
কৌশলেতে দুর্লভভরে
পেতে এ-মন চায় না যে রে—
কপা-কণায় নাই অভিলাষ,
খেদ করি না তাই।
গীতাংশুক
বাহির থেকে দুঃখ যত
আঘাত করে প্রাণে
ততই যেন কে আমারে
তােমার কাছে আনে।
চিত্ত যখন মগন সুখে
চাই নি ওগাে তােমার মুখে
তখন প্রভু তােমার বাণী
পশে নি মাের কানে।
আঘাত পরে আঘাত আসে-
সুখ যে সরে যায়,
স্বপন-কুসুম ঝরে ঝরে
লুটায় বেদনায়।
সংসারের দুঃখে তাপে
লতার মত এমন কাপে,
তাই কি তুমি জীবন আমার
টাছ তােমার পানে ?
* গীতাংশুক
৭০
দুঃখ, তােমায় ভক্তিভরে
জানাই নমস্কার,
আলে আমায় সত্য-পথে—
ভাঙলে অহঙ্কার।
সুখের
দিনে
দূর
অতীতে
নিলেম কেবল, চাই নি দিতে,
তৃপ্তি তবু হয় নি জানি
আমার আকাক্ষার।
তখন আমি বুঝি নি যে
হয় না নিয়ে সুখ,
সকল দিয়ে রিক্ত হলে
তবেই ভরে বুক।
অমল হলেম অশ্রু ফেলে,
বেদন নিলেম হৃদয় মেলে,
দুঃখ যে তাই কণ্ঠে আমার
হলে অলঙ্কার।
৭১
গীতাংশুক
৭১
::
যে কালিমা ছিল আমার
হৃদয়খানি ঘিরে
তােমার পরশ লভি’ সে আজ
বিমল হ’ল ফিরে।
যা কিছু মাের সামনে দিলে
ভেবেছি সুখ তাতেই মিলে,
ভ’রুল না মন—তাই তাে আবার
ভাসি নয়ন-নীরে।
কেমন করে বলে গেল
জীবন-স্রোতের ধারা,
তােমার ধ্যানে আজকে আমার
আত্মা আত্মহারা।
সকল ঠেলে দিলেম বলে
অন্তরে দীপ উঠল জ্বলে,
ভােগেতে নয়, হরষ ত্যাগে-
বুঝেছি আজ ধীরে।
৭২
No text on this page.
1
I!
1
1
1
No text on this page.