Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Patrashtak Kabya
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
পত্ৰাষ্টক কাব্য। শ্রীঅম্বিকাচরণ ব্রহ্মচারী-ভট্টাচার্য্য প্রণীত। - - - e Love rules the Court, the camp the grave, And men below and Sajuts above For Love is Heaven and heaven is Love. (Sir W. Scott.) চিরঞ্জিনী সাহিত্য সভার আদেশে, দেড় দরিদ্র বান্ধব পুস্তকালয় হইতে শ্রীরামচন্দ্র চক্রবর্তী প্রকাশিত। কলিকাতা। বারাণসী ঘােষের স্ট্রীট ৩৯নং বাগঞ্জে হিতৈষী যন্ত্রে প্রব্রজনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক মুদ্রিত সন২৯২ সাল।
No text on this page.
spoon চিg oca০০ সতত তে joog৩০ boobs অশেষ গুণালঙ্কত, স্বদেশবৎসল, পরম বিদ্যোৎসাহী, কুসুম গ্রাম নিবাসী ভুদামী ফ্রলযুক্ত মুনশী মহ- স্মদ এব্রাহিম সাহেব মহোদয় করকমলেষু। - . তন্তত মহাশয়। এই খণ্ড কাব্য খানি প্রায় দশ বৎসর রচিত হইয়া অপ্রকাশিতাবস্থায় ছিল, অব- শেষে ইহার মুদ্রাঙ্কণ বিষয়ে আপনি সম্পূর্ণ সহানুভূতি দানে আমায় বিশেষ উৎসাহিত করিয়াছেন। আপনার বিদ্যোৎসাহীতা ও উদারতায় একান্ত মােহিত হইয়া, কৃতজ্ঞ তার অভিজ্ঞান স্বরূপ এই গ্রন্থ খানি আপ- নার কর কমলে উপহার প্রদান করিলাম । আপনি কৃপাদৃষ্টি পাতে চরিতার্থ করিবেন। তা তত -ত দেড় গ্রাম 2s একান্ত অনুগত অম্বিকাচরণ শর্মা। ১৯শে শ্রাবণ নতা 6 s সন ১২৯২ সাল oooo 60 naa osogo24 : pod. ত®ততে
No text on this page.
শুঝি পত্র। পৃষ্ঠা পংকি Tittle... Motto .. camp above camp, above; মথুরায় মথুরায় १ প্রম প্রেম, রাখালরাজবল রাখালরা! বল, ৪ ••• ধড়া ৫ • • : বকভা বাঃ রে- ভরে, বাস রচি ••• কংশ রাজদাসী •০০, কংশরাজ দাসী ০ বাসর রচি :: বলিয়া !! ০ ০ ৪০ ••• ৪ কুজ। সংবাদ বলিয়া, কুজা সহ সহবাস রাণী, রাণী... } O ••• • কপাল কপাল। ৫ ০ তােমায় ৪০০ তােমারি • তোমায়, মন দিয়া, করি নাই, তেগিতে, d মন দিয়া • করি নাই ১০.ভোথিতে •• ০৫ মিলাইয়া ••• মিলাইয়া, ০ ০ ০ • সংসার-সলিলে ••• সংসার-সলিলে • পদ ৭ সবল, ৭ ৫ । ০ ০ ০ ঃ ১৮ There নায়, . ১৬ * মাের: :.: মোর, রাজাত। নাথ. বনচর, ০৮০ •• বনচর... নাথ , লামায় ৫০০ ১৭ . মায়, সৌরভ সৌরভে,... ••• ১১ * বিলাপিনি। বিপিনী।. না হয়, ১৪ না হয় । ২০ ৮ দিল, ১১ : ২১ ০৫ দিল. হবল সানিত ধরান। ক্লানম নিৱালী ২০০ ধান ২৪ কাননবাসিনী ০ ••• কমলু বার্ধক্যে বিরােধী ৪১ ৭ বিরােধিত্ব • ৪৫ । । ।
পত্ৰাষ্টক কাব্য। (প্রথম পত্র) কষ্ণের প্রতি রাধা। কৃষ্ণ মথুরায় গমন পূর্বক কংশ রাজাকে ধংশ করিয়া মথুরায় রাজা হয়েন এবং কুজার কুরূপ ঘুচাইয়া সুরূপ প্রদানার ভঁহাকে রাজমহিষী করেন। শ্রীমতী লােক মুখে সংবাদ শ্রবণ করিয়া সুন্দা সুতী সহ শ্রীকৃষ্ণ সমীপে এই পত্র থানি প্রেরণ করিয়া ছিলেন। কি বলি লিখিবে পত্র গােকুলবাসিনী গােপকন্যা; মথুরায় নবরাজ স্থানে একেত অবলা নারী, তাতে গােপবালা, জানে সে শিষ্টাচার, না জানে কেমনে হায়! হয় সম্বােধিতে রাজরাজেশ্বরে। কেমনে মনের কথা কহিবে তাহারে দরিদ্র রমণী হয়ে ; পারে কি সহসা বলিছে মনের কথা মন প্রাণ খুলি ব্রিদেশী রাজার কাছে ?=মূতন তাহাতে মুতন রাজার অন্ত পায় সায় কার ?
পাক-কাব্য। মথুরার রাজনীতি নাহি জানি শুনি, কি জানি অজ্ঞতা হেতু লিখে যদি দাসী । মন্দ কথা, ভ্রান্ত মনে, ক্ষমিও স্বগুণে, যে হেতু গুণের সিন্ধু বিদিত জগতে। লিখিতে এ গুপ্ত লিপি কঁপে কায় ভয়ে, যদি বা জানিতে পারে কুটিলা, কুটিলা ননদী আমার, সদারত যে আমায় তব সহ গুপ্ত প্রেম, কহিতে আয়ানে। যা হােক ডুবেছি যবে তব প্রেমহ্রদে • মন সাধ মিটাইব যা থাকে কপালে। আর কি পড়েহে মনে ?—বৃন্দাবন দামে আর কি পড়েহে মনে রাখাল মণ্ডলী। আর কি পড়েহে মনে ?—ব্রজ গােপী গণে। আর কি পড়েছে মনে ?--মােহন বাঁশরী । আর কি পড়েহে মনে ?—পিতা নন্দে, মাতা যশােদারে! বলহে রাখাল রাজ। বল বাঞ্ছা শুনিরে ; আছে কিনা আছে মন্ত্রে এ গােকুল থামে, যথা কাটাইলে নাথ। • বাল্যকাল, ভুলাইয়া গেপকুল নানা খেলা ছলে। যে গােকুলে সােধতে তুমি, নিত্য, “গুপ্ত গােলক” ৰলিয়া, দেখ আসিং এবে, সেই বৃন্দাবন হইয়াছে বন,, পাইক-কাব্য। কণ্টকিত হায় ! সেই মধু বৃন্দাবন ! আর না কুহরে পিক মধুর পঞ্চমে। গুণ গুণ করি অলি করে না-ক গান । নীরদ সদৃশ দেখে নীরদ-বরণ। নাচিত শিখিনী সুখে,-দুখিনী সে এবে। ছাড়িয়াছে সুখনৃত্য হারায়ে তােমারে । অলসে নিবাস বাসে স্পন্দ হীন যেন । অভয়েলগ তার সম্মুখে বিহরে । শারী শুক চলি গেছে, চরে না গােপাল, ' মথুরার পানে চেয়ে থাকে উৰ্দ্ধমুখে, সম্মুখে তরুণ তৃণ করি অবহেলা !! মধুর বসন্ত নাহি করে আগমন সাজাইতে বৃন্দারণ্য বিবিধ ভূষণে ! তরুরাজী নাহি সাজে নবীন পল্লবে! প্রসূন ফুটিয়া আর বিতরে না ঘ্রাণ, দুরন্ত হেমন্তে যেন সতত পীড়িত! সেই সব আছে কিন্তু ঐবিহীন এবে !- দেখ আসি কালাচাঁদ তােমার বিহনে । যে গাছের পত্র * ল'য়ে পুট নিৰ্মাইয়া খাইতে মাখন, ক্ষীর, সর, নবনীত ; সে গাছের পত্ৰকুল পুট রূপ ধরে রয়েছে এখন হরি যােগাতে তােমায় ! *এই সকল বৃক্ষের পত্র, ফল ও মঞ্জরীর স্বাভাবিক আকার ঐ প্রকার পাষ্টক-কাব্য। তব প্রিয় খাদ্য যত, কিন্তু বল নাথ! কে লয় আদর করে আর সেই পুটে ? যে গাছের ফল ল’য়ে নুপুর গঠিয়া পরিতে চরণে তুমি, সে গাছের ফল তব পদে উঠিবারে মনের উল্লাসে মঞ্জীর আকার ধরে আছয়ে এখনাে ! যাহার মঞ্জরী লয়ে কুণ্ডল করিয়া দোলাইতে কর্ণে তুমি, সে সব মঞ্জরী কুণ্ডল আকার ধরে দুলিছে বৃক্ষেতে তব কর্ণে দুলিবার অনুরাগে মাতি ; কিন্তু নাখ! একমাত্র তুমি বিনে হায় সকলেতে ম্রিয়মাণ! অনাদৃত হয়ে । আর কি পড়েহে মনে?-যমুনার তটে শিরে চুড়া, ধরা পরা, বদনে মুরলী, রাখাল মণ্ডলী সহ কদম্বের ভুলে রাখালের রাজা সেজে গােচারণ ছলে ভুলাতে রমণী-মন বঙ্কিম নয়নে। মুগ্ধ চন্দ্র মুখী ষত অবলার কুল পড়িত প্রণয়-কাঁদে,-হায়রে যেমতি তন্তুকীট বদ্ধ হয় আপন বন্ধনে। অথবা কুরঙ্গী যথা ব্যাধ-বংশীরে। আর কি বলিবে দাসী ;- অষ্ট ধীসহ পাক-কাব্য। বৃকভানু সুতা রাধা, নবীন যৌবনে পূজিল যতনে যবে নানা উপচারে, কভু রচি রাস চক্র, কভু না বাসর। আর আর কাৰ্য্য যত, রস-সিন্ধু তুমি ভাবিয়া দেখহে মনে পড়ে কি না পড়ে। ভুলিলে কেশব কিহে সে সব এখন ? সাজিয়ে রমণী,মােরে পুরুষ সাজায়ে, সােহাগ করিতে কত খানিয়া মােরে। পরাইয়া পীতধড়া, যত্নে চুড়া খুলি শিখিপুচ্ছ পাখা দিয়া কবরী উপরে বলিতে,—“যে পাখা রাধে পায়েতে তােমার পড়েছিল একদিন মানভঙ্গ তরে সে পাখা উঠেছে মাথে দেখ বিনােদিনি! মুকুর ধরিয়া কিম্বা সরসীর জলে । রাধা মাথে রাধা নাম কত মনােহর রাধা বিনােদিয়া বিনা জানে কোন জন।” বংশের কঠিন বাঁশী ভাবিয়া অন্তরে কমল মৃণাল তুলি রন্ধ সমপিয়া করে মাের বলিতে চতুর ! “ত্রিভঙ্গ হইয়ে, রাধে! বামেতে হেলিয়া দাড়াও। তােমার বামে পরি' নীল শাড়ী দাড়াই কিশােরী আমি রমণী হইয়া । - কাটি' তায়, পাক-কাব্য। অদ্য হতে “কৃষ্ণ রাধা’ না বলিয়া কেহ বলিবেক ‘রা কৃষ্ণ তব মান্য তরে”। আবার বলিতে তুমি হাসি হাসি মুখে, রাধা তুমি আধা মাের তােমা ছাড়া নই । সে সব চাতুরী মাত্ৰ বুঝিনু এখন, কোথা তব “আধা রা” কোথা “চন্দ্রাবলী প্রত্যহবাস রচি’ কমলের দলে জাগিয়া পােহা’ত নিশি চাহি তব পাৰে । ভুলেছ সে সব কিহে পেয়ে কুবজায় ? পেয়েছ নূতন রাজ্য, পেয়েছ নূতন ভাৰ্য্যা, নব-প্রজাপুঞ্জ নব-দণ্ড-ধরে পুজে এবে ;- ধরেছ নুতন ভাব হরি !! কেন বা পড়িবে মনে আর বৃন্দাবৰু? রাজার কলঙ্ক হয়-রাখাল গােপাল সহ বন বিহারেতে; কি কাজ সে সব কথা কহিয়া এখন। কুবজা কংশের দাসী মুরূপসী হইয়াছে, কালশশী । তােমার মিলনে, নীলকান্তমণি কিহে জড়িত হয়েছে এবে লৌহের সহিত ? শুনিতে কৌতুক বড় কৌস্তুভের স্থানে নাকি! শশাভা পায় কুজা কংশ রাজদাসী? কুবজা বুঝায় মন্দ তােমায় সতত পাক-কাব্য। তা না হলে ভুলিতে কি কভু প্রভু, তুমি কালিন্দীর কুলে যত খেলা খেলিয়াছ। হরি বাস পীতবাস উঠিতে গুরুতে- বাস হারা হয়ে মােরা নামিতাম জলে লুকাতে বিবস্ত্র তনু ; অম্বু অম্বরেতে সম্বরণ করি লাজ, সাধিতাম কত! সে সাধনা না নিয়া মন সাধে বসি বাজাতে গেহিন বাঁশী যে “রাধা” বলিয়া ; সে রাধা কাদিছে এবে দিবস রজনী তােমার বিহনে হরি।- পুড়ি মনাগুণে। শুনিয়াছি লােক মুখে, লােকনাথ, তব কুবজার রূপের গৌরব ; মরি হরি লাজে ! শুনি কুজা সহ-বাস তব !! মিলিয়াছে সমানে সমান, তুমি বন্ধু, নূতন প্রেয়সী তব কুবজাও তাই! সম সাজে সাজিয়াছ ভাল দুই জনে। শুনিয়াছি কিম্বদন্তি কুরূপ ঘুচায়ে দিয়াছ সুরূপ তারে বার্ধক্যে যৌবন ? কেমনে ঘুচালে কুজ, ইচ্ছা শুনিবারে। ছিল দাসী হ’ল রাণী ধন্যরে কপাল দাসীগ্রণী, রাণী দাসী বিধাতার লিপি । তব শশাকে কাদে নন্দ, মা যশােমতী পাক-কাব্য। ক্ষীর, স্বর, ননী লয়ে, অঞ্চলে বাঁধিয়া “আয়রে গােপাল” বলি ডাকে অবিরাম । শ্রীদাম, সুবল আর যতেক রাখাল গােপাল লইয়া আর যায় না গােষ্ঠেতে, তোমার শশাকেতে সব উদ্যম বিহীন। আর এক নিবেদন করিহে তােমায় পুনঃ যদি রুষে ইন্দ্ৰ গােকুল নাশিতে দম্ভোলি ধরিয়া করে গর্জি ভীম না পবন সহায় করি বর্ষে কাল বারি, কে আর রক্ষিবে নাথ! গােবর্ধন ধরি ?- অসহায় গােপকুল, এবে তােমা বিনে । মােহন মুরলী বিনে চরে না গােপাল, জানত রাখাল রাজ ?- কি বলিব আর ;- এক দিন তব মা যে’তে গােচারণে দেয়নি তােমারে নাথ ! ঊর্ধ্বমুখে ছিল যতেক গােধন, শুনি তাই নদ রাজ পাঠায় তােমারে! এবে গেলে ব্রজনাথ ! ত্যজিয়া সবায়, হায় ! এমনি পাষাণ মন বটে অব, কৃষ্ণ! তা, না হলে দিয়ে, মাথে, কলঙ্কের ডালি, যেতে কি চলিয়া ? থাকে যদি ধৰ্ম আজো অবনী মাঝারে স্বকর্মের পরিণাম অবশ্য ভুঞ্জিবে।
পাক-কাব্য। বলি পুনঃ বনমালি, শুন মন দিয়া দাস খত দিয়াছিলৈ, ছিলে যবে হেথা ; সে খত নিকটে আছে নষ্ট করি নাই অষ্ট সখী সাক্ষী তার, রয়েছিএখনাে তব আশা পথ চেয়ে । যদ্যপি নিতান্ত তুমি নাহি এস হেথা তাহলে করিব আমি অভিযোর্গ আশু। খত দায় হবে বিষম বিভ্রাট তব, কুবজা পড়িবে ফাঁদে। মাের গিয়াছে সম্ভম, আর কাঁরে ভয় ? দুই কুল চাও যদি রাখিবারে তুমি, পত্র পাঠ মাত্র আসিও হেথায়। যদি না কুজার মায়া পার তেয়াগিতে আনিও তাহারে সঙ্গে, রাখিব যতনে রতনে যেমতি হায়, আদরে মানব । গােকুল প্রবীণা সহ দিব মিলাইয়া কুটিলা হইবে সখী, গঙ্গাজল তার হইবে বড়াই, সত্য কথা মিথ্যা নয় করিলাম অঙ্গীকার ; না পারি মিলাতে যদি এ সবার সহ, ক্ৰোধ করি যেও চলে কুবজায় লয়ে, যথা বাঞ্ছা তব, জয়সফল হবে কুবজায় দেখে !! কালিন্দীর কূলে বসি কদম্বের পাতে, পাক-কাব্য। লিখিনু লৈখন হরি, বক্ষের শােণিতে তুলিনু যক্ষের ধন, বিদারি ধরণী !! চলিল এ লিপি লয়ে বৃন্দাসখী মাের, ভেটিতে চরণ তব বহুদিন পরে। দেখাে যেন হতমান ক’রনা সখীরে, বিনা অপরাধী জনে, মম অপরাধে। আরাে কিছু কহিলাম সখীর নিক- মধুরভাষিণী সখী ৰাচনিক কবে, মন দিয়া শুন যদি কুবজা-বিলাসি। ( ইতি শ্রীরাধা-পত্ৰ সমাপ্ত) দ্বিতীয় পত্র) শ্রীরামচন্দ্রের প্রতি সীতা। . • রামজ্ঞায়, মহর্ষি বাল্মিকির উপােৰনে লক্ষণ কর্তৃক সীত দেবী নির্বাসিত হইয়া, নিম্নলিখিত পত্রিকা খানি অযোধ্যায় রামচন্দ্রের নিকট প্রেরণ করিয়াছিলেন। শােকাকু উন্মাদিনী-জনক-নন্দিনী, প্রণমে রাজীব-পদে, রফিকুল-রবি ! কি বলিবে, কি লিখিবে, নছে স্থিরা মতি, পাগলের মনােভাব কবে স্থির তর ? যা, উঠে’ মানসে তার কহে সে ভারতী । ভাঙ্গিয়াছে শােক-ঝড়ে হৃদয়-মৃণাল -- রবি কুল-রবি মাের,-সংসারসলিলে-- সে মৃণাল বিনে কিহে মানস-কমল উত্তাল তরঙ্গ রঙ্গে রহে কভু স্থির ? ক্ষম নাথু ! শােকে ক্ষোভে পাগলিনী আমি, সহজে দুৰ্বলা তাহে বিধি বিধানে। আঁধার বিপিনে এবে ভমি একাকিনী তামসীর আগমনেচক্ররাকী যেন! কিন্তু নাথ! পায় সে প্রাণেশে ত্রিযামার অবানে, পােহাবে কি কভু অভাগীর এ ঘাের বিরহ নিশা ? হায় আশা-উষা পাক-কাব্য। -ে আর কি দেখাবে তব চরণ তপনে। হায় নাথ ! এ জীবনে যদি কোন দিন নিষ্কলঙ্ক রবি কুলে কলঙ্ক অর্পিয়া- চির অভাগিনী সম আসিম হেথা- সহিতাম পরিতাপ—ফেলিম ছিড়ি ঘৃণিত, জীবন রতু, পাপ-চিন্তা স্রোতে ভাসিতে হতনা পুনঃ সংসারসাগরে। কিন্তু হায় !-নাহি জানি কোন্ অপরাধে পতি সােহাগের হার পড়িল ছিড়িয়া সহসা বিধির কোপে ? অথবা অধিক নিঠুর শত্রুর রােষ পশিল হৃদয়ে সহস্র কুঠার ঘাতে করিতে বিদার। রবি-কুল দীপ তুমি সতীর রক্ষণ কার অভিশাপ ভয়ে কিম্বা অনুরােধে, বনবাসে পাঠাইলে অসহায় সীতা । পঞ্চবটী দুরবনে হিংস্র জন্তু মাঝে সতত ছায়ার সম সঙ্গিনী সীতায় রক্ষিতে রাক্ষস-রক্তে রঞ্জিলে কৃপাণ! লঙ্কার কলঙ্ক নাশি আনিলে স্বপুরে, কিন্তু আজি কে রক্ষিবে না ভাবিলে মনে, শ্রীরাম জীবিতা সীতা কাদিছে বিপিনে। দেহ নাথ! পদাশ্রয় ক্ষম অপরাধ।
পাষ্টকণাগ্য। কহ মােরে হে নৃমশি! নৃমণি হইয়া করিলে হে নিৰ্বাসিতা, কোন বিধি মতে, কোন্ অপরাধে দোষ কি মাের, হায় ! কহি আমারৈ। আহা; কাহিল মানসে এ বড় আক্ষেপ মাের ঘুচুড়মণে! হয়েছে কি সন্দেহ আমারে বিজ্ঞত, না জানি সন্দেহ কিন্তু কোথায়ু আমার, দেখেছ কি কভু হায়! দেখেছ কি কভু, বলিতে বিদরে হিয়া বিনা, এজনমে কভু দেখিতে অপর . পােড়ামুখ, কিম্বা মাের এপােড়া বৃদন দেখাতে অপরে? রবি-কুল-রবি যিনি লঙ্কাপতি-দশানন-জীবন ঘাতক; সীতার জীবন মন বা যা’র পদে চিরদিন, তিনি ভিন্ন অনন্য দেখে নাই সীতার আনন! ভাগ্য দোষে দাসী তব , চির ভাগ্য হীনা, হায়! জনম দুখিনী; জন্মি’ ধরা-গর্ভে (মরি আজন্ম অনাথ) পরস্নেহে, পর গৃহে, পরের অন্নেতে বৰ্দ্ধিত ও পােড়া দেহও হায়। অভাগিনী জন্ম দেখে নাই কভু জননী বদন, জনক আনন কিম্বা জনক জননী পাক-কাব্য। মেহ লভে নাই জন্মে বিধির বিধানে, যদিও অশ্রুত পূৰ্ব্ব এ কাহিনী নাথ। কিন্তু নহে জনম দুখিনী সীতা পক্ষে ;- জনক, জনক রূপে পালিয়া আমায় ধনুঃ ভঙ্গ পণে নাথ অর্পিলা তােমায় । ভাগ্য বলে পেয়েছিনু কৌশল্যা, শাশুড়ী জননী অধিক স্নেহে পালিততন সদৗ- কিন্তু তবু বিধাতার লীলা চমৎকার, ভাগ্যে যা’ ঘটিল সব জান রঘুনাথ - বনযাত্রা, লঙ্কা-নাশ-সীতা নিৰ্বাসন ! যদি কান্ত! একান্ত একান্ত প্রতি নাহি ছিল মন, দাসী করে রাখিলে সুখিনী এচির কিঙ্করী তব হইত সতত, দেখিয়া রাজীব-পদ সে যার প্রয়াসী । যদিও বঞ্চিত হত সে, পদ সেবনে। কহ কান্ত! কোন্ মন্ত্রী কহিল তােমায় এ মন্ত্রণা, মহর্ষি বশিষ্ঠ কি সুমন্ত্র সু-মন্ত্রণা দাতা, দিলা এরূপ মন্ত্রণ, দূৰ্বলা অবলা প্রাণে দিতে এ যন্ত্রণা, কি. নিজ ইচ্ছা ক্রমে বনে দিলে মােরে। ইচ্ছা কিহে পুনঃ দার গ্রহণে রাঘব ? কই তা ভাঙ্গিয়া এবে দাসীরে নৃপছে।
পাক-কাব্য। শুনিতে বাসনা মাের হতেছে প্রবল, যথা অৰ্দ্ধত কথা শুনিতে ব্যাকুল হয় লােক। নিবার দাসীর তৃষ্ণা নাথ। কহি' সে সকল কথা মােরে শীতর । একবার লঙ্কাধামে তােমার বিরহে, তব নাম সুধাপানে পূর্বে বাঁচিয়াছি, আবার সে নাম সুধা হয়েছ সম্বল তাই বুঝি সুধাপানে হয়েছি অমর । আরো এক বাঁচিবার হয়েছে কারণ বিনয়ে নিবেদি তাহা রাজীব-চরণে ;- রাম রাজা হয়েছেন এবে ভব ধামে সুখময় রাম রাজ্যে সুখী সমুদয়, হেরি যত দুখচয়, না পেয়ে আশ্রয়। অনাথ হইয়া তারা ভ্রমিতে ভ্রমিতে আসিয়া কান্তারে, হেরি শােকাকুলা মােরে, নিবেদিলা দুঃখচয় কৃতাঞ্জলি করি, “জগতে যেখানে যাই সেই খানে হেরি রাম রাজ্যে সুখী সবে, কেহ নহে দুখী ;- বল মা কেমনে তবে, কোথা যাই মোরা, তুমি যদি কৃপা করি দেহ গাে আশ্রয়, তবত থাকিতে পারি এভব মারে । নতুবা দুখের নাম যায় ভব হ'তে।”
পাক-কাব্য। তথাপি ক্ষত্রিয় পুত্র,-রাজপুত্র হায় দুখিনী সীতার গর্ভে, অন্ধতম তমে নিমগ্ন খনির গর্ভে অয়স্কান্ত সম। সুকুমার রাজমুত সে কভু কুটীরে, হিংস্রক শাল পূর্ণ গহন কান্তারে বাঁচিবে একদিন, তাই শেষ আশা -- শেষ ভিক্ষা প্রাণনাথ রাখিও যতনে দুখিনীর শেষধন, খুজিও বিপীনে, দীনপ্রজা তব হায়! মরণ সময়ে রাজধন (রাজপুত্র) সমর্পি তােমায় অন্তিমে ও পদ স্মরি ত্যজিবে জীবন। (ইতি সীতা পত্রিকা সমাপ্তঃ (তৃতীয় পত্র) ভরতের প্রতি কৈকেয়ী । ঐরাম চন্দ্র বন গমন করিলে পর কৈকেয়ী রাণী, কেকয় রাজ্যে ভরত সমীপে, গুপ্ত চর সহ নিম্ন লিখিত পত্ৰ খানি প্রেরণ করিয়া- ছিলেন। দুত পদব্রজ গমন করায়, রথারােহী বশিষ্ঠের দূত পশ্চাতে গমন করিয়া রাণীর দূতের অনেক পূর্বেই ভরত সমীপে উপস্থিত হইয়াছিল। ভরত বশিষ্ঠের আজ্ঞা শিরধাৰ্য্য করিয়া অযােধ্যাভি- মুখে যাত্রা করেন, এবং অযোধ্যার অনতিদূরে এক পান্থ নিবাসে রাণীর দূত সহ সাক্ষাৎ হয়, তথায় রথবেগ সম্বরণ করিয়া, পত্র- গ্ৰহণান্তর পুনর্বার রথ চালনে আদেশ দিয়া পত্র মােচন করেন। পত্র পাঠ সমাধা হইতে না হইতেই রথ আসিয়া অযােধ্যায় উপস্থিত হইয়াছিল। কি ক’ব সুখের কথা বাছনি ভরত, আনন্দে না আসে মুখে গদগদ বাণী- আনন্দে লেখনী মাের নাচিছে করেতে পাঠাতে এবাৰ্তা বাছা তােমার সদনে। বহু দিন গত হল তােমরা দুজন, গিয়াছ কেকয়-রাজ্যে, আঁধার করিয়া মােণার অযােধ্যা মাের, না পেয়ে সম্বাদ বাছা আছি মন দুখে, পারে কি সহিতে পাক-কাব্য। পুত্রের বিচ্ছেদ মতাে, পরাণ ধরিয়া? বল বাপ এ তাপ সহিব কত আর, আসি ত্বরা জুড়া মাের তাপিত পরাণ। গত কল্য মহারাজ জ্যেষ্ঠ পুত্র রামে যৌব-রাজ্যে অভিষেকি, উদ্যত তাহায় রাজ-দণ্ড দিতে। বাছা! বড় হিতৈষিণী দাসী মাের মন্থরা, আসিয়া হেনকালে দিল, যুক্তি কয়ে, যার বলে হত বলা, কৌশল্যা সতিনী, হ’ল জনক নন্দিনী, গর্ব খর্ব ; থাকিতে মাণ্ডবী-বধু, হবে ধরার দুহিতা রাণী, এ পােড়া চখের শূল !! পত্র দিয়া মহারাজে আম্বানিয়া, নিজ অবরােধে, বৎস! কৌশলে যাচি মন্থরার মন্ত্রণায়, পূৰ্ব্ব প্রতিশ্রুত বর দ্বয় ; এক বরে তব রাজ্য লাভ, অন্য বরে রাঘবেরে দিতে বনবাস। মন্ত্রবলে বদ্ধ যথা হয় বিষহরি, অথবা কুরঙ্গ যথা ব্যাধ বংশী রবে, মহারাজ মম বাক্যে তেমতি হইয়া দিয়াছেন রামে বনে, হয়েছে তােমার রাজ, চৌদ্দব জন্য রাম গিয়াছেন বন; সিংহ ব্যাঘ্র নানা জন্তু ভয়ঙ্কর, পাক-কাব্য। যত বনচারী, নর-রক্ত লােভে তারা ভক্ষণ করিবে রামে লক্ষণ সীতায়, আর না আসিবে বৈরী ফিরিয়া হেথায় ; কৌশলে কৌশল্যা সুত হইবে নিধন! নিষ্কণ্টক রাজ্য তব হবে বাছাধন। আইস ত্বরায় বৎস শূন্য সিংহাসন, আছে পড়ি’ তব হেতু। রাজা-শূন্য রাজ্যে, বাছা বিঘ্ন ঘটে নানা, শত্রু উঠে নাচি,- আইস, অযযাধ্যাবাসী পূজিবে তােমারে, যুবরাজ বলি’, নানাবিধ উপচারে,- বসুধা যেমতি পূজে ঋতু-কুল-বরে, কিম্বা নদীকুল যথা পূজে জলেশ্বরে । মহারাজ গিয়াছেন শানিতে আজ পুত্র শােকে উন্মাদিনী কৌশল্যা রাণীরে,- কাদিছে কৌশল্যা রাণী “হা রাম” বলিয়া, করাঘাত করিতেছে বক্ষ ললাটেতে ; বহিছে রুধির ধারা তিতি’ ধরাসন সপীর আঁখি-নীর করি দরশন কার না আনন্দ হয় বল বাছাধন ? তব স্থানে পুরস্কার পাইবার আশে, অশ্ব-পথ চেয়ে আছে মন্থরা আমার, গিরি-ব্রজ-পুরে বাছা, ভাল যাহা পাবে পৱাষ্টক-কাব্য। যতনে আনিও তাহা দিতে মন্থরায়, রতনের হার আমি, দিয়াছিনু তায়, কহিল মন্থরা মােরে, “কি ছার রতন হার ভরতের কাছে, ভরতের রাজ্য লাভ, রত্ন হার রূপে সর্বদা শােভিবে রাণী মাের কণ্ঠ দেশে। অশু প্রের দূত নন্দীগ্রাম হতে বৎসে আনিতে হৈতায়। দেখি রাজাসনে আহা! মাণ্ডবী বধুর সহ, যুড়াইব কায় মন”। তাই বাছা এ মঙ্গল বাৰ্তাসহ প্রেরিলাম দূত গুপ্তভাবে, কেহ নাহি জানে। বাত-বেগী অশ্ব যুড়ি’ স্যন্দনেতে, পত্রপাঠ মাত্র আসিবে হেথায় তুমি, এই দূত সহ। ( ইতি কৈকেয়ী পত্রিকা সমাপ্তঃ ।)
চতুর্থ পত্র অর্জুনের প্রতি সুভদ্রা। কে যৎকালে সুভর বিবাহের কথা উত্থাপিত হয়, তখন বলরাম রাজা দূৰ্য্যোধনকে মুভণয় সম্প্রদান করিতে ইচ্ছা প্রকাশ করায়, সুভদ্রা ভীতা হইয়া নিম্ন লিখিত পত্রিকা খানি বীরবর তৃতীয় পাব অর্জুনের নিকট প্রেরণ করিয়াছিলেন। শুনিয়াছি কৃষ্ণ মুখে নর-নারায়ণ তুমি পার্থ মহাবীর!– অবতীর্ণ ভবে নাশিতে ধরার ভার বধি’ দুষ্টগণে। কিন্তু হায়! কি বলিয়া সম্বােধিবে দাসী কেমনে মনের কথা কহিবে বিবরি ; কঠিন বীরের হিয়া বুঝিবে কি হায় ! দুৰ্বলা অবলা প্রাণে সহে যে যাতনা ? চাহি যদি কহিবারে মনের বেদন ওষ্ঠ নাহি খােলে, যদি চাহি লিখিবারে সরমেতে কর রাখে, লেখনী চাপিয়া ; তথাপি লিখিতে আজি করেছি প্রয়াস । পত গুহায় নদী হইলে প্রবল থাকে কি করে কভু নিস্তব্ধ হইয়া ;- পাক-কাব্য। থাকে কি বালির বাঁধে খর স্রোতস্বতী ? কহি শুন প্রাণনাথ! চরণে তােমার অবলার মনােভাব। দাদা বলদেব চাহেন বরিতে মােরে রাজা দুর্যোধনে ;- প্রিয়তম সখা তাঁর, স্মরিলে সে নাম মরিহে আতঙ্কুে আমি। ভাবিতে ভাবিতে কতবার হারায়েছি চেতনা আমার । পিঞ্জর আবদ্ধ পাখী ব্যাধে স্মরি যথা! তবে যে এখন প্রাণ রয়েছে এ দেহে, শ্রীকৃষ্ণের বাক্যে মাত্র ; তার ইচ্ছা দিতে অধিনীরে তঁার করে, যার দাসী আমি । অন্তর্যামী নারায়ণ, নাহি অগােচর কাহারও মনােভাব, জানি কৃষ্ণমন। জানি দাসীর এই পােড়া মনােভাব, তমােগুণান্বিত, নাথ! দাদা বলদেব সগর্বে বরিতে চান পাষণ্ড কৌরবে । শুনি বিভীষিকা লাগে মােরে, লঙ্কাপতি দশানন নামে ভী যথা রামপ্রিয়, অথবা হরিণী যথা ব্যাধ রব শুনি। কি করিতে কি যে করি নহে স্থিরামতি, আস্থরা চঞ্চলা সদা হায় রে যেমতি কাননবাসিনী পাখী, পিঞ্জর মাঝারে ।
পত্রাক-কাব্য। আহারে বিহারে কিবা শয়নে নিদ্রায় নাহি সুখ, দিবা রাতি হতাশ চিন্তায়। মনে না থাকিলে সুখ রহে কি শরীর ?- সখীগণ ঠাট ছলে কত কথা বলে জ্বলন্ত অনলে নাথ। আহুতি প্ৰদানি। দুৰ্য্যোধন করে যদি কপালের দোষে পড়ি নাথ! বাহিরাবে ধড়ফড়ি প্রাণ, বিহগী যেমতি পড়ি কিরাতের করে । শুনিয়াছি সত্যভামা বন্ধুর নিকটে, গােপনে দারুকে কৃষ্ণ প্রেরিবেন, আগে আনিতে তােমায় নাথ! শুভক্ষণে দিলা বিধি কৃষ্ণ হেন ভ্রাত। জন্মে জন্মে পাই যেন হেন ভাই! করে দাসী নিবেদন, কৃপা বিতরণে আসি গােপনে হরিবে মােরে, যবে যাইব হে হরিদ্রা মাখিয়া স্নান হেতু সরােবরে সত্যভামা সহ। দিবেন আপন রথ শ্রীকৃষ্ণ তােমায়, হইব সারথি আমি। রথি শ্রেষ্ঠ বীর । ধরিলে কাফ্লুক তুমি কঁপে ত্রিভুবন। কৃষ্ণ সহােদরা আমি সারথি তােমার বায়ু-সহ অগ্নি সম বাড়িবে বিক্রম। যদি না আইস তুমি, ত্যজিবে জীবন পত্ৰাষ্টক-কাব্য। দাসী সােবর জল তােমারে স্মরিয়া । নারী হত্যা পাপে পাপী হইবে সুমতি। কি আর লিখিবে দাসী প্রাণ তব হাতে। চলিল লেখন লয়ে গােপনে ব্রাহ্মণ, অভাগীর মনাে দুঃখ নিবেদিতে পায় । ( ইতি সুভদ্রা পত্রিকা সমাপ্ত) (পঞ্চম পত্র) রাবণের প্রতি মন্দোদরী মান রাবণের মৃত্যুবাণ লইয়া প্রস্থান করিলে, রাণী মন্দোদর • ভীত হইয়া নিম্ন লিখিত পত্রিকা খানিরণস্থলে মহারাজ রাবণের নিকট প্রেরণ করিয়াছিলেন। যা লিখেছে বিধি ভালে বুঝিনু এখন লঙ্কানাথ ! প্রপঞ্চ রূপেতে হনু হতে । শুন নাথ! বিষম অশনি তুল্য বাণী ;- ঘর পােড় দুষ্ট হনু, বিষম মায়াবী, জিনিল রাক্ষসী মায়া ! আজি নাথ! যবে গেলে রাঘবের রণে সুসজ্জ হইয়া ; ক্ষণকাল অন্তে তব মঙ্গল কারণ বসিনু মন্দিরে আমি পূজিতে মহেশে ; হেন কালে বৃদ্ধদ্বিজ-অস্থি চৰ্ম্ম সার, “জয় রাবণের জয়” বলিয়া বদনে অবরােধে পশি, মােরে ডাকিল, “কোথায় রাণী মন্দোদরী।” হায়। দেখি দ্বিজবর ইয়া সত্বরে আশু নমিনু তাহায় পদ ধূলি লয়ে। আশীসিয়া হন্ত তুলি ৭ ! পাক-কাব্য। কহিলা ব্রা-হায়! অদৃষ্ট লিখন,- লঙ্কা অধিi: আজি বিষম বিপদে কৃতান্ত সভার রিপুর সমরে । কাটিছে রাবব তার গলা মুহুর্মুহু স্কন্ধে পুনঃ মুণ্ড উঠি লাগিতেছে যােড়া, কিন্তু কত ক্ষণ বাঁচে বিকারের রােগী ;- সবে রােধে কণ্ঠ তার ঘাের তর কফে ? ‘মা মা” বলে ডাকিছে কাতরে দশানন চির উপাসিত শ্যামা, জগত জননী, কিন্তু ভাগ্য দোষে হায়! তিনিও বিমুখ । ঐরামের পক্ষে এবে ত্রিগুণ-ধারিণী । আর রক্ষা নাহি দেখি কহিলা লঙ্কেশ আমারে, হে দ্বিজ ! জানি চির দিন তুমি মম হিতকারী, সাধ এ বিপদ কালে মম কাৰ্য্য তুমি ; দেখ মহৎ সতত প্রাণ পণে পর কাৰ্য্য সাধে এ জগতে। বিপদে পড়িয়া দেখ মৈনাক পর্বত লইল শরণ গিয়া পারাবার স্থানে ; অর্পিল অভয় তারে পয়ােরাশি পতি, যত্ব গুণেতে, আহা! দেবেন্দ্রে না ডরি। এতেক কহিয়া রাজা কহিল গােপনে পূজিতে তাঁহার সেই মৃত্যু-ব্ৰহ্ম-বাণে, পাক-কাব্য। দেহ তাহা মােরে আজ, পূজিব যতনে, বিলম্ব না সহে”। হায়! কি কুক্ষণে নাথ ভুলিয়া ছলনে তার, দিল অভাগিনী দেখাইয়া মৃত্যু-বাণ স্ফটিকের স্তম্ভে ; পদাঘাতে ভাঙ্গি স্তম্ভ, লয়ে মৃত্যু-বাণ - পরাণ-দোসর তব,-শত্রু মিত্র ভাবে, (হায় নথি! কি করিনু অমি মন্দমতি) - বহ্নি রূপি দুরন্ত মায়াবী হনু, ত্যজি মায়া ধরিয়া আপন মূৰ্ত্তি, রুদ্র বীর রূপে তীব্র বেগে করিল প্রস্থান যুদ্ধ স্থলে। কলী অমৃত ফল দেখাইনু তায়, হায় নাথ। বেগুণে বিগুণ গুণ হল । মরি লাজে-কপালের দোষে হনুমান অগ্রাহিল সেই সবে, হ’ল না কপির কদলী দেখিয়া লােভ, কি আশ্চর্য্য! যার লাগি হনুমান্ ত্যজি গৃহ-বাসে রয় সদ কদলীর বনে ;-শুনিয়াছি আমি আবার খাইল আ ফল-দিল যাহা মৈথিলী রামের তরে, উপেক্ষি রাঘবে, র্কিন্তু কি আশ্চৰ্য্য আজ বিপরীত হল । অবধি কত ভয় উঠিছে হৃদয়ে, কলীর পত্র সম কাঁপিছে শরীর।
পাষ্টক-কাব্য। --- কাজ নাই রণে ভঙ্গ দিয়া এস নাথ, সে কাল—সমরে, গেল বংশ, নাই লজ্জা ইথে। যদি হাসেন হাসুন পুরন্দর, ললাকে কয় মহা বিষ্ণু রাঘব, তুমি হে সামান্য রাক্ষস, তার সনে নাহি সাজে রণ; দিয়া সীতা পদ-তলে ভিক্ষা মাগ প্রাণ। যদি অপমান ভাব নাথ ! হায়, ত্রিলােকের রাজা হয়ে ধরিতে রামের পদ ; ধরিব হে আমি গিয়া তাঁর পায়, লব ভিক্ষা মাগি সন্ধি, এস ক্ষমা দিয়া রণে; নাহি কাৰ্য্য আর একাল সমরে। নিশ্চয় জেনেছি আমি ভেঙ্গেছে কপাল বাসব-বিজয়ী পুত্র মেঘনাদ বীর যে দিন লক্ষণ হতে হয়েছে নিধন । এখন মানুষ রামে কহ কি প্রকারে তুমি ? দেখ ভেবে—যার গুণে বন্দিহ’য়ে : বন-পণ্ড, ভালুক, বানর করে সবে মহারণ; পরিলেন আপনি বারিধি বন্ধন রামের বাক্যে, অদ্ভুত ব্যাপার। ছিলেন তােমার পক্ষে বিরুপাক্ষ, হায় ! এখন রক্ষেন কোথা দেব শূলপাণি ? বিপদ দেখিয়া নাথ। বাম-দেব বাম। - পাক-কাব্য। দেখ সহােদর তব বিভীষণ, গেল শত্রু পক্ষে বিভীষণ হইয়া তােমার ;- ইন্দ্র, যম, বরুণ, পবন, সুধাকর বুঝিয়া সময় সবে গােপনে রাঘবে করিছে সাহায্য, তবে আর কার আশা করিছ মানসে নাথ রক্ষ নিজ প্রাণ, রক্ষ এ দাসীরে। অতি ত্ৰাস যুক্ত তনু, সদা শুষ্ক কণ্ঠ, আর চলে না লেখনী ; অচেতন কত শত বার হইতেছি আতঙ্কে। গাইছে কত খানা মনে মাের অমঙ্গল বার্তা, হায়! ক'ব তা কাহারে । ব্যাধ হস্ত মুক্ত পক্ষী, শুনি ব্যাধরব পুনঃ যথা, দাসীর সে দশা এবে শুন প্রাণেশ্বর! আসিতে বিলম্ব অন্তঃপুরে হ'লে তব—পাও কি না পাও এ দাসীরে জীবিত দেখিতে। নাথ! প্রতিজ্ঞা পালন, স্বদেশ রক্ষণ, শত্রু নাশ, জানি আমি এ সকল বীর ধৰ্ম, কিন্তু দেখিতেছি ভবিষ্যৎ চিত্র, শত্রু সমরে বিজয়ী হবে, তবে কেন বৃথা যুদ্ধে হয় বৃথা সৈন্য অপচয়। তাই বলি এস ত্বর মেনাদ শােকে মাের প্রাণ জর্জরিত, পাক-কাব্য। আইস ফিরিয়া-বসে কঁদিব দু’জনে ; ধরিয়া যােগীর বেশ পশিব কাননে । কি কাজ রাজত্বে আর কি কাজ সমরে। রহিলাম তব আশা-পথ আশা করে, চাতকী যেমতি থাকে চাহি মেঘ পানে। (ইতি মন্দোদরীর পত্রিকা সমাপ্ত) (ষষ্ঠ পত্র) শিবের প্রতি সতী । শিব আজ্ঞা অবজ্ঞা করিয়া সঙী দক্ষালয়ে গমন করতঃ অপমানিত হইয়া প্রাণ ত্যাগ কালে নন্দী হস্তে এই পত্রিকা খানি “কৈলাস না সমীপে প্রেরণ করিয়ছিলেন। বলেছিলে যাহা ভুমি ওহে ত্রিলােচন, কলিল তা এবে কান্ত সতীর কপালে ;- আমার কারণে নাথ। তব অপমান হইল হে যজ্ঞস্থলে আজি সভামাঝে । কেমনে কঠিন প্রাণে সহি এ যাতনা, পারে কি সহিতে সতী পতি অপমান ? বাজে হে ত্রিশূল-ধারী শূল সম, তার হৃদে পতি নিন্দা-বাদ। পতি আজ্ঞা হয় । অবহেলে যেই জন, চির কাল হয় তার শাস্তি হেন মতে। তবে যে কি লাগি, উপেক্ষিয়া পতি আজ্ঞা আইনু হেথায় কহিব কেমনে ; কার সাধ্য খণ্ডে নাথ। প্রকৃনের লেখা। তা না হলে কেন আজ, ছায়া সম পতি সহ ভ্ৰমিত যে সতী ৩৪ পাক-কাব্য। সে কভু একাকী হায়! আসিত হেথায় অকলঙ্ক শশী ভালে কলঙ্ক অর্পিত চির দাসী হয়ে। নাহি নাথ। এ পাপের প্রায়শ্চিত্ত। বিত্ত দিলে যদি হত তাহা, পারিতাম দিতে, রাজ-রাজেশ্বরী আমি। কিন্তু তাহা হইবার নহে দেখিলাম ভাবি, নাথ। এ পাপের আছে নাথ। এক মাত্র প্রায়শ্চিত্ত প্রাণ বিসর্জন ; তাই আজি করিব হে যজ্ঞ অগ্নি পাশে নয়ন মুদিয়া বসি শ্বাস রূদ্ধ করি ভােমার শিক্ষিত যােগ বলে যােগী শ্রেষ্ঠ ; দেখি যদি সৰ্ব-শুচি দৈব বৈশ্বানর ; পারেন এ পাপ দেহ শুচি করিবারে। হায়কান্ত! কেমনে কহিব তব পদে, অপমান করিল জনক মম যত সভা মাঝে ; হায়! নাহি আসে মুখে মোর । কহিয়া মরি যদি এ সকল বাণী, রহিবে হে খেদ তব মানসে দ্বিগুণ। যথা যবে পতঙ্গম দীপ শিখা হেরে ধায় তার প্রতি দিতে প্রাণ বিসর্জন ; আইনু তেমতি আমি পিতার আলয়ে, জীবন পতঙ্গে দিতে যজ্ঞ হােমানলে।
পাক-কাব্য। পদাপি আসি যবে লয়ে নন্দী বৎসে বিনা নিমন্ত্রণে, হায়! সে সময়ে প্রভো! কত যে কি অপবাদ করিল তােমার পিতা মম! কেমনে কহিব সে সকল কথা আমি, পতি নিন্দা বাহিরায় কভু কি সতীর মুখে? নারী হয়ে নারি মুখে, উচ্চারিতে সে ভারতী, পিতৃ ভয়ে নাহি গােপন করিহে নাথ ; মৃত্যু পথে পান্থ যেই তার কারে ডর? এক মাত্ৰ ধৰ্ম্ম রিনা। নন্দী স্থানে শুন সব বিবরণ, কহিতে সে সব কথা বিদরে হৃদয়, পাপের সঞ্চার হয় মুখে উচ্চারিলে । ক্ষমিও হে অপরাধ অবলা ভাবিয়া ; শেষ ভিক্ষা এই মাত্র চায় অভাগিনী । বিভু পদে যাচি, যদি নারী জন্ম হয়, পশুপতি পতি মাের যেন হয় তবে। এরার যেমন জ্বালা দিলাম হায় প্রাণান্তে সে পথে আর না যাব কখন, সে বার সেবার ভার কেবল আমার। নয়নের জলে মাখি যজ্ঞের বিভূতি পুষ্পবৃন্তে বিশ্ব-পত্রে লিখিয়া লেখন দিলাম নন্দীর হাতে দিতে রাঙ্গা পায়।
পাক-কাব্য। কহিবে চরণ নন্দী চনিক যত নারিনু লিখিতে, ফিরি নারিনু পড়িতে কি লিখিল ক্ষিপ্ত মন তপ্তলজ্জা-রােষে । জনমের মত সতী হইল বিদায়।। (ইতি সতী পত্রিকা সমাপ্ত) (সপ্তম পত্র। চৈতন্য দেবের প্রতি শচী মাতা। s: চৈতন্য দেব সন্ন্যাস ধর্মাবলম্বন করিয়া লীলাচলে অবস্থান কালে গৌড়ীয় ভক্ত বৃন্দ যৎকালে তাঁহার সহিত সাক্ষাৎ করিতে গমন করেন, তৎসহ শচীমাতা নিম্ন লিখিত পত্রিকাখানি মহাপ্রভুর নিকট প্ৰৰণ করিয়াছিলেন। কি কব মনের দুঃখ বাছনী নিমাই । কেমনে লিখিব আমি, তােমার বিরহে যে রূপে কাটাই কাল দিবস রজনী, না পারি ভুলিতে-বাপ তব মুখ-শশী ;- তুমি বিনে অভাগীর আর কেবা আছে, ‘মা’ বলে-ডাকিতে বাপ বল দেখি শুনি? হয়নি তনয় তব, জান না কেমন স্থাপত্যের স্নেহ হয় জনক জননী-- হৃদয়ে প্রবল। ধৰ্ম্ম পরায়ণ তুমি জানে সৰ্ব্ব লােকে, কিন্তু, বল বাছাধন। এ কেমন ধৰ্ম তব, এক বার তরে আর না দেখালে, তুব বদন সুধাংশু। বৃদ্ধ বয়সে মাের অন্ধকরে যষ্টি পাক-কাব্য। যথা, কি মরুভূম, পয়স্বিনী কূপ । আর না ডাকিলে মােরে জননী বলিয়া ; স্মরি যবে এই সব—ফেটে যায় প্রাণ। তব মুখ-শশী মাের মানস আকাশে উদিত হইয়া সদা বিরহ আগুণে- দ্বিগুণ করিয়া তুলে,-শুন বাছাধন। চলিতে শকতি নাই, জীর্ণ তনু এবে, নতুবা দেখিতে তােমা, যাইতাম আমি গৌড়-ভক্তবৃন্দ সহ লীলা-চল-ধামে, জগন্নাথ বিরাজেন যথা সিন্ধু তীরে। তাই বাছা অনুরােধ করি বার বার, জন্ম ভূমি দরশন করিবার তরে নবদ্বীপ ধামে আসি’ জুড়াও অন্তর । দেখিয়া বদন তব ভুলি এই জ্বালা, দাবানল তুল্য যাহে দহে হিয়া মাের। যদিও অবলা আমি, তথাপিও জানি সৰ্ব্ব তীর্থ করি যােগী, যদি নাহি দেখে মাতৃ ভূমি, সকল তীর্থের ফল যায় রসাতলে। এ কথা নিমাই তব নাহি অগােচার, বিচার করিয়া দেখ মনে। নানা রূপ ব্যঞ্জনেতে ছিল তব স্পৃহা, নিত্য নিত্য অন্ন পাক নানা উপচারে পাক-কাব্য । করিয়া, পারশ করি কদলীর পাতে, নিম্বতলে বসি বাপ নয়নের জলে, . তােমায় স্মরণ করি, ভাসি অবিরত। তব শােকে কত দিন দেহে প্রাণ রবে রে নিমাই! বুঝিতেছি মরণ নিকট, হইতেছে দিন গত, যদি নাহি এস তব সনে দেখা মাের হইবে না আর । এ বড় আক্ষেপ শেল থাকিল আমার । মরণ সময় যদি তব দেখা পাই সুখেতে মরিতে তবে পারি বাছাধন। যদিও মায়ায় তুমি দিয়ে জলাঞ্জলি সন্ন্যাসী হয়েছ,—তবু দেখ দেখি ভাবি নারীর মরণ ধন্য স্বামী পুত্র কাছে। নিত্যানন্দ স্থানে আমি করিনু শ্রবণ গৌড়ে ধর্ম প্রচারিতে প্রেরিয়াছ ভরে, বৃন্দাবনে গেল রূপ, এই রূপ নানা স্থানে গেল বহু ভক্ত ধৰ্ম্ম প্রচারিতে। সমস্ত ভারতে বাছা গায় তব গীত শুনিয়া আনন্দ হয় অন্তরে আমার । সত্য বটে গৃহে যদি থাকিতে নিমাই ন আচরি যােগ ধর্ম হলে তােমার হত যে এ হেন যশ কে পারে বলিতে ?
পাষ্টক-কাব্য। শুনি তব যশগান অহঙ্কার হয় মানসে আমার, বাপ! তব মাতা বলে, ধন্য হইয়াছি আমি উদরে ধরিয়া তােমা ধনে, দরিদ্র রমণী হয়ে রাণী । কিন্তু ভাগ্য দোষে হায় ! চির ভাগ্যহীন আমি, পেয়ে রত্ন করে হারানু হেলায় এ নহে সামান্য খেদ, হায় রে বিধাতা !! শুনিয়াছি তত্ত্বজ্ঞান শিক্ষা দাতা তৰ কেশব ভারতী স্থানে, দীক্ষার সময় মুড়ায়েছ ওরে বাছা চাঁচর চিকুর- করে ধরিয়াছ আর দণ্ড কমুগুলু। বিষম পাষাণ হৃদি কেশব ভারতী, যে দিল করেতে তুলি দণ্ড কমুণ্ডলু, বিষম পাষাণ যেই মুড়াল চিকুর। ঢেকেছ সােণার মূৰ্ত্তি মৃত্তিকা মাখিয়া তেজঃপুঞ্জ বৈশ্বানর ভয়াবৃত যথা । সত্য বটে একবার শান্তিপুর ধামে, সন্ন্যাসের পর তােমা অদ্বৈত ভবনে দেখিয়াছি; কিন্তু, তাহা হয় না স্মরণ, সবে মাত্র তব মুখ জাগিছে অন্তরে । ধার্থকে স্মৃতির হ্রাস মৃত্যুর লক্ষণ। দেখিতে বাসনা তাই, সংসার বাসনা পত্ৰষ্টক-কাব্য। . ত্যজি, জপমালা করে, কেমন সেজেছে সােণার সুগৌর তনু, মৃত্তিকা ভূষণে ; কাঞ্চন অঙ্গেতে মাটী শুনেফাটে প্রাণ ;-- হায়! বিধি, অঙ্গার খনিতে হীরামণি, সিন্ধু মধ্যে শুক্তি গর্ভে মুক্তার নিবাস । বলে বৈজ্ঞানিক কূটতর্কী নৈয়ায়িক, দুই বিরােধিয় বস্তু না পারে থাকিতে একধারে এক কালে, আমি কিন্তু হেরি বিপরীত, দেখ বাপ, বিচার করিয়া, দুই বিরােধিয় বস্তু “সুখ, দুখ” এবে বিরাজিছে একত্রে মিশিয়া মাের দেহে। “দুখ” তব কাঞ্চন অঙ্গেতে মাটি মাখা, “সুখ,” সে মাটিতে লেখা শ্রীহরির নাম । সত্য বটে, অঙ্গে মাট সংলগ্ন হইলে যতনে সে মাটি লােক ফেলে ধৌত করি ; কিন্তু, বাপ! তব দেহে মাটি মাখা হেরে, কার না বাসনা হয় অন্তরের মাঝে, মৃত্তিকায় “হরিনাম” অঙ্গেতে লিখিতে। হরিভক্ত হবে তুমি পূর্ব হতে জানি, রোদন করিলে তুমি,সান্তনার বাক্য একমাত্র “হরিনাম ছিল শিশু কালে ।. অন্য মতে যতরূপ সান্তনা বচন ৪২: পত্রাক-কাব্য। কহিত পড়ীগণে, হইত বিফল ; একমাত্র “হরিনামে” নিস্তব্ধ হইয়া, - থাকিয়া অঙ্কেতে ভুমি করিতে শ্রবণ, ডম্বুরে নিস্তব্ধ যথা শম্ভু অঙ্গে ফণি.! শৈশব সঞ্চিত বারি হৃদয় করে, পরিণত এবে বাপ, ভীষণ সাগরে । ভাসিছে 'ভারত যার প্রমের তরঙ্গে। মর্থিয়া ভকতি সিন্ধু, “হরিনাম-সুধা” তুলি’ বিতরিছ বাপ! যত ভব জনে। সৰ্ব্বকায় মৃত্তিকায় লিখে হরিণাম, ভক্তবৃন্দ সহ বাছ মধুর মৃদঙ্গ করতাল সহযােগে বাদন করিয়া, প্রেমময় হরিণাম বদনে সদাই মানবের পরিণামে,-মুক্তির কারণ। শিখাইতে ভক্তি যােগ দিব যামিনী ;- দুই হস্ত উন্ধে তুলি’ বিভাের হইয়া প্রেমের আবেশে তুমি গাও অবিরত, মাতিল ভারত যাতে—যবন অবধি, দেখিতে শুনিতে, তাই চাই একবার ; যাজন করহ ধৰ্ম্ম, নহি প্রতিবাদী। ধৃদ্ধকালে “হরিণাম”-মূল-মন্ত্র মােরে, (এ দুরন্ত ভব-পথে পাথেয় সম্বল) নায়ে পুত্রের কাৰ্য্য করে যা নিমাই । (ইতি শচী পত্রিকা সমাপ্ত।)
(অষ্টম পত্র) বলীরাজার প্রতিবৃন্দাবলী বামন দেব বলী রাজার নিকট ত্রিপদ ভূমি দান প্রার্থনা করিলে, বলা রাজা ভূমি গ্রহণ করিতে বলিবামাত্র বামন দেব দুই পাদ স্ব মত্ত আচ্ছাদিত করিয়া, অপর এক পদভূমি নির্দেশ করিঙে বলেন কিন্তু বলীরাজা আর ভূমি প্রদান করিতে পারিলেন না। বৃন্দাবলী অন্তঃপুরে জসীর নিকট এই সংবাদ শ্রবণ করিয়া, রাজাকে নিম্ন লিখিত পকি থানি লিখিয়াছিলেন। একি সর্বনাশ হ’ল ওহে নরমণি !!--- শুনিয়া পরাণ কাঁপে থর থর করি ; কঁপেন বসুধা যথা কলুষ পীড়নে পীড়িত হইয়া মাথা নাড়েন বাসুকী যবে ; কিম্বা ধরাধর আগ্নেয় উৎপাতে, অথবা পথিক যথা বজ্ৰ নাদ শুনি। হায় নাথ! যে বিধাতা দিয়াছেন জ্ঞান তব, বদান্যতা গুণ, সে ধাতা কি আজি হরিলা সে জ্ঞান তব তা না হ’ল কেন নারিবে চিনিতে তুমি জগত স্বামীরে, সামান্য বামন জ্ঞানে মজাইলে সব । শুনিনু দাসীর স্থানে, সামান্য বালক --- পাষ্টক-কাব্য। বেশে আসি তব পাশে, যাচিয়া ত্রিপদ ভূমি, চকরি, হায়! বলিতে হৃদয় কাপে, দুই পদে চীচাকিয়া ব্রহ্মাণ্ড, নাভি হতে অন্য পদ করিয়া বাহির !-- সেই এক পদ ভূমি চাহেন তােমারে ;- দানিতে সে পদ ভূমি অক্ষম হইয়া অশ্রুনীরে অভিষিক্ত করিছ ধরারে— অধােমুখে নরপতি অবাক হইয়া! আবার শুনিনু নাথ! নিদারুণ বাণী ; এক পদ ভূমি জন্য করেতে তােমার বেঁধেছেন চিন্তামণি, সুদৃঢ় বন্ধনে ; বন্ধন কারণ, কান্ত চিন্তা কি কারণ ? নহে সে বন্ধন তব দণ্ডের কারণ। স্থিরচিত্তে দেখ ভাবি, উপলদ্ধি হবে, ভবের বন্ধন তব শিথিল কারণ বন্ধন' উপরে ভব-বন্ধন-বারণ করেছেন এ বন্ধন জেন সুনিশ্চয়। সমস্ত ব্রহ্মাণ্ড পেয়ে না পুরিল সাধ; বী এক পদ ভূমি চক্ৰীরে দানিতে কি স্থির করেছ নাথ! কি হবে কাদিলে ? অঙ্গীকার করিয়াছ যে কোন প্রকারে অবশ্য হইবে দিতে, দেখিনু ভাবিয়া ;
পাক-কাব্য। কিন্তু নাথ । কোথা পাব দীন মােরা এবৈ ; সমস্ত ব্ৰহ্মাণ্ড দিয়ে কি আছে তা দিব ; এ ব্ৰহ্মাণ্ড ছাড়া যদি অন্য কোন স্থানে তিল পরিমাণ ভূমি থাকিত তা হলে আনিতাম ভিক্ষা করি শুধিবারে ধার ; সে আশা নিরাশ কিন্তু হয়েছে এখন। অনেক চিন্তিয়া যুক্তি করিয়াছি স্থির দেখ দেখি ভাল মত বিবেচনা করি অবলার যুক্তি শক্তি ধরে কত দূর- তােমার আমার দেহ মাটিতে গঠিত দুই অর্ধ দেহ নাথ একত্র করিয়া পূর্ণ এক দেহ করি চল গিয়ে দিয়ে দেখি বামনের পদে হয় কি না হয় ইথে ঋণ পরিশােধ। নশ্বর জগতে কিছার মিছার দেহ রাখিব যতনে করিয়া প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ, আমি যে অবলা অমার ঘৃণিত ইহা অধিক কি কব । যার বস্তু তারে দিব কি খেদ তাহয় ?-- রহিবে ঘােষণা ভবে চিরকাল তরে, অক্ষয় অক্ষরে লেখা “বলী দিল দান”। উলা হও না কান্ত যাইতেছে দাসী পরিধানি পট্টাম্বর পবিত্র অন্তরে পাষ্টক-কাব্য। এত দিনে পূর্ণ-কমি হইনু দু’জনে । উদ্ধারিতে পাপ দেহ বামন রূপেতে এসেছেন চপাণি ছলনা করিয়া । তব সম ভাগ্যবান কেবা ভবধামে ? শুভক্ষণে হয়েছিনু তােমার গৃহিনী,- শুভক্ষণে দানে মতি হয়েছিল তব, দ্বারেতে ভিক্ষুক তাই আজি ভগবান !! হেন দিন আর নাহি হবে প্রাণেশ্বর। {ইতি বৃন্দাবলী পত্রিকা সমাপ্ত)
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.