Garh Bhawanipur R.p. Institute, Howrah
Mebar Mahima
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
মেবার মহিমা লন্তকুমার চট্টোপাধ্যায়, এ-এ
No text on this page.
মেবার মহিমা বসন্তকুমার চট্টোপাধ্যায়, এম-এ
উৎসর্গ
করিঃ শরণং
আমার পরম স্নেহমী জননীব
করকমলে
ভক্তি ও স্নেহেব
ক্ষুদ্র নিদর্শনস্বরূপ
উৎসগা, হইল
কার্তিক, ১৩৩৭
গ্রন্থকার
ভূমিক।
আমি একবার চিতাের দেখিতে গিয়াছিলাম। চারিদিকে
ভগ্নস্তুপের মধ্যে সেই স্বদেশপ্রেমের মহাতীর্থে দাঁড়াইয়া আমার
হৃদয় এক অপূৰ্বভাবে উচ্ছসিত হইয়া উঠিল। যে সকল বীরপুরুষ
এবং বমণীৰ স্বদেশ ও সর্বের জন্য অকাতরে প্রাণদান
কবিয়াছেন তাহাদের প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধায় হৃদয় অবনত হইল।
যাহারা ভারতবাসীদের জন্য তাদের কার্তিকপ অমূল্য সম্পদ
বাগিয়া গিয়াছেন। তাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে তর্পণ করিবার জন্য
আকাঙ্ক্ষা হইল । ৰামায়ণ এবং মহাভারতের পুণ্যকাহিনী সরল
কবিতাৰ সাহায্যে বাঙ্গলার ঘরে ঘরে যে ভাবে প্রচারিত হইয়াছে,
মেলাবেব গৌরবময় কীৰ্ত্তিকাহিনীও সেইভাবে বাঙ্গলা দেশে
প্রচারিত হবে ইহা আমার উচ্চ আশা। আমি জানি আমার
অক্ষমতা এ বিষয়ে প্রবল প্রতিবন্ধক। তথাপি আমার ক্ষুদ্র শক্তি
অনুসারে চেষ্টা করিলাম। কারণ ভগবান বলিয়াছেন, “তােমার
কমেই অধিকার আছে, ফলে অধিকার নাই।”
প্রধানতঃ উদারহৃদয় মহাত্মা টবে গ্রন্থ অবলম্বন করিয়া এই
গ্রন্থ রচনা করা হইয়াছে। তিনি বিদেশী এবং বিক্রেতা জাতির
অন্তর্গত হইয়াও যেরূপ উদাবত এবং গুণানুয়াগের পরিচয়
দিয়াছেন তাহা জগতে দুল। তার পরলােকগত আত্মার
উদ্দেশ্যে আমি ভক্তি ও কৃতজ্ঞতা নিবেদন করিতেছি।
দূবদেশে থাকিয়া গ্রন্থ ছাপাইতে হইল। এজন্য কতকগুলি
হইয়াছে। একটি শুদ্ধিপত্র দেওয়া হইল।
দিল্লী
গ্রাফার
গাঘ ১১৭ ।
ছাপাৰ ভুল
No text on this page.
মেৰাৰ মহিমা
হরির পাদপদ্ম করিয়া স্মরণ।
করিব তাহার বংশ গুণকীর্তন
অসম্ভব সম্ভব করেন যিনি গুণী ।
কৃপা করি আমারে শকতি দিন তিনি।
সূৰ্য্য হইতে যেই বংশ হইল উদ্ভব।
রঘু ও শ্ৰীৰামচন্দ্র যে বংশ-সম্ভব ।
সেই বংশে কলিযুগে জন্মে বহুবীব।
বাপ্পা কুম্ভ রাণীসঙ্গ রাজসিংহ ধীর ।
মহাত্মা লক্ষণ সিংহ যিনি দেশ তরে।
একাদশ পুত্র বলি দেন অকাতরে ।
বীর জননীর পুত্র নামেতে হামীর।
চিতাের উদ্ধার করে সেই মহাবীর।
সকল বীরের শ্রেষ্ঠ শকতি বিপুল।
প্রতাপ তাহার নাম জগতে অতুল ।
একই বংশ ভিন্ন শাখা চন্দ শাবৎ।
যাহাদের কীর্তি রাশি অতীৰ মহৎ।
বাগজি হইল রাজা এক দিন তরে।
প্রাণ বলি দিতে বসে সিংহাসন পরে ॥
পুত্তজি যােডশ বর্ষ বয়স যাহার।
যুদ্ধ করি প্রাণ দেন শত্রুর আকার ।
মেবার মহিমা
=
ভিন্ন বংশে জন্ম লয়ে বৃহু মহাবল।
মেবারের ইতিহাস করিল উজ্জ্বল।
দ্বাদশ বর্ষীয় বীর বাদল নামেতে।
পাঠান সেনানী মাঝে পশে হৃষ্টচিতে |
রাঠোর বংশীয় বীর নাম জয়মল।
যার মূর্তি নিজদ্বারে স্থাপিল মােগল ।
ঝাল। অধিপতি বীর মান্না যার নাম।
কাভিয়া প্রভুর ছত্র যান স্বর্গ ধাম।
ভারত উজ্জ্বল করে সে রমণীকুল।
সতীত্ব সাহস আর সৌন্দৰ্য্য অতুল ।
কত যে রমণী হায সতীত্বের তরে।
জ্বলন্ত অনলে পশি দেহত্যাগ কবে ॥
প্রযােজন হলে করে লয়ে তরবারি।
শত্রু-সৈন্য মাঝে যান ভয় লজ্জা ছাডি
পদ্মিনী, জহরবাঈ, পুত্তের জননৗ-
পুত্রবধূ লযে সাথে রণে যান যিনি।
এ সকল পুণ্য কথা করিলে শ্রবণ।
হৃদয় পবিত্র হয় শান্ত হয় মন।
অনিত্য সংসার সুখ করি পরিত্যাগ।
কর্তব্য সাধন করে হয় অনুরাগ।
সূর্যবংশীয় রাজগণ কর্তৃক ভারতের
ভিন্ন ভিন্ন স্থানে রাজস্থাপন
॥
সবনূর তীরে লােভে অযােধ্য। নগরী।
আধুনিক ফৈজাবাদ
অদূরে
তাহারি
সেথায় গােপ্তার ঘাট কি অপূর্ব শােতা।
আকাশ, পৃথিবী নদী মিশে মনােলােভা ।
গােতব তীর্থ সে প্রাচীন তার নাম।
ষণায় সবষ, জলে পশেন শ্রীরাম ।
বাম সনে জলে পশে প্রজাগণ সবে।
জানিছে মৃত্যুর পর স্বৰ্গৰাস হবে।
এৰূপে ৰামচন্দ্র ত্যজেন জীবন।
কুলৰ পুত্রদ্বয় তবে রাজা হন।
বুবতী নগরেতে কুশ রাজা হন।
শ্রাবন্তী নগরী লৰ করেন শাসন।
সুদূৰ পশ্চিমে পুরী লবের স্থাপিত।
লবকোট লবপুরী ভারতে বিদিত।
এই দুই নাম যাহা আছিল প্রথমে।
লাহােরেতে পরিণত তাহা কালক্রমে ।
এ বংশের অনেক বিখ্যাত রাজগণ।
দীর্ঘকাল পঞ্জাবেতে করেন শাসন।
মেবার মহিমা
গ্রীক সিকন্দর যবে ভারতে আইল।
এই বংশােব পুরু নৃপতি আছিল।
জয় কৰি তুর্কীস্থান পারস্য কাবুল।
আসিতেছে সিকন্দর হৈল মহাগােল।
তক্ষশিলা নরপতি অন্তি তার নাম।
ভয় পেযে সিকদরে করিল সেলাম ॥
গর্বভবে সিকন্দর দূত পাঠাইল।
পুকর নিকটে গিয়া সে দূত কহিল ৷৷
“মম প্রভু সিকন্দর মহাবীৰ্য্যবান।
পৃথিবীতে নাহি কেহ তাহার সমান।
করেছেন তিনি তক্ষশিলা অধিকার।
শীঘ্র আসিবেন তিনি এ রাজ্যে তোমার ॥
তােমারে আদেশ তিনি করেন সম্প্রতি।
শীঘ্র গিয়া তার কাছে জানাও প্রণতি।”
হাসিয়া কহেন পুরু দূতের উত্তর।
“যাও দূত কর তব প্রভুর গােছর ॥
তাহাব নিকটে আমি যাইৰ সত্বরে।
প্রণতি জানাতে নহে, যুদ্ধ করিবারে।”
“তথাস্তু” বলিয়া দূত ফিরিয়া চলিল।
সব কথা প্রভুর সমীপে নিবেদিল।
শীঘ্রগতি অগ্রসর হন গ্রীকবীর।
যথাকালে উপস্থিত বিস্তার তীর।
৪
মেবার মহিমা
দেখেন পুরুর সৈন্ত বিপরীত তীরে।
চিনে কিৰূপে ৰাই নদীপরপারে ।
হেথা বসি কিছুদিন করেন যাপন।
লুকাইয়া নিশাঘােগে নদীপার হন।
প্রভাতে তুমুল রণ হৈল কারন।
কখনও বা হিন্দু হারে কখনও যবন।
বীরত্বে দুর্জয় হিন্দু দেখি সিকন্দর।
কৌশল প্রয়ােগ করি জিতিল সমর।
পুক দেখে আর জয আশা নাহি রয়।
তথাপি অকুতােভয়ে সংগ্রাম করয়।
যুদ্ধে পলায়ন কভু নাহি জানে বীর।
হয় জলাত, নয় মরণ সুস্থির।
নয়টি অস্ত্রের চিহ্ন শরীরে হইল।
শােণিতের ধারা সর্ব দেই ভাসাইল।
যুঝিছে নির্ভীক বীর
অতুল প্রতাপে।
গ্রীক সৈন্য নাহি পারে যাইতে সমীপে।
সার্ধ চাবি হস্ত হয় দীর্ঘ তার দেহ।
এ হেন বিশাল কায় দেখে নাই কেহ ।
অবশেষে সংজ্ঞালােপ হৈল পুরুরায়।
ছিন্ন মহীহ প্রায় ভূমিতে লুটায়।
তখন যবন সৈন্ত তুলিয়া তাহারে।
লয়ে যায় ধীরে ধীরে নিজের শিবিরে ।।
মেবার মহিমা
কিছুক্ষণ পরে বীর সংজ্ঞা ফিরে পায়।
“কোপা আসিলাম” বলে চারিদিকে চায় ।
সুস্থ হৈলে সৈন্যগণ তাহারে ধরিয়া ।
লয়ে যায় সিকন্দর যথায় বসিয়া।
গর্বভরে সিকন্দ তাহাবে জিজ্ঞাসে।
“পাঠায়ে ছিলাম পূৰ্বে দূত তব পাশে ॥
তখন লইতে যদি শবণ আমার।
পাকি তােমার বাজ পাইতে নিস্তার।
যুদ্ধ নাহি হইত, বাচিত সৈন্যচয।
শীরে আঘাত নাহি পাইতে নিশ্চয়।
করিযাচ তাপমান দূতে ফিরাইয়া।
কিবা ব্যবহাৰ চাই সংগ্রামে হারিয়া ?”
উত্তৰ কবেন পুৰু ধীব শান্ত স্ববে।
নাহি ভয় ব্যাকুলতা কিছুই অন্তরে।
“কৃপা চাহি নাই, ইপে নাহি অনুতাপ
যদি নাহি যুবি। ওম হৈত তাহে পাপ ,
কৰ্তব্য ছিল যুদ্ধ দেশের কারণ,
প্রাণপণে কৰিছি কর্তব্য পালন ,
যুদ্ধে জয় পরাজয় কৰ্ম্মফলে হয়
কৰ্ম্মেঅধিকাৰ মম কৰ্ম্মফলে নয়;
তুমি রাজা আমি রাজা ইহা বিচারিয়া
সমুচিত ব্যবহার করিবে চিন্তিয়া।”
মোব' মহিমা
এতলি পুরুরাজ। যৌন যদি হয়
আশ্চর্য যবন বীর তাহারে কহয়--
“এমন সুন্দর কপা শুনি নাই কভু
জিনিয়াছি বহু রাজা হইয়াছি প্রভু।
করিয়াছি বটে তব সৈন্য পরাজয়
হৃদয় তােমার কিন্তু রযেছে নির্ভয়
তােমার যে রাজ্য ছিল রহিবে তেমনি
আজি হৈতে তুমি মম মিত্র বলি জানি।”
এতলি সিকন্দর তার হাত ধরে
সম্মান করিয়া দেয় বিদায় তাহারে
পুৰু পায় নিজ রাজ্য হরষি মন
সন্তানের ন্যায় করে প্রজার পান।
সূর্যবংশের দাক্ষিণাত্যে রাজ্যবিস্তার
কালক্রমে সূর্যবংশ পঞ্জাব ছাডিয়া
স্থাপিত হন রাজ্য দক্ষিণে যাই।
নৃপতি কনকসেন দ্বারকা যাইল
প্রমার বংশীয় বাজে যুদ্ধে হারাইল
সেথায় বল্লভীপুরে রাজধানী হৈল
বহু বংশধর সেথা রাজত্ব করিল
শিলাদিত্য রাজা যবে বল্লভীপুরেতে
উত্তর হইতে শত্রু আইল দেখতে
৭
মেবার মহিমা
হইল ভীষণ যুদ্ধ শত্রুর সহিত
বারবার শত্রু সৈন্য হয় পরাজিত
আছিল পবিত্র তীর্থ নগর মাঝারে
সূৰ্যকুণ্ড নাম তার সবে পূজা করে।
আহ্বান করিত যবে শিলাদিত্য বীর
উঠে অপরূপ রথ ছাড়ি তীগনীর
সপ্তাষ রথের নাম সূর্যের বাহন
তাহা চড়ি শিলাদিত্য করে ঘাের রণ
কেহ নাহি পারে শিলাদিত্যের সহিত
শত্রুর শিবিরে সবে হইল চিন্তিত
বিশ্বাসঘাতক এক মন্ত্রী ছিল সেথা
শক্ররে কহিয়া দিল তীর্থের বারতা
মন্ত্রী বলে গৰু কাটি ফেলহ সলিলে
সূর্য-রথ আর না উঠিবে তাহা হৈলে
সেই মত কাজ করে অরাতির দল
লুকাইয়া অপবিত্র করে তীর্থ জল।
পরদিন শিলাদিত্য তীরে দাড়াইয়া
বার বার ডাকে, রথ না আসে উঠিয়া।
তখন নগরবাসী প্রমাদ গণিল
দেবতা বিমুখ বলি ভয় উপজিল।
রমণীরা অগ্নি জালি প্রাণ তেয়াগিল
পুরুষ নগর ছাড়ি বাহিরে আসিল
মেলার মহিমা শত্রুদের ছিল সে বিপুল সেনানী নিৰ্ম্মল হইল শিলাদিত্যের বাহিনী। চন্দ্রাবতী বাজকন্যা পুষ্পবতী নাম শিলাদিত্য নৃপতির বাণী গুণধাম যুদ্ধের প্রাক্কালে দেখি রাণীরে গণিী। পিত্রালয়ে পাঠাইয়া দেন নরমণি। পিতৃগৃহপার্শ্বে অম্বানী মন্দিরে পূজা দিতে গেল রাণী তনয়ের হরে পৃজা দিয়া ফিরে যবে শুনে আচম্বিত হযেছে পল্লী ধ্বংস স্বামী তাৰ মৃত। শোকে মুহমান রাণী না পারে যাইতে পথপাশে গুমাঝে পশে সা সাথে হইল বার্ণার তথা তনয প্রসূত তনয়ে দেখিযা রাণী কান্দে অবিবহ। নিকটে নগরে ছিল ধাম্মিক। রমণী নামেতে কমলাবতী, জাতিতে ব্রাহ্ম- কমলাবতীবে ডাকি পুষ্পবতী কহে “যাব আমি পতি পাশে, বিলম্ব না সহে সদ্যোজাত পুত্র মাের দিলাম তােমাবে আপন তনয় বলি পালিবে ইহারে ব্রাহ্মণ তনয় মত শিক্ষা দিবে তারে করিবে বিবাহ কিন্তু বাজপুতনীরে।
মেবার মহিমা
সখিগণ রচ এক চিত। শীঘ্র করে
যে আমার স্বামী ডাকিতেছে মােরে।"
জলিল চলন চিতা, রমণী বহন
পতি চিন্তা হৃদে ধরি ত্যজিল জীবন।
শাস্ত্রে কহে মৃত্যুকালে যেই চিন্তা হয়
সেইরূপ গতি হয় নাহিক সংশয়
পতি চিত। হৃদে ধরি ত্যজিলে জীবন
পরলােকে পতিসনে হইবে মিলন।
গােহ কর্তৃক রাজ্যপ্রতিষ্ঠা
কমলাবতীর পিতা থাকেন মন্দিরে
বিগ্রহ করেন সেবা অতি যত্ন ভরে
রাজপুত্র সেইখানে পাইল আশ্রয়
যতন আদর পেয়ে ক্রমে বড় হয়।
গুহা মধ্যে জন্ম হৈল এই কথা স্মরি
গােহ নাম দেন তার ব্রাহ্মণ কুমাৰী।
রাজপুত বালকেরা যে বাস করে
গােহ যায় তথা খেলা করিবার তরে
কোন দিন যায় তারা করিতে শিকার
পাখী মেরে আনে কিম্বা আনে জানােয়ার
দেখিয়া কমলাবতী বলে, “কি বিপদ!
হায় হায় বাছা, কেন কর প্রাণী বধ?
মোৰ মহিমা
ব্রাহ্মণ কুমারী তার কোমল হৃদয়
রক্তপাত দেখি মনে বড় ভয় হয়
কত কৰি বােঝায় সে বালক গােহেরে
কখনও মিনতি করে, কভু ভৎসে তারে
কিন্তু কিছুতেই গােহ কথা নাহি শুনে
দুরন্ত প্রকৃতি তার কারেও না মানে।
নিকটে অরণ্য মাঝে থাকে ভীলগণ
তাহাদের সাথে গােহ করিল মিলন।
একদিন খেলা কবে সকলে মিলিয়া
কে হবে মােদের রাজা ভাবিছে চিন্তিযা
একজন বলে, “গােহ আমাদের রাজা
সবে বলে, “ঠিক কথা মােরা হব প্রজা”
একটি বাল 1 ভাল আঙ্গুল কাটিয়া
গােহের কপালে দেয় রাজটীকা দিয়া
ভালদের দলপতি বৃদ্ধ মালিক।
শুনিল গােহের শিরে পডে রক্তটীকা
বলিল, ‘সত্যই তবে গােহ হবে রাজা
এদুরের সব ভীল হবে তার প্রজা”
এই মতে কবে গোহ রাজত্ব স্থাপন
অরণ্য পাহাড় রাজ্য করিল শাসন
*ীলদের দেশের নাম এদূর।
মেবার মহিমা বৃদ্ধ সর্দারের সাথে হইল বিরােধ মাথা কাটি করে গােহ ঋণ পরিশােধ। মেবারের ইতিহাস করি আলােচনা দেখি ভবিষ্যতে কষ্ট পায় বহু রাণ'। বৃদ্ধকে মারিয়া গােহ কৃতঘ্নতা কবে বুঝি সেই হেতু কষ্ট পায় বংশধবে । গােহ বংশে আট জন নৃপতি হইল এদুরে ভীলেব বাক্য পালন কবিল । কমলাবতীর যারা ছিল সন্তান রাজপুরােহিত হয়, পায় বহু মান। অষ্টম নৃপতি নাম নাগাদিত্য ধীর ভীলেরা বিদ্রোহ করি কাটে তার শির নাগাদিত্য তনয সে বাপ্পা নাম ধরে কমলার বংশধর রক্ষা করে হারে ।। বাপ্পার শৈশব এবং রাফালাভ বাপ্পার শৈশব কাটে তরণ্যে পর্বতে, চরায়ে বেড়ায় গরু খেলে নানামতে। নাগদা রাজার কন্যা খেলিতে ঝুলন উপবন মাঝে যায় সহ সখীগণ। বাপ্পাকে দেখিয়া তারা বলিল বচন- “কে তুমি মােদের বনে কর বিচরণ? ১২
মোৰ মহিমা
যদি প্রহরীর হাতে না চাহে বন্ধন
ক্ষু আনি দাও শীঘ্র খেলিব ঝুলন।”
বাপ্পা বলে, আনি আমি দিব রঞ্জু ডাের
যদি বিবাহের খেলা খেল সাথে মােৰ ।”
যথাকালে রজু ডাের বাপ্পা আনি দিল
সখীগণ কতুহলে ঝুলন খেলিল
হইল খেলার শেষ, বাপ্প। তবে বলে
“বিবাহের খেলা বাকী তাহা কি ভুলিলে ?”
বাপ্পাব বসনে রাজবালার আঁচলে
বাধে গাঁটছড়া সখী মহাকুতূহলে
হাত ধরাধবি করি সব সখীগণ
মিলাইয়া দেয় দেহে হরষিত মন।
অতি পুরাতন বৃক্ষ নিকটে ছিল,
শতবার প্রদক্ষিণ সকলে করিল।
আজি বাজাল। আর সখী ছয়শত
খেলাব বিবাহে হৈল পত্নী রীতিমত।
রাজবালা করে ইহা পিরে গােপন,
দৈববশে রাজ। কিন্তু করিল শ্রবণ।
রাজা মনে ভাবে দিব বিবাহ কন্যার,
জ্যোতিষী আনিয়া হাত দেখাইল তার।
জ্যোতিষী বলিল, “দিবে বিবাহ কি আর,
পূর্বেই ত হইয়াছে বিবাহ ইহার।”
মেবাৰ মহিমা
শুনিয়া নৃপতি অতিশয় ক্রুদ্ধ হন,
লােক মুখে শুনি বাপ্পা করে পলায়ন।
দুইজন ভাল যায় বাপ্পাব সহিত,
নগেন্দ্র পাহাড়ে তারা হয় উপনীত।
সেথা রহে কৃষক লইয়া পরিবাৰ
গােচাৰণ-ভৃত্য বাপ্পা হইল তাহাব
দলেতে আছিল গৰু পিঙ্গল বরণ,
নাহি দেয় দুধ কেহ না বুঝে কারণ
তখন সন্দেহ হয় কৃষকের মনে,
বাপ্পা বুঝি দুধ খায় লুকাইযা বনে।
লােক মুখে এই কথা কমে যাব শুনে,
কি দিৰে উদ্ভব তাহ| ভাবে মনে মনে।
পরদিন বাপ্পা হন্য গরু ছাডি বনে
পিঙ্গল গাভার পাছে চলিল কাননে।
গহন বনের মাঝে শিলা এক ছিল,
গাভী আসি তদুপৰি দুধ ঢালি দিল।
নিকটে আছিল মুনি ধ্যানেতে গমন,
ধ্যান ভাঙ্গি বাপ্পা তারে পুছযে কারণ।
হাবীহ তাহার নাম, বলেন বাপ্পারে—
“অনাদি স্বয়ম্ভুলিঙ্গ, শিলা ভাব যারে।”
দেখিয়া শুনিয়া বাপ্পা হরষিত অতি,
মুনি পাশে গিয়া নিত্য কবেন প্রণতি।
মেবাব মহিমা
বাপ্পার সেবায মুনি তুষ্ট অতিশয়,
অ শীর্বাদ করে তারে রাজা যেন হয়।
সেই শিবলিঙ্গোপৰে মন্দির রচিল,
একলিঙ্গ শম্ভু নামে বিখ্যাত হইল।
আজিও দেখিবে পান্থ উদয়পুরের
নিকটে মন্দিব বড় শেতমবে।
অাজও পৰিচয় দেন মেবার রাণায়া-
একলিঙ্গ সম্ভব দেওয়ান তাহাবা।
একদিন ভগবতী প্রসন্ন আন্তর
দেখা দেন বসি এক সিংহের উপর।
নানা অস্ত্র প্রহরণ দিলেন বাপ্পারে,
অজেয হইল বাপ্পা পৃথিবী মাঝাবে।
পূর্বেল শুনেছিল বাপ্পা নিকটে মাতাব -
চিতোবেন মােবি রাজা মাখুন তাহার
সম্ভাষণ করিবারে মাতুলের সাথে
চলিলেন বাপ্পা বীর অবণ্য হইতে।
সােবকনাথের সাথে দেখা হয় পথে
যাগিরাজ তরবারি দেন তার হাতে।
দুইপাশে ধার ছিল সেই তরবার
পাথর কাটিতে পারে এত খাব তার।
আজিও সে তরবারী উদয়পুরেতে,
রাণাগণ পূজে ভক্তি পরিপূর্ণ চিতে।
১৫
মেবার মহিমা
প্রামার বংশীয় রাজা আছিল চিতোরে,
বাপ্পারে ডাকিয়া লন অতি সমাদরে।
বিজাতীয় শত্ৰু আসি আক্ৰমে চিতাের,
সেনাপতি হয়ে বাপ্পা যুদ্ধ করে ঘাের।
পরান্ত হইয়া শত্রু পলাইয়া যায়,
পশ্চাতে পশ্চাতে বাম হারে খেদায়
সুদূব পশ্চিমে গাছে গজনী নগর,
শত্রু তাড়াইয়া তথা যায় বীর ।
সেলিম নামেতে তথা যন-নৃপতি,
দূৰ কবি দেয় তারে বাপ্পা মহামতি।
বাজপুত ৰাজ্য তথা স্থাপন করিয়া
চিতােব নগরে বাপ্প। আসিল ফিরিয়া ।
মাতুল প্রামার বাজে করি বিতাড়িত
চিতােবেৰ সিংহাসন কৈল অধিকৃত।
রাণাদেব ইতিহাসে কলঙ্ক হইল,
কৰ্ম্মফলে পবে এত দুঃখ উপজিল।
প্রায় শতাধি পুৰ বাপ্পা জন্ম দিল,
বিভিন্ন প্রদেশে হব। ৰাজ্য বিস্তারিত।
ছিল বীর পূর্বকালে বধু নাম-ধারী।
রাখিল গল কীৰ্ত্তি দিগ্বিজয় করি।
বাপ্পাবার সেই পূর্বপুরুষের ন্যায়
দিগ্বিজয় করিবারে এৰে বহিবায়।
মেম্বার মহিমা
ভারত বাহিরে কান্না করেন গমন,
কাশ্মীর ও কান্দাহার আর ইস্পাহান।
ইরাক ইরাণ দুই অধিকৃত হয়,
তুরাণ কাফিরী স্থান করিল বিজয়।
নংশের বিস্তার হবে করিয়া মানসে
যবনী বিবাহ করে এই সব দেশে।
শতাধিক পুত্র হৈল যবনীতনয়,
নশরা পাঠান নামে পরিচিত হয়।
বৃদ্ধবযসেতে বাপ্পা ফকির হইল,
মেক পাহাড়ের তলে তপস্যা করিল।
শতবর্ষ বয়সে জীবন তেযাগিল,
হিন্দু ও ধন পুত্রে বিরোধ হইল।
হিন্দু চাহে পােড়াইতে, পুতিতে যবন,
কিন্তু দেখে ফুলবাশি তুলি আবরণ।
এই মতে বিবাদ মিটি দুই দলে,
মহাত্মা বলিযা তারে মানিল সকলে।
বাপরি বংশধরগণ এবং রাণা সমরসিংহ
অপৰাজিত খলভােজ এই দুই রাজা।
বাপ্পার মৃত্যুর পরে পালিলেন প্রজা
তারপর রাজা হন খোমন নামেতে।
আবার যান আসে চিতাের লইতে ॥
১৭
যেৰৰ মহিমা
বীরেন্দ্র শােমন তারে দেয় হারাইয়া।
বন্দী করে লয়ে আসে চিতােরে ধরিয়া ॥
চতুর্বিংশ যুদ্ধে জয় লভিল গােমন।
খােমনের যশােগানে ভরিল ভুবন।
ভক্তৃতট রাণা হয় খোমনের পর।
মেবার রাজ্যের সীমা বাড়ায় বিস্তর।
তারপর পঞ্চদশ রাণা একে একে।
রাজত্ব করিয়া ক্রমে কান পরলােকে।
বিখ্যাত সমরসিংহ তবে রাজা হন।
মহাজ্ঞানী অৰি ৰাৰ্যবান অতুলন৷
তাহার শ্যালক হন পৃথী মহাবীর।
শাসন করেন যিনি দিলী আজমীর
কননাজে আছিল রাজা জয়চন্দ্র নাম।
পৃথ সাথে শত্রুতা করেন অবিরাম।
জয়াদ পৃথী সাথে যুদ্ধে নাহি পারে।
ভাবিছে কেমনে জব্দ করি তাহারে।
অবশেষে আর কোন উপায় না পায়।
যৰনে ডাকিয়া লয় তাহার সহায়।
ভাকিয়া গজনী রাজে ভাবে বয়াদ।
পৃথী যদি হারে হবে বড়ই আহলাদ ।
মূখ চাদ তুই করিলি এ কিরে।
গৃহের বিবাদে কেন ডাকিলি শত্রুরে ।
॥
১৮
মের মহিলা
পৃথীরে মারিলি তুই সবংশে মরিলি।
মাতৃভূমি গলে আধীনতা পাশ দিলি ।
ক্রোধ হৈলে নাহি রহে কাকা তান
এই মহাবাক্য তুই করিলি প্রমুখ।
পৃথীরা জয়াদ মরেছে উভয়ে।
জয়াদে নিলে সবে পৃথীরে পূজয়ে।
ভারতের অভিশাপ গৃহের বিবাদ।
ইহাতেই কতবার ঘটেছে প্রমাদ।
জগতে ঐশ্বৰ্য-মান কয়দিন তরে।
প্রাজ্ঞ ইহা বুঝি চিত্তে বিবাদ সম্বরে
শাহাবুদ্দিনঘােবি যবন-সেনাপতি।
জাদ ডাকে যৰে আসিল ঝটিতি।
পৃথরাজ সমবসিংহেরে ডাকি আনে।
উভয়ে মিলিয়া যুঝে যবনের সনে।
ভাষণ সময় হয় মনেরা হারে।
সেনাপতি ঘাের বন্দী হইল সমরে ।
অতি ঘাের শত্রু যদি রণে বন্দী হয়।
করিবে তাহারে দয়া হিন্দু-শাস্ত্র কয়।
ঘােরীকে দিলেন মুক্তি পৃথীরাজ বীর।
ঘরে ফিরে যায় ঘােরী লজে নত শির।
সমর সংগ্রাম তিনি চলে নিজ ঘরে।
আনন্দ উৎসৰ বহু হইল চিতােরে ॥
মেবার মহিমা
এইরূপে কিছুদিন কাটিল যখন।
আবার করেন পৃথী তাহারে স্মরণ ।
সমর দূতের মুখে শুনেন সংবাদ।
আসিতেছে ঘােৰী পুনঃ কবিতে বিবাদ।
চলেন সমর যে বিপুল বাহিনী।
মিলিল তাহার সাথে পৃথীর সেনানী।
রাজপুত সেনার রণগীতি।
( ১ )
স্বদেশের তবে মরণ লভিলে কিবা শােক তাহে ভাই
হাসিতে হাসিতে সমভূমিতে চল চল সবে যাই
দৃঢ় করে মােরা ধরি তরবার
দেখি কত বল যবন সেনার
সম্মুখ রণে আৰ্য পুত্র কখনও ত ফিবে নাই
সদেশের তরে মরণ লভিলে কিবা শােক তাহে ভাই
হাসিতে হাসিতে সমরভূমিতে চল চল সবে যাই।
( ২ )
স্নিগ্ধ-পবন-স্বচ্ছ সলিল আমাদের এই দেশ
বিদেশী সেনার উদ্ধত পদে হবে আহা বড় ক্লেশ
২০
মোর মহিমা
সেই ক্লেশ মােরা হতে নাহি দিব
প্রাণ পণ করি সমৰ কৰিব
স্বাধীনতা বিনা জীবনেতে তাই নাহিক সুখের লোশ
দেশের তরে মরণ লভিলে কিবা শােক তাহে ভাই
হাসিতে হাসিতে সমরভূমিতে চল চল সবে যাই।
( ৩ )
বিদায় লইযা প্রিয়াবে যখন কহিনু কাতর সবে
যদি নাহি ফিবি বড ক্লেশ তুমি পাইবে আমার তরে
সজলনেত্রে কহে মােরে প্রিয়া
“বিচ্ছেদ দুখ সহিবে না হিয়া
গনলে পশিয়া তব সাথে আমি মিলিৰ ক্ষণেক পরে”
স্বদেশের তবে মৰণ লভিলে কিবা শোক তাহে ভাই
হাসিতে হাসিতে সমরভূমিতে চল চল সরে যাই।
এই দেশে মোর লভেছি জনম, লভেছিল পিতৃগণ
পালিযাছে এই ভূমি জল বায়ু আমাদেব সযত্ন
আবাব যখন সৰণ আসিবে
ভূমি বায়ু জলে এ দেহ মিশিবে
কিবা দুখ বল আজি মার তরে তেয়াগিতে এ জীবন
স্বদেশের তরে মরণ লভিলে কিবা শােক তাহে ভাই
হাসিতে হাসিতে সমরভূমিতে চল চল সরে যাই।
মোৰ মহিমা
( ৫ )
কাল রাতে যবে পূর্ব গগন রাঙ্গা হবে রবি করে
কমল ফুটিবে ফুলায়ে বিহগ জাগিৰে মধুর সুরে
সমর তখন শেষ হয়ে যাবে
রক্তে রঙীণ রণভূমি হবে
মােরা কয়জন পাকিব তখন? হবে জয় কোন ধারে ?
স্বদেশের তরে মরণ লভিলে কিবা শােক তাহে ভাই
সিতে হাসিতে সমরভূমিতে চল চল সরে যাই।
স্বজন বন্ধু যেথায় যে আচ বিদায় লইমু আজি
যদি জয় হয় মিলিব আবার উৎসব বেশে সাজি
যদি পরাজয়,—বিদায় বিদায়
মিলন হইবে মাযেব সভায়,
তোমরা রহিi মায়ের সেবায় বহিও সদাই রাজি
স্বদেশের হয়ে মরণ লভিলে কিবা শােক তাহে ভাই
হাসিতে হাসিতে সমরভূমিতে চল চল সরে যাই।
( ৭ )
মায়ের দুই সন্তান চাড ঘুচাইবে আর কারা ?
মাযের বিপদে জীবনের মায়া করিবে কি তনয়ে?
যে পাকে থাকুক চল মােরা যাই
হৃদয়েতে হয় কেন হবে ভাই?
२२
মেবার মহিমা
শত্রু যে মাকে পীড়ন করিবে যদি নাহি যুঝি মাের
স্বদেশের তরে মরণ লভিলে কিবা শােক তাহে ভাই
হাসিতে হাসিতে সমরভূমিতে চল চল সরে যাই।
তরাইনের যুদ্ধ
দিল্লীর উত্তরে পুরী নাম থানেশ্বর।
তাহার নিকটে আছে বিশাল প্রান্তর।
তিন দিন ব্যাপী সেথা সংগ্রাম হইল।
দুল করি শেষ দিনে বন জিতিল |
সংগ্রামে সমর রাণা ত্যজিল জীবন।
পৃথীরাজে বন্দী করি লইল যবন ।
ৰে ঘােরীরে পৃথী প্রাণ ভিক্ষা দিয়াছিল।
সেই ঘােৱী বন্দী পৃথীরাজেরে বধিল ।
এরূপে সমরে প্রাণ ত্যজিয়া সমর।
লভিয়া বীরের গতি হইল অমর।
সময়ের স্মৃতি আজো করিয়া যতন।
পূজে ভক্তিভরে সব রাজপুতগণ।
গলে রুদ্রাক্ষের মালা কপালে চন্দন।
করিত যোগীন্দ্র নামে তারে সােধন।।
যুদ্ধের সময় যবে মণ হইত।
সমর বলিত বাহা সকলে শুনি।
মেবার মহিমা
যুদ্ধক্ষেত্রে কেমনে সাজাতে হবে সেনা।
সমরসিংহের মত কেহ জানিত না ।
যুদ্ধক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ বীব ভয় নাহি জানে।
সকল বিষয়ে শ্রেষ্ঠ সবে তার মানে ॥
পৃথীর ভগিনী পৃথা সমব-মহিষী।
দিল্লী নগৰীতে ছিল স্বামী সাথে আসি।
যখন শুনিল পৃগ স্বামীর মরণ।
চিতা প্রজ্বলিত কৰি ত্যজিল জীবন ।
সংযুক্তা পৃীর রাণী জ্বলন্ত চিতায়।
পরাণ তাজিয়া সহী পহি পাশে যায় ।
সহস্র সহস্র বীর স্বদেশের তরে।
দিযাছেন শ্রেষ্ঠ দান প্রাণ অকাতরে।
কত যে রমণী সংখ্যা করা নাহি যায়।
সতীত্বের তবে পুডি গবে চিতাষ ।
হে ভাববাসী তুমি তাহাদের তবে।
যতনে স্থাপিও স্মৃতি হৃদ-মন্দিরে ।।
সবে মিলি এক পুণ্য হিণি কবি স্থির।
অবিয়া তঁাদের কথা ফেলে নেত্রীর।
যেন সেই বাবদেব আত্মাব কল্যাণ।
দয়াময় ভগবান হবেন বিধান ॥
২
মেবার মহিমা
রাণ কর্মদেবী।
যখন সমর রাণা তজিল জীবন।
পুত্র কর্ণ নয় বর্ষ বয়স তখন।
কর্ণমাতা কৰ্ম্মদেবী লয় রাজ্যভার ।
সুযােগ বুঝিয়া শত্ৰু আসিল আবার।
কুতুবউদ্দিন নামে দিল্লী সেনাপতি।
লইয়া বিপুল সেনা আসিল ঝটিতি ।
কৰ্ম্মদেশী সৈন্য লয়ে যায় রণস্থলে।
সংগ্রামে যবন-দেনা হারিল সকলে ৪
কুতু আহত হয়ে পলাইয়া যান।
রমণী কাছে হেরে হয় অপমান।
কর্ণের মৃত্যুর পর জামাতা তাহার।
চিতােরের সিংহাসন করে অধিকার।
না পারে রােখিতে তারে কর্ণের তনষ।
গেল বুঝি বাপ্পাবংশ সবে করে ভয়।
দেখিয়া বিপদ এক প্রাচীন চারণ।
সুদূর সিন্ধুর তীরে করেন গমন ।
বাপ্পাবংশধর বীর বাহুপ নামেতে।
রাজত্ব করেন সেথা আরোর দেশেতে।
শুনিয়া চারণ মুখে সব বিবরণ।
চিতােরের অভিমুখে করেন গমন।
সেবার মহিমা
বুদ্ধ করি করিলেন চিতাের উদ্ধার।
বাহুপ হইল রাণা আনন্দ সবার ॥
শামসুদ্দিন করে দেশ আক্রমণ।
হারাইয়া দেন তারে রাহপ তখন ।
অষ্টাবিংশ বর্ষ রাজ্য করিয়া পালন।
গেলেন রাহুপ রাণা শমন ভবন ।
বনের গয়াধাম কবে আক্রমণ।
রাইপের বংশধর করেন এবণ।
উদ্ধারিতে গধাম করিলেন ব্রত।
ঘাের রণ করি রাণ। হয়েন নিহত ॥
এই ব্রত উদযাপনে আরও পাঁচজন।
চিতােরের মহারাণা ত্যজেন জীবন।
তাহাদের শৌর্য বীর্ষে হয়ে চমৎকৃত।
যবন লইতে গয়া হয়েন বিরত।
পঞ্চাশ বৎসর মধ্যে রাণা ছয়জন।
একে একে পরলােক করেন গমন ।
পর্মিনী উপাখ্যান।
বালক লক্ষণ সিংহ যবে রাণা হন।
ঠার খুড়া ভীম রাজ্য কৱেন রক্ষণ।
আলাউদ্দিন নামে ছিল দিল্লীর সম্রাট।
চিতাের লইতে আসে লয়ে সৈন্য ঠাট ।
মেবার মহিমা
দীর্ঘকাল অবরােধ করিল চিতাের।
রাজপুত বীরগণ যুক্ত করে ধাের।
চিতাের লইতে নাহি পারিল যখন।
আলাদিন দুষ্ট বুদ্ধি করিল তখন।
সিংহল রাজের কন্যা নামেতে পদ্মিনী ।
ৰূপে গুণে অনুপম ভীমের রমণী।
লােকমুখে শুনি আল্লা পদ্মিনীর কথা।
পাঠাইল দূত এক লইয়া বারতা।
“নাহি চাহি আমি আর চিতোর লইতে ।
পদ্মিনীরে পাই যদি যাব হৃষ্ট চিতে।”
দূত গিয়া বলে ইহা করিয়া প্রণতি।
ৰাজপুত বীরগণ ক্রুদ্ধ হন অতি ।
পরামর্শ করি সবে করিল উত্তর।
“তােমার প্রভুকে দূত বলিবে সত্বর।
নাহি জানে তব প্রভু নারীর সম্মান।
নিলজ্জ প্রস্তাব মেরা করি প্রত্যাখ্যান।
যতক্ষণ এক রাজপুত বেঁচে রবে।
নারীর সম্মান তরে প্রাণ সমর্পিবে ।।
হেন কথা মােদেরে যে করে বিজ্ঞপিত।
নিশ্চয় দিতাম তারে শান্তি সমুচিত ।
অবধ্য সর্বদা দুত এই সে কারণ।
অক্ষত শরীরে তুমি করিছ গমন।
মেবার মহিমা
বলিও প্রভুরে তব তার ব্যবহার।
আস্পর্ধা ও অভদ্রতা করিছে প্ৰচাৰ ।
মনে হয় যদি তিনি পড়েন বিপদে।
নিজৰাণী শত্রু হাতে পারেন সপিতে ।”
দূত মুখে আলাদিন সকল শুনিল।
হৈল অপমান তবু কুবুদ্ধি রহিল ।
পুনরায় দূতেরে চিতাের পাঠাইল।
দূত গিযা রাজপুত সভাতে বলিল।
“মাের প্রভু পুনরায় পাঠান আমারে।
পতিনীরে দেখিয়া যাবেন তিনি ফিরে ।”
রাজপুত বীরগণ না হয় সম্মত।
ভীমসিংহ তাহাদেরে বুঝাইল কত।
“ঘৰনেরে দেখা দেয় যপি পদ্মিনী।
কিবা ক্ষতি নাহি তাহে কোন হানি ॥
প্রত্যহ যুদ্ধেতে দেখ বীর-ক্ষয় হয়।
যুদ্ধফল কিবা হবে তাহা অনিশ্চয় ৷”
অবশেষে একজন করিল প্রস্তাব।
র্শের সম্মুখেতে দাড়াবে নবাব।
দূরেতে পদ্মিনী রাণী যাইবে চলিয়া।
নবাৰ দেখিবে বিষ আদর্শে চাহিয়া।”
দুত গিয়া সম্রাটেরে করিল বিদিত।
দুষ্ট বুদ্ধি আল্লা তাহে হইল সম্মত ।
২
মেবার মহিমা
স্বল্প অনুচর সহ দুর্গে প্রবেশিল ।
রাজপুত বাক্যে তার বিশ্বাস আছিল ৷
আপন প্রাসাদে ভীম লয়ে যান তারে।
দেখে সে পদ্মিনাৰূপ আদর্শ মাঝারে।
ফিরে যায় আল্ল। যবে আপন শিবিরে।
ভদ্রতা দেখাতে ভীম সাথে চলে ধরে।
দুর্গার ছাডি যবে চলেন বাহিরে।
বিশ্বাসঘাতক আল্পা বিল তাহারে।
বলিয়া পাঠায় আল্লা চিতাের রাণারে।
পদ্মিনীরে পায় যদি ছাডিবে ভীমেরে ।
দুর্গমধ্যে হাহাকার হইল তখন।
সবে দেখে আল্লা করে বিশ্বাস হনন ।
পদ্মিনীর খুল্লতাত গােরা তার নাম।
থাকিত চিতাের গড়ে বীরত্বের ধাম।
পদ্মিনী তাহার সাথে কয়েন মন্ত্রণ।
আল্লার সমীপে দূত করেন প্রেরণ।
দূত কহে “পদ্মিনী যাবেন দিল্লীপুরী।
যদি আল্লাদিন দেয় তীমসিংহে ছাডি ।।
পদ্মিনীর সহিত অনেক সখী যাবে।
দিল্লী যাবে কেহ, কেহ ফিরিয়া আসিবে
কিন্তু এক কথা আমি করি বিজ্ঞাপন।
ইহা যেন মনে রাখে সকল যবন ।
মেবার মহিমা
সূৰ্য্য না দেখিতে পায় রাজপুত নারী।
পাঠান যেন না দেখে শিবির উরি ।
দুষ্ট আলাদিন তাহে হইল সম্মত।
যন পরিখা ছাড়ি হয় অপত ||
সাতশ' শিবিকা বাহিরায় দুর্গ হতে।
বাহক ছয়টি থাকে প্রতি শিবিকাতে |
থামিল শিবিকা সব আল্লার শিবিরে।
ভীম পশে শিবিক বিদায় লইবারে ।
কিছু পরে ভীম এক শিৰিকা চড়িয়া।
চিতোরের অভিমুখে চলেন ফিরিয়া ।
আবার বিশ্বাসঘাতকতা আল্লা করে।
বলে, “সেনাগণ, আন ভীম সিংহে ধবে ।
সম্রাটের আজ্ঞা মত ছুটিল যবন।
হঠাৎ সম্মুখে বাধা দেখিল ভীষণ।
দেখিল যবন সেনা,--আশাৰ্যে বিল।
কোথা হৈতে আসে রাজপুত সেনাদল ।
শিবিকার মধ্যে কোন রমণী ছিল না।
ভিতরে লুকায়ে ছিল সাতশত সেনা।
বাহকের বেশ পরি এসেছিল যারা।
তারাও সেনানী গুপ্ত ছিল অসি ছােরা।
আলাদিন ভেবেছিল বাধা কেৰা দিবে।
যবনেরা অনায়াসে ভীমকে আনিবে ।
মেরি মহিমা
যনেরা ভাবে, “একি দেখিলাম ভ্রম
বাপু সেনা যেন কালান্তক যম ।”
পদ্মিনীর খুল্লতাত গােরা নাম তাৰ
থাকিয়া সর্বাগ্রে যুদ্ধ করে ছনিবার।
গােবর ভ্রাতুস্পুত্র বাদল নামেতে ।
বয়স বৎসর বার পালক দেখিতে ।
কিন্তু সে কলি যুদ্ধ দেখিতে বিস্ময়।
সম্মুখে দাড়ায কার হেন সাধ্য হয়।
গোরা ওবাদ
দেশ রর তরে
রাজপুত যুদ্ধ করে
হৃদযেতে অসীম উৎসাহ
রাজপুত একজন
অনায়াসে করে রণ
পাঁচটি যবন সেনা সহ ৷
শরীবে শােণিত-শ্রোত বহিতেছে অবিরত
তাহ কেহ চাহি না দেখে।
মার মার শত্রু মার” “স্বদেশ উদ্ধার কর”
এই বাক্য সকলের মুখে ||
কিন্তু কতক্ষণ কহ
दिन भर
যুদ্ধ করা হইবে সন্তৰ।
যবন পডি। যত
নুতন ঘৰন তত
তার স্থানে হইল উব।
মেবার মহিমা
এক এক হিন্দুৰীয়
অনেক মন শির
কাটিয়া ফেলিল ভূমিতলে।
অবশেষে ধীরে ধীরে
এ ক্ষত কলেবরে
লুটায়ে পড়িল রণস্থলে।
ক্ষিপ্রগতি অঝােপরি ভীমসিংহ উঠে চডি
দুর্গ অভিমুখে অশ্ব খায়।
যবন ধরিতে যায় হিন্দু পথ আগুলায়
রক্তস্রোত ধরণী ভিজায় ।।
হেনকালে বীবর
গােরা তরে কলেবর
রাজপুত হাহাকার কবে।
এ দারুণ সঙ্কটেতে
কে দিবে বক্ষ পেতে
রােধিবে কে কাল যবনেরে ।
পলকে তীরের প্রায় বাদল ছুটিয়া যায়
দ্বাদশ বর্ষীয় বীরবর।
দুই হাতে দৃঢ় করি এরিয়া সে তরবারি
ঘুৱাইছে অতি ঘোরতর।
দেখি তার দৃঢ় মতি নবীন সাহসে মাতি
রাজপুত দাঁডাইল ফিবে।
ভীম এই অবসরে
উঠে যায় দুর্গপরে
হিন্দু-সেনা জয়ধ্বনি করে।
শিকার পলায়ে যায় যন উন্মত্ত প্রায়
বাদলেরে ঘিরিয়া দাঁড়ায়।
মেবার মহিমা
শত্ৰুৰূহ মাঝখানে
বাদল নির্ভীক প্রাণে
যুঝে বীর অভিমন্যু প্রায়।
অসীম বীরত্ব সহ
ভেদ করি শব্যহ
বালক বাহিরে আসে শেষে।
সর্বাঙ্গে শশাণিত ঝরে মুখে বাক্য নাহি সবে
চিতােরের দুর্গমাঝে পশে ।
চলিতে না পারে আর চক্ষে দেখে অন্ধকার
অজ্ঞান হইল ফেলি খাস।
মাতা শীঘ্র ছুটে আসে পুত্রে ক্রোডে লয়ে বসে
জল দিয়া করেন বাতাস।
ক্ষণ পরে পুনরায়
নয়ন মেলিয়া চায়
জল চাহে করিয়া ইঙ্গিত।
সুমিষ্ট পানীয় আনি সকলে ধবে তখনি
পান করি হয় তিরপিত ।
আল্লার যতেক সাধ
বিধি সাধিলেন বাদ
আল্লা ফিরে যায় নিজঘর ।
হিন্দুরা লভিল জয়
শ্রেষ্ঠবীর হত হয়
ঘরে ঘরে এ বর কর ||
আলাউদ্দিনের দ্বিতীয়অভিযান
আলা বহু সৈন্য অস্ত্র একত্রিত করে।
অপমান প্রতিশােধ লইবার তরে।
মেবার মহিমা
দীর্ঘকাল পরে আসে চিতাের সমীপে।
অভিযান করি পুনঃ বিপুল প্রতাপে।
গত যুদ্ধে বহুবীর হয়েছে পতিত।
ভাবিয়া লক্ষণ রাণা বড়ই চিন্তিত।
দীর্ঘকাল ঘাের যুদ্ধ করিয়া যবন।
দক্ষিণ পর্বতপ্রান্তে করে আরােহণ।
সারাদিন যুদ্ধ করি নিশীথ সময়।
পৰ্যৰুে বিশ্রাম করে রাণা মহাশয়।
আর ত চিতাের দুর্গ রক্ষা নাহি পায়।
ভাবে রাণা, নিদ্রা নাহি হয় দুশ্চিন্তায় ।
মরণ নিশ্চয় এবে হবে উপস্থিত।
কিন্তু মরণের ভয়ে নাহি কাপে চিত।
আছিল রাণার বীর দ্বাদশ তনয়।
একটিও না বাঁচিলে বংশ লােপ হয়।
কেমনে একটা পুত্র রাখিবে জীবন।
বিনিদ্র লক্ষণ রাণা করেন চিন।
নিশীথের নীরবতা করি আলােড়ন।
অকস্মাৎ কণ্ঠস্বর পশিল শ্রবণ ।
“দুধিত হয়েছি আমি" এই শব্দগুলি।
তানিয়া চাহেন রাণা নিজ দেহ তুলি।
দেখে রাণা মশালের অস্পষ্ট আলােতে
দিব্যমূর্তি নারী এক আসে ধীর পদে।
৩৪
মেবার মহিমা
“আমি এই চিতােরের অধিষ্ঠাত্রী রাণী।
হয়েছি ক্ষুধিত আমি,” বলিলেন তিনি।
“খেয়েছ সহস্র অষ্ট আমার জ্ঞাতিরে।
তবুও মিটেনি ক্ষুধা ?” রাগা পুছে তারে।
“চাহি আমি রাজবলি” বলিলেন দেবী।
“অন্য বলি মাের উপযুক্ত নাহি ভাবি।
মুকুট পরিয়া যদি যােজা বার জন।
চিতােরের তরে করে প্রাণ সমর্পণ।
তবেই বাণীব বংশ লােপ নাহি হয়।
পর উপায় নাই কানিহ নিশ্চয় ॥”
এত বলি চিতােরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী।
অন্তর্হিত হন যেন মরীচিকা ছবি ।
পরদিন রাণা সভা ডাকি কহিলেন।
নিশিকালে যাহা কিছু তিনি দেখিলেন ।
সবে কহে ভ্রম ইহা সত্য কভু নয়।
রাণা কহে “অত সবে রহিবে নিশ্চয়।
অদ্য পুঃ দেবী মােরে দিবে দরশন।
দেখিবে তােমরা ইহা লয় মাের মন ।”
সেনি গভীর রাত্রে সভাসদগণ।
রাণা সহ সেই স্থানে করে জাগরণ
ঠিক সেই কাল যবে হয় উপনীত।
দেবীমূৰ্ত্তি সকলে দেখিল আচৰিত ।
মেবার মহিমা
দেবী আসি পুনঃ পূৰ্বমত কথা কয়।
শুনি সভাসদগণ মানিল বিস্ময়।
“এক রাজপুত্র সিংহাসনে বসাইয়া।
প্রতিদিন সেই চামর ছাত্র দিয়া।
ঘােহ নূতন রাজা হইল সেজন।
তিন দিন তার আত্ম পাল সর্বজন।
চতুর্থ দিনেতে সেই চিতোর ছাড়িয়া।
দিক আপনারে বলি সংগ্রাম করিয়া ।
এই হৈলে কি আমি চিতাের নগরী।
নহিলে থাকিতে হেথা আর নাহি পারি”।
পরদিন প্রাতে সব রাজপুত্রগণ।
অধিষ্ঠাত্রী দেবতার শুনে বিবরণ ।
ইহা শুনি দ্বন্দ্ব করে রাজপুত্রগণে।
সবে কহে অগ্ৰেতে বসিব সিংহাসনে ।
অরি সিংহ কহে আমি তো সবাকাব।
অগ্রে রাজা হৈব ইহা মম অধিকার ।।
তার কথা স্যায্য ভাবি সকলে বিচারে।
অরিসিংহ রাণা হয় তিনদিন তরে ।
চতুর্থ দিবসে অরি যুঝিয়া যবন।
আনন্দিত মনে করে স্বর্গে আরোহণ
দ্বিতীয় জয় সিংহ করিয়া প্রণতি।
পিকারে বলেন “মােরে, কর অনুমতি ॥”
মেবার মহিমা
অজয় রাণা হয় প্রিয়তম খান।
বণ। তার ধরি হাত বলেন বচন।
“পিতা তব এই ভিক্ষা যুক্তকরে মাগে।
কনিষ্ঠ ভ্রাতারে তুমি যেতে দাও আগে।”
বলিতে বলিতে কণ্ঠ বাষ্পরুদ্ধ হয়।
বয় কর ধারে গ নয়নে বহয় ॥
অজয় বলিল ধরি পিতার চরণ।
“তােমার যেমন ই হউক তেমন ॥”
একে একে একাদশ রালার নয়।
দিলেন জীবন বলি, এক বাকি রয়।
সব পরিষগণে একত্র করিয়া।
বলিলেন বা তবে বিনয় করিয়া ।
এবে আমি বসি সিংহাসনের উপর।
দেহ অনুমতি সবে হইয়া সদর।
ভীমসিংহ উঠি তবে বলেন বচন।
“বাকী আছে আর এক কর্তব্য করণ।
নারীরা জহর ব্রত করিবে পালন।
করিতে হইবে অগ্রে তার আয়ােছন।”
সুরজের মাঝে দীপ্ত অনল জলিল।
একে একে রমণীরা তাহে প্রবেশিল ।
রাজপুতগণ সবে দাঁড়ায়ে দেখিল।
পত্নী কন্যাগণ সবে প্রাণ তেয়াগিল।
৩৭
মেবার মহিমা
সকলের শেষে বান পণিী সুন্দরী।
ভীমসিংহ পানে তার দৃষ্টি বদ্ধ করি।
চির বনের মত দেখেন স্বামীরে।
প্রার্থনা মৃত্যুর পর পান যেন তারে ।
ধন্য সতী ধন্য তৰ সৌন্দৰ্য্য অতুল।
তৰ আচরণে ধন্য রমণীর কুল ॥
সন্তী দময়ন্তী গীতা সাবিত্রীর সাথে।
আসন তােমার মাত রহিবে জগতে।
এরূপে জহর ব্রত হয় সমাপন।
বাকী রহে রাজবলি আর একজন।
অজয় আবার ধরি রাণার চরণ।
যুদ্ধতরে অনুমতি করেন ভিক্ষণ ।
যদিও অজয় করে আকিঞ্চন অতি ।
রাণা কিছুতেই নাহি দেন অনুমতি।
অবশেষে বলে পুত্র বিষয় বদন।
তােমারি আদেশ পিতা করিব পালন।
হরষিত রাণা পুত্রে আশীর্বাদ করে।
“জগদীশ তুষ্ট হােন তােমার উপরে।
প্রত্যুষে লইয়া সৈন্য চলি যাহ তুমি।
শক্রব্যুহ ভেদ করি কৈলৰাৱা ভূমি।”
পিতার চরণবয় করিয়া বন্দন।
প্রভাতে জয় তবে করিল গমন ।
মেবার মহিমা
অসীম সাহসে ভেদ করি সৈন্যব্যুহ।
চলি যান কৈলবারা সৈন্যদল সহ।
বংশ লােপ নাহি হবে ভাবি হৃষ্ট মনে।
লক্ষণ ডাকেন সব রাজপুতগণে॥
দুর্গার খুলি চল যাই কাল প্রাতে।
সম্মুখ সমর করি যবনের সাথে ।”
সম্মত হইল সবে রাণার প্রস্তাবে।
কি কাজ জীবনে আর সবে মনে ভাবে।
চিতাের প্রান্তর মধ্যে তার পরদিনে।
হইল ভীষণ রণ যবনের সনে ।।
একদিকে যবনের সেনা অগণিত।
অন্যদিকে স্বল্পমাত্র সেন রাজপুত।
সংগ্রামে জয়ের আশা কিছুই না ছিল।
তথাপি অসীম শৌর্যে হিন্দুরা যুকিল।
যুদ্ধ ক্ষেত্রে বহু শত্রু করিয়া হনন।
একে একে হিন্দুবীর লতিল মরণ।
জনশূয় দুর্গে আলা প্রবেশ করিয়া ।
ক্রোধে গৃহ দেবালয় ফেলিল ভাঙ্গিয়া ।
কেবল পৱিনীগৃহ নাহি ধ্বংস করে।
আজিও লােভিছে তাহা চিতাের নগরে।
মেবার মহিমা
।
হামীনেরজন্ম ওরাল্যলাভ
আরাবল্পী গিরিশ্রণী বেষ্টিত নগরে।
অনুচর সহিত অজয় বাস করে।
পিতার আদেশ ছিল মরিলে অজয়।
হবে রাণা জ্যেষ্ঠভ্রাতা অরির তনয় ।
অজয় পিতার কাজ করিল পালন।
তারপর হামীর আরােহে সিংহাসন।
হামীরের বীরত্ব আছিল অতুলন।
যবন বিতাড়ি করে চিতার গ্রহণ।
হামীরের জন্মকথা শুনহ সকলে।
রাজপুত কবি যাহা গাহে কুতুহলে।
অরিসিংহ মৃগয়া করিব কৈল মন।
ওয়া কাননে পণে লয়ে বন্ধুগণ।
বন্য বরাহের পাছে ছুটিয়া চলিল।
ভুট্টার ক্ষেত্রের মাঝে বরাহ পশিল ।
ক্ষেত্রকে হিল এক যুবতী রমণী।
কহিল সে, “এখনি বরাহ দিব আনি
তােমরা বরাহ নাহি মারিতে পারিবে।
অনর্থক শস্য মাের বিনষ্ট হইবে।
ভুটাগাছ এক টানি তুলে সেই বালা।
তাহা লয়ে মঞ্চোপরি বাইয়া উঠিলা ।
মেবার মহিলা
তী করি বৃক্ষ প্রান্ত সজোরে ছুড়িল ।
তাতে বিদ্ধ হইয়া সেই বরাহ পড়িল।
মঞ্চ হইতে নামি আসি বহি টানিয়া।
রাণার পুত্রের কাছে রাখিল ফেলিয়া।
আশ্চর্য হইল সবে দেখি তার কাজ।
ফিরিয়া না চাহে বালা, পশে ক্ষেত্রমা।
পর্বতের স্রোত এক নিকটে আছিল।
শিকারীর দল সেথা যাইয়া বসিল।
রন্ধন করিয়া মাংস করিছে তােলন।
নারীর অদ্ভুত শেষ করে আলােচন।
কেহ বলে বীর নারী দেখি নাই তেন।
কেহ বলে সাক্ষাৎ সে জগদ্ধাত্রী যেন।
অরি বলে আমাদের এই দল মাকে।
এই নারী তুল্য শক্তি কার দেহে আছে।
হেনকালে হ্রেষা ধ্বনি শুনি সবে চায় ।
দেখিল অরির অশ্ব ভূমিতে লােটায়।
অশের একটি পদ গিয়াছে জিয়া।
নিকটে মাটির ঢেলা রয়েছে পডিয়া।
দূরে মঞ্চোপরি সেই রাজপুত-বালা।
ঢিল ছুড়ি খেদাইছে ক্ষেত্রে পাখিগুলা।
যখন দেখিল বালা তাহার চিলেতে
আহত হইয়া পড়েছে ভূমিতে।
৪১
মেবার মহিমা
মঞ্চ হৈতে নামি আসে করে পােব।
বলিল, “মহ মােরে, হইয়াছে দোষ”।
বালিকার ব্যবহার দেখি সবে কয়।
‘সামান্য রমণী কতু এ বালিকা নয়।”
দি অবসানে সৰে গৃহেতে ফিরয়ে।
দেখিল বালিকা যায় আপন আলয়ে ॥
দুগ্ধতাও আছে তার মাথার উপরে।
দুই মহিষের বন্ধু আছে দুই করে।
তাহারে দেখিয়া সবে পরামর্শ করে।
ফেলি দিব দুগ্ধতাও মজা দেখিয়ে।
একটি শিকারী তার অশ্ব ছুটাইয়া
প্রায় বালিকার গায়ে যাই পড়িয়া।
ভ্রুক্ষেপ না করি বালা একটি মহিষে।
আনিল সজোরে টানি সেই অ পাশে ।
অশ্বটি পাইয়া বাধা পড়িল রায়।
অথ সাথে অশ্বারােহী গড়াগড়ি যায়।
হইল নিরতিশয় অনির বিস্ময়।
দেখিয়া আসিল গিয়া বালার ভালয় ও
জিজ্ঞাসা করিয়া নে ৰালিকার কথা।
দরিদ্র চৌহান এক হয় তার পিতা।
পরদিন প্রাতঃকালে সহ বন্ধুগণ।
অরিসিংহ পুনঃ করে তথায় গমন।
০২
মোর মহিমা
সেথা গিয় বালিকার পিতাকে ডাকিল।
অরি পার্কে আসি এক কৃষক ৰসিল |
অরির যতেক বন্ধু বলে পরিহাসে।
“দেখ মুখ চাষা বসে রাজপুত পাশে।
নীচে যদি আশা করে উচ্চ হব আমি।
হাস্য করে লােকে তার দেখিয়া বােকামি
এই মত পরস্পর সবে কথা হয়।
কুদ্ধ হবে অরি সবে করিল নিশ্চয়।
অবির বচন কিন্তু শুনিল যখন।
গতীর বিস্ময়ে সবে হইল মগন ।
রাজপুতে বলে অরি বিনয় করিয়া ।
“বিবাহ করিতে চাহি তােমার তনয়া”।
উপস্থিত সকলের বাড়িল বিস্ময়।
চাষা যবে এ কথায় রাজি নাহি হয়।
কৃষক বলিল “অসম্ভব এই কথা।
নিশ্চয় জাননা তুমি মাের কুলপ্রথা।
বিখ্যাত চন্দনা বংশে আমার জনম,
কোন্ রাজপুত কুল আছে তার সম?
মম কন্যা তৰ হতে দিতে নাহি পারি।
এত বলি রাজপুত চলে ঘরে ফিরি ।
রাজপুত গৃহে গিয়া পত্নীরে বলিল।
“দেখ দেখি, অরি মাের অপমান কৈল।
৩
মেবার মহিমা
পত্নী কহে, “কে অরি? কি অপমান
স্বামী কহে, বলি ওন করি অবধান।
রাণার প্রথম পুত্র, অরি নাম তার।
বিবাহ করিতে চাহে তনয়া আমার।
চন্দনা বংশের নাম নাহি জানে যুবা।
চলনা হইয়া তারে কা দিবে কেবা ।
নেহাৎ রাণার পুত্র হােত অন্য কেই।
দিতাম তাহারে শিক্ষা নাহিক সন্দেহ ।”
আশ্চৰ্য্য হইয়া পত্নী বলেন স্বামীরে।
“বিবাহ দিবনা—ইহা বলেই কি তারে ?
গর্ব ভরে বলে স্বামী, “সন্দেহ কি তার,
বংশের মর্যাদা আন নাহি কি আমার ?”
শিরে কর হানি পত্নী বলয়ে স্বামীরে।
“তব তুন মুখ নাই পৃথিবী-মাঝারে ।
রাণার প্রথম পুত্র যাচক হইয়া।
চাহিল আমার কন্যা এখানে আসিয়া ।
অপমান তারে তুমি করিলে বিস্তর।
হায় ভাগ্য! হেন মুখ সাথে করি ঘর ।
জ্ঞিাসা কি করিয়াছ রাজপুত্র কাছে।
আর অন্য কোন পত্নী তাহার কি আছে?”
স্বামী বলে, “পুছি নাই, কেন পুহ তুমি।”
পত্নী বলে, “হেন বুদ্ধি তাই চব জমি।
মেবার মশি
আমার কন্যার গর্ভে প্রথম ৩ :
হইলে সে সিংহাসনে বসিবে নিশ্চয় এ
এই দণ্ডে যাহ তুমি চিতাের নগরে।
অরিরে জানহ ক সমৰ্ণিৰ তারে ।
অন্যথা করিলে আমি না রাখি জীবন।
কূপের জলেতে ডুৰি লতি মরণ।”
প্রমাদ গণিল স্বামী, হাতে পায়ে ধরে।
বলে, “আমি চলিলাম রহ তুমি ঘরে।
কাল সূৰ্য্য জুবিবার পূর্বে ত নিশ্চয়।
আনিব অরিরে হেগ্ধ নাহি কোন ভয় ||
এই মতে মিটিল সে গত্য কলহী
অরি আসি সেই কথা করিল বিবাহ।
হামীৰ সে কথা গর্তে জনম ভয়।
মাতুল আলয়ে থাকি ক্রমে বড় হয়।
হেথা মুজা নামে এক পার্বত্য রাজন।
অজয় রাণার সাথে করে মাের রণ।
অজয়ের দুই পুত্র আজিম সুজন।
মৃঙ্গাকে হাতে নাহি পারিল যখন।
তখন অজয় রাণা গলিহানীয়।
প্রতিপক্ষ মুর সাথে যু করিবারে ।
রাজপুত সেনা লয়ে চলিল হামীর।
মাকে পরাস্ত করি কাটে তার শির।
৫
সেবার মহিমা
লইয়া মার শিল্প মীর ফিরেন।
পিতৃব্যের পদপ্রান্তে উপহার দেন ।
শত্রুর শােণিত বিন্দু ভয় লইল।
হামীরের কপালেতে রাজটীকা দিল ।
অজয়ের পুত্রয়, আজিম সুজন।
বুঝিল পাবে না তারা রাজ-সিংহাসন.
আমি ত্যজিল কলেবর কালবশে।
সুজন চলিয়া যায় দক্ষিণ প্রদেশে।
সুজনের বংশধর শিবাজী নামেতে।
বহুপরে বাপে রাজ্য দক্ষিণ দেশেতে ।
ছত্রপতি হয় হারাইয়া মােগনেবে।
হিন্দুর প্রাধান্য পাপে ভারত মাঝারে।
হামীয় কর্তৃক চিতাে উদ্ধার
সিংহাসন পাইলেন হামীয় যখন।
স্বদেশ কৰিব ত্রাণ করে দৃঢ় পণ।
হেথা মলদেও ছিল চিতাের-নগরে।
যুবনের ভৃত্য হয়ে না ভোগ করে।
বত ছিল দেশ চিতােরের চারিধার।
হাশীর করিয়া দেন সর্বত্র প্রচার ।
৪৬
যেবার মহিলা
“প্রজাগণ গৃহ ছাডি চল লৰে বন।
অশান মাঝারে মান্য কক যবন ।
মাের আজ অবহেলি থাকিলে এখানে।
ঘর দোর সব আমি পােড়াব আগুনে।
যত সমতল ভূমি আছিল তাহার।
হামীর করিয়া দেন সব ছারখার।
যাইয়া অরণ্য আর পর্বত মারে।
হামীর আপন স্বাধীনতা রক্ষা করে।
একদিন দূত এক কৰি আগমন।
হামীরের সমীপে করিল নিবেদন।
“মাের প্রভু মলদেও পাঠাইল মােয়।
জামাতা করিতে তিনি চাহেন তােমারে ।
করেছেন তােমারে চিতােরে নিমন্ত্রণ।
সেথা গিয়া তার কন্যা করিও গ্রহণ।
আনিয়াছি নারিকেল লও তাহা তুমি।
শীঘ্র করি চলহ চিতাের পুণ্য ভূমি"।
হামীরের ছিল যত সভাসদগণ।
সম্মত হইতে সবে করিল বারণ ।
তাহাদের বাক্য রাণা গ্রহণ না করে।
বলে, “দূত নারিকেল দাও মম কৰে ।”
পরিজনগণ বলে বিপদ নিশ্চয়।
হাসিয়া মীর বলে, “তাতে নাহি জয় ।
০৭
যার মহিলা
বন্ধু বলি রাতে মানিবে বিপদ।
তুল্য বলি মানিবে বিপদ সম্পদ।
একারণে এ সম্বন্ধ করিবীকার।
দেখিতে পাই আমি চিতাের পাহাড়।”
এত বলি বীরর নীরব হইল।
যথাকালে চিতােরাভিমুখে যাত্রা কৈল।
যে চিতাের তরে প্রাণ দিল পিতৃগণ।
ন্য হয় তাহার পাইয়া দরন।
চিতােরে প্রকে। কিন্তু করিল যখন।
অভ্যর্থনা না পাইয়া দুর হয় মন।
বারপথে হয় নাই তােরণ-না।
নয়ত মিষ্ট-সুর নাহি যায় শােনা।
কন্যা আনি মলদেও করে সম্প্রদান।
হইল কিন্তু সব তনুষ্ঠান।
ইহা দেখি ক্ষুব্ধ অতি হইল হামীর ।
বলিল কাটি আমি শশুরের শিল্প।
বধূ বুঝাই তাকে বলিল বচন।
একা তুমি কি করিবেশ অগণন ॥
করিয়া নিল জাখ কি হবে বল।
বি দেখ কিসে কাৰ্য্য হইবে সফল।
প্রতিতি করি আমি হইব সহায়।
দুর করিবার বলিব উপায়”।
০
মেবার মহিমা
বন্ধুর বচনে রাণা চিত্ত স্থির করে।
ক্রোধে বিগ্ন হবে বুঝি ক্রোধেৰে সম্বরে।
নব বধু লৈয়া বাণ চলে নিজ ঘর।
ক্ষেত্ৰনামে হয় তার পুত্র গুণধর ॥
রাণী লিখে পত এক পিতাকে তাহার।
“চিতোর যাইতে হয় বাসনা আমার ||
অস্ব হয়েছে পুত্র তাহার কল্যাণে।
পূজা দিতে চাই আমি দেবতার আনে”।
তনয়ারে মলদেও করে নিমন্ত্রণ।
চলিল তনয়া তার পিতার ভবন।
রাণীর সহিত চলে বহু সেনাদল।
সবে জানে রঙ্গি-সৈন্য ইহারা সকল ।
প্রবেশ করিল তারা যখন চিতােরে।
নাহি ছিল মলদেও নগর মাঝারে ॥
গিয়াছিল দূরদেশ যুদ্ধ করিবারে।
প্রধান প্রধান সৈন্য লয়ে সাথে করে।
অযােগ দেখিয়া এবে তনয়া তাহার ।
দুর্গের সেনার মাঝে করিল প্রচার ।
বনের দাস হয়ে আছ কি প্রকারে।
হামীরের পক্ষ হ, দাও দুর্গ তারে”।
কতক সৈনিক যবে জানাল সম্মতি।
হামীর সমীপে বার্তা যায় ব্রগতি।
৪৯
মেবার মহিমা
হামীর নিকটে ছিল সেনাদল লয়ে।
শীঘ্র আসি চিতোরেতে প্রবেশ করছে।
হইল ভীষণ যুদ্ধ উভয় দলের।
শৌর্য্যের প্রভাবে আয় হয় হামীরে।
বহুদিন পরে পুদুর্গের প্রাচীরে।
পতাকায় সূর্য ছবি বড় শােভা ধরে ।
অরণ্য পৰ্বত হ'তে রাজপুত ফিরে।
নিজ গৃহে আবার আসিল হভরে।
মেবারের পাশে যত সম দেশ।
লােক জনে পরিপূর্ণ হইল বিশেষ।
হেথায় মামুদ নামে দিল্লীর সম্রাট।
চিতাের লইতে আসে নয়ে সৈন্য ঠাট।
হামীর চিতাের হৈতে চলিল বাহিরে।
যবন সম্রাট সাথে যুদ্ধ করিবে।
হইল ভীষণ যুদ্ধ সিজোলি প্রান্তরে।
হামীর যবনগণে পরাজিত করে।
মামুদে করিয়া বন্দী চিতােরে আনিল।
তিন মাস কারাগারে মামুদ রহিল।
লইন নিঞ্জয়-মূল্য মুদ্রা অর্ধকোটি।
লইল নগর বহু আজমীর প্রভৃতি।
* চিতােরের রাজকুল সূৰ্য্য হইতে উৎপন্ন
বলিয়া পতাকায় দুর্গের ছবি অৰিত থাকি।
৫
মেবার মহিমা
একশত হস্তী নিল হামীর তখন।
অবশেষে মুক্তি পায় মামুদ ববন।
হামীর রাজত্ব মুখে করে দীর্ঘকাল।
বাড়িতে বাড়িতে রাজ্য হইল বিশাল
মুখে প্রজাগণ গাহে হামীরের জয়।
মন্দির প্রাসাদ আদি বহুতর হয় ।
এখনও সকলে পূজে ভার পুণ্য স্মৃতি
বীর জ্ঞানী দয়াশীল বলি তার খ্যাতি
লক্ষণ ও ৮
হামীরের পরে ক্ষেত্রসিং রাণা হয়।
পিতৃতুল্য বীর ক্ষেত্র আছিল নিশ্চয়।
বহু যুদ্ধ জয় করি রাজ্য বাড়াইল।
দিল্লীশর হুমায়ুনে পরাস্ত করিল।
গৃহ বিবাদেতে তিনি ত্যজেন জীবন।
লক্ষ রাণা তারপর পায় সিংহাসন ৷
মাড়বার ভয় করি ঘাপে বেদনাের।
নগরচল জয় করে করি যুদ্ধ ঘাের ।
দিভীর সম্রাট সাথে করিল সংগ্রাম।
রায় দিনীর সৈন্য লক্ষ গুণ-ধাম ।
যেবার মহিমা
রূপা ও টিনের খনি প্রকাশ পাইল।
তাহা হৈতে দেশে বহু ধনাগম হৈল।
প্রজা-হিতকর কাৰ্য অনেক করিল।
বাঁধ সরােবর আদি বহু নিৰ্মাইল।
মন্দির প্রাসাদ দুর্গ রচিল বিস্তর।
শিল্পীর আদর জানে লক্ষ গুণধর ||
ব্ৰহ্মর মন্দির এক করেন স্থাপন।
চিতাের খাইলে তুমি করিবে দর্শন ।
একদিন লক্ষণ আছে সিংহাসনে।
চারিদিকে শােভ করে পাত্রমিত্রগণে।
হেনকালে দুত এক আসিল তথায়।
হাতে তার নারিকেল ফল শােভা পায় ।
নারিকেল দেখি সকলের বােধ হয়।
বিবাহসম্বন্ধ দূত এনেছে নিশ্চয় ৷
সমাদর করি সবে দূতে বসাইল।
রণার সমীপে তবে দূত নিবেদিল ।
“মাের প্রভু মাড়বার-পতি রণমল।
শত্ৰ কঁপে থরহরি হেন তঁার বল ।
দুহিতার বিবাহ দিবেন এ কারণ।
আপনার কাছে মােরে করেন প্রেরণ ||
আপনার জ্যেষ্ঠ পুত্র চ মহাবীর।
ধার্মিক উদারচো বুদ্ধিমান ধীর।
মেবার মহিমা
চও করিবেন তার করে গ্রহণ।
এই ইচ্ছা মাের প্রভু করেন পােবন।”
দূতেরে বসিতে ৰাণা বলেন সাদরে।
“বাহিরে গিয়াছে চণ্ড আসিবে অচিরে।
ফিরে আসি নারিকেল কৰিৰে গ্ৰহণ।”
এত বলি হাসি পুনঃ বলেন বচন।
“বৃদ্ধতরে নারিকেল কেহ নাহি আনে।
দূত বলিবার আগে জানিতাম মনে।”
পরিষদগণ সবে উঠিল হাসিয়া।
হাসি দূত সভামাঝে রহিল বসিয়া ॥
যথাকালে চাবীর ফিরিয়া আসিল।
পরিষদগণ মুখে সকলি শুনিল
পিতারে গম্ভীর স্বরে বলিল বচন।
“পারিব না নারিকেল করিতে গ্রহণ।
পরিহাস করিয়াও যে করে পিতা।
ভাবিতে পারেন মনে আপন বনিতা।
কেমনে করিব আমি তারে পরিণয়।”
শুনি তার কথা রাণী চমৎকৃত হয় ।
চরে সম্বােধি তবে বলিল বচন।
শুনি মাের বা, ক্রোধ ছাড় অকারণ।
তুমি যদি এ করে কর পরিণয়।
তার গর্ভজাত পুত্র তবে রাণা হয় ।
মেবার মহিমা
নৃপতির এই ইচ্ছা আছিল অন্তরে।
তাই নারিকেল দিয়া প্রেরিল দূতেৰে ৷৷
এখন এ দূত যদি প্রত্যাখ্যান করি।
রণমল অপমান হইবেন ভারি।”
বৃদ্ধরাণা বহুমতে বুঝায় রে ।
চণ্ডের প্রতিজ্ঞা কিন্তু টলাইতে নারে ।
অবশেষে লক্ষণ বলেন চরে।
“তুমি না লইলে, নিতে হইবে আমারে।
এই কন্যা গর্ভে যদি মাের পুত্র হয়।
হইবেক সেই রাণা নিহ নিশ্চয়।”
চণ্ড কহে, “একলিত * নামে করি পণ।
দিলাম ছাড়িয়া চিতােরের সিংহাসন।
আমি কি মাের বংশধর অন্য কেহ।
সিংহাসনে বলিবে না সকলে জনহ ।”
নারিকেল লয় রাণা দূত যায় ফিরে।
বৃদ্ধরাণ বিবাহ করিল সে করে।
সেই কন্যা-গর্ভে এক তনয় মিল।
আদর করিয়া নাম মুকুল রাখিল।
মুকুল হইল পঞ্চ বর্ষের যখন।
চতে কি লক্ষ রাণা বলেন বচন।
* চিতােরের কুলদেবতা মহাদেবের বিগ্রহের
নাৰ একজি।
৫
মেবার মহিমা
“হইলাম বৃদ্ধ আমি জানি না কখন।
সময় হয়েছে বলি ডাকিবে গমন।
উচিত না হয় আর বিষয় বাসনা।
ধর্মযুদ্ধে ত্যজি প্রাণ হয়েছে কামনা।
যবনরা গয়াম অপবিত্র করে।
ইচ্ছা হয় সেথা গিয়া যুদ্ধ করিবারে।
দেখি যদি পারি আমি খেদাতে যান।
হবে মােঙ্গ যুদ্ধক্ষেত্রে লভিলে মরণ।
চারি বর্ণ সৃষ্টি করিয়াছেন মহেশ।
বর্ণ অনুসারে কৰ্ম্ম হয়েছে নির্দেশ।
বর্ণের বিহিত কাধ করিলে নিশ্চয়।
অন্তকালে সকলের প্রধালাভ হয়।
ন্যায় যুদ্ধ ক্ষত্রিয়ের হয় নিজ কর্ম।
হেন যুদ্ধে মৃত্যুলাভ মােয় শ্রেষ্ঠ ধর্ম।
ভয় হয় আমি গেলে তােমরা সকলে।
পাইবে অশান্তি ঘাের কলহ করিলে ।
মুকুলে সম্পত্তি কোন্ দিব বল তুমি।
করিয়াছি প্রিয় অন্য সকলের ভূমি।”
এত বলি নরপতি যদি মেনি হন।
চণ্ড তারে ধীর ভাবে বলেন বচন ॥
ভ্রাতা সহ কলহ না করিব কখন।
মুকুলের তরে আছে রাজ-সিংহাসন ॥”
T
মেবার মহিমা
আশ্চর্য হইয়া রাণা বলেন বচন।
কেন সে অতীত কথা করিছ স্মরণ।
তুমি জ্যেষ্ঠ,—রাজ্যে হয় তব অধিকার।
কনিষ্ঠ মুকুলে দেহ ভূমি খণ্ড আর ॥”
হাসিয়া বলেন চ“তাহ নাহি হয়।
প্রতিজ্ঞা করেছি যাহা পালিব নিশ্চয় ॥
এতবলি মুকুলেরে সিংহাসনে স্থাপে।
হাটুগাড়ি নিজে বসে তাহার সমীপে ।
শপথ করিয়া বলে “শুনহ সকলে।
চিরকাল রাণী বলি মানিব মুকুলে।
রাণার অধীনে থাকি সালু। পালিব।
প্রাণ দিয়া রাজ-আ পালন করিব।
শুধু চাহি রাজ-দত্ত দানপত্র যত।
সালুর চিন্তু বর্ষা রহিবে অঙ্কিত।”
চরে তুলিয়া তবে বলে রাণী।
ধন্য চণ্ড, তব ভিক্ষা অপূর্ণ রবে না।”
যথাকালে রাণা গয়াধাম যায়।
আত্মীয় স্বজন কাছে লইয়া বিদায়।
মেবার মহিমা
চণ্ডে নিবাসন এবং চকক
চিতাে উদ্ধার
বালক মুকুল বসে সিংহাসন পরে।
নিকটে বসিয়া চঙ রাজকাৰ্য্য করে।
নিরন্তর মুকুলের ভাবে হিতকথা।
তথাপি সন্দেহ করে মুকুলের মাতা ।
ভাবে রাণী “প্রকৃত রাজত্ব চণ্ড করে।
নামেতে মুকুল বসে সিংহাসন পরে।
যতদিন এই চ মেরে থাকিবে।
পুত্রের মঙ্গল কোন মতে নাহি হবে।”
একদিন চরে ডাকিয়া রাণী বলে।
“বুঝিলাম সব আমি কর যাহা ছলে।
নামে মাত্র মুকুল বসেছে সিংহাসনে।
তুমিই প্রকৃত প্রভু সকলে তা জানে ।
তব ইচ্ছামত মন্ত্রী করেন শাসন।
তৰ সাজা পালন কৰিছে সেনাগণ
এ ব্যবস্থা নহে কভু মাের অভিমত।
হবে মােরে দেখিতে পুত্রের ভবিষ্যৎ”।
এত বলি মৌন যদি হইলেন রাণী।
অভিমান ভরে চৎ বলে তারে বাণী ॥
“কেননা মাতা হােত যদি বাসনা আমার।
চিতােরের সিংহাসন পরে বসিবার।
মেবার মহিমা
কে বাধা দিত মােরে কাৰ্য্য সাধিতে।
কেবা বল বসাইল মুকুলে গদিতে।
তথাপি সন্দেহ যদি হইয়াছে তৰ।
আর আমি চিতােরের সীমান্তে না রব।
যাইবার কালে মাত বলি বচন।
একথা সর্বদা মাতা রাখিও অরণ।
বংশের মঙ্গল সদা ভাবিও জননী।
খায্য অধিকার যেন নাহি হয় হানি" ।
এত বলি চিতোের ছাড়িয়া চও চলে।
রাম বনবাস যান সব লােক বলে।
মুকুলের মাতা বলে করে নিমন্ত্রণ।
তাহার অগ্র যােখ করে আগমন ।
পরে পিতা রণমল আসিল চিতােরে।
ক্রমশঃ রাঠোর বহু আগমন করে ।
মুকুলে করিয়া কোলে বৃদ্ধ রণমল।
চিতােরের সিংহাসন করিল দখল।
ক্ষণপনে চলি যায় মুকুল খেলিতে।
রণমল বসে থাকে নাই মাথে ।।
ইহা দেখি মুকুলের ছাত্রী অতি বৃদ্ধ।
রাণীকে বলিল হয়ে অতিশয় ৷
“তােমার পিতার গােষ্ঠী, বল না খুলিয়া,
মুকুলের প্রাপ্য রাজ্য লবে কি বিয়া ?
মেবার মহিমা
ইহা শুনি রাণী চিন্তা করেন বিস্তর।
একদিন অনকেরে করেন গােছর ॥
দুষ্ট রণমল তবে জু হৈল অতি।
বলিল কন্যারে “তুমি হও অল্পমতি ।
তা না হলে কা করে পিতারে তৎ সনা।
হেন অসম্ভব কথা কখনাে শুনি না।
নিশ্চয় করিয়া ধর এ মম বচন।
আমার দয়াতে তৰ পুত্রের জীবন”।
ইহা শুনি রাণী বড় ভয় পায় মনে।
কেমনে উদ্ধার পাবে কিছু নাহি জানে।
রঘুদেব নামে ভ্রা চরে মধ্যম।
চিতাের ছাড়িয়া থাকে কৈলবার। ধাম।
সকলের প্রিয় রূপে গুণে অনুপম।
সাহসে সৌজন্যে কেহ নহে তার সম।
ভূসম্পত্তি হৈতে তার আয় যাহা হয়
দেবতা দরিদ্র বিজে করেন তা ব্যয় ॥
নিজ পরিবার তরে সামান্য নিয়ম।
মােটা খায় মােটা পরে দরিদ্রের সম ।
এ হেতু সকল নােক সময় মেবারে ॥
দেবতার মত করি রে ভক্তি করে ।
রণমল ভাবে, “রঘুদেব যদি মরে।
মােৰ পথে বাধা দিতে কেহ নাহি পারে।
৫৯
মেবার মহিমা
এত গৰি দুইজন ঘাতকের হাতে।
পরিচ্ছদ উপহার তেতে রঘুনাথে ।
আছিল নিয়ম যেবা পরিচ্ছদ পাবে।
প্রাপ্তিমাত্র পরিধান অবশ্য করিবে।
রঘুদেৰ পরিচ্ছদ পরিছে যখন।
নিষ্ঠুর ঘাতক তার বধিল জীবন।
সমুদয় দেশভরি পড়ে হাহাকার।
হেন সাধু কেবা আছে দেশের মার।
মুকুলের মাতা যবে নিল ঘটনা।
মুকুলের তরে হৈল দ্বিগুণ ভাবনা ॥
যেই জন খুদেবে পারে মারিবারে।
হেন পিপ নাই যাহা করিতে সে নারে।
বিপদের পারাবার দেখে চানিভিতে।
উজার করিবে কেবা এ বিপদ হতে ।
ধাত্রী হোনি আমি শুধু একজন।
এ বিপদ হতে পারে করিতে তারণ।
রাণী কহে “কে সে বীর, কিবা তার নাম?
ধাত্রী কহে নাম সর্বণধাম।”
রাণী কহে“কোন লা আকিব তাহারে।
অপবাদ দিয়া আমি খেদাই বারে।
পিতৃদত্ত সিংহাসন বেবা ত্যাগ করে।
বার্থপর মিথ্যাচার বলি তাহারে।
মেবার মহিমা
তাড়াইয়া তারে আমি পিতারে ডাকি।
ঔষধ ফেলিয়া দিয়া গরল সে৷ি
কেমনে তাহারে আমি পাঠাই বারতা।
ডাকিলে বা কেন তিনি আসিবেন হেথা ।”
ধাত্রী বলে “বৃথা তুমি করিতেছ ভয়।
চর সমান কেবা আছে মহাশয়
ক্রোধ কি প্রতিশােধ নাহি তার মনে।
তুমি যদি ডাক তারে আসে এইক্ষণে ।”
তারপর দুইজনে করিয়া যুকতি।
পুরােহিতে পাঠাইলা চণ্ডের বসতি।
পুরােহিত মুখে চণ্ড সকল শুনিল।
চিতাের উদার তরে উপায় ভাবিল।
পুরােহিতে বলে চও, বলিও রাণীরে।
আছে যত গ্রাম চিতােরের চারিধারে ।
চিতাের হইতে যেন মুকুল নামিয়া।
প্রতিদিন এক এক গ্রামেতে যাইয়া ॥
বত গ্রাম বালিগণে ভােজন করায়।
সঙ্গে বহু অনুচর যেন লৈয়া যায়।
দেওয়ালির দিন যেন গা গ্রামেতে।
কােন উৎসৰ বহু করে নানামতে
সেদিন স্যার পর আমিও বাইয়া।
মিলিৰ সবার সাথে সৈন্যদল নিয়া ॥
মেবার মহিমা
পুরোহিত এত শুনি চিতাের চলিল।
চণ্ডের নির্দেশ মত কাৰ্য্য আরবি
মুকুল প্রত্যহ প্রাতে চিতাের হইতে।
নামি পরিজন সহ যায় চারিজিতে।
প্রতিদিন অল্প অল্প যায় বেশী দূরে।
সন্ধ্যাকালে ফিরে আসে দুর্গের মাঝারে।
চরে আছিল দুই শত অনুচর।
চিতাের পাহাড়ে ছিল তাহাদের ঘর ।
অনুচরগণে চও কাছে ডাকি বলে।
“গৃহ গিয়া সেনাদলে পশিবে কৌশলে।
হেথা দেওয়ালির দিন আগত হইল।
মুকুল গণ্ডা গিয়া উৎসব করিল।
উত্তীণ হইল সন্ধ্যা রাত্রি সমাগত।
তথাপি না হয় চ তলায় আগত ।
“আর না আসিল চণ্ড, “বলি সবে ফিরে।
আঁধারে দুর্গের আলাে দেখা যায় দূরে।
আপনি সবে পশ্চাতে নিল।
দেখে বহু অরােহী ছুটিয়া চলিল।
সকলের মুখে চ ইল বেগে যায়।
ইসিতে মুকুলে দেখি প্রণতি জানায়।
দুর্গের প্রহরী পুছে, “কে বা তােমরা।
চত বলে, “শিলােদীয় দলপতি মােরা ।
মেবার মহিমা
গণ্ডর কাছে হয় আমাদের ঘর।
রাণার সহিত আসি হৈয়া অনুচর।”
প্রহরী দরজা খুলি দেয় প্রবেশিতে।
দুর্গ-পথে সপ্তায় পশে এই মতে।
সর্ব উচ্চ রামপােল ধারে আসে যবে।
বহুশত চ অনুচর পেীছে তবে।
দুর্গের সৈনিক সবে বুঝিল এবার।
শত্রু পশে করিবারে দুর্গ অধিকার।
পথ রােধে তারা, চণ্ড তরবারি খােলে।
হইল ভীষণ রণ অতি ঘন রােলে।
দুর্গপতি তডিকরে চণ্ড করে বধ।
তার সৈন্য সবে দেখে বড়ই বিপদ।
“রাঠোর বিশ্বাসঘাতী মারহ তাহারে।”
চারিদিকে হয় শব্দ কে দেখে কাহারে।
সেথায় রাঠোর যত মরিল সকল।
রণমল কোথা গেল হৈল কোলাহল।
অহিফেন ঘােরে ছিল বৃদ্ধ রণমল।
পশে ঘরে সেনাদল করি কোলাহল ।
অল্প নাই লােটা এক তুলি রে হাতে।
লোটার আঘাতে মারে শত্র পাঁচ সাতে ।
হেনকালে বন্দুকের গুলির আঘাতে।
বিশ্বাসঘাতক লােভী ললাটায় ভূমিতে।
মেবার মহিমা
মতে রণমল মরণ লভিল।
নিরুদ্বেগে রাজা হয়ে মুকুল বসিল।
রাণাকুন্ড ওমীরাবাঈ
সংগ্রামে নিপুণ বীর মুকুল আছিল।
দিল্লীর সম্রাটে যুদ্ধে হারাইয়া দিল।
চাচা মিয়া নামে দুই দাসীপুত্র ছিল।
মুকুলে বাঁধিয়া তার চিতাের চলিল।
মুকুলের পুত্র কুত বালক আছিল।
মাড়বার-রাজ তারে সাহায্য করিল।
নিশীথে আমি দুর্গ বধি বিদ্রোহীরে।
রাণা হয়ে বসে কুম্ভ সিংহাসন পরে।।
কুম্ভ রাণা করে যবে রাজ মেবারে।
মেৰারের প্রতিপত্তি বাড়ে চারি ধারে।
আছিল যবন রাজা মালবে গুজনে।
মিলিয়া তাহারা উতে আক্ৰমে চিতােরে।
মেবারের লক্ষ সৈন্য চলে কুর সাথে।
হইল ভীষণ যুদ্ধ উভয় দলেতে ।
বীরের অগ্রণী কুল হারাণ শরে।
মামুদ মানব-বাল লয়ে যান ধরে ।
‘বিজিত শক্রমে কর দয়া প্রদর্শন।
এই শাস্ত্র বাক্য কুহু কনে পালন।
৬)
মেবার মহিমা
নিমের তরে মূল্য গ্রহণ না করি।
উদারতা করিয়া মামুদে দে ছাড়ি।
রাখিতে গৌরবপূর্ণ বিজয়ের স্মৃতি।
নিৰ্মাইল এক কুক্ত মহামতি।
নিন্মাণ করিতে লাগে দশব কাল।
আজো শশাঙে উজলি চিতােরের ভাল ।
কতশত দেবদেবী প্রস্তর মূরতি।
শাতিছে শুতের গায়ে মনােহর গতি ॥
সুন্দর সােপানাবলি অর মারে।
তাহা দিয়া উঠি যায় তের শিখরে ॥
কুন্তে সৌজয়ে মুগ্ধ মাম ইল।
যুদ্ধকালে রাণারে সে মহায্য করিল।
দিনীর সম্রাট সাথে য় ব্যর মণ।
পরাজিত হইল দিলীর সেনাগণ।
মেবার রাতে সীমা পাপৰ অবধি।
বিস্তৃত করেন কু হরষিক্ত অতি ৷৷
বত্রিশটি দুর্গ কুত করেন নিশাণ।
কুমীর দুগ হয় তাদের প্রধান।
কুয়ের বীরছে নাগাের বিতি।
মূর্তি আনি চিতােরেতে কনে আপিত ৷
আবু পাহাড়েতে দুগ করেন নির্বণ।
সেথায় কুনের মূর্তি লভিছে সম্মান।
মেবার মনি
।
অনেক মন্দির কুত্ত নিৰ কয়।
মেবারের মাননান আর গে পায় ।
[ বীর মতে ছিলেন পণ্ডিত।
গীত-গােবিন্দের ঢাকা তাহার রচিত ।
বিবাহ করেন ও আঠার-দুহিতা।
মীরাবাঈ নাম তার গরত বিদিতা।
বোৰ ৰী শীল তেমনি বিক।
তাহার রচিত গান যােষে দশদিক ।
বাবে দিন গুণ সঙ্গীত গাহি।
ক তারে দেন নয় ।
গৃহে না রহিতে পারে কৃষ্ণের আহ্বানে ।
পয়ে যায় যায় পুর বৃন্দাবনে।
দিল নী কাটে ত্বকের ধ্যানে।
কব আর কিছু শী নাই মানে।
বগেৰে শীৰা এতি লইয়া।
লিহান হৈতে আসেন মিয়া।
খে নিন করেন ঘরে।
मिनारमा वान बाबा कृष्कार मनोज ।
पावर व ड वाचा कविन ।
ভারতে এ আমের
হীরে খায় ধীর পূরাণ লি।
मषा पनि-मारीबाहिन
বায় মাছ
बारमात्र
नभान रहेन ।
মোৰ মৰি দুগ বিস্তর গঠিল।
হেনকালে এ ঘটনা ঘটিল।
চিতােরর ইতিহাসে কলঙ্ক লেপিল ।
কুবের তনয় ছিল উদা নাম ধৰে।
রাজ্য লােভে নীচাশয় পিতৃহত্যা করে।
আজি ও উদার নাম নাহি কেহ লয়।
নরহন্ত হাতিয়ার নৰে তারে কয়।
কুন্তে এখন পুত্র বায়ল নাম।
তিয়াৰে পৰাস্ত করিল গুণধা।
রায়মল নর চিতােরের সিংহাসন।
প্রাণ ভয়ে রি করে পায়।
কারও সাহায্য উদা না পাইয় বেশে।
ভিীর ন্যাট কী খায় অবশেষে।
সম্রাটে বলি সেই কাপুরুষ উদা।
দিব মাের কন্যা যদি কর সহায়তা ।
সম্রাট সন্তুষ্ট হয়ে দেয় না তারে।
আনন্দে উৎফুল্ল উদা চলিল বাহিরে ।
ছাড়িয়া দেওয়ান খান যে তিঝিল।
মাথার উপর বমনি পড়িল।
এসে হলগ গেল কমায়।
কেহ না আর তার ফলে ছয় হয় ।
মের মমি।
দিনীর এটি তৰে লাজমে মেবার।
তার সাথে চলে দুই ভনয় উদার ।
রাণা রায়মল বুঝে তাদের সনে।
হারাইয়া দেন না তি যােয় রণে ॥
দুই ভাই পিতৃব্যের অনুগত হয়।
রাণঠাই পায় না তার তনয় ।
মালবের রাজা গিয়াসুদ্দী” নাম তার।
সৈন্য শয়ে গরে গাজমে মেবার।
হবার যুক্ত হয় তাহার সহিত।
প্রতিবার যুদ্ধেয় মেবারের জিত ।
উদার তনয়গণ বিক্ৰমে বুঝিল।
পিতার কনআণি কতক ছিল।
রাজ ও সলে ভ্রাতৃবিয়ােব
রায়মন নৃপতির তিনটি তনয়।
সজ পৃথ আর এয়ম নাম হয় ।
সহ পৃণ দুইজন মহােজর ভ্রাতা।
অমর কনিষ্ঠের ছিল অন্য মাতা ॥
স পৃ দুইজন হয় তুল্য ৰীয়।
পৃী কিছুঠায়ী সন ধীর।
পৃীর কৈশাের হতে আছিল ধারণা।
বিধাতার ছ তারে করিবারে রাণা।
মেবার মহিমা
দিল্লীপতি পৃথীরা আছিল যে ন।
তার সহ নামায্যে তাবি। এমন ।
শুধু দর্পভরে হেন ভাবে তাহা নয়।
সাহসে ও বীর্ষে উতে তুলনীয় হয়।
ভবিষ্যতে কে এইবে চিতােরের রাণী।
তিন তাই একদিন করে আলােচনা।
পিতৃব্য সূর্যমল ছিল সেখানে।
পৃথী পুছে, “ভবিষ্যৎ গণিতে কে জানে।”
বলিল সূরবমল আছেন রমণী।
ব্যাগিরি মন্দিরের তিনি পূজারিণী ।
তিনি অতি দক্ষ ভবিষ্যৎ গণিবারে।
চল সেথা তােমাদের অগ্য জানিবারে।”
সই কহে, “
ৰিলে কেবল বল নয়।
জানি যদি ভবিতব্য কলহ না হয় ।
যদ্যপি চিতের মম স্থায্য অধিকার।
ছাড়ি আমার সব বচনে তাহার ।”
এতলি চারজন চলেন মন্দির।
আগে যায় অয়ম আর পৃথী বীর ।
মন্দিরের মাঝে এক খাটিয়া আছিল।
দুইই খাটিয়ার উপরে বসিল।
চলিত নাম, “
নামুগ্ৰা
।
যেবার শনি
ধীর পদে প্রবেশিল স তার পর।
ব্যার্থ “দেখি বলে তার উপর।
সৰ্শেৰে সূৰ্য্যমলল প্রবিষ্ট।
চলৰি জানু বহে স উপৰিষ্ট।
অসহিষ্ণু পৃথীৱাল চৰণীতে পুছে।
“ভাবী আশা কৈায় আমাদের ।
পূজারিণী তাহাদি’কে চেন।
“ব্যাচ ভাব রা করেছে।
সঙ্গ হৰে ৰাণ, অংশসূর্য পাইবে।
মিথ্যা নহে গম বাণী, সকলে দেখিবে।”
এত বলি পূজারিণীৰে বিৱত।
পৃৎীয় চাঁৎকারে সরে ইনচকিত।
“মি তব বাণী কৰি এখনি এখ।”
খুলি তরবার পৃথী শ পানে ধান।
সূৰ্যমধ্যে পড়ি বাজারে
পৃঙ্খীরাঘাতলন নিজ দেহ পরে ।
বার বার পৃরাজ কৰিল আঘাত।
সতের শরীরে হয় কত পাঁচ সাত .
ভ্রাতার সহিত এ সঙ্গ নাহি চায়।
মন্দির হইতে দ্রুত পলাইয়া যায়।
তাহার চকুতে বিদ্ধ হয় একর।
এক চক্ষু চির অন্ধ হয় স ধীর।
gp
মৰাৰ মহিমা
সূৰ্য্য পৃ দুইজন আঘাত পাইল।
পরিণী দেলয় ছাড়ি পলাইল।
A
পরে পলান এবং অনাতবাস
এণ করে এত পলায়ন।
উদাবৎ ঠারে লইল শরণ।
*, উদাবৎ বিল দিলেন সতেরে।
বেনালে পৃ আসে মাৱিতে তাহারে।
সকে বাঁচতে উদাবৎ দেয় প্রাণ।
সেই অবসরে দ পলাইয়া যান।
দীর্ঘকাল ধৰি সৰ গাকে লুকাইয়া।
চায় গরুর পাল রাখল সাজিয়া ॥
কোন দিন যাবৎস হইয়া যায়।
কণ্য কলম তিরস্কার পায়।
একদিন এগঞ্জী কৰিছে রন্ধন।
হেনকালে বি আর করিল ক্রন।
এজী কি সঙ্গে বলেন তাহারে।
ছি না আমি যাই তার ঘরে।
দেখ পিটকলি এখানে বসিয়া ;
এক পাগলা হলে দিবে যুবাইয়।”
এত বলি প্রভুপত্নী যায় ভিন্ন ঘরে।
অ তথা বলি তবে বিষয় অন্তরে।
৭১
মেবার মহিমা
কতদিন এই ভাবে কাটিবে বন
আর কি দেখিব কভু পিতার ভবন।”
পিষ্টক যাইছে পুড়ি নাহি দেখে চেয়ে।
শৈশবের শত স্মৃতি ফেলে চিত ছেয়ে।
খাওয়াতেন মাতা কৰি কত না যতন।
পিতা কত মূল্যবান দিতেন বলন ।
কত দাস দাসী আ করিত পালন।
ভাবী-রাণা বলি সবে করিত ৰন্দন।
এই সব কথা সহ অবে অন্য মনে।
হেনকালে প্রভুপী পশপিও সনে।
পুড়িছে পিষ্টক দেখি উঠিল রাগিয়া।
সরে বলিল বহু ভৎসনা করিয়া।
“খাইবার কালে দেখি বিস্তার বদন।
প্রস্তুত করিতে কিন্তু নাহি দাও মন ।
এ হেন অলস লােক নাহি গৰি আমি।
কাল হৈতে অন্য স্থানে চলে যাও তুমি।
নিরাশ্রয় হয়ে স করেন ভ্রমণ।
অবশেষে করম চাঁদের ভৃত্য হন।
সারাদিন প্রভু কাৰ্যে কাতর হইয়া।
নিদ্রা যান বৃক্ষতলে শয়ন করিয়া ।
সূর্যরশ্মি এক পত্রাবলির অন্তরে।
আসিয়া পড়িল তার মুখের উপরে।
৭
মেবার মহিমা
কৃষ্ণবর্ণ সফণা করিয়া বিস্তার।
রৌদ্র হইতে রক্ষা করে বদন তাহার ।
মেক নামে মেষপাল দেখিতে পাইল।
সঙ্গর প্রভুকে সব ঘটনা বলিল।
“জানিও সামান্য ভৃত্য নহে এই জন।
ভবিষ্যতে পাইবে সে রাজসিংহাসন।”
কৰ্ম্মাদ ইহা শুনি সন্তুষ্ট হইল।
স হাতে আপনার কস্থা সমর্পিল ॥
সেই হতে সঙ্গীর আদর পাইল।
প্রবাসের দুঃখ তার কতক ঘূচিল
হেথা রাণা রাম নেন যখন।
পৃথীবাজ সঙ্গকে করেছে আক্রমণ।
কুদ্ধ হয়ে রয়মল কহিলেন তারে।
“আজি হৈতে নির্বাসন করিলাম তোরে।
বাহুবল হেতু নাহি মান গুরুজন।
এই বাহুবলে কর জীবিকা অর্থদন।”
পৃথী হয় নির্বাসিত সঙ্গ নিরুদ্দেশ।
ভাবি রাণা জয়মল রহে অশেষ ।
কিন্তু হায় দেখ সৰে দৈব বিড়ম্বন।
জমল হঠকাবে ত্যজিল জীবন।
তােড়ার সােলাফি রাজা ও স্থান।
তার রাজ্য অধিকার করিল পাঠান।
৭
যেবার মহিমা
তারাবাঈ নামে কস্য আছিল তাহার।
না করে বিবাহের নিয়ম প্রচার ।
পৰে দান এই ক হইবে ।
যেই বীর মম রাজ্য কৰিৰে উৰু।”
মল বলে যুপকাতে করিব।
আগেতে বাইয়া তার কানে লইব।
এত বলি জোর করি কথ্য নিতে বায়।
ক্রোধেতে কদার পিতা বধিল তাহায় ।
সৰে কাৰে ৰায়মল বড় হবে।
পুত্রের মৃত্যুর কথা যখন নিবে।
কিন্তু তু না হইয়া বলে রাখল।
মল লজিয়াছে যােগ্য প্রতিফল।
অপমান কৰি বেৰা কন্যার পিতারে।
তাহার করে চায় নিতে জোর করে ।
বিশেষতঃ সেই পিতা বিপন্ন যখন।
সে বনের বােগ্য শান্তি কাৰ্য মরণ।”
এত বলি আমল উদার মহান।
সােলাফিয়ে সম্পত্তি করিলেন নন।
হেথা পৃথীরাজ ৰৰে হন নির্বাসিত।
গভওয়ার দেশ গিয়া করে অধিকৃত।
পার্বতীয় বাড়ি তাকছি উৎপাত।
পৃৎীরাজ তাহাদের করেন নিপাত ।
৭৪
মেবার মহিমা
জয়মল যবে নিজ দেশেতে মিল।
রায়মল পৃথীজে গকিয়া আনিল ।
সূর্নমল রাজ্যলােতে বিৰ্বোহ করিল।
মালবের রাজা তারে বহু সৈন্ত' দিল ।
ক্ষিপ্র আমি বহুভূমি অধিকার করে।
রায়মল নাহি পারে এটাতে তাহারে।
পৃ আসি যুদ্ধে বহু শৌৰ্য প্রকাশিয়া।
বিদ্রোহীর সৈগণে দেন রাইয়া ।
বিশ্রাম করিতে পৃী নাহি দেন তারে।
খেদাইয়া যান স্থান হৈতে বারে ।
গহন অরণ্যে সূৰ্য্য করি পলায়ন।
দেওলা নগর ও কনে বপন।
পৃথার ভগিনীপতি অতি দুরাচার।
বিষ দিয়া পৃথীরাল করেন সংহার ।
পরে রায়ণ ননে মণ।
সজ আসি আরােহণ করে সিংহাসন।
মেবার সৌভাগ্য সূৰ্য্য সর্বোচ্চ শিখরে।
সরে যাক কালে কালাে করে।
রাণা সঙ্গে রাজঘএবং হিউমতি
রাজ্য লভি স বীর আদিন পরে।
শৃখলা আপন করে রাজ্যের মাঝারে ॥
৭৫
মের মহিলা
বিপদে যে কর্মচান্দ সাহায্য করিল।
তাহাকে আজমীর ভূমি প্রদান করিল।
কখনও মালৰৱাল কছু দিলীপতি।
বার বার মত মনে করে যুক্ত অতি ॥
অষ্টাদশ বার ঘাের সংগ্রাম হইল।
প্রতি বার সভ বীর বিজয় লভিল।
দুই যুছে ইব্রাহিম লােদি দিল্লীশ্বর।
নিজে আসি যুেেত্র করেন সমর।
বহু সৈন্য ধবংস করি সঙ্গ লতে হয়।
সম্রাটের পুত্র এক যুদ্ধে বন্দী হয়।
উত্তরে দক্ষিণে পূর্বে রাজ্যের সীমানা।
বহুদূর বিস্তারিত করে সঙ্গ রাণ।
প্রাধা মানিল তার বহু নরপতি।
দিনীর মত ক্রমে হয় অথগতি ॥
সংগ্রামে বিএম করে লিংহে সমান।
সাধক সংগ্ৰামসিংহ হৈল তার নাম ।
দূরদর্শী সূক্ষাবুদ্ধি ধৈর্য্যের আধার।
ক্ষমাশীল দয়াবান ও পারি ।
হইল হিন্দুর মনে আশার উদয়
শরতের অধীশ্বর হিন্দু বুঝি হয় ।
কিন্তু বিধাতার মনে ছিল এ মতি।
ভারতে আসিল তাই বাবর ভূপতি।
মেবার মহিমা
বাৰ ভাতআগমন এবং
রাণাৰে সহিত বুজ
ভারতের বহির্ভাগে সুদূর পশ্চিমে।
আছিল প্রদেশ এৰু সমরখন্দ নামে।
বারের রাজ্য ছিল তথা প্রতিষ্ঠিত।
যুদ্ধে হারি দেশ হৈতে হয় বিতাড়িত ।
বস যখন তার দশ বৎসর।
তখন হইতে যুদ্ধ করিল বিস্তর ।
কভু করে জয়লাভ কভু যুদ্ধে হারে।
রাজা হয় কোন দিন, কভু ভিক্ষা করে।
অবশেৰে ৰাজ্য হতে হৈয়া বিতাড়িত।
সৈন্য সহ সিন্ধুতীরে হয় উপস্থিত।
পানিপথে দিলীখর সাথে যুক্ত হয়।
বাবর লিভিল দিল্লীশ্বর হত হয় ।
দিল্লী আগ্রা দুই স্থান লভিল বাবর।
আল্লার গাহিল জয় কৃতজ্ঞ অন্তর ।
লইয়া বিশাল সেনা চলে সঙ্গবীর।
যুবিৰ বাৰর সাথে ইহা করি দিব।
বাবর ঘড়িয়া গ্ৰ চলিল ত্বরিত।
ফতেপুর শিক্রি গ্রামে হয় উপনীত।
যেই সেনাদল তার অগ্ৰেতে চলিল।
রাজপূত সাথে রণে নির্মূল হইল ।
৭৭
মেবার দিল।
বারো লৈয় মাঝে আতঙ্ক ইল।
সরে যেতে কেহ নাহি পাহল পাইল।
গভীর পরিখা সেপা খনন করি।
বাবর সেনানীসহ রহিল বসিয়া।
ছিল সেনানী মাৰে হেন কোন জন,।
সাহস প্রদান করি বলয়ে বচন।
বাবর রহিল সেবা পাল বলি।
কেমনে উদ্ধার হবে চিন্তে দিবানিশি ৷
বাবর ঈশ্বরে ডাকি বলে সর্বক্ষণ।
“বিপদ হইতে মােরে করহ মােচন” ।
“আর না খাইৰ ম” প্রভি করিল।
স্বর্ণ রৌপ্য পান পাত্ৰ গলিয়া ফেলিল।
হয় খণ্ডগুলি সৰ দেয় ভিখারীরে।
শ কাটিবে না বলি দৃঢ়পণ করে ।
সেনাপতিগণ সবে বলিল ডাকিয়া।
করই প্রতিজ্ঞা সবে কোরাণ ছুঁইয়া।
যুদ্ধক্ষেত্র হতে কেহ নহি পলাইবে।
হয় জয় নয় যুদ্ধে মরণ লজিবে”।
শত্রুর শিবিরে তবে চর পাঠাইল।
চৰ গিয়া ৱিাইদি রাকারে বলি।
“ধূক্ষেত্রে বারের জলে যােগ দিবে।
বহু পুরস্কার তবে তােমার মিলিবে”
৭>
মেবার মহিমা
আরম্ভ হইল শেষে হােতর বণ।
বিপুল বিক্রমে ল করে আক্রমণ।
সাহসে ও বীর্যে হিন্দু যদিও প্রবল।
অগ্নি অত্র তাহার ছিল হীনবল।
কামান হইতে হয় গােল বরিষণ।
বহু হিন্দুবীর তারে করিল শয়ন
হিন্দু অশ্বরোহী তবে ছুটি নির্ভয়ে।
কাড়ি কামান ইহা ভাবিল হৃদয়ে ।
কিন্তু যৰে মােগলেব নিকটে আসিল।
গভীর-পরিখা এ সম্মুখে দেখিল।
অতিম করি তাহা যাইতে না পারে।
মুহহ কামানেতে অগ্নি বৃষ্টি করে ।
তথাপি করিছে যুদ্ধ হিন্দৰীগণ।
কোন পকী হবে না যায় গণন
হেনকালে কালিমা লেপিয়া হিন্দুকুলে।
শিল্পাইদি ৰাভা যায় শত্রুপকে চলে ।
হিন্দু হটি যায় মােগলের হয় ।
পর্বত প্রমাণ উক্ত মৃতদেহ হয় ।
হিন্দুপক্ষে বহুৰীয় না যায় গণন।
অতুল প্রতাপে ঘুৰি লভিল মরণ।
প্রতি নিল সঙ্গ না লভিয়া জয়।
চিতাের প্রবেশ নাহি করিব নিশ্চয়।
৫
মেবায় অফিস
পুনরায় আয়ােজন করিবার আশে।
একবর্ষ কাল তিনি মনে বিদেশে।
কিন্তু ব্যর্থ করি তার সব আয়ােজন।
হিনুর আশার সাথে নিবিল জীবন ।
ওজপতিবাহাদুর শাহ কর্তৃক
চিতাের আক্রমণ
সঙ্গের মৃত্যুর পর তাহার নয়।
রভু নামধারী চিতোরের রাণা হয় ।
রত্ন পবর্ষ মাত্র কয়েন শাসন।
বুন্দিরাজ সহ দৰে ত্যজেন জীবন।
তখন তাহার ভ্রাতা বিক্রম মেতে।
সিংহাসন আরােহণ করে বিধিমতে।।
রাণ হইবার যােগ্য না ছিলেন তিনি।
দায়িক ক্রোধনশীল নিদয় ব্যসনী।।
এই হেতু মেবারে যতেক সদর।
বিরক্ত হয়েন দেখি তার ব্যবহার ।
বিশৃঙ্খলা হয় রাজ্যে করিয়া শ্রবণ।
আক্রমণ ভরে ড করে আয়ােজন ।
বাহাদুর নামে তবে গুজর নৃপতি।
লইয়া বিশাল সেনা চলে শীগতি
=
যেবার মহিলা
ভুলে নাই বাহাদুর সেই অপমান।
মতুয়া তর সাথে করে যােগান
যপি আম দেশ ও-সেনাগণ।
রাজপুত তৰ গৃহবিবাদে নগন।
গৃহ-বিবাদেই ভারতের সর্বনাশ।
বার বার এই কথা বলে ইতিহাস।
বাহাদুর সৈন্য বয়ে চলে যুদ্ধ ভরে।
বিক্রমকে গতিগণ সাহায্য না করে।
বিক্রমজিতের ছিল এই মাত্র গুণ।
নির্ভীক ছিল আর সংগ্রামে নিপুণ।
শত্রুপকে সেনাদল ছিল বহর।
তথাপি বিক্রম করে প্রবল সমর ।
বিক্রম যন লাগে না পারে মাটিতে।
বাহাদুর চলে তৰে চিতাের লইতে ।
চিতাের বিপন্ন যবে শুনে রাজপুতে।
দলে দলে আসে সবে চিতাের রক্ষিতে।
বুৰিাজ আনে পাচশত বীরব।
বাগজি চলেন দাড়ি দেওলা সফর।
ঝালো হইতে আসে সােনি ওরা আজ।
আবু হতে আসে সব দেওয়া সমাজ।
চিতাের নামের কি মহিম আলি।
ভুলি দ্ব রাজপুত সময়ে সাজিল।
যের মহিলা
নােপীয় গােলন্দাজ আনে বাহাদুর।
দুর্গ গনো চেষ্টা করিল প্রচু।
দুর্গম এটার নন করিরা।
গােল দিল তা বা ভরি।
এগিযােগে সে বারুদ খুলি উঠিল।
ইলীণ শব্দ প্রাচীর পড়িল ।
পাচশত ! বীর প্রাচীর উপরে।
থাকিয়া অকুতােভয়ে দুগ রক্ষা করে।
এটি সহিত তারা বিবি হইল।
সকলে ভলি প্রাণ কেহ না বাচিল এ
দুগ এৰেশের পথ পাইল বলিয়া
দলে দলে নেয়া চলিল খাইয়া ॥
সমুদ্র-গুরত্ব প্রায় গলিছে বন।
কে রােখিবে করি নি প্রাণ বিনে।
সর্বত্রে রাও দুগান নয়।
মুও দু দুই বীর বংশধর।
আর বান মতে বহু রাজপুতবীর।
মূজে কি মৃত্যু করি ইহা স্থির।
বাবার কানের করণ।
ফিরাইয়া দেয় হিন্দু করি যাের ।
মটু পৰত ৰখা সমুত্রের তীরে।
বির হয়ে অতি স করে।
৪
মেবার মনি
আস্ফালন করি মন পড়ে তার গায়।
চুর্ণ হয়ে চারিধারে ছড়াইয়া যায়।
সেই মত দলে দলে বন ছুটিল।
হিন্দু আঘাত লাগি ইত্ৰত হৈল।
রাণী জোৱাহি বাঈ ওবাগলির বীর
এবং ৰিতীৰবাৰ তিতাৰ ধ্বংস
লেয়াহিৰ ৰাই ৰাণী আঠার-বংশীয়।
রাজপুত বীরবলে বলে সন্দেধির।
“দুগ ঘড়ি শ মাৰে ৰাইৰ সময়ে।
কে বাবে আমার সাথে চল না করে।
এত বলি রাণী বর্ণে দেহ ঘদিল।
সরে যেতে বহুবীর সময়ে সাজিল।
উঠে ধনি বারবার “রাণী মাৰি ।
শশাকে বীরদল গ্রনর হয়।
পশিয়া এর মাঝে করি ঘাের মণ।
রাণী সাথে সব ৰী লতিল মরণ।
কিন্তু বল কতদিন হতে পারে না।
রাজপুত মুষ্টিমের শত্রু অগণন ।
ক্রমে ক্রমে যবনের আগাইয়া চলে।
দুগর অসৰ বুঝিল সকলে।
মোর মি
অৰে হিন্দু নেতাগণ বলি গৰে সবে।
মেনে নের শি শটে বাটিবে।
উৰ রি নাম পরে রাণায়।
ৰতা করি তার প্রাণ যায় ।
এ চুকালেন চেষ্টি নামতে।
উদরে লইয়া যান বুলি নগরেতে।
তখন হইল গবে নিশ্চিন্ত অন্তর।
কি করিতে হবে বসি অৰে অতঃপর ।
শেষ সভা করি বলে রাজপুতগণ।
এক বৃদ্ধ উঠি সবে করে নিবেন।
“গ রক্ষা কর বটে সাধ্যাতীত হয়।
করিতে ইজ্জত রক্ষা পারি নিতয়
অলি হতে রণক্ষেত্রে ত্যজিব জীবন।
নারীরা অহরত করিবে পালন।
এক চিন্তা চিতােরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী।
রাজবলি বিনা নহেন কাপি।
নচে চিতকার পুনঃ হবে না উর।
বাজা নাহি যে বলি হবে কি প্রকার ?
তবে দেওলা রাত গজি উঠিয়া।
নিবেদন করিলেন পরে কােধিরা।
“রাজ-র হে মাের ধমনী ভিতরে।
পিতা মম চেয়েছিল রাণা এইবারে ॥
বর মাই
রাণা হৈ
পরে নাই তার ইচ্ছা দৈব ছিল বাম।
তােমরা সদয় হলে পুরে মম কাম।
বাণা হইবার মােন হয়েছে বাসনা।
তােমরা সকলে মিলির মােরে রাণ।
বুয়ে
গিয় দিব প্রাণ দান।
তুষ্ট হৈয়া দেবী নাহি ত্যজিবে এ পান।
বাগজির বাক্যে শবে সাধুবাদ দিল।
অভিষেক কাৰ্য তবে আর কৈল।
সিংহাসনে বসিলেন বাগজি তখন।
এ ধরি লােকে করে চামরব্যজন ।
মেবারের পতাকা উড়িল বায়ুভরে।
সূ চিন্তু ধ্বজা তবে উচ্চ করি ধরে।
“বাগজি আপার জয়” সবে ধ্বনি করে।
বালি রাণা একদিন তরে।
বলিলেন রাণ, “শী কর আয়ােজন।
নারীগণ করিবে জহর পালন ।
বারুদেৱ পশীব্র হুইল রচিত।
নারীগণ চলিলেন হরষিত চিত।
সকলের অগ্রে ধান কর্ণাবতী রাণী।
উয়ের মা আর সঙ্গে রমণী ।
অগ্নি যােগে মহাশৰে বারুদ লিল।
রাজপুত নারীগণ শ্রীভূত হৈল ।
মেঝর মহিলা
এয়ােদশ সহস্র রমণী এই ৰে।
সতীত্ব কল্পি রক্ষা চলেন ত্রিদিবে।
বাগজি লইয়া সব রাজপুত বীর।
খুলিয়া দুগের বার চলেন বাহির।
শকে পশি করে জীবন সংগ্রাম।
যুদ্ধে প্রাণ ত্যজি লতে বীরােচিত খাম।
বাহাদুর রাজা ভবে চিতােরে পশিল।
কি বেশী দিন লেখা থাকিতে নালিল।
হুমায়ুন বাদশাহ সেন চিতােরে।
ই নি বাহাদুর পলায়ন করে ।
চিতাের উরু তরে কেন হুমায়ুন।
আলিলেন কেন মােন তার বিবরণ।
বাহাদুর যখন চিতাের আজমিল।
চিতাের বার বলাে না রহিল ৷
রাণী কর্ণাবতী তবে সাহায্যের তরে।
রাখি পাঠালেন হুমায়ুন বাশারে।
বাদশা সাদরে রাবি করেন শীকার।
বিপদে সাহায্য দিব রে কার ।
সে সময় হুমায়ুন আছিলেন দূরে।
নচে পাইত ৰা চিতাের সেবার
হুমায়ুন আমি করিল শজনে।
বিক্রম পাইল পুনঃ নিজ রাজ্য ফিরে।
মেবার মহিমা
বিপদ হইল এত তথাপি বিক্রম।
নিয়ে সৰ নাহি করে অতি ॥
বাক্যের প্রতি যােগ্য সম্মান না করে
গাতে খাত । 6 ।
অপমানে মুক্ত হয়ে দলপতিগণ।
সল ত্যাগ করি করেন গমন।
হীনবর্ণপুত্র এক আছিল পৃীর।
সীগর্ভে জন্ম হয় না বনৰীর।
মেকার সানগণ করিয়া মন্ত্রণা।
বিক্রমে শরায় করে নবীরে রাণ।
বাজারে দেবতা বলি মানে হিগণ।
কিন্তু অত্যাচারী বৈলে করে বিতাড়ন ।
बादौनामान बाधकौखि
পরে মহিষী যৰে ৰাণী কর্ণাবতী।
হর করিয়া প্রাণ দিলেন সতী।
তার শিশু উদয়েরে করিয়া যতন।
মেরী পা-ধাত্রী করেন পালন।
বনী আগত শিশু দুধ ভাত খায়।
পরে যাত্রীক্রোড়ে ঘুমাইয়া যায়।
মেবার মহিলা
ঘাের কোলাহল হৈল আমারে।
লােদন করেন রাণীগণ উচ্চৈমবরে।
কিবা হৈা বলি ধাত্রী হয়ে ববি।
ভৃত্য কহে বিক্ৰমে বাধিয়ে নবীর ।
ধাত্রী বুঝে নিরাপদে রাজ্য তুর্থিবারে।
বিক্রমজিৎকে নবীর হত্যা করে।
উদয়ের পালা হবে বিমের পরে।
তীবুদ্ধি ধাত্রী তাহা পারে বুঝিবারে ॥
কি করিয়া উদয়ের প্রাণরক্ষা পায়।
গবি অবশেষে এক চিলি উপায়।
ফলের ঝুড়ির মাঝে উজয়ে রাখিল।
পাতা দিয়া তাহার উপর চাঁকি দিল।
ভৃত্য নাপিতের হাতে দিল সেই বুড়ি।
বলিল ইহারে লইয়া যাও দুগ ছাড়ি।
আপন তনয়ে ধাত্রী আমান করি।
গােয়াইয়া রাখে উদয়ের শব্যাবি।
সেই ক্ষণে নবীর পশে সেই ঘরে।
“উদয় কোথায় আছে” পুলি ধাঞ্জীরে।
হয়ে নাহি সরে বাক্য যাত্রীর বনে।
অনুলিতে দেখাইয়া দেয় শব্যাপানে।
নবীর।
বসাইল বালকের হয়ে পর।
অলিনে
মেবার মহিমা
ক্রন্দনের ধ্বনি পুনঃ উঠে অন্তঃপুরে।
সবে ভাবে সঙ্গের তনয় বুঝি মরে।
সেই রাত্রে অগ্নি যােগে বালকের দেহ।
ভস্মসাৎ হৈল সত্য না জানিল কেহ।
কান্দিতে কান্দিতে ধাত্রী চিতাের ছাড়িয়া।
চলিল উদয়ে যথা দিল পাঠাইয়া ॥
হেথা ভৃত্য চিতাের হইতে কিছু দূরে।
উদয়ে লইয়া দাড়াইল নদীতীরে ॥
সেথা আসি মিলে ধাত্রী ভৃত্যের সহিত।
চলিল উভয়ে মিলি দেওলা ত্বরিত।
দেওল রাজার চিতে উপজিল ভয়।
উদয়ে আশ্রয় দিতে স্বীকার না হয়।
ডােঙ্গার পুরে তবে তাহারা চলিল।
সে রাতও ভয় পেয়ে সাহায্য না দিল।
বহু গিরি উপত্যকা অরণা প্রান্তর।
অতিক্রম করি তারা চলিল ইদর।
বনবাসী ভীলগণ সাহায্য করিল।
আরাবল্লী অতিক্রমি কুমীর গেল ।
আশা সাহ” জৈন তথা দুগ অধিপতি।
ক্রোডে শিশু দিয়া বলে ধাত্রী বুদ্ধিমতী।
“দেখহ তাের জোড়ে তোমার রাজারে।
বিপন্ন হয়েছে এৰে বাচাও তাহারে
মেবার মহিমা
ভয় পেয়ে আশা শাহ ইতস্তত করে।
মাতা তার কাছে ছিল বলিল তাহারে।
“বিপদ বইতে শিরে পাও যদি ভয়।
প্রভু প্রতি ভক্তি নাই বুঝি নিশ্চয়।
প্রভুকে রক্ষিয়া কর কর্তব্য পালন :
বিধির ইচ্ছায় হৰে মল সাধন।”
মাতার আদেশে সাহ হইল সম্মত।
উদয়ে রাখিয়া ধাত্রী হয় তবে গত ।
উদ, কমলমীরে কমে বড় হয়।
সবে শােনে শাহজীর ভ্রাতার তনয়।
দেখি বালকের আলোচিত ব্যবহার।
ক্রমে লােকে মনে পরে রাজার কুমার
উরসিংহের রাজ্যাভিষেক
সালু হইতে আসে বীর সহিদাস।
গ আসে ছাড়ি তার কৈলৰা আবাদ ।
বাগাের হইতে স আর বীরগণ।
প্রামার চৌহান বীর করে আগমন।
সম্মুখে দাঁড়ায়ে পান্না বলে সকলেরে।
বাঁচাইল কেমনে সে উদয় সিংহেরে ।
সত্য বলি তার কথা জানিল সকলে।
রাজটীকা পরাইল উদয়ের তালে।
মেবার মহিমা
রাণা হৈয়া বনবীর গর্বিত হইল।
চাবৎ বংয়ের অপমান কৈল ।
তার ব্যবহার দেখি সকল সরি।
তু হৈয়া ভাবে কিসে হবে প্রতিকার।
এতে পৰে নে যবে উদয় জীবিত।
চলে কুমীরে সবে হরষিত চিত।
একে একে সব বীর ছাড়ে বনবীরে ।
বল বনবীর রহিল চিতােরে।।
হেথা উদয়ের পক্ষ লয়ে মন্ত্রির।
আনিল সহ উদয়ের অনুচর।
প্রবেশ করিয়া তাঁর চিতাের মাঝাবে।
দুগৰাকাৰী সৈন্যগণে বধ করে ।।
উদয় হইল রাণা ঘােষণা হইল।
বনবীর অসহায় চিতাের ছাড়িল ।
নাগপুর গিয়া রাজ্য করিল স্থাপন।
বংশধর তাহার শেল রাজগণ ॥
কুমীর হৈতে ফিরি আসিল উদয়।
আনন্দের খােল বড় চিতােরেতে হয়।
অনেক তােরণ দৃষ্টি হইল নগরে।
পত্র পুপ মাল্য দোলে তাহার উপরে।
কদলী বৃক্ষের সারি রোগে গৃহদ্বারে।
বৈতালিকগণ মতলগীত করে।
. মেবার মহিমা
কমলমীর বিদাওনা” নাম সেই গান
আজিও উদয়পুরে গায় নারীগণ।
রাজপথ দিয়া করে উদয় গমন।
রমণীরা লাজালি করে বরিষণ ।
সার্থক হইত সব উৎসব বিজয়।
বংশাচিত বীর যদি হইত উদয় ৷৷
কাপুরুষ কিন্তু হায় আছিল উদয়।
তার দোষে চিতােরের বড় দুঃখ হয় ।
আকবর কর্তৃক চিতোর আক্রমণ
তখন বসিয়াছিল দিল্লী সিংহাসনে।
আকবর বাদশাহ বিখ্যাত ভুবনে।
আছিল যতেক রাজা ধরার উপর।
সকলের বড় বাদশাহ আকবর ||
মােসলেম রাজা কোন শৌৰ্য্য ও বুদ্ধিতে।
আকবর সম হয় নাই পৃথিবীতে।
ভারতে বিশাল রাজ্য করিয়া আপন।
রাজস্থান লৈতে তবে হয় তার মন।
মারার রাজ্য তবে কর আক্রমণ।
তথায় মহা দুগ করিল গ্রহণ।
জরের রাজা তবে ভীরু মল।
তুলিয়া লইল গলে দাসত্ব-শৃঙ্খল।
মেবার মহিমা
প্রভুকে অধিক তুষ্ট করিবার তরে।
নিজ কন্যা দেয় রাজা আকবর করে ।
আকবর সম্বর লইল যখন।
চিতাের হইতে তবে করে আয়ােজন।
লইয়া বিশাল সৈন্য চলে আকবর ।
চারিদিকে অবরােধ করিল চিতাের ।
উদয়সিংহের ছিল রক্ষিতা রমণী।
অপরূপ রূপ তার অতি তেজস্বিনী।
সেনাদের অগ্রে থাকি কৰে ঘাের রণ।
তাহার দৃষ্টান্তে ভয়ে ছাড়ে সেনাগণ |
অকস্মাৎ অন্ধকার গভীর নিশীথে ।
সৈন্য লৈয়া নামে নারী চিতাের হইতে।
মােগল সেনানী সব শীঘ্রগতি সাজে।
বহু সৈন্য বধি নারী ফিরে দুগ মাঝে ।
মােগল সেনার মাঝে আতঙ্ক হইল।
হিন্দুদেৰী করে রণ গুজব রটিল।
একবার মােগলের বহি ভেদ করি ।
সম্রাট শিবির কাছে গিয়াছিল নারী ॥
অবশেষে বাধ্য হয়ে সেনা উঠাইয়া।
আকবর চলে দিল্লী নগরে ফিরিয়া ।
চিতাের উৎসব সাহে সাজিল আবার।
আনন্দে উল মুখ হয় সবাকার ॥
মেবার মহিমা
সতা মাঝে বসে রাণা উকাল-সন।
পরিহাস করি তিনি বলেন বচন।
এবার মােগল সাথে যু যে হইল।
পুরুষ অপেক্ষা নারী শো দেখাইল।
নি অপমানে ক্ষুব্ধ হয় বীরগণ।
রাণ ফিতা খ্রীরে করিল হন।
• হৈয়া রাণা বহুলােকে শান্তি দিল।
বিবাদ ও অসন্তোষ অধিক বাড়িল ।
গৃহ বিবাদের কথা শুনে আকবর।
বিল এ সুসময় লইতে চিতাের ।
পূৰ্ব হৈতে বেশী সৈন্য সংগ্রহ করিল।
বহু আগ্নেয়া তার সঙ্গেতে লইল।
চিতােরের কাছে
গিয়া ফেলিল ছাউনি।
পাালি হইতে বুলি পাচ ক্রোশ জিনি।
উপলক্ষ্য করি রাণা চিতাের মডিয়া।
পরিবার সহ যান দূরে পলাইয়া ।
তথাপি আছিল সেথা বহু বীরগণ।
চিতাের রক্ষার তরে করে প্রাণপণ ॥
পও ও করল
চণ্ডৰংশধর সেথা সহিদা বীর।
রক্ষে সূৰ্য্যপােল ব্যর বিপদে অস্থির ।
১৪
মেবার মহিমা
তাহার সাহস শেষ হয় চমৎকার
প্রতাপে শরে ব্যর্থ করে বার বার।
ততে প্রাণ শেষে করি ভীষণ সময়।
সেনাপতি হয় তবে পুত্তীরবর।
বােড়ণবৰীয় ৰীর অভিমন্য প্রায়।
পূর্ব যুদ্ধে তাঁহার পিতার প্রাণ যায় ।
রাজপুত বীরগণ সকলে মিলিয়া ।
সেনাপতি করে সবে পুওকে ডাকিয়া ।
পুত্তের জননী ইহা করিয়া শ্রবণ।
তনরে ডাকিয়া হবে বলেন বচন।।
তােমার অদৃষ্ট বড় ভাল বলি মানি।
এত ছােট সেনাপতি কভু নাহি শুনি।
তৰ পিতা যুদ্ধে যবে ত্যজিল জীবন।
সহমৃতা হৈৰ বলি মাের হয় মন।
অতি শিও ছিলে তুমি তােমার কারণ।
তােমারে পালিৰ বলি রেখেছি জীবন।
সার্থক হয়েছে এম আলি মানিলাম।
তােমার বীরত্ব কথা কণে নিলাম ।
বাও পুত্র যুদ্ধ ক্ষেত্রে ত্যহ জীবন।
তােমার বীরবণে ভরুক ভূবন ।
আমিও বােগ এই কৰি গ্রহণ।
তােমার পিতার সাথে করিতে মিলন।
১৫
মেৰার মহিমা
এত বলি বীরমাতা অসি ব লয়ে।
যুদ্ধযাত্রা করিলেন স্বামী চিন্তা করে।
হেনকালে পুত্তপত্নী করি আগমন।
শরে বিনয় করি বলেন বচন ।
আমারে ফেলিয়া মাতঃ যাহ কি কারণ।
অনুমতি কর সাথে করিব গমন।
শুনিয়া পুত্তের মাতা চাহে বধূ পানে।
অশ্রুজল ভরি আসে মাতার নয়নে।
বাষ্পরুদ্ধ কঠে তবে বলেন বচন।
আদবে বধূর মুখ করিয়া চুম্বন।
যে দিন তােমারে বাছা আনিলাম ঘরে।
কতই না সাধ মাের আছি অন্তরে ॥
এ কোমল দেহ বৰ্ম্মে আবৃত করিয়া।
যুদ্ধ ক্ষেত্রে হবে যেতে সাথেতে লইয়া ।
সপনেও হেন চিন্তা কভু আসে নাই।
ভাবিতাম কিসে সুখী রহিবে সদাই।
বিধাতার ইচ্ছা তবে হউক পূরণ।
যবনের সাথে চল করি গিয়া রণ ।
এতবলি বধু দেহ বৰ্ম্মে আচ্ছাদিল।
তরবারি আনি তার হাতে তুলি দিল।
প্রস্তর মূর্তির সম পুও রহে চেয়ে।
রাজপুত বীরগণ দেখেন উভয়ে।
মেবার মহিমা
সূৰ্য্য তাহাদের রূপ পাননি দেখিতে।
রাজপথে এবে সবে দেখিল চলিতে ৷
রাজমাগ অতিক্রমি চলে দুগৰারে।
মাইজি জয় শবে বলে সময়ে।
একে একে দুগধার সাতটি খুলিল।
দুগ ছাড়ি বীরনারী উভয়ে চলিল।
কালানুক যম সম পর মাঝারে।
পশিলেন দুইজন মৃত্যু লভিবারে।
মাতা পত্নী উতে যবে মরে হেন মতে।
পুত্তও মরিল যুদ্ধ করি বিধিমতে ॥
পুও যবে লভিলেন বীরােচিত গতি।
রাঠারিয়া জয়মল হন সেনাপতি।
জয়মল তুল্য বীর না ছিল ভারতে।
তাহার সহিত শত্র না পারে যুঝিতে।
যেখানে বিপদ সেথা হন অগ্রসর।
সকলের আগে থাকি করেন সমর।
বার বার ব্যথ যত্ন হন আকবর।
কেমনে লইবে দুগভাবে নিরন্তর।
যতদিন জয়মল রহেন জীবিত।
পারি না দুগ নিতে করেন নিশ্চিত।
একদিন আকবর বসিয়া শিবিরে।
দেখিলেন মুক্তি এক দুগের প্রাচীরে।
মেবার মহিমা
সৈন্য সমাবেশ করে অতি শীঘ্রগতি।
বেশ দেখি বিলেন হবে দলপতি।
বন্দুক সংগ্রাম নামে নিজ হস্তে তুলি।
তাহারে করিয়া লক্ষ্য ছুডিলেন গুলি ॥
সেই ব্যক্তি জয়মল নহে অন্য কেহ।
গুলি বিদ্ধ হয়ে তার ললাটাইল দেহ।
আঘাত পাইয়া মনে ভাবিলেন জয়।
চিতোর রক্ষার আর আশা নাহি হয় ।
উত্তর প্রাচীর নষ্ট হয় গােলাঘাতে।
বেশী দিন আর না পারিবে দাড়াইতে ।।
কেমনে সংস্কার তার হবে বিধিমত।
গােল গুলি বরিষণ হয় অবিরত।
দূর হৈতে গুলি'খেয়ে যাইবে পরাণ।
না চাহি এ হেন মৃত্যু বড় অপমান ।
অসি হন্তে শক্রমাঝে করিয়া গমন।
মুঝিয়া বীরের মত ত্যজিব জীবন ।।
শেষ সভা ডাকি সবে নিজ অভিপ্রায়।
বলিলেন ব্যক্ত করি জয়মল রায়।
সকলে বলেন এই প্রস্তাব উত্তম।
করিয়া সম্মুখ রণ ত্যজিৰ জীবন।
আবার অনলকুও জ্বালে সবে মিলে।
একে একে নারীগণ পশিল অননে ॥
১
মেবার মহিমা
রাজপুত বীর যারা অবশিষ্ট ছিল।
সম্মুখ সংক্রাম করি জীবন ত্যজিল।
নয় রাণী পাচ রাজকন্যা দুই শিশু।
এই ঘাের মহাযুদ্ধে হইল গতা
জয়ােদশ সহস্র রমণী ধৰ্ম্ম তরে।
পশিল অনলকুণ্ডে প্রাণ ত্যজিরে।
ত্রিংশৎ সহস্র বীর নর নারীগণ।
স্বদেশের তরে করে জীবন অর্পণ ॥
শ্মশান সদৃশ পুরে পশে আকবর।
মন্দির প্রাসাদ আদি ভাঙ্গিল বিস্তর।
চিতোরের রাজচিন্তু সব লুপ্ত করে।
বৃহৎ নাকাডা লয়ে যায় স্থানান্তরে।
মন্দির হইতে লয় ঝড়ের লণ্ঠন।
নিজ বাজধানী তরে লইল তোরণ।
পুত্র জয়মল বীর দুজনার নাম।
রাজপুত গৃহে গৃহে পাইছে সম্মান।
সি-রে করিয়া লিপু পুত্তের মূরতি।
দেবতার ন্যায় পূজে করিয়া ভকতি ।
আছুক হিন্দুর কথা শক্ত আকবর।
নিৰ্মাইল উভয়েরে মুক্তি মনােহর।
দিল্লীতে তাহার রাজপ্রাসাদ দুয়ারে।
স্থাপিল দুইটি মূর্তি অতি সমাদরে।
মেবার মহিমা
প্রতাপসিংহের রাজ্যাভিষেক
হেথায় উদয় রাণা ত্যজিয়া চিতাের।
কিছুদিন বেড়াইল অরণ্য ভিতর।
নগর উদয়পুর করিল স্থাপন।
চারি বর্ষ সেথা করে প্রজার পালন।
মৃত্যুকালে জ্যেষ্ঠ পুত্র প্রতাপে বঞ্চিযা ।
জয়মল হবে রাণা গেলেন বলিযা ।
জয়মল যায় সিংহাসনে বসিবারে।
প্রতাপ চড়িছে অৰে চলি যাইবারে।
হেনকালে কৃষ্ণ নামে বৃদ্ধ চলাবৎ।
উঠাইল জয়মলে ধরি তার হাত ।
এই সিংহাসন তব ল্যেষ্ঠের আসন।
ভ্রম বশে তুমি ইহা কর আরােহণ।
একে একে উঠি সব বৃদ্ধ দলপতি।
প্রতাপে মানিল রাণা করিয়া প্রণতি ॥
রাণা হৈয়া প্রতাপের সুখ নাহি ৰয়।
যতদিন চিতাের না উদ্ধার করয় ।
যে চিতাের বাপ্পাবী করিল বিজয়।
কত পূর্ব পিতৃগণ যেথা রাণা হয়।
কত শত বীর রক্তে ভিজে মাটি বার।
কত সতী পশিয়াছে অনল মাঝার ॥
মেবার মহিমা
শত্রু আজ করিয়াছে তাহা অধিকার।
প্রবেশ করিতে শক্তি নাহিক তাহার ।
এ চিন্তা হৃদয় তার দহে অবিরাম।
আহারে নাহিক সুখ শয়নে বিশ্রাম ।
নাহি তার রাজধানী কোষ শূন্য প্রায়।
বার বার যুদ্ধে সব বীর ধ্বংস পায়।
ভারতের বাদশাহ বিপক্ষে তাহার।
অগণিত সৈন্য অস্ত্র অর্থবল যার ।
রাজপুতনার ছিল যত নৃপবর।
মাড়বার বিকানীর বুন্দি ও অম্বর।
এ দুর্দিনে মেবাবের পক্ষ ত্যাগ করি।
যায় যবনের পক্ষে ধৰ্ম্ম পরিহরি।
বলিতে বিষম লজ্জা প্রতাপের ভাই।
মােগলের ভৃত্য হয়ে করিল লড়াই ।
কিন্তু প্রতাপের ছিল বীরের হৃদয়।
বিপদে কখনও নাহি মানে পরাজয় ।
বিপদ যতই বাড়ে পর্বতের মত।
হৃদয়ে সঙ্কল্প তার দৃঢ় হয় তত।
প্রতি গিরি প্রতি উপত্যকা রাজনে।
তাঁহার বীরত্বেপূত চরিত্র বাখানে।
প্রতি রাজপুত নিজ হৃদয়মন্দিরে।
পিয়া তাহার স্মৃতি পূহে ভক্তিভরে।
মেবার মহিমা
পঞ্চ বিংশ বর্ষ ধরি আকবর সই।
প্রতাপ করেন যাের রণ হরহ |
কভু গিরি হইতে নামি আসেন ধাইয়া।
গিরি হইতে গিরি কভু যায় পলাইয়া ।
আতার অভাবে হয় স্ত্রী-পুত্র কাতর।
কষ্টে বৃক্ষতলে যাপে নিশী শীৱবর
সন্ধি কৰিবারে আসে আকবর দূত।
বাদশা ছাডিতে বাত্য আছেন প্রস্তুত।
আকবরে রাজা বলি হইবে মানিতে।
এই সন্ত্র শুধু হবে পালন করিতে ॥
প্রস্তাব শুনিয়া রাণা কুতিত অন্তর।
কিছুতে স্বীকার নাহি হয় বীরবর।
যদিন বহে প্রাণ এ দেহ মাঝারে।
রাজা বলি তাতে নাহি পারি মানিবারে।
বন্য ফল মূল খাব গরণ্যে রহিব।
তথাপি মােগলে প্রভু বলি না মানিব।
প্রতাপ রাণার ছিল যত অনুচর।
মােগল তাদিগে লােভ দেখায় বিস্তর ।
কেন বৃথা কষ্ট পাও প্রতাপে সেবিয়া।
ভু খমান বহু তাহারে ত্যজিয়া।
বিশ্বাসঘাতক কিন্তু কেহ নাহি হয়।
আনন্দে প্রভুর সহ দুঃখ বৰি লয়।
মেবার মহিমা
চন্দাবৎ জয়মপুত্তের সন্তান।
রাণ ভরে ফুমনে করে প্রাণ দান।
প্রতাপের শৌর্যে মুগ্ধ হয়ে বীরগণ।
স্বেচ্ছায় বিপদ দুঃখ করেন বরণ।
এই মতে যুদ্ধ করে প্রতাপের দল।
তঁাহার চরিত্রে হয় ভারত উল ॥
প্রতিজ্ঞা করেন রাণা অজেয় হৃদয়।
যতদিন চিতোরের উদ্ধার না হয়।
ততদিন ভুজপত্রে করিব ভােজন।
তৃণশয্যা পাতি তাহে করিব শয়ন |
ত্যজিৰ যতনে সব বিলাস আরাম।
শক্রয় ভিন্ন নাহি রবে অন্য কাম ॥
আদেশ করেন রাণা তব প্রজাগণে।
সমতল ছাড়ি যেন যায় সবে বনে।
মােগল বিজিত দেশ ছাডি সবে চলে।
সে প্রদেশে একটীও দীপ নাহি জুলে ।
একদিন চলে রাণা অনুচর সহ।
দেখে যদি আদেশ অন্যথা করে কেহ।
নিজ চক্ষে দেশের যে অবস্থা দেখিল।
তাহে অশ্রুজলে তার নয়ন ভাসিল।
বহুলােক গৃহপুর্ণ আছিল যে দেশ।
মরুভুমি প্রায় হয় নাহি শব্দ লেশ।
মেবার মহিমা
শস্য পরিপূর্ণ যেই ছিল বসুন্ধরা।
এখন হইল তাহা তৃণ গুলু ভর।
জম্মিল বাবুল গাছ রাজপথ ভরি।
চলিতে না পারে কেহ তাহার উপরি ।
যেই গৃহমাঝে লােক করি বসতি।
ব্যাঘ্ৰ আদি বাস করে তাহাতে সম্প্রতি।
বােনাস নদীর তীরে একটা রাখাল।
নাহি কেই ভাবিয়া চরায় মেষপাল ।
হেনকালে রাণা তথা হন উপনীত।
রাখালে দেখিয়া তিনি অতি চিত।
পুছে তারে কেন মেষ চরাইছ হেথা ।
জানিয়া আদেশ কেন করিছ অন্যথা।
রাজাদেশ যদি নাহি মানে একজন।
ক্রমে ক্রমে কেহ নাহি করিবে পালন।
নিরুৱেগে শত্রুরা ভুখ্রিবে এই দেশ।
ব্যথ হবে আমাদের প্রয়াস অশেষ ।
অবিশ্বাসী রাজদ্রোহী যেই ব্যক্তি হয়।
মৃত্যু সমুচিত ও তাহার নিশ্চয় ।
এত বলি নিজ অপি করিয়া বাহির।
হতভাগ্য রাখালের কাটিলেন শির ॥
১০৪
মোর মহিমা
বা প্রতাপও রাজা মানসিংহ
হেথা ভরমল নামে জয়পুর পতি।
আকরে প্রভু বলে করিয়া প্রণতি ।
বাদশাহে বেশী তুষ্ট করিবার তরে।
নিজ কতা সমর্পণ করে তার করে ॥
ভরমল পৌত্র মানসিংহ নাম তার।
হয় বড় সেনাপতি মােগল সেনার।
সুদূর কাবুল হৈতে বাঙ্গলা অবধি।
যুদ্ধে জয় করে মানসিংহ শৌর্য-নিধি ॥
প্রতাপ যদিও ছিল প্রতিপক্ষ রণে।
মানসিংহ তথাপি প্রতাপে বড় মানে।
একবার শােলপুর করিয়া বিজিত।
মানসিংহ ফিরিছেন হরষিত চিত।
মেবারের পাশ দিয়া চলেন যখন।
ভাবেন প্রতাপ সাথে করিব মিলন ॥
প্রতাপের কাছে দূত করেন প্রেরণ।
প্রতাপ করিতে দেখা অগ্রসর হন।
উদয়সাগর তীরে প্রতাপ শাসিয়া।
মানসিংহ তরে সেথা মহেন বসিয়া ।
যথাকালে মানসিংহ হৈয়া উপনীত।
দেখেন তােজন দ্রব্য সকলি সজ্জিত।
মোর মহিমা
প্রতাপ না ছিল তথা তাহার তনয় ।
অমর আসিয়া মানে আগ বাড়ি লয় ।
প্রতাপ না আসে কেন তাহার কারণ।
মানসিংহ পুছিলেন, ক্ষুব্ধ তার মন।
ইতস্ততঃ করি তবে বলিল অমর।
“শিরঃপীড়া হেতু পিতা হয়েছে কাতর।
অপেক্ষা করিতে পিতা করেছে বারণ।
দয়া করি এই অঞ্চ করুণ গ্রহণ।।”
গম্ভীর হইয়া “মান” বলেন বচন।
“কেন তার শিরঃপীড়া জানি সে কারণ।
এই কথা পুছি তারে করিয়া বিনয় ।
শিরঃপীড়া যতদিন আরােগ্য না হয়।
ততদিন মােয়র সাথে একত্র আহার ।
কভু নাহি হবে ইহা ইচ্ছা কি তাহার?”
ইহা শুনি প্ৰতাপ জানান দূতমুখে।
“একত্রে আহার করি নাই বড় দুঃখে ।
নিজ অমী মােগলের হাতে দেন যিনি।
মােগলের সাথে খানা খান মনে জানি ।
প্রতাপ তাহার সাথে খাইতে না পারে।
এই কথা দূত তুমি বলিও তাহারে।”
অপমানে “মান” নাহি করিল তেনি।
উঠ দেবতারে করি অন্ন নিবেদন।
১০৬
মেবার মহিমা
যাইবার কালে “মান” বলে নাের ভরে।
“হবে তব গর্ব আমার এ করে।
এই দেশে প্রতাপ না পাইবে আয়।
নচেৎ আমার নাম মানসিংহ নয় ।
প্রতাপ সম্মুখে আসি বলেন বচন।
‘সুখী হব যদি পুনঃ পাই দরশন।
প্রতাপের অর বলে ব্য ভরে।
সঙ্গেতে আনিবে তব পিস। আকবরে।”
ভােজন সামগ্রী ছিল সে ভূমি উপরে।
খুড়ি তাহা গঙ্গাজল দিয়া শুদ্ধ করে।
যে সকল রাজপুত উপস্থিত ছিল।
স্নান করি ব ঘড়ি পৰিত্ৰ হইল।
এ সকল কথা যবে শুনে আকবর।
হইল সে অতিশয় কুপিত অত্র ।
প্রতাপ সিংহেরে সমুচিত দণ্ড দিতে।
আজ্ঞা পায় সেনাপতি সৈন্য সাজাইতে।
দিনী ছাড়ি আকবর চলে আমার।
নিজে নিবে যুদ্ধতার করে ইহা স্থির।
যুবরাজ সেলিম হইল সেনাপতি।
রাজা মানসিংহ চলে সৈন্যের সংহতি ।
মেবার মহিমা
হলদিঘাটের যুদ্ধ
চারিদিকে শৈলমাল মধ্যে স্রোত করে খেলা
হলদিঘাট বিশাল প্রান্তর।
সেখা লয়ে সৈন্যগণ
প্রতাপ করিতে রণ
রহিলেন নিভীক অন্তর।
বাইশ হাজার সেনা বহু চেষ্টা করি নানা
সংগ্রহ করিয়া রাখে সে।
মােগলের সৈন্যগণ
সংখ্যাতীত অগণন
মানসিংহ আসে হৃষ্ট চেতা।
কামান বন্দুক নানা আনে মােগলের সেনা
হস্তী অশ্ব বহু সাজাইয়া।
প্রতাপ পর্বত শিরে তীরন্দাজ ভীলবীরে
সাজাইল কৌশল করিয়া ।
দুই সৈন্য মুখােমুখি
অােগ হইল দেখি
গােলন্দাজ চালাই গােলা।
প্রতাপ না পায় ভয় হৃষ্ট হইয়া অতিশয়
শত্রু সৈন্য মাঝারে খাইল।
মানসিংহ স্থিরমতি আশ্চৰ্য্য হইল অতি
হেন বশ কভু নাহি দেখে।
মুষ্টিমেয় সৈন্য লয়ে আসিছে অকুতােভয়ে
মৃত্যুরে আনিছে রাণা ডেকে।
১০
মেবার মহিমা
সম্মুখে দক্ষিণে বামে
কামান অনল হানে
আজও গ্রাহ নাহি করে।
লােহিত পতাকা উড়ে যেন প্রলয়ের ঝড়ে
ঘৰ্ম্ম ঝরে অল্প কলেবরে ।
শত্রু ব্যুহ ভেদ করি ছিন্ন ভিন্ন করি অরি
ছুটিলেন প্রতাপ সম্মুখে।
মানসিংহ কোথা আছে মােগল বাহিনী মাঝে
তারে খুজি ছুটে চারি দিকে ।
কোথায় গেলেন রাণা বলি রাজপুত সেনা
ছুটে চলে তাহার পশ্চাতে।
বরষার ধরা সম
হয় অঞ্জ বরিষণ
কেহ গ্রাহ করে না তাহাতে |
“রাণাকে বাঁচাতে হবে” বলি দলপতি সবে
ধেয়ে যায় তার চারিধারে।
সরে দল সম
সেথা শত্রু অগণন
রাণা চলে তাহার মাঝারে ॥
মানসিংহে নাহি পায় কিন্তু দুরে দেখা যায়
হস্তি পৃষ্ঠে রহেছে সেলিম।
ছুটিল প্রতাপ সেথা সবে নিষেধিল বৃথা
এ হেন বীরত্ব অপ্রতিম ।
সেলিমের চারিধারে শরীর রক্ষক মরে
ভেদ করি প্রতাপ চলিল।
মেৰাৰ মহিমা
প্রতাপে রােখিতে পারে হেন শক্তি নাহি ধরে
রক্ত স্রোত পৃথী ভাসাইল।
সেলিমের হন্তি শিরে দুই পদ তুলি ধরে
প্রতাপের ঘােটক চৈতক।
প্রতাপের বর্ষাঘাতে মাহত পড়ে ভূমিতে
প্রমাদ গণিল শত্র লােক ||
হাওদার চারিধারে লোহার বেষ্টনী ঘিরে
সেথা বর্ষা বিফল হইল।
পৃষ্ঠে লয়ে সেলিমেরে হস্তি দাড়াইল ফিরে
তীর বেগে ছুটি পলাইল ।
প্রতাপের শিরােপরে রকবল শােভা করে
বহুদূর হৈতে দেখা যায়।
করি ঘাের কলরব
ছুটেআসে শত্রু সব
চারিদিকে বেড়িল রণায় ৷
আমি করে ঘাের রণ
বাঁচাইতে হইবে রাণারে।
কেমনে রাণারে লয়ে
যাইবে বাহির হয়ে
সবে চিন্তে হৃদয় মারে।
কত মৈল কি কৰ
শােণিতের স্রোত বহি যায়।
হিন্দু আর মুসলমানে কোন কােন নাহি মানে
সবে শোয় অন্যায় ।
রাজপুত সৈন্যগণ
পাকারে হৈল শৰ
মেবার মহিমা
শিরে রাজছত্র শোতে, ছত্র রাখ” বলে সবে
ছত্র দেখি চিনেছে তােমারে
রাণা বলে “নাহি হবে শক্র সে হাসিয়া কবে
ভয়ে রাণা রাজচিহ্ন ছাড়ে।
একবার দুইবার
বার বার তিন বার
হিন্দু করে রাণারে উদ্ধার।
যত বার ত্রাণ করে
পুনরায় শত্ৰু ঘিরে
আজিকার বিপদ দুৰ্বাৰ ৷
সাতটি অস্ত্রের চিহ্ন
করে রাণা দেহ ছিন্ন
যুঝে রাণা জ্বক্ষপ না করে।
বর্ষার ক্ষত তিন
একটি গুলির চিন
তিন ক্ষত হয় তরবারে।
আর না বাচান যায়
সমূত্র তরঙ্গ প্রায়
আসিতেছে শত্ৰু অবিরাম।
হেন কালে তার করি
রাজ ছত্ৰ লয় কাড়ি
ঝালাপতি মামা তার নাম ।
শিরে রাজ চুত্র নয়ে মায়া চলিলেন ধেয়ে
আরও বেশী শত্রু সৈন্য মাঝে।
শত্রু ভাবে ঐ বুঝি রাণা চলিছেন বুঝি
ছুটে যায় ঝালাপতি কাছে।
নিজ বীরগণ লয়ে
শত্রু পরিবৃত হয়ে
ঝালাপতি ত্যজেন জীবন।
মেবার মহিলা
“মােদর জীবন যাক রাণা পরিত্রাণ পাক”
শেষ চিন্তা করে বীরগণ।
“মামা বংশধর যত আজি হৈতে অবিরত
রাজচিহ্ন সকল ভুঞ্জিৰে ।
কৃত হয়ে রাণা
করিলেন এ ঘােষণা
“মাের পাশে দক্ষিণে বসিবে”
চৈতক রাণার অশ্ব অবকাশ পায়।
প্রভুকে লইয়া তবে পলাইয়া যায় ।
খােরাসানি মুলতানী দুই সেনাপতি।
প্রতাপ রাণার পাছে ছুটে শীঘ্র গতি।
সম্মুখে আছিল পথে ক্ষুদ্র এক নদী।
চৈতক লাফ দিয়া পার হয় যদি ।
নদী পার হৈতে দেরী করিল যবন।
চৈতক ছুটিয়া আগে চলে ততক্ষণ।
কিন্তু অস্ব হয়েছিল শ্রান্ত কলেবর।
বহু অস্ত্রাঘাতে রক্ত পড়ে নিরন্তর ।
দ্রুতপদে ছুটিরে আর পারিল না।
শত্রু অশ্ব পদধ্বনি পাছে শােনে রাণা |
অবসন্ন হয়ে আসে রাণার শরীর।
শক্র হস্তে প্রাণ বুঝি ত্যজিবেন বীর।
হঠাৎ কাহার কথা যেন পরিচিত।
শুনি হইলেন রাণ। অতি চমকিত ।
১১২
মেবার মহিলা
পিছু হতে বার বার আসে কনি।
“হে মীল ঘােড়র সাের খাড়া নহ তুমি।
দেখিলেন রাণা চেয়ে পিছন ফিরিয়া ।
ভ্রাতা শক্ত আসিতেছে গণ রোহিয়া ।
বহু পূর্বে শক্তসিংহ প্রতাপে ছাড়িয়া।
মােগলের পক্ষ নিছিল দিল্লী গিয়া ॥
মােগলের পক্ষ হয়ে শক্ত যু করে।
দেখে কে পলায়ে যায় নীল খপরে ।
প্রতাপের শৌর্য দেখে মুগ্ধ হয়েছিল।
বিপদ দেখিয়া তার কাতর হইল ।
অশ্ব ছুটাইয়া শক্ত চলে তার পাছে।
ক্রমে আসে শক্ত দুই মােগলের কাছে।
অলির আঘাতে তারা উভয়ে পড়িল।
ভয় নাই বলি শক্ত প্রকাশে অকিল।
দুই ভাই স্নেহভরে করে মালিন।
সেইক্ষণে ক্লান্ত শ ত্যজিল জীবন ।
প্রভুভক্ত তরে স্মৃতি স্তম্ভ হয়।
চৈতকের চবুতরা লােকে জাজও কয়।
ওরে নীল অষের ভালাে, তুমি গড়া।
১১৩
মেবার মহিম
প্রতাপে হg
=
এই মতে হলদিঘাটে যুদ্ধ শেষ হৈল।
রাজপুত চতুর্দশ সহস্র মরিল।
রাণার নিকট আতি মরে পাঁচশত।
রাণার দেশ অনুচর হৈল হত ।
বহুদিন পূর্বে গলিয়র ভূপতি।
রাজ্য হারাইয়া করে মেরে বসতি
তার সাথে ছিল বহু অনুচরগণ।
অতিথি বৎসল রাণা করেন পালন।
প্রাণ দিয়া আজ ঋণ পরিশােধ করে।
রাজা পুত্র আর পাঁচশত অনুচরে।
কুমীরে যায় রাণা যুছে যবে হারে।
মােগল সেনানী তাহা অবরােধ করে।
রাণার বীরকে দুর্গ না পারে লইতে।
ষড়যন্ত্র করে কূপ-জলে বিষ দিতে।
দুর্গ ছড়ি বান রাণা পত মারে।
ভাস সােণিগুয়া রহে দুর্গ রক্ষা তরে।
শত্রু যবে দুর্গ লয় ভান দেয় প্রাণ।
সেই সঙ্গে রাজকবি স্বর্গধামে যান।
চিল যে সব কে সেই কবির।
আজিও মেবারে শােনা যায় নিরন্তর।
১১:
মেবার মহিমা
দেশের দুর্দিনে কৰি ধরিলেন আসি।
ঘাের বিপদের মাঝে চলি যান হাসি।
মানসিংহ মহাবৎ খ ফরিদ মিলে।
চারিদিক হৈতে রাণারে ঘিরি ফেলে।
এক গিরি হৈতে রাণা অন্য গিরি যান।
দুই দিন একলে বিশ্রাম না পান।
তথাপি প্রতাপসিংহ ক্লান্তি নাহি মানে।
সুযােগ পাইলে যুদ্ধ করে শত্রু সনে।
একদা ফরিদ পান রাণার সন্ধান।
গিরি পথে চলি তারে ধরিবারে যান ।
অকস্মাৎ প্রতাপ নামিল গিরি হৈতে ।
আগে পাছে অবরােধ করিল ফরিতে।
দুই পাশে উচ্চ গিরি যাইবে কোথায়।
একটা মোগল সেনা রক্ষা নাহি পায় ।
এইরূপে যুদ্ধ চলে কাটে বহুদিন।
প্রতাপের ক্ষুদ্র সেনা ক্রমে হয় ক্ষীণ।
পুত্র পরিবার সব পাছে বন্দী হয়।
এই ভয়ে রাণা সদা চিন্তিত হৃদয়।
একবার শক্ত অতি নিকটে আসিল।
প্রভুক্ত ভীলগণ সবে রক্ষা কৈল।
বেতের ঝুড়ির মাঝে সকলে রাখিয়া।
কঁাধে লয়ে তীলগণ যায় পলাইয়া
মেবার মহিমা
খাত দিয়ে বহু যত্বে পালন করিল।
সত্য এবং কত তাহা দেখাইল।
বহু কষ্টে দুশ্চিন্তায় কাটিছে জীবন।
স্বাধীনতা রাখে তবু রাণা দৃঢ়পণ।
এহেন মহত্ত্ব কেহ নাহি দেখে কোথা ।
প্রতি রাজপুত বীর নােয়াইল মাথা।
শত্র মাঝে ছিল যার উদার চরিত।
তারাও মহত্ব দেখি হইল মােহিত ।
আকবর সভা প্রধান যে ন।
খান খান নাম তার অতি উচ্চ মন ।
রচিত কবিতা এক অতি মনােহর।
প্রপের বীজে প্রণংসে বহতর।
“সকলই নশ্বর,এই পৃথিবী মারে।
বন ভুমি কিছু না রবে চিরতরে।
মহতের গুণাবলি বহিবে সতত।
প্রতাপের শীর্ষে দেশ য় সমুজত।
হে প্রতাপ ছাড়িয়াছ ধন রাজ্য সব।
কন্তু সর্ব উচ্চে দেখি ােতে শির তব ।
বিদেশী বিধর্মী মামি চরণে তাের।
বার বার ভক্তি-রে করি নমস্কার ।”
এই মতে গোৰু লিখি পাঠার মােগল।
ফু হয় এপের বদ-কমল।
মোর মহিমা
হেথ আকবর সদা গবে এই কথা।
কি করিয়া প্রতাপের নােয়াইবে মাথা
আমি হই শ্রেষ্ঠ রাজা পৃথিবী মাঝারে।
ভিখারী প্রতাপ মােরে মা নাহি করে।
এই কথা তার মনে হয় অবিরাম।
না পায় আহারে মুখ শয়নে আরাম।
ছিল শ্রেষ্ঠ বীর যত সেনানী মাঝারে।
পাঠান সকল জনে যুদ্ধ করিবারে।
তথাপি অজেয় নহে প্রতাপের মন।
খাদ্য নাই গৃহ নাই তবু করে রণ ॥
আকবর আদেশ দিলেন সৈন্যগণে।
প্রতাপে করিবে এই যেমন তেমনে।
অরণ্য পর্বত বেথা লউক আশ্রয়।
বিশ্রাম করিতে তারে দিবেনা সময়।
মােগল প্রতাপে কষ্ট দেয় নানা মতে।
অবসর নাহি দেয় খাইতে খাইতে।
আছে সীমা বার বেশী না যায় সহন।
প্রতাপের কষ্ট সীমা করিল লঙ্ঘন ।
এই সময় আকবরের রায় ক্ষমতাশালী সম্রাট
বাস্তবিক পৃথিবীতে ছিল না।
১১৭
মেবার মহিমা
প্রিয়তমা পত্নী আর পুত্র কন্যাগণ।
আহার অভাবে হায় করেন রোদন।
দুগ্ধফেননি শষ্যা অত্যন্ত যে জন।
গুহা মাঝে ভূমি পরে করিছে শয়ন।
সেখানেও প্রিয়জন নিরাপদ নয়।
শত্ৰ বুঝি আসে ঐ সদা হয় ভয়।
আহার প্রস্তুত করি যাইছে বসিতে।
সংবাদ আসিল শত্রু আসে আচম্বিতে।
করে পলায়ন সবে ত্যজিয়া আহার।
একবার নয় হেন হয় পাঁচবার ।
পত্নী আর পুত্রবধূ মিলিয়া উভয়।
বন্য শস্য হৈতে রুটি করে খান কয়।
এক এক পুত্র কন্যা পায় এক কটি।
এখন খাইবে অঞ্জ রাখিবে অর্থটি ।
নিকটে খাটিয়া পাতি প্রতাপ শয়ান।
নিৰ ভাগ্য কথা ভাবে মুদিয়া নয়ন।
শুনিল হঠাৎ এক করুণ চীৎকার।
উঠি দেখে কন্য। কাঁদে করি হাহাকার।
সনের বিড়াল এক আঁচড়ি করে।
পলায়েছে কটি লয়ে বনের মাঝারে ।
ক্ষুধায় কাতর বালা করিছে জন।
দেখিয়া এ দৃশ্য টলে প্রতাপের মন।
মেবার মহিমা
পূৰ্বে দেখিয়াছে রাণা করে যবে রণ।
শত্র অস্ত্রাঘাতে মরে নিজ জাতিগণ ।
প্রাণপ্রিয় পুত্র মরে তাহার পার্শ্বেতে।
তথাপি ত হয় নাই দুঃখ রাণা চিতে।
বার যুদ্ধে মরে তাহে কিবা শােক আর ।
এইরূপ মৃত্যু ভরে জীবন তাহার ।।
কিন্তু শিশু খাদ্য তরে ক্রন্দন কয়।
এ কষ্ট তাহার আর সহ নাহি হয় ।
হেন মতে আমি রাজা না চাহি থাকিতে।
আকবর পাশে রাণা পাঠাইল দুতে।
“আকবর আজি প্রভু মানিলাম আমি।
লয়ে যাও সৈন্য তব ছডি মাের ভুমি ।
দূত-মুখে আকবর শুনিল সংবাদ।
হৃদয়ে হইল তার বড়ই আহলাদ ।
আজিকে হইল পূর্ণ তাহার বাসনা।
আনন্দের আজ তাই নাহিক সীমানা।
আদেশ দিলেন আজ দিল্লী নগরীতে।
দীপমালা দিয়া প্রতি গৃহ সাজাইতে।
রাজপথ তরণেতে হবে অলঙ্কত।
শালাইয়ের মিষ্ট ধ্বনি হইবে ঝঙ্কত।
এত বলি পৃথীলে ডাকিয়া আনিল।
সগর্বে রণার লিপি তাকে দেখাইল।
১১১
মেবার মহিমা
পৃথী ছিল বিকানীর বাজার কনিষ্ঠ।
সংগ্রামে নিপুণ তথা কবিকে বরিষ্ঠ ।
বাধ্য হৈয়া থাকিত সে মােগলের সাথে।
প্রতাপের প্রশংসা করি বহমতে ।
পৃথী আকরে বলেছিল, বহুবার।
প্রতাপে অধীন করে হেন সাধ্য কার ?
তাই আজ গর্বভরে সবার মাঝারে ॥
বাদশা রাণার লিপি দেখান পৃগীরে।
এক বার দুই বার পৃথী লিপি দেখে।
বিশ্বাস করিতে নাহি পারে নিজ চোখে ।
অবশেষে দিল সেই লিপি ফিরাইয়া।
“বাদশা লিপি জাল” বলিল চিলিয়া।
প্রতাপের শ অনিষ্টের তরে।
রচিয়া এই জাল লিপি পাঠায় তােমারে ।
প্রতাপ রাণারে আমি জানি ভালমতে।
সে না পারে কভু এই লিপি পাঠাইতে।
দিলী সিংহাসন যদি পায় সেই রাণা।
তথাপি এ হেন পত্ৰ কভু লিখিবেনা ।
অনুমতি দেন পর লিখিব তাহারে।
লাল কিংবা সত্য তাহা জানিব উত্তরে।”
হলি আকবর তরে বলেন বচন।
"এই লিপি সত্য তাহা জানে মাের মন ।
১২০
মেবার মহিমা
তথাপি সন্দেহ যদি হয়েছে তােমা।
পাঠাও তােমার পত্র নিকটে রাণার ॥”
প্রতাপের মনে শক্তি সঞ্চারণ করে।
পৃথী এক পত্র লিখি পাঠান তাহারে।
“হে রাণা যে পত্র তুমি করেছ প্রেরণ।
ইহা যে তােমার লেখা নাহি মানে মন ।
মােরা সব পড়িয়াছি অপমান-পর্কে।
চেয়ে আছি তােমা পানে শশী কলঙ্কে ॥
সমগ্র ভারত আজি চাহে তােমা পানে।
হিন্দুকুলসূৰ্য্য বলি সবে তােমা মানে।
ছাডি তৰ উচ্চমান নির্মল আকাশে।
পড়িবে কি পৰুে তুমি আমাদের পাশে।
ভারতের বালকুল সকলের মান।
মুল্য দিয়া ক্ৰয় কৰি লয় মুসলমান।
বাজারে গ্রাহক হইয়াছে আকবর।
গেছে সব বাকী শুধু তুমি বীরবর॥
তুমিও কি বিকাইবে আজি এ বাজারে।
করিবে হিন্দুর লক্ষী আশ্রয় কাহারে।
মান স্বাধীনতা হারায়েছি চিরতরে।
মূল্য ইহারা এবে পাৰি বুঝিবারে ।
এখনো তােমার আছে মান স্বাধীনতা।
হারিও না ইহাদের এ মাের বারতা।।
১২১
মেবার মহিমা
এক বার মাত্র হারাইলে ইহাদেনে।
নিশ্চয় করিবে দুঃখ চিরকাল তরে ।
আলি আকবর রাজা অমর সে নয়।
গভীর দুঃখের পরে সুখ পুনঃ হয়।
সহিয়াছ এত যদি আর কিছু সহ।
সৌভাগ্য উদয় হবে নিশ্চয় জানহ।”
যথাকালে পৃথী লিপি প্রতাপ পাইল।
অসীম উৎসাহে রাণা মাতিয়া উঠিল।
সৈনিক সহস্র দল পেত যদি ৰাণা।
তথাপি উৎসাহ এত তার হইত না ॥
ভাবেন প্রতাপ আমি যাব দূর স্থানে।
স্বাধীনতা রক্ষা আমি করিব সেখানে।
মরুভুমি পার হৈয়া যাৰ সিন্ধু দেশ।
রাজ্য বাক স্বাধীনতা ছাড়িব না লেশ |
পরিবারগ লয়ে প্রতাপ চলিল।
বীর অনুচরবৃন্দ সঙ্গেতে চলিল।
গিরি অতিক্রমি চিন্তা হইল তাহার।
কেমনে দুস্তর মরু হয়ে যাব পার ।
হেনকালে মন্ত্রী তার তম শাহ নাম।
নিবেদন করে তারে করিয়া প্রণাম।
আমরা করেছি বহু পুরুষ ধরিয়া।
মেবারের মন্ত্রি-কাৰ্য বতন করিয়া ।
১২২
মেবার মহিমা
সঞ্চয় করেছি মােরা কত রত্ন ধন।
করিলাম সব আজ তােমারে অর্পণ ॥
এই ধন লয়ে তুমি মেবার উদ্ধার।
করিবে ইহাই ইহা একা আমার।
হাজার পচিশ সৈন্য বাদশ বৎসর।
পালন হইবে সবে জেনাে বীরবর।
প্রতাপ মন্ত্রীর মুখে এই কথা শুনি।
চেয়ে রহে তার পানে নাহি সরে বাণী ।
আজিও মেবারবাসী কৃতজ্ঞ অন্তরে।
মেবারের ত্রাতা বলি তামশাহে রে ॥
প্রতাপ ভাবিল যদি হইল সুযােগ।
একবার শেষ চেষ্টা করি নিয়ােগ ॥
পৃথীরাজ-বিরচিত শ্লোকের ঝঙ্কার।
তখনও রণার কর্ণে বাজে বারখার ॥
রাজপুত সৈন্য কিছু সংগ্রহ করিয়া।
আর চলিল রাণা মেরে ফিরিয়া ।
শত যবে ভাবে রাণা মরুর মাঝারে।
রাণা তবে বহু দুর্গ অধিকার করে।
দেওয়ীরে মােগল সৈন্য করি পরাজয়।
আমা হতে দুর্গ রাণা করিল বিজয়।
কুমীর দুর্গ তবে করে আক্রমণ।
শত্ৰ হারাইয়া তাহা করিল গ্রহণ
মেবার মহিমা
যেমন বীরত্ব তার তেমনি ক্ষিপ্রতা ।
চমৎকৃত হৈল লােকে শুনি তাঁর কথা |
বত্রিশটি দুর্গ লয় দেখিতে দেখিতে।
আশ্চৰ্য্য হইল যে পাইল শুনিতে ॥
চিতাের মণ্ডলগড় আজমীর ব্যতীত।
সমগ্ৰ মেবার রাণা কৈল অধিকৃত ॥
তারপর আকবর প্রতাপের সনে।
কেন যুদ্ধ না করিল কেহ নাহি জানে।
কেহ বলে প্রতাপের মহত্ত্ব দেখিয়া ।
বিমুগ্ধ হইয়াছিল মােগলের হিয়া।
কেহ বলে মােগলের হিন্দু সেনাগণ।
নাহি চাহে প্রতাপের সাথে হবে রণ।
চিতোের লইতে নাহি পারিয়া প্রতাপ।
দিবানিশি তার হয় বড় মনস্তাপ।
উদয়পুরের ধারে পাহাড়ে উঠিয়া।
চিতাের গড়ের দিকে থাকেন চাহিয়া ।
রাণা যবে থাকিতেন সেখানেতে বসি।
অতীতের শত ছবি হৃদে উঠে ভাসি।
ঐ যান বাপ্পা বীর অখে আনােহিয়া।
চিতােরের সিংহাসন লয়ে কাড়িয়া।
ঐ যে সমরসিং চিতাের ছাড়িয়া।
চলেন লভিতে মৃত্যু সমর করিয়া ।
১২৪
মেবার মহিমা
একাদশ পূত্র সহ নামেন মণ।
একে একে যুদ্ধ করি ত্যজিল জীবন ।
রাজছত্র শােভে ঐ বাগীর শিরে।
একদিন হৈয়া রাণা যুদ্ধ করি মরে।
পুত্তের জননী পুত্রবধূ সাথে করি।
সমরে চলেন ঐ বৰ্ম্ম অসি ধরি ।
ঐ পুত্র মরে ঐ বীর জয়মল।
গােলা খেয়ে যান ছুটে মথি শত্রুদল ৷
উদয় সে কাপুক করে পলায়ন।
মনঃক্ষোভে রাজলক্ষী অন্তর্ধান হন ।
ঐ নেমে আসে ঘন কৃষ্ণ মেঘরাশি।
দুর্গের প্রাচীর চারিদিকে ফেলে গ্রাসি ।
কতবার কত পূৰ্বপুৰুষ শােণিতে।
ভিজিল প্রস্তর সব মনে পড়ে চিতে।
আজি সে চিতাের মােগলের অধিকার।
প্রবেশ করিবে হেন শক্তি নাই তার ।
ভীরু উদয়ের যদি জন্ম না হইত।
চিতাের শত্রুর হাতে কভু না যাইত।
প্রতাপের দেহ জীর্ণ হয় চিন্তুারে।
অকাল বার্ধক্য তারে আক্রমণ করে ।
ক্রমে শেষ দিন তার হইল লাগত।
ক্ষুদ্র কুটিরেতে রাণা রহেন শায়িত।
১২৫
মেবার মহিমা
তার চারিধারে সমাগত বীরগণ।
রাণা ফেলে দীর্ঘশ্বাস করিল শৰণ।
প্রধান সর্দার তারে পুয়ে বচন।
মৃত্যুকালে শান্তি নাহি পাও কি কারণ।
প্ৰতাপ বলিল ধীরে মনে ভয় হয়।
পাছে পুত্র শক্র করে দেশ সময় ।
যুদ্ধ করা কষ্ট দেখি বিলাসী অমর।
হয়ত করিতে রণ হইবে কাতর ।
রানা প্রতাপ কর্তৃক মেবার উদ্ধার
একদিন লগ্ন হয়ে কুটিরের চালে।
অমরের শিরস্ত্রাণ পড়িল ভূতলে ॥
বিরক্ত হইয়া পুত্র বলে কু স্বরে।
হতভাগ্য যারা হেন ঘরে বাস করে |
শুনি এইবাক্য মোর চিন্তা হয় মনে।
স্বেচ্ছ দৈন্য কি মহান পুত্র নাহি জানে।
হদভীরে আমি যেই রচেছি কুটির।
তাহা ভাজি তুলিবে প্রাসাদ উচ্চশির।
এতলি প্রতাপ নীরব যদি হয়।
পদতলে বসি তবে পুত্র তারে কয়।
১২৬
যেবার মহিমা
প্রতিজ্ঞা করি তব চরণ ধুইয়া।
জন্মভূমি না সপিল যুদ্ধ না করিয়া ।
যতদিন চিতাের উদ্ধার নাহি হবে।
ছাড়ি দিব আমরা বিলাস চিন্তা সবে।
আনন্দে রাণার মুখ উজ্জ্বল হইল।
প্রাণ বায়ু দেহ ছাডি শূন্যে মিলাইল ।
হে বরেণ্য বীর নমি চরণে তােমার ।
তােমার উদয় আশীর্বাদ বিধাতার ।
ভারত হইল ধন্য পাইয়া তােমারে।
পূজিব তােমার স্মৃতি মােরা ঘরে ঘরে।
স্বদেশের কারণে সহিলে কত ক্লেশ।
ঘুরিলে কতই বনে ছাডি নিজ দেশ ।
অন্নভাবে পুত্র কন্যা করে হাহাকার।
করিলে মােগলের প্রভুত্ব স্বীকার ।
কর আশীর্বাদ যেন আমরা সবাই।
তােমার স্বদেশ-শ্রীতি এক কণা পাই।
রাণা অমরসিংহ
অমর পাইল তবে পিতৃ-সিংহাসন।
দীর্ঘকাল শত্রু সনে নাহি হয় রণ।
বিলাসী দুর্বল ক্রমে হইল অমর
মৰ্ম্ম-প্রাসাদ এক রচে মনােহর ॥
১২৭
মেবার মহিমা
কালক্রমে আকবর লভিল মরণ।
তার পুত্র জাহাঙ্গীর পায় সিংহাসন।
মেবার করিব জয় করি ইহা বির।
পাঠাইল সুবিপুল সেনা জাহাঙ্গীর।
ভূমে ক্রমে অমরের কুলঙ্গী জুটিল।
না কৰিহ যুদ্ধ বলি কুমন্ত্রণা দিল।
কি করি ভাবিছে রাণা বসিয়া সভায়।
হেনকালে দলপতিগণ সেথা যায় ।
শত্রু আসিতেছে নাহি যুদ্ধ আয়ােজন।
বিলাস-সাগরে রাণা রয়েছে মগন।
ইহা দেখি কষ্ট চিত্তে দলপতিগণ।
রাণারে সম্বােধি সবে বলিল বচন।
“তােমার পিতারে রাণা করহ স্মরণ।
মৃত্যুকালে তােমারে যে বলিল বচন।
তুমিও বলিলে স্পশি তাহার চরণ।
শক্র করে না করিবে দেশ সমপণ ॥
শত্রু আজ দ্বারে, তবু বল কি কারণ।
যুদ্ধ তরে নাহি কর কোন আয়ােজন।
অমর কিছুই নাহি বলিল বচন।
দর্পণ সম্মুখে রহি করে প্রসাধন।
তবে চন্দাবৎ বীর বড় ক্রোধ করে।
দেখিলেন উপদেশে ফল নাহি ধরে ।
১
মেবায় মহিমা
বৃহৎ পিত্তল খণ্ড নীচে পড়েছিল।
আয়নাতে তাহা জোরে ছুড়িয়া মারিল।
বিদেশে প্রস্তুত মূল্যবান সে দর্পণ।
চুরমার হয়ে গেল করি বন বন।
অমরের হাত ধরি টানি লয়ে যায়।
জোর করি ভারে অশ্বপৃষ্ঠেতে চড়ায়।
অন্য দলপতিগণ উঠ অপরে।
চলাবৎ বলে সম্বােধিয়া তাহাদেরে।
বন্ধুগণ তেনে ইহা কর্তব্য মােদের।
অপযশ নাহি যেন হয় অমরেয় ।
প্রতাপের কাছে করিয়াছি অধীকার।
পাপ হৈতে তার পুত্রে করিব উজার।
এতবলি চলাবৎ অশ্ব দুটাইল।
রাজপুত বীরগণ পশ্চাতে চলিল ।
প্রথমে অমর বড় ধােন্বিত হয়।
জমে তার হয়ে হইল জানায় ।
চন্দাবতে রাণা তবে বলিল বচন।
বড়ই বিপদ মাের কৈলে নিবারণ ।
দেবীরের যুদ্ধক্ষেত্রে হয় যাের রূণ।
মােগলে হারায়ে জয়ী হয় হিন্দুগণ।
পুনরায় বহু সৈন্য পাঠায় মােগল।
রণপুর এইবার হইল রণল ।
G
১২
মেবার মহিমা
এবারেও যােগলের হয় পরাজয়।
মােগলের প্রায় সব সৈন্য বংস হয় ।
যুদ্ধে জয়ী যদিও হইল হিন্দুগণ ।
বহু শ্রেষ্ঠ হিন্দুবীর লতিল মরণ।
দেওগড় অধিপতি দুটো সাবৎ।
অসিক হরিদাস রাঠোর ভূপৎ ||
নারায়ণ দাস কেশােদাস পূর্ণমল।
কহিরদাস মুকুন্দদাস আর সূৰ্য্যমল ।
আর আর বহুবীর কত করি নাম।
শিশােদীয় কচ্ছতয়া রাঠোর চৌহাণ।
দুইবার হারে যদি মােগল সেনানী।
রাজপুত করে বহু আনন্দ মেলানী ।
একে একে বহু দুর্গ অধিকার করে।
কোন দুর্গ বিনা যুদ্ধে আনে অধিকারে।
ওটাল নামেতে দুর্গ উচ্চ ভূমি পরে।
সেনা নয়ে চলে রাণা তাহা লইবারে ॥
চন্দাবৎ পকাৎ উভয় দলেতে।
কিছুদিন হতে বহু হয় হেন মতে ।
যুতে সর্ব অগ্রে কেবা করিবে গমন।
ইহা হয় উভয়ের বিবাদ-কারণ।
উতে চাহে যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রবর্তী স্থান।
এতকাল চন্দাবৎ পায় এ সম্মান ॥
মেবার মহিমা
কিন্তু বহুবার যুদ্ধে শ্রেষ্ঠ পরাক্রম।
দেখাইল শক্তবংশ সাহস অসম ॥
এই হেতু বলে তারা করহ বিচার।
যুদ্ধক্ষেত্রে সর্বাগ্রে মােদের অধিকার।
চন্দ্রাবৎ বলে বহু পুরুষ ধরিয়া।
এই অধিকার মাের। এসেছি ভুঞ্জিয়া।
বিবাদের সমাধান করিবার তরে।
বহু টিভি উপায় অমর স্থির করে ।
যে দল সর্বাগ্রে করে ওটালা প্রবেশ।
এই অধিকার তার জানহ বিশেষ।
অমর কহিল যাহা শুনিল উভয়ে।
দুর্গ লইবার তরে উপায় চিয়ে।
সবে মিলি পরামর্শ করিয়া বিস্তর।
নিশি শেষে দুইদল হয় অগ্রসর ।
আজ যুদ্ধে অগ্র জয়ী হবে যেই দল।
চিরকাল তারা বংশ করিবে উল ।
আত্মীয় স্বজনবর্গ প্রশংসা করিবে।
চারণের গীতে কীর্তি বনিত হইবে ।
জীবনের শ্রেষ্ঠণ হয় উপনীত।
অতুল উৎসাহে মাতে সকলের চিত।
শাবৎ শীঘ্রগতি চলে দুর্গারে।
অসম সাহস তাহা সক্রিমণ করে ।
মেবার মহিমা
চন্দাবৎ পথ নাহি ভাল মত জানে।
জলাভূমি হেতু হয় বিল গমনে।
অবশেষে মেষপাল পথ দেখাইল।
তখন তাহারা দুর্গ দেখিতে পাইল।
রজুর সােপান ছিল তাহাদের সাথে।
তাহা দিয়া উঠে সবে প্রাচীরের মাথে ।
দলপতি উঠে যায় সকলের আগে।
হেনকালে গােলা আসি তার গায়ে লাগে।
প্রাণহীন দেহ তার পড়িল বাহিরে ।
ইহা দেখি তার দল হাহাকার করে।
হেথা শক্ত দলপতি চলে হস্তিশিরে ।
দুর্গের দরজা হন্তী আক্রমণ করে।
বার ভাজি প্রবেশ করিব দুর্গ মাঝে।
এই আশে শাবৎ চালাইল গলে।
লৌহের শলাকা ছিল বারের উপর।
বিদ্ধ হয় শিরে নাহি চলে কবির।
অবৱিষণ শক্ত করে নিরন্তর।
চারিদিকে রাজপুত পড়িল বিস্তর।
চন্দাবৎ দল হৈতে উঠেনি।
তাহার দুর্গেতে বুঝি প্রবেশে এখনি ।
বিলম্বে সকলি ব্যথ’ৰে শাবৎ।
কেমনে রাখিৰ বংশ-মৰ্য্যাদা মহৎ।
মেবার মহিমা
অবশেষে উপায় দেখিল বীর।
গজ ছাড়ি নামে শীঘ্র ভূমির উপর।
নিজ দেহ রাখে লৌহ-শলাকা উপরে।
হস্তী চালাইতে হপিকে আজ্ঞা করে।
হতিপক ইতস্ততঃ করিছে দেখিয়া।
বলে শাবৎ তারে অত্যন্ত কৃষিয়া ।
“মাহত, চালাও হস্তী যত পার জোরে ।
নহিলে এণে আমি বধিব তোমারে ॥”
অগত্যা মাহুত দুটাইল গজর।
ভাজিল দুর্গের দ্বার করি মড় মড।
ছুটে শতাবৎ দল বলি জয় জয় ।
আগে মােয় যাই দুর্গে করিল নিশ্চয়
এই মতে দলপতি ত্যজিল পরাণ।
তবু হায় তার দল না পায় সম্মান।
চলাবৎ দলপতি আহত হইয়া।
ত্যজিয়া পরাণ যবে পড়ে গড়াইয়া।
পাগল ঠাকুর নামে হয় দলপতি
অসম সাহস মাত্র নাহি অন্য মতি।
পূর্ব দলপতি দেহ পৃষ্ঠে তুলি লয়।
প্রাচীর উপরে উঠে নির্ভীক হৃদয়।
বর্ষার আঘাতে তার পড়ে শক্ৰদন।
প্রাচীর শিখর ক্রমে করিল দখল।
১৩
মেবার মহিমা
মৃতদেহ দুর্গ মাঝে ছুড়িয়া ফেলিল।
আগে ঢুকে চন্দাবৎ চীৎকার করিল।
চন্দাবৎ দল উঠ আনন্দে নাচিয়া।
ক্ষণমাকে লহে তারা প্রাচীর লইয়া ॥
সেইক্ষণে শৰৎ ভগ্ন করি বার।
প্রবেশ করিল দুগে করিয়া চীৎকার।
শাবৎ চন্দাবৎ হইল মিলিত।
উভয়ের আক্রমণে শত পরাজিত ।
মেবারের ধ্বজা উড়ে দুগের প্রাচীরে।
চন্দাবৎ পূর্ব অধিকার রক্ষা করে।
বার বার হারিয়া চিন্তিত জাহাঙ্গীর।
হবে জয় কেমনে করিতে নারে স্থির
অনেক চিন্তিয়া গৃহ-বিবাদের তরে।
প্রতাপের ভ্রাতাকে চিতােরে রাজা করে।
শুগ্ৰ নাম ছিল তার কিছুদিন তরে।
রাজা হয় পরিত্যক্ত চিতাের নগরে।
কিন্তু বেশী দিন সেথা রহিতে না পারে।
আত্মগ্লানি হৈল তার অন্তর মাঝারে ।
সর্বদা হইত মনে দুগের প্রাচীর ।
প্রতি গৃহ প্রতি দেবালয় উচ্চশির।
প্রস্তরের প্রতিখও নগর মাঝারে।
নীরব ভাষায় তাকে অপমান করে ।
১৩
মেবার মহিমা
অমরে ডাকিয়া গ্ৰ অপিল চিতাের।
আপনি চলিয়া গেল নির্জন কর ।
পুনরায় জাহাঙ্গীর সেনা পাঠাইল।
মনের গিরিবঘোের রণ হৈল ।
হারিয়া মােগল সৈন্য পলায়ন করে।
আনন্দের মােল উঠে সমগ্ৰ মেবারে।
আবার মােগল সেনা অগ্রসর হয়।
সেনাপতি হয় নিতে সম্রাট নয়।
এবারও মােগল সেনা হৈল পরাজিত ।
সম্রাটের পুত্র যুদ্ধে হইল নিহত।
সপ্তদশ বার রাণা যুদ্ধে জয়ী হয়।
জয়ী হয় কিন্তু বড় হৈল বলয়।
বিশাল মোগল রাজ্য সেনা অগণন।
পুনঃ হারে পুনঃ সৈন্য করে আগমন।
হেন অবস্থায় যুদ্ধ কতকাল হয়।
বুঝিল অমর আর বেশী দিন নয় ।
জাহাঙ্গীর করে এবে মহা আয়ােজন।
আসিয়া আজমীরে করে সৈন্যের চালন।
খুম নামেতে পুত্র হয় সেনাপতি।
যিনি পরে হন সাজাহান দিল্লীপতি।
বিশাল মােগল সেনা হয় অগ্রসর
যু তরে আয়ােজন করিল অমর ।
১৩৫
যেবার মহিমা
কিন্তু বেণী সেনা সেখা পাইৰে কোথায়।
বার বার যুদ্ধে সৰ ৰী মারা যায়।
বড় হয়ে উঠিকে যে তাদের তনয়।
যে সময় প্রয়ােজন তা নাহি হয় ।
মােগলের দূত আসি বলিল বচন।
“সমগ্র রহিবে ত সব রাজ্য ধন ॥
একটি মােগল তব দেশে নাহি রবে।
দিল্লী অধীশ্বরে শুধু মানিতে হইবে।
এই মাত্র সন্তে যদি রাণা রাজী হয়।
যুদ্ধে প্রয়ােজন নাই জানিৰে নিশ্চয়।
তথাপি যুঝিল রাণা অতুল বিক্রমে।
এবার পরান্ত হয় অসম সংগ্রামে।
পূর্ব কথামত ফন্ধি করিল উভয়।
মেবারের উচ্চ বা নামাইতে হয় ।
এ সংবাদে বড় ফু হয় দিনীয়।
আনন্দ উৎসব আদি কৰিল বিত্ত ॥
রাণী নিয়ে আপিল না সম্রাট গায়।
তার পুত্র কর্ণসিংহে পাঠান তথায়।
সম্রাট সম্মান বহু কর্ণে দেখাইল।
বহু মূল্যবান দ্রব্য উপহার দিল ।
সম্রাট উলাশী হয়, রাণা ম্রিয়মাণ।
রাজত্ব করিতে নাহি গহে তার প্রাণ ।
মেবার মহিমা
পুত্র কর্ণ সিংহে করি রাজত্ব অর্পণ।
নির্জন পর্বত শিরে কয়েন গমন।
মনােহুখে আর নাহি বাহিরে আসিল।
এইরূপে তার বাকী জীবন কাটিল।
প্রতাপের যােগ্য পুত্র আছিল অমর।
সাহসী, প্রজার প্রিয়, আর বীরবর॥
অমর মরিল যবে রাণা হয় কর্ণ।
বংশােচিত সৰ গুণে আছিল সে পূর্ণ।
নীর কর্ণ সিংহ যবে লভিল মরণ।
তনয় জগৎসিংহ পান সিংহাসন
মন্দির প্রাসাদ বই রচে চমৎকার।
চিতােরের জন্ম দুর্গ করে সংস্কার।
জগৎসিংহের পুত্র রাজসিংহ নামে।
সিংহাসন পাইলেন তিনি যথাক্রমে।
রাজ্যাভিষেকে তার সাত বর্ষ পরে।
দারুণ দুর্ভিক্ষ হয় সমগ্ৰ মেৰারে।
বর্ষাকালে কিছু মাত্র না হইল বৃষ্টি।
সকলে ভাবিল বুঝি ধবংস হবে সৃষ্টি ।
আহার অতবে পও পরী মারা যায়।
অন্নহীন দরিদ্রের করে হায় হায় ।
হ্রদ নদী সলােবর সওগাইল।
তৃণ গুল্ম তরু লতা সব মারা গেল ।
মোর মহিমা
অন্নহীন প্রজাদের জীবিকার তরে।
উপায় ভাবেন রাজা দুঃখিত অন্তরে।
পরাম। কবি রাণা সহ মতিগণ।
বৃহৎ দীকি এক করেন খনন ।
বিশ লক্ষ মুদ্রা ব্যয় করিয়া ভূপতি।
রছিলেন সে দীবিকা নােম অতি ॥
ছয় ক্ৰোণ ব্যাসতে বৃহৎ সরােবর।
রাজ সমু নাম তার দেন নৃপবর।
দুর্ভিক্ষ হইতে রক্ষা হইল যখন।
ঔরঙ্গজেব সাথে যুদ্ধ হয় কারণ।
ঔরঙ্গজেব আছিলেন দিল্লী অধিপতি।
হিন্দুর সহিত উর না ছিল সম্প্রীতি।
সােব সিংহ ছিল মাড়বারপতি।
রণ-বিশারদ ছিল আর ধীরগতি ॥
বাদশা সেনানী সহ পাঠায় তাহারে।
কাবুলে বাইয়া যশােবন্ত যুদ্ধ করে।
মােগলের পক্ষ হৈয়া যু করে ধীর।
তার শীর্ষে মােগলের জয় হয় দিন ।
শৌর্য্য দেখি বাদশার হয় নে হয়।
যােব যদি কছু বিদ্রোহ কয়।
বাদশাহ লুকাইয়া বিষ দেয় আনে।
বিষের বালাতে বোলিং মরে ।
মেবার মহিলা
জয়পুর রাজা জয়সিংহ নাম তার।
লইয়া মােগল পক্ষ মুঝে বহুবার।
তাহারও বীরকে বাদশাহ ভীত হন।
কেমনে মারিব তারে করেন নি।
দাক্ষিণাত্যে যায় জয় যুদ্ধ করিবারে।
সেথা বিৰ দিয়া বাদশাহ তারে মারে।
এরূপে বলি দুই বীরের জীবন।
তথাপি সন্ধষ্ট নহে বাদশার মন।
যশােন্তের পত্নী পুত্র কন্যাগণে।
আটক করিতে চাহে আপন ভবনে।
রাঠোরের সেনাপতি দুর্গাদাস বীর।
বহুমতে গৰিয়া উপায় করে খির ।
প্রভু-পরিবার বাহে পাইবে নিষ্কৃতি।
দুর্গাদাস কীর্তিকথা চমৎকার প্রতি।
সার্ধ দুই শত ছিল রাঠোর সৈনিক।
মােগল সেনানী পৰু সহ অধিক।
রাজপুত করে রণ অতুল সাহসে।
পলায় প্রভুর গণ সেই অবকাশে।
মাড়বার রাণী ছিল মেবার দুহিত।
অতুল সাহস আর ছিল তেজবিত।
শিশু পুত্র আজিতে লইয়া বীরাঙ্গনা।
চলিলেন ছিল যথা মেবারের রাণ।
মেবার মহিমা
নাবালক তরে রাণী মাগিল আশ্রয় ।
দয়া হয়ে বাণী দিলেন অভয় ॥
“প্রাণ দিয়া তব পুত্রে করিব রক্ষণ।
বলিয়া শিওরে ক্রোড়ে করিল গ্রহণ ।”
তনয়ে রাখিয়া রাণী অতি হৃষ্ট মন।
নিজ মাড়বার রাজ্যে করেন গমন।
মােগলের সনে যুদ্ধ করিবার তরে।
সংগ্রহ করিতে সৈন্য রাজ্যময় ঘুরে।
গিরি নদী অতিক্রমি যান প্রতি গ্রাম।
মুহূর্তের তরে নাহি চাহেন বিশ্রাম ।
ওরঙ্গজেব বাদশাহ যখন নিল।
যশােস্ত পুত্রে রাণা গৃহেতে রাখিল।
বাদশাহ কুদ্ধ হয় রাণার উপর।
প্রতিফল দিবে চিন্তা করে নিরন্তর।
ঔরঙ্গজেব খাপে কর জিজিয়া নামেতে।
নাহি দিবে যবন হিন্দুকে হবে দিতে ।
হিন্দু প্রজাগণ হয় রুষ্ট অতিশয়।
প্রতিকার হয় কিসে সকলে ভাৰয় ।
মেবারের রাণা হন হিন্দুকুলপতি।
পত্র লিখিলেন তিনি বাদশাহ প্রতি।
তৰ পিতৃ-পিতামহ আদি পূর্বগণ।
আকবর জাহাঙ্গীর আর সাজাহান।
১৪
মেবার মহিমা
তাৰ সৰে ছিল অতি প্রা প্রিয়প্রাণ।
সকল প্রকার কাছে পাইত সম্মান।
কিন্তু তুমি কর ভেদ হিন্দু মুসলমানে।
হিন্দু কর নাহি দিবে, দিবে মুসলমানে।
রাজার উচিত নহে হেন অবিচার।
জানি ইহাতে প্রতি না হবে আল্লার ।
ঈশ্বর দেখেন তুলা হিন্দু মুসলমান।
উভয়েই সমভাবে তাহার সন্তান।
নমাছেতে মুসলমান ডাকেন যাহারে।
ঘণ্টাধ্বনি করি হিন্দু তারি পূজা কবে।
পৃথিবীতে যত ধর্ম আছে প্রচলিত।
নিও সকলি হয় ঈশ্বর রচিত ।
কোন ধর্ম নিন্দা যদি কর হে রাজন।
ঈশ্বর তাহাতে কভু প্রীত নাহি হন।
অনুরােধ করি আমি বিনীত হইয়া।
অন্যায় জিজিয়া কর দাও উঠাইয়া।
এই পত্র বাদশাহ যখন পাইল।
পূর্বকার রোষ তার দ্বিগুণ হইল।
বাদশাহ অবসর করেন প্রতীক্ষা।
রাণাকে দিবেন কবে উপযুক্ত শিক্ষা ।
হেনকালে বাদশাহ পান অবসর।
সেই কথা বলি তবে তন অতঃপর ।
মের মমি
আছিল নৃপতি এক রাজপুতনাতে।
রাজধানী তার রূপনগর নামেতে ।
তাহার আছিল কন্যা সুন্দরী অতীত।
ঔরঙ্গজেব ভাবে তারে বিবাহ করিব।
বাদশার দূত যায় রূপনগরেতে।
সেনানী সহ দুই চলে তার সাথে।
কা নাহি রাজি হয় এই প্রস্তাবেতে।
পিতা কিন্তু ভয় পায় দূত ফিরাইতে ৷
কন্যা জানে মেবারের রাণা অতি বীর।
তাহারে পাঠাবে পত্র করে ইহা দিন ।
পুৰােহিত ডাকি কন্যা করিল বিদিত।
আমি পত্ৰ নিয়া যাব বলে পুরােহিত।
পত্র লিখি তার হাতে দেয় রাজকন্স।
“হে রাণা উজার করি কর মােরে ধন্যা ।
তুমি না আসিলে মাের কি গতি হইবে।
বক কি আসিয়া রাজহংসী বিবাহিরে।
শুদ্ধ রাজপুত রক্ত মাের ধমনীতে।
কেমনে বনে পারি বিবাহ করিতে ।
তুমি বিনা রক্ষাকর্তা আর কেহ নাই।
কাতর হৃদয়ে আমি গকিতেছি তাই।
১২
মেবার মহিমা
ইহা পড়ি যদি তব দয়া নাহি হয়।
মরণ তাহলে আমি লতিব নিশ্চয়।
খাইব গরল কি অনলে পশিব।
যেমন করিয়া পারি পরাণ ত্যজিব।
পাইয়া এ লিপি রাণা বিধ নাহি করে।
লইয়া সেনানী চলে সে রূপনগরে।
কাটিয়া মােগল সেনা কন্যা লয়ে আনে।
যত রাজপুত সবে ধন্য করি মানে।
সম্রাটের নােষ আছিল ধুমায়িত।
পাইয়া এ দুঃসংবাদ হয় প্রজ্বলিত ।
ঔরঙ্গতে আদেশ করিল মেইল।
মেবার জয়ের তরে কর আয়েন ।
বাদশার পুত্রগণ ছিল নানা স্থলে।
কেহ বাঙ্গলাতে ছিল কে বা কাবুলে ।
কেহ ছিল দাক্ষিণাত্যে যুদ্ধ করিবারে।
সবে আজ পায় শীঘ্ৰ দিল্লী আলিবারে।
বিপুল সেনানী লয়ে চলিল সম্রাট।
পুত্রগণ সৰে চলে লয়ে সৈন্য ঠাট।
মেবার ত তুচ্ছ কথা নাহি হেন দেশ।
এ বেগ নােধিতে পারে ভাবে ভারতেশ।
অবাধে চলিল তবে মােগল সেনানী
চিতাের মণ্ডলগড় অনায়াসে তিনি ।
১৩
মা ---
মেবার মহিমা
উদয়পুরের কাছে হয় উপনীত।
ছিল যাহা চারিধারে পর্বতে বেষ্টিত ।
বাদশাহ পর্বতের বাহিরে মহিল।
শাহজাদা আকবর মধ্যে প্রবেশি।
শাহজাদা সাথে চলে অর্ধ লক্ষ সেনা।
রাজধানী লইবে, আনিবে ধৰি ৰাণা ।
এই ভাবি মহেসে হয় অগ্রসর।
শত্র সৈন্য কোথা রহে ভাবে আকবর।
দেখিতে পাইল বহু প্রাসাদ সুন্দর।
হ্রদ দ্বীপ দেখে কিন্তু নাহি দেখে নর।
সেনাগণ বসি করে আমােদ আহলাদ।
হেনকালে তুৰ্য্যধ্বনি শুনে অকস্মাৎ।
রাণার প্রথম পুত জয়সিংহ নাম।
রণদক্ষ সাহসী অশেষ গুণধাম।।
পর্বতে লুকায়ে ছিল লয়ে সৈন্যগণ।
যােগ পাইয়া এবে করে আক্রমণ।
মােগল সেনানী কাটি করে খান খান।
সৈন্য লয়ে আকবর পলাইতে যান।
দুই পাশে উচ্চ গিরি মধ্যে সরু পথ।
চলে তাহে আকবর ব্যর্থ মনােরখ।
হেনকালে কি বিপদ । পৰ্বত হইতে।
বৃহৎ প্রখও পড়ে আচবিতে ৪
১৪৪
মেয়র মহিমা
মায়া যায় বহু সৈন্ত অবশিষ্টগণ।
ছুটিল সমুখ দিকে করি প্রাণপণ।
অগ্রে গিয়া দেখে বা সমুখের পথ।
ভীল সৈন্য বহু সেথা যায় কি বিপদ।
পাতের পথ জয়সিং ব করে।
সৈন্য লৈয়া আকবর আজি বুঝি মরে।
বিপন্ন শরে কর দয়া প্রদান।
এসিংহ শাবাক্য করিল মরণ।
আর না কৰিৰ যু, মােগল বলিল।
দয়া করি জয়সিংহ দিকে ঘডিল ।
দিলীর খা নামেতে মােগল বীরবর।
নয় হয় সেনাদন হয় অন্য ।
পর্বত মাঝারে যশে করেন গমন।
অকস্মাৎ হিসেনা করে আক্রমণ।
বিক্রম সােলাঙ্কি রূপনগরাধিপতি।
গােপীনাথ ঠোর উভয়ে সেনাপতি।
রাজপুত সেনা তারা করেন চালন।
ধংস করে শত্রু সৈন্য করি ঘাের রণ।
ঔরঙ্গজে সাখে যে সেনাদল ছিল।
প্রবল বেগেতে মাণ তারে আক্রমিল।
মোর সেনার সাথে মাড়কা সেন।
মিলিয়া করিল যুদ্ধ না হয় বর্ণনা।
১৫
মেধার মহিম,
মােগল সেনানী নাহি পাৰে বুঝিবারে।
রণে ভঙ্গ দিয়া সবে পলায়ন করে ।
সম্রাটের ধ্বজা পড়ে বিলুসৈন্য হাতে।
বহ হস্তী অস্ত্র হিন্দু পায় তার সাথে }}
মােগল এরূপে যবে পরাস্ত হই।
চিতােরের কাছে সবে যাইয়া মিলিল।
জয়মল বংশধর নাম সাউলু দাস।
তাহার বিক্রমে ঔরঙ্গজে পায় ত্রাস।
চিতাের ছাড়িয়া ভরে যায় আমীর।
সেথা রহি মুঝিব করিল ইহা দিব ।
মলের কাছে পুনরায় হয় রণ।
এবারেও হিন্দু কাছে হারিল যবন।
ভীমসিংহ নামে খ্যাতি রাণার তনয়।
সসৈতে গুদেশ করিল বিজয়।
দয়াল সা নামে এক অমাত্য ৰাণার।
মালৰ এতে ভবে করে ঘর ।
ঔরঙ্গজেবের এক ছিল বড় দোষ।
মন্দির দেখিলে তাৰ হৈত বড় পােৰ।
কাশীতে ও মথুরাতে বহু দেবালয়।
জিন তাহার খান মসজিদ চয়।
জাের করি বহ এ করে মুসলমান।
হিন্দু এনে শােলর সেই অপমান।
১৪৬
মেৰা মহিলা
মসজিৰ তাজিয়া কোরাণ পুড়াইল।
লােৰ কৰি কাজিদের নাড়ি মুড়াইল ।।
হিন্দুদের এই কাৰ্য উচিত না হয়।
চেন কাৰ্য্য ঈশ্বরের প্রীতি না কয়।
অন্তে মন্দ হউক করুক অনুচিত।
মন্দ না হইও তুমি, হবে তব হিত।
ভাল যিনি তার কণ উচিত।
মন্দের দৃষ্টান্তে গেলে হয় বিপরীত।
সংগ্রামে ধর্ষণ ছাড়িৰে না কলা।
এই মাত্র বা হিন্দু পালিত সর্বদা।
অয়গর্বে সৈন্য বাজি ধৰ্ম্ম তেয়াগিল।
হিন্দু ইতিহাসে গাঢ় কলঙ্ক লেপি।
রাজপুত কৃত দোষ করি প্রদর্শন।
পরবর্তী ঘটনা করিব বিবরণ।
যুবরাজ সাথে মন্ত্রী হইয়া মিলিত।
শাহজাদা আজিমকে করে পরাজিত ।
আজিম সেনানী সহ করে পলায়ন।
বিমখুমবুরে করে আশ্রয় গ্রহণ।
মােগল মেবার হতে পলায় যখন।
মাড়বার দেশে আণা করেন গমন।
নাবালক অজয় নৃপতি মাড়ায়।
তার হৈয়া করে রাণা সংগ্রাম দুর্শার ।
১৭
মেৰাৰ মহিমা
C
অজিতের মাতা যুদ্ধ কৰি ৰাৰ বার।
রাজ্যের অনেক মন কৰিল উদ্ধার ।
মসিংহ আর এৰে লাহায্যে তাহার।
মােগরে সেনাপতি আকবর ইর।
যুদ্ধ হয় মােগল নিল পুনর্বার।
হিন্দুর শিবিরে হয় জয় জয়কার।
হিন্দুরাজগণ হেন করিল মন্ত্রণা।
ঔরঙ্গজেব অত্যাচার করিতেছে নানা
তাহারে সরায়ে তার পুত্র আবরে।
ৰাইৰ ভারতের সিংহান পরে ।
আকবর আলী হয় প্রচুর অন্তরে।
সৈন্য লৈয়া হিসাথে যােগদান করে।
এ সময় সম্রাট ছিল আমীরে।
অল্প মাত্র সৈন্য তার সাথে বাস করে।
শীব্র আকবর সনে যদি বু হয়।
সম্রাটের নিঃসন্দেহ হয় পরাজয় ।
সদয় হইল দৈৰ সম্রাটের প্রতি।
চাতুরী করিয়া রক্ষা পাইল সম্প্রতি ।
আকবর হেন শতে লিখে এক লিপি।
সিদ্ধ হয় আমাদের কৌশল বাপি।
সমূলে হইবে ধংস রাজপুতগণ।
তােমাকে প্রচুর অর্থ কৰিৰ মৰ্পণ।
১৪
সেবার বল
বিগণ সহ মাের হবে ঘৰে কাণ।
সে সময় হিন্দুরে করিও আক্রমণ।
সম্মুখে আমার সোনা পাচাতে তোমার।
দুই সেনা মাঝে হিন্দহইবে সংহার।”
ঔরঙ্গজে এই লিপি দূত হাতে দিল।
রাঠোর শিবিরে ইহা ফেলিতে বলিল।
যথাকালে এই লিপি রাজপুত পায়।
তাহাদের মনেতে সলেহ উপায়।
তবে বুঝি আর এ চক্রান্ত করে।
রাজপুত সৈন্য সব ধ্বংস কৰিবাৰে ।
রাজপুত সৈন্যগণ ত্যজে আকবরে।
আকবর পিতৃভয়ে পলায়ন করে ।
এইরূপে দীর্ঘকাল হয় মহারণ।
হেনকালে রাজসিংহ ত্যজেন জীবন।
বহু অরুতে দেহ আছিল কাতর।
তদুপরি যুদ্ধ হেতু চিন্তা নিরন্তর।
উদার মহান তার চরিত্র নির্মল।
মেবারের রাজকুল কলি উজ্জ্বল।
রাজসিংহ নৃপতির দুই পুত্র ছিল।
জ্যেষ্ঠ জয়সিংহ ভীম কনিষ্ঠ আছিল।
কয় ঘন্টা ব্যবধানে জমে দুইজন।
কাগ রাণার মনে হয় একারণ।
১১
যে মহিমা
রাজদের তরে পায় মারামারি ম।
এত গৰি জমসিংহে ৰচন বলয়।
“জ্যেষ্ঠ সাথে যুদ্ধ করা যদি তব মন।
কাট এবে আর শির দেরী কি কারণ।
এত ৰলি মেরে দিল তলবার।
উত্তর করেন ভীম চরিত্র উদার ।
নােবানির মাঝে যদি জল পান করি।
নহি আমি তব পুত্র এ শপথ করি ।
এত বলি রাজ্য ছাড়ি চলে নীরবর।
বহু দূর আসি বলে শ্রান্ত কলেবর ॥
নিকটে আছিল ফুল স্রোত মনােহর
শীতল পানীয় পানি ধরে অনুচর।
তুলি ধরে পাত্র জল পান করিবার।
হেনকালে মনে পড়ে.এভিজ্ঞ তাহার ।
ঢালিয়া ফেলিয়া এল মাটির উপর।
অ চড়ি দেশ গড়ি চলে বীরবর ।
অার না মোরে আসে রাখে তার পণ।
বিদেশেই চিরকাল কাটায় জীবন ।
তার জ্যেষ্ঠ জয়সিংহ যবে রাণা হন।
মােগলের সাথে তবে চলিতেছে রণ ॥
মেশারের এদেশ বিশেষের নাম গোবারি।
মেবার মহিম
।
বার বার যুদ্ধে যৰে হারিল বন।
রাজপুত সাথে সরি করিল স্বপন
মাডর মেম্বারের যত ভূমি ছিল।
মােগলেরা সেই সৰ ভূমি মাড়ি দিল।
লৈ দি সৰ লৈয়া চলিল বন।
রাত সাথে আর না করিবেরণ।
নিৰ্মাইল বয়সিং করি বই ব্যর।
আয় সমুদ্র নামে এক দিব্য জলাশয়।
পক্ষপ ক্রোপ ব্যাস সেই সরােবর।
জলে পরিপূর্ণ তা হচ্ছে নিরন্তর।
রাগার আলি রাণী কমলা নামেতে।
রাণা তারে ভালবাসে অন্য প্রাণী হৈতে ।
রাজা রাজকার্যে মনােযােগ নাহি দিত।
পুত্র সাথে বার বার বিবাদ হইত ।
সিংহ মারা গেল তার নর।
দ্বিতীয় অমরসিংহ এবে রাণা হয়।
তাঁহার রাকালে ঔরঙ্গজেব মরে।
বাহাদুর বসে দিল্লী সিংহাসন পরে।
মে মােগলের শক্তি হইল দুর্বল।
নানা খান নবরা হল এবল।
মাড়বার জয়পু যেবার মিলিল।
হিন্দু মাত্র ভরে এক সৰি কৈল।।
মের মহিমা
মােগলের সাথে যুদ্ধ কৰি বহুবার।
মন খারানে রাণা ধান বেপার ।
দ্বিতীয় সংগ্রামসিং তাঁহার নয়।
যখাকালে তাহার স্থানে অভিষিক্ত হয় ।
মিতব্যয়ী জ্ঞানী আর এ হিতব্রত।
দ্বিতীয় সংগ্রামসিংহ আছিল নিয়ত।
মেবারের শেষ বড় রাণা তিনি হন।
তারপর দেখা দেয় মহারাষ্ট্রগণ।
লুণ্ঠন করিল দেশ মহারাষ্ট্র সেনা।
প্রজাগণ অত্যাচার সহে এনে নানা ।
দ্বিতীয় সংগ্রামসিংহ যবে মারা গেল।
দ্বিতীয় জগৎসিংহ তৰে ৰাণা হৈল ।
বিলাসী ও মুখৰেী হয় সেই রাণা।
বংলােচিত গুণাবলি তাহার ছিল না ।
রাজপুত পরস্পরে করিল বিবাদ।
মহারাষ্ট্রগণ আসি ঘটাল প্রমাদ।
বিদেতে রাজপুত দুর্বল হইল।
মহারাষ্ট্র কর দিয়া নিতি পাইল।
দ্বিতীয় জগৎ যবে তিল মরণ।
দ্বিতীয় প্রতাপ তবে পায় সিংহাসন।
তাঁহার মৃত্যুর পর তাহার নয়।
দ্বিতীয় সে রাজসিং এতে রাণা হয় ।
১৫২
মেবার মহিলা
অল্পদিন রাজ্য তার করে দুই রাণা। :
নাহি ঘটে এবে কোন বিশেষ ঘটনা।
বার বার আক্রমিল মহারাষ্ট্র সেন।
ক্রমে হল হীনবল মেবারের রাণা ৷
রাজসিংহ মরে যৰে পিতৃব্য তাহার।
অরিসিংহ রাণা হরে ভুলি মোর ।
অরিসিংহ করে যৰে মেবার পালন।
রাজ্যে বহু বিশৃঙ্খলা দিলে দর্শন।
বিদ্রোহ, বিগ্রহ, যুদ্ধ হয় বারবার।
মহারাষ্ট্রগণ করে দেশ অধিকার।
ঘাতকের অন্ত্রে জরি ত্যজিল জীবন।
বালক হামীর রাণা হইল তখন।।
প্রভুভক্ত মন্ত্রী এক অমর নামেতে।
করিল অনেক চেষ্টা রাজত্ব ৰক্ষিতে।
কিন্তু রাণী মাতা তার কথা না শুনিল।
নিজ দুর্বজিতে রাণী দেশ ডুবাইল ।
হামীরের মৃত্যু হৈলে অনুজ তাহার।
ভীমসিংহ নামে রাণা হইল এবার।
মেবারে বিদ্রোহ হয় মারাঠারা আসে।
দেশের দুর্ভাগ্য হু হইল বিশেষে।
রাণার দুহিতা কৃষ্ণকুমারী নামেতে।
রূপে গুণে শ্রেষ্ঠ নারী রাজপুতানাতে।
মেবার মহিমা
জয়পুর মাড়বার উভয় রাজন।
বিবাহ করিতে তারে করে আকিঞ্চন।
দুর্বল মেবার রাণা ভেবে নাহি পায়।
মেবার রক্ষার কিবা করিবে উপায় ।
এক বাজে বকিয়া অপরে যদি দিবে।
নেই রাজা নাহি পাৰে মেবার ধবংসিবে।
মাড়বার পাঠাইল দূত একজন।
আমীর খা নাম তার অতীব দুজন।
যাণারে আমীর তবে বলিল বচন।
কল দাও নয় তার বুঢ়াও জীবন।
কন্যা নাহি দিলে দেশ ধংশ হৈয়া যায়।
তাই বির করে রাণা বধিবে তাহায় ।
দৌলৎসিং নামে জাতি রাণা বলে তারে।
“ধ মম কল দেশ রক্ষা করিবারে।”
ক্রো করি দৌলৎসিং বলিল রাণারে।
“কি রে যেবা হেন আত দেয় মাের।
এ হেন নিষ্ঠুর আজ্ঞা অমান্য করিয়া ।
রাজভক্তি দিব আমি জলে ভাসাইয়া” ।
অসন্মত দৌলত দেখিয়তবে রাণ।
বলিল জোয়ান দাসে যুক্তি করি নানা।
জােয়ান সম্মত হয় দৃঢ় করি মন।
তাহার নিকটে কৃষ্ণা আসিল তখন।
মেবার মহিমা
=
অতুলন রূপ তার বােড়শী বয়সে।
প্রফুল্ল তিকা তুল্য ধীরে কাছে আসে।
দেখি সে কোমল মুক্তি লাবণ্য ভরা।
জোয়ানের হাত হৈতে খসি পড়ে ছােরা।
ছুটিয়া জােয়ান দাস যায় পলাইয়া ।
“পারিব না আমি” বলে রাণারে কান্দিয়া
রাণাও কান্দিল শেষে পাঠাইল দাসী।
সেই দাসী বিষ দিল কৃষ্ণা কাছে আসি।
“তৰ পিতা দিল বিষ পান কর মাতা।”
বহু কষ্টে দাসী তারে বলে এই কথা।
“সুখী হােন পিতা মম চিন্তা যাক দূরে।”
এত বলি কৃষ্ণ সেই বিষ পান করে।
কৃষ্ণার জননী কান্দে করিয়া চীৎকার।
“ফাটি যায় বুক মম নাহি পারি আর ।”
মাতারে বুঝায় কৃষ্ণা প্রবােৰ বচনে।
একবিন্দু অশ্রু নাহি তাহার নয়নে।
“কেন গাে জননী তুমি কাদ অকারণ।
জান ত মা দুঃখময় নারীর জীবন।
দুঃখের জীবন শীঘ্র শেষ হয় বাহে।
তার তরে নােদন ত সমুচিত নহে।
স্থির হও ত মাতা আমি দুহিতা তােমার।
সত্য কহি মাের ভয় নাই মরিবার।”
মেবার মহিমা
মাতৃপাশে বসি কৃষ্ণা বলিছে বচন।
ভুক্ত বিষ উঠে যায় হইয়া বমন।
নির্দোষী বালিকা কোমলতার আধার।
অনিষ্ট করিতে বিষ করে অস্বীকার।
কৃষ্ণা পুনরায় বিষ করিল ভক্ষণ।
পুনরায় উঠে তাহা হইয়া মন।
বার বার তিনবার বিষ পান করে।
আশ্চৰ্য্য নিতে কৃষ্ণ তবু নাহি মরে।
পাঠান বংশীয় সেই পিশাচ আমীর।
কৃষ্ণ নাহি মৰিলে রহিতে নারে স্থির।
কম্বাকুসুমে অহিফেন মিলাইয়া ।
নিদারুণ বিষ পুনঃ দিলে আনিয়া।
ঈষৎ হাসিয়া কৃষ্ণা তাহা পান করে।
ঘুমাইয়া পড়ে বা চিরকাল তরে॥
বেশী দিন নাহি বাঁচে দুখিনী জননী।
আর ত্যজি নিশিদিন কালে অগিনী ।
তনয়ার মরণের কয়দিন পরে।
তার মৃতদেহ উঠে চিতার উপরে ।
শাবৎ বংশধর সংগ্রাম নামেতে।
এ সময়ে নাহি ছিল উদয়পুরেতে।
ৰাজধানী আলি তবে নিল সকল।
হৃদয়ে তাহার ক্রোধ হইল প্রবল ।
মেবার মহিলা
।
রাণারে বলিল ধীরে, ক্রোধে কাপে ধর।
“শত ধিক! বাপ্পার অযােগ্য বংশধর।
শতেক পুরুষ ধরি বহে যে শণিত।
তৰ কাৰ্যে আজি তাহা হয় কলঙ্কিত।
শিশোদীয় বংশজাত আর কোনও বীর
না পারিবে উচ্চ করি ধরিবারে শির ॥
অপরাধহীন সেই কোমল বালিকা।
যেন শরতের প্রাতে শুত্র শেফালিকা।
নিষ্ঠুর! করিতে নষ্ট তাহার জীবন।
দেখাইলে কেন এ ব্যগ্রত অশােভন।
শত্রু কি করিয়াছিল পুরী অধিকার।
ভাঙ্গিয়া কি ছিল তারা অন্তপুর দার?
সত্যই যদি বা তারা এ পুরী লইত।
অন্তঃপুর দ্বার যদি ভাঙ্গিয়া ফেলিত ৷৷
দেখাইল যেই পথ পূর্ব পিতৃগণ।
সেই পথে কেন নাহি ত্যজিলে জীবন।
করিয়া কি এই মত বীর আচরণ।
রাখিল অতুল কীৰ্ত্তি তব পিতৃগণ।
কেমনে আজিকে সবে হৈলে বিরণ।
করিল যে কীৰ্ত্তি আমাদের পিতৃগণ।
এই মত আচরণ কভু কি করিল।
বাদশার বিপক্ষে যখন দাড়াইল।
১৫৭
মোৰ মহিম
ভুলিলে কি চিতােরের ধংস বারম্বার।
তুলিলে কি হলদিঘাটে প্রতাপ রাণার।
কিন্তু আমি কারে আজি করি সম্বােধন।
নাজপুত নাহি হও তােমরা একজন।
বিলম্ব হইত বলি রমণীর গান।
তাদিকে অনলে যদি করিতে প্রদান।
ছুটিতে লইয়া অসি মথি শত্ৰলে।
রাখিতে পারিতে কীৰ্ত্তি তােমরা সকলে।
তবে ত হইয়া পরিতুষ্ট ভগবান।
বাপ্পাবংশ বীজ করিতেন পরিত্রাণ।
করিলে যে পাপ কাৰ্য মারিয়া কৃষ্ণারে।
তার যােগ্য ও নাহি পাই দেখিবারে।
শক্ত হস্তে পরিত্রাণ পাইবার তরে।
করিলে তােদর হত্যা নিরপরাধীরে।
কিন্তু হেন পাপে রক্ষা কভু নাহি হয়।
ৰাপ্পা বংশ লােপ হবে জানিও নিশ্চয়।
এত বলি বীরবর হইল নীরব।
লাজে হেঁটমাখা রহে সভাসদ সৰ ।
মারাঠা পীড়নে রাণা জরিত হন।
অবশেষে ইংরাগের লগেন শরণ।
ইংরাজের সাথে সন্ধি হইল স্থাপন।
আর না করিল কেহ রাণাকে পীড়ন।
১৫৮
মেবার মহিমা
করদ রাজার মধ্যে হইয়া গণন।
নিরুদ্বেগ করে রাণী প্রজার পালন।
সমাপ্ত
+
Printer und Publlubor-Surondrinath Hers
LRRHA PREB
148, Hari Mukhorja. Bond, Bhawanipar,
CALCUTTA
পৃষ্ঠা পংক্তি পারে । চ'ও,বলি চণ্ড, বলি মারিয়া নিয়ের ১ শাধিয়া নিমের ষাৰে তুমি। নির্বাসিত করিছে প্রথমই পংক্তি বা দিবেন। তুমি।” নির্বাসিত, করিত ৫ • ১২ এক রাখি "atform Foot note যিনি এই ভাবে খি পাঠাইবেন তাহাকে “রাখি ভগিনী" বলিয়া স্বীকার করিতে হয়। হৈল, সাহলীর ৮৯ হৈল শাহীর গােড়াতে ও শেষে Quotation চিহ্ন হইবে। Ditto Ditto পরি कति গােড়ায় ও শেষে quotation চিনু হইবে ২ রাজধানী নিশী হাদিগে রাজধানী, নিশি তাদিকে ১৮ শু। লংক ১৮ ১৮ ১১ এ লিপি পরিপুর্ণ পরিপূর্ণ ও কেন নিক। মানে মানে পুনঃ নানা রাপা এই পৃষ্ঠার নীচে সমাপ্তির রেখা তুল কবি। ছাপ হইয়াছে ফেণ। লিপি আমাইট পুত্র “রাণা প্রতাপ কর্তৃক মেৰাৰ উদ্ধাৰ এই headline গুলি ভুল করিয়া এখানে পা হইয়াছে করেন ১৭ বীর তৃতীয় পংক্তির শেষে Quotation শুরু পাঠ “হিন্দু কর দিবে, নাহি দিবে মুসলমান ৰছুি ছিল অঙ্গিত মহারাষ্ট্র মহারাষ্ট্র মত তার ১৮ ১৪. - ১৪১ ৯ ১১। ১৫৪ ১১ লাবণ্য ১১ লাবণ্যতে হও বীর হলদিঘাট হলদিঘাটে বিপন্ন
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.