Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Sadbhab Kusum Ed. 2nd

Rahaman,sk Habibar · 2009/11/29

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

সস্তাব কুসুম
সৗদীৰ কালাম
শেখ হবিবর রহমান সাহিত্যরত্ন এল, টি,
মূল্য • ছয় আনা মাত্র।

প্রকাশক
শেখ ফজলুর রহমান,
সহকারী সেক্রেটারী,
পুলুশ আঞ্জামনে হেময়তল ইসলাম,
পােঃ বুনাগাতি, যশােহর।
প্রাপ্তিস্থান :
১। মােহাম্মদ ফাজেল এণ্ড সন্স
১৩৯ নং মেছুয়া বাজার স্ক্রট, কলিকাতা।
২। মখদুমী লাইব্রেরী
১৫নং কলেজস্কোয়ার, কলিকাতা।
৩। মােহাম্মদী বুক এজেন্সী
২৯নং আপার সারকুলার রোড, কলিকাতা
প্রিন্টার্স
মােহাম্মদ খায়রূল আনাম খা
মােহাম্মদী প্রেস
২৯ নং আপার সাকুলার রােড, কলিকাতা।

সাইদ আন্নাদ কলে সাদী বজায়ে,
কে তওফিরে মােলক আন্ত, ও তদবি ও রায়ে
ভাগ্যবান জনে
সাদীর কালাম
অনুযায়ী সদা করে কাজ,
জ্ঞান উপদেশ,
দেশের কল্যাণ
সকলি পাইবে এরি মাঝ ।

No text on this page.

গৌরবােন্নত ফুলতলা মাদ্রাসার সংস্থাপক
সমাজের অক্লান্তকৰ্ম্মী
আমার একান্ত শ্রদ্ধাভাজন জনাব
মৌলভী মােহাম্মদ কাছেম সাহেবের

No text on this page.

প্রস্তাবনা মূল পারস্যের অমর কবি শেখ সাদীর (আঃ) নাম কে না শুনিয়াছেন ? তাঁহার গ্রন্থগুলি সমগ্ৰ জগতে দীর্ঘকাল ধরিয়া সর্ব সাধারণ কর্তৃক যেরূপ। বিস্তৃত ভাবে পঠিত ও আদৃত হইয়া আসিতেছে অন্য কোন দেশের কোন কবির গ্রন্থ তদ্রুপ হইয়াছে কি না সন্দেহ। দৈনন্দিন জীবনের প্রত্যেক অবস্থায় শেখ সাদীর বচনাবলী নীতি উপদেশ প্রদান করে। উক্ত মহাকবির প্রসিদ্ধ গ্রন্থ গোলে হইতে কতকগুলি নীতি- উপদেশ এই ক্ষুদ্র পুস্তক “সদ্ভাব কুসুম বা সাদীর কালামে প্রকাশ করা হইল। উপরে বয়াতটি বাঙ্গালা অক্ষরে লিখিয়া নিম্নে কবিতায় তাহার অনুবাদ দেওয়া হইয়াছে। অনুবাদে ভাবের ঐক্যের দিকে অধিকতর দৃষ্টি রাখিয়াছি। আমার এই অনুবাদে মূল বয়াতের সৌন্দৰ্য্য যে বহু পরিমাণে ক্ষুন্ন হইয়াছে তাহাতে সন্দেহ নাই। কিন্তু আমি মূল সৌন্দর্য রক্ষার জন্য চেষ্টার ত্রুটী করি নাই, ইহাই আমার একমাত্র কৈফিয়ত। বাঙ্গালা অক্ষরে ফারসী বয়াত ঠিক ভাবে লিখিত হওয়া সম্ভবপর নহে। কোন ফারসী ভাষাভিজ্ঞ ব্যক্তির সাহায্যে পড়িলে উচ্চারণ নিভুল হইতে পারিবে। স স্থলে ছ এবং অ স্থানে আরবী আয়েন অক্ষরের ন্যায় উচ্চারণ হইবে। আশাকরি আমার এই সামান্য পুস্তকখানি সুধিবৃন্দের স্নেহ-দৃষ্টি লাভে ধন্থ হইবে। সেপ্টেম্বর—১৯২৫ বিনীত শেখ হবিবর রহমান দ্বিতীয় সংস্করণের বিজ্ঞাপন দয়াময় খােদাতালার অনুগ্রহে “সদ্ভাব কুসুম বা সাদীর কালাম” নিঃশেষিত হওয়ায় উহা দ্বিতীয়বার মুদ্রিত হইল। বর্তমান সংস্করণে দু একটি অনুবাদের সামান্য বা সম্পূর্ণ পরিবর্তন করিয়াছি। কবিতাগুলি যাহাতে সাধারণ পাঠকগণের পক্ষে পড়িবার সুবিধা ও তৎপ্রতি লক্ষ্য রাখিয়া যতি বিভাগ করিয়া মুদ্রিত হইল। নভেম্বর ১৯২৭। বিনীত শেখ হবিবর রহমান

সব কুসুম
সাদীর কালাম
আয় কত আজ, খেয়া ও কেয়া ও গুমান্ ও অহম্
অজ হচে গােফল, শনিদে ও খানায়ে
দফতর তামাম্ গশত ও পায়। বসি ও
মা হামচুনা দৰু আউওল অফে তু মালা মেম্।
যা কিছু শুনেছি যা কিছু বুঝেছি
তার চেয়ে তুমি উপরে,
আমার কল্পনা আমার খেয়াল
পারে না তােমারে
ধরিতে ;
জীবন আমার
আসিল ফুরায়ে
হইল অসাড়
লেখনী
আজিও যে আমি তেমনি অক্ষম
তব গুণ গান
করিতে ।

সাদীরকালাম
২
বগে দরবতানে সবজ,
দ, নজরে হাইয়ার
হ গরকে দফ, ভরি,
মা রেফতে কেন্দগার!
সবুজ গাছের
প্রত্যেক পাতাটা
জ্ঞানী মানবের নয়নে
বিরাট দর্শন, লিখিত তাহায়
বিভু-পরিচয়
গগাপনে।
বালাগওলা বে কামালিহী
কাশাফাদ্দোজা বে জামালিহী
হাসনত, জামিয়ে খেসালিহী
সল্লু আলায়হে ও-অলিহী।
।
অতি উচ্চ তব মহিমা মহান
পূর্ণতার হেতু
হে নবী,
তব মাধুরীতে আমার আঁধার
বিদূরিত আজি রে সৰি।

সাদীর কালাম
অতীব সুন্দর
অতীব সুন্দর
তােমার সকল
স্বভাবই!
সহ দমদ উপরে তােমার
হে নবী রসুলে আরবী !
আরাে বাদ ও মাহ, খােরশেদ
ও ফল দুরু কা আন্দ
ভতু নানে বকফ, আরি
ও বগফলত, না খােরি,
হমি আজ বহরে তু
সগশতা ও ফরম বরদা
শরুতে ইনসাফ না বাশদ
কে তু ফর্ম না বরি।
রবি শশী মেঘ বাতাস আকাশ
নিরত করম
সাধনে
এ হেতু, যে, তুমি
পাইবে খােরাক
কিন্তু উদাসীন
রবেনা ;
৩

সাদীৱ কালাম
নিয়ত ব্যগ্র
সকল সংসার
তােমার সেবার কারণে
তুমি যদি সেবা নাহি কর তাহা
হবে না।
কভু সুবিচার
আর মােৰূগে সহ এশকে যে পরওয়ানাবেয়ামুজ
ক মুখ তারা জা শশাদ ও আওয়াজ নয়ামাদ
ই মন্দায়ান দর তলবশনে খবর,
কারা কে খবর শশা খবর, বাজ, নয়ামাদ।
রে প্রভাত-পাখী, প্রেম কি ?
দিবে পতঙ্গম
শিখায়ে,
নীরবে নীরবে জুলিয়া
দেয় আপনায়
বিকায়ে!
বেশী কথা কয়
যাহারা
প্রেমের খবর
রাখেনা
যারা জানে ভবে
প্রেম কি
আছেন তাহারা
লুকায়ে।

সাদীৰ কালাম
গেলে খােল বুয়ে দ হাম রােজে
রসিদ আজ, দন্তে মাহবুবে বদন্ত
বলো গােফত কে মেশকি ইয়া আবিরী ?
কে আজ, বুয়ে দিল। বেজে তু মন্ত।
থােগােফ শন্ গেলে না চিজ বুদ
অলিকে মােদ্দতে বা গুল নিশান্ত
জমালে হামনিশিন্ দম আসর কন্দ,
গরু না মম্ হম খাক কে হস্তম্।
দিলেন বন্ধু
সুগন্ধ-মধুর
কর্দম মােরে
একদা
ছিলাম যখন
নাইতে,
কহিলাম তারে, কস্তুরী কিম্বা
সুবাসে তােমার ব্যাকুল এ মন
তাইতে।
কহিল সে মােরে
আমি গাে
কি তুমি?
তুচ্ছ কর্দম
ফুল সহ ছিনু
কত কাল এক
ঠাইতে;
সঙ্গীর গুণ
পশিয়াছে মম মাঝে গাে
নইলে কাদায় সুবাস কি এত
পাইতে ?
৫

সাদীৱকালাম
৭
চু আহলে রফত কুন জানে পা
চে বর তথত মােৰ চেয়ে খা
এ দেহ হইতে
জীবন যখন
বাহির হইতে চাহিবে
চারু সিংহাসন মৃত্তিকা-আসন
প্রভেদ কিছু না
রহিবে।
বস্ নামােনার জেরে জমী
দফ ফৰ্দাবাদ
কজ হস্তিয়শ, বরুয়ে জমীন
বর নেশ। নাম,
জেলা আন্ত, নামে ফরোখ,
নওশেরও। বখায়ের
গরুচে বসে গােজাতকে
নওশেরও। নাম।
খায়রে কুন য় ফল।
ও গণিমত,শোমার ওমর,
জ। পেশতর কে বা বর, আয়া
কে ফল। না মন্দ।

সাদীৱ কালাম
কতই বিখ্যাত লােক,
এই মৃত্তিকার নীচে
হয়েছেন সমাহিত, কোন চিহু নাই তার,
আছে নাম নওশেরওয়া একি ভাবে সঞ্জীবিত
যদিও গেছেন তিনি, তেয়াগিয়া এ সংসার।
জীবন অমূল্য ধন,
কর কাজ তার আগে
যে দিন শুনিবে সবে—তুমি ভৰে নাই আর
.
তা মর্দ সােখন না গােফ তা বাশ
আয়েব, ও হন, নেহেপ্তা বাশদ
হবে গােম। মবর, কে খালি,
বাশ কে পল, খােত বাশদ।
কোন কথা নাহি
কহিলে
দোষ গুণ রহে
গােপনে;
থাকিবারে পারে লুকায়ে
শার্দল প্রত্যেক
কাননে।
১০
নিম গানে গরু খােদ মর্শে খােল
বলে দোরবেশ। কুন নিমে দিগ।
৭

সাদীর কালাম
হফ ত, এলি গৰু বেগির পাশা
হামচুন দ বন্দে এলিমে দিগর।
আধখানি রুটি খাইলেও
যাহারা খােদার
অপর অর্ধেক
বিলায়ে
দেন দীন হীনে
তাহারা।
মনে মনে সদা ভাবে গাে
কেমনে পারিবে
লভিতে
অপর রাজ্য
সপ্ত রাজপতি
যাহারা।
সহজে
আজ। কজ, তু তরস বেত আয় হাকিম
অগা বা চনুস বরমী বজঙ্গ
আজ। মার বন্ধু পায়ে রায়ে জন
কে তরসদ সরশ রা বােব বসঙ্গ
বিনি কে চু গো আজেজ শওদ
বন্ধু আর ব চাল চশমে পলঙ্গ।

সাদীর কালাম
যে জন তােমারে ডরে
ভর ভর তাহারে
শত গুণ শ্রেষ্ঠ তুমি হইলেও হে জ্ঞানি;
বিষধর এই ভয়ে
কামড়ে গাে রাখালে
কখন তাহার শির বিচূরিবে কি জানি।
বিড়াল মরিয়া হ'লে নখরের আঘাতে,
উপাড়ে বাঘের আঁখি কোন বাধা না মানি।
বনী আদম আজায়ে এ দিগর,
কে দক্‌ আফরিনেশ, জ এক জওহর আন্দ,
চূ অজবে বদর্দ খাওয়ার রােজগা
দিগ অজৰ হার নামান কারা
তুকে মেহনতে দিগর বেগমী
নশায় কেনামত নেহ আদমী!
মানব সকল
একে অপরের
অংশ,
এক আদমের
বংশ।
সবাই যখন
শরীরের যদি
এক ভাগে হয়
বেদনা
হয় গাে অধীর
সকল শরীর,
জান না?

সাদীর কালাম
পরের বিপদে
খাক উদাসীন
কেমনে?
মানব নামের
অযােগ্য তুমি এ
ভুবনে!
জালেমের খােফ দিদম নিজে
গােত
আ ফেনান্ত, খাবশবাের্দা বেহ,
জকে বশ, বেহুতর আজ বেদারি,
আঁচু ব জেন্দেগানী মাের্দা বেহ,
দুপুর বেলায়
নিদ্রিত দেখি জালেমে
কহিলাম ও যে
ফসাদ, সতত
নিদ্রিত থাকা ভাল ওর।
জীবন হইতে মরণ তাহার ভালগো
রজনী তাহার এ জীবনে যেন
কখনই নাহি হয় ভোর।
দোস্ত, মশমা আঁকে দ নিয়ামত জনদ
লাফে ইয়ারী ও বেরাদর খান্দগী
দোত্ত আঁদানম্ কে গির জন্তে দোন্ত
দর পেরেশ। হাল ও মন্দগী।
১০

সাদীৱকালাম
সম্পদে যে জন
সখা বলি দেয়
পরিচয়,
সে জন তোমার
সখা নয় নয়
কভু নয়।
বন্ধু
সেই জন
বিপদ কালে যে
ধরে হাত
হায়ার মতন
তখনাে যে পাশে
পাশে রয়।
বিলি কে পেলে খােদানে জাহ,
সেতায়শ,কন। দন্ত বর বর নেহৰ
আগ রােজগাশ, দ র জ পায়ে
হামা আলমশ পায়ে বর সর নেই।
দেখ নি কি বারা সম্পদশালী
গতে,
করজোড়ে সবে তাহাদের গুণ গাহে গাে ;
কিন্তু অসময়ে পদাঘাত করে সকলে
করুণ নয়নে কেহ না ক্ষণেক গহ গো।
১১

দাদীৱ কালাম
হজর কুন জেদুদে দরুন হায়ে নেশ,
কে রেশে দরু আকেবত, সৰু কুন
বহ ব মকু তা তওয়ানী দিলে
কে আহে জাহানে বহুম্ বর কুন।
বেদনা হইতে
আহত মনের
উরহে,
ভবিষ তােমার
হইবে নষ্ট
এই বেদনার কারণে ;
তিলেক বেদনা দিওনা কাহারে
হবে ধ্বংস চরাচর হে
ব্যথিত জনের
একটি সে আহা বচনে।
হৃদয় বিদারী
১৭
গরু গজলত,রসদ জেখল রঞ্জ,
কে না রহিত, রসদ জে খল না বঞ্জ
আজ খোদা দা খেলাফে দুশমন্ ও দোস্ত
কে দিলে হলে দর, তসরফে উস্ত,
১২

সাদীর কালাম
গৰু চে তীর আজ, কম। হামি গুজার,
আজ.কামান্দার বিন আহলে ধর।
মানব হইতে
মনে যদি পাও
বেদনা,
বিরক্ত তাহাতে
হওনা তাহার
উপরে ;
সবার মালিক
রয়েছেন যিনি
তারে কেন মনে
ভাব না
সবার হৃদয় আছে তাঁর হাত
ভিতরে।
লাগে যদি তীর
তীরের উপরে
রেগ নাহে ভাই
চেয়ে দেখ ঐ
রেগনা,
তীরন্দাজ কে সে
দাড়াইয়া দূরে
কি করে।
১৮
চে সাহায়ে ফেরাও। ও ওমরহায়ে দারাজ
কে খ ব সরে মা বৰু জমীন বখাহ ফত;
চুনাকে শু, বগু,আমাদস্তু, মােলকে বা
বদস্ত হয়ে দিগর হাম চুনি বহ রফত।
১৩

সাদীর কালাম
কত কাল চলে গেছে কত কত মহাজন
নীরবে এ ধরিত্রীর গরভে হয়েছে লয় !
যেমন তাদের হতে
পাইয়াছি রাজ্যধন
তেমনি অন্যের হাতে চলে যাবে সমুদয় ।
পাশাহ, পানে দরবেশ,
গরচে রামশ, বংরেজওলতে উস্তু,
গােপন আজ বয়ে চা নিস্ত
বলকে চওপান বয়ে খেতে উন্তু।
কিছু নয়,
ভিখারী যদিও রয়েছে রাজার অধীনে
রাজা ভিখারীর
সেবক ব্যতীত
রাখালের তরে মেষ পাল কভু
নহে গো
কি হেতু রাখাল ? পালিবারে শুধু মেষ চয়।
২০
ওরানে বাকা টু বাদে সহর বােগােজশত,
তলুখী ও খুশী ও জেশত ও জীবা বােগােজাশত,।
পিন্দাশত নেতা কে জফা বমন কর্দ,
দর গর্দনে উ বেমল, ও আজম বােগােজাশত।

সাদীৱ কালাম
মাঠের সমীর সম সময় সতত ধায়,
সুখ দুখ সেই সাথে
সবি চলি যায় গাে,
করিলে যে অত্যাচার নিমেষেই হবে শেষ
কিন্তু চির তরে রবে তা তব মাথায় গাে ।
না। মন্তু, আঁ বনজ দিকে খেদম,
কেবা পীলে দম। পয়কার জোয়াদ
বলে মন্দ আঁ কসপ্ত, আজ কয়ে তহকিক,
কে চু খশ আদেশ, বাতেল না গােয়।
কভু মহাবীর
বলেন ;
মত্ত করী সহ লড়াই করে যে সাহসে
জ্ঞানিগণ তারে
সেই মহাবীর ক্রোধ যে পারে দমিতে
তার সাথে কভু
তুলনা কাহারো চলেনা
চুকারে বে ফজুলে মন্ ব আয়া
মরা দম্ ওঙ্গে সখ গােফতন্ না শায়াদ,
অগর বিনম্ কে নাবিনা ও চাহ, হান্ত।
আগৰ খামুশ বেনশিনম গােন হাত।

সাদীর কালাম
মম কোন কথা বিহনে
কাজ শেষ যদি
কথা কওয়া তার ভিতরে
সমুচিত মম নয় গাে ;
অন্ধ জনরে দেখিলে
যাইতে কুপের
নিকটে
হবে মহা অপ- -রাধী সে
কেহ যদি চুপ রয় গাে ।
আগা রুজী বদানেশ ক্ষুদে
জনাদা ভঙ্গ, তর রুজী নাবুদে।
বনাদানা চুনা রুজী রেসান
কে দানা আর হয়রান বেমান।
জ্ঞান অনুপাতে
উপার্জন যদি
হত রে
নাদানের মত
গরীব কেহ না
আয় উপার্জন
দেখিয়া
মুখ জনের
জুনিগণ রহে
অবাক হইয়া
বসিয়া!

সাদীর কালাম
২৪
বেজৰ্গশ,
কে নামে
নখানল,
বােজরগী
আহলে খের
বাজেশতি বরদ।
মহৎ তাহারে কভু
মহতের নাম যারা
জ্ঞানিগণ নাহি কয়
অশ্রদ্ধার সাথে লয়।
ই হামা হিচস্ত চু মি বেগােজারদ
বখতো, তখতো, আমরাে নেহি গীওদা;
নামে নেকে রফতগাঁ জায়ে মকুন্
তাবেমান নামে নেকত, পায়েদা!
এ সকল কিছু নয়
যাহাচলি যায় গাে
ধন জন সিংহাসন
ক্ষণস্থায়ী সকলি ।
চাহ যদি তব নাম রহিবেক চিরদিন
রাখ মহাজন নাম পদে তাহা না দলি।
শনিদাম্ কে মর্দানে রাহে খােদা
দিলে দুশমন। না কদ্দ তঙ্গ,
२
১৭

সাদীর কালাম
তাের কয় ময়চ্ছর শও ই মকাম ?
কে বা দোস্তানত খেলাফল্ড, ও জঙ্গ?
শুনেছি খােদার
পথিক যাহারা
ভুলেও
অরাতির মনে
নাহি দেন কভু
বেদনা।
তেমন সাধ্য
হইবে তােমার
কবে গাে?
কামনা।
বন্ধুর সাথে
যুদ্ধ যখন
২৭
হরুকে আয়বে দিগর। পেশে তু আওর ও শাের্দ,
বে গােম। আয়বে তু পেশে দিগরখাহা বাের্দ।
“কহে যে পরের দোষ
তব নিন্দা অপরে সে
তােমার নিকটে
কহে অকপটে।”
২৮
চু
আজ কমে একে বেদানেশী কর্দ
কে মঞ্জলত, বাশ না মেহরা
নমী বিনি কে গাওয়ে দর আলফ, জার
বেয়ায় হামা গাওয়ানে দেহ, ৰা।
৮

সাদীর কালাম
দলের ভিতরে
একজন যদি
ছােট বড় কারাে,
করে দোষ,
সম্মান তাতে
রয় না,
পরশস্যভােজী,
একটি গরুর
কারণে
সমস্ত গ্রামের,
বনাম কিগাে
হয় না ?
২৯
সাহেবদিলে বাসা আমাদ আজ, খানকা
বেশস্ত, অহুদে সােহবতে আহলে তরিক রা
গােত মিয়ানে আলেম ও আবেদ চে ফৰক বুদ
তা কর্দি এখতেয়ার আজ আঁ ই ফরিক রা
গােত, উ গিলিমে খেশ বদর মিরদ জে মওজ,
ই এহদ মি কুনদ কে বে গীরদারী রা ।
দেখিনু সাধকে এক
আপনার দল ছাড়ি
মাদ্রাসা মাঝে আসি
আসন নিয়েছে তার।
১৯

সাদীর কালাম
কহিলাম—কেন ভাই,
ত্যজিলে দোরবেশগণে
তাদের সমান ভবে
আছে কি কেহই আর ?
দিলেন উত্তর তিনি-
সংসার-সাগর মাঝে
ইহারা কেবল মাত্র
নিজেরে করেন পার।
কিন্তু রে বিদ্বান যিনি
তরিতে অপর জনে
সংসার-তরঙ্গ মাঝে
সতত যতন তার।
গৰু গজলত, রসদ তহম্মল কুম্
কে বে অফু আজ, গোনাহ, পাশবি,
আয় বেরাদর চু আকেত থাক,
খা শও পেশ আজ। কে খাবি
২

সাদীর কালাম
করহ;
যদি দেয় কেহ
বেদনা
করহ “সবর” (১)
পাপ হবে দূর
ক্ষমাতে
সতত এ কথা
আখেরে
মিশিবে যখন
মাটিতে
মাটি হইবার আগেতে
মাটির স্বভাব ধরহ।
মাটির মানুষ
মন্ আঁ মুরম্ কে দ পায় বেমাল,
জম্মু কে আজ, নেশ বেনালন্দ,
চিগুনা শােকরে ই নিয়ামত গােজার
কে জোরে মর্দম আজারী নাদাম।
চরণে;
আমি সেই কীট
দলিত সবার
কঁদেনা কেহই কখন আমার কারণে।
শােকর (২) খােদার
করিব আদায় কেমনে;
জালেমের জোর
নাই দেহে মাের
জীবনে।
অবলম্বন।
(২) কৃতজ্ঞতা
২১

সাদীৱ কালাম
খােদ্দ বরায়ে জীন্তন ও জেক কর্দনন্ত
তু মােতক কে জীন্তন বরায়ে থােৰ্দনন্ত।
আহারের তরে কভু
আহার জীবন আর
নহে এ জীবন,
সাধনা কারণ!
চু কম্ খােন্দ তবিয়ত, শশাদ কসের।
চু সখ ভী পেশশ, আয় সহ গীর
আগা তম্ পরওয়ার, আন্দর ফরাধী
তঙ্গী বিন আজ, সতী বেমীর।
চু
সামান্য আহার হইলে অভ্যাস কাহারো
অভাবের দিনে
বেশী কিছু তার হবে না,
পড়ে যদি কভু অভাবে,
জীবন তাহার
বেশীক্ষণ ভাই রবে না ।
উদর-পূজক
৩৪
গােবায়ে মিকি আগার পর দাশতে
চােখমে কঞ্জশ আজ, জাহ। ব দাশতে
২২

সাদীৱ কালাম
হিচ, কস্ রা গেৰ্দে খোদ না গােজাশতে
ই দো শাখে গাও আগার থ দাশতে
বিড়ালের পর থাকিত রে যদি
তা হলে,
পাখীর বংশ
রহিত না আর
মহীতে।
নিরীহ গরুর
শিং পেত যদি রাসভে
পারিত না কেহ
দাপট তাহার
সহিতে।
৩৫
আঁ শনিদন্তি কে দরু সহ রায়ে গাের
বারে সালারে বয়াফতাদ আজ সতুর
গােত, চশমে তঙ্গ, দনিয়াদার রা
ইয়া কানায়ৗত পাের কুন ইয়া খাকে গাের।
শোন নি কি সেই মানব প্রধান
উট হ'তে পড়ি ভূতলে
কহিলা কি বাণী
“গাের” (১) মরুভূমে
হয়ে অতিশয়
(১) একটা প্রদেশের নাম।
২৩

সাদীরকালাম
সন্তোষ অথবা
কবরের মাটি
ব্যতীত কখনাে
জগতে
সংসারী জনের
ক্ষুদ্র নয়ন
কিছুতে না হয়
পূর্ণ।
হরুকে বরখােদ দরে সওয়াল্ কোন্
তা বেমীর নিয়াজম, বুয়া,
আজ বেগােজা ও পাশাহী কুন্
গর্দনে বে তামা বল, বুয়া।
ভিক্ষার দ্বার
মরণ অবধি
যদি একবার খুলিলে
অভাব তােমার যাবে না
বাদশাহী কর
পাবে না
কামনা ত্যজিয়া
উচ্চ ও শির
পরশিতে কেহ
০৭
বি শেকমে বেহুনরে পিচ, পিচ,
সবর নাদার কে বেসাজদ বহিচ,
যত কিছু আছে সবার অভাবে
কোন মতে দিন
যায় গাে ;
২৪

সাদীর কলাম
অকর্মণ্য এই
পেটটিরে শুধু,
ঠেকানই মহা
দায় গাে !
দো আকেল রা নাবাশ কি ও পয়কার
দানায়ে সতিজ বা সবার।
আগার নাদা ব ওইশত, সখত, গােয়দ
থের মন্দশ, বনরূমী বিােজুয়াদ।
দো সাহেব দিল নেগাহ, দার, মেয়ে
হমিদু সরকশে ও আজরম্ জোয়ে!
আগা দর হর দো জানেব জাহেল
আগার জিঞ্জির বাশদ বেগােসলানন্দ।
দুই জন জ্ঞানী হলে
বৈরি ভাব হয় না ;
নী যে বােকার সাথে কড়া কথা কয় না
দু’জন হৃদয়বান
রাখে ঠিক চুলকে,
হাসিমুখে ক্ষমা করে অপরের ভুলকে।
একজন জ্ঞানী হলে
টান দিলে অপরে,
ঢিল দেয় ; সূতা তাই ছিড়িবারে না পারে।
জাহেল গোয়ার কিন্তু হয় যদি দু’জনি,
লােহার শিকল টানি ছিড়ে ফেলে তখনি।

সাদীর কালাম
একে রাজেশত, খেয়ে বাদ দোশ,নাম,
তহম্মল কর্দ ও গোফত, আয় নেক ফরজাম
বতরজান কে খাহি গােফ ত, আনী
কে দানম্ আরবে মন চুম না দানী।
দুরাচার গালি দিল
সবর করিয়া তিনি
একজন সাধুরে,
কহিলেন মধুরে,
দোষী আমি-কেননা
তুমি তাহা জান না।
“যা বলিছ তার চেয়ে
মাের দোষ আমি জানি
দমে চন্দ, গোফত বর আরম্ বকা
দেরেগা কে বেগ্রেফত, রাহে নফ
দেরেগা কে বল্ খানে আলােয়নে ওমর
দমে চন্দ খোর্দম ও গােফতন্দ, বস্!
দু'টি নিমেষের তরে কথা নাহি কহিতে ;
হায়রে আক্ষেপ! বাণী গেল মাের থামিয়া।
জীবনের মজা দুই দিনে নাহি চাখিতে
কাল-সন্ধ্যা ঐ দেখ আসিতেছে নামিয়া ।
২৬

সাদীর কালাম
৪১
চে খােশ গােফক, জালে বফরনে খেশ,
চু দিদশ, পঙ্গ, আফগ ও পীত,
গর আজ, অহদে খাের্দিয়ত ইয়াদ আমদে
কে বেচারা বুদী দর আগােশে মন্।
নাকদী দরি রােজ ব ম জফা
কে তু শের মরূদী ও মন্ পার জন্।
সূত্রে ;
কি সুন্দর বাণী কহিলা সে নারী
দেখি আপনার পুত্রে,
শার্দল সম বীর নিরুপম
হয়ে অতিশয়
ক্ষুণ,
আজি বাছা, যদি স্মরণে তোমার
পড়িত রে কোন
একদিন তুমি ছিলে এই কোলে
—ও দেহ শকতি
যদিও রে আজি বলহীনা আমি
তুমি মহাবীর
বিশ্বে,
ও কি তুমি তা হলে এ ভাবে
করিতে এ হৃদি চুর্ণ।
শূন্য,
২৭

সাদীৱকালাম ৪২ চু বুয়দ আসলে জওহরে কাবেল তরবিয়ত, রা দরে। আস বাশদ সগ, বদরিয়ায়ে হফত গান বেশশাবি, চুকে তর শােদ পলিদ তর বাশ। খরে ইসা (আঃ) গরশ, বমক্কা বর- চু বেয়ায় হনুজ, খৰু বাশদ। আসলে যে নহে ভাল তার হৃদি মাঝারে, সুশিক্ষার সুফল ক্ষণ তরে রয় না ; সপ্ত সাগরের জলে নাওয়াইলে কুকুরে , “না পাকী” (১) তাহার তাতে বিদূরিত হয় না। ঈসার (আঃ) গর্দভে কেহ গাধা তারে গাধা বই কেহ হাজী কয় না। মক্কায় আনিলে আগাৰ স আয়েব, দার মর্দে দরবেশ রফিকানশ, একে আজ, সদ নাদানন্দ, আগার এক না পছন্দ আয়দ জে সুলতান জে এলিমে বা এলিমে রেসান। {১) অপবিত্রতা। ২৮

একটিও তার
সাদীরকালাম
শ:দোষ যদি থাকে ফকিরের
তবুও,
অপরের চোখে পড়ে না ;
এক দোষ যদি করেন সম্রাট
কভুও,
দেশে দেশে তাহা ছড়াইয়া পড়ে,
কেহ তারে ক্ষমা করে না।
৪৪
হ আঁ তফ কে জওরে আমুজগার
বিনদ, জফা বিন আজ, রােজগার।
শিক্ষকের তাড়না না
জীবনের কঠোর
সহে যে বালক
তাহার শিক্ষক।
৪৫
দ, দোবেশ, দক্ গিলিমে বােথােস পল,
দো পাশা দর এলিমে না গঞ্জন।
একটি কম্বল
দশজন সাধু
পারেন শুইতে
উপরে
দুইটি রাজার নাহি হয় স্থান
কিন্তু এক দেশ
ভিতরে।

সাদীর কালাম
গ বজায়ে নানশ, আর সফর বুদে আফতাব
তা কিয়ামত রােজে রওশন্ কস্ না দিদে দরজাহান
তপন হইত যদি রে
রুটির বদলে
বখিলের
অনন্ত কালেও কেহনা
দেখিত আলােক
অখিলের।
৫৭
চু এনসার৷ নাবাশ ফজ ও এহসান্
চে ফর আজ, আদমী তা নকুশে দেওয়ার
বস্তু, আদনে দনিয়া হােন নিস্ত,
একে রা গর তওয়ানী দিল বদস্ত, আর।
রহে,
মানুষের যদি দয়া ক্ষমা কিছু
কি বিভেদ তার দেওয়ালের ঐ
ছবিতে ?
উপার্জন শুধু
মানবের গুণ
ত নহে;
লভিতে।
একটি হৃদয়
করই যতন

সাদীর কালাম
38
করিমারা বদস্ত, আন্দ দেরম নিস্ত
খােদাওদানে নিয়ামতরা করম্ নিস্ত, !
নাইরে ;
দয়া যার আছে
তার কাছে টাকা
ধনীর হৃদয়ে
দয়ার নাহিক
ঠাইরে।
মাল আজ, বহরে আসায়েশে ওম আগু,
ও আজ, বহরে গের্দ, কর্দনে মা।
অর্থ প্রয়ােজন ;
জীবনে শান্তির তরে
অর্থ সঞ্চয়ের তরে
নহে এ জীবন।
এল চন্দ। কে বেশ খানি
চু অমল দতু নিস্ত নাদানি।
না মহুকু বুয়াদ না দানেশ, মন্দ,
চার পায়ে বরাে কেতাবে চন্দ।
৩।

সাদীৱ কালাম
যতই বিদ্বান তুমি হও মহাশয় ;
মুর্থ তুমি, কাজ যদি তার মত নয়।
চাপালে পশুর 'পরে কেতাবের বোঝা
হয় না বিদ্বান, আমি
বুঝি এই সােজ।
হবুকে পরহেজ ও এম, ও জোহ ফোরােখত,
খোমনে গর্দ কর্দ, ও পা বােমুখত।
বিদ্যা ও সাধনা, বিভু আরাধনা,
বেচিল যে জন সংসার-তরে
যেন পরিষ্কার,
সরস্ব তার,
দিল জ্বালাইয়া আপন করে।
৫২
বে ফায়দা হয়ূকে ওম দবাখত
চিজে না খরিদ ও জৰু বে আন্দাখত,
বৃথা কাটাইল
যে জন জীবন
খােয়াইল টাকা
কিনিল না কোন
মাল।
৩২

সাদীৱকালাম পন্দে আগার বেশ নবী আয় পাদশা, দ হামা দফত বেহ, আজই পদ, নিস্ত, জুজ, বখের, মফরম আমল গরুচে আম কারে খেদমন, নি। উপদেশ যদি শুন তুমি ওগাে ভূপতি, এর সম উপ- সমগ্র দফতরে -দেশ নাই; জ্ঞানী জনে বিনা রাজ কাজ কভু দিও না, যদিও চাকরি করে যার জ্ঞান- লেশ নাই ৫৪ অকুতে বললাৎক, গােয়ী ও মদার ও মর্দমী বাশ কে দর কমলে কবুল আওরি দিলে,

সাদীৱকালাম
অকৃতে বহর গােয় কে সদ কুজায়ে নবাত
গাহ, গাহ চুনা বকার নােয়দ কে খঞ্জলে।
কখন কহিবে
কোমল বারতা
মিষ্ট মাধুরী নয়,
হয় ত তাহাতে
অন্যের হৃদয়
কখন কহিবে
সহজে করিবে জয়।
বজ্রকঠোর
ভ্রুকুটি কুটীলবাণী
চিরতা কখনাে
অতি উপকারী।
নহে ক্ষৗর সর ননী।
৫৫
খবিস না চু তহ কুনী ও বেনওয়াজী
বদওলতে তু গােন মিকুন বা আজী,
ক্ষমা কর যদি
দেখিকে
দুরাচারগণে
হইয়া নির্ভয়
অপকর্ম শত
করিবে।
৩৪

সাদীর কালাম
খামুশী বেহু, কে জমীরে দিলে বেশ
বা কসে গােফত ও গােফত কে মগােয়ে।
আয় সলিম, আব জে সরে চশমা বেবান,
কে চু পােৰু শশা না তওয় বস্ত জোয়ে।
গুপ্ত কাহিনী
গােপনে গোপনে
কহিয়া
বলা তারে ভাই, কমােনাগাে কারাে কমােনা,
জ্ঞানীর মতন কাজ নহে ইহা বুঝিয়া
নিজের গুপ্ত
কহিতে কাহারাে যেওনা।
যে প্রবাহ তুমি আপনিই দিলে ছাড়িয়া
অন্যে তা রােধ
করিবে এমন চেওনা।
এমরােজ বেকোশচু মি তওয়া কোশত,
কাতেশ চু বলল, শশাদ জাহ মুখত
মগােজার কে লেহ, কুনাদ কামা রা
দুশমন কে বীর মি তওয়া দোখত।

সাদীৰ কালাম এখনি আগুন নিবাইয়া দাও এখনি ; নতুবা দেরিতে সমগ্ৰ সংসার। দহিবে। অরাতি যে তারে দাও যদি তবে দিও না সুযােগ কখনি মহা পরিতাপ সহিবে। ৫৪ মিয়ানে দো কস্ জঙ্গ, চু আতেশস্ত, সােখন:চিন্ বখত, হজম্ কশস্ত, কুনই ও আঁ খােশ, দিগন্ বার দেল অয়ে আন্দর মিয়া। কোর বখত ও খেজল। মিয়ানে দো কস্ আতেশ, আফ্রোত! আকেল, ও খােদ দরমিয়ান সুখত। শত্রুতা অনল সম দুজন ভিতরে কুটনা যে সে অনলে উভয়ের যদি পুনঃ ইন্ধন বিতরে! হয় সম্মিলন, কুটনা-বদন। চুন কালি মাখা হয় আগুন জ্বালায়ে দিয়ে নিজে তাতে জ্বলে মরা দুজনের মাঝে জ্ঞানীর না সাজে।

সাদীর কালাম
দর সােথ বা দোন্ত। আহা বাশ,
তা না দাদ দুশমনে খুঁথার গােশ;
পেশে দেওয়ার আঁচে গােয় হুশ দার
তা না বাশ দর পছে দেওয়ার গোশ!
বন্ধুর সনে
যুক্তি যখন
করিবে
সাবধান যেন
অরাতি না বহে
নিকটে
;
আছে কি না কান
প্রাচীর আড়ালে
হ’ও না নির্ভয় ;
দেখিবে;
কি ঘটে।
কি জানি কখন
বােশশা আয় খেদমন, জ। দোস্ত, দন্ত,
কে বা দুশমনান, বুও হম্‌নিশশু।
শত্রুর সহিত ভাব
তব যে বন্ধুর
তার আশা এই দণ্ডে
কর কর দুর!
৩৭

সাদীৰ কালাম
বা মরদমে সহ গােয়ে দেশােয়র মগােয়ে
বা আঁকে দরে সােলহ, জনদ জঙ্গ মজোরে।
কোমল ভাষীর প্রতি
সন্ধি-অভিলাষী সহ
কোমলতা চাই;
করাে না লড়াই।
দোশমন্ চু বিনি না তােয়া
লাফ, আজ, বরুতে খােদ মন
মগজিস্তু, দৰ হৰ ওখান্
মর্দি, দরূ হর পায়ের হন্ ।
অরাতিরে যবে
দেখিবে দুর্বল
হরষে দিও না
গোফে তা
কাহার ভিতরে
কি জানি কি আছে;
মনে ।
রাখিও সতত
পছন্দিদা আন্ত, বখশায়েশ, ও লেক
মনেহ, বর রেশে থল আজার মরহুম

সাদীর কালাম
না দানন্ত, আঁকে রহমত কর্দ ব মাৰু
কে আঁ। জোমন্ত বৰু ফরজনে আদম্।
উপকার সম
গুণ নাই কিছু,
কিন্তু ভাই, তাই বলিয়া
জালেমের পরে করােনাক দয়া-
করাে না।
মানবের পরে করে অত্যাচার
সে জন ত তাহা জানে না
সাপের উপরে
করেরে যে জন
করুণা !
দোরশতী ও নরমী বহম দর বেহ, আন্ত,
চু ফাসেদকে জরাহ ও মহম্ নেহ, আন্ত।
দেশতী না গীর খেদমন, বেশ,
সুন্তী কে নাজেল কুন করে খেশ!
মর খেশত ফজুলী নেহদ,
একবার ত দ মত, দেহদ।
৩৯

সাদীৱকালাম
কঠোরে কোমলে মিশি প্রকৃত কল্যাণ,
অস্ত্র চিকিৎসায় যথা মলম প্রদান।
অধিক কঠোর হওয়া সমুচিত নয়
নিকটে আসিতে তাহে পাবে সবে ভয়।
অতি কোমলতা ভাল
ইজ্জত সম্মান সব
যাবে তাতে চলি।
নহে তাই বলি
c৫
জওয়ানে বা পেদ গোফত, আৰু খের
মরা তালি দে পিরান এক পল,
বে গােফতা নেকমর্দী কুন না চান্দ।
কে গর্দ চিরা গাের্গে তেজ দাদ।।
একদা নিশীথে
জ্ঞানগর্ভ এক
কহিলেন,—দয়া
শার্দুল আসি
কহিলা যুবক
পিতারে
উপদেশ মােরে
দেহ গাের
করিও না এত
সবারে
বিদারিবে তব
দেহ গাে ।
দরখাকে বয়লকান্ বে রসিদ বা আবেদে
গােফত মরা বতরবিয়ত আজ জোহ পাক কুম্।
৪০

সাদীরকালাম
গােফত বেরও চু খাতহম্মল কু আয় ফকিহ,
ইয়া হরচে খান্দায়ী দর জেরে খাক কুন্।
বলকান্ ভূমে
গিয়াছি আমি
এক সাধকের নিকটে,
মুর্থতা আমার
-
কহিলাম তারে,
উপদেশে দূর
বলিলেন তিনি,-
মাটীর মতন
কর গাে।
=
সহ করহ সকলি
জ্ঞান অভিমান যাহা কিছু তব
সকলই পরি হর গাে।
আগার জে দন্তে বালা বর ফল রদ বদখােয়ে
জে দন্তে থােয়ে বদে খেশ, দরূ বালা বাশদ।
আকাশেও যদি করে আরােহন
স্বভাব যাহার মন্দ
শাস্তি তাহার সাথে সাথে যাবে
সেই খানে, নাই সন্দ।
৪১

সাদীৱ কালাম
বেরও বা দোন্ত। আহস্তা বেনেশিন,
চু বিনি দরমিয়ানে দেশমনা জঙ্গ,
গৰু বিনি কে বাহ এক জবানল,
কমা রা জেহ, কুনাে ব বারাহ, ব শব্দ,
অরাতির মাঝে
নির্ভয় হৃদয়ে
দেখিবে যখন কলহ
বন্ধুগণ সনে বসিবে ;
এক প্রাণ যদি
তাহারা, কোমর বাঁধিয়া
ধনুকের জ্যায়ে ছিলাটী আটিয়া কসিবে।
বরােজে মরেকা ইমমশও জে খসমে জয়িফ,
কে মগজে শের বর আরদ চুদিল জে জা বরদাশত।
যুদ্ধের দিনে,
দুর্বল তর
শত্রু হতেও
করিবে ভয়
করিবারে পারে
মরিয়া হইয়া,
অন্যের যাহা
সম্ভব নয়।
৪২

সাদীৱকালাম
40
বুলবুল মােসদায়ে বহার বেয়ার
খবরে বদ ববুমে ও গােজা।
আনিবে
বুল বুল শুধু
বসন্ত সংবাদ
রাখিবে।
অণ্ডত খবর
পেচকের তরে
৭১
আলা তা নশনবি মদহে সােখ গােয়ে,
কে আন্দ মায়া নফায়ে আজ, তু দারদ।
আগার রােজে মােরাদশ,বর নয়ারি
দো স চান্দ আইউব, ব শােমার!
চাটুকার যারা
শত মুখে তারা
এক দিন যদি
সহস্র নিন্দা
প্রশংসা দের শুননা,
যদি তব গুণ গাহে গাে।
নাহিক পূরাও
কামনা
গাহিবে তোমার তাহে গাে।
৪৩

সাদীকালাম
৭২
একে জহুদ ও মােসলমা মােনাজরা কর্দি,
চুনাকে খালা গেরেফত, আজ, নেজায়ে ইশানম্ ;
ৰত, গােফত মােসলমা গরই কব লায়ে মন
দোরস্ত নি, খােদায়া জহুদ মিরান।
জহুদ গােফত বতওরিত, মিখােরম সওগল,
অগার খেলাফ, বুয়দ হামচু তু মােসলমান।
গরু আজ, বসিতে জমি আকেল মনয়ম্ গর্দ,
বখােদ গম না বাদ হিস্ কে না নিম্।
মুসলমান সনে
ইহুদীর এক
দেখি এক দিন একা হাসি আমি মরিয়া,
বলে মুসলমান
নহে যদি ইহা
সত্য,
হইব ইহুদী ইসলাম পরি হরিয়া
ইহুদী শপথ করিয়া কহিল, আমিও,
মিথ্য হইলে
ইসলাম লব বরিয়া।
দুনিয়ায় জ্ঞান নাহি রহে যদি মােটেও
জ্ঞান-গর্বে রবে সবার হৃদয় ভরিয়া।
৪৪

সাদীরালা
৭৩
রুদায়ে তঙ্গ, বয়েক নানে তিহি পােৰু গদ
নিয়ামতে রুয়ে জমিন পােৰু নকুন দিয়ে ।
শূণ্য উদর
একখানি শুকো
রুটি হতে পারে
ভরিতে,
নয়নের ক্ষুধা
সারা দুনিয়ার
বিভব না পারে
দূরিতে।
৭৪
বদ আখত তরু আজ মর্দম্ আজার নিন্ত,
কে রােজে মছিবত কসশ, ইয়ার নি।
অত্যাচারী সম ভবে,
বিপদের দিনে তারে,
হতভাগা কেহ নাই,
সবে করে দূর ছাই।
৫৫
খাকে মশরে শনিদা আম্ কে কুন
বচেহেল সাল কাসায়ে চিনি;
১৫

সাদীৱকালাম
ছ বরােজে কুনন্দ, দ বাগদাদ
লাজর কিমত,হামি বিনী!
দক্ষ শিল্পীগণ
শুনিয়াছি পূর্ব দেশে
চল্লিশ বছরে গড়ে
চীনের বাসন।
এদেশে দুদিনে গড়ে হাজারে হাজার,
তেমনি দেখিছ সবে
মূল্যও তাহার।
৭৬
মােরগ আজ, বয়জা বেরু আয়
ও রুজী তেল বদ
আদমী জাদা না দার খ ও আল ও তমিজ,
অকে নাগাহ, কসে গশত বচিজে না রসদ
বি বতমকি ও ফজিলত, বেগােজাশত আজ হামা
আবগিনা হামা জা ইয়াবী আজ। বেমহল আস্ত
লাল দেলােয়ার বদন্ত, আয়
আজান, আজীজ।
কুকুট শাবকগণ ডিম হতে বাহিরিয়া
আপনার খাদ্য তার খুটিয়া খুটিয়া খায় !
০৬

সাদীৱ কালাম মানব জনমে যবে পর মুখাপেক্ষী হয়ে হঠাৎ “মানুষ হয়ে” মানব সবার শ্রেষ্ঠ শুক্তি সহজ লভ্য মুক্তা দুষ্প্রাপ্য তাই জ্ঞানহীন একেবারে কত মাস বর্ষ যায় কুকুট কুকুট রয়, কালে কিন্তু মহিমায়। তাই তার অনাদর, সকলেই তাহা চায়। ৭৭ চু নাদারি কামালে ফজল আঁ বেহ, কে জবান দর দাহ নে দারি; আদমী রা জবা ফজিহ, কুন, জওজে বে মগজরা সব সারী। বুদ্ধি বিবেচনা নাহি রহে যদি উদরে, থেক চুপ করি তাই ভাল তব জানিও। কথা মানবের জগতে, কিন্তু তাহাতেই হয় পুনঃ অপ- গৌরবের হেতু মানিও। ৭৮ আজব,গর ফেরো রওয়াদ নফসশ, আন্দলিবে গােরাব হম কফশ। ৪৭

বুলবুল যদি
দাদীর কালাম
নাহি গাহে তাহা
বিস্ময়ের কথা নয়গাে।
কাক সহ এক
পিঞ্জরে তাহার,
রহিবারে যদি হয় গো।
গ হন মন্দে জে আওবাশ, জফায়ী বিনদ,
তা দিলে খেশ, নয়াজার ও দরহ না শওয়া।
সঙ্গে বখত আগায় কাসায়ে জর্বিন শকন
কিমতে সঙ্গ, নয়াফ জায়দ ও জ কম্ না শওয়া।
পণ্ডিত লাঞ্ছিত হলে নাদানের নিকটে (১)
ক্ষুন্ন মন হওয়া তার
সমুচিত নহে গাে ;
সুবর্ণ বৰ্ত্তন কোন ভাঙ্গিলেও পাথরে
প্রস্তর প্রস্তর, হেম
সেই হেম রহে গাে।
৮০
চু কেনান ৷ তবিয়ত, বে হুনর বুদ
পয়ম্বৰ জাগী কদরশ, নয়াজুদ।
(১) নাদানমূখ।
08

সাদীর কালাম
হনুর বে নােমায়ী আগা দারি না গওহর
গােল আজ, খান্ আন্ত, ও এব্রাহিম্ আজ,
পুত্র
আছিল কেনান
গৌরব তাহার
কঁটার ভিতরে
যদিও নবীর
বাড়ে নাই তবু
কুত্র।
যদিও ফুলের
জন্ম,
মৰ্ম্ম।
সুবাসে তাহার
জুড়ায় সবার
০১
দোস্তরা কে ব ওমরে ফরাচঙ্গ আর,
নাশায় কে ব এক্ ম্ বেয়াজারল,
সঙ্গ, বা চল সাল্ শওয়াদ লাল পারায়ে
জিনহার ভাব এক নফশ, নাশকনি বসঙ্গ।
চির জীবনের
সাধনে
লভেছ যাহার চিত্ত
যেন মুহূর্তের কারণে
হারায়ােনা সেই
বিত্ত।
৪

সাদীর কালাম
কত যুগ
থাকি
আঁধারে
হয়েছে প্রস্তর
করিওনা চুর
তাহারে
করি আদর
যত্ন।
আবেদ কে না আজ, বহরে খােদা গােশ নশিন
বেচারা দ আয়নায়ে তারিক চে বিন ?
খােদার কারণে নয়
আঁধারে দর্পণে কি সে
সাধনা যাহার
পাবে দেখিবার
চু বা সেফল গােয়ি বললৎফ, ও খুশী
ফজু গৰ্দদশ, কেব ও গদ কশী!
কহিলে কমিনা (১) সনে কোমল বারতা
বাড়ে তার অহঙ্কার চাপল্য হীনতা।
(১) কমিনা-হীন ব্যক্তি।

সাদীর কালাম
৪
আসিয়ে নাদান পেরেশানে রােজগা
বেহ, জে দানেশনে না পরহেজগা।
কঁ ব নাবিদায়ী আজরাহ, ওফতা
বি দো চশমশ, বুদ ও দরচাহ, ওফতাদ।
সাধারণ মূখগণে
পাপ-পথ গামী
বিদ্বান পাতকী হতে ভালবাসি আমি।
চক্ষুহীন বলি এরা পথ নাহি পায়
চক্ষু থাকিতেও ওরা
পড়িছে কূয়ায়।
বকওলে দুশ পয়মানে দোস্ত, বেশকস্তি
বেবি কে আজ কে বুরিদি, ও আজ কে পয়স্তি।
সখার সহিত তব সেই অঙ্গীকার
অরাতির ছলনায় মনে নাই আর।
মিলিয়াছ কার সাথে ভাব একবার,
ত্যাজি সে প্রাণের সখা সর্বস্ব তােমার।

সাদীর কালাম
আঁকে বর রাহত, ও তনয় জিন্ত,
উ চে দান কে হালে গােরা চিন্ত?
হালে দ মন্দাগা কছে দান
কে বা আহওয়ালে খেশ, দর মান।
রয়েছে যে জন
সুখ সম্পদের মাকে
কেমনে সে বুঝিবেক
সে পারে বুঝিতে কি যে
বেদনার মাঝে নিজে
ক্ষুধার জ্বলন ?
ব্যথিত বেদনা
রয়েছে যে জনা।
৭
কাজা দিগ না শওয়াদ দৰ্ব হাজার নালা ও আহ,
বশাের ইয়া ব শেকীয়ত, বর আয় আজ দহনে।
ফেরেশতা কে ওকিল, ব খাজায়েনে বাদ
চে গােম কুন কে বেমীব চেরাগে পী জনে।
রােদনে কি আবেদনে
নিন্দা কি চাটতে

দাদীৱকালাম
বিধাতার লিপি যাহা
খণ্ডিতে পারে না।
কি হইবে নিবে গেলে
অনাথার দীপটী
মিকাইল (১) কোন কালে
তার ধার ধারে না ।
৮০
আলতা না খাহি বালা ব হসুদ
কে আঁ বখতে বগশতা খােদ দ বলা,
চে হাত, কে বা ওয়ে কুনি দুশমনি
কে বির। চুন দেশ আৰু কফাস্ত।
কুটীল যে জন,
সদা হিংসা রত
তার কোন ক্ষতি
করাে না
স্বভাবই তাহার অরাতি নিজের
তুমি তার ধার ধোেনা।
(১) মেঘ ও বাতাসের পরিচালক সর্বপ্রধান ফেরেশত।

নদীরকালাম
ইয়া মকুন বা পীল বানন দুস্তী
ইয়া বেনা কুম্ খানায়ে দরখাের্দে পীল
হয় ত কখন
করাে না প্রণয়
বড় মানুষের সনে
যদি কর, হও
বড় লোেক আগে
রেখ এই কথা
মনে!
ওমেদে আফিয়ত আঙ্গাহ, বুও মওফেকে আকেল
কে নবজরা ব তবিয়ত, শনা নােমায়ী
বে পােস হরচে নাদানি কে জেলে পুরসিদ
দলিলে রাহে তু বাশদ ব এজ্জ ও দায়ী।
তখনি স্বাস্থ্যের আশা করিবারে পারিবে
দেখাবে শরীর যবে দক্ষ কোন বিবে, (১)
জাননা যা জিজ্ঞাসিতে লাজ নাহি করিবে
জিজ্ঞাসা জ্ঞানের বাতী অন্ধকার হরিবে।
(১) তবিব-চিকিৎসক।
৫৪

সাদীর কালা
হোয়ত, বন্ধু মেজাজে মােমৗ গােয়ি
আগার দানী কে দারদ বা তু ময়ল
হর আঁ। আকেল কে বা মজনু নশিন
নশায় কর্দ জুজ, জেরে লায়লে।
মেজাজ বুঝিয়া কথা কহিবে
শুনিতে যদি সে রাখে কামনা
মজনুর সনে যবে বসিবে
লায়লীর কথা বিনা বলনা।
রমে খােদ বনাদানী কশিদি
কে নাদান রা বসােহবত, ব গুজিদি।
তলব কর্দম্ জে দানায়। একে পল,
মরা গােফতন, বা নাদান মপয়ন্দ।
কে গর্ দানায়ে দহরি খর বেশি
অগৰু নাদানি আবলাহ, তবু বেশি।
নানের ছাপ মারা
নদানের সনে যদি
রবে তব ললাটে
মিশ তুমি হে জ্ঞানি।

সাদীর কালাম
মহাজন সন্নিকটে
চাহিলাম উপদেশ
“মিশিও না মূৰ্থ সনে” কহিলেন এ বাণী ;
মিশিলে পণ্ডিত যদি
হও, হবে জ্ঞানহীন
নাদানের শতগুণ
বেড়ে যাবে নাদানী। (৩)
কসে কে লােফ, কুনদ বা তু খাকে পায়শ, বাশ,
অগর খেলাফ, কুন দর দো চশমশ আফগন্ খা
সখন বা লােৰু, করম্ বা দোরত, থােয়ে মগােয়ে
কে জঙ্গ খাের্দা না গর্দদ মাগার বসও পাক।
কেহ যদি প্রাণ খুলি, ভাল বাসে তােমারে,
তাহার চরণ ধূলি হয়ে রও হ'য়ে রও।
বিরুদ্ধাচারী যে ঠিক শিক্ষা দাও তাহারে,
অত্যাচার তার নাহি
সয়ে রও সয়ে রও।
কঠোর জনের সাথে
কোমলতা চাই না
জাঙ্গারা কঠিন অতি উকা চাই তাই না!
৯০
তা নে না দানি কে সােথ আয়নে ছওয়াবস্ত,
বাদকে বগােফতন্দহ আজহ না কোশায়ী
(১) নাদানমূখ।
নাদানী—মুর্থতা

সাদীৱ কালাম গর রাস্ত, দেখন গােয়ী ও দর বন্দবেমানী বে জাকে দোনােগত, দেহদ আজ, বন্দ, রেহায়ী। বহু উপকার নাহি বুঝ যদি কথাতে উচিত তােমার, রহিবে তখন নীরবে। সে মিথ্যার চেয়ে মুক্তি পাইবে যাহাতে- সত্যই ভাল- হউক শান্তি যা হবে। একে রা কে অাদত বুও রাস্তী খতয়ে রও দৰু গােজারদ, আজো, অগৰু নামােয়ার শােদ বকওলে দোয়ােগ, অগৰু রাস্তা বাও নার, আজো। সত্য বাদী যে কখনাে মিথ্যাও যদি কহে সে, বিশ্বাস করে সকলে রহ সে। মিথুক বলি যে জনা সমাদৃত সদা

সাদীকালাম
হয়েছে জানিত
সমাজে
সত্যও কভু
কহিলে
নিন্দা-অনলে
দহে সে।
সগের লােমায়ে হরগেজ, ফরমুশ
নগদ্দ অর জনি সদ নওবতশ, সঙ্গ,
অগ ওমরে নওয়াজি সেফলায়ে রা
বকমৃত চীজে আয় বা তু দ জল,
ভুলে না কখন
কুকুরে
এক মুষ্টি যদি পায় সে
শত পাথরের আঘাতও
তব হাতে যদি খায় সে।
সারাটি জীবন যতনে
পাল যদি হীন মানবে
সামান্য কারণে লড়িতে
তােমার সহিত
ধায় সে।
গাহ, আল নেয়ামতি মগরু ও গাফেল
গা, মন তদন্তী খাস্তা ও রেশ

সাদীরকাল
চুদ সর ও জরা হালত, ইনস্ত,
নদানম্ কয় বহু পরদাজী আজখেশ।
রহিবে মত্ত,
পাইলে বিভব,
তাহাতে
হইলে অভাব,
রহিবে অস্থির
সতত ;
কখন চিত্ত করিবে নিয়ােগ
খােদাতে
এমনই যদি অবস্থা তোমার,
বলত ?
গরু মহশ খেতাবে কহ কুনদ
আধিয়ারা চে জায়ে মৗ জেরত, আন্ত,
পরদা আজয়ে লােফ গোবরদার
কাস্ কিয়ারা ওমেদে মগ ফেরত আন্ত
হাশরের দিনে
যদি সে
গজব নজরে
চাহে গে

সাদীৱ কালাম
ক্ষমতা কি নবী
রসুলে
কোন কিছু তথা চাহে গাে ?
রহম নজরে চাহিলে
গােনাগার যারা অতিও
সহজে যাইবে
তরিয়া
“পে সেরাতের” রাহে গাে
রওয়াদ মাের্গ, সুয়ে দানা ফরাজ,
চু দিগন্তু মােৰ্গ, বিন আৰু বন্দ
পগীর আজ, মাছায়েবে দিগ।
তা নাগির, দিগরা বা তু পদ।
ব্যর্থ চতুর
পড়ে না বিহগ
আনায়ে
দেখিলে একটী বন্দী
কিরাতের
শত প্রলোভন ফন্দি।
পরের বিপদ
দেখিয়া
সাবধান হও এখনি,
থাকিতে সময়
যতনে
পরিণাম পানে
মন দি।
৬০

সদীকালাম,
১০০
শবে তারিক দোস্তানে খােদায়ে
মি বেতাবদ চু রােজে বখশেদ।
বি সায়ীদত, বজোরে বাজু নিন্ত,
তা না বখশদ খোদায়ে বখশেন্দা
গভীর আঁধার নিশীথে
যাহারা খােদার পেয়ারা
দিনের মতন চমকে
এমনি উজ্জ্বল তাহারা।
তাঁহার অপার মেহেরে
লতে এ কপাল মানবে
বাহু বলে নারে লভিতে
মহা বলীয়ান যাহারা।
১০১
গমী কজ, পেশে শাদমানী বরি,
বে আজ, শাদীয়ে কজ, পেশ,গম খােরি
দুঃখের পিছনে সুখ
আগে সুখ পরে দুঃখ
ভাল অতিশয়
অসহ নিশ্চয়
৬১

মীরকালাম
১০২
আজতু বকে নালন্ কে দিগ দাওয়ার নিন্ত,
অজ, দন্তে তু হিচ, দন্ত, বালাত নিন্ত,
আঁ কে তু রাহ, দিহি কসে গম্ না কুন
ও আঁরা কে তু গম্ কুনি কসে রাহব নি।
কব আর কাহারে ?
এ সংসার মাঝারে।
মনের বেদনা মাের
তুমি ছাড়া কেহ নাই
যাহারে দেখাও পথ
বিপথে চালাও যারে
পথহারা হবে না ;
কে ফিরায় তাহারে।
গরত, খােয়ে মন আমাদ না সাজাওয়া
তু খােয়ে নেকে খেশ, আজ, দস্ত, মগােজা
আমার স্বভাব সত্য
ভাল নয় ভাল নয়
স্বভাবে তােমার মােরে
কর জয় কর জয়।
১০৪
দুনা না থােরল, ও নেগাহ, দার
গােয়া, ওমেদ'বে কে থাের্দা
৬২

সাদীৱ কলাম
রোজে বিনি বামে দুশমন
জরু মান্দা ও খাকসার মাের্দা।
হতভাগা যারা খায় না
রাখে সমুদয়
জমা’য়ে
খাওয়া পরা ভাবে তাহারা
ফেলিবে বিভব কমা’য়ে
সহসা একদা সপিয়া
অরাতির করে
সকলি
যাইবে কোথায় ছাড়িয়া
বসুমতী
প্রিয়তমা এ!
১০৫
মওয়াহেদ চে দপায়ে রিজি জরশ,
চে শমশেরে হিন্দী নেহি বৰু সৰশ,
ওমেদ ও হাসশ, নাবাশ জে কস্
বরিনস্ত বনিয়াদে তওহিদ ও বস্।
একেশ্বরবাদী
ভবে যে
একি সে খােদার
ভক্ত,

সাদীৰ কালাম
ভরে নাক খর অসিতে
চাহে নাক শাহী
তখত।
কোন আশা ভয় নাই তার
কারাে হ’তে এই জগতে
খােদা ভকতের
এই নিদর্শন
জগতে যে নেক বখত।
নগােয় আজ, সরে বাজিচা হরূফে
কেজো পন্দে না গিদ সাহেবে হােশ,
অগ স বাবে হেকমত, পেশে না
বে খানি আয়শ, বাজিচা দ গােশ।
কেহ কভু কোন কথা
যাহা হতে জ্ঞানী জন
পড়িয়া শুনাও শত
অবােধের কাছে তার
খেলা ছলে কয় না
উপদেশ লয় না।
দর্শনের পরিচ্ছেদ ;
কোন দাম হয় না।
৬৯

কয়েকটি কথা গ্রন্থকারগণ সমালােচনা দ্বারা উপকৃত হইবার আশা করিয়া থাকেন। লিখিত বিষয়ের দোষ গুণ প্রদর্শন করিয়া প্রয়ােজন মত উপদেশ দিয়া সৎ সাহিত্য সৃষ্টির সহায়তা করা সমালােচকগণের কর্তব্য। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তাহার ব্যত্যয় দেখিয়া দুঃখিত হইতে হয়। গত বৎসর (১৩৩৩) কার্তিক মাসের সওগাতে বর্তমান গ্রন্থ সাদীর কালামের নিম্নলিখিত রূপ সমালােচনা বাহির হইয়াছিল ;- “পারস্যের মহাকবি সাদী রচিত গােলেস্তার কতকগুলি বাছা বাছা নীতি উপদেশ মূলক কবিতার বাঙ্গল পদ্যানুবাদ। অনুবাদের নমুনা দেখুন, “শিক্ষকের তাড়না না সহে যে বালক জীবনের কঠোরতা তাহার শিক্ষক।” ইহাও যদি কবিতা হয় তাহা হইলে “কঁঠালের ঠোঙ্গা নিয়ে নাচে নন্দলাল ফস করে নিয়ে গেল এক বেটা চিল। কেন কবিতা হইবে না? বই খানার আদ্যোপান্ত এই রূপ জঘন্য অনুবাদে পূর্ণ করিয়া দেওয়া হইয়াছে। ভাবকে চরণে মিলাইয়া দিতে পারিলেই কাব্যানুবাদ হয় না; সৌন্দৰ্য্যগ্রাহিতাও তার জন্য আবশ্যক। এই জিনিষটা যার মধ্যে নাই তার পক্ষে সানীর কাব্যের কাব্যানুবাদে প্রবৃত্ত না হইয়া গদ্যানুবাদে হাত মশ, করিলেই ঠিক হইত।::তাহাতে সৗদীর কাব্যের ইজ্জত ও বজায় থাকিত, জলার পাঠকের কর্ণ-জালাও অনেকটা কম হইত। সাদীও বােধ হয় গাের হইতে নড়িয়া উঠিয়া বলিতে চেষ্টা করিতেছেন,-“খােদা, এমন অনুবাদকের হাত হইতে আমাকে বাঁচাও।” “পুস্তক কীট” এই “পুস্তক কীট” কে তাহা নিঃসন্দেহ রূপে জানিতে পারি নাই। জানিতে পারিলে তাহার নিকট হইতে কাব্যানুবাদ সম্বন্ধে উপদেশ লাভের চেষ্টা করিতাম। তিনি তাহার সমালােচনায় বলিয়াছেন, (১) আমি সাদীর বয়াতের কবিতায় অনুবাদ করিতে গিয়া সাদীর কাব্যের ইজ্জত নষ্ট করিয়াছি। এমন কি তিনি মনে করেন, এই অপ মানের জন্য শেখ সাদী গােরের মধ্যে অত্যন্ত বিচলিত হইয়া পড়িয়াছেন। (২) আমার মধ্যে সৌন্দৰ্যগ্রাহিতা গুণ নাই; সুতরাং কবিতার অনুবাদ কবিতায় না করিয়া গদ্যানুবাদে হাত মশ, করাই আমার উচিত ছিল। (৩) উদ্ধত দুই পংক্তি কৰিতর ন্যায় “সৗদীর কালামের” সমস্ত কবিতাই অত্যন্ত জঘন্য। তজ্জন্ত পাঠকের কর্ণ-জ্বালা অত্যন্ত বাড়িয়া গিয়াছে। আমার এই অনুবাদের জন্য পাঠকের কর্ণ জ্বালা কতদূর বাড়িয়াছে বা বাড়িয়াছে আশা করি, পাঠক সাধারণই তাহার বিচার করিবেন। পক্ষা- স্তরে এই অনুবাদ গুলির জন্য শেখ সাদী তাহার কবিতার ইজ্জত নষ্ট হইবার আশঙ্কায় গােরের ভিতর কিরূপ অনুভব করিতেছেন বা কি করিতেছেন তাহাও অনুমান করা আমার পক্ষে সম্ভবপর নহে। আমার অনুবাদে অনেক দোষ ত্রুটী আছে তাহা বিনীত ভাবে স্বীকার করিতেছি এবং পুস্তকের ভূমিকাতেও সে কথা উল্লেখ করিয়াছি। তথাপি “গদ্যানুবাদে হাত মকৃশ না করিয়া পদ্যানুবাদে অগ্রসর হইবার হেতু এই যে, এই সমস্ত নীতি-উপদেশ পূর্ণ কবিতা ; কবিতায় অনুবাদিত হইলে চাণক্য শ্লোকের ন্যায় তাহা সর্বত্র সহজে ব্যবহৃত হইতে পারে। মেসেম-জাতীয়তার জন্য তাহা একান্ত প্রয়ােজনীয় মনে করি। যখন অন্য কোন উপযুক্ত ব্যক্তি এযাবৎ এই কাৰ্যে হস্তক্ষেপ করেন নাই তখন আমার ন্যায় সামান্য ব্যক্তিই ইহাতে অগ্রসর হওয়া সঙ্গত মনে করিয়াছে! যে কবিতাটি উদ্ধৃত করিয়া সওগাত-সমালােচক সাদীর কালামের সমস্ত কবিতাই এইরূপ জঘন্য বলিয়া প্রকাশ্যভাবে ঘােষণা করিয়াছেন, তাহা কতদূর নিন্দনীয় তৎসম্বন্ধে এখানে সংক্ষেপে কিঞ্চিৎ আলোচনা কৰিব। (সৗদীর কালামের ২৯ পৃষ্ঠায় ঐ কবিতাটি দ্রষ্টব্য)। “কাঠালের ঠোঙ্গা নিয়ে নাচে নন্দলাল ফ করে নিয়ে গেল এক বেটা চিল।” এই দুইটি লাইনের সহিত সাদীর কালামের উদ্ধৃত কবিতাটীর কোন কোন্ বিষয়ের তুলনা হইতে পারে তাহা বুঝিতে পারিতেছি না। “কাঠা- লের ঠোঙ্গা” কবিতাটীর মধ্যে অর্থহীন উদ্ভট শব্দ আছে, মিলনের জুটি আছে ; ভাব বা উপদেশ তেমন কিছুই নাই। পক্ষান্তরে সাদীর কালামের উদ্ধৃত কবিতাটির মধ্যে কোন উদ্ভট শব্দ নাই, মিলের বা যতির ত্রুটী নাই, ইহাতে বেশ মূল্যবান একটি উপদেশও আছে। অতএব সমালােচক “সৗদীর কালামের কবিতাটির সহিত তাঁহার উদ্ধৃত কবিতাটির তুলন করিলেন কোন্ কোন্ দিক দিয়া? এই দুইটি কবিতার মধ্যে কি এমন সামঞ্জস্য আছে? কেহ কেহ বলিয়াছেন, “শিক্ষকের”সহিত “দীক্ষক” এই কোন শব্দ হইলেই মিল ভাল হইত। মিল ভাল হইত সন্দেহ নাই। কি যেরূপ মিলান হইয়াছে ইহাতেও কোন দোষ ঘটে নাই। হিন্দু-মুসলমা সকল কবিই এইরূপ মিল মিলাইয়া থাকেন। যে কোন কবির যে কো কবিতা পুস্তক অন্বেষণ করিলেই এ কথার সত্যতা বুঝা যাইবে। কেহ কে বলিয়াছেন, “সাদীর কালামের অনুবাদিত পংক্তি দু’টিতে র ; একান্ত অভাব। অতএব ইহা কবিতা নহে।” উহাতে রস নাই তাহ আমিও স্বীকার করি। কিন্তু মূল পাসী বয়াতীর মধ্যেই বা এমন কি রস আছে? আসলে রস না থাকিলে তাহার অনুবাদে রস লেখক বাটী হইতে আনিতে পারেন না। সৌন্দৰ্য্যগ্রাহিতা আমার না থাকিতে পারে; কিন্তু এই শিশু-পাঠ্য উপদেশ মূলক নীতি কবিতাটীর অনুবাদে সৌন্দর্য বা রসের আমদানী কেমন করিয়া সম্ভবপর তাহা আমি বুঝি না। কোকিল- কুজন, অমর-গুঞ্জন, মলয়ার শিহরণ, বিরহের ক্রন্দন, প্রেমের আলিঙ্গন, মিলনের চুম্বন ইত্যাদি রসাত্মক কাব্য-সৌন্দর্যের প্রতি যাঁহাদের একান্ত লােলুপ দৃষ্টি “সৗদীর কালামের নিরীহ অনুবাদক তাহাদের আশা পূর্ণ করিতে অক্ষম বলিয়া একান্তই দুঃখিত। অনুবাদের দিক দিয়াও আলােচ্য কবিতাটিতে কোন দোষ ঘটিয়াছে বলিয়া মনে হয় না। প্রথম পংক্তির অনুবাদ শব্দগত (Literal) সুতরাং ইহাতে বলিবার কিছুই থাকিতে পারে না। দ্বিতীয় পংক্তির অনুবাদটি শাব্দিক না হইলেও ইহাতে মূল কবিতার মৰ্ম্ম প্রকাশিত হইয়াছে। কবি- তার কবিতায় অনুবাদ সৰ্বত্ৰ শগত হওয়া কিছুতেই সম্ভবপর নহে। মর্মগত অনুবাদ অনেক ক্ষেত্রে অপরিহার্য। সকল অনুবাদকই এই উভয় প্রকার অনুবাদ করিয়াছেন। সুতরাং আমার অপরাধ কি বুঝিতে পারিতেছি না। সৗদীর কালামের উক্ত অনুবাদটি কত দূর দোষাবহ হইয়াছে তৎসম্বন্ধে নিঃসন্দেহ হইবার জন্য কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির মত জানিতে অভিলাষী হইয়াছিলাম। জনাব মওলানা মােহাম্মদ আকরম খান সাহেবের মত সর্ব- জনমান্য বিশিষ্ট আলেম ব্যক্তির মতেও এই অনুবাদে কোন দোষ ঘটে নাই। পক্ষান্তরে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সর্বজন পরিচিত বিখ্যাত অধ্যাপক বহু গ্রন্থ প্রণেতা বিশেষজ্ঞ পণ্ডিত ব্যক্তিও এই কবিতাটিতে কোন দোষ দেখিতে পান নাই; বরং ইহা একটি “উত্তম কবিতা বলিয়া নির্দেশ করিয়াছেন। এ সম্বন্ধে যতগুলি অভিমত পাইয়াছি প্রায় সমস্তই উপরােক্ত মৰ্ম্মের। সুতরাং আলােচ্য কবিতাটি লিখিয়া আমি বাঙ্গলা কাব্য-সাহি ত্যের একেবারে সর্বনাশ করিয়া ফেলিয়াছি এবং মহাকবি শেখ সাদী মরহুমের কবরের নিরাপদ শান্তি নষ্ট করিয়াছি কিছুতেই এরূপ মনে করিতে পারিতেছি না। ইহাতে যদি সওগাত-সমালােচক, সওগাত- সম্পাদক বা অন্য অনেক পাঠকের কর্ণ-জ্বালা” বাড়িয়া গিয়া থাকে তবে আমি তাহাতে চায় ; কারণ আমি আমার কোন অপরাধই বুঝিতে পারিতেছি না। উপসংহারে নিবেদন,যদি কোন অভিজ্ঞ পাঠক সাদীর কালামের আলােচ্য কবিতাটিতে কি দোষ-ত্রুটী ঘটিয়াছে তাহা আমাকে বুঝাইয়া দেন এবং উক্ত অনুবাদের পরিবর্তে একটী শ্রেষ্ঠতর অনুবাদ উপস্থিত করেন তাহা হইলে তাহার নিকট চিরকৃতজ্ঞ থাকিব। আমি আমার নিজের দোষ-ত্রুটী জানিতে ও তৎসংশােধনে সর্বদাই প্রস্তুত। বিনীত শেখ হবিবর রহমান কলিকাতা বিশ্ব বিদ্যালয়ের বাঙ্গালা ভাষার ভূতপূর্ব পরীক্ষক কবির মৌলভী শেখ হবিবর রহমান সাহিত্য-রত্ন এল, টি, প্রণীত অতুলনীয় গ্রন্থাবলী ১। কোহিনুর কাব্য “কোহিনুর” বঙ্গ সাহিত্যে বাস্তবিকই কোহিনূর। সৃষ্টির পূর্ব হইতে হজরত আদম (আঃ) তওবা কবুল হওয়া পৰ্যন্ত ঘটনাবলী বিবিধ ভাব-কল্পনা অলঙ্কারাদিতে বিশােভিত হইয়া এই পুস্তকে প্রকাশিত হইয়াছে। ইহার ভাবের অনন্ত গভীরতা, কল্পনার বিমান-স্পর্শী উচ্চতা, ভাষার বিশ্ব বিমােহন পবিত্রতা ও মধুরতা বঙ্গ-সাহিত্যে একেবারে অতুলনীয়। পুস্তকখানি মহাকবি মিল্টনের প্যারাডাইজ লষ্টের সহিত উপমিত। মূল্য ১• মাত্র। ২। পারিজাত পারিজাত বাস্তবিকই কবিতা কাননের পারিজাত। ইহার ভাব স্বর্গীয়, সুর স্বর্গীয়, লক্ষ্য স্বর্গীয়। সুললিত ছন্দে উচ্ছ্বসিত ভাবে পারিজাত মােল্লেম-কাব্য জগতে যুগান্তর আনায়ন করিয়াছে। প্রধান প্রধান হিন্দু- মুসলমান সংবাদপত্র এবং পণ্ডিত মণ্ডলী কর্তৃক মুক্তকণ্ঠে প্রশংসিত। অভিনব বেশে তৃতীয় সংস্করণ মূল্য • আনা। ৩। আবেহায়াত বাঙ্গালা ভাষায় পারস্য গজলের অপূৰ্ব্ব মাধুরী ও স্বর্গীয় প্রেমের মধুর ঝঙ্কার। ইহা বাঙ্গালা সাহিত্যে নূতন সামগ্রী। পুস্তকখানি পাঠ করিলে ধৰ্ম্ম ভাবের উচ্ছ্বাসে ও স্বর্গীয় প্রেমের অপূৰ্ব বিকাশে আত্মহারা হইতে হইবে। বর্ধিত আকারে দ্বিতীয় সংস্করণ মূল্য ॥ আনা। ৪। চেতনা চেতনা পাঠে হৃদয়ে নবজীবনের সাড়া অনুভব করিবেন। বিষয়ের গুরুত্ব হিসাবে ইহার মূল্য লক্ষ কোহিনুর সদৃশ। দ্বিতীয় সংস্করণ। মূল্য • মাত্র।

• ৫। নিয়ামত নিয়ামত বাস্তবিকই বেহেশতের নিয়ামত। মােল্লা বাকাউল্লা, ভদ্রলােক, নুরল হােসেন, প্রভৃতি যে সমস্ত অমূল্য গল্প পাঠে একদিন মােহাম্মদীর সহস্র সহস্র পাঠক হর্ষ-পুতিক ও বিস্ময় বিহ্বল হইয়াছিলেন সেইরূপ বারটি গল্প ইহাতে স্থান পাইয়াছে। পাঠে কখনও হাসিয়া অধীর হইতে হইবে, আবার কখনও অশ্রু সংবরণ কঠিন হইয়া পড়িবে। একাধারে বিবিধ ইসলামিক শিক্ষা সম্বলিত জাতীয়তার আদর্শ, বিচিত্র রসে মধুর এমন অমূল্য গ্রন্থ বঙ্গভাষায় আর নাই। মূল্য ১, একটাকা। ৬। বাঁশরী বাঁশরীর অপূৰ্ব্ব সুরে আবালবৃদ্ধবনিতা সকলেই বিমুগ্ধ এবং স্বর্গীয় ভাবে বিভাের হইয়া যাইবেন। হৃদয়ের তীতে তন্ত্রীতে আনন্দের ঝঙ্কার উঠিবে। মূল্য ১ একটাকা। ৭। হাসির গল্প ক্ষুদ্র বৃহৎ শতাধিক হাসির গল্প। প্রত্যেক গল্প পাঠে হাসিয়া হাসিয়া অধীর হইতে হইবে; সঙ্গে সঙ্গে যথেষ্ট উপদেশও লাভ হইবে। শিশু পাঠ্য নির্দোষ আমােদর বই। সচিত্র তৃতীয় সংস্করণ মূল্য।। ৮। পরীর কাহিনী বিংশ শতাব্দীর আরবব্যাপন্যাস ! স্বপ্নাতীত কল্পনাতীত অপূর্ব ঘটনা। পরীজাদী গােলবাহারের সহিত দুরাত্মা দৈত্য আৰ্দাহাশের ক্রমাগত সংঘর্যের বিস্ময়কর অদ্ভুত লােমহর্ষণ কাহিনী। দানবগণের ভীষণ প্রতি হিংসা, তাহার ফলে মায়াজালে পরিবেষ্টিত মনােয়ারের আত্মহত্যা ইত্যাদি ঘটনা পড়িয়া বিস্ময়ে অবাক হউন। এমন কৌতুহলােদ্দীপক সত্য ঘটনা-মূলক গ্রন্থ বঙ্গ-ভাষায় আর নাই। সুন্দর বাধাই ; ১ম ও দ্বিতীয় ভাগ একত্রে তৃতীয় সংস্করণ। মূল্য ৮ বার জানা মাত্র। ৯। ভারতসম্রাট বাবর ভারতে মােগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা, অধ্যাবসায়ের জীবন্ত প্রতিমূর্তি মহামতি সম্রাট বাবরের সংক্ষিপ্ত জীবনী। সুকুমারমতি বালক বালিকা গণের উপযােগী সহজ সরল ভাষায় লিখিত। মূল্য • মাত্র ১০। আলমগীর উপন্যাসের মাধুরী এবং ইতিহাসের সত্য এই পুস্তকে একাধারে বিরাজিত। স্বার্থান্ধ বিধর্মী লেখকগণ সম্রাট আওরঙ্গজীব সম্বন্ধে যে সমস্ত অলীক কলঙ্ক কাহিনী প্রচার করিয়াছেন এই পুস্তক পাঠে তৎসমুদয় সম্যক বিদূরিত হইবে। প্রসঙ্গক্রমে বহু অমূল্য তত্ত্ব অবগত হওয়া যাইবে। বিষয়-মাহাত্ম্যে, ঘটনা-বৈচিত্র্যে ও লিপিচাতুৰ্য্যে এই গ্রন্থ বঙ্গ সাহিত্যে অতুলনীয়। পুস্তকের আকার সুবৃহৎ, ৩২২ পৃষ্ঠা, সুন্দর সিল্কের বাঁধা। দ্বিতীয় সংস্করণ মূল্য-১৮০ মাত্র। ১১। সুন্দর বনে ভ্রমণকাহিনী বঙ্গ সাহিত্যে অভিনব পুস্তক। চির রহস্যমধুর সুন্দর বনের বিরাট গভীর দৃশ্য এই পুস্তক খানি পড়িতে পড়িতে পাঠকের নয়ন সম্মুখে মুক্ত বলিয়া মনে হইবে। কোথাও বা আতঙ্কে দেহ কণ্টকিত হইয়া উঠিবে, আবার কোথাও বা বর্ণনার ললিত ছটায়, হাস্য রসের, অনাবিল উচ্ছ্বাসে পাঠক আনন্দে আত্মহারা হইয়া পড়িবেন। সুন্দর বনের দৈত্য দানব গণের অদ্ভুত কাহিনী, বাওয়ালী ও শিকারীগণের দুঃসাহসিক কার্যাবলী পাঠককে চমকিত করিয়া দিবে। পুস্তকের শেষে কতকগুলি বাঘের মন্ত্রও সন্নিবিষ্ট হইয়াছে। মূল্য ৭০ বার আনা মাত্র। ১২। আমার সাহিত্য-জীবন ইহাতে জানিবার, শিখিবার ও বুঝিবার অনেক কথা আছে। যাহার সাহিত্য-পথের নুতন পথিক তাহাদের প্রত্যেকেরই এই পুস্তক খানি পড়া বিশেষ প্রয়ােজন। অনেক কাজের কথা ইহাতে সন্নিবিষ্ট হইয়াছে। ভাষা ও বর্ণনা উপন্যাসের ন্যায় মধুর। মূল্য। আট আনা মাত্র। (১ম ৯ নয় খানি পুস্তক গভর্ণমেন্ট কর্তৃক প্রাইজ ও লাইব্রেরীর জন্য অনুমােদিত।) প্রধান প্রধান পুস্তকালয়ে প্রাপ্তব্য মােহাম্মদ মােবারক আলী মখদুমী লাইব্রেরী, ১৫নং কলেজ স্কোয়ার, কলিকাতা।

No text on this page.

Sadbhab Kusum Ed. 2nd

Author
Rahaman,sk Habibar
Title
Ba Soudir Kalam
File name
Sadbhab Kusum Ed. 2nd
Text
OCR done
Citation
1927
Published
2009/11/29
Publisher
Sk,fazlar Rahaman,jashore.
Language
Sanskrit
Pages
84
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Rahaman,Sk Habibar
DLI number
513189
Barcode
4990010020190.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
HNoYexvAFzS
Download PDF

Sadbhab Kusum Ed. 2nd