Uttarpara Jaykrishna Public Library, Hooghly
Khadya-bichar Ed.1
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
খাদ্য-বিচার।
অপু
ইংরাজী ও আয়ুর্বেদ মতে দেশীয় খাদ্য সকলের
সম্পূর্ণ দোষ ও গুণ ব্যাখ্যা।
খা-বিষয়ক বিবিধ সংস্কৃত ও ইংরাজী পুস্তক অবলম্বনে
ডাক্তার দেবেন্দ্র নাথ মুখােপাধ্যায়
প্রণীত।
থম সংস্করণ।
কাশিপুর ।
গীৰিকাশিনী থম্ভে রাখালদাস ভট্টাচাৰ্য দ্বারা মুহিত
শ্রামলাল বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক প্রকাশিত।
No text on this page.
প্রস্তাবনা।' আহারই জীবদেহ বার একমাত্র ও প্রধানতম কারণ। নিয়মিত আহারে শারীরিক ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পায়, দৈহিক বর্ধনক্রিয়া সাধিত হয় এবং দেহগত নিৰ্মাণ সকল যথাযথ রক্ষা গাইয়া দেহ রক্ষা করে। তদ্বিররীতে অনিয়মিত বা অযথা আহারে শারীরিক ও মানসিক শক্তির অন্যথা হয়, বর্ধন-ক্রিয়া লোপ পায় এবং উপাদান সকল ক্ষয় প্রাপ্ত হইয়া দেহের পতন হয়। এইস্থলে অনেক অনেক বিজ্ঞ ব্যক্তিগণ জীবদেহকে বাষ্পীয়-যন্ত্রের সহিত তুলনা করেন, অথং ঐ যন্ত্রের সমস্ত অঙ্গ যথাযথ বৰ্তমান সত্বেও উচিত পরিমাণে, অঙ্গার ও জলের অভাবে যেরূপ অচল হয়, সেইরূপ এ দেহযন্ত্র ও নিয়মিত খাদ্য ও জলের অভাবে সত্বর অচল হইয়া পড়ে।-খাদ্যের সহিত শরীরের এত নৈকট্য স্বম্বন্ধ জানিয়াই সভ্যদেশবাসী মাত্রেরই আহারীয় পদার্থ সমূহের দোষ গুণাদির বিচার করিয়া ভক্ষণ করিতে দেখা যায়। যখন আমাদিগের সৌভাগ্য-সূর্য অস্তমিত না হইয়াছিল, যখন জগতের মধ্যে আৰ্য হিন্দুজাতি সভ্যতায় এবং জ্ঞান গাম্ভীর্যে প্রধানতম ছিলেন,তখন আমাদিগের দেশেও খাদ্যাখাদ্যপেয়াপেয় এ সকল বিষয়ের বিচার করিয়া সেবনাদি হইত । কিন্তু এখন আমাদিগের সেদিন গিয়াছে, আমাদিগের সে সৌভাগ্য সূর্য অস্তাচলাবলম্বী হইয়াছেন, সেই সঙ্গে সঙ্গে আমাদিগের সে জ্ঞান গরিমা, সে মহত্ব, সে সভ্যতা সে সমস্তই অগাধজলধি জলে নিমগ্ন হইয়া গিয়াছে। বিশেষতঃ পাশ্চাত্য-শিক্ষা স্রোতে ভারতবাসীকে আরও বিব্রত করিয়া তুলিয়াছে,-আমরা আর এখন মম্বত্রী বিষ্ণু , হারীত প্রভৃতি ধৰ্ম্মশাস্ত্র প্রয়ােজক দিগের মতে চলিতে চাহি না, অথচ ইংরেজী মতের ও কিছু জানি না, সুতরাং দুই দিকই হারাইয়াছি। দিক্ ফিদিক্ জ্ঞান শূন্য হইয়া চারিদিকেই গােযােগ বাধাইয়াছি, কিন্তু সৰ্ব্ববিধ গােলােেগ হইতে খাদ্যাখাদ্য বিচার বিষয়ে বেশী গােলযোেগ করিয়া ফেলিয়াছি, গােলযােগে পড়িয়া হিন্দুর “ডাল চড়চড়ি” মুসলমানের “পােলাও কালিয়া” ইংরেজের “বিফ বিস্কুট” সকলই সমান ভাবিতেছি। দেশ কাল পাত্র ভেদে যে খাদ্য ভেদ স্বতঃসিদ্ধ, সে সিদ্ধ ব্যবস্থায় ও অনাস্থা দেখাই- তেছি। ফল কথা, খাগ্য নির্ণয় স্বগন্ধে এখন আর কোন কোন বাধা- ৰাধি নিয়মই দেখা যায় না, যাহার মনে যাহা ভাল বাসে বা জিহ্বায় যাহা মিষ্ট লাগে, তিনি তাহাই উপযুক্ত আহার বােধ করেন। যাহারা দুদলভুক্ত তাদের তো কথাই নাহ, আচার- নিষ্ঠদিগের মধ্যেই বা নিয়মিত আহার কৈ ?—গুণাগুণ পরীক্ষা না করিয়া, শরিরী-দ্রব্যের পরিমাণ নির্ণয় না করিয়া, মুখরােচকতার দিকে তাহাদেরও লক্ষ বেশী দাঁড়াইয়াছে। বাজি রাখিয়া দুই পাচ সের রসগোল্লা খান, কিন্তু এতে যে ভবেরবাজি ভাের হয়, সে ভাবনা অনেকেই ভাবেন না।—বলকারক দ্রব্যের হলে অনেকেই বীৰ্য বিহীন খাদ্য দ্বারাই উদর পূর্ণ করেন, যেন তেন প্রকারেন, ক্ষুধার নিবৃত্তি করা তঁাদের মতে খাদ্যের ধর্ম। পেটে গেলেই যে কাজ হয় না—পরিপাক হয়ে রওঁ তৈয়ার হওয়া আর সেই রও হইতেই দেহ রক্ষা হওয়া যে খাদ্যের ধৰ্ম্ম এ তঁারা একবারও মনে ভাবেন না। কেহ কেহ আবার পেটের উপর দোকানদারী করিয়া ঘৃত দুগ্ধ ইত্যাদি আয়ুঃ দ্রব্য আদৌ সংগ্রহ করেন না,বিনা পয়সায় বেগারটা সারিয়া লা—ভাবেন না যে, এ পয়সা বাঁচান কামারের নিকট ইস্প3 চুরির মত। এইরূপে যে পক্ষেই হাে’ আজ কাল এ দেশে আহার স্বম্বন্ধে নানারূপ বিভ্রাট দাড়াইয়াছে। কেহ বা বল বাড়াইবার জন্য হুজুকে মাতিয়া এই উষ্ণ প্রধান দেশে উষ্ণবীৰ্য কুকুড়ার ব্রত, খাইয়া অধঃপাতে যাইতেছেন, আবার কেহ ৰা সব ছাড়িয়া শাক পাতায় দেহ ক্ষয় করিতেছেন,অপরদিকে কেহ বা রাশি রাশি মিষ্টান্ন ভােজনে অগ্নিমান্দ্য অম্লরােগ জীর্ণ হইতেছেন। এক রকম বা এক রকমে শরীর পােষণােপযােগী খাদ্যের অভাব সকলেরই ঘটীতেছে,আর সেই বিষম অভাব হইতেই আমাদের শারিরীক মানসিক এত দুর্কলতা-যৌবনে জুরার এত পূর্ণ প্রকোপ—অকাল মৃত্যুর এত বাড়াবাড়ি। বড়ই দুঃখের বিষয় এ বিষয়টীর উপর আদৌ কাহার লক্ষ নাই। সকল বিষয়েরই আন্দোলন—আলােচনা আছে, কিন্তু অনুচিত আহারে যে লক্ষ লক্ষ লােক মারা যাইতেছে, দেশ উৎসন্ন যাইতেছে, সে বিষয় কাহারও দৃষ্টি নাই। অথচ সকলই একবাক্যে বলেন যে,বিচার করিয়া খাদ্য ভক্ষণ নিতান্ত প্রয়ােজন, কিন্তু বিচার করিব কি করিয়া, যাহার যে বিষয়ে জ্ঞান নাই সে বিষয়ের বিচারশক্তি তাহার কোথা হইতে আসিবে? বঙ্গ সাহিত্যের এত উন্নতি হইতেছে-এক এক বিষয়ে রাশি রাশি, গাড়ি গাড়ি পুস্তক বাহির হইতেছে কি এ পর্যন্ত একান্ত আবশ্য- কীয় খাদ্য বিচার বিষয়ের পৃথক পুস্তক তো একখানি ও দেখিতে পাইলাম না। অনেকে হয়তাে বলবেন, হিন্দুর খাদ্য বিচার কি নাই।—ধৰ্ম্মশাস্ত্র চিকিৎসা শাস্ত্র সকলেই তো খাদ্যাখাদ্যের সূক্ষ্ম ব্যাখা আছে, আছে তাহা স্বীকার করি, শাস্তুদশীদিগের তাহা দেখাও সম্ভব, কিন্তু যারা শাস্ত্রের ধার ধারে না,আয়ুৰ্ব্বেদের “আ,” চিনে না, তারা কি দেখে শিখিবে ? ইংরেজদের চিকিৎসা শাস্ত্র প্রভৃতিতেও তো খাদ্যের কথা আছে,তবে ইংরাজী ভাষায় শত শত খানি পূখক খাদ্য বিচার কেন ? ফল কথা, ঐহিক পারত্রিক রমার মূল স্বরূপ খাদ্যতত্ব সম্বন্ধয় উচিত পুস্তকের একান্ত অভাব আছে,-আর সেই অভাব অনুভব করিয়াই অমিবা বিশেষ যত্ন ও পরিশ্রমের সহিত খাদ্য বিচারের উপক্র- মণিকা স্বরূপ এই খাদ্য বিচার প্রকাশ করিলাম। পুস্তক লিখিত বিষয়গুলিব সংগ্রহ জন্য আমরা ইংরাজী ও আয়ুর্বেদ উভয় মতেরই আশ্রয় লইয়াছি,এবং সকল স্থলেই উভয় মতেরই মন্তব্য দেখাইতে চেষ্টা করিয়াছি তবে অনেক স্থলেই যে আৰ্য মতের প্রাচুর্ণ. দাড়াইয়াছে তাহা বলাই বাহুল্য ; যেহেতু দেশী খাদ্যের তত্ত্ব দেশের ভূক্তভোগী ঋষিবা যতােদূর রাখিতেন, বিদেশী বৈজ্ঞানিকদিগের নিকট কখনই ততোটা আশা করা যায় না।—যার ঘরের খবর তিনি যেমন রাখেন জানেন, সাত সমুদ্র তের নদী পারের একজন বিদেশী তাহা কখনই রাখিতে পারেন না। আমাদের মােচরঘট “কলাইয়ের ডালের মর্ম” আমাছের আয়ুৰ্বেদ-আচাৰ্যগণ যতােদূর পাইয়াছিলেন, বিলাতী {ার ওয়াৰিং নিহাব শতাংশের এক অংশ ও পান না সুতরাং -- দেশী খাদ্যবিচার মধ্যে দেশীয় মতের অধিক্য দেখিয়া কেহ যেন বিরক্ত না হন বা না ভাবেন যে,ইংরাজী মত সংস্কলন পক্ষে আমাদের যত্ন বা পরিশ্রমের ত্রুটী আছে। বলা বাহুল্য এই পুস্তকখানির উপপাদ্য বিষয় সকল সংগ্রহ করিতে আমাদিগকে অনেক ইংরেজী সংস্কৃত ও বাঙ্গালা গ্রস্থ অধ্যয়ণ জন্য বহুল পরিশ্রম করিতে হইয়াছে, এক্ষণে পাঠকগণ ইহা পাঠ ও এতদূগ্ৰন্থ লিখিত উপায়ে আহারাদি করিয়া শরীরকে ঘথবং প্রতিপালন করিলেই চরিতার্থ হইব, এবং আমাদিগের আবীয় পরিশ্রম সকল বলিয়া জ্ঞান করিব। আহার বিষয়ক আরও অনেক কথা বলিবার ছিল, কিন্তু সময়াভাব প্রযুক্ত এবার তাহাতে কৃৎকাৰ্য্য হইয়া উঠিতে পারি- লাম না। আমাছে—দ্বিতীয়খণ্ড খাবিচারে সে সমস্ত বিষয় স্বথাৎ সীপিবদ্ধ করিয়া সাধারণ্যে প্রচার করিতে সক্ষম হইব। পুস্তক খানির স্থানে স্থানে অংশুদ্ধ থাকিবার সম্ভবনা,আমি স্বয়ং চিকিৎসা ব্যবসায়ী,-স্থির হইয়া ফাদি দেখা আমায় পক্ষে একরূপ অসম্ভব, দয়া করিয়া পাঠকগণ নিজ নিজ উদারতা গুণে সে বিষয়ে ক্ষমা করিবেন ; গ্রাহকের অনুগ্রহে যদি ইহার দ্বিতীয় সংস্করণ হয়, তবে তখন ভ্রম সংশােধন করিয়া দিতে ত্রুস নদিয়াধীন-মেদিনীপুর } দেবেন্দ্র নাথ মুখােপাধ্যায়
No text on this page.
খাদ্য-বিচার
ধবল ভাগ।
প্রথম তায়।
খাদ্য বিভাগ ।
মানসিক ও শারিরীক ক্রিয়ার দ্বারা, প্রতিক্ষণই
দৈহিক উপাদানের ক্ষয় পাইতে থাকে। যাহার
দ্বারা ঐ ক্ষতি পূরণ হয় তাহাকেই খাদ্য বলে। ফল
কথা-আমরা যে সকল দেব আহার করিয়া জীবন
ধারণ করি, তাহাকেই খাদ্য বলা যায়। স্বাস্থ্য-শাস্ত্র
মতে নিম্ন গুণযুক্ত আহারই খাদ্য মধ্যে গণ্য, যথা-
(১) যাহাতে শরিরী দ্রব্য (যে যে দ্রব্যে শরীর
গঠিত, Elementary substances) অধিক আছে।
খাদ্য বিচার। (২) যাহাতে শরীর পােষণ হয়। (৩) পরিশ্রম বা জল বায়ু, জনিত কয় যাহার দ্বারা নিবারণ হয়। দেহ তত্ববিৎ পণ্ডিতেরা স্থির করিয়াছেন যে, জীব শরীরে-অম্লজান (oxygen) যবক্ষারজান (nitrogen) জলজান (hydrogen) অঙ্গার জান (carbon) পটা- সিয়ম (potassium) সােডিয়ম (sodium) ক্যালসিয়ম (calcium) ম্যাগনেসিয়ম (magnesium) এবং লৌহ (iron) গন্ধক (sulphur) প্রফুরক (phosphorus) প্রভৃতি রূঢ় পদার্থ আছে *। শরীরে ঐ আয়ুৰ্ব্বেমতে জীবদেহ, ক্ষিতি,জল,অগ্নি,বায়ু, আকাশ, এই পঞ্চভূতাত্মক। বেদান্ত প্রভৃতি শাস্ত্রে এই পঞ্চ পদার্থকে পঞ্চতত্ত্ব বা পঞ্চতন্মাত্র বলিয়াছেন; এই ত মাত্র অর্থে দর্শণ শাস্ত্রে অতি সূক্ষ্ম অমিশ্র দ্রব্য (সুতরাং element) বুঝায়,উক্ত পঞ্চতত্বের মধ্যে আকাশের রজোগুণ হইতে বাক, বায়ুর রজোগুন হইতে হস্ত, অগ্নির রজোগুণ হইতে পদ, জলের রজোগুণ হইতে গুহ্য পৃথি- যীর রজোগুণ হইতে লিঙ্গের উৎপত্তি হইয়াছে। উক্ত পঞ্চতত্ত্বের রাজশাংশ হইতে পঞ্চ প্রাণের (প্রাণ, অপান, সমান উদান, ব্যান) উৎপত্তি হইয়াছে। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞাণ মতে শরীরস্থ রূঢ় পদার্থের শংখ্যা পাঁচ হইতে অধিক।
প্রথম অধ্যায়। সকলের পরিমাণ ঠিক থাকিলে, শরীর অভগ্ন থাকে, অভাবে ভগ্ন বা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। যদিচু, শরীরে সৰ্ব্ব- ক্ষণ ঐসকলের পরিমাণ মত থাকা আবশ্যক কিন্তু শ্বাস প্রশ্বাস,রক্তসঞ্চালন, শরীর সঞ্চালন ইত্যাদিতে নিত্য-প্রতিমূহুর্তই ঐ সকলের পরিমাণ ক্ষয় পাইয়া থাকে। তাহা হইলেই দেখ, যাহার শরীরে নিতান্ত আবশ্যক, যাহা আমাদের শরীর রক্ষার মূল, মরণ জীয়ণের প্রধান কারণ, মানসিক ও শারীরিক পরিশ্রমে নিয়ত তাহারই ক্ষয় হইয়া থাকে। সুতরাং এস্থলে দেহরক্ষা একরূপ অসম্ভব হইয়া দাড়ায়। কিন্তু আমাদের প্রত্যেক খাদ্য মধ্যে, ঐ সকল রূঢ় পদাথের কোন না কোন একটীর অংশ বর্তমান থাকায়, সে অভাব বা অসদ্ভাব উপস্থিত হইতে পারে না ; অর্থাৎ দেহ সঞ্চালন ইত্যাদি দ্বারা যখন যে পদার্থের ক্ষয় হয়, তখনি আহাররূপে সেই পদার্থ গ্রহণ করায় সে অভাব তৎক্ষণাৎ পূরণ হইয়া থাকে। উদাহরণ স্থলে মনে করুন-“কোন কার্ষ্যে অতিরিক্ত পরিশ্রম হওয়ায় (ঘৰ্ম্ম-নিঃসরণ জন্য
খাদ্য বিচার।
(তেছি,
আমার শরীরের যবক্ষারজানের পরিমাণ ক্ষয়
পাইয়াছে ও দুর্বলতা দ্বারা তাহা অনুভব করি-
এমন অবস্থায়—যে খাদ্যে যবক্ষাবর্জন
অধিক আছে (যেমন মাংস) তাহা আহার করি,
ঐ অভাব দূর করিলাম। এখন স্পষ্টই জানা গেল
য, আমাদের শরীরে যে যে পদার্থের দরকার হয়,
আমাদের খাদ্যেও সেই সেই পদার্থ নির্দিষ্ট আছে
এক্ষণে দেখ! অবিশ্যক ঘে, দেহে কোন্ ।
পদার্থ কত আছে। নিম্নে সেই বিষয়ের উল্লেখ
করা যাইতেছে-
-
দৈহিক রূঢ় পদার্থের বিবরণ। পূৰ্বেই উল্লেখ করা হইয়াছে যে, জীব দেহ- অম্লজান, যবক্ষারজান প্রভৃতি কএকটী রূঢ় পদার্থ দ্বারা গঠিত। তন্মধ্যে-অম্লজান ও জলজানের ভাগ খুব কম, অঙ্গারে ভাগ তদপেক্ষা কিছু বেশী এবং যবক্ষারজানের ভাগ সৰ্ব্বাপেক্ষ। বেশী আছে। নিম্নে এবিষয় বিশদ রূপে বর্ণিত হইল। (১) যবক্ষারজান বা নাইটেজেন'- ইহা শরীরের সকল নির্মাণেই যথেষ্ট পরিমাণে আছে, বিশেষতঃ ইহার দ্বারা স্নায়ু, মাংসপেশী ও গ্রন্থি সকল সবল থাকে। পিত্ত ও অন্যান্য পাচক রসে ইহা যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যায়। ইহার দ্বারা স্পষ্টই জানা যাইতেছে যে, শরীরে উহার উপযুক্তরূপে থাকা নিতান্ত আবশ্যক; শরীর-বিধান শাস্ত্রে-ঐ পরিমাণ গড়ের উপর ১০৮ গ্রেন ; অর্থাৎ শ্বাস-প্রশ্বাস, রক্ত সঞ্চালন ও পরিপাক-করণ ইত্যাদি কাৰ্য্যের সাহায্য জন্য, ২৪ ঘণ্টায় এক জন ; ;
খাদ্য বিচার। পূর্ণ বস্কের ১৩৮ গ্রেন নাইটোজেনের প্রয়ােজন করে। এতে প্রত্যেক নিষ্কৰ্ম্ম অলস পর তন্ত্র পুরুষদের জন্য-দৈনিক -দৈনিক ২০০ গ্রেন ও স্ত্রীলােকদের জন্য ১৮০ গ্রেন যবক্ষারজানের আব- শ্যক। কৃষক প্রভৃতি পরিশ্রমী ব্যক্তিদের জন্য দৈনিক ৩০০ গ্রেন ; তদপেক্ষা পরিশ্রমী হইলে ৫০০ গ্রেন যবক্ষারজানের প্রয়ােজন করে। এক কথায়, আমাদের দেশের সাধারণ লােকের পক্ষে, নিত্য ৩০০ গ্রেন যবক্ষারজান শরীরে প্রবেশ করা অাবশ্যক। (২) কার্বণ বা অঙ্গার ইহা শরীরের সকল নির্মাণেই আছে, এবং ইহার দ্বারা শারীরিক উত্তাপ রক্ষা হয়। প্রত্যেক সুস্থকায় ক্তির জন্য ---২৪ ঘণ্ঠয ৩, ৫০ বা ৪০০ গুণ (৮ আউ) ইহার লীরে প্রয়ােজন হয়। (৩) সোনিয়ম- প্রত্যেক পর্দার :! ইহার অংশ আছে, ক্লোরিন ও ফস্ফরিক এসিডের সহিত মিলিয়া ক্লোরাইড ও প্রথম অধ্যায়। ফম্ফাইট রূপে অবস্থিতি করে। প্রত্যেক পূর্ণ বয়স্কের জন্য, দৈনিক ৫০ গ্রেন করিয়। ইহার আবশ্যক। (৪) ক্যালসিয়ম- ইহা অস্থি সকলে ফস্ফরিক অম্লের সহিত মিলিয়া, ফস্ফেট-অব-লাইম রূপে অবস্থিতি করে। ২৪ ঘণ্টায়, ৩ গ্রেন করিয়। ইহার শরীরে প্রবেশ অাবশ্যক। (৫) ক্লোরিন ২৪ ঘণ্টায়,' ইহার ১১০ গ্রেন করিয়া শরীরে আবশ্যক। (৬) ফসফরস প্রতিদিন, ইহার ২৫ গ্রেন করিয়া প্রয়ােজন করে। (৭) সলফ বা গন্ধক ২৪ ঘণ্টায়, ইহার ২০ গ্রেন করিয়া প্রয়ােজন করে। -
খাদ্যস্থ রূঢ় পদার্থ।
শরীরে কি পরিমাণে কোন্ রূঢ়পদার্থ আছে,তাহা বলা
হইল। এক্ষণে দেখা আবশ্যক যেকোন্ খাদ্যে কোন
রূপদার্থ কত পরিমাণে আছে। কারণ-পূর্বেই বলা
হইয়াছে যে, খাদ্যস্থিত রূঢ় পদার্থ দ্বারা আবশ্যকীয়
রূঢ় পদার্থের পরিমাণ স্থায়ী থাকে, সুতরাং নিম্নে
এ স্বম্বন্ধে বলা যাইতেছে।
রাসায়নিক শাস্ত্র মতে (রূঢ় পদার্থের অংশ
মত) খাদ্য দ্রব্য নিম্ন কয়-শ্রেনীতে বিভক্ত।
(১) যবক্ষারজান জাতীয় খাদ্য—(nitro genos food)
অর্থাৎ যে সকল খাদ্যে, যবক্ষারজানের ভাগ অধিক
আছে এবং যাহা ব্যবহ'রে শরীরে যবক্ষার জান ক্ষো
হয়। মাংস, ডিম্ব, এই শ্রেনী ভূক্ত। ইহা ভিন্ন দুগ্ধ
ঘত আলু প্রভৃতি উদ্ভিদ খাদ্যেও যবক্ষারজানের
অংশ আছে ।
* ইহার দ্বারা স্পষ্টই জানা যাইতেছে যে, নিরামিষ ভােজ
হইলেও, যবক্ষার জানের অভাব হয় না। সুতরাং যাহা বা বনে
যে “নিরামিষ ভােজী হইলে দেহ বা হয় না তাহাদের মত
সম্পূর্ণ নহে।
প্রথম অধ্যায়।
এই জাতীয় খাদ্য আবার দুই শ্রেণীতে বিভক্ত।
(ক)চৰ্বি জাতিয় খাদ্য।
তৈল, বসা প্রভৃতি এই শ্রেণীভুক্ত। ইহার
দ্বারা শরীরস্থ কার্বণের অভাব পূরণ হয়।
(খ) শ্বেতসার জাতীয় খাদ্য।
চাউল, গম, যব, সাগু য়্যারারুট, গােল আলু
ইত্যাদি এই শ্রেণীভুক্ত। এই জাতীয় খাদ্যে
অঙ্গরের ভাগ অধিক আছে।
(৩) ধাতব খাদ্য।
ইহা দ্বারা শরীরস্থ ধাতু সমূহের অভাব পূরণ
হইয়া থাকে।
(৪) জল—-
ইহা দ্বারা দেহস্থ ধাতু পদার্থ ভিন্ন, জল-জান
ইত্যাদির অভাব পূরণ হয় ।
আমাদের নিত্য ব্যবহার্য নিম্নলিখিত খাদ্যগুলির
মধ্যে, কোষ্টীতে কি পরিমাণে কোন্ রূঢ় পদার্থ
আছে তাহা লেখা যাইতেছে--
খাদ্য বিচার। খাদ্যের নাম যার অঙ্গারের ধাতব ব্লবের জল ও জানের অংশ অংশ অংশ চর্বির অংশ চাউল ৭ ৭৮ ম ৭২ ২ ১৭ ৭২ ३ ছোলার ডাল ১১ অরহরডাণ মটরডাল { মসুরডাল বেদারিডাল ২৮ २४ মুগেরডাল মাষকলাইডাল আলু চিনি २७ ১ ৭৪ ৭ ১৮ मान ২২ ১৪ ৬৩ দুগ্ধ প্রথম অধ্যায়। উপরি উক্ত বর্ণনা দ্বারা স্পষ্টই জানা যাইতেছে যে, আমাদের শরীরে যে সকল রূঢ় পদার্থের আবশ্যকঅামা- দের খাদ্যেও সেইসকল রূঢ় পদার্থ আছে এবং কোন্ খাদে-কি পরিমাণে ঐ রূঢ় পদার্থ আছে, তাহাও এক- রূপ বলা হইয়াছে, এক্ষণে কোন্ খাদ্য কি পরিমাণে নিত্য আহার করা উচিত, তাহা দেখা অবশ্যক। পূৰ্বেই বলা হইয়াছে যে, একজন সুস্থকায় যুব পুরুষের জন্য, দৈনিক ৩০০ গ্রেণ যবাক্ষরিজান ও ৪০০০ গ্ৰেণ আঙ্গারের আবশ্যক হয়, সুতরাং এমন খাদ্য খাইতে হয়, যাহাতে ঐ ৩০০ শ্রেণ যবক্ষার জান ও ৪০০০ গ্ৰেণ অঙ্গার আছে কিন্তু এমন্ কোন একটি খাদ্যও নাই, যাহাতে ঐ পরিমাণে উক্ত দুই পদার্থ আছে। উদাহরণ স্থলে—যদি কেবল অন্ন ব্যবহার করি, তাহা হইলে, ১৫ ছটাক চাউলের অন্ন খাইলে, ৪০০ গ্ৰেণ অঙ্গার শরীরে যায় বটে কিন্তু ১৫ ছটাক চাউলে ৯০ গ্ৰেণ মাত্র যক্ষারজান আছে। কিন্তু আমার অবশ্যক-৩°• গ্রেণ যবক্ষার জানের। তাহা হইলেই দেখ, কেবল চাউল আহারে খাদ্য বিচার। উভয় রূঢ় পদার্থের ক্ষতি পূরণ হইল না। পক্ষে—যদি কেবল মাংস আহার করি, তাহা হইলে /৩ সের মাংস খাইলে ৪০০ গ্ৰণ অঙ্গার শরীরে যায় বটে, কিন্তু উহার সহিত ১৩৫ গ্রেণ যব- ক্ষারজান প্রবেশ করে কি এ অমর অবশ্যক কেবল ৩৫ ° গ্রেন। উহ বদে (১৩৫০- ৩৫ .. -- ১৫uv ) এক হাজার শ্রেন। অত:তু যক্ষ: জ ন শরীরে প্রবেশ করিল। এই ২৩ হাজার গ্রেন শর রে আবশ্যক নাই যহ। শয়রে অবশ্যক নাই তাহ শরীরে থাকিলে অনিঞ্জের সম্ভবন, সুতরাং প্রকৃতির নিয়মানুসারে ঐ অংশটা হয় মুদ্রপথে, না হয় ঘৰ্ম্ম পথে বাহির হওয়ায় জন্য, ঐ যন্ত্র সকলের অতিরিক্ত খাটীতে হইল। এমৎ অবস্থায়—স্বাস্থ্য নষ্ট হবার বিশেষ সম্ভাবনা। এতদ্বারা স্ক:৪ই জানা গেল যে, কেবল একটি মাত্র খাদ্যের উপর নির্ভর করিয়া, কখনই দেহ রক্ষা হয় না। মিশ্র-খাদ্যই আহারের উপযােগী; নিম্নে রাসায়নিক পরীক্ষা সন্মত কএকটা বিমিশ্র খাদ্যের উল্লেখ করা গেল।
প্রথম অধ্যায়। ১ম ব্যবস্থা। অজারের- লবণের প্রব্যের নাম ও যবক্ষার জানের পরিমাণ অংশ অংশ ২০০২ গ্রেণ চাউল ৬ ছটাক জাউল ৭ চুটাক ঘুত অর্ধছটাক লবণ ১) ৫০ গ্রেণ ৩০ ০ ৪০০০ ৫০ ২য় ব্যবস্থা। খাদ্যের নাম ও পরিমাণ যক্ষার জানের অঙ্গারের অংশ অংশ লবণে- অংশ ৫৪ ৰে ২৬৪০ গ্রেণ ৪৬৮ ত ১৪ চাউল ৮ ছটাক ডাউল ২ ছটাক মাংস ৩ ছটাক তরকারি ৪ ছটাক তৈল দেড় ছটাক লবণ অর্ধ ছটাক ১২ ৭৮৯° ১) ৭৮৯ ॥ ?) ৪৫০ গ্ৰেণ ৩৬৭৮ ৪৫০ গ্রেণ o
১৪
খাদ্য বিচার।
৩য়-ব্যবস্থা।
চাউল
• ছটাক
ডাউল
৩০০
০৫ ও
২ কাচ্চা
০৪
০ ০ ০
১
* ০ ০
লবন
৫ ৫
হরিদ্র
১০
সে যা
০৮
১)
নাঙ্কা
t
তেঁতুল
• ছটাক
০ ০ ০
মৎস্য
• সরকারি অতিথি শালায় এই ব্যবস্থা মত দেশী অতিথির
চাহার দেওয়া হয়।
প্রথম অধ্যায়। ৪র্থব্যবস্থা ... চাউল ডাউল ০ ০ ছটাক ০০০ ০ ১) লবন তরকারি ১০ ৫ম ব্যবস্থা। চাউল . • সের • ছটাক ডাউল মৎস্য মাংস ১) ০০০ ০০০ ১ বন তরকারি ইহা ভিন্ন আরও অনেক বঁধাবাঁধি ব্যবস্থা আছে অনাবশ্যক বিবেচনায় সে সকলের উল্লেখে ক্ষান্ত খাকিলাম। সরকারি জেলখানায় শ্রম রহিত কএদীর সাপ্তাহিক আহার। । ঐ কঠিন পরিশ্রমী কএদির সাপ্তাহিক আহার।
খাদ্য বিচার। জল বায়, ও দেশকাল ভেদে খাদ্যের কমবেশী করিতে হয়, সুতরাং উপরি লিখিত ইংরাজী র্যবস্থা সকল সময়ে কার্যকারি হয় না। বিলাতি চিকিৎসক- গণও একথা স্বীকার করেন, তাহাদের মতে শীত- প্রধান দেশে উষ্ণদেশ অপেক্ষা অধিক আহারের অবশ্যক হয়, বিশেষতঃ দৈহিক উত্তাপ রক্ষার জন্য তথায় উত্তেজক (গরম খাদ্যের) বিশেষ প্রয়ােজন। আমাদের দেশের আধুনিক সম্প্রদায়ীদের মধ্যে অনেকে ইংরাজীর অনুকরণ করিতে গিয়া, এদেশে উষ্ণ খাদ্যের ছড়াছড়ি আরম্ভ করিতেছেন, তাহারা নিশ্চয়ই জানিবেন যে, ইংরেজদের খাদ্য আমাদের উপযােগী নহে। ইহা ইংরেজ চিকিৎসকগণ ও স্পষ্ট ভাবে স্বীকার করিয়াছেন। *cold climates and cold seasons demand more food tban hot, chiefly on account of the greater expenditure for the maintenance of animal beat.** Iudian dietaries should be arranged whith regard to this principle, and persons corring to India from Europe should neither expeet nor gratify nor seek to obtain by stimulation a European appetite for food, -Madras manual of hygiene. p. 104
প্রথম অধ্যায়।
১৭
শরীরের আকার ও মাপের কমবেশী অনুসারেও
খাদ্যের মাপের কমবেশী করিতে হয়। আমাদের
দেশের প্রত্যেক পূর্ণবয়স্কের জন্য ১৮ ছটাক খাদ্যের
আবশ্যক হয়।
অভ্যাস মতেও খাদ্যের কমবেশী করিতে হয়।
অনেকে বাল্যকাল হইতে অভ্যাস করিয়া অধিক
আহার করিতে পারেন।
পরিশ্রমের কমবেশী অনুসারেও খাদ্যের কমবেশী
করিতে হয়। যে, যে পরিমাণে পরিশ্রম করে তাহার
সেই পরিমাণে খাদ্যের অবশ্যক হয়। আজকাল
এদেশের উচ্চদলের মধ্যে শারিরীক পরিশ্রম লজ্জার
বিষয় হওয়ায়, অাহারের পরিমাণ খুব কম হয়
দাড়াইয়াছে; এমনকি, যাহাদের পিতা কি পিতামহ
দশ বার সের খাদ্য অনায়াসে আহার করিতেন, আজ
তাঁহাদের বংশধর গুণধরেরা,—বারদিনে বারছটাক
খাইতে পারেন কি না সন্দেহ, এখন পূৰ্ব্বকার খাবার
গল্প শুনিয়া আশ্চর্য্য হন,ভাবেন,আমরা রাক্ষসকুলের
বিভীষণ,অনশন অভ্যাস করিয়াছি। ফলকথা,শারীরিক
t ১৮ খাদ্য বিচার। পরিশ্রম অভাবে ও অন্যান্য কএকটী কারণে এদেশে খাদ্যের যে রূপ বরাদ্ধ দাড়াইতেছে, তাহাতে সত্ব- রেই যে “বেগুন তলায় হাট বসিবে” সে বিষয়ে আর সন্দেহ নাই। সহরে অপেক্ষা, পাড়াগেঁয়ে লােকে কিছু বেশী আহার করিতে পারেন কিন্তু দুঃখের বিষয় এটা পাড়াগাঁয়ের একটা গা’ল। এই ব্যপারে পড়িয়া অনেক পড়াগে য়ে-বাবু আজকাল অাহার কমাইয়া-আহারের কেতা শিখিয়া সভ্য হইতে যাইতেছেন কিন্তু তাহাদের জানা আবশ্যক, আহা- রই বল ও আয়ু, রক্ষার মূল যে যত অধিক আহার করিয়া পরিপাক করিতে পারিবে, সেই ততাে দীর্ঘ- জীবি ও বলবান হইবে, আজও পাড়াগাঁয়ের লােকের যে শক্তি সামর্থ আছে, সহরে তাহার সিকির সিকি ও নাই। আমার বেশ বিশ্বাস আছে আজ ও পাড়াগার মধ্যে অনেকে যাহা নিত্য আহার করেন, সহরের পেটরােগীদের তাহা দেখিলেও পেটের অসুখ হয়। ফলকথা ; সহরেরও পাড়াগাঁর নবীনদল যাহাতে- * ঠিক এইরূপ একটী ঘটনা আমি নিজে দেখিয়াছি।
প্রথম অধ্যায়। খাদ্যের পরিমাণ বাড়াইতে পারেন, সেই পক্ষে লক্ষ রাখেন ইহাই প্রার্থনা। দ্বিতীয় অধ্যায়। বাদ্য ব্যাখ্যা। কোন্ খাদ্য কি গুণ বা দোষযুক্ত তাহা জান নিতান্ত আবশ্যক; সুতরাং নিম্নে তাহার উল্লেখ করা যাইতেছে, ১ অন্ন। অন্ন আমাদের প্রধান খাদ্য-ইহ! বুদ্ধি, শুক্র ও বলকারক ও পুষ্টিকারক এবং ক্ষুধা ও ক্ষার নাশক গুণ- যুক্ত। চাউল ভেদে অন্নের গুণাগুণের ভেদ হয়। এদেশে আমন ও আউস দুই প্রকার ধান্য ও মায়, সুতরাং চাউল ও সাধারণতঃ “আমনের চাউল, ও আউসের চাউল” এই দুই রকমের। আবার তৈয়ার ভেদেও চাউল দুই রকমের ; তন্মধ্যে,ষে চাউল
২৫
খাদ্য বিচার।
কেবল রৌদ্রের উত্তাপে বাহির করা হয়, তাহাকে
“আতপ চাউল” আর যাহা জলে সিদ্ধ করিয়া বাহির
করা হয় তাহাকে, “সিদ্ধ চাউল” বলে। তন্মধ্যে
সিদ্ধচাউল অপেক্ষা আতপ চাউলই অধিক
বলপ্রদ (১)।
চাউল সম্বন্ধে গুণাগুণ জানিতে হইলে ধান্যের
দোষ গুণ জানিতে হয়, সুতরাং নিম্নে অয়ৰ্বেদীয়
পুস্তক হইতে ধন্য ব্যাখ্যার কিয়দংশ উদ্ধৃত করিয়া
দিলাম। পাঠকগণ অবশ্যই জানিবেন, যে ধান্য যে
গুণ যুক্ত, তৎপন্ন চাউল বা অন্ন ও সেই গুণযুক্ত
হইবে।
১। আমন বা শালি ধান্য
মধুর, শীতল, লঘুপাক, বলকারক,পিত্তনাশক, অল্প
বায় ও কফবৰ্দ্ধক, মল রোধক। আমন ধান্যের মধ্যে
যে ধান্য যতো লাল রংয়ের হইবে, তাহাই ততে
4
(১) ইংরেজী মতে আতপ চাউলে শত করা ৭. ৫ ভাগ যবা-
ক্ষারজান এবং সিদ্ধ চাউলে ( ডাঃ পেইনের মতে) শতকরা
৭, ৫ নাইটজেন, ৮৯, ৬ চৰ্বি; ৩. ৫ জল আছে।
দ্বিতীয় অধ্যায় । উপকারি, এমতে লাল আমনধান্য মাত্রেই শুক্র ও মূত্রবৃদ্ধিকর, চক্ষু ও স্বরের হিতকর, বলকর, বর্ণকর, ইত্যাদি গুণযুক্ত (১)। ইহা ভিন্ন যে সকল আমল, পােভা জমিতে জন্মায়; তাহা লঘুপাক, রুক্ষ, মলমুত্র রােধক ও শ্লেষ্মনাশক (২)। ২। আউস ব্রেীহি) ধান্য- কয়-মধুর অল্প চক্ষুরোগকারি ও মল বদ্ধকারি। আউসের মধ্যে যে ধান্য যতো কাল বর্ণের হইবে তাহাই ততাে উপকারি। যেটে নামে যে ধান আছে (১) মধুরা বীৰ্ঘতঃশীতা লঘুপাকা বলাপহাঃ। পিত্তষ্মাক্সানিলকফাস্নিগ্নাবদ্ধাবর্ডসঃ ॥ তেষাং লােহিতকঃশ্রেষ্ঠোদোষঘ্নশুমূত্রঃ। চক্ষুষ্যো বর্ণবলকৃং স্বর্যে। হৃদ্যঃশ্ৰমাপহঃ। ব্রণোষিরহবশ্চৈব পদোষ বিষাপহঃ। তম্মল্পিান্তরগুণাঃ ক্ৰমশঃশলয়ােহ বাঃ । সুশ্রুত। (২) দগ্ধামনাজাতাঃ শালয়ে লঘুপাকিন। কষায় বদ্ধৰি মূত্রারুহ্মাঃশ্লেষ্মপকর্যণা। সুত
খাদ্য বিচার ।
তাহা ষাটদিনে পরিপক্ক হয়। যেটে নানাপ্রকার যথা
যষ্টিক কামুক মুকুন্দ প্রভৃতি, ইহার মধে যষ্টিক
প্রধান উপকারি (১)।
(২) রোয়া ধান্য।-
বােয়া ধান যেটেধান অপেক্ষা উপকারি (২)। ইহা
লঘুপাক বলকারক, শ্লেষ্মনাশক, দোষ নাশক ও মূত্র
কারক। ইহা ভিন্ন ধান্যের গুণ দোষ স্বম্বন্ধে আরও
অনেক বর্ণনা আছে, বাহুল্য বিবেচমায় তাহার
উল্লেখ করা হইল না। নিম্নে অন্ন স্বম্বন্ধে অন্যান্য
কথা বলা যাইতেছে
(১) কষায়। মধুঃ পাকে মধুরঃবীর্যতােহহিমাঃ ।
অল্পভিষ্যন্দিন ল্যাঃষষ্টিকৈবদ্ধ বর্ডসঃ ॥
কৃ ব্রীহিৰ্ব্বরস্তেষাং কষায়ানুসােলঘুঃ।
তৰ্ম্মদপান্তর গুণাঃ ব্রুমশোৰীহয়েহপরে,
সুত।
(২) রোপ্যাতি রোপ্যা লঘবঃ শীঘপাকা গুণােত্তরা।
সাহিনো দোষহ। বল্য। মূত্ত বিবর্ধনাঃ।
দ্বিতীয় অধ্যায়।
০
(ক) নূতন চাউলের অন্ন।
অতিশয় দুর্জর মধুর কিন্তু বল কাক (১)।
তার এই কিং, (ঘ. king) বলেন যে,চাউল
অভাব পক্ষে ৬ মাসের পুরাতন না হইলে ব্যবহার
করা উচিৎ নহে। ইহাতে অগ্নিমান্দ্য উদরাময়
ইত্যাদি রােগ জন্মে।
(খ) পুরাতন চাউলের অন্ন।
অগ্নিকর, রূক্ষম কিন্তু বিরস (২)।
(গ) সদ্য ধৌত অন্ন --
গরম, অন্ন তখনি ঠাণ্ডা জলে ধৌত করিয়া আহার
করা ভাল, প্রাচীন মতে এই অন্ন অতিশয় লঘু (৩)।
(১) সুতরঃ স্বাদুরদেবৃংহস্তগুলােমবঃ।
(২) বিরসত্বং রূক্ষ পখ্যত্ব ইত্যাদি।
রাজনির্ঘণ্ট
(৩) ধৌতস্তঃবিমলঃশুদ্ধো মনােজ্ঞ সুরভিঃসমঃ।
পিন্ন সুপতস্তষ্ণো বিশদন্থে দিনে লঘুঃ।
সুশ্রুত।
২৪
খাদ্য বিচার।
(ঘ) উষ্ণান্ন বা গম ভাত।
অগ্নিকারি, বায়ুম্মােনাশি, কিছু রক্ত পিত্তের
প্রকোপ কারি (১)।
(ঙ) পান্ত ভাত
ত্রিদোষ কোপকারি ও রুক্ষম (২)। যাঁহারা
পান্তাভাত খাইয়া শৈত্য করিতে যান তাহাদের
বিশ্বাস সম্পূর্ণ বিপরীত।
(চ) পরমান্ন বা পায়েস।
খাটীদুগ্ধ অদ্ধ পাক করিয়া তাহাতে পরিমাণ
মত ঘৃত মাখান চাউল নিক্ষেপ করিয়া, কিঞ্চিৎ চিনি
সংযােগ করিলেই পায়স তৈয়ার হয়, ইহা মল
মুত্ররােধক অতিশয় গুরূপাক ও অগ্নিমন্দকারক, রুক্ষম
ও শ্লেষ্মবর্ধক, তবে, কিঞ্চিৎ বলকারক (৩)।
(ছ) কৃশরা বা খেচুরি।
চাউল ও ভাল একত্রে লবণ আদা
ও হিংয়ের
সহিত জল দ্বারা সিদ্ধ করিলেই শাস্ত্র সম্মত খিচুড়ি
(১) প্রশংসনীয়ত্বং হৃদ্য ইত্যাদি।- রাজনির্ঘণ্ট
(২) ত্রিদোষ কোপকারি রূত্বঞ্চ ইত্যাদি ৰাজনির্ঘণ্ট ।
(৩) বিষ্টীপায়সােবল্যে মোঃ কফকরে।শুরুঃ Hসুশ্রুত
দ্বিতীয় অধ্যায়।
তৈয়ার হয় (১)। বলা বাহুল্য সভ্য জগতের-সখের
খানার-ভুনিখিচুড়ি ইত্যাদির সহিত ইহার মিলন
নাই। খিচুড়ি—শুক্ৰবৰ্ধক, বলকারক, পিত্ত ও বফ
নাশক, গুরূপক, অগ্নিমান্দ্য-কারক ও মল-মূত্র রােধক
গুণযুক্ত(২)।
(জ) ছিপিটক বা চিড়া---
গুরূপাক, কফবৃদ্ধিকারি, বলকারক, বায়নাশক। দুগ্ধ
সহ খাইলে,—বলকারক, বায়ুনাশক ও সারক (৩)।
(ঝ) ভৃষ্টতণ্ডল বা চালভা” ——
ইহ। অত্যন্ত অপকারি, অগ্নমান্দ্য-কারক। তবে,মুড়ি
(১) তলা দালি সংমিশ্র। লবণাদ্রক হিঙ্গভিঃ।
সংযুক্তাঃ সলি লৈঃ সিদ্ধ। কৃশা কথিত বুধৈঃ |
ভাবপ্রকাশ।
(২) কুশরা ক্ৰল। বল্যা শুরুঃ পিত্তকা।
দুর্জরা বৃদ্ধি বিষ্টংস্তং মল মুত্রকরী তা ভাবপ্রকাশ।
(৩) পৃথকা গুরবঃ স্নিগ্ধা বৃহঃ কফবৰ্ধনা।
বল্যা সক্ষীরভাবা বাতঘ্ন ভিন্নবচঁসঃ ॥
সুত।
} ছন্ন থাকে সুতরাং সে স য় আহ'র কালে। খাদ্য বিচার। ঘু ও অগ্নিকারক। নারিকেল সংযোগে মুড়ি ব্যব- হ'রে, তষে জন্মেনা, অথচ বেস্ মুখ প্রিয় হয়। (4) লাজ বা থৈ ইহা বমন-নিবারক, অতিসার-নাশক, বলকারক, অগ্নি- কারক, কফনাশক ইত্যাদি গুণযুক্ত (১)। (নিষেধ ও বিধি)। (১) শীতল ছন্ন পুনরায় উষ্ণ করিয়া খাওয়া অন্যায়। (১) পচা, দুর্গন্ধযুক্ত ভন্ন খাওয়া অন্যায়। যাহারা পান্তা ভাত উপকারি বলেন তাহাদের মত সম্পূর্ণ ভুল। (৩) তাপিক সিদ্ধ' গল। ভাত তল্প সিদান্ন চাল চাল নাত)। =তি উষ্ণান্ন (গরম গরম ভাত এবং উপদগ্ন তন্ন (আঁকা ভাত) (দাজন কমিবে না, ইহাতে অগ্নিমান্য হয়। (৪) তাপ্রাপ্ত কালে অর্থাৎ ক্ষুধা হইবার পূর্কে, ছুতীত কালে কথাৎ ভোজনের সময় গত হইল ভােজন করবে না। যেহেতু তপ্রাপ্ত কালে শরীর কছু হয় না, সুতরাং সে সময় আহার করিলে ন? ব্যাধি জন্মে এমন কি, হত্যু পর্যন্তও ঘটে। তত কালে (১) লাজাছৰ্দাতরমু। দীনঃ কফনাশনাঃ। ইত্যাদি সুশ্রুত।
দ্বিতীয় অধ্যায়।
২৭
ভুক্ত এর অতি কষ্টে পরিপাক হও দ্বিতীয়বার ভোজনের
ইচ্ছা থাকে না।
(৫) উভয় পক্ষীয় একাদশীতে, অন্নাহার করা উচিত নহে।
যচি, এ ব্যবস্থাটী বিজ্ঞানী দলের চোকে কোন কার্যেরই নহে,
কিন্তু আমাদের বিবেচনায় এ ব্যবস্থা টা মানিয়া চলা সাস্থ্য রক্ষার
প্রধান উপায়। কারণ—একাদশীর দিন অল্প বা অধিক মাত্রায় সক
লেরই শ্লোর বৃদ্ধি (*) ও অগ্নিমান্দ্য হয়,—অনেক স্থলেই একা-
দাতে পুরাতন জ্বর, পাক্ষিক জ্বর প্রভৃতির “পুঃ প্রকোপ” (Rel.
apse) হইতে দেখা যায়। ধৰ্ম্ম বাদ দিয়া যুক্তি চক্ষে ধরুণ,-এই
সকল পরীক্ষা করিয়াই পূজ্য আর্যগণ বলিয়াছেন।-“সংসারে
যতে। পাপ আছে, বিষ্ণু অজ্ঞায় তং সমুদয় একাদশীর দিন অন্ন
আশ্রয় কষিয়া থাকে -সকল রকম পাপের নিষ্কৃতি আছে কিন্তু
একাদশীর দিন ভোজনের পাপ হতে কিছুতেই নিষ্কৃতি নাই (১)।
মদ্যপান করিলে কেবল পানকারই নরক হয় কিন্তু একাদশীর
বাতের রােগীর উপর পরীক্ষা করিলেই জানতে পারেন যে,
একাদশীতে রসের বৃদ্ধি হয় কি না।
(১) সংসারে যানি পাপনি তান্যেবৈকাদশী দিনে।
অন্নমাশ্রিত তিষ্ঠন্তি পুণ্ডরীকে ক্ষণাজ্ঞা।
কুতাং সর্বপাপানি নাকানিস্কৃত ভবেৎ।
ন নিষ্কৃতিভন্ন নাং ভুতি হরিবাসরপদ্ম পুরাণ ।
২৮
খাদ্য বিচার।
দিন যে ভোজন করে দেপিতৃলােক সই নরক বা স করে (১)।
যদি সংসার সাগর পার হইতে; বিষ্ণু ভক্তিলাভ করিতে; ঐশ্বৰ্য্য,
সন্তান, সন্ততি স্বৰ্গ, মুক্তি বা অন্যকিছু লাভ করিতে ইচ্ছা থাকে,
তবে উভয় পক্ষীয় একাদশীর দিয়ে ভোজন করিও না (২)।
যে একাদশী ব্রত করিতে প্রাচীন পণ্ডিতগণ এত অনুরােধ
দেখাইয়াছেন,-যাহা না করিলেশীর অসুস্থ হয় হাতে হাতে
দেখিতেছি,—সেই একাদশীর ব্রত—যাহারা বিজ্ঞান সম্মত বলেন
না তাহাদের আর কি বলিব ?
(৭) ঐরূপ অমাবশ্যা ও পূর্ণিমার রাত্রে অন্নাহার করিলেও
সাস্থ্য নষ্ট হয়।
(৮) একবার ভােজন করিয়া অগ্নির উত্তেজনা না হওয়া কাল
পর্যন্ত আর ভোজন করিবে না এবং এক দিবায় দ্বি ভক্ষণ
নিষেধ (৩)
(৯) ভোজনের মধ্যে মধ্যে ও ভােজনের পর জলপান করিবে।
এই ব্যবস্থাটীর ইংরেজী মতের সহিত অনেকটা অনৈক্য হয়,
(১ মদ্যপানাঘুনিশ্রেষ্ঠ পাত্রৈব নরকং ব্ৰজেৎ।
একাদণ্যকামস্তু পিতৃভি সহমজ্জিত।-সনৎ কুমার।
(২) সংসার সাগরােস্তামিচ্ছন বিষ্ণুপরায়ণ।
ঐশ্বৰ্যৎ সন্ততি গৰ্গং মুক্তি বা বদচ্ছি।
একাদশ্যাংনভুঞ্জীত পক্ষয়েরুভয়ােরপি।
(৩) দিপুননভুঞ্জাতন্যত্র ফলমূলেভ-ইতি। মনুসংহিতা।
দ্বিতীয় অধ্যায়।
যেহেতু তঁাহার বলেন যে, আহাব কালে ও আহারের পরই
অধিক জলপান করিলে,পাচকরস (gastric juice)-তরল হওয়া
খাদ্য-দ্রব্য ভাল পরিপাক হয় না। কিন্তু আমাদের বিবেচনায়,
অভ্রান্ত হিন্দু-শস্ত্রে ভ্রান্তি কখনই থাকিতে পারে না ।তাহার।
ভোজন কালে যে জলশান করিতে বলিয়াছেন,-“তাহা অতি অল্প
মাত্রায়,বােধ হয় আহার-পথ পিচ্ছিল রাখিবার জন্য। আর ভুকানো
পরি জলপান করা যে অন্যায়, তাহাও তঁাহারা বিশেষ ভাবেই
বলিযাছেন (১)।
(১০) অজীর্ণাবস্থায় ভােজন করা নিতান্ত অন্যায়, সেইরূপ
জীর্ণাবস্থায় (ক্ষধা হলে) অভোজন করা ও রাত্রে অনাহারী থাকাও
অন্যায় (২)।
(১১) এক প্রহরের মধ্যে আহার করিবে না এবং তিনপর ও
অতিক্রম করিবেনা। যেহেতু এক প্রহরের মধ্যে অ'হার করিলে,
রসের বৃদ্ধি হয় এবং তিন পরের পর আহারে রসের ক্ষয় হয় ৩)।
(১) অজীর্ণেভেষজ বারি জীর্ণেবারি বলপ্রদ।
আয়ুবাহারকালেচ, কান্নপরি ন নিশা। -আঃ।
(২) অজার্ণে ভোজনং যেষাং জীর্ণেযেষামলােজনম।
রাতোমভােজনম যোং তেষাং নস্যন্তি ধাতব।ঐ
(৩) যাম মধ্যে ন ভােক্তব্যং ত্রিধামতু ন লক্ষ্ময়েং।
যামমধ্যে রসস্তিষ্ঠে ত্রিযামাতু রসক্ষয়ং-সুশ্রুত।
খাদ্য বিচার। ভাব প্রকাশ বলেন, যে কালে রসের পরিপাক হইয়া ক্ষুধার উদ্রেক হয়, সেই কালেই আহার করিবে (১)। (১২) রাত্রিতে সাৰ্দ্ধ প্রহরের মূধ্যে ভােজন করিবে। (১৩) ভোজনকালে খাদ্যের গুণ দোষ ব্যাখ্যা না করিয়া মৌন ভাবে ভোজন করা উচিৎ। বিশ্ব নিন্দুকের দল এটী মানিবেন কি? (১৪) মত্ত, ক্রুদ্ধ বা অতুর ব্যক্তির অন্ন কেশ বা কীটযুক্ত অন্ন, ভণ-হত্যাকারির অন্ন ; রজ স্বঃলা স্ত্রীর স্পষ্ট অন্ন,-কাকাদি পক্ষীও কুকর ভোক্ষিত অন্ন; লম্পট ও গনিকা দত্ত অন্ন; চোর ও গায়- কের দত্ত অন ; সূতিকার ভোজন উদ্দেশ্যে প্রস্তুত অন্ন (খাতুরে পোয়াতির জন্য যে অন্ন তৈরি হয়। চিকিৎসক ও পক্ষাদি হন্তার অন্ন; অশৌচান্ন ; ঘৃণা করিয়া দেওয়া অন্ন, অবীরা নারির অন্ন ; শত্রুর অন্ন , মিথ্যাবাদীর অন্ন ; দ্বিচারিনী স্ত্রীর অন্ন প্রভৃতি শাস্ত্র- মতে নিশি । (*)। দুঃখের বিষয় ; আজ কাল ইহার একটী প্রতি পালন করেন, এমন লোকও অল্প হইয়াছে। কিন্তু অধৰ্ম্মের ফল- (১) ক্ষুঃসম্ভবতি পৰুেধু দোষ মলেষুচ। কালে বা যদি বাহকালে সোহন্নকাল উদাহৃতঃ।-ভাবপ্রকাশ (*) অনেক বিজ্ঞানদশী মহাশয়েরা,-এই সকল নিষেধের মূলে কোন বিজ্ঞান নাই—বলিয়া,অাহ্য করেন, কিন্তু আমাদের মতে উহাতে বিজ্ঞান থাক্ অব নাই থাক, জ্ঞান যুক্তি বে’স অাছে। বিষ মিশ্রিত শত্রুর অন্ন খাইয়া, গনিকাগণের মাদক দ্বিতীয় অধ্যায়। অধঃপতন হ'তে হাতেই ফলিতেছে, তবু শাস্ত্রের এ সকল মহদুপ- দেশ কেহ রক্ষা করবেন। (১৫) পূর্বমুখে বসিয়া আহার করা উচিৎ। পিতা মাতা জীবিত থাকিলে, দক্ষিণাস্য ভোজন নিষেধ(১)। আধুনিক বিজ্ঞান মতে ইহা অনেকাংশে তাড়ত-বিজ্ঞানের অঙ্গভুক্ত বােধ হয়। (ইংমতে) অন্নে, যারজানের ভাণ কম ও অঙ্গারের ভাগ অধিক থাকায়, ইহা মংস্য মাংস বা দাইল ইত্যাদি কোন প্ৰকাৰ যবক্ষারজানিক খাদ্যের সহিত অহার কর্তব্য; বলা বাহুল্য প্রাচীন হিন্দুগণ ইহা পুর্বেই অবগত হইয়া, এদেশে নানা- জাতীয় তরকারির ব্যবহার করিয়া গিয়াছেন। অধিক কি, তঁাহারা “তরকারি শূন্য অন্ন আহার, পাপের কাৰ্য” বলিয়া গিয়াছেন। মিশ্রিত প্রসাদ পাইয়া, ভ্রষ্ট। স্ত্রী দত্ত বিষন্ন ভােজন করিয়া, অতও শত শত জীবন নষ্ট হইতেছে। তবে,- হিন্দুশাস্ত্রের এ সকল নিষেধ-বিধি কেমন করিয়া অযৌক্তিক বলিব ? (১) প্রমূখোন্নানি ভুঞ্জীত শুচিপীঠ মধিষ্ঠিত। জীবমাতৃক দক্ষিণমুখ নিষেধমাহ অপস্ততঃ।
খাদ্য বিচার। ০ অন্ন আহবকালে অধিক বাক্য ব্যয় অন্যায় (১) ফেহেতু বা পথে অন্নের টুকরা প্রবেশ করিতে (যাহাকে বিষম লাগা বলে) পারে। ইংরেজী মতে, খাইবাব যে সমস বাধাবধি আছে অনেকে তাহার অনুকরণ করিতে আরম্ভ করিয়াছেন, কিন্তু তা হাব একী ও আমাদের দেশের উপযােগী নহে ইহা ইংবেজ পণ্ডিতগণ ও স্বীকার করেন সুতরাং পূর্বোক্ত হিন্দুশাস্ত্র মত সময়ে আহার করাই কৰ্ত্তব্য। আহার কালে অন্ন খুব চ র্পণ করিয়া খাওয়া উচিং কারণ, চর্বণ ক্রিয়া পরিপাক ক্রিয়ার সহায়তা করে। (১) আমাদের অর্থ-ঋষিগণ ও একথা বলিতে ভুলেন নাই- “কুতাগ্নিকার্যো ঞ্জীত বাগযতোগুয়া।” অপোশানক্রিয়া পূৰ্ব্বং সংকৃত্যানুমকুংসয়না। - যাজ্ঞবল্ক সংহিতা। অর্থাৎ অগ্নিহোত্র সম্পাদন অন্তে গুরুর অনুমতি মতে আচমন পূৰ্ব্বক মৌন হইয়া, সংস্কৃ ত অন্নের নিন্দা না করিয়া, ভোজন করিবেক।
দ্বিতীয় অধ্যায়। ২. শােধুম-ময়দা। ময়দ। আমাদের দেশের একটী প্রধান খাদ্য। ইহা অন্নের ন্যায় গুণ যুক্ত, কিন্তু অন্ন অপেক্ষা অধিক বল- কারক ও গুরূপাক। প্রাচীন মতে,—ইহা মধুর,শীতল বায়,-পিত্তনাশক, কফকারক, শুক্ৰবৰ্ধক, বলকারক ও পুষ্টিকারক ইতাদি গুণযুক্ত (১)। আজ কাল আমাদের দেশে কলের ময়দারই অধিক ব্যবহার” দাঁড়াইয়াছে কিন্তু ইহাতে সার দ্রব্যের,ভাগ (গ্ন টিন) অতি অল্প থাকে, সুতরাং কলের ময়দা ছাড়িয়া, দেশী-আটার-ব্যবহার করাই ভাল। ইংরাজী মতে,—গোধুর্যে শতকরা ১০ভাগ যালবুমেন, ৯ ভাগ ঃ টিন, ( Glutin) আছে। ইহা ভিন্ন, সাঙ্গার-উদজানিক-পদার্থ (Carbo-Hydrates) (১) গোধূযে মধুঃ শীতে বাত পিষ্ট হয়ে গুরু। কফ ও প্রদোল ক্ষিঃ সন্ধান কংস-ইত্যাদি গৰ প্রকাশ।
৩৪
খাদ্য বিচার ।
বিবিধ প্রকার লবণ (*) আছে। চব্বির ভাগ খুব কম
থাকায়,প্রধান খাদ্যরূপে ব্যবহার করিতে হইলে,
ময়দার
সহিত মাখন ঘৃত
প্রভৃতি তৈলপদার্থ
মিলাইয়া লওয়া আবশ্যক।
ময়দা।ইহার (প্রতি পাউণ্ডে) ৭৫৬, গ্রেন ফ্যালকুমেন,
১৪ গ্ৰেণ চৰ্বি, ৪৬৪১ গ্রেন শ্বেতসার, ২৯৪ গ্রেন চিনি, ১১৯ গ্রেন
লবণ থাকে।
উঃ কিং সাহেব বলেন,-গুরূ পরিমিত, সুপৰিপুষ্ট, দুর্গন্ধ
রহিত, অকীট দষ্ট গোধূমের ময়দা ব্যবহার করাই উচিত ()।
রূটী।ধাতুপােষক, বায়ুপিত্ত বিনাশক ও বলকারক (১)।'
ইংরেজীতেও ইহা পুষ্টিকারক ও স্বাস্থ্যকারক।
। তন্মধ্যে,-ফটে-অব-ম্যাগনেসিয়ম (Phosphates
of Magnesium ) পটাসিয়ম (Pottasium ) প্রভৃতি প্রধান।
(1) গেমের সহিত অর্গট নামক এক রকম তাই, ও অন্য
একটি বিষাক্ত শস্য মিশিয়া থাকে, তাহার ব্যবহারে অনিষ্টের
সম্ভাব, সুতরাং গোম বাছিয়া লওয়া একান্ত আবশ্যক।
(১) বৃংহণ বাতপিতঘ্ন। ভক্ষাবল্যা ইত্যাদি। সুশ্রুত।
৩
দ্বিতীয় অধ্যায়।
লুচি। গুরুপাক ও কনকর (১)। ইংরাজীমতে,—ইহা
বলকারক, এমতে,-লুচি খুব পাতলা করিয়া গড়ান আবশ্যক ।
নচেৎ ঘৃতের সহিত ইহার শ্বেতসার বদ্ধ থাকায়, লালা মিশ্রণ (*)
অভাবে সুপরিপাক হয় না।
বিস্কুট।-(ইংরেজীমতে—ইহা লুচি ও রুটা অপেক্ষা
অধিক পুষ্টিকারক। ইহার প্রতি পাউণ্ডে, ১০৫°নে য়্যামেন।
১১ গ্রেন চৰ্বি, ১৩৩ গ্রেন চিনি, এবং (প্রায়) ৫২৫০ গ্রেন
অন্যান্য উজানিক পদার্থ আছে ।
পাউরূটী ।—(ইংরাজীতে—ইহা একটি প্রধান খাদ্য।
লঘু পাক ও পুষ্টিকারক গুণযুক্ত। ইহার প্রতি পাউণ্ডে ৫৬১
গ্রেন রেঙ্গারজনিক পদার্থ, ১১২ গ্রন চৰ্বি, ২৫২ গ্রেন চিনি এবং
৩৩১৮ গ্রেন ভিসার আছে।
(১) সুশ্রুত-সূত্র, স্থান।
* পরিশিষ্ট পরিপাক ক্রিয়া দেখ।
খাদ্য বিচার।
৩। যুব ।
সব কিঞ্চিৎ রূক্ষ শীতল ও ভার। মিষ্টরস, বায়ু-
বৰ্দ্ধক, বল কারক এবং পিও-কফ রােগনাশক (১)।
ইংমতে (বালির) প্রতি পাউঙে ৪৪১ শ্রেণ
য়্যালবুমিনেট ১৬৮ গ্ৰেণ চব্বি, ৪,৮৫৮ গ্রেণ
শ্বেতসার, ৩৪৩গ্ৰেণ চিনি, এবং ১৪০ গ্ৰেণ লবণ
আছে। এমতে ইহা স্নিগ্ধ কারক ও পােষক এবং
অতিসার ইত্যাদিতে সুপথ্য। জল সহ অগ্নিতে
পাক করিয়া ব্যবহার হয়।
(২) রুক্ষ্ম শীততা গুরূঃ স্বাদুবহু বাতশ্ব কৃ ষবঃ।
ৰ্য্যৈকৃৎস কষায়শ্চ বল শ্লেষ্মবিকারজিৎ।
চরক সংহিত
দ্বিতীয় অধ্যায়। ৪ দাউল। এদেশে অনেক রকম দউলের ব্যবহার আছে, তন্মধ্যে নিম্নলিখিত বকট অধিক ব্যবহার্য বিধায়, নিম্নে উহাদের গুণাগুণের বিষয় বলা যাইতেছে (ক) মাষকলাই। গুরূপাক, সারক, মূত্রকারক, শৈত্যকারক, বল- কারক, বায়ুনাশক, শুক্র ও কফবৰ্দ্ধক, এবং স্তন্যদুগ্ধ বৃদ্ধিকর (১)। কিন্তু মাষকলাই ভাজিয়া লইলে ইহার সারক ও মূত্রকারক গুণ থাকেনা, এবং কফের স্থলে-পিত্তি বৃদ্ধি করে। (খ) মুগ বা মূগ। ইহা পাকে লঘু, কফপি নাশক, শীতল, বায়- বৃদ্ধিকারক, চক্ষু ও জরয়োগ-ন'শক, বলকারক, প্রভৃতি গুণযুক্ত (২)। d (১) মাযাে গুরূভিন্ন পুরীষ মূত্রঃ স্নিগ্ধোষ্ণ বষ্যে। মধুরই নিল। সন্তপণন্যকরোবশেষাদ্বলপ্রদ শুক্রকফাবহ6 ।। (২) সুদেরূহ্মা লঘু গ্রাহী কফপিত্ত হয়রাহিম। দাদুল্প নিলো নেত্রে জরুঘােলখা।ভাব প্রকাশ।
৩৮
খাদ্য বিচার।
(গ) চনক বা ছোলা।
ইহা বায়ু বৃদ্ধিকর, শীতল, কফ ও রক্ত পিত্তের
শান্তিকারক, এবং পুরুষত্ব নাশক (১)। ইং, মতে
ইহার প্রতি পাউণ্ডে ১,৫৮৯ শ্রেণ য়্যাবুমেন, ২৬৩
গ্ৰেণ চৰ্বি, ৪৪২২ গ্রেণ, সাঙ্গার উদানিক পদার্থ
(carbo-hydrates) এবং ১৮২, গ্ৰেণ লবণ আছে।
(ঘ) অড়হর ও মটর।
রূক্ষম, বায়ুপিত্তের প্রকোপকর, এবং মলমুত্র
প্রভৃতি সকল রকম স্রাব রােধক (২) সুতরাং এ
সকলের ব্যবহার যতাে কম হয় ততােই চাল।
ইংরাজী মতে, ইহার প্রতি পাউণ্ডে, ১৫৫৩ গ্রেণ
য়্যালবুমেন, ১৩৬ গ্রেণ চৰ্বি, ২১৪ শ্রেণ লবণ
আছে।
(১) বাংলা শীত মধুরাঃ স কষায় বিরুক্ষণাঃ।
কযশোনিত পিত্তষ্মাণকাঃ পুংস্তনাশনীঃ-সুশ্রুত।
(২) সুশ্রুত কুধান্য বর্ণ দেখ।
দ্বিতীয় অধ্যায়।
(ঙ) মসুর বা মরি।
লঘুপাক, ধারক, শতিল, কফ ও রক্তপিত্তনাশক,
বয়-বৃদ্ধিকারক, এবং জরনাশক গুণযুক্ত)।
রাসায়নিক পরীক্ষায় ইহার প্রতি পাউণ্ডে, ১৭৬০
গ্রেন য়্যালবুমেন, ১১৮ গ্ৰে চৰ্বি, ১৩3 গ্ৰেণ লবণ
(চ) খেসারি ।
ইহা অত্যন্ত রুক্ষ, কোন কোন ইংরেজ চিকিৎ
সকের মতে, ইহার
মতে, ইহার দীর্ঘকাল ব্যবহারে পক্ষাঘাত
নামক ব্যাধি জন্মিবার সম্ভাবনা (২)। সুতরাং এ
দলটীর ব্যবহার যতো কম হয় ততােই ভাল।
(১) মঙ্গল্যকে। মসূরঃস্যান মঙ্গল্যাচ মরিকা।
মহুরাে মধুরপাকে সংগ্ৰাহী শীতলো লঘুঃ।
কফপিত্তাশ্রজিং কক্ষে। বাতল অনশনঃ ভাব প্রকাশ।
(2) the khasaree dal is a poor and innutritious
pulse, which is said to produce paraplegia sư.
M, M. H.
খাদ্য বিচার। ৫ তরকারি বা আনাজ। অনেক প্রকার উদ্ভিদ খাদই তরকারি (আনাজ) রূপে ব্যবহার হয়, তন্মধ্যে নিম্নলিখিত কএক- টীর অধিক ব্যবহার বলিয়া নিয়ে উল্লেখ করা যাইতেছে ;- ১ শাক। অল্প মাত্রায় শাকের নিত্য ব্যবহার আবশ্যক, ইহার ব্যবহারে কোষ্ঠ খােলদা থাকে ও স্কর্ভি রোগ জন্ম- ইতে পারেনা, সুতরাং বড়মানূষে ধরিয়া বনের শাক পাতা, একেবারে ত্যাগকরা ভাল নহে। শাক মাত্রেই ভার, রুক্ষ ও মল ভেদক গুণ যুক্ত (১) নিম্নলিখিত শাকগুলির অধিক ব্যবহার। (ক) কপির শাক। ইংরেজীমতে,—ইহার প্রতি পাউণ্ডে ১৬ গ্রেণ । (১) শাকংও রুম্বক প্রায়ােৰিষ্টব্য জীধতি। মধুরং শীতবী পরিষস্য ভেদনং চৰক।
দ্বিতীয় অধ্যায়।
৪১
ঝালকুমেন, ৩৫ গ্ৰেণ চৰ্বি, ৪০৬ শ্রেণ চিনি ও
৪২ গ্ৰেণ লবণ আছে। এমতে ইহা পােষক ও
স্কর্ভিরোগ নাশক।
(খ) পালজি বা পালংশাক।
কফপি-মাশক, রূক্ষম এবং বায়ু বৃদ্ধিকারি (১)।
(গ) হিচা হিলমচিকা) -
ইহার পাতা ও ছােট ছােট ডগা ব্যবহার হয়,
এবং বলকারক ও কিঞ্চিৎ রেচক গুণযুক্ত। ইহা ভিন্ন
হিনচা চর্মরােগ-নাশক ও কফপিত-নিবারক বলিয়া
উল্লেখ আছে (২)। চর্মরােগ, পিজ রােগ ও মেহ
ইত্যাদিতে ইহার রস ব্যবহারে আমরা অনেক স্থলেই
সন্তোষ জনক ফল পাইয়াছি।
(ঘ) নটে শাক (তলীয়ক)।
ইহা রূক্ষ মত্ততা ও বিষদোষ নাশক, রক্ত
(১) পালকী ফফপিয়ী রূক্ষ্ম। বাত বিবৰ্ধিনী।—গরুড়।
(২) হিলমোচী সদাতিক কুষ্ঠী কফপিজি-ভাব।
। খাদ্য বিচার। পিত্তের হিতকর,রসেও পাকে মধুর এবং শীতল (১)। আধুনিক ইংরাজী মতে, ইহার মুত্ৰ কারক ও সারক গুণের উল্লেখ দেখা যায় ঙ) পুইশাক (পুতিক।)। ইহা,–মিষ্ট স্বাদ, ধাতুপোষক, স্নিগ্ধকারক, বল- কারক, শ্লেষ্মাবর্ধক এবং বায়পিত্ত ও মনরােগ- নাশক গুণযুক্ত (২)। (চ) কলমির শাক (কলম্বি) -- এই জলজ লতার ডাঁটা ও পাতা, শাক রূপে ব্যবহৃত হয়। ইহা,–সে ও পাকে মধুর, বুল- কারক, বায় পিত্তনাশক, সারক ও শৈত্য-কারক (১) রুক্ষোমদ বিষয়ুশ্চ প্রশস্তোরক্তপিত্তি নাম। মধুরঃ মধুরঃ পাকে শাতিলস্তগু, লায়কঃ-চরক। (২) স্বাদুপাক রসাৰ্ব স্য। বাপিত্ত মদপহা। উপেকি। সদ্যমি। বল? . য় ক রীহিমা। সুশ্রত।
দ্বিতীয় অধ্যায় । । গুণযুক্ত। ইহার ঝোল খাইলে স্তন্যদুগ্ধ ও শুক্রের বৃদ্ধি পায় বলিয়া, পুস্তক বিশেষে উল্লেখ দেখা যায় (১)। • (ছ) অষণির শাক (সুনিষঃ ক)। অম্লনাশক, বা পিত্ত ও কফের শান্তিকারক। অনেকের মতে, ইহার নিদ্রাকারক শক্তি আছে (২) (জ) কুসুম ফুলের শাক। স্থান বিশেষে ইহার ব্যবহার আছে। ইহা, অম্নআস্বাদ, অত্যন্ত রুক্ষ, পিত্তবৰ্ধক ও নাশক (৩)। কক- (১) কলম্বী স্তন্যদা প্রোক্ত। মধুরা ও কারিণী।—চরক। (২) আবাহী ত্রিদোষ সংগ্রাহী নিষক-শুশ্রুত (৩) রুকাম্নমুষ্ণ কৌমুন্তং কফ; পিত্তবৰ্ধন।—চরক।
3 খাদ্য বিচার। (ঝ) ছোলার শাক (হৰিমহু)। ইহা অত্যন্ত অপকারি, অগ্নিমান্দ্য-কারক ও দুর্জয় (১)। ২। অন্যান্য তরকারি। t শাক ভিন্ন যে সকল তরকারির সাধারণ ব্যবহার আছে, নিম্নে তাহাদের বিষয় উল্লেখ করা গেল- (ক) মানকচু (মানক)। ইহা একটী ভাল তরকারি। স্বাদু-আস্বাদ, পিত্তবৰ্ধক, রেচক এবং শোথবারক শক্তি থাকায়, শােথ রােগে সুপথ্য (২)। (১) স্বাদুপাক রসংশাকং দুর্জরং হরিমন্থজং।—চরক। (২) মানকং স্বাদুপিত্ত ও শােথংরং কটু ভাব প্রঃ।
দ্বিতীয় অধ্যায়। ৪৫ . (খ) পটোল। ইহা একটা প্রধান উপকারি তরকারি, ত্রিদোষ নাশক। এবং জ্বরােগ, বিবিধ প্রকার চর্মরােগ, চক্ষুরে গ, ব্রণরোগ নির্বাক (১)। ফল ব্যতীত ইহার পাতা ও ছোট ছােট ডগা (নতি) ব্যবহার হয়। তন্মধ্যে পাতা,-স্নিগ্ধ, অগ্নিকারক, বলকারক, পিত্তনাশক, ক্রিমিনাশক, কফনাশক এবং জ্বর ও কাসরোগ নিবারক (২)। ভগ, তার কিন্তু কফ- নাশক (৩)। • (১) পটোলং কফপিত্তা । কুষ্ঠব্রণপহং। বিসর্প নয়নব্যাধি ত্রিদোষ জনশনৌ।—রাজ বল্লভ। (২) পটোলপত্ৰং পিত্তং পনং পাচনং লঘু। নিং বষ্য তথেষ্ণঞ্চ কাসি কৃমি প্রণুং।রাত নির্ঘন্ট। (৩) পটোলপত্ৰং পিয়ং নাড়ৗ তস্যকফাবহ।। ফলং তস্য ত্রিদোষং মুরং তা বিরেচনং।—পড়।
খাদ্য বিচার।
গ) শিম্ (শিম্বি)।
রুক্ষ, কোষ্ঠবায়ুর প্রকোপকারি, শুক ধাতু ও
চক্ষুর অনিষ্টকারি এবং অগ্নিমান্দ্য-কারক (১)।
(ঘ) গোল আলু (পিণ্ডালুক)--
কফ বর্ধক, গুরুপাক ও বায়ুর প্রকোপ কর(২)।
ইংরাজীমতে—ইহাতে অধিক পরিমাণে শ্বেত সারও
লবণ ; এবং অল্প মাত্রায় গ্যালবু মন, চিনি ও তৈলের
ভাগ আছে। এক পাউণ্ড গোল আলুতে, ৩ আউন্স
শ্বেতসার, ২১৪ গ্রেণ চিনি, ১৪৭ শ্রেণ য়্যালবুমেন,
১৪ গ্রেণ তৈল পদার্থ, এবং ৪৯ গ্ৰেণ লবণ আছে।
এ মতে ইহা বলকারক ও পোষক। বহুমূত্র রােগে
ইহ৷ পথ্যরূপে ব্যবহৃত হয়।
(৬) শূরণ বা ওল।
ইহাতে এক প্রকার উগ্র বস অাছে, তাহাতে
গলার ভিতরের লাল-পর্দায় উগ্র তা জন্মে সুতরাং
(১) শিম্বরুক্ষ। কষায়াচ কোষ্ঠে বাত প্রকোপনী।—চরক।
(২) পিণ্ডালুক; কফ কর গুবাত প্রকোপন।-মুশ্রুত।
দ্বিতীয় অধ্যায়।
আগে জলে সিদ্ধ করিয়া ঐ রস বাহির করিয়া
দেওয়া.কর্তব্য। ওল একটী উপকারি তরকারি,
লঘুপাক, অগ্নিকারক, কফনাশক এবং অর্শরােগ
নিবারক গুণমুক্ত (১)।
(চ) ড মুর (ডম্বর)
রুচিকর, ত্রিদোষ-নাশক ও মূত্রকারক। কেহ
কেহ বলেন, ইহার রক্ত পরিষ্কারক শক্তি আছে।
(ছ) মােচা (কদলী কুসুম)।
ইহা,–স্নিগ্ধ, মিরস, গুরূপাক, বায়ু পিজ রােগ
নাশক, শীতল এবং রক্তপিত্ত ও ক্ষয়রােগ নিবা-
রক (২)।
(জ) লাউ (অলাবু)।
মলভেদক, রুক্ষ, শীতল ও অত্যন্ত ভার (৩)।
ইহার ডগা ভার কিন্তু কফনাশক (৪)।
(১) শূরণােদীপনােচ্যঃ কম্বো বিষদে। লঘুঃ!-ভাব, প্র।
(২) কলা কুসুমং স্নিগ্ধ মধুরং তুবরং গুরু।
রক্তপিত্ত হরং শাতং রক্তপিত্ত ক্ষয়প্রণৎ ভাব প্রকাশ।
(৩) বর্চে ভেদীনলাবুনি রুক্ষ্ম শীত গুরূ ণিচ।চরক।
(৪) অলাবু নালিকা গুব্বী শর্কর কফরােগমুৎ-গরুড়।
৮
খাদ্য বিচার।
(ক) দেখুন (বার্তা)।
বায়ুনাশক ও অগ্নিবর্ধক। ভাব প্রকাশ মতে,
বেগুন-কাপ্তগুণ যুক্ত (১)। যাহা হউক বৈৎনে পুষ্টি-
কারক দ্রব্য অধিক নাই এবং ইহার আগ্নেয় গুণের
উপরও সন্দেহ আছে।
(ঞ) ঝিঙা (কোশাকী)।
কফপি নাশক কিন্তু ভার ও অগ্নিমান্দ্যকারি
এবং বায়ু বৃদ্ধিকারি (২)।
(ট) ইচড় কেঁচা কাটাল)।
অগ্নিনষ্টকারি, গুরুপাক, বায় বৃদ্ধিকর
বৃদ্ধিকর ইত্যাদি
দোষযুক্ত (৩)। সুতরাং ইহার ব্যবহার যতো কম
হয় ততােই ভাল।
(১) বার্তা কুরেষা গুণ সপ্তমুক্তা বহ এ মারুত নাসিনীচ।
ভাব প্রকাশ।
(১) ঝিকং কফ পিত্তং গুরূ বিন্তি বাতলং গড়।
(৩) ***আমংতদেববিষ্টন্তি বাতলং তুরং গুরু ইত্যাদি।
ভাব প্রকা।
দ্বিতীয় অধ্যায়। ৪১ করলা (করবে)- সামান্যতঃ ইহাকে করলা উচ্ছে বলে। ইহা তিক্ত-স্বাদ, লঘুপাক, মলভেদক, বায়ু বন্ধক এবং জ্বর রোগ,. পি, ও কফরােগ, পাণ্ডুরােগ, মেহ- রােগ, ক্রিমিয়ােগ প্রভৃতি রােগের শান্তি কাক(১)। আধুনিক মতে করল। লঘুপাক নহে এবং অগ্নি- মান্দ্যকার। (ট) কুমুড়া (কুষ্মাণ্ড)- । তরূণাবস্থায়, পিত্তনাশক। মধ্যম অবস্থায়, কফকারি ও অতিশয় গুরূপাক। পবস্থায়, লঘু- পাক, উষ্ণ, ক্ষাররস ও অগ্নিদীপন, বস্তিশোধন, সৰ্ব্ব দোষনাশক ইত্যাদি গুণযুক্ত (২)। (১) কারবেল্লং হিমং ভেদি লঘূতিক্তমবাতলং। জর পিত্ত কফম্বং পামেহ ক্রিমীন হয়েৎ। ভাব প্রকাশ দ্রষ্টব্য।
খাদ্য বিচার।
৬ | মৎস্য-মাছ।
আমাদের দেশে মৎস্যের ব্যবহার এক প্রকার
সাধারণ প্রাচীন কালে যে ইহার ততাে ব্যবহার
ছিল না, তাহার অনেক প্রমাণ পাওয়া যায়।
আমাদের প্রাচীন গ্রন্থে ত্রিবিধ আহার মধ্যে স্বাত্বিক
আহাই শ্রেষ্ঠ বলিয়াছেন। এবং ইহা,–আয়ু,
স্বত্ব, বল, আরােগ্য সুখ, প্রীতি প্রভৃতির মূল কারণ
বলিয়া গিয়াছেন। যদিচ আজকাল মৎস্য মাংসের
অধিক অদর দেখা যাইতেছে, তথাপি নিরামিষ
ভােজন যে শ্রেষ্ঠ তাহা অনেকেই স্বীকার করেন।
আমরা নিরামিষ ভােজনের সম্যক পক্ষপাতী না
হইলেও নিরামিষ ভোজী হইয়া যে একেবারে
জীবন ধারণ করা যায় না, একথা কখনই স্বীকার
আয়ুঃ সত্বং বলারােগ্য সুখপ্রতি বিবৰ্ধনাঃ।
রমা স্নিগ্ধাঃ হা হা আহারাঃ সাত্বিক প্রিয়াঃ।
ভগবদগীতা।
দ্বিতীয় অধ্যায়।
করতে পারি না। কারণ নিরামিষ ভােজীদের মধ্যে
অনেকেই যে দীঘজীবি, তাহার ভূরি ভূরি প্রমাণ
পাওয়া যায় যথা-
১। ফুলদেশের তিন ভাগের দুই ভাগ লােক
কেবল আলু, জনারা প্রভৃতি নিরামিষ দ্রব্য আহার
করে
২। পােল, হঙ্গেরি, সুইজর্লণ্ড, স্পেইন,
ইতালি, গ্রীস প্রভৃতি স্থানের সমান্য লোকদের
মধ্যে, শস্য ফল ইত্যাদিরই অধিক ব্যবহার, অথচ ।
তাহারা হৃষ্টপুষ্ট ও পরিশ্রমী।
৩। ম্যাঞ্চেস্টারের বর্তমান অধিবাসীদের মধ্যে
৫৫০০ জন নিরামিষ ভোজী।
৪। ইতালির বর্তমান সম্রাট মৎস্য মাংস আহার
করেন না, অথচ বেশ স্বাস্থ্যবান। আমাদের দেশের
ব্রাহ্মণ পণ্ডিতেরা ও বিধবারা নিরামিষ ভোজী, অথচ
তাহারা নিরােগী ও দীর্ঘজীবি—তাহা সকলেই
জানেন।
খাদ্য বিচার।
৫। পশ্চিম দেশীয় হিন্দুরা অনেকেই নিরামিষ
ভােজী, তাহারা সকলেই হৃষ্টপুষ্ট।
সাধারণতঃ মৎস্য মাত্রেই,-উষ্ণ, স্নিগ্ধ ও মিষ্টরস
যুক্ত গুরূপক, বলকারক, রক্তবর্ধক, বায়য়ােগ-নাশক,
শুক্ৰবৰ্ধক ও পিত্ত শ্লেষ্মাবর্ধক প্রভৃতি গুণযুক্ত(১)।
আধুনিক ইংরাজী মতে-মৎস্যে প্রফুরক
(Phosphors) নামক উপধাতু থাকায়, ইহা,–স্নায়বীয়
বলকারক এবং বুদ্ধি স্মৃতি ও মেধা বর্ধক।
নিম্নে বিশেষ বিশেষ মৎস্যের ব্যাখ্যা করা
যাইতেছে-
(স্থান ভেদে)
(১) সমুদ্র জাত মংস্য (যাহার সমুদ্রে জন্মে)
মধুর, গুরূপাক, বলকারি ও অল্প মলকারি।
(১) গুরূষ্ণ মধুরাবল্যা বৃংহণীঃ পবনেহিত।
মৎস্যঃ স্নিগ্ধাশ্চর্যাশ্চ বহুদোষাঃ প্রকীর্তিতাঃ।
।
দ্বিতীয় অধ্যায়। ৪) সরােবর জাত মৎস্য। স্নিগ্ধ, মধুর, বলকারক ও বায়ুনাশক (১)। (৩) কুপ জাত মৎস্য। শুক্রবন্ধক, মূত্রকারক, ও শ্লেষ্ম বর্ধক (২)। (৪) নী জার্ত মৎস্য। বলকারক, বায়ুনাশক, ও পিত্তবদ্ধক (৩)। (৫) যে সকল মৎস্য অধিক জলে বাস করে। তাহার। অল্প জলের মৎস্য অপেক্ষা অধিক বল- কারি। অল্প জলের মৎস্য সকল,-ততো বল কাক নহে (৪)। (আকার ভেদে) (৬) বৃহৎ মৎস্য সকল। গুরূপাক, শুক্ৰবৰ্ধক ও মলবদ্ধ ক।বিঃ । (১) সয়ােজা মধুরা মিগ্ধা বলা বাত বিনাশনাঃ।-ভাবঃ (২) কোপ মৎস্যাঃ শুত্রু মূত্র কুষ্ঠ শ্লেষ্ম বিবৰ্ধনা।—ভাব (৩) নাদেয়া বৃংহণ মৎস্য গুরবােহনিলনশনাভাব (৪) মহাদেযু ঘলিমঃ স্বল্লেৎস্য বলা তাঃ।-সু
৫৪
খাদ্য বিচার +
(৭) ক্ষুদ্র মৎস্য সকল ।
লঘু, গ্রহি(ধারক) এবং গ্রহনীয়ােগে র্তি কর
(দেহ ভেদে)
(৮) নদী জাত মৎস্য সকলের মধ্যদেশ গুরূ-
পাক।
(৯) সরবরজাত মংস্যের,-“মুঢ়া” লঘু এবং
অধঃভাগ গুরূপাকসু।
(১০) যে সকল মৎস্য মাটীর নীচে চরে, তাহাদের
“মুঢ়ার” কতকাংশ ছাড়। আর সমস্ত শরীরই গুরূ
পাক।।
(নাম ভেদে)
(১১) কৈ মৎস্য।
স্নিগ্ধ, রূচিকর, লঘু, ধাতু পােষক ও বলকারক।
(১২) খলছে মৎস্য।
লঘু, রূক্ষ কফ ও পিত্ত নাশক।
.
দ্বিতীয় অধ্যা।
ঔ:
(১৩) বাম মৎস্য।
শুরূ পাক, ধাতুপপাষক ও পিত্ত নাশক।
(১৪) বাটা মংস্য।
ব য়ুনাশক ও শ্লেয়:ক। |
(৮৫) টেকি মৎস্য।
গুরূপক, শুক্র-বর্ধক, ও শ্লেষ্মকারক।
(১৬) মাগুর মৎস্য ।
স্নিগ্ধ, বায়নাশক ও বলকারক।
(১৭) রােহিংমংস্য।
গুরূপাক, বায়ুনাশক ও পিত্তবদ্ধক।
(১৮) বােয়াল মৎস্য(পাঠীন)-
শ্লেষ্মাবদ্ধ ক, শুক্রবদ্ধক, নিদ্রাকারক। ইহা অম্ল ও
পিকে দূষিত করিয়া, কুষ্ঠরােগ জন্মাইতে পার(১)
সুতরাং এ মৎস্যটীর ব্যবহার ত্যাগ করা ভাল।
(১) পাঠানঃ শ্লেষ্মলো বৃষ্যো নিদ্রালুঃ পিশিতশনঃ।
দূষয়ে দাপিত্তন্তু কুষ্ঠরােগং করোত্যসো।
খাদ্য বিচার।
(১১) মূল মৎস্য (মায়ামাছ)
বল কারক, শুক্রবদ্ধক ও শ্লেষ্ম কায়ক। ইহাতে
স্তন্যদুগ্ধ বৃদ্ধি করে।
ঋতু ভেদে)
(২০) হেমন্ত কালে,-“কূপজাত-মৎস্য উপকারি।
(২১) শিশিরকালে,--সরবরজাত
(২২) বসন্ত কালে,-“নদিজাত
(২৩) গ্রীষ্ম কালে- চৌঞ্জজাত
(২৪) শরত কালে,--নিঝরজাত
(অবস্থা ভেদে)
(২৫) শুষ্ক মৎস্য (শুটকি মাছ)
দুর্জর, ও অগ্নিমান্দ্যকারি, দোষ যুক্ত, ইহা আহার
করা অন্যায়। কোন কোন বিজ্ঞ চিকিৎসকের মতে
ইহা ব্যবহারে কুষ্ঠ রােগ জন্মিবার সম্ভাবনা।
হেমন্তে কূপজা মৎস্যাঃ শিশিরে সরসা হিতাঃ।
বসন্তেতে তু নাদেয়া গ্রীষ্মে চৌঞ্জ সমুহঃবাঃ।
নৈঝরা শরদি শ্রেষ্ঠ। বিশেষােয় যাতা-ভাব।
দ্বিতীয় অধ্যায়।
(২৬) লবণ যুক্ত মৎস্য নােনামাছ)।
করু ও পিত্তবদ্ধক ও সারক,
(২৭) দগ্ধ মৎস (পােড়ন মাছ)।
শুক্রবদ্ধক ও কামােদ্দীপক।
(বর্ণ ভেদে)
(২৬) কৃষ্ণবর্ণ মৎস্য সকল
স্নিগ্ধ, লঘুপাক, বায়ুনাশক ও অগ্নিবদ্ধক।
(২১) পাণ্ডুবর্ণ মৎস্য।
স্নিগ্ধ, গুরূপক, এবং মলভেদক।
(৩) লােহিত মৎস্য
(ইংরাজী মতে) ইহা, অন্যান্য মৎস্য অপেক্ষা
পুষ্টিকারক, এই জাতীয় এক পাউণ্ড মৎস্যে,
১,১২৭ শ্রেণ যবক্ষারজানিক পদার্থ, ৩৮৫ গ্রেণ
চর্বি, এবং ৯৮ গ্ৰেণ লবণ আছে।
(৩১) তে মৎস্য ।।
(ইংরাজী মতে) এই জাতীয় মৎস্যের প্রতি
(*) Red fish—দেশী বাইন মাগুর প্রভৃতি এই শ্রেনীস্থ ।
(t) white fish
=
৫৮
খাদা বিচার।
*
•
পাউণ্ডে,১.২৬৭ গ্ৰেণ য়্যালবুমেন, ২৩ শ্রেণ
চর্বি এবং ৭ গ্ৰেণ লবণ আছে।
(৩২) সি যুক্ত মৎস্য
ইহাতে পুষ্টিকারক শক্তি অধিক নাই কিন্তু
সহজে পরিপাক হয়। এই জ 3ীয় মৎস্যের মধ্যে
এমন অনেক মৎস্য আছে, যাহা আহারে অজীর্ণ রােগ
জন্মে। এই শ্রেনীর মৎসে,-শতকরা ১৪ ভাগ যব
ক্ষারজানিকপদার্থ, ১.৫ চর্বি ও ২ ভাগ লাবণিক
পদার্থ আছে ।
(৩৩) খোলস যুক্ত মৎস্য ।
(ইংরাজী মতে) এই জাতীয় মৎস্য সকল বিশেষ
পুষ্টি চারক কিন্তু কিছু অগ্নিমান্দ্যকারি। এই শ্রেণীর
মৎস্যে-শতকরা ১.২ যবক্ষারজানিক ৩ার্থ,
১.২ ভাগ চর্বি ও ১.৪ ভাগ লাবণিক পদার্থ আছে।
(*) shell fish-রুই কাতল পুটী ইত্যাদি আঁইসযুক্ত মৎস্য
এই শ্রেণীভুক্ত।
(1) erustaceans—চিংড়ি, কাকড়া, ইত্যাদি খোলা যুক্ত
মৎস্য এই শ্রেণীর।
দ্বিতীয় অধ্যায়
৫৯
( মৎস্য সেবন বিধি)
(১) মৎসের কঁাটা ফেলিয়া খাইবে কারণ ইহার কাটা
নিতান্ত অপকারি।
২) যকৃৎ দোষ (পিত্তের কোপ) খাকিলে,ইহার ব্যবহার যতো
কম হয় ততােই ভাল।
'৩) পচা মৎস্য ব্যবহার করিবে না।
( ) অজানিত মৎস্য খাওয়া অন্যায়।
(৫) প্রচীন মতে মৎস্য পােড়া উপকারি (১) কিন্তু আধুনিক
ইংরেজী মতে আমাদের দেশে ভাজিয়া রাধার যে নিয়ম আছে,
হাই
প্রশ (২১।
৭ম- "{ংস।
এ দেশে মাংসের ব্যবহারও নিতান্ত কম নহে।
ইহার ব্যবহার উচিৎ কি, না, এবিষয়ে প্রাচীন কাল
* ক্ষীণ ও ভগ্ন জর্জরিত নিত্য স্ত্রীদেবিক্ষণ
: তেজসং হিতকারি-ইত্যাদি।- রাজ
(2) as a general rule frying is a best method of
cooking
* H. guik.
খাদ্য বিচার। হইতে এ পর্যন্ত অনেক তর্ক বিতর্কই চলিতেছে, তাহার উল্লেখ এস্থলে নিষ্প্রয়ােজন, তৰে ইহার ব্যবহার যত কম হয় ততই ভাল । ছাগ মেষ প্রভৃতি নানাজাতীয় জীৰ দেহ, মাংস রূপে ব্যবহৃত হয়, আমাদের দেশে সাধারণতঃ নিম্ন- লিখিত মাংসের ব্যবহার আছে বলিয়া তাহারই উল্লেখ করিলাম। * অনেকে বলেন যে, বলিন ভিন্ন যখন দেবীর অর্চনা হয় ন, তখন উহা যে নির্দিষ্ট খাদ্য তাহাতে সন্দেহ নাই, কিন্তু হাজের এ বিশ্বাসও ততো—ঠিক নহে,যেহেতু,-শাস্ত্র বিশেষে বাল দানেয় যে রূপ নিষেধ দেখা যায় তাহতে, দেবীর তুষ্টি জন্য যে পশু বধ করিতে হয় এমনু মৰ্ম্ম বুঝা যায় না। যথা- মদর্থে শিব কুৰ্বস্তি তামসাঃ পশুৰাতনং। আকল্প কোটা নিয়ে তেষাং বাসে, ন সংশয়ঃ-দ্মপুরাণ। -পাৰ্বতী কহিলেন হে শিব, আমার প্রীতির জন্য যে সকল মসিকেরা পণ্ডঘাতরূপ বলি প্রদান করে, তাহাদের কোটা কল্প নিশ্চয় নরক বাস হয়। ফল কথা,-একটা প্রাণী নষ্ট করিয়া নীজের উদরপূর্ণ করা উচিৎ নহে। আধুনিক বিজ্ঞান বিদিগের মতে ও মাংস ব্যবহার অন্যায়।
দ্বিতীয় অধ্যায়।
(ক) এ কেষ্ণবর্ণমৃগ) মাংস।
কমায় ও মধুর আস্বাদ, রক্তপিত্ত ও কফনাশক,
ধারক, রুচিকারক, বলকারক,জ্বরনাশক গুণযুক্ত (১)।
(খ) হরিণ (তাম্রবর্ণমৃগ) মাংস।
পাকে,-মধুর, ত্রিদোষনাশক,অগ্নিকারক, শীতল,
মলমুত্তরোধক, সুগন্ধি ও লঘুপাক গুণযুক্ত (২)।
(গ) কুকুট (কু কৃড়া) মাংস।
বন্যকুকুট,
-বলকারক, বমননিবারক, বায়ুরােগ
ক্ষয়রোগ ও বিষমজুরের শান্তিকারক। গ্রাম্য
কুকুটও প্রায় উক্ত গুণযুক্ত (৩)। ভাব প্রকাশ
(১) কষাঘােমধুরােচ্ছদঃ পিত্তাহককফয়ােগহ।
সংগ্ৰাহি য়ােচকো বল্য ষােমোেেরাপহঃ -সুক্ষত।
(২) মধুরোধুর পাকে ফেষদ্যোনিলদীপন।
শীতলো বদ্ধবিণমূত্রঃ সুগন্ধিহরিণােলঘু-সুশ্রুত।
(৩) বৃহণঃ কুক্কটোবন্যস্তদ্বদগ্রাম্যোগুরুস্তসঃ।
বাতরােগ ক্ষয়বমি বিষমরনাশন-সুশ্রুত।
খাদ্য বিচার।
মতে,--কুকুটম স—উষ্ণবীৰ্য্য (১)। বােধ হয় এই
জন্যই আমাদের দেশে ইহা ব্যবহার নিষিদ্ধ
হইয়াছে, (*) সুতরাং এ মতে অবহেলা করিয়া,
নিতান্ত ধৰ্ম্ম ও স্বাস্থ্যবিরােধী কার্যকল অপেক্ষা
সামান্য অখাদ্যের লােভ, সম্বরণ করাই ভাল ।
রেজ চিকিৎসকদের মতেও ইহা উত্তেজক
উষ্ণবীৰ্য্য।
।
(১) কু , টোবৃংহণঃ স্নিগ্ধোবীর্ঘোষ্ণোহলি দ গুরু।
চক্ষুঃ ঐকফকৃৎবলো বৃষ্যঃ কষায়কঃ1-ভাব।
* কলঙ্কিং প্লবং হং সংক্রাঙ্গং গ্রাম্যকুক টং।
সারস রজ্জ্ব বলঞ্চ দাহং শুক সারিকে মনুসংহিতা।
(1) অনেকে বলেন অতি প্রাচীন কালে, হিন্দুদের মধ্যে
কুকুটমাংস, গোমাংস, বরাহমাংস অশ্ব মাংসের ব্যবহার ছিল,
এবং গােমেধ অশ্বমেধ প্রভৃতির যজ্ঞের প্রমাণ দেখাইয়া তঁাহারা
গােমাংস ইত্যাদির চলন করিতে চাহেন, তঁাহাদের এই মতের
বিরুদ্ধে বিজ্ঞ বহুদশী ডাক্তার কে, পি, গুপ্ত ধে খণ্ডন দেখাই
রাছেন তাহাই যথেষ্ট, তিনি বলেন—যে পূৰ্ব্বে* * * ঋষি ও
মুণীদিগের মধ্যে এই সকল মাংস ভণ প্রথা থাকা স্বন্দে এই
পর্যন্ত বলা যাইতে পারে যে, তখন তঁাহারা হিন্দুকুশপত ও
সিন্ধুনদের নিকটস্থ পাৰ্বত্য দেশে বাস করিতেন, ঐ সকল
দ্বিতীয় অধ্যায়। (ঘ) পারাবত (পায়রা) মাংস। রক্তপিত্তনাশক, গুরূপক, বায়ুনাশক,ধারক (১)। ইংরাজী মতে-ইহা অনেকাংশে কুকুট মাংসের সম গুণবিশিষ্ট। (ঙ) বনচরপায়ার মাংস। গৃহপালিত পায়রার মাংস অপেক্ষা, কমল, লঘু, শীতল এবং মলরোধক (২)। ইংরাজী মতে-কুকুট পাপ্পর। ইত্যাদি গৃহপালিত পক্ষী (Poutr), মাংসে যথেষ্ট পরিমাণে যক্ষর- জনের অংশ থাকায়,বলকারক ও পোষক । এই জাতীয় মাংসের প্রতি অন্ধ সেরে-১৪৭০ গ্রেণ স্থান শীত প্রধান থাকায়, উষ্ণ বীৰ্যখাদ্য অাহার করিতেন। পরে যখন তাহারা উ প্রধান দেশবাসী হইলেন, সেই সময় হইতেই পন ও ভোজন স্বম্বন্ধে পূর্ব নিয়মে পরিবর্তন করিলেন। (১) পারাবতে। শুরুঃ মিন্ধে। রক্তপিত্ত নিলাপহঃ। সংগ্ৰাহি শীতল জঃৈ কফিতে বীৰ্য্যবর্ধনঃ-ভাব। (২) সেভ্যো লঘুতরাং কিঞ্চিৎ কপোতাবনবাসিন। শীতাঃ সংগ্ৰাহিণচৈব স্বল্পমূহতরাতে। চরক।
৬৪
খাদ্য বিচার।
যালবুমেন ২৬৬ গ্ৰেণ চৰ্বি ও ৪৮ গ্ৰেণ লবণ
আছে।-হিন্দু-ধৰ্ম্ম-শাস্ত্র, পায়রা প্রভৃতি গৃহপালিত
পক্ষীমাংস খাইতে নিষেধ করিয়া গিয়াছেন ।
(চ) হংসের মাংস।
গুরুপাক,উষ্ণবীৰ্য্য, বলকারক, বর্ণকারক, স্বরবর্ধক,
রক্তবর্ধক শুক্রবন্ধক, এবং বায়ুনাশক গুণযুক্ত (১)।
ইংরাজী মতে,—হংসের মাংসে তৈলের ভাগ
অধিক আছে এবং ইহা গুরুপাক (২)।
(ছ) চিত্র কণ্ঠ বা ঘুঘু।
হরিয়াল ও মেটে ঘুঘু ভেদে দুই জাতীয় যুযুধ
মাংস ব্যবহার হয়। ইহার।—বলকারক, বীৰ্য্যবর্ধক
কফপিত্ত ও অন্যান্য বিরোধক (৩)। সর্ষপ তৈলে
ভাজিয়া খাওয়া অন্যায়।
ব্যাদান্ শকুনি সর্বাংস্তথা গ্রামনিবাসিন।
মনু।
(১) গুৰুমধুঃ মিঃ। স্বরবর্ণবলপ্রদ।
বৃহণাঃ শুক্রলান্টোক্তাহংসামারুতনাশনাঃ।চরক।
(2) The flesh of geese and ducks is much superior
in fat, but inferior in digestibilty
(৩) রাজনির্ঘণ্ট দেখ।
৬৫ দ্বিতীয় অধ্যায়। (জ) চটকা বা চড়াই মাংস। প্রায়ই ব্যবহার নাই। ইহা,--মিরস শ্লেষ্মা শুক্রবদ্ধ ক; ধাতুপোষক, বায়ুনাশক এবং ত্রিদোষের শান্তিকার (১)। (ক) প্লব (জলচর পক্ষীর)মাংস- শীতল, স্নিগ্ধ, রক্তপিত্তের শান্তিকারক, বলকারক বায়নাশক, মল ও মুত্রবদ্ধ ক গুণযুক্ত (২)। (ঞ) কচ্ছপ মাংস। বলকারক, বায়ুনাশক শুক্রবদ্ধক, ধাতুপােষক, মেধাবদ্ধক ও শোথরােগ-নাশক। যক্ষম কাশে ইহার মাংস সুপথ্য (৩)। (১) চটকাঃ মধুরাঃ সিন্ধাঃ কফ শুক্রববর্ধনা। সান্নিপাত প্রশমনাঃ শমনামারুতস্য চ।চরক। (২) হংস সারস ক্রোঞ্চ চক্রবাক রক্তপিত্তহরাঃ শীতাঃ মিদ্ধ। বৃষ্যমজ্জিত। সৃষ্টমূত্ৰপুরীষশ্চ মধুরা সপকিয়ে-সুশ্রুত। (৩) বল্যোবতহরাে বৃষ্যশ্চক্ষুয্যো বলবর্ধনঃ। মেধাস্মৃতি করোপথ্যঃ শােষঃ কুৰ্ম্ম উচ্যতে ।-চক।
খাদ্য বিচার।
(ট) ছাগ মাংস।
গুরুপাক পিত্ত ও কফের মন্দকারি, চক্ষু রোগ
ও পীনসরোগের শান্তিকারি (১)। মতান্তরে—ইহা
ত্রিদোষনাশক এবং বলকারক প্রভৃতি গুণযুক্ত (২) ।
বৃদ্ধছাগ অপেক্ষা ছাগশিশু (বাচ্চ। ছাগল) কিছু লঘু-
পাক,বলকারক,জ্বরনাশক এবং বাতপিত্তনাশক (৩)।
বৃদ্ধছাগলেরমাংস,—বায়ু বদ্ধ ক ও অত্যন্ত রূক্ষম (৪)।
মূকছিন্ন (খাসী) ছাগলের মাংস কফ বৃদ্ধিকর (৫) !
এবং অত্যন্ত গুরুপাক। এই জন্যই আমাদের
প্রাচীন শাস্ত্রে ইহা খাইতে নিষেধ আছে।
(১) নাতিশীতে গুরুঃ স্নিগ্ধা মপিত্ত কফঃ স্মতঃ ।
ছাগলনভিয্যন্দী তেষাং পীনসনশনঃ ॥-সুশ্রু।
(২) ছাগমাংসং লঘুস্নিগ্ধং স্বাদুপাকং ত্রিদোষনুষ।
নাতিশীত মাহিস্যাৎ স্বাদুপীনসনশিং-রাজ।
(৩) অজাতস্যােলস্য মাংসং লঘুতরং সুতাং।
হ্যৎ জহরৎ শ্রেষ্ঠং সুস্বাদু বলদং ভৃশং।ভাবঃ।
(৪) বৃদ্ধস্য বাতলং রুক্ষ্মং ইত্যাদি।
(৫) মাংসং নিখাসিতান্ত স্য—ইত্যাদি।-ভা।
দ্বিতীয় অধ্যায়।
৬৭
(৪) মেষমাংস।
গুরুপাক, বলকারক, পিত্ত ও শ্লেষ্মাবদ্ধক (১)।
ইংরাজী মতে,—ইহার প্রতি অধিসেরে—১,২৮১
শ্রেণ য়্যালবুমেন, ৩৪৩গ্ৰেণ চৰ্ব্বি, এবং ৩৩৬ গ্রেণ
লবণ আছে। এ মতে ইহা বলকারক ও পোষক।
( মাংস সেবন বিধি।)
(১) (প্রাচীন মতে-কাচ! মাংস খাওছু। অন্যায় |
(২) শুকমাংস ভােজন করিবে না।
(3) অবৈধ মাংস (হা দেবযজ্ঞের জন্য না হইয়। কেবল
নীজের উদর পূর্ণ জন্য সংগৃহীত হয়) ভোজন করা প্রাচীন মতে
একান্ত নিষিদ্ধ (*) ।
(১) বৃহণং মাংসপেশীরভ্রংপিত্তশ্লেষ্মীবহং গুরু।—সুশ্রু।
* নীদ্যা বিধিনামাংসং বিধিজ্জোহনাপদিদ্বিজঃ।
জগাহ্যবিধিনামাং সং প্রত্যত্তৈরদতেইশ।-মনু ।
—অর্থাৎ অবৈধ মাংস ভোজন করিবে না। অবৈধ রূপে যে
পশুবধ করিয়া মাংস ভােজন করে, পরজন্মে সেই জন্তুরা তাহাকে
ভোজন করে।
খাদ্য বিচার।
(৪) অষ্টমী চতুর্দশী ও অমাবশ্যা তীথিতে মাংস খাইবে না।
৫) (ইং মতে) অপরিপক (বাচ্চা) জন্তর মাংসে জলের ভাগ
বেশী থাকায়, ততে। উপকারি নহে। এ মতের সহিত প্রাচীন
মতের ও মিলন আছে, যেহেতু প্রাচীনশাস্ত্র মতে ছাগশিশু
(যাহাদের সিং উঠে নাই ও দুধছাড়েনাই) বলিদানযোগ্য নহে।
(৬) নীরোগ সুস্থকাষ, পশুর মাংস ভোজন করিবে; এটা
ইংরাজী ও হিন্দু উভয় মত সন্মত। ইংরেজ চিকিৎসকগণ
মাংস ব্যবহার জন্য নিম্ন লক্ষণ যুক্ত পশু বধ করিতে বলেন যথা-
যাহাদের চোক দুটী বেশ উজ, নাকের ভিতরের লাল
প। ভিজা ভিজা ও খুব লাল রংঙ্গের, নিশ্বাসপ্রশ্বাস ও রক্তের
চলাচল স্বাভাবিক মত, চামড়া বেশ মসৃণ বা তেলাল ইত্যাদি।
(৭) পীড়িত রােগা) পশুর মাংস খাইবে না। এজন্য
বধের পর ফল্ক, মেটে ইত্যাদি বেশ করে দেখে নেবে যে, তাতে
কোন ফোড়া বা ঘা, না থাকে।
(৮) বসন্ত রােগে কোন একটী পশু মরিলে, সেই-জাতীয়
অন্য কোন পশুর মাংস ও সেই সময় খাইবে না। প্রাচীন মতে,
শৃগাল কুকুর জ্বং শেয়াল ও কুকুড়ে কামড়ান) পশু, বলির
অযোগ্য বলিয়া যে বিধান আছে, তাহ। অনেকে মানেন সত্য;
কিন্তু অবৈধবলিতে সে নিয়মী মানিয়া চলেন না; জানা উচিৎ,
ধন বিধিবলিতে ঐ রূপ মাংস নিষেধ হইয়াছে, তখন উহা
'।
দ্বিতীয় অধ্যায়।
এককালে খাইতেই মানা করিয়াছেন, কারণ বিধিবলি ভিন্ন তখন
মাংস খাইবার নিয়মই ছিল না। বোধ হয় "হাইডোফোবিয়া”
বা জলাতঙ্ক, ইত্যাদি বোগের ভয়েই তঁাহারা শৃগাল কুকুর দৃং
পশুর মাংস ত্যাগ করিতে বলিয়াছেন।
(১) (ইং, মতে) বধের পূৰ্ব্বে, পশুটীকে এক ঘন্টা পর্যন্ত
উপবাসী রাখিয়। পরে বধ করিবে কারণ,বধ্যপশুর শরীরে
অাংশিক-পরিপাক-খাদ্য থাকিলে ঐ পশুর মাংস দূষিত হয় ও
পরিপাকের ব্যঘাত জন্মায়।
(১০) যকৃৎরােগ, অগ্নিমান্দ্য,অর্শরোগ ও কোষ্ঠবদ্ধ ইত্যাদিতে
মাংস খাওয়া অনুকূকারি।
৮ম ডিম্ব, বা ডিম।
প্রাচীন মতে,-মৎস্য কূৰ্ম্ম (কাছিম) ও পক্ষীর
ডিম-স্বাদু, ধাতুপে'ষক, রোচক, বাতশ্লেষ্মানাশক
ইত্যাদি গুণযুক্ত (১)।
(১) মংস্য কুৰ্ম্ম খগাশুনি সাংবাদিক রাণি চ।- রাজঃ।
খাদ্য বিচার ।
ইংরাজী মতে,ইহাতে-অধিক মাত্রায় যব
করজানের ভাগ অাছে। অঙ্গীরের ভাগ ততে।
অধিক নাই-এজন্য ডিম্বের সহিত কোন একটা
শ্বেতসার বিশিষ্ট খাদ্য (যথা মদ। ইত্যাদি) মিলা-
ইয়। খাওয়া ভাল। ডিমে দুইটা অংশ আছে,
শ্বেত ও হরিৎ। শ্বেত অংশে (wite ) শতকরা
৭৮ ভাগ জল, ২০৪ ভাগ য়্যালবুমেন ও ১৩
ভগ লবণ আঁছে। হরিৎ-অংশে (যাহাকে
ডিমের কুসুম বা yok বলে) অধিক মাৰায় তৈল
পদার্থ, ১৬ ভাগ যব ফারজান, ১০৩ ভাগ লবণ
এবং ৫২ ভাগ জ ল অাছে। ইহা,– ত্যন্ত লঘুপাক
ও পুষ্ট কারক খাদ্য কিন্তু অধিক উত্তাপ পাইলে
( য়্যালবুমেন নামক পদার্থ জমিয়; যাওয়ায় )
গুরুপাক হয়।
।
মুরগী ও হংসী ডিৰে ।
দ্বিতীয় অধ্যায়। ৭১ ৯ম-য লবর্গ। আমাদের দেশে সাধারণতঃ নিম্নলিখিত ফল সকল ব্যবহৃত হয় সুতরাং নিম্নে এ সকলের গুণ- গুণের বিষয় উল্লেখ করা যাইতেছে (ক) অস্ত্র বা আমি। কচি আম,-পিত্ত ও বায়ুবৃদ্ধিকর, কিছু বড় হইলে (আঁটী বঁধিলে)---পিত্তকর, বর্ণকর, রূচিকর, রক্ত মাংস বৃদ্ধিকর, বলকর, তেজ বৃদ্ধিকর এবং বয়- নাশক (১)। পাঁকা আম, স্নিগ্ধ, শীতল, মধুব, পুষ্টি কারক, বলকারক, বর্ণকারক, ব য় নাশক, অল্প পিত্তি শ্লেষ্মা বৃদ্ধিকারক ও শুক্ৰবৰ্ধক। আম গাছপাকা হইলে—বায় নাশক গুণযুক্ত হয় কিন্তু অল্প পিত্ত 4 (১) পিত্তানিলকরং বালং পিলং বন্ধকেসরৎ। হৃদ্যং বর্ণকর র চ্যং রক্তমাংস বলপ্রদং। কৃষ’য়ানুরসং স্বাদু বাতঘ্নং বৃহণং শুরু !-শুশ্রঃ।
। १२ খাদ্য বিচার। বৃদ্ধি করে এবং ঘরেপাকান আম—পিত্তনাশক গুণ- যুক্ত হয় (১) { (১) আম্রাব বা আমসত্ব '- বায় পিত্তনাশক, রূচিকারক, তৃষ্ণা ও বন নিবারক (২)। (২) আম্র পাক। পাকা আমের রস ৬৪সের, চিনি ৮সের, ঘৃত ৪সের, শুঠ ৬৪তােলা, মরিচ ৩২ তেল, পিপুল ১৬ তােলা, জল ১৬সের একত্রে মিলাইয়া মৃদু অগ্নিতে পাক করিবে, ঘন হইলে নামাইয়া উহার সহিত ধনে জীরা, হরিতকি, চিতা, মূতা, দারচিনি, মউরি গেটেল। নাগেশ্বর (নাগেশ্বরচপা) এলচিবীজ, (১) পন্তু মধুরৎ বৃষ্যং স্নিগ্ধং বল সুখপ্রদং। গুরূত হং হং বর্ণং শীতম পিত্তলং । কষানুরং বহ্নি শ্লেষ্মবিবর্ধনং। তবে বৃক্ষ সংপং গুরুবাত হরং পরং। মধুরাঃ অম্লরসং কিঞ্চিভবেৎপিত্তপ্রকোপনং। অকৃত্তিম পঞ্চদ্ভবেৎ পিত্তনাশনং।-ভাব। (২) অাম্রাবৰ্ত্ত তৃষাচ্ছর্দিবাত পিত্ত হরঃ সঃ।-ভাব।
দ্বিতীয় অধ্যায়। লবঙ্গ, জায়ফুল, প্রত্যেক চুর্ণ ৮ তোলা নিক্ষেপ করিয়া নাড়িবে, শীতল হইলে মধু /২সের ঢালিয়া দিয়ে। এই পাক, অবস্থা বিবেচনায় ২৮ তেল। মাত্রায় আহারের পূর্বে সেবন করিবে। ইহা-অগ্ন- কারক, বলকারক পুষ্টিকারক এবং অম্লপিত্ত রক্ত- পিত ও পাণ্ডুরােগ বিশেষ হিতকর (১)। (খ) জানার ( বনে) অম্লাস, মধুর ও কৃমিনাশক (১)। ইংরাজী মতে, -ইহা অগ্নিকারক । ডা: বেলি বলেন যে, আনারসের রসে কামল (ন্যাব) রােগ উপশম হয়। (গ) আমল (আমলকী ঘৰ্ম্ম নিবারক, বিবমিষাবারক, বায়ুনাশক, ধারক এবং অগ্নিকারক। ভাবপ্রকাশ মতে- ইহা সংকো- চক, রক্তরােধক, রক্তপিত্ত ও মেহ রােগ-নাশক। পুষ্টিকারক, বলকারক,মূত্রকারক ও মৃদুবিরেচক গুণ (১) নেত্রলয়ং ক্রিম মধুরংসং-রাজ। (২) মধুর রহণং বলং অং ওপণং গুরু-চর।
৭৪ খাদ্য ফিচার। যুক্ত। ইংরেজ চিকিৎসকগণেরমতে,ইহাতে গ্যালিক এসিভ নামক অম্ল থাকায়, সংকোচক। এবিধা বহুমূত্ৰও উদারময় ইতাদি রােগে ব্যবহাৰ্য্য।—ইরি- কী বহেড়া ও আমলকী এই তিনকে ত্রিফলা বলে। (ঘ) আমড়া (অংক)-- মিস, রক্তবর্ধক, বলকারক, তৃপ্তিকারক ও ভার (১)। ভাব প্রকাশ মতে, কঁচা আমড়া-বায়ু- রােগ-নাশক, গুরু, উষ্ণ, রূচিকর ও সারক। পাকা আমড়া,—স্নিগ্ধ-স্বাদু, গুরূ, শ্লেষ্ম-বর্ধক,তৃপ্তি-কারক, পুষ্টিকারক, অগ্নিমান্দ্যকারক, বলকারক, বায়ু-পিত্ত- নাশক ও ক্ষয়নাশক ইত্যাদি গুণযুক্ত (২)। (ঙ) আলু বােখারা। ইহা এক প্রকার ফল, কাবুল হইতে এদেশে (১) মধুরং বৃহণং বলং আতং তর্পণং গুরু।—চরক। (২) অামাতমম্নংবাতঘ্নং গুরুষ্ণংরুচিকৃৎ সরৎ। পক্কগুতুবরং স্বাদুরসেপাকেহিমং, তং । তর্পণং শ্লেলংঙ্কিংবৃষ্যংবিষ্টন্তি বৃহণং। গুৰুল্যং মরুৎ পিত্তং ক্ষয়াপহং ক্ষয়'জিৎ-ভাব।
৭৫ দ্বিতীয় অধ্যায় আইয়ে, সচরাচর চাটনি করিয়া ব্যবহৃত হয়। ইহা -শীতল, মৃদু-রেচক ও পুষ্টি চার গুণ যুক্ত। (চ) কদবেল (কপি)- কাঁচা কদবেল, কষায় মিষ্ট ও অন্নাস্বাদ, বায়ু- বর্ধক, বিষনাশক, ধারক ও ভার (১) পক অবস্থায়, বায়ুপিও-নাশক তৃষ্ণানিবারক এবং হিক্কারােগ প্রশ- মক প্রভৃতি গুণযুক্ত হয় (২)। ইংরাজীমতে,—ইহা সংকোচক। উঃ, কানাইলাল দে বলেন, কতবেল শৈত্যকারক ও সংকোচক। অতিসার রােগে তামিল দেশের চিকিৎসকগণ ইহার ব্যবহার করেন। আমা- দের বৈদ্যচিকিৎসা মতেও “কপিথাক চুর্ণ” প্রভৃতি কতবেল বটীত ঔষধ অতিসারবোগে ব্যবহৃত হয়। (ছ) কদলী বা কলা- ভাব প্রকাশ মতে,—ইহা স্বাদু, শৈত্যকারক, (১) কার মধুরংমুং বাতলংগুশীতলম্ । কপিখমামং কণ্ঠঃ বিষয়ুং গ্রাহি শীতল-চরক। ১) পং গুরু তৃষাহিকাশমনং বাতপিত্তজিভাৰ।
। খাদ্য বিচার।
বলকারক, পুষ্টিকারক,ক্ষুধা তৃষ্ণা চক্ষুরােগ ও মেহ,
রােগ নাশক, এবং রূচিকারক, গুণ যুক্ত। অনেকে
বলেন যে,ইহার ব্যবহারে অন্ত্রে কৃমি জমে। ইংরেজী
মতে,-ইহার প্রতি অধ, সেরে ৩০৭ শ্রেণ য়্যাল
বুমেন, ১,৩৭৬ গ্রে চিনি ও এম্নের ভৗগ আছে।
এ মতে ইহ। বিরেচক ও পােষক (১)।
(খ) কমলা।
অগ্নিকারক, বলকারক, বায়ুনাশক এবং কৃমি-
নাশক গুণ যুক্ত। ইহা ভিন্ন কমলার বমন নিবা-
রক গুণেরও অনেক সময় পরিচয় পাওয়া গিয়াছে।
(ঝ) কচা (করমর্শ বা করা)
পিপাসা-বারক, রূচিকারক, পিত্তাক,ও গুরু-
পাক (২)।
(১) ইহাতে শা ২৭ ভাগ চালের সমান পুষ্টিকৰক
পদার্থ অাছে।
লিপৰি চিপিটি গুরুত্ব
ইত্যাদি ।
দ্বিতীয় অধ্যায়।
(৬) কালীগকর্মরত
স্বাদু ও অম্লাস্বাদ, শীতল, ধারক, কফ ও বায়ু-
নাশক (১)।
(ট) কঁকুড় (কর্কটীকা),
মিষ্টস, ভার ও অঙ্কীর্ণকারক। ইহার বীজের
অর মূত্ৰকাৰক গুণ আছে। ইংরাজীমতে,—ইহা
গুরুপাক, ও অগ্নিমান্দকারি এজন্য ওলাউঠার
প্রাদুর্ভাব সময়ে, ইহার ব্যবহার নিষেধ আছে।
দুঃখের বিষয় এই গুরুপাক খাদ্য অনেক স্থলে
পথ্য মধ্যে ব্যবহৃত হয়।
কাঠাল (পস)
স্নিগ্ধ ও স্বাদু আস্বাদ, বায়ু-পিত্তনাশক, তৃপ্তি-
কারক, শ্লেষ্মবর্ধক, শুক্ৰবৰ্ধক, মাংসল ও বলকারক
এবং রক্তপিত্ত ও ক্ষয়রোগ নাশক (২)। মতান্তরে
১) কর্মরঙ্গং হিমংগ্রহি সাম্নং কফবাতহুং।তাৰপ্ৰকাণ
(২) গনসং শীতলং পং মিং পিত্তানিলপিং।
অর্পণং বৃহণং স্বাদু মাংসলং শ্লেষ্মলং ভূষং।
বলং শুক্রপ্রদং হন্তি রক্তপিত্ত ত ক্ষয়।ন।ভাৰ
{ দকিটা
ইহ,অত্যন্ত গুরুপ ক-১১। এ মতোসহিত সাধারণ
মতের ঐক্য আছে,যেহেতুঠাল যে বিশেষ
রুপাক সে বিষয়ে সন্দেহ নাই।
(ড) কাগটি লেবু নিন্দ)
বায়নাশক, অগ্নিকারক ও লঘুপাক (২)। ইংরাজ।
মতে,—ইহার প্রতি আধ ছটাক রঙ্গে-৩২ গ্রেন
“সাইটীক এসিভ” নামক অয় ও অল্প তৈল পদার্থ
অাছে। এমতে,—ইহা বমন-নিৰামক, ক্ষরনাশক,
শৈত্যকারক ও কর্ভি মােগ নাশক,জল যাত্রীদের
মধ্যে কঁাচ। খাদ্যের অভাবে স্কর্ভি রোগ জন্মায়
বলিয়া, আজ কাল লেবুর রস (Lemon Juice) অধিক
মাত্রায় ব্যবহৃত হয়। সকল সময়ে ইহার টাটকা
রস পাওয়া যায় না। সুতরাং ইহার রস তৈয়ার
করিয়া রাখা হয়। লেবুর রসের সহিত পরিমাণ
(১) পসং সকন্তু গিগং স্বাহ সং গুরুত
(২) নি কাং বাতং জীপনং পাচং লঘু।
দ্বিতীয় ।। ৭) শত গরম জলব। ব্রাণ্ডি হুইস্কি ইঙ্গি গেন শুর- পার (১০ ভাগ রসে ১ভাগ পৰিণে) মিলাইয়া রাখিৱে ৱল টাটকা থাকে। বাত রোগীর পক্ষে ইহার রস অতি উত্তম পথ্য, অধিক মাত্রায় ব্যবহার করাইতে হয়। ডাক্তার গ্যারভ বলেন—ইহার ব্যবহারে বাতস্থির দোষ নষ্ট হয়। (ঢ) কূল (বী) ঝাঁচা কুল,পি ও কফবর্ধক। পক-অবস্থায়, স্নিগ্ধ, মধুর সারক এবং বায়ু-পিত্তনাশক। পুরাতন কুল,লঘু-পাৰু, তৃষ্ণাবারক ও অগ্নিকারক (১)। ইংরাজী মতে,—ইহার প্রতি আধ সেরে—৩৩ গ্রেণ যালবুমেন, ২০৭ শ্রেণ চিনি এবং ৬৭ গ্ৰেণ অল্প দ্রব্য আছে। (১) কর্ক কোল মাং পিত্ত কফবহং । পং পিনিল হং লিং সাং সং পুরাতনং ভূটশনং মং নং লাভ
| খাদ্য বিচায় ।
(৩) খেজুর (খঞ্জ)
মধুর রস, শুক্ৰবৰ্ধক ও গুরুপাক (১) ইংরাজী
মতে,-ইছার প্রতি অাধ সেরেও ১০ গুণ চিনি
(ত) গোড়া লেবুএমীর ---
রূচিকর, অগ্নিক, বায়ু ও কফনাশক এবং কৃসি
নাশক (২)।
(খ) চালিত। (ভব )
পিত শ্লেষ্মা-নাশক, মলরোধক, গুরুপাক-সুতরাং
অগ্নি-মান্দকার (৩)। মতান্তরে ইহা শ্লেষ্মবর্ধক।
(দ) আম (জ)-
মধুর কষায় অস্বাদ, গুরুপাক, অগ্নি-মান্দ্যকারি,
শীতল, পিও (শ্লষ্মানাশক, ধারক এবং অত্যন্ত বায়ু
(১) মধুরং বৃহৎ বৃষ্য খর্জুং গুৰু শীতলং।চৰক
(২) রােনো দীপনী সুগন্ধিযু শােধন।
জীর কফবাতয়ঃ জিমিয়ে ভক্তপানঃ-চক
(৩) হৃদ্যং স্বাদুকযায়াম্নং ভব্যমাঙ্গবিশােধন।
পিত্তশ্লেষ্মহরৎগ্রাহি গুরুবিঃন্তি শীতল-গুত
বিত অধ্যায়।
বৃদ্ধিকারি (১)। ইংরাজীমতে,-আমের আরক অগ্নি
কারক ও সংকোটকা
(খ) টা লেবু(মাতুলু)--
ইহাকে ছােলংলেবু ও বলে। ইহা-অগ্নি-
কারক,রূচিকারক। ইহার ছাল-বতশ্লেষ্মা নাশক ও
কৃমিনাশক। শাস-বায়ুপিত্তনাশক, রূচিকারক,
বমন-নিবারক, শূল ও বায়ুরোগে হিতকর। কেশর
(কোয়া)অগ্নিকারক, গুল্ম ও অর্শরোগনাশক।
টাবরস কফ ও বায়ুবশাস্তিকর, অজীর্ণ অগ্নিমান্দ্য
ও অরূচিরােগ বিশেষ হিতকর (২)।
(১) কষা মধুর এয়ং গুৰু বিহি শীতল।
বৎ কফপিংগ্ৰাহি কাতরং পর।চরক
(২) লং হ্যং মালু উদাহৃ ওং।
কৃতিক দুর্কত ৰাতক্রমিকফাৰহা ।
বাহুশীতং গুৰিং মাংশংমারুত নিবিং।
শূলনিবন্দি ফারোক নাশনং।
পনং লঘু সংগ্ৰাহি গার্শো কেসং।
শলাজীর্ণ বিৰুদ্ধে সন্দ্যাগে কফ মারুতে।
চৌ বিশেষে রসগোপদিতে।-সুক্ষ ও
৮২
দ্য বিচার।
(ন) ভাল।
গুরুপাক, পিত্তনাশক। ইহার বীজ (স)
মুত্রকারক, বায়ু-পিত্তনাশক ও মধুর (১০।
(প) তেঁতুল (তিন্তিরী)
কঁাচাতেঁতুল,—বায়ুনাশক ও পিত্ত-শ্লেষ্ম-বর্ধক।
পাকাতেঁতুল,অগ্নিকর, রূচিকর, কফ ও বায়ু-
নাশক এবং ধারক (২)। ইংরাজী মতে,—ইহা
স্বাদু, মৃদুবিরেচক ও শৈত্যকারক। কোষ্টবদ্ধ, জ্বর
ও অন্যান্য প্রাদাহিক রোগে তেঁতুলের সরবৎ বিশেষ
উপকারক। ডাক্তার ওয়ারিংয়ের ব্যবস্থা মত আখ,
ছটাক পাকা তেঁতুল, ১০ ছটাক জলে গুলিয়া অল্প
চিনি মিশাইয়া সরবত করিতে হয়। রাসায়নিক
(১) ফলং দুরন্সং তেষাং তালজং গুরু পিত্তজিৎ।
তদ্বীজং স্বাদু পাঞ্চ মূলং বাত পিত্তজিৎ।-সুশ্রুত
(২) বাতাপহং তিন্তিরীক মামং পিত্ত বলসিং।
* দীপনং রুচ্যং সম্পং কফ বাতমুং-
এর
দ্বিতীয় অধ্যায়। ৮৩ পরীক্ষায় তেঁতুলে, সাইটীক এসিড,টারিক এসিড ও ম্যালিক-এসি, নাকি অন্ন পাওয়া যায়। (জ)"লিম (তারিখ-- অম্লদালিম, কফ ও বায়ুর শান্তি-কারক। মধুর আস্বাদ (বেদানা) হইলে,—ত্রিদোষের শাস্তিকর হয় (১) । (ব) নারিকেল। কমল অবস্থায়,পিত্তনাশক, জুনাশক ও মুত্র দোষ নিবারক (২)। আধপাকা হইলে,-কিছু দুর্জ। পাকা (ঝুনা) নারিকেল,-গুরুপাক, স্নিগ্ধ, পিত্তনাশক, শীতল, বলকারক, ধাতুপােষক, মুখ- প্রিয় ও বস্তিশােধন গুণযুক্ত (৩)। (১) * * দ্বিবিধং তন্তুবজ্ঞেয়ং মধুরং চামেচ। ত্রিদোষঞ্চ মধুরং অম্লং বাতাকাবহ।-সুত (২) নারিকেল নিহন্তিপিত্তরমূত্রদোষান !– (৩) নারিকেলং গুরুগ্ধং পিং স্বাদুশীতলং। বলমাংস প্রদংহং ব্ৰহণং বস্তিপােধন।
থাব্য বিচার।
তরুণ নারিকেল (ভাবের) জল-মি, ল
শীতল, অগ্নিকারক, পিত্তনাশক ও পিপাসা-নিবা-
ক (১)। পাকা নারিকেলের জল,—পিছু প্রকোপ
কর, অগ্নিকর, বলকর ও রূপাক।
নারিকেল-তল,ধাতুপােষ, বায়ু-পিভের
শান্তিকারক। শাসকান্স, যক্ষারােগে ইহার ব্যবহারে
বিশেষ উপকার হয় (২)। ইংরাজী মতে,-ইহা
পোষক,ডং টমসন নারিকেলের তৈল “কলিভার
জুইলেব” পরিবর্তে ব্যবহার করিতে বলেন। ভাই
গ্যারড় ঐ মতের পাষকতা করেন। ভাং শট ইহার
(১) সিং স্বাদু হিমং হৃদ্যং পনং বকিশােধনং।
বৃষ্যং পি পিপাসাং নারিকেলােকং শুরু।
(৫) নারিকেল ফলো তং তৈলং বাজীকরণ শুরু।
পােষণং ক্ষীণধাতুনাং বা পিত্ত প্রণাশনং।
মুত্তাকাতে এমেহেচ খাসকামেচ নি।
যেখালােপেচ হিংতান্তর করণং ভৰা-আয়ুর্বেদ
দ্বিতীয় অধ্যায়। সদ্য দ ঋ(১-৪) ছটাক মাত্রায় যক্ষারােগে ব্যবহার করিয়া উপকার পাইয়াছেন। নারিকেলের দুগ্ধ- অধিকমাত্রায় বিরেচক। ভাং, উভ, ইহা “ক্যারঅইলের পরিবর্তে ব্যবহার করিয়া ফল পাইয়াছেন। ইংরাজী মতে, ভাবের জলের শৈত্যকারক ও বননিবারক শক্তি আছে, এজন্য জ্বাদি রােগে পিত্ত- বমন হইতে থাকিলে, ভাবেরল বিশেষ উপকার করে। (ব) নোনা (নবনী)- রূক্ষম ও বায়ুবৰ্ধক (১)। এই ফলটীর যতো কম ব্যবহশ্ন হয় ততােই ভাল। (ভ) নিচু ।- রূক্ষম, বায়ুবৰ্ধক ও অগ্নিমান্দ্যকারক। (ম) পানীফল ২াটক বা সিঙেড়।।-- শীতল, গুরুপাক ও অগ্নিমান্দ্যকারি (২)। ভাব (১) অবদংশ ক্ষয়ং রুং বালং নবনীফলং-চরক (২) গুরবিষ্টতিশীতোচ শৃঙ্গাককশের কৈ-সুশ্রুত।
খাদ্য বিচার।
প্রকাশ মতে,—ইহাস্বাদু, হিম, বলকারক, ধারক,
শ্লেষ্ম-বর্ধক ও শুক্র-বর্ধক। কশেরূক ওকেশুর) ঐ
গুণযুক্ত।
(য) পাতিলেবু (
লিপাক)
কাগচি লেবুর সম গুণযুক্ত।
(র) পেঁপে।
পিত্ত-নিবারক, মৃদু-বিরেচক ও কিছু ভার।
যকৃত পারা অর্শ ইত্যাদিতে সুপথ্য।
(ল)পেয়ারা।--
গুরুপাক, অগ্নিমান্দ্য-কারি ও অত্যন্ত ভার,
ওলউঠার প্রবল সময়ে ইহার ব্যবহার এককালীন
নিষিদ্ধ ঐ ভীষণরােগের প্রাদুর্ভাব কালে, পেয়ারা
খাইয়া দুই এক জনকে রােগের আক্রমণে পড়িতে
শুনা গিয়াছে। আমাদের মতে এ ফলটী একেবারে
ত্যাগ করাই ভাল।
(ব) বাদাম, পেস্তা, আকরট, প্রভৃতি ফল,--
রক্তকারক,বলকারক,পুরুষত্ব-বর্ধক, পিত্ত-শ্লেস্মার
প্রকোপর, গুরূপাক ইত্যাদি গুণ দোষ যুক্ত।
দ্বিতীয় অধ্যায়।
৮৭
() বেল (বিশ্ব বা গফল)
কচিবেল,-কটু তি ভাস্বাদ, কফ ও বায়ুনাশক,
অগ্নিকারক, এবং ধারক; পাকাবেল গুরূপক, অগ্নিমান্দ্য
কারক (১)। ভাবপ্রকাশ মতে, পাকাবেল-মৃদু
বিরেচক, আধপাকাবেল,—অগ্নেয় ও
বেল-শুট,-ধারক, অগ্নিকীরক বায়ু ও কফনাশক।
ইংরাজী মতে-বেলে ট্যানিক নামক উদ্ভিদাক্স
ও চিনির ভাগ আছে, • এমতে-বেলন্দুবিরেচক,
সংকোচক ও পােষক। বেল পোড়াইলে—ইহার
সংকোচক ক্রিয়া বৃদ্ধি হয় ও অতিসার আমাশয়
রােগেবেলপোড়। আহার ঔষধ দুয়েরই কাৰ্য্য করে।
ভাং, ভোলানাথ দে বলেন,—ওলাউঠার সময়ে,
বেলের সরবৎ খাইলে ওলাইঠা বারণ হয়।
(২) কফানিলহরৎ তীক্ষ্ণং নিগ্ধং সং গ্রাহি দীপনং ।
কটুক্তি করােষ্ণং লংবিমুদাহৃতং।
দেববিদ্যাম্পক্কং মধুরানুসং গুরু।
বিছা হিবিষ্টকং দোষং পুতিনাতং ।-সুশ্রুত
৮৮
বাদ্য
বিচার।
}
==
(ষ) হরিতকী (অভয়া)।
ভাবপ্রকাশ মতে,হরিতকি শাসকাস, প্লমেই,
অর্শ, গ্রহণী, গুল্ম, কামল, জ্বর, প্লীহা, যকৃত প্রভৃতি
গেনিবারক গুণযুক্ত। ইংরাজী মতে,-জঙ্গী
হরিতকী (কঁচা শু কন) অতিবরেচক। সাধারণ
হরিতকী—বিরেচক ও সংকোচক উভয় গুণযুক্ত।
ইহা ভিন্ন ইহার অগ্নেয় ও বলকার গুণও আছে।
ভাং, ওয়ারিং বিরেচন জ’ নিম্নমত ব্যবস্থা দেন
যথা,-
হরিতকী,
৬টা
দারচিনি,
••• ৩০ রতি
দুগ্ধ,
২ ছটাক
দশ মিনিট সিদ্ধ করিয়া নামাইয়া লইবে। শীতল হইলে,
এক মাত্রায় একবারে পান করিবে। বয়স বিবেচনায় মাত্রার
কমবেশী করিতে হয়।
বর্ষাকালে সৈন্ধলবণ, শতিকালে শুঠ,
শীত কালে-পিপুল, বসন্তে-মধু, ও গ্রীষ্মকালে
০০০
০
দ্বিতীয় অধ্যায়।
গুড় নহ হরিতকী এক বৎসর কল সেবন করিলে
রসায়ন (পরিবর্ভক ক্রিয়া করে।
ইহাকে “ঋতু
হরিতকী” বলে।
(স), শশা,-
অগ্নিমান্দাকর ইত্যাদি দোষযুক্ত
দোষযুক্ত সুত বা
ইহার ব্যবহার যত কম হয় ততোই ভাল।
ইহা ভিন্ন অারও অনেক রকম ফলের ব্যবহার
আছে, বাহুল্য বিবেচনায় আপাততঃ সে সকলের
উল্লেখে ক্ষান্ত থাকিলাম।
৯০ খাদ্য বিচার ১০ম-দুগ্ধ। দুগ্ধ আমাদের একটা প্রধান ও উপক.রি খাদ্য। কি প্রাচীন ঋষিগণ কি পাশ্চত্য বৈজ্ঞানিক গণ সক- লেই একবাক্যে দুগ্ধের উপকারিতা স্বীকার করিয়া- ছেন। ফলক যা, যে দুগ্ধ আমাদের অজীবনের অবলম্বন জননী জঠর হইতে ভূমিষ্ঠ ভূমিষ্ঠ মাত্র যে দুগ্ধের উপর জীবননির্ভর করিয়া, সংসার ত্যাগ কাল পর্যন্ত যাহার গুণে দেহ রক্ষা করি, কেবল যে দুগ্ধের বলে চিরজীবন জীবন রক্ষা হয়, (म * কেবল দুগ্ধ পান কবিয়া,-অন্য কোন খাদ্য না খাইয়াও জীবন রক্ষা হয় । অনকানেক যোগী ও উদাসীনদিগকে কেবল দুগ্ধপান করিয়া দীর্ঘজীবি ও সুশরির দেখা যায় । ইহাতে স্পষ্টই প্রমাণ হয় যে, কেবল দুগ্ধপানে জীবন রক্ষা হয়, কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত সমাসপরীক্ষায়, দুধে-শতকরা ৮ ভাগ মাত্র অঙ্গার ও ৫ ভাগ মাত্র নাইটেজেন থাকায়, উহ। দেহ রক্ষার একমাত্র সাধন বিবেচিত হয় না, তবে অনুধাবন ও পরীক্ষন এতদুভয়ের মধ্যে পরীক্ষনই যে অধিক অরিনীয় তাহা সৰ্ববাদী সম্মত।
দ্বিতীয় অধ্যায়।
দুগ্ধ যে, নির্বিবাদে শ্রেষ্ঠ ও প্রধান খাদ্য তাহা বলা
বাহুল্য।
আয়ুৰ্বেমতে,—দুগ্ধ পরিবর্তক, বলকারক,
পুষ্টিকারক, কামোদ্দীপক, মেধাবর্ধক, কান্তিকারক,
জ্ব রাবারক ও অায়ুব্ধক। ইহা সকল প্রাণীর
জ,তীয় অহার ।
বায়ু-বিকৃতি, শশাণীত-বিকৃতি
পিত্ত-বিকৃতি, কিছুতেই দুগ্ধপান নিষিদ্ধ নহে।
জীর্ণজ্বর, ক্ষয়কাস, হাঁপক্টাস, গুল্ম বায়ু, ভয,
মত্ত তা, দাহ, পিপাসা, হৃৎরােগ, পাণ্ডুরােগ, গ্রহণী-
রােগ, অর্শ, শূল, অতিসার, যোনীরোগ, গর্ভস্ৰৰ
ইত্যাদির শান্তিকারক এবং বালক ও বৃদ্ধের পক্ষে,
ক্ষীণদেহীর পক্ষে, ক্ষুধাতুর, তৃষ্ণাতুর, পরিশ্রম ও
মৈথন-ক্লান্ত; দেহীর পক্ষে, দুগ্ধ উত্তম পথ্য (১)।
তত্র সর্বমেব ক্ষীরং প্রাণিনামপ্রতিসিদ্ধং জাতিসত্মাৎ।
বাতপিত্তশেণিতমানসবিকারেঘবিরুং জীনজরকাসাসশাে-
ৰক্ষয়গুলমোম্মদেদ মুচ্ছ ভিম মাহপিপাসহৃদ্ধন্তিপান্ত রোগ গ্রহণী
দোষাশঃশূলোবাতিসারপ্রবাহিকাষেনিরোগগর্ভাবরক্তপিত্ত
শ্রমমহং পাপ মাপহং বল্য বষ্যং বাজীকরণঃ রসায়নং মমধ্য
খাদ্য বিচার । ০ এক দগ্ধ ভিন্ন একাধারে এত গুণের সমাবেশ আর কোন দ্রব্যেই দেখা যায়না এবং গুণবর্ণনার এমন সামাঞ্জস্যও অন্য কোন খাদ্যের উপর নাই- যাবতীয় প্রাচীন ঋষিগণ वारका দুগ্ধেব সুখ্যাতি করিয়া গিয়াছেন *। তাইতে বলি,- স ধানমস্থাপনং বয়ঃস্থাপনময়ুষ্যংজীবন বৃংহণং বমনং বিবেচন তুল্যগুণত্বাচ্চো জসসা বর্ধনমিতি বালবৃদ্ধক্ষতক্ষীণানাং ক্ষুব্যবা- ব্যায়াম কর্শি হানা পথ্যতমং। সুতঃসূত্রস্থান। * যথা দুর্গং রং পয়ং স্তনং বালজীবনমিত্যপি। দুং সুমধুরং স্নিগ্ধং বাতপিত্তহরং সরম, ॥ স্য শুক্র রং শীতং সাত্মং স ব শরীরিণাম। জীবনং বহণং বল্যং মৈথাং বাজিকরং পরম । বয়ঃস্থাপকমায়ুষ্যং সন্ধিকারি রসায়ন। বিরেকবাম্ভিবন্তিনাং তুল্যমােজবিবর্ধনম্ । জীর্ণর মনোবেগ শোক মূহ ভ্রিমেযু। গ্রহণ্যাং পাথুরোগেচ দাহে তৃষি হৃদমিয়ে । শূলেদাবৰ্ত্তগুল্মেষু বস্তিবেগে গুদারে । রক্তপিত্তেহতিসারে চ যােণিরোগে শ্রমে কমে। বালবৃদ্ধ গতক্ষীণ ক্ষুব্যবায়কৃশাশ্চ যে। তে ভ্য সতিশয়িতং চিতমেতনুদা তম্।” ইত্যাদি-ভাব
দ্বিতীয় অধ্যায়।
বিলাতি ব্যবস্থায় “খ”(Broth) খাইয়া, কুকু বংশ
ধ্বংস না করিয়া, পরিমেয় পরিমাণে দুগ্ধপান করিলে,
শত শত “খ” পানের ফল পাইবে, ভগ্নদেহ সুস্থ
হইবে, জাতি কুল সকলই বজায় থাকিবে।
অথ ক্ষীরাণি ৰক্ষ্য করুচ গুণী চষে।
অক্ষিীরজাক্ষীরং গোক্ষীবং মাহিয।
উষ্ট্ৰানামথনাগীনাং বড়শায়া স্ত্রিয়াখা।
প্রায়শাে মধুরং মিং শীতং স্তন্সং পয়গামতং ।
প্রীণনং বৃংহনং বষ্যং মেধ্যং বলং মনস্কর।
জীবনীয়ং শ্ৰহরং খানাসনিৰহণং ।
হন্তি শোণিতপিত্ত সন্ধানং বিহঙ্গ চ।
সর্শ্বপ্রাণভৃত্যং সাত্মৎ শমনং শােধনংতথ।।
তৃপায়ুং দীপনীয় শ্রেষ্ঠ ক্ষীণক্ষতেযুচ।
পাওয়ােগে জম্নপিত্তে শেষে গুল্মথোরে।
অতীরে জরে দাহে স্বয়ধো চ বিধীয়তে।
যোনী প্রশেষে চ মূত্রে প্রদরেষু চ।
পুরিষে গ্রধিতে পথ্য বাতপিত্তবিকারিণ,
চরকসংহিতা
ইহা, ভিন্ন অায়ুর্বেদীয় অন্যান্য গ্রন্থে প্রমানবচন, বাহুল্য
বােধে উদ্ধত হইল না-ঐ সকলের সহিত ও উপরি উক্ত মতের
সম্মিলন আছে।
খাদ্য বিচার । —একথায় যাঁহাদের বিশ্বাস না হয় বা প্ৰ'চীন দুগ্ধ ব্যাখ্যর উপর বিশ্বাস করিয়া যাঁহারা তঁাদের বড় সাধের-বলকারক “ব্ৰথ” ছাড়িতে সাহসী নাহন, তাহারা এবিষয়ের দুই এক খানি ইংরাজী পুস্তক দেখিলেই স্পষ্ট জানিতে পারিবেন যে, ইংরাজী সমাসপরীক্ষায়ও দুগ্ধের নিকট মাংসের হার, হই- য়াছে এবং দুগ্ধে যে শরীর পােষণ উপযােগী দ্রব্য যথেষ্ট আছে—তাহা সকল ইংরাজ চিকিৎসকগণই একবাক্যে স্বীকার করিয়াছেন (*) এবং আমাদের এ গরম দেশে মাংস ইত্যাদি গরম খ্যাদের অধিক ব্যবহার করা যে অন্যায়, তাহা অনেকানেক বিজ্ঞ ইংরেজ পণ্ডিতগন স্পষ্টভাবে বলিয়াছেন, এমন কি-হারা তঁাহাদের এদেশে নবাগত ইংরেজাদগকে, মাংস ইত্যাদি গরমখাদ্য ছাড়িয়া * Milk contains all the four classes of aliment essential to health-practical Hygiene p. 231 দ্বিতীয় অধ্যায়। কেবল সাদাসিদে রূটা মাখন ইত্যাদি খাইতে যুক্তি দিয়াথাকেন। তবেই দেখ এদেশে মাংস ইত্যাদি গরম খাদ্য ছাড়িয়া, দুখের মত উপকারি খাদ্য ব্যবহার করা উচিৎ কি না। ইংরাজী,মতে দুগ্ধ—বলকারক, পুষ্টিকারক, স্নিগ্ধ- কারক ইত্যাদি গুণযুক্ত। এ মতে পুরাতনঅতিসার, গুলবায়ু(হিষ্টিরিয়া-) বাত, ইত্যাদি রােগে, দুধে আহার ঔষধ দুয়েরই কাৰ্য্য করে। দেশের বিখ্যাত ভাজার ফিলিপ, ঐ সকল রােগে নিম্নমত ব্যবস্থায় দুধ খাওয়াইতে বলেনমনী উঠাইয়া সেই ননীতােলা দুধ, ১-৩ ছটাক মাত্রায় দিনের মধ্যে ৩৪ বার খাইতে দিবে রােগের যেমন উপসম হইতে থাকিবে তেমনি মাত্রা বাড়াইয়া খাওয়াইবে। মধুমেহ (diabetes) রােগেও (*) "The newly-arrived European should coutent himself with plain breakfast of bread and butter, with Tea and Coffee, and avoid indulgence in meat fishi eggs or butter tost." Sir Reynold martin's TROPICALCAL CLIMATES
খাদ্য বিচার।
ডাক্তারেরা দুধের ব্যবহার করেন, এ স্কট ভনকিন, -
বলেন যে, তিনি একটী মধুমেহের রােগীকে—কেবল
দুধ খাওইয়া চিকিৎসা করায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঐ
রােগীর ৭ সের প্রস্রাব ও ১৯৩ গ্ৰেণ চিনি কমিয়া-
ছিল *।
(পৃথক পৃথক গ্ধে
(ক) নারীদুগ্ধ,
মধুব, লঘুপাক, শীতল, অগ্নিকারক, বায়ুপিত্তনাশক।
ইজমিতে,-নারীদুগ্ধ-শতকরা—৮৮৩.৬ ভাগ
জল, ৩১.২ভাগ কোজন,২৩.ভাগ লবণ আছে।
ইহা ভিন্ন প্রসবের পর ৫৭ দিন পর্যন্ত দুধে এক রকম
রেচক পদার্থ”* থাকে,যাহা পান করিয়া শিশুর কোষ্ঠ
(*) ,মধুমেহ রোগে প্ৰস্ৰাপ খুববেশী হয় ও প্রস্রাবের সঙ্গে
চিনি বার হয় ইহাই এ রােগের প্রধান লক্ষণ।
। নাৰ্যালঘুপয়ঃ শীৎীপংবাতপিত্তজিৎ ইত্যাদি। ভাব
* কোলেষ্ট্রমcolostrum
ত
দ্বিতয় অধ্যায়। ৯৭ খোলস থাকে। নারীদগ্ধে অন্য সকল দুগ্ধ অপেক্ষা, চিনির ভাগ কিছু বেশী কিন্তু একমাষ পৰ্যন্ত কিছুম থাকেএবং•কোজন, ননী ও লবণের ভাগ বেশী হয়, ৮১০ মাষে চিনির ভাগ খুব বৃদ্ধিপায় এবং কেজিনের ভাগ কমিয়া দাড়ায়। (খ) গাভীদুগ্ধ। স্নিগ্ধ,কিছু গুরুপাক, রক্ত পিত্তের-শান্তিকারক ও শীতল গুণফুজ (১)। মতান্তরে,ইহা জীবনীয় রসায়ন (পৰিবৰ্ত্তক) মেধাদ্ধক ; বলকারক, স্তন্য- দুগ্ধ-বৰ্দ্ধক, সংরক এবং শ্ৰভ্ৰম,মদাত্যয়,শ্ৰহীনতা, শাসকাস, যক্ষা, অতিক্ষুধা, অতিতৃষ্ণা, জীর্ণজ্বর, মুত্র- কৃচ্ছ ও রক্তপিত্তনাশক (২)। (*) “শিশুর আহার”নামক প্রস্তাবে এ বিষয়ের অ্যান জ্ঞাতব্য বিষয় লিখিত হইল। (১) গােক্ষীর মনভিষ্যন্দি সিংগুরুসায়ন। রক্তপিত্তহরং শীতৎমধুরং রসােপাকয়েঃ ॥-সুত (২) *** গব্যং তু জীবনীয়ং রসায়নং। ক্ষতক্ষীণহিতং মেধং বলং শুন্যকর। সরং। শ্ৰম ভ্রম লক্ষ্মীখাস কাসাতিতৃ ক্ষুধঃ । জীর্ণরং মূত্রকৃচ্ছং রক্তপিত্ত লাশয়েৎ ॥ৰাগভট ১৮ খাদ্য বিচার। চরকসংহিতা মতে,-গাভীদুগ্ধ-স্বাদু, শীতল, মৃদ, স্নিগ্ধ, ক্লেদর, গুরুপাক, ধাতু-পােষক, জীবন- রক্ষক, পরিবর্তক ইত্যাদি গুণমুক্ত (১)। ভাবকাশ মতে,-ইহার নিত্য সেবনে, জরাব্যাধি নাশ হয় এবং ইহা স্নিগ্ধ,শীতল,গুরুপাক,অল্প শ্লেষ্ম- কর এবং রিদোষ-নাশক প্রভৃতি গুণযুক্ত (২)। ইংরা- জীমতে,—ইহাতে শতকরা ৮ ৪২. জল, ৪২.১ কেজীন, ২৮১ ননী, ২৩.৯ চিনি এবং ৫৭ লবণ আছে। গাভীর বর্ণভেদে দুগ্ধের গুণের ইতর বিশেষ হয় সে মতে, কৃষ্ণবর্ণা-গাভীদুগ্ধ—বায়ুনাশক, পীতবর্ণার (১) হৃদু শীতং মৃদুম্বিং বহলং শ্লেষ্ম পিলিং। গুরু মন্দং প্রসন্নঞ্চ গবং দশগুণং পয়ঃ। তবেগুণ মেবেজিঃ সমান্যাভিয়েৎ । প্রবরং জীবনৗয়ানং ক্ষীরমুক্তং রসায়নং ॥ চরক। (২) গব্যং দুগ্ধং বিশেষেণ মধুরং পাকয়ে। শীতলংশুন্যকৃৎস্নগ্ধ বাতপিত্তনাশনম্ ॥ দোষধাতুমলস্রোতঃ কিঞ্চিৎ ক্লেক রং গুরু। জরাসময়েগাণাং শান্তি কৃৎ সোনাং সদা-ভাব।
দ্বিতীয় অধ্যায়।
4
দগ্ধ-বাতপিত্তনাশক,শ্বেতবর্ণারদ ঋগুরুপাক ও
শ্লেষ্মাকর এবং রক্তবর্ণা গাভীরদুগ্ধ বায়ুনাশক (১)।
নব-গাভীর দুগ্ধ-ত্রিদোষনাশক, তৃপ্তকর এবং
বলকর (২)।
গাভীর আহারের তারতম্যানুসারে দগ্ধেব গুণ
ভেদ হয় সে মতে,অল্পাম ভাজা-গে-দুগ্ধ-গুরুপাক,
কফবৰ্দ্ধক, বর্ণকারক, পুষ্টিকারক, স্বাস্থ্যকারক গুণযুক্ত
এবং যাহারা তৃণ বীজ প্রভৃতি ভক্ষণ করে তাহাদের
দুগ্ধ গুণযুক্ত ও হিতকর (৩)।
অল্প গরম গাভী বা ছাগ-দুগ্ধ মন্থন করিয়া
তৈলের ভাগ তুলিয়া ফেলিলে, ঐ দ,
দুগ্ধ লঘুপাক
(১) কৃষ্ণায়গােভবেন্দগ্ধংবাতৰি গুণাধিকং।
পীতায়া হতে পিং তধাৰাত হরং ভবে।
শ্লেষ্মলং গুরুকুায়। রচিত্ৰাচ বাং। তা, প্ৰ,
(২) বক্ষপিণ্য। ফ্রিদোষং তং বলং পয়ঃ। ভা, এ,
(৩) স্বল্পান্নতক্ষণজাতং ক্ষীরং গুরংকফ প্রদ।
তত্ত বর্ণৎপরংবষ্যং স্থানাং গুণদাত্মকং।
পলাল তৃণ কার্পাস বীজাতং গুণৈহিতং। ভা, এ,
১০০
খাদ্য বিচার ।
পুষ্টিকারক, জ্বর এবং বায়ু পিত্ত ও কফরােগ নাশক (১)।
এই দগ্ধ ইংরাজী মতের( Butter milk) তুল্য,
এমতে ইহা অন্ন ইত্যাদির সহিত খাওয়া ভাল, ইহাতে
তৈলপদার্থ ও লাবণিক-পদার্থের ভাগ কম ও চিনির
ভাগ বেশী ( আধ সুেরে ৪৪৮শ্রেণ) এবং তৈলের
ভাগ খুব কম(অধি সেরে৪৯গ্ৰেণ)থাকে। এই প্রকার
দগ্ধ জ মানী দেশে বালকের এহারের জন্য
ব্যবহৃত হয়।
কাচা দুগ্ধ—ভার এবং চক্ষু রোগকারী (১)। পক
দুগ্ধ (জাল দেওয়া দুধ) লঘুপাক (*) এবং ধারােষ্ণ
দ ঋ (দোহন হইলে যতক্ষণ গরম থাকে)-অধিক
গুণকারি হয় (৩)।
(১) ক্ষীরং গব্যমথাং বা কোষ্ণ দতাহতং পিবেৎ
লঘু বষ্যংজহরং বাতাপিত্ত কপেহং। ভাবঃ
(২) পয়োহভিষ্যতি গু বানং প্রায়শঃ পরিকীর্তিতং। সুশ্রুত
(*) জাল দেওয়া দুধ, গরম গরম খাইলে কফ ও বায়ুনাশক
এবং ঠাণ্ডা হইয়া গেলে, পিত্তনাশক হয় যথা-
“পয়োভিষ্যন্দ্যিগু ধানং শৃষ্ণেং কফবাতলিং।
শৃতণীতপিত্তনুং সদ্যোগং রসায়ন। বাগভট
(৩) * * ধরোষ্ণং গুণবংকীরমিতি। ঐ
দ্বিতীয় অধ্যায়।
১০১
চন্দ্র ও সূৰ্য্য কিরণের সহিত জীবদেহের বিশেষ
অম্বন্ধ থাকায়, রাকালে চন্দ্র কিরণের গুণে এবং
পরিশ্রম শূন্য থাকায়, প্রাতঃকালের দুগ্ধ-ভারও
শীতল গুণযুক্ত হয় এবং দিবাভাগে সূর্যের তাড়নে
এবং ব্যায়াম ও বায়ু সেবন গুণে অপরাহের দুগ্ধ-বায়ুর
স্থৈর্যকর, শ্রান্তিনাশক এবং চক্ষুর দীপ্তকর গুণযুক্ত(১)
বৎসাহীমা ও বলবৎস। গাভীর দুগ্ধ অত্যন্ত
অনুপকারী (২)। এই মতটীর সহিত ইংরাজী
এতের বেশ মিলন আছে। ইংরাজীমতে, বাল
বৎসর দুগ্ধে পূর্বোক্ত “রেচকপদার্থ” থাকায়, উহা
সেবন করিলে উদরাময় রােগ জন্মাইবার সম্ভাবনা
এবং বৎসহীনার দুগ্ধে* তৈলদ্রবের আধিক্য জন্য
(১)প্রায় প্রাকিং ক্ষীরং শুরু বিষ্টন্তি শীতলং ।
বাতেলােম গুণত্বাচ্চ ব্যায়ামাবতন্ত।
দিবাকরাভিতানাং ব্যায়ামানিল সেনাং।
বাতানুললামি শ্ৰন্তিং চক্ষুষ্যং চাপরাহিকং। সুশ্রুত
(২) বিবসা বাল বংসায়া পয়েদোষলমুক্তমং। ভা, এ,
১০২ খাদ্যবিবিচার ৫ { গুরুপাক। ইহা ভিন্ন, ইংরাজী মতে বাছুরের বয়স ভেদে দধের সারদ্রব্যের যে কমবেশী হয়, সে শুম্বন্ধে অধ্যাপক ম্যাকনামারা বাংলাদেশের গাভী দুগ্ধ পরীক্ষা করিয়া যে মন্তব্য দিয়াছেন, নিম্নে তাহার উল্লেখ করা গেল, বাছুরের বয়স যত মাষ দৈনিক যত দুধ হয় শতকরা নির্জল দ্রব্যের পরিমাণ শতকরা মাখনের পরিমাণ শতকরা চিনির পরিমাণ শতকরা চর্বি। পরিমাণ ভকা লবণের পরিমাণ ১ মাষ |ঃসের ১৫'১২ ৩.৯৮ ৪' ১৮ ৩% ১ ১২৮২ ৪০০ ৪৪ ৬০ ০ ৭ ০ 3' ১ ৪৭.০ ৫ /২ ১১১০ ১৩০ ১. ৩ ০ ৭৮ ৭ ৬। ১২• ৩০.৫ ঃ ১০ /৩ ১১:৩৫ ?? ৩' ৮৬ ১) ০৮২ ১০ ২। ১১:১২ ০১. ও' ৩৭ ৩ ০' ৩৮
দ্বিতীয় অধ্যায়।
মহিষী দুগ্ধ
ইহা গাভীদুগ্ধ অপেক্ষা স্নিগ্ধতর ও গুরুপাক
এবং চক্ষুরোগ-কাবক, বায়ুনাশক, শীতল ও নিদা-
কারক (১)। ইংরাজী মতে–নির্জল পদার্থের ভাগ
অধিক থাকায় ইহ। গভীদুগ্ধ অপেক্ষা অধিক বলকা-
রক ও পুষ্টিকারক ।
ছাগিদুগ্ধ।
গাভীদুগ্ধের সম গুণকারী ও ক্ষীণ দেহীর পক্ষে
হিতকারি এবং সকল রােগেরশান্তিকর (২)। ইংরাজ।
মতে-ইহাতে শতকরা ৮৬৫.৩ রস ৪১.১ কেজীন
২৮. ননী এবং৩০ •০ ভাগ চিনি ও লবণ আছে এবং
ইহাতে গাভীদুগ্ধ অপেক্ষা সারদ্রব্য (caseine) ও চিনি
আছে। ছাগদগ্ধে হারছিএসিড(Hircic acid) নামক
অম্ল থাকায়, উহাতে একরূপ দুর্গন্ধ থাকে।
(১) মহাভিষ্যন্দি মধুরং মাহিষং বহ্নিনাশনং।
নিদ্রাকরংশীতকরং গব্যাংতিং গুরু। সুশ্রুত।
(২) গ্যতুল্যগুণংত্বং বিশেষাচ্ছে। শিনাং হিতং ।
দীপনং লসংগ্ৰাহি শাসকাসাসু পর্তুমু। সুশ্রুত।
১০৪ খাদ্য বিচার। গর্দভী দুগ্ধ উষ্ণ বলকারক,হস্থ পদের বাতয়াের্গ নাশক,মধুরা, পশ্চাত লবণ রসবিশিষ্ট, রূক্ষম ও লঘু (১)। ইংরাজী মতে ইহাতে ৯০৭৩ জল ১৮০ কেজিন, ১৩.২ ননী, ৬৮.৫ ভাগ লবণ ও চিনি আছে। এমতে ইহাতে অন্যান্য দগ্ধ অপেক্ষা সারপদার্থ ও নবনীর ভাগ কম আছে এবং চিনির ভাগ বেশী থাকায়, ইহা অনেকাংশে নারীদগ্ধের সগুণকারী এজন্য স্তন্য- পয়া বালকদের পক্ষে বিশেষতঃ অগ্নিমান্দ্য জন্মিলে গর্দভী দগ্ধ বিশেষ উপযোগী। ৫ মেষী দুই- মধুর স্নিগ্ধ পিওশ্লেষ্ম-বৰ্ধক ও গুরুপাক এবং হপিকাসে বিশেষ উপকারী (২)। ইংরাজী মতে ইহ আয়ুরে বেদ মতে । একশফ শ্রেণীভুক্ত। (১) উষ্ণং চৈকশফং বলং শাখাবাহরৎ পয়ঃ । মধুবারসং রুম্মং লবণানুসং লঘু। সুশ্রুত (২) আকিং মধুরং মিং রুপিত্ত কফাষহং । পথ্যংকেবলৰাতে কাশেফালি সবে ।
দ্বিতীয় অধ্যায়। ইহাতে ৮৫ ৬-জল ৩১.২ কেজিন, ২৯.২ ননী ৩৪.৭ চিনি এবং ৪.৭ ভাগ লবণ আছে এবং ইহা অনে- কাংশে ছাগী দুগ্ধের সম গুণযুক্ত। ইহাভিন্ন আরও অনেক রকমের দুগ্ধ আছে অব্য- বহাৰ্য্য বােধে তাহ। .দর উল্লেখ করা গেলনা। (সেবন বিধি) (১) দুগ্ধমাত্রেই অগ্নিপক (জাল দেওয়া ) হইলে লঘুপাক হয় সুতরং জাল দিয়া-খাওয়া উচিৎ। নারীমুগ্ধ কঁাচা খাইলে উপকার হয় (১৮। (২) অধিক সিদ্ধ করিলে দুঞ্চমাত্রই গুরুপাক হয় কিন্তু ইহার পুষ্টিকারক ক্রিয়ার বৃদ্ধিপায় (২)। (৩) দূষিত (পচা) দুর্গন্ধযুক্ত অম্লধাৰ্মাক্রান্ত (টকহলে) বিবর্ণ, বিরস, লবণসংযুক্ত বিগ্রথিত (ছড়া) দুধপান করিবে না (৩)। (১) নায়ীক্ষীরং স্বামমেব হিংনতুশৃতং হিং-ইত্যাদি। ভাঃ (২) *** তদেষতিবৃতং সর্ব গুরু বৃংহণমুচ্যতে। সুশ্রুত (৩) অনিষ্টগন্ধম বিবর্ণং বিরসঞ্চ। বঙ্গং সলবণ ক্ষীরং যচ্চ বিগ্রথিত, ভবে।। সুত্রত।
খাদ্য বিচার। (৪) দুধের সহিত অর্ধেক জল মিশাইলে লঘু হয় এবং জল মুহিত দুগ্ধ অত্যন্ত গুরুপাক। এই মতটার সহিত ইংরাজী মতের বেশ মিলন আছে। (৫) জীর্ণরে ও ক্ষীদেহে দুগ্ধ অমৃতের ন্যায় কার্যকারি কিন্তু তরুণ জরে বিষবৎ কার্য করে (১)। এই নিয়ম অাজকাল বড়ই অনাদর দেখা যায়, এক দিকে কতগুলি অবিবেচক ভাক্তার তরুণ জ্বরে দুধ খায়াই নীঞ্জের বাহাদূরী দেখান, অপর পক্ষে কোন কোন কবিরাজ” স্বত্বেদুধ” ঐ গেলেও দিতে চাননা কিন্তু বড়ই দুঃখের কথা যে, এই উভয় শ্রেণীই নিতান্ত গায়ের জোরে ফাষ করেন। সকল কবিরাজী শাস্ত্রেই জীর্ণ, ক্ষীণ, দুৰ্বল রােগীকে দুগ্ধ দিয়া বল রাখিতে বলেন, অথচ কবিরাজ মহাশয় বলরক্ষা দূরে থাক, অবসন্ন হ’র মৃত্যুমুখে পড়ার উপক্রম হলেও এক ফোটা দুধ দিয়া জীবন রক্ষা করেন না । অপর পক্ষে রােগীর দেহ মক্তপূর্ণ, সে চোকু মুখ টন্ টন্ করছে, ক্ষুধা (১) “জীর্ণক্সরে কফেক্ষীণে ক্ষীরসাদমূতােপমং। ভদেব তরুণে পীতংবিষবন্ধন্তি মানবং। (*) প্রকৃত প্রস্তাবেই দুধের নামে আঁত কাইয়া উঠেন এমন দুই এক জন কবিরাজের সহিত আমার বিশেষ পরিচয় আছে, তাহা দের দৃঢ় বিশ্বাস যে, দুধে শ্লেষ্মা বাড়ায় সুতরাং অসত্বে কি ক্ষত বোগে দুধ, দিলে শ্লেষ্ম বৃদ্ধি হয়, বলাবাহুল্য তাঁহাদের এধারণ। সম্প। ভ্রমপূর্ণ।
দ্বিতীয় অধ্যা। ১০৭ তৃষ্ণার নাম মাত্র নাই, খাবার নাম কল্পে গা বমি বমি করছে, ডাক্তার বাবু দৌর্বল্যকারি (AntipJhogistic) চিকিৎসায় প্রতি হয়ে, গাড়ি গাড়ি মূত্ৰকারক ও গৰ্ম্মকারক (diuratic and diaphoratic') অসুধ খায়াইয়া রােগীর বল কমাইবার চেষ্টায় আছেন কিন্তু পথ্য দেওয়া হচ্ছে ঘড়া ঘড়া দুধ, মােটা বুদ্ধিতেই বুঝে দেখুন, এ অবস্থায় দুধ দেওয়া কতদূর সম্ভুত ? বাস্তবিক পক্ষে কৃত গুলিক গোড়া কবিরাজ, আর গোয়ার ডাক্তার চিকিৎসা কালে দুগ্ধপথ্যের বড়ই অপব্যবহার করেন, তাহাদের উভয়েরই জানা উচিং যে, দুগ্ধ হৃদ্ধে আমাদের আয়ুৰ্ব্বেশাস্ত্র যাহা বলিয়া গিয়াছেন, তাহতে ভাল ব্যবহার আর কেহই বাহির করিতে পারিবেন না। ধন্বন্তরির উপর মতচলাইয়া বাহাদুরি লইবার ক্ষমতা কাহারও নাই। সুতরাং জীর্ণ জর প্রভৃতি যে যে স্থানে আয়ুদ্বে দুর্গের ব্যবস্থা করিয়াছেন অবশ্যই সেই সেই স্থলে দুগ্ধ অমৃতের কার্য করিবে, ভগ্নদেহে সুস্থ করিবে, শরীর ইন্দ্রিয় মন এবং আত্মার সংযােপ শক্তির বৃদ্ধি পাইয়া, পরমায়ুর বৃদ্ধি পাইবে সুতরাং নির্ভয়ে সেবন করিতে দেও। (*) আয়ু বা পরমায়ু যে কি তাহা ঠিক করা বড় কঠিণ মহঘি চরক আয়ুর এই রূপ সংজ্ঞা কঠিয়াছেন যথা- শরীরেম্রিয় সত্বাত্মা সংযোগধার জীবিতং। নিত্যগানুবন্ধুশ্চৰ্যাযৈরায়ুরুচ্যতে । অথাৎ শরীর, ইন্দ্রিয় মন এবং আত্মার সংযােগ শক্তিই আয়ু, তাহা হইলে ইহা অনেকাংশে ইংরাজীমতের জীবনীশক্তি (vital powr) তুল্য।
১০৮
খাদ্য বিচার।
আর আমজরে (*) যেখানে দুধ খাইতে নিষেধ করিয়াছেন
সেখানে নিশ্চই বিষের কার্য করিবে ইহা ভাবিয়া ব্যবহারে
(*) অরুচিশ্চাবিপাকা গুরুত্মমূদস্যচ ।
হৃদয়স্যা বিশুদ্ধিশ্চ তন্দ্রা চালস্যা মেচ ।
জুহেবিসর্গী বলবান দোষাণমপ্রবর্তন।
লালপ্রদেকোহৃল্লাসঃ ক্ষুন্নাশাে বিরমুখ।
স্তব্ধ সুপ্ত গুরুত্বঞ্চ গাত্রানাং বহুমূত্রতা।
বিড় জর্ণ নচ গ্লালিজ্বরস্যাসাল শং | চরক
অর্থাৎ
অরুচি, অবিপাক, উদরেরভার, ক্ষুধারঅভাব, মুখের
বিরস , শীর ভার বােঝা, দেহ সবল প্রভৃতি আমরের
লক্ষণ। হয় এই আমজরেই কবিরাজী শাস্তু দুধ, খাইতে
বারণ করিয়াছেন, এখন বিজ্ঞ ডাক্তার মহাশয়েরা বিবেচনা করে
বলন দিকি, এ অবস্থায় রােগীকে দুধ দেওয়া উচিৎ কি না এবং
ঐ অবস্থায় দুধ খাওয়'ইলে “দৌর্বল্যকারি-চিকিৎসার বিপী
কাৰ্য করা হয় কিনা ?
দ্বিতীয় অধ্যায়।
০
অাও হও।
(৬) রাৱে দুগ্ধ সেবন করিলে চক্ষু হিত হয়।
(ইংরাজীমতে) কাহারী বিষ্ঠাভােজী পশুর দুগ্ধ পান করা নিতান্ত
অন্যায়।
(৭) বসন্ত প্রভৃতি দেয়ায় রােগ পশুর দুগ্ধ পান
করিবে না।
(৮) দুগ্ধের সহিত জল বা অন্য কোন পদার্থ মিশ্রিত না থাকে
সে বিষয়ে সতর্ক হওয়া আবশ্যক (*)।
পারে দোষে অনেক সময় দুগ্ধ মন্দ গুণযুক্ত
হয় সুতরাং দোহন ও জালপাত্র খুব পরিষ্কার
পরিচ্ছন্ন রাখা আবশ্যক।
কোন কোন সময় গাভী দুগ্ধে একরূপ বিশেষ
গন্ধ পাওয়া যায় (যাহাকে রসুনে লাগা বলে)
ঐ সময় সেই গাভীর দুগ্ধ খাওয়া ভাল নহে।
পূৰ্ব্বে প্রমাণ দেখান হইয়াছে যে, অধিক জাল
(*) ল্যাকটোমিটর (lactometer)ল্যাকটোকোপ(lactoscope)
ল্যাকটোবাটাইয়েমেটার (lactobut rometer) প্রভৃতি যন্ত্র
সাহায্যে দুগ্ধের সত্বা পরীক্ষা করা যায়।
১১০
খাদ্য বিচার।
দেওয়া দুধ খাওয়া অন্যায়, এক্ষণে আবার সাবধান করা
যাইতেছে যে, মুখ প্রিয় করিবার জন্য যাহারা খুব
Fন দুধ পান করিতে প্রস্তুত, বাস্তবিক পক্ষেই
তাহারা দুধের ধৰ্ম্ম নষ্ট করিয়া পান করেন,-অমৃতে
বিষ-তুলিয়া লন। এক বলকের দুধ প্রকৃতই বলকর
প্রভৃতি ধৰ্ম্মযুক্ত, ইহা জানিয়া শুনিয়া ও কতগুলি
বিলাসীর দল ঘন দুধের পক্ষপাতি, এমন কি তাহারা
বলেন যে আঙ্গুলে দুধ নালাগিলে তাহ কি কখন
খাওয়া যায় ! সহুরে অপেক্ষা পাড়'গোঁয়ে মহাশয়-
দের এই রােগটী কিছু বেশীবেশী। আমরা ঐ সকল
মহাপ্রভৃদের বারংবার বলিতেছি, “ঘনবৰ্তন দুধের,,
মায়াটী ছাড়ুন। পেট মােটা হইলেই যে বল
অধিক হয় এমৎ নহে।
দ্বিতীয় অধ্যায়।
১১শ। দধি (ক্ষীরজা।
অশ্লসযুক্ত রূপান্তরিত দুগ্ধকেই দধি, বলা হয়।
আয়ুর্বেদ মতে—ইহা স্নিগ্ধ ও উষ্ণ; পীনস বিষয়-
জ্বর, অতিসার, অরূচি ও মূত্রকৃচ্ছ রােগের—শান্তি-
কর; তেজস্কর, আয়ুবক এবং মঙ্গলজনক
যুক্ত (১)।
সাধারণতঃ দধি তিন প্রকারে-মধুব, অম ও
অত্যল্প। মধুর রস হইলে—চক্ষুরােগ জন্মায় এবং
কফ ও মেদের বৃদ্ধি করে। অম্নরস হইলে—পত্ত
শ্লেষ্মর বৃদ্ধি করে এবং অত্যম্ন হইলে—রক্ত দূষিত
করে (২)।
দধি মন্দজাত হইলে অর্থাৎ ভাল নাজমিলে
বিদাহি হয় (খাইলে গলা জলে) এবং মল মূত্র ও
বায়ু পিত্ত কফের বৃদ্ধিকরে (৩)।
(১) খিগযুষ্ণ পীনসবিষতি সারারোচক মুত্ৰকৃচ্ছ, কাশ্যপষ্ণ
পহং বৃষ্যং প্রাণকরং মঙ্গলঞ্চ ইত্যাদি ।
(২) মহাভিষ্যদি মধুবং কমেদো বিবদ্ধ নং।
কপি কৃং স্যাত্যং রক্তদূষণং। সুত
(৩) বিদাহি বিমুত্ৰং মাতং ত্রিদোষ। সুশ্রুত
১১২
খাদ্য বিচার।
জালদেওয়া দুধের দধি অধিক উপকারী। ইহা
বায়ু ও পিত্তের শান্তিকর, রূচিকর, অগ্নিক, বলকর
এবং ধাতুপোষক গুণযুক্ত (১)।
অসার দধি অর্থাৎ দধিতে তৈলভাগ না থাকিলে
উহা রূক্ষ, মলরােধক, বায়ুবৃদ্ধিকর, দোষযুক্ত কিন্তু
লবুপাক, অগ্নিকর ও রূচিকর গুণযুক্ত হয় বে)।
দধিরসর-গুরুপাক, পুষ্টিকর, অগ্নিকর, বায়ুর
শান্তিকর এবং কফ ও শুক্রের বদ্ধ নকৰ (৩)।
ইংরাজী মতে দধিতে “ল্যাফট-এসিতনমক
অম্নের ভাগ আছে। এমতে ইহা শৈত্যকারক, অগ্নি-
কারক ইত্যাদি গুণযুক্ত।
} (১) শৃংক্ষীরাতু যজ্জাতগুণবধি তৎস্মৃতং।
বাতপিত্ত হরংরুচ্যং ধাত্বগ্নিবল বর্ধনং। সুশ্রুত
(২) দধিত্বসারং রুক্ষ মাহিবিষ্টতি বাতলং।
দীপনীয়ং লবুতরং সকষায়ং রুচিদং। সুশ্রুত।
(৩) সরস্বাদু গুরুবৃষ্য বাবা প্রাণাশন।
সাম্নে বস্তিপ্রশমনঃ ওশ্লেষ্ম বিবর্ধমঃ। ভা, এ,
দ্বিতীয় অধ্যয়। ১১৩ •(বিশেষ বিশেষ দধি ) গব্যধি। স্নিগ্ধ, বলকারক, অগ্নিকারক, পুষ্টিকারক, রূচি- কারক এং বায়ুনাশক (১)। মাহিষ দধি। মধুব, পুষ্টিকর, বায়ুপিত্তের শান্তিকর, এবং কফ- বদ্ধক (২)। ছাগ দধি। কপিত্তনাশক, অগ্নিকারক এবং হাঁফকাসে সুপথ্য (৩)। ইহা ভিন্ন অন্যান্য দুগ্ধজাত দধির অমাদের দেশে চলন নাই সুতরাং সে সকলের উল্লেখ করা গেলনা (সেবন বিধি) (১) গরদধি কাপড়ে ছাঁকিয়া লইলে অধিক উপকারী হয়। (১) গব্যংদধুত্তমং বলংপাকেস্বাদু রুচিদং। পবিত্ৰং দীপনংগিন্ধং পুষ্টিকৃৎ পবনাপহং। ভা, ৪, (২)“মাহিষং দধিমুমিং শ্লেষ্মলং বাতপিত্তনুং ইত্যাদি-ভা,, (৩) দধ্যাজং কফপিত্তং লঘুপাকে বিষাপহং । দুর্ণাম শ্বাসকদেযু হিত ময়েশ্চ দীপ নং”। সু ত ।
১১৪
খাদ্য বিসর।
(২) দধির সর অত্যন্ত গুরুপাক যাহারা দধির মাথা খাইতে
ব্যস্থ তঁাহারা এ বিষয়টা স্মরণ রাখিবেন।
(৩) শরৎ গ্রীষ্ম ও বসন্তকালে দধি সেবন অপ্রশস্ত এবং হেমন্ত
শিশির ও বর্ষাকালে প্রশস্ত (১)।
(৪) দবির সহিত চিনি মিশাইয়া খাইলে বিশেষ উপকারি
হয়, ঐ প্রকার দধি—তৃষ্ণা, দাহ ও, রক্তপিত্তের-শান্তিকার (২)
(৫) দধির সহিত গুড় মিশাইলে উহা বায়ুনাশক, পুষ্টিকারক,
পৰিবৰ্ত্তক, তৃপ্তিকারক গুণযুক্ত কিন্তু কিছু গুরুপাক হয় (৩)।
(৬) পচা, দুর্গন্ধ যুদধি খাওয়া অন্যায়।
(৭) রাত্রে দধি ভোজন করবে না, আবশ্যক হইলে ঘৃত বা
চিনি মিলাইয়া খাওয়াই বিধি (৪)।
(১) শরদগ্রীষ্ম বসন্তে প্রায়শে দধিগহিতং ।
হেমন্তে শিশিরেচৈব বর্ষাযু দধি শস্যতে।-সুশ্রুত।-
(২)*** শ্রেষ্ঠ তৃষ্ণাপিনাশি—ইত্যদি। ভা, প্ৰ,
(৩)***বান্তিবাতনাশি বৃষ্য বৃংহণ ইত্যাদি। ভা, প্ৰ,
(৪) ননং দধিভুঞ্জীত নচাপ্য ঘৃত শর্করাং। সুত
দ্বিতীয় যায়।
১২। তক্র“ঘােল।
দধির সহিত অর্ধভাগ জল মিলাইয় মন্থন
করিয়া উহার নবনী উঠাইয়া ফেলিলে এবং উহা
অতি তরল বা গাঢ় না হইলে তাহাকে ত বলে এবং
নির্জল দধি মন্থন করিয়া উহাতে ননীর ভাগ
থাকিয়া গেলে তাহাকে দোল বলা হয় (১)।
ত মধুর ও অম্লাস্বাদ উষ্ণবীৰ্য্য, লঘু, রূক্ষ,
অগ্নিকর এবং বায়ু শ্লেষ্মনাশক। বিষব্যাধি, অতিসার,
গ্রহণী, পাণ্ডুরােগ, অর্শ, প্লীহা, গুল্ম, অরূচি,বিষমজ্বর,
তৃষ্ণা, বমন ও শুল রােগের শান্তিকারক। প'কে
মধুর, মুখপ্রিয়, এবং মুত্ৰকৃচ্ছ রােগ বা তৈলাক্ত
দ্রব্য খাইয়া রােগের উৎপত্তি হইলে তাহার শান্তি-
কারক (২)।
(১)মন্থনাদি পৃথগভূত স্নেহমর্পোদকন্তুষৎ।
নাতিশাদ্রবং ঞ্জ সাম্নং তুবরং রসে ।
যন্ত সস্নেহ মজলং মথিতং ঘোলমুচ্যেতে । সু, সং,।
(২) তক্রং মধুরম্নং কষায়ানুসমুফ বীৰ্যং লঘু
রুমাগৰীপনং গরশােফতি সার গ্রহণী পাণ্ডুরোগার্শপ্লীহগুল্মানাে-
চক বিষমজর তৃষ্ণা দুর্কি প্রসেকশূল মেঃ শ্লেষ্মানিলহরং মধুর
বিপাকং হং মূত্রক মেহ ব্যাসং প্রশমনষ্য*. সু, সং,
খাদ্য বিচার ঘোল। বায়ু পিত্ত নাশক প্রভৃতি গুণযুক্ত (১)। তক্র, মধুর হইলে,—শ্লেষ্ম কুপিত ও পিতের শন্তি করে। অল্প হইলে,—বায়ুর শান্তি করে কিন্তু পিত্ত বৃদ্ধি করে। ইংরাজমতে, ইহাতে লবণ ও চিনির ভাগ আছে, এমতে ইহা শৈত্যকারক, অগ্ন- কারক, বলকারক প্রভৃতি গুণ যুক্ত। (সেবনবিধি)। (ক) গ্রীষ্ম কালে তত্রু সেবন করিবে না । (খ) ক্ষতরােগে, দূৰ্বল শরীরে, মুচ্ছা ভম দাহ ও রক্তপিত্ত রােগে, তক্র ব্যবহার উচিত নহে (২)। (গ)শীতকালে অগ্নিমান্দ্য, কফজ রােগে, মল মূত্রের গােধে এবং বায়ু কুপিত হইলে ত সেবন প্রশস্ত (৩)। (১) বাতপিত্ত হরং খােলং মথিতং কফপিত্তনুং। -ভা, প্র, (২) নৈবতং ক্ষতে দান্নোষ্ণকালে ন দুর্বলে। ন মূচ্ছ। ভ্রমদাহেষু ন রােগে রক্তপৈত্তিকে। ভা, প্ৰ, (৩) শীতকালেহপ্পি মান্দ্যে চ কফে। শ্লেষ্মাময়েষু চ। মার্গ বরোধে দুষ্টে চ বায়ো তক্রংশস্যতে ॥ , সং,
দ্বিতীয় অধয়।
১১৭
(খ) বায়ুপ্রকোপে অসাক্ত (ট ঘোল) সৈন্ধব সহ সেবন
করিবে।
(ঙ) পিত্তের প্রকোপে মধুর রক্ত তঞ (মিঠাষোল) চিনির
সহিত খাইবে।
(চ) কফের প্রকোপ থাকিলে মধুর বসাক্ত তক্ত, শুঠ, পিপুল,
মরিচ ও যবক্ষার সহ সেবন করিবে (১)।
(ছ) দুধের সর পচাইয়া তাহা হইতে যে পচা ঘোল তৈয়ার
করা হয়, তাহা পান করা উচিৎ নহে।
(জ) সদ্য দধি উৎপন্ন হই উপকারি সুতরাং তাহাই পান
করিবে।
(ঝ) জল্প গুড় বা চিনি মিশাইয়া ভক্ত যাইবে।
(ঞ) লবণ বর্জিত ঘোল খাইবে না
(১) বাতেইঅং সৈন্ধববপেতং যাদুপিত্তে শর্করং।
পিবেত্তং কফেচাপি ব্যোক্ষারসমাযুতং। ভা, এ
১১৮ খাদ্য'বিচার। ১৩। ঘৃত-আজ্য। ধৃত আমাদের দেশের একটা প্রধান ও পবিত্র খাদ্যদ্রব্য মধ্যে গণ্য। প্রাচীন হিন্দুগণ দেব দ্বিজ অতিথী সেবায়, অল্প বিস্তর ঘতের সংমিশ্রণ রাখা একান্ত আবশ্যক বলিয়া জানিতেন; সদ্বত না করিয়া দেবতার ভােগ দিবার রীতি আজও আমাদের দেশে নাই। ঘূত মাত্রেই শীতবীৰ্য্য-মৃদু মধুর, অল্প চক্ষুরােগ কারি স্নিগ্ধ, বায়ু পিত্তের শান্তিকর, অগ্নিকর, দীপ্তিকর, স্মৃতিকর, মেধাবর্ধক, কান্তিকারক বলকারক, আয়ু- বর্ধক, স্বরবর্ধক, লাবণ্যকারক, পুরুষত্ববন্ধক,ও জ্বর- বারক, দৃষ্টির হিতকর, কিন্তু গুরুপাক শ্লেষ্মাবর্ধক এবং উন্মাদ, মৃগী শূল, জ্বর, আনাহ প্রভৃতি রােগের শান্তিকর (১)। (১) ধ্বতন্ত সৌম্যশীতীর্থংমুহমধুর সমূত মঙ্গাভি যদি মেহন মু। বউম্মাদপম্মার শূল জরানাহ বাতপিত্ত প্রশমন মগ্নি দীপন তি মেৰা কান্তির লাবণ্য সৌকুমাৰ্যোস্তেজ বকর আয়ুষ্যৎ বৃষ্যং মেধ্য বয়ঃস্থাপনং গুরু চক্ষুষ্যং শ্লেষ্মাতিবর্ধনং পাপী প্রশমনং বিষহরং রক্ষোঞ্চ। ৪, সং,
দ্বিতয় অধ্যায় ।
১১৯
(ক) গব ঘৃত।
গব্য ঘত পরিপাকে মধুব,শীতল, বায়ুপিত্ত নাশক,
বিশেষ দৃষ্টির হিতকর, বলকর এবং অন্যান্য সকল
জাতীয় ঘৃত অপেক্ষা অধিক গুণকারী(১)।
(খ) মাহেষ ঘৃত।
ইহা অত্যন্ত মধুর, গুরুপাক, রক্তপিত্ত নাশক,
(শ্লষ্মা বৃদ্ধিকর ও বায়ু পিত্তের শান্তিকর (২)।
ঘত মাত্রেই পুরাতণ হইলে অধিক গুণযুক্ত হয়
কিন্তু পুরাতণ ঘৃতের (*) অভ ন্তরিক ব্যবহার খুব কম
সুতরাং তাহার বিষয় এ পুস্তকে উল্লেখ করা গেলনা।
কংসপাত্রে দশ দিন ঘত থাকিলে তাহা খাওয়া
}
উচিৎ নহে।
(১) বিপাকে মধুৎ শীতং বাতপিত্ত বিষাপহং।
চক্ষুষ্যগ্ৰং বলঞ্চ গব্যং সপিগুণোত্তরং। সু, সং,
(২) মধুবং রক্তপিত্তঘুং গুরুপাকে কফবহং ।
বাতপিত্তপ্রশমনং সুশীতং মাহিষং ঘৃতং , সং,
(*) এগার বৎসরের পুৰাতন ধৃত হইলে তাহাকে কুসর্পি
তাহার অধিক দিনের হইলে মহামৃত বলে।
১২০ খাদ্য বিচার। দুগ্ধজাত অন্যান্য খাদ্য। ছানা। ইহা মল মুত্র রোধক, বায়ু বৃদ্ধিকর, রুক্ষ ও অতিশয় গুরুপাক(১)। ক্ষীর (কিলাট- ইহা গুরুপাক, বায়ুর-শান্তিকর, পুরুষত্ব-বদ্ধক এবং নিদ্রাকারক (২)। ননী (নবনীত)-- মধুর কষায় কিঞ্চিৎ অম্লাদ শীতল, লঘু, অগ্নিকর, পুষ্টিকর, মল মুত্র রােধক, বায়ুপিভুনাশক, তেজস্কর এবং ক্ষয়কাশ, হাপৰ্কাস, ব্রণ ও অর্শ রােগের শান্তিকর; কফ ও মেদের বদ্ধ নকর, বলকর, পুষ্টিকর, এবং শােথ রোগনাশক (৩)। মাখন (অপক্ক দুগ্ধ জাত নবনী)-- ইহা স্নিগ্ধ, মধু, শীতল, চক্ষুর দীপ্তিক, (১) মলবদ্ধ বাতকারি কক্ষ দুর্জয়ত্বঞ্চ ইত্যদি। (২) গুরুঃ কিলাটোনিলহা পুংস্তনিদ্রাপ্রদ স্মৃ তঃ। , সং। (৩)নবনীতং পুনঃ সদস্কং লবু সুকুমারং মধুরং কােয়মীষম্রং শীতলং মেধ্যং পনং হৃদ্যং সংগ্ৰাহি পিত্তানিলহরং বৃষ্যমবিদাহি ক্ষয়কাসাব্ৰণাশােখ দিতাপহং । -সু, সং -
১২১
নিতীয় অধ্যায়।
মলরোধক, পিত্ত ও চক্ষু রোগের বিশেষ
উপকারী।
ক্ষেরসর ( শানিকা)--
ইহা বায়ুনাশক, বলকর, তৃপ্তিকর, তেজস্কর,
রক্তপিত্তের শান্তিকর এবং মাখন গুরুপাক ।
ইহা ভিন্ন দুগ্ধ হইতে ও ধুনা অনেক রকম
কৃত্রিম খাদ্য তৈয়ার এই ব্যবহৃত হইতেছে,
সে সকলের আংশিক বিবরণ “শিশুর আহার,,
নামক প্রস্তাবে লিখিত হইল।
খাদ্য বিচার।
১১ শ। মিষ্ট দ্রব্যাদি।
আজ কাল এদেশে মিষ্ট দ্রব্যের বাড়াবাড়ি খুব
বাড়িয়াছে। প্রাচীন কালে, এত রকমারি মিষ্টান্নের
ব্যবহার ছিল না সুতরাং সকল গুলির দোষগুণ
বিচার করিতে গিয়া প্রমাণ সংগ্রহের আশা খুব কম;
রাশি রাশি প্রাচীন শাস্ত্র অনুসন্ধান করিয়াও সকের
“লেডিকেনির সন্ধান পাইলাম না। আবার অপর
পক্ষে ইংরেজদের মধ্যেও এসকল মিষ্টদ্রব্যের ব্যবহার
খুব কম থাকায়, তাহাদের শাস্ত্রে ও এসকলের দোষ
গুণ বিচার দেখিতে পাওয়া যায় না। সুতরাং হালের
গকের খানার সকল কম নি৪-দ্রব্যের দোষ গুণ
বিচার সম্যক ভাবে করিতে পারিলাম না। তবে
যে গুলি প্রাচীন কাল হইতে প্রচলিত আছে তাহার
বিষয় প্রাচীন শাস্ত্রের মতে, এবং হালের খাদ্যের
মধ্যে কতকগুলির বিষয় আধুনিক কএকজন বহু
দশী চিকিৎসকের মতে, নিম্নে লেখা:গেল,
দ্বিতীয় অধ্যায়।
১২৩
১। ই*।
ইক্ষু খাত্রেই গুরুপাক, শীতল, স্নিগ্ধ, বলকর, পুষ্টি-
কর, মুম্বকারক, রক্তপিত্তের শান্তিকারক এবং কফ -
বর্ধক। ইহার ব্যবহারে ক্রিমি-রােগ জন্মায় (১) ইংরা-
জমিতে ইহাতে সির্কা (acitic acid) থাকায়, ইহা
শৈত্যকারক, সংকোচক এবং আগ্নেয় গুণ যুক্ত।
অধিক মাত্রায় ব্যবহার করিলে, পাকাশয়ে ও অন্ত্রণধ্যে
উগ্রতা জন্মাইয়া অগ্নিমান্দ্য, অপাক, বমন এবং উদা
রময় অদি উপস্থিত করে।
আমাদের দেশে নানা জাতীয় ইক্ষু জন্মিয়া থাকে
এবং প্রাচীন দ্রব্যগুতত্বেও অনেক রকম ইক্ষুর
দোষ গুণ বিচার আছে তন্মধে, কাজলি (কাণ্ডার)
(*)ই অপেক্ষা প্রধান মিরস দ্রব্য আর নাই সুতরাং মিঃ
এন্যের মধ্যে ইহার বিষয় লেখা হইল।
(১)ইযে মধুর মধুরবিপাকা গুরুষ শীতাঃমিঃ বল্যা বষ্য
শত্রল। রক্তপিত্ত প্রশমনঃ কমিকফকাচেতি। সুত
১২৪
খাদ্য বিচার।
গুরুপাক, শ্লেষ্মাবর্ধক, পুষ্টিকারক এবং বলকারক (১)
পুড়ি পৌও এবং তোরবী (ভীরুক) শীতল,
মধুর, স্নিগ্ধ, গুরুপাক, পুষ্টিকারক, প্লেয়া-কৰ্ধক,
সারক এবং বলকারক (২)। সােমশা বংশক ।
উপরােক্ত ইক্ষুর সমগুণযুক্ত ও কিঞ্চি ক্ষারধর্ম
যুক্ত (৩)।
ইক্ষু দন্ত দ্বারা পিষিয়া খাইলে, কফবৰ্ধক,
বায়ুপিতের শান্তিকর, মুখের প্রীতিকর ও তেজস্কর
গুণযুক্ত হয় এবং যন্ত্র সাহাৰ্য্যে (কলে মাড়িয়া )
রস বাহির করিয়া পান করিলে,-গুরুপাক, মলমুত্র
রােধক এবং বিদাহী হয় (৪)।
(১)কান্তরে গুরুষঃ শ্লেষ্ম লো বৃংহণঃ সঃ। তা, এ,
(২)সুশীতে মধুর মিন্ধো বৃংহণ শ্লেষ্মলঃ সঃ।
এবিধাহী গুরুষঃ পেকে ভীরুখ।।
(৩) জাভাং তুল্যঃ কিঞ্চিংসক্তারা বংশকে। অতঃ-ইত্যাদি।
(a)ৰক্ত একদিনে বৃষো নিপীড়িতে বস।
একৰ্বিাহি ৰিী যায়িক প্রীর্তি।
দ্বিতীয় অধ্যায়। (২) গুড়,-- সক্ষার, মধু, নাতি-শীতল, স্নিগ্ধ, মুত্র ও রক্ত- শোধনকর, বায়ুনাশক, কিঞ্চিৎ পিত্তনাশক, মেদ ও কফবৰ্ধক, বলকারক প্রভৃতি গুণযুক্ত (১)। তন্মধ্যে- নূতন গুড়, অগ্নিমান্দ্যকারী, কবৰ্দ্ধক, শ্বাসকাস এবং কৃমি- রােগে কুপথ্য (২)। পুরাতন গুড়, মধুর, স্নিগ্ধ, পিত্তনাশক, বায়ুনাশক প্রভৃতি গুণযুক্ত (৩)। খাড় গুড়, স্নিগ্ধ, বলকারক, বাতপিত্তনাশক, বমন-নিবারক ও নেত্রের হিতকর। (৩) চিনি (শর্করা) শীতল, রূচিকারক, শুক্রবদ্ধ ক, বমন-নিবারক, (১)গুড়ঃ সক্ষার মধুবরা নাতিশীতঃ স্নিগ্ধো মূত্র রক্ত শােধননা নাতিপিত্তজিত্বাতম্নো মেদঃকফ করে। বল্যৈ বৃষ্য ইত্যাদি । (২) গুড়োনবঃ কফশ্বাস কমিকহোগ্নমান্দ্যকৃৎ। সুশ্রুত (৩) পিত্তম্নো মধুরঃ শুদ্ধাবাতষ্মেীহক প্রসাদন। সপুরাণোধিকগুণে গুড় পথ্যতমঃ স্মৃতঃ ॥ সুশ্রুত।
খাদ্য বিচার । এবং রক্তপিত্ত, বাত, দাহ ও মুর্হারোগের শান্তি- কারক (১)। এবং যতো পরিষ্কার ও ক্ষার রহিত হইবে ততােই ইহার গুণের আধিক্য হয়। চিনিপান। (পরােক) শীতল, শুক্রবন্ধক, বলকারক, বাতপিত্ত-নাশক এবং তৃষ্ণা, দাহ ও রক্তজ দোষের শন্তি কারক (০)। ইংরাজীমতে চিনিতে ১২ ভাগ কার্বন, ১১ ভাগ হাইজেন এবং ১১ ভাগ -অলিজে আছে। এমতে ইহা সিগ্ধকারক, শৈতকারক ও অল্প পুষ্টি কারক এবং ইহার সরবত শৈত্যকারক গুণযুক্ত। (৪) মিছরি। লঘু, বল্য, বায়ুপিত্তনাশক এবং রক্তজ দোষের শান্তিকারক। অনেকে বলেন ইহার কৃমিনাশক (১) শর্করা জাপিত্তা মুচ্ছাচ্ছর্দিষপহা। ভা, ও, (১) নােয়াখ্যাত ওলং শিশির সং। বল্যংৰুচ্যংলঘুস্বাদু বাতপিত্ত এণাশনং। মুচ্ছাদি তৃষাহ শাবকং পং। ভা, এ-
দ্বিতীয় অধ্যায়।
শক্তি আছে। জর প্রভৃতি রােগে, পথ্য রূপে ইহার
বিস্তর ব্যবহার দেখা যায়, মিছবির সরবং অনেক
হলে এরূপ “দর্ঘঔষধি” মধ্যে গণ্য। মাথাধরা
থেকে পেটফাঁপা পর্যন্ত যে কোন রােগই হোকন।
কেন, “একটু মিছরির জল, পান করিলেই সকলের
যেন শান্তি হইয়া যায়, কিন্তু পেটফাঁপা প্রভৃতি
স্থলে মিছরি যে বিশেষ উপকারি, সে বিশ্বাস
আদৌ ঠিক নহে। মিছরি এবং গুড়েব উপাদান
গত প্রভেদ অতি অল্প ইহা জানা উচিৎ।
ইংরাজীমতে, মিছরি অনেকাংশে চিনির সমগুণ
যুক্ত,। ইহার অতিরিক্ত ব্যবহারে অগ্নিমান্দ্য ও অল্প
জন্মিবার বিশেষ সম্ভাবনা। সুতরাং অনেক স্থলে
অম্লরোগে মিছরিপানার যে ব্যবহার আছে তাহ।
যুক্তিযুক্ত নহে।
০) সন্দেশ।
বলকারক, রূচিকারক, শুক্ৰবৰ্ধক এবং সায়ক।
খাদ্য বিচার । (৬) ছানা বড়া। রূচিকারক, বলকারক, পুষ্টিকারক এবং শুক্র- পদ্ধক। আজ, মতান্তরে ছানা বা অন্যকোন দুগ্ধ বিকারজাত খাদ্য সকল গুরুপাক এবং কফবদ্ধক। (৭) গজা। বলকারক, গুরুপাক, রূচিকারক ও বায়ুপিত্ত নাশক। অ, দ’ সুশ্রুতসংহিত মতে, ঘৃতপক গোধুমচর্ণজাত খাদ্য সকল বিশেষ রূপ গুরুপাক ও বর্ধন কর । (৮) খাজা। বলকারক, মুখরােচক, বায়ুপিত্তনাশক এবং গুরুপাক। (১) মতিচুর। লঘু, শীতল, ত্রিদোষ-নাশক, রূচিকারক, বল- কারক, নেত্রের হিতকর, প্রভৃতি গুণযুক্ত। আ, ই, (১০) মিঠাই।-- শীতল, বলকারক, অগ্নিকারক এবং ক্ষয় জরে সুপথ্য। (ঐ) === দ্বিতীয় অধ্যায়। ( (১১) জিলাপি। -- কর্মকারক, পুষ্টিকারক, শুক্রবন্ধক এবং কফ নাশক। [৫] উপরিউক্ত কএকটা, এবং অন্যান্য যে সকল মিষ্টান্ন বেসম (কলাই বা অন্য কোন দাইল, চুর্ণ সংযোগে তৈয়ার হয়, সুশ্রুত মতে সে সকল বিভি, পিবদ্ধক, শ্লেষ্মানাশক, মলরােধক, বল- কারক, শুক্রবদ্ধক এবং গুরুপাক। (১২) ঘৃতপক খাদ্যদ্রব্য সকল। -- লঘুপাক, বলকারক, শুক্রবদ্ধক, বায়ুপিবদ্ধ ক, বলকারক, বর্ণকারক এবং দৃষ্টির হিতকর গুণযুক্ত। (১৩) তৈলপ খাদ্য (যাহা তৈলে ভাজিয়া তৈয়ার করা হয় যেমন পান্ন বিবিধ প্রকার পিঠা ইত্যাদি) —বিদাহী, গুরুপাক, উষ্ণ, বায়ুনাশক, দৃষ্টিনাশক, পিত্ত বন্ধক এবং চক্ষু রােগকারক (১৪) মীরজাত খাদ্য (ক্ষীর মোহন, ইত্যাথি )। -- বলকারক, পুষ্টিকারক, অগ্নিকারক, শুক্ৰবন্ধক; পিত্তনাশক, অদাহী, মুখপ্রিয় প্রভৃতি গুৰুক্ত।
খাদ্য বিচার।
ইহার মধ্যে যে গুলি দ্বতে ভাজিরা তৈয়ার করা
হয় তাহা, বলকারক, কফবদ্ধক, বায়ুপিত্তনাশক,
শুক্রবদ্ধক, রক্তমাংস-বদ্ধক এবং গুরুপাক।
(১৫) গুড়জাত খান (যেমন বাসা, পাটালি, ইত্যাদি)
গুরুপাক, বায়ুনাশক,
অদাহী, পিত্তনাশক,
শুক্র ও কফ বদ্ধক।
(১৬) তিল মিশ্রিত মিষ্টান্ন (যথা-তিলপাটালি বিখণ্ডি ইত্যাদি
বলকারক, রুচিকারক, স্নিগ্ধ কারক, বায়ুনাশক
এবং অর্ণ ও মূত্ৰদোষে হিত কর*।
(*) তিল সংযুক্ত মিষ্টান্ন মধ্যে কঁাচ। তিল সংযুক্তই উক্ত
সকল গুণযুক্ত। নচেৎ তিল ভাজিয়া কোন খাদ্য তৈয়ার করিলে
তাহা উপকার হয় না আমাদের দেশে অানন্দ কাৰ্য্য উপলক্ষে
“আনন্দ লাড়” বলিয়া যে একটা খাদ্য তৈয়ার হয় তাহা অত্যন্ত
অনুপকারী অগ্নিমান্দ্য কর, ও গুরু পাক। কঁাচা তিল পুরাতন
গুড় সহ মিলাইয়া যে তিলের মােক, তৈরি হয় তাহ।
ত্যৈকারক ও মই বিরেচক গুণযুক্ত বিধার অর্শরােগে বিশেষ
সুপথ্য।
দ্বিতীয় অধ্যায়।
ই
(১৭) রসাল।
ঈষৎ অম্ল মধুর দধি / সের, ভাল চিনি ২ সের,
কৌদ্র মধু ৮ তােলা, ধৃত ৪ তােল, শুঠ, ৪ মাষ।
(৩২ রতি) এলাইচ, ৪ মাষা (৩২ রতি) মরিচ
১৬ মাষ। (১২৮ রতি ১ লবঙ্গ ১৬ মাষা (১২৮ রতি)
এই সকল দ্রব্য একয়ে হস্থ দ্বার। মন্থন করিয়া,
শুরু কাপড়ে অল্পে অল্পে ছাকিবে। পরে উহা
মৃগনাভি চন্দন অঞ্জ কপূর বাসিত মৃৎপাত্রে উত্তম
রূপে নাড়িয়া রাখিয়া দিবে। ইহাকেই রসাল
বলে। ইহা ভােজন কৰিলে, কামােদ্দীপন হয়,
সুখ জন্মে, এবং প্রিয়তমা কস্তার প্রিয় ||ণী শক্তি
বৃদ্ধি পায় (১)।
(*) ইহা একটা মনীয় পাময়, কথিত আছে পূর্বকালে
ভগবান ঐকৃষ্ণ স্বীয় পান জন্য এই রসাল। যতুপূর্বক প্রস্তুত
করিয়া পান কবিতেন আদ্যাপীও পাশ্চমদেশবাসীগণ উংসবাদি
উপলক্ষে ইহার ব্যবহার করিয়া থাকেন।
(১) দধোদ্ধাঢ়ক মীষমুমধুবরং বা চদ্যুতেঃ প্রস্থ
মৌদু পলঞ্চ পঞ্চ বিষঃ গুন্ট্যাশ্চত মাষকা। এলাষ চতুষ্ট
মরিচত কং লবঙ্গং তথা ধৃত্ব শুক্লপষ্ট শনৈঃ করতলেনােস্মথ্য
বিশ্রাবয়েৎ।
মৃ ভাণ্ডে মৃগনাভি চলন রসে
খাদ্য বিচার। মতান্তরে—অম্লরসক্ত নির্জল মাহি দধি ১৮ সের, চিনি ৪ সের, একত্রে একখানি পরিস্কার ব খণ্ডের উপর ঢালিয়া মিলাইবে, পরে উহাতে অন্ধ ঘন দুগ্ধ ঢালিয়া দিয়া, নূতন মৃত্তিকা পাত্রে চোয়া ইয়া লইবে, চোয়ানর পর উহার সহিত অল্প এলাচ, লবঙ্গ, কপূর, ও মরিচের গুড়া মিলাইবে, তখন তাহ। মধুর রসালা হইল। কথিত আছে পূরাকানে ভােজন প্রিয় ভীমসেন এই নিয়মে রসালা প্রস্তুত করিয়া, প্রিয়তম শ্রীকৃষ্ণকে পান করাইতেন। যিনি এই রসাল নিত্য সেবন করেন তাহার বীৰ্য্য ও ইন্দ্রিয়ের বল বৃদ্ধি হয়। যাঁহারা গ্রীষ্ম বা শার- দীয় সূৰ্যকরে বিশুদ্ধ শরীর হন, যাহারা অত্যন্ত প্রমদা প্রসঙ্গ যুক্ত ক্ষীণ দেহ হয়েন, সর্বদা পথ পর্যটন হেতু জীর্ণ শীর্ণ হইয়া পড়েন, ইহা তাহা- এক পিতে কপূরেণ সুগন্ধিতং লিং সংলোভ সংস্থাপয়েৎ।• সাথে মথুরেশ্চৰেণ রচিত হেষ বা স্বয়ং ভক্ত নখ দীপনী মুখী কাতেব নিতং প্রিয়। ইতি তাৰ ৩৭।
দ্বিতীয় অধ্যায়। দিগের পক্ষে অমৃত তুল্য। এই সালা—শুক্র- বদ্ধক, বলকারক, রূচিকারক,বায়ুপিত্তনাশক, অগ্নি- কর, তেক্ত স্কর, স্নিগ্ধ, মধুর, শীতল, রােচক এবং রক্তপি, তৃষ্ণা, দাহ ও প্রতিশ্যায় রােগের শান্তি- কারক (১)। (১) আদৌ মাহিষমমুম্বুরহিতং দধ্যাঢ়কং শর্করাং শুভ্রাং প্রস্থ যুগোন্মি তাং শুচি সট কিঞ্চিচ্চকিঞ্চিৎ ক্ষিপেৎ। দুগ্ধেনাৰ্দ্ধ ঘনেন মৃন্ময় নবস্থাল্যাং দৃঢ়ং স্রাবয়েদেলাবীজ লবঙ্গ চন্দ্র মারচৈ যোগৈশ্চ তত যােজয়েৎ। ভীমেন প্রিয়ভাজনেন রচিতা না। রসাল। স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণেন পুরা পুনঢ় পুনঃবিয়ং প্রীত্যা সমাস্বাদিতা। এষা যেন বসন্ত বর্জিত দিনে সেব্য। পরং নিত্যশ স্তস্যশ্যাদিতি বীৰ্য বৃদ্ধির নিশং সৰ্বেন্দ্ৰিয়ানাৎ বলং। গ্রীষ্মে তথা শরতি যে রবি শােষিতঙ্গ। যেচ প্রমত্ত বনিতা সুরততি খন্না। যে চাপি মার্গ পরিসপণ শীর্ণ গাত্রা স্তেষামিয়ং পুষি পােষণ মা কুৰ্যাৎ। রসাল শুক্রলা বলা, রােচনী বাতাপত্তজিৎ। দীপণীবৃংহণী স্নিগ্ধা, মধুরা শিশির সরা। রক্তপিত্তং তৃষাং হং প্রতিশ্যয়ং বিনা শয়েৎ। ইতি রাজ নির্ঘণ্টা।
খাদ্য বিচার। পানীয়জল। সমুদয় খাদ্য ও পানীয় দ্রব্যের মধ্যে জলই আমাদের একমাত্র সাধারণ ও প্রধান উপকারী দ্রব্য। সম্মক বিবেচনা করিয়া দেখিতে গেলে, জীবন রক্ষার জন্য কোনও একটী পদার্থই জলের ন্যায় উপ- যোগী নহে। প্রাচীন অ, গণ জীবন রক্ষা বিষয়ে ইহার এতদূর উপযােগীতা জানিতে পারিয়াই ইহাকে জীবন নামে আখ্যাত করিয়া, অন্ন ইত্যাদি যাবতীয় আহার্য্য হইতে শ্রেষ্ঠ বলিয়া গিয়াছেন। এবং নিত্য নৈমিত্তিক ব্যবহার কাৰ্য মধ্যে বিবিধ বিধানে জলের ব্যবহার বিধান করিয়া গিয়াছেন। পবিত্ৰ আহিকতত্ত্ব প্রকরণই তাহার অকাট্য ও অন্যতর প্রমাণ—কিন্তু অমৃতের অপব্যবহারে যেরূপ গরলের উৎপত্তি হয়, তদ্রপ অথা বা অপকৃত দ্বিতীয় অধ্যায় । . জলপান কৰিলেও উপকার স্থলে বিষম অনিষ্ট-উৎ- পত্তির সম্ভাব না; সৈ কারণ আমরা নিম্নে প্রাচীন ও আধুনিক মতে জলের দোষগুণ বিচার বিষয়ে কিঞ্চিৎ প্রাঞ্জলভাবে বর্ণনা করিতে অগ্রসর হইলাম, আয়ুৰ্বেদ মতে, সাধারণতঃ জল দুই প্রকার, দিব্য ও ভৌম (১)। তন্মধ্যে দিব্য জলধারক, কারক, তোষাব ও হৈম এই চারি প্রকার। এবং ভৌম জল দেয়, উদ্ভিদ, নৈঝর, সারস, ভাড়গ, বাপ্য, কৌপ, চৌণ্ড, পাল, বৈকিব, কৈদার এবং সমুদ্র এই দ্বাদশ প্রকার। নিম্নে ইহাদের বিষয় বিশেষ রূপে বলা যাই- তেছে। ১ম (দিব্য জল) (ক) ধার, (বিবি) জল,—শূন্য হইতে যে জল (৩) পানীয়ং মুনিভিঃ প্রােক্তং দিবং ভৌমিতিদ্বিধা । ইত্যাদি, প্র, খাদ্য বিচার। ধারা বহিয়া পতিত হয় তাহাকে ধারা বা বৃষ্টির জল বলে। এই জল সাধারণতঃ দুই প্রকার—সমুদ্র ও (১) সামুদ্র জল। বর্ষাকালে আকাশ বিহারী সৰ্পাদি বিষল জন্তুর ফৎকার ও বিষবায়ুর সংস্পর্শে দূষিত হইয়া বিষযুক্ত যে জল বর্ষিত হয় তাহারই নাম সামুদ জল। এ এই জল স্নান ও পানাদিতে ব্যবহার করা উচিত নহে। যেহেতু ইহার ব্যবহারে শরীরস্থ শুক্র ও বল এবং দৃষ্টিশক্তি বিনষ্ট হয়। এবং বায়ুপিত্ত কফের প্রকোপ জন্মায়। ইহ। ক্ষার ও লবণ রস এবং অতন্ত দুর্গন্ধযুক্ত (১)। (২) গা জল। বায়ুপিত্ত ও কফ নাশক, লঘু, শীতল, বল- (1) ফংকার বিষবাতেন নাগীনাং ব্যোমচারিণাম। বর্ষায় সবিষৎ তােয়ং ইত্যাদি।-ভা, প্র, দ্বিতীয় অধ্যায়। কারক, পুষ্টিকারক, চিত্তের অলীদ ও তৃপ্তি সম্পা- দক, অগ্নিকারক, মেধাবর্ধক এবং মূচ্ছ। ত া দাই তৃষ্ণ শ্রমও ক্লান্তিনিবারক। এইজুল সর্বদা স্নান পানাদিতে ব্যবহার করা উচিত (১)। ধার জলের মধ্যে অকাল বর্ষিত অর্থাৎ পোষ মাঘ ফারণ ও চৈত্রমাসে বাহা পতিত হয়, তাহা ব্যব- হার করা উচিত নহে। ইহাতে বায়ুপিত্ত ও কফের বৃদ্ধি করে (২)। বৃষ্টির জল ধরিতে হইলে একখানি মোটা চার অনাবৃত স্থলে টাঙাইয়া, তাহার মধ্যে একখণ্ড প্রস্তর বা কোন ভৰি দ্ৰব্য রাখিবে এবং ঠি? তাহার (১) ধার নীরব ত্রিদোষমনিৰ্দেশ্য রং লঘু । সৌম্যরসায়ণং ব্যং তর্পণংলাদি জীবনং। পাচনমতি কৃচ্ছ। তাদাহশ্রম ক্লমং। তৃষ্ণাং হরতি নাত্যর্থং বিশেষাং প্রবৃষিস্থিত।-ভা, প্র, (২) অনাবর্তং প্রমুভি বারি বারিধ রাস্তু যং। তৎ ত্রিদোষায় সবেষং দেহিনাং পরিকীর্তিত; ॥-ভা, এ,
খাদ্য বিচার।
নিচে একটা ক লস বা অন্য কোন জলপত্র রাশিয়া
সেই জল ধরিয়া, সুবর্ণ রৌপ্য তং, স্ফটিক,
মৃন্ময় কিম্বা কাচের পাত্রে রাখিবে (১)।
যে দিন বৃষ্টিজল ধরা যায় সে দিন উহা
ব্যবহার করা উচিৎ নহে। কারণ ঐ দপ ব্যবহারে
নানাজাতীয় অসুখ জন্মিবার সম্ভাব না। অতএব ঐ
জল তিন দিবস কোন পাত্রে রাখিয়া পরে ব্যবহার
করিবে। ইহা অমৃতের ন্যায় গুণ যুক্ত হয় (২)।
(খ) কারক জল।
আকাশ বায়ু ও তেজ সংযােগে ঘণীভূত হইয়। যে
জল পাষাণ খণ্ডের ন্যায় আকাশ হইতে পতিত
(১) ধারাভিঃ পতিতং তোষং গৃহীত; জ্বা তা সস।
শিলায়াং বা মুধায়াং ধৌতায়াং পতিতৰুং।
সৌবর্ণে রাজতে তন্ত্রে স্পটীকে কাচ নিৰ্ম্মিতে।
ভাজনে মৃন্ময়ে বাপি স্থাপিতং ধারমুচ্যতে।-ভা, প্র,
(২) বাধিকং তদহবৃৎ ভূমিস্থ মহিতং জল।
ত্রিরাত্রমুষিতং তত্ত প্রসন্নমমূতোপমং ॥-ভা, এ,
দ্বিতীয় অধ্যায়।
হয় তাকে কারক জল বলে। সাধারণতঃ শীলের
জলই এই জল। ইহা রুক্ষ, বিশদ, গুরু, কঠিণ,
শীত ল, ঘন; এবং পিত্ত কফনাশক ও বায়ুৰ্ধক
গুণ যুক্ত (১)।
(গ) তোষার জল।
তুষ’র অর্থাৎ শিশির হইতে যে জলের উৎপত্তি
হয় তাহাকে তৌষীর জল বলে। ইহা শীতল,রুক্ষ,
বায়ুবৰ্দ্ধক, পিত্তের অবিরােধী, কফ, উরুস্তম্ভ, প্রমেহ
গলগণ্ড, কণ্ঠ এবং নেত্রকোগ বিনাশক। এই জল
(১) দিব্যযুগ্নি সংযোগীৎ সংহতাঃ পণ্ডিয়া।
পাষাণ খণ্ডব চ চাপাঃ কারিকোহমৃতেতাপমা।
করকাজং জলং রুক্ষুৎ বিশদং গুরুচরিম্ ।
রুণং শীতলং সাং পিংকষবাতকৃ-ভা, প্র,
১৪
খাদ্য বিচার ।
.
সুস্থকায় শবিরীদের পক্ষে বিশেষ অহিতকর কিন্তু
বৃক্ষাদির পক্ষে হিতকর (১)।
(ঘ) হৈম জল।
ঘনীভূত হিম জল বা (বরফ) হইতে যে জল
বাহির হয় তাহাকে হৈম জল বলে। ইহা শীতল,
রুক্ষ ও সূক্ষম এবং ৰ য়ুপিত্ত কফের সমত।
কনক (২)।
(ভৌম জল।)
(ক) ময়েজ
নদ বা নদীয় জলকে নাদীর জল বলে। এই
(১) অপিনদাঃ সমুদ্রান্তে বহ্নিরাপদুতবাঃ।
ধূমাবয়ব নির্মুক্তাঃ তুষারাখ্যাস্ত তা স্মাতা।
অপথ্যাঃ প্রাণিনীং প্রায়ঃ ভূরুহানাং তু নাহিতা।
তুষরা হিমং রুক্ষং স্যাদ্বতলম পিত্তলম্ ।
কফে রুস্তম্ভকণ্ঠাক্ষি মেহগণি রােগং ভা, ,
(২) হৈমন্ত শীতলং ঝু ক্ষং দারূণং সূক্ষ্ম মিত্যপি।
নউদ্দষয়তে বাতং ন চ পিত্তং নবা কফং ভা, প্ৰ,
দ্বিতীয় অধ্যয়।
১৪১
জল রুক্ষম,লঘু,বিশদ, অনভিসন্ধি, কটুরস,বায়ুবক,
অগ্নি-কারক এবং কফ ও পিত্তনাশক গুণযুক্ত।
শ্ৰেতি জন্য নিৰ্ম্মল হইলে নদির জল লঘু হয়।
এবং শ্রোত অ ভাবে মন্দগামিনী ও শৈবাল যুক্ত।
হইলে গুরুপাক। হিমালয় পৰ্বত হইতে সমৃদ্ধ, তা
গঙ্গা, শতদ্র, সরযু ও যমুন! প্রভৃতি নদীর জল
স্বভাবতঃ অতিশয় গুণবিশিষ্ট ও হিতকর এবং যে,
নদীর জল সর্বদা প্রস্তর দ্বারা আস্ফালিত হয়,
তাহাও উক্ত প্রকার গুণযুক্ত (১)।
(১) নদ নদস্য বা নীরং নায়েমিতিকীৰ্ত্ততং ।
নায়েমুদকং রুক্ষং বাতলং লঘুদীপ নং ।
অনভিষ্যন্দি বিশদং কটুকং কফপিত্তনুং।
নঃ শীষ লমূঃ সৰ্বাষাশ্চামূলেদকাঃ।
গুঃ শৈবালস না মন্দগা: কলুষাশ্চঃ।
হিমবং প্রভঃ পথ্যা নদোহশ্মাহতপাথর।
গঙ্গাশত সবযু যমুনাদাঃ গুণােত্তমাঃ ।
সহশৈলভবানদ্যে বেণ। গোদাবরীমুখাঃ।
কুৰ্বন্তি প্রায়শঃ কুষ্ঠমীষং বাত কাবহাভা, ,
।
১৪২
খাদ্য বিচার ।
সহ্য পৰ্বত হইতে সমুৎপন্ন বেঁন ও গােদাবরী
প্রভৃতি নদীরজল স্বভাবতঃ দোযযুক্ত, উহা ব্যবহারে
কুষ্ঠরােগ এবং কফজ-বেগ জন্মিবার সম্ভাবনা।
(খ! ঔছি জল।
নিম্নভূম ভেদ করিয়া বৃই মারায় যে জল উদগত
হয়, তাহাকে উদ্ভিদ জল বলে। এই প্রকার জল
অতিশয় শীতল, অবিদাহী, পিত্তনাশক, বলক। রক
এবং অল্প বায়ুবৰ্ধক প্রভৃতি গুণযুক্ত (১)।
নৈঝর জল।
পর্বতের প্রস্রবণ হইতে যে জল পরিশ্রুত হয়
(১) বিদাৰ্য্য ভূমিং নিম্নায় মহত্যা ধাবা স্রবে।
তত্তে:যমেদ্ভিদং নাম বদন্তীতি মহর্ষয়ঃ ।
ঔদ্ভিদং বারি পিত্ত ঘুং অবিদাহাতিশীতলং।
প্রাণনং মমুরং বল্যমীষাতকরং লঘু ভা, প্র,
দ্বিতীয় অধ্যায়।
১৪
তাহাকে নৈঝর বা প্রস্রবণ জল বলে। ইহা লঘু,
মধুররস, রুচিকারক, অগ্নকারক, কফনাশক এবং
বায়ু ও পিত্তবন্ধক (১)।
(খ) সারস জল
পৰ্বত হইতে নির্গত হইয়া যে জল স্রোত বহিয়া
কোনও স্থানে আবদ্ধ থাকে ও যাহাতে পদ্মপুশদি
জন্মে তাহাকে সারস বলে। এবং এই সারস স্থিত
জলই সারসজল বলিয়া বর্ণিত হয় । এই জল লঘু,
রুক্ষ ও মধুর, তৃষ্ণাবারক, বলকারক, রূচিকারক
* এবং মল ও মূত্রবর্ধক (২)।
(১) শৈলসাণৰ দ্বারি প্রবাহে নিঝর ঝরঃ।
সতু প্রস্রবণশ্যাপি তত্ৰত্যং নৈঝ রং জল।
নৈঝরং রুচি কৃন্নি রং কফঘুং দীপনং লঘু।
মধুরং কটু পাকেঞ্চ বাতং সাদাত পিত্তলং ভা,,
(১) ন্যা: শৈলাদিরুদ্ধারা যত্র সংক্রততিষ্ঠতি।
তংসরােজল সঘুন্নং তদস্তুঃ সারসং স্ম তং ।
সারসং সলিলং বল্য তৃষ্ণাং মধু রং লঘু
রোচন বরং রুক্ষং বদ্ধমূত্ৰ মলং সু তং ভা, এ,
১৪৪
খাদ্য বিচার
(ঙ) তাড়গ হলঃ-
ইহা স্বাদু
কোনও বিস্তৃত ভূমি খণ্ডে বহুদিন পর্যন্ত জল
আবদ্ধ্য থাকিলে তাহাকে তড়াগ বলে। এই তড়াগ
মধ্যস্থিত জলকেই তাড়গ জল বলে।
ও কষায় রস, (পরিপাকে কটু রস) বায়ুবদ্ধক
মল ও মূত্ররোধক, রক্তপিত্ত ও কফজ রোগের
শান্তিকারক (১)।
(চ) বাপ্য জল।-
প্রস্তর বা ইষ্টকাদি দ্বারায় গ্রথিত শােপিনযুক্ত
অতিবৃহৎ কুপকে বাপি বলে। তত্রস্থ জলকেই
ধাপ্য জল বলে। সাধারণতঃ আমাদের দেশের
ইন্দারা বা পুষ্করিণীর জলকে বাপ্য জল বলা যায় ।
এই জল ক্ষার ধৰ্ম্মাক্রান্ত হইলে পিত্তবৰ্ধক, কফ ও
(১) প্রশস্ত ভূমি ভাগছো বহু সংবৎরােষিতঃ।
জলাশয়গুড়াগঃ সাত্তাড়াগং ভজুলং স্মৃতং।
তাড়াগ মুদকং স্বাদু কষায় কটু পাকি চ।
বাতলং বদ্ধবিমুত্রংস কপি কফাপহৎ।-ভা, প্র,
দ্বিতীয় অধ্যায়। ১০৫ বায়ুর শান্তিকারক এবং মধুর আস্বাদ হইলে কফ- বক ও বায়ু-পিত্তনাশক গুণযুক্ত হয় (১)। (চ)কেল,. স্বল্প বিস্তৃত গভীর গােলাকৃতি ইকাদি দ্বারা বদ্ধ জলাশয়কে কুপ বলে। এই কূপের জলকেই কৌপ বলা হয়। আমাদের দেশের পাতকুয়ার জল এই প্রকারের। এই জল মধুর রস হইলে লঘু পাক ও ত্রিদোষ নাশক, এবং ক্ষার-রস হইলে, অগ্নিকারক, বায়ু ও কফনাশক এবং পিবদ্ধক হয় (২)। (১) পাষানৈষ্টিকাভিৰ্ব্বা বদ্ধ কুপােবৃহত্তরঃ। সপোনা ভবেৎ বাপৗতজ্জলং বাপ্যমুচ্যতে। বাপ্যং বারি যদিক্ষায় পিৎ কফ হৃত। তবে মিষ্টং কফং বাতপিহরং ভবেৎভা,এ, (২) ভূমৌখাতেহৰিারো গভীরে মলকিতিঃ। বদ্বোহবন্ধঃ সপস্যাত্তম্ভ কৌপমুচাতে। কেপিং পয়াে যদি স্বাছ বিদেষয়ং হিং লঘু। তৎক্ষারং কৰাতঃ দীপনং পিৎ পয়ং তা, এ,
১৪৬
খাদ্য বিচার।
(ছ) চৌণ্ডল।
প্রস্তর মধ্যস্থ লতা দ্বারা আবৃত লীলবর্ণাভ জল
বিশিষ্ট অকৃত্রিম গরকে চুণ্ড বলে, এই চুর জল
চৌণ্ড জল নামে অভিহিত। এই প্রকারের জল
লঘু, রূক্ষম, অগ্নিকারক, কফ-পিত্তনাশক, রূচিকারক
প্রভৃতি গুণযুক্ত (১)।
(ক) পাল জল।
অতিক্ষুদ্র যে সকল বিলে সকল সময় জল থাকে
, তাহাকে পল বলে ; এবং এই পন্থল স্থিত
জ লকেই পাল বলে, এইজল মধুর আস্বাদ, গুরূ*
পাক এবং ত্রিদোষ বর্ধক (২)।
;
(১) শীলাকীর্ণ স্বয়ং শুভ্র লীলাঞ্জন সমােকং।
লতাবিতান সংছন্নং চৌণ্ড্যমিত্যভিধীয়তে।
তত্র ত্যমুদকং চৌং মুনিভিদাহৃতং।
চৌণ্ড্যং বহিরং নীরং রুং কফহরং লঘু।
মধুরং পিত্তনুচ্যং পাচনং বিশং ঘৃতং ভা,এ,
(২) অল্পৎ সরঃ পলং স্যাদ্যত্র চক্ষ গেরবো।
ন তিষ্টলিং কিঞ্চিতত্র বাৰি পলং।
পালং বাৰ্যভিষ্যশি গুৰু দুত্রিদোষকৃৎ-ভা,এ,
৪
দ্বিতীয় অধ্যায়।
১৪৭
(ঝ) বৈকির জল।
নদীর নিকটস্থ বালুকার মধ্য হইতে যে জল
উখিত হয়, তাহাকেই বৈকির বলে। এই জাতীয়
জল,শীতল স্বাদু, লঘু ও নির্দেষ (১)।
(ঞ) কৈার জল।
ক্ষেত্ৰস্থিত জলকে কৈদার বলে। ইহ। মধুর
রস, গুরুপাক ও বাদি দোষ-বর্জ্যক (২)।
(ট) সামূদ্র জল।
সমুদ্রের জলকেই সমুদ্র জল বলে। ইহ।
লবণরস, দুর্গন্ধি ও ত্রিদোষ-বৰ্ধক (৩)।
(১) ন্যাদি নিকটে ভুমির্যাতবোলুকাময়ী।
উদ্ভাব্যতে এ বতু তজ্জং বিকিরং বিহু।
বৈকিং শীতল স্বচ্ছ নির্দোষং লঘু চ স্মৃতং-৪া, এ,
(২) কোন ক্ষেত্রমুষ্টিং কৈরং তজ্জলং স্ম, তং।
কৈদারং বাৰ্যভিষ্যন্দি মধুরং ও শোষকৃৎ ভাই,
(৩) সামূমুদক বিলবণং সর্বদাষত্বঃসু, সং,
১৪৮ খাদ্য বিচার । উপরে আয়ুৰ্বেদ হইতে কএক প্রকার জলের দোষ- গুণ দেখা গেল। এক্ষণে ইহার উপর ইংরেজী- মতের যে মন্তব্য আছে তাহা দেখান য়াইতেছে বর্ষাকালে, অতিরিক্ত কাদা পাথুরে কুচি পচা গাছ প্রভৃতি মিলিত হওয়ায়, নদীর জল অত্যন্ত অনুপকারি হয় এবং মৃতদেহ দাহ না করিয়া ফেলায় গলিত দৈহিক মিশ্রিত হইয়াও দুষ্ট হয়। উদ্ভিদ (উলুয়ের জল) অন্য বিষয়ে নির্দোষ হইলেও,নানাপ্রকার ধাতব পদার্থ ও মৃত্তি কাস্থ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কীটাণু মিলিত থাকায় নির্দোষ নহে। ঝরণার জল—অনেকাংশে উৎকৃষ্ট কিন্তু ইহাতেও অনেক রকম খনিজ-ক্ষার অস্ত্র ইত্যাদি মিশ্রিত থাকায়, এককালীন দোষশূন্য নহে। পাত- কুয়া বা ইন্দারার জলও নানাকারণে দূষিত হয়, বাটীতে পাতকুয়া পায়খানা থাকিলে তলায় তলায় যােগ হইয়া, জলে ময়লা মিশ্রিত হয়। নিকটে গােরস্থান থাকিলেও ঐ দোষবর্তে; এবং বর্ষার সময় দ্বিতীয় অধ্যায়। ১৪৯ বৃষ্টি ধারার সঙ্গে কাদা মাটী পচা জন্তুর দৈহিকস, পচা উদ্ভিদাংশ আসিয়া মিলায়,ইহা অত্যন্ত অস্বাস্থ্য- কর হইয়া দাঁড়ায়। ইহা ভিন্ন স্বভাবতই কুয়ার জলে নানাপ্রকার চুর্ণপ্রদ (কটে অব লাইম, সোডা,ম্যাগনেসিয়া-প্রভৃতি) মিশ্রিত থাকায়,উহাতে নানাজাতীয় রােগ জন্মে। পশ্চিম দেশের কুয়ায় ঐ সকল দ্রব্য অধিক থাকায়, ঐ দেশে “পাথরি” পীড়। অধিক জন্মাইয়া থাকে। সূৰ্য-তাপের নিতান্ত অভাব জন্ত কুয়ার জল যে অত্যন্ত শৈত্য গুণযুক্ত, ইহা সকলেই জানেন। সর্বাপেক্ষা বৃষ্টির জল অধিক গুণযুক্ত ও নির্মল। তবে মাটীতে বা হ্রদে পড়িবার পূর্বে, পূৰ্ব্বনিয়মে কাপড় পাতিয়া ধরা আবশ্যক। পুকুর বিল প্রভৃ- তির জল-কাপড় ধােয়া,ময়লা ধােয়া প্রভৃতি নানা কারণে অত্যন্ত দূষিত হইয়া পাড়ায়। । এই সকল কারণে যে জল দূষিত হয় সে বিষয় আমাদের প্রাচীন শান্তকারগণও তছিলেন যথা-
খাদ্য বিচার।
প্রকৃত পক্ষেই এ দেশে জল দূষিত করতে
সকলই সমান বাহাদুর। সে জল নিত্য পান
করেন—ঠাকুর-দেবত্তার ভােগে দেন—ড়িতে
চড়ান, সেই জলেই যতো দেশের মলমুত্র ধােয়া
“কাটমুত্ৰ পূৰীষন্তে শৰকোথ প্রদুষিতং। তৃণ পর্ণোৎকতং
কলুষং বিষসংযুৎ যোগাহেত বর্ষায়ু বিবেসিনৰং জলং।
স বাহাভ্যন্তরীন রেগান প্রধুৎ ক্ষিপ্রমেবতু। তংযং শৈবাল
পঙ্কহট তৃণ পদ্মপত্র প্রভৃতিভিনং। শশিমূৰ্যকিরণানিলৈ
নাভিজুষ্টং গন্ধবর্ণ রসেপষ্টভাপমিতি বিদ্যাৎ-মু, সং।
অর্থাৎ কীট মূঃ বিষ্ঠা অণ্ড মৃহে দুর্গ ও পচা দ্রব্য
হার। দুষিত, তৃণ ও পত্রাদি সুযুক্ত অবিমল ও বিষমুক্ত জল; এবং
বর্ষাকালের নুতন জল, মুন ও পানাদিতে কখন ব্যবহার
করিবে না। উক্ত জল ব্যবহারে বাহ্য ও অভ্যন্তরিক নানা
জাতীয় রােগ জাইকার সম্ভাবনা। সেই প্রকার পান, শেওলা,
কর্দম, পপত্র প্রভৃতি দ্বারা আচ্ছন্ন ; চন্দ্র ও সূর্যকিরণ রহিত ;
বায়ু দ্বারা অনান্দোলিত, স্পষ্ট, গন্ধ বর্ণ ও রস সংযুক্ত জল ও
দুষিত সুতরাং অপেয় নিবে।-এখন দেখুন, আমাদের প্রাচীন
শাস্ত্র বহুকাল পূর্বে এই যে সকল কথা বলিয়া গিয়াছেন, আজ
ও তাহার উপর একটীর নূতন কথা বাহির হয় নাই। ইহা
দেখিয়াও যাহারা আমাদের কিছুই নাই বলেন, তাঁদের “লাপন
ধনে আপনি চোর ভিন্ন আর কি বলি?
দ্বিতীয় অধ্যায়।
হয়। সেই ময়লাই যে ফিরিয়া আসিয়া ভােগ রাগে
উঠেসেটা অার ভাবেন না? কাপড় কাচা, ময়লা
ধােয়া, শৌচ করা, মুখ ধােয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাস
পেঁাটা ফেলা, গরুর গা ধােয়ান, পাড়ে বসে বাহে
যাওয়া এই রকম নানা অত্যাচারে অলর
দফারফা করা হয়। গ্রামের মধ্যে যদি কারও
ওলাউঠা হল, তার ময়লা গুলি যাতে গ্রামের
সকলের পেটে গিয়া গ্রাম সমেত লােকগুলাকে
ঐ রােগে ধরে, সেই মতলবেই যেন রােগীর যতাে
ময়লা সব স্নানের ঘাটে গিয়ে রেখে অাস হয় ।
এ পক্ষে মেয়েদের বাড়াবাড়ি আরও বেশী, তাদের
যতো কিছু আপদ বালাই সবই জলে গিয়ে সারা
চাই; অথচ জলের আবশ্যক তঁাদেরই আবার
বেশী। আমাদের প্রাচীন আর্যগণ জলকে নারায়ণ
জ্ঞান করিয়া পবিত্র ভাবে রক্ষা করিতে শত শত
উপদেশ দিয়াছেন, ইংরাজগণ ও ইহার পবিত্রতা
রক্ষার জন্য শত শত যুক্তি দিতেছেন, এমন কি
১২
খাদ্য বিচার ।
এ সম্বন্ধে বিশেষ আইন ও ( Sanitary• Law.)
বিধিবদ্ধ করিয়াছেন, কিন্তু বড়ই দুঃখের বিষয়
কিছুতেই কিছু
হইতেছে না,
মানুষ
আপন মরার
অসুধ অাপনি গলায় বধিতেছে, কাহারও মানাই
মানিতেছে না।
ফল কথা, নানাকারণে এ দেশে বিশেষতঃ
পল্লীগ্রাম সমুহে পরিষ্কার জল পাওয়া একরূপ
অসম্ভব হইয়াছে, যে প্রকারের হোক অপরিষ্কৃত
জলই ব্যবহার করিতে হয়, কিন্তু অপরিষ্কৃত জল
ব্যবহার করা যে নিতান্ত অন্যায় সে বিষয়ে আর
মতভেদ নাই। ময়ল। জল ব্যবহারে, শেষ বিবিধ
প্রকার চশ্মরােগ, অপাক, শাসকাস, সর্দি, গুল্ম,
উদারময় এবং ম্যালেরিয়া জ্বর, প্লীহা, অগ্নিমান্দ্য,
কৃমি, আমাশয়, উদারময়, ওলীউঠা, গলগণ্ড,
.
দণ্ডবিধি আইনের ২৩, ২৬, ২৭৩, ২৭৭, ২৭৮ ধারা।
দ্বিতীয় অধ্যয়।
১৫৩
পাখরি প্রভৃতি রােগ জন্মে । সুতরাং যেরূপেই
হউক পরিষ্কার জল পান করাই কর্তব্য; সে কারণ
* ব্যাপন্নং সলিলং যন্ত বিপতীহা প্রসাধিতং ।
ধনুধু পাণ্ডুরােগঞ্চ ত্বগোষ বিপাকিং
বাসকাস প্রতীশ্যায় শূল গুলোদরাণি চ।
অন্যান বা বিষমান রােগান প্রশ্ন যাৎ ক্ষিপ্রমেবতু-, সং ।
"And when it is recollected how many diseases may
be introduced into the system through the medium of
water, it will be evident that too much care can not be
Exercised in procuring a pure supply of this important
necessary. Thus, as already mentioned, ague has been
known tå occur apparently from the use of impure
water. Spleen disease may originate from similar cause.
The introduction of the guineaworm into the system
is probably always by water. Dysentery and diarrhoea
are excited by water containing both animal and
vegetable impuritius. Dyspepsia will occur from a
similarly impure fluid. Stone iu the bladder, Derbyshire
neck or 'goitre' are other results of the continued use
of bad drinkingwater. Cholera also, it is believed, may
be propagated by contaminated water,"
W. I. MOORE
১৫৪
খাদ্য বিচার।
কি কি উপায়ে জল পরিষ্কার করা যায় নিয়ে তাহার
উল্লেখ করা যাইতেছে,
(১) পূর্বোক্ত যে যে কারণে জল দুষিত হয়,
তাহা নিবারণ করিলে—যেখানে, নদী বিল দীঘি
পুকুর কি ইন্দারা আছে, সেখানে পানীয় জলের
অভাব ঘটে না। সুতরাং এদিকে গ্রামের প্রধান
লোকের মনােযােগ থাকা আবশ্যক,এজন্য যদি
আইনের আশ্রয় লইতে হয়,তাহা লওয়া
উ!চৎ।
(২) নিৰ্ম্মাল্য ফল (strychros Potatoruit) ঘষিয়া
দিলে জল বেশ পরিষ্কার হয়। বর্ষার সময় নদীর
কাদা মিশ্রিত জল এই উপায়ে পরিষ্কার করা যায় ।
(৩) ফটকিরির গুড়া অল্প মিশাইলেও জল
পরিষ্ক র হয় কিন্তু অধিক হইলে গুণের ব্যতি-
ক্রম ঘটে।
(৪) যে রকমের জলই হউক, গরম করিয়া লইলে
নির্দোষ হয়, তবে আড়াই নুড়। খড়ে যেন গরম
দ্বিতীয় অধ্যায়।
না সারা হয় বেশ ফুটাইয়া লইয়া ঠাণ্ডা হইলে পান
করিবে।
(৫) তিনটা কলসী লইয়া তন্মধ্যে দুইটার
তলায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র করিয়া উহার একটীতে
পরিষ্কার কয়লা, আর একটীতে সাদা ঘােয়া বালি,
অর্ধেক আন্দাজ পুরিবে। সকলের নীচে ভাল
কলসীটী বসাইয়া তাহার উপর বালির কলসীটী,
আর বালির কলসীর উপর কয়লার কলসীটী বসা-
ইয়া, বে’শ ফুটন্ত গরম জল একটু ঠাণ্ডা হইলে
উপরের কয়লার কলসীতে ঢালিয়া দিবে, ঐ জল
ক্রমে টপকাইয়া টপকাইয়া কয়লা ও বালিতে
শোধন হইয়া, নীচের কলসীতে আসিয়া জমা
হইবে, উহাই নির্দোষ ও নিৰ্ম্মল জল।
(৬) একটী কলসীর তলায় ছিদ্র কারয়া, তাহাতে
ফর্ষা ন্যাকড়ার গুজি দিবে। পরে কলসীর
তলায় সিকি ভাগ আন্দাজ বালি দিয়া, বালির উপর
আর এক সিকি ভাগ কয়লা দিবে। পরে কলসীতে
খাদ্য বিচার।
সিদ্ধ এল তালিয়া দিবে এবং তলায় একটা পাত্র
পাতিয়া চোয়ান জল ধরিয়া লইবে। এটা পূর্ব
নিয়মের অন্যতর মাত্র। কয়লা ও বালি মধ্যে
মধ্যে বদলাইয়া বা রৌদ্রে শুখাইয়া লওয়া উচিৎ।
(৭) (প্রাচীন মতে) দূষিত জলকে সূৰ্য্য বা
অগ্নি উত্তাপে উত্তপ্ত করিবে। অথবা লৌহপিণ্ড,
স্বর্ণ, রৌপ্য, অন্তর, বালুকা কিম্বা মৃৎপিণ্ড অগ্নিতে
খুব উত্তপ্ত করিয়া, জলে সাতবার নিক্ষেপ করিবে।
পরে ঐ জলে মুক্তা, মৃণাল, শৈবাল প্রভৃতির মধ্যে
কোন একটী নিক্ষেপ করিয়া কিছুক্ষণ স্থির রাখিবে
শেষে কাপড়ে ছাঁকিয়া লইয়া নাগেশ্বর, চাঁপা
প্রভৃতি কোন সুগন্ধি পুষ্প দ্বারা সুবাসিত করিয়া
ব্যবহার করিবে।
পূর্বোক্ত যে কোন উপায় দ্বারা জল শশাধিত
হইলে তাহা,–নিৰ্ম্মল, রূপ রস গন্ধ রহিত হইবে।
ইহাই নিৰ্ম্মল জলের পরীক্ষা বা লক্ষণ। ইংরাজী
মতেও প্রকৃত জলের ঐ ধৰ্ম্ম ঐমতে ইহা ভিন্ন।
দ্বিতীয় অধ্যায়।
কষ্টিক গুলিয়া জলের নিলতার পরীক্ষা করা ।
হয়।কাক্টিক দিলে যদি জল ঘােলাটীয়া না হয়,
তবে তাহা ঠিক পরিষ্কার বলিয়া জানা যায়। সাবান
ঘরাও ঐরূপ পরীক্ষা হইয়া থাকে।
(নিষেধ বিধি)
(১) বাপাকারে দৈহিক উষ্ণতার সাস্য করণ, দৈহিক
পদার্থ সকলের পুষ্টিসাধন, দূষিত পদার্থ সকলের বহিস্করণ প্রভৃতি
কার্যের সাহাৰ্য্য জন্য উচিত পরিমাণে নিত্য জলপান করা আর
শ্যক; এমতে আমাদের দেশে প্রত্যেক যুবকের জন্য দৈহিক
২ সের জল পানের অাবশ্যক হয়।
(২) শরীরে জলের অভাব হইলেই তৃষ্ণার উদয় হয়, সুতরাং
তৃষ্ণা পাইলেই তৃষ্ণার পরিমাণ এত জল পান করা এবং তৃষ্ণা না
পাইলে জলপান করা উচিত নহে।
(৩) আহার কালে অধিক জলপান করা উচিত নহে,
পাচকরুস তাল হওয়ায়-পরিপাক কার্যের ব্যাঘাত জন্মে , তবে
সুপ খা; চিড়ে, টি পিঠে ইত্যাপি ;ইবার
১৫৮
খাদ্য বিচার।
সমস্তু অল্প অল্প জল পান করা উচিত, নচেৎ পাকস্থলীতে উগ্রতা
উপবৃত হয়।
(৪) অজীর্ণ ও অতিসার অনুরােগ প্রভৃতি উপস্থিত থাকিলে
আহার কালে জলপান না করিয়া, আহারের তিন ঘণ্টা পরে জল
পান করা ভাল।
(৩) খালি পেটে অধিক জল পান করিলে-উছারাখান, ক্ষুধার
অভাব, অজীর্ণ, অগ্নিমান্দ্য, অতিসার প্রভৃতি রােগ জন্মে।
(৬) রৌদ্রতাপে বা পর্যটন প্রভৃতি কার জন্য পিপাসা উপস্থিত
হইলে কিছুক্ষণ বিশ্রাম না কায়া জল পান করিবে না। ইহাতে
সর্দি, কাস, আশয় ইত্যাদি রােগ জন্মাইবার সম্ভাবনা।
প্র চীন মতে-
(৭) অতিরিক্ত জল পান করিলে অগ্নিমান্দ্য জয়ে এবং
একেবারে পান না করলেও বিশেষ ষে ঘটে, সে কারণ অফি
বৃক্ষার জন্য ব'রংবার অল্প মাত্রায় জল পান করিবার বিধি (*)।
পাঠক দেখিবেন? এই মীর সহিত পূর্বোক্ত ইংরাজী
মতে সম্পূর্ণ মিলন আছে।
(৮) আহারের পূর্বে অধিক জল পান করলে শরীর কুশ
অতাম্বু পাবিপচ্যতেইং নিঃখু পানাচ্চস এব দোষ।
তথ্যরে বাহুবিবর্ধনায় মুহু মুছবাকি পিবেদ ভূরি।—ভা,খ,
দ্বিতীয় অধ্যায়।
ছয় ও ঘাগ্নি জন্মে। এবং আহারান্তে পান করিলে স্থূলতা ও
কফের বৃদ্ধিপায় ।
১) ক্ষুধাৱ সময় কিছু না খাইয়া জলপান করিলে উৰী
রােগ জমে, সেইরূপ তৃষ্ণার সময় জলপান না করিয়া অন্ন ইত্যা
বাইলে, ওস্মরােগ জন্মে (*)।
(১০) প্রাচীন শাস্ত্রে, সময় ও কাল ভেদে ভিন্ন ভিন্ন রকমের
পানের বিধি আছে; (৫) কিন্তু সাধারণ পক্ষে তাহার সংঘটন
অসম্ভব।
(১১) গরম জল ‘সি’ হইলে পান করিবে না—ইহাতে
ফফের বৃদ্ধি করে।
(১২। দিনেরগরম ক জল রাত্রিতে বা রাত্রির সিদ্ধ করা
জল দিতে পান করা উচিত নহে।
=
(*) তৃষিতন্তু মাশায়াং কুতিন পির্জে বং।
তৃষিতস্তু ভবেগুল্মী ক্ষুধিত জলোদী-তা, প্ৰ,
(t) যথা-
পৌষে বারি সরােজাহং মাঘে তত্ত্বতড়াগজং ।
কাণে কূপ স্যুতং চৈত্রে চৌং হিতং মতং ।
বৈশাখে নৈবরং নবং জৈষ্ঠ শস্থ তখোদ্ভিদ।
আষাঢ়ে শস্যতে.কে সং শ্রাবণে দিব্য মেচ।
ভাদ্রে কেপং পয়ঃ শমশিণে চৌ মেচ ।
কার্তিকে মর্গ শীর্ষে চ জমা প্রদ্যতো, এ,
খাদ্য বিচার।
(।
(১৩) উষাপান।
প্রত্যুষ সময়ে শীতল জল পান করিলে, কালি হাঁপাশি
খাত শীৰয়ােগ কৰ্ণােগ প্রভৃতির শান্তি হয়। ইংরেজ
চিকিৎসগণের মলেও ইহা বিশেষ উপকারী।
(১৪) ব্যাধিকালের বিধি।
(ক) জন, ওলাইঠা বহুমুত্র প্রভৃতি যে সকল রােগে শরীয়
গলের ভাগ মলমুত্র বা বাষ্পাকারে বাহির হওয়ায়, অভাব অ
অতিরিক্ত পিপাসা উপস্থিত হও, ঐ সকল পলে উচিত মাত্রায়
জল পান করিতে দেওয়া আবশ্যক; কিন্তু অনেকস্থলেই এই
ব্যবস্থাটার উপর একটু গোঁড়ামি দেখা যায়।এদিকে ডাক্তার
মহাশয়ে জল নে ভগীরথ হন—এক ধীর তৃষ্ণায় সাত ঘড়।
দিতে বলেন। অপর দিকে কোন কোন গোড়ীকবিরা
তৃষ্ণায় হাতি ফাটিয়া গেলেও এক ফোটা জল দিতে মত দেন ।
a Glass of cold water taken early in the morning
is to some persons a purgative. The caokery tuste to hot
pensation in the mouth, slack of appetite for break-fast,
experienced by many persons on water is removed by
drinking half a tumbler of pure cold water half an hour
before break-fast.
4. Binger. , D.
দ্বিতীয় অধ্যায়। ১৬১ । বলা বাহুল্য এ উভয় পক্ষীয় কাহার ব্যবস্থাই ঠিক নহে। কারণ, যদি চ ইংরেজী মতে তৃষ্ণার জল দিবার বিশেষ অনুরোধ আছে,কিন্তু অতিরিক্ত দিতে ও সেইরূপ নিষেধ দেখা যায়। সুতরাং যাহারা ডাক্তারি চিকিংসার চটক দেখাইতে অতিরিক্ত জলপান করাইয়া রােগীর অনিষ্ট করেন—ডাক্তারী মতে তাহা দের জ্ঞান অসম্পূর্ণ, অপর পক্ষে যে সকল কবিরাজ তৃষ্ণায় কাল দিতে চাহেন না তারাও শাস্ত্রজ্ঞ কবিরাজ নহেন, যেহেতু আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে কোথাও পিপাসায় জল বারণের বিধি নাই। (*) (খ) তরূণ জর বা শােথ প্রভৃতি রােগে কবিরাজেরা জলের (*) সহরে না থাকিলেও, পাড়া গেঁয়ে এ রকম দুই একজন কবিরাজের সঙ্গে আমার পরিচয় আছে। (t) But if left to himself a patient to satiate his craving, will always drink to excess, which is very liable to dearange the stomach, impair disgestion, produce flatulence and even diarrhoe." S Ringer. () জীবানাং জীবনং জীবে। জগৎ সর্ঘ তন্ময়ং। অভােত্যন্ত নিষেধেন কদাচিদ বারিবাৰ্যতে—ভা, এ, তৃষ্ণা গরীসী ঘাের সদ্যঃ প্রাণ বিনাশিণী তন্মদেয়ং তৃষার্তায় পানীয়ং প্রাণধারণং। তৃষিতে মােহমায়াতি মােহাৎ প্রাণ বিমুঞ্চতি। অত সর্বাবস্থায় বারি দেয়ং পিপাসবে।-হারীত-সংহিতা
খাদ্য বিচার।
সহিত ফোন তিক্ত কষায় দ্রব্য মিশাইয়া পান করিতে দেন ।
এ ব্যবস্থাটা বড় ভাল,এবং ইংরাজ চিকিৎসকদের অভিমত (*)।
(গ) উগ-পিত্ত, মৃচ্ছ, মাত্যয়, দাহ, ভ্র, কুম, বাস,
বমি, রক্তপিত্ত ও বষা রোগে, শীতল জল পান করা উচিত।-৭,
(খ) পার্শ্বশূল, সর্দি, বাতরােগ, গলগ্রহ, আখান, কোষ্টবদ্ধ,
লৰ-এ, হিকারােগ, প্রভৃতিতে উফজল পান করা কর্তব্য,
(৪) মদ্যপান জনিত রােগ, পিত্ত ও সমিপাতিক কােণে
সূত শীতল (গরম জল ঠাণ্ডা হলে) ব্যবহার করা উচিত।
(চ) অরুচি, সর্দি, কফস্রাব, শেখ, ক্ষয়, মন্দাগ্নি, কুষ্ঠ, ,
নেত্ৰৰােগ, ব্রা, মধুমেহ এবং উদর রােগযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে অতি
আর মাত্রায় জল পান করা উচিত। সং,
(ছ) শীতল জল দুই প্রহরে, ঈষৎ উষ্ণ জল অর্থ প্রহরে এবং
দৃত শীতল জল এক প্রহরে জীর্ণ হয়।-ভা, ৪,
s
s Ringer.
(*) Theory and experience both show that drink,
made slightly bitter and some what acid slake thirst
most effectually.
(1) উষ্ণ জল -কফ, মেদ, বায়ু ও আমি দোষ নিবারক।
অগ্নিকারক, বস্তিবােধ ক, এবং স্বাস, কাস ও জ নিবারক।
উত্তাপের কম বেশী অনুসারে গরম জলে গুণের ও তারতম্য হয়,
হল বেধে এবার তাহার উল্লেখে ক্ষান্ত থাকলাম।
দ্বিতীয় অধ্যায়।
অন্যান্য পানীয়।
১। ধীৰু পানীয় (লেমনেড)।
দুইটা পাতি বা কাগজি লেবুর রস ও একছটাক
চিনি,একটা কাচ বা পাথরের পাত্রে রাখিয়া,তাহাতে
২ ছটাক ফুটন্ত জল ঢালিয়া আর একটী ঐরূপ
পাত্ত দিয়া টাকিয়া রাখিবে, শীতল হইলে ১-২
ছটাক মাত্রায় পান করিবে, এ দেশে গরম জলের
বদলে ঠাণ্ডা জল দিয়া ঐরূপ সরবৎ তৈয়ার করা
যায়। গরম জলে তৈয়ারি সরবৎ গরম অবস্থায়
বোতলে পুরিয়া মুখ বন্ধ করিয়া রাখিলে অনেক দিন
থাকে এবং পান করিবার সময় উথলিয়া উঠে।
গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত তৃষ্ণা হইলে, এবং জ্বরাদি
রােগে, তৃষ্ণা বা বমন উপদ্রব থাকিলে ইহাতে
বিশেষ উপকার হয়।
২। তিন্তিৰি পানীয়।
অল্পমাত্রায় পাকা তেঁতুল জলে গুলিয়া তাহাতে
খাদ্য বিচার। অল্প চিনি মিশাইয়া লইলেই তৈয়ার হয়। ইহা শৈত্যকারক, মৃদু-বিরেচক, অগ্নিকারক প্রভৃতি গুণ- যুক্ত; জ্বর ও আমাশয় রােগে সুপথ্য। ৩। অদ্রিক মিশ্রিত জম্বার পানীয়,ঞ্জি রেড)। পরিমাণ মত জামির বা পাতিলেবুর রস, পরি- কার চিনি, মধু ও আদা সহ মিশাইয়া কোন একটা বােতলে বদ্ধ রাখিবে ; আবশ্যক মত ১৩ ছটাক ম:ভ্রায় পান করিবে । ইহ। অগ্নিকারক, বমন নিবারক, তৃষ্ণাবারক প্রভৃতি গুণযুক্ত। ৪। চা- () একটা পাত্রে গরম জল রাখিয়া তাহাতে কিছু চা পাতা দিয়া ঢাকিয়া রাখিবে, জলটুকু লাল হইলে ছাকিয়া লইয়া গৰম গৰম পান করিবে। সুস্বাদু করিবার জন্য কাথের সহিত দুগ্ধ চিনি ইত্যাদি মিশান হয়।ইহা বলকারক, পরিবর্তক, বেদনাবারক প্রভৃতি গুণযুক্ত। অনেকে বলেন, দ্বিতীয় অধ্যায়। ইহার নিত্য ব্যবহারে শরীরের ক্ষয় নিবারণ হয়। দেশী কথায়—ইহাতে শ্লেষ্ম নষ্ট করে, এবং পিত বৃদ্ধি করে। জ্বরােগে-শীরপীস ও তন্দ্র। উপদ্রব থাকিলে, চা পানে উপকার হয়। সর্দিরােগে ইহার বিস্তর ব্যবহার হয়, কিন্তু সর্দির সূচন। অবস্থা (যন গলার মধ্যে ব্যথা, হাঁসি ইত্যাদি উপস্থিত থাকে) ভিন্ন প্রকাশ অবস্থায় ইহাতে বিশেষ উপ- কার হয় বলিয়া আমাদের বিশ্বাস নাই। বাতশ্লেষ্ম। জন্য হাত পা কামড়ন বা গাত্রে বেদনা থাকিলে চা পানে বেশ উপকার হয়। এক কথায় শ্লেষ্মার ধাতুতে এ দেশে চা উপকারী নচেৎ অনুপকারী। আজকাল এ দেশে ইংরাজী অনুকরণে চা পানের যেরূপ সৰু চাগিয়াছে তাহা নিত ও ন্যায় বলি- য়াই বােধ হয়। আমাদের এ গৰম দেশে উহা উপযোগী নহে, ইহা অনেকেই স্বীকার করেন এবং পরীক্ষার দ্বারাও দেখা যায়। ভাক্তার রিচাভসনের মতে অতিরিক্ত চ পান নিষিদ্ধ,-
খাদ্য বিচার ।
৮ে
যেহেতু ইহাতে অরূচি, লালাস্রাবের হ্রাস ও
পিত্তবৃদ্ধি হয়, সর্বদ। গা বমি বমি কবে, কোষ্ঠ
কঠিন হয়, এবং স্নাবীয় অস্থিরত! জন্য অনিদ্রা,
স্বপ্নযুক্ত নিদ্রা ইত্যাদি উপস্থিত হয় ।
৫। কাওয়া (কাফি)।
ইহাও চা পাতার ন্যায় কথ করিয়া পান করিতে।
হয়। আমাদের দেশে ইহার ব্যবহার করা উচিত
নহে। শীত প্রধান দেশে ইহাতে কোষ্ট পরিষ্কার
রাখে বলিয়া অনেকের বিশ্বাস। ইহাতে চা
অপেক্ষ, অধিক অনি দ্রা ও অগ্নিমান্দ্য রোগ জন্মে।
৬। কোকেয়া।
চাব ন্যায় ইহার পাত! ব্যবহার হয় । তিন পোয়া
* আমার জনৈক আত্মীয়ের সব্দ হওয়ায়, উপযুপরি কয়েক
দিন চা পান কবেন, সংপ্রতি তাহাব এর অনিদ্র। রোগ জন্মি-
আছে যে, রার দিনের মধ্যে দুই ঘটাও সুনদ্রা হয় না; এমন
কি, ভাল ভাল “নিদ্রাকারক ঔষধের ক্রিসও ভালরূপে কাৰ্য্য
কারী না হওয়ায়, এক্ষণে তিনি কবিরাজী চিকিৎসার অধীন
হইয়াছেন।
দ্বিতীয় অধ্যয়।
আন্দা শীতল তলে, এক চামচে এই পতা
রাত্রে ভিজাইয়া রাখিয়া পরদিন দুই ঘণ্টা ঐ জলে
সিদ্ধ করিবে, পরে ছাকিয়া লইয়া অল্প বা দুধ
মিশাইয়া পান করিবে । ইহা পান করিয়া অন্য
কিছু আহার না করিয়া পরিশ্রম করা যায়, এজন্য
ইউরােপ ও আমেরিকার মজুরদিগের মধ্যে ইহার
বিস্তর ব্যবহার আছে। কোকেয়ার পাতা ভাজিয়া
চিনি ও দারূচিনির সঙ্গে বাটীয়া যে “চকলেট ”
তৈয়ারি হয় তাহাও উক্ত গুণযুক্ত।
৭। তালের রস বা তাড়ি।
টাটকা অবস্থায় মিষ্টাস্বাদ ও শৈত্যকারক। বাসি
রস দুর্গন্ধ ও মাদক। বিহার বিভাগে নিম্ন জাতীদের
মধ্যে তাড়ির বিস্তর ব্যবহার আছে।
৮। খেজুর রস।
ইহা একটা শৈত্যকাক, ও মূত্ৰকাক পানীয় ;
অধিক মাত্রায় ব্যবহারে অগ্নিমান্দ্য, উদারময়, উদা-
১৮
খান বিচার।
রাত্মান ইত্যাদি উপস্থিত করে। কোন কোন বিজ্ঞ
কবিরাজ বলেন জুর রসে পিত্তবৃদ্ধি হয়।
সুগন্ধি দ্রব্য বা মসলা সকল।
এ দেশে রান্নার মসালা-পানের মালাতাম
কেম মসলা বলিয়া, অনেক রকম মসলার ব্যবহার
আছে। নিম্নে যে গুলির সর্বদা ব্যবহার হয় তাহা
বই উল্লেখ করিলাম।
১। আত্ৰক বা আঙ্গ।
উত্তেজক, অগ্নিকারক এবং আত্মাণবারক গুণযুক্ত।
উদরাম্মান,আত্মাণ শূল,অগ্নিমান্দ্য বিশেষ উপকারী।
২। এলাট।
বড় ও ছােট ভেদে দুইপ্রকার, ছােট এলাইচকে
সচরাচক গুজরাটি এলাইচ বলে-ভাব প্রকাশ
দ্বিতীয় অধ্যায়।
১৬১
মতে, বড় এলাইচ-লঘু, রুক্ষ, উষ্ণ, শ্লেষ্মপিত্ত,
কও, খ,তৃষ্ণা, বমি ও কামনাশক গুণযুক্ত।
ইংরাজীমতে, বড় এলাচ সুগন্ধি, বায়ুনাশক,
আগ্নেয় ও উত্তেজক এবং ছােট এলাইচও ঐ সকল
গুণযুক্ত। এ মতে অজীর্ণ, আখান ও অস্ত্রশূল
ইত্যাদিতে ইহা বিশেষ উপকারী।
৩। কপূর।
উত্তেজক,হেঁচুনিবারক,ঘৰ্ম্মকারক, বেদনাবারক,
কামনিবারক, ইত্যাদি গুণযুক্ত; অধিক মাত্রয়
* মাদকতা লক্ষণ প্রকাশ পায়, এমন কি মৃত্যু পর্যন্ত
অনেকে বলেন ইহার অতিরিক্ত ব্যবহারে
ওলাই ঠার ন্যায় লক্ষণ উপস্থিত হয়, এবং কলেরা
সময়ে ইহার অল্প ব্যবহারে কলেরা বারণ হয়।
কষ্টজ রোগগ্রস্থ এবং কামােন্মাদিনীদের পক্ষে
অল্পমাত্রায় ইহার নিত্য ব্যবহারে বিশেষ ফললাভের
সম্ভাবনা কামুক পুরুষ-দিগকেও আমরা এই
মসলাটির ব্যবহার জন্য অনুরােধ করি।
১৭০
খাদ্য বিচার।
কাবাব চিনি।
পানের মসলার মধ্যে ব্যবহার হয়,ইহা বলকারক,
মুত্রকারক, অগ্নিকারক, বায়ুনাশক ও কফ-নিবারক
গুণযুক্ত। প্রমেহ রোগের পুরাতন অবস্থায় ইহার
দ্বারা বিশেষ উপকার হয়, সুতরাং মেহ রােগীদের
এই মসলাটী বাঁধাবাঁধি ব্যবহার করা মন্দ নহে।
৫। বদির বা খয়ের।
ইহা একটী পানের মসলা, প্রাচীনতে শীতল
এবং কণ্ড, কাস, অরূচি, কৃমি, মেহ, জ্বর, ব্রণ,
শােথ, রক্তপিত্ত ও পাণ্ডুরোগ নাশক গুণযুক্ত।
ইংরাজী মতে,—ইহা প্রবল ধারক, অগ্নিকারক ও
অল্প বলকারক। মুখ ক্ষত, জিহ্বাক্ষত ইত্যাদিতে
খয়ের পানের সহিত ব্যবহার করিলে উপকার হয়।
গোল মরিচ।
উত্তেজক, আন-বায়ক, পালা-বারক প্রভৃতি
গুণযুক্ত ; ডাঃ, সানুসি বলেন , ইহার জ্বরনাশক
শক্তি আছে। পুরাতন—আমাশয় রােগে-ই।
দ্বিতীয় অধ্যায়।
উপকারী,গোলমরিচ চুর্ণ ১ ভােলা, মৌরি ও হিং
চুর্ণ প্রত্যেক ১ তোলা ও আফিং পাঁচ-আনা ওজনে
লইয়া, আধপোয়া ছাগদুগ্ধে ছয়ঘণ্টা পর্যন্ত ভিজা-
ইয়া খলে মাড়িয়া লইবে। পরে রৌদ্রে শুক
করিয়া, ২া রতি পরিমাণে এক এ চটী বটীকা
বাঁধিবে, প্রত্যহ তিনটা করিয়া এই বটীকা সবন
করিলে পরিপাক শক্তি ও ক্ষুধাবৃদ্ধি হইয়া পুতিন
আমাশয় রোগ আরোগ্য হয়। অর্শরােগে-গোল
মরিচ সূক্ষম চুর্ণ ১ ছটাক, জীরা চু ১৫০ ছটাক,
ভাল মধু ৭০ ছটক একত্রে মাড়িয়া, ইহার ১৫
হইতে ৩০ রতি মাত্রায় দিবসে ২/৩ বার সেবন
করিলে উপকার হয়।
৭। চই(চব)-
ইহা এক রকম শিকড়,-উগ্র ঝাল ও সুগন্ধি,
লকার বদলে ব্যবহৃত হয় এবং লঙ্কার বলে মত
ইহাতে অম্ল জন্মে না, যে জন্য যাঁহাদের অম্লপি
রােগ আছে তাহাদের চই ব্যাহার করাই ভাল।
৫
১৭২ খাদ্য বিচার। ৮। ফিরাণ বা কুম। ইহা অনেক স্থলে মালার মধ্যে ব্যবহৃত হয়, এবং রং করা গুণই প্রবল-ইহ। ভিয়, ইহার আক্ষেপ নিবারক ও রজঃনিশারক গুণ আছে বলিয়া অনেকের বিশ্বাস। ১। জায়ফল-জৈত্রী। আয়ুৰ্বেদ মতে,জায়ফল উষ্ণ, রূচকারক, অগ্নিকারক, বায়ু শ্লেষ্মানাশক এবং কৃমি, কাস, বমি, শাস, পীনস প্রভৃতি রােগনাশক। জায়ফলের উপরের পর্দাকে জৈত্রী বলে,ইহ। কফ, কাসু, বমি, শ্বাস ও তৃষ্ণা বারক। ইংৰাজী মতে, জয়ফল- উত্তেজক, অষ্মানাশক, অগ্নিকারক এবং অধিক মাত্রায় মাদক। এমতে পুরাতন অতি সার,উদারময়, আগুন, অনিশূল ও অজীর্ণ ইত্যাদিতে ইহার ব্যবহার উপকারী। ১০। জী1 ইহ। সাধারণতঃ তিন জাতীয়, কৃষ্ণসীর,সাজ।
দ্বিতীয় অধ্যয়।
১৭৩
এবং জীরা। সকল গুলিই প্রায় একরূপ গুণযুক্ত।
ভাবপ্রকাশ মতে, জীরা—রূক্ষম, কটু, উষ্ণ, সংগ্রাহী
কচিকর ও অধুন-নাশক। ইংরাজী মতে,
ইহ্ন আঋন-বারক ও অগ্নিকারক।
১১। দারচিনি বা গুড়ত্বক।
ইংরাজীমতে ইহা সুগন্ধি, উত্তেজক, অ'গ্নেয়,
এবং আন-নাশক। অৰ্ম্মন ডাক্তারেরা, ইহার
জরায়ুর উপর ক্রিয়া আছে বলেন, আমরাও অনেক
স্কুলে তাহার পরীক্ষা পাইয়াছি, সে জন্য গর্ভাবস্থায়
দারচিনি ব্যবহার করা অনুচিত বলিয়া আমাদের
বিশ্বাস।
উদারময়, অজীর্ণ ও অঋন-শূলে দারচিনি
খাইলে বিশেষ উপকার হয়। দাঁতের গে ড়ায় ক্ষত
হইলে পান সহ দারচিনি ব্যবহাকে উপকার হয়।
১২। ধনিয়া বা ধনে।
ভাবপ্রকাশ মতে—ইহা অগ্নিকারক, পাচক, রূচি-
কারক, পিত্তনাশক এবং তৃষ্ণা দাহ বমি শাসকাস ও
-
১৪
খাদ্য বিচার।
কৃমিরোগের শান্তিকারক। ইংরাজীমতে,—ৰে
বায়ুনাশকও উত্তেজক।
১৩। মেথি।
ইহা পাঁচফোড়নের” একটী অঙ্গ-অগ্নিকারক,
বলকারক ও কামােদ্দীপক গুণযুক্ত।
১৪। মৌরিগুয়ামৌরি।-
ইহ অগ্নিকারক, উত্তেজক ও বায়ুনাশক।
উইদারাত্মান প্রভৃতি অগ্নিমান্দ্য রােগে উপকারী।
এবং মৌরি ভিজার জলে মুখশোষ নষ্ট হয় বলিয়া
অনেকের বিশ্বাস।
১৫। যমাণী বা জোয়ান।
।
প্রাচীন মতে–অগ্নিকারক,পাচক,রুক্ষ ও তীক্ষ্ণ
বীৰ্য্য ও বাতশ্লেষ্ম-নাশক এবং আনাহ, প্লীহা ও
শুল্মরােগে উপকারী। ইংরাজীমতে জোয়ান,
অগ্নিকারক,বায়ুনাশক,উত্তেজক ও অক্ষেপ-নিবারক
গুণযুক্ত। ডাক্তার বিডী বলেন, ইহাতে লালা ও
পাচকরস বৃদ্ধিপায় এবং অজীর্ণ,অঝিনি অষ্মানশূলে
দ্বিতীয় অধ্যায়। ১৭৫ ইহা বিশেষ উপকারী। তাং ওয়ারিং কলেরা রােধে ইহার ব্যবহার করিতে বলেন। ১৬। যষ্টিমধু । ভাবপ্রকাশ মতে—ইহা স্নিগ্ধ, স্বাদু, গুরু, বল- কারক, অগ্নিকারক, শুক্ৰবৰ্দ্ধক, এবং বাতরক্ত, ব্রণ, শোথ, সর্দি, তৃষ্ণা, বমি ও ক্ষয়নাশক। ইংরাজী মতে,—যষ্টিমধু স্নিগ্ধ ও মিষ্টাস্বাদ, এমতে সর্দি কাশয়ােগে ইহার বিস্তর ব্যবহার আছে। ১৭। রসুন বা নমুন। - ভাব প্রকাশ মতে, ইহা বলকারক, পরিবর্তক, মিগ্ধোষ্ণ, পাচক, গুরুপাক ও নেত্রের হিতকর এবং রক্তপিত্ত, হৃদ্রোগ, জ্বর, গুল্ম, অরূচি ও কাসরোগে উপকারী। ইংরাজীমতে, রসুন-উত্তেজক, কফ- নিঃসারক মুত্রকারকও অত্যন্ত উষ্ণবীৰ্য্য এবং ইহাতে একরূপ তৈল আছে যাহা অত্যন্ত দুর্গন্ধি,এই কারণে হিন্দুগণ ইহার ব্যবহারে ঘৃণা দেখাইয়া গিয়াছেন।
৪৭৬ খাদ্য বিচার। ১৮। বঁধুনি। অগ্নিকারক ও বায়ুনাশক এবং উদারাখান ও অগ্নিমান্দ্য রোগে উপকারী। ১১। শঙ্ক' বা লক্ষামচ এ দেশে ইহার বিস্তর ব্যবহার আছে এবং উত্তেজক, অগ্নকারক, ধারক প্রভৃতি গুণযুক্ত ; অধিক মাত্রায় ব্যবহারে গুণের নাম মাত্রও থাকে না ত্রিদোষের বৃদ্ধি করে। ২। লবঙ্গ । ভাবপ্রকাশ মতে,—ইহা কটু, তিক্ত, নেত্রের ব্রের। হিতকর, পাচক ও রূচিকারক।--রক্তপিত্ত, সর্দি, তৃষ্ণা, অঋন, শূল, কাস, শস ও হিক্ক। রােগে বিশেষ উপকারী, সু : ঐ সকল রােগ গ্রস্থদের পনের সঙ্গে লবঙ্গ ব্যবহার করা খুব ভাল। ইংরা- জমিতে লবঙ্গ উত্তেজক, অঝন-নাশক ও অগ্ম- কারক এবং উদরান, অ জাৰ্ণে ইহার ব্যবহার করা
দ্বিতীয় অধ্যায়।
১৭৭
ভাল। গর্ভ-অবস্থায় বমননিবারণের জন্য লং ব্যবহার
করিলে উপকার হয়।
বছ (বড়)।
ইংরাজীমতে, ইহা
বলকারক, অগ্নিকারক ও
পালা নিবারক। এমতে কাসরােগে, গলার ভিতরের
লাল পর্দার উগ্রতা নষ্ট জন্য পানের সহিত বচ
মুখে রাখিলে বিশেষ উপকার হয়। আগ্নমানু
রােগে ও ইহাতে উপকার হয়।
২২। সুপারি (বাক)-
ইহা একটী প্রধান পানের মালা, প্রাচীন মতে
রুক্ষ, কষায়, কফপিত্তনাশক ও মাদক, অগ্নিকারক,
ফুচিকারক ও মুখ বৈরস্য-নাশক গুণযুক্ত। কাঁচা
সুপারি অল্প রেচক বায়ুনাশক ও মাদক। ইংরাজী,
এতে-সুপারি সংকোচক ও মাদক। অধিক মাত্রায়
ব্যবহার করিলে অগ্নিমান্দ্য জন্মে।
২৩। হিং (হজ)।
আয়ুৰ্বেদ মতে—ইহা, উষ্ণ, অগ্নিকারক, রূচি
খাদ্য বিচার।
০
ফারক, বাত-শ্লেষ্মা-নাশক,এবং শূল, গুল্ম, উদারাময়
ও কৃমি রােগে উপকারী। অনেকে বলেন হিং
ইলে প্লীহা রােগে উপসষ হয়। ইংরাজীমতে,
হিং উত্তেজক, আক্ষেপ-নিবারক, কনিঃসারক,
দুরেচক, অগ্নি রক, বায়ুশ, কৃমিনাশক এবং
রজো-নিঃসারক। এমতে উদারাম্মান, হিষ্টিরিয়া ও
পাসের রােগীর হিং ব্যবহার করা খুব ভাল।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.