Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Patheyo
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
পাথেয়
শ্রী প্রমথনাথ রায়চৌধুরী
মূল্য ॥ আট আনা
৬ নং সিমলা স্ট্রীট প্যারাগণ প্রেসে
এবিষ্ণুপদ হাজরা কর্তৃক মুদ্রিত।
বার, ১৩৩১ সাল।
২০১ নং কর্ণওয়ালিশ স্ট্রীট
বেঙ্গল মেডিকাল লাইব্রেরী হইতে
শ্রীগুরুদাস চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রকাশিত।
সূচী বিষয় পৃষ্ঠা অপূৰ্ব্ব উৎসর্গ ••• •• ১ পাথেয় ••• । * ••• ••• ••• যাত্রা আনাড়ীর কবুলজবাব দোহাই তােমার ••• ••• • ৫০ ••• আগুন-খেলায় খবরদার পরকে দিয়ে ঘরকে শেখানাে বাঁশের চেয়ে কঞ্চি দড় বামন হয়ে চাদে হাত গরজ বড় বালাই ১০ ২ ১৪ ১৬ ••• ••• ••• ••• ••• ১৮ ••• । । । ••• ••• জানা কথা জানানাে সুতির ফাঁদ • ••• ••• ••• খাটী চোর পেটে খেলে পিঠে সয় 20 ২১ ২৩ ২৪ ২৬ ২৯ ৩১ ••• * জোর কপাল ••• * * * প্রেম বড়, না হেম বড় ? শুধু প্রেমে কি করে তােমাময় জীবন ।। ৩৩ . ••• ১।
০ পৃষ্ঠা বিষয় সুখের চেয়ে দুখের বেশ দরদ শেষের সাধ • ৪১ ভাঙ্গা বেড়া কি গেরাে! হােরি খেলা গঁটে গাঁটে বাধন । ৪ : ৪৮ তর্কে বহুদূর ও ৪ ওরা আর আমরা দিল্লীর লাড্ড ••• •• ••• ৫৬ ৫৭ । । ••• ৮। . ৬৪ সােণার ছবি এ-পিঠ আর ওপিঠ। সাধন রাণীর বােধন আদত বাহাদুরী নাছােড় বান্দা সাথের সাথী হঠাৎ জোয়ার পূরা আর টুকরা আপন হারা কলিজার কোহিনুর দিন-দুপুরে ডাকাতি । • ••• ৫০০ ••• ৭২ । । ••• ০
অপূর্ব উৎসর্গ
যে আজ আমায় লিখিয়ে ছাড়লে,
তারেই লেখা দিলাম,
ত। নইলে যে হতেম অনি
নেহাৎ নেমকহারাম।
বিশ্ব-প্রাণের শর্ষ স্থানটি
যার, দখল যার,
নিঃস্ব প্রাণের উপচার তার
শ্রেষ্ঠ উপহার।
হও না তুমি জড়বাদী,
ইও না অবিশ্বাস,
মহাপ্রসাদ খুজে বেড়ায়
তবু উপবাসা ।
যে যা-ই ভাবি, যতই কবি,
ঘুরে ফিরে শেষে
একই জায়গায় তব ভিড়
একটি তীরেই এসে ।
যার মন যেমন তেমন (দ',
রূপ কি অরূপরাশি,
পাথেয়
কারও হৃদয় জেরুজেল,
কারও মক্কা, কাশী।
ধূ ধূ কচ্ছে আঁধার পথ
যাত্রী আমি একা,
পাথেয় মাের, কাণাকড়ি,
তীর্থের নাই দেখা।
যাহাই ভাবি, যাহাই বলি,
এসে ঘুরে ফিরে
তােমার নীরেই তরী ভাসে
ভিড়ে তােমার তীরে।
কৃপাসিন্ধু, দিলে যত,
পড়ছে তোমার পায়,
ভালবাসার নদী-নালা
ওই সাগরেই ধায় !
দিলাম তােমায় দিলাম,
আমার যা ছিল সব দিলাম
পাব না ত হতে আমি
প্রেমে নেমকহারাম।
পাথেয়
ও পাটনী, এস তােমার
পারের ডিঙ্গায় চড়ি,
ও পাঁচ প্রাণ—পাথেয় মাের,
পাঁচটি কাণ। কড়ি!
হয়ে গেল মাটীর ঢেল।
গড়তে গিয়ে রত্নহার,
গান বাঁধতে গিয়ে প্রাণ
গড়ে তুলে হাহাকার !
সূৰ্য্য ওই যাচ্ছে নিবে
অন্ধকার দিচ্ছে সাড়া,
ছয়টি দাড়ী মন-মাঝিরে
পথের তরে দিচ্ছে তাড়া!
উঠছিল দম্কা হাওয়া,
পালের উপর টালি পাল,
পাকে পড়ে ঘুরছে তরী,
আর ত রাখা যায় না হাল?
পাথেয়
রচতে যাব দেবের নিবাস
হয়ে উঠল কামায়ন,
তবু এস, তুমি এস,
নিয়ে প্রেমের রসায়ন!
কাছে আসতেই শুকিয়ে গেল
পিপাসার ওই মহাসাগর,
রসের ছবি ছুতে চুতেই
হয়ে গেল আস্ত পাথর !
এস এস, তুমি এস,
পড়ে গেছি ভাটার টানে,
নয়া জোয়ার আন আবার
ঢেউ খেলিয়ে সারা প্রাণে।
যাত্রা
বলে থাকেন গম্ভীর হয়ে
অনেক বুদ্ধির টেকি,
দেখি যাহা তাহাই খাঁটী,
বাদ বাকী সব মেকী।
*নের বুড়া, প্রাণের ফকীর
এ সব বুদ্ধিমান্,
হোন্ না গণ্য, ধরায় ধন্য,
একেকটী পাষাণ!
পপাসার সেই মধুর সুধা
দুখ দুর্দিনের সুখ,
পরের স্বপন যদি ফাঁকি
সত্য কতটুক?
যাদের খুসি, করুন্ কষে’
অতিবুদ্ধির চাষ,
কবির মন-ভুমি হতে
তাদের বনবাস !
মন-পবন আর সাধের বৈঠা,
প্রণয় কাণ্ডারী,
সাধন আলাে ভরা জোয়ার,
দে তাের তরী ছাড়ি।
৬
পাথেয়
যাঁরা বলেন, নাই কিছু নাই,
সবই ধোঁকা ধোঁয়া,
মগজের সেই ঘূর্ণিপাকে
যানে রে তুই খােয়।
আঁখি মুদে প্রাণের মাঝে
দ্যাখ, রে প্রাণারামে
ডাক্ রে তারে হৃদয় ভরে,
যা খুসী সেই নামে।
মুটেই বয় গাধার বােঝ,
ভঙ্গ করে পান,
মানস-শতদলে তারে,
আরে ডেকে আন্।
সে আলােকে কেটে যাবে
তাের দু’চোখের ছানি,
আয় পতঙ্গ, ঘুচবে পুড়ে
জীবজন্ম গ্লানি।
মন-পবন আর সাধের বৈঠা,
প্রণয় কাণ্ডারী,
সাধন আলাে ভরা-জোয়ার,
দে তাের তরী ছাড়ি।
আনাড়ীর কবুলজবাব
যত বড়ই মানুষ দেখি,
আদর্শের এক বিন্দু,
সে আদর্শ তােমার অণু,
ওগাে পূর্ণ সিন্ধু।
রূপ না থাক্, অরূপ দেখে
জগৎ ভােলে মেহে,
ফুলে গন্ধ, শূন্যে সমীর
প্রাণ যেমন দেহে!
তোমার কথা ভাবতে ভাবতে
হারিয়ে যায় মন,
তোমার আলো বুকে এলে
জ্বলে ত্রিভুবন।
যেথায় যখন যা দেখেই
ভুলে গেছে আঁখি,
ভেবেছি, সব কুড়িয়ে এনে
পাদপদ্মে রাখি।
যে কবিতা উতরে যায়
সে যে তােমার লেখা,
যে ছবিতে মন মাতায়,
তুমি টালে রেখা।
পাথেয়
যে রাতে ফিট জ্যোৎস্না উঠে,
দখিণ হাওয়া বয়,
ভুঞ্জি প্রাণের কানায় কানায়
তােমার পূর্ণোদয়।
গগন ভেঙ্গে নামে ধারা
সঘন-অশ্রু প্রায়,
মনে হয় এ বাদল দিনে
কেঁদে কাদাই তােমায় !
অদর্শনে মনে উঠে
সে সব কথা গুলি,
দেখার একটি রেখা পেলে,
সকল কথাই ভুলি,
কাছে কাছে আছ তবু
বিরহ না যায়,
যত শুধি, ততই বাড়ে,
পােড়া প্রেমের দায়!
ইহারই নাম ভালবাসা
লােকে যদি কয়,
তবে তােমায় ভালবাসি,
এটা মিথ্যে নয় !
দোহাই তােমার
দোহাই, ঠাকুর, মনে রেখাে,
ও নাম-সুধার দোহাই !
'ভূতের বেগার হতে আমায়
দিও না আর রেহাই ।
একটু যদি কসুর করি,
একট করি কামাই,
শাসন করাে পযাণ হয়ে
করাে না তার রেহাই !
কবে যেদিন, জান্নাে-দয়ায়
ঘুণ ধরেছে, তাই
এত দরদ, বিবেচনা,
এত সােজ। রেহাই !
আগুন-খেলায় খবরদার
অন্তর্যামী জান না কি
ভুলায় আমায় প্রলােভন,
শুভ যাহা ছেড়ে তাহ,
করি যাহা অশােভন।
তুমি রাখ অমল চরণ,
ওকায় প্রাণের কমল তবু,
বইতে নাহি পারি ও ভার,
তােমার আলাে হারাই, প্রভু !
অবল বিফল প্রাণে পশি
খােল তার সব বাতায়ন।
যদিও বার বারই ঠক,
করে না তাও পলায়ন!
যদিই আমার ভাঙ্গা ডিঙ্গি
ডুবতে চায় পড়ি ধারে,
ও কাণ্ডারী, ছছড়ােনা হাল,
এনাে ফিরিয়ে কূলে তারে।
আগুন-খেলায় খবরদার
তােমার তাল কে সাম্লায় বল,
তােমার তাপ কে সইতে পারে ?
পতঙ্গ ত তবু আসে
তরণ-লােভে মরণ-দ্বারে।
আমরা রক্ত-মাংসের পুতুল,
তুমি তাহার খেলােয়ার,
বারে বারে বুঝিয়ে কর
আগুন-খেলায় খবরদার!
পরকে দিয়ে ঘরকে শেখানাে = আমায় যদি প্রশ্ন কর- কিসে আমি ঠাণ্ডা রই, আমি বলি, কিছুতে নয়, মনের কথা কারে কই ? ভাগ্যে যখন ভাঁটা লাগে, বজ পড়ে বিনা মেঘে, ধরা যখন বিমুখ হয়ে ফণা তােলে হঠাৎ রেগে। তখন তুমি নারীর চোখে কি অমিয়াই ঢেলে দাও, তুমি তখন শিশুর ঠোটে কি হাসিটি ফুটিয়ে যাও! ঘুচলে গ্রহ, দেখি আবার আকাশখানি পরিষ্কার, শুকূলে চড়া ডুবাতে ধায় মরা-গাঙ্গের ভরা-জোয়ার।
পরকে দিয়ে ঘরকে শেখানাে
ধরার কণ্ঠে বাজে তখন
মহােৎসবের মােহন বাঁশী,
মুখে চোখে খেলে তাহার
নিবিড় সুখের নীরব হাসি।
এ সংসারে জয়ের নেশা-
সুধা বলে’ সুরাপান,
মেকি নিয়ে ভুলি না আর,
তুমি দিলে চক্ষুদান :
কিছুই নাহি চাই, আমি,
কিছুই নাহি চাই,
পরাণ ভরে পরাণের ধন,
তােমায় যদি পাই।
বাঁশের চেয়ে কঞ্চি দড়
যখন ভাবি তােমা ছাড়াও
সংসার যায় খাসা চলে,
তখন তুমি ওপর থেকে
বজ্ৰ হেনে কি যাও বলে।
ঠেকে’ ঠকে তােমায় চিনি,
আবার করি অবহেলা,
এই করে যুগে যুগে।
চলছে তােমার লীলা-খেলা।
পুর্ণিমাটি লাগে যখন
ভাগ্য-আকাশ ঘেরি,
বুঝি রাহু অতি কাছে,
গ্রহণের নাই দেরি।
আবার দুখের ভরা গাঙ্গে,
প্রলয় বন্যা ডাকে,
সুখ-কল্পগাছে ফুল-ফল
ফলে ঝাঁকে ঝাঁকে ।
বাঁশের চেয়ে কঞ্চি দড়
তােমার কৰ্ম্ম হাজার হাতে
বিশ্বে বেগার খাটে,
নিজের লক্ষ্মী পরকে দিয়ে
ফিরছ ঘাটে ঘাটে।
ভক্তে কোলে করে যে প্রেম
আঁখির নীরে ভাসে,
অবিশ্বাসীর দ্বারেও সে প্রেম
পায়ে ধরূতে আসে।
তখন মনে মনে তুলি,
আমরা কতই বড়।
একেই বলে শাদা কথায়
বাঁশের চেয়ে কঞ্চি দড়।
বামন হয়ে চঁাদে হাত
আমার মত ডাল পালার
অভাব তােমার নাই।
তাই ত ‘ভালবাস’ ভাবতে
ভরসা নাহি পাই ।
তােমায় ছাড় বার যাে-টী নেই
এমনি প্রেম দায় !
আমার অধিকারের কথা
স্রোতের সেওলা প্রায়।
তাপীর তরে যদিও তুমি
ব্যাকুল, সৰ্ব্বদাই,
যখন তখন সে আবদার
কি আস্পর্ধায় চালাই।
যা কও, সব গুলিয়ে ফেলি,
যা দাও, তা হারাই,
জানি দয়াল, নও গাে ভয়াল,
চাইতে এসে পালাই !
বামন হয়ে চাদে হাত
১৭
দাসের প্রতি প্রভুর প্রেম
মিথ্যে যদি হয়,
ভাবব, জগৎ মিথ্যে ;-তবু
ছাড়ব না সে ভয় !
এত বড় আশা, আর
অত বেশি দাবী
করি আমি কিসের জোরে
সদাই ভয়ে ভাবি।
অত উঁচু গেলে নজর,
আপনিই নেমে আসে,
নিজের পরে বিশ্বাস তখন
রাখি কি আশ্বাসে !
গরজ বড়
বালাই
তাড়িয়ে দিল ও এস ফিরে,
এটা স্বভাব তোমার,
তাই ত সাহস করে’ ফিরাই,
ডাতেই দেখা আবার!
ভাগ্যের চাদা খেয়ে যখন,
তােমা হতে দূরে যাই,
এস অপরাধীর মত
সহ আমার গঞ্জনাই ।
বাছো না ত ভাল-মন্দ,
রাখ না যে লজ্জা-ভয়,
ভালবাস! সেই এক ভাবে
সকল ভাবের হ’ল লয়।
যখন ভাবি আছ দূরে,
কাছে আরও বেশী টানাে,
আদর দিয়ে মাটী কর,
এত খেলাও তুমি জান ।
গরজ বড় বালাই
কেন আমি না চাহিতেই
পূর্ণ হয় প্রাণের সাধ ?
কেন মাথা না নেয়াতেই
ঝরে তােমার আশীর্বাদ।
তােমার ভাবনা ছেড়ে যখন
ভাবি মন্দ আছি কি আর?
তখন তােমার আবির্ভাবটি
প্রাণকে করে অধিকার।
গরজ বড় বালাই, ওগো,
গরজ বড় বালাই।
আমার মত অগতি বই
গতি তােমার নাই।
কেন-র উত্তর
যে জন্য আনন্দে ফিরি দুখের সংসার মাঝে
যে জন্য উৎসাহে ছুটি কঠোর কর্তব্য কাজে,
সে সবার প্রাণ তুমি, প্রাণ সে সবার।
এ যে গাে মরম-কথা, নহে তা ত বুঝাবার :
যে জন্য সৌন্দৰ্য-ধ্যানে চিরনূতনতা থাকে,
যে জন্য ভাবের বন্যা হৃদয়ে এমন ডাকে,
সে সবার প্রাণ তুমি, প্রাণ সে সবার।
এ যে গাে মরম-কথা, নহে তা ত বুঝাবার !
-
যে জন্য পরের লাগি আপনারে করি দান,
যে জন্য মহৎভার বহিতে দমে না প্রাণ,
সে সবার প্রাণ তুমি, প্রাণ সে সবার !
এ যে গো মরম-কথা, নহে তা ত বুঝাবার !
যে জন্য পিছল পথে পড়িয়া আবার উঠি,
যে জন্য টুটিয়া পুন অনন্ত বিকাশে ফুটি,
সে সবার প্রাণ তুমি, প্রাণ সে সবার !
এ যে গাে মরম-কথা, নহে ত ত বুঝাবার !
জানা কথা জানানে
হেসো না মা, যদিই রচি তােমার ইতিহাস।
আকাশময় তারা ফোটে,
জগৎময় জ্যোৎস্না ওঠে,
ঝরণা ঝরে, হাওয়া ছােটে,
জড়ের এ বিকাশ
এর মাঝে দেখে বিশ্ব তােমার একটু আভাস !
যাদুকরী, কে জানে ও মায়ার পূর্ণ প্রকাশ ।
হেসাে না মা, নকল ছেড়ে যদিই আসল ধরি,
জ্যোৎস্না দেয় যে জাল বুনে
সাগর নাচে যে তাল গুনে
সে লহরী গুণে গুণে
সাধ প্রাণে ধরি।
কালী তাের ওই কাল হরফ যদিই মক্স করি
মহাকালের ইতিহাসটা যদিই শেষে গড়ি।
হেসাে না মা, লিখতে গিয়ে যদিই ভুলি লেখা ।
এই যে অনিমেষ-আঁখি
পাথেয়
কোথায় যে নেয় আমায় ডাকি,
দিই ফাঁকিতে পড়ে’ ফাঁকি
দোষী নই গাে একা!
ছায়া-ধরা খেলা মা গাে, তােমার কাছেই শেখা,
খা গে লেখা, পরাণ ভরে চলুক শুধু দেখা!
স্মৃতির ফাঁদ
এইখানে বসেছিলে, হৃদয়ের শূন্য কুলে,
যেন গো চরণ-চিহ্ন ফেল গেছ সােণা-ভুলে।
তপ্ত বালু খুঁড়ে খুড়ে তুলেছিলে কি অমিয়,
প্রাণ-পাত্রে পড়ি তাহা আজ যে গরল, প্রিয় ।
ঢেউ-তােল ঘােলা জলে ভাসিছে পূজার ফুল,
আঁধারে চলিয়া গেছে জীবনের শতমূল !
ওপারে গ্রামের প্রান্ত যেখানে আকাশে মেশে,
দেখিতেছি ম্লান রবি চলিয়াছে সেই দেশে ।
গৃহ-কেরা রাখালেরা চলেছে গাহিয়া গান,
দূর হতে ভেসে আসে শুধু বেদনার তান !
কি যেন কি বলেছিলে মরমের কাণে কাণে,
জনমের মত গেছে আঁকা হয়ে প্রাণে প্রাণে।
ছাড়িয়াও ছাড় নাই, লুকায়ে লুকায়ে কের’,
ভালবাসা যত কাদে, তত তার মর্ম চের।
খাঁটী চোর
ওগাে চোর, ওগো আমার
মন-পুরের চোর,
ভেঙ্গেছে সব জারিজুরি
তােমার হাতে মাের।
গরল মথি সুধা যখন
আনি আপন তরে,
চোরের উপর বাটপাড়িটী
কর ভাবের ঘরে!
হঠাৎ যখন মন-মূরলীর
বুজে আসে বিঁধ,
নিদের ঘােরে সিধেল চোর
কাটো এসে সিদ।
যতই প্রাণটা দূরে সরে,
ততই কাছে টান,
পালিয়ে পালিয়ে যতই ফিরি
ততই বেঁধে আন।
খাটা চোর
২৫
পা টিপে যাও, ছায়া তােমার
পড়ে হৃদয় মাঝে,
যতই লুকাও দয়ার নুপুর,
প্রাণের কানে বাজে।
ভেবেছি যা, বল্লেম খুলে,
জানি এটা তবু
ধরা পলেও খাটী চোর
সাধু হয় না কভু !
এও কখনও হয় ?
আরে, এও কখনও হয় ?
আগুন আর ভালবাসা,
তাও কি ছাপা রয় ।
পেটে খেলে পিঠে সয়
শাস্ত্রে বলে মহামায়া
বিশ্বের প্রলয়ঙ্করী ।
কিসে বলি, মিথ্যে সেটা?
রাগ করাে না, বিশ্বেশ্বরী ।
আমার আছে অভিজ্ঞতা,
ছিলাম নিঃস্ব একটী ধারে,
তুমি করলে হৃদয়-বিশ্ব
ওলট-পালট একেবারে !
আগেও আমি ছিলাম, আর
আজও আছি আমি,
দুয়ের ভেতর কি তফাৎ, তা
জানাে অন্তর্যামী।
যে আগুনে জ্বালাও তুমি,
সেই আগুনেই আললা কর,
ৰে সলিলে ভাসাও তুমি,
সেই সলিলেই তৃষা হর!
পেটে খেলে পিঠে সয়
সুখের দিনে পাই না দেখা,
এমনি তােমার চোর স্বভাব,
দুখ-দুর্দিনে না চাহিতে,
হেরি তােমার আবির্ভাব ।
ভােগের সময় পালিয়ে ফের,
খুঁজি তৃষায় দিশাহারা,
রােগের সময় শিয়রে মাের
জেগেই আছ ধ্রুবতারা !
হাক দেখে দয়ার বেলা
ভাবি,তােমার শক্তি কৃশা,
কপি—যখন ছিন্নমস্তা,
আপন রক্তে মিটাও তৃষা।
যে আসে, সে পালায় শেষে,
আর তাহারে যায় না দেখা,
ঘুরে-ফিরে তােমায় দেখি,
ছেড়ে যাও না তুমিই একা?
ভাগ্য যখন ধরে কেশে
ঠায় শুনােয় পিছলে পড়ি,
দাড়িয়ে সবাই দেখে মজা,
তুমি তােল কোলে করি।
পাথেয়
আবার ভাগ্য যখন ফেরে,
ঢেলা ছুলে মাণিক হয়,
আঘাত দিয়ে বুঝাও তুমি
চিরদিন না সমান রয়।
শাস্ত্রে বলে মহামায়া
এ বিশ্বে প্রলয়ঙ্করী,
আমার কথায় বুঝলে ত হে,
শাস্ত্র কত মান্য করি।
লাে নিদাঘের শীতল ছায়া
জীবন-মেঘে আলাের ছবি,
তোমায় ভালবেসেই, দেবি,
হয়েছি আজ আমি কবি !
জোর-কপাল
কি দান তােমার দিতে পরি,
ওগাে আমার হৃদবিহারী!
আমি কাঙ্গাল, বড় কাকাল!
ফুল ফুটিয়ে চাইছ কাটা,
জোয়ার এনে কাদার ভাটা,
—সেটা কপাল, আমার কপাল।
আমার ফুটো চালায় ভিজে
নিজের পূজা সাজা ও নিজে,
আমি কাঙ্গাল, বড় কাঙ্গাল!
মাের দানকার বেণ-বনে
মুক্তা ছড়াও খনে খনে,
সেটা কপাল, আমার কপাল !
তিন ভুবনের রাজা-পতি
উঞ্ছবৃত্তি -আমার গতি,
আমি কাঙ্গাল, বড় কাঙ্গাল !
দয়া দরদ জানতে না দাও,
পারি যেটুক, তাও যে না চাও,
সেটা কপাল, আমার কপাল :
পাথেয়
তোমার অণু বুকে বয়ে
যাচ্ছি রেণু রেণু হয়ে,
আমি কাঙ্গাল বড় কাঙ্গাল!
সাত রাজার ধন মনে গণি
ছাই কছ মাথার মণি,
সেটা কপাল, আমার কপাল !
প্রেম বড়, না হেম বড় ?
এক দিকে এক তুমি ছিলে,
অন্য দিকে রাজ্যধন,
সব ছেড়ে সেই রাজার ছেলের
তােমার দিকেই ঝুকলো মন।
সেদিন ওরা বলেছিল-বােকা, লােকটা বােকা !
প্রেম বড়, কি হেম বড়, ছিল ওদের ধোকা।
গরিবী মাের নাই কখনও,
যে যা ই মনে কর,
ন না পা, মনটা আমার
রাজার চেয়েও বড়!
ওরা হয় তা বলতে পারে-বােকা, লােকটা বােকা!
প্রেম বড়, কি হেম বড়, আছে ওদের পোকা।
ওদের সম্পদ ওদেরই থাক,
তােমায় নিয়ে সুখে থাকি,
তুমি যদি থাক বুকে
কার তােয়াক্কা বল রাখি?
ওরা হয় ত বলতে পারে-বােকা, লােকটা বােক।
প্রেম বড়, কি হেম বড়, আছে ওদের ধোঁকা।
৩২
পাথেয়
ওদের রাজ্যে আইন-কানুন,
ছাদন-বাঁধন নাগপাশ !
আমার যেন করে বন্দী
তােমার দুটি বাহুর পাশ !
ওরা হয় ত বলতে পারে—বােকা, লােকটা বােকা।
প্রেম বড়, কি হেম বড়, আছে ওদের ধোঁকা।
ওদের রাজ্যে পাকচক্র,
কলের তালে দুনিয়া চলে,
তােমার রাজ্যে প্রাণের যুক্তি
কাজের কাণে কথা বলে !
ওরা হয় ত বলতে পারে—বােকা, লোকটা বােকা
প্রেম বড়, কি হেম বড়, আছে এদের বেঁকা।
পদের মদের উষ্মা—সে ত
ধনী মানার মস্ত শাজা,
'ওদের শুধু রাজ্য আছে,
আমিও কিন্তু আদত রাজা!
ওরা হয় ত বলতে পারে—বােকা, লােকটা বােকা।
প্রেম বড়, কি হেম বড়, আছে ওদের ধোঁকা।
শুধু প্রেমে কি করে
আমায় যদি ভালবাস,
বেসসা চিরকাল,
অল্প ভালবেসে, তবু
বেসসা চিরকাল।
দুদিন মাথায় তুলে শেষে
পায়ের তলে ফেল,-
কাজ কি পরাণ লয়ে, ঠাকুর,
অমন লাল-খেলা ?
তোমার প্রবেশ, তােমার অব
শিরায় শিরায় মাের
তড়িত সম বাজে
তা কি জান, চিত্ত-চার ?
তােমার গড়া রক্ত মাংস
আছে তাতে কীট
হঠাৎ কখন করবে মলিন
তােমার পাদপীঠ।
৩
পাথেয়
প্রভাতে যে কুসুম ফোটে,
সাঁঝে তা যে শুকায়,
নিশার চাদটি উষার আলােয়
কেন বল লুকায় !
যে আদর্শ ঘঘরে ধুলায়
তারই আয়ু ক্ষীণ,
অতুল যাহা, অমুল যাহা,
রয় না চিরদিন।
আমরা একটি ভােলার দল,
ক্ষ্যাপার দলপতি,
তুমি ঠাকুর! অবিশ্বাস
তাই ত তােমার প্রতি।
আমায় যদি ভালবাস,
বেসসা চিরকাল,
অল্প ভালবেসাে, তবু
বেসসা চিরকাল ।
হােক না তােমার স্বর্গীয়-প্রেম,
আমার করে ভয়,
চিরকালের নয় বা সেটা,
চিরকালের নয়!
তােমাময় জীবন
অত প্রশ্ন মিছে করি
অত উত্তর কেন চাই,
তােমার কথা অত চট পট
কেন আমরা বুঝতে যাই ?
তোমার ঋণে ডুবে আছি,
শুধতে চাওয়া মহা ভূল,
সাগর জলে ঢেউ গােণ সার,
অকূলের কে পাবে কূল !
তাই ত ভুলে ভুলে যাই
কে গাে তুমি আমাদের,
জীবজন্মের ওই ত গ্লানি,
ভাগ্যের সেই ত মস্ত ফের।
এমন ভাব নাই কারও প্রতি,
এমন ভাব আর কোথায় হয়,
'জগত ঘােরে প্রাণের কোণে
তুমি আছ জীবনময় ।
পাথেয়
পূজার কুসুম শিরেই থাকে
মানে না কেউ টাটকা বাসি,
ও আশীৰ্বাদ মাথার মণি
ও অভিশাপ গয়া কাণী ।
এবার তবে তােমার শপথ
থাকব না আর কথার পিছু,
মনের মনে ভাব তােমায়,
বলব না আর বাইরে কিছু ।
সংশয় যবে অধীর হয়ে
কবে প্রশ্ন নানারূপ,
তখন তােমার রূপটি যেন
সকল তর্ক করায় চুপ।
সুখের চেয়ে দুখের বেশী দরদ
আঁখির কাছে রেখেও তােমায়
দেতে পায় না আঁখি,
জগৎ-ভাবি ধোঁকার টাটি
দুনিয়াদারী ফাঁকি।
তাতে হাজার দুয়ার খোেলা,
কেবল ভাগা, কেবল ভােলা,
এমনি দুনিয়া!
যারে ভালবাসি, তারে
রাখছি টানিয়া!
তাই ভরসা নাহি পাই,
পাই যতটুক তাহার বেশী
অনেক খানি হারাই।
মিলন মাঝে মরণ ঘােরে,
মমাদের আশে পাশে,
কঁচা প্রাণের তাজা কোরক
কায় তারই স্বাসে!
পাথেয়
এই যে ধরার তৃষা আশা,
এত সাধের ভালবাসা,
তাহাও চলে যায় ?
যারে ভালবাসি, হঠাৎ
ছাড়তে হয় তা’য় !
তাই ভরসা নাহি পাই,
পাই যতটুক তাহার বেশী ।
অনেক খানি হারাই।
একটিবার যাও ধাক্কা দিয়ে
প্রাণের কবাট খুলে,
একটি বারই সুধা ঢাল
জীবন-তরুর মূলে।
অভাগা সে!-দেখে না যে
তােমার প্রথম প্রবেশ,
পাষাণ!—যে না ধরূতে পায়
তােমার প্রথম আবেশ।
তাই ভরসা নাহি পাই,
পাই যতটুক্ তাহার বেশী
অনেক খানি হারাই।
শেষের সাধ
মরুতে যখন চাই, হে প্রিয়,
কঁপতে থাকে এ হৃদয়,
এই যে ধরার মধুর ছবি,
শশী তপন মধুর সবই,
ছাড়তে হবে জন্মের মত প্রাণে তা কি সয় ?
মতে নয়, মায়ের কোল ধরা ছাড়তে ভয়?
মরূতে চাই দেখতে, আমার
জীবন উৎস-মূল,
মিটিয়ে নিতে চাই আমার
গত জন্মের ভুল,
ঘুমাতে চাই শান্তিময় ভ্রান্তি সীমার পায়ে,
মতে কি ভয় ? আলাে যদি থাকে সে আঁধারে
ম’রতে চাই, পরখ কতে
মরণ কেমন চিজ,
মরম মাঝে ধরূতে চাই
চরম জীবন-বীজ,
খুচাতে চাই গােলকধাঁধায় ঘােরা ফেরার গেল,
মরতে কি ভয়, মরণ যদি মিলায় অভয় কোল।
পাথেয়
কাল যখন বুঝবে সময়,
মানবে না আর বারণ,
জ্যোৎস্না থাকলে, নিভিয়ে বাতি
বিছিয়ে শীতল শয়ন,
ঘুমা বলে’ শেষের চুমা হিম-অধরে দিও চুপে,
প্রাণ বঁধুয়া মরণ যেন আসে তােমার রূপে!
ভাঙ্গা বেড়া
চেয়ে ও কেন ছেড়ে থাক ?
টেনেও কেন দূরে রাখ?-
জানা, তা যে জানা ?
চাতে কথা দাও যে খুলে,
ভােলাতে চাও, যাও যে ভুলে,
কাণা, নই গাে কাণ!
আমার তরেই প্রাণটা মরে, আমাকে তাই ভয়,
বুঝি, আমি বুঝি, দয়াময় ।
এই যে মায়ার কারিকুরি-
বাহারী লুকোচুরি,-
লুকান তা নাই,
তবু আবরণে বের
রাঙ্গা আলাের ভাঙ্গা বেড়া
ভাঙ্গতে নাহি পাই ।
এই করুণার জয়ক
সব গুমাের করে ফাক,
যতই দাও না চাপা,
পাষাণ পারে থাকতে পাষাণ,
৪২
পাথেয়
কাদায়ে তােমার কাছে যে প্রাণ,
ছাপা হয় সব ছাপা !
আমার তরেই প্রাণটা মরে, আমাকে তাই ভয়,
বুঝি, আমি বুঝি, দয়াময় ।
মজে’ নূতন নূতন প্রেমে
যাত্রা পথে যাই যে থেকে,
পড়ি মােহন ফাঁদে,
যাহার তরে মরি বাঁচি,
ছিড়ে দাও সে সূতাগাছি,
রাহু আন চাদ ।
অবিশ্বাসটী যােল আনা,
আমার প্রতি, আছে জানা-
তবু ভালবাস,
যতই তােমায় দিচ্ছি অভয়,
এ প্রণয় আর যাবার নয়,
শুনে শুধু হাস!
আমার তরেই প্রাণটা মরে, আমাকে তাই ভয়,
বুঝি, আমি বুঝি, দয়াময় ।
কি গেরো ।
লােকে বলে, মনটা আমার
কোথায় বেড়ায় উড়ে ?
আমি বলি—একজন যেথা
আছে সকল জুড়ে !
ওরা যদি বলে, তুমি
কি এক-চোখে লােক।
আমি বলবাে-মিথ্যা কথা,
আমার ত চার-চোখ !
তুমি যদি বল, কেন
চোখের কোণে কালী ?
আমি ববব—সেই চতুরের
মধুর চাতুরালী ।
ওরা যদি বলে,—প্রেম
পরাণ-নাশা নেশা !
আমি বলব,—সে সুস্বপন
সােণার দুঃখ-মেশা !
পাথেয়
তুমিও যদি সুধাও কে সে
মনের মানুষ আমার ?
আমি বশ্ব-নাটের গুরু,
তােমায় নমস্কার!
জীবন মাঝে পশি চুপে
পরখ করূতে চাও,
আছি কি না আছি খাঁটি,
যাচাই করে যাও।
শােন তবে, ভাষার প্রভু,
ও প্রকাশের প্রাণ,
সেই ডাক টি শেখাও যাতে
জুড়ায় তোমার কাণ!
জীবন ভরে’ সাধব আমি
সেই সােহাগের বাঁশ,
অবাক হয়ে অধীর হয়ে
শুবে তুমি আসি।
হােরি-খেলা
ফাগুন গেল আগুন দিয়া
ঘরে ঘরে পাগল হিয়া
হেরি, আজ যে হেরি!
বয় বসন্তের মন্দ হাওয়া,
যায় না কুহু’-র অন্ত পাওয়া,
হেরি, আজ যে হাের ।
লেগে অনুরাগের ফাগ,
লাগছে প্রাণে লালের দাগ,
হেরি, আজ যে হােরি ।
পূর্ণ করি' প্রেমের বারি
চলছে প্রাণের পিচকারী ,
হােরি, আজ যে হােরি ।
রং খেলুছে তিনটী ভুবন,
আবীরে লাল রাঙ্গা চরণ,
হােরি, আজ যে হােরি ।
পাথেয়
এ বসন্তে তােমার মেলায়
মেতেছে সব লালের খেলাম,
হােরি, আজ যে হােরি।
ও খেলােয়ার, তােমায় আমায়
কাগ খেলি দোল-পূর্ণিমায়,
হােরি, আজ যে হােরি।
দোল্ রে দো, ওরে পাগল,
উঠুক প্রাণের কলরােল,
হােরি, আজ যে হােরি ।
খেলা-ছলে আদরের হাত
করবে প্রাণের প্রাণে আঘাত,
হােরি, আজ যে হােরি !
উছলে উঠবে প্রেমের পাথার,
সুধার স্রোতে দিব সাঁতার,
হােরি, আজ যে হােরি।
-
এ-পূর্ণিমা এ-রং-খেলা-
ভাঙ্গবে সংয়ের জমাট মেলা,
হােরি, আজ যে হাের।
হােরি-খেলা
৪৭
শশী পাগল তারা পাগল,
গ্রহ-উপগ্রহের দো,
হােরি, আজ যে হাের:
গাঁটে গাঁটে বাঁধন
মনের কথা খুলে বলে,
লােকে পাগল কয়,
তবু সেটা বেরিয়ে পড়ে,
চাপা নাহি রয়!
মনের মধ্যে একটী কথ:
জাগছে সৰ্ব্বদাই,
তোমায় আমি চাই, ওগো,
আমি তোমায় চাই ।
তুমিও আমায় চা ও কি না,
খোজ রাখি না তার,
ওগাে আমার, আমার তুমি,
আমার, তুমি আমার ।
পেয়েছি, কি পাই নি তোমার,
ভাবি না তা কভু,
তবু তােমায় ভালবাসি,
ভালবাসি তবু!
গাঁটে গাঁটে বাঁধন
৪৯
তােমার আছে হাজার নয়ন,
আমার দুটি আঁখি,
একটা দিকে চাইতে গেলে,
অন্য সবই বাকি।
মহাসাগর, আমরা তােদর
ডালাপালা ঢেউ,
চাওয়া পাওয়া মনের ধাঁধা--
বােঝে না তা কেউ।
চাই না আমি ধরূতে তোমায়,
ধরা দিতেই চাই,
তােমার প্রেমে গলে গলে
ভেসে ডুবে যাই ।
ও আবেশ কি শুভক্ষণে
আঁকূলে প্রাণে রেখা,
সেদিন হতে চিত্তপটে
তােমার নামটা লেখা ।
একটা নিমেষ কেড়ে নিল
প্রাণের বা মাের ছিল,
একটা নিমেষ তােমার পরশ
আমার প্রাণে দিল ।
পাথেয়
যেমন-তেমন লেন-দেন নয়,
নিম জনম তরে
বন্দী হয়ে ঘুরছি শুধু
তােমার যাদুঘরে!
ভবের মেলায় দেখা না
যতই যাহা হয়,
চোখের দেখা সে সব, নয় ত
প্রাণের পরিচয়।
আমি যারে বুকে টানি
সে যায় অবহেলি,
আমায় দেখে জিয়ে যে জন,
তারে পায়ে ঠেলি।
ৰি যখন দুরে রাখে,
তুমি ধর হাত,
পড়ে যখন কাঁদি-সাথে
কর অশ্রপাত!
তর্কে বহুদূর
বলেন অনেক বাবু-ভাবুক,
প্রেম ত রূপের সঙ্গনেশা,
কেউ বা বলেন,
-ও এক বাতিক
সুসভ্যতার অঙ্গঘেসা ।
কেউ বলেন,—প্রেম মােহের ঢেউ,
খেয়াল-খেলা, সখের ভুল,
কেউ বা বলেন,—আকাশকুসুম,
ধরায় নেই ওর কূল-মূল !
এদের কেউ বা নিরেট সাধু,
কেউ বা বিষম প্রতারক,
কেউ বা দিব্যি নটবরট,
কেউ বা ভােগের উপাসক।
প্রেম কি শুধু বিকট ক্ষুধা,
মুখের ভােগের আরাধনা ?
সে যে বড় বেদনার ধন,
সে যে ত্যাগের উপাসনা ।
পাথেয়
প্রেম কি ধন, প্রেম কি ধন,
যার বাজে সে জানে, আর জানেই তার মন।
অরসিকের সঙ্গে আমি
বিনা তর্কেই মানি হা’র
বুদ্ধি-ফলান যাহার ধাত,
কি ধারে সে প্রাণের ধার ?
ওগাে প্রেমের সৃষ্টিকর্তা,
তুমি তবে নেহাৎ বােকা,
আমরা যত তর্করত্ন
তােমার চেয়ে অনেক চোখা।
ঝগড়া ছেড়ে আমি ত চাই
অনলশিখা বুকে ধ’তে,
ভালবেসে পারি যেন
ভালবাসার পায়ে মরূতে!
প্রেম কি ধন, প্রেম কি ধন ।
যার বাজে সে জানে, আর জানেই তার মন।
ওর। আর আমরা
ভাবি, এই যে অজ্ঞে,
বিজ্ঞে ভেদ,
ভালবাসার বেলাও তা কি আছে ?
যে আগুনে জ্বলছে চরাচর,
তা কি আবার ছােট-বড় বাছে।
মােদের গায়ের একটী নিরেট চাষ।
পড়ে গেছে আমানী এক প্রেমে,
সভ্যদের প্রেম যে রগের সুধা,
এও কি এল সে দেশ থেকে নেমে ?
আমরা না হয় উচু জ্ঞানে-মানে,
ওরা না হয় নীচু সে হিসাবে,
তাই বলে কি দেতার দানও বেছে
দয়া করবে, পায়ে ঠেলে যাবে ?
জ্যোৎস্না যখন ফোয়ারা খােলে তার,
ফুলের জোয়ার আসে গাছে গাছে,
আমাদেরও যেমনি পরাণ মাতে,
ওদেরও যে তেনি হৃদয় নাচে।
পাথেয়
বাতাস যখন কাঁদে কুহুর সাথে
ওরা নীরব, নভে নয়ন মেলি,
আমরা না হয় উর্দ্ধে চেয়ে তখন
আওড়াই বসে ওয়ার্ডসওয়ার্থ শেলি !
=
আমরা না হয় বেদ-পুরাণ ঘেটে
যেখানে যে সার সত্য পাই,
আমাদের সেই পড়া পুঁথির সাথে
কল্পনারে মনে মনে মেলাই।
ওয়া হয় ত নয় অতটা গভীর,
অত সুন্মের সীমা নাহি মাড়ায়,
কথকতার রসে গলে গিয়ে
ভােলা মনের খােলা ভাবটি মিলায়।
ভক্তির ষােলায় আমরা ভ’রে আনি
না হয় হালের বিজ্ঞানের অজ্ঞান,
ওরা না হয় মনের আবেগ নিয়ে
গাছ-পাথরে দেখে ভগবান।
আমরা না হয় মনের প্রতিমারে
বরণ করি গগনভেদী শাকে,
ওরা না হয় ঘট কি পটের ছবি
পরাণ-পটে চুপে চুপে আঁকে!
ওরা আর অমারা
আমরা না হয় করি নিবেদন
ছটা-ঘটার ঘােড়শ উপচার,
এরা না হয় চোখের জল ছাড়া
পায়না খুঁজে পূজার উপহার
আমরা না হয় ইষ্টদেবের লাগি
গড়ি নিত্য নুতন সম্বােধন,
ওরা না হয় “ওরে হারে’ বলেই
জানায় আপন প্রাণের আকিঞ্চন।
ওদের না হয় শুধুই পাদোদকে
অধরের সে অধীরতা মিটে,
মােদের বেলায় সে চরণামৃত
রকম করে করতে হয় মিঠে।
স্বাদের কিন্তু মােটেই তফাৎ নেই,
যেমন লাগে সােণার বাটীর পায়,
সেই মিষ্টান্ন পাথর-বাটীর হলে
দেয় বরং একটু বেশী আয়েস্।
ভালবাসা এক গাছেরই ফল,
এক সে নেশা জগৎ-পাগল-করা,
ওদের প্রেমটা না হয় নিরেট সােণা,
মােদের না হয় একটু পালিকরা।
দিল্লীর লাডড়, !
শূন্য যখন ছিল হৃদয়,
ভাবতে,—আমার আছে কি আর
তুমি যখন এলে প্রাণে,
দেখলে,
-সবই ফকিকার !
ভুলতে গেলেও তােমার কথা
লাগে যেমন হৃদয় মাঝে,
ভাবতে গেলেও তেমনি ধারাই
বেদনাটী বুকে বাজে!
পাওয়া ? না রে চাওয়া ভালাে?
চিরকালই এটা ধাঁধা,
এ-পিঠ ওপিঠ দুইই সমান,
বুঝলেজলের মত সাদা।
মিষ্টিধাের গয়লা ভাবে,
জন্মি যেন মরা-রূপে,
ময়রা ভাবে,-গয়লা হলে
ডুবতেম ঘি-দুখ-দধির কূপে ।
সােণার ছবি
আমি মনের মত যে ছবিটা
একেছিলাম মনে মনে,
সারা বিশ্ব উজাড় করে
পেলেম না সেই ধ্যানের ধনে ।
ও রূপের রােমাঞ্চ রেখা
ফুটুল যেদিন প্রাণের গায়ে,
দেখলাম আমার সােণার ছবি
আঁকা তােমার সােণা পায়ে ।
কি আশ্চর্য মিল,
যেন আলাের সাথে জড়িঃ ছারা,
সে আগুনে পুড়ে যেন
মায়ার খােলস ছাড়ল ক'।
দেখলাম সদ্য নূতন চোখে
পরপারের শােভার হাট,
নিলাম প্রাণের কাণে ভরে
নূতন টোলের নূতন পাঠ।
পাথেয়
আমার প্রতি পলটী বুঝলাম
তােমার সাথেই ছিল গাঁথা,
জল যেমন নদীর সাথে,
তরুর সাথে যেমন পাতা।
কি আশ্চর্য মিল,
যেন আলাের সাথে জড়িয়ে ছায়া,
সে আগুনে পুড়ে যেন,
মায়ার খােলস্ ছাড়ল কায়া !
এ-পিঠ আর ওপিঠ। প্রেমের পথ নয় সাদাসিধে, আছে অনেক গলি-খুঁজি, হাজার দিকে হাজার পথিক গােলােকধাঁধা বেড়ায় খুজি। আর কাহারও কাছে যদি একটু বেশী যাও, আর কাহারও পানে যদি একটু বেশী চাও- আমি যতই রাগি মনে, তুমি ততই হাস, বিষের জোরে আমার প্রাণটা সুধা করতে আস। কবে বুঝবাে, ও দরদী, ভালবাস বলে কোলের লােভ দেখাও শুধু পরকে করে কোলে ।
পাথেয়
তােমার এ সব চুল,
ওগাে, তোমার স্নেহের ছল,
আমার প্রতিই একমনে
ভালবাসার ফল!
সাধন রাণীর বােধন
ওমা, আমার হৃদয়টী হােক
তোমার রাজধানী,
তুমি সেথায় হয়ে থাক
একেশ্বরী রা !
ভক্ত প্রাণের রক্ত দানে
প্রজার রাজ কর
চাইতেই এনে দেব
তােমার পদোপর।
নি যেন আইন কানুন,
চিনি অসির ধার,
বেছে নিতে পারি মা তাের,
দণ্ড-পুরষ্কার।
করলে ভিটে-বাড়ীর প্রজা,
পাবাে উঠে নিতে
তোর সভায় তুচ্ছ হতে
উচ্চ পদবীতে।
আদত বাহাদুরী
ডুবু ডু ডু, যা রে ডুবে
সেই সাগরে একেবারে,
যে তরঙ্গ সঙ্গে ডুকূলে,
উঠতে হয়না কভু পারে !
কূপ-জলে কি সাঁতার চলে?
ঘােল-জলে পােয় কি কাদা?
মেটে হােলীর রাজা, মনরে,
সাফ জলে আয় হবি শাদ
সং সেজে যা কবলি খেলা,
সবই মাটি, সবই ভুয়ে,
আয় চলে আয় লজ্জাহরা,
হাততালি যা, জানিস্ ‘দুয়াে’!
ছড়িয়ে যারে নিখিল মাঝে
ফুরিয়ে দে তাের আমিটি’রে,
গলে গলে পড়রে ঝরে,
স্বামীর ঘর হয় অমনি কি রে ?
আদত বাহাদুরী
বাতাসে আজ সানাই বাজে
মেঘে মেঘে জ্বালায় দিয়া,
রূপের আকাশ পড়ছে গলে
গড়া চঁাদের অশ্রু দিয়া
এমন রাতে আম খুইয়ে
তাের আমিটীর জারি জুরি
স্বামী ভজে’ মজতে পেলে,
তবেই আদ বাহাদুরি !
নাছোড়বান্দা
রমযােগীর মত ওই যে
আকাশ-যেন পটে লিখা,
তার ভানুটির প্রতি অনু
জালে তােমার প্রেমের শিখা।
তার গতি সকল ঠাই, তার যে গতি সকল ঠাই,
সে আগুনের হাতে কারও এড়ান নাই, এড়ান নাই:
ওই যে পাহাড় দাড়িয়ে আছে
নিরেট পাষাণ প্রায়,
তর হৃদয়ের নিঝরিণী
তােমার প্রেমই গায়।
ওই যে পাগল সাগর, সেও
ধরছে অতল বুকে
তোমার প্রেমের পরশ মাণিক
দুখের মতন সুখে।
তার গতি সকল ঠাই, তার গতি সকল ঠাই,
সে আগুনের হাতে কারও এড়ান নাই, এড়ান নাই।
নাছােড়বান্দা
৬৫
==
ওই যে মেঘটী ভেসে বেড়ায়
শীতল-বারি-ঢালা,
ওর বুকেও তােমার বাজটী-
চোরা-প্রেমের জ্বালা !
আমরাই কি কেউ নই,
তােমার আমরা কি নই কেউ?
ফিরাব যে হৃদয় হতে
তােমার সােণার ঢেউ।
তার গতি সকল ঠাই, তার গতি সকল ঠাই,
সে আগুনের হাতে কারও এড়ান নাই, এড়ান নাই।
সাথের সাথী
জীব জন্মের অসারত
রটান কেহ অসন্তোষে,
রটান কেউ বুদ্ধির জোরে,
কেউ বা শুধুই বয়স-দোষে !
থােক সে পদ্মপাতার জল,
সে যে প্রেমের পাদোদক,
উঠে বিশ্বনাথের জটায়,
বিশ্ব তাহার উপাসক।
আছে ইহার নিগূঢ় তত্ত্ব,
স্রষ্টা নন ত কঁাচা ছেলে,
রসাতলে দেবেন সৃষ্টি
আপন হাতে পেলে পেলে।
জীবের সেবা মনের কোণে
আলাে দিচ্ছে জাবে যখন,
সােণার আসন গড়িয়ে তারে
মনমন্দিরে কবে বরণ।
সাথের সাথী
৬৭
নিজের সব ভােগে চড়ালে,
তবেই পরের পূজো হলাে,
এ পূজাটীর আশীষ নিও,
আবার তারে ভরিয়ে চলো।
দেখবে, বিশ্ব-বৃন্দাবনে
প্রণয়ভরা হাসিমুখ,
বিশ্ব-রাজের নিধুবনে,
গাইছে শ্যামা সারী শুক।
জানবে, বুকের সুধা সাগর
উছলিছে অকারণ,
বে, প্রাণের সকল ভাব
একটী ভাবেই নিমগন ।
দীন ভিখারীর ভাঙ্গা কুঁড়ে
পুণ্য মঠ দেবতার,
রােগী-তাপীর সেবা’ত যারা,
দেবতা পড়েন পায়ে তার।
হঠাৎ-জোয়ার
এস সখ, এস প্রিয়,
পিয়াব তােমারে শুধু মধু, বঁধু,
জীবনের অমিয় ।
এস, জনমের সুখ,
তােমার সাধনা ভূলায়ে যে দিত,
সে বাসনা আজি মূক !
এস হে, হৃদয়-রাজ,
সেদিন যে তােমা ধরা নাহি দিল,
সে হৃদয় কাঁদে আজ।
এস হে পরাণ-চঁাদ।
সেদিন যে চাদে লাগিল গ্রহণ,
সে প্রাণে পাত গাে ফাঁদ!
এস হে মরম চোর,
এস হে করমে এস হে ধরমে
জীবনে মরণে মাের।
পূরা আর টুকরা
ভালবেসে বড়াই করি
ভালবাসার বস্তু বটে
দেখতে সে কি চমৎকার,
এত গুণ কার ভাগ্যে ঘটে ?-
=
ধীরে ধীরে বদলে সুর,
নিখুতের হয় অনেক দোষ,
হঠাৎ এসে তৃপ্তি মাঝে
শিকড় গাড়ে অসন্তোষ !
দশের মাথায় ওঠে যে আজ
ভক্ত দশের পূজার বলে,
কালই আবার দেয় সে মাথা
লােকমতের খড়গ তলে!
=
খ্যাতির নেশা বিষম ব্যাধি
দেখেও কেহ দেয় না দৃষ্টি,
ললাকের বিচার বহুরূপী-
পাদুকা বা পুষ্পবৃষ্টি ।
সুপই বল, গুণই বল, কেউ কি পেয়ে থাকে পূরা?
ওগাে অরূপ, ও গুণহীন, তােমরই নাই ভাঙ্গা-চুরা ।
আপন হারা
এমান করে তুমি আমার
নিও গুণমণি,
হই গাে যেন তােমার ছায়া,
তােমার প্রতিধ্বনি।
তুমি যাদের পূজায় তুষ্ট,
তাদের যেন পূজি,
তােমায় যারা হারিয়ে খুসী
তাদের নাহি খুজি।
যে জায়গাতে উঠলে তােমার
চোখের নীচেই থাকি
সেই জায়গাটি আমি যেন
দখল হতে রাখি।
যে গান গাইলে, গানের গুরু,
মনটা তােমার ভােলে,
সে গান গাইতেই যেন আমার
গলা শুধু খােলে !
আপন হারা
আমি যেন হই গাে একটা
নূতন রকম লােক,
তােমার মনই আমার মন,
তােমার চোখই চোখ।
কলিজার কোহিনুর
তােমায় ভাবি, আমি ভাবি সৰ্ব্বদাই।
কেউ বলে গাে, আছ তুমি,
কেউ বা বলে, নাই ।
আমি ওদের সঙ্গ ছেড়ে
আপন মনে ধাই !
তােমায় ভাবি, আমি ভাবি সর্বদাই
লােকের মাঝে নানা কাজে
যথন মেতে বেড়াই,
বারে বারে তােমার দিকেই
নজর 'আমার ফেরাই।
তােমায় ভাবি, আমি ভাবি সর্বদাই।
তােমর প্রণয় বনস্পতি,
তারই ছায়ায় জুড়াই,
পেয়েছি যা, পাই নি যা,
তােমার করুণাই।
কলিজার কোহিনুর
তোমায় ভাবি, আমি ভাবি সর্বদাই
বল না নাথ, এপার ছেড়ে
ওপার যদি যাই,
থাকবে শুধু তােমায়
একটা চেতনাই !
তাই যদি হয় মরণ আমার
মায়ের পেটের ভাই।
দিন-দুপুরে ডাকাতি
তুমি এলে আমার গেহে
দেহহারা রূপের দেহে,
পরাণ উঠল ভরে,
জ্যোৎস্নভরা সেই দিবাতে, আমার হাতটী নিয়ে হাতে
রাখুলে চেপে ধরে।
আমি স্বপন দেখলেম ঘুমের ঘােরে।
তােমার চরণ মৰ্ম্ম স্থলে!-
হঠাৎ জগৎ উঠল জ্বলে
হৃদয় আলাে করে !
অশ্রুধারা এল নেমে, হৃদয় ফেটে অধীর প্রেমে,
রইলাম সুখে মরে !
আমি স্বপন দেখলেম ঘুমের ঘােরে।
তােমার ডাকটি ক্ষ্যাপার মতন
জাগিয়ে গেল আমার চেতন,
দুয়ার ঠেলি জোরে।
পায়ের সৌরভ ভাবলাম হেন, উথলে-পড়া প্রণয় যেন
বুকে জড়িয়ে মােরে।
আমি স্বপন দেখুলেম ঘুমের ঘােরে।
দিন-দুপুরে ডাকাতি
আমার ধূলা নিজে মেখে
তার বিভূতির তিলক একে
সাজাল প্রাণ ভরে,
ফেল কখন নিরজনে খেতে খেতে মধুর মনে
মালার বদল করে।
আমি স্বপন দেখলেম ঘুমের ঘােরে।
ধরা ঘুমায় মােহের-বুকে,
আললকের চকমকি ঠুকে
আঁধার কবতে ঘাের,
কে এল রে ধরা দিতে কে এল রে আমায় নিতে
আগলে প্রেমের ক্রোড়?
ভেঙ্গে গেল সােণর স্বপন মাের।
বইছে দেখি স্বপন-ছাওয়া
ফুলের পরাগমাখা হাওয়া,
চোখে ঘুমের ঘাের !
পায়ের দাগটী প্রাণে আঁকি ধ্যানের ধন কি দিল ফাঁকি
মম চিরে তাের?
ভেঙ্গে গেল সােণার স্বপন মাের।
সদ্য খােলা দুয়ার পেয়ে
বিশ্ব এল প্রাণে ধেয়ে!
পাথেয়
চোখে বইছে লাের,
দেখুলাম সিদটী কাটা বুকে আমার নিদটী হ’রে সুখে,
পালিয়ে গেল চোর!
ভেঙ্গে গেল সাধের স্বপন মাের।
কবিবর শ্রীযুক্ত প্রমথনাথ রায়চৌধুরী প্রণীত
কাব্যগ্রন্থাবলী
তিন খণ্ডে প্রকাশিত হইয়াছে।
প্রথম খণ্ড।
১। পদ্মা, ২। যমুনা, ৩। গীতি, ৪। গীতিকা,
৫। দীপ্তি, ৬। দীপালী, ৭। আরতি।
দ্বিতীয় খণ্ড।
১। গৌরাঙ্গ, ২। গল্প, ৩। গাথা, ৪। আখ্যায়িকা,
৫। চিত্র ও চরিত্র।
তৃতীয় খণ্ড।
১। কবিতা, ২। পাথেয়, ৩। পাষাণ, ৪। পাথার,
৫। গৈরিক, ৬। গান।
মূল্য সাধারণ সংস্করণ প্রতিখণ্ড ১, এক টাকা,
বিশেষ সংস্করণ
২, দুই টাকা মাত্র।
ঐতিহাসিক পঞ্চাঙ্ক নাটক
ভাগ্যচক্র
( মিনার্ভা থিয়েটারে অভিনীত )
মুল্যবান এন্টিক কাগজে সুন্দর ছাপা ; আকার সুবৃহৎ, কিন্তু
মূল্য অতি সুলভ ১ এক টাকা মাত্র।
নব প্রকাশিত নূতন ঐতিহাসিক পঞ্চাঙ্ক নাটক
হামি বা চিতাের-উদ্ধার
( মিনার্ভায় অভিনীত )
কাগজ ও ছাপা সুন্দর। মূল্য ১ এক টাকা মাত্র।
আক্কেল সেলামী
( প্রহসন)
মূল্য ॥ আট আনা।
এতদ্ব্যতীত উক্ত কবিবরের রচিত ঐতিহাসিক
পঞ্চাঙ্ক নাটক
হুমায়ু
সামাজিক পঞ্চাঙ্ক নাটক
অন্নচিন্তা
শীঘ্রই প্রকাশিত হইবে।
২১ নং কর্ণওয়ালিশ স্ট্রীট মেসাস গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় এ
লন্সর দোকানে ও অন্যান্য প্রধান প্রধান পুস্তাকালয়ে পাওয়া যায়
উক্ত কবিবরের নিম্নলিখিত কাব্যগ্রন্থগুলি
পৃথভাবে বিক্ৰয়াৰ্থে প্রস্তুত আছে—
১। গৌরাঙ্গ (দ্বিতীয় সংস্করণ)
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কর্তৃক ইন্টারমিডিয়েট পরিক্ষার্থিনী
ছাত্রীদিগের জন্য পাঠ্যরূপে নিৰ্বাচিত।
উৎকৃষ্ট কাপড়ে বাঁধাই, মূল্য ১ এক টাকা।
২।
গীতিকা
ইহাতে গীতি ও গীতিকা উভয় কাব্যের
কবিতা একসঙ্গে আছে। মূল্য ॥ আট আনা মাত্র।
৩। আখ্যায়িকা
এন্টিক কাগজে ছাপা ও কাপড়ে সাধাই, মূল্য আট আনা মাত্র।
৪।
পাথেয়
এন্টিক কাগজে ছাপা এবং কাপড়ে বাধাই, মূল্য ॥ আট আনা মাত্র
৫। গৈরিক
এন্টিক কাগজে ছাপা এবং কাপড়ে বাঁধাই, মূল্য ৩ বার আনা।
৬। পাষাণ
কাপড়ে বাঁধাই মূল্য ॥ আট আনা মাত্র।
৭। চিত্র ও চরিত্র
কাপড়ে বাঁধাই মূল্য ॥ আট আনা মাত্র।
৮।
পাথার
কাপড়ে বাধাই মূল্য ॥ আট আনা মাত্র।
৯। গান
সরলিপি সহ কাপড়ে বাঁধাই মূল্য ॥ আট আনা মাত্র।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.