Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Gobinda Geetika
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
'ওঁ নমাের্গতে
বাসুদেবায়।
গােবিন্দ গীতিকা
যথা নীরং পরিত্যজ্য মরালাে দুগ্ধমীহতে।
তথা দোষং পরিত্যজ্য গৃহীয়ু সাধবাে গুণান্ ।
গণেশগগাবিন্দ দাস বৈষ্ণব প্রণীত
সাং ভাদগ্রাম
পােঃ আটঘড়ী
(টাঙ্গাইল)
প্রকাশক
শ্রীজয়কৃষ্ণপতি দেশৰ্ম্মণ।
All Rights Reserved.
লক্ষনী প্রিন্টিং ওয়ার্কস্ হইতে
শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র থােৰ কৰ্তৃক মুদ্রিত।
৬৪১ ও ৪২ নং সুকিয়া কলিকাতা।
উ ৎ স গ প এ
ফরিদপুরান্তৰ্গত গােপালপুর নিবাসী
পরম পূজ্যপাদ বিদ্যালঙ্কারােপাধিক,
শ্রীল শ্ৰীযুক্ত ত্রৈলােক্যনাথ গােস্বামী গুরুদেব
মহােদয়ের
একরকমলে আমার
সাধের
“গেবিন্দ গীতিকা”
উৎসর্গীকৃত হইল।
No text on this page.
ভূমিকা আমি বহুদিনের যত্নের ও চেষ্টার ফলে “গােবিন্দ গীতিকা” প্রকাশিত করিলাম। আমি যে ইহা মুদ্রিত ও প্রকাশিত করিতে পারিব তাহা আমার আন্তরিক ধারণাই হয় নাই। কেবল ভক্তবাঞ্ছাপূর্ণকারী ভক্ত- রঞ্জন ভগবানের অতুল দয়াবলেই ইহা মুদ্রিত ও প্রকাশিত হইল। নতুবা আমার মত মূৰ্থ, জ্ঞানবুদ্ধিহীন ও অর্থশূন্য লােকের দ্বারা ইহ। কখনও সম্ভবে না। সঙ্গীতগুলি যাহাতে উচ্চ সমাজ হইতে ক্রমশঃ নিম্ন সমাজ পৰ্য্যন্ত গীত হইতে পারে তদ্বিষয়ে দৃষ্টি রাখিয়া রচিত হইয়াছে। এক্ষণে ভ্ৰমাদি সংশােধন করতঃ শ্রীভগবদ্ভক্ত পাঠক বা গায়ক মহােদয়গণের ইহা পাঠে বা গানে কথঞ্চিৎ মন আকষিত হইলেই আমার এ পাপজীবনকে ধন্য ও সফল মনে করিব। আমি বাল্যকাল হইতেই অত্যন্ত সঙ্গীতানুরাগী ছিলাম। সেই বাল্য জীবনের সঙ্গীতগুলি ইহাতে উদ্ধত করিবার ইচ্ছা ছিল না, কিন্তু ২১টী বন্ধুর অনুরােধে তাহাও স যােজিত করিয়াছি। আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞতার সহিত জানাইতেছি যে এই গ্রন্থ প্রণয়ন কালে বন্দ্য কাওয়ালজানী (টাঙ্গাইল) নিবাসী সদ্বক্তা পরম বৈষ্ণব ভক্ত পূজ্যপাদ শ্ৰীল শ্ৰীযুক্ত মথুরামােহন চক্রবর্ত্তী ভক্তিরত্ন ও ভাওয়াল ধীতপূরনিবাসী পরম সাধক পুরুষ শ্ৰীযুক্ত দুর্গাপ্রসাদ বিশ্বাস মহােদয়- দিগের দ্বারা বিশেষ উপকৃত হইয়াছি কিমতি বিস্তরেণ নিবেদন ইতি। ভাদগ্রাম বৈষ্ণবপাড়া বিনীত নিবেদক সন ১৩২০ সাল, গণেশগােবিন্দ দাস ঠা শ্রাবণ। বৈষ্ণব। }
No text on this page.
পৃষ্ঠা ১৯ ৩ ৪ ••• ২১ E s) ২২ ৫ ; ২৩ ৭ সূচীপত্র। প্রথম স্তর। দ্বিতীয় তরঙ্গ। भकोछ সঙ্গীত পৃষ্ঠা একবার এসে উদয় হও হে ১। ভজরে মন দয়াল হরি শ্রীচরণে রেখহে আমায় অর মন ঐ হরির চরণ ••• २० দীন দয়াময়, অধমে সদয় ৩। কি কর বসিয়ে মন • ৪। দিন গেল বয়ে প্রভু ••• ৪। শীঘ্ৰ মন করে তুমি ৫। দুঃখের কথা কারে যেয়ে ৫। ভ্রান্ত মন কব কি চিন্তে ••• ৬। রক্ষহে এবার আমারে ••• ৬। হরি বলে বাহু তুলে ••• ৭। ইর মনের বেদন। ৭। মিছে কেন কাটরে দিন ৮। কোথা রলে বিশ্বপতি ••• ৮। যার দয়া বলে এলে ৯। চিন্তা হরণ নামটী তােমার ৯। ডাক বারেং শ্রীকৃষ্ণ ১০। প্রাণ অন্ত শ্রীগােবিন্দ ১০। হেলায়ে হারালি হরি ১১। নাইকো দয়ার লেশ ১১। ডকিরে দয়াল হরি বলে ••• ১২। আর সহেনা দুর্গতি ১২। সংসার বারিধি মাঝে ১৩। হৃদি কষ্ট জানাব কারে ১৩। হরি নাম গানে মেতে ••• ১৪। তুমি দয়াল হও রা না হও। ১৪। যায় যাবে যাক এ প্রাণ ১৫। আগে জানি নাই তাই সপেছি ১২ ১৫। সদানন্দে মনানন্দে ১৬। দীনের দিন কি এমনি যাবে... ১৩ ১৬। পূজরে মন দিবানিশি ••• ১৭। তােমার সমীপে আর কি ১৭। দয়াল নামে বাদাম তুলে ১৮। বলহে দয়াল গোঁসাই ১৮। ভাকর মন ঘরে বসে ••• ১৯। আমি সদা মনে ভাবি ১৯। কত দিন আর ক'রুবি ২০। শ্রীনাথ করুণা সিন্ধু ২০। ভবে বসে ভবনাথকে ••• ২১। যে জন তােমার পদ সেবে ২১। ঐ না নিতাই ডাকছে ১০ ২২। রাখিও ঐ চরণ কমলে ২২। দেখ মন হরি নামের ২৩। জেনেছি জেনেছি তােমার ২৩। আয়রে সবে মিলে •• ২৪। হৃদয়ের ধন হৃদে একবার ২৪। নিতাই প্রেমের ভাণ্ড ২৪ । . ২৫ ৫৫ ৮ । 3) । 2 ১১ . . . २१ ২৮ ১৪ । ••• . ১৬ *** ১৭ d 9) ০১৮ ७२ v০ পৃষ্ঠা ৪৯ ৩৩ সঙ্গীত পৃষ্ঠা ২৫। তােরা কে কে যাবি আয় ২৬। আজ হরিনামের প্রেম ২৭। নিতাই নদের বাজার দিয়ে ২৮। গৌর হেলে দুলে চলে ২৯। হেররে মন ঐ মরতি ৩। কর মন সার হরি ৩১। গােবিন্দ নাম মন সঙ্গীত ১৩। যবে দমকায় যেযে ১৪। ঝাপ দিয়ে রাই মরুবে ১৫। কি আনন্দ বৃন্দাবনে ১৬ | আজি বড় শােভা হ'ল - - ... ৩৬ তৃতীয় তরঙ্গ। ব্রজলীলা } ••• ৩ ••• ৪ ০ চতুর্থ তরঙ্গ। মাতৃসঙ্গীত ওমা বীণাপাণি এস নমাে শ্বেতাঙ্গিনী ••• হেব ঐ মুরতি ৪! সতত ডাকি মা বলে চরণ দেমা ধুলে মাখে কলঙ্ক কালিমা ঢাকিয়ে কে'লে তুলে নে মা ৮। জেনেছি মা কেমন বল মা আমায় রাখবি •• ১•| মা ব'লে কত বা • ১১। যে ভাল করেছ ১২। মা আমায় কান্দাবি ০০ 9 ••• } ••• ••• ১ . ৫৬ ৪২ ••• ৩ জাগ জাগ জাগ ওহে উঠ প্রভু নন্দের ছেড়ে দাও মা জীবন ৫। বশী শুনে প্রাণ আয়লাে সজনি শুনি আমি কি সুখে আর কেন সখী গেলেম ৮ । আমার পরাণ লইয়ে ওহে শ্যাম নটবর ১০{ প্রেমে তনু জর জর ১১ একি রূপ হেরি আজি ১২। শােনলে। সজনি শ্যাম ৫৮ ৪৪ ••• ৪ ৫ ••• ৪৬ ••• ৪৭ ১৩। আমার মনের বাসনা • • ৬০ ••• ৪৮ ১৪। ভ লতো শিখেছ মাগো ••• } ••• ১৫। হৃদাসনে এসে বস মা ••• ৬১
রাধাগােবিন্দায় নমঃ
প্রথম তরঙ্গ।
(“হৃদি বৃন্দাবনে বাস কর যদি কমলাপতি, কিম্বা
হৃদয় রাসমন্দিরে দাড়াও মা ত্রিভঙ্গ হয়ে,” এই সুর)
(গৌর) একবার এসে উদয় হওহে আমার হৃদয় মন্দিরে
ওহে, ভক্তবন্ধু কৃপাসিন্ধু ভক্তে ডাকে সকাতরে।
আমি, জানিনা তােমার ভজন, ওহে ভকত-রঞ্জন,
নিজ গুণে দোষ করে ভঞ্জন, পদধূলি দাও হে শিরে।
আমি অতি ভক্তিহীন, তাতে ভজনবিহীন,
তুমি ভক্তিহীন জনে সিঞ্চ, ভক্তি-প্রেম-বারি ;
দয়াল নাম করেছ ধারণ, তাইতে ঐ নাম করে স্মরণ,
তােমার চরণে নিলেম শরণ, যা ইচ্ছা তা কর মােরে।
(“তুমি কার প্রাণপ্রতিমা” এই সুর)
শ্রীচরণে রে’খহে আমায়।
আমার অন্তিম সময়।
আমি, অধম অতি, আমার কি হবে গতি,
তাই ভাবিতেছি দিবারাতি, ওহে দয়াময় ।
আমি, জানিনা কেমনে তােমায় ভজে মহাজন,
হরি, তাতেই তাে করিতে নারি তােমার ভজন,
প্রথম তরঙ্গ।
ঘরে ল’য়ে পরিজন, করি পাপ উপার্জন,
তুমি নিজগুণে দয়াদানে তরাও হে আমায়।
দয়াময় নাম তােমার বলে জগজ্জন,
দয়া করে কর দাস-দোষ-বিভঞ্জন,
ওহে গােপীকারঞ্জন, দাও হে ভক্তি-প্রেমাঞ্জন,
যেন, ঐ ভক্তিতে শক্তি পেয়ে ভজিহে তােমায়।
আমি পড়েছি এই মায়া নদীর সাঁতারে,
হরি, তাইতে তােমায় ডাকিতেছি অতি কাতরে,
মােরে লওহে পার করে, তুমি আছ যেই পারে,
আজি, দেখব তুমি ধরাধামে কেমন দয়াময় ।
এ ভবসাগরে সম্বল ঐ পদতরি,
ঐ, তরি ধরে না তরিলে কেমনে তরি,
আমার, আর নাই তরি, বিনে ঐ চরণ তরি,
প্রভু, দিয়ে তােমার পদতরি, পার কর আমায় ।
এ দীন তনয়ে কেন হইলে নিদয়,
প্রভু, নিদয় হয়ে র’লে কেন হয়ে দয়াময়,
একবার, হও হে সদয়, ওহে কৃষ্ণ দয়াময়,
দেখ, দয়াময় নামে যেন কলঙ্ক না হয় ।
নাম নিয়ে ডুবে ম’লে তাতে তােমায় পায়,
তুমি, কি কারণে নিদয় হ'য়ে রাখ না ঐ পায়,
গণেশ হয়ে নিরুপায়, লুটে পড়েছে ঐ পায়,
তুমি রাখ বা না রাখ ঐ পায়, যাহা মনে লয়। ২।
প্রথম তরঙ্গ।
রাগিণী খাম্বাজ-তাল আড়খেমটা।
(“মম সুখােদয় যেদিনে উদয়”—এই সুর)
দিন দয়াময়, অধমে সদয়, হও একবার করিহে বিনয়।
কেনবা আমায়, রাখনা ঐ পায়, কেন আমায় হইলে নিদয়।
এমিথ্যা জগতে মজিয়ে অসারে,
ভুলিয়ে রয়েছি হরিহে তােমারে,
আমি, অর্থহীন বলে সবাই ঘৃণা করে,
এ, অশান্তিসংসারে সব অশান্তিময়।
তুমি যদি শান্তি দাওহে আমারে,
কে ফেলিতে পারে শান্তিসাগরে,
(তব) পদে রাখিলে কে দিবে ফেলে দূরে,
তুমিই একমাত্র দীনের আশ্রয়।
তুমি বিনে মম কে আছে এ ভবে,
তুমি বিনে বল আর কে তরাবে,
( আমি) দেখিলাম ভেবে, মাতাপিতা সবে,
এ সংসারে মিত্র কেহ কার নয় ।
যারে মিত্র ভাবি এ সংসার মাঝে,
সেই শত্রু হয়ে সম্মুখে বিরাজে,
বলহে গণেশে (আর) কতদিন সং-সেজে,
ল’য়ে নশ্বর দেহ থাকিবে ধরায়। ৩।
৪
প্রথম তরঙ্গ।
১। হৃদি বৃন্দাবনে বাস কর যদি কমলাপতি কিম্বা
১। (কার সাধ্য ওমা সীতে অথবা হৃদয় রাসমন্দিরে) এই সুর
দিন গেল ব’য়ে প্রভু এবার পার কর আমারে।
তুমি পারের কর্তা তাইতে তােমায় ডাকি বিনয় করে ।
লােকমুখে শুনি হরি, তুমি বই আর নাই কাণ্ডারী ;
তাই তােমার পায়ে পড়ি, পার করে দাও পরপারে।
সবে গেল মায়াপারে, রব কি আমি নরক ঘরে,
ঘিরেছে শমন শিয়রে দেখেও কি তা’ দেখনা,
শ্রীচরণে এই নিবেদন, কলুষ কর অপনােদন,
যেন তব অভয় চরণ, সতত পৃজি সাদরে। ৪।
(তােরে নিয়ে আমরা গােঠে যাবরে এই সুর)
দুঃখের কথা কারে যেয়ে কবহে। (ও দয়াময় )
তুমি বিনে এসংসারে আমার আর কে আছে হে।
যে দুঃখেতে আছি আমি, সকলই তাে জান তুমি,
জেনে শুনে কেন মােরে এত দুঃখ দাওহে।
হয়তাে মেরে ফেল প্রাণে, নয়তো কৃপা কর দীনে,
ঐ কৃপাবারি পানে যেন সুশীতল হইহে।
তুমি যদি সুখে রাখ, কার সাধ্য দেয়হে দুঃখ,
তুমি যদি মার কারে, কে তারে বাঁচাবে হে।
আমার এ দুঃখের কালে, হে গােবিন্দ কোথা র’লে,
দাস বলে চরণ তলে, গােবিন্দকে রে’খহে। ৫।
প্রথম তুরঙ্গ।
কাফি সিন্ধু-কাওয়ালী।
(ওমা শ্যামা কতদিনে হব পার এই সুর)
(হরিহে) রক্ষহে এবার আমারে।
আমি, পড়েছি এই মায়ানদীর অকুল সাঁতারে ।
আমায়, দিও ঐ চরণতরি, নৈলে ডুবে মরি,
কেনবা নিদয় দাসে বুঝিতে না পারি,
বামেতে লইয়ে প্যারী, হৃদে এসে দাড়াও হরি,
আমি, জনম সফল করি, ঐ রূপ হেরে ।
কবে হবে সে শুভদিন ভাবি তাই বারে বারে,
কবে বা কাটিব আমি মায়ার বন্ধন ডােরে,
কবে তব নামেতে, দিবানিশি রব মেতে,
কবেবা জুড়াব প্রাণ তোমার মুরতি হেরে।
এই আশীষ করিও প্রভু তব অধম সন্তানে,
শ্রীপদে ভকতি যেন বাড়ে মাের দিনে দিনে,
ভকতি বিহীন দীনে, কৃপাবারি বিতরণে,
ওহে দীনবন্ধু তুমি ল’য়ে চল ভবপারে ।
দয়াময় নামে তুমি পরিচিত ধরাতলে,
অকূলে পড়িয়ে তাই ডাকি দয়াময় বলে,
তুমি, এইবার করুণা ক'রে ওপারেতে নাও মােরে,
নামের মহিমা আমি ঘােষিব জগত ভরে। ৬।
৬
প্রথম তরঙ্গ।
( “তুমি কার প্রাণপ্রতিমা” এই সুর)
(আমার) হর মনের বেদন।
ওহে, শ্রীমধুসূদন ।
কত অপরাধী আছি তব ঐ পদে,
আমি, তাইতে পড়ি পদে পদে এত বিপদে,
ম’জে ধন সম্পদে, ভু’লে র’য়েছি পদে,
হরি, নৈলে কি আর করতে তুমি এম্নি অযতন।
তুমি, দিওনাহে এ দাসেরে এত জ্বালাতন,
কৃপা করে এ কিঙ্করের কর পাপমােচন,
ওহে,
শ্রীনন্দ নন্দন, পদে এই নিবেদন,
তুমি নিয়ে চল এ দাসেরে শ্রীপদ সদন। ৭।
( আয়রে কোলে নীলমণি নটবর কালাদ এই সুর)
কোথা র’লে বিশ্বপতি দাসের দুঃখ দেখে যাও না।
কোন বলে তােমারে পাব জানিনা ভজন সাধন।
ভাবি আমি মনে মনে, কোথা পাব তােমা ধনে,
থাক তুমি কোনস্থানে, কেমনে করি উপাসনা।
রিপুগণের এ অত্যাচার, পারিনা যে সহিতে আর,
তাই দেহ হ'তেছে অসার, কেহই তাে শােনেনা মানা।
বলি ধরে দুটী চরণ, রিপুগণে কর বারণ,
নৈলে তব রাঙ্গা চরণ, কখনও ভজন হবেনা। ৮।
প্রথম তরঙ্গ।
( হৃদি বৃন্দাবনে বাস কর যদি কমলাপতি এই সুর)
চিন্তা হরণ নামটি তােমার কে রেখেছে বল মােরে।
যে রেখেছে ঐ নাম তােমার সে জীর্ণ হয় নাই চিন্তাজরে।
চিন্তা হরণ বলে কত, ডাছি আমি অবিরত,
কখনও দেখিলাম না তাে, চিন্তা আমার গেল দূরে।
চিন্তানলে ম'লেম পুড়ে, চিন্তা নাওহে হরণ করে,
যেন নিশ্চিন্ত অন্তরে, থাকি এপাপ সংসারে।
যদি কোনও থাকে চিন্তা, সে যেন এক তব চিন্তা,
স্থান যেন না পায় কুচিন্তা, ওহে শ্রীহরি
চিন্তার শ্রেষ্ঠ অন্ন চিন্তে, সদাই করি ঐ চিন্তে,
পারব কিসে তােমায় চিনতে, সে চিন্তা তাে নাই অন্তরে। ৯
রাগিণী পূরবী - আড়া
(দিবা অবসান হ’ল কি কর বসিয়ে মন এই সুর)
প্রাণ অন্ত শ্রীগােবিন্দ কর ত্রাণ এ অসময়ে।
বিপদ ভঞ্জন কর বলে ডাকি বিপদে পড়িয়ে।
ভব নদীর তরঙ্গেতে, হয় বুঝি এ প্রাণটী দিতে,
তুমিই বন্ধু নিদানেতে, চল মেরে পারে নিয়ে ।
পড়েছি তরঙ্গে ভারি, পারিনা আর দিতে পাড়ি,
তুমি এসে হও কাণ্ডারী, নৈলে তাে মরি ডুবিয়ে।
তুমি বিনে এসময়ে, জড়ায়ে কার ধরব পায়ে,
নিদান কালে বান্ধব হয়ে, কেবা আসিবে এগিয়ে। ১০
প্রথম তরঙ্গ।
(এই ত হইল শেষ এই সুর।
( তােমার) নাইকো দয়ার লেশ।
ভবে এনে মােরে এত কষ্ট দিয়ে, মায়ার্ণবে জীবন করিলে শেষ ।
ভবে দুঃখভার যত পেয়েছিলে, সব এনে আমার শিরেতে চাপালে,
তাই ডাকিতেছি দয়াময় বলে, এদুঃখ কি আমার হবেনা শেষ।
যা’ করিলে সব ভালই করিলে, বিনা দোষে দাসে এত দুঃখ দিলে,
অন্তিমেতে স্থান দিও পদতলে, এই করিও হৃষিকেশ। ১১।
রাগিনী ঝি ঝিট-তাল খয়রা
{ােমার উদ্দেশ্যে যাব কোন দেশে। ২। (হরি আদরের ধন।
এই সুর।
আর সহেনা দুর্গতি, হে জগতপতি, কেন দূরে ফেলে দিলে
আমারে।
ওহে দয়াময়, বিপদ সময়, তুমি বিনে রক্ষা কে করে ।
সদা আছ তুমি অন্তরে বাহিরে, কিম্বা গােঠে মাঠে আলােক
আঁধারে
জীবের অন্তরে, অকূল প্রান্তরে, বিশ্বচরাচরে থাকহে জুড়ে।
তুমি চন্দ্ররূপে ল’য়ে তারাগণে, হেসে জুড়াও প্রাণ সুধা
বিতরণে,
তুমি, অনাদি অনন্ত, কেউ না পেলে অন্ত,
ব্রহ্মা সীমা দিতে না পারে।
বরাহ রূপেতে হিরণক্ষে নাশ, রামরূপে কল্লে রাবণে বিনাশ,
নন্দের ভবনে তেজের বিকাশ, দেখালে গােবর্ধন ধরে।
প্রথম তরঙ্গ।
গৌরাঙ্গ রূপেতে নদীয়া ভবনে, জগাই মাধাই আদি যত
পাপীগণে,
কত না যতনে, নাম বিতরণে, (নিলে) তরায়ে ভবসিন্ধু পারে।
করুণার কথা যবে উঠে মনে, অমনি যেন প্রাণ চায় তােমা
ধনে,
হয়ে দয়াময়, কেন পদাশ্রয়, দিবে না এ দীন জনেরে।
দরিদ্র কি ধনী যে তােমায় নিয়ত, ভক্তিভাবে ডাকে হয়ে
সমাহিত,
বায়ুর সম যেন হও প্রবাহিত, জাতি ভেদ জ্ঞান না করে।
গােবিন্দ কি ভবের হ’ল জীব ছাড়া, তবে কেন তারে কলে
পদ ছাড়া,
একবার, দাওহে হৃদে পাড়া, নৈলে তাে যাই মারা,
পড়িয়ে অকূল সাগরে।
১২।
কাফি সিন্ধু-কাওয়ালী।
(ওমা শ্যামা কত দিনে হব পার এই সুর)
(ও দয়াময়) হৃদি কষ্ট জানাব কারে ?
আমায়, এভাবে কতদিন ভবে রাখিবে বা কি প্রকারে।
আপন ভাবিয়ে আমি যদি কা’র করিহিত,
তখনই সে বৈরী হয়ে করিতে আসে অহিত,
একি হেরি বিপরীত, ন্যায্য কাৰ্য্যে বিরহিত,
আমি, একারণে হিতাহিত, সকলই দিয়েছি ছেড়ে।
প্রথম তরঙ্গ।
সংসার হয়েছে আমার চির জীবনের তরে,
নিদারুণ রুষ্ট বাক্য পশিল মম অন্তরে,
সে ব্যথা ক্ষণেকের তরে, কখনও যাবেনা দূরে,
জঠর যাতনা পেলে কাজ কি আর এ সংসারে।
একে ভ্রাতৃ শােকানলে সতত জ্বলে হৃদয়,
দুর্বাক্য ইন্ধন পেয়ে আরও প্রজ্জ্বলিত হয়,
ওহে প্রভু দয়াময়, কি আর জানাব তােমায়,
সকলি তাে জান তুমি লােকে যা যেখানে করে।
হায়রে গণেশ তুই যে ভাইয়ের সহােদর,
সে যদি থাকিত বেঁচে এ কষ্ট হত না তাের,
সে যবে গিয়েছে চ'লে, সবারই মমতা ভুলে,
তখনই তাের ভাগ্যাকাশ ঢেকেছে দুঃখ তিমিরে।
হে প্রভু সচ্চিদানন্দ নিরানন্দ নাও হ'রে,
আনন্দে গাইব আমি হরে কৃষ্ণ হরে হরে,
যেন আহারে বিহারে, বলি হরে কৃষ্ণ হরে,
শ্রীহরেকৃষ্ণ মূরারে বিষ্ণু মধুকৈটভারে।
ধনমদে মত্ত হয়ে যে তােমায় চাহেনা ভুলে,
তারে তুমি দয়া করে স্থান দাও ঐ পদতলে,
দুঃখে পড়ে যে তােমায়, বলে দয়া কর আমায়,
তার পানে কখনও চাহিতে দেখিনা ফিরে।
বড় তরি পেলে সবে চড়ে সাহসে ভর করে,
ছােট তরির কাছে যেতে সব লােকে ভয় করে,
প্রথম তরঙ্গ।
১১
মানবেও যা’ নিরখি, তােমাতেও তাই দেখি,
এ কেমন রীতি তব দাসে না বুঝিতে পারে।
কেহ বা পদ থাকিতে জুড়ী বা মটরে চড়ে,
মূহুর্তে যােজন পথ অনায়াসে আসে ঘুরে,
কা’র বা এক পদ খোঁড়া, কেহ বা বয়সে বুড়া,
তারা কি পারে না যেতে জুড়ী বা মটরকারে ?
কা’রে বা রেখেছ তুমি বসায়ে রাজ সিংহাসনে,
কেহ বা না পায় স্থান তীক্ষ্ণধার কুশাসনে,
কেহ মরে অনশনে, কেহ ভূষিত ভূষণে,
তব লীলা বুঝে ভবে এমন তাে দেখিনা কা'রে।
তুমিই তাে করহে শুনি সকলেই সম জ্ঞান,
ঠিক তার বিপরীত নয়নে হেরি বা কেন,
তােমার কার্যের প্রথা, দেখে ঘুরে যায় মাথা,
(তুমি) না বলিয়ে কোন কথা কিরূপে পাল সবারে ।
কাফি সিন্ধু-কাওয়ালী
(ওমা শ্যামা কত দিনে হব পার এই সুর)
(ও দয়াময়) তুমি দয়াল হও বা না হও।
যদি, দীনে দয়া না করিয়ে নিদয় হয়ে রও।
কাঙ্গালে কান্দাতে তুমি শিখিয়াছ ভাল ক'রে,
কি লাভ হয়েছে তােমার এ লাভের ব্যবসা করে,
বলি আমি জোড় করে, এ ব্যবসা দাও ছেড়ে,
দীনবন্ধু দীনের পানে একবার ফিরে চাও।
১২
প্রথম তরঙ্গ।
বহুদিন ধরে আমি বলিতেছি পদ ধরে,
দাড়াও হৃদয়াসনে ত্রিবঙ্কিম ঠাম ধ'রে,
মুরলী ধরে অধরে, বামে লয়ে শ্রীরাধারে,
পদ রেখে পদোপরে, রাধা নাম বাজাও।
বিগ্রহরূপেতে তুমি সকলে দিতেছ দেখা,
তাই এসে আঙ্গিনাতে হেরি রূপ ভঙ্গি বাঁকা,
দেখে ঐ মূরতিখানি, চিত্তেতে ধৈরজ মানি,
বুঝি, আপন স্বরূপ তুমি জগতে দেখাও।
হে গােবিন্দ তব পদে গােবিন্দ শরণাগত,
এই তাে দিন গেল চলে, আয়ুসূৰ্য্য অস্তগত,
কর মােরে পারগত, আমি তােমার অনুগত,
নিঠুর হইয়ে কেন আমারে কাঁদাও ।
১৪ ।
কেদারা-ঠুংরি।
( মরম ব্যথা কবলো কারে এই সুর)
আগে জানি নাই তাই সপেছি, নৈলে কেবা সপিত।
আগে জানি নাই তুমি নিদয় এত। •
ভবে থাকা হ’ল দায়, যদি দয়াময় হয়ে ইওহে নিদয়,
বল আমি যাই কোথা ছেড়ে ঐ চরণ ;
তােমারই চরণে সপেছি এ প্রাণ,
আর মনােব্যথা দিও না আমায়, ওহে দীন দয়াময়,
ডেকে ডেকে প্রাণ আরও হ’ল ব্যথিত।
প্রথম তরঙ্গ।
(রূপে যার মন মজেছে এই সুর)
দীনের দিন কি এমনি যাবে দীন দয়াময়।
আমি, বুঝেছি সার এতদিনে সংসারে কার কেহ নয়।
অকূলে পড়িয়ে হরি, চাই তব ঐ পদ তরি,
আমায়, তুলতে হবে কবে ধরি, নৈলেতাে জীবন যায় ।
পূর্ণব্রহ্মরূপে এসে, দেখা দিতে হবে দাসে,
আমায়, রেখাে তব পদ পাশে, হইয়ে সদয় ।
( নির্মল কর মঙ্গল করে প্রায় এই সুর)
তােমার সমীপে আর কি চাহিব,
(আমার) কিছুরই তাে নাই অনটন
না চাহিতে তুমি সকলি দিয়েছ বাকিতাে রাখ নাই কোন ধন।
আমার জন্য দিয়েছ বারি,
ঐ বারি পিয়ে পিয়াসা নিবারি,
আমারে থাকিতে দিয়েছ ঘর বাড়ী,
আমার জন্য বহিছে পবন।
আমার লাগিয়ে ক্ষেত্রে শস্য হয়,
আকাশেতে নিত্য হয় সূর্যোদয়,
নিরাশ্রয় হ'লে দাও পদাশ্রয়,
(আর) ফিরে কি চাহিব তােমার সদন।
বদন দিয়েছ তােমাকে ডাকিতে,
নয়ন দিয়েছ তােমাকে দেখিতে,
প্রথম তরঙ্গ।
তােমার উদ্দেশে হাঁটিয়া যাইতে,
দিয়েছ আমারে এ দুটী চরণ।
ঔষধ দিয়েছ রােগ নিবারিতে,
অস্ত্রাদি দিয়েছ শত্রু বিনাশিতে,
খেতে শুতে যেতে দেখিতে শুনিতে,
অভাবে পড়িতে হবে না কখন।
সূৰ্য্যাতপে যবে দেহ পুড়ে যায়,
তখনই বরুণে পাঠাও এ ধরায়,
( যেই ) আলােকিত ধরা অন্ধকার হয়,
( অমনি) চপল চমকে ঘন ঘন।
আমার লাগিয়ে হরিনাম তরি,
বান্ধিতে দিয়েছ ভক্তি প্রেম তুরী,
ঐ ডােরে যদি বান্ধিতে পারি,
তবেই তাে থাকিবে বাঁধা ঐ চরণ। ১৭।
( বল বল সুবল ভাই কেমন আছে কমলিনী রাই।
বলহে দয়াল গোসাই অন্তে পদে দিবে কিনা ঠাই
আমি,তােমার জন্যে ভবারণ্যে হে গোঁসাই সদাই ঘুরিয়ে বেড়াই
মায়ার তরঙ্গে পড়ে, ঘুরিতেছি ভব ঘুরে, কোথা গেলে
পাব রত্ন ধন ;
এই ধন মদে মত্ত হয়ে হে গোঁসাই (আমি) পারের
উপায় করি নাই।
প্রথম তরঙ্গ।
ভ্রমেতেও ভাবি নাই চিতে, পারের ঘাটে হবে যেতে,
এখন আমার কি হবে উপায় ?
আজ, গােবিন্দের কথা রাখ হে গোঁসাই, ( যেন ) ধুলির
গুণে ত’রে যাই।
১৮ ॥
(এইতাে হইল শেষ এই সুর)
আমি সদা মনে ভাবি তাই।
প্রাণ সঁপেছি আমি তব ঐ পদে পদে কি দিবেনা ঠাই।
তােমারে না হেরে পরাণ বিদরে, হেরিতে তােমারে ঘুরি
এ সংসারে, নাহি চাই যেতে সৌন্দর্য্যের দ্বারে,
মনে আশা তােমায় হেরিব সদাই।
গোবিন্দায় বলে এপাপ হিয়ে, তব রাঙ্গা পায়ে দিয়েছি
সাঁপিয়ে, যা ইচ্ছা তা কর হরষিত হয়ে,
ওজর আমার কিছুই নাই।
তুমি বিনে দেখি এ ভব সংসার, কালান্ত যম সম অন্ধকার,
ঘুচাও গণেশের মনের আঁধার, তব কাছে আর কিছুই
না চাই।
১৯।
(খেলা রসে ছিল কানাই এই সুর)
শ্রীনাথ করুণাসিন্ধু অখিলের পতি।
এ অ—গ—তি জনের প্রভাে তুমি মাত্র গতি।
প্রথম তরঙ্গ।
অগৌ—ণে—করহে মােরে ভবসিন্ধু পার।
গােপেশ—গােপিকা কান্ত তুমিই সারাৎসার।
তুমি—গগাবর্ধন ধরে রক্ষিলে গােকুলে।
দয়া-
বিতরণে সেইরূপ রেখ পদতলে।
গােবি-দ—বলিতে যেন ভাসি আঁখিনীরে ।
এই—
দাসের মনন আশা জানাই তােমারে।
সাধু-সঙ্গে থেকে যেন নামে রুচি হয় ।
--বৈষ্ণব-গণেশে তাই কর দয়াময়। ২০।
যেজন তােমার পদসেবে, তারে তুমি কি তবে,
সেতাে তরবে ভকতির বলে।
যে জানেনা ভজন তােমার, তারে যদি করহে পার,
তবে তােমায় ডাকব দয়াল বলে।
(নৈলে কেমন দয়াল হে),
এদীন ভক্তের তরে, দয়া কি হয়না অন্তরে,
কেন তােমায় সবে দয়াল বলে।
গগাবিন্দ ভেবে অনুপায়, লুটিয়ে পড়েছে শ্ৰীপায়,
ঠেলে কি ফেলিবে অধম বলে (তুমি অধম তারণ )
বিরাম।
এবার পার করিতে হবে হে (ও দয়াময় )
নৈলে নামেতে কলঙ্ক হবে । ( দিনে দিনে দিনগত) ২১।
প্রথম তরঙ্গ। ১৭ (আজ কেন এমন হলেম তারা এই সুর।) ( আমায় ) রাখিও ঐ চরণ কমলে। যে ধরেছি ঐ শ্রীপদ ছাড়বনা প্রাণ গেলে। (আমার) নিকটে দুরন্ত শমন, আছে মুখ করে ব্যাদান, জানিনে গ্রাসিবে কখন, অভাগারে অবহেলে। তুমি যদি থাক সহায়, শমনেরে করিনে ভয়, (তাই) আগে জানাই ঐ রাঙ্গা পায়, সে সময় যেওনা ভুলে। ২২। (শ্মশান ভাল বাসিস বলে এই সুর।) জেনেছি জেনেছি তােমার দয়াল নামের মহিমা। পূজিতে জানেনা যে জন সেততা পায়ন করুণ। পতিত পাবন নামটী ধর, পতিতকে উদ্ধার কর, অমি পতিত র’লেম পড়ে, চেয়ে কি তা দেখনা। যদি, সাধনরশ্মি থাত হাতে, আপনি এসে বাঁধা পড়তে হারায়েছি সব মায়াতে, আগেতাে ছিলনা জানা। যদি দয়াল হও হরি, গােবিন্দকে রেখে ধরি, অন্তে দিও পদতরি, ডুবে যেন মরে না। ২৩। কীৰ্ত্তন- (বৃন্দাবন বিলাসিনী রাই আমাদের এই সুর।) হৃদয়ের ধন হৃদে একবার দাঁড়াও এসে। তােমার ঐরূপ হেরে শমন যেন পালায় মহাত্রাসে
১৮
প্রথম তরঙ্গ।
তুমি, আনন্দিত হও গন্ধফুলে পূজা দিলে,
পূজ’ব, সুগন্ধ ভক্তি চন্দন মাখিয়ে মনফুলে।
( ফুল রেখেছি তুলে )
তুমি, বৃন্দাবনে বনে বনে ধেনু চরাইতে,
তাই, বৃন্দাবনারণ্য আমি করেছি হৃদেতে।
( ধেনু চরাইতে)
কদম্বের ডালটী ভালবাস বটে বাঁকা,
তাই, হৃদয় করেছি আমি কদম্বের শাখা।
( একবার দাঁড়াও এসে)
কালিন্দির জলে কত খেছ গােপী সনে,
তাই, পিঙ্গলা করেছি আমি কালিন্দি যমুনে।
( কেলী কর এসে)
নামের সনে সদাই তুমি থাক বিরাজিত,
তাই, করেছি হৃদে “শ্রীরাধাগােবিন্দ” অঙ্কিত।
(থেক বিরাজিত )
করে করে মােহন বাঁশী বামে ল’য়ে প্যারী,
যেন, ত্রিভঙ্গিম যুগল মিলন অন্তিমেতে হেরি।
(হে'গােলক বিহারী)। ২৪।
শ্ৰশ্ৰী শ্যামরায়।
দ্বিতীয় তরঙ্গ।
সাহানা—খেমট।।
( এস যাদু আমার বাড়ী কিম্বা ধুলাখেলা করব না আর
ভজরে মন দয়াল হরি কিবা কর ঘরে বসে।
দিবা নিশি ভাব বসি হরি নামটী মনােল্লাসে।
অন্য চিন্তা পরিহরি, কেবল বল হরি হরি,
সার কর চরণতরি, ম’জোনা আর রঙ্গরসে।
মিছে কেন মায়ায় ভুলে, আছ হরিনামটী
দিনান্তেও নাম লওনা ভুলে, সুখে আছ বসে বাসে।
প্রেমেতে হইয়ে মত্ত, নাচ গাও বিরত,
অন্তিমকাল প্রায় আগত, শমন এসে বাঁধবে কশে।
সাত জন্ম তপস্যার পরে, দুর্লভ জনম পেয়েছ রে,
এই সময় বলরে হরে, নৈলে, যাবে কিসে চরণপাশে ।
হরিনামে বিপদ হরে, মুহূর্তেও ভুলনা হরে,
সদাই হরিনাম লহ রে, তবেই, ত’রে যাবে অনায়াসে।
পাপের তােমার নাইরে অন্ত, নাম লইতে হ’ওনা ক্ষান্ত,
হরি ভজ হরি চিন্ত,মননা,বলছে তােমায় গণেশ দাসে॥১॥
২০
দ্বিতীয় তরঙ্গ।
(মিশ্র ঝিঝিট-আড়খেষ্টা)
( গাছে তুলে প্রাণ কেড়ে নিলে এই স্বর)
স্মর মন ঐ হরির চরণ।
ভুলে কেন র’লে রে ।
মায়াভাের ছিন্ন করি, প্রেমানন্দে বল হরি,
ভবে এসে তরবার তরে, কর মন ঐ নাম ধারণ ।
হরি বলে ডালে পরে, হরি আর রইতে নারে,
হরি এসে করবে তােমার, শমন বারণ । (দুঃখ নিবারণ)
ঐ নামে তরিল প্রহলাদ, সে বুঝেছে নামের স্বাদ,
তাই বলি মন ভক্তিভরে, ডাক ব’লে অধমতারণ ॥২৷৷
পূরবী—আড়া।
( দিবা অবসান হলাে এই সুর)
কি কর বসিয়ে মন পারের উপায় করেছ কি ?
হরি বলে ডেকে এবার রিপুগণে দাওরে ফকী।
আয়ুসূর্য অস্ত প্রায়, এইবেলা কররে উপায়,
ভক্তিকুসুম দিয়ে এপায়, পূজা করে দেখ দেখি,
যখন আসিবে শমন, কি জবাব দিবিরে তখন,
কর প্রভুর নাম কীৰ্ত্তন, শেষদিনের আর নাইরে বাকি ॥৩৷৷
দ্বিতীয় তরঙ্গ। ২১ বাগেশ্রী-মধ্যমান। {কোথায় আনিলে আমায় কি একি রূপ হেরি হরি ) শীঘ্র মন কররে তুমি অন্তিমের গতি। মিছে মায়ায় মুগ্ধ হয়ে, রয়েছ মন সার ভুলিয়ে, সর্বদা ভাবহে তুমি সেই জগতপতি। ভাই বন্ধু আত্মীয়গণ, ভবে কেহ নয়রে আপন, অন্তিমেতে হবে কি মন, কেহ সাথের সাথী ? তাড়ায়ে রিপু ছয় জনে, মত্ত হওরে কৃষ্ণনামে, দাস গণেশ গােবিন্দ ভণে, এই সংসার মায়া বিভূতি, এই কথা জেনরে সার, সংসারে কেবল সং-সার, নাম বিনে সবই অসার, ঐ নামে যাওরে মাতি ॥৪॥ ( শ্মশান ব’লে কিবা ভয় এই সুর) (ওরে) ভ্রান্ত মন, কর কি চিন্তে। চিন্তামণি ধনে, ভাব ভক্তিমনে, যাতে যাবে পদপ্রান্তে। যে চিন্তাতে পাবে চিন্তামণি ধন, সে চিন্তাতে কেন হওনা রে মগন, বৃথা চিন্তায় আর মজোনারে মন, কর চিন্তামণি চিন্তে। এ সংসারে আর থেকোনা সং-সেজে, হরিপদ সেবায় থাক সদা মজে, এ ভবে কজনা শ্রীপদ না ভ’জে, যায় শ্রীচরণ প্রান্তে।
দ্বিতীয় তরঙ্গ।
ধ্রুব প্রহলাদাদি যত ভক্তগণ,
পদ ভ’জে পেল গােবিন্দচরণ,
তাই বলি মন ভজ সেই মতন,
তবেই পদ পাবে অন্তে ॥৫||
(“কার মূরতী রে মন চিননা কি উহারে”) এই সুর
হরি বলে বাহু তুলে নাচরে ও মন ভোলা।
এইবেলা যদি না বল তবে কি আর হবে বলা।
সময় ফুরায়ে এল, কবে হরি ববি বল,
পার হ'তে এ ভবনদী, আশ্রয় হরিচরণ ভেলা।
“সাধুসঙ্গ নাম কীৰ্ত্তন ভাগবত শ্রবণং
কররে মথুরায় বাস শ্ৰীমূৰ্ত্তি শ্রদ্ধায় সেবনং”
এই পঞ্চ অঙ্গ ভক্তি, ধররে বাড়ায়ে ভক্তি,
মহাপুরুষের উক্তি, কখনও ক’রনা হেলা।
অখণ্ড মণ্ডলাকার যিনি নারায়ণ,
তার পাদপদ্মে কর আত্ম সমর্পণ,
যাহা কিছু দেখ আর, সংসারে সবই অসার,
সরি বলতে সেই সারাৎসার, অলৌকিক হয় যার খেলা ॥৬৷৷
হাম্বির—যৎ।
(তারে ভােলা হ’ল এ কি দায়)
মিছে কেন কাটরে দিন মিছে গণ্ডগোলে।
যত দেখ ভবালয়ে জড়িত সব মায়াজালে ।
দ্বিতীয় তরঙ্গ।
२७
বলেছিস কি আসাকালে, ভবে এসে কি করিলে ?
সময় তাে তাের যায়রে চলে, দেখনা জ্ঞানচক্ষু মেলে।
বিষয়বিষে হ'য়ে মত্ত, সব হারালি গুরুদত্ত,
দিনে দিনে দিন গত, উপায় কি তাের শমন এলে ? ॥
রাগিণী ঝিঝিট—একতালা।
১। (একবার তােরা মা বলিয়ে ডাক )
২। (শ্মশানে কেন মা গিরিকুমারী )
যাঁর দয়াবলে এলে ভূমণ্ডলে, কেমনে বা ভুলে রয়েছ তারে।
অসারে থাকিয়ে,অসারে মজিয়ে,ভুলে গেছ তুমি সেই সারাৎসারে।
ধন অভিমান গৃহ পরিবার,
রেখােনা সংস্রব কর পরিহার,
নিদানের সাথী কেউ হবেনা আর,
কেন বন্দি হয়ে র’লে এ সংসারে।
সাধক পুরুষ যদি হতে চাও,
সাধুগণ সঙ্গে হরিগুণ গাও,
নামের তরঙ্গে সাধক প্রসঙ্গে,
সাদরে সাধরে সেই সারাৎসারে ॥৮||
ঐ সুর।
ডাক বারে বারে, শ্রীকৃষ্ণ মুরারে, গােপাল গােবিন্দ মুকুন্দ সৌরে।
(তবেই) পবিত্র চরণে, পবিত্র স্থানে, পবিত্র হইয়ে রবি রে।
২৪
দ্বিতীয় তরঙ্গ।
ত্যাজ্য করে সব বিষয় বাসনা,
শ্মশানেতে শঙ্কর করি উপাসনা,
( সদা) বিশুদ্ধ সাধনে, পূরায় স্ববাসনা,
সে নামেতে মজিয়ে রে।
ভবে যেবা তারে ভক্তিভাবে ভাবে,
সে-কিরে কখনও পড়েরে অভাবে,
দেখ কত পাপী ভবে নামের প্রভাবে,
অনায়াসে তরে গেল রে।
যে সময়ে তুমি পড়িবে বিপদে,
সভক্তিতে কেন্দে পড়িও ঐ পদে
তাের, ঠেলে সব বিপদে, রাখবে নিরাপদে,
অন্তে কৃষ্ণপদে স্থান পাবি রে ॥৯৷৷
রাগিণী পিলু বাহার -যৎ।
(সুরাপান করিনে মাগাে” এই সুর)
হেলায়ে হারালি হরি হতভাগ্য কে তোের মতন।
হিরে কাঞ্চন ফেলে কেবা কাচগুলিকে করে যতন।
ব্রহ্মা আদি দেবগণ, যে পদ করে বন্দন,
সে পদ কি যায়রে পাওয়া, না করে ভজন সাধন,
অসার সংসারে মন, মজোনা আর অনুক্ষণ,
ধররে তার শ্রীচরণ, করে আত্ম সমর্পণ।
দ্বিতীয় তরঙ্গ।
২৫
এ মায়াসংসার মাঝে মজে আছ অকারণ,
নিত্য চিন্তা কর মন, চিন্তামণি হরি ধন,
সংসারে ঐ সার ধন, যে ধন হবেনা নিধন,
আর যাহা দেখ সবই, স্বপ্নলব্ধ ধনের মতন ॥১৩||
রামপ্রসাদী।
(মন) ডাকরে দয়াল হরি বলে।
তাের, ভয় ভাবনা যাবে চলে।
ভবে এসে রিপুর বশে মিছে বেড়াও সংসারডালে ;
যদি, ভবনাথকে ভাবতে পারি ভাবি তবেই সুখহিল্লোলে।
তাের, মানবতরির মাল্লা ছয়জন ছয়দিকে নিতেছে ঠেলে
তুই, হরিনামের লাঠি মেরে তাড়ায়ে দেনা সকলে।
যে দিন, শমন আসি গলে ফাঁসি দিবে তােরে কুতুহলে ;
সে দিন, মাতা পিতা বন্ধু ভ্রাতা শ্মশানঘাটে দিবে ফেলে।
পাপী তাপী রােগী ভােগী সব তরে ভাই নামটা নিলে।
পাষাণ গলে নামের গুণে, শিলা ভাসেরে সলিলে।
তাই বলি রে গোবিন্দ ডাক এগােবিন্দ বলে ;
তাের, মানবজনম হইবে সফল স্থ
পাবি ঐ পদতলে ॥১১৷
২৬
দ্বিতীয় তরঙ্গ।
১। (কাল বরণ রাধে হেরিবে না বলেছে এই সুর)
২। শ্মশান ভালবাসি বলে ঐ
রাগিণী খাম্বাজ-তাল যৎ।
সংসারবারিধি মাঝে আছে এক কর্ণধার ।
দয়াময় নামটী তঁাহার দয়ার আধার।
তারে পূজা কর যদি, সুখ পাবে নিরবধি,
দূরে যাবে ভবব্যাধি, ঘুচিবে মনের আঁধার ।
ধন জন পরিহরি, সার কর পদ তাহারি,
বিশ্বপতি সেই শ্রীহরি, রাখবেরে শ্রীপদে তাঁহার ॥১২/
(এত করে ডাকি খামায়) (তারে ভােলা হ’ল এ কি দায়!
হাম্বির-হৎ।
হরিনাম গানে মেতে থাকরে মূঢ় মন।
তিনি হে জগতপতি এ জগতজীবন।
মােহমায়ায় হয়ে মত্ত, ভুলে আছ সুসারতত্ত্ব,
ভাই বন্ধু দেখ যত, কেহ নহে আপন ।
যদি মনে থাকে আশা, কররে পদ ভরসা,
মিটিবে মনের পিয়াসা, দূরে যাবে জ্বালাতন ॥১৩
দ্বিতীয় তরঙ্গ।
২
ঐ সুর।
যায় যাবে যাক এপ্রাণ হরি হরি বলে ।
অন্তিমে পাইব পদ হরি বলে মরিলে।
মনটী সপেছি যারে, প্রাণ যদি চায় তারে,
হব সুখী জন্মান্তরে, তাঁহার করুণা বলে।
ভুলে যেয়ে ধন সম্পদ, যে ধরে তঁাহার পদ,
তার কি থাকে বিপদ, কখনও এ ভূমণ্ডলে। ১৪।
১। বিনয় করি মন রসনা, ২। গাড়িতে না চড়লে পরে।
সদানন্দে মনানন্দে বলরে হরি হরি
অকূল ভব জলধি অনায়াসে যাবে তরি।
কামাদি ছয় রিপুগণে, ছয়দিকে নিতেছে টেনে,
যাইতে চরণ সদনে, নাম বিনে আর নাই কাণ্ডারী ।
দেবাদিদেব গৌরহরি, জেতের বিচার নাহি করি,
মা’র খাইয়ে দয়া করি, সবে দিল নাম বিতরি।
সেই নামের গুণেরে তাই, জগাই মাধাই তার। দু’টি ভাই,
পার হয়ে এ ভবনদী, অনায়াসে গেল তরি। ১৫।
ঐ সুর।
পূজরে মন দিবানিশি সেই দেবারাধ্য ধনে।
ভবপারে যাবিরে তুই যাঁহার দয়া গুণে।
২৮
দ্বিতীয় তরঙ্গ।
যে নামে হ'য়ে উদাসী, শিব হয়েছেন শ্মশানবাসী,
ত্যজিয়ে মধুর কাশী, সদাই রত সাধনে।
দেখরে মন চিন্তা করি, হরিনাম পারের কাণ্ডারী,
ভাব দিন বিভাবরী, কেটে মায়ার বন্ধনে।
ধন মান কুল শীল, কেবা সঙ্গে যাবে বল,
এইবার কর নাম সম্বল, ছেড়ে এ তুচ্ছ ধনে। ১৬।
১। কোথা হে কাঙ্গালের হরি এই সুর।
২। ডুবলরে তাের মানব তরী ঐ
৩। দুর্বলের বল এই হরি নাম ঐ
(মনন) দয়াল নামে বাদাম তুলে দাওরে ভবনদী পাড়ি।
মিছে কেন ভবমাঝে করিতেছ ঘুরাফিরি।
ঐ দয়াল নামে নাইরে কোন ভয়,
তাইতে মন তােরে আমি দিতেছি অভয়
কোন, ভয়ে প'লে সেই দয়াময়, হবেরে তরির কাণ্ডারী,
তাের মাল্লা ছয় জন বড়ই রে পাজি,
হরিনামের বাদাম দিতে কেউ নয়রে রাজি,
নদীর তরঙ্গ উঠছে ভারি, তুমি সদাই থেক হুসিয়ারি।
(নাম না ভুলে ) ১৭।
দ্বিতীয় তরঙ্গ।
২৯
(ঐ সুর)
ভাবরে মন ঘরে বসে গুরুর চরণ।
গুরু বিনে আর কে তােরে নিবেরে প্রভুর সদন।
মােহ নিদ্রায় অচেতনে, রয়েছ হারায়ে তুমি সেই ভক্তি ধনে,
ওহে ভক্তিদাতা গুরু বলে, ডাকরে মন অনুক্ষণ।
সকলে এ মহীমণ্ডলে, সেই গুরুকে পূজা করে তরাবে ব'লে,
গুরু, সহায় থাকতে নাই ভাবনা ভজরে তার যুগলচরণ। ১৮।
(ঐ সুর)
( ওমন ) কতদিন আর করবি ভবে আমার আমার।
তাের, কতদিন ফুরা’য়ে এল মন ভেবে দেখনারে একটীবার।
গৌরাঙ্গ অবতারে, যেচে যেচে এই হরিনাম দেয় ঘরে ঘরে,
সে যে মার খাইয়ে দয়া করে, এমন দয়াল কে আছে আর ।
সাধুগণে করতে পরিত্রাণ, দুষ্টবৃত্তি নরদিগের বধিতে পরাণ,
ধৰ্ম্মস্থাপন হেতু তিনি, যুগে যুগে হন অবতার।
পরম পুরুষ গৌর নিতাই, ধর যদি তাদের সঙ্গ কোনই
চিন্তা নাই তুই অনায়াসে চরণ পাবি ( এমন ) সুখের দিন তাের
হবেনা আর। ১৯।
(ঐ সুর)
ভবে ব’সে ভবনাথকে ভাবরে যদি।
তবেই সুখ শান্তি দুই হবে দূরে যাবে ভব ব্যাধি।
৩০
দ্বিতীয় তরঙ্গ।
০
দুষ্ট রিপু আছে ছয় জনা, সবে মিলে দিতেছে তােরে কুমন্ত্রণা,
ঐ রিপু দমন নামটী হৃদে ধ্যান কররে নিরবধি।
ভক্ত ধ্রুব ভজিয়ে, তঁাকে অনায়াসে গেলরে চলে ধ্রুবলােকে,
সদাই পদ সেবা করে সে যে হরিময় করেছে হৃদি। ২০।
১। নিতাই শমন দমন নাম এনে কিম্বা ২। হরি দিন ত গেল সন্ধ্যা হল
ঐনা নিতাই ডাকছে আয়রে সবে মধুর নামটী নিতে
ঐ নাম নিলে উদয় হয় আনন্দ নিরানন্দ চিতে।
প্রেম পিপাসু যারা, স্বরাতে যেয়ে তারা,
খাচ্ছে প্রেম বারি ধারা, ডুবে প্রেম নদীতে।
যত শােকী তাপী পাপী, সকলেই তরিবি,
গােবিন্দ নামের গুণে।
ত্বরা করে চল, হরি হরি বল,
সকলে প্রেমেতে মেতে ( ও ভাই জগতবাসী) ২১।
সংকীৰ্ত্তন (হরিবােল বল জগাই মাধাই এই সুর)
দেখ মন হরি নামের গুণ।
নামে নিভে তাপীর মনাগুণ।
ঐ নাম দুর্বলের বল, ঐ নাম পারের সম্বল,
প্রেমানন্দে বাহুতুলে হরি হরি বল ;
ব্রহ্মা বনবাসী হ’ল জেনে নামের গুণাগুণ ।
দ্বিতীয় তরঙ্গ।
এমন নামত নাই ভবে, দেখরে নামের প্রভাবে,
কত হয়ে গেল যে সব নাহি সম্ভবে ;
পাষাণ মানব হ’ল ভাইরে ধূলর কি আশ্চর্য গুণ।
যে জন যে ভাবে ভাবে, তারে পায় সে সেই ভাবে,
ধ্রুব গেল পদ পাশে যাহারে ভেবে ;
তাইতে বলি মনরে ভজ পরম পুরুষ ব্ৰহ্ম নিগুণ। ২২।
(ভক্তি ডােরে না বাঁধলে কি কৃষ্ণ বাঁধা রয় )
তােরা, আয়রে সবে মিলে ও ভাই,
(আজি প্রেমানন্দে হরি গুণ গাই।
উত্তরিতে এ ভবনদী হরিনাম বিনে আর গতি নাই।
ঐ নামের গুণে তরে গেলরে জগাই মাধাই দুটী ভাই।
নামে ধ্রুব প্রহলাদ উদ্ধারিলরে বদন ভ’রে বল সবাই।
(শ্রীরাধা গােবিন্দ ) ( একবার বল বল ) (শ্রীরাধাগােবিন্দ
নাম ) ( বল্লে, তাপিত অঙ্গ শীতল হবে ) (ভব যাতনা দূরে
যাবে ) ( কিছুই রবেনা রবেনা) (পাপ তাপ দূরে যাবে
( আমি, তাইতে বলি হরি বল ) (জনম পেয়েছ ভাল )
(মনুষ্য দুর্লভ জনম ) [ (একবার ডাকরে ডাকরে )
(শ্রীরাধা গোবিন্দ বলে) (তাের শমন ভয় আর রবেনা)
(যদি ডাকার মত ডাকতে পারিস্) (যেমন ধ্রুব প্রহলাদ
ডেকেছিল ) ( তারা অনায়াসে চরণ পেল )] ইত্যাদি
५२
দ্বিতীয় তরঙ্গ।
ঐ নাম গােলকে গােপনে ছিলরে (এনে) বিলাইল
গৌর নিতাই।
ঐ নাম শবােপরি বসে ভাবেরে সর্বদা শিব গোঁশাই। ২৩ |
( নিতাই শমন দমন নাম এনে ২। হরি দিনত গেল এই সুর)
নিতাই প্রেমের ভাণ্ড নিয়ে এল নদীয়া নগরে।
প্রেম পিপাসু ন’দে বাসী ঘেরিল নিতাই রে।
তুমি কোথা হতে, এলে নদীয়াতে, এমন শুধু মাখা
হরি নামটী কে দিল তােমারে।
নিতাই ডেকে বলে, ধর নাও সকলে, এই নাম তােদের
জন্য এনেছি ভাই দিতে ঘরে ঘরে।
প্রেমে পুলকিত হয়ে, নাচিয়ে নাচিয়ে বলরে সকলে হরে
বলে দাস গােবিন্দ ও নিতাই চাদ প্রেম ফাঁদে
বধ মােরে। ২৪।
ভৈরবী-দারা।
( তুমি কাদের কুলের বউ)
তােরা কে কে যাবি আয়।
( আমার) নিতাই চাদ প্রেমের নৌকা খুলে দিয়ে যায়।
এই বেলাতে না আসিলে, ডুবে মরবে মায়া জলে,
প্রেমের নৌকা চলে গেলে, (পড়ে) রবি কিনারায় ।
নিতাই চাদের প্রেমের নৌকায় যে চড়ে সেই পার হয়ে যায়,
পয়সা কড়ি লাগবেনা তায়, এলে এই বেলায়।
দ্বিতীয় তরঙ্গ।
(“নিতাই শমন দমন নাম এনে” এই সুর)
আজ, হরি নামের প্রেম নদীতে চল্ ডুব দিয়ে আসি
ডুব দিলে প্রাণ শীতল হবে ( নাম ) হৃদে রবে পশি।
তাের ত্রিতাপ জ্বালা, মনের কালা, দূর হবেরে নিমেষ
কালে, (যাবে) আনন্দ সাগরে ভাসি।
তার বাঁশীরগুণে, উজান চলে যমুনে, শ্রীরাধিকা
আপনি এসে, হ’লরে তার দাসী।
তাঁর নামের বলে, সলিলে ভাসে শিলে, আবার
শিলে মানুষ হ’ল চেয়ে দেখরে জগতবাসি।
এমন সুমধুর নাম, হরে কৃষ্ণরাম, গানকর সকলে বসি।
তাঁর রাঙ্গা দুটী পদ, করিলে সম্পদ, হইবে গােলকবাসী।
(ও ভাই জগতবাসী) ২৬।
(“বল বল সুবল ভাই কেমন আছে কমলিনী রাই” এই সুর )
নিতাই, নদের বাজার দিয়ে যায়, আপনি মেতে জগতমাতায়।
ন’দে কি ছিল কি হ’ল চেয়ে দেখরে ভাই, নিতাইর,
রাঙ্গাচরণ ধূলায়।
দীনহীন কাঙ্গাল যত, কেহ বাকি র’ল না তাে,
সকলে প্রেম দিল রসরায় ।
তার নয়ন দু'টী দেখলে হৃদে আপনি, প্রেমের
অাবেশ হবে তায়।
৩৪
দ্বিতীয় তরঙ্গ।
আয়রে সবে মিলে যাই ভাই, হেরিগে সে দয়াল নিতাই,
লুটাই মাথা দোহ রাঙ্গা পায়।
এমন দয়াল নিতাই শরণ নিলে ত্বরাতে, হৃদি, রত্ন
নাকি পাওয়া যায়। ২৭।
(ঐ সুর)
(গৌর) হেলে দুলে চলে যায়, মুখে হরি হরি বুলি গায়।
আবার, শ্রীবাস অঙ্গনে যেয়ে গৌর আমার, হরি,
ব’লে ঢলে পড়ে যায়।
চৌদিকে লয়ে ভকত, আছে কত শত শত,
তা’তে কত শােভা দেখা যায় ;
নিতাই হরি নামে সারা দিয়ে বলিছে, তােরা,
নাম নিবি কে চলে আয়।
দিনেতে দেখি দু’বেলায়, যেচে যেচে প্রেম বিলায়,
কি পুরুষ কি কুল বালায় ;
(আবার) রা রা রা রা রা রা বলে ক্ষণে
ধূলাতে পরে লুটায়।
ভণে শ্রীগণেশ গােবিন্দ, আপনি হলে শ্রীগােবিন্দ
তবে কেন কান্দ রসরায়।
তােমার প্রাণ রয়েছে বৃন্দাবনে কেন বা, প্রেম,
দিতে এলে নদীয়ায়। ২৮||
ক
দ্বতীয় তরঙ্গ।
৩৫
রাগিনী খাম্বাজ-তাল যৎ।
{ “কাল বরণ রাধে হেরিবেনা বলেছে” এই সুর।)
হেররে মন ঐ মুরতী হেররে রূপ অনিবার।
এই দেখা প্রায় শেষ দেখা আত দেখা হওয়া ভার।
রূপের কিরণ এত, কোটি শশী বিরাজিত,
যেন চপলা সতত, হাসিছে বদনে তার।
অনেক দিনের তরে, চল্লে মন দেশান্তরে,
কবে যে আসিবে ফিরে, নিশ্চয় নাহিক তার। ২৯।
(“তাই ভাবিগাে মনে বিনা নিমন্ত্রণে” এই সুর )
কর মন সার, হরি সারাৎসার অসার সংসার ও কি জাননা।
মায়াপ্ত হতে,জাগরে ত্বরিতে, দেখরে জগতে কেউ নয় আপনা।
এসংসারে শুধু আসা যাওয়া সার,
যেদিকে চাই হেরি সবই শূন্যাকার,
অজ্ঞান অন্ধকার, কে ঘুচাবে আমার,
বিনে সেই সারাৎসার, আরত দেখিনা।
যে দেহ লইয়ে কর অহঙ্কার,
হবেই হবে একদিন নিশ্চয় নির্বিকার,
শুধু, মায়ার বিকার, জেন সবাকার,
শ্রীহরির চরণে প্রাণ সপনা।
* এই সঙ্গীতটী গ্রন্থকার বিদেশে যাওয়ার পূর্বে নিজ বাটীস্থিত
বিগ্রহদেব ঐশ্যামরায়কে লক্ষ্য করে লিখিয়াছিলেন ।
দ্বিতীয় তরঙ্গ।
ভাবিলে না ভ্রমেও ভবারাধ্য ধনে,
কি হইবে গতি গতি তাে দেখিনে,
অগতির গতি, সেই বিশ্বপতি,
তাঁর চরণে মতি কেন রাখনা।
ডাক ভক্তিভরে, সৰ্বগুণাকরে,
অনিত্য বাসনা অচিরে ছাড়রে,
শয়নে স্বপনে, কিম্বা জাগরণে,
গমনে ভােজনে ঐ নাম জপনা। ৩০
“খেলারশে ছিল কানাই কিম্বা ত্যজিব শয়নসুখ বিচিত্র পালঙ্ক এই সুর”
শ্রীগােবিন্দ নাম মন কররে স্মরণ।
যাহার কৃপায় পাবে অভয় চরণ।
ত্বরায় তাড়া’য়ে দুষ্ট রিপু ছয়জনে।
পান কর নামামৃত বসিয়ে নির্জনে ॥
অজ্ঞান তিমিরাবৃত তব হৃদাকাশ ।
ভক্তিসূৰ্য্য তাহাতে না হইল প্রকাশ।
ভক্তি দাতা হরি বলে ডাকনা কেনরে ?
হরি বই কে দিবে ভক্তি হতভাগ্য নরে ।
নামের তুলনা নাই এভব সংসারে।
সদা ভজ ভক্তি মনে ম'জোনা অসারে।
ভাবিয়ে দেখরে মন অসার সংসার।
হরিনাম বিনে ভবে নাহি কিছু সার।
দ্বিতীয় তরঙ্গ। ৩৭ রাজা প্রজা সমতুল্য তাঁহার নিকটে। যে জন ভজিবে তারে নিত্য অকপটে। ভক্তি সহ যেবা তারে পূজিবে সাদরে। সেই তাে পাইবে দয়া সংসার ভিতরে। তাই বলি ওরে মন, শােন সুসার বচন, কর চিন্তা চিন্তা মনি ধন। ধর ধর সাধু সঙ্গ, সদা কর ঐ প্রসঙ্গ, ভ্রমেতেও ভু’লনা কখন। মাতা পিতা ভাই বন্ধু, কেহই নহেরে বন্ধু, বিনা বন্ধু দীন বন্ধু হরি। ভক্তি ভরে তারে যদি, ভজ বসে নিরবধি, যাবে তবে বৈকুণ্ঠ পুরী। সংসারের গােলমালে, যেওনা ভঁহারে ভুলে, থাক সদা স্থির কাৰ্যে রত। ভক্তিতে ভজ গােবিন্দ, তবেই পাবে আনন্দ, সে আনন্দে সদা হও রত । ভুলনা সংসার ভ্রমে, ভজ সব মহাজনে, তবেই পারিবে হতে সুখী। জননী জঠর বাণী, ভুলিয়ে কি আছ তুমি, তবে কেন দিতেছরে ফাঁকী ? ইহা কি ফাঁকীর কাজ, ধররে ভকত সাজ, থাক সুখে সাধু সঙ্গ মিশে।
দ্বিতীয় তরঙ্গ।
সংসারে এসেছ একা,
শেষ কালে যাবে একা,
তবে কেন বৃথা থাক বসে।
দেখ সুম চিন্তা করে
এই অসার সংসারে,
ভক্তি বিনে সকলি বিফল ।
তাইতে বলিরে মন,
থেকোনা হয়ে এমন,
সদাই বলরে হরিবােল ।
দিবানিশি কেন আর,
কর আমার আমার,
দেখনা কি সংসারের গতি ?
মাখিয়ে সাজাও তনু,
কররে পবিত্রময় অতি ।
হরে কৃষ্ণ হরে রাম,
ভাব ব’সে অবিরাম,
দেখ দিন যায় বৃথা কাজে।
গণেশ বলিছে মন,
ভজ হরির চরণ,
মিশে যাও হরিপদ রজে। ৯ ৩১।
শ্রীহরির পদ রেণু,
* এই সঙ্গীতটী ১৩১৬ সালের ১৫ই পৌষ বৃহস্পতিবার শ্রীবিষ্ণু
প্রিয় বা আনন্দ বাজার পত্রিকায় প্রবন্ধরূপে প্রকাশিত হইয়াছিল। বলা
বাহুল্য, গ্রন্থকার মহাশয়ই উহা উদ্ধত করিতে দিয়াছিলেন।
তৃতীয় তরঙ্গ।
ব্রজলীলা
প্রভাতী।
(“রাই জাগ রাধে জাগ এই সুর” )
জাগ জাগ জাগ ওহে নাগর কানাইয়া।
(আর নিশি নাই) ( নিশি প্রভাত হয়েছে)
জীবন জুড়াব মােরা তােমারে হেরিয়া ।
সঙ্গীগণ সঙ্গে তুমি যেওনা বিপিনে।
তােমারে না হেরে মােরা থাকিব কেমনে।
রজনীতে রাধা সনে খেছ প্রেমের খেলা।
নিশি জেগে ঘুম দিয়েছে বুঝি সকাল বেলা।
ঐ যে পাপিয়ার কুহুতানে জগত জাগিল ।
ভ্রমরের গুঞ্জ রবে অন্তর দহিল ।
ঐ যে ডালে বসে শুক শারী ডাকছে কেন্দে কেন্দে।
ছেরে দাওহে প্রাণের কৃষ্ণ কে রেখেছ বেন্ধে।
শ্রীদাম সুদাম বসুদাম দাড়ায়ে দুয়ারে।
(শুধু তােমার তরে) (দাড়াইয়ে আছে)।
বলরাম ডাকছে তােমার শিঙ্গাধ্বনি করে। ১।
তৃতীয় তরঙ্গ।
(“উঠ রাধে বিনােদিনি রাই” )
উঠ প্রভু নন্দের গােপাল, নিশি সুপ্রভাত হ’ল হে
পূর্ব দিকে নবীন রবি এসে উদিত হ’ল হে।
ময়ুর ময়ুরী তারা নাচিতেছে ডালে।
কোকিল করে কুহু কুহু জগা’বার তরে।
অলি এসে ব’ল ফুলে মকরন্দ লােভে।
শুক শারী কৃষ্ণ বলে ডাকে তামাল ডালে। ২।
( “বল বল সুবল ভাই” এই স্বর)
ছেড়ে দাও মা জীবন কানাই।
সঙ্গে নিয়ে গােঠে চলে যাই ।
মােদের সঙ্গে দিতে তােমার প্রাণ কানাই,
কোন, চিন্তার ত কারণ নাই।
মােরা রাখালিয়া মতি, গােঠে যেয়ে নিতি নিতি,
কত খেলা খেলিয়ে বেড়াই ;
যদি, একা দিতে না চাও তােমার প্রাণ কানাই,
তবে, তােমায় সঙ্গে নিয়ে যাই।
কানাই নিয়ে গােঠে গেলে, কত লােকে এসে বলে,
এমন ছেলে কখন দেখি নাই
আবার, সিংহ পৃষ্ঠে চড়ে আসে এক নারী,
যেন তােমার মত দেখতে পাই।
তৃতীয় তরঙ্গ।
৪১
সে কোলে লয়ে নিলমণি, দশ করেতে খাওয়ায় ননী
তুমি কত খাওয়াও যশাে মাই ;
গােপাল, একবার ছেড়ে দুবার চেলে নবনী,
ধল, আর আমার ঘরে নাই।
পেটের দায়ে, আর কি করে, ফিরে ব্রজের ঘরে ঘরে,
চুরী করে কত ননী খায় ;
তুমি, এই দোষেতে বেঁন্ধেছিলে দু’হাতে,
ত’তে আমরাও হাতে ব্যথা পাই। ৩।
(“ডুবলরে তাের মানব তরী” এই সুর)
বাঁশী শুনে প্রাণ আমার কেন এত আকুল হ’ল।
না হেরিয়ে হল এমন হেরিলে বা যায়গাে কুল।
চল সখী যাই ধীরে ধীরে, হেরিগে সে কালরূপ নয়ন ভরে,
আমি, ঘরে যে থাকিতে নারি, উপায় কি তাই বল বল ।
মােহন মুরতীর পানে, চাহিয়ে থাকিৰ সখী এক ধ্যায়ানে,
আমি তারে পেলেই সবই পেলেম, জাতি কুল গেল গেল ।
সখী বলে শােন গাে ধনি, কদম গাছে হ'বে যখন মুরলী ধ্বনি,
আমি, তখন তােমায় নিয়ে যাব, জল আনিবার করে ছল । ৪৷৷
৪২
তৃতীয় তরঙ্গ।
রাগিণী ভৈরবী-একতাল (পয়ারে ঠংরী ।
(“পােহল রজনী, ভয় কি সজনী” এই সুর)
আয়লাে সজনী, শুনি বাঁশীর ধ্বনি, বলে বলুক লােকে
কলঙ্কিনী রাই।
ঘরে শ্বাশুড়ী ননদী, আছে বড়ই বাদী, কেবল নিরবধি,
তাদের ডরাই।
গিয়েছিলাম একদিন যমুনার ঘাটে, সেই দিন মনােচোরে
নিল প্রাণ লুঠে, ফুল তুলিতে গেলে যমুনার তটে,
বন মাঝে পরি বিষম শঙ্কটে;
সেই মননা চোরে এসে অঞ্চল ধরে, কত তােষামদে
তাহার হাত এড়াই।
ফুল তুলিতে যেয়ে একটু দেরী হলে, বাঘিনী প্রায় হয়ে
ননদিনী বলে, আয়লাে পোড়ামুখী দাদাকে আজ বলে,
দিবনা আর যেতে চক্ষের আড়ালে, বেন্ধে, হাতে গলে
তােরে, রাখব এনে ঘরে, দেখিস্ কেমন করে মজাটা দেখাই ।
সত্যি করে একদিন বেন্ধে হাতে গলে, শ্বাশুড়ী ননদী দুজনাতে
মিলে, লাঞ্ছনা গঞ্জনা কতই মােরে দিলে, সকলি সহিলাম
কপাল মন্দ বলে, পরে, প্রিয়তম স্বামী, আসিল অমনি
তারে দিয়ে হাতের বাঁধনি খােলাই।
নৈলে সেদিন আমার কি দশা যে হত, বােধ হয় তােদের
ছেড়ে যেতেম জন্মের মত, এ জীবনে কষ্ট সহিয়াছি যত,
নারিব বলিতে এক মুখে তত, কেবল, কৃষ্ণের দয়াবলে,
আছি ধরাতলে, নিরখিয়ে তারে পরাণ জুড়াই। ৫।
তৃতীয় তরঙ্গ।
৪৩
রাগিণী ঝিঝিট মিশ্রিত—তাল খয়রা
(কার উপরে মান করিব” এই সুর)
আমি কি সুখে আর রব ঘরে।
আমার হৃদয় রঞ্জন, সে নীল রতন, যদি না পাইব তারে।
সখি, তােমরা যা বল মােরে, প্রাণ দিয়েছি তার করে,
ডুবেছি তার প্রেম সাগরে, জীবনের তরে ;
আমার, প্রাণ সখা, এনে দেখা জুড়াব প্রাণ ভরে হেরে।
যােগিনীর বেশ ধরে, ফিরব ব্রজের ঘরে ঘরে,
কি ভয় আর এ কুলেরে কিছুই আমি রাখব নারে ;
আমার বলতে যা ছিল তা সকলি দিয়েছি ছেরে।
কালা চঁাদের মধুর হাসি, মম হৃদে র’ল পশি,
রাহুভয়ে যেন শশী এসেছিল ব্ৰজপুরে ;
আমায়, কেউ ক’রনা মানা সখী, এমন চাদে দেখিবারে। .
( আমি থাকব না গাে অসার গৃহ আবাসে
গৃহে থেকে কি ফল আছে।
“ধন পরিজন, বসন ভূষণ,কতই রতন আছে,এসব কিছু নয়,
যদি গাে না রয়, কালিয়া রতন কাছে। ( এমন দেখি নাই,
আমার, কালিয়ার মতন ভুবন মােহন রূপ দেখি নাই)।
কুসুমের হাসি, শরতের শশী, হাসিতে দেখেছি কত ;
কারাে হাসি নয়, এত মধুময়, কালিয়া হাসির মত।
'৪৪
তৃতীয় তরঙ্গ।
রসে গর গর, রসিয়া নাগর, রসের মূরতি খানি;
হাসিতে কান্দিতে কত রস ঝরে আপনি রসের খনি।
তার মূরলীর গানে, তেরছ নয়নে কি জানি রেখেছে গুণ।
যেখানে সেখানে, যাহারে সন্ধানে, তাহারে করেগাে খুন।
(কেন না কাঁদিব, যদি কেঁদে কেঁদে তার দেখা পাওয়া যায়,
কেন না কঁদিব)।
তারে যেবা চায়, কথায় কথায়, তারে সে কত কাঁদায় গাে ;
আগে দূরে থেকে, পরখিয়ে দেখে, তবু কি তাহারে চায়গাে।
(যদি তেমন দেখে, হাতে চোখ মুছে আর তারে ডাকে)
তবে দয়াময়, হইয়ে সদয়, তারে আপন করিয়ে লয় গাে
1;
কালিয়া পীরীতি, কালিয়া ভকতি, যার তার হবার নয় গাে।
( আমি কুল দিয়ে সই কি করিব, যদি
গগাকুল চাদে না পাইব)
যত জাতি মান কুল, সব মনের ভুল,
হরি সে সবার মূল গাে ;
তার নাই কুলাকুল, (কিছু চায়না, কিছু চায়না, কিছু চায়না,
কিছু চায়না হরি ; কেবল মন চায় আমার বংশীধারী)।
সেই সে পায় কুল শ্যামকুলে যার কুল গাে।”
আমার হৃদয়রঞ্জন, সে নীলরতন, যদি না পাইব তারে ॥৬৷৷
(“ডুবল রে তাের মানবতরী )
কেন সখী গেলেম আমি যমুনাতে জল আনিতে।
জল আনিতে যেয়ে ঐরূপ বেঝে র’ল নয়নেতে ।
তৃতীয় তরঙ্গ। ৪৫ যে দিকে চাই সেই দিকে দেখি, কাল বরণ হৃদয়রতন সেই কমল আঁখি, ঐ রূপ দেখে আমার কুল গিয়েছে, পারিনে আর ঘরে রইতে। হেঁটে যেতে যেন শব্দ পাই, সাথে সাথে চলছে আমার নাগর কানাই, আমি ফিরে চেয়ে দেখিনা তায়, উপায় কি তাই বল ললিতে। কালিয়া পীরীতি যে করে, হতভাগ্যা তার মত নাইগাে সংসারে, তার এ কুল ও কুল দুকুল যাবে, জন্ম যাবে কাঁদতে কাঁদতে ॥৭॥ (“আমিতো তােমারে চাহিনে জীবনে”) মিশ্র কানেড়া-একতালা। আমার, পরাণ লইয়ে,গেল লুকাইয়ে,খুজেতাে পেলেম না তাহারে। শয়নে স্বপনে, নিশি জাগরণে, সতত মনে পড়ে তারে। অন্য চিন্তা যদি কভু মনে করি, সামনে যেন ঐরূপ নয়নেতে হেরি, ধরতে গেলে তারে ধরিতে না পারি, পড়েছি বিচ্ছেদ-সাগরে । কালিয়া চাদের মধুমাখা হাসি, মম হৃদাকাশে র’ল গাে প্রকাশি,
৪৬
তৃতীয় তরঙ্গ।
কাল রূপ দেখতে কতই ভালবাসি,
সেতাে আমায় চাহেনা ফিরে।
যমুনা-পুলিনে জল আনিতে গেলে,
গাছে থেকে বাঁশী রাধা রাধা বলে,
দেখিতে না পাই থাকে কোন আড়ালে,
ভাসিতেছি নয়ননীরে ॥৮||
কীর্তন।
(“কানু কহে রাই” এই সুর)
ওহে, শ্যাম নটবর, মূরতী সুন্দর, বনমালা শােভে গলে।
“তাহে ঠমকে ঠমকে, চপল চমকে, অলকা তিলকা ভালে।
(কিবা শােভা হ’লরে, অলকা তিলকা ভালাে,
(চপলা চমকে তাহে।)
ওহে নব জলধর, পরে পীতাম্বর, বাঁশরী লইয়ে করে।
কটিতে কিঙ্কিণী শােভিতেছে ভাল, শিখিপুচ্ছ চূড়াপরে।
রস ডগমগ, সুকোমল অঙ্গ, চলে যবে হেলে দুলে।
পদে রুনুঝুনু, নূপুর বাজনা, কানেতে কুণ্ডল দোলে।
কিবা মনােহরা চূড়া,পীত ধটী পরা, বামেতে হেলিয়ে দোলে।
তাহে ত্রিভঙ্গিম ঠামে, রাই লয়ে বামে,দোলাতে দুজনে দোলে।
সখীগণ সঙ্গে, কত রসরঙ্গে, করিছ প্রেমের খেলা।
চন্দনে চর্চিত,অঙ্গ সুশােভিত, মােহিত ব্ৰজের বালা ॥৯৷৷
তৃতীয় তরঙ্গ। ৪৭ কীর্তন। (রজত কাঞ্চনে, না খানি সাজান” ১ম পয়ার ঐরূপ) প্রেমে তনু জরজর, মূরতী অতি সুন্দর, আমার গােরা রসরায়। নদীয়ার পথে পথে,ভকত লইয়ে সাথে,মুখে রাধা রাধা বুলি গায় । কারে বলে হরি বল,কারে বলে রাধা বল,কারে বলে কোথাবৃন্দাবন, বলে সব ভক্তগণে,চল যাই বৃন্দাবনে,হেরিব সে রাধার বদন। নিতাই শুনিয়ে কয়, চল প্রভু দয়াময়, (যাব) বৃন্দাবনে রাধিকা আগার। এত বলি প্রভু লয়ে, যায় পথ ভুলাইয়ে, শান্তিপুর হয়ে গঙ্গাপার। দেখে গঙ্গা পার হয়ে, অদ্বৈত হয়েছে নেয়ে, গােরাকে পার করিবার ছলে। ( রাধার) প্রেমে হয়ে মাতােয়ারা, মুখে বলে রা রা রা রা, কখনও বা পড়ে ঢলে ঢ’লে । পরে, জিজ্ঞাসে সকলে গােরা, কোথা বা দিয়েছ পাড়া, এবুঝি সে মধুর বৃন্দাবন। কোথা, পিতা নন্দ মা যশােদে, চিনিনারে চিনায়ে দে, কোথা বা সে ব্রজগােপীগণ। কোথা বা সে বংশীবট, কোথা বা যমুনা-ট, কোথা মম প্রাণাধিকা প্যারী। (আমি চিনিনারে চিনায়ে দে, আমার, প্রাণাধিকা রাধা কোথা) তাহারে না হেরে মন, হল বড় উচাটন, প্রাণ জুড়াইব বিধুমুখ হেরি ॥ ( কোথা প্রাণাধিকা প্যারী) (আমি, চিনিনারে চিনায়ে দে)
৪৮
তৃতীয় তরঙ্গ।
কোথা সুবলাদি সখাগণ, কোথা নিকুঞ্জকানন, কেথা মম ধবলী
সাবলী। কালিন্দীর তীরে কেলী, করিব, সকলে মিলি, আর
বাঁশীতে বাজাব রাধা বুলি । (আমায়, নিয়ে চলহে,) (কালিন্দীর
তীরে আমায় ) ১০।
।
ঝিঝিট- খাম্বাজ
(“যমুনা পুলিনে কালা বাঁশী বাজালে”এই সুর।)
একি রূপ হেরি আজি কালিকা রূপিণী ।
জবা বিশ্বদলে কেন পূজে কমলিনী।
চূড়া ধরা কই রেখেছ, পীতবাস কৈ লুকায়েছ,
নরকরে ঘেরিয়েছ, কটী দেশ খানি।
পরিহরি বনমালা, গলে পছ মুণ্ডমালা,
পুরুষ, নারি হল একি জ্বালা, এসে দেখলাে সজনী।
লুকাইয়া মােহন বাঁশী, করেতে ধরেছ অসি,
নামটী তােমার কালাে শশী, আমরা সবে চিনি। ১১।
মিশ্র কানেড়া—তাল একতালা।
“আমিতাে তােমারে চাহিনে জীবনে এই সুর।
শােনলে সজনী, শ্যাম গুণমনী, নিশার শেষে কেন আইল এথায় ?
নিশার শেষে কেন, এথায় আগমন, এত রাত্রে কালা আছিল
কোথায় ?
যার কাছে থেকে রাত্রি কাটাইল,কেন তারে ছেড়ে মম কুঞ্জে এল,
বললাে সজনী ফিরে যেতে বল, কি হবেগাে এখন ধরিলে পায় ।
তৃতীয় তরঙ্গ।
৪৯
বড় সাধে আমি গেথেছিলাম মালা, আসার আশে ছিলেম
আসবে চিকণ কালা, বাশী হ’ল আমার সাধের ফুল মালা,
দিয়েছি ভাসায়ে যমুনার গায় ।
সুগন্ধি চন্দন পুষ্প আদি যত, রেখেছিলেম আমি করে সুশােভিত,
মনানন্দে বলছি আসবে প্রাণনাথ,সে আনন্দ আমার জলে
ভেসে যায় । ১২।
(কীর্তন—“কানু কহে রাই কহিতে ডরাই এই সুর। )
যবে দ্বারকায়, যেয়ে শ্যামরায়, হলে রাজ বেশ ধারী।
তখন, ব্রজবাসী দল, শশাকেতে বিহ্বল, বলে কোথা বংশীধারী ।
( একবার ব্রজে এস ) (ব্রজবাসী প্রাণে মল )
গগাকুল নগর, হয়েছে আঁধার, শুধু সে গােবিন্দ বিনে।
একচন্দ্র হরে জগত তিমির কি করে তারকাগণে।
যত ব্রজাঙ্গনাগণ, করয়ে ক্রন্দন, ত্যাজে অঙ্গ বিভূষণ।
কোথা বা বসন, কোথা বা আসন, কেবল, বলে দাওহে দরশন।
( ওহে নিঠুর হরি)
মােরা ক’রে অনশন, তােমা অন্বেষণ, করিতেছি নিশিদিনে।
এলাে থেলাে কেশে, পাগলিনী বেশে,
ফিরি বৃন্দাবনে বনে বনে । ( ওহে বন বিহারী )
মােদের বসন হরিয়ে, বৃক্ষে আরােহিয়ে,
ফেলেছিলে কত লাজে ।
৪
তৃতীয় তরঙ্গ।
তবু তােমা তরে, মরি সদা ঝুরে, কোথা হরি এস ব্ৰজে ॥
(মােরা ম’লেম প্রাণে )
ব্ৰজের ময়ুর ময়ূরী, আছে ভূমে পরি,
আর তারা নাচেনা ডালে।
শুক শারীগণ, ডাকে অনুক্ষণ, কোথাহে গােবিন্দ বলে।
পিক বধূগণে, সজল নয়নে, চাহিছে পথিক পানে।
ধেনু বৎস চয়, ইতস্তত ধায়, তৃণ নাহি খায় বনে।
তব, প্রেম ধনে ধনি, রাই মহাধনি, হয়েছে নির্ধনি প্রায়।
ধূলায় লুষ্ঠিতা, ক্ষণে মুচ্ছিতা, ক্ষণে চারি দিকে চায়।
বৃন্দাবনারন্য, কেন করে শূন্য কোথা গেলে প্রাণধন।
কেন হলে অদর্শন, দিয়ে দরশন, বাঁচাওহে দাসীর জীবন।
হয়ে তােমা অদর্শন, যায়হে জীবন, আহা মরি মরি মরি।
কবি কহে ধনি, আর কেঁদনা তুমি, আসবে কালা পুনঃ ফিরি
( তুমি আর কেঁদনা ) ( ফিরে আসবে চিকণকাল )
( ঘুচাইবে মনের জ্বালা )
(“বল বল সুবল ভাই”—এই সুর)
ঝাপ দিয়ে রাই মরবে যমুনায়।
রাইকে রাখা হ’ল বড় দায়।
তুমি ত্বরায় চল বৃন্দাবনে হে কানাই, (ত্বরায় )
যেয়েই দেখ কিনা তায়।
(তব) প্রেমেতে হ’য়ে চঞ্চলা, বল্ছে এনেদে মাের কালা,
নৈলে জলে ত্যাজিব এ কায় ;
তৃতীয় তরঙ্গ।
এই ব’লে অমনি কমলিনী রাই ধনি, (প’রে) ধূলায়
গড়াগড়ি যায় ।
ধরিয়ে তার দু’টী পায়ে, এসেছি কত বলিয়ে, চল্লেম মােরা
পুরি দ্বারকায় ;
(তুমি) ধৈৰ্য্য ধর একটু বস গাে রাধে, (রায়) এনে দিব
শ্যামরায় ১৪।
সংকীৰ্ত্তন (“বৃন্দাবন প্রেমরসেতে ভেসে যায়” এই সুর)
(আজ) কি আনন্দ বৃন্দাবনে দেখিরে ।
শ্যাম শশীর উদয় হ’ল তাপিত প্রাণ জুড়ায় হেরে ।
বামে দেখি এক নারী, রূপে ভুবন আলাে করি,
পরে নীলাম্বরী শাড়ী,আমার, গােবিন্দের প্রাণ হরে।
ব্রজের যত নর নারী, চলছে সবে সারি সারি,
হেরিতে ঐ রূপ মাধুরী, বড় আশা অন্তরে ;
কোন কোন ব্রজবালা, হাতে ল’য়ে পুষ্পমালা,
সাজাবে সেই চিকণ কালা, হরষিত অন্তরে।
(কেহ) সােণার বাঁটায় পান রেখে, অগুরু চন্দন মেখে,
দিবেরে তার রাঙ্গা মুখে ধরিয়ে করে ;
আর যত ভক্তদল, প্রেমেতে হইয়ে বিহ্বল,
বলছে সবাই বল হরিবােল, মূরতি হেরে হেরে।
আয়রে সবে দেখে আসি, রাধা শ্যামের রূপরাশি,
৫২
তৃতীয় তরঙ্গ।
যেজন ঐ রূপের প্রয়াসী, আয় ত্বরা করে ;
(আজি) রাধাকৃষ্ণ মিলন হ’ল দেখরে নয়ন ভরে। ১৫
হাের।
(“মনে ভেবেছিলাম তবে হরি” এই সুর)
আজি বড় শােভা হ'ল গােকুলে।
দোলায়ে দোলে গােবিন্দ দেখরে সকলে ।
বামে ল'য়ে শ্রীরাধারে বসে আছে দোলাপরে,
শিরেতে ময়ূরের পাখা, (আছে) বামেতে হে'লে ।
অপূর্ব হয়েছে শােভা, কালােতে লালের আভা,
তােমরা, দাওরে সবে ধন্য ধন্য, ঐ গােপী
কুলে।
রাইরূপে কেমন শােভিত, চন্দ্রমা হয় পরাজিত,
ঐ রূপের তুলনা নাহি, হয় ভূমণ্ডলে। ১৬ |
শ্রীশ্রীরাধাগােবিন্দো জয়তি -
চতুর্থ তরঙ্গ।
মাতৃ সঙ্গীত।
(“ওহে জটাধারী একি হেরি তব আচরণ কিম্বা
কোন্ গলিমে যায়া শ্যাম” এই সুর)
ওমা বীণাপাণি এস আমার হৃদয় কাননে।
মন ফুলে পূজিব সযতনে।
অন্তরে হয়েছে আশা, মিটাব মনের পিয়াসা,
শীতল কর কৃপাবারি দানে।
কালিদাস তাে তব কৃপায়, অমর হয়েছে ধরায়,
তেমনি কর মা কৃপা দীনে
“গগাবিন্দ গীতিকা” আজি, করে মাগাে ফুলের সাজি,
দিব ভক্তি ফুল তুলে চরণে ॥ ১।
রাগিনী ঝিঝিট- একতালা।
নমাে শ্বেতাঙ্গিনী, বীণাবাদিনী,নমামি ও পদকমল।
নমামি ভারতী, নমামি ও সতী, নমামি বিদ্যার গৌরবস্থল
তুমি মাগাে কৃপা করেছ যাহারে,
কোন চিন্তা তার নাহিক সংসারে,
কৃপাতৃষ্ণা আমার প্রবল অন্তরে,
কৃপাদানে কর শীতল ।
৫৪ তৃতীয় তরঙ্গ। মানব দেহের অজ্ঞান আঁধার, তুমি বিনে দূর কে করিবে আর, তব দয়া বলে সচল সংসাব, নতুবা হইত অচল। যা কিছু শিখেছি কৃপাতে তােমার, পারবনা জীবনে শােধিতে এ ধার, পুনঃ দাবি করে বলছি জোড় করে, রাখিও করিয়ে চরণতল ॥ ২॥ ভৈরবী--খেমটা। (“চাইবনা লাে কুসুম পানে” এই সুর) হেরব ঐ মূরতিখানি বিদ্যা-মুকুট-ধারিণী। তব শ্রীকমল করে, বীণা শােভা করে, কটিতে কিঙ্কিণী । কঙ্কণ পরিয়ে মাগাে দিয়ে বাল হাতে, কাণে দিয়ে কুণ্ডল রূপ দেখাও জগতে, গলে শােভে গজমতি, কুচযুগে মুক্তাতি, হেরব আমি ঐ মুরতি, দিবা কি রজনী সঙ্গীত কুসুম বনে ফুল করেছি চয়ন, সেই ভক্তিফুলে পূজব তােমার ঐ রাঙ্গা চরণ, তুমি হৃদয়ের ধন, হৃদে কর উপবেশন, আমার হবে জন্ম ধন্য, দেখা দাওগাে জননী ৩ | ৫৫ তৃতীয় তরঙ্গ। (জাগমা আমার দেহমধ্যে এই সুর ) সতত ডাকি মা বলে। মা ত ফিরেও চায়না আমা বলে। শােননা মা জগত জননী, হেরব তাের চরণ দুখানি, (যেন) হইমা তােমা ধনে ধনী, পদে, ঠেলনা কুপুত্র বলে । এবার মােরে কর দয়ে, দয়ার লেশ কি নাই হৃদয়ে, একবার, নেমা কোলে ও নিদয়ে, নৈলে, ডাকবনা গো মা মা বলে । গগাবিন্দ পড়িছে তাের পায়, করে দেমা একটা উপায়, যেন অন্তিমেতে ঐ রাঙ্গা পায়, স্থান পাই তব কৃপাবলে ॥৪॥ রামপ্রসাদী সুর চরণ দেমা তুলে মাথে। ঐ চরণ ধরে যেতে যেন পারি মা তাের সাথে সাথে । মনের কষ্ট সইতে আমি পারিনা মা কোনমতে ; তাই, মা মা বলে ডাকি আমি হৃদের জ্বালা জুড়াইতে। সংসারে সংসার-কাৰ্যে সদাই আমি থাকি মেতে; ওমা, তখন কি আর হয়গাে ডাকা তাইতে ডাকি হেটে যেতে। মা মা বুলি মন্ত্র বিনে, আর ত মন্ত্র দাও নাই সুতে; তাই, জপ করিমা ঐ মন্ত্রী যখন যাইমা ঘাটে পথে । যে, আইন করে দিয়েছ মাগাে, চলতে নারি সে আইনমতে আরও যদি পারি চলি ফিরি তােমার আইনের বিপরীতে।
তৃতীয় তরঙ্গ।
পারিনা মা কোনরূপে অবােধ মনকে বুঝাইতে;
সে যে নাম ভুলিয়ে জোর করিয়ে চলছে কেবল কুটিল পথে।
এর উপায় ত্বরায় কর মা গােবিন্দ পরে পদেতে;
আমি, যেথা দাড়াই সেথা সবাই লাঠি ভাঙ্গতে চায়গাে মাথে ॥৫৷
-
মিশ্র কানেড়—একতালা।
(“আমিতাে তােমারে চাহিনা জীবনে এই সুর)
কলঙ্ক কালিমা, ঢাকিয়ে দাওমা, তব ঐ পদরজ দিয়ে!
( নৈলে ) এভাবে এভবে, থাকিব কিভাবে, বেড়াব কি আমি
রােদিয়ে।
(আমায়) কি দোষে করিলে তব পদ ছাড়া,
বলমা আমি ভবে কোথা দিব পাড়া,
হয়ে পদহারা, ভবে থাকে যারা,
তাদের অশ্রুজল কে দিবে মুছায়ে ।
কুটিল নয়নে যেদিন চেয়েছ মা,
সেইদিন হতে কত পেতেছি লাঞ্ছনা,
(তােমার ) কৃপাবারি বিনে, কেবা ধরাধামে,
তরে মা অন্তিম সময়ে।
অর্থ ধনে ভবে হয়মা যেবা ধনি,
সেতাে নয়মা ধনি অধিক নির্ধ নি,
( যেজন) পদ ধনে ধনি, তারে, বলি ধনি,
ঐ ধন দাওমা দাসে থাকি ধনি হয়ে ॥৬॥
তৃতীয় তরঙ্গ।
৫৭
সিন্ধু খাম্বাজ-যৎ।
কোলে তুলে নেমা আমায় কেন দিস্ মা পায়ে ঠেলে ।
আমার ভরসা তােমার ঐ চরণ তাই ডাকি মা, মা মা বলে ।
মা মা বলে কঁদছি কত, কেন্দে কেন্দে হলেম হত,
রােষ করাটা নয় সঙ্গত, আমি যে তাের অধম ছেলে।
আমার এ দুঃখ দেখে মা, তাের প্রাণে কি দয়া হয় না,
তােমার এমন কঠিন হৃদয়, ফিরেও চাওনা পুত্র মলে।
তােমার এ কেমন ধারা মা, সন্তানে কর ছলনা,
ডাকিলে যে কথা কওনা, কি দোষে নিদয়া হ'লে। ৭।
(“এমায়া প্রবঞ্চময় ভবের রঙ্গ” এই সুর)
জেনেছি মা কেমন তুমি দয়াময়ী ভূমণ্ডলে।
মা মা বলে কঁদলে মা তুই একটী বারও নিস্না কোলে।
জানিনা যে তুমি মাগাে হ'য়েছ এত নিদয়া,
নিজ সন্তানের প্রতি নাহি একটু মায়া দয়া,
শােন গাে কঠিন হৃদয়া, একবার মাগাে হও সদয়া,
তুমি, কতজনে ক'রে দয়া, অভয় চরণে রাখিলে।
মনে মনে আশা আছে যাইব তােমার উদ্দেশে,
দেখি, যাইতে পারি কিনা মা অভয় চরণ পাশে,
হসনে নিদয়া দাসে, দাসের কষ্ট দেখনা এসে,
নয়ন জলে সদাই ভাসে, পরিয়ে দুঃখ সলিলে ॥ ৮ |
তৃতীয় তরঙ্গ।
(। “সেইতো রয়েছ গাে মা তুমি ২। আজ কেন এমন হলেম তারা”
বলমা আমায় রাখবি কিনা পদে।
প্রাণ চায় তােমায় ভক্তি ফুলে পূজব মনােসাধে।
হয়ে তােমার পদ হারা, প্রাণ থাকিতে প্রাণ হারা,
হয়েছি মা অপরাধী, তাইতে স্থান চাই পদে।
সন্তানের দুঃখহরা,
এইতো মায়ের প্রধান ধারা,
অজ্ঞানে কি পায়না ক্ষমা, শত অপরাধে।
নির্বোধ সন্তানে কত,
কান্দাবি আর অবিরত,
আমার মত কত শত, রেখেছিস্ ঐ পদে ॥ ৯।
রাগিণী গৌরী গান্ধার-তাল একতাল
( “মা মা বলে আর ডাকবনা” এই সুর)
মা বলে কতবা ডাকিব তােমারে
প্রাণ যায় মম তােমারে না হেরে ।
এইবার দাওমা দাসে রাঙ্গা পদধূলি,
আর ডাকবনা তােমায় বলে মা মা বুলি,
কি দোষে তনয়ে অকূলে ভাসালি,
বলমা তাই আমায় করুণা করে।
যে ছেলে জননীর স্নেহেতে বঞ্চিত,
কি কাজ আছে তার থেকে জীবিত,
তাই, হয়েছে গােবিন্দ বড়ই ব্যথিত,
মনের ব্যথা সবই র’ল মনান্তরে ॥ ১০ |
তৃতীয় তরঙ্গ।
(“সে কেনরে করে অপ্রণয়” এই সুর )
যে ভাল করেছ আমারে।
মাগাে মা, মাগাে মা ।
আমি, আর ভালতাে চাইনে মাগাে, এখন, নিয়ে যাও নিজ ঘরে।
দেখেছি কত শিখেছি, অপরেরে বুঝাইয়েছি,
কিন্তু, আপনি মায়ায় ডুবে আছি, এদোষ আমি দেই কারে।
কালের হাতে সপে দিয়ে, র’লে তুমি পালাইয়ে,
মা হলে কি থাকতে শুয়ে, ফেলিয়ে সন্তানেরে ।
কোন আশা নাইমা মনে, কি ধন চাব তব স্থানে,
গােবিন্দ পরে চরণে, যতনে রেখাে তারে। ১১।
(“সেইতাে রয়েছ গাে মা তুমি) ২।(আজ কেন এমন হলেম তার )”
মা আমায় কান্দাবি আর কত ?
কেন্দে কেন্দে দেখ না আমি জ্বলছি
পুড়ে
অবিরত ॥
নাও যদি অঙ্কে তুলে,
তবে কে আর নিবে কোলে,
ভবে,এমন আপন কেউ থাকিলে,তােমায় কি আর ডাতেম এত।
আছি দুঃখে নিরবধি, তাইতে কেন্দে তােমায় ডাকি,
তুমি, প্রতিজ্ঞা করেছ নাকি, চাবেনা, গােবিন্দ হ’লে নিহত ॥১২৷৷
তৃতীয় তরঙ্গ।
যােগিয়া—একতালা
(“আমার সাধ না মিটিল আশা না পুরিল”)
আমার মনের বাসনা,
গেলনা গেলনা,
ডুবে যায় আয়ু বিভাকর।
তাই, বাসনা পূরাতে,
হৃদি আসনেতে,
এসে বস মাগো করুণা আকর।
সাজায়ে রেখেছি মম হৃদাসন,
যদি দয়া করে কর উপবেশন,
পিয়াসা মিটায়ে করিব দর্শন,
অতি সমাদরে মূরতি তােমার।
মনের বাসনা নিয়ে যদি মরি,
পাবনা মা শান্তি পেলে পদতরি,
আমি, ডাকিতেছি তােমায় বহুদিন ধরি,
দেখা কি পাবেনা এ কিঙ্কর ? ১৩।
ঝিঝিট খাম্বাজ
১।“ ভুলিনে ভুলিনে তারা ”। “সাধে কিরে জগা তােরে” }
ভালতে শিখেছ মাগাে কান্দাইতে নিজ সুতে।
দিবানিশি কান্দাইতেছিস্ তাের, কোন্ আইনের বিচার মতে।
কুপুত্র মার হয়গাে কত, কুমাত কখন নয়তাে,
( শাস্ত্রেতে আছে লিখিত) (সে ধারা তাের পদানত)
(তাইতে কষ্ট দিচ্ছ এত) (আমি যে তাের অনুগত)
( কষ্ট দেওয়া কি হয় সঙ্গত) পারি না আর এ দুঃখ সহিতে।
চতুর্থ তরঙ্গ।
মাগাে, তুমি বিনে এ সংসারে, মা বলে আর ডাব কারে,
(বলে দাওমা তাই আমারে ) (একবার, পুত্র বলে নেমা কোলে)
(কেনবা নিদয়া হলে) (আমি যে তাের মূৰ্থ ছেলে )
(তাই বলে কি লবিনা কোলে) পদপ্রান্তে স্থান দিওমা অন্তে।১৪
কাফি সিন্ধু-কাওয়ালী
( ১। ওমা শ্যামা কত দিনে হব” “জাগগগা জননী”-এই সুর)
হৃদাশনে এসে বস মা।
আমি, জুড়াব জ্বালায় হৃদয় তােমারে হেরে মা।
জ্বালার উপরে জ্বালা কত জ্বালা সব আর,
এক দেহের সাধ্য কিযে সহে এ জ্বালার ভার,
অচিরে নিয়ে যাও মােরে, এ ভব সিন্ধুর পারে,
নতুবা ভবেতে আমি থাকিব কেমনে মা।
জনম দিয়েছ তুমি যেভাবে ভবের কুলে,
ভরিতেছে দেহতরি সতত কলুষ জলে,
নির্দয়ে নিজ তনয়ে, দুঃখ জলে ফেলে দিয়ে,
তুমি, কেমনে বা দেখিতেছ সন্তানের এ যাতনা ॥১৫৷
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.