Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Debi-mahatmya

Chackraborty, Bishnaupada · 2010/02/16

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

চক্রবর্তী সাহিত্য-ভবনের প্রথম গ্রন্থ।
দেবীমাহাত্ম্য
শ্রীশ্রীচণ্ডীর কথা
শ্রীবিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
কবজু-চক্রবত্তাহিত্য-ভবন।
সন ১৩৩৪ সাল।
সৰ্বস্বত্ব সংরক্ষিত ]
[মূল্য। চারি না।

বদ্বজ চক্রবর্তী সাহিত্য-ভবন হইতে গ্রন্থকার কর্তৃক প্রকাশিত। পােঃ বজবজ, জেলা ২৪ পরগণা। শুদ্ধিপত্র পৃষ্ঠা অশুদ্ধ ১২ ৪ प নিত্যের নিত্যাপ্যভিষীয়তে যদারুগাথাে বিষ্টো নিত্যৈব নিত্যাপ্যভিধীয়তে যদারুণাখ্য বিষ্টে न ৫ ২ ন ৪৫ ১৮ । হিকে • মরিয়াে তাহাকে যারয়াে ২ প্রিন্টার-অবিনাশচন্দ্র মণ্ডল সিদ্ধেশ্বর প্রেস ২৯নং নন্দকুমার চৌধুরী সেকেণ্ড লেন, কলিকাতা।

নিবেদন।
দেবীমাহাত্ম প্রকাশিত হইল। আজ পর্যন্ত বাঙ্গালা
ভাষায় অনেকেই চণ্ডীগ্রন্থ প্রকাশ করিয়াছেন, কিন্তু আমার
আলােচনার প্রণালী স্বতন্ত্র ।
প্রণালী স্বতন্ত্র। আমি শ্লোকের পর শ্লোক
অনুবাদ না করিয়া চণ্ডী সম্বন্ধে জানিবার কথাগুলি বিভিন্ন
বিষয়ে বিভাগ করিয়া প্রত্যেকটী বিষয় স্বতন্ত্রভাবে আলােচনা
করিয়াছি।
প্রথমে অনুক্রমণিকা-অংশে ভক্ত হিন্দুগণ দেবী-
মাহাত্ম্য কিরূপ দৃষ্টিতে দেখিয়া থাকেন তাহা আলােচনা
করিয়া কি সূত্রে দেবী-মাহাত্মের প্রসঙ্গ হইয়াছিল, তাহা
বলিয়াছি, এবং তৎপরে যথাক্রমে দেবীর আবির্ভাব বিবরণ,
দেবীর স্বরূপ এবং কার্যের কথা আলােচনা করিয়াছি।
এই পুস্তকে চণ্ডীর গল্পাংশ সমস্তই সংক্ষেপে প্রদত্ত হইয়াছে।
পরিশেষে দেবী-মাহাত্মের অন্তর্গত সুললিত স্তবগুলি,
তৎকালীন ঘটনা ও প্রার্থনা বর্ণনামূলক কয়েকটী শ্লোক বাদে,
সমস্তই সানুবাদ উদ্ধৃত হইয়াছে। ইহাতে ভক্তগণের দেবী-
পূজার সময় স্তব পাঠের যথেষ্ট সুবিধা হইবে। এই পুস্তকে
দেবী-মাহাত্মের বীজ-স্বরূপ দেবীসূক্তও অনুবাদ সহ প্রদত্ত
হইয়াছে। সুতরাং দেবী-মাহাত্মের জ্ঞাতব্য বিষয়গুলি
কিছুই বাদ দেওয়া হয় নাই। এক্ষণে পুস্তকখানি সাধারণের
নিকট আদরণীয় হইলেই আমার শ্রম সার্থক হইবে।
চিত্রগঞ্জ,
পােঃ আঃ বব।
১লা বৈশাখ, ১৩৩৪।
বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
১

সূচিপত্র। পৃষ্ঠা ••• ••• | ০ ০ ••• ••• ১৪ ০ ০ ০ ১৭ বিষয় অনুক্রমণিকা দেবীর আবির্ভাব মধুকৈটভ বধ মহিষাসুর বধ শুম্ভ-নিশুম্ভ বধ অন্যান্য আবির্ভাব দেবীর স্বরূপ দেবীর কাৰ্য্য পরিশিষ্ট- দেবীর স্তুতি দেবীসুক্ত • • • | ০ ০ ২৪ ৫ ০ ০ ••• ২৮ ৩১ : : ০ ০ • • • ৩৪ ০ ০ ০

দেবীমাহাত্ম।
অনুক্রমণিকা।
দেবী-মাহাত্ম্য ভক্ত হিন্দুর পরম আদরের ধন। শত শত
বৎসর ধরিয়া হিন্দুগৃহে দেবী-মাহাত্ম আবৃত হইয়া আসিতেছে।
শ্রদ্ধাবা হিন্দু বিবিধ প্রজেনে দেবী-মাহাত্মের পঠন পাঠনের
ব্যবস্থা করিয়া থাকেন।
দেবী-মাহাত্ম সম্বন্ধে দেবগণের স্তবের উত্তরে দেবগণের
প্রতি দেবীর উক্তি দ্বারাই কথিত হইয়াছে—
এভিঃ স্তবৈশ্চ মাং নিত্যং স্তোষ্যতে যঃ সমাহিত।
তাহং সকল বাধা শময়িষ্যামসংশয়ম্ ॥১২১
যে ব্যক্তি একমনে এই সকল স্তব দ্বারা নিত্য আমার
‘স্তব করিবে, আমি নিশ্চয়ই তাহার সকল বিপদ বিনাশ
করিব।
উপসর্গানশেষাংস্তু মহামারীসমুদ্ভবা।
তথা বিবিধঃৎপাতং মাহাত্মং শময়েম ॥১২৭
আমার মাহাত্ম মহামারীজনিত নানাপ্রকার উপসর্গ

২
দেবীমাহাত্ম।
এবং ( বােগাদিজনিত আধ্যাত্মিক, ভূতপ্রেতাদিজনিত
আধিভৌতিক ও বজ্রপাতাদিজনিত আধিদৈবিক এই ) তিন
প্রকার উৎপাত নাশ করিয়া থাকে।
যুগ্মভিঃ স্তুতয়াে যাশ্চ যাশ্চ ব্রহ্মর্ষিভিঃ কৃতা।
ব্ৰহ্মণা চ কৃতাস্তাস্তু প্রযচ্ছন্তি শুভা মতিম্ ॥১২২৪
তােমাদিগের ( অর্থাৎ দেবতাদিগের ), ব্ৰহ্মর্ষিদিগের এবং
ব্রহ্মা কর্তৃক কৃত স্তব শুভ বুদ্ধি প্রদান করিয়া থাকে।
যতৈৎ পঠতে সম্যঙনিত্যমায়তনে মম।
সদা ন তদ্বিমােক্ষ্যামি সান্নিধ্যং তত্র মে স্থিতম্ ॥১২৮
যে গৃহে আমার এই মাহাত্ম নিত্য সম্যকরূপে পঠিত
হয়, সেই গৃহ আমি কখনও ত্যাগ করি না, সেই গৃহে
আমার সান্নিধ্য সর্বদা বৰ্তমান থাকে।
সৰ্ব্বং মমৈতন্মাহাত্মং মম সন্নিধিকারকম্ ॥১২১৯
আমার এই সমগ্র মাহাত্ম্য অামার আবির্ভাবসাধক।
মধুকৈটভনাশঞ্চ মহিষাসুরঘাতন।
কীৰ্ত্তয়িষ্যন্তি যে তদ্বন্দ্বধং শুম্ভনিশুম্ভয়াের ১২২
তাষ্টম্যাঞ্চ চতুর্দখাং নবম্যাঞ্চেকচেতসঃ।
শ্রেষ্যপ্তি চৈব যে ভক্ত্যা মম মাহাত্মমুত্তমম্ ॥১২৩
ন তেষাং দুস্কৃতং কিঞ্চিৎ দুষ্কতােখা ন চাপদঃ ।
ভবিষতি ন দারিদ্র্যং ন চৈবেষ্টবিয়ােজনম্ ॥ ১২৪
-

দেবী-মাহাত্ম।
৩
শক্রতাে ন ভয়ং তস্য দস্যুতে বা ন রাজত।
ন শানলতােয়ৌঘাৎ কদাচিৎ সম্ভবিষ্যতি ॥১২১৫
যাহারা মধুকৈটভ, মহিষাসুর ও শুম্ভ-নিশুম্ভের বিনাশ
কীৰ্ত্তন করিবে, এবং অষ্টমী, চতুর্দশী ও নবমী তিথিতে যাহারা
ভক্তিপূৰ্ব্বক একাগ্রচিত্ত হইয়া আমার এই উত্তম মাহাত্ম
শ্রবণ করিবে, তাহাদিগের কিঞ্চিত্মাত্র পাপ, পাপজনিত
বিপদ, দরিদ্রতা, অথবা স্বজন-বিয়ােগ হইবে না, এবং শত্রু,
দস্য, রাজা, শস্ত্র, অগ্নি অথবা জলবেগ হইতে তাহাদিগের
কখনও ভয়ের কারণ উৎপন্ন হইবে না।
শরৎকালে মহাপূজা ক্রিয়তে যা চ বার্ষিকী।
তাং মমৈতন্মহাত্মং শ্ৰত্বা ভক্তিসমন্বিতঃ ॥১২১১
সৰ্ববাধাবিনিমুক্তো ধনধান্যসুতান্বিত
মনুষ্যো মৎপ্রসাদেন ভবিষ্যতি ন সংশয়ঃ ॥১২১২
শরৎকালে প্রতি বৎসর আমার যে মহাপূজা হইয়া থাকে,
সেই মহাপূজায় আমার এই মাহাত্ম ভক্তিযুক্ত হইয়া শ্রবণ
করিলে মানব আমার অন্ত হে সকল বিপদ মুক্ত হইয়া ধন
ধন্থ ও সন্তানযুক্ত হইয়া থাকে, ইহাতে সন্দেহ নাই।
ত্ব। মমৈতন্মাহাত্মং তথ। চোৎপত্তয়ঃ শুভাঃ ।
পরাক্রমঞ্চ যুদ্ধে জারতে নির্ভয় পুমান্ ॥১২১৩

৪ দেবীমাহাত্ম্য। আমার এই মাহাত্ম্য, শুভ উৎপত্তি বিবরণ এবং যুদ্ধ- বিষয়ক পরম শ্রবণ করিলে লােকে নির্ভয় হইয়া থাকে। যুদ্ধেষু চরিতং যন্মে দুষ্টদৈত্যনিবহণম্। তস্মিন্ শ্রুতে বৈরিকৃত ভয়ং পু সাং ন জায়তে ॥ ১২২৩ যুদ্ধেতে দুষ্টদৈত্যগণের বিনাশ সম্বলিত আমার চরিত শ্রবণ করিলে লােকের শত্রুজনিত ভয় হয় না। তং হরতি পাপানি তথারােগ্যং প্রযচ্ছতি। রক্ষা করােতি ভূতেভ্যো জন্মনাং কীৰ্ত্তনং মম ॥১২২২ আমার আবির্ভাব সকলের কথা শ্রবণ করিলে পাপ বিনষ্ট হয়, আরোগ্য লাভ হয় এবং সকল প্রাণী হইতে রক্ষা- বিধান হইয়া থাকে। রিপবঃ সংক্ষয়ং যান্তি কল্যাণঞ্চোপপদ্যতে। নন্দতে চ কুলং পুংসাং মাহাত্মং মম শৃন্বতাম্ ॥১২।১৪ আমার মাহাত্ম শ্রবণকারী ব্যক্তির শত্রুসকল ক্ষয় প্রাপ্ত হয়, মঙ্গল লাভ হয় এবং ব শ বৃদ্ধি হয়। অরণ্যে প্রান্তরে বাপি দাবাগ্নিপরিবারিত। দস্তভিৰ্ব। বৃতঃ শূন্যে গৃহীতে। বাপি শত্ৰুভিঃ ॥১২২৫ সিংহব্যাখ্রা যাতে বা বনে বা বনহস্তিভিঃ। রাজ্ঞা তুনে বাজ্ঞসপ্তা বধো বন্ধগতোহপি বা ॥১২২৬ দেবীমাহাত্ম। আর্ণিতো বা বাতেন স্থিতঃ পােতে মহাবে । পতৎসু বাপি শস্ত্রে সংগ্রামে ভূশদারুণে ॥১২২৭ সৰ্ববাধা ঘোরাসু বেদনাভ্যর্দিতােহপি বা। স্মরন্মমৈতচ্চরিতং নরাে মুচ্যেত সঙ্কটাৎ ॥১২২৮ অরণ্যে বা প্রান্তরে দাবাগ্নি দ্বারা পরিবেষ্টিত হইলে, অসহায় অবস্থায় দস্তকর্তৃক পরিবৃত হইলে, শত্ৰুকর্তৃক আক্রান্ত হইলে, বনে সিংহ ব্যাঘ্র বা বনহস্তী-কর্তৃক তাড়িত হইলে, ক্রুদ্ধ রাজা-কর্তৃক বধ বা বন্ধন-দণ্ডে দণ্ডিত হইলে, মহাসমুদ্রে পােতারােহী অবস্থায় বায়ুদ্বারা বিরুতি হইলে, ভীষণ যুদ্ধস্থলে শস্ত্রপাত হইতে থাকিলে, দুঃখক্লিষ্ট হইলে, এব; অন্যান্য সৰ্ব্ববিধ ভীষণ বিপদ উপস্থিত হইলে, মনুষ্য আমার এই চরিত স্মরণ করিলে, সমস্ত বিপদ হইতে মুক্ত মম প্রভাবৎ সিংহাদ্য। দস্থবে। বৈরিাস্তথা। দূরাদেব পলায়ন্তে স্মরতশ্চরিতং মম ॥১২২৯ আমার চরিত স্মরণ করিলে আমার প্রভাবে সিংহাদি হিংস্র প্রাণীগণ, দগণ এবং শত্রুসকল দূরে পলায়ন করে। আমার এই মাহাত্ম- ৰালগ্রহাভিভূতানা বালানাং শান্তিকারক। সংঘাতভেদে চ নৃণাং মৈত্রীকরণমুত্তমম্ ॥১২১৭ ৬ দেবীমাহাত্ম। দুৰ্বত্তানামশেষাণাং বলহানিকরং পরম্। রক্ষোভূতপিশাচানাং পঠনাদেব নাশনম্ ॥১২|১৮ বলিগ্রহদ্বারা আক্রান্ত বালকগণের রক্ষাকারক, মানব- গণের পরস্পর বিবাদ বিসম্বাদে উত্তম মিত্ৰতা সম্পাদক, নানাবিধ দুষ্টগণের শক্তিক্ষয় করিতে শ্রেষ্ঠ উপায়, এবং ইহার পাঠমানেই রাক্ষস, ভূত ও পিণাচগণ বিনষ্ট হইয়া থাকে। আরও-- পশুপুস্পার্ঘধূপৈশ্চ গন্ধদীপৈস্তখােত্তমৈঃ। বি প্রাণাং ভােজনৈহোমৈঃ প্রােক্ষণীয়ৈরহর্নিশম্ ॥১২২০ অশ্চৈ বিবিধৈর্ভোগৈঃ প্রদানৈৰ্বৎসরেণ যা। প্রতিৰ্ম্মে ক্ৰিয়তে সাস্মিন্ সৎ সুচরিতে শ্রুতে ॥১২২১ এক বৎসরকাল প্রতি দিনরাত্র ধরিয়া উত্তম উত্তম পশু, পুষ্প, অর্ঘ্য, ধূপ, দীপ, গন্ধ প্রদান, এবং ব্রাহ্মণ-ভােজন, হােম, অভিষেক ও অন্যান্য নানাপ্রকার ভােগ্যবস্তু প্রদান দ্বারা পূজা করিলে আমার যে প্রকার প্রীতি হইয়া থাকে, একবারমাত্র আমার এই সুচরিত শ্রবণ করিলে (শ্রোতার প্রতি) আমার সেইরূপ প্রতিই হইয়া থাকে। বলিপ্রদানে পূজায়ামগ্নিকার্যে মহােৎসবে। সৰ্ব্বং মমৈতচ্ছরিতমুচ্চাৰ্যং শ্রাবমেব তৎ ১২৯

দেবী-মাহাত্ম্য।
৭
জানতা-জনিত বাপি বলিপূজাং তথা কৃতাম্।
প্রতীচ্ছিাম্যহং প্রীত্য। বহ্নিহােমং তথা কৃতম্ ॥১২১০
বলিদান, পূজা, হােম এবং মহােৎসব উপলক্ষ্যে আমার
এই সমস্ত চরিত পাঠ করা এবং শ্রবণ করা কর্তব্য। কারণ,
তাহা হইলে, বিধিজ্ঞ বা অবিধিজ্ঞ যেরূপ ব্যক্তিই হউক,
তৎকৃত সেই বলি, পূজা, হােমাদি আমি প্রীত হইয়া গ্রহণ
করিয়া থাকি।
শান্তিকৰ্ম্মণি সর্বত্র তণা দুঃস্বপ্নদর্শনে।
গ্রহপীড়াসু চোগ্রা মা হাত্মং শৃণুয়ান্মম ॥১২১৫
উপসাঃ শমং যান্তি ওহপীড়াশ্চ দারুণাঃ।
দুঃস্বপ্ন নৃষ্টিং সুস্বপ্নমুপজায়তে ॥১২১৬
সকল প্রকার শান্তিকাৰ্য্যে, দুঃস্বপ্ন দর্শন করিলে এবং
ভীষণ গ্রহপীড়ায় আমার মাহাত্ম্য শ্রবণ করিবে। তাহা
হইলে উপসসকল ও ভীষণ গ্রহপীড়াসকল বিনষ্ট হইবে এবং
মনুষগণের দৃষ্ট দুঃস্বপ্নসকল সুস্বপ্নে পরিণত হইবে।
তন্মান্মমৈতমাহাত্মং পঠিতব্যং সমাহিতৈঃ।
শ্রোতব্যঞ্চ সদা ভক্ত্যা পরং স্বস্ত্যয়নং হি তৎ ১২৬
অতএব,-সৰ্ব্বদা একাগ্রচিত্তে ভক্তিপূৰ্ব্বক আমার এই
মাহাত্ম্য পাঠ এবং শ্রবণ করা কর্তব্য, কারণ মঙ্গললাভের
ইহাই উৎকৃষ্ট পথ।

দেবীমাহাত্ম।
এই দেবীমাহাত্ম মার্কণ্ডেয় পুরাণের অন্তর্গত। মেধস
মুনি সুরথ রাজাকে এবং সমাধিনামক বৈৎকে দেবীর
মাহাত্ম্য সম্বন্ধে যাহা বলিয়াছিলেন, মার্কণ্ডেয় পুরাণে তাহাই
বর্ণিত হইয়াছে।
দেবীমাহাত্মের কথা প্রসঙ্গ এইরূপ
পূৰ্ব্বকাণে স্বারােচিষ মন্বন্তরে চৈবশে সুরথ নামে
একজন রাজা জন্মিয়াছিলেন। তিনি অমাত্যগণকর্তৃক
রাজ্যচুত এবং অর্থহীন হইয়া মৃগয়াচ্ছলে একাকী বনগমন
করেন এবং মেধস মুনির আশ্রমে মুনিবরকর্তৃক সৎকৃত
হইয়া কিছুদিন বাস করিতে থাকেন। কিন্তু শান্তিপূর্ণ
আশ্রমে বাস করিয়াও তিনি রাজ্যের প্রতি মমতা শূন্য হইতে
পারিলেন না, পরন্তু রাজ্য সংক্রান্ত বিবিধ চিন্তা ভঁহার মনে
উদয় হইতে লাগিল। সেই সময়ে সেই আশ্রমের নিকটে
সমাধিনামক এক বৈশ্যের সহিত তঁাহার সাক্ষাৎ হইল।
রাজার প্রশ্নের উত্তরে সমাধি বৈশ্য বলিলেন যে ধনলােভে
তাহার স্ত্রী পুত্র প্রভৃতি তাহার ধন,হণ করিয়া তাঁহাকে
তাড়াইয়া দেওয়ায় তিনি দুঃখিত হইয়া বনে আসিয়াছেন,
কিন্তু বনে আসিলেও সেই দুৰ্ব্বত স্ত্রী পুত্র প্রভৃতির মঙ্গল
অমঙ্গলের চিন্তা যাইতেছে না।
তখন রাজা ও বৈশ্য উভয়ে যে বিষয়ের জন্য চিন্তা করা

দেবী-মাহাত্ম। ৮ উচিত নয় সেই বিষয়ের চিন্তা কেন তঁাহারা বর্জিত হইতে পারিতেছেন না তাহা বুঝিতে না পারিয়া মেধস মুনির নিকট গমন করিলেন এবং সেই রাজা মুনিকে সেইরূপ হইবার কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন। রাজা জিজ্ঞাসা করিলেন—সমস্ত বিষয় জানিলেও কেন তাহাদের সাংসারিক বিষয়ের প্রতি আকর্ষণ যাইতেছে না ; মূর্ণ ব্যক্তিরই মােহ হইয়া থাকে, কিন্তু জ্ঞানী হইলেও কেন তাদের মােহ হইতেছে ? মুন বলিলেন যে, মহামায়ার প্রভাবেই এইরূপ হইয়া থাকে। সাধারণ লােকের কথা কি, জ্ঞানিনামপি চেংসি দেবী ভগবর্তী হি সা। বলাদাকৃষ্য মােহায় মহামায়া প্রযচ্ছতি ॥১৪২ সেই ভগবতী মহামারা-দেবী জ্ঞানিগণের চিত্তও বলপূর্বক ( বিবেকপথ হইতে) আকর্ষণ করিয়া মােহিত করিয়া থাকেন। আরও- তন্নাত্র বিস্ময়: কাৰ্য্যো যোগনিদ্রা জগৎপতে। মহামায়া হরেশ্চৈতত্তয়া সমােহতে জগৎ |১৪১ মহামায়া-কর্তৃক যে এই জগৎ মােহিত হইবে ইহাতে বিস্মিত হইবার কিছু নাই, কারণ তিনি জগৎপতি হরিরও দেবীমাহাত্ম। যােগনিদ্রা, (অর্থাৎ যােগনিদ্রারূপে তিনি জগৎপতি হরিকেও মােহিত করিয়াছিলেন)। তয়া বিজ্যতে বিশ্বজগদেতচরাচরম্। সৈষা প্রসন্ন বরদা নৃণাং ভবতি মুক্তয়ে ॥১৪৩ তৎকর্তৃকই এই চরাচর সমস্ত জগৎ সৃষ্ট হইয়া থাকে, এবং তিনি সন্তুষ্ট হইলে লোকের মুক্তির জন্য বর দিয়া থাকেন। সা বিদ্যা পরমা মুক্তেৰ্হেতুভূতা সনাতনী। সংসারবন্ধহেতুশ্চ সৈব সৰ্বেশ্বরেশ্বরী ॥১৫২ সেই সনাতনী দেবীই শ্রেষ্ঠ বিদ্যারূপে মুক্তির কারণ হইয়া থাকেন, আবার সংসার-বন্ধনের হেতুও তিনি। তিনি সর্বেশ্বরেরও ঈশ্বরী। রাজা এই কথা শুনিয়া সেই মহামায়া দেবীর স্বরূপ, কাৰ্য্য এবং উৎপত্তির বিবরণ শুনিতে ইচ্ছা করিলেন। মেধস মুনিও তাহাদিগকে দেবীর মাহাত্ম্য শ্রবণ করাইয়া বলিলেন- তামুপৈহি মহারাজ শরণং পরমেশ্বরী। আরাধিতা সৈব নৃণাং ভােগস্বর্গাপবাদা ॥১৩৩ হে মহারাজ, সেই পরমেশ্বরী দেবীর শরণ প্রার্থনা কর।

দেবী-মাহাত্ম।
১১
আঁহার আরাধনা করিলেই মানুষ ভােগ, স্বর্গ এবং মুক্তিলাভ
করিয়া থাকে।
মুনিবরের মুখে মহামায়ার মাহাত্মের বিবরণ শুনিয়া
রাজা সুরথ এবং সেই বৈশ্য জগজ্জননীর দর্শন-কামনায়
নদীতীরে দেবীর আরাধনা করিলেন, এবং দেবী পরিতুষ্ট।
হইয়া তঁাহাদিগকে দর্শন দান করিয়া অভিলষিত বর প্রদান
করিলেন। দেবীর নিকট রাজা সুরথ সেই জন্মে শত্রুশূন্য
রাজা এব’ জন্মান্তরে সূৰ্য্যদেব হইতে জন্মগ্রহণ করিয়া
সাবকি নামে মনু হইবার বর এবং বৈশ্য-শ্রেষ্ঠ সমাধি
সিদ্ধিলাভের নিমিত্ত তত্ত্বজ্ঞান লাভ করিবার - বর প্রাপ্ত
ইলেন।

প্রথম অধ্যায়। দেবীর আবির্ভাব। সুরথ রাজা মেধস মুনির নিকট দেবীর স্বরূপ, কাৰ্য্য এবং উৎপত্তির বিবরণ শুনিতে চাহিলে, দেবীর উৎপত্তি- সম্বন্ধে মুনি বলিলেন- “নিত্যেব সা।” সেই দেবী নিত্যা, অর্থাৎ তঁাহার জয় মৃত্যু কিছুই নাই। সুতরাং তঁাহার আবার উৎপত্তি কি ? তবে দেবানাং কাৰ্যসিদ্ধ্যর্থবির্ভবতি সা যদা। উৎপন্নেতি তৰা লোকে স। নিতাপ্যভিধীয়তে ॥১৪৮ দেবতাদিগের কার্যসিদ্ধির নিমিত্ত যখন তিনি লোকমধ্যে আবিভূতা হন, তখন সেই নিত্যা দেবী উৎপন্ন হইয়াছেন ইহা কথিত হইয়া থাকে। এইরূপে দেবতাদিগের কার্যসিদ্ধির নিমিত্ত বহুবার দেবীর উৎপত্তি হইয়াছে এবং ভবিষ্যতেও হইবে। তন্মধ্যে দেবীর প্রথম আবির্ভাব হইয়াছিল “মধুকৈটভ” বধের সময়।

দেবীমাহাত্ম। মধুকৈটভ বধ। প্রলয়ের সময় পৃথিবী জলময় হইলে যখন ভগবান বিষ্ণু অনন্তশয্যা আশ্রয় করিয়া যােগনিদ্রায় আচ্ছন্ন ছিলেন, তখন তাহার কর্ণমল হইতে মধু ও কৈটভ নামে বিখ্যাত দুইজন দুর্দান্ত অসুর উৎপন্ন হইয়া তাহার নাভিপদ্মে অবস্থিত প্রজা- পতি ব্রহ্মাকে হত্যা করিতে উদ্যত হয়। প্রজাপতি ব্রহ্মা সেই ঘাের অসুরদ্বয়ের হস্ত হইতে নিস্তার পাইবার মানসে বিষ্ণুর জাগরণের নিমিত্ত যে দেবী তাহাকে নিদ্রাচ্ছন্ন করিয়া রাখিয়াছিলেন নিদ্রারূপা:সেই ভগবতীর স্তব করেন। ব্রহ্মার স্তবে সন্তুষ্ট হইয়া নিদ্রারূপা সেই দেবী মধু ও কৈটভের বিনাশের জন্য বিষ্ণুর জাগরণের নিমিত্ত তঁাহার চক্ষু, বদন, নাসিকা, বাহু, হৃদয় এবং বক্ষঃস্থল হইতে নির্গত হইয়া ব্রহ্মার দৃষ্টির সম্মুখে অবস্থান করেন, এবং ভগবান বিষ্ণু জাগরিত হইয়া সেই অসুরদ্বয় ব্রহ্মাকে ভক্ষণ করিতে উদ্যত হইয়াছে দেখিয়া তাহাদিগের সহিত যুদ্ধ করিয়া তাহাদিগকে বিনাশ করেন। এইরূপে ভগবতী মহামায়া দেবী ব্রহ্মার স্তবে বিষ্ণুর নেত্র, বদন, নাসিকা, বাহু, হদয় এবং বক্ষঃস্থল হইতে আবিভূত হইয়াছিলেন।

দেবীমাহাত্ম্য।
দেবীর দ্বিতীয় আবির্ভাব “মহিষাসুর বধের সময়
হইয়াছিল।
মহিষাসুর বধ।
পূৰ্ব্বকালে যে সময় পুরন্দর দেবতাগণের এবং মহিষাসুর
অসুরগণের অধিপতি ছিলেন, সেই সময় শত বৎসর ধরিয়া
দেবতা ও অসুরগণের মধ্যে যুদ্ধ হইয়াছিল, এবং শেষ পর্যন্ত
দেবগণ পরাজিত হইলে মহিষাসুর স্বর্গরাজ্য অধিকার
করিয়াছিল। তৎপরে পরাজিত দেবগণ ব্রহ্মাকে অগ্রবর্তী
করিয়া যে স্থানে ভগবান শিব ও বিষ্ণু অবস্থান করিতে-
ছিলেন তথায় গমন করিয়া তাহাদিগকে বলিলেন যে
মহিষাসুর স্বয়ং সূৰ্য্য, চন্দ্র, ইন্দ্র, অগ্নি, বয়ু, বরুণ, যম ও.
অন্যান্য দেবতাগণের অধিকার গ্রহণ করিয়াছে, এবং দেবগণ
স্বর্গ হইতে বিতাড়িত হইয়া মর্ত্যলােকে মানুষের ন্যায়
বিচরণ করিতেছেন। দেবতাগণ মহিষাসুরের সমস্ত আচরণ
যথাযথ বৰ্ণনা করিয়া কি করিলে তাহার বিনাশ হইবে
তদ্বিষয়ে হাদিগকে চিন্তা করিতে বলিলেন।
দেবতাগণের বাক্য শ্রবণ করিবার পর ভগবান বিষ্ণু ও
শিবের ক্রোধ হইল এবং ভঁহাদিগের ও ব্রহ্মার বদনমণ্ডল
হইতে এক ভীষণ তেজ বিনিত হইল। তথন ইন্দ্রাদি

দেবীমাহাত্ম। দেবগণেরও শরীর হইতে তেজ নির্গত হইল এবং ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব হইতে জাত তেজোরাশির সহিত একত্রিত হইয়া এক নারীমূৰ্ত্তিতে পরিণত হইল। মহিষাসুর-পীড়িত দেবগণ সেই দেবীকে দেখিয়া আনন্দিত হইলেন এবং তাকে বিবিধ ভূখণে অলঙ্কৃত করিয়া নিজ নিজ আয়ুধ হইতে সদৃশ অস্ত্র নিঃসারণ করিয়া তাঁহাকে প্রদান করিলেন। শিবশূল, বিষ্ণুচক্র, ব্ৰহ্মাকমণ্ডলু, প্রজাপতি অক্ষমালা, ইন্দ্ৰবজ ও ঘণ্টা, অগ্নি শক্তি, যমদও খঙ্গ ও চর্ম (অর্থাৎ ঢাল ), জলাধিপ বরুণ পাশ, পবন ধনু ও বাণপূর্ণ তুনীরদ্বয়, বিশ্বকৰ্ম্ম। পরশু, এবং অন্যান্য দেবগুণ অপরাপর আয়ুধ সকল প্রদান করিলেন। তঁাহার বাহন হইবার জন্য হিমালয় তাহাকে সিংহ প্রদান করিলেন। এইরূপে দেবগণ কর্তৃক সম্মানিত হইয়া দৈবী অট্টহাস- যুক্ত শব্দ করিলেন, এবং সেই ভয়ানক শব্দে আকাশমণ্ডল পরিপূর্ণ, লােকসকল সংক্ষুব্ধ, সমুদ্রসকল কম্পিত এবং পৃথিবী ও পৰ্বতসকল আন্দোলিত হইল। তখন সেই শব্দে পৃথিবী সংক্ষুব্ধ দেখিয়া মহিষাসুর ক্রোধভরে অসুর- সৈন্থগণদ্বারা পরিবেষ্টিত হইয়া সেই শব্দ লক্ষ্য করিয়া ধাবিত হইল এবং দেখিতে পাইল—দেবী সহস্র হস্তদ্বারা দিষ্মণ্ডল ব্যাপ্ত করিয়া অবস্থান করিতেছেন। তাহার জ্যোতিতে,

দেবা-মাহাত্ম্য ।
বিলােক উদ্ভাসিত হইয়াছে, কিরীট গগন স্পর্শ করিয়াছে,
পদভরে পৃথিবী নতভাব ধারণ করিয়াছে, এবং ধনু ও জ্যা
শব্দে সমস্ত পাতাল ক্ষুব্ধ হইয়াছে।
অতঃপর মহিষাসুরের সহিত দেবীর যুদ্ধ উপস্থিত হইল।
দেবীর নিঃশ্বাস হইতে সহস্র সহস্র প্রমথ-সৈন্ত উৎপন্ন হইয়া
সেই যুদ্ধে নানাবিধ অস্ত্র-শস্ত্র লইয়া এবং দেবীর শক্তির দ্বারা
পরিবর্ধিত হইয়া যুদ্ধ করিতে লাগিল। দেবী-বাহন সিইও
অনেক অসুর বিনাশ করিল।
সেই যুদ্ধে মহিষাসুরের সেনা-
পতিগণ নিহত হইলে, মহিষাসুর বিবিধ মায়া দ্বারা কখন
মহিষরূপে, কখন সিংহরূপে, কখন খঙ্গধারী পুরষপে,
আবার কখন মহাকায় হস্তীরপে দেবীর সহিত ভীষণ যুদ্ধ
করিতে লাগিল। অবশেষে যখন সেই মহা অসুর মহিষমূৰ্ত্তি
হইতে অর্ধ-নিষ্ক্রান্ত হইয়াছিল সেই সময় দেবী তাহার
শিরচ্ছেদ করিয়া তাহাকে নিহত করিলেন। তৎপরে
অপরাপর দৈত্যগণও সেই যুদ্ধে বিনষ্ট হইল।
মহিষাসুরের বিনাশে দেবগণ অত্যন্ত আনন্দিত হইয়া
স্তব-স্তুতি দ্বারা দেবীর সন্তোষ বিধান করিলেন, এবং
দেবীও দেবতাগণকর্তৃক পুজিতা হইয়া তঁাহাদিগকে এই
বর দিলেন যে, দেবগণের সকল বিপদ তিনি নাশ
করিবেন।

দেবী-মাহাত্ম। ১৭ এইরূপে মহিষাসুর-বধের নিমিত্ত দেবতাগণের শরীর হইতে দেবী দ্বিতীয়বার আবিভূত হইয়াছিলেন। দেবীর তৃতীয় আবির্ভাব “শুম্ভ-নিশুম্ভ বধের সময় হইয়াছিল। শুম্ভ-নিশুম্ভ বধ। পূৰ্ব্বকালে যখন শুম্ভ ও নিশুম্ভ নামক অসুরদ্বয় ইন্দ্রকে পরাজিত করিয়া স্বর্গরাজ্য অধিকার করিয়া আপনারাই সূর্য, চন্দ্র, কুবের, যম, বরুণ, বায়ু ও অগ্নির অধিকার গ্রহণ করিয়াছিলেন, তখন স্বগ হইতে বিতাড়িত দেবগণ (মহিষা- সুর বধের সময় উপকারকারিণী ) সেই অপরাজিত দেবী- কর্তৃক বরদানের বিষয় স্মরণ করিয়া হিমালয়প্রদেশে গমন- পূৰ্ব্বক সেই বিষ্ণুমায়া দেবীর স্তব করিতে আরম্ভ করিলেন। দেবগণের স্তব করিবার সময় দেবী পার্বতী জাহ্নবী নদীতে স্নান করিতে গমন করিতেছিলেন। তিনি দেবগণ কাহার স্তব করিতেছেন জিজ্ঞাসা করিলে তাহার শরীর-কোষ হইতে শিব-দেবী আবিভূত হইয়া বলিলেন যে দেবগণ তাঁহারই স্তব করিতেছেন। পার্বতীর শরীর-কোষ হইতে আবিভূত। হওয়ায় সেই দেবী জগতে কৌষিকী নামে বিখ্যাত হইলেন। তৎপরে চণ্ড ও মুণ্ড নামক শুম্ভরাজের দুইজন ভূতা ১৮ দেবীমাহাত্ম। ** সেই দেবীর মনােরম রূপ দেখিরা অসুরপতি শুম্ভকে গিয়া বলিল-“মহারাজ, একজন অত্যন্ত সুন্দরী রমণী হিমালয়- প্রদেশ আলাে করিয়া বিরাজ করিতেছেন। এমন রূপ কাহারও দৃষ্ট হয় নাই। আপনি এই দেবীর পরিচয় অবগত হউন এবং তাহাকে এহণ করুন। আপনি ইন্দ্রের নিকট হইতে গজশ্রেঃ ঐরাবত ও উচ্চৈঃশ্রবা অশ্ব এব; পারিজাত- বৃক্ষ আনয়ন করিয়াছেন ; ব্রহ্মার হংসযুক্ত বিধান আপনার অঙ্গনে শােভা পাইতেছে; কুবেরের নিকট হইতে মহাপদ্ম- নামক রত্ন আপনি গ্রহণ করিয়াছেন ; সমুদ্র আপনাকে অম্লান পদ্মের কিঞ্জল্কিনী নামক মালা দিছেন, এবং সমুদ্রজাত সমস্ত রত্নই আপনার আছে ; বরুণের সুবর্ণ বর্ষণকারী ছত্র এবং প্রজাপতির শ্রেষ্ঠ রথও আপনার গৃহে রহিয়াছে ; যমের উংক্রান্তিদা-নার্থক শক্তি-অস্ত্র আপনি গ্রহণ করিয়াছেন এবং বরুণের পাশ-অস্ত্র আপনার ভ্রাতা ধারণ করিয়াছেন ; অগ্নিও আপনাকে অগ্নি-পরিশুদ্ধ বস্ত্রদ্বয় প্রদান করিয়াছেন ; সমস্ত শ্রেষ্ঠ দ্রব্যই আপনি সংগ্রহ করিয়াছেন, তবে এই রমণরত্নকে আপনি গ্রহণ করিতেছেন না কেন ?” শুভরাজ, চণ্ড ও মুণ্ডের এই কথা শুনিয়া, যাহাতে সেই দেবী তাহার নিকট শীঘ্র আগমন করেন তাহা বলিবার নিমিত্ত সুগ্রীব নামক দূতকে দেবীর নিকট পাঠাইয়া দিলেন।

দেবী-মাহাত্ম।
সুগ্রীবও দেবীর নিকট গিয়া তাহাকে বলিল-“হে দেবি,
আমি শুম্ভরাজের দূত। শুম্ভরাজ বলিয়া পাঠাইয়াছেন যে
পৃথিবীতে যে সকল শ্রেষ্ঠ বস্তু আছে সে সমস্তই তঁাহার গৃহে
আছে ; অতএব আপনি যখন নারীগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ তখন
আপনার তাহাদিগের নিকট যাওয়া উচিত, যে হেতু তাহারাই
শ্রেষ্ঠ দ্রব্য ভােগের উপযুক্ত পঙ্কি।”
এই কথা শুনিয়া দেবী ঈষৎ হাগ সহকারে বলিলেন যে
শুম্ভরাজ ত্রৈলােক্যের অধিপতি এবং নিশুম্ভও তৎসদৃশ বীর,
কিন্তু তিনি পূৰ্বেই অল্পবুদ্ধিবশতঃ প্রতিজ্ঞা করিয়াছেন যে
সংগ্রামে যে ব্যক্তি তাঁহাকে জয় করিয়া তাহার দর্প চূর্ণ
করিতে পারিবেন, ত্রিভুবনের মধ্যে শক্তি, যে ব্যক্তি তাহার
সমকক্ষ হইবেন, তিনিই তাহার স্বামী হইবেন। অতএব
সেই শুম্ভ বা নিশুম্ভ তাঁহাকে জয় করিয়া তাহার পাণিগ্রহণ
করুন।
ইহাতে দূত তাহাকে শুম্ভ ও নিশুভের বলবীর্যের কথা
বলিয়া অনেক বুঝাইলেও দেবী বলিলেন যে তাহার প্রতিজ্ঞ।
বৃথা হইবার নর, অতএব অসুররাজ যাহা ভাল বিবেচনা হয়
করুন।
দূতের মুখে সেই কথা শুনিয়। শুম্ভরাজ ধুম্রলোচন নামক
তাহার এক সেনাপতিকে দেবীর কেশকর্ষণ করিয়া

২। দেবীমাহাত্ম। আনয়ন করিবার নিমিত্ত আদেশ করিতেন এবং আরও বাঃ। দিলেন—দেবতা, গন্ধর্ব, যক্ষ যে হউক, যদি কেহ দেবীর রক্ষার জন্য অগ্রসর হয় তাহা হইলে যেন তাহাকে নিহত করা হয়। শুম্ভরাজের আজ্ঞার ধূম্রলােচন হিমালয়প্রদেশে গমন করিয়া দেবীকে দেখিতে পাইয়া বলিল যদি দেবী স্ব-ইচ্ছায় অসুররাজের নিকট গমন না করেন তাহা হইলে কেশকর্ষণপূৰ্ব্বক তাহাকে লইয়া যাওয়া হইবে। দেবী বলিলেন—যদি বলপূৰ্ব্বক তাহাকে লইয়া যাওয়া হয় তাহা হইলে তিনি কি করিতে পারেন। ইহাতে ধূম্রলােচন দেবীর প্রতি অগ্রসর হইলে হুঙ্কারের দ্বারা দেবী তাহাকে ভস্ম করি না ফেলিলেন, এবং দেবীর বাহন সিংহও যুদ্ধকারী অসুর- সেনার মধ্যে পতিত হইয়া নানা প্রকারে তাহাদিগকে বিনাশ করিল। দৈত্যরাজ সসৈন্য ধূম্রলোচন-বধের সংবাদ শুনিয়া চণ্ড ও মুণ্ড নামক অসুরদ্বয়কে বহু সৈন্য পরিবৃত হইয়া গমনপূর্বক সেই দেবীর কেনাকর্ষণ করিয়া অথবা তাহাকে বন্ধন করিয়া আনান করিবার নিমিত্ত এবং যুদ্ধে সংশয় উপস্থিত হইলে বিনাশ করিবার নিমিত্ত 'আদেশ করিলেন। চণ্ড ও মুও চতুরঙ্গ সৈন্য-পরিবৃত হইয়া হিমালয় প্রদেশে গমন করিয়া পর্বতের স্বর্ণময়-শৃঙ্গে সিংহােপরি উপবিষ্টা ঈষৎ হাস্যমুখী দেবীমাহাত্ম। দেবীকে দেখিতে পাইল এবং দৈত্যগণ খঙ্গ ও শরাসন অস্ফালন করিয়া তাঁহাকে ধরিবার চেষ্টা করিতে লাগিল। তদ্দর্শনে ক্রোধে দেবীর বদনমণ্ডল শ্যামবর্ণ ধারণ করিল এবং তাঁহার ললাটদেশ হইতে করালবদনা, খঙ্গপাশ ও বিচিত্র খট্টাঙ্গধারিণী, নরমুণ্ডমালাবিভূষণা, ব্যাঘ্রচর্ম-পরিধানা, শুষ্কচর্মবিশিষ্টা, অতিবিস্তৃতবদনা, লােলরসনা, কোটর-প্রবিষ্ট আরক্ত-নয়না, গর্জনদ্বার দিত্মণ্ডল পূর্ণকারিণী, ভীষণাকৃতি কালী-দেবী আবির্ভূতা হইয়া অসুর সৈন্যগণকে মথিত করিয়া চণ্ডমুণ্ডাসুরকে বিনাশ করিলেন। তখন হতাবশিষ্ট অসুর- সৈন্থগণ ভীত হইয়া চারিদিকে পলায়ন করিল। কাণী-দেবীও চণ্ড ও মুণ্ডের মস্তক গ্রহণ করিয়া চণ্ডিকা-দেবীকে উপহার দিলেন এবং তাহার নিকট হইতে চামুণ্ডা নাম প্রাপ্ত হইলেন। এইরূপে চণ্ড ও মুণ্ডের সহিত বহু সৈন্য বিনষ্ট হইলে শুম্ভরাজ কালকেয়, দৌহত, মৌৰ্য্য প্রভৃতি সৰ্ব্ববিধ সম্প্রদায়ের হাজার হাজার সৈন্য লইয়া যুদ্ধে গমন করিলেন। এই সময় অসুরগণের বিনাশ করিয়া দেবগণের মঙ্গঃসাধন করিবার নিমিত্ত ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, কার্তিকেয় ও ইন্দ্রের শক্তিসমূহ তাঁহাদিগের শরীর হইতে নির্গত হইয়া চঙিকর নিকট আগমন করিলেন। অক্ষসূত্র ও কমণ্ডলুধারিণী ব্ৰহ্মশক্তি ব্ৰহ্মাণী হংসযুক্ত বিমানে আগমন করিলেন ; শ্রেষ্ঠ ত্রিশূল ও ২২ দেবী-মাহাত্ম। মহাসর্পের বলয়ধারিণী চন্দ্ররেখা শােভিতা মাহেশ্বরী শক্তি বৃষারােহণে আগমন করিলেন ; শক্তিহস্তা গুহরূপিণী কৌমারী ময়ূরশ্রেষ্ঠে আরোহণ করিয়া আসিলেন ; “জ, চক্র, গদা, ধনু ও খড়হস্তে বৈষ্ণবী-শক্তি গরুড়ারােহণে আসিলেন ; অনুপম যজ্ঞবরাহরূপধারী হরির শক্তি বরাহরূপে এবং নারসিংহী শক্তি নৃসিংহের সদৃশ দেহ ধারণ করিয়া আগমন করিলেন; সহস্রনয়না বজ্রধারিণী ইন্দ্রশক্তি ঐরাবত- পৃষ্ঠে আসিলেন। তৎপরে মহাদেব সেই সকল শক্তি-পরিবৃতা চণ্ডিকা-দেবীকে অসুর বিনাশ করিতে বলিলে, চণ্ডিকা- দেবীর শরীর হইতে এক অতি ভীষণা শক্তি আবিভূত। হইয়া মহাদেবকে বলিলেন—“আপনি গুম্ভ ও নিশুম্ভকে বলুন যে তাহারা দেবগণকে স্বর্গরাজ্য প্রদান করুক, অথবা যদি বলগর্বিতই হইয়া থাকে তাহা হইলে আমার সহিত যুদ্ধ করুক।” শিবকে দৌত্যকর্মে নিযুক্ত করার জন্য সেই চণ্ডিকাশক্তি শিকদূতী নামে বিখ্যাত হইলেন। দেবীর কথা শুনিয়া অসুরগণ ক্রোধে যুদ্ধ করিবার নিমিত্ত অগ্রসর হইল। এই যুদ্ধে রক্তবীজ নামক অসুর ভয়ঙ্কর যুদ্ধ করিয়াছিল। তাহার শরীর হইতে রক্তবিন্দু সকল ভূমিতে পতিত হইলে তৎসদৃশ অসুসকল উৎপন্ন হইতে লাগিল এবং ভীষণ যুদ্ধ করিতে লাগিল। কিন্তু দেবীমাহাত্ম। চণ্ডিকা-দেবীর অদেশে চামুণ্ডা রক্তবীজের দেহে অস্ত্রাঘাত- জাত রক্তপান করিতে এবং ভূমিতে পতিত রক্তবিন্দু হইতে উৎপন্ন অসুরগণকে ভক্ষণ করিতে আরম্ভ করিলে ক্ষীণরক্ত হইয়া রক্তবীজ পতিত হইল। রক্তবীজের পতনের পর শুম্ভরাজের ভ্রাত৷ নিশুম্ভও দেবীর সহিত যুদ্ধে দেহত্যাগ করিলেন। তখন শুম্ভরাজ চণ্ডিকাকে বলিলেন যে চণ্ডিকা- দেবী অঙ্গের বল আশ্রয় করিয়া যুদ্ধ করিতেছেন, সুতরাং ইহাতে সঁহার গর্বিত হইবার কিছুই নাই। চণ্ডিকাদেবী বলিলেন যে ব্রহ্মাণী-প্রমুখ শক্তিগণ তাঁহারই বিভূতি মাত্র, তিনি ব্যতীত দ্বিতীয় শক্তি অপর কেহই নাই। তৎপরে সেই ব্রহ্মাণী-প্রমুখ শক্তিগণ দেবীর শরীরে বিলীন হইলে যুদ্ধক্ষেত্রে দেবী একা বিরাজ করিতে লাগিলেন। তখন দেবী এবং শুম্ভাসুরের মধ্যে সর্বলােক-ভয়ঙ্কর ভীষণ যুদ্ধ আরম্ভ হইল। সেই যুদ্ধে শুম্ভরাজ অতীব ববীৰ্য্য প্রদর্শন করিয়াও অবশেষে দেবীকর্তৃক বিনষ্ট হইলেন। শুম্ভরাজের বিনাশে সমস্ত সংসার প্রসন্নতা লাভ করিল, জগৎ শান্ত হইল, দেবগণ আনন্দিত হইলেন, এবং গন্ধৰ্ব্ব ও অপ্সরাগণ নৃত্য গীত করিতে লাগিল। এইরূপে শুম্ভ ও নিশুম্ভ বধের নিমিত্ত পাৰ্বতীর শরীর হইতে দেবী তৃতীয়বার আবির্ভূত হইয়াছিলেন।

- ৪ দেবীমাহাত্ম্য। অন্যান্য আবির্ভাব। এই সকল ব্যতীত আরও অনেকবার দেবীর আবির্ভাব হইয়াছিল এবং ভবিষ্যতেও হইবে। সে সম্বন্ধে শুম্ভ-নিশুম্ভ বধের পর দেবগণকে বরদান-উপলক্ষ্যে দেবী স্বয়ং বলিয়াছেন- বৈবস্বতেহন্তরে প্রাপ্তে অষ্টাবিংশতিমে যুগে। শুন্তো নিশুম্ভশ্চৈবান্তাবুৎপৎস্যেতে মহাসুরৌ ॥১১৩৭ নন্দগোপগৃহে জাত যশােদাগর্ভসম্ভবা। ততন্তৌ নাশয়্যিামি বিন্ধ্যাচলনিবাসিনী ॥১১৩৮ বৈবস্বত মন্বন্তরের অষ্টাবিংশতি সংখ্যক যুগে শুম্ভ ও নিশুম্ভ নামে অপর দুই মহা অসুর উৎপন্ন হইবে, (এবং } আমি নন্দগােপের গৃহে যশােদার গর্ভে জন্মগ্রহণ করিয়া বিন্ধ্যাচলে অবস্থানপূর্বক তাহাদিগকে বিনাশ করিব পুনরপ্যতিরৌদ্রেণ রূপেণ পৃথিবীতলে। অবতীৰ্য্য হনিষ্টামি বৈপ্রচিত্তাংস্তু দানবান্ ॥১১৩৯ ভক্ষয়ত্যাশ্চ তানুগ্ৰান্ বৈ চিন্মহাসুরা। রক্তদন্তা ভবিষ্যন্তি দাড়িমীকুসুমােপমাঃ ॥১১৪ তততা মাং দেবতাঃ স্বর্গে মর্ত্যলোকে চ মানবাঃ। স্তুবন্তো ব্যাহরিস্তি সততং রক্তদন্তিকাম্ ॥১১৪১

দেবীমাহাত্ম।
২৫
পুনৰ্ব্বার আমি অতি ভীষণ রূপ ধারণ করিয়া পৃথিবীতে
অবতীর্ণ হইয়া বৈ প্রচিত্ত নামক দানবগণকে বিনাশ করিব,
এবং তখন সেই ভীষণ বৈপ্রচিত্ত দানবগণকে ভক্ষণ করায়
আমার দন্তসকল দাড়িম্ব পুষ্পের ন্যায় রক্তবর্ণ হইবে।
তাহাতে স্বর্গ-লােকে দেবগণ এবং মর্ত্যলােকে মানবগণ
সৰ্ব্বদা আমাকে স্তুতিপূৰ্ব্বক রক্তদন্তিকা নামে অভিহিত
করিবে।
ভূয়শ্চ শতবার্ষিক্যামনাবৃষ্ট্যামনম্ভসি।
মুনিভিঃ সংস্তুত ভূমৌ সম্ভবিষাম্যযােনিজা ॥১১৪২
ততঃ শতেন নেত্রাণাং নিরীক্ষিষ্যামি যমুনীন্।
কীৰ্ত্তয়িষ্যন্তি মনুজাঃ শতক্ষীমিতি মাততঃ ॥১১৪৩
আবার শতবর্ষব্যাপী অনাবৃষ্টি হওয়ায় পৃথিবী জলশূন্য
হইলে মুনিগণের স্তবে আমি অকস্মাৎ আবির্ভূতা হইব, এবং
শতনয়না হইয়া মুনিগণকে দর্শন করিব । তাহাতে মানবগণ
আমাকে শতাক্ষী নামে অভিহিত করিবে।
ততোহহমখিলং লােকমাত্মদেহসমুদ্ভবৈঃ।
ভরিষ্যামি সুরাঃ শাকৈরাবৃষ্টেঃ প্রাণধারকৈঃ ॥১১৪৪
শাকরীতি বিখ্যাতিং তদা স্যাম্যহং ভুবি ॥১১৪৫
হে সুরগণ, তৎপরে বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত আমি নিজ
দেহ হইতে প্রাণধারণ উপয়ােগী শাক উৎপন্ন করিয়া সমস্ত

দেবীমাহাত্ম।
লােককে পালন করিব, এবং (এই জন্য ) তৎকালে আমি
পৃথিবীতে শাকস্তুরী নামে বিখ্যাত হইব।
তত্রৈব চ বধিষ্যামি দুর্গমাখ্যং মহাসুরম্ ।
দুর্গাদেবীতি বিখ্যাত। তমে নাম ভবিষ্যতি ॥১১৪ ৮
সেই সময়েই আমি দুর্গম নামক এক মহাসুরকে বিনাশ
করিব, এবং তাহাতে আমার দুর্গাদেবী এই নাম বিখ্যাত
হইবে ।
পুনশ্চাহং যদা ভীমং রূপং কৃত্বা হিমাচলে।
রক্ষাংসি ক্ষয়িষ্যামি মুনীনাং ত্রাণকারৎ ॥১১৪৭
তদা মাং মুনয়ঃ সর্বে স্তোষ্যানমূৰ্ত্তরঃ।
ভীমাদেবীতি বিখ্যাতং তন্মে নাম ভবিষ্যতি ॥১১৪৮
পুনৰ্ব্বার যখন আমি মুনিগণের রক্ষার জন্য ভীষণরূপ
ধারণ করিয়া হিমালয়ে রাক্ষসগণকে বিনাশ করিব, তখন
মুনিগণ সকলে বিনতভাবে আমার স্তব করিবেন, এবং সেই
(ভীষণরূপ ধারণ) হেতু আমার ভীমা-দেবী এই নাম
বিখ্যাত হইবে।
যদারুণাখ্যেলৈােক্যে মহাবধাং করিষ্যতি ।
তদাহং ভ্রামরং রূপং কৃত্বাসংখ্যেয়ষপদম্ ॥১১৪৯
ত্রৈলােক্য: হিতার্থায় বধিষ্যামি মহাসুরম্।
ভ্রামরীচি মাং লােকান্তদা স্তোষ্যন্তি সর্বতঃ ॥১১৫০

দেবী মাহাত্ম্য। যখন অরুণ নামক অসুর জিলােকে অতিশয় পীড়া উৎপন্ন করিবে, সেই সময় আমি অসংখ্য ষটপদসমন্বিত প্রমর রূপ ধারণ করিয়া ত্রিভূবনের মঙ্গলের জন্য সেই মহা অসুরকে বধ করিব, এবং সেই সময় লােকে সকল স্থানে আমাকে ভ্রমরী নামে স্তব করিবে । এই সকল আবির্ভাবের কথা বলিয়া দেবী বলিলেন- ইথং যদা যদা বাধা দানবােখা ভবিষতি। তদা তদাবতীৰ্যাহং করিষ্যাম্যরিসংক্ষয়ম্ ॥১১৫১ যখন যখন দানবগণ কর্তৃক এই প্রকার উৎপাত উপস্থিত হইবে, তখনই আমি আবিভূত হইয়া শত্রু বিনাশ করিব। ইহাই ভবিষ্যৎ আবির্ভাব সম্বন্ধে দেবীর বাণী।

দ্বিতীয় অধ্যায়। দেবীর স্বরূপ। দেবীর স্বরূপ সম্বন্ধে ঋষি বলিলেন- নিত্যব সা জগন্মুর্তি।১৪৭ তিনি নিত্যা অর্থাৎ তাহার জন্ম মৃত্যু কিছুই নাই, এবং তিনি জগন্মুর্তি অর্থাৎ এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড তঁাহার মূর্তি অন্যত্রও দেবী যে সনাতনী অর্থাৎ নিত্যা তাহা কথিত হইয়াছে, এবং সমস্ত জগতই যে হার স্বরূপ তাহা বিস্তৃতভাবে বর্ণিত হইয়াছে। ব্রহ্মার স্তবে কথিত হইয়াছে যে এই পৃথিবীতে যেখানে যা কিছু বস্তু আছে তাহার অন্তর্নিহিত যে শক্তি তাহা তিনি। দেবগণের স্তবেও বর্ণিত হইয়াছে,—তিনি বিশ্বাত্মিকা অর্থাৎ জগৎ-রূপা, সৰ্বম্বরূপা; তিনিই এই সংসার পরিব্যাপ্ত করিয়া রহিয়াছেন। তিনিই প্রাণীগণের ইন্দ্রিয়ে এবং সমস্ত পদার্থে অবস্থান করিতেছেন ও চৈতন্যরূপে 'এই জগন্মণ্ডল ব্যাপ্ত করিয়! রহিয়াছেন। তিনি সর্বশক্তিময়ী। যে শক্তির বলে সৃজন, পালন ও সংহারকাৰ্য্য সংঘটিত হইতেছে, তিনিই সেই শক্তি। তিনিই

দেবী-মাহাত্ম্য।
৯
;
লক্ষ্মী, তিনিই গৌরী ; বৈষ্ণবী প্রভৃতি শক্তিও তিনি।
দেবশক্তিও তিনি, অসুর-শক্তিও তিনি। জগতের যে মায়া
তাহাও তিনি।
তিনিই প্রাণীগণের মধ্যে মাতৃরূপে এবং স্ত্রীরূপে অবস্থান
করিতেছেন। প্রাণীগণের বিভেদ-নির্দেশক জাতি তিনি ;
এবং তিনিই তাহাদিগের মধ্যে ক্ষুধা, তৃষ্ণা, নিদ্রা, বৃত্তি,
শক্তি, চেতনা, স্মৃতি, বুদ্ধি, মেধা, শ্রদ্ধা, লজ্জা, পুষ্টি, তুষ্টি,
শান্তি, ক্ষমা, দয়া, ছায়া ও সৌন্দৰ্য্যরূপে অবস্থান করিতেছেন।
মায়াও তিনি, মােহও তিনি; তিনিই লক্ষ্মী অর্থাৎ সম্পদ, এবং
অলক্ষ্মী অর্থাৎ দারিদ্র্য।
তিনি শব্দময়ী এবং সমস্ত বিদ্যাস্বরূপা। তিনিই স্বরব,
ব্যঞ্জনবর্ণ এবং ত্রিবিধ মাত্রা। বেদমন্ত্র তিনি ; যজ্ঞমন্ত্র বষটু-
কার, দেবহবিদান-মন্ত্র স্বাহা, এবং পিতৃব্যদান-মন্ত্র স্বধা
তিনি বেদত্রয়রূপা; তর্কাদি শাস্ত্রও তিনি।
এবং
সা বিদ্যা পরমা মুক্তেহেঁতুভুর্তা সনাতনী।১৪৪
সেই সনাতনী দেবীই মুক্তিপ্রাপক শ্রেষ্ঠ বিদ্যা।
কিন্তু এই সমস্ত বিশ্ব তাহার মুর্তি হইলেও তিনিই জগৎ
নহেন। এই সমস্ত জগৎ তাহার অংশস্বরূপ। এই জগতের
বাহিরেও তিনি আছেন।
তিনি।
=

দেবীমাহাত্ম।
তিনি সর্বকারিণী, বিশ্বেশ্বরী। তিনিই ব্রহ্মাদির নিয়ন্ত্রী
আরও, তিনি সর্বশ্রেষ্ঠা, বৃদ্ধি ও সিদ্ধিরূপা, এবং মঙ্গলময়ী।
জগতের স্বত্ব, রজঃ ও তমােগুণাত্মক উপাদানকারণও
তিনি ; তিনি পরিণামরহিতা মূল প্রকৃতি। ত্রিগুণ তাহাকেই
আশ্রয় করিয়া আছে, তিনি ত্রিগুণময়ী।
আবার তিনিই জগতের আধার। তিনি পৃথিবীরূপে এই
জগৎ ধারণ করিয়া রহিয়াছেন, এবং জলরূপে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড
আপ্যায়িত করিতেছেন।

তৃতীয় অধ্যায়।
দেবীর কাৰ্য্য।
দেবীর কাৰ্য্য সম্বন্ধে ঋষি বলিলেন—
তয়। বিজ্যতে বিশ্ব জগতেচরাচরম্।১৪৩
তিনি এই স্থাবর-জঙ্গমাত্মক সমগ্র জগৎ সৃষ্টি করেন।
তা সৰ্বমিদং তত।১৪৭
তাহার দ্বারাই এই জগৎ উৎপাদিত হইয়াছে।
সৈব বিশ্বং প্রসূয়তে ১২৩৪
তিনিই এই বিশ্ব প্রসব করিয়াছেন।
দেবী যে কেবল জগতের সৃজনকারিণী তাহা নয়, তিনি
এই জগৎ ধারণ করিয়া আছেন, এবং জগতের পালন ও
স:হারকারিণীও তিনি।
সৈব কালে মহামারী সৈব সৃষ্টির্ভবত্যজা।
স্থিতি কৰােতি ভূতানাং সৈব কালে সনাতনী ॥১২৩৬
সেই সনাতনী নিত্যা দেবীই সৃষ্টি করেন, স্থিতিকালে
প্রাণীদিগকে পালন করেন, এবং
করেন, এব; প্রলয়কালে সংহার
ব্যাপ্তস্তয়ৈতৎ সকলং ব্রহ্মাণ্ডং মনুজেশ্বর।
মহাকাল্যা মহাকালে মহামারী স্বরূপয়া ॥১২৩৫

দেবী-মাহাত্ম।
হে রাজ, মহাপ্রলয়-সময়ে সংহারশক্তি মহাকালীরূপে
তিনি এই সমস্ত ব্ৰহ্মাণ্ড নাশ করিয়া থাকেন ।
ব্রহ্মার স্তবে কথিত হইয়াছে, তিনিই এই জগৎ সৃজন
করিয়াছেন, তিনিই ইহা ধারণ করিয়া আছেন, তিনিই ইহা
পালন করিতেছেন, এবং প্রলয়কালে তিনিই ইহা সংহার
করিয়া থাকেন।
জগতের পালনের জন্য দেবী সময়ে সময়ে আবিভূত।
হইয়া থাকেন। দেবগণ কেহ বৃষ্টিদান দ্বারা, কেহ
আলােকদান দ্বারা, কেহ উত্তাপদান দ্বারা, কেহ বায়ু
প্রবাহিত করিয়া, ইত্যাদি প্রকারে জগৎ রক্ষার সাহায্য
করিয়া থাকেন; এবং যখনই দানবগণ দেবগণের অধিকার
গ্রহণ করিয়া জগতের বাধা উৎপন্ন করিয়াছে, তিনি সেই
সময়েই আবির্ভূত হইয়া দানবগণকে বিনাশ করিয়া জগৎ
পালনের বাধা দূর করিয়াছেন। ইহাই অবতারবাদ।
এই সম্বন্ধে ঋষি বলিয়াছেন—
এবং ভগবতী দেবী সা নিত্যাপি পুনঃ পুনঃ ।
সন্ত্বয় কুরুতে ভূপ জগত; পরিপালনম্ ॥১২৩৩
হে ভূপতি, এই প্রকারে সেই ভগবতী দেবী নিত্য
হইয়াও পুনঃ পুনঃ আবিভূত। হইয়া জগতের পরিপালন
করিয়া থাকেন।
।

দেবীমাহাত্ম।
কিন্তু দেবী যে কেবল জগতের সৃজন, ধারণ, পালন এবং
সংহার করিয়া থাকেন তাহা নহে,
তয়ৈতােেহতে বিশ্বম্ ॥১২৩৪
তাহা কর্তৃকই এই জগৎ মুগ্ধ হয়। তিনিই পরমা
মায়া-রূপে এই সমস্ত জগৎ সম্মােহিত করিয়া রাখেন।
কিন্তু দেবী কল্যাণময়ী,
সা যাচি চ বিজ্ঞানং তুষ্টা ঋদ্ধিং প্রযচ্ছতি ॥১২৩৪
তাঁহার নিকট প্রার্থনা করিলে তিনি সন্তুষ্ট হইয়া জ্ঞান ও
উন্নতি প্রদান করিয়া থাকেন।
তিনি শরণাগত-রক্ষক ; দীন এবং আতুর ব্যক্তি ও তাহার
শরণ লইলে তিনি তাহাকে পরিত্রাণ করিয়া থাকেন।
আরাধিতা সৈব নৃণাং ভােগস্বৰ্গাপবর্গদা ॥১৩৩
তাঁহার আরাধনা করিলেই মানব ভােগ, স্বর্ণ এবং
মুক্তি লাভ করিয়া থাকে।
সৈষা প্রসন্না বরদা নৃণাং ভবতি মুক্তয়ে ॥১৪৩
ইনি প্রসন্না হইলেই মানবগণকে মুক্তির জন্য বরদান
করিয়া থাকেন।
তিনি সর্ববিধ সিদ্ধি প্রদানকারিণী।

পরিশিষ্ট। দেবীর স্তুতি। ; ; দেবী মাহাত্মের ভিতর দেবীর চারিটী স্তুতি আছে। প্রথম, মধুকৈটভ বিনাশের পূর্বে ব্রহ্মাকৃত স্তব ; দ্বিতীয়, মহিষাসুর বধের পর দেবগণকৃত স্তব ; তৃতীয়, শুম্ভ-নিশুম্ভ বধের পূর্বে দেবগণকৃত স্তব ; এবং চতুর্থ, শুম্ভ-নিশুম্ভ বিনাশের পর দেবগণকৃত স্তব। এই সকল স্তবের যে সকল শ্লোকে দেবীর স্বরূপ প্রভৃতি বর্ণনাত্মক বাক্য আছে, সেইগুলি প্রদত্ত হইল। (১) ব্ৰহ্মাকৃত স্তব। ত্বং স্বাহা ত্বং স্বধা ত্বং হি বষট্‌কার: স্বরাত্মিক। সুধা ত্বমক্ষরে নিত্যে ত্রিধা মাত্রাত্মিক স্থিতা ॥১॥ হে নিত্যে, তুমি স্বাহা (দেবহবিদানমন্ত্র), তুমি স্বধা পিতৃব্যদানমন্ত্র), তুনি বষট্‌কার (যজ্ঞমন্ত্র ), তুমি স্বরবর্ণ, তুমি সুধা ( অমৃত, অর্থাৎ অমৃতত্ব প্রাপক মন্ত্র) এবং অক্ষর- সমুহে তুমি ( হ্রস্ব-দীর্ঘ-প্লত এই ) ত্রিবিধ মাত্রারূপে, অবস্থিত। ১। !

দেবীমাহাত্ম্য। অর্ধমাত্রা স্থিতা নিত্যা যামুচ্চাৰ্য্যা বিশেষতঃ । ত্বমেব সা ত্বং স্বাবিত্রী ত্বং দেবী জননী পরা। ২। ত্বয়ৈব ধাৰ্যতে সর্বং ত্বয়ৈতৎ সৃজ্যতে জগৎ। ত্বয়ৈতৎ পালাতে দেবি মৎস্যন্তে চ সৰ্ব্বদা ॥ ৩ | বিহষ্টো সৃষ্টিরূপা ত্বং স্থিতিরূপা চ পালনে। তথা সংহৃতিরূপান্তে জগতেহস্য জগন্ময়ে ॥৪॥ মহাবিদ্যা মহামায়া মহামেধা মহাস্মৃতি। মহামােহা চ ভবতী মহাদেবী মহাসুরী ৫। ; হে দেবি, যাহা আপনা হইতে উচ্চারিত হয় না অর্ধ- মাত্ৰা বলিয়া গণ্য সেই ব্যঞ্জনবর্ণও তুমি ; তুমিই সাবিত্রী { গায়ত্রী মন্ত্র ), এবং সকল বাক্যের আদি জননী। ২। হে দেবি, তুমিই এই জগৎ ধারণ কয়ি আছ, তােমা দ্বারাই ইহা সৃষ্ট হইয়াছে, তুমিই ইহা পালন করিতেছ, এবং সকল সময়েই প্রলয়কালে তুমিই ইহা ভক্ষণ (সংহার) করিয়া থাক । ৩। হে জগৎস্বরূপা দেবি, তুমি সৃষ্টিকালে সৃষ্টিরূপা, পালন- কালে স্থিতিরূপা, এবং জগতের শেষ সময়ে সংহারস্বরূপা |৪|| তুমি শ্রেষ্ঠ বিদ্যা, মহামায়া (সৰ্বসন্মােহনকারিণী), মহামেধা (উৎকৃষ্ট ধারণাবতী বুদ্ধি ), মহাস্মৃতি (মহতী স্মরণ- দেবী-মাহাত্ম। প্রকৃতিত্বঞ্চ সৰ্বস্ত গুণত্রয়বিভাবিনী। কালরাত্ৰিৰ্ম্মহারাত্রিৰ্ম্মোহরাতিশ্চ দারুণ ॥ ৬ ত্বং শ্ৰীমীশ্বরী ত্বং হ্রীং বুদ্ধির্বোধলক্ষণ। লজ্জা পুষ্টিস্তথা তুষ্টিং শান্তিঃ ক্ষান্তিরেব চ। ৭। খঙ্গিনী শূলিনী ঘােরা গদিনী চক্রিনী তথা। শঙ্খিনী চাপিনী বাণভুখী পরিঘায়ুধা ॥ ৮। সৌম্যা সৌম্যতরাশেষসৌমেভ্যস্কৃতিসুন্দরী। পরাপরাং পরমা ত্বমেব পরমেশ্বরী। ৯। শক্তি), মহামােহা (মহামােহদায়িনী ), মহাদেবী (মহতী দেবশক্তি) এবং মহাসুরী (মহতী অসুরশক্তি) ৫। তুমিই সমস্ত জগতের (সত্ব, রজঃ ও তমঃ এই ) গুণত্রয়- রূপিণী মূল প্রকৃতি(কারণ)। তুমিই কালরাত্রি (মরণরূপ রাত্রি ), মহারাত্রি ( প্রলয়রাত্রি ) ও মােহরাত্রি (নিদ্রারূপ রাত্রি ), এবং তুমি ভয়ঙ্করী । ৬। তুমি লক্ষ্মী, তুমি ঈশ্বরী, তুমি (রমণী-ভূষণ) লজ্জা, তুমি নিশ্চয়াত্মিকা বুদ্ধি, তুমি (কুকৰ্ম্ম-নিবারিণী) লজ্জা, তুমি পুষ্টি ( বৃদ্ধি ), তুমি তুষ্টি (সন্তোষ ), তুমি শান্তি, এবং তুমি ক্ষপ্তি (ক্ষমা)। ৭। তুমি খড়, শূল গদা চক্র শঙ্খ ধনু বাণ ভূখণ্ডী ও পরিব-

দেবী মাহাত্ম।
৩৭
যচ্চ কিঞ্চিৎ কচিদ্বন্তু সদসঘাখিলাত্মিকে।
তস্য সৰ্বস্য যা শক্তিঃ সা ত্বং কিং শুয়সে তদা । ১০।
(২)
দেবগণকৃত প্রথম স্তব।
দেব্যা যয়। ততমিদং জগদাত্মশ্য।
নিঃশেষ দেবগণশক্তিসমূহমূর্তা।
তামম্বিকামখিলদেবমহর্ষিপূজ্যাং
ভক্ত্যা নঃ স্ম বিদধাতু শুভানি সা নঃ ১।
=
ধারিণী, এবং তুমি ভীষণা। তুমি মনােহরা, সমস্ত সুন্দর
বস্তুর অপেক্ষাও সুন্দরী, এবং সর্বাপেক্ষা মাধুর্যময়ী ; তুমি
সৰ্বশ্রো, কারণ তুমি পরমেশ্বরী । ৮। ৯ ।
হে সৰ্বময়ি দেবি, যেখানে যাহা কিছু বস্তু আছে বা
ভবিষ্যতে হইবে তাহাদের অন্তর্নিহিত যে শক্তি তাহা তুমি,
সুতরাং তােমাকে কি প্রকারে স্তব করা যাইবে । ১০।
সমস্ত দেবগণের শক্তি হইতে আবির্ভূত। যে দেবী

২৮ দেবীমাহাত্ম। যঙ্গঃ প্রভাবমতুলং ভগবাননন্তো ব্রহ্মা হরশ্চ ন হি বক্তমলং বলঞ্চ। সা চণ্ডিকাখিলজগৎ পরিপালনায় নাশায় চাশুভভয় মতিং করােতু। ২। যা : স্বয়ং সুকৃতিনাং ভবনেধলক্ষ্মী পাপাত্মকং কৃতধিয়াং হৃদয়েষু বুদ্ধি। শ্রদ্ধা সতাং কুলজনপ্রভাবশ্য লজ্জা তাং ত্বং নতঃ স্ম পরিপালয় দেবি বিশ্বম ॥ ৩॥ আত্মশক্তিতে সকল জগৎ উৎপন্ন করিয়াছেন, সকল দেবতা এবং মহর্ষিগণের পুজনীয়া সেই দেবীকে আমরা ভক্তিপূৰ্ব্বক প্রণাম করি, তিনি আমাদিগের মঙ্গল বিধান করুন। ১। যাহার অনুপম মহিমা এবং শক্তির বিষয় বর্ণনা করিতে ভগবান ব্রহ্মা বিষ্ণু এবং শিবও সমর্থ নহেন, সেই চণ্ডিকা দেবী সমস্ত জগৎ পালনের নিমিত্ত এবং অমঙ্গলের ভয় নাশ করিবার জন্য ইচ্ছা করুন। ২। যিনি পুণ্যবানদিগের গৃহে লক্ষ্মীরূপে এবং পাপীদিগের গৃহে অলক্ষ্মীরূপে, মনীষিগণের হৃদয়ে বুদ্ধিরূপে, সজ্জনবর্গের হৃদয়ে শ্রদ্ধারূপে, এবং সৎকুলজাত ব্যক্তিগণের হৃদয়ে লজ্জারূপে দেবীমাহাত্ম। হেতু সমস্তজগতং ত্রিগুণাপি দোকৈ ন জ্ঞায়সে হরিহরাদিভিরপ্যােরা। সাশ্রয়াখিলমিদং জগদংশভূত- মব্যাক্তা হি পরমা প্রকৃতিস্থমাদ্যা। ৪। যস্যাঃ সমস্তসুরতা সমুদীরণেন তৃপ্তিং প্রয়াতি সকলেষু মখেষু দেবি। স্বাহাসি বৈ পিতৃগণস্য চ তৃপ্তিহেতু রুচ্চাৰ্য্যসে ত্বত এব জনৈঃ স্বধা চ ॥ ৫। যা মুক্তিহেতুরবিচিন্ত্যমহাব্রত চ অভ্যস্থসে সুনিয়তেন্দ্রিয়তত্ত্বসারে। বিরাজ করেন, সেই তােমাকে আমরা প্রণাম করি ; হে দেবি, এই জগৎ পালন কর। ৩ তুমি সমস্ত জগতের কারণ এবং ত্রিগুণময়ী ; বিষ্ণু শিব প্রভৃতিও পূর্ণজ্ঞানের অভাবে তােমাকে জানিতে পারেন না। তুমি এই জগতের আধার এবং জগৎ তােমার অংশ-স্বরূপ ; তুমিই পরিণাম-রহিতা আদি পরমা প্রকৃতি ॥৪॥ হে দেবি, সর্ববিধ যজ্ঞে যাহার উচ্চারণ দ্বারা দেবগণের তৃপ্তি হয় তুমি সেই স্বাহা মন্ত্র, এবং পিতৃগণের তৃপ্তির নিমিত্ত লােকে যে স্বধামন্ত্র উচ্চারণ করে তাহাও তুমি। ৫।

৪ দেবীমাহাত্ম। মােক্ষার্থিভিমুনিভিস্তসমস্তদোষৈ- ব্বিাসি সা ভগবতী পরমা হি দেবি। ৬। শব্দাত্মিকা সুবিমলগযজুষাং নিধান- মুদগীতরম্যপদপাঠবতাঞ্চ সামান্। দেবি এয়ী ভগবতী ভবভাবনায় বার্তা চ সৰ্বজগতং পরমাত্তিহী। ৭। মেধাসি দেবি বিদিতাখিলশাস্তুসারী দুর্গাসি দুর্গভবসাগরনৌরসঙ্গ। ; হে দেবি, মােক্ষলাভেছু তত্ত্বানুসন্ধী সংষত-ইন্দ্রিয় রাগন্বেষাদিবর্জিত মুনিগণ মুক্তির নিমিত্ত যাহার চিন্তা করেন, তুমিই সেই মহাসাধনস্বরূপ অচিন্ত্যনীয় ভগবতী পরমা বিদ্যা । ৬। হে দেবি, তুমি শব্দময়ী ; উচ্চগীতিবিশিষ্ট মনােহর পদ ও পাঠযুক্ত ঋক্‌ যজু ও সামবেদের আশ্রয় তুমি, এবং তুমিই সেই ত্রিবেদ। তুমি ঈশ্বরী, জগৎ পালনের কারণভূতা বৃত্তি এবং সমস্ত জগতের পরম দুঃখনাশকারিণী । ৭। হে দেবি, যাহার দ্বারা সমস্ত শাস্ত্রের সার অবগত হওয়া যার সেই ধারণাবতী বুদ্ধি তুমি। দুর্গম ভবসাগর পারের দেবীমাহাত্ম। ৪১ শ্ৰী; কৈটভারিহৃদয়ৈককৃতাধিবাসা গৌরী ত্বমেব শশিমৌলিকৃত প্রতিষ্ঠা ৮। তে সম্মত জনপদেষু ধনানি তেষাং তেষাং যশাংসি ন চ সীদতি ধৰ্ম্মবর্গ। ধন্যাস্ত এব নিভৃত্মজভৃত্যদারা যেষাং সদা্যুদয়দা ভবতী প্রসন্না ॥ ৯। ধৰ্ম্মাণি দেবি সকলানি সদৈব কৰ্ম্মা- ণাত্যাবৃতঃ প্রতিদিনং সুকৃতি করােতি। স্বর্গং প্রয়াতি চ তত ভবতীপ্রসাদা- ল্লোকয়েহপি ফলদা ননু দেবি তেন । ১০। তুমি একমাত্র তরণী, এইজন্য তােমাকে দুর্গা বলে। তুমি কৈটভারি হরির হৃদয়-নিবাসিনী লক্ষ্মী আবার শিববিহারিণী গৌরীও তুমি ॥৮॥ তুমি সন্তুষ্ট হইয়া সৰ্ব্বদা যাহাদিগের উন্নতিবিধান কর, তাহারা দেশমধ্যে সম্মানিত হয়, তাহাদিগের অর্থ যশ এবং ধৰ্ম্মসমূহ বিনষ্ট হয় না, তাহাদিগের স্ত্রী পুত্র ও ভৃত্যগণ বিনীত হয়, এবং তাহারাই ধন্য। ৯। হে দেবি, তােমার অনুগ্রহে পুণ্যবান্ ব্যক্তি সতত শ্রদ্ধান্বিত হইয়া প্রতিদিন ধৰ্ম্ম-কর্ম সকলের অনুষ্ঠান করেন দেবীমাহাত্ম। দুর্গে স্মৃত হরসি ভীতিমশেষজন্তোঃ স্বস্থ্যৈঃ স্মৃতা মতিমতীব শুভাং দদাসি দারিদ্র্যদুঃখভয়হারিণি কা স্বদন্ত সর্বোপকারকরণায় সদাৰ্ছচিন্তা। ১১। (৩) দেবগণকৃত দ্বিতীয় স্তব। নমনী দেব্যৈ মহাদেব্যৈ শিবায়ৈ সততং নমঃ। নমঃ প্রকৃত্যৈ ভদ্রারৈ নিয়তাঃ প্রণতাঃ স্ম তাম্ ॥১॥ এবং তৎফলে স্বর্গে গমন করেন, অতএব ডিলােকে তুমিই ফলদাত্রী। ১০ | হে দুর্গে, ভীত হইয়া তোমায় স্মরণ করিলে তুমি সকল প্রাণীর ভয়নাশ করিয়া থাক, আবার সুস্থ (ভয়রহিত) অবস্থায় স্মরণ করিলে অতীব শুভবুদ্ধি প্রদান করিয়া থাক। তুমি দারিদ্র-দুঃখ এবং ভয়হারিণী ; সকলের উপকার করি- বার জন্য দয়া-হৃদয় তােমা ব্যতীত আর কে আছে।১১। দেবীকে নমস্কার, মহাদেবী শিবকে সর্বদা নমস্কার, দেবী-মাহাত্ম্য । ৪৩ রৌদ্রায়ৈ নমম নিত্যায়ৈ গৌৰ্য্যৈ ধাত্যৈ নমাে নমঃ। জ্যোত্যায়ৈ চেদ্রূপিণ্য সুখারৈ সততং নমঃ ॥২॥ কল্যাণ্যৈ প্রণতা বৃদ্ধ্যৈ সিদ্ধ্যৈ কুৰ্ম্মো নমাে নমঃ। নৈঋত্যৈ ভূতৃতাং ক্ষ্ম্যৈ শৰ্বাণ্যৈ তে নমাে নমঃ ॥৩॥ দুর্গায়ৈ দুর্গপারায়ৈ সারায়ৈ সৰ্বকারিণ্যৈ। খ্যাত্যৈ তথৈব কৃষ্ণায়ৈ ধূম্রায়ৈ সততং নমঃ । ৪। অতিসৌম্যাতিরৌদ্রায়ৈ নস্তস্যৈ নমাে নমঃ। নমাে জগৎপ্রতিষ্ঠায়ৈ দেব্যৈ কৃত্যৈ নমাে নমঃ ॥৫|| কলাণকারিণী প্রকৃতিকে নমস্কার, আমরা সমাহিতচিত্তে তাঁহাকে প্রণাম করি। ১ | ভীষণরূপা নিত্যাকে নমস্কার, জগদাধাররূপা গৌরীকে নমস্কার, জ্যোৎস্না ও চন্দ্র রূপিণী সুখদায়িনী দেবীকে সর্বদা নমস্কার। ২। কল্যাণ, বৃদ্ধি ও সিদ্ধিরূপিণকে আমরা প্রণত হইয়া নমস্কার করি, নৈঋতী ও রাজলক্ষ্মীকে আমরা নমস্কার করি, শর্বাণীকে আমরা 'নমস্কার করি । ৩। দুর্গা, দুর্গপারা (সংসার-পার-কারিণী), সার (সৰ্বশ্রেষ্টা), সৰ্বকারিণী, খ্যাতি (প্রসিদ্ধিরূপা), কৃষ্ণা (কৃষ্ণবর্ণা) এবং ধূম্রা- ধূম্রবর্ণা) কে সতত নমস্কার । ৪।

৪৪ দেবী-মাহাত্ম। যা দেবী সর্বভূতেষু বিষ্ণুমায়েতি শব্দিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমাে নমঃ । ৬। যা দেবী সর্বভূতেষু চেতনেত্যভিধীয়তে। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥ ৭ ॥ যা দেবী সর্বভূতেষু বুদ্ধিরূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমাে নমঃ ॥ ৮ | যা দেবী সর্বভূতেষু নিদ্রারূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমাে নমঃ ॥ ৯ | আমরা অতি সুন্দরী এবং অতি ভীষণাকে প্রণত হইয়া নমস্কার করি, জগৎপালনকারিণীকে নমস্কার করি, ক্রিয়ারূপ দেবীকে নমস্কার করি ॥ ৫॥ যে দেবী সর্বভূতে বিষ্ণুমায়া নামে অভিহিত হন, তাহাকে পুনঃ পুনঃ নমস্কার । ৬। যে দেবী সকল পদার্থে চেতনা নামে অভিহিত হন, তাঁহাকে পুনঃ পুনঃ নমস্কার । ৭। যে দেবী সকল প্রাণীতে বুদ্ধির পে অবস্থান করিতেছেন, তাহাকে পুনঃ পুনঃ নমস্কার । ৮ | যে দেবী সকল প্রাণীতে নিদ্রারপে অবস্থান করিতেছেন. ভঁহাকে পুনঃ পুনঃ নমস্কার। ৯।

দেবী-মাহাত্ম ।
৪৫
যা দেবী সর্বভূতেষু ক্ষুধারূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমাে নমঃ ॥ ১০ |
যা দেবী সর্বভূতেষু ছায়ারূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমাে নমঃ ॥ ১১।
যা দেবী সর্বভূতেষু শক্তিরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমাে নমঃ ॥ ১২।
যা দেবী সর্বভূতেষু তৃষ্ণারূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমাে নমঃ। ১৩।
যা দেবী সৰ্ব্বভূতেষু ক্ষান্তিরপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমাে নমঃ ॥ ১৪ |
যে দেবী সকল প্রাণীতে ক্ষুধারূপে অবস্থান করিতেছেন,
তাহাকে পুনঃ পুনঃ নমস্কার । ১০ |
যে দেবী সকল পদার্থে ছায়ারূপে অবস্থান করিতেছেন,
তাঁহাকে পুনঃ পুনঃ নমস্কার। ১১।
যে দেবী সকল পদার্থে শক্তিরূপে অবস্থান করিতেছেন,
তাঁহাকে পুনঃ পুনঃ নমস্কার । ১২।
যে দেবী সকল প্রাণীতে তৃষ্ণারূপে বিরাজ করিতেছেন,
হাকে পুনঃ পুনঃ নমস্কার । ১৩।
যে দেবী সকল প্রাণীতে ক্ষমারূপে বিরাজ করিতেছেন,
তাঁহাকে পুনঃ পুনঃ নমস্কার ॥১৪ |

৪৬
দেবীমাহাত্ম।
যা দেবী সর্বভূতেষু জাতিরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমাে নমঃ ॥১৫।
যা দেবী সর্বভূতেষু লজ্জারূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমাে নমঃ ॥১৬।
যা দেবী সর্বভূতেষু শান্তিরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমাে নমঃ ॥ ১৭।
যা দেবী সর্বভূতেষু শ্রদ্ধারূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমাে নমঃ ॥ ১৭।
যা দেবী সৰ্ব্বভূতেষু কান্তিরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমাে নমঃ ॥১৯।
যে দেবী সকল প্রাণীতে জাতিরপে বিরাজ করিতেছেন,
তাহাকে পুনঃ পুনঃ নমস্কার। ১৫।
যে দেবী সকল প্রাণীতে লজ্জারূপে বিরাজ করিতেছেন,
তাহাকে পুনঃ পুনঃ নমস্কার । ১৬।
যে দেবী সকল প্রাণীতে শান্তিরূপে বিরাজ করিতেছেন,
কঁহাকে পুনঃ পুনঃ নমস্কার । ১৭। .
যে দেবী সকল প্রাণীতে শ্রদ্ধারূপে বিরাজ করিতেছেন,
তাঁহাকে পুনঃ পুনঃ নমস্কার । ১৮।
যে দেবী সকল প্রাণীতে শোভারূপে বিরাজ করিতেছেন,
তাহাকে পুনঃ পুনঃ নমস্কার ॥ ১৯।

দেবীমাহাত্ম্য।
৪৭
যা দেবী সর্বভূতেষু লক্ষ্মীরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমাে নমঃ । ২০।
যা দেবী সর্বভূতেষু বৃত্তিরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমাে নমঃ ॥ ২১।
যা দেবী সর্বভূতেষু স্মৃতির পেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমাে নমঃ । ২২।
যা দেবী সর্বভূতেষু দয়ারূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমাে নমঃ । ২৩।
যা দেবী সর্বভূতেষু তুষ্টিরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমাে নমঃ ॥ ২৪ |
যে দেবী সকল প্রাণীতে সম্পরূপে অবস্থান করিতেছেন,
তাহাকে পুনঃ পুনঃ নমস্কার । ২।
যে দেবী সকল প্রাণীতে বৃত্তিরূপে অবস্থান করিতেছেন,
তাহাকে পুনঃ পুনঃ নবস্কার । ২১।
যে দেবী সকল প্রাণীতে স্মৃতিরূপে অবস্থান করিতেছেন,
তাহাকে পুনঃ পুনঃ নমস্কার । ২২।
যে দেবী সকল প্রাণীতে দয়ারূপে বিরাজ করিতেছেন,
তাঁহাকে পুনঃ পুনঃ নমস্কার । ২৩।
যে দেবী সকল প্রাণীতে সন্তোষরূপে বিরাজ করিতেছেন,
তাহাকে পুনঃ পুনঃ নমস্কার। ২৪ |

৪৮
দেবী-মাহাত্ম।
যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমমা নমঃ। ২৫ |
যা দেবী সর্বভূতেষু ভ্রান্তিরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমাে নমঃ। ২৬।
ইন্দ্রিয়াণামধিষ্ঠাত্রী ভূতানাঞ্চাখিলে যা।
ভূতেষু সততং তস্যৈ ব্যাপ্তিদেব্যৈ নমাে নমঃ ॥২৭
চিতিরূপেণ যা কৃৎস্নমেতদ্ব্যাপ্য স্থিতা জগৎ।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমাে নমঃ ॥২৮||
যে দেবী সকল প্রাণীতে মাতৃরূপে অবস্থান করিতেছেন,
তাঁহাকে পুনঃ পুনঃ নমস্কার। ২৫।
যে দেবী সকল প্রাণীতে ভ্রান্তিরূপে বিরাজ করিতেছেন,
তাহাকে পুনঃ পুনঃ নমস্কার। ২৬ ॥
যিনি সকল প্রাণীর শরীর এবং ইন্দ্রিয়গণের অধিষ্ঠাত্রী
সেই ব্যাপ্তি ( সৰ্বব্যাপিনী) দেবীকে নমস্কার। ২৭।
যে দেবী চৈতন্যরূপে নিখিল ভূবন ব্যাপিয়া অবস্থান
করিতেছেন, তাঁহাকে পুনঃ পুনঃ নমস্কার। ২৮।

দেবীমাহাত্ম্য। ৪৯ দেবগণকৃত তৃতীয় স্তব। দেবি প্রপাত্তিহরে প্রসীদ প্রসীদ মাতর্জগতোহখিলস্য । প্রসীদ বিশ্বেশ্বরি পাহি বিশ্বং ত্বমীশ্বরী দেবি চরাচরস্থ ॥ ১। আধারভূতা জগতত্ত্বমেকা মহীম্বরপেণ যতঃ স্থিতাসি। অপাং স্বরূপস্থিতয়া ত্বয়ৈত- দাপ্যায্যতে কৃৎস্নমল্যবীর্যে। ২। ত্বং বৈষ্ণবীশক্তিরনবীৰ্য্য। বিশ্বস্ত বীজং পরমাসি মা । হও। হে দেবি, হে শরণাগতজনের দুঃখনাশিনী দেবি, প্রসন্না হে সমস্ত জগতের জননি, প্রসন্ন হও। হে বিশ্বেশ্বরি, প্রসন্ন হইয়া বিশ্ব পালন কর। হে দেবি, তুমিই চরাচর জগতের অধীশ্বরী ॥১॥ তুমিই জগতের একমাত্র আশ্রয়, কারণ তুমিই পৃথিবী- রূপে অবস্থান করিতেছ। আবার, হে অনতিক্ৰমণীয়া শক্তিধারিণী দেবি, তুমিই জলরূপে অবস্থান করিয়া এই অখিল জগৎ প্রবৃদ্ধ করিতেছ ॥ ২॥ ৪ দেবীমাহাত্ম্য। সম্মােহিতং দেবি সমস্তমেত- ত্বং বৈ প্রসন্না ভুবি মুক্তিহেতুঃ ॥ ৩ | বিদ্যাঃ সমস্তান্তব দেবি ভেদাঃ স্ত্রিয় সমস্তাঃ সকা জগৎসু। ত্বয়ৈকয়া পূরিতমম্বয়ৈতৎ কা তে স্তুতিঃ স্তব্যপরা পরােক্তিঃ ॥৪॥ সৰ্ব্বভূতা যদা দেবী স্বর্ণমুক্তিপ্রদায়িনী। ত্বং স্তু স্তুতয়ে কা বা ভবন্তু পরমােক্তয়ঃ ॥ ৫॥ হে দেবি, তুমি অনন্ত শক্তিশালিনী বৈষ্ণবী শক্তি, তুমি বিশ্বের মূল কারণ এবং তুমি পরমা মায়ারূপে অবস্থিত। তুমিই এই সমস্ত জগৎ সম্মােহিত করিয়া রাখিয়াছ, আবার জগতে তুমি প্রসন্না হইলেই মুক্তির কারণ হইয়া থাক। ৩। হে দেবি, সমস্ত বিদ্যা তােমার মূর্তি, সমস্ত রমণী তােমারই অংশস্বরূপা। মাতৃরূপে তুমি একাই সমস্ত জগৎ পরিব্যাপ্ত করিয়া রহিয়াছ, অতএব তােমার আবার স্তব কি ( অর্থাৎ তােমার গুণবর্ণনা সম্ভব নয় ) । ৪। তুমি সৰ্ব্বস্বরূপা, তুমি দেবী ( চিদানন্দময়ী) এবং স্বর্গ ও মুক্তি প্রদানকারিণী, সুতরাং তােমার স্তব করিতে আরম্ভ করিয়া কোন কথা বিশেষ করিয়া বলিব ? ৫।

দেবীমাহাত্ম। সৰ্বস্ত বুদ্ধিরূপেণ জনস্য হৃদি সংস্থিতে। অর্গাপবৰ্গদে দেবি নারায়ণি নমােহস্তু তে। ৬। কলাকাষ্ঠাদিরূপেণ পরিণামপ্রদায়িনি। বিশ্বষ্যোপরতে শক্তে নারায়ণি নমােহস্তু তে॥৭॥ সৰ্বমঙ্গলমঙ্গল্যে শিবে সৰ্বার্থসাধিকে। শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরি নারায়ণি নমােহস্তু তে॥ ৮। সৃষ্টিস্থিতিবিনাশানাং শক্তিতে সনাতনি। গুণাশ্রয়ে গুণময়ে নারায়ণি নমােহস্তু তে॥৯॥ হে নারায়ণি দেবি, তুমি সকল ব্যক্তির হৃদয়ে বুদ্ধিরপে অবস্থান করিতেছ এবং তুমি স্বর্গ ও মুক্তি প্রদানকারিণী, তােমাকে নমস্কার। ৬। হে নারায়ণি, তুমি কলা কাষ্ঠা প্রভৃতি কালরূপে জগতের পরিণাম করিতেছ এবং তুমি জগতের বিনাশকারিণী শক্তি, তােমাকে নমস্কার ॥ ৭। হে নারায়ণি , তুমি সকল মঙ্গলের মঙ্গল-বিধানকর্তী, তুমি মঙ্গলময়ী, তুমি সর্বসিদ্ধিদায়িনী, তুমি ত্রিনয়নী, তুমি গৌরী, তােমারই শরণ গ্রহণ করা কর্তব্য, তােমাকে নমস্কার । ৮। হে সনাতনি দেবি, হে নারায়ণি, তুমি সৃজন পালন- সংহারকারিনী শক্তিরূপা, তুমি ত্রি গুণের আশ্রয় এবং স্বয়ং ত্রিগুণময়ী, তােমাকে নমস্কার । ৯।

৫২
দেবী-মাহাত্ম।
শরণাগতদীনাৰ্ত্তপরিত্রাণ-পরায়ণে।
সৰ্বস্যৰ্ত্তিহরে দেবি নারায়ণি নমােহস্তু তে॥ ১০ ।
হংসযুক্তবিমানস্থে ব্ৰহ্মাণী-রূপধারিণি।
কৌশান্তঃক্ষরিকে দেবি নারায়ণি নমােহস্তু তে॥ ১১।
ত্রিশূলচন্দ্রাহিধরে মহাবৃষভ-বাহিনি।
মাহেশ্বরীস্বরূপেণ নারায়ণি নমােহস্তু তে॥ ১২ ।
ময়ূরকুকুটবৃতে মহাশক্তিধরেংঘে।
কৌমারীরূপসংস্থানে নারায়ণি নমােহস্তু তে॥ ১৩।
হে নারায়ণি দেবি, তুমি শরণাগত, দীন ও পীড়িত
ব্যক্তিদিগকে পরিত্রাণ করিয়া থাক, এবং তুমি সকলের দুঃখ
নাশ কর, তােমাকে নমস্কার । ১০।
হে নারায়ণি দেবি, তুমি ব্ৰহ্মাণীরূপে হংসবাহিত বিমানে
অবস্থান করিয়া থাক এবং কুশজল ক্ষরণ কর, তােমাকে
নমস্কার। ১১।
হে নারায়ণি, তুমি মাহেশ্বরী-মূর্তিতে ত্রিশূল, অর্ধচন্দ্র এবং
স্বৰ্প-বলয় ধারণ কর ও মহাবৃষভে আরােহণ করিয়া থাক,
তােমাকে নমস্কার । ১২।
হে নারায়ণি, তুমি ময়ূর ও কুকুট পরিবৃতা হইয়া এবং
মহাশক্তি ধারণ করিয়া মনােরম কৌমারীরূপে অবস্থান
করিয়া থাক, তােমাকে নমস্কার ॥১৩।

দেবী-মাহাত্ম্য ।
শঙ্খচক্রগদাশাঙ্গগৃহীতপরমায়ুধে।
প্রসীদ বৈষ্ণবীরূপে নারায়ণি নমােহস্তু তে॥ ১৪।
গৃহীতােগ্ৰমহাচক্রে দংষ্ট্ৰোদ্ধৃতবসুন্ধরে।
বরাহরূপিণি শিবে নারায়ণি নমােহস্তু তে॥ ১৫।
নৃসিংহরূপেণােণে হং দৈত্যান্ কৃতােদ্যমে।
ত্রৈলােক্যত্রাণসহিতে নারায়ণি নমােহস্তু তে॥ ১৬ ।
কিরীটিনি মহাবজে সহস্রনয়নােজ্জলে।
বৃত্ৰপ্রাণহরে চৈন্দ্রি নারায়ণি নমােহস্তু তে॥ ১৭ ॥
হে নারায়ণি, তুমিই শঙ্খ-চক্র-গদা-শাঙ্গাদি শ্রেষ্ঠ আয়ুধ-
ধারিণী বৈষ্ণবী শক্তি, তুমি প্রসন্না হও, তােমাকে নমস্কার ॥১৪৷
হে নারায়ণি, তুমি বরাহরূপে ভীষণ মহাচক্র গ্রহণ
করিয়াছ এবং দন্তদ্বারা পৃথিবীকে উদ্ধার করিয়াছ, তুমি
কল্যাণময়ী, তােমাকে নমস্কার। ১৫।
হে নারায়ণি, তুমি ভীষণ নৃসিংহরূপ ধারণ করিয়া
দৈত্যগণকে হত্যা করিতে উদ্যত হইয়াছিলে, তুমি ত্রিভুবন-
রক্ষাকারিণী, তােমাকে নমস্কার ॥ ১৬।
হে নারায়ণি, তুমি কিরীট ও মহাবজধারিণী সহস্র নয়ন-
শশাভিতা ইশক্তি, তুমি বৃত্রাসুরের প্রাণ সংহার করিয়াছ,
তােমাকে নমস্কার ॥ ১৭ ॥

দেবীমাহাত্ম।
শিবদূতীস্বরূপেণ হতদৈত্যমহাবলে।
ঘােররূপে মহারাবে নারায়ণি নমােহস্তু তে॥ ১৮
দংষ্ট্ৰাকরালবদনে শিয়ােমালাবিভূষণে।
চামুণ্ডে মুণ্ডমথনে নারায়ণি নমােহস্তু তে॥ ১৯।
লক্ষ্মি লজ্জে মহাবিদ্যে শ্রদ্ধে পুষ্টি স্বধে ধ্রুবে।
মহারাত্রি মহাবিদ্যে নারায়ণি নমােহস্তু তে॥ ২০।
মেধে সরস্বতি বরে ভূতি:বাবি তামসি।
নিয়তে ত্বং প্রসীদেশে নারায়ণি নমােহস্তু তে॥ ২১।
হে নারায়ণি, তুমি মহাশব্দকারিণী ভীষণ শিবদূতী মূর্তিতে
দৈত্যসৈন্যগণকে বিনাশ করিয়াছ, তােমাকে নমস্কার । ১৮।
হে নারায়ণি, তুমি নরমুণ্ডমালাধারিণী চামুণ্ডা, তােমার
বদন দশন দ্বারা ভীষণ হইয়াছে, ভুমি মুণ্ডাসুরকে নাশ
করিয়াছ, তােমাকে নমস্কার । ১৯।
হে নারায়ণি, তুমি লক্ষ্মী, তুমি লজ্জা, তুমি শ্রেষ্ঠ বিদ্যা,
তুমি শ্রদ্ধা, তুমি পুষ্টি, তুমি স্বধ, তুমি ধ্রুব পদার্থ, তুমি
প্রলয়স্বরূপা, তুমি-মহামােহস্বরূপিণী, তোমাকে নমস্কার ২০
হে নারায়ণি, তুমি মেধাস্বরূপা, তুমি বাদেবী, তুমি
সৰ্বশ্ৰেঠা, তুমি ঐশ্বৰ্য্যস্বরূপা, তুমি রজোগুণযুক্তা, তুমি তমাে-
গুণযুক্ত, তুমি অদৃষ্ট, তুমি ঈশ্বরী, তুমি প্রসন্না হও, তােমাকে
নমস্কার । ২১।
-

দেবী মাহাত্ম ।
সৰ্বম্বরূপে সৰ্ব্বেশে সর্বশক্তিসমন্বিতে।
ভয়েভ্যন্ত্রাহি নাে দেবি দুর্গে দেবি নমােহস্তু তে॥ ২২।
বােগানশেষানপহংসি তুষ্টা
রষ্টা তু কামান্ সকানভীষ্টান্ ।
মাশ্রিতানাং ন বিপন্নরাণাং
কামাশ্রিতা হাশয়তাং প্রয়ান্তি । ২৩।
বিদ্যাসু শাস্ত্ৰেষু বিবেকদীপে-
স্বাদ্যেষু বাক্যেষু চ কা ত্বদা।
মমত্বগর্তেহতিমহান্ধকারে
বিভ্রাময়তেতদতীব বিশ্বম্ ॥ ২৪।
হে দুর্গা দেবি, তুমি সৰ্বস্বরূপা, তুমি সকলের ঈশ্বরী,
তুমি সৰ্বশক্তিযুক্তা, তুমি আমাদিগকে ভয় হইতে ত্রাণ কর,
তােমাকে নমস্কার । ২২।
তুমি সন্তুষ্ট হইলে সকল রােগ বিনাশ করিয়া থাক, এবং
ক্রুদ্ধ হইলে সকল বাঞ্ছিত কামনা ধ্বংস করিয়া থাক।
তােমার আশ্রিত ব্যক্তিদিগের বিপদ হয় না, এবং তাহারা
অন্য লােকেরও আশ্রয়স্থল হইয়া থাকে । ২৩।
তুমি সৰ্ব্ববিধ বিদ্যা, শাস্ত্র এবং জ্ঞানবর্ধক বেদবাক্যের
একমাত্র প্রবর্তিকা, এবং তুমিই মহা অন্ধকারস্বরূপ মমত্বগর্তে
এই জগৎ পুনঃ পুনঃ ভ্রমণ করাইতেছ (অর্থাৎ তােমার

দেবীমাহাত্ম্য।
রক্ষাংসি যত্ৰোগ্রবিষাশ্চ নাগা
মত্রারয়াে দবলানি যত্র।
দাবানলাে যত্ৰ তথাৰূিমধ্যে
তত্র স্থিতা ত্বং পরিপাসি বিশ্বম্ ॥ ২৫ |
বিশ্বেশ্বরী ত্বং পরিপাসি বিশ্বং
বিশ্বাত্মিকা ধরিয়সীতি বিশ্বম্।
বিশ্বেশবন্দ্যা ভবতী ভবন্তি
বিশ্বায়া যে ত্বর্মি ভক্তিনা। ২৬।
শক্তিতেই জীবসকল কর্তব্যাকৰ্ত্তব্যজ্ঞান রহিত হইয়া আমি
আমার করিয়া ঘুরিয়া বেড়াইতেছে) । ২৪।
যে স্থানে রাক্ষসগণ, উগ্রবিষ সর্পগণ, শত্রুগণ ও দস্যুদল
সকল অবস্থান করে সেই স্থলে, এবং দাবানল ও সমুদ্র
মধ্যেও অবস্থান করিয়া তুমি এই বিশ্ব পরিপালন
করিতেছ ॥২৫।
তুমি বিশ্বের ঈশ্বরী, এই জন্য তুমি বিশ্ব পালন করিয়া
থাক, এবং তুমি জগৎরূপা, এই জন্য বিশ্বকে ধারণ করিয়া
আছ ; তুমি বিশ্বের আশ্রয়স্থল, এই জন্য যে তোমার প্রতি
ভক্তিতে নম্র হইয়া থাকে, সে ব্ৰহ্মা ইন্দ্র প্রভৃতিরও পূজনীয়
হইয়া থাকে। ২৬।

দেবীমাহাত্ম। প্রণতানাং প্রসীদ ত্বং দেবি বিশ্বাৰ্ত্তিহারিণি। ত্রৈলোক্যবাসিনামীড্যে লােকানাং বরদা ভব। ২৭। বিশ্বের দুঃখনাশকারিণি দেবি, তুমি প্রণত জনের প্রতি সন্তুষ্ট হও; হে ত্রৈলােক্যবাসিজনের স্তবনীয় দেবি, তুমি লােকসকলের প্রতি বরদায়িনী হও। ২৭। দেবী-সূক্ত। দেবীসূক্ত ঋগ্বেদের অন্তর্গত। অ্যুণ ঋষির বাক্ নামী কন্যাতে আবির্ভূতা হইয়া দেবী স্বয়ং যে আত্মপরিচয় প্রদান করিয়াছেন, তাহাই দেবীসূক্ত নামে প্রসিদ্ধ। এই দেবীসূক্তের মধ্যেই দেবী-মাহাত্মের মূল পাওয়া যায়। ওঁ অহং রুদ্রেভিৰ্ব্বসুভিশ্চরা- ম্যহমাদিত্যেরুত বিশ্বদেবৈঃ। অহং মিত্রাবরুণােভা বিভগ্ম- হমিন্দ্রাগ্নী অহমশ্বিনােভা। ১। আমি রুদ্রগণ, বসুগণ, আদিত্যগণ এবং বিশ্বদেবগণরূপে বিচরণ করিতেছি। আমিই মিত্র ও বরুণকে, ইন্দ্র ও অগ্নিকে, এবং অশ্বিনীকুমারদ্বয়কে ধারণ করিয়া আছি।

দেবীমাহাত্ম্য। অহং সােমমাহনসং বিভৰ্মহং ত্বষ্টারমুত পূষণং ভগং। অহং দধামি দ্রবিণং হবিষ্মতে সুপ্রব্যে যজমানায় সুম্বতে। ২। আমি শত্রুনাশকারী সোমকে, ত্বষ্টাকে, এবং পুষা ও ভগকে ধারণ করিতেছি। যাহার প্রচুর হবিঃ আছে এবং যে ব্যক্তি উত্তম হবিঃ দ্বারা দেবগণের তৃপ্তি-বিধান করিয়া থাকে ও যজ্ঞবিধি অনুসারে সোমরস প্রস্তুত করিয়া থাকে, সেই যজমানকে আমিই যজ্ঞফল প্রদান করিয়া থাকি। অহং রাষ্ট্ৰী সঙ্গমনী বসূনাং চিকীতুষী প্রথমা যজ্ঞিয়ানা। তাং মাং দেব। ব্যদধু পুরুত্ৰা ভূরিস্থাত্ৰাং ভূৰ্য্যাবেণয়ন্তীম্ ॥ ৩॥ আমি সকলের ঈশ্বরী, আমি ধনদানকারিণী, আমি সৰ্ব্বদর্শিনী, এবং যাহাদের উদ্দেশ্যে যজ্ঞ করা উচিত তাহাদের মধ্যে আমি সর্বশ্রেষ্ঠা ; আমি বহুভাবে অবস্থান করি এব’ আমিই নিখিল প্রাণীতে আত্মাকে জীবভাবে প্রবেশিত করি, অতএব দেবগণ যাহা করেন তাহা ঈদৃশ গুণশালিনী আমারই উদ্দেশ্যে করেন।

দেবীমাহাত্ম্য।
৫৯
ময়া সােম্নমত্তি যে বিপতি
যঃ প্রাণিতি যঃ শৃণােত্যুক্ত।
অমন্তববা মাং ত উপক্ষিয়স্তি
শ্ৰধি শ্রুত শুদ্ধিবং তে বদামি। ৪
আমারই শক্তিতে লােকের অভােজন, দর্শন, শ্বাসপ্রশ্বাস
এবং কথা শ্রবণ কার্য নির্বাহিত হয়। যাহারা আমাকে
এইরূপ ভাবে জানে না, তাহারা হীনভাবাপন্ন হইয়া থাকে।
অতএব হে শ্রুত, শ্রদ্ধা-( বিশ্বাস লভ্য বিষয় তােমাকে
বলিতেছি, তুমি শ্রবণ কর।
অহমেব স্বয়মিদং বদামি
জুঃং দেবেভিরুত মানুষেভিঃ।
যং যং কাময়ে তং তমুগ্ৰং কৃণােমি
তং ব্রহ্মাণং তষিং তং সুমেধা ৫।
দেবতাগণ ও মানুষগণের প্রার্থিত এই তত্ত্ব আমি স্বয়ং
হােমাকে বলিতেছি। আমি যাহাদিগের প্রতি ইচ্ছা করি,
তাহাদিগের কাহাকেও সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী, কাহাকেও
ব্ৰহ্মা, কাহাকেও ঋষি এবং কাহাকেও বা মেধাবী করিয়া
থাকি।
অহং রুদ্রায় ধনুরাতননামি ব্ৰহ্মদ্বিষে শরবে হতবা উ।
অহং জনায় সমদং কণােম্যহং বাপৃথিবী আবিবেশহ ॥

দেবী-মাহাত্ম। ব্রহ্মদ্বেষী হিংসক- অসুর )গণের বিনাশের নিমিত্ত আমিই রুদ্রের ধনু জ্যা-যুক্ত করিয়াছি, এবং আমিই লােকরক্ষার জন্য শত্রুগণের সহিত যুদ্ধ করিয়া থাকি। আমিই স্বর্গে ও পৃথিবীতে আবিষ্ট হইয়া আছি। অহং সুবে পিতরমস্য মূর্ধ- ন্মম যােনিরন্তঃ সমুদ্রে ততে। বিতিষ্ঠে ভুবনানু বিশ্ব। উতামূল্যাং বণােপস্পশামি॥৭॥ ভূলােকের উপরস্থ আকাশকে আমিই প্রসব করিয়াছি ; সমুদ্র ও সলিলের অন্তর্মধ্যে আমারই কারণ বর্তমান। অতএব আমি সমস্ত ভুবনে অনুপ্রবিষ্ট হইয়া অবস্থান করিতেছি। আমি এই দেহদ্বারা দূরবর্তী আকাশও স্পর্শ করিয়া থাকি। অহমেব বাত ইব প্রবামারভমাণা ভুবনানি বিশ্বা। পরে দিব। পর এনা পৃথিব্যৈবতী মহিনা সম্বভূব ॥৮ আমিই সমস্ত ভুবন উৎপাদনসময়ে বায়ুর ন্যায় প্রবাহিত হই। এই পৃথিবী এবং আকাশের পরেও আমি আছি। আমি এইরূপ মহিমার সহিত অধিষ্ঠিতা আছি।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Debi-mahatmya

Author
Chackraborty, Bishnaupada
Title
Sri Sri Chandir Kotha
File name
Debi-mahatmya
Text
OCR done
Citation
1927
Published
2010/02/16
Publisher
Siddheswar Press
Language
Sanskrit
Pages
72
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Epic
Keywords
Mahisasur Badh
DLI number
511017
Barcode
4990010018204.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
KT9nPfNZvY7
Download PDF

Debi-mahatmya