Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Arjyabhumi Ed. 1st

Gongapadhya,ashutosh · 2009/12/6

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

আৰ্যভূমি।
শ্ৰীআশুতোেষ গঙ্গোপাধ্যায় প্রণীত।
প্রথম সংস্করণ
১৯ নং অপার চিৎপুর রােড হইতে
রাইমােহন বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক প্রকাশিত।
শ্রাবণ, ১৩৪০।
All rights reserved.
মূল্য এক টাকা।

প্রিন্টার-ঐপরীক্ষিৎ চরণ গুপ্ত,
কমলা প্রিন্টিং ওয়ার্কস
৩নং কাণমিত্র আট ট-বাগবাজার, কলিকাতা

উৎসর্গ পত্র।
Clever apes who feed on foreign intelligence
sauntered Europe round and gathered every vice
in every ground-Slavophiles of Russia--.
অনন্ত কালের গর্ভে কোন একদিন
সমপ্রকৃতির কেহ লভিয়া নিশ্চয়
আৰ্যভূমি। জন্ম তব পবিত্র জঠরে
প্রসারিবে করামুজ, করিতে গ্রহণ
এই মুৰ্ত্ত ভাবরাশি; ধরেছি জন নী
একমাত্র সে আশায় এ ক্ষুদ্র লেখনী ।
বিজাতীয় সভ্যতার মােহে ভয়ঙ্কর
মনে করি আপনারে হীন অকিঞ্চন,
অন্ধানুকরণে তার রহিয়া
বিবশ,
স্বাতন্ত্র্যেরে বিসজ্জন দিয়াছে যে জন,
তার তীব্র তিরস্কার, রুদ্র পদাঘাত,
পড়ক মস্তকে মম, হৌক দেহপাত ।
তােমার
র সন্তান।

No text on this page.

৫ ০ ০ re ০০ s ১২ ৪ ৬ ৫ ৫ * * * * * ৫০ ) Sport ০০ r০০ সূচিপত্র বিষয় (১) ভারতে অনাৰ্যজাতি (১) শান্তনু-নন্দন (৩) কৰ্ম্মযােগী (৪) ধর্ম (৫) কি চাহে ভারত (৬) দধীচির আত্মত্যাগ (৭) শ্মশানবাসিনী শ্যামা (৮) ভারতে বেদান্ত (১) যমুনাপুলিনে শ্রীকৃষ্ণ (১০) কবি (১১) ভারতের ব্রাহ্মণ (১২) প্রতিভা (১৩) আত্মদর্শন (১৪) কুরুক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণ (১৫) উমাশঙ্কর (১৬) ভেদজ্ঞান (১৭) অতীতের স্মৃতি (১৮) কর্মবাদ ০ ০ ০ ৪০ ৪০ ৮) ৫৪ ৮ ০০ ০ see ৭২ .

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

আৰ্যভূমি ভারতে অনাৰ্যজাতি বিমুগ্ধ ভারতবাসি! জিজ্ঞাসি তােমায়, এই বিশ্বজগতের জান কি চরম ? অনাদি অনন্ত এক আনন্দ-সাগর- এই বিশ্বজগতের জানিত চরম কেবল চরমপন্থী আর্যঋষিগণ, আছে প্রতিষ্ঠিত যেই আনন্দ-সাগরে স্বাধীনতা জীবাত্মার-প্রকৃতি আপন একদিন ভােগমূঢ় অনাৰ্য্য বর্বরে আর্যঋষি-বংশধর করি নিয়ন্ত্রিত সে তত্ত্ব কহিয়াছিল তাহাদের কাণে, অমৃত গলিয়াছিল মােহমুগ্ধ প্রাণে। -অতীতের স্মৃতি যবে জাগাইতে প্রাণে অমৃতের প্রাণায়াম মূৰ্তি মনােহর, আৰ্যসন্তানের দীপ্ত ধমনী-ভিতরে

আর্যভূমি
ছুটিয়া শােণিতস্রোত বিদ্যুতের বেগে
করিত প্রশান্ত দৃঢ় প্রদীপ্ত হৃদয় ;
প্রফুল্ল নির্ভয় চিত্তে অমৃতের তরে
প্রবেশিত যেই দিন মৃত্যুর ভিতরে
আর্যঋষি-বংশধর ; ছিল কি তখন
২• আৰ্যপ্রসূ ভারতের অবস্থা এমন ?
বিজ্ঞান-প্রােজ্জ্বল আর বিলাস-বিহ্বল
প্রতীচ্য লালসাত্মিকা সভ্যতা যে দিন
উঠিল ফুটিয়া ধীরে পূর্ণেন্দুর মত
আৰ্যপ্রসূ ভারতের সুনীল অম্বরে ;
যেইদিন বীর্যহীন ভারত-সন্তান,
বিস্মরিয়া অতীতের আধ্যাত্মিক বল,
ধৰ্ম্মজ্ঞানে সেবা করি ভীরুতার পদ,
হইল গর্বিত মূঢ় অসার দুর্বল ;
অহিংসার সিংহাসনে দিল যেই দিন
কাপুরুষতার স্থান ; লইল কাড়িয়া
দুর্বলতা সেইরূপে ক্ষমার আসন ;
পুণ্যময়ী ভারতের অঙ্কে পুনরায়

আৰ্যভূমি
আত্মঘাতী বহির্মুখ ঘৃণিত बम
একটি অনাৰ্যজাতি লভিল জনম।
৪০
জগতের নামরূপ বুদুদের
কোথা লুকাইয়া যায়, পশ্চাতে পড়িয়া
থাকে তার সত্তামাত্র স্বীয় মহিমায়।
অসার গর্বিত মূঢ় দুর্বল হৃদয়
সে নাম রূপের সহ যাইতে ভাসিয়া
নাহি পায় কোনরূপে আত্মপরিচয়।
সভ্যতার উষালােকে, প্রথম স্ফুরণে,
জ্ঞানে ধৰ্ম্মে মনুষত্বে কৃতিত্বে তেমন
একমাত্র গৌরবিনী ছিল যে ভারত ;
আর্যঋষি-বংশধর ছাড়িয়া হেলায়
ধর্মের অভয়
পদ, পরিয়া গলায়
দাসত্বের রত্নহার, অকাতরে তারে
জগতের পদতলে দিয়াছে আসন।
পারিয়া সহিতে সে ঘাের অপমান
ভারত নিদ্রার ঘােরে রয়েছে অজ্ঞান।
অসার গর্বিত মুঢ় এ অনাৰ্যজাতি
০

অৰ্যভূমি
নহে কভু, যােগেশ্বরি! সন্তান তােমার।
ঘুমাও মা আৰ্যভূমি! জাগিও আবার,
গিরিগুহা-অধিবাসী তপস্যাবিলাসী
ধ্যানমগ্ন যোেগমগ্ন সন্তান তােমার,
তোমার পবিত্র অঙ্কে দাড়া’য়ে আবার,
করিবে জননী বলি সম্ভাষণ যবে।

শান্তনু-নন্দন।
রমণীর রূপরাশি, স্বর্ণসিংহাসন,
প্রভুত্বের
সন্মােহিনী মদিরা তরল,
প্রবেশিয়া তেজোদীপ্ত হৃদয়ে যাহার
পারেনি করিতে কভু স্পন্দিত চঞ্চল ;
ত্যাগের বিরাটমূর্তি শান্তনু-নন্দন
ধৰ্ম্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে শাণিতান্ত্র করে
করিতেছে মৃত্যুর কি ক্রীড়া বিভীষণ !
যেই দিন বীরশ্রেষ্ঠ ক্ষত্রিয়গৌরব
আত্মত্যাগী জিতেন্দ্রিয় শান্তনু-তনয়
প্রচারিল কুরুক্ষেত্রে অস্ত্রের ঝঙ্কারে,
-বহির্জগতের মাঝে ধৰ্ম্ম সনাতন
চিরদিন রণমুর্তি। সৌন্দর্যে আবার
অন্তর্জগতের দীপ্ত
কনক-মন্দিরে
সতত আত্মবিলাসী ; প্রভাবে যাহার
ভাঙ্গি’ চুরি জড়তার দুর্ভেদ্য প্রাচীরু
নিয়ত ছুটেছে জীব অভিমুখে তঁার,
বিশ্বের পরমা গতি যিনি বিশ্বের

অৰ্য্যভূমি
ভারত ধৰ্ম্মের ভাবে রহিয়া তন্ময়,
কিবা আচার্যের শুদ্ধ পবিত্র আসনে,
২ পুণ্য তীর্থে, রণক্ষেত্রে অস্ত্রে সাংঘাতিক,
প্রচারিত সবস্থানে তত্ত্ব আধ্যাত্মিক।
সেইদিন জগতে সে করিল প্রমাণ,
—আসুরিক প্রভাবের শক্তি ভয়ঙ্কর,
পাশবিক প্রমত্ততা, আধ্যাত্মিক বল
পারে অবহেলাভরে দিতে রসাতল।
ভীষ্ম। ভারতের সেই রত্ন সমুজ্জ্বল।
অমিত ও অপার্থিব বীরত্ব যাহার
মহাভারতের
করেছে উজ্জ্বল।
অমিত ও অপার্থিব বীরত্বে যাহার
কামনার দুর্গন্ধ কি তিক্ত অবসাদ
পারেনি পণিতে কভু, করিতে অথবা
কামনার গন্ধ তাহা দূষিত আবিল।
ধর্মের অভয় পদ-অমৃত শীতল
হারে শুচিতায়, একাত্ম-নিষ্ঠায়,
অগভীর অতল করিল যাহার

আৰ্যভূমি
শান্তির পবিত্র তীর্থ, ত্রিদিব সুন্দর।
দেখি ধৰ্ম্মে রণমূর্তি, চাহি ধৰ্ম্মপানে,
বরিয়া লইল সেই শান্তনু-তনয়
প্রদীপ্ত প্রশান্ত চিত্তে মৃত্যু আপনার।
ভুজবল তৃণের মতন
বিদলিয়া যার শক্তি পারিত করিতে
ভবিষ্যৎ স্বপ্নে পরিণত ;
ধৰ্ম্মরাজ্য প্রতিষ্ঠার
হইতে সহায়,
চাহিয়া ধৰ্ম্মের পানে সতৃষ্ণ নয়নে,
অমিত-প্রভাব সেই শান্তনু-নন্দন
ধৰ্ম্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে শরশয্যা’পরে
দেখিল প্রশান্ত চিত্তে শান্তির স্বপন,
৪৮ লভিল মৃত্যুর মাঝে শাশ্বত জীবন।

কৰ্ম্মযােগ।
সঙ্গীতের মধুম্বরে
লগতের কেন্দ্রে কেন্দ্রে
উঠিতেছে নীরবে
কি সঙ্গীত । ক্ষিপ্ত মন করি উদাসীন।
সতত উঠিছে ফুটি
নূতনত্ব অঙ্গে মাখি কি তত্ত্ব প্রাচীন।
সঙ্গীতের আকর্ষণে
নিয়ত নিস্পৃহ যােগী
সুতীব্র উৎসাহে কৰ্ম্মে হইছে তৎপর।
অমৃতের আস্বাদনে
পরিতৃপ্ত যার বুক,
তথাপি সে করিতেছে কৰ্ম্ম নিরন্তর।
বিষয়ীর মুগ্ধ মন
যে মৃত্যুর দরশনে
হইতেছে সন্ত্রাসিত, ভীত, পরিশ্লান ;
সে মৃত্যুর অভ্যন্তরে
নিরখিয়া কি অমৃত,
অম্লান বদনে তাহা করিতেছে পান।
সে অর্থ-পিপাসু দস্য! নিণ সমাজদ্রোহী।
প্ৰফুল্পের রূপরাশি, ঐশ্বৰ্য প্রচুর,
সেই স্বার্থ-পরিমুক্ত
বিজয়ী পুরুষসিংহে
পারেনি করিতে কভু তৃষ্ণায় আতুর ?

আৰ্যভূমি ঐযে সমাজের বক্ষে পরাক্রান্ত রাজ্যের করিছে গৌরবান্বিত স্বর্ণসিংহাসন ; অপম ভুজবলে করিতেছে প্রতিদিন প্রজার অপরিসীম অর্থের শােষণ ; প্রবল-প্রতাপ দ্য তবে কি সে নরপতি ? রহিয়া সুপ্রতিষ্ঠিত যাঁহার ভিতর, সুখে দুঃখে চিরদিন কত খও সাম্রাজ্যের পালন করিতেছেন লােক-মহেশ্বর। গজ্জ্যোতি প্রভাকর আপন এচ তেজে জলধির অম্বুরাশি শুষিয়া যেমন, সর্বত্র বরষি’ বারি, সিক্ত করি ধরাতল, সকল প্রাণির করে মঙ্গল সাধন ; সেইরূপে নরপতি অপ্রতিম ভুজবলে প্রজার বিপুল অর্থ করিয়া শােষণ, করুণার সন্ধুক্ষণে করিতেছে প্রতিদিন সাম্রাজ্যের প্রতি অঙ্গ বর্ধিত তেমন। অৰ্ম্মের অভ্যুত্থানে প্রবলের অত্যাচার সমাজের মৰ্ম্মে মৰ্ম্মে করিয়া আঘাত, মও অসুরের মত দীন দুর্বলের এতি লাগিল করিতে যবে সুশনি-সম্পাত,

}
আৰ্যভূমি
প্রীতির প্রদীপ্ত ছবি নিস্পৃহ যােগীর চিত্তে
বিশ্বের সে সুমধুর নীরব সঙ্গীতে
করুণার সপ্ততন্ত্রী
ঝঙ্কারিল অনুরাগে,
উদ্বেল হইল হিয়া মানবের হিতে।
সেই হিতে আত্মহারা,
তার তরে কর্মযােগী ;
বিদূরিতে পীড়িতের দুঃখ প্রাণান্তক,
প্রকাশিয়া বাহুবল
ধনীর আংশিক অথ
গ্রহণ করিয়াছিল ভবানী পাঠক।
নহে তাহা দস্যু-বৃত্তি, জীবহিতে মহাযজ্ঞ;
যজ্ঞের ঈশ্বর যিনি জগতের পতি।
ঋত্বিক মানব-প্রীতি, আহুতি ভবানী নিজে,
প্রফুল্ল দক্ষিণা তার—দেবী মূর্তিমতী।
মানব-প্রীতির বশে
যার স্বর্ণোজ্জ্বল করে
হয়েছিল বিনির্মিত সুবর্ণ প্রতিমা,
সে ভবানী নহে দ্য, কামিনী কাঞ্চন যার
পারে নাই সঞ্চারিতে হৃদয়ে কালিমা।
প্রজ্বলিত বীৰ্যরাশি
ব্যাপিয়া সৰ্ব্বাঙ্গ যার
ঢালিত হৃদয়ে সদা আনন্দের ধারা,
রমণীর স্নিগ্ধ বক্ষ,
কাঞ্চনের উজ্জ্বলতা,
কেমনে করিবে বল তারে আত্মহারা ?

আৰ্যভূমি
অমৃতের উপাসক
নহে ক্ষুদ্র দীন হীন,
কামিনী ও কাঞ্চনের নহে সে ভিখারী।
মুখের দুর্বল মন
দেখি তার মনুষ্যত্ব
তাহারে ভাবুক গিয়া ঘাের অত্যাচারী।
অমৃতের মহাশক্তি
সংহারিয়া ভীতিমুল
শমনে করেছে যার ক্রীড়ার পুতুল ;
কামনার প্রণােদনে
হয়েছে যে বীৰ্যহীন,
কেমনে বুঝিবে তার সামর্থ্য অতুল ?
জগতের কেন্দ্রে কেন্দ্রে
উঠিতেছে সুনীরবে
কি সঙ্গীত! অমৃতের কি মধুর ধ্বনি।
নিস্পৃহ যােগীর মন
কম্মের ভিতর দিয়া
ছুটিয়াছে সে উদ্দেশে দিবস রজনী।

ধর্ম।
যে অক্ষীণ জ্ঞানশক্তি অব্যয়াত্মরূপে
আসৃষ্টি ধরিয়া আছে। বিশ্বচরাচর
আপনার এক অংশে ; প্রলয়ে আবার
জগৎ যাঁহার রূপে হয় পরিণত,
বিশ্বের পরমাগতি, বিশ্বের জীবন,
বিশ্বের নিয়ন্ত্ৰী তিনি, ধর্ম সনাতন।
হলাদিনী সে মহাশক্তি ; উদ্দেশ্য তাহার
প্রতিষ্ঠিতে জীবাত্ময় স্বরূপে আপন।
তাহার অনন্য ভাবে কর আরাধনা,
লভিবে অসীম শক্তি
; ক্ষুদ্রত্ব তোমার
লভিবে কি সুমহান দিব্য পরিণাম।
অহঙ্কার, দাম্ভিকতা,—চাণ্ডালিক বৃত্তি,
বিমুঢ় বুদ্ধির বশে করিয়া আশ্রয়
সে শক্তির কর
কর যদি অপব্যবহার,
থাক দৃপ্ত বাহুবল, প্রভুত্ব দুর্জয়,
পড়িয়া মস্তকে তব বাগ্নির মত
সর্বজয়ী সামর্থ্যের দিবে পরিচয়।

আৰ্যভূমি
আশ্রয় করিয়া ধর্মে যেই ক্ষুদ্র নর
ক্ষুদ্ৰত্বের মধ্যদিয়া হ'য়ে
অগ্রসর
২০ লভিল অসীম শক্তি, স্বর্ণসিংহাসন ;
যবে স্বার্থপরতার প্রবাহ প্রখর
ছুটিল প্রবল বেগে প্লাবিয়া হৃদয় ;
ধৰ্ম্ম ! জগতের প্রাণ, পরম আশ্রয়।
ধর্মভ্রষ্ট মানবের
ক্ষুদ্ৰত্বের স্মৃতি
জাগা’তে করিল তারে ক্ষুদ্র অতিশয়।
প্রতীচীর অদ্বিতীয় বীরত্বের রবি
অমিত প্রভাবে করি প্রতীচ্য জগৎ
সন্ত্রাসিত, সন্তাপিত, কম্পিত তেমন,
নিরাশার অন্ধকূপে
সেন্টহেলেনায়
৩• ক্ষুদ্র দুর্বলের মত ত্যজিল জীবন।
পিত যাহার নামে সমগ্র ধরণী,
করিত বিপ তারে সামান্য সেনানী।
ধৰ্ম্ম নানারূপে বিশ্বে করি বিচরণ
করিতেছে চিরদিন অধৰ্ম্মে শাসিত।
বিশ্বধবংসি বাহৰলে হয়ে আত্মহারা,

৪০
আর্যভূমি
পাণ্ডবে করিয়া মনে তৃণের মতন,
-বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী,
করেছিল অহঙ্কারী প্রতিজ্ঞা ভীষণ।
ধরাকে সরার মত দলি পদভরে
পারিত করিতে চূর্ণ ;
; বুদ্ধিতে তেমন
নাহি ছিল ভূমণ্ডলে প্রতিদ্বন্দ্বী কেহ,
অভিমানী চিরদিন এই ধারণায়
নিরঙ্কুশ প্রভুত্বের দেখিত স্বপন।
ধর্মভীরু ক্ষত্রিয়ের ধৰ্ম্ম বাহুবল।
ধৰ্ম্মপ্রাণ পাণ্ডবের
অস্ত্রের
উঠিল ফুটিয়া ধৰ্ম্ম, করিয়া উজ্জ্বল
ধৰ্ম্মক্ষেত্র কুরুক্ষেত্র, পবিত্র তেমন।
ধৰ্ম্মের অজেয় শক্তি অশনির মত
পড়িয়া মস্তকোপরে করিল অচিরে
দাস্তিকের ভবিষ্যৎ স্বপ্নে পরিণত।
কৌরবের কোথায় সে সাম্রাজ্য বিশাল ?
লৌহস্তম্ভ দৃঢ়তর
করিতে যাহার
ধরে মস্তকে করি কুঠার আঘাত,
ঘােড়শবর্ষীয় দীপ্ত কেশরী-শাবকে
বিনাশিল সপ্ত হিংস্র শাৰ্দল ভীষণ !

•
আর্যভূমি
ঐ যে যােগসমারূঢ় পুরুষ প্রবর
ধ্যাননিমিলিত আঁখি ! দেহ ছাড় যার
হইয়াছে অন্তর্হিত প্রাণের লক্ষণ
সর্বব্যাপী সৰ্বাতীত যেই চৈতন্যের
৬০ স্বরূপসাবমাত্রে লভি’ আত্মজ্ঞান
রহিয়াছে আনন্দের বিলাসে বিভাের,
সৰ্বাতীত সে চৈতন্য ধৰ্ম্ম জীবাত্মার।
ধর্মের অভাবে জীব করি হাহাকার,
অতৃপ্ত বাসনা-চক্রে হইয়া প্রহত,
ছুটিতেছে কর্মক্ষেত্রে
কর্মক্ষেত্রে জন্মজন্মান্তর।
আনন্দ-স্বরূপ আত্মা নহে লভ্য তার,
ধৰ্ম্মাভাবে হয়েছে যে বিমুঢ় দুর্বল।
আধ্যাত্মিক জগতের আনন্দ-বিলাস
প্রকাশিছে সর্বাতীত প্রকৃতি তাহার।
৭• বহির্জগতের ঘোর রণ-ঝটিকায়
উঠিছে ফুটিয়া তার সামর্থ্য অপার।
কর্মভূমি ভারতের জাতীয় শরীরে
এই ধৰ্ম্ম মেরুদও। মেরুদভরে

আতুমি
এখনও ভারতের
ক্ষীণ
কলেবর
রহিয়াছে সঞ্জীবিত।
ঝটিকার মত
সহস্র সহস্র বর্ষ
অত্যাচার
বক্ষের উপর দিয়া গিয়াছে বহিয়া,
এখনও অভাগিনী রয়েছে বাঁচিয়া।
নিবিবে ধৰ্ম্মের আলো মরিলে ভারত,
৮ ডুবিবে তিমির-গর্ভে সমগ্র জগৎ।
নিশাচরে পরিবৃত হইয়া ধরণী
নৈরাশ্যের হাহাকারে হবে মুখরিত,
পশুত্বের সহ তবে স্থান বিনিময়
মনুষ্যত্ব সেইদিন করিবে নিশ্চয়।
আধ্যাত্মিক আলােকের প্রবল প্রবাহে
ভাসাইয়া ভূমণ্ডল,
ভূমণ্ডল, করিয়া উন্নত,
পুনৰ্ব্বার আচার্যের পবিত্র আসন
ভারত পূর্বের মত করিবে গ্রহণ।
আজি যে দুর্ভাগ্যবশে পরমা দুঃখিনী,
তাহার চরণাম্বুজ চুম্বিবে অবনী।
এখনও আৰ্যরক্তে এখানে ওখানে
নিবিতেছে জ্বলিতেছে ধর্মের অনল।
জ্বলিয়া উঠিবে যবে অই বৈশ্বানর

আৰ্যভূমি
তীব্র তেজে ক্ষিপ্র বেগে, পদসঙ্কুল
কত অরণ্যানী হবে ভন্মে পরিণত।
লভিবে সমৃদ্ধিশালী কত জনপদ
উৎপত্তি তথায় ধর্মে রহিয়া অচল,
৯৮ করি জীবনের লক্ষ্য অমৃত নির্মল।

কি চাহে ভারত?
তবে কি বলিব সখে! কি চাহে ভারত।
আত্মজ্ঞানে দীপ্তবুদ্ধি ভারত-সন্তান,
আনন্দের স্মৃতিসূত্রে হি’ অনুসূত,
চিরদিন কর্মক্ষেত্রে করি’ বিচরণ
কৰ্ম্মযােগে আত্মশক্তি করিবে প্রকাশ,
ভারতের আর্যঋষি করিত যেমন।
যিনি আত্যন্তিক সুখ; সংস্পর্শে যাহার
প্রাকৃত অনিত্য সুখ আপনা হইতে
অমনি সরিয়া পড়ে তীব্র অবসাদে
সঙ্গে ল’য়ে বাসনার তিক্ত উপহার,
বিশ্ব তাঁর কৰ্ম্মক্ষেত্র। আজ্ঞামাত্রে যার
জড় বিশ্বচরাচর লভিয়া জীবন
আপন গন্তব্য পথে চলেছে নিয়ত,
করিতে ভঁহার সেবা, পূজিতে চরণ,
চিরদিন কর্মক্ষেত্রে বীর
করিবে সে বিচরণ নিস্পৃহ হৃদয়,
ভারতের আর্যঋষি করিত যেমন।

আৰভূমি
জীবের অনাদিসিদ্ধ জড়ত্বের বীজ
অনন্ত কালের তরে করি নিষ্কাশিত
২০ করিতে প্রবুদ্ধ তারে আত্মজ্ঞানালােকে,
পরিমুক্ত চৈতন্যের বিমুক্ত প্রভাবে
হইল কালের স্রোতে ব্যক্ত চরাচর।
রজস্তম-অভিব্যক্ত কামাগ্নি বিষাদ
জ্বলিতেছে অহােরা, গর্জিছে ভীষণ ।
সে কামাগ্নি বিষাদের মধ্য দিয়া যিনি
মেহামৃত-স্বরূপিণী জননীর
ধরি’ জীবে স্নেহভরে বক্ষে অাপনার
নিয়ত ছুটিয়াছেন অমৃতের পানে,
তিনি কাল সর্বজয়ী, মঙ্গল-নিধান,
৩• প্রচাৰিছে সৃষ্টি তার উদ্দেশ্য মহান্।
আনন্দ-স্বরূপ কাল,
বিলাসে হারু
জীবের অনাদিসিদ্ধ অদৃষ্ট ভীষণ,
-মুক্ত জ্ঞানানন্দ তার লভিবারে শূর্তি
পড়িয়াছে দৃষ্টিপথে লভিতে বিনাশ।
জানিয়া সৃষ্টির এই উদ্দেশ্য মহান
হইবে নিষ্কামকৰ্ম্মী ভারতসন্তান।
মত

আৰ্যভূমি
বিমূঢ় জনের দেহে জাগাইতে প্রাণ,
বলহীনে জ্ঞানশক্তি করিতে প্রদান,
স্বার্থমুগ্ধ অসুরের ক্রুরতা ভীষণ
অবনীর বক্ষঃ হ’তে করিতে বিলােপ,
মুক্ত জ্ঞান মুক্ত প্রেম সান্ত চরাচরে
ভেদি সপ্ত আবরণ প্রদীপ্ত প্রভায়
উঠিবে ফুটিয়া সর্ব শরীরে তাহার,
প্রকাশিয়া ভুজদ্বয়ে শক্তি অনুপম।
জেগে যদি উঠে প্রাণ, চিনে আপনায়,
শশাণিতমাংসের দেহ-বিলাসের বস্তু
ডুবাইয়া
বিস্মৃতির অতল সলিলে
সারা বিশ্ব মুক্তিমন্ত্রে করিবে দীক্ষিত।
আবার বলিব সখে। কি চাহে ভারত।
সন্তানের দেহে তার চাহিছে ভারত
প্রজ্বলিত বীৰ্যরাশি—দীপ্ত হুতাশন।
ওজস্বিতার বিনম্র মধুর
প্রশান্ত প্রভাবে তার ফুটিয়া সর্বাঙ্গে
করিবে মানবচিত্তে বশিত্ব স্থাপন,
প্রভুত্বের মহিমায় মােহিবে হৃদয়।

আর্যভূমি
সে বীর্য ফুটিয়া মুখে সৌন্দর্য্যে নিল
উন্মাদিনী কামিনীর কামমুগ্ধ প্রাণে
সঞ্চারিয়া পুণ্যপ্রভ সল মাধুরী,
কামের করিবে শান্তি, হৃদয় শীতল,
৬০ প্রভুত্বের গরিমায় চুম্বিবে চরণ।
সে বীর্যে লভিয়া বুদ্ধি শক্তি নিরুপম,
অসুরের কূট বুদ্ধি, শক্তি ভয়ঙ্কর
অপ্রতিম প্রতিভায় দিবে রসাতল,
উঠিবে ফুটিয়া প্রাণে প্রভুত্ব উজ্জ্বল।
যথা ভােগবিলাসের মোহিনী মায়ায়
স্বার্থপরতার মূৰ্ত্তি লভিয়া জীবন,
দুর্বলের সুখ শান্তি গ্রাসিবার তরে
প্রসারিবে লােলজিহ্বা, দৃপ্ত বাহুদ্বয়,
প্রদীপ্ত অপ্রতিহত সেই বীৰ্যানল
৭০ লইবে শুষিয়া তার আসুরিক বল।
প্রাকৃত সুখের প্রতি রহি উদাসীন
জীবহিততে বিশ্ব করিবে অধীন।
আবার শুনিবে সখে? কি চাহে ভারত?
এই পরিদৃশ্যমান বিচিত্র জগৎ।

আৰ্যভূমি
গুলনের প্রভাবে তারে করি’ আত্মসাৎ,
প্রেমের বিলাসে পুনঃ করিয়া বিকাশ,
চরমােদ্দেশ্যের প্রতি নিত্য প্রবর্তিত
করিবে সন্তান তার, চাহিছে ভারত।
গড়বে পালিবে বিশ্ব, করিবে প্রলয়,
আপনাতে ঈশিত্বের দিবে পরিচয়।
আলােকের দরশনে আঁধারের মত,
অধৰ্ম্মের অভ্যুত্থান, দুস্কৃতি
দুষ্কৃতি ভীষণ,
প্রচণ্ড প্রভাবে তার হবে পরাহত,
করিবে সমগ্র বিশ্ব আপনার মত।

দধীচির আত্মত্যাগ। শশাণিত-পিপাসু র প্রমত্ত অসুর, তটগ্রাসি জলধির প্রচণ্ড ভীষণ তরকাঘাতের মত, লাগিল যখন দেবত্বের-সৌন্দর্য্যের-সাধিতে বিলােপ; আসুরিক উল্লাসের প্রমত্ত এবাহে অভ্রভেদী আর্তনাদ উঠিল যেমন শান্তি-স্বপ্ন দধীচির ভাঙ্গিল অমনি। নিস্পৃহ নিলিপ্ত যােগী, ত্যাগ মুৰ্ত্তিমা শুচিতায় শুভ্রতায় সে ত্যাগের প্রভা ১• ফুটিয়া নয়নে মুনীরে ধ্যানপূত দীপ্ত কলেবর। আনন্দে আপনাহার, বিশ্বাসে সরল, সতত্যয় জ্যোতিতে দীপ্ত হৃদয়-কন্দর। সে সৌন্দৰ্য, সে মাধুৰ্য্য, মহিমা অপার, হৃদয়-তরিতে বলে করিত ঝঙ্কার। যার বীর্য ঘর অস্থি বাগ্নির মত অসুরের ভীমদেহ,—ভীমাদ্রি যেমন- মুখে করিত

আৰ্যভূমি
প্রতিষ্ঠিতে দেবধের রত্নসিংহাসন,
করিল প্রচও তেজে ভন্মে পরিণত,
২ জিল সে দধীচির শান্তির স্বপন।
অমৃতের উপাসক অমৃতের ধ্যানে
লভিছে অমৃতের যে জ্ঞান নিৰ্ম্মল,
সে জানে পরানুরক্তি ঊঠেছে ফুটিয়া
অমৃতের প্রতি, ফুল্ল কুসুম যেমন
অংশুমান্ ভাস্করের কিরণে উজ্জ্বল।
চিত্তমূল বিকল্পের বিলাস-মন্দিরে
জ্ঞানভক্তি শুধুমাত্র ঘাত প্রতিঘাত।
অমৃতের পূর্ণজ্ঞানে-স্পন্দনে তাহার
প্রতিঘাতে পরা ভক্তি হয় উন্মােষিত,
প্রতি দৃশ্যে সৌন্দর্য্যের সৃজিয়া স্বপন।
বিজ্ঞানরূপিণী ভক্তি। 'বিজ্ঞানপুরুষে
চিতের সম্যকরূপে হইলে বিলয়,
জ্ঞানভক্তি একরূপ, চিন্মাত্র এয়।
দেবতায় সৌন্দর্য্যের করি উপাসনা
মাটির মানুষ হয়ে পবিত্র
পবিত্র সুন্দর

অভূমি
অমৃতের অভিমুখে হ'বে অগ্রসর,
প্রতিষ্ঠিতে সে কারণে রত্নসিংহাসন
সৌন্দর্য্যের, জীবপ্রেম রহিয়া বিহবল,
ত্যজিলেন মুনিবর দীপ্ত কলেবর।
শান্তিমে সে সময়ে শান্তি-উপাসক,
অমৃত-প্রয়াসী কোন
কোন ভারত-সন্তান,
জড়তার অবসাদে রহিয়া নিস্পন্দ,
চুম্বিয়া অমৃতজ্ঞানে মৃত্যুর চরণ,
হইত কি আত্মঘাতী, মাতৃ তেমন ?
শুদ্ধসত্ত্বে প্রতিষ্ঠিত
যােগীরে মন
অমৃতের অঙ্কে যবে করে অবস্থান,
নাহি থাকে সে শরীরে প্রাণের লক্ষণ,
নিশ্চল নিস্পন্দ দেহ, জড় অচেতন।
তমােগুণে অভিভূত অজ্ঞান-বিমুগ্ধ
৫ আত্মদ্রোহী বহিশ্চর ভারত-সন্তান
সেই জড়তার মাঝে করিয়া সন্ধান
প্রাণারাম অমুতের, বক্ষোপরে তার
মৃত্যুকে অমৃতভ্রমে করিয়া স্থাপিত,

আৰ্যভূমি
কৰ্ম্ম-সন্ন্যাসের ক্রোড়ে রয়েছে নিদ্রিত।
মৃত্যুপ্রাপ্ত আৰ্যজাতি! প্রেতাত্মা তাহার
নিত্য করিতেছে সৃষ্টি মৃগতৃষ্ণিকার।
কৰ্ম্মযােগে প্রেতাত্মার নাহি অধিকার,
বাসনার স্রোতে শুধু দিতেছে সঁাতার।
আনিয়াছে ডাকিয়া যে মৃত্যু আপনার,
কে জানে কি সমুচিত প্রায়শ্চিত্ত তার?

মৃত্যুর ভিতর দিয়া
শ্মশানবাসিনী শ্যামা।
কালের প্রবল স্রোতে
সপ্ত ললাকে গতায়াত করে যে মানব ;
পাথিব শ্মশােনল
জ্বলিতেছে ক্ষিপ্রবেগে,
বল ঐ অনলে তার ঘুচিল কি সব?
শ্মশানের পর পারে
থাকি মৃত্যু আরাে কত
করিছে আশ্রয় পুনঃ অস্তিত্বে যাহার
ক্ষুদ্র জলৌকার মত ;
শ্মশানের ঐ অনল
জ্বলিয়া সতেজে বল কি করিবে তার ?
স্থূল দেহ-আবরণে
জীবের জীবত্ব যাহা,
ঐ অনল নাহি পারে করিতে বিনাশ।
পার্থিব শ্মশানানল
ধরি মুর্তি ভয়ঙ্কর
ভােগমূঢ় প্রাণে পারে জন্মাইতে ত্রাস।
অন্ধকারােপরে থাকি
ঘন অন্ধকার রাশি
সৃজিয়াছে আঁধারের সমুদ্র অতল ;
সেই আঁধারের মাঝে
দেখিতেছে চক্ষু
প্রজ্বলিত মুক্তপ্রভ আলােক-মণ্ডল।
কালে নাহি নিৰে আলাে দেশে নাহি পায় বাধা,
পায় অনাত্মবুদ্ধি তাহার সন্ধান।

আৰ্যভূমি
দূর ভবিষ্যতে করি
অতীতের সহচর
সে আলো চৈতন্যরূপে আছে বর্তমান।
অনন্ত তাহার ভাব,
অনন্ত তাহার ,
অনন্ত তাহার শক্তি, মহিমা তেমন।
সান্তু গিয়া বন্ধু তারে
করিতে আপন ভাবে
লভিয়াছে তার পদে বিমুক্ত জীবন।
নিত্য মুক্ত সে আলােক নিষ্ক্রিয় ও উদাসীন;
তথাপি অচিন্তনীয় প্রভাবে তাহার
চলিছে সমগ্র বিশ্ব
নিয়ত গন্তব্য পথে,
আছে গতি নির্ধারিত ক্ষুদ্র বালুকার।
আলােকে সকলি ভাসে, কিছু না অজ্ঞাত রহে,
সে আলােকে চরাচর আছে ভাসমান।
রহিয়াও উদাসীন
প্রয়ােক্তৃতাশক্তিরূপে
বিশ্বক্ষেত্রে অবিরত সঞ্চারিছে প্রাণ।
জ্ঞানেতে সৃষ্টিস্থিতি, অজ্ঞানেতে সর্বনাশ,
অজ্ঞানেতে জন্মমৃত্যু, আলোকে প্রকাশ।
চিদানন্দ সে আলােক - শ্মশানবাসিনী শ্যামা-
স্বাতন্ত্রের আবরণ করিছে বিনাশ।
সে আলােকে পূর্ণ স্ফূৰ্ত্তি লভিতেছে কুজ,
সে আলোেক আনন্দের মহাপায়াবার।

আৰ্যভূমি
চিনল সে আলােকে সৌন্দৰ্য্য লভিয়া প্রাণ
প্রচারিছে শ্মশানের মহিমা অপার।
সেখানে সকলি শব;
প্রাকৃত শরীর সহ
সে শ্মশানে আমিত্বের হইয়াছে শেষ।
পারে শ্মশানালােকে
শিবত্বের মহিমায়
সংসারের হলাহল করিতে প্রবেশ।
সপ্তলােক দূরে থাকি শানের মুক্তালাকে
স্বীয় ক্ষর স্বভাবের দেয় পরিচয়।
স্থূল সূক্ষম রহে দূরে, আলােক-সংস্পর্শে আসি
কারণশরীর শেষে হইছে বিলয়।
অপূর্ণতা ঘুচে যায়
ক্রর অভিমান সহ,
শ্মশানের মুক্তালােকে সকলি সমান।
-আমিত্বের অন্তঃশষ্যা —জীবত্বের যবনিকা
হইয়াছে উভয়ের চির অবসান।
সে আলােক সে অনল -শ্মশানবাসিনী শ্যামা
সৌন্দর্য্যের, চৈতন্যের, সমুদ্র অপার।
শৰত্বের সাধনায়
জ্ঞানের প্রভাবে জীৰ
পাইয়াছে শিবদের পূর্ণ অধিকার।
প্রীতি-উচ্ছসিত বুকে
যে জন নিয়াছে শিরে
শত কোটি জগতের উত্থানের ভার ;

আৰ্যভূমি
শ্মশানবাসিনী শ্যামা
স্নেহভরে সে সন্তানে
অন্তিমে দিয়াছে স্থান পদে আপনার।
শুধিতে বিশ্বের ঋণ
কোটি জন্ম চিড়ি’ বক্ষঃ
দিয়াছে শােণিতরাশি, আপনার প্রাণ ;
করিয়া শােণিতাভাবে
আকাঙক্ষারে বলহীন
করিয়াছে যে সন্তান হৃদয় শ্মশান ;
শ্মশানবাসিনী শ্যামা
হৃদয়-শাশনে তার
মহাশক্তিরূপে সদা করে অবস্থান।
হইয়া শ্মশানবাসী,
স্থাপিয়া হৃদয়ােপরে
৬৮ মাতৃপদ, সে সন্তান ল’ভেছে নির্বাণ ।

ভারতে বেদান্ত।
নাহি দেশ-বিরতির নাহি কোন স্থান
বিমুক্ত প্রবাহে কাল স্বভাবের বশে
চলিয়াছে অবিরাম।
সে মুক্ত প্রবাহে
মুক্তজ্ঞানে মুক্তানন্দ দিতেছে নিয়ত
পূর্ণতার পরিচয়—প্রকৃতি আপন।
আত্মরতি, আত্মতৃপ্তি, আত্ম-অধিকার,
পরাধীনতার
কভু দেখে না
স্বপন।
পরিমুক্ত বেদান্তের অচিন্ত্য প্রভাবে
জীবনসংগ্রামজয়ী মােহমুক্ত জীব
স্বরাজের অধিকারী, সম্রাট স্বাধীন।
স্বরাজের মহিমায় স্বাতন্ত্রের ভাব,
বৈষম্যের কোলাহল, স্বার্থের
অভীদ্ধ অভেদ জ্ঞানে কোথা ডুবে যায়।
দীর্ঘ পৰ্যটনশেষে ডুবিয়াছে মন
অহঙ্কারে ; অহঙ্কার হয়েছে বিলয়
পে’তে গিয়া বেদান্তের পূর্ণ পরিচয়।
রহে শুধু আত্মস্মৃতি অনন্ত
অসীম।
হুঙ্কার,

অৰ্যভূমি
ব্যক্তিত্বের অবসানে জীবন্মুক্ত জীব
মুক্ত আনন্দের অঙ্কে লভি মুক্ত প্রাণ
২০ আপনারে সর্বভূতে দেখে বৰ্তমান।
তাহারা মানুষ বটে, বেদান্তের ঋষি ,
হাদের চক্ষে মুখে
শরীরে সর্বত্র
লভি স্ফুর্তি বেদান্তের বিমুক্ত প্রভাব
সারা
জীব জগতের
প্রতিনিধি-পদে
করেছিল প্রতিষ্ঠিত। প্রাচীন ভারতে
মহাপরাক্রান্ত রাজরাজের
তাহাদের পদ তলে লভিয়া আসন,
তাহাদের তেজোগৰ্ভ অঙ্গুলি-সঙ্কেতে
প্রভুভক্ত আজ্ঞাধীন কিঙ্করের মত
৩০ করিতেন বিধিমতে স্বরাজ্য পালন।
তাঁহারা মানুষ বটে, বেদান্তের ঋষি !
মহেশ্বাস মহাবল ক্ষত্রিয়-তনয়
তাহাদের অপার্থিব অচিন্ত্য প্রভাবে
সভক্তি আপন হতে হইত প্রণত
হাদের পদতলে ;
সেবকের মত
জানাইত সসম্মানে নিজ অভিমত।

তেমন ;
আৰ্যভূমি
তাঁহাদের বাহুবলে নৃপতি-সমাজ
হয় নাই পদানত ; অরে সাহায্যে
করে নাই কভু তারা প্রভুত্ব স্থাপন।
একমাত্র ভুজবল
করিয়া আশ্রয়
যেই দিন আত্মহারা ক্ষত্রিয়সন্তান
মর্মন্তুদ অহঙ্কারে
অবজায়
ধর্মের করিল গ্লানি, : সাধুদের প্রতি
পাশবিক আচরণ করিল
পরশুরামের সেই শাণিত কুঠারে
উঠিল ফুটিয়া বেগে, কঁাপায়ে ভূতল,
ঋষিত্বের কি প্রভাব ! কি তীব্র অনল ।
অতীত যুগের একবিংশতি বারের
সেই নরমেধযজ্ঞ করিছে প্রচার,
-ঋষিপ্রভাবের কাছে কি তুচ্ছ অসার
ক্ষত্রিয়ের বাহুবল অধের ঝঙ্কার।
অস্ত্রমুখে
রুধিবার তরে
কতবার নিঃক্ষত্রিয় হইল ধরণী,
উঠেছিল গৃহে গৃহে রােদনের ধ্বনি।
দেখিলে বিশ্বামিত্র ব্ৰহ্মত্তি তাহার
বশিষ্ঠের ব্রহ্মাণ্ডে চূর্ণ শতধায়,

আৰ্যভূমি লভিবারে ব্ৰহ্মতেজ, ব্ৰহ্মবির পদ, করিত কি আজীবন তপস্যা কঠোর, ভাঙ্গিত গায়ত্রীমন্ত্রে অজ্ঞানতা ঘাের ? ৬০ ঋষিদের সংঘর্ষণ ক্ষাত্ৰবলসহ হ’ত যদি স্বাভাবিক বিধির বিধানে, কবে বিশ্ব পরিণত হইত শ্মশানে। বেদান্ত রহিত দূরে, করিত শমন সৃষ্টি বিশ্বে নৈরাশ্যের তীব্র কোলাহল। বেদান্তের মহিমায় শান্তনু-নন্দন ভ্রমিতেন মুক্তভাবে বক্ষে বসুধার। ঋষিত্বের অপার্থিব প্রভাব তঁাহার ক্ষত্রিয়ের ভুজবল না জানিয়া যবে হইল তাঁহার সনে প্রবৃত্ত ৭• ক্ষত্রিয়র্ষি শান্তনুজ বেদান্ত-প্রভাবে অমুখে ভেজ করিয়া নির্গত করিলেন ঋষিত্বের মহিমা প্রচার। যেই তেজ ব্ৰহ্মভাবে অমৃত শীতল ; বিমুক্ত আনন্দরূপে উচ্ছসিয়া প্রাণে কহিত প্রলুব্ধ জীবে দেখাইত অভিব্যক্ত প্রাকৃত সমরে; ।

আৰ্যভূমি
অণু কপিল
সুমধুর স্বপনের মত ;
বহির্জগতের মাঝে
এতে
শত বজ্রাগ্নির
সৃষ্টি করিয়া নিমেষে
৮০ ছুটিল প্রলয়বেগে। প্রকম্পনে
ধরিত্রীর প্রতি অণু
চমকিল গােবিন্দের প্রতি অটল।
এক ভীম তুচ্ছ কথা! শত বৃকোদরে
সেই তেজ মৃত্যুরূপে করিত আশ্রয়,
করিয়া প্রতিজ্ঞাভঙ্গ যদি না সে তেজ
করিতেন ভগবান আপনাতে লয়।
চাহি যদি ধৰ্ম্মপানে শান্তনু-তনয়
বরিয়া । লইতেন মৃত্যু আপনার,
পাণ্ডবের ধৰ্ম্মরাজ্য,
আশা সমুজ্জ্বল,
স্বপ্নরাজ্যে পরিণত হইত কেবল।

যমুনাপুলিনে শ্রীকৃষ্ণ।
কি মধুর বংশীধ্বনি পশিছে শ্রবণে ।
কে বাদক, হে অশােক! কহ তার নাম,
অনুমানে আমি বলি হবে ঘনশ্যাম।
নহিলে কে আছে আর, সে স্ব-প্রবাহে
মনের সহিত করি’ ইন্দ্রিয়ের
দিতে পারে সর্বাতীত আত্ম-পরিচয় ?
অব্যক্ত অনাদিসিদ্ধ বিমুক্ত সুন্দর
গুণাশ্রয় গুণাতীত
চিন্মাত্র
কেবল
মহনীয় আত্মরূপ জগতের মাঝে
প্রকাশিতে আপনারে, ফুটিল কি স্বর,
প্রবল বিষয়াসক্তি করিয়া নিথর !
পশিল সে বংশীধ্বনি দূর বৃন্দাবনে।
কামনার বিহঙ্গিক সরাইয়া ধীরে
পশিল সে বংশীধ্বনি গােপিকার মনে,
সংসার স্বপ্নের মত ভাসিল নয়নে।
শুনিয়া সে সুমধুর
বাঁশরীর
ছুটিল যমুনা তীরে, স্বতঃ নির্বিচারে

আৰ্যভূমি
স্বর-প্রবাহের
শ্রীকৃষ্ণাত্মপদে
মধুরত্মসমর্পণ
করিতে . তখন
২• বিবশা বিমনা রিক্তা গােপানাগণ।
কামনার বিহঙ্গিক বহি স্কন্ধোপরে
দাড়াইল গােপগণ প্রতীচির দ্বারে।
*
স্বপনের পর পারে মুক্ত জাগরণ
পূর্বাকাশে উষালােকে করিল স্থাপন
যেই সভ্যতার ভিত্তি, ধৰ্ম্ম সনাতন ;
সুমধুর বংশীধ্বনি করিল
তাহার
রেখাপাত পুনর্বার দূর বৃন্দাবনে,
বিবশা বিমনা রিক্তা গােপিকার মনে।
কামনার বিহঙ্গিক বহি’ স্কন্ধোপরে
৩০ দাড়াইল গােপগণ প্রতীচির দ্বারে।
প্রতীচির স্বপ্নরাজ্য, সভ্যতা তাহার
--স্বপ্নময়ী মদাত্মিকা- করেছে এখন
নিদ্রিত ভারত-বকে সন্মোহ স্থাপন।
পঞ্চশত বর্ষধরি’ যেই বৌদ্ধধর্ম
সনাতন আর্য্যধৰ্ম্মে, সভ্যতায় তার,
করিল কঠোরাঘাত, করিতে উভয়ে

আৰ্যভূমি
ধূলিসাৎ, উভয়ের চির
অবসান,
ভারতের কোথায় সে আজ বর্তমান?
যাহার সমাধিক্ষেত্র করিতে নির্মাণ
শত বর্ষধরি করিল যবন
এক মনে এক প্রাণে প্রচেষ্টা ভীষণ ;
স্বপ্নময়ী প্রতীচির
সাম্রাজ্য-মূলক
একাধিক শতাব্দির তপস্যা কঠোর
যাহারে করিতে চূর্ণ চাহিল তেমন,
এখনাে সে সভ্যতার রয়েছে জীবন।
স্বপনের পর পারে মুক্ত জাগরণ
করিয়াছে ভিত্তি যার দৃঢ় অতিশয়,
চাহিতেছে স্বপ্ন তারে করিতে বিলয়।
সনাতন আর্য্যধৰ্ম্ম। সভ্যতা তাহার
রহিয়াছে অবিচ্ছিন্ন ছায়ার মতন।
এখনাে উঠিলে সেই বাঁশরীর স্বর,
ভাঙ্গি’ চুরি’ স্বপ্নরাজ্য, সমােহ ভীষণ,
সত্যের প্রতিষ্ঠা পারে করিতে তেমন।
ঐ সুদৃঢ় প্রতিষ্ঠ অদ্রির মতন
আত্মনিষ্ঠ যেই জন, দৃষ্টিতে যাহার

আৰ্যভূমি
জগতের চিৎসা উঠিছে ভাসিয়া
ভাঙ্গিয়া রূপের মােহ রমণীয়তায়
করিয়া সে দৃষ্টি তার নিস্পন্দ নিশ্চল ;
এখনো শ্রবণে তার গভীর নিশীথে
৬০ প্রবেশিছে বংশীধ্বনি। শ্রীকৃষ্ণাত্মপদে
মধুরাত্ম-সমর্পণ করিছে সে জন,
সংসার ভাসিছে চকে স্বপ্নের মতন।
স্বপনের পর পারে মুক্ত জাগরণ
পূর্বাকাশে ঊষালােকে করিল স্থাপন
যেই সনাতন ধর্ম, সভ্যতা অমর,
সে ধৰ্ম্মও সভ্যতার প্রতি স্তরে স্তরে
নীরবে উঠিছে নিত্য শিল্পীর স্বর,
ভােগাসক্তি দাসত্বের ভাঙ্গিয়া নিগড়।
-পূরাতন যেই বস্তু,
৭০ আত্মারাম আত্মীড় স্বতন্ত্র অক্ষর,
যমুনাপুলিনে সেই বাঁশরীর স্বর
প্রচারিয়া সর্বজয়া সামর্থ্য তাহার,
জাগাইয়া মনুষ্যত্ব জীবের ভিতর,
৭৪ ভাঙ্গিতেছে দাসত্বের কঠিন নিগড়।
নবীন সুন্দর,

কবি।
-
স্রষ্টা যিনি—চিরকাল সৃষ্টির অতীত,
জীবের নিকটে কভু নাহি দেন ধরা,
সে কারণে দুঃখ আসি হয় স্বয়ম্বরা।
জীব প্রকৃতির স্ফুর্তি মূর্তি সচেতন
প্রকৃতির আলিঙ্গনে মােহময়
অমৃত সম্পর্কে তারে রাখি অচেতন
সৃজিয়াছে
শমনের সাম্রাজ্য ভীষণ।
কবি তিনি ; তমােময় প্রাকৃত জগৎ
তত্ত্বজ্ঞানালােকে করিয়া বিলয়
সুরস সুন্দর মুক্ত স্বরূপে আপন
রসাস্বাদ করিয়া যে
মােহময় মৃত্যুময় জগতের মাঝে
মৃত্যুর
অধীন দুঃস্থ
জীবের নিকট
এনেছেন অমৃতের
সমাচার,
জীবত্বের অবসানে শিবত্ব তাহার।
চিরস্থায়ী যৌবনের শক্তি অনুপম
কবির জীবনে ঘূৰ্ত্তি লভিয়া
লভিয়া চরম

আৰ্যভূমি
অমৃতের অধিকারী করিয়া তাহারে
করিয়াছে রুদ্ধ দ্বার অপরের তরে;
২০ পরাগ্রন্থ অবত মৃত্যুকবলিত
উপেক্ষিত জীবনের হীন ভিক্ষাবৃত্তি
কভু যেন প্রবেশিতে না পারে তথায়,
চিত্রিতে অমর ধাম তিক্ত কালিমায়।
অধীনতা-জর্জরিত
মুমুক্ষু যুবক!
হৃদয়ের
দ্বার
যৌবনের শক্তি প্রাণে করিয়া উন্মেষ
দ্রুত গতি সেই পথে হও অগ্রসর,
যে পথে দাঁড়ায়ে কবি তব প্রতীক্ষায়,
তােমারে করিতে বুদ্ধ মুক্তি-কামনায়।
মুক্ত করি
নিদারুণ অস্পৃশ্যতা, বৈষম্য নিৰ্ম্মম.
নিত্য শুদ্ধ বুদ্ধ মুক্ত পুরুষের প্রতি
প্রকৃতির অনুরাগ করিয়া উন্মেষ
আলােকের সামাঝে আঁধারের মত
একাত্মবিজ্ঞানলােকে পায় অবসান,
নাহি দ্বন্দ তাঁর মাঝে যিনি আত্মবান্।

আৰ্যভূমি
তিনি কবি, আত্মবান্, মুক্ত, আত্মারাম,
নীরবে বৈষম্য যথা করিছে বিশ্রাম।
পরমার্থ-বিজ্ঞানের আলােকে শীতল
চির বৈষম্যের মাঝে কবি চিরদিন
৪০ সর্বভূতে সমদৃষ্টি, মুক্ত দিগম্বর,
শুচি অশুচির বাস যার বক্ষেপির।
অবিনাশী যৌবনের শক্তি নিরুপম
প্রেমাত্মদৃষ্টিতে বিশ্ব নিকটে তাহার
করিয়া সমুপস্থিত করিছে প্রমাণ,
সৰ্ব্বভূতে এক আত্মা-এক ভগবান্ --
-স্রষ্টা যিনি—চিরকাল সৃষ্টির অতীত,
জীবের নিকটে কভু নাহি দেন ধর,
সে কারণে দুঃখ আসি হয় স্বয়ম্বরা।
এস তবে মুক্তিকামী শক্তি-উপাসক।
৫ কবির
চরণে বসি লও উপদেশ,
কেমনে লভিয়া তুমি অনন্ত যৌবন
প্রেমাত্মদৃষ্টিতে বিশ্ব করিবে
দর্শন।
পরিমুক্ত যৌবনের বিমুক্ত প্রভাবে
রকলেবরা অই
শ্যামাঙ্গিনী রমণীর
রমণীর পড়ি পদতলে
নৃমুণ্ড-মালিনী

আর্য ভূমি
রণরঙ্গিণীর
করিয়া দর্শন
সৌন্দর্যের মাঝে কবি রয়েছে মগন,
অপলক-উৰ্দ্ধদৃষ্টি, স্থির সচেতন।
মৃত্যু-সাগরের মাঝে
৬০ শ্রষ্টা ও সৃষ্টের ভেদ করিয়াছে লয় ।
অই মৃত্যুঞ্জয়
জড়তার গুরু ভার নিক্ষেপিয়া দূরে
এস তবে মুক্তিকামী শক্তি-উপাসক
একমাত্র তপােবল করিয়া আশ্রয়
দুর্গম
বন্ধুর পথে হও অগ্রসর,
যে পথে যাইলে পান্থ পাইবে নিশ্চয়
সন্মােহসংশয়মুক্ত
আত্ম-পরিচয়।
যৌবনের রুদ্র শক্তি করিয়া আশ্রয়
ভাঙ্গিয়া চূরিয়া জড় জগতের
সেই দেশ অভিমুখে হও অগ্রস,
৭০ জ্ঞানের আলােকে যথা দেখিবে নিশ্চয়
স্রষ্টা ও সৃষ্টের ভেদ পাইয়াছে লয়,
৭২ সকলই একাকার অভিন্ন
অধয়।

ভারতের ব্রাহ্মণ। ব্ৰহ্মবিদ্যাদ্বারদেশে হয়ে উপনীত , আৰ্যজাতি এতদিন লভিছে দ্বিজ কোন্ সংস্কারের বলে ? আচারে তাহার শত দোষ বিচারের একান্ত অভাবে। ব্ৰহ্মবিদ্যাদ্বারপ্রান্তে লভিয়া আসন দিলে এই উপদেশ আচাৰ্য মহান্, —নহি দেহ আমি, নহি সূক্ষ পঞ্চভূত, নহি দশেন্দ্রিয় আমি, নহি কভু মন, নহি আমি মহত্তত্ত্ব, চিত্ত, অহঙ্কার, প্রকৃতি ত্রিগুণাত্মিকা; ভােগ্যতােক্তাভোগ, নহি এ সকল, আমি নিজবােধরূপ- এই সংস্কারের বলে যে আর্য-সন্তান লভিয়া দ্বিজত্ব গৃহে আসিত ফিরিয়া ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য বর্ণত্রয়রূপে, তাহাদের কয়জন, কে দিবে উত্তর, বর্তমান ভারতের আজ অধিবাসী? প্রায় সকলেই আজ ভারতে প্রবাসী।

আৰ্যভূমি যে প্রাচীন ভারতের মহিমা অপার ছিল আকাশের মত বিস্তৃত বিশাল, ২০ দিছে উড়াইয়া তারে তীব্র উপহাস; একমাত্র সাক্ষী তার তুমি ইতিহাস। রাজনীতি রাজশক্তি বাণিজ্য সমরে প্রতিষ্ঠিতে আপনার প্রাধান্য অচল করিয়াছে জাতিমাত্রে প্রচেষ্টা প্রবল। বাণিজ্য সমাজহিতে, রাজনীতি ধৰ্ম্মে, মাঙ্গল্যনীতিতে যুদ্ধ, অধ্যাত্ম-বিদ্যায় রাজশক্তি, করি স্ব স্ব আশ্রয় গ্রহণ, করেছিল ভারতের মহত্ত্ব স্থাপন। গৌরবিনী ভারতের মহত্ত্বের হৃদয়ের সার রত্ন-ভক্তি মহাধন- স্মিতমুখে চিরদিন করেছিল ๆๆ ভারতের জীবমুক্ত আত্মজ্ঞ ব্রাহ্মণ। এসিরিয়া বেবিলনে, মিশরে তেমন, সমুন্নত সভ্যতার সমৃদ্ধি বিলয় মহীয়সী যে সভ্যতা করেছে দর্শন, আৰ্যভূমি যুগযুগান্তরব্যাপী ভীষণ বিপ্লবের তাহার জীবন রেখেছে অদ্বৈতবাদী বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণ। গুণাংশে ঈশ্বর জীব স্বতন্ত্র উভয়, জ্ঞানাংশে ঈশ্বর জীব অভিন্ন অদ্বয়। একাত্মবিজ্ঞানমূলে বেদ চিরদিন করিয়াছে অনন্তের সংজ্ঞা নিরূপণ। গুণাত্মবােধের তীব্র তীব্র প্রগাঢ় সংস্কার জ্ঞানাত্মবােধের মুক্ত স্বরূপ নির্মল রাখিয়াছে আবরিয়া ; নিয়তি তাহার দেয় নাই শূন্তে কভু বেদে অধিকার। শূদ্রের নিচ্ছ সৃষ্টি করিয়া বিধাতা মানিল নিয়তিপদে নিয়মাধীনতা। নিস্পৃহ নিষ্কাম শুদ্ধ অনাসক্ত চিত্তে শূদ্র যদি সেবাধৰ্ম্ম করে আচরণ, সেই চিত্তে ব্ৰহ্মজ্ঞান হইবে ফুরণ, প্রচারিল চিরদিন বেদ ব্রামাণ। অনাসক্ত সমদশী ছিল যে ব্রাহ্মণ তার বংশধর পতিত এমন।

আৰ্যভূমি
ক্ষত্রিয়ের গুরু
অর পৌরােহিত্যপদ
যখনি করেছে তারে তীব্র আকর্ষণ,
পতনের সূত্রপাত হয়েছে তখন।
কুর অভিমানরূপী রাহু
প্রদীপ্ত বিজ্ঞানসূৰ্য্যে গ্রাসিয়া যখন
অপর বর্ণের পূজা করিতে গ্রহণ
করিয়াছে মুগ্ধ তারে লুব্ধ অতিশয়,
পতনের সূত্রপাত হয়েছে
নিশ্চয়।
সেই পাপে ভারতের ব্রাহ্মণ
এখন
হীনবীৰ্য, বহির্মুখ পতিত এমন!
সেই পাপে ভারতের ব্রাহ্মণ এখন
ঘৃণিত লাঞ্ছিত তবু জড়
তবু জড় অচেতন !
কৰ্ম্মফলে অনাসক্তি আছিল আশ্রয়,
সে আজ অভাবে তার ক্ষুদ্র অতিশয়।

প্রতিভা।
শিরে,
আজি যেই জন অই স্বর্ণ-সিংহাসনে
হীরকমুকুট
রাজদণ্ড করে,
ক্ষমতার
গুরু ভারে করিয়া ধারণ
রহিয়াছে প্রতিষ্ঠিত , বীরত্ব যাহার
সমুজ্জ্বলা সন্মােহিনী বিজলীর
মন্দ্রিয়া আকাশগর্ভে করিল বিস্মিত
মানবের অবরুদ্ধ ধারণা নিশ্চল
অবস্থার ঘূর্ণাবর্তে
যখন
নিঃসহায় শক্তিহীন দুর্বলের মত
অনিচ্ছায় ছাড়িয়া সে রাজ-সিংহাসন,
ছাড়িয়া স্বদেশ, যায় দূর দেশান্তরে;
স্বতঃ আসে এ জিজ্ঞাসা—মহতী প্রতিভা
ডুবিতে চলেছে তার কোন অন্ধকারে ?
গর্ব যার
সহসা এমন,
কোথায় অস্তিত্ব তার লভিছে স্মরণ ?
তুমি জড় বৈজ্ঞানিক প্রতিভা তােমার
জড় বিজ্ঞানের মােহে রহিয়া বিহ্বল
জড়তার অবরুদ্ধ প্রাচীরের মাবে
খর্ব হয়

৫১
আৰ্যভূমি
প্রকৃতির ক্ষুদ্র
চলচ্চিত্রখানি
অনভিজ্ঞ মানবের নয়নের
কাছে
করিয়া সমুপস্থিত,
সমুপস্থিত, বিস্ময়ে তাহার,
করেছ গৌরবান্বিত জীবন তােমার ।
কিন্তু যবে কালান্তরে অন্য বৈজ্ঞানিক
মোহময়
মৃত্যুময়
জগতের মাঝে
শমনের রাষ্ট্রনীতি
করি আবিষ্কার
শ্রেষ্ঠতর প্রতিভায় প্রতিভা তােমার
ক্ষুন্ন রাহুগ্রস্থ ভাস্করের মত;
স্বতঃ আসে এ জিজ্ঞাসা-প্রতিভা তােমার
চলেছে ডুবিতে তবে কোন্ অন্ধকারে
নিস্তেজ করিয়া প্রাণ তীব্র অবসাদে-
জড় বিজ্ঞানের মােহে করিতে গ্রহণ
গৌরবের অভিশাপ, অজ্ঞাত অখ্যাত
শমনের রাষ্ট্রনীতি যে সূক্ষা প্রতিভা
করিয়াছে আবিষ্কার, বিফলত। গর
অস্বীকৃত জীবনের তীব্র
তিরস্কার।
বুদ্ধির আশ্রয়ভূত সূক্ষ চিদপুর
ক্ষণস্থায়ী আত্মরূপে করিয়া প্রচার,

১০
আৰ্যভূমি
প্রচারিয়া জন্মমৃত্যু প্রতিক্ষণে তার ;
অহিংসার আচরণে চিরকাল
আত্মাশ্রয়। সে বুদ্ধির নিবৃত্তির মূলে
নিঃসত্ত্ব মুক্তির তত্ত্ব করিয়া প্রমাণ
জড় বিজ্ঞানের রাজ্যে প্রতিভা যাহার
করিল বিস্ময়াবিষ্ট আত্মবিদ, জনে ;
জড় বিজ্ঞানের রাজ্যে সেই শাক্যসিংহ
একচ্ছত্র
সম্রাটের
রত্ন-সিংহাসনে
এখনও
রহিয়াছে প্রতিভামণ্ডিত
স্বতঃ আসে এ জিজ্ঞাসা-প্রতিভা তাহার:
নিঃসত্ত্ব মুক্তির তত্ত্ব করিয়া সন্ধান
ডুবিয়াছে নিবৃত্তির কোন্ অন্ধকারে?
নিরাত্মিক। সে প্রতিভা কল্পনার রাজ্যে
করিয়া বিরাট সৃষ্টি, প্রলয় ভীষণ,
বিস্ময়ে মানববুদ্ধি করি ম্রিয়মা
নিরাত্মিক। মুক্তিরূপে লভিল নির্বাণ।
লক্ষ্য যার সত্যমাত্র ; অজ্ঞান-আঁধারে
নিঃশেষে ডুবিলে এই সমগ্র জগৎ,

আৰ্যভূমি
সত্যরূপে রহে যেই আলােক নিৰ্ম্মল,
পুনঃ প্রতিবিম্ব যার করিয়া গ্রহণ
প্রতিভা জগৎ সহ লভিছে স্ফুরণ;
সেই আলােকের কাছে প্রতিভা তাহার
করিয়াছে যে মুহূর্তে আত্মসমর্পণ ;
কিবা জয় পরাজয়, কিবা সুখ দুঃখ,
তুচ্ছ করি অবস্থার রুদ্র অভিযান
স্বকীয় সম্পদে নিত্য করে অবস্থান।
নমি পদে গরীয়সী প্রতিভা সুন্দরি ।
সতী তুমি! রাজ্ঞী তুমি! এজ্ঞান-জননী।
সারস্বত মন্দিরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী।
তােমার প্রসাদে মাতঃ বিজয়ী মানব,
যে কোনও অবস্থায় রহে অবস্থিত,
-অপমান লাঞ্ছনার জ্বলন্ত শ্মশানে,
বধমঞ্চে কিম্বা তুঙ্গ সৌভাগ্য-শিখরে—
মানব প্রতিভা তব প্রসাদে নিৰ্ম্মল
তরঙ্গিত সিন্ধুবক্ষে রহিছে নিশ্চল।
দার্শনিক লগতের অমর-বাঞ্ছিত
একছত্র সম্রাটের পবিত্র আসন

আৰ্যভূমি
জ্ঞানগুরু জগদ্গুরু আচার্য্য
করিয়াছে সমুজ্জ্বল, বরেণ্য
তেমন।
অগণিত সূক্ষ অণু, জড় অচেতন,
কেন্দ্রে কেন্দ্রে মন্ত্রে মন্দ্রে শক্তির প্রবাহে
গড়িছে আবৰ্তরূপে
চরাচর।
প্রতিভায় উঠেছে
উঠেছে ফুটিয়া
তাহাদের ব্ৰহ্মরূপ-শাশ্বত চিন্ময়,
অখণ্ড আনন্দ সত্তা, অনন্ত অদ্বয়,
পাইয়াছে কাল যথা অকালে বিলয়।
নাহি কাল, নাহি দেশ, সৃষ্টি ও প্রলয়,
ডুবিয়াছে জ্ঞানানন্দে সম্মােহ নিশ্চয়।
সন্মােহিনী প্রতিভার প্রচ্ছন্ন ভীষণ
নিদারুণ আশীর্বাদ শুদ্ধ সত্তালােকে
প্রগাঢ় নিবিড়তম তমসার মত
হইয়াছে প্রতিহত, রয়েছে কেবল
সভায় সত্তার বােধ-আনন্দ নিৰ্ম্মল।
গরীয়সী প্রতিভা সুন্দরি !
সতী তুমি! রাজ্ঞী তুমি! প্রজ্ঞান-জননী।
রাজবিদ্যা
ব্ৰহ্মবিদ্যা
ব্ৰহ্ম-স্বরূপিণী ।
সাথের পুরুষ তুমি! অন্তিম সম্পদ

আৰ্যভূমি
বেদান্তের পরাবিদ্যা পরমা প্রকৃতি।
গুণাশ্রয়া গুণময়ী ! গুণে আপনার
গড়িয়াছ চরাচর, নিগুণে অপার
অমায়িক ব্ৰহ্মবিদ্যা, আত্মা নিরাকার।
নির্বাণ-সুখ-সম্বিদে আছে নিরন্তর
১০০ ভাসমান্ জ্ঞানমূৰ্ত্তি আচাৰ্য শঙ্কর।

আত্মদর্শন।
অহঙ্কার ! প্রাবৃটের গাঢ় অন্ধকার ।
সরাইয়া
সান্ত কৃষ্ণ আবরণ,
সমুজ্জ্বল নিরমল
সুরস
দেখিয়াছে যেই জন স্বরূপ আপন,
করিয়াছে আপনার সার্থক
জীবন।
প্রকৃতির রমণীয় সাম্রাজ্য বিশাল
বিস্ময় ও মােহময় ;
বিহ্বলতা যার
মর্মে মর্মে আছে ব্যাপ্ত মদিরার মত,
তীব্রতায় ভয়র, আশু প্ৰতিকর।
তৃষিত মানবচিত্ত জন্মজন্মান্তর
মৃগতৃষ্ণিকার মত বিলাস-বৈচিত্র্যে
করিয়াও প্রতারিত, হৃদয়ে হার
করিয়াছে প্রতিষ্ঠিত প্রভুত্ব দুজ্জয়
যে প্রকৃতি লীলাময়ী ; দেখেছে যে জন
অমৃতমধুর
স্বরূপ আপন,
নহে সে প্রকৃতি আর তাহার নিকট
মধুময় সুখকর চারু
মনােহর,
চিন্ময় ও নিরাময় স্বরূপ যেমন।

আৰ্যভূমি
বিলাসিনী একৃতির রূপপারাবারে
২০ উৰ্ম্মির পশ্চাতে ঊর্মি ছুটিছে যেমন,
বাসনার রম্য মূর্তি ফুটিয়া তেমন
মােহিছে মানব-চিত্ত করিছে বিহবল।
দীপ্ত অমৃত-শীতল
বিশুদ্ধ বিজ্ঞানরূপ
আপন
একবার যেই করেছে দর্শন,
বিলাসের লীলাভূমি, নয়নাভিরাম,
অনন্তু বৈচিত্র্যময় প্রাকৃত জগৎ
আলােকের অভ্যন্তরে আঁধারের মত
দেখিয়াছে আত্মজ্ঞানে সে পর্যবসিত ;
জগৎ ব্ৰহ্মাত্মভাবে থাকে অব্যাহত।
সৌন্দর্য্যের স্বাভাবিক নিত্য আকর্ষণে
আত্মনিষ্ঠ হইয়াছে যার শুদ্ধমতি,
বরেণ্য করেছে দর্শন
গুণময় জগতের জ্ঞানে
পরিণতি।
সেই ধন্য
নিরুদ্ধ-স্বভাব ব্যক্ত জড় প্রকৃতির
মুক্ত চৈতন্যের রাজ্যে করিতে প্রবেশ

আৰ্যভূমি
নাহি শক্তি ; প্রবেশিতে পারেনা যেমন
অপ্রকাশাত্মক
গাঢ়
কৃষ্ণ
অন্ধকার
আলােকের সন্নিকটে স্বরূপে আপন।
সত্তাংশে সে ব্ৰহ্মরূপে আছে বিদ্যমান
অনাদি অনন্ত কাল ; গুণাংশ আবার
অষ্টধায় অভিব্যক্ত করি আপনারে
গড়িয়াছে লীলাময় সাম্রাজ্য বিশাল।
রয়েছে প্রকৃতিনামে সম্মুখে তােমার
দৃশ্যরূপে যাহা কিছু, অনন্ত অসীম
চিদানন্দ আত্মরূপে রহিয়াছে তার
নিত্যসত্তা, সুরস মধুর,
প্রকৃতির পুরুষার্থতত্ত্ব অভঙ্গুর।
প্রকৃতির ব্যক্তাব্যক্ত দৃশ্য রূপ
৫০ রহিয়াছে স্বতঃসিদ্ধ। স্বভাবের বশে
বাহিরে অাধাররূপে করিয়া আবৃত
আপন অক্ষর ভাব, ক্ষর দৃশ্যাকারে
হইয়াছে পরিণত; মিশিয়া তেমন
আলােরূপে অভ্যন্তরে মুক্তালােকসহ
প্রকাশিছে মুক্তপ্রভ আলােক যেমন।

আৰ্যভূমি
চরণ-সংলগ্ন
ক্ষুদ্র বালুকার
আছে নিত্য আত্মরূপ। ক্রমবিকাশের
অলঘ্য নিয়মে যবে মানব-জগতে
ঐ ধূলিকণিকা আসি হবে উপস্থিত ;
৬০ অহঙ্কার। প্রাবৃটের গাঢ় অন্ধকার।
সরাইয়া তার সন্ত কৃষ্ণ
জ্ঞানদীপ্ত জীবন্মুক্ত
জীবন্মুক্ত পুরুষের মত
সে ও কোন একদিন করিবে দর্শন
৬৪ সুরস সুন্দর মুক্ত স্বরূপ আপন।
আবরণ,

কুরুক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণ।
নিদারুণ সেই স্মৃতি। বিশ্বের মাঝারে
বিশ্বের অমিত্ররূপে লভিয়া জনম,
বর্ণাশ্রমধৰ্ম্মে করি কুঠার-আঘাত,
যেই দিন বিশ্বামিত্র চাহিল করিতে
আপনার গৰস্ফীত প্রতিষ্ঠা স্থাপন,
জাগিতেছে সে দিনের কি স্মৃতি ভীষণ !
জ্ঞানগুরু বশিষ্ঠের
সত্যনিষ্ঠ
মন
গর্বময় জ্বালাময় তীব্র নিদারুণ
বিশ্বামিত্র-সমার যন্দ্রীয় অনলে
দিতে চাহিত যদি আহুতি জীবন,
রহিত প্রমুপ্ত তবে যুগযুগান্তর
ভারতের সমুজ্জ্বল ধৰ্ম্ম
সনাতন।
জরাসন্ধ শিশুপাল कश्म দুর্যোধন
সাম্রাজ্যবাদের মােহে রহিয়া বিহ্বল
মনুষ্যত্বে বিদলিত করিয়া যে দিন,
ভারতের পুণ্য অঞ্চ চাহিল করিতে
পরিণত ক্ষত্রিয়ের
বিলাস-মন্দিরে ;
বর্ণসঙ্করত্বে
করিতে আবার

আর্যভূমি
কলুষিত বীৰ্য্যহীন ভারতের অঙ্কে
২০ শক্তির সম্মাহ যবে লভিল সূরণ,
দেখিলাম সবিস্ময়ে কি স্বপ্ন ভীষণ !
সাম্রাজ্য-মূলক তীব্র
প্রতিষ্ঠা-গরল
ধৰ্ম্মতন্ত্রে রাষ্ট্রতন্ত্রে
রাষ্ট্রতন্ত্রে লভিয়া
আসন
বর্ণসঙ্করত্বে
ঘােরা করিলে অবনী,
উঠিত কি অমৃতের ক্ষীণ প্রতিধ্বনি?
—উঠিত না অমৃতের ক্ষীণ প্রতিধ্বনি
হেন মর্মান্তিক ভাব জাগিতে হৃদয়ে
বিশুদ্ধ হইয়া প্রাণ নিস্তেজ শরীরে
আশ্রয় মৃত্যুর অঙ্কে করে অন্বেষণ।
উঠিলে অমৃতের ক্ষীণ প্রতিধ্বনি,
এই মূৰ্ত জগতের অবসান
অমূর্ত স্পন্দন মাত্রে। রহিত স্পন্দন,
গতির আবৰ্ত্তমাত্র, জীবন্ত মরণ -
পুণ্যাত্মা ব্রাহ্মণজাতি ঋষি নির্বিশেষ,
জ্ঞানগর্ভা শ্রুতি, স্মৃতি, অসংখ্য পুরাণ,
যেই ভারতের বন্ধু হিমাদ্রির মত
করিয়াছে দৃঢ়তায়
অটল অচল,
কভু নাহি লে ধৰ্ম্মের হবে অবসান,
-

আর্যভূমি
আঘাত করেন যদি স্বয়ং ভগবান্।
যে পুণ্যাত্মা ব্রাহ্মণের পরিমুক্ত জ্ঞান
জগৎ করিয়া মিথ্যা
নিয়ন্তার সহ,
চিদংশে করিয়া সিদ্ধ অভেদ নিৰ্ম্মল,
ছিন্ন করি গুণময় কঠিন
বন্ধন,
করিয়াছে মুক্ত তারে,
শুদ্ধ আত্মারাম,
সে ব্ৰহ্মণ্যধৰ্ম্মের কে করে অবসান ?
আত্ম-প্রত্যয়ের বলে পুণ্যাত্মা ব্রাহ্মণ
ঈশ্বরের অস্তিত্ব না করিলে প্রমাণ,
কে শুনিত, কে জানিত, আছে ভগবান্ ?
সে ব্ৰহ্মণ্যধৰ্ম্ম আমি করিয়া আশ্রয়,
জন্মজন্মান্তর করি তপস্যা কঠোর,
লভিয়াছি ঈশ্বরত্ব। দেখিব কেমন,
সাম্রাজ্যমূলক নীতি, বর্ণসঙ্করত্ব,
করে পুনঃ, মনুষত্ব করিয়া বিলয়,
ভারতের পুণ্য অঙ্কে পাপ-অভিনয় ?
অদ্বৈততত্ত্বমূলক বর্ণাশ্রম ধৰ্ম্ম
সৃষ্টির প্রথম হতে করিয়া আশ্রয়
রহিয়াছে আৰ্যজাতি বিশ্বে বর্তমান,
জীবনের লক্ষ্য তার একাত্ম-বিজ্ঞান।

আভূমি
ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয়াদি বর্ণ চতুষ্টয়
প্রকৃতির স্ফুৰ্ত্তিমাত্র, কালে পাবে লয়।
পারমার্থিকতা কভু বিশুদ্ধ চিন্ময়
আত্ম ভিন্ন নাহি কার, আত্ম সনাতন।
যাহা হ’তে জগতের হয় অভিব্যক্তি,
রয়েছে সত্তায় যার ব্যাপ্ত চরাচর,
সকলের আত্মা তাহা স্বরূপ নিৰ্ম্মল ।
নিত্য যদি স্বীয় ধৰ্ম্ম করি আচরণ
সেই সর্বাত্মার করে প্রীতি সম্পদিন,
চিত্তের বিশুদ্ধিক্রমে হবে মানবের
ব্ৰহ্মনিষ্ঠা, আত্মজ্ঞান, সংসিদ্ধি পরম,
৭. একবর্ণ বর্ণান্তর' চাবে কি কারণ?
একের বৃত্তিতে যদি না থাকে কখন
অপরের
অধিকার, নৃশংস
নির্মম
সাম্রাজ্যমূলক নীতি পাইবে বিলয়,
রবে না ধৰ্ম্মের গ্লানি, অধর্মের ভয়।
সাম্রাজ্যমূলক নীতি! মনুষ্যত্ব যার
নির্মম নিষ্ঠুর চক্রে হইয়া প্রহত
করে ক্ষোভে কৃতান্তের আশ্রয় গ্রহণ !
তাহার হইয়া শত্রু, ধ্বংস হয়ে তা

অৰ্যভূমি
জন্মজন্মান্তর করি তপস্যা কঠিন
৮০ লভিয়াছি ঐশী শক্তি। করিয়া আশ্রয়
বিশ্বজয়ী সেই শক্তি এই কুরুক্ষেত্রে
হইয়াছি অবতীর্ণ, কৃষ্ণাৰ্জ্জুনরূপে
সাম্রাজ্য-মূলক
নীতি-অধৰ্ম্মের মূর্তি
রণপয়ােধির গর্ভে দিতে বিসজ্জন,
প্রতিষ্ঠিতে ভারতের ধৰ্ম্ম সনাতন।
আমি আত্মা সর্বভূতে; আছে অনুক্ষণ
সভৃত আত্মরূপে আমাতে তেমন।
বিমূঢ় দেহাত্মবাদী প্রমত্ত
অসুর
করিতেছে সর্বভূতে আমাকে পীড়ন,
পারি সহিতে আর এ দৃশ্য ভীষণ !
স্বগত শ্রীকৃষ্ণ ভাসি’ এই চিন্তাস্রোতে
রণাঙ্গনে, না লভিতে তিলার্ধ বিশ্রাম,
চমকিল অৰ্জ্জুনের স্বভাববিরুদ্ধ
আকস্মিক আচরণে। বিস্ময় বেদনা
শ্রীকৃষ্ণের অন্তঃস্থল করি আলোড়ন
অমনি হইল মুৰ্ত্ত প্রদীপ্ত ভাষায় :-
ওকি কথা ধনঞ্জয় । করিবে না রণ?
,

অৰ্যভূমি
ও কি ভাব ও কি ভাষা ! অনাৰ্য্যে তেমন
পায় শােভা, ভােগমুগ্ধ যাহার জীবন।
১০• জ্বলিয়া প্রচণ্ড বেগে প্রলয়াগ্নি যবে
চাহে বিশ্ব গ্রাসিবারে, বিশ্বচরাচর
ভাঙ্গি’ চুরি’
জড়তার কঠিন
রুদ্র প্রেরণায়, করিয়া ধারণ
সূক্ষম হ’তে
সূক্ষতির সূক্ষমতম মূর্তি,
ধায় অনন্তের পানে। রুদ্র প্রেরণায়
বিন্দু ধায় সিন্ধুপানে, অসীমের মাঝে
স্বায় প্রতিষ্ঠার তরে। তুমি ধনঞ্জয় ।
ধৰ্ম্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে উপস্থিত রণে
প্রকৃতি অনাৰ্য্যোচিত করিয়া আশ্রয়,
১১০ জড়তার অবসাদে রহিয়া নিস্পন্দ,
মৃত্যুর
অধিক সেথা চাহিছ বিশ্রাম
ছাড়ি ক্ষত্রিয়ের ধৰ্ম্ম তপস্যা নিষ্কাম ?
নিদাঘের প্রণাতঙ্ক
যকে
উন্মাদের মত করে ক্রীড়া ভয়ঙ্কর,
গগনবিহারী যেই
ছুটিতে আকাশপানে ঝটিকার বেগে
প্রতিকূল অবস্থায় পশিছে সলিলে ;
ক্ষুদ্র বিহঙ্গম

আৰ্যভূমি
সেও মরণের কালে অনন্তের প্রতি
দেখাইছে অলক্ষিতে গাঢ় ভালবাসা,
১২০ তােমার অধিক রাখি জীবনের আশা।
করিলাম দিব্য নেত্র তােমাকে প্রদান।
দেখ সেই দিব্য নেত্রে প্রকৃতির পটে
ভবিষ্যৎ চিত্র তব, ভবিষ্য জীবন।
কলঙ্কের তুলিকায় রয়েছে
চিত্রিত
কি যে চিত্র মর্মান্তিক, অতি ভয়ঙ্কর !
অভিমান-প্রজ্বলিত বাসনা-অনলে
প্রদীপ্ত বিবেকজ্ঞান দিয়া বিসর্জন
বীরেন্দ্র-কেশরী পার্থ
রজনীর
অন্ধকারে করিছে প্রবেশ
১৩০ যেই কক্ষে দুর্যোধন রয়েছে নিদ্রায়,
তাহারে করিতে বিদ্ধ তীক্ষ ছুরিকায়!
ব্রাহ্মণের সাত্ত্বিকতা করি অভিনয়
হইছে নিরগামী
ধনঞ্জয়!
না শুনিলে মম বাক্য, জানিও নিশ্চিত,
প্রকৃতির গুণে হইয়া অবণ
১৩৬ অচিরে এ পথে তুমি হবে প্রবর্তিত।
মত

উমাশঙ্কর।
চিদমন অমৃতরাশি শুভ্রলােকে ভাসি
হইয়াছে মূর্তিমতী, স্বপ্ন মনােহর
শুভ্রাজ্জ্বল প্রতি অঙ্গে করিয়া স্ফুরণ।
স্বপ্নময়ী সে মূরতি করিতে বিস্তার
শুভ্রোজ্জ্বল স্বপ্নময় আলেখ্য সুন্দর
প্রতি অঙ্গে আপনার, উৎসাহে অজয়
শুভদ্রাজ্জ্বল নিত্যশুদ্ধ অমৃত-বিলাসী
স্বপ্নতীত সৌন্দর্যের দেয় পরিচয়।
নীরব নির্জন কক্ষ প্রদীপ্ত শীতল।
কিশোর জীবনমাত্র লভিতে
স্মরণ,
কিশাের হৃদয়ে স্বপ্ন আসিয়া অজ্ঞাতে
করিয়াছে আপনার
স্থাপন।
কিশাের একাগ্রচিত্তে দেখিছে স্বপন।
জ্ঞানদা সমগ্র চিত্ত করি অধিকার
বিদ্যার সম্পদে তারে চাহিছে করিতে
বিজন-সমাজের বিত্তম
৫

২০
আৰ্যভূমি
ধীরে ধীরে কমধ্যে করিয়া প্রবেশ,
করিয়া অগলািবদ্ধ সেই কক্ষদ্বার,
শুভদ্রাজ্জ্বল সেই মূৰ্ত্তি আসিয়া নীরবে
শান্তমুর্তি কিশােরের বন্দিয়া চরণ
হৃদয়ের সিংহাসনে
করিল বরণ।
জাগিয়া সে সুখস্পর্শে চাহি মূর্তিপানে
কিশাের প্রণয়ভরে সন্তাষিয়া
তারে
বসাইল শুভ্রাজ্জ্বল শয্যার
উপর।
শুভ্র জ্যোতির্ময়ী সেই কিশােরী মূরতি।
ঘনকৃষ্ণ
দীর্ঘ কেশরাশি
মস্তকের শােভা তার করিয়া বর্জন
অকৃষ্ণ তরঙ্গাকারে চুধিছে চরণ।
সুন্দর মুখের হাসি দু’নয়নে ভাসি
প্রশান্ত ও
মুজ্জ্বল আয়ত নােচনে
অপ্রাকৃত সৌন্দর্য্যের করিছে স্ফুরণ।
শুভদ্রাজ্জ্বল দুই উরু ভ্রমরকৃষ্ণ ,
চরণদ্বয়ে নধাগ্র
খেলিছে বিচিত্র বর্ণে বিজলী শীতল।

আৰ্যভূমি
বিন্বেষ্ট-নিঃসৃত ভাষা অমৃতের আশা
সঞ্চারিয়া রুদ্ধ প্রাণে যুক্তির সন্ধানে
প্রবৃত্ত করিছে মন উৎসাহে প্রবল।
সে সুরস শুভ্র মূৰ্ত্ত আলােক সুন্দর,
—সে সৌন্দৰ্য্য সে অমৃত, শান্ত সমুজ্জ্বল,
সংবেগে সতৃষ্ণ প্রাণে ধরি বক্ষস্থলে
ভাসিয়া পরমানন্দে হইতেছে শেষে
আত্মহারা
উদ্ধরেতা ঐ উমাশঙ্কর।
সৌন্দর্য্যের উপাসনা করিছে সুন্দর
সেই উপাসক, দিব্য নয়নে তাহার
ভাসিয়া উঠিছে বিশ্ব আলােক-সত্তায়,
মূৰ্ত্ত জগতের রূপ লুকাইয়া যায়।
উমাকালী সে কিশােরী ; নয়নে তাহার
জগৎ স্বপ্নের মত ভাসিয়া যে যায়।
বিশ্বের ঐশ্বৰ্য্য যত সুবিপুল মােতে
করি নিরন্তর দেবতা মানব
আসিয়া সে পদপ্রান্তে আলােকসৱায়
ক্ষীণ আঁধারের মত লুকাইয়া যায়।
মুগ্ধ করি

আৰ্যভূমি
কিশােরীর রূপসুধা, বাক্যামৃত তার,
কিশাের সতৃষ্ণ প্রাণে করিতেছে পান,
হইতেছে আত্মহারা চিন্মাত্র সত্তায়।
চিন্মাত্র কিশাের বক্ষে চিন্মাত্রা কিশােরী
চিত্র প্রণয়ভরে করিয়া ধারণ
চিন্মাত্র আনন্দে অই হইছে মগন
চিদানন্দ কিশােরের
কিশোরের চিদানন্দ মন।
উমাকালী সে কিশােরী, কিশাের শঙ্কর।
উমাকালী পরাবিদ্যা ১দ্ধ শুভ্রোজ্জ্বলা ;
অক্ষর শঙ্কর তারে চিত্র
হৃদয়ে
রাখিয়াছে নিরন্তর চিন্মাত্র
তৃষ্ণায়,
নামরূপ যথা
পায়।
মিথ্যা নামরূপাত্মক এই চরাচর,
সত্যমাত্র পরিমুক্ত ঐ উমাশঙ্কর।

ভেদজ্ঞান।
স্মৃতি আজি পরিস্ফুট। ভীমাত্রি-প্রতিম
জড়তার আবরণে ছিল এতদিন
সূক্ষম কত ভেদজ্ঞান সুপ্ত অচেতন।
অনন্ত আকাশে অই তারকার মত
একের পশ্চাতে অন্য উঠিছে ফুটিয়া
বিমুক্ত হৃদয়াকাশে, করি তিরস্কার
হৃদয়ের সুখ শান্তি, ঔদার্য্য নিৰ্ম্মল।
বিষম বাসনামুনে
বিশ্বচরাচর
প্রচারিছে বৈষম্যের সৃষ্টি ভয়ঙ্কর।
মরমের মাঝে মম
করমের
সাধ
ঘুচিয়াছে এতদিনে ;
এতদিনে ; হৃদয় আকুল
অন্বেষিতে সাম্যতন্ত্রে একত্বের
মহানির্বাণের মাঝে দিব বিসর্জন
নাম রূপ, জাতি ধৰ্ম্ম, যত ভেদজ্ঞান,
একাত্মবিজ্ঞানরূপে নিত্য সুমধুর
পাইতে মুক্তির স্বাদ-আনন্দ প্রচুর।
মূল।

২
আৰ্যভূমি
দ্বৈতে মম নাহি শান্তি। মস্তক-উপরে
-প্রভুত্বের মর্মন্তুদ গর্বিত মুরতি,
পদতলে দুর্বলের করুণ আনন,
অথবা বিচিত্রাকারে বিশ্ব যার সৃষ্টি,
স্রষ্টারূপে সে যে নয় উপাস্য আমার।
আমি চাহি : সাম্যতন্ত্রে একত্মিবিজ্ঞান,
একরূপ, একর, অব্যক্ত মহান্ ।
সে পথে গিয়াছে কবি, যে পথে কামনা
মুছিয়া আত্মার রেখা, মিথ্যা ভেদজ্ঞান,
একাত্মবিজ্ঞানরূপে পায় অবসান।
এস পান্থ এই পথে ! প্রত্যক্ষ যে সত্য,
শত আবরণ মাঝে রাখি’ সঙ্গোপনে
কেন অন্ধকারে তুমি হও নিমগন ?
আগ্নেয় গিরির মত হৃদয় তােমার
চিরসুপ্ত অব্যাকৃত
অচেতন
নামরূপ জাতিধৰ্ম্ম মিথ্যা ভেদজ্ঞান
বহির্জগতের মাঝে করিয়া
স্মরণ
একদিন সুনিশ্চয় পাবে
উপশম।
কেন তমসার মাঝে লুকায়ে সকল
আত্মপ্রতারণাব্রত
গ্রহণ ?

আৰ্যভূমি
হে ভীরু! হে কাপুরুষ। যেই আৰ্যজাতি
আচারে বিচারে ধৰ্ম্মে ভিন্ন শতপায়,
একাত্মবিজ্ঞান তার ফুটি' কামনায়
মুছিয়া আত্মার রেখা,
মিথ্যা ভেদজ্ঞান,
পাইছে মুক্তির স্বাদ-সাম্য সুমহান
একত্র আহারে কিম্বা একত্র বিহারে
নহে সাম্য ভারতের ; সাম্য আত্মতত্ত্বে।
আত্মা এক, নির্বিশেষ, চিন্মাত্র কেবল,
নামরূপ জাতি তার নাহি এ সকল।
মুছিয়া আত্মার রেখা, মিথ্যা ভেদজ্ঞান,
পাইছে মুক্তির স্বাদ একাত্ম-বিজ্ঞান।
এস পান্থ এই দিকে! কেন অন্ধভাবে
বৈষম্যকে সাম্যাকারে করিবে স্থাপন ?
নাম রূপ জাতি ধৰ্ম্ম আচার বিচার
বৈষম্যের প্রহেলিকা ; চিন্মাত্র আত্মায়
সকলের একমাত্র আছে ব্যবহার।
আলােকের দরশনে আঁধারের মত
পরমার্থানে তারা হয় প্রতিহত ।

অতীতের স্মৃতি।
মুক্ত অভিরাম
পরিপূর্ণ পরিশুদ্ধ
জ্যোতির মাঝারে জীবে দিতে আত্মজ্ঞান
পাঠাইল যে বিধাতা সুদূর বিদেশে
শিরে অজ্ঞানের বােঝা করিয়া প্রদান,
কি বিশ্বাসে পুনঃ তার নীতি অনুসারে
করিব অজ্ঞাত দেশে সুদীর্ঘ ভ্রমণ,
যদি কেহ নাহি করে সম্মতি জ্ঞাপন,
পরিশেষে আপনারে চিনেছে যে জন ?
তুমিও আসিয়া কাছে বিধাতার মত
নিয়ত দিতেছ বিধি ব্যবস্থা ও
অজ্ঞান ভাসিছে মুখে, মােহ নেত্রোপরে,
কামনা স্পন্দিত বক্ষে, চরণ কেবল
যশ করিয়া উজ্জ্বল
করেছে মহিমাময় তোমার
জীবন।
কি সাহসে
বল তব নীতি অনুসারে
আঁধার হইতে আমি অধিক আঁধারে:
বিচৰিব আজীবন
মতন ?
হে যশস্বি। অপরের সুরুচির তরে

২০
আৰ্যভূমি
বাতন্ত্র ও সুনীতিরে দিয়া বিসর্জন
পাইয়াছ শ্রেষ্ঠপদ, অর্চনা তেমন।
দৃষ্টিশক্তিহীন জন আলােকে উজ্জ্বল
উদ্ভাসিত কোন বস্তু না পায় যেমন
দেখিবারে কোন মতে, যশের প্রভাবে
উদ্ধান্ত ও পরিদৃপ্ত যশস্বী তেমন
অন্তদৃষ্টি-পরিশূন্য নয়নে তাহার
পায় নিজস্ব কিছু দেখিতে কখন।
হে যশস্তি! নরসিংহ! পথি-প্রদর্শক।
কি সাহসে করি তব পদাঙ্ক শরণ
করিব সুদূর পথে
দার্শ্ব পৰ্যটন ?
কে বলিবে পেঁছিব না সে পথে তথায়
যেই রাজ্যে চিরকাল তমিস্র রজনী
ভানুর অস্তিত্বে করি তীব্র উপহাস
বহু নিশাচর মাঝে হয় যশস্বিনী ?
বশিষ্ঠ ও যাজ্ঞবল্ক্য! ব্যাস ও শঙ্কর।
কেন তাঁহাদের প্রতি, বলিব কি তবে,
করিয়াছি অসঙ্কোচে বিশ্বাস স্থাপন ?
অতীতের স্মৃতি শিরে করিয়া বহন,

আৰ্যভূমি
মহা বন্ধনের মাঝে গড়িয়া যাহারা
অণুর সঙ্ঘাতে স্বীয় মানসী
সুন্দর
পরমাণু-বিজ্ঞানের অখণ্ড সত্তায়
স্বাতন্ত্র্য মানসী সহ করিল বিলয়,
তারা ব্যাস যাজ্ঞবল্ক্য বশিষ্ঠ শঙ্কর।
বন্ধনের কঠোরতা রাক্ষসী মায়ায়
স্মৃতির শাসনে করি ক্ষীণ কলেবরা
করিয়াছে যাঁহাদের ব্যক্তিত্বের লয়
অদ্বিতীয় ব্ৰহ্মজ্ঞানে, একাত্ম-সত্তায়,
তারা ব্যাস যাজ্ঞবল্ক্য বশিষ্ঠ শঙ্কর,
লভিল অমৃত
যাঁরা
মৃত্যুর
ভিতর।
সহ
চৈতন্য-স্ফুর্তিতে শুধু মানবের মন
চিরদিন চিন্তারত ; শক্তি অনুসারে
দেশ ও কালের সীমা করি অতিক্রম
দূর অতীতের পারে বর্তমানে
ভবিষ্যের
করিতে সাধন।
কামনা-ফুরণে
পশু নিত্য প্রবর্তিত।
ভূত ভবিষ্যৎ কভু সে পাশব মনে
নাহি পারে স্বীয় বৃত্তি করিতে স্ফুরণ।

আৰ্যভূমি
বর্তমান ধ্রুব পশুর নিকট ;
জীবন লালসাময়, শক্তি মদাত্মিক,
জীবনের লক্ষ্য মাত্র হিংস্রক জীবিকা।
মানব মনের
শুধু বিপুল সম্পদ
মহীয়সী সমুজ্জ্বল। অতীতের স্মৃতি।
যত বড় গৌরবের অতীত যাহার
তত বড় ভবিষ্যৎ গড়িতে তাহার
চিন্তারত ক্রিয়ানিষ্ঠ যােগযুক্ত মন।
গর্ব তার খর্ব অতি, স্বাতন্ত্র তেমন
বিজাতীয় আদর্শের অন্ধানুকরণে
অলস ও অকর্মণ্য, নিস্পন্দ নিশ্চল।
যেই নীতি অনুসারে সিদ্ধ মহাজন
সত্যের সাক্ষাতে করি কৃতার্থ জীবন
অন্তর্হিত কালগর্ভে, বিসর্জনে তার
সে রক্ষণশীল মন নিতান্ত অক্ষম।
ত্রিকাল-বিহারি মন রাখিল পশ্চাতে
পদাঙ্ক সুগভীর, রক্ষণশীলতা
অনুরাগভরে
ইষ্ট দেবতার করিল বণ
সে পদাঙ্ক সমুজ্জ্বল-দীনের সম্বল

কর্মবাদ।
চুরি করে হতে পারে যশস্বী তস্কর
করিয়া থাকিলে
কভু তপস্যা দুষ্কর
নিৰ্ম্মল যশের তরে। সুকৰ্ম্মী সজ্জন
যেতে পারে রসাতলে যশে উদাসীন
যদ্যপি হইয়া থাকে জন্মজন্মান্তর।
রহিয়াছ ঊর্ধে তুমি প্রভু দৃষ্টিহীন,
নিম্নে রহিয়াছে মম দুর্ভাগ্য ভীষণ ;
সৎপথে চলে যদি যাই অধঃপাতে,
সকলের আগে তুমি বলিবে দুর্জন।
তুমি প্রভু, প্রতিষ্ঠিত, পূজাই পুরুষ,
বাক্যে তব দোষ কেহ করিলে দর্শন,
পুঞ্জীকৃত লােকনিন্দা বজাগ্নির মত
পড়িয়া মস্তকে পারে করিতে অচিরে
তাহার জীবনতরু
পরিণত।
ক্ষুদ্রতর আম ক্ষুদ্রমতি
নিদারুণ কর্মস্রোতে ভাসি’ নিরন্তর
হতে

আৰ্যভূমি
চলেছি মরণপথে
তুমুল,
বিধাতা বিচারে কভু না করেন ভুল।
জন্মজন্মান্তরব্যাপী ঘোর কৰ্ম্মজ্জিত
পুঞ্জীভূত পাপরাশি ধর বিপমূর্তি
নিবিড় মেঘের মত
যেই দুঃসময়
মানবজীবনাকাশ
সমাচ্ছন্ন ;
বিষাদের বিভীষিকা আসিয়া তেমন
নৃশংস ও সর্বগ্রাসী ঝটিকার
মত
একান্ত অতিষ্ঠ করে মানব-জীবন ;
করিতে বিধাতা তুমি তারে সচেতন,
গৃঢ় চৈতন্যের মাঝে সুপ্ত যে বিদ্যুৎ,
বিকট নিৰ্ম্মম স্বরে বিদারি গগন,
কর প্রকটিত তারে সৌন্দর্য্যে ভীষণ ।
যে সে বিপদের মাঝে হয় সচেতন,
স্বীয় ঘাের দুরবস্থা করিয়া দর্শন,
করি দীনাক্তের মত, হে পরমেশ্বর ?
তােমার চরণেদেখে করুণ ফলন,
ভেসে যায় কৰ্ম্মস্রোতে, নাহি পায় কূল,

আৰ্যভূমি
বিধাতা বিচারে কভু না করেন ভুল।
যার সূক্ষ তুলাদণ্ডে, সুসূক্ষ বিচারে,
কভু নাহি কম বেশ হয় এক চুল,
নিদারুণ কৰ্ম্মস্রোতে যাইতে ভাসিয়া
তাঁহার চরণেদ্দেশ্যে
করিলে দীনাত্তরে মরণের কালে
কভু নাহি রক্ষা পায় মানব-জীবন।
•
নিস্পৃহ নিস্পাপ শুদ্ধ অনাসক্ত চিত্তে
জগতের ভিন্ন রূপ পাইছে স্ফুরণ।
জগতের চিৎসত্তা করিয়া
গ্রহণ
চিন্ময়ী জননীমূর্তি অনাসক্ত
শীয় চিদানন্দবঙ্গে করিছে
সর্বশক্তি হে বিধাতা! নিকটে তাহার
তুমি সৌন্দর্যের প্রাণ আনন্দ-রূপিণী
ইচ্ছাময়ী মহাশক্তি। মূর্তিমান্ জীব
জননীর মেহামৃত করিয়া স্মরণ
সৌন্দৰ্য-বিমুগ্ধ
নেত্রে হৃদয়-মন্দিরে
গড়িছে আনন্দে তৰ
তব মূরতি সুন্দর।

৯
রসই কেবল,
আৰ্যভূমি
অনন্ত রসসিন্ধু,
সেই রসে আত্মহারা বিচিত্র জগৎ।
জগতের তন্তুছেদে
বিচিত্র
চিন্ময়! দেখিছে মাত্র চিৎসত্তা তব
যাহার
তন্নিষ্ঠ মন, বিচিত্র জগৎ
তােমার চৈতন্যরসে ভাসিয়া সতত
তন্নিষ্ঠ নয়নে তার লভিছে স্ফুরণ।
নিষ্ক্রিয় ও নিরাকার চিৎসত্তা যার
অমৃতের পারাবার, অব্যক্ত সুন্দর,
সেই তুমি জগন্মুর্তি, তুমি ভগবতী,
জ্ঞানে তুমি নিরাকারা, গুণে মূর্তিমতী।
জ্ঞানে তুমি পূর্ণ ব্ৰহ্ম, শুদ্ধ পরমাত্মা,
গুণে তুমি বিশ্বেশ্বরী, বিশ্বের জননী।
যথা জ্ঞানরূপে ভাসিয়া সতত
জ্ঞানের বিলাসে রহে মুক্ত অব্যাহত,
কালীশঙ্করের রূপ ফুটিয়া তথায়
স্ফরিছে অসংখ্য বিশ্ব পদে আপনার,
রূপের পশ্চাতে রূপ সৃজি’ অনিবার।
তােমার অনন্য ভক্ত, তোমার সন্তান,
কৰ্ম্মদেবতার ধ্বংস করিয়া সাধন

আৰ্যভূমি
পরিমুক্ত আনন্দের মহা পারাবারে
চৈতন্য-সত্তায় নিত্য থাকে ভাসমান।
নিদারুণ কৰ্ম্ম মােরে বিশ্বের ঈশ্বর।
আনিয়াছে দিতে বলি চরণে তােমার।
কদেবতার পদে করি
যূপকাষ্ঠে এই আমি রাখিলাম শির
নিঃসহায় আৰ্ত্ত
ছাগশিশুর মতন,
আমার শােণিতে হোক তােমার তর্পণ।
সমাপ্ত

আৰ্যভূমি সম্বন্ধে কতিপয় অভিমত। ১৯৩৩ সনের ১২ সেপ্টেম্বর ১৪২ সারপেন্টাইল লেন হইতে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পােষ্ট গ্রাজুয়েট বিভাগের সংস্কৃত ও দর্শনশাস্ত্রের অধ্যাপক পণ্ডিতবরেণ্য সুপ্রসিদ্ধ দার্শনিক শ্ৰীযুক্ত কোকিলেশ্বর শাস্ত্রী এ এ বিদ্যারত্ন মহাশয় লিখিয়াছেন : আৰ্যভূমি শ্ৰী আশুতােষ গঙ্গোপাধ্যায় প্রণীত। ভিন্ন ভিন্ন বিষয় লইয়া ১৮টী কবিতায় এই ক্ষুদ্র পুস্তক পরিসমাপ্ত হইয়াছে। এরূপ কবিতা অনেকদিন চক্ষে পড়ে নাই। তরল কবিতার স্রোতে দেশ প্লাবিত ; তরল প্রেমের উদ্দাম কাহিনীতে বালা আচ্ছন্ন প্রায়। এই দুর্দিনে ভারতের কাহিনী কাইন্না ভাবের গম্ভীর, শব্দের ঝঙ্কারে, বিষয়ের গুরুত্বে এই প্রবীণ কবি আজ আমাদিগকে যাহা শুনাইতে আসিয়াছেন তাহার প্রভাব হৃদয়কে একেবারে তরঙ্গিত করিয়া তােলে। ইহা কবির কম প্রশংসার কথা নহে। আমরা এই কবিতা গ্রন্থ পড়িয়া বিশেষ আনন্দ লাভ করিয়াছি। পড়িতে পড়িতে ভারতের অতীত গৌরবের ছবি চক্ষের সম্মুখে ভাসিয়া উঠে ; হৃদয় শব্দসম্পদের মহিমায় পূর্ণ হইয়া উঠে। একারের লিখিবার শক্তি আছে ; চিন্তার পবিত্রতা আছে ; হৃদয়ের জোগতা আছে । বিষয়ের তুলনায় শব্দ যােজার গাঢ় বেশ রক্ষিত হইয়াছে। কোন স্থানে কদাচিৎ ছন্দপতনে পাঠের ব্যাঘাত জন্মিলেও তাহার সংখ্যা অত্যন্ত কম । আমরা কবির দীর্ঘায় প্রার্থনা করি এবং মশা করি তিনি আমাদিগকে মধ্যে মধ্যে এইরূপ করিয়া ভারতের অতীত স্মৃতি জাগরূক করিয়া দিবেন ।

বঙ্গবাসী ১৭ই ভাদ্র ১৩৪০ সাল—ইহা একখানি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থ। ইহাতে ১৮ী বিষয় আছে। গ্রন্থকারের লেখার ভিতরে একটা ভাবের প্রেরণা লক্ষিত হয় এবং সেই প্রেরণাই লিখিত বিষয়গুলির ভিতর একটা শক্তির সঞ্চার করিয়া বিষয়গুলিকে জীবন্ত করিয়া তুলিয়াছে। গ্রন্থকার এই গ্রন্থের কতিপয় রচনায় তাহার যে মতবাদ প্রচার করিয়াছেন তাহার সকলগুলির আমরা সমর্থন করি না। ভারতের ব্রাহ্মণ’ শীর্ষক বচনায় ভাবের দীনতারই পরিচয় পাওয়া যায়। বসুমতী ২৯শে ভাদ্র, ১৩৪০ সাল—পুস্তকখানিতে ১৮টী কবি সন্নিবিষ্ট হইয়াছে। সনাতন ধর্মের মূলতত্ত্ব বিশ্লেষণ গ্রন্থকারের লক্ষ্য। আত্মদর্শন, ভারতে বেদান্ত, নমুনাপুলিনে শ্রীকৃষ্ণ, শ্মশানবাসিনী শ্যামা প্রভৃতি কয়েকটা কবিতা পাঠে আমরা তৃপ্তিলাভ করিয়াছি। কবিতা- গুলিতে গ্রন্থকারের প্রতিভা পরিস্ফুট হইয়াছে। ভাষা প্রাঞ্জল। ছাপা ও কাগজ ভাল। Amrita Razar Patrika of roth September, 1933– This volume is collection of eighteen poems Aryan ideals as exemplified in some of the characters in Hindu Mythology. The author does not indulge in marely singing the ode of praise to the nast which we have had enough, but pleads for a true understanding of the real meaning and message of the glories of Aryabarta of old. We doubt not these pooms will be read with interest and appreciation by many especially those of a religious temperament. প্রাপ্তিস্থান :- ২০৩৪ নং কর্ণওয়ালিস্ স্ট্রীট, সারস্বত লাইব্রেরী—কলিকাতা ও ১৯০ নং অপার চিৎপুর রােড, প্রকাশকের নিকট । on

No text on this page.

Arjyabhumi Ed. 1st

Author
Gongapadhya,ashutosh
Title
Arjyabhumi Ed. 1st
File name
Arjyabhumi Ed. 1st
Text
OCR done
Citation
1933
Published
2009/12/6
Publisher
Raimohan Bandhopadhaya ,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
92
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Arjyabhumi
DLI number
512321
Barcode
4990010019409.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
LVDJigXco6d
Download PDF

Arjyabhumi Ed. 1st