Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Mahashok Ed. 1st

Raychowdhury,hemachandra · 2009/11/7

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

যুহাশোক।
হেমচন্দ্র রায় চৌধুরী প্রণীত।
৭৫ নং বিনষ্ট্রীট হইতে
শ্ৰীমন্মথনাথ ঘােষ কর্তৃক
গ্রকাশিত।
প্রথম সংস্করণ।
কলিকাতা।
৩১নং গুলু ওস্তাগরের লেন, গ্রেট ইমিন
শ্ৰীবাধ চন্দ্র চক্রবর্তী
মুদ্রিত।
সন ১৩০৪ সাল।
• মূল্য আট আনা মাত্র।

No text on this page.

উৎসর্গ পত্র।
প্রাণাধিক প্রগাঢ় স্নেহাস্পদ একমাত্র সেদির প্রিয়তম
স্বর্গীয়
শ্ৰীশচন্দ্র রায়চৌধুরীর
উদ্দেশে
প্রাণাধিক ভাই।
মরু-ক্ষেত্র মঘিয়ায়, সুরভি প্রসূন প্রায়
ফুটেছিল। একদিন সৌরভ বিতরি,
জানেনা জগতবাসী, নীরবে নিভিল হাসি
মধ্যাহ্নে, তপন-কাল দিল শুকরি।
* জনমিয়া ভূমণ্ডলে, চারিবর্ষ মাতৃ-কোলে
লালিত হইলা ভাই! আদরে মাতার ;
জ্যৈষ্ঠ মাসে মা আমার, তেয়াগিল এসংসার
ধরায় জীবন্ত-মূৰ্ত্তি-স্নেহ-মমতার।
আর চারিবর্ষ পরে, কাল-জ্যৈষ্ঠ এল ফিরে
হরি নিল পর-উপকারক পিতার
জন্ম ১২৮১ বঙ্গাব্দের ২১ শে শ্রাবণ ; মৃত্যু ১৩০২,
বঙ্গাব্দের ২৩ শে জ্যৈষ্ঠ।

9.
৫
.
পিতৃ-মাতৃ হীন হ'য়ে, পরমেহ শিরে লয়ে
অভিন্ন-হৃদয়ে দোহে ছিনু এ সংসারে।
ত্রয়ােদশ বর্ষ পরে,
এল কাল-জ্যৈষ্ঠ ফিরে
বিংশতি দিনের রবি ডুবিবার কালে,
কাদায়ে আমার প্রাণ, “মহাশােক-শেল বাণ
হানি দশহরা-দিনে ত্রিদিবে পশিলে।
তােমার স্বপ্নের কথা, মনে হলে পাই ব্যাথা,
ত্রিদিব হইতে পিতা নামিয়া ভূতলে
রুগ্ন-শয্যা-পার্শ্বে গিয়া, অঙ্গে হাত বুলাইয়া
আশীৰ্বাদ করিলেন “চল, যাই” বলে।
পিতৃ-আজ্ঞা অনুসারে, তেয়াগিল অভাগারে;
তব কাছে আর আমি কিছু নাহি চাই,
নর-জন্ম কোন কালে,
হয় যদি মহীতলে
তােমা হেন ভাই যেন পুনরায় পাই ।
সত্য, দয়া, সহিষ্ণুতা,
সংযমতা, পবিত্রতা
নিৰ্ম্মল-সাহস, সদা প্রফুল্ল-অন্তর,
একাধারে সমাবেশ; পরনিন্দা-হিংসা-দ্বেষ
পাইতনা স্থান তব হৃদয় ভিতর।
তােমার স্মৃতির হেতু,
বিরচিনু এই সেতু
সমালােচকের ভারে থাক্ বা, না থাক,
দেখিতে চাহিনা তাহা, ভাল মন্দ হক ইহা
সাহিত্য-জগতে খ্যাতি পা’ বা, না পা’ ।

,
।
কেবা আছে এ সংসারে, বুঝাইব আর কারে
কিভীষণ শেল হানি গিয়াছ চলিয়া
এবে একা এধরায়,
সংসার-সাগরে কায়
স্রোত-অনুযায়ী হায়! দিনু ভাসাইয়া-
কৰ্ম্ম-পাশে যত কাল, থাকিব এ মহীত
তোমার অভাব আমি আজীবনে ভুলিবন।
যদি কোন কালে ভাই! নিষ্কাম-সাধনা পাই
তবুও তােমার ধ্যান কদাচিত ছাড়িবনা।
যথা থাক, সুখে থাক,
হৃদি মন ভরে রাখ
অমর-বাঞ্ছিত তব রূপ-গুণ দিয়া
মম স্নেহ চিরকাল, ছিড়ি মায়া-মোহ-জাল
আশীষ করিবে তােমা ত্রিদিবে পশিয়া।
মঘিয়া ।
১৩০৩ বঙ্গাব্দের
২০শে জ্যৈষ্ঠ••
তােমার
হতভাগ্য
দাদা-

No text on this page.

মহাশােক।
প্রথম উচ্ছাস
আত্মহারা।
উন্মাদের মুল তুমি অশান্তি-আকর,
মহাশশাকে ব্যাপ্ততুমি বিশ্ব চরাচর ;
প্রথম উচ্ছাসে শােকে, “আত্মহারা” হয় লোকে,
বাড়বাগ্নি প্রায় দহে হৃদয় সাগর,
মন, চিন্তা নাহি পায়, ভাবিতে ভাঙ্গিয়া যায়,
ছেলে খেলা প্রায় যেন মানব, অন্তর।
কে তুমি? কেন বা দল হৃদয় গহ্বর ?

মহাশােক।
নাহি হাস নাহি হেরি রোদন তােমার,
একি হেরি অপরূপ কুটিল আচার ;
বীভৎস মূরতি ধরি,
কেন আসি ধরি ধরি,
বিভীষিকা হৃদয়েতে দেখাও ত্বরিত,
ভুলে যাই সব কথা, কিছুনাই হৃদে গাঁথা,
অকস্মাৎ চলি যায় উড়িয়া সম্বিত,
কি যেন কি ছিড়ে যায় হৃদয় স্তম্ভিত।
চতুরতা, সুকৌশল,
অসাড় অবশ তনু তব আগমনে,
নির্বাপিত বীৰ্য-বহি তােমার শাসনে,
অদম্য উৎসাহ, বল,
স্থৈর্য, ধৈৰ্য, জ্ঞান, বুদ্ধি, শক্তি, বিবেচন,
একেবারে মানবের, লুপ্ত হয় অন্তরের,
একাগ্রতা সংযমতা নির্বেদ সাধন,
দপ করি নিভে যায় প্রদীপ যেমন !
নিরাকার আকার সাকার রূপধরি,
নিজ শিব চরণে দলহে দিগম্বরি ।
নাহি,ভাব ইয়ানিষ্ট, • সবাকার তুমি শ্রেষ্ঠ,
মহাশ্যেক-শেল-ধারী জীবের হৃদয়ে,

মহাশােক।
নৃত্য কর কুতূহলে,
বিনাশিয়া বুদ্ধি-বলে,
শাণিত কৃপাণ ধরি হুঙ্কারি নির্ভয়ে, •
কেন সশঙ্কিত হই অয়ি বরাভয়ে ।
মহাশক্তি হতে মহা বিদ্যার সঞ্চার,
আদ্যাবিদ্যা কালীরূপা হয় অবতার ;
মহাশােক হ’তে তুমি, বাহিরও রঙ্গভূমি,
মানব-হৃদয় খানি করিতে দলন,
দশেন্দ্রিয় ছয় রিপু, খণ্ড খণ্ড করি বপু,
গলে মাল্য পরি কর অপূর্ব সাজন,
অদ্যাবিদ্যা-আত্মহারা করহ নৰ্তন!
দুরু দুরু করি হিয়া কঁপে থর থর,
জাঘাতে ঝঞাবাতে ফাটে হৃদাম্বর,
ইতি কৰ্তব্যতা বৃদ্ধি,
সরলতা, চিত্তশুদ্ধি,
বাগমে কোথা যায় অধীর হইয়া,
মহাশোক প্রাপ্ত প্রাণ, শান্তি টুকু করি দান,
হায় শান্তি। বলি যেন উঠয়ে ক্ষেপিয়া,
নাহি সদসৎ জ্ঞান বেড়ায় ছুটিয়া।
মহাশোক

৪
মহাশােক।
৭
অতীন্দ্রিয় ত্রাস, ক্ষোভ, হরষ, প্রণয়ে,
ধারণা অতীত হয় মানব হৃদয়ে,
সেই কালে অধিকার, কর তুমি হৃদাগার,
আকুল করিয়া ফেল মানব পরাণ,
মনুষ্যত্ব লােপ করি, ল’য়ে যাও আত্মা হরি,
দেখিতে শুনিতে কিছু পারে না তখন,
তেঁই আত্ম-হারা নাম করিনু প্রদান।
বিরাট বিশ্বের ছবি শুধু শূন্য ময়,
কেন্দ্র হতে কেন্দ্রস্তর শূন্য ভিন্ন নয় ;
এ অনন্ত মহাশূন্য,
উপলব্ধি তব জন্য,
নিরাকার আত্মহারা উন্মাদ প্রকৃতি,
তােমার কারণে নর,
শূন্য হেরে চরাচর,
মিলায় অনন্ত শূন্যে, দর্শন প্রভৃতি,
* মহাশূন্যে ক্ষুদ্র প্রাণ, শূন্যে স্মৃতি ধৃতি
রমণীয় উপবন সৌন্দৰ্য-মেখলা,
সুনীল চাদোয়া-পরি পূর্ণ শশিকলা ;
স্বপতি প্রভাত জানি, হাসি মুখী উষারাণী,
কিন্থা ট্যুতিমান সেই মধ্য-িতপন,

মহাশোক।
কি সে নীরদ মালা, কিম্বা সে চাতক খেলা,
অথবা সে সৌদামিনী কটাক্ষ ক্ষেপণ,
ভাল নাহি লাগে যবে আত্মহারা মন।
উৎপত্তি, প্রলয়, স্থিতি যাঁহার আজ্ঞায়,
মহান্ শকতি সেই পঞ্চভূতাশ্রয়,
সত্ত্ব, রজঃ, তমঃ তিন, ত্রিগুণ যাহাতে লীন,
হেন জন অন্তরেতে নাহি পায় স্থান,
আত্মহারা যবে আসি, • সুখে হৃদাসনে বসি,
জীবে করে অশান্তির কুফল প্রদান,
“বিষাদ”—বিভাের-হৃদি কালিমা সমান।

দ্বিতীয় উচ্ছাস
o
বিষাদ
১
উত্তাল তরঙ্গ তুলি ভৈরব গর্জনে,
মহাশশাকে আক্রমণ কর তুমি মনে ;
তেয়াগিলে আত্মহারা, বিষাদেতে বুক ভরা,
হয় নর মহাশােসাগরে ডুবিলে,
সে বিষাদ কত ছলে,
হৃদিমাঝে কত খেলে,
কত বলে শুনা যায় মরমে পশিলে,
কঠোরতা ভেসে যায় তাহার হিল্লোলে ।
উম্মলিত করি তােল উৎসাহ-ব্রততী,
সঞ্জীবনী শক্তি ক্ষীণা মতি মাগণ্ডি;
ছুটে লক্ষ্য, টুটে বল,
টল মল,
চঞ্চল পরাণ হয় তর্ব আগমনে,
হৃদি করে

মহাশােক।
৭
কি জানি কেমন হয়, কিছু যেন ভাল নয়,
যেই দিক নিরীক্ষণ করি দুনয়নে,
অঘোের-কালিমা-ছায়া ব্যাপিত ভুবনে।
৫ •
মূর্তিমন্ত হয়ে যবে হও বেশ ধারি,
অধিষ্ঠান কর আসি হৃদয় উপরি,
নীলবর্ণা রূপ হেরি, তারা রূপী ভয়ঙ্করী,
নিরুৎসাহ-ব্যাঘ্রছাল পরিধান করি,
ভূজঙ্গ-ভূষণ সম,
মলিন্য গভীর তম,
খড়গ-কাতি মানসিক-যন্ত্রণাদি করি,
নিরানন্দ-নীলপদ্ম দুই ভূজে ধরি ;
মুণ্ড-খর্প, মুখশ্লানি-চিত্তগ্লানি আদি,
আরু-দুই করে তব শােভে নিরবধি।
পঞ্চ-অর্ধচন্দ্র-ভালে, পঞ্চ-প্রাণ সদাজ্বলে,
ঘোর বেশে দেখা যবে দেও হৃদয়েতে,
কা৯েহৃদি থর থর, কাপে প্রাণ কলেবর
সাক্ষাৎ দ্বিতীয়া-বিদ্যা তারা আকারেতে
নিরাকার-আকার, সাকার কল্পনাতে।

৮
মহাশােক।
অমার নিশার মত ঘাের অন্ধকার,
দান কর রে বিষাদ! পশি হৃদাগার,
কিছু না হেরিতে দাও, . কিছুনা দেখিতে পাও,
শুধু চারিদিকে যেন অভেদ্য আঁধার,
নিবিড় তিমির জালে, ঢেকে ফেল এক কালে,
স্বাধিষ্ঠান, মণিপুর, জ্ঞান, সহস্রার
মহা-যোগ ভঙ্গ কর পরম-আত্মার।
যেমন গগন-তল নীরদ-মালায়,
বরিষার কালে যেন ধীরে ঢেকে যায়,
প্রতিভাত সৌর-কর,
হয়না ধরার পর,
পারেন করিতে ব্যক্ত সম্পূর্ণ আভায়,
প্রগাঢ়-বিষাদ-ঘন, ঢাকে যবে হৃদি-মন,
জ্ঞানের বিমল-জ্যোতি প্রকাশ না পায়,
প্রতিভাত নাহি হয় মধুর আভায়।
.
বিশাল-বারিধি-বক্ষ মহা-বাতাঘাতে,
আন্দোলিত হয় যবে ঘাের-ঝক্কাবা
বার্তে,
সফেন-তরঙ্গ-মালা,
সাগরেই করে খেলা
বেলা-ভূমি স্পর্শি পুনঃ সাগরে মিলায় ।

মহাশোক।
ডুবায় ভূমণ্ডল,
ডুবায় সর্বস্থল,
প্লাবন-পীড়ন যেন জলধি ধয়,
তােমার পীড়ন হৃদি ধারণ করয় ॥
৮
অরুন্তুদ রােদনের মূর্তিমতী কায়া,
তুমি হে বিষাদ ! ঘাের নীলিমার ছায়া;
আলুথালু দিশেহারা, যেন রে পাগলপারা
নীরবে ফাটিয়া যেন পুড়ে নেত্ৰ-নীর,
নিভৃতে নীরবে পশি, কেড়ে লও সুধা হাসি,
কেড়ে লও মধুরতা সন্তোষ রাশির
/ নিভে যায় এক ফুয়ে হালি প্রকৃতির।
অবসন্ন হয় তনু, দারুণ পীড়নে,
রুদ্ধশ্বাস, রে বিষাদ! তব আগমনে ;
ভূক্তভোগী বিনা পরে, অন্যে না জানিতে পারে
কল্পনা-অতীত-ছবি তােমার মুরতি ;
হৃদি-তন্ত্রী ছিড়ে যায়, কান্দিতে কান্দিতে হয়।
এমন (ই)'পাষাণময়ী তােমার প্রকৃতি ;
দর্শনে দর্শন দেয় অশ্রু গতি।
}

মহাশােক
পরিপূর্ণ হয় বক্ষ দারুণ প্লাবনে ;
থেকে থেকে কাঁপে হিয়া তরঙ্গ পীড়নে ।
কেন যে এমন হয়,
তরল-তরঙ্গ-চয়,
কন যে হৃদয় দলে দারুণ-দলনে,
কেহ না বলিতে পারে, বিষাদ ! সুধাই তােরে,
তুমিই বলিতে পার কাতর-বচনে
“অভাব” –বিজলি খেলে তােমার নয়নে।

তৃতীয় উচ্ছাস।
০:(0);•
===
অভাব।
দারুণ অভাব-বােধ তৃতীয় দশায়,
মহাশােকে পরিব্যক্ত জীব-হৃদে হয়;
সার রত্ন-মহামণি, তেয়াগি জগৎ-খনি,
কোথা যেন চলি গেছে সীমান্ত বাহির;
উলটি পালটি ফিরে, স্ব-কক্ষে ভূবন ঘুরে,
চিরকাল খুঁজে নিধি সাক্ষী সে মিহির,
দারুণ অভাব-বােধ দুঃখিনী পৃপ্তির।
জ্বলন্ত পাবক তুল্য মরমে পশিয়া,
ভস্মীভূত বিশ্ব নিয়া বেড়ায় নাচিয়া;
তাথেই তাথেই ধেই,
মুখে বলে কিছু নেই
শূন্য বিশ্ব, শূন্য ভস্ম, মহাশূন্য সার,
রিমি ঝিমি করে কায়,
কি যেন কি হৃদি চায়,
বুঝেনা ভাবেনামন শুধু হাহাকার,
রে অভাব ! কি ভীষণ আকার তােমার।

১২
মহাশোক
কান্দেনা হাসেনা প্রাণ না ফুরে বচন,
কেঁপে হৃদি ঘন ঘন জর্জরিত মন;
বীভৎস-ভাবনা-ভরা, ছায়ায় মিলায় তারা
ছায়ায় ছায়ায় মিলি গভীর আরাব,
ধূধূৎকার বিস্ফরণ, করে ছায়া ঘন ঘন,
ছায়ার ধুৎকারে লুপ্ত কায়ার স্বভাব,
উপলব্ধি করে হিয়া দারুণ অভাব।
৪
পরিষ্কার, শূন্যময়, বিশ্ব-চরাচর,
রক্ত-হীন, মংস-হীন, কঙ্কাল-আকার,
দীন-নেত্রে অনিবার, বিলােকন করিবার
শকতি নাহিক ধরে আতুর-হৃদয়ে,
চঞ্চল করিয়া তুলে,
জীবনীশক্তির মূলে
দারুণ অভাব শুধু উপনীত হয়ে,
স অভাব নাহি পুরে বিশ্ব বিনিময়ে।
শূন্য রূপী রক্ত বস্ত্র পরিহিত হয়ে
রাজ রাজেশ্বরী ৰূপে দাঁড়াও হৃদয়ে,
পাশঙ্কুশ-ধনুর্বাণ, অস্থিরতা-আত্মদান
উদ্বেগ-অশান্তি, চারি করে শােভা করে,

মহাশােক।
ভালে সুধাকর-কলা,
অতুর প্রাণের জ্বালা
ভয়ঙ্করী উগ্ৰামূৰ্ত্তি হৃদয় মাঝারে ;
কল্পনায় ভয় পায় হেরিতে তােমারে।
দলিয়া হৃদয় মন কর ছারখার,
শূন্যে
ফেলি
শূন্য দেও শূন্যের আকার,
নাহি ক্ষমা, নাহি দয়া, নাহি স্নেহ, নাহি মায়া,
গেছে সব মিলাইয়া শূন্যের মাঝার
আত্মদানে ভূলি হৃদি, ভাবে তােমা নিরবধি
কর্তব্য সাধিয়া শেফেকর অবিচার,
মহাযােগ ভঙ্গ কর পরম-আত্মার।
ঘোর-ঘন-ঘটা যেন গগনের গায়,
তড়িত জড়িত হয়ে ভাসিয়া বেড়ায়,
অন্তর্লীন বিদ্যদ্দাম,
সাধিয়া স্বকীয় কাম
শ্রবণ-ভৈরব-রবে হুঙ্কারে সঘনে
সে বিষাদ এ হৃদয়ে,
অভাব জড়িত হয়ে

১৪
মহাশােক।
ভেসে যায় মুহুর্মুহুঃ কঙ্কশ-ঘর্ষণে
মর্মভেদী রবে বিশ্ব কাপায় সঘনে
p
•৮
নাচাহে স্বর্গের সুখ, নন্দন-কানন,
পারিজাত, কল্পতরু, বাসব-তাসন,
শান্তিহীন, তৃপ্তিহীন,
আতুর, কাউর, দীন
বিনিময় নাহি মিলে অনন্ত জগতে,
হাহাকার সদ। উঠে, সীমান্তরে ছুটে ছুটে
খুজে মরে মুহুর্মুহুঃ স্বরগ মরতে,
সে অভাব হয় নাহি পুরে কোন মতে ।
৫
L
মহা প্রলয়ের সনে যদিও কখন,
নিভে যায় কাল স্রোতে রবির কিরণ;
কাল-স্রোতে নির্বাপিত, হয় যদি শত শত
দ্যুতিমান নাক্ষত্রিক জগত নিকর,
অভাবের তীব্র-কর,
দপ দপ, জ্বলে যাহা হৃদয় ভিতর,
তবুও নিভিবে কিনা জানেন ঈশ্বর !
মর্মভেদী খরতর,
।'

মহাশােক।
১০
উপেক্ষা-প্রতীক্ষা-হীন-নীরব-দাহনে,
তিতিক্ষায় ভস্মীভূত করহ দর্শনে। •
নাহিমানে উপরােধ, নাহি শুনে অনুরােধ
উদ্ধান্ত অন্তর পূজা করে অতিথির
অভাব-অতিথি লয়ে, তাণ্ডবে উন্মত্ত হয়ে
সীম। হ’তে সীমান্তরে ছুটে পৃথিবীর
জাগায় হৃদয়ে ছায়। “অতীত-স্মৃতির।”

চতুর্থ উচ্ছাস।
অতীত-স্মৃতি।
চঞ্চল হইয়া চিত্ত ছুটে অবিরত,
কুড়াইয়া আনে যত ঘটনা বিগত;
রুদ্ধ পথছেড়ে দেয়,,
কবাট খুলিয়া নেয়
প্রণষ্ট জীবন-লীলা প্রত্যক্ষ দেখায়,
থেকে থেকে একে একে, হৃদয়েতে উঠে ডেকে
প্রত্যেক ঘটনাবলী জুলন্ত কথায়,
অতীত-স্মৃতির সেই তাপিত আভায়।
তপ্ত-স্মৃতি প্রজ্জ্বলিত উলুকার ন্যায়,
জ্বলিয়া জ্বালায়হৃদি উত্তপ্ত আঁভায়,
দগ্ধকরে অন্তরের,
দুগ্ধকরে মরমের
অন্তস্তল, তীব্রতর দারুণ জ্বালায়,
অতীত প্রত্যক্ষ করি, বৰ্ত্তমান লয় হরি
ভবিষ্যৎ দূরে ফেলে আঁধার গুহায়,
অধীর, পরাণ ফিরে ধ্যানের ছায়ায়।

মহাশেক।
১৭
পরিষ্কার “ছায়া-পথ” গগনের গায়,
মিলন করেছে যেন সীমায় সীমায়,,
গভীর তিমির-জালে,
ঢেকে ফেলে যেইকালে
সুনীল গগন-বক্ষ, নিশার কৃপায়,
“দেব-ব” দেখাদেয়,
গ্রথিত হারের ন্যায়
থরে থরে পুঞ্জ পুঞ্জ তারার মালায়,
অতীত-স্মৃতির পথ শােকার্ত-মাথায়।
চিন্তায় মুহূৰ্ত্ত স্মৃতি জড়িত হইয়া,
বিহবল করিয়া তুলে মরমে পশিয়া;
উত্তপ্ত-গভীর-শ্বাস, * দুরন্ত-হৃদয়োচ্ছ,সি,
রেখে দেয় অতি
দূরে,
হিয়ার মাঝারে,
কভু টেনে আনে যেন, রুদ্ধ কণ্ঠ-বা-মনঃ
ভাবিতে ভাঙ্গিয়া পড়ে নিকটে কি দূরে,
জানেন যে কি জাতীয় যাতনা ভিতরে।
তুমি হে অতীত-স্মৃতি! শিরায় শিরায়,
লক্ লক লেলিহান অনলের ন্যায়,
তীব্রতাপে অবিরত, রক্তকর বিগলিত,
বিষাদ-তুষার দ্রব তােমার আভায়,

১৮
মহাশােক
মুক্ত-নেত্ৰ-দ্বার দিয়া,
অশ্রুরূপে বাহিরিয়া,
'তােমার তাপের তত্ত্ব জগতে জানায়,
ব্যথিত পরাণ কাঁদে ব্যথীর ব্যাথায় !
যে মুহূর্ত চিন্তাসনে বিজড়িত হও,
অতীতের ছায়া যবে মানসে ফলাও,
স্থির-সুখ-স্বপ্ন-ছায়া,
কিঞ্চিৎ এলা’য়ে কায়া,
ফুকারি মােহনারাবে কেন্দে ভেসে যায়,
অনন্ত দুঃখের মাঝে, ক্ষণিক সে ছায়া রাজে,
শ্রান্ত-পান্থতৃষ্ণ বৃদ্ধি মৃগতৃষ্ণিকায়,
/ শােকার্ল্ডের শােক বৃদ্ধি স্মৃতির মায়ায়।
ছায়ারূপী পীতবাস পরিহিত হয়ে,
| ভূবনেশ্বরীর ন্যায় উর হে হৃদয়ে ;
গত-সুখ-স্বপ্নচয়,
আভরণ মণিময়,
ভবিষ্যৎ-বর্তমান-অতীত, নয়ন;
স্মৃতির বিলােল-কর, সুধা-রশ্মি বক্ত’পর,
পাশাঙ্কুশ-আত্মা-মন-সুতীব্ৰ-দহন,
বরাভয়-শান্তি-সুখ-অতীত-স্মরণ।
৮
কথা, কৰ্ম্ম, রূপ, গুণ, সে স্বর নিক্কন,
সেই হাসি, সেই মুখ, সুকেশ চিকন,

মহাশােক।
সেই স্নেহ, ভালবাসা, সে প্রাণ-তােষিণী-আশা,
ভরসাসরিৎ সেই সংসার-মরুর,
মােহন-প্রকৃতি-লীলা, হাসি-কান্না-মাখা-খেলা,
শৈশব কৈশাের সেই উজ্জ্বল মধুর,
সুস্পষ্ট দেখাও তুমি হে স্মৃতি-মুকুর!
ঘাের-তম-সমাচ্ছন্ন-গভীর-নিশীথে,
দুর্নিরীক্ষ জড়বস্তু যবে অবনীতে,
ধরণীর শিরদেশে, যদ্যপি শশাঙ্ক হাসে,
নির্নিমেষ কর তার হয় বিকশিত,
দেখা যায় সর্ব স্থল, : নগ-নাগ-ভূমি-জল,
সুবিমল জোছনায় হয় উদ্ভাসিত,
তােমার কৃপায় হেরি ঘটনা-অতীত।
বিন্দু বিন্দু জল বিম্ব হইয়া সঞ্চিত, .
ভূধর-গহ্বরে যথা ই’য়ে একত্ৰিত,
আলােড়ি গুহার দ্বার, বেগে হ'য়ে আগুসার,
অবিরত নীর-স্রাবী হয় প্রস্রবন,
কিম্বা নিঝরিণীরূপে, গিরি কূপে চুপে চুপে,
উছলিয়া বারিহয় অজস্র পতন
স্মৃতি-উৎস ফাটি পড়ে “বিলাপ.তেমন।

পঞ্চম উচ্ছাস।
:(O):
বিলাপ
১
অকস্মাৎ খুলে যায় হৃদয়ের দ্বার,
মুক্ত, রুদ্ধ-কণ্ঠ- কৃপায় তােমার,
অবরুদ্ধ-দুঃখ-ভরা,
ডুবায় স্বরগ-ধরা,
মর্মভেদী সকরুণ আর্তনাদ দানে,
কাতর আরব গিয়া, ব্যোম-মার্গ বিদারিয়া,
ত্রিদিব টলায় পশি নন্দন-কাননে,
থর থর কঁপে বিশ্ব বিলাপ ক্রন্দন।
ভৌতিক জগত স্তব্ধ করুণা আরাবে,
অদ্রিদল দ্রবীভূত সে বিলাপ রবে।
ক্রমনিম্ন-সমতল,
ভূমি পরে যেন জল,
গড়াইয়া যায় চলি নিম্নতম দেশে,

মহাশােক।
কাতর বিলাপ গিয়া, শ্রবণ-বিবর দিয়া,
গড়াইয়া হৃদয়ের অন্তস্তলে পশে,
বিগলিত করে হিয়া সকরুণ ভাষে।
বিলাপ। আলাপ তব করুণা মাখান,
লক্ষ্য করি ভবিষ্যৎ, ভূত, বর্তমান,
বিনাইয়া কত ছান্দে,
আতুর পরাণ কান্দে
কত কথা, কত ব্যথা জগতে জানায়,
অধীর আকুল হৃদি,
ফাটি পড়ে নিরবধি,
সকাতর-বাণী-স্রাবী-বিলাপ-মালায়,
পাষাণও গলে যায় সে আরাবে হায় !
.
৪
কান্দ বিশ্ব চরাচর জ্যোতিষ্ক মণ্ডল,
দেবগণ সহ কাল শচী আখণ্ডল,
তরু গুল্ম লতা রাজি, অভ্রভেদী অদ্রি আজি
একতানে সকাতরে করুণা রােদনে,
স্বরগসােপান-খানি শশ্মশান-চিতার-খনি,
ভাসাও নয়নাসারে তাপ নিবারণে,
• বিলাপ ! আহুতি দাও চিতার আগুনে।

মহাশােক
৫
ভেদি অদ্রি নদী ধায় সাগরের পানে,
ভাসে স্রোতে শিলাখণ্ড তটিনী-তুফানে,
ভেদি হৃদি-মৰ্ম্ম-স্থান, নিঃসৃত বিলাপ-তান,
ভসায় কাঠিন্য-শিলা করুণ-তরঙ্গে,
সমীর-সাগর পানে, ছুটিয়া কাতর প্রাণে,
মিলায় অনন্ত-বক্ষে মহাশূন্য সঙ্গে,
মহাকাল শিহরয় মহাশান্তি ভঙ্গে ।
প্রচণ্ড-মাৰ্ত্তণ্ড-কর বারিধির জল,
অকর্ষিয়া বায়ু-বক্ষে সূজে ঘন-দল,
কর কা সস্পাত হয়ে, কিম্বা বৃষ্টি বরষিয়ে,
গাঢ় কাদম্বিনী-কুল হয় লঘুতর,
মহাশোক আকষিয়া,
দেহের শােণিত নিয়া,
গভীর বিষাদ সৃজে হৃদয় ভিত্তর, .
বিলাপ বর্ষণে লঘু, দুঃখ-গাঢ়তর !
০
৭
লজ্জাহীনা, ভয়ঙ্করী, দিগম্বরী-বেশে,
ভৈরবী আকারে দেখা দেও মুক্ত কেশে,
এলায়িত কেশ-পাশ,
উচ্ছাস সে অট্টহাস,

মহাশােক।
বিষাদ-শােণিত-ধারা সদা সূক্তে গলে,
করুণা-রুধির দিয়া, রক্তবর্ণ কর কায়া,
ত্রিলােচন-ভূত-ভাবি-বর্তমান-কালে,
নেত্ৰাসার-ফোটা-ফেঁটা -- মুণ্ড-মালা-গলে।
*
ফুট-বাক্ -তাভরণ বিলাপ তোমার,
কণ্ঠের কারস্বর ভালে সুধাকর,
অক্ষমাল্য করতলে,
বেদনা মরম-স্থলে,
বরাভয়— রুদ্ধশ্বাস-দুঃখ-নিঃসরণ
শােভে অার দুই পাণি; ভৈরবী-বিলাপ-ধনি! •
বিত্রাসিত বিদ্ৰাবিত কর তাত্মা-মন,
অভিষিক্ত কর নীরে নিসর্গ-নয়ন।
মৃদুল আকুল তান বিলাপ তােমার,
চিতাভস্ম উড়াইয়া ফেলে চারিধার,
দিগঙ্গনা কুড়াইয়া, আনি ভস্ম আহরিয়া,
কান্দিয়া কান্দা’য়ে যায় কাতর কথায়,
অধীর হৃদয়-বান,
শুনি সে ললিত তান,
আকুল হইয়া উঠে মরম ব্যথায়,
অবিরল গলি অ বুক ভেসে যায়।

২৪
মহাশোক।
অস্পষ্ট কাতর স্বর বিলাপ মালার,
গভীর আক্ষেপ বহি দুঃখ দুর্নিবার,
বায়ু-কোষ বিদারিয়া, শূন্যেতে মিলায় গিয়া,
হাকাল সনে কেলি করে অবিরত,
অনন্ত ব্যোমের কোলে, সৌম্য-শান্ত-ভাবে দোলে,
ঘুমন্ত প্রকৃতি প্রায় নীরব সতত,
এদিকে “সস্তাপানলে” দগ্ধ হয় চিত।

ষষ্ঠ উচ্ছাস।
(0)••
সন্তাপ ।
রে নিঠুর! নিদারুণ আঁচার তােমার,
পােড়াইয়া হৃদিখানি কর ছার খার,
মায়া-দয়া-ক্ষম হীন,
সমভাবে ধনী-দীন
বিদগ্ধ, পতিত যেই তােমার আহবে,
বিন্দুমাত্র তন্তুতার, রাখনারে ক্রুরাচার,
খলের প্রকৃতি-খেলা যেমন এভবে,
অন্তঃসার ভস্মীভূত দেখাদাও যবে।
অবরুদ্ধ বহিস্রাব আগ্নেয় গিরির,
গর্জিয়া কাঁপায় ঘন শৈলেন্দ্র-শরীর ;
উৰ্দ্ধমুখী-অগ্নি-নদী,
অদ্রি-হৃদি নিরবধি,
আলোড়ি ছুটিয়া ভ্রমে গবর-শিখর,

মহাশােক।
তরল অনল-স্রোত,
গুহাশায়ী ধাতুত
বিগলিয়া মুহুর্মুহুঃ গরজে বিস্তর,
সন্তাপ-অনল-নদী হৃদয়ভিতর ।
৫
আকাশ পাতাল জোড়া ঘাের আয়তন,
প্রজ্জ্বলিত শিখা উঠে ভেদিয়া গগন,
মন-প্রাণ-মৰ্ম্ম ফাটি, ঝল্কা ঝল্কা হল্কা ছুটি,
দলকে দহিয়া ভস্ম করে ত্রিভুবন,
দাউ দাউ ধূ ধূ ধূ ধূ,
নিরবধি জ্বলে শুধু
বিশ্বগ্রাস অভিলাষে দৃপ্তহুতাশন,
চিরকাল জ্বলে আর নিভেনা কখন ?
৪
প্রাণ-খােলা হাসি রাশি জনমের মত,
হে সন্তাপ ! ত তাপে হয় ভস্মীভূত,
মনভােলা-শামালা, সাহস হৃদয়-টালা,
উদ্যম-উদ্যোগকাৰ্যে পুড়ে ছাই হয়,
জনমের মত হয়।
নাহি ফিরে পুনরায়,
আর মা মাত্রায় মন-পরাণ-হৃদয়,
জন্মশােধ চলিয় ত্যজিয়া নিলয়।

মহাশােক।
२१
প্ৰধুমিত চিত-বহ্নি শান ছাড়িয়া,
মরু-বাহি-শশিরক্কোর” পৃষ্ঠে আয়ােহিয়া,
বেগে নেত্ৰ-দ্বার দিয়া, 'হৃদয়ে প্রবেশে গিয়া,
পরশে শুকায়ে যায় নয়নের নয়, •
ভাঙ্গে বায়ু বক্ষস্থল, জলে হৃদে চিতানল,
অনন্ত কালের তরে গরজে গভীর,
বিদগ্ধ-হৃদয়-চিতা, শ্মাশন-শরীর।
দ্বাদশ আদিত্য উদি গগনের গায়,
প্রলয়ের কালে যেন কিরণ ছড়ায়,
উত্তপ্ত ময়ুখমালা, দশদি কৰি অালা,
তরু-গুল্ম-লতা সহ বিশ্ব ভস্ম করে,
দগ্ধ-মরু-শশ্মশানেতে, রবিগণে সম্ভাষিতে,
নগ্ন-দিগনা গণ ঘাের নৃত্য করে,
পাজর ঝঝির হয় সাপের করে।
৭
-কোকনদ বরণ তোমায়,
ছিন্নমস্তা ৰূপ হও ধরিয়া আক্তার,
মুণ্ড জস্থিলা গলে, 'ঝাঝর-পাঁজর দোলে,
দাহিকা-শতি-খণে শশাঙে তল,

২৮
মহাশােক।
দয়া-বাস পরিহরি, ঘাের উগ্রা দিগম্বরী,
আকাশ-পাতাল --কায়, কটি-ধরাতল,
নৃ-মস্তক-ভক্ষ্য-দ্রব্য-হৃদি-মৰ্ম্ম-স্থল।
;
ঘােরজ্বালা-শশিকলা ললাট উপর,
ধ্বক ধ্বক্ প্রজ্জ্বলিত হয় নিরন্তর
দুরন্ত-হুতাশ-শিখা,
শিরােপরি জটারেখা,
ঘন-দীর্ঘশ্বাস নাগ-যজ্ঞ-উপবীত,
অশান্তি অসুখ দ্বয়,
ভাকিনী যােগিনী হয়,
তৃষাতুরা সখী দুটী ছুটে অবিরত,
তব সূৰুে গলি রক্ত শুকায় ত্বরিত।
টলমল হৃদি-মহী চরণের দাপে,
ক্ষণে ক্ষণে মেরুদণ্ড সহ কায়া কঁপে ;
উজলিছে ত্রিনয়ন, ভূত-ভাবি-বৰ্ত্তমান,
বিরাট বয়ান অগ্নি করি উদগীরণ
নিদারুণ পিপাসায়,
বিশ্বের শশাণিত খায়
নিজ শির অবশেষে করিয়া ছেদন,
ত্রিগুণ-ত্রিধারা পিয়ে সহ, সখীগণ।
*)

মহাশোক।
২৯
অবিরল তুষানল দহে মন-প্রাণ,
সধূম চিতার বহি পশিমৰ্ম্মস্থান,
একবার সংসারে, আরকার স্বর্গদ্বারে,
ঘূর্ণিবায়ু সনে ফিরে ভস্মরাশি লয়ে
ধূম-হুতাশনে মিলি, হৃদে করে কোলাকুলি,
চিদাকাশ ভরি উঠে “হা” “হুতাশ” চয়ে,
“কাতরতা” কম্পমান হয় এ সময়ে।

সপ্তম উচ্ছাস।
কাতরতা
;
দারুণ দুর্বলদেই চলেনা চরণ,
অবরুদ্ধ হয় কণ্ঠ না সরে বচন
কাপিয়া কাপায় ঘন, জড়িমা-জড়িত-মন,
তেজ হীন হীনশক্তি অসাড় অবশ,
ঢ'লে ঢলে পড়ে কায়,
বুকফাটে পিপাসায়,
দুর্নিবার যাতনায় উদ্যম অলস,
দীপ্তি হীন নেত্রদ্বয় বদন বিরস।
{
৫
তরল ধাতব-স্রোত ভূগর্ভে প্রবাহি,
আলােড়িয়া সে গহ্বরে কাপায় এ মহী ;
কিন্তু শ্রমে সকাতর,
শিরে ধরা নিরন্তর;
অনন্তনাগের ফণা করে টলমল,

মহাশােক ।
৩১
ভূমিকম্পে থর থর, কঁপে বিশ্ব চরাচর,
কাতরতা-স্রোতে কাঁপে হৃদয় দুর্বল,
দেহের শকতি-ফণা অধীর বিহ্বল।
শারীরিক মানসিক গ্লানি রাশি নিয়া,
কাতরতা! হৃদি কোলে পড় এলাইয়া,
শ্লথ হয় গ্রন্থিদল,
টুটে আসে মজ্জা-বল,
নয়নের তারা দুটী হয় অতি দীন,
কলেবর পংশুবর্ণ,
অলস বধির কণ
আতুর কণ্ঠের স্বর হয়ে যায় ক্ষীণ
ঝিম্ ঝিম্ সর্বদেহ ধারণা-বিহীন।
৪
ধূম্ৰ বৰ্ণ কুজঝুটিকা জগত বেড়িয়া,
রহিছে চারিদিকে আঁখি আবরিয়া
সে ভীষণ কুয়াসায়, সমগ্র মস্তিষ্ক ছায়,
মানস-মুকুরে আর ফুঠেনা জগত
প্রকৃতি সুষমারাশি, হাসেনা মধুর-হাসি
ফফর চিন্তার স্রোত নাহি পায় পথ,
অবসন্নতায় কাপ্ত হয় অবিরত।

৩২।
মহাশােক।
নিরন্তর ঝিম্ ঝিম্ নিঝুম শরীর,
বাসনা-লালসা-হীন হৃদয় মন্দির,
ঘাের জরা আসি ধীরি দেহখানি ফেলে ঘিরি,
পলিত গলিত বেশে কাতরতা ধনী
মরমে ঢালিয়া কায়, একেবারে মিলে যায়,
স্পন্দহীন হয়ে পড়ে ঢলিয়া অমনি
বিচ্ছিন্না-ব্রততী যেন পতিতা ধরণী।
গুরুতর ভারগ্রস্থ হয় কলেবর,
পাষাণ চাপায় যেন দেহের উপর,
ভারবাহী হৃদি-মন,
গুরু গুরু অনুক্ষণ,
অবশ-আলসে হাই তুলে অবিরত,
জীবনধারণ ভার,
মহাভার এ সংসার,
গুরুভার চেপে আসি পতিত সতত,
পলিতা-প্রকৃতি-বুকে, আর সহে কত ?
অতি বৃদ্ধা-জরাগ্রস্থবিধবা-আকারে,,
ধূমাবতীরূপী হও হৃদয়-আঁগারে,
গলিত-পলিত-কৃশা,
কণ্ঠে নিদারুণ তৃষা

মহাশােক।
গ্লানিভরা-পয়ােধর দুলে বায়ুভরে,
ল’য়ে চিতা-ধূম-ছায়া
বিষন্নতা-সূর্পখান শোভে বাম করে, •
অবসাদ-পরভৃৎ রথধ্বজ পরে।
ধূম্রবর্ণ কর কায়া
কোটরে
প্রবিষ্ট হয়,
কটিভগ্ন শ্রান্তিম ঘনশ্বাস বয়
করশির অনুক্ষণ প্রকম্পিত হয় ;
দীপ্তিহীন নেত্রদ্বয়,
দন্তহীন বদনের বিরাট ব্যাদান,
প্রকৃতি-প্রবৃত্তিচয়, গিলেফেলে সমুদয়,
কটমট কটাক্ষেতে উড়ে যায় প্রাণ,
সুগভীর অসাড়ত্ব করে সম্প্রদান।
রবি-সােম করে যথা সাগরের বারি, .
উছাল জোয়ার তুঙ্গি ফেলে নদীভরি,
জ্বলন্ত চিতার কর,
সেইমত নিরন্তর,
আকর্ষণ করে শােক-সাগরের নীর,
সে নীর হইয়াস্ফীতা,
তুলে ঘাের কাতরতা,
সবেগে প্লাবিত করে শােকার্ত-শরীর,
তরঙ্গে ভাঙ্গিয়া যায় হৃদয়-মন্দির।

মহাশোক।
• ৩
ঘূর্ণিত মস্তিষ্কধৃতি করে পরিহার ;
ছিন্নভিন্ন চিন্তা ফিরে ছায়ার আকার ;
আহিক-গতির মত, কক্ষ-শিরে অবিরত,
উলটি পালটি সদ। মেজাজ আকুল,
গড়াইয়া গড়াইয়া,
অবসাদ জড়াইয়া,
মহাশ্রান্তি ক্লান্তিরাশি বিলায় বিপুল,
“বৈরাগ্য” আসিয়া শেষে হয় অনুকূল।

অষ্টম উচ্ছাস।
বৈরাগ্য ।
১
উদাস-আবাস-হৃদি, হতাশ-অন্তর,
বৈরাগ্য-বাতাসে পূর্ণ করে অভ্যস্তর ;
সে বাতাসে উড়াইয়া, মন-মলা কুড়াইয়া,
ফেলে দেয় অতিদূরে ভুবন বাহির,
নাহি সেথা শশধর,
নাহি ফুটে তারা-কর,
স্বর্ণদ্যুতি সে প্রদেশে এলে না মিহির
এতদূরে ফেলে নিয়; বৈরাগ্য-সমীর।
উদ্যান-বাষ্প শূন্যে তুলে ব্যোমযান,
পরিদৃষ্ট নাহি হয় ধরিত্রী-বয়ান ;
বৈরাগ্য, হৃদয়ভরি,
তুলে শূন্যে ত্বরাকরি,
হেরিতে না পারে আর এ ঘর সংসার,
ব্যোমমার্গে ঘুৰি ঘুরি, বেড়ায় হৃদয় ফিরি,
বহু-দূর-স্থিত জড়-পিণ্ডের আকার,
প্রদানে স্তিমিত কর সংসার-সার।

৩৬
মহাশােক।
ঘৈর মায়া-মােহ জাল ফেলাও ছিড়িয়া,
• দারুণ বন্ধন হতে মুক্ত কর হিয়া,
অতৃপ্ত লালসারাশি,
মহাশূন্যে- যায় ভাসি,
ৗধলােল-বিলাস-বাঞ্ছা মিলায় বাতাসে,
বাধের বাসনা আর, নাহি ফুটে অনিবার,
হৃদয়-নিকুঞ্জবন আর নাহি হাসে,
রিপু-অলি গুঞ্জরে না গুগু ভাষে।
৪
নির্বাণ বহ্নির শিখা শ্মশান-চিতায়,
সঙ্গে সঙ্গে আশা-রেখা অমন্তে মিলায়,
অনন্ত শূন্যের কোলে লও হে হৃদয় তুলে,
সুখ দুঃখ বন্ধুরতা নাহি দেখা যায়,
সুমতি কুমতিদ্বয়, তারতম্য নাহি হয়,
হাসি কান্না ভেদাভেদ দূরে চলি যায়,
ভৌতিক দৈবিক বিশ্ব চরণে গড়ায়।
.
“স্থান-অবরােধকতা”-জড়ত্বের গুণে,
অসার চিন্তার স্রোত নাহি হে মনে,
উদাস ছায়ার মালা,
অবিরত করে খেলা,
সংসারের অসারত্ব নিয়ত দেখায়,
ty"

মহাশােক।
৩৭
বিশাল ব্যোমের গায়, একেবারে মিলে যায়,
কমনীয়-কামনার সুকুমার-কায়
ভঙ্গুর-শরীর ত্যাগ করে মমতায়।
শীত্ব-ঋতু সমাগমে প্রত্যুষ-সময়,
ভুবন ভরিয়া যায় ঘাের কুয়াশায়
ভানু ফুটি উষ-কোলে, কনক-কিরণ-জালে,
বিদূরি কুয়াসা-মালা আলােক বিলায়
পুলকিত ভব-বাসী, অযাচিত কররাশি
নবরাগে প্রকৃতির বয়ান, ভাতায়,
কাতরতা বিদূরিত বৈরাগ্য-আভায়।
৭
বৈরাগ্য, বগলা-মুখী বিদ্যাকারে
মন-রত্ন সিংহাসনে উর হৃদাগারে;
উদাস-হরিদ্রাবাসে, পীতবর্ণ কায়া মিশে
মহাশক্তি-পীতবর্ণ-ভূষা-আভরণ
বীতস্পৃহা সমুষল,
শােভে তু করল,
নিষ্কাম-চিকুর-গুচ্ছ শির সুশােভন,
ললাটে শশাঙ্ক-খণ্ড-নশ্বরত্ব-জ্ঞান।
শুনাযায় অতিদূরে, ভিতরে হিয়ার
ধারণা-বীণার তারে উদাস-ঝঙ্কার,
অনিবার তারে তারে, খেলায় উদ্বাস-রে,

মহাশােক।
উনাৱা ত্যজিয়া ক্রমে তারায় পাণ,
স’মে স’মে রাখিতাল, নৃত্যকরে মহাকাল,
হৃদয়--শ্মশান ভেদি উঠে সেই গান,
আচক্ৰ স্থিত,জ্ঞানে করয়ে আহ্বান।
;
ধরণীর নশ্বরত্ব করি সপ্রমান,
বৈরাগ্য! বিপুল-বলে এই বিশ্বখান
তুলি বাম করে তায়, ফেলিমহাকাল-গায়,
তরঙ্গ-বিহীন-সুখ, কর উপভােগ,
সংসার বা স্বর্গ দ্বার, মূলাধার, সহস্রার,
ক্রিয়াহীন, ক্রিয়াবান্ মধুর সংযােগ
অথবা ভুলিয়া যাও সংযােগ-বিয়ােগ।
t
সকাম-কুটিল-পন্থা করি পরিহার,
নিষ্কাম-শরনিধরি হও আগুলার,
নিধূম-চিতার চাই।
অঙ্গ-রাগ হয় তাই,
হুঙ্কারিয়া সমীরণ বিভূতি মাখায়,
নাহি চাহ কারু পানে,
চলিয়া আপন মনে,
কোলাহল হীন স্থান বিঞ্জন যথায়,
মিলাও নিজের কায় সে “নীরবতায়”।

নবম উচ্ছাস।
নীরবতা
=
সংসারের কোলাহল, হলাহল প্রায়,
সভয়ে তেয়াগি মন বিজনে পলায়,
নীরব প্রকৃতি মুখে,
লাবণ্য-লহরী সুখে,
খ্রীড়াভরে ক্রীড়া করে, বিলােল-গমনে,
নীরবে নেহালে ঘন ;
মহাশান্তি আকিঞ্চন
করে অবিরত হৃদি বসিয়া নির্জনে,
সাংসারিক ক্রিয়াযুত লুটায় চরণে।
বিঘাের-বিতৃষ্ণা আসি উপনীত হয়ে,
বিরলে হৃদয় খানি যায় চলি ল'য়ে,
অভিলাষ নাহি হয়, মনে আর নাহি রয়,
আর পুনঃ এ ধরায় তােগ-খতরে,

৪০
মহাশােক।
আর চিত নাহি চায়, পরাণ বাঁচাতে হয়।
সংসার-লােলুপ-মায়া নাহি চায় ফিরে
অবিচ্ছিন্ন-নীরবতা বিরাজে ভিতরে।
ঘোর লজ্জা আসি ঘেরে শােকার্ত নয়ন,
নীরবে ফাটিয়া পড়ে হেরি বন্ধু-জন,
নীরব কণ্ঠের রব,
নীরব চাঞ্চল্য সব,
দুঃখভরা নীপ্লবতা মৃদুল গমনে,
সলজ্জ ভাবেতে আসি, মানস-সরসে ভাসি,
পশে গিয়া হৃদয়ের ব্যথা যেইখানে,
সম্বিত স্তম্ভিত হয় তার আগমনে।
৪
অনুপম সে সুষমা শােকার্ত-নয়নে,
ব্যোমগঞ্জ-- মনে ত্বরিত গমনে,
বিশ্বকেন্দ্রে হয়ে স্থিত, দেখায় “কারণ” যত,
ব্ৰহ্মডি পদতলে স্পন্দহীন ভাবে,
অনন্ত কারণ যত,
নীরবে প্রসবে কত,
পলকে পলকে কর্ষ উদ্ভূত ভবে।
দেখায় এ হেন লীলা নীরবতা তবে।
'
-'

মহাশােক।
.
মহাকাল-মহাকায়ে সৃষ্টি-স্থিতি-লয়,
সে অনন্ত কাৰ্য-চমূ নীরবেই হয় ;
নীরবে কালের বুকে,
নিয়তি নীরবে সুখে,
ঘোর-অবনে কেলি করে অবিরত,
ডিম্ব কত শত,
ফুটি উঠে অবিরত,
জল বুদু দের ব্যয় হয় পরিণত
সীমাহীন আন্তঃীন ঘটনা এমত।
দেখায় কখন শুধু ফেনিল সাগর,
বাচিমাল। নীরব সে বুকের উপর,
শিশু এক সে সলিলে, নীরবে ভাসিয়া খেলে,
অফুটন্ত হাসি তার ফোটায় কখন—
কোটা বিশ্ব চরাচর, ফুটি উঠি, মনোহর
মধুরিমা প্রকাশিয়া মােহে আত্মান,
নরব-ক্রন্দন-ভাৱে সুপ্ত বা কখন ?
**
হইয়া মাতঙ্গীরূপী নীরবতা-ধনী,
বিরাজে আত্মার মাঝে রূপসী রমণী
নির্জনতা-পদ্মাসন,
লজ্জ-শ্যাম-সুবরণ,
মনের নিরুদ্ধগতি, লােহিত-বসন ;

৪২
মহাশোক।
ভূত, ভাবি, বর্তমান,
ত্রিলােচন বিদ্যমান,
গাম্ভীর্য-মৃগাঙ্ক ভালে হয় সুশােভন,
দম-ধৃতি-চিন্তা-স্মৃতি ভূজ চারিখান।
নীরবে কোমল-দৃষ্টি মহাশান্তি চায়,
নীরবে প্রকৃতি লীলা হোক্ সমুদয়,
হৃদে সাধ এই হয়, বায়ু-ব্যোম্-তেজশ্চয়
ক্ষিতি-নীর মিশামিশি করুক নীরবে,
নারবে খুলিয়া যাক্,
অথবা পড়িয়া থাক,
যে যেথা আছু সেথা থাক্‌ সেই ভাবে,
কিম্বা যা লীন হয়ে নীরবে এ ভবে।
১
নীরবে রে মন ! ধাও উধাও-ভাবেতে
চিন্তা মধ্য, স্কিত স্মৃতি-মধু পিতে,
ছুটাও নীরবে প্রাণ, দিক্‌ দম বলিদান,
ষড়রিপু, হিংসা, দ্বেষ, ভয়, অভিমান,
দম-ভূজে ধরি অসি,
নীরবত ফেল নাশি,
দৈত্য সম সচঞ্চল হিংস্রক বাথান,
নীরবে হেরু নেত্র প্রকৃতি-বয়ান।
t
,

মহাশােক
৪৩
হউক নীরব বিশ্ব মহাকাল সনে,
স্রষ্টা, সৃষ্টি, হেতু, ক্রিয়া, লয় হোক মনে
মহানীরবতা-বুকে,
• শােকান্তের শির সুখে
স্থাপি, শান্তি আকিঞ্চন করে যবে মন
ওতপ্রােতভাবে চিত, হয় যবে অবস্থিত,
আত্ম। হ'তে বহিরায় প্রবােধ বচন,
সে “কা-প্রবােধ” রাখে সৃষ্টি অনুক্ষণ।

দশম উচ্ছাস
আত্ম-প্রবোধ।
বিশ্বকেন্দ্রে সমুদিত শশাঙ্ক মতন,
অজ্ঞা-কুটে ফুটি উঠে নিৰ্ম্মল কিরণ ;
সুস্নিগ্ধ আভায় তার, পুলকিত দাগার,
হেরে, দূরে শান্তি যেন হেলাইয়া কয়,
স্নেহ-মাখা-চোখ-দিয়া, আছে যেন তাকাইয়া,
উদ্ভান্ত-অন্তর শান্ত, শান্তির আশায়,
তন্ময় হইয়া শুনে কি বলে আত্মায় ।
এত ভ্রান্ত কেন জীব অবিদ্যা-মায়ায় ?
কেন এত দুর্বলতা মোহ-ছলনায় ?
নিত্য-সত্ব-গুণাশ্রিত, যােগ-ক্ষেম বিরহিত,
হেন আত্মা কখনও লয় নাহি হয়,

মহাশোক।
পঞ্চভূত বিনির্মিত,
পঞ্চভূতে সম্মিলিত
হয় দেহ, আত্মাসনে বিচ্ছেদ সময়,
তার তরে শােক করা উপযুক্ত নয়।
বিজড়িত মূঢ়তায় রে চঞ্চল মন !
সৃষ্টির রহস্য-পানে কিরাও নয়ন,
আদিতে অব্যক্তভূত,
মধ্যে হয় প্রকাশিত,
অন্তেও ইন্দ্রিয়াতীতঅব্যক্ত নিশ্চয়,
এ হেন সৃষ্টের তরে, কেন তবে এ সংসারে
সুখ দুঃখ অনুভূত হৃদয়েতে হয় ?
বৃথা নুশােচনাতে কি বা ফলােদয় ?
৪
;
মহাকাল-সুবিশাল-করাল-ক বলে,
কৰ্ম্মত্যক্ত-অভিব্যও ক্রীকুল গিলে
দেহ যবে এ ধরায়,
কৰ্ম্মে অসমর্থ হয়,
কৰ্ম্ম অনুযায়ী জীব ত্যজি পুরাতন,
আত্ম-কৰ্ম্ম-অনুসারে, পশে নবকলেবরে ;
জীর্ণবাস ত্যজি যথা নূতন ধারণ, ।
: পুন: কর্মক্ষেত্রে জীব করেবচরণ।
৫।

৪ ও
মহাশোক।
{
বাসনা-সলিলে চিত্ত ভাসে যতকাল,
যতকাল আবরিত থাকে মােহ-জাল,
যত কাল লালসায়, ইচ্ছা, আশা, আকাঙক্ষায়,
কোলাকুলি করে শুধু ভোগ-সুখ-তর,
ততকাল ব্যাপি তার, জন্ম মৃত্যু বারবার
অবশ্যই হয় তবে কৰ্ম্ম অনুসারে,
বাসনায় উৎসাদিতে যত যুগে নারে।
৬
বারিধির নীর যথসৌর-করতাপে
প্রথমতঃ পরিণত হয় বাষ্পরূপে,
ক্রমে বাষ্প গাঢ় হয়, শূন্যে সঞ্চি মেঘচয়,
পুনঃ উদ্ভূতবারি জলদ হইতে,
বেগবতী নদী দিয়া, সাগরে মিলায় গিয়া
সাগর তেয়াগি যাহা পড়ে ধরণীতে,
জন্ম-মৃত্যু প্রাকৃতিক-খেলা এই রীতে।
শান্তি-স্নিগ্ধ-নীল-বাস করি পরিধান,
আজ্ঞাচক্ত-সরসীতে হও অধিষ্ঠান,
হৃদয়-জগতভরি, মহালক্ষীৰূপা হেরি,
ভুবন-আনন্দ-দাত্রী হসিত-বদনা,

মহাশােক।
৪৭
পুলকে পূর্ণিত কায়,
চারি চারুকর হয়
সম, দম, একাগ্রতা, বিমল-ধারণা,
সুমধুর প্রশান্ত-কাঞ্চন-বরণ।
রে অন্ধ-অন্তর ! হের জ্ঞান-দৃষ্টি-বলে,
নিদারুণ ভ্রান্তি-নাশ হবে অবহেলে,
সৃষ্টির প্রারব্ধ-কালে,
শরীরী প্রাণীর ভালে,
অত্যুজ্জ্বল রক্তাক্ষরে হয়েছে লিখন,
পূর্ণিমা-মার মত,
হবে, যতকাল নহে নির্বাণ সাধন।
নিয়তিনেমির এই ঘাের-আন ।
জন্ম-মৃত্যু অবিরত
দ্বিদল-চণক সম পুরুষ-প্রকৃতি,
এক আবরণে ব্যাপ্ত অভিন্ন মূরতি,
পুরুষ নিষ্ক্রিয়াবা, প্রকৃতিই কৰ্ম্মাধান,
বিজ্ঞান-নয়নে হের হে ভ্রান্ত অন্তর।
রূপান্তর কথা বই, প্রকৃতির সাধ্য নাই,
ছিল যাহ, আছে তাহা, জগত ভিতর,
প্রকৃতির লীলা-ছলে শুধুৰূপান্তর।

৪৮
মহাশােক।
০
কভুকরে বিকর্ষণ,
“মিলন” “বিচ্ছেদ” দুই মহাকাৰ্য-ছলে,
প্রকৃতি লীলায় মগ্ন যােগ-মায়া-বলে,
অনু-রেণু আকর্ষণ,
কোন স্থান নিম্ন হয় অন্যোন্নত করি,
আঁধার-আলোেক প্রায়, দুঃখ-সুখ এ ধরায়,
কাদায় হাসায় জীবে দিবস শর্বরী,
হে আত্ম-প্রবােধ! তুমি ঢাল শান্তি-বারী।
ত

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Mahashok Ed. 1st

Author
Raychowdhury,hemachandra
Title
Mahashok Ed. 1st
File name
Mahashok Ed. 1st
Text
OCR done
Citation
1897
Published
2009/11/7
Publisher
Manmathanath Ghosh
Language
Sanskrit
Pages
64
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
RayChowdhury,Hemachandra
DLI number
512888
Barcode
4990010019919.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
VMLT id
KJ97gZxh3lP
Download PDF

Mahashok Ed. 1st