Makardah Saraswat Library, Howrah

Pather Sathi

Debi, Srimati Anurupa · 2009/07/15

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

পথেৱ সাথী
সামাজিক নাটক
শ্ৰীমতী অনুরূপা দেবী প্রণীত
উপন্যাসের নাট্যরূপ
নাট্যরূপদাতা
শ্রীযােগেশচন্দ্র চৌধুরী
আর, এইচ, শ্রীমানী এণ্ড সন্স,
২০৪ নং কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট, কলিকাতা।
আষাঢ়-১৩৪২

মিলাইয়া পড়িয়াছেন, তাদের মধ্যে কেহ কেহ আমায় উক্ত প্রশ্ন
করিয়াছেন। আমিও মাঝে মাঝে ভাবি আমার এ বিড়ম্বনা কেন ?
“পর কৈনু আপনা আমি
আপন কৈ পর—"
পূৰ্বে ছিলাম নাট্যকার, এখন হইয়াছি নাট্যরূপদত।।
আমি হয় তাে মৌলিক সামাজিক নাটক ও লিখিতে পারি। কিন্তু
থিয়েটারের কর্তৃপক্ষের ধারণা, উপন্যাসের নাট্যরূপই শ্রেষ্ঠ নাট্যরচনা ?
কারণ রূপান্তরিত নাটক অভিনয় করিয়া তার। লাভবান হইয়াছেন ;
হইতেছেন, তাদের দোষ দিতে পারা যায় না। প্রত্যক্ষ প্রমাণের
চেয়ে বড় প্রমাণ সন্ধান করিবার প্রয়ােজন তাদের নাই, কিন্তু আমার
আছে।
আমি পরের উপন্যাসে আমার স্বকীয় নাট্যসৃষ্টির দ্বারা নূতন রূপ
ও রস দিয়া আসিতেছি; কিন্তু যাদের উপন্যাস ইহাতে তারা ক্ষুন্ন হন,
সাধারণ পাঠকপাঠিকা, রঙ্গালয়ে; দর্শক ও আমার কাৰ্য্যের গুরুত্ব উপলব্ধি
করেন না।
আর কতদিন যে আমায় এ দুর্ভোগ ভুগিতে হইবে তাহা জানি
না! রামের ইচ্ছা!
১৮বি, বাগবাজার স্ট্রীট,
কলিকাতা।
৬ই, আষাঢ়, ১১৪২ ।
যােগেশচন্দ্র চৌধুরী

ঙ মহলে
প্রথম উদ্বোধন রজন।
২৬শে বৈশাখ বৃহস্পতিবার, ১৩৪২
সংগঠনকারিগণ
গল্পাংশ–শ্রীমতী অনুরূপা দেবী
নাট্যরূপ—যােগেশচন্দ্র চৌধুরী
শ্রীশিশির মল্লিক •
শ্রীসতু সেন
পরিচালকগণ
যামিনী মিত্র
শ্ৰীঅমর বস্তু
প্রযোজক
শ্রীনরেশচন্দ্র মিত্র
শ্রীসতু সেন
সুরশিল্পী-শ্ৰীঅমর বসু

নৃত্য শিক্ষক
হারমােণিয়ম বাদক
পিয়ানাে বাদক
তবলা বাদক
বংশী বাদক
বেহালা বাদক
এললিত গােস্বামী
হরিদাস মুখোপাধ্যায়
» কুমদকান্ত ভট্টাচার্য্য
পূর্ণ দাস
বিজয়কৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়
9, রতনলাল ।
?? সন্তোষ দে
মতিলাল সেন
১, রমেশচন্দ্র রায় চৌধুরী
p, খগেন্দ্রনাথ দে ( লােক )
, মণিমােহন চট্টোপাধ্যায়
অধীরকুমার ঘােষ
মঞ্চাধক্য
ঐ সহকারী
আলােকসম্পাতকারী
স্মারক

উদ্বোধন-রজনীৱ নটনটীগণ —পুরুষ বসন্ত সেন শরদিন্দু সেন শশাঙ্ক সেন ০৪০ ••• জ্ঞানচন্দ্র গয়ারাম অমরেশ্বর দত্ত অর্ধেন্দু ••• শ্ৰীযোগেশচন্দ্র চৌধুরী শ্ৰীরবি রায় জহর গাঙ্গুলী শ্রীকৃষ্ণধন মুখােপাধ্যায় । পরে শ্রীবিনয়কুমার বসু • শ্ৰীকালীপদ বসু শ্রীনরেশচন্দ্র মিত্র ইন্দুভূষণ মুখােপাধ্যায় শ্রীহীরালাল চট্টোপাধ্যায় শ্ৰীরতীন বন্দ্যোপাধ্যায় ভূমেন রায় শ্রীগােপালচন্দ্র মুখােপাধ্যায় শ্ৰীললিত সিংহ বিজয়কার্তিক দাস শ্ৰীশচীন দাসগুপ্ত তারাপদ ভট্টাচার্য হরমােহন হিরন্ময় নরেন্দ্রনারায়ণ বনমালী বাঁড়ুয্যে ••• মধুসূদন নাগ রামনারায়ণ বৈতালিকদ্বয় ৫৪ ০

বিন্দুবাসিনী
রাজলক্ষ্মী
০ ০ ০
সরযূ
আশমানতারা
শােভা
চারুবাল।
পদ্মাবতী
প্রতিমা
রেণুবালা ( সুখ)
আন্নাকালী
পরে আঙ্গুরবালা
সরস্বতী
বগলা
নম্মদ।
• • •
আঙ্গুরবালা
পরে সুহাসিনী
শান্তি গুপ্তা
০ ০ ০
রুবি
সুমতি
অনঙ্গ কীৰ্ত্তনী
মঞ্জরী বাইজা
মহামায়া
উমাতারা
লক্ষ্মীপ্রিয়া

নাটকীয় চরিত্রপরিশ্ন -পুরুষ বসন্ত সেন শিবপুরবাসী জমিদার শরদিন্দু সেন ••• শশাঙ্ক সেন ••• ঐ জ্যেষ্ঠ পুত্র ঐ কনিষ্ঠ পুত্র ঐ সরকার জ্ঞানচন্দ্র ••• শিক্ষিত যুবক গয়ারাম ••• অমরেশ্বর দত্ত ইস্কুল মাষ্টার অর্ধেন্দু অবসরপ্রাপ্ত ডাক্তার হরমােহন অবসরপ্রাপ্ত জজ, হিরন্ময় নরেন্দ্রনারায়ণ রুকুমপুরের জমিদার (রাজা) বনমালী বাঁড়ুয্যে মধুসূদন নাগ ঐ সেনাপতি রামনারায়ণ ঐ রাজবৈদ্য দরােয়ান, দেহরক্ষীগণ, বৈতালিকদ্বয় প্রভৃতি ঐ উজীর

বিন্দুবাসিনী
০ ০ ০
সরযু
•••
শোভা
বসন্ত সেনের প্রথম পত্নী
ঐ দ্বিতীয় পত্নী
ঐ সেনের কন্যা
ঐ
পুত্রবধূ (শরদিন্দুর স্ত্রী)
ঐ প্রতিবেশিনী
ঐ দাসী
আন্নাকালী
বগলা
অমরেশ্বরের স্ত্রী
নৰ্ম্মদ।
করবী ( রুবি )
সুমতি
ঐ কন্যা
হিরন্ময়ের মাতা
অনঙ্গ কীৰ্ত্তনী, মঞ্জরী বাইজী প্রভৃতি

পথের সাথী
প্রথম অঙ্ক
দশ-বার শিবপু গঙ্গাতীরস্থ বৃহৎ অটাসিক।- পই
ববি: বগ-—গারাম তামাক সাজিতেছি,
বসবা উপর , নীচে নামিলে।
!
বসন্ত। ছােট বউ
গয়ারাম। ডাকবো? ( অন্দরাভিমুসী হইয়)-ছোট মা, বাবু ডাকছেন
(নেপথ্য হইত )—“যাই”
( ছোট বউ রর প্রবেশ )
সরযূ। কি গা!-কি হয়েছে!
বসন্ত। ঘুমুচ্ছিলাম !—ঘুমুতে ঘুমুতে হঠাৎ যেন মনে হ’ল heart টা
stop করেছে-
সরযু। ওম-সে কি গো ! দিদি

পথের সাথী
বসন্ত। না তাকে ডেকোনা, সে ত এ সব বিশ্বাস করে না, বলে
সখের ব্যায়াম, তাকে আর ডেকে কাজ নেই, বুকখানায়
একটু হাত বুলিয়ে দাও ত’।
সরষু। তবে কি হবে !
বসন্ত। তুমি একটু স্থির হয়ে বস, তাহলেই আমি সামলে উঠবে।।
( বিবাসিনীর প্রবেশ )
সরযু।
দিদি ওঁর সেই হার্টের অসুখটা এখন আবার
বিন্দু।
হ্যা, বুঝতে পেরেছি, ব্যবস্থা হচ্ছে! গয়ারাম যাতে বাবা-
চট করে জ্ঞানকে ডেকে আন, আমার কাছে পাঠিয়ে দিবি
গয়ারাম। যে আজ্ঞা মা-
[ প্রস্থান।
বিন্দু।
ছােট বউ-এইদিকে একবার আয়—আচ্ছা থাক—তুই ওঁর
কাছেই থাক্‌-আমি শােভাকে দিয়ে পাঠিয়ে দিচ্ছি—ওরে
শােভা-শােভা,
[ প্রস্থান।
( শোভ! ভিতর হইতে উত্তর দিল )
শােভা। “যাই বড়ম—
কেন আবার বড়গিন্নীকে বলতে গেলে ?
সরযু।
তা হােক্,-বড়দি বােঝে সােজে, আমার বাপু বড় ভয়
করে। তােমার অসুখ শুনলে--আর হাত পা ওঠে না—
বসন্ত। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখছিলাম বোধ হয় heart. fail
করেছে-
২

প্রথম অঙ্ক কি ওষুধ ? সর। থাক আর ওসব কথা বলােনা। আজকাল ওই এক বালাই হয়েছে। হার্টফেল ! বাবা বলেন সেকালে ও রোগ ছিল না— সেবার সেই তােমার নামে উকিলের বড় ছেলে, খাস। ছেলে, আমার বাপের বাড়ীর পাশের বাড়ীতে হঠাৎ হার্টফেল করে মারা গেল ! ( শােভার ওষণ লইয়া প্রবেশ) শোভা। বাবা, বড়মা এই ওযুধ পাঠিয়ে দিলেন— বসন্ত। শোভা। বল্লেন সেই যে তােমার জন্যে সেবার কেনা হয়েছিল, ছোট্ট একটা শিশিতে ছিল। দশ ফোটা দিয়েছেন- বসন্ত। দাও খেয়ে রাখি ! ( পান করিলেন। ) সরযূ। তুই কি করছিলিরে শোভা সারা দুপুরটা? শােভা। বড়মাকে একখানা বই পড়ে শোনাচ্ছিলুম, খাসা বই, ছোড়দা কাতা থেকে এনে দিয়েছে-- সরযূ। নিজের মা মল কি বাঁচলো তা ছেলে এক মেয়ে কেউ একবার খোজও নেয় না- শােভা। বালাই, সাট, তুমি মরতে যাবে কেন! তুমি তো খাসা খেয়ে দেয়ে সারা দুপুরটা ঘুম দিলে। ডেকে তােমার সাড়া পাওয়া যায় না। সর। না ডেকে সাড়া পাওয়া যায় না! ও রকম ক্ষুদে শ্বাশুড়ীর মত হাড় জুলানাে কথা বলিসনে শােভা! বড়দি আদর দিয়ে দিয়ে যা তাদের তৈরী ক’চ্ছেন ; যেমন ছেলে তেমনি মেয়ে!

পথের সাথী শােভা। তুমি আমায় কোন দিন দু চোখে দেখতে পারে না, কাছে এলেই বকুনি দাও, তােমার কাছে থাকতে আমার বয়ে গেছে। [ প্রস্থান। আচ্ছা বড় গিন্নীর কাছে তো ওরা বেশ থাকে ! তুমি ছেলে-মেয়ে মানুষ করতে জানন। ছোট বউ--তােমারই পেটের ছেলে-মেয়ে তোমার চাইতে বড়গির বশ,। এইতেই বোঝ- সরযু। দিদির আর কি বল। উনি অাদর দিয়েই খালাস। আমি তো আর ঐ রকম অসৈরণ দেখতে পারিনে শ্বশুরবাড়ী গিয়ে যখন শ্বাশুড়ীর খোটা খাবে—তখন সে মাগী তো সৎমাকে দুষবেনা-আসল গুড়ি ধরেই নাড়বে। বসন্ত। তুমি তাে খুব সাবধান ছােট বউ। সরযু। দেখনা, বাবা এসে দুটো দিন রইলেন—তা নাতি কি নাতনী কেউ যদি একটিবার তার কাছে এল বরং শরদিন্দু আর বউমা তবু এক আধবার খোঁজ-খবর নিয়েছে পােড়া কপাল, পােড়া কপাল ! অথচ দিদির বাপের বাড়ীতে গিয়ে শরদিন্দুর চেয়ে সবাই তাে তােমার ছেলেরই সুখ্যাতি করে। ও লেখাপড়ায় খুব ভাল সরযু। হ্যা, দিন রাত পড়ে পড়ে চোখের মাথাটি খেয়েছেন—ঐ টুকুন ছেলে, বুড়াের মত চোখে এক জোড়া চশমা। তা তােমার বাবাকে একবার ডাকই না, তিনি না হয় হাতখানা একবার দেখুন- ৪

প্রথম অঙ্ক
সরযু । কেন আবার কি হলো ?
বসন্ত। তবু তিনি একজন বহুদর্শী কবিরাজ তো বটে—
সরযু। তিনি কি এখনো আছেন—তিনি আজ ভােরেই চলে
গেছেন। তার কি কোন জায়গায় গিয়ে থাবার উপায়
আছে-
বসন্ত। হঁশুনেছি বটে যত বুড়ো হচ্ছে তত পসার বাড়ছে---
সরযূ। রাজাবাবুরা কত খোসামােদ করে তবে বাবাকে পাঠিয়েছে।
তাদের বড় ইচ্ছে-আমাদের ঘরে একটা কাজ করে
মেয়েটিও খাসা !
বসন্ত। তা শশাঙ্ককে একবার ওর দাদামশায়ের সঙ্গে পাঠিয়ে দিলেই
তাে পারুতে, নিজের চোখে দেখে মেয়ে পছন্দ করে
আসতো, না হয় কোনো বন্ধুকে সঙ্গে করে নিয়ে যেত।
সরযূ।
একদিন বাবা শশাঙ্ককে বিয়ের কথা বলেছিলেন তারপর থেকে
আর বাবার সঙ্গে দেখাই ক'লে না।
জ্ঞান। ( নেপথে) ছােটম। একটু সরে যাবেন, আমি ডাক্তার বাবুকে
সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি-
[ সরযুর প্রস্থান।
( ৩ানচন্দ্র রায় ও প্রাণ ডাক্তার হৃদ্ধন্দুবাবুর প্রবেশ)
বসন্ত। তুমি আবার সাত তাড়াতাড়ি ডাক্তার ডাকতে গেলে কেন হে
জ্ঞানচন্দ্র
জ্ঞান।
আজ্ঞে-বড়মা বলে দিলেন যে
বসন্ত। তােমার বড়মার যেমন কাণ্ড! নিজেই তাে ডাক্তারী কল্লেন
এই একটু আগে

পথের সাথী
বিন্দু। (নেপথ্যে) জ্ঞান শােন
( প্রানচন্দ্র নিকটে গেল )
ডাক্তার বাবুকে বলে দাও—একটু যেন ভাল করে দেখেন
পুরােনো ডাক্তারের কথা উনি গ্রাহ্য করেন না বলে নতুন
ডাক্তার আনিয়েছি
ডাক্তারবাবু বড়মা বলছেন—
অর্ধেন্দু। হা শুনতে পেয়েছি, পুরােনো তক্ত:কে বাবু গ্রাহ
করেন না-
বসন্ত। তাই বড়গিন্নী এবার একটু ঘটা করে চিকিৎসা করাতে চান
ওরে গয়ারাম ডাক্তারবাবুকে তামাক দিয়ে যা--
অদ্ধে। আজ্ঞে আমি তামাক খাইনা—
তামাক খান না? কেন বলুন তো, তামাক তো বেশ ভাল
জিনিষ, তামাকটা খাবেন—খাস-গয়া থেকে আনানো ভাল
অম্বুরি, চমৎকার খোসবাই!
অর্ধেন্দু। না দরকার নেই,ধন্যবাদ ।
বসন্ত। আচ্ছা তা হলে ভাল সিগারেট, কি সিগার—কি খান
আপনি ?
অর্ধেন্দু। ভাল brand এর সিগার থাকে তাে—তাই বরং
বসন্ত। জ্ঞান ! একটা সিগার নিয়ে এসতাে আমার বাইরের ঘর
বসন্ত।
অর্ধেন্দু। আচ্ছা আপনার অসুখটা কি ?
বসন্ত। ব’লছি—আপনি একটু স্থির হয়ে বসুন। জ্ঞান ! একটু

প্রথম অঙ্ক ক দেখোতাে গিন্নীরা কেউ যেন উকিঝুকি না মারেন—বলবে- ডাক্তারবাবু অত্যন্ত নির্জনে বেশ ভাল করে রুগী পরীক্ষা করতে চান [ জ্ঞানচত্রের প্রস্থান। অর্ধেন্দু। (: হান্য) আপনার অসুখটা কি এইবার বলুন তাে? বসন্ত। আপনি বুঝি এখানে নতুন এসেছেন? অর্ধেন্দু। এই মাস দুই- বসন্ত। আগে কোথায় ডাক্তারি কৰ্ত্তেন? অর্ধেন্দু। Government service এ ছিলাম । 076777 District রেছিRetire করার পর এইখানেই আছি। বসন্ত। আমার ইতিহাস কিছু জানেন না ? অর্ধেন্দু। আজ্ঞে না। আচ্ছা, আগে আপনার যন্তরপাতি দিয়ে পরীক্ষা করুন- তারপর আমার কথা আমি পরে বলবে- ( ডাক্তার Stethoscope লাগাইয়া অনেকক্ষণ পরীক্ষা করিয়া দেখিলেন) অর্ধেন্দু। আপনার heart টা যেন বড় দুৰ্বল বােধ হচ্ছে—অথচ বাইরে থেকে দেখলে বসন্ত। সত্যি heart দুর্বল ? অর্ধেন্দু। হ্যা দুৰ্বল বৈকি। বসন্ত। অর্ধেন্দু। হঁা; আচ্ছা আপনার কি Beri-beri হয়েছিল বস। Beri-beri-তা বােধ হয় হয়েছিল। আবার নাও হতে পারে- সত্যি দুৰ্বল ? ৭ পথের সাথী অর্ধেন্দু। সে কি মশাই? বসন্ত। মানে তাকে আপনি Beri-beri বলতেও পারেন, আবার নাও বলতে পারেন- অর্ধেন্দু। ঠিক্ (liagonisis হয় নি? এক রকম তাই— অর্ধেন্দু। এক রকম তাই কি মশায়, আপনি ঠিক করে কিছু বলুন— আমি ঠিক করে কখনো কিছু বলিনে—তাইতো বড় গিন্না নিজে এসে ব্যবস্থা করে গেলেন- অর্ধেন্দু। মানে আপনার ব্যায়রামটা ঠিক teri-veri না fileria সেট। বোধ হয় ডাক্তারবাবুরা definitely কিছু বলেন নি ? বসন্ত। তাদের হয়তো বলবার ইচ্ছে ছিল—আমি বলতে দিই নি অর্ধেন্দু। না না আপনার ভাল রকম চিকিৎসা হওয়া দরকার রােগটির origin কি আমায় বলুন তাে-রােগের ইতিহাসটা জানা দরকার- বসন্ত। বলছি কথাটা একটু গোপনীয়। তবে আপনি যখন ডাক্তার অর্ধেন্দু। কি—কথা? বসন্ত। আচ্ছা, আপনি বাংলা সাহিত্য আলােচনা করে থাকেন? অর্ধেন্দু। বাংলা সাহিত্য? বসন্ত। আপনি দীনবন্ধু বাবুর “জামাই বারিক” পড়েছেন? অর্ধেন্দু। “জামাই বারিক”-হা হা পড়েছিলাম বটে সেকালে আপনি সেকেলে মানুষ বলেই বলছি। তাতে পদ্মলােচন আর বগী বিন্দীর গল্পটা নিশ্চয় আপনার মনে আছে-

প্রথম অঙ্ক
ཆ།
অর্ধেন্দু। হ্যা তা আছে—কিন্তু তার সঙ্গে আপনার বর্তমান রােগের
সম্বন্ধটা কি?
বলছি! তামাকটা বেশ ম’জে এসেছে—দুটো সুখটান
দিয়ে নিই—আপনাকে ডবল ভিজিট দেব-৩য় নেই
ইতিহাসটা শুনুন—এ অঞ্চলের লােক সবাই জানে - ।
আপনি এখানে ছিলেন না। তাই জানেন না—শুনুন—আমার
ঐ “জামাই বারিকের” পদ্মলোচনের মত দুই সংসার, দুইটিই
বৰ্ত্তমান—তবে তারা বগী বিন্দীর মত নয়—খুব ভাল
অর্ধেন্দু। আপনি তা হলে ভাগ্যবান পুরুষ!
বসন্ত। ভাগ্যটা অবিশ্যি নেহাৎ খারাপ ছিল না।
অর্ধেন্দু। তা দুই বিয়ে কেন করলেন মশায় ? আজকের দিনে এক স্ত্রী
থাকতে
ভাগ্যে লেখা ছিল মশা। আমি না বল্লে--কি আর না
হয়। বড় গিন্নী ঐ দেখলেন তাে খুব ভারিক্কি মেজাজ
অামায় ভালও বাসেন খুব, তবে ছােট গিন্নী আসার পর থেকে
কি রকম যেন গুম হয়ে রইলেন—
অর্ধেন্দু। খুবই স্বাভাবিক
বসন্ত।
উনি সংসারের কাজ কৰ্ম্ম দেখেন শােনেন। যত্ন আত্তি সব
করেন। ছেলে-পুলে মানুষ করেন। অথচ আমার কাছে
আর আদৌ ঘেঁষেন না-
অর্ধেন্দু। ওঃ, তাই বুঝি আপনি
বসন্ত। হ্যা--তাই আমি—ওঁর মন্ট। একটু নরম করবার জন্যে
বসন্ত।

পথের সাথী অসুখের ভাণ, করতে লাগলাম মশায় ! এখন এদিকে এই স্থূলকায় দেই—সাতটা বাঘের আহার—তারপর চ চোষ্য লেহ পেয় লােগ—সবই ঠিক্ রইল—অথচ রােগ হওয়া চাই- নইলে বড় গিন্নী ফিরেও দেখেন না—কাজেই বলতে হল heart এর valpitatioll—অমন সুবিধের ব্যায়রাম আর কি আছে বলুন- অর্ধেন্দু। তারপর একদিন বুঝি সত্যিই পালে বাঘ এল—কেমন ? বসন্ত। অজ্ঞে হ্যা—আর সেই শুভদিনটি বােধ হয় আজ! অর্ধেন্দু। এই আপনার রােগের ইতিহাস —? আসল ইতিহাস এখনাে বলা হয়নি। এ তো মশায় সবে উপক্রমণিকা, আপনি আসুন আমার সঙ্গে—গঙ্গার ধারে আমার বাগানে—বেশ ভালাে জায়গায়চমৎকার হাওয়া কোন্ গিন্নী আবার কোনদিক থেকে এসে হঠাৎ শুনে ফেলবেন। আসুন-- [ নেপথে•••বসন্ত বাবুর বড় ছেলে শরদিন্দুর গলার স্বর শােনা গেল সে তার স্ত্রীকে বলিতেছে] “একি, তুমি আবার ঘুমিয়ে পড়েছ—ওঠ, ওঠ, এই গামছাখানা আর ঘড়াটা নাও—আমি গঙ্গার ধারে ঘাটের পথে ক্যামেরা set করে রেখে এসেছি—আর দেরী করলে light পাওয়া যাবে না—এস- [সস্ত্রীক শরদিন্দু তাড়াতাড়ি সেই ঘরে প্রবেশ করিল স্ত্রীর কক্ষে পিতলের ঘড়া—কাধে গামছা মুখে মৃদু হাসি শরদিন্দু পিতাকে লক্ষ্য করে নাই )

শরদিন্দু। আজকের pose হবে— “বেলা যে পড়ে এল জলকে চল”
বসন্ত। বৌমা, বাড়ীতে কি ঝি চাকরগুলাে মরেছে যে তুমি জল
আনতে যাচ্ছ?
প্রতিমা। ওমা-বাবা যে-
[ একহাজ, কাটিয়! প্রা ৩ ঘড়। রাখিয়া প্রস্থান
করিল শরদিনও লজ্জিত হয়। চলিগা
যাইতেছিল-- ]
বসন্ত। এই শর্তা-এদিকে আয়, শাে-
( শরদি• নত নওকে পিতার কাছে আসিল )
ভালমানষের মেয়েটাকে সঙ্গে নিয়ে কি বাদরামি হচ্ছে
দিনরাত ?
শরদিন্দু। তুমি তাে আমার সব কাজেই বাদরামি দেখ! জান
Barnerd shaw 2001a “photography is a greater
art than painting.”
বসন্ত।
শরদিন্দু। Barnerd shaw.
বসন্ত। শুড়ি –? যেমন তুমি আর্টিষ্ট, তেমনি তােমার সমজদার...
আসুন ডাক্তার বাবু
[ শরদিন্দুর প্রস্থান। •
ডাক্তার। হঁা দেখুন বসন্তবাবু আপনাকে একটি কথা জিজ্ঞাসা
কবুবো ।
বেশ, তত জিজ্ঞাসা করুন!
কি সা?
১১

পথের সাথী
ডাক্তার। Are
you
too fond of life?
বসন্ত। বাংলায় বলুন। মাতৃ ভাষার উপর আমার
বড় অনুরাগ।
বিজাতীয় ভাষায় কথাবার্তা আমি তেমন পছন্দ করিনে।
ডাক্তার। ঠিক ঠিক আমারই অন্যায় হয়েছে – হ্যা আমি বলছিলাম
আপনি কি বড় বেশী বাঁচতে ভালবাসেন। অর্থাৎ জীবন কি
আপনার কাছে অত্যন্ত প্রিয় ?
বসন্ত। কেন বলুন তো? আপনি কি বাচতে ৩ালবাসেন না
নাকি ?
ডাক্তার। না । আমার কথা হচ্ছে না—আমি আপনাকে প্রশ্ন
করছি। ধরুন আপনি যদি হঠাৎ মারা যান will you like
it or dislike it-7
বসন্ত। বাংলায়
ডাক্তার। হ্যা, হঁা, please excuse me.
বসন্ত। বাংলায়
ডাক্তার। আমায় ক্ষমা করবেন—আমি বলছিলাম কি—আপনি যদি
হঠাৎ মারা যান—আপনি কি সেটা পছন্দ ক’বুবেন, না
অপছন্দ করবেন?
বসন্ত। ঠিক বুঝতে পাচ্ছিনে ডাক্তারবাবু। অাপনার সঙ্গে দেখা
হবার আগে পর্যন্ত আমার হঠাৎ মৃত্যু সম্বন্ধে—আমি খুব
সচেতন ছিলাম না—আচ্ছা কেন বলুন তাে এ প্রশ্নটি
করলেন—? আমার কি সত্যই হঠাৎ মারা যাবার কোন
সম্ভাবনা আছে!

প্রথম অঙ্ক
ডাক্তার। হঠাৎ মারা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রত্যেক মানুষেরই আছে।
দেখুন, আমি lheart, mil আর brain এর secialist, তার
উপর একটু মৃত্যুত-আলােচনা করেছি— ঠাৎ মৃত্যুটা
মানুষের আত্মার পক্ষে খুব ভাল না-
বসন্ত। কেন হঠাৎ মারা গেলে কি মানুষ মৃত্যুর পর ভূত হয়?
ডাক্তার। ভূত হতে পারে। বেশ খাস। হেসে-খেলে বেড়াচ্ছেন
সুখে-স্বচ্ছন্দে আছেন—এমন সময় যদি হঠাৎ মারা যান, আত্ম।
বহুকাল পর্যন্ত বুঝতেই পারে না—সে দেহের ভিতর আছে
কি দেহ থেকে মুক্তি পেয়েছে। সেই অবস্থাটা বড় খারাপ।
সেইজন্যেই মানুষকে মৃত্যুর জন্যে প্রস্তুত থাকতে হয়।
বসন্ত। আস্তে ! গিন্নীরা শুনতে পেলে আপনার পক্ষে একটু
অসুবিধে হতে পারে, তার চেয়ে চলুন বাগানে গিয়েই
কথাবার্তা কই
ডাক্তার। আচ্ছ। তাই চলুন। বসন্তবাবু,I see, the world is too
much with you.
বসন্ত।
{ যাইতে যাইতে) বাংলায়-
[ উভয়ের প্রস্থান।
( শরদিন ও প্রতিমার প্রবেশ)
শরদিন্দু। প্রতিমা, প্রতিমা, শোন, বাবা চলে গেছেন এখানে আর কেউ,
নেই
প্রতিমা। তুমি আমায় মাঝে-মাঝে এমন লজ্জায় ফেল—
শরদিন্দু। তুমি ছাদে যাও—আমি হটোকে দিয়ে cameraটা আনিয়ে

পথের সাথী নিচ্ছি। তুমি অস্তগামী সূর্যের দিকে চেয়ে থাকবে—আমি caption দেব- “আমি চেয়ে থাকি দূর সান্ধ্য গগনে ধীরে দিবা হয় অবসান প্রতিমা। ছবিই তুলছে। আজ এক বছর ধরে, কোনো ছবিতে আজও মাসিক পত্রে বেরুলো না! তুমি কেবল মুখেই জাক কর। আমি আর ছবি ভােলাবাে না। শরদিন্দু। না না লক্ষীটি—আজকের sunsetটা wonderful ! পড়ন্ত সূর্যের আলো তােমার মুখে পড়লে যা শােভা হবে “you will look like an angel” এস—আমি তবে cameraটা আনবার ব্যবস্থা করে আসি প্রতিমা। এই কাপড়ে যাবনা আর একখানা কাপড় প’রবাে-“এতো জকে চলা”র কাপড় ? শরদিন্দু। কাপড় আর প’রতে হবেনা-তাহলে light পাওয়া যাবে না—full figure তাে নেব না—মুখখানা খুব prominent হবে—একটা বেশ ভাল facial expression দেবে-এসো এসাে- ( আন্নাকালীর প্রবেশ ) আন্নাকালী। তােমার শ্বাশুড়ীর সব কোথায় বৌমা ? শরদিন্দু। তুমি আপনি খুঁজে দেখ পিসী—এই আশে পাশেই আছেন— বৌকে আর কিছু জিজ্ঞাসা করাে না। ও আমার সঙ্গে একটা বড় জরুরী কাজে চলেছে [ উভয়ের প্রস্থান। ১৪ প্রথম অঙ্ক - আন্না। অবাক কাণ্ড মা–কালে কালে এসব হ’ল কি, ও ছােট বউ, ছােটবউ- সরযূ ( নেপথে) আন্নাকালী ঠাকুবুঝি ? আন্না। হ্যা ভাই – (রর প্রবেশ) সরযূ। এস ঠাকুবুঝি-বস–পান খাও আন্না। তা হঁা ছােট বৌ-কালে কালে এ সব কি হচ্ছে নিম্নস্বরে ) তােমাদের বড় বেটা আর বেটার বৌয়ের কথা বলছিলাম —আমার সামনে দিয়ে—সাহেব বিবির মত হাত ধরে হন্ হন্ করে চলে গেল—“বৌমা-বৌমা বলে কত ডাক, তা একটা “রা” কাড়লে না? সর। খাস্ বড়গিন্নীর বেটা বউ - ওদের উপর কে কথা কইবে বল । বলে “রাজার নন্দিনী প্যারী যা করিস তাই শােভা পায়।” আন্না। বলি বলি তুমিওতাে একদিন ছােট খাটো বৌটি ছিলে গো। রূপও ছিল যৌবনও ছিল—শত্তরের মুখে ছাই দিয়ে আজও আছে,-বলতে নেই—সােয়ামীর ভালবাসাও ছিল—তা কই ভাই, তােমায় ত’ কোনদিন এ কম বেহায়াপনা করতে দেখিনি। সর। ঠাকুবুঝি তুই আর জ্বালানি ভাই। বুলে কিসে আর কিসে—“ধানে আর তুষে !” আমি অর্শনধারা করলে আমায় কবে ঝাঁটা মেরে দূর করে দিত—আমিতাে জজ, ম্যাজিষ্টেরের মেয়ে না—আমার বাপ যে গরীব। জানই তে পথের সাথী অন্ন।। বলে সরযু। সব ঠাকুবুঝি, আর শুধু শুধু ঘাটাও কেন? আমায় এনেছিল যার জন্যে তা তো হয়ে গেছে—ছেলে মেয়ে বিই’য়ে বড়গিন্নীর হাতে তুলে দিয়েছি। তিনিই তাদের মা-মায়ের উপর যদি কিছু থাকে তাই ; কথা কইনে তাই এই—আর কথা কইলে না জানি কি হোত-? অহা বৌ, তোর কথা আমরা পাড়ায় বলাবলি করি। একেই থাকতে বঞ্চিত-অমন সােনারচাদ ছেলে, মেয়ে, জামাই- ছেলে, মেয়ে, কি আর আমার দিদি-আমিতো পেটে ধরেই খালাস। এতদিন যে আমায় বনবাস দেয়নি এই ঢের নেহাৎ কৰ্ত্তার খিচমৎ আর কেউ খাটতে পারে না—ওই একটু বিধেতা পুরুষ বােধ করি দয়া করে কপালের একপাশে লিখে দিয়েছিল । তোমার বাপ না শশাঙ্কর বিয়ের কি সম্বন্ধ এনেছিলেন,তার কি হ’ল—সব ঠিক হয়ে গেল-- তুমি পাগল হয়েছ দিদি, ওযে আমার গরীব বাপ। একি বড় গিন্নীর জজ বাপ, যে নাতির বিয়ের সম্বন্ধ করেছি বলে চিঠি লিখতেই—মেয়ে, জামাই, নাতি সব গিয়ে তার বাড়ীতে হাজির হবে? কেন বসন্ত"দাও কি—কিছু তােমার দাদার কি আর পদার্থ কিছু আছে-বড় গিন্নী তাতে ঠিক আছেন—সেই যে কি বলে না “ঘর সর্বস্ব তােমার, চাবী আন্না। সরযু। আন্না। সরযু।

প্রথম অঙ্ক আন্ন।। ? সর। কাটিটি আমার" ! সে যতক্ষণ বড় গিন্নী মত না দেবেন, কার সাধ্যি ! ঐতো শরীর-- বড় গিন্নী বড় গিন্নী করে মরুতে বসেছে-তা একবার চোখ চেয়ে দেখে ? আজ আবার সোহাগ করে বড় ডাক্তার ডাকানো হয়েছিল ! অ দেখলে মিনসে তাতেই একেবারে গলে গেল কেন বসন্ত দাদার কি কোন অসুখ-বিসুখ করেছে না কি -- ? ওঁর অসুখ বিসুক সবই ওই বড়গিন্নী ! এমন পাষাণ-ঠাকুরঝি তােমায় আর কি বলবো। এসব ঘরের কথা কাউকে তাে বলিনি কখনাে। এই আজ তােমায় বলছি, আমায় ঘরে আনার পর—আজ ২৫ বছর ধরে সােয়ামী বলে গ্রাহ্য করে--একবার ডেকে জিজ্ঞাসা করে ? আমি কত খােসামোদ করিছি- “দিদি অমন ক’রনা, অমন করতে নেই”। ত। কার কথা কে শশানে বলে-“তুই হচ্ছিস টুনি, তাের কথা কি শুনি”। কেবল মন গুমরে থেকে-থেকে, তােমার দাদা এই অসুখটি বাধিয়েছেন । তা’ বড়বো, তােমার বাবার মুখের উপর জবাব দিয়ে দিলে কি ? কথা পাড়লে তাই হােত, আমি বাবাকে সাবধান করে দিলাম— বাবা আর বড়দিকে কিছু বলেন নি—তােমরাতে পাড়ায় পাচজন আছ, ন্যায়-অন্যায় সবই দেখা তােমরাই বল, নিজের পেটের ছেলেকে সাত-সকাল পড়ার মেহনৎ থেকে ছাড়িয়ে নিলেন,—আর এ আমার পেটের ছেলে কি না-দিন- আনা। সরযূ। ১৭ ૨ পথের সাথী রাত প'ড়ে প'ড়ে দেহ পাত করুক— চোক যাক্, অম্বলের ব্যারাম হ,দরদ জানাচ্ছেন, ছেলে লেখাপড়া শিখছে। এম-এ পাশ দিয়ে চৌদ্দপুরুষ উদ্ধার করবে, তবে বড়গিন্নী ছেলের বিয়ে দেবেন। বলে ‘মার চেয়ে দরদী তারে বলে— ( নেপথ্যে )—শােভা এই দিকে আয় মা চুলকটা বেঁধে দি । সন্ধ্যা হয়ে এল। শুনলে তাে—মেয়ের উপর দরদ জানান হচ্ছে। আর মেয়েটাও তেমনি, সব সমান, ওই তো আসছেন একবার বলে দেখ বিন্দু। সরযু। ! বিন্দু। ( বিল ও শােভার প্রবেশ) আয় মা আয়, সন্ধ্যে হয়ে গেল চুল কটা বেঁধে দি—বউমা আবার কোথায় গেলেন- শােভা। বউদি ! সে বড়দা কোথায় নিয়ে গিয়ে ফটো তোলাচ্ছে। মাগো মা, এদের ছবি ভােলায় অরুচি হয় না -মা ! কত ছবি যে তুলেছে বড়মা, যদি দেখ একবার, শুয়ে, ব’সে দাঁড়িয়ে, চেয়ারে হেলান দিয়ে ! আন্না। বড় বউ । । বিন্দু। ওমা ঠাকুরঝি যে—কতক্ষণ? ' অন্না। ওবু ভাল বড়বৌ! গরীব ননদের দিকে চোখ তুলে চাইলে। বিন্দু। ওকি কাকুরঝি—অমন কথা বলােনা—ছােট বউয়ের কাছে এসেছিলে, আমায় খোঁজ করলে, আমার দেখা পেতে। আন্না। তা হ্যা বড় বউ, শরতের তো খাস পটের ছবি বউটি , ১৮ ।

প্রথম অঙ্ক
বিন্দু।
এনে দিয়েছ। এইবার শশাঙ্কের বউটি এনে দাও-ওকে আর
কতদিন আইবুড়ো কার্তিক করে রেখে দেবে ?
শশাঙ্ক শরদিন্দুর চেয়ে দু' বছরের ছােট, তা ছাড়া
লেখা পড়ায় ভাল। শরৎ তাে বিয়ে করেই পড়। ছাড়লো,
শশাঙ্ক এম-এ পাশ না করলে, আমি ওর বিয়ে দেবোনা।
অন্ন।।
সেকি একটা কথার কথা হোল বড়বো। শশাঙ্কও ত’ আর
কচি ছেলেটি নয়—সােমত্ত বয়েস। তােমার পুতের বউটি
এলো—ছােট বউয়েরও তাে ভাই মনের মধ্যে সাধ যায়, ওরও
অমনি একটি টু-টুকে বউ এসে ঝুমুর-ঝুমুর করে ঘুরে
বেড়ায়-
বিন্দু। তা বেশ তাে, ছােট বউএর সাধ যায় – ছোট বোঁ দিক না
ছেলের বিয়ে, আমি ত আর মানা করিনি, ছেলের মত করাক,
ছেলের বাপকে বলুক
আন্না।
শুনছিলাম না কি ছােটবৌয়ের বাপ ওদের দেশের জমিদারের
মেয়ের সঙ্গে সম্বন্ধ করছেন,-খাসা মেয়ে
বিন্দু। ও—তাই বুঝি তিনি এসেছিলেন !—তা বেশ তো—আমি ত
আর শুনিনি—
শােভা। ছােড়দা বলেছে এখন সে বিয়ে করবে না—আর বৌদির মতন
ওরকম মুখ মেয়েও বিয়ে করবে না। তার পাশকরা মেয়ে
চাই—
সর। তুই থাম দিকিনি, কখন আবার সে ওকথা বলতে গেল ।
শােভা। সেদিন তােমার কাছে তাই বলছিল না বড়মা? তুমি আবও

পথের সাথী
বল্লে “এজামিনে ফাষ্ট হ'লে পাশকরা বউ এনে দেবে, আর তা
নইলে একটা গাছ মুখ ধরে দেবে।”
আন্না। গ হ্যা বড়বৌ, পাশকরা বউ নিয়ে কি করবে,—সে কি চাকরী
করে টাকা এনে দেবে না কি গা ?
( শশাঙ্গের প্রবেশ)
শশাঙ্ক। না, আমার সঙ্গে ইংরিজীতে কথা কইবে। এক সঙ্গে হকি
খেলবে, Swimming costume পরে সঁতার দেবে, আমার
পাশে মােটর গাড়ীতে বসে গাড়ী চালাবে—আমার comrade.
আন্না। ওমা কি ঘেন্না !—হঁারে ও শশাঙ্ক, গুরুজনের সামনে তাের
মুখে এই সব কথা-
শশাঙ্ক। দিন দিন কি রকম হাওয়া বদলে যাচ্ছে, তােমরা ত’ আর কিছুই
জান না। আমার বউ এসে যখন আমার পাশে দাঁড়াবে, এই
শুভি পােড়ারমুখীট। পৰ্যন্ত প্যাট-প্যাট করে চেয়ে থাকবে।
আর হকচকিয়ে যাবে-মুখে কথাটি পৰ্যন্ত সরবে না।
আন্না। ওমা একি ভীষণ কলিকাল গাে!
শশাঙ্ক। তবেই বােঝ! আমরা সেই ভীষণ কলিকালের ভয়ানক ছেলে
মেয়ে। আমাদের হাল চালই আলাদা। তাই বলে শুভিটে না?
ওটা তােমাদের দলে, ও সেকেলে। এই শােভা এ দিকে
আয়, তােকে একটা magic দেখাই।
শােভা। কি magivআগে বল—তবে যাব, নইলে হয়ত শুধু শুধু আমার
মুখে খানিকটা কালি মাখিয়ে দেবে—জানি ত তােমায়।
শশাঙ্ক। কিছুনা ! তাের গায়ে হাতটি পর্যন্ত দেব না—শুধু একটিবার

প্রথম অঙ্ক
চোখ বুজিয়ে আমার সামনে দাড়াবি--আর তাের চোখের
সামনে অমনি magic হয়ে যাবে-
শােভা। অমনি magic হয়ে যাবে ?
শশাঙ্ক। আরে হঁ্যা নইলে আর বলচি কি তােকে ? আয় চলে আয়-
[ উভয়ের প্রস্থান।
অন্ন।। হ্যা বড়বউ, তােমাদের ছেলে, মেয়ে, বউ সবই কি এই
রকম মাথা-পাগলা না কি ?
বিন্দু।
সব,—মায় কৰ্ত্তাটি পর্যন্ত। আমি ত এলে দিয়েছি ঠাকুরঝি-
[ হাসিতে হাসিতে প্রস্থান ।
সরযু। এলে দিয়েছ, না আরও পাগল করে তুলেছ ? আমার গালে
মুখে চড়াতে ইচ্ছে করে দিদি—এই ছেলে আর এই মেয়ে
বড়গিন্নী আদর দিয়ে দিয়ে আমারই মাথাটি খেলেন—
[ প্রস্থান।
আন্না। একটু কাজের কথা ছিল ছােটবো ! বলবো বলবাে করে আর
বলতেই পারিনি--ও ছােট বো শুনছো—সঙ্গে সঙ্গে ভিতরের
দিকে চলিয়া গেল )
( শােভা ও শশাঙ্কর পুনঃ প্রবেশ )
শােভা। কোথায় তােমার magic ? শুদ্ধ, ফাকি দিয়ে এঘর-এর
ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছ। আমি গা ধুতে চলু
শশাঙ্ক। আরে নারে না—এইবার দেখাব। বড়মার সামনে ত’ আর
magic দেখান যায় না !

পথের সাথী
শো ভা। বড়মার সামনে যখন বউ-বউ করে হ্যাংলাও তখন লজ্জা
হয় না ?
শশাঙ্ক। আচ্ছা! এই magic আরম্ভ, দেখে নে—আমার হাতে কিছু
নেই তাে-
শে। ৩। না।
শশাঙ্ক। ভাল করে দেখেছিস ?
শো।। হা হা দেখেছি-
শশাঙ্ক। আচ্ছা এইবার চোখ বন্ধ ক। আঙ্গুলের ফাক দিয়ে যেন
চুরি করে দেখে ফেলিস নে।
শােভ। না গো না। কি ছাই পাশ magic দেখাবে দেখাও
• শশাঙ্ক।
।
( চিঠি বাহির করিয়া ) এইবার চোখ তাকিয়ে দেখ, আমার
হাতে কিছু ছিল না ত—হল—ফুল, পাখী আর একটা মানুষ।
মানুষটার মুখের কথা-
‘যাও সখি বলাে তারে
=
সে যেন ভােলে না মােরে’-
আচ্ছ। এইবার ভিতরটায় কি আছে দেখা যাক্‌-
শােভা। ছােড়দা-ছােড়দা তােমার পায়ে পড়ি, ভাল হবে না বলছি,
আর যদি তােমায় কখনাে জন্মে বিশ্বাস করিও বড়মা-
( টানাটানিতে চিঠিখানি ছিড়িয়। গেল )
শশাঙ্ক। যাঃ ! ছি সকাদুনে কোথাকার।-এই নে তাের চিঠি, ভারি
ত চিঠি! মজা টের পাবে, যখন আমার বউয়ের চিঠি আসবে,
२२

প্রথম অঙ্ক —পড়তে এলে এই ছুরি দিয়ে তাের নাক কান কেটে বেচা করে দেবাে। এই দেখ, ছুরিতে কি রকম বার । শোভা। বউই বড় এলে ত বউয়ের চিঠি, ভারি ভয় দেখাচ্ছেন কিনা। রাম না হতেই রামায়ণ। শশাঙ্ক। আরে বিয়ে হলে ত বােয়ের চিঠি সবাই পায়, আমি দেখিস বিয়ে হবার আগেই বউএর চিঠি পাব। শােভা। ও মা সে আবার কি ঘেন্নার কথা ! শশাঙ্ক। সেত আরাে মজা! বিয়ে হল না অথচ বউ। তখন তােকে দেখাব না, শুধু খামখানা দেখিয়ে গট গট করে চলে যাব। শােভ!! বিয়ে না হলে আবার বউ হবে কি করে ? সেও তােমার magic না কি ? শশাঙ্ক। সাহেবদের courtship হয় না, আমাদেরও সেইরকম courtship হবে। শােভা। ('ourtship কাকে বলে ছোড়দা—? শশাঙ্ক। Courtship মানে জানিসনে ? আরে দূর বােকা! তবে তুই কি –count মানে কি? শােভা। আদালত। শশাঙ্ক। আর ship মানে কি ? শােভা। জাহাজ। শশাঙ্ক। তবেই হােল। আগে আমাদের আদালত-জাহাজ হবে। শােভা। হা “আদালত-জাহাজ হবে”—আমায় যেন বােকা পেয়ে

পথের সাথী
খ তা করে বুঝিয়ে দেওয়া ! আমি বড়মাকে বলে দোব—তুমি
আমার দিনরাত থেলাও ?
শশাঙ্ক। আচ্ছা, এই শুভি শাে-তুই এরকম গুমরে কেন বল দেখি?
শোভ। আমার আবার কোথায় গুমের দেখলে ?
শশাঙ্ক। পাড়ার মেয়েরা পথে আমায় তখন ডেকে বলছি, জমিদারের
মেয়ে, জমিদারের বউ বলে তােমাদের শােভার বড় অহঙ্কার।
গুমুরে আমাদের সঙ্গে কথাই কয় না।
শো । হ্যা তোমার কানে কানে বলতে গিয়েছে তেরে। জনে—
আচ্ছা কে বলেছে তার নাম কর দেখি আমার কাছে
শশাঙ্ক। তার নাম-তার নাম—একট। আছে বটে। সে এবার ফাষ্ট
ডিভিসনে আই-এ, পাশ করেছে,-শ্ৰীমতী র, উ,
শোভ। ও! রুবিদি,রুবিদি কখখােনে। না, কখখােনো না।
শশাঙ্ক। তবে সে তাের কাছে আসে না কেন?
শোভ। তা আমি কেমন করে জানবো ।
শশাঙ্ক ; সে কেমন গান করে—থিয়েটার করে, তাকে সাজলে কেমন
মানায়
শোভা। ও তাই বল, তুমি তাকে ভালবাস। সে এখানে এলে খুব খুসী
হও। হ্যা ছাড়দা, তুমি তাই করনা কেন, রুবিদিকে বিয়ে
করু। সে ত পাশকরা মেয়ে।
শশাঙ্ক। আমিও তাই বলছিলুম, তুই তাে আর তার সঙ্গে
মিশবিনি—তা বিয়ে করি কি করে বল। শুধু নিজের
গুমােরেই থাকবি।

প্রথম অঙ্ক
রুবি।
রবি।
শো । আমি এক্ষুণি গিয়ে বড়মাকে বলবো, রুবিদির সঙ্গে তােমার
বিয়ে হলে ভারি মজা হয়।
( হঠাৎ রুবির প্রবেশ)
এই যে শোেভা! তুমি এখানে-
শোভা। ওমা রুবিদি!—এই মাত্র তােমার নাম হচ্ছিল। তুমি অনেক
দিন বাঁচবে রুবিদি।
তােমাদের বাড়ীতে একটা জিনিষ চাইতে এলাম ভাই।
তােমার কি—তােমার বউদির, হীরের মুকুটটা একটিবার
আমায় দিতে হবে, আমি সাজবাে-
শােভা। হ্যা রুবিদি, তুমি নাকি আমায় বলেছ আমি গুমুরে- তােমাদের
সঙ্গে কথা কইনে-
কে এ কথা বল্লে-কার কাছে বলেছি?
শােভা। কেমন ছােড়দা! বল এইবার—কথার জবাব দাও?
শশাঙ্ক। কি জবাব দেবে?
শােভা। তুমিই তাে বল্লে, রুবিদি তােমায় ডেকে বলেছে—
শশাঙ্ক। কই না—আমি ত বলিনি
শােভা। বলনি ?
শশাঙ্ক। না কই, কখন বল্লাম ?
শােভা। এই তাে বল্লে, একটু আগে
শশাঙ্ক। কই আমার তাে মনে পড়ছেন। তা বােধ হয় আর কিছু
ব’লে থাকবে—তুই কি শুতে, কি শুনে ফেলেছি।
শােভা। ওঃ—কি মিথু!
রুবি।

পথের সাথী
শশাঙ্ক। তা যাগে, উনি তােকে বলেননি তাে। তা হলে বােধ হয়
আর কেউ বলে থাবে-
শোভা। কেউ না, শুধু আমায় ক্ষেপাবার ফন্দি।
শশাঙ্ক। ওঃ তােমার কি বুদ্ধি! আমার তো আর খেয়ে-দেয়ে কাজ
নেই—তাই তোমায় ক্ষেপাতে যাবাে-
শাে ভা। কি কাজ তােমার ? একটা বউও হয়নি যে বউকে চিঠি
লিখবে? রুবিদিদাড়াও ভাই আমি বড়মাকে বলে
আসি-
[ প্রস্থান ।
শশাঙ্ক। আপনি বসুন, দাড়িয়ে রইলেন যে? আমায় আর লজ্জা করতে
হবে না আমায় কেউ লজ্জা করে না। শােভা ত’ ছেলে
মানুষ, আমার বউদি পৰ্যন্ত আমার লজ্জা করে না বরং
ঝগড়া করে। তবু লজ্জা কচ্ছেন যে—? কথা কন আমার
সঙ্গে?
কি কথা কইবাে ?
শশাঙ্ক। এই ধান চালের দর জিজ্ঞাসা করতে পারেন—কিম্বা পাটের
রুবি।
( রুবি খিল খিল করিয়া হাসিয়া উঠিল)
বা; আপনি ত বেশ চমৎকার হাসেন-অথচ তেমন কথা
বলতে পাবেন না—এটা কিন্তু অত্যন্ত গভীর পরিতাপের বিষয়
বলতে হবে আপনার নামটিও বেশ,-“রুবি’। খাসা
নাম,--নাম ভাল, চেহারা ভাল, হাসি ভাল—(নেপথ্যে রুবিদি)

প্রথম অঙ্ক (শােভার প্রবেশ ) এই যে Als. P. N. Dass আসুন আপনার সঙ্গে এর পরিচয় করে দি—এর নাম Mrs. P. N. lass. ইনি অত্যন্ত চিঠি-পাগলা-- রোজ Mr. Dassকে সাত পৃষ্ঠা ব্যাপী কাগের ছা—বগের ছা, চিঠি লিখে থাকেন। সেই চিঠি পড়। আর তার উত্তর দেওয়া বেচারার একমাত্র কাজ।আপনি চাইকি একখানা চিঠি পড়েও দেখতে পারেন- সত্যি, শোভা তােমার বরের একখানা চিঠি আমায় দেখাও না ভাই। শশাঙ্ক। ইনি বরের চিঠি পড়বার লােকজন খুজে বেড়াচ্ছিলেন, এমন সময় দৈব অনুকূল হয়ে আপনাকে এনে দিলেন । কবি। বিন্দু। ( মুকুট লইয়া বিন্দুবাসিনীর পুন; প্রবেশ) কইরে শােভা—কই তাের রুবিদি? শােভা। বড় মা,তুমি রুবিদির মাথায় মুকুট পরিয়ে দাও। মাথায়ই মানাবে—আমাদের মাথায় মানায় না। ( বিন্দুবাসিনী মুকুট পরাইয়া দিলেন ) শােভা। বড় মা-দেখ, দেখ, একবারটি চেয়ে দেখ। রুবিদিকে কি ভয়ঙ্কর সুন্দর দেখাচ্ছে—ঠিক যেন রাণী— শশাঙ্ক। আচ্ছা, আজ পর্যন্ত তুই কতগুলো ণী দেখেছিস শােভা? শােভা। না, দেখিনি বই কি, কত রাণী দেখিছি- পথের সাথী বিন্দু। শশাঙ্ক। হু, দেখছ বৈকি—যথা ঘেঁদীরাণী, পেচীরাণী, বুচীরাণী পদীরাণী, বৌদিরাণী—আর মেথরাণী। শোভা। রুবিদি যদি আমাদের ছােট বৌদি হতাে, তাে ভারি মজা হত। বড়মা, তােমার পায় পড়ি বড় মা। তুমি রুবিদিকে আমাদের ছােট বৌদি করে দাও। আমাদের ছােট বৌদি হবে তাে রুবিদি? (রুবি বিন্দুবাসিনাকে প্রণাম করিল। বিন্দুবাসিনী চিবুক স্পর্শ করিয়া চুম্বন করিলেন।) তােমার ভাল নাম বুঝি করবী ? বেঁচে থাক মা। বেঁচে থাক মা। ভাল ঘর বরে বিয়ে হােজন্ম-এয়ােস্ত্রী হও। তা আমাদের শােভা- রাণীর পছন্দ আছে। বৌ করবার মতন মেয়েই বটে! শশাঙ্ক। দেখুন—আপনি যে এই কথা কইছেন না—আর মিট মিট করে হাসছেন, এতে আমি কিন্তু মনে করছি, “মৌন সম্মতি লক্ষণং” আপনার ছােট বৌ হ’বার বাসনা অত্যন্ত প্রবল। (নেপথে—বসন্তবাবুর গম্ভীর কণ্ঠ) শােভা। ওমা বাবা? রুবিদি, তুমি আমাদের ঘরে এস- শশাঙ্ক। বারে মজা। আমার বউ হবে বলে এতক্ষণ ধরে আমায় লােভ দেখিয়ে, আর এখন বাবার ভয়ে আমায় একলা ফেলে নউ নিয়ে চম্পট দেবার মতলব? [ রুবি ও শােভার প্রস্থান। এই-এই, শুভি পােড়ারমুখী ! [ প্রস্থান। ২৮ প্রথম অঙ্ক বসন্ত। ( বসন্তবাবুর প্রবেশ ) শশাঙ্কর গলা শুনলাম না? হ্যা খােকা, শোভা সবাই এখানে ছিল। ডাক্তার কি বিন্দু। বসন্ত। বিন্দু। বসম্ভ। বড় বিন্দু। বসন্ত। বল্লে ? সেই কথাই বলবাে। কি—তােমার সত্যিই কোন অসুখ হয়েছে নাকি ? কাউকে কিছু বলেন,—আমার গণ দিন ফুরিয়ে এল। জোর ছু’মাস কি এক বছর, আমার জীবনের মেয়াদ ! কি যে বল, যা মুখে আসে তাই! আমি মিথ্যে কথা বলছিনে বড় বৌ। সত্যি ডাক্তার তাই বলেছে ! আমি অবিশ্যি হেসে উড়িয়ে দিয়েছি। কিন্তু নিজের শরীর তো বুঝি—পাগলও নই—ছেলেমানুষও নই— ডাক্তার বিধাতা পুরুষ কিনা তাই লােকের বাচন-মরণ গুণে ব’লবে ও ডাক্তারকে আর দেখাতে হবেনা- চুলােয় যাক্ ডাক্তার, ডাক্তারের কথা ছেড়ে দাও- নাও নাও-তুমি ঘরে গিয়ে শোও -আমি ছােট বউকে ডেকে দিচ্ছি- মনে ভাবছিলাম জীবনের এই শেষ দিনটা, তুমি যদি আমায় ক্ষমা কর্তে বড় বউ- তুমি কি পাগল হলে নাকি—কি সব কথা বলছ ? মানুষের জীবনে এমন একটা দিন বোধকরি আসে বড় বউ, বিন্দু। বসন্ত। বিন্দু। বসন্ত। বিন্দু। বসন্ত। ২৪

পথের সাথী
বিন্দু।
বসন্ত।
যেখান থেকে সে ওপারের ডাক শুনতে পায়, সেই সময়টা
সবারই বােধকরি একবার জীবনের দেনা-পাওনার হিসেবটা
কৰ্তে ইচ্ছে যায়। আমার দুঃখু এই বড় বউ, যে দোষ
আমি করেছিলাম, তার পুরাে দায়িত্ব আমার ছিল না জেনেও,
তুমি চিরদিন আমাকেই দোষী করে রাখলে ! তখন তুমিও
ছেলে মানুষ, আমিও ছেলেমানুষ ।
আহা থাম না গা, কেন ওসব কথা তুচ্ছ আবার—ছেলে
মেয়েরা শুতে পাবে যে
মাত্র পঁচিশ বছর আগেকার কথা, তখন জীবন ছিল সামনে
আর এখন পিছনে। অথচ, তুমি কি কখনাে ভেবে দেখেছে।
বড়বউ, মানুষের মন কখনাে বুড়ো হয় না। কাল রাত্রে
আমি সেই পঁচিশ বছর আগেকার জীবন-স্বপ্ন দেখেছি।
সেই বসন্ত সেন—সেই বিন্দুবাসিনী
, ভাল ডাক্তারকেই ডাকতে বলেছিলাম জ্ঞানকে
আমি মরুতে ভয় করিনে বড়বো—আর ভয় কল্লেই বা ছাড়ছে
কে? কিন্তু এই যে সংসারে তুমি আমায় আর ছােট
বউকে একেবারে পৃথক করে রাখলে—এর ফল কি ভাল
হবে ? অবশ্য আপাততঃ তােমার জিৎ—কিন্তু শেষ পর্যন্ত
এ জিৎ কি থাকবে ?
ওরে ছােট বউ, বাবু শশাবার ঘরে যাচ্চেন ওঁর শরীরটে আজ
ভাল নেই—তুই একটু তাড়াতাড়ি করে আয় দিদি !
( নেপথ্যে সরযু “যাই দিদি” )
বিন্দু।
বসন্ত।
বিন্দু।

প্রথম অঙ্ক
বসন্ত।
অতটা দরদ না দেখালেও চলতো বড়গিন্নী-ছােট বউকে
আমিই ডেকে নিতে পাতাম । আচ্ছা, আচ্ছা, যাও তুমি
তোমার কাজে যাও।
বিন্দুবাসিনী চলিয়া গেলেন বসন্তবা; বয়ি। হিন,
অন্ধকার হইল।

দ্বিতীয় অঙ্ক
প্রথম দৃশ্য
অমরেশ্বরের বাড়ী
রুবির পড়িবার পরে সে এবা। আপন মনে বসি।
গান গাহিতেছিল
গান
প্রিয়হে, প্রিয়হে, প্রিয়হে
জীবন-সাগর-কুলে !
পথে যেতে যেতে চোখে দেখা,
চাহিলে নয়ন তুলে--
হিয়ার মাঝারে এলে
মরম-দুয়ার খুলে ।
ওগাে সাথী—
মাের নব জীবন-সাথী
দুর্গম ঘন বন কঁাটারই পথে
এস সাথে—মনােরথে,
পলকের চোখে দেখা
পলকে যেওনা ভুলে ।

দ্বিতীয় অঙ্ক কবি । কবি। ( নর্মদার প্রবেশ) নম্মদ।। হারে কবি, কি হ’ল তাের ? কেন মা, কি হবে ? দা। বসন্তবাবুদের বাড়ী আলাপ পরিচয় হবার পর থেকে, তুই যে দিনরত কেবল গানই গাইছি। ওদের বাড়ীতে শুনেছি বেশ একটি ভাল ছেলে আছে- হা-সে তো শােভার দাদা, শশাঙ্ক বাবু- দা। তাকে তুই দেখেছিস? আমার সঙ্গে আলাপ হয়েছে। বেশ দেখতে, আর বড় গল, আমার কিন্তু ওঁকে ভারি ভাল লেগেছে-- এমন হাসতে পারেন! আর গম্ভীর হয়ে এমন সব কথা বলেন- যদি শোন মা, হাসতে হাসতে তােমার পেটে খিল ধরবে। নর্মদ।। এই মাটি করেছে—তুই দেখছি তাকে ভালবেসে ফেলেছিস! তিনি খুব ভাল। নদা। তা তাে বুঝলাম তুমি তাকে সুনজরে দেখেছ—তিনি তােমায় কি নজরে দেখেছেন তা কে জানে ? ওঁদের বাড়ীর সব্বাই আমায় ভালবাসে—উনি, শো , ওঁর কবি । কবি। নম্মদ। রুবি। বড়মা। আর তার আসল না, শশাঙ্কর মা? বড়মাইতাে আসল মা, আবার মা কে ? বড়মাতো শশাঙ্কর সৎ—তার ছেলে শরদিন্দু-সেটা লেখা- নর্মদা।

পথের সাথী পড়া জানে না। শশাঙ্কর সুখ্যাতি সবাই করে বটে। বি, এ, তে ফাষ্ট হয়ে এম, এ পড় ছে! ( গনরেশ্বরের প্রবেশ ) এই যে বাবা। বাবা আমার পড়ার কি ব্যবস্থা করলেন? অমর। বাের্ডিংয়ে রাখার ব্যবস্থাই করলাম। কুবি। কৰি। বাের্ডিংয়ে ? হ্যা ! অমর। কবি । খরচ কুলুতে পারবে ? অমর। একটি ভাল খবর আছে নম্মদ, আমার translation বইখানা Matrica text book 36315- নর্মদা। সত্যি ? অমর। আশা করা যাচ্ছে Income কিছু বাড়বে। নর্মদা। আমারও একটা ভাল খবর আছে ! অমর। কি ?- নর্মদা। তােমার মেয়ে একটি সত্যিকার ভাল ছেলের সঙ্গে ল’তে পড়েছে। অমর। আ:-[ কবির প্রস্থান। নর্মদা তুমি একেবারে নেহাৎ ছেলেমানুষ, কি যে সব কথা বল, অতবড় মেয়ের সামনে মুখে কিছু আটকায় না ! নর্মদা। কেউ ল’ভে পড়েছে দেখলে আমার ভারি আমােদ হয় ! অমর। আমােদ হয় ! নর্মদা। আমােদ হবে না—বিশেষ নিজের মেয়ে। এইবার বােঝাগেল ৩৪ দ্বিতীয় অঙ্ক ও আমার মেয়ে বটে । নিজেদের সেকালের কথা বুঝি 'একেবারে ভূলে বসে আছি। অমব । Youngman's folly ছেড়ে দাও ওসব কথা। love makes man light ওতে মানুষের প্রকৃতি বড় দুর্বল হয়ে যায়। নৰ্ম্মদ।। আমি কিছুতেই স্বীকার করবাে না ওকথা, বরং বাসলে চরিত্রের জোর হয়, মানুষ গম্ভীর হয় ! অর । তােমার চিরকালটাই একভাবে কাটলো ! না। তােমারও কাটতো, যদি না এই বিশ বছর পরে স্কুণ মাষ্টারি করতে ! এককালে তুমি কবি! শিখতে মনে আছে ? অমর । আমি কবিতা লিখতাম। নদা। হ্যা মনে নেই, “পাষাণের দেব, পাষাণ-প্রতিমা” অমর। তােমাকে এই কবিতা লিখে দিয়েছিলাম আমি। খুব realistic কবিতা হয়েছিল তাে! যাক ওসব কথা ছেড়ে দাও, রুবি কি সত্যি loveএ পড়েছে না কি ? নর্মদা। হা- অমর। ছেলেটি কে, আমাদের স্বঘর তো ? নর্মদা। হা স্বধর! অমর। কথাটা আমার তেমন ভাল লাগছে না, do.t encourage । her. নম্মদ। বেশ ভাল ঘর গো,শশাঙ্ক। শশাঙ্ক। অমব ।

পথের সাথী
নৰ্ম্ম।। তােমার ছাত্র ছিল না ?
অমর। ওর বাপের নামটি যেন কি?
নর্মদা। বসন্তবাবু !
অমর। বসন্তবাবু! হা তবে family টা খুব serious না—
ভদ্রলােকের দুই সংসার। মেয়ের একটি সংশ্বাশুড়ী হবে-
নর্মদা। সতীন না হলেই হ’ল, সৎশ্বাশুড়ীর জন্যে অতো ভাবনা
কিসের ?
অমর। না আমি সে জন্যে ভাবছি না! আমাদের কালীবাবু সেদিন
আমায় কার সঙ্গে যেন রুবির বিয়ের কথা বলছিলেন।
নর্মদা।
ত। সুমতি দিদি, মলয়া, ওরা সবাই মাঝে মাঝে হিরন্ময়ের
কথা বলে থাকেন।
অমর। হিরন্ময় ! হিরন্ময় হলে অবিশ্যি মন্দ হয় না-
নর্মদ। কালীবাবুর অবস্থা আর বসন্তবাবুর অবস্থা সেটাও একবার ভেবে
দেখাে। হিরণয়কে চাকুরী ক’বুতে হবে। শশাঙ্কের অংশে ও যে
সম্পত্তি পাবে, তার আয় শুনেছি দু’ লাখ আড়াই লাখ টাকা--
অমর। তুমি এত খবর কোথেকে পেলে ? সম্পত্তির আয় শুনলে
কা’র কাছ থেকে ?
নৰ্ম্মদ। এই পাড়ার মেয়েরাই বলাবলি করে—
অমর। বাবু আবার ছেলের বিয়েতে টাকাকড়ি চাইবেন কিনা
কে জানে! দুপাঁচ হাজার যদি চেয়ে বসেন ? মেয়েটির একটু
রূপ আছে এই যা ভরসা, নইলে আমাদের বদ্যির ঘরে যা
demand.
।

দ্বিতীয় অঙ্ক
নম্মদ।
অমর।
নৰ্ম্মদ।।
অমর।
ত। বটে ।
দেখাে নম্মদ। এখন বিয়ের কথা তুলবার কোন আবশ্যক
নেই, আগে বি, এ, টা পাশ করুক।
মেয়ে নিয়ে যখন কথা—তখন তাে নিজেদের স্বাধীন মতামত
চলবে না—পাত্রপক্ষের যেমন ইচ্ছে তেমনই তাে হবে ।
তার উপর ধর না কেন আমরা যেভাবে মেয়েকে মানুষ
করেছি; মেয়ের স্বাধীন মতামতটাও নিতে হয়। ও যদি
সত্যিই শশাঙ্ককে ভালবেসে থাকে। অবিশ্যি it's nothing but
folly. ভাল স্বামীর হাতে পড়লে দুদিনেই সব ভূলে যাবে।
যাই হােক তুমি এসব বিষয় ওকে প্রশ্রয় দিও না
( রুবি: প্রবেশ)
মা, এই দেখ কে এসেছেন !
রুবি।
নম্মদ।
কেরে ?
রুবি।
মাসামা!--
( মতি ও হিরন্ম: প্রবেশ )
সুমতি। হিরন্ময়, এই তােমার মাসীমা !
অমর। তারপর হিরন্ময় কেমন দেশ দেখণে, কবে ফিরেছ ?
হিরন্ময়। এই মেলেই ফিরলুম, কাল কলকাতায় এসেছি।
নম্মদ। মলিকে সঙ্গে আনলেনা যে দিদি
সুমতি। সে এল না, বল্লে শরীর খারাপ !
অমর। তুমি তাে একটুও বদলাওনি হিরণ, বিলেত যাবার আগে
যেমন ছিলে এখনও ঠিক তেমনিই আছ!

পথের সাথী হিরন্ময়। আজকাল আর বিলেত গিয়ে কেউ সাহেব হয়ে আসে না, আমার তাে মনে হয়, বিলেত-ফেরত হলে আরও বেশী স্বদেশী হওয়া উচিত, একটা জাত আর একটা জাতের চাল-চলন বরাবর অনুকরণ করবে, এটা এত বেশী অস্বাভাবিক আর হাস্যকর--- সুমতি। আমি এলাম ভাই, তােমার রুবিকে আমায় দিতে হবে । আগেতাে বলাই ছিল, হিরন্ময়কেও সঙ্গে নিয়ে এলাম। অমর। আই, এ, বেশ ভাল ভাবে পাশ করেছে-বি, এটা পড়তে দেবেন না ওকে ? সুমতি। উনি বলছিলেন বিদ্বান বাপের মেয়ে, ওর লেখাপড়ার ভাবনা কি ?—ওকে কলেজে পড়তে হবে না। পুরুত ঠাকুর মশাই বলেছেন আজ বেশ ভাল দিন তাই- আমি করছি প্রশ্ন, আর উত্তর পাচ্ছেন আর একজন! এটা কি ঠিক উচিত হচ্ছে? সুমতি। দিদি বলছেন, ওঁদের পুরুত ঠাকুর মশায় পাজি দেখেছেন, আজ খুব ভালদিন আছে, তাই হিরন্ময়কেও সঙ্গে করে এনেছেন একেবারে ! অমর। তা আজই বিয়ে দিতে চান নাকি গন্ধৰ্ব্বমতে—? সুমতি, কর্তার ইচ্ছেটা তাই, উনি আর দেরী করতে চান না, একটি দিন কবিকে দেখেছিলেন আর ওর গান শুনেছিলেন। বউ গান গাইবে আর শ্বশুর তাই শুনবেন ! অমর। মন্দ সাধ না—সেকালের শ্বশুরেরা হাতের রান্না খেতে চাইত, ৩৮

দ্বিতীয় অঙ্ক
অমর।
আর একালের শ্বশুরের গান শুনতে চান ? তা উনি গান
শুনবেন কখন, দিনরাত টাকার সুর শুনছেন, তার চেয়ে কি
পুত্রবধূর গানের সুর বেশী মিঠে লাগবে ?
সুমতি। তুমি ভাই কৰ্ত্তার মত নাও, আমি আশীর্বাদ করে যাই।
নম্মদা। কি বল, তাহলে দিদি আশীৰ্বাদ করবেন ?
তা উনি তো কবিকে দিনের মধ্যে পঞ্চাশ বার আশীর্বাদ করে
থাকেন, উনি আশীৰ্বাদ করবেন তাতে আর আপত্তি কার !
তবে একটা কথা আমি আপনাকে নিবেদন করবাে বৌ
ঠাকরুণ, আমার অবস্থা তাে আপনি জানেন—স্কুল মাষ্টার
হাড়-দরিদ্র! নিত্য যা উপার্জন করি, নিত্য তা ব্যয়
করি-
সুমতি। ওসব কথা বলে উনি আমাদের লজ্জা দিচ্ছেন কেন ভাই,
আমরা ছেলেটি দিয়ে মেয়েটি চাইছি।
অমর। তাহলে তাে কন্যা-কৰ্ত্তার তরফ থেকে আর কোন কথাই বলার
নেই, এটা মেয়েদেরই ব্যাপার আপনারা আর তােমরা মিলে
মিশে আমােদ-আলাদ কর। আমি আর এখানে হংসমধ্যে
বকোথা হয়ে বসে থাকি কেন? আমি বরং হিরন্ময়কে সঙ্গে
নিয়ে গঙ্গার ধার দিয়ে একটু ঘুরে আসি,এস হিরন্ময় !
নর্মদা। হিরন্ময়কে তুমি নিয়ে যাবে ! বেশ যাহােক, হিরন্ময় বর ও
নিজে রুবিকে একটু ভাল করে দেখবে না? কবে সেই
ছেলেবেলায় একটিবার ওকে দেখেছে।
অমর। ও হিরন্ময়ই বুঝি বর!—তাওতাে বটে !

পথের সাথী নম্মদ।। হরি বােল হরি! সাতকাণ্ড রামায়ণ পড়ে সীতা কার ভাৰ্য্যা, তুমি কাকে বর মনে করেছিলে ? অমর। ওই যে তুমি তখন কার নাম ক’বলে ; বল্লে, বেশ ভাল ছেলে, আর রুবি নাকি তাকে খুব নাম্মদ। তুমি থাম ! দেখছে। দিদি এসেছেন আশীৰ্বাদ করতে ছেলে সঙ্গে নিয়ে। অমর। হা দিদি এসেছেন, তা উনি কার দিদি, উনি বসন্তবাবুর স্ত্রী দিদি? নৰ্ম্মদ। আঃ কি বিপদ উনি কালীবাবুর স্ত্রী-মলির মা? অমর। ওঃ উনি কালীবাবুর স্ত্রী। আমি মনে করছিলাম উনি বসন্তবাবুর নম্মদ। আঃ থাম ! তুমি যাও গঙ্গার ধারে বেড়াতে যাও! অমর। হ্যা একটু বােঝবার ভুল হয়ে গেছে বটে! তা বউঠারুণ কিছু মনে করবেন না, বিশবছর মাষ্টারী করার পর মানুষের বুদ্ধিশুদ্ধি আর কিছুই থাকে না, মানে—স্ত্রী মােটামুটি সবারই প্রায় একরকম কিনা, মুখতাে কারু দেখা নেই। বুঝলে হিরন্ময় -It is so very difficult to distinguish between one man's wife and another man's wife feina, gfa তাহলে বস, আমি আসি নর্মদা একটা কথা বলছিলাম मान- নৰ্ম্মদ।। কি ? অমর। আমাদের মেয়েও বেশ বড়, আর হিরন্ময়ও কিছু ছেলেমানুষ ৪ দ্বিতীয় অঙ্ক নয়, পাত্র-পাত্রীদের নিজেদের মন জানা দরকার। এটুকু স্বাধীনতা ওদের দেওয়া আবশ্যক মনে করি !- নম্মদ। সে ব্যবস্থা হবে, তুমি এখন এস, আচ্ছ! তােমার কি হয়েছে বলত, কি-সব কথা বল্লে হিরন্ময়কে—so very difficult to- অমর। তাইতো কথাটা বডড অভদ্র হয়ে গেছে, না ?—lly jol, my God, তা আমি আর একবার ওঁর কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইব কি ? নগঁদা। সুমতিদি ভাল ইংরেজী জানেন না—উনি বুঝতে পারেননি। অমর। তুমি ঠিক জানতাে উনি ইংরেজী জানেন না ? হয়তো তােমার সঙ্গে যখন আলাপ হয়েছিল তখন জানতেন না, সম্প্রতি শিখেছেন। নম্মদ। শেখেননি! আমি কাছে না থাকলে যে তােমার কি অবস্থা হবে ! অমর। চিন্তা করতেও ভয় হয়। কিন্তু আজকের রে অবস্থাটি হল সেটি তাে তােমার সামনেই হল। নদা। আচ্ছা, আচ্ছা, তুমি এখন এস- [ গণের প্রস্তান | সুমতি। আচ্ছা তােমার বরটি কি ভাই, শুনেছি ওঁর সঙ্গে খুব আলাপ পরিচয় আছে, আমরা তােমাদের এখানে হামেস যাই আসি, আর উনি আমায় বল্লেন কিনা, বসন্তবাবুর দিদি না স্ত্রী! নদা। আর বল কেন দিদি, ওই রকমের মানুষ। লেখাপড়ার কথা ছাড়া অন্য কথা যদি ওঁর মাথায় ঢােকে। সুমতি। এইবার ভাই তােমার মেয়েকে ডাক, তবে তােমার বর একটি ৪১

পথের সাথী
কথা খুব ভাল বলেছেন, ওদের একটু মেলামেশা হওয়া
দরকার।
নর্মদা। রুবি, এদিকে এস তাে মা !
( রুবির প্রবেশ )
সুমতি। আজ আমার মায়ের মুখে হাসি নেই যে বড়! এরকম গম্ভীর
মুখ তাে তােমার কোন দিন দেখিনি মা, আজ থেকে তুমি
আমার ঘরের লক্ষ্মী হলে।
সুমতি নিজের গলার হার রুবির গলায় পরাইয়া দিলেন ।
কবি মতিকে প্রণাম করিল।
নম্মদ।
কবি-
কবি নম্মদার নিকট গেল। নম্মদ। রুবির হাত হইতে
আংটি খুলিয়া লইল।
সুমতি। হিরণ তােমার মাসীমাকে প্রণাম কর -
( হিরন্ময় নম্মদাকে প্রণাম করার পর নম্মদ রুবির
আংটিটি হিরন্ময়ের হাতে দিল।)
নর্মদা। এইটে পর বাবা। ( সুমতির প্রতি আমায় তাে তুমি আগে
খবর দাওনি দিদি, হঠাৎ এসে একেবারে অপ্রস্তুত করে
দিলে !
সুমতি। আমার হাস্যময়ী মা ! আজ আমার মায়ের মুখে হাসি নেই,
আমার মনটা বড় খুৎ খুৎ করছে ভাই—তুমি একটু হাস মা-
অমন মুখ ভার করে থেকো না
নর্মদা। রুবি, তােমার মাসীমাকে একখানা গান শুনিয়ে দাও
82

দ্বিতীয় অঙ্ক
রুবির গান
বিজন নদীর ধারে--
মরু-প্রান্তর-পারে
পান্থ একেলা পথহারা !
[ এক কলি গান গাহিতেই নম্মদা ও সুমতির প্রস্থান।
বন্ধ হল সকল দুয়ার, ধরণী আঁধার কারা।
ঘুমের ঘােরে ভাঙলাে স্বপন, অস্ত গেল চন্দ্রতপন,
জানেনা কোন নীরব রাতে, ভালাে স্রোতে জীবনধারা-
কোথায় তুমি পথের সাথী, কোথায় আমার নয়ন-তারা।
হিরন্ময়। আপনি তাে চমৎকার গান করেন। এমন সুন্দর গান অমি এর
আগে আর কখনাে শুনিনি। একি আপনি কাঁদছেন ? আপনার
প্রাণে তাে খুব গভীর ভাব, মলয়া বলেছিল আপনি খুব জলি, খুব
আমুদে, অথচ আপনার যে এতখানি sincere emotion থাকতে
পারে, আপনার কাছে এতদিন থেকেও সে বুঝতে পারেনি।
কাছে থেকেও মানুষ মানুষকে সম্পূর্ণভাবে জানতে পারে না।
আসুন আমরা বরং খুব সহজ বিষয় নিয়ে আলােচনা করি।
বেশ তাে, আপনি কথা বলুন !
হিরন্ময়। মলয়া প্রতি চিঠিতে আপনার এমন peu picture আমায়
দিয়েছিল। আমি মনে করেছিলাম আপনি সাধারণ ইয়ােরােপীয়
মহিলাদের মত। কিন্তু এখন দেখছি আপনার ভিতর ভারতীয়
মহিলার সব গুণগুলিই বজায় আছে।
কবি।

পথের সাথী হবে, কি জানি ! হিরন্ময়। আপনার বাবা আমাদের পরস্পরের মন জানবার জন্য যে প্রস্তাব করলেন, সেটা সম্পূর্ণ ইয়ােরােপীয়। আমি মনে করি, আমাদের ভিতর courtshi] প্রচলন হওয়ার কোন আবশ্যক নেই। একটি শুভ মুহূর্তে দুইটি হৃদয় মিলে এক হয়---nothing cal be more 1)()(tic, কি বলেন ? হ্যা। রুবি। হিরন্ময়। আমিতাে আপনাকে একবার মাত্র দেখলুন, আর যদি কখন আপনার সঙ্গে দেখা না হয়-আমি আপনাকে ভুলবনা। আমি যদি কৰি হতুম, কবিতায় আপনার চিত্র লিখতুম, কবিতাকে যদি নারী-মূৰ্ত্তিতে কল্পনা করা যায়—you art oetry personified .. আপনি সহজ বিষয় আলােচনা করতে চেয়েছিলেন। হিরন্ময়। আমাদের কথা ঠিক স্বাভাবিক ধারায় চলছে না, তার কারণ বােধ হয় আপনি! আমি অত্যন্ত prosaic সােজাসুজি মানুষ। এসব কথা আমি কখনাে বলিনে। আজ আপনাকে দেখেই এসব কথা আমার মনে হচ্ছে। এ সব চেয়ার, টেবিল, খাট, আলমারি এই পারিপার্শ্বিকের ভিতর—আপনাকে ঠিক মানায় 11—You are romance. রুবি। আপনি আমায় ভুল বুঝেছেন, আমার মধ্যে romance মােটেই নেই। মলয়। আমার সম্বন্ধে যা বলেছিল তাই সত্যি—সে আমায় ঠিক জানে! ৪ঃ

দ্বিতীয় অঙ্ক
হিরন্ময়। আপনি ঠিক সাধারণের মত না, আমি বিলেতে দু’ চা’র জন
কুমারীর সঙ্গে আলাপ করেছি, তারা সিনেমা, থিয়েটার,
sports ছাড়া অন্য কোন বিষয় কথা বলে না—আপনার কাছে
এসব তুচ্ছ বিষয় কথা বলতে লজ্জা বােধ হয় !
ববি। অথচ আমিতাে এতদিন এই সব তুচ্ছ বিষয় নিয়েই মেতে
ছিলুম !
হিরন্ময়। তাই মলয়। আপনাকে ভুল বুঝেছে ! আমি যদি মাঝে মাঝে
আপনার সঙ্গে সে কথাবার্তা কই, আপনি কি তাতে আপত্তি
করবেন ?
না, আপনার সঙ্গে আমি কিন্তু কথ: কইতে পারবো না, আপনি
কত জানেন--তবে আপনার কথা বড় ভাল। আপনি কথা
বলবে আমি শুনবাে !
হিরন্ময়। আমি এই সামান্য সময়ের জন্য আপনার সঙ্গে কথা কয়ে,
আপনার মধ্যে যে চিরন্তনী নান্স, the real lidial woman
আছেন তাকে দেখতে পেয়েছি, এর মানে কি জানেন ?
কবি। , কি মানে ?
হিরন্ময়। এর মানে আপনার ওই গান! প্রত্যেক আর্ট হচ্ছে মানুষের
আত্মার অভিব্যক্তি, ভাগ্যে আজ কেউ আপনাকে গান ফরমাস
করেনি, ওস্তাদের কাছে ও গানের হয় তাে তেমন দাম নেই।
কবি। ( প্রণাম করিল। কিন্তু এসমস্তই আপনার কল্পনা, আপনি নিজে
এত বড়—যে আপনি তুচ্ছকেও খুব বড় করে দেখতে পারেন।
এ আমার গুণ নয়, আপনার দেখবার গুণ।
৪৫

পথের সাথী
রুবি।
হিরন্ময়। একি! আপনার চোখে জল, ব্যাপার কি বলুন তাে?
আপনি কি মনে কোন দুঃখ পেয়েছেন? আমি কি আপনার
মনে ব্যথা দিয়ে কোন কথা বলেছি ?
রুবি। না, না, আপনি কিছু মনে করবেন না, আপনি বসুন।
হিরন্ময়। আমি অনেকক্ষণ আপনাকে আটকে রেখেছি, আমি দুঃখিত।
-আচ্ছা আমি আসি
, না, আপনি যাবেন না, আমার শরীরটা হঠাৎ যেন
হিরন্ময়। কি, শরীরটা খারাপ হল ?
শরীর ভালই আছে, মনটা কি রকম যেন!
হিরন্ময়। আমি বুঝতে পাচ্ছি, আমি ঠিক আপনার সঙ্গে কথা বলতে
পারিনি। আমার সঙ্গ আপনার boaring বলে মনে হচ্ছে !
সেই জন্যই বােধকরি মনটা
না, না, আমার মন ভালই আছে। আমি আপনার সঙ্গে ভাল
করে কথা কইতে পারছি না, এটা আমার অক্ষমতা বলে
জানবেন। আমার কোন বিষয়ই ভাল জানা নেই—আমি
অতি তুচ্ছ—সাধারণের চেয়েও তুচ্ছ। আপনি আমায় ক্ষমা
করবেন, আপনি বসুন, আমি মাকে ডেকে আনি।
কুবি।
কুবি।
রুবি চলিয়া গেল—হিরন্ময় রহিলেন—তিনি রুবিকে ঠিক
বুঝিতে পারিলেন না।

দ্বিতীয় অঙ্ক
,
দ্বিতীয় দৃশ্য
বসন্তবাবুর বাটী
( প্রতিমা ভিতরের ঘরে পান সাজিতেছিল, শরদিন্দু ডাকিল )
শরদিন্দু। দেখি চট করে গোটাকতক পান দাও তাে--
প্রতিমা। সেজেগুজে কোথায় যাচ্ছ?
শরদিন্দু। এখন বলবো না—কাল সকালে বলবো।
প্রতিমা। ও, থিয়েটার দেখতে যাচ্ছ—আমায় তাে নিয়ে গেলে না?
শরদিন্দু। তােমায় কি করে নিয়ে যাই—বড়মা যদি জানতে পারেন
তাহলে কি আর রক্ষে রাখবেন—নইলে আমার কি অসাধ ?
কত husby:und wife পাশাপাশি বসে আর্ট দেখে, আমার
কি আর ইচ্ছে করে না?
প্রতিমা। আর্ট দেখে কি ? থিয়েটার দেখে বল।
শরদিন্দু। থিয়েটারের আবার দেখবে কি? দেখতে হয়তাে ওর মধ্যে
যেটুকু আর্ট আছে তাই ! সবাই কি আর আর্ট দেখতে জানে ?
প্রতিমা। আমায় নিয়ে যাচ্ছ না, ফিরতে যদি রাত হয়—বড়মাকে বলে
দেব !
শরদিন্দু। লক্ষ্মীটি। খবরদার—এবার যখন বাপের বাড়ী যাবে—সেই সময়
ওখান থেকে একদিন তােমায় আমায় একখানা ট্যাক্সি করে
যাবে। পাশাপাশি ব’সে থিয়েটার দেখবো রেস্তোরায়
খাব।
৪৭

পথের সাথী প্রতিমা। তুমি ওই মুখেই বল, কাজে করবার সাহস তােমার নেই। শরদিন্দু। আচ্ছা দেখে নিও, কেমন না পারি । প্রতিমা। যদি ঠাকুরপাের সঙ্গে থিয়েটারে কিম্বা রাস্তায় দেখা হয় ? ঠাকুরপাে থিয়েটার, বায়স্কোপের পােকা, রােজ যায়। শরদিন্দু। ও থিয়েটার দেখলে দোষ হয় না, উনি বি, এ, পাশ ভাল ছেলে প্রতিমা। বাবা যে তোমায় এত করে বলে দিলেন, ঠাকুরপাের সঙ্গে সুমির বিয়ের সম্বন্ধ করতে—তা তুমি তো বড়মাকে একটি বারও বলে না, আমি তবু দু একবার ছােটমাকে বলেছি। শরদিন্দু। ওঃ, যেমন ছােট, তেমনি বড়। বড়মা তো এখন শশাঙ্কর বিয়েই দিতে চান না- প্রতিমা। না, চান না—আমার বােনের সঙ্গে দিতেই যত আপত্তি। সুষি কালাে, আমার মত মুখ, তার উপর এক বাড়ীতে দুই কুটুম্বিতে, সে কত বায়নাক্কা শরদিন্দু । ও বায়নাক্কা আর ক’দিন—কর্তা যেক’দিন- প্রতিমা। তার মানে, না-না-ও তুমি কি বলছ ? শরদিন্দু। না আমি কিছু বলছিনে, বাবাই সেদিন আমায় ডেকে বলেছিলেন, “আমার শরীরের অবস্থাতাে ভাল নয়—কোন দিন কি হয়—এই বেলা সবুঝে সুঝে নাও” আমি তাে সেই থেকে জমিদার কাগজপত্তর সব নিজে দেখছি। ( শােভার প্রবেশ । শােভা। হা বড়দা, তুমি রুবিদিকে দেখেছ ? ৮

দ্বিতীয় অঙ্ক
শরদিন্দু। রুবিদি, সে আবার কি বস্তু ?
প্রতিমা। সে এক আশ্চর্য্য অদ্ভুত বস্তু, একালের বাঙালী নুরজাহান
তার মতন সুন্দরী শােভা ঠাকরুণ চোখে কখন দেখেন
নি।
শরদিন্দু। তার নাম রুবিদি ! কি মুসলমানি নামরে বাবা! জাবেদির
ছােট বােন রুবিদি ?
শােভা। রুবিদি কেন নাম হ’তে যাবে-নাম কবি—আমি ডাকি
রুবিদি ।
শরদিন্দু। ও! রুবি, রুবি,—ওই ধেড়ে মেয়েটা। আমাদের অমর মাষ্টারের
মেয়ে। ওর বাপমাতত ওর বিয়ে দেবে না।
শােভা। কে বল্লে—বিয়ে দেবে না?
শরদিন্দু। ও ভাল থিয়েটার ক’ঝতে পারে, ওকে থিয়েটারে ভর্তি করে
দেবে। ভাল মাইনে পাবে।
শােভা। হ্যা থিয়েটারে ভর্তি করে দেবে, তােমায় বলেছে-
প্রতিমা। ঠাকুরঝি যে ঠাকুরপাের সঙ্গে তার বিয়ের সম্বন্ধ ক’চ্ছে, উনি
হচ্ছেন ঘটক!
( সরযুর প্রবেশ )
সরষু। কই বউমা, দেখি দুটো পান দাও ত।
শরদিন্দু। হঁা ছােটমা, তােমাদের কি বাপু মাথা-টাথা খারাপ হয়েছে ?
সরযু।
মাথা তােমার ছােটমার ছিলই বা কবে যে খারাপ হবে ।
তােমার ছােটমা এ বাড়ীর যা, ঐ বগী চাকরাণীও তা!
শরদিন্দু। সে সব কথা না ছােটমা, এ আলাদা ব্যাপার।
৪৯
৪

পথের সাথী
কি ?
সর।
শরদিন্দু। শুনছিলাম নাকি তােমর অমর মাষ্টারের সেই ধেড়ে-ধিঙ্গি
রাঙামুলাে মেয়েটার সঙ্গে শশার বিয়ের সম্বন্ধ ক’চ্ছ ।
শোভা। সে খুব ভাল মেয়ে ছােটমা, তুমি বড়দার কথা শুনােনা ; বড়ম।
দেখেছে, তুমি বড়মাকে জিজ্ঞেস করে দেখ, চমৎকার চেহারা
মেমেদের মত গায়ের রং
প্রতিমা। ঐ মেয়েদের স্কুল ইস্পেক্টরের গায়ের রং তো খুব ভাল
সে তাে অসিল মেম- তা হলে তার সঙ্গে তাের ছোড়দার
বিয়ে দিবি বল্ ?
শােভা। সে তো আর আসল মেম নয়—সে তাে আমাদের এই বদ্যির
ঘরেরই মেয়ে, তার উপর সে কত লেখাপড়া জানে—কেমন
গান গায়—এ্যাক্ট করে।
প্রতিমা। তুই আর জ্বালাসনে ঠাকুরঝি—গান গায় আর এ্যাক্ট করে
বলে সেই মেয়েকে বউ করবি ? তার চেয়ে কলকাতার
থিয়েটারের কোন একট্রেসকে ধরে নিয়ে আয় না কেন?
শােভা। ছােড়দার খুব ইচ্ছে রুবিদিকে বিয়ে করে, বড়মা বলেছেন
হবে।
সরষু। এই এতক্ষণে আসল কথাটি বেরুলাে—তােমার বড়মার ইচ্ছে !
এদিকে আমার বাবা যে চিঠির ওপর চিঠি দিচ্ছেন, তারা
মস্ত বড় জমিদার, রাজা, মেয়ে ভাল-দেবেথোবে ভাল,
সেদিকে কারাে খেয়াল নেই। সে যে আমার গরীব বাপের
কথা !

দ্বিতীয় অঙ্ক
শরদিন্দু। আ-হা-হা-রাজাদের মেয়ে বলে যদি ভয় পাও, আমার শালী
রয়েছে সুসম, খাস মেয়ে ! তা নয় যেমন বড়মা আর তেমনি
হয়েছেন তার অদুরে ছেলে শশাঙ্ক। না ছােটমা, তুমি বাবাকে
বল!
সরযু। না বাবা, কে এসব কথায় কথা ক’য়ে অপমান হ’তে যাবে ?
আমায় হয়ত বলেই বসবে—তুই আদার ব্যাপারী, তাের
জাহাজের খবরের দরকার কি।
শো ভা। বড়মা তোমাদের কারাে কথা শুনবেন না, বড়মা বলেছে।
ঐ মেয়ের সঙ্গেই (ছাড়দার বিয়ে দেবেন ; তবে এখন বিয়ে
হবে না, আগে ছােড়দার একজামিন হয়ে যাবে—ছােড়দা
ফাষ্ট হবে তবে।
(শশাঙ্কর প্রবেশ)
শশাঙ্ক। ফাষ্ট হলে তবে কি হবে ? তােমার চারটে হাত বেরােবে ?
শােভা। তুমি ফাষ্ট হলে আমার হাত বেরুতে যাবে কেন ? তােমারই
আটটা হাত বেরুবে, রুবিদির সঙ্গে তােমার বিয়ে হবে।
বড়মার ধনুকভাঙা পণ—ফাষ্ট না হলে কিছুতেই বিয়ে
হবে না !
শশাঙ্ক। তুই আমার বিয়ে নিয়ে কথা বলিস কেনরে পােড়ামুখী ?
আমি কি তাের পছন্দ করা কনে বিয়ে করবাে ?
শােভা। হ্যা তাই করবে, রুবিদি তো আমারই পছন্দ করা ক’নে।
শশাঙ্ক। তাের পছন্দ করা ?-তুই পছন্দ করার আগে যে আমি নিজে
গিয়ে পছন্দ করে এসেছি তার কি ?

পথের সাথী শরদিন্দু। দেখছো ছােটমা তােমার পাশ করা বিদ্বান ছেলের গুণ, মার সামনে বড় ভাইয়ের সামনে বউএর কথা নিয়ে তর্ক ইয়ারকি! হারে শশা, তোর কি লজ্জা সরম কিছু নেই ? বি-এ পাশ করে একেবারে বাড়ীর সব্বার মাথা কিনেছ নাকি ? শশাঙ্ক। চালুনি বলেন—চ তুমি নাকি ছ্যাদা! আমি তো বউয়ের কথা কইছি, তুমি বউদিকে নিয়ে কি কাণ্ড কর ? দিনরাত ছবি তুলে তুলে বেচারাকে তাে নাকাল করে ছেড়েছ আর কি সব pose—“বসিয়া বিজন বনে বসন অঞ্চ পাতি।” “আমি কার পথ চাহি এজন ৰাহি।” “ভুলােক ভালবাসা !” “যতদিন এদেহে প্রাণ রহিবে আমি তােমারি।” “এস ফিরে এস।” শরদিন্দু। এই শশা, চুপ কর পাজি ! খবরদার, আমি যা করি করি-- আমার কথার উপর কথা কনি। শশাঙ্ক। কেন, বিয়ে করে তুমি কি একেবারে মাতব্বর হয়ে গেছ নাকি ? তুমি ভাবছ, তােমার ছবি তােলার কথা কেউ জানে ? আমি বলছি, বাবা-মা সব্বাই দেখেছেন ; আর বৌদির মুখখান যা উঠেছে তর-বেতর, একখানি ছবিতে এই রকম— গােমড়ামুখী! নীচে Caption—“কার পথ চাহি”! আর এক- খানিতে চুলগুলি হয়েছে যেন যাত্রার দলের ভৈরবীর চুল, হাতে একটা ত্রিশূল দিলেই মানাতাে ভাল ! প্রতিমা। বেশ গাে বেশ, আমি নাহয় কুৎসিত কালপেঁচা, মুখ আছি- তোমার বউ তাে পাশ করা সুন্দরী বউ হবে—তা হলেই হ’ল ?

দ্বিতীয় অঙ্ক
০
তাতে আর তােমার কি লাভ বল? আমার সুন্দরী বােয়ের
ছোয়াচ গায়ে লেগে তাে আর তুমি সুন্দরী হবে না!
শরদিন্দু। বাস-বাস, Thts far and no fuutler, আর একটি কথা
বলেছ কি 1 fight cluel with you! তুই আমার সামনে
আমার wife এর নিন্দে কছিস !iascal--
তােমার স্ত্রীর •িন্দে কেন করবো ? তােমার photographyর
সমালােচনা করছি।
শরদিন্দু। photography র তুমি কি বােঝবি এ পাশ করেছ বলে
সবজান্তা হয়েছ নাকি ?
শশাঙ্ক। jpotographyর কিছু বুঝি আর নাই বুঝি, চোখ আছে তো।
আমার। বৌদির অমন সুন্দর মুখখানি—বৌদি কথাগুলাে
শুনে তােমার অমন সুন্দর মুখ, একখানা ছবিতে
উঠেছে যে- বেগুনপােড়া, একখানায় “ব”, আর একখানায়
ঠিক বাঙলা পাঁচের মত দেখতে হয়েছে—মাইরি বউদি ।
প্রতিমা। তাই বুঝি সে সব ছবি কোন মাসিক পত্রে বেরোয় না ।
শশাঙ্ক। মাসিক পত্রের সম্পাদকগুলাে তো আর ক্ষেপেনি—যে তােমার
সেই মুখখানি তারা কাগজে ছাপাবে।
শরদিন্দু। শশা, অনেক দিন আমার হাতে মার খাসনি-আমি কিন্তু বি-এ
পাশ বলে খাতির করবাে না।
শােভা। বড়মা, বড়মা, বড়মা-
শরদিন্দু। বড়মার আস্কার পেয়েই তো ওটা এতখানি বাড়তে
পেরেছে।

পথের সাথী
{ বিদবানির প্রবেশ)
বিন্দু।
বড়মা কাকে আস্কারা দেয় শরদিন্দু ?
শরদিন্দু। এই শশাকে। ওটা দিন-দিন পাজির পাঝাড়া হচ্ছে ! কি সব
কথা আমাকে আমার স্ত্রীকে বল্লে—যদি শুনতে বড়মা !
বিন্দু।
সব শুনেছি। নিজের স্ত্রীকে নিয়ে তুমি যে সব ছবি তুলেছ,
তাতে শশাঙ্ক অন্যায় কিছু বলে নি।
শরদিন্দু। অন্যায় বলেনি? এই ছোটম। সাক্ষ-উনি জানেন।
সাক্ষাতে ভদ্রলােকের মেয়েকে যা খুসি তাই বলে অপমান
কলে ।
আমি কারো সাক্ষা নিতে চাইনি। আমি তােমাকেও জানি,
বউমাকেও জানি, শশাঙ্ককেও জানি। তােমার যদি কিছু
বুদ্ধি থাকতাে ছবিগুলো তুমি পুড়িয়ে ফেলতে।
শরদিন্দু। তুমি তাে ওর পক্ষ নিয়ে কথা বলবেই। আমার চেয়ে শশা,
তােমার বেশি আপনার কিনা – ম'লে ঐ বুঝি তােমার মুখে
আগুন দেবে ?
তােমার আগুন না পেয়ে ওর আগুন যদি পাই আমার আত্মার
সদগতি হবে—যাও!
শরদিন্দু। কলিকাল কি না! আপন ছেলে ভেসে গেল, সতীনের ছেলে
হ’ল ছেলে।
বিন্দু।
আমি তােমায় অনেকবার বলেছি শরদিন্দু, তুমি শশাঙ্কর হিংসে
ক’র না। সংসারে একএকটি ছেলে কুলপ্রদীপ হয়ে জন্মায়
শুনেছ কখনাে?
৫৪

দ্বিতীয় অঙ্ক
বিন্দু।
শরদিন্দু। বল—তােমার কাছেই শুনি।
বিন্দু। ও আমার শ্বশুরকুলের মান বাড়াবে।
শরদিন্দু। ও তােমার শ্বশুরকুল আলাে কবুবে—আর আমি বুঝি কুলে
কালি দিচ্ছি ।
বিন্দু।
এখনাে কালি দাওনি, তবে তুমি দিতে পার।
শরদিন্দু। আমি কুলে কালি দিতে পারি—তুমি নিজের মা হয়ে এই কথা
আমায় বল্লে !
বিন্দু।
আমি যে তােমায় চিনি বাবা !
শরদিন্দু। আচ্ছা
[ প্রস্থান।
আর বউমা তুমি শােন–ভয়ে ভয়ে যাতে ঝগড়া বাধে এমন
কোন কাজ কর না।
প্রতিমা। আমি তাে মা-সাতেও নেই, পাঁচেও নেই
বিন্দু। সেইযা একটু ভয়ের কথা।
শশাঙ্ক। বড়মা, এসব বাজে কথা এখন যাক্। আমার বউ এলে তুমি
কি কি গয়না দিয়ে বউ বরণ করে তুলবে—চল তার একটা
ফর্দ করা যাক্। আর আমার বউ, সেত বউদিদির মতন ওরকম
উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ হবে না। বউদি, তখন তােমার মুখের সুখ্যাত
করেছি, এখন আবার উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ বন্ধুম। তােমার সেই
ভাল মসলা দেওয়া special পানের খিলি চারটে শীগগির দাও।
প্রতিমা। মুখ বউদির হাতের পান কি আর তােমার ভাল লাগবে।
ঠাকুরপাে? পাশ করা বউ এসে পান সেজে দেবে তােমায় !
শশাঙ্ক। পান
পান তৈরী করা ব্যাপারে আমি তােমায় ফাষ্ট ক্লাশ

পথের সাথী
কি !
সার্টিফিকেট দিচ্ছি। ওখানে পাশ করা বউ তােমায় হারাতে
পারবে না !
(প্রতিমা পান দিয়া চলিয়া গেল। বিন ও শােভা যাইতে উদ্যত হইলে )
সরযু ।
দিদি-শােন,
বিন্দু।
সরযূ।
বাবা তো আবার চিঠি দিয়েছেন—রাজাবাবুর। তো বাবাকে
বড়ই পেড়াপীড়ি ক’চ্ছে !
শশাঙ্ক । আয়রে শােভা, তাের জন্যে একটা ভাল সেন্ট এনেছি, কখনও
মাখিনি এর আগে।
[ শশাঙ্ক ও শােভার প্রস্থান |
তােমার বাবা যে কেন এসব বিষয়ে মাথা দিচ্ছেন, তাতে।
বলতে পারি নে ছােটবউ ! তারা এক দুর্দান্ত জমিদার, পাণ
থেকে চুণ খসূলে তাদের অপমান—এদিকে তােমার ছেলেটি
পুরাে মাত্রায় আজকালকের ছেলে। ওদের মন বুঝে একটু
চলতে হয় ছােটবউ ! লেখাপড়াজানা ছেলে, ওকে তো
আর হুকুম করা চলবে না ?
সরযু। সম্বন্ধটাও তাে সত্যি সত্যি আর ফেলনা সম্বন্ধ না দিদি।
অতবড় রাজার ঘরের মেয়ে এ বাড়ীতে আর কে এসেছে বল?
তুমি তােমার বাবাকে লিখে দাও-আমরা শশাঙ্কর বিয়ে এখন
দেব না! তিনি যেন এসব ব্যাপারের মধ্যে না থাকেন।
সরযু।
তার নাতি-নাতনীর বিয়েতে তিনি একটি কথাও বলবেন
বিন্দু।
বিন্দু।
না ?

দ্বিতীয় অঙ্ক
সর।
বিন্দু বিয়ে এখন হবে না !
[ প্রস্থান ।
সরযু। বিয়ে দেবেন না, ছেলে যেন ওঁরই। ছেলের মা ভেসে গেল,
দাদামশায় ভেসে গেল, সৎমা হলেন আপন। বলে—“মা না
বিইয়ে বিয়ােলে। মাসী, ঝাল খেয়ে মল পাড়াপড়শী—”
( প্রতিমার প্রবেশ )
প্রতিমা। ছােটমা !
সরযূ।
কি বউ মা ?
প্রতিমা। বড়মার কাণ্ডটা একবার দেখলেন তাে ?
আমি আজ পঁচিশ বছর ধরে দেখে আসছি মা- তােমরাই
দেখ !
প্রতিমা। আপনি তাে আমায় দেখছেন—আমি তো কোন কথাই কইনে
—শুধু মুখ বুজিয়ে দু'বেলা দুটী খেয়ে আসি।
সরযু। তুমি তো কালকের বউ বাছা—আজ পঁচিশ বছর এ বাড়ীতে
এসেছি—এসে ইস্তক মুখ বুজিয়েই আছি—তবু তােমার বড়মার
মন পেলাম না।
প্রতিমা। কি-ঠাকুরপাের বিয়ের কথা বলছিলেন বুঝি ?
সরযূ। এ তো আর তােমার বড়মার বাবা সম্বন্ধ আনে নিয়ে এক
কথায় হবে। এ যে আমার গরীব বাপ। তারা জানে,
আমার ছেলে—আমি মত ক’রুলেই হবে ; আমি যে এখানে
বাদীর বাদী হয়ে আছি, তারাও জানে না, বাবাও জানেন না ;
আর বাবার সামনেই বা কি করে বলি—আমি এ বাড়ীর
।
কেউ না !

পথের সাথী
{ বগল। পির প্রবেশ)
বগলা। এস গাে বউরাণী, এস গো ছােটমা, ঠাকুর ভাত বেড়ে নিয়ে
বসে আছেন।
সর। যাও বউমা, ভাত খাও গে ।
বগল। আপনি খাবেন না ছােটমা ?
সর। , আমার ক্ষিদে নেই-বউমা তুমি যাও !
[ প্রতিমার প্রস্থান ।
বগল। ক্ষিদে আছে, তুমি বুঝতে পাচ্ছনা ছােটমা—এখন আশে পাশে
আছে, একটু পরে শুয়ে পড়লেই ক্ষিদে পাবে।
সরযূ।
আমার শরীর খারাপ।
বগলা। কি জানি না, এয়ােস্ত্রী মানষের কি রাত উপােস দিতে আছে-
ও বড়মা, ছােটমা ত খেতে এলন কিছুতেই !
[ প্রস্থান।
(শােভার প্রবেশ )
শােভা। ছােটমা, বড়মা আবার আমায় পাঠিয়ে দিলেন—বল্লেন যেমন
ক্ষিদে আছে তেমনি দুটী খেয়ে যাও; বড়মা খেতে বসতে
পাচ্ছেন না, বসে রয়েছেন।
সরযূ। মা-মা-মা কি অশাস্তি গা ? অসুখ হ'লেও কি নিস্তার নেই,
তােমার বড়মার হুকুমে গিলেকুটে মর্ত্তে হবে নাকি ? আমার
মাথা খসে পড়ছে, আমি পারবাে না খেতে—যাও বলগে যাও!
শােভা। ( গায়ে হাত দিয়া )—ক’ই, গা ত গরম না ছােট মা ?
সরষু। গা গরম না ! গায়ে জ্বর নেই যে গা খাবলে দেখতে
৫৮

দ্বিতীয় অঙ্ক
বসন্ত।
এসেছ। যাও, চলে যাও, আমায় আর কাউকে দরদ দেখাতে
হবে না।
( শােভা মুখ ভার করিল) যাও, এইবার বড়মাকে
সাতখানি করে লাগিয়ে এস। তােমার বড়ম! এসে আমার
সঁসির হুকুম দিয়ে যান। সংসারে এতলােক মরে আমার
তো মরণ নেই—মার্কণ্ডের অখণ্ড পেরমাই নিয়ে বসে আছি।
পােড়াকপাল---পােড়াকপাল, পেটের ছেলেমেয়েগুলােও পর
হ’ল । ।ফোন-ফেঁ কান্না।
[ শােভার প্রস্থান।
(ব: এবার প্রবেশ )
ছোট বউ (যু, উত্তর দিল না ) কি হয়েছে কি ? আরে,
তুমি কাদছো নাকি ছােট বউ ? কেন, বড় কি কষ্ট হচ্ছে !
আহা তা ডাক্তার ডাকতে বলনি কেন ? অর্ধেন্দু বাবুকে
একবার ডেকে পাঠাব নাকি ? ওরে ঝি জ্ঞানকে একবার
থা--আর ডাক্তারের দরকার নেই—ডাক্তার আমার কি
করবে ? মরণটা হলেই বাঁচি, আমারও হাড়ে বাতাস লাগে,
আর পাঁচ জনেরও
আর পাঁচজনের মধ্যে আমিও একজন নাকি ? এটা কিন্তু
তােমার ঠিক কথা হ’ল না ছােটবউ! বড়গিন্নীর ওপর
রাগ ?কেন ? তিনি বুঝি ডাক্তার ডাকেন নি? তা
তঁাকে ডাকিয়ে বল্লেই পারতে।
বলিনি—বলবার ইচ্ছেও নেই।
( বগলার দুধ ও ফল লইয়া প্রবেশ )
কি, তুমি আবার কি বলছো?
সরযূ।
সর।
বসন্ত।

পথের সাথী বগলা। বসন্ত। সর। বসন্ত। সরযু । বড়মা বল্লেন-৬াত যদি না খান—এই দুধ আর ফল- এয়ােস্ত্রী মানসের রাত উপপাসী থাকতে নেই— তােমরা কি মানুষকে একটু শান্তিতে থাকতে দেবে না ? তাগাদার উপর তাগাদা ! দেখছো মানুষটার অসুখ, ভাল করে উঠে দাড়াতে পাচ্ছে না-যাও-যাও ওই ওখানে রেখে যাও, শরীর ভাল বােধ হয় তো এরপর না হয়- চব্বিশ ঘণ্টা অপমানের উপর অপমান. দেহ জ্বলে পুড়ে খাক হয়ে গেল, ডাক্তার কি করবে । তা বটে—অপমানের ওষুধ ডাক্তারী শাস্ত্রে বােধ হয় নেই কিন্তু তোমায় অপমান করবে এমন সাহস কার ? যার সাহস আছে, তিনিই অপমান করেন—আর কে করবে ? তার চেয়ে তুমি আমায় একটু আফিং এনে দাও—আমি খেয়ে সকল জ্বালার শেষ করি । আফিম্ আনিয়ে দেব ! (ঝিকে দেখিয়।) এই মাগী—তুই ওখানে দাড়িয়ে দাড়িয়ে কি শুছি—বেরাে পাজীবেটী ! আরে গেল যা, ও বেটী আবার আড়ি পাতছে। [ ঝির প্রস্থান। ওই রকম। দশখানা করে বড়গিন্নার কাছে গিয়ে লাগাবে। বাড়ার ছেলেমেয়ে থেকে আরম্ভ করে ঝি-চাকর অবধি । তুমি স্বামী গুরুলােক, তুমি একটু সুনজরে দেখ—তাও বড়- গিন্নীর সয় না ! তা সেটা না হয় একটু স্বাভাবিক ! সতীনকে ভালবাসতে দেখলে অবিশ্যি— সরযূ। বসন্ত। ০ দ্বিতীয় অঙ্ক ০ সরযূ । বসন্ত। সরযূ। বসন্ত। সরযূ। সত্যি বলছি, আমার আর বাঁচতে সাধ নেই। ছি ছােট বউ, আমার সামনে ওসব অকথা কুকথা মুখে এনেনা। তুমি আমায় ফেলে গেলে এই বুড়ো বয়েসে আমার কি দশা হবে বল দেখি? আর কি এ বয়সে নতুন আর একটি- কেন ? তোমার অমন ঘরণী-গিরিণী, বিদুষী, কম্মিষ্ঠী, বড়গিন্নী রয়েছেন- বড়গিন্নী আছেন, আছেন, তিনিই আছেন, বেল পাকলে আর কাকের কি বল ? উনি তো আর একদিনও, রাতে যদি হার্ট ফেল করে বিছানায় মরে থাকি – আবার আমার সামনে ওই সব কথা ? আচ্ছা, না আর বলবো না তুমি যাও, দুধ ফলটল কি খাবে খেয়ে এস। আমার শরীরটে কিন্তু তা হােক—আমি বলছি। তুমিই তাে বলে থাক—ছেলেবেলা চিরুণীতে পড়ে শিখেছ “পতি পরম গুরু” । আচ্ছা তুমি যখন বলছ তখন আমি খাবখন। আমায় অপমান করেন করেন, কিন্তু এমন করে আমার বাবাকে অপমান করাটা কি দিদির উচিত হচ্ছে । এ তাহলে বিন্দুরই দোষ, কেন যে সে শশাঙ্কর বিয়ে না দিয়ে আটকে রেখেছে—সেই জানে ! রুকুমপুরের রাজাবাবুদের মস্ত নাম, মানসম্রম, দেবেথোবেও বসন্ত। সরযূ। বসন্ত। সরযূ। বসন্ত। সর।

পথের সাথী
ভাল, মেয়েটাও খুব ভাল। বাবাকে এসে ধরেছে, বাবাও
তােমার ভরসায় তাদের কথা দিয়েছেন। বড়দি এমন
করবে জানলে আমি তখন বাবাকে বারণ করে দিতাম !
ছােটবউ, আমি সব বুঝতে পাচ্ছি, বিন্দুর অত্যন্ত অন্যায়
হচ্ছে ! আরে রুকুমপুরের রাজা মস্তবড় বনেদী ঘর, আমি
জানিনে ? খুব বড় সম্বন্ধ, এ ছাড়া উচিত না-ছাড়া উচিত
সরযু।
বসন্ত।
সরযু।
না।
নইলে আমার বাবা এ কাজে হাত দিতেন—তার কি
সেই চরিত্তির ? বড়দি এমন ভাবটী দেখাচ্ছেন যেন ওখানে
বিয়ে হলে বাবা কিছু দালালি পাবেন।
আরে রাম-রাম ! আচ্ছা আমি তাকে ভাল করে বুঝিয়ে
বলবােখন—তাহলে আর সে না বলবে না।
তুমি তাে এখন খুব বলছে—দিদির সামনে গিয়ে তােমার কথা
কইতে ভরসা হবে, কিনা! তাহলে আর আমার দুঃখ
কি ছিল ?
দেখ ছােটবউ, জানই তাে সব ! তার উপর এক সময় একটা
অন্যায় হয়ে গেছে, তাই সহজে আর তাকে চটাতে চাইনে।
তাই বলে স্ত্রী হয়ে স্বামীর মাথায় পা দিয়ে যদি চলতে চায়,
সেটাও কি সইতে হবে? আমার তাে এ সম্বন্ধ খুব ভাল বলে
মনে হচ্ছে। তা আমায় আগে বলতে হয়-
তােমায় বলিনি?—কতদিন তাে তােমায় বলেছি।
তুমি ‘বাবুদের ওখানে বাবুদের ওখানে’ বলতে। তা আমি
বসন্ত।
সরযু।
বসন্ত।

দ্বিতীয় অঙ্ক
কি করে বুঝবব বল ? বাবু তো তিনশ’ পঁয়ষট্টি গণ্ডা আছে।
না ন!, এ বড়গিন্নীর অন্যায় ।
সরযু। আমারও তাে মায়ের প্রাণ। উনি যতই দরদ দেখান না কেন,
বয়সকাল, ছেলেটা যদি সত্যিই বিগড়ে যায়, বেশী লাগবে
কার? উনি কোথায় কোন খৃষ্টানদের মেয়ে দেখিয়ে ছেলেকে
বলেছেন, তােকে অমনি ধার। পাশ করা বউ এনে দেব ।
বসন্ত। খৃষ্টানদের মেয়ে ?
সর।
আজকালকার ছেলে। ওরা যে না পারে কি—তাতো আমি
জানিনে ! ওদের অমনি করে আসকারা কেউ দেয় ?
বসন্ত। ঠিক কথা—ঠিক কথা; যাও তুমি খেয়ে নাও গে—ওই মেয়ের
সঙ্গেই শশাঙ্কর বিয়ে হবে। তুমি যাও, আমি এখনই
বড়গিন্নীকে
সরযূ। এখন থাক না হয়—কাল সকালেই বলো।
বসন্ত।
, না-এখনই—
[ সরষু দুধের বাটী লইয়া বাহিরে গেল, বাস্তবাবু তমা
খাইয়া খানিক চিন্তার পর বসিয়া রহিলেন, শােভা
ও বিন্দুর প্রবেশ ]
শোভা। বাবা:—বড়মা, আমি তােমার সঙ্গে আর কখনো খেতে
বসবাে না। তুমি এমন করে খাওয়াবে—ওমা বাবা যে!
বসন্ত। কিরে পাগলী, তুই আবার কি বলছিস্?
শােভা। দেখ না বাবা—বড়মা নিজে কিছু খাবে না—আর যত ভাল
খাবার সব আমায় খাওয়াবে, এ কিরকম অন্যায় বলতো

পথের সাথী
বিন্দু।
বাবা। ছােটমা খেলে না, ছােটমায়ের ভাগের মাছ
বড়মায়ের ভাগ—সব আমায় খাওয়ালে।
তাের ছােটমা খেলে না কেন? আমি কি মাছগুলো নষ্ট
করবাে ?
বসন্ত। ওরে শােভা, দেখতাে তাের ছােড়দা কি করছে ?
শােভা। ছোড়দা তাে ঘরে পড়া মুখস্থ করছে !
আর শরদিন্দু কোথায় গেল, সন্ধ্যের পর থেকে তার তাে কোন
সাড়াশব্দ পাচ্ছিনে?
শোভা। বড়দা এক জায়গায়—না বাপু আমি বলবাে না। বলে কি
শেষে দোষের ভাগী হব ।
বসন্ত। আচ্ছা বােলােনা। যতক্ষণ শরৎ না আসে বৌমার কাছে
গিয়ে বসগে-
বিন্দু। ওরে শােভা,পটলা, গয়ারাম, ওরা সব খেতে বসেছে ?
শােভা : হা-
[ প্রস্থান।
বিন্দু।
একবার যাই দেখে আসি-
বসন্ত। যেয়ােখন পরে, একটা কথা ছিল।
s
বিন্দু।
কি কথা?
বসন্ত। বলছি—একটু বসলে পারতে ?
বিন্দু।
ব’সবার দরকার হবে না, তুমি বল । তােমার হাটের
কথা তাে?
বসন্ত। হার্টের কথা না। হাটের কথা আর কোনদিন তােমায়
বলবাে না !

দ্বিতীয় অঙ্ক বিন্দু। বসন্ত। যা—যে কথা হয় বল ! বলছিলাম কি, শশাঙ্কর জন্যে ওর মামার বাড়ীর ওখান থেকে যে বিয়ের সম্বন্ধটা এসেছে, যা শুনলাম তাতে সম্বন্ধটা তাে বেশ ভাল বলেই মনে হচ্ছে। তা ওখানে বিয়ে দিতে দোষটা কি ? বিন্দু। বসন্ত। বিন্দু। বসন্ত। বিন্দু। বলি, বিয়ে তাে একদিন দিতেই হবে ? যখন হয় তখন হবে, এখন না ! এখন দিলেই বা ক্ষতি কি? ছেলে তাে আর ছেলেমানুষ নয় । আমাদের ঘরে অত বয়েস পর্যন্ত ছেলে আইবুড়ো থাকে না। তােমাদের ঘরের আইন-কানুন আমি শশাঙ্কর ওপর খাটাতে দেব না। আমি যেমনটি চেয়েছিলাম শশাঙ্ক ঠিক তেমনি আমার পেটে হয়নি, কিন্তু ভগবান আমাকেই দিয়েছেন। ও তােমাদের দৈত্যকুলের প্রাদ-ওকে তােমরা চিনতে পারবে না। সব সময় কি এরকম সম্বন্ধ পাওয়া যায় ? ধরনা কেন, শশুর- মশায়ের পছন্দ মত শরতের যে বিয়ে দেওয়া গেছে-এ তার চেয়ে অনেক ভাল। আমি তাে বলেছি, একজামিনের আগে আমি ওর বিয়ে বসন্ত। বিন্দু। দেব না। বসন্ত। একে বনেদী ঘর—তার উপর সম্বন্ধটা এনেছেন শশাঙ্কর দাদামশাই, না দিলে তিনি কি মনে করবেন ?

পথের সাথী বিন্দু। আমি কারো মনে করার ধার ধারিনে। ( সরযূর প্রবেশ) সর। আমার বাবা সম্বন্ধ এনেছেন বলেই না আজ এতবড় কথাটা বলতে পারলে দিদি ! যখন তােমার বাবা সেবার শরতের বিয়ের সম্বন্ধ আনেন—তখন তাে বাপের বাড়ীতে গিয়ে নিজে উদ্যোগী হয়ে মেয়ে দেখে এসেছিলে—এ ধরণের কথা তাে সেদিন তােমার মুখে শুনিনি? বিন্দু। কি, স্বামীস্ত্রীতে মিলে আমার সঙ্গে ঝগড়া ক’তে চাও নাকি ? বসন্ত। বিন্দু। সরযূ। , না—কথাটা তুমি একটু ভাল করে বুঝে দেখ বড়বউ ! সব সময়েই এ রকম জিদ তো ভাল নয়। ছােটবােয়ের যখন এত সাধ, তখন তােমার সতীন বলেই যে একেবারে বাধা দিতে হবে, এমনই বা কি কথা? সতীনের কথা কেন তুচ্ছ এতদিন পরে? আমি কি কোনদিন সতীনপণা করেছি ওর সঙ্গে—ওই বলুক ? স্বামী নিয়ে সতীনপণ করনি বটে কোনদিন, তা সেটা আমার উপর দয়া করে না—স্বামীর ওপর রাগ করে । আহা-হা, স্বামী বেচারাকে এর মধ্যে আবার টেনে আনছে। কেন ছােট বউ ? আমার যে ডাইনে যেতে বাঁয়ে টানে— তুমি থাম, তােমার ও ন্যাকাপণা আমার ভাল লাগে না। ( স্বগত) এইরৈ, ছােটবউ পৰ্য্যন্ত ধরে ফেলেছে। কথা কখনাে কইনি দিদি-মুখ বুজিয়েই আছি ; আজ যখন বসন্ত। সরযূ। বসন্ত। সরযু।

দ্বিতীয় অঙ্ক বিন্দু। মুখ খুলেছি তখন আর একটি কথা বলবাে শুনে রাখ। বলছ তাে সতীনপনা করনি—আমার ছেলেটাকে মেয়েটাকে পর্যন্ত পর করে দিয়েছ ; আর কি করে সতীনপণ করতে হয়- আমায় বলতে পার ? সেটা মুখে বলবাে না ছােটবউ-এখন থেকে কাজে করে দেখাব। তােমার ছেলেমেয়েদের আমি তােমার কাছ থেকে পর করে দিইনি—তুমি তাদের আপন করতে পারনি। ছেলেমেয়ে আপনি বশ হয় না, তাদের বশ করতে জান। চাই! ( প্রস্থানেদ্যত ) আহা-হা, তুমি যে রেগেমেগে চলেই যাচ্ছ ! ছােটবৌয়ের ওপর কোনদিন রাগ করলে না—আর আজ এই বুড়াে বয়েসে—তােমার হল কি বড়গিন্নী—? যাক্, ও রাগবাগের দরকার নেই, তাহলে—ওখানেই সম্বন্ধ ঠিক করা যাক, কি বল ? তােমরা দিতে ইচ্ছে কর দিতে পার—আমার মত নেই। [ প্রস্থান। বেশ, তাই হবে—ওইখানেই শশাঙ্কর বিয়ে হবে ! নানা —এ রকম জিদ তাে ভাল নয়। ওরে গয়ারাম- বসন্ত। বিন্দু। বসন্ত। (নেপথ্যে গয়'রাম)-বাবু- ( গয়ারামের প্রবেশ ) জ্ঞানকে একবার ডেকে দিস তাে আমার কাছে। যে আজ্ঞে বাবু- গয়া। [ প্রস্থান।

পথের সাথী সরযূ। বসন্ত। সরযূ। বসন্ত। • • • পঁচিশ বছর ধরে এই জ্বলনে জ্বলছি, আজ আর সইতে পারলাম না, তাই দুটো কথা বলিছি- তা বেশ করেছ—তবে কিনা না বললেও পারতে। আর সহ্য হলনা-নইলে আমারই কি সাধ দিদিকে কড়া কথা শােনাই ? ভালতো বাসে ছােটবোনের মত—একটু যদি নিজের মতলব মত না হ’ল, তাে আর রক্ষে নেই ? যেমন রাগ তেমনি জিদ। যা একবার ধরবে না-না- স্ত্রীলােকের এত জিদ তাে ভাল না। সেই যে তােমার ঘরে আনার পর থেকে আমায় আলাদা করে দিলে, ভুলে একটা দিন আমার কাছে এসে বসলাে না ! কত অসুখ গেছে অথচ নিজের চোখে দেখেছি ঠাকুরঘরে গিয়ে কাদছে, মাথা খুঁড়ে মরছে ! এমানুষকে নিয়ে তুমি কি করবে বল ? ( জ্ঞানের প্রবেশ ) আমায় ডাকছিলেন বাবু ? হ্যা, ওই রুকুমপুরের জমিদারবাড়ীতে যে বিয়ের কথা হচ্ছে- তাই নিয়ে সে দিন যে চিঠিখানা এসেছিল, তার কোন জবাব আমাদের দেওয়া হয়নি বােধ হয়? আজ্ঞে না ! কেন দেওয়া হয়নি ? আমি বড়মাকে জানিয়েছিলাম, উনি বললেন ওখানে হবে না; তাই আর আমি কোন জবাব দিইনি। তােমার বড়মার অমতের কারণটা কি জান? জ্ঞান। বসন্ত। জ্ঞান। জ্ঞান। বসন্ত। ৬৮

দ্বিতীয় অঙ্ক
জ্ঞান।
বড়মা বলেছিলেন ওদের বাড়ীতে মেয়েপুরুষ কেউ লেখাপড়া
জানেনা, ছােটদাদা বাবুর ওরকম বাড়াতে বিয়ে করা পছন্দ
।
বসন্ত।
জ্ঞান।
আরে লেখাপড়া, লেখাপড়া, লেখাপড়া,লেখাপড়! জানেনা
ত’ হয়েছে কি ? নবাবী আমল থেকে ওদের রাজা খেতাব,
বিশাল জমিদারী, বনেদী বংশ—ওদের তাে আর চাকরী-বাকরী
করতে হবে যে, পড়ে পড়ে হাড় কালি করবে ? যেমন
তােমার বড়মা, তেমনি তােমার ছােট দাদাবাবু! তুমি লিখে
দাও, ওইখানেই বিয়ে হবে—আমার মত আছে ; তারা যেন
কি কি দেবেন তার একটা ফদ্দ পাঠান, আর পাকাদেখার
দিনস্থির করে চিঠি লেখেন। আজ রাত্রেই তুমি চিঠি লিখে
রেখো, কাল সকালে উঠে আমি সই করবো–যাও!
দেখুন বাবু, বড়মার যখন মত নেই, তখন নাই বা হ’ল ওখানে
ছোট দাদাবাবুর বিয়ে ? কনের তাে আর অভাব নেই—কত
হাইকোর্টের জজ ব্যারিষ্টারের মেয়ে
দেখ জ্ঞান, তােমাদের এই উপদেশ দেওয়া রােগটা কি যাবে
কোন দিন? ওইখানেই বিয়ে হবে, এই মাসেই বিয়ে,
কেউ যেন এর উপর কথা না বলে ।
( জ্ঞান চলিয়া যাইতেছিল ইতস্ততঃ করিয়া ফিরিয়া আসিল) দেখুন, এটা
কিন্তু ঠিক ভাল হচ্ছে না, বড়মার যাতে মত নেই—বিশেষ এ
রকম একটা শুভ কাজে
তােমরা সব হাউ গিলতে গিলতে বাউ গিলেছনা? মনে
বসন্ত।
জ্ঞান।
বসন্ত।

পথের সাথী
সরযু।
করেছ-বসন্ত সেন মরেছে, নাবালকের এষ্টেটে চাকরী ক’চ্ছ,
তােমার বড়ম। গার্জেন ? জেনাে এ বাড়ীতে শুধু তােমার
বড়মার রায়ই একমাত্র রায় না; তােমার বড়মার কথা যেমন
চলবে, তােমার ছােটমার কথাও ঠিক তেমনি চলবে ; আর
সব্বার উপর চলবে এই বসন্ত সেনের কথা। সেখানে
বড়ও কেউ না, ছােটও কেউ না, ছেলেরাও কেউ না-যাও!
চল চল তুমি শােবে চল । রাগ করে মাথায় রক্ত চড়লে
আর রাতে ঘুম হবে না ।
মাথায় রক্ত চড়েছে। যত ভাবি—দূর হগে মরুকগে, যে যা
বােঝে তাই করুক, আমি এ সবের ভেতর থাকবােনা তা
জোর করে আমায় এই সব হাঙ্গামার ভিতর টেনে এনে তবে
ছাড়বে ! এস—-বলেছি তা যেন হয়, নইলে আমি ভয়ানক
কাণ্ড করবাে।
[ সরযু ও বান্তর প্রস্থান ।
( নেপথ্যে বি) জ্ঞান
( বিন্দুর প্রবেশ )
এই যে বড়মা, আমি তাে মা বড়ই বিপদে পড়েছি। বাবু। কি
রকম রেগে চেঁচিয়ে উঠলেন শুনলেন তাে ?
বনেদী জমিদার-বংশ, রাগটা ওঁদেরই একচেটে ।
উনি তো তাদের চিঠি লিখে দিতে বল্লেন। তাঁরা যেন
একেবারে পাকা দেখার দিনস্থির করে চিঠি দেন,
বাবু যখন চিঠি দিতে বলেছেন, তখন তােমার কাজ তুমি
কর, তুমি চিঠি লিখে দাও!
জ্ঞান।
বিন্দু।
জ্ঞান।
বিন্দু।

দ্বিতীয় অঙ্ক জ্ঞান। বিন্দু। আপনার যখন মত নেই মা, তখন একাজে অগ্রসর হওয়াটা কি উচিত হবে মা? তার চেয়ে আপনি যদি বাবুকে বুঝিয়ে বলতেন- চিঠি তুমি লিখে দাও এখন--বােঝাতে হয় আমি এর পর বােঝাবে।। তারাও একটা মস্ত বড় বনেদী ঘর, তাদের একটা কথা দিয়ে শেষ পর্যন্ত যদি কথাট। না রাখতে পারেন, সেটা কি ভাল জ্ঞান। বিন্দু। বিন্দু। আপাততঃ কৰ্ত্তা যেমন যেন বলছেন, তাই কর—ভাল মুসােবিদে করে একখানা চিঠি লিখে রাখ, কর্তার ইচ্ছে মতই কাজ হবে। জ্ঞান। আচ্ছ। মা ! [ জ্ঞানের প্রস্থান। ওরে শশাঙ্ক, আয়রে বাবা আয়—অনেক রাত হয়েছে, আর পড়তে হবে না। ( শশাঙ্কর প্রবেশ) শশাঙ্ক। বড়মা, একটা কবিতা পড়ছিলুম, চণ্ডীদাসের কবিতা—শুনবে? তাের বুঝি বড় ভাল লেগেছে ? শশাঙ্ক। বড় ভাল কবিতা বড়মা-এরচেয়ে ভাল কবিতা। এর আগে আর কখনাে আমি পড়িনি । “ঘর কৈ বাহির ওগাে বিন্দু। বাহির কৈনু ঘর পর কৈনু আপন আমি আপন কৈনু পর।”

পথের সাথী
সন্তানের ছেলের জন্য কেন এত ক’চ্ছ, সুবিধে পেলেই তো
কথা শুনতে হয়, কিসের গরজ তােমার ?
বিন্দু। আর একটী পরের মেয়ে এসে যে দিন তােকে আপন করে
নেবে, সেই দিন থেকে সতীনের ছেলের জন্যে আর কিছুই
করবো না বাবা।
তা হলে পরের মেয়ে ধরে আনা তো বড় বিপদ বড়মা !
তােমার সতীনকে বলে দিও বড়মা, আর যদি কোন দিন
তােমার সঙ্গে সতীনে ঝগড়া করেন, আমায় আর এ বাড়ীতে
কেউ দেখতে পাবে না।
বিন্দু।
ওরে পাগল ! ও কি কোন দিন আমার মুখের উপর কথা
বলতে পেরেছে, যে আজ সতীনে ঝগড়া করবে ? আজ কি
রকম মাথাটা গরম হয়েছিল তাই ।
শশাঙ্ক। না তাই বলছি বড়মা, অনেক রকম কেলেঙ্কারী সওয়া যায়,
এটি কিন্তু আমি সইব না !
१२

তৃতীয় অঙ্ক
প্রথম দৃশ্য
অমরেশ্বরের বাড়ী
হিরন্ময় ও রুবি
কি ?
হিরণয়। নিখুৎ সুন্দরকে নিয়ে মানুষ খুব তৃপ্তি পায়নি কোন দিন।
কবি। তাই নাকি?
হিরন্ময়। হঁা, তার কারণ কি জানেন ?
রুবি।
হিরন্ময়। যেমন খাটি সােনায় গয়না গড়ানাে যায় না, তাতে অনেকখানি
খাদ মেশাতে হয়—এও তেমনি, খাঁটি সুন্দর নিয়ে সংসার
করা যায় না। খাটী সুন্দরকে মানুষ খুব বেশীক্ষণ সহই করতে
পারে না।
আমাদের দেশ একটা মেয়েলি কথা আছে জানেন ?
“অতি বড় সুন্দরী না পান বর,
অতি বড় ঘরণী না পান ঘর।”
কবি।
१७

পথের সাথী রুবি। রুবি। হিরন্ময়। এই কথা বাঙলায় চলন আছে নাকি ? আমি তাে জানতুম ! বড় ভাল কথা। অতি কিছুই বােধ হয় ভাল না। হিরন্ময়। না। অতি প্রেম ভাল না ? হিরন্ময়। “অতি প্রেম সহে না বিধির !" আমি যে কথা বলছিলাম, নিখুৎ সুন্দর—উৰ্বশীলতা অপরূপ সুন্দরী—রবীন্দ্রনাথ উর্বশী কবিতায় দেখিয়েছেন উৰ্বশী কেমন ; সে সংসারের না- “নহ মাতা নহ কন্যা, নহ বধূ সুন্দরী রূপসী হে নন্দনবাসিনী উর্বশী । গােষ্ঠে যবে সন্ধ্যা নামে শ্রান্তদেহে স্বর্ণাঞ্চল টানি’ তুমি কোন গৃহপ্রান্তে নাহি জাল সন্ধ্যা-দীপখানি— স্থির বিজলীর মত এই যে সৌন্দৰ্য, এতে মানুষের তৃপ্তি নেই! It is not earthy এতে মাটি নেই। মানুষ ether চায় না, মাটি চায়। আচ্ছা হিরন্ময়বাবু-প্রেম কেমন করে হয় ? হিরন্ময়। কেন হয়, কেমন করে হয়, কেউ জানে না, কেউ বলতে পারে । অনেক কবি অনেক প্রশ্ন তুলছেনে, অনেকে উত্তরও দিয়েছেন- Tell me where is fancy bred Or in the heart or in the head ? রুবি। রুবি। এর মানে ? ৭৪

তৃতীয় অঙ্ক
হিরন্ময়। প্রেম কোথায় জন্মায়—হৃদয়ে না মস্তিস্কে ? কিসে উৎপত্তি,
কোন্ দিকে পরিণতি ?
কবি ।
আপনি প্রেম বিশ্বাস করেন ?
হিরন্ময়। করি, আগে করতুম না—এখন করছি।
রুবি।
আপনি কি কাব্যের কথা আর তত্ত্বকথা ছাড়া, সংসারের তুচ্ছ
কথা কিছুই বলেন না ?
হিরন্ময়। কেন বলুন তাে? এ প্রশ্ন কেন করলেন?
আপনি আমাদের মত সংসারের তুচ্ছ খুটিনাটি কথা বলছেন,
এ আমি মনে করতে পারিনে।
হিরন্ময়। আমি সংসারের কোন কাজকে কোন মানুষকে তুচ্ছ মনে
করিনে।
রুবি।
আপনি Merchant of Venice থেকে যে কবিতাটি বল্লেন
সেইটে আমায় ভাল করে বুঝিয়ে দিন, আপনি চমৎকার
বাংলায় বুঝিয়ে দেন-বেশ মনে গাঁথা হয়ে থাকে।
হিরন্ময়। কি কথা হচ্ছিল ?
Tell me where is fancy bred,
Or in the heart or in the head ?
হিরন্ময়। হ্যা, সেক্সপীয়ার নিজেই তার উত্তর দিচ্ছেন—It is
engenderd in the eyes with gazing fed !
কবি।
( অমরেশ্বরের প্রবেশ )
কবি ।
বাবা, আমি হিরয় বাবুর কাছে সেক্সপীয়ার পড়ব।
৭৫

পথের সাথী
অমর। সেক্সপীয়ার পড়বে ? বেশ বেশ বড় ভাল—ওতে নানান
রকম peculiar grramatical construction আছে। আমরাও
এক সময় সেক্সপীয়ারের পোকা ছিলাম ! এখনও একএকটা
3779 1687 9661–“Friends, Romans, Country-men
lend me your cars." সেক্সপীয়ার পড়লে খুব জ্ঞান হয়।
বলত বাবা হিরন্ময়-কি বলছিলে ?
হিরন্ময়। আমি বলছিলাম—
Tell me where is fancy bred.
Or in the beart or in the head.
সেক্সপীয়ার নিজেই তার উত্তর দিচ্ছেন—lt is engenderd in
the eyes, la tra It is bred neither in the head
nor in the heart! ললাকে প্রাণ দিয়ে ভাল বাসে না,
ভাল বাসলে তার পর প্রাণ দেয়-বুঝেসুঝেও প্রেম করে না,
নয়নের কোণেই প্রথম প্রেমের জন্ম ; তার পর অপলক দৃষ্টি
দিয়ে সেই দেখার পূর্ণ পরিণতি।
অমর। যদিচ আমাদের নিধুবাবু তা বলেন , নিধুবাবুর গান
জান তাে-
মনেরে না প্রবােধিয়ে
নয়নেরে দোষ কেন,
আঁখি কি মজাতে পারে
না হলে মনন মিলন।
হিরন্ময়। এটা বােধ হয় নিধুবাবু কোন বিশেষ অবস্থা লক্ষ্য করে
৭৬

তৃতীয় অঙ্ক লিখেছিলেন। আসল ব্যাপার, চোখ আগে মজায়—তার পর ; মন মজে। অমর। -না-না, চোখ ত নিজে দেখেনা?—মন কৰ্ত্তা, চোখ তার অস্ত্র। মন আগে চোখকে বলে “ওহে চোখ, দেখ দেখ !” তবেইতাে চোখ ভরসা করে দেখে—আর মনকে মজায়। হিরন্ময়। তাই কি? আমাদের বৈষ্ণব কবি চোখের আগের কথাও বলেছেন- “কাণের ভিতর দিয়া মরমে পশিল গো আকুল করিল মাের প্রাণ।” মন কিঙ্কর ; ইন্দ্রিয় রূপ, রস, শব্দ, স্পর্শ, গন্ধ ইত্যাদি অনুভূতির দ্বারা আগে মনকে তার বাঞ্ছিতের খবর দেয় ; তবেই মন সে বিষয় সচেতন হয়। 'অমর। তাইতো হে হিরন্ময়, প্রেমতত্ত্বটি তােমার তাে বেশ ভাল করে উপলব্ধি করা আছেgood sign, good sign ! আমি সেকালে পদ্য-দ্য লিখতুম—তারপর এই একাদিক্রমে বাইশ বৎসর ধরে Nesfieldএর Grammar পড়িয়ে পড়িয়ে মাথা থেকে সমস্ত poetry একেবারে vapon' হয়ে যেন কোথায় উড়ে গেল । Grammar সম্বন্ধে কিন্তু বাবার সঙ্গে কেউ পারে না। অমর। হ্যা, Sequence of Tense সম্বন্ধে যদি কখনাে কোন সভা- সমিতি হয় আমায় ডেকো। আমি খুব ভাল বক্তৃতা রুবি। দেব। ৭৭

পথের সাথী
অমর।
( শােভার প্রবেশ)
শোভা। ওমা রুবিদি, তুমি কি নিষ্ঠুর গাে!
কবি।
কেন, আমি আবার নিষ্ঠুর হলুম কিসে?
শোভা। কাল সন্ধ্যেবেলা বাের্ডিং থেকে এসেছ, আজ সমস্ত দিন গেল
তবু তোমার দেখা পেলুম না। বড়মাকে বলে দু’বার গাড়ী
পাঠিয়ে দিলুম, দু’-দু’বার তুমি গাড়ী ফেরৎ দিলে? কেন বলত,
তােমার কি হয়েছে ?
এ মেয়েটি কে রুবি ? She is full of vitality !
শােভা। বলতো, আমার সঙ্গে কে কে এসেছেন ?
রুবি। কই কই কোথায় ? শশাঙ্কবাবু ?
শােভা। হ্যা, এখানে আমি তাকে সঙ্গে করে নিয়ে অসি—অতো
বােকা মেয়ে আমায় পাওনি ! আমি বুঝি আর জানিনে
তােমার আর এক জায়গায় বিয়ের
আঃ শােভা! শােভা, তুমি আমার বাবাকে প্রণাম করলেন?
শোভা। তােমার বাবা-কই তােমার বাবা ?
এই তো বসে আছেন।
শােভা। রুবিদি, উনি তােমার বাবা ? আমি ভেবেছিলাম তােমার
মাষ্টার মশাই!
অমর। মেয়েটির তাে খাসা বুদ্ধিশুদ্ধি, ঠিক ধরেছে তো ! (শোভার প্রতি)
—ওর বাবা যে সত্যিই মাষ্টার মশাই।
শোভা। ওঃ বাবা, আপনি মাষ্টার মশাই ?
হ্যা-
কবি।
রুবি।
?
অমর।
৭৮

তৃতীয় অঙ্ক রুবি। রুবি। শােভা। আপনি ছেলেদের পিঠে বেত মারেন ? অমর। হা- শােভা। ( হিরন্ময়কে দেপিয়া) ইনি আবার কে ? তােমার দাদা নাকি ? আমার এক বন্ধুর দাদা। শােভা। রুবিদি জালালেবন্ধুর দাদা! তােমার আবার বন্ধু কি ? মেয়েমানুষের আবার বুঝি বন্ধু থাকে ? কলেজে লেখাপড়া শিখে মেয়ে যেন কি হচ্ছেন দিন দিন। চল, আমাদের সঙ্গে গাড়ী করে হাওয়া খেতে যেতে হবে—এস, নইলে কিন্তু চল, চল- [ রুবি ও শােভার প্রস্থান। হিরন্ময়। মেয়েটি কে বলুন তাে? অমর। ঠিক জানা নেই। বােধ হয় কারাে মেয়ে ! হিরন্ময়। ওঁর সঙ্গে যারা এসেছেন, তারা বুঝি গাড়ীতেই বসে আছেন ? অমর। খুব সম্ভব বসে আছেন। হিরন্ময়। তারা হয়তাে এখানে আসতেন, হয়তাে আমি এখানে আছি মনে করে তারা এলেন না। অমর। তা হতে পারে—আশ্চৰ্য্য কি ? হিরন্ময়। আপনি বরঞ্চ ওঁদের ডেকে এনে বাড়ীতে বসালে পারতেন। অমর। খুব ভাল idea! কবির মা আবার এই সময়টিতে হিরন্ময়। ওঃ, মাসীমা বুঝি এখন বাড়ী নেই ? অমর। , সেই জন্যেই তাে মুস্কিলে পড়েছি'! I am in a terrible fix, A ১৯

পথের সাথী
( নর্মদার প্রবেশ )
হিরন্ময়। এই যে মাসীমা এসেছেন।
নর্মদা। হা গা! কবি কাদের সঙ্গে গাড়ী করে কোথায় চলে
গেল ?
চ'লে গেল ?
অমর।
নম্মদা। হঁা-
অমর। তা কই, আমায় তাে কিছু বলে গেল না?
নৰ্ম্মদা। হা গা, তুমি কেমন ধারা মানুষ গা? মেয়েটা কাদের সঙ্গে
কোথায় চলে গেল একবার খোঁজ নিলে না ?
অমর। কি বিপদ ! আমার খোজ নেবার কথা, তাদের
দের বলে
যাবার কথা ?
নর্মদা। তাদের যুদি ধর কোন-মেয়ে বড় হয়েছে।
অমর। Exactly so-মেয়ে বড় হয়েছে !
নর্মদা। আমি যার আজ দু’-দু’বার গাড়ী ফিরিয়ে দিলুম ; একটু বাড়ীর
বার হয়েছি কি, একেবারে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল মেয়েটাকে ?
I see, they are regular lawless people ! 453tfa
সাহস, একটা ছােট্ট মেয়েকে দিয়ে রুবিকে hypnotise করে
নিয়ে গেল! হিরন্ময়, তুমি বরঞ্চ কোন একটা nearest police
stationএ যদি একবার
হিরন্ময়। অতটা বােধহয় আবশ্যক হবেন, তাদের হয়তো কোন মন্দ
উদ্দেশ্য নেই।
অমর। 'That's a great point, মন্দ উদ্দেশ্য নাও থাকতে পারে।
অমর।
৮০

তৃতীয় অঙ্ক
অমর।
হিরন্ময়। হয়তাে ওঁকে তারা খুবই ভালবাসেন।
ঠিক কথা to see her, is to love her'তুমিতাে বুঝতেই
পাচ্ছ বাবা, কি বল ? বুঝলে নর্মদা, হিরন্ময় যা বলেছেন
খুব যুক্তিপূর্ণ কথা; যা আমার একটা দুর্ভাবনা ঘুচল।
নম্মদ।
হা গা, তুমি দিন দিন একি হচ্ছ ?-কি বল, কি কও ।
তােমায় কেউ কিছু—খাইয়ে টাইয়ে মাথা খারাপ করে দিলে
নাকি ?
অমর। আশ্চর্য কি, হতেও পারে ! তবে তােমার হাতে ছাড়া
আর তো কারাে হাতে আমি কখনও কিছু খাইনি।
দ।। থাক, আর রসিকতা করতে হবে না !
[ প্রস্থান।
অমর। ব্যাপারটা কি হয়েছে জান?—মেয়ের বিয়ে দিতে হবে, আবার
হাতে নেইকো টাকা; তার উপর তােমার শাশুড়ীঠাকরুণ
. অর্থাৎ মাসীমা, যে টাকাটা তিরিশ দিনে ব্যয় করা দরকার
সেইটি বারো দিনে ব্যয় করে থাকেন।
হিরন্ময়। আমি না হয় এখন উঠি ।
অমর।
ব’সসা, ব’সসা, আমার একটা অত্যন্ত দরকারী কথা
আছে।
হিরন্ময়। কি কথা
অমর। মানে, আমার মেয়ের অনেক পুরুষবন্ধু আছে, তাদের সঙ্গে
আজকালকার দিনে দেখাশুনা হওয়া খুব বিচিত্র নয়, You
must with her from among them-01971 goat

পথের সাথী
বুঝতে পারিনি ও কাকে ভালবাসে। কিন্তু ও যে কাউকে
ভালবেসেছে, তাতে আর কোন সন্দেহ নেই। আগে খুব
চঞ্চল আর খুব আমুদে ছিল, এখন কি রকম গম্ভীর হয়েছে ।
Either you or not you but someone else.
হিরন্ময়। উনি কি আগে খুব প্রাণচঞ্চল ছিলেন ?
অমর। ছিলেন বৈকি ! of eouse সব মেয়েরাই তাই থাকে,
তারপর একদিন সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে গম্ভীর হ’?
যায়। অামার মনে হয়, তােমাকে দেখার পর থেকে ওর
এই পরিবর্তন হয়েছে ; হয়তো তােমাকেই ও ভালবাসে
কিম্বা অন্য কেউও হতে পারে। বুঝেছ হিরন্ময় ?
হিরন্ময়। হ্যা বুঝেছি ; যে মেয়েটি এসেছিলেন, তার কোন আত্মীয়কেই
হয় তাে উনি ভালবাসেন।
অমর।
খুব সম্ভব তাই। সেইজন্যই যত দিন ওর বিয়ে না হয় আমি
ওকে বােডিংএ রাখাই ঠিক করেছি, তা হলে আর সবার সঙ্গে
মিশতে পাবেনা। loveএর ব্যাপারটা কি জান হিরন্ময়?
অবশ্য তুমি Philosophy of love লিখেছ, তােমায় আমি
আর কি বলবাে বাবা—তবে যেমন ঐ মেয়েটি এসে রুবিকে ছো
মেরে নিয়ে গেল, Love is like that—এর মধ্যে Poetry
নেই, Philosophyও নেই। ( উচ্চতা )
হিরন্ময় । আচ্ছা আমি এখন আসি ।
অর্ধেন্দু। (নেপথো ) ওহে অমরবাড়ী আছ ছে ?
অমর।
কেছে ?—যেন চেনা গলা ! অবারিত-দ্বার—ওপরে চলে এস ;
৮২

তৃতীয় অঙ্ক
আরে—কে ও ( অর্ধে ডাক্তার উপর মিলন) ডাক্তার অর্ধেন্দু ?
এস এস—তােমার কথাই বােধ হয় ভাবছিলুম !
অর্ধেন্দু। বােধ হয় ভাবছিলে, তুমি আবার বোধ হয় ভাব! এই যে
হিরন্ময় কতক্ষণ?
হিরন্ময়। এই খানিকক্ষণ ।
অমর। খানিকক্ষণ কেন ? তুমিতো বাপু অনেকক্ষণ 'এসেছ।
হিরন্ময়। আজ্ঞে হ্যা, ত। অনেকক্ষণ বলতে হবে বৈকি—আচ্ছ!, আমি
তাহলে আসি ।
অমর।
[ হিরন্মর প্রস্থান ।
অমর। ব’স অর্ধেন্দু, তুমি বেশ ভাল সময়টিতে এসেছ।
অর্ধেন্দু। আমি এসেছিলাম তােমার কাছে একটু কাজে।
অমর। আমার কাছে কাজে এসেছিলে ? আমার কাছে কেউ তে।
কখনাে কাজে আসে না। কি কাজ, টাকা ধার চাইবে
না ত ?
অর্ধেন্দু। না—না, কাজ আর কিছু না, আমার বিশেষ বন্ধু আমাদের
কালী গুপ্ত উকিল, আমায় তােমার কাছে পাঠিয়ে দিলেন।
তার ছেলে ঐ হিরন্ময়ের সঙ্গে তােমার মেয়ের বিয়ের কথা
হচ্ছে না?
অমর। তুমি সে কথা জান ?
অর্ধেন্দু। কালীই তাে আমায় বল্পে !
অমর। কালীবাবু কি বল্লেন ?
৮৩

পথের সাথী
অর্ধেন্দু। তাদের ইচ্ছে তাড়াতাড়ি বিয়েটা হয়। অথচ তােমরা
কেবলই দেরি কচ্ছ। হিরণয়কে মেয়ে দিতে তােমার কি
কোন আপত্তি
আছে ? কালী বলে, অমরবাবুর যদি
কোন আপত্তি থাকে, তিনি যেন আমায় জবাব দেন। তাহলে
কালী অন্য পাত্রী দেখতে পারে।
অমর। ব্যাপারটা কি হয়েছে জান ? আমি আজ হিরন্ময়কে বলেছি,
হয় হিরন্ময় না হয় আর কেউ, there must be some
young mall.
অর্ধেন্দু। তার মানে কি ?
অমর। মানে, আমার মেয়ে- সে ত আমার মেয়ে এবং আমার স্ত্রীরও
মেয়ে ?
অর্ধেন্দু। খুব সম্ভব!
অমর। আমি এবং আমার স্ত্রী—অমর। যৌবনে প্রেমে পড়েছিলুম।
আমাদের মেয়েও ঠিক আমাদেরই মতন
(শশা, শোভা ও রুবির প্রবেশ)
শােভা। রুবিদি, আবার এখানে কেন নিয়ে এলে ?—এখানে তো
মাষ্টারমশাই আর আমাদের ডাক্তারবাবু বসে আড্ডা
দিচ্ছেন!
[ রুবি ও শোভার প্রস্থান।
অর্ধেন্দু। শশাঙ্কবাবু বুঝি এখানে বেড়াতে এলে ?
শশাঙ্ক। আজ্ঞে হ্যা, আপনি কতক্ষণ?
অর্ধেন্দু। এই কতক্ষণ !
৮৪

তৃতীয় অঙ্ক
শশাঙ্ক। মাষ্টারমশাই কেমন আছেন? আমায়
বােধ হয় চিনতে
পাচ্ছেন না ?
কুবি।
অমর।
শশাঙ্ক। আপনার কাছে পড়েছিলুমফাষ্ট ক্লাসে।
অমর। তােমার নামটি কি বলত বাপু !
শশাঙ্ক। শশাঙ্ক সেন।
অমর। কে শশাঙ্ক সেন ? কোথায় থাক?
অর্ধেন্দু। বসন্তবাবুর ছেলে, শশাঙ্ক সেন।
অমর। ওঃ বসন্তবাবুর ছেলে শশাঙ্কবাবু ?-বুঝেছি, বুঝেছি!
( কবির প্রবেশ)
শশাঙ্কবাবু, আপনি বাড়ার ভেতর আসুন—মা আপনাকে
ডাক্‌ছেন।
[ শশা ও রুবির প্রস্থান।
অমর। এইবার বুঝতে পাচ্ছ বােধ হয় ?
অর্ধেন্দু। না—কিছুই বুঝতে পারলুম না।
অমর। ব’স ; আমার মেয়ে আমি নিশ্চয়ই অনুমান কচ্ছি, এই শশা
ছেলেটিকে কিম্বা ঐ হিরন্ময় ছেলেটিকে ভালবাসে।
অর্ধেন্দু। তাহলে কার সঙ্গে তােমার মেয়ের বিয়ে দেবে ?
অমর। শশাঙ্কর সঙ্গেই বিয়ে দেবাে।
অর্ধেন্দু। শশাঙ্ক ক’টি বিয়ে করবে ?
অমর। কেন—ওর বিয়ে হয়েছে নাকি ?
অর্ধেন্দু। এখনাে হয়নি, তবে শীগগিরই হবে। শশাঙ্কর বাপই।

পথের সাথী আমায় বছিলে, কি রুকুমপুর না কোথাকার এক রাজকন্যের সঙ্গে অমর। } অথচ দেখলে তাে, আমার মেয়ের সঙ্গে এমন ভাবে মেলা- মেশা করছে, দেখলে মনে হয় নিশ্চয়ই যেন ওকে ভালবাসে। অর্ধেন্দু। ভাল হয় তাে বাসে। ভালবাসলেই যে বিয়ে ক’তে হবে তারই বা মানে কি ? অমর। তাহলে আমার মেয়ের সম্বন্ধে কি করা উচিত বল দেখি? অর্ধেন্দু। এমন একটি ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া উচিত, যাকে ও মোটেই ভালবাসে না। অণর। এরকম ছেলে আমি কোথায় পাব ? অর্ধেন্দু। আমার তাে মনে হয় হিরন্ময়ই ঠিক সেইরকম ছেলে ! অমর। শুনেছি ও Philosophy of Love বলে একখানা বই লিখেছে। অর্ধেন্দু। তবেই বােঝ, যারা ভালবাসে—তারা ভালই বাসে, ভাল- বাসার বই লেখে না। ( শােভা, রুবি ও শশাঙ্কর পাবেশ) শােভা। না বাপু রুবিদি, তােমার বাবার আর গল্প শেষ হবে না। আমরা আর কতক্ষণ বসে থাকবো ! হাগা ও রুবিদির বাবা, রুবিদির বাবা—আপনারা না হয় আর কোথাও গিয়ে বসুন, এই ঘরে হারমােনিয়ম আছে, আমরা রুবিদির গান শুনবাে ! অর্ধেন্দু। তা আমরাও না হয় একটু গান শুনলুম ! শােভা। ডাক্তারবাবু, আপনার যদি কিছুমাত্তর বুদ্ধিশুদ্ধি থাকে—

তৃতীয় অঙ্ক
আপনি যে কি ক'রে বাবাকে চিকিৎসা করেন। রুবিদি
বরকে গান শোনাবে—আপনারা বসে থাকলে চলবে কি
করে শুনি? নিউ উচু !
[ তাগ:। এর প্রস্থান ।
শােভা। রুবিদি, সেই গানখানা-
তুমিই গাও •া। তুমি তো জান--
শােভা। যদি কোথাও ভুা হয়, তুমি শুধরে দিও ভাই রুবিদি।
কবি।
গান
তােরা যা’লাে কুঞ্জে লাে সই
আমি যাবাে না,
সেই প্রেম-নিকেতনে, মদন-মােহনে
আর তাে দেখিতে পাব না।
ভাসায়ে গােকুলে শােকপারাবারে
সে নিঠুর গেছে যমুনার পারে,
(আমি) কুঞ্জকাননে দেখিব কাহারে
কারে চিতে করি ভাবনা ?
সেই কৃষ্ণশূন্য কুঞ্জে কোকিল -
যদি তােলে কুহুতান,
মাের কানে ধ্বনি বাজিবে অমনি,
বজর সমান !
৮৭

পথের সাথী
(যদি) ভ্রমর-ভ্রমরী গুঞ্জে
(সেই ) হরি-বিরহিত কুঞ্জে
আমি শুনিব না তান, বিরহের গান,
মম অন্তরজে আছে ব্ৰজরাজ,
আমি বাহিরের ব্ৰজে যাব না ।
শশাঙ্ক। এই শাে , তোর গান গাওয়া হ’ল ত? এখন একটা কাজ
কর দেখি।
শোভা। কি কাজ?
শশাঙ্ক। ভারি দরকারি কাজ। ওই, ওধারের বারান্দায় দাড়িয়ে দেখে
আয় তাে মাঝগঙ্গা বেয়ে তিনখানা পালতােলা ময়ূরপঙ্খী বোট
যাচ্ছে কিনা ?
শোভা। কাদের বােট দাদা?
আগে দেখে আয়, তারপর বলবে।। শীগ্‌গির য~-আবার
হাঁ করে দাড়িয়ে রইল ! এতক্ষণ হয়তাে চলে গেল।
এই শােন-শােন, কোনখানা কি রঙের, কোন পাল কি
রঙের, আর ক'খানা করে দাড় আছে, সেটাও গুণে
আসবি।
শােভা। ময়ূরপঙ্খী বােটে আবার কে আসবে দাদা?
শশাঙ্ক। আবার দেরি করে ? আসবে আসবে, পরে তােকে বলবো
সেই রুকুম !
শােভা। ও সেই রুকুমরুকুমপুরের রাজা, তাই নাকি? [ প্রস্থান ।
৮৮

তৃতীয় অঙ্ক এবি। রুবি। রুবি। আপনি শােভাকে এত ক্ষেপাতেও পারেন। ও বুঝতে পারে না ? শশাঙ্ক। পারে, তবে একটু lateএ বোঝে। যাক শোভার কথা যাক্, শােভাকে তাড়ালুম যেজন্যে-আপনার নাকি আর এক জায়গায় বিয়ের সম্বন্ধ হচ্ছে ? আপনিওতো রুকুমপুরের রাজকন্যাকে বিয়ে করবেন। শশাঙ্ক। রাজার private secretary আপনাকে টেলিগ্রাম করে জানিয়েছে নাকি ? না সত্যি, আমি শুনেছি-শোভার কাছে শুনেছি ; আরো দু’এক জায়গায় শুনেছি। শশাঙ্ক। আমি যা জিজ্ঞাসা করলুম তার উত্তর দিন; সত্যি আপনার অন্য জায়গায় বিয়ের সম্বন্ধ হচ্ছে ? আমার বিয়ে কি আমার হাতে ? শশাঙ্ক। তবে যে সে দিন আমায় আশা দিয়ে এলেন ? রুবি। আপনিওতো আমায় ভরসা দিয়ে এলেন, তারপর আর একটি বারও দেখা করলেন না ! শশাঙ্ক। দু’বার গাড়ী পাঠিয়েছি, তবু যখন আপনার দেখা পেলুম , তখন সশরীরে এসে গ্রেপ্তার করলুম। কার সঙ্গে বিয়ের সম্বন্ধ হচ্ছে ? তার নাম কি ? নাম জেনে আপনার লাভ ? শশাঙ্ক। দেখা করে ভদ্রলােককে সাবধান করে দিয়ে আসতে পারি। কি বলে সাবধান করবেন ? 'রুবি। রুবি। রুবি।

পথের সাথী
শশাঙ্ক। ব’লবো-হাশয়, অনুগ্রহ করে ওদিক পানে আর নজর
রুবি।
দেবেন না।
তিনি যদি আপনার কথা না শােনেন ?
শশাঙ্ক। প্রথমটা খুব ভদ্রলােকের মত সৎপরামর্শ দেব, হিতকথা
কবি।
রুবি।
বলবো।
কি হিতকথা বলবেন ?
শশাঙ্ক। বলবে, অতি উৎকৃষ্ট,দরের একটি রাজকন্যে আছেন--আপনি
তাকে বিয়ে করু!! তঁারতো বিয়ে করা নিয়ে কথা—তা সে
বিষয়ে তাকে নৈরাশ হতে হবে না।
তখনো যদি আপনার কথা না শােনেন ?
শশাঙ্ক। নিজমূৰ্ত্তি ধরবো, বিয়ের আসরে গিয়ে বরকে বলবাে-ভাগে
featch This Ruby is mine, who are you Mr.
হ য ব র ল ? এই না ব’লে রুবির হাত ধরে হিড়হিড় করে
টেনে নিয়ে আসব।
সত্যি, তুমি এইভাবে আমায় নিয়ে যেতে পার বিয়ের আসর
থেকে ?
শশাঙ্ক। খুব পারি । সত্যি বলছি, তােমার মিষ্টার বর হবার স্পর্ধা যিনি
রাখেন, তাকে বলে দিও ---ও সব চলবে না; সে কাল হলে
আমি তার সঙ্গে তলােয়ার নিয়ে যুদ্ধ করতুম !
রুবি। যেমন আয়েষার জন্যে ওসমান আর জগৎসিংহ যুদ্ধ করেছিল ?
শশাঙ্ক। হায়রে সেকাল ! None but the brave deserves the
fair.
১৩

তৃতীয় অঙ্ক
রুবি।
(ব- দরজাঃ মঃ বাঘা : কারণ
শােভার আবার ন্যাকামো হচ্ছে, ভিতরে এস।
হিরন্ময়। ভিতরে যাব ?
( হিসে: পাবেশ)
আপনি। আমি মনে করেছিলাম, আপনি চলে গিয়েছিলেন
না ?
রায়। নিকটে আমার একটি বন্ধুর কাছে গিয়েছিলাম। ফিরবার
পথে মনে হ’ল দেখে যাই, হয়তো এতক্ষণ আপনি ফিরেছেন।
( শশাঙ্ককে লক্ষ করি :1 ) আপনাকে কোথায় যেন দেখেছি !
শশাঙ্ক। হবে-বােধহয় কোথাও দেখেছেন।
হিরন্ময়। আমি এসে পড়ায় আপনাদের কি কিছু অসুবিধে হ’ল ?
শশাঙ্ক। আজ্ঞে হঁা, তা একটু অসুবিধা হ’ল বৈকি।
( শোভার প্রবেশ )
শােভা। ছােড়দা, তুমি কি মিথুক গো ! কোথায় তােমার ময়ূরপঙ্খী ?
( জনান্তিকে) ও রুবিদি, তোমার সেই বন্ধুর দাদা ? উনি আবার
কখন এলেন ?
( অমারের প্রবেশ )
অমর। এই যে হিরন্ময়, তুমি বুঝি যাই যাই করেও আর যেয়ে উঠতে
পারনি! তা বেশ করেছ, বেশ করেছ-যাওনি বেশ করেছ,
বস! ও, আচ্ছা এখন না হয় তুমি বাড়ী চলে যাও। শােন,
আসছে রবিবারে বরং এস ; আচ্ছা in the mean time
তােমার বাবাকে একবার—থাক্, দরকার নেই ; তার অনেক
কাজ ! আচ্ছা, আমিই বরং তাঁর কাছে একবার যাব।

পথের সাথী
হিরন্ময় । আচ্ছা—আমি তাহলে এখন আসি !
[ হিরন্ময়ের প্রস্থান ।
অমর। Now Mr. young man, I want to have some plain
talk with you--তােমার নামটি কি ?
শশাঙ্ক। শশাঙ্ক সেন ।
অমর।
শশাঙ্ক সেন ?
( নম্মদার প্রবেশ
•ম্মদ। আঃ তুমি আবার এখানে এলে কে ?
অমর। কথা আছে—তুমি যাও !
[ নম্মদার প্রস্থান ।
অর। আমি শুনলুম, তােমার কোন রাজকন্যার সঙ্গে বিয়ের সম্বন্ধ ঠিক
হয়ে গেছে। এরপর আর তাে তােমায় আমি আমার মেয়ের
সঙ্গে মিশতে দিতে পারি না।
শশাঙ্ক। আমি শ্ৰীমতী রুবি দেবীকেই বিয়ে করবো, কোন রাজকন্যাকে
আমি চিনি না !
অমর। তুমিতাে আর তােমার কর্তা নও। আমি শুনেছি তােমার বাবা
সেই রাজকন্যের সঙ্গেই তােমার বিয়ে দেবেন স্থির করেছেন ।
শশাঙ্ক। তিনি কি স্থির করেছেন না করেছেন আমার জানা নেই,
আমায় তিনি কিছু বলেন নি।
অমর। তােমায় বলেন নি, কিন্তু আরাে অনেককে বলেছেন। আমি
তােমায় অনুরােধ কচ্ছি, আমার মেয়ের সঙ্গে অত ঘনিষ্ঠভাবে
তুমি মিশােনা। কিম্বা যদি মিশতে চাও, তােমার বাবার কাছ
৯২

তৃতীয় অঙ্ক
অমর।
থেকে আমার নামে একখানা চিঠি লিখে আনবে—আর না হয়
তিনি নিজে এসে যেন বলে যান, আমার মেয়ের সঙ্গে তিনি
তােমার বিয়ে দেবেন।
শশাঙ্ক। আমি নিজে যদি আপনাকে কথা দিই ?
আমি তােমার কথায় বিশ্বাস করি, তুমি রবিকে বিয়ে
করতে পার। suppose তুমি রবিকে বিয়ে করলে—আর
তোমার বাবা সেই রাজকন্যার সঙ্গে তোমার বিয়ে দিলেন।
তার দুই পুত্রবধূ আনতে কোনই আপত্তি নেই। তিনি নিজে
দুই বিবাহ করেছেন—It is a hareclitary custom in
your family or it is a hareditary disease in
your family! অথচ আমি এবং আমার স্ত্রী-অমর।
মােটেই ইচ্ছা করিনে এরকম ঘটনা ঘটে—সুতরাং তুমি যদি
এখানে আর না এস, আমরা বড়ই আনন্দিত হব।
শশাঙ্ক। আচ্ছা, আমি আর আসবে না।
শােভা। ( জনান্তিকে ) রুবিদি ভাই-তােমার বাবা কিন্তু লােকটি
মােটেই ভাল না।
শশাঙ্ক। করবী শােন-বুঝতেই পাচ্ছ, তােমার বাবার তেমন ইচ্ছে
নয় আমার সঙ্গে তােমার বিয়ে হয়। আমি তোমায় ভালবাসি,
তােমায় দেখেই আমি বুঝেছিলাম—তুমি আমার হবে। যদি
ভুল বুঝে থাকি,আমায় ক্ষমা করাে !
[ শােভ। ও শশার প্রস্থান।
৩
৯৩

পথের সাথী
দ্বিতীয় দৃশ্য
বসন্ত বাবুর অন্তঃপুর
ভিতরের দিক হইতে প্রতিমাকে শরদিন ভাবিতেছি—
প্রতিমা। ওগো শােন—শােন একটা কথা
শরদিন্দু। এদিকে এস না? এখানে কেউ নেই—বাবা বাইরের ঘরে,
বড়মা গঙ্গ। নাইতে গেছে। এ প্রতিমার প্রবেশ । আচ্ছা, তুমি
আমায় ‘ওগাে হ্যাগাে বলে ডাক কেন ?
প্রতিমা। তা কি বলে ডাকবাে?
শরদিন্দু। তােমায় কতবার বলেছি up-to-date wife মাত্রই স্বামীর নাম
ধরে ডাকে।
প্রতিমা। আমি তা পারবাে না।
শরদিন্দু। সেইজন্যেই তাে শশা তােমায় অমন করে ঠাট্টা করে ! পুরো
শরদিন্দু না বলে—শরো কি ইন্দু, না হয় আদর করে শরে,
শরাে বলে ডেকো !
প্রতিমা। হ্যা, ঠাকুরঝি কোন ফঁাকে শুনে ফেলে বড়মাকে বলে দি?
শরদিন্দু। অতত ভয় করতে গেলে কি আর up-to-date হওয়া যায় ?
প্রতিমা। রাত্রে যখন আর কেউ থাকবে না, সেই সময়
শরদিন্দু। আর কেউ না শুলে আর কি মজা হ’ল ?
প্রতিমা। যাক্ ও কথা যা—এই দেখ, মা কত দুঃখ করে পত্র
দিয়েছেন “বড় সাধ ছিল, তােমরা দুটি বােন একঘরে থাকতে”।

তৃতীয় অঙ্ক
তুমি বাবাকে একবার বল । বড়মার ইচ্ছে এক জায়গায়,
ছােটমার ইচ্ছে আর এক জায়গায়—এই নিয়ে তো ঝগড়া
রাগারাগি চছে ? তুমি পরামর্শ দাও, দরকার কি এই নিয়ে
গণ্ডগােল করবার ? বড়মার কথাও মাথায় থাক, ছােটমার
কথাও মাথায় থাক—সুমির সঙ্গে ঠাকুরপাের বিয়ে হােক।
শরদিন্দু। তােমরা সবাই যে কি চক্ষে শশাঙ্ককে দেখেছ, তা তােমরাই
জান। আমার তো ইচ্ছে না সুমির সঙ্গে শশার বিয়ে হয়-
নইলে আমি ইচ্ছে করলে এতদিনে কলে হয়ে যেত। বাবা
আমার কথায় না বলতে পাৰ্ত্তেন না।
প্রতিমা। তাই তো বলছি, তুমি বাবাকে ঐ পরামর্শ দাও।
শরদিন্দু। সুষিতে। আমার পুর নয় যে ঐ অকালকুষ্মণ্ডের সঙ্গে আমি
তার বিয়ের সম্বন্ধ করবাে ?
প্রতিমা। তুমি ওর মত হতে পারনি বলে রাগ করে যাই বল, তাই
বলে সত্যিই তাে আর ঠাকুরপো খারাপ ছেলে না !
শরদিন্দু। না, খারাপ ছেলে না—তুমি সব খবর জান কি না ? কি কাণ্ড
করে এসেছে, শোভাকে একবার জিজ্ঞাসা করে দেখো।
বাদরটা একেবারে সেনবংশের নাম ডােবালে !
প্রতিমা। কেন, কি করেছে ঠাকুরপাে ?
শরদিন্দু। কোর্টশিপ করে ভায়া আমার ল’ভ করতে গিয়েছিলেন।
ওই সেই রুবি-রুবি, তার বাপসে বেটা বেজায় দুদে !
চিরকাল ছেলে ঠ্যাঙানাে তার অভ্যেস-একেবারে রীতিমত
পেণ্ডাই দিয়েছে। বড়মার সে সম্বন্ধ হয়ে গেছে।

পথের সাথী প্রতিমা। ঠাকুরপােকে মেরেছে ? শরদিন্দু। ঘরে ছেলে ঠ্যাঙানাে লিকলিকে একখানা বেত ছিল, তাই দিয়ে সপাস। তিনদিন তাে শশা বিছানা থেকে উঠতে পারেনি, লক্ষ্য করনি ? প্রতিমা। হ্যা, যেন একটু মনমরা হয়ে রয়েছে ! শরদিন্দু। কত টেণ্ডাইমেণ্ডাই করতে—আমি পাশ-করা মেয়ে বিয়ে করবো, কোর্টশিপ, করবাে, ল’ভে পড়বে-আর সে সব কথা মুখে আনে এখন ? প্রতিমা। কবির সঙ্গে বিয়ে হ’ল না সেতাে বরং ভালই হল ওর পক্ষে রুকুমপুরের রাজার মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হবে। শরদিন্দু। হ্যা, রুকুমপুরের রাজার তো আর খেয়ে দেয়ে কাজ নেই- ওই ছেলেকে মেয়ে দেবে। প্রতিমা। না—না, তুমি জান না ; আমি শুনেছি, তারা নাকি শীগ্‌গির আশীৰ্বাদ করতে আবে। ছােটমার বাবা চিঠি লিখেছেন। শরদিন্দু। তারা আর অমনি অমনি মেয়ে দিচ্ছে না ; তাদের নবাবী আমলের বিলি-ব্যবস্থা—সে সব কাণ্ডকারখানাই আলাদা। প্রতিমা। এ বাড়ীতে এখনই ঠাকুরপাের মান তােমার চেয়ে বেশি ; তারপর সে যদি রাজার জামাই হয়—এ বাড়ীতে যদি রাজকন্যা বউ হয়ে আসে, তখন তােমায় আমায় আর কেউ পুছবেও ; সুষি এলে আর কিছু বাড়াবাড়ি করতে পারতাে ! শরদিন্দু। আগে অধিবাসে টি কুক তারপর বিয়ে ! তার নাম রুকুমপুরের ;

তৃতীয় অঙ্ক
রাজা, তারা খবরের কাগজে বি-এ এম-এ দেখেই চোখ
তেলােয় তােলে না—তারা পাত্র বাজিয়ে নেবে।
প্রতিমা। ঠাকুরপোকে এজামিন ক’বুবে ?
শরদিন্দু। ক’রবে না ? ঘোড়ায় চড়া, হাতীচড়া, তলোয়ার-খেলা, দড়ির
ওপর দিয়ে সাইকেল চালানো, গঙ্গায় সাতার কাটা, বাঘ
শিকার করা—সে কত কি।
প্রতিমা। ও বাবা, তবে তারা বিয়ে দেবে ?—এ যে দেখছি জনক
রাজার ধনুক ভাঙা পণ !
শরদিন্দু। তবে আর নবাবী আমলের রাজা কিসের ? একটা পরীক্ষা
দিতে গিয়ে ভায়া আমার দাত চিরকুটে পড়বে। এ আর
এজামিনরকে ঘুষ দিয়ে ফাষ্ট হওয়া না !
প্রতিমা। ঠাকুরপো ঘুষ দিয়ে ফাষ্ট, হয়েছে ?
শরদিন্দু। তা ছাড়া আর কি ? সেবার এক সঙ্গে আই-এ দিলাম ; আমি
তাে আগে ও সব জানতাম না; ও ঘুস দিলে—আমার কাছে
ঘুষ
চাইতে এল ; আমি বল্লাম—কি ঘুস ? Never কিছুতেই
! তাই-না আমায় ফেল করে দিলে আর ওকে ফাষ্ট,
করলে ! আমি আর পড়লুম না কেন? ঘেন্নায়-ঘেন্নায় !
নইলে এতদিন আমিও ভালভাবে পড়লে এম-এতে ফাষ্ট হতে
পারতুম।
প্রতিমা। তা বরাবর ঠাকুরপো ঘুষ দিয়ে' ফাষ্ট, হ’ল,—সবকটা
একজামিনে ?
শরদিন্দু। বরাবর ; ভায়ার আমার প্রতিবার একজামিনের খরচ। পাঁচটি,
•ন
ลา

পথের সাথী হাজার টাকা। একজামিনারকে ডেকে খাইয়ে ওই বড়ম। নিজের হাতে সব্বাইকে ঘুষ দিয়েছে—আমি জানিনে ? ( শশাঙ্কর প্রবেশ ) শশাঙ্ক। অাচ্ছা দাদা, এরকম ডাহা মিথ্যে কথা গুলো কেন বল বলত? তুমি ভাবছ, বৌদি তােমার ঐ সব কথা বিশ্বাস করেছে ? শরদিন্দু। খবদ্দার শশা, আমার স্ত্রীর সঙ্গে কথা কইবিনে ! (স্থার প্রত) আমি কথা কইতে দেব না—ওর চরিত্র ভাল না, ও ঈশ্বর মানে না, ও নাস্তিক। শশাঙ্ক। আর আপনার ঐ স্বামীটি—বুঝছেন বৌদি-উনি একেবারে পরম সচ্চরিত্র, পরম ভক্ত, প্রভুপাদ গােস্বামী! শরদিন্দু। অমর। মাষ্টারের বাড়ী থেকে তুই মার খেয়ে আসি নি ? শশাঙ্ক। যা কচ্ছ তাই ক’র-বৌদির ফটো তােল আর “হারমােনিয়ম- শিক্ষা” দেখে হারমোনিয়া বাজাও—আমার কথায় থেক না। শরদিন্দু। না, তােমার কথায় থাকবো না?—তুমি একেবারে পীর পয়গম্বর কিনা ? কে না জানে তুই অমর মাষ্টারের মেয়ের হাত ধরে টেনেছিলি, অমর মাষ্টার তােকে আচ্ছা করে বিতিতে দিয়েছে ? শশাঙ্ক। আচ্ছা দাদা, তুমি কি মনে করেছ ? আমায় বাড়ী থেকে তাড়াবে ? তা আমায় বল্লেই পর, আমি এমনিই চলে যাই। প্রতিমা। না-না ঠাকুর-পাে, আমি ওঁর একটা কথাও বিশ্বাস কচ্ছিনে ; তুমি এস, আমার সঙ্গে এস–পান খাও’সে ! ৯৮ তৃতীয় অঙ্ক না বৌদি, পান আমি খাব না! দাদা, তুমি আমার হিংসে কেন কর? আমি যদি এজামিনে ফাষ্ট হয়ে থাকি, সেটা কি আমার দোষ ? আর রাজার মেয়েকে আমি বিয়ে করবে না- সেদিক থেকে তােমার ভয় পাবার কোন কারণ নেই ; আমার রাজশ্বশুর আমার সহায় হয়ে তোমার কোন ক্ষতি করবে না। প্রতিমা। না ঠাকুর-পাে, তুমি এস-তামায় একটা জিনিস দেখাব ; মাইরি ভাল জিনিস—তুমি কখনো দেখনি এর আগে। *শাঙ্ক। শ্ৰীমতী সুষমা দেবীর ছবি তো? [ প্রদ্য। দিন্দু। তুমি আমার কথা শুনলে না-শশাটার খোসামোদ ক’চ্ছ ; ভাবছো, ও তোমার বোনকে বিয়ে করবে ? প্রতিমা। তুমি যাই বল আর যাই কও-ঠাকুর-পাের যতই নিলে কর, পাত্র হিসেবে ঠাকুর-পাে তােমার চেয়ে ঢের ভাল পাত্র। লক্ষ্মীটি, রাগ করো না ? তুমি যাও, উদয়শঙ্করের নাচ দেখে এস —সকাল সকাল ফিরে।। আজ রাত্রে তোমার কানে কানে নাম পরে ডাকবো। [ প্রতিমা ও শশাঙ্কর প্রস্থান। ( বসন্তবাবুর প্রবেশ) কি—বড়বাবু যে! কোথায় চলেছেন ? • আমার মৃত্যুর কত বছরের ভিতর এষ্টেটটী উড়িয়ে দিতে পারবেন মনে কচ্ছেন- কত টাকার হণ্ডনোট কেটেছেন ইস্তনাগাৎ?

পথের সাথী শরদিন্দু। সে আমায় কেউ বলতে পারে না! বসন্ত। হুইস্কি, ব্যাণ্ডি কিছু ধরেছেন ? শরদিন্দু। বিজয়া দশমীর রাত ছাড়া আর কোন দিন সিদ্ধি পর্যন্ত খাইনে। বসন্ত। তাহলে তো তােমায় হয় একটা ফিল্ম কোম্পানি খুলতে হয়, আর না হয় ভায়ে-ভয়ে পার্টিশান্ সুট তাে আছেই। শরদিন্দু। তুমি তাে আমায় কেবল সব অপকৰ্ম্ম করতেই দেখ? আমার অদৃষ্টের দোয—আর কি বলব ! [ প্রস্থান। বসন্ত। ওরে গয়ারম—তামাক দে! ( জ্ঞানের প্রবেশ) কি জ্ঞানচর— ! কি খবর? জ্ঞান। বসন্ত। রুকুমপুরের রাজাবাবুদের চিঠি উত্তর দিয়েছে ? উত্তর দেবেনা? আপনি বলেন কি বাবু, আপনার চিঠির উত্তর দেবে না ! জ্ঞান। বসন্ত। পড়েছ ? জ্ঞান। বসন্ত। আজ্ঞে না। দেখি ; (পত্র পড়ার পর) এতাে বেশ ভালই। বেশ দেবে থােবে, মেয়ে ভাল ; তাহলে ওখানেই হােক—কি বলহে জ্ঞান ? আপনি যদি ভাল বােঝেন ভাল-তবে বড়মার যদি পছন হয় ; শুনেছি রাজা ভাল, তবে বড় খামখেয়ালী- কিরকম খামখেয়ালী ? জ্ঞান। বসন্ত।

তৃতীয় অঙ্ক
জ্ঞান।
সব নবাবী কেতার উপর কাজ-দেওয়ান কি ম্যানেজার নেই;
উজীর সাহেব, সেনাপতি—আবার প্রজাদের ভিতর কেউ
ইংরিজী পড়তে পারবে না—উর্দ, ফারসী পড়তে হবে !
মাথা টাথা খারাপ না তো?
স্তান। —আর সব বিষয়ে কোন গণ্ডগোল নেই ; খুব ভদ্র
লােকজন গেলে খুব খাতির-যত্ন করেন।
বসন্ত। তুমি ওদের খবর সব জান নাকি ?
জ্ঞান। আপনার শ্বশুর, ছোটমার বাপ এসেছিলেন, তার কাছেই সব
শােনা। তিনি তাে বলেন, খুব মহাশয় ব্যক্তি।
অচ্ছ চল একদিন সবাই মিলে গিয়ে মেয়ে দেখে আসা
যাক—আর রাজার সঙ্গেও আলাপ করে আসি।
শুনি। চিঠিখানার একটা উত্তর দিতে হবে তো ?
এই তো সবে চিঠি এলাে, এখুনি উত্তর কি ? আগে তােমার
বড়মা চিঠি পড়ুন—তারপর তো উত্তর। আচ্ছা, তুমি এখন
যাও জ্ঞান !
—এখন আর বড়মা অমত কবেন না। বাবুদের চিঠি
লেখা হয়েছে—আর কি তিনি এখন অমত করবেন ?
বসন্ত। দেখা যাক্ তার অনুগ্রহ ! ( জ্ঞানের প্রস্থান ) ওরে গয়ারাম
( গয়ারামের প্রবেশ) তােমার ছােটমাকে একবার ডেকে দেও।
[ গয়ারামের প্রস্থান।
( শরদিন্দুর প্রবেশ )
শরদিন্দু। বাবা, মাষ্টারমশাই আপনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন।
চান।

পথের সাথী
তোমার আবার মাষ্টারমশাই কে ?
শরদিন্দু। সেকালের মাষ্টারমশাই—এখানকার স্কুলের মাষ্টার অমরেশ্বর
বসন্ত। কেন, তার আবার কি দরকার?
শরদিন্দু। কি জানি, তার মেয়ের সঙ্গে শশাঙ্ক নাকি ল’তে পড়েছে ।
তাই তিনি বলছিলেন—
বসন্ত। ভে পড়েছে ? আচ্ছা যাও, তাকে ডেকে নিয়ে এস এখানে।
[ রদির প্রস্থান ।
( সরযুর প্রবেশ ।
সর।
কি বলছিলে গা ?
না—এখন না, একটু গা 'ক' দেও—মাষ্টারমশাই
আসছেন।
সরযূ।
মাষ্টারমশাই আবার কে ?
বসন্ত। কে জানি কে!—এখুনি সশরীরে আসবেন ; তােমার হবু বেয়াই
বাড়ী থেকে পত্র এসেছে।
সর। আমি বলছিলাম কি, যে শরদিন্দুকে একবার মেয়ে দেখতে
পাঠালে হােতনা? শুধু ফটো দেখে কি বুঝবে ?
( গমরেশ্বর ও শরদিন্দর প্রবেশ )
শরদিন্দু। আসুন মাষ্টারমশাই, বাবা এখানে আছেন।
[ সরযুর প্রস্থান।
অমর। একজন ভদ্রহিল
শরদিন্দু। উনি আমার ছােটমা—চলে গেছেন।
}
১০২

তৃতীয় অঙ্ক বান্ত। অমর। বসন্ত। বসুন মাষ্টারমশাই! ওরে গয়ারাম, মাষ্টারমশাইকে তামাক দে। আজ্ঞে—আমি তামাক খাই না। আচ্ছা,-আপনার কি প্রয়ােজন ? কথাটা একটু গােপনীয় । শরদিন্দু তুমি এখন যাও। [ শরদিন্দুর প্রস্থান। আপনার আর একটি ছেলে আছে ? অমর। বসন্ত। অমর। বসন্ত। হ্যা আছে ! তার নামটি কি—পর- অমর। বসন্ত। —শশাঙ্ক ! হাশশাঙ্ক সে; তিনি আমার ছাত্র ছিলেন—ঠার সম্বন্ধেই অমর। কথা। অমর। বলুন ! ছেলেটি বেশ স্মাট—আমার মেয়ের সঙ্গে তার একটু ঘনিষ্ঠত। হয়েছে। আমি অনুমান কচ্ছি, অবশ্য এখন আর অনুমানের কিছু নেই, আমি জানতে পেরেছি—They love each other. বসন্ত। অমর। বাংলায়- তারা পরস্পরকে ভালবাসে—এখন আপনি এবিষয়ে কি মীমাংসা করতে চান ? আমি কিছুই মীমাংসা করতে চাইনে। বােঝা গেল, ছেলেটি যাতে বিগড়ে না যায়, সেজন্যে খুব শীগ্‌গিরই তার বিয়ে দেওয়া আবশ্যক।

পথের সাথী অমর। বসন্ত। অমর। Exactly so. বাংলায়- আমারও সেই মত—আপনার ছেলের খুব শীগ্‌গিরই বিয়ে দেওয়া দরকার। আমার গৃহিণী বলছিলেন, আপনার ছেলে যখন আমার মেয়েকেই ভালবাসে—তখন আমার মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দিলেই ভাল হয়। আপনি জামাইকে কত টাকা দিতে পারবেন? টাকা! আমি স্কুল মাষ্টার, অত্যন্ত দরিদ্র ; আপনি জমিদার আপনি যখন দরিদ্র, দরিদ্রের ঘরে মেয়ের বিয়ে দিলেই তে। বসন্ত। অমর । অমর। ভাল হয়। আমারও তাই ইচ্ছে; কিন্তু আপনার ছেলে যে আমার মেয়েকেই বিয়ে করতে চান্ ! বসন্ত। গয়ারাম- ( গয়ারামের প্রবেশ) বসন্ত। ছােটবাবুকে ডেকে দেতো একবার ! গয়ারাম। দিই বাবু। [ প্রস্থান। অমর। আমি না হয় এখন চলে যাই ; আমার সামনে তাকে জিজ্ঞাসা ককূলে তিনি অপ্রস্তুত হতে পারেন। আপনি বরং পরে আমায় চিঠি লিখে জানাবেন । বসন্ত। মশায়, আমি চিঠিপত্তর খুব বেশী লিখিনে-আপনি মুখােমুখি উত্তর শুনে যান। ১০৪

তৃতীয় অঙ্ক
( শশাঙ্কর প্রবেশ )
বাবা আমায় ডাকছিলেন ?
হা; একে চিনতে পাচ্ছ ?
শশাঙ্ক। হাউনি আমার মাষ্টার মশাই ছিলেন।
বসন্ত। ওঁর মেয়ের সঙ্গে তুমি লভে পড়েছ ?
শশাঙ্ক। হঁা,-তঁাকে আমি ভালবাসি ; তাকে পেলে আমি সুখী হব ।
বসন্ত।
সুখী হবে ?
অজ্ঞে--হ্যা !
বসন্ত। না হয় সুখ নাই হ'লে। ওর মেয়ের সঙ্গে তােমার বিয়ে
হবে না-বুঝেছ ?
শশাঙ্ক। আমি বিয়ে করবো না।
বসন্ত। সে সব পরের কথা। আর যেন কখনো ওঁর বাড়ীতে গিয়ে
ওর মেয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা করােনা।
অমর। আমি এইজন্যেই তােমার উপর সে দিন কঠোর হয়েছিলুম
young mall; নইলে তুমি যদি আমার মেয়েকে বিয়ে করতে
—তােমায় মেয়ে দেওয়ায় আমার আপত্তি কিছু ছিল না; কিন্তু
তােমার বাবা-নমস্কার মশায় !
=
[ অমরের প্রস্থান।
বন্ত।
নমস্কার! তুমি এখন যেতে পার।
[ শশাঙ্কর প্রস্থান ।
( সরযুর প্রবেশ)
সরযু।
কে ও মিনসে?

পথের সাথী বসন্ত। সর। বসন্ত। বোধ হয় বাড়গিন্নীর দরুণ পাত্রীর বাপ। ঐ লক্ষ্মীছাড়ার মেয়ে, ঘরে আনবে নাকি ? আমার তো আর বড়গিন্নার মত মাথা খারাপ হয়নি ? আমি ওকে সৎ উপদেশ দিয়ে দিয়েছি—আর গণ্ডগােল করবে ন; তুমি ঠিক বলেছ, ছেলের তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়া দরকার --ইলে বিগড়ে যেতে পারে। কেন? কোনও গ ওগােল কিছু না—বিশেষ কিছু না ; আমি শাসন করে দিয়েছি—আপাততঃ কোন ভয় নেই। এই নাও, তােমার হবু বেয়াইয়ের সরযু। ; চিঠি । সর। বসন্ত। সর। কি লিখেছেন ? তুমি পড়েই দেখ না! পড়বাে’খন পরে-এখন তােমার মুখেই শুনি। অমরা বিয়ের দিনস্থির করে দিলে তারা একেবারে এসে আশীর্বাদ করে যাবে। বসন্ত। সরযু। বসন্ত । তোমরা একবার মেয়ে দেখে আসবে না ? সে তােমার বাবা যখন দেখেছেন, আমরা আর কি দেখবে? ভাল মেয়ে নাহলে কি আর তিনি সম্বন্ধ করেছেন? তবে পাকা দেখার আগে আমার একটিবার দেখা দরকার। ডাক্তার তাে আমায় নড়তে বারণ করেছে। যাক—শরদিন্দুকে একবার পাঠিয়ে দেব কিম্বা আমিই যাব একবার। ঐ ডাক্তারকে সঙ্গে নিয়েই যাব—ধরতে গেলে এইত আমার শেষ কাজ ।

তৃতীয় অঙ্ক সর। বসন্ত। সর। বসন্ত। আঃ, আবার ঐ সমস্ত অকথা-কুকথা মুখে আন ! দেনা- পাওনার কথা কিছু লিখেছে ? হ্যা, লিখেছে বৈকি ? এইতো ফদ্দ পাঠিয়েছে—বরাভরণ পাঁচ- হাজার, কন্যাবরণ দশহাজার, ফুলশয্যে, মক্কার কাপড়, দান- সামগ্রী পাঁচহাজার—এইতো বিশহাজার। এর উপর পাড়া- পীড়ি করলে আরো হাজার পাঁচেক উঠতে পারে। শরদিন্দুর শ্বশুর মেয়েজামাইকে এত দেয়নি। আরে রাম-রাম, শরদিন্দুর শ্বশুর—কিসে আর কিসে! সে এত কোথায় পাবে ?—স এর অর্ধেকও দেয়নি; তবে ছেলেছেলেও তা তফাৎ আছে। শশাঙ্ক কি দরের ছেলে, আর শর কি- তােমার ছেলের সঙ্গে কি আর বড়গিন্নীর ছেলের তুলন? সেইজন্যেই তো বড়দি ছেলেটিকে পর করে তুলছেন। বড়গিন্নীও পর করতে পারবে না, তুমিও আপন ক’বৃতে পারবে না ; বিয়েটি দিয়ে বউ ঘরে নিয়ে এস—যিনি আপন করবার সুড় সুড় করে তার আপন হয়ে যাবে ! ও কথা। যাক, এখন কি করবে তাই বল; এই দই বহাল রাখবে -না আরও হাজার পাঁচেক বাড়িয়ে দেবে ? তাহলে আর পাঁচহাজার টাকা নগদের কথা লিখে দাও। নগদ ? -না, সে ভাল হবে না। নগদ চাইলে তারা মনে করবে ছেলের বিয়েতে বসন্ত সেন ঘরের টাকা বার কতে চায় না। তার চেয়ে বরং মেয়ের জড়ােয়া গয়না বাবদ হাজার পাঁচেক বাড়িয়ে দেওয়া যাক্। সরযু। বসন্ত। সরযু। বসন্ত।

পথের সাথী
সে তুমি যা ভাল বােঝ তাই লিখে দাও ; ওসব আর আমি কি
বুঝি বল ? বরং একবার দিদিকে জিজ্ঞাসা করে দেখলে
পারতে। এই যে দিদি আসছে—তুমিই বলে দেখ না
( বিন্দুর প্রবেশ )
বিন্দু। এই দেখ চিঠি !
বসন্ত। কোথাকার চিঠি ?
বিন্দু। বাবা দিচ্ছেন মধুপুর থেকে। সেখানে চেঞ্জে গিয়েছিলেন
না ?—অসুখ বেড়েছে। ( চিঠি দিলেন )
বসন্ত। ( চিঠি পড়িয়া ) তাই তাে !
বিন্দু। আমাকে তাে রাত্রের ট্রেণেই যেতে হয় ?—লিখেছেন, পত্রপাঠ
চলে আসবে।
বসন্ত। হ্যা, তা যেতে হয় বৈকি! তিনি তাে আর তােম। বই
জানেন না। বুড়ােবয়সের অমুখ। আমার শরীরও যদিচ
খুব যে—তা আমার তাে এক রকম বারােমেসে ব্যাপার হয়ে
দাড়িয়েছে! আচ্ছা, তুমি যাও ঘুরে এস।
বিন্দু। জ্ঞান আমায় রেখে আসুক—কি বল ?
বসন্ত। হাজ্ঞানই যাক্। (বিন্দুর প্রস্থান) দেখ আবার ব্যাপার
দেখ ! বড়গিন্নী তাে চল্লেন বাপের বাড়ী। এদিকে ওরাও
তাড়াতাড়ি ক’চ্ছে। রাজাই হােক আর নবাবই হােক—
কন্যাদায় তাে বটে? শীগগির শীগগির ন্যাঠা চুকিয়ে ফেলতে
চায়। বড়গিন্নীর কাবার আবার ঠিক এই সময়টিতে দিন বুঝে
ক্ষ্যা !
১০৮

সর। বসন্ত। তৃতীয় অঙ্ক ত। তিনি যখন যাবেনই তখন আর উপায় কি ? নিজেরাই যা পারা যায় তাই হবে। নিজেরা ?—নিজেরা মানে তুমি আর আমি ? আমরা দেব ছেলের বিয়ে?—ছ’য়েছে আর কি ! তাহলে হয় গন্ধৰ্ব্বমতে আর না হয় সাহেবদের গিজেঁয় গিয়ে বিয়ে দিতে হয়। দ্বাদশটি লােককে নিমন্ত্রণ করে ফিরপাের কি গেলেটির বাড়ীতে খাবারের ব্যবস্থা করতে হয় ! বড়দি’ নাহলে এসব কাজ হতেই পারে না ? কি করে হবে—আমিতাে ভেবেই পাইনে ছােটগিন্নী। কত লােককে নিমন্ত্রণ করতে হবে, তাইত আমার জানা নেই। তুমিই কি ছাই জান? সে বড়গিন্নী এসে গাছ- কোমর বেঁধে উঠোনের মাঝখানটিতে যখন দাঁড়াবেন, তবে স্যু। সরযু। হবে ? এরপর আবার শশাঙ্কর একজামিন! তবে না হয় এখন পাকা দেখাটাই হয়ে যাক্। বিয়ের দু’চারদিন আগে আনতে পাঠিও । বসন্ত। পাকাদেখাই কি সােজা হাঙ্গামা ছােটগিন্নী ? সে সব খুঁটিয়ে গুছিয়ে গাছিয়ে কে করে বল দেখি? আমার দ্বারা তো হয়ে উঠবে না-হাটের যা অবস্থা! তা ছাড়া, ওঁর বাপের যদি বাড়াবাড়ি কিছু হয় ? না—ও দরকার নেই ; শশাঙ্কর একজামিনের পরই হবে ; তাতে বড়গিন্নীও একটু খুসি থাকবেন। ১০৯

পথের সাথী
সর।
বসন্ত।
সরযু।
সে আমি জানি গো জানি, তােমার সাত প্রাণ ঐ বড়গিন্নীর
পায়ে ঢালা ! নেহাৎ ওই তােমায় নেয় না—তাই।
আহা-হা, তুমি যে আবার ধান ভানতে শিবের গীত’ এনে
ফেছ! সে প্রাণ আমার যার পায়েই ঢালা থানা-কথা
সে নিয়ে নয়। কথাটা একটু বুঝে দেখ ; বিয়ে—পাকা দেখা
এসব কি সোজা কাজ? এসব কাজ বড়গিন্নীই করেন।
তিনি না থাকলে কি করে যে হয়ে উঠবে—এই হার্ট নিয়ে
আমিই বা কি করি ?
তাদের নবাবী মেজাজ—একজামিনের পর বল্লে তারা এখানে
দেবে কিনা? আর কোন মেয়ের বাপ তােমার ছেলেকে
পচিশ হাজার টাকা দেবে ?
তা ঠিক, পচিশ হাজার অবিশ্যি সহজে আর কেউ দেবে না !
শােভার বিয়েতে আমরাই দিয়েছি বড় জোর হাজার দশেক।
আচ্ছা, আমি বরঞ্চ একবার জ্ঞানের সঙ্গে পরামর্শ করে
দেখি। তারপর বড়গিন্নীকেও একবার বলে দেখবাে’খন।
তােমরা এমন ভাবটি দেখাচ্ছ—যেন সবচেয়ে গরজ বেশি
আমার বাবার আর আমার ।
না—ছােটগিন্নী তুমি রাগ কর না; গরজ আমারই—তবে
নাকি বডগিন্নী এসব করেন ; নইলে রাজার অভাবে রাজ্য
চলে, আর বড়গিন্নী না হলে ছােটগিন্নীর ছেলের বিয়ে হবে
—এও কি আর একটা কথার কথা হােল ?
[ উভয়ের প্রস্থান ।
বসন্ত।
সরযূ।
বসন্ত।

তৃতীয় অঙ্ক
( শশার প্রবেশ )
শশাঙ্ক। ক’ই বড়মা-কোথায় গো ?
( বি-দুবাসিনী ভিতর হইতে) কিরে শশাঙ্ক ?
( বিবাসিনা বাহিরে আনিবেন )
শশাঙ্ক। তোমার এখনও হয়নি বড়মা? হেরে গেলে ! এই বেট।
গয়াসুর, আমার বেডিংট। অার বড়মার সুটকেসট। নামিয়ে
নিয়ে আয়।
বিন্দু।
হারে, তুই আবার কোথায় চল্লি ?
শশাঙ্ক। তুমি যেখানে যাচ্ছে।
তুই আমার সঙ্গে যাবি কি ?—তাের এজামিন আসছে না?
শশাঙ্ক। সেইজন্যেই তো যাচ্ছি বড়মা ! (শােভার প্রবেশ ) তুমি চলে
গেলে এই শুভি পোড়ারমুখীটা আমায় একটু স্থির হয়ে পড়তে
দেবে ? যেটুকু পারেন, সে কেবল তােমার ভয়েই বইতে।
বিন্দু।
নয় ?
শোভা। শুনলে বড়মা—শুলে তুমি ? না বাপু, আমি কখনাে থাকতে
চাইনে—আমায় তুমি নিয়ে চল বড়মা! বাবাকে থাকবে ?
উনি যদি এখানে থাকেন, আর ফেল হন—সব দোষ এসে
পড়বে এই শােভা পােড়ারমুখীর উপর !
বিন্দু।
আচ্ছা, তােদের এ কি কাণ্ড বলতো? বাবার অসুখ, আমি
যাচ্ছি তার সেবা করতে ; তােরা গিয়ে যদি দিনরাত্তির আমায়
ঘিরেই থাবি, তাহলে আমার যাবার দরকার ?
শশাঙ্ক। সেইজন্যেই তো যাচ্ছি বড়মা! তোমার বাবার অসুস্থ ; এসময়

পথের সাথী
বিন্দু।
যদি আমরা তাকে ঘিরে না থাকি, তাহলে আর আমরা
থেকেই বা তার
করলুম
কি ? তােমার বাবাটি তাে আর কম
লাসটি নন্-তুমি তাে আর একলা তাকে ঘিরে থাকতে পারবে
না?—কাজেই আমাদের যেতে হচ্ছে ।
শো । আমি কিন্তু তাহলে যাবই যাব--তা বলে দিলুম। আমায়
ফেলে রেখে নিজের আদুরে ছেলেটিকে যদি সঙ্গে নিয়ে যাও,
আমি তাহলে এবার রক্ষে রাখবাে না কিন্তু! সব তাতেই
উনি এগিয়ে আসবেন—বাঃ রে ছেলে !
শশাঙ্ক-লক্ষ্মী বাবা, এবারটি শােভাই যাক্‌—তুমি এবার ভাল
করে এজামিনের পড়া তৈরী কর।
সে কেমন করে হবে বড়মা ! শােভা না থাকলে তাে আমার
এক দণ্ডই চলবে না। আমার খাবার সময় বাতাস দেবে কে ?
আমার ধােপার বাড়ীর কাপড় এলে কে আলমারীতে গুছিয়ে
রাখবে? তাছাড়া শােভার সঙ্গে খুনশুটি না করলে আমার
তাে পেটের ভাতই হজম হবে না।
হজম হবে না। তার চেয়ে আমরা
দু’জনেই তােমার সঙ্গে যাই, বড়মা !
বিন্দু।
ততাদের জ্বালায় আমার কি কোথাও এক পা নড় বারও যে।
নেই? তােদের মা কি একলা থাকবে ? না না তাের
একজন থাক্।
শশাঙ্ক। ছছাটমা তো একাই থাকতে ভালবাসে। বেশ থাকবে—কিচ্ছু
কষ্ট হবে না।
শােভা। একাই বা কিসের? বড়দা রয়েছে, বৌদি রয়েছে ।
।

তৃতীয় অঙ্ক
;
শশাঙ্ক । বৌদি পান সেজে দেবে—ছােটমা বসে বসে পানদোক্তা
খাবে।
শােভা। তােমার খালি ছুত! আমি যাই, চট্ করে কাপড়খানা ছেড়ে
নিইগে ; আমি কিন্তু যাব বড়মা—কিছুতেই ছাড়বো না।
[ প্রস্থানােত।
শশাঙ্ক। এই শুভি ! যাচ্ছিস বটে-কাল যখন প্রবােধের চিঠিখানা
আসবে, সেখানা গিয়ে পড়বে কিন্তু বৌদির হাতে! আমি
বৌদিকে ব'লে যাব—বৌদির পড়া হয়ে গেলে সেখানা
আমার নামে পাঠিয়ে দেবে ; অবিশ্যি সেজন্য বৌদিদিকে একটা
দামী সেন্ট
ঘুস
দিতে হবে !
শোভা। দাওগে যাও, দাওগে যাও—বয়েই গেল ।
[ প্রস্থান।
শশাঙ্ক। না—শুভিটে আজকে আমায় হারিয়ে দিলে ! (নেপথ্যে বসন্তবাবুর
গলা) বড়মা, বাবা আছেন—একটু স’রে থাকি।
[ প্রস্থান।
( বাস্তবাবুর প্রবেশ)
বসন্ত। তুমি যাচ্ছে। বড়বৌ—কিন্তু একটু অসুবিধে হ’ল যে !
বিন্দু। অসুবিধে কিসের ? সবই তো ঠিক করা রইল-লোকজন
সব পুরােনাে !
বসন্ত। শরীর আমার অবিশ্যি একরকম ভালই আছে, তবে—ব্যাধি-
মন্দিরং’; তা যাক্, শরীরের কথা না-যতদিন চলে চলবে,
চলে না চলবে-সেজন্যে না; শশাঙ্কর বিয়ের কথাটা।
৮

পথের সাথী
ওরা তাে এই চিঠি দিয়েছে—এই মাসেই বিয়ে দিতে চায় ।
চিঠিখানা পড়ে দেখলে পারতে—দেবে থােবে খুব ভাল। এর
পর ওদের আবার কি-সব গণ্ডগোল আছে—শশাঙ্করও
এজামিন; এমাসে হলে একরকম ভালই হত—কিন্তু সে
আর কেমন করেই বা হয় ।
বিন্দু। —সে আর কি করে হবে !
—তাই বলছি, সে আর কি করে হয়! তবে ওখানে গিয়ে
যদি দেখ, অসুখ তেমন কিছু কঠিন নয় ; তাহলে যদি দু’চার
দিনের ভিতর ফিরে আসতে পার—এখনাে সময় আছে, আজ
তাে সবে মাসের চৌঠো—হয়ে যেতেও পারে ।
বিন্দু।
আমিতাে সেদিন বলেছিলুম—ওর এজামিনের আগে বিয়ে
দেওয়া আমার ইচ্ছে নয়।
বসন্ত। হ্যা, তা তুমি বলেছিলে বটে ; তবে কি জাননা? সম্বন্ধটি
ভাল—পঁচিশ ত্রিশ হাজার দিচ্ছে, আর শশাঙ্কর গর্ভধারিণীর
বড় ইচ্ছে, ওঁর বাপেরও মান থাকে। তা তােমার অমত
হবে না—মেয়ে ভালই শুনেছি ; বড়বোমার চেয়েও গায়ের
রঙের জোলুস আছে। একটা ফটো দিয়েছে—মুখচোখ বেশ
ভাল। তাহলে ঐ কথাই লিখে দিই ? তােমার অমতে তাে
আর কোন কাজ হতে পারে না। তুমি যখন বলছ
এজামিনের পর—বেশ, একজামিনের পরই হবে ; আপাতত
পাকাদেখাটা হয়ে থাক্। তুমি কোন্ লাগাৎ ফিরতে
পাবে একটা খবর দিও-সেই বুঝে দিনস্থির করা যাবে।

তৃতীয় অঙ্ক বিন্দু। আমি তো তোমায় আগেই বলেছি, ওবাড়ীতে বিয়ে দেওয়াই অামার মত নয়। এ তোমার অন্যায় বড়বো। কেন—আবার বাড়ীর দোষটা বসন্ত কি হল ? বিন্দু। বসন্ত বিন্দ বাড়ীর দোষ আছে ! কেন? ছােটবেয়ের বাপের বাড়ীর দেশ, ছোটবৌয়ের বাপ সম্বন্ধ এনেছেন—তাই ? বনেদী ঘর, টাকাকড়ি দেবে, মেয়ে ভাল—তবে যে তাদের কি অপরাধ, তাতাে কিছু বুঝলাম না । তুমি যেগুলি গুণ ব’ছে, আমার চোখে তার সব কটিই দোস ! ছেলে আমি বেচবেন যে, কে কত দাম দিচ্ছে তাই দেখতে হবে। আমি মেয়ের শুধু রূপ দেখিনে। বনেদী বংশের আসে মূর্খ বাপের মেয়ে কি নাতনী আমি ইচ্ছে করে ঘরে আনতে চাইনে—আমি আমার ছেলেকে জানি। বসন্ত। তুমি যে দেখছি বনেদী জমিদার-বংশের উপরই চটা। কথাটা যে গায়ে লাগে ! নিজের বংশ বাঁচিয়ে কথাটা বলল। তা তোমার ছেলের মা কি বিমাতা না হয় গেরস্ত ঘরের মেয়ে—কিন্তু ছেলেটির গায়ে যে বনেদী বংশের রক্ত আছে । বিন্দু। লেখাপড়া শিখে সেটা সে কাটিয়ে উঠতে পারবে—সে বিশ্বাস আমার আছে। বসন্ত। মনে তাে হয় না। ও রক্ত বড় তাজা—সময়মত ঠিক নিজের পরিচয় দিয়ে যাবে ! বেশ তো, তাহলে ব’নেদী বংশের ছেলেকে ব’নেদী ঘরেই বিয়ে বিন্দু।

পথের সাথী দাও। আমার মতামত জানতে চেয়েছিলে জানিয়ে দিলুম। আমিতাে জানি, আমার মতে কাজ হবে না। যা ভাল বােঝ তাই কর—ওতাে আর সত্যি আমার পেটের ছেলে নয় । বসন্ত। আবার ও সব কথা টেনে আনছো কেন ? পেটের ছেলে না, পেটের ছেলের বাড়া—সে কথা সবাই জানে; কিন্তু যার পেটের ছেলে তার কথাও তাে একটু ভাবতে হয় ? বিন্দু। আমি ছেলের সুখশান্তির কথা ভাবি। ছেলের মায়ের জিদ বজায় রাখার কথা ভাবিনে, বা ছেলের মাতামহর মান- অভিমানের কথা বিচার করিনে। বসন্ত। আচ্ছ। ছােটবৌয়ের কথা থাক, ছোটবৌয়ের বাপের কথা আমি বলছি—আমি ভদ্রলােকদের যাহােক একটা কথা দিয়েছি, আমার কথাটা যাতে রক্ষা হয় তার একটা ব্যবস্থা কর । আচ্ছা, যাতে তােমার নামে দোষ না পড়ে—অথচ আপনা- আপনিই সম্বন্ধ ভেঙ্গে যায়, সে ব্যবস্থা আমি ক’বৃবাে। ( সরযুর প্রবেশ ) সর। তুমি যে শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবস্থাই করবে, তা আমি জানতাম যাক্ ; বিন্দু। দিদি ! বিন্দু। ছােটবো ! আমি তােমার ছেলের বিয়েতে কোন কথাই কইবােনা- এ আমার রাগ-অভিমানের কথা নয় ভাই! আমি সত্যি বলছি, তুমি যেখানে ছেলের বিয়ে দিয়ে শাস্তি পাও—সেখানেই ওর বিয়ে দাও। তুমি আছ, তােমার বাপ- দাদা আছেন, স্বামী আছেন, ছেলে আছে—যা ব্যবস্থা হয়

তৃতীয় অঙ্ক
তোমরাই কর। আমায় সময়মত চিঠি লিখাে—বিয়ের দু'দিন
আগে—যেখানেই থাকি না কেন, আমি চলে আসব ; আর
তোমার ক্ষোভ করবার কিছু আছে ?
বসন্ত। তবে আর কি ? ব্যস্ ব্যস—আমিও তাে তাই বলছিলাম।
বড়গিন্নী তাে সত্যি আর অবুঝ না। তাহলে পাকাদেখাটা
হয়ে থাক্‌ এখন ; তারপর শ্বশুরমশায়ের অসুখ—ঈশ্বরের
ইচ্ছেয় যদি বেশী কিছু না হয়—এই মাসেই বিয়ে হবে ;
নইলে ওর এজামিনের পর। সে ক্ষেত্রে কর্ম বিধীয়তে”।
কেমন—আর তোমার বর কিছু আছে ছোটগিন্নী ? তাহলে
তুমি তােমার বাবাকে চিঠি লিখে দাও! (বড়গিন্নীর প্রতি)
জ্ঞান তােমায় রেখে আসুক। যাক্, বাঁচা গেল বাবা!
( শশার প্রবেশ)
শশাঙ্ক। বড়মা, যাবে তােত চল—আর দেরী করলে ট্রেণ মিস করতে হবে।
বসন্ত। তুমি কি তােমার বড়মাকে ট্রেণে তুলে দেবার জন্যে হাওড়া
ষ্টেশনে যাচ্ছ ?
শশাঙ্ক। না—বড়মার সঙ্গে মধুপুর পর্যন্ত যাবাে।
বসন্ত। তবে আর জ্ঞানকে পাঠাবার কি দরকার ?
শশাঙ্ক। না—জ্ঞানদা আর শুধু শুধু কি করতে যাবে ? ওরে গয়ারাম,
আমার ট্রাঙ্কটা
বসন্ত। দু’দিনের জন্যে যাচ্ছ, তা ট্রাঙ্ক কি হবে?
শশাঙ্ক। দু’দিনের জন্যে কে বল্লে ? বড়মা যতদিন থাকবেন, ততদিনই
থাক্বাে।
১১৭

পথের সাথী বসন্ত। ততদিন থাকবে? শশাঙ্ক। আজ্ঞে হ্যা—তাই ঠিক করেছি। বসন্ত। ঠিক করেছ—বটে ? শে। (নেপথ্যে) চুল বাঁধবার আর সময় হ’ণনা বড়মা ! তুমি গাড়ীতে বসে যেমন হােক- ( শোভার প্রবেশ । বসন্ত। শােভ কি শ্বশুরবাড়ী যাচ্ছ নাকি ? (aষর প্রতি শোভার শাশুড়ী কি বউ পাঠাতে চিঠিপত্র লিখেছেন নাকি ? আমায় তাে দেয়নি—দিদিকে যদি দিয়ে থাকে; আমি কিছু সরযূ। জানিনে। শশাঙ্ক। আমি আর শােভা—দু’জনেই বড়মার সঙ্গে যাচ্ছি। বড়মার তাে শরীর ভাল নেই; তাই আমরা ঠিক করেছি, পালা করে রাত জেগে দাদামশায়ের সেবা করবাে। সরযূ। তুমি যাবে—তোমায় যে দেখতে আবে? শশাঙ্ক। হঠাৎ আমায় দেখতে আসবে ! কেন বল দেখি? আমি আগ্রার তাজমহলও না—ব্যাবিলনের ঝুলন্ত বাগানও না । হঠাৎ আমায় দেখতে আসবে ?কারা তারা ! সরযু। তােমার বিয়ে—পাত্তর আশীৰ্বাদ কৰ্ত্তে আসবে যে ! শশাঙ্ক। তার জন্যে আর তাড়াতাড়ি কি ? দাদামশায়ের অসুখটা সারু, বড়মা বাড়ী ফিরে আসুন—তবে তাে? সে এখন অনেক দেরী। এস বড়মা ! ১১৮

তৃতীয় অঙ্ক
শোভা। ছােটমা—তুমি বাপু, যত হাঙ্গামা জান ! দেখছো, বড়মার
বাবার অসুখ ; তার উপর বাপ বলে বাপজজ-ম্যাজিস্ট্রেট
বাপ ; বেচারীর মন খারাপ ! এখন বিয়ের সম্বন্ধ, আশীৰ্বাদ,
পাকাদেখা, হ্যান, ত্যান,অতাে কেন বাপু? এস বড়মা,
এখন তাড়াতাড়ি করে ট্রেণটা পেলে বাঁচি!
বিন্দু।
বৌমা !
ব? প্রতিমা দেব; আসি। প্রথম শাশুড়, পরে উদেশ্যে
শকে ও ছোটনাকে প্রণাম করিল।
;
বিন্দু।
বিন্দু। তােমার ছােটমাকে যত্ন করাে। তােমার শ্বশুরের শরীর
ভাল নয়, একটু তাড়াতুড়ি দেবে—যেন সময়মত নাওয়া খাওয়া
করেন। শরতের সঙ্গে দেখা হ’ল না—চিঠি দিতে বলা ;
আর ব'ল যেন অতাে বাইরে বাইরে না থাকে।
শােভা। সব বাইকে সব কথা ব’বে গো ব’লবে ; তুমি এখন এস—
ট্রেণটি ফেল না করে আর ছাড়বেন দেখ ছি !
( স্বামীর পায়ের ধুলো লইয়া) একটু শরীরের যত্ন নিও; ছেলের
বিয়ের কথা ভেবে ভেবে দেহটাকে অত তুচ্ছ করােনা।
( যাইবার আগে শােভা আসিয়া তাড়াতাড়ি পিতাকে নমস্কার করিল।
[ বিন্দু প্রভৃতির প্রস্থান।
(ছােটবউ গুম হইয়া দাঁড়াইয়া রহিল )
সম্মুখসমরে বড়গিন্নীর সঙ্গে বােধহয় পেরে ওঠা যাবেনা
—কি বল ছােটগিন্নী ?

পথের সাথী ! সরযূ। আমি আর কিছু বলতে চাইনে—বলবার কিছু নেই ! বসন্ত। তা ঠি। আমি ভেবেছিলাম, খুব চটে গিয়ে একটা কাণ্ড- কারখানা করবে—অন্ততঃ খুব ভীষণ রকম চীৎকার করবো; কিন্তু ভেবে দেখলাম চীৎকার করেই বা লাভ কি ? সরযু। তুমি আর কথা বলােনা—তুমি থাম ; তুমি যে পুরুষ মানুষ হয়ে কেন জন্মেছিলে—আমি কেবল তাই ভাবি। বসন্ত। মােটেই উচিত হয়নি—কিন্তু গােড়ায় যখন সে ভুল হয়ে গেছে, এখন আর উপায় কি ? রাগ করে আর কোন লাভ নেই ছােটগিন্নী ! এটুকু বেশ বােঝা গেল, উনি যদি ইচ্ছে করেন একদিন সকালে উঠে তােমার আর আমার হাতে দু’খানা গেরুয়া কাপড় দিয়ে ওই জ্ঞানকে যদি বলেন—“জ্ঞান, বাবুকে আর ছােটগিন্নীকে বনবাস দিয়ে এস।” জ্ঞান তখনি হাতজোড় করে বড়গিন্নীকে বলবে—“যে আজ্ঞে বড়মা!” আর আমায় এসে বলবে—“বাবু, অনুগ্রহ করে আপনাকে একটিবার বনবাস যেতে হচ্ছে।" সরযূ। কি করে যে তােমার মুখে হাসি আসছে, আমি তো দেখেই অবাক হয়ে যাচ্ছি। আমার তাে রাগে সর্বশরীর জ্বলে যাচ্ছে। বসন্ত। দেখ ছােটগিন্নী, বরফের চাঙ, শক্ত—কিন্তু আসলে সেটা জল ছাড়া আর কিছু নয় ; আমার এ হাসিও তাই—দেখতে হাসির মত, আসলে এটা হাসি না। তবে আমিও কিছু করূবো এবার—বড়গিন্নীকে আপশােষ করতে হবে ! জ্ঞান- জ্ঞানচন্দ্র !

তৃতীয় অঙ্ক
( জ্ঞানের প্রবেশ)
জ্ঞান।
বসন্ত।
জ্ঞান।
বসন্ত।
বাবু!
এক কেস ভাল ব্র্যাণ্ডী ।
ব্র্যাণ্ডী ? ব্র্যাণ্ডী কি হবে বাবু।
কি হবে জাম্বার তােমার কোন দরকার নেই—সন্ধ্যের আগেই
যেন পাই।
[ জ্ঞানের প্রস্থান।
আমায় তুমি বিয়ে করেছিলে কেন ব’বে ?
বলবাে—তবে আজ না, তিন দিন পরে বলব।
সর।
বসন্ত।

চতুর্থ অঙ্ক
প্রথম দৃশ্য
রুকুমপুর রাজসভা
[ উজার, সেনাপতি, সভাসদগণ, শরদিন্দু এবং রাজবেদ। রামনারায়ণ ]
শরদিন্দু। আর কতক্ষণ বসে থাকবাে দাদামশাই ! রাজাবাহাদুর কখন
আসবেন ?
রামনারায়ণ। এই এলেন বলে ভায়া ! রাজারাজড়ার ব্যাপার—সে সব
কাণ্ডকারখানাই আলাদা। তার উপর মহারাজ আবার নিষ্ঠাবান
কিনা! একেবারে জপতপ সেরে আসছেন। নিজের চোখে
দেখে যাও, তােমার বাবাকে গিয়ে বলতে পারবে।
বনমালী। কবিরাজমশাই, ইনিই বুঝি আপনার জামাইয়ের বড় ছেলে ?
রামনারায়ণ। হ্যা ভায়া ! দুই ভাইই সমান—একেবারে রামলক্ষ্মণ।
শরদিন্দু। দাদামশাই-একটা কথা শুনুন; আপনি তাে তাড়াতাড়ি আমায়
নিয়ে এলেন,, সব কথা আপনাকে বলা হয়নি। বাবার
শরীর অসুস্থ, তিনি আসতে পারলেন না। শশাঙ্ক বড়মার সঙ্গে
আমার দাদামশায়ের ওখানে গিয়েছে। তার মােটেই ইচ্ছে

চতুর্থ অঙ্ক
নেই রাজকন্যেকে বিয়ে করে—সে ল’তে পড়েছে। পাছে রাজা-
বাহাদুর রাগ করেন, তাই ছােটমা আমায় পাঠিয়ে দিলেন।
ব্যাপারটা আপনাকে খুলে বল্লাম। আমি এখন রাজাবাহাদুরকে
কি বলবাে, তাই বলুন ?
রাম। তুমি মেয়ে আশীৰ্বাদ করবে না ?
শরদিন্দু। আমায় আশীৰ্বাদ করে যেতে বলেন –আশীর্বাদ করে যেতে
পারি; কিন্তু শেষ পর্যন্ত শশাঙ্ক যদি বিয়ে না করে! আপনাকে
সব কথা জানানাে উচিত—শেষে আপনি না বিপদে পড়েন।
রাম।
আমিতাে বিপদে পড়েইছি ; ; তবে তুমি আজ এসেছ—তাই
রক্ষে ! এতদিন আমিতো মহারাজের সঙ্গে দেখাই কৰ্ত্তে
পারিনি—পালিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছি।
যা—আমি
ব’লবােখন, তােমার বাবা তােমায় মেয়ে আশীৰ্বাদ করতে
পাঠিয়েছেন।
( জনৈক ক:চারীর প্রবেশ)
কম্মচারী। মহারাজবাহাদুর সভায় আসছেন।
বনমালী। কবিরাজমশাই, আপনার জায়গায় এসে বসুন ।
রাম।
এই বসি ভাই! শরদিন্দু ভায়া, তুমি মহারাজকে রাজাবাহাদুর,
মহারাজ, হুজুর—এই সব বলে কথা কইবে।
শরদিন্দু। সে কি দাদামশাই ?-না আমি ওরকম খােসামােদ করতে
পারবাে না! আমি সাধারণ ভদ্রতা করে কথা কইবো।
রাম। সবাই হুজুর মহারাজা বলে—ওভাবে কথা না বল্লে মহারাজ
রাগ কৰ্ত্তে পারেন।

পথের সাথী
শরদিন্দু। তা আপনি অতাে ভয় পাচ্ছেন কেন দাদামশাই? আচ্ছা, আমি
রাজার মনের মতাে কথা কইব !
বৈতালিকের গান
মন আমার, গাওরে আজি বুকভরা এই গভীর সুরে
মহারাজের যশােগীতি এ বিজন রাজপুরে ;
যে কাল ছিল—আজকে নাহি, সেই কালেরই এই মহারাজ।
শান্ত্রী-মন্ত্রী সঙ্গে নিয়ে পরম সুখে পালেন প্রজা
অন্তঃপুরে রাজমহিষী মুখ দেখে না রবিশশী,
কেশে দিয়ে ধূপের ধোয়া মুখ দেখেন সােণার মুকুরে !
চল্লিশ দ্বারে আছেন দ্বারী হাতে তাদের তরবারি,
মুখে তাদের জয় মহারাজ, সদাই করেন মহামারি !
রাজকুমারী ভাগ্যবতী প্রসন্ন হর-পাৰ্বতী
মনের মত মিলবে পতি—বাজবে বাঁশী হৃদয়পুরে।
( রাজার প্রবেশ )
রাজা। উজীর বনমালী বাঁড়ুজ্যে!
বনমালী। মহারাজ!
রাজা।
আমাদের আজকের রাজকাৰ্য?
বনমালী। রাজকাৰ্য্য আরম্ভ হবার পূর্বে রাজকন্যার বিবাহ সম্বন্ধে একটি
প্রস্তাব আছে মহারাজ।
রাজা। কি প্রস্তাব ?
১২৪

চতুর্থ অঙ্ক
বনমালী। রাজবৈদ্য রাজকন্যের বিবাহের যে সম্বন্ধ করেছিলেন
রাজা। রাজবৈদ্য, তােমার জামায়ের চিঠির উত্তর এল ?
রাম।
মহারাজ, জামাই ছেলে পাঠিয়েছেন।
রাজা। কোথায় তােমার জামাইয়ের ছেলে ?
রাম।
আজ্ঞে, এই যে মহারাজ—এই ছেলেটি।
রাজা। ও, তুমি ? তুমি রাজবৈদ্যর জামাইয়ের ছেলে ?
শরদিন্দু। আজ্ঞে হ্যা মহারাজ !
রাজা। তােমার নাম কি ?
শরদিন্দু। শ্ৰীশরদিন্দু সেন ।
রাজা। তােমার বাবার নাম কি ?
শরদিন্দু। শ্ৰীযুক্ত বসন্তকুমার সেন ।
রাজা। সে এলনা কেন ?
শরদিন্দু। তার শরীর অসুস্থ !
রাজা।
কি অসুখ ?
শরদিন্দু। (একটু চিন্তা করিয়া) আজ্ঞে হার্টের প্যাল্পিটেশান্ !
রাজা। কিসের প্যাল্পিটেশান ?
শরদিন্দু। হার্টের প্যাল্পিটেশান্ ।
রাজা। তােমার সঙ্গে রাজকন্যের বিয়ের কথা আমি কইবনা, তােমার
বাবাকে এখানে আসতে হবে।
শরদিন্দু। আচ্ছা, আমি বাড়ী গিয়ে বাবাকে ব’বাে।
রাজা। তুমি আমার রাজধানী, রাজসভা—সব ভাল করে দেখেছ ?
শরদিন্দু। আজ্ঞে হ্যা মহারাজ, কিছু কিছু দেখেছি।

পথের সাথী
রাজা। কিছু কিছু দেখেছ—ঘোড়ার ডিম দেখেছ ! তাহলে কিছু
দেখনি। তােমার বাবাকে বলল, আমার রাজ্যটি হচ্ছে নবাৰী
আমলের মিউজিয়াম।
শরদিন্দু। মিউজিয়াম ? হা মিউজিয়াম-দেখে-শুনে তাই মনে হচ্ছে
বটে!
রাজা।
জাননা, নবাবের যা যা ছিল--আমারও তাই সব আছে ?
শরদিন্দু। তাই শুনেছি মহারাজ !
রাজা।
শুধু শুনবে কেন, চোখে দেখে যাও ! স্কুলে ইতিহাস
পড়েছিলে ?
শরদিন্দু। হঁ্যা, পড়েছিলাম।
আলিবর্দি-খার কথা পড়েছ ?
শরদিন্দু। হা পড়েছি।
রাজা। আমরা সেই নবাব আলিবর্দির আশ্রিত হিন্দু বৈষ্ণব রাজা।
কালক্রমে নবাব গেল—আমরা রইলাম ; পরিবারের ভিতর
কেতাটা রয়ে গেল নবাবী ! তুমি যখন আমার মেয়েকে বিয়ে
করবে, তখন তােমার সব কথা জানা দরকার।
শরদিন্দু। আজ্ঞে মহারাজা আমিতাে
রাজা। হা হা-শােন শােন ; অনেক দিন পর্যন্ত নবাবী কেতা ছিল
আমিই প্রথম ইংরিজী লেখাপড়া শিখে স্ত্রীকে নিয়ে রেলের
গাড়ীতে চড়ে কলকাতায় গিয়েছিলুম। একদিন রাত্রে স্বপ্ন
দেখলাম, নবাব সিরাজুদ্দৌলা আর মহারাজ মােহনলাল আমায়
ডেকে বলছেন—“নরেন্দ্র ! রুকুমপুরও যদি ইংরিজী হয়ে যায়,

চতুর্থ অঙ্ক
তাহলে আর বাকী রইল কি ? তার পরদিন থেকে আমি
পুরােদস্তুর নবাবী আরম্ভ করলাম। উজীর বনমালী বঁড়ুজ্যে
আছে, সেনাপতি কালীয়দমন নাগ আছে, অনঙ্গ কীৰ্ত্তনী আছে,
মঞ্জুরী বাইজী আছে; উজীর, (উজারের প্রতি ইঙ্গি) বাইজী
অনঙ্গ আর মঞ্জুরী
শরদিন্দু। মহারাজা, একটা কথা জিজ্ঞাসা করবো ?
রাজা।
ই-জিজ্ঞাসা করে !
শরদিন্দু। আচ্ছা, আপনার রাজ্যে সবার এরকম বৈষ্ণবী ধরণের নাম
কেন ?
রাজ।।
তোমার বুদ্ধি আছে। আমরা নবাবের অশিত বৈষ্ণব হিন্দু
রাজা; আমাদের কে নবাবী—কিন্তু সব বৈষ্ণব মতে! এই
যে বাইজী অনঙ্গ-মঞ্জুরী,—এস এস, বাইজীরা এস ; তারপর,
কেমন আছ শ্রীকৃষ্ণের কৃপায় ? বেশ ভাল আছি তো?
অনঙ্গ। ঠাকুর যেমন রেখেছেন মহারাজ ।
রাজা। তাহলে ভালই আছ। এই ছেলেটি রাজবৈদ্যের জামাইয়ের
ছেলে—আমার জামাই হলেও হতে পারে। ওকে একখানা
গান শুনিয়ে দাও—বৈষ্ণবী চালে বাইজীর ঢঙে।
গান
কৃষ্ণকলঙ্কিনী আমি-থাকি গােকুলে,
কুলবতী মুখ দেখে না, কয়না কথা চোখ তুলে !
একদিন সই—গিয়েছিনু যমুনার জলে,
শ্যাম তখন দাড়িয়েছিল কদম্বতলে ;
;
;
১২৭

পথের সাথী হাতে তার কুলনাশা বাঁশী বাজিয়ে কালা বলেছিল, ‘সখি! তােরে ভালবাসি। বাঁশী শুনে কেন রে মন হ'ল উদাসী । কুলকুম্ভ রেখে এলাম কালিন্দীকুলে। রাজা। উজীর, বাইজীদের অন্তঃপুরে নিয়ে যাও—মহারাণীজী আর মহারাজকন্যাজী গান শুনবেন। (বাইজীদের প্রস্থান) রাজ- বৈদ্য । রাম। রাম। মহারাজ! রাজা। তােমার জামাই তাে এলনা-এখন আমি কি করবো? তার ছেলেকে আটক করে রেখে রাজকন্যের সঙ্গে বিয়ে দেব? আজ্ঞে মহারাজ, আমার জামাইয়ের যে ছেলের সঙ্গে রাজ- করে বিয়ের সম্বন্ধ হচ্ছে, ইনি সে ছেলে নন! রাজা। সে ছেলে নন—তবে ঘোড়ার ডিমের কোন্ ছেলে ? রাম। আজ্ঞে—ইনি আমার জামাইয়ের বড়ছেলে। ছোটছেলের সঙ্গে রাজকন্যের বিয়ের প্রস্তাব হয়েছে মহারাজ। রাজা। তাই কি—উজীর বনমালী বাড়ুয্যে ? বনমালী। আজ্ঞে হ্যা মহারাজ। রাজা। ও—তাহলে তুমি আমার জামাই হচ্ছ না? শরদিন্দু। আজ্ঞে—না মহারাজ ! রাজা। তবে তুমি ঘােড়ার ডিম—কি করতে এসেছ? শরদিন্দু। আজ্ঞে মহারাজ—আমি মেয়ে দেখে মেয়ে আশীৰ্বাদ করতে এসেছি। ১২৮ চতুর্থ অঙ্ক রাজ। তােমার আশীর্বাদের মূল্য কি ? তুমি কি মনে কর রাজ- কন্যাকে আশীৰ্বাদ করা অত সহজ ! আগে তােমার বাবা এখানে আসবে, তারপর আমি যাব তােমার ছােটভাইকে আশীৰ্বাদ করতে, তারপর তােমার বাবা আসবে রাজকন্যাকে আশীৰ্বাদ করতে,তারপর বিয়ে হবে। এখন তুমি বাড়ী যাও ! শরদিন্দু। বেশ, তাহলে আমি চ’লাম দাদামশায়। [ প্রান্বিত। রাজা। হা শােন শােন—খেয়ে যাবে, বুঝলে কিনা?-উজীর, এই বসন্ত সেনের ছেলেকে রাজভোগ খাওয়াবার ব্যবস্থা করে দাও ; আর দরোয়ানদের বলে দাও ফটক বন্ধ করে রাখতে-খাওয়া হয়ে গেলে ফটক খুলে দেবে। উজার। যে অজ্ঞে মহারাজ। { সেনাপতি ও শরদিন্দুর প্রস্থান। রাজা। রাজবৈদ্য । রাম। মহারাজ! রাজা। তােমার জামাই আমার অপমান করেছে । রাম। মহারাজ, শুনলেন তাে তিনি অসুস্থ। রাজা। আমি বলছি-অপমান করেছে ; সে কি মনে করে ? রাম। আজ্ঞে মহারাজ! রাজা। তুমি কি মনে কর, তুমি আমায় যা বুঝিয়ে দেবে—আমি তাই বুঝবো ? আমি তােমার চেয়ে বুদ্ধিমানতা স্বীকার কর ? রাম। সে কি মহারাজ, আপনি আমাদের সকলের চেয়ে বুদ্ধিমান। ১২৯ পথের সাথী রাজা। রাম। রাজা। রাম। না-না, সকলের চেয়ে না—সকলের 1.চয়ে বোকা; শুধু তােমার চেয়ে বুদ্ধিমান-বুঝেছ ? বুঝেছি মহারাজ ঘোড়ার ডিম বুঝেছ ! তোমার জামাই এলনা কেন ? ঘােড়ার ডিম ছেলেকে পাঠিয়েছে কেন ? ছেলের বাপ হয়েছে বলে সে কি ভাবছে আমি হাত জোড় করে তার দোরে যাব ? আজ্ঞে মহারাজ, তা কি কখন ভাবতে পারে ? আমি তা শুনতে চাইনে—সে কি মনে করেছে ? আমি তাকে এখানে এনে রীতিমত শিক্ষা দিয়ে দিতে পারি—তা জানাে ? আজ্ঞে হ্যা—জানি; মহারাজ ! ঘোড়ার ডিম জানাে! জানলে এতদিন তােমার জামাই তার ছেলেকে নিয়ে এখানে হাজির হতো। আমি না হয় নিজে একবার জামাইবাড়ী যাই মহারাজ ? নাতোমায় এক। ছেড়ে দিতে পারি নে ! যদি তুমি রাজা। রাম। রাজা। রাম। রাজা। পালাও ? রাম। মহারাজের রাজ্য ছেড়ে আর কোথায় পালাব বলুন ? রাজা। তােমার জামাই কি আমার চেয়ে বড়লােক ? রাম। আজ্ঞে-না মহারাজ! আমার চেয়ে বড়বংশ ? রাম। মহারাজ-আপনার চেয়ে বড়বংশ আমাদের সমাজে আর কোথায় আছে? রাজা। তবে সে নিজে এলনা কেন? ১৩০

চতুর্থ অঙ্ক
রাম। অজ্ঞে বােধ হয়-
বাজা । ঘোড়ার ডিমের বােধ হয়-আমি আসল কারণ জানতে চাই ?
কালীয় দমন!
কালীয়। মহারাজ!
রাজা।
এই বসন্ত সেন আর তার ছেলেকে ধরে আনতে পারবে?
উজীরের মুখের দিকে চাইছ কি ?
কালীয়। আজ্ঞে মহারাজ-ভাবছি যদি পুলিস কেস্ হয় ?
রাজা। হা হা—পুলিস কে হবেই ; আমি মােকর্দমা করবোনা-
তােমাকে জেলে যেতে হবে।
কালীয়। ওর বাবা !
এম।
তার দরকার কি মহারাজ ?--আমিই জামাইবাড়ী গিয়ে
তাদের একেবারে সঙ্গে করে নিয়ে আসি।
রাজা।
যদি না আনতে পার, তােমার সমস্ত জমিজমা রাজসরকারে
বাজেয়াপ্ত হবে ! আর আমার সেনাপতি তোমার জামাইয়ের
রাজ্য আক্রমণ করবে।
রাম। মহারাজ, আমার জামাইয়ের তো রাজ্যটাজ্য কিছু নেই ?
রাজা।
রাজ্য নেই—রাজধানী আছে তো?
রাম।
না মহারাজ-রাজধানীও নেই ।
রাজা। তবে কি ঘােড়ার ডিম আছে ? সে কোথায় থাকে ?
রাম।
শিবপুরে।
রাজা। শিবপুর আক্রমণ করব। শিবপুর কার রাজধানী ?
রাম। আজ্ঞে শিবপুর কারো রাজধানী নয় মহারাজ ।

পথের সাথী
রাজা। ও—শিবপুর রাজধানী নয় ? তাহলে তােমার জামাইকে ক্ষমা
করে দেব। কিন্তু তােমার ভিটেমাটি সব যাবে—মনে থাকে
যেন!
রাম। আর যদি বিয়ে দেওয়াতে পারি মহারাজ ?
রাজা। তুমি হবে বড় উজীর, আর বনমালী হবে ছােট উজীর ।
আচ্ছা, আমি এখন পরিশ্রান্ত—আমি এখন অন্তঃপুরে চলুন !
[ সেনাপতি ও মহারাজার প্রস্থান ।
রাম।
ওহে বনমালী, কি করা যায় বলতো ?
উজীর। আপনার জামাইকে ডেকে আনুন ; ছেলের বিয়ে দেবেন,
মেয়েটি ভাল-তাদের অপছন্দ হবে না !
রাম।
কি জানি, কেন যে মতে তখন রাজকন্যার বিয়ের সম্বন্ধ
করবো ব’ল্লাম !
উজীর। মহারাজের ভাবগতিক সব জানেন তাে? কেন এ সব
হাঙ্গামার ভিতর যেতে গেলেন ?
রাম। জামাই হয়তাে মহারাজের এই সব খামখেয়ালের কথা শুনছে ;
তাহলে বিয়ে যা হবে, তাতাে বুঝতেই পাচ্ছি !
উজীর। আমাদের না হয় কোন চুলােয় কিছু জোটেনা—এখানে
মােসাহেবি করে যা দু’দশ টাকা পাই। বাইরের ভদ্রলােককে
এর মধ্যে আনে কেউ ?
রাম। এনেছিলাম,-বাইরে এখনো রুকুমপুর রাজাদের নাম আছে
তাে ?
উজীর। তালপুকুর নামই আছে— ঘটী ডােবেনা।

চতুর্থ অঙ্ক
রাম। দেখ ভাই, বিয়ে যদি না হয়—তুমি আমায় রক্ষে করাে!
উজীর। ঘুরে তো আসুন, তারপর ফিরে এসে আমার সঙ্গে দেখা
করবেন।
রাম। দেখি, ছেলেটাকে আবার কোথায় নিয়ে গেল ; সেও রগচটা
ছেলে—একটা কাণ্ডটা না করে বসে ।
(সেনাপতি, রাজা ও দু'জন লেঠেলের প্রবেশ)
রাজা। রাজবৈদ্য।
রাম। মহারাজ!
রাজা। তুমি একা যাবেনা--তোমার সঙ্গে দু’জন লেঠেল যাবে।
এরা দেখবে—তুমি না পালাও ; তােমার জামাইকে আর
তার ছােটছেলেকে হাতে হাতকড়া দিয়ে বেঁধে নিয়ে আসবে।
রাম। হাতে হাতকড়া দিলে তারা কি আসবে মহারাজ?
রাজা। আচ্ছা, অর্ধেক পথ এলে তারপর হাতকড়া লাগাবে।
রাম। হাতকড়া না দিলেই তাে ভাল হয় মহারাজ, ভদ্রতাও
রাজা। তাই কি?—উজীর বনমালী বাঁড়ুয্যে।
উজীর। তিনি আপনার বেয়াই হবেন—ছাতকড়া লাগালে কি
ভাবেন !
রাজ।। আমার
অপমান করেছে যে—আমি তার প্রতিশােধ
নেবােনা? আচ্ছ। র’সো, আমি যদি খুব উদার প্রতিশোেধ
নিই—
উজীর। আপনার সেই রকম প্রতিশােধ নেওয়াই দরকার।

পথের সাথী
।
;
রাজ।। আচ্ছা, হাতকড়। মাপ করে দিলাম ! দু’গ তাঞ্জাম পাঠিয়ে
অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে নিয়ে আসবে।
উজার। তাঞ্জাম তাে নেই মহারাজ ?
রাজ।। তবে কি ঘোড়ার ডিম আছে ? তােমরা মানুষকে এত
বিরক্ত করতেও পার ! আচ্ছ। যা-তাঞ্জামের দরকার নেই;
দু’খন। রিক্স' করে মহা সমারোহের সহিত নিয়ে আসবে
বুঝেছ ?
রাম। আজ্ঞে হ্যা-বুঝেছি।
রাজ। ঘােড়ার ডিম বুঝেছ !
( শরদিন্দুর প্রবেশ )
রাজা। এই যে-খাওয়া হয়েছে ?
শরদিন্দু। আজ্ঞে—হ্যা মহারাজ ।
রাজা। কেমন খেলে ?
শরদিন্দু। ভালই ।
রাজা। আচ্ছা—এইবার যেতে পার; হা-শােন ; তােমার বাবাকে
আর তােমার ছােটভাইকে পাঠিয়ে দেবে—বুঝেছ ?
শরদিন্দু। হা-বুঝেছি !
রাজা। ঘােড়ার ডিম বুঝেছ !
[ প্রস্থান।
শরদিন্দু। দাদামশাই, আপনার কি মাথা খারাপ ?—আমায় এই পাগল।
গারদে এনে পুরেছেন?
দয়া করে এখন গেটটা খুলে
দিতে বলুন—ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে দম ফেলে বাঁচি।
বাবা!
[ প্রস্থান।
১৩৪

চতুর্থ অঙ্ক দ্বিতীয় দৃশ্য মধুপুর-হরমােহনের বাসাবাড়ী হরমােহন, শোভj ও বিন্দুবাসিন গান। ওমা গৌরী, তুই পরের ঘরে কেমন ছিলি বল ? মুখখানি তাের আঁধার কেন, চোখদুটি ছলছল ! জামাই সাথে আসেননিকো, তাই কি চোখে জল ? সতীন নিয়ে করিস্ মা তুই ঘর- সেই নাকি তার আপন শুনি, তুই নাকি তার পর? পাষাণ প্রাণে কত ব্যথা পাই যে নিরন্তর। ওমা! আর তােরে দিবনা যেতে যদি আপনি জামাই আসেন নিতে সঙ্গে নিয়ে ভূতের দল । এ গান তােকে কে শেখালে দিদি ? ( বিন্দুর প্রতি) তুমি এখন আর আমায় ছেড়ে যেওনা মা—শেষ দিন কটা আমার কাছেই থাক মা। বিন্দু। থাকবে বৈকি বাবা? যাই যদি—দু’দশ দিনের জন্যে যাব ; তারপর আবার ফিরে আসবাে। শশাঙ্কর একজামিন হয়ে গেলে ওর বিয়েটাতে। দিতে হবে?—সেই সময় একটিবার যাব!

পথের সাথী
শােভা। ছোড়দার কোথায় বিয়ে দেবে বড়মা ? রুবিদির বাবা
সেদিন ওরকম করে বল্লে ; কবিদি খুব ভাল, রুবিদির বাবাটা
যেন কি ? লােকটাকে মােটেই ভাল লাগে না।
বাপ-ঠাকুরদাদাগুলো ভারি অবিবেচক—পঞ্চাশ বছরের পর
সংসার আগলে থাকাই অন্যায় ! যে আহাম্মক বুড়াে বয়সে
সংসার জড়িয়ে ধরে বসে থাকে, আর মনে করে—সেই
সেকালই আছে, একালের ছেলেমেয়েরা তাে তাকে পছন্দ
করবেই না ?
শােভা। তুমি তাে খুব ভাল দাদু ! আমার বাবাও খুব ভাল না—কিন্তু
তাই বলে রুবিদির বাবার মত না ; রুবিদির বাবাটি যেন
ঠিক একটি মাষ্টার মশাই।
অঃ শােভা! নিন বাবা–খান ; আপনার চিরদিন চা খাওয়া
অভ্যেস ! ( ওভালটান দিল )
ওভাণ্টীনের কিছু দরকার নেই মা—দুধ হলেই আমার
বিন্দু।
যথেষ্ট হবে !
( শশাঙ্কের প্রবেশ)
শশাঙ্ক। দাদু, আপনি বড্ড শীগগির শীগগির সেরে উঠছেন !
কেন, আমার সেরে ওঠায় তােমার কোন আপত্তি আছে
নাকি ?
শশাঙ্ক। আপত্তি একটু আছে বৈকি ? অবিশ্যি আপনি সেরে উঠুন
—কিন্তু লােকে জানুক, আপনার অসুখ সারেনি।
তাহলে কি হবে ?

চতুর্থ অঙ্ক
শশাঙ্ক। তাহলে বড়মা আপনার এখানেই থেকে যাবেন—আমরাও
থাকবো।
বাড়ীতে যাওয়ায় তােমার আপত্তিটে কিসের ?
শােভা। তা বুঝি জানেন না দাদু ? বাবা আর ছোটমা কোথাকার
এক রাজকন্যের সঙ্গে ছােড়দার বিয়ে দিতে চায় ; ঘােড়দা
রাজকন্যাকে বিয়ে করতে চায় না—রবিদিকে বিয়ে করতে
চায়। ছােড়দা তাই পালিয়ে এসেছে।
শশাঙ্ক। হ্যা—পালিয়ে এসেছে ?
আচ্ছা, কতদিন আমার অসুখ থাকলে তােমার সুবিধে হয় ?
শশাঙ্ক। পুরাে ফান মাসটা ?
তথাস্তু! ফাল্গুন মাস না হয় কাটলো, তারপর বৈশাখের
কি উপায় হবে? বৈশাখ মাসে তো তাের বাপ আর তােকে
ছাড়বে না ?
শশাঙ্ক। এখন যে শিয়রে সংক্রান্তি ?—সে ব্যবস্থা আমি করবো ।
তা তাের এরকম অনাসৃষ্টি স্বভাব কেন হ’লরে,-রাজকন্যে
ছেড়ে ইস্কুল মাষ্টারের মেয়ে বিয়ে করতে সাধ ?
শশাঙ্ক। সাধটা অবিশ্যি মেয়ের বাপকে দেখে হয়নি—মেয়েটিকে
দেখেই হয়েছিল ।
বিন্দু।
হারে শশাঙ্ক, শিবপুরের কোন চিঠিপত্তর পেয়েছিস?
যেমন ছােটমা, তেমন বাবা—চিঠিপত্র লেখার অভ্যেস
দু’জনেরই সমান !
বিন্দু। মনটা ভাল লাগছে না বাবা, তুই বরং একটা প্রিপেড, তার

পথের সাথী
করে দে! সাত-সাতটা দিন হয়ে গেল, একটা খােজখবরও
নেই ?—এমন মানুষ সব ! ওরে শোভা, তুই ওসব রাখ বাপু !
তুই বাগান থেকে আমার পূজোর জন্যে দুটো ফুল তুলে নিয়ে
আয় ।
[ উভয়ের প্রস্থান ।
বিন্দুকে এইজন্যে আমার আনতে ইচ্ছে হয় না-বুঝেছ শশাঙ্ক ?
ও থাকতে পারে না।
শশাঙ্ক। আজ্ঞে হ্যা-বুঝেছি বৈকি ? তবু আমর সঙ্গে আছি তাই
নইলে বােধ হয় দুটো দিনও থাকতে পারতেন না। আমার
বাবাটি বেশ ভাগ্যবান পুরুষ ! নইলে উনি যে রকম কাজ
করেছেন-বড়মার ওঁর মুখ দেখবার কথা নয় !
তুমি তাই বলে ওকথা মুখে এনোনা ভাই ! ওকথা বললে
তােমার অপরাধ হয়।
শশাঙ্ক। অপরাধ হলে আর কি কচ্ছি বলুন! মনে যখন আসে তখন ।
মুখে বলায় আর দোষ কি? আচ্ছা দাদু, আপনিতো এক
সময় young man ছিলেন ?
তােমার কি মনে হয় আমি চিরদিনই এই রকম ?
শশাঙ্ক। সেটা অবিশ্যি কল্পনা করে নিতে হয়—প্রত্যক্ষ সত্যতো চোখের
সানে ! আচ্ছা, বাবা যখন আবার বিয়ে কল্লেন—আপনি কি
ব’লে বড়মাকে আবার ও বাড়ীতে পাঠালেন ? আপনার মত
শিক্ষিত লােকের পক্ষে কি করে এটা সম্ভব হয়েছিল, আমি
ততা ভেবেই ঠিক করতে পাচ্ছিনে!
প্রথমটা চটে গিয়ে পাঠাইনি কিছুদিন। মাসদুই পরে

চতুর্থ অঙ্ক
মেয়ের মুখের দিকে চেয়ে দেখি-মার আমার মুখখানি শুকিয়ে
যাচ্ছে ! ভাবলুম, 'ভগবান তাে এই ব্যবস্থাই করলেন—আমি
আবার খােদার উপর খােদকারী করতে গিয়ে ব্যাপারটাকে
আরাে জটিল করে না ফেলি ।
*** That eternal Hindu mentality-4997101 * 164701,
ভগবান করলেন ! ভগবান কিছুই করেন না—মানুষই করে।
দিন দেখি ভগবান রাজকন্যের সঙ্গে আমার বিয়ে? বুঝবো
বানের কেরানি ?
তাহলে মনে হচ্ছে যেন ঐ রাজকন্যের সঙ্গেই তােমার
বিয়ে হবে।
শশাঙ্ক। কখনাে না, কিছুতেই না—আপনি দেখে নেবেন।
আচ্ছা, রনজা যদি রাজকন্যের সঙ্গে অর্ধেক রাজত্ব দেয় ?
শশাঙ্ক। আমি যদি বড়মার বাবা হ’তুম, আর বাবা যদি আমার জামাই
হ’তেন, আমি কিছুতেই বড়মাকে ওবাড়ীতে আর পাঠাতুম
না।
তােমার বড়মাকে আমি যদি আর না পাঠাতুম তাে তােমার
বড়মা তােমার মতন ছেলেটি কোথায় পেতেন ?
শশাঙ্ক। আমি তাহলে বোধ হয় একেবারে গণ্ডমূর্খ হয়ে যেতুম ! কি
বলেন দাদু ?—ভগবান লােকটা মােটের উপর খুব খারাপ না।
দু’একটা কাজে গণ্ডগােল করে ফেলে বটে, তবে শেষ পর্যন্ত
অন্যদিক থেকে জের টেনে এনে শেষরক্ষা করবার চেষ্টা করে।
ভগবানের খুব সৌভাগ্য ব’তে হবে, তুমি তার কাজের

পথের সাথী appreciate কচ্ছ! তাহলেই বােঝ, নেহাৎ যদি রুবির সঙ্গে বিয়ে না হয়ে রাজকন্যের সঙ্গেই তােমার বিয়ে হয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত ভগবান একরকম করে শেষ রক্ষে করবেন। এ ব্যাপারে আমি কিন্তু ভগবানকে challenge করতে পারি রুবি or no •omracle! রাজকন্যের সঙ্গে আমার বিয়ে হবেনা, এটা ঠিক । ( রবি ও শোভার প্রবেশ ) শোভা। এই দেখ ছোড়দা-কাকে সঙ্গে করে এনেছি ! দাদু, বলুন তো এ মেয়েটি কে ? শশাঙ্ক। একি—আপনি। আপনি এখানে কেমন করে এলেন ? শােভা। (হরমােহনের কানে কানে) এই সেই রুবিদি। তুমিই আমাদের রুবিদি ? আরে, এস এস–রুবিদি এস ! ( রবি হরমােহনকে প্রণাম করিল ) তাহলে ভগবান বােধ হয় রাজ- কন্তের হাত থেকে তােমায় মুক্তি দিলেন শশাঙ্ক ! বাঃ-বেশ মেয়েটি তাে! শােভা। আমাদের বাড়ীর সামনে দিয়ে রুবিদি যাচ্ছিল—আমি দেখতে পেয়ে ধরে নিয়ে এসেছি। রুবিদির মাও সঙ্গে এসেছেন ; তবে এক রক্ষে—রুবিদির সেই বাবাটি সঙ্গে নেই । তােমরা কি Changeএ এসেছ নাকি? ঠিক চেঞ্জে না—আমরা এখানে বেড়াতে এসেছি। এখানে বুঝি কোন আত্মীয় আছেন—তারই ওখানে? রুবি। তারা ঠিক এখানকার না ; আমার একটি বন্ধু আছেন—তারা রুবি। ; ১৪

চতুর্থ অঙ্ক
হর।
দুই ভাইবােন আর তার মা এখানে এলেন ; আমাদের সঙ্গে
তাদের খুব ভাব কিনা?—তাই আমাদেরও সঙ্গে নিয়ে এলেন !
হব। তা বেশ হয়েছে ! তােমায় আমি খুব চিনি ; আমার শশাঙ্ক
দাদা আর শােভা দিদি বােজ বার আষ্টেক করে তােমার নাম
করেন। { শশাঙ্কের প্রতি) তুমি রুবিদির সঙ্গে একটু কথা কও।
শোভা। রুবিদি কি চমৎকার গান করে, এক্ট করে—আপনি যদি
শোনেন দাদু ! সেই—জয়সিংহ সেজে কেমন বল্লে ! অপর্ণাকে
জয়সিংহ ভালবাসে তো ? রুবিদি কেমন সব ভালবাসার কথা
বল্লে ! অবিকল—যেন সত্যি সত্যিই তাকে ভালবাসে ; অথচ
মমাটেই না—দু’জনেই মেয়ে !
আমার শশাঙ্ক ভায়ার সঙ্গে সেই রকম acting কচ্ছনা তে
রুবিদি?'ভালবাসার কথা বলছ—অথচ এদিকে মােটেই না ।
শোভ। না দাদু, ছােড়দাকে রুবিদি সত্যি সত্যিই ভালবাসে। আর
ছােড়দাও রুবিদিকে—
শশাঙ্ক। আমার কথা তুই কি করে জালিরে পােড়ারমুখী !
শােভা। তুমি আমায় দিনরাত কেবল পােড়ারমুখী পোড়ারমুখী বল
আমি বড়মাকে বলে দেব। ও বড়মা, এই দেখ দেখিছোড়দা
আমায় পােড়ারমুখী বলে গালাগাল দিচ্ছে রুবিদির সামনে।
(বিন্দুর প্রবেশ )
বাপু, কেন তুই সদাসর্বদা ওকে যাতা বলে উত্যক্ত করিস?
এখন বড় হয়েছে, বিয়ে হয়েছে, এখন আর যা’ বলিসনি-
বুঝলি ?
বিন্দু।

পথের সাথী ; শশাঙ্ক। বুঝেছি বৈকি বড়মা! এত দিন এসব কথা তুমি তো আমায় বুঝিয়ে দাওনি, তাই বুঝতে পারিনি ; নইলে এর আগে থেকেই আমি ওকে আপনি, মহাশয়া, Malam, মিসেস দাস, এই সব বলে ডাকতে পারতুম। এইবার থেকে উনি যখনই আমায় ছােড়দা বলে ডাকবেন, আমি সামনে এসে কুর্নিশ করে বলবে—জি হুজুর! কি বলেন Mrs. 1. A. Das ? বিন্দু। তােরা এইসব ফষ্টিনষ্টি কর বাপু, আমি রুবির মাকে ওঘরে একা বসিয়ে রেখে এসেছি। [ প্রস্থান | শোভা। তুমি আমার সামনে কুর্নিশ করবে কেন? তুমি যার সামনে কুর্ণিশ করবে, তিনি তােমার রকম দেখে হেসে লুটোপুটি খাচ্ছেন । শশাঙ্ক। কি খাচ্ছেন- কি খাচ্ছেন-লুটোপুটি খাচ্ছেন? সেটি খেতে কেমন ? শােভা। হলুটোপুটি খাচ্ছেন । হারে শােভা, তুই একাই যদি তাের ছােড়দার সঙ্গে কথা কইবি, তা হলে কি জন্যে রুবিদিকে ডেকে আনলি ? শোভা। তা রুবিদি তাে ছােড়দার সঙ্গে কথা কইলেই পারে--আমি বারণ কচ্ছি নাকি ? আমার সঙ্গে তাে যা’খুসী তাই বল, রুবিদির সঙ্গে সেইরকম কথা কও দেখি-বুঝবাে? শশাঙ্ক। তাের সামনে কেন কইব ? সে আমরা দুজনে যখন একাএকা থাকবো-কি বলেন দাদু ? তা তােমরা দু’জনে একটু একাএকা কথা কও না ? যা যা, হর। ১৪২

চতুর্থ অঙ্ক
কবিকে সঙ্গে করে বেড়াতে যা-শােভার সঙ্গে ঝগড়া করে
আর লাভটা কি ? যাও তো রুবিদি—আমার শশাঙ্ক ভয়াকে
দুটো মিঠে কথা শুনিয়ে দাও!
শশাঙ্ক। (জানালার দিকে চাহিয়া) হা—এই বাড়ীতে এসেছেন ; শ্ৰীমতী
করবী দেবী তো ? ওঁর মাও এসেছেন। আপনি বুঝি ওর
সঙ্গে কলেজে পড়ে ? তা আসুন না-আসবেন না। শুধু
একটিবার দেখা করতে চান ? তা বেশ তো, আমি ডেকে
দিচ্ছি ! ( রবির প্রা: ) আপনার কলেজের একটি মেয়ে আপনার
গোজ কচ্ছে; এই যে বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন—আসুন!
[ উভয়ের প্রস্থান।
শোভা। তাহলে নিশ্চয়ই মলয়া এসেছে ।
মলয়া এসেছে - বুদ্ধির টেকি! তুই একেবারে বােকা; হা~
শশাঙ্কটা চৌকোস ছেলে বটে।
শোভা। ও-ছােড়দ। এইসব মিথ্যে কথা বলে কৰিদির সঙ্গে গল্প
করতে গেল?
হা-ও পারবে !
শােভা। মাগো মা-কি ছেলে।
( বিন্দু ও নর্মদার প্রবেশ )
বিন্দু।
এস ভাই—এঘরে এ ! ওঁর জন্যেই আমায় আসতে হয় ;
বাবা মাঝে মাঝে এখানে ওখানে চেঞ্জে আসেন কিনা? সেই
সময়টাতে আমি না থাকলে ওঁর ভারি অসুবিধা হয়।
হর।
তুমি বুঝি কবিদির মা?
১৪৩

পথের সাথী
নর্মদা। এর মধ্যে আপনার সঙ্গে ভাবসাব হয়ে গেছে ?
হর। প্রচুর পরিমাণে ।
নম্মদা। কবি গেল কোথায় ?
বিন্দু।
শশাঙ্কই বা [শােভা মগে কাপড় দিয়া হাসি হাসিতে চলিয়া গেল।
;
কে একজন জানালার কাছে এসে তােমার কবিকে খোঁজ
ক’চ্ছিল ; শশাঙ্ক বল্লে এই বাড়ীতেই এসেছে ; তারপর শশাঙ্ক
রুবিকে সঙ্গে নিয়ে সেই লােকটির সঙ্গে দেখা ক’তে গেল।
( নর্মদার ও বিন্দুর হাস্ত )
নম্মদ।
আমার তাে খুব ইচ্ছে ছিল দিদি-শশাঙ্কর সঙ্গেই রুবির বিয়ে
দিই ; দুটিতে খুব মনের মিল হয়েছে ! তা এদিকে তােমরা
তেমন গা কচ্ছনা। আবার ওদিকে কালীবাবুর স্ত্রী রুবিকে
একরকম আমার কাছ থেকে জোর করে কেড়ে নিলে।
সুমতিদির বড় ইচ্ছে হিরন্ময়ের সঙ্গে রুবির বিয়ে দেন।
তারা আশীর্বাদ করেছেন, বেয়াই-বেয়ান পাতিয়েছেন ।
তাদের সঙ্গেই আমরা এখানে এসেছি।
অথচ এখানে এসেও কিরকম রুবিতে শশাঙ্কতে দেখাসাক্ষাৎ
হয়ে গেল ?
বিন্দু।
আমি কি করে কথা দিই ভাই! আমার ছেলেমেয়ের খুব সাধ
রুবি আমাদের ঘরে আসে ; কিন্তু কৰ্ত্তা এদিকে কোন্ এক
রাজকন্যের সঙ্গে ছেলের বিয়ের সম্বন্ধ করে বসে আছেন।
( শােভা, রুবি ও শশাঙ্কের প্রবেশ)
শােভা।. ছােড়দা? ওঃ—তুমি কি চালাক ছেলে ! আর রুবিদি তুমি
১ঃ

চতুর্থ অঙ্ক
কি দুষ্ট মেয়ে ! যাক্তােমাকে মাপ করা গেল ! এখন দাদুকে
একখানা গান শুনিয়ে দাও।
এস ভাই—আমরা ওঘরে গিয়ে বসি।
বিন্দু।
[ উভয়ের প্রস্থান।
গাও-গান গাও দিদি ! এমন গান গাইবে যাতে করে আমি
বুঝতে পারি তুমি শশাঙ্ককে ভালবাস?
Let me
see
your heart.
গান
ছিনু আমি ঘরের আঙিনায়,
ডালে কেন পথের ধারে ?
আকাশে আজ মেঘের মেলা, পথ ঢাকা যে অন্ধকারে।
তবু আমার চলা হল সুরু,
ডালে দেয়া শুরু গুরু,
কঁপলাে হিয়া দুরু দুরু !
তুমি আমায় ডেকে কেন গেলে বনের ওপারে ?
আমি ওখানে কেমনে যাব শুধাব কারে।
বাঃ—বেশ গান তাে! তা তােমার মনের মতন করে এরকম
গানটি কোন্ কবি বেঁধে দিলেন ?
শোভা। রুবিদি আবার নিজেই কবি! যে ও গান লেখে, গান গায়,
পদ্য লেখে-কত গুণ এ মেয়েটির
?
১৪৫

পথের সাথী
রুবি।
রুবি।
ওরে শােভাদিদি, তাের বড়মাকে জিজ্ঞাসা করে দেখতে
—আমার স্নানের জল গরম হয়েছে কিনা ?
শােভা। অনেকক্ষণ হয়ে গেছে দাদুআপনি আসুন!
আমার হাতখান! পর দিকিনি দিদি। হায়রে সেকাল !
[ প্রস্থান।
শশাঙ্ক। তাহলে তােমার ইচ্ছে নয়—আমার সঙ্গে তােমার বিয়ে হয় ?
আমি স্ত্রীলোক—আমিতাে আমার বশ নই ?
শশাঙ্ক। কবে বিয়ের দিনস্থির হয়েছে ?
বােশেখ মাসে !
শশাঙ্ক। তােমার বাপমার খুব ইচ্ছে হিরন্ময়বাবুর সঙ্গেই তোমার বিয়ে
হয় ?
মা আমার মন জানেন, তাই তার ততটা 'ইচ্ছে নেই। বাবার
খুব ইচ্ছে বটে!
শশাঙ্ক। আচ্ছা, ২রা বােশেখ পৰ্যন্ত Tou wait for me ; তারপর যদি
ব্যাপারটা সহজ না হয়ে আসে, আমি যা হয় একটা কিছু
করবাে। আমার চোখের সামনে আর একটা লােক তােমায়
বিয়ে করবে, আমি তা হতে দেব না।
( বিন্দুবাসিনী টেলিগ্রাম-হাতে প্রবেশ করিলেন)
বিন্দু।
শশাঙ্ক। কি বড়মা ! টেলিগ্রাম এসেছে শিবপুর থেকে ?
বিন্দু।
ভাল করে পড়ে দেখ, বাবা-মনে হচ্ছে যেন তােকে যেতে
লিখেছে। তাের মায়ের জবানী ?
১৪৬

বিন্দু। চতুর্থ অঙ্ক শশাঙ্ক। হ্যা তাইতাে ? এর মধ্যে মায়ের কোন মতলব আছে নিশ্চয়ই। বিন্দু। বাবা, আমার যেন মনে হচ্ছে-কৰ্ত্তার কোন অসুখ হয়েছে। না না—বাবার অসুখ করলে তােমায় যেতে না বলে কি আমায় যেতে লিখতে ? আর্জেন্ট টেলিগ্রাম হাের মাতাে এরকম কখনাে করেন- তাই ভাবছি ? শশাঙ্ক। এবার যে মায়ের মাথায় রুকুমপুর সিধিয়েছে ! বিন্দু। আমায় নিয়ে যাবি বাবা ? শশাঙ্ক। তুমি চলে গেলে দাদুর অবার অসুখ বাড়বে। বিন্দু। মনটা ভাল নিচ্ছে না বাবা! কখনাে তাে এরকম আর্জেন্ট টেলিগ্রাম করে না। তাই ভাবছি, তিনি খুব ভালরকম জানেন—আমি না গেলে বিয়ে হবে না, হতে পারে না। শশাঙ্ক। ছোট ভাবছে, তুমি গিয়ে হয়তো আবার হাঙ্গামা বাধাবে ; তাই একা আমায় যেতে লিখেছেন। আচ্ছা, আমি এখুনি যাচ্ছি! বিন্দু। বাড়ী পৌছে কাল সকালে আমায় তার করাে বাবা- ভুলনা যেন ? শশাঙ্ক। তােমার জন্যেই যাচ্ছি বড়মা, নইলে আমি যেতুম না। [ প্রনোদ্যত। বিন্দু। শােন বাবা—একটা কথা ? শশাঙ্ক। কি বড়মা ?- বিন্দু। যদি রুকুমপুরের সেই মেয়ে নিয়ে তাের মা বেশী পেড়াপীড়ি ১৪৭

পথের সাথী
করে—তুই বাপু সেইখানেই বিয়ে ক। তোর মায়ের মনে
কষ্ট দিসনে বাবা ।
শশাঙ্ক। বড়মা-তুমি আর ও কথা বলােনা। আমি জানি, তােমার
ইচ্ছে নয়, ওখানে আমার বিয়ে হয়।
বিন্দু।
তাের মাতত কিছু বােঝে না, এই নিয়ে যদি কোন গণ্ডগােল
হয়? যেমন তাের মা, তেমনি কৰ্ত্তা—শেষে তার উপর
সবাই রেগে যাবে। বনেদী জমিদার—রাগটা খুবই আছে !
দরকার কি বাবা—অতাে হাঙ্গামায় ?
শশাঙ্ক। আমিও তাে জমিদারের ছেলে বড়মা ?—আমারও তাে একটা
জিদ আছে ! আর তা ছাড়া রুবিকে আমি কথা দিয়েছি।
আমি তাে তােমায় বলেছি, হয় ওকে বিয়ে করবাে নয়
বিয়ে ক’বােই না!
[ প্রণাম ও প্রস্থান।
বিন্দু।
এস মা-এস।
তৃতীয় দৃশ্য
বসন্তবাবুর অন্তঃপুর
সরযু, অর্ধেণ, শরদিন্দু প্রভৃতি
শরদিন্দু। ডাক্তারবাবু, ছােটমা জিজ্ঞাসা কচ্ছেন—কি করে ওকে মদ
ছাড়ানাে যেতে পারে ?
১৪৮

চতুর্থ অঙ্ক ; ডাক্তার। উনি নিজে ইচ্ছে করে না ছাড়লে, ওকে ছাড়ানো যায় না ; কারণ টাকা ওঁর, লােকজন সব ওঁর মাইনে করা কৰ্ম্মচারী। সরযূ। ওঁর তাে হার্ট ভাল না তার ওপর শরদিন্দু। হা-হার্ট খারাপ ; তার ওপর এই রকম সাতআট দিন ধরে মদ খাচ্ছেন ! ছােটমা বলছেন এর ফল- ডাক্তার। অত্যন্ত খারাপ ! হার্টের কাজ হঠাৎ বন্ধ করতে পারে-- শরদিন্দু। বাব। তাহলে এক রকম অত্মহত্যা করছেন বলুন ? ডাক্তার। হা-একে একরকম আত্মহত্যা বলা যেতে পারে। সরযূ। শরদিন্দু! তুমি নিজে যাও বাবা-ডেকে নিয়ে এস। বলল—আমি ডাকছি। ডাক্তার। হা—আপনাদেরই কথা কওয়া উচিত। আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি পারিনি। শরদিন্দু। বাবা কি এর আগে আর কখনও মদ খেয়েছেন ছােটমা ? সরযূ। আমি আসার পর তাে কখনো দেখিনি বাবা, সামান্য একটু আধটু কখনাে-সখনাে সাহেবসুবাে এলে, তাও রাত্রে খাবার সময়—তুমি যাও শরদিন্দু । [ শরদিন্দুর প্রস্থান। ( রামনারায়ণের প্রবেশ ) রাম। তা হঁ্যা মা, জামাই আবার মদ ধরলেন কতদিন ? সরযূ। ভিতরে ভিতরে কতদিন ধরেছেন তা কি করে বুঝবাে বাবা? এর আগে তাে কখনাে জানতে পারিনি। রাম। অবিশ্যি জমিদার মানুষ, মদ একটু আধটু খাওয়া ভাল, শুছি নাকি একটু যেন মাত্রাধিক্য হয়ে যাচ্ছে। ১৪৯ পথের সাথী সরযু। রাম। সরযু। রাম। আমার পােড়া কপালের দোষেই হয়েছে। একেবারে ছাড়াতে যেওনা, তাতে আবার বিপরীত ফল হবে। আমি নিজের হাতে মৃতসঞ্জীবনী সুধা তৈরী করে পাঠিয়ে দেবাে। রােজ সন্ধ্যের পর এক গ্লাস করে খেতে দিও। খুব ভাল রসায়ন—ক্ষুধা বৃদ্ধি হবে, সুনিদ্রা হবে, হৃন্ত্রকে শক্তি- শালী করে তুলবে। বিলাতির খরচাই পড়বে বোধ করি, অথচ একটি হচ্ছে বিষ—আর একটা হচ্ছে অমৃত ! কি যে আমি করি । এদিকে শশাঙ্ক এখনো এলনা। আপনিও বসে আছেন ! আমার তাে আর সেখানে ফিরে যাবার উপায় নেই মা ! সে খামখেয়ালী রাজা, তার খেয়াল হয়েছে এই ঘরেই কাজ করবে—তাতে তার যা খরচা লাগে। রাজার তাে আর ছেলে- পুলে নেই?—ভবিষ্যতে রুকুমপুর পরগণাটাই তােমার ছেলের ! সে আসুক, আমি বুঝিয়ে বল্লে আর সে আপত্তি করবে না। এমনিই তাে বিশ হাজার দিতে চেয়েছে ! তাই বা কে দেয় বলুন দেখি ? নইলে কি আর আমি একাজে হাত দিই মা? আমি তো কখনাে ভাবতে পারিনে-শশাঙ্ক অমত করবে । দিদি যে দিনরাত কানে মন্তর ঝাড়ছেন। আমার অবস্থা তাে জানেন না আপনি ! সতীনের ঘরে মেয়ে দিয়েছিলেন সেটা এখন ভুলে যাচ্ছেন কেন বাবা? আমি তাে মা তাের সতীন দেখিনি, আমি দেখেছিলাম সরযূ। রাম। সর। রাম ।

চতুর্থ অঙ্ক
জামাই-জামাইয়ের সম্পত্তি ! তা বলতে নেই, লােকের
মুখে শুনিছি, জামাই তােমার যত্নও করে খুব ! তুমিই তার
ওই জামাই আসছেন ; আমি একটু সরে থাকি মা, আমার
কথাটাও ব’লাে একবার।
[ রামের প্রস্থান।
( জ্ঞান ও বাস্তবাবুর প্রবেশ)
জ্ঞান।
বাবু-ছােটন। আপনাকে ডাকছেন।
বসন্ত। জানি, ওই তো ছােটগিন্না ওখানে দাড়িয়ে। বাড়ীর সব কুশল
তো ছােটগিন্নী ?
জ্ঞান। কি বলছেন আপনি এইখানে বসুন ।
বসন্ত। তুমি এখান থেকে যাও জ্ঞানচন্দ্র, ছােটগিন্নী তােমার সামনে
আবার কথা কইবেন না।
[ জ্ঞানের প্রস্থান।
সরযু। চেহারা কি হয়ে গেছে ।
বসন্ত। তােমরা চিরটা কাল একটি বসন্ত সেনকে মাত্র দেখছে ;
বড়গিন্নী, বড়গিন্নী, বড়গিন্নী আর ছােটগিন্নী, ছােটগিন্নী,
ছােটগিন্নী ! তােমার কাছে বলেছি বড়গিন্নীর অন্যায় ; বড়-
গিন্নীর কাছে বলেছি—ছােট, ছেলেমানুষ কি আর বােঝে
বল ? ছেলেরা তাই জানে, আমলারা তাই জানে—বসন্ত সেন
মাটির মানুষ। একটি রকমফের দেখিয়ে দিচ্ছি।
সরযূ। এ রকম করে আমার সর্বনাশ কেন ক’চ্ছ ?
বসন্ত। , তােমার সর্বনাশ করবো না। আমার মনে আছে-তুমি

পথের সাথী সরযু। আমায় জিজ্ঞাসা করেছিলে তােমায় বিয়ে করেছি কেন ? আমি সেদিন উত্তর দিইনি। শােন, এ বাড়ীতে তুমিই সৰ্ব্বেসৰ্বা, তােমার কথাই চলবে-বড়গিন্নীর কথা চলবেনা। আমার গা ছুয়ে দিব্যি কর, আর কখনো মদ খাবেন? বসন্ত। আবার বড় ইচ্ছে ছিল, আমার এই অবস্থাটি বড়গিন্নী এসে একবার দেখেন ! তুমি ভয় পেয়ে বড়গিন্নাকে তার করনি— চিঠি লেখনি ? সরযূ। তুমি তাই চেয়েছিলে, সে আমি জানি। বসন্ত। সে তাে এলনা-তুমিই দেখ ! সরযূ। বাবা আজ তিনদিন বসে আছেন—রাজারা তাকে পাঠিয়েছেন। ও-সেই রুকুমপুরের রাজা? শরদিন্দু তাে সেখানে গিয়েছিল ; তারপর যে ওরা চিঠি দিয়েছিল, তার কোন উত্তর দেওয়া হয় নি বােধ হয় ? জ্ঞান- সরযু। জ্ঞানকে আর ডাতে হবে না; আমি জানি--উত্তর দেওয়া হয় নি। বসন্ত। বিয়ে এইমাসেই হবে ; শশাঙ্ক কোথায় ? ডাক শশাঙ্ককে ? জ্ঞান- সর। সে তাে বড়দির সঙ্গে মধুপুর গেছে। বসন্ত। ও-তাহলে তার কর ? জ্ঞান- সরষু। জ্ঞান এখন এদিকে নেই, তার করা হয়েছে। (শশাঙ্ক ও জ্ঞানের প্রবেশ) তান। ছােড়দাদাবাবু বাড়ী এসেছেন ছােটমা।

চতুর্থ অঙ্ক
বসন্ত। ব্যস ব্যস, তবে আর কি ?
শশাঙ্ক । আমায় তাড়াতাড়ি তার করে আনান হ’ল কেন ?
বসন্ত। আমি কিছু জানিনে ; তােমার গর্ভধারিণী আনিয়েছেন,
তােমার দাদামশায় আছেন—তাদের সঙ্গে বােঝাপড়া
কর।
শশাঙ্ক। এমনভাবে urgent telegram ক’বুলেন-- মনে হল যেন কি
একটা কাণ্ড হয়েছে ! যদি কোন কাজ না থাকে, আমাকে
কাল সকালেই সেখানে ফিরে যেতে হবে, বড়মা ভয়ানক
ভাবছেন। বড়মাকে একখানা তরি করে দাও তাে জ্ঞানদা !
দাদামশায়ের শরীর এখনও খুব দুর্বল।
সর। পাতানো দাদামশায় নিয়েই মেতে রইলে বাবা! এদিকে
তােমার আপন দাদামশায় আজ তিনদিন ধরে এখানে ধন্না
দিয়ে বসে আছেন।
( রামনারায়ণের প্রবেশ
রাম। আমায় বাচাও ভাই ।
কেন—আপনার আবার হ’ণ কি ?
রাম। তােমার মা বল্লেন, তােমার বাবা চিঠি লিখলেন, আমি বল্লাম
এই মাসেই বিয়ে
শশাঙ্ক। বিয়ে না হলে কি হবে ?
রাম।
আমার উপর সমস্ত রাগটা এসে পড়বে—কারণ আমি হাতের
কাছে আছি ?
শশাঙ্ক। যে লােকটা এরকম অপদার্থ যে, একজনের অপরাধে আর

পথের সাথী
একজনকে শাস্তি দেয়, কেন না সে গরীব, আপনি মনে করছেন
আমি তার মেয়েকে বিয়ে করবো ?
তােমার ঐখানেই বিয়ে করতে হবে, তোমার দাদামশায় কথা
দিয়েছেন।
রাম।
হ্যা দাদা, আমি কথা দিয়েছি-আমার মনটা রাখ ?
শশাঙ্ক। আপনার কথা দেওয়া উচিত হয়নি।
বাম। আর তােমাদের কথায় থাকবো না দাদা! এইবার আমায় রক্ষে
কর ?
আমি পাকা কথা দিয়েছি, এখন তুমি না বল্লে চলবে কি
করে ?
শশাঙ্ক। আপনি কি আমার মতামত কিছু নিয়েছিলেন ?
বসন্ত।
তাের আবার মতামত নেব কি? তুই কে? তােকে যা
বলবো তাই কবি !
তা যদি মনে করে থাকেন, তাে খুব ভুল করেছেন !
বসন্ত। আমি বসন্ত সেন—আমি ভুল করেছি ? বেটা কেরে? বেটা
আমায় বলে কি?
জ্ঞান। বাবু, এখন ওসব কথা থাক্ ; ছােটবাবু রাত জেগে এসেছেন ;
আপনারও শরীরটা!
বসন্ত। তুমি থাম জ্ঞানচন্দ্র, আমার শরীর ঠিকই আছে; কথা এখনি
হবে।
শশাঙ্ক। যাক, আমার মতামত থা—বড়মা অনেক দিন থেকে আপত্তি
জানিয়েছেন।
১৫৪

চতুর্থ অঙ্ক
বসন্ত।
!
তােমার বড়মার পরামর্শেই তােমার এরকম মতিচ্ছন্ন ধরেছে !
বড়মার পরামর্শে কারাে মতিচ্ছন্ন ধরে না! বড়মা আজ
ক’দিন এখানে নেই—তাই কারাে কারো মতিচ্ছন্নের ভাব
দেখছি বটে!
বসন্ত। ওহে জ্ঞান—এ বেটা কি আমায় গালাগালি দিচ্ছে নাকি ?
এটার হ'ল কি ? তোমার বড়মাই তােমার আপনার ? আর
তােমার আপন মা,-সে তােমার কেউ না ?
শশাঙ্ক। বড়মাই আমার আপনার !
বসন্ত। তোমার দাদামশাই, আচ্ছা চুলােয় যাক্ দাদামশাই—আমি
তােমার কেউ না ?
শশাঙ্ক। বড়মার চেয়ে আমার আপনার কেউ নেই
আমি যে তোর বাবারে হতভাগা! তাের বড়মারও—“পতি
পরম গুরু।”
শশাঙ্ক। পতি হলেই যে পরম গুরু হয়, আমি সেটা বিশ্বাস করিনে।
বসন্ত। পরশুরাম বাপের অজ্ঞায় মাতৃহত্যা করেছিলেন, রামচন্দ্র বনে
গিয়েছিলেন—তা জানিস ?
শশাঙ্ক। সবাই রামচন্দ্র নন বাবা!
বসন্ত। তােমার বড়মার কথা চলবেনা; তােমার মা যা বলেন, তাই
হবে।
শশাঙ্ক। বড়মার কথা ছাড়া আর কারাে কথা আমি মানিনে।
তোমার এই বিয়ে কৰ্ত্তে হবে ; শ্বশুরমশায়, আপনি গিয়ে খবর
দিন-পরশুদিন তারা যেন আশীৰ্বাদ করতে আসেন।

পথের সাথী
শশাঙ্ক। তাহলে আর কাউকে পাত্র ঠিক্ করুন, আমি এ বিয়ে
করবো ।
বসন্ত। তােমায় বিয়ে কৰ্ত্তে হবে। আমায় অপমান করবার মৎলব ?
এই শিক্ষা তোমার বড়মা তােমায় দিয়েছেন?
শশাঙ্ক। বড়মা বােধ করি ভাল শিক্ষাই দিয়েছিলেন ; তবে জন্মগত
যেটা পাওয়া যায়, সেটা সব শিক্ষার চেয়ে বড় !
বসন্ত। ওহে জ্ঞান, এ বেটা যে আবার গালাগালি দিতে লাগলাে।
কি—তুই বিয়ে করবিনে ?
শশাঙ্ক। বিয়ে যদি করি---নিজে পছন্দ করে বিয়ে করবো।
বসন্ত। আমি তােমায় কখনাে ক্ষমা করােনা শশাঙ্ক !
আমি জানি—নিজের জিদ বজায় রাখবার জন্যে আপনি সব
করতে পারেন। আচ্ছা আমি চল্লাম-ext trainএ মধুপুর
[ প্রস্থানােত।
বসন্ত। শুনে যাও ?
শশাঙ্ক। আপনি ত্যাজ্যে। পুত্তর ক’রবার ভয় দেখাবেন তাে? সে আমি
জানি; তাতে আপনার বড় ছেলে ভয় করতে পারে-শশাঙ্ক
সেন ভয় পায়না।
শরদিন্দু !
শরদিন্দু। বাবা!
বসন্ত। জ্ঞানচন্দ্র !
যাচ্ছি ।
।
জ্ঞান।
বাবু আপনি
বসন্ত।
আঃ-আমার কথা শােন ; শশাঙ্ক—শুনে যাও, তােমার

চতুর্থ অঙ্ক ; বড়মাকে বলল ; যদি রুকুমপুরের রাজার মেয়েকে বিয়ে না কর—তুমি আমার কেউ নও, আমি এই মর্মে উইল কবে ; আজ রাতেই যেন উইল তৈরী হয় শরদিন্দু ! শরদিন্দু। আপনি বলুন বাবা—আমি বাংলা শর্ট হ্যাণ্ড জানি, লিখে নিচ্ছি। শশাঙ্ক। দাদার যে খুব উৎসাহ দেখছি? বেশ আছ— শরদিন্দু। কি করবাে ভাই, আমি তাে আর তােমার মত লেখাপড়া শিখিনি ? বাবার আদেশ পালন করতে আমি বাধ্য। বসন্ত। আঃ—সব চুপ কর ! আমার অবর্তমানে আমার অর্ধেক সম্পত্তি আমার জ্যেষ্ঠ পুত্র শরদিন্দুর ; আর তুমি যদি রুকুমপুরে বিয়ে কর—অর্ধেক তােমার ঠিক রইল । শশাঙ্ক। বিয়ে আমি ওখানে ক’রবোনা—এখন আপনি কি করতে চান, তাই বলুন? বসন্ত। তােমার ভাগের সম্পত্তি—তােমার গর্ভধারিণীর জীবন- স্বত্ব ; তারপর তার মৃত্যুর সময় ঐ সম্পত্তি তিনি তােমাকে ছাড়া আর যাকে খুসী দিয়ে যেতে পারবেন। যে তার সেবা করবে, বাকী সম্পত্তি সেই পাবে। তুমিও কিছু পাবে না, তােমার বড়মাও কিছু পাবেন না—তােমার বড়মাকে বললা! শশাঙ্ক। আপনি মনে ক’চ্ছেন, সম্পত্তির প্রলােভন দেখিয়ে আমার মত বদলাবেন ?—তা পারবেন না বাবা!! এতদিন বড়মাকে দেখছেন, তবু আজ পর্যন্ত তাকে চিনতে পারলেন না—এইটিই আমার সবচেয়ে বড় দুঃখ! [ প্রস্থান। ১৫৭ পথের সাথী বসন্ত। বার বার আমার মুখের উপর কথা হতভাগা, পাজী, বয়েস ! বড়মা, বড়মা—তাের বড়মাকে পেয়েছিলি কার জন্যেরে পাজী ? ওর মায়ের মরণাপন্ন অসুখ—আমি বড়গিন্নীকে কত করে বুঝিয়ে ছেড়াটাকে তার কোলে তুলে দিই; আর আজ সেই বড়মাই হ’ল সব-আমি বেটা ভেসে গেলাম ! বেটা পাজীর ধাড়ী-বেটার যত ডিঙ্গী মেরে চাল ! শরদিন্দু-লােক- জন ডেকে নিয়ে এস; জ্ঞান—উইল কপি কর; আমি অজই এর একটা হেস্তনেস্ত করে যাব। আমার ছেলে, আমার স্ত্রী-তার। আমার কথা শুনবেনা? তারা আমার কেউ না, তারা আমার কেউ না, তারা আমার কেউ না—এ-এ-এ-এ! ( মুচ্ছ।) সরযু। বাবা, বাবা, দেখুন তাে—একি হ’ল ? বাবা শরদিন্দু! শরদিন্দু। জ্ঞানদা—ডাক্তার বাবুকে ডেকে এনে তুমি চট করে উইলটা লিখে ফেল; বলা যায় না—যদি শীগগির ভালমন্দ একটা কিছু! আঃ! বড় দাদাবাবু কি বলছেন—এখন এসব কথা না ; ডাক্তার বাবু, ডাক্তার বাবু—শীগগির এদিকে আসুন। ; ১৫৮

পঞ্চম অঙ্ক
প্রথম দৃশ্য
r
বসন্তবাবুর বাড়ীর কক্ষ
শরদিন্দু, যু, জ্ঞান, ডাক্তার প্রভৃতি
শরদিন্দু। আমার কাজ আমি করিয়ে রাখলুম ছোটম! বাবার শেষ
ইচ্ছে—সেটা পূর্ণ হওয়া দরকার। তারপর উনি সেরে উঠুন,
উইল বদলাতে বলেন—বদলানাে যাবে। আমি আয়রণ সেফে
রেখে দিয়ে আসি।
সরযূ। যা ভাল বােঝ, তাই কর বাবা—আমার তো হাত-পা
উঠছেনা !
}
জ্ঞান। দেখুন ছােটমা, একটা কথা আপনাকে বলি ।
ডাক্তার। দেখুন জ্ঞানবাবু, এ ঘরে কোন বৈষয়িক কথা কইবেন না ;
বলতে হয়, বাইরে গিয়ে বলুন।
জ্ঞান।
কি রকম অবস্থা দেখছেন ডাক্তার বাবু?
ডাক্তার। ভাল না ! মুখখানা paralysis হয়ে গেছে, তার উপর heart
damaged হয়ে আছে—যে কোন মুহূর্তে মারা যেতে
পারেন !

পথের সাথী • ( বিন্দু, শরদিন্দু, শশাঙ্ক ও শোভার প্রবেশ) বিন্দু। ছােটবো? সরযূ। এস দিদি ! আর কি দেখছো? আজ দু’রাওির এই ভাবে কাটছে ; মুখে কথাও নেই বার্তাও নেই। বিন্দু। যখন শশাঙ্ককে তার করেছিলে, তখন আমায় আসতে বলনি কেন ? সরষু। কি করে বুঝবাে বলাে ? ডাক্তার। আঃ-চুপ চুপ ! বিন্দু। কোন বড় ডাক্তারকে ডাকা মনে করেন ? ডাক্তার। সবাইকে আনান’ হয়েছে, সেদিক থেকে ক্রটি কিছুই হয়নি আপনি কাছে এসে বসুন; কবার চোখ চেয়ে আপনাকেই খোঁজ করেছেন। বসন্তবাবু আত্মহত্যা করছেন—It is nothing but suicide ; কিন্তু তার মূল আপনি আর শশাঙ্ক- বাবু। আপনারা ওঁর সঙ্গে ব্যবহার করেছেন সহজ মানুষের 70! But he is a diceard man all though his life. বলেন কি—ডাক্তার বাবু ? ডাক্তার। আপনি বুদ্ধিমতী, আপনার বােঝা উচিত ছিল—উনি বহুকাল থেকে মানুষিক ব্যাধিতে ভুগছেন। তার উপর low vitality, rich dietfirst life ভাল না—ভাল না ! বিন্দু। ওঁর কি অসুখ ছিল ডাক্তার বাবু। ডাক্তার। নানা রকম মিশ্র ব্যাধি। ওঁকে বাঁচাতে পারতেন আপনি। আমায় উনি সব গােপন কথা বলেছিলেন। এখনও যদি বিন্দু।

পঞ্চম অঙ্ক
বিন্দু।
বাঁচেন--আপনার সেবায়। দেখুন, এখন আর আমি এখানে
থাকবে। না; আমি বাইরে যাচ্ছি, যদি দরকার হয়—আমাকে
টাবেন।
( বাবার চক্ষু মেলিলেন )
[ প্রস্থান।
আমায় চিনতে পাচ্ছ ! ( স্মতিক ক্ষেত কেন এমন কল্পে ?
– 'নাট স্পর্শ কলিন) শশাঙ্ককে ডাকবো ? শশাঙ্ক-শশাঙ্ককে
ক্ষমা কর ।
বাবা আমায় ক্ষমা করুন,--আপনার মনে কষ্ট দিয়েছি ; আমি
অপিনার মৃত্যুর কারণ! ( 7 বার মাশ্চক শত )
ছেলেদের জন্যে উইল টুইল কিছু করবে? (এক )
কালীবাবুকে ডেকে আন শরদিন্দু ! কৰ্ত্তার ইচ্ছে উইল করবেন।
শরদিন্দু। এখন আর উইলের দরকার নেই মা ! এখন শুধু কে কষ্ট
দেওয়া ; শশাঙ্কর উপর রাগ করে বলেছিলেন বলেই কি, তাই
করে যেতে হবে ?
শরদিন্দু, কৰ্ত্তা যেদিন আমার উপর রাগ করে মদ খেতে
আরম্ভ করলেন, তখন তুমি
তখন তুমি আমায়
অামায় তার করলেন।
কেন ?
শরদিন্দু। বন্ধুবান্ধব নিয়ে আডডা দিচ্ছেন, মদ খাচ্ছেন কিনা—তা কি
করে বুঝবো? তা না হলে আমি জেনে শুনে
শশাঙ্ক। বড়মা, আমায় তুমি যে প্রায়শ্চিত্ত করতে বলবে—আমি সেই
প্রায়শ্চিত্তই করবাে।
বিন্দু। বড় কি কষ্ট হচ্ছে ? শশাঙ্ক শশাঙ্ক ( সকলে রোগীর নিকটে গেল )
;
বিন্দু।
১৬১

পথের সাথী
দ্বিতীয় দৃশ্য
রুবি।
রুবি।
কবি।
নর্মদা। রুবি?
আমায় কিছু বলবে ।।
নৰ্ম্মদ। হা--বলবাে। শশার কথা সব শুনেছ তাে ?
রুবি।
হাশুনেছি।
নর্মদা। আমার ইচ্ছে ছিল, শশাঙ্কর সঙ্গেই তােমার বিয়ে হয়; কিন্তু
এখন উপায় কি বল ?
আমি বিয়ে করবো না মা !
নর্মদা। সেকি ! ও কথা কি স্ত্রীলােকের বলা চলে মা? কেন, শশাঙ্ক
কি তােমায়-
তিনি আমায় চিঠি দিয়েছেন।
নম্মদ।
কি লিখেছে ?
কবি। তিনি বাপের ত্যাজ্যপুত্র কপর্দকহীন-ভিখারা! কেন তার এ
অবস্থা হয়েছে, তা তিনি লেখেন নি।
নর্মদা। সত্যি কথা লিখেছে তােমায় ?
হা লিখেছেন ; আরাে লিখেছেন—আমি জানি, আমার মত
দরিদ্রকে তােমার বাপ-মা ইচ্ছে করে কন্যাদান করবেন না।
কেউ তা করে না। তাই আমি সে আশা ছেড়ে দিয়ে শীগগিরই
বাইরে কোথাও চলে যাবাে।
নর্মদা।
এ একরকম ভালই হ’ল মা। সে নিজেই তােমায় নিষ্কৃতি
দিয়েছে।
}
কবি।

পঞ্চম অঙ্ক
রুবি।
নম্মদ।।
( অস্বগত) যদি মধুপুরে ওঁর সঙ্গে আর দেখা না হত !
তোমার সঙ্গে তার বিয়েও হয়নি—বাকদানও হয়নি; বরঞ্চ
বাদান হয়েছে হিরন্ময়ের সঙ্গে।
কবি। আজ হিরন্ময় বাবু অাসবেন এখানে ?
নদ।। নিশ্চয়ই আসবে—আসছে সপ্তাহে বিয়ে ; তুমি আর অমত
রুবি।
তাকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিও—আমি নিজে তঁাকে সব
কথা বলবে।।
নৰ্ম্মদ। সেটা কি ভাল হবে না? তুমি নিজে যদি তাকে বল, তুমি
শশাঙ্ককে ভালবাস—কথাটা তার কি ভাল লাগবে না।
হিরন্ময় বাবুকে আমি সত্যিই শ্রদ্ধা করি মা ! তাই যে কথা
কাউকে বলা যায় না, সে কথা আমি “কে বলতে পারি।
হিরন্ময়বাবু বড় ভাল-বড় মহৎ!
কবি।
( অম: ও হিরন্মগের প্রবেশ )
অমর।
এস—এস বাবা হিরন্ময়! তাহলে কি রকম বিয়ে হবে, তােমার
কতগুলি বন্ধুবান্ধব আসবেন, তােমার বাবার বন্ধুই বা
কতগুলি আসবেন ?—এসব আমার in (letails জানা দরকার ।
একটা পেনসিল ? আমার ছােট্ট বাড়ী-বড় দেখে একটা বাড়ী
ভাড়া নিতে হবে ; একটা কলম ?
হিরন্ময়। আপনি বসুন—আমি আপনাকে সব বুঝিয়ে বলছি!
অমর। তুমি বুঝিয়ে বলছ ?

পথের সাথী
অমর।
হিরন্ময়। আপনি বসুন—ব্যস্ত হবেন না। বাড়ীতে শুনেছি, খুব নিকট
আত্মীয় জনকয়েক,আর আমার কয়েকজন বন্ধু আসবেন !
(নর্মদানে ইন।) হিস্ হিস! কথাটা বলেছ ঠিক ; তুমি কাল
বাদে পরশু এজলাসে গিয়ে জজ, হয়ে বসবে, তােমার কি
আর ইস্কুলের ছেলের মত টোপর মাথায় দিয়ে বর সাজ।
পােষায় ? গিন্নী—শােন।
নর্মদা। (দ্বারের কাছে গি।) আঃ-আমার দিকে চেয়ে ওরকম হিস হিস
কচ্ছিলে কেন?
আমি কতক্ষণ থেকে তােমায় ইসারা কচ্ছি উঠে এস, উঠে
এস ! ওর দু’জনে কথা কইবে, একা একা—তা তুমি কিছুতেই
বুঝতে পাচ্ছিনা।
নর্মদা। না—বুঝতে পাচ্ছি না; তুমি আর ইসারা টিসারা করাে না।
অমর। না—তুমি বুঝতে পাচ্ছ না ; ওদের কিছুক্ষণের জন্য একল।
থাকতে দেওয়া বিশেষ দরকার ।
নর্মদা। হা হা-বুঝেছি ; তুমি এখন এস ! [ উভয়ের প্রস্থান।
অমর।
;
রুবি।
হিরন্ময়। হঁ্যা ব’সছি ! আচ্ছা, আপনার বাবার কি সত্যি মাথা খারাপ ?
আমায় একদিন বলেছিলেন
কবি । পাঁচজনে বলে বলে প্রান মাথা খারাপ করে তুলেছে—আসলে
উনি অত্যন্ত সরল !
সাংসারিক ব্যাপারে নির্লিপ্ত থাকেন
ব’লে যখন সে সম্বন্ধে কোন কথা কন, প্রায়ই গণ্ডগোল করে
ফেলেন !
১৬৪

পঞ্চম অঙ্ক
হিরন্ময়। তাই দেখছি।
রুবি।
আপনাকে যদি আমার নিজের সম্বন্ধে দু’একটি কথা বলি,
আপনি কি আমার উপর রাগ করবেন ?
হিরন্ময়। না না—মােটেই না।
দেখুন, আমার বাবা-মা সবারই ইচ্ছে আপনার সঙ্গেই আমার
রুবি।
কবি।
হিরন্ময়। আপনার নিজের কি এবিষয়ে কিছু আপত্তি আছে ?
আমি আপনাকে আমার কথা বুঝিয়ে বলতে চেষ্টা করবো।
আপনাকে আমি খুবই শ্রদ্ধা করি। আপনাকে দেখবার
আগে আমি আর এক জনকে ভাল বেসেছি ; আমি তাকে
ভুলতে চেষ্টা করেছি কিন্তু পারিনি।
হিরন্ময়। ভুলবার আবশ্যক কি ? তার সঙ্গেই আপনার বিয়ে হলেই
তো খুব ভাল হয় !
এক সময় তিনি আমায় বলেছিলেন—আমায় বিয়ে ক’বৃবেন।
হঠাৎ একটি দুর্ঘটনায় তার মনপ্রাণ ভেঙ্গে গেছে—হয় তাে
তিনি আর সংসারেই থাকবেন না !
হিরন্ময়। সংসারে থাকবেন না। এমন কি দুর্ঘটনা?
রুবি। কিসে যে তিনি মনে এত আঘাত পেলেন, তা আমি জানি না ;
শুধু এইটুকু জানি, সম্প্রতি তার বাবার মৃত্যু হয়েছে।
হিরণয়। তার সঙ্গে এর ভিতর আপনার দেখা হয়েছিল ?
না—দেখা হয়নি; তিনি আমায় চিঠি দিয়েছেন।
হিরন্ময়। তাতে কি তিনি আপনার কাছে বিদায় চেয়েছেন?
রুবি।

পথের সাথী
রুবি।
!
।
তিনি লিখেছেন--আমি দরিদ্র, তােমার যোগ্য আমি
বিপুল পৃথিবীতে জীবনের পথে একা চ’ল্লাম। আমায় বিদায়
দাও—আমায় ভুলে যাও !
হিরন্ময়। তিনি কি আমাদের বসন্ত বাবুর ছেলে শশাঙ্ক বাবু?
( স্মতি জ্ঞাপন )
হিরন্ময়। তিনি যে দরিদ্র, তার কারণ—সে কি আপনি?
কি আমি?
হিরন্ময়। আমি শুনেছি, তিনি একটি মেয়েকে ভালবাসে, তার বাপ
তাকে অন্য মেয়েকে বিয়ে কৰ্ত্তে বলেন, তিনি তাতে অসম্মত
হন; এই সামান্য কারণে তার বাপ তাকে সম্পত্তি হতে
বঞ্চিত করেন। তারপর তার বাবা মারা যান।
তিনি কি তার বাবার মৃত্যুর কারণ ?
হিরন্ময়। না না-তার বাপ তত সন্ন্যাসরােগে মারা যান ! দৈহিক ব্যাধি
না থাকলে শুধু মানসিক অশান্তিতে কেউ কখনো মারা যায়
।
শশাঙ্ক বাবু কি তা হলে আপনার জন্য এ ত্যাগস্বাকার
করেছো ? তা হলে তুমি যাও তঁার কাছে তুমি তো তারই !
রুবি। তবে তিনি আমার কাছে বিদায় চেয়েছেন কেন ?
হিরন্ময়। বােধ হয় তার মনে সন্দেহ হয়েছে, তুমি বড়লােক শশাঙ্ককে
ভালবেসেছিলে, গরীব শশাঙ্ককে ভালবাসতে পারবে কিনা ?
ভালবাসার কাছে গরীব-বড়লােক আছে ?
হিরন্ময় । প্রণয়ে নেই—পরিণয়ে আছে।
রুবি। আমি তঁার কাছে যাব ?
রুবি ।
রুবি।
১৬৬

পঞ্চম অঙ্ক
হিরন্ময়। যদি তাকে ভালবাস—নিশ্চই যাবে। না গিয়ে তােমার কোন
উপায় নেই রুবি !
আমার বাবা-মা যে আপনার সঙ্গে বিয়ে দেবেন বলে মাসীমাকে
বাক্যদান করেছেন? আমি কি আপনার বাকদত্তা ?
হিরন্ময়। বাক্যদান তারা করেছেন—তুমি তাে বাক্যদান করনি রুবি ?
“সবার উপরে মানুষ সত্য,
তাহার উপরে নাই।”
বাক্যের (চয়ে মানুষ বড়–মানুষের প্রাণ বড়!
“জীবনেরে কে রােধিতে পারে ?
আকাশের প্রতি তারা ডাকিছে তাহারে
তার নিমন্ত্রণ দিকে দিকে লােকে লোকে।”
এমন যে মানুস—সে মানুষকে আমি বাঁধবো কোন বাক্য দিয়ে ম?
তাহলে আপনি আমায় মুক্তি দিবেন ?
হিরন্ময়। তুমি তাে মুক্ত ! তুমি যাও—তার কাছে যাও।
রুবি। আপনি আমার বন্ধু, আমার ভাই-মলয়ার মত আমাকেও
আপনি ছােটবােন বলে জানবেন !
হিরন্ময়। এতদিন তােমার মনের কথা আমায় জানাও নি কেন
রুবি ?
মনে ভেবেছিলাম—আমি আপনার বাত্তা । মাসীমাকে
আমি মায়ের মত ভাবি, আপনাকে শ্রদ্ধা করি, আমি অনেক
দিন ধরে মন বাবার চেষ্টা করেছি; কিন্তু যত বার তাকে
দেখেছি—আমার মন আর বাধা মানেনি। আজ তার চিঠি
'কবি ।
কবি।
;

পথের সাথী কবি। পেয়ে আমি অত্যন্ত ব্যাকুল হয়েছি। আমি জানি, আপনি আমার পরম হিতৈষী ; তাই একথা আপনাকে বল্লাম ! হিরন্ময়। তুমি ঠিক অনুমান করেছ করবী—আমি তােমায় ভালবাসি । তােমায় ভালবেসেই আমি ভালবাসার স্বরূপ যে কি, তা জানতে পেরেছি। তােমায় হারানাে আমার পক্ষে অল্প ক্ষতি নয়; কিন্তু তুমি আমায় স্বেচ্ছায় যে বড় ভাইয়ের অধিকার দিয়েছ—তার মূল্য কম নয়। আমি সে অধিকার নিলাম ; তার চেয়ে বেশী চাইলে -তােমার কাছে শুধু নিজের দৈন্যই দেখানো এখন তুমি কি করবে রুবি ? আমিতো জানিনে ?—আপনি আমার উপদেশ দিন ! হিরন্ময়। এখন তো আর কেউ তােমায় উপদেশ দিতে পারবে না? যে তােমার জন্যে সৰ্বস্ব ছেড়েছে, তার পাশেই তােমার স্থা! কিন্তু তিনি যে আজ পথের পথিক। তিনি আমায় লিখেছেন- জীবনপথে আজ আমি পথিক ছাড়া আর কিছু নই হিরন্ময়। তুমি হবে তার “পথের সাথী”। যদি আমায় সাথী না করেন ? হিরন্ময়। তাহলে বুঝবো তার প্রেম মিথ্যা, ত্যাগ মিথ্যা,-এ শুধু আত্ম- প্রবঞ্চনা। ( অমরবাবুর ও নদীর প্রবেশ) অমর। তাহলে কি হ’ল হিরন্ময় ? হিরন্ময়। আমি করবীর বড় ভাই। বড়ভাই ? কি সর্বনাশ ! নম্মদ। শুনছে, হিরন্ময় বলে কি? রুবি। - রুবি। অমর। ১৬৮

পঞ্চম অঙ্ক
বড়ভাই! আরে—ভাইবােনে বিয়ে দেওয়ার প্রথাতো প্রাচীন
ঈজিপ্ট ছাড়া আর কোন দেশে নেই।
নম্মদ। আচ্ছা তুমি থাম, গণ্ডগােল করনা-আমি জিজ্ঞাসা ক’চ্ছি।
কবি—কি হয়েছে মা?
হিরন্ময়দা ঠিকই বলেছেন—আমি যার, তার কাছেই আমায়
যেতে হবে। উনি আমায় মুক্তি দিয়েছেন। তোমরা মাসীমার
কাছে যে বাক্যদান করেছিলে—তা থেকে মুক্ত।
মুক্ত ? মুক্ত মুক্তি—এসব কথা ঠিক ভাল বুঝতে পাচ্ছিনে!
কথাটা কি দাড়াচ্ছে তাহলে হিরন্ময়ের সঙ্গে তোমার বিয়ে
রুবি।
অমর।
হবে ?
অমর।
!
তবে কার সঙ্গে বিয়ে হবে ?
হিরন্ময়। শশাঙ্কবাবুই রুবীর স্বামী।
অমর। শশাঙ্কবাবু! না না—সে কেমন করে হবে ? এবার তার
গুরুদশার বছর—শর এখন বিয়ে করাই উচিত না ; তারপর
তার বাবারও ইচ্ছে ছিল না আমার মেয়ের সঙ্গে ওর বিয়ে হয়।
নদা। তুমি চুপ কর, চুপ কর ; মেয়ে যখন শশাঙ্ককে ভালবাসে, তখন
আমাদের দায়িত্ব কিছু নেই--এখনকার কথা শশাঙ্ক বুঝবে
আর রুবি বুঝবে!
অমর। বােঝে—তবেতাে ? এইতাে এতদিন ধরে বােঝান গেল, ফল
কিছু হ’ল কি? এখন আবার শশাঙ্ককে কে বােঝাবে তা
কে জানে !

পথের সাথী
রুবি।
নম্মদ।। তােমায় ভাবতে হবে না—রুবি আপনি শশাঙ্কর কাছে যাবে।
বাবা, মা, হিরন্ময়দাদা—আপনারা আমায় আশীৰ্বাদ করুন,
আমি আমার স্বামীর কাছে যাই।
নম্মদা-তুমি সঙ্গে যাও; আচ্ছা বাবা হিরন্ময়, তুমি তাহলে
অমর।
বাড়ী যাও!
( হিরন্ম! যাইতেছিল পিচুন হইত অমর ডাকিল )
Gaita Gatal-I am very sorry, I am very sorry!
অমর।
তৃতীয় দৃশ্য
বসন্তবাবুর কক্ষ
শরদিন্দু, প্রতিমা ও সরযু
?
শরদিন্দু। দেখ দেখি ছােটমা, বড়মার অন্যায়টা? আমায় উনি যাচ্ছেতাই
বললেন ! আমিই যেন জোর করে বাবাকে দিয়ে উইল
লিখিয়েছি! তুমি তাে বাপু ছিলে সেখানে—আমি তােমায়
সাক্ষী মাছি !
( বিবাসিনীর প্রবেশ )
বিন্দু।
( প্রতিমার প্রতি) এই যে—বৌমা তুমি আছ ?
তবু তােমার ছেলে-বৌ দেখছে তাই—নইলে কেউ বােধ হয়
মুখে একটু জলফোটাও দিত না।
সরযু।
১৭০

পঞ্চম অঞ্চ
;
বিন্দু।
ছোটবো, চিরকালটা কনে-বৌটিই রয়ে গেলে? আর একজন
বুদ্ধি যােগান দিলে তবে তােমার বুদ্ধি খেলবে ? যাক্, আমি
তােমাদের দু’একটা কথা বলবাে—তোমরা শােন।
শরদিন্দু। বল মা—তােমার কি বলবার আছে ? ছােটমা—কথাগুলি শুনে
রেখ ; তােমার কথা নিয়েই কথা উঠবে।
বিন্দু। আমি আসবার আগে কর্তা যে উইল করেছিলেন, সে কথা
আমায় বলনি কেন?
শরদিন্দু। ব’বার আর সময় কই পেলাম না ! তুমি এসে দাড়ালে
তারপর বাবা আর কতক্ষণ বেঁচে ছিলেন ? তখন ওঁকে নিয়েই
সবাই ব্যস্ত—তখন কি আর উইলের কথা তােলবার সশস্ত্র ?
আর উনি যে উইল করেছিলেন, সে কথা সবাই জানে—শশাঙ্ক
পৰ্যন্ত ।
বিন্দু।
আমি যখন উইলের কথা তুললাম, তুমি এমন ভাবটি দেখালে
যে, তার আগে উইল টুইল কিছু হয় নি।
শরদিন্দু। তুমি অন্যায় করেছিলে মা ! বাবার তখন শ্বাস উঠছে—তখন
উইলের কথা তুলে লাভ!
বিন্দু। তখনাে ওঁর জ্ঞান ছিল—আমি ওঁর মত নিয়ে উইলখানা আগুনে
পুড়িয়ে ফেলতুম !
শরদিন্দু। উইলে বাবা ছােটমাকে অর্ধেক সম্পত্তি দিয়ে গেছেন-সেই
উইল নষ্ট করা অন্যায় হ’ত।
বিন্দু।
তােমার যে এতখানি ন্যায়-অন্যায়ের বিবেচনা আছে, আমি
আগে তা জানতাম না শরদিন্দু !
১৭১

পথের সাথী
শরদিন্দু। তুমি তো কোন দিনই আমার ভাল দেখনি মা—আজ হঠাৎ
ভাল দেখবে কেমন করে ?
বিন্দু। শরদিন্দু—আমি তােমার মা ! আমি বলছি, উইলখানা আমার
সামনে আগুনে পুড়িয়ে ফেল ।
শরদিন্দু। আমি তা পারিনে মা-বাবার শেষ আদেশ।
বিন্দু। কি দোসে শশাঙ্ক তার পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার হতে বঞ্চিত হবে?
শরদিন্দু। দোষ যা তা আমি মুখে বলবো না মা ! দশে ধৰ্ম্মে জানে—
চোখে দেখেছে। তবু আমি বলছি, যার সম্পত্তি, তিনি
শশাঙ্ককে কিছু দিয়ে যান নি—আমি কি করতে পারি ?
হয়তাে শশাঙ্কর চরিত্র সংশােধনের জন্য বাবা এই ব্যবস্থা
করেছিলেন। শশাঙ্কর অর্ধেক সম্পত্তি যদি ছােটমার হাতেই
থাকে—তাতে ক্ষতি কি? ছােটমা তাে ওর সৎমা না? শশাঙ্ক
যদি ছােটমার মনে কষ্ট না দেয়, উনি সে সম্পত্তি শশাঙ্ককেই
দিয়ে যাবেন ! আমি তাে আর আমার জন্যে বলছি, নে-
আমার অর্ধেক সম্পত্তি তাে আর কেউ কেড়ে নিচ্ছে না?
আমি ছােটমার মুখ চেয়ে কথা কইছি
সরযূ। সত্যি দিদি, শরদিন্দু তত অন্যায় কথা বলছে না ; আমি সম্পত্তি
নিয়ে কি করবাে ?
শরদিন্দু। সম্পত্তি যদি ছােটমার নামে থাকে—শশাঙ্ক ভয়ে ভয়ে ভাল
থাকবে। ওর নিজের নামে সম্পত্তি পেলে ও যেরকম
বাউণ্ডুলে—ওতাে সব দু’দিনে উড়িয়ে দেবে। ছােটমাকে
দু’বেলা দুটো খেতেও দেবেনা !
১৭২

পঞ্চম অঙ্ক
বিন্দু।
বিন্দু।
বিন্দু। তাহলে উইল তুমি নষ্ট করবে। শরদিন্দু ?
শরদিন্দু। আমি তা পারিনা মা, আমায় তুমি অন্যায় অনুরােধ করােনা।
ছোটবৌ, তাহলে তােমারও ইচ্ছে নয়—শশাঙ্ক ঘরবাসী হয় ?
সর। ছেলের ভালর জন্যে কৰ্ত্ত। নিজে যা ব্যবস্থা করে গেছেন, আমি
তা না করি কেমন করে দিদি ?
তোমার নিজের পেটের ছেলে। তার অপরাধ—সে তােমার
বাপের বাড়ীর এক মুখ খামখেয়ালী জমিদারের মেয়েকে
বিয়ে করেনি; সেইজন্যে সে তার পৈতৃক সম্পত্তি পাবেনা?
( **ক্ষে প্রবেশ )
শশাঙ্ক। বড়মা-কেনা এসব কথা নিয়ে মাকে পেড়াপীড়ি করছ ?
আমিতো ও সম্পত্তি নেবন।।
বিন্দু।
তুমিতো কারাে দান নিচ্ছ না বাবা?
শশাঙ্ক। বাবা আমার সামনে, আমার মুখের উপর বলেছেন—আমি কিছু
পাবনা; তারপর কারাে কথায় আমি আর সে সম্পত্তি গেগ
কর্ডে পারিনে। আচ্ছা, আমি চল্লাম।
বিন্দু।
শশাঙ্ক। আমি যাবো বলে বেরিয়েছি বড়মা ?
বিন্দু।
কোথায় যাবে ?
শশাঙ্ক। আমি আজমীর কলেজে ইংরেজীর lecturer হয়ে যাচ্ছি।
বিন্দু।
এখনি যাবে ?
শশাঙ্ক। আমি বেরিয়েছি বড়মা! গােটা পঞ্চাশ টাকা আমায় দিতে
পার বড়মা—তােমার নিজের টাকা থেকে ?
১৭৩

পথের সাথী
আসি।
বিন্দু।
ও বাবা দাড়—আমিও একটু গুছিয়ে নিই? আমায় মধুপুর
রেখে তুমি চলে যেও। ছােটবৌ—এখনাে বুঝে দেখ। আজ
যদি শশাঙ্ক ভিটে ছেড়ে চলে যায়, ওকে আর তুমি আনতে
পারবে এখানে ?
শশাঙ্ক। তুমি চট করে নাও বড়মাআমি time telleটা দেখে
[ প্রস্থান ।
বিন্দু। আমার কথার উত্তর দিচ্ছ না যে?
সরযূ।
দিদি, ছেলে আমার বশ না—আমার কোন কথা কখনো
শশানেনি।
বিন্দু। ছােটবৌ-আসল বস্তু চিনলে না!
[ প্রস্থান ।
শরদিন্দু। তুমি বড়মার কথা শুনােনা ছােটমা ! বাবা সবদিক বুঝেই
কাজ করে গেছেন—তিনি পাকা বিষয়ী লােক ছিলেন।
সম্পত্তি তোমার হাতে থাকলে ওই শশাঙ্কই আবার—এখন
তােমায় ভয় দেখাচ্ছে বই তাে নয়—দিন পনেরাে পরে ঠিক
তােমার কাছে এসে হাজির হবে। ও যাবে কোথায় ?
তুমি কিছু ভেবনা—তুমি শক্ত হও।
( বিন্দু ও শােভা এব° দুইটী বাক্স লইয়া ঝির প্রবেশ )
এই বাক্সটি শােভা তুমি নাও-আর এইটে বৌমা তুমি নাও !
আমার সমস্ত গয়না ভাগ করে দেওয়া রয়েছে।
শােভা। আমিও আজ শ্বশুরবাড়ী যাব বড়মা! চিঠি পেয়েছি শাশুড়ীর
বড় অসুখ। জ্ঞানদা আমায় রেখে অমুক !
বিন্দু।
১৭৪

পঞ্চম অঙ্ক
( জ্ঞানের প্রবেশ )
জ্ঞান।
আমায় ডাছিলেন বড়মা ?
বিন্দু। তুমি শােভাকে ওর শ্বশুরবাড়ীতে রেখে এস।
জ্ঞান। কবে আসবেন বড়মা ?
বিন্দু।
তা কি করে বলবাে বাবা! এইগুলি রেখে দাও-এ থেকে
এক শত টাকা ঝি-চাকরদের দিও আর বাকী তুমি নিও।
জ্ঞান।
মা—আপনি হাতে করে দিচ্ছেন, আমি মাথায় করে নেব।
কৰ্ত্তাবাবু অকালে চলে গেলেন । আপনি যদি থাকতেন—সব
বজায় থাক্‌তো!
বিন্দু। আমি অভিমান করে যাচ্ছি না বাবা-আমি আবার আসবো।
( শশাঙ্কর প্রবেশ)
শশাঙ্ক। কই বড়মা ! জ্ঞানদা—চল্লাম ; যদি কখনো ওধারে তীর্থ করতে
যাও, আমায় আজমীরে চিঠি লিখাে।
প্রতিমা। সন্তানের দোষ-অপরাধ নেবেন না মা—আবার আসবেন ।
শশাঙ্ক। তাহলে আসি মা ?
সরযু। শশাঙ্ক ! শরদিন্দু-উইলখানা নিয়ে এস ; আমি দিদির হাতে
দিই—দিদি যাথুসী তাই করুন !
শরদিন্দু। তুমি বলছাে ছােটমা—আমি এনে দিচ্ছি। আমারতাে আর
শশাঙ্ককে বিষয় ফঁাকি দেবার উদ্দেশ্য নয় ? আমি চেয়ে-
ছিলাম—সম্পত্তিটে যাতে রক্ষে হয় আর শশাঙ্কর সঙ্গে সুষির
বিয়ে হয় ; দুইবােনে মিলেমিশে এক সঙ্গে থাকে। তা বেশ,
তুমি যা ভাল বােঝ—তাই হােক !
[ প্রস্থান।
১৭৫

পথের সাথী
কুবি।
( রুবির প্রবেশ )
শশাঙ্ক । একি ! রুবি-তুমি ?
হ্যা আমি ; তুমি কোথায় যাচ্ছ ?
শশাঙ্ক। আমি আর এদেশে থাকসোনা।
রুবি। আমায় তােমার সঙ্গে নাও, আমি তোমার সঙ্গে যাবাে।
শশাঙ্ক। তুমি আমার সঙ্গে যাবে ! সত্যি যাবে রুবি? আমি এতখানি
আশা করিনি রুবি ?
( নর্মদার প্রবেশ )
নদা। আমার মেয়ে নাও দিদি, তােমার হাতে দিয়ে যাচ্ছি ; তুমি
যা ভাল বুঝবে তাই করাে।
শশাঙ্ক। বড়মা-তুমি আমায় আদেশ দাও !
( শরদিন্দর প্রবেশ )
শরদিন্দু। এই নাও ছােটমা।
সরযু।
বিন্দু। আমি তােমায় আশীর্বাদ কচ্ছি শরদিন্দু—তােমায় ভাল হবে ;
দিদি !
পারিনে।
শশাঙ্ক। বড়মা, তুমি আর আমায় ও অনুরােধ করােনা। বাবা আমায়
সম্পত্তি দেননি। আমি কারাে অনুরােধে সে সম্পত্তি নিতে
তােমরা আমায় আশীৰ্বাদ কর, তােমাদের
আশীর্বাদেই আমি সুখে থাকবাে।
(অমরের প্রবেশ )
অমর। তাহলে কি হ’ল নর্মদা ?
১৭৬

CKRA WAT LILIAR পঞ্চম অঙ্ক অমর। নর্মদা। সব ঠিক হয়ে গেল-শঙ্কর সঙ্গে রবির বিয়ে হবে। বিন্দু। এতদিন আপনার মেয়ে আমার কাছেই থাকবে। আপনার কাছে থাকবে ? ও-আপনিই বুঝি শশঙ্কর বড়মা ! আমাদের বেয়ানঠাকরুণ? আর উনি বুঝি আর এক বেয়ান ? হা—দখুন বেনঠাকরুণ, শুনেছিম বটে বেয়াই মহাশয়ের দুই সংসার-ভদ্রলোক অকালে মারা গেলেন ; থাকলে আজ কত আনন্দ করতে!! যাক তিনি স্বর্গে গেছেন, বেশ গেছেন ! দুই স্ত্রী রেখে স্বর্গে যাওয়া সােজা কথা না—কটা লােকের ভাগ্যেই বা হয় ? পুণ্যাত্মা লােক ছিলেন- নম্মদ। আঃ—কি বলছাে ? ছি ছি ! চলে এস-ওসব কথা কেউ বলে না কি আরার ? অমর। আমি একটু সৌজন্য করছিলাম নন। থাক, তােমার আর সৌজন্য করতে হবে না—চলে এস। অমর। শশাঙ্ক, তুমি তাহলে রুবিকে বিয়ে কচ্ছ? Very good- I am very glad, very glad ! তাহলে তুমিই রুবির উপযুক্ত পাত্র ? I am very glad, very gladl-very glad ! যবনিকা Estd:-1219, KAROVH- -HOMRAH.

শ্ৰীমতী অনুরূপা দেবী প্রণীত পুস্তকাবলী ২|| ( ৭ম সংস্করণ ) ( ৭ম ) ( ৫ম (৩য় (৩য় , ) ( ৩য় ২০ (ঐ) ) পােষ্যপুত্র (উপন্যাস) মন্ত্রশক্তি মা বাগদত্তা (ঐ) জ্যোতিঃহারা (ঐ) মহানিশা ত্রিবেণী রামগড় { ঐ ) চক্র পথহারা ঐ উত্তরায়ণ হিমাদ্রি হারানাে খাতা (ঐ) গরীবের মেয়ে (ঐ) জোয়ার ভাটা (ঐ) সােণার খনি ( ঐ ) ২|| ২৷ ২া ২|| ২|| পথের সাথী ر ر م বিবর্তন (ঐ) সর্বানী (ঐ) চিত্রদীপ (ছােট গল্প) (২য় সংস্করণ) জিশাখা (ঐ) (২য় , ) (ঐ) (২য় , ) "|| প্রাণের পরশ (ঐ) মধুমল্লী (ঐ) (৪র্থ ) ॥ বিদ্যারণ্য কুমারিল ভট্ট (ঐ) নাট্যচতুষ্টয় (ঐ) প্রাপ্তিস্থান :—আর.এইচ, শ্রীমানী এণ্ড সন্স-২০৪ নং কর্ণওয়ালিস্ ঈট, কলিকাতা। ন + y + > > কখানা বিখ্যাত বই উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় অস্তরাগ-২|| বৈতনিক-১ দিল—২৩ ডাঃ নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত সতী-২|| লক্ষীছাড়া-২, লুপ্তশিখা-২ অন্তরায়-২|| রূপের অভিশাপ-২, তাবিজ-১০ সৌরীন্দ্রমােহন মুখোপাধ্যায় গরীবের ছেলে-২, বহ্নিশিখা-২১ শৈলজানন্দ মুখােপাধ্যায় অভিশাপ-১|| রক্তলেখা-১৭ অরুণােদয়-১। মাটির রাজা-১৮০ পূর্ণচ্ছেদ-১ প্রবোধ সান্যাল প্রেমেন্দ্র মিত্র যাযাবর-১ পঞ্চশর-১০ দীনেন্দকুমার রায় প্রেতপুরী-১০ রহস্যের খাসমহল-২, সােনার পাহাড়-২, নানা সাহের-২, গদীশচন্দ্র গুপ্ত অসাধু সিদ্ধার্থ-১০ রূপের বাহিরে—১০ প্রফুল্লকুমার সরকার অচ্যুত চট্টোপাধ্যায় বালির বাঁধ-১|| পৃথিবীর প্রেম-১ সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত অনুরূপা দেবী। কুহু ও কেকা (৩য় সং) ১|| উত্তরাখণ্ডের পত্র-১৩ যােগেশচন্দ্র চৌধুরী প্রণীত নাটক পতিত্ৰতা-১ পথের সাথী-১০ শিবপ্রসাদ কর প্রণীত নাটক স্বর্ণলঙ্কা-১০ আর, এইচ , শ্রীমানী এণ্ড সঙ্গ

নুতন বই
১||
১||
১.
০ ০ ০
কুহু ও কেকা (৩য় সংস্করণ)—সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
বৈতনিক—উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
উত্তরাখণ্ডের পত্র অনুরূপা দেবী
বালির বাঁধ—প্রফুল্লকুমার সরকার
পৃথিবীর প্রেম-অচ্যুত চট্টোপাধ্যায়
অভিশাপ-শৈলজানন্দ মুখােপাধ্যায়
অরুণােদয়-শৈলজানন্দ মুখােপাধ্যায় •••
প্রেতপুরী- দীনেন্দ্র কুমার রায়
পথের সাথী (নাটক)--যােগেশচন্দ্র চৌধুরী
স্বর্ণল,.. নাটক)-শিবপ্রসাদ কর
•••
১||
০
১০
০ ০ ০
১০
১।
১০
আর, এইচ, শ্রীমানী এণ্ড সন্স,
২০৪ নং কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট, কলিকাতা।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Pather Sathi

Author
Debi, Srimati Anurupa
Title
Pather Sathi
File name
Pather Sathi
Text
OCR done
Citation
1935
Published
2009/07/15
Publisher
Sri Ajit Srimani, Calcutta
Language
Sanskrit
Pages
194
Library
Makardah Saraswat Library, Howrah
Classification
Drama. Plays.
Keywords
Social drama
DLI number
551319
Barcode
4990010021125.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
KJCsaAIVmY3
Download PDF

Pather Sathi