Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Rasikratan
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
রসিকরতন। অর্থাৎ উপদেশ উপাখ্যান। চল র , স শ্ৰীযুত রানরত্ন দাস । কার কর্তৃক নব্য বিদ্যা ব্যবসায়িবর্গের ছি তার্থে নানাবিধ আদি ও শান্তিরসটিই বসাল সাধুভাষায় উপন্যাস ন্যার পয়াৱাদি ছন্দে বিরচিত। কলিতা । এne- চৈতন্যচন্দ্রোদয় যন্ত্রে মুদ্রিত। শকাাঃ ১৭৮৬। এই গ্রন্থ অবশ্য হইলে উক্ত গ্রীর নিষ ভবনে অলষণে প্রান্ত হইনি।
No text on this page.
সূচীপত্র
.
i.
.
অথ সরস্বতী বন্দনা
আসি
অথ গ্রন্থানুষ্ঠান
অথ অনুবাদ পত্র
অথ এন্থার
মখ সূর্যকে সৌভাগ্যৰূপে সম্বােধন ও
গােধুলিতে বরিষণ ইত্যাদি
অথ যমালয় বিবরণ
অথ গুরু মহাশয়ের উপদেশ
অথ বিদ্যাৰূপা পৰ্বত বিবরণ
অথ পরীক্ষা পরিচয়
অথ বিয় কর্তৃক তিন জনের পরীক্ষা
অথ শান্তি কর্তৃক তিন জনের পরীক্ষা
অথ রতি কর্তৃক তিন জনের পরীক্ষা
৭
. অখ অঘােরপন্থীর সহিত তিন জনের তর্ক বিতর্ক অথ সরস্বতী ৰূপ দর্শন ও বিবেকের উপ- দেশ গ্রহণ হুগলি কলেজ বর্ণ শুদ্ধিপত্র M পৃষ্ঠা আশ্রয় ক্রয় ১ প্রয়াণ পুয়ান “রম খরম সুখ যেন টের কে ৪ इन ১১ ১ সজ্জ ১৭ রৌদ্র গলিত টন গণিত টানা ৪৪ সুজন বাতুলে সভাকার সৃজন । বাননে ১৪ ৭ পাকার ৪ সবের শরের সমান সম্মান
পৃষ্ঠা পংক্তি
ইহ
হইয়ে
tv
অঞ্জন
ভুল
ভাল
বাতুলের বামনের
বােতনা রােনাম
বেষ্টন বেষ্টনে
সৱােত্র সরাসর
গ্রাম গ্রাম
ইন্দু
তিলাংশের তিনাংশের
৭৪
ইনু
}
৮৪
৯
আরােহণে আবাহনে
গানি গানি
মানবদেহরতন, পদার্থ মুধাসিন্ধু এবং চি-
কিৎসা রঞ্জন এই তিনখানি পুস্তক উক্ত স্থানে
প্রাপ্ত হইবেন।
অথসরস্বতী বন্দনা।
পয়ার।
বিদ বল করস্বতী তিমির নাশিনী।
তরুণ বরুণ শুক্ল জ্ঞান প্রদায়িনী ।।
শ্বেতপদ্মে রক্তপথ এ কি অসম্ভব।
নখচন্দ্রে দশ কলা হয়েছে উদ্ভব।
কিমাশ্চৰ্য্য কলেবর জগৎমােহিনী।
সঙ্গীত ঈশ্বরী স্মাৰ্যা বাক্য বিনােদিনী ।
মকরলে গুন্ গুন্ স্বরে ষষ্ঠপদে।
স্তব স্তুতি নাজানি স্মরি রাঙ্গাপদে।
ধন জন বিমরণ অহিক সম্পদে।
পাপপুণ্য প্রায় শূন্য চাদে প্রতিপদে।
অঙ্কু বিম্ব প্রায় চিহ্ন ধারণ গােস্পদে।
তব রূপাভাবে নরে ভুলনা দ্বিপদে ।
প্রিয়ােত্তম নহে কভু নয় প্রিয়ম্বদে।
অধিক কি কব আর মান্য গঢ়পদে।
190
কৃপা করি দেহ জ্ঞান দাসে উচ্চপদে।
রচিতে মানসগ্রন্থ পড়েছি বিপদে ।
হেরাে গাে অপাঙ্গে মত। উপপদে পদে।
অনায়াসে আসে যেন ভাব নিরাপদে ।
এই বারে দুরাচারে বুঝিৰে --ায়।
সন্তানে কেমনে ত্যাজ্য করে দেখি মায়।।
ত্যজিতে সকলে পারে কদাচার দোষে।
জননী ছাড়িতে নারে পুত্র কনা রোষে।
আভাস।
রিগ্রন্থ ভাষাসিন্ধু ভাষায় ভাসাই ।
ভবে ভােগভােগ ভাবঞ্চিৎ বােঝাই ।
সরলতা দাঁড় কবি হাল গাঁথা তার।
কপক মাস্তুল পালি শক্ত ভাব ৰায়।
পালিতে লাগিলে বায় দাড়ে কম জোর ।
হালে জোর পায় তায় ফলে ভাব ঘোর।
সাধারণ অরােহক হেরে তাড়াতাড়ি।
ভাৰতীর্ণ হয় পাছে গ্ৰন্থতরি ছাড়ি।
Ito
তুফান আভাসে যেন ছেড়নাক হল।
বরঞ্চ চাপিয়া ধর কাটিবে জঞ্জাল ।।
পবন না পালে পেলে দড়টানা সােজ।।
আনাড়ি হাতুড়ে মাজি মিলে বহু রােঝ।
বিচিত্র জরণ, সৃষ্টি বিচিত্র মানব ।
বিচিত্র মনের গতি বিচিত্র বৈভব ।
কার কিসে মজে মন নাই নিৰূপণ।
বিচিত্র ভাবিরে মনে বিচিত্র রচন ।।
আদ্য অন্ত দৃষ্টিপাতে করিবে সংগ্রহ ।
বিরসে কুযশঃ দিয়ে কর না নিগ্রহ ।
রসিক হইলে রস পাইবে অবশ্য ।
অরসিকে অপম সদা করে পোষ্য |
অথ গ্রন্থানুষ্ঠান।
যেমন নাট্যশালে বিবিধ প্রকার আকার
মুর্তিমানে নানা প্রসঙ্গ রঙ্গ ভঙ্গী সেই রূপ এই
}} • নগ্রন্থ কৌতুক ও কাবছিলে ধৰ্ম্মোপাখ্যান উপদেশ স্বৰূপ ৰূপ প্রকাশ করতঃ নানাবিধ বিধি যুক্ত প্রসিদ্ধ যুক্তি ব্যক্ত করণে সাধু সভ্য ভব্য গুণিগণের চিত্ত সংস্কার ও মনােরঞ্জনার্থে সরল সুললিত সাধু ও প্রচলিত সশান ভাষায় গীত সম্বলিত বিরচিত। গুণগ্রাহি পাঠকবর্গে অমদাদির দুই কষ্ট দূরীকরণার্থে অনুগ্রহ পুরঃ- সর গ্রহণ করিলে গ্রন্থকৰ্ত্তা পরমানন্দে আনন্দ স্বৰূপ উৎসাহকে প্রাপ্ত হইয়া ধন্যবাদ ক- রিবেন * অথ অনুবাদ । পয়ার। রসিকের রসসিন্ধু সুবর্ণ সুবর্ণ । রােগ শােক সুখ দুঃখ নানা বর্ণে বর্ণ। ভ্রমণে শ্রবণে শ্রান্তি শান্তি অবতীর্ণ । ভাবিলে ভাবুক ভাবে হইবে বিদীর্ণ ।
IVO
সিন্ধু যদি বল তবে করি বিবরণ।
নবীন প্রবীণ মীন হইবে মগন।
বিপুল বিনয়ে বলি অপরাধ ক্ষম।
বুঝিয়ে শােধন কর হর মম তমঃ ।।
গ্রহণে হরণ কর দীনের নিগ্রহ ।
দুর্দিনে মুদিন দেহু কর অনুগ্রহ $
উৎসবে ব্যসনে চৈব দুর্ভিক্ষে শাবিগ্রহে।
রাজদ্বারে শ্মশানে চ য স্তিতি স বান্ধবঃ ।।
পয়ার।
রাজদ্বারে শ্মশানেতে সহায় যে হয়।
দুর্ভিক্ষেতে আর শক্ত যুদ্ধের সময় ।
বিপদে বিপদ জ্ঞান উৎসবে উৎসব।
যাহার সমান জ্ঞান সেই সে বান্ধব।
সুখ দুঃখ ভােগভােগ শরীর ধারণে ।
ভােগের কে ভাগী হয় মৰ্ম্ম বুঝে মনে।।
দ্বিতীয় ব্যক্তির সঙ্গে না করিলে যােগ।
ভােগের যে ভােগাভোগ সকলি বিয়োগ ।
1000
অব্যক্ত যে গুপ্ত কার্য সঙ্গোপনে করি।
বন্ধু বিনে অনন্য কভু কহিতে শীহরি ।
সৰ্ব্বজ্ঞ জানিতে পারে অনা কেহ নয়।
মিত্রকে কহিতে মনে ভয় নাহি হয় ।
যদি বল বন্ধু কোথা নিবিড় গইনে।
বিদ্যার সমান নাই বন্ধু ত্রিভুবনে ।।
যাহতে উৎসবে যুক্তি ভক্তি ভক্তাধীনে।
জগৎবন্ধুকে কয় বন্ধু তিন গুণে।
প্রকৃতি পুৰুষ ৰূপে পরস্পরে বন্ধু।
হরি প্যারী প্রেমরসে বন্ধু সুধাসিন্ধু।
এখানে আত্মীয় ভাবে হরি প্যারী মিত্র ।
পুস্তক রচনা সূত্র বর্ণনা বিচিত্র।
রসিকরত। অথ গ্রন্থারম্ভ । আসসা এসো বাঁচাও এ দীনে। পিপাসায় , কাতর অধীনে। হেরে মাের কলেবর, ওহে নবজলধর,হিতার্থে ডাকি তােমায় কৃতার্থ কয় জীবের জীবনে ! জীবনে জীবন দেহ, নতুবা রহেনা দেহ, জ্বলি- তেছে অহরহঃ, রসনা শোষিণে । নাম- মৃত করি পান, শুদ্ধ আছে দেহে প্রাণ শয়নে স্বপনে জ্ঞান, স্বপ্ন ভােম। বিনে । (ধ্রু) পয়ার। সুখের সাগরে ছিল হুরি প্যারী মীন । মিত্রভাবে উভয়ের মুখে যায় দিন । क
রসিকরতন ।
শুকাইল কালে সিন্ধু কারণ অভাব।
কারণ অভাবে মীন হইল বিভাব ।।
স্নেহৰূপা স্রোততায় চলে নাই আর।
মিলন না হয় দেহে অভাবে আধার।
বন্ধুর স্বভাব সত্য যেমন অঙ্গার।
ছাড়িয়া না ছাড়ে ভাব প্রক্ষালনে তার ।
বিচ্ছেদের ধারা বহে নয়নে নয়নে।
সজল হইল সিন্ধু মিলিল দুজনে।
মীন বলি কহিলাম দুই মীনরাশি।
বয়সে উভয় সম স্বদেশনিবাসী ।।
কথােপকথনে দেহে মনের পবিত্র ।
প্যারী বলে কহ হরি জীবনচরিত্র।
শ্রবণে শুনাও হরি লিখিয়া প্রসঙ্গ।
হৃদয়দর্পণে সদা হেরিব প্রত্যঙ্গ।
অরুণ বরুণ সহ উৰ্বর মণ্ডল।
বন্ধুর কাহিনী হৃদে সদাই উজ্জ্বল।
এত শুনি হরি লয়ে কাগজ কলম।
কালি তুলি মনকালি ঘুচাইছে ভ্রম।
রসিকরতন।
কালী যদি কূল দেন অকুল সাগরে। •
প্রচলিত হবে, ইহা নগরে নগরে।
বাল্যকালে পিতা মাতা হইল নিধন ।
মণিহারা ফণিপ্রায় করি অন্বেষণ
বারিহীন' মীন যেন করি ধড় ফড়।
যেমন কুপন ঘােরে বসাইয়া ফড়।
যে দিক নিরখি আঁখি সে দিক আন্ধার
সুযােগ না হয় কিছু ধরিতে আধার ।।
এই ৰূপ কিছু দিন বিৰূপ হইয়া ।
আকাশ পাতাল ভাবি থাকিয়া থাকিয়া।
গৃহী উদাসীন প্রায় ফিরি পন্থে পন্থে।
আশ্রমে আশ্রয়াভাব হেরি নানা গ্রন্থে ।
হিতৈষি জনেক মিত্র হেরি মাের বাসা।
লয়ে গেল স্থানান্তরে দিয়া বহু আশা ।
যত্ন করি রত্নলাভ ফিরাইয়া মন ।
বিধিমতে বিদ্যাধন করি উপার্জন।
প্রতিবাদী হৈল জ্ঞাতি বিরুদ্ধাচরণে।
বিব্রত করিল তায় নানা প্রকরণে ।।
ন
৫
রসিকরতন।
পঞ্চ পাণ্ডবে বিবাদ যেন ঘরাঘরি।
পূর্বধন বিনশ্যতি করে জ্ঞাতি অরি।
তদন্তর বহুতর “করি পরিশ্রম।
উত্তীর্ণ হইনু কষ্টে মিলিল আশ্রম।
আশ্রমে আশ্রয় লয়ে মুখে হরি কাল।
সে আধারে হরে লয়ে গেল কালে কাল ।
কালা বুলে ডাকি কালাকালে কালা।
আর কারে কহি মাের ঘুচাইবে জ্বালা।
নিরুপায় পায় পায় হৃদয় ব্যাকুল ।
অকূলের কূল কালা হয়ে সানুকুল।
মনােমত দিলে ধন ৰূপে গুণে তুল।
অকুলে পাইয়া কূল ভূতগত ভুল ।
সুখের কারণ হয় মনের সন্তোষে।
স্বদেশে যেমন সুখ তেমন বিদেশে।
অকালে আসিয়া কাল কাল প্রতিরূপ।
সুৰূপে স্বৰূপে হরে হইয়ে লোলুপ ।
অনিত্য এ দেহ সবে কত বারম্বার।
এ পীড়ার উপশম নাই প্রতিকার ।
০
রসিকরতন।
শােকযুণ যে শরীরে ধরে একবার।
ফোপরা করিয়ে ফেলে অস্থির মাঝার ।
ভাবিয়া চেতিয়া ঠেকি শ্রয়ে নাই শ্ৰয় ।
যােগে যাগে পুনঃ তাই লইনু আশ্রয়
পুষ্প না ফুটিতে কুড়ি ধরায় পতন।
বাসরে বিধৰা যেন বিধির লিখন।।
জ্বলন্ত অনলে ঘৃত যেমন অর্পণ।
কাটা ঘায়ে লুণছিটা যাতনা তেমন।
জ্বালার উপর জ্বালা বিষে বিষ ক্ষয়।
এ জ্বালা ঘুচিয়ে পুঘােষণা উদয় ।
অকুল সাগরে পড়ি চতুর্দিগে বারি।
তৃষ্ণায় সহিতে আর হেরে নারি নারী ।।
সলবণসিন্ধুবিন্দু রসনা চাহেন।
ঠিক যেন ধরেভুদ্র ঘটনা সহেনা
নিবারিতে ডাকি ভাবি পতিতপাবনী ।
নিস্তারকারি তুমি কোথা নিন্তারিনি ।।
শােকের অবধি নাই দারা মুত ভগ্নী।
হৃদয়ে জ্বলিছে সদ। শােকশিখা অগ্নি ।
রসিকরতন।
নিৰ্ব্বাণ নাহিক হয় করি হাহাকার।
কুসুম মিলিল এক মুষ্টিযােগ তার ।
সামান্য যাতনা একি মুষ্টিযােগে যায়।
আগড় বাগড় দিলে বরঞ্চ বাড়ায় ।।
খুইয়েবন্ধনে পড়ি আনচান প্রাণ।
নাই চাই মহাশয় কে দেয় বিধান।
কি করিব চারা নাই বিধির বিপাকে।
পরিণয় পরিচয়ে ঘৃণা করে লােকে ।
আশ্রমে বিশ্রাম নাই চিন্তার বিক্রম।
যা হবার তাই হয় মিছে পণ্ডশ্রম ।।
দুঃখের অবধি নাই আশা আসা বিনে।
রােগের শমতা নাই চিন্তার অধীনে ।।
বিপদে পড়িলে বুদ্ধি হাবু ডুবু খেলে।
অনাটনে প্রত্যবধি কোথা ভিক্ষা মেলে ।।
প্যারী বলে বুঝে দেখ দক্ষযজ্ঞ ক্ষেত্রে।
যার জ্বালা সেই জানে জানেন ত্রিনেত্রে ।।
পীঠমালা স্থানে স্থানে আছে বিদ্যমান।
সম্বরণ কর মনঃ প্রসিদ্ধ প্রমাণ।
রসিকরতন।
হরি বলে দেয় বটে অপরে অবােধ।
পণ্ডিত ও দিক থাক্ প্রবােধে নির্বোধ ।
হৃদয়মাঝারে জ্বলে রাবণের চুলি ।
শেষকালে হরি নাম সার ভিক্ষা ৰুলি ।
মনঃ যেন ফঞ্ছনদী অন্তঃশীলে বহে।
সুজনের যত জ্বালা সঙ্গোপনে দহে।
বাড়ব অনল প্রায় আছে অদর্শন।
লােকাচারে মান ভয়ে করয়ে গােপন ।
সহস্র বিছার জ্বালা বােধ করি নুন।
অসার সংসারজ্বালা বিষ বিষগুণ ।
শুভক্ষণে ধরাসনে পায়েছি আসন।
যুক্তি করি পংক্তিভার লয়েছি তখন ।।
পরিমিত পরিবেষণ হবে ছিল মনে।
পরিচারক সৌভাগ্ন দেখে না নয়নে।
মিছে আশা ভবে বসা দুর্দশা দর্শন।
জীবন যাপন.. মাত্র প্রায় অনশন।
কর্মকর্তা আশুতোষ তার কিসে দোষ।
ভাণ্ডারে অশেষ দ্রব্য পালে পরিতােষ ।
৮
রসিকরতন।
লুটিলে ভাণ্ডার তার সদাই সন্তোষ ।
মন্দলােক নিন্দা করে নাই তায় রােষণ
সৌভাগ্য বিবাদী তায় লুটিতে না দেয় ।
যাহারে সদয় হয় সেই লুটে খায় ।।
যারে মজে মনঃ কিবা হাড়ি কিবা ডােম ।
অকিঞ্চনে আকিঞ্চন মিছে পণ্ডশ্রম ।।
হাহাকার করে যার দুর্ভাগ্য কপাল ।
কৰ্মভােগে ভােগে জীব কি করে গােপাল ।।
দুৰ্জ্জুনে নিজুনে ভাণে সদা অপযশঃ।
বৃত্তিভােগী দারা মুত আত্মীয় অবশ
অসময়ে দ্রব্যগুণ বিপরীত হয়।
জঠরে পতিত হৈলে শুন পরিচয়।
ডুম্বুর কদলী পুষ্প পলতা পটল ।
হিঞ্চে মিশ্রি হরীতকীনহেত অম্বল ।
উত্তম তণ্ডুল অন্ন পরমান্ন শালন
উদরে প্রবেশ হয়ে হয় মন শাল।
সংসার জ্বালার শব্দ কর্ণে করতাল ।
বিপক্ষে চৌদিগে বেরি দেয় করে তাল
রসিকরতন।
কখন প্রয়াণ যেন কভু বাণশাল।
রােগ শােক দুঃখ জ্বালা জ্বালায় জঞ্জাল ।
পীড়ন করয়ে সবে বিশেষ ভূপাল ।
সময় বুঝিয়ে বাদ সাধে বাদী কাল ।।
কি আশ্চর্য কটুভাষে অতি নীচ লােকে।
পড়িলে মাতঙ্গ পজে লাথি মারে ভেকে ।
মানী মীন মগ্ন মনু মানসরােবরে।
আধুনিক গেঁড়েগাড়ে সফরী ফরফরে।।
চণ্ডী করে ঘুটে জড় রাম চড়ে ঘােড়।
চণ্ডীর আটেনা টেনা রামা পরে যােড়।
সংসার আশ্রমে ধন যার নাহি রয় ।
দায়ে ধার দুঃখভার ঘর সম সয়।
কলহেতে অঙ্গ কালি বস্তু বিনে নেংটা।
বিভূষণা বিবসনা হি আঁটে ঘােমন্টা ।
বিধুমুখে কোথা মধু সদা মুখ ঝামটা।
দুঃখের আসরে রােগ নিত্য নৃত্য খো।
প্যারী কয় জাননা কি লক্ষ্মী বরযাত্র।
সুসময়ে পুর্ণশত্রু হয় আত্ম মিত্র ।
রসিকরতন। দুঃখ অবস্থায় থাক কুটুম্ব সজ্জন। প্রিয় পত্নী প্রায় করে তজ্জন গর্জন। ৰােটপিছে ঘােট যেন রােগ পিছে শোক। দুঃখপরে সুখ যেন নেশাপরে ঝোঁক। শােকের বিষম জ্বালা বিদরে পাষাণ'। কথােপকথনে দেহে দিবা অবসান । রামুরতন দাস দাস করিয়া যতন । রচিল নূতন গীত রসিক রতন। অথ সূর্যকে সৌভাগ্যৰূপে সম্বােধন ও গােধূলিতে বরিষণ ইত্যাদি। কেমনে হব পার এ সাগর সংসার। বিনে অর্থ সামর্থ্য সহায় কর্ণধার শােকে তনু ভগ্নতরি, কি সাহসে পাড়ি তরি, ঋপুঝড়ি তায় অরি, করে ফের ফার ।। মনঃ চঞ্চল মাস্তুল,পালুি কপাল আমুল, ধৰ্ম্ম মৰ্ম্ম হাল স্থল, জরা যারা ধার । বিদ্যা বুদ্ধি দুই দাড়ী, উভয়ে এরা আ- রসিকরতন। নাড়ি, সদা করে তাড়াতাড়ি, না বুঝি ব্যাপার,মায়া মােহ যে বিপুল,কুজঝটিকা প্রতিকূল, হেরিতে না দেয় কূল, সকলি আন্ধার ।। বিপদে সম্পদে যুক্তি, শক্তি রিনে নাহি মুক্তি, রামরত্নে দে ম! শক্তি, ডাকি বারম্বার গেল মিছে ইহকাল, শিয়রে শমন কাল, ভাবিতেছি পর- কাল, কর গো নিস্তার । পয়ার। সূর্য প্রতি প্রণিপাতে করি সম্বোধন। সসাগরা বসুন্ধরা উজ্জ্বল বােধন। দিন যাও দিনমণি যাও অস্তাচল। দীনের দুর্দিন দিকুদিন নিষফল ।। ভােয়দ-আপদ ভালে সদা আচ্ছাদন। জন্মাবধি অপৰাধী না পাই কিরণ। মায়া মােহজালে বদ্ধ আছি অনিবার। ঋপুবশে শান্তিরসে বুজ্জিত এবার ।
রসিকরতন।
মৃগতৃষ্ণা রৌদ্র অহি ভ্রমে দরশন ।
মূঢ়মতি স্তবস্তুতি না জানি ভজন ।
বলিতে কহিতে হেরি বিমর্ষ নয়নে।
উত্তরে তিমির ঘোর উদয় গগণে ।।
পলকে বিহঙ্গ রঙ্গে অতিবেগে উড়ে। •
অগণন ঘুড়ি যেন উড়ে গোতে পড়ে ।
শিকারী শীকার লক্ষে পিছে যেন ধায়।
ঘােরতর পয়ােধর আগত স্বরায় ।।
লক্ষ করে গুলি করে অন্তরে শ্রবণ।
মেঘের ঘষণে ক্রমে তজ্জন গজ্জন।
সমীরসমরে যেন মাতিল বিমানে ।
তড়িৎ হানিছে বাণ হেরি বিদ্যমানে ।
ভয়ঙ্কর সিংহনাদ গর্ভপাত গণে।
কোথায় কামান লাগে বজ্জর পতনে।}
চমকিয়া হৃদপিণ্ড থর থর গতি।
জৈমিনি জৈমিনি স্মরমীতা সতিপতি।
শিল পড়ে অগণন গগণের তারা।
ধরসনে বিস্তারিত গগণের তারা।
রসিকরতন।
নিমিষে মিশায় নীরে ঘন বরিষণে ।
নীরদ বিচ্ছেদ করে অনিলাকর্ষণে।।
বিপরীতে সমীরণ করি ,সঞ্চালন।
মধ্যস্থ হইয়া মধ্যে করিল মিলন।
যেই ভক্ষ সেই রক্ষ জগতের বিধি।
হায় বিধি একি বিধি বিধির এ বিধি ।।
অট্টালিকা পয়ে পয়ে পয়ের পতন।
ঝর ঝর ঝঙ্কারয়ে ঝরণা যেমন ।।
অবিলম্বে বরিষণ হইল নিরন্ত।
নীরব হেরিয়ে রবে বিহঙ্গ বনস্থ ।
কোকিল কুহরে স্বরে পাপিয়া সপ্তমে
চক্ষু গেল বলে বােলে মুরব পঞ্চমে।
ভীমরাজ দহিয়াল শ্যামা মন্তু গানে।
দেশের কি হবে বলে শুনিনু বিমানে।
বহুকথা কহ বলে মধুর সুধ্বনি।
হউক বহুর খােকা মধ্যে মধ্যে শুনি।
পঞ্চ মঞ্চ মাঝে হেরি মন ভ্রমে ক্রমে।
দুলিছে ত্রিভঙ্গ অঙ্গ অর্থ অঙ্গ বামে।
রসিকরতন।
চুভ দোলে শিরােপরে বনমালা গলে ।
নূপুর ঝঙ্কারে তায় চরণ কমলে।
টলিল আসন,যেন ধরা টলমল ।
বােধ হৈল ভূমিকম্প মেতে প্রবল।
অবিলম্বে জলকম্প হেরি সরােবরে।
পানীকৌটী উড়ে যায় মীন পড়ে চরে ।।
আবাল বালক বৃদ্ধ সশঙ্কিত প্রাণ।
শঙ্খধ্বনি সংকীর্তন চতুর্দিগে গান।
ক্রমে ক্রমে স্থিরভব নীরব স্বভাব।
মনকে বুঝাই বলি ছাড়হ স্বভাব ।
ভাগবত ইতিহাস উপদেশ ভুরি।
স্বর্ণহার গিলেছিল পটেতে ময়ূরী।
সুখেতে ভুতে কীলয় সামান্য বচন ।
নল নৃপ দময়ন্তী দুঃখের ভাজন।।
স্বর্ণপক্ষি ৰূপ ধরি শুনি শনিগ্রহ।
বস্তর হরণ করি করিল, নিগ্রহ।
শনির বিক্রম কত 'তুমি জাননাকি।
কত দুঃখ দিল সহে সাধ্বী সে জানকী।
রসিকরতন।
সীতাপতি অধিপতি পিতার সম্মতি।
বিমাতার মতে তার বনে হৈল গতি।
দুজ্জন রাবণ হরে তার সী সতী ।
বুঝে দেখ পরে কত সীতার দুর্গতি।
পােড়াশােল পলাইল জলের ভিতরে।
ধৌতকালে শ্রীবৎস রাজা ধরে করে ।
গণ্ডকি পৰ্বত কাটে স্বয়ং নারায়ণ।
শালগ্রাম শিলা তার আছে নিদর্শন।
অনন্ত তদন্ত সৃষ্টি অনন্তের খেলা।
বৃত্তান্ত বর্ণিতে সিন্ধুপার লয়ে ভেলা।
এ ছার মানব সূত্রে পাপের শরীর।
হয়ােনা হয়ােনা তুমি সদাই অস্থির।
স্বভাবে স্বভাবে মন ভ্রমণ করিয়া ।
শয়ন করিল চিন্তাশয। বিস্তারিরা।
প্রবােধ বচনে মনে বলতে বলিতে।
সিঁধেলে নিদিলি মন্ত্রে সিঁধ দিল ভিতে।
চোর সুপ্ত গুপ্তভাবে শরীর, মন্দিরে।
সিধকাটি প্রবেশিল প্রকার অন্তরে ,
রসিকরতন। শ্রীগুরু চরণ স্মরি রামরত্ন দাস । রসিকরতন গ্রন্থকরিলা প্রকাশ }} অথ যমালয় বিবরণ । ভৰ ভাব ভাব কি ধন অকূল পাথার, ঋপুঝড়ী তায় আর তরঙ্গ প্রহার । ইজারা পারের ঘাট, ইজারা করে ললাট, পরাণি কর বিভ্রাট, আছে মারা হার । প্রবৃত্তি নাই সম্বল, নিবৃত্তি কই কুশল, বিপক্ষ ছয় প্রবল, হবে কিসে পার। পার যদি হবি অব্ধি, দাড়ি কর ঋদ্ধি বুদ্ধি, মনতরি হালি শুদ্ধি, জ্ঞান কর্ণ- ধার। বিবেক দিবেক ঝিকে, ঝলকে যাবে পলকে, পার, পাবি পরলােকে, ফাকিইজাদ্দার। পয়ার। নিদ্রায় আবেশ মাত্ৰ হেরিনু স্বপন। অমি যেন আমি নই কেমন কেমন ।। (ধ্রু) .
১৭
০
রসিকরতন।
ভ্রমণ করিতেছিনু বুঝি কোন কার্য্যে।
তুরান্বিত উপনীত অন্য এক রাজ্যে।
হেরিনু আগার এক বিচারের স্থান।
গােলে মিলে প্রবেশিনু ওষ্ঠাগত প্রাণ।
মন্দির ভিতরে হেরি যেন হাইকোর্ট।
বিচারকর্তার অঙ্গে মণিময় কোট।
বার ঘরে বার জন জুরী সারি সারি।
অনুচর বহুতর বর্ণিতে না পারি ।
বারবেলা বেঞ্চাসন হায়নের সূত্র।
প্রথম বৈশাখ বসি অবশেষে চৈত্র ।
ফাঙ্কণ আশ্বিন আর কার্ত্তিক শ্রাবণ ।
জ্যৈষ্ঠা পৌষ ভাদ্র মাঘগ্রহায়ণ।
মন্ত্রী নয় রবি সােম মঙ্গল মুরতি।
রাহু কেতু শুক্র শনি বুধ বৃহস্পতি।।
অগ্নিস্বত্তা হবিষ্যা সভাসত কয় ।
সৌকালীন সদা সৌম্য পিতৃলােকচয়।।
আজাপা উষপা বহ্নিমানা অতিশয় ।
মােসাহেব উচ্চপদ প্রাপ্ত সবে কম্ ।।
১৮
।
• রসিকরতন ।
দিবা করি দেওয়ান সৰ্বরী পেস্কার ।
অগস্ত্য সমস্ত রিক্তা তরজমাকার ।।
কমল পাতিয়া ফাদ চাঁদ ধরি ভাবে।
অবিধান অবিধান অনুভবে ভাবে ।
পুর্ণ মাসী রেজেষ্টর যেন বিরুপাক্ষ ।
দক্ষিণে কেরাণি কৃষ্ণ বামে শুক্লপক্ষ।
অমাবস্যা প্রতিপদ দ্বিতীয় সপ্তমী ।
পঞ্চমী নবমী ষষ্ঠী তৃতীয়া অষ্টমী ।
একাদশী এয়ােদশী চতুর্দশী কয়।
দশমী দ্বাদশী মুন্সী চতুথী নিশ্চয়।
মুহুরী মণ্ডলরাশি বসি কয় জন ।
বনু কুম্ভ রাহু কেতু করিয়া বেষ্টন ।
মিথুন কর্কট মীন বৃশ্চিক মকর ।
মেষ বৃষ সিংহ তুলা কন্যা কালেক্টর ।
ডিক্রী নকলনবিশ নক্ষত্র সকল।
চিত করে চিৎকারে পড়ে অনর্গল ।।
মৃগশিরা শতভিষা কৃত্তিকা রেবতী ।
অশ্লেষ্য শ্রবণা মূলা অনুরাধা স্বাতী।।
রসিকরতন।
১৯
পূৰ্বভাদ্রপদ হস্তা উত্তরকন্তুণী ।
উত্তরভাদ্রপদ মঘা অশ্বিনী ভরণী ।
উত্তরষাঢ়া বিশাখা পুৰ্ব্বষ জ্যেষ্ঠা।
পূৰ্বন্তুণী চিত্রা রােহিণী ধনিষ্ঠা।
আদ্র। পুষ্যা পুনর্বসু অষ্টশক্তি প্রায়।
মােক্তার উকীল নিম্নে যােগেতে যােগায়।
পরিঘ সৌভাগ্য ইন্দ্র বিদ্যুম্ভ ব্যাঘাত।
অতিগণ্ড বজ্রবৃদ্ধি সিদ্ধি ব্যতীপাত।
সুকৰ্ম্মা অসৃক ধ্রুব ব্ৰহ্ম বরিয়ান।
সাধ্য গণ্ড বৃতি প্রীতি আর আয়ুষ্মন।।
শিব শুভ শুক্র শূল অমৃত বৈবৃতি ।
সভ্য ভব্য প্রায় সবে আকৃতি প্রকৃতি।
পাগড়ি শালের শিরে শােভন শােভন।
ভক্তের যুক্তির হেতু হর্ষণ হর্ষণ ।
হস্পৰ্শ মহাহই ইষ্টেষ্প বের
ঋতু ছয় মহাশয় ইন্টর পীটর 1.
দপ্তরী করণ কর শিরে,তাজ প্রায় ।
সংক্ষেপে সমাপ্ত পাছে গুথি বেড়ে যায় ।
.
রসিকরন ।
চতুষ্পদ বিষ্টি বব কিছু কৌলব।
শকুনি তৈতিল গর বণিজ বালব ।
বিরলে সঞ্চয়ে নাগ কসে বিষ বসি।
সরল নহেক ছাল কষ্ট গরীয়সী ।
গঙ্গাজল্যে ঋপু ছয় সাক্ষী ভয়ানক।
সেখানে লয়না ঘুস এখানে গ্রাহক।
দণ্ড ধরে করে দণ্ড বসি সিংহাসনে।
ভয়ঙ্কর কলেবর ঘূর্ণিত লোচনে।
অশান্ত কৃতান্ত ভন্ত গম্ভীর কুস্বর ।
কেশরী হুঙ্কারে যেন নাশিতে কুঞ্জর।
মুকুট মন্তকে সাজে মণি ফণিপরে ।
উজ্জল মণ্ডল কোটি ন্দু ভানু করে ।
আমলা আত্মীয় জন কেহ নহে আপ্ত ।
রিকার্ড মুহুরি শ্রেষ্ঠ নাম চিত্রগুপ্ত ।
রােজনামা পদ্মার পাশে দরশন।
সীপাই পেয়াদা শান্ত্রি সামন্ত গণন।
ক্রমে কফ কাল নাসা নেবা বাত ।
পাচড়া প্রমোম পতনে আঘাত।
০
রসিকরতন।
মূত্রকৃচ্ছ, রক্তস্রাব হাঁপানি মুজরী।
বহুমূত্ৰ কৰ্ণমূল কামলা উদরী ।।
গণ্ডমাল। ঘুরঘুরে ক্ষোটক পাদুকা।
অমপি উপদংশ প্লীহা বিচিকা।
চাপরাশী কত বসি চাতকীর প্রায়।
আরাধনা করে পয় পরােয়ানা পায় ।।
পরােয়ানা প্রাপ্তে পীড়া রয়ােনা সত্বর।
আবশ্যক মতে সঙ্গী লয় সতন্তর ।
মিয়াদ মধ্যেতে জারী করে সাবধানে।
অনিয়ম আচরণে ধরে কুবিধানে।
বসন্ত সামন্ত শান্ত দুরন্ত না উঠে ।
ভয়ানক কলেবর যেন কালকুটে।।
অবঘাত গলে দড়ী বাগি অপমার।
উন্মাদ ধনুষ্টঙ্কার জ্বর অতীসার ।।
কোষ্ঠবদ্ধ রজোরুদ্ধ শােথ উৎকাস ।
আত্মঘাতী বিষপানী ক্ষয় যক্ষ্মাকস ।।
অগ্নিদগ্ধা গুলিকরা অর্শ অস্ত্রাঘাত।
পেচুয়া চুয়ালে ভূত কালসর্পাঘাত।
রসিকরতন।
বজ্রাঘাত অকস্মাৎ বায়ু ভগন্দর ।
ঘাড়মাগুরাে যকৃৎ পিষ্ট কম্পজ্বর ।
শলাদি ত্রিশূলধারী রক্ত আমাশয় ।
দারােগা প্রহার করে সাধ্য কার সয় ।
জমাদ্দার একারী নাজির বিকার ।
হাজিরে নাজির কৰ্ত্তা পদ ভারি তার ।
আক্ষেপ প্রলাপ মােহ উপসর্গ বর্গ ।
হাপানি গুঙানী হিকে করে উৎসর্গ ।।
পাৰণ্ড পীড়ন গ্রন্থ আইন প্রচার ।
ধারা ধরি করে শান্তি নিষ্ঠুর প্রহার ।
হিতৈষি যতেক ব্যক্তি উপকারি বর্গে ।
দণ্ডনীয় না হইয়া প্রায় যায় স্বর্গে ।
কাশীবাসী শুদ্ধ আসি মাপ পায় দণ্ড।
না হেরি এমন বিধি অনুভুত কাণ্ড!
ধৰ্ম্ম অবতার বলে পড়ে কেহ পায় ।
কান্দিলে ককালে কালে মাপ নাহি পায় ।
হেরিয়ে প্রহার না মন অভিভূত।
শূকর ধূসর গজ অজা স্বর কত ।
রসিকরতন।
বৃষ উৎসব নয় শুদ্ধ বৃষ স্বর্গ।
স্থান কাল অবস্থায় হয় উপসর্গ ।।
প্রতাপে পবন ভরে কোথা ঙ্কেশ্বর।
চক্ষে দেখা থাক কর্ণ শুনেনি কুহর ।
ক্রমে ক্রমে মনভ্রমে কোথা যেন যাই।
কোথা যাই ভাবি তাই নাহি পাই হাই।।
অগৌণে হইল বােধ অন্ধকার পরে।
স্মরণ না হয় কিছু অন্তরে অন্তরে।
ভয়ে ভীত তনু কাঁপে বর্ণিতে এখন।
অাধার হইতে নিম্নে হইনু পতন।
কে যেন লইল কোলে ধরাসনে আসি।
অতিথি আদর সম মনঃ অসিনাশি।
জনক জননী সম স্নেহ অতুলন।
রাখিল আমার নাম যত্নে প্রাণধন।
আদরে আদরে যায় কিছুকাল মুখে ।
পলাইল ফেলে মােরে *ড়িলাম দুঃখে
আর কারে নাহি হেরি আমি উদ্যানে।
নানাস্থানী হয়ে ভুমি অভিমানী জ্ঞানে।
রসিকরতন।
মাতা যার গৃহে নাই ভাৰ্য্যা সতীমতি
গহন কাননে বিধি করিতে বসতি ।
ততােধিক ধিক যার নাহিক সঙ্গতি।
অরসিক পালে পতি রসিকা যুবতী।
অবসান হৈল বেলা ভাবি তরুতলে ।
শয়ন করিনু ভ্রমে মন বিহবলৈ ।।
আকাশে শুনিনু বাণী ওরে বাছাধন।
তীর্থপৰ্যটন কর পাইবে রতন।
শ্রীগুরুচরণ স্মরি রামরত্ন দাস।
রসিকরতন গ্রন্থ করিলা প্রকাশ ।
অথ গুরু মহাশয়ের উপদেশ ।
ওরে মন সামান্য নয় সে ধন। গুৰু
ভিন্ন অন্ধকার সৃজন সাধন।। ধ্রুব শিশু
ভক্তশ্রেষ্ঠ কৃষ্ণ কৃষ্ণকরি, ওষ্ঠাগত হৈল
প্রাণ না পায় গ্রহরি। দেব ঋষি গুৰু
হয়ে, বীজমন্ত্র কর্ণে দিয়ে, হৃদপদ্ম প্র.
কাশিয়ে, পালে কৃষ্ণধন।।
{$)
রসিকরতন।
.পয়ার।
অতঃপর উপনীত নদীর নিকটে।
জলাশয় হেরি ভাবি পড়িনু সঙ্কটে।
সাত পাঁচ ভাবি মনে যাইতে ও পার।
আগু যাই পিছে চাই নাই কর্ণধার ।
তরঙ্গ তুরঙ্গ যেন করিছে কদম।
তটে লাগে বীচি তাল অবীর বিক্রম ।
মকর কুম্ভীর কূৰ্ম্ম শুশুক হাঙ্গর ।
বৃহৎ ঘড়েল মীন অতি ভয়ঙ্কর ।}
অকালে অভাব জানি প্রসিদ্ধ সুলগ্ন।
সন্তরণ সাধ্য নাই শােকে তনু ভগ্ন ।
বহ দৃশ্য ভিন্ন নয় অন্তরে বিয়ােগ ।
কপিখর শাস যেন গজে করে ভােগ ।।
উপরে চিকণ দৃশ্য,ভিতরেতে ভুয়া।
অন্তরে লাগিছে যার শােক পােকা শুয়া।।
এই ভাবে ভাবি মনে নাহিক উপায়।
অপায়ে উপায় পায় একের কৃপায় ।।
গ
রসিকরতন।
চিন্তামণি করি চিন্তা চিন্তা দূর করি।
আচম্বিত উপস্থিত এক ব্যক্তি হেরি।
অধিষ্ঠানে সন্নিধানে কহিল আমায়।
কে তুমি বলহ মােরে যাইবে কোথায় ।
আমি বলি মনে করি যাইব ও পার ।
ভাবি একা যেন ভেকা ও জালি সাঁতার ।
তরি আছে দাঁড় পালি হাল আছে পিছে ।
কাণ্ডারী যাহার নাই এ সকল মিছে।
সে বলে আমায় ভর কর কেন মনে ।
কাণ্ডারী হইব আমি দেখিবে কেমনে ।
ও পার যাইবে বটে দুর্গম গমনে।
বহুকষ্টে যাতে পারে যায় একমনে।।
সার শব্দ বস্তুবােধ জ্ঞান না থাকিলে ।
পারেন। যাইতে পারে বুদ্ধির কৌশলে ।
সাধিয়া সিদ্ধ যেন যেমন আতাই।
সর্পাঘাতে মন্ত্র ঝড়ে না স্মরি বিশ্বাই ।।
বিদ্যাশূন্য ভট্টাচাৰ্য ভার্যা শুন্য ঘর ।
বামভাগে শূন্য গণ্য যেমন অঙ্কর ।
রসিকরতন।
পবিত্র করিতে অঙ্গ মন শুদ্ধি চাই।
তবে বুঝিবে মৰ্ম্ম কেমন সে ঠাই ।।
মনে বুঝে আমি বলি বলহ গোসাই ।
শুনে বলে উপদেশ কই তৰ ঠাই।।
সার শব্দ শুন শিশু সংসারের সার।
সময়ে স্মরণে সেই সেবিবে সুসার ।
স্থির হয়ে বৈস লয়ে আসন কুশার ।
আচমন কর লয়ে সলিল কোশার ।
ঐবিষ্ণু বিষ্ণু স্মরি শুদ্ধি অগ্রসার ।
সাধন সংক্ষেপে কর সেই সারাৎসার ।
এত শুনি জিজ্ঞাসিনু কে তুমি নিশ্চয়।
হেসে বলে বলে লােকে গুরু মহাশয়।
তাহার জানিত ঘাটে সেই ঘাটে আসি।
উপদেশ দিল নানা মতে মিষ্টভাষী।
সৃজনে মানব শ্রেষ্ঠ গুরু দ্বিজ বর্ণ।
অষ্টধাতু গুরু গণ্য সুবর্ণ সুবর্ণ ।।
দানে গুৰু দাতাকর্ণ পুরাণে প্ৰকীর্ণ
শ্রবণে কাহিনী করে হৃদয় বিদীর্ণ ।।
রসিকরতন ।
ঔষধ সেবনে গুরু ধন্বন্তরী স্মরি।
শয়নে পদ্মনাভঞ্চ কাটে বিভাবরী ।।
পতে রঘুনন্দন বরাহ সলিলে ।
মধুসূদন স্মরণ বিপদে পড়িলে ।
ভােজনেতে জনার্দন শ্ৰীধর সঙ্গমে।
মাধব সকল কার্যে প্রকাশে আগমে ।
সমরে স্মরণ কালী সংহারে মহেশ ।
• গাত্রোত্থানে দুর্গা দুর্গা যাত্রায় গণেশ ।
পুণ্যবান নলরাজা ধৰ্ম্মে যুধিষ্ঠির ।
পুণ্যশ্লোক জনার্দন বৈদেহী সুধীর।
অহল্যা দ্রৌপদী কুন্তী মন্দোদরী তারা।
পঞ্চ কন্যা মরি নিত্য পাপহরা তারা।
অখণ্ড মণ্ডলাকার বাাপ্ত চরাচর।
যেন সত্য সত্য নিত্য নশ্বর ঈশ্বর।।
যে কুলে উদ্ভব বাপু রেখু সেই কুল ।
আকুল হইয়ে নাহি ধর প্রতিকূল । •
অকুলে পড়িলে ডেকো বিহারী গোকুল ।
উদ্ধার করিবে সেই হয়ে সানুকুল ।।
৫
রসিকরতন।
ভক্তিভাবে যে তাহারে ডাকয়ে ঐকান্তে ।
ভাবনা তাহার ভৰে থাকে না কৃতান্তে
আর কিছু কহি শুন নিড় সিদ্ধান্ত।
সৰ্ব্বদা মারবে মনে বিশেষ বৃত্তান্ত 11
সর্পাঘাত গৃহদগ্ধ অপঘাত কয়।
ব্ৰহ্মশাপ মনঃন্তাপে আঘাত হয় ।
হাপানি জন্মায় কাস গচ্ছিত হরণে।
মদাত্যয়ে যােনিভেদ থাকে না। স্মরণে
শঠতা করিয়া যেবা দেয় যারে ফাঁকি।
যাতনা জাতায় তায় পিষে করে কঁকি।
প্রত্যক্ষ এ লক্ষ লক্ষ লক্ষ কথা নয়।
শিববাক্য অলঘন ঘটিবে নিশ্চয়।
তবে যে এড়ায় পুৰ্ব্ব ধৰ্ম্মপুত্ৰ ফলে ।
ভাথৰ জারজ জন্ম লয়ে ভূমণ্ডলে ।।
সমভাগে যদি পায় পাপপুর্ণ পুণ্য ।
পুরণে হরণে বাকী দেখি তায় শূন্য
উপকার সার ধর্ম ত্রিজগৎ মান্য।
, আর যত অচা ভুয়া কামনা সামান্য।
{{
রসিকরতন।
রাখিবে অভাস শ্লোক চাণক্য রচিত।
সভা জয়ী হবে ভবে সকলি সে হিত।
বিপদে পড়িলে, গুরু করিবে স্মরণ ।
অপায়ে উপায় পাবে হবে বিমােচন।
অজ্ঞানরূপিণী নদী বহিছে সম্মুখে ।
এপারে যাহারা আছে থাকে তারা সুখে ।
পাপ পুণ্য ধর্মাধর্ম কিছু নাই বােধ ।
পশুর সমীপে গণ্য না মানে প্রবােধ ।
এখানে ঐহিক সুখ ছায়াবাজী প্রায়।
অবস্থিতি ক্ষণমাত্র নানা ভঙ্গিকায়।
ও পারে পাইবে মুখ ভােগ ভেদাভেদ ।
বিশেষে প্রভেদ করে মর্ম চারি বেদ।
অতএব বাছাধন চক্ষু মুদ তুমি।
হৃদয়কমলে ভাব পার করি আমি ।
নয়ন মুদিয়া ভাবি দেখি এর কার্য্য।
পলকে ওপারে গিয়া হইনু আশ্চর্য ।
এদিক ওদিক চাই মহাশয় নাই ।
দিশে লাগি ফুমুখী পথিকে সুধাই ।।
রসিকরতন। ৩১ যারে বলি সেই বলে দেখ গিয়া চক্ষে। রামরতন বলে হরি হেরিলে প্রত্যক্ষে । অথ বিদ্যারূপ পর্বত বিবরণ। স্বপনে গোপনে কেন দেখি স্বপন। বিজ্ঞানদপণে দেখ এ নয় সম্পন।। এই যে দেহ আশ্রম, মায়া মােহ বশে ভ্রম, মিছে আশা পণ্ডশ্রম, নাই নিৰূপণ । অর্থ আশা কৰ্ম্ম নাশা, সুখ দুঃখ দুর- দশা, যেমন খেলায় পাশা, জীবন যা- পন। দেখ দিবা অবসান, তবু নাহি হয় শান, সজীব মনঃ পাষাণ, বুথে বিজ্ঞ। পন। অতএব বলি সত্য, নিত্যধন সেই সত্য, আত্ম কর সদগত্য রত্নে সমর্পণ। পয়ার । ভ্রমিতে ভ্রমিতে হৈল নিদ্রা আকর্ষণ। সুখনি অমনি এক শয়নে স্বপন।
-
t
রসিকরতন।
আমি যেন উপনীত সিন্ধু সম স্থানে।
ধারা নয় ধরাময় যে যাহা বখানে।
সম্মুখে পৰ্বতাকার হৈল দরশন ।
এমন বৃহৎ গিরি না হেরি কখন }
সাই নাই টিনিরিফি হােরেব কৈলাস।
এটলাস নীলগিরি সুমেরু প্রকাশ ।
ধবল পৰ্বত ব্রাঙ্ক বিন্দুগিরি ধরে ।
দাফিল্ড কাকেসষ হিমগিরি পারে ।
মলয়া গন্ধমাদন সাপাট পৰ্বত ।
এরে ছেরে লজ্জীভূত পৰ্বত তাবৎ ।।
শ্বশুর ভাশুর ভাবে ভাবিনী যেমনে ।
লজ্জায় সজ্জায় টাকে ভূষণ বসনে ।
অম্বর সম্বর করি নত করে ঘাড় ।
তেমতি ঈষৎ বাঁকা শিখর পাহাড় ।।
কেহ বলে প্লাবনের চিহ্ন এক সেই।
সে কারণ অকারণ আমি ভাবি এই ।।
লোকারণ্য লােকাময় শুনি কলরই।
পিপিলিকা স্নারি যেন চলে অহরহ ।।
রসিকরতন।
নানা রঙ্গে নানা অঙ্গ ভঙ্গী দেখি মেলা।
অনুমান করি বুঝি গােরাদের মেলা ।।
দেখাদেখি মেষ বেন চলে ঘাড় গুঁজে।
অনেক নির্বোধে চলে নাহি বুঝে সুজে।
বুঝে না চলিলে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটে।
ক্রমে ক্রমে মনভ্রমে পৰ্বত নিকটে।
সম্মুখে ছত্রিশ ধাপ ক্রমে উঠে যাই।
রসিক সুহৃৎ প্যারি হেরি এক ঠাই ।
মনে ছৈল এই প্রজাপতির মিলন ।
কোথা হৈতে আসে যুড়ি নাই নিৰূপণ 1}
অবাক হইয়া মুখে নাহি সরে বাক ।
চক্রবাকী রজনীতে ছাড়া চক্রবাক ।
শৰ্বরী প্রভাতে বুঝি দিন প্রাপ্ত তারা।
পরস্পরে পালে ধন ধন যেন ছার।
দরিদ্রে পাইলে ধন যেমন আহলাদ ।
বিপরীত বিচ্ছেদের বিষম বিষাদ ।।
তিন জন এক মন দেহ মাত্র ভেদ।
কিছু কাল ছিল বটে বিপাকে বিচ্ছেদ।
রসিকরতন ।
একত্র হইয়ে তিনে ইষ্ট আলাপন।
কথােপকথনে ভাষা পর্বত দর্শন।
সুন্দরী রমণী এক আছে একা বসি।
পৰ্বত উপরিভাগে করে এক অসি ।।
ওষ্ঠ নড়ে সদা তার করে কি ঘোষণা।
চিন্তার সাগরে যেন আছয়ে মগনা।
জিজ্ঞাসিনু মােরা তারে অমিয়া বচনে ।
একাকী কামিনী তুমি বসি কি কারণে ।
ঈষৎ হাসিয়া বলে ওরে বাছাধন।
বুদ্ধির জননী আমি অভাগী স্মরণ
সতিনী বিম্মতি মাের বাদসাধে বলি ।
মেধা নামে অসি করে তারে দিব বলি ।
চেতনী ৰূপিণী কালী আছেন শিখরে ।
কালী কালি ঘুচাই কালীর খপরে।।
এত শুনি মােরা বলাবলি করি মনে।
সতিনীর তাপ প্রাপ্তে প্রতাপ তপনে।
গলিত পৰ্ব্বতে উঠে হেরিনু ভূগােল ।
নৈসর্গি জ্যোতিষ গিরি প্রত্যক্ষ সকস ।
রসিকরতন।
শিল্প গল্প কৃষি শৈল ক্রমে আরােহণ ।
প্রত্যেক সঙ্গীত যন্ত্র বিদ্যা ব্যাকরণ ।.
সাজ পাতাঞ্জল শৈল শৈলী করি উঠি।
আয়ুৰ্বেদ বাগভট উঠি গুটি গুটি ।
নিদান চরক গিরি আগম পুরাণ ।
চতুৰ্বেদ চারি শৃঙ্গ অগম্য সে স্থান ।।
সাম ঋক যজুর্বেদ অথৰ্ব্ব পৰ্বত ।
এই কয় চূড়া শ্রেষ্ঠ অত্যন্ত বৃহৎ 11.
ইন্দ্রধনু হেরি শিশু ধরিবার তরে ।
ধায়ে যায় প্রত্যাশায় অন্তরে সত্বরে ।।
সেই মত উঠি মােরা হেরি শৈলমূল।
যেমন ধনুক ধরা বালকের ভুল ।
যত উঠি সংখ্যা নাই মূল আর শিখা ।
চূড়ার উপর চূড়া কত যায় দেখা
প্যারী বলে ওহে হরি নাই উধুন্দ।
রামরঙ্গ শুনে বলে ভাবহ মুকুন্দ।
রসিকতন।
অথ পরীক্ষা পরিচয় ।
এ আলয় বিদ্যালয় পর্বত প্রধান।
পরীক্ষা করিতে ইথে হয়েছে বিধান।
বিষম মায়ার চক্রী ছয়ে চক্র করি । যুব
মনােলােভ, মােহিনী ৰূপ ধরি। যারে
ছলে চক্ৰী, মঙ্গল তাহার বক্ৰী, বিচক্র
করিয়া চক্ৰী, বুঝিবে সমাধান। (ধ্রু)
পয়ার।
ন্যায়ী ভ টু আগ মূলে করি আরােহণ ।
যথায় বিতর্ক তর্ক হইল শ্রবণ }}
অপুৰ্ব্ব কামিনী এক আইল নিকট।
সে বেশ সবিশেষ অত্যন্ত চটক।
মনােলােভা কি শােভা যেন ৰূপে পরী
থিয়েটরে নৃত্যকীর প্রধান সুন্দরী।।
বকী বড় ধাম্মিকা পা ফেলে তয়ে তয়ে।
পাছে মীন মারা যায় এই ভয়ে ভয়ে।
রসিকরতন।
কোন ছলে কি কৌশলে হেরে বলে প্যারী।
অবয়ব অসম্ভব ঠিক বা প্যারী।।
'নাকে এক ফঁাদি নত টানা বান্ধা কাণে।
চরণে মলের ধ্বনি অখিশর হানে।।
হরি বলে মৃগতৃষ্ণা যায় না সফরী।
কেমনে এড়াবে প্যারী নড়ে ফরফরী
যে ৰূপ ৰূপের ভঙ্গী রঙ্গিণীর রঙ্গ।
টলায় ঋষির মনঃ ধ্যান করে ভঙ্গ।
পুরুষ জোনাকী পােকা যুবতী প্রদীপ।
এখনি পড়িবে তুমি হইলে সমীপ।
প্যারী বলে দেখাইব আমি কোন পােকা।
রঙ্গিণীর রঙ্গে লেগে যাবে চেকা ভেকা ।
রামরত্ন বলে প্যারি আছে কি বিধান।
ঘােড় উঠে কিন্তী পড়ে হও সাবধান ।
বড়ে টিপে গজে-জোর দিবে এই হাত।
নৌকার কিন্তীতে বুঝি চারি চালে মাত ।
প্যারী বলে মন্ত্রিজ্ঞান আছে সদা যার।
চতুর্দিকে দৃষ্টি তার করিবে উদ্ধার ।
য
৩৮
রসিকরতন ।
রঙ্গিণী আসিয়া রঙ্গে করে সম্বোধন।
মম গৃহে এসাে কেন করিছ ভ্রমণ।
রসিক হাসিয়া কয় ও পথে না যাই।
কি নাম ধরহ তুমি তােমারে সুধাই ।
সে বলে আমার নাম ভান্তি খ্যাত ভবে।
সুখের বনিতা আমি সুখী করি সবে ।
অনুগত হও যদি আমার নিকটে।
বুঝিতে পারি তবে কত মুখ ঘটে।
প্যারী বলে ভাল ভাল এত ফাদি নত ।
ও চরণে নমস্কার আর মাকে খত।
বেলতলায় নেড়া কি বার বার যায়।
ঘরপোড়া গরু মেঘে সিন্দুরে রায় ।
কাকের কি লভ্য হয় পৰু হৈলে বেল।
পাকিলে কাঁঠাল গাছে দেয় গোপে ভেল
বেশ ভূষা কি ভুলাবে হেরে পুচ্ছশিখী।
মাছির মস্তকে সজ্জা, আশ্চর্য নিরখি ।
হাব ভাব গৰ্ব খর্ব করে তার সাক্ষী।
যৌবনে গােপন করে দেখ লঙ্কা মুক্ষী !!
রসিকরতন।
রঙ্গিণী হাসিয়া বলে নতে কেন দ্বেষ ।
প্যারী বলে শুন তবে ইহার বিশেষ ।
মত নয় ঋপু ছয় মুখে মুখ তার।
সূক্ষ্ম করে বুঝে দেখ নিগূঢ় বিচার।
দুই মুক্তা মােহ মদ লােভ মধ্যে চুণি।
মাৎসর্য জড়েন ক্রোধ মােলক আপনি।
বেষ্টন করয়ে ফাদ মণ্ডল ও শশী ।
রসান কিরণ তায় শােভে অহর্নিশি ।।
জড়েনের মুখ উচ্চ কাম তার ফঁদ।
পরস্পরে যােগাযােগে ঘটায় প্রমাদ ।
বুদ্ধিৰূপা রজ্জ, রাস বান্ধা আছে কর্ণে ।
মগজে যাহার যােগ জ্ঞান যারে বর্ণে ।
সারথি বিবেক যদি রাস নাহি ধরে।
নাক কাণ কাটা পেঁচা বলে লােকে পরে ।
টা দিয়া বান্ধিয়াহধাচাইতে নাসা।
নতুবা কাটিত নাসা হৈত কৰ্মনাশা ।
ভান্তি বলে একি দেয় বিপরীতে হিত।
আইলাম খানভান্তে শুনি শিবগীত।
৫
রসিকতন।
কুত্তা হাঁকাইয়া লেও ভিক্ষা বাজে আসি।
বলে হরি ধর্ম প্যারী সাবাসি সাবাসি ।
এতেক শ্রবণে আঁন্তি ভান্তিদুর করি।
স্বস্থানে প্রস্থান করে নিজমূৰ্ত্তি ধরি ।
মুচকিয়ে হাসি বলে ফিরে ঘুরে আসি ।
পরামাণিকের আসি রজকের বাসি।
দুরাচারী বলে প্যারী আঘাতে নিতম্বে ।
অদর্শন হৈল বালা অতি অবিলম্বে ।
ভ্রমণ করিতে নানা কীৰ্ত্তি দরশন।
সকল পড়ে না মনে নাহিক স্মরণ
অতি দূরে হেরিলাম ভয়ানক কাণ্ড ।
অজগরে শ্বেতগজে ধরিয়াছে শুও ।।
উভয়ে বিক্রম করে উভয়ে না ছাড়ে।
উভয়ে বন্ধন করে ধরাসনে পাড়ে।
তজুন গর্জুন শুনি শঙ্কিত প্রাণ।
বিমানে পবন প্রায় শব্দ হৈল জ্ঞান।
বিকট বিহঙ্গ গজে ধরিল ভুজঙ্গে।
অনায়াসে উড়ে গেল হেরিনু বিহঙ্গে।
রসিকরতন।
আতঙ্গ আতঙ্ক পেয়ে প্রবেশে কানন।
ছয় জনা রামা আসি লইল আসন।
নিষেধ করিছে তারা উঠিতে পর্বতে।
পরীক্ষা লইয়া মােরা ছাড়িব উঠিতে ।।
পরীক্ষায় সিদ্ধ হৈলে পাশ এক পাবে ।
পাশ ধরি ধরি ধরি গিরি গিরি যাবে।।
রঙ্গের নহলা মন্না এক হতে হবে।
ভেস্তার রাস্তার পথে কাটা বদ্ধ রবে ।।
হরি বলে নাহি জানি তােমরা কে হও।
পথিক আমরা তিন কেমনে সুধাও ।।
তারা বলে ঋপু মােরা পৰ্বতের দ্বারী।
বিনাপাশে উঠিতে না দিতে মাের। পারি ।
প্রশ্ন করি পার যদি করিতে উত্তর ।
তবেত মঙ্গল দেখি যাইবে সত্বর।
কামে মত্ত আসি কাম হয়ে অগ্রসার ।
জিজ্ঞাসা করিল এক বস্তু বল সার ।
শুভঙ্কর ধারা ছাড়া করহ উত্তর।।
উত্তীর্ণ উত্তরে হবে কহিনু গোচর।
।
রসিকরতন।
হরি বলে এক বস্তু ব্ৰহ্ম বই নাই।
পরম পদার্থ সেই ব্যাপ্ত সৰ্ব্ব ঠাই ।।
অদ্বিতীয় বলে বেদে তিনি চিদানন্দ।
অখণ্ড ব্রহ্মাণ্ড কাণ্ড আদ্য অন্তু বৃন্দ।
ক্রোধভরে ক্রোধ, আসি জিজ্ঞাসে তখন।
দুই বস্তু সার কোথা আছে নিদর্শন ।।
হরি স্মরি প্যারী কয় ভাবি সার মৰ্ম্ম।
দুই বস্তু এই মাত্র আছে ধৰ্ম্মাধর্ম ।
লােভ আসি লােভী হয়ে জিজ্ঞাসে কথায়
তিন বস্তু বল দেখি মিলিবে কোথায় ?
রসিক পথিক কয় সত্ব রজঃ তম।
সর্গ মর্ত্য তল এই উত্তর উত্তম ।।
মােহিত হইয়া মােহ প্রশ্ন করে আর ।
চরাচরে অন্তঃপুরে বেদে সুপ্রচার ।।
চারি শব্দ কিসে আছে কহ সমাচার ।
রসিক হাসিয়া বলে চারি কোণ সার ।
নৈঋত ঈশান বামুঅগ্নিকোণ চারি।
বেদ ছাড়া গুরু চারি শুন সারি সারি ।।
রসিকরন। •
জন্মদাতা পিতা মাতা মন্ত্রদাতা কই।
অমৃদাতা এতাবত গুৰু চারি সই ।
সত্য ত্রেতা দ্বাপর কলি এই চারি যুগ।
সৰ্ব্ব শাস্ত্রে মান্য করে উক্ত ব্যক্ত পুগ ।
মদ মনঃ গদ গদ হাসিয়া সুধায়।
পঞ্চ দ্রব্য কিবা আছে বল ধরায়।
প্যারী বলে প্রশ্ন কর যতেক অদ্ভুত।
উত্তর করিব মােরা ভবিষ্যৎ ভুত ।।
ক্ষিতি অপ তেজঃ বোম মরুৎ এ কয়।
স ব্যাপী পঞ্চ তন্দ্রেীয় দেহ ময় ।
গাণপত্য শাক্ত শৈব সৌর বৈষ্ণব ।
পঞ্চ মত উপাসক ভারতে উদ্ভব ।
শব্দ স্পর্শ ৰূপ রস গন্ধ অনুচর।
কর্ণ ত্বক চক্ষুঃ জিহ্বা নাসায় গোচর ।।
ভেবে দেখ পঞ্চভূত তুমি জড়ীভূত।
মাৎসর্য আশ্চর্য হয়ে নিকটে আগত ।।
জিজ্ঞাসিল ছয় বস্তু কোথায় বল পাই ।
ত্বরায় উত্তর কর পাশ দিয়ে যাই ।।
রসিকতন।
বুঝে সুঝে কহ যেন মন হয় তুষ্ণি।
নতুবা অগ্রাহ্য হবে রবে ফষ্টি নষ্টী
11,
রসিক হাসিয়া কহে রস করিবারে ।
তােমরা কয়েক জনা অসার সংসারে ?
বিপর্যয় ঋতু ছয় সুজনে প্রবল।
পরিবৰ্ত্ত করে ধাতু কুশল সম্বল।
শরৎ শিশির হিম বসন্ত অশান্ত।
গ্রীষ্ম বর্ষ শীতকাল অনন্ত সামন্ত ।
যারে ত্যাজ্য করি সেই অসময়ে পূজা ।
অবিচারে পারা ভার এ কেমন রাজা {{
মাৎসর্য শুনিয়ে বলে ভাল ভাল ভাল ।
মাের গুরু বল কেবা গােরাসে কি কাল ।
রসিক হাসিয়া কয় ঠেকালে প্রমাদ ।
বার বার কতবার "এড়াইব ফাদ ।
তােমার অদ্ভুত গুণ কে বণিতে পারে ।
তুলে ধরাও চাদ এ তিন সংসারে !!
ঐহিকের সুখ যত তোমার সামন্ত।
ঐশ্বৰ্য্য সুখের গুরু ধনে মনঃ ভ্রান্ত ।
রসিকরতন।
কমল তাহার গুৰু ত্রিভুবন মান্য।
নারায়ণী তব গুরু তেঁই তুমি ধন্য।
নতুবা তােমায় কেবা করিত আদর।
কুম্ভকার শিরে ধরে দেখি তার পর।
বাক্যবিনােদিনী যারে হয়েছে সদয় ।
সে জানি তােমার কভু অনুগত নয় ।
উত্তর শ্রবণে তারা হরিষ অন্তরে।
এনট্রেন্স পাশ দিল উঠিতে উপরে ।
আহলাদে আটখানা হাসি মুখে নাহি ধরে ।
রামরত্ন বলে প্যারি হেসাে এর পরে।
ইতস্ততঃ দরশন শিখরে শিখরে ।
বর্ণিতে বর্ণনা হারে শরীর শিহরে ।
স্থানে পীঠস্থান নানা তীর্থস্থান।
জ্বালামুখে অগ্নিশিখা,হেরি দীপ্তমান ।
প্রয়াগে পাপের শান্তি মুঢ়াইয়ে বেণী।
তীর্থের মহত্ব যত শিরে চিহ্ন মানি ।।
বৃন্দাবন দরশনে যুড়ায় লােচন।
ওমান মূৰ্ত্তি পদ্মপলাশ লোচন ।
রসিকরতন।
গয়ামে গয়ানুরে মুক্তির কারণ।
আছে শিরে পদ চিহ্ন দা নারায়ণ ।
বারাণসী পঞ্চক্রোশী শ্রেষ্ঠ সেই স্থান।
অন্নপুর্ণ। বিশ্বেশ্বর মূৰ্ত্তি বিরাজমান।
যে দিক নিরখি আঁখি সেই দিক শিব।
হয়গ্রীব বা সুগ্রীব সদাশিব জীব ।
কটকে চটক বড় কেবা খায় কার ।
আচারে বিচার নাই বুদ্ধ অবতার ।।
সাধক পরমহংস শিখরে গহ্বরে ।
আকৃতি মুরতি প্রায় লােম কলেবরে !!
পঞ্চ উপাসক কত স্থানে স্থানে দৃষ্টি।
মৰ্ম্ম বুঝে ধৰ্ম্ম যদি থাকে জ্ঞানকষ্টি ।
অনাদি তারকনাথ তারিতে পামরে ।
সঙ্কট পীড়ায় মুক্তি করেন সত্বরে ।।
তদন্তর হেরি মােরা ছয় জনা নারী।
অপৰূপ ৰূপছটা পাসরিতে নারি 1
বসিয়াছে শােভা কার ছয় সিংহাসনে ।
ভিন্ন ভিন্ন চিহ্ন শােভে বসন ভূষণে।
রসিকরতন।
কটাক্ষে আমরা ভাব গণি অন্য মনে।
হাসিয়া জিজ্ঞাসে এথ আইলে কেমনে ।
প্যারী বলে বহু কষ্টে তীর্থ পর্যটনে ।
ভ্রমিতে ভ্রমিতে মােরা মন উচাটনে ।
প্রেমের মাদকামােদে নৰ্ত্ত অনিবার।
পরস্পর আসিয়াছি মিত্র সমিভ্যার ।
তারা বলে এ যে দেখ সভা কারাকার।
বিদ্যাৰূপা গিরি ইহা ভারতে প্রচার ।।
প্রবন্ত ইহাতে হয় যার বুদ্ধি সরু।
কৃপা করি উপদেশ দেন যদি গুৰু ।
অতএব পরিচয় দেহ একে একে।
ইঙ্গিতে না বুঝে যেন সাধারণ লােকে।
শিকার করিতে সিংহ সাধ্য হয় যার ।
প্রথমে রফলা যােগে শৈষে ত্যজে কার ।
কপি হয় সিংহ হয় এক নামে কয়।
শুনা যায় যাত্রাকালে অন্তিম সময়।
পিতা মাতা ডাকি নাম পালে পরলােকে ।
বের্গারেতে বৈতরণী পার লােকে
৫
রসিকরতন।
দ্বিপদ প্রক্ষালনে প্রাপ্ত এই পদ।
পদবী পাইনু বুঝ অতুল সম্পদ।
আর জন ধলে তবে মম পরিচয়।
ত্ৰিভঙ্গের অর্থ অঙ্গ ছাড়া কভু নয় ।
মােহিত করিতে ভরে মুরারি অধরে ।
যাশী ত্যজি অষ্টপরে দ্বিজপদ ধরে ।
তদন্তর অনা জন পরিচয় ছলে ।
অরসিক অত্যাজ্য প্রথম কৌশলে |
সুধাকর আসি যদি স্থান লয় পরে ।
বিচার করিয়া রায় লিখি তদন্তরে ।
এক জনা রামা বলে শুনিনি শ্রবণে ।
আর বার বল বাপু মুড়াও জীবনে ।
উত্তর শুনহ সবে বলি সাবধানে।
লক্ষ্মী আরাধনা করি অগ্রে সুবিধানে।
যেবা যাহা বৃত্তি করে তায় হয় মগ্ন।
সুরত্তি করি মাের তারা শুদ্ধি লগ্ন ।
আর এক শুদ্ধিযােগে যাগে আরাধনা।
বৃত্তি সিদ্ধি হৈল মাের জগতে ঘােষণা
২৯
.
রসিকতন।
মথুরায় রাজা হয়ে আপনি শ্রীহরি।
অর্ধ অঙ্গ আধপদে বামপদ হরি।।
পদের সে উচ্চপদ কর্মমাঙ ক্ষেত্রে ।
দেখহ চতুরবর্গে জ্ঞানৰূপ নেত্রে |
কবি বলে পরিচয় শুন পরিচয়।
যুগ বান্ধি রাখি ভবে মম পরিচয়।
কমলাকে অগ্রে স্মরি পরে সীতাপতি।
চকোর যাহার লাগি শূন্যে করে গতি।
তাহার আকার যেই তারে ত্যাজ্য করি।
দশানন সিংহাসন শ্রেষ্ট ধাতু ধরি।
সেই ধাতু তার পরে বিপ্র ভৃত্য হয়ে ।
উপাধি পাই আমি বুঝ বিচারিয়ে }}
সন্তুষ্ট হইল শুনে সরল অন্তরে।
ঋতু মােরা পরিচয় দিল পরস্পরে ।
বুঝিয়াছি বাছা বাছ চারি পরিচয়।
সারটফিকিটে স্পষ্ট পাইবে নিশ্চয়।
শ্রবণে শ্রবণ কৰি আছে, অভিলাষ ।
গুরুপদ কিসে বৰ্ত্তে কিসে কে প্রকাশ }}
!
রসিকরতন।
এতেক শ্রবণে রায় বলে শুন তবে।
দোষ গুণে জড়ীভূত সৰ্ব্ব বস্তু ভবে ।।
দূর্বা কুশ পুষ্পপত্র দেবাজার পূজ্য।
সবের যে দোষ গুণ খ্যাত সৰ্ব্ব রাজ্য।
সেই সবে ব্রজেশ্বরে যদুকুল ধ্বংসে।
সৃষ্টিমাত্র পরমাত্মা ব্যাপ্ত রেণু অংশে।
অমৃত গরল হয় গরল অমৃত।
কার কিসে দোষ গুণ কিসে কে আবৃত।
কে বলিতে পারে গুণ কৰ্ত্তার মহিমা ।
অখণ্ড ব্ৰহ্মাণ্ড যার নাই কোন সীমা ।।
প্যারী বলে আমি কিছু কহি শুন ভাবে।
অনিত্য এ নিত্যশুনি প্রচলিত ভবে ।
গণিত বিদ্যার গুরু শুভঙ্কর গণ্য।
সরিমিয়া টপ্পা গুরু ভূভারতে ধন,
শিল্পবিদ্যা গুরু গণ্য বিশ্বকর্মা শ্রেষ্ঠ।
কল্পনা যােজনা গল্প রচনা বরিষ্ঠ।
ছবির আকর গুরু বুঝেদেখ রবি।
অদ্ভুত ঘটনা বৰ্ত্তে বর্ণনায় কবি।।
রসিকরতন।
সরােবর অগ্রগণ্য মানসরােবর।
নরেশ সমান মান প্রাপ্ত হয় বর ।।
কীৰ্ত্তির বৃত্তির গুরু বুদ্ধিকীৰ্ত্তি সার ।
অসার সংসার মাঝে নাহিক সংহার।
অহিফেন মুরা ভাঙ্গ গুরু নেশা চণ্ড।
কুরব গৌরব যেন পাষণ্ড পলা14
খেলায় হেলায় হরে কাল গুরু কাশ্য ।
শক্তি সর্ব শ্রেষ্ঠ গুরু ত্রিভুবন মান্যা ?
উৎকট যন্ত্র শুরু বাকযন্ত্র দেহ।
কারিগরে ধন্যবাদ্য ধন্য ধনা দেহ ।
জীবের জীবিত যন্ত্র যন্ত্রের দর্পণ।
নকলে সকলে হেরে রেলেতে পবন ।
যে জানে না নিজদেহ তারে ধিক ধিক।
ততােধিক ধিক গণি যে হয় নাস্তিক।
শ্রবণে সন্তোষ তারা প্রফুল্ল বদনে।
কাহল মধুর স্বরে লহ হৃষ্টমনে।
এলে পাশবিএ পাশ টিকিট সুন্দর ।
ছয় জনে ছয়খানি দিল সতন্তর ।
রসিকতন
তদন্তর ছয়খানি পত্র যশঃ মাত্র ।
পত্র লিপি করি শুন সভা ভব্য ছাত্র |
রসিক রসের ঝিল পারী বান্ধাঘাট ।
শ্রীহরি চাদনী তায় নাহিক কপাট ।
তাপিত পথিক হেরি নির্মল জীবন ।
পান করে বসি ঘাটে যুড়ায় জীবন !!
প্যারী বলে খুলে দেও নতুবা কেমনে।
প্রবেশ হইবে ইথে রাখিলে গােপনে }
রসিক পণ্ডিত বৈদ্য প্যারী হরি মূল।
ৰূপে গুণে প্রায় তিনে ধৰ্ম্মে সমতুল ।
উপাধি বিখ্যাত রায় বসু দাস তিন।
যশস্বী ভুবনে রাশি নবীন প্রবীণ
সবংশােদ্ভব তিনে সভ্য আচরণ।
অধর্মের অরি তিন তিনে তিন মন।।
জ্ঞানঅসি তীক্ষ অতি তিনি খরশান ।
পাষাণ মানেনা বলে আত্ম অবসান।
যটকৰ্মান্বিত দিক জয়ী তিন ছাত্র।
অত্র পত্রে যশঃপত্র পবিত্র চরিত্র ।
রসিকরতন।'
এলে বিএ পাশ যত সমান টিকিট।
উজ্জল করিল এই সাইটফিকিট।
ছয়ে মিলি করি সই বসন্ত দুরন্ত।
শরৎ শিশির হিম বর্ষ গ্রীষ্ম অন্ত ।
সারটফিকিট প্রাপ্তে মােরা তিন মিত্র ।
পুরস্কারে সুবিচারে মনের পবিত্র
ইতস্ততঃ দরশনে যুড়ায় লােচন ।
কুরঙ্গ সুরঙ্গ রঙ্গ করয়ে কুন্দন ।
শিখরে শিখির নৃত্য হেরি বিদ্যমান।
অগ্নিগিরি দুরে দৃষ্টি হৈল দীপ্তমান।
দখিতে শুনিতে মােরা ক্রমে চলে যাই।
কুণ্ডে কুণ্ডে ঝুও পাশে হেরি ঠাঁই ঠাঁই ।
গম্ভীর রজনীযােগে স্বভাব নীরব ।
হরিধ্বনি মধুম্বরে অন্তরে গৌরব
}}
শ্রবণ যুড়ায় স্বরে মঙ্গোভাব শুনে।
সঙ্গীতে মােহিত করে সঙ্গেীতের গু• {}
প্রফুল্ল স্বভাব ভাব করি বিবরণ।
আমরত্ন বলে হরি বি• আগমন।
রসিকরতন।
অথ বিঘ্ন কর্তৃক তিন জনের
পরীক্ষা।
সামান্য সুখের জন্য হারালে অমূল্য
ধন। মুগ্ধ হয়ে ছয় জালে, না ভাবিলে
কালাকালে, কখন ধরিবে কালে, নাই
নিৰূপণ ।। কচুপত্রে অবিম্ব, ডিম্বের
আধার ডিম্ব, অবস্থিত অবিলম্ব, হইবে
পতন । তেমতি জানিবে ক্রম, বিষয়
বিষম ভ্ৰম, বুঝে দেখ ব্যুৎক্ৰম, হইলে
নিধন ।। আদিরসে ত্যজ নেশা, শান্তি
রসে কর আশা, না থাকিবে দুর্দশা,
জনমে গ্রহণ
পয়ার।
আচম্বিত উপনীত এক জন নর।
শমণ কলেবর যেন লম্বােদর।।
কামের নিকট আসি পদধূলি নিল ।
গুৰুজী বলিয়া তায় যত্নে সম্ভযিল {}
।
রকিরতন।
গুরু বলে ওরে বাছা ছিলা কোথা তুমি।
সে বলে জান না কোথা তুমি অন্তর্যামি ।।
আপনার কাজে কাজে কাজে আছি বদ্ধ ।
যাগ যজ্ঞ করে এবে হইলাম বৃদ্ধ ।
ক্লাম বলে তবে ভাল ভুল না নিতান্ত ।
যদ্বধি জীবন দেহে অন্তেতে কৃতান্ত ।
যে আজ্ঞা বলিয়া শিষ্য করিল উত্তর ।
পরীক্ষা শুনিয়া আমি আইনু সত্বর ।
ভ্রমণ করিতেছিল এই তিন জনে।
বর আবর বােধ প্রথম দর্শনে ।
ছাতে পাজি মঙ্গলবার শুরু হেসে কন
জিজ্ঞাসিয়া বুঝ তুমি বৰ্বর কেমন ।।
এত শুনি হুরি কয় তুমি মহাশয় ।
উত্তর করিব মােরা দিলে পরিচয় ।
সে বলিল বিঘ্ন নাম কহিব কি বাড়া ।
ভাঙ্গা মঙ্গলচণ্ডী কুম্বপনের গােড়া!
প্যারী বলে বাস কোথা কহ তব প্রভু।
বিষ্ম বলে সে যে দেশ শুনাকি কভু }}
রসিকরর্তন।
হবচন্দ্র রাজা যার গবচন্দ্র পাত্র ।
চিবুলে সমুদ্র মন্ত্রী বুঝ বাপু সূত্র ।।
হবু জৰু প্ৰজা যত প্রধান বর্ধিষ্ট।
গাড়র সমান জ্ঞান শিষ্ট অবশিষ্ট ।
ধাপ দেশে পপ বিধি উল্টা কাঠা মাপ
বজ্র আঁটনি ফস্কা গিরে বড়ই প্রতাপ ।
ভদ্রের সম্মান নাই নীচের প্রবল।
কালের মাহাত্ম্য গুণে ঘটল সকল ।।
মুষলং কুলনাশনং কোথা রৰে মন ।
মুখ পােড়াইয়া সব আছে হনুমান।
কুখ্যাতি শ্রবণে মােৰ কৰ্ণ হৈল কাদা ।
ধরিতে ধৈরজ নারি বিষম এ জাল {{
গুমরিয়া গেল প্রাণ লােকে বলে বুড়া।
অট্টালিকা ঘুচে হৈল কালচেন্না বেড়া ।
তথাপি স্বভাব নাছি ছাড়ে দেখে শুনে ।
পিতৃকুত্য লােপ হৈল কুলাঙ্গার গুণে ।।
এত যে হতেছে তবু গৰ্ব মনে।
ডুবু ডুবিলে পাই না পায় কারণে।
p
।
রাসকরতন।
তাহারা আমায় বলে বিঘ্ন মুখপোড়া ।
ভাঙ্গা মঙ্গলচণ্ডী কুস্বপনের গােড়া ।
এতেক শ্রবণে তিনে মুচকিয়ে হাসে।
অবিলম্বে বিষ্ম কয় প্রস্তাব জিজ্ঞাসে ।
য়ে ছয় উত্তর পুৰ্বে করেছ উত্তম।
ভিন্নভাবে কহ শুনি করি পরিশ্রম ।।
প্যারী কয় এক বস্তু আছে মাত্র যম।
সর্ব শাস্ত্রে ব্যাখ্যা করে বিষম বিক্রম ।
জীব আত্মা পরমাত্মা এই দুই যােগ ।
একের সত্বায় বৰ্ত্তে অনন্য ভােগভােগ ।
অন্তঃকালে দুই বস্তু আছয়ে প্রকাশ ।
সূক্ষ্ম করে বুঝে দেখ নিশ্বাস প্রশ্বাস ।
অজপা হতেছে শেষ প্রতিক্ষণে ক্ষণে।
হাস নাগণিয়ে আয়ুদ্ধি ভ্রমে ভণে ।
সাপক্ষ, বিপক্ষ পক্ষ পক্ষ দেখ দুই ।
কৃষ্ণ শুক্ল পক্ষ ব্যক্ত পক্ষপাতে কষ্ট । •
পাইবে সকল তুমি বিশেষ বৃত্তান্ত ।
সাক্ষাৎ করহ তবে অশান্ত কৃতান্ত ।
।
রসিকরন ।
আকার বণিতে হয় দীর্ঘ প্রস্থ সার।
স্থলত তিনেতে অঙ্গ করি সুবিচার।
সংলগ্ন গুরুত্ব সূক্ষ্ম ভিন আকর্ষণ।
সলিলে কঠিনে কেশে তিনে তিন রন ।
বায়ু পিত্ত কফ তিনে আবৃত শরীর ।
তাহার আকর শুন গুণাকর ধীর।।
সুষমা পিঙ্গলা ঈড়া নাড়ী তিন করে।
হােকিম ডাক্তর বৈদ্য চিকিৎসা করে।
খরচেতে মহেশ্বর পঞ্চমেতে বিষ্ণ।
মধ্যমেতে ব্রহ্মা তিন গ্রাম উৎকৃষ্ট।
মন দিয়ে শুন পরে চারি শব্দ তবে ।
আচ্ছন্ন বিভিন্ন রূপে দেখে তলে সবে ।
চন্দ্র সূৰ্য্য পানী জন্ম গ্রহণ এ মানি।
বেদেতে বর্ণনা চারি নক্ষত্র রােহিণী ।
চর্ব চুষা লেহ পেয় রসনায় সুখ।
রন্স না হৈলে বসে সদাই বিমুখ ।।
ধৰ্ম্ম অর্থ কাম-মােক্ষ এই চারি ফল।
সাধনার সার চারি কহিনু বিকল ।।
৫৯,
রকিরতন।
শব্দের আকার নাই সুর শর প্রায়।
গন্ধবহে বহে তায় শূনন শুনা যায় ।
শূন্য ছাড়া বস্তু নাই শূন্য মূলাধার ।
শূনা শব্দ বুঝে দেখ শূন্য পঞ্চসার ।
পরাণ অপান ব্যান সমান উদান।
পঞ্চে পঞ্চ মিশাইয়া প্রপঞ্চ বিধান।
পঞ্চত্ব সময়ে শূন্য দেখিবেক শূন্য।
পূৰ্ব অহ্নে হালি বান্ধ সঞ্চয়েতে পুণ্য।।
অন্নদানে কোন খানে হওনাক ক্ষুন্ন।
অন্নদানে অন্নপূর্ণা নাম এই জন্য ।
কর্পের পঞ্চবাণ শুন উন্মাদন।
সম্মােহন সন্তাপন জ্বম্ভণ ক্ষোভণ ।
পঞ্চমুখে পঞ্চানন বর্ণে পঞ্চশরে ।
লক্ষ্মণ পড়িল শক্তিশেলে সেও শরে।
শ্যাম শ্বেত নীল রক্ত জরদ বরণ ।
পঞ্চবর্ণ”যােগে জন্মে আশ্চর্য্য বর্ণন।
পঞ্চ ফুলে সাজি শােভে,অতি মনােহর
পঞ্চপাণ্ডব ধরায় বর্গ পথধর ।
•
রসিকরন।
দ্রৌপদীর পঞ্চপুত্র শ্রুতসােম আর ।
শনিক শ্রুতকীৰ্ত্ত শ্রুতকৰ্ম্ম সার ।
প্রতিবৃন্দ এই পঞ্চ পাঁচপাঁচি নয় ।
রসিক উত্তর করে সংক্ষেপেতে ছয়।
ছয় গুণে জড়ীভুত সকল গঠন।
অভেদ প্রপঞ্চ অচল ভাৰ্যা আকর্ষণ।
ছয় রাগ ছয় মূৰ্ত্তি শুন মহাশয়।
শ্রীবিষ্ণ ভৈর শিব মেঘ ইন্দ্র কয় ।।
হিােলের ব্রহ্মা মালকোষে যম।
দ্বীপকে আগুণ গুণ কেহ নয় কম।
সপ্ত সুর সরি গম পধনি নিশ্চয়।
তজ তরতম ক্রমে ক্রমে ক্রমে কয় ।
বড়জ ঋষভ আর গান্ধার মধ্যম।
পঞ্চম ধৈবত শেষ নিষাদ সপ্তম ।।
ষড়জ শিখির ধ্বনি ধৈবত অশ্বের ।
অজের গন্ধার সুর মধ্যম বকের।
পঞ্চমে কোকিল স্বর.নিষাদ হন্তির ।
দেব ঋষি কছে সার ঋষভ গাবীর ।
করতন
রত্নাকর সপ্ত কয় ধারণ ধরায়।
ভাষান্তরে মতান্তর বিভিন্ন কায় ।
লবণেক্ষু সুরা সপী দধি ভুগ্ধ বারি।
বার সাত জানে কারে যত দুরাচারী।।
সাতকাণ্ড রামায়ণ সীত কার ভার্য্যে।
এমন পাঠক হৈলে লাগিবে কি কর্যে {
তার বিষ্ম কহে শুনিতে নানস।
শব্দ বস্তু বিবরণ অষ্ট নব দশ ।।
রসিক হাসিয়া কয় অষ্ট বসুদেব ।
অষ্ট নাগ সুপ্রকাশে ভবে ভদেব ।
বাসুকি কুলিকপদ্ম তক্ষক অনন্ত ।
মহাপদ্ম শঙ্খ আর কর্কট দুরন্ত।
অষ্টবসু দৌভ্রণ চেদিরাজ চিত্র ।
বিভাবসু বসু ভানু সম্বিদ সমিত্র ।
গ্রহ নুর চক্ৰী কয় দুষ্টকর পিছে ।
রবিমুত সভা মাঝে মন্ত্রী ৰূপে আছে ।
শরীর পিঞ্জরে হের তায়নবদ্বার।
প্রাণপক্ষী যার মাঝে আছে অনিবার।
.
ক
রসিকরতন
রসের কি কব কথা তুমি নব রস।
মন দিয়ে শুন বলি বিবরণ দশ।
দশদিকে দশ জন আছে দিকপাল ।
নৈঋত বরুণ বহ্নি যম চিরকাল ।
কুবের উৰ্দ্ধ অধ ইন্দ্র মরুৎ ঈশান।
'দশচক্রে ভগবান ভূত সাবধান ।।
আসন্ন কালেতে দেখ দশ দিক শূন্য ।
একে শূন্য দিলে তবে দশ বলি গণ্য।
একের সত্তায় বৰ্ত্তে শূন্য তার জন্য ।
একেতে উদ্ভব ভবে দশ ধন্য ধন্য।
এক হৈতে দশ দশে নয় জ্ঞান অন্য ।
বিকট সঙ্কট দিনে রাখিবে চৈতনা ।
উচিত সঞ্চয় রাখা ধৰ্ম্ম কর্মে পুণ্য।
ইহাতে কর না কেহ কপটে কাপণ ।।
কালে কালে ভুমণ্ডলে প্রতাপে প্রধান।
দশ অবতার লীলা ছলে পণ্য মান্য।
শঙ্খমুর হৈল 'বধ মৎস্য অবতারে।
তাহার মহিমা কত কে বলিতে পারে ?
রসিকরতন।
রসাতল যায় ক্ষৌণী সলিলেতে ভাসে ।
কূৰ্ম্ম অবতার ছলে তলে গিয়া বৈসে।
তবেত ভুবন হৈল প্রলয়েতে রক্ষে।
বরাহ আকারে বধে জানি হিরণ্যাক্ষে ।
হিরণ্যকশিপু বধে নরসিংহ মূৰ্ত্তি ।
প্রাদ প্রধান ভক্ত ভক্তির এ কীৰ্ত্তি ।।
বলিকে ছলিতে হৈলা বামনাবতার ।
পণ্ডিত সহিত তলে বাস হৈল তার ।
হৈইয়তনয় কাৰ্ত্তীৰ্যাৰ্জ্জুন নাশ ।
পরশুরামাবতারে আছয়ে প্রকাশ ।
দশানন নাশ হয় রাম অবতারে।
কংসকে করিল ধ্বংস কষ্ণের আকারে।
বুদ্ধ অবতারে যুদ্ধ কালাপাহাড় অরি।
কী অবতারে ধ্বংস পাপের লহরি।
বিয়ের স্বভাব বি বিষ্মভাবে কয়।
বিন্দু এক সিন্ধু কিসে সিন্ধু বিন্দু হর।
•বিঘ্ন পরিহরি হরি করে সুবিচার ।
সিন্ধু বিন্দু সম হয় শস্ত্রে অনুসার ।
রসিকরত।
এক বিন্দু উপকারে সিন্ধু সম গণে।
উপকার করে যদি সুজনে দুজনে।
সিন্ধু সম অপকারে সুজনের ধ্যান ।
বিন্ধু সম করে বােধ সতের জ্ঞান।
বিন্দু করে সিন্ধু প্রায় কুজনের রীতি।
উপকারে অপকার শঠের দুৰ্ম্মতি
বুঝহ পণ্ডিত তুমি বসগিরি চূড়া।
ভাঙ্গা মঙ্গলচণ্ডী কুপনের গােড়া।
বিপ্ন বলে বল দেখি কে কেমন গুণী ।
শব্দ আছে বস্তু নাই দেখি নাই শুনি ।
প্যারী বলে সীমা বন্ধি মধ্যে যেই স্থান।
রেখা সূক্ষ্ম আদর্শন দ্বিস্থানে বিধান।
থাকে বস্তু লয়ে কথা শুদ্ধ শুনি কর্ণে ।
দুই দিকে টানাটানি কেবা কোথ। বর্ণে ।।
আর এক শব্দ আছে লােকে বলে ভূত ।
কোরাণে পুরাণে বর্ণে এবে তারা ভুত ।
অতঃপর বিগ্ন কয় ওরে বাছাধন।
জীবন্ যুড়ালে মাের করায়ে শ্রবণ।
;
রকিরতন।
জন্ম কৰ্ম্ম মৃত্যু নাম পদ এক প্রায়।
রীতি নীতি সমতুল অতুল ধরায় ।।
অহারে বিহারে ভিন্ন কারে বল বলি ।
নামের মহিমা কত শুনি গলি গলি ।
রসিক হাসিয়া কয় আমরা নিকৃষ্ট।
কেমনে উত্তর করি যিশু খ্ৰীষ্ট কৃষ্ণ।
পূরণে প্রকাশে ভাষে ৰাইবেল বেদ।
"আহারে বিহারে শুল্ক পাইবে প্রভেদ।
পুথি বাড়ে পাছে তাই সংক্ষেপেতে রাষ্ট্র।
বিষ্ম শুনি বিনাশ হইল সন্তুষ্ট।
সন্তোষ হইয়া দিল সুখ্যাতিপত্রিকা।
কাঞ্চন মেডেল এক যশের পতাকা।
কত সুখ পুরষ্কারে যে কনে সে জানে ।
পুলিমুখ দরশনে সুখ নে জানে ।
অক্লান্ত হই যেন ইণে বলে।
তৃষ্ণায় জীবন যেন এত ব্যজলে ।।
ফল মূল যত
খালােলুপ ।
তৃষ্ণায় ঝননা ভ, মং', স্বৰূপ ।
।
রসিকরন।
শ্রীগুরু চরণ স্মরি রামরত্ন দাস।
রসিকরতন গ্রন্থ করিলা প্রকাশ ।
অথ শান্তি কর্তৃক তিন জনের
পরীক্ষা।
মানিলাম হও তুমি নিশিন্ত নিতান্ত ।
গৌরবে সৌরবে এবে হয়েছ সম্ভান্ত ।
পুর্ণবন্ত বলে সবে, রবে কি না রবে
রবে, তেই বলি রাখ ভবে, কীৰ্ত্তিতে
দৃষ্টান্ত। উন্দ ধুন্ধ আদ্য অন্ত, বিষয় বিষে
আক্রান্ত, ক্ষান্ত নাই এপর্যন্ত, না চিন্তু
কৃতান্ত। প্রসিদ্ধ আছে সিদ্ধান্ত, প্রকাশে
দেখ বেদান্ত, ভাব সেই অবিশ্রান্ত,
অভ্রান্ত শ্রীকান্ত ।।
পয়ার।
শ্লান্ত দুর করিবারে মােরা তিন জন ।
অন্বেষণ করি স্থান কোথায় নিন ।
রাসকরতন
দরশন হৈল এক যুবতী কামিনী ।
চিকণ বরণ কাল অঞ্জননয়নী।
ৰূপ কি বণিব তার পদ্মিনী বাখানি ।
দীর্ঘকেশী মুখে হাসি মধুমাখা বাণী।
হাসিয়া হাসিয়া আসি নিকট হইল।
মৃদুস্বরে কে তােমর জিজ্ঞাসা করিল।
পথিক বলিয়া প্যারী কহিল অমনি ।
কি নাম ধরহ তুমি কাহার ঘরণী
উত্তর করিল বালা নাম মাের শান্তি।
পথিক হইলে ক্লান্ত দুর করি শ্রান্তি ।
করুণার কন্যা আমি স্বামী মোর ক্লেশ
তাহার চরণ সেৰি দেখ মাের বেশ ।
রোগ শােক দুঃখকালে করেন স্মরণ।
উপস্থিতে বিধিমতে করি সম্বরণ ।
পতি মাের বারফটকা থাকে নাহি ঘরে
পাড়াচাটা স্বভাব জ্বলি তার তরে ।
বুঝাইলে বুঝে না সে ভেংচায় ঠোনায় ।
টো টো করিয়ে বেড়ায় টোলায় টোলায়
.
এ রসিকরন।
* এসেছে কাকচরিত্র শুনিনু পড়ায় ।
লজ্জা খেয়ে আসিয়াছি দেখাতে তাহায়
তুকতাক করি কত কিছুই না ফুরে ।
পূজা মানি মিণি মানি কপাল না ফেরে।
হরি বলে প্যারী জানে টোটকা বহুতর
ঔষধে ইহার কত পেলে ঘর বর ।
এত্ত শুনি বলে ধনী করছ উপায় ।
সধবায় বিধবার ভার সয়া দান ।।
যদি কিছু জান বাপু কর প্রতীকার ।
তােমাদের মধ্যে আছে কে গণৎকার।
হরি বলে ওহে পারি বুঝি এবার।
পারী বলে আছে এক যুক্তি চমৎকার ।।
অলস নামেতে লতা হয় তার মূল।
খোপায় রাখিবে সদা লয়ে তার ফুল ।
শিমুল ফুলের ন্যায় তাহার বরণ।
মাকাল ফলের ন্যায় ফলে অগণন ।
ধারণ করিবে গলে পত্ৰ ফল মূল ।
অবশ্য পাইবে পতি নাহি ইথে ভুল ।।
*
রকিরতন। মূলের আকার যেন ঠিক এরে। বুট । যখন পাইবে ক্লেশ দিও হরির লুট । ক্লেশ প্রাপ্ত হৈলে কর জাহ্নবীতে স্নান সন্তোষে সুন্দরী করে স্বস্থানে প্রস্থান । আমরত্ন বলে প্যারি বলিহারি যাই। এবার বুঝিব তুমি কেমন আতাই । অথ রতি কর্তৃক তিন জনের পরীক্ষা। গীতাবলিছন্দ । স্বশরীরে অন্বেষণে হেরিবে ব্রহ্মাণ্ড। পঞ্চভূতে পঞ্চইন্দ্র, প্রপঞ্চ প্রকাণ্ড। স্থাবর জঙ্গম কায়, উদর সাগর তায়, নদ নদী, নাড়ী প্রায়; পৰ্বত প্রগণ্ড। কেশ আকাশ প্রকাশি, চক্ষু তারা মুখ- শশী, ভল ভানু চক্ররাশি, দেশ-দেশ গণ্ড। মায়ামেঘে আকর্ষণ, শােকে দুঃখে বরিষণ, বিপদ বজ্রপতন,”মক প্রচণ্ড { রসিকরন । উল্কাপাত পীড়ায়, ধুমকেতু মুখোদয়, কালপুরুষ রিপুছয়, নক্ষত্র এ পণ্ড। রাস্তা নবদ্বার যাতে, পঞ্চজনা চলে তাতে, কর গ্রহণ করে হাতে, মন রাজার কাণ্ড । পদতল মর্ত্য তিন, স্বর্গভাগ নিশিদিন, ঋতু নবীন প্রবীণ, বাল্যকাল পণ্ড। পর- মাত্ম! আআ কয়, সৰ্বাশ্ৰিত সৰ্বময়, এই দেহ পরিচয়, ক্ষুদ্র এ ব্ৰহ্মাণ্ড ।। রামরত্ন বলে সার, এও যার ওও তার সেই সার মূলাধার, সৃজন মার্ক। বিশ্বদেহ তুল্য করা, বাতুলের চন্দ্র ধর, স্থালী মধ্যে করী ধরা, শ্রেণী লণ্ড ভণ্ড । পয়ার। আশ্চর্য ঘটনা এক শুন বিবরণ। বৃহঃ কুঞ্জর এক হৈল দরশন। বেগভরে উচ্চৈঃস্বরে আইল নিকট। কাতর হইয়া পড়ে করে ঝটপট ।।
৭১,
রসিকরতন।
ক্ষণেক বিলম্বে হৈল মাতঙ্গ নিধন।
আশ্চর্য হেরিয়ে হেও করি অন্বেষণ ।
হেরি এক বিছু তার মস্তক উপরে।
আঘাত করিয়ে নাশ করিনু সত্বরে ।।
ক্ষণেক বিলম্বে দেখি শবভােগী যত ।
আসিয়া নিকটে যেন আশা ছৈল হত।
বায়স জম্বুক গৃধ শ্ব আদি না খায়।
ভয়ানক বিষধর কটি মাত্র কায় ।
হরষিতে মনে তিনে হেরি কত সৃষ্টি।
অপৰূল্প অট্টালিকা হৈল এক দৃষ্টি।
টোর বেবেল নাম একবিংশ তালা ।
ভাষা ভিন্ন হয়ে তায় কয় জাতিমালা 6
ইজিটের পমিত শুণ্ডাকৃতি শুম্ভ ।
যিশু স্থানে দেবালয় আঁগারের দম্ভ ।
কলশশ নাম মূৰ্ত্তি রােনাম দ্বীপে।
আসিয়া সাগর তটে চরণ সমীপে ।।
পিতল গঠন মূৰ্ত্তি ধরে দুই স্থান।
তন্মধ্যে জাহাজ চলে উড়ায়ে নিশান।
রসিকতন।
কত উচ্চ পরিসর ছিল সেই মূৰ্ত্তি ।
কেমনে গঠন হৈল অপৰূপ কীৰ্ত্তি ।
অসম্ভব অকৰ্ত্তব্য করিতে প্রকাশ ।
সামানা সমাজে শুদ্ধ হাস্য পরিহাস ।
টেম্স নামে এক নদী তায় তিন পথ ।
উপরে পুলের রাস্তা চূড়াকাটা রথ ।
নদীর নীচেতে রাহা সুড়ঙ্গ আকার।
তদুপরে জলাশয় রাস্তা পারাবার ।
চীনদেশের প্রাচীর অদ্ভুত নির্মাণ।
তদুপরে অনায়াসে আসে সপ্ত যান ।}
কত পরিসর তার কর সুবিধান।
দীর্ঘ মাপ কর দেশ বেষ্টন সন্ধান।
তাজ বিবীর কবর অতি মনােহর।
আর যত দেখ শুন কেবল কবর।।
মক্কেশ্বর মহাদেবকায় স্থাপন ।
মহম্মদ যথা জন্ম করিলা গ্রহণ
যবন যাজন বিধি দিয়া বহুতর ।
মদিনায় মহাশয় লইলা কবর।
শ
সিকরতন।
এই ৰূপে হেরি গুনি আশ্চর্য সৃজন।
অতি উচ্চ স্থান সেই সকলি দর্শন।
হনকালে এক বালা ধীরে ধীরে আসি ।
নিকট হইয়া বৈসে মুচকিয়া হাসি।।
জিজ্ঞাসিল ওরে বাছা কহ বিবরণ।
ভূগােল জ্যোতিষ যুক্তি যে ৰূপ সৃজন ।
গারী বলে বলি তবে সংক্ষেপে বর্ণন।
মন দিয়ে শুন সবে যুড়াবে শ্রবণ।
গীতাবলিছন্দ ।
তারে কবরে স্মরণ। অতুল মহিমা যার
বেদেতে বর্ণন। যার উচ্ছায় সঞ্চার,
উদ্ভব তিন সংসার, লীলাখেলা ছলে
তার, ব্ৰহ্মাণ্ড সৃজন। যার লয়ে অনুমতি,
বিমানে ক্ষিতির, গতি, হরিদ হয়ে
স্থিতি, দিতেছে কিরণ কুমারের চক্র,
যেন, রবি বসি ঘােরে হেন, কে বলিতে
পারে কেন, করে আকর্ষণ। বঁধু পাশে
পাশে শশি, ঘুরিতেছে অহর্নিশি, যে-
হ
রসিকরণ। মন চক্রেতে রাশি, করছে ভ্রমণ ।। গ- ভান গােলার ন্যায়, গতি ধরায় ধরার, বার মাসে কার প্রায়, ভাস্করে বেষ্টন। যেমন ঘাঘাের মার্ণী, বালাখেলা করে জানি, বিধির এ খেলা মানি, ইতেছে দর্শন। ঋতু ছয় সহচরী, আর আজ্ঞা শিরে ধরি, বেড়াইছে ঘুরি ফিরি, ধারা নিৰূপণ। গতির প্রভাবে ধরা, চন্দ্র সূর্য হই হারা, দিবারাত্রি এই ধারা, হেতু অ- চ্ছাদন। যদি যােগাযােগ হয়, সরোবর তিনে নয়, চন্দ্র সূর্য গ্রাম কয়, অচ্ছিন্ন গ্রহণ। ইনু ভানু আকর্ষণে, টানে সাগর কারণে, বৃদ্ধিপয় সন্নিধানে, বেগে আগ মন। গুরুতর হৈলে, বান, নদনদী ব্যব- ধান, অধােগতি ভাটা যান, কারণে কা- রণ। আকর্ষণে বিশ্ব বদ্ধ, বিমানে দেখ প্রসিদ্ধ, বিভুশুদ্ধ, স্বয়ং সিদ্ধ, শক্তি আক য। সেই আকর্ষণ মায়া,আকর্ষিত সৰ্ব্ব
৭৫
রসকরতন
কায়া, হৃদপিণ্ড আত্মছায়া, আছে স”
ক্ষণ। কটাদি পতঙ্গ সবে, পশু প.
সর্ব জীবে, চারিযুগ আছে ভবে, মায়ায়
বন্ধন ও অখণ্ড ব্রহ্মাণ্ড কাণ্ড, হেরে না
মানে পাষণ্ড, ভণ্ডতে করিছে পণ্ড, না
ভাবে কারণ। কোটি তারা কোটি রবি
ব্রহ্মাণ্ড তাহার ছবি, বর্ণনায় বৰ্ণে কৰি,
কিঙ্কর রতন।
পয়ার ।
ভূমণ্ডল গােলাকার বেষ্টিত সলিলে ।
বন উপবন শৈল অধিক জঙ্গলে ।
বসতি কিঞ্চিৎ মাত্র উদক প্রবল।
তন্মধ্যে গােপনে স্থিতি বাড়বা অনল ।
তিলাংশের এক অংশ স্থাবর সৃজন।
প্রভেদ বিস্তারে হয় বিস্তর বর্ণন।
দুই অংশ পরিপূর্ণ রূপকর কয়।
নদনদী খাল ঝিল পৃথিবীর পয়,
রসিকরত।
নানা জীব জন্মে তায় অসংখ্য গণন।
মানব জনম শ্রেষ্ঠ ধরায় ধারণ ।
রীতি নীতি শাস্ত্র বিদ্যা আশ্চৰ্য্য এ দৃষ্টি
বিদ্যার মহিমা তারে সমাচারে দৃষ্টি ।।
নিগৃঢ় চিন্তিলে হয় নাহি নিৰূপণ ।
সৃজন কারণ শুদ্ধ সেই নিরঞ্জন ।
শ্রবণে সন্তুষ্ট হয়ে দিলেন স্ত্রী কল ।
ভক্ষণে কহিল গুণ কুশল মঙ্গল।
তােমরা রসের সার রসামৃত কীট।
উপকার জন্য দিব সারটফিকিট।
অত্র পত্র লিপি করি বিকশিত মনে।
পত্রের মরম বুঝ বিজ্ঞ গুণিগণে ।
রসিক নির্জুল সুরা প্যারী বাছাল ।
অরিষ্ট বরিষ্ট রাষ্ট্র অনিষ্টের কাল ।
নামে হরি সালসার’সার প্রায় গুণ।
সব্যাধি হরে তিনে নয় কেহ নুন।
রসিক হেরিয়ে ছাসে হাসিবার কথা।
পরীক্ষায় সুৰ্ত্তি খেলা হাসি কান্না প্রথা
.
রসিকরতন।
এতেক শ্রবণে ধনী লিখে পুনৰ্ব্বার।
রসিক নিমৰ্ম্ম হয়ে মর্ম বুঝে তার ।
কবের নামক বট বৃক্ষ এক স্কুল।
রসিক পলব যার প্যারী তার মূল ।
হরি ঝুরি বিস্তারিত তিন শত গুড়ী ।
পরিপাটী মূলে তার শত শত সিঁড়ী ।
বিখ্যাতি সুখ্যাতি পত্র পত্র ঘন তা ।
আক্লান্ত পথিক বসি যুড়ায় যুড়ায়।
প্যারী বলে হেন পত্র কভু নাহি দেখি ।
বলা বলে একে একে লিপি করে রাখি
পরে পরস্পরে দিব তিনে তিনখানি ।
স্থির হয়ে বৈসে দেখ তৃতীয় বাখালি {{
রসিক রসেক সিন্ধু প্যারী তায় তরি।
নােঙ্গর মাস্তুল দড়ি হাল পালি হরি ।।
বিবেক তিনের গুরু তিনের কাণ্ডারী ।
বিনে করে পার করে পর উপকারী।
যষ্ঠশ্রেণী মধ্যে শ্রেষ্ঠ গণি মাের কান্ড।
নিম্নভাগে সই করি-বুঝ হরি ভ্রান্ত
রসিকরন।
লহ রে তােমরা ছাত্র যাপত্র সবে ।
যেখানে দেখাৰে ইহা দিগজয়ী হবে।
তিন জনে তিন খানি রাখ সতন্তর ।
জানি কি বিচ্ছেদ যদি হয় পরস্পর
দুষ্ট৷ সরস্বতী যদি কভু ঘাড়ে চাপে।
উপযুক্ত কৃতিপুত্র ত্যজে মায় বাপে!
আশে পাশে জরাব দেখে শুনে হদ্দ।
মােহিনীর চাতুরীতে আছে কত বদ্ধ ।।
তিন জনে ক্রমে ক্রমে আর উর্দ্ধে যাই।
অপৰূপ হেরি শুনি কত ঠাঁই ঠাই ।।
কেশরী শাবক ব্যাঘ্র কুরঙ্গে সুরঙ্গে।
কুন্দন ঘােড় করে কুঞ্জর তুরঙ্গে।
গম্ভীর রজনীযােগে গম্ভীর উদ্ভব ।
হরিধ্বনি মধুরে দুরে ঘণ্টারব ।।
নয়ন শিহরে হেরে কর্ণ স্বর শুনে।
সঙ্গীতে মােহিত করে সঙ্গতের গুণে।
শ্রীগুরু চরণ স্মরি ব্রামরত্ন, দাস।
বলিক রতন গ্রন্থ করিলা প্রকাশ ।
৯.
রসিকরতন।
অথ অঘােরপন্থী। সহিত তিন জনের
তর্ক বিতর্ক।
কাৰণ বুঝিয়ে কেন কর না বিচার ।
বল যারে আমি আমি, সে হয় কুপথ
গামী, কেমন সে অন্তর্যামী, কিসে মূল
ধার। আবােহণে বিপন, আহুতির
হেতু হােত, যেমন বক্তার শ্রোতা, কৰ্ত্ত।
সুপ্রচার । তেমতি জানিবে চৰ্ত্তা, সৃজন
একের দত্ত, অতুল কারণ ভর্তা, ব্রহ্মাণ্ডে
বিস্তার ।। (ধ্রু)
পয়ার।
দরশন দিল রবাহূত এক জনে।
নিজ পরিচয় দেয় প্রফুল্ল বদনে।
শুন মম পরিচয় ভগ্নী এমার ভ্রান্তি।
নামেতে অঘােরপন্থী শরীরে সংক্রান্তি । •
আসিয়াছি সন্নিকটে করিব পরীক্ষা।
প্যারী বলে ক্ষমা কর দেহ এই ভিক্ষা ।
রসিকরতন ।
একি দফগাজীর শইলে কুড়ালি ।
যেই এসে সেই টানে হয়ে কুতুহলী।
সে বলে অধিক নয় দুই চারি কথা।
উত্তর না দিলে মনে দিবে বড় বাথ! ।।
প্যারী বলে বল তবে যে হয় মানস ।
সে বলে বলিলে রবে ভবে অতি যশঃ}}
জনম গ্রহণে মৃত্যু জানে ভাল সবে ।
পুনৰ্বার আসিতে কি হবে এই ভৰে ।।
এই ভাবে ভাবি সদ। সমূহ সন্দেহ।
কোথায় যাইবে এই প্রিয়তম দেছে।
পাপ পুণা তুই শূন্য সম করি জ্ঞান।
কাহারে ভাবনা করি কারে কার ধ্যান ।
অখণ্ড ব্রহ্মাণ্ড কাণ্ড নাই উন্দ ।
আহার বিহার শৌচ নিদ্রায় অ্যানন্দ।
আর যত দেখি গুনি সকলি সে ভণ্ড।
• নিগুঢ় ভাবিলে হয় বুদ্ধি লণ্ডভণ্ড।
খাওয়া দেওয়া এই শুদ্ধ জগতের স'র।
বা মাসে তের পর্ব সকলি অসার }}
রসিকরতন।
স্বভাব শােভিত ফুলে যায়। মকরন্দে।
মানব ভ্রমর তায় গুঞ্জরে আনন্দে।।
পারী বলে তাহা নয় আনন্দ বাজার।
শুন বলি সবিশেষ আকর তাহার।
কারণবশতঃ কাৰ্য্য নয় কাল্পনিক।
অবশ্য মালিৰে সবে নাস্তিক সান্তিক ।
তরু কি প্রথমে জন্মে বীজ অগ্রসর।
বীজ যদি মান অগ্রে বীজ কে তাহার ।
স্বভাব আপনি বীজ যদি বল তুমি।
কারণবশতঃ সেই স্বভাৰ সে স্বামী।
স্বভাব বলিয়ে মান বীজ মূলাধার ।
কৰ্ত্ত বিনে কর্ম কোথা আছে সুপ্রচার ।।
সেই মূলাধার স্বামী তিনি চিদানন্দ।
স্বভাব বাজার যার চলিছে স্বচ্ছন্দ।
আনন্দ বাজার ভব অত্যন্ত বিশাল।
অনবরত বিক্রয় ক্রয় চারিকাল ।।
জীবন নিধনে যদি না হয় জনম।
আনন্দ বাজার তবে মিছে পণ্ডশ্রম।
৮২
রসিকরতন।
স্বভাব বহু যারে সেই সভ্য জ্ঞান।
নশ্বর ঈশ্বর সেই কর তারে ধ্যান ।।
কারে বলে পাপ আর কারে বলে পুণ্য ।
মনােমগ্নে শুন তবে তাহার যে জন্য ।
যে কৰ্ম্ম করিলে পর বিঘ্ন হয় মনে।
অথবা ভাবনা দুঃখ অন্তরে গােপনে।
পাপের লক্ষণ এই পুণ্য বিপরীতে।
নিৰ্বাহ হইলে ক্রিয়া মহা হচিত্তে ।
এই দুই সূত্র ভবে সুখ দুঃখ ভােগ।
যখন যাহার ক্রিয়া হয় যােগাযােগ।
অদৃষ্ট চক্রের ন্যায় গতি দেখ তার ।
দিবাগত রাত্রি কাল বিধি বিধাতার ।
নাগরদোলায় যেন ধরায় আধার।
আশা যাও উঠা নামা এই সুবিচার।
আর দেখ বুঝে ভুমি দগ্ধ করি কাষ্ঠ।
এক বস্তু দ্বি আকারে দেখা যায় স্পষ্ট ।
সারভাগ ভরাশি জল ধুমাকার।
দেহ পরিবৰ্ত মাত্র ধ্বংস হৈল কার ?
.
রসিকতন।
তেমতি জানিবে আঅ নাই তার ধ্বংস।
কোথায় বর্তাবে বল সেই আত্ম অংশ ।
পঞ্চে পঞ্চ মিশাইয়ে প্রপঞ্চ বিধান।
সৃজনে রােপণে বীজ জন্মে ব্যবধান।
যাহাতে জন্মায় দ্রব্য বীজ সম্বলিত ।
আহারে জঠরে পাক পায় নিয়মিত ।
তাহার গুরুত্ব গুণ বীজ বলি যারে ।
সেই বীজে জীব আত্মা আপনি সঞ্চারে ।।
সম্ভোগে সংযােগে হয় জীবাত্মা ধারণ ।
যেমন বিমান হৈতে হয় বরিষণ।
যাহা হৈতে উৎপত্তি নিবৃত্তি তাহায়।
পঞ্চভূতে দেহময় পঞ্চেতে মিশায় ।।
মৃত্তিকায় দেহ যাবে মৃত্তিকায় জীব ।
হয় গ্রীব আদি করি জীব সদাশিব ।
সন্তুষ্ট শ্রবণে দিল বলে বিনায়ক।
তিন জনে তিন পুষ্প কনকচম্পক ।
অর তিন খানি দিল তায় যশপত্র ।
হৃদয় প্রফুল্ল হয়ে চলি তিন মিত্র।
রসিকরতন।।
অথ সরস্বতী ৰূপ দর্শন ও বিবেকের
উপদেশ গ্রহণ।
ঐ দেখ দেখ ধরে বীণে করে করে ।
শ্বেতপদ্মে রক্তপদ্ম, সুশােভিত করপদ্ম,
হেরিয়ে চরণপদ্ম, ভবঘোর হরে । অৰুণ
তরুণ শ্বেত শােভে কলেবরে । ঈষৎ
মধুর হাসি, রত্নপদে সুপ্রকাশি, পুঞ্জে
পুঞ্জে ভুঞ্জে আসি, ভ্রমর গুঞ্জরে । ( ফু)
পয়ার।
গ্লানি নিঃসরণে যেন শরীরে আরাম।
কন্যাভার গ্রন্তে সম্প্রদানে বলে রাম ।
শেওড়াতলায় আম পাইলে যেমন।
তেমতি হইয়া তুষ্ট তিনে তিন মনঃ ।
পরস্পর গাত্ৰসুখে যেমন কদম্ব ।
রসেতে অন্তর পক বিদরে দাড়িম্ব ।।
বিশ্রাম করিতে মােরা বসি তিন জনে।
হাস ভা বরিহাস বদনে অদনে ।।
রসিকরতন।
যে ফল সংগ্রহ ছিল সেই ফলে ফল ।
মুফল তেমন ফলে ফলে সফল।
অপুৰ্ব্ব কামিনী এক আইল সম্মুখে।
অট্ট অট্টহাসি মধু ক্ষরে বিধুমুখে ।
উর্বশী কি দেবকন্যা ৰূপ হেন মানি।
'বােধ হৈল এই বুঝি স্থির সৌদামিনী ।।
ৰূপের তুলনা ছিল এক মাত্র রতি
এরে হেরে বােধ এবে রতি একরতি।।
নারী হেরি মনে করি ৰূপ চমৎকার ।
জিজ্ঞাসিনু তদন্তরে কন্যা তুমি কার ।
উত্তর করিল বালা অমিয়া বচনে।
বিবেক আমার নাম থাকি সঙ্গোপনে
মনরাজ্যে দ্যুভয় অধর্ম প্রবল।
ভ্রমণ করিছে সদা ছয়ে এক দল ।
যারে নষ্ট করে তারে ধরে অগ্রে মুণ্ডে ।
কামনা সফলে ফেলে নরকের কুণ্ডে
প্রমাণ প্রধান তার উপদংশ রােগ।
রাজদ শিরে ধরে তােগে নানা ভোগ ।।
রসিকরতন।
চৌকীদারী বরাবরি করি মনরাজ্যে।
সাবধান করি সবে অনিয়ম কার্যে ।।
দুঃখের দুহিতা আমি বুদ্ধি মাের সই।
বুদ্ধির কুবুদ্ধি কত নিবারণে সই ।।
বৃত্তি করে লভ্য বড় প্রাপ্ত ধর্ম জ্ঞান।
বিদাৰূপা অচলেতে মম বাসস্থান।
সাধক পথিকগণে বুঝাইতে মৰ্ম্ম।
নিযুক্ত হইয়া আছি শিক্ষা দেই ধৰ্ম্ম ।
পরীক্ষায় পাশ যার হয়েছে সংগ্রহ।
বাদী তার কেহ নয় নয় নবগ্রহ।
তােমরা পায়েছ পাশ শ্ৰেষ্ঠ যশপত্র ।
লিখিয়াছে যশপত্রে শরীর পবিত্র ।
অতএব মাের সঙ্গে সঙ্গী হও সবে ।
দরশন করাইব হেরিবে নীরবে ।
চলিলাম তার সাতে,
উচ্চ ঠাই।
পূর্বে যত উঠেছিনু নয় এক পাই ।
সংখ্যা নাই কোথা যাই দেবতার স্থানে।
ঐরে বই ছাত্রগণ,বিবেক বাখানে ।
।
রসিকরতন।
৮৭
শুক্লবর্ণ কলেবর গসি পদ্মদলে ।
নয়ন মুদিয়ে দেখ হৃদয় কোমলে।
উজ্জ্বল করেছে চূড়া চূড়া শিরে ধরি।
কি শােভা হয়েছে তায় শিখিপিচ্ছ হেরি ।।
বিনা করে করে গান জগৎ মােহিনী।
বিদ্যাৰূপা বিনােদিনী সঙ্গতদায়িনী।
সৰ্ব্ব শ্রেষ্ঠ শৃঙ্গ হেরো পয়ােধি উপরে ।
জ্যোতিঃ ৰূপ। ব্ৰহ্মমূৰ্ত্তি ছটা কলেবরে ।।
সত্যের সমাজ সেই জানিবে নিশ্চয়।
সত্যের অর্চনা শুদ্ধ নিত্য নিত্যময় ।
আশে পাশে শুন শব্দ মাত্র চণ্ডীপাঠ ।
ব্রহ্মের সমাজ এই প্রধান পাঠ ।।
কল্পতরু নামে ব্ৰক্ষ শুনা আছে প্রয়।
মােক্ষ আশে যেই “আসে জীবন যুড়ায় ।।
বৃক্ষ হৈতে পফল হইলে পতন।
সাধুগণে শুভক্ষণে করয়ে ভক্ষণ ।
জঠরে পতিত হৈলে জঠর যাতনা ।
ভবে আসা আশা বালাখাকেনা।
রসিকরতন।
নির্বাণে যেমন দীপ দীপ্তি অদর্শন।
সুভাবে স্বভাব পঞ্চ করে আকর্ষণ।
এই দেখ সুখ দুঃখ নামে দৃষ্টিতে।
দুই ধারে দুই পথ পাপ পুণা স্রোত ।
প্রান্তভাগে দুই তার মন্দির স্বৰূপ।
তন্মধ্যে মূরতি দুই অতি অপৰূপ
দক্ষিণে অধৰ্ম্ম মূৰ্ত্তি বিকট সুন্দর।
ঠিক যেন এক মিন্সে যুবা বাজিকর।
অসন্তোষ পদতলে বাহু তুরঙ্গ।
ছয়ভুজে সাজে তার কালিন্দী ভুজঙ্গ ।
কুখ্যাতি কর্কশ শব্দ বাজে এই ঢাকে।
জ্বলন্ত অনল সে কি টাকা দিলে ঢাকে।
ধর্মের আকার প্রায় দেখ আশুতােষ ।
পদতলে পড়ে নামে কমঠ সন্তোষ ।।
বামহস্তে পারাবত দক্ষিণে দিবান্ধ ।
পুস্পময় পুষ্পবৃষ্টি তায় সান্ধ ।
ধৰ্মাক জয়ঢ়াক যশঃ জয় বাজে।
বিশ্বাস নিশান টয়ে পরিপাটী সাজে ।।
রসিকরতন।
৮৯
দ্বিঢাকের প্রতিধ্বনি প্রল সংসারে ।
স্বর্গ নর্ক ভােগভােগ এই সুবিচারে।
পাপ পুণ্য রাস্তা পাশে দেখ দুই হাট।
দক্ষিণে সম্পদ নামে বাসেতে বিভ্রাট।
তদন্তর সরাসর দৃষ্টি কর নেত্রে ।
পাপ পুণ্য রাস্তা দুই কর্মকাণ্ড ক্ষেত্র ।।
স্রোতস্বতী সুখ দুঃখ তদন্তরে যােগ।
তার তটে বান্ধাঘাট নাম ভােগাভোগ :
পাপ পুন্যপথ দুটি ঘাট সরাসর।
পথিক পাপের পথে দেখ বহুতর ।
পুণ্যপথে কাটা খোচা স্তুপ উপবন ।
(সেই ভয়ে এই পথে করেনা গমন।
দৈবাৎ বিপাকে লোেক না হেরি উপায় ।
গুড়ি গুড়ি মুড়ী ধরিধায় এ পন্থায়।
দষভয় মনে হয় নির্জন হেরিয়া ।
নিৰ্জ্জুনে যায় না দস্যু মনে বিচারিয়া !
পাপের পন্থায় ঝেড়ে ঝাড়ে আড়ে ঘাট ।
পথিকে পতনে পেলে ঝেড়ে দেয় লাঠ ।।
রসিকরতন।
সুধারা বুঝিয়ে ধারা ধরে ধীরে ধীরে।
স্থূলবুদ্ধি নহে সাধ্য অসাধ্য অস্থিরে ।।
নিবৃত্তি প্রবৃত্তি নামে দুইটী ফটক।
প্রত্তি না খুলে দিলে নিবৃত্তি অাটক।
মায়া মােহ দয়া নামে স্রোতস্বতী নেত্র।
সুষুম্না পিঙ্গলা জড়া নাড়ী নদী মাত্র।
পারঘাটে মনতর বিবেক কাণ্ডারী।
দাঁড়ি বুদ্ধি পালি হাল নােঙ্গর সবুরী।
বর্গ নর্ক দুই শাখা শ্রোতস্বতী থােগ ।
পারের কাহিনী এই ভবে ভোগাভােগ ।
অতএব বাছাধন করি সাবধান।
কোন কর্ম না করিবা না করি বিধান।
উপকার এক কর্ম ভবে আছে সার।
আর যত দেখ শুন অসারে অসার।
সংক্ষেপে স্বৰূপে ধৰ্শ জ্ঞান উপদেশ।
মর্ম বুঝে ধর্ম কর্ম কিসে দ্বেষাদ্বেষ।
অবিলম্বে অন্তর্ধান বিবেক হইল ।
অভেদ বিচ্ছেদ মনে নীরদ উঠিল ।
রসিকরতন।
ধন হেরি মনে মনে হইল আতঙ্গ।
অম্বর গজ্জনে মাের নিদ্ৰা হৈল ভঙ্গ ।
যাহা হৈতে উৎপত্তি নিবৃত্তি তাহায়।
মেষ বরিষণে গুপ্ত নুপ্ত প্রাপ্ত কায় ।
ভূর্গা দুর্গা বলি আমি গাত্রোখান করি।
শয়ন করিয়া আছে বামে হেরি প্যারী।
শীঘ্র করি পায়ে ধরি ঠেলি তার অঙ্গ।
ক্ষণেক বিলম্বে তার নিদ্ৰা হৈল ভঙ্গ ।।
যেই হরি সেই প্যারী করে হরি ব্যঙ্গ।
আশ্চর্য স্বপন শুন বৈরঙ্গবৈরঙ্গ।
পনে স্বপন দেখা উত্তম প্রসঙ্গ।
ভ্রমণ হইল বঙ্গ তৈলঙ্গ কলিঙ্গ ।
অপুৰ্ব্ব কাহিনী রচা রঙ্গে ভঙ্গে সাজ।
ভাবুক পাইবে ভাব হেরিয়ে অপাই ।।
প্রসূতী জানিতে পারে প্রসবযাতনা ।
বন্ধ্যে কি বুঝিবে জ্বালা জানেনা জানে না।
পারী শুনি সবিশেষ বৃত্তান্ত সকল।
প্রফুল্ল হইয়া বলে জনম সফল ।
।
রসিকরতন।
সামান্য সমাজে যশ বা নাহি পৰে ।
'এই যে ইক্ষুর গ্রন্থি রস পাশে পাবে ।
রসিক শ্রবণে এই আশ্চর্য স্বপন।
রাখিল গ্রন্থের নাম রসিক রতন !!
শ্রীগুৰুচরণে কোটি সহ প্রণাম।
রসিকতন গ্রন্থ সমাপ্ত রিমি !
হুগলি কালেজ বর্ণন।
দীর্ঘ ত্রিপদী।
পূৰ্ব্ব সুতির ফলে, জন্ম লয়ে ভূমণ্ডলে,
মহম্মদ মােশীন নুজন।
ধন্য ধন্য পুণ্যবান, কীৰ্ত্তি বৃত্তি বৰ্তমান,
দৈত্যকুলে প্রহলাদ যেমন।।
এ নয় সামান্য কথা, বিদ্যা বিতরণ যথা,
প্রতিমূৰ্ত্তি মূৰ্ত্তি মূৰ্ত্তিমান।
আপনি বসিয়া মধ্যে, চতুর্দিগে মহাপাধ্যে,
পরিচারক করে সুধাদান।।
যুক্তিসিদ্ধ করি যুক্তি, শ্রেণীবদ্ধ নানা পংক্তি,
নিয়ন্ত্রিত বসিবার স্থান।
ওণজ্ঞ পরিচারক, সুশিক্ষিত সুশিক্ষক,
পরিবেশন করে সুবিধান।
রীতি নীতি নানা জব্যানানা’রসে নানা কাৰ্য,
উপভােগ বিবিধ বর্ণন।
৫
হুগলি কালেজ বর্ণন'।
কি শােভা হয়েছে তায়, নবরত্ন সভা প্রায়,
যন্ত্রাদি পুস্তক অভরণ।
পাঠক ক্ষুধিত জনে, তৃপ্ত করান ভক্ষণ,
দক্ষিণাত্ত পুরস্কার পরে।
কল্পতরু হয়ে সাধু, বিমানে যেমন বিধু,
সুধা দান করতে চকোরে ।।
গুণের মহিমা যত, জগজনে অবগত,
ভূভারতে যশের আধার।
ইংরাজ সমাজ ধন্য, প্রকাশ করিল পুণ্য,
চুড়ায় বিদ্যার আগার ।।
বুমরত্ব করি যুক্তি, লয়েছিল শ্রেষ্ঠ পংক্তি
সুধাবিন্দু পানে মনােরম ।
দৈবের ঘটনা ক্রুমে, ত্যজিয়ে সে শ্রেণী ভ্রমে,
ভ্রমপথে পথিক অধম ।
মম তমঃ পরিহরি, শ্রীগুরু স্মরণ করি,
সদরলে বিদ্যা রত্নাকর ।
তার উপদেশে জ্ঞান, নিরবধি করি ধ্যান,
রত্নে যত্ন চিম্ভে নিরন্তর ।।
মানবরতন নামক গ্রন্থ।
।
নব্য সভ্য ভব্য রসজ গুণীগণের মনােরঞ্জনার্থে
ফরাসডাঙ্গ নিবাসি
শ্ৰীযুত রামরত্ব দাস সরকার কর্তৃক
পয়ারাদি ছন্দে নানাবিধ গ্রন্থের
সারসংগ্রহ গ্রহণে সুললিত সাধুভাষায় আদিরস
ও ভক্তিরস ঘটিত সংগৃহীত।
ভাবুক না হৈলে ভাবে নাহি পায় রস।
অরণ্যে রোদন যেন পক্ষাঘাতে যশ ,
কলিকাতা
চৈতন্যচন্দ্রোদয় যন্ত্রে মুদ্রিত
।
শাাঃ ১৭৮।
No text on this page.
সূচীপত্র।
অথ বিদ্যার মহিমা
প্রদানুষ্ঠান
১৪
২২
৫৪ মানব উদর
« ইন্দ্রিয় বর্ণনা
* আত্ম ও মন
6 স্ত্রী পুরুষ জাতি
* স্ত্রী পুরুষে মিলল
ঋতু ও জন্মগ্রহণ
৫৫ গভ বিবরণ
৫ গভিণীর অবস্থা
* কুশল রক্ষ।
পুনঃ জন্য কথন
শুদ্ধিপত্র পৃষ্ঠা পংক্তি অশুদ্ধ ৭ পত্তি পেশীকা উৎপত্তি পােষিক লােহ ০২ লাে ১৮ ২ ১৪ থাকে পাক নেকীয়ন নেকটীফুল আর রক্ত আরক্ত চাহনী চালুনী কদাচার কদাকার মিষ্ট ইষ্ট মন সাধে মন সাজ পরাপর ভরজীন রজীল হইলে হইতে ঐ পর পর ২. তরুবর
মানবরতন
বিদ্যার মহিমা।
সঞ্চিতে বঞ্চিত কেন দুরাচার মন।
বিধিদত্তা বুদ্ধি জ্ঞান কর রে মন!!
উজ্জল হইবে বংশ, জ্ঞাতি নাহি পাবে
অংশ, এ ধনের নাহি ধ্বংস, করি বিত
রণ। তস্করে না করে চুরি, রিপু ছয় জয়
করি, অধৰ্ম্ম উন্মত্ত করীকরে সে শাসন।
আরাধনা বিদ্যাধনে, অমর আপনি
গণে,কর যত্ন উপার্জনে, অমূল্য রতন ।
পয়ার।
ভূমণ্ডল গােলাকার বেষ্টিত সলিলে ।
বন, উপবন শৈল অধিক জঙ্গলে ।।
বসতি কিঞ্চিৎ মাত্র উদক প্রবল ।
তন্মধ্যে গােপনে স্থিতি বাড়বা অনল
[ ১ ]
মানবরতন।
তিনাংশের এক অংশ স্থাবর সৃজন।
প্রভেদ বিস্তারে হয় কি এর বর্ণন !
দুই অংশ পরিপূর্ণ রত্নাকর কয়।
নদ নদী খাল ঝিল পৃথিবীর পয় ।।
নানা জীব জন্মে তায় অসংখ্য গণনা
যা পারি কিঞ্চিৎ করি সংক্ষেপে বর্ণন।
অগ্নি গিরি নানা বস্তু শৈবাল প্রকার ।
প্রবাল জনক কীট বিবিধ আকার ৷
অহি কুচে কার্ষাপণ গুগলী শম্বুক।
জোড়া জলৌকা শঙ্খ কর্কট বিনুক।
ক্ষুদ্র মীন অতি ক্ষীণ বেলা মউরলা।
খাশপাতা ডানকোনা চিড়ি কয়েলা।
কালুবাউস খলিশা পাৰদা ফলই।
লেঠা বাটা বাচা বানি খরসা রুই।
তেচখে এলাঙ্গা চেঙ্গা ভেকুট মৃগাল ।
উল্কা ভাঙ্গন রাগি তপসিয়া শালি ।
গুতিয়া মাগুর মায়া চিতল কাতলা।
বােয়ালি নাদোষ ভােল আড়ি ইটা ভােলা।
গুড়া সােণা পুটী চান্দা ইলিশা শঙ্কর।
খয়রা টেঙ্গরা ভেদা গড়ুই গাগর ।
মানবরতন।
কইভােলা কুটিকড় পাকাল তারুই।
টেপারী সন্তোষো গর্চা চেলা কই ।
মকর ঘড়েল বাজী শুশুক হাঙ্গর ।
কুম্ভীর গম্ভীর নীরে জীব বহুতর ।
মরুল ডাহুকা বক পানীকৌড়ি জলে ।
দলপিপি গাঙ্গচিল খেলে দলে দলে ।
বিবিধ বিহঙ্গ মীন বর্ণ নানা বর্ণ।
মণি মুক্তা জন্মে কত সাগরেতে স্বর্ণ ।
এই হেতু রত্নাকর নাম হৈল তাঁর।
বিদ্যাৰূপা সুধাসিন্ধু দুষ্ণর অপার ।
অকূল পাথার বিদ্যা বিদ্যা রত্নাকর।
কে কোথা পড়িয়া আছে দর্শন দুষ্কর।
যেমন জীবনে জীব নানা জাতি মধ্যে।
তেমতি জানিৰে দৃঢ় মহা মহাপাধ্যে।
আগম নিগমে শুনি নিগম দুর্গম।
আগম নির্গমে জীব অতি মনােরম ।
ক্ষুদ্র, মৎস সফরী করি,ফর ফর।
ঝেড়ে ঝড়ে আড়ে পড়ি ভাবি নিরস্তুর
রিপু স্রোত বক্রী হয় পাছে ভাবি তাই
শ্রবণে সন্তোষ মাের ভাল এই ঠাঁই।
মানবরতন।
আমি কি কহিতে পারি বিদ্যার মহিমা
অকূল পাথর যার কোথ' দব সীমা ।।
তবে যে কিঞ্চিৎ কহি সাধু আলাপনে।
সম্বিৎ দর্পণে দৃষ্টি সৃজন কারণে।
বিধিদত্ত জ্ঞানার মূলাধার তার
বস্তু সম্বন্ধীয় জ্ঞান বিবিধ প্রকার ।
গুরু উপদেশে জ্ঞান বুদ্ধি বৃদ্ধি তায়।
দীনবন্ধু পরমাত্মা তাহার কৃপায় ।
তন্ত্র মন্ত্র যন্ত্র শুরু জগতের গুরু।
সত্ব রজ তমাে গুণে কোটি কল্পতরু
রসিক পণ্ডিতে করে বিরসে সুরস।
কুটিল স্বভাবে ভাবে ভবে অপযশ।
রচনা ঘােষণা চিন্তা বুদ্ধির আকরে ।
শােধন ক্ষমতা শক্তি সরল অন্তরে ।।
রচিয়াছে যেই জন সেই জানে মৰ্ম্ম।
. ভাবাভাবে পড়ে পদে ভালে হৈতে ঘর্ম
প্রসবযাতনা জানে প্রসূতি'যে হয়।
বন্ধা কি বুঝিবে ব্যথা অম্বা যাহা সয়।
রতনে যতনে স্মরি শ্রীগুরুচরণ।
রচিল পয়ার ছন্দে মানবরতন।
-
মানবরতন।
অথ গ্রন্থানুষ্ঠান।
গুরু উপদেশ সদা কররে স্মরণ। ভজন
সাধন পুজঅন্তরে গােপন । জ্ঞান অসি
করে ধরি, ছেদ করি রিপু অরি, সাধুসঙ্গে
সুপ্রসঙ্গে, সুপথে কর ভ্রমণ মানব
নিস্তার জন্য, নানা পথ মান্য গণ্য,
মূঢ়াংশে প্রবল পঞ্চ, প্রবৃত্তি কারণ।
যে ভাৰে যে ভাবে তারে,সেই ভাবে ভবে
তনে স্কুলঃ অনল যেন অভেদ বরণ
পয়ার।
অখণ্ড ব্ৰহ্মাণ্ড কাণ্ড অপুৰ্ব্ব সৃজন।
বিধি মতে বিধিত আছে নিৰূপণ ।।
তারাগণ অগণন গগণে ধারণ ।
চক্র চন্দ্র কোটি কোটি ব্ৰহ্মাণ্ড তপন।
পরস্পর গতি শূন্যে যথা নিয়মিত।
উল্কাপাত ধুমকেতু কালপুরুষ স্থিত।
অন্তরে গ্রহণ দ্বীপে দুরবিণে দৃষ্টি ।
নানা স্থানে নানা জীব অনুভুত সৃষ্টি ।
প্রভেদিয়া প্রকাশিতে নাহি প্রয়ােজন।
চরাচরে জীবনের শুন বিবরণ।
মানবরতন।
বিজ্ঞানদর্পণে বিজ্ঞ করি নিরীক্ষণ ।
ধন্য ধাতা ধন্যবাদ করে অনুক্ষণ।
কে বুঝিবে মৰ্ম্ম তার কিসের ব্রণে।
ত্রিভুবন পরস্পরে বদ্ধ আকর্ষণে ।
সপ্তদ্বীপ সসাগরা বারিতে বেষ্টিত।
বিপিন চরাণি গিরি বসতি কিঞ্চিৎ ।
পৃথিবী প্রধান দ্বীপ প্রকাণ্ড আকার।
উৎকৃষ্ট জীব ইথে মানব প্রচার ।
কৃমি কীট কোটী কোটী পতঙ্গ ভূজঙ্গ।
বানর কিন্নর পশু মৎস্য বিহঙ্গ।
ভূচর খেচর জীব জলে অগণন ।
যক্ষ রক্ষ পিশাচাদি না হয় বর্ণন।
বিনাচর নিশাচর দৃশ্য অগোচর।
পঞ্চভূতে জড়ীভূত সৰ্ব্ব কলেবর ।
মনুষ্য শরীর সৃষ্টি আশ্চর্য নির্মাণ।
শিল্পবিদ্যা শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টির প্রধান।
•২থে যায় নাহি দৃষ্টি তারে ধিক ধিক।
ততধিক ধিক গণি যে হয় নাস্তিক।
কৰ্ত্তা যিনে কর্ম কোথা হয়েছে নির্বাহ ।
রামর দাস কহে নাহিক সন্দেহ।
মানবরতন।
৭
অথ মানবদেহ বিবরণ
কাল পূর্ণ কাত ত্যজীবে জীবন।
মােহ মায়া ছায়া রজ্জ্ব এড়াবে বন্ধন
যতনে রাখিতে দেহ, অযত্ন করে না
কেই মৃত্যু ভয় অহরহ, জাগ্রত স্বপন।
অতএব শুন বলি, বর্তমান কাল কলি,
অল্প আয়ু যায় চলি, মুদিয়ে নয়ন।
ক্রিয়া কাণ্ড ভণ্ড ছলে, আছে ধৰ্ম্ম নাই
বলে, মীমাংসা করি কৌশলে, কর রে
সাধন।।
পয়ার।
জগতে জীবিত যন্ত্র জীবের জীবনে।
কঙ্কালে প্রকাশ আর ষড়দরশনে ।।
শরীরের কাঠাম যে মেরুদণ্ড স্থল ।
তদুপরি গাঁথা আছে কৰােটি আমূল ।
পত্তি মেরুদণ্ডে পঞ্জর সহিতে।
বজভাবে প্রায় স্থিত বক্ষের অস্থিতে ।।
ঘাড় হৈতে দুই অস্থি স্কন্ধেতে মিলিত । •
মৃথা হৈতে বাহু গাঁথা আছয়ে নিশ্চিত।
}
t
মানবরতন।
ইউমিরশ দ্বি অস্থি, অভা রেড়িয়স।
কগুয়ের যােগে এর আছে ভাল বশ ।।
কজাতক হন্তদ্বয়ে যাহা র যােগ।
মিটেকারপেল নামে কারপেল প্রয়ােগ ।
ফৈলেঞ্জিস নাম মাত্র হস্তাঙ্গুলি দশ ।
খিলে খিলে খেলে সবে রসে তারা বশ।
দুই অস্থি পেলভিস পাছা অছে ঘেরি ।
মেরুদণ্ড দৃশ্যমান গাঁথা তদুপরি ।
যাহা হৈতে উরু অস্থি হয়েছে নির্মিত।
আঁটু সংখ্যা যার স্থিতি অঙ্গ সম্বলিত ।
ঘঁটুতে মালাইচাকি অস্থি এক ক্ষুদ্র।
বাটীর ভিতরে খেলে নাহি তায় ছিদ্র ।
নিম্নাংশে টবিয়া জঘা থাকে ভুজ ভাবে।
অধােগতি স্বাভাবিক কারণ প্রভাবে ।
ফিবিউলিয়া ধারণ করে অস্থি যেই ।
গােড়া গাঁইট আইর মধ্যে থাকে সেই।
শুল ও পাতায় যুক্ত আশ্চর্য্য প্রকার।
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জ্বস্থি ময় অঙ্গে মূলাধার,
দ্বিশত আটচল্লিশ খানি অস্থি দেহ।
প্রয়ােজন অহরহ হভেছে নিৰ্বাহ ।
৫
D
মানবরতন।
অস্থি বস্তু শ্বেতবর্ণ শক্ত চুণ প্রায় ।
মজ্জা মামেধ চৰ্ম্ম সৰ্ব্ব জীবকায় ।।
অস্থি উপরে কোমল সূত্র মাংসপেশী ।
চারি শত গণনায় হয় বরং বেশী ।
পরিমাণে ন্যূনাধিক্য যথা অভিপ্রায় ।
স্বকাৰ্য উদ্ধার করে স্বীয় ক্ষমতায়।
শােণিত প্রণালী নামে শলাকার ডাকে।
বিস্তারিতে সৰ্ব অঙ্গে অনুৰূপ থাকে ।
প্রধান পেশীর শক্তি চরণে প্রমাণ।
দ্বি সীমার অন্তযুক্ত গ্রন্থি মধ্যে স্থান ।
নরাঙ্গের পতি মন করিলে মনন।
আজ্ঞা মাত্র শিরাপেশী করয়ে পালন ।
যে অঙ্গে করিবে আজ্ঞা নড়ে সেই অঙ্গ।
সঙ্কোচ বিস্তারে গতি নাহি দেয় ভঙ্গ ।।
উপরিভাগের পেশী মনের অধীনা।
অন্তর পেশীর কাৰ্য্য রক্ত প্রবহন।
ইচ্ছা অনধীনে পাক হইবে আহার ।
নিদ্রিত জাগ্রত কালে উভয়ে প্রচার
এই যে সকল পেশী অনিচ্ছুক কয়।
১নে বসিয়া কাৰ্য করে সমুদয়'।
মানবরতন ।
ত্বকে সূক্ষ্ম শির। নাড়ী ব্যাপিত অজেতে।
পৃষ্ঠবংশে অস্থি মজ্জ যােগ ভয়েতে।
ত্বকস্পর্শ মাত্র জ্ঞান মনের সহিত ।
ইচ্ছাপূৰ্ব্ব পেশী সবে করে নিযােজিত।।
সূক্ষ্ম স্নায়ু শিরা নাড়ী শ্বেতবর্ণ কায় ।
দ্বিভাগে বিভাগ তারা একে জ্ঞান পায়।
অন্যের স্বধৰ্ম্ম মাত্ৰ গতির কারণ।
সূক্ষ্ম কোষ সুপ্রণালী উভয়ে ধারণ ।।
মগজ কোমল বস্তু সূতার আকার ।
শােণিত যােগায় সদা মস্তকে আধার ।।
মনের আকর স্থান প্রসিদ্ধ প্রমাণ।
করােটী আচ্ছন্ন তার কঠিন খিলান ।
কিনারা অনেক অংশে দন্ত ন্যায় গাঁথা।
পরস্পরে সহকারে বাধা দেয় ব্যথা।
মগজ ভিতরে দুই অংশ পরিমাণ।
ক্ষুদ্র অংশ প্রধানের পশ্চাতে নির্মাণ।
সেরিবেলম মগজ ক্ষুদ্র নাম. তার।
যথা হইতে রজু বহে কশেরুকার ।
যদি এই ব্লগে কভু অপাঘাত হয়।
তখনি অমনি গণি মরণ নিশ্চয়।
(
১১
মানবরতন।
মেৰুদণ্ড হৈতে সূক্ষ্ম শিরা প্রতি বল ।
করয়ে অনিচ্ছপেশী স্বকার্য সফল ।।
আলপিন অগ্রভাগ স্পর্শ করাইলে।
জীবন ধন নিধন হয় সেই কালে।
শরীর ব্যাপিত রস রক্ত বলি পরে।
রক্তপেশী শিরা দ্বারা চলাচল করে।
সূক্ষ্মতম রঞ্জু নাড়ী অঙ্গুলির অন্তে।
তার মধ্যে শােণিতের গতি অবিশ্রান্তে।
আহার চালন বায়ু যন্ত্র আছে যত।
দেহপেশীকা পঞ্জর গরে স্থাপিত।
বক্ষস্থল দুই ভাগে বিভাগ নিশ্চয়।
অনুপ্রস্থপেশী মধ্যে ভায়োগম কয়।
নিশ্বাস প্রশ্বাসে হাস বৃদ্ধি হয় তার।
উর্দ্ধ আর অন্ত অংশে আছয়ে প্রচার ।।
এক পর্দা বামে এক দক্ষিণাংশে আর ।
পশ্চাতে দ্বি থাকে থাকে মুহরী আকার ।
সেই নলী পাকস্থালি মধ্যে দেয় যােগ।
বাম অংশে হৃৎপিণ্ড ফুসফুস্ প্রয়ােগ
দক্ষিণ অংশে ফুস ফুস্ আর কিছু নাই।
‘বামভাগে হৃৎপিণ্ড লইয়াছে ঠাই ।।
১২
মানবরতন।
।
৫
গাঢ় এক মাংসপেশী চৰ্মথলে প্রায়।
অঙ্গুষ্ঠের চতুর্থ কি অর্থ স্থা কায় ।।
অনুলম্ব গােলাকার মাং চোচ ন্যায়।
বােমাকল প্রায় যন্ত্র শােণিতে চালায়।
নানা বিধ রঞ্জু রগ করিছে বহন।
প্রয়ােজন স্থানে তারা করয়ে গ্রহণ।
দুই অংশে হৃৎপিণ্ড আছয়ে বিভাগ।
পুনশ্চ দ্বিভাগে আগে পায়েছে সােহাগ ।
অরেকেল ভেণ্টকেল ভাষান্তরে নাম ।
হৃৎপিণ্ডের দক্ষিণাংশে পাইয়াছে ধাম
বামভাগে ভেণ্টকেল সঙ্কোচ করিলে ।
রক্তপ্রবাহিকা নলী মধ্যে তবে চলে ।
তদ্বারা ব্যাপিত বপুলে।সর্ব স্থানে।
ভেন্স নামে শিরা তায় পুনর্বার আনে
হৃৎপিণ্ড অনুগত দক্ষিৎ অরেকেল।
আগত দক্ষিণে হৈতে যথা ভেণ্টকেল ।
উক্ত ভেন্টকেল হৈতে সকল রুধিরে ।
প্রথম দ্বিতীয় গতি এমত শরীরে ।
ফুসফুসে প্রবেশ রক্ত প্রবাহক দ্বারা।
পুনঃ জড় করে ভেন্স শিরার এধারা ।
মানবরতন।
হৃৎপিণ্ড বাম ভাগে হৃৎকোষ স্থান।
হৃদুদরে বামে ধরে আছে বিদ্যমান।
বেষ্টন করপেরে রক্ত সৰ্ব্ব অঙ্গে।
দ্বিতীয় চান তবে ফুসফুসের সঙ্গে।
পৃথক প্রক্ষেপ লােহ শরীরের শেষে।
মুষুম্না পিঙ্গলা ইড়া নাড়ী নামে ঘােষে ।
দ্বাদশ বা পঞ্চদশ সের নূন ধরে।
যুবক জনের রক্ত সৰ্ব্ব কলেবরে ।
নিশ্বাস প্রশ্বাস যন্ত্র ফুসফুস স্থাপন।
চিমড়া স্থাপকন্থিতি ফোপরা গঠন।
ফুকর প্রণালী বায়ু শােণিত ভাণ্ডার ।
পরস্পর বিবরণ অপূৰ্ব ব্যাপার ।
বদনে পবন পঞ্চ ঘন আকর্ষণ।
বায়ু নলি পরিসরে করয়ে প্রেরণ।
উৰ্দ্ধ বক্ষঃস্থলে গিয়া ছিশাখা মিলিত ।
সমূহ ইন্দ্রিয় যন্ত্রে হতেছে ব্যাপিত।
সূক্ষ্মতম অন্তু সব দৃশ্য অগােচর।
রক্তবর্ণ রঞ্জু শেষে মিশে পরস্পর ।।
উভয় দিগের মিল ফুসফুৰে কাৰ্য।.
সরলে সকল সদা জীবন সভায্য ।
[: ২ ]
১৪
মানবরতন।
।
পরাণপােষিকা বায়ু অক্সজেন নাম।
প্রথম বহন রক্ত না করে বিশ্রাম ।
দ্বিতীয় চালনে আনে ফুল ভিতরে।
ধন্য বিধি ধন্যবাদ না ধরে অধরে ।
বায়ু নলি সন্নিধানে আকর্ষণ মত।
ব্যোম হতে অসিজেন করয়ে নির্গত
অগৌণে গমন করে হৃৎপিণ্ড স্থানে।
শােণিত চালন পুনঃ কারণ বিধানে |
আসিজেন বায়ু গ্রাস পুনঃ ত্যজিবারে
জগৎ জীবিত যন্ত্র গতি মূলাধারে ।।
ভাবিতে উচিত বটে ভাবক যে জন ।
কিমাশ্চৰ্য কাৰ্য্য তার অতুল সৃজন।
রামরত্ন দাস দাস করিয়া সংগ্রহ।
রচিল পয়ার ছন্দে মানবের দেহ।
অথ মানব উদর ইত্যাদি বর্ণন।
নাড়ীতে জড়িত হয় সৰ্ব্ব কলেবর ।
রক্ত পুর্ণ রসে চলে , অন্তরে অন্তর ।
দত্বে দেহে প্রাণ, ভগবানের বিধান,
চলাচল স্থানে স্থান, শরীরে সত্বর।
ক
মানবরতন।
ক্রিমি প্রায় নাড়ী যত, সতত আছে ,
ব্যাপিত, স্বীয় কার্য নিয়মিত, করে
নিরন্তর। কিন্তু জীবন অভাবে, জড়তা
হইবে সবে, ক্রিমিময় দে হবে, কিছু
দিনান্তর ।।
পয়ার।
উদর ব্যবধায়ক পর্দা বক্ষস্থলে।
ভক্ষণীয় যন্ত্রথলা গলানলি বলে ।।
পাকস্থলী নাড়ী ভুড়ী উদরে স্থাপিত।
গ্রাসান্তে ভক্ষণ দ্রব্য তথায় পতিত ।
পাকস্থলী হৈতে পন্থা বদনে উদয় ।
খাদ্য দ্রব্য গতায়াত অপৰূপ পয় ।
তথায় পাচিকা রস নিত্য বিদ্যমান।
স্বাভাবিক দ্রব করে যেন দীপ্তমান।
শ্বেতবর্ণ গাঢ় রসে দ্রব্য পাক করে ।
তখন ‘চাইম,, কহে তায় ভাষান্তরে ।।
পাকস্থলী তাজি তবে বাহিরে গমন।
“পাইললা,, রসের নলি নিনেতে বহন ।
জঠরে জীয়ন্ত জীব পাক নাহি পায় ।
ভু.বরুং বুদ্ধি হয়ে প্রমাদ ঘটায় ।
'১৬
মানবরতন।
.
অন্য জীবের জঠরে সজীব পতনে।
সুসিদ্ধ হইয়া থাকে পায় সাবধানে ।।
উপমা দেখহ অহি ম কুম্ভীর।
নানা জাতি পক্ষী ভেক বুঝিবেক ধীর ।
চেতন ক্ষমতা বৰ্তে ঐ “পাইল,, রসে।
যে দ্রবা না পাক পায় পাচিকার রসে ।
মনে করায় ত্যাগ শরীর আরাম।
“ভােয়াডিনম, আঁতড়ী পরিভাগে নাম ।
যকৃতে চাইম,, রস হয় এক প্রাপ্ত।
পিত্ত বলে গণি তায় জন্মে পরিযাপ্ত।
“পেয়স, মিষ্ট রুটী কহে বিচক্ষণ।
জন্মায় চাই নামে রস ততক্ষণ
অসংখ্য আধার সূক্ষ্ম রসধারা ধরে।
‘নেকটীয়ন, সার পথ নাম রস করে।
উৰ্দ্ধ গতি বক্ষবৰ্ত্তি “নলা থােরে সিকে।
চালে এক শিরে যাহা ঘাড় মধ্যে থাকে।
ফুসফুসে মিলন হয় রক্তের সহিত।
পােষকতা করে দেহ স্বভাবের রীত।
অবশিষ্ট সিটিী যাহা থাকে নাড়ী নয়।
মল হয়ে নিঃসরণ হয় সমুদয় ।
মানবরতন।
১৭
এক দুই বট ব্যাস নালা,, অতড়ীর ।
ব্যবচ্ছেদক দণ্ডিত করিয়াছে স্থির
করিয়াছে ছয় এশে আতড়ীর ক্রম।
“ইলিয়ম জেজিনম আর ডােডীনম।।
“সিকম, কোলম নাম শেষেতে“রেক্টম।
সময়ে স্বধৰ্ম্ম সাথে দেখায় বিক্রম।
আহারের সার রস হইলে চালন।
অঙ্গের আত্মের আত্ম পােষক কারণ
উপকার জন্মে দেহে ক্ৰমে জানা যায়।
প্রয়োজনে নূন নহে এই অভিপ্রায়।
মল ত্যাগ জল আছে অন্যভূত রস।
প্রধান যত যন্ত্র আর পেয়স ।।
অশ্রুৎপাদক গ্রন্থি সৃণিকা বন্ধন।
যকৃৎ বরণ শ্যাম কোমূল গঠন ।
দক্ষিণ ভাতী পর গহ্বরে ধারণ ।
পিত্তের সঞ্চারধর এই সে কারণ ।
“আর্টরী,,যােগায় রক্ত ভেন,,নামে শিরে।
জলমুহরিতে যেন বেগে চলে নীরে।।
অরে নিমাও হৈতে পুনঃ রক্ত টানে।
যমানুসারে কালে হৃৎপিণ্ড স্থানে।
মানবরতন।
কুকুট জিহ্বার ন্যায় “পেয়স,, অকার
পাকস্থলীর উপর বাসস্থানতার।
কিবল পৃথক রস করে বিগুণ।
পরিবর্তে পাকস্থলী পাচকে নিপুণ।
পঞ্জর গহ্বরে প্লীহা আছে বাম অঙ্গে।
জ্বরগ্রস্ত হলে ইহা ভােগে নানা রঙ্গে ।
বদুনে সৃণিকা গ্রন্থি মধ্যে মুখ মর।
সাহায্য করয়ে রস চৰ্বণ সময়।
স্বাদু পরিগ্রহ করে সূক্ষ্ম রঙ্কুশিরে ।
মগজ মনের সঙ্গে যােগাযােগ করে ।
অশ্রুৎপাদক নয়ন গ্রন্থি খলকোণে।
দর্শন বরণ বন্ধ সাহায্য বিহীনে ।।
নতুবা আঘাত হৈত চক্ষে সর্বক্ষণ।
দৈবের ঘটন কিম্বা পবন তপন।
পৃথক আকার ক্ষুদ্র সূত্র বর্তমান।
বসায় তাদের কাৰ্যে স্বীয় স্থান ।
কণ্ঠ শত গ্রন্থি বায়ু নলির ভিতরে।
ক্লেদ গ্রন্থি কলেবরে যেমন অন্তরে।
চৰ্ম্মের নিরে গ্রন্থি বসায়-যােগায়।
শরীর শােভন রক্ষে প্রধান উপায়,
মানবরতন।
এই যে সমূহ গ্রন্থি রসের আকর।
রক্তপ্রবর্ধন কিসে আছে পরস্পর ।।
দৃশ্য করাই কাৰ্য নাহি অভিপ্রায়।
সুকীয় গুণের ফলে নয়ন যুড়ায় ।
রক্তবাহক “
কিনী,, আতড়ীর পাশে।
অপরিদ্ভূত আর রক্ত রস বশে চোষে।
নলিতে জলীয় ভাগ নাম মূত্ৰধার।
ত্যাগ করে লয় তার প্রস্রাব ভাণ্ডার ।।
মেরুগ্রন্থি “মেট্যাগিলা,, নাম শুন মৰ্ম্ম ।
মলের মুহুরী আঁতে চৰ্ম্ম ত্যজে ঘৰ্ম্ম ।
রক্তবাহ ত্যজে ক্লেদ জন্মে যাহা রক্তে।
অসুখ জন্মায় দেহে এই অভিযুক্তে ।
রামরত্ন দাস কহে দৈবের ঘটনা।
সাবধানে কষ্ট নাই শুনেন মানেনা ।।
=
অথ ইন্দ্রিয় সকল বর্ণন।
শরীর পিঞ্জরে সাজে পরাণ বিহঙ্গ।
হৃৎপিণ্ড দাঁড়ে নৃত্য করে নানা রঙ্গ ।।
দ্বার নয় গণনায়, বন্ধন খিল মায়ায়,
রােগে শােকে যাতনায়, ত্যাগ করে
।
মানবরতন।
অঙ্গ। রুধির পতঙ্গ গেলে, স্থির হয়ে
থাকে ভুলে, যখন ধরিবে কাকে,পাইবে
আতঙ্গ। নবদ্বার দিয়ে
ণ, করিতে
চায় প্রস্থান, মানেনা ঔষধি বাণ, আত্ম
অন্তরঙ্গ |
পয়ার।
উপাস্থি সকল অস্থি শৃঙ্খল বন্ধনী ।
পেশী রগ শিরা নানা রুধির চাহনী ।।
বাম পাশে বক্ষঃস্থলে স্থিত হৃৎপিণ্ড।
দুই দিগে ফুসফুসের অনুভুত কাণ্ড ।
পরিষ্কার করে সদা পাইয়া শোণিত।
শােণিত প্রণালী করে শরীরে ব্যাপিত ।
“ভেন্স,, নামে শিরা পুনঃ করে সঞ্চালন ।
স্বভাবের অজ্ঞা সদা করয়ে পালন ।
অধরে ধররে খাদ্য “হুক্ষেগস,, নলি ।
আহার বহন করে নৰা পাকস্থলী ।
‘দ্র হয়ে দ্রব্য তবে পুনঃ পাক পায় ।
“নেটিয়ন, নলি তায় তখন চালায়।
অপূৰ্ব্ব গঠন যন্ত্র নানা গতি ধরে।
বর্ণ হার বর্ণনায় ধরে না অধরে।
A
মানবরতন।
২
নিকট অন্তরে বস্তু যন্ত্রেতে দেখায়।
দর্পণ সৃৰূপাখি দর্শন ঘটায় ।।
দর্পণে কলাই যেন তারা ভাষে নীরে।
প্রতিমূৰ্ত্তি মূৰ্ত্তিমান পলকে সে ফিরে ।।
মন সহ যােগ তার আশ্চর্য ব্যাপার।
কটাক্ষে প্রত্যক্ষ লক্ষ বিবিধ আকার।
পাপ পুণ্য উভয়ের নয়ন কাণ্ডার।
সুচক্ষে হেরিলে পাপ পন্থায় কাণ্ডার।
ইন্দ্রিয় সুখের আশে লুটায় ভাণ্ডার।
কদাচার কদাচার যেমন গণ্ডার।
নয়ন হিল্লোল ভঙ্গী প্রভেদ আমূল ।
দর্শন বরণ স্থিতি অঙ্গ সমতুল ।
সমুহ প্রভেদ শব্দ স্বর সুর কর্ণে ।
কচিৎ প্রভেদ করে জন্ম অন্ধ বর্ণে ।
অতি সূক্ষ্ম শিরা দ্বারা ভাল মন্দ জ্ঞান।
ডাব গায়ক গীতে ঠিক দেয় মান।
শ্রবণ কুহর মাঝে সাজে পর্দা যন্ত্র ।
দম সম উচ্চারণ ন্যাসতন্ত্র মন্ত্র ।
উক্ত মাত্র হয় বােধ লাগে সে পর্দায়।
মগজ আছয়ে যােগ মন জ্ঞান পায়।
।
२२
মানবরতন।
পর্দা সাধ্যাতীত শব্দ করয়ে বিরক্ত।
অতি সে কোমলাকার শিরে বেড়াযুক্ত।
মাধুৰ্য্য মিলিত সুরে প্রফুল্ল অন্তর।
সুর ব্রহ্ম সুর বিষ্ণু সুর মহেশ্বর।
গন্ধ বহে বহে গন্ধ উত্তম অধম।
মধ্যম মিশ্রিত বাস তজতরতম।
ইহার গ্রহণ যন্ত্র ঘ্রাণেতেন্দ্রিয় কয়।
ওষ্ঠোপরে মুখ যার যুগ্ম শাক পর ।।
টাকরার সহযােগ ছিদ্র নাসিকার ।
ভােগ উপভােগ করে বিবিধ প্রকার ।
স্বাদু পরিগ্রহ জন্য ইন্দ্রিয় রসনা।
সাহায্য আমূল সেই করে আরাধনা।
দন্ত যার সহবাসী সদা উপকার।
পতনে পাইলে দন্ত করে অপকার ।
কুটলের সহ প্রীতি হইলে দৈবাৎ।
সময় বুঝিয়ে করে অবশ্য আঘাত।
শত্রু সহ মিত্রভাবে করে ব্যবহার।
বাকযন্ত্র অনুভুত সৃষ্টি বিধাতার ।
যদি জিহ্বা বশীভূত থাকয়ে ভজনে।
গোপনে সাধনা কিম্বা মিষ্ট আলাপনে।
মানবরতন।
২৩
=.
সেই জীবে পাবে শিবে পবিত্র ঐকান্তে।
অভ্রান্তে হািন্ত চিতে যতনে শ্রীকান্তে ।
জীৱাত্মা করিতে বৃদ্ধি পরম ঈশ্বর।
সৃজন পালনকর্তা পতন নশ্বর ।
লিঙ্গদ্বয় যন্ত্র সৃষ্টি কাৰ্য অনুসারে।
উৎকৃষ্ট মুখভােগ এ তিন সংসারে ।।
ইন্দ্রিয় যতেক যন্ত্র সূক্ষ্ম শিরে বদ্ধ।
মনের সহিত যােগ ভাবুকের হদ্দ ।
ত্বক ইন্দ্রিয় যন্ত্র শিরে স্পর্শ সৰ ।
সূক্ষ্মরজু যােগাযােগ মনের উদ্ভব ।
আকৃতি সন্তানে পিতৃ ধাতৃ প্রায় পায় ।
তথাপি বিভিন্ন কিছু হয় শিশুকায় ।।
উব্ধ সংখ্যা পরিমাণে দীর্ঘ কিম্বা স্থল।
বৃহৎ কুঞ্জর সম হয় না বিপুল ।।
কি কারণে নিবারণ শরীরের বৃদ্ধি।
নিগুঢ় চিন্তিলে হত হয় বুদ্ধিশুদ্ধি।
বিশ্বাস জনক ইথে কৰ্ত্তা কেহ বটে।
অদ্বিতীয় গুণাতীত ঘটে পুটে ঘটে।
কি বুঝিৰে নরে তার গুণের মহিমা।
পঞ্চমুখে পঞ্চ গায় গুণরমা
মানবরত। স্বৰূপে কি ৰূপে ৰূপে হইবে বর্ণন। সৃজন দর্শনে কর্তা স্থির কর নি । তাৎপৰ্য বিবেচনা জ্ঞানৃেপরিগ্রহ। রামরত্ব দাস কহে নাহিক সন্দেহ ।। অথ আজ ও মন বিবরণ। মন রে হইও না অশান্ত। জ্ঞানানুগত খাকি ঘুচাও তব ভ্রান্ত। কর সদা সাধু যুক্তি, মুক্তি হেতু আছে উক্তি, হৃদয়ে করিয়ে ভক্তি, ভাবনা শ্রীকান্ত, সহায় উপায় মূল, অনুপায়ে নাম স্থল, অ- কূলে পাইবে কূল, চিন্তু রে একান্ত । পয়ার। মন জ্ঞান বাস করে মগজে নিশ্চয়। ইন্দ্রিয় যন্ত্রেতে শিরে দেয় পরিচয়। বিশেষ বিধানে ইহা হইয়াছে উক্ত। মন ও আত্মার গতি ক্রমে ক্রমে ব্যক্ত । শারীরিক স্বাধীনতা ঐশ্বৰ্য কুশল । মন না সন্তোষ হলে বৃথায় সকল ।
৮
মানবরতন।
বুদ্ধির কীতিতে চিয়কাল মনােযােগ।
চেষ্টায় সকল কভু পরাণ বিয়ােগ ।
কেহ কেহ কঙ্গে জীব আত্ম তেজোময়।
নানা মুনি নানা মতে নানা কথা কয় ।।
ইন্দু ভানু নক্ষত্রাদি হয় নিৰূপণ।
আআর নিগূঢ়তত্ত্ব না হয় বর্ণন।
জীবন জীবের অন্য ভিন্ন নিদর্শন।
মহা-মহাপাধ্যাগণে কহে বিবরণ
বুদ্ধির ক্ষমতা যত করিয়া নিযুক্ত ।
প্রসিদ্ধ সুযুক্তি আত্মা পঞ্চভূতাসক্ত।
বাহক্রিয়া নিদর্শনে অনুমান হয়।
বুদ্ধি বিশিষ্ট জগৎকৰ্ত্তা দয়াময় ।
পৃথী প্রতি দৃষ্টিপাতে শুদ্ধ বিচেনা।
স্বয়ং ইচ্ছায় ক্ষিতি না হয় চান ।
ক্ষমতা বিহীন জড় নাহিক এ ।
মীমাংসা হয়েছে কত করিয়া ।।
নির্ধারিত অনাত্মিক কারণ জগ ।
আত্মময় সে পদার্থ সৃজন যাবৎ }
কেহ কহে বিবেচনা বৰ্ত্তে, নর তর:-
বুদ্ধির হইত বৃদ্ধি স্থূলকায় সঙ্গে ।
!
মানবরতন ।
অঙ্গহীনে বুদ্ধিহীন হৈত পরিমাণে।
বুদ্ধির তীক্ষ্ণতা বরং প্রায় অহীনে।
উপমা কতেক দিব পুথুিবড়ে যায় ।
অন্ধের উত্তম শক্তি বাদ্য গাহনায় ।
রক্ত পীত শ্যাম শ্বেত জরদ বরণ ।
আশমানি নীল 'অন্ধ করে নিৰূপণ ।
পরশিয়ে বাজী বলে উত্তম অধম।
গুণাগুণ কোন রোগ লয়েছে আশ্রম।
সুজ্ঞানে করিলে যুক্তি মনসাধে ঘর ।
নানা রঙ্গে অঙ্গভঙ্গী দৃশ্য পরাপর ।।
পলকে ভ্রমণ স্বর্গ পৃথিবী পাতাল ।
ভবিষ্যৎ ভূত আর বর্তমান কাল ।
ম্ভাবাসম্ভব কাৰ্যে সদাই আবিষ্ট ।
প্ৰবৰ্তে নিপুণ কভু হয় অনাবিষ্ট ।
ঐহিকের সুখ ত্যজি পরকালে আশ ।
ছায়াবাজী ন্যায় মুৰ্ত্তি নানা অভিলাষ ।
বিবিধ প্রকার নর মন নানা ভঙ্গী ।
আচরণ বুদ্ধি পণস্বভাবের সঙ্গী ।।
সাধু সঙ্গে প্রসঙ্গে ব্যুৎপত্তি সার।
বি। আলােচনা দ্বারা হয় সুবিচার 4
r
মানবরতন।
২৭.
দ্বিভাগে বিভক্ত আছে চিত সংস্কার।
জ্ঞানশক্তি প্রম যােগ্য আশ্চর্য ব্যাপার
একের উদ্ভব ক্রমে জ্ঞান সম্বলিষ্ট।
আচরণ করে ক্রিয়া বিভিন্ন বিশিষ্ট ।
জ্ঞান শক্তি দ্বিপ্রকার অছয়ে প্রভেদ।
উভয়ে সম্বন্ধ রাখে নাহিক বিচ্ছেদ।
ভাষা সহ ব্যুৎপত্তি বাহ্য দিব্যজ্ঞান ।
আকার প্রকার বর্ণ মাপ পরিমাণ ।
বস্তুর সম্বন্ধ কাৰ্য যার যে বিধান।
গণনা হিসাব অঙ্ক সঙ্গীত সন্ধান।
অনুসূচনা মনের ভুল শক্তি কয়।
কথক কবির ক্রিয়া উক্ত সমুদয় ।
তুলনার অতিক্রম ক্রমে যদি পায় ।
বাখানে কবির রস শ্রবণ যুড়ায়।
উৎসাহ জন্মে মনেশ্রবণে বর্ণনা।
সৰ্ব্ব দুঃখ দূরে যায় থাকে না ভাবনা।
পরম পদার্থ সাধে রচনে কম্পিত।
অমর গণিয়া কবি বাখনে পণ্ডিত।।
বুদ্ধিকীৰ্ত্তি অগােপন না হয় বিনাশ ।
সকলের শ্রেষ্ঠ জীব মানব প্রকাশ ।
মানবরতন।
“সেক্সপিয়ের কৌপর,মিন্টন জন।
বায়রণ বিটী ইয়ং হােমর কাটন ।
ডুইডেন ভরজীন,, ব্যাস বাল্মীকাদি।
“পােপ ব্রোণী কৌলি রালী মহম্মদ সাদী,,
কবিকঙ্কণ “হাফেজ সেরু আকব্বর।
রসিক ভারতচন্দ্র রায় কবিবর।
ভলটের, মহামতি বিদ্যা দিকপাল।
দাশরথী বর্তমান রবে চিরকাল।
উৎপত্তি ধ্বংস হেতু কৰ্ম্ম ফলাফল।
কারণ বশত কাৰ্য প্রমাণ প্রবল।
বুদ্ধির প্রভাব গুণে সৰ্ব্ব জীবে জিনে ।
মহাবলবান জীব আছয়ে অধীনে।
বিবেচনা জ্ঞানসত্বে এড়ায় বিপদ।
সুযুক্তি নিযুক্ত বুদ্ধি সম্ভোগ সম্পদ
স্নেহ সম্বলিত বুদ্ধি তাৎপৰ্য জ্ঞান।
পরকীয় উপকারে সঁপে নিজ প্রাণ।
সতত পরত চেষ্টা সয় স্বীয় ক্ষতি।
ধৰ্ম্মের এ ধৰ্ম্মকালে ঘটায় দুর্গতি।
মৰ্ম্মজ্ঞান ব্যতিরেক ধৰ্ম্ম কাথা রয়।
আত্মগ্লাহির নিশ্চয় কঠিন হৃদয়।
*
মানবরতন।
হিত উপদেশ চিন্তা আদর প্রধান।
গুরুতর লোক মান্য বিদ্যার সম্মান ।।
পরম ঈশ্বরে ভক্তি মুক্তির কারণ।
যাহার ইচ্ছায় সৃষ্টি এ তিন ভুবন।
উপহার নানা দ্রব্য সুগন্ধি উত্তম।
স্বাদুবােধ পরিগ্রহ তজতরতম ।
কটু কষ৷ তিক্তরস মধুর অম্বল।
সুস্বাদু বিস্বাদু অংশ মিলন সম্বল ।
এক দ্রব্য অন্য দ্রব্যে হইলে সংশ্রম।
বুঝিবেক গুণিগণে গুণের বিক্রম ।
সুধা কভু বিষ প্রায় অমৃত গরল ।
যখন অত্যন্ত পীড়া রোগীর প্রবল ।
বিকারে সাহায্য করে তখন আহলাদ ।
সহজে সেবনে যাহা ঘটায় প্রমাদ ।।
স্বভাবে বিভব গুণ সময়ানুসারে।
সেবনে জীবন রক্ষে যাহাতে সংহারে।
ভােজ্য ভক্ষ্য সুসম্বন্ধ পরস্পর জীবে ।
মানব এড়ায় শুদ্ধ বুদ্ধির প্রভাবে ।।
নানা দ্রব্য ভোগাভােগ ঈম্বর কৃপায়।
ব্যাধির ঔষধ আছে অপায়ে উপায় ॥
মানবরতন।
জগৎ কারণ স্বামী চিদানন্দময় ।
কৃপায় পালন কোপে পলকে প্রলয় ।।
হিতেচ্ছা পরম গুণ বয়ে শরীরে ।
পর উপকার চিন্তে সাধ্য অনুসারে ।
স্বইচ্ছায় করে ক্ষমা সে অপকারিকে।
শিষ্টের পালন দমন করে দুষ্টলােকে।
ধার্মিকত্ব গুণ এই শিখায় কর্তব্য।
গ্রহণে নিষেধ করে সদা পরব্য।
অকর্মে অধৰ্ম্মে করে অনুতাপ পরে।
স্বকীয় স্বীকারে দোষ প্রতিকার করে।
ইতঃ ভিন্ন দাতার দৃঢ় প্রতি মন ।
বিশেষ বৃত্তান্ত ভাৰ ঘটায় যখন।
আশা ভিন্ন সন্তান কে করিত দূর
জীবন যাপন যেন আশয়ে প্রচুর।
চিত্ত সম্বন্ধীয় চিত্ত সংস্কারে যে উক্ত।
প্রেম যােগা বুদ্ধি তৃপ্তি পরীক্ষায় ব্যক্ত ।
বৃর্তমান অবস্থায় সম্পর্ক সম্ভব।
কেহ কোন কালে ক্রমে হতেছে উদ্ভব ।
অনুধাবন ৰাখানে বিজ্ঞতার সত্বে।
হয় যুদি শুদ্ধমতি তবে গুণ বর্তে।
৩১.
মানবরতন।
তাৎপৰ্য জ্ঞান যদি হয় অতিক্রম।
ইহকালে ধর্ষ মতি না লয় আশ্রম ।
পকাল অভিলাষ পাইবারে ত্রাণ
অহিংসা আকাংক্ষী নহে উপভােগে প্রাণ।
অনুযােগ করে লােকে আত্মীয় সম্মানে।
ধৰ্ম্ম অনুষ্ঠান নূন স্বীয় ইচ্ছা ভাণে।।
সম জাতি ব্যবহার প্রশংসায় ব্যাপ্ত।
যথায় প্রকৃষ্ট তথা তমঃ পর্যাপ্ত ।।
এই গুণে অতিক্রমে গর্ব অহঙ্কারে ।
মাৎসর্য সতত মত্ত তুষ্ট পুরস্কারে ।
অন-উপযুক্ত পাত্রে প্রশংসা করণ।
মৰ্ম্মজ্ঞান সূত্ৰ ধৰ্ম আমূল ছেদন ।
অসাধারণ স্বভাব সদা টলে পাপে।
জ্ঞানিবর্গে কাৰ্য্য করে বিবেচনা ৰূপে ।
অসিদ্ধ সিদ্ধান্ত হলে কাৰ্য যুক্তি নয় ।
অনুশীলন শাসন কুপথের পয় ।।
স্বাভাবিক দুরাচারী মানব সকল ।
রােগে রাগে শােকে দুঃখে সদাই বিকল ।
স্বাভাবিক ক্ৰম হৈতে হইলে ঘটনা।
সত্য মিথ্যা বস্তু ব্যক্ত সুন্দর সাধনা।
মানবরতন।
৫
অনুভূত গুণ এই অপৰূপ কহে ।
দ্রব্য স্বাদু গল্প শিল্প বিদ্যাৰ্ত্ত স্নেহে ।।
কত মত নুন গুণ মনােগত আছে।
সবিশেষ বিবরণ পরিশ্রম মিছে ।
স্থির নহে মন কভু সদাই চঞ্চল ।
অনুশীলন ব্যতীত সকলি নিল ।
বিচার উল্লেখ তর্ক হইবে যখন।
মন সংযােগের যন্ত্র গঠন শ্রবণ 1}
অনুসূচনা সহিত বিচারের জ্ঞান
উপস্থিত বিষয়ের হয় বৰ্তমান ।।
গত সূচনা মনের আনে ততক্ষণ।
বস্তু ক্রিয়া ঘটনার বাখানে স্মরণ।
পদার্থ দর্শনে হয় মূর্তি নিদর্শন।
অনুধাবন মনের গতি নিৰূপণ ॥
প্রকরণ শ্রেণীবদ্ধ পদ যদি পায় ।
কল্পনা বাখানে সত্য বুদ্ধি বৃদ্ধি তায়।
•ীয় অনিচ্ছুক ক্রিয়া বুদ্ধির চালনা।
একের উদ্ভব অন্যে আছয়ে যােজনা ।
সকলে সমান”ঐক্য ভাৰ অন্তরঙ্গ।
অপূর্ণ কার্যের ফল নিদ্রাবশে ভঙ্গ।
মানবরতন।
স্বপনে এমন ঘটে
অত্যন্ত আতঙ্গ।
কম্পান্বিত কলবর সুপ্ত বশে রঙ্গ ।
সন্তান জন্ময়ে কভু দংশনে ভুজঙ্গ।
সম্ভোগে পুরুষ যদি পত্নী অৰ্দ্ধ অঙ্গ ।
স্বপ্ন প্রদর্শনে যদি না থাকে উলঙ্গ।
পুত্র কন্যা পাবে মাতা পিতার প্রত্যঙ্গ ।
দৈবের ঘটনা ইহা মানেন কলিঙ্গ।
রামরত্ন দাস কহে সত্য এ প্রসঙ্গ।
অথ স্ত্রী ও পুরুষ জাতি প্রভেদ।
রমণী সুন্দর সৃষ্টি বিধির বিধান। পুরুষ
প্রতি দুই হয়েছে নির্মাণ ।। দেবতা
গন্ধৰ্ব্বগণে, শক্তি আদি সবে মানে, কি
ছার মানব জ্ঞানে, পাইবে সন্ধান। যথা
কৃষ্ণ তথা প্যারী, আর দেখ হরগৌরী,
রামের সীতা নারী, অর্ধ অঙ্গ প্রাণ।
কেবা আদি কে অন্ত, ভাবিয়ে না পাই
তদন্ত, মরমে রহিল ভ্রান্ত, না পায়ে
প্রমাণ 1.
।
মানবরতন।
পয়ার। •
প্রভেদ করিতে জাতি অতি প্রয়ােজন ।
চারি জাতি নর চারি জাতি নারীগণ
মৃগ বৃষ অশ্ব জাতি শশক গণন।
বর্ণনে প্রকাশ পাবে যার যে লক্ষণ।
পুরুষ শশক জাতি শুন বিবরণ।
মধ্যম শরীর খর্ব নহে কদাচন।
অঙ্গেতে ভঙ্গিতে শোভা হয়েছে নির্মাণ।
আকার প্রকার অঙ্গ বিধির বিধান ।
অধর্মে বিরত মন থাকে সৎসঙ্গে।
কটু নাহি ভাষে কভু আত্মীয় বৈরঙ্গে।
পরদারে পরদারা নহে অকিঞ্চন ।
শারীরিক সুখে ঘৃণা দৃঢ় এই পণ ।।
লক্ষণ অঙ্গুলী ছয় লিঙ্গ পরিমাণ ।
চাপাকলিকার বোটা উত্তম প্রমাণ |
-আদি অন্ত সরু কিছু স্থল মধ্যস্থান ।
দষং বামেতে আঁকা কাহার সমান ।
মৃগজাতি পুরুষের দীর্ঘ কলেবর।
সহাস্য বদন কিন্তু কপট অন্তর ।।
।
মানবরতন।
ঘৃত দুগ্ধ গন্ধ ঘৰ্ম্ম সুশীতল কায় ।
লস্ফেং গতাির উৰ্দ্ধ দৃষ্টে চায় ।
বন্ত হয় সেই আহারে প্রবল ।
সঙ্গীতে সঙ্গত করে গায় অনল ।
অষ্ট অঙ্গলী লিঙ্গের প্রমাণ গঠন।
চম্পককলিকা ন্যায় শুন প্রকরণ ।।
বৃষজাতি পুরুষের এই বিবরণ।
গুবাকের গন্ধ গায় সুখৰ্ব চরণ।
হৃষ্টপুষ্ট অঙ্গ জিহ্বা দীকায় অতি ।
শ্বা ন্যায় চলন তার নহে মৃদুগতি।।
আহারে বিহারে রত সদা পাপে মন।
নির্লজ্জ বড়ই সেই যুরায় নয়ন |
নিদ্রায় আবেশ বড় অলস প্রধান।
দশালী লিঙ্গ তার আছে পরিমাণ।
কঠিন গঠন যেন খর সম লিঙ্গ।
অশ্ব জাতি পুরুষের শুনহ প্রসঙ্গ।।
প্রকাণ্ড শরীর তার অসিত বরণ ।
কেশরীর মত গতি সত্বরে গমন ।।
মালতী পুষ্পের গন্ধ বহে তার অঙ্গে।
নিদ্রায় আবেশ নাই রতির প্রসঙ্গে।
মানবরতন।
মিথ্যাবাদী কদাচারে সজাই প্রবৰ্ত্ত ।
পরনিন্দ রতি মতি নাহিকুমহত্ব ।।
নারী হেরি হরি হরি বলে করে চেষ্ট।
পতিব্রতা সতী নারী তার চক্ষে ভ্রষ্ট।
দ্বাদশ অঙ্গুলী লিঙ্গ হয় প্রায় তার।
পরিহাস ন কৰ্ত্তৰ পঠনে ব্যাপার ।
সকল লক্ষণ নাহি ঘটে এক ঘটে।
একাঙ্গে লক্ষণ উক্ত কিছু পায় বটে ।
গ্রহণে মিশ্রিত জন্ম কোন জাতি হয় ।
তজ্জন্যে কাহার ভাব অভাবে উদয় ।
উভয় জাতিতে বৰ্ত্তে উক্ত প্রকরণ।
অতঃপর শুন নারীগণের লক্ষণ।
নারীর চরিত্ৰ ৰূপ গুণ বাহারে ।
সুন্দরী অধম নারী গণি কদাচারে ।
ৰূপে গুণে যদি বলা হয় সমতুল।
পদ্মিনী বাখানি করে পবিত্র সে কুল ।
মধ্যম শরীর খানি গৌরাঙ্গী গঠন ।
সােণায় সােহাগা যেন শ্যামাঙ্গী বরণ ।
ৰূপের উপমা এক আছে মাত্র রতি।
কুর নয়নী তুণ্ড সুশােভিত অতি ।
৫
মানবরতন ।
দীর্ঘকেশী যুগ্মভুরু করে আকর।
দন্তপাতিমুক্তাহার বড়ই সুন্দর।
পদ্মগন্ধ বহে অঙ্গে অতি সুশীতল।
পতিব্রতা সতী তার অন্তর অখল।
কোমল কঠোর কুচ সাজে বক্ষঃস্থলে।
শ্বাস গ্রাস ও লজ্জা দেয় বিম্বফলে ।
নাসা কর্ণদ্বয় দাড়ি তুলনা অভাব।
গণ্ডদেশে প্রস্ফুটিত “গেনিরী, গুলাৰ।
কী ক্ষীণ অঙ্গ স্থল নিতম্ব কোমল ।
গমনে গামিনী গজ করে দলমল ।
চরণ অঙ্গুলীনখ অতি মনােহর।
নাভিকূপ শোভাকর লাবণ্য উদর ।
মধুর বচনে তােষে ধর্মে মন রত।
উপকারে মতি গতি নহেত বিরত।
হেরিলে জ্বরিষ চিত সুন্দর লক্ষণ।
পঞ্চাঙ্গুলী জরায়ু মুখে মুখে নিদর্শন ।
যৌবন কালের ভাব হতেছে বর্ণনা।
বৃদ্ধাবস্থায় যৌবন অভাব ঘটনা।
ৰূপসী স্বৰূপ ৰূপ সৎ ব্যবহার।
সংক্ষেপে বর্ণনা করি বিস্তর বিস্তার
[ ৪ ]
মানবরতন।
চিত্ৰাণী সুন্দরী নারী দীর্ঘ থরে বেণী ?
লাবণ্য কোমল কায় ক্ষীণ মাঙ্গখানি ।।
খঞ্জন নয়নী নাসা অতি চমৎকার।
উর্ধে দৃষ্টি নহে কিছু নত ঘাড় তার ।
স্বভাব বাদিনী সত্য স্নেহবাকা সবে ।
অতিথি সেবায় ভক্তি থাকয়ে নীরবে ।
পতি প্রতি প্রীতি অতি সদা সেবা করে ।
কহেন উচিত বাক্য অকপটান্তরে।
অপর পুরুষে রত নহে কদাচন।
লােভে তৃপ্ত নহে কভু বিরস বদন ।
চিত নিবারিয়া করে আপনার কর্ম ।
গুমানে গােপনে কাৰ্য্য রমণীর ধর্ম।
উপযুক্ত পাত্রে দান সদা শুচি মতি।
ইষ্ট আলাপনে মন ত্যজি দানে রতি।।
হাব ভাব লক্ষ্য পক্ষ নরম প্রকৃতি।
সকলের প্রিয়পাত্রী বিপক্ষ প্রভৃতি।
প্রমাণ অঙ্গুলী পঞ্চ লিঙ্গখানি তার।
গ্রাস হ্রাস সম মুখ হেঁট মুখ দ্বার ।
শঙ্খিনী গৌরাঙ্গী প্রায় শরীর মধ্যম।
লাবণ্য সামান্য অতি পরশে অধম !
==
মানবরতন।
নাসা উৰ্দ্ধ যােড়াভুরু খঞ্জন নয়নী।
গ্রাস পরিস্থর অতি ঘন দীর্ঘ বেণী ।।
ক্ষারগন্ধ বহে ঘামে সমুদয় গাত্রে ।
কোমলে কঠিন হস্ত শঙ্খিনীর মাত্রে ।।
তালফল বক্ষঃস্থলে কামের ভাণ্ডার।
কটাক্ষে করিলে লক্ষ্য প্রেমের কাণ্ডার।
নিতম্ব মাতঙ্গী প্রায় দ্বিভাগে দোলনঃ
মদন মােহিত ধন রাখেছে গোপন
বঙ্গ ভঙ্গী মন্দ চরিত্র চঞ্চল।
মনােবাঞ্ছা পূর্ণ ভূ পাইলে বিরল।
রমণে মনন সদা ফুটিতে না পারে।
'আহারে বিহারে ঘুণ থাকয়ে বাহারে ।।
স্বীয় স্বামী ত্যজি করে পরপতি আশ ।
রসিক পূরায় তার মন অভিলাষ ।।
লজ্জার নাহিক লজ্জা হেও গুরুলােক।
ঐহিকের সুখ বাঞ্ছা কোথা পরলােক।
অষ্টাঙ্গুলী পরিমাণ লিঙ্গ শঙ্খিনীর •
কদলী পুষ্পের 'ন্যাফদরজা
হস্তিনী নারীর অঙ্গ অতি স্থলকায়।
পােচক্ষু স্বৰূপ আঁখি আরক্তিম প্রায় ।।
যােনির।
যানবরতন।
খৰ্বকেশী ও স্থল গম্ভীর কুম্বর।
দীঘল চিরণ দন্ত লােমে কলের।
পয়ােধর ধরে থরে হস্ত পদ ক্ষীণ।
নবীনে ঠমক ঠাট দেখায় প্রবীণা
রমণীর রমণীয় অলঙ্কার সাজ।
আপ্তগ্রাহী লজ্জাহীনা পরনিন্দে কাজ।
কামাতুরা দুরাচারী মত্ততা অনঙ্গে।
নিয়ত মানস থাকে উপপতি সঙ্গে।
জানিবে নিশ্চয় তার সম্ভোগে সন্তোষ ।
জঠর অনলে যেন খাদ্য পরিতোষ ।
অপরাজিতার ফুল দশাঙ্গুলী যােনি।
পরিসর মুখ দ্বার সমতুল গণি।।
পাছায় মাজায় সম সুন্দর লৌকিক।
দয়া মায়া স্নেহ তুল্য ধৰ্ম্মে ততােধিক।
রামরত্ন দাস কবি করিয়ে সংগ্রহ।
রচিল পয়ার ছন্দে মানবের দেহ।
৫
মানবরতন।
{
অথ স্ত্রী পুরুষে শুভ মিলন ও সন্তান
উৎপত্তি কথন।
গতায়াত জীব আত্মা মায়ায় সংসার।
চক্রের গমন যেন বিধি বিধাতার ।
বার তিথি সমুদয়, ঋতু মাস গ্রহ নয়,
ভাস্কর শশী উদয়, অন্তে সুপ্রচার।
বিমানে ক্ষিতির গতি, জীব জানিবে
তেমতি, শুক্র শােণিত সংহতি, ধারণ
আকারম পরমাত্মা আত্ম প্রাণ, তা-
জিয়ে এ দেহ স্থান, পঞ্চভূতে অবস্থান,
করে বারম্বার। চারি যুগ এই ভবে,
সৃজন সকুল রবে, কায়া পরিবর্ত জীবে,
নাহিক সংহার ।
পয়ার।
রমণীর চারি জাতি উক্ত বিবরণ ।
যার যে পুরুষে শুভ হইলে মিলন ।
রসিকে করয়ে রস মনে বিচারিয়া।
পদ্মিনী শশক যদি হয় শুভ বি"।
লক্ষ্মী নারায়ণ যেন শােভে দুই জন।
চিত্ৰাণী মুগের সঙ্গে হইলে ঘটন।
মানবরতন।
উভয়ে যেমন শােভা গৌরী পঞ্চানন ।
মুখাবেশে নিজবাসে জীবন যাপন ।
শঙ্খিনী ও বৃষজাতি হৈলে পরিণয়।
রতিপতি রতি সঙ্গে যেমন প্রণয় ।
হস্তিনীর অশ্ব জাতি উত্তম ঘটনা।
রাবণের মন্দোদরী প্রায় কামনা।
উভয়ে মিলন হৈলে জয় সন্তান।
প্রভেদিয়া কহি কিছু বিশেষ সন্ধান ।
শশক পদ্মিনী গর্ভে সন্তান জনিলে ।
তনয় ধার্মিক হয় কন্যা ধৰ্ম্মশীলে ।
চিত্ৰাণীর গর্ভে আর মৃগের ঔরসে।
কন্যা বিদ্যাধরী জন্মে গন্ধৰ্ব্ব পুরুষে
বৃষ শঙ্খিনীর গর্ভে জন্ম যেবা লয়।
দুহিতা রাক্ষসীরাশি পুত্র যােদ্ধা হয় ।
যােগাযােগে জনে জীব নানা প্রকরণে
পুৰ্বত্ৰ ফলে কেহ জুনে, শুভক্ষণে।
ঋতুস্নানে নারী যার হেরিবে বদন।
সেই মা জনে শিশু শাস্ত্রের বচন ।
জনাকালে পিতা মাতা হরিষ অন্তর ।
সন্তান মুখের ভাগী ভােগী বহুতর।
৫
২
মানবরতন ।
শশক পদ্মিনী যদি,রাহু অংশ পায় ।
ধর্মে মতি এত অতি সুতা সতী প্রায় ।
ক্ষণলগ্নে দুঃখী সুখী রোগী বলবান।
অঙ্গহীন কুশ্রী সুশ্রী গুণী খ্রিয়মাণ।
সমানে সমান মিল স্বভাবের রীতি।
বিপরীতে জন্মে কেহ কাহার দুর্গতি ।
শশক হস্তিনী সঙ্গে করিলে রমণ।
দুরাচারী পুত্রী পুত্র পণ্ডিত লিখন ।
পদ্মিনীর সুহ অশ্ব জাতির মিলন।
সুতা শুদ্ধমতি মুত দুঃখ পরায়ণ ।
শঙ্খিনী শশকে যদি করে আলিঙ্গন।
সুতা মহাদ্ধা সুত ধৰ্মশীল হন।
বৃষজাতি পদ্মিনীর যদি হয় পতি।
কন্যা দুরাচারী পুত্র ভােগে দুঃখ অতি ।
এই ৰূপে পুত্র কন্যা জন্মে যত জনা।
লগ্ন অনুসারে সার সংসারে যাতনা
জগতের পতি যিনি তিনি দয়াময়।
কৰ্ম্মফলে ভােগাভোগ জানিহ নিশ্চয়।
রামরত্ন দাস কহে সত্য বিবরণ।
অতঃপর শুন জন্ম ঋতুর লক্ষণ।
মানবরতন। অর্থ ঋতুলক্ষণ ও জন্মগ্রহণ। শশী সূৰ্য্য আকর্ষণে রসের প্রবল। অমাবস্যা পৌমাসী বৃদ্ধি পায় জল | তেমতি নারীর অঙ্গে, চন্দ্র নাভি ঋতু সঙ্গে, পক্ষান্তরে সুপ্রসঙ্গে, শােণিত অ- নল। কীটাদি পতঙ্গ সবে, পশু পক্ষী সৰ্ব্ব জীবে, বৃক্ষাদি নবপল্লবে, জনো ফুল ফল। হায় কি বিধির বিধি, রামরত্ন নিরবধি, ভাবিয়ে না পায় নিধি, কারণ সকল ।। পয়ার। রমণী রসিকা স্বামী রসের ভাজন । অবশ্য বুঝিবে ক্রিয়া ঋতুর লক্ষণ। নাভি ঘেরি তু ভারি বিরস বদন। কুটিয়া শরীর উঠে পেট কন্ কন্ । ক্ষুধামান্দ্য জিহ্বা শুষ্ক জড়ত শরীর । নবদ্বার গন্ধযুক্ত বিরামে অস্থির। সঙ্গোপনে রাখে বালা ঋতু দরশন। ধমণীর গতি মৃদু গভীরে গমন ।।
.
মানবরতন :
বাইশ প্রহর পদ্ম বিসিত থাকে।
পুরুষ পরেশ বীজ চন্দ্র নাভি ঢাকে ।।
নিক্ষেপ এক্ষেপে তেজ ধরয়ে কমল।
মিলনে শােণিত শুক্র জন্মে জীব ফল ।।
প্রথম দিবসে নারী চণ্ডালিনী প্রায়।
আয়ক্ষয় সেই দিন পরশিলে কায় ।।
পাপী সে দ্বিতীয় দিনে রমণীর অঙ্গ।
কদাচিত বিচক্ষণে না করিবে সঙ্গ।
তৃতীয় দিবঙ্গে যদি করয়ে সম্ভোগ ।
কামিনী নিশ্চয় ভ্ৰষ্টা পরে তার রােগ ।
চতুর্থ দিবসে স্নান শরীর মাজ্জন।
পদ্মিনী স্বৰূপা নারী শুচি করে মন ।
শুভ দিনে ঋতু রক্ষে করিবে সুজন।
নতুবা ঘটিবে উক্ত বর্ণনা ঘটন।
অতএব পত্নীসঙ্গ যে দিনে নিষেধ।
পতি পত্নী সেই দিনে রাখিবে বিচ্ছেদ।
অমাবস্যা প্রতিপদ রবিবারাষ্টমী ।
একাদশী পৌমাসী যাত্ৰাষ সপ্তমী ।
সংক্রান্তি ত্যজিয়ে ঋতু করিবেক রক্ষে।
শাস্ত্ৰমৰ্ম্ম শুদ্ধ ধৰ্ম্ম পণ্ডিতের পক্ষে।
৪৬
মানবরতন।
পদ্মপুরাণের মত কহিলাম সার।
মানে না কারণ লােকে যারা কুলাঙ্গার।।
পদ্ম পূর্ণ না হইলে করয়ে রমণ।
জন্মিলে সন্তান তায় ত্বরায় মরণ।
আর কিছু শুন তবে অদ্ভুত ঘটন।
যাহাতে সংহার করে জনমে গ্রহণ।
সন্ধাগণ্ডে পুত্ৰ হৈলে বাঁচেনা কখন।
রাত্রিণ্ডে হৈলে হয় জননী নিধন ।
দিবাগণ্ডে জনে। যদি পিতৃ মৃত্যু কয়।
পরে শুন গণ্ডদোষ রহিত নির্ণয় ।
দিবাতে জনমে কন্যা রজনীতে মুত।
তাহাদের নাহি হয় গণ্ডদোষ যুত ।।
মিলনে শােণিত শুক্র জীব উৎপত্তি।
পঞ্চভূত আবিভূত যাহাতে নিবৃত্তি ।।
পঙ্কজ ভিতরে বিন্দু আকার অস্থির।
অঙ্গহীন কুৎসিক নিশ্চয় শরীর।।
আশে পাশে বীজ যদি আটকিয়া রয়।
বারমাসাবধি থাকে প্রসব না হয়।
দুই পাশে পড়ে তেজ থাকে ছিন্নভাবে।
যমজ সন্তান জনো রমণ প্রভাবে ।।
মানবরতন।
দক্ষিণ পাশেতে বীজ যদি স্থান পায়।
অবশ্য সন্তাজানি জনো পুত্র তায়।
বাম অংশে বানারী জনম উদয় ।
দুই পাশে সমভাগে কন্যা পুত্র হয়
অসুখ শরীরে জন্মে ঋতু অপেক্ষণ ।
কন্যা পুত্র উভয়েতে দুঃখের ভাজন ।
চতুর্থ প্রহর নিশি মন অচঞ্চল ।
উপযুক্ত ঋতু রক্ষে থাকিয়ে কুশল ।
নতুবা অনেক ভয় জানিবেক ধীর ।
শরীর জনম শুন মন করি স্থির।
ঋতু পরে এক শত চল্লিশ প্রহর।
বীৰ্যাভিলাষী ঘােনি থাকে নিরন্তর ।
পুরুষ পরেশ যদি করে পরদার।
ঋতু দরশন চন্দ্র নাভি যােগ তার ।
নির্গত হইলে বীৰ্য্য সমােজ আধার ।
অতিবিন্দু নাম তার অস্থির আকার ।।
সেই অতিবিন্দু নিজ চন্দ্রের প্রকার।
সময় পাইয়া বৈসে পঙ্কজ মাঝার
তদন্তর ঋতু পূর্ণ দোঁহে আনন্দিত।
উৰ্দ্ধমুখে রহে পদ্ম মৃণাল সহিত ।
মানবরতন।
মৃণাল ভিতর দিয়া বায়র চালন
বায়, বারি বহ্নি রক্ত সঞ্চয় কারণ।
উদরে নলিন নাভী গর্ভস্থলী মূল।
অতি সূক্ষ্ম রঞ্জু শিরে বেষ্টিত বিপুল ।
প্রথম দিবসে চন্দ্র অগ্নির প্রকার ।
সূক্ষ্ম শিরা রজুদ্বারা বায়র সঞ্চার ।।
কুসুম দ্বিতীয় দিনে হয় প্রায় নীর।
তৃতীয় দিবসে জলে জনের ফল ক্ষীর ।।
চক্রাকার ফিরে যেন সলিনেতে ভাসে।
রক্তবর্ণ পীত স্থান চতুর্থ দিবসে ।
বিংশতি দিবসে সেই হর ফল প্রায়।
একমাসে মাংসায় হয় সেই কায় ।
লােচন জন্মিলে ক্রমে নাসিকার ক্রম।
পঞ্চ মাসে পঞ্চ প্রাণ কারণ আশ্রম ।
ক্ষুধা তৃষ্ণা সে জীবের হয় অষ্টমাসে।
অমৃত স্বৰূপ নাড়ী রসনায় চোষে ।।
সপ্তম মাসের গুণ গভের চালনা।
নিদ্রা ভাবে ভবানীকে করে আরাধনা।।
কে বলিতে পারে তার মনের উদ্ভব।
ফ্লারে এই ভাব অবশ্য সম্ভব ।
মানব রতন। অষ্ট মাসে অষ্ট অঙ্গ পরিপূর্ণ হয়। গর্ভকারে দ্ধে বােধ কষ্ট কিছু সয় । হৃদুয়ে নবম মাসে নবগ্রহ হৈলে। দশমাস দশদিনে প্রসবে সকলে । ক্ষুধা কৃষ্ণ সুখ দুঃখ অল্প উপস্থিত। মলমূত্র ত্যজে করে যােদন ত্বরিত | আহার সঞ্চয় আছে পয়ােধরে ক্ষীর। স্তনপান ক্রমেই পােষিকা শরীর ।। অখণ্ড জগৎ সৃষ্টি অপৰূপ লীলা। রামরত্ন দাস কহে না করিও হেলা। অথ গর্ভ বিবরণ। একি ভ্রান্তি তব মন। ধরাসনে আগ- মনে করিলে ক্রন্দন । জননীজঠর কারে, 'ছিলে নিয়মানুসারে, বায়, শাে- ণিত ভাধারে, অাধারে গােপনে। এক্ষণে বিষয়ে মত্ত, বিবাদে সদা প্ৰবৰ্ত্ত, ধৰ্মাধর্ম স্বত্ব ণত্ব দিলে বিসর্জন | জন্ম সূত্র মৃত্যু পাপে, বারম্বার এই ৰূপে, যেতে হবে গভকূপে, হইলে নিন। [ ৫ ]
মানবরতন।
ইন্দ্রিয় রাখিয়ে বশ, পান কর শান্তিরস,
ভারতে রহিবে যশ, সুকৃতিস্থাপন ।
t
পয়ার।
উৰ্দ্ধমুখে কুচন্ত মধ্যে স্থিত ক্ষীর।
নিতম্ব আরম্ভ ভারি মুখে উঠে নীর।
গভস্থলী কিছু দিনে শােণিতে পূণিত।
অতি সূক্ষ্ম শিরা দ্বারা ক্রমেতে প্রেরিত ।
প্রথমে অত্যল্প বৃদ্ধি প্রকাশে উদর ।
তৃতীয় চতুর্থ মাসে ছাড়ায় পঞ্জর ।।
পঞ্চমাসে শেষ ভাগে নাভির নিকটে।
দিনে পাকস্থলী বৃদ্ধি কুপ্ত ঘটে।
পরিসর বৃদ্ধি পায় দ্বিপাশ পর্যন্ত ।
পুর্ণকালে হেটমুখে থাকে খৰ্ব্ব অন্ত ।
ডিম্বের আকার প্রায় হয় সেই কায় ।
নয় যৰ চৌড়াতের যব সে লম্বায়।
দীর্ঘাঙ্গী কামিনী কৃশ দীর্ঘ পরিমাণে ।
খৰ্বের উদর বৃদ্ধি দুই পাশ স্থানে ।।
গির্দার উড় চৰ্ম্ম গভস্থলী প্রায়।
মেদ সরাসর রক্তনালী যায় ।
মানবরতন ।
উদর পশ্চাতে যাহা করে অবস্থান
সমুখে কঠিপেট কিঞ্চিৎ প্রমাণ।
টিপিলে নরম পাশে শেষ দুই মাসে।
গভ কি উদর ব্যাধি বিভিন্ন প্রকাশে ।
পঞ্জর ছাপিয়া বৃদ্ধি নহে কভু বিধি ।
পাকস্থলী উৰ্দ্ধ সংখ্যা হয় নিরবধি ।।
প্রসব হইলে পেট স্বয়ং কেঁকড়ায়।
যত বৃদ্ধি হয় গভ ফোপরা বাড়ায়।
আঘাত করিলে পূর্ণ উদর উপরে।
অতি বেগে ফেটে যায় শিশু ফেলিবারে।
কিছু দিন পরে গভবেদনা পর্যন্ত ।
জরায়ুতে বদ্ধ আঁটা অটাতে অত্যন্ত ।
এমন যােনির দ্বার ক্রমে বৃদ্ধি পায়।
সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় অনায়াসে প্রায়।
তবে যে বিপদ ঘটে দুরদৃষ্ট ক্রমে।
অনহিত আচরণ হয় যদি ভ্রমে।
মতান্তর আর কিছু শুন বিবরণ।
গভ ভিতরে সন্তান য়ে রূপে ধারণ
ছাপান্ন দিবসে অঙ্গ আকৃতি মন্তক।
দুই বট পরিমাণ সৃজিল গঠক।
মানবরতন।
পূর্ণ দেহ এক গত ছাপান্ন দিবসে ।
অষ্ট বট পরিমাণ চালনা প্রশে।
জননী জানিতে পারে অন্য কেহ নহে
চেতুনী ঘরণী পরে গভ' শঙ্কা কহে ।।
চতুর্মাসে দুই গুণ পঞ্চমাস শেষে।
দ্বিগুণ উহার অঙ্গ প্রথমাষ্টমাসে ।।
নয় মাসে পুর্ণ হৈলে বিংশতি সে বট।
পরীক্ষায় সাড়েতিন সের দেহ ঘট ।।
কখন বা মুনাধিক্য হয় সে গঠন।
চর্ম চুল মস্তকের শরীরে ভূষণ।
দেহ পরীক্ষায় ইহা আছে বিবরণ।
যত দিন গর্ভে জীব হয়েছে ধারণ
সাত মাস না হইলে নয় নিৰূপণ ।
গভস্থিত সন্তানের রক্ষার কারণ।
সদুপায় কত মত অছে নিদর্শন।
মাতৃদোষে পাছে কোন ঘটে অঘটন।
স্থলীতে সন্তান স্থিত শিরাতে বন্ধন
চিমড়া কোমল চৰ্ম্ম বারিতে বেষ্টন।
পােষিবারে মাতৃরক্ত অধিক বারণ।
দূক্ষ্ম নাড়ীদ্বারা ক্রমে শােণিত চালন ।
মানবরতন।
গির্দা উয়াড় সচ্ছিত মিহি চামড়ায় ।
গর্ভস্থলী উচ্ছাদিত সলিল তাহায় ।।
উর্ধে জড়ষড় পদ অবধাগতি মাখা ।
ডিম্বের ভিতর ছানা যে ভাবেতে গাঁথা
কিমাশ্চর্য হায় হায় বিধির বিধায়।
শিশুর শরীর বৃদ্ধি পােণিত উপায় ।
চুলবৎ রঙ্গু শির রক্ত লয়ে যায় ।
ধীরে ধীরে শিরে শিরে যােগেতে যােগায়
যে কারণে নারিকেলে জল উৎপন্ন ।
তেমতি জানিবে ফল কায়া ভিন্ন।
বহুত্ব জন্মিলে জীর ঐ মত পদ্ধতি।
ভিন্ন পরস্পরে অভিন্ন প্রকৃতি 14
এক গতে তিন শিশু কদাচিৎ হয় ।
প্রসব কালীন মাতৃ জীবন সংশয়।
রামরত্ন দাস নিজে হেরিয়ে নিগ্রহ।
চিল পয়ার ছন্দে মানবের দেহ
p
অথ গর্ভিণীর অবস্থা
এ বিপত্তি রবে না রবে না। মানস
করেছিলে কত করি আরাধনা । কেন
*
কে
মানবরতন।
মন মৌনগামী কি করিবে এখন তুমি,
জানেন জগৎ-স্বামী, গভির্নর যাতনা ।
ডাক তারে হৃষ্ট চিতে, অচিন্তীয় গুণা-
তীতে, যদি এভাবে অহিতে, সঙ্কট
ঘটনা ।।
পয়ার।
ঋতু অদরশনান্তে বর্ণ প্রায় ফিকে।
অলস অরুচি দগ্ধ প্রবৃত্তি মৃত্তিকে ।।
অসুখ সদাই হাই প্রায় প্রাতঃকালে ।
দৌর্বল্য প্রহরে দুই পরে বুক জ্বলে ।
অষ্প নিদ্রা দুঃস্বপন ক্ষুধা মান্দ্য প্রয়।
নাড়ী বেড়ি আঁকড়িয়া কভু কামড়ায়।
চতুর্থ মাসের শেষে তলপেট বাড়ে।
জননী করেন বােধ শিশু নড়ে সাড়ে ।
অনেকের মােহপীড় হয় সাধারণ।
প্রতের অসুখ কিছু হৈলে সম্বরণ ।
খরতর ক্ষুধা কিন্তু অপাক প্রবল।
বুকপােড় ক্ষান্তনহে মনের চঞ্চল ||
কটিদেশে অধঃ অঙ্গে বেদনা অবশ।
গাক্ত মাটীং করে বদনে বিরস ।
*
র
মানবরতন।
অশক্ত থাকিতে কিছু কার্ট এক ভাবে।
চলিতে অক্ষম অতি শক্তির অভাবে।
সকলের প্রতি এই বিধি নাহি ঘটে।
গভের শঙ্কায় কারে ফেলায় সঙ্কটে।।
কেহ বা কুশলে থাকে উত্তম লৌকিক।
সঞ্চার অবধি কেহ অমুখী অধিক।
অদর্শন ভয় স্বপ্নে শরীর বিকল ।
দন্তশূল উৎকাশ উপসর্গ ফল ।
উদরে সন্তান নষ্ট থাকে মাসাবধি ।
তদন্তর উপস্থিত হয় কোন ব্যাধি ।।
উদরের সমভাব উভয় সময়ে।
যে ভাবে হউক কোন ক্রমে যায় সয়ে।
যখন সন্তান গর্ভে অপুর্ণ গঠন।
আধারে শােণিত শিরা করে আকর্ষণ ।
অজীণ জন্মায় পেটেহিঁচায় খোচায়।
বায়ু বৃদ্ধি হয় কার পিত্তের শ্লেয়ায়।
চাটুয়া পায়ের রসা গণ্ডদেশ ভারি ।
পিঙ্গলবরণী হয় গৌরাঙ্গী যে নারী ।
নীলবর্ণ শিরা দৃশ্য হয় বক্ষস্থলে।
অথর্ব হইয়া ক্রমে আঁখি পড়ে খােলে ।
'মানবরতন। এই মত যে কত পরিবৰ্ত্ত অঙ্গ । ভাবিনীর ভাবে ভাবে আত্ম অন্তরঙ্গ ।। বেদন যখন গর্ভে হয় উপস্থিত। জননী জানেন জ্বালা বন্ধেতে বজ্জিত। প্রসূতি না হলে কেবা বুঝিতে সে পারে । জগৎ জননী জ্ঞাত এ তিন সংসারে ।। আদেশ করিল নিজ বন্ধু করি স্নেহ। রচিতে পয়ার ছন্দে নারীর নিগ্রহ । চিদানন্দে চিত রাখি চিন্তা অহরহ। রতনে যতনে রত্ন করিয়া সংগ্রহ । বিরচিল ছন্দে বন্ধে মানবের দেহ। কোন স্থানে কিছু রহিল সন্দেহ। অথ শারীরিক কুশল রক্ষা। পরাণ পরীক্ষে পাল প্রাণপণ পণে। নতুবা সে উড়ে যাবে কৌশলে গোপনে। বস্তানী 'বস্তর ঘেরে, গন্ত দেহ ধীরে ধীরে, পুষ্প উদ্যান বাহিরে, গীত আলাপনে। করি দ্রব্য যােগাযােগ, উপস্থিতে উপ-
1
মানবরতন।
ভােগ, দেহ তারে সদা ভাগ, ইচ্ছা সম্ভ
পণে। হও অতি যত্নবান, সুস্থ রাখ
পক্ষী প্রাণ, তাৎপৰ্য্য সুবিধান, না
জানে কৃপণে )
পয়ার।
আশীলক্ষ বােনি ভ্রমি মানবের জন্ম।
অধম জীবের বােধ নাই ধৰ্ম্ম কৰ্ম্ম ।
এমত দুলভ জন্ম হবে কি না হবে।
অনিত্য এ দেহ মাত্ৰ যতনে রাখিবে।
যখন গ্রাসিবে কাল তখন নিধন।
কিন্তু যত্নে রােগ ভাগ হয় নিবারণ।।
আআনাং সতত রক্ষে বলে সাধুগণে।
উচিত ঐশ্বর্য ত্যজ্য শরীর রক্ষণে।
দারা পুত্র পরিজন মায়ায় বেষ্টিত।
আত্মরক্ষা হেতু ত্যজ্য সকল উচিত ।
সাধনা ব্যতীত দেহ কুশলে না রহে।
সযত্নে ইন্দ্রিয় যন্ত্র বহুকাল বহে ।।
স্বচ্ছন্দে কাৰ্য্য সাধে ইন্দ্রিয় সকল
ঐহিকের মুখ শ্রেষ্ঠ কায়িক কুশল ।
মানবরতন।
ব্যাঘাত অঙ্গের যন্ত্রে ক্রিয়া গােলমাল ।
অসুখে জন্মায় পীড়া কভু প্রাপ্ত কাল ।
বুদ্ধাবস্থা না হইতে হয় যে মরণ।
ইন্দ্রিয়ে ব্যাঘাত দৈব অহিত কারণ।
জন্মাবধি জরা জীৰ নাহিক উপায়।
জন্যে ব্যাধি ছুয়াটিয়া মড়ক বিধায়।
পরমায়, উৰ্দ্ধ সংখ্যা শতবিংশত।
অকালে যে কালপ্রাপ্ত নিয়ম গর্হিত ।।
সমরে অমরে মরে পরমায়, স্বস্ব।
তরঙ্গ তুফানে তরী ডুবায় আবর্ত্তে ।
মড়কে হেউতে করে দেশ উজ্জ্বপন।
যেন দাবানলে দগ্ধ হয় সৰ্ব্ব ধন ।
তাৎপর্য হয়ে ধৈৰ্য্য করিবে বিশ্বাস।
সুবিধানে সাবধানে নাহিক বিনাশ ।
সামান্য যতনে বৃদ্ধি আয়, সাবধানে।
প্রাণ সুদ্ধ রক্ষা পায় বুদ্ধির বিধানে।
করিতে আঘাত অঙ্গে কার্য নিবারণ ।
উচিত জানিতে হয় স্বভাব কারণ।
অভিপ্রায় কিসে সৃষ্টি পালন প্রধান।
নরের উপকারার্থে সৃজন বিধান ।
মানবরতন ।
মানবের আবশ্যক জানা মকৰ্ম্ম।
হইলে সকল জ্ঞাত স্বভাবের মর্ম ।
নিবারিতে অনহিত ঘটনা সম্ভব ।
শরীর মন্দিরে ব্যাধি সহজে উদ্ভব ।
মহানিদ্রা আকর্ষণে নাহিক সন্দেহ।
জীবআত্মা ত্যক্ত ক্রমে ত্যাগ করে দেহ
স্বচ্ছন্দে রাখিতে বপু অতি প্রয়ােজন।
বুঝিবেক মুচতুর বিজ্ঞ গুণিগণ্য
উত্তম আহার বায়, স্বল্প পরিশ্রম।
পরিচ্ছেদ এই চারি কুশল সশ্রম।
ইন্দ্রিয় যন্ত্রের ক্রিয়া পবন প্রধান।
অযান বায়যােগে আছয়ে বিমান ।
অল্প পরিসর গৃহে বায়,র সঞ্চার ।
অমন অভাবেতে কুশল সংহার।
এই হেতু বাসস্থান পরিসর চাই।
গুরুতর তিন দিগে শুষ্ক উচ্চ ঠাই ।।
দক্ষিণ থাকিবে খােলা পুষ্পোদ্যান মাঝে
সম্মুখে আর্গার উচ্চ পুরদ্ধার সাজে ।
দরজা বাহিরে হয় উত্তম বাতাস ।
সশাস্ত্রে আয়ুর্বেদে আছে সুপ্রকাশ
মানবরতন।
উপবন সন্নিকট থাকা অপকার।
রাখিবে সরসি সদা অতি পরিষ্কার ।
নানাবিধ খাদ্য লুচি মিঠাই কচুরি ।
শুষ্ক মাংস মীন সড়া কুশলের অরি।
চোচময় খাদ্যদ্রব্য বাদামাদি শাস ।
অজীর্ণ জন্মিয়া আম অগ্নি করে হ্রাস ।
পরিপাকে অবসন্ন দধি সুরা অতি ।
অধিক পানেতে করে যকৃতে দুতি।
ক্ষুধার অতীত দ্রব্য করিলে আহার ।
পাকস্থলী উপচীয়া করে অপচার।
তজনা কিঞ্চিৎ ন্যূন আহার উচিত ।
অতি শব্দ সুপণ্ডিতে গণে গরহিত ।।
সক্ষমে ভ্রমণে লােহ চলে সুধারায়।
তদ্ভিন্ন জড়তা রক্ত সকল কায়ায় ।
মল মূত্ৰ ঘৰ্ম্ম ক্লেদ হৈলে পরিষ্কার।
ক্ষুধায় আহার বৃদ্ধি পরিপাক তার ।
জড়তায় শোণিতের গতি অবসন্ন ।
পেশীর উদ্যম মন সচেতন ভিন্ন ।
স্বৰূপে সুৰূপে বপু কভু না যাপন।
অনিচ্ছক পেশী ক্রিয়া করে সমাপন ।
মানবরত।
স্বপন গােপন ভাবে আকর্ষণ করে।
অনুভব স্বভাবের রীতি অনুসারে ।।
পরাণ পালন শ্রমে খাদ্য উপাজ্জন।
পুরুষে তুষিতে হৈল রমণী সৃজন ।
হস্ত পদাঙ্গুলী অঙ্গে হয়েছে নির্মাণ।
প্রয়ােজন উপাৰ্জ্জনে তায় সমাধান ।।
অলস করিলে বহু জড়তা ঘটায়।
থাকুক কুশল দূরে পীড়া পায় পায় ।
একারণে কুলবালা নানা রােগ ভােগে ।
অচরিফু কাৰ্যে হুরে দীর্ঘকাল যােগে '
চরম হইতে ঘৰ্ম্ম করা নিঃসরণ।
অাহার অম্বর স্থান কাল নিৰূপণ।
দুর্গন্ধ করিতে দূর ধৌত কলেবরে।
নতুবা অমুখ তায় লােকে ঘৃণা করে ।
পরিচ্ছদ আবশ্যক দেহ ঘটে ঘটে ।
তখুনের তাপে তনু জরা জ্বর ঘটে | •
উষ্ণতম গাত্র সুশীতল হঠাৎ।
যে কয়ে সে ভােগে রােগে জানিহ পশ্চাৎ 11
ক্রমেই নেশাদ্রব্য আহার গ্রহণ।
একেবারে ত্যাগ করা নহে প্রয়ােজন।
[ ৬ ]
ঝনবরতন। পরিষ্ক ত বায়, বারি জীবন আধার ! অবােধের নাহি বােধ গুণের বির।। সর্ব তেজোভাবে রক্ষা পরাণ উচিত। নব্য ভব্য সভ্যগণে বুঝিবে ইঙ্গিত } রামরত্ন সযতনে করিয়া সংগ্রহ। রচিল পয়ার ছন্দে মানবের দেহ। অথ পুনঃ জনা কথন। কোথা হৈতে এলে তুমি কোথায় যাইবে। দিশেহারা হয়ে কেন ভ্রম পথে ভ্রমিবে। ভবে ভাব ভগবান, দেহ আধার বিধান, পথিকের প্রায় প্রাণ, ভ্রমণ জানিবে । আক্লান্ত হইয়ে প্রাণ, বাসা করি সুসন্ধান, মােগাযােণ যত্ন- বান, গর্ভে প্রবেশিবে। অতএব বলি শুন, গতায়াত পুনঃখ, স্বভাবের এই গুণ, সদাশিৰে, জীবে । বুঝি কর, ব্যবহার, যঃ রস সুবিস্তায়, সৰ্ব্ব জীবে উপকার, সংসারে ঘুষিবে ।
মানবরত।
পয়ার।
ক্রিয়া কাণ্ড ভণ্ডভাৰ সংসারের রীতি।
ঐছিকের ঘােষণা করে যশস্বী ভারতী ।
ভণ্ড ছাড়া নাহি কাণ্ড ব্ৰহ্মাণ্ড সমাজে।
নিত্যধন সর্বাত্মার বিমানে বিরাজে ।।
পরমাত্মা জীবাত্মায় আছে যােগাযোেগ
অংকের সত্বায় বৰ্ত্তে যত ভােগাভােগ ।
হৃৎপিণ্ড বাসস্থান হইয়াছে উক্ত।
আয়ুর্বেদে অবিবাদে বিবরণ ব্যক্ত।
বাসস্থান ত্যজি জীব নিয়মানুসারে।
পঞ্চভূতে লয় পায় এ তিন সংসারে
ভূত পঞ্চ রেণু সই জীবন ধারণ।
কীটাদি পতঙ্গ জন্মে এই সে কারণ।
সৃজনের উপভােগ পঞ্চভূত ময় ।
ক্ষুধা তৃষ্ণা দূর হয় জীবের নিশ্চয়।
এই ভােগে নিজ তেজঃ বুীজ উৎপন্ন ।
বিধিকৃত বিধিমতে জন্মে ভিন্ন।
সেই তেজঃ বীজ শুক্র শােণিত মিলনে
জনম গ্রহণ করে নারী আলিঙ্গনে ।।
৪।
ক
মানবরতন।
চুচুড়ায় বিদ্যালয়ে বিদ্যা উপজ্জন।
প্রধান শ্রেণীর শিষ্য জানে জগজন।
পড়িয়া বিধির পাকে তনু হৈল ক্ষীণ।
দুরদৃষ্ট ক্রমে দীনে না পাইল দিন।
দুঃখের অধীন শুদ্ধ বিনা উপাৰ্জ্জুন ।
রচিল পয়ার ছন্দে মানবরতন
যত্নে নানাবিধ গ্রন্থ করি আলোচনা
সারভাগ গ্রহণেতে সংক্ষেপে রচন! '
অলঙ্কার দুষ্ট যদি থাকে কোন স্থানে
অনুগ্রহ প্রকাশিবে সুধিবে সুজ্ঞানে ।।
সন্দেহ নাহিক ইথে দোষ সংঘটন।
মুনীনাঞ্চ মতিভ্রম শাস্ত্রের বচন।।
অপর ভাষার শব্দ আছে বহুতর।
ক্লার্থ প্রাপ্ত সংঘটন ভাষায় দুষ্কর।
ইংরাজী ভাষায় দৃষ্ট কিঞ্চিৎ থাকিলে ।
‘অনায়াসে বুঝিবেক বুদ্ধির কৌশলে।
বিপুল বিনয়ে কলি সরল অন্তরে।
অকিঞ্চনে করি কৃপা সুধিবেসত্বরে ।।
ঐগুরুচরণে কোটি সহস্র প্রণাম
মানবতন ।
গীত।
মীমাংসা হইল বহু তর্ক অনুসারে ।।
জীবন নিধনে পুনঃ জন্মে এ সংসারে ।।
ভেবে দেখ সুবিচার, তেকারণে সৃষ্টি
র, নর নারী একাকার, বিস্তর বি-
স্তারে | আপনার সুমঙ্গল, গতায়াতের
সম্বল, করি অন্তর সরল, পর উপকারে ।
গণ কুরি জয়, ক্রিয়া কর সমুদয়
জনায় কিবা ভয়, ভাব সারাৎসারে ।।
সমাপ্তঃ ।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.