Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Shri Madhurjya-kadambini

Basu,satyendranath Ed. · 2010/01/3

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

শ্রীমাধুৰ্য-কাদম্বিনী
০০৪o৪০০-
মহামহােপাধ্যায় শ্রীল বিশ্বনাথ চক্রবর্তী
বিরচিত ।
প্রভুপাদ
শ্ৰীযুক্ত প্রাণগােপাল গােস্বামী সিদ্ধান্তর
কর্তৃক পরিদর্শিত ।
সত্যেন্দ্রনাথ বসু এম,এ, বি, এল
কর্তৃক অনূদিত ও সম্পাদিত।
সাধনা-পত্রের সম্পাদক
রাধাগােবিন্দ নাথ এম,
কর্তৃক কুমিল্লা হইতে প্রকাশিত।
মূল্য আনা।

কুমিল্লা শঙ্করপ্রেসে রজনীকান্ত নাথ কর্তৃক মুদ্রিত।

ভূমিকা। ভক্তির স্বরূপ,ভক্তির আবির্ভাবের ক্রম, ভক্তির লােকাতীত মহিমা—এই সকল বিষয় অতি সরলভাবে শ্রীগৌড়ীয়-সমাজে প্রচার করিবার জন্য আচাৰ্যবৰ্য্য শ্রীপাদবিশ্বনাথ চক্রবর্তী “মাধুৰ্যকাদম্বিনী” নামক গ্রন্থ রচনা করিয়াছিলেন। শ্রীল চক্রবর্তিপাদের এই গ্রন্থ বাঙ্গলা পথে কিঞ্চিদধিক একশত বৎসর পূর্বে শ্রীল কৃষ্ণদাস বাবাজী কর্তৃক অনূদিত হইয়াছিল। শ্ৰীযুক্ত বাবাজী-মহাশয়ের ঐ গ্রন্থ বটতলা হইতে একবার মুদ্রিত হইয়াছিল। শ্রীল চক্রবর্তি-মহাশয় গুরুপ্রণালী অনুসারে বাবাজী-মহাশয়ের পূর্ব চতুর্থ বা পঞ্চম পুরুষ—এইরূপ জনশ্রুতি আছে। এই গ্রন্থে শীল বিশ্বনাথের প্রতি তাঁহার অসীম শ্রদ্ধা দেখিয়া মুগ্ধ হইয়াছি। তিনি শ্রীল বিশ্বনাথকে শ্রীরূপ-গােস্বামীর অবতার বলিয়া স্তব করিয়াছেন। মহামহােপাধ্যায় শ্রীল বিশ্বনাথ চক্রবর্তী বাঙ্গালী-জাতির গৌরব। তিনি গৌড়ীয়-বৈষ্ণব-সমাজের জন্য কি করিয়াছেন—তাহার জীবনী-প্রসঙ্গে অতি সংক্ষেপে তাহার বিন্দুমাত্র আভাস প্রদানের চেষ্টা করিয়াছি। অপেক্ষাকৃত বিস্তৃতভাবে তাহা আলােচনা করিবার জন্য শ্রীল বিশ্বনাথের একখানি জীবনী গ্রন্থ প্রণয়নে অযােগ্য হইলেও অতি লােভবশে হস্তাৰ্পণ করিয়াছি। অদোষণী বৈষ্ণববৃন্দের কৃপাশীৰ্বাদ থাকিলে উহা শীঘ্রই প্রকাশিত হইতে পারিবে। আধুনিক-জগতে নিত্যধামগত অদ্বৈতবংশাবতংস অল রাধিকানাথ গােম্বামি- প্রভু সৰ্বপ্ৰথমে এল চক্রবর্তিপাদের অপূর্ব প্রতিভা হৃদয়ঙ্গম করিয়া তাহার গ্রন্থাবলী প্রচার করিয়াছিলেন। তিনি ৪০৫ গৌরালে পাক্ষিক-বিষ্ণুপ্রিয়া- পত্রিকায় শ্রীল চক্রবত্তিপাদের জীবনী সম্বন্ধেও আলােচনা করিয়াছিলেন। তৎপরে শ্রীনিত্যানন্দ-বংশীয় নিত্যধ্যামগত এল শ্যামলাল গােস্বামী মহাশয় ৪১২ গৌরালে (১৩০৪ সালে) ঐল বিশ্বনাথ চক্রবর্তি মহাশয়ের বিন্দু, কিরণ, কণা, রাগবত্ম’ চন্দ্রিকা ও মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী এই পাঁচখানি পুস্তক বঙ্গানুবাদ সহ প্রকাশ করেন। এই গ্রন্থ এতই জনপ্রিয় হয় যে, তিন বৎসর পরে উহার আর একটী সংস্করণ প্রকাশিত হয়। উক্ত প্রভুপাদ প্রেমসম্পূট প্রভৃতি শ্ৰীল বিশ্ব- নাথের আরও কয়েকখানি পুস্তক স্বকৃত টীকা ও অনুবাদ সহ প্রকাশ করেন। ঐসকল গ্রন্থ আর পাওয়া যায়না দেখিয়া আমি নিতান্ত অযােগ্য হইলেও প্রভুপাদ

ey
শ্ৰীল শ্যামলাল গােস্বামীর আশীৰ্বাদ ভিক্ষা করত বৈষ্ণবাচাৰ্যগণের পদধূলি
মন্তকে বহন করিয়া এই গ্রন্থত্বের সম্পাদনে সাহস করিয়াছি।
শ্রীনিত্যানন্দ-বংশবৰ্য্য প্রভুপাদ শ্রীল প্রাণগােপাল গােস্বামী প্রভুর কৃপায়
এই গ্রন্থখামি প্রকাশিত হইল। তদীয় প্রিয়শিষ্য বৃন্দারণ্যবাসী সুহৃদবর শ্রীযুক্ত
দীনেশ চরণ দাস মহাশয় এ ব্যাপারে আমাকে যথেষ্ট উৎসাহ দিয়াছেন। মাদৃশ
জীবের পক্ষে ভ্ৰম-প্রমাদাদি নিতান্ত স্বাভাবিক, আশাকরি কাপরায়ণ অদোষ
দশী বৈষ্ণবগণ তাহা সংশােধন করিয়া লইবেন।
হিতবাদী-কাৰ্যালয়
৭৩ নং কলুটোলাঙ্গীট, কলিকাতা
বৈষ্ণবদাসানুদাস
শ্রীসত্যেন্দ্রনাথবসু

মহামহােপাধ্যায় শ্রীল বিশ্বনাথ বক্রবর্তী ঠাকুর। ; { সত্যেন্দ্রনাথ বস কর্তৃক সংগৃহীত) শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যমহাপ্রভুর যে ত্রিলোকপাবনী প্রেমশক্তি শান্তিপুরকে ডুবাইয়া নদীয়াকে ভাসাইয়া দাক্ষিণাত্যে, উৎকলে ও গৌডদেশে তরঙ্গলীলা বিস্তার করিয়াছিল, সেই প্রেমশক্তি তাহার পরম কৃপাপাত্ৰ শ্ৰীল নরােত্তম দাস ঠাকুর মহাশয়ে আবির্ভূত হইয়াছিল। সেই নরােত্তমশাখারই অনুত্তম ফল পরমভাগবত শ্রীল বিশ্বনাথ চক্রবর্তী। বিশ্বনাথের অলৌকিক শক্তিতে ও অসাধারণ প্রতিভায় গৌড়ীয়-বৈষ্ণব-সমাজে এক নবযুগের আবির্ভাব ঘটিয়াছিল। বৃন্দারণ্যবাসী গগাস্বামিগণের অপ্রকটাবস্থায় বিশ্বনাথই শ্ৰীবৃন্দাবনের বৈষ্ণব-সমাজের কর্ণধার- রূপে বুত হইয়া গৌড়ীয়-বৈষ্ণব-সমাজকে নানা বিপৎসাগর হইতে উদ্ধার করিয়া- ছিলেন। নদীয়া-জেলার অন্তর্গত দেবগ্রাম বহুদিন হইতে পাণ্ডিত্য ও বিদ্যাচর্চার জন্য বিখ্যাত। এই স্থানে রাঢ়ীয় ব্রাহ্মণকুলে কোনও প্রধান অধ্যাপক-বংশে আনুমানিক ১৫৭৬ শকে শ্রীল বিশ্বনাথ চক্রবর্তী আবির্ভূত হন। বিশ্বনাথের পিতামাতার নাম জানিতে পারা যায় নাই। ইহার জ্যেষ্ঠসহােদরের নাম রামভদ্র, মধ্যম সহােদরের নাম রঘুনাথ,—বিশ্বনাথ কনিষ্ঠ। বিশ্বনাথ বাল্যকালে স্বগৃহে অবস্থান করিয়াই ব্যাকরণ, কাব্য, অলঙ্কারাদির পাঠ শেষ করিয়া মুর্শিদাবাদের গঙ্গাতীরবর্তী সৈয়দাবাদ নামক স্থানে ভক্তিশাস্ত্র অধ্যয়ন গুরু প্রণালী শ্ৰীমন্মহাপ্রভুর কৃপাদেশ-প্রাপ্ত শ্রীলােকনাথ-গােস্বামি-মহাশয়ের একমাত্র শিষ্য শ্ৰীল নরােত্তম দাস ঠাকুর মহাশয়। শ্ৰল ঠাকুর মহাশয় ও শ্রীনিবাস আচাৰ্য ঠাকুরই গৌড়দেশে, বৈষ্ণব-শাস্ত্র, শুদ্ধ-রসমাধুৰ্যগর্ভ কীৰ্ত্তন ও বৈষ্ণব- সদাচারের পুনঃ প্রবর্তন করেন। ইহাদের শাখা ও উপশাখায় পুনরায় ষােড়শ শতাব্দীতে শ্রীগৌড়মণ্ডল-ভূমি পরিপূর্ণ হইয়া উঠিয়াছিল। শুল ( ২ ) ঠাকুরমহাশয় ১৫৩৩ শকাব্দায় কার্তিকী কৃষ্ণাপঞ্চমী তিথিতে আত্মগােপন করিলে তঁাহার প্রধান শিষ্য শ্রীল গঙ্গানারায়ণ চক্রবর্তী ও তাহার অভিপ্রাণ ল রামকৃষ্ণ আচাৰ্য ঠাকুরই শ্ৰল ঠাকুর মহাশয়ের প্রবর্তিত বৈষ্ণব-সম্প্রদায়ের আয়-স্বরূপ পরিগণিত হন। শ্ৰীল গঙ্গানারায়ণ চক্রবর্তী অপুত্রক ছিলেন। তাঁহার অনুরূপ পত্নী রামনারায়ণী-দেবীর গর্ভে বিষ্ণুপ্রিয়া নামে একটা মাত্র কঙ্কা জন্ম গ্রহণ করেন। চক্রবর্তী ঠাকুরের অভিন্নপ্রাণ সখা ও পরমার্থভ্রাতা শীল রামকৃষ্ণ আচার্যের ঔরসে তাহার মূর্তিমতী ভক্তিস্বরূপ পতিতা ভাৰ্য্যার গর্তে রাধাকৃষ্ণ ও কৃষ্ণচরণ নামক দুইটী পুত্র জন্ম গ্রহণ করে। কনিষ্ঠ পুত্র জন্মগ্রহণ করিলেই রামকৃষ্ণ আচাৰ্য ঠাকুর স্বীয় সখা গঙ্গানারায়ণকে তাহার কনিষ্ঠপুত্র শ্রীকৃষ্ণচরণকে দান করেন। যথা নপ্লোমবিলাসে- “মকৃষ্ণ গঙ্গানারায়ণ এক প্রাণ। দেই মাত্র ভিন্ন লােকে করে এক জ্ঞান। ঐঠাকুর চক্রবর্ত্তী সন্তান-রহিত। কে বুঝিতে পারে তার অকথ্য চরিত । আচাৰ্য জানিয়া মনোবৃত্তি মনে। অল্পকালে দিলা পুত্র গঙ্গানারায়ণে ॥” শ্রীকৃষ্ণচরণ ভক্তি-শারে অনুশীলনে ও সাধারণ ভক্তির আচণে অকুলেরই অনুরূপ হইয়াছিলেন। গঙ্গাতীরবর্তী বালুচরের গম্ভীলা নামক পল্লী গঙ্গানারায়ণের নিবাসস্থান ছিল। শ্রীকৃষ্ণচরণ শ্রীমদনমােহন নামক বিগ্রহ স্থাপন করিয়া তাহার সেবা প্রবর্তন করেন। এ সম্বন্ধে শ্রীল বিশ্বনাথ চক্র- বর্তী তাহার “স্তবমুকলহরী”র পরমগুৰু-প্রভুবরাষ্টকে বলিতেছেন- “স্থিতি সুসরিটে মদনমােহনাে জীবন। স্পৃহা রসিক-সঙ্গমে চতুরিমা জননাঙ্কারণে ॥ ঘৃণা বিষয়িষু ক্ষমা ঝটিতি যস্য চানু ব্ৰজে। স কৃষ্ণচরণপ্রভুঃ প্রদিশতু স্বপদামৃতম্ ॥” “গঙ্গাতীরে যাহার স্থিতি, মদনমােহনই যাহার জীবন, রসিক-ভক্তগণের সক্ষলাভই যাহার ইচ্ছা, পতিতজনের উদ্ধার বিষয়ে যাহার পটুতা, বিষয়িগণে যাহার করুশা এবং অনুগত ব্যক্তির প্রতি যিনি অতিশীঘ্র ক্ষমাশীল, সেই শ্রীকৃষ্ণচরণ আমাকে স্বপদামৃত-দানে অনুমতি প্রদান করুন।” কফচরণ চক্র- বৰ্ত্তীর উপযুক্ত পুত্র শ্রীরাধারমণ চক্রবর্তী। ইনি শাস্ত্রজ্ঞানে প্রবীণ, পরম ভক্ত এবং অতিশয় উদার-স্বভাব ছিলেন। ইনি সৈদাবাদে বাস করিয়া উপযুক্ত শিষ্যগণকে শ্রীভগবতাদি ভক্তি-শব্রের অধ্যাপনা করাইতেন। বৃবয়সে ইহার পিতা শ্রী কৃষ্ণচরণ চক্রবর্তী ঠাকুর ধানবৃন্দাবন আশ্রয় করিলে ইনিই মদন- মােহনের বােতার গ্রহণ করেন। শ্রীল বিশ্বনাথ চক্রবর্তী মহাশয় ভাগবত অধ্যয়নকালে ইহারই গুণে বিমােহিত হইয়া ইহাই পদাশ্রয় করেন। কেহ কেহ শ্রীরামকৃষ্ণ আচার্যকে, কেহ বা শ্রীকৃষ্ণচরণ চক্রবর্তী মহাশয়কে গুরু বলিয়া নির্দেশ করিয়াছেন; কিন্তু চক্রবর্তী মহাশয় “শুবায়ুত-লহরী” নামক গ্রন্থে “শ্রীগুরুচরণ-স্মরণাষ্টকম” তবে শ্রীরাধারমণ চক্রবর্তীকেই স্বীয় গুরুনামে অভিহিত করিয়া খুব করিয়াছেন। যথা-- “শ্রীরাধারমণং মুদ। গুরুষরং বনে নিত্যাবনে।” অর্থাৎ “শ্রীরাধারমণ নামক গুরুবরকে আমি ভূমিতে নিপতিত হইয়া হভরে বন্দনা করিতেছি।” -- অধ্যয়ন ও শাস্ত্র প্রচার। ভাগবতাদি ভক্তিশাস্ত্রের অধ্যয়ন শেষ করিয়া ইনি সংসারের অনিত্যতা দর্শন করিয়া গৃহশ্রমে প্রবেশ না করিয়া ব্ৰহ্মচর্ষ অবলম্বন করিয়া গুরুকুলে বাস করিয়া ভক্তি-শাস্ত্রের প্রচার ও টীকাদি রচনা করিতে আরম্ভ করেন। গৌড়দেশে সংস্কৃতবিদ্যার আলােচনা ক্রমেই হ্রাস হইয়া আসিতেছিল এবং তৎকালে সাধারণ শ্রেণীর বৈষ্ণবগণ শ্ৰীগ গােদামিপাদগণের প্রকাশিত সিদ্ধান্ত- গ্রন্থে আলােচনায় সমর্থ হইতেছিলেন না। কিন্তু গৌড়ীয়-কুলচূড়ামণি শ্রীল কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামীর শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত গ্রন্থে নিখিল ভক্তিশাস্ত্র- সিদ্ধান্তের সার সংগৃহীত হইয়াছিল। মহাদয়ালু শ্ৰল , নরােত্তমঠাকুর মহাশয় বঙ্গভাষায় প্রার্থনা ও প্রেমভক্তি-চন্দ্রিকা গ্রন্থ প্রচার করিয়া বৈষ্ণবগণের সাধনত্ম প্রদর্শন করিয়াছিলেন। শ্রীল বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ঠাকুরও চৈতন্য- চরিতামৃত-গ্রন্থ ও প্রেমভক্তি-চন্দ্রিকা হাতে অপসিদ্ধান্ত-দুষ্ট না হয়, ঐ গ্রন্থের টীকা রচনা করেন। যাহারা হৰি-ভজনে একান্ত আগ্রহশীল, অথচ ( ৪ ) ব্যাকরণাদিশাস্ত্রে অধিকার না থাকায়—ঐভক্তিরসামৃতসিন্ধু -শ্রীউজ্জ্বলনীলমণি ও শ্রীলঘুভাগবতামৃত এই অবশ্যপাঠ্য গ্রন্থ পাঠ করিতে বা সম্যক আলােচনা করিতে সমর্থ নহেন-তাহাদিগের জন্য তিনি এই তিন গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার অতি সরল সংস্কৃতভাষায় ‘শ্রীভক্তিরসামৃতসিন্ধুবিন্দু “শ্রীউজ্জল-নীলমণিকিরণ” ও “শীভাগবতামৃতকণা” নামে সংগ্রহ করিয়া ঐ সময়ে প্রচার করেন। অনন্তর তিনি সারার্থিবর্ষিণী নামক শ্রীমদ্ভগবদগীতাৰ টাকা, আনন্দ-চন্দ্রিকা নামে উজ্জল নীলমণির টাকা, বিদগ্ধমাধবের টাকা, ললিমাধবের টাকা, গাপালতাপনীর টাকা এবং সুবােধিনী নাম্নী তলঙ্কার-কৌস্তুভের টাকা প্রকাশ করেন। কোন্ সময়ে এই পুস্তকের টীকা রচনা আরম্ভ হয় এবং কোন্ সময়ে শেষ হয়, তাহা সম্পূর্ণ নির্দেশ করা না গেলেও সৈয়দাবাদ-বাসকালেই যে উক্ত গ্রন্থাবলীর টীকা রচিত হয়, এরূপ অনুমান বােধ হয় অসঙ্গত হইবে না। কারণ, উহার মধ্যে বহু টীকাতেই “সৈয়দাবাদ-নিবাসী বিশ্বনাথশৰ্ম্মণা” অর্থাৎ সৈয়দাবাদ-নিবাসী বিশ্বনাথ শৰ্ম্ম-কর্তৃক রচিত বলিয়া আত্মপরিচয় প্রদান করিয়াছেন। বৃন্দাবনে আগমন। ইহার পরেই শ্রীল চক্রবর্তী শ্ৰীবৃন্দাবনে গমন করেন। ঐ সময়ে তিনি শ্রীবৃন্দাবনের নানাস্থানে অবস্থান করিতেন এবং ঐ সময়ে স্বসম্প্রদায়-কর্তৃক অনুরুদ্ধ হইয়া তিনি শ্ৰীভাগবতের সারার্থদর্শিনী নান্নী টীকা রচনা আরম্ভ করেন। তাহার কৃত তৃতীয়-স্কন্ধের টাকা শেষ হইবার সময় তিনি যমুনাতটে বাস করিতে ছিলেন—একথার উল্লেখ করিয়াছেন। ১৬২৬ শকাব্দায় সারার্থদশিনী টীকার রচনা শেষ হয়। বিশ্বনাথ বৃন্দাবন গমন করিবার পূর্বে শ্ৰীবৃন্দাবনের পূর্বসম্পদ ও এর অপহ্নতি ঘটিয়াছিল। শ্রীল গােস্বামিপাদগণের তিরােভাবের সঙ্গেই অপ্রাকৃত শ্রীধাম আপনার মহিমা ও সৌন্দৰ্য্য গােপন করিতে আরম্ভ করিয়াছিলেন। শ্ৰীজীবের প্রিয়-শিমণ্ডলীরও ক্রমশ তিরােভাব ঘটিতেছিল। স্বয়ং প্রকাশ ঐবিগ্ৰহসকলও যবনের অত্যাচারের ছলে শ্রীবৃন্দাবন ত্যাগ করিতেছিলেন। অনুমান ১৫৯২ শকাব্দায় মােগল সম্রাট আওরঙ্গজেব সসৈতে মথুরায় আগমন করিয়া কলেয়া বীরসিংহদেব কর্তৃক বহু লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একেক ( ৫ ) দেবের শ্রীমন্দির ধ্বংস করেন। শ্রীধামের পূজারিগণ পূর্বাহে সংবাদ পাইয়া বৃন্দাবন, গােকুল, মহাবন, মথুরা প্রভৃতি স্থান হইতে বিগ্রহগুলিকে স্থানান্তরিত করিয়া ফেলিলেন। বৃন্দাবন অন্ধকার করিয়া গােপীনাথ, মদনমােহন, গােবিন্দ, রাধাবিনােদ, রাধাদামােদর প্রভৃতি চলিয়া গিয়াছিলেন ; মথুরা হইতে কেশব- দেবকে উদয়পুরে নাথদ্বারে রক্ষা করা হইল। যেস্থানে কমমূলে রত্নাগার- সিংহাসনে শ্রীরাধাগােবিন্দের অপ্রাকৃত শ্ৰীমূর্তি শােভা পাইত, সেই শ্রীগােবিন্দ- দেবের অপূৰ্ব্ব-শােভাশালী মন্দির ভগ্ন হইল । শ্ৰীবৃন্দাবন হইতে শ্রীগােবিন্দদেব, এগােপীনাথ, শ্রীমদনমােহন, শ্রীরাধাদামােদর, শ্রীরাধাবিনোদ ও রাধামাধব প্রভৃতি গৌড়ীয় বৈষ্ণব-সম্প্রদায়ের বিগ্রহগুলি জয়পুরের প্রথম জয়সিংহের জ্যেষ্ঠপুত্র শ্রীরামসিংহের আশ্রয়ে নীত হইলেন। জয়পুরে গমন করিয়া বাঙ্গালী সেবাইতগণই তদবধি এই সকল বিগ্রহের সেবা করিতে থাকেন। শ্রীবৃন্দাদেবী কাম্যবনে যাইয়া শ্ৰীবৃন্দাবন ত্যাগ করিতে সম্মত না হওয়ায় তিনি সেইখানেই থাকিয়া গেলেন। শ্ৰীবৃন্দাবনে গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণের প্রভাবও ক্রমশঃ ক্ষুন্ন হইয়া আসিতেছিল। বিশ্বনাথ শ্রীবৃন্দাবনের এই অবস্থা দেখিয়া স্বীয় কর্তব্য স্থির করিয়া লইলেন। তিনি বৃন্দাবনের লুপ্ত গৌরব পুনরুদ্ধারে কৃতসংকল্প হই- লেন। এই সময়ে অসাধারণ প্রতিভাশালী শ্ৰীল কলদেব বিদ্যাভূষণ মহাশয় শ্ৰীবৃন্দাবনে আগমন করিয়া ল বিশ্বনাথ চক্রবর্তী মহাশয়ের কাৰ্যের সহা- যুতা করেন। বলদেব ন্যায়শাস্ত্রে সুপণ্ডিত ছিলেন। ল চক্রবর্তী মহাশয়ের আনুগত্য করিয়া ভক্তি-শাস্ত্রে সহজেই অধিকার লাভ করিলেন। শ্ৰীল বিশ্বনাথ বলদেবের সহায়ে জমণ্ডলে অধ্যাপনাদি দ্বারা গােদামিশাস্ত্রের, প্রচার আরম্ভ করেন। বৃন্দাবনধামে পুনরায় ভক্তিশাস্ত্রের অধ্যাপনা আরম্ভ হওয়ায় দলে দলে বিভক্ত ছাত্রগণ বৃন্দাবনে সমাগত হইতে লাগিল। বিশ্বনাথ পুনরায় একবার গৌড়মণ্ডলে প্রত্যাবর্তন করিয়াছিলেন। গৌড়দেশেও তাহার শিষ্য ছিল। * শ্ৰবলদেব বিদ্যাভূষণ শীল শ্যামানন্দ ঠাকুরের পরিবারভুক্ত। ঐল শুনলেয় শিষ্য শ্রমিক মূয়রি। রসিক মুরারির পুত্র শ্রীরাধানন ও শ্রীরাধাৰন্দের পুত্র ঐল নয়নাল রসিক মূরিরই শিষ্য। নয়নানন্দের শিষ্য “বেদান্ত-স্যমন্তক” রচয়িতা ঐল রাধাদামােদর। শ্রীবলদেব বিদ্যাভূষণ ইহাই মন্ত্রশিষ্য ।

( ৬ ) “ভক্তিরত্নাকর” ও নরােত্তম-বিলাসের’ গ্রন্থকার নরহরি ভক্তিরত্নাকর-গ্রন্থে স্বীয় পরিচয় প্রদানস্থলে মুর্শিদাবাদের অন্তর্গত রেঞাপুর-গ্রামনিবাসী স্বীয় পিতৃদেব জগন্নাথকে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী মহাশয়ের মন্ত্রশিষ্য বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন। “শ্রীকৃষ্ণভাবনামৃত” গ্রন্থের টীকাকারীকৃষ্ণদেব সার্বভৌম মহাশয়ও শ্রল বিশ্বনাথ চক্রবর্তী মহাশয়ের মন্ত্রশিষ্য বলিয়া প্রসিদ্ধ। অল্পকাল-মধ্যেই চক্ৰবৰ্তী মহাশয় পুনরায় শ্ৰীবৃন্দাবনে প্রত্যাগমন করেন। তথায় রাধাকুণ্ড-তীরে তিনি স্থায়িভাবেই অবস্থান করিতে থাকেন। ঐ সময়ের একটা বিশেষ ঘটনার কথা তিনি স্বীয় মন্ত্রাৰ্থ-দীপিকা”য় উল্লেখ করিয়াছেন। কামার স্ত্রীর অর্থ-পৰ্যালােচনা করিবার সময়ে তিনি শ্রীচৈত- চরিতামৃতের *কাম-গায়ত্রী মন্ত্ররূপ, হয় ফষ্ণের স্বরূপ, সাদ্ধ চব্বিশ অক্ষর তার হয়। সে অক্ষর চাহয় কষ্ণে করি উদয় ফ্রিজগৎ কৈল কামময়।” এই পদ্যটার প্রমাণ কমগায়ত্ৰী যে কিরূপে চতুর্বিংশ অক্ষয় এবং অন্ধাক্ষরে গঠিত, তা বুঝিতে পারেন না। কি করিয়া যে অন্ধাক্ষরের অস্তিত্ব সম্ভব হইতে পারে, তাহা তিনি বুঝিতে পারেন না। ব্যাকরণ পুরাণ তন্ত্র নাট্য অলঙ্কায়াদি শাস্ত্র বিশেষরূপে অনুসন্ধান করিয়াও তিনি উহাতে অর্ধাক্ষরের উল্লেখ দেখিতে পাইলেন না। পরন্তু ঐ সকল শাম্বেই স্বরব্যঞ্জন-ভেদে পঞ্চাশৎ অক্ষরের উল্লেখ আছে। শ্রীল : জীব-গােস্বামীর হরিনামমূত- ব্যাকরণের সংজ্ঞাপদেও স্বরব্যঞ্জনাদিভেদে পঞ্চাশ বর্ণের উল্লেখ আছে। মাতৃকান্যাসাদিতেও মাতৃকারূপের ধ্যানে কুত্রাপি অর্ধাক্ষরের উল্লেখ দেখিতে পাইলেন না। পরন্তু বৃহন্নাদীয়-পুরাণেশ্রীরাধিকার সংক্রাম-স্তোত্রে শ্রীবৃন্সা- বনেশ্বরী রাধাকে পঞ্চাশদ্বারূপিণী বলিয়া বর্ণিত দেখিতে পাইলেন। তখন তিনি ভাবিলেন, কবিরাজ-গােমীর কি ভ্রম হইল ? কিন্তু তাহাও ত হইবার সম্ভাবনা নাই; কারণ তিনি ভ্ৰম-প্রমাদাদি-দোষ-বহি সর্বজ্ঞ। যদি “খণ্ড-ত (c) কে অবর্ণ বলিয়া নির্দেশ করা যায় তাহা হইলে ঐল কবিরাজ গােস্বামী কমভঙ্গদোষে দোষী হন। কারণ, ল কবিরাজ গােস্বামী বর্ণনা করিয়াছেন- • সখি হে! কৃষ্ণমুখ দ্বিগজরা। কৃষ্ণবপুঃ সিংহাসনে, বসি রাজ্য শাসনে করে সঙ্গে চরে সমাজ। দুইগণ্ড সুচিরুণ, জিনি মণি সুদর্পণ, সেই দুই পূর্ণচন্দ্র জানি। ললাট অষ্টমী-ইন্দু, তাহাতে চলন-বিন্দু সেই এক পূর্ণচন্দ্র মানি। করন চাঁদের হাট বংশীয় উপর করে নাট তার গীত মুরলীর তান। পদ নখ চন্দ্রগণ তলে করে সুনৰ্তন যার ধ্বনি নৃপুরের গান।” উদ্ধত বর্ণনায় প্রথমে কৃষ্ণমুখ—এক চন্দ্র, তাহার পর দুইগও দুই চন্দ্র, তাহার পর চলনবিন্দু পূর্ণচন্দ্র, চন্দনবিন্দুর নিম্নস্থ ললাটভাগকে অষ্টমীর ইন্দু বা অর্ধচন্দ্র বলিয়া বর্ণনা করা হইয়াছে। ইহাতে পঞ্চমাক্ষরই অন্ধাক্ষর হইবার কথা, কিন্তু ‘খণ্ড-ত’ (২) কে অর্ধাক্ষর ধরিলে, শেষাক্ষরই অন্ধাক্ষর হয়— পঞ্চমাক্ষর হয় না। বিশ্বনাথ এই প্রকার সন্দেহে আকুল হইয়া ভাবিলেন, “যদি মন্ত্রাক্ষর গােচর না হয়, তবে দেবতাও গোচরীভূত হন না, অতএব উপস্থি দেবতার সাক্ষাৎকার না ঘটিলে দেহত্যাগই আমার কর্তব্য।” এই মনে করিয়া মনটদুঃখে দেহত্যাগ-অভিলাষে রাধাকুণ্ডতটে নিপতিত হইলেন। এইরূপ সঙ্কল্পের পর রাত্রি দ্বিতীয় প্রহর অতীত হইলে তাহার তন্দ্রা উপস্থিত হয়। ঐ অবস্থায় তিনি দেখিতে পাইলেন যে, শ্রীবৃষভানুনন্দিনী তাহার নিকট উপস্থিত হইয়া বলিড়েছেন—“হে বিশ্বনাথ ! হে হরিবল্লভ! তুমি উঠ, শ্রীকৃষ্ণদাস কবিরাজ যাহা লিখিয়াছেন, তাহা সকলই সত্য। তিনি নসহচরী, তিনি আমার অনুগ্রহে আমার অন্তঃকরণের সকল ভাবই অবগত আছেন। তাহার বাক্যে তুমি কোনরূপ সন্দেহ করিও না। কামগায়ত্রীই আমার ও আমার প্রাণ- বল্লভের উপাসনাম, আমরা মন্ত্রাক্ষরদ্বারে ভক্তের নিকট প্রকাশিত হই। আমার অনুগ্রহ ব্যতীত কেহই আমাদিগকে জানিতে সমর্থ নহে। “বর্ণাগমভাস্বৎ” নামক গ্রন্থে অন্ধাক্ষর নিরূপণ সম্বন্ধে যাহা লিখিত আছে এবং যাহা দেখিয়া শ্রীকৃষ্ণ • ( ৮ ) দাস কবিরাজ প্রমাণ সংগ্রহ করিয়াছেন, তুমি তাহা শ্রবণ কর ; তদনন্তর তুমি এই গ্রন্থ দেখিয়া সকলের উপকার সাধনার্থ ইহার প্রমাণ সংগ্রহ কর।” স্বয়ং বৃষভানুনলিনী শ্রীরাধিকার এই আদেশ-বাক্য শ্রবণ করিয়া চেতনা লাভ করিয়া বিশ্বনাথ শীঘ্র উখিত হইলেন এবং হা রাধে-রাধে ! বলিয়া পুনঃ পুনঃ বিলাপ করিতে করিতে হৃদয়ে শ্রীরাধিকার আদেশবাণী ধারণ করিয়া তাহার পালনে যত্নবান্ হইলেন। অর্ধাক্ষর-নির্ণয়-বিষয়ে শ্রীরাধিকা যাহা বলিলেন, তাহাতে “যে অ-কারের পর “বি” অক্ষর আছে-সেই যু-কারই অন্ধাক্ষর, তদ্ভিন্ন পূর্ণাক্ষর পূর্ণচন্দ্র।” শরাধিকার কৃপায় মন্ত্রাৰ্থ গােচর হওয়ায় বিশ্বনাথ ইষ্টদেব সাক্ষাৎ করিয়া সিদ্ধদেহে নিত্যলীলার পরিকরভুক্ত হইলেন। এই সময়ে তিনি রাধাকুণ্ডতীরে শ্রীগােকুলানন-নামক বিগ্রহের প্রতিষ্ঠা করেন এবং তথায় অবস্থানকালে শ্ৰীবৃন্দাবনের নিত্য-নীলমাধুৰ্য অনুভব করিয়া শ্ৰীল কবিকর্ণপুর গোস্বামীর “আনন্দ-বৃন্দাবনচম্পূর” সুখবৰ্তনী নাম্নী টীকা প্রকাশ করেন যথা- সরাধাপরন্তীরকুটীরবর্তিনঃ প্রাপ্তব্যবৃন্দাবন-চক্রবর্তিন। আনন্দচন্দু বিবৃতিপ্ৰবৰ্ত্তিনঃ সন্তো-গতিৰ্ম্মে সুমহানিবৰ্ত্তিনঃ ” এখন হইতে প্রধান শিষ্য বলদেবই শিষ্যগণকে অধ্যাপনা করাইতেন। শ্রীবিশ্বনাথ অন্তদশায় ও অর্ধবাহ-দশায় ভজনানন্দে অধিকাংশ কাল যাপন করেন। গৌড়ীয়-বৈষ্ণবমত-প্রতিষ্ঠা। শ্রীবৃন্দাবনে গােস্বামিপাদগণের প্রভাব কিঞ্চিৎ লােপ পাইবার পরই স্বকীয়া-পরকীয়াবাদ লইয়া মতভেদ উপস্থিত হইল। বিশ্বনাথ বৃন্দাবনে উপস্থিত হইয়াও পশ্চিমাঞ্চলের বৈষ্ণবগণের স্বকীয়াবাদের ভ্রম নিরসন কুরিয়া নিজ সিদ্ধান্ত-স্থাপনমানসে “রাগবত্মচন্দ্রিকা” “গােপীপ্রেমামৃত” প্রভৃতি গ্রন্থ রচনা করেন। কিন্তু উহাতেও সমস্ত গণ্ডগােলের মীমাংসা হয় নাই। বিরুদ্ধ- পক্ষীয় বৈষ্ণবগণ ১৬৪০ শকে অম্বররাজ দ্বিতীয় জয়সিংহকে বুঝাইলেন যে, গােবিন্দের সহিত শ্রীরাধিকার পূজা শাস্ত্রসম্মত নহে, কারণ ভাগবত বা বিষ্ণুপুরাণে শ্রীরাধিকার নাম দৃষ্ট হয় না। রাজা অগত্যা শ্ৰীমতী রাধিকার মূৰ্ত্তি পৃথক্‌ গৃহে রাখিয়া তাহার স্বতন্ত্র পূজার ব্যবস্থা করিলেন। বৃন্দাবনের বৃদ্ধ বৈষ্ণবগণ তখন ইহার প্রতিকারের জন্য বিশ্বনাথের শরণাপন্ন হইলেন। বিশ্বনাথের আদেশে বলদেব-বিদ্যাভূষণ জয়পুরে গমন করিয়া স্বকীয়াবাদী- বৈষ্ণবদিগকে পরাস্ত করিয়া শ্রীরাধাগােবিন্দযুগলের এক সঙ্গে সেবার ব্যবস্থা করিয়া আসেন। জয়পুরের গলতায় ও-গৌড়ীয় বৈষ্ণবদিগের বেদান্তের কোনও ভাষ্য নাই, অতএব গৌড়ীয়-বৈষ্ণবগণকে তত্ৰত্য গােবিন্দদেবের সেবাধিকারী করা উচিত নহে বলিয়া অন্যান্ত সম্প্রদায়ের বৈষ্ণবগণের সহিত গৌড়ীয়-বৈষ্ণব- সম্প্রদায়ের বৈষ্ণবগণের বিবাদ হয়। বিবাদ হয়। তখন শ্ৰীল চক্রবর্তী মহাশয় অতীব প্রাচীন এবং তখন অধিকাংশ সময়ই তিনি ভজনাননে অৰ্দ্ধবাহ ও অন্তর্দশায় অবস্থান করিতেন। তখন তাহার চলিবার শক্তিও ছিল না। তখন তঁাহারই আদেশে আবার তাঁহার প্রিয়তম ছাত্র বলদেব-বিদ্যাভূষণ গতায় গমন করিয়া শাস্ত্ৰবিচারে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করিয়া তায় গৌড়ীয়-বৈষ্ণব- গণের সেবাধিকার রক্ষা করিয়া আসেন। কেহ কেহ বলেন যে, ঐ সময়ে শ্রীল চক্রবর্তিপাদের আদেশে শ্রীপাদ বলদেব বিদ্যাভূষণ অত্যল্পকালেরই মধ্যে ব্ৰহ্মসূত্রের গোবিন্দভাষ্য-নামক সুপ্রসিদ্ধ মধ্বগৌড়ীয়-ভাষ্য রচনা করেন। কিন্তু এ কথা কতদূর প্রমাণসহ, তাহা এ পর্যন্ত জানা যায় নাই'; ভগবত এই ব্ৰহ্মসূত্রের সূত্ৰকারনিৰ্ম্মিত ভাষ্য, এই জন্য গৌড়ীয়-বৈষ্ণবগণ স্বমত-স্থাপনের জন্য কোনও পৃথক ভায্যের প্রয়ােজন বােধ করেন নাই। এক্ষণে সম্প্রদায়ের, শ্রীবল্পভ-সম্প্রদায়ের ও শ্ৰীনিম্বার্ক-সম্প্রদায়ের বৈষ্ণবগণও শীভাগবতের স্ব স্ব মতানুযায়ী টীকা প্রণয়ন করিয়া উক্ত গ্রন্থকে স্বমতানুসারী প্রমাণ করিতে যত্নবান হওয়ায়, তৎকালিক গৌড়ীয়-বৈষ্ণবগণ ব্রহ্মপুত্রের একটী পৃথক ভায্যের প্রয়ােজন বােধ করিয়াছিলেন। তজ্জন্যই শ্ৰীল চক্রবর্তী মহাশয়ের সম্মতিক্রমেই যে বলদেব বেদান্তের ভাষ্য রচনা করিয়াছিলেন, এ বিষয়ে সন্দেহের বিশেষ অবকাশ আছে বলিয়া বোধ হয় না। সওয়াই দ্বিতীয় জয়সিংহ --অম্বররাজ প্রথম জয়সিংহের পুত্র শ্রীরামসিংহের কনিষ্ঠ বিষ্ণুসিংহের পুত্র। ইনি স্বধৰ্ম্মপরায়ণ, সুপণ্ডিত ও বিদ্যোৎসাহী ছিলেন। ১৬২১ শকে (১৬৯৯ খৃঃ অকে) তিনি জয়পুরের রাজা হইয়াছিলেন। অম্বর হইতে ইনিই নবনির্মিত জয়পুর-সহরে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন। বিদ্যাধর ভট্টাচাৰ্য্য নামক একজন সুপণ্ডিত বাঙ্গালী ইহার যন্ত্রণাদাতা ও ২ ( ১০ ) সহকারী ছিলেন। ইন্নই পরামর্শে জয়পুব সহর নির্মিত হইয়াছিল। স ওয়াই দ্বিতীয় জসিংহই জ্যোতিষগণনার বিশুদ্ধি রক্ষা করিয়া হিন্দুদিগের ক্রিয়া কলাপ যাতে শাস্ত্রানুমােদিত ভাবে সম্পন্ন হইতে পারে, অন্য দিল্লী, জয়পুর, উজ্জয়নী, সাগর, মথুরা ও বারাণসী ধামে জ্যোতিষশাস্ত্ৰ-পারদর্শী ভারতবর্ষের প্রধান প্রধান পণ্ডিতগণের সাহায্যে প্রভৃত অর্থব্যয়ে ছয়টা মানমন্দির প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন। গ্রহ-নক্ষত্ৰ পৰ্যবেক্ষণোপযোগী জ্যোতিষিক যন্ত্রাবলী এই ছয়টী মানমন্দিরেই স্বাপিত হইয়াছিল। বিদ্যাধর ভট্টাচাৰ্য এই সকল কযেই মহারাজা জয়সিংহের প্রধান সাহায্যকারী ছিলেন। আওরঙ্গজেবের পর বাহাদুর শাহ, জাহান্দর সাহ ও ফারুকসিয়র পর পর নিলীর সিংহাসন তারোহণ করেন। ৬৪১ শকে (১৭১৯ খৃঃ অব্দে ) মহম্মদ শাহ দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করেন। রাজনীতি ও পরাক্রমশালী জয়পরাধিপবিতায় জয়সিংহ ইহার সেনাপতি পৰে বৃত হন। বুদ্ধিমান্ মহম্মদ শাহ মহারাজ জয়সিংকে ১৬৪০ অব্দে ( ১৭২১ ) শ্ৰীমথুমণ্ডলের শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। যখন শ্রীল বলদেব-বিদ্যাভূষণ গতার বিচারে জয়লাভ করিলেন, তখন মহারাজা জয়সিংহ বিশ্বনাথ ও ল বলেদব বিদ্যাভূষণের অসামান্য পাণ্ডিত্য ও অপূর্ব সাধনবলে তঁহাদিগের বিশেষ আজ্ঞানুবর্তী হইয়া পড়েন। শ্রীল পরমানন্দ বা রাধারমণ দাস নামক একজন বিরক্ত গৌড়ীয় বৈষ্ণব ঐ সময়ে শীল চক্রবর্তিপদ ও বিদ্যাভূষণ-পাদের অন্তরঙ্গ সঙ্গীরূপে বিরাজ করিতেন। ইহারা তিন জনই শ্ৰীবৃন্দাবনের লুপ্ত গৌরবের উদ্ধারে ও গৌড়ীয় বৈষ্ণব-সম্প্রদায়ের সম্প্রদায়-বৈভব-প্রতিষ্ঠার সংকল্প করেন। ইহারা জয়পুর হইতে শ্রীরাধাদামােদর, শীল রাধাবিনোদ, (ইহরা জয়পুরের প্রথম প্রকোষ্ঠে বিরাজ করিতেছেন শ্রীল গােপীনাথ (ইনি জয়পুরের দ্বিতীয় প্রকোষ্ঠে বিরাজিত) এবং শ্ৰণ গোবিন্দদেবকে (শ্ৰল গােবিন্দদেব জয়পুরের অন্দরমহলে প্রতিষ্ঠিত আছেন ) পুনরায় বৃন্দাবনধামে আনয়ন করিবার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু মহারাজ জয়সিংহ ইহাদিগকে বুঝাইলেন যে, বৃন্দাবন- থম মুসলমান শাসনকর্তাদিগের শাসনাধীন। বারংবার বৃন্দাবনে মুসলমানের অত্যাচার হইয়াছে-পুনরায় যে আবার কোনও মুসলমান সম্রাট শ্রীবৃন্দাবনের + + কপিবেন , ইহা কেহই বলিতে পারে না। পরন্তু শ্ৰীবৃন্দাবনে ( ১১ । { বার মুসলমান-অত্যাচারের সম্ভাবনাই অধিক দেখা যায়। এ অবস্থায় এই সকল বিগ্রহকে শ্ৰীবৃন্দাবনে আনয়ন না করিয়া প্রধামে প্রতিনিধি-বিগ্রহগণের প্রতিষ্ঠা করাই যুক্তিসঙ্গত। শ্ৰল চক্রবর্তিপাদ ও শ্ৰীল বিদ্যাভূষণপাদ মহারাজার যুক্তিসঙ্গত কথায় সম্মত হইলে মহারাজা বৃন্দাবনে শ্রীল গােবিনী শ্ৰীমদনমােহনজী প্রমুখ বিগ্রহগণের ক্রষিগ্রহগণের মন্দির নির্মাণ করিয়া তথায় প্রতিনিধি-বিগ্রহ স্থাপিত করেন। এই প্রতিনিধি-বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা- মহারাজা জয়সিংহ মহদ সাহের আদেশ গ্রহণ করিয়া- ছিলেন। ভক্তকল্পন” নামক হিন্দী পুস্তকেও শ্রীবৃন্দাবনে মহম্মদ সাহের সময়ে প্রতিনিধি-বিগ্রহগুলির প্রতিষ্ঠার কথা লিখিত হইয়াছে। ১৬৪৩ শকাব্দ হইতে ১৬৫০ শকাকা পর্যন্ত মহারাজা জয়সিংহ শ্ৰীমথুরামগুলের শাসনকর্তা ছিলেন। বােধ হয় এই ৭৮ বৎসরের মধ্যে শ্ৰীবৃন্দাবনের শ্রীগােবিন্দজী-প্রমুখ নৃতন বিগ্রহগণের নূতন মন্দির নির্মিত হয় ও সেই সকল মন্দিরে ইহারা সুপ্রতিষ্ঠিত হন।* শ্ৰীবৃন্দাবনে শ্রীরূপসনাতনের অকৃত্রিম মতবাদের প্রতিষ্ঠা ও শ্রীগৌড়ীয়-সম্প্রদায়ের লুপ্ত গৌরবের উদ্ধার এইরূপে ঐল বিশ্বনাথ কর্তৃক সুসমাপ্ত হইয়াছিল। অনেক প্রাচীন বৈষ্ণব শ্রীল চক্রবর্তি- পাদের কাৰ্য্য দর্শনে ইহাকে ঐরূপ গােস্বামীরই দ্বিতীয় মূর্তি বলিয়া মনে করিতেন। অনিদ-রসময়-বিগ্রহ শীল কৃষ্ণচৈতন্থ মহাপ্রভু শ্রীরঘুনাথদাস গোস্বামীকে প্রতিদিন শুদ্ধ সাত্ত্বিকভাবে সেবা করিবার জন্য নিজের প্রেমঘন দ্বিতীয় মুক্তি শ্রীগােবর্ধনশিলা দান করিয়াছিলেন। শ্রীল দাস গোস্বামী শ্রীবৃন্দাবনের শ্রীরাধা- কুণ্ড-টস্থিত স্বীয় ভজনকুটারে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এই শিলার সেবা নিষ্ঠা সহকারে করিয়াছিলেন। তঁাহার অপ্রকটের পর তদীয় প্রিয় শিষ্য শ্রীল কৃষ্ণদাস * এই মন্দির জীর্ণ হইয়া ভগ্ন হইলে ২৪ পরগণার অন্তর্গত জয়নগর মজিল- পুরের সন্নিহিত বড় গ্রামের স্বর্গীয় নলকুমার বসু মহাশয় ১৮১৯ খৃঃ শ্ৰীল গোবিন্দজীর, ১৮২৩ খৃঃ শ্ৰল মদনমােহনজীর ও শ্রীল গােপীনাথজীর বর্তমান মন্দির নির্মাণ করাইয়াছেন। বর্তমান শীল গােবিন্দজী ১৯১১ সালের, বৈশাখ- মাসে প্রতিষ্ঠিত।

{ ১২ } কবিরাজ গোস্বামী এই মহতী সেবার ভার গ্রহণ করেন। এল কবিরাজ মহাশয়ের অপ্রকটাবস্থায় তাহার শিষ্য শ্রীল মুকুন্দদাস এই শিলার সেবায় নিযুক্ত হন। শ্ৰীল গঙ্গানারায়ণ চক্রবর্ত্তী মহাশয়ের দুহিতা শ্রীবিষ্ণুপ্রিয়ার কন্যা পরম- ভক্তিমতী শ্ৰীকৃষ্ণুপ্রিয়া ঠাকুরাণী শ্ৰীল মুকুন্দদাসের নিকট হইতে এই গােবদ্ধন- শিল প্রাপ্ত হন। শ্ৰীযুক্তা কৃষ্ণপ্রিয়া ঠাকুরাণী বৃদ্ধকালে শ্রীল চক্রবত্তি মহাশয়ের দ্বারা নিজ সাক্ষাতে এই শিলার সেবা করিয়া পরমাপ্রীতি লাভ করিতেন। শ্রীল কৃষ্ণপ্রিয়া ঠাকুরাণী পরিশেষে শ্রীল চক্রবর্তি মহাশয়কে এই শিকার সেবার ভার প্রদান করিয়া অপ্রকট হন। এখন পর্যন্ত শীল বিশ্বনাথ প্রতিষ্ঠিত শ্রীবৃন্দাবনে শ্রীল গােকুলানন্দজীর মন্দিরে শ্রীবিগ্রহের সহিত এই শিলার সে হইয়া থাকে। কেহ কেহ বলিয়া থাকেন যে, বিশ্বনাথ বেষাশ্রয় করিয়াছিলেন বা ডেক গ্রহণ করিয়াছিলেন এবং তাহার বেশ্রয়ের নাম হরিবল্লভ। কিন্তু আমরা এ কথার কোনও প্রমাণ প্রাপ্ত হই নাই। পরন্তু বিশ্বনাথ শেষ পর্যন্ত বিশ্বনাথ চক্রবর্তী নামেই স্বীয় পরিচয় প্রদান করিয়াছেন। তবে যখন তিনি কীৰ্ত্তনের পদ রচনা করিতেন, তখন ঐ পদে তিনি হরিবলু = নাম ব্যবহার করিতেন। ভক্তিরত্নাকরের গ্রন্থকার নরহরি পদরচনায়-- ঘনশ্যাম নাম ব্যবহার করিতেন। পদরচনায় এরূপ মামার গ্রহণের প্রথা অন্যত্রও দেখা যায়। আমাদের বিশ্বাস, বিশ্বনাথ পদরচনাকালে ঐরূপ নামান্তর গ্রহণ করিতেন। তিনি “ক্ষণদাগীত চিন্তামণি” নামক যে পদসংগ্রহ-গ্রন্থ প্রকাশ করিয়াছিলেন, তাহাতেও ইহা প্রমাণিত হয়। কাহারও মতে করিবল্লভ বিশ্বনাথেরই নামান্তর। ফলতঃ তিনি অাধুনিক বৈষ্ণবগণের ন্যায় ভেক বা বেষ গ্রহণ করেন নাই। ইহাই অমাদিগের দৃঢ় ধারণা। বিশ্বনাথ যে ভাবে গৌড়ীয়-বৈষ্ণব-ধর্মের মর্যাদা রক্ষা করিয়া পুনরায় শ্ৰীবৃন্দাবনে গৌড়ীয়-বৈষ্ণবধর্মের প্রভাব রক্ষা করিয়াছিলেন, তাহা বিবেচনা করিয়া দেখিলে হার অলৌকিক প্রতিভায় বিস্মিত হইতে হয়। তাঁহার এই অসাধারণ কার্যের জন্য গৌড়ীয় বৈষ্ণবপ্রধানগণ কর্তৃক তখন তঁাহারু নামের একটি ব্যাখ্যা প্রচারিত হইয়াছিল। যথা- ( ১৩ ) “বিশ্বস্য নাথরূপােহসে ভক্তিবত্ম প্রদর্শনাৎ। ভক্তচক্রে বৰ্তিতাৎ চক্রবর্ত্যাখ্যয়াভবৎ। অর্থাৎ “সকলকে ভক্তশ্রেষ্ঠ বিশ্বনাথ মহাদেবের স্যায়) ভক্তিপথ প্রদর্শন করিয়াছিলেন বলিয়া ইহার নাম বিশ্বনাথ এবং ভক্তমণ্ডলীর শ্রেষ্ঠস্থান অধিকার করায় ইনি চক্রবর্তী।” ফলতঃ এই ব্যাখ্যা যে তাহার সম্বন্ধে কিঞ্চিত্রও অতিরঞ্জিত হয় নাই, ইহা তৎকালিক বৈষ্ণব-সমাজের ইতিহাসভিজ্ঞ ব্যক্তিগণই স্বীকার করিবেন। তিনি অনুমান ১৬৭৬ শকে একশত বর্ষ বয়সে মাঘী- শুক্লাপঞ্চমী তিথিতে শ্রীরাধাকুণ্ডে অন্তর্দশার অবস্থায় শ্রীবৃন্দাবনে অপ্রকট হন। শ্রীবৃন্দাবনের পাথুরিয়াঘাটায় অদ্যাপি তাহার সমাধি বর্তমান। * মহামহােপাধ্যায় বিশ্বনাথ বহু গ্রন্থ রচনা করিয়াছিলেন। কালবশে তাঁহার বহু গ্রন্থ লােপ পাইয়াছে ; আমরা অনেক অনুসন্ধানেও তাহার কোনও কোনও গ্রন্থের অনুসন্ধান প্রাপ্ত হই নাই। যতদূর অনুসন্ধান প্রাপ্ত হইয়াছি, তদনুসারে আমরা তৎকৃত গ্রন্থাবলীর একটি তালিকা প্রদান করিলাম; ইহাতে কোনও ভ্রম দৃষ্ট হইলে অভিজ্ঞ ভক্তমণ্ডলী অনুগ্রহ করিয়া সংশােধন করিয়া দিলে বিশেষ কৃতজ্ঞ হইব। (ক)-টীকাগ্রন্থাবলী ১-সারার্থদর্শিনী (শ্রীমদ্ভাগবতের টীকা, ২-সার্থবষিণী (শ্রীমদ্ভগ- বদগীতার টাকা), ৩-আনন্দচন্দ্রিকা (শ্রীউজ্জ্বলনীলমণির টীকা), ৪-সুখবৰ্ত্তনী ( আনন্দবৃন্দাবনচকাব্যের টীকা), ৫-শ্ৰীকবিরাজ-গােস্বামিকৃত-- শ্রীচৈতন্য- চরিতামৃতের সংস্কৃত টাকা, ৬-ঠাকুর মহাশয়কৃত প্রেমভক্তি-চন্দ্রিকার সংস্কৃত টীকা, ৭-বিদগ্ধমাধবের টীকা, ৮-সুবােধিনী ( অলঙ্করকৌস্তুভের টীকা)। (খ)-সংগ্রহ-গ্রন্থাবলী। ৯-গােপাতাপনীয় টীকা, ১০-ভক্তিরসামৃতসিন্ধুর টাকা, ১১-ললিত- মাধবের টীকা, ১২-দানকেলী কৌমুদীর টীকা, ১৩-ব্রহ্মসংহিতায় টাকা, * জনৈক শেঠজী বাঙ্গালীর গৌরবহুল এই সমাধি-ভূমি ক্রয় করিয়া লইয়াছেন। বর্তমানে এই • সমাধিটীর অবস্থা বিশেষ মলিন। বাঙ্গালী বৈষ্ণবর্গ কি ল বিশ্বনাথের সমাধি-রক্ষায়ও উদাসীন থাকিবেন ?

( 19 ) ১৪ -ভক্তিরসামৃতসিন্ধুবি, ১৫-উজ্জলনীলমণিকিরণ, ১৬–ভাগবতামৃতফণ, ১৭-ক্ষণদাগীতচিন্তামণি। (গ)-মূলপ্রবন্ধাবলী। ১৮ -শ্রী ভাবনামৃত, ১৯—চমংকার-চন্দ্রিকা, ২০-গোপীপ্রেমামৃত, ২১-স্তম্বত লহরী, ২২-লেমসম্পট ২৩ -গৌরাঙ্গলীলামৃত, ২৪ -স্বপ্ন- বিলাসাত, ২৫—সাধ্যসাধনকৌমুদী, ২৬ মন্ত্র দীপিকা, ২৭-গৌরগণচন্দ্রিকা, ১৮—সঙ্কল্পকল্পদ্রুম, ২৯ রাবক্স চন্দ্রিকা, ৩০~-ঐশ্বৰ্য্যকাদম্বিনী *, ৩১-মাধুৰ্য- কাদম্বিনী, ৩২-বৈষ্ণবভাগবতামৃত, ৩৩-এরীতিচিন্তামণি, ৩৪-রাধিকা- ধ্যানামৃত, ৩৫ -- রূপচিন্তামণি, ৩৬-সুরতকথামৃত। * আমরা বহুদিন অনুসন্ধান করিয়াও ঐশ্বর্য-কাদম্বিনী” গ্রন্থখানি পাই নাই। যদি কাহারও নিকট ঐ গ্রন্থ থাকে, তবে তিনি অঃ গ্ৰহ করিয়া কলিকাতা “হিতবাদী কাৰ্য্যালয়ে জানাইলে বিশেষ উপকৃত হইব। -লেখক।

সূচীপত্র। ৫ । প্রথমাম্বতষ্টি ও ১-১৬ পৃষ্ঠা মঙ্গলাচরণ ও পূৰ্বাৰ্য-প্রণাম, ভক্তির উৎপত্তির কারণ, ভক্তির সর্বোৎকর্ষ। দ্বিতীয়তষ্ট ঃ ১৭-২৮ পৃষ্ঠা ভক্তির শ্রেণীভেদ ও স্বভাব, ক্লেশঘ্নত্ব ও শুভদত্ব, শ্রদ্ধাদি ক্রমত্রয় ভেদ, ভজনক্রিয়া-নিষ্টি ও অনিষ্ঠিত, অনষ্ঠিত বহুবিধা-উৎসাহময়ী, ঘনতলা, বৃঢ়বিকল্প, বিষয়-সঙ্গরা, নিয়মক্ষমা, তরঙ্গরঙ্গিণী। তৃতীরাম্বতষ্টি ঃ- ২৮-৫১ পৃ: অনর্থের নিবৃত্তি। অনর্থের চারি প্রকার ভেদ, দুষ্কতােখ, সুতোখ, অপরাধেখ ও ভকুখ। অপরােখের প্রকারভেদ, নামাপরাধ ও সেবা- পরাধের ঐক্য, সাধু নিন্দা-রূপ অপরাধের ক্ষয়ের উপায়, গুরুর অবজ্ঞা, শিব- বিষ্ণুব ভেদকল্প না, তিনিন্দা ও অন্যান্য অপরাধের ক্ষয়ের উপায়, ভক্তখ অপরাধের প্রকাবভেদ, অপরাধের নিবৃত্তির পঞ্চপ্রকার ভেদ, নামের শক্তি প্রকাশে বিলম্বের কারণ। চতুর্থস্বতর্কিঃ- ৫১-৫৫ পৃষ্ঠা নিষ্ঠ ভজনক্রিয়া, পঞ্চ প্রকার অভ্যন্তরিক বিয়ের অভাবই নিষ্ঠতার লক্ষণ, সম্বন্ধে মতভেদ ; দ্বিবিধা নিষ্টা। পঞ্চ মমতষ্টি ঃ- ৫৫-৫৯ পৃঃ রুচির উৎপত্তি, শ্রবণাদি-শুদ্ধ অন্তঃকরণেই রুচির উৎপত্তি হয়, রুচির বৈবিধ্য, রুচির লক্ষণ। ম্যহ্বতাষ্ট ঃ- ৫৯-৬৩ পৃঃ অাসক্তির লক্ষণ ; অসক্ত ভক্তের ক্রিয়া। সপ্তমম্বতষ্টি ঃ- ৬৪-১৬৮ পৃঃ ভাবের উৎপত্তি ও তদবস্থাপন্ন ভক্তের লক্ষণ, রাগভক্তখ ও বৈধভাখ ভাব। অষ্টমম্বত ব্লষ্টিঃ- ৬৮-৮৮ পৃঃ ভগবৎপ্রেমের অবির্ভাব, তাহার লক্ষণ-ভগবৎসৌন্দর্য্যের আবির্ভাব ও তাহার লক্ষণ,ভগবংকারুণ্যের প্রকাশ ও তাহার বৈশিষ্ঠ্য ; শ্রদ্ধাদি ক্রমের সংক্ষেপ দিগদর্শন ও ভগবৎসাক্ষাৎকার, গ্রন্থ-সমাপ্তি। ০ ০ ০ ৩ ০ ০ . ০ ০ ০ ৫।

No text on this page.

মাধুৰ্য-কাদম্বিনী। প্রথমামৃতবৃষ্টি। হৃদপে নবভক্তিশস্যবিততে সঞ্জিবনী স্বাগমারম্ভে কামতপন্টু দাহদমনী বিশ্বাপগোল্লাসিনী। দূরান্মে মরুশাখিনােহপি সরসীভাবায় ভূয়াং প্রভুশ্রীচৈতন্য কৃপানিরঙ্কুশমহা মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী ॥১॥ অন্বয়ঃ-হৃদবপ্নে নবভক্তিশস্যবিততেঃ সঞ্জিবনী স্বাগমারম্ভে কামতপর্ত্ত দাহমিনী বিশ্বাপগোল্লাসিনী শ্রীচৈতন্যপানিরঙ্কুশমহামাধুৰ্য-কাদম্বিনী দুরাও অপি মরুশপিনঃ মে সরসীভাবায় ভূয়া ॥১। ভাষা-ব্যাখ্যা-হৃদয়রূপক্ষেত্রে নববিধা ভক্তিরূপ শস্যসমূহের বা নবজাত- ভক্তিরূপ শস্য সমূহের সম্যক জীবনীশক্তি-বিধায়িনী আপনার উদয়ের আরম্ভেই নিদাঘ ঋতুর দাহ-নিবারণী নিখিল বিশ্বরূপ নদীসমূহের উল্লাস-দায়িনী শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভুর নিরঙ্কুশ অর্থাৎ বিধি-নিষেধের অতীত অহৈতুকী কৃপারূপা মহামাধুৰ্য-কাদম্বিনী দূর হইতেই মরুভূমিস্থিত পাপরূপী আমার সরসতা সম্পাদন করুন। এবং কীর্তনং বিষ্ণোঃ স্মরণং পাদসেবনম্। অর্চন: বন্দনং দাস্যং সখ্যমত্মনিবেদন। ভাঃ ৭৫২ শ্রীভগবদগুণ-লীলা-নামাদির শ্রবণ, কীৰ্ত্তন, এবং নাম গুণ-লীলা ও রূপের স্মরণ তাহার পাদসেবন, অর্সন, বন্দনা, তন্দাস্যে আত্মনিয়ােগ, তাহাতে সখ্যভাব এবং সর্বতোভাবে অত্মিনিবেদন—এই নববিধা ভক্তি মহাপ্রভু শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যের কৃপার দ্বারাই লাভ হইয়া থাকে এব এই ভক্তির পরিপাক-দশায়ই প্রেমভক্তির অভ্যুদয় ঘটে। বঙ্গদেশে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যদেবের কৃপায়ই তাহার পার্ষদগণের দ্বারা এই ভক্তি- পথ সুপ্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। শ্রীভগবৎকৃপা ও মহৎপা ব্যতীত ভক্তিলাভ হয়না ; শাণ্ডিল্যসূত্ত্বেও বলা হইয়াছে যে “মহংকৃপয়া বা ভগবৎকপালেশীদা” মহংকৃপা ২ মাধুৰ্য-কাদম্বিনী। [ মা বৃষ্টি। ভক্তিঃ পূর্বৈ: শ্রিত তন্তু রসং পশে যদাত্তধীঃ। তং নোমি সততং রূপনামপ্রিয়জনং হরেঃ ॥২ ইহ খলু পরমানন্দময়াদপি পুরুষা “ব্ৰহ্মপুচ্ছং প্রতিষ্ঠা (১) ইতি ব্রহ্মতােহপি পরাৎপরো—“রসাে বৈ সঃ। রসং হেবায়ং লব্ধানন্দী বা ভগবৎকৃপালৈশের দ্বারাই ভক্তি সঞ্জাত হইয়া থাকে। এই কৃপাব্যতীত কোনও প্রকার যােগ-তপস্যাদির দ্বারা শ্রীকৃষ্ণভক্তি লাভ করা যায়না বলিয়াই শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যদেবের কৃপাকে “নিরঙ্কুশ” বলা হইয়াছে ॥১। অন্বয়ঃ-পূঃৈ ভক্তিঃ শ্রিতা, যদাত্তীঃ তান্তু রসং পশে তং হরে রূপনাম- প্রিয়জনং সততং নোমি ৪২। ভাষা-ব্যাখ্যা।-পূর্ববর্তী মহানগণও ভক্তিদেবীর আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছেন; কিন্তু ইদানীং যাহার কৃপায় বুদ্ধিলাভ করিয়া লােকে সেই ভক্তিকে রসস্বরূপে দর্শন করিতেছে, সেই শ্রীহরির প্রিয় রূপকে সতত প্রণাম করিতেছি। উদ্ধব, নারদ, শ্ৰীশুকাদি যামুনাচাৰ্য্যনাথমুনি গােদাপ্রভৃতি পূৰ্ব্ব পূৰ্ব ভক্তগণও প্রেম সহকারে শ্রীভগবৎসেবা করিয়াছেন। কিন্তু বঙ্গদেশের গৌড়ীয় বৈষ্ণব সিদ্ধান্তানুযামিনী রাগলক্ষণা শুদ্ধরূপা ভক্তির স্বরূপ গৌড়ভুমিতে শ্রীমহাপ্রভুর আদেশে শ্রীরূপ-গােস্বামীই প্রচার করিয়াছেন; এইজন্যই গ্রন্থকার সর্বপ্রথমে তাঁহার প্রণামাদির দ্বারা গ্রন্থের মঙ্গলাচরণ করিলেন । ২। শ্রুতিই সর্বশ্রেষ্ঠ শাপ প্রমাণ। তৈত্তিরীয় শ্রুতিতে আছে যে, পরমানন্দ পুরুষ হইতেই “ব্ৰহ্ম পুচ্ছং প্রতিষ্ঠা” অর্থাৎ ব্রহ্মই পুচ্ছ ও প্রতিষ্ঠা অর্থাৎ আশ্রয়- স্বরূপে এই আনন্দময় কোষাদি উপাধিধারী পুরুষের প্রতিষ্ঠা অর্থাৎ ব্রহ্মকে অবলম্বন করিয়া ইহার সত্তা---এই শ্রুতির দ্বারা ব্ৰহ্মতত্ত্ব নিরুপণের দ্বারা অন্য শ্রুতি “রসাে বৈ সঃ রস হেবায়ং লব্ধ নিন্দী ভবতি” ইত্যাদি শ্রুতির রসূতত্ত্বকেই ব্ৰহ্ম হইতে পরাৎপরতত্ত্ব বা শ্রেষ্ঠতরূপে নির্দেশ করা হইয়াছে। এই পরাৎপরতত্বই ভগবত্তত্ব। সৰ্ব্ববেদান্তসার নিখিল প্রমাণের শিরােমণি শ্ৰী ভাগবতে এই রসম্বরূপ ভগবানকেই “মানামনি তৈত্তিরীয় উপনিষৎ- আনন্দ। ২১১ ১ম বৃষ্টি ] মাধুৰ্য-কাদম্বিনী। ভবতি” (২) ইতি ত্যা সূচ্যমাননা “মল্লামশনিং নরবরঃ স্ত্রীঃ স্মরাে মূৰ্ত্তিমা (৩) ইতি সৰ্ব্ববেদান্তসারেণ নিখিল প্রমাণ- চক্ৰবৰ্ত্তিন শ্রীমদ্ভাগবতেন বসনে বিক্রিয়মাণঃ “ব্ৰহ্মণােহি প্রতিষ্ঠাহং” নৃণাং নরবরঃ স্ত্রীণাং স্ময়ে মূর্তিমান”--মল্লগণের নিকট বজ্র-স্বরূপ, মনুষ্য- গণের মধ্যে নরশ্রেষ্ঠ এবং নারীগণের নিকট যিনি মূর্তিমান্ কন্দর্পরূপে প্রতীয়মান এই বাক্যের দ্বারা রসরূপে বর্ণনা করিয়াছেন। সৰ্ব্বো- পনিষৎসার-শ্রীগীতায়ও “ব্ৰহ্মণে হি প্রতিষ্ঠাং”-শ্রীভগবান্ বলিতেছেন যে “আমিই ব্রহ্মেরও প্রতিষ্ঠা অর্থাং ঘনীভূত প্রকাশ”—এই বাক্যের দ্বারা ২। তৈত্তিরীয় উপনিষদ-আনন্দ ৫১ (৩) ভাঃ ১০৪৩১৭ • পরমার্থ-বিষয়ে শ্রুতিই সর্বশ্রেষ্ঠ প্রমাণ। তৈরীয় শ্রুতিতে অমরাদি কোষ সকলের যিনি মূল আশ্রয়, সেই পরমানন্দময়-পুরুষ হইতেও “ব্ৰহ্ম যিনি, তিনি পুচ্ছসদৃশ এবং আশ্রয় অর্থাৎ আনন্দময়-পুরুষেরও আশ্রয়” এই ক্ষতিদ্বারা ব্রহ্মের উৎকর্ষ প্রকাশিত হইয়াছে। সেই ব্ৰহ্ম হইতেও “তিনি ( ভগবান) রস-স্বরূপ, তাহাকে লাভ করিয়াই ঐ আনন্দময় পুষও আননযুক্ত হয়” এই শ্রুতি দ্বারা স্কুজেন্দ্রনন্দন যে পরাৎপর-তত্ব তাহা সূচিত হইয়াছে। সৰ্ব্ব- বেদান্ত-সার নিখিল-প্রমাণ চক্রবর্তী ক্রমাগবত যাহাকে—“মগণের নিকট যিনি বসদৃশ, সাগরণ মানবগণের নিকট যিনি মনুষ্যশ্রেষ্ঠ ও স্ত্রী-সকলের নিকট যিনি মূর্তিমান, কন্দর্প” ইত্যাদি বাক্যদ্বারা সরূপে বিবৃত করিয়াছেন। গীতােপনিষদ্,-আমি ব্রহ্মেরও প্রতিষ্ঠা অর্থাৎ আশ্রয়-এই বাক্যদ্বারা সেই পরাৎপরতত্ত্বই যে এই ব্রজেন্দ্রনন্দন এই কথা প্রকাশ করিয়া যাহাকে সম্মানিত করিয়াছেন, নিত্য-দেহধারী শুদ্ধসত্ত্বময় নামগুণরূপ ও লীলা-বিশিষ্ট সেই ব্রজ- রাজনদনই কোনও হেতুকে অপেক্ষা না করিয়া স্বেচ্ছাপূৰ্বকই জনবৃন্দের চক্ষু কা, মন বুদ্ধি প্রভৃতি ইন্দ্রিয়বৃত্তিতে অবতরণ করিয়া প্রকটিত হন।

মাধুৰ্য-কাদম্বিনী। [ ১মা বৃষ্টি। ইতি গীততাপনিষদ। চ এৰায়মিতি সংযমানঃ এ জরাজ- নন্দনঃ এব শুদ্ধসময়নিজনাম-রূপগুণলীলাঢ্যোহনাদিবপুরেব কমপি হেতুমনপেক্ষমাণ এ স্বেচ্ছয়ৈব জন-শ্রবণনয়ন-মনন-বুদ্ধ্যাদীন্দ্রিয়- বৃত্তিবতরতে। যথৈব যদুরঘদিবংশে স্বেচ্ছয়ৈ কৃষ্ণরামাদিরূপেণ। তস্য ভগবত ইৰ তদ্রুপায় ভক্তেরপি স্ব প্ৰকাশসিদ্ধার্থসেব হেতুত্বাপেক্ষতা। তথাহি “যতাে ভক্তিয়ধােক্ষজে অহৈতুকপ্রতিহতা” শ্রীভগবানই আপনাকে তাদৃশরূপ নির্দেশ করিয়াছেন, সেই শ্রুতি-স্মৃতিনিদ্দিষ্ট স্বয়ং ভগবান্ শুদ্ধসময় নিজ নাম রূপ গুণ ও লীলা দ্বারা পরিচিত অনাদিবিগ্রহ হইয়াও কোনওরূপ হেতুর বশবর্তী না হইয়াই স্বীয় অসাধারণ স্বকীয়া-শক্তিরূপা ইচ্ছাকে অবলম্বন করিয়াই জনগণের শ্রবণ নয়ন মন ও বুদ্ধি প্রভৃতি ইন্দ্রিয়বৃত্তিতে অবতরণ করিয়া প্রকটিত হইয়া থাকেন। (এইজন্য বহিরিন্দ্রিয় ও অন্তরিন্দ্রিয়ের দ্বারা ভগণের ভগবদনুভূতি হইয়া থাকে। এই প্রকারেই শ্ৰী ভগবান ধ্রুব- নারদাদির প্রতি কৃপা করিয়াছিলেন।) স্বেচ্ছায় শ্রী ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাম- রূপে অাপনার অচিন্ত্যশক্তিবলে যদুবংশে ও রঘুবংশে যেরূপে অবতীর্ণ হইয়া থাকেন,তাহার জনগণের ইন্দ্রিয়-বৃত্তিতে অবতরণও সেইরূপ স্বেচ্ছায় হইয়া থাকে। ( ইহার দ্বারা শ্রীভগবদিচ্ছা বা অনুগ্রহই যে ভক্তের ভগবৎপ্রাপ্তির হেতু, ইহা নির্ধারিত হইল।) শ্রীভগবানের ন্যায় তাঁহারই স্বরূপ-শক্তি ভুক্তিরও স্বপ্রকা- শতা সিদ্ধির জন্যই প্রকাশের জন্য কোনও কেতুর অপেক্ষা নাই। (“শক্তি ও শক্তিমানে অভেদ’—এই হেতু ভক্তি ও ভগবানে ভেদ নাই-এইজন্য ভক্তিকে ‘তপা” বলা হইল।) অর্থাৎ ভগবানের-প্রকাশের বা অবতারের যেমন “স্বেচ্ছ।” ভিন্ন অন্য কারণ নির্দেশ করা যায়না, সেইরূপ ভক্তিদেবীও কোনও কারণ না থাকিলেও স্বীয় ইচ্ছাক্রমে যথায় তথায় প্রকাশিত হন। এইজন্য শ্ৰীভাগবতে বলা আছে- —স কৈ পুংসাং পরে ধৰ্ম্মো যত ভক্তিরখােক্ষজে। """ . অহৈতুকপ্রতিহত মাত্মা সুপ্রীদর্তি।” ।২৬ “যাহার দ্বারা মনুষ্যদিগের অক্ষি জ শ্রী ভগবানে অহৈতুকী ও অপ্রতিহত ১ম বৃষ্টি | মাধুর্না-কাদম্বিনী। ইত্যাদৌ হেতুং বিনৈবাবির্ভবতীতি তত্ৰাৰ্থঃ। তথৈব “যদৃচ্ছয়া মৎ- কথাদো” (১)“মদভক্তিঞ্চ যদৃচ্ছয়া” “যদৃচ্ছয়ৈলােপচিতা” ইত্যাদাবপি যদৃচ্ছায়েতস্য স্বাচ্ছন্দ্যেনেত্যৰ্থঃ। যদৃচ্ছ। স্বৈরিতেত্যভিধানাৎ। যদৃচ্ছয়া কেনাপি ভাগ্যেনেতি (২ ব্যাখ্যানে ভাগাং নাম কিং শুভকৰ্ম্ম- জন্য তদজং বা ? আদ্যে ভক্তেঃ কৰ্ম্মজ-ভাগ্যজন্যত্নে কৰ্ম্মপারতন্ত্রে স্ব প্রকাশপগমঃ। দ্বিতীয়ে ভাগ্যস্যানির্বাচ্যত্বেনাজ্ঞেয়ত্বাসিদ্ধে কথং হেতু। ভগবৎকপৈব হেতুরিত্যুক্তে তস্যা অপি হেতাবন্বিষ্য- ভক্তি জন্মে, তাহাই সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ পৰ্ম্ম। এইরূপ ভক্তির দ্বারাই আত্মা সু প্রসন্ন হন।” উক্ত শ্লোকে “অহৈতুকী” শব্দ “ভক্তি” শব্দের বিশেষণ ; উহা দ্বারা ভক্তির কারণশূন্যতা সুব্যক্ত হইয়াছে। ঐরূপ “যদৃচ্ছয়া মৎকথাদো জাতশ্রদ্ধ যঃ পুমান। ন নির্বিঘ্নঃ নাতিসক্তো ভক্তিযােগােহস্য সিদ্ধিদঃ ॥” “জ্ঞানং বিশুদ্ধমাপ্নোতি মদ্ভক্তিঞ্চ যদৃচ্ছরা।” “যদৃচ্ছয়ৈবােপচি” ইত্যাদি বাক্যের “যদৃচ্ছা” শব্দের অর্থ “স্বেচ্ছাই” বলিতে হইবে। অভিধানেও যদৃচ্ছা শব্দের ‘স্বেচ্ছায় বা স্বতঃ এইরূপ অর্থই পরিদৃষ্ট হইয়া থাকে। কেহ কেহ উক্ত বাক্যগুলির অন্তর্গত ‘যদৃচ্ছা’ শব্দের “ভাগ্যক্রমে এইরূপ ব্যাখ্যা করিয়া থাকেন; ঐরূপ ব্যাখ্যায় ভাগ্য বলিতে শুভকৰ্ম্মজাত ভাগ্য না, শুভকর্মের অভাবজাত ভাগ্য—ইহার কি বুঝিতে হইবে? যদি ‘শুভকৰ্ম্মহেতু এইরূপ অর্থ ধরা যায়, তবে কর্মহেতু ভাগ্যের উদ্ভব হইয়াছে, এই কথায় ভক্তি শুভকর্মের-ধীন এইরূপ বুঝায় এবং ইহাতে ভক্তির “স্বপ্ৰকাশতার” হানি ঘটে। অার যদি শুভ-কর্মের জন্যই ভাগ্যের উদয় হইয়াছে-“ইহা স্বীকার না করা যায়, তবে ভাগ্য কোনও অনির্দেশ কারগ-সস্তৃত ইহারই প্রতীতি ঘটে ; উহাতে ভাগ্যের উদয়ের কারণ অজ্ঞাত হওয়ায় উহা অসিদ্ধ হইয়া পড়ে ; যাহা নিজেই অসিদ্ধ; তাহা আবার অন্যের কারণ হইবে কেমন করিয়া? শ্রী ভগবানের কৃপাকেই যদি উহার কারণ ৫ (১) “যদৃচ্ছয়া মৎকথাদেী” ঙং ১১২০৮ .(২) শ্রীবরস্বামী ঐরূপ ব্যাখ্যা করিয়াছেন।

৬, মাধুৰ্য-কাদম্বিনী। [ ১ম বৃষ্টি। মাণেহনবস্থা। তৎকৃপায়া নিরুপাধিকায়া হেতুকে তস্যা অসাৰ্বত্রিক কেন তস্মিন্ ভগবতি বৈষম্য প্রসঙ্কেত। দুষ্টনিগ্রহেণ স্বভক্তপালন- রূপন্তু বৈষম্যং তত্র ন দূষণবিহং প্রত্যুত ভূষণবহমেব। ভক্তবৎসল্য- গুণস। সর্বচক্ৰবৰ্ত্তিনে সর্বোপমৰ্দকবেনােপরিষ্টাদষ্টম্যামৃতবৃষ্টো বাখ্যাস্যমান। নিরুপাধিকায়াস্তভক্তকুপায়া হেতুত্বে বস্তুততা ভক্তানামপি বৈষম্যানুচিতত্বেহপি “প্ৰেমমৈত্ৰীকৃপােপেক্ষা যা করােতি বলিয়া নির্দেশ করা যায়, তবে ঐ কৃপার আবার হেতুর অন্বেষণের প্রবৃত্তি ঘটে উত্তরােত্তর কারণ অনুসন্ধানের ফলে উদ্বারা কোনও হেতুরই স্থিতি বা স্থায়িত্ব থাকায় উষ্কাতে অবস্থা দোষ ঘটে। কিন্তু তাহার নিরুপাধিক বা অহৈতুকী কৃপার ফলেই ভক্তির উদয় হয়—ইহা ধরিয়া লইলে ঐ অহৈতুকী ভগবৎপা সকলস্থানে দেখা যায় না, পরন্তু কোনও কোনও স্থলে দেখা যায় বলিয়া সেই ভগবানে বৈষম্য-দোষের প্রসঙ্গ টে। যদি তাহার কৃপার কোনও কারণ না থাকে, তবে ঐরূপ রূপ কোনও স্থলে বা ঘটিয়া থাকে ও কোনও স্থলে বা ঘটে না কেন-ইহাতে ত তাহরি পক্ষপাতিত্বই প্রকাশ পায়। কিন্তু দুষ্টনিগ্রহে ও স্বভক্ত-পালনে ভগবানের যে বৈষম্য, উহা তঁাহার পক্ষে দোষাবহ না হইয়া, তাহার অলঙ্কারস্বরূপই হইয়া থাকে। শ্রীভগবানের ভক্তবৎসল্যরূপ এই গুণ অন্য সকল গুণকে পরাজিত করিয়া সর্বশ্রেষ্ঠ হইরা সর্বোপরি বিরাজ করিয়া থাকে—এই বিষয়টীর সমকু আলােচনা এই গ্রন্থের অষ্টমী বৃষ্টিতে করা হইবে । মহৎকৃপা বা ভক্ত-কৃপাকেও ভক্তির কারণ বলা হইয়া থাকে। ভগবৎকৃপা যেরূপ অহৈতুকী বা নিরুপাধিকা, তাহার ভক্তেও তদগুণ সঞ্চারিত হওয়ায় তঁাহার ভক্তকুপাও নিরুপাধিকা বা অহৈতুকী। সুতরাং এই অহৈতুকী ভক্ত- কৃপাকে ভক্তির কারণ, বলিয়া স্বীকার করিলে এই কপা যখন সর্বত্র পরিব্যাপ্ত দেখা যায় না, তখন ইহাতেও বৈষম্য-দোষ প্রতীয়মান হয়; কিন্তু, ভগবৎপায় যেরূপ বৈষম্য অনুচিত, ভক্তপাতেও সেইরূপ বৈষম্য অনুচিত হইলেও মধ্যম ভরে লক্ষণ-প্রসঙ্গে যাহা বলা হইয়াছে যথা—যিনি ভগবানে ভক্তি, ভক্তের প্রতি মৈঞ্জী, অজ্ঞের প্রতি কৃপা এক ভক্তদ্বেষীর প্রতি উপেক্ষা মা বৃষ্টিঃ ] মাধুর্যা-কাদম্বিনী। স মধ্যম:” (ভাঃ ১১৩৪৬) ইতি মধ্যম ভক্তবৈষম্যস্য বিদ্যমান স্বাদ ভগবতণ্ট স্বভবশনে তৎকৃপানুগামিকপত্বে ন কিঞ্চিদ সামঞ্জস্যম্। যতাে ভক্ত-কুপায়া হেতুভক্তস্যৈব তস্য হৃদয়বর্তিনী ভক্তিবে। তাং বিনা কপােদয়সম্ভবাভাবাদিতি ভক্তে প্রকাশ ত্বমেব সিদ্ধ। অতাে “য কেনাপ্যতিভাগেন জাতশ্রদ্ধেহস্য সেবনে” অহিভাগ্যেন শুভকৰ্ম্মজন্যভাগ্যমতিক্রান্তেন কেনাপি ভক্তকারুণ্যেনেতি তত্ত্বার্থে। জ্ঞেয়ঃ। ন চ ভক্তানাং কৃপায় প্রাথম্যাসম্ভবস্তেষামপীশ্বর-প্রোদিতি বাচা। ঈশ্বরেণৈব স্বভক্তবশতাং স্বীকুতা স্বকৃপাশক্তি সম্প্রদানীকৃত স্বভক্তেন করেন তিনিই মধ্যম ভক্ত {১)” এই লক্ষণানুসারে মধ্যমভক্তে বৈষম্য বিদ্যমান আছে; এবং যেহেতু ভগবান্ ভক্তের অধীন, সুতরাং তাহার কৃপাও ভক্তরূপার অনুগামিনী—এই যুক্তি অনুসারে মধ্যম ভক্তের রূপ হইলে ভগবানেরও কুপা হইবে —ইহাতে প্রকৃতপক্ষে কিছুমাত্র অসামঞ্জস্য পরিদৃষ্ট হইতেছেনা। কারণ, ভক্তের হৃদয়বৰ্ত্তিনী যে ভক্তি তাহাই ভক্তাধীন ভগবানের কৃপার মূল কারণ। ভক্তের অন্তর্নিহিত এই ভক্তিব্যতীত ভগবংকৃপার উদয়ের আর কোনও প্রকার সম্ভাবনা নাই; এই জন্যই ভক্তির প্রাক্তন ভাগ্যাদির অপেক্ষা না থাকায় ভক্তির স্বপ্রকাশ সিদ্ধ হইল। অর্থাৎ পূ: ভক্তিকেই যেমন ভক্তির কারণ বলা হইয়াছে, এস্থলেও তাহাই প্রতিপন্ন করায় ভক্তি যে স্বীয় প্রকাশের জন্য কোনও কারণের অপেক্ষা করেন না, ইহা প্রতিপন্ন হওয়ার ভঙ্গি স্বপ্ৰকাশ ইয়া প্রমাণিত হইল। এই কারণেই “যিনি কোনও অতি ভাগ্য হেতু ভগবৎসেবায় জাতশ্রদ্ধ হন্” এই শ্লোকে যে ‘অতিভাগ্য’ কথাটা অাছে, ঐ ‘অতিভাগ্য’ শব্দের অর্থ কোনও ভক্তের কৃপায় শুভকৰ্ম্ম জন্য ভাগ্যকে অতিক্রান্ত করিয়াছে—অর্থাৎ কৰ্ম্ম জন্য ভাগ্য কারণ না হইয়া ভক্তকৃপা স্বতঃই উদিত হইয়াছে—এইরূপ তত্ত্বাৰ্থ বুঝিতে হইবে। ইহা বলা যাইতে পারে যে, ভক্তগণ যখন ঈশ্বরাধীন, তখন ঈশ্বর-কৃপা ব্যতীত প্রথমে ভক্তকৃপা কি প্রকারে উদিত হইবে। ইহার উত্তরে এই বলা যায় যে, ঈশ্বর নিজেই অাপনার কাধীনতা স্বীকার করিয়া নিজভক্তকে (১) , ১৯৪৬ মাধুৰ্যকাদম্বিনী। [ ১ম সৃষ্টি। স্বভক্তেযু, ৫৫ তাদৃশস্য ভক্তোৎকর্ষস্থানাৎ। অন্তর্যামিনশ্চ ঈশিতব্যানাং স্বাদৃষ্টো- পাতিবহিরিন্দ্রিয়ব্যাপারে নিয়মনমাত্ৰকায়িত্বেইপি স্ব প্রসাদ এব দৃশ্যতে। যক্তং গীতা “মৎপ্রসাদাৎ পরাং শান্তি মৎসস্থমিধিগচ্ছতি” ইতি। প্রসাদশ্চ কৃপাশক্তিদানাত্মক পূর্ব উক্ত এব। “স্বেচ্ছাবতার চরিতঃ” ইতি “স্বেচ্ছাময়” ইত্যাদি প্রমাণশতৈরবগতেন স্বাচ্ছন্দ্যেনাবতরতােহপি তস্য ভূভার- হরণদেঃ ধূলদৃষ্ট্যা হেতুত্বে ইব নিষ্কামকৰ্ম্মাদে কাপি দ্বারত্বেহপি ন ক্ষতিঃ। কিঞ্চ- “যন্ন যােগেন সাংখ্যেন দামব্রততপােহধরৈঃ। ব্যাখ্যাস্বাধ্যায়-সন্ন্যাসৈঃ প্রাপুয়া যত্নবানপি।” ( ভাং ১১শ ) নিজের কৃপাশক্তি সম্প্রদান করিয়া ভক্তের তাদৃশ উৎকর্ষ বিধান করিয়াছেন। ভক্তগণের নিজ নিজ অদৃষ্ট উপার্জিত বহিরিন্দ্রিয়-ব্যাপারে ভগবৎকৃপাশক্তির প্রকাশাদিতে যদিও শ্রীভগবানের নিয়ন্ত্ব-শক্তিমাত্র থাকে অর্থাৎ ভগবান্ হইতে প্রাপ্তশক্তির যথাযযাগ্য ব্যবহার নিয়মিত করিবার শক্তি শ্রীভগবানেই আছে অর্থাৎ ভক্তের এ বিষয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা নাই, তথাপি তাহার নিজ ভক্তগণের প্রতি নিজের অনুগ্রহই দৃষ্ট হইয়া থাকে। এইজন্য ঐগীতাশাস্ত্রে বলা হইয়াছে, অনার ভক্ত আমার প্রসাদেই আমাতে সম্যক্‌রূপে অবস্থিত যে পরাশান্তি তাহা প্রাপ্ত হইয়া থাকে। এখানে প্রসাদ’ শব্দে নিজের রূপ- শক্তির দানরূপ অনুগ্রহ বুঝিতে হইবে-ইহা পূৰ্বে বলা হইয়াছে। এতদ্ভিন্ন আর ও স্বেচ্ছায় চরিত্র-সমূহের দ্বারা” “সেচ্ছাময়” ইত্যাদি শত শত প্রমাণের দ্বারা অবগত হওয়া যায় যে, অবতার-গ্ৰহণাদি কাৰ্য্য তাহার অচিন্ত্য ইচ্ছাশক্তির দ্বারাই ঘটিয়া থাকে, তথাপি স্থূলদৃষ্টিতে যেমন ভূভার-হরণদিকেই ভগবানের অবতারের কারণ বলা হইয়া থাকে, সেইরূপ নিষ্কাম-কৰ্ম্মাদিকে ভক্তিলাভের দ্বার বা উপায় বলা হইয়া থাকিলেও তাহাতে কোন ক্ষতি হয় না। “লােক সকল যত্নবান হইয়া ও যোগ, সাংখ্য, জ্ঞান, দান, ব্রত, জপ, যজ্ঞ, শব্যাখ্যা, ১ম বৃষ্টি ] মাধুৰ্যকাদম্বিনী। ইত্যাদি দানব্রতাদীনাং স্পষ্টমেব হেতুখণ্ডনেহপি- “দানব্রততপােহােম-জপস্বাধ্যায়-সংযমৈঃ । শ্রেয়ােভিৰ্বিবিধৈশ্চান্যৈঃ কৃষ্ণে তক্তিৰ্হি সাধ্যতে।” ইতি যদ্ধেত্বং ঐয়তে তৎ খলু জ্ঞানাঙ্গভূতায়াঃ সাফিক্যা এৰ ভক্তে ন তু নিগুয়া প্রেমাঙ্গভূয়া। কেচিৎ তু দানং বিষ্ণু বৈষ্ণবসম্প্রদানকং ব্রান্যেকাদশাদীনি তপস্তৎপ্রাপ্তিহেড়ুকো ভােগাদি- ত্যাগ ইতি সাধনভক্ত্যঙ্গাবােহুঃ। তৎসাধ্যত্বে ভক্তেঃ “ভা সঞ্জাতয়া ভক্ত্যা” ইতিবৎ নিহেতুকত্বমেব সিদ্ধমিতি সর্ববং সমঞ্জসম্॥ ৩। “শ্রেয়ঃসূতিং ভক্তিমুদস্য তে বিভাে” * “কোবার্থ আপ্তোহজং বেদাধ্যয়ন, সন্ন্যাসাদির দ্বারাও যাহা প্রাপ্ত হওয়া যায়না” ইত্যাদি শাস্তুবাক্যে দান-তাদির ভক্তিপ্রাপ্তির হেতু স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ হইলেও অন্যত্র “দান, ব্রত, তপস্যা, হােম, জপ,বেদাধ্যয়ন, সংযম ও অন্যান্য বিবিধ শ্রেয়ােজনক কার্যের দ্বারা শ্রীকৃষ্ণে ভক্তি সাধিত হয়।” এই শ্লোকের দ্বারা দান-ব্রত তপস্যা ইত্যাদি কাৰ্য্যকে যে ভক্তির সাধক বলা হইয়াছে, উহা জ্ঞানাঙ্গভূত সাত্ত্বিক ভক্তির ; পরন্তু ঐ দানব্রতাদি প্রেমাঙ্গভূত নিগুণাভক্তির হেতু নহে। কেহ কেহ ঐ শ্লোকের ব্যাখ্যা করিতে যাইয়া ঐ দানশব্দে বিষ্ণু ও বৈষ্ণবােদ্দেশ্যে দান, ব্ৰত-শব্দে ভক্ত্যঙ্গ একাদশী প্রভৃতি ব্ৰত এবং তপস্যা-শকে ভগবৎপ্রাপ্তির উদ্দেশ্যে ভােগাদিত্যাগ এইরূপ সাধন-ভক্তির অঙ্গ বলিয়া থাকেন। এই সমস্ত ভক্তির অঙ্গের দ্বারা ভক্তিকে সাধ্য বলায় “ভক্তির দ্বারা সঞ্জাত ভক্ৰিহেতু” এই বাক্যে যেরূপ ভূক্তিকেই ভক্তির হেতুরূপে বলা হইয়াছে, সেইরূপ ভক্তির উদয়ে অন্য কোনও হেতুর অস্তিত্ব নাই-ইহা প্রতিপন্ন হওয়ায় সকলের সহিত সামঞ্জস্য হইয়াছে। “যেসকল দুর্ভাগ্যলোক শ্ৰেয়েলাভের পথ পরিত্যাগ করিয়া কেবল জ্ঞান-লাভের জন্য ক্লেশ স্বীকার করে, শস্যহীন তুষকে ভাং ১•১৪৪ মাধুৰ্যকাদম্বিনী। [ ১মা বৃষ্টি। স্বধৰ্ম্মতঃ” ইতি “পুরৈব ভূমন্ বহুবোহপি যােগিনঃ” ইত্যাদিভ্যো জ্ঞান- কৰ্ম্মযােগাদীনাং প্রতিষফলসিদ্ধ্যৈ ভক্তিমবশমপেক্ষমাণানামিব পুনঃ পুনঃ আঘাত করিলেও যেমন শস্যলাভ হয়না, পরন্তু ক্লেশমাত্রই সার হয়, তাদেরও সেইরূপ ক্লেশমাত্র সার হয়।” “মানব স্বধর্মত্যাগ করিয়া শ্রীহরির পাদপদ্ম ভজনা করিতে করিতে যদি অসিদ্ধ অবস্থায়ই কোনরূপে পথভ্রষ্ট হয়, তাহা হইলেও তাহার স্বধৰ্ম্ম-ত্যাগের নিমিত্ত তাহার কোনও প্রকার ক্ষতি হয়না।” “পুরাকালেও বহু বহু যােগী তােমাকে প্রাপ্ত না হইয়া নিজ নিজ লৌকিক চেষ্টা- সকল তােমাতে সমর্পণ করিয়াছিলেন এবং পরে স্বীয় কৰ্মাৰ্পণ দ্বারা লব্ধ ও তােমার কথা শ্রবণে সঞ্জাত ভক্তিযােগ দ্বারা আত্মতত্ত্ব অবগত হইয়া তােমার পরমাগতি লাভ করিয়াছিলেন।”—এই সকল শাস্ত্র-প্রমাণ হইতে ইহাই বুঝা যাইতেছে যে-~-জ্ঞান, কৰ্ম্ম, যােগ ইত্যাদির উদ্দিষ্ট ফল লাভের জন্য অবশ্যই ভক্তির অপেক্ষা করিতে হইবে অর্থাৎ জ্ঞানী, কর্মী ও যোগীর নিজ নিজ অভীষ্ট ফল লাভ করিতে হইলে তাহাদিগকে ভক্তি অবলম্বন করিতে হইবে; ( ফলতঃ শ্রদ্ধামুল ভক্তি:ব্যতীত সিদ্ধি-সমুৎসুক সাধকেরও সাধন-পথে অবিচলিতা নিষ্ঠা জন্মেনা।) কিন্তু ভত্তিকে স্বীয় উদ্দিষ্ট ফল প্রেম সিদ্ধির জন্য জ্ঞান, যােগ বা কন্মের অপেক্ষা করিতে হয়না অর্থাৎ ভক্তকে ভগবৎপ্রেম লাভ করিবার জন্য জ্ঞান-পথের যাগযজ্ঞাদি কৰ্ম্ম-পথের এবং অষ্টাঙ্গ যােগ পথের অবলম্বন করিতে হয়না ; অর্থাৎ ভগবানে ভক্তি জন্মিলে তাহার পরিপক্কাবস্থায় প্রেমফল লাভ অবশ্যই হইবে। প্রেমলাভের জন্য অন্য কোনও সাধনায় তাহার প্রয়ােজন হয়না। প্রত্যুত “কেবল জ্ঞান বা কেবল বৈরাগ্য ইহার কিছুই ভক্তিপথে মঙ্গলজনক হয়” “যিনি সকল ধর্ম পরিত্যাগ করিয়া আমাকে ভজনা করেন, তিনিই সাধুশ্রেষ্ঠ।” এই সমস্ত প্রমাণ হইতে ভক্তির অন্যাপেক্ষিত্বের কথা ত’ দূরে বরং জ্ঞানকর্মযােগাদির নিজ নিজ উদ্দিষ্ট ফললাভ ভক্তি-সাহায্যেই নিম্পন্ন হইয়া থাকে। ভক্তির কিন্তু উহাদের উদ্দিষ্ট ফল উৎপাদনে কাহারও সামান্য মাত্র সাহায্যেরও প্রয়োজন হয় না। অর্থাৎ জ্ঞান-কৰ্ম্মযােগদির সাধনার ফলও ভক্তি উহাদের সাহায্য না লইয়া স্বয়ং দান করিয়া থাকেন, এই জন্যই শাস্ত্রে বলা হইয়াছে “যাগ-যজ্ঞাদি কর্মের দ্বারা, ব্ৰদি তপস্যার দ্বারা বা জ্ঞান ও ১ম বৃষ্টি। মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। ১১ ভক্তেঃ স্বীয়ফলপ্রেমসিদ্ধ্যৈ স্বপ্নেহপি ন তত্তসাপেক্ষম্ ; প্রত্যুত “ন জ্ঞানং ন চ বৈরাগ্যং প্রায় শ্ৰেয়ো ভবেদিহ” ইতি “ধৰ্ম্মান সংত্যজ্য যঃ সর্বান্ মাং ভজেৎ স চ সত্তমঃ” ইত্যাদিভ্যস্তস্যাঃ সর্বথানন্যাপেক্ষিত্বং কিং বক্তব্যং তেষামেব জ্ঞানকৰ্ম্মযােগাদীনাং প্রাতিম্বেকে ফলেঘপি কদাচিদাত্মনা কদাচিদাত্মনা সাধ্যমানেষু ন তওঁদ, গন্ধাপেক্ষতৃপি। যক্ত ‘যৎকৰ্ম্মভি-যৎ তপসা জ্ঞানবৈরাগ্যতশ্চ যৎ।” ইত্যাদৌ ‘সর্বং মক্তিযােগেন মদ্‌ভক্তো লভতেইঞ্জস।” ইতি। তাং বিনা তু তেষাং- “ভগবদ্ভক্তিহীনস্য জাতিঃ শাস্ত্ৰং জপস্তপঃ। অপ্রাণস্যেব দেহস্য মণ্ডনং লােকরঞ্জনম্ ॥” (১) ইত্যাদেবৈফল্যায়ৈৰ স্যাদিতি। তস্যাঃ পরমমহত্যা অধীনত্বং তেষাং সংপ্রাণায়ৈবাস্তাম্। অপি কৰ্ম্মযােগস্য কালদেশপাত্ৰদ্ৰব্যানুষ্ঠান- শুদ্ধ্যাদ্যপেক্ষা চ তত্তৎ স্মৃতিপ্রসিদ্ধৈব। বৈরাগ্যের দ্বারা যে ফললাভ হয়, সেই সমস্ত ফল আমার ভক্ত একমাত্র ভক্তিযােগের দ্বারাই বিনায়াসে লাভ করিয়া থাকেন। কিন্তু ভক্তি ব্যতীত ঐ সমস্ত ফললাভ হইলে কি হয়, সেই সম্বন্ধে শাস্ত্র বলিতেছেন-“লােক-রঞ্জনের জন্য প্রাণহীন দেহের মণ্ডন (বেশভূষা ধারণ ) যেরূপ নিল, সেইরূপ ভগবদ্ভক্তি- বিহীন ব্যক্তির জন্ম (বা উচ্চবংশে জন্ম) শাস্ত্রজ্ঞান, তপস্যা ও জপ একেবারে নিষ্ফল। অর্থাৎ একমাত্র ভক্তি না থাকিলে এই সমস্ত সাধনা একেবারেই নিল। দেহ যেমন প্রাণের অধীন, সেইরূপ জপ তপ তপস্যাদিও পরম মহতী ভক্তিদেবীর অধীন। এতদ্ভিন্ন কৰ্ম্মযােগের অর্থাৎ যাগ-যজ্ঞাদির অনুষ্ঠানে কাল, দেশ, পাত্র, দ্রব্য, অনুষ্ঠান, শুদ্ধি প্রভৃতির অপেক্ষা আছে; অথাৎ শাস্ত্রমতে কালদেশাচারে • (১) হরিভক্তি-সুধোদয় ৩১১ মাধুৰ্যকাদম্বিনী। [ মা বৃষ্টিঃ। অস্যাস্তু ন তথা-- “ন দেশনিয়মস্তত্র ন কালনিয়মস্তথা। নােচ্ছিষ্টাদৌ নিষেধােহস্তি হরেনামনি লুব্ধক।” (১) ইত্যাদে। কিঞ্চস্যঃ প্রসিদ্ধসাপেক্ষমপি ন। “সকৃদপি পরিগীতং শ্রদ্ধয়া হোয়া বা 'তৃণ্ডর নরমত্রিং তারয়েৎ কৃষ্ণনাম।” (২) ইত্যাদে। কৰ্ম্মযােগস্ত তথাভূতত্বে মহানর্থকারিত্বমেব । “মন্ত্রহীন স্বরত বর্ণলতা বা মিথ্যে প্রযুক্তো ন তমর্থমাহ। যথেন্দশ স্বরতােহপরাধ স বাগ বজো যজমানং হি হিনস্তি।” ইত্যাদে। কটি ঘটিলে কর্ম ইষ্ট ফলপ্রদ হয় না--ইহা সেই সেই কৰ্ম্মের বিধান প্রবর্তক পুতিতেই প্রসিদ্ধ আছে। কিন্তু ভক্তির পক্ষে ঐরূপ বিধান নাই। এইজন্যেই শাস্ত্রে আছে—“হে লুক ! ইহাতে অর্থাৎ নামকীৰ্ত্তনাদিরূপ ভক্ত্যঙ্গের অনুষ্ঠানে দেশের নিয়ম নাই বা কালের নিয়মও নাই ; পরন্তু এই হরিনামে উচ্ছিষ্টাদির অবস্থায় নিষেধও নাই।” ভক্তির প্রসিদ্ধ ভক্তির প্রসিদ্ধ সাপেক্ষত্বও নাই অর্থাৎ ভক্তি স্বীয় সিদ্ধির জন্য কোনও কিছুরই (কোনও নিয়ম বা বিধানেরও) অপেক্ষা ব্রাখেন না। এই জন্যই শাস্ত্রে বলা হইয়াছে “হে ভৃগুবংশশ্রেষ্ঠ ! শ্রদ্ধা সহকারে বা হেলা সহকারে একবারমাত্র সম্যকরূপে গীত হইলে এই শ্রীকৃষ্ণনাম মনুষ্য মাত্রেরই ত্রাণ করিয়া থাকেন।” কৰ্ম্মযােগের পূর্বোক্ত বিধিনিষেধাদি থাকায় উহার ত্রুটি ঘটিলে মহান্ অনর্থ উৎপাদন করে। এই জন্যেই শাস্ত্রে বলা হইয়াছে যে যজ্ঞাদিতে কোনও মন্ত্রের উদাত্ত, অনুদাত্ত বা পরিতের উচ্চারণে ভ্রম হইলে অথবা কোনও বর্ণহীনতা হইলে বা যথার্থরূপে প্রমুক্ত না হইলে সেই বাক্যরূপ বজ্র যজমানের সৰ্বানাশ সাধন করে। স্বষ্ট। ঋযি “ইন্দ্র-শত্রু” তুমি বর্ধিত হও বলিয়া যজ্ঞে আহুতি দেন, তাহার অভিপ্রায় ছিল যে “ইন্দ্র-শত্রু” শব্দে ইন্দ্রের শত্রু বুঝাইবে (১) বিষ্ণুৰ্মোত্তর (ক্ষত্ৰ-বন্ধু উপাখ্যানে। (১) স্থাবলাবাসপদাৰ।

১মা বৃষ্টিঃ ] মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। এবং জ্ঞানস্তান্তঃকরণশুদ্ধ্যধীনত্বং প্রসিদ্ধমেব। নিষ্ফলকৰ্ম্মযােগেনান্তঃ করণস্য শুদ্ধো নিষ্পদিয়ামে তব তস্য প্রবেশাৎ কৰ্ম্মাধীনত্ব। তদধিকৃতস্য দৈবাৎ দুরাচারত্বলবেহপি “স বৈ বান্তাপত্রপঃ” ইতি নিন্দা। কংসহিরণ্যকশিপুরাবণাদীনাং তত্তৎপ্রকরণদৃষ্ট্যা জ্ঞানাভ্যাস- বতামপিন তত্ত্বেন ব্যপদেশলবােহপি। ভক্তেস্তু বিক্ৰীড়িতং ব্রজবধূতি” ইত্যাদৌ ভক্তির পরাং ভগবতি প্ৰতিলভ্য কামং হৃদ্রোগমাশ্বপহিনােত্যচিরেণ ধীরঃ ॥” (ভাং ১৩৩৯) কিন্তু উচ্চারণের ক্রটি ঘটায় উহাতে “ইন্দ্র যাহার শত্রু” অর্থাৎ ইন্দ্র যাহার বিনাশ সাধন করিবেন-এইরূপ অর্থ বুঝাইল। তাহার ফলে এই যজ্ঞ-ফলে জাত বৃত্রাসুর ইন্দ্র কর্তৃক হত হইয়াছিলেন। এখানে উচ্চারণের কুটীর জন্য মন্ত্র অভীষ্ট- সাধক না হইয়া অনিষ্ট-সাধক হইল। কৰ্ম্মযােগে যেরূপ এইরূপ দেশ-কাল- দ্রব্য-পাত্ৰাদির অধীন আছে, সেইরূপ জ্ঞানাদি সাধনও অন্তরিন্দ্রিয়ের অর্থাৎ মন বুদ্ধি ও চিত্তের শুদ্ধির অধীন। ফলাভিলাষরহিত কৰ্ম্মযােগের অনুষ্ঠানের দ্বারা অন্তরিন্দ্রিয়ের শুদ্ধি সম্পাদিত হইলেই অন্তঃকরণে জ্ঞানের বিকাশ ঘটে ; এইজন্য জ্ঞানে ঐ প্রকার ফল-বাসনা-শূন্য কর্মের অধীনতা থাকিল। জ্ঞানের দ্বারা অধিকৃত কোনও (জ্ঞানযােগের সাধক কোনও) ব্যক্তি দৈববলে যদি বিন্দুমাত্রও দুরাচারের অনুষ্ঠান করেন, তবে তিনি নিম্নজ্জ বমনভােজী হন” বলিয়া শাস্ত্রে নিন্দা করা হইয়াছে। কংস, হিরণ্যকশিপু ও রাবণাদির জ্ঞানবতা সত্ত্বেও তাহাদিগের নিন্দা পরিদৃষ্ট হওয়ায় জ্ঞানাভ্যাসকারিগণের তত্ত্বতঃ কোনও প্রকার অসদাচরণের লেশমাত্রও সাধুসন্মত নহে—ইহাই প্রতীয়মান হয়। ভক্তি- মার্গে হৃদ্রোগ অর্থাৎ কামাদি দোষদুষ্ট অধিকারীতেও পরমা (স্বতন্ত্ৰা বা সৰ্বগুণ- তীত) ভক্তিদেবীর প্রথমে প্রবেশ ঘটে, পরে পরমম্বতন্ত্র বা সর্বপ্রকার বিধিনিষেধের অতীত স্বাধীনা ভক্তিদেবীর দ্বারা কামাদির অপগম (উৎক্ৰান্তি বা প্রত্যাহার ) ঘটে। এজন্য শাস্ত্রাদিতে আছে-“সৰ্বব্যাপী ভগবানের ব্রজবধূ গণের সহিত এই রাসাদি ক্রীড়া যিনি, শ্রদ্ধান্বিত হইয়া শ্রবণ করেন বা বর্ণনা করেন, তিনি ভগবানে পরাভক্তি লাভ করিয়া অচিরে ১৪ মাধুৰ্যকাদম্বিনী। [ ১মা বৃষ্টি। ইত্যত্র ‘ক্ত। প্রত্যয়েন হৃদ্রোগবত্যেবাধিকারিণি পরমায়া অপি তস্যাঃ প্ৰথমমেব প্রবেশস্ততস্তয়ৈব পরমস্বতন্ত্রয়া কামাদীনামপগমর্শ। তেষাং কদাচিৎ সহেপি—“অপি চেৎ সুদুরাচারে। ভজতে মা” (১) ইতি “বাধ্যমানােহপি মক্ত” ইত্যাদিভ্যশ্চ তদ্বতাং ন কাপি শাস্ত্রে | নিন্দালেশােহপি। অজামিলস্য ভক্তত্বং বিষ্ণুরূতৈর্নিরূপিতম্। “সঙ্কেত ভগবন্নাম পুত্রস্নেহানুষঙ্গজমিত্যাদিদৃষ্টা তদাভাসবমপ্যজামিলাদীনাং ভক্তত্বং সবৈঃ সঙ্গীতমেব। তদেবং কৰ্ম্মযােগাদীনামন্তঃকরণশুদ্ধিদ্রব্য- দেশশুদ্ধ্যাদয়ঃ সাধকাস্তদূবৈগুণ্যদিয়ে বাধক ভক্তিস্তু প্রাণদায়িন্যে- বেতি। সর্বথা পারতন্ত্রমেব তেষাম্। ন হি স্বতন্ত্রাঃ কেনাপি সাধান্তে ধীর হইয়া হৃদ্রোগরূপ কামকে অতিশীঘ্র পরিত্যাগ করেন।” এইস্থানে “ভক্তি লাভ করিয়া” এই অসমাপিকা ক্রিয়ার পূর্বে অবস্থান হেতু পূৰ্বে কামাদি সত্ত্বেও ভক্তিলাভ, পরে কামাদির আত্যন্তিক পরিত্যাগের কথা বলা হইয়াছে। ইহাদের অর্থাৎ কামাদির অস্তিত্ব থাকিলেও, শাস্ত্রাদিতে সুদুরাচার ব্যক্তিও অনন্যকাম হইয়া যদি আমার সেবা করে, তবে সে সাধুরূপে পরিণত হয়।” “আমার ভক্ত কামাদির অধীন থাকিলেও এই সমস্ত প্রমাণ থাকায় তাহাদের ভক্তিমার্গে প্রবেশের অধিকার নির্দিষ্ট হইয়াছে, পরন্তু ঐ প্রকার ভক্তের শাদিতে কোথাও নিন্দালেশ পরিদৃষ্ট হয় না। অজামিলের ভক্তত্ব বিষ্ণুদূতগণ কর্তৃকই নিরূপিত হইয়াছিল। “পুত্রস্নেহের বশবর্তী হইয়া পুত্রের নাম নারায়ণ থাকায় পুনাম-সঙ্কেতে ভগবন্নাম করিয়াছিলেন” ইত্যাদি কাস্ত্রোক্তি দেখিয়া ভগবন্নামের আভাস মাত্রে উচ্চারণকারী অজামিলাদির ভক্তত্বের কথা সকলেই সম্যকরূপে কীৰ্ত্তন করিয়া থাকেন। অতএব এই সিদ্ধান্ত হইল যে, কৰ্মযােগাদির অন্তঃকরণ-শুদ্ধি, দ্রব্য-দেশশুদ্ধি প্রভৃতিই সাধক এবং তাহার বৈগুণ্যাদিই উহাদের বাধক; অথাৎ দেশকাল-পাত্ৰ-দ্রব্যশুদ্ধি প্রভৃতি হইল যাগযজ্ঞাদি কৰ্ম্মযােগে সম্পূর্ণ সিদ্ধিপ্রদ এবং অন্তঃকরণশুদ্ধি হইলে জ্ঞানযােগ সিদ্ধি হয়, কিন্তু ভক্তি ব্যতীত উহারা নিষ্ফল বলিয়া ভক্তিই উহাদিগের প্রাণদায়িনী। কৰ্ম্মজ্ঞান-যোগাদি সর্বপ্রকারে ভক্তিরই অধীন। ইহারা স্বতন্ত্র বা স্বাধীন নহে; (১) গীতা ৯৩০-৩১।

১মা বৃষ্টিঃ ] মাধুৰ্যকাদম্বিনী। বাধ্যন্তে বেতি। কিঞ্চ জ্ঞানৈকসাধনমাত্রত্বং ভক্তেরিতাজ্ঞৈ- রেবােচ্যতে যতাে জ্ঞানসাধ্যানােক্ষাদপি তস্যাঃ পরমােৎকর্ষ এলােচ্যতে। “মুক্তিং দদাতি কহিঁচিৎ স্ম ন ভকিযােগ” ইতি। “মুক্তানামপি সিদ্ধানাং নারায়ণপরায়ণঃ । সুদুল্লভো প্রশান্তাত্মা কোটিষপি মহামুনে।” (১) ইত্যাদিভ্য। ইন্দ্রমেব প্ৰধানীকৃত্য স্বয়ং গুণীভবতােপেণে তং সর্ববধা পুষ্ণতা স্বকৃপালুত্বমেব যথাভিজ্ঞজনেষু প্রত্যায্যতে ন তু স্বাপকস্তথৈব জ্ঞানং পুঞ্চন্ত্যান্তওৎ প্রকরণবাক্যে তস্যা ভক্তের গ্রহ এব সুধীভিরমুগম্যতে ইতি। “ভক্ত্যা সঞ্জাতয়া ভক্ত্যা” ইতি ভক্তেঃ ফলং প্রেমরূপা সৈবেতি T যেহেতু কৰ্ম্মযােগ ও জ্ঞানযােগ কোনও কিছুর দ্বারা সাধ্য বা বাধ্য-অথাৎ । কোনও কোনও বিশেষ সাধনের দ্বারা উহাতে সিদ্ধিলাভ হয়, অথবা কোনও কোনও বিশেষ প্রকার বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করিলে উহার সিদ্ধিতে বাধা ঘটে। পরন্তু অব্যক্তিগণই বলিয়া থাকে যে, একমাত্র জ্ঞানই ভক্তির সাধক ; ইহা অজ্ঞেরই উক্তি । যেহেতু দেখা যায় যে, জ্ঞানসাধ্য মােক্ষ হইতেও ভক্তির পরমোৎকর্ষ শাস্ত্রাদিতে আলোচিত হইয়াছে। যথা –“তিনি বরং মুক্তিদান করিয়া থাকেন, কিন্তু ভক্তিদান করেন না” “হে মহামুনে। সিদ্ধমুক্তদিগের মধ্যে কোটি কোটিজনের মধ্যেই প্রশান্তাত্মা নারায়ণ-পরায়ণ-ভক্ত বিশেষরূপে দুর্লভ।” বামনাবতার ভগবান্ নিজে যেমন সৰ্বগুণশালী হইয়াও উপেন্দ্ররূপে ইন্দ্রের কনিষ্ঠ হইয়া ইন্দ্রের সর্বপ্রকার পােষণ করায় অভিজ্ঞ ব্যকিগণের নিকট তাহার নিজের পরম দয়ালু প্রমাণ হীনত্ব প্রমাণ হয় নাই—সেইরূপ জ্ঞান-প্রধান শাস্ত্ৰবাক্যে ভক্তিকে জ্ঞানাঙ্গরূপে প্রকাশ করায় বুঝিতে হইবে যে, স্বয়ং স্বতন্ত্র ও সর্বসমর্থ হইয়াও জ্ঞানের পােষ- ণের জন্য ভক্তিদেবীও সত্ত্ব গুণাবলম্বনে জ্ঞানাঙ্গ হইয়া জ্ঞানের পােষকতা করেন- ইহাই বিদ্বানগণ মনে করিয়া থাকেন। “ভক্তিদ্বারা সজ্জাত ভক্তিহেতু এই শাস্ত্ৰবাক্য হইতে ভক্তির ফলও যে প্রেমরূপা ভক্তি ইহাই বুঝা যায়। কারণ, হইয়াছে, প্রত্যুত (১) ভাং ৬১৪৩ মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। [ ১মা বৃষ্টি। স্বয়ং পুরুষাৰ্থমৌলিরূপং তস্য। তদেবং ভগবত ইব স্বরূপভূতায়া মহাশক্তেঃ সর্বব্যাপকত্বং সব’বশীকারিত্বং সর্বসঞ্জীবকত্বং সর্বোৎকৰ্ষ- পরমস্বাতন্ত্র্যং স্বপ্ৰকাশকৃঞ্চ কিঞ্চিদুট্টঙ্কিতং তদপি তাং বিনা অন্যত্র প্রবৃত্তেী প্রেক্ষাবস্যাভাব ইতি কিং বক্তব্য। নরত্বস্যাপি “কো বৈ ন সেবেত বিনা নরেতরম্” ইত্যাদিভিরবগমম দৃষ্টঃ ॥৪। ইতি মহামহােপাধ্যায়-এমদ্বিশ্বনাথচক্ৰবৰ্ত্তিবিরচিতায়াং মাধুৰ্য- কাদম্বিন্যাং ভক্তেঃ সর্বোৎকর্ষনাম প্রথমামৃতবৃষ্টিঃ ॥১। ভক্তিদেবী নিজেই সর্বপ্রকার পুরুষার্থের শিরােমণি। অতএব শ্রীভগবানের ন্যায় তঁাহার স্বরূপভূতা মহাশক্তি ভক্তিদেবীর সর্বব্যাপিত্ব, সৰ্ববশীকারিত্ব, সর্ঘসঞ্জী- বকত্ব, সর্বোৎকর্ষ, পরমস্বাতন্ত্র এবং স্বপ্ৰকাশত্ব অতি অল্পমাত্রই প্রদর্শিত হইল। তাহাতে ইহা স্পষ্টীকৃত হইল যে, এই ভশিবিনা অন্য কোনও বিষয়ে বা অন্য কোন উদ্দেশ্যমূলক সাধনে যাহার প্রবৃত্তি ঘটে—তাহার সম্যক দর্শনাদির যে অভাব একথা বলাই বাহুল্য। অর্থাৎ অন্য কোনও প্রকার সাধন-পথ অবলম্বন করিলেও তাহাতে ঐকান্তিকী নিষ্ঠামূলা ভক্তি না থাকিলে সিদ্ধিলাভ ঘটেনা ইহাও প্রদর্শিত হইয়াছে এবং ভক্তি যে সকল প্রকার সিদ্ধি হইতেও গরীয়সী ইহাও দেখান হইয়াছে। অতএব সেই ভক্তিই যখন সর্বশ্রেষ্ঠা; তখন তল্লাভই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ; সুতরাং ভক্তিলাভ যাহাদের জীবনের উদ্দেশ্য না হয়, তাহারা নিশ্চয়ই সংশাস্ত্রাদির সম্যক্ অনুশীলন করেন নাই এবং তঁাদের বুদ্ধি ও সম্যক্ পক্কতা লাভ করে নাই। এই জন্যই তাহাদের বিচারশক্তির শৈথিল্য আছে এবং তজ্জন্যই তাহাদের সম্যগ দর্শনের অভাব বলা হইয়াছে। তাহাদের মধ্যে মানবভাবও সম্পূর্ণরূপে বিকশিত হয় নাই—এইজন্যই শাস্ত্রে বলা হইয়াছে যে “সেই ভগবান্‌কে নরেতর প্রাণীভিন্ন আর কে ভজনা না করিয়া থাকে ?” অতএব যৈ মানবে মানবধৰ্ম্মের পূর্ণতা হইয়াছে,ভক্তি তাহার পক্ষে স্বতঃ- সিদ্ধ—ইহাই প্রতিপন্ন হইল ॥৪ ইতি মহামহােপাধ্যায় শ্রীমদ্বিশ্বনাথ চক্রবর্তিবিরচিত মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী-গ্রন্থে ভক্তির সর্গোৎকৰ্ষনামক প্রথমামৃতবৃষ্টি ॥১।

১৭ ২য় বৃষ্টিঃ মাধুৰ্যাকাদম্বিনী। দ্বিতীয়ামৃতবৃষ্টি। অথাত্ৰ মাধুৰ্য্যকাদম্বিন্যাং দ্বৈতাদ্বৈতবাদবিদয়াে নবিকাশ লভান্তে ইতি কৈশ্চিদপেক্ষণীয়াশ্চেদৈশ্বৰ্যকাদম্বিন্যাং দৃশ্যতাং নাম ॥১॥ ইদানীং করণকেদারিকাসু প্রাদুর্ভন্তাস্তস্যা এব ভক্তেজ্ঞানকৰ্ম্মাদ্য- মিশ্রিতত্বেন শুদ্ধায়াঃ কল্পবল্লা অপি নিরস্তাফাভিসন্ধিতয়ৈব ধৃতব্ৰতৈ মধুব্ৰতৈরি ভব্যজনৈশ্রিয়মাণায়াঃ স্ববিষয়ৈকানুকূল্যমূলপ্রাণায়াঃ এই মাধুৰ্যকাদম্বিনী-গ্রন্থে দ্বৈত ও অদ্বৈত সিদ্ধান্তাদি-বিষয়ে বাদ ও বিবাদের অবকাশ নাই, অর্থাৎ ইহাতে প্রধানতঃ যে সমস্ত বিষয় আলোচনা করা হইয়াছে, তাহাতে দ্বৈত ও অদ্বৈতাদি বিষয়ে আলােচনার বিশেষ প্রয়ােজন আছে বলিয়া গ্রন্থকার মনে করেন না। তবে যদি কাহারও তদ্বিষয়ে অপেক্ষা হয়, তবে তিনি ঐশ্বৰ্য-কাদম্বিনী-নামক গ্রন্থে তাহা দর্শন করিবেন। অর্থাৎ কেহ যদি মনে করেন বৈ, ভক্তি সাধনায় দ্বৈত ও অদ্বৈত তত্ত্বের আলােচনার অবশ্য প্রয়ােজন, তবে গ্রন্থকার “ঐশ্বৰ্য-কাদম্বিনী” নামক গ্রন্থে ঐসম্বন্ধে যে আলােচনা করিয়াছেন, তাই দেখিতে বলিতেছেন । ১। জ্ঞান-কৰ্ম্মাদির দ্বারা অনিশ্রিত ভক্তিকে শুদ্ধাভক্তি বলা হইয়াছে (১)। এই ভক্তি কল্পলতা-সদৃশ। ইনি নিত্যা, অতএব ইহার উৎপত্তি ও বিনাশ নাই; তবে ইন্দ্রিয়রূপক্ষেত্রে ইনি আবিভূতা হইয়া ভগবান্ ভিন্ন অন্য সৰ্ব্বপ্রকার ফলাভিসন্ধি- ত্যাগরূপ-ব্ৰতাবলম্বী ভব্যভ-মধুব্রতগণ কর্তৃক আশ্রিয়মাণ হইয়া ভগবদ্বিষয়ক (১) ভক্তিরসামৃতসিন্ধুবিন্দুতে গ্রন্থকার শুদ্ধা-ভক্তির লক্ষণ বিবৃত করিয়াছেন- অন্যাভিলাষিতশূন্যং জ্ঞানকৰ্ম্মাদ্যনাবৃত। আনুকূল্যেন কৃষ্ণানুশীলনং ভক্তিরুমা অশ্যার্থ -- অন্যাভিলাযজ্ঞান-কৰ্ম্মাদিরহিতা শ্রীকৃষ্ণমুদ্দিশ্যানুকূল্যেন কায়- বাত্মনােভির্যাবতী ক্রিয়া সা ভক্তিঃ। অনুশীলন-শব্দের অর্থ প্রবৃত্ত্যাত্মক ও নিবৃত্ত্যা- ত্মক শারীর,মানস ও বাচিক যাবতীয় চেষ্টা। শ্রীকৃষ্ণবিষয়ক উক্ত অনুকূল অনুশীলন অন্যাভিলাষশূন্য ও জ্ঞান-কৰ্ম্মাদিদ্বারা অনাবৃত হইলে তাহাকে শুদ্ধ বা উত্তম- ভক্তি বলে ।

১৮ মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। [ ২য় বৃষ্টি সস্পর্শেন স্পর্শমণিরিব করণবৃত্তীরপি প্রাকৃতত্বলােহতাং শনৈস্ত্যায়িত্ব চিন্ময়ত্বশুদ্ধজাম্বনতাং পয়ন্ত কন্দলী ভাবান্তে সমুদগচ্ছন্ত্যাঃ সাধনাভিখ্যে দে পত্রিকে বিব্রিয়েতে। তয়ােঃ প্রথমা ক্লেশঘ্নী দ্বিতীয়া- শুভদেতি। দ্বয়ােরপি তয়ােরন্তস্তু লােভপ্রবর্তকত্বলক্ষণচৈকণ্যেন “যেষামহং প্রিয় আত্মা সুশ্চ” (১) ইত্যাদি শুদ্ধসম্বন্ধস্নিগ্ধতয়া চ প্রাপ্তোৎকর্ষে দেশে রাগনান্নে রাজ্ঞ এবাধিকারঃ। বহিস্তু “তস্মাদ ভারত সর্বাত্মা” (২) ইত্যাদি শাস্ত্র প্রবর্তকত্বলক্ষণ-পারুষ্যাভাসেন আনুকূল্য-সম্পাদনরূপ মূলপ্রাণযুক্ত হইয়া স্পর্শমণির ন্যায় স্বীয় স্পর্শের দ্বারা ইন্দ্রিয়-বৃত্তির প্রাক্তত্বরূপ লৌহত্ব ক্রমে ক্রমে পরিত্যাগ করাইয়া চিন্ময়ত্বরূপ শুদ্ধ সুবর্ণত্বে পরিণত করাইয়া অঙ্কুর ভাবের অবশেষে সাধন-সঞ্জাত দুইটা পত্র প্রসব করেন। (শ্রুতিতে আছে “মনের দ্বারা যাহাকে মনন করা যায়না, প্রত্যুত যিনি মনকেই মনন করিয়া সৃষ্টি করেন, তিনিই ব্রহ্ম” –সুতরাং ব্ৰহ্ম-চৈতন্যের সহিত অভেদাত্মক অথচ পরম বিশেষ ভগবত্তত্ত্ব প্রকৃত ইন্দ্রিয়ের গােচর নহে, কিন্তু পরাৎপর শ্রীভগবানে ভক্তিলাভ হইলে তাহার ফলে মন ইত্যাদি ইন্দ্রিয়াদি সমস্তই তদ্ভাব-ভাবিত হইয়া যায়; এই জন্যই ভগবানের সহিত ভক্তগণ অশেষবিধ লীলা উপভোগ করিয়া থাকেন। এই জন্থে ভক্তের দেহেন্দ্রিয়াদিকে ভক্তিশাস্ত্রে অপ্রাকৃত বা চিন্ময় বলা হইয়াছে।) এই দুইটা পত্রিকার প্রথমটীর নাম ক্লেশল্পী, দ্বিতীয়ার নাম শুভদা। সেই দুইটী পত্রের অন্তরভাগে লোভপ্রবর্তক-লক্ষণ শােভাবিশেষ দ্বারা “আমি যাহাদিগের প্রিয়, আত্মা ও পুত্র” এই শ্লোকে প্রকাশিত শুদ্ধ-সম্বন্ধজাত স্নিগ্ধদ্বারা উৎকর্ষযুক্ত বা উৎকৃষ্ট প্রদেশে রাগ নামক রাজারই অধিকার। অর্থাৎ স্বভাবতঃই ভক্ত ভগবানের প্রতি অহৈতুক আকর্ষণে আকৃষ্ট হইয়া দাস্য, সখ্য, বাৎসল্য ও কান্তারসের প্রেমলক্ষণা রাগভক্তি লাভ করিয়া থাকে। আর উহাদের বহির্ভাগে “এই কারণেই অভয়েচ্ছব্যক্তি র্বাত্মা হরির উপাসনা করিবেন” এই শ্লোকে প্রকাশিত শাস্ত্র প্রবর্তক লক্ষণ-হেতু শাসক- সুলভ পারুষের আভাসবিশিষ্ট ও প্রিয়াদি শুদ্ধ-সম্বন্ধের অভাববশতঃ স্বভাবতঃ (১) ভা, ৩২৫৩৮ (২) ভা, ২০১৫ ২য়া বৃষ্টিঃ ] মাধুৰ্যকাদম্বিনী। খিয়াদিশুদ্ধসম্বন্ধাভাবৎ স্বত এবাতিস্নিগ্ধতানুদয়েন পূর্বত কিঞ্চিদ- পকৃষ্টে দেশে বৈধনাম্নোহপরস্য রাজ্ঞঃ। ক্লেশত্বশুস্বাভ্যান্তু প্রায়স্ত- মােন কোহপি বিশেষঃ ॥২॥ তলাবিদ্যাস্মিতারাগদ্বেষাভিনিবেশঃ পঞ্চ ক্লেশাঃ (১)। প্রারব্ধাপ্রারব্ধ রূঢ়ৰীজপাপাদয়স্তন্ময়া এব। শুভানি দুর্বিষয়বৈতৃষ্ণ ভগবদ্বিষয়সতৃষ্ণা- স্নিগ্ধতা-বর্জিত হওয়ায় পূর্বকথিত দেশ হইতে কিঞ্চিৎ অপকৃষ্টদেশে বৈধনামক অপর একজন রাজার অধিকার। অর্থাৎ শাস্ত্রাদির শাসন হেতু ভগবানে ঐশ্বৰ্য্য- জ্ঞান-প্রধান বৈধীভক্তির আবির্ভাব হয়। গ্রন্থকার ভক্তিরসামৃতসিন্ধুবিন্দুতেও বলিয়াছেন-“শাস্ত্র-শাসন ভয়ে কেহ যদি ভগবানের শ্রবণ-কীৰ্ত্তনাদির অনুষ্ঠান করেন, তবে তঁাহার তাদৃশ অনুষ্ঠানকে বৈধীভক্তি বলা হইয়া থাকে। কিন্তু ঐ উভয় প্রকার ভক্তিরই ক্লেশঘ্নত্ব ও শুভদত্বগুণে প্রায়ই কোনও ইতরবিশেষ নাই। অর্থাৎ উভয়ভক্তিই ক্লেশনাশিনী ও মঙ্গলদায়িনী ॥ ২॥ অবিদ্যা, অস্মিতা, রাগ, দ্বেষ ও অভিনিবেশ এই পাঁচটাই ক্লেশ ; বস্তুতঃ এই পাঁচটী ক্লেশ একমাত্র অবিদ্যারই বিশেষ বিশেষ প্রকার মাত্র। প্রারব্ধ বা ফলাে- মুখ, অপ্রাদ্ধ, রূঢ় (বীজোন্মুখ) ও বীজ এই চারি প্রকার পাপাদি ঐ ক্লেশেরই (১) মহর্ষি পতঞ্জলিপ্রােক্ত যোগদর্শনের সাধন-পাদের তৃতীয় সূত্রে আছে- “অবিদ্যাহস্মিতারাগদ্বেষাভিনিবেশঃ পঞ্চক্লেশ” অর্থাৎ অবিদ্যা, অস্মিতা, রাগ, দ্বেষ ও অভিনিবেশ এই পাঁচটীই ক্লেশ নামে অভিহিত হয় , অর্থাৎ এই অবিদ্যার পঞ্চবিধ কারণ থাকিলেই কৰ্ম্মে ও অকর্মে প্রবৃত্তির কারণ ঘটে ও তাহার ফলে ধর্ম ও অধৰ্ম্ম বা পাপ পুণ্যরূপ অদৃষ্টের ফল সুখদুঃখ-ভােগ ঘটে। মহর্ষি পতঞ্জলি ঐ পাঁচটীর যে সংজ্ঞা দিয়াছেন, তাহা প্রদত্ত হইল। অনিত্য,অশুচি, দুঃখ ও অনা- আয় যথাক্রমে নিত্য, শুচি, সুখ ও আত্ম-জ্ঞানকে অবিদ্যা কহে। (২৫) দৃশক্তির (পুরুষের) ও দর্শনশক্তির একাত্মতা-জ্ঞানকে অস্মিতা কহে। (২৬) সুখ বা দুঃখের উপায়ের কামনাকে রাগ কহে। (২৭) দুঃখের বা দুঃখের কারণের প্রতি বিরক্তিকে দ্বেষ কহে। (২৮) বিদ্বী ব্যক্তিরও জন্মান্তর-সংস্কারের অনুকূল বিষয়ে আসক্তি অর্থাৎ তদুপায় স্বরূপ স্বদেহে আসক্তি ও মরণে ভয়কে অভিনিবেশ কহে। (২৯) মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। [ ২য় বৃষ্টি। নুকূল্য-কুপাক্ষমাসত্যসারল্যসাম্যধৈৰ্যগাম্ভীৰ্য-মানদামানিত্বসর্বসুভগত্বা- দয়াে গুণাশ্চ “সবৈগুণৈস্তত্র সমাসতে সুরাঃ” (২) ইত্যাদিদৃষ্টা জ্ঞেয়াঃ ॥ ৩॥ “ভক্তি পরেশানুভব বিরক্তিরত্র চৈষ ব্রিক এককালঃ” ইত্যুক্ত- প্রকারেণ যুগপদপি প্রবৃত্তােেরপি তয়াের পত্রিকয়ােরুপমতারতম্যেনৈব তত্তদশুভনিবৃত্তিশুভপ্রবৃত্তিরতম্যাস্ত্যেব ক্রমঃ। স চাতিসূক্ষো দুলক্ষ্যোহপি তত্তৎকাৰ্য্যদর্শনলিঙ্গেন সুধীভিরবসীয়তে। ৪। T অন্তর্গত। (ভক্তিরসামৃতসিন্ধুতে অপ্রারব্ধফল, কূট, বীজ ও ফললামুখ ( প্রারব্ধ ) এই চারি প্রকার পাপের কথা বলা হইয়াছে। সমস্ত জগতের প্রতিবিধান, সমস্ত প্রাণি কর্তৃক বশ্যতাস্বীকার, দুঃখজনক বিষয়ের উপর বিতৃষ্ণা,ভগবদ্বিষয়ে সতৃষ্ণতা, আনুকুল্য,কৃপা,ক্ষমা, সত্য, সারল্য, সাম্য (সমতা), সৈৰ্য,গাষ্ঠীৰ্য-মানদত্ব, অমানিত্ব ও সৰ্বসৌভাগ্য প্রভৃতি গুণকে শুভ বলা হইয়া থাকে—কারণ, শাস্ত্রেও আছে “দেবতাগণ সমস্ত গুণের সহিত ভক্তে অবস্থান করেন”। অতএব ভক্ত ঐ সমস্ত শুভগুণসম্পন্ন হইয়া থাকেন , ৩। শাস্ত্রে উক্ত হইয়াছে যে “ভক্তি, পরমেশ্বরের অনুভূতি ও ভগবদ্ভিন্ন অন্য পদার্থে বিরক্তি—এই তিনটীরই একই সময়ে আবির্ভাব ঘটিয়া থাকে।” অতএব ইহার দ্বারা অবগত হওয়া যায় যে, পূৰ্বে কেশল্পী ও শুভদা নাম্নী ভক্তি-কল্পলতায় যে দুইটা পত্রিকার উদগমের কথা বলা হইয়াছে, উহাদিগের যুগপদ আবির্ভাব হইলেও তাহাদের অল্প ও অধিক পরিমাণে উৎপত্তির তারতম্য হেতু অশুভের নিবৃত্তির ও শুভের প্রবৃত্তির ( আরম্ভের) ও তারতম্যহেতু ইহাদেরও একটা নির্দিষ্ট ক্রম আছে। ঐ ক্রম অতি সূক্ষ্ম ও তদুর্লক্ষ্য হইলেও তাহাদের কাৰ্য্য দর্শনরূপ হেতু বা চিত্নের দ্বারা পণ্ডিতগণ উহা স্থির করিয়া থাকেন, অর্থাৎ শাস্ত্র ও সাধুনির্দিষ্ট লক্ষণের দ্বারাই ভক্তিপথে অবস্থিতি ও উন্নতির নির্দেশ করা যায় ॥ ৪ | (২) ভাং ৫ম ১৮১২ ২য় বৃষ্টি] মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। ময়ী। তত্র ভক্ত্যধিকারিণঃ প্রথমং শ্রদ্ধা। (১) সাচ তত্তচ্ছাস্ত্রার্থে দৃঢ়-প্রত্যয়- প্রক্রম্যমাণতুৈকনিদানরূপতদ্বিষয়ককৈ-নিব্বহিরূপসদর- সা চ স চ স্বাভাবিক কেনাপি বলাদুৎপাদিতা চ। ততশ্চাশিতগুরুচরণতস্য জিজ্ঞাস্যমানসদাচারস্য তচ্ছিয়ৈব সজাতীয়াশয়স্নিগ্ধভক্ত্যভিজ্ঞসাধুসঙ্গভাগ্যোদয়ঃ । ততো ভজনক্রিয়া। সা স্পৃহা চ। ভক্তিতে যিনি অধিকারী, তাহার প্রথমে শ্রদ্ধার উদয় হইয়া থাকে। ভক্তিশাস্ত্রে কথিত-বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয়ই ঐ শ্রদ্ধা (শাস্ত্রে মনের দৃঢ়-নিশ্চয়তাকেই শ্রদ্ধা কহে।) শাস্ত্রোক্ত বিষয়ের অনুষ্ঠানে বিশেষরূপ যত্নশীল হইয়া তদনুসারে, কাৰ্যাদি নিৰ্বাহ করিবার যে সাদরস্পৃহা দেখা যায়, তাহাকেও শ্রদ্ধা বলা হইয়া থাকে। এই উভয়বিধ শ্রদ্ধাই আবার দুই ভাগে বিভক্ত, একপ্রকার স্বাভাবিক শ্রদ্ধা, অন্য প্রকার শ্রদ্ধা কোনও কিছুন্নারা বল পূৰ্ব্বক উৎপাদিত হয়। এই শ্রদ্ধা জন্মিলে পর গুরুচরণের আশ্রয় গ্রহণ করিয়া সদাচার-জিজ্ঞাসা জন্মে ; (সদাচার -সাধুগণের ভজনাদিরূপ আচরণ ; জিজ্ঞাসা—জানিবার ইচ্ছা) ঐ জিজ্ঞাসার পর সদাচার-শিক্ষার দ্বারা নিজাভিলষিত ভজনীয়ের অনুকূল উদ্দেশ্য-সমন্বিত স্নিগ্ধ ( স্নেহশীল ) ভক্তিপথে অভিজ্ঞ সাধুগণের সঙ্গরূপ ভাগ্যের উদয় হইয়া থাকে। অর্থাৎ সদাচার-শ্রবণে তদনুষ্ঠানের আগ্রহ জন্মিলে ও তাহা জানিবার ইচ্ছা থাকিলে তদ্বিষয়ে অভিজ্ঞ জনের নিকট যাইতে হয়, তজ্জন্য (১) ঐ ভক্তিরসামৃতসিন্ধুর পূৰ্ববিভাগের প্রেমভক্তিলহরীতে আছে- “আদৌ শ্রদ্ধা ততঃ সাধুসঙ্গেহথ ভজনক্রিয়া। হতাে নর্থনিবৃত্তিঃ স্যাওতো নিষ্ঠা কুচিস্ততঃ ॥ অথাসক্তিস্তত ভাবস্ততঃ প্রেমভদঞ্চতি। সাধকানাময়ং প্রেশ্নঃ প্রাদুর্ভাবে ভবেৎ ক্রমঃ।” সর্বাগ্রে শ্রদ্ধা অর্থাৎ শাস্ত্রাথে দৃঢ়বিশ্বাস, অনন্তর সাধুসঙ্গ, তাহার পর ভজনক্রিয়া, তাহার পর অনথ নিবৃত্তি,তৎপরে নিষ্ঠা অথবং ভজনীয়-বিষয়ে বিক্ষেপরাহিত্য ও সাতত্য, তাহার পর বুদ্ধিপূৰ্ব্বিকা রুচি, তৎপরে রসময়ী আসক্তি, তদনন্তর ভাব ও তাহার পর প্রেম উদিত হয়। সাধকগণের প্রেবির্ভাবের । এইরূপ নিরূপিত হইয়াছে।

মাধুৰ্যকাদম্বিনী। [ ২য় বৃষ্টি। চ দ্বিবিধা অনিষ্ঠিত নিষ্ঠিত চ। তত্র প্রথমমনিষ্ঠিত ক্ৰমেশােৎসাহময়ী ঘনতরলা রূঢ়বিকল্প বিষয়সঙ্গরা নিয়মাক্ষমা তরঙ্গরঙ্গিণীতি বড় বিধা ভবন্তীতি স্বাধারং বিলক্ষতি ॥ ৫ | তত্রোৎসাহময়ী প্রথমমেব শাস্ত্রমধ্যেতুমারমাণস্য সৰ্ব্বলােক শ্লোকমানপাণ্ডিত্যমুপপম্নমিব স্বস্মিন্ মণ্যমান্য বটোরিব উৎসাহ স্বাধিকরণস্য প্রচুরয়তীত্যুৎসাহময়ী ॥ ৬ | অথ ঘনতরলা। প্রক্রম্যমাণানি ভক্ত্যঙ্গানি কদাচিহিন্তি কদা- চিচ্চ ন বেতি ঘনত্বং তরলত্বঞ্চস্যাঃ যথা বটোঃ শাস্ত্রাভ্যাসঃ কদাচিৎ তদনুরূপ ভজনাভিজ্ঞ কৃপাশীল সাধুগণের সঙ্গলাভ ঘটিয়া থাকে। এই সাধুসঙ্গ লাভের পরই ভজনক্রিয়ার প্রকৃত আরম্ভ হয়। ঐ ভজনক্রিয়া দুই প্রকার- অনিষ্টিতা ও নিষ্ঠিত। নিষ্ঠিত ভজনক্রিয়ায় শৈথিল্য বা চ্যুতির কোনও অবকাশ নাই। কিন্তু অনষ্ঠিতা ভজনক্রিয়াও ক্রমশঃ উৎসাহময়ী, ঘনতরল, বৃঢ়- বিকল্প, বিষয়-সঙ্গরা, নিয়মক্ষমা ও তরঙ্গরঙ্গিণী—এই ছয় প্রকারে পরিণত হইয়া অবশেষে স্বীয় আধার-স্বরূপ শ্রীভগবানে বদ্ধলক্ষ্যা হইয়া থাকে ॥৫। প্রথমে উৎসাহময়ীর কথা বলা যাইতেছে। বালকে প্রথম শাস্ত্র অধ্যয়ন আরম্ভ করিবা মাত্রই যেমন “আমার সৰ্বলােক-শ্লোক্যমান (সকলের প্রশংসনীয়) পাণ্ডিত্য উৎপন্ন হইয়াছে” এইরূপ মনে করিবামাত্র একটী উদ্যম আসিয়া যেমন প্রারব্ধ বিষয়ে প্রচুর অভিনিবেশের সঞ্চার করে, তদ্রপ ভক্তিমার্গে প্রথমে প্রবেশ করিবামাত্র ভক্তেরও উৎসাহমর্থ চেষ্টা পরিদৃষ্টা হইয়া থাকে। এই জন্যেই ঐ অবস্থাকে উৎসাহময়ী বলা হইয়া থাকে [৬া অনন্তর ঘনতরলার কথা বলা হইতেছে। আবার ঐ বালকের শাস্ত্রাভ্যাস যেমন কখনও গাঢ় ও কখনও তরল হয়—অধীত শাস্ত্রার্থে প্রবেশের অসা- মর্থ্য হেতু সরসতার উপলব্ধি না হওয়ায় শাস্ত্রাধ্যয়নের যত্ন শিথিল হয় এবং কখনও বা শাস্ত্রার্থের মর্ম গ্রহণে আনন্দের , সঞ্চার হয়-সেইরূপ ঐ প্রকার ভক্তেরও কখনও ভক্ত্যঙ্গের সম্যক্‌ নিৰ্কাহ হইলে ভজন-ক্রিয়ার ঘনত্ব পরিদৃষ্ট হয় এবং ঐ সমস্ত অঙ্গের যাজন-ক্রিয়ার অনিৰ্বাহত্ব হেতু ২য়া বৃষ্টিঃ মাধুৰ্যকাদম্বিনী। সান্দ্রঃ কদাচিৎ তদর্থ প্রবেশসমর্থত সারস্যানুয়েল শিথিলঞ্চ । ৭। অথ বুঢ়িবিকল্লা। কিমহং সপরিগ্রহ এব পুত্ৰকলাদী বৈষ্ণবী- কৃত ভগবংপরিচযায়াং নিযােজ্য গৃহ এব সুখং তং ভজে কিংবা সর্বানেৰ পরিত্যজ্য নির্বিক্ষেপঃ শ্ৰবৃন্দাবনং ধ্যেয়স্থানমেশসীনঃ কীৰ্ত্তনশ্রবণাদিভিঃ কৃতার্থী ভবেয়ম্ । স চ ত্যাগঃ কিং ভুক্তভােগস্যা- বগতবিষমবিষয়দাবদবথােমম চরমদশায়ামেব কিং বাধুনৈব সমুচিত ইতি৷ কিঞ্চ “তামীক্ষেদাত্মনে। মৃত্যুং ণৈঃ কূপমিবাবৃত” (১) ইতি দৃষ্ট্য। আশ্রমস্যাস্যাবিশ্বাস্যতয় “খাে দুস্তজা দারসুতা” (২) ইত্যত্র “জহৌ কখনও বা তরলত্ব ( আসক্তির শৈথিল্য) পরিদৃষ্ট হয়—এইজন্যই এই অব- স্থাকে ঘনতয়লা বলা হইয়াছে ॥ অনন্তর কূঢ়বি-কল্পার বিষয় বলা যাইতেছে। “আমি কি সপরিবারে পুত্র-ফলাদিকে বৈষ্ণব করিয়া ভগবৎ-পরিচৰ্য্যায় নিযুক্ত করিয়া গৃহে থাকিয়াই সুখে কাল যাপন করিয়া তাহার ভজনা করিব, অথবা পুত্র-কলত্র সকলকেই পরিত্যাগ করিয়া ৰিক্ষেপরহিত হইয়া ধ্যেয়স্থান শ্রীবৃন্দাবনে বাস করিয়া শ্রবণ-কীৰ্ত্তনাদি নববিধ-ভক্ত্যঙ্গ যাজন করিয়া কৃতার্থ হইব। সেই সংসার-ত্যাগই যদি করিতে হয়, তবে বিষয়-ভােগের দ্বারা উহার কষ্টকরত্ব সম্যকরূপে অবগত হইয়া চরমদশায়ই উহার ত্যাগ সমুচিত, অথবা এইক্ষণেই ইহার ত্যাগ সমুচিত ? অনুরাগের বেগ যতক্ষণ মন্দীভূত থাকে, ততক্ষণই শ্রীকৃষ্ণ-ভজনে শাস্ত্র-ক্যাদির বিচারের প্রয়ােজন হইয়া থাকে। অতএব এই অবস্থায় ভক্তের শাস্ত্ৰবিচার-প্রবৃত্তি জন্মে ; কিন্তু শাস্ত্রে আছে “নিজের সেই মৃত্যুরূপা স্ত্রীকে তৃণবৃত কূপের ন্যায় সহসা দুর্লক্ষ্য বলিয়া মনে করিবে”-অতএব আশ্রমকে বিশ্বাসযােগ্য মনে না করিয়া স্ত্রী-পুত্রগণ-সুহৃরাজ্যাদি উত্তম-শ্লোক হরির অভিলাষী হইয়া যুবা হইয়াও মলবৎ পরিত্যাগ করিয়াছিলেন” এই শ্লোকের • যিনি দুস্ত্যজ্য (১) ভাঃ ৩৩২Bি• (২) ভঃ ৫১৪৪৩ ২৪ মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। [ ২য় বৃষ্টি। যুবৈধ মলযৎ” (৩)ইত্যাদিদষ্টা ত্যক্তবিলম্বস্তত্রাপি “অহহ মে পিতরে বৃদ্ধে” ইত্যত্র “অতৃপ্তম্ভনিনুধ্যায় তােহন্ধ বিশতে তমঃ” ইতি ভগবদ্বা- কোন ত্যাগেহলবলস্ট সম্প্রত্যেক প্রণিধারণমাত্রবৃত্তিবনং তদৈব প্রবিশ্যাষ্টাবেব চ যামানভ্যর্থনীতি। “ন জ্ঞানং ন চ বৈরাগ্য প্রায় শ্রেয়াে ভবেদিহ’ (১) ইত্যত্র তু বৈরাগ্যশ্য ভক্তিজনকত্বে এব দোষাে ন তু ভক্তিজনিতত্বে ইতি তদুভাবরূপতয়া তদধীনত্বমিতি। যদুযদাশ্রম- মগাৎ স ভিক্ষুকস্তত্তমপরিপূর্ণ মৈত ইতি ন্যায়েন কদাচিদ্বৈরাগ্যং । “যুবা হইয়াও মলবং ত্যাগ করিয়াছিলেন” ইহা দ্বারা অবিলম্বেই সংসার ত্যাগ করাই উচিত । আবার “আমার পিতামাতা উভয়েই বৃদ্ধ” এই শাস্ত্রোক্তি হইতে পিতামাতার মৃত্যুর পরই সংসার-ত্যাগ বিহিত হইতেছে। “আবার অতৃপ্তাবস্থায় সসার-ত্যাগ করিয়া তাহার চিন্তা করিতে করিতে মৃত হইলে অতি ভয়ঙ্কর অন্ধকারময় লােকে গমন করে” এই ভগবদ্বাক্যের দ্বারা সংসার-ত্যাগের সংঙ্কল্প বলবান্ হয় নাই। সম্প্রতি কোনওরূপে প্রাণ ধারণ করিয়া থাকি, তাহার পরে যথাসময়ে বনে প্রবেশ করিয়া অথবা ধ্যেয় স্থান শ্ৰীবৃন্দাবনে অবস্থিত হইয়া অষ্টপ্রহরই শ্রীকৃষ্ণ-ভজন করিয়াই যাপন করা যাইবে। “এই ভক্তিপথে জ্ঞান বা বৈরাগ্য কোনটাই শ্রেয়ােজনক হয় না” এই শাস্ত্ৰবাক্যের দ্বারা বৈরাগ্য দ্বারা ভক্তি জন্মিতে পারে না বলিয়া ভক্তিজনকজেই বৈরাগ্যের দোষ দর্শন করা হইয়াছে, কিন্তু ভক্তি উৎপন্ন হইলে তৎপরে বৈরাগ্য দোষজনক হয় না; কারণ, ঐরূপ বৈবা- গ্যের দ্বারা ভক্তিরই অনুভব হওয়ায় উহার ভক্তিরই অধীনত্ব প্রমাণিত হইতেছে। (অর্থাৎ ভগবদ্ভজনে অাসক্তির জন্য অন্যান্য বিষয়ে যে বৈরাগ্য জন্মে, সে বৈরাগ্য শুষ্ক বৈরাগ্য নহে; পরন্তু ভক্তির অনুকূল বলিয়া দোষা- বহ নহে।) “সেই ভিক্ষুক যে যে আশ্রমেই গমন করিলেন, সেই সেই আশ্রম- কেই অম্নের দ্বারা পরিপূর্ণ দেখিতে পাইলেন” এই সুপ্রসিদ্ধ ন্যায়ের দ্বারা • (১) ভাঃ ১১১২৩০ ২য়া বৃষ্টিঃ মাধুৰ্যাকাদম্বিনী। ‘তাবদ্রাগাদয়স্তেনাস্তাবৎ কারাগৃহং গৃহম্” ইতি কদাচিদ গাহস্থ্যঞ্চ নিশ্চিন্বন্ কিমহং কীৰ্ত্তনমেব কিংবা কথাশ্রবণমপি উত সেবামে, উতাহাে তাবদম্বরীষাদিবদনেকাঙ্গামেব ভক্তিং করবৈ ইত্যাদি বিবিধ এব প্রাপ্তা বিকল্প। যত্র ভবন্তীতি বুঢ়বিকল্প ॥ ৮ | অথ বিষয়সঙ্গরা। “বিষয়াবিষ্টচিত্তানাং বিষ্ণবেশ সুদূরতঃ। বারুণীদিগ গতং বস্তু ব্ৰজয়ৈন্দ্ৰীং কিমায়াৎ।” ইতি ভােগা এব বলাৎ স্বস্মিন্নভিনিবেশ মাং ভজনে শিথিলয়ন্তীতি তদমী ত্যক্তা নাম- গ্রাহং কাংশ্চন কাংশ্চন তাতোহপি ভুঞ্জান জুষমাণশ্চ তা কামা পরিত্যাগেহপ্যনীশ্বর” (২) ইতি ভগবাক্যস্যোদাহরণত্বং প্রাপ্ত সন্ন্যাসাশ্রমেও জীবিকা নির্বাহের অভাব না থাকায় কখনও বা বৈরাগ্য অবলম্বনই স্থির হইল। আবার শাস্ত্রে আছে যে, “যতক্ষণ ভক্তি না জন্মে, ততক্ষণই ত গৃহ কায়া গৃহের তুল্য” অর্থাৎ ভক্তি জন্মিলে সংসারের বন্ধনশক্তি বা মােহকরী শক্তি থাকে না। অতএব এই শ্লোকের বলে কখনও বা গাহস্থাশ্রমে অবস্থানই নিশ্চয় করিয়া—“আমি হরিকথা-কীৰ্ত্তনের দ্বারা বা হরিকথা শ্রবণের দ্বারা কি সেবাকেই অবলম্বন করিব? না অম্বরীষাদির ন্যায় অনেকাঙ্গ-সম্পন্ন ভক্তির যাজনা করিব?” ভজন-ক্রিয়ার, এইরূপ নানাপ্রকার বিকল্পের ( সংশয়-জনিত বিতর্কের) উদয় হইতে থাকিলে তাহাকে বুঢ়-বিকল্প কহে ॥৮॥ অনন্তব বিষয়-সঙ্গরার কথা বলা হইতেছে। শাস্ত্রে বলা হইয়াছে “যাহ'দের চিত্ত বিষয়ে লিপ্ত হইয়াছে, তাহাদিগের পক্ষে সব্বব্যাপী ভগবান বিষ্ণুর প্রতি ভক্তি অত্যন্ত সুদূরাবহ”---পশ্চিমদিকে ধাবমান বস্তু কখনও কি পূৰ্ব্বদিক গমনকারী লােক লাভ করিতে পারে? এই হেতু বস্তু সকল বলপূর্বক আমাকে নিজ নিজ বিষয়ে আসক্ত করিয়া আমার ভজনাসক্তি শিথিল করিয়া দিতেছে, অতএব ঐ সমস্ত বিষয় ত্যাগ করিয়া নামের আশ্রয় গ্রহণ করি” এইরূপে কোনও কোনও বিষয় তাগ করিবার কালেও ভােগ ঘটায় “অধীশ্বর (২) ভাঃ ১১২০২৮ ৪ মাধুৰ্যকাদম্বিনী। [ ২য় বৃষ্টি বতস্তস্য পূর্বাভ্যস্তৈবিষয়ৈস্তৈঃ সহ-সঙ্গরাে যুদ্ধং কদাচিৎ তৎপরাজয়ঃ কদাচিৎ স্বপরাজয় ইতি বিষয়সঙ্গরা। ৯। অথ নিয়মক্ষমা। “অদ্যারভ্য ইয়ন্তি নামানি গৃহীতব্যানি এতা- বত্যশ্চ প্রণতয়ঃ কাৰ্যা ইন্থমেব তক্তা অপি সেবনীয়া ভগবদসম্বন্ধা বাচোহপি নােচ্চারণীয় গ্রাম্যবার্তাবতাং সন্নিধিস্ত্যক্তব্যঃ” ইত্যাদি প্রতিদিনমপি প্ৰতিজানতােহপি সময়ে তথা ন ক্ষমত্ব ইতি নিয়মাক্ষমা। হইয়া পরিত্যাগ সত্ত্বেও সেই অনন্ত কামনার ঘৃণা সহকারে উপভােগ করিয়া থাকে” ভগবৎ-কথিত এই শাস্ত্ৰবাক্যের উদাহরণস্থল হইয়া সেই সেই ভােগ্য বিষয়ের সহিত সঙ্গর বা যুদ্ধ হওয়ায় কখনও বা বিষয়ের পরাজয় হয়, কখন বা নিজের পরাজয় ঘটে। ভজনক্রিয়ার এই অবস্থাকে বিষয়-সঙ্গরা কহে ॥৯। ইহার পর নিয়মক্ষমার কথা বিবৃত হইতেছে। এই অবস্থায় ভজনে শ্রদ্ধার বিকৃদ্ধি বশতঃ নিয়মরক্ষার প্রয়ােজনীয়তা উপলব্ধি হয়, কিন্তু বিষয়াসক্তির নাশ না হওয়ায় বৈষয়িক প্রয়ােজনের বলবত্তা হেতু ভজন-নিয়মের সম্যক প্রতিপালন ঘটে না। বলা বাহুল্য যে, ভজনের রসাস্বাদনের অসামর্থ্যই ইহার কারণ। জিহ্বায় ইক্ষুরসের মিষ্টতার অনুভূতি হইতে আরম্ভ করিলে বালকের পক্ষে যেমন ইক্ষু-চৰ্বণ-ত্যাগ দুঃসাধ্য, সেইরূপ ভজনে মিষ্টতার আস্বাদ অনুভূত হইতে আরম্ভ করিলে উহার ত্যাগ কোনওরূপে সম্ভবপর হয় না। গ্রন্থকার এই অবস্থার লক্ষণ বলিতেছেন। এই অবস্থায় প্রবর্তক সাধক এই প্রকার সঙ্কল্প করেন যে, অদ্য হইতে আমি দশসহস্র বা লক্ষ পরিমাণ নাম গ্রহণ করিব। এতগুলি করিয়া প্রণতির অনুষ্ঠান করিব, এই প্রকারে শ্রীভগবানের ভক্তবৃন্দের সেবা করিব, যে বাক্যে ভগবৎসম্বন্ধ নাই, সেইরূপ বাক্য উচ্চারণ করিব না এবং যাহারা গ্রাম্য বার্তার * আলােচনা করে, তাহাদের সঙ্গ সর্বতােভাবে ত্যাগ করিব। প্রতিদিন পুনঃ পুনঃ এইরূপ নিয়মের সঙ্কল্প করিয়াও যথাকালে নিয়ম প্রতিপালন করিতে অক্ষম হইবার এই প্রকার অবস্থাকে “নিয়মাক্ষমা” নামে অভিহিত করা যায়। '' * গ্রামবার্ত্তা-পুরুষ ঘটিত ইতর-জনােচিত কথা।

২য়া বৃষ্টিঃ ] মাধুৰ্যকাদম্বিনী। ২৭ বিষয়সঙ্গরায়াং বিষয়ত্যাগক্ষমত্ব অত্র তু ভক্তৎকৰ্ষাক্ষমত্বমিতি ভেদঃ ॥ ১০ । অথ তরঙ্গরঙ্গিণী। ভক্তেঃ স্বভাব এবয়ং যৎ তদ্বতি সৰ্বেপি জনা অনুরজ্যম্ভীতি “জনানুরাগপ্ৰভব। হি সম্পদ” ইতি প্রাচাং বিষয়-সঙ্গরায় ও নিয়মাক্ষমার মধ্যে প্রভেদ এই যে, বিষয়-সঙ্গরায় বিষয় ত্যাগ করার সামর্থ্য থাকেনা, নিয়মক্ষমায় ভক্তির উৎকর্ষ সাধন করিবার সামর্থ্য থাকে না।"১০। ইহার পর তরঙ্গরঙ্গিণী” নাম্নী অবস্থার কথা বলা যাইতেছে। ভক্তির ইহাই স্বভাব যে, যাহাতে ভক্তি অবস্থান করেন অর্থাৎ যিনি ভক্ত, তাঁহার প্রতি সকল লােকেরই স্বাভাবিক অনুরক্তি জন্মিয়া থাকে। “জনানুরাগের ফলেই সম্পদ লাভ হইয়া থাকে” ইহা পূর্ধ্বতন মনীষিগণও বলিয়াছেন।* ভক্তিজাত এই সমস্ত লাভ পূজা প্রতিষ্ঠাদিরূপ বিভূতি সকল ভক্তিরূপ কল্পলতার উপশাখা মাত্র। উপশাখার বৃদ্ধি হইলে মূল লতার বুদ্ধি হয় না; যথা শ্রীচৈতন্য- চরিতামৃতে- “কিন্তু যদি লতার অঙ্গে উঠে উপশাখা। ভুক্তি মুক্তি বাঞ্ছা যত—অসংখ্য তার লেখা । নিষিদ্ধাচার কুটিনাটা জীবহিংসন। লাভ প্রতিষ্ঠাদি যত উপশাখাগণ। সেক-জল পাঞা উপশাখা বাড়ি যায়। স্তব্ধ হঞা মূলশাখা বাড়িতে না পায়। প্রথমেই উপশাখার করিয়ে ছেদন। তবে মূলশাখা বাড়ি যায় বৃন্দাবন।” মধ্য। ১৯ * যিনি সৰ্ব্বভূতের আত্মস্বরূপ শ্রীভগবানে ঐকান্তিকী ভক্তি করিয়া থাকেন, তাঁহার সেই ভক্তিমূলা অর্চনার দ্বারা নিখিল বিশ্ব পরিতৃপ্ত হইয়া থাকে ; যথা ভক্তিরসামৃতসিন্ধু-ধৃত পদ্মপুরাণ-বাক্যে "যেনাচ্চিতাে হরিনে তপিতানি জগন্ত্যপি । রজ্যক্তি জন্তবস্ত। জঙ্গমাঃ স্থাবরা অপি।” [ পরপৃষ্ঠা ।

মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। { ৩য় বৃষ্টি। বাচোহপি। ভক্তত্থাসু বিভূতিযু লাভপূজাপ্রতিষ্ঠাদিমু বল্লীবলি- সূপশাখা তরঙ্গেচিরন্তা অস্যা রঙ্গ ইতি তরঙ্গরঙ্গিণী। ১১। ইতি মহামহােপাধ্যায়-শ্রীমদ্বিশ্বনাথ চক্রবর্তি বিরচিয়াং মাধুৰ্য- কাদম্বিন্যাং ভক্তে শ্রদ্ধাদি ক্রমত্রয় কথনপূর্বকং ভজনক্রিয়াভেদ-কথনং নাম দ্বিতীয়ামৃতবৃষ্টি ও ২। তৃতীয়ামৃতবৃষ্টিঃ অথানর্থানাং নিবৃত্তিঃ। তে চানৰ্ধাশ্চতুর্দিধা-দুষ্কৃতাের্থ এই উপশাখাগুলিকেই এখানে ভক্তি-মহাসাগরের তরঙ্গরূপে বর্ণনা করা হইয়াছে। ভক্ত এই অবস্থায় তার ভজন ক্রিয়াকে নানারূপে রঙ্গ বা ক্রীড়া করিতে দেখেন ; এই জন্যই এই অবস্থাকে “তরঙ্গ-রঙ্গিণী” নামে অভিহিত করা হইয়াছে ॥১১ ইতি মহামহােপাধ্যায়, বিশ্বনাথ চক্রবর্তি-বিরচিত মাধু-কাদম্বিনী গ্রন্থে ভক্তির শ্রদ্ধাদি ক্রমত্রয় কথন পূর্বক ভজন-ক্রিয়া-ভেদ-কথন-নামক দ্বিতীয়ামৃতবৃষ্টি ॥২৮ তৃতীয়ামৃতবৃষ্টি। অনন্তর অনথনিবৃত্তির কথা বলা যাইতেছে। সেই অনর্থ চতুৰ্বিধ ; যথা- দুষ্কৃতােখ ( নিজের দুষ্কত বা পাপ হইতে জাত ), সুখে ( নিজের ফলাভি- ; অর্থাৎ যে ব্যক্তি ভগবান্ হরির অর্চনা করিয়াছেন, তিনি নিখিল জগৎকে পরিতৃপ্ত করিয়াছেন, মানব-প্রমুখ প্রাণীর কথা কি বলিব, স্থাবর-জঙ্গম পৰ্যন্ত জন্তুও তাহাতে অনুরক্ত হইয়া থাকে। অতএব ভক্তের প্রতি স্বভাবতই সকল লােকে অনুরক্ত হইয়া থাকে। ভক্তের নিকট বৈষয়িক, ব্রাহ্ম ও ঐশ্বরিক সুখ স্বতঃই উপস্থিত হইয়া থাকে, যথা ভক্তিরসামৃতসিন্ধুত তন্ত্রবাক্যে “সিদ্ধয়ঃ পরমাশ্বৰ্য্যা ভুক্তি মুক্তি শাশ্বতী। নিত্যঞ্চ পরমানন্দং ভবেগোবিন্দ ভক্তিতঃ।” শ্রীগােবিন্দে ভক্তি জন্মিলে অণিমাদি অষ্টসিদ্ধি, সর্বপ্রকার বৈষয়িক সুখ, ব্ৰহ্মসুখ বা মুক্তি এবং পরমানন্দরূপ ঐশ্বরিক সুখ লাভ হয় ॥”

৩য় বৃষ্টি ] মাধুৰ্যকাদম্বিনী। সুকুতাখা অপরাধপিত্থা ভক্ত থাশ্চেতি। তত্র দুক্কতোখা দুরভি- নিবেশ-দ্বেষ-গাছাাঃ পূর্বোক্তাঃ ক্লেশা এব। সুকুতােখা ভােগাভি- নিবেশা বিবিধা এব। তেচ ক্লেশান্তঃপাতিন ইতি কেচিৎ। অপরাধেখা নামাপরাধ এব গৃহস্তে। সেবাপরাধনা নামভিস্তত্তন্নিবৰ্ত্তকস্তোত্রপাঠৈ সেবা-সাততেন চ ভব্যশ্য বিসেকিন প্রায় প্রতিদিনমেবােপশমেনাঙ্কুরীভাবানুপগন্ধেঃ। কিন্তু তত্তদুপম- সন্ধিমূলক পুণ্যকর্ম হইতে সঞ্জাত }, অপরাধােখ ( ভগবৎ বা তৎসম্বন্ধি কোনও, বস্তুতে আচরিত জ্ঞানকৃত বা অজ্ঞানকৃত প্রত্যয় হইতে জাত) এবং ভক্তখ ( ঐকান্তিকী ভক্তি জন্মিবার পূর্বেই অপরাভক্তি হইতে জাত)। এখন দুতােখ অনর্থের বিষয় বলা যাইতেছে। পূর্বজন্মকৃত কর্মের ফলে দুঃখজনক বিষয়ে অনুরাগ, দ্বেষ বা আসক্তির কথা পূর্বে : দ্বিতীয়-অমৃতবৃষ্টির ৩য় প্রকরণে আলােচিত হইয়াছে। তথায় অবিদ্যা, অস্মিতা, রাগ, দ্বেষ, অভিনিবেশ এই পাচটাকেই ক্লেশ বলা হইয়াছে। বিবিধ প্রকার ভােগের অভিনিকেশকে সুকৃতে অনর্থ বলে। পূৰ্বজাতকর্মের বা সকাম, পুণ্য কৰ্ম্মর ফলে অনিত্য ইত্ব প্রভৃতি সুখই এই সুকতােখ অনথ। এই জন্যই বলা হইয়াছে যে, প্রাবণ ভুক্তিমুক্তি-বাঞ্ছারূপা পিশাচী হৃদয়ে বর্তমান থাকিবে, তাবৎকাল পর্যন্ত কি প্রকারে হৃদয়ে ভক্তিসুখের অভ্যুদয় হইবে ? ফলতঃ সুতোথ অনর্থকেও পতঞ্জলি- প্রমুখ মহর্ষিগণ অবিদ্যা-অস্মিতাদি পঞ্চ ক্লেশেরই অন্তর্গত বলিয়া গণনা করিয়াছেন। (২য় অমৃতবৃষ্টির ৩য় প্রকরণের পাদটীকা দ্রষ্টব্য।) “অপরাধে অনর্থ” বলিতে এখানে নামাপরাধকেই গ্রহণ করা হইয়াছে—উহা দ্বারা সেরা- পরাধ লক্ষ্য করা হয় নাই। কারণ, বিচার-বুদ্ধিশালী সজ্জমগণ সেবাপরাধের নিবৰ্ত্তক নাম এবং স্তোত্রাদির পাঠ এবং নিরন্তর ভগবৎসেবার দ্বারা প্রতিদিন জাত সেবাপরাধের (১) উপশম করায়-উহার অন্ধুরীভাব বা আবির্ভাব ঘটিতে ক (১) সেবাপরাধ-গ্রন্থকার স্বীয় গ্রন্থ ভক্তিরসামৃতসিন্ধুবিন্দুতে যে সেবা- পরাধগণের গণনা করিয়াছেন, তাহার অনুবাদ প্রদত্ত হইল। যথা-বত্রিশ- প্রকারের সেবাপরাপ বর্জন করিতে হইবে। অগমে উহা বিবৃত হইয়াছে।

মাধুৰ্যকাদম্বিনী। [ ৩য়া বৃষ্টি। ( পাদটীকা) যথা-১। ভগবদগৃহে যানে আরােহণ করিয়া গমন। ২। তথায় পাদুকা লইয়া গমন। ৩। উৎসবাদিতে দেবতার সেবা না করা। ৪। দেবতার অগ্র প্রণাম না করা। উচ্ছিষ্ট অবস্থায় ভগবদ্বন্দনাদি। ৬। অশৌচ অবস্থায় ভগবদ্বন্দনাদি । এক হস্তে প্রণাম। ৮। দেবতাকে পৃষ্ঠ- প্রদর্শনপূর্বক প্রদক্ষিণ । দেবতাগ্রে পাদ-প্রসারণ। ১০। তদগ্রে কটি-বন্দনাদি। ১১। তদগ্রে শয়ন। ১২। তদগ্ৰে ভক্ষণ। তদগ্রে মিথ্যাভাষণ। ১৪। তদগ্ৰে উচ্চ-ভাষণ। তদগ্রে পরস্পর কথােপ- কথন। তদগ্রে রােদনাদি। ১৭। তদগ্রে কাহারও নিগ্রহ বা অনুগ্রহ। ১৮। তদগ্ৰে নিষ্ঠুর ত্রুর-ভাষণ। ১৯। তদগ্ৰে কম্বলের দ্বারা গাত্রাবরণ। ২০। তদগ্ৰে পরনিন্দা। ২১। তদগ্রে পরস্তুতি। ২২। তদগ্ৰে অশ্লীল ভাষণ। ২৩। অপােবায়ুত্যাগ। ২৪। শক্তি থাকিতেও গৌণণাপচার প্রদান। ২৫। ২৫। অনিবেদিত বস্তু ভক্ষণ। ২১। তত্তৎ কাল- জাত ফলাদির অনৰ্পণ। ২৭। ভুক্ত বা ব্যবহৃত ব্যঞ্জনাদির অবশেষ সমর্পণ। ২৮। তদগ্রে পৃষ্ঠ রাখিয়া উপবেশন। ২৯। তদগ্ৰে অন্য ব্যক্তিকে অভিবাদন। গুরু কোন প্রশ্ন করিলেও তদগ্ৰে মৌনাবলম্বন। ৩১। তদগ্রে নিজের প্রশংসা। ৩২। ও দেবতার নিন্দন। বরাহপুরাণে যাহা উক্ত হইয়াছে, তাহাও সংক্ষেপে লিখিত হইল। যথা—রাজান্নভক্ষণ, অন্ধকারময় গৃহে শ্রীমূৰ্ত্তির স্পর্শ, অবিধি পূর্বক শ্রীবিগ্রহ-সমীপে গমন, বাদ্যব্যতিরেকে মন্দিরের দারােদঘাটন, কুকুরাদি কর্তৃক দূষিত ভক্ষ্য সংগ্রহ, অৰ্চ্চনাকালে মৌনভঙ্গ, পূজা- কালে মূত্রপুরীদি ত্যাগার্থে গমন। গন্ধমাল্যাদি প্রদান না করিয়া ধূপদান, অবৈধপুষ্পদির দ্বারা পূজা ; দন্ত ধাবন করিয়া, স্ত্রীসংসর্গ করিয়া, রজস্বলা দীপ ও মৃতদেহ স্পর্শ করিয়া, রক্ত নীল বা অধৌত বস্ত্র, অন্যের ত্যক্ত বা মলিনবস্ত্র পরিধান করিয়া, মৃতদেহ দর্শন করিয়া, অধােবায়ু ত্যাগ করিয়া, ক্রুদ্ধ হইয়া, শ্মশান ভ্রমণ করিয়া, ভুক্তম্নের অপরিপাক না হইতে, কুসুম্বফুল, শাক বা হিঙ্গ ভােজন করিয়া, তৈলমর্দন করিয়া বিগ্রহের স্পর্শ বা তদীয় কাৰ্য করণ।” এতদ্ব্যতীত “ভগবচ্ছান্ত্রের অনাদর করিয়া অন্য শাস্ত্রের প্রবর্তন, দেবতার সম্মুখে তাম্ব ল চৰ্বণ, এরপ্তাদি নিষিদ্ধ পলস্থ পুষ্পদ্বারা পূজা, আসুরকালে পূজা, ;

৩য় বৃষ্টিঃ ] মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। সন্তববলেন তত্র সাবধানতা-শৈথিল্যে সেবাপরাধা অপি নামাপরাধা এব স্যা। তথাহ ক্ত, “নাম্নে বলা যস্য হি পাপবুদ্ধিরিতি।” তত্র নাম ইপলক্ষণং ভক্তিমাত্রস্যৈবােপশমকস্য। ধর্মশাস্ত্রেহপি প্রায়শ্চিত্তবলেন পাপাচরণে ন তস্য পাপস্য ক্ষয় প্রত্যুত গাঢ়তৈব। নন্বেবং পারেনা। কিন্তু যেহেতু নামবলে ও স্তোত্রাদিপাঠে সেবাপরাধের নিবৰ্ত্তন ঘটিতে পারে, তজ্জন্য সেবাপরাধ বিষয়ে সাবধানতার শিথিলতা ঘটিলে ঐসকল সেবা- পরাধই নামাপরাধে পরিণত হইয়া থাকে। এইজন্য শাস্ত্রে আছে যে "নামের বলে পীপে বুদ্ধি হইলে তাহাতেও নামাপরাধ হইয়া থাকে।” এইস্থানে নাম শব্দদ্বারা পাপােপশমক যাবতীয় ভক্তির অঙ্গ উপলক্ষণে (১) কথিত হইয়াছে অথং সমস্ত ভক্তির অঙ্গই নাম শব্দদ্বারা বােধ্য। ধর্মশাস্ত্রেও কথিত আছে যে, কেহ যদি প্রায়শ্চিত্ত দ্বারা পাপনাশ করিব মনে করিয়া প্রায়শ্চিত্ত-বলে পাপে কাষ্ঠাসনে বা ভূমিতে উপবেশন পূর্বক পূজা, স্নান করাইবার সময় বাম হস্তের দ্বারা দেবতার স্পর্শ, শুষ্ক বা যাচিত পুষ্পের দ্বারা পূজন, পূজাকালে নিষ্ঠীবন, পূজায় অগৰ্বখ্যাপন, বক্রভাবে তিলক-ধারণ, পাদপ্রক্ষালন না করিয়া মন্দিরে প্রবেশ, অবৈষ্ণব-পঙ্কৰস্তুর নিবেদন, অবৈষ্ণব-সম্মুখে পূজা, গণেশ পূজা না করিয়া, কাপালিক দর্শন করিয়া বা ঘর্মাকলেবরে পূজা, নস্পৃষ্টজলদ্বারা স্নান, নির্মাল্য লঘন ও ভগবানের নাম লইয়া শপথ গ্রহণ।” এ সমস্ত ও সেবাপরাধ । (১) উপলক্ষণ - স্ব-প্রতিপাদকত্বে সতি স্বেতর-প্রতিপাদকত্ব। যে স্বয়ং নিজকে প্রতিপাদন করিয়া অন্যকেও প্রতিপাদিত করে, তাহাই উপলক্ষণ। যেমন “কাক হইতে দধি রক্ষা কর” এইকথা বলিলে কাকপদে নিজে কাক তাে প্রতিপাদিত হইয়াছেই, তদ্ভিন্ন দধি-বিঘাতক যাবতীয় জীব কাকপদ দ্বারাই প্রতিপাদিত হইতেছে। ইহাই উপলক্ষণের উদাহরণ স্থল। মূলােক্ত স্থলেও নামশব্দে নাম স্বয়ং প্রতিপাদিত হইয়া নামাতিরিক্ত অন্যান্য ভক্ত্যঙ্গকেও প্রতি পাদন করিতেছে।

মাধুৰ্যকাদম্বিনী। [ ৩য়া বৃষ্টি। . “ন হঙ্গোপক্রমে ধ্বংসাে মদ্ধম্মস্যোদ্ধবাপি” ইতি “বিশেষততা দশার্ণোহয়ং জপমাণে সিদ্ধিদ” ইত্যাদি বাক্যবলেন তত্তদঙ্গানামননুষ্ঠানে বৈকল্যাদাৰপি জাতে নামাপরাধ প্রসজ্জেত। মৈবম্। নামে বলা যশস্যতত্র পাপে বুদ্ধিশ্চিকীর্ষাদি। তুদেব হি পাপ। যত্র সতি নিন্দা প্রায়শ্চিত্তাদি- শ্রবণম্। ন চ কৰ্ম্মমার্গ ইব ভক্তিমার্গেইপি অঙ্গবৈকল্যাদৌ কাপি নিন্দাশ্রবণমিতি ন তত্ৰাপরাধশঙ্কা। যদুক্তম-লীভাগবতে) “যে বৈ ভাগবতা প্রাক্তন উপায় আত্মলব্ধয়ে। অঞ্জঃ পুংসামবিদুষাং বিদ্ধি ভাগবতা হি তান্। ; প্রবৃত্ত হয়, তবে তাহার পাপক্ষয় হয়না; বরং পাপের গাঢ়তাই প্রকাশিত হয়। যদি বলা যায় যে, “হে উদ্ধব । আমার এই ধর্মের আরম্ভমাত্রেই পরিসমাপ্তি হইলেও অণুমাত্র ধ্বংস নাই।” অর্থাৎ যতটা আচরিত হইয়াছে, তদনুরূপ ফল হইবেই। এবং এই দশার মন্ত্র জপ-মাত্রেই সিদ্ধিদান করিয়া থাকে।” এই সকল শাস্ত্র-বাক্যবলে আনুষঙ্গিক তত্তৎ ভক্তি-অঙ্গের অনুষ্ঠান না করিলে অথবা অঙ্গহানি করিলে নামাপরাধের প্রাপ্তি ঘটুক, অথবং উক্ত শাস্ত্র-প্রমাণ- বলেই সাধকের মনে যথাযথ ভক্ত্যঙ্গ সাপনের জন্য সাবধানতা না থাকায় ভক্ত্যঙ্গ সকল যান না করা ও অঙ্গহানি হওয়া অসম্ভব নহে। এমতাবস্থায় ভক্তির মহিমাবলে শাস্ত্রবিহিত ভক্ত্যঙ্গের আচরণ না করায়, অথবা অঙ্গহানি করায় “নামােবলাদিত্যাদি প্রমাণে নামাপরাধ প্ৰসহ্ন হইতেছে। তদু স্বরে বলা যাইতেছে যে, না—তাহা পারে না। “নাম্নেবিলাদ যস্যহি পাপবুদ্ধি এই শ্লোকে পাপবুদ্ধি শব্দের অর্থ এই যে, পাপ করিবার ইচ্ছা প্রভৃতি। পূর্বোক্ত স্থলে অসাবধানতা প্রযুক্ত হওয়ায় পাপকাৰ্য্যে বৃত্তি থাকায় নামাপরাধ হইল না। বিশেষতঃ যাহা করিলে নিন্দা প্রায়শ্চিত্ত প্রভৃতি শাস্ত্রে বিধান করেন, তাহাই পাপ। কৰ্ম্মমার্গে যেমন কৰ্ম্মের অঙ্গ-বৈকল্য হইলে তাহার নিন্দা শুনা যায়, ভক্তিমার্গে সেরূপ নিন্দা কোন স্থলে ও দৃষ্ট হয় না, অতএব পূর্বোক্ত স্থলে অপরাধের আশঙ্কা করা যায় না। বরং শাস্ত্রে কথিত আছে যে, হে রজিন্! আত্মজ্ঞানহীন পুরুষের সম্বন্ধে ওয়া বৃষ্টিঃ ) মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। যানাস্থায় নরাে রাজন্ ন প্রমাতে কহিঁচিৎ। ধাবন্ নিমীল্য বা নেত্রে ন স্থলে পততদিহ।” ইতি অত্র নিমীল্যেতি কর্তৃব্যাপারলিঙ্গেন বিদ্যমানৈ এব নেত্রে মুদ্ৰয়িত্ব তত্রাপি ধাব পান্যাসস্থলমতিক্রম্যাপি ব্ৰজন্ ন খুলেদিতি অক্ষরার্থ- লন্ধের্ভগবদ্ধৰ্ম্মমাশ্ৰিত্য তদানি সর্বাণি জ্ঞাত্বাপি অজ্ঞ ইব কানিচিদুল্লাপি অনুষ্ঠি ন প্রত্যবায়ী স্যাৎ ভ্রশেদিত্যেষৈব ব্যাখ্যা উপপদ্যতে । নিমীলনং নামাজ্ঞানং তস্যাপি শ্রুতিস্মৃতী বিষয়াবিত্যে তু ন সঙ্গচ্ছতে মুখ্যার্থবাধাযগা। ন চ নাপি ফলা- আত্মলাভের জন্য যে সমস্ত উপায় শ্রীভগবান্ কর্তৃক কথিত হইয়াছে, সেই সকল উপায়কেই ভাগবত-ধৰ্ম্ম বলিয়া অবগত হও। এই ধর্মাবলীকে আশ্রয় করিয়া মানব এই পথে মুদিতনেত্রে ধাবমান হইলেও পদস্থলিত হইয়া বা পতিত হইয়া প্রমাদ গ্রস্ত হয় না। এই স্থলে “নিমীলন করিয়া” এই শব্দের দ্বারা কর্তৃব্যাপার- রূপ লিঙ্গের দ্বারা অথাৎ কর্তারই অনুষ্ঠিত কৰ্ম্মবিশেষ এই লক্ষণের দ্বারা নেত্ৰদ্বয় মুদ্রিত করিয়া এবং ‘ধাবন’ শব্দে বেগবশতঃ ( সহজ গতিনিৰ্দিষ্ট) পাদবিক্ষেপের স্থল অতিক্রম করিয়া-এই প্রকার অক্ষর্থের প্রতীতি হয় ; জুতরাং চক্ষুষ্মন্ ব্যক্তিও যদি পদক্ষেপের স্থল অতিক্রম করিয়া গমন করে, তাহাতেও তাহার পদস্খলন বা পতন নাই—এইরূপ অর্থেরই বােধ হইতেছে। অতএব উক্ত শ্লোকদ্বয়ের দ্বারা ইহাই বােধগম্য হয় যে, কোনও ব্যক্তি ভাগবদ্ধৰ্ম্ম আশ্রয় করিয়া তাহার সমস্ত অঙ্গ জ্ঞাত থাকিয়াও অজ্ঞের ন্যায় কোনও কোনও অঙ্গ লঙ্ঘন করিয়াও মূলধর্মের অনুষ্ঠান করিলে প্রত্যয়গ্রস্ত অথবা ফলচুত হইবে না। এই স্থানে নিমীলন' শব্দের দ্বারা ‘অজ্ঞান অর্থাৎ শ্ৰতি ও স্মৃতিবিষয়ে অজ্ঞান-এইরূপ অথ সঙ্গত হয় না; কারণ, এইরূপ লক্ষ্যাথে মূলবক্যাভিপ্রেত মুখ্যাথের বাধা হয়। এই স্থলে নেত্ৰ বা দৃষ্টিশক্তি থাকিতেও তাহার নিমীলনের কথা বলা হইয়াছে, অর্থাৎ সাধু শাস্ত্র ও গুরূপদেশ বিষয়ে জ্ঞান থাকিলেও অনুরাগের প্রাবল্য বশতঃ বা কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ বশতঃ সাধারণ বিধির সঙ্কোচ বা লঙ্ঘন করিলেও ভক্ত প্রত্যবায় গ্রস্ত হননা—ইহাই অভিপ্রেত-কামাচার বশতঃ কোনও বিহিত ভক্ত্যঙ্গেয় অনুষ্ঠানের শৈথিল্য বুম্বাইতেছে না। এই জন্যই ‘ধাবন ও ৫ মাধুৰ্যকাদম্বিনী। [ ৩য়া বৃষ্টি ধাবন নিমীল্যেত্যেদেব দ্বাত্রিংশদপরাধাভাবমপি ক্রোড়ীকররাত্ত্বিতি ৰাচ্যম। যা ভগবতা প্ৰােক্তানুপায়নাশ্রিত্যেক্তত্বাৎ। “যানৈর্ব পাদুকৈর্বাপি গমনং ভগবদ্‌গৃহে” (১) ইত্যাদয়স্তু তত্র নিষিদ্ধ এব । সেবাপরাধে তু “হরেরপ্যপরাধান্যঃ কুদ্দিপদপাংশন” (২) ইত্যাদি শ্রয়ন্তএব নিন্দাঃ। কিঞ্চ তে নামাপরাধাঃ প্রাচীনা অর্বাচীন বা যদি সমগনভিজ্ঞাতপ্রকারা ঃ কিন্তু তৎফললিঙ্গেনানুমীয়মানা এব তদা তেষাং নামভিরেবাবিশ্রান্ত প্রযুক্তৈৰ্ভক্তিনিষ্ঠায়ামুৎপদ্যমানায়াং ক্রমেগােপশমঃ। যদি তে জ্ঞায়ন্ত এব তদা ত্বস্তি চিৎ কশ্চিদ্বি- শেষঃ ॥১॥ যথা “সতাং নিন্দেতি” দশ নাম্নঃ (৩) প্রথমােহপরাধঃ। ‘নিমীল্য এই দুই পদের দ্বারা দ্বাত্রিংশৎ প্রকার সেবাপরাধের অভাব অঙ্গী- কৃত হইয়াছে—এ কথাও বলা যাইতে পারে না; যেহেতু পূৰ্বেই “শ্রীভগবান কর্তৃক কথিত সেই সকল উপায়কেই আশ্রয় করিয়া” এইরূপ কথা বলা হই- আছে। “যানারােহণ করিয়া বা পাদুকা ধারণ করিয়া ভগবদগৃহে গমন করা” ইত্যাদি নিষিদ্ধ হইয়াছে। সেবাপরাধ-বিষয়েও “যে দ্বিপদ পশু শ্রীহরির নিকট অপরাধ করে” দশ বাক্যে এরূপ আচরণের নিন্দাই শ্রুত হইয়া থাকে। অধিকন্তু, বহুকাল পূৰ্বেই হউক বা সম্প্রতিই হউক, যদি নামাপরাধ সকল অজ্ঞানতঃ অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে তাহার ফলরূপ চিত্নের দ্বারা ঐরূপ অপরাধের অনুষ্ঠান করা হইয়াছে—এইরূপ অনুমান করা হয়, তবে অবিশ্রান্ত প্রযুক্ত নামের দ্বারা ভক্তিনিষ্ঠার উৎপত্তি ঘটিলে ঐ সকল অপরাধের ক্রমশঃ উপশম ঘটিয়া থাকে। কিন্তু ঐ সকল অপরাধ যদি জ্ঞানপূর্বক অনুষ্ঠিত হয়, তবে কোথাও কোনরূপ বিশেষত্ব পরিদৃষ্ট হইয়া থাকে। ১। কিরূপ বিশেষ তাহা বলিতেছেন। যথা-সৎ বা সাধুব্যক্তিগণের নিন্দা দশ (১) ভক্তিরসামৃত-সিন্ধু। (২) ঐ (৩) জীবগােস্বামী ভক্তিরসামৃত-সিন্ধুর টাকার পদ্মপুরাণােক্ত দশবিধ নামাপরাধের উল্লেখ করিয়াছেন, যথা ১। সৎসকলের বা সাধুব্যক্তিগণের ৩য়া বৃষ্টিঃ ] মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। ৩৫ নিত্যেনেন দ্বেষ-দ্রোহাদয়গাহপুপলক্ষ্যন্তে। ততশ্চ দৈবাৎ তস্মিন্নপ রাধে জাতে “হন্ত পামরেণ ময়া সাধু অপরাদ্ধমিতি” অনুতপ্তা জনঃ “কৃশানো শাম্যতি তপ্তঃ কৃশানুন এবায়” ইতি ন্যায়েন তৎপদাগ্রএব নিপত্য প্রসাদয়ামীতি বিষন্নচেতসা প্রণতিস্তুতিসম্মানাদিভিস্তস্যোপশমঃ কাৰ্য। কদাচিৎ কস্যচন কৈরপি দুম্প্রসাদনীয়ত্বে বহুদিনমপি তন্মনােভি- রােচিন্তনুবৃত্তিঃ কাৰ্যা! অপরাধস্যাতিমহত্ত্বাৎ কথঞ্চিৎ তয়াপ্যনিবৰ্ত্তকো- প্রকার নামাপরাধের মধ্যে প্রথম অপরাধ। এই স্থানে নিশা শব্দের দ্বারা দ্বেষ, দ্রোহ প্রভৃতি উপলক্ষিত হইয়াছে। অনন্তর দৈবাৎ ঐরূপ অপরাধ ঘটিলে “হায় হায় আমি কি পামর, আমি সাধুগণের নিকট অপরাধ করিলাম” এইরূপ অনুতপ্ত ব্যক্তি “অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তি অগ্নির দ্বারাই শান্তিলাভ করিয়া থাকে” এই ন্যায় অনুসারে “আমি যাহাদিগের নিকট অপরাধ করিয়াছি, তাহাদিগের পদতলে পতিত হইয়া তাহাদিগকে প্রসন্ন করিব” এই প্রকার বিষগ্রচিত্তে প্রণতি, সুতি ও সম্মানাদির দ্বারা সেই কৃতাপরাধের উপশমন করিবে। প্ৰােক্ত উপায়ে কেহ যদি কাহাকেও প্রসন্ন করিতে না পারেন, তবে বহুদিন ধরিয়া তাহাকে প্রসন্ন করিবার জন্য তাঁহার অভিপ্রেত কৰ্ম্মাদির অনুষ্ঠানের দ্বারা তাহার অনুবৃত্তি করিবেন। অপরাধ নিতান্ত হইলে যাহার নিকট অপরাধ হয়, তাহার কোপের যদি কোনওরূপে কোন নিবৃত্তি না ঘটে, তবে “আমার আচরিত ভক্তের প্রতি যে অপরাধ, তাহা কোনওরূপে ক্ষীণ হইল না, নিন্দা। ২। বিষ্ণু হইতে শ্রীশিবের নামরূপাদির স্বাতন্ত্র বা ভেদচিন্তন। ৩। শ্রীগুরুর অবজ্ঞা। ৪। শ্রুতি ও তদনুগত শাস্ত্রের নিন্দা। ৫। শাস্ত্রোক্ত হরিনামাদির মহিমা অর্থবাদ মাত্র—এইরূপ চিন্তা অর্থাৎ নামাদির যে সমস্ত শক্তি শাস্ত্রাদিতে উক্ত হইয়াছে, উক্ত শক্তি বাস্তবিক ঐ সমস্ত বস্তুতে নাই, পরন্তু উহা লােক-সংগ্রহের জন্য প্রশংসাসূচক জ্ঞানমাত্র এই বুদ্ধি। ৬। প্রকারান্তরের দ্বারা বা কষ্টকল্পনার দ্বারা বা কুব্যখ্যার দ্বারা নামার্থজ্ঞান। নামলে পাপে প্রবৃত্তি। ৮। অন্য শুভকর্মের সহিত নামকে সমান মনে করা। ৯। অশ্রদ্ধালু ব্যক্তিকে নামোপদেশ। ১০। নাম-মহিমা শ্রবণ করিয়াও নামে অপ্রীতি। হরিভক্তিবিলাসে বিস্তারিত আছে। ৭।

মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। ( ওয়া বৃষ্টি। “ ধিমক্ষীণভক্তাপরাধং নিরয়কোটিযু পতন্ত” ইতি নির্বিদ্য সবং পরিত্যজ্য সমাশ্রয়ণীয়া নাম-সংস্কীৰ্ত্তনসন্ততিস্তয়া চ মহাশক্তিমত্যা- বমেব কালে ততঃ স্যাদেবৰদ্ধারঃ “কিং মে মুহুর্মুহুরেব পাদপতনাদিভিঃ স্বাপকম্বীকারেণ “নামাপরাধযুক্তানাং নামাৰে হর্যঘ” ইত্যস্যৈব পরমােপায়ঃ স এব সমাশ্রয়ণীয়ঃ ইতি ভাবনায়াং পূর্ববদেব পুনরপি নামাপরাধঃ। ন চ “কৃপালুরকৃতদ্রোহস্তিতিক্ষুঃ সর্বদেহিনা” (১) ইত্যাদি সম্পূর্ণ ধৰ্ম্মকা এব সন্তস্তেমেব নিন্দা অপরাধ ইতি বাচ্যম্। “সৰ্বাচারবিবর্জিজ্ঞতাঃ শঠধিয়ে ব্রাত্যা জগদ্বঞ্চকা” ইতি তৎ প্রকরণ- বৰ্ত্তিন বচনেন তাদৃশদুশ্চরিতানামপি ভগবন্তং ভজতাং কৈমুতিকন্যায়েন অতএব কোটি কোটি নরকে তামাকে পতিত হইতে হইবে। হায় ? আমাকে ধিক !” এই প্রকারে নিব্বেদ সহকারে সব্বপ্রকার কাৰ্যত্যাগ করিয়া নাম-সক্ষাৰ্ত্তনকেই অবিচ্ছেদে সম্যক্‌প্রকারে আশ্রয় করিতে হইবে। এই মহাশপির মামলঙ্কীৰ্ত্তনের দ্বারা কোনওকালে অবশ্যই অনুতপ্তব্যক্তির উদ্ধার হইবে। কিন্তু যদি এরূপ বুদ্ধির উদয় হয় যে “নামাপরাধী ব্যক্তির নামাশ্রয়ের দ্বারাই পাপমুক্তি ঘটিয়া থাকে” শাস্ত্রে যখন এইকথা আছে তখন বারংবার পাদপতনাদির দ্বারা নিজের লাঘব স্বীকার না করিয়া অপরাধ- মোচনের পরমােপয়স্বরূপ নামসঙ্কীৰ্ত্তনকেই আশ্রয় করা যাউক” তাহা হইলে পূৰ্ব্ববৎ নামবলে পাপপ্রবৃত্তির কারণ ঘটায় পুনরায় নামাপরাধের উদ্ভব হইল। যদি এরূপ আপত্তি হয় যে “কৃপালু অক্ক তদ্রোহী সৰ্ব্ব-প্রাণীর প্রতি সহিষ্ণু” ব্যক্তিকেই শাস্ত্রে সম্পূর্ণ বৈষ্ণবধর্মযুক্ত বলিয়া নির্দেশ করিয়াছেন অতএব ঐরূপ ব্যক্তিগণের নিন্দা করিলেই অপরাধ হইয়া থাকে, ঐরূপ লক্ষণহীন ব্যক্তির নিন্দায় বৈষ্ণবাপরাধ হয় না। ইহার উত্তরে বলা যাইতেছে যে, শাস্ত্রে যখন দুরাচার ব্যক্তিও অনন্যচিত্ত হইয়া ভগবদ্ভজন করিলে তাহাকে সাধু বলিয়া মনে করিতে বলিয়াছেন, ভখন “সৰ্বাচার-বিবর্জিত শঠবুদ্ধি ব্রাত্য জগদ্বঞ্চক ইত্যাদি প্রকরণােক্ত বচনের দ্বারা তাদৃশ দুরাচারগণও যে •• (১) ৬াং ১১১১২৯ ৩য়া বৃষ্টিঃ ] মাধুৰ্যকাদম্বিনী। (১) সচ্ছাচ্যত্বেন সূচিতত্বাৎ (১)। কিঞ্চ কশ্চিন্মহাভাগবতত্বাৎ মহাপরাধিপি যদ্যপি ন কুপতি তদপি তত্রাপাধবতা স্বশুদ্ধ্যর্থং প্রণতাদিভিরবর্তনীয়ঃ এব সঃ। “সেং মহাপুরুষপাদপাংশুভির্নিরস্ত তেজঃস্র তদেব শােভনং” ইতি সং বাক্যেন অচ্চরণরেণুনামসহিষ্ণুতয়া তৎফল প্রদত্বাবগমাৎ। কিঞ্চ দুরবগমনিস্কারণকে চিৎ কৃপাদৃষ্টো প্রভবিষ্ণো স্বচ্ছন্দচরিতে কচিন্মহাভাগবতমৌলো তু ন কাপি মৰ্যাদা ০ ০ ০ ভগবদভজনপরায়ণ হইলে সাধুনামে অভিহিত হইবেন—একথা ( কৈমুতিক ন্যায়ানুসারে) বলাই বাহুল্য। কোনও মহাভাগবত ব্যক্তির নিকট মহা অপরাধ করিলেও তঁহার অনুপম ক্ষমাশীল-স্বভাববশে যদিও তিনি কুপিত হন, তথাপি অপরাধীব্যক্তি নিজের শােধনের জন্য প্রণামাদিদ্বাৰা যাহার নিকট অপরাধ করিয়াছেন, তাহার নিকট ক্ষমাপ্রার্থনাদি দ্বারা তাঁহার অনুবৰ্তন করিবেন। কারণ “মহাপুরুষের পদধূলি-সমূহের দ্বারা নিরন্ততেজ ..” ইত্যাদি সাধুবাক্যের দ্বারা ইহা বুঝিতে হইবে যে, মহাপুরুষের ক্রোধ-সঞ্চার না হইলেও তঁহাদিগের চরণরেণু-সমূহ অপরাধীর অপরাধ ক্ষমা না করিয়া অপরাধে- চিত ফল প্রদান করিয়া থাকে। দুজ্ঞেয় কোনও কারণবশতঃ অথবা বিনা কারণেও কৃপাদৃষ্টিতে সমর্থ স্বতন্ত্রস্বভাব কোনও ভাগবতশ্রেষ্ঠ কখনও কখনও পরিদৃষ্ট হইয়া থাকেন, তাঁহাদিগের অসাধারণ কৃপার উপযুক্ত হইতে পারে-এরূপ কোনও মৰ্যাদার অস্তিত্ব অসম্ভব। অর্থাৎ এই পতিতপাবন (১) কৈমুতিক-ন্যায়—“কিমুত” শব্দে তদ্ধিত ফিক করিয়া কৈমুতিক হইয়াছে। তাহার কথা আর বলাই বাহুল্য এইরূপ অথ। দৃষ্টান্ত যথা— দুৰ্বলে যে ভার বহন করিতে পারিবে, তাহা যে বলবান্ ব্যক্তি বহন করিতে পারিবে-ইহা বলাই বাহুল্য। (২) ভগবদ্ভজনপরায়ণ ব্যক্তি শঠবুদ্ধি, জগদ্বঞ্চক বা দুরাচার হইবেন— একথা বিচাৰ্য্য । ভগজন ও কদাচার এই দুটীর যুগপৎ একাধারে অস্তিত্ব অসম্ভব বলিয়া বােধ হয়। দুরাচার ব্যক্তি অনন্যচিত্তে ভগদ্ভজনপরায়ণ হইলে তাহার দুরাচারত্ব দূর হইয়া যায়। যথা “অপিচেৎ সুদুরচারাে” ইত্যাদি মাধুৰ্যকাদম্বিনী। { ৩য়া বৃষ্টি। পৰ্যাগ্নেতি। যথা শিবিকাং বাহয়তি কটুক্তিবিষবর্ষিণ্যপি রহগণে শ্ৰীজড়ভরতস্য কৃপা। যথা চ পাষণ্ডধর্মাবলম্বিনি স্বহিংসামুপসেদুষি দৈত্যসমূহে উপরিচরস্য বসােশ্চেদিরাজস্য। যথা বা মহাপাপিনি স্বললাটে রুধিরপাতিপি মাধবে প্রভুরস্য নিত্যানন্দস্যেতি। এমেব গুয়ােরবজ্ঞা ইত্যাপি জ্ঞেয়ম্। শিবস্য শ্রীবিষ্ণোরিত্যত্রৈবং বিবেচনীয়। ২। চৈতন্যং হি দ্বিবিধং ভবতি স্বতন্ত্রমস্বতন্ত্র। তত্র প্রথমং সর্বব্যাপকমী- রাখ্যং দ্বিতীয়ং দেহমাত্রব্যাপিশক্তিকং জীবাখ্যমীশিতব্য। ঈশ্বরচৈতন্য দ্বিবিধং মায়াস্পর্শরহিতং লীলয়া স্বীকৃতমায়াস্পর্শঞ্চ। তত্র প্রথম নারায়ণাদ্যভিধ। যদুক্তম-“হরি হি নিগুণঃ সাক্ষাৎ পুরুষ মহাপুরুষগণ কোনও প্রকারে অর্চিত না হইয়াও—পরন্তু কোথাও কোথাও অত্যাচারিত ও অবমানিত হইয়াও পতিতের প্রতি অহৈতুক কৃপামৃত বর্ষণ করিয়া থাকেন। যেরূপ মহাভাগবত জড়ভরতকে রাজা রহগণ শিবিকাােেহণে নিয়ােগ করিয়া কটুক্তি বিষ বর্ষণ করিলেও তিনি তাহাদিগকে কৃপা করিয়াছিলে, পাষণ্ড-মতাবলম্বী দৈত্যগণ তাহাকে হিংসা করিতে উদ্যত হইলেও চেদিরাজ বন্ধু তাহাদিগের প্রতি কৃপা করিয়াছিলেন ; মহাপাপী মাধাই ললাটে আঘাত করিয়া রুধিরপাত করিলেও পরমদয়াল প্রভুবর শ্ৰীশ্ৰীনিত্যানন্দ তাহার প্রতি কৃপা করিলেন। এইস্থানে যেরূপ নামাপরাধের মধ্যে “সাধুগণের নিন্দা” বিষয়ে ব্যাখ্যা করা হইল, এইরূপ “গুরুর অবজ্ঞা” প্রভৃতি নামাপরাধের বিষয়ে জানিতে হইবে। “বিষ্ণু হইতে শিবের নামরূপাদি বিষয়ে ভেদ- চিন্তন” ব্যাপারের বিষয়ে যেরূপ ব্যবস্থা, তাহা অতঃপর বিবৃত হইতেছে ॥২॥ চৈতন্য দ্বিবিধ ; স্বতন্ত্র ও অম্বতন্ত্র। তন্মধ্যে সর্বব্যাপক ঈশ্বর নামক চৈতন্য স্বতন্ত্র-চৈতন। দ্বিতীয় প্রকারের অর্থাৎ অম্বতন্ত্র-চৈতন্য দেহমাত্ৰব্যাপী শক্তিবিশিষ্ট এবং ঈশ্বরের অধীন জীব-নামক চৈতন্য। ঈশ্বর-চৈতন্যও মায়া- স্পর্শ-পরিশূন্য ও লীলায় মায়াম্প স্বীকার করিয়াছেন—এই দুই প্রকার। উহার প্রথম প্রকারের অর্থাৎ মায়াস্পর্শ-পরিশূন্য চৈতন্য শ্রীনারায়ণাদি নামে অভিহিত হইয়া থাকেন, যথা-শাস্ত্রে উক্ত আছে-“হুরিই প্রকৃতির অতীত সাক্ষাৎ নি।

৩য় বৃষ্টিঃ ], মাধুৰ্যকাদম্বিনী। প্রকৃতেঃ পর” ইতি। দ্বিতীয়ং শিবাদ্যভিধম্ । দুক্তম-“শিবঃ শক্তিযুতঃ শশ্বৎ ত্রিনিঙ্গো গুণসংবৃত ইতি। অত্র গুণসংবৃতলিঙ্গেনাপি ভসা জীবত্বং নাশঙ্কনীয়ম। ‘ক্ষীরং যথা দধিবিকারবিশেষ-যােগাৎ সঞ্জায়তে ন তু ততঃ পৃথগস্তি হেতু। যঃ শম্ভুতমপি তথা সমুপৈতি কার্যা গােবিন্দমাদিপুরুষং তমহং ভজামীতি” ব্রহ্মসংহিতােকে। অন্যত্র চ পুরাণাগমাদিযু বহু ঈশ্বরনে প্রসিদ্ধেশ্চ । যত্ত, “সত্ত্বং রজ- স্তম ইতি প্রকৃতেগুণা” (১) ইত্যত্র “স্থিত্যাদয়ে হরিবিরিঞ্চিহরা” ইত্য- নেন তৎসাধারণ্যাৎ ব্ৰহ্মণ্যপীশ্বরত্বমগম্যতে তদীশ্বরাবেশদেবেতি জ্ঞেয়ম্।“ভাস্বান্ যথাশ্মসকলেযু নিজে তেজঃ স্বীয়ং কিয়ৎ প্রকটয়- ত্যপি তদ্বদত্র। ব্রহ্মা য এব জগদণ্ডবিধানকর্তা” ইতি ব্ৰহ্মসংহিতােক্তে। পুরুষ।” দ্বিতীয় প্রকার স্বীকৃত-মায়াস্পর্শ ঈশ্বর-চৈতন্য ঐশিবাদি নামে অভিহিত হয়েন। শাস্ত্রে কথিত আছে “শিব নিত্য, শক্তিযুক্ত, ত্ৰিলিঙ্গ ও গুণসংবৃত।” এইস্থানে গুণসংবৃত বা গুণের দ্বারা আবৃত-এই চিহ্নহেতু জীবও গুণাবৃত বলিয়া তাহাকে জীব বলিয়া আশঙ্কা করা উচিত নহে। যেহেতু ব্ৰহ্মসংহিতায় বলা হইয়াছে “বিকার-বিশেষের যােগে দুগ্ধ দধিতে পরিণত হইলেও দুগ্ধ হইতে যেমন তাহার উৎপত্তির পৃথক কারণ নাই ( অর্থাৎ দুগ্ধ ও দধি যেমন একই গবাদি হইতে উদ্ভূত) তদ্রুপ যিনি কাৰ্য-প্রয়ােজনে শক্তৃতা প্রাপ্ত হন বা শিবরূপে আবির্ভূত হন, আমি সেই আদিপুরুষ শ্রীগােবিন্দকে ভজনা করি। অন্যত্র বহুপুরীণ ও আগদিতেও শিবের ঈশ্বরত্ব প্রসিদ্ধ আছে। ভাগবতের “সং রজম ইতি প্রকৃতে গুণা” এই শ্লোকে সৃষ্টি, স্থিতি ও সংহাররূপে কাৰ্যভেদে শ্রীহরি হরি-বিরিঞ্চি-হর সংজ্ঞা ধারণ করেন—ইহা বলা হইয়াছে; উহা হইতে সাধারণত ব্রহ্মারও যে ঈশ্বরত্ব অবগত হওয়া যায়, তাহা ঈশ্বরাবেশ বশতঃই হইয়া থাকে—ইহা বুঝিতে হইবে। ব্ৰহ্মসংহিতায়ও বলা হইয়াছে মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। [ ৩য়া বৃষ্টি। তথা—“পার্থিবাদ্দারুণণা ধূমস্তম্মদগ্নিস্ত্রয়ীময়ঃ। তমসস্তু রজস্তস্মাৎ সত্ত্ব যহ্মদর্শন।” (২) ইত্যল তমসঃ সকাশাৎ রজসঃ শ্রৈষ্ঠ্যেহপি বস্তুত রজসি ধূমস্থানীয়ে শুদ্ধতেজঃস্থানীয়স্যেরস্তানুপলস্টে। সত্বে সংজ্বল- নাগ্নৌ শুদ্ধতেজস সাক্ষাদিব পাৰ্থিবে দারুস্থানীয়ে তমস্যপি তস্যান্ত- হিততয়ােপলব্ধিরস্ত্যেব। তৎকাৰ্য্যসুষুপ্তেী নির্ভেদজ্ঞানসুখানুভব ইবে- ত্যাদি বিচার্য্য তত্ত্বমসেয়ম্। অথেশিতব্যং চৈতন্যঞ্চ স্বদশাভেদেন দ্বিবিধম্ ; অবিদ্যয়াবৃতমনাবৃতঞ্চ। তত্রাবৃতং দেবমনুষ্যতিগাদি। অনাবৃতং দ্বিবিধম্ ;—ঈশ্বরেণৈশ্বর্যশক্ত্যানাবিষ্টমাবিষ্টঞ্চ। অনাবিষ্ট স্থূলতাে দ্বিবিধ; জ্ঞানভক্তিসাধনবশাৎ ঈশ্বরে লীনমলীনঞ্চ। প্রথম ; “সূৰ্য যেমন (সূৰ্য্যকান্ত পদ্মরাগাদি) সকল প্রস্তরেই নিজের তেজের কিয়দংশ প্রকাশ করেন, সেইরূপ সেই পরমেশ্বরেরই স্বীয় শক্তির প্রকাশেই ব্রহ্মা জগদণ্ডের বিধানকর্তা হইয়া থাকেন।” ভাগবতে আছে-পার্থিব দারু হইতে ধূম, ধূম হইতে বেদময় যজ্ঞাদির আধার অগ্নি জাত হন; সেইরূপ তমােগুণ হইতে রজঃ ও রজোগুণ হইতে সত্ত্বের আবির্ভাব হইলে ব্ৰহ্মদর্শন হইয়া থাকে।” এইশ্লোকে তমােগুণ হইতে শ্রেষ্ঠত্ব উক্ত হইলেও প্রকৃত পক্ষে ধূমস্থানীয় রজোগুণে শুদ্ধতেজ-স্থানীয় ঈশ্বরের উপলব্ধি হয় না। আবার প্রজ্বলিত অগ্নি স্থানীয় সত্ত্ব গুণে শুদ্ধ তেজস্বরূপ ঈশ্বরের সাক্ষাৎ উপলব্ধি হইলেও দারু স্থানীয় তমােগুণের অভ্যন্তরে অন্তর্নিহিতভাবে ঈশ্বরের উপলব্ধি হয়। কাষ্ঠ-মধ্যে যেরূপ অব্যক্তভাবে অগ্নিতত্ত্ব বর্তমান-ঘৰ্ষণাদির দ্বারা উহার বাহ্য প্রকাশ ঘটে, সেইরূপ তমােগুণেরও অভ্যন্তরে ঈশ্বরানুভব অব্যক্ত ভকে বিদ্যমান। তমােগুণের কাৰ্য্য যে সুষুপ্তি-তাহাতে যেমন নির্ভেদ জ্ঞানসুখের অনুভব ঘটে উহাও তদ্রুপ ; এই সকল এইভাবে বিচার করিয়া তত্ত্বনির্ণয় করিতে হইবে। অনন্তর ঈশিতব্য বা ঈশ্বরের অধীন চৈতন্য স্বীয় অবস্থাভেদে দুই প্রকার ; অবিদ্যা কর্তৃক আবৃত ও অনাবৃত। তন্মধ্যে আবৃত-চৈতন্য দেব-মনুষ্য- তিৰ্য্যগাদি। অনাবৃত চৈতন্যও দুই প্রকার-ঈশ্বরের সশ্বর্যশক্তি কর্তৃক অনাবিষ্ট ও আবিষ্ট। তন্মধ্যে অনাবিষ্ট-চৈতন্যও সুলতঃ দ্বিবিধ--জ্ঞান-ভক্তি সাধনবশে ঈশ্বরে লীন ও তঁাহাতে অর্ণীন। উহার প্রথম অবস্থাটি শোচনীয় ;

৩য়া বৃষ্টিঃ ] মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। শােচ্যং; দ্বিতীয়ং তন্মাধুর্যাস্বাদশােচ্য। আবিষ্টঞ্চ দ্বিবিধ চিদংশভূতজ্ঞনাদিভিমায়াংশভূতসৃষ্ট্যাটিভিশ্চেতি। প্রথমং চতুঃ- সনাদি; দ্বিতীয়ং ব্রহ্মাদীতি। এবঞ্চ বিষ্ণুশিয়ােরভেদ এব প্রসক্ত, শ্চৈতকৈরূপ্যাৎ। নিকামৈরুপিস্থত্বানুপাতে তু নিগুণত্বসগুণত্ব- ভ্যামবেত্যবগন্তব্যম। বিষ্ণুব্রহ্মাদ্যোস্তু ভেদ এব চৈতন্যপার্থক্যদেব। কচিত্ত, সূৰ্য্যস্ত তদাবিষ্টসূর্যকান্তমণেরভেদ ইব বিষ্ণুব্রহ্মণণারভেদ পুরাণবচনেযু দৃষ্ট। কিঞ্চ কচিন্মহাকল্পে শিবােহপি ব্রহ্মেব ঈশ্বরা- বিস্টোজীব এব ভবেৎ। যমুক্তম, -“কচিজ্জীববিশেষত্ব হরস্যোক্তং বিধেরিবেতি।” অতএব অবস্থায় শ্রীভগবানের মাধুৰ্য্য আস্বাদ করা যায় ; অতএব তাহাতে অনিন্দময়ত্ব হেতু তাহা শোচনীয় নহে। আবিষ্ট চৈতন্যও চিদংশভূত জ্ঞানাদি ও মায়াংশভূত সৃষ্ট্যাদি ঐশ্বৰ্য্যশক্তিদ্বারা আবিষ্ট হওয়ায় দুইপ্রকার। উহার মধ্যে প্রথম প্রকারের চতুঃসনাদি, (১) দ্বীতীয় প্রকারের ব্রহ্মাদি। এইরূপে চৈতন্যের একরূপত্ব হেতু বিষ্ণু ও শিবের অভেদই প্রযুক্ত বা সিদ্ধ হইতেছে। নিষ্কাম সাধকগণ কর্তৃক নিগুণত্ব ও সগুণত্ব হেতুই তাহাদিগের উপিস্তত্ব ও অনুপিস্তত্ব বিচার করিতে হইবে। (২) চৈতন্যের পার্থক্য হেতুই বিষ্ণু ও ব্ৰহ্মাদির ভেদ। কোনও কোনও পুরাণবচনে যে বিষ্ণু হইতে ব্রহ্মার অভেদ পরিদৃষ্ট হইয়া থাকে, তাহা সূর্যের ও তাবিষ্ট সূৰ্য্যকান্তমণির অভেদের ন্যায় বুঝিতে হইবে। কোনও কোনও মহাকল্পে কোনও ঈশ্বরবিষ্ট জীবই শিক হইয়া থাকেন। যেহেতু শাস্ত্রে উক্ত হইয়াছে—“কখনও কখনও ব্রহ্মার ন্যায় (১) গ্রন্থকার “শ্রীভগবতামৃতকলায়” চতুঃসনকে লীলাবতার-মধ্যে গণনা করিয়াছেন এবং ব্রহ্মাদিকে গুণবিতার মধ্যে গণনা করিয়াছেন। (২) গ্রন্থকার শ্ৰীভাগবতামৃতকণায় বলিতেছেন-“কিঞ্চ সদাশিবঃ স্বয়ংরূপাঙ্গ- বিশেষস্বরূপাে নিগুণঃ সঃ শিবস্যাংশী।” সদাশিব গুণাবতার নহেন, তিনি নিগুণ এবং নারায়ণের ন্যায় স্বয়ংরূপ শ্রীকৃষ্ণেরই অঙ্গবিশেষ। এই সদাশিক গুণাবতার শিবের অংশী।

মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। [ ৩য় বৃষ্টি। - - “বস্তু নারায়ণং দেবং ব্ৰহ্মৰুদ্ৰাদিদৈবতৈঃ। সমত্বেনৈব মতে স পাষণ্ডী ভবে ধ্রুবম।” ইতি (হরিভক্তিবিলাস ১৭৩) ইতি বচনমপি ব্ৰহ্ম-সাহচর্যেণ সঙ্গচ্ছতে ইতি। এবমপালােচয়তাঃ বিষ্ণুয়েবেশ্বরেন শিবঃ শিব এবেশ্বরাে ন বিষ্ণুবয়মনন্যা নৈব পশ্যাম শিবং বয়ঞ্চ ন বিষ্ণুমিত্যাদি বিবাদগ্রস্তমতীনামপরাধে জাতে কালেন কদাচিৎ তত্তাৎপর্যালােচনবিজ্ঞসাধুজনপ্রবােধিতত্বে তেষামেব শিবস্য ভগবৎস্বরূপাদভিন্নত্বেন লব্ধপ্রতীতীনাং নামকীর্ত্তনেনৈৰাপরাধক্ষয়ঃ। এবঞ্চ নৈতা ভগবদ্ভক্তিং স্পৃশন্তি বহির্মুখখ্যা বিগীতা ইতি জ্ঞানকৰ্ম্ম- প্রতিপাদিকাঃ শ্ৰতীযে নৈব মুখেনানিংস্তেনৈব মুখেন স্তনুষ্ঠা- দুরেরও জীবত্ব উক্ত হইয়াছে।” ইত্যাদি। অতএব “যিনি দেবশ্রেষ্ঠ নারায়ণকে ব্ৰহ্মা-রুদ্রাদি দেবতার সহিত সমান মনে করেন, তিনি নিশ্চয়ই পাষণ্ডী হইয়া থাকেন।” এই যে শাশ্ববচন, ইহা ব্ৰহ্মসাহচর্য্যেই সঙ্গত হইয়াছে। অর্থাৎ ব্রহ্মার যেমন নারায়ণ হইতে পার্থক্য আছে, তদ্বৎ কল্পবিশেষে সাধারণ জীব যখন সংহারকর্তা হয়েন, তখনই এই বচনের অর্থের সুসঙ্গতি হইয়া থাকে। যাহারা এই সমস্ত তত্ত্ব এইরূপ ভাবে পর্যালােচনা করেন নাই, তাহারাই “বিষ্ণুই ঈশ্বর, শিব ঈশ্বর নহেন, শিবই ঈশ্বর বিষ্ণু ঈশ্বর নহেন, আমরা বিষ্ণুর অনন্য ভক্ত—শিবকে দেখিব না, আমরা শিবের অনন্য ভক্ত-বিষ্ণুকে দেখিব না” এইরূপ বিবাদগ্রস্ত-মতি-সম্পন্ন হইয়া অপরাধ করিয়া থাকেন। এইরূপ অপরাধ জন্মিলে কালক্রমে এই অপরাধিগণের যদি কখনও এই সকল তত্বা- লোচনায় অভিজ্ঞ সাবুর সঙ্গ ঘটে এবং ঐ সাধু কর্তৃক এই ব্যাপারে প্রবােধিত হইলে তাহাদিগের শিবকে ভগবানের স্বরূপ হইতে অভিন্ন বলিয়া প্রীতি ঘটিলে নাম-কীৰ্ত্তনের দ্বারা তাহাদিগের ঐ অপরাধের ক্ষয় হয়। এইরূপ “এই সমস্ত শ্রুতি ভগবদ্ভক্তির কথার ইঙ্গিতও করিতেছেন না, পরন্তু এই শ্রুতিগুলি বহির্মুথিনী হয়” এই বলিয়া জ্ঞানকর্মপ্রতিপাদিকা শ্রুতিসকলের যে মুখে নিন্দা করা হইয়াছে, সেই মুখেই যদি সেই তিসকলকে ও সেই শ্রুতির অনুষ্ঠাতা ওয়া বৃষ্টিঃ) মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী । ৪৩; তুংশ্চ জনান্ মুহুরভিনন্দ্য নামভিরুচ্চৈঃ সংকীৰ্তিতৈঃ শ্রুতিশাস্ত্রনিন্দন, রূপিচ্চতুর্থাপরাধান্নিস্তরেয়ু। যতস্তাঃ শ্রুতয়াে ভক্তিমার্গেঘনধিকারিণঃ স্বচ্ছন্দবর্তিনঃ পরমরাগান্ধানপি বত্মমাত্ৰমধ্যাােেহয়িতুমুদ্যতা: পরম- কারুণিকা এবেতি তত্তাৎপৰ্যবিজনপ্রবধিতা যদি ভাগাবশাদ্ভবেয়ুস্ত- দৈবেতি। এবমেবাতেমপি যামপরাধনািমুদ্ভবনিবৃত্তিনিদাননি অব- গন্থব্যানি ॥৩ অথ ভক্তত্থাস্তে চ মূলশাখাত উপশাখা ই ভক্ত্যব ধনাদিলাভ- পূজা প্রতিষ্ঠাদ্যাঃ সুবৃত্তিভিঃ সাধকচিত্তমপুপরজ্য স্ববৃদ্ধ্যা মুলশাখামিব ভক্তিমপি কুণ্ঠয়িতুং প্রভবন্তীতি। তেষাং চতুর্ণা অনর্থানাং নিবৃত্তিরপি ব্যক্তিবর্গকে পুনঃ পুনঃ অভিনন্দন করিয়া উচ্চে নাম-সংকীর্তনের অনুষ্ঠান করা যায়, তবে শ্রুতিশাস্ত্র-নিন্দনরূপ চতুর্থ অপরাধ হইতে ত্রাণ লাভ করা যায়। কারণ, যদি ঐরূপে শ্রুতি বা ক্ষতিপরা সচ্ছাস্ত্রাদির নিন্দারূপ অপরাধের আচরণকারী ব্যক্তিগণ কোনওরূপ পূর্বসুকৃতজনিত ভাগ্যবশেই ঐ শ্রুতি প্রভৃতির তত্ত্বাভিজ্ঞ সাধুগণ কর্তৃত প্রবােধিত হইয়া বুঝিতে পারে যে, ঐ পরম করুণাপরায়ণ শ্রুত্যাদি-শাস্ত্রসকল ভক্তিমার্গে অনধিকারী স্বেচ্ছাচাপরায়ণ-বিষয়ে অত্যন্ত আসক্তিযুক্ত ব্যক্তিগণকেই শাস্ত্রনির্দিষ্ট পথে আরােহণ করাইতে উদ্যত হইয়াছেন, তখনই তাহাদিগের পূৰ্ব্বকৃত ত্যাদি-সচ্ছাস্ত্রের নিন্দারূপ অপরাধের এই প্রকারে ক্ষয়ের সম্ভাবনা ঘটে। ফলতঃ ত্যাদি সচ্ছাস্ত্রের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধার উদয় না হওয়া পর্যন্ত তিনিন্দারূপ অপরাধের ক্ষয়ের সম্ভাবনা ঘটে না। এইরূপ অন্যান্য নামাপরাধের উদ্ভব ও নিবৃত্তির বিষয়েও বুঝিতে হইবে । ভক্তিপথে আগত ঐ অপরাধসকলও মূল শাখা হইতে উপশাখার ন্যায় উদগত হইয়া ভক্তির দ্বারাই ধনাদি লাভ পূজাপ্রতিষ্ঠাদি উৎপাদনপূর্বক নিজবৃত্তিসকল দ্বারা সাধকের চিত্ত উপরঞ্জিত করিয়া নিজ নিজ বৃদ্ধিদ্বারা ভক্তিরূপা মূল শাখাকেও কুষ্ঠিত কৱিতে সমর্থ হয়। * সেই চতুধি অনর্থের নিবৃত্তিও * যথা শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে- কিন্তু যদি লতার অঙ্গে উঠে উপশাখা। ভুক্তি মুক্তি বা আদি অসংখ্য তার লেখা । [ পরপৃষ্ঠা) [ ৩য়া বৃষ্টি 3 মাধুৰ্যকাদম্বিনী। পঞ্চবিধা। একদেশবর্তিনী বহুদেশবর্তিনী প্রায়িকী পূণ। আত্যন্তিকী চেতি। তত্র গ্রামাে দগ্ধঃ পটো ভগ্ন” ইতি ন্যায়েনাপরাধােত্থানমনর্থানাং নিবৃত্তির্ভজনক্রিয়ানন্তরমেকদেশবৰ্ত্তিনী নিষ্ঠায়ামুৎপন্নয়াং বহুলদেশ- বর্তিনী রবুৎপদ্যমানায়াং প্রায়িকী প্রেমি পূর্ণ। শ্রীভগবৎপদপ্রাপ্তা- বাত্যন্তিকী। ঘস্তু তত্রাপি চিত্ৰকেতো কাদাচিৎকো মহদপরাধঃ স প্রতীতিক এব ন বাস্তব। সত্যাং প্রেমসম্পত্তেী পার্ষদবৃত্ৰত্বয়াে- বৈশিষ্ট্যাভাবসিদ্ধান্ত। জয়বিজয়মােপরাধকারণং প্রেমবিজন্তিতা পঞ্চপ্রকার, যথা-একদেশবর্তিনী, বহুদেশবর্তিনী, প্রায়িকী, পূর্ণা ও আত্যন্তিকী। হার মধ্যে গ্রামদগ্ধ, পটভগ্ন” ইত্যাদি ন্যায় অনুসারে অপরাধজাত অনর্থ- সমূহের নিবৃত্তি ভজনক্রিয়ার অনন্তর একদেশবর্তিনী; ভজনক্রিয়ার পরিপাকে নিষ্ঠার উৎপত্তি হইলে ঐ অনর্থনিবৃত্তি বহুদেশবৰ্ত্তিনী; শ্রীভগবানে রতি উৎপন্ন হইলে উহা প্রায়িকী, প্রেমের উৎপত্তি হইলে পূর্ণা এবং শ্রীভগবৎপাদপদ্ম লাভ ইলে আত্যন্তিকী অনর্থনিবৃত্তি ঘটিয়া থাকে। চিত্রকেতুর ভগবৎপ্রাপ্তি ঘটিলেও তিনি মহাদেবের নিকট অপরাধী হইয়াছিলেন কিরূপে? ইহার উত্তরে গ্রন্থকার বলিতেছেন-“ চিকেতুর যে তাকালিক মহপরাধের কথা শ্রবণ করা যায়, তাহা বাস্তবিক নহে, প্রতীতিক মাত্র। কারণ, এরূপ অপরাধে রূত্বপ্রাপ্তির পরও প্রেমসম্পত্তি থাকতে পার্ষদত্বের ও বৃত্বের বৈশিষ্ট্যের অভাবই সিদ্ধ হইতেছে। ভগবৎপর্ষদ জয়-বিক্রয়ের অপরাধের কারণও তাঁহাদিগের প্রেমকি ঙ্কিতা স্বেচ্ছা। তাহাদের এইরূপ ইচ্ছা হওয়ায় তাহারা প্রার্থনা নিষিদ্ধাচার কুটিনাটি জীবহিংসন। লাভ পূজা প্রতিষ্ঠাদি উপশাখাগণ। সেজল পিয়ে উপশাখা বাঢ়ি যায়। স্তব্ধ হয়ে মূল শাখা বাড়িতে না পায়। প্রথমেই উপশাখার করিবে ছেদন । আরে মশাখ বাঢ়ি ৰায় বৃন্দাবন ।

ওয়া বৃষ্টিঃ ] মাধুৰ্যকাদম্বিনী। স্বেচ্ছৈব। সা চ “হে প্রভুবর দেবাদিদেব নারায়ণ অন্যত্ৰাল্পবলাৎ অস্ত্র তু প্রতিকূল্যাভাবাৎ যদি তত্র ভবতাে যুযুৎসা ন সম্পদ্যতে তদা আবামেব কেনাপি প্রকারেণ প্রতিকূলীকৃত্য ত যুদ্ধমুখমনুভূয়তা- মিত্যাবহাের স্বতঃ পরিপূর্ণতায়াম্ অণুমামপি নুনত্বমসহমানয়ােত কিঙ্করয়াের প্রার্থনাহঠঃ স্বভক্তবৎসল্যগুণমপি লঘুকৃত্য নিষ্পষ্টতা- মিত্যাকারা কাদাচিৎকপ্রসঙ্গভবা মানসা মনসৈব জেয়া। তথা দুতােথানাং ভজনক্রিয়ানন্তরমেব প্রায়িকী নিষ্ঠায়াং জাতায়াং পূর্ণা আসাবেত্যন্তিকী। তথা ভক্ত,থানাং ভজনক্রিয়ানস্তরমেকদেশ- করিয়াছিলেন যে, “হে প্রভো! হে দেবাদিদেব নারায়ণ ! আপনার যুদ্ধ-ইচ্ছা পরিপূর্ণ করিতে পারে-অন্যত্র এরূপ বলবান্ কাহাকেও দেখিতেছি না। আমাদের বল থাকিলেও আমরা আপনার প্রতিকূল নহি। অতএব কোনও প্রকারে আমাদিগকে আপনার বিরােধী করিয়া লইয়া আমাদিগের সহিত যুদ্ধসুখ অনুভব করুন। আপনার ঋতঃ পূর্ণতার বিন্দুমাত্র হ্রাস ঘটে—ইহা আমরা সহ করিতে অসমর্থ, অতএব আপনার ভক্তবাৎসল্যকে লঘু করিয়াও আমাদিগের প্রার্থনা পূর্ণ করুন—যেহেতু আমরা আপনার দাস-ও কিঙ্কর।” , যদি কোনও কালে প্রসঙ্গজাত এইরূপ মানসিক বাসনাময় অপরাধ মনে উঠে, তবে বিচারপরায়ণ বুদ্ধিবৃত্তি দ্বারাই এ মানসিক ভাবকে জয় করিতে হইবে। এইরূপ দুষ্কতােখ অনর্থসমূহেরও ভজনক্রিয়ার অনন্তর প্রান্তিকী, নিষ্ঠার উৎপত্তি হইলে পুর্ণা, আর শ্রীভগবানে আসক্তি জন্মিলে আত্যন্তিকী নিবৃত্তি ঘটিয়া থাকে। তথা ভক্তি হইতে জাত প্রতিষ্ঠাদি অনর্থসমূহেরও ভজনক্রিয়ার আরম্ভের পর একদেশবুর্কিনী, নিষ্ঠা হইলে পূর্ণা-এবং, রুচি জন্মিলে আত্যন্তিকী, নিবৃত্তি ঘটিয়া থাকে—ইহাই বহুদর্শী অনুভবপরায়ণ সাধকগণ সম্যক্‌ বিবেচনা করিয়া স্থির করিয়াছেন। সুতরাং ভজনক্রিয়ার আরম্ভ হইলে ও উহাতে দা, জন্মিলে ক্রমশঃ সর্বপ্রকার অনর্থের নিবৃত্তি ঘটিয়া থাকে, পূরন্তু ভজনে শৈথিল্য হইলে অনথসমূহ বলবত্তর হইয়া ক্রমশঃ ভজনেচ্ছাকে গ্রাস করিয়া বসে। জনক্রিয়ার দ্বারা কি প্রকারে অনথনিবৃত্তি ঘটিয়া থাকে, তাহারই ক্রম মাধুৰ্যকাদম্বিনী। [ ৩য় বৃষ্টি। বৰ্ত্তিনী নিষ্ঠায়াং পূর্ণা রুচাবাত্যন্তিকীতি অনুভবিনা বহুদৃশ্বনা সমগ, বিবিচ্যানুমন্তব্য ॥ ৪। ননু “অংহঃসংহরদখিলং সকৃদুদয়দেবেতি (১) যামসকৃচ্ছ বণাৎ পুরুশোহপি বিমুচ্যতে সংসাৱাৎ” ইত্যাদি প্রমাণশতাদজামিলাদু- পাখ্যানেষেকস্যৈব নামাভাসস্তাবিদ্যাপৰ্যন্তসৰ্বানর্থনিবৃত্তিপূর্বকভগবৎ- প্রাপকত্বানুভবাস্তুগবদ্ভক্তানাং দুরিতীদিনিবৃত্তাবুক্তঃ ক্রমােন সঙ্গচ্ছতে। সত্যম্। না এবত্যেব শক্তি না সন্দেহ। পরন্তু স্বাপরাধিষ প্রসন্নেন তেন যৎ স্বশক্তিঃ সম্যক্ ন প্রকাশ্যতে তদেব দুষ্টতাদীনাং জীবাতুরিত্যবগন্তব্যম। কিন্তু যমদূতানাং তদাক্রমণে ন শক্তি। ন তে যমং পাশভূতশ্চ তদ্ভটা স্বপ্নেহপি পন্তীত্যাদে। ন বিদ্যুতে প্রদর্শিত হইল, ফলতঃ ভজনক্রিয়ার অভাবে যে অনর্থনিবৃত্তি হয় না, ইহা বলাই বাহুল্য। ৪. নামের আরম্ভেই অনর্থের নিবৃত্তি হউক তৎসম্বন্ধে বলিতেছেন। যদি বল যে, “নামরূপ-সূৰ্য একবার উদিত হইলেই অখিল তমােরাশির ন্যায় পাপরাশিকে ধ্বংস করেন।” অথবা “ৰ্যাহার নাম একবারমাত্র শ্রবণ করিলে কদাচারী চণ্ডালও সংসার-বন্ধন হইতে মুক্তিলাভ করে।” ইত্যাদি—শাস্ত্রে শতশত প্রমাণ বিদ্যমান্ ; পরন্তু অজামিলাদির উপাখ্যান হইতে জানা যায় যে, এক নামাভাসেই অবিদ্যা- পৰ্য্যন্ত সৰ্বানর্থের নিবৃত্তি হইয়া ভগবৎপ্রাপ্তি পর্যন্ত হইয়া থাকে। এরূপ অবস্থায় ভগবদ্ভক্তগণের অনর্থ-নিবৃত্তি সম্বন্ধে যে ক্রম প্রদর্শিত হইয়াছে, তাহা সঙ্গত হয় নাই। এ কথা সত্য ; কারণ, নামের যে এতাদৃশী শক্তি আছে, সে বিষয়ে সন্দেহ মাত্র নাই। পরন্তু নামে অপরাধী ব্যক্তিগণের প্রতি অপ্রসন্নতা বশতঃ নাম যে ঐ সকল ব্যক্তিতে নিজ শক্তি প্রকাশ করেন না, তাহাই ঐ প্রকার দুষ্টতা ও অনর্থাদির অস্তিত্বের কারণ জানিতে হইবে। কিন্তু এইরূপে নামাপরাধশীল ব্যক্তিগণকেও যমদূতের আক্রমণের শক্তি নাই। কারণ, শাস্ত্রেই আছে “যে ; ' (১) পাকল্যাং ধরমীপাদানাং।

৩য় বৃষ্টি ] মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। ৪৭ তস্য যমৈহিঁ শুদ্ধিরিত্যত্র যমৈর্যোগাঙ্গৈরিতি ন্যাখ্যেয়ম। যথা সমর্থেন পরমাচ্যেনাপি স্বামিনা কৃতাপরাধঃ স্বজনাে যদি ন পাল্যতে কিন্তু তত্রাদাস্ততে তদৈব দুঃখদারিদ্র্যমালিশােকাদয়ঃ ক্রমেণ লব্ধাবসরা ভবন্তি ন ত্বদীয়া জনাঃ কেইপি কদাপীতি জ্ঞেয়ম,। তথাচ পুনঃ স্বমিনাে মনােভরােচিন্তামনুত্তো সত্যাং শনৈস্তৎপ্ৰসাদাদ্খদারিদ্র্যা- দয়ঃ শনৈরপন্তি। তখ। ভগবদ্ভক্তশাস্ত্রগুরু প্রভৃতিভিমায়য়া মুহুঃ সেবিতৈঃ শনৈবে তস্য নাম প্রসাদে দুরিদীনামপি শনৈরেব নাশ: ইতি নাস্তি বিবাদ। ন ঢ মম কোহপি নাস্তি নামাপরাধ ইতি বক্তব্যং ফলেনৈক ফলকারণস্যাপরাধ প্রাচীনস্যাৰ্বাচীন বা অনুমানা। ফলঞ্চ বহুনামকীর্তনেহপি প্রেমলিঙ্গানুদয় ইতি। যদুম ;- তাদৃশ ব্যক্তিগণ যমকে ও তাঁহার পাশধারী দূতগণকে স্বপ্নেও দর্শন করেন না।” “তাহার যমাদির দ্বারাও শুদ্ধি নাই” শাস্ত্রের এই বচনে যম অর্থে যােগাদি যম- নিয়মাদি বুঝিতে হইবে। নি গ্রহানুগ্রহে সমর্থ পরম ধনবান্ প্রভু যদি অপরাধী স্বজনকে প্রতিপালন না করেন, পরন্তু তাহার প্রতি ঔদাসীন্য প্রদর্শন করেন, তবে ভাহার ফলে ঐ ব্যক্তির ক্রমশঃ দুঃখ-দারিদ্র-মালিন্য-শোকাদিই ঘটিয়া থাকে; পরন্তু অনাত্মীয়জনগণ তাহারা কদাচ পালিত হইতে দেখিতে পাওয়া যায় না। এস্থানেও ঐ প্রকার বুঝিতে হইবে। আবার যেমন পুনৰ্ব্বার নিজ প্রভুর মনের অভিরুচি অনুসারে অনুবৃত্তি করিলে অর্থাৎ তঁাহার মনােভাব অবগত হইয়া তাহার তুষ্টিসম্পাদনের চেষ্টা করিলে তাহার ফলে নিজ প্রভু সন্তুষ্ট হইলে তাহার অনুগ্রহে দুঃখ-দারিদ্র্যাদি ক্রমশঃ দূরীভূত হইয়া থাকে, সেইরূপ ভগবদ্ভক্ত, শাস্ত্র- গুরু প্রভৃতি অকপটে সেবিত হইলে ক্রমশঃ সেই নামেরই অনুগ্রহে দুরিতাদিরও ক্রমশঃ বিনাশ ঘটিয়া থাকে। এ বিষয়ে আর কোনও বিবাদ বা মতভেদ পরিদৃষ্ট হয় না। যদি কেহ বলেন যে, আমার ত কোনও প্রকার নামাপরাপ নাই- তদুত্তরে বলা যাইতে পারে—কলের দ্বারাই ফল-কারণ, আধুনিক বা প্রাচীন নামা- পরাধের অনুমান হইয়া থাকে। বহুল নামকীর্তন সত্বেও প্রেমচিহ্রাদির অনুদয়ই উক্ত ফল। কারণ, শাস্ত্রেই বলা হইয়াছে যে,-“বহুল হরিনাম গ্রহণ করিলেও ৪৮ মাধুৰ্যকাদম্বিনী। [৩য়া বৃষ্টি। “তদন্মসারং হৃদয়ং বতেদং যগৃহমাণৈহরিনামধেয়ৈঃ । ন বিক্রিয়েথ যদা বিকারাে নেত্রে জলং গাত্ররুহেমু হ্য।” ইতি। ভাঃ ২৩২৪ তথাহি নামাপরাধপ্রসঙ্গ এব-- (ভ র সিঃ ) “কে তেহপরাধ বিপ্ৰেন্দ্ৰ নাম্নো ভগবত কৃতঃ। বিনিম্নন্তি নৃণাং কৃত্যং প্রাকৃতং নয়ন্তি হি।” ইতি। তদীয়গুণনামাদীনি সদ্যঃ প্রেম প্রদান্যপি শ্ৰতানি কীৰ্তিতানি চ তীর্থাদিকং সদ্যঃ সিদিমপি চিরাৎ সেবিতং তন্নিবেদিতানি ঘৃতদুগ্ধ- তাম্বুলাদীনি সদ্যঃ সৰ্বেন্দ্ৰিয়তরঙ্গনিবৰ্তকানি মুহুরাস্থাদ্য উপযুক্তাবে স্বতঃ পরমচিন্ময়াপ্যেতানি যৎ প্রাকৃতানীব ভবন্তি তেহপরাধাঃ কে ভগবান্ন ইতি সােৎকম্পসবিস্ময়ঃ প্রশ্ন। নন্বেবং সতি নামাপরাধবততা জনস্য ভগবদ্বৈমুখ্যস্তৈবৌচিত্যাৎ তদুক্তং গুরুপাদাশ্রয়ভজনক্রিয়াদিক- যাহার নেত্রে প্রেমা, গাত্রে রােমহর্ষ ও হৃদয়ে বিক্রিয়া প্রভৃতি সাত্ত্বিক-বিকার পরিদৃষ্ট না হয়, তাহার হৃদয় পাষাণের সার ভাগ সদৃশ কঠিন বলিয়া মনে করিতে হইবে।” অর্থাৎ এইরূপ পরিদৃষ্ট হইলে তাহার নামাপরাধ আছে-ইহা অনুমানের দ্বারা বুঝিতে হইবে। আবার নামাপরাধ-প্রসঙ্গে বলা হইয়াছে—“হে বিপেন্দ্র। ভগবানের নামের প্রতি যে সকল অপরাধ আচরিত হইলে মানবের সকল প্রকার সুতি নষ্ট করে এবং অপ্রাকৃতে প্রাকৃতত্ব আনয়ন করে, সেই সমস্ত অপরাধ কি?” এই প্রশ্নের অর্থ এই যে -- ভগবানের গুণ-নামাদি সদ্য প্রেমপ্রদানকারী হইলেও শ্রুত ও কীৰ্তিত হইয়াও ভগবদসম্বন্ধীয় তীর্থাদি সদ্য সিদ্ধিপ্রদ হইলেও বহুকাল সেবিত হইলেও এবং তন্নিবেদিত ঘৃত, দুগ্ধ, তাম্বুলাদি সদ্য সৰ্বেন্দ্রিয়ের তরঙ্গের নিবৰ্ত্তক হইলেও পুনঃ পুনঃ আস্বাদিত ভুক্ত হইয়াও-এই সমস্ত দ্রব্যই পরমচিন্ময়-স্বরূপ-স্বত্ত্বেও প্রাকৃতের ন্যায় প্রতীয়মান হয়। এভগবামের প্রতি যে গুরুতর অপরাধ বশতঃ এইরূপ হইতে পারে, সেই অপরাধগুলি কি—এই বিষয়ে উৎকম্প ও বিস্ময়সহকারে প্রশ্ন করা হইতেছে। যদি এইরূপই হয়, তবে নামা- পরাধকারী ব্যক্তির ভগদ্বৈমুখ্যই উচিত হওয়ায় এইরূপ বলা হইয়াছে ; অতএব ৪৯ ৩য় বৃষ্টি) মাধুর্ষাকাদম্বিনী। মপি ন সম্ভবেৎ। সত্যম। প্ৰবৰ্ত্তমানে মহাজ্বর ইব ওদনাদের- নােচকদেবানুপাদানমিব নামাপরাধস্য গাঢ়ত্বে সতি তত্র পুংসি শ্রবণ- কীৰ্ত্তনাদিভজনক্রিয়ায় অবকাশ এব ন স্যাদিত্যত্র কঃ সন্দেহ। কিন্তু জ্বরস্য মৃদুত্বে চিরন্তনত্বে ওদনাদেরপি কিঞ্চিদ্ৰোচকত্বমিব। বহুদিনতাে ভােগেনাপরাধস্য ক্ষীণবেগত্বে মৃদুত্বে চ ভগবদ্ভুক্তৌ কিঞ্চিত্ররুচিঃ স্যদিতি পুংসঃ প্রসজ্জতি ভক্ত্যধিকার। ততশ্চ যথা পৌষ্টিকাপি দুগ্ধৌদনাদীনি জীর্ণজুরবন্তং পুমাংসং ন পুষ্যন্তি কিঞ্চিৎ পুষ্যন্তি চ কিন্তু গ্লানিকাশ্যে ন নিবয়িং শকুবন্তি কালেনৌষধপথ্যয়াে: সেবিতয়াের শকুবন্তি চ। তথৈব তাদৃশস্য ভক্ত্যধিকারিণঃ শ্রবণ-কীৰ্ত্তনাদীনি কালেনৈব ক্রমেণৈব সকলং প্ৰকাশয়ন্তীতি সাধূক্তমাদৌ শ্রদ্ধা ততঃ সাধুসঙ্গোহথ ভজনক্রিয়া। ততােহনর্থনিবৃত্তিঃ স্যাৎ ততাে নিষ্ঠেত্যাদি। তাহার গুরুপাদায় ভজন-ক্রিয়াদিও তা সম্ভবপর হয় না। একথা সত্য। কিন্তু প্রবল জ্বরে অবােচকত্ব বিদ্যমান থাকায় যেমন অন্নাদির গ্রহণই সম্ভবপর হয় না, সেইরূপ নামাপরাধের প্রবলতা থাকিলেও যে পুরুষের শ্রবণ-কীৰ্ত্তনাদি ভজন- ক্রিয়ার অবকাশ থাকে না—এ বিষয়ে সন্দেহ নাই। কিন্তু জ্বর জীর্ণত্ব প্রাপ্ত হইলেও উহার বেগ হ্রাস হইলে যেমন অন্নাদি কিঞ্চিৎ রুচিকর হয়, সেইরূপ বহুদিন ভােগের পর নামাপরাধেরও বেগ কিঞ্চিৎ ক্ষীণ ও মৃদু হইলে ভগবদ্ভক্তিতে কিঞ্চিৎ রুচি জন্মিয়া থাকে; এইরূপে তাদৃশ পুরুষের ভক্তিতে অধিকার জন্মে-ইহা সিদ্ধ হইতেছে। তারপর যেরূপ দুগ্ধান্নাদি পুষ্টিকর খাদ্য জীর্ণজ্বরবিশিষ্ট পুরুষকে সর্বতােভাবে পােষণ করেনা, কিন্তু কিঞ্চিৎ কিঞ্চিৎ পােষণ করিয়া থাকে মাত্র, পরন্তু জ্বরজনিত গ্লানি ও কৃশতা দূর করিতে সমর্থ হয় না; কিন্তু কালক্রমে ঔষধ-পথ্যাদি উপযুক্তরূপে সেবিত হইলে তাহাতেও সমর্থ হইয়া থাকে, সেইরূপ তাদৃশ ভক্তির অধিকারীতেও কালে ক্রমশঃ শ্রবণ-কীৰ্ত্তনাদি সকলই প্রকাশ পাইয়া থাকেন। অতএব সর্বাগ্রে শ্রদ্ধা (শাস্ত্রযুক্তিতে দৃঢ়নিশ্চয়), অতঃপর সাধুসঙ্গ, পরে ভজনক্রিয়া, তৎপরে অনর্থের নিবৃত্তি, অনন্তর নিষ্ঠা ইত্যাদি যে ক্রমের কথা শাস্ত্রে বিবৃত হইয়াছে, তাহা সঙ্গতই হইয়াছে। কেহ কেহ নাম- ৫০ মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। [ ৩য়া বৃষ্টি কৈশ্চিন্তু নামকীর্তনাদিবং ভক্তানাং প্রেমলিঙ্গদর্শনেন পাপপ্রবৃত্তা চ ন কেবলমপরাধঃ কল্পতে ব্যবহারিকবহুদুঃখদর্শনেন চাপি প্রারন্ধনাশা- ভাব। নিরপরাধতেন নির্ধারিতস্যাজামিলস্যাপি স্বপুত্ৰনামকরণ- প্রতিদিনবহুধাতন্নামানসময়েম্বপি প্রেমাদাসীসঙ্গাদিপাপপ্রবৃত্তি- দর্শনাৎ, এরাভাবেহপি যুধিষ্ঠিরাদেব্যবহারিকবহুদুঃখদর্শনাচ্চ। তস্মাৎ ফলপি বৃক্ষঃ প্রায়শঃ কাল এব ফলতি ইতিবৎ নিরপরাধেযু প্রসীদদপি নাম সুপ্রসাদং কাল এব প্রকাশয়ে। পূর্বাভাসাৎ ক্রিয়মাণ। পাপরাশিরপি উৎখাতদংষ্ট্রোরগদংশ ইকিঞ্চিৎকরা এব। রােগ-শােকাদি-দুঃখমপি ন প্রারব্ধফলম্ । “যস্যামনুগৃহৃমি হরিষ্যে ভনং শনৈঃ। ততােহধনং ত্যন্ত্যস্য স্বজনা দুঃখদুঃখিতম্ ॥” ইতি। ‘নিধনত্বমহাবােগাে মদনুগ্রহলক্ষণম্।” ইত্যাদি বচনাৎ। কীৰ্ত্তনাদিকারী ভক্তগণের প্ৰেমচিহ্নের বিকাশ-দর্শন না করিয়া এবং পাপে প্রবৃত্তি-দর্শন করিয়া কেবল যে তাহাদের নামাপরাধের কল্পনা করিয়া থাকেন তাহা নহে, পরন্তু ব্যবহারিক বহুদুঃখ দর্শন করিয়া তাহাদিগের প্রার-নাশের অভাবও কল্পনা করিয়া থাকেন; অর্থাৎ ঐরূপ ভক্তগণের প্রারব্ধ-কর্মই তাহাদের পাপে প্রবৃত্তির ও বহু দুঃখপ্রাপ্তির কারণ বলিয়া নির্দেশ করিয়া থাকেন। নিরপরাধ বলিয়া নির্ধারিত অজামিলেরও অপুত্রের নামগ্রহণ ব্যাপারে ও প্রতিদিন বহুবার নামান-সময়ে প্রেমাভাব এবং দাসীসঙ্গাদি পাপে প্রবৃত্তি-দর্শন করা যায় এবং প্রারব্ধ অভাবেও যুধিষ্ঠিরাদির বহুবিধ দুঃখ দর্শন করা যায়। অতএব সিদ্ধান্ত হইতেছে যে, ফলবান বৃক্ষেও প্রায় যেরূপ যথাকালে ফল ধরে, সেইরূপ নিরপরাধ ব্যক্তির প্রতি প্রসন্ন হইলেও নাম যথাকালেই আপনার অনুগ্রহের প্রকাশ করিয়া থাকেন। তবে ঐ সকল ভক্তের পূর্বাভ্যাস বশত ক্রিয়মাণ পাপরাশি বিষদন্তবিহীন সর্পের দংশনের ব্যয় নিতান্ত অকিঞ্চিৎকর। তাঁহাদের নােগ-শােকাদি দুঃখও প্রাররে ফল নহে। কারণ, শাস্ত্রে ভগ- বা নিজেই বলিয়াছেন-যে “যাহার প্রতি আমি অনুগ্রহ প্রকাশ করি- ৪র্থ সৃষ্টি মাধুৰ্যকাদম্বিনী। ভহিতকারিনা তদীয়লৈগ্নোৎকণ্ঠাদিবৰ্ধনচতুরেণ ভগবতৈব দুঃখস্য দীয়মানত্বাৎ কৰ্ম্মফলভাবেন ন প্রারব্ধত্বমিত্যাহুঃ ॥৫॥ ইতি মাধুৰ্য্যকাদম্বিন্যাং সর্বগ্রহপ্রশমিনী নাম তৃতীয়ামৃতবৃষ্টি ৩ চতুর্থমৃতবৃষ্টি। অখ পূর্বং যা অনিষ্ঠিত নিষ্ঠিতেতি দ্বিবিধােক্তা ভজনক্রিয়া তস্যাঃ প্রথমা ষডুবিধা লক্ষিতা। ততো দ্বিতীয়ামলক্ষয়িনৈর্থনিবৃত্তি প্রক্ৰান্তা। যদু- শৃন্বতাং স্বকথাঃ কৃষ্ণঃ পুণ্যশ্রবণ-কীৰ্ত্তন। হৃদ্যন্তঃস্থাে হভদ্রাণি বিধুনােতি সুহৃৎ সতাম, । আমি ক্রমশঃ তাহার ধন হরণ করি, ধন হয়ণ করিলে এই দুঃখ-দুঃখিত অধন ব্যক্তিকে তাহার আত্মীয়গণ পরিত্যাগ করিয়া কে।” (এইরূপ অবস্থায় সে নিরাশ্রয় হইয়া ভগবানকেই আপনার একমাত্র আর বলিয়া মনে করিয়া থাকে।) অন্যত্রও ভগবান্ বলিয়াছেন “নিধনৰূপ মহাােেগ আমারই অ- গ্রহের লক্ষণ।” ফলতঃ ভক্তের মঙ্গলবিধান-কর্তা ভগবান্ ভক্তের দৈন্য ও উৎকণ্ঠায় বন্ধনের নিমিত্ত তাহাকে স্বেচ্ছানুসারে দুঃখ প্রদান করিয়া থাকেন; সুতরাং ভক্তের কর্মফলের অভাব বশতঃ এ সমস্ত দুঃখাদিকে তাহার প্রারকের ফল বলা যায় না ॥ ৫॥ ইতি মহামহোপাধ্যায় বিশ্বনাথ চক্রবর্তি-বিরচিত মাধুৰ্য-কাদম্বিনীগ্রহে সর্বগ্রহশমিনী নামক তৃতীয়া মতবৃষ্টি । ৩। চতুর্থমৃতবৃষ্টি। পূর্বে যে অনিষ্ঠিতা ও নিষ্ঠতা এই দুই প্রকার ভক্ষন-ক্রিয়ার কথা বলা হইয়াছে, তাহার প্রথমটীর অর্থাৎ অনিষ্ঠিত ভজন-ক্রিয়ার ছয়টী বিভাগ প্রদর্শিত হইয়াছে। অনন্তর দ্বিতীয়টার লক্ষণাদির নির্দেশ না করিয়াই অনর্থনিবৃত্তির কথা আলােচিত হইয়াছে। কারণ, শ্রীমদ্ভাগবতে কথিত হইয়াছে—“যাহার কথার শ্রবণ ও কীর্তনের রা ত্রিজগৎ পবিত্র হয়, সেই সাধুগণের সুহৃং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কথা-শ্রবণকারী ব্যক্তিগণের হৃদয়ের অন্তরস্থ হইয়া তাঁহাদিগের সন্তু মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। [ ৪র্থী বৃষ্টি। নষ্টপ্রায়েম্বদ্ৰেষু নিত্যং ভাগবতসেবয়া। ভগবদ্ভুক্তমশ্লোকে ভক্তিভবতি নৈষ্ঠিকী ইতি। (১) তত্র শৃং স্বকথাঃ কৃষ্ণঃ পুণ্যশ্রবণকীৰ্ত্তনঃ ইত্যনিষ্ঠিতৈৰ ভক্তিবগম্যতে নৈষ্ঠিকীত্যগ্ৰে বক্ষ্যমাণাৎ। অভদ্ৰাণি বিধুনােতি ইতি তয়ােৰ্ম্মধ্যে এবানর্থানাং নিবৃত্তিরুক্তা। নষ্টপ্রায়েম্বভদ্ৰেবিত্যত্র তেষাং কশ্চন ভাগাে নাপি নিবৰ্ত্তত ইত্যপি সূচিত ইতি। অতএব ক্রমপ্রাপ্ততয়া নিষ্ঠিত ভক্তিরিদানীং বিব্রিয়তে। ১। নিষ্ঠা নৈশ্চল্য মুৎপন্না যস্যা ইতি নিষ্ঠিত। নৈশ্চল্যং ভক্তেঃ প্রত্যহং বিধিৎসিতমপ্যর্থদশায়াং লয়বিক্ষেপাপ্রতিপত্তিকষায়রদানাং পঞ্চানামন্তরীয়াণাং দুর্বাত্বান্ন সিদ্ধমাসীৎ। অনর্থনিবৃত্তানন্তরং তেষাং তদীয়ানাং নিবৃত্তপ্রায়ত্বাৎ নৈশ্চল্য সংপদ্যতে ইতি লয়াদ্যভাব এক অমঙ্গলই নষ্ট করিয়া থাকেন। নিত্য ভাগবত-সেবার দ্বারা তাহাদের অমঙ্গল- সমূহ নষ্টপ্রায় হইলে উত্তমশ্লোক ভগবানে নৈষ্ঠিকী ভক্তি জন্মিয়া থাকে।” ইহার প্রথম শ্লোকের “শৃং স্বকথাঃ কৃষ্ণঃ পুণ্যশ্রবণ-কীৰ্ত্তনঃ” এই অংশে অনিষ্টিতা ভক্তির কথাই বলা হইয়াছে—ইহা বুঝা যাইতেছে। কারণ,পরেই নৈষ্ঠিকী ভক্তির কথা উল্লিখিত হইয়াছে। এই দুই প্রকার ভক্তির কথার মধ্যে “অমঙ্গলের নাশ করেন” এই কথা বলায় অনর্থের নিবৃত্তিই কথিত হইয়াছে। আবার ঐ স্থানে “অভদ্র নষ্টয়” এই কথা বলায় ঐ অমঙ্গলের কোনও কোনও অংশের নিবৃত্তি হয় না, একথা সূচিত হইয়াছে। অনিষ্ঠিত-অবস্থায় শ্রবণ-কীৰ্ত্তনাদির খার। সমগ্র অমঙ্গল বিদূরিত হয় না। ঐ অবস্থায়ও ভজন-ক্রিয়ায় বাধা না ঘটিলে ক্রমে নৈষ্ঠিকী ভক্তির উদয় হয়। অতএব শ্ৰীভাগবতােক্ত এই ক্রমানুসারে অধুনা নিষ্ঠিত ভক্তির কথা বিবৃত হইতেছে ॥ ১। যাহাতে নিষ্ঠা বা নৈশ্চল্য উৎপন্ন হইয়াছে, তাহাকে নিষ্ঠিত বলে। প্রত্যহ চেষ্টা করিলেও অনর্থ-দশাতে লয়, বিক্ষেপ, প্রতিপত্তি, কষায় ও রসাস্বাদ এই পাচটি অন্তরায়ের দুরত্ব প্রযুক্ত ভক্তির নৈশ্চল্য সিদ্ধ হয় না। অনর্থ-নিবৃত্তির (১) ভা ২০১৭-১৮ ৪র্গী বৃষ্টি ] মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। নিষ্ঠালিঙ্গম। তত্র লয়ঃ কীৰ্ত্তনশ্রবণস্মরণেষু উত্তরেখাধিক্যেন নিস্রো- দগম,। বিক্ষেপঃ তেষু ব্যবহারিকবার্তাসম্পর্ক। অপ্রতিপত্তিঃ কদা- চিল্লয়বিক্ষেপয়ােরভাবে কীৰ্ত্তনাদ্যসামর্থ্যম। কষায় ক্রোধলােভগৰ্বাদি- সংস্কার। রসাস্বাদঃ বিষয়সুখােদয়কালে কীৰ্ত্তনাদিযু মনােহনভিনিবেশ ইতি। “ভক্তিৰ্ভবতি নৈষ্ঠিকী। তদারজস্তমােভাবা: কামলােভাদয়শ্চ যে (১)। চেত এতৈরনাবিদ্ধং স্থিতং সম্বে প্রসীদতি” ইত্যত্র চকারস্য সমুচ্চয়ার্থাত্ৰজন্তমােভাবা এব লভ্যন্তে। কিঞ্চ এতৈরনাবিদ্ধমিত্যুক্তে ভাবপৰ্যন্তং তেষাং স্থিতিরপ্যন্তি ভক্ত্যবাধকতয়ৈব। সা চ নিষ্ঠা সাক্ষাদ্ভক্তিবর্তিনী তদনুকূলবস্তুবৰ্ত্তিনীতি দ্বিবিধা। তত্র সাক্ষাদ্ভক্তিরন প্রকারাপি স্থূলতয়া ত্রিবিধা ; ত্রিবিধা ; কায়িকী বাচিকী মানসী চেতি। তত্র পর ঐ পাঁচটী অন্তরায় বা বিদ্যু নিবৃত্তপ্রায় হওয়ায় ভক্তির নৈশ্চল্য সম্পন্ন হইয়া থাকে। অতএব লয়াদির অভাবকেই নিষ্ঠার চিহ্ন বলিয়া বুঝিতে হইবে। তন্মধ্যে কীৰ্ত্তন, শ্রবণ ও স্মরণের কালে কীর্তন অপেক্ষা শ্রবণে ও শ্রবণ অপো স্মরণে উত্তরােত্তর নিদ্রার উদ্যমের নামই লয়। কীৰ্ত্তন-শ্রবণাদির সময় ব্যবহারিক বিষয়ের আলােচনা বা স্মরণাদির দ্বারা সম্পর্ক থাকিলে তাহাকে ‘বিক্ষেপ কহে। লয়-বিক্ষেপ না থাকিলেও কখনও কখনও যে শ্রবণ-কীৰ্ত্তনাদিতে অসামর্থ জন্মে, তাহাকে অপ্রতিপত্তি কহে। শ্রবণ-কীৰ্ত্তন-স্মরণাদি সাধনের কালে ক্রোধ-লােভ- গৰ্বাদির যে সংস্কার, তাহাকে কষায় কহে। বিষয়-সুখখাদয়কালে কীৰ্ত্তনাদিতে মনের অনভিনিবেশের নাম রসাস্বাদ। “নৈষ্ঠিকী ভক্তির উদয় হইলে তখন রজস্তমম ভাবাদি ও কামলােভাদির দ্বারা চিত্ত অনাবিদ্ধ হইয়া সত্ত্বগুণে স্থিতিলাভ করিয়া প্রসন্ন হয়।” এইস্থানে মুলশ্লোকে যে “চ-কার” আছে, সেই “চ-কারের সমুচ্চয়ার্থ ধরিয়া তখনও রজমােভাবাদির অস্তিত্ব বুঝা যায়। কিন্তু “ইহাদের দ্বারা চিত্ত অনাবিদ্ধ হইয়া” এই কথার দ্বারা—ভাব্যবস্থার লাভ না হওয়া পর্যন্ত ঐগুলি ভক্তির বাধক না হইয়া উহার অবাধকরূপে অবস্থান করিয়া থাকে। নিষ্ঠা সাক্ষাদ্ভক্তিবিধারিনী ও তদনুকূল বস্তুবিষয়িনীভেদে বিবিধা। তন্মধেF (১) ভাঃ ১২১৯ এম ইত্যঙ্গে । মাধুৰ্যকাদম্বিনী। [ ৪র্থী বৃষ্টি। প্রথমং কায়িকান্ততে বাচিক্যাস্তত এব মানস্যা ভক্তেনিষ্ঠা সন্তবেদিতি কেচিৎ। ভক্তেযু তারতম্যেন স্থিতানামপি সওজোবলানাং মধ্যে কচন ভক্তে বিলক্ষণতাদৃশসংস্কারবশাৎ কস্যচিদেব ভগবদুন্মুখত্বাধিক্যং স্যাদিতি নায় তদনুকূলবস্তুনি অমানিত্ব- মানদমৈত্রীদয়াদীনি। তেষাং নিষ্ঠা চ কুচন শমতো ভক্তে ভক্তেরনিষ্ঠিতত্বে দৃশ্যতে কুচন তদ্ধিতে ভক্তে নিষ্ঠিতহেপি ন দৃশ্যতে যদ্যপি তদপি ভক্তিনিষ্ঠৈৰ স্বসম্বাসাভ্যাং তন্নিষ্ঠাসজ্জ্বাসত্ত্বে সুধিয়মবগময়তি ন তু বাল প্রতীতিৱেব বাস্তৰীক শক্যেতি। যদুক্ত—ভক্তিৰ্ভবতি নৈতিকী। তদা রজস্তমােভাবাঃ কামলােভাদয় যে। চেত এতৈরবিদ্ধং স্থিতং সন্তে প্রসীতীতি। শ্রবণকীৰ্ত্তনাদিযু সাক্ষাদ্ভুক্তি অনন্ত প্রকার ইলেও সুলতঃ কারিকী, বাচিকী ও মানসী এই ত্রিবিধা। কারও কারও মতে প্রথমে কায়িকী, পরে বাচিকী ও তৎপরে মানসী ভক্তিতে নিষ্ঠা জন্মিয়া থাকে। ভক্তগণের মধ্যে ওঃ ও বলের স্থিতির তারতম্যানুসারে কোনও ভক্তে ঐ প্রকার সংস্কারের বিরুদ্ধতা-বশতঃ ভগবদু- জুখ্যের আধিক্য পরিদৃষ্ট হইয়া থাকে। এই নিমিত্ত কেহ কেহ বলিয়া থাকেন যে, এ বিষয়ে কোনওরূপ ক্ৰম নাই। অমানিত্ব, মানদ, মৈত্রী ও দয়াদি ভক্তির অনুকূল বস্তু। ভক্তিনিষ্ঠার অভাবেও কোনও কোনও শমপ্রকৃতি ভক্তেও ঐ সকল গুণে নিষ্ঠা পরিদৃষ্ট হইয়া থাকে। আবার কোথাও কোথাও কোনও উদ্ধত ভক্তে ভক্তিনিষ্ঠা সত্ত্বেও ঐ সকল গুণে নিষ্ঠা পরিদৃষ্ট হয় না। তথাপি ঐ সকল গুণের অস্তিত্বে ভক্তিতে নিষ্ঠা ও ঐ সকল গুণের অভাবে ভক্তিনিষ্ঠার অভাব যে বালকের নিকটই বাস্তবিক বলিয়া প্রতীতি জন্মাইতে সমর্থ তাহা নহে, পরন্তু বিজ্ঞজনগণের নিকটও ঐরূপ প্রতীতি উৎপাদন করিয়া থাকে। কারণ, শাস্ত্রোক্তিই আছে যে, নৈষ্ঠিক-ভক্তির উদয় হইলে চিত্ত রজস্তমােভাবাদি ও কামােতাদির দ্বারা অনাবিদ্ধ হইয়া সত্ত্বগুণে স্থিতিলাভ করিয়া প্রসন্ন হয়।” ফলতঃ শ্রবণ ও কীৰ্ত্তনালিতে শৈথিল্য ও প্রাবল্য অনিষ্ঠিতা ও নিষ্ঠিত ভক্তি জন্মিয়াছে কিনা তাহা জানিবার পক্ষে অপরিহার্য অর্থাৎ বাড়িতে যত্নের ৫মী বৃষ্টি] মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। যত্নস্য শৈথিল্যপ্রাবল্য এব দুস্ত্যজ্যে সংভবন্তী নিষ্ঠিনিষ্ঠিতে ভী প্রদর্শয়েতামিতি সংক্ষেপতাে বিবেক। ২। ইতি মাধুৰ্য্যকাদম্বিন্যাং নিবন্ধুরানাম চতুর্থমৃতবৃষ্টি। ৪। অথাভ্যাসকৃষ্ণবত্মদীপিতা ভক্তিকাঞ্চনমুদ্রাং যতো বহুত্তীং জখানে ভক্তহৃদি তাং রুচিরুৎপতে। শ্রবণকীর্তনাদীনামতে। বৈলক্ষণ্যেন রােচকঙ্গং রুচিঃ। যস্যামুৎপদ্যমানায়াং পূর্বদশায়ামিষ তৈ মুহুরপ্যশীলিত শ্রমমাপলব্ধিগন্ধোইপি। যা হি তেষু ব্যসনি- মচিরদেবােৎপাদয়তি। ১। যথা নিত্যং শাস্ত্রমধীয়ানস্য বটো কালে শাস্ত্রাপ্রবেশে সতি শাস্য রােচকত্বমুৎপাদ্যমনমেব তং তত্ৰ শ্ৰমং নােপনয়ত্যাসঞ্জয়তি প্রাবল্য পরিদৃষ্ট হইলে নিষ্ঠিত ভক্তি জন্মিয়াছে ও তাহার অভাবে ভক্তি অনিষ্ঠিত ইহা বুঝিতে হইবে। ইহাই ভক্তিনিষ্ঠার সম্বন্ধে সংক্ষেপ-বিচার-প্রণালী। ইতি মহামহােপাধ্যায় বিশ্বনাথ চক্রবর্তি-বিরচিত মাধুৰ্যকাঘিনী-গ্রন্থে নিষবন্ধুরা-নামক চতুর্থমৃতবৃষ্টিঃ ৪। অনন্তর অভ্যাসরূপ-অগ্নিদ্বারা উত্তপ্ত ভক্তিকাঞ্চনমূত্রা তেজে ধারণকারী ভক্তের হৃদয়ে ভক্তিতে রুচি উৎপন্ন হয়। বাকীৰ্ত্তনাদিয় একটা হইতে অন্যটীতে বিলক্ষণ ভাবে যে নােচকত্ব উহার নাম রুচি। রুচি উৎপন্ন হইলে পর্বদশার ন্যায় শ্রবণ-কীৰ্ত্তনাদির মুহুর্মুহু অনুশীলনেও লেশমাত্র প্রমের উপলব্ধি হয় না। এই রুচি শ্রবণ-কীৰ্ত্তনাদিতে ভক্তের ব্যসন অর্থাৎ অত্যন্ত আসক্তি উৎপাদন করিয়া থাকে। ফলতঃ তৎকালে ভগবৎপ্রসঙ্গ ব্যতীত যে ফাল অতীত হয়, সেই কাল নিতান্ত ব্যর্থ অতীত হইল বলিয়া বােধ জন্মে। ১। নিত্য শাস্ত্রধ্যয়নরত ব্রাহ্মণবালকের কালক্রমে শাস্ত্রার্থে প্রবেশ ঘটিলে শাস্ত্রে রুচি সঞ্জাত হইলে তখন শাস্ত্রানুশীলনে কোনও এমবােধ হয় না।

মাধুৰ্যকাদম্বিনী। [ ৫মী বৃষ্টি। চ। বস্তুত সিদ্ধান্তে তু পৈত্তিকবৈগুণ্যেন দূষিতায়াং রসনায়া সিতায়া অরােচকদেহপি সিতৈব তদ্বৈগুণ্যনিরাসকমৌষধমিতি বিবেকিনঃ তস্যা এব যথা মুহুরুপসেবনে কালেন স্বাধীং স্বাধীয়- মাতীতি তস্যা এ রােচকত্বং তথৈবাবিদ্যাদিবিদূষিতস্য জীবানু করণস্য শ্রবণাদিভক্ত্যা তদ্দাষশমে তস্যাং রুচিরুদ্ভবতীতি। ২। সা চ রুচির্বিবিধা বস্তুবৈশিষ্ট্যাপেক্ষিণী তদনপেক্ষিণী চ। বস্ত নাং ভগবন্নামরূপগুণলীলাদীনাং বৈশিষ্ট্যং কীৰ্ত্তনস্য সোস্বর্যাদি মত্ত্বং বর্ণিতভগবচ্চরিতাদেগুণালঙ্কারাদিমত্ত্বং পরিচর্যাদীনাং তাদৃশস্বাভীষ্টদেশপাদ্রব্যাদিসম্ভাববত্ত্বং যদপেক্ষতে তস্তুবৈশিষ্ট্যা- পেক্ষিণী। কিং কিং কীদৃশং ব্যঞ্জনমন্তি ইতি পৃচ্ছতাং মক্ষুদ্ব- ; বস্তুতঃ সিদ্ধান্তপক্ষে পৈত্তিক-বৈগুণ্যদ্বারা রসনা দূষিত হইলে সিতা বা মিশি অরুচিকর বােধ হইলেও উহাই যে ঐরূপ পিত্তবৈগুণ্যনাশক ঔষধ—ইহা বিবেকী ব্যক্তিগণের মত ; সুতরাং উহাই পুনঃ পুনঃ সেবিত হইলে ক্রমে ক্রমে উহাই মিষ্ট বলিয়া অনুভূত হইলে উহাতে যেমন রুচি জন্মে, তদ্রুপ অবিদ্যাদি কর্তৃক বিশেষরূপে দূষিত জীবের অন্তঃকরণের শ্রবণাদি ভক্তির পুনঃ পুনঃ অনুশীলনের দ্বারা উহার অবিদ্যাদিদোষ প্রশমিত হইলে শ্রবণাদিরূপা ভক্তিতে কচি জন্মে ॥ ২॥ রুচি দ্বিবিধ ; বস্তুবৈশিষ্ট্যাপেক্ষিণী ও বস্তুবৈশিষ্ট্যানপেক্ষিণী। প্রথমটী বস্তুর অর্থাৎ শ্রীভগবানের নামরূণগুণ-লীলাদির বৈশিষ্ট্য,যথা---কীৰ্ত্তনের সুস্বরাদি অর্থাৎ সুরতলয়াদির বিশুদ্ধি, বর্ণিত ভগবচ্চরিত্রের যথোপযুক্ত গুণ, অলঙ্কার- ব্যাদির বিশুদ্ধি। পরিচৰ্যাদির যথােপযুক্ত নিজাভীষ্ঠানুযায়ী দেশ-কাল-পাত্র- ব্যাদির শুদ্ধির—অপেক্ষা করে। অথাৎ ভগবানের লীলাদি-কীৰ্ত্তনে ভাবােপ- যােগী সুর-তাল-লয় না থাকিলে, ভগবচ্চরিত্ৰ-বৰ্ণনাকালে অলঙ্কারের মাধুৰ্য্য, বর্ণনার কৌশল এবং পূজাদিতে নিজাভিপ্রায়ানুযায়ী পবিত্র দেশ, উপযুক্ত কাল, শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তি, পুষ্পদি উপকরণের মনােম প্রভৃতি না হইলে কোনও কোনও ভক্তের হাতে কচি জন্মে না। এই রুচিকেই বস্তুবৈশিষ্ট্যাপেক্ষিণী- রুচি বলা হইয়াছে। ডেজনে প্রবৃত্ত হইয়া কি কি ও কী ব্যঞ্জন আছে, এমী বৃষ্টি মাধুৰ্যকাদম্বিনী। তামিব। প্রথমা সেয়ঃ যতােহরণস্য যৎকিঞ্চিদ্দোযলব এৰ কীৰ্ত্তনাদীনাং বৈশিষ্ট্যমপেতে অতােহস্তান্তঃকরণদোষাভাস জ্ঞেয়। দ্বিতীয়া তু যথা তন্নামরূপাহুপক্রম এব বলবতী ভবন্তী বৈশিষ্ট্যে বৃতিপ্রৌঢ়মপন্থমনেয়ং নাস্তিমনােবৈগুণ্যগন্ধা এব জ্ঞেয়। ৩। ততাহে। সখে! কৃষ্ণনামামৃতানি বিহায় কিমিতি দুম্পরি- গ্রহযােগক্ষেমবাৰ্ত্তাবিষয়েযু নিমজ্জয়সি ত্বাং বা কিং ব্রবীমি খিঙ মাং যদহমপি পামর শ্রী গুরুচরণপ্রসাদলৰূমপ্যেতদ্বস্তু স্বগ্রন্থিনিবদ্ধ। মহারত্নমিনুপলভ্য পরিতো ভ্রমন্নেতাবন্তং কাল অন্যব্যাপারপার- বারমধ্যে মিথ্যাসুখলেশস্ফুটিতকপর্দকমাত্ৰমম্বিয্যায়ুংষি বৃথৈবানয়ম্। ভক্তেঃ কমপ্যনঙ্গীকুৰ্বন, শক্তেরভাবমেবাদ্যোতয়ম্। হন্ত'স এবং সৈবেয়ং মে রসনা যা হনৃতকটুগ্রাম্যপ্রলাপমমৃতমিব লিহতী ভগ- ; এইপ্রকার প্রশ্নই মনক্ষুধার পরিচায়ক ; এইরূপ রুচিও তাহার ন্যায়। কারণ, অন্তঃকরণে যৎকিঞ্চিৎ দোষের লেশমাত্ৰ থাকিলেও কীৰ্ত্তনাদিতে উক্ত প্রকার বৈশিষ্ট্যের অপেক্ষা হইয়া থাকে; অতএব তাদৃশী রুচিও অন্তঃকরণের দোষের আভাসরূপা বলিয়া জানিতে হইবে। দ্বিতীয় প্রকারের রুচি শ্রীভগবানের নামরূপাদির উপক্রমেই বলবতী হইয়া থাকে ; বস্তুবৈশিষ্ট্যে উহা অত্যন্ত প্রৌঢ়া বা উল্লাসময়ী হইয়া থাকে এবং উহাতে অন্তঃকরণের বৈগুণ্যজনিত দোষের গন্ধমাত্রও থাকে না জানিতে হইবে। ৩ অহহ সখে ! কৃষ্ণনামামৃত ত্যাগ করিয়া কি নিমিত্ত দুম্পরিগ্রহযােগ- ক্ষেমবাৰ্ত্তাবিষয়ে নিমগ্ন হইতেছ? অথবা তােমাকেই বা কি বলিব, আমাকেই ধিক। কারণ, পাপাচারী আমি শ্রীশ্রীগুরুদেবের চরণ-প্রসাদে এই বস্তু নিজ বস্ত্র গ্রন্থিনিবদ্ধ মহারত্নের ন্যায় প্রাপ্ত হইয়াও ইহার মৰ্ম্ম না বুঝিয়া মিথ্যা মুখলেশের কায় সচ্ছিদ্র. কপর্দকের (কাণা ফড়িরঅন্বেষণে ইতস্ততঃ চারিদিকে এতকাল ভ্রমণ করিয়া অন্য ব্যাপার-পারাবার মধ্যে বৃথাই আয়ুক্ষয় করিলাম। ভক্তি-সাধনের কোনও অঙ্গকেই অঙ্গীকার না করিয়া শক্তির অভাবেরই পরিচয় প্রদান করিলাম হায় হায়, আমার এইরূপ চরিত্র-সেই আমার রসনাও মিথ্যা কটু গ্রাম প্রলাপ ৮ ৫৮, মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। [ ৫মী বৃষ্টি। বন্নামগুণবার্তা সালশৈবাসীৎ। হন্ত হন্ত, তৎকথাশ্রবণারম্ভ এব স্বাপং ভজংস্তদৈব কদাচিৎ প্রস্তুতায়াং গ্রাম্যবার্তায়ামূৎকৰ্ণতয়া লব্ধজাগরং সাধুনাং সদ এব তৎ সকলমকলঙ্কয়ম্। অস্য চ দুষ্পরসা জঠরস্য কুতে জরাহপি কাংস্কান্ দুষ্কৃতােদ্যমান্নাকরব! তদহং ন জানে কস্মিন, বা নিয়ে স্বকৃতফলমুপভুঞ্জান স্থাস্যামীতি নির্বিদ্যমানস্তদৈব কচিদহে। রহো ভুবি মহােপনিষৎকল্পবল্লীফলসারং সারঙ্গ ইব প্রভােশ্চরিতামৃত স্বাদয়ভিবাদয় মুহুর্মুহুরপি সাধুনব্যাধূতসংলাপস্তিষ্ঠপবিশন্ প্রবিশন্নপি ভগবদ্ধামবদ্ধামল- সেবানিষ্ঠস্তম্মনা উন্মনা ইনভিজ্ঞলােকৈরালক্ষ্যমাণাে ভক্তজন ভজনানন্দনৃত্যাধ্যায়মধ্যেতুমুপক্রমমাণ ইব রুচিনকা পাণিভ্যাং গৃহীত্বেৰ তত্ত শিক্ষ্যমাণ ইব কাঞ্চনমুদমননুভূতচরীমুপলভে ন বাক্যকে অমৃতের ন্যায় এতকাল লেহন করিয়া শ্রীভগবানের নাম ও গুণের বার্তাতে অলসের ন্যায় অবস্থান করিতেছিল। হায় হায়, শ্রীভগবংকথা শ্রবণের আরম্ভেই নিদ্রা যাইয়া এবং তৎক্ষণাৎ যদি আবার কোনও গ্রাম্যবাৰ্তা আরম্ভ হইত, তবে তৎক্ষণাৎ জাগরিত হইয়া উৎকর্ণ হইয়া থাকিয়া আমি বহুবার সাধুগণের সমাজকে কলঙ্কিত করিয়াছি। এই দুষ্পর উদরের পূর্তির জন্য জরঠ হইয়াও এমন কি দুষ্কৰ্ম্ম আছে যে, যাহার আচরণের জন্য উদ্যম করি নাই ? জানিনা আমার এই দুষ্কতের ফলভােগ করিতে আমাকে কোন্ নরকে কতকাল বাস করিতে হইবে।” ভক্ত এইরূপে নিৰ্বেদ গ্রস্ত হইয়া কোনও দিন বা এই পৃথিবীমধ্যে মহােপনিষৎ কল্পবল্লীফলের সারভৃত প্রভুর চরিতামৃত সারঙ্গের ব্যয় পুনঃ পুনঃ আস্বাদন ও অভিবাদন করিতে করিতে বাৰ্তান্তর পরিত্যাগ করিয়া সাধু-সমাজে উপবেশন ও অবস্থান করিয়া ভগবদ্ধামে প্রবেশ করিয়া নির্মল ভগবৎসেবানিষ্ঠ হইয়া তাহাতে ' মনঃসংযােগ করিয়া অভিজ্ঞ লোেককর্তৃক উন্মনার ন্যায় পরিদৃষ্ট হইয়া ভক্তজনগণের ভজনানন্দ-রূপ নৃত্যের অধ্যায় অধ্যয়ন করিবার জন্য রুচিরূপা-নর্তকী কর্তৃক উভয় হস্তে গৃহীত হইয়া তাহা শিক্ষা করিয়া অননুভূতপূৰ্ব পরমানন্দ অনুভব করিয়া থাকেন। কালে কালে যখন , ভাব ও'প্রেমরূপ নট গুরুদ্বয় ইহাকে নাচাইতে আরম্ভ করিবে, তখন যে ইনি :

"ঙী বৃষ্টি ! * * মাধুৰ্যকাদম্বিনী। ৫৯ জানে কুশীলবাচাৰ্যাভ্যা ভাষপ্রেমভ্যাং কালেন প্রবিশ নর্তয়্যিমাণঃ কস্যাং বা নিবৃতিনীতি বিজয়িষ্যতীতি। ৪। ইতি মাধুৰ্যকাদম্বিন্যাং উপলব্ধাস্ব, দ-নাম পঞ্চম্যমৃতবৃষ্টি। ৫। ষষ্ট্যমৃতবৃষ্টি। অথ সৈব ভজনবিষয়া কচিঃ পমপ্রৌঢ়তমা সতী যদা ভজনীয় ভগবং বিষয়ীকরােতি তদেয়মাসক্তিরিত্যাখ্যায়তে। যৈব ভক্তিকল্প- বল্ল্যাঃ স্তবকীভাবমাসাদয়ন্তী ভাবপ্ৰেমণী পুষ্পফলে অচিরাদেব ভাবিনী দ্যোতয়তি। রুচির্ভজনবিষয়া * আসক্তির্ভজনীয়বিষয়েতি . কি অবস্থায় উপনীত হইয়া কি আনন্দলাভ করিবেন, কে তাহার সীমা নির্দেশ করিতে পারে ? (বস্তুবৈশিষ্ট্যানপেক্ষিণী রুচি জন্মিলে, তাহা কিরূপে ক্রমশঃ পরিপাক প্রাপ্ত হয়, তাহারই ক্রম প্রদর্শিত হইল। কালে কালে এই রুচি বন্ধিত হইলে ভাব ও প্রেমলাভ হয়—ইহাই গ্রন্থকার এস্থানে বলিলেন। কিন্তু ভাব ও প্ৰেমলাভের পূর্বেই যে “আসক্তি জন্মে, ষষ্টী-অমৃতবৃষ্টিতে গ্রন্থকার তাহার ক্রম বর্ণনা করিতেছেন [৪। ইতি মহামহােপাধ্যায় বিশ্বনাথ চক্রবর্তিবিরচিত মাধুৰ্য্যাম্বিনীগ্রন্থে : উপলব্ধাস্বাদ-নামক পঞ্চম্যমৃতবৃষ্টি ॥৫॥ ষষ্ঠ্যমৃতবৃষ্টি। অনন্তর সেই ভজনৰিষয়া রুচি পরম প্রৌঢ়তমা হইয়া যখন ভজনীয় গবানকেই বিষয়ে পরিণত করেন, তখন তাহাকে আসক্তি নামে অভিহিত করা হইয়া থাকে। এই আসক্তি ভক্তিকল্প-লতার স্তবকের ভাব প্রাপ্ত হইয়া অবিল থই ভাব ও প্রেমরূপ পুষ্প ও ফল উৎপন্ন : তাহা জানাইয়া দেন। রুচি ভজন-বিষয়া এবং আসক্তি ভজনীয় বিষয় .. যে লক্ষণ তাহা তদবিষয়ের * বিয়য় শব্দের অর্থ “এখানে অব ৬০ মাধুৰ্যকাদম্বিনী। { ৬ষ্ঠী বৃষ্টি ভূমৈব ব্যাপদেশঃ। বস্তুতপ্ত তে অপুভয়ং বিষয়রোত্যে। অপ্রৌঢ়ত্বপ্রৌঢ়ত্বভ্যামেৰ ভেদঃ। আসক্তিরেবান্তঃকরণমুকুরং তথা মার্জয়তি যথা তত্র সহসা এতিবিম্বিত ভগবানবলোকমান ইব ভবতি। হন্ত বিষয়েরাম্যতে মদীয়ং চেতস্তদিদং ভগবতি নিদধামীতি ভক্তস্য বিধিৎসনগুরমেব প্রায় বিষয়েভ্যো নিম তদ্রুপগুণদৌ যং প্রবেশশীল পূৰ্বদশায়ামাসীৎ তদেব চিত্তমাসক্তে জাতায়াং বিধিৎসাতঃ পূর্বমেব স্বয়মেব তথভূতং ভবেৎ। যথা ভগবদ্রুপগুণাদিভ্যো নিম্য বাৰ্তান্তরে চেতঃ কদা এবিষ্টমিতি প্রাপ্তনিষ্ঠেনপি ভক্তেন নানুসন্ধাতুং শকতে তথৈব বাৰ্তান্তরতে নিম্য ভগবদ্রুপগুণাদিষু কদা প্রবিষ্টং স্বচেত ইত্যাসক্তিরনাসক্তেন ন লক্ষ্যতে। আসক্তিমত। ভক্তেন তু তল্লক্ষ্যতে। ১। প্রাধান্যেই জানিতে হইবে। বস্তুতঃ উভয়েই উভয়কে বিষয়ে পরিণত করিয়া থাকেন। কারণ, রুচি ও আসক্তি, অপ্রৌঢ়ত্ব ও প্রৌঢ়ত্বভেদে জানিতে হইবে; অর্থাৎ রুচিই পরিপক্কাবস্থায় আসক্তিতে পরিণত হয়—ইহা বুঝিতে হইবে। আসক্তি ভক্তের অন্তঃকরণ-মুকুরকে এরূপভাবে মার্জিত করেন যে, তাহাতে সহসা প্রতিবিম্বিত হইলে শ্রীভগবান্ অবলােকিতে র ন্যায়ই প্রতীয়মান হয়েন। “হায় ! আমার চিত্ত বিষয়সমূহের দ্বারা আক্রান্ত হইল, আমি ইহাকে শ্রীভগবানে নিযুক্ত করি, ভক্তের এইরূপ চেষ্টার ফলে তাহার যে চিত্ত বিষয় হইতে নিক্ষান্ত হইয়া পূৰ্বদশায় অর্থাৎ রুচি জন্মিলে শ্রীভগবানের রূপ ও গুণাদিতে প্রবেশলাভ করে, আসক্তি জন্মিলে সেই চিত্তই চেষ্টা করিবার পূর্বেই আপনা হইতেই ঐ অবস্থা প্রাপ্ত হয়। ভগবদ্রুপগুণাদি হইতে নিক্রান্ত হইয়া চিত্ত কিরূপে কখন বাৰ্তান্তরে প্রবিষ্ট হইল—প্রাপ্তনিষ্ঠ ভক্ত যেমন অনুসন্ধান করিতে সমর্থ হন না, সেইরূপ কখন কিরূপে যে নিজের চিত্ত বাৰ্তান্তর ত্যাগ করিয়া শ্রীভগপগুণাদিতে অভিনিবিষ্ট হইল—এই যে আসক্তি ইহা অনাসক্ত উক্ত লক্ষ্য করিতে পারেন না, কিন্তু আসকিল ভক্ত তাহা লক্ষ্য করিতে পারেন। রুচিতে বাৰ্তান্তর হইছে ফনকে নিগ্রহ করা আমিতে হয়, আসক্তিতে ভা। স্বভাবতঃই ঘটিয়া থাকে । রুচিতে মনকালব্যাপী প্রগন্তু গদির ।

৬ষ্ঠা কুষ্টি মাধুৰ্যাকাদম্বিনী । তত প্রাতঃ কুতক্ষ্যোহপি ভো ভােঃ কলম্বিতশালগ্রাম- শিলৱসম্পূটো গলঘূরিত কৃষ্ণনামামৃতাদপ্রতিক্ষণ- লালিতরসনঃ প্রেক্ষামাণ-এব, ভগং মামুল্লায়সি কস্মিংশ্চির্থে। তৎ কথয় কুত্ৰ কুত্র বা তীর্থে ভ্রমন্ কেযাং দৃষ্টা কোং বা ভগবদ- সুবানামাস্পীভবঙ্গাত্মানমঞ্চায়ঃ। ইস্তাৰিতসংলাপামৃত- পানযাপিতকতিপয়ক্ষণ পুনরাতাে গা ভোঃ কক্ষনিক্ষিপ্ত মনােহরপুস্তকবিলক্ষণয়া শ্রিয়া বিদ্ধানেৰামীয়সে তথ্যাচক্ষ দশম- স্কন্ধীয়ং পঞ্চমেকং জীবয় এতিচাতকী তদর্থমৃতবৃষ্ট্য। ইতি ত্যাখ্যয় রােমাঞ্চিতগাত্র পুনরুদ্যতো গত্বা হন্তাধুনৈবাহং কৃতার্থ- ধ্যান হইয়া থাকে, কিন্তু ঐ অবস্থায় ছেদ হইয়া থাকে-আসক্তিতে ঐ ধ্যানের গাঁঢ়তা সম্পাদিত হয় ১ আসক্তি-সমন্বিত ভক্তের আচরণ বিবৃত করিতেছেন। ঐরূপ ভক্ত প্রতেই কোনও সাধুর দর্শন লাভ করিয়া তাহাকে বলিতে লাগিলেন-“আপনি কোন্ স্থান-হইতে আগমন করিলেন?” আপনার কণ্ঠে শালগ্রামশিলার সুন্দর সম্পূট লম্বিত রহিয়াছে, আপনি অচস্বরে ধীরে ধীরে কৃষ্ণনাম উচ্চারণ করায় নামামৃত আস্বাদনে আপনার অসনা ঈষৎ আন্দোলিত হইতেছে, আপনি মাদৃশ দুর্ভাগ্যের,নয়নপখবৰ্ত্তী হইয়া না জানি কি কারণেই আমাকে আনন্দিত করি- তেছেন। আপনি কোন্ কোন্ তীর্থে প্রমণ করিয়া কোন কোন মহাজ্ঞার "দর্শন করিয়া কোন্ কোন্ ভক্তশ্রেষ্ঠের ভগবদনুভবের আস্পদীভূত হইয়া । আত্মাকে এবং অপরকে কৃতার্থ করিয়াছেন?” এইরূপ সগালাপে কিয়ৎকাল যাপন করিয়া পুনরায় অন্যানে গমন করিয়া ফোনও-ভাগবত-পাঠককে দেখিয়া বলেন আপনার দেশে স্থিত মনােহর পুতকে বিলক্ষণ » দশন করিয়া আপ- নাকে ভাগবত পুরাণবি ঋলিয়া বাংহইতেছে অতএক আপনি অনুগ্ৰহ করিয়া দশমকার একটীপদ পঠ কৱিকা অঙ্গ ব্যাখ্যারূপ অমৃতবৃষ্টির দ্বারা আমার শ্ৰৱণকৃত্তিয়াজককে জনগফল।” এইরূপে , সেই প্লেকেবাখ্যা -এষণারিয়ারেক্ষিত- গাইয়া পুয়ায় অত্র গমন করিয়া সাধু-সখাঙ্গে উচিত হইলেনবিলেণ, এবষয়ক ব্যক্তি বৃক্ষৰ, ইবঃ ফারণ, এই ৬২ মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী । [ ৬ষ্ঠা বৃষ্টি। ভবিষ্যামি যদিয়ং সভৈব সদ্য এব মম সমস্তদুষ্কৃতসিনীতি বিরচিতদণ্ডবদবনিপ্রণিপাতপুরুসরণতিবিনতিক তৎসমুকুট মণিনা মহাভাগবতবর্ষেণ পরমবিহু সরসমাদ্রিয়মাণ সঙ্কুচিত তদন্তিককৃতােপবেশ এব ভো খ্রিভুবনজীবভবনমহাভরােগ- ভিষশিলােমণে ধবৈ ধমনীমখমস্যাপি মে মহাদীনস্য নিরূপয় রুজং সমাদিশ পথ্যৌষধে কেনাপি প্রযুক্তেন মারসায়নেন মদভীষ্পিতা পুষ্টিমপি সম্পাদয়েতি যাচমানস্তৎকপাব- লােকমধুবাত্ময়ামৃতনিঃষন্দনন্দিতস্তচরণপরিচরণনীতপঞ্চষড় বাসর সরসমটমপি কদাচিদটীং যদি ময়ি বৰ্ত্ততে কৃষ্ণস্য কৃপাবলােক- স্তদায়ং দূরতঃ পুরােহুবলােক্যমান কৃষ্ণসারচিত্রাণি পানি মদভিমুখময়াতু ন চোং পৃষ্ঠকােদ্ধৃিতি নৈসর্গিকীরপি মৃগপশু- পক্ষিচেষ্টান্তদনুগ্ৰহনিগ্রহলিঙ্গতয়ৈব আনন্ গ্রামােপশলেহপি नायर = সই সদ্যই আমার সমস্ত দুস্কৃত ধ্বংস করিবেন এই বলিয়া তথায় ভূতলে দণ্ডবৎ পতিত হইয়া প্রণাম করিলেন। প্রণাম-বিনীত তিনি সেই ভার শ্রেষ্ঠ ভক্ত কর্তৃক স্নেহভরে আদৃত হইয়া সঙ্কুচিত শরীরে তাহর নিকট উপবেশন করিয়া বলিলেন, “হে ত্রিভুবনুস্থ জীবনের জীবনের মহাভব-রােগ-বিনাশক ভিষশিরােমণ! অাপনি মহাদীন এই অধমের নাড়ী পরীক্ষা করি,' রােগ নিরূপণ করিয়া এরূপ মহরসায়ন ঔষধ-পথ্যের আদেশ করুন, যাহাতে আমার অভীষ্টের পুষ্টি সম্পাদিত হয়। এইরূপে অপূর্ণ লােচন ঠাহর কৃপা-ভিক্ষা করিয়া তাহার কৃপা-দৃষ্টি ও উপদেশামৃত লাভে আনন্দিত হইয়া পাঁচ ছয় দিন তাহার . .চরপৰিচৰ্য্যায় অতিবাহিত করিলেন। কখনও বা প্রেমভরে বনে বনে প্রাণ করিতে করিতে যদি আমাতে শ্রীকৃষ্ণের কৃপাদৃষ্টি থাকে, তবে দূর হইতে যে কৃষ্ণসার ফা অঞ্চে দর্শন করিতেছে, উহা নিশ্চয়ই আমার অভিমুখে তিন চারিপক্ষ আগমন করিয়ে হইলে আমাকে পশ্চাতে রাখিয়া চলিয়া যাইব। এইরূপে মুণপশুপসি গণের স্বাভাবিক চেষ্টাকেও ভগবদহ ও মিগ্রহের লক্ষণ বোধ করে।

৬ষ্ঠ বৃষ্টি ] মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। খেলতো বিপ্ৰবালকান্ সনাদীনিব কিমহং ব্রজেন্দ্রকুমারং গ্যামি ইতি পৃষ্ট। তত্তমুত্তরং মেতি মুগ্ধাক্ষরং দুর্বোধাৰ্থত সুবােধাৰ্থতয়া বা পরাময় স্বগৃহমধ্যমধ্যাস্যাপি মহাধনগৃঃ কৃপণবণিগিব কাহ: যামি কি করােমি কেন ব্যাপারেণ মে তদভীষ্টবস্তুজাত হস্তগত স্যাদিতি পরিম্লানবদনশ্চিন্তয় স্বপন্ উত্তিষ্ঠ উপলিশ পরিজনৈঃ কারণং পৃচ্ছ্যমানেইপি কদাচিক ইব ইব কদাচিদবহিথামালম্বমানঃ সাম্পতমভূদয় ছন্নবুদ্ধি রিতি বন্ধুভিঃ স্বভাবত এবায় জড় ইতি প্রতিবেশিভি- রমূৈখ ইতি মীমাংসকৈ ভ্রান্ত ইতি বেদান্তিভিঃ ভ্রষ্ট ইতি কৰ্ম্মিভিরহাে মহাসার বস্তু সমধিগতম ইতি অভতৈদন্তিক ইতি তত্ৰাপরাধিভি পরামৃষ্যমাণে। মানাপমানবিচারবিধুরে ভগবসক্তিস্বধূনীপ্রবাহপতিত এর চেষ্টতে ভক্ত ইতি । ২। ইতি মাধুৰ্যকাদম্বিন্যাং মনােহারিণীনাম ষষ্ঠ্যতবৃষ্টি। ৬। গ্রামপ্রান্তে অস্ফুটবা বিপ্লবালকগণকে ক্রীড়া করিতে দেখিয়া তাহাদিগকে সনকানিঋষির ন্যায় মনে করিয়া “আমি কি ব্রজেন্দ্রননকে প্রাপ্ত হইব”? এইরূপ প্রশ্ন করিয়া তাহাদের অস্পষ্ট উত্তরকে কখনও দুর্বোধ, কখনও সুখবােধ্য বলিয়া মনে করেন। কখনও বা গৃহমধ্যগত থাকিয়া মহাধনগৃঃ, কৃপণ বণিকের ন্যায় “আমি কোথায় যাইব, কি করিব, কি উপায়ে আমার সেই অভীষ্ট-বস্তু হস্তগত হইবে?” এইরূপ ভাবিয়া ব্যাকুল হইয়া কখনও পরিশ্লানবদনে চিন্তা করিতে থাকেন, কখনও বা নিদ্রা যান, কখনও বা উঠেন, কখনও বা বসেন। পরিজনের কারণ জিজ্ঞাসা করিলে মূবং অবস্থান করেন। কখনও বা অবহিখা অবলম্বন করেন। বন্ধুগণ তখন “ইনি সম্প্রতি ছন্নবুদ্ধি হইয়াছেন” ইহা বলিতে থাকেন, অস্ত্র প্রতিবেশিগণ “ইনি স্বভাবতই জড়”, মীমাংসকগণ—“ইনি মূখ”, বৈদান্তিকগণ --“ইনি ভ্রান্ত”, কর্মিগণ-“ইনি ভ্রষ্ট”, ভক্তগণ “ইনি মহাসারবস্তু- প্রাপ্ত হইয়াছেন”, ভক্তাপরাধিগণ—“ইনি দাম্ভিক” এই কথা বলিয়া থাকেন। তখন এই ভক্তপ্রবর লৌকিক মানপমান-বিচার-বিরহিত হইয়া ভগবদাসক্তি ৬৪ মাধুৰ্যকাদম্বিনী। [ শমী বৃষ্টি। সপ্তম্যমূতবৃষ্টি। অথ সৈকাসক্তি: পরমপরিণামং প্রাপ্তবতী রত্যপরপর্যায়ে ভাব ইত্যাখ্যাং লভতে। য এব হি সচ্চিদানন্দ ইতি শক্তিত্রিকস স্বরূপভূতস্য কন্দলীভাবং ভজতে। যমেব থলু ভক্তিকল্পবল্লা উৎফুল্লং প্রসূনচক্ষতে। যস্য চ বাহৈব প্রভা সর্বৈঃ সুদুল্লভা আভ্যন্তরী তু মােক্ষমপি লঘূকররাতি। যস্য চ পরমাণুয়েক এব ত: সমস্তমুগ্মলয়তি। যস্য পরিমলৈ প্রস্মরৈঃ মধুসূদন নিমন্ত্রানীয় প্ৰকটীক প্রভূয়তে। কিং বহুনা যৈরেব বাসিতাশ্চিত্তবৃত্তিতিলবিততয়ো দ্রবীভাবমাসাদ্য সদ্য , এব ভগবদঙ্গ- মখিলমে স্নোযিতু যোগ্যতাং দধতে। যঃ খবির্ভবম্নেব স্বাধরং শ্বপচমপি ব্ৰহ্মাদেরপি নমস্যত্বমাপাদয়তি। উদ্যোতমানে চ রূপ স্ব-মন্দাকিনী-প্রবাহে পতিত হইয়া উক্ত প্রকার বিবিধ চেষ্টা করিতে থাকেন। ১। ইতি মহামহােপ্যাধ্যায় শ্রীবিশ্বনাথ চক্রবর্তি বিরচিত-মাধুৰ্য-কাদম্বিনী-গ্রন্থে মনোহারিণী নামক ষষ্ঠ্যমৃতবৃষ্টি |৬|| ; সপ্তম্যমৃতবৃষ্টি। ঐ আসক্তিই পরম-পরিণাম প্রাপ্ত হইয়া ভাব-নাম ধারণ করিয়া থাকেন। রতি উহারই অপর পৰ্য্যায়। এই ভাবই সৎ, চিৎ ও আনন্দ এই স্বরূপভূত শক্তিয়ের কন্দলী ভাব বা মুকুলিত অবস্থা। ইহাকেই ভক্তিকল্পলতার, উৎফুল্ল পুষ্প-নামে অভিহিত করা হইয়া থাকে; উহার বাহপ্রভাই সকলের সুদুল্লা, অভ্যন্তরী প্রভায় মােক্ষকেও তুচ্ছ পদার্থে পরিণত করিয়া থাকে। ইহার একটা পরমাণু অর্থাৎ সামান্য মাত্রও সমস্ত তম সমূলে উন্মলিত করিয়া থাকে। এই ভাব-কুসুমের পরিমল প্রস্ত হইয়া সাক্ষাৎ শ্রীভগবাকে নিমন্ত্রণ পূর্বক প্রকট করাইয়া থাকে। অধিক কি, ভাবদ্বারা বাসিত চিত্তবৃত্তিরূপা তিল-বিততি দ্রবীভূত হইয়া সদ্যই শ্রীভগবানের অখিল অঙ্গকে মেহসিঞ্চিত করিতে সমর্থ হয়। এমন কি, ঐ ভাব আবিভূত হইয়া নিজ আধার চণ্ডাল ধর্মী বৃষ্টি ] মাধুৰ্যকাদম্বিনী। ৬৫ অস্মিন্ শ্যামলিমানং ব্ৰজমহেন্দ্ৰনন্দনস্যাঙ্গানামেব আরুণ্যং তদীয়া ধরনেত্ৰান্তাদেরেব ধবলমানং তদীয়বদনস্মিতচন্দ্রিকাদেরের পীতিমানং তদম্বরভূষণাদেরেব লেটুং লাসন্নসময়মিব বলিভােৎকণ্ঠ ভক্ত্য নয়নদ্বন্দ্বমতিরজমাত্মানমভিষিঞ্চেৎ। গীতং তদীয় মুরল্যা এব শিঞ্জিত তদীয়নূপুরাদেরেব সৌম্বৰ্য্য তদীয়কণ্ঠস্যৈব নিদেশং তচ্চরণপরিচরণস্যৈব তৎকৃতং কমপি স্বাবতংসীক মৃগ্যদিব স্থানে স্থানে ক্ষণে ক্ষণে শ্রবণদ্বয়ং নিশ্চলীভবঘুমে। এবমেব কীদৃশে। লা তদুভয়করকিশলয়স্পর্শ ইতি দৈৰ তমনুবদিৰ গাত্রং রােমাঞ্চিতং ভবেৎ। তৎসৌরভ্যং লভ্যমানমি বিদুষ্যৌ নাসে প্রফুল্ল ক্ষণে ক্ষণে শাসংগৃহীত্ব পরিচিচীযেতাম্। হন্ত সা ফেনা কিং মে স্বাদনীয়া ইতি তদৈব তামুপলভমানের রসনাল্লাসং দধানৈবেষ্ঠাধরৌ চিহ্যাৎ। কদাপি অঙ্গীয়ত্তে হইলেও তাঁহাকে ব্ৰহ্মাদিরও নমস্য করিয়া তুলেন। ঐ ভাব উদিত হইলে ব্রজরাজনদানের অঙ্গসমূহের শ্যামলিমা, তদীয় অধর ও নেত্ৰপ্ৰাস্তাদির অরুণিমা, তাহার বদন-সুধাকরের মৃদুহাস্যের ধবলিমা, ভঁহার বস্ত্র ও ভূষণাদির পীতিমা প্রভৃতির অনুভব করিয়া আসন্ন সময়ে রুদ্ধক হইয়া নয়নযুগলের অজ অবর্ষণের দ্বারা আত্মাকে অভিষিক্ত করিয়া থাকেন। তখন তাদৃশ ভক্ত তাঁহার মুবলীর মধুর গীতধ্বনি, তাহার নৃপুরাদির সিঞ্জিতধ্বনি, তদীয় মধুর কণ্ঠের সৌম্বৰ্য্য এবং তদীয় চরণ-পরিচৰ্য্যা-বিষয়ে তৎকৃত সাক্ষাৎ নিদেশ শুনিয়া আত্মাকে চরিতার্থ করিবার জন্যই যেন স্থানে স্থানে ক্ষণে ক্ষণে উহার অনুসন্ধান করিয়া শ্রবণদ্বয়কে কখনও উর্ধে ও কখনও নিয়ে স্থাপিত করিয়া নিশ্চল হইয়া অবস্থান করেন। এইরূপ কখনও বা তাহার করকিশলয়ের স্পর্শ কিরূপ তাহা যেন অনুভব করিই রােমাঞ্চিতগাত্র হয়েন। কখনও বা তাহার অঙ্গগন্ধ আম্রাণ করিয়া প্রফুল্ল-নাসিকাদ্বয়ের দ্বারা ক্ষণে ক্ষণে খাস গ্রহণ করিয়া পরম পুলকিত হইয়া থাকেন। কখনও কখনও বা তাহার অধর-সুধা কি আমার আস্বাদ করিবার সৌভাগ্য হইবে—এইরূপ মনে করিয়া মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। [৭মী বৃষ্টি। তং সাক্ষাৎ প্রাপ্তবদিব চেতাে স্বযৎ তন্মধুস্বাদসম্প্যত্যা মাদ্যেৎ তদৈব ততিরােভাবে বিষীদেৎ গ্লায়েদিত্যেবং সঞ্চারিভালৈরাত্মান- মলদ্ভুৰ্বদিক শােভেত। বুদ্ধিরপতমেবার্থমবধারয়ন্তী জাগ্রৎস্বপ্ন- সুষুপ্তিযু তদীয়স্মৃতিত্মবে পান্থত্বমধ্যবদ্যেৎ। অহন্তা চ প্রাঙ্গনে সেবােপঘােগিনি সিদ্ধদেহে প্ৰবিশস্তীব সাধকশরীরং প্রায়ো জহাতীব বিরাজেত। মমতা চ চ্চরণারবিলমকরন্দ এব মধুকরীভবিতুমুপ- ক্রমেতেতি । স চ তক্ত প্রাপ্তং মহারত্নং কৃপণ ইব জনেভ্যো ভাবং গােপয়পি ক্ষান্তিবৈরাগ্যাদীনামাস্পদী সল্ললাটমেন্তধন কথয়তীতি ন্যায়েন তদ্বিজ্ঞসাধুগােষ্ঠ্যাং বিদিতে। ভবেন্যত্র তু বিক্ষিপ্ত ইব্যুন্মত্ত ইতি সজ্জত ইতি দুল্লক্ষ্যতাং গচ্ছেৎ। ১। যেন তাহা প্রাপ্ত হইয়াই রসনাকে 'চরিতার্থ বােধ করিয়া উল্লসিত হইয়া নিজের ওষ্ঠাধর গেহন করিতে আরম্ভ করেন। কখনও বা তাহার স্ফুর্তি হওয়ায় তাঁহাকে যেন সাক্ষাৎ প্রাপ্ত হইয়া তঁাহার চিত্তে হর্ষের আবির্ভাব হয়। ফলতঃ তৎকালে, কখনও তিনি তদীয় মাধুৰ্য্যাম্বাদ-সম্পত্তিলাভে মত্ত হইয়া যান, আবার কখনও বা উহার তিরােভাবে বিষন্ন ও গ্লানিযুক্ত হন—এইরূপে সঞ্চারী ভাবের দ্বারা আত্মাকে অলঙ্কত করিয়া তখন তিনি শােভা পাইয়া থাকেন। তাহার বুদ্ধি অস্খলিতভাবে এই একমাত্র উদ্দেশ্যকে ধারণ করিয়া জাগ্রত স্বপ্ন ও সুষুপ্তি অবস্থায় শ্রীভগবানের স্মৃতিপথের পথিক হইয়া অবস্থান করে। . তখন তাহার অহন্তা (আমিত্ব অর্থাৎ জীবভাব) অভীপ্সিত সেববপযােগী সিদ্ধদেহে প্রবেশপূর্বক এই বর্তমান সাধক-শরীর যেন প্রায়শঃ ত্যাগ করিয়াই · অবস্থান করিয়া থাকে। তাহার মমতা তখন তদীয় চরণারবিন্দ-মকরনের মধুকরী হইবার উপক্রম করে। এই অবস্থায় সেই ভক্ত মহারত্ন-প্রাপ্ত কৃপণের ন্যায় জনগণ হইতে ভাব গােপন করিলেও-উল্লসিত ললাট দর্শনে যেমন অন্তধনের কথা বলা যায়, সেইরূপ তিনি ক্ষান্তি-বৈরাগ্যংদির আস্পদীভূত হওয়ায় তদ্বিষয়ে নবান্ সাধুগােষ্ঠীর বিদিত হয়েন, কিন্তু অন্যত্র বিক্ষিপ্ত ও উন্মত্ত বলিয়া বিবেচিত হইয়া তিনি সাধারণের দুর্লক্ষ্যতা প্রাপ্ত হন্। ১। ; = । # এমী বৃষ্টিঃ মাধুৰ্যকাদম্বিনী। স চ ভাবা রাগভক্তথে। বৈধভক্তথি ইতি দ্বিবিধ আছে। জাতি প্রমাণাভ্যামাধিক্যেন মহিমজ্ঞাননাদরেণ ভগবতি সামান্থা- ধিক্যাচ্চ সান্দ্রঃ। দ্বিতীয়ঃ ভ্যাং প্রথমতঃ কিঞ্চিনত্বেন কিঞ্চিনদেন ঐশ্বর্য- জ্ঞানবিদ্ধমমতাবাচ্চাসা। প্রয়াে দ্বিবিধ এবয়ং ভাবাে দ্বিবিধানাং ভক্তানাং দ্বিবিধচিদ্বাসনাসনথেষু হৃদয়েষু ক্ষুর দ্বিবিধা- স্বাদ্যং ভজতে। ঘনসর ইব রসালপনসেক্ষুদ্রাক্ষাদিযু প্রবিষ্ট পৃথক পৃথঙ মাধুর্যবং ভজতে। তে চ ভক্তাঃ শান্তদাসসখিপিতৃপ্রেয়সী- ভাববন্ত পঞ্চবিধাঃ সুঃ। তত্র শান্তেষু শান্তিৱিতি দাসেষু প্ৰীতিরিতি সখিষু সখ্যমিতি পিতৃভাববৎসু বাৎসল্যমিতি প্রেয়সীভাববৎ প্রিয়তেতি নামভেদমপি। পুনশ্চায়ং স্বশক্রৈাবাবির্ভাবিতৈর্বিভাবানু ঐভাব আবার রাগ ভঙ্খ ও বৈধভুক্তখ ভেদে বিবিধ। প্রথমটা জাতি ও প্রমাণের আধিক্য হেতু মহিষাজ্ঞানে অনাদর বশতঃ সমানতা ও তদপেক্ষা আধিক্য বশতঃ অত্যন্ত গাঢ় হইয়া থাকে। দ্বিতীয়টা জাতি ও প্রমাণের দ্বারা কিঞ্চিৎ: ন্যূনতা হেতু ঐশ্বৰ্যজ্ঞান-সমস্বিত মমতাবত্ব বশতঃ তদশ গাঢ় হয়না। এই বিবিধ . ভাব দ্বিবিধ ভক্তের দ্বিবিধ চিদ্বাসনাযুক্ত হৃদয়ে স্কুরিত হইয়া দ্বিবিধরূপে আস্বাদিত হইয়া থাকেন। রসাল, পনস, ইক্ষু ও দ্রাক্ষাদিতে উত্তরােত্তর-প্রবিষ্ট ঘন রসের ন্যায়—উহাতে পৃথক পৃথক মাধুৰ্যবৰ্ধা বিদ্যমান। এইরূপ পৃথক পৃথক। ভাব আস্বাদনকারী ভক্তগণ শান্ত, দাস্য, সখ্য, বাৎসল্য ও মাধুৰ্যভাব-যুক্ত হইয়া পঞ্চ-প্রকারের হইয়া থাকেন। শান্তভক্তে শান্তি, দাস্যভক্তে প্রীতি, সখায় সখ্য, পিতৃমাতৃভাবযুক্ত ভক্তে বাৎসল্য এবং প্রেয়সী-ভাবযুক্ত ভক্তে প্রিয়তা—এইরূপ নামভেদ জানিতে হইবে। পুনরায় এই পঞ্চবিধ ভাব নিজ নিজ শক্তি দ্বারাই বিভার অনুতাৰ ও ব্যভিচারিভাব রূপ প্ৰজাসকলকে প্রাপ্ত হইয়া নিজেরা ঐশ্বৰ্য্য সমন্বিত স্থায়ী-ভাবরূপ নৃপতি হইয়া ঐ সমস্ত প্রজাপুরে সহিত মিলিত হইয়া শান্ত দাস্য সখ্য বাৎসল্য ও উজ্জ্বলরূপে বৈশিষ্ট্যভেদে রসরূপে পরিণত হন। “স্বয়ং ভগবানই ঐ রস, এবং পুরুষ রসম্বরূপ তাকে লাভ করিয়াই আনন্দময় হন”—ইহা শ্রুতিকক কথিত হইয়াছে। যেরূপ নদনদী তড়াগাদিতে জল থাকিলেও সমুদ্রই যেমন সজলের আশ্রয়-স্বরূপ জানিধি, সেইরূপ ঐ বস মাধুৰ্যকাদম্বিনী। ( ৮মী বৃষ্টি। ভাবব্যভিচারিভিরাত্মেব রাজেব বা প্রকৃতিভিরুভূতৈশ্বৰ্য্য স্থায়ীতি নান্না বৈশিষ্ট্যং গচ্ছন্ তৈৰ্ম্মিলিতঃ শান্ত ইতি দামিতি সখ্যমিতি বাৎসল্যমিতি উজ্জ্বল ইতি লবিভেদো রসে ভবতি। যে হি রসে। বৈ স রসং হেবায়ং লব্ধানন্দীভবতীতি ত্যাভিধীয়তে। ভ্রাবতারেবতায়িণি বা সম্ভবম্নপি স্বয়ং সম্পূর্তিমানং তত্র তত্রালভমাননা ব্রজেন্দ্রনন্দন এৰ স্বকাষ্ঠাং লভতে। নদনদীতড়াগাদিযু সম্ভবদপি যথা সমুদ্র এব জলনিধিত্বম্। যাে হি ভাবস্য প্রথমপরিণতাবেক উৎপছুমান এব প্রেমণি মূৰ্ত্ত এব রসঃ সাক্ষাদেব তৃদ্বতা ভক্তেনানুভূয়ত অয়মন্য- ইতি ২। ইতি মাধুৰ্যকাদম্বিন্যাং পরমানন্দ-নিদিনীনামা সপ্তম্যমৃতবৃষ্টিঃ ॥৭॥ অষ্টম্যমৃতবৃষ্টি। অথ তস্য এব ভক্তিকল্পবল্ল্যাঃ সাধনাভিখ্যে যে পূৰ্ব্বং দে পত্রিকে অক্ষিতে ইদানীং ততােহতিচিক্কণানি তাদৃশশ্রবণকীৰ্ত্তনাদিময়ানি ভাবকুসুমসংলগ্নানি অনুভাবাভিধাননি বহুনি পত্রাণি সহসৈবির্ভূয় ক্ষণে ক্ষণে ছছাতয়ন্তুি যান্যেৰ ভাবকুসুমং পরিণামং প্রাপ্য পুনস্তদৈব শ্রীভগবানের অন্যান্য অবতারে বা অবতারীতে আবির্ভূত হইলেও সেই সেই অবতারে বা অবতারীতে স্বয়ং সম্পূৰ্ত্তি লাভ করিতে না পারিয়া ব্রজেন্দ্রনন্দনে পূর্ণ পরিণতি লাভ করিয়াছেন। সেই ভগবানই ভাবের প্রথম পরিণতিতে প্রকাশিত হইয়া প্রেয় জন্মিলে সাক্ষাৎ মুক্তরসস্বরূপ রূপে রসিকভক্ত কর্তৃক অনুভূত হন। ২। ইতি শ্রীমহামহােপাধ্যায় বিশ্বনাথ চক্রর্বিত্ত-বিরচিত মাধুৰ্যকাদম্বিনী গ্রন্থে পরমানন্দ-নিন্দিনী নামক সপ্তম্যমৃতবৃষ্টি । ৭। অষ্টম্যমৃতবৃষ্টি। ভক্তি-কল্পলতার সাধনাখ্য যে দুইপত্ৰ পূৰ্ব্বে লক্ষিত হইয়াছে, ইদানীং তাহা হইত অত চিক্কণ তাদৃশ কীৰ্ত্তনাদিময় ভাবকুসুমসংলগ্ন অনুভাব-নামক ৮মী বৃষ্টি ] মাধুৰ্যকাদম্বিনী। প্রেমাভিধানফলত্বমানয়ন্তি। কিঞ্চ আশ্চর্যাচৰ্যেয়ং ভক্তিকল্পবল্লী স্যাঃ পস্তবকপুষ্পফলানি প্রাপ্তপরিণতীন্যপি স্বরূপমত্যজন্ত্যেব নবনবান্যের সহৈৰ সৰ্বাণি বিভ্রান্তে। ততশ্চাস্ত ভক্ত জনস্যাত্মত্মীয়গৃহশিদিষু শতসহস্ৰশাে ভবতো যাশ্চিত্তবৃত্তয়াে মমতারজুভিস্তেষু তেষু নিবদ্ধ এব পূর্ববমাস তা এব চিত্তবৃত্তীঃ সৰ্বা এব ততস্ততােহবহেলয়ৈবােমােচ্য স্বশ্যা মায়িকীরপি তা মহারসকূপম্পৃশ্যমানপদার্থমাত্ৰাণীর সাকার- চিদানন্দজ্যোতির্ময়ীকৃত্য তাভিরেব মমতাভিঃ সৰ্বাভিস্ততন্ততত বিচিতাভিঃ স্বশক্ত্যৈব তথাভূতীতাভিঃ শ্রীভগবদ্ধপনামগুণমাধুর্যোযু যাে নিবতি সােহয়ং প্রেমমহাকিরণমালীব উদয়্যিমাণ এব নিখিল- পুরুষার্থনক্ষত্রমণ্ডলীঃ সহসৈৰ বিলাপয়তি। ফলভৃতস্যাস্য যঃ স্বাগমাননা রসঃ স ানন্দবিশেষত্মা রসস্য পরমপপৗষ্টিকী শক্তি বহুপত্র সহসা আবির্ভূত হইয়া শােভা বিস্তার করিয়া ভাবকুসুমকে পরিণাম প্রাপ্ত করাইয়া পুনর্বার তৎকালেই প্রেমনামক ফল উৎপন্ন করে। পরন্তু এই ভক্তি-কল্পবল্লী আশ্চৰ্য্য চরিত্র-সম্পন্না। ইহার পত্র, স্তবক, পুষ্প ও ফল পরিণ হইয়াও নিজ নিজ স্বরূপকে পরিত্যাগ না করিয়াই সকলেই নিত্য নব নব আকারেই শােভা পাইতে থাকে। ভক্তের যে চিত্তবৃত্তি শত সহস্রভাগে বিভক্ত হইয়া মমতা রজ্জর দ্বারা পূর্বে তাহার আত্মা, আত্মীয়, গৃহ-বিত্তাদিতে নিবদ্ধ ছিল, এখন সেই সকল চিত্তবৃত্তিকে অবহেলাক্রমে উন্মুক্ত করিয়া মায়িকী হইলেও তাহাদিগকে মহারসকূপস্পর্শকারী পদার্থসমূহের ন্যায় নিজ শক্তির দ্বারা সাকার চিদানন্দ জ্যোতির্ময়রূপে পরিণত করিয়া-ৰ্বত্ৰ ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত মতাবলীকেও নিজ শক্তির দ্বারা তথাভূত করিয়া তাহাদিগের সহিত যিনি তাহাদিগকে শ্রীভগবানের নামরূপ-গুণ-মাধুর্যে আবদ্ধ করেন, সেই প্রেম মহাসুৰ্যের ন্যায় উদিত হইয়া নিখিল পুরুষাথ রূপা নক্ষত্রমণ্ডলীকে সহসা বিলাপিত করিয়া থাকেন। ফলভূত ঐ প্রেমের যে অদ্যমান রস, তাহা সান্দ্রানন্দবিশেষাত্মা অথাৎ তাহা আনন্দ-ঘন-স্বভাব-বিশিষ্ট। ঐ রসের পরমপুষ্টিকরিণী যে শক্তি, তাহা শ্রীকৃষ্ণকষিণী বলিয়া উক্ত হইয়া থাকে।

৭ মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। [ ৮মী বৃষ্টি। শ্রীকৃষ্ণকর্ষিণীত্যুচ্যতে। যস্মিন্নস্বাদয়িতুমারভ্যমাণ এব বিম্লান্ ন গণয়তীতি কিং বক্তব্য। মহাশূনরা ভট ইব মহাধনগৃধুরত্যাবেশ- লুপ্তবিচারস্তস্কর ইব স্বাত্মানমপি নাবেক্ষতে। কিঞ্চ রাত্রিবিমেব প্রতিক্ষণমভ্যবহ্রিয়মাণৈশ্চতুর্বিধৈঃ পরমস্বাদুভিরপরিমিতৈররৈপি দুরুপশমনীয়া যদি কাচিৎ ক্ষুধা সম্ভবেৎ তৎসদৃশ্যা উৎকণ্ঠয়া সূর্য ইব তাপয়ন্ তৎকাল এব শূৰ্ত্তৈরাবির্ভাবিনি ভগবােপগুণমাধুৰ্যাণ্য- পারাণ্যাস্বাদবিষয়ীকারয়ন্ কোটিচন্দ্র ইব শিশিরয়তি। যুগপদেব স্বাধারমদ্ভুতােহয়ং প্রেমা উদিত্য চ যস্মিন্নীষঙ্গের বর্ধমানে সাক্ষাৎকারমের প্রতিক্ষণমাকাঙক্ষতত ভক্তস্য উৎকণ্ঠাশল্যস্য মহাদাহ- কস্মেবাতি প্রাবল্যোদয়াৎ স্ফূৰ্ত্তিপ্রাপ্ততপলীলামাধুরৈপি অতৃপ্তস্য তস্য বান্ধবােহপি নিরুদকান্ধকূপ এব ভবনমপি কণ্টকবনমেব ভগবৎ- ঐ রস আস্বাদন করিতে আরম্ভ করিয়া ভক্ত যে আর কোনও বিষ্মকে গ্রাহ্য করেন না—একথাও কি আর বলিতে হইবে? অথাৎ তখন তিনি আর কোনও বিঘ্নের ভয় করেন না। ঐ অবস্থায় তিনি মহাবলশালী যােদ্ধার ন্যায় অতিশয় আবেশে বিচারশূন্য মহাধন-লােলুপ তস্করের আপনাকেও বিস্মৃত হইয়া যান অথাৎ নিজেরও শুভাশুভ বিষয়ে বিচার করেন না। চতুৰ্বিধ পরমম্বাদু অপরিমিত অন্ন দিবারাত্রি পুনঃ পুনঃ ভােজন করিলেও ক্ষুধার শান্তি ঘটে না। এরূপ দুর্দমনীয়। যদি কোনও ক্ষুধার অস্তিত্ব সম্ভবপর হয়, তবে তিনি সেই ক্ষুধার সদৃশ উৎকণ্ঠার দ্বারা সূর্যের ন্যায় তাপবিস্তার করিয়া তৎক্ষণাৎই আবার ভগবানের অপরিমিত রূপ, গুণ ও মাধুর্য্যের স্ফূৰ্ত্তি ঘটায়, সেই সমস্ত আদা করাইয়া কোটিচজের য় শীতলতা বিস্তার করেন। উৎকণ্ঠার প্রাবল্য এবং শান্তির মাধুৰ্য একই সময়ে এই উভয় বিরুদ্ধভাব বিস্তারকারী এই অদ্ভুত প্রেম আপনার আধারূপ ভক্তে উদিত হইয়া ও ঈষৎ বৃদ্ধি পাইয়া প্রতিমুহূর্তেই শ্রীভগবংসাক্ষাৎকাকাঙ্ক্ষী ভক্তের উৎ- কণ্ঠারূপ শলাকে মহাদাহক অগ্নির ন্যায় দগ্ধ করার উৎকণ্ঠার প্রাবল্য ঘটায় ফুৰ্ত্তি প্রাপ্ত আঁভগবদ্রুপ ও লীলার মাধুর্যেও তাহার তৃপ্তি হয় না। তখন ৮মী বৃষ্টি ] মাধুৰ্যকাদম্বিনী । যৎকিঞ্চনাভ্যহাবােহপি প্রহারে। মহানের সজ্জনকৃত প্রশংসা অপি সর্পদংশ এব প্রাত্যহিক কুত্যকৰ্ত্তব্যমপি মৰ্ত্তব্যমেব অঙ্গপ্রত্যঙ্গানি অপি মহাভার এব সুহৃগণসানমপি বিষদৃষ্ট এব সদা জাগােহপি সাগরােহনুতাপস্যৈব কদাচিৎ নিদ্ৰাপি বিভ্রাবিণী জীবনস্যৈব স্ববিগ্রহােহপি ভগবমিগ্রহে মূৰ্ত্ত এব প্রাণ। অপি ধানঃ পুনঃ পুনভৃষ্টা এব কিং বহুনা প্রাক সদৈবাভীষ্টমাসীদ্যৎ তচ্চ রহহ মহােপদ্রব এব ভগবচ্চিন্তনমেবাত্মনিকৃস্তনমেব। তত প্রেমৈব চুম্বকীভামাপদ্য কাষ্ণায়সীভূতং কৃষ্ণমাকৃষানীয় কস্মািংশ্চন ক্ষণে ভক্তস্যাস্ত নয়ন- গােচরীকৰােতি। তত্র চ সৌন্দর্যসৌরভ্যসৌসৌকুমার্যসৌর- দোৰ্যকারুণ্যানীতি স্বীয়া স্বরূপভূতাঃ পরমকল্যাণগুণাঃ ভগবতা স্বভক্ত তস্য নয়নাদিঘিন্দ্রিয়েষু নিধীয়ন্তে। তেযাঞ্চ পরমমধুরত্বে নিত্যনবত্বে চ ভক্তস্যাস্য চ তদাস্বাদয়িতুঃ প্রেমৈব প্ৰবৰ্তমানে প্রতিক্ষণ- পুনঃ ভজ্জিত তাহার নিকট আত্মীয়-স্বজনগণ বারিহীন অন্ধকূপের গায়গৃহ কণ্টকাকীর্ণ অরণ্যের ন্যায়, যাহা কিছু আহার তাহা মহাপ্রহারের ন্যায়, সজ্জনকৃত প্রশংসা সর্পদংশনের ন্যায়, প্রাত্যহিক কৃত কর্তব্য মৃত্যুবৎ, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মহাভারের ন্যায়, সুহৃগণের সান্ত্বনা বিষদৃষ্টির ন্যায়, সর্বদা জাগরণের অবস্থা অনুতাপ- সাগরের ন্যায়, কদাচিৎ নিদ্ৰা আসিলেও তাহাও জীবন-ধবংসকারিণী যন্ত্রণার ন্যায়, নিজের শরীর-ধারণকেও মূর্তিমান ভগবন্নি গ্রহের ন্যায়, প্রাণ, পুনঃ ধান্যের নায়—অধিক কি পূৰ্বে যাহা সর্বদাই একান্ত অভিলষিত বলিয়া মনে হইত, তাহাই এখন মহা উপদ্রবের ন্যায় বােধ হয় এবং ভগবচ্চিন্তাকেও আত্মনিন্তনের ন্যায় অর্থাৎ আপনার ছেদকের ন্যায় বােধ হয়। তদনন্তর ঐ প্রেমই চুম্বকের ভাব প্রাপ্ত হইয়া কৃষ্ণলৌহের ভাবপ্রাপ্ত শ্রীকৃষ্ণকে আকর্ষণ করিয়া কোনও সময় ঐ ভক্তের নয়নগােচর করাইয়া দেয়। শ্রীভগবান্ও তখন স্বীয় সৌন্দৰ্য, যৌরভ্য, সৌম্বৰ্য্য, সৌকুমাৰ্য, সৌরস্য, ঔদাৰ্য্য ও কারুণ্য প্রভৃতি স্বরূপভৃত পরমমঙ্গলময় গুণসকলকে নিজ ভক্তের নয়নাদি ইন্দ্রিয়ের বিষয়ীভূত করেন। এ সকলগুণ পরম মধুর ও নিত্য নুতন হওয়ায় ৭২ মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। [ ৮মী বৃষ্টি। বর্ধিষ্ণ মহােৎকণ্ঠায়াং চ কোহপ্যানমহোদধিরাবির্ভবন্নাহঁতি কবি- সরস্বতীলফুটা পরিমেয়তাম্। যথা হি অতিনিবিড়তরবিটপদলকুল- প্রবলিতমহাগ্ৰাধতলস্য সুরদীর্ঘিকাহিমসলিলসম্ভতগটশতবায়িত তটস্যাতিশিশিরত্বে তদায়িতুর্জনস্য চ তপৰ্ত্ততরণিকিরণতপ্তমরুসরণি- মহাপান্থত্বে চ। তথা কাদম্বিনীঘনাসারস্যাপার ইব তদভিষিচ্যমান বনমতঙ্গজস্য চিরন্তনদবদবথুদূনত্বেন চ তথা সুধাকিরণস্যাতিমধুরত্বে তৎপানকর্ত্তশ্চ মহারােগশ বম্বে স্বাদলােলুপত্বে চ যস্তাদাত্মিক আনন্দ স এব দিগদর্শনার্থং তদ্যোপানীক্ৰিয়তে। ১। তত্র প্রথমং লব্ধাপারচমৎকার ভস্য লােচনয়াে: স্বসৌন্দর্য্য প্রকাশ্যতে প্রভুণ। ততস্তম্মাধুর্যেণ সৰ্বেন্দ্ৰিয়াণাং মুনশ্চ লােচন- প্রেমসহকারে উহার অস্বাদন করিতে প্রবৃত্ত হইয়া ভক্তের হৃদয়ে প্রতিক্ষণ বর্ধমানা মহতী উৎকণ্ঠা জন্মে এবং পরিশেষে তাহাতেই এমন এক আনন্দ মহােদধির আবির্ভাব ঘটিয়া থাকে যে, কবিবাক্য সাধারণতঃ অতিশয়ােক্তিতে পরিপূর্ণ হইলেও কোনও কবিবাক্যই তাহার পরিমাণ নির্দেশ করতে সমর্থ হয় না। নীদাঘকালে সূর্যকিরণোত্তপ্ত মরুপথে প্রয়াত মহাপথিকের নিবিড়তর শাখাপ্রশাখা-সঙ্কুল প্রকাণ্ড বটবৃক্ষের ছায়ায় অবস্থিত সুর- দীর্ঘিকায় বহুশত ঘট হিমশীতল জলদ্বারা ধৌত তটদেশ আশ্রয় করিলে, অথবা চিরন্তন দাবানলপীড়িত বন্যগজ নিবিড় জলধরের অপরিমিত ধারাভিষিক্ত হইলে অথবা মহারােগশতে প্রপীড়িত স্বাদু-লােলুপ ব্যক্তি অতি মধুর অমৃত পান করিলে যাদৃশ আনন্দ ভােগ করে, ভক্তের আনন্দকে তাদৃশ বলিলে দিগর্শনাথ উহার কথঞ্চিৎ তুলনা মাত্র করা হয়। অর্থাৎ কোনও প্রকার বৈষয়িক আনন্দের সহিত এই অপ্রাকৃত আনন্দ-সাগরের তুলনা হইতে পারে না । ১। প্রথমে তদুদয়ে অতিশয় চমৎকৃত ভক্তের, লােচনযুগলে প্রভু ভগবান নিজ সৌন্দর্য প্রকাশ করিয়া থাকেন। অনন্তর তঁাহার ঐ মাধুর্যের দ্বারা ভক্তের সৰ্বেন্দ্রিয় ও নয়নযুগলের সহিত মিলিত হইয়া সেই মহামাধুৰ্য্য দর্শনে ৮মী বৃষ্টিঃ ] মাধুর্নাকাদম্বিনী । ৭ ময়ীভাবে প্রবর্তিতে স্তম্ভকম্পবাম্পাদিভিঃ কৃতবিঘ্নশ্চ তস্যানন্দকৃত মুচ্ছায়াং জাতীয়াং প্রবােধয়িতুমিব দ্বিতীয়ং সৌরভ্যং তদীয়ঘ্রাণেন্দ্রিয়েষু প্রকাশ্যতে। তেনাপি তেষাং ঘ্রাণময়ীভাবে দ্বিতীয়মূচ্ছন্তে অরে মদ্ভক্ত তােহমেব সম্পদ্যমাননাহস্মি মা বিহ্বলীভূর্নিকামং মামনুভবেতি তৃতীয়ং সৌস্বৰ্যং শ্রবণেন্দ্রিয়গ্রাহমাবির্ভাব্যতে পুনস্তেনাপি তেষাং শ্রবণময়ীভাবে তৃতীয়মূচ্ছেপক্ৰমে কৃপয়া চরণারবিন্দেন পাণিভ্যাম উরসা চ স্বস্পর্শং দত্ব চতুর্থ স্বসৌকুমাৰ্যমসাবনুভাব্যতে। তত্র দাস্য- ভাৰবতস্তস্য মূর্ধি চরণেন স্পর্শঃ সখ্যভাববতঃ পাণ্যোঃ পাণিভ্যাং বাৎসল্যভাববতঃ স্বকরতলেনামাজ্জনং প্রেয়সীভাববস্তু উরসি স্ববক্ষসা বাহুভ্যামাশ্লেষঃ ক্ৰিয়তে ইতি ভেদো বােধ্য। পুন লােচনময়ভাব প্রাপ্ত হইলে স্তম্ভ কম্প ও বাম্পাদির দ্বারা বিঘ্ন জন্মিতে থাকে ও তাহাতে ভক্তের আনন্দ-মূচ্ছ। উপস্থিত হইলে শ্রীভগবান্ তখন তাদৃশ ভক্তকে প্রবােধিত করিবার জন্য তাহার ঘ্রাণেন্দ্রিয়ে তাহার দ্বিতীয় মাধুৰ্য্য সৌরভ্য প্রকাশ করিয়া থাকেন। তখন সৰ্বেন্দ্রিয়ের শক্তি কেন্দ্রীভূত হইয়া ভক্তের প্রাণেন্দ্রিয়ে প্রস্ফুরিত হওয়ায় সকলেন্দ্রিয়ের ঘ্রাণময় ভাব হওয়ায় ভক্তের দ্বিতীয় আনন্দ-মৃচ্ছার আবির্ভাব হইলে ভগবান্ “অরে মক্ত, আমি তােমারই সম্পূর্ণ অধীন হইয়াছি, তুমি বিহ্বল না হইয়া আমাকে অনুভব করিয়া কামনার পূরণ কর” ইহা বলিয়া ভক্তের নিকট তাহার তৃতীয় মাধুৰ্য্য সৌম্বৰ্য্যের আবির্ভাব ঘটাইয়া থাকেন। সৌম্বৰ্য্যের আবির্ভাবে যখন ভক্তের সৰ্বেন্দ্ৰিয়-শক্তি পূৰ্ব্ববৎ শ্রবণময় ভাব প্রাপ্ত হইলে ভক্তের যখন তৃতীয় আনন্দ-মুচ্ছার উপক্রম তখন ভগবান্ নিজের চরণারবিন্দ, করকমল, বক্ষোদেশ প্রভৃতির দ্বারা নিজ অঙ্গস্পর্শ দান করিয়া তাহাকে নিজের চতুর্থ মধু সৌকুমার্য অনুভব করাইয়া থাকেন। শ্রীভগবান্ দাস্য-ভাবযুক্ত ভক্তের মস্তকে চরণস্পর্শ, সখ্য-ভাবযুক্ত ভক্তের পাণিযুগলে কর-কমলস্পর্শ, বাৎসল্য-ভাবযুক্ত ভক্তের স্বীয় করতলে অমার্জন এবং মধুর-ভাবযুক্ত ভক্তেরবক্ষোদেশে বক্ষঃস্পর্শের দ্বারা আলিঙ্গন করিয়া থাকেন; ভক্তের ভাবভেদে শ্রীভগবান্ এই প্রকার আচরণ করিয়া থাকেন ;

বিতন্যতে। ৭ ) মাধুৰ্যকাদম্বিনী। [ ৮মী বৃষ্টি। তেলাপি তথা তথৈব চতুর্থমহামূচ্ছরম্ভে পঞ্চমং স্বাধরসম্বন্ধি সৌরভ্যং তদীয়রসনেন্দ্রিয়গ্রাহং প্রেয়সীতাবৰত্যেব তৎকালপ্রাদুর্ভূততদভীষ্টা কাররতিজন এব প্রকাশ্যতে নান্যত্র। ততশ্চ পূর্ববদেব তথা তথা- ভাবেহপি তদাতাস্থানন্দমুচ্ছায়াতিনৈষিভ্যে জাতে তত প্ৰবােধয়ি- তুমসমর্থেনেব ভগবতা ষষ্ঠমোদাৰ্যং ভষ্ট তেষামেব সৌন্দৰ্যাদীনাং সর্বেষামে তন্নয়নাদিসৰ্বেন্দ্রিয়েষেব যুগপদেব বলাদ্বি- তয়ণম্। দৈব ভগবদিঙ্গিতজ্ঞেনেব প্রোপ্যতিবর্ধমানেন সত। তদনু- রূপতৃষ্ণাতিরেকং সম্বৰ্ধাপি তত্র ভক্তে স্বয়ং চন্দ্ৰত্বমপেয়ু যুগপদেবা- নন্দসমুদ্রশতলহরীবাতিসংমর্দভরজর্জরিতত্বমিব তস্য অন্তঃ নিৰ্ম্মিমাণেন স্বয়মেব সাকারতন্মনােহধিদৈবতীভবতেব তথা স্বশক্তিবিতীয’তে যথা যৌগপদ্যেনৈব তে তে সাদা নিবিৰবাদা এব ভবন্তি। ন চৈবং মন- ইহাই বুঝিতে হইবে। পুনরায় ভগবান্ চতুর্থ মহামূচ্ছার প্রারম্ভে পঞ্চম মাধুৰ্য্য নিজ অধরসম্বন্ধী যে সৌরভ ভক্তের রসনেন্দ্রিয় গ্রাহ্য করিয়া থাকেন এবং প্রেয়সী-ভাবশীল ভক্তের নিকট সেই সময়ে প্রাদুভূত হইয়া তাহার অভিলষিত রতি- ভজন প্রকাশ করিয়া থাকেন, এরূপ ভক্তের নিকট ভিন্ন তাহা তিনি অন্যত্র প্রকাশ কয়েন না। তদনন্তর পূর্ব পূর্ব বারের ভাবের ন্যায় তৎকালে প্রকাশিত অন-মূচ্ছায় অত্যন্ত গাঢ়তা জন্মিলে অন্য কোনও প্রকারে অবােধ দান করিতে অসমর্থ হইয়া ভগবান্ যষ্ঠ মাধুৰ্য-স্বরূপ নিজের ঔদাৰ্য বিস্তার করেন। সৌন্দৰ্য্যাদি সৰ্বগুণকে ভক্তের নয়নাদি সকেন্দ্রিয়ে বল পূৰ্বক যুগপৎ বিতরণ করার নামই ঐ ঔদার্য। তৎকালে ভগবদিতিজ্ঞ হইয়াই যেন প্রেম অত্যন্ত বর্ধিত হইয়া তাহার অনুরূপ তৃষ্ণাদিকে অত্যন্ত বর্ধিত করিয়া নিজেই চন্দ্ৰত্ব প্রাপ্ত হইয়া সেই ভক্তে যুগপদ শত শত অনিন্দ-সমুদ্রের তরঙ্গের লীলার দ্বারা আলােড়িত ও জর্জরিত করিয়া তাহার অন্তঃকরণকে পুনর্গঠনের দ্বারা নিজেই তাহার মনের অধিদেবতা হইয়া স্বীয় শক্তিকে এরূপভাবে বস্তারিত করেন যে, যাহাতে ভক্তের অন্তঃকরণে মিৰ্বিবাদে ঐ সকল গুণের গ পঃ আস্বাদন ঘটিয়া থাকে। একথা বলা উচিত নহে যে, ভক্তের মন ৮মী বৃষ্টিঃ ] মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। সােহনেকানে তত্তদাস্বাদস্যাসান্দ্রতেতি বাচ্যম্। প্রত্যুত সৌন্দৰ্য- সৌম্বৰ্য্যাদী প্রতি সৰ্বেন্দ্ৰিয়াণমেব নয়নীভাবশ্রবণীবাচ্চা একদৈব বােভূয়মান অলৌকিকাচিন্তাদ্ভূতচমৎকারমেবাতন্বন্তঃ স্বাদস্তাতিসা- ত্বমেব কুন্তি। নৈবাস্তি তত্র লৌকিকানুভবতর্কদাবদবথােরবকাশশা- হপি। অচিন্ত্যাঃ খলু যে ভাবা ন তাংস্তর্কেণ ফোজয়েদিত্যাদি ॥ ২॥ ততশ্চ' সৌন্দৰ্য্যাদীনাং যবন্তি মাধুৰ্য্যাণি তেষাং মন্ত্যেনা- বুভূপি অস্মিন্ ভক্তচাতকচক্ষুপুটে জলবিন্দ্রাবলী ন মান্তি তানি বিমৃশ্যাহে তহিঁ ময়ৈতানি সৌন্দর্য্যাদীন্যতাবন্তি কিমর্থং ধৃতানীতি তেষাং সংভােজনায়ৈব সপ্তমং সর্বশক্তিকদম্বরমাধ্যক্ষায় আগমাদাৰপি বিমলােৎকর্ষিণ্যাদীমষ্টদিলেষু বৰ্ত্তনানাং স্বরূপশীনাং মধ্য এৰ কর্ণিকায়াং মহারাজচক্রবর্তিা ইব স্থিতায়া হনুগ্রহাভিধানত্বেনােক্তায়া: অনেকাগ্র বা যুগপ বহুবিষয়ের সম্পূর্ণভাবে আস্বাদন করিতে অসমর্থ-ঐ সমস্ত আস্বাদনের পরিপূর্ণ আনন্দ উপভােগ করিতে সমর্থ হয় না; কারণ, ভগবানের অলৌকিক অচিন্ত্যশক্তির বলে তিনি অভূতপূর্ব চমৎকারিত্ব বিস্তার করিয়া সকল ইন্দ্রিয়ের এককালেই নয়নীভব শ্রবণীভাবাদি বিশেষভাবে সম্পাদন করিয়াই ঐ প্রকার অস্বদনের অতি সান্দ্রত্ব ৰা অত্যন্ত পরিপূৰ্ণানন্দময়ত্ব ঘটাইয়া থাকেন। এই অলৌকিক বিষয়ে লৌকিক অনুভবক্যে তর্কের কোনও অবকাশ নাই; কারণ, অলৌকিক বিষয়কে লৌকিক তদ্বারা বুঝিবার বা বুঝাইবার চেষ্টা শাস্থেই নিষিদ্ধ হইয়াছে । ২। অনন্তর ভগবানের যত প্রকার মাধুৰ্য বৰ্তমান, তাহার সকলগুলিই এক- কালে আস্বাদনের ইচ্ছাসত্ত্বেও ভক্ত-চাতকের চঞ্চুপুটে জলবিন্দুসমূহের ন্যায় পরিমিত হইতেছে, না দেখিয়া শ্রীভগবান্ “তবে আমি কেন এত সৌন্দৰ্য্যাদি ধারণ করিতেছি” বলিয়া. তখন যে সমস্ত সৌন্দৰ্যাদি সম্যক্ ভােগ করাই- বার জন্য হার সপ্তম-মাধুৰ্য-কারুণ্য বিস্তার করিয়া থাকেন। উচ্ছ। ভগবানের সর্বশক্তিসমুহের অধ্যক্ষানুরুপ হওয়ায় আগমাদিতে বিমল, উৎকর্ষিণী ইত্যাদি অষ্টদিগদলে বর্তমান অষ্টম্বরূপশক্তি, মধ্যস্থিত কর্ণিকায় মহারাজচক্রবর্তিনীর ন্যায় অবস্থিত হইয়া ভগবানের ভক্তের প্রতি অনুগ্ৰহনামে উক্ত হইয়া ভগবানের ৭৬ মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। [ ৮মী বৃষ্টি। ভগবতে নয়নারবিন্দ এব আত্মানং ব্যঞ্জয়ন্ত্যাঃ কৃপাশক্তেৰ্বিলসিং কচিৎ দাসাদো বাৎসল্যমিতি চিৎ কারুণ্যমিতি প্রিয়াদৌ চোেদ্রব ইতি কচিদমু কতি নাভিধীয়মানম্ উদয়তে। যয়ৈব কৃপাশ্যা সর্বব্যাপিপি তদীয়েচ্ছাশক্তিঃ সাধু সাধ্বেবং রঞ্জিতা পরমাত্মারামা- নপি মহাচমৎকৃতিভূমীরধ্যারােয়তি। যয়ৈব গবত ভক্তবাৎসল্যৎ নাম এক এব গুণঃ সম্রাড়িব প্রথমস্কন্ধে পৃথিব্যাক্তা স্বরূপভূতান্ সত্যশৌচাদী কল্যাণগুণান্ শাস্তি। মােহস্তন্দ্রা ভ্ৰমমা রুক্ষরসতা কাম উণঃ। লােল মদমাৎসর্যে হিংসা খেদপরিশ্রমে। অসত্যং ক্রোধ আকাঙক্ষা আশঙ্কা বিশ্ববিভ্রম। বিষমত্বং পরাপেক্ষা দোষা অষ্টাদশােন দি। অষ্টাদশমহাদোষৈ রহিত ভগবত্তরিতি। ভগবতি সবখা নয়নারবিন্দে আপনাকে প্রকাশিত করিয়া কখনও বা দাসাদিতে কৃপাশক্তির- বিলাস, কখনও মাতৃগণের বাৎসল্য, কখনও বা কারুণ্য, প্রিয়াদিতে কখনও চিত্ত-বিদ্রাবিণী আকর্ষণীশক্তি, কোথাও বা কখনও অন্য অনুরূপ কোনও নামে অভিহিত বস্তুর উদয় করাইয়া থাকেন। ঐ কৃপাশক্তি কর্তৃকই তাহার সর্ব- ব্যাপিনী ইচ্ছাশক্তি সাধুগণে সুষ্ঠ রূপে রাগপ্রাপ্ত হইয়া পরমাত্মারামকেও মহা- চমৎকুতিভূমিতে অধ্যারােহণ করাইয়া থাকেন অর্থাৎ আত্মারামগণ ঐ শক্তির চমৎকারিতা অনুভব করিয়া মুগ্ধ হইয়া শ্রীকৃষ্ণভজনে রত হইয়া থাকেন। এই কৃপাশক্তির দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হইয়া ভগবানের ভবাৎসল্য-নামক গুণ শ্ৰভাগ- বতের প্রথম স্কন্ধে পৃথিবী-দেবীকর্তৃক কথিত তাহার স্বরূপভৃত সত্য-শোচাদি মঙ্গলময় গুণ সকলকে সম্রাটের ন্যায় শাসন করিয়া থাকেন। অর্থাৎ সত্যশৌচাদি গুণ ভগবানের ভক্তবাৎসল্য-গুণেরই আংশিক অভিব্যক্তি এবং ঐ ভক্ত বাৎসল্যগুণ আবার তাহার কৃপাশক্তির অংশ। মোহ, তন্দ্রা, এম, রুক্ষরসতা, তীব্র-কাম, লােলভ, মদ, মাৎসর্যা, হিংসা, খেদ, পরিশ্রম, অসত্য, ক্রোধ, আকাঙ্ক্ষা, আশঙ্কা, বিশ্ববিভ্রম, বিষমত্ব, পরাপেক্ষা—দোষ এই অষ্টাদশ প্রকার। শাস্ত্রে উক্ত হইয়াছে যে,শ্রীভগবদ্গুণ এই অষ্টাদশ' প্রকার দোষরহিত। ঐভগবানে এই অষ্টাদশ-দোষ শাস্ত্রানুসারে সর্বপ্রকারে নিষিদ্ধ হইলেও ঐ কারুণ্যগুণের [ ৮মী বৃষ্টি। মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। ৭৭ নিষিদ্ধা অপ্যেতে দোষা যদনুরােধেন রামকৃষ্ণাদ্যবতারেযু কচি কচি- দ্বিদ্যমান এব সন্তো ভক্তরমুভূয়মান মহাগুণয়ন্তে। ততশ্চ সৰ্ব্বাণ্যেৰ তদ্বিতীণানি সৌন্দর্য্যাদীন্যাস্বাদয়িতুং লকেজিসি ভক্তে আদ্যস্বাদ্য চ তাং তাং চমৎকৃতিপরমকাভামধিরুহ্যাধিরুহ্য চাঞতচরং ভগবততা ভক্তবাৎসল্যমিদমিবেতি মনসা মুহুর্মুহুরেবানুভূয় দ্রবীভাবমাসেদুষি তস্মিন্নরে তবর্ষ বহুনি জন্মনি মর্থং দারাগাৱধনাদিকং পরিত্যজ্য মৎপরিচর্যামুরােধেন শীততক্ষুধাতৃষ্ণাব্যময়াদী বনেব ক্লেশান সােঢ়বতে জনাবমানাদীনপ্যবগণিতবতে ভিক্ষুচাং গৃহীতবতে ভাবতে কিমপি দাতুমশকুব ঋণী কেবলমভূব। সার্বভৌমত্বপারমেষ্ঠ্য- যােগসিদ্ধাদিকঞ্চন ভবদনুরূপমিতি তত্তৎ কথং বিতরিষ্যামি। নছি নহি পশুভ্যো রােমানং ঘাষতুষবষাদিকং কস্মেচিন্মনুষ্যায় দীয়তে। তদহমজিতােহপি ভবধুনা জিত এব বর্তে নৰ্তে ভবৎসোশীল্যবল্লীং অনুরােধে রামকৃষ্ণাদি অবতারে কখনও কখনও বিদ্যমান বলিয়া ভক্তগণকর্তৃক অনুভূত হইয়া থাকে এবং তখন তাহারা মহাগুণত্ব প্রাপ্ত হইয়া থাকে। তদনন্তর শ্রীভগবান্ কর্তৃক বিস্তারিত সৌন্দৰ্য্যাদিণ্ডণ আস্বাদন করিবার জন্য ওজস্বী-ভক্ত ঐ সকল গুণ পুনঃ পুনঃ আস্বাদন করিয়া সেই সেই গুণের চমংকৃতির পরাকাষ্ঠা পুনঃ পুনঃ লাভ করিয়া ভগবানের ভক্তবাৎসল্য বাস্ত- বিকই অতচর মনে মনে পুনঃ পুনঃ অনুভব করিয়া তাহার হৃদয় দ্রবীভূত হইয়া থাকে। তখন ভগবান এই প্রকার ভক্তকে বলিয়া থাকেন “হে ভক্তবৰ্য্য ! তুমি বহুজন্ম আমার জন্য কারাগার ধনাদি পরিত্যাগ করিয়া আমারই পরিচর্যার অনুরােধে শীত বাত ক্ষুদা তৃষ্ণা ব্যথা থােগাদি প্ৰভূত ক্লেশ সহ করিয়াছ। তুমি বহুজন্মকৃত অবমাননাদিও গ্রাঙ্গ কর নাই, ভিক্ষাচৰ্যার দ্বারা তুমি জীবন যাপন করিয়াছ, আমি এতাদৃশ তােমাকে কিছুমাত্র দিতে না পারিয়া তােমার নিকট ঋণী আছি। সার্বভৌমত্ব, ব্ৰহ্মত্ব, যােগসিদ্ধি প্রভৃতি কিছুই তােমার অনুরূপ নহে ; সুতরাং আমি কেমন করিয়া তাহা তােমাকে দান করিতে পারি ? পশুর খাদ্য যে ঘাস-তুষাদি, তাহা কিরূপে মনুষকে দান করা যায়? সুতরাং আমি অজিত হইয়াও তােমা কর্তৃক জিত হইলাম, তােমার সৌশল্যই আমার একমাত্র ৭৮ মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। (৮মী বৃষ্টি। সমগবলম্বন ইতি ভগবতে বাঙ,মাধুরীং পরমস্নিগ্ধবর্ণাং কর্ণাব- তংসীকৃত প্রভা ভগবন্ কুপাপারাবার যােরষংসারপ্রবাহ প্রাপিতক্লেশচক্ৰনবৃহচ্যমাণং মাং বিলােক্য কারুণ্যোদ্যে- তবচেতােনবনীতােহখিললােকাতীতে ভগব গুরুরূপধারী মদনাদ্যবিদ্যাবিদারী স্বদর্শনে সুদর্শনেনৈক তমির্ভিদ্য তদ্দংষ্ট্র- তটাদেবােলােচ্য নিজচরণকমলযুগলদাসীচিকীর্ষয়া মন্ত্রবর্ণবীথী মৎকৰ্ণবীথীং প্রবেশ নিবথীকৃত্য মুহুর্মুহুরপি স্বগুণনামশ্রবণ কীৰ্ত্তনস্মরণাদিভিৰ্ম্মাং যদশুধজিভক্তেরপি সমিতৈ ঋসেবা- মপ্যৰূবুধদ্ভদপি, দুৰ্ম্মেধােইহমধমতমো দিবসমেকমপি ন প্রভুং পর্যচরং কদর্যচর্যস্তদয়ং জনে দণ্ডায়তুমেবাহঃ প্রত্যুবৈদ্দর্শনমাধুরীং পায়িতঃ। কিঞ্চ ঋণীভবামীতি শ্ৰীমুখবাণ্যা প্রভুবরেণ, বিড়ম্বিতােহশ্মীতি অবলম্বন।” তখন অতিশয় স্নিগ্ধ এই সকল বাক্যমাধুর্যকে কর্ণের ভূষণরূপে পরিণত করিয়া ভক্ত বলিতে থাকেন—“হে প্রগ! হে ভগব! করুণাসিন্ধো ! আপনি আমাকে ঘাের সংসার-প্রবাহে পতিত, ও তত্রত্য ক্রাবলী দ্বারা দংষ্ট ও ক্লেশ প্রাপ্ত দেখিয়া, করুণার উদয়ে আপনার নবনীতুল্য কোমল-হৃদয় দ্রবীভূত হওয়ায় লােকাতীত এর রূপ ধারণপূর্বক কামাদি অবিদ্যার ধ্বংসকারী সুদর্শন-স্বরূপ আপনার দর্শনের দ্বারা তাহাদিগকে ছেদন করিয়া তালদিগের করলদষ্ট। হইতে আমাকে মুক্ত করিয়াছেন এবং নিজ চরণকমলযুগলের দাসীরূপে নিযুক্ত করিবার ইচ্ছায় নিজ মন্ত্র-বর্ণাবলী আমার কর্ণপথে প্রবেশ করাইয়া আমাকে ব্যথারহিত করিয়া বারংরার নিজের গুণের ও নামের প্রবণ-কীৰ্ত্তনাদির দ্বারা আমাকে শোধন করিয়াছেন। পরন্তু আমাকে, নিজ ভক্তগণের সঙ্গদানের দ্বারা নিজের সেবাপ্রণালী বুঝাইয়া দিলেও আমি দুৰ্বদ্ধি অধমতম একদিনের জন্যও প্রভুর পরিচর্যা, করিলামনা, এবম্প্রকারে এই দুরাচারী ব্যক্তি দণ্ডাহ হইলেও দণ্ডদান না করিয়া বরং তাহাকে আপনার দশন-মাধুরী পান করালেন। পরন্তু আমি নিজে ঋণী হইলাম” বলিয়া আমি প্রভুবরের শ্রীমুখবাণীর দ্বারা, বিড়ম্বিত হইয়াছি বলিয়া আমার মনে ৮মী খৃষ্টি ] মাধুৰ্যকাদম্বিনী। মন্তেহহং তৎ কিং কয়েমি পঞ্চ বা সপ্তাষ্টাখবা লক্ষকোটয়েহিপি যদ্যপরাধা ভষেয়স্তদপি তাং সম্প্রতি ক্ষময়িং ধাষ্টমালম্বেত মাম্। পরার্ফতেহপ্যধিকাংস্তানবধারয়ামি। কিঞ্চ তে তেহতিপ্রবলাচিরন্তনা ভুক্তভোক্তব্যফল বন্তাং নাম। সম্প্রতি পূর্বেদ্যুরেব নীরদেন নীলনীরজেন নীলমণিন শ্রীমঙ্গস্য চন্দ্রমসা শ্ৰীমুখস্য নবপল্লবেন চরণস্য , দ্যুতিমুপমিমানেন ময়া দগ্ধসপাৰ্দ্ধেন কনকশিখরিণমিব চণককণেন চিন্তামণিমিব ফেরুণা কেশরিণমির মশকেন গরুমিৰ সমীকুৰ্বতা দুর্বুদ্ধিনা স্পষ্টমপরাদ্ধমেবেত্যধুনৈবাবগতম্। তদা তু প্রভুমইং স্তোমীতি স্বীয়মবিদ্বদ্বমপি কবিত্বমেতদিতি জনেপি প্রখ্যাপিতম্। অতঃপরন্তু মদীক্ষণে ক্ষণেন সমীক্ষিতশ্রীমূর্তিরূপেণ বৈভবেন জবেন তজ্জমান ধৈর্য্যরহিত গৌরিব মে গৌঃ শ্ৰীমৎসৌন্দর্য্যকল্পবল্লীমুপমানৰদনৈদূষয়িতুং ন ভবিষ্যতীতত্যবং হইতেছে, এখন আমি কি করি-পাঁচ, সাত, আট বা লক্ষকোটি যে অপরাধ আমার বর্তমান, তাহা এইক্ষণ ক্ষমা করিতে বলাও নিতান্ত ধৃষ্টতা বলিয়া মনে হইতেছে। আমার অপরাধ পরাগ্ধ হইতেও অধিক সংখ্যক বলিয়া বােধ হইতেছে। সেই চিরন্তন অপরাধসকল অতি প্রবল, অতএব তাহার যাহা ভােগ হইয়াছে, তদ্ব্যতীত যাহার ফল অবশিষ্ট আছে, তাহারও ফল ভােগ হউক। সম্প্রতি পূর্বদিকে নবমেঘ নীলপদ্ম ও নীলমণির সহিত শ্ৰীঅঙ্গের, চন্দ্রের সহিত মুখের এবং নব পল্লবের সহিত শ্রীচরণের সৌন্দর্য্যের উপমা দিয়া দগ্ধসর্ষপাদ্ধের সহিত স্বর্ণচুড় পৰ্ব্বতকে, চণক-কণার সহিত চিন্তামণিকে, ফেরুর সহিত সিংহকে এবং মশকের সহিত গরুড়কে সমান করিয়া আমি দুর্বুদ্ধি- প্রযুক্ত যে স্পষ্ট অপরাধ করিয়াছি, ইহা এইক্ষণে বুঝিতে পারিলাম। সেই সময়ে আমি প্রভুকে স্তব করিতে যাইয়া নিজের মুখ তাকেই কবিত্ব বলিয়া জনের নিকট প্রখ্যাপিত করিয়াছি। ইহার পর এখন হইতে আমার চক্ষু কর্তৃক ক্ষণকালের জন্যও পরিদৃষ্ট মূর্তির রূপ বৈভব ও বেগের দ্বারা বিতাড়িত ধৈৰ্য্যরহিতা গাভীর ন্যায় আমার বাক্য আর কখনও মুক্তির সৌন্দৰ্য- কল্পলতাকে আর উপরূপ দ্রংষ্টায় দ্বারা দূষিত করিতে সমর্থ হইবে না।”

মাধুৰ্যকাদম্বিনী। [ ৮মী বৃষ্টি। বহুবিধং শংসতি তস্মিন্নতিপ্রসন্নেন · ভগবতা পুনরপি প্রেয়স্যাদি- ভাববতত্তস্য যথাসম্ভবমভীষ্পিতং তাদাত্মিকতৎস্ববিলাসবিলক্ষিত শ্ৰীবৃন্দাবনং কল্পশাখিনং মহাযােগপীঠং স্বপ্ৰেয়সীবৃন্দমুখ্যা: বৃষভানুনন্দিনীং তৎসখীঃ শ্ৰীললিতাদ্যাস্তৎকিঙ্করীরপি স্ববয়স্যান্ শ্রীসুলাদী স্বপাল্যমানা নৈচিকীশ্চ যমুনাং শ্ৰীগােবদ্ধনং ভাণ্ডীরঞ্চ নন্দীশ্বরগিরিং তত্রত্যজনকজননীভ্রাতৃবন্ধুদাসাদী সব্বানেব ব্ৰজৌ- কমাে রসােৎকর্ষেণ দর্শয়িত্বা তত্তদানন্দমহামমাহতরঙ্গিণ্যাং তং নিমগ্নী- কৃত্য স্বয়ং পরিকরেণাধীয়তে। তত কিয়ত্তিঃ ণৈলব্ধপ্রবােধ পুনরপি প্রভুং দিলোচনমুদ্ৰামুন্মােচ্য, তং নাবলােকয়ন্নাত্মানম- শ্রুতিরভিষিঞ্চন, কিময়ং স্বপ্ন আলােকিতঃ, নহি নহি শয্যালস্নয়নকালু বাদ্যভাবাৎ, কিমিয়ং কস্যচিন্মায়া বা, নহি নহি এদৃশানন্দস্য মায়িক ত্বসম্ভবাৎ, কিংবা চিত্তস্যৈব ভ্রমময়ী কাপি বৃত্তি, নহি নহি লয়বিক্ষে- ভক্ত এইরূপে বহু প্রকারে জল্পনা করিতে লাগিলে শ্রীভগবান্ তাহার প্রতি অতিশয় প্রসন্ন হইয়া পুনরায় প্রেয়সী প্রভৃতির ভাব-সম্বলিত সেই ভক্তকে যথা সম্ভব অভীষ্টানুরূপ তাৎকালিক স্ববিলাস-বিলক্ষিত শ্ৰীবৃন্দাবন-কল্পবৃক্ষ, মহাযােগপীঠে স্বপ্ৰেয়সী-বৃন্দমুখ্যা বৃষভানন্দিনী, এললিতাদি তাহার সখীগণ তাহাদের কিঙ্করীসকল, সুবলদি নিজ বয়স্যগণ, স্বল্যমানা দাসীগণ, যমুনা, গােবন, ভাণ্ডীবন নন্দীশ্বরগিরি, তত্ৰত্য জনকজননী, ভ্রাতা, আত্মীয় দাসাদি সমস্ত ব্রজবাসীকে রসােৎকর্য সহকারে দর্শন করিয়া ঐ ভক্তকে দর্শনাদি-জনিত আনন্দ-জনিত মহামােহের তরঙ্গিণীতে নিমগ্ন করিয়া স্বয়ং পরিকরগণের সহিত অন্তর্হিত হন। তদনন্তর ঐ ভক্ত কিয়ৎক্ষণ পরেই জাগরিত হইয়া পুনরায় প্রভুর দর্শনপ্রার্থী হইয়া নয়ন উন্মিলন করিয়া তাহাকে না দেখিতে পাইয়া অশ্রুজলে নিজে অভিষিঞ্চিত হইতে থাকেন এবং মনে করেন “আমি কি স্বপ্ন দেখিলাম? তাহা হইলে শয্যালস্য বা নয়নের আবিলতা থাকিত, তাহা ত নাই ; অতএব স্বপ্ন নহে। ইহা কি কাহারও মায়া ? তাহাও ত নহে; কারণ, এতাদৃশ আনন্দ কখনও মায়িক হওয়া অসম্ভব, ইহা কি আমার চিত্তের ভ্ৰমময়ী কোনও বৃত্তি, তাহাও ত নহে; কারণ, তাহা ।

গী খুঁটি মাধুৰ্যাকাদম্বিনী", ৮১ পাদ্যনমুভবাৎ, কিংবা মনােরখপরিপাক প্রাপ্তোহয়ং বস্তুবিশেষঃ, নহি নছি ঈদৃশপদার্থস্য সীমোহপি কদাপি মনোরথেনধিরেচুমশকত্বাৎ ফুর্তিলব্ধাহয়ং ভগবৎসাক্ষাৎকারো বা, নহি নহি সম্প্রতি স্ম্য মাণাভ্যঃ পূর্বপূৰ্বোঞ্ছতভ্যঃ ফুর্তিভ্যেস্যাতিবৈলক্ষণাৎ, ইত্যেবং বিবিধমে সংশয়ান, শয়ান এব ধূলিখোরণিধূসায়াং ধরণী, যথা তথাস্তু পুনরপি তদ্দর্শনং মে ভূয়াদিতি মুহুরাশাসনােহপি তদনু- পলভমান খিদন, লুঠন, রুদন, গাত্রাণি ব্রণয়ন, মূর্ল্ডয়ন প্ৰবুখ্যমান উত্তষ্ঠ পবিশন্ অভিশন, ক্রোশমুন্মত্ত ইব ক্ষণং তৃষ্ণীমাসীনে মণীষীব ক্ষণং লুপ্তনিত্যক্রিয়য় ভ্রষ্টাচার ই ক্ষণম্ অসম্বদ্ধং প্রলাপ গ্রহগ্রস্ত ই ক্ষণং কস্মৈ চিদংশ্বাসকায় নিভৃতং পৃচ্ছতে ভক্তজনায় স্ববন্ধনে স্বানুভূতমর্থং ব্রুণ, ক্ষণং প্রকৃতিস্থ ইব সখে ভূরিভাগ ; । হইলে ত চিত্তে লয়বিক্ষপাদিস অনুভব হইত—তাহা ত হইতেছে না। তবে কি ইহা আমার মনেভিলাষের পরিণাম প্রাপ্ত কোনও স্বকল্পিত বস্তুবিশেষ? না তাহাও ত নহে; কারণ, ঈদৃশ পদার্থের সীমাও কখন মনােরথে আরােহণ করিতে সমর্থ নহে। তবে কি ইহা স্মৃৰ্ত্তিলব্ধ ভগবৎসাক্ষাৎকার ? তাহাও হইতে পারে না; কারণ, পূদিপূৰ্ব্বোদ্ভূত ক্ষতিসকল ত স্মরণ আছে। তাহা হইতে ইহা অতিশয় বিলক্ষণ।” এই প্রকার বিবিধ প্রকার সংশয়ের বশবর্তী হইয়া ধরণীতে পতিত হইয়া ধূলিধূরত হইয়া পুনঃ পুনঃ তদ্দর্শন প্রার্থনা করিয়া ও না পাইয়া তিনি খেদ করিত করিতে ভূমিতে লুঠন ও নােদন , করিতে করিতে গাত্ৰক্ষত করিয়া মূৰ্ছা জাগরণ উখান উপবেশন অভি প্রবণ করিতে করিতে উন্মত্তের ন্যায় উচ্চৈঃস্বরে কখনও ক্রন্দন, কখনও বা জ্ঞানীর ন্যায় ক্ষণকাল তৃষ্ণীম্ভাব অবলম্বন করেন ; ভ্ৰষ্টাচারের ন্যায় । কখনও বা নিত্যক্রিয়ার লােপ করেন, কখনও কখনও বা গ্রহাবিষ্ট ব্যক্তির ব্যয় অসম্বন্ধ প্রলাপ করিতে ঝাকেন, কখনও বা কোনও ভক্ত আত্মীয়, আশ্বাস প্রান করিতে আসিয়া নিভৃতে জিজ্ঞাসা করিলে তাহাকে নিজের অনুভুত বিষয় । বলিয়া থাকেন। সেই ব্যক্তি যদি যুক্তিদ্বারা তাহাকে বুঝাইয়া দেন যে, “সখে!

৮২। মাধুৰ্যকাদম্বিনী। (৮মী বঁটি। ভগবৎসাক্ষাৎকার এবয়ং তবভবদিতি তেন যুক্ত। প্রতোষ্যমাণে। হৃষ্যন্নের, হন্ত ভর্তি কথমেষ পুনন ভীতি ৰৈৰ বিষীদ, হন্ত কস্যচিন্মহাভাবচূড়ামণেমহাভাগবতস্য কাপি কৃপাসিতানপরিণতি বাদুর্ভগস্যাপি মে ভগবৎপচিৰ্যায়া ঘুণাক্ষ ন্যায়েন বা কম্মিংশ্চি- দিবসে কথঞ্চিৎপন্নায়। নিচ্চৈতবতায়াঃ ফলমিদং লা,কিংবা বৈগুণ্যসমুদ্রে ক্ষুদ্রে ভগবদনুকম্পায়া নিরুপাধিত্বমেব মূর্ত প্ৰকটীবভূ, হন্ত হন্ত কেন বা অনির্বচনীয়ভাগেন স্বয়ং হস্ত প্রাপ্ত। নিধিরজনি, কেন বা মহাপরাধেন ততশ্চত ইতি, নিশ্চেতুং নিশ্চেনোহহং ন প্রভবামি তদ্বাধবাধিধী, ক যমি কি বা কারাম মুলায়ম কমুহ বা পৃচ্ছামি মহাশূন্যমিব নিরাত্মকমিব নিঃশরণমিব দাপ্পষ্ট মিব মাং নিগিলদিব ত্রিভুবনমবললকে। লােকেভ্যে। নিত্য ময়ি বহু ভাগ্যে তােমার ভগবৎসাক্ষাৎকার হইয়াছে” তবে ক্ষণকালের জন্য প্রকৃতি স্থের ন্যায় হইয়া প্রবােধবাক্যে হৃষ্ট হইয়া থাকেন। পুনরায় হায় হায়! আমার পুনরায় কেন সেই রূপ দর্শন হইলনা” ভাবিয়া বিষগ্ন হইয়া বলিতে থাকেন-“হায় ! কোনও মহানুভাবচূড়ামণি মহাভাগবতের কৃপার ফলে আমার এরূপ হইয়াছিল, আমি নিতান্ত দুর্ভাগ্য বলিয়া কোনওদিন কখনও বিন্দুমাত্র কাল শ্রী গবানের পরিচর্যা করি নাই, কোনও দিবসে কোনও প্রকারে প্রাপ্ত অহৈতুকী কুপার ফলেই বােধ হয় উহা হইয়াছিল, অথবা বৈগুণ্য-সমুদ্র অবস্থিত অতি ক্ষুদ্র আমাকে में প্রকায় করুণা করিয়া শ্রীভগবানের করুণা যে নিতান্তই নিরুপাধিকা, তাহাই দর্শন করাইবার জন্য আমাতে মৃত্তিমতী হইয়া প্রকাশিতা ইলেন হায় হায়, কোন্ অনিচনীয় ভাগ্যে এই নিধি আমার করতলগত হইল এবং কোন্ পরাপের ফলেই বা ইহা হস্তচ্যুত হইল ? আমি নিতান্ত অজ্ঞ এ বিষয়ের কিছুই নিশ্চয় করিতে সমর্থ হইতেছিনা, এই প্রকার বিপদে আমার বুদ্ধিবৃত্তি স্তব্ধ হইয়াছে, আমি কোথায় যাইব? কি করিব, উপায় তাহাই বা কাহাকে জিজ্ঞাসা করিব ? মহাশূন্যের ন্যায়, আত্মীয়স্বজনহীনের ন্যায়, নিরাশয়ের ন্যায়, দাবানলে দগ্ধপ্রায়ের ন্যায় আমাকে যেন ত্রিভুবন গ্রাস ?

মী বৃষ্টি ] মাধুৰ্যকাদম্বিনী। দেখঃ ক্ষণং বিবিক্তে প্রণিধানীতি। তথা কুন্ হা প্রভা সুন্দর মুখারবিন্দমাধুৰীক সুধা-ধরাধুৰীণ-ভাবিত-বাসিত-নিখিল-বিপিন বিগ্রহবর-পরিমল-বনমাল-চটুলতালিঙ্গাল পুরপি ক্ষণ মপি তত্রভবন্ত দৃশ্যাসং; সকদেব চ স্বাদিত এস, স্বা'দই-তন্ম কোন পুনয়েমভ্যর্থয়িষে ইতি বিলপন, লুঠ সন্ মূছ’মুস্মন্ প্রতি নিশমে তং পন্ হন্ শ্লিষ্য হসন্নটন্ গায় পুনরপক্ষমাণা- হনুতপ রুদন্ অলৌকিকচেষ্টিত এবায়ুসি নয়ন, স্বদোেেহ্যপ্তি নাস্তিক নানুসন্দধতে। ৩তশ্চ সময়ে পঞ্চতাং গচ্ছন্ত স্বদেহং ন জানন, ময়াভর্থিত করিতে আসিতেছে –অামার এইরূপ বোধ হইতেছে। এই লােকসঙ্গ হইতে দূর হইয়া নির্জন প্রদেশে অবস্থিত হইয়ং ক্ষণকাল এই বিষয়ে প্রণিধান করি।" এই বলিয়া নির্জনে যাইয়াও ভক্ত বলিতে থাকেন, “গ প্রভাে! হে সুন্দর-মুখার- বিন্দ-মাধুরী-পারি, হে পরমাতময়। নিখিল বিপিনের শ্রীধারণকারী আপনার শবিগ্রহের সৌন্দর্যে শ্রীবৃন্দাবন ভাবিত ও বাসিত হইতেছে। আপনার গলদোলিত বনাব পরিমলে অলিকুল চঞ্চল হইয়া উহার চতুর্দিকে বিচরণ করিতেছে, আমি কেমন করিয়া পুনরায় ক্ষমাত্রের জন্য ও আপনার দর্শন লাভ করিব? আমি একবার মাত্র আপনার মাধুৰ্যামৃত আস্বাদন করিয়াছি, আমি আপনার ঐ অপরূপ মাধুৰ্য আস্বাদন করিবার জন্য কি আর পুনরায় আপনার অভ্যথনা করিতে সমর্থ হইবনা?” ভক্ত এই প্রকার বিলাপ করিতে করিতেদীর্ঘ- শ্বাস ত্যাগ করিতে করিতে চ্ছাপ্রাপ্ত ইতে থাকুন,উন্মাদ গ্রস্ত হইয়া যান এবং প্রতিদিকে তাহাকে দর্শন করিয়া আনন্দে বিভাের হইয়া কখনও যেন তাহাকে আলিঙ্গন করিয়া হাসিতে থাকেন, কখনও বা ভ্রমণ করিতে থাকেন, কখনও গান করিতে থাকেন, আবার কখনও বা তাহাকে পুনরায় না দেখিতে পাইয়া অনুতাপ ও রােদন করিতে থাকেন। তিনি এইরূপ অলৌকিক চেষ্টাপরায়ণ হইয়া আয়ুষ্কাল অতিবাহিত করিতে করিতে নিজের দেহও থাকিল কিনা তাহার অনুসন্ধান করেন না। তার ভক্ত, যথাসময়ে শরীর মগ্ন করিয়া নিজ শরীক মাধুৰ্যকাদম্বিনী। f৮মী কৃষ্টি। এব, করুণাবরুণালয়স্তথৈব প্রত্যক্ষীয় সাক্ষাৎ সেবায়াং মাং নিযুঞ্জনঃ স্বভনং নয়তীতি জান কৃত কতো ভক্তে। ভবতীতি। আদৌ শ্রদ্ধা ততঃ সাধুসঙ্গেহপ ভজনক্রিয়া। ততােহনর্থনিবৃত্তিশচ, ততো নিষ্ঠরুচন্ততঃ অসস্তিতো-ভাবস্ততা প্রমভুদঞ্চতি। (১)ইতাৰ্থ: সাধু বিবৃত। অতােহপি যথােত্তরস্বাদুবৈশিষ্ট্য ভাজিত-স্নেহমান-প্রণয়-রাগানুরাগ, মহাতাকাখ্যানি ভক্তিকল্প পল্ল্যাঃ উৰ্দ্ধাৰ্দ্ধল্লগামীনি ফলানি সন্তি। ন তেষামাস্বাদ-সম্পদেষ্ণশৈত্য- সংসসাধক দেহে। ভলেদিতি ন তেষাং তত্র প্রকট্যসম্ভব ইতি ন তা হ বিবৃতান। কিঞ্চেই রুচাসকিন-প্রেম লক্ষাি সাক্ষাদমুভব-গোচরতা প্রাপিতে তর সন্ত্যপি ভূরীণি প্রমাণানি নে।পন্যস্তানি। প্রমাণাপেক্ষায়। শরীর সম্বন্ধে কোন জ্ঞান না থাকায় ক্ষমার দ্বারা অ ভর্থিত হইয়া সেই করুণাসাগর প্রত্যক্ষীভূত হইয়া অামাকে সাক্ষাৎ সেবায় নিযুক্ত করিয়া স্বভবনে লইয়া যাইবেন ইহা নিশ্চিত বুঝতে পাবিয়া কত কত হইয়া থাকেন। প্রথমে এদা, তৎপরে সাধুসঙ্গ, তৎপরে জনক্রিয়া, 'দন অন*নিবৃত্তি, অনন্তর ভজনীয় বিষয়ে নিষ্ঠা এবং তৎপরে তাকাতে রুচি উদয় হয়, তৎপরে অাসক্তি, তদনন্তর ভাব এবং তদনন্তর প্রেমে উদয় হইয়া থাকে। শাস্ত্রে এই যে ক্রমের কথা বলিয়াছেন ইহা ভালই করিয়াছেন। অনন্তর ইহারওপর উত্তরােত্তর স্বাদুবৈশিষ্ট্যশালী স্নেহ মান প্রণয় রাগ অনুরাগ মহাভাব নামক ভক্তি-কল্পলতার উৰ্ব্বপল্লবে জাত ফল আছে। এই সাধকদেহ তাহাদিগের আস্বাদ-সম্পদের উষ্ণত, শৈত্য ও সংসর্দ সহ্য করিবার যােগ্য নহে। সুতরাং এই দেহে তাহাদের প্রকাশ অসম্ভব বলিয়া তাহানের কথা এস্থলে রিবুত হইল না। পরন্তু এই প্রবন্ধে রুচি, অাসক্তি ভাব ও প্রেমের লক্ষণ নির্দেশ। তাহাদের সাক্ষাৰ অনুভবগোচরতার কথাই বর্ণিত হইয়াছে। ইহার বহু প্রমাণ থাকিলেও, তাহা এস্থলে উপন্যস্ত হয় নাই। প্রমাণের:অপেক্ষা রনি ০১)গিগি গিঞ্জেকা ১১

মীষ্টি মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী।
হনুতপারুপািদকৎ।। কিঞ্চ তাপেক্ষাণি চেংগুলিং
স্তদা রুমেহমতেতি(১১#চৌ: গুণেষু শক্তংবায়তং বা
পুষিয়ে২) ইত্যাসক্তে-প্রিয়বস্য মমভধতিরিতি
(৩) 'রতো প্রেমণতিত-নিক্ষিপুলকঙ্গোহতিনিবৃত ইতি’ মেণি
“তা যে পিবন্ত্যবিতৃষা:নৃপ গাঢ়কর্ণৈস্তান, ল স্প্যশন তৃদু ভয়-
শােক-মােহ ইতিরুচারুভাসে “গায় বিজ্জা 'বিচরেদস”
অাসক্তভাবে “যথা ভ্রাম্যতায়াে "ব্রহ্মন স্বয়-
মাকসন্নিধৌ। তথা মে 'ভ্রাম্যতে চেতপাণেষ দৃচ্ছয়েতি”
রত্যনুভাবে এবং ” ইত্যত্র ‘‘হসাথে। রোদিতিতি গায়-
তীতি” প্রেমোহভাবে “আহূত ইৰ মে শীঘ্রং দর্শন যাতি চেতনীতি
৪
।
অনুভব-পথের কর্কশতাই অনুভূত হইয়া থাকে। তথাপি যদি কেহ প্রমাণের
অপেক্ষা করেন, তাহার জন্য বলা হইতেছে তস্মিন্তুদা লন্ধরুচে মহামতেঃ”
শ্ৰভাগবতের এই শ্লোকে রুচির, গুণেষু শক্তং বন্ধায় রতং বা পুসিমুয়ে”
এই শ্লোকে আসক্তির “প্রিয়বস্য মমভবতি” এই ' শ্লোকে তির
“প্ৰেমাতি ভর-নিভিন্ন-পুলকাঙ্গোহতিনিবৃতা” এই শ্লোকে প্রেমের “তা যে
পিরস্ত্যবিতৃষােপ গাঢ়কর্দৈস্তান্ নস্পৃশস্ত্যনতৃড় ভয় শেকমোহ” এই শ্লোকে
রুচ্যদুভবের “গায় বিলম্ফো বিচৱেদাঙ্গ” এই শ্লোকে অাসনুভাবের -
“যখা ভ্রাম্যয়ে ব্ৰহ্মন স্বয়মকসম্নিদো।
তথা মে ভ্রাম্যতে চেতশ্চক্ৰপণ্যেদৃচ্ছ।”
এই শ্লোকে রত্যনুভাবের,
এবংব্রত প্রিয়নামকীর্তা হসত্যবাে
এই শ্লোকে সত্যপথ ব্রোদিতি রোতি গায়তীতি’ প্রভৃতির দ্বারা প্রেমের
অনুষ্ঠাবের, “আহত ই মে শীং দর্শনং ঘাতি চেতস।” এই শ্লোকে সেই সেই
স্থানেত্তির, “পস্তিতে মেরুচিরাণ্যসন্তু”
-৯৯) ১৯২৭
(২) ভাং ৩২d
( জ ১

মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী । [ ৮মী বৃষ্টি। তত্র ৱী “পশ্যন্তিতে মেরুচরণ্যম্ব সন্ত(১)ইত সাক্ষাদর্শনেতদশ. নীয়াবয়বৈরুদারবিলাসহাসেক্ষিতশামসূক্তৈঃ" ২।" ইতি লব্ধদর্শনস্য স্বভাবে ব'সে যথা পরিবৃতং মদিরামদাঙ্ক ইতি চেষ্টায়াং প্রমাণানু , সন্ধায় বিচারয়িতলামি অত্রদ তত্ত্ব-অহংকারস্য দ্বে বৃী তন্ত। মমতা চৈতি। তয়োজ্ঞানেন লয়ো মােক্ষ দেহগহাদিষয়ছে বন্ধ। অহং প্রভোজনঃ সেকোহস্মি সেবো মে প্রভুর্ভগবান্ সপরিকর এ রূপ-গুণমাধুরী-মহেদধরিকি পার্ষদরূপবিগ্রহভগবদ্বিগ্রগদি- বিষয়ত্বে প্রেম সহি বন্ধ-মোক্ষ্যাভ্যাং বিলক্ষণ এর পুরুষার্থচুড়ামণি- রিতুচ্যতে। তক্রম। অহামমতয়াের্বাহারি ক্যামেৰ বৃত্তাপতি- সান্দ্রায়াং সাং সংসার এর সত্যং বৈষ্ণসে ভূয়াসং প্রভু মে ভগবান, সেসো ভকতি যদৃচ্ছ্যাং শ্রদ্ধাকণিকায়ং সতাং দুক্তে এই শ্লোক সাক্ষণদর্শনের দৈর্শীয়ায়কৈারবিলাস-হাসেক্ষত বানসূ”ৈ এই শ্লোকে লন্ধৰ্শন ভক্তের অবস্থার “স্বভাবে বাসে যথা পরিবৃতং মদিরা মাহ্ম” এই শ্লোকে চেষ্টার প্রমাণ আছে। উক্ত শ্লোকগুলি অনুসন্ধান করিয়া উহার প্রাণের বিচার করা যাইতে পারে। ইহার মূল তত্ত্ব এই যে, অহঙ্কারের দুইটা বুতি আছে--অহা ও মমতা। জ্ঞানের দ্বারা উহার লয় হইলে জীবের গােক্ষ হয় এবং দেহগেহাদি বিষয়ে উহার স্থিতি ঘটলে জীবর বন্ধন ঘটিয়া থাকে। আমি প্রভূব নিজ জন, আমি প্রভুর সেবক-সপরিপকর রূপ, গুণ ও মাধুর্যের মাসাগর প্রভু ভগবান আমার সেব্য—এই প্রকারে ভগবানের পাষ-রূপ বিগ্রহ প্রভৃতি ভগবধিগ্রহাদি বিষয়ে যে প্রেম জন্মে, সেই প্রেমকেই বন্ধ ও মােক্ষের অতীত পুরুষার্থচুড়ামণি নামে অভিহিত করা হইয়া থাকে। তাহার ক্রম বলা যাইতেছে। অহা ও মমতা ব্যবহারিকী বৃত্তিতে অত্যন্ত গাঢ়তা প্রাপ্ত হইলে “আমি সংসারে থাকিয়াই বৈষ্ণুর-ইর, প্রভু ভগবানই আমার সেব্য হউন”, } (১) ভাং ৩২৩৫ fub et of ৯৮মী বৃষ্টি ] মাধুর্ণাকাদম্বিনী। ৮৭ পারমার্থিকত্বগন্ধ ভক্তাবধিকার। তত: সাধুসঙ্গে সতি পারমাথিকত্ব- গন্ধস্য সান্দ্রত্বং ততো ভঙ্গনক্রিয়ায়ামনিষ্ঠি তায়াং সত্যাং হয়ে পরমার্থে বস্তুকে দেশব্যাপিনী বৃত্তি ব্যবহারে প্রায়কোব। রুচাবুৎপন্নায়াং পরমার্থ এবাত্যন্তিী বৃত্তির্ব্যবহারে তু একদেশ- ব্যাপিনী। আসক্তে জাতায়াং পরমার্থে পূর্ণ ব্যবহারে তু গন্ধমত্রী। ভাসে তুপরমার্থ একাত্যন্তিকী বৃত্তির্ব্যবহারে তু বাধিতানুবৃত্তিায়েনা- ভাসময়ী। প্রেমণি তয়োরহামমতয়ােবৃত্তি পরমার্থে পরমাত্যন্তিকী ব্যবহারে নৈকপীত। এলঞ্চ ভজনক্রিয়ায়ং ভগবদ্ধ্যানং বাৰ্তান্তর- গন্ধি ক্ষণিকমের। নিষ্ঠায়াং তদ্ধানে বাৰ্তান্তরভাস। রুমে বস্তর রহিমের স্ক্যান বহুকালব্যাপি। আসক্তো তদ্ধ্যানম- এইরূপ যথাভিমত শ্রদ্ধাকণিকা জন্মিলে, উহার পারমার্থিকতু-গন্ধ-প্রযুক্ত ঐরূপ জীবের ভক্তিতে অধিকার জন্মে। তদনন্তর সাধুসঙ্গ ঘটিলে পারমার্থিক গন্ধের গাঢ়তা জন্মে, তৎপরে অনিষ্ঠিত ভজন ক্রিয়ার আরম্ভ হইলে অন্তা ও মমতার পরমার্থ-বস্তুতে একদেশরূপিণী এবং ব্যবহারিক বিষয়ে পূর্ণ বৃত্তি জন্মে। ভজনক্রিয়ায় নিষ্ঠা জন্মিলে উহার বৃত্তি পরমাথ-বিষয়ে বহুলদেশ- ব্যাপিনী ও ব্যবহারিক বিষয়ে প্ৰয়িকী হয়। রুচি উৎপন্ন হইলে ঐ বৃত্তি পরমার্থ-বিষয়ে অত্যন্তিকী ও ব্যবহারিক বিষয়ে একদেশব্যাপিনী হইয়া থাকে। পরে আসক্তি উৎপন্ন হইলে ঐ বৃত্তি পরমার্থ-বিষয়ে পূর্ণ ও ব্যবহারিক বিষয়ে গন্ধমাত্রাবশিষ্টা হইয়া থাকে। তদনন্তর ভাবের উদয় হইলে ঐ বৃত্তি পরমার্থ-বিষয়ে আত্যন্তিকীই থাকিয়া যায়, পরন্তু ব্যবহার বিষয়ে বাধিবৃত্তি-ন্যায়ে আভাসময়ী হইয়া থাকে। প্রেম জন্মিলে অহা ও মতাবৃত্তি পরমার্থ বিষয়ে পরমাত্যন্তিকী ও ব্যবহার বিষয়ে একেবারে সম্বন্ধ রহিত হইয়া থাকে। এই প্রকার ভজনক্রিয়ার আরম্ভে ভগবদ্ধান বাৰ্তান্তর-গন্ধযুক্ত ও ক্ষণিক হইয়া থাকে, নিষ্ঠা হইলে সেই ধ্যানে বাৰ্তান্তরের আভাস মাত্র থাকে, রুচি জন্মিলে ঐ ধ্যান বার্তান্তরহিত হইয়াবহুকালব্যাপী হইয়া থাকে। আসক্তি জন্মিলে সেই ধ্যান অতিমাত্র গাঢ় হইয়া থাকে।

৮. মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী। (৮মীবৃষ্টি তিসাম ভাবে ধ্যানমামেব ভগবত ঘূর্তি।. প্রোণিকূৰ্কের্বৈ লক্ষ দর্শন ঋেষ্টি । মাধুৰ্যবারিধঃ কৃষ্ণচৈতন্যাদুদ্ধতৈ রসৈঃ। ইয়ং বিনোতু মাধুৰ্য্যময়ীকাদম্বিনী জগৎ। ৩। ইতি শ্ৰবশ্বনাথ চক্রবর্তি-বিরচিতায়া: মাধুৰ্যকাদম্বিন্যা পূর্ণ- মনোরথে। নামাষ্টমৃত বৃষ্টি। ৮। সমাপ্ত। মাধুর্য কাদম্বিনী। ভাবে ধ্যান মাত্রই ভগবৎ-ফুৰ্ত্তি হইয়া থাকে। প্রেমেও ফুর্তির বৈলক্ষণ্য ঘটিয়া থাকে এবং শ্রীভগবদ্দর্শন হইয়া থাকে। অন্বয়-কৃষ্ণচৈতন্মাৎ মাধুৰ্যবারিধে উদ্ধতৈঃ রসৈঃ ইয়ং মাধুৰ্য্যময়ী কাদম্বিনী জগৎ বিনােতু । অনুবাদ—শীকৃষ্ণচৈতন্যরূপ মাধুৰ্য্য-বারিধি হইতে উদ্ধত রসের দ্বারা এই মাধুর্যময়ী কাদম্বিনী জগৎকে তৃপ্ত করুন। শ্ৰীশ্ৰীমহাপ্রভু নিখিল রসাতমূর্তি ; তাঁহার মহামাধুৰ্য্যময় লীলাসমুদ্র হইতেই মাধুৰ্যকাদম্বিনীর বর্ণিত বিষয়াদির অনুভব সিদ্ধ হইয়াছে, সুতরাং তাহারই বিস্তারিত লীলমাধুরী হইতে উদ্ভূত এই মাধুৰ্যকাদম্বিনী অমৃত বর্ষণ করিয়া ত্ৰিতাপদগ্ধ নিখিল জগৎকে পরিতৃপ্ত করিবে-গ্রন্থকার এইরূপ আশা করিতেছেন । ৩। ইতি মহামহােপাধ্যায় বিশ্বনাথ চক্রবর্তি-বিরচিত মাধুৰ্য্যকাদম্বিনী গ্রন্থে পূর্ণমনােথ নামক অষ্টম্যমূতবৃষ্টি। ৮। হিতবাদীর অন্যতম সম্পাদক শ্রীসত্যেন্দ্রনাথ বসু, এম-এ, বি-এল, কর্তৃক অনূদিত ও সম্পাদিত। ২৪৮। ১৩৩৩ বাং। মাধুখকাদম্বিনী:সমাপ্তা

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Shri Madhurjya-kadambini

Author
Basu,satyendranath Ed.
Title
Shri Madhurjya-kadambini
File name
Shri Madhurjya-kadambini
Text
OCR done
Citation
1926
Published
2010/01/3
Publisher
Radhagovinda Nath
Language
Sanskrit
Pages
118
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Verse
Keywords
Basu,Satyendranath
DLI number
511417
Barcode
4990010018565.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
GnvVaT5B8jh
Download PDF

Shri Madhurjya-kadambini