Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Shri Shri Harinam Sangkirttan-mala
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
শ্রী শ্রীহরিনাম
সংশীজন-মালা।
(পদাবলী)
“নামলীলাগুণাদীনামুচ্চৈৰ্ভাষাতু কীৰ্ত্তনম।”
শ্রীহরিপদরজোভিলাষী
শ্রীগােপীকৃষ্ণ গুই কৰ্ত্তক
সংগৃহীত।
আনন্দপুর-দক্ষিণ বাজার।
শ্রীশ্রী হরিসভা হইতে
প্রকাশিত।
শ্রীচৈতন্যাব্দ ৪৩০
t
Printed by GOBARDHAN PAN, at the Gobardhaa Press, 101, Muktaram Babu's Street, Calcutta.
e সর্গ-পত্র। সংসারে জন্মগ্রহণ করিয়া যাহার অপার স্নেহ-মমতার হিল্লোলে সংবর্ধিত ও শিক্ষাপ্রাপ্ত হইয়াছি, যিনি স্বীয় স্বভাবসুলভ বিনয়-নম্রগুণে সকলেরই প্রিয় ছিলেন যাহার স্বধৰ্ম্মনিষ্ঠা অতীব প্রশংসনীয় সেই নিত্যধামগত পূজ্যপাদ পিতৃদেবের শ্রীকৃষ্ণসেবা-সংরত শ্ৰীকরকমলােদ্দেশে এই সযত্ন-গ্রথিত প্রেম-ভক্তিরসপূর্ণ শ্রীশ্রীহরিনাম- সংকীৰ্ত্তনমালা” তদীয় আযােগ্যাধম মধ্যম পুত্র কর্তৃক অতীর শ্রদ্ধা-ভক্তিসহকারে উৎসর্গীকৃত হইল। । - প্রণত গােপীকৃষ্ণ।
No text on this page.
কৃতজ্ঞতা-স্বীকার। }, } শ্রীশ্রীহরিনাম-সংকীৰ্ত্তন-মালা গ্রন্থ-সঙ্কলনে আমার কৃতিত্ব কিছুই নাই। অধিকন্তু মুখতাবশতঃ বহু ভ্ৰম-প্রমাদাদি হইতে পারে। তবে শ্রীশ্রীহরিনাম যেমন ভাবেই সংগৃহীত হউক না কেন, তাহা আপন গুণে ভক্তবৃন্দমাত্রেরই প্রাণায়াম ও প্রীতি- জনক। এই ভরসাতেই আমি ইহা সহৃদয় ভক্তবৃন্দের কর-কমলে অৰ্পণ করিতে সাহসী হইয়াছি। এক্ষণে এই শ্ৰগ্ৰন্থখানি পাঠে এবং ইহার গানগুলি তাল-মান সহিত গীতে ভক্ত-পাঠক ও গায়ক- গণের কিঞ্চিৎ প্রীতিলাভ হইলেই আপনাকে কৃতার্থ মানিয়া সুখী হইব ও শ্রম-সার্থক বিবেচনা করিব। উপসংহারে বক্তব্য এই যে, যে সকল ভগবদ্ভক্ত মহাত্মাগণের রচিত গীত এই গ্রন্থে উদ্ধত হইয়াছে তাহাদের কোন মহাত্মার নাম জানি বা না জানি, কাহাকেও চিনি বা না চিনি তাহাদের নিকট অশেষ কৃতজ্ঞতার সহিত আজীবন ঋণী রহিলাম। জেলা হুগলী, পােঃ এলাটী শ্ৰীবৈষ্ণব-সঙ্গিনী পত্রিকার সম্পাদক ভক্তিভাজন শ্ৰীল শ্ৰীযুক্ত মধুসূদন দাস অধিকারী মহােদয় এই গ্রন্থখানি মুদ্রাঙ্কন ও প্রকাশের ভার গ্রহণ করিয়া আমাকে যথেষ্ট উৎসাহ প্রদান করিয়াছেন, এই অসামান্য অনুগ্রহের জন্য তাহার নিকট আন্তরিক প্রীতি-ভক্তির সহিত চিরকৃতজ্ঞতা- পাশে আবদ্ধ রহিলাম।
ভূমিকা। শ্ৰীশ্ৰীকৃষ্ণ-চৈতন্য মহাপ্রভুর অপার করুণা ও ভক্ত-বৈষ্ণব- গণের শুভাশীৰ্বাদে, “শ্রীশ্রীহরিনাম-সংকীৰ্ত্তন-মাল-পদাবলী” ১ম খণ্ড, আজ বৈষ্ণব-সমাজে প্রকাশিত হইল। ভুবন মঙ্গল শ্রী শ্রীহরিনামই কলিযুগের মূলমন্ত্র এবং দুরিত দুর্দশাগ্রস্ত ক্ষীণায় কলি জীবেব গরিত্রাণের একমাত্র উপায়। আজ প্রায় ১৯২০ উনবিংশ, বিংশ বৎসর হইল সেই প্রেম- চিন্তামণি ভগবানের নাম মাত্র ভরসা করিয়া আমরা যে একটা শ্রীশ্রীহরিসভা স্থাপিত করিয়াছি, তাহাতে প্রতি পূর্ণিমা দিবস এবং দৈনন্দিন বে সকল উচ্চ-সংকীৰ্ত্তন তালমান খােল করতাল সহিত নৃত্য গীত হইয়া থাকে, তাহাবই সমাবেশে এই সংকীৰ্ত্তন-মালা রচিত হইল। ইহাতে শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ-বিষয়ক, শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ-বিষয়ক, শ্রীশ্রীঅদ্বৈত, শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীরাধা, শ্রীহরিনাম, শ্ৰীশ্ৰীবৃন্দাবন, শুকশারীর বিবাদ, নৃপর চূড়ার বিবাদ, শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের যুগল সাম ও নাম সংকীৰ্ত্তনাদি করিয়া প্রায় শতাধিক যুগলমিলন বহু বহু মহাত্মার রচিত বহু স্থান হইতে সংগ্রহ করিয়া অত্র পুস্তকে সংযােজিত হইল। ইহাতে আমার পাণ্ডিত্য বা আত্মগরিম। প্রকাশ করিবার কিছুই নাই কেবল দয়াময়ের নামে বহুল প্রচার উদ্দেশে এই গ্রন্থ প্রকাশিত হইল। শ্রীভগবান্ গোর-হরির চরণাশ্রয় করিয়া, প্রাণের আবেগে এই কাৰ্যে ব্রতী হইলান। স্বার্থসাধনের অভিপ্রায়ে বা অর্থ লােভে ইহা প্রকাশিত হয় নাই। কেবল মুদ্রণ-সাহায্য লইয়া যাহাতে শ্রীশ্রীহরিনামের বহুলপ্রচার হয় এবং তৎসঙ্গে যতটুকু আত্ম- পবিত্রতালাভ করিতে পারি, ইহাই উদ্দেশ্য। ক্ষুদ্র গ্রন্থে বিস্তৃত ভূমিকা প্রদান নিষ্প্রয়ােজনবােধে বৈষ্ণব-চরণে প্রণিপাতপূৰ্ব্বক বিদায় গ্রহণ করিলাম। ইতি। শ্রীগৌর-পূর্ণিমা। কৃপার্থী শচৈতন্যাব্দ ৪০০। শ্রীগােপীকৃষ্ণ গুই। ন সূচীপত্র বিষয়। পত্রাঙ্ক। ১ ১। ৮ : ১ ৪। ১০ * * ১২ ১৪ ১। মঙ্গলাচরণ শ্রীগৌরাঙ্গ-বিষয়ক এস হে গৌরচন্দ্র নিত্যানন্দ সঙ্গে করি ২। একবার এস হে নদীয়ার চাদ গৌরাঙ্গসুন্দর ৩। একবার এস নদীয়া বিহারী গৌরহরি এস হে নদীয়ার চাদ শ্ৰীশচিনন্দন ৫। এইবার আমায় দয়া কর শ্রীচৈতন্যহরি ৬। এইবার করুণ। কর চৈতন্য নিতাই হে ৭। আর আমার কেউ নাই ওহে গৌরহরি ৮। একবার গৌর বল মনেপ্রাণে ঐক্য করে ৯। আসি নবদ্বীপে অবতীর্ণ হলেন গৌরহরি ১০। কানাই কোথা লুকালি ভাই করের মােহন বাঁশী ১১। কানাই কি ব্ৰজে আসবে আর এখন নবদ্বীপে অবতার ১৫ '১২। কানাই কি অভাবে গৌর হলি আমারে তা বল ••• ১৩। গােরা যায় রে সুরধুনীর তীরে হরি বলে যায় ১৭ ১৪। কেন হলাে গােরা অবতার মুরার এই কথা বল বল হে ১৭ ১৫। তােমরা দুভাই বড় পরম দয়াল হে ওহে গৌর নিতাই ১৮ ১৬। কি আনন্দ নদেপুরে নিশি পােহাইল ১৭। কি হেরিলাম রামানন্দ জলধি জলে ১৮। কাঙ্গাল কি তাের কেউ নয় হে নদেরাদ হে গৌর ১৯। কহ কহ রামানন্দ রায় করি কি উপায় ২০। আজ ব্রজে রাইরূপের সন্ন্যাসী এসেছে ২১ প ১৯। ****** #tr • ২৪ ২৪ २१ २१ ২১। আমার মন ডুবরে শ্রীচৈতন্য লীলা-সােবরে ২২। আমরা তেঁই গৌরকে ডাকি প্রিয় সখি ২১ ২৩। আয় রে আয় জগাই মাধাই আয় २२ ২৪। গাও রে গৌরাঙ্গের গুণ ভাই ২৫। গিয়ে সুরধুনী নামের ধ্বনি দিচ্ছে গােরা রায় ২৬। গৌর নাম যার নদেপুরে একবার ডাক দেখি ২৭। গৌর গােবিন্দ উদয় নদে ২৮। গৌরাঙ্গেব কীৰ্ত্তনের খেলায় তােরা আয়কে দেখতে যাবিগাে ২৫ ২৯। চল রে সুরধুনীর তীরে যাই ৩। জীব অয় অয় কে প্রেম লবি আয় রে ৩১। জীব তরাতে দয়াল গোর এসেছে ৩২। জয় জয় নিত্যানন্দাদ্বৈত গৌরাঙ্গ ৩৩। যাদের হরি বােলতে নয়ন ঝুরে তারা দুভাই ৩৪। প্রেমধন বিলায় রে গােরা রায় ৩৫। নদীয়ার মাঝে প্রেমৰিভোর গৌর নাচে ৩৬। ভজে লে গৌরচন্দ্র নিত্যানন্দ ঐ দু'জনে ৩৭। বিনয় করে রামানন্দ গৌরাঙ্গে বলে ৩৮। হরি বােলে কে নদের বাজারে ৩৯। হরি বােল বলে গৌর হরি ৪। হরি বােল বােলে গাের ঢলে ঢলে নেচে যায় ৪১। হরিবােল হরিবােল হরি বলেরে চৈতন্য আমার ৪২। হরিবােল হরিবােল হরি বলেরে গৌরাঙ্গ আমার••• ৪৩। হরিবােলে নাচে রে নব গােরা ৪৪। হরি বলে আমার গৌর নাচে ২৮ ২৮ ২১ ৩২ ৩৪ ৩৪ ৩৪ • } ৩৭ ৩৮ ৪১ ৪২ ১। কি ।। ৪৩ ৪৫। শচীনন্দন মম জীবন ৪৬। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য অবতার ধন্য ৪৭। শ্রীকৃষ্ণ-চৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ হরেকৃষ্ণ হরে রাম••• ৪৮। ওরে ওরে নরহরি কোথা গৌরহরি ৪৯। নদের বাজার দিয়ে ঐ নেচে যায় ৫০। তুমি হে গৌরচন্দ্র ৫১। রামরাঘব রামরাঘব রামরাঘব ত্রাহিমাং ৫২। মাধাই হরিবােল হরিবােল বলে কে যায় ৫৩। এসময় একবার ডাক ঐনিত্যানন্দ-বিষয়ক মধুর সুমধুর হরিনাম আনলি নিতাই ২। নিতাই বই কে দয়াল জগতে হরিনাম দিতে ৩। ওই কিরে সেই নিতাই যারে মেরে ছিলি ভাই ৪। নিতাই আমার নাম এনেছে রে হরেকৃষ্ণ হরে ৫। নিতাইচাদ বােলে রে তাই ডাকি ৬। চাদ নিতাই যদি এদেশে এল জীবের সব আলা ৭। যারে পাষণ্ড দেশে মধুর হরিনাম বিলাতে ৮। ভজ গৌরাঙ্গ কহ গৌরাঙ্গ লহ গৌরাঙ্গের নাম রে ৯। নিতাই নিতাই বল অনিবার ১০। নিতাই নিতাই বল অবিরাম ১১। মারলি তুই নিতাইচাদের গায় ১২। গৌর প্রেমার ভরে মাতিল নিতাই রে অদ্বৈ-বিষয়ক ১। নাচে রে অদ্বৈত বাহু তুলে গৌর পেলাম পেলাম বলে ৪৪ ৪৪ ৪৫ ৪৬ ৪৭ ৪৭ ৪৮ ৪ ৪৯ { ৫৪ :: শ্রী শ্রীহরি-বিষয়ক ১। হরিবােলে আমি তাইতাে ডাকি ২। হরিবােল বল জগাই মাধাই ৩। হরিবােল বলরে আমার মন ৪। হরি ভক্তৰাঞ্জাপূর্ণকারী ৫। হরিনাম বল বল বল আমার মন রসনা ৬। হরিনামের তুল্য ধন কি জগতে আছে ৭। হরিনামের তরি এসেছে ধরা ৮। হরিবােল মন রসনা জনম বয়ে গেল রে ৯। হরিনাম মহামন্ত্র হৃদয়ে জপ রসনা ১০। হরি এই কর নিদানকালে ১১। হরিনাম সার কর রে ১২। মুখে হরিবােল বলরে রসনা ১৩। হেলাতে রতন হারাও না মন হরি হরি বল বদনে ১৪। মুখে হরিনাম বল রে আমার মন ১৫। মুখে হরিনাম বল রে আমার মন ১৬। মিছার কামনা কর না কর না হরিবলনা রসনা ১৭। তুমি পরম কারণ কারণের কারণ বােল হরিবােল বাজাও মাদল ১৯। বল মাধাই মধুবম্বরে হরিনাম বিনে ২০। বৃথা দিন গেল হে হরি ২১। বল রসনা হরে হরে কৃষ্ণ হরে ২২। এমন সুধামাখা মধুর হরিনাম আনিল ২৩। কি সুখে রেখেছে হে এ ভবসংসারে ৫ । ৬০ ৬১ ১৮। ৬৪ ::
l/
৪।
৭২
২৪। শমন-দমন যাতে হয় রে ভাই হরিবােল
২৫। শমন-দমন হরিনাম মাধাই আয় ত্বরা কে লবি রে
২৬। জীবের থাকতে চেতন হরিবল মন দিন গেল
শ্রীকৃষ্ণ-বিষয়ক
কোথা হে ব্রজবল্লভ পদপল্লব দেও আমারে
২। কোথা হে নন্দাত্মজ গােপীজনার প্রাণবন্ধু
৩। কি হেরিলাম কদম্বমূলে নবনীরদ মনােহর।
এস হে দীনবন্ধু কৃপাসিন্ধু হৃদ-মন্দিরে
৫। ঐ না বেশে মােদের গৃহে আয় হে রসরাজ
৬। ওহে যশােদানন্দন কৃষ্ণ গােপীর মনােচোরা
৭। ওগাে সখি কেগাে যমুনার কূলে
৮। সখি ঠাম ঠমকে ঠমক বকা কে
৯। সেই নবীন রাখালকে আমার মনে হলাে হে
শ্রীরাধা-বিষয়ক
১। এমন জগত পবিত্র রাধা নাম আনিল কে
২। মিছা দিন যায় দিন যায় রাধে রাধে বােল
৩। বল ঐ রাধা নাম বল
৪। রাধার চরণ নয় সাধারণ সামা ধন নয় গো
৫। রাধা নামে কতই সুধা কৃষ্ণ বই কে জানে
৬। জয় জয় রাধার নাম প্রেম-তরঙ্গিনী
৭। আধেকৃষ্ণ জয় শ্রীরাধেগােবিন্দ জয়
শ্রীরাধাগােবিন্দ-বিষয়ক
১। জয় রাধেগােবিন্দ বলে ডাকরে মন রসনা
৭৩
৭৪
৭
৭
• ২। ৩ ২ :: ২। জয় রাধাগােবিন্দ শ্রীরাধাগােবিন্দ ৩। জয় রাধাগােবিন্দ শ্রীচরণারবিন্দ মকরন্দ পান ৪। ভজ মন শ্রীরাধাবল্পতে ৫। রাধাগােবিন্দ গােবিন্দ বলে নেরে শ্রীবৃন্দাবন-বিষয়ক ১। রাধাকৃষ্ণ প্রেমের দীপক আলিয়ে রাধেকৃষ্ণ জয় শ্রীরাধে গােবিন্দ জয় চল নিতাই বৃন্দাবনে হেরব যুগল মাধুরী ৪। আর কতদিনে হব বৃন্দাবনবাসী রে ৫। হরি বােলব আর মদনমােহন হেরব রে ১। শুকশারীর বিবাদ ২। ভােগ-বিরাগের বিবাদ ৩। নূপুর চূড়ার বিবাদ শ্রীরাধা-কৃষ্ণের যুগল সংকীৰ্ত্তন- ১। আহা মরি কি আনন্দ হেরে যুগল মাধুরী ২। রাধাশ্রম একাসনে সেজেছে ভাল ত্বরা আয় ললিতা হেরবি যদি যুগলরূপের ঠাম ৪। তােরা দেখ ললিতা কুলতা কুঞ্জ পানে চেয়ে ৫। আজি নিভৃত নিকুঞ্জে আহ কিবা শােভ মরি ৬। শারী বলে দেখ শুক নিকুঞ্জ কাননে ৭। জয় রে জয় রাধামাধব যুগলকিশাের ৮। এমনি থাকুক যুগল কিশাের কিশােরী ৮৭ ৯ ? ? ৯১ ৯২ ১৩ • ১৪ གློ་གྲོ། হরিসভার বিবরণ। ২৩ আজ প্রায় ১৮ অষ্টাদশ বৎসর অতীত হইল সেই প্রে চিন্তামণি ভগবানের নামমাত্র ভরসা করিয়া আনন্দপুরের অন্তর্গত দক্ষিণ বাজারে আমরা কয়েক জন বন্ধু-বান্ধবে মিলিত হইয়া একটা হরিভক্তি প্রদায়িনী সভা স্থাপিত করিয়াছি। ‘বামন হইয়া বাঞ্ছা চমা ধরিতে। পতঙ্গ হইয়া ইচ্ছা অগ্নি নিবারিতে। পঙ্গু হয়ে ইচ্ছা যথা গিরি লঘিবারে। মুক হয়ে ইচ্ছা যথা বেদ পড়িবারে ॥ তদ্রুপ আমরা বামন হইয়া চন্দ্রমা ধরিতে হাত বাড়াইয়াছি। কেননা একে অধৰ্ম্মপর ভয়ানক কলিযুগ দিবানিশি শ্রেয়ঃ কার্যে ব্যাঘাত বিসম্বাদ, চতুর্দিকে পূর্ণ অজ্ঞান-অন্ধকার, অশ্রদ্ধা-মেৰে জ্ঞান-তপনের বিশ্বাস-কিরণ একবারে আবৃত করিয়াছে। কাৰ ক্রোধ রূপী দামিনী ও বজে সংসারকে আকুল করিয়া তুলিয়াছে। পাপ-ধারায় ধরা প্লাবিত হইতেছে। এ সংসারে বাস করিয়া আমাদের ন্যায় পাপী ও মূখগণের ধর্ম রাজ্যের মণিময় সিংহাসন স্থাপিত করিয়া অনন্ত অসীম ভগবৎ-প্রেমকে তদুপরি সাজাইতে পারিব, ইহা দুরাশা ও মরীচিকার ন্যায় কল্পিত ভাব মাত্র। যে ভগবৎ প্রেমকে সংসারে বিতরণ করিতে যুগে যুগে নারদ, কপি, ব্যাস, বশিষ্ঠ, বাল্মিকী প্রভৃতি কোটী কোটী ঋষিগণ আবির্ভূত হইয়াছেন। তাহাতেও যখন প্রেমতত্ত্ব বিলুপ্ত হইয়াছিল, তখন সংসারের কল্যাণ-বিধাতা শ্রীহরিই আপনি নানা মূর্তি ধারণ করিয়া সেই ভক্ত-বংসল প্রেমপ্রকাশ করিয়াছেন। সেই প্রেমে 4 অধিকারী অম্বুরীদি সত্যযুগের রাজা, দশরথাদি ত্রেতাযুগের রাজা, অর্জুন যুধিষ্ঠিরাদি দ্বাপর যুগের রাজা হইতেছেন। এই কলিযুগে সেই সকল ঋষিগণ নাই, আর ঐ সকল ভক্ত নৃপতিবর্গও নাই, কেবল পাপে প্লাবিত, অজ্ঞানে আচ্ছন্ন আমাদের ন্যায় দুর্ভাগা জীব যে যুগে সংসারকে আপ্লুত করিয়া রাখিয়াছে, সেই কলিযুগে ভগবৎ-প্রেমাস্বাদনের প্রকৃত অধিকারী এবং প্রেম-প্রবাহের উপদেষ্টার অভাব দেখিয়া স্বয়ং ভগবান্ শ্রীচৈতন্য- রূপে আবির্ভূত হইয়া অপার প্রেমের স্রোত প্রবাহিত করিয়া আচণ্ডালে পবিত্র করিয়া গিয়াছেন। তখন আমরা পাপী হইলেই আর কি হইবে ? এ সময়ে যখন আচণ্ডালের ভগবৎ-প্রেম- স্বাদনের অধিকার স্বয়ং ভগবান্ শিক্ষা দিয়াছেন, তখন পাপী হইলেও আমরা কয়েকজন বন্ধুবান্ধবে মিলিত হইয়া একটী হরি- সভা স্থাপিত করিতে ইচ্ছাকরি ; কিন্তু আবার ভবিষ্যৎ ভাবিয়া দেখিলাম যে একে আমরা ক্ষুদ্রমতি, তাহাতে আবার সহায়হীন ও অর্থহীন অধিকন্তু এ যুগে ধৰ্ম্ম-বিষয়ে কেহই সাহায্য করিবে । এ অবস্থায় সভা গঠন ও সভা নিৰ্বাহন উভয়ই অসম্ভব। হয়তাে কিছুদিন পরে সভা উঠিয়া যাইবে ; আমরা লােক-সমাজে হাস্যাস্পদ হইব, ইহাতে আমাদের আশা ফলবতী হওয়া দূরে থাক, অঙ্কুরেই নাশ হইবার সম্ভাবনা হইল। কিন্তু ঈশ্বরের কৃপা কখনই বঞ্চিত হইবার নহে। ভগবান্ স্বয়ং শিক্ষা দিয়াছেন যে, যার আছে লজ্জাভয়, সে আমার ভক্ত নয়।” আরও ধৰ্ম্ম-কৰ্ম্ম যতদিন যতক্ষণই হউক না কেন তাহাই আমাদের লাভ ; কেন না- জীবনং কৃষ্ণভক্ত বরং পঞ্চদিনানি চ। নতু কল্প-সহস্রাণি ভক্তিহীনঞ্চ কেশবে। 1
এই ভাবিয়া আমরা মানাপমানের দিকে দৃষ্টি না করিয়া কেবল
দৈনিক মুষ্টি ভিক্ষার সমষ্টি মাসে মাসে সংগ্রহ করিয়া স্বল্পব্যয়ে
হরিসভার কার্য সম্পন্ন করিতে লাগিলাম। তৎপরে কিছু টাকা
সংগ্রহ হওয়াতে ও কয়েকজন মহাত্মা কিছু সাহায্য করাতে বিশেষ
কোন ধূমধাম না করিয়া হরিসভার জন্য একটী খােড়া আটচালা
নিৰ্মাণ করা হইল।
“সৰ্বসগুণযুতাং তাং বন্দে ফাল্গুন-পূর্ণিমা।
যস্যাং শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যোহৰতীর্ণ কৃষ্ণ নামভিঃ । চৈঃ
এইরূপে আমরা বঙ্গাব্দ সন ১৩০৩ সালের শুভ ৬ই চৈত্র
ইংরাজী ১৮৯৭ সালের ৮ মার্চ শ্রীচৈতন্যাব্দ ৪১২ সালের
গুরুবারে ফাল্গুনী-পূর্ণিমা দিবস ফল্গুনী নক্ষত্রে শ্রীশ্রীচৈতন্যদেবের
অবির্ভাব ও শ্রীশ্রীকৃষ্ণের দোলযাত্রা দিবস শুভদিনে শুভক্ষণে
আনন্দপুরের অন্তর্গত দক্ষিণ বাজারস্থ মধ্যবর্তী স্থানে গুরু-বৈষ্ণবের
অনুমতিগ্রহণে রাত্রি প্রায় নয় ঘটিকার সময় এই হরিসভারী
স্থাপিত করিয়াছি।
আজ প্রায় ১৮ অষ্টাদশ বৎসর অতীত হইল সেই করুণাময়ের
নামের উপর নির্ভর করিয়া বহু বাধাবিঘ্ন অতিক্রমানন্তর হরি-
সভার কাৰ্য্য নিয়মিত চলিতেছে। কথিত অষ্টাদশ বৎসরের মধ্যে
হরিসভার কত পরিবর্তন ঘটিয়াছে তাহা বর্ণনাতীত। সেই
ইচ্ছাময়ের ইচ্ছাই বলবতী, আমরা উপলক্ষ মাত্র।
‘আপন ইচ্ছায় জীব কোটী বাঞ্ছা করে।
কৃষ্ণ ইচ্ছু বিজেীবের নাহি পূরে।
আমাদের মুক্তি ভিক্ষালব্ধ জীর্ণ শীর্ণ অস্থায়ী হরিসভার খােড়
আটচালাটা এখন প্রায় % ০ আটশত টাকা ব্যয়ে বৃহৎ অট্টা-
লিকাতে পরিণত হইয়াছে। কোথা হইতে এত খরচ জুটি
আশ্চৰ্য্য। আমরা ভুক্তভােগী হইয়াও ইহা জানিতে পারি নাই।
--
।
৪ এতদ্ব্যতীত হরিসভাতে নামসংকীৰ্ত্তন ভক্তিগ্রন্থ-পাঠ ও মধ্যে মধ্যে সাধু মহাত্মার আগমনে ভক্তিশাস্ত্রের ব্যাখ্যাদি হইয়া থাকে। প্রত্যেক পূর্ণিমা দিবস মহাপ্রভুর ভােগ আরাধনা ও সংকীৰ্তনাদি হইয়া থাকে। অধিকন্তু ফাল্গুন-পূর্ণিমা দিবস শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাব ও শ্রীকৃষ্ণের দোলযাত্রা উপলক্ষে ও হরিসভার বৎসরান্তে মহােৎসব উপলক্ষে অষ্ট প্রহর, চব্বিশ প্রহর নামকীৰ্ত্তনাদি হইয়া থাকে। এই সকল দেখিয়া শুনিয়া কয়েকজন, দুষ্ট, খল, বদমাই লােক ঈর্ষা বশতঃ এই সভাটী যাহাতে নষ্ট হয় তাহার জন্য অনেক চেষ্টা, এমন কি আমাদিগকে আসামী করিয়া ফৌজদারি মােকদ্দমাও করিতে ছাড়ে নাই। কিন্তু দয়াময় হরিই তাহাদের শাস্তি বিধান করিয়াছেন। এখন নিজেরাই দোষী সাব্যস্ত হইয়া হরি- সভাতে আমরা যাইব না ও আমাদের কোন অধিকার নাই বলিয়া হাকিমের নিকট দরখাস্ত করিয়া মুচলেখা ও জরিমানার দায় হইতে অব্যাহতি পাইয়াছে। আমাদের সম্বলের মধ্যে তাহার নাম ও গুণগান। অধিক কি জানাইব ভক্তবৎসলের গুণের পরিচয় তার ভক্তই বিশেষরূপ জ্ঞাত ; অভক্তের জানিবার আদৌ অধিকার নাই। ইহা বলা বাহুল্য যে, যে সকল মহাত্মা এবিষয়ে আমাদিগকে সৎউপদেশ, সৎপরামর্শ ও উৎসাহদান কবিয়াছেন ও যে সকল মহাত্মার সাহায্যে আমরা এই দুরূহ কাৰ্য্যে হস্তক্ষেপ করিয়াছি, তাহাদিগকে কোটী কোটী ধন্যবাদ দিতেছি। আর তাঁহাদের নিকট আমাদের কৃতজ্ঞতা চিরস্থায়ী এবং দয়াময় শ্রীহরির নিকট তাহাদের মঙ্গল প্রার্থনা সর্বদা জানাইতেছি। যে দীন দয়াময় হরি এই সভার আলােচ্য, তিনি এই সভাকে দীর্ঘজীবী ও ইহাব সভ্যগণকে সুখী ও অন্তে শ্রীচরণে স্থান প্রদান করুন, ইহাই প্রার্থনা। বৈষ্ণব-জন-কৃপাকাঙ্ক্ষী- শীগােপীকৃষ্ণ ই।
( ৫ ) আনন্দপুর-দক্ষিণ বাজার হরিসভার অভিনন্দন পত্র। ১। সভক্তি বিনীত নিবেদন - যথা সময়ে আপনার পত্র ও হরিসভার বিবরণ পাইয়াছি। হরি- নামামৃত পাঠাইতে বিলম্ব হইল, ক্রটি গ্রহণ করিবেন না, আপনাকে মেদনীপুর জেলার হরিসভার সর্ব প্রধান সম্পাদক জানিয়া হরি- নামামৃতের সহিত ১ খানি ভক্তিগ্রন্থ হরিসভাতে উপহার দিলাম ইতি। ২৯১৬ বৈষ্ণব-দাসানুদাস শীতারিণী চরণ হালদার পােঃ বাকাল, বরিশাল। ২। পরম ভক্তিভাজনেষু মহাত্মন্ ! আপনার কৃপাপত্র সহ-ঐশ্রীহরিসভার বিবরণ পু সুখী হইলাম। শ্ৰীসঙ্গিনীতে কোন সংবাদ প্রকাশের সম্ভাবনা থাকায় যথাযথ প্রকাশ করিতে পারিলাম না, কোনরূপে উহার আভাস দিয়া গৌরাঙ্গ-গীতিকাটী প্রকাশ করিবার ব্যবস্থা করিব। আপনাদের এই সাধু উদ্যমের জন্য আমরা আপনাদিগকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাইতেছি। তারিখ ১৩১৭ সাল ১৭ শ্রাবণ। শ্রীবৈষ্ণব সঙ্গিনী কাৰ্যালয় বৈষ্ণবজন-সেবক আনন্দাশ্রম। শ্রীমধুসূদন দাস অধিকারী। পােঃ আলাটী, জেলা হুগলী ৩। শ্রীকৃষ্ণপদে মতিরস্তু - তােমাদের সাধু-সংকল্পে পরম পরিতােষ হইয়া আশীৰ্বাদ করিলাম। আশীৰ্বাদক আহরিটোলা, ঐবিনােদ বিহারী গােস্বামী। কলিকাতা। ভাগবতরত্ন, বেদান্তাচার্য। ১৫৪ নং ( ৬ ৪ ভাগবােত্তম - আপনার শ্রীশ্রীহরিসভার বিবরণ পাঠ করিয়া প্রীত ও আশ্বসিত হইলাম। কারণ, এই দুর্দিনগ্ৰস্ত সমাজে আপনারা ধৰ্ম্মপথে বহ-জনকে এতদূর আকর্ষণ করিয়াছেন এবং অগ্রসর হইয়াছেন। ইহা বৈষ্ণব সমাজের একটী গৌরব করিবার বিষয়। আগামী সংখ্যায় বিবরণী প্রকাশ করিবার ইচ্ছা রহিল। কিছু দীর্ঘ হইয়াছে। শ্রীশ্রীগৌড় ভূমি কাৰ্যালয় । সেবক- গােবরহাটী, গােকর্ণ, মুর্শিদাবাদ শ্রীরাম প্রসন্ন ঘােষ ভক্তিবিশারদ। ৫। ভক্তপ্রবর: তােমাদের হরিসভার বিবরণ পাঠে পরম আনন্দিত হইয়া তােমা- দিগকে উৎসাহিত করিবার জন্য মৎ-বিরচিত শ্ৰীশ্রীপদ্যাবলী একটী উপহার দিলাম । ইতি ১৩১৭১৩ আশ্বিন। ৪নং মহেন্দ্র গােস্বামীর লেন নিত্যানন্দবংশােদ্ভব কলিকাতা। প্রভুপাদ শ্রীঅতুলকৃষ্ণ গােস্বামী। ৬। মহাশয়- আপনার প্রেরিত হরিসভার বিজ্ঞাপন পাঠে পরিতােষ হইলাম । উদ্দেশ্য সাধু। } শ্ৰদীনবন্ধু বেদান্তরত্ন। ভাগবতাশ্রম ভক্তি-কাৰ্যালয় হাওড়া কেঁড়ার বাগান। ৭। আপনাদের হরিসভাতে মৎপ্রকাশিত একখানি ঐশ্রীচৈতন্যমঙ্গল মাত্র ভিঃ পিঃ খরচ লইয়া উপহার দিলাম। ইতি সন ১৩১৮১২ মাঘ। ঐবিশ্বম্ভর দাস ব্রজবাসী। শ্ৰীধাম বৃন্দাবনস্থ মদন-গােপালপাড়া।
( ৭ )
৮। কি আনন্দের বিষয়।
আজ আনন্দপুর গ্রামে পদার্পণ করিয়া ঐশ্রীহরি সভাতে
গমন করিয়া শ্রীশ্রীহরি নামের ধ্বনিতে মনঃপ্রাণ মাতিয়া উঠিল।
যথার্থই এখানকার ভক্তগণের একান্ত ধর্মের প্রতি অনুরাগ।
আশা করি শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ-চরণে ইহারা সকলেই প্রেম-ভক্তিলাভ
করিয়াছেন এবং করিবেন। যেমন আনন্দপুর নামে গ্রাম, তেমনি
শ্রীশ্রীপ্রেমানন্দের ধাম, শ্ৰীমন্মহাপ্রভুর শ্রীচরণে প্রার্থনীয়, ইহারা
বৈষ্ণব জগতে বৈষ্ণব ধর্মের প্রচার করিয়া সর্বোচ্চ গতি লাভ
করুন। ইতি সন ১৩২১ সাল—১লা জৈষ্ঠ।
শ্রীকুঞ্জ দাস গােস্বামী-
শ্রীধাম বৃন্দাবন, ৩৫নং কেশী ঘাট।
নম: নারায়ণায়।
৯। আনন্দপুর গ্রাম, সত্যই প্রেমানন্দময়।
আবাল-বৃদ্ধ
বনিতার হরিভক্তি প্রাণােন্মাদকর। বড়ই তৃপ্তিলাভ করিলাম।
ঐনিত্যানন্দ-পদাশ্রয়ে এই গ্রাম উত্তরােত্তর উন্নতি হউক। এই
হরিসভাই এই গ্রামের পরমার্থ-দায়িনী।
এ সভার উন্নতি
। ইতি সন ১৩ ২১ সাল। ১লা জ্যৈষ্ঠ -
৫
।
স্বামী যােগজীবন।
( ৮ ) ১০। আশীৰ্বাদক- শ্রীশ্রী বসু জাহ্নবাজীউর কৃপানুগ ও তৎপাদপদ্ম আশ্রয় শ্ৰীউদয় চঁাদ গােস্বামী, সােনামুখী মনােহর তলা। জেলা বাঁকুড়া। আমি মেদনীপুর জেলার অন্তর্গত আনন্দপুর গ্রামে দক্ষিণ বাজারে আমার শিষ্যবাড়ী আসিয়া দেখিলাম যে আমার শিষ্য- গণ ও ঐ বাজারের অপরাপর কতকগুলি লােক একত্র হইয়া একটা হরিসভা স্থাপিত করিয়াছে। সেই হরি সভাতে যে কত আনন্দ হয়, তাহা আমার একমুখে বর্ণনাতীত। সেই হরিসভাতে অনেকগুলি লােক আত্মসমর্পণ করিয়াই এই কাৰ্য্যটী করিয়াছে। তন্মধ্যে আমার প্রিয়-শিষ্য গােপিকৃষ্ণ উক্ত সেবার অধ্যক্ষ ; তাহার ভক্তিতে আমি যারপরনাই প্রীতি হইয়া এই আশীৰ্বাদ করিতেছি যে শ্রীশ্রীহরিপদে তােমাদের অচলাভক্তি লাভ হউক এবং তােমরা দীর্ঘায়ু হইয়া বৈষ্ণব-জগতে এইরূপে বৈষ্ণব ধর্ম প্রচার কর। ঐশ্রীগােপী নাথ জীউর চরণে প্রার্থনা, এই হরিসভার উত্তরােত্তর উন্নতি লাভ হউক। ইতি সন১৩২১ তারিখ ১৭ চৈত্র-পূর্ণিমা। ১১। আমি হরিসভাতে আগমন করিয়া বড়ই প্রীতিলত করিলাম এবং ইহাদের উচ্চ সংকীৰ্ত্তনের ধ্বনিতে আমি বিহ্বল হইয়া বহুক্ষণ নৃত্য করিলাম এবং ইহাদের নামে অনুরাগ দেখিয়া প্রীতি হইলাম। শ্রীগৌর-গগাবিন্দের কৃপাতে ইহারা সকলে অচিরে ৫ম-ভক্তি লাভ করুক, ইহাই বাসনা। ইতি সন ১৩২২ সাল। রাধামাধব দাস মােহান্ত। শ্রীধাম নবদ্বীপ, গােকুলানন্দের বাঁধ।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য চন্দ্রায় নমঃ।
শ্র
হরিনাম
সংকীৰ্ত্তনমালা।
প্রথম খণ্ড
মঙ্গলাচরণম্।
২।
১। বনে গুরূনীশভক্তামীশমীশাবতারকা।
তৎপ্রকাশাংশ্চ তচ্ছক্তিঃ কৃষ্ণচৈতন্যসংজ্ঞকম্।
বন্দে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য-নিত্যানন্দেী সহেদিতো ।
গৌড়ােদয়ে পুষ্পবন্তো চিত্রে সন্দৌ তমােনুদো।
কনক-রুচির-গৌরঃ সর্বচিকৈচৌরঃ।
প্রকৃতি মধুরদেহঃ পূর্ণ-লাবণ্য-গেহঃ ॥
কলিত-ললিতরূপঃ শুদ্ধকৰ্প-ভূপঃ।
ক্ষুরতু হৃদি নটে শ্রীনবদ্বীপচন্দ্র।
৪। জয় জয় গৌরাঙ্গ জয়নিত্যানন্দ।
জয়াদ্বৈতচন্দ্র জয় গৌরভক্তবৃন্দ।
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
জয় গদাধর গৌরাঙ্গ হে নিত্যানন্দ কৃপানিধে।
ঐ অদ্বৈত শ্ৰীবাসাদি প্রাণবন্ধো নমস্তুতে।
ভক্তগণ সহিতে গৌরাঙ্গ জয় জয় ।
শুনিলে চৈতন্য কথা ভক্তিলভ্য হয় ।
জয় চৈতন্যচন্দ্র,
জয় প্রভু নিত্যানন্দ,
জয় জয় অদ্বৈত,গোসাঞি।
জয় স্বরূপ রামানন্দ,
সার্বভৌম শিবানন্দ,
রূপ সনাতন দুই ভাই।
এজীব গােপাল ভট্ট,
রঘুনাথ দাস ভট্ট,
নীলাম্বর ঈশ্বরপুরী।
চণ্ডিদাস বিদ্যাপতি, পুরীরাজ গজপতি,
কর্ণপুর ঠাকুর নরহরি ।
গঙ্গাধর হরিদাস,
বীরভদ্র গঙ্গাদাস,
শ্রীবল্লভাচাৰ্য্য সনাতন।
মুরারি কাশীশ্বর, বনমালী এ ধর,
শ্রীলবৃন্দাবন শ্রলোচন।
বাস পুরুষােত্তম,
কৃষ্ণদাস নরােত্তম,
মুকুন্দদত্ত শিখীমাইতি।
ধনঞ্জয় বক্রেশ্বর,
চন্দ্রশেখর প্রভৃতি।
L
জগদীশ শুক্লাম্বর,
।
গৌর-গীতিকা।
গৌরভক্তগণে,
প্রণমি সযতনে,
এ দীনেরে কর কৃপাদান।
দেহাবসানাবধি,
গাই যেন হরিগুণ গান ॥
ৰদনে নিরবধি,
( গ্রন্থকারস )
।
সম্প্রতি ভকত পাশে,
গললগ্নীকৃতবাসে
করপুটে করি নিবেদন।
পূর্বকৃত পুণ্যফলে,
জন্মেছি মানবকুলে,
হেন জন্ম গেল অকারণ ॥
হরিনাম বিনে ভাই, জীবের অন্যগতি নাই,
যাগযজ্ঞ কলিতে নিষ্ফল ।
যেই নাম সেই হরি, বল দিবা-বিভাবরী,
নিভে যাবে ভব-দাবানল ।
যে নামেতে মত্ত হর,
শিরে ধরি বিষধর,
শ্মশানেতে, করেন ভ্রমণ।
যাহার নামের বলে,
পাষাণ ভাসিল জলে,
পঙ্গু করে পর্বত লঙ্ঘন ।
বৃদ্ধ দ্বিজ ব্যাধি ক্লেশে, পুত্রে ডাকি নামাভাসে
অজামিল উদ্ধার হইল।
৫
সংকীৰ্ত্তন-মাল।
nanna
যে নামেতে করি বল, প্রহ্লাদ খে’ল হলাহল,
করী-পদাঘাতে না মমিল ॥
যে নামেতে রত্নাকর, জগতের রত্নাকর,
মহারত্ব রামায়ণ রচিল।
পাপ করি অগণন,
যে নাম করি শ্রবণ,
জগাই মাধাই মুক্ত হল ।
সেই হরিনাম সুধা,
পানে যাবে ভক্ষুধা,
কিন্তু মাের নাই ভক্তিবল।
আমি অতি দুরাচার,
বিদ্যাবুদ্ধিহীন ছার
‘বষ্ণবের চরণ সম্বল।
।
ভক্তকৃপা নাহি যারে, সে যদি বিপদে পড়ে,
হরি কভু নাহি করে ত্রাণ।
ভক্ত যারে কৃপা করে, সবে তারে সমাদরে,
শুভদৃষ্টি করে ভগবান।
অতএব ভক্তগণ
আমি অতি অকিঞ্চন,
সংকীৰ্ত্তন-মাল রচিবারে।
আমিত ভক্তের দাস, যেন পূর্ণ হয় আশ,
।
!
H
;
শ্রীগৌর-গীতিকা। ৫ **. মধ্যবঙ্গ মেদিনীপুর, গ্রাম আনন্দপুর, কেশবপুর থানারান্তর্গত। দক্ষিণ বাজারে ধাম, জগন্নাথ গুণৰাম, গুইবংশ সমুদ্ভুত। সেই জগন্নাথ সুত, হারাধন গুণযুত, তস্যাত্মজ গােপীচরণ। # (হরি) নাম-সংকীৰ্ত্তনমালা, রচিতে অতি উথল। কর হরি বাসনা পূরণ। গ্রন্থকার অতি দৈন্যোক্তির সহিত বলিয়াছেন যে আমার পতামহ ও পিতাঠাকুর মহাশয় গুণবান ও ভগবদ্ভক্ত ছিলেন। আমি সেই নিষ্কলঙ্ক বৈষ্ণব-বংশে মহাপাষণ্ডরূপে জন্মগ্রহণ করিয়াছি। আমার প্রতি কি শ্রীহরির করুণা হইবে ? আমি কি এই “হরিনাম- সংকীৰ্ত্তনমালা” রচিতে সমর্থ হইব ?
No text on this page.
শ্রীশ্রীগৌরহরি জয়তি।
শ্রী শ্রীহরিনাম
মন-মালা ।
नरक
(পদাবলী)
প্রথম স্তবক।
শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গবিষয়ক সংকীৰ্ত্তন
গৌরাঙ্গ-আবাহন।
জামাল।
গৌর একবার এস হে হৃদয় মন্দিরে।
(আমার হৃদয় মন্দির শূন্য আছে হে)।
একতালা )
এস হে গৌরচন্দ্র নিত্যানন্দ সঙ্গে করি।
মনের আনন্দেতে, তোমার সনে সংকীৰ্ত্তনে নৃত্য করি ।
নদেরাদ নদে ছেড়ে, এস কিরে
গৌররূপক্ষে হেৰে, মানব জনম সফল:করি
৮ সংকীৰ্ত্তন-মালা। ভুবন-মােহন গোরা, মনোহরের মনােহর, ভাবেতে হয়ে বিভােরা, ধূলায় দিচ্ছ গড়াগড়ি । ব্রজলীলা সাঙ্গ করে, গৌর হলে নদেপুরে। রাধার প্রেম-ঋণ শুধিবার তরে, হয়েছ হে দণ্ডধারী ॥ যেজন মুখে গৌর বলে, তারকি ভয় ভবেরকূলে, দ্বিজ সতীশে বলে দাও হে রাঙ্গা চরণ-তরি ॥১॥ ২। (একতালা ) একবার এস হে নদীয়ার চাদ গৌরাঙ্গ-সুন্দর। সঙ্গেতে অদ্বৈত, ঐনিত্যানন্দ, দক্ষিণে মুকুন্দ বামে গদাধর। জগাই মাধাই মহাপাপী উদ্ধারিলে, চাপাল গােপাল আদি তুমিত তরালে পাষণ্ড দলন কৈলে অবহেলে, আমায় কেন বাম হৈলে বিশ্বস্তর। কৃপাকরি এস হরি সংকীৰ্ত্তনে, সঙ্গে নয়ে শ্রীবাসাদি ভক্তগণে, ও রাঙ্গীচরণ হেরিব নয়নে, এই অভিলাষ মনে করি নিরন্তর। ব্রজে ছিলে তুমি কালিয়া বরণ, নবদ্বীপে গৌর হয়েছ এখন, কটীতে পরেছকৌপীন বসন, সােনার অঙ্গ তােমার ধূলাতে ধুসর
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
৯
তুমি ভক্তজন-বাঞ্ছাকল্পতরু,
তুমি ভক্তিদাতা তুমি জগৎগুরু,
কি ভাব-অভাবে ধরেছ এভাব,
কার ভাবেতে দণ্ড-কমণ্ডলুধর। ২।
৩। (একতালা )
একবার এস নদীয়াবিহারী গৌরহরি।
জনমে জনমে যেমন তােমায় না পারি ।
(নদেরাদ হে গােউর) আমার হৃদয় মন্দির হয়েছে শূন্য।
একবার আসি উদয় হওহে শ্রীচৈতন্য ।
গােউর আমিত ভজন হীন ।
ওহে গােউর আমার কিঙ্গে যাবে দিন
( ওহে গােউর) গােউর তখনি বলেছ তুমি।
কাঙ্গাল ভাকিলে আসিব আমি ।
(নদেরাদ হে গােউর) যদি নদে ছেড়ে আসতে না।
আমার হিয়ার মাঝে নদে কর ।
নদেরাদ হে! তুমি একা যদি আসতে নার।
আমার গদাধরকে সঙ্গে কর ।
( নইলে সাজবে না হে) ৩
L।
১৩ সংকীৰ্ত্তন-মালা। ruana শ্রীগৌর গীতিকা ৪। (ধরা—একতালা ) এস হে নদীয়ার চঁাদ শ্রীশচীনন্দন । ( দীনবন্ধু ) এস সংকীৰ্ত্তনের মাঝে, (গাের) দেখি তােমায় কেমন সাজে ॥ ( গৌর) এই যে মধুর সংকীৰ্ত্তন, এসে কর প্রেমের বরিষণ। (গৌর ) একা যদি আসতে নার প্রিয় গদাধরাকে সঙ্গে কর, (গৌর) তখনি বলেছ তুমি, কাঙ্গাল ডাকিলে আসিব আমি (গৌর) তুমি যদি না আসিবে, তােমার নামেতে কলঙ্ক হবে । ( দীনবন্ধু হে) আমি দিয়াছি তােমার দায়, গৌর তােমার উচিত হয়, (গৌর ) আমি ভজনহীন তায় সাধনহীন, ওহে আমার কিসে যাবে দিন। (ওহে দিনবন্ধু হে) ॥৪॥ ৫। (একতালা।) এইবার আমায় দয়াকর শ্রীচৈতন্য-হরি। দিয়ে চরণ তরি, ভব-বারি তরাও গৌরহরি ।
সংকীৰ্ত্তন-মাল।
১১
গৌর ভজনহীনে, সাধনহীনে আর কে তবে তােম। বিনে।
বারেক দয়াকর নিজগুণে ওহে গৌরহরি।
তুমি পতিত পাবন নাম ধর, এ পতিতে দয়া কর,
ও রাঙ্গা নয়নে হের কৃপা দৃষ্টি করি ।
চৈতন্য নাম ধর, তুমি অচেতনে চেতন কর,
আমায় ভবসিন্ধু পার কর হইয়ে কাণ্ডারী ।
পঁড়ায়ে রয়েছি কূলে নাও হে আমায় নায়ে তুলে,
পার হব অবহেলে ঐচরণ স্মরণ করি ।
৬। (একতালা।)
এইবার করুণা কর চৈতন্য-নিতাই হে।
মাের সম পাতকী আর ত্রিভুবনে নাই হে।
পুঞ্জ পুঞ্জ অপরাধ করে থাকি আমি হে।
কৃপা করি উদ্ধারহ কৃপাসিন্ধু তুমি হে ।
অশেষ পাপের পাপী ছিল জগাই আর মাধাই হে।
তা সবারে উদ্ধার কৈলে তােমরা দুটী ভাই হে।
জগাই মাধাই হৈতে মুই সে পাপিষ্ঠ হে।
পুরীষের কীট হইতে আমি সে নিকৃষ্ট হে।
সংসার-ভুজঙ্গ যেন না ইংশে আমায় হে।
জীবনে মরণে যেন তােমায় না পাসরি হে॥৬॥
১২
সংকীৰ্ত্তন-মালা ।
৭। (তাল একতালা )
আর কেউ নাই আমার ওহে গৌরহরি ॥
পার কর ভবসিন্ধু দীনবন্ধু দিয়ে রাঙ্গাচরণ-তরি।
দীনদয়াময় নাম শুনেছি, ঐ চরণ আশ্রয় লয়েছি।
ভবের কূলে দাঁড়ায়ে আছি তুমি তরাও তবে তরি
তুমি চাপাল গােপাল তরালে, জগাই মাধাই দুটী
ভাইকে হরিনাম দিলে।
তুমি প্রহ্লাদে করিলে রক্ষে, হিরণ্যাক্ষে বিদারি ।
দাঁড়ায়ে রয়েছি কূলে
হরি নাও হে আমায় নায়ে তুলে।
পার হব অবহেলে গেয়ে তােমার নামের সারি। ৭
বৃন্দাবন বিলাসিনী রাই আমাদের সুর)
একবার গৌর বল।
মনে প্রাণে ঐক্য করে একবার গৌর বল।
শ্রীগৌরাঙ্গ নামটী মধুর লাগে বড় ভাল ।
জপিতে জপিতে নাম হৃদয় করে আলাে একবার গেউ বল ।
নামটী রস ভাবে ভােয়া শুধুই সুধাময়।
বদন ভরে বললে পরে পরাণ শীতল হয় ।
একবার গােছর বল ।
জানি কুহক আছে গৌরাঙ্গ নাম গানে ॥
গাহিতে গাহিতে নাম পুলক আনে প্রাণে।
একবার গোউর বল ।
}
শ্রীগৌর গীতিকা।
১৩
।
শ্রীগৌরাঙ্গ নামের সনে আছেন স্বয়ং গৌরহরি।
শ্রদ্ধাযােগে দেখতে পান তারে প্রেমের অধিকারী,
একবার গৌর বল ।
শ্রীগৌরাঙ্গ নাম কি মিঠে জানেন ভক্তগণ।
হা গৌরাঙ্গ বলি তাই করেন রােদন
একবার গৌর বল ।
নামের সনে মনে পড়ে সােনর মূর্তিখানি।
আর মনেতে পড়য়ে সেই রাঙ্গা-পা-দুখানি।
নামের সনে মনে আসে নবুনটবর বেশ ।
এমনি গৌর নামের গুণ হয় ভাবের আবেশ
গৌর গৌর বল ওরে ভাই প্রেমে মত্ত হয়ে ।
গৌর তবে করবেন কৃপা রাতুল,চরণ দিয়ে ।
নিত্যধামে নিত্যলীলা দেখতে পাবে ভাই।
ঘুচে যাবে সংসারের খেলা, সেই লীলামৃত পাই ।
গৌর বিনা গতি নাই ভাই নাম শুধু সম্বল।
করতালি দিয়ে একবার গৌরহরি বল ।
অধম রেগৌর নাম বিন তুই পার হবি কিসে
অকপটে নাম করে লে’ নেচে নেচে আর হেসে।
একবার গৌর বল॥ ৮।
(বৈষ্ণব-সঙ্গিনী হইতে উদ্ধত)
*
২
১৪
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
\\ |||
\/\/\/\/\
}
A
৯ (তাল একতালা )
আসি নবীপে অবতীর্ণ হলেন দয়াল হরি
অনৰ্পিত ধন বিলাবে বলে গােকুল-বিহারী ।
গােলােকে গােপনে ছিল নিজ গুণে প্রকাশিল ।
এখন রাধা-কৃষ্ণ একই হােল জীবে দয়া করি ।
রাধার প্রেম আপন মাধুরী, গােপীভাব অঙ্গীকার করি,
এখন হরি হয়ে বলছে হরি আস্বাদিতে নারি ।
: আপনি না কৈলে ধৰ্ম্ম শিখান না যায়।
আপনি আচরি ভক্তি জগতে শিখায় ।
তাই অবতার হয়েছে কলি-জীবকে শিখাবার
লাগি অবতার হয়েছে।
তিন ভাবে ভাবিত হয়ে, নীলাচলে রইলেন গিয়ে।
জগন্নাথের শ্রীমুখ চেয়ে পড়ছে নয়ন-বারি,
শ্রীরাধার ভাব যেমন উদ্ধব দর্শনে।
সেইমত ভাব প্রভুর হয় রাত্রদিনে।
(ভাব নিধি গৌরের ভাবের বিরাম নাই বিরাম নাই)।
সার্বভৌম প্রকাশানন্দ, তারা বলতেছিল কতই মন্দ ।
. ঘুচলাে তাদের সে সব সন্ধ ষড়ভুজ রূপ হেরে ॥
দুই হস্তে দগু কমণ্ডলু দুই হস্তে ধনু।
ধ্য দুই হস্তে বাজায় মােহন বেনু ॥
(ষড়ভুজ রূপ দেখায়ে ছিলেন রে।।
তাদের মনের সন্ধ দূর করবার লাগি)।
ܝ
।
শ্রীগৌর-গীতিকা।
১৫
annaman
আপন করম দোষে, অধম জনা রইল বসে,
বারেক কৃপা করে এসে, সিঞ্চ প্রেমের বারি ॥ ৯
১০। (তাল একতালা।)
কানাই কোথা লুকালি ভাই করের মোহন বাঁশী।
যে বাঁশীতে রাধার নাম গাইতে দিবানিশি ॥
কোথারে তাের পীতধড়া কোথারে তোর মোহনচূড়া।
কেন হলি ব্রজছাড়া বলরে কাল-শশী।
কানাইরে তাের বাশী স্বরে, মৃত মুঞ্জরে।
বইত যমুনা উজান ধরে গোপী মন উদাসী ।
কানাইরে তাের বাঁশীর গানে, পশুপাখী সবাই শুনে,
ধেনু ফিরেছিল বৃন্দাবনে, জানে ব্রজবাসী।
কাল অঙ্গ ত্যজ্য করে, গৌর হলে নদেপুরে,
• আবার দণ্ড কমণ্ডলু করে, হয়েছ সন্ন্যাসী!
যে’তে গােষ্ঠ গোচারণে, বাঁশী বাজাইতে গহন বনে,
এখন হরিবল সংকীৰ্ত্তনে মুখে মধুর হাসি। ১০।
১১। (তাল একতাল
কানাই কি ব্ৰজে আসবে আর, এখন নবদ্বীপে অবতার।
ত্যজে কাল অঙ্গ শ্রীগৌরাঙ্গ ভােরকোপন করেছে সার ॥
এখন নাইকো মােহন বেশ, মুড়ায়েছে চার কেশ,
চূড়াধড়া ত্যজ্য করে হয়েছে যােগীর বেশ।
১৬
সংকীৰ্ত্তন-মালা
করে নাইকো বাশী কালশশী, কমণ্ডলু করেছে সার।
দাদা বলাই সঙ্গে জুটেছে, দেহে গৌর-নিতাই হয়েছে।
হারে রে রে ত্যজ্য করে হরি বলতেছে।
নাম যে জন নিচ্ছে তারে দিচ্ছে, জীবে কচ্ছে পারাপার ।
দেখলাম কানায়ের ধারা, অতি আশ্চৰ্য্য ধারা,
রাধা রাধা বলছে সদা বইতেছে ধারা।
হয়ে মাতােয়ারা নব গোরা নব অনুরাগ হয়েছে তার।
ব্ৰজের ভাবে হইয়ে বিড়ােল, সদাই বলছে হরিবােল,
যারে দেখে প্রেমাবেশে তারে দিচ্ছে কোল।
দ্বিজ লম্বোদর কয় পাৰকি কোল ঘুচলনা মনের আঁধার।
১২। (তাল একতালা।)
কানাই কি অভাবে গৌর হলি আমারে তা বল ।
ব্রজের কি অভাবে কিসের লেগে ও ভাই চিকণ কাল ।
করে লয়ে মােহন বাঁশী, বাজাতে ভাই কাল-শশী ।
এখন নদেতে হলে সন্ন্যাসী ওরে চিকণ কাল।
তােরে ভাব ধরাল কোন ভাবিনী, না জানি সে কেমন ধনী,
পরাল ডোরকোপীন খানি দেখে যে প্রাণ গেল ।
গােষ্ঠ যেতে রাখাল সনে, ধেনু ফিরাতে বনে বনে।
আমরা করতাম কঁাধে মনের সাধে পেতাম চরণ ধুলাে।
( আখির)-কত আনন্দ হয়েরে, 'করতাম কাধে,
মনের সাধে কত আনন্দ হয়েরে ।
শ্রীগৌর-গীতিকা।
১৭
A
বনে বনে বেড়াইতাম বন ফুল তুলিয়ে।
বিন সূতে গেঁথে হার দিতাম তােমার গলে।
দেখি কেমন সাজেরে বনমালীর গলে বনমালা
কেমন সাজে রে ॥
বনে বনে বেড়াইতাম বন ফল তুলিয়ে।
খেতে খেতে মিঠা হলে রাখতাম ধড়ার অঞ্চলে।
বলি কানাই খাবেরে, সুমধুর সুমিষ্ট ফল কানাই খাবেরে,
এঠোফল আর মিঠাফল কানাই খাবে রে )
১৩। ( তলি একতালা।)
গোরা যায়রে সুরধুনীর তীরে হরি বলে যায়
হরিবােলে যায় রে হরে কৃষ্ণ বলে যায় ।
সােণার অঙ্গে নামাবলী কতই শােভা পায় ।
চৌদিগেতে খােল করতাল আনন্দে বাজায়
রাঙ্গাপায় সােণার নূপুর বেজে বেজে যায়।
ভাবাবেশে ঢলে পড়ে এ উহার গায় ।
১৪। (তাল একতালা।)
কেন হলাে গোরা-অবতার মুরারে এই কথা বল বল হে।
মুরারে তােমারে হে শুধাই কেন,
তুমি গোরার সকল জান হে।
( আখর )—আমি শুনিতে বড় ইচ্ছা করি।
মুরার বল আমায় কৃপা করি হে।
১৮
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
৮
যে অঙ্গে চন্দন দিতে ভয় করি,
কিসের লেগে সে অঙ্গ ধূলায় গড়াগড়ি হে ॥
যে অঙ্গে চন্দন শােভা পায়,
কেন কিসের লেগে সে অঙ্গ ধূলায় লােটায় হে।
যে নাগর শত কোটী গােপী সঙ্গে, রাস কৈল নানা রঙ্গে,
কেন কিসের লেগে সে আবার ছাড়ি নাগৱালী বেশ
এখন ভ্রমি বেড়ান দেশ বিদেশ হে।
কি আশায় সে আবার একটী আশা ঝুলি কঁাধে নিল,
আবার রাধার প্রেমের ভিখারী হলো,
রাধা বলে,
ভেসে যায় নয়নের জলে হে ॥
কেন ত্যজ্য করে মােহন চূড়া,
কিসের লেগে নদেয় হলো নেড়া মুড়া হে।
কেন ত্যজ্য করে মােহন বাঁশী, নদেয় হ'লে সন্ন্যাসী হে।
ওহে তােমার যে কটীতে ঘুঘুর বাজে,
তাহে কি ডোরকৌপীন সাজে হে।
মুরার কি শুনি হে হায় হায়, এসব দুঃখ কি সহা যায় হে
১৫। (তাল একতালা।
তোমরা দুভাই বড় পরম দয়াল হে ওহে গৌর নিতাই।
আমিত ভজনে খাট, গৌর তুমি দয়াল বট হে।
শ্রীগৌর-গীতিকা।
১১
আমি ভজনহীন তায় সাধনহীন, গৌর আমার কিসে
যাবে দিন হে।
আমি শুনেছি বৈষ্ণবের মুখে, তােমায় প্রেম দাতা বলে
লোকে হে।
গৌর তুমি তরালে তরাতে পার তবে অামায় কেন
হেলা কর হে ।
১৬। (ধতেওট।)
কি আনন্দ নদেপুরে নিশি পোহাইল।
প্রেমের পসরা লয়ে জাবের ভাগ্যে গৌর এল ।
বিংশতি ভাব অঙ্গে মাখা, কাল অঙ্গে আছে ঢাকা।
তাহে স্বর্ণ-পঞ্চালিকা কলি-জীবের চিত্ত চিত্ত হয়ে নিল ।
সঙ্গে নিতাই অবধৌত গদাধর আর অদ্বৈত,
ব্ৰজ লীলা সম্বরিয়ে, নদেয় এসে হরি বলে কঁাদাইল ।
(গৌর আপনি কঁাদে জগত কাদায় )
১৭। (ধরাতেও।)
কি হেরিলাম রামাননদ জলধি জলে।
ভাবেতে আবেশ হয়ে, কেদে কেদে গৌর বলে ।
স্বপনে আমারি মন, গিয়ে ছিল বৃন্দাবন,
কি হেরিলাম অপরূপ-রাই যেন শ্যামৰ্চাদের কোলে ॥
২৩
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
{
}
।
নীলপদ্ম ভাসি আসি, স্বর্ণ-পদ্মাসনে মিশি,
যেন অমিয়া পড়িছে খসি, যেমন সৌদামিনী মেঘের কোলে ॥
১৮। (পাঁচতালি ধরা।
কাঙ্গাল কি তাের কেউ নহে নদেরাদ হে গৌর ।
তোমার চরণে অামার পরাণে বাঁধব রাত্রি দিনে হে গৌর
তুমি জগন্নাথ জগতের নাথ, আমি কি জগতের বার
হে গৌর
তুমি সরোবর গৌর-কিশাের, কবে হব ঐ সরবরের মীন
হে গৌর ॥
একদিন গােদাবরীর তীরে রামানন্দ সনে, দিয়েছিলে
প্রেমের ঢেউ হে গৌর ॥
১৯। (তাল একতালা।)
কহ কহ রামানন্দরায় করি কি উপায় ।
কি ধন দিয়ে শুধব, রাধার প্রেম-ঋণ হলাম দায়।
রাধা-প্রেমের ঋণ শুধিতে অবতীর্ণ নদীয়াতে,
তবু খালাস পাইনা খতে কি করি বল উপায়।
যে ধন চূড়া বাঁশী ছিল, রাধার প্রেমের বন্যায়
ভেসে গেল।
এখন কি করি বল ওহে স্বরূপ রামরায় ।
রামানন্দ তুমি সাক্ষী রাধা প্রেমের আছে বাকী,
ষড়ৈশ্বৰ্য্য ত্যজ্য করে ছিন্ন কঁাথা অঙ্গীকার ॥
শ্রীগৌর-গীতিকা ।
২১
২০। (তাল একতালা।)
আজ ব্রজে রাই রূপের সন্ন্যাসী এসেছে।
রাধা রাধা রাধা বলে ধূলায় পড়ে কঁদতেছে ।
কি দিব রূপের তুলনা, বরণ যেমন কঁাচাসোনা।
নয়ন দিলে আর ফিরে না, তার নিমিখ বাদী হয়েছে
দেখে যা সন্ন্যাসীর ধারা, কোটাও ডেরিকোপীনপরা,
কাল তাঙ্গ হয়েছে গােরা, নয়ন বাঁকা রয়েছে।
একবার যায় রাস মণ্ডলে, নাচে দুটী বাহু তুলে।
রাধা রাধা রাধা বলে নয়ন জলে ভাসতেছে।
২১। (ভা একতালা।)
আমার মন ডুবরে শ্রীচৈতন্য-লীলা-সরােবরে।
কেন উঠুডুবু করছরে মন সংসার-সাগরে।
সংসারের পারাপার হয়ে, অক্ষয় রােবরে গিয়ে,
সেথা হংস চক্রবাক হয়ে, মন বিহার কর নীরে ॥
যত কৃষ্ণ ভক্তি সিদ্ধান্তগণ, তঁারা সরােবরে হয় পদ্মবন
তার মধু কর আস্বাদন, তৃষ্ণা যাবে দূরে।
কৃষ্ণ লীলা-মৃত-সার তার শত শত ধার,
দশদিক বহে যার প্রেমের পাথারে ।
২২। ( ধর। পাঁচতলা।)
আমরা তাই গৌরকে ডাকি,
প্রিয়দখি ! যারে হেরলে জুড়ায় তাপিত আঁখি।
২২
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
শুধুই গৌর নয়, ব্ৰজে কাল-অঙ্গ হয়,
রাধার প্রেমে সদাই ঝরছে আঁখি ।
ব্রজে কাল ছিল নদেয় গৌর হল,
গােপীর ভাবে অঙ্গ মাখমাখি।
গােসাঞি শ্রীদাম লালে কয়,
গৌর রসময়, তঁারে সদাই হৃদ-কমলে রাখি।
২৩। (তাল একতালা।)
আয় রে আয় জগাই মাধাই আয়,
হরিসংকীৰ্ত্তনে নাচবি যদি আয় ।
মাধাই মেরেছে কলসীর কানা,
ওরে মাধাই তা বলে কি নাম দিব না।
মাধাই মেরেছে মার আবার খাব,
তবু তােরে প্রেম দিব আয় আয়।
মাধাই তােমরা দুভাই জগাই-মাধাই,
ওরে আমরা দুভাই গৌর নিতাই আয় ॥
মধাই তােরে হরিনাম দিয়ে,
ওরে নীলাচলে রইব গিয়ে আয়।
মধাই গঙ্গাজলে স্নান কর,
হরিনামের মালা গলায় পর ।
মাধাই তােরে হরিনাম দিব,
দিয়ে সংকীৰ্ত্তনে নাচাইব আয় ।
• গৌর-গীতিকা।
৩
২৪। (তাল একতালা)
গাওরে গৌরাঙ্গের গুণ ভাই! এমন জনম হবে নাই ।
গৌর বিনে ত্রিভুবনে আর জীবের গতি নাই ।
ছিল ব্ৰজেতে, এখন এল নদেতে,
নদেবাসীর ঘরে ঘরে প্রেম বিলাতে।
ব্রজে ছিল কানাই বলাই নাম হ’ল গৌর নিতাই ।
গৌর লয়ে ভক্তগণ, করে হরি-সংকীৰ্ত্তন,
স্থাবর জঙ্গম আদি সবে করিছে রােদন।
কত মহাপাপী উদ্ধারিল তার সাক্ষী জগাই মাধাই ।
এমন মধুর নাম ছেড়ে,
ভবে রইলিরে পড়ে
কত না যন্ত্রণা পেলি মায়ের জঠরে ।
কেবল আসা যাওয়া সার হোল তাের
সার বস্তু চিনলি নাই।
ছিল স্বরূপ সনাতন, তাদের গৌরগত মন,
গৌর-রূপ সায়রে ডুবে তুলেছে রতন।
রত্নমালা গলায় পর শমন ভয় অর রবে নাই ।
গোর নেয়ে হয়েছে,
নিতাই হাল ধরেছে
হরি বলি হরিদাস বেয়ে চলেছে।
রাধা কৃষ্ণ বলে পার হবি মন! পারে কড়ি লাগবে নাই ।
যখন ছিলি মায়ের জঠরে, কত যন্ত্রণায় পড়ে,
ঊদ্ধ পদে হেট মুণ্ডে দুটী কর জুড়ে।
।
২৪
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
নাই।
বলেছিলে এইবার আমায় পার করে দাও
আর চরণ ভুলব
ভবেতে এলি,
হায় কি কাজ করলি
মিছামায় গলায় বেঁধে জনম গোয়ালি।
দ্বিজ গনেশ বলে অন্তিমকালে যেমন প্রভুর চরণ পা
২৫। (তাল একতালা।)
গিয়ে সুরধুনী নামের সনি দিচ্ছে গাের রায় গো।
ধ্বনি শুনলে তােরা হলি উন্মাদিনী পাগলিনী প্রায় গো
নদের বালক সঙ্গে করে, গৌর নাচ পেতেছে গঙ্গাতীরে
সুরধুনী গেলে পাবে ঘর হাসা হয় দায় গো।
রাধা নামে কে এক ধনী, তারি নামে দিচ্ছে ধ্বনি,
উজান বয়ে সুরধুনী পড়ছে রাঙ্গা পায় গো ।
গৌর অঙ্গে গােরচনা, চাইলে নয়ন বাগ মানেনা,
পাপ নয়ন বলে জলকে চ’না, কি করি উপায় ।
২৬। পাঁচতালা ধরা।)
গৌর নাম যার নদে পুরে একবার ডাক দেখি মন তারে।
দীন-দয়াময় অধম-তারণ, এমন হয় না কোন অবতারে ।
নন্দের নন্দন বংশীবদন, পূর্ণচন্দ্র উদয় শচীর ঘরে।
সেই জলধর নদেয় বিশ্বম্ভর, সংকীৰ্ত্তন করেন নদেপুরে ।
সীতানাথ অদ্বৈত গােসাঞি আনলেন ঘরে হুহুঙ্কারে।
রসিকশেখর পরম করুণ নামে বনের পশু তারাও ঝরে।
গৌর-গীতিকা।
২৫
...
২৭। (তাল একতালা।)
গৌর গােবিন্দ উদয় ন’দে, নিতাই বলরাম রে আমার।
( হে ওহে নদের চঁদ গৌর )
বাশী বাজাতে হে যে বদনে, এখন হরি বল সংকীৰ্ত্তনে ।
কোথায় গােপবেশ বেণুকর, হায় হে, কোথায় নব
কৈশাের নটবর।
তােমার যে কটীতে ঘুঘুর বাজে, ওহে গৌর তাহে
কি ভােরকৌপীন সাজে।
এখন নাই চূড়া নাই বাঁশী হায় হে, এখন ঘুচেছে ,
চাঁদ মুখের হাসি।
২৮। (তাল একতালা।)
গৌরাঙ্গের কীর্তনের খেলা, ত্বরা আয় কে দেখতে যাবি গো
শ্রীগৌরাঙ্গের খেলা দেখে, আমার মন হলো বিভােলা গাে।
সকল বালক লয়ে গৌর করে নানা খেলা গাে।
উন্মত্ত হইয়ে নাচে তাদের গায়ে মাখা ধূলা গাে।
আমি সুরধনী গেছলাম ধনী করে জলের ছলা গাে।
যার নয়নে লেগেছে নয়ন, তার ঘুচলাে সকল জ্বালা গাে ।
সকল বালকের গলে হেরি বন ফুলের মালা গাে।
গৌরাঙ্গের ঘেরিয়ে নাচে ঘন হরিবল গাে॥
। +
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
|
২৯। (তাল একতালা।)
চলরে সুরধুনীর তীরে যাই।
ওরে আয়রে মাই গুণের ভাই ॥
হরি বােলছে গোরা, ভাবে ভাের ঐ শুনা যায় ভাই রে।
প্রেমে মাতােয়ারা নব গোরা সঙ্গে চঁাদ নিতাই রে ।
ওরে আমরা দুভাই অশেষ পাপী পাপের অন্ত নাই রে।
ও সে নিতাই চাদের দয়া বিনে আর গতি নাই রে ॥
যারে কলসীর কানা মেরেছিলি সেইত নিতাই রে।
ও সে মার খায় আর দয়া করে জাতের বিচার নাই রে ॥
গিয়ে হেরব সেরূপ নয়ন ভরে আমরা দুটী ভাই রে।
যারা ব্ৰজে ছিল কানাই বলাই নাম গৌর নিতাই রে।
৩। (তাল একতালা।)
জীব আয় আয় কে প্রেম নিবি আয় রে ।
দয়াল নিতাই চৈতন্য ডাকে রে ॥
আমি তােদের তরে প্রেম এনেছি রে।
প্রেম দিব তার দাম লব না রে ॥
এ প্রেম কোন যুগে ছিল না রে।
আমি গােলক হতে এনেছি রে ॥
প্রেম আচণ্ডালে বিলাই রে।
কারেও বাকী রাখব নারে ?
.
শ্রীগৌর-গীতিকা।
২৭
৩১। (তাল একতালা।)
*
জীব তরাতে দয়াল গৌর এসেছে।
হরিনাম যারে তারে বিলায়েছে ।
(ধর নাও বলে) মধুর হরিনাম ভাবেতে বিড়ােল,
বদনে বলছে হরিবোল, যারে তারে দিচ্ছে কোল ।
হরিবোলে বাহু তুলে গৌর সংকীৰ্ত্তনে নাচতেছে ।
(হরি হরি বােলে )
রায় রামানন্দ, মুরারি মুকুন্দ লয়ে ভকত বৃন্দ,
গদাধরের বদন হয়ে, গৌর প্রেমানন্দে ভাসতেছে ।
( কিশােরীভাবে)
বয়সে নবীন, তার মাঝা অতি ক্ষীণ,
কোটীতে পরা ভােরকৌপীন।
ব্লাই-ভাবে মুড়ায়ে মাথা, গৌর আমার দণ্ডধারী হয়েছে
(কিশােরীর ভাবে)
৩২। (তাল একতালা।
জয় জয় নিত্যানন্দাদ্বৈত গৌরাঙ্গ।
জয় রােহিণীনন্দন বলরাম নিত্যানন্দ।
এস শান্তিপুরবাসী আমার শ্রীঅদ্বৈতচন্দ্র।
(সেইত গােউর এনেছিলে গঙ্গাজল তুলসী দিয়ে)
জয় স্বরূপরূপ সনাতন রায় রামানন্দ
২৮
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
জয় খণ্ডবাসী নরহরি মুরারি মুকুন্দ।
তিন পুত্র সঙ্গে নাচে সেন শিবানন্দ।
পাঁচ পুত্র সঙ্গে নাচে রায় ভবানন্দ।
জয় গদাধর শ্রীবাসাদি গৌর ভক্তবৃন্দ ।
মােরে কৃপা করে দাও গৌর পদারবিন্দ ।
৩৩। (তাল একতালা )
যাদের হরি বোলতে নয়ন ঝরে তারা দুভাই এসেছেরে।
যারা মার খায় আর প্রেম যাচে তারা, তারাই দুভাই এসেছে রে।
যারা মা যশােদার নয়ন-তারা তারা, তারাই দুভাই এসেছেরে।
যারা গােঠে মাঠে বেড়াইত তারা, তারাই দুভাই এসেছেরে ॥
যারা গােলকে গােপনে ছিল তারা, তারাই দুভাই এসেছেরে।
যাদের সবজীবে সমান দয়া তারা, তারাই দুভাই এসেছেরে।
যারা ব্রজে ছিল কানাই বলাই তারা, তারাই দুভাই এসেছেরে
যারা ব্ৰজে ছিল ননীচোরা তারা, তারাই দুভাই এসেছেরে।
E
৩৪। (তাল একতালা।)
প্রেমধন বিলায় রে গােরা রায়।
ও চঁাদ নিতাই ডাকে আয় আয় আয়।
শ্রীগৌর-গীতিকা।
* ১/AA
ক্ষণে লম্ফ, ক্ষণে ঝম্প, ক্ষণে মূচ্ছ যায় ।
গৌর গদাধরের বদন হেরে পড়িছে ধূলায় ।
হরিনামের ধ্বনি শুনে যত পাষণ্ড পলায়।
কে লবি কে লবি বলে প্রেমধন যাচিয়ে বেড়ায়।
প্রেম-পসরা লয়ে মাথে দয়াল চৈতন্য বিলায় ।
বিনামূলে প্রেম দিয়ে কীর্তনে নাচায় (হরিবােলে )
প্রেম পসরা হােল ভারি, প্রেমের বােঝা আর
বহিতে নারি, আর ।
তােদের বিনামূলে প্রেম দিব আয় কে লবি আয়।
৩৫। (তাল একতালা।)
(বৃন্দাবন-বিলাসিনী রাই আমাদের সুর)
নদীয়ার মাঝে প্রেম-বিভাের গৌর নাচে।
গৌর নাচে গৌর নাচে প্রেমে মত্ত গৌর নাচে।
কেউ বলে গো শ্রীগৌরাঙ্গ কাঞ্চন-বরণ।
কেউ বলে গাে শ্রীগৌরাঙ্গ বৈভব-লক্ষণ ॥
কেউ বলে গাে নামে পাগল নাচে হাসে কঁদে
কেউ বলে পড়েছে গােরা পিরিতের ফাঁদে ॥
কেউ বলে গো গৌরচন্দ্র নবীন সন্ন্যাসী।
কেউ বলে গো প্রেমের দায় হয়েছে প্রবাসী
কেউ বলে 'গো গৌরচন্দ্র কাদে কৃষ্ণ বলে।
'
সংকীৰ্ত্তন-মালা ।
কেউ বলে গাে অনুরাগে ভাসে নয়ন জলে ।
কেউ বলে গাে গৌরচন্দ্ৰ জগত মাতালে।
কেউ বলে মাধুৰ্য প্রেম জগতে শিখালে।
কেউ বলে গাে শ্রীগৌরাঙ্গ প্রেমানন্দে ভাসে।
কেউ বলে রসময়-ভাব মগ্ন ব্রজরসে ।
কেউ বলে গো শ্রীচৈতন্য মহাযােগীবর।
কেউ বলে গো রসিক গোরা রসের সাগর ।
কেউ বলে গো শ্রীচৈতন্য ভব-পারের ভেলা।
কেউ বলে শ্রীরাধাবল্লভ ব্ৰজে করে খেলা।
কেউ বলে গাে কৃষ্ণ-চৈতন্য ভক্ত-প্রেমে বাঁধা।
কেউ বলে শ্রীরাধার প্রেমে শিরে ধরে বাধা।
কেউ বলে গাে গৌরচন্দ্র সরল প্রবীণ ।
কেউ
বলে
কপট শঠ,
চতুর
কেউ বলে গগ গগৗর-রূপে নদে করে আলাে।
কেউ বলে গাে বৃন্দাবনে গৌর ছিল কাল ।
কেউ বলে গাে গৌর রূপে জগত মাতালে।
কেউ বলে গো বৃন্দাবনে অবলা মজালে।
কেউ বলে গো গৌরচঁাদ জগত-মােহন।
কেউ বলে গো গোপবালার হিয়ার রহন।
কেউ বলে গো গৌররূপে পাগল করিল।
জ্যোতীশ,কয় ঐছন রােগ আগেতে যে ছিল ।
নবীন।
।
শ্রীগৌর-গীতিকা।
।
৩৬। (একতালা।)
ভজে লে গৌরচন্দ্র নিত্যানন্দ ঐ দুজনে।
এমন দয়াল প্রভু আর হবে না ত্রিভুবনে।
তাদের গুণ শ্রবণ করে, দিবানিশি আখি ঝুরে,
তখন জন্ম হলে পরে, পড়তাম গিয়ে চরণে।
এসে তারা ন’দেপুরে, নাম বিলায় যারে তারে,
অধম চণ্ডাল আদি করে, তরাইল জনে জনে ।
জগাই মাধাই পাপী ছিল, নিজগুণে উদ্ধারিল।
মার খেয়ে প্রেম দিল জাতের বিচার নাই মানে।
অকুলের কাণ্ডারী হরি, তােরে দিবেন চরণ তরি,
সেই চরণ আশ্রয় করি, পার হবি ভব-তুফানে।
আপনার করমের ফলে, ডাকলাম নারে গৌর বলে,
কি হইবে অন্তিম কালে, ভেবে তা দেখলাম না মনে।
৩৭। (পাঁচতালি।)
বিনয় করে রামানন্দ গৌরাঙ্গে বলে।
ওহে ব্ৰজে যাওয়া কেমন কথা আমায় রেখে নীলাচলে ।
স্থির কর মন, জগন্নাথের রথযাত্রা কর দরশন।
আমার বাসনা পুরাতে হবে, ওহে যদি যাবে ব্ৰজ-মণ্ডলে।
কাঙ্গাল রামরায়, গৌর যাবার কথাশুনে ধূলাতে লােটায়।
বদন পানে চেয়ে কাদে ভাসে দুটী নয়ন জলে
৩২
সংকীৰ্ত্তন-মালা
৩৮। (তাল একতালা।)
হরি বলে কে নদের বাজারে মাধাই যারে, জেনে আয়রে।
হরি বােলে কে বা যায় গোর না নিতাইরে ॥
তাথৈ তাথৈ বাজে খােল, কে নাচে কে গায়রে।
ঐ হরিনাম মধুর ধ্বনি সিংহের গর্জন শুনিরে ।
নাম শুনে শ্রবণ মাতায়ল মন হলো পাগল রে।
ঐ শুনি কীৰ্ত্তনের ধ্বনি নদের ঘরে ঘরে রে ।
শুনে নামের ধ্বনি সুরধুনী উজান বেয়ে বয় রে।
৩৯। (তাল একতালা।)
হরিবােল বলে গৌরহরি ।
(গৌর আর কিছু বলবেনারে )
গােরর বিংশতি-ভাব-ভূষণ মাখা, প্রেম অঙ্গ হলে ভারি,
গােরার এক ধারা বেয়ে পড়ে, আর একধারা সঞ্চারে।
গৌর মুখে বলে হরি হরি,
গৌর হৃদে জপে রাই কিশােরী ।
গােরার দুনয়নে পড়ে ধারা যেমন মন্দাকিনীর পারা,
গােরার একি পুলকের ছটা, যেমন শিমুলের ই
গােরার নয়ন বেয়ে পড়ে জল,
যেমন প্রেমের গাছে হেমের ফল।
গৌর-গীতিকা।
nantan
৪০। (একতালা।)
হরিবােল বলে গোরা ঢলে ঢলে নেচে যায়।
রুনু ঝুনু রুণু ঝুনু বাজে নূপুর রাঙ্গাপায় ।
গােরাচঁাদ হরি বলে পুলকে জাহ্নবী খেলে
প্রেমের তরঙ্গ তুলে রাঙ্গা চরণে লুটায়।
যে বলে হরি হরি, তার কাছে নাচে ঘুরি,
কিবা রূপ মরি মরি হেরে শশী লাজ পায় ।
নদের বালক মেলি, প্রেমে দেয় করতালি ।
নাচে দু’বাহু তুলি কত রসে ভেসে যায় ।
৪১। (একতালা।)
=
হরি বােল হরি বােল হরি বলেরে গৌরাঙ্গ অমর।
হরি বােল হরি বােল, যে নামে ধ্রুব প্রহলাদ
হয়েছে বিভােল,
নব নব নব বালক সঙ্গে, গৌর নাচিছে ভাঙুর ভঙ্গেরে ।
কে রে শচীত গোরা, ভাবেতে বিভোরা ষারে দেখে
তারে ধরি দেয় কোল!
চন্দনে চর্চিত শ্ৰীঅঙ্গ শশাভিত,
অলকা আবৃত শ্রমুখমণ্ডল রে
চেয়ে দেখরে গগন পানে, গৌর দরশনে,
t
৩৪
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
০৭.
রাহুর মনেতে লেগেছে গোল।
নিত্যানন্দ সঙ্গে করি বদনেতে বলছে হরি রে।
চেয়ে দেখ রে শান্তিপুরে, শ্ৰীঅদ্বৈতের ঘরে,
তা তাথৈ তা তাথৈ বাজিছে খোল ।
৪২। (তাল একতালা )।
হরি বদলে নাচে রে নব গােরা রাই-প্রেমে ভােরা।
অদ্বৈত বাজায় খােল, চঁাদ নিতাই বলে হরিবােল
রাধার ভাবেতে নাচেন হয়ে মাতোয়ারা ।
( ভাল নাচে রে গৌরাঙ্গ আমার )
স্বরূপ রায় রামানন্দ, সঙ্গে নাচেন শ্রীনিত্যানন্দ,
চৌদিকে ভকতবৃন্দ মধ্যে নাচে গােরা
( আহা রে ও চাঁদ গৌর আমার )
ব্রজের বালক লয়ে, চাঁদ নদেপুরে আসিয়ে,
কাল অঙ্গ গৌর হলে রাই-প্রেমে ভােরা।
দীন হীন কাঙ্গালে কয়, এ কথা অন্যথা নয়
সেই গােউর সেই কৃষ্ণ রাধার মন চোরা
অদ্বৈত আদি করি,
( নাচে খণ্ডবাসী নরহরি )
চৌদিকে ভকত ঘেরি মধ্যে নাচে গােরা
গৌর-গীতিকা।
***********
৪৩। (তাল একতালা।)
হরি বলে আমার গৌর নাচে।
গৌর নাচে গৌর নাচে নিতাই বেড়ায় কাছে কাছে ।
নাচে রে অদ্বৈত আমার হেম-গিরি মাঝে।
গােরার রাঙ্গাপায় সােণার নূপুর রুণু ঝুনু বাজে ।
থেক রে বাপ নরহরি, চাঁদ গৌরের কাছে।
গোরার রাধারসের গড়াতনু ধূলায় পড়ে পাছে ।
(নদের কঠিন মাটি রে)
৪৪। (তাল একতালা।)
শচীনন্দন মম জীবন। (তুমি আমার জীবন-জগত জীবন )
গৌর বারে বারে ডাকি আমি।
ওহে গৌরাঙ্গ শুনেও না শুন তুমি ।
গৌর সংকীৰ্ত্তন রয়েছে শূন্য, আসি বিরাজ কর শ্রীচৈতন্য,
গৌর বারে বারে ডাকৰ কত,
যেমন নাচাও ছায়ালের মত ।
গােউর ভব-নদীর মৌজা ফুটে, তা দেখে প্রাণ কেঁদে উঠে
গৌর ভব-নদীর বিষম ঢেউ, পার করিতে নাই কেউ।
গৌর আগেতে বলেছ তুমি,
কাঙ্গাল ডাকিলে আসিব আমি ।
ন
৩৬
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
গোর একা যদি আসতে নার,
প্রাণের গদাধরকে সঙ্গে কর।
যদি নদে ছেড়ে আসতে নার, আমার হৃদয় মাঝে নদে কর ।
৪৫। (একতালা।)
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য অবতার ধন্য।
অবতার ধন্য দয়াল নিতাই গৌর ধন্য ।
তােমরা কেউ শুনেছে কোন কালে ও সে মার খায়
আর দয়া করে।
তােমরা কেউ শুনেছ কোন সংসারে,
পাপী দেখলে উদ্ধারে ।
তোমরা কেউ শুনেছ কার মুখে,
পাপীর পাপ মাগে দু’কর পেতে।
ধন্য কলি যুগ ধন্য যাতে নিতাই গৌর অবতীর্ণ।
ধন্য শচীঠাকুরাণী যার গর্ভে গৌর গুণমণি
শ্রীগৌর-গীতিকা।
৩৭
৪৬। (তাল একতালা।)
কৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ।
ভজ হরে কৃষ্ণ হরে রাম রাধে গােবিন্দ ।
শ্ৰীকৃষ্ণচৈতন্যের নাম, বল মুখে অবিরাম,
যদি পাবি ব্রজে রাধাশ্যাম যাবে নিরানন্দ।
ভজ রােহিণী-নন্দন বলরাম নিত্যানন্দ ।
ওরে মন দুরাচার, গুরুপদ কর সার,
যদি ভৰসিন্ধু হবি পার ভজ গৌরচন্দ্র।
(বল আমাদের আর কি ধন আছে। এই কলিযুগের মাঝে।
নিতাই গৌর বিনে। এইত মােদের ভজন সাধন।)
৪৭। (তাল একতালা।)
ওরে ওরে নরহরি, কোথা গৌরহরি, সত্য করে বল শুনি।
না দেখে গৌর চঁাদে, প্রাণ মাের কাঁদে,
মণিহারা যেমন ফণি।
গত নিশিশেষে, নিদ্রার আবেশে, কুম্বপ্ন দেখেছি আমি।
যেমন নিমাই চঁাদ মোর, হলাে নদের বাহির,
কহিছেন মালিনী।
শ্রীবাস-মন্দিরে, নাই দেখি কারে, না শুনি কীৰ্ত্তনধ্বনি।
নিমাই ) না বলে আমারে, গেল কোথাকার;
কোথা গেলে পাব আমি ।
T
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
।
এ বৃদ্ধবয়সে, যাব কোন দেশে, বরং অনলে পশিব আমি।
শুনে সন্ন্যাসের কথা, মনে পাই ব্যথা,
বুঝি হলাম গৌর-কাঙ্গালিনী ।
নারি সে দুঃখ ভুলিতে, জাগিছে হিয়াতে,
একে বিশ্বরূপ গিয়াছে চলি ।
পাছে সেই দশ মাের, করে বাপ গৌর,
সদ। সেই ভয় মনে গণি ॥
কে মুড়ালে (চঁচর) কেশ, কে ঘুচাবে বেশ,
কে মন্ত্র দিলরে কাণে।
( বাছার) এ নব্য-বয়সে, কেমন সাহসে,
অঙ্গে পরাল কৌপীনখানি।
৪৮। (ভাল একতালা।)
ন’দের বাজার দিয়ে দেখ ওই নেচে যায়।
গৌর নেচে যায়রে আমার নিতাই নেচে যায় ।
বাহু তুলে হরি বলে তারা বলে সবে আয়।
মাতিয়ে মাতিয়ে পড়ে এ উহার গায় ।
সুধামাখা হরি নামে (ভাই) চৌদিকে মাতায় ।
প্রেমানলে প্রেমানন্দ সকলে বিলায় ।
রুণু ঝুনু বাজে নূপুর যুগল রাঙ্গা পায়।
যত ভক্তবরে রজ’পরে (ভাই) গড়াগড়ি যায় ।
শ্রীগৌর-গীতিকা।
৩৯
কি আনন্দ শােভে মরিরে আজি নদিয়ায়
যত পাপী তাপী মগ্ন হল প্রেমেরি বন্যায় ॥
অনৰ্পিত প্ৰেম-সুধারস, দুই ভায়ে ছড়ায়।
সে প্রেম তরঙ্গ-রঙ্গে নীলাচলে ধায় ॥
অরুণ বসনে গােরাতনু শোভা পায়।
নীলবাসে কিবা ভাসে নিত্যানন্দ রায় ॥
সুধার কৃলস লয়ে তারা অমিয় বিলায়।
সে অমৃত-পানে সবে প্রেমে ডুবে যায়।
গৌর-নিতাই-কল্পতরুর শীতল ছায়ায়।
কে জুড়াবি আয়রে ছুটে আয়রে ছুটে আয় ।
প্রকট নন-লীলা না দেখিনু হায়।
চিত্তপটে আর চিত্রপটে দুজনে নেচে আয়।
দেখ ওই নেচে যায়।
(প্রেমের-ডালি হইতে উদ্ধত
৪৯। (কীৰ্ত্তনেরসুর, তাল একতালা।)
তুমি হে গৌরচন্দ্র।
ভকত-হৃদয়-মানস-রঞ্জন, নিখিল ভুবন-বন্দ্য।
তুমি শচীর দুলাল, পরম দয়াল, গৌরকান্তি অঙ্গ।
পতিত তারিতে, নাম বিলাইতে, কত না করিলে ঢল।
দিলে জায়ূনদ হেম, সুনিৰ্ম্মল প্রেম, দেখালে রসের রঙ্গ।
তুমি গৌরসুন্দর, জগ-মনােহর, নদীয়া- গগণচন্দ্র।
৪০
সংকীৰ্ত্তনমালা।
গভীর আঁধারে, দূরে
অতি
দূরে,
হইয়ে আছি যে অন্ধ।
তুমি ত্রিলােক-আলােক নাশ দুঃখশােক,
ঘুচাইয়ে দাও হে ধন্দ।
তােমারি দত্ত, এ মাের চিত্ত, সন্তাপে হয়েছে অন্ধ।
তুমি রসিক-নাগর, রসের সাগর, দাওহে প্রেমের বিন্দ ।
তােমার করুণার একবিন্দু সঞ্চারে, লভিব পরমানন্দ।
মধুর ঝঙ্কারে গাহিব সঙ্গীত দাও হে পদারবিন্দ ।
আমি দীন হীন, সদাই মলিন, তুমি হে আনন্দু-কল।
বহুদিন হইতে, চেয়ে আছি আশা পথে, দাওহে পদ দ্বন্দ্ব।
ওহে বিপদ-বারণ, অধম তারণ, ছাড়হে চাতুরী রঙ্গ।
হে করুণাকর, দীনে দয়া কর, দূর কর ভব-বন্ধ।
হে আমাৰ গৌরচন্দ্র ।
প্রেমের ডালি )
৫০। (তাল একতালা )।
রাম রাঘব রাম রাঘব রাম রাঘব ত্রাহিমাং।
কৃষ্ণ কেশব, কৃষ্ণ কেশর, কেশব রক্ষ মং।
( এ নাম গৌর বলরে।) ( বলরে দক্ষিণের পথে)
গৌর চায় গােদাবরীর পানে।
ধারা বহে দু’নয়নে
এক বার দেখা দাও হে রাম রায় ।
নইলে আমার প্রাণ যায় হে।
পI
শ্রীগৌর-গীতিকা।
৪
সার্বভৌম ক’য়ে দিল মােরে।
তব সঙ্গে মিলিবারে ॥
তুমি কৃষ্ণপ্রেমের অধিকারী।
তব মুখে শুনিতে বড় বাঞ্ছা করি ।
৫১। (তাল একতালা।)
(মাধাই)হরিবোল হরিবােল ব'লে কে যায় নদের
বাজার দিয়ে।
একবার যারে মাধাই জেনে আয়রে । (ওরে হরি বােলে)
কেবা যায় মাধাই হরিবোলে। কেবা যায় ওরে র গৌর
যায় না। নিতাই যায়রে ॥
ওরে সােণার নূপুর রাঙ্গা পায়
দেখরে নূপুর পঞ্চম গায় রে ।
(ওরে নগর দিয়ে )
হেঁটে যায় গৌর ঢলে পড়ে নিতাইয়ের গায়ে রে।
কলসীর কাণা মলি নিয়ে গায়।
দেখরে রক্তে অব্দ ভেসে যায় রে ?
( জগাই বলে ওরে মাধাই)
ভাই এমন রূপ ত কভু দেখি নাই রে।
(মাধাই বলে)
ওরে জগাই ভাই এমন নাম ত কভু শুনি নাই রে
(দয়াল নিতাই গৌর )
৪২
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
\r\/\/\/\/,
৫২। (পাঁচতাল।
এ সময় একবার ডাক দেখি মন রে ।
রে ডাকলে গৌর আসতে পারে (ও সে দয়াল বটে )
তার নাম-চিন্তামণি, চৈতন্য আপনি, জীব তরাতে
এলেন নদীয়াপুরে।
গােলােকের ধন, হরিনাম সংকীৰ্ত্তন, জীবে দিছে।
দুটী করে ধরি।
এ সময় একবার ডাক দেখি মন ভরে,
আমার মন হ’ল মাতঙ্গ,
পেয়ে কামিনীর সঙ্গ,
আপনি ডুবিয়া শেষে ডুবায় আমারে।
আমার এই দেহ-তরি, পাপে হইল ভারী,
ডুবলে মিলবে না তার কুল কিনারে।
শ্রী শ্রীনিত্যানন্দ-বিষয়ক-সংকীৰ্ত্তন।
“নিতাই ভাসায়ল গৌড় দেশ রে।
আর যে বাকী রাখবে নারে।”
কি মধুর সুমধুর
১। (তাল একতালা।)
হরিনাম আনিল নিতাই।
আনিল নিতাই নাম, নিব চল ভাই।
এ নাম জনম অবধি করে, কভু শুনি নাই।
বুঝি গােলক হ’তে অনিল নিতাই এ লোকে ছিল নাই
এ বার শমন জ্বালা দূরে যাবে আর রবে নাই ।
বদন ভরে হরি বল আর ভয় নাই ।
২। (তাল একতালা।)
নিতাই বই কে দয়াল জগতে হরি নাম দিতে।
( হরিনাম দিতে আর প্রেম দিতে।
নিতাইর গুণ অব্যয় অক্ষয় যতই বিলায় ততই বাড়ে,
পূর্ণ শতদল।
নিতাইর গুণ কব আর কত, অচিন্ত্য অপার লীলা
ভাৰ চমকিত
নাই মার খেয়েছে প্রেম দিয়েছে, তার সাক্ষী মাধাই হতে
৪৪
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
গুপা বলে অনুমানে পাই, ব্রজে ছিল এরা দুভাই,
কানাই আর বলাই ।
এখন নবদ্বীপে অবতীর্ণ কলির জীব নিস্তারিতে ।
৩। (একতালা।)
ওই কিরে সেই নিতাই, যারে কলসীর কাণা মেরে
ছিলি ভাই।
নিতাই যারে দেখে আপন কাছে,
ও সে ধর বলে প্রেম যাচে।
নিতাই যারে তারে দেয় কোল, কোল দিয়ে বলে হরিবােল ।
নিতাই এক হাতে রুধির পুছে, (দয়াল নিতাই আমার)
আর এক হাতে প্রেম যাচে।
৪। (তাল একতালা।)
নিতাই আমার নাম এনেছে রে, হরেকৃষ্ণ হরে ।
হরেরাম, হরেরাম, রাম রাম হরে হরে।
আমার নিতাই বড় প্রেমদাতা।
নিতাইাদের হরিনাম বদনে গাঁথা রে ।
নিতাই বড় দয়াময়, তারে দেখলে প্রেমের উদয় হয় রে।
নিতাই যারে দেখে আপন কাছে,
ও সে ধর বলে প্রেম যাচে রে।
শ্রীশ্রীনিত্যানন্দ-বিষয়ক-সংকীৰ্ত্তন।
৪৫
নিতাই যারে তারে দেয় কোল, কোল দিয়ে মুখে বলে
(হরিবােল রে।)
নিতাই গোলোকে রাধার ভাণ্ডারে, প্রেম এনেছে
চুরি করে রে ।
আমার নিতাই চঁাদে যে না চিনে,
ও সে জন্মের মত না মৈল কেন রে ।
আমার নিতাই চাদে, না চিনিল,
ও সে জন্মের মত বয়ে গেল রে।
নিতাই ব্ৰজের হলধারী, নিতাই কখন পুরুষ কখন নারী রে ॥
৫। (তাল একতালা
নিতাইাদ বােলেরে তাই ডাকি।
নিতাই আমার অধম-তারণ, পতিত-পাবন, তাই ডাকি।
নিতাই যারে দেখে আপন কাছে,
ও সে ধর বলে প্রেম যাচে।
তাই ডাকি, আমার নিতাই বড় প্রেম দাতা,
সদা হরিনাম বদনে গাঁথা।
হরিনাম বই সে জানে না রে, তাই ডাকি
নিতাই অধম-তারণ নাম ধরে, তাই ডাকি
নিতাই পাপীজনে দয়া করে, তাই ডাকি
নিতাই চাঁদে ডাকলে অঙ্গ শীতল হয়।
তারে দেখলে ঘুচে শমনের ভয়।
নিতাই দুর্বলের বল কাঙ্গালের ধন, তাই ডাকি।
৪৬
সংকীর্তন-মালা।
}
।
.
পাপী ডাকলে দয়াল নিতাই বলে,
নিতাই স্থান দেন তার চরণ তলে, তাই ডাকি
তার সর্বজীবে সমান দয়া, তাই ডাকি।
নিতাই আপনি মাতি জগত মাতায়, তাই ডাকি
নিতাই যারে তারে দেয় কোল, কোল দিয়ে মুখে বলে
হরিবােল, তাই ডাকি।
৬। (তাল একতালা।)
চাঁদ নিতাই যদি এ দেশে এল, জীবের সব জ্বালা
দূরে গেল।
এত দিনে জীবের ভাগ্যে কৃষ্ণ প্রেম উদয় হলো ।
( নিতাই চাঁদকে হেরে )
এলরে নিতাই, জীবের ভাবনা কিছু নাই।
পরম দয়াল নিতাইচাঁদের জাতের বিচার নাই ।
নিতাই আচণ্ডালে দয়া করে, সর্বজীবে নাম দিল ।
স্থাবর জঙ্গম কীট পতঙ্গ তারাও হরিনাম পেল ।
এল নিত্যানন্দ রায় ও তার নামাবলী গায়
হবি নামের মালা নিতাইচাঁদের দুলতেছে গলায়।
কালা শুনে, বােব কয়, কাণা চক্ষু দান পেল।
( চাঁদ নিতাই এল রে )
শ্ৰী শ্ৰীনিত্যানন্দ-বিষয়ক সংকীৰ্ত্তন ।
৪৭
ARMANN
নিতাইর সহজ ভাষা, ও তার গাছতলায় বাসা,
ভোজের বাজি নিতাই আমার লাগায় তামাসা।
গােসাঞি বলে সামাল পােদা বড়ের কিস্তিমাত হলো।
(ও চাঁদ নিতাই এল রে
৭। (একতালা।)
যাওহে পাষণ্ড-দেশে মধুর হরিনাম বিলাতে যা ওহে।
(দয়াল নিতাই) নাম তােম। বিনে কেউ লবে না যাওহে ।
নিতাই তুমি হইছ জীবের কলি, আমি অতএব তােমায়
যেতে বলি, যাওহে।
আমি গেছলাম হরিনাম দিতে, তারা আমায় এল মারিতে,
( যত পাষণ্ডগণ)
তুমি একা যদি যেতে নার, প্রাণের হরিদাসকে সঙ্গে কর ।
(জীব সব অচেতনে পড়ে আছে ওহে ।
f
৮। (তাল একতালা।)
ভজ গৌরাঙ্গ, কহ গৌরাঙ্গ, লহ গৌরাঙ্গের নাম রে
যে জন গৌরাঙ্গ ভজে, সে আমার প্রাণ রে ।
(দয়াল নিতাই বলে রে )
নিতাই যারে দেখে তারে কয় দন্তে তৃণ ধরি।
আমারে কিনিয়ে লহ একবার বল গৌরহরি ।
অক্রোধ পরমানন্দ নিত্যানন্দ রায়।
অভিমান শূন্য নিতাই নগরে বেড়ায় ।
৪৮
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
৯। (তাল একতালা।)
নিতাই নিতাই বল অনিবার, যদি তরবি ভব সিন্ধুপার ।
নিত্যানন্দ পতিত-পাবন, দেবের দুলভ হরিনাম
করেন বিতরণ,
নি তাই ধর বলে প্রেম যাচে রে, নিতাই সকলে করে নিস্তার ।
বাহু তুলে ডাকছেরে নিতাই,
হরিনাম
কভু শুনি নাই ।
এমন মধুর
নিতাই আচণ্ডালে প্রেম যাচে রে,
নিতাই করে না জাতের বিচার ।
হরিনামের তরি নিতাই কাণ্ডারী,
থরে থরে যাচ্ছে পারে পুরুষ আর নারী।
আমি মহাপাপী পার কর হে, অকুলে দিলাম তার ।
১০। (তাল একতালা।)
নিতাই নিতাই বল অবিরাম
---
যদি যাবিরে ভাই মােক্ষধাম।
নিত্যানন্দ পরম দয়াল, নগরে নগরে বেড়ায় লয়ে
খেলি করতাল,
নিতাই যারে দেখে আপন কাছে রে,
বলে বল হরে কৃষ্ণ রাম
শ্রী শ্রীনিত্যানন্দ-বিষয়ক-সংকীৰ্ত্তন।
৪৯
নিত্যানন্দ পতিত-পাবন, যারে দেখে তারে ধরে দেন
আলিঙ্গন।
নিতাই সদাই প্রেমে মাতোয়ারা রে,
দুনয়নে ধারা বহে অবিরাম ॥
বাহু তুলে ডাকেরে নিতাই, যদি প্রেমধনের ধনী হবি
ভজ চৈতন্য গোসাঞি
যে জন চৈতন্য ভজে রে, সে যুগে যুগে আমার প্রাণ।
১১। (একতালা।)
মারলি তুই নিতাই চাঁদের পায়।
ওরে ও মাধাই কি করলি রে ॥
কলসীর কানা মালি ফিকে নিয়ের মাথায় রে।
ও তার অঙ্গ বেয়ে রুধির পড়ে, নিতাই আমার তবু
নেচে যায় রে
অক্রোধ পরমানন্দ নিত্যানন্দ রায় রে।
গঙ্গাতীরে ডাকছে তােরে প্রেম-দান, লবি আয় রে।
১২। (একতালা।)
গৌর-প্রেমের ভরে মাতিল নিতাই রে।
মাতিল নিতাই জগত মাতাল নিতাই রে ॥
নিতাই আপনি মাতিয়ে বলে সামালরে ভাই রে
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
।
।
*
নিতাই গজেন্দ্র গমনে যায়, সকরুণ দিঠে চায়,
নিতাই যায় রে যেমন মাতা হাজী
প্রেম দিয়ে জগত মাতায় রে।
যারে দেখে আপন কাছে, তারে কৃষ্ণ প্রেম যাচে,
দেবের দুর্লভ প্রেম জগতে বিলায় রে।
শ্রীঅদ্বৈত-বিষয়ক-সংকীর্তন ।
১। (একতালা।)
নাচেরে অদ্বৈত বাহুতুলে।
গৌর নিতাই আনিলাম আনিলাম বলে রে ॥
আমার শ্ৰীঅদ্বৈতের যাই বলিহারী ।
গৌর এনে নদেয় কৈলেন ব্ৰজপুরী ।
আমার ঐ অদ্বৈত এমনি আরাধনা করেছিল।
গৌর এনে নদেপুরে হাট বসাল।
আমার শ্রী অদ্বৈতের হুহুঙ্কারে।
গােলক ছেড়ে গৌর এল নদেপুরে।
শ্রীশ্রীহরিনাম
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
প্রথম খণ্ড
দ্বিতীয় স্তবক।
+
হরিনাম বিষয়ক-গীতিকা।
১। (তাল একতালা।)
হরি বােলে আমি তাই ত ডাকি।
পড়েছি ভব-তুফানে আমি অতি ঘোর নারকী।
নিজ নামের গুণে তরে গেল কত মহাপাতকী।
ধরাধামে আছি পড়ে আমিত কেৰল একাকী।
সাধু যারা তরিল তারা তাদের আর রাতে কি ।
ভজন সাধন-বিহীন জনে নিজ গুণে তরাও দেখি ।
এস প্রভু হৃৎপদ্মাসনে সঙ্গে লয়ে সখা সখী।
শ্রীরাধারে বামে লয়ে ত্রিভঙ্গ হয়ে দাড়াও দেখি ।
করেতে নয়ে মুরলী রাধা বলে বাজাও দেখি।
চরণে বাজিবে নৃপুর তাক ধিনাকিটী তাকিটি নাকি ।
অপার মহিমা তােমার এ দাসে আর কবেকি ।
অনন্ত মুখে কইতে নারে মহিমা অনন্তমুখী।
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
তিল আধ স্থান দিও বাপ শ্রীচরণে পড়ে থাকি ।
জয় রাধে রাধে বলে অন্তিম কালে যেন ডাকি ।
২। (তাল একতালা।)
হরিবােল বল জগাই মাধাই তােরা নেচে নেচে দুটী ভাই।
এ নাম মধুর বড় ছােট বড় কারই বলবার বাধা নাই ।
এমনি হরিনামের গুণ, এ নাম সগুণ নিগুণ।
নামে পলায় শমন, রিপুদমন, নিভায় পাপাগুণ।
হরি নামামৃত পান করিলে ভক্ষুধা দূরে যায়।
এমনি হরিনাম হয়,
ব্রহ্মার ব্রহ্ম ভাব উদয়,
শিব ত্যজে কাশী শশ্মনবাসী হলেন মৃত্যুঞ্জয়।
নামে নিবিড় বনে মুনিগণে মহাসুখে কাল কাটায়।
প্রহ্লাদ হরিনাম বলে,
পর্বতে অনলে জলে,
করি-পদতলে বাঁচে খেয়ে গরলে।
নামে ধ্রুব ধ্রুব-লােকে গেল, এমন নাম আর হতে নাই।
অজামিল রত্নাকর, ছিল যত পাপী নর,
তারা বলে হরি গেল তরি অকুল সাগর।
এবার রসিক হতে জানা যাবে নামের গুণ গৌর নিতাই ॥
৩। (তাল একতালা।)
হরিবােল বলরে আমার মন কেন ভেবে মর অকারণ।
হরি নামের গুণে তরে গেল অধম চণ্ডাল ও যবন।
শ্রীশ্রীহরিনাম বিষয়ক-গীতিকা।
4
হরি বড় দয়াময়, তােরে দিবেন পদাশ্রয়,
হরি হরি হরি বল যাবে ভবভয়।
হরিনাম-সুধারস পান করিলে প্রেমেতে হরি মগন ।
যােগ সাধন করিলে, তাতে হরি না মিলে, কৃপা করি
আপনি হরি উদ্ধারি বলে।
ভক্তিসাধন যে জন করে তারে দিবেন শ্রীচরণ।
{ হলো ভক্তি সকলের মূল রে)
যত ব্রজবাসীগণ, তাদের কেবল ঐ ভজন,
ঐশ্বৰ্য্য না জানে তাদের মাধুর্যে মন ।
ভক্তিভাবে উদুখলে রে রে করে বন্ধন।
৪। (তাল একতালা।)
হরি ভক্ত-বাঞ্ছপূর্ণকারী, তুমি ভক্তজন রক্ষাকারী হে।
তুমি রাখলে ভক্তের মান, ওহে ভগবান, ভৃগুপদচিহ্ন বক্ষে
ধারণ করি।
সত্যযুগে প্রদ ভক্ত এক জন, স্তম্ভমধ্যে তারে দিলে দরশন
হিরণ্যকশিপু করিলে নিধন, চতুর্ভুজ নরসিংহরূপ ধরি ।
ত্রেতায় হনুমান, পবন-সন্তান, ভারে মণিময়হার সীতা কৈল
দান।
সে হার চিৰাইল সঁতে, রাম নাম পেয়ে দেখিতে,
অস্থি পুঞ্জে নাম দেখায় বুক বিদারী ॥
গিয়ে ব্ৰজপুরে, নন্দগোপ ঘরে, জন্মিলে তুমি যােদা
উদরে।
৫৪
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
কি ছার ননীর তরে, রাণী বাঁধল যুগল করে,
নন্দের বাধা শিরে বয়ে ছিলে তুমি ।
একদিন বৃন্দাবনে ইন্দ্র ক্রোধ মনে, বজ্ৰ শিলাবৃষ্টি করিল
সঘনে।
ব্রজবাসীগণে বাঁচালে জীবনে, বাম করে গিরি গােবর্ধন ধরি।
তব নামে হয় শমন বিজয়, কৃপা করি দয়া কর দয়াময় ।
তুমি সবাশয় আশ্রয়ের আশ্রয় দেওহে পদাশ্রয় এই
ভরসা করি ।
৫। (তাল একতালা )
হরি নামের তুল্য ধন কি জগতে আছে।
দেখ হরি ভজে ত্রিপুরারি মৃত্যুকে জয় করেছে।
হরি নাম সত্য, পরম পদার্থ, হরি চেয়ে বেশী হরি
নামের মাহাত্ম।
দেখ সত্যভামা ব্রত করে নামের মর্ম জেনেছে ।
ও তার প্রমাণ দেখ না, ভক্ত সুধা,
তপ্ততৈলে বসে করে হরি সাধনা।
ও তার শমনজয়ী মুণ্ডমালায় শিব সুমেরু করেছে ।
প্রহ্লাদ হরিনাম বলে, পর্বত অনলে জলে,
করি পদতলে বাঁচে খেয়ে গরলে
হরি ভজে পঞ্চ পাণ্ডব সমর জয়ী হয়েছে ।
শ্রীশ্রীহরিনাম বিষয়ক-গীতিকা।
ত্রেতাযুগেতে সিন্ধু নীরেতে, পাষাণ ভেসেছিল
হরিনামের গুণেতে।
হরি নামের গুণে নৌকা সােণা, পাষাণ মানব হয়েছে।
৬। (তাল একতালা।)
হরি নাম বল বল বল আমার মন রসনা ।
মন রসনা নাম রটনা সুধামাখা নাম বলনা ।
ঐহিক রসে মায়ার বশে ভুলেছ রে সব।
দিন ফুরালে কোন দিনেতে আসিবে শমন,
ওকি করবি তখন।
ভাই বন্ধু ফেলে দিবে তুলসী তলে।
দিনবন্ধু হরি আসি করিবেন কোলে নাম, যদি না ভুলে ।
সংসারে আসিয়ে রে মন বিষয় কাজে থাক।
দিনান্তে একান্তে এক বার রাধাকান্তে ডাক,
পদে ভক্তি রাখ ॥
আভরণ সব কেড়ে লবে, জীর্ণ বসন দিবে।
ভবের ঐশ্বৰ্য্য সব কোথায় পড়ে রবে,
কে তাের সঙ্গে যাবে ।
যে নামেতে কলুষ নাশে অলস কর না।
দিবানিশি হরি হরি হরি বলনা, কর কাল যাপন।
ভিমরথী হবে যখন জ্ঞান লবে হারে।
কফে গলা বদ্ধ হৰে মহাব্যাধি শেরে বলতে পারবি না ?
។
৫৬
সংকীৰ্ত্তন-মাল।
৭। (তাল একতালা।)
হরি নামের তরি এসেছে ধরায়।
ওকে পারে যাবি আয় ত্বরায়।
(হরি হরি বােলে পারে যাবি আয় ধরায় )
ও ভাই এমনি তরীর গুণ, নাই হাল দাড় তার গুণ,
উজান ভাটা মানে নাকো মাবি সুনিপুণ।
তরি দেখতে হয় না, চড়তে হয় না হরি বলে পারে
যাওয়া যায়
হতে ভবসিন্ধু পার, পারের নৌকা নাইক আর ।
অধম-তারণ পতিতপাবন স্বয়ং কর্ণধার ।
পারের মাশুল দয়াল হরিনাম ।
পাপী হরি বললে পরে ভরে যায়।
৮। (তাল একতালা।)
হরি বােল মন রসনা জনম বয়ে গেল রে।
আজ বােলব কাল বােলব বলে, তাের গণ। দিন ফুরাল রে।
হরি বল বন্ধু সযে ও তাের মানবদেহ কাঞ্চন হবে।
বলে প্রেমের উদয় ভব পারে যাবি রে ॥
বাল্যকালে বাল্য খেলা যুবাকালে প্রেমের লীলা।
বৃদ্ধকালে হরি বলা শমনে ঘোরল রে ॥
শ্মশানে লইয়ে যাবে, সকলি পড়িয়ে রবে।
ঘর বাগান বালাখাল বাজীকরের বাজী রে ॥
ঐশ্রীহরিনাম বিষয়ক-গীতিকা ।
নীলকণ্ঠের এই মিনতি, হরি বিনে নাইকো গতি।
রতি মতি ঐক্য করে ধর গুরুর চরণে রে।
৯। (তাল একতালা।)
হরিনাম মহামন্ত্র হৃদয়ে জপ রসনা।
কাজ কিরে তাের তন্ত্র মন্ত্র, হরিনাম মুখে বলনা ।
হরি মাতা হরি পিতা হরি জগতের কর্তা।
হরি হে পরম আত্মা গতি নাই সে হরি বিনা।
হরিনাম মহৌষধি, পান কর মন নিরবধি।
খেলে যাবে ভব-ব্যাধি, নিব্যাধি হয় সেই জনা।
লক্ষযােনি ভ্রমণ করে মানব দেহ পেয়েছ রে।
বল হরে কৃষ্ণ হরে, তখন ত বলতে পারবি না।
নীলকণ্ঠ কয় তরবি যদি, আয় দেখি মন কৃষ্ণ ভজি ।
দেহ নয় রে ভােজের বাজী কেবল জীবের
আনা গোনা।
১। (তাল একতালা।)
হরি এই করো নিদান কালে ।
যেমন আমার বদন বংশীবদন গঙ্গানারায়ণ বলে।
হইয়ে অর্ধ নাভী হয়ে ভাবি প'ড়ে সেই বিমল জলে।
আমার বন্ধুগণে অন্তিমকালে যেন নাম শুনায় শ্রবণ মুলে ।
মনের আশা পুরাও বাসা যেন পাই পদতরুমূলে।
লয়ে শ্রীরাধায় বামে বিনােদ ঠামে দাড়িও হৃদয় কমলে ।
আমায় পতিত বলে পতিত-পাবন যেমন যেন ভুলে।
।
T
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
৫
১১। (তাল একতালা।)
হরিনাম সার কর রে, সার কর, হরিনামের মালা পর রে
বড় ঘর, বড় বাড়ী, মন মিছে কর আশা,
রজনী প্রভাত কালে যেমন পক্ষী ছাড়ে বাসা রে ।
যেমন জোয়ারের পানি ও মন ভাটাতে না রবে।
তেমনি দেহ ছেড়ে প্রাণ পালাবে
তোরে বলেও ত ন যাবে রে ।
ভাই বল বন্ধু বল কেবল সম্পদের সাথি।
মরণ কালেতে কেবল গােবিন্দ সারথি রে ॥
ইহকাল গেল রে ভাই পরকাল রাখ।
যদি এড়াবি শমনের জালা রাধা কৃষ্ণ বলে ডাক।
১২। (তাল একতালা)।
মুখে হরিবােল বলরে রসনা ।
নামে শমন জ্বালা দূরে যাবে বদন ভরে রট না ।
হরিনাম অমূল্য রতন, হৃদয়ে কর যহন, চিন্ত অনুক্ষণ।
নামে বাধ ভেলা, গেল বেলা, হেলাতে হারাইও না ।
শমন-দমন হরিনাম, ত্রিভুবনে অনুপাম,
মুখে বল অবিরাম ।
নামে কর রতি, হবে গতি, শমন ভয় আর রবেনা ।
থাকিয়ে জননীর গর্ভে, কি বলে আইলি ভবে, মন
দেখনা ভেবে।
শ্রী শ্রীহরিনাম বিষয়ক-গীতিকা।
এখন সে সব কথা, রইল কোথা, নিত্য বস্তু চিলি না।
যে দিন গেল বয়ে গেল, যে আছে মন তার সামাল,
হরিনাম বল।
খাও নাম-সুধারস, হবে রসনা বশ, অবশ রবে না।
যে নামেতে নারদ ঋষি, বীণায় জপে দিবানিশি,
হলেন শুকদেব সন্ন্যাসী।
নামে শিব হয়েছেন শ্মশানবামী ধ্রুব করেন সাধনা।
ভবে আসতে একা,যেতে একা হবে না কার সঙ্গে দেখা
নাম পরম সখা
কর পথের সম্বল, হরি হরি বল, এমন জনম আর
হবে না ।
১৩। (তাল একতালা।)
হেলাতে রতন, হরাওনা মন, হরি হরি বল বদনে।
হরিবােল হরিবােল, সদা শয়নে স্বপনে জাগরণে।
ঐহিকের সুখ হলনা বলিয়ে, তা বলে কি নাম রহিবি
ভুলিয়ে।
যে নামে, যার প্রেমে, হলেন শুকদেব সুখী নারদ বৈরাগী।
হলেন মহাদেব যােগী ।
থাকেন শ্মশানে মশানে যােগ ধ্যানে। (সোণার কাশী ত্যজে)
মনে কর সে দিন ভয়ঙ্কর, অবশাল যেদিন হইবে তোমায়,
সংকীৰ্ত্তন-মাল।
/
সেই দিনে বদনে যদি বলতে পার নাম, হরি পুরাইবে মনস্কাম,
অন্তে পাৰি মােক্ষ ধাম, যদি রাখ রতি মতি হরির চরণে।
ত্যজ্য করে যে দিন যাবিরে সংসার, কোথায় রবে তাের
পুত্র পরিবার,
সংসার অসার, আঁখি মুদলে অন্ধকার,
ভবে হরি পদ কর সার, যদি হবি ভবে পার,
তােরে লবেন ছোঁবেন শমনে। (হরি নামের গুণে
১৪ (তাল একতালা।)
মুখে হরিনাম বল রে আমার মন ।
হলো দিন আখেরি অল্প দেরি নিকটে দাঁড়ায়ে শমন।
নাম সায়রে ডুবে থাক, দিনবন্ধু বলে ডাক, চেয়ে কি দেখ।
নাম সায়রে নামের নীরে পাবিরে অমূল্য রতন।
হরি নাম সুধাসিন্ধ, পান কর তার একবিন্দু,
নাম পরম বন্ধ।
খেলে নামের সুধা, মিটবে ক্ষুধা, পাবিরে অমুল্য রতন।
( ভাল একতালা।)
মুখে হরিনাম বলরে আমার মন।
হলো দিন আখেরি, অল্প দেরি, নিকটে কাল এল শমন।
হরিনাম অমূল্য রতন, হৃদে থুয়ে কর যহন চিন্ত অনুক্ষণ।
নামে বাধ ভেলা, গেল বেলা, হেলাতে হারাওনা।
t
শ্রী শ্রীহরিনাম বিষয়ক-গীতিকা ।
}
হরিনাম-সুধাসিন্ধু পান কর তার একবিন্দু, নাম পরম বন্ধু ।
খেলে নামের সুধা, মিটবে ক্ষুধা আর রবেনা ।
জগাই মাধাই পাপী ছিল, নামের গুণে ত’রে গেল,
নাম সকলে বল।
গৌর-নিতাই, তারা দু’ভাই, করতেছেন নাম বিতরণ।
যে নামেতে নারদঋষি, বীণায় জপে দিবানিশি,
হলেন শুকদেব সন্ন্যাসী ।
নামে শিব হয়েছেন শশ্মশানবাসী ধ্ৰুৰ করেন সাধনা।
যে দিন গেল বয়ে গেল, যে আছে মন তায় সামাল,
হরিনাম বল।
খেলে নাম-সুধারস, রসনা বশ হবে অলস ঝবেনা ।
।
১৬। (তাল একতালা।
মিছার কামনা, করন করনা, হরিবল রসনা।
যাবে বাসনা দূরে, নাম মধুরে,
দিবানিশি মন ভাবনা!
বিহরে হরি হৃদয় মাঝারে, মানস-নয়নে নেহর তারে।
বাজায়ে বাঁশরী ডাকিছে তোমারে, কেন ভােলা মন
মােননা মােননা ।
কার তরে তারে ভুলে আছ মন, ডাকতে হবে।
প্রাণ মােহন।
পরম ধন, কররে যান, রবেনা ভব-যাতনা ।
হরি-প্রেমে মন মাতনা, হরি প্রেমময় তাকি জাননা।
?
৬২
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
১৭। (তাল একতালা।)
তুমি পরমকারণ, কারণের কারণ, অনাদির আদি
তুমি হে করি।
ওহে তুমি সাশ্রয়, আশ্রয়ের আশ্রয়, তুমি বিশ্বময়
সর্বশক্তিধারী ॥
করে তব গুণ গান, ভৰ অবিরাম, শ্মশানেতে বাস করি।
তবু জানিতে না পারে, মহিমা তােমার, সদা বলে হরি হবি।
আপনি অনন্ত, নাহি পায় অন্ত, সহ-বদন ধরি।
তােমার মহিমা, দিতে নারে সীমা, ব্রহ্মা হলেন ব্রহ্মচারী ।
ছিল গােলােকে বসতি, এসে এই ক্ষিতি, গৌরবরণ ধরি।
দেশে দেশে গিয়ে, যাচিয়ে যাচিয়ে, প্রেম দিলে
কৃপা করি ।
আমি না জানি জন, দীন হীন জন, বল কি উপায় করি।
এই ভবের সাগরে, আমি তার কেমন করে, মােরে দেহ
চরণ-তরি ।
১৮। (তাল একতালা।)
বােল হরি বােল, বাজাও মাদল, নাম শুনে প্রাণ
মেতে উঠে।
হরিনাম শুনে প্রাণ মেতে উঠে, মনের আঁধার
যায় রে কেটে।
শ্রী শ্রীহরিনাম বিষয়ক-গীতিকা।
৬৩
মিছে কর আমার আমার, শুধুই মর বেগার খেটে।
যদি নন্দসুতে চিনলি না মন, কি চিনলি তুই ভবের হাটে।
যখন ভবে এসেছিলি, তখন কি বা বলে এলি।
এখন পুঁজি পাটা সব খুয়ালি, কি দিবি বল পরের ঘাটে।
কলির কলুষ-নাশন, এই হরিনাম-সংকীৰ্ত্তন।
এই হরিনাম মহৌষধি ভবের বিকার যায়রে কেটে ।
এই হরিনাম মহামন্ত্র, কাজ কিরে তাের তন্ত্র মন্ত্র।
ব্রহ্মা যার না পায় অস্ত, নিতাই বিলায় গােঠ মাঠে।
এ নাম গোলােকে গােপনে ছিল, নিতাই ভবে এনে দিল ।
সবাই বাহু তুলে হরি বল, পার হবি ত আয় রে ছুটে ।
নিতাই ডাকে বাহু তুলে, আয় জীব নাম লবি বলে।
পাপের বােঝা দেরে তুলে আমরা দুভাই হব মুটে ।
।
১৯। (তাল একতালা।)
।
বল মাধাই মধুর স্বরে, হরিনাম বিনে আর কি ধন
আছে সংসারে।
শিব ত্যজে কাশী, শ্মশানবাসী এই হরি নামের তরে।
সে যে আপনি হর গঙ্গাধর পঞ্চমুখে গান করে।
“হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে ।
হরে রাম হরে রাম, রাম রাম হরে হরে ।
নারদঋষি দিবানিশি বিনাযন্ত্রে গান করে।
ঋষি যারে দেখে তারে বলে, বল হরি বদন ভরে।
1}।ওন-মালা।
গৌর নিতাই তারা দু'ভাই নাম বিলায় ঘরে ঘরে।
তারা অযাচকে প্রেম যাচে, জাহের বিচার না করে।
হরি নামের গুণে, গহন-বনে, মৃততরু মুঞ্জরে।
এই হরিনাম সুধা-রস, পিওরে বদন ভরে।
আমরা দুভাই অশেষ পাপী বিখ্যাত এই সংসারে।
হরিনামের তরি ঘাটে বাঁধা ডাকলে নিতাই পার করে ।
ডুবে মরি ।
২০। (তাল একতলা।)
বৃথা দিন গেল হে হরি, তােমায় ভজন সাধন কখন করি।
দাও চরণ মধূসূদন
নৈলে ভবার্ণবে
প্রভাত শরী হলে মনে করি, তুলসী কুসুম চয়ন করি।
তোমার এমনি মায়াযােগ, হয় না মনোযােগ (হরি হে)
কেবল ভুতের বেগার খেটে মরি ॥
বৃথা হলো আশা বৃথা ভবে আসা, নিরাশা হইয়ে ঘুরে মরি।
আমার কেউ নাই বন্ধু ওহে দীনবন্ধু এই ভবসিন্ধু
কিসে তরি।
আমি এই অভিলাষ করি হৃদয়েতে, হেরি শমন-দমন
চরণ-তরি।
আমার রৈল মনে সাধ, হরিষে বিষাদ বিবাদ কল্লে
ছন অরি।
পলাইতে চাই পথ নাহি পাই, কুসঙ্গী রয়েছে সদাই ঘেরি।
আছে চতুর্দিকে বসে, বেঁধে মায়া-পাশে, রাধানাথ ভবে
কি ঝকমারী ।
।
ঐশ্রীহরিনাম-বিষয়ক-গীতিকা।
৬৫
২১। (তাল একতালা)
বল রসনা হরে, হরে কৃষ্ণ হরে, বহুদিন তােমারে
করেছি যতন।
নাম হরে হরে কই রে কহ রে যদি আনন্দ-সাগরে
করিবি গমন।
ফল মুল মিষ্টান্ন যথায় যা পেয়েছি,
যতন করে জিহ্বা তােমারে দিয়াছি।
এখন বিপদে পড়েছি তােমারে ধরেছি,
বিপদ কালে নাম করাও রে শ্রবণ।
দিবনা দিবনা তোমায় অন্য কিছু ভার,
চাইব না চাইব না রত্ন অলঙ্কার।
যা সাধ্য তােমার কর উপকার,
রাধাকৃষ্ণ বলে এখন রাখরে জীবন
২২। (তাল একতালা।)
এমন সুধা-মাখা মধুর হরিনাম আনিল কে।
নামে আবাল-বৃদ্ধ যুবা-নারী সবাই মেতেছে ।
হরিনাম সুধা-নদীর তরঙ্গ বয়েছে ।
তাতে আনন্দেতে ভক্তগণ সাঁতার দিতেছে ।
( হরি হরি বােলে রে )
হরিনাম যার কর্ণ-পথে প্রবেশ করেছে।
ও তার অশ্রু-কম্প-বিহ্বলতা পুলক হতেছে ।
ܝܕ
৬৬
সংকীৰ্ত্তন-মাল।
দুই অক্ষরে নামটী হরির অন্ত হতেছে।
তাইতো ভােলা সকল ছেড়ে শ্মশানে রয়েছে ।
২৩। (তাল একতালা।)
কি সুখে রেখেছ হরি এ ভব-সংসারে।
অবকাশ নাই যে হরি ডাকি তােমারে ।
হলাে মহাজনের দেনা ভারি, হতে হলো দেশান্তরী ।
আহাল ছেড়ে হলাম ভিখারী চিন্তা-জ্বর সদ। অন্তরে।
কাণা বক শুনা গেড়ে খাই না খাই আছি পড়ে।
ভিক্ষায় গেলে দেয় গো তুড়ে সদা কুবচন বলে।
হরি এইবার আমায় কর দয়া, দাও হে রাঙ্গাচরণ-ছায়া।
ঘুচে যাক্ সংসারের মায়া, তাই ডাকি তােমারে।
২৪। (তাল একতালা।
শমন-দমন যাতে হয় রে ভাই হরিবােল ।
(ও দু’বাহু তুলে বল বল দু’বাহু তুলে ॥)
গর্ভে ধাের যন্ত্রণাতে কে রক্ষা করিল তাতে রে ভাই
কে ক্ষীর রাখিল মায়ের স্তনেরে--ভাই হরিবােল ॥
অজ্ঞানে এমন জ্ঞান স্তন ধরে দুগ্ধপান রে ভাই।
কোথা পাইলি এ সব সন্ধান রে ভাই হরিবােল ।
রাজার যে রাজ্যপাট যেমন নাটুয়ার নাট রে ভাই ।
দেখিতে দেখিতে কিছু নয় রে—ভাই হরিবােল ।
1
শ্রীশ্রীহরিনাম বিষয়ক-গীতিকা।
এ সংসার বিষানলে দিবানিশি হিয়া জ্বলে রে ভাই।
জুড়াইবার না কৈলি উপায় রে ভাই হরিবােল।
চৌদিকে যমের জাল এড়াবি কেমনে রে ভাই।
সে জাল কাটিতে নারবি কৃষ্ণনাম বিনে রে ভাই ।
নিতু নিতু জীয় মর ইথে না বিচার কর রে ভাই।
এমতি যাইবে একবার রে ভাই হরিবােল ।
শুনিলে গােবিন্দ রব আপনি পলাবে সব রে ভাই।
সিংহ রবে যেন করিগণ রে ভাই হরিবোল ॥
(তাল একতালা )।
শমন-দমন হরিনাম মাধাই আয় তােরা কে নিবিরে
যে নামে ব্রহ্মা ব্রহ্মচারী হলেন, শিৰ হয়েছে যােগী রে
যে নামেতে শুকদেব গোসাই, হলেন সর্বত্যাগী রে
ধে নামেতে ধ্রুব হলেন রাগের বৈরাগী রে
যে নাম সদা নারদঋষি বিনাষন্ত্রে গায় রে ।
যে নামের সহস্র বদনে অনন্ত অন্ত নাহি পায় রে ।
যে নামেতে গয়াক্ষেত্র তীর্থ হয়, যায় কাশী রে ।
যে নামেতে প্রভাসতীর্থ, তীর্থ বারাণসী রে ।
سان
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
২৬। (একতালা।)
জীবের থাকতে চেতন হরিবল মন দিন গেল দিন গেল
দিন গেল দিন গেল রে মন শিয়রে শমন এল।
ও রে জগাই মাধাই পাপী ছিল তারা হরিনামে তরে গেল।
ও রে রূপ সনাতন দু’ভাই ছিল,
তারা বিষয় ছেড়ে ফকির হল।
ও রে রত্নাকর দস্যু ছিল সে যে হরিনামে তরে গেল।
অহল্যা পাষাণ ছিল সেই চরণ-পরশে মানব হলো ।
ও রে মন তাের পায়ে ধরি আমায় নিয়ে ব্রজে চলা।
ও রে নিকটে দাড়ায়ে শমন হরি বল হরি বল ।
শ্রীশ্রীহরিনাম
সংকীৰ্ত্তনমালা।
তৃতীয় স্তবক।
শ্ৰীশ্ৰীকৃষ্ণ-বিষয়ক-সংকীৰ্ত্তন
• ১। (একতালা।)
কোথা হে ব্রজবল্লভ পদ-পল্লৰ দেও আমারে।
বামন হইয়ে চন্দ্র চায় হে যেন ধরিবারে ॥
এমনি হয় আমার মন, ধরি হে রাঙ্গা চরণ।
না জানি ভজন সাধন দাও হে চরণ কৃপা করে ।
এসে এই মায়াধামে, ভুলেছি তােমা ধনে,
গেল দিন অকারণে আপন আপন আপন করে ।
বাঞ্ছা হয় মনে,
ভ্রমিক দ্বাদশ বনে,
দাড়াও ত্রিভঙ্গ-ঠামে মুরলী লয়ে অধরে।
অধমের এই বাসনা
পুরা ও ওহে কালেমােণ।
করে যেন নাম রটন হরে কৃষ্ণ হরে হরে ।
২। (তাল একতালা।)
কোথা হে নাত্মজ গােপী জনার প্রাণবন্ধু ।
মাং প্রতি দয়া কর রামানুজ গােপীজনার প্রাণবন্ধু ।
৭০
সংকীর্তন-মালা।
হরে কৃষ্ণ গােবিন্দ গােপালা।
মাং প্রতি দয়া কর রামানুজ গােপীজনার প্রাণবন্ধু।
আমি ভজন সাধন জানি না মাং প্রতি দয়া কর ।
৩। (কঁপতাল )।
কি হেরিলাম কদম্ব-মূলে নৰ-নীরদ মনােহর।
অদর্শনে মন-প্রাণ জ্ঞান হতেছে গো হারা ।
কি খেনে যমুনায় গেলাম একা হয়ে আনিতে জল,
( এমন জানলে জলে যেতাম না গাে )
কক্ষে লয়ে কলসী, অকূল সাগরে ভাসি,
কুল হলাে ভস্মরাশি আসিতে পথে হলাম গাে সারা
ঘরে বাদী ননদী ত, কুলটা বলে অবিরত,
গঞ্জনা সহেনা প্রাণে আছি গো জড়ীত ভুত
( আমি ) একুলে দিয়ে কালী সেৰিব সেই বনমালী,
প্রাণ সঁপেছি যুগল পদে উংকণ্ঠে প্রেমে ভরা।
ত্রিভঙ্গ হইয়ে বঁাঁকা, আশ্রিত হৃদে দে ও হে দেখা,
ভুলি ভুলি মনে করি, হৃদয়ে জাগে মুরারী
আমার একুল ওকুল দুকুল গেল কি করি সখি
বলনা ত্বরা।
৪। (একতালা।)
এস হে দীনবন্ধু কৃপাসিন্ধু হৃদ-মন্দিরে।
এ জনম সফল করি রাঙ্গা চরণ হৃদে ধরে ॥
শ্রীকৃষ্ণ বিষয়ক-সংকীৰ্ত্তন।
৭১১
।
আমার হৃদয়-বৃন্দাবন যুগল রূপে দে'ও দরশন।
পূজিব যুগল চরণ সচন্দন তুলসী দলে।
ব্রজধাম পরিহরি হৃদয়ে এস হে হরি।
বাজাও মােহন মুরলী জয় রাধে রাধে বলে ।
শ্রীরাধারে লয়ে বামে, দাড়াও ত্রিভঙ্গ ঠামে।
যেমন সেই ব্রজধামে বিহার কর রস:মগুলে॥
এ দীনের এই বাসনা পূরাও ওহে কালসােণা।
ভজন পূজন জানিনা দাও হে চরণ দয়া করে।
৫। (একতালা।)
ঐ না বেশে মােদের গৃহে আয় হে রসরাজ ।
বড় সাধ করেছেন প্রেমময়ী, হেরবে তােমার
গােষ্ঠের সাজ।
অামরা নারী কুলবালা, রূপ দেখে হয়েছি ভােলা।
নিরখি দাঁড়ায়ে পথে হেরব তােমার গােষ্ঠের সাজ ॥
গোক্ষুরের ধূলি অঙ্গে, খেলে সবে নানারঙ্গে।
অলকা আবৃত অঙ্গে কে দিল বন-ফুলের সাজ
রবির কিরণে মুখ তা দেখি বিদরে বুক।
অঞ্চলে মুছিব মুখ, দাঁড়াই আছি পথ মাঝ ॥
কাল অঙ্গে লাল মাটি, কি সেজেছে পরিপাটী ।
লম্বিত পীত-ধটী আমরি কি গোষ্ঠের মা।
1
l
।
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
৭২
৬। (তাল একতালা )
ওহে যশােদা-নন্দন কৃষ্ণ গােপীর মনোচোর।
গােবিন্দ সচ্চিদানন্দ নিত্যানন্দ শ্রীনন্দ-কিশাের ।
বাম করে ধরি গিরি গোবর্দন চাইলে গােপ গােপিনী
=
তুমি আত্মান্তৰ্য্যামী নারায়ণ, আত্মারাম রাধাশ্যাম সুন্দর
কালীয় দমন করি অবহেলে, বিষ পানে রাখালগণে
বচাইলে ।
বদনে ব্রহ্মাণ্ড যশোদায় দেখালে, ত্রিলােক:মোহিলে
করি বংশীস্বর ।
ত্রিলােক-ব্যাপিত তুমি বিরাট রূপে, অনন্ত ব্ৰহ্মাণ্ড
তব লােম-কূপে।
কভু গোচারণ কর গোপালরূপে, ব্রজাঙ্গনা তােমায়
বলে ননীচোর ।
কভু শয়ন কর অনন্ত-শয্যায় কভু নিদ্রা যাও শচীর
আঙ্গিনায়।
কভু চক্রধারী, কভু দণ্ডধারী, মহাভাবে হরি-সংকীৰ্ত্তনে
জোর
.
=
'
, (রাসমণ্ডল সুর বাজনা।) .
ওগাে সখি কেগো যমুনার কূলে।
দাড়ায়ে রয়েছে সখি সেই কদম্বতরুর তলে।
ঐশ্রীহরিনাম বিষয়ক-গীতিকা।
.
চরণে চরণ ছাঁদা, বঁশী হাতে চূড়া বাঁধা,
বলছে কেবল রাধা রাধা,
বশী শুনে ভাসলাম নয়ন জলে।
ত্রিভঙ্গ বঙ্কিম বাঁকা, পথে যেতে হলাে দেখা,
গিয়েছিলাম আমি একা, হেরে কলসী ভাসালাম জলে।
কদম্বতরুর হিলন দিয়ে, আমা পানে চেয়ে চেয়ে,
বলি দাসী হই চরণে গিয়ে, তিলাঞ্জলি দিয়ে কুলে ।
কিবা মন্দ মৃদু হাসি, হেরে নয়ন জলে ভাসি,
বাশী নয় সে প্রেমের ফাসী, লাগালে আমার গলে ॥
কুলের মুখে দিয়ে ছাই, চল গো তার সঙ্গে যাই,
আমার বন্দুতে কেউ নাই, কলঙ্কিনী সবে বলে।
দ্বিজ গণেশচন্দ্রের বাণী, শুন রাধা ঠাকুরাণী,
পাই যেন চরণ দুখানি, এই আশা নিদানের কালে।
৫
৮। (তাল একতালা।)
সখি ঠাম ঠমকে ঠমক বাকা কে।
ও কালিন্দীর কূলে দেখা গাে॥
ও তার চাদ বদনে কি সেজেছে চন্দনের অলঙ্কার গাে ।
ও তার কানড় ছাদে চূড়া বাধা, তায় ময়ূরের পাখা গো ।
কি ক্ষণেতে জল আনিতে গিয়াছিলাম একা গাে ।
কি ক্ষেণে তার সঙ্গে দেখা হয় কি বিধির লেখা শে। ৪
৭
৭৪
সংকীৰ্ত্তন-মাল।
খঞ্জন জিনিয়ে আঁখি ভুরুযুগ বাঁকা গাে।
তােরা কেউ ত সঙ্গে থাকি না, সে একা আমি একা গো।
৯। (তাল পাঁচ তালি)।
সেই নবীন রাখালকে আমার মনে হল রে।
ও যার চ ড়ার উপর ময়ূর পাখা, পাখা হিলে মন্দ বায় গো।
ও যার চড়ার উপর বকুল কলি, তাতে ঝাঁকে ঝাঁকে
উড়ছে অলি, ও তাতে ভ্রমর মধু খায় রে।
ও যার চরণে চরণ ছাঁদা, ও যার মাথায় মােহন চূড়া বাধা রে।
ও যার বাঁকা নয়ন জোড়া ভুরু, গােপীর
কুল মজাবার
নাটের গুরু, সেই নবীন রাখালকে আমার মনে হােল রে ।
শ্রীরাধা-বিষয়ক-গীতিকা।
১। (তাল একতালা )।
এমন জগত পবিত্র রাধা নাম আনিল কে।
নাম আনিল কে গো রাধা নাম আনিল কে।
কলির জীব তরাতে নিতাই চাদের বুঝি মনে পড়েছে।
জয় রাধা গােবিন্দ নামে জগৎ মেতেছে।
পাষণ্ড যারা শুনে তারা অবাক হয়েছে ।
.
দু অক্ষরে নামটা রাধা অন্ত হতেছে।
}
ও পাণ্ডবের সখা ময়ুর পাখা ধারণ করেছে।
শ্রীশ্রীরাধা-বিষয়ক-গীতিকা।
৭৫
এ নাম ব্ৰহ্মপুত্র নারদ-ঋষি সেই কি এনেছে।
যার গলদেশে হাড়ের মালা সেই কি এনেছে।
২। (তাল একতালা)।
( মিছা) দিন যায় দিন যায় রাধে রাধে বােল।
রাধে রাধে বেল রসনা রাধে রাধে বোল ॥
রাধা নাম বল বল, ও তাের জনম যাবে ভাল রে ॥
( রাধা নামের গুণে )
রাধা নাম যে জন বলে, নামের গুণে কি করিতে পারে
তারে রে।
রাধা নামে বাধ ভেলা, যদি এড়াবি শমনের জ্বালা রে।
রাধা নাম সুধাসিন্ধু, পান কর তার এক বিন্দু রে ।
রাধা নাম মধুর সুধা, পান কর তাের যাবে ক্ষুধা রে।
দিন গেল রে মিছা কাজে, কেন না ভজিলি রসরাজে রে ।
দিন গেল রে আমার মন, সকল ছেড়ে ভজ রাধার
চরণ রে।
০
ও রে সই দিয়ে রে আলি খতে, কেন না ভজিলি
রাধানাথে রে।
ও রে সেখানে কি বলে এলি হেথা বিষয় পেয়ে
ভুলে গেলি রে ॥
ও রে রাধা নাম বল মুখে এ জনম যাবে সুখে রে।
ওরে রাধা নাম বন্ধু, যদি তরে যাবি ভবসিন্ধু রে ॥
।
৭৬
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
৩। (তাল একতালা )।
বল ঐ রাধা নাম বল।(ঐ রাধা নাম ঐ রাধা নাম )
এ নামে বশীর স্বরে গান করে সেই চিকণ কালো।
রাধা নামের গুণে উজান বহে শ্ৰীযমুনার জল।
রাধা নামের গুণে বৃন্দাবনে পাষাণ দ্রব হলো।
রাধা নামে জীয়ে, মৃততরু ধরে ফুলফল।
রাধা নামের গুণে গহনবনে ধেনু ফিয়ে ছিল।
রাধা নামের লাগি নন-সুত নদেয় গৌর হলো।
( এমনি রাধা নামের গুণ রে)।
৪। (একতালা। }
রাধার চরণ, নয় সাধারণ, সামান্য ধন নয় গো ।
দুটী চরণ রাধার, হয় মুলাধার,
আমাদের কৃষ্ণ সেবার ধন গো ।
রাধার চরণ পাবার তরে, রসরাজ বাঁকা চূড়া ধরে শিরে।
এল গােলক ছেড়ে ব্ৰজপুরে, আমাদের নন্দের নন্দন গো
একদিন মান করে ঐ ছিলেন প্যারী,
নাতিনির বেশ ধরেন হরি
রাধার দু’চরণ ধরি নাম করেছেন লিখন গাে॥
গােসাঞি দর্শনে বলে হয় নয় দেখ জয়দেবের গ্রন্থ খুলে।
দেহি পদ-পল্লব বলে নাম করেছেন লিখন গাে ॥
ঐ শ্রীরাধা-বিষয়ক-গীতিকা।
৭৭
7
৫। (তাল একতালা)।
রাধা নামে কতই সুধা কৃষ্ণ বই কে জানে।
( আর কেউ জানে না গো )
দিবানিশি কালশশী মগ্ন বাঁশীর গানে।
যে রাধা তার অঙ্গ আধা, যার নামে তার বাশী সাধা
যার লেগে বয় নন্দের বাধা গােচারণ বিপিনে।
দু’অক্ষরে নামটী রাধা, যার অক্ষরে অক্ষরে সুধা ।
শ্যাম আছে যার প্রেমে বাঁধা জানে ত্রিভুবনে।
রাধা নামে কিগুণ ধরে মৃততরু মুঞ্জরে।
বইত যমুনা, উজান ধরে রাধা নামের গুণে।
৬। (একতালা )।
।
জয় জয় রাধার নাম প্রেম-তরঙ্গিণী রে ।
প্রেম-তরঙ্গিণী নাম সুধা-তরঙ্গিণী রে ।
যার প্রেমের হিল্লোলে ভাসে গৌর-গুণমণি রে।
যে রাধা নাম বাণীতে কৃষ্ণ গাইতেন আপনি রে ।
কৃষ্ণকে হলাদ দিয়ে তার নাম হলাদিনী রে।
রাধা নাম গাহিতে গাহিতে উঠে অমৃতেখনি রে ।
৭৮
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
4
৭। (একতালা)।
রাধে কৃষ্ণ জয় রাধে গােবিন্দ জয় ।
রাধে এই বার আমায় কর দয়া ।
রাধে তুমি যদি কর দয়া,
তােমার দয়া হলে হরি দিবেন চরণ ছায়া ॥
রাধে অন্য জনার অন্য মন,
রাধে আমার মন তাের শ্রীচরণ ॥
রাধে কোথাও থাকি,
কোথায় রই যেমন তব চরণ ছাড়া নই ।
রাধে বৃন্দাবন বিলাসিনী,
রাধে কৃষ্ণ প্রেমে আহ্লাদিনী।
রাধে আমি ভজন হীন তায় সাধন হীন,
আমার কিসে যাবে দিন গো ।
রাধে শরণ নিলাম তােমার রাঙ্গা পায়
ও শরাধে তােমার উচিত যা জুয়ায় ॥
শ্রী রাধা গােবিন্দ বিষয়ক সংকীর্তন।
।
১। (তাল একতালা)।
জয় রাধে গােবিন্দ বলে ডাক রে আমার মন রসনা।
নামে কর রতি হবে গতি শমন ভয় আর রবে না ।
শ্রীরাধা গােবিন্দ বিষয়ক-সংকীৰ্ত্তন।
৭৯
রাধা নাম বদনে বল, তনু হবে নিরমল ।
দেহ গেলেও ভাল, বইলেও ভাল, মিছা মায়ায় ভুলনা ।
রাধা নাম মধুর সুধা, পান কর যাবে ভক্ষুধা।
নাম বলতে নাই রে বাধা, বদন ভরে বল না।
রাধা নামে বাঁধ ভেলা, যদি এড়াবি শমনের জালা ।
বয়ে গেল তাের পারের বেলা নামে হেলা করো না ?
রাধা নামের কি মাহাত্ম যার ব্রহ্মা আদি না পায় তত্ত্ব।
সহস্র বদনে অনন্ত নামের অন্ত যে পেলে না ।
দেখ এই দেহ অনিত্য, সংসার অসার অনিত্য।
কলি যুগে নাম সত্য অন্তরে জপনা ।
২। (একতালা)।
জয় রাধা গােবিন্দ শ্রীরাধা গােবিন্দ
বদন ভরে একবার বল রে রসনা।
জয় রাধা গােবিন্দ শ্রীরাধা গােবিন্দ,
গােবিন্দ গােবিন্দ বদনে রটনা ॥
গো কোটী দান গ্রহণে চ কাশী,
মাঘে প্রয়াগে যদি কল্পবাসী।
সুমেরু সমান সােঞ্চ করে দান,
তবু গােবিন্দ নামের নাই রে তুলনা ।
আশী লক্ষ যােনি করিয়ে মৃণ;
বহু দুঃখে পাইলি মানব জনম ।
৮০
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
হেলাতে হারালি ভুলিয়ে রহিলি
যেতে হবে বলে তাও কি জান না ॥
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে,
হরে রাম হরে রাম রাম হরে।
সুমধুর সুরে গাওরে বন ভরে,
যদি বলিতে না পার অন্তরে জপনা
যে দিন গেল তাের বয়ে গেল মন,
যা আছে তায় সামাল এখন,
দন্তে তৃণ ধরি করি নিবেদন,
দীন হীন গােবিন্দের পুরাও হে বাসনা
(তাল একতালা।)
জয় রাধা গােবিন্দ চরণারবিন্দ,
মকরন্দ পান ক র মন-ভূখ।
বিষয়-কেতকী কাননে ভ্রম কি,
সে বনে ভ্রমণে দিও নাক ভঙ্গ
বৃন্দাবন প্রেম-সরােবর মধ্য,
অনন্ত রূপিণী কোটী গােপী পদ্ম,
পদ্ম মধ্যে নীল পদ্ম রাধা-পদ্ম,
ব্রহ্মাণ্ড গাথা যার মৃণাল সঙ্গ
ঙ্গে মধুৰ কুফ মধুর মুরতি,
মধু মতি বামে বিহাতি,
শ্রীরাধা গােবিন্দ-বিষয়ক-সংকীৰ্ত্তন।
যদি রাখ রতি মতি মধুর ভাব প্রতি,
তবে,মন মধুকরে দিওনাক ভঙ্গ।
গুন গুন স্বরে গাও রাধা কৃষ্ণের গুণ
মধু পাবে যাবে ভবের ক্ষুধাগুণ
বাড়িবে সগুণ ত্যজিবে নিগুণ,
নিগুণ গােবিন্দ গায় গুণ-প্রসঙ্গ।
৭
৪। ( একতালা।)
ভজ মন শ্রীরাধা-বল্লভে।
দিনে দিনে গত, হলো দিনাগত,
রাধা কৃষ্ণ নাম আর বলবি কবে।
ভবে এসে কি বা হলাে সুখােদয়,
অনুদিনে তনু ত্রিতাপে তাপয়,
কবে সেই চরণে হবি পদাশ্রয়,
পদ-পল্লবে লবে রে লবে ।
যখন সব দূত পাঠাবে শমন,
তখন কি আর করবি রে মন,
না ভজিলে সেই শমন-দমন,
সকলি লবে রে লবে।
ভয়ঙ্কর দূতের নাই রে করুণা,
কাদিলে খালাস দিবে না দিবে না,
শুনবে নারে মানা নানা রূপে নানা
যন্ত্রণা ও সে দিবে দিবেই দিবে ।
৮২
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
৫। (একতালা।)
রাধা গােবিন্দ গােবিন্দ ঘােলে নেরে ।
ওরে রসনা রে পুরাও বাসনা রে ।
এমন, মানব-জনম হবে না রে।
(কত সাধন করে পেয়েছ )
শ্যামের অধরে মুরলী বাজিছে রে ।
( রাধা রাধা রবে
শ্যামের চরণে নূপুর বাজিছে রে।
ও জিতং জিতং বলে
শ্যামের বামেতে কিশােরী শােভিছে রে ॥
(একবার নয়ন ভরে হেরে নেরে ॥
শ্রীবৃন্দাবন-বিষয়ক-গীতিকা ।
-
১। (তাল একতালা)
রাধা কৃষ্ণ প্রেমের দ্বীপ জ্বালিয়ে,
জয় রাধে ও কিশােরী বলিয়ে কবে যাব রে।
আমি কবে বৃন্দাবনে যাব,
গিয়ে মাধুপুরী মেগে খাব রে ।
( ব্রজবাসীর ঘরে ঘরে )
শ্ৰীবৃন্দাবন-বিষয়ক-গীতিকা।
কবে বৃন্দাবনের কুলি কুলি, বেড়াব দু’বাহু তুলি।
( জয় রাধে রাধে বলে রে)
কবে ব্রজের গুল্ম-লত হব,
কবে গোপীর পদরেনু পাব,
( বল সেই দিন আমার কবে হবে )
২। ( একতালা।)
রাধে কৃষ্ণ জয় রাধে গােবিন্দ জয়।
জয় জয় গােপীনাথ মদন-মােহন জয়।
জয় জয় শ্রীগােবিন্দ মূৰ্ত্তি মনােহর জয়।
রাধাকুণ্ড শ্যামকুণ্ড গিরি গাের্পন জয়।
ললিতা বিশাখা আদি যত সখিবৃন্দ জয়।
পুলকিত তরু লতা পুষ্প বরিষণ জয় ॥
সকল ফুলের মুখে অলি ঝাকে ঝাকে জয় ।
ভালে বসে শুক সারী সুমধুর ডাকে জয় ॥
কালিন্দীর তীরে কেলি-কদম্বেরী বন জয়
চৌদিকেতে গােপানা মধ্যে রাধাকৃষ্ণ জয়।
নয় রে জয় দে জয় বৃন্দাবনময় জয় ।
৩। (একতালা।
চল নিতাই বৃন্দাবনে হেরব যুগল মাধুরী।
হেরব যুগল-মাধুরী ও মন দেখব কিশাের-কিশােরী ॥
৮৪
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
বৃন্দাবনে রব পড়ি কুঞ্জে দিব গড়াগড়ি।
জয় রাধে শ্রীরাধা বলে মেগে খাব মাধুকুরী ।
ব্রজবাসীর ঘরে ঘরে
যমুনাতে জলের খেলা, দাঁড়িয়ে আছে চিকণ কালা।
ত্রিভুবন করেছে আলাে বাজায়ে মোহন বাঁশরী
বৃন্দাবনের দ্বাদশ বন কবে করব গিয়ে দরশন।
জুড়াইবে তাপ নয়ন হেরে যুগল-মাধুরী।
৪। (একতালা।)
F
আর কত দিনে হব বৃন্দাবনবাসী য়ে ।
চলিতে না পারি আমার না চলে চরণ রে।
আমি কবে বৃন্দাবনে যাব সে দিন কবে হবে রে ।
বৃন্দাবনে গিয়ে কবে মাধুকুরী মাগিয়ে খাইৰ রে ॥
(ব্রজবাসীর ঘরে ঘরে )
কবে বৃন্দাবনে যাব সে দিন কবে হবে।
বৃন্দাবনে গিয়ে কবে কুলি কুলি কাদিয়ে বেড়াব রে।
( জয় রাধে রাধে বলে)
রাসমণ্ডলে যাব সে দিন কবে হবে ।
শ্রীরাস মণ্ডলে গিয়ে আমি ধূলায় গড়াগড়ি দিব রে ।
কবে ব্রজের গুল্ম লতা হব সে দিন কবে হবে।
তরু লতা হয়ে কবে গােপীর পদরেণু পাব রে ।
শ্ৰীবৃন্দাবন-বিষয়ক-গীতিকা।
৮৫
ও সে ধূলা নয় ধূলি নয় গােপীর পদরেণু।
যে ধূলা মেখেছিল নন্দের কামু
কবে রাধাকুণ্ড শ্যাম কুণ্ড নয়নে হেরব রে ।
কুণ্ডের মৃত্তিকা লয়ে কবে অঙ্গে লেপন করিব রে ॥
৫। (একতালা )।
হরি খােলব আর মদনমােহন হেরব গো।
আমরা ঐ মতে ব্রজের পথে চলব গো ॥
( হরি বলতে বলতে
কবে বৃন্দাবনে যাব, মাধুকুরী মেগে খাব।
কবে ঐ ধূলা অঙ্গের ভুষণ করব গাে।
যাব ব্রজেন্দ্রপুর হব চরণের নূপুর।
কবে ঐ চরণে মধুর মধুর বাজিব গাে।
তােমরা সব ব্রজবাসী পূরাও মনের অভিলাষী।
কবে শ্রবণ পেতে শ্যামের বাঁশী শুনিব গো ॥
এ দেহ অন্তিম কালে যাব যমুনার জলে।
কবে জয় রাধে শ্রীরাধে বলে প্রাণ ত্যজিব গাে।
কহে নরােত্তম দাস পুরাও মনের অভিলাষ।
কবে রাধা কৃষ্ণের যুগল-বিলাস হেব গাে
৮৬
সংকীৰ্ত্তন-মালা ।
শুক-শারীর বিবাদ-গীতিকা।
১। (তাল একতালা।)
বৃন্দাবন-বিলাসিনী রাই আমাদের।
রাই আমাদের রাই আমাদের আমরা রাইয়ের রাই আমাদের।
শুক বলে আমার কৃষ্ণ গিরি ধরে ছিল ।
শায়ী কয় আমার রাধা শক্তি সঞ্চারিল, নইলে পারবে কেন ।
শুক বলে আমার কৃষ্ণের কটীতে ঘুঘুর ।
শারী কয় আমার রাধার বাজে সুমধুর, নৈলে শুধুই ঘুঙ্গুর।
শুক বলে আমার কৃষ্ণের চূড়া বামে হেলে ।
শারী কয় আমার রাধার চরণ পাবে বলে, চুড়। তাইতো হেলে।
শুক বলে আমার কৃষ্ণের চূড়ায় ময়ুর পাখা।
শারী কয় আমার রাধার নামটী তাতে লেখা,
নইলে শুধুই পাখা।
শুক বলে আমার কৃষ্ণ জগত-জীবন।
শারী কয় আমার রাধা জীবের-জীবন, নৈলে শূন্য জীবন।
শুক বলে আমার কৃষ্ণের কদম তলায় থানা।
শারী কয় আমার রাধা করে আনাগোনা, নৈলে যেত জানা।
শুক বলে আমার কৃষ্ণ বাজায় মােহন বাঁশী।
শারী কয় আমার রাধার মন করে উদাসী, নৈলে শুধুই বাঁশী ।
শুক বলে আমার কৃষ্ণ কালিন্দীর জল।
শায়ী কয় আমার রাধা পূর্ণ শতদল, নৈলে শুধুই সে জল ।
ভােগ-বিরাগ-বিবাদ-গীতিকা।
৮৭
s
শুক বলে আমার কৃষ্ণের রূপটা চিকন কাল।
শারী কয় আমার রাধার রূপে জগত আলো,
নৈলে আঁধার কালো।
শুক বলে আমার কৃষ্ণ পীতাম্বর ধাৱী ।
শারী কয় আমার রাধা পরে নীল শাড়ী, নৈলে সাজবে কেন।
শুক বলে আমার কৃষ্ণের গলায় বনমালা।
শারী কয় গমতির রূপে করে আলা, নৈলে শুধুই মালা।
শুক বলে আমার কৃষ্ণ মদন মােহন।
শারী কয় আমার রাধা বামে যতক্ষণ, নৈলে শুধুই মােহন।
শুক বলে আমার কৃষ্ণ জগতের গুরু।
শারী কয় আমার রাধা বাঞ্ছাকল্পতরু, নৈলে কে কার গুরু ।
শুক-শারী দুজনার দ্বন্দ্ব মিটে গেল ।
রাধা কৃষ্ণের প্রীতে একবার হরি হরি বল ।
( জনম যাবে ভালাে
ভােগ-বিরাগ বিবাদ-গীতিকা।
4
২। (একতালা।)
জীব জগতে দ্বন্দ্ব অতি ভােগ বিরাগে।
ভােগ বিরাগে, বিরাগে ভােগে দ্বন্দ্ব লাগে ভােগ বিরাগে।
ভোগ বলে এ সংসার সুখের বাজার।
বৈরাগ্য বলে মরুভূমি মরীচিকা সার, এসব মায়ার বিকার
৮৮
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
লােগ বলে আমার সব এই স্ত্রী-কন্যা-তনয় ।
বৈরাগ্য বলে যাদের সব পথের পরিচয়, এরা কেহ কার নয় ।
ভােগ বলে লাবণ্যময় মধুর যৌবন।
বৈরাগ্য বলে মেঘের কোলে চপলা যেমন ;
থাকে ক’দিন তেমন ॥
ভােগ বলে কত সুধা রমণী অধরে।
বৈরাগ্য বলে বড়সী পিণ্ড যেন সরােবরে, মৎস্য মারিবারে।
ভােগ বলে দেহের শােভা করি পরিপাটী ।
বৈরাগ্য বলে জীবের দেহ কেবল ময়লা মাটি,
বৃথা আঁটা আঁটী ॥
ভােগ বলে কোমল শয্যায় শয়ন করি সুখে।
বৈরাগ্য বলে শশ্মান-শয্যা মনে যেন থাকে, দিবে অগ্নিমুখে ।
ভােগ বলে রথি-রথ-গজবাজি দ্বারে।
বৈরাগ্য বলে মুলে আঁখি সব ফাকি যে পরে,
মায়ায় ভুলনা রে।
ভোগ বলে বহু দাসদাসীর প্রভু হই।
বৈরাগ্য বলে আর কে প্রভু জগৎ প্রভু বই,
জীবের প্রভুত্ব কই।
তোগ বলে সম্মান পাই রাজার দরবারে।
বৈরাগ্য বলে কি হবে যম রাজার দুয়ারে, তাকি ভাবনা রে ।
নূপুর ও চূড়ার বিবাদ।
ভােগ বলে আমি অতুল ধনের অধিকারী।
বৈরাগ্য বলে নিদান কালে গুণ দড়ি বাঁশ বাড়ী,
ঘুচবে জারিজুরি।
ভােগ বলে তবে কি সব কিছুই কিছু নয়।
বৈরাগ্য বলে সব দেখ ভোজের বাজিময়,
চিরদিন নাহি রয়।
বৈরাগ্য বচনে ভােগ হৈল হতমান।
দীন মহেন্দ্র বলে কর সবে হরি গুণ গান,
হবে ভােগ অবসান ।
নূপুর ও চূড়ার বিবাদ।
৩। (তাল একতালা।)
মন প্রসঙ্গে লাগলো বিবাদ নৃপুর চূড়ার।
নূপুর চূড়ায় নূপুর চূড়ায়, চূড়ায় নূপুর চূড়ায় ।
নূপুর বলে কেন চূড়া কেন রাই এর পদে।
চূড়া বলে আমার কৃষ্ণ পড়েছে বিপদে,
তাইতো রাই এর পদে।
চূড়া বলে ওরে ও গর্বিত নূপুর।
নীচ তুই উচ্চ পদ পাইয়া মুখর, এত অহঙ্কার তাের।
৯
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
নূপুর বলে আমার রাধা জগৎ-ঠাকুরাণী।
চূড়া বলে ত্যাগ করে ঠাকুর, কেমন ঠাকুরাণী
ঠাকুর পরাধিনী।
নূপুর বলে আমার রাধা জগতের সতী
চূড়া বলে সতী হয়ে ত্যাগ করে কি পতি,
সে বা কেমন সতী
শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের যুগল সংকীৰ্ত্তন।
১। (একতালা।
আহা মরি কি আনন্দ হেরে যুগল মাধুরী।
রাই বিরাজে শ্যামের বামে যেমন কাল মেঘে বিজুরী ।
শ্যাম শিরে মােহন চূড়া রাই শিরে কবরী।
শ্যামের চূড়া বামে হেলে তাতে রাধার নাম হেরি ।
রাই করে কঙ্কণ বিরাজে শ্যাম করে মুরলী ।
দুহার অধরে হাসি কি মধুর মধুর হেরি ।
ষড় ঋতু প্রকাশিত কি আনন্দ হেরি।
তমাল গাছে কোকিল ডাকে ময়ূর ময়ূরী ।
ললিতা বিশাখা আদি যত সখি মেলি ।
তারা সবে ঘেরে দাঁড়াল মাঝে কিশোর কিশােরী।
শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের যুগল সংকীৰ্ত্তন।
২। (তাল একতালা)।
রাধা শ্যাম একাসনে সেজেছে ভাল।
সেজেছে ভাল আমাদের লেগেছে ভাল ।
গলে বন ফুলের মালা বামে চূড়াটী হেলা।
রাই আমাদের হেমবরণী শ্যাম চিকন কাল
করে মােহন বাঁশরী, বামে রাধা কিশােরী
যুগল রূপে বৃন্দাবন করেছে আলাে।
নাচে ময়ুর ময়ূরী নাচে আর শুক শারী।
যুগলরূপ হেরি তাদের নয়ন জুড়ল ।
শ্যাম ত্রিভঙ্গ বাকা, মাথায় ময়ূরের পাখা ।
তাতে রাধার নামটী লেখা, করে ঝলমল ।
৩। ( ভাল একতালা।)
ত্বর আয় ললিতা হেরে যা’ যুগলরূপের ঠাম ॥ ধ্রু
আধ শিরে মােহন চূড়া আধ শিরে বেণী।
শ্যামের চূড়া করে ঝলমল বেণী ধরে ফণী ।
হেরা হেরি ফেরা ফিরি ছাদাছদি ৰাহু।
শারদ পূর্ণিমার চাদে যেমন গরাসিল রাহু ।
আধ ভুজে বলয়। আধ নীলচুড়ি ।
আধ অঙ্গে পীত ধড়া আধ নীল শাড়ি।
৯২
সংকীৰ্ত্তন-মাল।
আধ গলে গজমতি আধ বনমালা
আধ তব গৌরতনু আধ চিকণ কালা।
দুই অধরে এক মুরলী এমনি ৰাশী সাধা।
রাই এর ফুকে শ্যামকে ডাকে শ্যামের ফুকে রাধা।
সােণার কমল হেলে দুলে শ্যাম কালিন্দির জলে।
কিম্বা কনকল তা বেড়ে গেল শ্যাম তরু-তমালে ।
কঁাচ বেড়া কাঞ্চন, কাঞ্চন বেড়া কাঁচে।
রাধাকৃষ্ণ দুই তনু একত্র হয়েছে ।
রাই হয়েছেন স্বর্ণহস্তী সখিগণ সব যুথ ।
মাহুত হয়ে খেলছে তাহে সেই নন্দস্তুত।
রাধা কৃষ্ণ এক আত্মা দু'হে একতনু।
কেবল ভক্তবাঞ্ছাপূর্ণ লাগি লীলার জন্য ভিনু ।
৪। (তাল একতালা।)
তােরা দেখ ললিতা, কুঞ্জলতা কুঞ্জপানে চেয়ে।
রাই দাড়ায়েছে শ্যামের বামে, অঙ্গ হেলা দিয়ে।
উভয়ে উভয়ের নয়ন উভয়ে হেরে চন্দ্রানন।
অধ আধ অঙ্গের মলিন একত্র হয়েছে।
হেমাজ নীলাজ একা, আধ আধ অঙ্গে ঢাকা।
যেমন কালো মেঘে বিদ্যুল্লতা তেমনি শােভা হয়ে।
শ্রী শ্রীরাধাকৃষ্ণের যুগল সংকীৰ্ত্তন।
m
। ।।। Af,
৫। (তাল একতালা।)
যেম
আজি নিভৃত-নিকুঞ্জে আহ কিবা শোভা মরি।
বিনােদিনী সহ খেলে বিনােদবিহারী ।
রূপে নবীন নীরদ-শ্যাম রাধা সৌদামিনী।
মধুর মিলনে ওই বিকাশে লাবণি ॥
শ্যাম ইন্দীবর রাধা কষিত-কাঞ্চন।
তমালে কনকলতা হয় সুশােভন।
শ্যাম শিরে শােভে
চূড়া
কিবা হেলে দুলে
রাই শিরেতে বেণী ওই চুষে পাদমূলে।
হেরি শ্যাম গলে বনমালা কত শোভা পায়।
রাই গলে মতির মালা পরাণ জুড়ায় ।
কিবা
মকরন্দে লুব্ধমনা ভ্রমরী গুঞ্জন।
করিয়াছে সুখময় নিকুঞ্জ ভবন।
কিব
পুঞ্জে পুঞ্জে ফুল গন্ধে দিক আমােদিত।
কোকিলের কুহুম্বরে কুঞ্জ মুখরিত।
কি প্রেমময় প্রেমময়ী রূপের আধার।
প্রাকৃত জগতে নাই তুলনা তাহার।।
হেরি চৌদিকে বেষ্টিত ওই গোপাঙ্গনগণ।
পুলকে পুরিত হিয়া সেবায় মগন..
কিবা শতধারে ছুটে কুঞ্জে ভাবের লহর।
প্রেমের প্রবাহ উঠে পড়ে ঝর ঝর।
}
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
ঝলকে ঝলকে হয় রসের উদগার
প্রেমানন্দে হল কুঞ্জ আনন্দ পাথার।
যদি এ গানন্দ সাগরের পাই একবিন্দু।
তবে হৃদি-গগনেতে মাের শোভে লাখ ইন্দু।
হায় হেন শুভদিন কভু হবে কি আমার ।
এ যে বামনের সাধ যেন চঁাদ ধরিবার।
৬। (তাল একতালা।
শারী বলে দেখ শুক নিকুঞ্জ কাননে।
শ্যাম অঙ্গ িিলয়াছে কমলিনী সনে।
শ্রীরাধা-সীমন্তে শােভে সিন্দুরের বিন্দু
শ্রীগােবিন্দ ভালে কি বা গোরচনা ইন্দু।
শ্রীরাধা মস্তকে শােভে স্বর্ণ শিরোভূষা।
শ্রীগোবিন্দ শিরে কিবা শিখিপুচ্ছচড়া।
শ্রীরাধা নাগ্রে দোলে নীলকান্ত মণি।
গোবিন্দ ঘ্রাণে শোভে হীরকের কণি।।
শীরাধার কণ্ঠে দোলে গজমতি হার।
শীগোবিন্দ গলে শােভে বৈজয়ন্তী মাল।
রাধার করে শােভে অরুণ কমল।
শ্রীগােবিন্দ করে কিবা মুরলী বিমল ।
শ্রীরাধিকা নীলরক্ত বসনে ভূষিত ।
শ্রীগােবিন্দ শ্বেত পীত বসনে শােভিত।
শ্রী শ্রীরাধাকৃষ্ণের যুগল সংকীৰ্ত্তন।
* শ্রীরাধার বক্ষ ভূষ গােবিন্দ বাঞ্ছিত।
শ্রীগোবিন্দ বক্ষস্থল ঐ বৎসলাঞ্ছিত ।
শ্রীরাধার শুদ্ধ প্রেম গােবিন্দ অর্চিত।
গােবিন্দ অঙ্গ রাধা চন্দনে চর্চিত ।
শ্রী রাধা নূপুর বাজে সুবীণ ঝঙ্কারে।
শ্রীগােবিন্দ পদাঙ্গদ ভক্ত জয়কারে ।।
৩ রাধা গোবিন্দ নাম গায় প্রেমভরে।
শীগগাবিন্দ রাধানাম গায় বেণুরে ।
ঝাপিল রাধিকা অঙ্গে নীলকান্ত শ্যাম।
দেখ শুক গৌরবর্ণ হলো ব্রজ ধাম ।।
যুগল গৌরাঙ্গ হয়ে নিকুঞ্জে মিশিল ।
রাধাকৃষ্ণ প্রেমানন্দে জগত ভাসিল।
* রাধা-গােবিন্দ জয় গায় ভক্ত জনে।
সে ভাবনা জাগে পাপ-অভাগার মনে।
৭। (তাল একতালা)।
জয়রে জয় রাধামাধব যুগল-কিশাের ।
যুগল কিশাের আমাদের পরাণ কিশাের।
হেরা হেরি ফের ফেরী ঘঁদা ছদি বাহু।
শারদ পূর্ণিমার চাদে গরাসিল রাহু।
শ্যাম-শিরে মােহন চূড়া রাই শিরে বেণী।
শ্যামের চূড়া করে ঋল মল বেণীধরে ফুণী।
৯৬
সংকীৰ্ত্তন-মালা।
-
৮। (একতালা )।
4
এমনি থাকুক যুগল ও কিশাের কিশােরী।
যেমন সাধের নিশি পােহায় না রে।
নিশি পােহা না রে তােরে বিনয় করি।
( তুই পােহালে ) হেরতে নরব যুগল-মধুরী।
নিশি পােহা না রে ওরে ও শর্বরী।
আমরা হলেম যুগল সেবার অধিকারী।
।
সম্পূর্ণ।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.