Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Charu O Haru Part 1
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
তােষির্ণ-গ্রন্থাবলী-১
চারু ও হারু
সচিত্র
ছেলেদের উপন্যাস
প্রথম ভাগ
শ্রীদক্ষিণারঞ্জন মিত্র-মজু
আশুতােষ লাইব্রেরী হইতে
শ্রীআশুতােষ ধর
প্রকাশিত
১৩১৯
মূলা বার আম
ঢাকা
আশুতােষ প্রেসে
শীরেবতীমােহন দাস কর্তৃক
মুদ্রিত
মেসার্স কে, ভি, সেন ব্রাদার্স
চিত্রাতি
রকম কর্তৃক সফং সংরক্ষিত।
ছবি। নদীর পাড়ে স্বর্ণরঞ্জিত, তিন রঙ, মুখপত্র + ০ + থােক সােণামণি হারু রাখে গাই ভূতে ধরে ছাতা। -বাড়ী ফিরে এলে ঢিল ছুড়িয়া পলায় পড়া শুনিয়া সকলে খুসী দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ••• ••• ঐ ••• •• २७ বই-চোর ঐ ০ ০ ০ (দোয়াত:চোর পুকুরের জলে ফেলিয়া দেয় আহা! ছানাটিকে কি করিয়া বাঁচাইবে। “মচ্ছ ধরিবে খাইবে সুখে” - হারু, জোড়হাত করিয়া ভগবানকে প্রণাম করিল- ৮ । . । دن ••• ঐ । । । | ০ ০ ঐ •• ঐ = ৩ + “কি সিঁথিই করিয়া দিয়াছেন, সোজা!- “কেমন রাজটীকা পরিয়াছি। পুরস্কার বিতরণ সভা বাপের পায়ে প্রণাম করিতে চলিল একা একা কালমুখ চারু বাড়ী গেল চিটি কাটিতে লাগিল ••• ৮৫ ••• ৯
No text on this page.
No text on this page.
৯৯
-নদীর পাড়ে।
চারু ও হার সচিত্র ছেলেদের উপন্যাস।
২৭পৃষ্ঠা।
K. V. Seyne & Bros.
চারু ও দার-উপাৰ পৃষ্ঠা
@
39৫
পৰম
আদরে,
শ্রীমান্
A
সােণার হাতে
"চারু ও হারু
উপন্যাস
আশীর্বাদ
দিলাম
এই উপন্যাস পড়িয়া, চারু ও হা এই দুইজনের মধ্যে তাের কা’র মত
হইতে ইচ্ছা হয়, এই পাতার পিঠে তাহা লিখিয়া রাখি।
ইতি
তারিখ,
।।।। ৮
গুড
র মত তারিখ,
উৎসর্গ।
সচিত্র
ছেলেদের উপন্যাস
প্রথম ভাগ
আমার দেশের
ছােট ছােট
ছেলেৰে
দিলাম
---শ্রীলক্ষিণাবন----
No text on this page.
No text on this page.
চারু ও হারু
২- পৃষ্ঠা।
দ
-থােকন সােণামণি।
#
৪পৃষ্ঠা।
-হারু রাখে গাই
প্রথম পরিচ্ছেদ। কপনাথপুর- কৃষ্ণরায় জমীদার চৌধুরী ঠাকুর। ঐশ্বর্যের হার সীমা নাই। প্রকাণ্ড দীঘি, দীঘির পর বাগান, বাগানের পর উচু দেয়াল, দেয়ালের তিন দিকে তিনটি দেউড়ী ; সম্মুখের দেউড়ীর উপরে সিংহ। সিংহ ঘাড় বাঁকাইয়া কেশর ফুলাইয়া দাঁড়াইয়া রহিয়াছে।
সেই দেউড়ীর ভিতর দিয়া গেলে আবার সুন্দর বাগান, তাহার পর নাট-মন্দির, আঙ্গিনা, তাহার পর চকমিলান মস্ত চৌ-তলা বাড়ী। সিপাই বরকন্দাজ দাস দাসী লােক জন রায়ত প্রজায় ধরে না। • দুই ক্রোশ দূরের গ্রাম হইতে বাড়ীর চূড়া দেখা যায় ; প্রতি প্রহরে নহবতের বাজনা শােনা যায় দেবমন্দিরে কাসর ঘন্টার সুর উঠে ; দীঘিতে রাজহাঁস সাঁতার বাগানে ময়ূরগুলি পেখম খুলিয়া নাচে। ; কাটে ; তঁা’র একমাত্র পুত্র,-“চারু’ খোকন সােণামণি, আদরে তাহার পদ ছোঁয় না ধরণী। -ছেলেদের উপন্যাস- . ( ২ ) == ক্লপনাথপুর, দুঃখী পরাণ ; জমী জমা নাহিক প্রচুর। ; শুধু তাহার ছােট একখানি ক্ষেত। ছােট ছােট ঢেউ তুলিয়া আকা বাঁকা নদী চলিয়াছে, সেই নদীর পাড়ে, খেজুর বন, পাড়ে, খেজুর বন, বেত বন, বাঁশ বনের পাশ দিয়া ঘােট পথ, সেই পথের কাছে, গাছের ছায়ায় ছােট একখানি বাড়ী।—ভাঙ্গা কুঁড়ে ; চালে খড় নাই, ভাল বেড়া নাই, হু হু বাতাস লাগে ; কোন রকমে বাঁধন ছাদন দিয়া, পরাণ, থাকে। পাড়া-পড়শীও বড় কেহ নাই। যাহারা আছে সকলেরই বাড়ী গাছ-পালার আড়ালে একটু দূরে দূরে। একা একখানি বাড়ীতে থাকে ; নিজের ঐ জমীটুকু, দুইটি বলদ আর একটি গাই, এই শুধু তাহার সম্বল। মাথার ঘাম পায়ে ফেলিয়া অষ্ট প্রহর খাটিয়া দু’বেলার চারিটি অন্ন তাহার যুটে। ; -ছেলেদের উপন্যাস-
কেবল, যখন ভােরের বাতাস ঝিঝি করিয়া
গাছের পাতা নাড়াইয়া দিয়া যায়, ভােরের পাখীর মধুর
সুরের সঙ্গে ছােট নদী কুলু কুলু গান গাইয়া উঠে,
পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝিকিমিকি বােদ আসিয়া ছােট
উঠানটিতে পড়ে, তখন দূরে মাঠের দিকে চাহিয়া
পরাণের মন আনন্দে ভরিয়া যায়। পরাণ ডাকে,
—“হারু।”
তা’র
একটি মাত্র ছেলে হারু,
আর কেহ নাই।
পরাণ যায় হালে ;
সাথে
হারু রাখে গাই।
৪
-ছেলেদের উপন্যাস
( ৩ ) ভাদ-নিঙরাণ পুতুল সােণামণি খােক চারু;- খােককে লইয়া সকলের কাড়াকাড়ি। কে আগে আসিয়া খােককে কোলে নিবে, কে সকলের চাইতে ভাল জিনিষটুকু খােকনের হাতে দিবে,-সকলের খােকনের মা নাই। মাসী, পিসী, খুড়ী, জেঠী, দিদি, দিদিমা, মামী, খােককে ছাড়িয়া কেহ নড়েন না। খােকনের গায়ে পায়ে গহনা ধরে না। মাথার টুপিতে মাণিক ঝিক ঝিক্ করে, যত গহনা চিকচিক্ করে, জরীর পােষাক জরীর জুতা জরীর চাদর ঝক্ঝক্ করে। খােকনের জন্য, রাত পােহাইলেই–ক্ষীর, সর, ননী, ছানা, সন্দেশ। খােক কত খায় কত ছড়ায়। রূপার পুতুল, পিতলের ঘােড়া, কাঠের হাতী, র- করা গাড়ী, ভেঁপু, বাঁশী, খােকনের কত কি। খােক ঘােড় ফেলিয়া দিয়া গাড়ীতে উঠে, গাড়ী ফেলিয়া দিয়া হাতীতে চড়ে, কত পুতুল ভাঙ্গে, কত বাঁশী ফেলিয়া দেয়। খােকনের কত ভেঁপু মাটিতে গড়ায়, -ছেলেদের উপন্যাস- কত জুতা হারাইয়া যায়; খােক এক জুতা ফেলিয়া দিয়া আর এক জোড়া পরে, সে জুতা ফেলিয়া দিয়া নূপুর পায়ে পরে! চারিদিকের লােক কত খুসী হইয়া ছুটিয়া আসিয়া হাততালি দিয়া বলে,-“খােক সােণা, খোকন্ সােণা, নাচ তো?” থােকন নাচে। থােক, হাসে, খেলে, নাচে, গায়, রুনু ঝুমু নূপুর পায় ! দাড়ের উপর হীরামণ, খাঁচার মধ্যে সােণাকাণি ময়না, খােকনের পায়ে নূপুরের বাজনা শুনিয়া বলিতে- ছিল,-“কুনু খুমু খুনু খুনু?” “খােক কি খাবে” “জল আন” “কে রে” “রাম রাম বল”; আর খল খল করিয়া হাসিতেছিল। খােক রুনু ঝুনু করিয়া তাহাদের কাছে ছুটিয়া আসিল, তাহাদিগকে ভেঙ্গ চাইল, ধমক দিল, আর, হাসিয়া গলিয়া পড়িল। হাসিয়া খেলিয়া খােকনের দিন যায়। -ছেলেদের উপন্যাস- ( ৪ ) দুঃখীর ছেলে হারু; অতটুকু ছেলে, গাই রাখে, কাঠ কুড়ায়, গাইয়ের দুধ দুহিবার সময় বাছুর ধরে, কোঁচড়ে মুড়ী বাঁধিয়া বাপের সঙ্গে মাঠে যায় আর নদীর ধারে ছুটাছুটি করে। কাল চেহারা, আর, ভারি চঞ্চল। কাল পাথরে ক্ষোদাই ছােট্ট মূর্তিটি, যেন, সারা অঙ্গে দুষ্টামি আঁকা। সে কি স্থির থাকে ? কোঁচড় খুলিয়া মুড়ী খায়, জলে ছােট ঘােট ছােট ঢিল ফেলে, তাহাতে টুব, টু করিয়া শব্দ হয় আর হারু হাততালি দিয়া নাচে। বুধীর বাছুরটি যে ছিল, সেটি কিছু দিন হয় মারা গিয়াছে। তাহার জন্য ছোট্ট ছেলে হারুর মন কেমন- কেমন করে। বাছুরটি কেমন নাচিয়া নাচিয়া আসিত, এদিক ওদিক ছুটিয়া বেড়াইত, তাহার সঙ্গে কত আবার ছুটিয়া যাইত। সেও তাে তাহারই মত ছােট্ট ছিল ; সে কেমন সুন্দর ছিল, তাহার জন্য মন কেমন করিবে না ? আহা, হারুর সে বেদনা আর কেহ কি বুঝিবে! খেলিত ; ছেলেদের উপন্যাস হারু বুধীকে কত যত্ন করে, ভাল ভাল ঘাস, খাওয়ায়, বুধীর সঙ্গে বাছুরটির কথা, আরও কত কথা বলে! বাঁশ বনের উপর দিয়া ও কি ডাকিল ?- “বৌ কথা কও” “বৌ কথা কও বৌ-কথা-কও পাখী ডাকিতে ডাকিতে উড়িয়া গেল, অমনি হারু তাহার সুরে সুর মিলাইয়া ডাকিল, বৌ কথা কও”। --“বৌ কথা কও, পাখীর সুরে আর ছোট ছেলের মধুর সুরে নদীর পাড়টি ভরিয়া গেল। হারু বাপের সঙ্গে সঙ্গে ধানের ছােট আটিটি মাথায় কবিয়া, বুধীগাইকে আগে আগে নিয়া, সন্ধ্যার আঁধারে বাড়ী আসে। ছেলেদের উপন্যাস- ( ৫ ) সােণমণি খােক চারুর ছ’ বছরে পা পড়িয়াছে। এক দিন, জমীদার-বাড়ীতে খুব ধুম-ধাম। খােমণির হাতে-খড়ি। নাটমন্দিরে শানাই, ঢােল, উঠানে জগঝম্প বাজিয়া উঠিল। খাওয়া দাওয়া, উৎসব। হাতেখড়ি হইয়া গেলে কয়েক দিন পর, চৌধুরী- ঠাকুর কৃষ্ণরায়, লােকজন গালপাট্টা-ওয়ালা বরকন্দাজ সঙ্গে, আঁকাল সাজ পােষাক পরাইয়া দিয়া হীরার পাগড়ী মাথায় জড়াইয়া দিয়া, রূপার মকর-মুখের হাতল নূতন পাল্কীতে চড়াইয়া দিয়া, সােণার দোয়াত কলম হাতে দিয়া, খােক সােণাকে পাঠশালায় পাঠাইলেন। পাঠশালায় লাল কাপড়ের ঝালর, নীল কাপড়ে মােড় একটি জলচৌকী, তাহার উপর খােক চারু রাজপুত্রের মত পাঠশালা আলো করিয়া বসিল, আর, লিখিতে গিয়াই–কাঁদিয়া ফেলিল। অমনি ছুটি! খােক বাড়ী ফিরিয়া আসে। -ছেলেদের উপাস- -চা- খােক বাড়ী আসিতেই এ আসিয়া খােককে কোলে নেয়, ও আসিয়া খােককে কোলে নেয়, মাস পিসী সকলে আসিয়া খােককে কোলে নেন; খাবার, খেলনা, সকলে ছুটিয়া আনিয়া খােকনের হাতে দেন। খােকনের তখন মুখে হাসি ধরে না! এমনি নিত্য। বাড়ীতে রেকাবে রেকাবে ক্ষীর, ছানা, সন্দেশ তৈয়ার থাকে, খাইয়া, গাড়ী ঘোড়া বাঁশী নিয়া থােক খেলিতে ছুটে। “হেইও।”-চিহী চিহী-ঘােড়া ছুটে! কি মজা! পোঁ পোঁ পোঁ বাঁশী বাজে। কি মজা! খেলিয়া টেলিয়া আসিয়া, সন্ধ্যা হইতে না হইতেই-- ঘুম! * কি মজা !! -ছেলেদের উপন্যাস- ( ৬ ) === নদীর উপর দিয়া “কক কক করিয়া বকের ঝাঁক উড়িয়া যাইতেছিল। হারু জিজ্ঞাসা করিল, -“বাবা, এত বক কেন ? বকেরা কোথায় যায় ?” নদী দিয়া বড় বড় নৌকা যায়, হারু জিজ্ঞাসা করে, -“বাবা, নৌকায় কি নিয়া যায় ?” হারু বাপের সঙ্গে মাঠে যায়, সারা পথ হাৰু বাপের কাছে কত কথা জিজ্ঞাসা করে। গ্রামের কত ছেলে পাঠশালায় পড়ে; পরাণ এক-এক সময় মনে করে, হারুকে পড়িতে দেই। কিন্তু পাঠশালার মাহিয়ানার যােগাড় করিতে না পারিলে তাে হারুকে পড়াইতে পারিবে না; নিজের অল্প একটু জমী, তাহাতে কুলায় না, পরাণ পাড়া-পড়শীর জমী চষে, ধানের ভাগ পায় কি কলাইয়ের ভাগ পায়, তাহাই দিয়া কোন রকমে তাহার দিন চলে ; কি করিয়া হারুকে পড়িতে দিবে? পরাণ, মনের কথা, মনের কষ্ট মনেই চাপিয়া রাখে। আহা, দুঃখীর মনের কথা বুঝি মনেই ফুরায় । } । ছেলেদের উপহাস- • ১১
শেষে সে অনেক দিন ভাবিল। ভাবিয়া ঠিক
করিল, “আমার তাে কিছু নাই, হারুকে যদি পড়াই,
বড় হইলে লিখিয়া পড়িয়া হারু সুখে থাকিবে। আমার
যা হয় হউক, আহা, হারু যদি লিখিয়া পড়িয়া ভাল
হয়!” ভাবিতেও পরাণের মন আনন্দে ভরিয়া উঠিল।
পরাণের চক্ষু জলে ভরিয়া আসিল।
কিন্তু, কি করিয়া পরাণ হারুর পাঠশালার মাহিয়ানার
যােগাড় করিবে ?
এক দিন পরাণ তাহার গরুটি বেচিয়া ফেলিল। গরুটি
বেচিয়া,মনের কষ্টে পরাণের দুই বেলা আহার ঘুচিয়া গেল।
কিন্তু, পরাণ, সে কষ্ট বুক চাপিয়া সামলাইয়া লইল।
গরুটি বেচিয়া, পরাণ, কয়েকটি টাকা পাইল।
বুধী চলিয়া গেলে হারুর মন বড়ই ছটফট করিতে
হাৰু বাপকে জিজ্ঞাসা করিল, “বাবা, বুধীকে
বুধীকে নিয়া গেল কেন ? বুধী আর
আসে না কেন ?”
হারুর বাবার চক্ষু ছল ছল জলে ভরিয়া উঠে।
কয়েক দিন গেল। সরস্বতীপূজার দিন হাতে-
খড়ি দিয়া, তাহার পরে হারুর বাপ হারুকে একদিন
পাঠশালায় নিয়া গেল।
লাগিল।
দিলে কেন ?
১২
ছেলেদের উপন্যাস
কত পড়ুয়া যাইতেছে। হারু পাঠশালায় যাইবে । বাপের সঙ্গে, তাহাদের সাথে সাথে যাইতে হারুর বড়ই ভাল লাগিতে লাগিল। পাঠশালায় গিয়া হারু দেখিল, কত ছেলে! অনেকে তাহারই মত ছােট ঘােট! সকলেই লিখিতেছে, পড়িতেছে। হারুর যেন, মন নাচিতে লাগিল। পরাণ, হারুকে পাঠশালায় লিখিতে দিল । পাঠশালার বারান্দায় বসিয়া, পরাণ, দেখিতেছিল। পরাণ যখন দেখিল, হারু, লিখিতেছে, তখন পরাণের, আহা, সকল দুঃখ দূর হইয়া গেল; পরাণ, কত সুখে, কত কথাই ভাবিতে লাগিল। আর হারু ? হারু যখন সকল ছেলের সঙ্গে বসিয়া লিখিতে পাইল, তখন হারুর ছােট বুকটুকুর মধ্যে কি আনন্দ খেলিতে লাগিল সেদিন বাড়ীতে গিয়া হারুর মনে সুখ ধরে না। কাল আবার কতক্ষণে পাঠশালায় যাইবে, সকল ছেলের সাথে সেও লিখিতে পারিবে, - কি মজা ! রাত্রে হারুর ভাল করিয়া ঘুম আসে না, কাল পাঠ- শালায় গিয়া নিজে নিজে আখরগুলি যদি লিখিতে পারে-~- -ছেলেদের উপন্যাস
-তবে কি মজা !
বাবাকে আনিয়া সেগুলি দেখাইবে,
কি মজা!
আহা, এত দিন কেন লিখিতে পাই নাই।
ছেলেদের উপন্যাস
No text on this page.
চারু ও হারু
==
১৫ পৃষ্ঠা।
-ভৃত্যে ধরে ছাতা ।-
-খায় চাট্টি পান্তা ভাত বাড়ী ফিরে এলে।
১৬পৃষ্ঠা
K. V Seyne & Br
( ৭ ) দিনের পর দিন যায়। এইরূপে, চারু ও হারু দুই জনে এক পাঠশালায় পড়ে। ক্রমে দিন যাইতে লাগিল। খােক বাবু চারু পড়ে কি রকম, শুনিবে ? খােক চারু পাঠশালে যান ছিড়েন দু’ এক পাতা, পাস্তোয়া খান, হাসে, আসে , ভূতে ধরে ছাতা। ইহার বই ছিড়িয়া, উহার পাততাড়ি ছুড়িয়া, উহার শ্লেট ভাঙ্গিয়া দিয়া, উহার কলম কাড়িয়া নিয়া, ইহাকে দুই চাপড়, উহাকে দুই আচড়, উহার মুখ ভেঙ্গ,চান, এই সব পড়া করিয়া চারু বাড়ী যায়। বাড়ীতে পৌছিতে না পৌছিতে লােক জন ছুটিয়া আসিয়া খােকনের মুখের ঘাম মুছাইয়া, কোলে কাঁধে করিয়া নেয়। * -ছেলেদের উপন্যাস- -চার ও হার- . হারু গরীবের ছেলে, এক কোণে একটা ছেড়া চটে বসিয়া লেখে। যেমন দুষ্ট তেমনি চঞ্চল ; কিন্তু, ঐ বই দোয়াত কলম গুলির মধ্যে তাহার যত মন ! দেখিতে দেখিতে পড়াটুকু শিখিয়া ফেলে ! হারুর হাতের লেখা দিন দিন কেমন সুন্দর হই- তেছে! পড়া দিতে গিয়া হারু একদিনও ঠেকে না, একটিরও উত্তর দিতে ভুল করে না, শ্রেণীতে হারু সক- লের উপরে থাকে । লিখিয়া পড়িয়া কালি-ঝুলি মাখা হারু বাড়ী যায়। হারু যায় পাঠশালায় লেখে পড়ে খেলে, দরিদ্রের ছেলে হারু, খায় চাট্টি পান্ত ভাত বাড়ী ফিরে এলে। এইরূপে দিন যায় । চাকুর,ক্রমে এখন আজ এ অসুখ, কাল সে অসুখ, আজ বাড়ীতে এটা ছিল, কাল বাড়ীতে ওটা ছিল, আজ গান, আজ পুতুল নাচ, আজ পূজা, আজ নিমন্ত্রণ। এই সব বলিয়া বলিয়া চারু পাঠশালা কামাই করে। যে দিন সে -ছেলেদের উপন্যাস-
-চারু ও হারু-
পাঠশালায় আসে, সাজপােষাক করিয়া, বুক ফুলাইয়া
ঘুরিয়া বেড়ায়, এ শ্রেণীতে ও শ্রেণীতে গিয়া বাহাদুরী
করে, ইহার উহার সাথে ঝগড়া করে ; পড়া পারে না,
আর সকলের নীচে পড়িয়া থাকে ।
তাহাতে কি ? পড়া না পারিলে, কাঁদিলেই চারুর
}
;
হারুর, বাড়ীতে কত কাজ ; কলার পাতা পোড়াইয়া
ক্ষার তৈয়ার করিয়া তাহা দিয়া কাপড় কাচিয়া লয়,
বাপের সঙ্গে ঘরের বেড়া বাঁধে, গােহাল পরিষ্কার করে,
ধান শুকাইতে দেয়। তবু কি হারু দুষ্টামী করিতে
ছাড়ে ? হাৰু এক ধনুক তৈয়ার করিয়াছে , এবার
বারােয়ারি পূজার সময় হারু যে যাত্রাগান শুনিয়াছিল,
সেই যাত্রাগানে যেমন ধনুক ছিল, ঠিক তেমনি ! তাহা
দিয়া সাঁই সাঁই করিয়া পাটকাটীর বাণগুলি ছােড়া
যায় ! সেইটি দিয়া সে বাণ ছুড়িয়া খেলে। নিড়েন
লইয়া কুঁড়ের পাশে মাটি খুড়িয়া ছােট ছোট গাছ লাগায়
আর ছােট ছােট কলার খোলের নৌকা তৈয়ার করিয়া
নদীর জলে ভাসায়।
স্রোতে হারুর নৌকা
কতদূর
চলিয়া যায় !
তখন হারুর কি মজা।
ছেলেদের উপন্যাস--
-চারু ও হারু-
কিন্তু হারু একদিনও পাঠশালা কামাই করে না।
কতদিন বৃষ্টি বাদলে ভিজিয়া, রাস্তায় কত কাদা ভাঙ্গিয়া
পাঠশালায় অসিতে হইয়াছে ; তাহাতে কি ? হারু
ঘােষ-বাড়ীর চণ্ডীমণ্ডপের ছাঁচ-তলায় একটু আসিয়া
দাঁড়ায়, তাহার পর শ্লেট মাথায় দিয়া, আর যদি মান পাতা
পায় তত মানপাতা মাথায় দিয়া এক দৌড়ে গিয়া
পাঠশালায় উঠে।
হারুর পড়া দেওয়া হইয়া গেলে, হারু, আর আর
ছেলেরা যে সব সুন্দর সুন্দর বই পড়ে, শ্রেণীতে শ্রেণীতে
গিয়া তাহা দেখে। আর ভাবে, আমি কবে এই গুলি
পড়িব !
উৎসাহে, দেখিতে দেখিতে হারু এক বই ছাড়াইয়া
আর এক বই পড়ে ; যেদিন নূতন শ্রেণীতে উঠে, নূতন
বই পড়ে, সে দিনটি তাহার কি সুখে কাটে।
চারু, পড়ুক না পড়ুক, নূতন শ্রেণীতে উঠিতে বাধা
নাই! নূতন শ্রেণীতে উঠে, নূতন বই পায়, আর কি ?
এইরূপে বছরের পর বছর যাইতে লাগিল।
৮
-ছেলেদের উপন্যাস
No text on this page.
চারু ও হারু
,
– সাড়া পড়িয়? যায় ! -
২০ পৃষ্ঠা।
-কারুর পড়া শুনিয়া সকলে খুসী।
২২পৃষ্ঠা।
-চারু ও হারু- ( ৮ ) ঘােষ-বাড়ীর বকুল তলায় যত ছেলের খেলিবার অভড়া। পাঠশালার সকল ছেলে এইখানে খেলে। ; ননীর পুতল চারু খেলিতে গিয়াও কাহারও সঙ্গে পারে না। একটু দৌড়ালেই যেন কতই ঘঁপাইয়া পড়ে ; ঘামিয়া তাহার চক্ষু মুখ যেন লাল হইয়া উঠে। ফুরফুরে চেহারা ; সােণার কাৰ্তিকটির মত সুন্দর ; পাছে গায়ে ধূলা লাগে, জামা ময়লা হয়, তাই সকলের পিছনে খেলে, নয় তত খেলা ফেলিয়া পলাইয়া আসে! আর, প্রায়ই মিছামিছি খেলার সাথীদের সঙ্গে ঝগড়া করে, যা খুশী তাই গালাগালি করে, কুটি করে, রাগিয়া অস্থির হয়। এইজন্য চারুকে লইয়া খেলিতে কেহই বড় ভাল- বাসে না। যেমন লেখাপড়ায়, তেমনি খেলায় হারু যত ছােট ছেলের সর্দার। হারু সকলকে লইয়া খেলে। ছুটাছুটি-খেলা, হা-ডু-ডু-ডু-খেলা, কোন খেলাতেই হারুর সঙ্গে কেহ পারে না। যখন খেলে, তখন হারুকে যেন ছেলেদের উপন্যাস ১৯ -চারু ও হার সকলের মধ্যে বীর বলিয়া মনে হয়। দিনে দিনে হারুর শরীর কি সুন্দর গড়নের হইয়াছে ! যেন, পিটিয়া গড়া। যেমন কাল, তেমনি সুন্দর। কালর কি তােমরা নিন্দা কর? কাল যে কত সুন্দর, হারুকে দেখিলে বুঝা যায় । চওড়া বুকের পাটা, হাড়ে-মাসে জড়ান দিব্য চেহারা ; যখন দৌড়ায়, কি সুন্দর দেখা যায় ! হা-ডু-ডু-ডুর ডাক দিয়া হারু যখন ছুটে, তখন চারি- দিকে সকল ছেলের মধ্যে যেন সাড়া পড়িয়া যায় । ছুটিতে, গাছে চড়িতে, সাঁতার কাটিতে, হারুর সমান আর কেহই নাই। . হারুকে না হইলে ছেলেদের কোন খেলাই হয় না। আর কয়েকটা ছেলে আছে ভারি দুষ্ট, তাহাদের একটার নাম পঞ্চ---—কিনা পঞ্চানন, একটার নাম নিবারণ, একটার নাম মতি, একটার নাম ভূতো, আর একটার নাম হরিশ। চারু এই দুষ্টগুলির সঙ্গে গিয়া মিশে আর দূরে গিয়া হারুকে, আর, সকলকে ঠাট্টা করে । খেলায় না পারিয়া শেষে চারু আর উহারা হারুদের গায়ে ঢিল ছুড়িয়া মারিয়া ছুটিয়া বাড়ী পলায়! -ছেলেদের উপন্যাস-
(৯)
ক্রমে,—ছেলেদের মধ্যে আর পাঠশালায়
হারুর খুব প্রশংসা হইল।
হারুর কথাগুলি কি মিষ্ট! হারুর মুখে চক্ষে
হাসি যেন ফুটিয়া রহিয়াছে। পণ্ডিত মহাশয়রা সকলেই
হরুকে বড়ই ভালবাসেন। পাঠশালার ছেলেরাও
হারুকে খুব ভাল বাসে।
হারুর পড়া বড়ই সুন্দর। দাড়াইয়া শুনিতে ইচ্ছা
হয়। হারুর হাতের লেখার মতন লেখা আর হারুর
পড়ার মতন পড়া পাঠশালার অনেক ছেলে শিখিতে
পাগল।
হারুর হাতের লেখা দেখিয়া উপরের শ্রেণীর
ছেলেরা পৰ্যন্ত অবাক হইয়া যায়।
ছােট ছােট ছেলেরা, বড় বড় ছেলেরা সকলে আসিয়া
হারুকে ঘিরিয়া ধরে,-“হারু, বল্ তে ভাই তুই কেমন
করিয়া এমন ভাল লিখিতে শিখিলি ? কেমন করিয়া
এমন ভাল পড়! শিখিস, ভাই, বল্ !”
শুনিয়া হারুর বড় লজ্জা করে। ছেলেরা ছাড়ে
; শেষে হারু বলে,-“দ্যাখ, ভাই, পণ্ডিত মহাশয়
যেমন বলেন, বাবা যেমন বলেন, আমি তেমনি লিখি,
পড়ি।”
-ছেলেদের উপন্যাস--
২১
সকল ছেলে ধরিয়া বসে,-“হারু, ভাই, এই- খানটা একটু পড় না ভাই।” হারু লজ্জায় লজ্জায় একটু পড়ে। তাহার পড়া শুনিয়া সকলে খুসী কেবল, সেই যে দুষ্টছেলে কয়েকটা,—পঞ্চু, মতি, হরিশ, নিবারণ, ভূতত,-চারুর সঙ্গে থাকে, তাহার হারুকে দুই চক্ষে দেখিতে পারে না। হারু তাহাদের কি করিয়াছে ? কিছুই না। তা হারু ওসব কিছু মনেই করে না। সকলে এক সঙ্গে পড়ে, সকলেই ভাই ভাই। হারু সকলের সঙ্গে মিলিয়া মিশিয়া, লেখে, পড়ে, খেলে। পরবছরের শ্রেণীর পরীক্ষায় হারুই সকলের প্রথম হইল। দিনে দিনে হারু, পাঠশালায় সােণার ছেলে হইয়া উঠিল। -ছেলেদের উপন্যাস – দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ।
No text on this page.
No text on this page.
~
},
::
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ।
--
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ।
( ১ )
হারুকে সকলে ভালবাসে, পাঠশালায় হারুর
কত নাম, পণ্ডিত মহাশয়রা হারুকে কত ভালবাসেন,
হারু শ্রেণীতে প্রথম থাকে, পরীক্ষায় প্রথম হয়,
হারুর হাতের লেখা সুন্দর, পড়া সুন্দর, খেলাতেও
হারুর সঙ্গে কেহ পারে না ; হারুর কত গুণ ;-
এই সব দেখিয়া চারুর আর সেই দুষ্ট ছেলে গুলি--
পঞ্চু, ভূতত, মতি, হরিশ, নিবারণের বড়ই হিংসা
হইতে লাগিল।
-
- চারু- ; যাহারা ভাল ছেলে, তাহারা অন্য ভাল ছেলের, উপরে হিংসা করিয়া নিজেরাও ভাল হইতে চায়,--- “কি! ও এত ভাল, আমিও ভাল হইব ; উহার হাতের লেখা সুন্দর, আমিও অমন লিখিতে শিখিব ; ও পরীক্ষায় প্রথম হয়, অামিও এখন হইতে এমন করিয়া পড়িব যেন পরীক্ষায় প্রথম হই। ওর অত গুণ, অমিও অমন হইব। খেলায় পারিব না ?—খেলায় অামি সকলের প্রশংসা লইব । উহাকে যেমন সকলে ভালবাসে আমিও এমন হইব, যেন সকলে অামাকে উহার চাইতেও বেসি ভালবাসে।” সে হিংসা এক রকমের। ইহার অপেক্ষাও যাহারা ভাল ছেলে, তাহারা অন্য ভাল ছেলের সঙ্গে মিলিয়া মিশিয়া তাহার ভাল গুণগুলি শিখিয়া লয় । মন্দ ছেলেগুলির তো তাই নয়, তাহারা ভাবে, অন্যে কেন ভাল হয় ; তাহাদের মতই কেন হয় না ? তাহারা যেমন প্রশংসা পায় না, অন্যে ও যেন তেমনি কোনরকমে প্রশংসা না পায়। কখনও নিজেরা তত ভাল হইবেই না ; অন্যে ভাল হয় কি প্রশংসা পায়, ইহাও এই মন্দছেলেগুলা দুই চক্ষে দেখিতে পারে না। == ২৪ -ছেলেদের উপন্যাস- ।
—চারু -
হায়, এই সব ছেলেগুলার মন কি ছােট ।
এমনি ছােট মন সেই সব দুষ্ট ছেলেগুলা, আর,
তাহাদের সঙ্গে চারু, কেমন করিয়া হারুর মন্দ করিবে
সকলে মিলিয়া তাহাই যুক্তি করিতে লাগিল।
পঞ্চু বলিল,-“ভাই, কি করিয়া হারুকে জব্দ করি ?
মতি বলিল,-“তাই তাে, কেমন করিয়া করিবি ?”
নিবারণ বলিল,-“এক দিন হারুকে একা একা
পাইলে হয়।”
কতক্ষণ থাকিয়া, পঞ্চু, আর ভূতাে বলিল,-“দ্যা
ভাই, তার আগে,
একদিন হারুর বই চুরি
করিয়া নিব।”
শুনিয়া ঢারু, মতি, হরিশ, নিবারণ বড়ই খুসী
হইয়া বলিল, “বেশ, ভাই বেশ হইবে !”
সকলে যুক্তি করিয়া রহিল।
যাহারা কাহারও মন্দ করিতে যায়, তাহাদেরই
মন হয়। হারু বাহিরে গিয়াছে, সেই সময় হারুর
বই চুরি করিতে গিয়া পণ্ডিত মহাশয়ের হাতেই
—পঞ্চটা ধরা পড়িল । যেমন দুষ্ট, তেমনি তাহার
সাজা! খুব বেত খাইল ! বই চুরি করিতে পারিল না !
ছেলেদের উপন্যাস
চারু - ইহাতে দুষ্টদের মনে মনে আরও রাগ হইল। ভূতে আর নিবারণ বলিল,-“আচ্ছা, দাড়াও, কাল দোয়াত চুরি করিব।” দোয়াত বেড়ায় টানান ছিল। চুরি করিতে গিয়া দোয়াতের যত কালি, চোর ভূতােটার মাথায়, মুখে, গায়ে ঢালিয়া পড়িল! ধরা পড়িল । ধরা পড়িল! কেমন মজার সাজা হইল। অপমান!-পণ্ডিত মহাশয় দোয়াত-চোরকে সকল শ্রেণীতে শ্রেণীতে নিয়া গিয়া দেখাইলেন,-- “দেখ দেখ, চোরের সাজা দেখ !” অপমানে দুষ্টগুলার, হারুর উপর আরও রাগ হইতে লাগিল। হায়, হারুর কি দোষ ? হারু কি কোন দিন তাহাদের কোন অনিষ্ট করিয়াছে ? উহারাই তো মিছামিছি হারুর অনিষ্ট করিতে আসিয়া নিজেরা জব্দ হইয়াছে। দুষ্টগুলির এইরূপই হয়। হারুর মন্দ করিতে না পারিয়া ঢাকর আর যত দুষ্ট ছেলেগুলির, মনে মনে বড়ই দুঃখ হইতে লাগিল। - ছেলেদের উপন্যাস- ২৬ • জ চারু ও হারু ad -বই চোর- ২৫ – পৃষ্ঠা। ২০ ২৬—পৃষ্ঠা। -দোয়াত-চোর- K, V. Seyne & Bros.
No text on this page.
.
( ২ )
নদীর পাড়ে, বাঁশবনের তলায়, ছায়ায় বসিয়া হারু
ও কি দেখিতেছে ?
খেলিতে খেলিতে হারু তাহার নূতন ধনুক খানি নিয়া
ঐখানে গিয়া বসিয়াছে। হারু দেখিতেছিল, সুন্দর
ঝিকিমিকি রােদে নদীখানি ভরিয়া গিয়াছে, ঢেউয়ের
মাথায় মাথায়, পাড় দিয়া গাছের পাতায় পাতায়,
ধানক্ষেতের উপর দিয়া রােদ ছুটাছুটি খেলিতেছে ; চীলের
বুকে, বকের পাখায় পাখায় বােদ রূপার মত হইয়া
ঝলক দিয়া উঠিতেছে ; আকাশে ধধবে’ অভূগুলি
ফুলিয়া ফুলিয়া ছুটিতেছে ; অনেক দূর হইতে বাতাসে
সাদা সাদা পাল উড়াইয়া, ঢেউ ভাঙ্গিয়া, কেমন সুন্দর
নৌকাগুলি আসিতেছে।
ঐ নৌকাখানা সোঁ সোঁ করিয়া চলিয়া গেল।
নৌকাগুলি কেমন সুন্দর চলে! ঐ আরও একটা,
ঐ যে আরও একখানা, ঐ যে ওদিকে আরও একখানা,
ঐ, ঐ, ঐ ঐ, ও-ই যে তাহার পিছনে আরও
-ছেলেদের উপন্যাস
নদীর বাঁকে বাঁকে কতগুলি নৌকা চলিয়া গেল ! হারু ভাবিতেছিল, তাহাদের এই নদী দিয়া বােজ এমনি, কি সুন্দর, কেবলি ঐ কত নৌকা যায় । দূরে দূরে কত কত নৌকা ! কোথায় যায় ? না-জানি কত দেশে যায়! কত কি বােঝাই নিয়া নিয়া কত দেশ হইতে আসিয়া, আবার বুঝি সেই কত দেশেই যাইতেছে । নৌকার লােকেরা ব্যবসায় বাণিজ্য করে ; না? নৌকায় করিয়া কি বোঝাই নেয় ? ধান, চাল, কলাই, এসব নেয় ; না-জানি আরও কত কি নেয়। আচ্ছা, এই যে মাঠ, ধানের ক্ষেতে তাে কত ধান হয়, এই সব ক্ষেতের ধানও বুঝি ওই সব নৌকায় যায়, না ? আবার অন্য দেশের ক্ষেতের ধানও তাে এই দেশে আসে, আর, আর আর দেশেও যায় ? না ? আচ্ছা হারু ভাবিতে ভাবিতে আশ্চৰ্য্য হইয়া গেল। -তাই তাে। তবে তো এই রকমে না-জানি কোন্ দেশ হইতে ধান কলাই কোন্ দেশে যায়, কত দেশের ধান কলাই কত দেশে আসে। বাঃ! কি সুন্দর! ২৮ ছেলেদের উপন্যাস-
এমন সময় পা টিপিয়া টিপিয়া পিছন হইতে আর
একটি ছােট ছেলে চুপি চুপি আসিয়া হারুর চোক চাপিয়া
ধরিল।
হারু বলিল,-“রহিম ?
-নরু ?
-অবিনাশ ?”
“ভাই, আগে যার নাম করিয়াছিস্, সেই।” বলিয়া
রহিম হারুর চোক ছাড়িয়া দিল।
দুই জনে হাসিতে লাগিল।
তখন দুইজনে গলাগলি ধরিয়া বসিয়া নৌকা
দেখিতে লাগিল আর গল্প করিতে লাগিল।
হারু বলিল,-“ভাই, নরু আসিল না কেন ?
অবিনাশ আসিল না কেন ?”
নরু, অবিনাশ, হারু, রহিম, সকলেই একসঙ্গে পড়ে ।
রহিম বলিল, “ভাই, আজ বুঝি তাহারা আসিবে
।”
হারু বলিল,-“চল্ ভাই, নরুদের বাড়ী যাই। নরুদের
বাড়ী হইতে ফুলের গাছ আনিতে হইবে।”
রহিম, হারু, দুইজনে নরুদের বাড়ীতে চলিল।
ছেলেদের উপন্যাস
চারু ও হারু-
( ৩ )
ইহার পরদিন, হারু একা, পাঠশালা ছুটির পর খেলা-
ধূলা করিয়া বাড়ী যাইতে হঠাৎ বিষম একটা হােচট
খাইয়া হারু পড়িয়া গেল। পড়িতেই, হারুর দোয়াত
ছিটুকাইয়া খানিকটা কালি চারুর জামায় লাগিয়া
গিয়াছে।
তাড়াতাড়ি উঠিয়া, চারুর জামা দেখিয়া হারু বলিল, -
“খােক বাবু, কি করিলাম!”
পঞ্চু, হরিশ, নিবারণ, সকলে ছিল।
আজ চারু,
আর, সকলে, যাে পাইল।
চারুর নূতন জামার এই
অবস্থা ! রাগে চারু ফুলিতেছিল। কি ! হারু তাহার
জামায় কালি দেয় ! পঞ্চ, হরিশ, নিবারণ, সকলে চারুকে
আরও উস্কাইয়া দিল। চারু, দুই হাতে, জামার কালি
দোয়াতের কালি সব হারুর মুখে নাকে গালে দাতে গায়ে
কাপড়ে ঘসিয়া দিল। “বাঁদর। পাঠশালায় ভাল ছেলে
হইয়াছি কিনা, তাই দেমাক হইয়াছে ! আমার জামায়
কালি দি, উল্লুক ! পাজি!” চারু যাহা মুখে আসিল
তাহাই বলিয়া গালি দিতে লাগিল।
৩০
-ছেলেদের উপন্যাস
লে ১) হারুর পা কাটিয়া রক্ত পড়িতেছিল। হারু বলিল,- “খােক বাবু, আমি ইচ্ছা করিয়া দেই নাই।” দুষ্টগুলা,- “হাঃ! হাঃ! হাঃ! সং দ্যাখ রে ! সং ! বলিয়া খিল খিল করিয়া হাসিয়া উঠিল। হারুর নাকে মুখে দাতে কালি লাগিয়াছে, কথা বলিতে বিশ্রী দেখাইতেছিল কি না, তাই ভারি মজা পাইয়া দুষ্টগুলা খুব নাচিতে লাগিল আর হাঃ! হাঃ! হীঃ! হীঃ । করিয়া হাসিতে লাগিল। হারুর বড়ই রাগ হইতেছিল; কিন্তু হারু কিছুই বলিল না। চারু বলিল,-“তুই কালি দিলি কেন?” “আমি ইচ্ছা করিয়া দেই নাই।” বলিয়া, আর কিছু না বলিয়া হারু চলিয়া যাইতে লাগিল। চারু বলিল,-“পাজি! ইচ্ছা করিয়া দিস্ নাই ? মিথ্যাবাদী হনুমান্ !” হারু ফিরিয়া বলিল,-“খােক বাবু, মিছামিছি গালি দিবেন না।” চারু বলিল,-“গালি দিব না কি রে ?” -ঢুেলেদের উপন্যাস- চারু ও হারু - পঞ্চ, নিবারণ বলিল, “জানিস, খােক বাবুর সঙ্গে বড় বড় বড় কথা বলি না!” সকল দুষ্টছেলে “মিথ্যাবাদী হনুমান্ !” “মিথ্যাবাদী হনুমা!!” বলিয়া হারুর পিছনে পিছনে হাততালি দিতে দিতে চলিল। হারু দাঁড়াইল। বলিল,-“দেখ, মিথ্যাবাদী মিথ্যা- বাদী বলিও না।” চারু ছুটিয়া আসিল,-“কি করিবি তুই ? জানিস্ আমার বাপের ভিটায় থাকিস্, আমার বাবার পাঠ- শালায় পড়ি! এখনি তােকে দেখাইতে পারি । পঞ্চ, নিবারণ হরিশ, ধ না বাঁদরকে !" আজ খুব যে পাইয়াছে । নিবারণের সকলে মিলিয়া হারুকে ধরিতে ছুটিল। হারু, চাদর গুটাইয়া দাঁড়াইল। বলিল,-“ধরিবে ? এস না, কে ধরিবে এস।” চারু আর দুষ্ট ছেলেগুলা হারুর মূর্তি দেখিয়া পিছাইয়া গেল :- -চারু বলিল,-“কি !! বলিয়াই, বড় এক ঢিল কুড়াইয়া নিয়া জোরে হারুর মাথায় ছুড়িয়া মারিল। হারু অমনি সিংহের মত লাফাইয়া চারুকে ধরিতে গেল। ছেলেদের উপন্যাস- " চারু ও হারু এমন সময়, হারুর বাপ দূর হইতে ছুটিয়া আসে,-“হারু, হারু!–ওরে, ওরে, ওকি করিস্ !—সর্ব- নাশ! সর্বনাশ !! -” বাপকে দেখিয়া হারু থামিয়া গেল ;-- রাগে দুঃখে মুখ ঢাকিয়া কাঁদিতে লাগিল। সেই সময় চারু হারুর নাকে মুখে এক ঘুসি মারিয়া চলিয়া গেল। ছেলেদের উপন্যাস-
( ৪ )
জারু, দুষ্ট ছেলেদের সঙ্গে খুব স্ফুর্তি করিয়া,
তাহার পরে বাড়ী গেল। বাড়ী গিয়া চাকরদের কাছে,
মাসীমাদের কাছে, পিসীমাদের কাছে খুব বড়াই করিতে
লাগিল,—- “হারু আমার জামায় কালি দিয়াছিল,
আমি তাহাকে খুব করিয়া মারিয়া দিয়া আসিয়াছি !”
কৃষ্ণরায় সে কথা শুনিলেন। বলিলেন,-বেশ,
করিয়াছিস্, ও জামা কাপড় ছাড়িয়া ফেল।” চাকরকে
ডাকিয়া বলিলেন,-“ধনু ! খোকার নূতন জামা কাপড়
দে। আহাম্মক বেটা, খোকাকে যেখানে সেখানে
নিয়া যাস, আর হাঁটাইয়া নিয়া যাস্ বুঝি ? গাধা !
ঠেলাগাড়িগুলা রহিয়াছে কাহার জন্য ?--কাল থেকে
ঐ নূতন ঠেলাগাড়ীটায় করিয়া নিয়া যা’স্। আর
দ্যাখ, যে দিন রৌদ্র চৌদ্র বেসি থাকে সে দিন
পাঠশালায় গিয়া দরকার নাই।”
-হারু-
হারুকে নিয়া
নিয়া হারুর বাপ বাড়ী আসিয়াছে।
হারু কোপাইতেছিল। ঢিলে তাহার মাথার খানিকটা জায়গা
-ছেলেদের উপন্যাস
' কাটিয়া গিয়াছিল। হারুর বাপ হারুকে কত বুঝাইতে লাগিল,-“হারু, ছি ছি ; খোকন্ বাবু মারিয়াছে, তিনি জমীদার,রাজা, তঁাহার সঙ্গে কি অমন করিতে হয় ? পণ্ডিত মহাশয়রা মারেন না ? কত সময় তাহারাও তা মারেন। লেখা পড়া শিখিতে গেলে কত কষ্ট আর অমন করি না। খােক বাবু যদি তাের কাছে কোন দোষও করিয়া থাকেন, তো সে দোষ তুই ভুলিয়া যা। তাঁহাকে দেখিলে নমস্কার দি। তিনি তাের বড়। জমীদার - দেবতার সমান ; তাঁহারই ভিটায় তাের বাপ দাদা মানুষ। ছি, আর সহিতে হয়। যেন এমন হয় না।” হারু, বাপের সবগুলি কথা শুনিল। শুনিয়া, হারু, আর, কাঁদিল না। চারুকে সে মনে মনে নমস্কার জানাইল। চারু যে তাহাকে এত শাস্তি করিয়াছে, সব ভুলিয়া গেল। গিয়া, সে যে গাছ-গাছালি লাগাইয়াছিল, সেইগুলিতে জল দিতে লাগিল। ছেলেদের উপন্যাস- চারু ও হারু- ( ৫ ) খােন্ বাবু চারু এখন আরও ভাল ভাল নূতন পােষাক পরিয়া, নূতন ঠেলাগাড়ীতে করিয়া, দেমাকে, আল্লদে, নানা ভঙ্গীতে ফুলিতে ফুলিতে পাঠশালায় যায়। হারু, পাঠশালায় গিয়া আপন মনে লেখে, পড়ে, চারুকে দেখিলে মাথা নােয়াইয়া নমস্কার দেয়। ইহাতে চারু দুষ্টছেলেদের কাছে বড়াই করে, -“দেখিলি ! হারুকে কেমন আক্কেল দিয়াছি!” মূখ চারু মনে করে, বুঝি হারু তাহারই ভয়ে নমস্কার করে ! চারু আরও গর্বে ফোলে। দুষ্ট ছেলেগুলাও ভারি খুসী। বলিতে লাগিল,- “কেমন ! হারুর সে দিন কেমন সাজা হইয়াছিল । কেমন সং সাজিয়াছিল।” অন্যায় করিয়া হারুকে মারিয়া আজ তাহাই লইয়া ঠাট্টা করে, নিজেরা যে চুরি করিতে গিয়া কালি-মাখা- মুখে সং সাজিয়াছিল দুষ্টগুলা দু’দিনেই তাহা ভুলিয়া গিয়াছে। হায়! উহাদের কি লজ্জা আছে ? । -ছেলেদের উপন্যাস- -হারু ও চারু- খিতে দেখিতে চাৰু হারুদের পরীক্ষার বৎসর আসিল। উচ্চ-প্রাইমারী পরীক্ষা। তখন নিম্ন-প্রাইমারী পরীক্ষা ছিল না। ছেলেরা উচ্চ- প্রাইমারী পরীক্ষা দিয়া, তাহার পর ছাত্রবৃত্তি পরীক্ষা দিত। উচ্চ-প্রাইমারী পরীক্ষাও বৃত্তির পরীক্ষা। হারুর মন-ভরা কত উৎসাহ, প্রাণ ভরা সুখ। গত বৎসর আর তাহার আগের বৎসর ঘােষ-বাড়ীর যাদব দাদা মাধব দাদারা দুই ভাই পরীক্ষা দিয়া জলপানি পাইয়াছিল ;-এইবার হারুও সেই পরীক্ষা দিতে পাইবে। মাসে মাসে তিনটাকা করিয়া . জলপানি, পরীক্ষায় জলপানি পাইলে তাহাদের সংসারের কত সাহায্য হইবে, বাবা কত তুষ্ট হইবেন। ছেলেদের উপন্যাস -হারু ও চারু- কৰ্ম্ম, হারুর মন সুখে ভরিয়া উঠিল। হারু মন দিয়া পড়িতে লাগিল। তাই বলিয়া কি হারুর আর সব কাজে অযত্ন ? তাহা নয়। তাহার খেলা, বাড়ীর আর আর কাজ সে সবও হারু করে। আর, মন-প্রাণ দিয়া পড়ে। হারু যেটুকু পড়ে তাহা হারুর মনের মধ্যে গাঁথা থাকে। হারুর মনের উৎসাহ তাহার সুন্দর মুখখানিতে ফুটিয়া উঠিল। হারুকে যেন আরও সুন্দর দেখাইতে লাগিল । রহিম, নরু, অবিনাশ, ইহারাও খুব পড়িতে লাগিল। হারুর সঙ্গে তাহাদের খুব ভাব। হারুকে পড়িতে দেখে, তাহারা কি না পড়িয়া পারে ? কেবল, সেই যে দুষ্টগুলি,—পঞ্চু, হরিশ, মতি, নিবা- রণ, ভূতত, সেগুলির পরীক্ষার নামে গায়ে জ্বর আসিল। পণ্ডিত মহাশয় যখন বলেন,—“ওরে, পরীক্ষার বৎসর, পড়, পড়।” তখন তাহারা চমকিয়া উঠে। বাড়ীতে বাপ খুড়ারা সকলে বলেন,—“এবার যদি পরীক্ষায় -ছেলেদের উপন্যাস- -রু ও চারু- না পার, তবে বুঝিবে। ওপাড়ার ছেলেরা জলপানি পাইল, দেখি এবার তােমাদের কি হয়।” শুনিয়া উহাদের মুখ শুকাইয়া যায় । এতদিন দুষ্টামী করিয়া, খেলিয়া দিন কাটাইয়াছে, এখন পাঠশালাতেও মুখ চূণ, বাড়ীতেও মুখ চূণ ! দুষ্টগুলা পাঠশালা হইতে পলায়, বাড়ী হইতে পলায়, দীঘির ওই ওপারে খােক বাবুদের বাগান- বাড়ী, সেইখানে গিয়া, কি, এখানে ওখানে গিয়া লুকাইয়া বেড়ায়। যখন সকলে পলাইয়া গিয়া একত্র হইয়া খেলায় মন দেয়, তখন পরীক্ষা টরীক্ষা ভুলিয়া গিয়া ধিড়িং বিড়িং নাচ !! তাহার পর মারামারি, ঝগড়া !! খােকবাবু চারুর অহঙ্কার কে দেখে ; এবার তাহার পরীক্ষার বৎসর । চারু খুব মােটা ঝকঝকে সােণার নূতন হার পরিয়া আসিয়াছে, আগে দুইটা আংটি ছিল, অজ পাঁচটা আংটি হাতে দিয়া আসিয়াছে। হারু এক কোণে বসিয়া পড়িতেছিল, তাহাকে গিয়া গর্ব করিয়া করিয়া সেই সব দেখাইতে লাগিল, বলিল,-“দেখিয়াছি! বাবা এবার এই সব জিনিষ • ছেলেদের উপন্যাস -হারু ও চারু- দিয়াছেন। আর এই দ্যাখ তিনটা ঝকঝকে সােণার মােহর !!” ঘাড় বাঁকাইয়া বুক ফুলাইয়া চাৰু মােহরগুলি বাহির করিল,-“এই দ্য।” সকল ছেলে মােহর দেখিয়া, অবাক। হাৰু দেখিয়া বলিল,-“ খােবাবু, এইগুলি মােহর ?-সােণার টাকা।” “হ। মােহর কখনও দেখিয়াছিস্? কোণের ব্যাঙ, সারাদিন ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর, করিয়া কেবল পড়িতেই পারি। মােহর কখনও পাইবি ?” বলিয়া চারু হো হাে করিয়া হাসিয়া উঠিল । হারু মােহর দেখিয়া আশ্চৰ্য্য হইয়া গেল। T চারু মােজ মােহর জামার পকেটে করিয়া নিয়া আসে, ঝন্ ঝন্ করিয়া বাজায়, সকলকে দেখায়, হার দোলাইয়া, আংটি ঘুরাইয়া ঘুরাইয়া বেড়ায় । তখন যে, তাহার মুখের ভঙ্গী! এইগুলি তাহার পরীক্ষার পড়া ! পণ্ডিত মহাশয় চারুকে পড়িতে বলিলে, চারু বই দিয়া মুখ ঢাকিয়া হাসে। -ছেলেদের উপন্যাস- ~ হারু ও চারু- . ( ৭ ) ইহার দুই তিন দিন পর, একদিন পাঠশালায় আসিতে কুলতলার পথে, হারু, ধূলার মধ্যে কি একটা জিনিষ চকচক করিতেছে দেখিতে পাইল। কাছে গিয়া দেখিল,- ঠিক যেন একটা মােহরের মত দেখা যায় ! হারু উহা তুলিয়া লইল। দেখিল,-“তাহাই তাে! এটি বােধ হয় খোকবাবুর মােহর !” ধূলা মুছিয়া গিয়া মােহরটি তখন ঝকঝক করিতেছিল। হারু অবাক হইয়া মােহরটি দেখিতে লাগিল। হারু ভাবিল,-“খােকবাবুর মােহর এখানে কেমন করিয়া আসিল ? পাঠশালায় নিয়া যাই, খােক- বাবুকে দিব।” হারু মােহরটি আঁচলে বাঁধিয়া পাঠশালায় চলিল। কতক দূর যাইতে,-পঞ্চু হরিশ নিবারণেরা পাঠশালায় যায় ; তাহাদের সঙ্গে দেখা। হারু তাহা- দিগকে জিজ্ঞাসা করিল,-“ভাই, তােরা জানিস্ ?- খােকবাবুর কি মোহর হারাইয়াছে ? ভলায় একটা মােহর পাইলাম।” পঞ্চুরা বলিল,-“দেখি !” আমি কুল- -ছেলেদের উপন্যাস ৪১ -হারু ও চারু হারু তাহাদিগকে মােহর দেখাইল। তাহারা বলিল,-“তাই তো ! তুই পাইয়াছিস্? -বাঃ! সে দিন খােকাবু কুল পাড়িতে আসিয়া মােহর হারাইয়া গিয়াছেন। আমরা একটা পাইয়া- ছিলাম, সেটিকে নিয়৷ সেঁরার দোকানে বেচিয়া পাঁচ টাকা পাইলাম ; তাহা দিয়া আমরা তিন দিন ধরিয়া সন্দেশ কিনিয়া খাইয়াছি ! খোকবাবু শুনিয়াও কিছু বলেন নাই। চল্ ভাই, এটিকে বেচিয়াও আমরা মজা করিয়া সন্দেশ কিনিয়া খাইব !” হারু কিছু বলিল না। কেবল বলিল, “ছি ভাই আমি তাহা পারিব না। এ মােহর খােকাবাবুর, আমি মােহর নিয়া তাঁহাকে দিব।” হারু পাঠশালায় গেল, গিয়া মােহর নিয়া চারুকে দিল । পণ্ডিত মহাশয় মােহরের কথা শুনিয়া হারুর খুব প্রশংসা করিতে লাগিলেন। চারু বলিল,-“না পণ্ডিত মহাশয়, ভাগ্যে ওরা দেখিয়াছিল তাহা না হইলে মােহর পাইয়াই হারু উহা চুরি করিত।” ४२ ছেলেদের উপন্যাস- -হারু ও চারু পণ্ডিত মহাশয় বলিলেন, -“ছি চারু, অমন কথা বলিও না। ভগবানের আশীর্বাদ থাকিলে হাৰু কি মােহর উপার্জন করিতে পারিবে না ?” চারু বইয়ের আড়ালে মুখ লুকাইয়া বলিল,-- “ইস” !- -ইলেদের উপন্যাস- ৪৩
No text on this page.
No text on this page.
চারু ও হারু
-অন্ধের লাঠি পুকুরের জলে ফেলিয়া দেয়।--
**
Tw.
-আহা, ছানাটিকে কি করিয়া বাচাইৰে।--
K. V. Seyne & Bros,
-চারু- ; ( ৮ ) ইহার পরে, -দিন যায়। পঞ্চদের সঙ্গে মিশিয়া চারু এখন পাঠশালা পলাইতে শিখিয়াছে। দীঘির ওপারে চারুদের বাগান-বাড়ী। বাগানে কত ফুলের গাছ, ফলের গাছ। কত ফুল ফুটিয়া রহিয়াছে ; চারিদিকে গন্ধ ছুটিতেছে ; শত শত প্রজাপতি উড়িয়া উড়িয়া আসিতেছে। বাগানে দুইটি সুন্দর পথ, পথ দুইটির একদিক ফলের বাগানে গিয়া মিশিয়াছে, আর এক দিক গােল হইয়া দালানের সিঁড়িতে গিয়া ঠেকিয়াছে। সম্মুখে ফোয়ারা; ফোয়ারার মুখে হুস্ স্ করিয়া জল উপরে উঠিয়া ঝ ঝর করিয়া ঝরিয়া পড়িতেছে। জলে কত লাল নীল রঙ, খেলিতেছে। চৌবাচ্চায় লাল নীল রঙের মাছ। পুকুরে কত মাছ এক পাশে কত পদ্ম ফুটিয়া আছে। রাজহাঁসগুলি পাল তুলিয়া পদ্মবনে গিয়া ভিড়িতেছে। ফলের বাগানে কত রকম কাঁচা পাকা ফল দূর হইতে সূর্যের কিরণে সােণালী আর সবুজ পাতার মধ্যে, -ছেলেদের উপন্যাস-
পুচ্ছ টানিয়া
সুন্দর দেখা যাইতেছে । কত রকমের পাখী, ফল
খাইতেছে, গান গাইতেছে ; তাহাদের মধুর স্বরে
বাগান খানি ভরিয়া যাইতেছে।
সেই খানে গিয়া মূখ চারু
চারু আর দুষ্টগুলি
মিলিয়া ফুল ছিড়ে, গাছের ডাল পালা ভাঙ্গে, পাখীর
ছানা পাড়ে, প্রজাপতিগুলিকে ধরিয়া নানা সাজা
করে, লাল নীল মাছগুলিকে তুলিয়া, মারে ; ময়ূরের
ছিড়িয়া দেয় ; ঢিল ছােড়ে, পাখী
মারে, দালানে কবুতরের বাসা, ---- কবুতরের বাসা
ভাঙ্গিয়া ডিম নিয়া যায়,
ছানা-কবুতরগুলিকে ধরিয়া
ডানা মােছড়াইয়া দিয়া তামাসা দেখে।
হাঁসগুলিকে ধরিয়া তাহাদের পালক ছিড়িয়া
নেয়। কলম বানাইবে । কি বুদ্ধিমান্ ! ওগুলিতে কি
কলম হয়? শুধু শুধু উহাদিগকে কষ্ট দেয়।
পাখীর ছানাগুলি আনিয়া তাহাদের ডানায় দড়ি
বাঁধিয়া টানিয়া নেয়, কোনটার পায়ে সূতা বাঁধিয়া
উড়াইয়া দিয়া মজা দেখে। উহারা চি চি করিয়া
ডাকিয়া ডাকিয়া আর যখন পারে না, মরিয়া যাইবার
মতন হয়,
সেগুলিকে
দিয়া
খাওয়ায়।
নিয়া কুকুর
ছেলেদের উপন্যাস -
ছি, ছি, কি নিষ্ঠুর! কি নিষ্ঠুর ! অন্ধ খোঁড়া ভিক্ষুকেরা বাগানের পাশের রাস্তা দিয়া যায়, উহারা গিয়া তাহাদিগকে ভেঙ্গ, চায়, ঢিল ছােড়ে, ধূলা কাদা দেয় ; তাহাদের ভিক্ষার ঝুলি, হাতের “লাঠি, কাড়িয়ানিয়া পুকুরের জলে ফেলিয়া দেয় !! আহা! নিরুপায় অন্ধ খোড়ারা পথের ধূলায় পড়িয়া কাঁদিতে থাকে । এই সব করিয়া চাৰু ঘামিয়া চুমিয়া বাড়ী যায়। বাড়ীতে গিয়া যত সব মিথ্যা কথা বলে ; আর, মাসী, পিসী, দিদি, দিদিমার কাছে দৌরাত্ম্য,-“আমার ক্ষুধা পাইয়াছে ?” আহা, খােকনের ক্ষুধা পাইয়াছে,অমনি চারিদিক “যা’ঠ” “ষা’ঠ” “যা’ঠ”, “যা” “যা’ঠ” - ছেলেদের উপন্যাস- ৪৭ r
.
( 9 )
হারুদের বাড়ীতে, ঐ যে শালিকের ছানাটি
লাউয়ের মাচার
নাচিতেছে, ওটি
হারুর বন্ধু।
জান ?
হারুদের বাড়ীটি এখন কেমন সুন্দর হইয়াছে।
হারু যে বাড়ীতে ছােট ছােট গাছ লাগাইয়াছিল,
তাহাতে হারুদের কুঁড়ের কাছে ছােট একটু বাগানের
মত হইয়াছে। আর, তাহার পর হারু, কি করিয়াছে,
হারুদের কুঁড়ের পাশে বেগুন ক্ষেত ;
হারু তাহার ধারে ধারে আরও কত গাছ আনিয়া
লাগাইয়াছে। হারু ছােট একটু মরিচের ক্ষেত
করিয়াছে, একটু আদার ক্ষেত করিয়াছে।
বাপ লাউগাছটিতে ভাল করিয়া মাচা দিয়া দিয়াছে।
হারু সিমের গাছ লাগাইয়াছিল, তাহাতে এখন
খুব সিম হইয়াছে। পাঠশালা হইতে আসিয়া
৪৮
ছেলেদের উপন্যাস
হারু এখন রােজ এইগুলির যত্ন করে । এখন আর তাহাদের তরি-তরকারি কিনিতে হয় না। বড় আমগাছ- গুলির পিছন দিয়া হারু এক সারি শুপারির চারা লাগাইয়া দিয়াছে। কলাগাছ লাগাইয়াছিল, কলা গাছের তিন চারিটার কলার ছড়া খুব বড় হইয়াছে। নেবু গাছে ফুল ধরিয়াছে। নারিকেলের চারা দুইটি পাতা মেলিয়াছে। নরুদের বাড়ী হইতে গাঁদা ফুলের গাছ, করবীর গাছ, জবা ফুলের গাছ আনিয়া কুঁড়ের সামনে দু’সারি করিয়া লাগাইয়া দিয়াছিল, সেগুলিতে রাশি রাশি ফুল ফুটিয়া রহিয়াছে। “হারু, ও পাড়ার বামণ-পিসী আসিয়া ডাকেন, আমার পূজার ফুল কৈ ?” হারু তাঁহাকে পূজার ফুল তুলিয়া দেয়, সিম, বেগুন, এসব দেয়। হারুর তাহাতে কত আনন্দ। বামণ-পিসী রামায়ণ নিয়া আসেন, হারু তঁাহাকে রামায়ণ পড়িয়া শুনায় । রামায়ণের কত জায়গা হারুর মুখস্থ হইয়া গিয়াছে। রামায়ণ তাহার কাছে কত সুন্দর লাগে ! তাহার মুখে রামায়ণ পড়া শুনিয়া বামণ-পিসী, আর পাড়ার সকলে কত খুসী। -ছেলেদের উপন্যাস ৪৯.
-
পাড়া-পড়শীর চিঠিপত্র লিখিতে হইলে,- হারু।
হারু, কি সুন্দর করিয়া তাহাদের চিঠিপত্র লিখিয়া
দেয় ।
সন্ধ্যাবেলা হারুর বাপ বাড়ী আসে, হারু,
বাপের কাছে বসিয়া কত ভাল ভাল কথা,
কত ভাল ভাল উপদেশ
শুনে। হারুর বাপ
ভাসিয়া
কথা বলে।
-কত সুখের কথা, কত দুঃখের কথা, কত উপদেশের
জলে
;
কথা।
হারুর বাপ বলে,-“হারু, দ্যাখ, আমাদের
আর কেহ নাই ; আমাদের ভগবান্ আছেন ! ভগবান্
দয়া করিলে, তুই ভাল হইলে, আমাদের আর
কোনই দুঃখ থাকিবে না। তােকে যে, হারু, লেখা
পড়া শিখিতে দিতে পারিয়াছি, সে কেবল ভগবানের
দয়ায়। ছা বাবা, ভগবানের কত দয়া ভগবান্
আমাদিগকে সৃষ্টি করিয়াছেন, আমাদের জন্য অম
দিয়াছেন।
পশু পক্ষী, কীট পতঙ্গ ইহাদের জন্য
আহার দিয়াছেন। গাছ, লতা, পাতা, তৃণটুক,
পিঁপড়াটি, যা কিছু দেখিতেছি, হারু, সব তাঁহার
সৃষ্টি। হারু, সকল সময় তাঁহাকে ভক্তি করিস।
ছেলেদের উপন্যাস -
সকালে সন্ধ্যায় ভগবানকে প্রণাম করিতে ভুলিস্
।”
এসব শুনিয়া হারুর মনের মধ্যে কেমনি যেন
সুন্দর লাগে । হারু, সকালে সন্ধ্যায় ভগবানকে
প্রণাম করে। ভগবানকে প্রণাম করিয়া, পড়িতে
বসে।
একদিন পাঠশালা হইতে আসিয়া হারু গাছগুলিতে
জল দিতেছিল, রহিম আর অবিনাশ সেদিন হারুর
ওখানে আসিয়াছে। হারুকে গাছে জল দিতে দেখিয়া
রহিম আর অবিনাশেরও গাছে জল দিতে ইচ্ছা
করিতে লাগিল। তাহারা আর থাকিতে পারিল না,
কলসী তুলিয়া নিয়া তাহারাও জল দিতে লাগিল।
তাহাদের বড়ই ভাল লাগিতে লাগিল। রহিম
বলিল,-“হারু, ভাই, আমিও বাড়ীতে এই রকম
বাগান করিব।”
হারু বলিল,-“আচ্ছা।”
অবিনাশ বলিল,-“আমিও করিব।”
এমন সময় গাছের উপর হইতে চি চি
করিয়া একটা পাখীর ছানা হারুর সম্মুখে মাটিতে
ছলেদের উপন্যাস --
৫১
== হরু- পড়িল। ছানাটির ডানায় তখনন ভাল করিয়া পালক উঠে নাই, মাটিতে পড়িয়া ছানাটি কাঁপিতেছে, ডানার পাশ দিয়া রক্ত পড়িতেছে । বােধ হয় চীলে ছোঁ দিয়া নিয়াছিল। দেখিয়া হারুর কি যে কষ্ট হইল তাহা বলিবার নয়। আহা, কি করিয়া ছানাটিকে বাঁচাইবে! হাৰু ছানাটিকে তুলিয়া লইল। রহিম, অবিনাশ ছুটিয়া আসিল -“কি ভাই ! কি ? —দেখি, দেখি !” পথের পাশে কাঁটালগাছের উপর চিচি মিচি করিয়া ছানার মা বাপ এ ভাল হইতে ও ডালে ও ডাল হইতে এ ডালে লাফাইয়া পড়িতেছিল। রহিম বলিল,-“দ্যাখ ভাই, হয় এই শালিকের ছানা।” হারু বলিল,- “ভাই, দ্যাখ পণ্ডিত মহাশয় যে বলিয়াছেন, পশু পাখীদেরও আমাদেরই বাপমার তা তাে সত্যি! আয় ভাই ছানাটিকে আমরা বাসায় তুলিয়া দিয়া আসি।” হারু গিয়া ছানাটিকে বাসায় তুলিয়া দিয়া আসিল। জন্য মমতা, ৫২ -ছেলেদের উপন্যাস-
রহিম, অবিনাশ, হারু, সকলে মিলিয়া দেখিতে
লাগিল, ছানার মা বাপ ছানাটিকে পাইয়া কেমন
আদর করিতেছে।
সেই দিন হইতে হাৰু ক্ষুদের কণা নিয়া কাঁটাল
গাছের তলায় ছড়ায়, শালিকেরা আসিয়া খায়।
তাহার পর ছানাটি বড় হইলে, ছানাটিও আসিয়া
খায়। রহিম, হারু, অবিনাশের তাহাতে কত আনন্দ।
এখন ছানাটির কেমন সুন্দর পাখা হইয়াছে, ফুরুৎ
ফুরুৎ করিয়া উড়িয়া আসে। তাহাদিগকেই দেখিতে
আসে বুঝি ?
হারুরা তাহার বন্ধু, সে হারুদের বন্ধু।
আজ নৰু আসিয়াছে, রহিমেরা আসিয়াছে, রহিম
আর অবিনাশ তাহাদের বাড়ীতে ঘােট ঘােট বাগান
করিয়াছে সেই কথা বলিতেছিল। উকি দিতেই,
দেখিতে পাইল, হারুদের কুঁড়ের কোণের শশাগাছ
হইতে কে শশা ছিড়িতেছে। সকলে গিয়া তাহাকে
ধরিয়া ফেলিল,-“কে রে তুই? তুই শশা কেন রে
ছিড়িলি ?”
-হেলেদের উপন্যাস
৫৩
.
সে এক ভিখারীর ছেলে। ভিখারীর ছেলে কাঁদিয়া
ফেলিল। দুই দিন ধরিয়া খাইতে পায় না, ক্ষুধার
জ্বালায় শশা ছিড়িয়াছিল। সে কথা বলিয়া, ভিখারীর
ছেলে দুই চক্ষের জল ছাড়িয়া দিয়া কাদিতে
লাগিল।
আহা, হারুর চক্ষে জল আসিল। হারু বলিল,-
“আহা ভাই, ওর তত বড় কষ্ট ! ভাই, উহাকে
আর কিছু বলি না।”
নরুদেরও চক্ষু ভিজিয়া জল আসিতেছিল। মুছিল।
ভিখারীর ছেলের হাত ধরিয়া শশা দুইটি তাহার
হাতে দিয়া, হারু বলিল,-“ভাই, শশা দুইটি তুই
নে। তাের ক্ষুধা পাইয়াছে, ঘরে মুড়ি আছে, আয়
ভাই, খাবি।”
নরু, অবিনাশ, রহিম, হারু, সকলে তাহাকে
নিয়া গিয়া মুড়ি, নূণ, আনিয়া দিল ।
ছেলেটিকে খুঁজিতে খুঁজিতে লাঠি ভর করিয়া
সেই সময় তাহার বুড়া মা সেখানে আসিয়াছে। সকল
দেখিয়া, বুড়ী, -“আহা এমন সােণার বাছা তােরা
৫৪/
ছেলেদের উপন্যাস
কে রে ?” বলিয়া কাঁদিয়া ফেলিল।
ছেলেটি মুড়ি পাইয়াছে, আনন্দে ছুটিয়া মার কাছে
গেল।
দিল।
বুড়ীও তখন শুধুই চারিটি মাত্র চাল পাইয়াছে ;
হা: বলিল,-“কি পাইয়াছ, দেখি। আহা, এই
চারিটি চা’লে তােমাদের কি হইবে ?” হারু আর
চারিটি চাল দিল, গাছে তিন চারিটা লাউ ছিল,
একটা লাউ দিল। কতকটি সিম
বুড়ীর দুই চক্ষু দিয়া ঝর্ঝর করিয়া জল
পড়িতে লাগিল ; ছেড়া কাণি পরণ, আঁচল নাই,
দুই হাতের পিঠ দিয়া, বুড়ী, চক্ষের জল মুছিতে
লাগিল।
দুঃখিনী ভিখারিণী ; আহা, এতটুকু ছেলে
করিয়া তাহার দুঃখ বুঝিল ! ভিখারিণী হাউ হাউ করিয়া
কাঁদিয়া ফেলিল। বলিল,-“আহা বাবা, এমন মিষ্টি
কথা তাে কেহ বলে নাই ; বাবা, তুই রাজা হ।”
এমন
সারাপথ ভিখারিণী কত আশীর্বাদ করিতে
করিতে গেল।
নরু, অবিনাশ, রহিম, ইহাদেরও
চক্ষু জলে ভরিয়া উঠিল ।
• ছেলেদের উপন্যাস
৫৫
সে দিন সন্ধ্যার সময় হারুর বাপ বাড়ী আসিয়া
দেখে, গাছে একটি লাউ নাই। বলিল,-“হারু,
লাউ কি হইল ?”
তাহার বুকের মধ্যে
হারু চুপ করিয়া রহিল।
দুরু দুরু করিতেছিল।
তাহার পর হারু, ছল ছল চক্ষে তাহার বাপের
মুখের দিকে চাহিয়া আস্তে আস্তে সকল কথা
বলিল।
শুনিয়া হারুর বাবা, হারুকে বুকের মধ্যে টানিয়া
নিয়া, তাহার মাথায় চুম খাইলেন।
সে রাত্রে হারু কত সুখে ঘুমাইল।
এইরূপে যত আশীর্বাদ দিনে দিনে হারুর জন্য
ফুলের মত হইয়া ফুটিয়া
উঠিতে লাগিল।
/
ছেলেদের উপন্যাস।
তৃতীন্ন পৰিচ্ছে।
No text on this page.
No text on this page.
চারু ও হারু
9
--মডু ধরিবে খাইবে সুখে।
.
ভগবানকে প্রণাম করিল
৬৫--পৃষ্ঠা
عم
তৃতীয় পরিচ্ছেদ।
( ১ )
মাসের
সের পর মাস গেল।
পরীক্ষার আর অল্পদিন বাকী।
ভাল ভাল ছেলেরা পরীক্ষার জন্য
হইতে লাগিল। পরীক্ষার পড়া করিবার
ছেলেরা ছুটি পায় ; ছুটি পাইয়া ভাল ছেলেরা
খুব মন দিয়া পড়িতে লাগিল। মন্দ ছেলেগুলার
-রু ও হারু স্মৃৰ্ত্তি! কেহ ফাঁকি দিয়া ছুটি লইয়া গিয়া লাটাই কিনিয়া ঘুড়ি উড়ায়, কেহ খেলিয়া বেড়ায়, কেহ বা বাড়ীতে গিয়া ঘুমায় ! এই সব ছেলেরা নিজেরাই কঁকিতে পড়িতেছে ; পরীক্ষার সময় শূন্য পাইবে। হারু প্রত্যহ পাঠশালায় আসিয়া সেই কোণটিতে বসিয়া পড়ে। পণ্ডিত মহাশয় জিজ্ঞাসা করিলেন, “হারু, তুমি তাে ছুটি লইলে না।” মাথাটি নীচু করিয়া, হারু বলিল,-“এখানে যে আপনারা আছেন, যখন যেটুকু বুঝিতে না পারি, জিজ্ঞাসা করিয়া লই। বাড়ীতে কি এমন পড়া হইবে।” শুনিয়া পণ্ডিত- মহাশয় বড়ই সন্তুষ্ট হইলেন। নিজে কাছে কাছে খাকিয়া যখন যেটুকু হারুর দরকার তখনই সেটুকু তাহাকে বুঝাইয়া দেন। এইরূপে হারুর সকল পড়া বেশ সুন্দররূপে তৈয়ার হইল। তাহার পর, ক্রমে - পরীক্ষার দিন আসিল। ৫ -ছেলেদের উপস- - চারু ও হাক্ক- আজ পরীক্ষা। নূতন দোয়াত, নূতন কালি, নূতন কলম, ভাঁজ- করা কাগজ হাতে, শান্ত ভাবে সকল ছেলে আসিয়া পরীক্ষা দিতে বসিল। দুষ্ট ছেলেগুলার ছেলেগুলার কেহ কেহ পরীক্ষা কেহ পরীক্ষা দিতে আসিলই না। কিছুই পড়ে নাই, কি পরীক্ষা দিবে ? যে দুই একটা আসিল, প্রশ্ন দেখিয়া এক একটা অক্ষরকে যেন তাহাদের বাঘের মুখ বলিয়া মনে হইতে লাগিল ! কোনটা উসু খুসু করিতে লাগিল। কোনটা কতক্ষণ কাক বক আঁকিল। কোনটা কাগজে দুই এক পাতা কালির আচড় পাড়িয়া রাখিয়া, পলাইয়া বাঁচিল,-“বাপ ? চারু যেখানে পরীক্ষা দিতে বসিয়াছে, তাহারই কাছে চাকরে খাবার ঢাকিয়া নিয়া বসিয়া ছিল ; প্রশ্নের ছাপার অক্ষরগুলা দেখিয়া চারুর তখনই ক ছেলেদের উপন্যাস- -া ও হারু- স্কুল পাইতে লাগিল। বারে বারে গিয়া খাবার খাইয়া আসিতে লাগিল। শেষে রসগোল্লাও চারুর কাছে তিত লাগিতে লাগিল। চারুর অসুখ অসুখ করিতে লাগিল। চারুর মাথা ধরিল। চারু চলিয়া গেল। আর হারুর ?- – কি সুন্দর প্রশ্নগুলি ! ছাপার অক্ষরের দেখিয়া হারুর প্রাণ আনন্দে নাচিয়া উঠিল। হারু দেখিল, সবগুলিই সুন্দর সুন্দর সহজ প্রশ্ন ; সবগুলিই তাহার জানা। হারু শান্ত মনে, ধীর ভাবে একে একে সবগুলি প্রশ্নের উত্তর লিখিয়া যাইতে লাগিল। আজ হারুর বুক-ভরা সুখ ; হারু যে এতদিন মন দিয়া পড়িয়াছে, আজ হারুর নূন কলমটির মুখে সেই আনন্দ, সেই সুখ, সুন্দর হাতের লেখার অক্ষরে পরীক্ষার কাগজ খানি ভরিয়া, যেন মণিমুক্তার মালার মতন হইয়া ফুটিয়া উঠিতে লাগিল। -ছেলেদের উপন্যাস-
( ২ )
পরীক্ষা হইয়া গিয়াছে। আর কি ? চারু আর
পথুরা এখন সারাদিন চারুদের বাগান-বাড়ীতে।
হরিণের শিঙে দড়ি বাঁধিয়া তাহাদের পিঠে চড়ে ;
কয়েকটা ছিপ তৈয়ার করিয়াছে, বড়শী ফেলিয়া
পুকুরে মাছ ধরে ; কি মজা! পঞ্চু বলে,-“ভাই,
শুনিয়াছি ঘােষ-বাড়ীর ঠাকুরদাদা কি বলিয়াছেন ?--
লিখিবে পড়িবে মরিবে দুঃখে,
মচ্ছ ধরিবে খাইবে সুখে !”
চারু, মতি, নিবারণ, সকলে হাসিয়া গলিয়া
পড়ে,-“বাঃ ।
-বেশ, তাে রে, বেশ !”
দুষ্টগুলির ইহারই মধ্যে আর এক কি কুশিক্ষা
হইয়াছে, জান ? ছি ছি, ছি!-পঞ্চু, নিবারণ, কোথা
হইতে চুরি করিয়া তামাক আনে, সকলে মিলিয়া
লুকাইয়া তামাক খায় !
তাহাদের মুখের কি দুর্গন্ধ !! যখন কাছে আসিয়া
কথা কয়, তখন সে গন্ধে বমি আসে। তামাক খাইয়া
ছেলেদের উপন্যাস
৬১
হইয়াছে ; এক একটার চেহারা বিশ্রী হইয়া যাইতেছে ;-কোনটার বুকের হাড় বাহির হইয়া পড়িয়াছে, কোনটার পেট জোড়া প্লীহা হইয়াছে, কোনটার ওষ্ঠ কালি-ময় চক্ষু বসিয়া গিয়াছে, গাল ভাঙ্গিয়া গিয়াছে ; যখন চক্ষু বুজিয়া হুকায় টান মারে, দাঁত বাহির করিয়া ধোঁয়া ছাড়ে, তখন এক-একটাকে ঠিক বাঁদরের মতন দেখা যায়। তামাক খাইয়া এক-একটার কাসি হইয়াছে, খক্ খক্ করিয়া কাসিয়া মরে ; হুকায় টান দিয়া চক্ষু কপালে তুলিয়া পড়িয়া যায়। ছি ছি ছি ! চারুও এই তামাক খাওয়া শিখিয়াছে। মাছ ধরে, তামাক খায়, আর যত দুষ্টে মিলিয়া নিত্য যত নূতন নূতন দুষ্টামীর যুক্তি ! আড়াল হইতে কাহার মাথায় ঢিল ছুড়িবে, কাহাকে কুকুর লেলাইয়া দিবে, কাহার গাছের ফল চুপি চুপি পাড়িয়া নিয়া আসিবে, যদি কেহ দেখিয়া ফেলে,- তত, চারুই সঙ্গে আছে,-জোর করিয়া পাড়িয়া আনিবে !! দুষ্টেরা, আর তাহাদের সঙ্গে চারু, এই সব করিতে লাগিল। ছি! ছি! ছি! ৬২ -ছেলেদের উপন্যাস- ܙܝ ( ৩ ) পরীক্ষা হইয়া গিয়াছে, পড়াশুনা এখন আর বেসি কিছু নাই ; বামণ-পিসীর ওখানে গিয়া হারু এখন বােজ রামায়ণ পড়িয়া শুনায় ; রহিমের ওখানে গিয়া, অবিনাশের ওখানে গিয়া, তাহাদের বাগান দুইটি সুন্দর করিয়া সাজাইয়া দিয়া আসে। বাড়ীতে কাজকর্ম যেগুলি আছে, সেগুলি করে। কাছে, সব বিষয়, সব বিষয়, সব কাজ, সকলই যেন এখন বেশ ভাল লাগে! কত কথা হারুর মনে উঠে। খেলার কথা, পড়ার কথা, পরীক্ষার কথা, বাড়ীখানির কথা, বাবার কথা, কত কথা। আর কি একটি কথা হারুর মনে হয় ? হারুর মনখানি ভরিয়া মনে হয়- ভগবানের, দয়ার কথা। ভগবানের দয়ায়ই তাে হারুর বাপ হারুকে পড়াইতে পারিয়াছেন, তাঁহারই দয়ায়ই তাে হারু আজ পরীক্ষা দিতে পারিয়াছে। ভগবানের দয়ার কথা ভাবিতে ভাবিতে হারুর দুই চক্ষু ভরিয়া জল আসে, দুই চক্ষু বাহিয়া জল গলিয়া পড়ে। -ছেলেদের উপন্যাস- ৬৩ সেদিন হারু নদীর পাড়ে বসিয়া ছিল। মনে পড়িতেছিল, তাহার আপন হাতে লাগান ফুলগাছের ছােট ঘােট ফুলগুলি, সেগুলিও তত ভগবানের সৃষ্টি ; এই নদী, এই বাতাস, এই আকাশ, এও তো ভগবানের সৃষ্টি। এই পৃথিবী, পৃথিবীর যত মানুষ, পশু, পক্ষী; পুস্তকে যে পড়িয়াছে কত পাহাড়, পর্বত, সমুদ্র ; এই সবই ভগবানের সৃষ্টি । সূৰ্য্য, নক্ষত্র, সব ভগবানের সৃষ্টি। -আর? আর, হারুর বাপ, হারু, তাহারাও ভগবানের সৃষ্টি ! হারুর মনের মধ্যে কেমন আনন্দ হইতে লাগিল । ; হারু যে - রামায়ণে পড়িয়াছে,-- তুমি বিশ্বপতি অগতির গতি, তব সৃষ্টি বিশ্ব চরাচর। অনিল অনল, তুমি জল স্থল, তণ লতা ভূধর সাগর । ৬৪ ছেলেদের উপন্যাস- তুমি দয়াময় তুমি সমুদয়- —এই নিখিল জনের প্রাণ। তুমি সব হেতু, করুণার সেতু, তুমি প্রভু আছ সর্ব স্থান। হারুর মনের মধ্যে হইতে, সেই কথাগুলি যেন, 'গুন্ গুন্ করিয়া গানের সুরে উঠিতে লাগিল। জোড় হাত করিয়া ভগবানকে প্রণাম করিল। তখন সন্ধ্যা। নদীর জলে জ্যোৎস্না ঢালিয়া, গাছের পাতায় জ্যোৎস্না ঢালিয়া, সুন্দর চঁাদ, বট- গাছের পাশ দিয়া রূপার থালাখানির মত উকি দিয়া উঠিয়াছে। -ছেলেদের উপন্যাস-- ৬৫
No text on this page.
No text on this page.
চারু ও হারু
লাগত
}
-স্বাগত
৭১ পৃষ্ঠা।
৭৫-পৃষ্ঠা
-কি সিথিই করিয়া দিয়াছেন,-সােজা
( 8 )
পর
দিন
চলিয়া
পরীক্ষার
গিয়াছে।
ক দিন, পাঠশালায় যাইবার পথগুলি
পরিষ্কার দেখাইতেছে, পাঠশালা-ঘরের পুরাণ বেড়াগুলি
সব নূতন হইয়াছে ; কলা গাছের উপর নানা রঙের
কাগজ, বড় বড় কাগজের ফুল, আর ঝালর দিয়া
সাজান
সুন্দর এক
ফটক উঠিয়াছে, তাহাতে
• ছেলেদের উপন্যাস --
৬৭
• চারু ও হারু -
কত নিশান উড়িতেছে, কত কি লেখা রহিয়াছে,
তাহার মধ্যে কত বড় বড় করিয়া লেখা-~~
স্বাগত
এটি হারুর হাতের লেখা ।
পাঠশালা-ঘরের পুরাণ খুঁটিগুলি নারিকেলের পাতায়
আর দেবদারুর পাতায় সাজিয়াছে, দরজায় দরজায়
কাগজের ফুল, ঝালর, তাহার মধ্যে শ্রেণীর নাম
লেখা। কাগজের ফুলগুলি শ্রেণীর নামের চারি দিক
ঘিরিয়া রহিয়াছে, ঝালরগুলি বাতাসে ঝিল্ মিল্
করিয়া উঠিতেছে, ফুর ফুর করিয়া উড়িতেছে।
তাহার নীচে গাঁদাফুলের মালা দুলিতেছে।
চারি দিকে কত ছােট ঘােট কাগজের নিশান খস্
খস্ করিয়া নড়িয়া পত পত করিয়া খেলিতেছে।
কেন জান?
পাঠশালায়
সভা।
সহর হইতে
ইনস্পেক্টর আসিবেন। পাঠশালায় সভা হইবে।
ছেলেদের উপন্যাস -
চারু ও হারু- পণ্ডিত মহাশয়েরা ব্যস্ত, ছেলেদের মধ্যে হৈ হৈ। পাঠশালার সকল ছেলেকে পরিষ্কার কাপড় চোপড় পরিয়া বেশ ভদ্রভাবে পাঠশালায় আসিতে হইবে, পণ্ডিত মহাশয়রা এই কথা বলিয়া দিয়াছেন। ছেলেরা বাপ মার কাছে নূতন কাপড়, নূতন পােষাক চাহিয়া লইতেছে । খোকন্ বাবু বড়ই মুস্কিলে পড়িল। কোন্ পোষাক পরিয়া যাইবে ? এ পােষাকটা ভাল নয়। ও পােষাকটা আবার পােষাক ! ওটা ; ওটা ক’দিন আগে দু তিন দিন পরিয়াছে। এটার গলার কাছে ফুল নাই। ওটাও তো এক দিন পরিয়া গিয়াছিল সকলে। দেখিয়াছে। ঐটা ; নুতন বাক্সের বাক্সের সকল পোষাক বাহির হইল। বাছিয়া, বাছিয়া, এক পোষাক ~ খুব নূতন, চারু সেই পােষাক পরিয়া যাইবে। খাইয়া দাইয়া, খোকন, সাজ গােজ করিল। --ছেলেদের উপন্যাস-
“কি সিঁথিই করিয়া দিয়াছে, সােজা !”—
—-আয়নায় দেখিয়া খোকন সিঁথি ভাঙ্গিয়া ফেলিল।
“পােষাক এখানে উচু হইয়া রহিয়াছে, ওখানটায়
ফুলিয়া রহিয়াছে। জুতা মম্ মম্ করে না”–– পা ঝাঁকি
দিয়া চারু জুতা ছুড়িয়া ফেলিয়া দিল।
তাড়াতাড়ি চাকরের পােষাক ঠিক করিয়া দিল,
বাঁকা সিঁথি কাটিয়া দিল, আর এক জোড়া ভাল জুতা
আনিয়া দিল ; সে জোড়া পায়ে দিয়া হাঁটিতেই মস্
মস্ মম্ মম্ শব্দ করিতে লাগিল।
;
“দ্যাখ তাে, এখন কেমন !”
বাঃ ।
আর কি ? তখন জুতা মম্ মম্ করিতে করিতে
খােক বাবু সকাল সকাল পাঠশালায় গেল।
সকল ছেলের মধ্যে থােকন্-বাবুর সাজ-ই,
চক্ ম ঝ ঝক্ করিতেছে! খােক বাবু পধুদের
সঙ্গে মিলিয়া স্ফুর্তি করিয়া বেড়াইতে লাগিল।
হারুর জামা নাই। হারু বলিল,-“বাবা, জামা-
দিয়া কি হইবে ; আমার চাদর আছে, চাদর ভাল
;
-ছেলেদের উপন্যাস :
করিয়া কাচিয়া লই। কাপড় একটু ময়লা হইয়াছে, কাপড়ও কাচিয়া লই।” ক্ষার দিয়া বেশ করিয়া হারু কাপড় চাদর কাচিয়। অনিল । বাঁশের উপর শুকাইতে দিয়াছে, এমন পরিস্কার হইয়াছে যে, রৌদ্রে ধব ধব করিতেছে। পরিয়া, খাইয়া দাইয়া সেই কাপড় চাদর পত্র নিয়া, বাপকে প্রণাম করিয়া হারু পাঠশালায় পুঙ্গি গেল। • দূর হইতে ঐ যে ফটক দেখা যায় । অাজ তাহাদের পাঠশালা কি সুন্দর দেখা যায় ! ফটকের লেখাটি কত দূর হইতে দেখা যাইতেছিল ; দুর হইতে ছোট দেখাইতেছিল ; হাৰু যতই কাছে আসিতেছিল, লেখাটি ততই যেন বড় বড় দেখাইতে লাগিল। ; পাঠশালায় গিয়া হাৰু, যেখানে রহিমের বসিয়া ছিল, সেইখানে গিয়া এক পাশে বসিল। -ছেলেদের উপন্যাস- ৭১ চারু ও হারু- পঞ্চু নিবারণের। ইহার নূতন জামার পকেটে ধূলা পূরিয়া দিতেছিল, উহার চাদরের কোণ টুলের পায়ায় বাঁধিয়া দিতেছিল, কাগজের ফুল ছিড়িয়া নিয়া কপালে লাগাইয়া বলিতেছিল,-“দ্যাখ, কেমন রাজটীকা পরিয়াছি!” খােকন্ চারু টেবিলের উপরের ফুলের তােড়া- গুলিকে একবার নিয়৷ এদিকে রাখিতেছিল, একবার নিয়া ওদিকে রাখিতেছিল, ফুল ছিড়িয়া নিয়া শুকিতেছিল, আর বুক ফুলাইয়া মস্ মম্ করিয়া গিয়া জ্যাঠা ছেলের মত পণ্ডিত মহাশয়কে জিজ্ঞাসা করিতেছিল,-“পণ্ডিত মহাশয় ! ইনস্পেকার মহাশয় কখন্ আসিবেন ? এখনও আসেন না কেন ?” এমন সময় দূরে ‘হুম্ হাহ্ পাল্কীর শব্দ শুনা গেল।-ইনস্পেকার মহাশয় আসিতেছেন। পণ্ডিত মহাশয় সকলকে চুপ করিতে বলিলেন। সকল ছেলে শিষ্ট শান্ত হইয়া বসিল। কেবল, চারু, আর দুষ্ট ছেলেগুলি, উকি ঝুকি মারিতে লাগিল। ৭২ *ছেলেদের উপাস- A চারু ও হারু ইনস্পেক্টর মহাশয় আসিলেন। দেখিতে দেখিতে সভা বসিয়া গেল। চারিদিকে সব চুপ। একে একে ইনস্পেক্টার মহাশয়ের পাল্কী হইতে ও কি কি জিনিষ আনিয়া টেবিলের উপর সাজান হইয়াছে ?-ওগুলি বই ? চক্চক্ ঝকঝক্ করিতেছে। আর, ওটি কি ? ছােট লাল বাক্স। আমার সুন্দর পাঠক! আজ এ কিসের সভা তােমরা কি, জান ? জান না ? আজ রূপনাথপুর পাঠশালার পুরস্কার বিতরণের সভা। আস্তে আস্তে ইনস্পেক্টার মহাশয় উঠিয়া স্নেহমাখা স্বরে বলিলেন,-বালকগণ ! আজ আমি তােমা- দিগকে একটি বড়ই আনন্দের সংবাদ দিব। তােমরা উত্তম পরীক্ষা আর-তােমাদেরই এক জন, দিয়াছ ; -ছেলেদের উপন্যাস- -. চাক ও হারু.- পরীক্ষায় বিভাগে সর্বপ্রথম হইয়াছ।” সকল উঠিল। পণ্ডিত মহাশয়দের মুখ আনন্দে ভরিয়া গেল। আনন্দ করিয়া প্রথম ডাক পড়িল কাহার ?—কোন্ ছেলে পরীক্ষায় বিভাগের মধ্যে সর্ব প্রথম হইয়াছে ?-- হারু। সকলের চক্ষু হারুর দিকে পড়িল। রহিম, নরু, সকলের মন যেন আহলাদে ভরিয়া গেল। হাৰু, মনে মনে ভগবানকে প্রণাম করিয়া, আস্তে আস্তে টেবিলের কাছে আসিল। মাথা নােয়াইয়া ইনস্পেকার মহাশয়কে নমস্কার করিয়া, দাঁড়াইল। আহা হারুর মনে হইতে লাগিল,-“কতক্ষণে গিয়া বাবাকে এই সংবাদ দিব ।” মনের মধ্যে তাহার বাবার স্নেহ-ভরা মুখখানি দেখিতে ছিল। ঝঝকে বড় বড় বইগুলি হারুর হাতে তুলিয়া দিয়া ইনস্পেক্টার মহাশয় বলিলেন,—“সকল ছেলে দেখ, ৭৪ -~ছলেদের উপন্যাস-
তােমাদের সমপাঠী, পরীক্ষায় প্রথম হইয়া, প্রথম
বৃত্তি আর প্রথম পুরস্কার পাইল।”
তাহার পর ছােট লাল বাক্সটি খুলিয়া, ইস্পেক্টার
মহাশয়, ঠিক একটা মােহরের মত ঝকঝকে ও কি
বাহির করিলেন ?
ছেলেরা দেখিল, লাল ফিতায় বাঁধা মস্ত একটা
মোহর।
সেই মোহরটি হারুর গলায় পরাইয়া দিয়া
ইনস্পেকার মহাশয় বলিলেন,-আর কি পাইয়াছে,
জান ? এবার গবর্নমেন্ট প্রত্যেক বিভাগীয় পরীক্ষায়
প্রথম ছেলের জন্য এক-একটি সােনার পদক
পুরস্কার দিয়াছেন; এই দেখ, তােমাদের পাঠশালার
মাণিক, এই সােণার ছেলে, বিভাগে সর্বপ্রথম হইয়া
সেই সােণার পদক পুরস্কার পাইয়াছে।”
গলায় ঝলম
ঝলম করিতে
সােণার পদক হারুর
লাগিল।
চারিদিকে জয়ধ্বনি উঠিল ।
খ
- ছেলেদের উপসি--
চারু ও হারু- হারুর কপাল বিন্দু বিন্দু ঘামে ভরিয়া গেল। হারুর মুখ খানি রাঙা হইয়া উঠিল। সেই সভার মধ্যে হারুকে তখন হীরা-জরীর পোষাক শত রাজপুরে অপেক্ষাও দেখাইতেছিল। হায়! চারুর এত পােষাক, এত সোণার হার,—সে গুলি হারুর সােণার পদকের আলোর কাছে ছাইয়ের মত কাল হইয়া গেল। কালমুখে চারু মাথা হেট করিয়া বসিয়া রহিল। রহিম, নরু, অবিনাশ, ইহারাও একে একে ভাল ভাল বই পুরস্কার পাইল। চারু ?- সভার মধ্যে চারুর নামও কেহ লইল না। আজ চারুর চক্ষে জল আসিতে লাগিল । এমন সময় হঠাৎ পাঠশালায় গােল উঠিল। বো করিয়া একটা ঢিল আসিয়া ইনস্পেকার মহাশয়ের সম্মুখে টেবিলের উপর পড়িয়াছে ! -“কে ছুড়িয়াছে ?” "কে ছুড়িয়াছে ?”— -- ছেলেদের উপন্যাস-
চারু ও হারু
পুরস্কার বিতরণ সভা।
হীরা জরীর পােষাক পরা
শত রাজপুত্রের অপেক্ষাও হারুকে সুন্দর দেখাইতেছিল
৭৬ পৃষ্ঠা
No text on this page.
পণ্ডিত মহাশয় ধূলা কাদা মাখা ভূতের মত
চেহারা কয়েকটা ছেলের কাণ ধরিয়া টেবিলের
সম্মুখে নিয়া আসিলেন।
সকলে দেখিল,-সেগুলি
সেই দুষ্টগুলি -পঞ্চু, নিবারণ, মতি, ভূতাে, আর
হরিশ !
উহারা ইহারই মধ্যে একটি ছেলের জামা
টানাটানি করিয়া ছিড়িয়া দিয়াছে, তাহার পর এ বলে
তুই ছিড়িয়াছি, ও বলে তুই ছিড়িয়াছি, ও বলে
তুই
ছিড়িতে বলিয়াছি,- গালাগালি, ঝগড়া,
মারামারি, শেষে চিল ছােড়াছােড়ি করিতেছিল।
রাস্তার ধূলা, পাশের ডােবার কাদা মাখামাখি
করিয়া এক একটার চেহারা যে হইয়াছে, --
-বাঃ!
ইনস্পেকার মহাশয় বলিলেন,-“এ কি!”
“এগুলি
হনুমান্।”
বলিয়া পণ্ডিত মহাশয় পাঁচটা গাধার টুপি
তৈয়ার করাইলেন । সকল ছেলেকে ডাকিয়া
বলিলেন,- “তােমর কেহ সােণার পদক, কেহ
- ছেলেদের উপন্যাস
৭৭
ভাল পুস্তক পুরস্কার পাইয়াছ, আর দেখ এই
হনুমানগুলিকে আমি কি চমৎকার পুরস্কার দিই।”
বলিয়া, গাধার টুপিগুলি দুষ্টছেলে পাঁচটার মাথায়
পরাইয়া দিয়া এটাকে ওটার কাণ ওটাকে এটার
কাণ ধরাইয়া বারান্দায় সারি দিয়া দাঁড় করাইয়া
দিলেন।
-“তােমাদের এই পুরস্কার।”
এক একটা টুপির
কেমন চমৎকার হইয়াছে।
মধ্যে এই রকম লেখা,-
গাধা'
গাধা
গাধা
আগে যেমন রাজটীকা পরিয়াছিল, এখন তেমনই
রাজমুকুট পাইল।
কাদামাখা পােষাক আর এই চমৎকার পুরস্কার
দেখিয়া পাঠশালার সকল ছেলে, রাস্তার সকল
লােক, হাসিতে লাগিল।
৭৮
-ছেলেদের উপন্যাস
চারু ও হারু-
সভা ভাঙ্গিয়া গেল।
করিল।
হারুকে ঘিরিয়া সকল ছেলের জয়ধ্বনি।
সকল গুরুজনকে প্রণাম
ইনস্পেক্টার
মহাশয় আশীর্বাদ করিলেন, পণ্ডিত মহাশয়রা
আশীর্বাদ করিলেন ; সােণার পদক গলায় হারু
বাপের পায়ে প্রণাম করিতে চলিল।
;
একা একা
কাল মুখ চারু বাড়ী গেল।
দুষ্টগুলি আর কি করিবে ?
আর কি করিবে ? এ উহার কাণে,
উহার কাণে,
চিমটি কাটিতে-
লাগিল !
ছেলেদের উপন্যাস
৭.
مطعمه حل
চারু ও হারু
-বাপের পায়ে
ক
- একা একা কাণ-মুগ চারু
বাড়ী গেল।
প্রণাম করিতে চলিল।
চিমটি কাটিতে লাগিল
৭৯ পৃষ্ঠা।
No text on this page.
চারু ও হারু
দ্বিতীয় ভাগ
আরও সুন্দর।
চারু ও হারু
তৃতীয় ভাগ
আরও মনােহর।
ছাপা হইতেছে।
খুকুদের জন্য
খুকুমণিৱ উপন্যাস
শীঘ্রই বাহির হইবে।
আশুতােষ লাইব্রেরী,--ঢাকা ও চট্টগ্রাম ;
কলিকাতা —আশুতােষ লাইব্রেরী, ৫৩১নং কলেজ স্ত্রী
No text on this page.
আজ যাহার শত শত অনুকরণে বাঙ্গালাদেশ ছাইয়া গিয়াছে,
যে সকল গ্রন্থের প্রতি বিষয়টির অনুকরণ
বাঙ্গালায় আকাঙ্ক্ষার জিনিষ হইয়াছে,
—সেই চির অতুলনীয়
হীরক-পাঠাগার।
কবিবর দক্ষিণারঞ্জনের
দেশপ্রসিদ্ধ
সৰ্বজনপাঠ্য বঙ্গগৌরব গ্রন্থনিচয়
বঙ্গের সম্মান-সম্পদ,--সৌন্দৰ্য্য,---গৌরব,---জ্যোৎস্না ও জ্যোতি
ঠাকুরদাদার ঝুলি, ঠাকুরমার ঝুলি,
ঠাণ,দিদির থলে,
খােকাখুকুর খেলা,
আর্য-নারী, সচিত্র সরল চণ্ডী,
“চারু ও হার”-সচিত্র ছেলেদের উপন্যাস
আত্মীয়, স্বজন, সুহৃদ, ছাএ, পুল, ক্যা, বল এবং গৃহলক্ষ্মীকে
বাঙ্গালীর
উপহার দিবার সর্বশ্রেষ্ঠ সামগ্রী।
উত্তাবনায়, কল্পনায়, বিষয় সৌন্দর্য্যে, ছবি, ছাপা ইত্যাদি সর্ববিষয়ে,
দেশে অভাবনীয়,বঙ্গে যুগপ্রবর্তক।
-- -প্রাপ্তিস্থান--
ভট্টাচাৰ্যঃএণ্ড সন্
৬৫ নং কলেজ, কলিকাতা।
সােনার বাংলার সােণার বই “ঠাকুরমার ঝুলি ক । G “নিখিল বঙ্গদেশের গভীরতম মেহ “অপূৰ্ব কবিত্বের আধার, দেশী হইতে উৎসারিত--" রবীন্দ্রনাথ | স্বদেশী, আত্মগৌরবের প্রতিষ্ঠা”-ইন্দ্রনাথ “বাঙ্গালা ভাষার পুষ্টি --- “অতীব সুখপাঠ্য ও মনাের”--- মহামহােপাধ্যায় চন্দ্রকান্ত জ্যোতিরিন্দ্রনাথ অতিশয় আদরণীয়”-স্যার গুরুদাস। “বঙ্গভাষার শ্রীবৃদ্ধি, 'চিত্তাকর্ষক “পাঠ করিতে বৃদ্ধেরও ঔৎসুক্য হীরেন্দ্রনাথ জন্মে”-- রায় কালীপ্রসন্ন বিদ্যাসাগর মধুস্রাবী সঙ্গীত চিরপ্রিয় ভাষা- চির প্রিয় অনির্বচনীয় মােহ-- ক্ষীরােদপ্রসাদ অক্ষয় কুমার “দেশের অভাব পূরণ'- ‘অজানা পরীস্থানের সৌন্দর্য অধ্যাপক যােগেশচল মায়ের চির মধুময়, মােহিনী মন্ত্রপূত বাঙ্গালা দেশে সর্বপ্রথম স্বপ্ন- ষা”— দেবেন্দ্রবিজয়। রাজ্যের সজীব ফটো -- শ্ৰীল বড়ঠাকুর শৈশবের সুখময়ী, আনন্দময়ী স্মৃতি” ৬৫ বৎসর বয়সে বুলি পড়িতে কবি মানকুমারী পড়িতে ৬০ বৎসর কমিয়া যাইল”-- উদার মেহ পরিপ্ল " উপাসনা নাট্টাচাৰ্য্য গিরীশচন্দ্র “সােণার বাংলার 'আনন্দবাজার “মিষ্টান্ন ঝুলি-স্নেহসরস”–প্রবাসী ঢাকাপ্রকাশ বাঙ্গালা সাহিত্যে অপূৰ্ব সম্পদ"-- শিশুসাহিত্যে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রসূন শিক্ষাসমাচার “প্রাণরাম স্মৃতি"-- চারু মিহির সােণার ভারত-‘ঠাকুরমার ঝুলি- আমাদের ঘরের আলো নগ্নসুন্দরী পুটুরাণী,চন্দনচর্চিত শিউলী, গন্ধরাজ, মালতী, চামেলী, খাঁটি স্বদেশ পুলের হার।-বগৃহে জ্যোছনা।” - পরিবর্ধিত সৃষ্টীয় সংস্করণ, অতুলন বাঁধাই-মুল্য পূর্ব-পূৰ্ব্ববৎ-১, প্রকাশক- ভট্টাচার্য এণ্ড স, ৬৫নং কলেজষ্ট্রীট, কলিকাতা।
{ ৫ বঙ্গের গৌরব বঙ্গোপস “ঠাকুরদাদার ঝুলি নূতন সংস্করণে অধিকতর সুখপাঠ্য হইয়াছে। *চিত্রে এবং রসে ভরা। ঝুলি অক্ষয় হউক। বাংলা দেশের মুখে মুখে প্রচলিত লােকসাহিত্যের বিশেষ বটুকু এই সংগ্রহগুলিতে মধুর ভাবে রক্ষিত হওয়াতে এগুলি বাংলা-সাহিত্যে অপূৰ্ব সম্পদরূপে গণ্য হইবে। শ্ৰীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ঠাকুরদাদার ঝুলির দ্বারা “ঠাকুরদাদার ঝুলি বঙ্গ- আমাদের সাহিত্য পুষ্ট ও সৌন্দৰ্য্য সাহিত্যে উপাদেয় উপহার। শালী হইয়াছে।” শ্ৰীযুক্ত ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্ৰীযুক্ত চন্দ্রশেখর মুখখাপাধ্যায়।” “ঠাকুরদাদার ঝুলি বাঙ্গালায় ঠাকুরদাদা প্রকৃতই যাদুকর। অমর হইবে; বাঙ্গালীর ঘরে ঘরে সেই স্বময় যুগের স্বপ্নময়ী গতি, পঠিত হইবে; আবালবৃদ্ধবনিতা —চিব নূতন,- এই মধুময়। এ সকলকে নিত্য আনন্দ দান করিবে। মনােহর! -” কবিমানকুমার। শ্রযুক্ত দেবেন্দ্রবিজয় বসু। ভারতী--“ঠাকুরদাদাদার ঝুলি অপূৰ্ব্ব ‘মােন্স, কবিত্ব, কল্পনা কুশলতা,বাস্তবিক গৌরবের সামগ্রী। বঙ্গবাসী এন্থকারের নিকট চির ঋণী। তাহার উদ্যম অসীম হউক, তাহার লেখনী অক্লান্ত হউক।” ঠাকুরদাদার ঝুলি--লুপ্ত রত্নের উদ্ধার ; বঙ্গভাষাকে খাঁটি দেশী সম্পদে সৌষ্ঠবান্বিত করিয়াছে। ঠাকুরদাদার ঝুলি আবালবৃদ্ধবনিতার পরম উপভােগ্য।” প্রবাসী। চারুমিহির -“ঠাকুরদাদার ঝুলি--বীণাধ্বনি, নিশীথে কল্লোলিনী, পুরাতন স্মৃতি, স্বপ্নরাজ্য, কালসমুদ্র হইতে উদ্ধত অমৃতভাণ্ড। “গীত- কথায় বাঙ্গালা-সাহিত্যে নূতন অধ্যায় সূচীত হইল।” দেশবিত চিত্রভাণ্ডার সহ-অতুলন বাঁধাই, মূল্য ১০ প্রকাশক-ভট্টাচাৰ্য এও সনু ২৫নং কলেজষ্ট্রীট, কলিকাতা , বঙ্গের নারী-গীতা ৭গৈর অপুর-প্রদীপ, স্ত্রীপঠা প্রস্থের কো আর্য্য-নারী বঙ্গের বালিকা, বধূ, কণ্ঠা, জননী, গৃহিণী, সহপৰ্ম্মিণী, সবা, বিবা, প্রৌঢ়া, বৃদ্ধ, সমস্ত জননীজাতির অঞ্চনার পারিজাত অঞ্জলি । বৈদিক যুগ হইতে বৌদ্ধ এবং বিক্রমাদিত্যেৰ কণ পর্যন্ত— সতী, সাবিত্রী, গার্গী, মৈত্রেয়ী, বিশ্ববারা, সীতা, দমন্তী, চিন্তা, দ্রৌপদী, কুন্তী, গান্ধারী হইতে গােপা, খনা, লালবর্তী এবং দ্বিতীয় ভাগে ভারতে মুসলমান আগমন হইতে-ইংরেজ রাজত্ব পর্যন্ত--- হির-মহিষী, সংযুক্ত, পদ্মিনী কৰ্ম্মদেবী, সমস্ত রাজপুত ইতিহাসের আনারী এবং মহারাষ্ট্র ইতিহাসের ছত্রপতি মহারাজ শিবাজী-জননী জাবাত, তারাই, অহল্যাবাই, এবং বঙ্গের পুণ্যময়ী রাণী ভবানী পথও আদি +16 তে বর্তমান মুগ পয্যন্ত সকল যুগের সমস্ত প্রকলের আদর্শ আলনার একাকত পুণ্য জীবনী। বঙ্গদেশে এবং বঙ্গ যায় এক শত্র আঃ গ্রন্থ। 1 - এই অমূল্য গ্রন্থে অতি মহংকাৰ্য্য সফল হইয়াছে --- জ্যোতিরিন্দ্রনাথ। “প্রত্যেক গৃহলক্ষ্মীরই আৰ্য্যনারী পাঠ করা উচিত- বসুমতী। জাতীয় অমূল্য গ্রন্থাবলী, উন্নতির সহায়, সুলণিত,হৃদয়গ্রাহী- ভারতী। “কন্যা ভগিনীদিগকে উপহার দিনার উপাদেয় স্ত্রীপাঠ্য পুস্তক---- প্রবাসী। ‘‘আৰ্য্যনারা বড় সুন্দর”—অক্ষয়চন্দ্র সরকার। এই অতুলনীয় গ্রন্থ দেশের মহান্ অভাব দূর করতে সমর্থ হইয়াছে, শিক্ষা-সমাচার। “রাজপ্রাসাদে, দীনকুটারে, সক। গৃহে আয্যনারী স্থান পাইবে।” নকুলেশ্বর বিদ্যাভূষণ। — - - - - - - - - পরিবর্ধিত নূতন সংস্করণ, অতুলন বাধাই, প্রতিথও~-১ প্রকাশক ভট্টাচাৰ্য্য এও সন্, ৬৫ নং কলেজষ্ট্রীট, কলিকাতা
দেশের খুকুমণিদের পরম প্রিয়
এক সঙ্গে খেলা,-উৎসব,-ধৰ্ম্ম ও কর্ম
-ফুল-চন্দন ও ধান-দুর্বার পবিত্র আশীর্বাদ
ঠানদিদির খল বারাকালারব্রতকথা
( প্রথম খণ্ড-কুমারী ব্রত )
মহাকালী পাঠশালা, বঙ্গের বালিকাবিদ্যালয় এবং বঙ্গগৃহে কুমারীদিগকে
উপহার দিবার সর্বশ্রেষ্ঠ সামগ্রী।
অপূৰ্ব্ব সৌন্দর্য্যে বাহির হইয়াছে।
ব্রতের দেবালিকা বঙ্গগৃহে আসিয়াছে!
সমগ্র বঙ্গদেশের কুমারী ব্রতসকল
অতি স্নেহমধুর কচি কচি সরল ভাষায় লিখিত।
সকল অঞ্চলের সহিত মিলাইয়া
প্রত্যেক বিষয় অতি পরিষ্কার রূপে বুঝাইয়া দেওয়া।
যে সকল বালিকা কেবল পুস্তক পড়িতে শিখিয়াছে, শুধু এই পুস্তক দ্বারাই
এমন প্রত্যেক বালিকা নিজে নিজে ব্ৰত করিতে পারিবে।
প্রত্যেক ব্ৰতের খুটিনাটি, সমস্ত আলিপনার চিত্র এবং উৎকৃষ্ট অসংখ্য
ফটোগ্রাফ
চারি রঙে ছাপা ব্ৰতী-বালিকাগণের মনােহর ছবি এবং
বিবিধ মনােরম চিত্রে পরিশােভিত।
এই বই বড় অক্ষরে, বিচিত্র রঙে, নুতন ধরণে পরিপাটি পা।
রাজসংস্করণ ১ টাকা মাত্র।
প্রকাশক- ভট্টাচ যি এণ্ড সন্।
৫ নং কলেজ স্ট্রীট, কলিকাতা।
=
বঙ্গের পুণ্য গ্রন্থ সচিত্র সরল ভণ্ড শ্রীশ্রীচণ্ডীর সমগ্র আখ্যান। বালবৃদ্ধবনিত-পাঠ্য অতুলন সংস্করণ। স্যার গুরুদাস-“সরল, সুমিষ্ট, অতি সুন্দর ; দেবী-মাহাত্মের সমস্ত কথা বিবৃত হইয়াছে।” রার রাজেন্দ্র চন্দ্র সাঈদ সর চা বাঙ্গালীর ঘরে ঘরে আদৃত হইবে। পণ্ডিত কালীপ্রসঃ • “ একবার পড়িয়া তৃপ্ত হই নাই, প্রতিদিন পাঠ করি। বালকবালিকারও তপ।” অধ্যাপক রামেন্দ্রসুন্দর—'বিস্ময়ের উদয় হইয়াছিল,-চণ্ডীর মত ধৰ্ম্ম- গ্রন্থ সরল বাঙ্গালা ভাষায়। বাঙ্গালার পাঠ্য সাহিত্য পূর্ণতা লাভ করিল। পালক বালিকারা প্রচুর আনন্দ ও শিক্ষা লাভ করিবে।” ইন্দ্রনাথ-সরল ৮ ও ৪ জনের উপকারে লাগবে। মেয়েরা কৃতার্গ হইবে, অনেক পুরষও ভাগ্যবন্ত হইবে; কত যে কাণের সম্ভাবনা বলিয়া বুঝান যায় না।” দেবেন্দ্রবিজয়-এমন হইতে পারে, জানিতাম না। কি ছেলে, কি স্ত্রী, কি বুড় সকলের কাছেই ইহার অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ উপহার অসম্ভব » The Bengalce-"Highly instructive Publication Unique succes * * * ভারতী- এই প্রয়ােজনীয় গ্রন্থ রচনা করিয়া গ্রন্থকার সমগ্র দেশের ধন্যবাদাহঁ।” চাকা প্রকাশ—“হিন্দুসন্তানের জন্য কল্যাণপস্থা। সসনে উপহার দিবার এমন গ্রন্থ আর হয় নাই।” সরল গদ্যে ও সুললিত পদ্যে লিখিত; বহু চিত্রে পরিশােভিত, অভিনব উজ্জ্বল বাধাই,-মূল্য ৭০ মাত্র। এপ্তিস্থান-টাচাৰ্য এও সন, ৫ নং কলেজ, কলিকাত - ১৫- - - - । ২' , । " | Ads ! খােকা-খুকুদের জন্য মাতৃস্তন্য- অমৃত!! খােকাখুকুর খেলা। পুতুলের ঝাপি, সন্দেশের থালা, ক্ষীরসর-নবনী। “শিশুদের অপরিসীম কৌতূহল—খােকাখুকুর খেলা” শ্ৰীযুক্ত জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর। “এমন বই দেখিয়া আমিও বুড়া বয়সে থােকা হইয়া যাই,নাতিদের সঙ্গে বই লইয়া টানাটানি,-তারাও ছাচ্ছে না, আমিও ছাড়ি না !~~~ শযুক্ত ইন্দ্রনাথ। “খােকা খুকুর খল চাদন জোয় গঙ, মা, ফুলের বাতাসে গড়া? গ্রামের শিশুরা যােগ দিয়াছে ; সকলের হাসির লহর, ছুটাছুটি, টাটানি, কবিতা আবৃত্তি মুহূর্ত মধ্যে সবই পঞ্চম ছাড়াইয়া সপ্তমে উঠিয়াছে।-বই পাইয়া তারা যেন এক এক বীর !” কবি মানকুমারী। “উচ্চ ভাব প্রকাশক,~~-পলকবালিকাদিগের পরম চিত্তাকর্ষক শিক্ষাসমাচার। “ইর নন প্রণালীতে দেশের এক গুরুর অভাব পূর্ণ হইয়াছে ; ভাবী বংশধরগণের জন্য প্রকৃত সুশিক্ষার পথ উন্মুক্ত হইল।” থােকা-খুকুর- খেলা শিশুদের আনন্দ ও শিক্ষার প্রশ্নষণস্বরূপ।" ঢাকাপ্রকাশ। বিষয়ে, ভাবে, চিত্রে, বঙ্গসাহিত্যে ইহার তুলনা নাই। ছেলেমেয়েকে মানুষ করিয়া গড়িতে খােকাখুকুর খেলা সর্বোৎকৃষ্ট দেশােপযােগী ছবির বই আকার বৃহৎ, পাতায় পাতায় ছবি,- মূল্য মাত্র। প্রকাশক-ভট্টাচাৰ্য এণ্ড স, ৬৫ নং কলেজস্ট্রীট, কলিকা: } শিশু-সাহিত্যে সর্ব প্রথম নূতন গ্রন্থ- ছেলেদের রাজ্যে যুগান্তর সােশার চারহীরু ছেলেদের উপন্যাস প্রাণের বই বই ! সর্বাপেক্ষা মূল্যবান্, সাপেক্ষ। স্নেহের নির্দোষ উপহার। ছেলেরা এতকাল উপন্যাস লুকাইয়া পড়িয়া গুরুজনের কাছে মা’র খাইয়া আলিয়াছে ; আজ সাগ্রহে, আনন্দে, পরমােৎফুল্ল চিত্তে, তাদের চিত্তবিকাশ ও চরিত্রগঠনের সহায়তা করিতে প্রত্যেক পিতা মাতা প্রত্যেক ছেলেকে এই উপন্যাস নিজে কিনিয়া দিবেন । ছেলেদের উপন্যাস ছেলেদের চির-আকাঙ্গার, চির মনের মত আদর্শ চরিত্রের নীতিমালার সহিত কোমল চিত্ত পটে আঁকিয়া দেওয়া সােণার ছবি,- অভিনব মধুর প্রণালীতে, নূতন ধরণে, মনােহর করিয়া, অমৃত ছানিয়া লিখিত। ছেলেদের অনিন্দ! অভিভাবকের আনন্দ। বাঙ্গালাদেশের আনন্দ। বিস্তর ছবি ;-রাজসংস্করণ ৬০ মাত্র। প্রানিভট্টাচার্য এ সন, ৬৫ নং কলেজ টি, কলিকাতা।
ছেলেদের
হাসির ফোয়ারা ??
দাদামশা’য়ের থলে’
বাঙ্গালার রসকথা
এক একটি গল্প পড়িলে ছেলের
হাসিয়া গড়াইবে
অথচ
সুন্দর
নীতি-উপদেশপূর্ণ
এক একটি ছবি হাসিতে ভরা।
পাতায় পাতায় হাসির ছবি।
সম্পূর্ণ নূতন,পরম মনােহর।
দেশের আনন্দের ধারা।
এমন হাসির গল্প, এমন অসংখ্য হাসির ছবিতে
এমন বই
বাঙ্গালায় আর কখনও বাহির
হয় নাই।
রাজসংস্করণ সােণা-রূপার বাঁধাই—১১
শীঘ্রই
বাহির
হইবে—
শ্ৰীযুক্ত দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
প্রণীত
পরম সুন্দর
নূতন বই
রাজপুত্র
সচিত্র
নূতন জিনিষ
মধুর বিষয়, মধুর কথা,
মধুর ছবি!
শিশু-রাজ্যে হুলস্থুল পড়িয়া যাইবে।
ভট্টাচাৰ্য এণ্ড সন্
৬৫নং কলেজ স্ট্রীট,
কলিকাতা।
கல்லிலிகள்
ছাপা
হইতেছে—
শ্ৰীযুক্ত দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
প্রণীত
সচিত্র
আবত্তি
s
ছেলেদের নাটক
ছেলেরা যাহা কখনও আশা
করে নাই,
এমন বিষয়ের
allali
মধুর, সুন্দর,
নূতন বই।
faelal
.
চিত্র সহ আবৃত্তি ও ছেলেদের জন্য
অপূৰ্ব মনােহর
সুন্দর সুন্দর
নাটক!
শিশুরাজ্যে নূতন যুগ !
শীঘ্রই বাহির হইবে।
ব্যুডেন্যান্সেন্য
[9][S
ঠাকুরমার
ঠাকুরদাদার
ঝুলি
ঠাণদিদির
ঝুলি
দেশের
দাদামশা'য়ের
থলে
থলে’
আনন্দ
আনারী
সচিত্র
উপহার
১ম
সরল
২য় ভাগ
চারু ও হারু
সচিত্র
ছেলেদের উপন্যাস
খােকা খুকুর খেলা
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.