Katia Sadharan Pathagar

Jajurbediyo Abhyudayik Shraddha Paddhati Ed. 1st

Senshrmma, Hemchandra · 2010/02/17

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

যজুর্বেদীয়-
আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
( মন্ত্ৰাৰ্থ, টীকা এবং বহু জ্ঞাতব্যবিষয়-সংবলিত
সচিত্র সংস্করণ )
কলিকাতা প্রেসিডেন্সী কলেজ এবং হুগলি মহসিন
কলেজের ভূতপূৰ্ব্ব
অধ্যাপক শ্ৰীহেমচন্দ্র সেনশর্মা, এম-এ।
মূল্য-১০
বাঁধাই-১।

প্রফুল্লকুমার সেনশর্মা,
পি, ৬১ ল্যান্সডাউন্ রােড,
একুষ্টেন্স, বালীগঞ্জ,
পোঃ কালীঘাট, কলিকাতা।
(১ম সংস্করণ, ১৩৪৫)
মুদ্রাকর:-ঐবিমলকৃষ্ণ দাস
মেট্রো প্রিন্টিং ওয়ার্কস
২৬নং তালপুকুর রােড,
কলিকাতা।

ভূমিকা বৈদ্যব্রাহ্মণ-সভার অনুরােধে “যজুৰ্বেদীয় আভদয়িক শ্রদ্ধপদ্ধতি” প্রকাশিত হইল। ইতঃপূর্বে মৎপ্রণীত “যজুর্বেদীয় বিবাহপদ্ধতি” প্রকাশিত হইয়াছে। উভয় পুস্তকেই সমস্ত মন্ত্রের বঙ্গানুবাদ দেওয়া হইয়াছে। এতদ্ভিন্ন দ্রষ্টব্য-অংশসমূহে বহু প্রয়ােজনীয় বিষয় সন্নিবেশিত হইয়াছে। পদ্ধতি-অংশ বড় অক্ষরে এবং অনুবাদ ও ‘দ্রষ্টব্য’-অংশ ছােট অক্ষরে মুদ্রিত হওয়ায় এক অংশ হইতে অপর অংশ পৃথগভাবে লক্ষ্য করিবার সুবিধা হইবে। আমি সারাজীবন গণিতশাস্ত্রের আলােচনা করিয়াছি। তাহা হইলেও, বাল্যাবধি সংস্কৃত সাহিত্যের প্রতি আমার একটা জন্মগত অনুরাগ বিদ্যমান আছে। সেইজন্য অবসর-সময়ে ঐ ভাষার অনুশীলনে বিরত হই নাই। তাহারই ফলস্বরূপ এই পুস্তক প্রকাশিত হইল । এই পুস্তকের স্থানে স্থানে কতিপয় চিত্ৰদ্বারা আলােচ্য বিষয়সমূহ পরিষ্কারভাবে বুঝাইয়া দেওয়া হইয়াছে। বৈদিক মন্ত্রনিচয় মূল বেদদৃষ্টে উদ্ধত হইয়াছে। মন্ত্রের অনুবাদ সর্বত্র যথাযথ না হইয়া থাকিলেও উহাদ্বারা মােটামুটি ভাবার্থ গ্রহণ করা যাইবে। যাহারা মন্ত্রাৰ্থ বুঝিয়া কাৰ্য্য করিতে চাহেন, এতদ্বারা তাহাদের সেই ইচ্ছা পূর্ণ হইবে। এই পুস্তকের সর্বত্রই ব্রাহ্মণের প্রযােজ্য শৰ্মান্ত নাম ব্যবহৃত হইয়াছে। অন্য বর্ণের পক্ষে যথাযােগ্য ভাষা ব্যবহার করিতে হইবে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্য স্ত্রীলােকের নাম দেব্যন্ত হইবে। এই পুস্তকে স্ত্রীলােকের নাম সর্বত্রই দেব্যন্ত করা হইয়াছে। শূদ্রের পক্ষে স্ত্রীলােকের নাম দাস্যন্ত হইবে। দেব্যন্তাশ্চ স্ক্রিয়াে মতা, দাস্যাঃ দৃশ্যস্ত শূদ্রযােনয়ঃ।

যজুৰ্বেদীয় অভদয়িক শ্রাদ্ধে ব্যবহৃত বৈদিক মন্ত্রসমূহের মধ্যে যে যে স্থানে কাথ ও মাধ্যন্দিন পাঠে পার্থক্য আছে, এই পুস্তকে তাহা দেখাইয়া দেওয়া হইয়াছে। বাজারে অনেক পদ্ধতি-পুস্তক বাহির হইয়াছে। কিন্তু তাহার অধিকাংশই সংক্ষিপ্ত এবং নানাপ্রকার ভ্রমপ্রমাদপূর্ণ। এই পদ্ধতিখানিকে সৰ্বাঙ্গসুন্দর করিবার জন্য আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছি। এ সম্বন্ধে কতদুর কৃতকার্য হইয়াছি, তাহার বিচারের ভার সুবিজ্ঞ পুরােহিত-মহাশয়দিগের উপর অর্পণ করিলাম। এই পদ্ধতিখানি বহুপূৰ্বে লিখিত এবং বহু বিজ্ঞ পুরােহিত কর্তৃক বহুবার পরীক্ষিত এবং ব্যবহৃত। পুস্তকখানিকে সম্পূর্ণরূপে নিখুত করিয়া সমাজসেবায় নিয়ােজিত করাই আমার একমাত্র উদ্দেশ্য। ক্রমে যজুৰ্বেদীয় নামকরণান্নপ্রাশন-চূড়ােপনয়ন-পদ্ধতিও প্রকাশ করিবার ইচ্ছা আছে। এই পদ্ধতিতে মা-বা-সং’-দ্বারা মাধ্যন্দিন বাজসনেয়ি সংহিতা এবং ‘কা-বা-সং-দ্বারা কাগ বাজসনোয় সংহিতা বুঝিতে হইবে। উপসংহারে বক্তব্য এই যে, বরিশাল-ফুল-নিবাসী মদীয় সুজৎ শ্ৰীযুক্ত সুরেন্দ্রনাথ সেনশর্মা মহাশয় এই পুস্তকখানির মুদণসম্বন্ধে অযাচিতভাবে যথেষ্ট পরিশ্রম করিয়াছেন, এজন্য আশি শুহার নিকট বিশেষ কৃতজ্ঞ। ইতি- পি, ৬১ নং ল্যান্সডাউন্ রোড, এষ্টে, বালিগঞ্জ। গোঃ কালীঘাট, কলিকা। } শ্ৰীহেমচন্দ্র সেনশর্মা।

যজুর্বেদীয় আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি প্রথমতঃ প্রদীপ ও ধূপ জ্বালাইয়া তিলক ও কুশাঙ্গুরীয় ধারণপূর্বক আচমন ও বিষ্ণুস্মরণ, তৎপর স্বস্তিবাচন। আচমন ও বিষ্ণুস্মরণ—হাত-পা ধুইয়া কৰ্ত্তা পূৰ্বমুখ হইয়া বসিবেন। পরে, একটি মাষকলাই ডুবিতে পারে এরূপ পরিমাণ জল দক্ষিণ করতলে লইয়া, ওঁ বিষ্ণুঃ এই মন্ত্র বলিয়া সেই জল অঙ্গুষ্ঠমূল (ব্রাহ্মতীর্থ) দ্বারা পান করিবেন এইরূপ আরও দুইবার জল পান করিয়া নিম্নলিখিত মন্ত্রগুলি পাঠ করিবেন- (ক) ও তদবিষ্ণোঃ পরমং পদগু সদা পশ্যন্তি সূরয়ঃ । দিবীব চক্ষুরাততম্॥ ওঁ বিষ্ণু, ওঁ বিষ্ণুঃ, ওঁ বিষ্ণু। (খ) ওঁ অপবিত্রঃ পবিত্রো বা সর্বাবস্থাংগতােহপি বা। যঃ স্মরেৎ পুণ্ডরীকাক্ষং স বাহাভ্যন্তরঃ শুচিঃ।

২
শ্রাদ্ধপদ্ধতি
(গ) ও শঙ্খচক্রধরং বিষ্ণুং দ্বিভুজং পীভবাসস।
প্রারম্ভে কৰ্মণাং বিপ্র পুণ্ডরীকং স্মরেদ্ধৰিম।
(ঘ) ও মাধবনী মাধবদ বাচি মাধবদ মাধবদ হৃদি।
স্মরন্তি সাধবঃ সর্বে সর্বকাৰ্যেষু মাধব।
•
••
পরে অঙ্গুষ্ঠমূলের দ্বারা লােমহীন ওষ্ঠদ্বয় মাৰ্জন করিবেন;
তর্জনী, মধ্যমা ও অনামিকা একত্র করিয়া তদ্বারা মুখ
স্পর্শ করিবেন ; অঙ্গুষ্ঠযুক্ত তর্জনী দ্বারা নাসাদ্বয়, অঙ্গুষ্ঠযুক্ত
অনামিকা দ্বারা চক্ষুদ্বয় ও কর্ণদ্বয়, অঙ্গুষ্ঠ ও কনিষ্ঠা দ্বারা
নাভি, করতলদ্বয় দ্বারা হৃদয়, সমস্ত অঙ্গুলিদ্বারা মস্তকের
উপরিভাগ এবং সমস্ত অঙ্গুলির অগ্রভাগ দ্বারা, দুই বাহুমূল
স্পর্শ করিবেন।
য়ি-ধারণ-কাজ আরম্ভ করিবার পূৰ্বেই দুই
হাতের অনামিকাতে কুশাঙ্গুরীয় ধারণ করিতে হয় এবং
শরীরের ভিন্ন ভিন্ন স্থানে মৃত্তিকা দ্বারা তিলক দিতে হয়।
ঐ কুশাঙ্গুরীয় নষ্ট হইয়া গেলে নূতন কুশাঙ্গুরীয় ধারণ করা
আবশ্যক। ডান হাতে স্বর্ণাঙ্গুরীয় থাকিলে, সেই হাত
কুশাঙ্গুরীয় ধারণ করিতে হইবে না। কুশাঙ্গুরীয়ের কথা
‘মােটক’-প্রসঙ্গে বলা হইবে।
তিলকরণ-মন্ত্র- ললাটে) ও কেশবায় নমঃ, (কন্ঠে)
ওঁ শ্রীপুরুষােমায় নমঃ, (নাভিতে ) ও নারায়ণায় নমঃ,

যজুৰ্বেদীয় ( হৃদয়ে ) ওঁ মাধবায় নমঃ, (দক্ষিণপার্শ্বে) ওঁ গােবিন্দায় নমঃ ( বামপার্শ্বে) ও ত্রিবিক্রমায় নমঃ, (মস্তকে) ওঁ বিষ্ণবে নমঃ, (দক্ষিণকর্ণে) ওঁ মধুসূদনায় নমঃ, (বামকর্ণে) ওঁ মধুসূদনায় নমঃ, (জমধ্যে) ও হৃষীকেশায় নমঃ, (পৃষ্ঠে) ওঁ পদ্মনাভায় নমঃ। তিলক দেওয়ার অন্যবিধ মন্ত্রও আছে। স্বস্তিবাচন—কর্তা (শ্রাদ্ধকারী) নিজের ডানহাতে কয়েকটি আতপ চাউল লইয়া এবং তিনজন ব্রাহ্মণের ডানহাতে কয়েকটি আতপ চাউল দিয়া, নিম্নলিখিত বাক্যটি পড়িবেন— ও মৎকৰ্তব্যেহস্মিন্ কর্মণি ওঁ স্বস্তি ভবন্তোধিক্ৰবস্তু, ওঁ স্বস্তি ভবন্তোহধিব্রুবন্তু, ওঁ স্বস্তি ভবন্তোধিব্রুবন্তু। ব্রাহ্মণগণ (প্রতিবচন)—ওঁ স্বস্তি, ওঁ স্বস্তি, ওঁ স্বস্তি’ বলিয়া চাউলগুলি একটি তামার টাটের উপর ছিটাইয়া দিবেন। কর্তাও নিজের হাতের চাউল ঐভাবে ছিটাইয়া দিবেন। দ্বিতীয়বার কর্তা ঐভাবে নিজের হাতে চাউল লইয়া এবং উক্ত তিনজন ব্রাহ্মণের হাতেও চাউল দিয়া নিমােক্ত বাক্যটি পড়িবেন- ও মৎকৰ্তব্যেহস্মিন্ কর্মণি ও ঋদ্ধিং ভবন্তোইখিব, ও খনিং ভবন্তোধিক্রবন্তু, ওঁ ঋজিং ভবতোইবি। ব্রাহ্মণগণ (প্রতিবচন)-ওঁ ঋধ্যতাওঁ ঋধ্যতাম, ৪ আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি ওঁ ঋধ্যতাম্ বলিয়া চাউলগুলি ঐ তামার টাটে ছিটাইয়া দিবেন। কর্তাও নিজের চাউল ছিটাইয়া দিবেন। তৃতীয়বার কর্তা ঐভাবে নিজে চাউল লইয়া এবং উক্ত তিনজন ব্রাহ্মণের হাতেও চাউল দিয়া নিম্নোক্ত বাক্যটি পড়িবেন. ওঁ পুণ্যাহং ভবন্তোহধিব্রুবন্তু, ওঁ পুণ্যাহং ভবন্তোহ- খিবন্তু, ও পুণ্যাহং ভবন্তোহধিব্রুবন্তু। ব্রাহ্মণগণ (প্রতিবচন)—ওঁ পুণ্যাহ, ওঁ পুণ্যাহ, ওঁ পুণ্যাহ বলিয়া চাউলগুলি টাটের উপর ছিটাইয়া দিবেন। কর্তাও তাহার হাতের চাউল ঐভাবে ছিটাইয়া দিবেন। তারপর ব্রাহ্মণগণ ও কর্তা মিলিতভাবে পরবর্তী মন্ত্র পড়িবেন। মন্ত্র যথা- দ্রষ্টব্য—যদি তিনজন ব্রাহ্মণের অভাব হয়, তবে সম্প্রদাতা নিজেই পূর্বোক্ত সূক্তটি পাঠ করিবেন। পূর্বের অংশ সমূহ তখন বাদ দিতে হইবে। ‘শুক্ল যজুর্বেদে স্বরবর্ণ পরে থাকিলে ‘ঘ’-কে ‘খ’-এর ন্যায় উচ্চারণ করিতে হয়। এইজন্য ‘পুষ’র উচ্চারণ ‘পূখা। এইরূপ উচ্চারণ না করিলে ভুল হইবে। মন্ত্রটি সামবেদেও আছে। সামবেদীদিগের পক্ষে ইহা গেয় মন্ত্র। গানাশক্তে ঋচব্রিধা’ ছন্দোগ-পরিশিষ্টের এই নিয়মানুসারে সামবেদিগণ ইহা তিনবার পড়িবেন। পুরােহিত সামবেদী হইলেও যজুৰ্বেদী যজমান এবং তাঁহার নিযুক্ত তিনজন ব্রাহ্মণ মন্ত্রটি একবার মাত্র পড়িবেন। অনুবাদে ‘ও-এর কোনও প্রতিশব্দ দেওয়া হইবে না। কারণ, ও' মন্ত্রের অংশ নয়, পড়িবার সময় বলিতে হয়।

যজুর্বেদীয় ও স্বস্তি ন ইত্রো বৃদ্ধবা, স্বস্তি নঃ পূষ। বিশ্বববদা। স্বস্তি ন স্তক্ষে অরিষ্টনেমিঃ, স্বস্তি নাে বৃহস্পতিধাতু। [ মা-বা-সং-২৫১৯, কা-বা-সং-২৭২৩] ওঁ স্বস্তি, ও স্বস্তি, ওঁ স্বস্তি। অনুবাদ-বৃদ্ধশ্রবাঃ (প্রভূতষশাঃ ) ইন্দ্রঃ (ই) নঃ (আমাদিগকে। স্বস্তি (কল্যাণ) ( দান করুন) বিশ্ববেদাঃ (সৰ্ব্বজ্ঞ) পূষা (পূনামক দেবতা) নঃ (আমাদিগকে) স্বস্তি ( কল্যাণ) ( দান করুন। অরিষ্টনেমিঃ ( অপ্রতিহতগতি আয়ুধ যাহার তাদৃশ ) তাক্ষঃ (গরুড়) (আমাদিগকে) স্বস্তি (কল্যাণ) দান করুন ), বৃহস্পতিঃ (বৃহস্পতি) ন (আমাদিগকে) স্বস্তি (কল্যাণ) দধাতু (স্থাপন করুন অর্থাৎ দান করুন )। ওঁ স্বস্তি { কল্যাণ হউক), ওঁ স্বস্তি (কল্যাণ হউক, ওঁ স্বস্তি (কল্যাণ হউক)। অতঃপর ব্রাহ্মণগণ ও কর্তা নিম্নোক্ত সাক্ষ্য-মন্ত্র পাঠ করিবেন- ওঁ সূৰ্যঃ সােমাে যমঃ কাল, সন্ধ্যে ভুতান্যহঃক্ষপা। পবননা দিক্‌পতিভূমি-রাকাশং খচরামরাঃ। ব্রাহ্মং শাসনমান্থায়, কল্পধ্বমিহ সন্নিধি। (মন্ত্রটি পৌরাণিক)।

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
অনুবাদ-সূর্যঃ (সূর্য), সােমঃ (সােম), যমঃ (যম), কালঃ (কাল)
সন্ধ্যে (দুইটি সন্ধ্যা ), ভূতানি (ভূতসমূহ, প্রাণিসমূহ) অহঃ (দিন), ক্ষপা
(রাত্রি ),পবনঃ (পবন), দিপতিঃ (দিপতি), ভূমিঃ(পৃথিবী),আকাশং
(আকাশ), খচরামরাঃ ( আকাশচারী প্রাণিগণ এবং অমরগণ) (হে
এই সব দেবতাগণ)(তােমর) ব্রাহ্মং (ব্ৰহ্মার) শাসনং (শাসন, আদেশ,
উপদেশ) আস্থায় (মানিয়া লইয়া) ইহ (এখানে) সন্নিধিং কল্পধ্ব
( সান্নিধ্য কল্পনা কর অর্থাৎ উপস্থিত থাক)।
উক্ত সাক্ষ্যমন্ত্র পাঠের পর কর্তা একটি পাত্রে গন্ধপুষ্পদ্বারা
বিঘ্ননাশাদির অর্চনা করিবেন। যথা-
৪।
এতে গন্ধপুষ্পে ও বিঘ্ননাশায় নমঃ।
এতে গন্ধপুষ্পে ও শিবাদিপঞ্চদেবতাভ্যো নমঃ।
এতে গন্ধপুষ্পে ও আদিত্যাদি-নবগ্রহেভ্যো নমঃ।
এতে গন্ধপুষ্পে ও ইন্দ্রাদি-দশদিপালেভভ্যা নমঃ।
এতে গন্ধপুষ্পে ও মৎস্যাদি-দশাবতারেভ্যো নমঃ।
৬। এতে গন্ধপুষ্পে ও শ্রীগুরবে নমঃ।
এতে গন্ধপুষ্পে ও নারায়ণায় নমঃ।
এতে গন্ধপুষ্পে ও সৰ্ব্বেতভা দেবেভ্যো নমঃ।
এতে গন্ধপুষ্পে ও সর্বাভ্যো দেবীভ্যো নমঃ।
তৎপরে এই অর্চনার সঙ্গে কৃতাঞ্জলি হইয়া পরবর্তী মন্ত্রদ্বয়
পাঠ করিতে হইবে। মন্ত্র যথা-

যজুর্বেদীয় ৭ ও ত্রৈলােক্যপূজিত শ্ৰীম, সদা বিজয়বর্ধন। শান্তিং কুরু গদাপাণে, নারায়ণ নমােহস্তুতে। ২। ওঁ সৰ্বমঙ্গলমঙ্গল্যং বরেণ্যং বরদং শুভ। নারায়ণং নমস্কৃত্য সৰ্ব্বকৰ্মাণি কারয়েৎ। (এই দুইটি মন্ত্র বৈদিক নহে) তারপর সঙ্কল্প- শ্রাদ্ধকারী দক্ষিণ জানু পাতিয়া উত্তরমুখ হইয়া বাম হস্তে একখানা কুশী রাখিয়া তাহাতে তিল, তুলসী, ত্রিপত্র ও হরীতকী দিয়া দক্ষিণ হস্তদ্বারা কুশীটি আচ্ছাদন করিয়া নিম্নোক্ত সঙ্কল্প-বাক্য পড়িবেন ܕ܀ এরে।তৎসদস্য অমুকে মাসি অমুক-রাশিন্থে ভাস্করে অমুকে পক্ষে অমুক্যাং তিথৌ অমুকগােত্রঃ শ্ৰীঅমুকশৰ্মা মদীয়- মুকপুত্রস্ত শ্ৰীঅমুকশৰ্ম্মণঃ শুভমুককৰ্ম্মাভদাের্থং সগণাধিপ- গৌৰ্যাদি-যােড়শমাতৃকাপূজা-বসােধারাসম্পাতনায়ুষ্যসূক্তজপা- ভদয়িক শ্রাদ্ধান্যহং করিষে। * *ভ্রষ্টব্য—প্রতিনিধি কাজ করিলে ভাষার যথাযােগ্য পরিবর্তন করিয়া নিতে হইবে। কন্যা হইলে ‘মদীয়ামুকায়া বলিতে হইবে। বসু-শব্দ পুংলিঙ্গ। উহার ষষ্ঠীর একবচনে ‘বসােত হয়। বসােঃ খারা বসোধারা (অলুক সমাস, যতীতৎপুরুষ।) মােট কাৰ্য চারিটি—(১) সগণাধিপ-গৌৰ্যাদি-যােড়শমাতৃকাপুজা, (২) বসুধারা- সম্পাতন, (৩) আয়ুষ্যসূক্তজপ এবং (৪) আয়িক শ্রাদ্ধ।

আদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি তৎপর কুশীর জল ঈশান-কোণে ফেলিয়া কুশীটি উপুড় করিয়া রাখিয়া তদুপরি কিছু আতপ চাউল দিয়া করযােড়ে নিম্নোক্ত সঙ্কল্পসুক্ত পাঠ করিবেন- ওঁ যজ্জাতে দূর-মুদৈতি দৈৰং, তদু সুগু তথৈবৈতি। দূরঙ্গমং জ্যোতিষাং জ্যোতিরেকং, তন্মে মনঃশিবসঙ্কল্প-মস্তু। [ মা-বা-সং-৩৪১,] [ কা-বা-সং-৩৩১] অনুবাদ-যৎ (যে) (মন) জাগ্ৰতঃ (জাগরিত ব্যক্তির) দূর ( দূরে ) উদৈতি (গমন করে ), (যাহা) দৈবং (আত্মায় অবস্থিত) তৎ উ (এবং যাহা) সুপ্ত ( নিদ্রিত ব্যক্তির) তথা (সেইরূপই) এব (ই) এতি ( নিকটে আসে ), (যাহা) দূরঙ্গমস্ (সৰ্ব্বাপেক্ষা দূরগামী) (এবং যাহা) জ্যোতিষাং (চক্ষুরাদি ইন্দ্রিয়সমূহের) একম্ ( একমাত্র) জ্যোতিঃ (প্রবর্তক), তৎ (সেই) মে (আমার) মনঃ (মন) শিব- সঙ্কল্প (ধর্মচিন্তাপরায়ণ ) অস্তু (হউক)। সঙ্কল্পসুক্ত পাঠের পর কর্তা কৃতাঞ্জলি হইয়া বলিবেন— , ওঁ সঙ্কল্পিতেহস্মিন্ কৰ্ম্মণি সিদ্ধিরস্তু। পুরােহিত ( প্রতিবচন)—ওঁ অস্তু। কর্তা (কৃতাঞ্জলি হইয়া)—ওঁ অয়মারম্ভঃ শুভায় ভবতু। পুরহিত (প্রতিবচন)—ওঁ ভবতু।

যজুর্বেদীয়
গৌরী প্রভৃতি যােড়শমাতৃকা-পূজার পূর্বে গণাধিপের
পূজা করিতে হয়।
(গণাধিপ=গণেশ = গণপতি=বিনায়ক= হেরম্ব।)
গণাখিল বা গণেশের পূজা
আবাহন-(আবাহনী মুদ্রায়) ওঁ ভূভুবঃস্বঃ গণপতে
ইহাগচ্ছ ইহাগচ্ছ।
(সংস্থাপনী মুদ্রায়) ইহ তিষ্ঠ ইহ তিষ্ঠ।
(সন্নিধাপনী মুদ্রায়) ইহ সন্নিধেহি।
(সন্নিবােধিনী মুদ্রায়) ইহ সন্নিরুধ্যস্ব।
(সম্মুখীকরণী মুদ্রায়) অত্রাধিষ্ঠানং কুরু, মম
পূজাং গৃহাণ।
[ আবাহন্যাদি পঞ্চমুদ্রা
আবাহনী মুদ্রা-(১) উত্তান ( চিৎ)-ভাবে অঞ্জলি করিয়া উভয়
অঙ্গুষ্ঠ উভয় অনামিকা-মূলে যােগ করিয়া ও অমুকদেবতে ইহাগচ্ছ
ইহাগচ্ছ’ বলিবে।
সংস্থাপনী মুদ্রা-(২), ঐরূপ অঞ্জলিকে অঘােমুখ করিয়া ‘ইহ
তিষ্ঠ ইহ তি’ বলিবে।

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
সন্নিধাপনী মুদ্রা-(৩) অঙ্গুষ্ঠদ্বয় বাহিরে রাখিয়া উভয় মুষ্টি
পরস্পর মুখামুখি সংযােগ করিয়া ‘ইহ সন্নিধেহি’ বলিবে।
সঙ্গিনােখিনী মুদ্রা-(৪) ঐ মুষ্টিদ্বয়ের মধ্যে অঙ্গুষ্ঠদ্বয়কে প্রবেশ
করাইয়া ‘ইহ সন্নিরুধ্যস্ব’ বলিবে।
সম্মুখীকরণী মুদ্রা—৫) ঐরূপ মুষ্টিদ্বয়কে চিৎ করিয়া ‘অত্রাধিষ্ঠানং
কুরু, মম পূজাং গৃহাণ’ বলিবে।]
পূজা-(১) এতৎ পাদ্যম্ ওঁ গণপতয়ে নমঃ।
(২) এযােহঃ ওঁ গণপতয়ে নমঃ।
(৩) ইদমাচমনীয়ম্ ওঁ গণপতয়ে নমঃ।
(৪) ইদং স্নানীয়জলম্ ওঁ গণপতয়ে নমঃ।
(৫) ইদমাচমনীয়ম্ ওঁ গণপতয়ে নমঃ।
(৬) এষ গন্ধ ওঁ গণপতয়ে নমঃ।
(৭) এতৎ পুষ্পম্ ওঁ গণপতয়ে নমঃ।
(৮) এষ ধূপঃ ওঁ গণপতয়ে নমঃ।
(৯) এষ দীপঃ ওঁ গণপতয়ে নমঃ।
(১০) এতৎ বটপত্রস্থ-ভােজ্য-নৈবেদ্যম ও গণপতয়ে
নমঃ।
(ক) ইদং পানাথজলম্ ওঁ গণপতয়ে নমঃ।
(খ) ইদমাচমনীয়ম্ ওঁ গণপতয়ে নমঃ।
(গ) ইদং তাম্বুলম্ ওঁ গণপতয়ে নমঃ।

যজুৰ্বেদীয়
১১
প্রার্থনা করযোড়ে )
ওঁ দেবেন্দ্রমৌলিমন্দারমকরন্দকণারুণাঃ।
বিঘ্নং হরন্তু হেরম্বচরণাম্বুজরেণবঃ ॥
(পৌরাণিক মন্ত্র)
প্রণাম—ওঁ একদন্তং মহাকায়ং লম্বােদরং গজানন।
বিঘ্ননাশকরং দেবং হেরম্বং প্রণমাম্যহম্ ।
(পৌরাণিক মন্ত্র )
গৌরী প্রভৃতি ষােড়াশমাতৃকা-পূজা
এবং
যােড়শমাতৃকার নাম—(১) গৌরী, (২) পদ্মা, (৩) শচী,
(৪) মেধা, (৫) সাবিত্রী, (৬) বিজয়া, (৭) জয়া, (৮)
দেবসেনা, (৯) স্বধা, (১০) স্বাহা, (১১) শান্তি, (১২)
পুষ্টি, (১৩) ধৃতি, (১৪) তুষ্টি, (১৫) আত্মদেবতা
(১৬) কুলদেবতা।
[ এই ১৬টি নামের মধ্যে গৌরী, শচী, সাবিত্রী—এই তিনটি
শব্দ ঈকারান্ত স্ত্রীলিঙ্গ। ইহাদের (ক) চতুর্থীর একবচনে
যথাক্রমে গোৰ্য্যৈ, শচ্যৈ ও সাবিত্র্যৈ ; (খ) সম্বােধনের
একবচনে যথাক্রমে গৌরি, শচি ও সাবিত্রি, এবং (গ)
।
;

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি দ্বিতীয়ার একবচনে গৌরী, শচীম্ ও সাবিত্রী হয়। পদ্মা, মেধা, বিজয়া, জয়া, দেবসেনা, স্বধা, স্বাহা, আত্মদেবতা এবং কুলদেবতা—এই নয়টি শব্দ আকারান্ত স্ত্রীলিঙ্গ। ইহাদের (ক) চতুর্থীর একবচনে যথাক্রমে পদ্মায়ৈ, মেধায়ৈ, বিজয়ায়ৈ, জয়ায়ৈ, দেবসেনায়ৈ, স্বধায়ৈ, স্বাহায়ৈ, আত্মদেবতায়ৈ ও কুলদেবতায়ৈ ; (খ) সম্বােধনের একবচনে যথাক্রমে পদ্মে, মেধে, বিজয়ে, জয়ে, দেবসেনে, স্বধে, স্বাহে, আত্মদেবতে ও কুলদেবতে এবং (গ) দ্বিতীয়ার একবচনে পদ্মা, মেধা, জয়াম, জয়াম, দেবসেনা, স্বধা, স্বাহাম, আত্মদেবতা ও কুলদেবতাম্ হইবে। শান্তি, পুষ্টি, ধৃতি ও তুষ্টি—এই চারিটি ইকারান্ত স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ। ইহাদের (ক) চতুর্থীর একবচনে যথাক্রমে শান্ত্যৈ বা শান্তয়ে, পুষ্ট্যৈ বা পুষ্টয়ে, ধৃত্যৈ বা ধৃতয়ে, তুষ্ট্যৈ বা তুষ্টয়ে ; (খ) সম্বােধনের একবচনে যথাক্রমে শান্তে, পুষ্টে, ধৃতে ও তুষ্টে এবং (গ) দ্বিতীয়ার একবচনে যথাক্রমে শান্তি, পুষ্টিম, ধৃতিম্ ও তুষ্টি হইবে। “মাতৃ’-শব্দের চতুর্থীর একবচনে ‘মাত্রে’, সম্বােধনের একবচনে মাতঃ এবং দ্বিতীয়ার একবচনে মাতরম্ হইবে। মাতৃকা ও ‘মা’ একই। ব্যঞ্জনবর্ণ পরে থাকিলে দ্বিতীয়ান্ত পদগুলির অন্ত্য ‘ম’’ হইয়া যায়।] সগণাধিপ-যােড়শমাতৃকা-পূজা স্বশক্তি ও অনুসারে দশােপচারে, পঞ্চোপচারে অথবা শুধু গন্ধপুষ্প দ্বারাও করা যায়। এই পূজাতে প্রাণায়াম, কন্যাস, • সময়

যজুর্বেদীয়
১৩
অঙ্গন্যাস, ধ্যান ও মানসপূজা নাই। প্রণাম আছে। গণাধিপ
ভিন্ন যােনজন মাতৃকার বিসর্জনও আছে।
জপ এবং
জপসমর্পণ নাই।
ভিন্ন ভিন্ন দেশে সগণাধিপ-ঘােড়শমাতৃকা-পূজার ভিন্ন
ভিন্ন প্রণালী দেখা যায়। একটি প্রণালী নিম্নে দেওয়া গেল।
(১) প্রণালী—কর্তা পূৰ্বমুখ হইয়া বসিবেন। তাহার
সম্মুখে উত্তর হইতে দক্ষিণে এক সারিতে ৯টি এবং ঐরূপ আর
এক সারিতে ৮টি—মােট ১৭টি বটপাতা পাশাপাশি পর পর
রাখিবেন।
(২) তাহাদের পূর্বদিকে দুই সারিতে পিটুলি দ্বারা
৯টি ও ৮টি—মােট ১৭টি গােলাকৃতি মণ্ডল আঁকিবেন।
(৩) প্রত্যেক মণ্ডলে একটু একটু সিন্দুর দিবেন।
(৪) তৎপরে প্রত্যেক মণ্ডলে কিছু কিছু ধান্য দিবেন।
(৫) ১৭টি বটপাতার উপর ১৭টি ভােজ্য সাজাইবেন।
܀
(৬) ১৭টি
ধান্যপুঞ্জে গণেশ ও ষােড়শমাতৃকাকে
আবাহন করিয়া পূজা করিবেন।
(৭) ১৭টি ভােজ্যকে ১৭জন দেবতার উদ্দেশ্যে নৈবেদ্যের
পরিবর্তে নিবেদন করিবেন।
}

১৪ আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি (৮) আবাহনের সময়ে যে ধান্যপুঞ্জের উপর যে দেবতাকে বসাইবেন, কৰ্ত্তা সেই পুঞ্জের দিকে দৃষ্টি করিবেন। (১) উপচার নিবেদন করিবার সময়েও কোন্ পুঞ্জে কাহাকে বসাইয়াছেন তাহা মনে রাখিবেন। (১০) এক দেবতার উদ্দেশ্যে প্রদত্ত উপচার যেন ভুলে অন্য দেবতার পুঞ্জে না দেওয়া হয়। (১) গৌরীমাতৃকা-পূজা-আবাহন (কৃতাঞ্জলি হইয়া) ও গৌরীং মাতরমহমারােপয়ামি। ওঁ গৌরি মাতরিহাগচ্ছ ইহাবহ। হইবে। পূজা-তৎপরে পূজা ও প্রণাম পূৰ্ব্ববৎ নিয়মে করিতে কেবল সম্বােধনস্থলে ‘গৌরি মাতঃ' এবং নিবেদনস্থলে ‘গৌৰ্য্যৈ মাত্রে নমঃ'—এইরূপ বাক্য- ভেদ আবশ্যক। বিসর্জন—ওঁ গৌরি মাতঃ ক্ষম। অন্যান্য মাতৃকার পূজা—এইরূপ নিয়মেই নাম ভেদানু- সারে বাক্যভেদ করিয়া যথাক্রমে (১) পদ্মা, (২) শচী, (৩) মেধা, (৪) সাবিত্রী, (৫) বিজয়া, (৬) জয়া, (৭) দেবসেনা, (৮) স্বধা, (৯) স্বাহা, যজুৰ্বেদীয় (১০) শান্তি, (১১) পুষ্টি, (১২) ধৃতি, (১৩) তুষ্টি, (১৪) আত্মদেবতা ও (১৫) কুলদেবতা- ইহাদের প্রত্যেকের পূজা করিতে হইবে। ষােড়শােপচারের পূজায় বস্ত্র একটি উপচার। দশােপ- চারের পূজায় বস্ত্র বলিয়া কোনও উপচার নাই। তবে, ইচ্ছা করিলে দশােপচার ও অতিরিক্ত তিনটি উপচার নিবেদন করার পর ‘এতবস্ত্রম্ ওঁ অমুকদেবতায়ৈ নমঃ -এই বলিয়া বস্ত্র নিবেদন করা যাইতে পারে। সুতরাং যােড়শমাতৃকার মধ্যে মাত্র একজনকে একখানি লালসাড়ী দেওয়ার প্রয়ােজন দেখা যায় না।. দিতে হইলে যােলজন মাতৃকার জন্য ১৬খানা সাড়ী দিতে হয়। এরূপ ব্যয়বৃদ্ধি কেহ সমর্থন করিবেন না। অনেক স্থলে যােড়শমাতৃকাকে একখানি সাড়ী দেওয়ার প্রথা আছে। একখানি সাড়ী দিতে হইলে নিম্নলিখিত উপায় অবলম্বনীয় (১) গণপতির পূজার পর প্রত্যেক মাতৃকাকে দশােপচারে পূজা করিবেন। (২), তারপর সাড়ীখানা ‘এত বস্ত্রম্ ওঁ গৌৰ্যাদি। ঘােড়শমাতৃকাভভ্যা নমঃ' বলিয়া নিবেদন করিবেন। (৩) তারপর সকল মাতৃকাকে ‘ওঁ গৌৰ্যাদি-মােড়শ- মাতৃকাভ্যো নমঃ' বলিয়া প্রণাম করিবেন।

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি (৪) তারপর তারপর ‘ওঁ ও গৌৰ্য্যাদি-যােড়শমাতৃকাঃ, ক্ষমধ্ব বলিয়া বিসৰ্জন করিবেন। বসুধারা-সম্পাতন-[ সঙ্কল্পবাক্যে ‘বসােধারা' বলিতে হয়, যেহেতু উহা অলুক্সমাসনিষ্পন্ন শব্দ। বসু-শব্দ পুংলিঙ্গ ও ঘৃতবাচক এবং পুৰ্বকালে চেদিদেশে বসু-নামে এক রাজা ছিলেন। অতএব, বসুধারা- শব্দের অর্থ “ঘতের ধারা অথবা চেদিরাজ বসুর উদ্দেশ্যে ধারা। মহাভারতের শান্তি-পৰ্বান্তৰ্গত মােক্ষধৰ্ম্ম-প্রকরণে চেদিরাজ বসুর উপাখ্যান আছে। এ সম্বন্ধে বােম্বাই নির্ণয়সাগর প্রেসে মুদ্রিত মহাভারতের শান্তিপর্বের (মোক্ষধৰ্ম) ৩৪৩ ৩৪৪৩৪৫ অধ্যায়, কালীপ্রসন্ন সিংহের বাঙ্গাল। মহাভারতের শান্তিপর্ব (মােক্ষ) ৩৩৬৩৩৭৩৩৮ অধ্যায় এবং বঙ্গবাসী-সংস্করণ মহাভারতের শান্তিপর্ব (মেক্ষি ) ৩৩৫/৩৩৬৩৩৭ অধ্যায় দ্রষ্টব্য। ] । প্রণালী–গৃহের একটি দেওয়ালে নাভিপ্রমাণ উর্দ্ধে একটু গােময় লাগাইয়া তাহাতে পাঁচটি কড়ি বসাইবেন। কড়িগুলির পৃষ্ঠদেশ গােময়ের দিকে থাকিবে। গােময়যুক্ত স্থানের নীচে একটি সিন্দুরের ছােট পুতুল আঁকিবেন। তাহার নীচে গৃহের মেজের সঙ্গে সমান্তরাল করিয়া ৫টি বা ৭টি সিন্দুরের ফোঁটা দিবেন। ঐ সমস্ত ফেঁটা হইতে যথাক্রমে ঘৃতধারা দেওয়ালের মূল পৰ্য্যন্ত পাতিত করিবেন। প্রত্যেকবার ধৃতধারা পতনের সময় নিম্নলিখিত মন্ত্রটি পড়িবেন - ও বললাঃ পবিত্রমসি শতবারং, বসােঃ পবিজমসি সহস্রধার। ৭ যজুৰ্বেদীয় ১৭ দেব। সবিতা পুনাতু বসােঃ পবিত্রেণ শতধারেণ সুপ। কামধুক্ষঃ। [ মা-বা-সং-১৩, কা-বা-সং-Weber-১২২, ১২াত, কা-বা-সং-উৎকল-১১৫, ১৬ ] অনুবাদ –[ হে পবিত্র (দুধ-ছাকুনি),] (তুমি) বসােঃ ( ঘৃতের উপাদানভূত দুগ্ধের) শতধারং (শতধারাযুক্ত) পবিত্রম্ (শােধনকারি ) অসি (হও)। (তুমি) বসােঃ (ঘৃতের উপাদানভূত দুগ্ধের) সহস্রধারং (সহস্রধারাযুক্ত)। পবিত্রম্ (শােধনকারি) অসি (হও)। (হে দুগ্ধ,) দেবঃ সবিতা (সবিতৃদেব) ত্বা (তােমাকে) বসােঃ (বসুর, তােমার) শতধারেণ (শতধারাযুক্ত) সুপু। পবিত্ৰেণ (সুষ্ঠুপবিত্ৰকারি- ছাঁকুনিদ্বারা) পুনাতু (পবিত্র করিয়াছে।) (হে গােপ,) (তুমি) কাম্ (কোন গাভীকে) অধুক্ষঃ (দোহন করিয়াছ?) [ অধুক্ষঃ-দুহ, ধাতুর লুঙ, মধ্যমপুরুষের একবচন।] তারপর ঐ ধারাগুলি যে স্থলে দেওয়ালের মূলের সহিত মিলিত হইয়াছে, কর্তা সেখানে চেদিরাজ-বসুর আবাহন, পূজা ও বিসৰ্জন করিবেন। ধ্যান, এই পূজায় প্রাণায়াম, প্রাণায়াম, অন্যাস, কন্যাস, মানসপূজা, জপ ও জপসমর্পণ নাই। আবাহন-আবাহনী প্রভৃতি পঞ্চমুদ্রায় (ক) ওঁ চেদিরাজ- বসাে, ইহাগচ্ছ ইহাগচ্ছ, (খ) ইহ তিষ্ঠ ইহ তিষ্ঠ, (গ) ইহ

১৮
আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
সন্নিধেহি, (ঘ) ইহ সন্নিধ্যস্ব, (ঙ) অত্ৰাধিষ্ঠানং কুরু, মম পূজাং
গৃহাণ।
পূজা -(পঞ্চোপচারে )
(১) এষ গন্ধঃ ওঁ চেদিরাজ-বসবে নমঃ।
(২) এতৎ পুস্পম্ ওঁ চেদিরাজ-বসবে নমঃ।
(৩) এষ ধূপঃ ওঁ চেদিরাজ-বসবে নমঃ।
(৪) এব দীপঃ ওঁ চেদিরাজ-বসবে নমঃ।
(৫) এত নৈবেদ্যম্ ওঁ চেদিরাজ-বসবে নমঃ।
প্রণাম—ওঁ চেদিরাজ নমস্তুভ্যং শাপগ্রস্ত মহামতে।
ক্ষুৎপিপাসানুদে দান্ত চেদিরাজ নমােহন্তু তে।
বিসর্জন—ওঁ চেদিরাজ-বসাে, ক্ষমস্ব’-এই বলিয়া যেস্থানে
চেদিরাজ-বসুকে পূজা করা হইয়াছে, সেই স্থানে
জলের ছিটা দিতে হইবে।
আয়ুষ্যসূক্তজপ—একবার মাত্র)
সূক্ত যথা-
(১) ও আয়ুষ্যং বচ্চস্যগু রায়ম্পােষমৌভি।
ইদণ্ড হিরণ্যং বর্ড,জ্জৈায়াবিশদু মা।
[ মা-বা-সং-৩৪৫৩,
কাবা-সং-উৎকল-৩৩৩৮ ]

যজুর্বেদীয়
ওঁ ন তদ্রক্ষাগুসি ন পিশাচাস্তরক্তি,
দেবানামােজঃ প্রথমজগুহ্যেৎ।
যাে বিভৰ্ত্তি দাক্ষায়ণ হিরণ্যগু,
স দেবেষু কৃণুতে দীর্ঘমায়ুঃ
স মনুষেষু কৃণুতে দীর্ঘমায়ুঃ।
[ মা-বা-সং-৩৪৫,
কা-বা-সং-উৎকল-৩৩৩৯ ]
ওঁ যদাৰ দাঙ্গায়ণ হিরণ্য
শতানীকায় সুমনমানা ঃ।
তন্স আ বপ্নামি শতশারদা-
সিম, ।
[ মা-বা-সং-৩৫৫২,
কা-বা-সং-উৎকল-৩৩৩৯ ]
অনুবাদ-(১) আয়ুষ্যং ( আয়ুর পক্ষে হিতকর) বচ্চস্যং (তেজের
পক্ষে হিতকর) রায়স্পােষম্ (ধনবৰ্ধক) ঔদ্ভিদং (স্বর্গপ্রাপক) বচ্চস্বদ
( অন্নবৃদ্ধিকারি) ইদং (এই) হিরণ্যং (সুবর্ণ ) জৈত্রায় ( জয়লাভের
জন্য) মাম্ উ( আমাতেই) আবিশৎ ( অবস্থান করুক)।
অনুবাদ-(২) হি (যেহেতু) এতৎ (এই সুবর্ণ) দেবতানাং
( দেবতাদিগের) প্রথমম্ (প্রথমােৎপন্ন ) ওজঃ (তেজ ), (সেই হেতু)
রক্ষাংসি ( রাক্ষসেরা ) তৎ (ইহাকে) ন (হিংসা করিতে পারে না।
(এবং) পিশাচাঃ ( পিশাচেরাও) নরত্তি হিংসা করিতে পারে না)।

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি ষ (যে) (এই) দাঙ্গায়ণং হিরণ্যং (হিরণ্যকে অলঙ্কাররূপে) বিভৰ্ত্তি ( ধারণ করে ), সঃ (সে) দেবেষু (দেবলােকেও) ( আপন) আয়ু ( আয়ুকে) দীর্ঘং (দীর্ঘ) কৃণুতে (করে) (এবং) মনুষেযু ( মনুষ্য-- লোকেও) সঃ (সে) ( আপন) আয়ুঃ ( আয়ুকে) দীর্ঘং (দীর্ঘ) কৃণুতে করে)। অনুবাদ-(৩) দাক্ষায়ণাঃ ( দক্ষবংশােৎপন্ন ) ( ব্রাহ্মণেরা ) সুমনমানাঃ (প্রসন্নচিত্ত হইয়া) শতানীকায় (রাজাতে, রাজার অঙ্গে) যৎ ( যে) হিরণ্যম্ (হিরণ্য) আবধু (বন্ধন করিয়াছিলেন) তৎ (তাহা) শতশারদায় (শতবর্ষব্যাপি-জীবনের জন্য ) মে ( আমাতে) আ বধামি (বন্ধন করিতেছি )। (তাহার ফলে) (আমি) যথা ( যেন ) আয়ুষ্মন্ (দীর্ঘজীবী) (সুতরাং) জরদষ্টি (জরাপ্রাপ্তি-পৰ্য্যন্ত-জীবী ) অসম্ (হইতে পারি)। দ্রষ্টব্য-(১) যজুর্বেদে র, শ, ষ, স এবং হ পরে থাকিলে অনুস্বার স্থানে ‘প্ত হয়। ইহার ঠিক উচ্চারণ বাঙ্গালায় করা কঠিন। তবে ইহা প্রায় “ও”-এর মত। এইজন্য এই পদ্ধতিতে আমরা ইহাকে ‘গু’ দ্বারাই নির্দেশ করিব। উদাহরণ-(ক) বর্গম্ রায়ম্পােষ বং রায়ম্পােষ বঙ্গ রায়ম্পােষম্ ; (খ) হিরণ্যম্ + শতানীকায় হিরণ্যং শতানীকায় = হিরণ্যগু শতানীকায়। : (গ) প্রণ আয়ুংষি তারিষৎ = প্ৰণ আয়ুঙষি তারিষৎ; (ঘ) ' রক্ষাংসি রক্ষাংসি = রক্ষাগুসি ;

যজুর্বেদীয় ২১ (ঙ) প্রথমজম্ + হেতৎ = প্রথমজং হেতৎ=প্রথমজ হেতৎ ইত্যাদি। দ্রষ্টব্য-(২) বিশতাৎ=বিশ+তাতঙ। তাত=তাৎ। তু স্থানে তাতঙ, হি স্থানে তাত, আশীৰ্বাদ বুঝাইলে। তরন্তিতু+লট অস্তি। তু-প্লবতরণয়াের। কিন্তু এখানে ধাতুনামনেকাথাৎ তু হিংসায়াম্। কৃণুতে—স্বাদি কৃঞ, হিংসায়াম্। এখানেও ধাতুনামনে- কার্থাৎ কৃঞ, করণে, লট কৃপােতি কৃণুতে। ভুক্ক-করণে। লট কৰােতি, কুরুতে। কৃবি—হিংসাকরণয়ােশ। চকারাদগতো। লট, কৃপােতি। এখানে স্বাদি ‘ক’-ই বুঝিতে হইবে। দ্রষ্টব্য-(৩) অসম্—অদাদি অ-লেন্টু মিপ। বিবাহে সুপ্রসিদ্ধ পাণিগ্রহণের মন্ত্রে যথাসঃ পাওয়া যায়। যথাসঃ =যখা+অসঃ । অসঃ—অদাদি অস+লেট, সিপ। দ্রষ্টব্য-(৪) ‘আয়ুষ্যক্ত’ মধ্যে পুনঃ পুনঃ ‘হিরণ্যের কথা আছে। অথচ হিরণ্য (স্বর্ণ ) কাজের সময় আনা হয় না। যজুৰ্বেদীয় প্রসঙ্গের হিরণ্য যেরূপ তদ্রুপ ফলপ্রদ। দক্ষবংশীয় ব্রাহ্মণগণ রাজার হাতে অলঙ্কার-স্বরূপ হিরণ্য পরাইয়া দেওয়ার জন্যই ‘দাক্ষায়ণং’ শব্দের অর্থ ‘অলঙ্কার’ হইয়াছে। দ্রষ্টব্য-(৫) একটি বৈদিক মন্ত্রে বা কয়েকটি বৈদিক মন্ত্রের সমষ্টিতে একটি সূক্ত হয়। এখানে তিনটি , মন্ত্রের সমষ্টিতে একটি সূক্ত হইয়াছে। দ্রষ্টব্য-(৬) আয়ুষ্য = আয়ুর হিতকর। এই সূক্ত জপ করিলে সংস্কার্যের অর্থাৎ যাহার উপনয়ন, বিবাহ প্রভৃতি সংস্কার হইতেছে তাহার আয়ু বৃদ্ধি পাইবে। এইজন্য ইহার নাম আয়ুষ্যসূক্ত।

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি আদমিক শ্রাদ্ধ (সূচনা) [ যজুৰ্বেদীদিগের শ্রাদ্ধকাৰ্য্য হলায়ুধের ‘কর্মোপদেশিনী'- পুস্তকানুসারে সম্পন্ন হইয়া থাকে। দুঃখের বিষয় ‘কর্মোপদেশিনী’র বিশুদ্ধপাঠযুক্ত সংস্করণ দুর্লভ। বর্তমান পদ্ধতিতে যতদূর সম্ভব ‘কর্মোপদেশিনী’র শুদ্ধ পাঠ অবলম্বনে আভদয়িক শ্রাদ্ধের বিষয় লিখিত হইবে। কর্মোপদেশিনী’র হলায়ুধ ‘ব্রাহ্মণসৰ্বম্বের’ হলায়ুধ হইতে স্বতন্ত্র। তবে, এই হলায়ুধ ‘ব্রাহ্মণসৰ্বম্বের হলায়ুধের পরবর্তী এবং স্মার্ত রঘুনন্দন ভট্টাচাৰ্য মহাশয়ের পূর্ববর্তী। স্মার্ত রঘুনন্দন ভট্টাচাৰ্য মহাশয় ‘শ্রাদ্ধতত্ত্ব” ও যজুর্বেদীয় শ্রাদ্ধতত্ব’-নামে শ্ৰদ্ধবিষয়ক দুইখানি পৃথক্ পুস্তক লিখিয়াছেন। শ্রদ্ধতত্ব’ বিশুদ্ধভাবে মুদ্রিত হইয়াছে কিন্তু যজুৰ্বেদীয় শ্রাদ্ধতত্ত্ব অষ্টাবিংশতি তত্ত্বের অংশরূপে বটতলা হইতে এবং জীবানন্দ বিদ্যাসাগরকর্তৃক প্রকাশিত হইয়াছিল। তৎপরে ‘যজুৰ্বেদীয় শ্রদ্ধতত্ব পুনর্মুদ্রিত হয় নাই ; কিন্তু উহা একখানি উপাদেয় গ্রন্থ। অনেকস্থলে স্মার্ত ভট্টাচাৰ্য মহাশয় ঐ গ্রন্থে ‘কম্মোপদেশিনী’র মত খণ্ডন করিয়াছেন এবং একথাও ঠিক যে, যজুৰ্বেদি-সমাজে রঘুনন্দনের নুতন মত গৃহীত হয় নাই। তথাপি, বর্তমান পদ্ধতি লিখিবার সময় তাহার লেখা হইতে অনেক সাহায্য পাইয়াছি।] আভদয়িক শ্রদ্ধের কাৰ্য্য অত্যন্ত দীর্ঘ। আবার, প্রচলিত পদ্ধতিসমূহের মধ্যেও অনেক অনৈক্য দৃষ্ট হয়। এইজন্য এই কার্যে অনেক . ভ্ৰম-প্রমাদ হওয়ার সম্ভাবনা। আমি যথাসাধ্য সরলভাবে ইহার বর্ণনা করিব। আদয়িক শ্রা, বৃদ্ধি, নালী- এ ও নান্দীমুখ-শ্রা-এই নামগুলি একাবােক।

যজুর্বেদীয় ২৩ - ‘অত্যুদয়-শব্দের অর্থ সমৃদ্ধি। এই শ্রাদ্ধ করিলে অ্যুদয় বা সমৃদ্ধি লাভ হইবে, এইজন্য ইহার নাম ‘আভদয়িক শ্রাদ্ধ। এই শ্রাদ্ধপ্রসঙ্গে মাঝে মাঝে ‘অভ্যুদয়ার্থ- এই সংস্কৃত শব্দটি পাওয়া যাইবে। ইহার অর্থ “সমৃদ্ধিলাভের নিমিত্ত অথবা সমৃদ্ধির নিমিত্ত। “বৃদ্ধি এবং নান্দী'-শব্দের অর্থও ‘সমৃদ্ধি’ ‘নাশী-শব্দের আর একটি অর্থ ‘প্রসন্ন। নান্দীমুখ’-শব্দের অর্থ ‘প্রসন্নমুখ। গৃহ্যসূত্রকারগণ এই শ্রাদ্ধকে কেবলমাত্র ‘আভদয়িক শ্রাদ্ধ’-নামে অভিহিত করিয়াছেন। এইজন্য অভিলাপে অর্থাৎ বাক্যে সৰ্ব্বদাই ‘আভদয়িক’-শব্দ ব্যবহার করিতে হইবে। “বৃদ্ধিশ্রাদ্ধ’, ‘নান্দীশ্রাদ্ধ’ কিংবা নান্দীমুখ-শ্রাদ্ধ’-শব্দ ব্যবহার করিলে ভুল হইবে, যদিও পূর্বোক্ত চারিটি শব্দই একার্থবােধক। এই শ্রাদ্ধের কয়েকটি বিশেষত্ব এই ? ১। ইহা প্রাতঃকালে করিতে হয়। ২। ইহাতে দেব, মাতৃ, পিতৃ ও মাতামহ—এই চারিটি পক্ষ আছে। প্রথমতঃ দেবপক্ষের, তৎপরে মাতৃপক্ষের, তৎপরে পিতৃপক্ষের এবং সর্বশেষে মাতামহপক্ষের কাজ করিতে হয়। দক্ষিণার ক্রম—মাতৃপক্ষ, পিতৃপক্ষ, মাতামহপক্ষ এবং তৎপরে দেবপক্ষ। (১) মাতৃপক্ষ বলিতে মাতা, পিতামহী ও প্রপিতামহীর পক্ষ। (২) পিতৃপক্ষ বলিতে পিতা, পিতামহ ও প্রপিতামহের পক্ষ এবং (৩) মাতামহপক্ষ বলিতে মাতামহ, প্রমাতা- মহ ও বৃদ্ধপ্রমাতামহের পক্ষ বুঝিতে হইবে। কোনও পক্ষের কেহ জীবিত থাকিলে, সেই পক্ষে সেইস্থলে পুর্ববর্তী আর একটি নাম গ্রহণ করিতে হইবে।

২৪ আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি ৩। ইহাতে প্রত্যেক পক্ষের জন্য দুইটি দুইটি করিয়া মােট আটটি দর্ডময়ব্রাহ্মণ বসাইয়া কাজ করিতে হয়। [ সাম- বেদীদিগের আভদয়িক শ্রদ্ধে মাতৃপক্ষ নাই। এইজন্য তাহাদের আভদয়িক শ্রাদ্ধে প্রত্যেক পক্ষের জন্য দুইটি দুইটি করিয়া মােট ছয়টি দৰ্ভময়ব্রাহ্মণ বসাইয়া কাজ করিতে হয়।] ৪। ইহাতে দেবপক্ষের কাজ যে ভাবে করিতে হয়, অন্যান্য পক্ষের কাজও সেই ভাবেই করিতে হয়। এই সম্বন্ধে ছন্দোগপরি- শিষ্টকার কাত্যায়ন বলেন- ‘সদা পরিচয়ে ভক্ত্যা পিতৃপ্যত্র দৈববৎ। অনুবাদ—এই শ্রাদ্ধে সর্বদা ভক্তিপূৰ্ব্বক পিতৃলােকদিগকে দেবগণের ন্যায় পরিচৰ্য্যা করিবে । কাত্যায়নের এই উক্তি সামবেদী ও যজুর্বেদী—উভয়ের পক্ষে প্রযােজ্য। এই কারণেই অভদয়িক শ্রদ্ধে কোন স্থলেই পিতৃতীর্থের ব্যবহার নাই। সর্বদাই দেবতীর্থ ব্যবহার করিতে হয়। ৫। ইহাতে সকল পক্ষের কাজই, উপবীতী হইয়া করিতে হয়। পাৰ্বণশ্রাদ্ধের ন্যায় মাতৃ, পিতৃ ও মাতামহপক্ষের কাজ প্রাচীনাবীতী হইয়া (উল্টাভাবে পৈতা পরিয়া অর্থাৎ যজ্ঞােপবীত দক্ষিণ স্কন্ধের উপর হইতে বাম বাহুর নীচের দিকে ঝুলাইয়া) করিলে ভুল হইবে। দেব- পক্ষ থাকিলে সকল শ্রাদ্ধেই ঐ পক্ষের কাজ উপবীতী হইয়া (অর্থাৎ স্বাভাবিক ভাবেই পৈতা রাখিয়া ) কাৰ্য্য করিতে হয় । ৬। ইহাতে সকল পক্ষের কাজই পাতিত-দক্ষিণ-জানু হইয়া করিতে হয় (যদিও ব্যবহারে তাহা দেখা যায় না)।

যজুৰ্বেদীয় ৭। ইহাতে অবনেজন-দান, পিণ্ডদান ও প্রত্যবনেজন-দান কাজ দৈৰতীর্থদ্বারা করিতে হয়। ৮। ইহাতে ভােজনপাত্র পাতিবার সময় এবং পিণ্ডদানের সময় মণ্ডলগুলি (১) মাতৃ, ২) পিতৃ এবং (৩) মাতামহপক্ষেও দেবপক্ষের ন্যায় ঈশান কোণ হইতে আরম্ভ করিয়া দক্ষিণাবর্তে ( অগ্নি, নৈঋত, বায়ু ও ঈশান ক্রমে) পুর্বাগ্র করিরা আঁকিতে হয়। পিণ্ডদানের সময় দেবপক্ষ না থাকিলেও এই নিয়ম। ৯। [ কোনও জিনিষ উৎসর্গ করিবার সময় দেবকাৰ্য্যে জীকৃত (উপুড়-করা) বামহাতে এবং পিতৃকাৰ্যে উত্তান ( চিৎ-করা ) বামহাতে তাহা স্পর্শ করিতে হয়, ডান হাতও সেই সময় সেইভাবে কোশাতে জলের মধ্যে ত্রিপত্রের সহিত যুক্ত থাকিবে এবং দুই হাত পরস্পরের সহিত কোনও প্রকারে সংলগ্ন থাকিবে—ইহাই পাৰ্বণ- শ্রদ্ধের নিয়ম। ] কিন্তু আভদয়িকে দেব, মাতৃ, পিতৃ ও মাতামহ- সকল পক্ষের উৎসর্গই উপুড়-করা বাম হাতে করিতে হইবে । ১০। ইহাতে মাতৃ, পিতৃ ও মাতামহপক্ষেও তিল স্থানে যব ব্যবহার করিতে হয়। এখানে ইহা স্মরণ রাখা কর্তব্য যে, সকল শ্রদ্ধেই দেবপক্ষ থাকিলে তাহাতে তিলস্থানে যব ব্যবহার করিতে হইবে। ১১। [ পাৰ্বণ-শ্রাদ্ধে দেবপক্ষে ত্রিপত্র এবং মাতৃ, পিতৃ ও মাতামহ- পক্ষে মােটক ব্যবহার করিতে হয়। কিন্তু আভদয়িকে সকল পক্ষেই ‘ত্রিপত্র ব্যবহার করিতে হয়। এই শ্রাদ্ধে ‘মােটকের কোনও কাৰ্য্য নাই।

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি ১২। ইহাতে ত্যাগ অর্থাৎ কোনও কিছু সমৰ্পণ করিবার সময়ে ‘ধা স্থলে ‘নমঃ' বলিতে হয়। দেবপক্ষেও ‘নমঃ বলিতে হয়। [ পার্বণে দেবপক্ষে নমঃ' এবং অন্যান্য পক্ষে স্বধ’ বলিতে হয়।] উল্লিখিত ৪র্থ হইতে ১২শ দফা পৰ্যন্ত যাবতীয় অংশ ৪র্থ দফার বিশেষত্বেরই উদাহরণ মাত্র। ১৩। ইহাতে মন্ত্রে ‘স্বধা স্থলে পুষ্টি” বলিতে হয় এবং যথাযােগ্য বিভক্তি ও বচন ব্যবহার করিতে হয়। ১৪। এই শ্রাদ্ধ এখন আমায়ছারা করিতে হয়। রঘুনন্দনের মতে চাউলগুলি ধুইয়া দেওয়া কর্তব্য। কোটালিপাড়ার যজুৰ্বেদিব্রাহ্মণ- সমাজে চাউলগুলি ধুইয়া দেওয়া হয় না। ১৫। ইহাতে আমিষ কোন দ্রব্য ব্যবহার করিতে নাই। এই সম্বন্ধে ছন্দোগ-পরিশিষ্টকার কাত্যায়ন বলেন - “বশিষ্ঠোক্তবিধিঃ কৃৎস্লো অষ্টবব্যাহত্র নিরামিষঃ।” অনুবাদ—এই শ্রদ্ধবিষয়ে (অর্থাৎ আভদয়িকে) বশিষ্ঠ যেরূপ (তাহার ছান্দোগ্যগৃহপরিশিষ্টে) নিরামিষ-ভাবে শ্রাদ্ধ করিতে বলিয়াছেন, সেরূপ বিধানের অনুসরণ করিতে হইবে। ( এই বিধান সামবেদী ও যজুৰ্বেদী উভয়ের জন্য।] ১৬। এই শ্রাদ্ধে শ্রাদ্ধকারী উদয়ূখ (উত্তরমুখ) হইয়া বলিবেন। উন্মুখ হইয়া যজ্ঞেশ্বরের পূজা করিবেন এবং উন্মুখ হইয়া পিণ্ডদান করিবেন। ১৭। এই শ্রাদ্ধে বাক্যে এবং দুই একটি ব্যতীত সকল মন্ত্রে

যজুর্বেদীয়
(ক) মাতুঃ স্থলে নান্দীমুখ্যাঃ মাতু’, ‘মাত’ স্থলে নান্দীমুখি মাতঃ
এবং মাতর স্থলে ‘নান্দীমুখ্য মাতরঃ বলিতে হয় ।
(খ) পিতামহাঃ' স্থলে ‘নান্দীমুখ্যাঃ পিতামহঃ, ‘পিতামহি’ স্থলে
‘নান্দীমুখি পিতামহি’, ‘পিতামহঃ স্থলে ‘নান্দীমুখ্য
বলিতে হয় ।
(গ) প্রপিতামহঃ স্থলে ‘নান্দীমুখ্যাঃ প্রপিতামহা’, ‘প্রপিতামহি’
স্থলে ‘নান্দীমুখি প্রপিতামহি’, ‘প্রপিতামহঃ স্থলে ‘নান্দীমুখ্যঃ
প্রপিতামহঃ বলিতে হয়।
(ঘ) পিতুঃ স্থলে নান্দীমুখ পিতু’, ‘পিতঃ স্থলে ‘নান্দীমুখ পিতঃ,
‘পিতরঃ স্থলে নান্দীমুখাঃ পিতরঃ বলিতে হয়।
(ঙ) পিতামহ, প্রপিতামহ, মাতামহ, প্রমাতামহ ও বৃদ্ধপ্রমাতামহ
প্রভৃতির পূর্বে নান্দীমুখ’ শব্দ যােগ করিয়া, নান্দীমুখ পিতামহ, নান্দীমুখ
প্রপিতামহ, নান্দীমুখ মাতামহ, নান্দীমুখ প্রমাতামহ এবং নান্দীমুখ
বৃদ্ধপ্রমাতামহ-এই কয়েকটি কথার বিভক্তি ও বচনানুসারে যথাযােগ্য
পরিবর্তন করিয়া নিতে হইবে।
উপরে আমরা আভদয়িক শ্রদ্ধের মাত্র কয়েকটি প্রধান বিশেষত্বের
উল্লেখ করিয়াছি। উহা মনে রাখিলে, কাজ করিবার পক্ষে
অনেক সুবিধা হইবে। এতদ্ব্যতীত এই শ্রাদ্ধের আরও অনেক
বিশেষত্ব আছে।
তাহা যথাস্থানে উল্লেখ করিব।
দ্রষ্টব্য—(১) দেবপক্ষকে ‘দৈবপক্ষ’ অথবা ‘দৈব’ বলা চলে।
(২) অবনেজন’ ‘প্রত্যনেজনের কথা
যথাস্থানে বুঝাইব।

২৮ আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি word: (৩) মােটক’ ও ‘ত্রিপত্র কিভাবে তৈয়ার করিতে হয় তাহা পরে বুঝাইব। (৪) প্রত্যেক হাতের অঙ্গুলিগুলির অগ্রভাগকে এক- যোগে দেবতীর্থ বা দৈবতীর্থ বলে। প্রত্যেক কনিষ্ঠার মূলকে কায়তীর্থ বা প্রজাপতিতীর্থ বলে। দক্ষিণ হস্তের অঙ্গুষ্ঠ ও তর্জনীর মধ্যভাগকে পিতৃতীথ বলে। দক্ষিণ করতলে অঙ্গুষ্ঠের নীচে যে দীর্ঘ রেখা আছে তাহাকে ঐ অঙ্গুষ্ঠের মূল বলে এবং ঐ মূলকে ব্রাহ্মতীথ বলে। [ সকল শ্রাদ্ধেরই প্রকৃতি ‘পাৰ্বণশ্রাদ্ধ’ এবং সকল শ্রাদ্ধই পাৰ্বণশ্রাদ্ধের বিকৃতি। আবার, অতি প্রাচীনকালে সাগ্নিক ব্রাহ্মণদের ‘পিণ্ডপিতৃযজ্ঞ’-নামে একটি যজ্ঞ ছিল। পাৰ্বণশ্রাদ্ধের কোন কোন অংশের প্রকৃতি অধুনা অপ্রচলিত ‘পিণ্ডপিতৃযজ্ঞ; এবং পার্বণের সেই সেই অংশ অধুনা অপ্রচলিত ‘পিণ্ডপিতৃযজ্ঞের’ বিকৃতি। এইজন্য আভদয়িক শ্রাদ্ধের মূল বুঝিতে হইলে, পিণ্ডপিতৃযজ্ঞ ও পার্বণশ্রাদ্ধ বুঝিতে হইবে। বর্তমান পদ্ধতিতে পিণ্ডপিতৃযজ্ঞ এবং পাৰ্বণশ্রাদ্ধের আলােচনা করা সম্ভব হইবে না। শ্রাদ্ধকারগণ প্রথমতঃ পাৰ্বণশ্রাদ্ধকে প্রকৃতি ধরিয়া তাহার বর্ণনা করিয়াছেন। পরে তাহারা পার্বণের বিকৃতি আদয়িকের কোন্ কোন্ অংশ বাদ দিতে হইবে এবং কি কি পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করিতে হইবে তাহার বর্ণনা করিয়াছেন। মূল সূত্ৰকারদিগের সময়ে সম্ভবতঃ দৰ্ভময়ব্রাহ্মণের ব্যবহার ব্যাপকভাবে আরম্ভ হয় নাই। সেই সময় বহু সদাচারী সাত্ত্বিকভাবাপন্ন ব্ৰহ্মজ্ঞানী ব্রাহ্মণ সহজেই পাওয়া যাইত এবং তাহাদিগকেই আসনে বসাইয়া শ্রাদ্ধ-কাৰ্য্য করা হইত। দর্ভময়ব্রাহ্মণের প্রচলনের সঙ্গে সঙ্গে কেবল সাক্ষাৎ-ব্রাহ্মণে প্রযােজ্য যজুৰ্বেদীয় কোনও কোনও বিষয় এখন বাদ দিতে হয়। বাদ দেওয়া সম্বন্ধেও পদ্ধতিকারদিগের মধ্যে মতভেদ দেখা যায়। কতকাল যাবৎ এদেশে দুর্ভময় ব্রাহ্মণের প্রচলন হইয়াছে তাহা বলা কঠিন। একথা ঠিক যে, স্মার্ত রঘুনন্দনের পূর্ব হইতেই এই প্রথার প্রচলন হইয়াছে এবং তিনি ইহা প্রচলিত অবস্থায় দেখিয়াছিলেন।] এই কাৰ্যে প্রয়ােজনীয় দ্রব্যের তালিকা। (১) যজ্ঞেশ্বরের সাদা বস্ত্র ১, (২) দেবপক্ষের সাদা বস্তু ২, (৩) মাতৃপক্ষের সাদা বস্ত্র ২ (মতান্তরে ৩), (৪) পিতৃপক্ষের সাদা বস্ত্র ২ (মতান্তরে ৩), (৫) মাতামহপক্ষের সাদা বস্ত্র ২ (মতান্তরে ৩), (৬) যজ্ঞেশ্বরের পৈতা ১, (৭) দেবপক্ষের পৈতা ২, (৮) পিতৃপক্ষের পৈতা ২ (মতান্তরে ৩ ), (৯) মাতামহপক্ষের পৈতা ২ (মতান্তরে ৩), (১০) আতপ চাউল /৫, (১১) যব, (১২) ঘৃত, (১৩) মধু, (১৪) ফুল, (১৫) দূর্বা, ( তুলসী পাতা, (১৭) বাটা সাদা চন্দন, (১৮) হরীতকী, (১৯) উপকরণ, (২০) মিষ্টদ্রব্য, (২১) পান, (২২) সুপারি, (২৩) কলা (কবরি অর্থাৎ কাঠালি কলাই প্রশস্ত ), (২৪) দীপ ৮, (২৫) ধূপ অথবা ধূপকাঠি ৮, (২৬) কলাগাছের পাচলের ডােঙ্গা ২০, (২৭) কলাগাছের পাচলের খালি ২০, (২৮) কুশ ( অভাবে কাশ', (২৯) কুশের ( অভাবে কাশের) পবিত্র ১১,(৩০) কুশের ( অভাবে কাশের) ত্রিপত্র ৩০, (৩১) দৰ্ভময়ব্রাহ্মণ ৮, (৩২) কুশাঙ্গুরীয় ২, (৩৩) জল, (৩৪), কোশা, কুশী, বসিবার আসন প্রভৃতি, (৩৫) কলাপাতা, (৩৬) শ্রাদ্ধকারীর কাপড় ও চাদর ইত্যাদি।

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি দ্রষ্টব্য-১) বহুস্থলে দেবপক্ষে ১ এবং অন্য তিন পক্ষে ৩, মােট ৪ খানা সাদা বস্ত্র দিতে দেখা যায়। অসমর্থ পক্ষে শ্রাদ্ধকার্যে কাপড়ের পরিবর্তে গামছা দেওয়া যাইতে পারে। তবে, একথা সৰ্ব্বদা মনে রাখিতে হইবে যে, পুরােহিতের ইহাই জীবিকা। সমৰ্থ ব্যক্তি অসামর্থ্যের অভিনয় করিলে বিত্তশাঠ্য করা হইবে। দ্রষ্টব্য-(২) শ্রাদ্ধকার্যে ‘ডােঙ্গা’ ও ‘খালি’ সাধারণতঃ কলা- গাছের বল্কল অর্থাৎ পাচল দ্বারা তৈয়ার করা হয়। পাত্রগুলি দুইপ্রকারের হওয়া আবশ্যক। কতকগুলি এরূপ হওয়া চাই যে, সেগুলিতে জল ঢালিলে তাহা যেন পড়িয়া না যায়। এগুলিকে দ্রোণি বা ভােলা বলে। বাকী পাত্রগুলিতে জল ঢালিতে হইবে না। সুতরাং, এগুলি হইতে জল পড়িতে না পারে এভাবে তৈয়ার করিবার প্রয়ােজন নাই। এরূপ পাত্রকে খালি বলে। ইহাদের কাজ কলাপাতাদ্বারাও চলিতে পারে। দ্রষ্টব্য-(৩) পবিত্র -দুইগাছি সাগ্র (এখানে ‘অগ্র' বলিতে ‘শীর্ষ’ বুঝিবেন। পরবর্তী উদাহরণ সমূহে ‘অগ্র’-শব্দে ‘উদ্ধভাগ বুঝিবেন।) গর্ভহীন কুশের একের অগ্ৰ অন্ত্রের অর্থের সহিত মিলাইয়া, অগ্রদ্বয়ের নিকট কুশ-দুইগাছিকে অন্য এক টুকরা কুশদ্বারা বাঁধিয়া : অগ্র হইতে প্রাদেশ-প্রমাণ স্থান মাপিয়া, নখব্যতিরেকে ছেদন করিলে একটি পবিত্র হয়। ছেদনের মন্ত্র আছে। এইরূপ করিলে একগাছি পবিত্র নির্মিত হইল। যতগাছি পবিত্র আবশ্যক ততবার এইরূপ করিতে হইবে। অঙ্গুষ্ঠ ও তর্জনীকে প্রসারিত করিলে অষ্ঠের অগ্রভাগ হইতে তর্জনীর অগ্রভাগ পর্যন্ত সােজাসুজি মাপকে প্রাণে বলে।

যজুৰ্বেদীয় দ্রষ্টব্য-(৪) ত্রিপত্র—প্রাদেশ-প্রমাণ দুইগাছি এবং তাহাদের অপেক্ষা বড় একগাছি কুশ লউন। তিনটিরই অগ্ৰ একত্র করুন। তারপর, প্রথম কুশ দুইগাছির মাঝামাঝি মাঝামাঝি স্থানে বাম হাতের অঙ্গুষ্ঠ ও তর্জনী-দ্বারা শক্ত করিয়া ধরুন। তারপর তৃতীয় কুশগাছির মূল হইতে উহাকে উল্টাইয়া অঙ্গুলিদ্বয়ের কাছে আনিয়া ছােট একটি গােলাকৃতি অঙ্গুরীয়কের মত করিয়া, অর্থের দিকে ঘুরাইয়া আনিয়া কসিয়া, কসিয়া, ক্ৰমশঃ অগ্রের দিকে আরও তিনটি পেচ দিয়া ঐ অঙ্গুরীয়কের মধ্য দিয়া উহাকে অন্য দুইটি কুশের মূলের দিকে নামাইয়া নিন। তৃতীয় কুশগাছি, প্রথম ও দ্বিতীয় কুশগাছি অপেক্ষা এরূপ দীর্ঘ হওয়া চাই যে, পূর্বোক্ত প্রক্রিয়াগুলির পরে উহার দৈর্ঘ্য অপর দুইগাছির সমান অথবা কিছু অধিক হয়। অধিক হইলে বেশী অংশটুকু নখ ব্যতিরেকে কাটিয়া ফেলিতে হইবে। এইরূপ করিলে একটি ত্রিপত্র হইল। দ্রষ্টব্য-(৫) মােটক-প্রাদেশ-প্রমাণ তিনগাছি কুশলউন । ইহাদিগকে পাশাপাশি রাখিয়া অগ্ৰ তিনটিকে একত্র করুন। মূল তিনটিকেও একত্র করিতে হইবে। তারপর মাঝামাঝি স্থান শক্ত করিয়া ধরিয়া, বক্র করিয়া মধ্য অংশ একটি অঙ্গুলির উপর রাখিয়া অঙ্গুলিটির উপর দিয়া ঐ কুশ তিনটিকে ঘুরাইয়া আনুন। এখন কুশ তিনগাছি দুইভাগে বিভক্ত হইয়াছে, এক ভাগে অগ্র তিনটি এবং অন্য ভাগে মূল তিনটি আছে। এখন যে ভাগে অগ্র তিনটি আছে সেই ভাগ দিয়া অঙ্গুলিটির উপর যেভাবে কুশ তিনগাছি আছে তাহা ঠিক রাখিয়া ক্রমশঃ নীচের দিকে অপর ভাগটিকে ঘিরিয়া কসিয়া তিনটি পেচ দিন। এখন অঙ্গুলিটির কাছে একটি কুশাঙ্গুরীয় নির্মিত হইয়াছে। তারপর যেভাবে অগ্র তিনটি আছে তাহা উল্টাইয়া অঙ্গুরীয়টির মধ্য দিয়া .৩২ আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি W নামাইয়া আনুন। এইরূ করিলে একগাছি মােটক নির্মিত হইল। আভদয়িকে মােটকের প্রয়ােজন নাই। ত্রিপত্র এবং মােটকের নির্মাণ- প্রণালী একজন অভিজ্ঞ লােকের নিকট শিখিয়া নেওয়া কর্তব্য। লিখিয়া বুঝান কঠিন। দ্রষ্টব্য-৬) দর্ভময়ব্রাহ্মণ-দর্ভ = কুশ)। প্রাদেশ-প্রমাণ সাতগাছি, নয়গাছি বা পাঁচগাছি কুশ (অগ্রগুলি একত্র ও মূলগুলি একত্র রাখিয়া) দক্ষিণাবর্তে ওঙ্কার (ও) উচ্চারণ করিয়া আড়াই পেচ জড়াইয়া ঊর্জকেশ করিয়া বাঁধিলে ব্ৰহ্মা হয়। ঐরূপ ২৫গাছি কুশকে বামাবর্তে আড়াই পেচ জড়াইয়া লম্বকেশ করিয়া বাধিলে বিষ্টর হয়। বিষ্টর-নির্মাণে ও-কার উচ্চারণ করিতে হয় না। যে প্রণালীতে ব্রহ্মা তৈয়ার করিতে হয়, ঠিক সেই প্রণালীতে ব্রাহ্মণ তৈয়ার করিতে হয়। সাধারণতঃ ব্রাহ্মণ-নির্মাণে পাঁচগাছি কুশই ব্যবহার করা হয়। সামবেদীদের কুশসংখ্যার কোনও বাঁধাবাঁধি নিয়ম নাই। ‘ব্ৰহ্মা’, ‘ব্রাহ্মণ এবং ‘বিষ্টর’-নিৰ্মাণও একজন অভিজ্ঞ লােকের নিকট শিখিয়া নেওয়া কর্তব্য। লিখিয়া বুঝান কঠিন। এ বিষয়ে নিম্নে বিভিন্ন মত উদ্ধৃত হইতেছে। (ক) স্মাৰ্ত্ত ভট্টাচার্যের মত—দৰ্ভবটুলক্ষণমাহ রত্নাকরে গৃহ সংগ্রহ :- উকেশােভবে ব্ৰহ্মা লম্বকেশস্তু বিষ্টরঃ। দক্ষিণাবর্তকো ব্রহ্মা বামাবর্তন্তু বিষ্টরঃ। যাগ, ব্রহ্মা তাদৃক্ৰমেণ ব্রাহ্মণ ইতি ভাব্য। শান্তিদীপি- কায়া আপস্তম্ব :

যজুর্বেদীয়
“সপ্তভিৰ্ণবভিৰ্বাপি সার্জ-দ্বিতয়-বেষ্টিত।
ওঁ-কারেণৈব মন্ত্রেণ দ্বিজঃ কুৰ্যাৎ কুশদ্বিজ।”
‘নবভিঃরিত্যত্র ‘পঞ্চভিরিতি কর্মোপদেশিন্যাং পাঠ। দর্ভসংখ্যাবি-
শেষাভিধানং ছন্দোগেরবার।
“যজ্ঞবাস্তুনি মুষ্ট্যাঞ্চ স্তম্বে দৰ্ভবটে তথা।
দর্ভসংখ্যান বিহিতা বিষ্টরাস্তরণে-ঘিতি ছন্দোগপরিশিষ্ট
বচনা।
[ শ্রদ্ধতত্ব ]
(খ) কর্মোপদেশিনী
তত্র কুশদ্বিজস্যানুষ্ঠানমাহ ব্যাসঃ-
পঞ্চাশভিঃ কুশৈঃ ব্রহ্মা তদর্জেন তু বিষ্টরঃ।
তদন্ধে-নােপমনং ত-দর্জেন দ্বিজঃ মৃতঃ।
অন্যদাহ,
সপ্তভিঃ পঞ্চভির্বাপি সার্জ-দ্বিতয়-বেষ্টিত।
ওঁ-কারেণ চ মন্ত্রেণ দ্বিজঃ কুৰ্যাৎ কুশদ্বিজম।
ইতি বচনাৎ সপ্তভিঃ পঞ্চভিৰ্বাপি সাকুশবৃক্ষৈঃ ওঁ-কারেণ
কুশদ্বিজং বীয়াৎ
মহামহােপাধ্যায় পণ্ডিত চন্দ্রকান্ত তর্কালঙ্কার মহাশয়ও তাঁহার
‘গােভিলগৃহসূত্র দ্বিতীয় খণ্ডের ভাষ্যে দর্ভসংখ্যাবিষয়ে বিচার
করিয়াছেন। বাহুল্যভয়ে তঁাহার বিচার এবং বিচারফল এস্থলে উদ্ভূত
হইল না।

মূল আভদয়িকশ্রাদ্ধ
এখন প্রকৃত আভদয়িক শ্রাদ্ধের বিষয় লিখিত হইতেছে।
সর্বাগ্রে কর্তা উন্মুখ হইয়া বসিয়া তিলকধারণ,
কুশাঙ্গুরীয়ধারণ, আচমন, বিষ্ণুস্মরণ এবং তীর্থবাহন
(কুরুক্ষেত্র-পাঠ )—এই সব কাৰ্য্য করিবেন।
[ তিলকধারণ, কুশাঙ্গুরীয়ধারণ, আচমন ও বিষ্ণুস্মরণ-বিধি এই
পুস্তকের ১ম ও ২য় পৃষ্ঠায় দ্রষ্টব্য।]
তীর্থবাহন (কুরুক্ষেত্রপাঠ )—কৃতাঞ্জলি হইয়া
ওঁ কুরুক্ষেত্রং গয়া-গঙ্গা-প্রভাস-পুরাণি চ।
তীর্থান্যেতানি পুণ্যানি আদয়িক-শ্রাদ্ধকালে ভবন্তি।
যজ্ঞেশ্বরের পূজা—এই পূজা উত্তরমুখ থাকিয়াই করিতে
হইবে। যথা-

যজুৰ্বেদীয় এতৎ পাদ্য ও যজ্ঞেশ্বরায় শ্রীবিষ্ণবে নমঃ এষাের্থঃ ইদমাচমনীয়ম ইদং স্নানীয়জল ইদমাচমনীয় এষ গন্ধ এতৎ পুস্পম্ এষ ধূপঃ এষ দীপ এতৎ-শ্রাদ্ধীয়দ্ৰব্যাগ্রভাগ-বস্ত্রযজ্ঞােপবীত- সােপকরণামান্নভােজ্য ঐ ইদং পানাজল ঐ ইদমাচমনীয় ইদং তাম্বল ঐ ন ত ত ত ত ত ত তি তৎপর কৃতাঞ্জলি হইয়া নিম্নলিখিত মন্ত্রদ্বয় পড়িতে হইবে - ১। ও যজ্ঞেশ্বরাে হব্য-সমস্তকব্য-ভােক্তা-ব্যয়াহরি- রীশ্বনােহ। তৎসমিধানা-পর্যন্তু সদ্যো রক্ষাং-স্যরা সর্বে। [ বিষ্ণুপুরাণ } আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি ২। ও জলোঘমগ্না সচরাচরা ধরা, বিষাণকোট্যা-খিল- বিশ্বমুর্তিনা। সমুদ্ধতা যেন বহরূপিণা, স মে স্বয়ম্ভুর্ভগবান প্রসীতু। অনুবাদ-১। হব্যসমস্তকব্যতােক্তা ( দেবতাদিগের অন্ন এবং সমস্ত পিতৃলােকের অন্নের রক্ষাকারী) অব্যয়াত্মা ( অবিনাশস্বভাব ) ঈশ্বরঃ ( সকলের প্রভু) যজ্ঞেশ্বরঃ (যজ্ঞেশ্বর) হরিঃ (হরি) অত্র (এখানে) (আছেন)। তৎসন্নিধানাৎ ( তাঁহার সান্নিধ্যহেতু) সদ্যঃ ( এখনই) অশেষানি (যাহাদের শেষ নাই এরূপ অর্থাৎ অসংখ্য ) রক্ষাংসি ( রাক্ষন্স) চ (এবং) সৰ্বে ( সমস্ত ) অসুরাঃ (অসুর) (এখান হইতে) অপর্যন্তু (পলাইয়া যাউক)। অনুবাদ-২। অখিলবিশ্বমূৰ্ত্তিন (অখিল বিশ্বমূৰ্ত্তি) বরাহরূপিণা (বরাহরূপী} যেন (যিনি) বিষাণকোটা (নিজের দন্তের অগ্রভাগদ্বারা) সচরাচরা (চরাচর বস্তুসমূহসহিত) জলৌঘমগ্না (জলের বেগমধ্যে মগ্নপ্রায়) ধরা (ধরাকে) সমুদ্ধতা ( আকাইয়া রাখিয়াছিলেন। সঃ সেই) স্বয়ম্ভুঃ (স্বয়ম্ভু) ভগবান্ (ভগবান্) মে (আমার প্রতি) প্রসীদ (প্রসন্ন হউন)। ব্রাণাসন-স্থাপন - কর্তা উত্তরমুখে বসিয়া, নিজের সম্মুখে বামভাগের দক্ষিণাংশে দেবপক্ষের দুইটি ব্রাহ্মণের দুইটি আসন (খালি বা কলাপাতা), তদুত্তরে মাতৃপক্ষের দুইটি ব্রাহ্মণের দুইটি আসন (খালি বা

যজুর্বেদীয়
শাম
৫
মাতামহপক্ষীয় ব্রাহ্মণদিগের আসন
৪
পিতৃপক্ষীয়
মাতৃপক্ষীয়
২
দেবপক্ষীয়
০
কর্তার আসন

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি কলাপা), তদুত্তরে পিতৃপক্ষের দুইটি ব্রাহ্মণের দুইটি আসন (খালি বা কলাপা) এবং তদুত্তরে মাতামহপক্ষের দুইটি ব্রাহ্মণের দুইটি আসন (খালি বা কলাপাতা) পাতিবেন। সাধারণতঃ দুইটি আসনের স্থলে একটি খালি বা একখানি কলাপাতা ব্যবহৃত হয়। কোন কোন স্থলে সকলের দক্ষিণে মাতৃপক্ষ, তদুত্তরে পিতৃপক্ষ, তদুত্তরে মাতামহপক্ষ এবং তদুত্তরে দেবপক্ষ কল্পিত হয়। এই মত সঙ্গত মনে হয় না। * সমস্ত আসনই পূৰ্বাগ্র করিয়া পাতিনে এবং প্রত্যেকের উপরে পূৰ্বাগ্র করিয়া দুইগাছি কুশও স্থাপন করিবেন। দ্রষ্টব্য-অধিকাংশ পুরােহিত দক্ষিণাবর্ত এবং বামাবর্ত—এই দুইটি শব্দের অর্থ জানেন না এবং ইহাদের মধ্যে পার্থক্য কি তাহাও বুঝেন না। এইজন্য পার্বণে ও আভদয়িকে গোলযােগ করেন। ; * পূর্বোক্ত বিষয়ে স্মারঘুনন্দনের উক্তি-প্ৰাম্মুখেভ্য উদঘুখে দ্যা ইতি আখলায়নবচনান্মত্ৰাদি-ব্রাহ্মণানাং প্রস্থুখত্বমিতি পাৰ্বণাধিশেষঃ ; ততশ্চ পশ্চিমদিশি নৈঋত-কোণে দেবানাং তদুত্তরে মাতণাং, তদুত্তরে পিতৃণা, তদুত্তরে মাতামহানা আসননি প্রাগগ্ৰদৰ্তদ্বয়যুক্তানি পরিকল্প দক্ষিণাবর্তেন কৰ্ম্ম কুৰ্য্যাৎ। এবমেবাপিপাল- মৈথিল-রায়মুকুটপ্রভৃতিপদ্ধতিযু। ন চ অন্বষ্টকায়াং দেব্রাহ্মণদক্ষিণতে মাত্রাদিব্রাহ্মণা- নামুপবেশনন্য দৃষ্টত্বা অত্রাপি তদনুসারেণ বায়ুকোণে দেবব্রাহ্মণানুপকল্প দক্ষিণ্যেন গত্বা নিখুত-কোণাদারভ্য মাত্রাদি-ব্রাহ্মণােপবেশনংযুক্তমিতিবাচ্য, অম্বষ্টকায়াং বামাচারানুবােধেন দেবব্ৰাহ্মণ দক্ষিণপার্শ্বে মাত্রাদিব্রাহ্মণণাপবেশন, অত্র চ দক্ষিণাে- পচারেণ তদিতরং কল্পনাদোষা। রঘুনন্দন-যজুৰ্বেদীয়াত-আভদয়িক- শ্রাদ্ধ।]

যজুর্বেদীয়
৩৯
৭•••onAG
*Annan
ব্রাহ্মণদিগকে স্নান
ব্রাহ্মণদিগকে (বামহাতে একত্র ধরিয়া) নিম্নোক্ত মন্ত্রে
স্নান করাইতে হইবে—
ওঁ সহস্ৰশীর্ষ পুরুষঃ সহস্রাক্ষঃ সহস্রপাৎ।
স ভূমি সর্বত স্পৃত্বা-ত্যতিষ্ঠদ্দশাঙ্গুলম।
[ মা-বা-সং-৩১১,
কা-বা-সং-উৎকল-৩৫।১।]
( উক্ত মন্ত্র পাঠান্তে )
ইদং স্নানীয়জলম্ ওঁ দৰ্তময়-ব্রাহ্মণেভ্যো নমঃ।
এইরূপ আরও দুইবার।
অনুবাদ—সহস্ৰশীর্ষ (সহস্র অর্থাৎ অসংখ্য মুখ যাহার )
সহস্রাক্ষঃ ( সহস্র অর্থাৎ অসংখ্য অক্ষি যাহার ) সহস্রপাৎ ( সহস্র
অর্থাৎ অসংখ্য পাদ যাহার ) ( ঈদৃশ যে) পুরুষঃ (পুরুষ অর্থাৎ
পরমেশ্বর) সঃ (তিনি) সৰ্বতঃ (সৰ্ব্বতােভাবে ) ভূমিং (এই ভূমি)
(এবং ইহার বাহিরে ) দশাঙ্গুলং ( দশদি) স্পৃত্ব (ব্যাপিয়া) অত্যতিষ্ঠৎ
(আছেন)।
দ্রষ্টব্য—সর্বতঃ স্পৃত্বা=সৰ্ব্বত স্পৃত্বা।
সহস্ৰশীর্ষাসহস্রাণি
শিরাংসি যস্য সঃ সহস্ৰশীর্ষ। শীর্ষংসি-পাণিনি ৬৬।

৪০ আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি সহস্রাক্ষঃ-সহস্রাণি অক্ষীণি যস্য সঃ সহস্রাক্ষঃ। বহুব্রীহৌ যচ,। সহস্রপাৎ-সহস্রাণি পাদাঃ যস্য সঃ সহস্রপাৎ।‘সংখ্যাসুপর্ব-পাণিনি- ৪|৪|১৪০-ইতি পাদস্তান্ত্যলােপ। দশাঙ্গুল—অকারাস্তাঙ্গুলশকোহপি বিদ্যতে। উব্বট বলেন—দশ চ তানি অঙ্গুলানি দশাঙ্গুলানীন্দ্রিয়াণি। কেচিদশ্যথা বােচয়ন্তি দশাঙ্গুলপ্রমাণং হৃদয়স্থানম্। অপরে তু নাসিকাগ্রং দশাঙ্গুলমিতি। মহীধর বলেন-পঞ্চ ভূতানি ব্যাপ্য দশাঙ্গুলপরিমিতং দেশমত্যতিষ্ঠৎ অতিক্রম্যাবস্থিত। দশাঙ্গুলমিত্যুপলক্ষণম্ । ব্রহ্মাণ্ড- দ্বহিরপি সর্বতাে ব্যাপ্যাবস্থিত ইত্যর্থ। যদ্বা নাভে সকাশাদ দশাঙ্গুলমতিক্রম্য হৃদি স্থিত-ইত্যাদি। ব্রাহ্মণদিগের পূজা তৎপরে ঐভাবেই দর্ভময়ব্রাহ্মণদিগকে ধরিয়া রাখিয়া তাঁহাদের একসঙ্গে পূজা। যথা- এষ গন্ধ ওঁ দৰ্ভময়-ব্রাহ্মণেভ্যো নমঃ। এতৎ পুষ্প ওঁ দৰ্ভময়-ব্রাহ্মণেভ্যো নমঃ। এষ ধূপঃ ওঁ দৰ্ভময়-ব্রাহ্মণেভ্যো নমঃ। ওঁ দৰ্ভময়-ব্রাহ্মণেভ্যো নমঃ। ইদং নৈবেদ্যার্থে তণ্ডুলম ওঁ দৰ্ভময়-ব্রাহ্মণেভ্যো নমঃ। এষ দীপঃ প্রণাম—ওঁ দৰ্ভময়ব্রাহ্মণেভ্যো নমঃ।

যজুৰ্বেদীয় ৪১ পূজার পরে দুইটি ব্রাহ্মণকে দেবপক্ষের, দুইটিকে মাতৃ- পক্ষের, দুইটিকে পিতৃপক্ষের এবং দুইটিকে মাতামহপক্ষের আসনে পশ্চিমাগ্র করিয়া স্থাপন করিবেন। নিমন্ত্রণ, অনুজ্ঞা প্রভৃতি আরম্ভের পূর্বে সমস্ত বিষয়টি সহজে বুঝিবার জন্য কয়েকটি সাধারণ কথা ব্যাখ্যা করিতেছি। ১। শ্রাদ্ধকারী উত্তরমুখ হইয়া বসিয়াছেন। দেবপক্ষের কাজ করিবার সময় তাহাকে দক্ষিণাবর্তে (ঈশান, পূৰ্ব্ব, অগ্নি, দক্ষিণ ও নৈঋত-ক্রমে) ঘুরিয়া দেবপক্ষের ব্রাহ্মণাসনের কাছে যাইতে হইবে । এই পক্ষের কাজ শেষ করিয়া মাতৃপক্ষের কাজ আরম্ভ করিবার সময় তিনি এখন যেখানে আছেন, সেখান হইতে তাহাকে দক্ষিণাবর্তে অল্প একটু ঘুরিয়া মাতৃপক্ষের ব্রাহ্মণাসনের কাছে যাইতে হইবে। মাতৃপক্ষের কাজ শেষ হইলে, ঐভাবে দক্ষিণাবর্তে অল্প একটু ঘুরিয়া তাহাকে পিতৃপক্ষের ব্রাহ্মণাসনের কাছে যাইতে হইবে। তারপর পিতৃপক্ষের কাজ শেষ হইলে, দক্ষিণাবর্তে আবার অল্প একটু ঘুরিয়া তাহাকে মাতামহপক্ষের ব্রাহ্মণাসনের কাছে যাইতে হইবে। এইভাবে বারংবার ঘুরা অত্যন্ত কষ্টকর ও সময়সাপেক্ষ। এইজন্য কোনও কোনও পদ্ধতিকার উপদেশ দিয়াছেন যে, দক্ষিণাবর্তে ঘুরিয়া আসা হইয়াছে—এই কথা মনে মনে কল্পনা করিয়া নিলেই হইবে। ব্রাহ্মণের কাছে কিছু বলিতে হইলে অথবা কিছু নিবেদন করিতে হইলে, প্রায়ূখ ব্রাহ্মণের সাম্-সানি কিছু করিবেন না। ব্রাহ্মণেরা ৪২ আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি পূর্বমুখ হইয়া বসিয়াছেন। ২। এই শ্রাদ্ধে বহুকাজে জলগণ্ডুষ দিতে হয়। ইহা সর্বদাই ডান হাতের দৈবতীর্থ দ্বারা দিতে হইবে। ৩। প্রত্যেক পক্ষে দুইজন করিয়া দর্ভময়-ব্রাহ্মণ আছেন। যদি বলি -এই জিনিষটি অমুকপক্ষের ব্রাহ্মণে দিন, তাহা হইলে, যদিও দুইজন ব্রাহ্মণ আছেন, তথাপি জিনিষটি ঐ পক্ষের দক্ষিণ দিকের ব্রাহ্মণের দক্ষিণ দিকে আসনের মধ্যে দিতে হইবে। সব সময়ে এরূপ সূক্ষ্ম বিচার করা সম্ভব হয় না। তখন ঐ পক্ষের যে কোনও ব্রাহ্মণে দিলেই হইবে। ৪। জলপ্ৰােক্ষণ করিতে হইলে সৰ্ব্বদাই কোশা হইতে ত্রিপত্রের অগ্রভাগ দ্বারা প্ৰােক্ষণ করিতে হইবে। যদিও ‘প্রেক্ষণ ও ‘অভ্যুক্ষণের মধ্যে পার্থক্য আছে, তথাপি কাৰ্যতঃ তাহা বড় রক্ষিত হয় না। সাধারণ লােকে ‘প্রােক্ষণবলিলে ‘ছিটানই’ বুঝিয়া থাকেন। অত্যুক্ষণ বলিলেও তাহাই বুঝিয়া থাকেন। জলপ্ৰােক্ষণ’ বলিলে জল ছিটান বুঝিতে হইবে, জলাভক্ষণ’ বলিলেও তাহাই বুঝিতে হইবে। এই পদ্ধতিতে যেখানে ‘প্রােক্ষণ’, অন্য পদ্ধতিতে হয়ত সেখানে ‘অভুক্ষণ আছে। পার্থক্য করিয়া অনর্থক সাধারণ লােককে গােলকধাধায় ফেলা সঙ্গত নহে। * ‘কর্মোপদেশিনী’তে উল্লিখিত আছে—আভদয়িকে যুগ্মন্ ব্রাহ্মণানায় সমুলদৰ্ভান্ প্রমুখেভ্য উদঘুখে দদ্যা ইত্যাশলায়নগৃহবচনাৎ সৰ্বথা প্রায়ুখেভ্যঃ প্রত্যঙুখােন দয়াং।

যজুৰ্বেদীয় ৪৩ N ৫। মাতৃপক্ষের তিনজনের উদ্দেশ্যে ক্ৰমশঃ তিনটি জিনিষ একটি কুশের অথবা কুশ-গুচ্ছের উপর দিতে হইলে, মুলে মাতার, মধ্যে পিতামহীর এবং অন্ত্রে প্রপিতামহীর উদ্দেশ্যে দিতে হইবে। এইরূপ পিতৃপক্ষে মূলে পিতার, মধ্যে পিতামহের এবং অগ্রে মাতামহের জিনিষ দিতে হইবে। মাতামহপক্ষেও মূলে মাতামহের, মধ্যে প্রমাতামহের এবং অগ্রে বুদ্ধপ্রমাতামহের জিনিষ দিতে হইবে। । তৎপর নিমন্ত্রণ । দ্রষ্টব্য—স্মাৰ্ত্ত ভট্টাচাৰ্য মহাশয়ের মতে কুশব্রাহ্মণের নিমন্ত্রণ নাই। ব্যবহারেও অনেক স্থলে নিমন্ত্রণের প্রথা দেখা যায় না। সুতরাং যাহারা ইচ্ছা করেন তাহারা নিম্নলিখিত নিমন্ত্রণের অংশ বাদ দিতে পারেন। কর্মোপদেশিনী’তে নিমন্ত্রণের কথা থাকাতে এখানে তাহা দেওয়া হইল। (দেবপক্ষে )—বিষ্ণুরে। তৎসদস্য অমুকে মাসি অমুকরাশিস্থে ভাস্করে অমুকে পক্ষে অমুক্যাং তিথৌ অমুকগােত্রঃ শ্ৰীঅমুকশৰ্ম' মদীয়ামুকপুত্রস্য শ্রীঅমুকশৰ্ম্মণঃ শুভমুককর্মাভ্যুদয়ার্থ অমুকগােত্রয়া নান্দীমুখ্যা মাতু-রমুকী-দেব্যাঃ অমুকগােত্রায় নান্দীমুখ্যাঃ পিতামহ অমুকী-দেব্যাঃ অমুকগােত্রায় নান্দীমুখ্যাঃ প্রপিতামহ অমুকী-দেব্যাঃ, ৪৪ আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি অমুকগােত্র নান্দীমুখস্থ পিতু-মুকশৰ্ম্মণঃ অমুকগােত্র নান্দীমুখস্য পিতামহত্যামুকশৰ্ম্মণঃ অমুকগােত্রস্য নান্দীমুখস্য প্রপিতামহস্যামুকশৰ্ম্মণঃ, অমুকগােত্ৰস্য নান্দীমুখস্য মাতামহস্যামুকশৰ্ম্মণঃ অমুকগােত্রস্য নান্দীমুখস্য প্রমাতামহস্যামুকশৰ্ম্মণঃ অমুকগােত্রস্য নান্দীমুখস্য বৃদ্ধপ্রমাতামহস্যামুকশৰ্ম্মণঃ আভদয়িকে শ্রাদ্ধে কর্তব্যে বসুলত্যয়ােৰ্বিশ্বেষাং দেবানা আভদয়িকশ্রাদ্ধং কং কুশময়ব্রাহ্মণাবহং নিমন্ত্রয়ে। পুরােহিত-ব্রাহ্মণের প্রতিবচন—ও নিমন্ত্রণ-প্রসন্নৌ স্ব। তারপর শ্রাদ্ধকারী কৃতাঞ্জলি হইয়া পাঠ করিবেন- = ও অক্রোধনৈঃ শৌচপরৈঃ সততং ব্রহ্মচারিভিঃ ভবিতব্যং ভবদ্ভিশ্চ ময়া চ শ্রাদ্ধকৰ্ম্মণি। অনুবাদ-আপনারা এবং আমি এই শ্রদ্ধকর্মে অক্ৰোধন, শৌচপর এবং সর্বদা ব্রহ্মচারীর ন্যায় থাকিব (আমাদের থাকিতে হইবে)। শ্রাদ্ধকারী—ওঁ স্বাগতম্। পুরােহিতও সুস্বাগতম্।

যজুৰ্বেদীয়
৪৫
তারপর শ্রাদ্ধকারী দেবপক্ষের ব্রাহ্মণাসনে পাদ্যাদি দিবেন।
তৎপর নিমন্ত্রণ
(মাতৃপক্ষে)-বিষ্ণুরে। তৎসদস্য অমুকে মাসি অমুকরাশিস্থে
ভাস্করে অমুকে পক্ষে অমুক্যাং তিথৌ অমুকগােত্রঃ শ্ৰীঅমুকশৰ্মা
মদীয়ামুকপুত্ৰস্য শ্রীঅমুকশৰ্ম্মণঃ শুভমুককর্মাভদাের্থ
অমুকগােত্রায় নান্দীমুখ্য মাতু-মুকী-দেব্যাঃ
অমুকগােত্রায় নান্দীমুখ্যাঃ পিতামহ্যা অমুকী-দেব্যাঃ
অমুকগােত্ৰায়া নান্দীমুখ্যাঃ প্রপিতামহ্যা অমুকী-দেব্যাঃ
আভদয়িকশ্রদ্ধং কং কুশময়ব্রাহ্মণাবহং নিমন্ত্রয়ে ।
পুরােহিত-ও নিমন্ত্রণ-প্রসন্নৌ স্বঃ।
শ্রাদ্ধকারী—ও অক্রোধনৈঃ শৌচপরৈঃ সততং ব্রহ্মচারিভিঃ।
ভবিতব্যং ভবদ্ভিশ্চ ময়া চ শ্রাদ্ধকৰ্ম্মণি।
শ্রদ্ধকারী-ও স্বাগতম্।
পুরােহিতও সুস্বাগতম্।
তারপর শ্রাদ্ধকারী মাতৃপক্ষের ব্রাহ্মণাসনে পাদ্যাদি দিবেন।
তৎপর নিমন্ত্রণ
(পিতৃপক্ষে)—বিষ্ণুরে। তৎসদদ্য অমুকে মাসি অমুকরাশিস্থে
ভাস্করে অমুকে পক্ষে অমুক্যাং তিথৌ অমুকগােত্রঃ শ্ৰীঅমুকশৰ্মা

৪৬
আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
মদীয়ামুকপুত্রস্য শ্ৰীঅমুকশৰ্ম্মণঃ শুভমুককৰ্ম্মাদাের্থ
অমুকগােস্য নান্দীমুখস্য পিতু-মুকশৰ্ম্মণঃ
অমুকগােত্ৰস্য নান্দীমুখস্য পিতামহস্যামুকশৰ্ম্মণঃ
অমুকগােস্য নান্দীমুখস্য প্রপিতামহস্যামুকশৰ্ম্মণঃ
আভদয়িকশ্রাদ্ধং কৰ্ত্ত
কুশময়ব্রাহ্মণাবহং নিমন্ত্রয়ে।
পুরােহিত-ও নিমন্ত্রণ-প্রসন্নৌ স্ব।
শ্রাদ্ধকারীও অক্রোধনৈঃ শৌচপরৈঃ সততং ব্রহ্মচারিভিঃ।
ভবিতব্যং ভবদ্ভিশ্চ ময়া চ শ্রাদ্ধকৰ্ম্মণি।
শ্রাদ্ধকারীও স্বাগতম্।
পুরােহিতওঁ সুস্বাগতম্।
তারপর শ্রাদ্ধকারী পিতৃপক্ষের ব্রাহ্মণাসনে পাদ্যাদি দিবেন।
তৎপর নিমন্ত্রণ
( মাতামহপক্ষে)—বিষ্ণুরে। তৎসদদ্য অমুকে মাসি অমুকরাশিস্থে
ভাস্করে অমুকে পক্ষে অমুক্যাং তিথৌ অমুকগােত্রঃ শ্রীঅমুকশৰ্মা
মদীয়া-মুকপুত্ৰস্য শ্রীঅমুকশৰ্ম্মণঃ শুভমুককর্মাভদাের্থ
অমুকগােস্য নান্দীমুখস্য মাতামহস্যামুকশৰ্ম্মণঃ
অমুকগােত্রস্য নান্দীমুখস্য প্রমাতামহস্যামুকশৰ্ম্মণঃ
অমুকগােস্য নান্দীমুখস্য বৃদ্ধপ্রমাতামহস্যামুকশৰ্ম্মণ

যজুৰ্বেদীয় ৪৭ আভদয়িকশ্রাদ্ধং কৰ্ত্ত কুশময়ব্রাহ্মণাবহং নিমন্ত্রয়ে। পুরােহিতওঁ নিমন্ত্রণ-প্রসন্নৌ স্ব। শ্রাদ্ধকারী—ও অক্রোধনৈঃ শৌচপরৈঃ সততং ব্রহ্মচারিভিঃ। ভবিতব্যং ভবন্তিশ্চ ময়া চ শ্রাদ্ধকৰ্ম্মণি। শ্রাদ্ধকারী—ওঁ স্বাগতম্। পুরােহিতও সুস্বাগতম্। তারপর শ্রাদ্ধকারী মাতামহপক্ষের ব্রাহ্মণাসনে পাদ্যাদি দিবেন। আসনদান ১। দেবপক্ষে- দেবপক্ষের ব্রাহ্মণকে স্পর্শ করিয়া শ্রাদ্ধকারী বলিবেন- ও সিদ্ধে ইমে আসনে অত্রাত্যতাম্। ২। মাতৃপক্ষে ও সিইেমে অাসনে অজাতাম।

৪৮
আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
৩। পিতৃপক্ষে
ও সিদ্ধে ইমে আসনে অত্যান্যতা।
৪। মাতামহপক্ষে-
ও সিদ্ধে ইমে আসনে অত্ৰাস্তাম্।
অনুবাদ-ইমে (এই) আসনে (আসন দুইখানি) সিদ্ধে
( পবিত্র ), অত্র ( এখানে) ( আপনারা দুইজনে) আস্যতাম্ ( উপবেশন
করুন)।
মােট বাক্যটি এইরূপ হইলে ভাল হইত
‘ও সিদ্ধ ইম আসনেহাস্যতাম্।
সন্ধি হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু সন্ধির প্রয়ােগ হয় নাই এরূপ বহুবাক্য
শ্রদ্ধ-প্রসঙ্গে পাওয়া যায়।
দেবপক্ষের অনুজ্ঞা—দেবপক্ষের ব্রাহ্মণ-সমীপে কৃতাঞ্জলি
হইয়া শ্রাদ্ধকারী পড়িবেন—
(১) ওঁ দেবতাভ্যঃ পিতৃভ্যশ্চ মহাযােগিভ্য এব চ।
নমঃ পুষ্ট্যৈ স্বাহায়ৈ নিত্যমেব ভবভৃিতি।
(২) ওঁ দেবতাভ্যঃ পিতৃভ্যশ্চ মহাযােগিভ্য এব চ।
নমঃ পুষ্ট্য স্বাহায়ৈ নিত্যমেব ভবত্ত্বিতি।

যজুর্বেদীয়
৪৯
(৩) ওঁ দেবতাভ্যঃ পিতৃভ্যশ্চ মহাযােগিভ্য এব চ।
নমঃ পুষ্ট্যৈ স্বাহায়ৈ নিত্যমেব ভবস্তৃিতি।
(৪) (জপ) ওঁ ভূর্ভুবঃস্বঃ তৎ সবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো
দেবস্য ধীমহি। ধিয়াে যাে নঃ প্রচোদয়াৎ ওঁ।
দেবপক্ষের অনুজ্ঞার বাক্য-বিষ্ণুরে। তৎসদস্য অমুকে
মাসি অমুক-রাশিস্থে ভাস্করে অমুকে পক্ষে অমুক্যাং তিথৌ
অমুকগােত্রঃ শ্ৰীঅমুকশৰ্ম্মা মদীয়ামুকপুত্রস্ত শ্ৰীঅমুকশৰ্ম্মণঃ
শুভামুককৰ্ম্মাদাের্থম
অমুকগােত্রায় নান্দীমুখ্যাঃ মাতু-রমুকী-দেব্যাঃ
অমুকগােত্রায়া নান্দীমুখ্যাঃ পিতামহ অমুকী-দেব্যাঃ
অমুকগােত্রায় নান্দীমুখ্যাঃ প্রপিতামহ। অমুকী-দেব্যাঃ
অমুকগােত্রস্য নান্দীমুখস্য পিতু-রমুকশৰ্ম্মণঃ
অমুকগােত্ৰস্য নান্দীমুখস্য পিতামহস্যামুকশৰ্ম্মণঃ
অমুকগােত্ৰস্য নান্দীমুখস্য প্রপিতামহস্যামুকশৰ্ম্মণঃ
অমুকগােত্ৰস্য নান্দীমুখস্ত মাতামহস্যামুকশৰ্ম্মণঃ
অমুকগােত্ৰস্য নান্দীমুখস্য প্রমাতামহস্যামুকশৰ্ম্মণঃ
অমুকগােস্য নান্দীমুখস্য বৃদ্ধপ্রমাতামহস্যামুকশৰ্ম্মণঃ
আদয়িকে শ্রাদ্ধে কর্তব্যে বসুসত্যয়াের্বিশ্বেষাং দেবানাম
আভদয়িক-শ্রাদ্ধ
৪

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
আমান্নেন ঘৃতাচ্যুপকরণসহিতেন
সযবােদকেন
কুশময়ব্রাহ্মণয়াে-রহং করিয়ে।
পুরােহিত (প্রতিবচন)—ওঁ কুরুষ।
মাতৃপক্ষের অনুজ্ঞা-মাতৃপক্ষের
ব্রাহ্মণ-সমীপে
কৃতাঞ্জলি হইয়া শ্রাদ্ধকারী পড়িবেন—
(১)
ওঁ দেবতাভ্যঃ পিতৃভ্যশ্চ মহাযােগিভ্য এব চ।
নমঃ পুষ্ট্যৈ স্বাহায়ৈ নিত্যমেব ভবস্তৃিতি ।
(২) ওঁ দেবতাভ্যঃ পিতৃভ্যশ্চ মহাযােগিভ্য এব চ।
নমঃ পুষ্ট্যৈ স্বাহায়ৈ নিত্যমেব ভবস্তৃিতি।
(৩) ওঁ দেবতাভ্যঃ পিতৃভ্যশ্চ মহাযােগিভ্য এব চ।
নমঃ পুষ্ট্যৈ স্বাহায়ৈ নিত্যমেব ভবস্তৃিতি ।
(৪) (জপ)—ওঁ ভূভুবঃস্বঃ তৎ সবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো
দেবস্য ধীমহি। ধিয়াে য়াে নঃ প্রচোদয়াৎ ওঁ।
মাতৃপক্ষের অনুজ্ঞার বাক্য-বিষ্ণুরে। তৎসদস্য অমুকে
মাসি অমুক-রাশিস্থে ভাস্করে অমুকে পক্ষে অমুক্যাং তিথৌ
অমুকগােত্র শ্রীঅমুকশৰ্মা মদীয়ামুকপুত্র অমুকশৰ্ম্মণঃ
শুভামুককৰ্ম্মাভ্যুদয়ার্থ

যজুর্বেদীয়
অমুকগােত্ৰায়া নান্দীমুখ্যাঃ মাতু-মুকী-দেব্যাঃ
অমুকগােত্ৰায়া নান্দীমুখ্যাঃ পিতামহ্যা অমুকী-দেব্যাঃ
অমুকগােত্রায়া নান্দীমুখ্যাঃ প্রপিতামহ্যা অমুকী-দেব্যাঃ
আভদয়িক-শ্রাদ্ধ
আমানে
ঘৃপকরণসহিতেন
সােদকেন
কুশময়ব্রাহ্মণয়াে-রহং করিষে।
পুরােহিত (প্রতিবচন)—ওঁ কুরুষ।
পিতৃপক্ষের অনুজ্ঞাপিতৃপক্ষের ব্রাহ্মণ-সমীপে
কৃতাঞ্জলি হইয়া শ্রাদ্ধকারী পড়িবেন
(১) ওঁ দেবতাভ্যঃ পিতৃভ্যশ্চ মহাযােগিভ্য এব চ।
নমঃ পুষ্ট্যৈ স্বাহায়ৈ নিত্যমেব ভবস্তৃিতি।
(২) ওঁ দেবতাভ্যঃ পিতৃভ্যশ্চ মহাযােগিভ্য এব চ।
নমঃ পুষ্ট্যৈ স্বাহায়ৈ নিত্যমেব ভবস্তৃিতি।
(৩) ওঁ দেবতাভ্যঃ পিতৃভ্যশ্চ মহাযােগিভ্য এব চ।
নমঃ পুষ্ট্যৈ স্বাহায়ৈ নিত্যমেব ভবত্ত্বিতি ।
(৪) (জপ)-ওঁ ভূর্ভুবঃস্ব। তৎসবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো
দেবস্য ধীমহি। ধিয়াে য়াে নঃ প্রচোদয়াৎ ওঁ।

আদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি পিতৃপক্ষের অনুজ্ঞার বাক্য-বিষ্ণুরে। তৎসদস্য অমুকে মাসি অমুক-রাশিস্থে ভাস্করে অমুকে পক্ষে অমুক্যাং তিথৌ অমুকগােত্রঃ শ্ৰীঅমুকশৰ্মা মদীয়ামুকপুত্রস্য শ্ৰীঅমুকশৰ্ম্মণঃ শুভামুককৰ্ম্মাভদাের্থম অমুকগােস্য নান্দীমুখস্য পিতৃ-মুকশৰ্ম্মণঃ অমুকগােস্য নান্দীমুখস্য পিতামহস্যামুকশৰ্ম্মণঃ অমুকগােত্রস্য নান্দীমুখস্য প্রপিতামহস্যামুকশৰ্ম্মণঃ আভদয়িক-শ্রাদ্ধ অমানে ঘৃতাচ্যুপকরণসহিতেন সযবােদকেন কুশময়ব্রাহ্মণয়াে-রহং করিয্যে। পুরােহিত (প্রতিবচন)—ওঁ কুরুষ। মাগমপক্ষের অনুজ্ঞা-মাতামহপক্ষের ব্রাহ্মণ-সমীপে কৃতাঞ্জলি হইয়া শ্রাদ্ধকারী পড়িবেন- (১) ওঁ দেবতাভ্যঃ পিতৃভ্যশ্চ মহাযােগিভ্য এব চ। নমঃ পুষ্ট্যৈ স্বাহায়ৈ নিত্যমেব ভবত্ত্বিতি। (২) ওঁ দেবতাভ্যঃ পিতৃভ্যশ্চ মহাযােগিভ্য এব চ। নমঃ পুষ্ট্যৈ স্বাহায়ৈ নিত্যমেব ভবস্তৃিতি।

যজুর্বেদীয়
(৩) ওঁ দেবতাভ্যঃ পিতৃভ্যশ্চ মহাযােগিভ্য এব চ।
নমঃ পুষ্ট্যে স্বাহায়ৈ নিত্যমেব ভবস্তৃিতি ।
(৪) (জপ) ওঁ ভূর্ভুবঃস্ব। তৎসবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো
দেবস্য ধীমহি। ধিয়াে যাে নঃ প্রচোদয়াৎ ওঁ।
মাতামহপক্ষের অনুজ্ঞার বাক্য-বিষ্ণুরে। তৎসদদ্য
অমুকে মাসি অমুক-রাশিস্থে ভাস্করে অমুকে পক্ষে
অমুক্যাং তিথৌ অমুকগােত্রঃ অমুকশৰ্মা মদীয়ামুকপুত্রস্য
শ্ৰীঅমুকশৰ্ম্মণঃ শুভামুককৰ্ম্মাভ্যুদয়ার্থ
অমুকগােত্ৰস্য নান্দীমুখস্য মাতামহস্যামুকশৰ্ম্মণঃ
অমুকগােত্রস্য নান্দীমুখস্য প্রমাতামহস্যামুকশৰ্ম্মণঃ
অমুকগােত্র নান্দীমুখস্য বৃদ্ধপ্রমাতামহস্যামুকশৰ্ম্মণঃ
আভদয়িক-শ্রাদ্ধ আমান্নেন ঘৃপকরণসহিতেন
স্যবােদকেন কুশময়ব্রাহ্মণয়াে-রহং করিয্যে।
পুরােহিত (প্রতিবচন)—ওঁ কুরুষ।
অনুবাদ—(ও দেবতাভ্যঃ ইত্যাদি) দেবতাভ্যঃ (দেবতাদিগকে)
পিতৃভ্যশ্চ ( অগ্নিঘাত প্রভৃতি পিতৃলােকদিগকে) মহাযােগিত্য এব চ
(সনক প্রভৃতি মহাযােগিদিগকে) পুষ্ট্যৈ (নান্দীমুখপিতৃগণের অধিষ্ঠাত্রী
পুষ্টিদেবীকে) স্বাহায়ৈ (দেবগণের অন্নের অধিষ্ঠাত্রী আহাদেবীকে)
নমঃ (প্রণাম ), (তাহারা) নিত্যমেব (নিত্যই যেন ) ( আমার

৫৪
আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
নিকট) ভবন্তু ইতি (থাকেন)। [ইতি' শব্দের বিশেষ কোনও
অর্থ আছে বলিয়া মনে হয় না।]
দ্রষ্টব্য-মন্ত্রটি প্রকৃত প্রস্তাবে এই
ও দেবতাভ্যঃ পিতৃভ্যশ্চ মহাযােগিভ্য এব চ।
নমঃ স্বধায়ৈ স্বাহায়ৈ নিত্যমেব ভবত্ত্বিতি।
[ব্রহ্মপুরাণ ]
পিতৃদয়িতাতে ‘ভবধৃিতি' পাঠ আছে। কর্মোপদেশিনী’তে
‘ভবত্ত্বিতি’ স্থলে ‘ভবন্তু নঃ পাঠ আছে। আভদয়িকে, পার্বণে,
প্রেতশ্রাদ্ধে ও একোৰ্দিষ্টবিধিক শ্রাদ্ধে ‘ভবত্ত্বিতি’ অথবা ভবন্তু নঃ
পড়িতে হইবে। আভদয়িক-শ্রাদ্ধে ‘স্বধায়ৈ’ স্থলে ‘পুষ্ট্যৈ বসাইতে
হইয়াছে। স্বধায়ৈ’ চতুর্থীর একবচন। এইজন্য ‘স্বধায়ৈ’ স্থলে পুষ্টি-
শব্দের চতুর্থীর একবচন ‘পুষ্ট্য’ বসাইতে হইয়াছে। এরূপ বসানকে ‘উহ”
বলে। পিতৃভ্যঃ-পদের পূর্বে নান্দীমুখেভ্যঃ বসাইতে হইবে না, কারণ
এখানে পিতৃদ্বারা মাতা, পিতামহী, প্রপিতামহী, পিতা, পিতামহ,
প্রপিতামহ, মাতামহ, প্রমাতামহ এবং বৃদ্ধপ্রমাতামহকে বুঝায় নাই
এজন্য প্রেতশ্রাদ্ধেও ‘পিতৃভ্যঃ' স্থলে ‘প্রেতেভ্যঃ পড়িতে হইবে না।
‘উহ' বিষয়ে স্মারঘুনন্দন ভট্টাচাৰ্য মহাশয়ের শ্রাদ্ধতত্ত্বের
উহ-অংশ দ্রষ্টব্য। সেখানে তিনি কোন্ মন্ত্রে
কোথায় উহ
করিতে হইবে তাহার বিচার করিয়া মীমাংসা করিয়াছেন।
সুতরাং পূর্বোক্ত মন্ত্রে একটি মাত্র ‘উহ”।

যজুৰ্বেদীয় তারপর ব্রাহ্মণদিগকে কুশাসন-দান। [ এই সম্বন্ধে কর্মোপদেশিনী' বলেন ১। তততা দৈবে ত্ৰিপত্ৰং গৃহীত্ব—বিষ্ণুরে বসুসত্যৌ বিশ্বেদেবা এতে কুশাসনে বাং নম [:]—ইতি পায়ােরধঃ কুশান্ দা, শ্রদ্ধীয়- দ্রব্যং শ্রাদ্ধভূমিঞ্চ প্রােক্ষেদ রক্ষার্থমুদক-পাত্রঞ্চৈকদেশে স্থাপয়েৎ। ততাে মাতৃপক্ষে কুশাসনং দদ্যাৎ- বিষ্ণুরে। অমুকগােত্রে নান্দীমুখি মাতরমুকী-দেবি অমুকগােত্রে নান্দীমুখি পিতামহি অমুকী-দেবি অমুকগােত্রে নান্দীমুখি প্রপিতামহি অমুকী-দেবি এতে কুশাসনে বাং নম [:]-ইতি পদিয়ােরধঃ কুশান্ দ। শ্রাদ্ধীয়দ্রব্যং শ্রাদ্ধভূমিঞ্চ প্রোক্ষে রক্ষার্থমুদক-পাত্রঞ্চৈকদেশে স্থাপয়েৎ। ৩। এবং পিতৃপক্ষে মাতামহপক্ষে চ কুশাসনং দদ্যাৎ।] পূৰ্ব্বে যে আসন দেওয়া হইয়াছে তাহা ব্রাহ্মণদের বসিবার জন্য। এখন যে আসন দেওয়া হইতেছে তাহার উপর তাহারা পা রাখিবেন। একটি পাত্রে, সাধারণতঃ কোশাতে, একটি ত্রিপত্র, যব, তুলসী ও জল রাখিয়া, উপুড়-করা ডান হাতে ত্রিপত্রটি ধরিয়া এবং উপুড়-করা বামহাতে কয়েকগাছি ( অন্ততঃ দুইগাছি) প্রাদেশ-প্রমাণ কুশ লইয়া দেবপক্ষের ব্রাহ্মণের দিকে চাহিয়া শ্রাদ্ধকারী বলিবেন—

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
বিষ্ণুরে বসতত্যা বিশ্বে দেবা, এতে কুশাসনে
বাং নমঃ।
তারপর তিনি ঐ কুশগুলি দেবপক্ষের ব্রাহ্মণের পাদদেশে
রাখিবেন। পরে মাটিমিশ্রিত জল শ্রাদ্ধীয় দ্রব্যসমূহে এবং
শ্রাদ্ধভূমিতে ছিটাইয়া দিবেন এবং বিনিবারণের জন্য একটি
জলপূর্ণ পাত্র ব্রাহ্মণের একদিকে স্থাপন করিবেন।
মাতৃপক্ষে—বিষ্ণুরে। অমুকগােত্রে নান্দীমুখি মাতরমুকী-দেবি,
অমুকগােত্রে নান্দীমুখি পিতামহি অমুকী-দেবি,
অমুকগােত্রে নান্দীমুখি প্রপিতামহি অমুকী-দেবি,
এতে কুশাসনে বাং নমঃ।
অন্যান্য কাজ দেবপক্ষের মত।
পিতৃপক্ষে-বিষ্ণুরে। অমুকগােত্র নান্দীমুখ পিত-মুকশৰ্ম্ম
অমুকগােত্র নান্দীমুখ পিতামহামুকশৰ্ম্মন্
অমুকগােত্র নান্দীমুখ প্রপিতামহামুক শৰ্ম্ম
এতে কুশাসনে বাং নমঃ।
অন্যান্য কাজ দেবপমের মত।
মাতামহপক্ষে-বিষ্ণুরে। অমুকগােত্র নান্দীমুখ মাতামহা-
মুকশৰ্ম্ম

যজুৰ্বেদীয়
৫৭
অমুকগােত্র নান্দীমুখ প্রমাতামহামুকশৰ্ম্ম
অমুকগােত্র নান্দীমুখ বৃদ্ধপ্রমাতামহামুকশৰ্ম্ম
এতে কুশাসনে বাং নমঃ।
অন্যান্য কাজ দেবপক্ষের মত।
দ্রষ্টব্য-প্রত্যেক পক্ষে দুইজন ব্রাহ্মণ আছেন। এইজন্য ‘এতে
কুশাসনে' (এই দুইখানা কুশাসন), বাং ( আপনাদের দুইজনকে) নমঃ
( অৰ্পণ করিতেছি)। মাতৃ, পিতৃ ও মাতামহ-এই তিন
প্রত্যেক পক্ষে তিনজনের শ্রাদ্ধ করা হইলেও
প্রত্যেক পক্ষে দুইজন ব্রাহ্মণ বসিয়াছেন।
পক্ষের
আবাহন
দেবপক্ষের আবাহন—দেবপক্ষের ব্রাহ্মণাসনের সম্মুখে
আসিয়া ডানহাতে যব লইয়া কৃতাঞ্জলি হইয়া শ্রাদ্ধকারী
বলিবেন—
(১) ওঁ বিশ্বান্ দেবা আবাহয়িয্যে ?
[ কাত্যায়নগৃহপরিশিষ্ট ]
পুরােহিত (প্রতিবচন)-
(২) ও আবাহয়।
[ কাত্যায়নগৃহপরিশিষ্ট

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
তারপর ডানহাতে যব রাখিয়াই নিম্নলিখিত মন্ত্র জপ
করিতে হইবে।
(৩) ও বিশ্বে দেবাস আগত, শৃনুম ইমণ্ড হব।
এদং বহির্নি যীদত ।
[ মা-বা-সং-৭৩৪,
কাবা-সং-উৎকল-৭৩৪,
কা-বা-সং-চৌখাম্বা-৭১৬১]
মন্ত্রটি জপ করার পর দেবপক্ষীয় ব্রাহ্মণ-সম্মুখে যবগুলি
ছড়াইয়া দিতে হইবে। তারপর কৃতাঞ্জলি হইয়া নিমােক্ত
মন্ত্র পড়িতে হইবে—
(৪) ও বিশ্বে দেবাঃ শৃণুততম হবং মে,
যে অন্তরিক্ষে য উপবি ।
যে অগ্নিজিহ্বা উত বা যজত্রা,
আসাম্মি বহিষি মাজয়ধ্ব।
[ মা বা-সং-৩৩৫৩, কাবা-সং-উৎকল
—৩২৫৩, ঋগ্বেদ-৬৫২১৩ ]
ইহাই আবাহনের মন্ত্র।
* দ্রষ্টব্য =[ (১) দেবাসঃ=‘দেব'-শব্দ প্রথমার বহুবচন সম্বােধনে। পক্ষে দেবাঃ।
‘আজ্জসেরক’=পাণিনির এই সূত্র অষ্টব্য।(২) গত – গম +লােট ত। ছান্দস

যজুৰ্ব্বেদীয় অনুবাদ-১) বিশ্ব দেবান্ ( বিশ্বদেবগণকে। আবাহয়িয্যে (আবাহন করিব কি?) (২) আবাহয় ( আবাহন কর)। (৩) বিশ্বে দেবাসঃ (হে বিশ্বদেবগণ,) ( আপনারা) আগত ( আসুন,) মে (আমার) ইমং (এই) হবং (আহ্বান) শৃণতা (শ্রবণ করুন।। (আমার আহ্বান শুনিয়া) ইদং বর্হিঃ ( এই কুশােপরি ) আনিষীদত (উপবেশন করুন। (৪) বিশ্বেদেবাঃ (হে বিশ্বদেবগণ,) যে (যে )( আপনারা) অন্তরিক্ষে (অন্তরীক্ষে,) যে (যে ) ( আপনারা) উপ স্থবি (দ্যুলােকের নিকটে, অর্থাৎ ভূলােকে) স্থ (অবস্থান করেন), যে(যে) (আপনারা) অগ্নিজিহ্বাঃ ( অগ্নিমুখ) উত বা (এবং) ( যে আপনারা) যজত্রা (যজ্ঞদ্বারা উপাস্য), প্রয়ােগ। (৩) শৃণুতা -শৃণুত’ স্থানে ছান্দস প্রয়ােগ। অন্যেষামপি দৃশ্যতে’ –পাণিনি ৬১৩৭, সিদ্ধান্তকৌমুদী ৩৫৩৯ সূত্র দ্রষ্টব্য। (৪) এং - ‘আ’ এই উপসর্গটিকে ‘নিষীদত’-এর সহিত যুক্ত করিতে হইবে। ‘তে প্ৰাহ্মাতো’, ‘ছন্দসি পরেইপি এবং ব্যবহিতাশ’ -পাণিনির এই তিনটি সূত্র দ্রষ্টব্য। এদং =আ + ইদং। (৫) ইদং বহিঃ = অস্মিন্ বহিষি – সপ্তমী ‘ঙি স্থানে লু (লােপ )। পাণিনিসূত্র- (৭১৩৯) সুপাং সুলুক পুৰ্ব্বসবর্ণাচ্ছেষাভ্যাজালঃ। সন্ধি ভাঙ্গিলে-সুপাং সু-লু-পূৰ্ব্বসবর্ণ-আ-আ-শে- যা-ডা-ড্যা-যাচ-আলঃ। (৬) অন্তরিক্ষে-বেদে ‘অন্তরীক্ষ স্থানে সর্বদাই ‘অন্তরিক্ষ’ হয়। (৭) যে অন্তরিক্ষে‘প্রকৃত্যান্তঃপাদমব্যপরে’–এই পাণিনীয় সূত্রানুসারে ‘যে’-এর ‘এ’ প্রকৃতিতে রহিয়াছে। (৮) য উপ= যে+উপ। (৯) ম ইমগু =মে+ইম। (১০) ছবি-স্ত্রীলিঙ্গ, ‘দ্যো” শব্দ সপ্তমীর একবচন। স্থবি= দিবি। (১১) স্থ= অদাদি অস+লট থ। (১২) ছবি+=ঘবি । ‘পূর্বপদাৎ’ - পাণিনির এই সুত্রানুসারে ষত্ব। (১৩) অগ্নিজিহ্বা - অগ্নি জিহ্বাতে যাঁহাদের ।

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
-
(সেই আপনারা) মে (আমার) ইমং (এই) হবং (আহ্বান। শৃণুত
(শ্রবণ করুন) (এবং) অস্মিন্ বহিষি (এই কুশে) আসদ্য (বসিয়া )
মাদয়ধ্বম্ (আনন্দিত হউন)।
মাতৃপক্ষের আবাহন—মাতৃপক্ষের ব্রাহ্মণাসনের সম্মুখে
আসিয়া, ডানহাতে যব লইয়া কৃতাঞ্জলি হইয়া শ্রাদ্ধকারী
বলিবেন
ওঁ নান্দীমুখা
পিতৃন্ আবাহয়িয্যে?
পুরােহিতওঁ আবাহয়।
তারপর ডানহাতে যব রাখিয়াই নিম্নোক্ত মন্ত্র জপ
করিতে হইবে—
ও উশা নি ধীমহুশতঃ সমিধীমহি।
উশ-মুশত আবহ নান্দীমুখা পিতৃ
হবিষে অত্তবে। *
* দ্রষ্টব্য-(১) হবিষে অবে—এখানে সন্ধি হয় নাই।
সােমাসােহগ্নিদাত্তাঃ=সোম্যাসাে+অগ্নিদাত্তা
=সেম্যাস উ+অগ্নিদাত্তা
=সােম্যাস +অগ্নিদাত্তাঃ
= সােম্যাসস+অগ্নিদাতাঃ
মদন্তোধি =মদন্তো+অধি=মদন্ত উ+অধি
=মদন্ত+অধি=দন্ত+অধি
=তে+অব।
==

যজুর্বেদীয়
মন্ত্রটি জপ করার পর মাতৃপক্ষীয় ব্রাহ্মণ-সম্মুখে যবগুলি
অমন্ত্রক ছড়াইয়া দিতে হইবে। তারপর কৃতাঞ্জলি হইয়া
নিয়ােক্ত মন্ত্র পড়িতে হইবে।
ও আ মুন্তু নাে নান্দীমুখাঃ পিতর
সােম্যাসােহগ্নিঃ পথিতি-দেবযালৈ ।
অন্মিন্ যজ্ঞে পুষ্ট্যা মদন্তোধি
ব্রবত্ত তেহব। *
পিতৃপক্ষের আবাহন—ঠিক মাতৃপক্ষের মত। নান্দীমুখা
পিতৃন্ এবং নান্দীমুখাঃ পিতরঃ পূর্ববৎ থাকিবে।
মাতামহপক্ষের আবাহন—ঠিক মাতৃপক্ষের মত। নান্দী-
মুখা পিতৃন্ এবং নান্দীমুখাঃ পিতরঃ পূৰ্ব্ববৎ থাকিবে।
(২) অত্তবে = অতুমর্থে তবেঙ, বা তবে। স্বরে
স্বরে ভেদ। তবে,
করিলে অবে’-এর দ্বিতীয়ম্বর উদাত্ত, ‘তবে করিলে আদিস্বর উদাত্ত। এখানে
তবে’-ই করিতে হইবে কারণ, বেদাচাৰ্যগণের মতে এখানে আদিস্বর উদাত্ত।
অন্তবে=অদ্ভুম। ইহার কৰ্ম্ম হবিষে' চতুর্থী বিভক্তিতে আছে। ইহা শুদ্ধ প্রয়োগ
বলিয়া ধরিয়া লইতে হইবে। দ্বিতীয়। স্থলে চতুর্থী।
(৩) উশন, উশন্তঃ, উশতঃ—অদাদি বশ+শ। পুংলিঙ্গ ‘উশৎ'- শব্দের
প্রথমার একবচনে ‘উশ, প্রথমার বহুবচনে ‘উশন্ত এবং দ্বিতীয়ার বহুবচনে ‘উশতঃ।
বশ-কামনা করা, ইচ্ছা করা।
(৪) সােম্যাস:-সােম্য’-শব্দের প্রথমার বহুবচন।
বৈদিক প্রয়ােগ।
তুলনা কর ‘দেৱাস'। সােমমহতি যঃ ইতি সােম+য।

'৬২ আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি কাহারও কাহারও মতে আবাহনের সময় যব ছড়ান অমন্ত্রক নহে। এই মতে দেবপক্ষের মন্ত্র ওঁ যবােহলি যবস্মযেয যয়ারাতীঃ এবং অন্যান্য পক্ষের মন্ত্র ওঁ অর রক্ষাগুলি বেদিষঃ। দ্রষ্টব্য-(১) প্রথম মন্ত্রটির বেদের পাঠ- ওঁ উশস্ত। নি ধীমহুশন্তঃ সমিধীমহি। উশ-শত আ বহ পিতৃন হবিষে অত্তবে। [ মা-বা-সং-১৯৭, কা-বা-সং-উৎকল-২১৭০, ঋগ্বেদ-১০১৬১২] দ্রষ্টব্য-(২) দ্বিতীয় মন্ত্রটির বেদের পাঠ ওঁ আ য়ন্তু নঃ পিতরঃ সােম্যাসােহগ্নিঘাত্তাঃ পথিভি-দেবযানৈঃ অস্মিন্ যজ্ঞে স্বধয়া মদন্তোহধি বস্তু তেহবন্ত,স্মা। [ মা-বাসং-১৯৫৮, কা-বা-সং-উৎকল-২১৫৯ ] যজুৰ্বেদীয় অনুবাদ-(১) (হে অয়ে,) (আমরা) হবিদান) উশঃ (কামনা করিয়া) বা (তােমাকে) নিধীমহি (স্থাপন করিতেছি) (এবং) (সেই) উশঃ (কামনা করিয়াই) (তােমাকে) সমিধীমহি (উদ্দীপ্ত করিতেছি,) (তুমিও) ( নিজে ) ( সেই হবি) উশন (কামনা করিয়া) উতঃ নান্দীমুখা পিত্ন (হবি কামনা করেন যে নান্দীমুখ পিতৃগণ, তাঁহাদিগকে) হবিষে অত্তবে (সেই হবি ভােজন করিবার জন্য ) আবহ (লইয়া আস)। অনুবাদ-(২) নঃ (আমাদের সােম্যাসঃ (সােমপানাহঁ) (ও) অগ্নিদাত্তা (যাহারা অগ্নির সাহায্যে হবিঃ আস্বাদন করেন তাদৃশ ) নান্দীমুখাঃ পিতরঃ (নান্দীমুখ পিতৃগণ ) পথিভিদেবযানৈ (দেবযান পথদ্বারা) আয়ন্তু (আনুন )। ( আসিয়া) তে (তাহারা) অস্মিন্ যজ্ঞে (এই যজ্ঞে, এই শ্রাদ্ধে ) পুষ্ট্যা (অন্নদ্বারা) মদন্তঃ (তৃপ্তিলাভ করিয়া) অন্ (আমাদিগকে) অধিবস্তু (বড় বলুন, আশীর্বাদ করুন)(এবং আমাদিগকে) অবস্তু (রক্ষা করুন)। অৰ্যদা অর্ঘ্যদানের মন্ত্ৰসমূহ- ১। ওঁ পবিত্রে হাে বৈষ্ণবৌ।(১১ বার পাঠ) ২। ওঁ বিষ্ণোমনসা পূতে স্থঃ।(১১ বার পাঠ) ৩। ওঁ শয়ােগ দেবীরভিষ্টয়, আপাে ভবন্তু পীতয়ে । শং যােরভি বৃন্তু নঃ ॥ (১১ বার পাঠ }

৬৪
আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
৪। ও যবােহসি যবয়াম্মদ্যোে যবয়াতী।
(২ বার পাঠ )
৫। ঔ যবােহসি সােমদেবতত্যা গােযবাে
দেবনির্মিতঃ।
প্রত্নমত্তিঃ পৃঃ পুষ্টা নান্দীমুখা পিতৃল্লোকান্
প্রণাহি নঃ স্বাহা। (৯ বার পাঠ)
}
মন্ত্রটি মূলে।
ও তিলােহসি সােমদেবতত্যা গােযবাে দেবনির্মিত।
প্রত্নমষ্টিঃ পৃক্তঃ স্বধয়া পিতৃল্লেীকান্ প্রণাহি নঃ স্বাহা।
( কাত্যায়নগৃহপরিশিষ্ট)
পার্বণে এই মন্ত্রটি বেদের মতই পড়িতে হইবে। একোৰ্দিষ্টবিধিক
শ্রদ্ধেও বেদের পাঠ। প্রেশ্রাদ্ধে পিতৃল্পেকান্ স্থলে ‘প্রেতাপ্পোকা
পড়িতে হইবে। অভদয়িকে ‘তিলােহসি স্থানে ‘যবােহসি’, ‘অধয়া
স্থানে ‘পুষ্ট্যা’ এবং ‘পিতৃল্পোঁকা স্থানে নান্দীমুখা পিতৃস্নেকান্
হইয়াছে।
৬। ও যা দিব্যা আপঃ পয়সা সংবভূবু,
যা অন্তরিক্ষ্যা উত পার্থিবীৰ্যাঃ।
হিরণ্যবর্ণা যজ্ঞিয়াস্তা ন আপঃ,
শিবা শু শ্যোনাঃ সুহবা ভবন্তু ॥
(কাত্যায়নগৃহপরিশিষ্ট)
এই মন্ত্রটি ১০ বার পাঠ।

যজুর্বেদীয় অৰ্যদানের কাজ অত্যন্ত জটিল। ইহার মূল সংস্কৃতপদ্ধতি এখানে উদ্ধৃত হইতেছে। ততাে দৈবে উত্তরাগ্ৰকুশপত্ৰমেকং ভূমৌ নিধায় তদুপরি অর্ঘ্যপাত্র- দ্বয়ং স্থাপয়িত্বা, প্রত্যেকেন সাং প্রাদেশপ্রমাণংগৰ্ভশূন্যং কুশপত্রদ্বয়ং কুশান্তরেণ বেষ্টিতং ‘ও বেষ্টিতং ও পবিত্রে জাে বৈষ্ণব্যৌ ইতি মন্ত্রেণ নখব্যতিরেকেন ছিত্ত্বা, প্রত্যেকেন ও বিষ্ণোর্মনসা পূতে স্থ [:] ইতি স্নাপয়িত্ব, অর্ঘ্যপাত্রদ্বয়ে উত্তরাগ্ৰং স্থাপয়েৎ। ততােহর্ঘপাত্রদ্বয়ে প্রত্যেকেন জলগণ্ডুষং দদ্যাদনেন মন্ত্রেণ ও শন্নো দেবীরভিষ্টয়, আপাে ভবন্তু পীতয়ে। শং যােরভি বন্তু নঃ । ততাে যবান্ গৃহীত্ব, ও যবােহসি যবস্মযোে যবয়ারাতী- রিত্যর্ঘ্যপাত্রদ্বয়ে প্রত্যেকেন যবান্ বিকীৰ্য্য, তুফীং গন্ধ-পুষ্পক্ষতানি দা কুশান্তরেপাচ্ছাদয়েৎ। ততঃ মাত্রাদিব্রাহ্মণাগ্রতঃ উত্তরাং কুশপত্ৰত্ৰয়ং ভূমৌ নিধায়, মূলে ত্রীণি, মধ্যে শ্রীণি, অগ্রে ত্ৰীণ্যর্ঘপাত্রাণি স্থাপয়েৎ। ততঃ প্রত্যেকেন পবিত্রে হাে বৈষ্ণব্যৌ—ইতি নখব্যতিরেকেন ছিা, প্রত্যেকেন ও বিষ্ণোর্মনসা পূতে স্থ [:]-ইতি স্নাপয়িত্বা, মাত্রাদিপত্রে উত্তরাং স্থাপয়িত্ব, ও শন্নো দেবীরিতি প্রত্যেকেনাঘঁপাত্ৰেষু, জলগণ্ড ষং দদ্যাৎ। ততাে যবান গৃহীত্ব, ও যবােহসি সােমদেবত্যো গােষবাে দেবনির্মিত।

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি প্রত্নমত্তিঃ পৃঃ পুষ্ট্যা নান্দীমুখা পিতৃল্লেকা প্রণাহি নঃ স্বাহা ইতি মাত্রাদি-অপাত্রে প্রত্যেকেন যবান বিকীৰ্য, তুষ্ণীং গন্ধপুষ্পক্ষতানি দা, কুশান্তরেণাচ্ছাদয়েৎ। তততা দৈবে কৃতাঞ্জলিঃ—ও অচ্ছিদ্রে ইমে অর্ঘ্যপাত্রে স্তম্ ইতি বদেৎ। তত উদঘাটনং কৃত্বা, ব্রাহ্মণহস্তে পবিত্ৰং দা, জলান্তরং পুষ্পস্তরঞ্চ দত্ত্বা, পুষ্পরেণ শিরঃপণ্যাদিসৰ্বগাত্রেভ্যো নম [:]-ইতি পূজয়েৎ। ততােহর্ঘ্যপাত্রদ্বয়ং বামহস্তে কৃত্বা, দক্ষিণহস্তেচ্ছদ্য ও যা দিব্যেতি মন্ত্রং পঠিত্বা, ত্ৰিপত্ৰং গৃহীত্ব, ও বস্তুসত্যো বিশ্বে দেবা এবঘে বাং নমঃ। ততঃ প্রদক্ষিণাে ভূত্বা, মাতৃপক্ষাদৌ কৃতাঞ্জলিঃ অচ্ছিদ্ৰমিদমৰ্ঘপাত্ৰমস্তু-ইতি প্রত্যেকেনাচ্ছিদ্রং প্রত্যেকেন ব্রাহ্মণহস্তে পবিত্রাণি দা, মাতুৰ্ঘপাত্রং দক্ষিণহস্তেন পূর্ববদাচ্ছাদ্য ও যা দিব্যেতি পঠিত্বা—অমুকগােত্রে নান্দীমুখি মাতরমুকীদেবি এষ তে অঘো নম [:]-ইতি উৎসূজেৎ। সংস্রবল অপাত্রে স্থাপয়িত্ব, (অর্ঘ্যপাত্রং) পূৰ্ব্বস্থানে স্থাপয়েৎ। এবং পিতামহীপ্রপিতামহােত পিত্রাদীনাঞ্চাৰ্ঘজল উৎসৃজ, সর্বত্র সংস্রবং স্থাপয়েৎ। ততঃ পিতামহী-প্রপিতামহীপাত্রসংবজলং মাতুরঘঁপাত্রে স্থাপয়িত্বা, প্রপিতামহীপাত্রেণাচ্ছদ্য এবং পিতামহাদিপঞ্চপাত্রসংবজলং পিতৃপাত্রে কৃত্বা, প্রপিতামহপাত্ৰেণাচ্ছদ্য ৬৭ যথাবিধি ও নান্দীমুখেভ্য পিতৃভ্যঃ স্থানমসীত্যনেন নুজীকৃত্য ওঁর বামতাে সেৎ। অর্ঘ্যদান অর্ঘ্য মােট ১১টি—(১) দেবপক্ষে-২, (২) মাতৃপক্ষে-৩, (৩) পিতৃপক্ষে-৩, (৪) মাতামহপক্ষে-৩। দেবপক্ষের অর্ঘ্য দুইটি হইলেও, একবারমাত্র বাক্য পড়িয়া একসঙ্গে অদুইটি উৎসর্গ করিতে হইবে, বসু ও সত্যের জন্য পৃথক পৃথক্‌ উৎসর্গ-বাক্য বলিতে হইবে না। মাতৃপক্ষের অর্থ- তিনটি হইতে একটি মাতার, একটি পিতামহীর এবং একটি প্রপিতামহীর উদ্দেশ্যে পৃথক পৃথক মন্ত্র পড়িয়া উৎসর্গ করিতে হইবে। পিতৃপক্ষে পিতা, পিতামহ ও প্রপিতামহের উদ্দেশ্যে এবং মাতামহপক্ষেও মাতামহ, প্রমাতামহ ও বৃদ্ধ- প্রমাতামহের উদ্দেশ্যে পৃথক্‌ পৃথক বাক্য বলিয়া এক একটি অর্ঘ্য উৎসর্গ করিতে হইবে। শ্রদ্ধপ্রসঙ্গে অন্ত্র বলিয়া একটি কথা আছে। রঘুনন্দনের স্মৃতির টীকাকার কাশিরাম বাচস্পতি বলেন- ১৮ আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি অনেকদ্দিশ্য সকৃৎ প্রবৃত্তিস্তন্ত্রতা—অর্থাৎ অনেকের উদ্দেশ্যে এক- সঙ্গে কাজ করাকে তঞ্জতা বলে। এই সম্বন্ধে ছন্দোগপরিশিষ্টকার - কাত্যায়ন বলেন : অর্ধেক্ষয্যোদকে চৈব পিণ্ডদানেহবনেজনে। তন্ত্রস্ত বিনিবৃত্তিঃ স্যাৎ স্বধাবাচন এব চ । অর্থাৎ অর্ঘ্যদান, অক্ষয্যোদদান, পিণ্ডদান, অবনেজন, প্রত্যনেজন এবং স্বধাবাচন -এই সকল কার্যে তন্ত্রতা নাই। আসনদানে তন্ত্রতা আছে। এইজন্য এক-একটি বাক্য বলিয়া এক পক্ষের আসন উৎসর্গ করা হইয়াছে। আবাহনেও তন্ত্রতা আছে। পরে আমরা দেখিব যে, গন্ধাদিপঞ্চকদানে, ভোজনপাত্রোৎসর্গে এবং দক্ষিণাদানেও তন্ত্রতা আছে। অর্ঘ্যদানে ১১টি পাত্র বা কলাগাছের ডােঙ্গা, ১১টি পবিত্র এবং ১০টি ত্রিপত্র আবশ্যক। দেবপক্ষের ব্রাহ্মণ-সম্মুখে দক্ষিণ-উত্তর দিক্ করিয়া (মূল দক্ষিণে এবং অগ্র উত্তরে) একগাছি কুশ পাতিয়া ঐ কুশের উপর পাশাপাশি দক্ষিণ-উত্তর করিয়া দুইটি অর্ঘ্যপাত্র স্থাপন করুন। ( ৬৯ পৃষ্ঠার চিত্রের ৬ এবং ৭ দ্রষ্টব্য।) মাতৃ, পিতৃ ও মাতামহপক্ষের ব্রাহ্মণদের সম্মুখে দক্ষিণ- উত্তরদিক্‌ করিয়া ( মূল দক্ষিণে এবং অগ্ৰ উত্তরে) পাশাপাশি মােটে তিনগাছি কুশ পাতুন। ইহাদের মূল

যজুর্বেদীয়
মাতৃব্রাহ্মণের, মধ্য পিতৃব্রাহ্মণের এবং অগ্র মাতামহব্রাহ্মণের
নিকট আছে। পূৰ্ব্বদিকের কুশটির মূলে দক্ষিণ-উত্তর করিয়া
মাতার অর্ঘ্যপাত্র ( চিত্রের ৮) স্থাপন করুন। মধ্যের কুশটির
मान
লাম
দ
হ
১৪
মাতামহপক্ষ
?
১২
a
পিভূ
০
মাতৃপক্ষ
@
১
দেবপক্ষ
[১]
কঞ্জাৱ আসন

৭০ আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি মূলে পিতামহীর অপাত্ৰ (৯) ঐ ভাবে স্থাপন করুন। পশ্চিম দিকের কুশটির মূলে ঐ ভাবেই প্রপিতামহীর অর্ঘ্যপাত্র (১০) স্থাপন করুন। কুশতিনটির মধ্যভাগে ঐ ক্রমে ঐ ভাবে পিতা (১১), পিতামহ (১২) এবং প্রপিতামহের ( ১৩) অপাত্র স্থাপন করুন। কুশ তিনটির অগ্রে ঐ ক্রমে ঐ ভাবেই মাতামহ (১৪), প্রমাতামহ (১৫) এবং বৃদ্ধপ্রমাতামহের (১৬) অর্ঘ্যপাত্র স্থাপন করুন। এখন অর্ঘ্যপাত্রের জন্য এগারটি ‘পবিত্ৰ নিৰ্মাণ করিতে হইবে। নির্মাণ-প্রণালী পূৰ্বেই লিখিত হইয়াছে। পবিত্র’ নির্মাণের সময় কুশচ্ছেদনের মন্ত্র (১) ও পবিত্রে সস্থা বৈষ্ণব্যে। [ মা-বা-সং-১১২, ১৬, কা-বা-সং- উৎকল-১১৬, কা-বা-সং-চৌখাম্বা— ১৪১, গােভিলগৃহ-১৭২২] ঐ ভাবি-পবিত্রটিকে বামহাতে ধরিয়া, মূল নীচে ও অগ্র ঊর্ধে রাখিয়া, উহার উপর ত্ৰিপত্ৰদ্বারা জল ছিটানের মন্ত্র- (২) ও বিষ্ণেমনসা পুতে স্থঃ । [ গােভিলগৃহ্য-১৭২৩] যজুৰ্বেদীয় অনুবাদ-(১) পবিত্রে (হে পবিত্ৰদ্বয়,)(তােমরা) বৈষ্ণব্যে ( যজ্ঞসম্বন্ধি) স্থঃ (হও)। অনুবাদ-২) (হে পবিত্ৰদ্বয়,) (তােমরা) বিষ্ণোঃ (বিষ্ণুর) মনসা ( অরণ মাত্রই ) পূতে (পবিত্র) স্থঃ (হও)। দ্রষ্টব্য-একটি পবিত্র হইলেও, ইহাতে দুইটি কুশদল আছে। এই জন্য পবিত্রদ্বয় বলা হইয়াছে। বাস্তবিক পক্ষে, পবিত্রদ্বয় =কুশদ্বিদলযুক্ত একটি পবিত্র। পবিত্র’-শব্দ ক্লীবলিঙ্গ। সম্বােধনের দ্বিবচনে ‘পবিত্রে। বৈষ্ণব্যে-বিষ্ণু+তদেমিত্যণ =বৈষ্ণব। বৈষ্ণব + স্ক্রিয়াং ডীপ= ‘বৈষ্ণবী'। বৈষ্ণবী’-শব্দ প্রথমার দ্বিবচনে ‘বৈষ্ণব্যৌ'। বিষ্ণু =যজ্ঞ। ‘পবিত্র’ ক্লীবলিঙ্গ হওয়াতে তাহার বিশেষণ হওয়া উচিত ছিল ‘বৈষ্ণবে। কিন্তু হইয়াছে ‘বৈষ্ণব্যে। ইহা ছান্দস ‘ব্যত্যয়য় বহুল বুঝিতে হইবে। তােমরা যজ্ঞসম্বন্ধি হও = যজ্ঞে তােমাদের আবশ্যকতা আছে। এইভাবে এক একটি করিয়া ১১টি পবিত্র নির্মাণ করিতে হইবে। প্রেতশ্রাদ্ধে কিংবা একোৰ্দিষ্টবিধিকশ্রাদ্ধে একটি মাত্র পবিত্রের প্রয়ােজন হয়। তাহাতে একটি মাত্র কুশদল থাকে। মন্ত্র দুইটি তখন এইরূপ হইবে— (১) ওঁ পবিত্রাসি বৈষ্ণবী । (২) ও বিষ্ণোর্মনসা পূতমসি। তারপর এক-একটি পবিত্রকে উত্তরাগ্র করিয়া এক-একটি অর্ধপাত্রে অমন্ত্রক স্থাপন করুন।

৭২
আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
পরে প্রত্যেক পাত্রে ডানহাতের দৈবতীর্থ দ্বারা এক-এক
গণ্ডুষ জল দিতে হইবে।
জল দেওয়ার ক্রম :-
(১) দেবপক্ষের দক্ষিণ দিকের পাত্র,
২) দেবপক্ষের উত্তর দিকের পাত্র,
(৩) মাতৃপাত্র,
(৪) পিতামহী-পাত্র,
(৫) প্রপিতামহী-পাত্র,
(৬) পিতৃপাত্র,
(৭) পিতামহ-পাত্র,
(৮) প্রপিতামহ-পাত্র,
(৯) মাতামহ-পাত্র,
(১০) প্রমাতামহ-পাত্র,
(১১) বৃদ্ধপ্রমাতামহ-পাত্র।
প্রত্যেক পাত্রে জল দেওয়ার সময় নিয়ােক্ত মন্ত্রটি একবার
করিয়া পড়িতে হইবে (মােট ১১ বার)
ও শয়াে দেবীরতিষ্টয়, আপাে ভবন্তু পীতয়ে।
শং যােরভি সুবৃত্ত নঃ।
[ ঋগ্বেদ-১০৯৪, অথর্ববেদ ১৬১]

. যজুর্বেদীয় ৭৩ অনুবাদ-দেবীঃ (দীপ্যমান) আপঃ (জল) নঃ (আমাদের) শং (শান্তিদায়ক) (হউক,) (তাহারা আমাদের) অভিষ্টয়ে (যজ্ঞের নিমিত্ত, যজ্ঞের প্রয়ােজনসাধক) (হউক,) (তাহারা আমাদের। পীতয়ে (পানের নিমিত্ত, পিপাসানিবারক) ভবন্তু (হউক)। { তাহারা) শং (উপস্থিত রােগসমূহের উপশমকারক) (এবং) যাের ( অনাগত রােগদিগের অর্থাৎ যে সব রােগ আসিবার সম্ভাবনা তাহাদের পৃথকারক অর্থাৎ বাধক) ( হইয়া) নঃ (আমাদের) অভি ( উদ্দেশ্যে ) সুবন্তু (ক্ষরিত হউক)। দ্রষ্টব্য-মন্ত্রটির ছন্দ গায়ত্রী। ইহার প্রথম পাদ-শন্নো দেবীরভিষ্টয়ে। দ্বিতীয় পাদ- আপাে ভবন্তু পীতয়ে। তৃতীয় পাদ-শং যােরভি বস্তু না। সন্ধিতে ‘অভিষ্টয়ে’ স্থানে অভিষ্টয়’ হইয়াছে। মন্ত্রটি পড়িবার সময়ে ‘অভিষ্টয়ে পড়িলে ভুল হইবে। অভি-যজ+ক্তি= অভি-ইজ, +তি =অভীষ্টি। এখানে ‘অভিষ্টি ছান্দস -বুঝিতে হইবে। চতুর্থীর একবচনে ‘অভিষ্টয়ে। বেদে ‘শং’-শব্দটি পুনঃ পুনঃ পাওয়া যায়। ‘যাে’-ও অনেক স্থানে পাওয়া যায়। দুইটিই অব্যয়। যদিও মন্ত্রটি বাজসনেয়িসংহিতায় নাই অর্থাৎ ইহা পরশাখীয়, তথাপি ইহা পাঠ করিতে আপত্তি হইতে পারে না। ছন্দোগপরিশিষ্টকার কাত্যায়ন বলিয়াছেন- ।

৭৪ আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি যান্সতং স্বশাখায়াং পরােক্তমবিরােধি চ। বিদ্বঙি-স্তদনুষ্ঠেয়-মগ্নিহােত্রাদিকবৎ। অর্থাৎ যাহা স্বশাখায় লেখা নাই অথচ পরের লিখিত, কিন্তু নিজ শাখার অবিরােধী, তাহা অগ্নিহােত্রাদিকৰ্ম্মের ন্যায় বিদ্বজ্জনকর্তৃক অনুষ্ঠেয়। বেদের সকল শাখাতে অগ্নিহােত্রকর্মের উল্লেখ না থাকিলেও সকল বেদীই তাহা করিয়া থাকেন। যজুৰ্বেদীয় গৃহপরিশিষ্টকার কাত্যায়নও পূর্বোক্ত মন্ত্রে জল দিতে উপদেশ দিয়াছেন- যথা—যজ্ঞিয়বৃক্ষচমসে পবিত্ৰাহিতেষেকৈকস্মিন্নপ আ সিঞ্চতি শন্নো দেবীরিতি। যজ্ঞিয়বৃক্ষচমস=যজ্ঞিয়বৃক্ষের এক প্রকার পাত্র। এই শ্রাদ্ধে আমরা তৎপরিবর্তে কলাগাছের পাচলের ডােঙ্গা ব্যবহার করিয়াছি অপাত্রে যব-বিকিরণ এখন নিম্নলিখিত ক্রমে অর্ঘপাত্ৰসমূহে ডানহাতের দৈবতীর্থ দ্বারা যব দিতে হইবে—(১) দেবপক্ষের দক্ষিণদিকের পাত্র, (২) দেবপক্ষের উত্তরদিকের পাত্র, (৩) মাতৃপাত্র, (৪) পিতামহীপাত্র, (৫) প্রপিতামহীপাত্র, (৬) পিতৃপাত্র, (৭) পিতামহপাত্র, (৮) প্রপিতামহপাত্র, (৯) মাতামহপাত্র, (১০) প্রমাতামহপাত্র এবং (১১) বৃদ্ধপ্রমাতামহপাত্র।

যজুর্বেদীয় ৭৫ প্রথম পাত্রে যব দেওয়ার মন্ত্র ১। ও যবােহসি যবয়াম্মদ্যোে যবয়াৱাতীঃ [ মা-বা-সং-৫২৬,৬১, কা-বা-সং-উৎকল- ৬১, কা-বা-সং-(চৌখাম্বা)-৫৭১ ] দ্বিতীয় পাত্রে তৃতীয় পাত্রে ঐ ২। ও যবােহসি সােমদেবত্যো গােযবাে দেবনির্মিত। প্রত্নমন্ডিঃ পৃক্তঃ পুষ্টা নান্দীমুখা পিতৃলোকান্ প্রণাহি নঃ স্বাহা। [ কাত্যায়নগৃহপরিশিষ্ট ] চতুর্থ পাত্রে 7) পঞ্চম পাত্রে ষষ্ট পাত্রে সপ্তম পাত্রে /ভ ত ত নি অষ্টম পাত্রে ১) নবম পাত্রে ১) দশম পাত্রে } একাদশ পাত্রে ঐ

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
অনুবাদ-১। (হে শস্য,) (যেহেতু তুমি) যবঃ (পৃথকারী )
অসি (হও), (সেই হেতু) (তুমি) (অস্মৎ ) ( আমাদিগহইতে)
দ্বেষঃ (শদিগকে। (এবং) অতীঃ ( অদাতৃত্ব, অদান) যবয়
( পৃথক্ কর)। ভাবার্থ-আমাদের যেন শক্ত না থাকে এবং দান
করিবার মত ধন লাভ হয়।
অনুবাদ—২। (হে শস্য,) (তুমি) যবঃ (যব ) সােমদেবত্যঃ
(সােম তােমার অধিষ্ঠাত্রী দেবতা) (তুমি) গােষবঃ (স্বৰ্গকে দান কর)
(তুমি) দেবনির্মিতঃ (বিষ্ণুদেহােৎপন্ন ) (তুমি) অদ্ভিঃ (জলের সহিত)
পৃক্তঃ ( মিশ্রিত হইয়া) পুষ্ট্যা ( অন্নরূপে ) নান্দীমুখা (নান্দীমুখ)
পিতৃন্ লােকান্ (পিতৃলােকদিগকে) প্রত্নং ( চিরকাল) প্রণাহি
( প্রীতি দান কর)। (এই প্রার্থনা করিয়া এই যব ) স্বাহা ( অর্পণ
করিলাম)।
দ্রষ্টব্য—“ঈ হল্যঘাে’--পাণিনির এই সূত্রানুসারে প্রী+ লােট হি
= প্রণীহি। প্রণাহি ছান্দসয়ােগ।
এখন, যে ক্রমে ১১টি পাত্রে যব দেওয়া আছে, সেই ক্রমে
ঐ পাত্ৰসমূহে একে একে অমন্ত্রক গন্ধ, পুষ্প ও আতপ
চাউল দি।
তারপর, ১১টি কুশের টুকরা লইয়া পূর্বোক্ত ক্ৰমে একে
একে ১১টি পাত্রকে আচ্ছাদন করুন।

যজুৰ্বেদীয় ৭৭ দেবপক্ষের অর্ঘ্য-উৎসগ ১। দেবপক্ষের ব্রাহ্মণের দিকে চাহিয়া বলুন- ও অছিদ্রে ইমে অর্ঘ্যপাত্রে স্তাম্। পুরোহিতওঁ স্তাম্। * ২। তারপর দেবপক্ষের অর্ধপাত্র দুইটি হইতে আচ্ছাদন- কুশদুইটি ফেলিয়া দিন। এই কাজকে ‘উদঘাটন’ বলে। ৩। তারপর অপাত্র দুইটি হইতে পবিত্র দুইটি তুলিয়া দেবপক্ষের ব্রাহ্মণে দি। ইহাকে ব্রাহ্মণহস্তে পবিত্ৰদান বলে। ৪। তারপর কোশা হইতে একগণ্ডুষ জল অমন্ত্রক দেবপক্ষের ব্রাহ্মণহস্তে দি। পদ্ধতির ভাষা—জলান্তরং দত্ত্বা অর্থাৎ এই জল কোশার জল, অর্ধপাত্রের জল নহে। ৫। তারপর পুষ্পপাত্র হইতে পুষ্প লইয়া অমন্ত্রক দেবপক্ষের ব্রাহ্মণে দিন্। পদ্ধতির ভাষা-“পুষ্পস্তরঞ্চ দত্ত্বা' অর্থাৎ এই পুষ্প অর্ঘ্যপাত্রের পুষ্প নহে । ৬। তারপর পুষ্পপাত্র হইতে আর একটি পুষ্প দেবপক্ষের ব্রাহ্মণে দিয়া ‘শিয়ঃ-পাণ্যাদিসৰ্ব্বগাত্রেভ্যো নমঃ'—এই বলিয়া ব্রাহ্মণদ্বয়কে পূজা করুন। পদ্ধতির ভাষা-পুষ্পরেণ * অষ্টব্য-প্ত=হউক। অসধাতু লােট প্রথমপুরুষের দ্বিবচন ।

৭৮ আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি শিরপাণ্যাদিসৰ্বগাত্ৰেভ্যো নমঃ ইতি পূজয়েৎ'। ইহাও অর্ঘ্য- পাত্রের পুষ্প নহে। কাহাকে পূজা করিবে ? দেবপক্ষের ব্রাহ্মণকে। ৭। (ক) এখন দেবপক্ষের একটি অপাত্র অপরটির উপর রাখিয়া (কোটি উপরে থাকিবে তাহার কোনও নিয়ম নাই), (খ) যুক্তপাত্র দুইটিকে বামহাতের উপর স্থাপন করিয়া, (গ) ডানহাত দ্বারা আচ্ছাদন করিয়া, বলুন- ওঁ যা দিব্যা আপঃ পয়সা সংবহুবু- যা অন্তরিক্ষ্যা উত পার্থিবীৰ্যাঃ। হিরণ্যবর্ণা যজ্ঞিয়ান্তান আপ, শিবাঃ শগু স্যোনাঃ সুহবা ভবন্তু। * [ কাত্যায়নগৃহপরিশিষ্ট অনুবাদ—যাঃ (যে ) আপঃ (জল) দিব্যাঃ (স্বর্ণসভৃত), অন্তরীক্ষাঃ ( আকাশসস্তৃত) (ও) পার্থিবীঃ (পৃথিবীসদ্ভূত ), (যাহা) হিরণ্যবর্ণা ( রজতের ন্যায় শুভ্রবর্ণ ); বাহা) যজ্ঞিয়াঃ (যজ্ঞের উপযােগি ), (যাহা) পয়সা (দুগ্ধের সহিত মিলিত হইয়া) সংবহুবুঃ ( আছে,) তাঃ (সেই ) * দ্রষ্টব্য- দিব্য = স্বর্গসস্তুত। অন্তরিক্ষ্য ==অন্তরীক্ষসস্তৃত অর্থাৎ আকাশসস্তৃত। পার্থিব=পৃথিবীসদ্ভুত। “পার্থি-শব্দের স্ত্রীলিঙ্গে ‘পার্থিবী'। তাহার বহুবচনে ভাষাতে ‘পার্থিব্যঃ কিন্তু বেদে ‘পার্থিব্যঃ এবং পার্থিবী'। হিরণ্য—স্বর্ণ, রজত। এখানে রজত। যজ্ঞিয় – যজ্ঞের উপযোগী, যজ্ঞের পক্ষে উপযােগী। শগু = শং। স্যোন=সুখকর। স্ত্রীলিঙ্গে ‘দ্যোন। তাহার প্রথমার বহুবচন।

যজুর্বেদীয় :
৭৯
আপঃ (জল) নঃ (আমাদের। শিবাঃ (হিতকর) শং (কল্যাণজনক)
(ও) স্যোনা ( সুখকর) (হইয়া) সুহবাঃ (সুন্দররূপে অর্পিত) ভবন্তু
(হউক)। [ সংবভূকুঃ—বর্তমানে লট। ছন্দসি লুঙ-লঙ-লিটঃ'।
বেদে সর্বকালেই লুঙ, লঙ, ও লিট্‌ হয়। দুগ্ধের সহিত মিলিত হইয়া
আছে =দুগ্ধের ন্যায় মাধুৰ্যযুক্ত।]
৮। তারপর উপুড়-করা দক্ষিণ হস্তদ্বারা কোশার জলে
ত্রিপত্র ধরিয়া, অর্ঘ্যপাত্রদ্বয়কে বামহাতেই রাখিয়া (দুই হাত
যেন পরস্পর সংলগ্ন থাকে এইভাবে )
বিষ্ণুরে বসতত্যা বিশ্বে দেবা
এতাবর্ষে বাং নমঃ।
বলিয়া অর্ঘ্যে ত্রিপত্রের জলের ছিটা দিয়া, অর্ঘ্য দুইটি
তুলিয়া ব্রাহ্মণে দিন্। তারপর অর্ঘ্যপাত্র দুইটিকে নিজ নিজ
স্থানে রাখুন। এই কাৰ্যে যে ত্রিপত্রটি ব্যবহার করা হইয়াছে
তাহাও ব্রাহ্মণে দিয়া দিতে হইবে।
তারপর কৃতাঞ্জলি হইয়া ব্রাহ্মণ-সমীপে বলুন--
ওঁ কৃতৈতদর্ঘ্যদানকৰ্ম্মাচ্ছিদ্রমস্তু।
পুরােহিতওঁ অস্তু।

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি মাতার অর্ঘ্য-উৎসর্গ ১। ওঁ অচ্ছিদ্রমিদমৰ্ঘপাত্ৰমস্তু। পুরােহিতওঁ অস্তু। ২। অর্ঘ্যপাত্র হইতে আচ্ছাদন-কুশটি ফেলিয়া দি। ৩। অর্ঘ্যপাত্রের পবিত্রটি মাতৃপক্ষের ব্রাহ্মণ-হস্তে দিন্। ৪। তারপর কোশা হইতে এক গণ্ডুষ জল লইয়া দৈবতীর্থ দ্বারা অমন্ত্রক মাতৃপক্ষের ব্রাহ্মণে দিন্। পরে পুষ্পপাত্র হইতে একটি পুষ্প লইয়া মাতৃপক্ষের ব্রাহ্মণে দি। ৬। তারপর পুষ্পপাত্র হইতে আর একটি পুষ্প লইয়া মাতৃপক্ষের ব্রাহ্মণে দিয়া—“ওঁ শিরঃ-পাণ্যাদিসৰ্ব্বগাত্রেভ্যো নমঃ বলিয়া ঐ ব্রাহ্মণকে (ব্রাহ্মণদ্বয়কে) পূজা করুন। এখন মাতার অর্ঘ্যপাত্রটি (ক) বামহাতে লইয়া, (খ) ডানহাত দিয়া আচ্ছাদন করিয়া বলুন- ৭। ও যা দিব্যা আপঃ পয়সা সংবঙুবু- বা অন্তরিক্ষ্যা উত পার্থিবী-ৰ্যাঃ। হিরণ্যবর্ণা যজ্ঞিয়ান্তান কাপ, শিবাঃ শও স্যোনাঃ সুহৰা ভবন্তু।

যজুৰ্বেদীয় ৮১ ৮। তারপর উপুড়-করা দক্ষিণ হস্তদ্বারা কোশার জলে ত্রিপত্র ধরিয়া অপাত্রটিকে বামহাতেই রাখিয়া (দুই হাত যেন পরস্পর সংলগ্ন থাকে এইভাবে ) ‘বিষ্ণুরে। অমুকগােত্রে নান্দীমুখি মাত অমুকী-দেবি এষ তেহৰ্ঘো নমঃ—বলিয়া অর্ঘ্যে ত্রিপত্রের জলের ছিটা দিয়া, অর্ঘ্যটি তুলিয়া মাতৃপক্ষের ব্রাহ্মণে দিন্। অর্ঘ্যপাত্রে কিছু জল যেন অবশিষ্ট থাকে। ইহাকে সংস্রব বা সংবজল যে ত্রিপত্রটি ব্যবহৃত হইয়াছে তাহা মাতৃপক্ষের ব্রাহ্মণে দিয়া দিতে হইবে। তারপর কৃতাঞ্জলি হইয়া মাতৃপক্ষের ব্রাহ্মণসমীপে বলে। বলুন- ওঁ কৃতৈতদর্ঘ্যদানকৰ্ম্মাচ্ছিদ্ৰমস্তু। পুরােহিতওঁ অস্তু। এখন পিতামহী প্রভৃতির অর্ঘ্য-উৎসর্গের কথা বলা যাইতেছে। যেখানে যেখানে ভাষার পরিবর্তন আবশ্যক, সেইসব স্থলই কেবল লিখিত হইবে। পিতামহীর অর্ঘ্য-উৎসর্গ সব কাজই মাতার ন্যায়। ‘মাতৃপক্ষ স্থলে মাতৃপক্ষ’-ই থাকিবে। মাতার স্থলে

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
‘পিতামহীর’ এবং নান্দীমুখি মাতর স্থলে নান্দীমুখি
পিতামহি’ পড়িতে হইবে।
প্রপিতামহীর অর্ঘ্য-উৎসর্গ
সব কাজই মাতার ন্যায়। মাতৃপক্ষ স্থলে ‘মাতৃপক্ষ’-ই
থাকিবে। মাতার স্থলে প্রপিতামহীর’ এবং নান্দীমুখি মাতর’
স্থলে নান্দীমুখি প্রপিতামহি’ পড়িতে হইবে।
পিতার অর্থ-উৎসর্গ
সব কাজই মাতার ন্যায়। মাতৃপক্ষ’ স্থলে ‘পিতৃপক্ষ,
‘মাতার স্থলে ‘পিতার’, ‘নান্দীমুখি মাতর’ স্থলে নান্দীমুখ
পিত এবং ‘অমুকী-দেবি স্থলে ‘অমুকশৰ্ম্মন পড়িতে
হইবে।
পিতামহের অর্থ-উৎসর্গ
সব কাজই পিতার ন্যায়। পিতার স্থলে ‘পিতামহের’
এবং নান্দীমুখ পিত’ স্থলে নান্দীমুখ পিতামহ পড়িতে
হইবে।
প্রপিতামহের অর্ঘ্য-উৎসর্গ
সব কাজই পিতার ন্যায়। পিতার স্থলে প্রপিতামহের’

যজুর্বেদীয় এবং নান্দীমুখ পিতামহ স্থলে নান্দীমুখ প্রপিতামহ’ পড়িতে হইবে। মাতামহের অর্ঘ্য-উৎসর্গ সব কাজই পিতার ন্যায়। “পিতৃপক্ষ স্থলে ‘মাতামহপক্ষ ‘পিতার স্থলে ‘মাতামহের’ এবং নান্দীমুখ পিত’ স্থলে ‘নান্দীমুখ মাতামহ পড়িতে হইবে। প্রমাতামহের অ-উৎসর্গ সব কাজই মাতামহের ন্যায়। মাতামহের স্থলে ‘প্রমাতামহের' এবং নান্দীমুখ মাতামহ স্থলে নান্দীমুখ প্রমাতামহ’ পড়িতে হইবে। বৃদ্ধপ্রমাতামহের অর্ঘ্য-উৎসগ সব কাজই মাতামহের ন্যায়। মাতামহের স্থলে ‘বৃদ্ধ- প্রমাতামহের’ এবং নান্দীমুখ মাতামহ’ স্থলে ‘নান্দীমুখ বৃদ্ধপ্রমাতামহ’ পড়িতে হইবে। পাত্রজীকরণ ইহার সহিত দেবপক্ষের অর্ঘ্যের কোনও সম্পর্ক নাই। ১। মাতার অপাত্রেপিতামহীর ও প্রপিতামহীর

৮৪
আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
অর্ঘ্যপাত্রের সংস্রব ঢালুন। তারপর প্রপিতামহীর পাত্ৰদ্বারা
মাতার পাত্রকে ঢাকুন। তদুপরি একগাছি কুশ দিন্।
তারপর কুশসহ সমস্ত জিনিষটিকে জ করিয়া নিজের বাম
দিকে স্থাপন করুন। (জ করিয়া = উল্টাইয়া)
মুজ করিয়া স্থাপনের মন্ত্র
ও নান্দীমুখেভ্যঃ পিতৃভ্যঃ স্থানমসি।
[ কাত্যায়নগৃহপরিশিষ্ট ]
এখন সকলের নীচে কুশটি আছে। তাহার উপর প্রপিতা-
মহীর পাত্রটি আছে। তদুপরি মাতার পাত্রটি আছে।
২। পিতার অর্ধপাত্রে পিতামহের, প্রপিতামহের, মাতামহের,
প্রমাতামহের এবং বৃদ্ধপ্রমাতামহের অপাত্রের সংস্রব’ ঢালুন।
তদুপরি একগাছি কুশ দিন্। তারপর, কুশসহ সমস্ত জিনিষটিকে
মুজ করিয়া নিজের বামদিকে স্থাপন করুন।
স্থাপনের মন্ত্র -
ও নান্দীমুখেভ্যঃ পিতৃভ্যঃ স্থানমসি।
এখন সকলের নীচে কুশটি আছে। তাহার উপর পিতার
পাত্রটি আছে। তদুপরি প্রপিতামহের পাত্রটি আছে। *
* দ্রষ্টব্য-নান্দীমুখেভ্যঃ পিতৃভ্যঃ-ষষ্ঠীস্থানে চতুর্থী। বেদে বহুস্থানে এরূপ প্রয়ােগ
আছে। আবার বহুস্থানে চতুর্থীস্থানে ষষ্ঠী পাওয়া যায়। রঘুনন্দনের মতে পিতৃপাত্রে মাতৃ

যজুর্বেদীয় : tra অনুবাদহে সংবজল,) (তুমি) নান্দীমুখেভ্যঃ পিতৃভ্যঃ (নান্দীমুখ পিতৃগণের) স্থানম্ ( বিশ্রামস্থান) অসি (হও)। এতক্ষণে অর্ঘ্যদান শেষ হইল। গন্ধাদিপঞ্চকদান (মুখবন্ধ) গন্ধাদিপঞ্চকদ্বারা (১) সচন্দন তুলসী, (২) সগন্ধ- পুষ্প, (৩) ধূপ, (৪) দীপ এবং (৫) বস্ত্ৰ বুঝিতে হইবে। ‘কম্মোপদেশিনী অবলম্বনে লিখিত সে সব পদ্ধতি বাজারে চলিতেছে, তাহাদের মধ্যে এই প্রসঙ্গে পাঠবৈষম্য দেখা যায়। [ বটতলা হইতে গণেশচন্দ্র ঘােষ কর্তৃক প্রকাশিত ‘কম্মোপ- দেশিনী’তে মুদ্রাকর-প্রমাদসমূহ সংশােধনের পর পদ্ধতি এই ততাে দৈবে—বসুসহত্যা বিশ্বে দেবা এতানি গন্ধপুষ্পধূপদীপ- বাসাংসি বাং নমঃ। ততত এষ বাং গন্ধো নম [ ]-ইতি প্রত্যেকেন গন্ধাদীনি দদ্যাৎ। তততা মাতৃপক্ষেও অমুকগােত্রে নান্দীমুখি মাত- রমুকী-দেবি এবং পিতামহীপ্রপিতামহৌ সংবােধ্য-এতানি গন্ধপুষ্প- প্রভৃতি আটটি পাত্রের সংস্রব’ ঢালিতে হইবে। তারপর প্রপিতামহপাত্ররা আচ্ছাদন। তারপর তদুপরি কুশ-স্থাপন। তারপর মুজীকরণ। মন্ত্র পূর্ববৎ।

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি *, ধূপদীপবাসাংসি বাং নমঃ। ততঃ এষ বাং গন্ধো নম [ ]-ইতি প্রত্যেকেন গন্ধাদীনি দদ্যাৎ। ততঃ পিতৃপক্ষেও অমুকগােত্র নান্দীমুখ পিতরমুকশৰ্মন, এবং পিতামহপ্রপিতামহৌ সংবােধ্য - এতানি গন্ধপুষ্পধূপদীপবাসাংসি বাং নমঃ। এবং মাতামহপক্ষে- গন্ধাদীনি দা, দৈবে কৃতাঞ্জলিঃ-ও কৃতৈতদগন্ধাদিদানকৰ্ম্মাচ্ছিদ্রমস্তু ইত্যাচ্ছিদ্রং কৃত্বা, মাতৃপক্ষাদো অচ্ছিদ্রং কুৰ্যাৎ। গণেশ ঘােষের কর্মোপদেশিনী’তে সর্বত্রই বাং আছে। যুমুজের চতুর্থীর দ্বিবচনে ‘যুবাভ্যাম্, বাম্ (বাং) এবং বহুবচনে ‘যুগ্নভ্য, বস (বঃ) হয়। কিন্তু এই প্রসঙ্গে ‘যুবাভ্যাম্ এবং ‘যুগ্মভ্য- এর প্রয়ােগ নাই। সুতরাং এই পদ্ধতিতে ব্রাহ্মণসংখ্যাহিসাবেই সব দ্রব্য দেয়। প্রকৃতপক্ষে মাতৃ, পিতৃ ও মাতামহ-প্রত্যেক পক্ষে ব্রাহ্মণ-২। সুতরাং প্রত্যেক পক্ষে প্রত্যেক প্রত্যেক দ্রব্যসংখ্যাও-২। যথা - দেবপক্ষে-(১) সচন্দন তুলসী-২, (২) সগন্ধপুষ্প-২, (৩) ধূপ ( ধূপকাঠি)-২, (৪) দীপ-২, (৫) সাদা বস্তু-২। মাতৃপক্ষে, পিতৃপক্ষে এবং মাতামহপক্ষে—ঠিক ঐরূপ। প্রকৃত কাৰ্যারম্ভ দেবপক্ষ—একটি পাত্রে সচন্দন তুলসীপত্র-২, সচন্দন পুষ্প-২, ধূপকাঠি-২, দীপ—২ এবং বস্ত্র-২ রাখিয়া উপুড় করা বামহাতে ধরিয়া, এবং উপুড়-করা ডানহাত দ্বারা কোশার যজুর্বেদীয় ১৭ জলের ত্রিপত্র ধরিয়া (দুই হাত যেন পরস্পর ছোঁয়া থাকে এইরূপ ভাবে ) ‘বিষ্ণুৱে বসুসত্যৌ বিশ্বে দেবা এতানি গন্ধপুষ্পধুপ- দীপবাসাংসি বাং নমঃ—বলিয়া ত্ৰিপত্ৰদ্বারা জলের ছিটা দিয়া শ্রাদ্ধকারী উৎসর্গ করিবেন। তারপর ‘এষ বাং গন্ধুঃ—এই বলিয়া সচন্দন তুলসীপত্র দুইটি, ‘এতদ্বাং পুষ্প’—এই বলিয়া সচন্দন পুষ্প দুইটি, দেবপক্ষের ব্রাহ্মণে দিবেন। এষ বাং ধুপঃ'—এই বলিয়া ধূপকাঠি দুইটিতে এবং এষ বাং দীপঃ'— এই বলিয়া দীপ দুইটিতে কয়েকটি আতপ চাউল ছিটাইয়া দিবেন। এতদ্বাং বাসঃ'—এই বলিয়া বস্ত্র দুইখানি একসঙ্গে দেবব্রাহ্মণে দিবেন। তারপর দেবপক্ষের ব্রাহ্মণ-সমীপে কৃতাঞ্জলি হইয়া বলিবেন— ও কৃতৈতগন্ধাদিদানকৰ্ম্মাচ্ছিদ্ৰমস্তু। পুরােহিতওঁ অস্তু। মাতৃপক্ষ ১। বিষ্ণুরে। অমুকগােত্রে নান্দীমুখি মাতরমুকী -দেবি, অমুকগােত্রে নান্দীমুখি পিতামহি অমুকী-দেবি, অমুকগােত্রে নান্দীমুখি প্রপিতামহি অমুকী-দেবি এতানি গন্ধপুষ্পধূপদীপবাসাংসি বাং নমঃ।

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি ২। এষ বাং গন্ধঃ,, এতদ্বাং পুষ্পম, এষ বাং ধূপঃ, এষ বাং দীপঃ, এতদ্বাং বাস। ৩। ও কৃতৈতগন্ধীদিদানকৰ্ম্মাচ্ছিদ্ৰমস্তু। পুরােহিতও অন্তু। পিতৃপক্ষ ১। বিষ্ণুরে। অমুগােত্র নান্দীমুখ পিতরমুকশৰ্ম্ম অমুকগােত্র নান্দীমুখ পিতামহ অমুকশৰ্ম্মন্ , অমুকগােত্র নান্দীমুখ প্রপিতামহ অমুকশৰ্ম্ম, এতানি গন্ধপুষ্পধূপদীপবাসাংসি বাং নমঃ। ২, ৩। মাতৃপক্ষের ন্যায়। মাতামহপক্ষ- ১। বিষ্ণুরে। অমুকগােত্র নান্দীমুখ মাতামহ অমুকশৰ্ম্ম, অমুকগােত্র নান্দীমুখ প্রমাতামহ অমুকশৰ্ম্ম, অমুকগোত্র নান্দীমুখ বৃদ্ধপ্রমাতামহ অমুকশৰ্ম্ম এতানি গন্ধপুষ্পধূপদীপবাসাংসি বাং নমঃ। ২, ৩। মাতৃপক্ষের ন্যায়। দ্বিজদিগের দেবপক্ষে, পিতৃপক্ষে এবং মাতামহপক্ষে দুইটি দুইটি করিয়া ছয়টি যজ্ঞােপবীত দেওয়া কর্তব্য। তাহা হইলে বাক্যে ‘বাসাংসি’ স্থলে ‘সযজ্ঞােপবীতবাসাংসি' এবং বাসঃ স্থলে ‘সযজ্ঞােপবীতবাসঃ বলিতে হইবে। এখন প্রায় সকল যজুর্বেদীয় = = = A স্থানেই ধূপকাঠি পাওয়া যায়। প্রত্যেক পক্ষে দুইটি হিসাবে মােট ৮টি ধূপকাঠি আবশ্যক। ধূপকাঠি না মিলিলে, প্রত্যেক পক্ষের জন্য দুইটি স্বতন্ত্র পাত্রে ধূপ জ্বালিয়া দিতে হইবে। এক একটি খড়কের সহিত তৈলাক্ত তুলা জড়াইয়া তাহা জ্বালিয়া এক-একটি প্রদীপ তৈয়ার করিতে হইবে। প্রত্যেক পক্ষে এইরূপ দুইটি করিয়া প্রদীপ দিতে হইবে। মােট প্রদীপ-সংখ্যা ৮। দ্রষ্টব্য-(১) সমাজে অধিকাংশ লােকই দরিদ্র। এজন্য অনেক স্থলে চারিপক্ষে মােট চারিখানা বস্ত্র দেওয়া হয়। দ্রষ্টব্য (২) কোনও কোনও পুরােহিত দেবপক্ষে দুইজন দেবতা, মাতৃপক্ষে তিনজন স্ত্রীলোেক, পিতৃপক্ষে তিনজন পুরুষ এবং মাতামইপক্ষে তিনজন পুরুষ বলিয়া মােটে ১১খানা বস্ত্র দিতে উপদেশ দেন। এই মত অনুসারে মাতৃ, পিতৃ এবং মাতামহ-প্রত্যেক পক্ষে সচন্দন তুলসী ৩, সচন্দন পুষ্প ৩, ধূপকাঠি ৩ এবং দীপ ৩ দেওয়া কর্তব্য। বাক্যেও এই তিনপক্ষের প্রত্যেক পক্ষে বাং’ স্থলে ‘বঃ (অর্থাৎ ‘বাে নমঃ') বলা উচিত, কিন্তু দরিদ্র সমাজে অনেকের পক্ষেই এগারখানা বস্তু দেওয়া অসম্ভব। দ্রষ্টব্য-(৩) অসমর্থ পক্ষে বস্ত্রের পরিবর্তে কিংবা ৮ বা ১১সংখ্যা পূরণের জন্য গামছা দেওয়া যাইতে পারে।

ভােজনপাত্র-স্থাপন দেবপক্ষের ব্রাহ্মণ-সম্মুখে কৃতাঞ্জলি হইয়া বলুন ‘ও ভােজনপাত্রমহং পাতয়িষ্য ? পুরােহিতওঁ পায়। এইরূপ মাতৃ, পিতৃ ও মাতামহপক্ষের ব্রাহ্মণের সম্মুখে পৃথক পৃথক ভাবে কৃতাঞ্জলি হইয়া বলুন- ওঁ ভােজনপাত্রমহং পাতয়িয্যে ? পুরােহিতও পতিয়। তারপর দেবাদিক্রমে (দেব, মাতৃ, পিতৃ, মাতামহ) চারিপক্ষের ব্রাহ্মণের সম্মুখে ১১টি মণ্ডল জল দিয়া আঁকুন। প্রথমতঃ জল দিয়া আঁকিয়া তাহার উপর সাদা চন্দন দিলে ভাল হয়, যদিও এরূপ ব্যবহার নাই। মণ্ডল-সংখ্যা দেবপক্ষে ২, মাতৃপক্ষে-৩, পিতৃপক্ষে-৩, মাতামহপক্ষে-৩, (মণ্ডল = বর্গক্ষেত্র)। প্রত্যেকটি মণ্ডল ঈশানকোণ হইতে আরম্ভ করিয়া দক্ষিণাবর্তে (অগ্নি, নৈঋত, বায়ু ও ঈশানক্রমে ) পূৰ্বাগ্র করিয়া (১৭ নং চিত্র) আঁকিতে হইবে। [ পাৰ্বণ- শ্রাদ্ধে দেবপক্ষে এই ভাবেই মণ্ডল আঁকিতে হয় কিন্তু পিতৃ কিংবা মাতামহপক্ষে নৈঋত কোণ হইতে আরম্ভ করিয়া =

(উত্তর)
•••••••
(ৰাঃ)
(ঈশান)
১৭
ট
ভ
মাতামহপক্ষ
২৭
kesallo
(পূর্ব)
পিতৃপক্ষ
ce
২৪ |
মাতৃপক্ষ
ত)
ও
[১
কর্তার আসন
:
(নৈখত)
(দক্ষিণ)
( অগ্নি )

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
বামাবর্তে ( অগ্নি, ঈশান, বায়ু ও নৈঋত ক্রমে ) দক্ষিণাগ্র
করিয়া (১৮ নং চিত্র) আঁকিতে হয়। প্রেশ্রাদ্ধে ও
একোৰ্দিষ্টবিধিক শ্রাদ্ধে একটি মাত্র মণ্ডল আঁকিতে হয়।
তাহাতে পাৰ্বণশ্রাদ্ধের পিতৃ ও মাতামহপক্ষের প্রণালী
অনুসরণ করিতে হয়।] এই বিষয়ে সঙ্গীয় চিত্র (৯১
পৃষ্ঠা) দ্রষ্টব্য।
আভদয়িকশ্রাদ্ধে আর একটি বড় কথা এই যে, এক
পক্ষের কোন কাজ শেষ করিয়া পরবর্তী পক্ষের কাজ আরম্ভ
করিবার সময় সেই পক্ষের কাছে সর্বদাই দক্ষিণাবর্তে যাইতে
হইবে। অজ্ঞতা বা অনবধানতা বশতঃ বামাবর্তে গেলে কাজ
ভুল হইবে; অন্ততঃ মনে মনে ভাবিবেন যে, দক্ষিণাবর্তে
গিয়াছেন।
১১টি মণ্ডল আঁকার পর, দেবপক্ষের মণ্ডল দুইটির উপর
একটি ভােজন-পাত্র, মাতৃপক্ষের মণ্ডল তিনটির উপর একটি
ভােজন-পাত্র, পিতৃপক্ষের মণ্ডল তিনটির উপর একটি
ভােজন-পাত্র এবং মাতামহপক্ষের মণ্ডল তিনটির উপর একটি
ভােজনপত্র দক্ষিণ-উত্তর করিয়া স্থাপন করুন। মােট
ভােজনপাত্র ৪টি। ১১টি পাত্রস্থাপন খুবই অসুবিধাজনক বলিয়া
৪টি পাত্র স্থাপন করার কথা বলা হইয়াছে। ইহার পর

অগ্নেীকরণ একটি পাত্রে জল রাখুন। এই পাত্রটি দেব ও মাতামহ- পক্ষের মাঝামাঝি কোনও স্থানে রাখিতে হইবে। আর একটি পাত্রে ঘৃতাক্ত কিছু আমান্ন লইয়া -ভিন্ন ভিন্ন পক্ষের ব্রাহ্মণ- দিগকে জিজ্ঞাসা করিবেন- ও অগ্নৌকরণমহং করিয্যে ? পুরােহিতও কুরুষ। (মােট চারি পক্ষের জন্য চারিবার) ঘৃতাক্ত অন্নের পাত্রটি বামহাতে ধরিয়া ডানহাতের অঙ্গুষ্ঠ- দ্বারা নখস্পর্শ ব্যতিরেকে তাহা হইতে কিছু অন্ন লইয়া ওঁ অগ্নয়ে কব্যবাহনায় স্বাহা’ [ মা-বা-সং-২২৯, কা-বা-সং-২৫৪ ] – * দ্রষ্টব্য—অগ্নৌকরণ – সপ্তমীতৎপুরুষসমাস। অলুক। কাত্যায়নের যজুৰ্বেদীয় গৃহসূত্রমতে অনুজ্ঞাবাক্য- ও অগ্নৌ করিয্যে। “পিণ্ডপিতৃযজ্ঞ হইতে এই ভাবে আহুতি দেওয়ার প্রথা আসিয়াছে। ঐ যজ্ঞে সাগ্নিক ব্রাহ্মণ নিজের অগ্নিতে এই, আহতি চারিটি দিতেন। এখন সাগ্নিক ব্রাহ্মণ না থাকাতে তাহার সেই অগ্নিও নাই। সাধারণ অগ্নিকে সাগ্নিকের অগ্নির প্রতিনিধি করা যায় না। মৎস্যপুরাণ মতে নিগ্নি ব্রাহ্মণ এই চারিটি আহতি ব্রাহ্মণের হাতে, জলে, অজের কর্ণে, অখের কণে, গােষ্ঠে অথবা শৃগালের নিকট অৰ্পণ করিতে পারেন। যথা- অগ্নভাবে তু বিগ্রস্য পাণাবেব জলেহপি বা। অজকর্ণে হকর্ণে বা গােষ্ঠে বাথ শিবােিন্তক।

৯৪
আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
-এই মন্ত্রটি মনে মনে চিন্তা করিয়া পূৰ্ব্বস্থাপিত পাত্রস্থ জলে *
একটি আহুতি দিবেন। তৎপর
‘ইদমগ্নয়ে কব্যবাহনায়
বলিয়া দেবতােদ্দেশ করিবেন। পুনরায় ঐ ভাবে কিছু অন্ন লইয়া
‘ও সােমায় পিতৃমতে স্বাহা
[ মা-বা-সং-২২৯, কা-বা-সং-২৫৪ ]
-এই মন্ত্রটি মনে মনে চিন্তা করিয়া ঐ জলে আর একটি
আহুতি দিবেন। তৎপর
ইদং সােমায় পিতৃমতে
-বলিয়া দেবতােদ্দেশ করিবেন।
তৎপরে ঐ ভাবেই আরও দুইবার অন্ন লইয়া জলে আরও
দুইটি অমন্ত্রক অতিরিক্ত আহুতি দিবেন।
তারপর অগ্নৌকরণাবশিষ্ট ঘৃতাক্ত অন্নের কতকাংশ
দেবপক্ষের পাত্রে, কতকাংশ মাতৃপক্ষের পাত্রে, কতকাংশ
পিতৃপক্ষের পাত্রে এবং কতকাংশ মাতামহপক্ষের পাত্রে
*কাৰ্যতঃ এখন জলেই ‘অগ্নৌকরণ করার নিয়ম হইয়া দাঁড়াইয়াছে। বাক্যে
কিন্তু ‘অগ্নৌকরণ’-ই বলিতে হইবে। জলকরণ’ বলিলে ভুল হইবে। প্রেশ্রাদ্ধে ও
একোদ্দিষ্টৰিধিক শ্রাদ্ধে অগ্নৌকরণ’ ও তৎপরবর্তী ‘পাত্ৰালন’ নাই। করিলে ভুল
হইবে। পাৰ্বণ ও অত্যুয়িকেই কেবল ‘অগ্নেকরণ’ ও ‘পত্রালম্ভন আছে। না করিলে
ভুল হইবে। সপিণ্ডীকরণ-শাদ্ধের কথা আমরা কোথায় উল্লেখ করি নাই, কারণ
সপিণ্ডীকরণ প্রকৃতপ্রস্তাবে একটি পার্বণ ও একটি প্রেতাকে সমষ্টি।

যজুর্বেদীয়, ৯৫ । পৃথক পৃথক্‌ ১১ ভাগ করিয়া দিতে হইবে। যথা- দেবপক্ষের পাত্রে২ ভাগ, মাতৃপক্ষের পাত্রে—৩ ভাগ, পিতৃপক্ষের পাত্রে—৩ ভাগ, মাতামহপক্ষের পাত্রে-৩ ভাগ। ইহার পর যে অন্ন বাকী থাকিবে, তাহা পরে পিণ্ড- নির্মাণের সময় পিণ্ডাগ্নের সহিত মিশাইতে হইবে। অনুবাদ-১! ‘আমি অগ্নৌকরণ-নামক কাজ কারতে পারি কি? (আমি অগ্নিতে আহুতি দিতে পারি কি?) পুরােহিত-হাঁ, করিতে পার। অনুবাদ—২। কব্যবাহন ( অর্থাৎ পিতৃলােকের অন্নবহনকারী ) অগ্নিকে আহুতি দিলাম। ইহা কব্যবাহন অগ্নির উদ্দেশ্যে অর্পিত হইল। অনুবাদ—৩। পিতৃমান্ (পিতৃলােকের অধিপতি) সােমকে আহুতি দিলাম। ইহা পিতৃমান্ সােমের উদ্দেশ্যে অর্পিত হইল। পাত্ৰালন এই কাজ মােট চারিবার করিতে হয় দেবপক্ষে—১ বার, মাতৃপক্ষে-১ বার, পিতৃপক্ষে ১ বার এবং মাতামহপক্ষে বার। (পাত্ৰালম্ভন = পাত্র+ আলম্ভন। আলম্ভন’ শব্দের অর্থ ‘স্পর্শ।) পদ্ধতি- অধােমুখ (অর্থাৎ উপুড়-করা) দক্ষিণ-মহন্ত (অর্থাৎ ডানহাত উপরে এবং বামহাত নীচে) দ্বারা দেবপক্ষের ভােজনপত্র ধরিয়া শ্রাদ্ধকারী বলিবেন- আদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি ওঁ পৃথিবী তে পালং, দ্যৌ পিধানং, ব্রাহ্মণস্য মুখেমৃতেমৃতং জুহােমি স্বাহা [ কাত্যায়নগৃহপরিশিষ্ট ] তারপর ক্রমে ক্রমে ঠিক ঐ ভাবেই মাতৃ, পিতৃ ও মাতামহপক্ষের ভােজনপত্র ধরিয়া বলিবেন— ওঁ পৃথিবী তে পাত্ৰং, ছৌঃ পিধানং, ব্রাহ্মণস্য মুখেহমৃতে- অমৃতং জুহােমি স্বাহা। অনুবাদ—হে অন্ন,) পৃথিবী (পৃথিবী) তে (তােমার) পাত্ৰং ( পাত্র,) দ্যৌঃ (আকাশ) (তােমার) পিধানং ( আচ্ছাদন,) ব্রাহ্মণ (ব্রাহ্মণের) অমৃতে ( অমৃতময়) মুখে মুখে। (তােমাকে ) জুহােমি স্বাহা (অৰ্পণ করিতেছি)। দ্রষ্টব্য-১। পাৰ্বণশ্রাদ্ধে দেবপক্ষের পাত্ৰালম্ভন পূর্বোক্ত ভাবেই করিতে হইবে। কিন্তু পিতৃপক্ষে ও মাতামহপক্ষে (পাৰ্ব্বণে মাতৃপক্ষ নাই) উর্দ্ধমুখ অর্থাৎ উত্তান বা চিৎকরা বাম-দক্ষিণহস্ত ( বামহাত উপরে, ডানহাত নীচে) দ্বারা পাত্ৰালম্ভন করিতে হয়। এই প্রসঙ্গে ছন্দোগপরিশিষ্টকার কাত্যায়নের উপদেশ স্মরণ করা কর্তব্য, যথা- ‘সদা পরিচরেদ্ভক্ত্যা পিতৃনপ্যত্র দৈববৎ'। অত্র আভদয়িকে । অনেক পুরােহিত ভ্রমক্রমে পাৰ্বণ-বিধিতেই আভদয়িকে মাতৃ, পিতৃ ও মাতামহপক্ষের পাত্ৰালম্ভন করাইয়া থাকেন। দ্রষ্টব্য-২। প্রেতশ্রদ্ধে ও একোদ্দিষ্টবিধিক শ্রাদ্ধে পাত্ৰালম্ভন নাই। কারণ, এই দুই কাজে অগ্নৌকরণ না থাকাতে, যে অন্নকে অমৃত বলা হইয়াছে সে অন্ন পাত্ৰমধ্যে বিদ্যমান নাই।

পাত্র-উৎসর্গ ( মূলপদ্ধতি ) ততাে দৈবাদিক্রমেণ অন্নব্যঞ্জনাদিকং ( আমং) পত্নী স্বয়ং বা পরিবেশয়েৎ। ততঃ সৰ্বত্ৰ সজলং কৃত্বা পাত্রমুৎস্জেৎ। দেবপাত্র-প্রথমং দেবপাত্ৰং বিধৃত্য-ও এতৎ সৰ্ব্বং হবি? শ্রীবিষ্ণো হব্যং রক্ষস্ব-ইতি জলাভক্ষণম্। ও ইদং বিষ্ণুর্বিচক্রমে, ত্রেধা নিদধে পদ। সমূঢ়স্য পাণ্ড সুরে।-ইতি ( নখব্যতিরেকেণ ) অষ্ঠমূলনিবেশন। ও অপহত অসুরা রক্ষাগুসি বেদিষদ [3] ইতি যবান্ বিকীৰ্য ব্রাহ্মণাভ্যাং জলগণ্ডুষং দা, গায়ত্রীং জপেৎ। ততে মধু মধ্বিতি জপপূৰ্ব্বকং, মধু দত্ত্বা অন্নমুৎস্জেৎ-ও বসুসত্যে বিশ্বে দেবা ইমে আমে অন্নে ঘৃতাচ্যুপকরণসহিতে সববাদকে বাং নম [:] ইতি উৎসৃজ্য, প্রত্যেকেন দ্রব্যং দর্শয়েৎ-ইমে আমে অন্নে সােপকরণে সযবোদকে, ইমে হবিষী। মধু মধ্বিতি অন্নে মধু দত্ব। -- ‘যথাসুখং বাগযতৌ স্বদেতাম্-ইতি ব্রাহ্মণাভ্যাং জলগণ্ডুষং দদ্যাৎ। ততাে মাতৃপক্ষে পাত্ৰং বিধৃত্য, পূৰ্ব্ববৎ এতৎসৰ্ব্বং হবিঃ শ্রীবিষ্ণো কব্যং বক্ষস্ব ইত্যাদিকং কৃত্বা, পাত্রং গৃহীত্ব, ও অমুকগােত্রে নান্দীমুখি মাতুরমুকীদেবি এবং পিতামহীং প্রপিতামহীং সংবােধ্য-ইমে আমে অন্নে ঘৃপকরণসহিতে সযবােদকে বাং (বাে) নম [ঃ ]-ইতি উৎসৃজ্য,

৯৮
আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
এক
প্রত্যেকেন দ্রব্যং দর্শয়িত্ব, মধু দা যথাসুখং বাগযতৌ স্বদেতাম্
( বাগযতাঃ স্বদত)—ইতি ব্রাহ্মণাভ্যাং জলগণ্ডুষং দদ্যাৎ।
এবং পিতৃপক্ষে মাতামহপক্ষে চামুৎস্যজ্য (চ+অ+উৎসৃজ্য),
পুনর্মধু দা, ব্রাহ্মণাভ্যাং জলগণ্ড ষং দদ্যাৎ।
গায়ত্ৰনন্তরং ও মধু মধ্বিতি জপপূৰ্ব্বকং, সর্বত্র মধু দা,
অন্নমুৎসুজেৎ। কিন্তু মধুদানে মধুমন্ত্রং (ও মধু বা ঋতায়তে
ইত্যাদি) বিবর্জয়েৎ। তথা চ ছন্দোগপরিশিষ্টে কাত্যায়ন
মধু মধ্বিতি যস্তত্ৰ ত্ৰির্জপােহশিতুমিচ্ছতাম।
গায়ত্ৰনন্তরং সােহত্ৰ মধুমন্ত্ৰবিবর্জিতঃ । ইতি বচনা
মধুমল্পবর্জনপূর্বকং মধু দাতব্যমে।
ততাে দৈবাদিক্রমেণ কৃতাঞ্জলিং-ও আমান্নদানমিদমচ্ছিদ্রমস্তু-
ইত্যুক্ত। বেদাদিকঞ্চ কিঞ্চিৎ পঠেৎ। পিতৃসংহিতা তুন পঠিতব্য
তথা চ ছন্দোগপরিশিষ্টে কাত্যায়নঃ-
ন চাশৎসু জপেদত্ৰ কদাচিৎ পিতৃসংহিতাম্।
অন্য এব জপঃ কাৰ্যঃ সােমসামাদিকঃ শুভ।
দ্রষ্টব্য—পিতৃসংহিতামিতি পিতৃমহত্ত্বপ্রকাশকমন্ত্রমাত্রোপলক্ষণম্।
[ রঘুনন্দন ]
তাদৃশমন্ত্র-‘সপ্ত
ব্যাধা দশার্ণেঘিত্যাদিকে রুচিস্তবাদিশ্য।
সচ নান্দীমুখে ন পাঠ্যঃ-[ রঘুনন্দনের টীকাকার কাশিরাম
বাচস্পতি ।]

যজুর্বেদীয়
পাত্ৰালনের পর জলস্পর্শ করিতে হইবে।
দেবপক্ষের পাত্রে দুই ভাগে চাউল দিন্। মাতৃপক্ষের
পাত্রে মাতার জন্য ১ ভাগ, পিতামহীর জন্য ১ ভাগ এবং
প্রপিতামহীর জন্য ১ ভাগ—মােট তিন ভাগ চাউল দি।
পিতৃপক্ষের পাত্রে পিতার জন্য ১ ভাগ, পিতামহের জন্য
১ ভাগ এবং প্রপিতামহের জন্য ১ ভাগ—মােট তিন ভাগ
চাউল দি। এইরূপ, মাতামহপক্ষে মাতামহের জন্য ১ ভাগ,
প্রমাতামহের জন্য ১ ভাগ, বৃদ্ধপ্রমাতামহের জন্য ১ ভাগ
মােট তিন ভাগ চাউল দিন। প্রত্যেক ভাগের জন্য পূৰ্ব্বপ্রদত্ত
অগ্নেীকরণাবশিষ্ট চাউল সেই ভাগের জন্য নূতন প্রদত্ত
চাউলের সহিত মিশাইয়া দিতে হইবে। প্রত্যেক ভাগে
গব্যঘৃত ও অন্যান্য উপকরণ দিতে হইবে।
দেবপাত্র-১। দেবপক্ষের পাত্রটি ধরিয়া নিমােক্ত মন্ত্রে
পাত্রে জলাভক্ষণ করিতে হইবে।
ওঁ এতৎ সর্বং হবিঃ বিষ্ণো এবং রক্ষদ্ধ।
২। তারপর নিম্নলিখিত মন্ত্রে অন্নে অঙ্গুষ্ঠমুল-নিবেশ
ও ইদং বিষ্ণু-বি চক্রমে, ত্রে নি দধে পদ।
সমুঢ়মস্ত পারে।

১০০
আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
৩। তারপর অন্নমধ্যে নিম্নলিখিত মন্ত্রে যব-বিকিরণ
ও অপহতা অসুরা রক্ষাগুসি বেদিষদঃ।
৪। দেবপক্ষের দর্ভময়-ব্রাহ্মণদিগকে অমন্ত্রক (বিনামন্ত্রে ।
জলদান।
৫। তারপর অল্লোপরি গায়ত্রী-জপ—
ওঁ ভুভুবঃস্ব। তৎসবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো দেবস্য
ধীমহি। ধিয়াে য়াে নঃ প্রচোদয়াৎ ওঁ।
৬। তারপর
“ওঁ মধু, ওঁ মধু, ও মধু
জপ করিয়া অন্নে মধুদান।
৭। উৎসগ। উৎসর্গ-বাক্য
বিষ্ণুরে বসত্যৌ বিশ্বে দেবা ইমে আমে অন্নে
ঘৃপকরণসহিতে সযবােদকে বাং নমঃ'—এই বলিয়া
অন্নপাত্রে ত্রিপত্র দ্বারা জলের ছিটা দিতে হইবে। উৎসর্গের
সময় উপুড়-করা বামহাত অনুপাত্রে থাকিবে এবং উপুড়-করা
ডানহত কোশাতে জলমধ্যে ত্রিপত্রের সহিত স্পৃষ্ট থাকিবে।
হাত দুইখানিও পরস্পর সংলগ্ন থাকা চাই, কারণ একহাতে
কিছু উৎসগ করিতে নাই।

যজুৰ্বেদীয়
১০১
মধু,
৮। তারপর, ইমে আমে অম্নে সােপকরণে সযবােদকে,
ইমে হবিষী—এই ভাবে দ্রব্যসমূহ দেবপক্ষের ব্রাহ্মণকে
দেখাইতে হইবে।
তারপর ও
মধু,
ও ওঁ মধু’-বলিয়া পুনরায়
( উৎসর্গীকৃত) অন্নে মধু দিয়া, ও যথাসুখং বাগ যতো
স্বদেতাম্বলিয়া ব্রাহ্মণে জলগণ্ডুষ দিতে হইবে।
১০। অচ্ছিদ্রাবধারণ*—ওঁ কৃতৈতদামান্নদানকৰ্ম্মা-
চ্ছিদ্ৰমস্তু।
পুরােহিতওঁ অস্তু।
মাতৃপাত্র—১। ওঁ এতৎ সৰ্ব্বং হবিঃ শ্রীবিষ্ণো কব্যং
রক্ষস্ব। ( মাতৃপাত্র ধরিয়া তাহাতে জলাভক্ষণ)
২। ওঁ ইদং বিষ্ণু-বি চক্রমে, ত্রেধা নি দধে পদম্।
সমূঢ়স্য পাগু সুরে। (অন্নে অঙ্গুষ্ঠমূল-নিবেশ)
[ মা-বা-সং-৫১৫, কা-বা-সং-চৌখাম্বা
—৫৫২, কা-বা-সং-উৎকল-৫২০ ]
৩। ওঁ অপহতা অসুরা রক্ষাগুসি বেদিষদঃ। ( অন্নে
যব বিকিরণ )
৪। মাতৃপক্ষের
ব্রাহ্মণদিগকে অমন্ত্রক (বিনামন্ত্রে )
জলদান।
৫। অন্নেপরি গায়ত্ৰীজপ।
ওঁ মধু,ওঁ মধু, ওঁ মধু
ও মধু' জপ করিয়া অন্নে মধুদান।

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি ৭। উৎসর্গবাক্য-বিষ্ণুরে। অমুকগােত্রে নান্দীমুখি মাতরমুকী-দেবি, অমুকগােত্রে নান্দীমুখি পিতামহি অমুকী- দেবি, অমুকগােত্রে নান্দীমুখি প্রপিতামহি অমুকী-দেবি ইমে আমে অন্নে ধৃপকরণসহিতে সযবােদকে বাং নমঃ। ৯। মধু, ৮। দ্রব্যসমূহ দেখান। ‘ও মধু, ও মধু’বলিয়া পুনরায় ( উৎসর্গীকৃত) অন্নে মধুদান এবং নিম্নলিখিত বাক্য পাঠ করিয়া ব্রাহ্মণে জলদান- ও যথাসুখং বাগ যতৌ স্বদেতাম। ১০। দেবপক্ষের মত। পিতৃপাত্র-১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৮, ৯, ১০ মাতৃপক্ষের মত। ৭। উৎসর্গবাক্য-বিষ্ণুরে। অমুকগােত্র নান্দীমুখ পিতরমুকশৰ্ম্ম, অমুকগােত্র নান্দীমুখ পিতামহ অমুকশৰ্ম্মন, অমুকগােত্র নান্দীমুখ প্রপিতামহ অমুকশৰ্ম্মন্ ইমে আমে অন্নে ঘৃতাচ্যুপকরণসহিতে সযবােদকে বাং নমঃ। মাতামহ-পাত্র-১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৮, ৯, মাতৃপক্ষের মত । উৎসর্গবাক্য-বিষ্ণুরে। অমুকগােত্র নান্দীমুখ যজুর্বেদীয় মাতামহ অমুকশৰ্ম্মন, অমুকগােত্র নান্দীমুখ প্রমাতামহ অমুকশৰ্ম্ম, অমুকগােত্র নান্দীমুখ বৃদ্ধপ্রমাতামহ অমুকশৰ্ম্ম ইমে আমে ঘৃতাচ্যুপকরণসহিতে সযবােদকে আনে বাং নমঃ শ্রাব্যম অন যেন এখন মনে মনে ভাবিতে হইবে যে, ব্রাহ্মণগণ উৎসর্গীকৃত ভােজন করিতেছেন। কর্তা তাঁহাদিগকে শুনাইয়া নিম্নলিখিত মন্ত্ৰসমূহ পড়িয়া যাইতেছেন- ১। (ক) ওঁ যােগীশ্বরং যাজ্ঞবল্ক্যং সংপূজ্য মুনমােহব। বর্ণামেতরাণাং নাে হি ধর্মানশেষতঃ। [ যাজ্ঞবল্ক্যসংহিতা ১১] (খ) ও মত্রি-বিষ্ণু-হারীত-যাজ্ঞবল্ক্যাশনােহঙ্গিরাঃ। যমাপস্তসংবৰ্তাঃ কাত্যায়নবৃহস্পতী। পরাশর-ব্যাস-শঙ্খ-লিখিত দক্ষগৌতমৌ। শাতাতপাে বশিষ্ঠ ধর্মশাস্ত্রপ্রয়ােজকাঃ। [ যাজ্ঞবল্ক্যসংহিতা ১২ ] ২। ওঁ তদ্বিষ্ণোঃ পরমং পদ, সদা পশ্যন্তি সূরয়ঃ। দিবীব চক্ষুরাততম্।

১০৪
আভুদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
---
৩। ওঁ দুৰ্যোধনে মনু্যময়াে মহাক্রমঃ
স্কন্ধঃ কর্ণঃ শকুনিস্তস্য শাখা *।
দুঃশাসনঃ পুষ্পফলে সমৃদ্ধে
মূলং রাজা ধৃতরাষ্ট্ৰোইমনীষী।
[ মহাভারত-আদিপর্ব, প্রথম অধ্যায়,
একসপ্ততিতম শ্লোক )
৪। ওঁ যুধিষ্ঠিরাে ধৰ্মময়াে মহামঃ
স্কন্ধোহৰ্জ্জুনাে ভীমসেনােহস্য শাখা।
মাদ্রীসুতৌ পুষ্পফলে সমুদ্ধে
মূলং কৃষ্ণো ব্রহ্ম চ ব্রাহ্মণাঞ্চ।
[ মহাভারত-আদিপর্ব, প্রথম অধ্যায়,
দ্বিসপ্ততিতম শ্লোক
দ্রষ্টব্য-আভদয়িকশ্রাদ্ধে ‘সপ্তবাধা' ইত্যাদি এবং রুচিস্তব
পাঠ নিষিদ্ধ।
অনুবাদ-১। ‘ও এতৎ সৰ্ব্বং হবিঃ ঐবিষ্ণো
ইব্যং
রক্ষ' ( ৯৯ পৃষ্ঠা )—এখানে ‘হবিঃ দ্বারা যেসকল দ্রব্য উৎসর্গ করা
হইতেছে, তাহাই বুঝাইতেছে। ভাবার্থ-আমি এইসমস্ত দ্রব্য উৎসর্গ
* দ্রষ্টব্য ১।-মহামহোপাধ্যায় শ্রীযুক্ত হরিদাস সিদ্ধান্তবাগীশ মহাশয় ভঁাহার
মহাভারতে তৃতীয় এবং চতুর্থ মন্ত্রে ‘শাখা স্থলে ‘শাখা পাঠ ধরিয়াছেন।

যজুর্বেদীয় করিতেছি। হে বিষ্ণো, তুমি হব্য (দেবতাদিগের অন্ন) রক্ষা কর। অনুবাদ-২। “ওঁ এতৎ••••••••••••কব্যং রক্ষস্ব’ (১০১ পৃষ্ঠা)। ভাবার্থ-আমি এই সমস্ত দ্রব্য উৎসর্গ করিতেছি। হে বিষ্ণো, তুমি কব্য (অর্থাৎ পিতৃলােকদিগের অন্ন) রক্ষা কর। অনুবাদ—৩। ওঁ ইদং বিষ্ণু-বি’ ইত্যাদি (৯৯ পৃষ্ঠা)-বিষ্ণু ( বিষ্ণু ) ( ত্রিবিক্রমাবতারে) ইদং (এই বিশ্বকে) বি চক্ৰমে (বিভাগ করিয়া পদবিক্ষেপ করিয়াছিলেন)। ত্রেধা (তিন প্রকারে) পদং (পা) নিদধে (স্থাপন করিয়াছিলেন) (ভূমিতে এক পা, অন্তরীক্ষে দ্বিতীয় পা, স্বর্গলােকে তৃতীয় পা অর্থাৎ যথাক্রমে অগ্নি, বায়ু ও সূৰ্য্য রূপে )। অন্য ( বিষ্ণুর) (পা) পাংসুরে (ধূলিযুক্ত প্রদেশে ) সমূঢ়ম { অন্তর্হিত, অকৃতাত্মগণ কর্তৃক অজ্ঞাত)। অনুবাদ-৪। ও ভূভুবঃস্বঃ ইত্যাদি (১০০ পৃষ্ঠা)-- ভূভুবঃস্বঃ (ভূলোক, ভুবঃ-লােক এবং স্বঃ-লােক ব্যাপী) তৎ ( বেদাদিপ্রসিদ্ধ। দেব দীপ্তিমান্ ) সবিতুঃ ( সবিতৃদেবের বরেণ্যং (শ্রেষ্ঠ) ভর্গঃ ( তেজকে) (আমরা) ধীমহি ( চিন্তা করি ) যঃ (যিনি) নঃ (আমাদের) ধিয়ঃ (বুদ্ধিসমূহকে) { ধৰ্ম্ম, অর্থ, কাম ও মােক্ষ বিষয়ে) প্রচোদয়াৎ (প্রেরণ করেন)। মন্ত্রটির বহুপ্রকারের অর্থ আছে। (ধীমহি-ধ্যৈ বিধিলিঙ্গ, আত্মনেপদ, উত্তমপুরুষের বহুবচন। প্রচোদয়াৎ-প্র-ণিজন্ত চুদ+লেতিপ)। অনুবাদ—৫। ও যােগীশ্বরং’ ইত্যাদি (১০৩ (ক) (খ) পৃষ্ঠা) মুনির আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি যােগীশ্বর যাজ্ঞবল্ক্যকে সম্যগরূপে পূজা করিয়া বলিলেন—বর্ণ, আশ্রম ও তদ্ভিন্ন ব্যক্তিগণের ধৰ্ম্ম আমাদিগকে সম্পূর্ণরূপে বলুন। ( যাজ্ঞবল্ক্য বলিলেন) মনু, অত্রি, বিষ্ণু, হারীত, যাজ্ঞবল্ক্য, উশনা, অঙ্গিরা, যম, আপস্তম্ব, সংবৰ্ত্ত, কাত্যায়ন, বৃহস্পতি, পরাশর, ব্যাস, শঙ্খ, লিখিত, দক্ষ, গৌতম, শাতাতপ এবং বশিষ্ঠ—ইহারা ধর্মশাস্ত্রকর্তা। অনুবাদ-৬। ও তদ্বিষ্ণোঃ ইত্যাদি (১০৩ পৃষ্ঠা)-আকাশে সূৰ্য্য-মণ্ডলের ন্যায় সর্বত্র প্রকাশমান, বেদাদিশাস্ত্রপ্রসিদ্ধ, বিষ্ণুর পরম তত্ত্ব, জ্ঞানীরা সর্বদা দেখিয়া থাকেন ( অর্থাৎ অনুভব করিয়া থাকেন)। অনুবাদ-৭। “ও দুৰ্য্যোধনাে’ ইত্যাদি, ‘ও যুধিষ্ঠিরাে ইত্যাদি (১০৪ পৃষ্ঠা )—দুৰ্য্যোধন একটি ক্রোধরূপী মহাবৃক্ষ, কর্ণ তাহার স্কন্ধ ( অর্থাৎ গুড়ি ), শকুনি সেই বৃক্ষের শাখা, দুঃশাসন সেই বৃক্ষের পরিপুষ্ট পুষ্প ও ফল, অমনীষী রাজা ধৃতরাষ্ট্র সেই বৃক্ষের মূল। (অপর দিকে) যুধিষ্ঠির একটি ধৰ্ম্মরূপী মহাবৃক্ষ, অর্জুন সেই বৃক্ষের স্কন্ধ, ভীমসেন সেই বৃক্ষের শাখা, নকুল ও সহদেব সেই বৃক্ষের পরিপুষ্ট পুষ্প ও ফল, কৃষ্ণ, বেদ এবং ব্রাহ্মণ সেই বৃক্ষের মূল। বিকিরানুদান মূলপতিততঃ স্যমন্নং গৃহীত্ব ও অগ্নিদগ্ধাশ্চেতি মন্ত্রেণাদায় দেবপিত্রোৰ্মধ্যভূমৌ কুশনাস্তীৰ্য্য তত্র অগ্নিদগ্ধাং দদ্যাৎ। কৃতাঞ্জলিঃ ও যেং ন মাতেতি মন্ত্রেণ।]

যজুর্বেদীয়
ইহার পর ব্রাহ্মণদিগের উচ্ছিষ্টসমীপে বিকিরানুদান অথবা
অন্নবিকিরণ। ইহাকে সাধারণ লােকে অগ্নিদগ্ধাপিণ্ডদান
বলিলেও, ইহাতে পিণ্ডের কোনও কথা নাই, যদিও ব্যবহারে
অন্নকে পিণ্ডাকৃতি করিয়াই দেওয়া হয়।
[ আমাদের গৃহপরিশিষ্টকার কাত্যায়ন বলেন-“তৃপ্তান্ জ্ঞাত্বা অন্নং
প্ৰকীৰ্য্য গােভিল পাৰ্বণপ্রসঙ্গে বলেন--“তৃপ্তিং জ্ঞাত্বা সতিলমন্নং
বিকীৰ্য। আভদয়িকে গােভিলের উপদেশ—‘সবমন্নং বিকীৰ্য্য...'
এইরূপ হইবে। কাত্যায়ন এবং গােভিল উভয়েই বলিতেছেন—অন্ন
ছড়াইয়া দিতে হইবে। কেহই পিণ্ড বলেন নাই। কাহাদের
উদ্দেশ্যে ছড়াইতে হইবে, তাহা পরবর্তী মৎস্যপুরাণের মন্ত্র দুইটি হইতে
জানা যাইবে।]
প্রণালী—উচ্ছিষ্টসমীপে পূৰ্বাগ্র করিয়া কয়েকগাছি
কুশপত্র পাতিয়া ঐ কুশাচ্ছাদিত ভূমিতে ত্ৰিপত্ৰদ্বারা কিছু জল
ছিটাইয়া দি। পিতৃগণের উদ্দেশ্যে যতপ্রকার ভক্ষ্যবস্তু নিবেদিত
হইয়াছে, তাহার প্রত্যেক প্রকার হইতে কিছু কিছু লইয়া,
যব ও জল মিশাইয়া, ডানহাতের দৈবতীর্থ দ্বারা
ও অগ্নিদগ্ধাশ্চ যে জীবা যেইপ্যগ্ধাঃ কুলে মম।
ভূমৌ দত্তেন তৃপ্যন্তু তৃপ্তা যা পরাং গতিম্।
[ মৎস্যপুরাণ ]

Sobo আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি - —এই মন্ত্রটি পড়িয়া পূর্বপাতিত কুশােপরি ছড়াইয়া দিম্। তারপর কৃতাঞ্জলি হইয়া পাঠ করুন- ওঁ যেং ন মাতান পিন বন্ধু-নৈবা-সিদ্ধি- তথামপ্তি। তত্ত্বগুয়েইন্নং ভুবি দত্তমেতৎ প্রয়াত্ত লােকায় সুখায় তদ্বৎ। [ মৎস্যপুরাণ ] অনুবাদ— ১) আমার বংশে যাহারা অগ্নিতে দগ্ধ হইয়া মরিয়াছে, যাহাদের মৃতদেহ অগ্নিতে দাহ করা হয় নাই, তাহার পৃথিবীতে দত্ত এই অন্নদ্বারা তৃপ্তি লাভ করুক। অনুবাদ—২) যাহাদের মাতা নাই, পিতা নাই, অন্নলাভের উপায় নাই, অন্নও নাই, তাহাদের তৃপ্তির নিমিত্ত এই অন্ন ভূমিতে দত্ত হইল। তাহারাও সেইরূপ (এই অন্ন লাভ করিয়া) সুখময় লােকে গমন করুক। [ ভূমৌ-পৃথিবীতে। দত্তেন—দত্তদ্বার, দত্ত এই অন্নদ্বারা। অন্নসিদ্ধি-অন্নলাভের তত্ত্বগুয়ে—তাহাদের তৃপ্তির নিমিত্ত। ভুবি-ভূমিতে। এতৎ-এই। অনুং ভুবি দত্তমেতৎ- এই অন্ন ভূমিতে দত্ত হইল। সুখায়--সুখময়। লােকায় সুখায়- সুখময় লােকে। তৎ—সেইরূপ।] উপায়। পরে হস্তপ্রক্ষালন, আচমন বা দক্ষিণকর্ণ স্পর্শ, ‘ওঁ হরিঃ- উচ্চারণ অথবা সপ্রণবসবাহৃতি-গায়ত্রী একবার জপ। তারপর যজুৰ্বেদীয় ১০৯ দৈবাদিক্রমে ব্রাহ্মণদিগকে জলগণ্ডবদান। তারপর - - ( দেবব্রাহ্মণসমীপে কৃতাঞ্জলিপূর্বক শ্রাদ্ধকারীর ) প্রশ্ন—ওঁ রুচিত ? —প্রতিবচন—ওঁ সুরুচিত। ( পুনঃ মাতৃব্রাহ্মণসমীপে কৃতাঞ্জলি। প্রশ্ন—ওঁ সম্পন্ন? -প্রতিবচন—ওঁ সুসম্পন্ন। (পুনঃ পিতৃপক্ষীয় ব্রাহ্মণসমীপে কৃতাঞ্জলি) প্রশ্ন—ওঁ সম্পন্ন ? প্রতিবচন-ওঁ সুসম্পন্ন। (পুনঃ মাতামহপক্ষীয় ব্রাহ্মণসমীপে কৃতাঞ্জলি। প্রশ্ন—ওঁ সম্পন্নম্ ? -প্রতিবচন—ওঁ সুসম্পন্ন। অনুবাদ-১। (আমার দত্ত অন্ন ) তৃপ্তিপূৰ্ব্বক ( আপনাদিগ- কর্তৃক ভুক্ত হইয়াছে ত? -হ সুন্দররূপে ভুক্ত হইয়াছে। অনুবাদ-২। ( আমার অন্নদানকৰ্ম্ম ) সম্পন্ন হইয়াছে ত ? -হা সুসম্পন্ন হইয়াছে। তারপর শ্রাদ্ধকারী—ওঁ শেষমন্নমপ্যস্তি ? পুরােহিতওঁ ইষ্টেভ্যো যথাসুখং বিনিযুজ্যতাম্। অনুবাদ আমান্ন নিবেদনের পরেও ত) কতক অন্ন বাকী রহিয়াছে। তাহা কি করিব ?

১১০
আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
-ইষ্টজনের উদ্দেশ্যে ইচ্ছামত তাহা আপনাকর্তৃক প্রযুক্ত হউক।
[ শেষমন্নমপ্যন্তি =শেষ+অ+অপি+অস্তি।] “ইষ্টজন’-দ্বারা এখানে
নান্দীমুখ পিতৃগণকেই বুঝাইতেছে। বাকী অনিবেদিত অন্ন দ্বারা
তাহাদের জন্য পিণ্ড নিৰ্মাণ করিতে হইবে—ইহাই ভাবার্থ।
পিণ্ডদান-পদ্ধতি
(মুল)
[ তত উন্মুখ: পিণ্ডস্থানং কৃত্বা উত্তরাগ্ৰকুশােপরি দৈবতীর্থেন
পিণ্ডা দদ্যাৎ। তথাচ বিষ্ণুপুরাণং-
দধ্যক্ষতৈঃ সবদরৈঃ প্রায়ূখ উদষ্মখােহপি বা।
দৈবতীর্থেন বা পিণ্ডং দদ্যাৎ কায়েন বা নৃপ ।
তত্র প্রাত্মখ-দোগানাম্ উদজুখাে যজুর্বেদিনা। অত্র
দ্বিৰ্বাশব্দঃ সমুচ্চয়ার্থঃ। কায়ং প্রাজাপত্যম্।
তত উত্তরাভিমুখ
ও নিহম্মীত্যনেন স্ববামে (উত্তরাংদিশি) ভূমৌ মাতৃ-পিতামহী-
প্রপিতামহীনাং খ্রীণি চতুষ্কোণ-পিণ্ডমগুলানি কুৰ্য্যাৎ।
ততঃ পূর্বতঃ পিত্রাদীনাং মাতামহাদীনাঞ্চ খ্রীণি শ্ৰীণি পিণ্ডস্থানানি
কুৰ্য্যাৎ।

যজুৰ্বেদীয় ততঃ সমূলকুশপত্রদ্বয়েন ও অপহত-নিহন্মিভ্যাম্ উত্তরা-রেখায়ং কুৰ্য্যাৎ। তত রেখামভক্ষ, বামে নীবীং বিধৃত্য, পিণ্ডস্থানােৎসর্গং কুৰ্য্যাৎ। ত্ৰিপত্ৰং গৃহীত্ব, ও অমুকগােত্রে নান্দীমুখি মাতরমুকী-দেবি অবনেনি নমঃ। এবং পিতামহী-প্রপিতামহত্যাঃ পিণ্ডস্থানেইবনেজনং ( পিণ্ডস্থানে+অবনেজনং) দগাৎ। ততােহমুকগােত্র নান্দীমুখ পিতরমুকশৰ্ম্মম্নবনেনি-নমঃ। এবং পিতামহাদিপঞ্চানাম্ অবনেজনং দ্যাৎ। ততশ্চ রেখােপরি কুশানাস্তীৰ্য্য ও আ য়ন্তু নাে নান্দীমুখাঃ পিতরঃ সােম্যাস [:] ইত্যনেন যবান্ বিকীৰ্য সব্যঞ্জনমং (আম) একপাত্রে দধি-মধু-য-বদরা মিশ্ৰীকৃত বিশ্বপ্রমাণানি নব পিণ্ডা কুৰ্য্যাৎ! কিন্তু যদ্যপি বৃদ্ধিশ্রাদ্ধন্তু নিরামিষেণ কর্তব্যমিতি ছন্দোগপরিশিষ্টেনােক্তং তথাপি বৃদ্ধিশ্রাদ্ধে মধু দাতব্যং যতাে না মাংসনিষেধে মধুনিষেধ। তথা চ ব্ৰহ্মপুরাণে- শাল্যঃং দধিমক্তং বদরাণি যবাং-স্তথা। মিশ্ৰীকৃত্য তু চত্বারি, পিণ্ডা শ্রীফলসন্নিভান্। দঘান্নান্দীমুখেভ্যশ্চ পিতৃভ্যো বিধিপূৰ্ব্বক। তস্মাদ বৃদ্ধিশ্রাদ্ধে পিণ্ডে চ মধু দাতব্যমে। তত ত্ৰিপত্ৰসহিতং পিণ্ডমেকং মধু মধ্বিতি জপপূৰ্ব্বক গৃহীত্বা ১১২ আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি ।।। বিষ্ণুরে। অমুকগােত্রে নান্দীমুখি মাতরমুকী-দেবি এতৎ পিণ্ডং সষবােদকং তুভ্যং নমঃ-ইতি প্রথমাস্তরণ-কুশমূলে পিণ্ডমেকং দদ্যাৎ। এবং পিতামহী-প্রপিতামহোঃ কুশমধ্যাগ্রয়াের পিণ্ডদ্বয়ং দাতব্য। ততােহপরপিণ্ডমেকং গৃহীত্ব, মধু মধ্বিতি জপপূৰ্ব্বকং বিষ্ণুরে। অমুকগােত্র নান্দীমুখ পিত-মুকশৰ্ম্ম-গ্নেতৎপিণ্ডং ঘৃপকরণ- সহিতংসষবােদকং তুভ্যং নম [:]-ইতি দ্বিতীয়াস্তরণকুশমূলে পিণ্ডমেকং দাৎ। অত্র এবং পিতামহ-প্রপিতামহয়াের পিণ্ডদ্বয়ং দাতব্য। এবং মাতামহপক্ষেৎপি আস্তীর্ণকুশমূলমধ্যা-প্রদেশে পিয়ং দাৎ। ততঃ পিণ্ডান্তিকে পিণ্ডশেষং বিকিরেৎ লেপভুজো নান্দীমুখাঃ পিতরঃ প্রীয়ামিত্যাস্তীর্ণ-কুশেন হস্তলেপং প্রপিতামহপিণ্ডে দা, কৃতাঞ্জলিঃ ও অত্র নান্দীমুখাঃ পিতরা মাদয়ধ্বং, যথাভাগ-মা বৃষায়ধ্ব-ইতি জন্তু, উত্তরাভিমুখাে ভবন, প্রাণান্ সংযম্য- ও বসন্তায় নমস্তুভ্যম-ইত্যাদি মন্ত্রদ্বয়ং পঠিত্বা [ জপ্ত], ও ষড়ভ ঋতুভ্যো নম [:] ইতি প্রণমেৎ। ততঃ ও অমীমদন্ত নান্দীমুখাঃ পিতরাে, যথাভাগ-মা বৃষায়িষত।-ইতি পঠন ( জপ্ত। শ্বসং মুঞ্চেৎ।

যজুর্বেদীয় ১১৩ ততঃ পিণ্ডপাত্ৰং প্রক্ষাল্য তজ্জলেন পিণ্ডানামুপরি প্রত্যেকং প্রত্যব- নেজনং দদ্যাৎ। বিষ্ণুরে অমুকগােত্রে নান্দীমুখি মাতরমুকী-দেবি এত প্রত্যনেজনং তুভ্যং নমঃ। এবং পিতামহাদীনাং প্রত্যেকে প্রত্যনেজনং দদ্যাৎ। তত-বিষ্ণুরো অমুকগােত্র নান্দীমুখ পিত-মুক-শৰ্ম্ম-গ্নেতৎ প্রত্যনেজনং তুভ্যং নমঃ। এবং ক্রমেণ পিতামহ-প্রপিতামহয়াে-র্মাতামহাদীনাঞ্চ প্রত্যেকেন প্রত্যনেজনং দদ্যাৎ। ততাে নীবীং ত্যক্ত পিণ্ডানামুপরি ষড়ঞ্জলিমন্ত্রং পঠেৎ। (১) ও নমনী বাে নান্দীমুখাঃ পিতরঃ শুষ্ময় ; (২) ও নমো বাে নান্দীমুখাঃ পিতরস্তপসে ; (৩) ওঁ নমাে বাে নান্দীমুখাঃ পিতরাে যজ্জীবং তস্মৈ (৪) ও নমাে বাে নান্দীমুখাঃ পিতরাে রসায় ; (৫) ও নমাে বাে নান্দীমুখাঃ পিতরাে ঘােরায় মন্তবে ; (৬) ও পুষ্ট্যৈ বাে নান্দীমুখাঃ পিতরাে নমঃ। ততে নবমনবং বা শুক্লদশাভবং বাস-সূত্রম্ ঋজুকুশসহিতং নবপিণ্ডোপরি দদ্যাৎ এতদ্বো নান্দীমুখাঃ পিতরাে বাস [:] ইত্যনেন প্রত্যেকেন বাসঃসূত্ৰং জলং চ দা উৎজেৎ- ও অমুকগােত্রে নান্দীমুখি মাতমুকী-দেবি এতদ্বাস্তুভ্যং নমঃ। এবং পিতামহী-প্রপিতামহ্যোবাসসুমুৎস্জ্য দদাৎ। ৩ ৮ ১১৪ আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি ততােহমুকগােত্র নান্দীমুখ পিতরমুকশৰ্ম্মন্নেতদ্বাসন্তুভ্যং নমঃ। এবং পিতামহাদিপঞ্চানাং বাস উৎসৃজ্য দদ্যাৎ। ও উজ্জং বহন্তীরমৃতং তং পয়ঃ কীলালং পরিতম্ । পুষ্টয়ঃ স্থ তর্পয়ত মে নান্দীমুখ পিতৃন্ ॥ ইত্যনেন পিণ্ডা সিঞ্চেৎ। ততন্তীং গন্ধাদিনা পিণ্ডা পূজয়েৎ। ততঃ প্রত্যেকেন ব্রাহ্মণাভ্যাং জলগণ্ড ষং দত্বা কৃতাঞ্জলিঃ-* ও পিণ্ডং সম্পন্নমিতি প্রত্যেকেন পৃচ্ছেৎ। ওসুসম্পন্নমস্তু ইতি প্রত্যেকেন ব্রাহ্মণেনােক্তে পিণ্ডমাদায়, ঘা, পাত্ৰান্তরে স্থাপয়েৎ।] মণ্ডল-ফন মাতৃপিণ্ডের জন্য—১টি, পিতামহীপিণ্ডের জন্য—১টি, প্রপিতামহীপিণ্ডের জন্য—১টি, পিতার পিণ্ডের জন্য—১টি, পিতামহের পিণ্ডের জন্য—১টি, প্রপিতামহের পিণ্ডের জন্য—১টি, মাতামহের পিণ্ডের জন্য—১টি, প্রমাতামহের পিণ্ডের জন্য ১টি এবং বৃদ্ধপ্রমাতামহের পিণ্ডের জন্য—১টি, মােট নয়টি মণ্ডল অর্থাৎ বর্গক্ষেত্র আঁকিতে হইবে। শ্রাদ্ধকারীর সম্মুখে অর্থাৎ উত্তরদিকে তাঁহার কিছু বামে- = • * কোনও কোনও পদ্ধতি মতে পাৰ্বণশ্রাদ্ধের এস্থলে পাঠ- ততঃ প্রত্যেকেন তুফীং গন্ধপুষ্পধূপদীপন্থলৈঃ পিও পূজয়েৎ। তততা বিষ্ণু স্মৃত্ব নির্বাপিতে দীপে প্রত্যেকেন ব্রাহ্মণায় জুলগণ্ডবং দা কৃতাঞ্জলিঃইত্যাদি।

যজুর্বেদীয়
১১৫
(উত্তর)
(বায়ু)
৩২
৩৫
(ঈশান
৩৮
৩১
৩৪
৫।
মাতৃমণ্ডল। পিতৃমণ্ডল। মাতামহমণ্ডল।
৫
মাতামহপক্ষ
(পশ্চিম)
(পুর্ব)
পিতৃপক্ষ
৪
মাতৃপক্ষ
বেপক্ষ
কার আসন
৫ লৈখত)
(দক্ষিণ)
অগ্নি )

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
ও নিহন্মি সর্বং যদমেধ্যববে,
তাশ্চ সর্বেসুরদানবা ময়া।
রক্ষাংসি যক্ষাঃ সপিশাচসংঘ,
হতা ময়া যাতুবানা সর্বে।
(ব্রহ্মপুরাণ, দেবলস্মৃতি)
-এই মন্ত্রটি পড়িতে পড়িতে জল দিয়া ঈশান কোণ হইতে
আরম্ভ করিয়া দক্ষিণাবত্তে ( অগ্নি, নৈঋত, বায়ু ও ঈশান
ক্রমে) একটি পূৰ্বাগ্র মণ্ডল ১১৫ পৃষ্ঠা, চিত্রের ৩০ নং মাতার
পিণ্ডের জন্য আকিবেন। ঠিক এই প্রণালীতে ঐ মণ্ডলের ঠিক
উত্তরে পিতামহীর পিণ্ডের জন্য দ্বিতীয় মণ্ডল (৩১) আঁকিবেন।
দ্বিতীয় মণ্ডলের ঠিক উত্তরে প্রপিতামহীর জন্য ঐ প্রণালীতে
তৃতীয় মণ্ডল (৩২) আকিবেন।
শ্রাদ্ধকারী ১ম মণ্ডলের ঠিক পূর্বদিকে ঐ প্রণালীতে
পিতার পিণ্ডের জন্য ৪র্থ মণ্ডল (৩৩) আঁকিবেন। ৪র্থ মণ্ডলের
ঠিক উত্তরে পিতামহের পিণ্ডের জন্য ৫ম মণ্ডল (৩৪) আঁকিবেন।
৫ম মণ্ডলের ঠিক উত্তরে প্রপিতামহের পিণ্ডের জন্য ৬ষ্ঠ মণ্ডল
(৩৫) আকিবেন।
শ্রদ্ধকারী ৪র্থ মণ্ডলের ঠিক পূর্বদিকে ঐ প্রণালীতে
মাতামহের পিণ্ডের জন্য ৭ম মণ্ডল (৬) আঁকিবেন।
৭ম

যজুর্বেদীয়
মণ্ডলের ঠিক উত্তরে ঐ প্রণালীতে প্রমাতামহের পিণ্ডের জন্য
৮ম মণ্ডল (৩৭) আঁকিবেন। ৮ম মণ্ডলের ঠিক উত্তরে প্রণালীতে
বৃদ্ধপ্রমাতামহের পিণ্ডের জন্য ৯ম মণ্ডল (৩৮) আঁকিবেন।
৯টি মণ্ডল আঁকা শ্রাদ্ধকারীরই কাজ, পুরােহিতের নহে।
“ওঁ নিহন্মি”—ইত্যাদি মন্ত্রটি প্রত্যেক মণ্ডলের জন্য একবার
করিয়া, মােট ৯ বার পড়িতে হইবে ।
মণ্ডলােপরি রেখা-অঙ্কন
মােট ৩টি রেখা আঁকিতে হইবে—১টি মাতৃপক্ষের মণ্ডল
তিনটির উপর, ১টি পিতৃপক্ষের মণ্ডল তিনটির উপর এবং ১টি
মাতামহপক্ষের মণ্ডল তিনটির উপর। প্রণালী-
দুইটি কুশ লইয়া তাহাদের মূলদ্বারা ১ম মণ্ডলের দক্ষিণ
প্রান্তের মধ্যবিন্দু হইতে আরম্ভ করিয়া-
(১) ও নিহন্মি সর্বং যদমেধ্যবভবে,
জুতাশ্চ সর্বেসুরদানবা ময়া।
রক্ষাংগি যক্ষাঃ শপিশাচসংঘ
হতা ময়া যাতুবানা সর্বে।
( বিষ্ণুপুরাণ, দেবলস্মৃতি।
(২) ওঁ অপহতা অসুরা রক্ষাগুসি বেদিষঃ।
[ মা-বা-সং-২২৯, কা-বা-সং-চৌখাম্বা
-২৭১, কা-বা-সং-উৎকল-২৫৪ ]

مادر
আভদয়িক শ্রদ্ধপদ্ধতি
(
এই মন্ত্র দুইটি পড়িতে পড়িতে তৃতীয় মণ্ডলের উত্তর
প্রান্তের মধ্যবিন্দু পৰ্য্যন্ত একটি রেখা আঁকিতে হইবে।
অনুবাদ—(১) (আমি) নিহন্মি (নষ্ট করিতেছি) সৰ্ব্বং (সমস্ত )
যৎ (যাহা) অমেধ্যবৎ' (অপবিত্রের ন্যায়) ভবেৎ (হইবে, আছে )
চ (এবং) সৰ্বে (সমস্ত ) অসুরদানবাঃ (অসুর ও দানব) ময়া
( আমাকর্তৃক) হতাঃ (হত হইয়াছে, হত হউক) সপিশাচসাঃ
(পিশাচগণের সহিত) রক্ষাংসি ( রাক্ষস সকল ) যক্ষাঃ (যক্ষ সকল)
চ (ও) সৰ্বে (সমস্ত ) যাতুনাঃ ( যাতুন) ময়া (আমাকর্তৃক) হতাঃ
( হত হইয়াছে, হত হউক)।
অনুবাদ-২) বেদিষদঃ (বেদিতে যাহারা বসিয়া আছে
তাদৃশ ) অসুরাঃ ( অসুরগণ ) (এবং) রক্ষাংসি ( রাক্ষসগণ ) অপহতাঃ
{ দূরীভূত ) ( হউক)।
ঠিক ঐ প্রণালীতে ৪র্থ, ৫ম ও ৬ষ্ঠ মণ্ডলের উপর দিয়া
৭ম, ৮ম ও ৯ম মণ্ডলের উপর দিয়া আর
একটি রেখা আঁকিতে হইবে।
রেখাভক্ষণ
মাতৃপক্ষের, পিতৃপক্ষের এবং মাতামহপক্ষের রেখায়ের
উপর ত্রিপত্র দ্বারা জল ছিটাইয়া দিতে হইবে।
নীবীবন্ধন
বামদিকের নীবীর মধ্যে একটি ত্রিপত্র গুজিয়া দিতে হইবে।
(নীৰী=নীবি=কটিবস্ত্রবন্ধ।)
একটি এবং

যজুর্বেদীয়
অবজেল-দান
অবনেজনে তন্ত্রতা নাই। অর্থাৎ ৯টি মণ্ডলের উপর ৯বার
করিতে হইবে। একখানি কোশাতে অথবা কলার পাচলের
একটি ডােঙ্গাতে একটি ত্রিপত্র, জল, যব ও তুলসী রাখিতে
হইবে। এই একটি পাত্রেই ৯টি কাজ চলিবে। ত্রিপত্র দ্বারা
এক-একটি মণ্ডলে নিম্নক্রমে জল ছিটাইয়া দিতে হইবে।
যথা-
১। ( মাতৃমণ্ডলে)—বিষ্ণুরে। অমুকগােত্রে নান্দীমুখি
মাত-মুকী-দেবি অবনেনিনমঃ।
২। (পিতামহীমগুলে)-বিষ্ণুরে অমুকগােত্রে
নান্দীমুখি পিতামহি-অমুকী-দেবি অবনেনিম্নমঃ।
৩। (প্রপিতামহীমণ্ডলে)-বিষ্ণুরে অমুকগােত্রে
নান্দীমুখি প্রপিতামহি অমুকী-দেবি অবনেনি-নমঃ।
৪। (পিতৃমণ্ডলে)-বিষ্ণুরোঁ। অমুকগােত্র নান্দীমুখ
পিত-মুক-শৰ্ম্ম-বনেনি—নমঃ।
৫। (পিতামহমণ্ডলে)—বিষ্ণুরে। অমুকগােত্র নান্দীমুখ
পিতামহ অমুক-শৰ্ম্ম-বনেনিনমঃ।
৬। (প্রপিতামহমণ্ডলে)-বিষ্ণুরে। অমুকগােত্র নান্দীমুখ
প্রপিতামহ অমুক-শৰ্ম্ম-বনেনিম্নমঃ।

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
৭। (মাতামহমণ্ডলে)—বিষ্ণুরো অমুকগােত্র নান্দীমুখ
মাতামহ অমুক-শৰ্ম্ম-বনেনিনমঃ।
৮। (প্রমাতামহমণ্ডলে)-বিষ্ণুরে। অমুকগােত্র
নান্দীমুখ প্রমাতামহ অমুক-শৰ্ম্ম-ম্নবনেনিনমঃ।
৯। (বৃদ্ধপ্রমাতামহমণ্ডলে)-বিষ্ণরে। অমুকগােত্র
নান্দীমুখ বৃদ্ধপ্রমাতামহ অমুক-শৰ্ম্ম-ম্নবনেনি নমঃ।
দ্রষ্টব্য—অমুকশৰ্ম্মঅবনেনিক্ষ=অমুক-শৰ্ম্ম-বনেনিক্ষ।
অনুবাদ—অবনেনি ( শুদ্ধ হও)।
রেখােপরি কুশাস্তরণ
অবনেজনের পর মাতৃপক্ষের রেখার উপর কয়েকগাছি,
পিতৃপক্ষের রেখার উপর কয়েকগাছি এবং মাতামহপক্ষের
রেখার উপর কয়েকগাছি কুশ উত্তরাগ্র করিয়া পাতিতে
হইবে।
আস্তরণ-কুশােপরি যব বিকিরণ করিয়া
নান্দীমুখ পিতৃপুরুষগণকে আহ্বান
এই কাৰ্য্য দেবতীর্থদ্বারা করিতে হইবে। তিনটি রেখার
উপর একবার করিয়া মােট তিনবার বিকিরণ।
বিকিরণের মন্ত্র
ওঁ আ মুন্তু নাে নান্দীমুখাঃ পিতরঃ সােম্যাসােহগ্নিদাত্তাঃ
একবার

যজুর্বেদীয়
পখিভি-র্দেবলৈ। অস্মিন্ যজ্ঞে পুষ্ট্যা মন্তোহৰিবস্তু
হেম্মা।
পিণ্ডনিৰ্মাণ
অগ্নৌকরণাবশিষ্ট অন্নের সহিত শেষান্ন মিশ্রিত করিয়া,
সমস্ত অন্নকে কলাদ্বারা ভালরূপে চটকাইয়া নিতে হইবে।
তারপর সেই অনুদ্বারা বিশ্বপ্রমাণ ৯টি পিণ্ড প্রস্তুত করিতে
হইবে।
/
প্রত্যেকটি পিণ্ডে ধৃত, মধু, যব, তুলসী এবং একটি ত্রিপত্র
দিতে হইবে। মূলপদ্ধতিতে দধি ও যব দেওয়ার কথা আছে,
সুতরাং দধিও দিতে হইবে। অনেক স্থানে অধুনা পিণ্ডে দধি
দেওয়ার নিয়ম নাই। কোথায়ও বদর অর্থাৎ কুল দিতে দেখা
যায় না। দেওয়ার রীতি থাকিলে দিতে হইবে। মধু দেওয়ার
সময় কিংবা দেওয়ার পর ওঁ মধু বা ঋতায়তে’ ইত্যাদি
তিনটি মন্ত্র পড়িতে হইবে না।
পিণ্ডদান
১। (মাতা)-
(ক) ত্রিপত্র সহিত একটি পিণ্ড ডানহাতে লইয়া,
(খ) বামহাত ডানহাতের পাশাপাশি রাখিয়া,
(গ) “ওঁ মধু, ওঁ মধু,ওঁ মধু—জপ করিয়া,

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
(ঘ) মাতৃপক্ষের আস্তীর্ণ কুশের মুলে মার মণ্ডলে,
(ঙ) দেবতীথ দ্বারা,
(চ) নিমােক্ত বাক্য পড়িয়া, দিতে হইবে।
(বাক্য) যথা-
বিষ্ণুরো অমুকগােত্রে নান্দীমুখি মাতরমুকী-দেবি এতৎ
পিণ্ডং ঘৃপকরণসহিতং সবােদকং তুভ্যং নমঃ।
২। (পিতামহী)
(ক) ত্রিপত্র সহিত একটি পিণ্ড ডানহাতে লইয়া,
(খ) বামহাত ডানহাতের পাশাপাশি রাখিয়া,
মধু, ও মধু, ও মধু’জপ করিয়া,
(ঘ) মাতৃপক্ষের আস্তীর্ণ কুশের মধ্যভাগে পিতামহীর
মণ্ডলে,
(ঙ) দেবতীর্থ দ্বারা,
(চ) নিম্নোক্ত বাক্য পড়িয়া, দিতে হইবে ।
(বাক্য) যথা-
বিষ্ণুরে। অমুকগােত্রে নান্দীমুখি পিতামহি অমুকী-দেবি
এতৎ পিণ্ডং ঘৃপকরণসহিতং সবােদকং তুভ্যং নমঃ।
৩। (প্রপিতামহী )
(ক) ত্ৰিপত্ৰ সহিত একটি পিণ্ড ডানহাতে লইয়া,
(গ) ও

যজুর্বেদীয়
=
(খ) বামহাত ডানহাতের পাশাপাশি রাখিয়া,
মধু, ওঁ মধু, ওঁ মধু—জপ করিয়া,
(ঘ) মাতৃপক্ষের আস্তীর্ণ কুশের অগ্রে প্রপিতামহীর.
মণ্ডলে,
(ঙ) দেবতীথ দ্বারা,
(চ) নিম্নোক্ত বাক্য পড়িয়া, দিতে হইবে।
(বাক্য) যথা-
বিষ্ণরে। অমুকগােত্রে নান্দীমুখি প্রপিতামহি অমুকী-দেবি
এতৎ পিণ্ড ঘৃপকরণসহিত সবােদকং তুভ্যং নমঃ।
৪। (পিতা)
(ক) ত্রিপত্র সহিত একটি পিণ্ড বামহাতে লইয়া,
(খ) বামহাত ডানহাতের পাশাপাশি রাখিয়া,
(গ) “ওঁ মধু, ওঁ মধু, ওঁ মধু’জপ:করিয়া,
(ঘ) পিতৃপক্ষের আস্তীর্ণ কুশের মুলে পিতার মণ্ডলে,
(ঙ) দেবতীথ দ্বারা,
(চ) নিমােক্ত বাক্য পড়িয়া, দিতে হইবে।
( বাক্য) যথা-
বিষ্ণুরে। অমুকগােত্র নান্দীমুখ পিত-রমুক-শৰ্ম্ম-গ্নেতৎ পিণ্ডং
ধৃপকরণসহিতং সংবােদকং তুভ্যং নমঃ।

২৪
আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
৫। (পিতামহ )
(ক) ত্ৰিপত্ৰ সহিত একটি পিণ্ড ডানহাতে লইয়া,
(খ) বামহাত ডানহাতের পাশাপাশি রাখিয়া,
(গ) “ওঁ মধু, ও মধু, ও মধু—জপ করিয়া,
(ঘ) পিতৃপক্ষের আস্তীর্ণ কুশের মধ্যভাগে
পিতামহের মণ্ডলে,
(ঙ) দেবতীর্থদ্বারা,
(চ) নিম্নোক্ত বাক্য পড়িয়া, দিতে হইবে।
( বাক্য) যথা-
বিষ্ণুরো অমুকগােত্র নান্দীমুখ পিতামহ অমুক-শৰ্ম্ম-ম্নেতৎ
পিণ্ডং ঘৃপকরণসহিতং সবােদকং তুভ্যং নমঃ।
৬। (প্রপিতামহ )
(ক) ত্ৰিপত্র সহিত একটি পিণ্ড ডানহাতে লইয়া,
(খ) বামহাত ডানহাতের পাশাপাশি রাখিয়া,
মধু, মধু, ওঁ মধু’জপ করিয়া,
(ঘ) পিতৃপক্ষের আস্তীর্ণ
কুশের অগ্র
প্রপিতামহের মণ্ডলে,
(ঙ) দেবতীর্থদ্বারা,
(চ) নিম্নোক্ত বাক্য পড়িয়া, দিতে হইবে।
(গ) ও

যজুর্বেদীয়
(বাক্য) যথা-
বিষ্ণুরো অমুকগােত্র নান্দীমুখ প্রপিতামহ অমুক-শৰ্ম্ম-গ্নেতৎ
পিণ্ডং ঘৃপকরণসহিত সযবােদকং তুভ্যং নমঃ।
৭। ( মাতামহ)-
(গ) ও
(ক) ত্রিপত্র সহিত একটি পিণ্ড ডানহাতে লইয়া,
(খ) বামহাত ডানহাতের পাশাপাশি রাখিয়া,
মধু,
মধু, ও মধু'জপ করিয়া,
(ঘ) মাতামহপক্ষের আস্তীর্ণ কুশের মুলে
মাতামহের মণ্ডলে,
(ঙ) দেবতীথ দ্বারা,
(চ) নিম্নোক্ত বাক্য পড়িয়া, দিতে হইবে।
(বাক্য) যথা-
বিষ্ণুরো অমুকগােত্র নান্দীমুখ মাতামহ অমুক-শৰ্ম্ম-নেতৎ
পিণ্ডং ঘৃপকরণসহিত সবােদকং তুভ্যং নমঃ।
৮। (প্রমাতামহ)
(ক) ত্রিপত্র সহিত একটি পিণ্ড ডানহাতে লইয়া,
(খ) বামহাত ডানহাতের পাশাপাশি রাখিয়া,
(গ) ও মধু, ও মধু, ও মধু'জপ করিয়া,
(ঘ) মাতামহপক্ষের আস্তীর্ণ কুশের মধ্যভাগে

১২৬ আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি প্রমাতামহের মণ্ডলে, (ঙ) দেবতীথ দ্বারা, (চ) নিম্নোক্ত বাক্য পড়িয়া, দিতে হইবে। ( বাক্য) যথা- বিষ্ণুরে। অমুকগােত্র নান্দীমুখ প্রমাতামহ অমুক-শৰ্ম্ম- তেৎ পিণ্ডং ঘৃপকরণসহিতং সবােদকং তুভ্যং নমঃ। ( বৃদ্ধপ্রমাতামহ)- (ক) ত্রিপত্র সহিত একটি পিণ্ড ডানহাতে লইয়া, (খ) বামহাত ডানহাতের পাশাপাশি রাখিয়া, (গ) ও মধু, ও মধু, ওঁ মধু'- ওঁ মধু'জপ করিয়া, (ঘ) মাতামুহপক্ষের আস্তীর্ণ কুশের অগ্রে বৃদ্ধ- প্রমাতামহের মণ্ডলে, (ঙ) দেবতীর্থদ্বারা, (চ) নিম্নোক্ত বাক্য পড়িয়া, দিতে হইবে। ( বাক্য) যথা- বিষ্ণুরে। অমুকগােত্র নান্দীমুখ বৃদ্ধপ্রমাতামহ অমুক-শৰ্ম্ম- মেতৎ পিণ্ড ঘৃতাচ্যুপকরণসহিতং সবােদকং তুভ্যং নমঃ।

যজুৰ্বেদীয় ১২৭ প্রত্যেকটি পিণ্ডের উৎসর্গের পর ও গয়া গঙ্গা গদাধরাে হরিঃ- এই বাক্যটি যজমানের বলিবার রীতি আছে। পিণ্ডশেষ-বিকিরণ পিণ্ডদান শেষ হইলে, পিণ্ডপাত্রে যাহা অবশিষ্ট থাকিবে, তাহা ৯টি পিণ্ডের সমীপে ছড়াইয়া দিতে হইবে। লেপভুকু নান্দীমুখ-পিতৃগণের প্রাপ্যতঁহাদিগকে দান। শ্রাদ্ধকারীর হাতে পিণ্ডাবশেষ যাহা লাগিয়া থাকিবে, তাহা আস্তীর্ণ কুশদ্বারা ঘষিয়া পৃথক্ করিয়া V লেপভুজো নান্দীমুখাঃ পিতরঃ প্রীয়া- এই বাক্যটি বলিয়া প্রপিতামহপিণ্ডে দিতে হইবে। [ বৃদ্ধ- প্রপিতামহ, অতিবৃদ্ধপ্রপিতামহ এবং অত্যতিবৃদ্ধপ্রপিতামহ- এই তিনজনকে লেপভুক্ পিতৃপুরুষ বলে। লেপ = যাহা লাগিয়া রহিয়াছে।] ঋতু-নমস্কার প্রভৃতি কাৰ্য্য তারপর ১। ও অত্র নান্দীমুখাঃ পিতরাে মাদয়ধ্বং, যথাভাগ-বৃষায়। [ মা-ব-সং-২৩১, কা-বা-সং-২৭৩, ২২৬, কা-বা-সং-উৎকল-২৫৬ ]

১২
আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
-এই মন্ত্রটি জপ করিয়া,
২। উত্তরাভিমুখ হইয়া (শ্রাদ্ধকারী উত্তরাভিমুখই আছেন),
৩। শ্বাস বন্ধ করিয়া,
৪। (শ্বাসবন্ধ)
(ক) ও বসত্তায় নমস্তুভ্যং গ্রীষ্ময় চ নমমা নমঃ।
বর্ষাভ্যশ্চ শরৎসংজ্ঞ-তবে চ নমঃ সদা ।
(খ) হেমন্তায় নমস্তুভ্যং নমস্তে শিশিরায় চ।
মাসসংবৎসরেভ্যশ্চ দিবসেভ্যো নমাে নমঃ।
-এই মন্ত্রদুইটি মনে মনে পাঠ করিয়া,
ষড়ভ্য ঋতুভ্যো নমঃ
-বলিয়া শ্রাদ্ধকারী মনে মনে প্রণাম করিবেন।
৫। তারপর উত্তরাভিমুখ থাকিয়াই ( শ্বাসবন্ধ রাখিয়াই )
ওঁ অমীমন্ত নান্দীমুখাঃ পিতরাে যথাভাগ-মা বৃষায়িষত।
[ মা-বা-সং-২৩১, কা-বা-সং-২৭৩,২২৬,
কা-বা-সং-উৎকল-২৫৬।]
—এই মন্ত্রটি মনে মনে পড়িয়া শ্রাদ্ধকারী শ্বাসমােচন করিবেন।
সংবাদ- (ক) ও (খ) (ও বসন্তায়•••) হে পিতঃ, আপনি
বসন্তখতুরূপী, আপনাকে নমস্কার (প্রণাম, আপনি গ্রীষ্মরূপী, আপনাকে
নমস্কার। বর্ষারূপী আপনাকে নমস্কার। শরৎ-সজ্ঞকঋতুরূপী আপনাকে
সর্বদা নমস্কার। হেমন্তরূপী আপনাকে নমস্কার। শীতরূপী আপনাকে

যজুৰ্বেদীয় ১২৯ ছয়টি-ঋতু নমস্কার। মাসসংবৎসর-দিবসরূপী আপনাকে নমস্কার। রূপী আপনাকে নমস্কার। (শিশির=শীত ঋতু।) অনুবাদ- (ও অমীমদন্ত......)—নান্দীমুখাঃ (নান্দীমুখ) পিতরঃ ( পিতৃগণ) অমীমন্ত (আনন্দিত হইয়াছেন) (এবং) যথাভাগং (যার যার ভাগ ) ( গ্রহণ করিয়া) আবৃষায়িষত ( তৃপ্ত হইয়াছেন)। পিণ্ডোপরি প্রত্যনেজন-দান তারপর পিণ্ডপাত্র প্রক্ষালন করিয়া, একটি ত্রিপত্র দ্বারা ঐ জল নিয়ােক্ত বাক্যে ক্রমে ক্রমে ভিন্ন ভিন্ন পিণ্ডে ছিটাইবেন— ১। বিষ্ণুরো অমুকগােত্রে নান্দীমুখি মাত-মুকী-দেবি এতৎ প্রত্যবনেজনং তুভ্যং নমঃ। ২। বিষ্ণুরে। অমুকগােত্রে নান্দীমুখি পিতামহি অমুকী-দেবি এতৎ প্রত্যবনেজনং তুভ্যং নমঃ। ৩। বিষ্ণুরে। অমুকগােত্রে নান্দীমুখি প্রপিতামহি অমুকী- দেবি এতৎ প্রত্যনেজনং তুভ্যং নমঃ। ৪। বিষ্ণুরে। অমুকগােত্র নান্দীমুখ পিত-মুক-শৰ্ম্ম-স্নেতৎ প্রত্যবনেজনং তুভ্যং নমঃ। ৫। বিষ্ণুরে। অমুকগােত্র নান্দীমুখ পিতামহ অমুক-শৰ্ম্ম- মেতৎ প্রত্যবনেজনং তুভ্যং নমঃ।

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি ৬। বিষ্ণুরো অমুকগােত্র নান্দীমুখ প্রপিতামহ অমুক-শৰ্ম্ম- মেতৎ প্রত্যবনেজনং তুভ্যং নমঃ। ৭। বিষ্ণুরে। অমুকগােত্র নান্দীমুখ মাতামহ অমুক-শৰ্ম্ম- নেতৎ প্রত্যবনেজনং তুভ্যং নমঃ। ৮। বিষ্ণুরো অমুকগােত্র নান্দীমুখ প্রমাতামহ অমুক-শৰ্ম্ম- গ্নেতৎ প্রত্যবনেজনং তুভ্যং নমঃ। ৯। বিষ্ণুরে। অমুকগােত্র নান্দীমুখ বৃদ্ধ প্রমাতামহ অমুক- শৰ্ম্ম-নেতৎ প্রত্যনেজনং তুভ্যং নমঃ। * অনুবাদ—এতৎ প্রত্যনেজনং তুভ্যং নমঃ) এই পুনঃপ্রক্ষালন- জল আপনাকে উৎসগ করিতেছি। O ০ [ কাত্যায়নের যজুর্বেদীয় শ্রোতসুত্রমতে পিণ্ডপিতৃযজ্ঞের অনুকরণে বাক্যসমূহ নিম্নলিখিতরূপ হওয়া উচিত - ১। বিষ্ণুরে। অমুকগােত্রে নান্দীমুখি মাতরমুকীদেবি প্রত্যবনেনি-নমঃ। পিতামহি অমুকীদেবি প্রপিতামহ অমুকীদেবি ৪। বিষ্ণুরে। অমুকগোত্র নান্দীমুখ পিতরমুকশন পিতামহ অমুকশৰ্ম্মন প্রপিতামহ মাতামহ প্রমাতামহ বৃদ্ধপ্রমাতামহ , কিন্তু, এতদ্দেশে এরূপ বাক্যের ব্যবহার নাই-যদিও এইরূপ বাক্যই ব্যবহৃত হওয়া উচিত। ১) ১৮ ত ১১ ১) ০ ১) ১) ৯) যজুৰ্বেদীয় নীবী-মােচন এখন শ্রাদ্ধকারী বামদিকের নীবী হইতে ত্রিপত্রটি ফেলিয়া দিবেন। ইহাকে নীবীমােচন বলে। পিণ্ডোপরি ষড়ঞ্জলিম-পাঠ শ্রাদ্ধকারী এখন পিণ্ডোপরি উপুড়-করা ডানহাত রাখিয়া, বামহাত দিয়া ডানহাত স্পর্শ করিয়া, যজুৰ্ব্বেদের নিম্নোক্ত মন্ত্র ছয়টি পাঠ করিবেন- ১। ওঁ নমাে বাে নান্দীমুখাঃ পিতরঃ শুয়ায়। ২। ওঁ নমম বাে নান্দীমুখাঃ পিতরস্তপসে। ৩। ওঁ নমাে বাে নান্দীমুখাঃ পিতরাে যজ্জীৰং ন্মৈ। ৪। ওঁ নমাে বাে নান্দীমুখাঃ পিতরাে রায়। ৫। ওঁ নমাে বাে নান্দীমুখাঃ পিভরে যােরায় মন্তবে। ৬। ও পুষ্ট্য বাে নান্দীমুখাঃ পিতরাে নমঃ। [ কা-বা-সং-২৭৪, কা-বা-সং-উৎকল-২৫৭ ] ইহা কাথসংহিতার পাঠ। অবা-১। হে নান্দীমুখ পিতৃগণ, আপনারা গ্রীষ্মরূপী, আপনাদিগকে নমস্কার। ২। হে নান্দীমুখ পিতৃগণ, আপনারা মাঘ-ফান মাসাত্মক, আপনাদিগকে নমস্কার ।

১৩২
আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
৩। হে নান্দীমুখ পিতৃগণ, আপনারা বর্ষাঋতুরূপী,
আপনাদিগকে নমস্কার।
৪। হে নান্দীমুখ পিতৃগণ, আপনারা বসন্তঋতুরূপী,
আপনাদিগকে নমস্কার।
(বসন্তদ্বারা ব্রাহ্মণসৰ্বস্ব’-এর হলায়ুধ চৈত্রমাস
বুঝিয়াছেন বলিয়া মনে হয়।)
হে নান্দীমুখ পিতৃগণ, আপনারা দুঃখজনক
হেমন্তঋতুরূপী, আপনাদিগকে নমস্কার ।
৬। হে নান্দীমুখ পিতৃগণ, আপনারা শরৎ-ঋতুরূপী,
আপনাদিগকে নমস্কার ।
[ মাধ্যন্দিন সংহিতার পাঠ, যথা-
ওঁ নমম বাে নান্দীমুখাঃ পিতরাে রসায়।
২। ওঁ নমাে বে নান্দীমুখাঃ পিতরঃ শােষায়।
৩। ওঁ নমাে বাে নান্দীমুখাঃ পিতরাে জীবায়।
৪। ওঁ নমাে বাে নান্দীমুখাঃ পিতরঃ পুষ্ট্যৈ।
ওঁ নমাে বাে নান্দীমুখাঃ পিতরাে ঘােরায়।
৬। ওঁ নমাে বাে নান্দীমুখাঃ পিতরাে মন্তবে।]
[ মা-বা-সং-২৩২ ]
পিণ্ডোপরি বাসসুত্ৰ-দান
তারপর, নূতন বা পুরাতন কাপড়ের কিনারা হইতে বাসঃসূত্র

যজুর্বেদীয় ১৩৩ ( কাপড়ের সুতা) লইয়া ক্রমে ক্রমে প্রত্যেকটি পিণ্ডের উপর এতঘাে নান্দীমুখাঃ পিতরাে বাসঃ [ কা-বা-সং-২৭৪ ] -এই বাক্যটি বলিয়া দিতে হইবে। মন্ত্রটি মােট ৯বার পাঠ। [ মন্ত্রটির মাধ্যন্দিন পাঠ—এতদ্বো নান্দীমুখাঃ পিতরাে বাস আধ।] [ মা-ব-সং-২৩২ ] অনুবাদ— হে) নান্দীমুখাঃ (নান্দীমুখ) পিতরঃ ( পিতৃগণ ), এতৎ (এই) বঃ (আপনাদের) বাসঃ ( আচ্ছাদন)। [ মূলপদ্ধতিতে বাসঃসূত্রের সঙ্গে একটি করিয়া ঋজুদর্ভ অর্থাৎ ত্রিপত্র দেওয়ার কথা আছে। বর্তমান সময়ে পিণ্ডের সহিত একটি একটি করিয়া ত্রিপত্র দেওয়া হইয়া থাকে বলিয়া বাসসূত্রের সঙ্গে পুনরায় ত্রিপত্র দেওয়া হয় না।] পরে, এক-একটি পিণ্ডের উপর এক-একবার জল দিয়া নিমােক্ত বাক্যে ঐ সমস্ত বাসঃসূত্র উৎসর্গ করিতে হইবে— ১। (মাতা)-বিষ্ণুরে। অমুকগােত্রে নান্দীমুখি মাত- রমুকী-দেবি এতদ্বাস-স্তুভ্যং নমঃ। ২। (পিতামহী )-বিষ্ণুরে। অমুকগােত্রে নান্দীমুখি। পিতামহি অমুকী-দেবি এতদ্বাস-স্তুভ্যং নমঃ।

১৩৪
আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
৩। (প্রপিতামহী)—বিষ্ণুরে। অমুকগােত্রে নান্দীমুখি
প্রপিতামহি অমুকী-দেবি এতদ্বাস-স্তুভ্যং নমঃ।
৪। (পিতা) বিষ্ণুরে। অমুকগােত্র নান্দীমুখ পিত
রমুক-শৰ্ম্ম-গ্নেতদ্বাস-স্তুভ্যং নমঃ।
৫। (পিতামহ)--বিষ্ণুরে। অমুকগােত্র নান্দীমুখ পিতামহ
অমুক-শৰ্ম্ম-নেতদ্বাস-স্তুভ্যং নমঃ।
৬। (প্রপিতামহ)—বিষ্ণুরে। অমুকগােত্র নান্দীমুখ
প্রপিতামহ অমুক-শৰ্ম্ম-ন্নেতদ্বাস-স্তুভ্যং নমঃ।
৭। (মাতামহ)-বিষ্ণুরে। অমুকগােত্র নান্দীমুখ মাতামহ
অমুক-শৰ্ম্ম-গ্নেতদ্বাস-স্তুভ্যং নমঃ।
৮। (প্রমাতামহ বিষ্ণুরে। অমুকগােত্র নান্দীমুখ
প্রমাতামহ অমুক-শৰ্ম্ম-গ্নেতদ্বাস-স্তুভ্যং নমঃ।
৯। (বৃদ্ধপ্রমাতামহ)-বিষ্ণুরে। অমুকগােত্র নান্দীমুখ
বৃদ্ধপ্রমাতামহ অমুক-শৰ্ম্ম-গ্নেতদ্বাস-স্তুভ্যং নমঃ ।
পিণ্ডে উর্দ্ধধারা দান
প্রত্যেকটি পিণ্ডকে মাতা, পিতামহী, প্রপিতামহী, পিতা,
পিতামহ, প্রপিতামহ, মাতামহ, প্রমাতামহ এবং বৃদ্ধপ্রমাতামহ
—এই ক্রমে নিমােক্ত মন্ত্র এক-একবার পড়িয়া জলদ্বারা সিক্ত

যজুর্বেদীয়
করিতে হইবে। মন্ত্র যথা—
ও উজ্জং বহত্তীরমৃতং তং পয়ঃ কীলালং পরিশ্রুত।
পুষ্টয়ঃ তৰ্পয়ত মে নান্দীমুখা পিতৃন্ ।
[ মা-বা-সং-২৩৪, কা-বা-সং-
২৭৭, কা--সং-উৎকল-২৬০ ]
মন্ত্রটি মােট ৯বার পাঠ।
অনুবাদ—(হে জল,) (তুমি) উজ্জং (অন্নসংক্রান্ত) ঘৃতং
( ঘৃতসংক্রান্ত )(ও) পয়ঃ (দুগ্ধসংক্রান্ত) অমৃতং (মৃত্যুনিবারক) (ও)
কীলালং (সৰ্ববন্ধ-বারক) পরিশ্রুতং (সারপদার্থ) বহন্তীঃ (বহন করিয়া)
পুষ্টয়ঃ (পিতৃগণের অন্নের আকৃতি) স্থ (হও, ধারণ কর) (এবং)
মে (আমার) নান্দীমুখা (নান্দীমুখ) পিতৃন্ (পিতৃগণকে) তৰ্পয়ত
( তৃপ্তিদান কর)।
[ অঙ্গুষ্ঠ এবং অনামিকার মূলকে কায় বা প্রাজাপত্যতীর্থ
বলে। দুইহাত একত্র করিয়া কায়তীর্থ দ্বারা পিণ্ডোপরি জল-সেচনের
প্রথা চলিয়া আসিয়াছে। কিন্তু এইভাবে জলসেচন কষ্টকর ও
অসুবিধাজনক। কায়তীর্থ ব্যবহারের মূল খুজিয়া পাওয়া যায় না।
‘পিণ্ডপিতৃযজ্ঞ’-প্রসঙ্গেও কাত্যায়ন যজুৰ্বেদীয় শ্রোতসূত্রে লিখিয়াছেন—
“উঞ্জ”-মিত্যপাে নিষিঞ্চতি।
অতএব, যিনি যেভাবে ভাল মনে করেন, তিনি সেইভাবেই
সেচন করিতে পারেন। তবে, জলের ধারা হওয়া আবশ্যক।]

১৩৬ আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি ars..... পিণ্ডপূজা তৎপর, গন্ধাদি দ্বারা বিনামন্ত্রে প্রত্যেকটি পিণ্ডকে পূজা করিতে হইবে। তারপর প্রত্যেক পক্ষের ব্রাহ্মণদ্বয়কে জলগণ্ডুষ-দান। তারপর, যজমান মাতৃপক্ষের দর্ভময়-ব্রাহ্মণদের কাছে কৃতাঞ্জলি হইয়া জিজ্ঞাসা করিবেন- ওঁ পিণ্ডং সম্পন্নম্ ? পুরােহিত ( প্রতিবচন)—ওঁ সুসম্পন্নমস্তু। দ্বিতীয় বার—ওঁ পিণ্ডং সম্পন্নম্ ? পুরােহিত ( প্রতিবচন)—ওঁ সুসম্পন্নমস্তু। তৃতীয় বার—ওঁ পিণ্ডং সম্পন্নম্ ? পুরােহিত (প্রতিবচন)-ও সুসম্পন্নমস্তু। পিতৃপক্ষে-১। ওঁ পিণ্ডং সম্পন্নম্ ? –ওঁ সুসম্পন্নমস্তু। ২। ওঁ পিণ্ডং সম্পন্ন ? –ওঁ সুসম্পন্নমস্তু। ৩। ওঁ পিণ্ডং সম্পন্ন ? –ওঁ সুসম্পন্নমস্তু । মাতৃপক্ষে—১। ওঁ পিণ্ডং সম্পন্ন ? –ওঁ সুসম্পন্নমস্তু। ২। ও পিণ্ডং সম্পন্ন? -ওঁ সুসম্পন্নমস্তু। ৩। ওঁ পিণ্ডং সম্পন্নম্ ? ওঁ সুসম্পন্নমস্তু। মােট ৯ বার।

যজুৰ্বেদীয় ১৩৭ তারপর পিণ্ডাঘ্রাণ। তারপর পিণ্ডগুলি পাত্ৰান্তরে স্থাপন। *[ অষ্টব্য-(১) ভবেদ্ধতাশ্চ (১১৬ পৃষ্ঠা =ভবেৎ+হট+চ। (২) সর্বেই- সুরদানঃ (১১৬ পৃঃ) =সর্বে+অসুরদানবাঃ। (৩) যাতুন (১১৬ পৃঃ)-রাক্ষসদিগের একটি প্রধান শ্রেণী। যাতুধান’-শব্দের স্ত্রীলিঙ্গে ‘যাতুধানী। তুধানী’-শব্দের প্রখমার বহুবচনে ধাতুধান্যঃ'। যজুৰ্বেদীয় রুদ্রাধ্যায়ে আছে—“সৰ্ব্বাশ যাতুন্যোই- ধরাচীঃ। (৪) রক্ষাংসি (১১৬ পৃঃ)—‘ও নিহন্মি সৰ্বং’ - ইত্যাদি মন্ত্রটি পৌরাণিক, এই জন্য এই মন্ত্রের ‘রক্ষাংসি’ হলে ‘রক্ষাও সি হইবে না। এইরূপ, 'ও যজ্ঞেশ্বরাে -ইত্যাদি মন্ত্রটিও পৌরাণিক। এই জন্য এই মন্ত্রের রক্ষাংশ্চ সর্বে হলেও ‘রক্ষাসুরাশ্চ সৰ্বে হইবে না। কিন্তু, 'ও অপহতা রক্ষাগুসি বেদিষদঃ '- এই মন্ত্রটি বৈদিক বলিয়া ইহাতে ‘রক্ষাংসি’ স্থলে ‘রক্ষাগুসি’ হইয়াছে। (৫) বেদিষদঃ (১১৭ পৃঃ)-‘বেদিষদ-শব্দের পুংলিঙ্গে প্রথমার বহুবচন। বেগাং সীদন্তি ইতি বেদিষদঃ। বেদি-স+কিপ,। ইহা পুংলিঙ্গ ‘অনুরাঃ এবং ক্লীবলিঙ্গ ‘রক্ষাগুসি’-এই উভয় পদের বিশেষণ। (৬) অবননি (১১৯ পৃঃ)-ণিজির (নিজ+লােট, স্ব ( আত্মনেপদ মধ্যমপুরুষের একবচন)। ণিজি-(উভয়পদী) শৌচপােষণয়াের। এখানে শৌচে। “ণিজির কাৰ্যকালে ‘নিজহইয়া যায়। ধাতুটি জুহােত্যাদিগণীয়। অবনেনি ক্রিয়াপদ কিন্তু অবজেন’ অর্থে ‘অবনেনি’ নামে কোনও বিশেষ্য অথবা অব্যয় নাই। এতদ্দেশীয় প্রচলিত পদ্ধতিসমূহে ‘অবনেনি, নমঃ' স্থলে ‘এতদবননি তুভ্যং নম-পাঠ দেখা যায়। সুতরাং প্রচলিত পাঠ ভ্রমাত্মক। ইহা যে ভ্রমাত্মক তাহ। অন্যভাবেও দেখা যায়। কাত্যায়নের যজুৰ্বেদীয় শ্রোতসূত্রে “পিণ্ডপিতৃযজ্ঞ-প্রসঙ্গে ৪১• সূত্রে আমরা—অসাবনেনিক্ষে তি যজমান পিতৃপ্রভৃতি ত্ৰী-পাই। অসাবনেনি =অসৌ+ অবনেনি। অসৌজদস’-শব্দের সম্বােধনের একবচন। (৭) মাদয়ধ্বম্ (১২৭ পৃঃ)—ণিজন্ত মদ ধাতু লােট, মধ্যমপুরুষ-(আত্মনেপদের) বহুবচন। স্বার্থে ণিচ। পূর্বে এই ক্রিয়াপদটি আর একবার পাওয়া গিয়াছে। (৮) আবৃষায়ধ্বম্ (১২৭ পৃঃ)-বৃষ+ক্যঙ, =বৃষায়। বৃষায় একটি নামধাতু। আত্মনেপদ। আবৃষায়+ ধ্বম্ (লােট, মধ্যমপুরুষের বহুবচন)=আবৃষায়ধ্বম্। (৯) অমীমদন্ত (১২৮ পৃঃ)—ণিজন্ত মদ ধাতু লুঙ, প্রথমপুরুষ ( আত্মনেপদের) বহুবচন। স্বার্থে ণিচ।

১ আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি (১০) আবৃষায়িষত (১২৮ পৃঃ)-আ-পুৰ্ব্বক বৃষার ধাতুর লুঙ, প্রথমপুরুষের বহুবচন। অটু আগম নিষেধ ছান্দস। (১১) ষড়ঞ্জলি মন্ত্ৰসমূহ (১৩১ পৃঃ)-মূল বেদে মন্ত্রগুলি এইরূপ—(ক) ও নমাে বঃ পিতরঃ শুষ্ময়। (খ) ও নমাে ব পিতরস্তপসে। (গ) ও নমো বা পিতরো যজ্জীবং তস্মৈ। (ঘ) ও নমো বা পিতনো রসায়। (ঙ) ও নমো বঃ পিতরাে ঘােয় মন্তবে। (চ) ও স্বধায়ৈ বঃ পিতরাে নমঃ। মাধ্যন্দিন পাঠ—(ক) ও নমাে বা পিতরে রসায়। (খ) ও নমাে বঃ পিতরঃ শােষায়। (গ) ও নমাে বা পিতরে জীবায়। (ঘ) ও নমাে বঃ পিতর স্বধায়ৈ । (ঙ) ও নমো বঃ পিতরাে ঘােরায়। (চ) ও নমাে বা পিতনাে মন্তবে। অধা’-শব্দের চতুর্থীর একবচনে ‘বধায়ৈ। পুষ্টি’-শব্দের চতুর্থীর একবচনে ‘পুষ্ট্য'। এইজন্য ‘স্বধায়ৈ’ স্থলে আভদয়িকে ‘পুষ্ট্যৈ হইয়াছে। আভদয়িকে সর্বত্র ‘পিতরঃশব্দের পূর্বে ‘নান্দীমুখা'-শব্দ বসাইতে হইয়াছে। শুম – গ্রীষ্মঋতু। তপঃ- মাঘ, মাস, কিন্তু এখানে মাঘ-ফান। যজ্জীবং-জল অর্থাৎ বর্ষাঋতু। বস বসন্তঋতু। ঘাের-হেমন্ত ঋতু। মদুঃখজনক। পুষ্টি বা স্বধা-শরৎকাল। মাধ্যন্দিন পাঠের-শােষ গ্রীষ্মঋতু, জীব-বর্ষাঋতু, ম-শিশির অর্থাৎ শীতঋতু। মুদ্রিত পদ্ধতিসমুহে কোনও কোনও স্থানে বিকৃত পাঠ দৃষ্ট হয়। (১২) উজ্জং বহন্তী ইত্যাদি (১৩৫ পৃঃ)- প্রকৃত প্রস্তাবে মন্ত্রটি এই- উজ্জং বহন্তী-মৃতং ঘৃতং পয়ঃ কীলালং পরিশ্রুত। স্বধাঃ স্থ তর্পয়ত মে পিতৃন। (ক) বৃহন্তীঃ -‘বহত্যঃ স্থলে ‘বা ছন্দসি’-এই সূত্রানুসারে ছান্দস প্রয়ােগ । ভাষাতে ‘বন্ত। বেদে বহন্ত্যঃ, বহন্তীঃ'। (খ) পুষ্টয়ঃ –‘স্বধা-শব্দের প্রথমার বহুবচনে ‘স্বধাঃ। পুষ্টি’-শব্দের প্রথমার বহুবচনে ‘পুষ্টয়'। সুতরাং অধা স্থলে আভ্যুদয়কে ‘পুষ্টয়ঃ হইয়াছে। (গ) স্থ-অদাদি অ ধাতু লটু মধ্যমপুরুষের বহুবচন। (ঘ) এই মন্ত্রে জলের সংস্কৃত ‘অপ-শব্দ বহুবচনান্ত। এইজন্য ‘বন্তী, ‘স্বধা’, ‘পুষ্টয়’, ‘স্থ’ ও ‘তর্পত’ বহুবচনান্ত হইয়াছে। আবার ‘অপ’-শব্দ স্ত্রীলিঙ্গ। এজন্য তাহার বিশেষণ বহন্তীঃ স্ত্রীলিঙ্গ।

যজুৰ্বেদীয় পিশনের লিজ ‘পিণ্ডশব্দ সাধারণতঃ সাধারণতঃ পুংলিঙ্গেই ব্যবহৃত হইয়া থাকে। কিন্তু, যজুর্বেদীয় অভিলাপে অর্থাৎ বাক্যে ইহা ক্লীবলিঙ্গ এবং সামবেদীয় অভিলাপে পুংলিঙ্গ। যথা-যজুৰ্বেদীয় বাক্যে ‘এতত্তে পিণ্ড কিন্তু সামবেদীয় বাক্যে ‘এষ তে পিণ্ড। কাত্যায়নের যজুর্বেদীয় শ্রোতসূত্রের ৪১১তে আছে-উপমূল সদাচ্ছিন্নানি লেখায়াং কৃত্বা যথানিং পিণ্ডা দদাত্যসা-বেতত্ত ইতি। এখানে ‘দদাত্যসাবেতত্ত ইতি’= দদাতি+অসৌ+এতৎ+তে+ইতি। “পিণ্ডা এবং ‘এতৎ'—এই দুইটি শব্দের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা প্রয়ােজন। প্রথমটি পুংলিঙ্গ, দ্বিতীয়ার বহুবচন, কিন্তু একবচনা ‘পিণ্ড’-শব্দের প্রতিনিধিসূচক ‘এতৎ ক্লীবলিঙ্গ। ‘অসৌ' সম্বােধনের একবচন। সাধারণভাবে সূত্রে কাত্যায়নের মতে ‘পিণ্ড’-শব্দ পুংলিঙ্গ কিন্তু অভিলাপে উহা ক্লীবলিঙ্গ। অসৌ এতৎ তে’-এর উদাহরণ – ‘অমুকগােত্র নান্দীমুখ পিত-মুকশৰ্ম্ম-ন্নেতৎ তে পিণ্ড ইত্যাদি। ‘কর্মোপদেশিনী’-নামক পদ্ধতিতে অভিলাপ ব্যতীত অন্যত্রও ‘পিণ্ড’- শব্দের ক্লীবলিঙ্গে প্রয়োেগ দেখা যায়। ইহা ভ্রমাত্মক বলিয়া মনে হয়। স্মাৰ্ত্ত রঘুনন্দনও তাঁহার যজুৰ্বেদীয়-শ্রাদ্ধতত্বে লিখিয়াছেন—“অত্র পিণ্ডানিতি পুংলিঙ্গ-নির্দেশেহপি পিণ্ড-পিতৃযজ্ঞীয়-পিণ্ডদানাভিলাপে পিণ্ডবিশেষণে এতদিতি নির্দেশাদ যজুৰ্বেদীয়াভিলাপে পিণ্ডশব্দস্য নপুংসকেন নির্দেশােহপি প্রতীয়তে, পিণ্ডশব্দস্য নপুংসকত্বমন্যত্র দুষ্ট- ইত্যাদি। -

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
পিণ্ডদান সম্বন্ধে অতিরিক্ত দুই-একটি কথা
পিণ্ডপিতৃযজ্ঞ হইতেই পিণ্ডদানের প্রথা আসিয়াছে। দেবপক্ষে
পিণ্ডদান নাই। পিণ্ডপিতৃজ্ঞের মন্ত্ৰসমূহ মাধ্যন্দিন-বাজসনেয়ি-সংহিতার
দ্বিতীয় অধ্যায়ের ঊনত্রিংশ হইতে চতুস্ত্রিংশ কণ্ডিকায়, কাসংহিতার
চৌখাম্বা-সংস্করণে দ্বিতীয় অধ্যায়ের সপ্তম অনুবাকে, এবং কাসংহিতার
উৎকল সংস্করণে ২৫৪ হইতে ২৬০এ আছে। নিম্নলিখিত মন্ত্রসমূহ
পিণ্ডপিতৃযজ্ঞ হইতে গৃহীত
১। ও অগ্নয়ে কব্যবাহনায় স্বাহা।
২। ও সােমায় পিতৃমতে স্বাহা।
৩। ও অপহত। অসুরা রক্ষাগুসি বেদিষদ।
৪। ও অত্র পিতরাে মাদয়ধ্বং, যথাভাগ-মা বৃষায়ধ্বম্।
৫। ও অমীমদন্ত পিতরাে, যথাভাগ-মা বৃষায়িষত।
৬। ওঁ নমো বঃ পিতরঃ শুম্মায় ইত্যাদি (ষড়ঞ্জলিমন্ত্র )।
৭। ও এতদ্বঃ পিতরাে বাসঃ। ৮। এতদ্বঃ পিতরে বাস
আধ। ৯। ও উজ্জং বহন্তীরমৃতং ঘৃতং পয়ঃ কীলালং পরিতম্।
স্বধাঃ স্থ তর্পয়ত মে পিতৃন্ ।
পিণ্ডস্থানে জলদান
১। মাতৃপিণ্ডস্থানে জলদান। মন্ত্র -ও সুপক্ষিতমস্তু। পুরােহিতও অন্তু।
২। পিতামহীপিণ্ডস্থানে
৩। প্রপিতামহী পিণ্ডস্থানে ,,
,

যজুর্বেদীয় ১৪১ ৪। পিতৃপিণ্ডস্থানে জলদান। মন্ত্র-ও সুসুপ্রতিমন্তু। পুরােহিত ও অত। । • • ১) ৫। পিতামহপিণ্ডস্থানে ৬। প্রপিতামহপিণ্ডস্থানে ৭। মাতামহপিণ্ডস্থানে ৮। প্রমাতামহপিণ্ডস্থানে ৯। বৃদ্ধ-প্রমাতামহপিণ্ডস্থানে অনুবাদ— পিণ্ডভূমি) অতিসুষ্ঠুভাবে -হ, হউক। সিক্ত হউক। ব্রাহ্মণহতে জলান 9 ১ ১। দেবপক্ষে। মন্ত্র—ওঁ শিবা আপঃ সন্তু। পুরােহিতও সন্তু। (১বার) ২। মাতৃপক্ষে। (৩ বার) ৩। পিতৃপক্ষে। (৩ বার) ৪। মাতামহপক্ষে। (৩ বার) অনুবাদ-(এই) জল শুভজনক হউক। -হ, হউক। 9 ?? ব্রাহ্মণহস্তে পুষ্পদান ১। দেবপক্ষে। মন্ত্র-ও সৌমনমস্তু। পুরােহিতও অস্তু। (১ বার) ২। মাতৃপক্ষে। (৩ বার) ৩। পিতৃপক্ষে।,, ১৮ (৩ বার) ৪। মাতামহপক্ষে। (৩ বার) 2 } ১০

১৪২
আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
১। দেবপক্ষে।
অনুবাদ— এই পুষ্পের আঘ্রাণে ) মনের তৃপ্তি হউক।
-হ, হউক।
ব্রাহ্মণহস্তে দূৰ্বাক্ষতদান
মন্ত্র - ও অক্ষতাঞ্চারিষ্টাঞ্চাস্তু। পুরােহিত ও অস্তু। (১ বার)
২। মাতৃপক্ষে।
(৩ বার )
৩। পিতৃপক্ষে।
(৩ বার)
৪। মাতামহপক্ষে।
( ৩ বার )
অনুবাদ—এই দূৰ্বাক্ষত) অক্ষতং চ (বিঘ্ননাশক) অরিষ্টং চ
( এবং শুভকর) অন্তু (হউক)। হাঁ, হউক।
3)
অক্ষ্যদান
[ অক্ষয্য = অক্ষয় ফলযুক্ত।]
একটি পাত্রে (১) যব, (২) মধু, (৩) ঘৃত, (৪) জল,
(৫) তুলসীপত্র এবং (৬) একটি ত্রিপত্র রাখুন। তারপর ঐ
ত্রিপত্র দ্বারা ক্রমে ক্রমে ঐ পাত্র হইতে ৯বার জল লইয়া-
(১) মাতৃব্রাহ্মণে মাতা, পিতামহী এবং প্রপিতামহীর জন্য,
(২) পিতৃব্রাহ্মণে পিতা, পিতামহ এবং প্রপিতামহের জন্য,
এবং (৩) মাতামহব্রাহ্মণে মাতামহ, প্রমাতামহ এবং
বৃদ্ধপ্রমাতামহের জন্য নিম্নলিখিত বাক্যে সেচন করিতে
হইবে।
বাক্য, যথা-

যজুৰ্বেদীয়
১৪৩
I
১। মাতৃপক্ষের ব্রাহ্মণে-
বিষ্ণুরে। তৎস অদ্য অমুকে মাসি অমুকরাশিস্থে
ভাস্করে অমুকে পক্ষে অমুক্যাং তিথৌ অমুকগােস্য
মদীয়ামুকপুত্রস্ত শ্ৰীঅমুকশৰ্ম্মণঃ অমুককৰ্ম্মাভ্যুদয়ার্থ
অমুকগােত্রায়া
নান্দীমুখ্যা মাতু-মুকী-দেব্যা
আভদয়িকে শ্রাদ্ধেহস্মিন্ দত্তেনানেনান্নােনাদিন
নান্দীমুখ্যো মাতরঃ প্রীয়ন্তাম্।
পুরােহিতওঁ অস্তু প্রীতি।
যজমান—ওঁ সৰ্ব্বং তেভ্য উপতিষ্ঠতা
এই বাক্যে ব্রাহ্মণহস্তে পুনরায়
দিতে হইবে।
ক
০ ০ ০ ০
[ দত্তেনানেনাঃপানাদিনা=দত্তেন+অনেন+অনুপানাদিন।]
২। মাতৃপক্ষের ব্রাহ্মণে-
•••"পিতামহ অমুকী-দেব্যা। পিতামহঃ
৩। মাতৃপক্ষের ব্রাহ্মণে-
••••••••প্রপিতামহঃ
প্রপিতামহঃ
৪। পিতৃপক্ষের ব্রাহ্মণে—
নান্দীমুখস্য পিতু-রমুকশৰ্ম্মণঃ“নান্দীমুখাঃ পিতরঃ••••
৫। পিতৃপক্ষের ব্রাহ্মণে-
ne
re

১৪৪ আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি *•. a • ০ ০ ০ ০ “পিতামহাঃ • পিতামহস্য ৬। পিতৃপক্ষের ব্রাহ্মণে- ••প্রপিতামহস্য = •••••••• প্রপিতামহাঃ ৭। মাতামহপক্ষের ব্রাহ্মণে- ••••••"মাতামহস্য •••••••••মাতামহাঃ ৮। মাতামহপক্ষের ব্রাহ্মণে- ০ 'প্রমাতামহস্য ••••• “প্রমাতামহাঃ ৯। মাতামহপক্ষের ব্রাহ্মণে- ••••••“বৃদ্ধপ্রমাতামহস্য ০০০০০০০০০০ 'বৃদ্ধপ্রমাতামহঃ•••••• মতান্তর—(১) প্রচলিত প্রায় সকল পদ্ধতিতেই, এই কাৰ্য্যে তন্ত্রতা নাই—এই ধারণার ফলে, পূর্বোক্তরূপ পৃথক পৃথক্ নয়টি বাক্য বলিয়া ৯বার জল দেওয়ার উপদেশ আছে। আমাদের গৃহপরিশিষ্টকার কাত্যায়নের ‘নান্দীমুখাঃ পিতরঃ প্রীয়ন্তানক্ষয্যস্থানে '—এই সূত্রটি অবলম্বন করিয়া রঘুনন্দন যজুৰ্বেদীয় শ্রাদ্ধতত্বে বিচার করিয়া বুঝাইয়াছেন যে, কাত্যা- য়নের এই সূত্রানুসারে আভদয়িকে অক্ষ্যদানে ছন্দোগ- পরিশিষ্টকার কাত্যায়নের তন্ত্রতার বিনিবৃত্তি খণ্ডিত হইয়া গিয়াছে। রঘুনন্দনের বিচারফল এই অক্ষয্যদানে যজুৰ্বিদাম অক্ষয্যমত্যিক্ত। প্রাপ্তপিতৃ-

যজুৰ্বেদীয়
১৪৫
লােকোপাখিকবেন সর্বানুশি নান্দীমুখাঃ পিতরঃ প্রীয়া
ইত্যনেন
সক এব জলং দাতব্য আবাহনবৎ।
অর্থাৎ রঘুনন্দনের মতে “ও নান্দীমুখাঃ পিতরঃ প্রীয়স্তাম
এই বাক্য যজমান (নয় বারের পরিবর্তে ) একবার মাত্র পড়িয়া
মাতৃ, পিতৃ এবং মাতামহপক্ষের ব্রাহ্মণে অক্ষ্যজল দিবেন।
[ ওঁ অস্তু প্রীতিঃ। ওঁ সৰ্ব্বং তেভ্য উপতিষ্ঠতাম্। ]
মন্তর (২) কোনও কোনও স্থানে (নয় বারের
পরিবর্তে ) তিনবার মাত্র অক্ষয্যদান প্রচলিত আছে। যথা-
১। মাতৃপক্ষেও নান্দীমুখাঃ পিতরঃ প্রীয়স্তাম্ ।
ও অস্তু প্রীতিঃ। ও সৰ্ব্বং তেভ্য উপতিষ্ঠতাম্।
২। পিতৃপক্ষে-
ঐ
৩। মাতামহপক্ষে
ঐ
।
ঐ
তারপর
১। যজমান- কৃতাঞ্জলি হইয়া)
ওঁ অযােবা নান্দীমুখাঃ পিতরঃ সন্তু।
পুরােহিত
২। যজমান—( কৃতাঞ্জলি হইয়া)
ও গােৰং নাে বর্ধতাম্।
১০

১৪৬
আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
পুরােহিত
ও বাতা।
অনুবাদ-(১) নান্দীমুখ পিতৃগণ ( আমাদের প্রতি) প্রসন্ন হউন।
হা হউন।
(২) আমাদের বংশ বৃদ্ধি পাউক। -হা পাউক।
জুষ্টব্য
-মন্ত্র দুইটি আশীর্বাদসূচক মনে হইলেও ইহার কোনটিই
পারিভাষিক-আশীর্বাদসূচক নহে। এইজন্য প্রেশ্রাদ্ধেও এই মন্ত্র দুইটি
পড়িতে হয় এবং পুরােহিত হইতে ইহাদের প্রত্যেকের প্রতিবচন
গ্রহণ করিতে হয়। তবে সেই সময় প্রথম মন্ত্রটি এইরূপ হইবে।
ও অঘােরঃ প্রেতােহস্ত।
প্রতিবচন-ও অস্তু।
তারপর
আশীৰ্বাদ-গ্রহণ
১। যজমান—( কৃতাঞ্জলি হইয়া )
ও আশিযাে মে প্রদীয়ন্তা।
২। পুরােহিত
ও আশিষ প্রতিগৃহত্তাম।
অবাদ-(১) আমাকে বরদান করুন।
(২) বর গ্রহণ করুন।
[বাক্য দুইটি কর্মবাচ্যে আছে, অনুবাদ কর্তৃবাচ্যে দেওয়া
হইয়াছে।

যজুর্বেদীয় ১৪৭ । তারপর যজমান কৃতাঞ্জলি হইয়া পাঠ করিবেন- ১। ও দায়রা নােহভি বর্ধতাং বেদাঃ সন্ততি-রেব চ। শ্রদ্ধা চ নন ব্যগম বহু দেয়ঞ্চ নােহদ্ভুিতি। [ কাত্যায়নগৃহপরিশিষ্ট ] ২। ওঁ অঞ্চ নাে বহু ভবে-তিথীং-শ্চ লভেমহি। যাচিােরশ্চ নঃ সন্তু মা চ যাচিষ্ম কঞ্চন ॥ [ মৎসপুরাণ ] ৩। ও এতাঃ সত্যা আশিষঃ সত্ত। [ মৎস্যপুরাণ ] পুরােহিত ও সত। অনুবাদ—(১) আমাদের বংশে দানশীল ব্যক্তি (অর্থাৎ ব্যক্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পাউক, আমাদের বংশে বেদের অধ্যয়ন-অধ্যাপনা বৃদ্ধি পাউক, আমাদের বংশে সন্তান (অর্থাৎ সন্তান সংখ্যা বৃদ্ধি পাউক । ( বেদবাক্যে) শ্রদ্ধা যেন আমাদের ( আমাদের বংশ হইতে) লােপ না পায়। আমাদের দানবােগ্য বহুদ্ৰব্য হউক। *দ্রষ্টব্য-(১) বগমৎ-বি-গম্ + লুঙ, প্রখমপুরুষের একবচন। (২) ভবেতিথীং =ভবেৎ+অতিথী+চ। (৩) লভেমহিল+বিধিলিস্ (আত্মনেপদ) উত্তম- পুরুষের বহুবচন। (৪) যাচিতর=যাচিতার+চ। (৫) যাচি-বাছ+লুঙ, উত্তম- পুরুষের বহুবচন (আত্মনেপদ)। ছসি লুঙ-লঙ-লিটুঃ। বেদে সকল কালেই লুঙ, সঙ, ও লিট হয়। এখানে বিধিলিঙ্গের অর্থে লুঙ, হইয়াছে। অগমৎ-এও এইরূপ।

.১৪
আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
অনুবাদ-(২) আমাদের যেন প্রচুর অন্ন হয়। আমরা যেন
অনেক অতিথি লাভ করিতে পারি । আমাদের যেন কাহারও
নিকট যাজ্ঞা করিতে না হয়।
অনুবাদ-(৩) এই সকল বর সত্য হউক।
-হ, সত্য হউক।
পুষ্টিবাচন
আভদয়িকের প্রকৃতি পার্বণে ইহাকে স্বধা-বাচন বলে।
আভদয়িকে স্বধা’ স্থানে পুষ্টি’ উহ করিয়া ‘পুষ্টিবাচন’ হইয়াছে।
একথা স্মরণ রাখিতে হইবে যে, পিণ্ডস্থান নয়টি। তথায় এখন
আর পিণ্ড নাই। অর্ঘ্যে (১) দেবব্রাহ্মণে দুইটি, (২) মাতৃব্রাহ্মণে
মাতার জন্য একটি, পিতামহীর জন্য একটি, প্রপিতামহীর জন্য
একটি—মােট ৩টি, (৩) পিতৃব্রাহ্মণে পিতার জন্য একটি, পিতা-
মহের জন্য একটি, প্রপিতামহের জন্য একটিমােট ৩টি এবং
(৪) মাতামহব্রাহ্মণে মাতামহের জন্য একটি প্রমাতামহের জন্য
একটি এবং বৃদ্ধপ্রমাতামহের জন্য একটি—মােট ৩টি পবিত্র
দেওয়া হইয়াছে। এখন শেষের ৯টি পবিত্রের প্রয়ােজন
হইবে। কোন্ পবিত্রটি কাহার অপাত্রে দেওয়া হইয়াছিল
তাহা স্মরণ করিতে হইবে।

যজুর্বেদীয় ১৪৯ ১। যজমান কৃতাঞ্জলি হইয়া মাতৃব্রাহ্মণ-সমীপে বলিবেন— ওঁ নান্দীমুখান্ পিতৃন্ বাচয়িয্যে। [ কাত্যায়নগৃহপরিশিষ্ট ] পুরােহিত—ওঁ বাচয়। "পিতৃব্রাহ্মণসমীপে ০ ০ ০ ০ ০ ০ ০০০০০ ০০০০০০০০০ ০০০০০০০ মাতামহব্রাহ্মণসমীপে তারপর একটি একটি করিয়া মাতৃব্রাহ্মণপাত্র, পিতৃব্রাহ্মণ- পাত্র এবং মাতামহব্রাহ্মণপাত্র হইতে অর্ঘ্যসম্বন্ধি পবিত্র লইয়া, গ্রন্থি মােচন করিয়া, জলসহ তত্তৎ পিণ্ডস্থানে দিতে হইবে। তাহার ক্রম- ১। (মাতা) —ওঁ নান্দীমুখীভ্যো মাতৃভ্যঃ প্রীয়ন্তাম্। পুরােহিতওঁ অস্তু প্রীতিঃ। ২। (পিতামহী )—ওঁ নান্দীমুখীভ্যঃ পিতামহীভ্যঃ প্রীয়স্তাম্। পুরােহিত-ওঁ অস্তু প্রীতি। ৩। (প্রপিতামহী)—ওঁ নান্দীমুখীভ্যঃ প্রপিতামহীভ্যঃ প্রীয়স্তাম্। পুরােহিতও অস্তু প্রীতিঃ । ৪। (পিতা) -ও নান্দীমুখেভ্যঃ পিতৃভ্যঃ প্রীয়ন্তাম্। পুরােহিত-ও অস্ত্র প্রতিঃ।

১৫ আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি ৫। (পিতামহ) ও নান্দীমুখেভ্যঃ পিতামহেভ্যঃ প্রীয়স্তাম্। পুরােহিতও অস্তু প্রীতিঃ। ৬। (প্রপিতামহ)—ওঁ নান্দীমুখেভ্যঃ প্রপিতামহেভ্যঃ প্রীয়ন্তাম পুরােহিত অন্তু প্রীতি। ৭। ( মাতামহ)—ওঁ নান্দীমুখভ্যো মাতামহেভা প্রীয়স্তাম্। পুরােহিতও অস্তু প্রীতি। ৮। (প্রমাতামহ) ও নান্দীমুখেভ্যঃ প্রমাতামহেভ্যঃ প্রীয়স্তাম্। পুরােহিত ও অস্তু প্রীতি। ৯। (বৃদ্ধপ্রমাতামহ)-ও নান্দীমুখেভ্যো বৃদ্ধপ্রমাতামহেভ্যঃ প্রীয়ন্তাম্। পুরােহিতওঁ অস্তু প্রীতিঃ। [ বাক্যগুলিতে সৰ্বত্ৰ গৌরবে বহুবচন হইয়াছে। ] অনুবাদ - ‘ও নান্দীমুখান্ পিতৃন•••)-হে ব্রাহ্মণগণ, আপনা- দিগদ্বারা পুষ্টি বলাইতে চাই। অর্থাৎ অন্নাদিদনিদ্বারা পিতৃলােকেরা প্রীতিলাভ করিলেন কিনা, এই কথা বলাইতে চাই। -হা বলাও। অনুবাদ—(১) নান্দীমুখী মাতার উদ্দেশে (যে অন্নাদি দেওয়া হইল, (তাহাতে তিনি প্রীতি লাভ করুন। -হাঁ, তার প্রীতি হউক। অনুবাদ-(১) •••••••••পিতামহীর••••••। (৩)••••••প্রপিতামহীর (৪) নান্দীমুখ পিতার••••••। (৫)••••••পিতামহের"। (৬) প্রপিতামহের। (৭) •••••••••মাতামহের......। (৮).•••••প্রমাতামহের । (৯).•••••বৃদ্ধপ্রমাতামহের

যজুর্বেদীয়
১৫১
পিণ্ডস্থানে পুনরায় উজ্জ্বধারাদান
১। (মাতৃপিণ্ডস্থানে)-
ওঁ উজ্জং বহন্তী-রমৃতং ঘৃতং পয়ঃ
কীলালং পরিতম্।
পুষ্টয়ঃস্থ তর্পয়ত মে নান্দীমুখা পিতৃন্ ।
২। ( পিতামহীপিণ্ডস্থানে)
৩। (প্রপিতামহীপিণ্ডস্থানে )
ঐ
৪। ( পিতৃপিণ্ডস্থানে)-
৫। (পিতামহপিণ্ডস্থানে )
৬। (প্রপিতামহপিণ্ডস্থানে )
ঐ
৭। ( মাতামহপিণ্ডস্থানে )
ত এত এত
৮। (প্রমাতামহপিণ্ডস্থানে)-
৯। ( বৃদ্ধপ্রমাতামহপিণ্ডস্থানে)-
পূৰ্বে অর্ঘ্যসংস্রবজল মুজীকৃত দুইটি পাত্রে রাখা হইয়াছে।
এখন তাহাদিগকে উত্তান করিয়া পাত্রস্থ কিছু জল মস্তকে দিন্।

দক্ষিণাদান
{ মূল পদ্ধতি-ততে দক্ষিণা পিতৃপূৰ্ব্বিকা দাতব্যা।
কিন্তু দ্রাক্ষামলকমূলানি দাতব্যানি।]
প্রথমতঃ মাতৃপক্ষে, তারপর পিতৃপক্ষের, তারপর মাতা-
মহপক্ষের এবং সর্বশেষে দেবপক্ষের দক্ষিণা দিতে হইবে।
আভদয়িকে দ্রাক্ষা (আঙ্গুর ফল ), আমলক এবং মূল (অর্থাৎ
আদা প্রভৃতি) দক্ষিণার পক্ষে প্রশস্ত। সমর্থ হইলে ইহার
সমস্তই দক্ষিণার্থ দান করিবেন। অসমর্থ হইলে এক-একটিও
দক্ষিণস্বরূপ দান করিতে পারা যায়। এখন এইরূপ দ্রব্য
দক্ষিণার্থ দেওয়ার প্রথা উঠিয়া গিয়াছে। তৎপরিবর্তে রজতাদি
দ্বারা দক্ষিণা করিতে হয়। কিন্তু বাক্যে দ্রাক্ষামলমূলমূল্য
বলিতেই হইবে।
দক্ষিণা দেওয়ার পূর্বে দক্ষিণার দ্রব্যকে অর্চনা করিয়া নিতে
হইবে। চারিপক্ষের দক্ষিণাদ্রব্যকে স্বতন্ত্রভাবে চারিবার অর্চনা
করিতে হইবে। ক্রম এইরূপ
১। মাতৃপক্ষের দক্ষিণাত্রব্যের অর্চনা। তৎপরে ঐ পক্ষের
দক্ষিণা দান।

যজুর্বেদীয় ২। পিতৃপক্ষের ৩। মাতামহপক্ষের ৪। দেবপক্ষের } ত ত ত দক্ষিণাদ্রব্য কোনও অধারের উপর রাখিয়া প্রত্যেকবাৰু নিয়ােক্তক্রমে অর্চনা করিবেন- (ক) এতে গন্ধপুষ্পে ও দক্ষিণার্থড্রাক্ষামলকমূলমূল্যায় নমঃ (খ) ঐ (গ) ঐ (ঘ) এতে গন্ধপুষ্পে এতদধিপতয়ে ওঁ বিষ্ণবে নমঃ। (ঙ) এতে গন্ধপুষ্পে এতৎ সম্প্রদায় ওঁ ব্রাহ্মণায় নমঃ। [ এইবারের গন্ধপুষ্প দক্ষিণাদ্রব্যের নিকটে কোন স্থানে দিবেন।] (চ) ওঁ সু-সুপ্রেক্ষিতমস্তু। [ দক্ষিণাব্যে কোশাস্থ ত্ৰিপত্ৰদ্বারা জলসেচন।] (ছ) ওঁ শ্রীবিষ্ণুঃ পুণ্ডরীকাক্ষঃ পুনাতু।। এই বলিয়া ডান- হাতের আঙ্গুষ্ঠের মূলদ্বারা দক্ষিণাব্য-স্পর্শ ।] মাতৃপক্ষের দক্ষিণাদান বাক্য ( দক্ষিণাব্যের অর্চনার পরে বিষ্ণুরে। তৎসদ অমুকে মাসি অমুকরাশিস্থে ভাস্করে অমুকে পক্ষে অমুক্যাং তিথৌ আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি ( অমুকগােত্র অমুকশৰ্ম্মা) মদীয়ামুকপুত্রস্ত শ্রীঅমুকশৰ্ম্মণঃ অমুককৰ্ম্মাভ্যুদয়ার্থ অমুকগােত্রায়া নান্দীমুখ্য মাতু-মুকী-দেব্যার, অমুকগােত্রায় নান্দীমুখ্যাঃ পিতামহাঃ অমুকী-দেব্যাঃ, অমুকগােত্রায়া নান্দীমুখ্যাঃ প্রপিতামহাঃ অমুকী-দেব্যাঃ কৃতৈত-দাভদয়িক-শ্রাদ্ধকৰ্ম্মণঃ সাঙ্গতার্থং দক্ষিণামিদং দ্রাক্ষামলমূলমূল্যং শ্রীবিষ্ণু-দৈবতং যথাসম্ভব:গােত্ৰনামে, ব্রাহ্মণায়াহং দদানি। ভ্রষ্টব্য-ইচ্ছা করিলে প্রত্যেক করিলে প্রত্যেক পক্ষের দক্ষিণাবাক্য হইতে ‘অমুকগােত্ৰ শ্ৰীঅমুকশৰ্মা'—এই অংশ বাদ দেওয়া যাইতে পারে। অন্যান্য বাক্যেও যেখানে-যেখানেই এই অংশ আছে, সেখানে সেখানে ইহা বাদ দেওয়া যাইতে পারে। দক্ষিণা দেওয়ার সময় যজমানের উপুড়-করা বামহাত দক্ষিণা-দ্রব্যের উপর থাকিবে এবং উপুড়-করা ডানহাত জলপূর্ণ কোশার মধ্যে ত্রিপত্রের সহিত যুক্ত থাকিবে। অধিকন্তু, ডানহাত ও বামহাত পরস্পর সংলগ্ন থাকা চাই। দক্ষিণা দেওয়া হইলে, তাহাতে ত্ৰিপত্ৰ দ্বারা জল ছিটাইয়া দিতে হইবে। তারপর—‘অনয়া দক্ষিণয়া শ্ৰাদ্ধমিদং সদক্ষিণমস্তু”—এই বলিয়া মাতৃপক্ষের ব্রাহ্মণে এক গণ্ডুষ জল দিতে হইবে।

যজুর্বেদীয় ১৫৫ পুরােহিত অন্তু। পিতৃপক্ষের দক্ষিণাদান বাক্য-(দক্ষিণাদ্রব্যের অর্চনার পরে)—বিষ্ণুরে। তৎসদস্থ অমুকে মাসি অমুকরাশিস্থে ভাস্করে অমুকে পক্ষে অমুক্যাং তিথে ( অমুকগােত্রঃ শ্রীঅমুকশৰ্ম্মা) মদীয়ামুকপুত্রস্য শ্ৰীঅমুকশৰ্ম্মণঃ অমুককৰ্ম্মাভদাের্থম অমুকগােত্রস্য নান্দীমুখস্য পিতৃ-মুকশৰ্ম্মণ, অমুকগােত্রস্য নান্দীমুখস্য পিতামহস্য অমুকশৰ্ম্মণঃ, অমুকগােত্রস্য নান্দীমুখস্য প্রপিতামহস্য অমুকশৰ্ম্মণঃ কৃতৈত-দাভদয়িক-শ্রাদ্ধকৰ্ম্মণঃ সাঙ্গতার্থং দক্ষিণামিদং দ্রাক্ষামলমূলমূল্যং বিষ্ণু-দৈবতং যথাসম্ভবগােত্ৰনামে ব্রাহ্মণায়াহং দদানি। দক্ষিণাদ্রব্যে জলপ্রােক্ষণ অনয়া দক্ষিণয়া শ্ৰাদ্ধমিদং সদক্ষিণমস্তু। -ও অস্তু। মাতামহপক্ষের দক্ষিণাদান বাক্য (দক্ষিণাদ্রব্যের অর্চনার পরে)--বিষ্ণরে। তৎসদস্য অমুকে মাসি অমুকরাশিস্থে ভাস্করে অমুক পক্ষে অমুক্যাং তিথৌ ( অমুকগােত্রঃ শ্ৰীঅমুকশৰ্মা) মদীয়ামুকপুত্রস্য শ্ৰীঅমুক- শৰ্ম্মণঃ অমুককর্মাভদাের্থ ১৫৬ আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি অমুকগােত্রস্য নান্দীমুখস্য মাতামহস্য অমুকশৰ্ম্মণঃ, অমুকগােত্র নান্দীমুখস্য প্রমাতামহস্য অমুকশৰ্ম্মণঃ, অমুকগােত্রস্ত নান্দীমুখস্য বৃদ্ধপ্রমাতামহ অমুকশৰ্ম্মণঃ কৃতৈত- দায়িক-শ্রাদ্ধকৰ্ম্মণঃ সাঙ্গতার্থং দক্ষিণামিদং জাঙ্গামলমূলমূল্যং শ্রীবিষ্ণুদৈবতং যথাসম্ভবগােত্ৰনামে ব্রাহ্মণায়াহং দদানি। দক্ষিণাব্যে জলপ্রেক্ষণ। অনয়া দক্ষিণয়া শ্ৰাদ্ধমিদং সদক্ষিণমস্তু। -ও অস্তু। দেবপক্ষের দক্ষিণাদান বাক্য (দক্ষিণাদ্রব্যের অর্চনার পরে)—বিষ্ণুরে। তৎসদদ্য অমুকে মাসি অমুকরাশিস্থে ভাস্করে অমুকে পক্ষে অমুক্যাং তিথৌ (অমুকগােত্র শ্রীঅমুকশৰ্ম্মা) মদীয়ামুকপুত্রস্ত শ্রীঅমুকশৰ্ম্মণঃ অমুককর্মাভদাের্থং বস্ত্রসত্যয়ােব্বিশ্বেষাং দেবানাং কৃতৈত- দায়িকশ্রাদ্ধকৰ্ম্মণঃ সাঙ্গতার্থং দক্ষিণামিদং দ্রাক্ষামলক- মূলমূল্যং শ্রীবিষ্ণুদৈবতং যথাসম্ভবগােত্ৰনামে ব্রাহ্মণায়াহং দদানি। তৎপর দক্ষিণাব্যে জলপ্রােঙ্গণ।

যজুর্বেদীয়
তৎপর দেবপক্ষের ব্রাহ্মণে জলগণ্ডুষ দিয়া বলিতে হইবে।
ও বিশ্বে দেবাঃ প্রীয়স্তাম্।
[ কাত্যায়ণগৃহপরিশিষ্ট।]
পুরােহিতওঁ প্ৰীয়স্তাম্।
অনুবাদ-বিশ্বদেবেরা তৃপ্তিলাভ করিয়াছেন ত ?
-হ, তৃপ্তিলাভ করিয়াছেন।
পূৰ্বেই আমরা উল্লেখ করিয়াছি যে, মাত্র চারিটি কার্যের সঙ্কল্প
করিতে হইয়াছে। যথা—(১) সগণাধিপ-ষােড়শমাতৃকাপূজা, (২)
বসুধারাসম্পাতন, (৩) আয়ুষ্যসূক্তজপ এবং (৪) আভদয়িকশ্রাদ্ধ।
দক্ষিণাদানের বাক্যেও এই চারিটি কাৰ্য্যের উল্লেখ থাকা উচিত ছিল।
কিন্তু, মূলপদ্ধতিতে প্রথম তিনটি কার্যের উল্লেখ না থাকাতে আমরাও
তাহাদের উল্লেখ করি নাই।
এখন পুনরায়
প্রত্যেক পক্ষে ত্রিদেবতাপাঠ
দেবপক্ষে ( কৃতাঞ্জলি)
(১) • ও দেবতাভ্যঃ পিতৃভ্যশ্চ মহাযােগিভ্য এব চ।
নমঃ পুষ্ট্যৈ স্বাহায়ৈ নিত্যমেব ভবস্তৃিতি।
(২) ও দেবতাভ্যঃ পিতৃভ্যশ্চ মহাযােগিভ্য এব চ।
নমঃ পুষ্ট্য স্বাহায়ৈ নিত্যমেব ভবস্তৃিতি ।
}

১৫৮
আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
(৩) ও দেবতাভ্যঃ পিতৃভ্যশ্চ মহাযােগিভ্য এব চ।
নমঃ পুষ্ট্যৈ স্বাহায়ৈ নিত্যমেব ভবস্তৃিতি।
মাতৃপক্ষে ( কৃতাঞ্জলি)-(১) ও দেবতাভ্যঃ ইত্যাদি।
(২) ও দেবতাভ্য ইত্যাদি।
(৩) ও দেবতাভ্যঃ ইত্যাদি।
পিতৃপক্ষে (কৃতাঞ্জলি)—(১) ও দেবতাভ্যঃ ইত্যাদি।
(২) ও দেবতাভ্যঃ ইত্যাদি।
(৩) ও দেবতাভ্যঃ ইত্যাদি।
মাতামহপক্ষে(কৃতাঞ্জলি)-(১) ও দেবতাভ্য ইত্যাদি।
(২) ও দেবতভ্যি ইত্যাদি।
(৩) ও দেবতাভ্যঃ ইত্যাদি।
প্রথমতঃ মাতৃপক্ষের, দ্বিতীয়তঃ পিতৃপক্ষের, তৃতীয়তঃ
মাতামহপক্ষের এবং সৰ্বশেষে দেবপক্ষের ব্রাহ্মণ বিসর্জন
করিতে হয়। নিম্নলিখিত মন্ত্রটি এক-একবার পড়িয়া মাতৃপক্ষ,
পিতৃপক্ষ এবং মাতামহপক্ষ—এই ক্রমে কোশা হইতে জল
লইয়া কোশার ত্রিপত্রের মূলদেশ দ্বারা প্রত্যেক পক্ষের
ব্রাহ্মণে জল ছিটাইয়া দিতে হইবে। তৎপর মন্ত্রটি আর

যজুৰ্বেদীয়
একবার পড়িয়া ঐ ত্রিপত্রের অগ্রভাগদ্বারা দেবপক্ষের ব্রাহ্মণে
কোশা হইতে জল ছিটাইয়া দিতে হইবে। এইরূপ করিলেই
ব্রাহ্মণ-বিসর্জন হইবে। মন্ত্র যথা-
ও বাজে বাজেইৰত বাজিলে নাে
ধনেষু বি অমৃতা ঋতজ্ঞাঃ ।
অন্য মবঃ পিৰত মায়ং
তৃপ্ত যাত পথিতি-দেবযালৈঃ ॥
[ মা-ব-সং-১৮,২১১১,
কা-বা-সং-চৌখাম্বা-১০৩১১,
কা-বা-সং-উৎকল-১০২৪,
ঋগ্বেদ-৭'৩৮ ৮।]
মূলপদ্ধতির উক্তি-ততে বাজে বাজে ইতি মন্ত্রেণ প্রথমং কুশমূলেন
পিতৃব্রাহ্মণং, পশ্চাৎ কুশাগ্ৰেণ দেবব্রাহ্মণঞ্চ বিসর্জয়েৎ। [ পিতৃব্রাহ্মণ =
মাতৃব্রাহ্মণ, পিতৃব্রাহ্মণ এবং মাতামহব্রাহ্মণ ।]
এইভাবে ব্রাহ্মণদের সহিত ব্রাহ্মণস্থ পিতৃলােকদিগেরও
বিসর্জন করা হইল।
অনুবাদ—বাজিন ( হে অন্নভোজনকারী-নান্দীমুখ-পিতৃগণ, )
বাজে বাজে ( সিদ্ধ অথবা অসিদ্ধ যে অন্ন শ্রদ্ধার্থ উপস্থাপিত করা
হইয়াছে তাহাদের সকলের বিষয়ে) ন ( আমাদিগকে) (আপনারা )

১৬০ অভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি অবত (রক্ষা করুন)। আপনারা কিরূপ ? বিপ্রাঃ (বিপ্রমূর্তি, বিদেহস্থ ), অমৃতাঃ (অমরধৰ্ম্মা) { অথচ ) ঋতজ্ঞা (সত্যজ্ঞান- শালী)। (আমাদিগকে রক্ষা করিয়া) অন্য মধ্বঃ (এই অন্নের সহিত দত্ত মধু) পিবত ( পান করুন)। (পান করিয়া) মাদয়ধ্বম্ (তৃপ্তি লাভ করুন)। তৃপ্তঃ (তৃপ্ত হইয়া) পথিভি দেবযানৈঃ (দেবযান পথদ্বারা) যাত (গমন করুন)। [ অস্ত মধ্বঃ=ইদং মধু। ‘পিবত’ ক্রিয়ার কর্মে দ্বিতীয়স্থানে ষষ্ঠী। মধু-শব্দের ষষ্ঠীর একবচনে ‘মধুনঃ হয়। এখানে ব্যত্যয়ে ‘মধুনঃ স্থানে যষ্ঠীর একবচনে ‘মধ্বঃ হইয়াছে। এই শ্রাদ্ধপ্রসঙ্গে ‘মাদয়ধ্বক্রিয়াটি পূৰ্বে আরও দুইবার পাওয়া গিয়াছে। বাজে+অবত বাজেহবত। ‘এঙ পদান্তাদতি এবং ‘প্রকৃত্যান্তঃপাদমব্যপরে’-সন্ধির এই দুইটি সূত্র দ্রষ্টব্য।] মাতৃপক্ষীয় ব্রাহ্মণকে নমস্কার (ক) ও অস্থিরম্যতাম, (খ) ও ক্ষম'—এই বলিয়া মাতৃপক্ষের ব্রাহ্মণাসন সঞ্চালন করিয়া, ও আ মা বাজস্য প্রসবব জগম্যা- দেমে ভাবাপৃথিবী বিশ্বরূপে। আ ম গন্তং পিতামাত যুব-মা মা সােমাে অমৃতত্বায় গম্যাৎ। [ কা-বা-সং-চৌখাম্বা—১০৩১২, কা-বা-সং-উৎকল-১২৫] যজুর্বেদীয় ১৬১ এই মন্ত্রটি পড়িয়া ব্রাহ্মণে জলপুষ্প দিয়া মাতৃপক্ষের ব্রাহ্মণকে নমস্কার করিতে হইবে। মন্ত্রটির মাধ্যন্দিন পাঠ- ওঁ আ মা বাজ প্রসবব জগম্যা- দেমে দ্যাবাপৃথিবী বিশ্বরূপে। আ মা গন্তাং পিতামাতরা চা মা সােমাে অমৃতত্বেন গম্যাৎ || [ মা-বা-সং-৯১৯ ] পিতৃপক্ষীয় ব্রাহ্মণকে নমস্কার ঠিক মাতৃপক্ষের ন্যায়। মাতামহপক্ষীয় ব্রাহ্মণকে নমস্কার ঠিক মাতৃপক্ষের ন্যায়। দেবপক্ষীয় ব্রাহ্মণকে নমস্কার ঠিক মাতৃপক্ষের ন্যায়। অনুবাদ-১। অভিরম্যতাম্ ( বিশ্রাম করুন)। অনুবাদ-২। ক্ষম (ক্ষমা করুন)। অনুবাদ-৩।(ও আ মা বাজ’ ইত্যাদি)-ৰাজস্য অন্নদানের) প্রসবঃ (উৎপত্তি, ফল) মা (আমার কাছে ) আজগম্যাৎ ( আনুক)। ইমে (এই) বিশ্বরূপে (সৰ্বরূপাত্মিক।) দ্যাবাপৃথিবী ১৬২ আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি ( তৌঃ এবং পৃথিবী) (আমার কাছে) আ (আসুক)। পিতরামাতরা (হে মাতঃ এবং পিতঃ,) যুবম্ (আপনারা দুইজনে) মা (আমার কাছে) আগস্তম্ (আসুন)। সােমঃ (সােম) অমৃতত্বায় ( অমৃতত্বের নিমিত্ত, আমাকে অমৃতত্ব দেওয়ার জন্য ) মা (আমার কাছে) আগম্যাৎ ( আসুক )। [ মা = আমাকে, আমার কাছে। মাধ্যদিন পাঠের “পিতরামাতরা =মাতা এবং পিতা (সঘােধন নহে)। আগাম্ = আসুক।] ভাবার্থ-এই শ্রাদ্ধে দত্ত অন্নদানের ফল পুনঃ পুনঃ আমার কাছে ফিরিয়া আসুক। পৃথিবী-সম্বন্ধি ও স্বর্ণ-সম্বন্ধি যাবতীয় কল্যাণ আমার কাছে আসুক। হে মাতৃগণ ও পিতৃগণ, আপনারা আমার কাছে আসুন অর্থাৎ যখন যখনই আমি শ্রাদ্ধ করি, তখন তখনই যেন আমার মাতৃগণ ও পিতৃগণ আমার কাছে আসেন। পিতৃলােকের রাজা সােম আমার মােক্ষপ্রাপ্তির নিমিত্ত আসুন। অষ্টব্য-১। মাধ্যন্দিন শাখার মন্ত্রটির চারিভাগ এই—(ক) আ মা বাজ প্রসবাে জগম্যাৎ, (খ) এমে দ্যাবাপৃথিবী বিশ্বরূপে, (গ) আ মা গন্তাং পিতামাতরা চ এবং (ঘ) অ মা সােমো অমৃতত্বেন গম্যাৎ। ২। এমে=অ+ইমে ৩। আ-জগম্যাৎ, আগন্ত, আগন্তাম, আ-গম্যাৎ-এরূপ অন্বয় করিতে হইবে। ৪। (ক) জগম্যাৎ-জুহােত্যাদিগণীয় গম্-ধাতু বিধিলিঙ্গ প্রথমপুরুষের একবচন। (খ) গম—অদাদিগণীয় গম্-ধাতু ললাট, মধ্যমপুরুষের দ্বিবচন। (গ) গন্তা-দাদিগণীয় গম্ ধাতু লােট প্রথমপুরুষের দ্বিবচন। (ঘ) গম্যাৎ-অদাদিগণীয় গম্-ধাতু বিধিলিঙ্গ প্রথমপুরুষের একবচন । (ঙ) গম্-ধাতু ভাদিগণীয় কিন্তু এসবস্থলে ব্যত্যয়ে জুহােত্যাদিগণীয় ও অদাদিগণীয় হইয়াছে। ৫। দ্যাবাপৃথিবী-স্ত্রীলিঙ্গে প্রথমার দ্বিবচন। ও বিভক্তির লুক্লাপ) হইয়াছে । পিতরামাতরা-মাতা চ পিতা চ ইতি পিতরে, মাতাপিতরো, মাতরপিতরো ইহাদের অতিরিক্ত পিতামাতা এবং মাতাপিতরা ও-পাওয়া যায়।।। যুব- বেদে যজুৰ্বেদীয়, ১৬৩ ‘যুগ্ম শব্দের প্রথমার দ্বিবচনে ভাষাতে ‘যুবা হয়। বেদে ‘যুব’-ও হয়। ৮। সােমমা অমৃতত্বায়—ভাষাতে ‘সােমােহমৃতত্বায়’ হইবে। এঙ পান্তাতি' এবং ‘প্রকৃত্যান্তঃপাদমব্যপরে'- সন্ধির এই দুইটি সূত্র দ্রষ্টব্য। সােম+অমৃতত্বায় = সােমর +অমৃতত্বায় = সোম উ+অমৃতত্বায়=সােমাে+অমৃতত্বায়=সােমাে অমৃতত্বায়। ভাষাতে কিন্তু সোমােহমৃত্বায়’ হইবে। তুলনা কর -‘বাজেহবত। বাজে+ অবত=বাজে- বত। এখানে অকারের পর ‘ব থাকাতে সন্ধি হইয়া গেল। ৯। মাধ্যলিন পাঠের চাচ+আ। ১০। 'পিতরামাতরা স্থলে নান্দীমুখ-পিতামাতা বলিতে হইবে না। পিতৃপুরুষগণকে প্রণাম প্রণাম-মন্ত্র ওঁ পিতা স্বর্গ পিতা ধর্মঃ পিতা হি পরমং তপঃ। পিতরি প্রতিমাপন্নে প্ৰীয়ন্তে সর্বদেবতাঃ। অন্নপ্রতিপত্তি ‘প্রতিপত্তি’ শব্দের অর্থ ‘দান’ বা ‘সমর্পণ। পিতৃ-মাতৃ-মাতামহপক্ষের-মাতৃপক্ষের, পিতৃপক্ষের এবং মাতামহপক্ষের অন্নপ্রতিপত্তি একসঙ্গে করিতে হয়। একটি পাত্রে কিছু জল লইয়া তাহাতে ‘এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ জলনারায়ণায় নমঃ'-বলিয়া জলে নারায়ণের অর্চনা করুন। তারপর মাতৃপক্ষের, পিতৃপক্ষের ও মাতামহপক্ষের অন্নের পাত্রগুলি হইতে কিছু কিছু অন্ন লইয়া ও যেং শ্রাদ্ধং কৃতং তেষা-মক্ষয়ায়ৈ তৃণ্ডয়ে পাত্রীয়-মামাং সমর্পিতম- বলিয়া ঐ জলে দিতে হইবে।

১৬৪
আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
=
দেবপক্ষের (অন্নপ্রতিপত্তি)
ওঁ যয়ােঃ শ্রাদ্ধং কৃতং তয়ােরয়ায়ৈ তৃপ্তয়ে
পাত্ৰীয়-মামায়ং জলনারায়ণে সমর্পিত-মস্তু-
বলিয়া ঐ জলে দিতে হইবে।
এইরূপ করিবার কারণ, জল নারায়ণতুল্য এবং মন্ত্রপাঠ
করিয়া জলে অন্ন দিলে তাহা নারায়ণকে দেওয়া হইল।
পিণ্ডসমর্পণ
সকল পিণ্ড হইতে কিছু কিছু অনু লইয়া
ও পিণ্ডাঙ্গপি সমর্পয়ামি
এই বাক্য বলিয়া শ্রাদ্ধকারী উহা ঐ জলে দিবেন। পরে
ও পিানি গয়াং গচ্ছত
বলিয়া পিণ্ডগুলিকে গয়ার দিকে ঠেলিয়া দিবেন।
পাত্রীয় অন্নের এবং পিণ্ডের যাহা বাকী থাকিবে তাহা কোনও
ভাল ব্রাহ্মণকে দিতে হইবে। ভাল ব্রাহ্মণের অভাব ঘটিলে,
কুশগুলি বাদে তাহা কোনও জলাশয়ে ফেলিবেন। পিণ্ডের
অন্ন গরুকেও খাওয়ান যায়। যেখানে যেরূপ রীতি তাহাই
অনুসরণ করিতে হইবে। [ পিণ্ডাপি= পিণ্ডানি +অপি ]
মূলপতি—ততে ভবামহং কৃতাৰ্থীকৃত [:] ইতি প্রার্থয়েৎ।
কৃতার্থে ভব ইতি ব্রাহ্মণা ক্ৰয়ু। তত বেদাদিভিযুতং ব্রাহ্মণমভ্য…
প্রথমং মাতৃপক্ষাদিপাং পশ্চাদেবপাত্ৰঞ্চ প্রদাৎ।

যজুৰ্বেদীয়
১৬৫
ততঃ পাত্ৰাভাবে মনসা পাত্ৰমুদ্দিশ্য ভূমৌ তােয়ং বিনিক্ষিপেৎ।
পিণ্ডাংস্তু গােহজবিপ্রেভ্যো দদ্যা অগ্নৌ জলেহপি বা। এবং পাত্ৰং
পিঞ্চ সমপ্য অচ্ছিদ্রং কুৰ্য্যাৎ।
দীপাচ্ছাদন—অতঃপর দক্ষিণহস্ত দ্বারা দীপাচ্ছাদন
করিবেন। কোনও মন্ত্র নাই।
কুশাঙ্গুরীয় ত্যাগ—তারপর কুশাঙ্গুরীয় ত্যাগ করিবেন।
সুৰ্যনমস্কার—( কৃতাঞ্জলি হইয়া )
ওঁ জবাকুসুমসঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম্।
বান্তারিং সর্বপাপঘ্নং প্রণতােহন্মি দিবাকরম্।
অচ্ছিদ্রাবধারণ-শ্রাদ্ধকারী বলিবেন—
ওঁ কৃতৈতদায়িক-শ্রাদ্ধকৰ্ম্মাচ্ছিদ্ৰমস্ত ।
পুরােহিত
ও অন্তু।
যে কৰ্ম্ম করা হইল তাহা যে অচ্ছিদ্র ( অর্থাৎ নির্দোষ )
হইয়াছে, সেই বিষয়ে অবধারণকে অর্থাৎ ব্রাহ্মণের সম্মতি
লইয়া নিশ্চয় করাকে) অচ্ছিদ্রাবধারণ বলে।
বৈগুণ্য-সমাধান
উপুড়-করা বামহাত দ্বারা সৃষ্ট উপুড়-করা ডানহাত
কোশার জলের মধ্যে ধরিয়া বলিবেন--
‘বিষ্ণুরে। তৎসদ্য অমুকে মাসি অমুকরাশিন্থে ভাস্করে

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
অমুকে পক্ষে অমুক্যাং তিথৌ (অমুকগােত্র শ্রীঅমুকশৰ্ম্মা)
কৃতেহস্মিন্ কৰ্ম্মণি যদ্বৈগুণ্যং জাতং
যদ্বৈগুণ্যং জাতং তদোষপ্রশমনায়
বিষ্ণুস্মরণমহং করিয্যে’-
এই বলিয়া-
ওঁ তদবিষ্ণোঃ পরমং পদগু সদা পশ্যন্তি সূরয়ঃ ।
দিবীব চক্ষুরাততম্ ।
-এই মন্ত্রটি মনে মনে পড়িয়া, ১০ বার ও বিষ্ণুঃ জপ
করিতে হইবে।
অতঃপর (ইচ্ছা থাকিলে এবং সময়ে কুলাইলে) নিম্নলিখিত
মন্ত্র দুইটি পড়িবেন—
(১) ও অজ্ঞানাদ যদি বা মােহাৎ প্রচ্যবেধ্বরেষু যৎ।
স্মরণাদেব তদ্বিষ্ণোঃ সম্পূর্ণং স্যাদিতি শ্রুতিঃ।
[ প্রচ্যবেধ্বরেষু= প্রচ্যবেত+অধ্বরেষু। অধ্বর = যজ্ঞ,
( এখানে) শ্রাদ্ধ।]
(২) ও যদসাজং কৃতং কর্ম জানতা বাপজানতা।
সাজং ভবতু তৎসং হরেনামানুকীৰ্ত্তনাৎ।
তারপর বলিবেন -ও হরিঃ, ও হরিঃ, ও হরিঃ'।
: তারপর এক গণ্ডুষ জল লইয়া
ও প্রীয়তাং পুণ্ডরীকাক্ষং সর্বযজ্ঞেশ্বনাে হরিঃ।
তম্মিংওষ্টে জগষ্টং প্রণিতে প্রণিতং জগৎ।

যজুর্বেদীয় -এই মন্ত্রটি পড়িয়া এতৎকৰ্ম্ম ভগবায়ারায়ণচরণে সমর্পিত-মন্তু -বলিয়া, বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে ঐ জল ভূমিতে নিক্ষেপ করিবেন। শাস্তিকরণ নিম্নলিখিত মন্ত্র কয়টি পড়িতে পড়িতে পুরােহিত কোশা হইতে ত্রিপত্র দ্বারা (অথবা অধিবাসের ঘট নিকটে থাকিলে, তাহার উপরের আম্রপল্লব দ্বারা) যজমানের শরীরে জল ছিটাইয়া দিবেন- (শান্তি) ১। ওঁ ঋচং বাচং প্রপতে, মনন যজুঃ প্রপতে, সাম প্রাণং প্রপথে, চক্ষুঃ শ্রোং প্রপথে। বাগােজঃ সহৌজা ময়ি প্রাণাপানো। [ মা-বা-সং-৩৬১, কা-বা-সং-উৎকল—৩৮১ ] ২। ও বয়ে ছিদং চক্ষুষাে হৃদয় মনসস বাতিতৃঃং বৃহস্পতিমে তদ্দধাতু। শস্লো ভবতু ভুবনন্ত যস্পতিঃ। [ মা-বাসং-৩৬২, কা-বা-সং-উৎকল—৩৮২ ] ৩। ওঁ স্বস্তি ন ইন্দ্রো বৃদ্ধশ্রবাঃ, স্বস্তি ন পুষা বিশ্ববেদাঃ।

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি স্বস্তি ন স্তক্ষে অরিষ্টনেমিঃ। স্বস্তি নাে বৃহস্পতিদধাতু। [ মা-বা-সং-২৫১৯, কা-বা-সং-উৎকল-২৭২৩] ৪। ওঁ স্বস্তি, ওঁ স্বস্তি, ওঁ স্বস্তি। অনুবাদ-১।(আমি) ঋচং (ঋগ্বেদরূপ) বাচং (বাক্যের, বাক্শক্তির। ( আশ্রয়) প্রপদ্যে ( প্রার্থনা করিতেছি ।। (সেইরূপ) মনাে যজুঃ (যজুৰ্বেদরূপ মনের, যজুৰ্বেদরূপ মানসিক শক্তির ) ( আশ্রয়) প্রপদ্যে (প্রার্থনা করিতেছি)। (তদ্রুপ) সাম প্রাণং (সামবেদরূপ প্রাণের, সামবেদরূপ নিঃশ্বাসপ্রশ্বাসের শক্তির । ( আশ্রয় ) প্রপদ্যে (প্রার্থনা করিতেছি)। চক্ষুঃ ( দৃস্টিশক্তি) শ্রোত্ৰং ( শ্রবণশক্তি। ( লাভের জন্য) পদ্যে ( প্রার্থনা করিতেছি)। বাক্ (বা) ওজঃ ( শারীরিক তেজ) ওজঃ ( মানসিক তেজ) প্রাণাপানৌ ( নিঃশ্বাস ও প্রশ্বাসের ক্ষমতা) ময়ি (আমাতে) সহ (একত্র ) ( মিলিত হউক)। অনুবাদ—২। মে ( আমার) চক্ষুষঃ (চক্ষুর) হৃদয়স্থ ( হৃদয়ের) বা (এবং) মনসঃ (মনের) অতিতৃপ্নং (পরহিংসা-চিন্তনাদিজনিত) যং ( যে) ছিদ্রং (ন্যুনতা) (ঘটিয়াছে), বৃহস্পতিঃ (বৃহস্পতি) মে (আমার) তৎ (তাহা, সেই ন্যূনতা) দধাতু (পূর্ণ করুন, দুর করুন)। ভুবন ( ভুবনের) যঃ (যিনি) পতিঃ (পতি) (তিনি) নঃ (আমাদের প্রতি) শং (শান্তিদায়ক) ভবতু (হউন)। দ্রষ্টব্য- (১) জনন ও মণীশৌচমধ্যে তিন বেলার কোন বেলাই বৈদিক সন্ধ্যা কৰ্তব্য নহে। তৎপরিবর্তে ১০ বার অথবা ১০৮ বার করিয়া প্রত্যেক বেলাতে গায়ত্রীর মানস জপ কর্তব্য। উভয়প্রকার অশৌচ মধ্যেও কালী, তারা এবং ষোড়শী - এই তিনজন শক্তি-দেবতার পূজা করা যাইতে পারে। (২) আগ্নৈকোদ্দিষ্ট শ্রাদ্ধ, যজুৰ্বেদীয় ১৩৯ বারটি মাসিক খাদ্ধ, দুইটি ষান্মাসিক শ্রাদ্ধ, সপিণ্ডীকরণশ্রাদ্ধ- এই যােনটি শ্রাদ্ধের পর বৈদিক সায়ংর্সন্ধ্যা নাই। (৩) একোদ্দিষ্টবিধিক শ্রদ্ধের পর বৈদিক সায়ংসন্ধ্যা আছে। (৪) পাৰ্বণশ্রাদ্ধের পর বৈদিক সায়ংসন্ধ্যা নাই। (৫) আদয়িক শ্রাদ্ধের পর বৈদিক সায়ং-সন্ধা আছে। (৬) তান্ত্রিক সায়ং-সন্ধ্যা কোনও দিনেই নিষিদ্ধ নহে। স্থানভেদে এইসব নিয়মের এক-আধটুকু ব্যতিক্রম থাকিতে পারে। সন্দেহস্থলে একজন অভিজ্ঞ পুরােহিতের নিকট হইতে নিয়ম জানিয়া নিতে হইবে। পরিশিষ্ট পাৰ্বণশ্রাদ্ধের ক্রমনির্দেশক সুত্রসংগ্রহ। কোনও কোনও স্থানে যজুর্বেদীদিগের পাৰ্বণশ্রাদ্ধে কাজের ক্রম মনে রাখিবার জন্য পুরােহিতগণ ‘কর্মোপদেশিনী'- অবলম্বনে নিম্নলিখিত সূত্ৰসংগ্রহ ব্যবহার করিয়া থাকেন। যথা- २ স্নানসন্ধ্যাদিকং কৃত্বা পাঞ্চ যথাবিধি। আসনানি চ সংস্থাপ্য দৈবাদিক্রমতঃ সুধীঃ ॥১॥ ৪ কুরুক্ষেত্রং, ততাে দানং, দানাচ্ছিদ্রং ততঃপরম্। ৭ ৮ পুনঃ কুরু, দ্বিজং, পাদ্যং, যজ্ঞেশ্বরান। ২ ১২ যজ্ঞেশ্বনাে হব্য ইতি, বাস্তু ভূমিপূজন।

১৭০ আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি ১৪ ১৮ নিমন্ত্রণং, স্বাগতঞ্চ, পাদ্যং, সিদ্ধং, ত্রিদেবতা৷ ৩৷ ১৯,২০ २२ २० গায়ত্র্য, কুশােসর্গং, মৃঙ্খলাবাহনে ততঃ। ২৪, ২৫ অর্ঘ্যগন্ধাদিদানঞ্চ, পাত্ৰায়ে, পৃথিবী, ইদম্ ॥ ৪। ২৬,২৭ ২৮ ৩৪ অপহতা, জলগণ্ডুষং, গায়ন্নং, ততাে মধু। ৩৭, ৩৮ রুচিস্তবং, সপ্ত ব্যাধা, অগ্নিদগ্ধাচমন, জলম্ ॥ ৫॥ ৩) ৪০ ৪১ 8२ সব্যাহৃতিকাংগায়ত্ৰীং, তৃপ্তাঃ স্থ, শেষমকম্। ৪৩ ৪৪ ৪৫ ৪৬, ৪৭ ৪৮ নিহন্মি, মণ্ডলী, রেখা, নীব্য-বনেজনে, কুশান্তরম্ ॥ ৬। ৪৯ १२ পিণ্ডং, লেপভুজোহত্ৰেতি, উদীচ্যাং শ্বাসধারণম্। ৫৩ ৫৪ বসন্ত-শ্বাসমােঞ্চ, অমী, প্রত্যবনেজনম্ ॥৭॥ ৫৮ ৫৯ নীবীং, ষড়ঞ্জলিবাস, উজ্জং, পিণ্ডা…নং ততঃ। ৬৪ পিণ্ডোত্তলনমাম্রাণং পিণ্ডস্থাপনমেব চ।। ৮। ৬৮ সুপ্রেক্ষিতং, শিবা আপােতাক্ষ্যদানকে। ৭০ ৭১ ৭২ অঘােরেতি চ, গােত্রাে, দাতাবরােহথ, স্বধাং বচঃ ॥ ৯।

যজুৰ্বেদীয়
১৭১
१७
৭৪
৭৫
৭৬
পুনরূজ্জং, জোত্তানং, দক্ষিণা, বিশ্ববাচন।
৭৮
৫০
দেবতা, বাজ, আমেতি, না, পাত্ৰসমর্পণ । ১০।
৮২
৮৩
৮৪
অচ্ছিদ্রং, বিষ্ণুস্মরণং, দীপকাচ্ছাদনং ততঃ।
৮৬
শান্ত্যাশীশ্চৈব যজুষাং ক্রম এষ উদাহৃতঃ ॥১১ ।
সূত্র কয়টির ভাষা সর্বত্র শুদ্ধ বলিয়া মনে হয় না। তাহ
হইলেও, এই কয়টি সূত্র মনে রাখিলে ক্রমসম্বন্ধে ভুল হওয়ার
সম্ভাবনা কম। দুই-এক স্থলে পাঠান্তরও আছে। তাহার
আলােচনা করিয়া বিশেষ লাভ হইবে না।
(১) এখন পাৰ্ব্বণে এবং আভুদয়িকে পান্নের ব্যবহার
নাই। সুতরাং ২য় নম্বরের কার্য নিরর্থক।
(২) আভদয়িকে ৪, ৫, ৬, ১২, ১৩, ৩৫, ৩৬, ৪০ নাই।
(৩) ৭, ৮, ৯, ১০, ১১-এর ক্রম অন্যরূপ। যথা-৭,
১০, ১১, ৮, ৯।
(৪) গায়ত্র্য = গায়ত্রী+অনু= গায়ত্রীপাঠ+অনুজ্ঞা।
(৫) ৫৩, ৫৪, ৫৫ স্থলে কৰ্ম্মোপদেশিনী’র ক্রম—৫৩,
৫৫, ৫৪।
(৬) ‘৭২ স্বধা' স্থলে আভদয়িকে ‘৭২ পুষ্টি’ হইবে।

পরিশিষ্ট পিণ্ডাদি বিচার শ্মশান-ঘাটে পিণ্ডদান। (শবদাহের অব্যবহিত পূৰ্বে ) যজুৰ্বেদীয় পদ্ধতিকার হলায়ুধ ‘কর্মোপদেশিনী'তে লিখিয়াছেন- ততো ব্রাহ্মণশ্যামপাত্রে সিদ্ধান্নং গৃহীত্বা শবনুগচ্ছে। অন্যশ্চ ব্রাহ্মণঃ পাকাগ্নিং গৃহীত্ব শবমনুগচ্ছে। ততঃ কিয়দ্দরে শবং সংস্থাপ্য অধ্বানং গত্বা আমপাত্রস্থমৰ্দ্ধং পথি ত্যজেং। অৰ্দ্ধমন্নং চিতাপিণ্ডাৰ্থং স্থাপয়িতব্য। ততঃ শবং ভূমৌ সংস্থাপ্য নদীতীরং গত্বা তদভাবে জলসমীপং গা শবদাহস্থানং গােময়েনােপলিপ্য চিতারচনং কৃত্বা কাষ্ঠাদিকমপি ব্রাহ্মণ নয়েয়ুঃ। অশক্তৌ চিতায়ামপি দঃ। ততশ্চিতায়াং বহুতরকুশং পাতয়িত্ব তস্যাং শবমুত্তরশিরসং পুরুষমনুর্তানং খ্রিয়মুনাং কৃত্বা সপিণ্ডঃ সমারােপয়েৎ। তথা চাদিপুরাণে সগােত্রজৈ-গৃহীত্বা তু চিতায়ামাবােপ্যতে শবঃ। অধােমুখাে দক্ষিণাদিক্-চরণস্তু পুমানপি।

যজুৰ্বেদীয় ১৭৩ উত্তানদেহা তু নারী তু সপিণ্ডরপি বন্ধুভিঃ | দক্ষিণাদিক্‌চরণ ইত্যনেন উত্তরশিরস্কত্বমিত্যুক্ত। ততঃ শস্যোপরি বহুতরকুশান্দা পূৰ্বস্থিতেনাম্নেন চিপিং দদ্যাৎ। (কর্মোপদেশিনী’র ‘ব্রাহ্মণ’-শব্দ দ্বিজাতিপর বুঝিতে হইবে) ( আর্তভট্টাচাৰ্য) আমপাত্রেইন্নমাদায় তেমগ্নিপুরঃসর। একোইনুগচ্ছেত্তস্যাৰ্দ্ধমৰ্দ্ধং পথৎসৃজেদ্ভুবি। অর্ধমাহনংপ্রাপ্ত আসীন দক্ষিণমুখ। সব্যং জান্বাচ্য শনকৈঃ সতিলং পিণ্ডদানবৎ। অথ পুত্ৰাদিরাপ্লত্য কুৰ্য্যাদ্দারুচয়ং মহৎ। তু প্রদেশে শুচৌ যুক্তে পশ্চাচ্চিত্যাদিলক্ষণ। তস্রোত্তানং নিপত্যৈনং দক্ষিণাশিরসং মুখে। আজ্যপূর্ণাং চং দদ্যা দক্ষিণাগ্রাং নসি স্ক্রব । [ শুদ্ধিতত্বোদ্ধত ছন্দোগপরিশিষ্ট, বঙ্গবাসী-সংস্করণ-৩০৪-৩০৫ পৃষ্ঠা] ইহার উপর স্মার্তের ভাষ্য- (১) তস্যান্নস্যাৰ্দ্ধং অর্ধপথে ত্যজেৎ। তিলসহিতমপরমন্নার্জং পিণ্ডদানেতিকর্তব্যতয়া উৎসজেদিত্যনুষঙ্গ। (২) চিয়াং দক্ষিণাশিরসম্ অধোমুখং সামগং পুমাংসং ১৭৪ আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি সেৎ। ছন্দোগপরিশিষ্টেন দক্ষিণাশিরত্নাভিধানাৎ। নমু যদি ছন্দোগপরিশিষ্টাৎ সামগানাং দক্ষিণাশিরস্তুং, তহি ‘উত্তানদেহত্বং’ কথং নাদ্রিয়তে,—উচ্যতে ? উত্তানদেহত্বস্য বাদিপাত্রস্যা- সানুরােধিবেন তন্নিবৃতৌ তন্নিবৃত্তিযুক্তা দক্ষিণাশিরস্তস্য তু বাচনিকত্ব নিগ্নিবিষয়ত্বমপি। নাৰ্যাস্তু উত্তানদেহত্বম্। যথাদিপুরাণ, ‘সগােত্রজৈর্গ হী তু চিতামারােপ্যতে শবঃ। অধােমুখাে দক্ষিণাদিচরণস্তু পুমানিতি। উত্তানদেহা নারী তু সপিণ্ডেরপি বন্ধুভিঃ ॥ ‘দক্ষিণাচরণ ইত্যনেন উত্তরশিরস্ত্বং যৎ সামগেরপর। হারলতাপ্যেম্ । সুতরাং শ্মশান-ঘাটে পিণ্ডদানে দ্বিজাতিগণ পান্নই ব্যবহার করিবেন। পূরকপিণ্ডদান (পূরকপিণ্ডদান-কর্মোপদেশিনী) ততস্তিলমধুমিশ্রিতং তপ্তপিণ্ডং দক্ষিণহস্তেন গৃহীত্ব ওঁ অমুকগােত্রস্যামুকপ্রেতস্য এতৎ প্রথমপিণ্ডং শিরঃপূরক- মুপতিষ্ঠতা ইতি কুশােপরি দদ্যাৎ। ইত্যাদি। (পূরকপিণ্ডদান—স্মাৰ্ত্ত ভট্টাচাৰ্য)

যজুৰ্বেদীয়
১৭৫
স্মাৰ্ত্ত ভট্টাচাৰ্য মহাশয় শুদ্ধিতত্বে পূরকপিণ্ডদান-প্রসঙ্গে
আদিপুরাণ হইতে উদ্ধত করিয়াছেন—
ততশোত্তরপূৰ্বস্যামগ্নিং প্রজ্বালয়েৰ্দিশি।
তণ্ডুল-প্রসূতি তত্র প্রক্ষাল্য তু পচেৎ স্বয়ম্ ।
[ ‘শুদ্ধিতত্বে’ উদ্ধত আদিপুরাণীয় বচন,
৩৭৫ পৃষ্ঠা-বঙ্গবাসীসংস্করণ।]
এখানে ‘তণ্ডুল-প্রসূতি’ =এক অঞ্জলি-পরিমিত তণ্ডুল
(পূরকপিণ্ডদানে ‘পিতৃদয়িতা’ )
ততস্তিলমধুঘৃতদধিমিশ্রং তপ্তমেব পিণ্ডং গৃহীত্ব ও
অদ্যামুকসগােত্রস্য প্রেতস্যামুকদেবশৰ্ম্মণ এতৎ প্রথমং পিণ্ডং
পূরক। ইত্যবনেজনস্থানে দদ্যাৎ। ইতাদি
[ অনিরুদ্ধভট্টের ‘পিতৃদয়িতা’-৮০ পৃষ্ঠা,
কলিকাতা-সংস্কৃত-সাহিত্য-পরিষৎ-সংস্করণ।]
সুতরাং দ্বিজাতিগণ পানুদ্বারাই পূরকপিণ্ড দিবেন।
শ্রাদ্ধে পিণ্ডাদিদান
শ্রাদ্ধপ্রসঙ্গে স্মাৰ্ত্ত ভট্টাচাৰ্য মহাশয় শ্রদ্ধতত্ত্বে’ লিখিয়াছেন—
আপন্থনয়ৌ তীর্থে চ চন্দ্ৰসূৰ্যগ্রহে তথা।
আমশ্রাদ্ধং দ্বিজৈঃ কাৰ্যৎ, শুণে তুসদৈহি।

১৭৬
আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
[ ‘শ্রাদ্ধতত্বে’ উদ্ধৃত প্রচেতার বচন,
১৬২ পৃষ্ঠা - বঙ্গবাসী-সংস্করণ।]
এই বচনের ‘অগ্নৌ-শব্দের অর্থ—‘অগ্নি না থাকিলে, অর্থাৎ
নিরগ্নির পক্ষে। অগ্নি দ্বারা সাগ্নিকের অগ্নিই বুঝিতে হইবে।
এখন সাগ্নিক দ্বিজ নাই। সকল দ্বিজই আমশ্রাদ্ধ করিবেন
অর্থৎ কেবল আমান্ন ( আতপ চাউল) ব্যবহার করিবেন। শূদ্রগণ
সকল অবস্থাতেই শ্রাদ্ধে আমান্ন ব্যবহার করিবেন। এই বচনের
বলেই দ্বিজাতি ও শূদ্র সকলেই এখন আমান্ন দ্বারা পাৰ্বণশ্রাদ্ধ
এবং আভদয়িক শ্রাদ্ধ করিয়া থাকেন। ইহার বলেই শূদ্রগণ
শ্মশানঘাটের পিণ্ডে এবং পূরকপিণ্ডে পান্ন ব্যবহার করেন না।
এই কারণেই শূদ্রগণ সকল শ্রাদ্ধেই শুধু আমান্ন ব্যবহার
করিয়া থাকেন।
দ্বিজগণের পক্ষে এই ব্যতিক্রম
১। সপিণ্ডীকরণং যাবৎ প্রেতশ্রাদ্ধানি ষােড়শ।
পানেনৈব কাৰ্যানি সামিষেণ দ্বিজাতিভিঃ ।
( রঘুনন্দনােৰ্ধত লঘুহারীতের বচন,
শ্ৰাতত্ব, ৪৪৬ পৃষ্ঠা, বঙ্গবাসী-সংস্ককরণ।]
২। সপিণ্ডীকরণ-পৰ্যন্তং প্রেতশ্ৰাদ্ধং সর্বথা পানেনৈব
কর্তব্যমিতি।

যজুর্বেদীয়
১৭৭
তদুক্তং ব্যাসেন
সপিণ্ডীকরণান্তং বৈ শ্রাদ্ধং প্রেতস্য তৃপ্তিদম।
পান্নেনৈব কর্তব্যং সর্বথৈব দ্বিজোত্তমৈঃ ॥ ইতিবচনাৎ।
‘কর্মোপদেশিনী’তে উদ্ধত ব্যাসবচন।
সপিণ্ডীকরণ পৰ্যন্ত ষােড়শ শ্রাদ্ধ এই
(১) আদ্যশ্রাদ্ধ, (২) প্রথম মাসিক শ্রাদ্ধ, (৩) দ্বিতীয়
মাসিক শ্রাদ্ধ, ৪) তৃতীয় মাসিক শ্রাদ্ধ, (৫) চতুর্থ মাসিক
শ্রাদ্ধ, (৬) পঞ্চম মাসিক শ্রাদ্ধ, (৭) প্রথম ষান্মাসিক শ্রাদ্ধ,
(৮) ষষ্ঠ মাসিক শ্রাদ্ধ, (৯) সপ্তম মাসিক শ্রাদ্ধ, (১০) অষ্টম
মাসিক শ্রাদ্ধ, (১১) নবম মাসিক শ্রাদ্ধ, (১২) দশম মাসিক
শ্রাদ্ধ, (১৩) একাদশ মাসিক শ্রাদ্ধ, (১৪) দ্বিতীয় ষান্মাসিক
শ্রাদ্ধ, (১৫) দ্বাদশ মাসিক শ্রাদ্ধ, (১৬) সপিণ্ডীকরণ
শ্রাদ্ধ।
এই সকল শ্রাদ্ধে পাত্রে এবং পিণ্ডে দ্বিজাতিগণ পায়
ব্যবহার করিবেন। কখন কখন মৃত্যুতিথি হইতে দ্বাদশ
মাসের মধ্যে (প্রথম মাস এবং শেষ মাস ব্যতীত) মলমাস
পড়িলে, সেই মাসে পান্ন দ্বারা অতিরিক্ত একটি শ্রা
করিতে হয়।

১৭৮ আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি • সপিণ্ডীকরণের পরবর্তি-একোদ্দিষ্টশ্রাদ্ধসমূহ- একোৰ্দিষ্টন্তু কৰ্তব্যং পাকেনৈব সদা স্বয়ম্ । অভাবে পাকপাত্ৰাণাং তদহঃ সমুপােষণম্। (রঘুনন্দনেদ্ধিত ‘শ্রাদ্ধচিন্তামণি’-পুস্তকের লঘুহারীতের বচন। শ্রদ্ধতত্ব-৫৪৭ পৃষ্ঠা, বঙ্গবাসী-সংস্করণ। এখানে ‘পাকপাত্র’ শব্দের অর্থ ‘পাকসামগ্রী। সুতরাং এই সকল একোদ্দিষ্টশ্রাদ্ধেও দ্বিজাতিগণ পান্ন ব্যৰহার করিবেন। এইরূপ শ্রাদ্ধকে আমরা সাধারণতঃ একোৰ্দিষ্টবিধিকশ্রাদ্ধ বলি। পৱিশিষ্ট—৩ ষষ্ঠী ও মার্কণ্ডেয় পূজা নামকরণ, অন্নপ্রাশন, চুড়া, উপনয়ন, বিবাহ প্রভৃতি সংস্কারের পূর্বেই সাধারণতঃ আভদয়িকশ্রাদ্ধ করিতে হয় । ইহা মনে রাখিয়া আমরা পদ্ধতি লিখিয়াছি। সংস্কারকার্য্যের অঙ্গ আভদয়িকশ্রাদ্ধে ষষ্ঠী ও মার্কণ্ডেয় পূজা করিয়া নিতে হয়। তাদৃশ পূজাকে অধিবাস বা অধিবাসন বলা হয়। পূজার সময় কর্তা (শ্রাদ্ধকারী পূৰ্বমুখ হইয়া বসিবেন। সংক্ষেপে এই কার্যের পদ্ধতি বর্ণনা করিতেছি। ক্রম, যথা— (১) আচমন, বিষ্ণুস্মরণ, (২) স্বস্তিবাচন, স্বস্তিসূক্তপাঠ, (৩) সাক্ষ্যসূক্তপাঠ, (৪) বিঘ্ননাশ প্রভৃতির অর্চনা, (৫) যজুর্বেদীয় ১৭৯ সংস্কল্প, সংঙ্কল্পসূক্তপাঠ, (৬) সূৰ্যার্ঘ্যদান, (৭) ঘটস্থাপন, (৮) ঘটে ষষ্ঠী ও মার্কণ্ডেয়পূজা, (৯) অধিবাস বা অধিবাসের কাজ, (১০) দক্ষিণা, (১১) বিসর্জন, ১২) অচ্ছিদ্রাবধারণ এবং শান্তি। সঙ্কল্পবাক্য-বিষ্ণরে। তৎসদ অমুকে মাসি অমুকরাশিস্থে ভাস্করে অমুকে পক্ষে অমুক্যাং তিথৌ ( অমুকগােত্রঃ শ্ৰীঅমুক- শৰ্ম্মা) গণপত্যাদিসহিত-ষষ্ঠীমার্কণ্ডেয়পূজাপূৰ্ব্বকং মদীয়ামুক- পুত্রস্য শ্রীঅমুকশৰ্ম্মণঃ শুভামুক কৰ্ম্মাঙ্গ অধিবাসনমহং কারষ্যে। দ্রষ্টব্য-পিতা জীবিত না থাকিলে আভদয়িকশ্রাদ্ধে সংস্কার্যের ( অর্থাৎ যাহার সংস্কার হইবে তাহারই ) অধিকার জন্মে। সুতরাং তিনি নিজেই করুন, অথবা প্রতিনিধি দ্বারাই করান, তাহারই (সংস্কাৰ্য্যেরই) মাতৃপক্ষ, পিতৃপক্ষ মাতামহপক্ষের উল্লেখ করিতে হইবে। পুত্রের দ্বিতীয় বারাদি বিবাহে পিতার আভদয়িকশ্রাদ্ধে অধিকার নাই ( অর্থাৎ তিনি কর্তা নহেন)। এরূপস্থলে আভদয়িকশ্রাদ্ধ করিতেই হইবে এবং তাহাতে, পিতা জীবিত থাকিলেও, পুত্রের মাতৃপক্ষাদিরই উল্লেখ করিতে হইবে। প্রতিনিধি কাজ করিলে বাক্য-বিষ্ণুরে। তৎসদদ্য অমুকে মাসি অমুকরাশিস্থে ভাস্করে ( অমুকগােত্রঃ শ্ৰীঅমুকশৰ্ম্মা) গণপত্যাদিসহিত- এবং Soro আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি ষষ্ঠীমার্কণ্ডেয়পূজাপূৰ্ব্বক অমুকগােত্ৰ শ্ৰীঅমুকশৰ্ম্মণঃ অমুকপুত্রস্থ শ্ৰীঅমুকশৰ্ম্মণঃ (কন্যা হইলে-অমুক-কন্যায়ঃ শ্ৰীঅমুকী-দেব্যা) শুভাককৰ্ম্মাঙ্গ অধিবাসন-মহং করিষ্যামি । পিতা জীবিত থাকিলে, এবং তিনি কর্তা না হইলে, অথবা পিতা জীবিত না থাকিলে, প্রতিনিধি পক্ষে বাক্য-বিষ্ণুরে। তৎসদদ্য অমুকে মাসি অমুক-রাশিস্থে ভাস্করে অমুকে পক্ষে অমুক্যাং তিথৌ (অমুকগােত্রঃ শ্রীঅমুকশৰ্ম্মা) গণপত্যাদিসহিত-ষষ্ঠী-মার্কণ্ডেয়পূজা- পূৰ্ব্বকম্ অমুকগােত্ৰ শ্ৰীঅমুকশৰ্ম্মণঃ (কন্যা হইলে—অমুকগােত্রায়া শ্ৰীঅমুকী-দেব্যা:) শুভামুককৰ্ম্মাঙ্গ অধিবাসনমহং করিষ্যামি। ঘটস্থাপনের মন্ত্ৰসমূহ- ১। (ভূমি) ওঁ ভূরসি ভূমিরস্যদিতিরসি, বিশ্বধায় বিশ্বস্য ভুবস্য ধী। পৃথিবীং যচ্ছ, পৃথিবীং দৃগুহ, পৃথিবীং মাং হিসীঃ [ মা- বা-সং-১৩১৮ ] ২। (ধান্য ) ওঁ ধামসি, ধিমুহি দেবা, ধিমুহি যজ্ঞ। ধিমুহি যজ্ঞপতিং, ধিনুহি মাং যজ্ঞশ্যম্ ॥ [ কা-বা-সং-চৌখাম্বা—১৭৩, কা-বা-সং-উৎকল-১৩৩ ] ৩। (ঘট) ও আ জিম্ৰ কলসং মহ্যা ত্বা বিশ্ববিঃ। পুনরূজ্জা নিবৰ্তম্ব, সা নঃ সহস্রং ধুক্ষেরুধারা পয়স্বতী, পুনম। বিশ রয়িঃ ॥ [ মা-বা-সং-৮৪২) .

যজুর্বেদীয় داد ৪। (ঘটের জল) ও বরুণস্যোত্তম্ভন-মসি। বরুণস্য স্ক- সর্জনী স্থঃ। বরুণস্য ঋতসদস্যসি। বরুণস্য ঋতসদন-মসি। বরুণস্য ঋতসদন-মাসীদ। (মা-বা-সং- ৪/৩৬) ৫। (পল্লব) ও ধম্বনা গা ধন্বনাজিং জয়েম, ধম্বনা তীব্র সমদো জয়েম। ধনুঃ শত্রেরপকামং কৃণােতি, ধন্বনা সৰ্বাঃ প্রদিশাে জয়েম ॥ [ মা-বা-সং-২৯৩৯] ৬। (ফল) ও যাঃ ফলিনীৰ্যা অফলা, অপুষ্প যাশ্চ পুষ্পিণীঃ। বৃহস্পতি-প্রসূতা-স্যা নাে মুঞ্চত্ত্বগু হসঃ । [ মা-বা-সং-১২৮৯ ] ৭। (ঘটাচ্ছাদন) ওঁ যুবা সুবাসাঃ পরিবীত আগাৎ, স উ শ্রেয়া ভবতি জায়মান। তং ধীরাসঃ কবয় উন্নয়ন্তি, সাধ্যো মনসা দেবয়ন্তঃ। [ ঋগ্বেদ-৩৮[৪]

আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি
৮। (সিন্দুর )
ও সিন্ধোরিব ধ্বনে শূঘনালসা,
বাত প্রমিয়ঃ পতয়ন্তি যঃ।
ঘৃতস্য ধারা অরুষাে ন বাজী,
কাষ্ঠা ভিন্নৰ্ম্মিভিঃ পিন্বমান।
[ মা-বা-সং-১৭৯৫ ]
৯। (পুষ্প)
ওঁ শ্রীশ্চ তে লক্ষ্মীশ্চ পাবহােবাত্রে পাশ্বে,
নক্ষত্রাণি রূপ-মশ্বিনে ব্যাস্ত।
ইষ্ণন্নিষাণামুন্ম ইষাণ, সৰ্ব্বলােক ইষাণ।
»
[ মা-বা-সং-৩১২২ ]
১০। (দূৰ্ব্বা) ওঁ কাণ্ডাৎ কাণ্ডাৎ প্রবােহন্তী পরুষঃপরুষস্পরি।
এবা নাে দূৰ্বে প্ৰতনু সহস্রেণ শতেন চ ৷৷
[ মা-বা-সং-১৩২০ ]
( স্থিরীকরণ) ও স্থির ভব বিড়ঙ্গ, আশুৰ্ভব বাজ্যৰ্বন্ ।
পৃথুৰ্ভব সুষদ,-স্তমগ্নেঃ পুরীষবাহন।
F ।
[ মা-ব-সং-১১৪s ]
( কৃতাঞ্জলি) ওঁ সৰ্ব্বতীর্থোদ্ভবং বারি সর্বদেব সমন্বিতম্ ।
ইমং ঘটং সমারুহ তিষ্ঠ দেবি গণৈঃ সহ।

যজুৰ্বেদীয়
১৮৩
৩
ষষ্ঠীর ধ্যান
ও দ্বিভুজাং হেমগৌরাঙ্গীং রত্নালঙ্কারভূষিতাম।
বরদাভয়হস্তাঞ্চ শরচ্চন্দ্ৰনিভাননা।
পট্টবস্ত্ৰপরীধানাং পীনােন্নতপয়ােধরাম।
অঙ্কার্পিতসুতাং ষষ্ঠী-মম্বুজস্থাং বিচিন্তয়েৎ।
পূজা-মন্ত্র—ওঁ ষষ্ঠী-দেব্যৈ নমঃ।
বীজমন্ত্র—যং।
আবাহন—ওঁ ষষ্ঠী-দেবি........। বাহন—মার্জার।
জপের মন্ত্র—ওঁ ষষ্ঠী দেব্যৈ নমঃ।
প্রণাম মন্ত্র—ওঁ জয় দেবি জগন্মাত-জগদানন্দকারিণি।
প্রসীদ মম কল্যাণ নমস্তে যষ্ঠি দেবিকে।
মার্কণ্ডেয়ের ধ্যান
ওঁ দ্বিভুজং জটিলং সৌম্যং সুদ্ধং চিরজীবিনম্ ।
দণ্ডাক্ষসূত্রহস্তঞ্চ মার্কণ্ডেয়ং বিচিন্তয়েৎ ॥
পূজা-মন্ত্র—ওঁ মার্কণ্ডেয়ায় নমঃ। বীজমন্ত্র—মাং।
আবাহনে—ওঁ মার্কণ্ডেয়•••••।
জপের মন্ত্র—ওঁ মার্কণ্ডেয়ায় নমঃ।
প্রার্থনা-মন্ত্র
ও চীরজীবী যথা ত্বং ভাে ভবিষ্যামি তথা মুনে।
রূপবান্ বিত্তবাংশ্চৈব শ্রিয়া যুক্তশ্চ সর্বদা।
মার্কণ্ডেয় মহাভাগ সােমবংশসমুদ্ভব।
মহাতপা মুনিশ্রেষ্ঠ মার্কণ্ডেয় নমােহস্তু তে।

১৮৪ আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি প্রণাম-ম ওঁ আয়ুপ্রদ মহাভাগ গােমবংশসমুদ্ভব। মহাতপাে মুনিশ্রেষ্ঠ মার্কণ্ডেয় নমােহন্ত তে। যােড়শােপচার- (১) আসন, (২) স্বাগত, (৩) পাদ্য, (৪) অর্ঘ্য, (৫) আচমনীয়, (৬) মধুপর্ক, (৭) আচমনীয়, (৭।ক) অতিরিক্ত আচমনীয়, (৮) স্নানীয় জল, (৯) বস্ত্র, (ক) অতিরিক্ত আচমনীয়, (১০) আভরণ, (১১) গন্ধ, (১২) পুষ্প, (১৩, ধূপ, (১৪) দীপ, (১৫) নৈবেদ্য, (১৬) পানাৰ্থ জল, (১৬াক) অতিরিক্ত আচমনীয় এবং (১৬খ) তাম্বুল। দুইটি উপচার সম্বন্ধে মতভেদ আছে। স্ত্রীদেবতাকে দীপের পর নেত্রাঞ্জন ও সিন্দর দিতে হয়। প্রশস্তিপাত্র একটি চিত্রিত শূৰ্পে অর্থাৎ কুলাতে পশ্চাৎ উল্লিখিত দ্রব্যসমূহ সাজাইয়া দিতে হয়। এইরূপ কুলাকে প্রশস্তিপাত্র বলে। দ্রব্যতালিকা—(১) মহী, (২) গন্ধ (৩) শিলা, (৪) ধান্য, (৫) দূৰ্ব্বা, (৬) পুষ্প, (৭) ফল, (৮) দধি, (৯) ঘৃত, (১০) স্বস্তিক ( পিটুলি ), (১১) সিন্দুর, (১২) শঙ্খ, (১৩) কজ্জল, (১৪) রােচনা ( অভাবে

যজুর্বেদীয়
১৮৫
হলুদ), (১৫) সিদ্ধার্থ (শ্বেতসর্ষপ ), (১৬) কাঞ্চন, (১৭) রৌপ্য,
(১৮) তাম্র, (১৯) চামর, (২০) দর্পণ, (২১) দীপ এবং (২২) সূত্র।
এই দ্রব্যের তালিকা সম্বন্ধে মতভেদ আছে। যে পরিবারে
যেরূপ রীতি প্রচলিত তাহাই অনুসরণ করিতে হইবে। অনেক
স্থানে বরাহন্ত একটি দ্রব্য বলিয়া পরিগণিত হয়।
সংস্কাৰ্য্যকে নিজের বামদিকে পূর্বমুখে বসাইয়া এক-একটি
দ্রব্য লইয়া প্রত্যেকবার বিশেষ বিশেষ মন্ত্র পড়িয়া ঘটে
ছোঁয়াইয়া পরে সংস্কার্যের কপালে ছোঁয়াইতে হইবে।
প্রকার-‘অনয়া মহা মদীয়ামুকপুত্ৰ শ্ৰীঅমুকশৰ্ম্মণঃ শুভা-
দিবাসনমস্তু’ ইত্যাদি।
যদিও প্রত্যেকটি দ্রব্যের জন্য নির্দিষ্ট মন্ত্র আছে, তাহা বড়
কেহ পাঠ করেন না। মন্ত্রগুলির পরিবর্তে প্রায় সকলেই
গায়ত্রী পাঠ করিয়া থাকেন।
পরিশিষ্ট-8
মতান্তরে স্বস্তিসূক্ত
(১) ওঁ স্বস্তি ন ইন্দ্রো বৃদ্ধশ্রবাঃ,
স্বস্তি নঃ পূষা
বিশ্ববেদাঃ ।
স্বস্তি নস্তাক্ষো অরিষ্টনেমিঃ,
স্বস্তি নে বৃহস্পতির্দধাতু।

১৮৬
আভদয়িক শ্রাদ্ধপম্মতি
(২) ও গণানাং ত্বা গণপতি হবামহে।
প্রিয়াণাং ত্বা প্রিয়পতি হবামহে।
নিধীনাং ত্বা নিধিপতি হবামহে।
বসাে মম।
[কা-বা-সং-উৎকল-২৫২১, মা-বা-সং-২৩১৯
(৩) ও স্বস্তি, ও স্বতি, ও স্বস্তি।
পরিশিষ্ট
মাস-সম্বন্ধে কয়েকটি কথা
এই পদ্ধতিতে আমরা সর্বত্র সৌরমাস ব্যবহার করিয়াছি।
নামকরণ, অন্নপ্রাশন, চূড়া, উপনয়ন, বিবাহ—এই কয়টি
কাৰ্য্যকে লক্ষ্য করিয়াই আমরা এই পদ্ধতি লিখিয়াছি। এই
সকল কাৰ্য্যকে সংস্কারকাৰ্য বলা হয়। সংস্কারকার্য্যের পূর্বে
অধিবাস (ষষ্ঠী এবং মার্কণ্ডেয়-পূজা)
আভদয়িকশ্রাদ্ধ করিয়া নিতে
সংস্কারকার্য্যে
সৌরমাসের উল্লেখ করিতে হয়। এইজন্য সংস্কারকার্যের
অঙ্গ অধিবাস এবং আভদয়িকেও সৌরমাসের উল্লেখ
করিতে হয়।
প্রথমতঃ
এবং
হয় ।

যজুর্বেদীয় ১৮৭ ********* । বাস্তুগ করিতে হইলে তৎপূর্বে তাহার অঙ্গরূপে আভদয়িকশ্রাদ্ধ করিতে হয়, কিন্তু অধিবাস করিতে হয় বাস্তুগে মুখ্যচান্দ্রমাসের উল্লেখ করিতে হয়। এইজন্য তাহার অঙ্গ অভদয়িকেও মুখ্যচান্দ্রমাসের উল্লেখ করিতে হয়। সাধারণতঃ কাৰ্য্যভেদে আমরা তিনপ্রকার মাসের উল্লেখ করিয়া থাকি। যথা—সৌরমাস, মুখ্যচান্দ্রমাস, গৌণ- চান্দ্রমাস। সংস্কারকার্যে এবং মন্ত্রিককাৰ্যে সৌরমাসের উল্লেখ করিতে হয়। সূর্যের এক রাশিতে প্রবেশ হইতে অন্য রাশিতে যাওয়া পর্যন্ত তাহার যে সময়ের আবশ্যক হয়, সেই সময়কে এক সৌরমাস বলে। যে সকল কার্য ভিন্ন ভিন্ন লােকের ভিন্ন ভিন্ন তিথিতে করিতে হয়, সেই সকল কার্যে মুখ্যচান্দ্রমাসের উল্লেখ করিতে হয়। যথা—আদ্যশ্রাদ্ধ, মাসিক শ্রাদ্ধ, পাৰ্বণশ্রাদ্ধ ইত্যাদি। এক অমাবস্যা হইতে পরবর্তি-অমাবস্যা পর্যন্ত সময়কে এক মুখ্যচান্দ্রমাস বলে। মুখ্যচান্দ্রমাসের প্রথমভাগ শুক্লপক্ষ এবং দ্বিতীয় ভাগ কৃষ্ণপক্ষ।

Sbob আভদয়িক শ্রাদ্ধপদ্ধতি যে সকল কাৰ্য সকল লােকে এক তিথিতে করিয়া থাকে, সেই সকল কাৰ্যে গৌণচান্দ্রমাসের উল্লেখ করিতে হয়। যথা—দুর্গাপূজা, লক্ষ্মীপূজা, সরস্বতীপূজা ইত্যাদি। পূর্ণিমা হইতে পরবর্তী পূর্ণিমা পর্যন্ত সময়কে এক গগণচান্দ্র- মাস বলে। গৌণচান্দ্রমাসের প্রথমভাগ কৃষ্ণপক্ষ এবং দ্বিতীয়ভাগ শুক্লপক্ষ। সমাপ্ত।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Jajurbediyo Abhyudayik Shraddha Paddhati Ed. 1st

Author
Senshrmma, Hemchandra
Title
Jajurbediyo Abhyudayik Shraddha Paddhati Ed. 1st
File name
Jajurbediyo Abhyudayik Shraddha Paddhati Ed. 1st
Text
OCR done
Citation
1938
Published
2010/02/17
Publisher
Sri Prafulla-senshrmma, Kolkata
Language
Sanskrit
Pages
198
Library
Katia Sadharan Pathagar
Classification
Bengali Essay
Keywords
Shraddha Paddhati
DLI number
511106
Barcode
4990010018284.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
JvCzl5bNjoA
Download PDF

Jajurbediyo Abhyudayik Shraddha Paddhati Ed. 1st