Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Jagadgurur Abirbhab
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
জগদ্গুরুর আবির্ভাব।
গীতায় ঈশ্বরবাদ' প্রভৃতি গ্রন্থ প্রণেতা
শ্রীহীরেন্দ্রনাথ দত্ত এম-এ বিল
===
প্রণীত।
2-.
৪।৩ নং কলেজ স্কোয়ার হইতে
হােয়াইট লােটাস পাবলিশিং কোম্পানি কর্তৃক
প্রকাশিত।
কলিকাতা,
উইলিয়ম লেন, ৪ নং ভবন
দাস যন্ত্রে,
শ্ৰীঅমৃতলাল ঘেসি কর্তৃক মুদ্রিত
মূল্য ।
No text on this page.
জগদগুরুর আবির্ভাব। প্রথম অধ্যায়। • কয়েক বৎসর হইতে থিয়সফিক্যাল সােসাইটীর মধ্যে শুনা যাইতেছে যে, অচিরে এই মর্ত্যধামে এক মহাপুরুষের আবির্ভাব হইবে, যাহার আগমনে জগতের সমস্ত অস্বস্তি ও অশান্তি তিরােহিত হইয়া এক পুণ্য নবযুগের সূচনা হইবে। প্রথম প্রথম এ সুসংবাদ বিশেষ প্রকাশ্যভাবে ঘােষিত হইত না; কিন্তু ১৯১১ খৃষ্টাব্দে যখন ‘প্রাচ্য তারা-সমিতি (Order of the Star in the East) নামক সঘের প্রতিষ্ঠা হয়, তখন হইতে এই বার্তা চতুর্দিকে প্রচারিত হইতেছে। বস্তুতঃ সেই মহাপুরুষের অগমন-প্রতীক্ষাতেই এই সম্মের প্রতিষ্ঠা হইয়াছে। পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই এই সঘের কেন্দ্রসমূহ স্থাপিত হইয়াছে। সরে সভ্যসংখ্যা এখন প্রায় ২৫,০০০। উত্তরােত্তর যেরূপ সভ্যসংখ্যার বৃদ্ধি হইতেছে, তাহাতে ২১ বৎসরের মধ্যে লক্ষাধিক সভ্য হওয়া বিচিত্র নহে। ইহাতে লক্ষ্য করিবার বিষয় এই যে, সজের সভ্যেরা কোন বিশেষ সম্প্রদায়ভুক্ত নহেন, ইহাতে হিন্দু, বৌদ্ধ, পাশী, খৃষ্টান, ইহুদী, মুসলমান প্রভৃতি সকল বৰ্মাবলম্বীই যােগ দিয়াছেন, এবং সভ্যদিগের মধ্যে অনেকেই বর্তমানে ইয়ােৰােপে মহাকুরুক্ষেত্রের ব্যাপারে প্রতিদিন এই আবাহন-শ্লোকগুলি পাঠ করেন :- ২ জগদ্গুরুর আবির্ভাব। "O Master of the Great White Lodge, Lord of the religions of the world, come down again to the eart) that needs thee and help the nations that are longing for thy presence. Speak the world of Peace, which shall make the people to cease from their quarrellings : speak the word of Brotherhood whereby the warring classes and castes shall know themselves as one. Come with the might of Thy Love, come in the splendour of Thy power, and save the world which is longing for Thy coming, O Thou who art the Teacher alike of angels aud of men." অর্থাৎ, “হে দেবমানবের শিক্ষক পরমগুরু ধৰ্ম্মপালক পরমর্নিদেব ! আমাদের এই পাপপক্লিষ্ট হিংসাজর্জরিত বসুন্ধরায় আর একবার আবিভূত হও; জগৎ তােমার আশাপথ চাহিয়া আছে, নরনারী তােমার প্রতীক্ষা করিতেছে, তােমার শান্তিপাঠে জনগণের কলহ অন্তর্হিত হউক, জাতি-জাতির বর্ণ-বর্ণের বিবাদ প্রশমিত হউক, মানবমণ্ডলী ভ্ৰাতৃভাবে অনুপ্রাণিত হউক। এস প্রভু! তোমার প্রেমের শক্তিতে, তােমার ঐশ্বর্যের মহিমায় এস, এই অৰ্ত্ত জগৎকে পরিত্রাণ কর।” যাহার উদ্দেশ্যে এই আবাহন-বাণী উচ্চারিত হইতেছে, সেই জংশুরু কি সত্য সত্যই আবিভূত হইবেন? এ স্থলে স্বতঃই প্রশ্ন উঠে :- তাহার আবির্ভাবের প্রমাণ কি ? বলা বাহুল্য, ভবিষ্যত্ ঘটনা বর্তমানে প্রমাণিত করা যায় না। এইমাত্র দেখা যায় যে, সে ঘটনা সঙ্গত ও সম্ভব। ভবিষ্যদ্ ঘটনার ঘটনাই প্রমাণ। অন্য প্রমাণ হইতে *রে না। আর ইহাও বক্তব্য যে, জগদ্গুরু যখন সত্য সত্যই বিস্ত হইবেন, তখনও যে সকলে তাহাকে গ্রহণ করিবে, ইহার সম্ভাবনা অল্প। পৃথিবীর অতীত ইতিহাস আলােচনা করিলে দেখা যায় যে, ইতিপূর্বেও কয়েকবার প্রথম অধ্যায়। । জগতে মহাপুরুষের আবির্ভাব হইয়াছে। এমন কি, শাস্ত্র যদি মিথ্যা না হয়, তবে ইহাও নিঃসংশয় যে, ভগবান্ স্বয়ংই একাধিকবার মর্ত্যে অবর্তীণ হইয়াছেন, কিন্তু কখনও কি তিনি সৰ্ববাদিসম্মতমতে স্বীকৃত হইয়াছেন ? তাঁহাকে কয়েক জন মানিয়াছে—অনেকে মানে নাই। এবারেও তাকাই হইবে। এখন জগদ্গুরু সশরীরে আবিভূত হইবেন, কেহ কেহ তাহাকে মানিবে, অনেকে তঁাহাকে মানিবে না। কথাটা একটু বিশদ করা ভাল। শ্রীকৃষ্ণ-সম্বন্ধে এখন আমরা অনেকে স্বীকার করি যে :- “কৃষ্ণস্তু ভগবান স্বয়ম্।” অর্থাৎ-শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান্। যিনি ঈশ্বরের ঈশ্বর মহেশ্বর, তিনিই ‘মায়া-মানুষ-বিগ্রহ’ গ্রহণ করিয়া শ্রীকৃষ্ণরূপে এ ভারত-ভূমিতে অবতীর্ণ হইয়াছিলেন। সে আজ প্রায় ৫০০০ বৎসরের কথা, তখনও এখন- কার মত হেতুবাদ (rationalism) এবং বৈজ্ঞানিক বিচার প্রবর্তিত হয় নাই, এবং শ্রীকৃষ্ণ ভারতবাসীর নয়নগােচর হইয়া বহুদিন ভারত- ভূমিতে লীলা করিয়াছিলেন। ব্যাস, ভীষ্ম, উদ্ধব, বিদুর, যুধিষ্ঠির প্রভৃতি মহামান্য মনীষিগণ তাহাকে অবতার বলিয়া গ্রহণ করিয়াছিলেন। কিন্তু তথাপি তাহার দ্বেষ্টার অভাব ছিল না। সেই জন্য তিনি গীতায় বলিয়াছেন :- ‘অবজানন্তি মাং মূঢ় মানুষীং তনুমাশ্রিতম্। ‘মনুষ্যদেহধারী আমাকেও মুঢ়গণ অবজ্ঞা করে। অন্যত্র তিনি বােধ হয় যেন ক্ষোভের সহিতই বলিয়াছেন :- ‘গ : দ্বিষতঃ কুরাণ, সংসারেষু নরাধমান্।'—গীতা ‘আমি সেই ক্রুর দ্বেষকারী মনুষ্যাধমদিগকে (হীন যােনিতে নিক্ষেপ করি)। এমন যে গীতা, যাহা ধৰ্ম্মপিপাসুর পক্ষে অমৃতরসম্বরূপ, যাহা ৪ জগদ্গুরুর আবির্ভাব। ত্ৰিতাপপিতের পরম সান্ত্বনা, তাহাও তিনি তাহার অসূয়াকারীকে শুনাইতে নিষেধ করিয়াছেন। ‘ইদং তে নাতপস্কায় * ন চ মাং যােহভ্যসূয়তি।'—গীতা যিনি ধৰ্ম্মের রক্ষক, জগতের পালক, সেই শ্রীকৃষ্ণকে তাহার জ্ঞাতিবর্গ মণিচোর অপবাদে কলঙ্কিত করিয়াছিল। এখনও ‘নষ্টচন্দ্রের কলঙ্ক এ দেশের প্রবাদবাক্যের মধ্যে রহিয়াছে। শ্রীকৃষ্ণ না কি এক যদু-শিশুকে হত্যা করিয়া তাহার কণ্ঠ হইতে স্যমন্তকমণি চুরি করিয়াছিলেন! ধন্য জনরব! জরাসন্ধ, শিশুপাল, দুর্যোধন প্রভৃতি সেই যুগের ক্ষত্রিয়াগ্রণী রাজগণের শ্রীকৃষ্ণ সম্বন্ধে ব্যবহার মহাভারতের পাঠকমাত্রই অবগত আছেন। জরাসন্ধের উৎপাতে ও উপদ্রবভয়ে শ্রীকৃষ্ণ যাদবগণের সহিত মধুরা পরিত্যাগ করিয়া পশ্চিম সমুদ্রের তীরবর্তী রৈবতক পৰ্বতে দুর্ভেদ্য দুর্গ নির্মাণ করিয়া সেই পৰ্বতে আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছিলেন। শিশুপাল- কৃত কৃষ্ণনিন্দা কাহার অবিদিত ? যুধিষ্ঠিরের রাজসূয় যজ্ঞে যজ্ঞেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ যজ্ঞরক্ষকরূপে পাণ্ডব-সভায় অধিষ্ঠিত হইলে সহদেব কুরুবৃদ্ধ ভীষ্মের নিয়ােগ- মতে শ্রীকৃষ্ণকে যথাবিধি অৰ্য প্ৰদান করিলেন। ইহাতে আগুন জ্বলিয়া উঠিল। শিশুপাল কৃষ্ণের পূজা সহ্য করিতে না পারিয়া অকথ্য ভাষায় শ্রীকৃষ্ণকে তিরস্কার করিতে প্রবৃত্ত হইলেন। “যেমন গােপনে ঘৃতের কণা ভক্ষণ করিয়া কুকুর আত্মশ্লাঘা করে, ওহে কৃষ্ণ! তাহার ন্যায় তুমি আপ- নার অনুপযুক্ত পূজার বহুমান করিতেছ।” তদুত্তরে মহাজ্ঞানী ভীষ্ম বলিয়াছিলেন,-“কৃষ্ণই এই চরাচর বিশ্বের সৃষ্টিস্থিতি-প্রলয়কর্তা। তিনিই সব্বভূতের অধীশ্বর।” ইহার পর ‘সর্বজ্ঞ সৰ্ব্বসংশয়চ্ছেদী’ নারদ সর্বসমক্ষে বলিলেন,-“হার পদ্মপলাশলােচন কৃষ্ণের আরাধনায় পুরাত্মথ, সেই নরাধমেরা জীবন্ত। তাহাদিগের সহিত বাক্যালাপ করিতে নাই। কিন্তু ইহার ফল কি হইয়াছিল? আমরা মহাভারতপাঠে জানিতে পারি প্রথম অধ্যায় বে, শিশুপাল (স্বপক্ষীয়) মহীপালগণের অবিচলিত উৎসাহ-সন্দর্শনে প্রােৎসাহিত হইয়া যজ্ঞের ব্যাঘাত জন্মাইবার নিমিত্ত তাহাদিগের সহিত মন্ত্রণা করিতে লাগিল। পরে শ্রীকৃষ্ণ কিরূপে শিশুপালের রণ-কঙুতি নিবারণ করিয়াছিলেন, তাহা মহাভারতের পাঠকমাত্রই অবগত আছেন। এখানে তাহার উল্লেখ নিষ্প্রয়োজন। মহাভারতের উদ্যোগপৰ্বে দেখা যায় যে, যখন ভারত-যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী হইয়া উঠিল, তখন শ্রীকৃষ্ণ পাণ্ডবের পক্ষে পঞ্চগ্রাম-বিনিময়ে সন্ধির শেষ প্রস্তাব লইয়া দূতরূপে হস্তিনাপুরে উপস্থিত হইলেন। কিন্তু স্বয়ং ভগ- বানের এই দৌতকার্য্যের কি সুফল হইল ? সন্ধির উদ্দেশ্যে তাহার বক্তৃতা শুনিয়া দুর্যোধন কঠোরভাবে বলিলেন— ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী। শুধু তাহাই নহে, দুৰ্য্যোধন মহাবিষ্ণুর অবতার শ্রীকৃষ্ণকে বন্ধন করিয়া কারারুদ্ধ করিবার উদ্যোগ করিলেন। তখন শ্রীকৃষ্ণ কোনও রূপে অক্ষতশরীরে পাণ্ডব-শিবিরে প্রত্যা- বৰ্তন করিলেন। অতএব দেখা যাইতেছে যে, স্বয়ং ভগবান্ শরীর ধারণ করিয়া পৃথিবীতে আসিলেও সকলের মানিত হন না—তিনিও দ্বেষ, অসূয়া, নিন্দা, গ্লানির হস্ত হইতে পরিত্রাণ পান না। ভারতবাসীই যে ক্রুর ও কলহপ্রিয়, অতএব ভগবাকে এইরূপে সংবর্ধনা করিয়াছিল, এরূপ ভাবা অসঙ্গত হইবে। কারণ, আমরা দেখিতে পাই যে, যীশুখৃষ্ট যখন ২০০০ বৎসর পূর্বে জুডিয়াতে আবির্ভূত হইয়া- ছিলেন, তঁাহারও এই প্রকারেরই সংবর্ধনা হইয়াছিল। যীশুখৃষ্টের সহ- যােগীরা তাহার প্রতি যে সকল গালি-পুষ্প বর্ষণ করিয়াছিল, তাহা সংগ্রহ করিয়া একটি বৃহৎ ফুলের সাজি ভরাইতে পারা যায় - "He is mad" (Mark iii 21 ; John X. 20) "He hath a devil"(Mark iii 30; John vii 20, vii 48, 52, x, 20) “A friend of publicans and sinners” (Mat. ix. 9--11; Mark, ii, i5, 16; Luke, v. 27-30; xv. 1, 2,) “A blasphemer” { জগদগুরুর আবির্ভাব ( Mat. ix 3 ; xxvi 65, Mark ii 7 ; John X. 39). "A deceiver" (Mat. xxvii 63). "He deceiveth the people" (John vii 12). ইহার অর্থ এই যে, তার সহযােগীরা খুষ্টকে উন্মাদ, প্রলাপী, প্রবঞ্চক, সয়তানগ্রস্ত, ধৰ্ম্মদ্বেষী, পাপসঙ্গী ইত্যাদি বিবিধ বিশেষণে বিশেষিত করিয়া- ছিল। অথচ তাহার মত নিরীহ অজাতশত্রু লোক ভূমণ্ডলে অল্পই দৃষ্টি- গােচর হইয়াছে। # শুধু তাহাই নহে। তঁাহার দেশবাসীরা কেবল অসূয়া ও গ্লানি করিয়াই ক্ষান্ত ছিল না। সময়ে সময়ে তাঁর প্রাণসঙ্কটও ঘটাইয়াছিল। লিউকলিখিত কাহিনীতে আমরা এক দিনের ঘটনা লিপিবদ্ধ দেখিতে পাই। খৃষ্ট কোনও সময়ে তাহার জন্মস্থান ন্যাজারে উপনীত হইয়া উপাসনার দিন ধৰ্ম্ম-মন্দিরে উপস্থিত হইলেন, এবং ইহুদী- দিগের ধর্মগ্রন্থ পাঠ করিবার জন্য উথিত হইলেন, এবং তাহার ব্যাখ্যা করলেন। ঐ ব্যাখ্যান উপলক্ষে তিনি যে ঈশ্বর-প্রেৰিত, তাহার কিছু ইঙ্গিত করিলেন। ইহা শুনিয়া উপস্থিত ইহুদীমণ্ডলী ক্রোধান্বিত হইয়া তাহাকে গির্জা হইতে বহিষ্কৃত করিয়া দিল, এবং পৰ্ব্বতের চূড়ায় তাহাকে টানিয়া লইয়া নীচে নিক্ষেপ করিতে উদ্যত হইল। যীশুখৃষ্ট বহু কষ্টে পলাইয়া প্রাণরক্ষা করিলেন। And when his friends heard of it they went ont to lay hold on him ; for they said he is beside himself and the scribes which came down from Jerusalema said : he hath Beelzebub.--Mark it 20. † And he came to Nazareth where he had beco brought up bui aa bis custom was he went into the synagogne on the Sabbath Hry and stood up for to read and all they in the synagogue when t.co ye heard these thinga were filled with wrath and thrust him out ve the City and led him into the brow of the hill whedeon their Cty was built that they might cast him down headlong but he püssing through the widst of them went his way, --Luke 1V. 16.
প্রথম অধ্যায় কিন্তু জুডিয়াতে এই যে ঈর্ষা ও অসূয়াবহ্নি ধীরে ধীরে প্রজ্জ্বলিত হইতেছিল, তাহা সহসা নিৰ্বাপিত হইল না। এ আগুন ক্রমশঃ সঙ্কুক্ষিত হইয়া অবশেষে যীশুখৃষ্টকে ক্রসের উপর ভস্মীভূত করিল। বহু খেদেই যীশুখৃষ্ট বলিয়াছিলেন—এ জাতিকে কাহার সহিত তুলনা করিব? ইহা- দিগকে তুষ্ট করা অসম্ভব। * আমাদের এই বাঙ্গালাদেশে প্রায় ৪০০ বৎসর পূর্বে যখন চৈতন্যদেব অবিভূত হইয়াছিলেন, তখনও তিনি ঐ একই রূপ অভ্যর্থনা পাইয়া- ছিলেন। কয়েক জন অন্তরঙ্গ ভক্ত ব্যতীত জনসাধারণ তাঁহাকে সমাদর করে নাই। অনেকে তাঁহাকে পাগল বলিত। অপরে তাহার ‘ভণ্ড, ধৰ্ম্মদ্রোহী’ ইত্যাদি আখ্যা দিত। তাহার সম্বন্ধে এবং তাহার দুই জন প্রতিভাবান্ সহযােগী সম্বন্ধে এখনও এই প্রবচন প্রচলিত আছে : ‘নিমে রােঘাে বলা, তিনটে কলির চেলা। কেন এরূপ হয়? কেন মহাপুরুষ আবির্ভূত হইলে তাহার সহ- যােগীরা তাহাকে দ্বেষ-অসূয়া করে, তাহার নিন্দা-গ্লানিতে প্রবৃত্ত হয় ? ইহার এক কারণ এই যে মহাপুরুষ তেজস্বী সূর্যের ন্যায়—আমাদের চক্ষু তাহার জ্যোতিতে পীড়িত হয়। আমাদের কনীনিকা তাঁহার তীব্র আলােক সহিতে পারে না। তাহার চতুর্দিকে যে পুণ্যের গন্ধ বিকীরিত হয়, সাধারণ জীবের পক্ষে তাহা অসহনীয়। তাহার সাহচর্যে সাধুর সৎ- প্রবৃত্তি যেমন উদ্ৰিক্ত হয়, অসাধুর অসৎপ্রবৃত্তিও সেইরূপই উত্তেজিত হয়। জগতের দুর্ভাগ্য—এখনও অনেক লােকই সাধু হইতে পারে নাই। সেই Whereunto shall I liken this generation ? For John came neither eating nor drinking, and they say : He hath a devil. The son of man came eating and drinking, and they say : Behold a man gluttonous, and a winebibber, a friend of publicans and sinnors. But wisdom is justified of her children. (Mat xi. 16-19).
জগদ্গুরুর আবির্ভাব। জন্য মহাপুরুষের সহযােগীরা বিপক্ষ হইয়া উঠে, এবং তাহার দ্রোহ আচরণ করে। * এই ব্যাপার বরাবর হইয়া আসিয়াছে, এবং এবারেও হইবে । অতএব ইহা সুনিশ্চিত যে, যখন জগদ্গুরুর আবির্ভাব হইবে, (আমরা এখন যাহার আশা প্রতীক্ষা করিতেছি। তখনও সম্ভবতঃ অনেকে তাঁহাকে গ্রহণ করিবে না। অর্থাৎ, তাহার প্রত্যক্ষ আবির্ভাব দ্বারাও তিনি প্রমাণ- সিদ্ধ হইবেন না। তাই বলিতেছিলাম যে, তাহার আবির্ভাবের প্রমাণ দেওয়া অসম্ভব। তবে তাঁহার আবির্ভাব যে সঙ্গত, তাহার আগমন যে সম্ভব, ইহাই আমার দেখান উদ্দেশ্য। দ্বিতীয় অধ্যায়ে এ সম্বন্ধে আরও বিস্তৃত আলােচনা করিব। The second reason lies in the power of a great Being : power which acts on men as an immense stimulus vivifying and strengthening the good and the evil which is in them. when & man of unpurified heart comes under the influence of such a fore, roncealed passions wake in him and he finds himself in their grip. be scarcely knows why.-Theudophist vol. 32. p. 365.
দ্বিতীয় অধ্যায়। ৩ এই যে জগদগুরুর আবির্ভাব সম্বন্ধে থিয়সফিক্যাল সােসাইটীর মধ্যে কথা উঠিয়াছে, * এ সম্পর্কে আমাদের মনে রাখা উচিত যে, জগতের সকল জাতির ধৰ্ম্মশাস্ত্রেই কোনও না কোনও ভাবী অবতার বা মহাপুরুষের শুভাগমনের অশা-প্রতীক্ষা রহিয়াছে—সে অগিমন অচিরেই হউক, বা দূর ভবিষ্যতেই হউক। হিন্দুশাস্ত্রে কল্কি-অবতারের প্রতীক্ষা সকলেই অবগত আছেন। জয়দেবের দশাবতার-স্তোত্রে দশম অবতার কল্কিদেবের উদ্দেশে তিনি জলদগম্ভীরনিনাদে গাহিয়াছেন :- এ সম্বন্ধে থিয়সফিক্যাল সভার অধিনেত্রী শ্রীমতী আনি বেসান্ট বিগত ১৯১১ etcoa sol 677 sit utface "The White Lodge and its Messengers' শীর্ষক যে বক্তৃতা করিয়াছিলেন, তাহার একাংশ এইরূপ, "We await again the coming of its greatest Messenger from the White Lodge ; not one of the lesser Messengers, not one of the faithful and devoted disciples, not one of those who come because bidden by their Superiors to go out into the world. But one to whom none may say : "Go," but who ever breathes, "I come the Supreme Teacher the great Rishi the Bodhisattve, the Lord Maitreya, the blessed Buddha yet-to-be. We who know something of the occult life, we who of our own knowledge bear witness that He lives upon our earth, are waiting for His coming : and already the steeps of the Himalayas are echoing to the footsteps that tread them to descrod into the world of men. There He is standing, awaiting the striking of His hour : there He is standing, with His eyes of love gazing on the world that rejected Aim aforetime, and perchance will again reject him ; there He is waiting till the fullness of the time is ripe, till his Messengers have prorlaimed His advent, and to some extent have prepared the nations for His coming."
জগদ্গুরুর আবির্ভাব।
স্লেচ্ছনিবহনিধনে কলয়সি করবালং
ধূমকেতুমিব কিমপি করাল,
কেশব ধুত-কল্কি-শরীর, জয় জগদীশ হরে।
‘হে কেশব! হে হরি! হে জগদীশ ! তােমার জয় হউক। তুমি
কব্ধি-শরীরধারণে ম্লেচ্ছকুল নির্মূল করিতে ধূমকেতুর ন্যায় করাল
করবাল গ্রহণ কর।
হিন্দুর পুরাণগ্রন্থে অনেক স্থলে এই কল্কিদেবের উল্লেখ আছে ;-বিষ্ণু
কলির শেষে কল্কিরূপে আবির্ভূত হইয়া ধৰ্ম্মরাজ্য স্থাপন করিবেন। কিন্তু
কলি-পুরাণেই তঁাহার সবিশেষ বিবরণ দৃষ্ট হয়।
“শম্ভলৈ বিষ্ণুযশসসা গৃহে প্রাদুর্ভবাম্যহম্।
সুমত্যাং মাতরি বিভাে কন্যায়াং তন্নিদেশতঃ ।
চতুর্ভিাতৃভিদেব করিষ্যামি কলিক্ষয়ম্।
ভবন্তো বান্ধব দেবাঃ স্বাংশেনাবতরিষ্যথ ।
ইয়ং মম প্রিয়া লক্ষ্মীঃ সিংহলে সংভবিষ্যতি।
বৃহদ্রথস্য ভূপস্য কৌমুদ্যাং কমলেক্ষণ।
ভাৰ্য্যায়াং মম ভাৰ্য্যৈব পদ্মানামী জনিষতি।
যাত যুয়ং ভুবং দেবা স্বাংশাবতরণে রতাঃ।
রাজানৌ মরুদেবাপী স্থাপয়িষ্যাম্যহং ভুবি ।
পুনঃ কৃতযুগং কৃত্বা ধৰ্ম্মা সংস্থাপ্য পূর্ববৎ।
কলি-ব্যালং সংনিরস্য প্রয়াস্যে স্বয়ং বিভাে॥”
কল্কিপুরাণ; ১১৪৮
ভগবান বিষ্ণু দেবতাদিগের অগ্রণী ব্ৰহ্মাকে বলিতেছেন,
“আমি তোমার অনুরােধক্রমে শম্ভবনামক গ্রামে বিষ্ণুযশা নামক
ব্রাহ্মণের ঔরসে সুমতি-নাম্নী ব্রাহ্মণ-কন্যার গর্ভে জন্মগ্রহণ করিব। আমি
চতুষ্টয়ের সহিত কলিক্ষয় করিব। দেবগণ! তােমরা স্ব স্ব অংশে
দ্বিতীয় অধ্যায়। অবতীর্ণ হইয়া আমার সহিত বন্ধুতা স্থাপন করিবে। বৃহদ্রথ-নামক সিংহলেশ্বরের ঔরসে কৌমুদী-নাম্নী মহিষীর গর্ভে আমার প্রিয়া কমলনয়না কলা জন্মগ্রহণ পূর্বক পদ্মনামে অভিহিত হইবেন। দেবগণ! তােমরা পৃথিবীতে গমনপূৰ্ব্বক স্ব স্ব অংশে অবতীর্ণ হও। আমি পুনৰ্ব্বার মরু ও দেবাপি নামক রাজদ্বয়কে পৃথিবীর শাসন-কর্তৃত্বে স্থাপন করিব। আমি পুনরায় সত্যযুগের সৃষ্টি করিয়া পূর্বের ন্যায় সনাতন ধৰ্ম্ম স্থাপনপূর্বক কলিরূপ কালসৰ্পকে নিরাকরণ করিয়া নিজালয়ে প্রত্যাগমন করিব।” এইরূপ বৌদ্ধধর্মেও ভাবী বুদ্ধ মৈত্রেয়ের অাগমন-প্রতীক্ষা রহিয়াছে। বৌদ্ধদিগের ধর্ম গ্রন্থ ত্রিপিটকের ‘দীর্বনিকায়’ অংশ বিশেষ প্রাচীন ও প্রামাণিক। এই অংশের বয়স বােধ হয় ২৩০০ বৎসরের কম নহে। এই অংশের অনেক স্থলে বুদ্ধদেবের নিজের শ্রীমুখের বাণী রক্ষিত হই- ছে। বুদ্ধদেব বলিতেছেন, যখন মনুষ্যের আয়ুষ্কাল মাত্র অশীতি বৎসর হইবে, তখন ভগবান্ মৈত্রেয় জগতে আবির্ভূত হইবেন—সাধৃত্তম সম্যকসম্বুদ্ধ মৈত্রেয়দেব, যিনি সর্বজ্ঞ, যিনি আমার্গের পারগামী, যিনি কল্যাণময়, যিনি সংযমীর অনুপম সারথি, দেব-মানবের শিক্ষক, ভাবী বুদ্ধ ভগবান্ মৈত্রেয় । সম্প্রতি আমি যেমন পৃথিবীতে আবির্ভূত হইয়াছি, সম্যকসম্বুদ্ধ তথাগত মৈত্রেয় সেইরূপ আবির্ভূত হইবেন। যে মার্গ আদিতে, মধ্যে এবং অন্তে মধুময়, তাহা তিনি সম্যক উপদেশ দিবেন । তিনি সম্পূর্ণ ও সুপবিত্র শিক্ষার প্রচার করিবেন। আমি যেমন সাধুজীবনের উপদেশ দিতেছি, তিনি সেইরূপ দিবেন। আমার চতুর্দিকে যেমন শত শত শ্রমণ সমবেত হইয়াছে, তাঁহার চতুর্দিকে সেইরূপ সহস্র সহস্ৰ শ্ৰমণ সমবেত হইবে । * "Now when the term of human life is eighty years, Ile who is named Metteyya, the Blessed one, ehall arise in the world, that saint, that fully enlightened one, who knoweth all and lead's the righteous life. Auspicious He, world-knower Ie, incompar.
১২ জগদ্গুরুর আবির্ভাব। বৌদ্ধদিগের আর একখানি পালি গ্ৰন্থ অনাগতবংশে এই ভাবী বুদ্ধ মৈত্রেয়ের উল্লেখ আছে। অনাগতবংশও প্রাচীন গ্রন্থ। শুনিয়াছি, অশােকের কোনও শিলালিপিতে এই গ্রন্থের উল্লেখ আছে। তাহা হইলে, এই গ্রন্থের বয়স প্রায় ২১০০ বৎসর। এই গ্রন্থে লিখিত আছে যে, * 2 able Charioteer of men who would be tamed, Teacher of Godis and men, the Buddha, Blessed Lord ; just as now I have myself arisen in the world, that saint that fully enlightened one He shall proclaim the Teaching pleasant in its beginning, ple:- sant in its middle and pleasant in the end thereof, and shall make known its spirit and its letter, in its perfection and in all its purity. He shall proclaim the holy life, just as I myself have done and do. He shall gather round him a following of monks that number many thousands, just as I have gathered round me following of monks of many hundreds."-Dirgha Nikaya, p 75, para 25, Pali Text Society's Edition, vol. 3. Then the venerable Sariputta questioned the Lord about Him who should come ( anagatajanani) And He that cometh after Thee, The Mighty one, the Enlightened one, Say, Lord, what sort is He ? How I long to know it surely ! Thou who seest, tell it me ! To the elder questioning, Thus the Blessed Lord replied ; "I will tell thee, Sariputta. Do thou list what shall betide. In this anspicious period There have been Leaders three- Kakusandbo, Konagamano And Kassopo the Guide ; I am the fourth, Buddha Supreme ; Metteyya yet shall be In this auspicious period. While yet the end we bide ; Metteyya, All enlightened One Supreme on earth is He.” -Anagata Vansa-published in the Journal of the Pali Text Society, 1886.
দ্বিতীয় অধ্যায়। ভগবান বুদ্ধ এক সময়ে কপিলাবস্তুতে রােহিণী নদীর তীরে ন্যগ্রোধ-আরামে উপবিষ্ট ছিলেন। ঐ সময় স্থবির সারিপুত্র তাহাকে প্রশ্ন করিয়াছিলেন “ভগব! যে সম্যকসম্বুদ্ধ মহাত্মা আপনার পরে আবিভূত হইবেন, তিনি কে ?” ইহার উত্তরে বুদ্ধদেব বলিয়াছিলেন :—“হে সারিপুত্র! সেই কল্যাণীয় যুগে যাহা ঘটিবে, তােমায় বলিতেছি। আমার পূর্বে তিন জন বুদ্ধ হইয়াছেন কাকুসন্ধ, কুণাগমনাে এবং কাশ্যপ। আমি চতুর্থ বুদ্ধ। সম্যকসম্বুদ্ধ লােকশিক্ষক মৈত্রেয়দেব পঞ্চম বুদ্ধ। তিনি সেই কল্যাণীয় যুগে আবির্ভূত হইবেন। খ্ৰীষ্টিয়ানদিগের ধর্মগ্রন্থ বাইবেল। যীশুখৃষ্টের তিরােভাবের পর তাহার অন্তরঙ্গ শিষ্যমণ্ডলীর মধ্যে যীশুখৃষ্টের শিক্ষা ও উপদেশ সজীবভাবে বিদ্যমান ছিল। এই শিষ্যমণ্ডলীর মধ্যে সেন্ট পল অন্যতম। খৃষ্টানেরা যাহাকে New Testervent বলেন, তাহার শেষাংশে এই সেন্ট পল ও আরও দুই তিন জন দীক্ষিত শিষ্যের লিখিত লিপি-সমূহ রক্ষিত হইয়াছে। বাই- বেলের এই অংশের নাম Epistles। এই Epistles অংশে খৃষ্টের পুনরা- গমন বিষয়ে অনেকবার উল্লেখ আছে, এবং তাহার শিষ্যমণ্ডলী এই পুনরা গমনের আশা-প্রতীক্ষায় প্রত্যাশাপন্ন ছিলেন। সুধু Epistles খণ্ডে নহে, যাহা খৃষ্টানদিগের প্রকৃত gospel (সুসমা- চার), New Testamen'এর সেই অংশেও যীশুখৃষ্টের নিজের মুখে তাহার পুনরাবির্ভাবের কথা আমরা স্পষ্ট শুনিতে পাই। যীশুখৃষ্ট বলিতে- ছেন :—“সাবধান! তােমরা যেন প্রবঞ্চিত হইও না; কারণ, অনেকে আমার নামে আসিবে এবং বলিবে—“আমি খৃষ্ট। তােমরা যেন তাহা- ; The Epistles also contain numerous references to the second coming of Christ which is beld forth as the great object of hope to his people un lor cbis dispensation, as his first coming had been under the former one-Annotbed Paragraph Bible p. 1292.
১৪ জগদ্গুরুর আবির্ভাব • • দের অনুগমন করিও না। জাতির সহিত জাতির, রাজ্যের সহিত রাজ্যের তুমুল সংগ্ৰমি বাধিবে। প্রচণ্ড ভূমিকম্পে পৃথিবী উৎপাত হইবে; দুর্ভিক্ষ ও মহামারী লােককে উৎসন্ন করিবে ; ভূতলে ও আকাশে ভয়ঙ্কর বিভীষিকা উৎপন্ন হইবে; চন্দ্র, সূৰ্য, গ্রহ, তারকায় উৎপাত দৃষ্ট হইবে । পৃথিবীতে দারুণ সঙ্কট উপস্থিত হইবে ; সমুদ্রে ভীষণ প্লাবন উখিত হইবে; জনগণ ভয়ে ও বিস্ময়ে অভিভূত হইবে। সেই সময় জানিও--আমি আবার আসিব-প্রভাবে ও মহিমায় মণ্ডিত হইয়া আসিব।” * অনেক খৃষ্টিয়নি বিশ্বাস করেন যে, এই যে খৃষ্টের পুনরাগমন, ইহা পৃথিবীর ধ্বংসের সূচনা করিতেছে। অর্থাৎ, তিনি এবার যখন আসিবেন, তখন জগতে প্রলয় উপস্থিত হইবে। এ ধারণা সমূলক হউক, কিংবা না হউক, ইহা নিশ্চিত যে, খৃষ্টিয়ানদিগের মধ্যেও যীশুখৃষ্টের পুনরাগমন-প্রতীক্ষা স্পষ্টভাবে বিদ্য- মান। . And he said, Take heed that ye be not deceived : for many shall come in my name, saying, I am christ ; and the time draweth near. Go ye not therefore after them. But when ye shall bear of wars and commotions be not terrified : for these things must first come to pass ; but the end is not by and by. Then said he unto then, Nation sball rise against nation, and Kingdon agaiust Kingdom : and great earthquakes shall be in diverse places, and famines, and pestilences ; and fearful sights and great signs hall there be from heaven.--Luke XXI, 5 -- 28. And when ye slıall see Jeruralem compassed with armies, then know thut the desolation thereof is nigh. Then let them wlich nie in Jadæa flee to the mountains; and let them which are in the midst of it depart out; and let not them that are in the countries enter thereinto. For these be the days of vengence, that all things which are written may be fulfilled. But woe unto them that are with child, and to them that give suck, in those days ! for there shall be great distress in the land, and wrath upon the people.
দ্বিতীয় অধ্যায়। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীর ধর্মবিশ্বাসের প্রতি লক্ষ্য করিলে এই প্রতীক্ষার সমর্থন পাওয়া যায়। কারণ, খৃষ্টানেরা যেরূপ বীশুখৃষ্টের আগমন প্রতীক্ষা করিতেছেন, পারসীকের সেইরূপ তাহাদের পরিত্রাতা Soshyatএর প্রতীক্ষা করিতেছেন। ইহুদীরা তাঁহাদিগের Messial)র প্রতীক্ষা করিতে- হেন। মুসলমানেরা দ্বিতীয় মহম্মদ ইমাম মাদির প্রতীক্ষা করিতেছেন। শুনা যায় যে, মদিনা নগরে এখনই মহম্মদের কবরের পার্শ্বে আর একটি কবর প্রস্তুত হইয়া আছে। ঐ কবরে ভাবী ইমামকে প্রােথিত করা হইবে। আরও শুনা যায় যে, পারস্যদেশে শিয়া মুসলমানেরা আশা-প্রতীক্ষা করিতে- ছেন যে, অচিরে জাবুলকা হইতে ইমাম নাদি ইসলামধৰ্ম্ম-পুনঃপ্রচারের জন্য জগতে আবিভূত হইবেন।* And they shall fall by the edge of the sword, and shall be led away captive into all nations : and Jerusalem shall be trodden down of the Gentiles, until the times of the Gentiles be fulfilled. And there shall be signs in the sun, and in the moon, and in the stars; and upon the earth distress of nations, with perplexity ; the sen ann the waves roaring, men's hearts failing them for fear, and for looking after those things, which are coruing on the earth, for the puwers of heaven shall be shaken. And then shall they see the Son of wan coming in a cloud with power and great glory. And when these things begin to conie to pass, then look up, and lift up> your heads ; for your redemption draweth nigh. (Luke XXI) The Zoroastrian is taught to look to the coming of the Skoslyant, "the Saviour," the Jews to expect the Messiah; and the Christians, the Christ. Mahanımedavism too speaks of the coming of another Prophet of God, and already by the side of Mahamweil's grave at Medina is prepared an empty tomb where shall lie the body of the Lord after His death; in Persia and elsewhere the Shiahs know, well of the Imam Mahdi who in A. D. 940 disappeared from the sight of men, but now awaits, in the mysterious city of Jablka, to come once again when faith wanes to lead wen to God -"When He comes" by C. Jinarnjadasa.
১৬ জগদ্গুরুর আবির্ভাব। গৌড়ীয় বৈষ্ণব-সমাজে যে সকল গ্রন্থ প্রামাণিক বলিয়া বিবেচিত হয়, চৈতন্য-ভাগবত তাহাদিগের অন্যতম। এই গ্রন্থে লিখিত আছে যে, চৈতন্য- দেব শচীমাতাকে ভবিষ্যদ্বাণী করিয়াছিলেন যে, তিনি আর দুইবার শচী- মাতার জঠরে আবির্ভূত হইবেন :- “আরাে দুই জন্ম এই সঙ্কীৰ্ত্তনারম্ভে । হইব তােমার পুত্র আমি অবিলম্বে।” চৈ-ভাগবত, মধ্য ,২৬ তিনি বহুবার আবির্ভূত হইয়াছিলেন, আরাে বহুবার হইবেন। “বহুনি মে ব্যতীতানি জন্মানি তব চার্জ ন।”—গীতা তবে তিনি শচীমার জঠরে আর দুইবার আবির্ভূত হইবেন, এবং কীর্তনের অমৃতধারায় জগৎ প্লাবিত করিবেন। বলা বাহুল্য, চৈতন্য- অবতারে সংকীর্তনই তাহার ধৰ্ম্ম-প্রচারের প্রধান অস্ত্র ছিল—খ নহে, চক্র নহে, যুদ্ধ নহে, সংকীৰ্ত্তন। সেই জন্য রাজা প্রতাপরুদ্র বলিয়াছিলেন- “রাজা কহে দেখি আমার হৈল চমৎকার। বৈষ্ণবে ঐছে ভেজ নাহি দেখি আর । কোটি সূৰ্য সম সবার উজ্জল বরণ। কভু নাহি শুনি এই মধুর কীর্তন। ঐছে প্রেম ঐছে নৃত্য ঐছে হরিধ্বনি। কঁহা নাহি দেখি ঐছে কঁহা নাহি শুনি। ভট্টাচাৰ্য কহে তােমার মধুর বচন। চৈতন্যের সৃষ্টি এই প্রেম-সঙ্কীৰ্ত্তন। অবতরি চৈতন্য কৈল ধর্ম প্রচারণ। কলিকালের ধর্ম-কৃষ্ণ নাম-সঙ্কীর্তন ॥”
দ্বিতীয় অধ্যায়। গৌড়ীয় বৈষ্ণবেরা বিশ্বাস করেন যে, আবার চৈতন্যদেব আবির্ভূত হইয়া ঐ অপূৰ্ব্ব কীৰ্ত্তনের স্রোতে জগৎকে প্লাবিত করিবেন। অতএব দেখা যাইতেছে যে, জগতের সকল ধর্মের মধ্যেই এক জন অবতার বা মহা- পুরুষের অাগমন-প্রতীক্ষা জাগরূক রহিয়াছে। এই অশা-প্রতীক্ষা যে কেবল সুদূর ভবিষ্যৎ লক্ষ্য করিয়া, তাহা নহে; পৃথিবীর অনেক স্থানে কিছু দিন হইতে অচিরে কোনও মহাপুরুষের অগ- মন-পাকা জাগিয়া উঠিয়াছে। সম্প্রতি ব্ৰহ্মদেশে এক নিষ্ঠাবান ভিক্ষু শ্রীমৎ মাগিয়াই টিকা বোধিসত্ব মৈত্রেয় দেবের অশু অবির্ভাবের সম্ভাবনা বহু সহস্র শ্রনী ও শাবক লইয়া প্রতীক্ষা করিতেছেন। ব্রহ্মদেশের মিত্তি। প্রদেশে তিনি চতুর্দশী মঠ প্রতিষ্ঠা করিয়াছেন। তথায় ৯০ জন পুদি এবং সাত শত শি তঁাহার নির্দিষ্ট পথে জীবনযাত্রা নির্বাহ করিতেছেন।* যদি ইসলাম-ধর্মাবলম্বীদিগের প্রতি দৃষ্টিপাত করা যায়, তবে দেখা যায় যে, অনেক দরবেশ, ফকির ও মৌলভী অল্প কয়েক বৎসরের মধ্যে ইনাম মাদির আগমন-সম্ভাবনা ঘোষিত করিতেছেন। কেহ কেহ বলিতেছেন, হার অবির্ভাবকাল ১৯১৫ হইতে ১৯৪৭ খৃষ্টাব্দের মধ্যে। সুফি সম্প্রদায় ইসলাম ধর্মে বৈদান্তিকস্থানীয়। এই সুফিদিগের মধ্যে একটি ভবিষ্যদ্বাণী প্রচারিত আছে যে, ১৯১৭ খৃষ্টাব্দে একজন বিশিষ্ট অাচাৰ্য আবিভূত En Magyi Savadaw U Zaw Tika is but thirty-nine years of age ; he resides at Thain Daung Lill, near Wundwin, in the Maiktila District, Burma, and has organised fourteen groups of monasteries, with ninety priests and some seven hundred people, following the rule of life he has laid down. IIe proclaims the real coming of the Lord Maitreya, the Bodhisattva, and there are uearly fifty, thousand people in Burma who have accepted his m9sdage, and who are preparing, by meditation and the leading of & piire lifc, to welcome the coming Lorul. Themophist for Fabry, 1pt. p. 600. (২।
১৮ জগদ্গুরুর আবির্ভাব। হইবেন। সম্প্রতি মৌলানা হাসান নিজামি নামক দিল্লীর এক জন পরি- ব্রাজক মিসর, আরব ও পারস্যের নানা স্থানে ভ্রমণ করিয়া দেশে ফিরিয়া- ছেন এবং হজরত ইমাম মাদির আবির্ভাব-সম্বন্ধে এক খানি পুস্তিকা প্রচার করিয়াছেন। তাহার গ্রন্থের প্রতি দৃষ্টিপাত করিলে এই সম্ভাবনা মুসলমান দেশে কিরূপ বদ্ধমূল হইয়াছে, তাহা জানা যায়। খৃষ্টীয় জগতেও যীশু খৃষ্টের পুনরাগমন লইয়া নানা প্রসঙ্গ উখিত হই- যাহে। ইংলও, হাঙ্গেরী, সুইডেন, ইতালী প্রভৃতি দেশে এ সম্বন্ধে বহু পুস্তক ও পুস্তিকা প্রচারিত হইতেছে। । খৃষ্টীয় গির্জার বেদী হইতে "Molana Khaya Hasan Nizami, of Delhi", writes a correrpondent from India, "who has recently rsturned from a tour in Egypt, Arabia, and Persia, has issued a pamphlet entitled "Sheikh Sannusi and the coming of Hazrat Imam Mehdi.” In this booklet he gives an account of his travels in the various Mussulman countries and narrates the conversations which he had with several saints and Fakirs. He states that "the great Sheikus and Moulvis in these countries are eagerly expecting the advent of Imam Mehdi within the next few years." The date of this advent, the traveller was informed by a revered sage of Bikhara, Tras to be found in a very old book, named Maksum Bokhara, in the keeping of the Matwalli of Bokhara, library ; and the date there given wis the fourteenth Ssdi, in the second third of the century corresponding to the period betweon 1915 and 1917 according to western reckoning. A Sufi prophecy puts the date of the coming of a great Teacher at the year 1917.-Herald of the Star, vol. III p. 15. + Occasionully moreover we hear of suggestions of the near corning of the Christ being made by clerical writers. Most of us are now familiar with Canon Austen's sermon in which onr Protector's (Mrs B sant's ) pronouncem int was mentioned with interest and respect. From Hungary we learn of a book recently produce by a clergyman entitled Kregztus Eljovatele ( the coming of the দ্বিতীয় অধ্যায়। কোথাও কোথাও আচাৰ্য্যগণ এই সুসংবাদ ঘােষণা করিতেছেন। কিছু দিন হইল, মার্কিণ দেশের একখানি প্রসিদ্ধ সংবাদপত্রের সম্পাদক চতুর্দিকে এই প্রশ্নপত্র প্রচারিত করেন যে, জগতের ধর্মজীবনে নব জাগরণের নবীন উষা ফুটিয়া উঠিতেছে কি না? এই প্রসঙ্গের আন্দোলনে স্পষ্টই প্রতীয়- মান হইয়াছে যে, আমেরিকার বহু স্থানে আধ্যাত্মিক জীবনে নূতন ধৰ্ম্ম- বন্যার সম্ভাবনা সৰ্ব্বত্র পরিস্ফুট হইয়া উঠিতেছে এবং অনেকেই প্রত্যাশা করিতেছেন যে, মানব-আত্মা অচিরে এক কল্যাণময় নব জন্ম লাভ করিবে । ভারতবর্ষেরও নানাস্থানে এরূপ আশা-প্রতীক্ষা জাগরূক হইয়াছে। কেহ কল্কি অবতারের অশু আবির্ভাবের সম্ভাবনা করিতেছেন। বা চৈতন্যদেবের পুনরাগমন প্রচার করিতেছেন। ভারতের নানা সম্প্র- Christ). In Stockholm a well-known professor of the University of Upsola preached to the same effect as far back as 1910, while in Italy . Roman Catholic priest about a year ago produced a pamphlet with the significant title Albescit polus : Christus Venit.--Herald of the Star, vol. III, p. 113. The 'North American' recently sent to a number of persons interested in the religious situation a letter the gist of which is the following question-Does your observation of the present time lead you to beliove that some sort of spiritual awakening or uphemval or fresh expression is impending or imminent ? The discussion brings out two things very clearly. Firstly that there exists today on every side a definite and growing expectation of the near approach of some kind of general spiritual renaissance Secondly when this ronaissance comes it will be in literal truth a rebirth of the spirit. In Northern Iolis a Brahman (who knows no English and has never heard of the T. S or the Order of the Star in the East is preaching to a growing following the near advent of the Kalki Avatara who he declares is even now in the world and was a boy of 14 in the year 1910.-Herald of the Star, vol III. p. 53.
জগদগুরুর অাবির্ভাব। দায়ের সন্ন্যাসীদিগের মধ্যে এই কথা নানা ভাবে প্রচারিত হইতেছে। অদ্বৈতবাদী সন্ন্যাসী, নানক-পন্থী সন্ন্যাসী, নিম্বার্ক-সম্প্রদায়ী সন্ন্যাসী, ঐ সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসী, অনেকে অনেক ভাষায় অনেক ভাবে প্রচার করিতে ছেন যে, শীঘ্রই এমন কেহ আসিবেন, যাহার আগমনের ফলে পৃথিবী হরিনামময় হইয়া যাইবে।* যে ভারতবর্ষে যুগে যুগে নানা অবতার,সদ্গুরু, আচাৰ্য, মহাপুরুষ আবিভূত হইয়া ভারতের ধূলিকণা পবিত্র করিয়াছেন, সেখানে আর একবার যে তাহার আবির্ভাব হইবে, এ বিশ্বাস সহজ ও স্বাভাবিক। কিন্তু পাশ্চাত্য জগতের কঠোর বৈজ্ঞানিকদিগের মধ্যে যে এই বিশ্বাস ও সম্ভাবনা অদৃত হইবে, ইহা বিস্ময়ের বিষয় বটে। কিছু দিন হইল, ম্যাচেষ্টর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযােগী সভাপতি প্রসিদ্ধ বিজ্ঞানাচাৰ্য্য স্যার অলিভার লজ Beason and Belief নামে একখানি গ্রন্থ প্রকাশিত করেন। বৈজ্ঞানিক জগতে স্যার অলিভার লজের প্রতিষ্ঠা অল্প নহে। আমরা এ দেশে বিজ্ঞানাচার্য জগদীশচন্দ্র বসুকে যে অসনে উপবেশন করাইয়াছি, ইংলণ্ডে স্যার অলিভার লজ সেই আসনে সমাসীন। তিনি মহাপুরুষের আগমন-প্রতীক্ষার উল্লেখ করিয়া বলিতেছেন যে, এই অশীৰ অলােক ইতিমধ্যেই অকাশে ফুটিয়া উঠিয়াছে। নাট্যকার ও ভাবুকেরা উহুদ্ধ হইয়াছেন, জনসাধারণ জাগ্রত হইতেছে। এখনই দিব্যদ্রষ্টা কবিগণ পমাত্মার পুনরাবির্ভাব বা পুনরাগমন প্রতীক্ষায় তাহার আবাহনগাথা রচনা করিতেছেন—অাবার তাহার অাগমন প্যালেষ্টাইন বা এসিয়া মাই- * শুনিয়াছি, বৃন্দাবনের মহাপ্রতাপী সাধু কঠিয়া বাবা তাহার শিষদিগের নিকট অবা-আবর্ভাবের অাও সম্ভাবনা প্রচার করিয়াছেন। আমার এক মুনসেফ বন্ধু তিন অবস্থানকালে এক তেঃপুঞ্জ পাঞ্জাবী সন্ন্যাসীর মুখে ঔপ বােষণ। শুনিয়া- ছেন। আমি নিজেও দুই তিন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসীর মুখে ঐপ কথা শুনি দ্বিতীয় অধ্যায়। নরে হইবে না, কিন্তু এই আমাদের এই ইয়ােরােপে,—এই ইংলণ্ডে—এই লওন সহরে সম্ভব হইবে। অচিরে আমরা কবির স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত দেখিব যে, যীশুখৃষ্ট যুডিয়ার স্রোতে নয়, টেমসের জলে বিচরণ করিবেন। * অতএব আমরা যদি বলি যে, জগতের সর্বত্রই কোনও মহাপুরুষের আগমন-সম্ভাবনায় একটা উদগ্র অশা-প্রতীক্ষা জাগিয়া উঠিয়াছে, তবে তা বলা অসঙ্গত হইবে না। • . But reformers and dramatists are busy, people are waking up, there is hope in the air. Even now the seers and poets are preparing their songs to welcome a second advent of the Divina Spirit in the hearts of men--not in Palestine or Asia Minor, but bera in Europe, in Britain, in London : the time will surely come when we can feel that the further dream of the poet has been realised. And lo, Christ walking on the water Not of Geonetareth but Thames !' --Sir Oliver Lodge's Reason and Belief, p. 53.
২২ জগদ্গুরুর আবির্ভাব। তৃতীয় অধ্যায়। পূৰ্ব অধ্যায়ে আমরা দেখিয়াছি যে, কোন মহাপুরুষের আগমন- সম্ভাবনায় পৃথিবীময় একটা অশা-প্রতীক্ষা জাগিয়া উঠিয়াছে এবং কোথাও কোথাও তঁাহার আবির্ভাব সম্বন্ধে স্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী শ্রুত হইতেছে। এখন আমরা জিজ্ঞাসা করিতে চাই যে, এরূপ ভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করা যায় কি না? জগতের অতীত ইতিহাস অালোচনা করিলে দেখা যায় যে, মানবের সৌভাগ্যে অনেকবার এইরূপ মহাপুরুষের আগমন ঘটিয়াছে। সে অগিমন একটা অতর্কিত, আকস্মিক ঘটনা নহে। সেই সেই আবির্ভাবের পূর্বে ও এইরূপ ভবিষ্যদ্বাণী প্রচারিত হইয়াছিল এবং সে বাণী সফল ও সার্থক হইয়াছিল। অতএব এবারেও যে ভবিষ্যদ্বাণী করা যাইবে এবং তাহা সফল হইবে, ইহাতে বিচিত্র কি? এ সম্বন্ধে স্যার অলিভার লজ তাহার Reason and Belief গ্রন্থে, কয়েকটি সারগর্ভ কথা বলিয়াছেন, তাহা আমাদিগের প্রণিধানযােগ্য। যীশুখৃষ্ট অবিভূত হইবার পূর্বেও ইহুদী- দিগের মধ্যে এইরূপ ভবিষ্যদ্বাণীর জল্পনা-কল্পনা চলিতেছিল। ইহার প্রসঙ্গে স্যার অলিভার লজ বলিতেছেন * যে, যদি কেহ মনে করেন যে, * Do you think that such prophetic anticipation is impossible ? Do you think it absurd to suppose that such an event as the Incarnation was foreseen and heralded, in some fashion more or loua distinct ? If you think so, it is not to be wondered at, for the possibility of such foresight into futurity is a strange one. But T believe you are wrong if you think so, nevertheless. Facts are beginning to be known to me, still obscure and incomplete, which wad to show that even the birth of a human child, of ordinary parents, a child only remarkablo for the fullness and richness of - its nature and for the destiny soon to overtake it, was predicted, was shadowed forth in ways obucure but sabsequently unmistakable, তৃতীয় অধ্যায়। এরূপ ভবিষ্যদ্বাণী অসম্ভব, যদি মনে করেন যে, অবতারের মত একটি প্রধান ঘটনা পূৰ্ব্ব হইতে সূচিত ও বিজ্ঞাপিত হইতে পারে না, তবে তিনি ভ্রান্ত। কারণ, লজ সাহেব বলেন যে, তাহার নিজের অভিজ্ঞতার মধ্যেই এরূপ ঘটনা ঘটিয়াছে। অবতার নহে, দৈবশিশুও নহে; কিন্তু একটি বিচিত্রনিয়তিপূর্ণ মানবশিশুর ভাবী জন্ম ঐ ভাবে পূর্ব হইতে সূচিত ও বিজ্ঞাপিত হইয়াছিল। এ সূচনা কালে সত্যে পরিণত হয়। সেই জন্য লজ সাহেব বলেন যে, এ বিশ্বাস ক্রমশঃ তাহার বদ্ধমূল হইতেছে যে, স্থূল জগতে যে সকল ব্যাপার সংঘটিত হয়, তাহার সূচনা ও সংযোজনা প্রথমতঃ সূক্ষ্ম জগতে অনুষ্ঠিত হয়, অর্থাৎ জাগতিক ব্যাপার যদৃচ্ছালব্ধ নহে, অকস্মাৎ ঘটে না ; কিন্তু উদ্ধলােকে, সূক্ষ্মলোকে সেই সকল ঘটনার বীজ উপ্ত হইয়া অঙ্কুরিত হইলে, তবে স্থূললােকে (মর্ত্যভূমে) তাহারা আকার ধারণ করে। স্যার অলিভার লজের এই সকল উক্তির মধ্যে যথেষ্ট সত্য আছে। প্লেটো বলিতেন যে, স্থল জগৎ একটা ছায়াবাজী (Shadow play) মাত্র। যাহারা সত্যকারের অভিনেতা-অভিনেত্রী তাহারা সূক্ষ্ম জগতে প্রচ্ছন্ন থাকিয়া যে ব্যাপার করেন—হারই ছায়া স্থূল জগতে আমাদের চক্ষে সত্য ঘটনা বলিয়া প্রতিভাত হয়। বাস্তবিক দৃষ্ট অপেক্ষা অ-দৃষ্ট অনেক বড়। সেই জন্য আমরা পুরাণাদিতে পাঠ করি যে, বিষ্ণু অবতীর্ণ হইবার পূর্বে দেবগণ ব্রহ্মাকে লইয়া ক্ষীবােদতীরে বিষ্ণুর নিকট উপস্থিত হন এবং ভূভার হরণের জন্য তাহার অবতার-গ্রহণ প্রার্থনা করেন। বিষ্ণু বলেন, “যাত হ্যায়’ several years before birth. It is not a subject on which dogmatian is appropriate ; but the conclusion at which I am gradually arriv, ing is that future avents are planned, and are not haphazard and unforeseen ; that arrangement is possible in other spheros than onra, just as design and foresight are possible among humın beings--anticipation and heraldings of a kind far above our prenout power, it is true, but of the same gen-ral character. Sir Oliver Lodge'. Reason and Belief, P, 79.
২৪ জগদ্গুরুর আবির্ভাব। তোমরা ফিরিয়া যাও, আমি শীঘ্র অবতীর্ণ হইয়া দেবকার্য সম্পাদন করব। এরূপে সূক্ষ্ম জগতে অবতারের বীজ অঙ্কুরিত হইলে তবে স্থূল জগতে তাহ শীরাম বা শ্রীকৃষ্ণ বা যীশুখৃষ্টরূপে প্রকাশিত হয়। অার ইহাও লক্ষ্য করিবার বিষয় যে, আজ পর্যন্ত জগতে যে কোনও অবতার বা মহাপুরুষের আবির্ভাব হইয়াছে, তাহারই অাগমনের পূর্বসূচী- স্বরূপ ভবিষ্যদ্বাণী প্রচারিত হইয়াছিল। রাম না হইতে রামায়ণের কথা সকলেই শুনিয়াছেন। ইহার অর্থ এই যে, রামচন্দ্র আবির্ভূত হইবার বহু পূৰ্ব্ব হইতে ঋষিরা তাহার আগমনবার্তা জানিয়াছিলেন এবং প্রচার করিয়াছিলেন। এ কথার অামরা বিস্তার করিব না। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ, বুদ্ধদেব যীশুখৃষ্ট ও চৈতন্যদেব সম্বন্ধে যে ভবিষ্যদ্বাণী প্রচারিত ছিল এবং তাহা- দিগের আগমনের জন্য পূর্ব হইতে যে উদ্যোগ-আয়োজন চলিয়াছিল, এখনে তাহারই সংক্ষেপে আলােচনা করিব। ভাগবত-পুরাণে শ্রীকৃষ্ণের যে জন্ম-বৃত্তান্ত রক্ষিত হইয়াছে, তাহা হইতে দেখিতে পাওয়া যায় যে, ঐকৃষ্ণ অবতীর্ণ হইবার অন্ততঃ ১০১২ বৎসর পূৰ্ব্বে তাহার আবির্ভাব-সংবাদ ঘােষিত হইয়াছিল। সকলেই জানেন, শ্রীকৃষ্ণ বসুদেব ও দেবকীর অষ্টম সন্তান। দেবকী ভােজরাজ কংসের সম্পর্কে ভগ্নী ছিলেন। কংসের রাজধানী মথুরানগরে দেবকী ও বসুদেবের শুভ পরিণয় সমারােহে সম্পন্ন হইবার পর বর ও বধূ একরথে আরােহণ করিয়া স্বগৃহে গমনের উদবেগ করিলেন। এমন সময় কংস ভগ্নীর প্রিয়সাধন জন্য নিজে রথারােহণ করিয়া অশ্বের বগা গ্রহণ করিল। রথ কিছু দূর অগ্রসর হইলে কংস সুস্পষ্ট দৈববাণী শুনিতে পাইল—“রে ঢ় ! তুমি যাহাকে সাদরে রথারােহণ করাইয়াছ, ইহারই অষ্টম গর্ভের সস্তান তােমার প্রাণবধ করিবে।” এই আকাশবা শুনিয়া ভােজকুল- কলঙ্ক পাপী কংস ভগ্নীর কেশকর্ষণ করিয়া ও নিষ্কাশন পূর্বক তাহার প্রণবধে উদ্যত হইল।
তৃতীয় অধ্যায়। তথ্য হচিচ্ছোরিবসুদেব কৃতােহ। দেবকা সূর্যায় সার্ফ প্রয়াণে রখমারুহৎ। উগ্রসেনসুত: কংসঃ মৃঃ প্রিয়চিকীর্ষয়া । বুখীন হয়নাং জগৃহে রোক্সে রথশবৃৈতঃ। পৰি প্ৰহিণং কংসমাভাষাহাশরীর। অামষ্টনী গর্ভে। হন্তা যাং বহসেইবুধ। উক্ত: স খল পাপাে ভেজানাং কুলপাসন। ভগিনী; হত্তমারব্ধ: খড়গপাণিঃ কচেইগ্রহীৎ।” -শ্রীমদ্ভাগবত, ১•১/২০,২১, ১৩, ২৪। পরে বসুদেব অনেক বুঝাইয়া তাহাকে সান্ত্বনা করিলেন এবং এই প্রতিজ্ঞা করিয়া পত্নীর প্রাণ-রক্ষা করিলেন যে, যেমন যেমন দেবকী সন্তান উৎপন্ন হইবে, তিনি তাহাদিগকে কংসের হস্তে সমর্পণ করিবেন। কংস কিরূপ নৃশংসভাবে দেবকীর প্রথম সাত পুত্রকে হত্যা করিয়াছিল এবং কিরূপ দৈব উপায়ে দেবকীর অষ্টম গর্ভজাত ‘মায়ামানুষ-বিগ্রহ শ্রীকৃষ্ণ সেই ঘাতকের হস্ত এড়াইয়া গোকুলে বৰ্ধিত হইয়াছিলেন এবং পরে কংসের বধ-সাধন করিয়া বহুবর্ষ পূৰ্ব্বে উচ্চারিত দৈববাণীর সফলতা করিয়াছিলেন, পুরাণজ্ঞ পাঠকের তাহা অবিদিত নাই। এইরূপ বুদ্ধদেবের আবির্ভাব সম্বন্ধে জাতকনিদানে লিখিত আছে যে, কোনও সময় স্বর্গবাসী কামদেবগণ ছদ্মবেশ ধারণ করিয়া মর্ত্যলােকে আগ- মন-পূৰ্ব্বক ঘােষণা করিয়াছিলেন–সহস্র বৎসর অতীত হইলে সৰ্ব্বজ্ঞ বৃদ্ধ পুনরায় পৃথিবীতে উৎপন্ন হইবেন :-- কামর দেবতা আহ---‘স সহ অঙ্গনে পন সঝ বুলােকে উল্লসিসতীতি।” অন্যত্রবুদ্ধ-জননী মায়াদেবীর গর্ভধারণ সম্বন্ধে যে বিবরণ লিখিত আছে, তাহা হইতেও দেখা যায় যে, তিনি আবির্ভূত হইবার পূর্ব হইতেই ধৰ্ম্মরাজ্যে তাঁহ র চক্রবর্তিত্ব যােবিত হইয়াছিল। সে বিবরণের সংক্ষেপ বৃত্তান্ত এই :
গরুর আবির্ভাব। কোনও সময়ে কপিলাবস্তু নগরে উত্তরাষাঢ়া নক্ষত্র সংযুক্ত হইলে, লােকেরা নক্ষত্র-ক্রীড়া করিতেছিল। মায়াদেবী পূর্ণিমার সপ্ত দিবস পূৰ্ব্ব হইতেই শুচি ৪ সংযতা হইয়া গন্ধমাল্য-বিলেপন ধরণ পূৰ্ব্বক নক্ষত্ৰক্রীড়া অনুভব করিলেন। অনন্তর সপ্তম দিবসে প্রত্যুষে উঠিয়া গন্ধোদকে স্নান করিলেন। পরে বহুসংখ্যক সুবর্ণ দান করতঃ সৰ্বালঙ্কারভূষিত হইয়া, উত্তম খাদ্য ভােজন করিয়া সুসজ্জিত প্রকোষ্ঠে প্রবেশ করিলেন এবং সুসজ্জিত শয্যায় শয়ন করিয়া নিদ্রাভিভূত হইলেন। সপ্তম দিবসে পাতে উষ্ট্রীয় গন্ধোদকেন নহায়ি মহাদানং দ্যা সঝালঙ্কার- বিভূষিতা বরভােজনং ভূঞ্জিৰা উপোসখাঙ্গানি অধিষ্ট্রীয় সিরিগৰু পৰিসি। সিরিয়নে নিপ্পন্না নিন্দং মানা ইমং সুপিন অদ্দস। নিদ্রাবস্থায় মায়াদেবী এইরূপ স্বপ্ন দেখিলেন—যেন চারিজন দেবরাজ শয্যাসহ তাহাকে উঠাইয়া হিমালয়ের কোনও প্রদেশে বহন করিয়া লইয়া গিয়া, এক মহাশালবৃক্ষের তলে তাহাকে স্থাপিত করিলেন। তাহার পর যেন দেবীগণ আসিয়া মহাদেবীকে দিব্য হ্রদে স্নান করাইয়া দিব্য বস্ত্র ও অমু- লেপনে এবং দিব্যমাল্যে ভূষিত করাইয়া এক রজত-পৰ্ব্বতের শিখরদেশে দিব্য শয্যায় শয়ন করাইলেন। অনন্তর যেন এক শ্বেত কুঞ্জর কোনও সুবৰ্ণ পৰ্বত হইতে অবতরণ করিয়া সেই রজত-পৰ্বতে আবােহণ করিলেন এবং শুগু দ্বারা শ্বেতপদ্ম গ্রহণ করিয়া মায়াদেবীর শয্যাকে তিন বার প্রদক্ষিণ করিয়া, তাহার দক্ষিণ পার্শ্ব ভেদ করিয়া গর্ভমধ্যে প্রবিষ্ট হইলেন। অণ বােধিসততা সেতবরবারণে হয় ততাে অবিদূরে একো সুবপঝতে তলস চরিত্বা ততো ওয়োহয় রজতপতং অভিবােহিয়া উত্তর দিসতো আগ রজতামায় সােয় সেতপদুমং গহে কুঞ্চনাদং নদিজা কনকবিমানং পবিসিত্ব মাতুসরনং তি- খ পাখিণং কা দখিনং পদসং কালো কুচ্ছ পৰিঠে। সদিসে অহোসি। রাণী মায়াদেবী জাগরিত হইয়া সেই স্বপ্নবৃত্তান্ত শুদ্ধোদন রাজাকে নিবেদন করিলেন। রাজা চৌষটি জন দৈবজ্ঞ ব্রাহ্মণকে ভাকাইয়া তাহা- দিগের সহিত স্বপ্নবৃত্তান্ত আলােচনা করিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন—“ইহার তৃতীয় অধ্যায়। ২৭ এরা কি হইবে? ব্রাহ্মণগণ বলিলেন,—“মহারাজ, চিন্তা করবেন না। মহারাণী একটী পুত্ররত্ন প্রসব করিবেন। সেই পুত্র যদি গৃহস্থাশ্রমে থাকেন, তবে চক্রবর্তী রাজা হইবেন; আর যদি সন্ন্যাসী হন, তবে বুদ্ধ হইবেন। পুণদিবসে পবুদ্ধদেবী নং সুপিং রঞেঞা আরােচেতি রাজা চতুসী টমত্তে ব্রাহ্মণ পমােখে পকোসাপে অথ নেসং সব্ব কামেহি সন্তল্পিতানং সুপিং আরােচা- পে কিং ভষিসসতীতি পুচ্ছি। ব্রাহ্মণ। আহংসু মা চিন্তয়ি মহারাজ দেবিয়া তে কুচ্ছিমিহ গৱো পতিটিতে। পুতো তে ভবিসসতি। স চে অগারং অঙ্গ- বসিসতি রাজা ভবিসতি চকবী, স চে অগারা নিন্ম পজিতি বুদ্ধে। ভৰিসতি। খৃষ্টানদিগের ধর্মগ্রন্থ বাইবেলের আলােচনা করিলে দেখা যায় যে, তাঁহাদিগের যিনি অবতার যীশুখৃষ্ট, তাহারও আবির্ভাব পূৰ্ব্ব হইতেই সূচিত হইয়াছিল। ইহুদীদিগের ধর্মগ্রন্থ Old Testamentএর কয়েক স্থলে, বিশেষতঃ ইসায়ার নামের সহিত সংযুক্ত গ্রন্থখণ্ডে একজন Messiah বা পরিত্রাতার আগমনের পূর্বসূচী প্রচারিত ছিল। এই সকল ভবিষ্যদ্বাণীর প্রতি লক্ষ্য করিয়া যীশুখৃষ্ট তাহার জন্মগ্রাম নেজারথে উপস্থিত হইয়া ধৰ্ম্ম-মন্দিরে ধর্মব্যাখ্যানকালে একদিন স্পষ্ট বলিয়াছিলেন যে, ইসায়ার ভবিষ্যদ্বাণী অাজ অামাতে সার্থকতা লাভ করিয়াছে। * লিউকলিখিত সুসমাচার হইতে এই বিবরণ আমরা নিম্নে উদ্ধৃত করিয়া দিলাম- And he came to Nazareth, where he had been brought up. And, as his custom was, he went into the syuagogue on the sabbath day, and stood up for to read. And there was delivered unto him the book of the prophet Esaias. And when he had opened the book, he found the place where it was written : "The spirit of the Lord is upon me, because ho hath anointed me to preach the Gospel to the poor ; he hath sent me to heal the broken hoartei, to preach deliverance of the captives, and recovering of sight to the blind, to act at liberty then that are banished, to preach the acceptable Year of the Lord !
২৮ জগদ্গুরুর আবির্ভাব। যীশুখৃষ্ট আবির্ভূত হইবার পূর্বে আর এক মহাজন জন্মগ্রহণ করিয়া- ছিলেন। খৃষ্টানেরা তাঁহাকে John the Baptist বলেন। তিনি ভােগবিলাস পরিত্যাগ করিয়া সন্ন্যাসীর বেশে ইহুদীদেশময় প্রচার করিয়া বেড়াইতেন। অনেক পাপী তাপী পাপমােচনের জন্য তাঁহার নিকট দীক্ষিত হইত। তাহাদিগকে জন মুক্তস্বরে ঘােষণা করতেন যে, “আমি পূৰ্ব্বদূত মাত্র,—আমার পর এমন কোনও মহাপুরুষ আসিতেছেন, যাঁহার পদরেণুরও আমি যােগ্য নহি। আমি তােমাদিগকে সলিল দ্বারা দীক্ষা দিলাম। তিনি তােমাদিগকে উচ্চতর দীক্ষায় দীক্ষিত করিবেন।” এই জনের ধৰ্ম্মপূত জীবন এবং একনিষ্ঠা দেখিয়া ইহুদীরা তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিত,-যে খৃষ্টের আবির্ভাব আমাদের শাস্ত্রে সূচিত আছে, আপনিই কি সেই খৃষ্ট ?” জন বলিতেন—“আমি খুষ্ট নহি ; আমি তাহার পূর্বসূচী--তার ঘোষকমাত্র।” ইহুদীরা বলিত যে, “তুমি যদি খৃষ্ট নহ, তবে লােকদিগকে দীক্ষা দিতেছ কেন ?' জন বলিতেন--“আমি সলিলের দীক্ষা দিই মাত্র ; কিন্তু একজন মহাভু আসিতেছেন, আমি যাহার দাসমাত্র ; তিনি তােমা- দিগকে অগ্নিদীক্ষায় দীক্ষিত করিবেন। আমি তাহার পন্থ রচনা করিবার জন্য প্রেরিত হইয়াছি।” কখনও জন বলিতেন—“তিনি আসিয়াছেন । তিনি তােমাদের মধ্যে আবির্ভূত হইয়াছেন। তিনি আমার অপেক্ষা এত মহত্তর যে, আমি তাঁহার পাদুকা স্পর্শ করিবারও যােগ্য নহি।” * ; And he closed the book, and he gave it again to the minister and sat down. And the eyes of all of them that were in the synagogue wore fastened on him. Ant he began to say unto them--this day is the Scripture fulalled in your ears.Lake iv. * John the baptistএর এই সকল বিবরণ New Testament এন্থের নাম- স্থানে বিক্ষিপ্ত আছে। আমরা এই পাদটীকায় তাহার কয়েকটা সংগ্রহ করিয়া দিলাম।
তৃতীয় অন্যায়। New Testament গ্রন্থে এই John the Baptistএর যেজন্ম-বৃত্তান্ত লিখিত আছে, তাহা হইতে জানা যায় যে, এই মহাপুরুষেরও আগমন পূর্ব হইতে সূচিত হইয়াছিল। সে বিবরণ এইরূপ :-জুডিয়া দেশে জ্যাকেরিয়া নামে এক ভগবদ্ভক্ত সাধু বাস করিতেন। তাঁহার পত্নীর নাম ছিল এলিজা- বেথ। ইহুদী-দম্পতি ধৰ্ম্মীল, সচ্চরিত্র এবং নির্দোষ জীবন যাপন করিতেন। উভয়েই প্রৌঢ় বয়সের সীমা অতিক্রম করিয়াছিলেন; কিন্তু তাহাদিগের we John did baptise in the wilderness and proach the baptism of repentance for the remission of sins. And there went unto him all the land of Judæa, and they of Jerusalem ; and were all baptized of him in the river of Jordan confessing their sins. And John was clothed with camel's hair and with a girdle of skin about his loius ; and he did eat locusts and wild honey. And (he) prencked, saying, There cometh one mightier than I after: me, the latchet of whose shows I am not worthy to stoop down and wuloose. I indeed have sbaptized you with water : but he shall baptise you with the Holy Ghost. Mark L. And this is the record of John. When the Jews sont priests and Levites from Jerusalem to ask him, who art thou ? And he confessed, and denied not ; but confess-d, I am not the Christ, And they asked him, what then ? Art thou Elias ? And he saith, I am not. Art thou that prophet ? And he answered No. Then said they unto him, who art thou ? that we may give an answer to them that sent us. What sayest thou of thyself ? He said, I am 'the voice of one crying in the wildernesa, Make straight the way of the Lord' as said the prophet Esaias, And they which were sent were of the Pharisees. And they anked him, and said unto him, why baptizest thou then, if thou be not that Christ, nor Elias, neither that prophet ? John answered then, Aayhan. 'I baptise with water : but there stand-th among you, whom ye know not, be it is' who coming after me is preferred before me, whose shoe's laclet I am not worthy to ruloose. Jobu I ORO জগদ্গুরুর আবির্ভাব। কোনও সন্তানাদি হয় নাই। এক দিন জ্যাকেরিয়া দিনকৃত্য সমাপন করিয়া সমাসীন আছেন, এমন সময়ে এক স্বর্গদূত তাহার সম্মুখে আবির্ভূত হই- লেন। জ্যাকেরিয়া ভীত হইয়া তাঁহাকে প্রণাম করিলেন। দেবদূত বলিলেন, “জ্যাকেরিয়া! ভয় পাই না। তােমার পত্নী এলিজাবেথ শীঘ্রই গর্ভিণী হইবেন এবং তাহার জন্ নামে একটী পুত্র উৎপন্ন হইবে। জনের জন্মে বহুজন আনন্দিত হইবে, কারণ, জন্ সংসার-ত্যাগী সাধু হইবেন এবং সর্বদা ভগবদ্ভাবে বিভাের থাকিবেন এবং ভগবানের দৃষ্টিতে তিনি ক্ষুদ্র বলিয়া বিবেচিত হইবেন না।” অতএব অমিরা দেখিতেছি, কেবল যীশুখৃষ্ট নহে, তাহার অাগমন-ঘোষক যে John the Baptist, তাহারও আবির্ভাব পূৰ্ব্ব হইতেই ঘােধিত হইয়াছিল। '? * খৃষ্টানদিগের ধগ্রন্থ বাইবেল হইতে আমরা এই বিবরণ ত করিয়া দিলাম :- There was in the days of Herod, the King of Judca, a certain priest named Zacharias, of the house of Abia : and his wife was one of the daughters of Aaron and her name was Elisabeth. Anil they were both righteous before God, walking in all the command. ments and ordinancer of the Lord blameless. And they had no child because that Elisabeth was barrer., and they both were now well striken in years. And it came to pass, that while he execated the priest's office before God in the order of his course. And there appeared unto him an angel of the Lord standing on the right side of the altar of incense. And when Zacharias saw him, he was troubled, and fear fell upon him. But the angel said unto him, Fear not, Zacharias ; for thy prayer is heart ; and thy wife Elisabeth shall bear thee a son and thou shalt call his name Joha. And thou shalt have joy and gladness; and many shall prjnice at his birth. For he shall be great in the sight of the Lord, and · shall drink neither wine nor strong drink ; and be shall be blled with the Holy Ghost even from his mother's womb. --Like T.
তৃতীয় অধ্যায় । অামাদের এই বঙ্গদেশে ৪০০ শত বৎসর পূর্বে যে জীবন্ত ধৰ্মনাটক অভিনীত হইয়াছিল, তাহার নায়ক শ্রীচৈতন্যদেব সম্বন্ধেও এই কথা বলা বায়। চৈতন্য-ভাগবত, চৈতন্যচরিতামৃত প্রভৃতি প্রামাণিক বৈষ্ণব গ্রন্থে ঐচৈতন্যের যে সকল বিবরণ লিপিবদ্ধ হইয়াছে, তাহার প্রতি দৃষ্টিপাত করিলে সন্দেহ থাকে না যে, চৈতন্যদেব আবির্ভূত হইবার বহুপূৰ্ব্ব হইতেই তাহার অগিমন-সংবাদ বিজ্ঞাপিত হইয়াছিল। সকলেই জানেন যে, চৈতন্য-ধৰ্ম্মের পূৰ্ব্ব-সূচী শ্রীমাধবেন্দ্র পুরী। তিনি চৈতন্যদেবের গুরুর জয় জয় মাপুরী কৃষ্ণপ্রেমপুর। ভক্তি-কল্পতরুর তেঁহ প্রথম অক্ষুর চৈ, চ। ভক্তিরসে আদি মাধবেন্দ্র মূত্ৰধার। গৌরচন্দ্র ইহা কহিয়াছেন বারবার। চৈ, ভা। যে সময় দেশ ভক্তিবর্জিত ছিল, যে সময় শুদ্ধ-তর্ক সরস-ধম্মের স্থান অধিকার করিয়াছিল, তখনও মাধবেন্দ্রের হৃদয়ে প্রেম-নিঝর সতত প্ৰবা- হিত থাকিত। তখনেও মাধবেন্দ্র চৈত-কৃপায়। প্রেম-সুখ-সিন্ধু-মাঝে ভাসেন সদায় । নিরবধি দেহে রােমহর্ষ, অ, কম্প। হকার, গর্জন, মহাহা, স্তন্ত, ঘর্ষ। পণ্ডিত-সমাজ কৃষ্ণভক্তি-বর্জিত দেখিয়া মধবেন্দ্র পুরী বৃন্দাবনে বাস করিলেন। সেখানে স্বপ্ন দেশ পাইয়া তিনি ব্রজের স্থাপিত প্রাচীন গােপাল-বিগ্রহ উদ্ধার করিয়া গিরিগােবর্ধনে স্থাপনা করিলেন। এইরূপে বৃন্দাবনের কাৰ্য শেষ হইলে নবদ্বীপে, শান্তিপুরে, নীলাচলে, পুরুষে''কৃশ- জগদ্গুরুর আবির্ভাব। ক্ষেত্রে ভক্তির বীজ বপন করিবার জন্য আদেশ পাইয়া মাধবেন্দ্র বঙ্গদেশে আগমন করিলেন; পরে- শান্তিপুর আইলা জল অদ্বৈতের ঘরে। পুরীর প্রেম দেখি আচাৰ্য আনন্দ অন্তরে। তার ঠাই মন্ত্র সইল যতন করিয়া , চলিল। দক্ষিণে পুরী ভারে দীক্ষা দিয়া। ৮। এই অৰৈত আচার্যের প্রতি একবার আমাদের লক্ষ্য স্থির করা উচিত। কারণ, খৃষ্ট-লীলায় John the Baptist এর যে স্থান, চৈতন্য- লীলায় অদ্বৈত প্রভুর সেই স্থান। চৈতন্যের আবির্ভাবের বহু দিন পূর্ব হইতে এই ভাগবতেত্তিম অদ্বৈতাচাৰ্য জানিয়াছিলেন যে, শ্রীকৃষ্ণ আবার অবিষ্ঠত হইবেন এবং সেই নীরসতা ও নাস্তিকলর যুগে তিনি মুক্তক প্রচার করিতেন যে, শ্রীকৃষ্ণ আবার আবির্ভূত হইবেন। ওন নিবাস! গঙ্গাদান শুক্লাম্বর। করাইৰ কৃষ্ণ সর্ব-নয়ন গাচর। সভা উদ্ধারিব কৃষ, আপনে আসি। বুঝাইব কৃষ্ণভক্তি তােমা সভা লৈয়া । এইমত অন্বেত বােলেন অক্ষণ। “আসিতেছে এই মাের প্রভু চক্রধর। সেৰি বা কি হয় এই নদীয়া ভিতর। করাইযু কৃষ্ণ সৰ্ব্ব-নয়ন-গােচর। তবে সে অদ্বৈত নাম কৃষ্ণের কিঙ্কর। আর দিন কথাে গিয়া থাক ভাই সৰ। এখাই দেখিবা সৰ, কৃষ্ণ কাৰ। চৈতন্যভাগবত। চৈতন্যদেবের ভাবী অবতার-সংবাদ আর একজন মহাপুরুষের নিকটও
তৃতীয় অধ্যায়।
বিদিত ছিল। তিনি শ্রীনিত্যানন্দ। রাঢ়দেশে একচাকা গ্রামে তাহার
ঘর। বৈষ্ণবগ্রন্থে লিখিত আছে :-
যেদিন জন্মিলা নবদ্বীপে গগৗরচন্দ্র।
রাঢ়ে থাকি হুঙ্কার করিলা নিত্যানন্দ
শৈশবে নিত্যানন্দ কেবল কৃষ্ণলীলা লইয়া খেলা করিতেন :-
সভে বােলে নাহি দেখি হেনমত খেলা।
কেমনে জানিল শিশু এত কৃষ্ণলীলা।
নিত্যানন্দের যখন ১২ বৎসর বয়স, তখন এক সন্ন্যাসী আসিয়া তঁাহাকে
তাঁহার পিতার নিকট হইতে ভিক্ষা করিয়া লন। পরে তিনি ২০ বৎসর
নানা তীর্থ পৰ্যটন করিয়া অবশেষে মথুরায় আসিয়া উপনীত হন।
সেই খানে শ্রীগৌরাঙ্গের প্রকাশের অপেক্ষা করিয়া তিনি অপেক্ষা করিতে
লাগিলেন। তাঁহার উদ্দেশ্য এই যে, যখন চৈতন্যের দেহে শ্রীকৃষ্ণের
আবেশ আরম্ভ হইবে, তখনই তিনি তাহার সহিত মিলিত হইয়া লীলায়
যােগ দিবেন।
এই মত তীর্থ ভ্রমি নিত্যানন্দ রায়।
পুনর্বার আসিয়া মিলিলা মথুরায় ।
নিরবধি বৃন্দাবনে করেন বসতি।
কৃষ্ণের আবেশে না জানেন দিবারাতি।
আহার নাহিক-কদাচিৎ দুগ্ধপান।
সেহাে যদি অযাচিত কেহো করে দান।
নবদ্বীপে গৌরচন্দ্র আছে গুপ্ত ভাবে।
ইহা নিত্যানন্দ স্বরূপের মনে জাগে।
‘আপন ঐশ্বৰ্য্য প্রভু প্রাশিমে যবে ।
আমি গিয়া করিমু আপন সেবা তবে।”
এই মানসিক করি নিত্যানন্দ রায়।
মথুরা ছাড়িয়া নবদ্বীপে নাহি যায় ।
৩
জগদ্গুরুর আবির্ভাব। নিরবধি বিহরয়ে কালিন্দীর জলে। শিত সঙ্গে বৃন্দাবনে ধূলা খেলা খেলে। কাল পূর্ণ হইলে শ্রীগৌরাঙ্গ নবদ্বীপে প্রকাশ হইলেন। আর নিত্যা- নল স্থির থাকিতে পারিলেন না। এই মত বৃন্দাবনে বৈসে নিত্যানন্দ। নবীপে প্রকাশ হইলা গৌরচন্দ্র। নিরন্তর সঙ্কীৰ্ত্তন পরম আনন্দ। দুঃখ পায় প্রভু না দেখিয়া নিত্যানন্দ। নিত্যানন্দ জানিলেন প্রভুর প্রাণ। যে অবধি লাগি করে বৃন্দাবনে বাস। জানিয়া আইলা ঝাট নবদ্বীপ পুরে। আসিয়া রহিল নন-আচার্যের ঘরে। মহাপ্রভু জানিলেন যে, তাঁহার সঙ্গী ও সহচর নবদ্বীপে আসিয়াছেন। তখন তিনি স্বগণ সহিত নন্দন-আচার্যের গৃহে উপস্থিত হইলেন। বসিয়া আছয়ে এক পুরুষ রতন। সবে দেখিলেন—যেন কোটি-সূৰ্য্য সম। অলক্ষিত-আবেশ-বুঝন নাহি যায়। ধ্যানমুখে পরিপূর্ণ হাসয়ে সদায়। মহাভতিযােগ প্রভু বুঝিয়া ভঁাহার। গণ-সহ বিশ্বৰ হৈ নমস্কার । সমে রহিলা সর্বগণ দাতাইয়া। কেহহ কিছু না বােলয়ে রহিল চাহিয়া। সম্মুখে রহিলা মহাপ্রভু বির। চিনিলেন নিত্যানন্দ-প্রাণের ঈশ্বর। এইরূপে দুই প্রভুর পার্থিব জগতে পুনর্মিলন হইল। সে মিলন- ব্যাপারে আমরা এখানে আলােচনা করিব না। তবে আমাদের লক্ষ্য করিবার বিষয় এই যে, অন্যান্য মহাপুরুষের ন্যায় চৈতন্যদেবের আবি- তৃতীয় অধ্যায়। ভাবের পূর্বেও তাহার অন্তরঙ্গ ভক্তগণ জানিতেন এবং প্রচার করিতেন যে, তিনি আসিবেন। অতএব এবারে আমরা যে জগদ্গুরুর আগমন প্রতীক্ষা করিতেছি, তাহার আগমনও যে পূৰ্ব্ব হইতে সূচিত হইবে, এবং তাঁহাকে অভ্যর্থনা করিবার জন্য জগৎকে পূর্ব হইতে প্রস্তুত করা হইবে, ইহাতে বিচিত্র কি?
জগদগুরুর আবির্ভাব। চতুর্থ অধ্যায়। যে মহাপুরুষের আগমন আমরা প্রতীক্ষা করিতেছি, যাহাকে স্বাগত সম্ভাষণের জন্য কবিগণ আবাহন-গান করিতেছেন, যাহার প্রত্যাশায় জগৎ উদগ্রীব হইয়া আছে, তিনি কে? তিনি অবতার নহেন। অবতার বলিলে আমরা কি বুঝি? অপ্রাকৃত ধাম হইতে ভগবানের প্রাকৃত ধামে ( মর্ত্যভূমে) অবতরণ-চিন্ময় পরমাত্মার ‘মায়ামানুষবিগ্রহ-গ্রহণ। এ ঘটনা জগতে কদাচিৎ সংঘটিত হয়। আমরা যাহার আগমন প্রতীক্ষা করিতেছি, তিনি এরূপ অবতার নহেন। তবে ভাগবত পুরাণ বলিয়াছেন —“অবতারা হ্যসংখ্যেয়া'—অবতারের সংখ্যা নাই। সেই জন্য ভাগবত ব্যাসদেব, ঋষভদেব প্রভৃতিকে অবতারের মধ্যে গণনা করিয়াছেন। অর্থাৎ যাহারই মধ্যে ভগবানের বিভূতি বিশেষ ভাবে প্রকাশিত, ভাগবতের মতে তিনিই অবতার। যে মহাপুরুষ আবির্ভূত হইবেন, এ ভাবে সঁহাকেও অবতার বলা যাইতে পারে। তবে আমার মনে হয় যে, ‘অবতার শব্দ এ সকল স্থলে প্রয়ােগ না করিয়া, এই সকল জীবন্মুক্ত মহাপুরুষকে ‘উত্তার’ বলিলেই সঙ্গত হয়। কারণ, এক্ষেত্রে ভগবান অপ্রাকৃত ধাম হইতে প্রাকৃত মৰ্ত্ত ধামে অবতরণ করেন না। কিন্তু সাধনার বলে যাহারা মায়ামুক্ত হইয়া মানবের নিম্নভূমি হইতে মহাত্মার উচ্চ পদবীতে উত্তরণ করিয়াছেন, তাঁহারাই জগতের হিতার্থে, ভগবানের পালনকার্য্যে সহায়তার জন্য মর্ত্যলােকে আবির্ভূত হন। তাঁহারা মহর্ষি, পরমর্ষি প্রভৃতি আখ্যায় পরিচিত, কিন্তু “অবতার সংজ্ঞা তাঁহাদের প্রাপ্য নহে। এখন আমাদের জিজ্ঞাস্য এই যে, যিনি আসিবেন, তিনি কে? তিনি আমাদের পুরাণ-পরিচিত পরমর্ষি মৈত্রেয় দেবঋষিসংঘের এক জন প্রধান সদস্য। ঋষি-সংঘের কথা আমরা পরে বলিব এবং ঋষি-সংঘে মৈত্রেয়- চতুর্থ অধ্যায়। দেবের স্থান কোথায়, তাহারও আলােচনা করিব। সম্প্রতি শাস্ত্রগ্রন্থে মৈত্রেয়দেবের কি পরিচয় পাওয়া যায়, তাহাই আমাদের আলােচ্য। প্রথমতঃ আমরা বিষ্ণুপুরাণেই মৈত্রেয়দেবের পরিচয় পাই। সেখানে তিনি পরাশর-শিষ্য। অনেকেই অবগত আছেন যে, বিষ্ণুপুরাণ পরাশর ও মৈত্রেয়-সংবাদ (dialogue) রূপে প্রচলিত হইয়াছে। বিষ্ণুপুরাণের আরম্ভে আমরা দেখিতে পাই যে, বশিষ্ঠের পৌত্র বেদবেদাঙ্গপারগ ইতিহাস- পুরাণজ্ঞ মুনিবর পরাশরকে মৈত্রেয় এক দিন তত্ত্ববিদ্যা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসু হইয়া কয়েকটি প্রশ্ন করিয়াছিলেন। তাহারই উত্তরে পরাশর দেব বশিষ্ঠের নিকট হইতে অধিগত পুরাণসংহিতা মৈত্রেয়ের নিকট প্রকাশিত করিয়া- ছিলেন। ইহাই এখন বিষ্ণুপুরাণ নামে প্রচলিত। ইতিহাসপুরাণজ্ঞং বেদবদাঙ্গপারগ। ধর্মশাস্ত্রাদিতত্ত্বজ্ঞং বশিষ্ঠতনয়াজ। পরাশর মুনিবরং কৃতপূৰ্বাহিকক্রিয়। মৈত্রেয়ঃ পরিপপ্রচ্ছ প্রণিপত্যাভিবাদ্য চ ॥ ত্ববো হি বেদাধ্যয়নমধীতমখিলং গুরাে। ধর্মশাস্ত্রাণি সৰ্বাণি বেদাঙ্গানি যথাক্রম। সােহহমিচ্ছামি ধৰ্ম্মজ্ঞ। শ্রোতুং তত্বো যা জগৎ। বধূব ভূক্ষ যথা মহাতাগ। ভবিষ্যতি। ইত্যাদি-১১৪ অর্থাৎ ইতিহাস-পুরাণজ্ঞ, বেদববদাঙ্গপারগ, ধর্মশাস্ত্রাদির তত্ত্বজ্ঞ, বশিষ্ঠতনয়াত্মজ মুনিবর পরাশর পূৰ্বাহিক সমাপন করিয়া উপবিষ্ট হইলে, মৈত্রেয় তাহাকে প্রণাম ও বন্দন করিয়া এইরূপ প্রশ্ন করিলেন—“হে গুরুদেব! আমি আপনার নিকট বেদ, বেদাঙ্গ ও ধর্মশাস্ত্র যথারীতি অধ্যয়ন করিয়াছি। হে ধৰ্ম্মজ্ঞ। সেই আমি আপনার সমীপে কয়েকটি প্রশ্ন উপস্থিত করিতে ইচ্ছা করি ; এই জগৎ কিরূপে উৎপন্ন হইল ? কিরূপেই বা ইহার স্থিতি সম্পন্ন হয়? অবসানেই বা ইহার কি গতি জগদ্গুরুর আবির্ভাব। হইবে ? মৈত্রেয় এইরূপে তত্ত্ববিষয়ে বহুবিধ প্রশ্ন উপস্থিত করিলে পরাশর বলিলেন। পরাশর উবাচ। সাধু মৈত্রের ধর্মজ্ঞ স্মরিতােহহং পুরাতন। পিতুঃ পিতা মে ভগবান্ বশিষ্ঠো যদুবাহ। সােহহং ৰাম্যশেবং তে মৈত্রের পরিপৃচ্ছতে। পুরাণসংহিতাং সম্যক্ তাং নিবােধ যথাযখ। ১১'১৩,৩ ‘হে ধৰ্ম্মজ্ঞ মৈত্রেয়! তুমি উত্তম প্রশ্ন করিয়াছ। আমার পিতামহ ভগবান্ বশিষ্ঠদেব আমাকে যে পুরাতন উপদেশ দিয়াছিলেন, অদ্য তা আমার স্মৃতিপথে আরূঢ় হইল। সেই পুরাণসংহিতা তােমাকে আমি সমগ্র বলিতেছি। তুমি অবহিত হইয়া শ্রবণ কর। অতঃপর পরাশরদেব মৈত্রেয়কে সমগ্র বিষ্ণুপুরাণ বলিয়া অবসানে বলিলেন :- বশিষ্ঠবরদানেন মমাপােতৎ স্মৃতিং গত। ময়াপি তুভ্যং মৈত্রেয় যথাবৎ কথিতং ত্বি। মপ্যেতৎ শমীকায় কলেরম্ভে পদিষ্যসি। গঃ-১ “হে মৈত্রেয়! বশিষ্ঠের বরপ্রভাবে সেই পুরাণসংহিতা পুনরায় আমার সুতিগত হইল এবং আমিও তােমাকে যথাযথ সমস্ত উপদেশ করিলাম। তুমি এই তত্ত্বজ্ঞান কলির অন্তে শমীক ঋষিকে প্রদান করিবে।” পরাশরের এই শেষ কথাটি আমাদের লক্ষ্য করিবার বিষয়। তিনি শিষ্য মৈত্রেয়কে যে তত্ত্বজ্ঞান উপদেশ দিলেন, মৈত্রেয় তাহা ন্যাসরূপে রক্ষা করিবেন। কলির অবসান সময়ে অর্থাৎ যখন বর্তমান যুগের শেষ হইয়া নূতন যুগ আবির্ভূত হইবে, তখন মৈত্রেয় এই তত্ত্বজ্ঞানরূপ ন্যাস তাহার উত্তরাধিকারী শমীক ঋষিকে প্রদান করিবেন। কিন্তু তত দিন পৰ্যন্ত মৈত্রেয়দেবই এই তত্ত্ববিদ্যার ধারক ও রক্ষক।
চতুর্থ অধ্যায়। ইহার পর আমরা মহাভারতের বনপৰ্ব্বে মৈত্রেয়দেবের সাক্ষাৎ পাই। তখন তিনি আর শিষ্য নহেন। তিনি সিদ্ধ ঋষি। তঁাহার আগমন এই ভাবে বর্ণিত হইয়াছে। কপট দূতে পরাজিত হইয়া অশেষ লাঞ্ছনা ও অপমান ভােগ করিবার পর পাণ্ডবেরা প্রতিশােধের প্রতিজ্ঞা ঘােষণা করিয়া বনবাসে প্রস্থান করিয়াছেন। কুরুসভায় দৃপ্ত দুৰ্য্যোধন, শকুনি প্রভৃতি দুমন্ত্রিগণের সহিত উপবিষ্ট। সভার একদেশে অন্ধরাজা ধৃতরাষ্ট্র, ধৰ্মাত্মা বিহুর প্রভৃতি সমাসীন। কুরুকুলের হিতকারী কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসদেব এই সভায় উপস্থিত হইয়া দুর্যোধনকে অনেক হিত উপদেশ দিলেন, কিন্তু সেই বধিরের কর্ণে তাহা প্রবেশ করিল না। এমন সময় মৈত্রেয় ঋষি সেই সভাগৃহে প্রবেশ করিলেন। তাহাকে দেখিয়া ব্যাস বলিয়া উঠিলেন:- অয়মায়াতি বৈ রাজন্ মৈত্রেয় ভগবান্ ঋষি। এষ দুর্যোধনং পুত্রং তব রাজন্ মহান্ ঋষি। অনুশান্তা যখান্যাষং শমায়াস্য কুলস্য চ। এবমুক্ত। যে ব্যাস মৈত্রেয়ঃ প্রত্যদৃশ্যত। পূজয়া প্রতিজপ্ৰাহ সপুত্রস্তং নরাধিপঃ। ব্যাস বলিলেন :- “হে রাজন! এই যে ভগবান্ ঋষি মৈত্রেয় আসিতেছেন। সেই মহাঋষি তােমার পুত্র দুৰ্যোনকে কুলের রক্ষার জন্য অদ্য ন্যায়মত উপদেশ দিবেন।” এই বলিয়া ব্যাসদেব সভাগৃহ পরিত্যাগ করিলেন। তখন রাজা ধৃতরাষ্ট্র পুত্রের সহিত মিলিত হইয়া সেই ঋষিকে পূজার দ্বারা অভিনন্দন করিলেন।” ব্যাসদেব যাহাকে ‘মহান ঋষি এবং ভগবান ঋষি এই নামে পরিচিত করিলেন, তিনি কখনই সাধারণ মনুষ্য নহেন। বস্তুতঃ আমরা ভাগবতে দেখিতে পাই যে, মৈত্রেয়দেবকে ‘দ্বৈপায়ন সুহৃৎ সখা” (ব্যাসদেবের অন্তরঙ্গ বন্ধু ) বলিয়া পরিচিত করা হইয়াছে।
৪০ জগদগুরুর আবির্ভাব ব্যাস পরাশরের পুত্র, মৈত্রেয় পরাশরের শিষ্য। অতএব উভয়ের মধ্যে অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব বিচিত্র নহে। অন্যত্র মৈত্রেয় দেবকে লগ করিয়া ভাগবত বলিতেছেন ; খাপি তে ভারতমাহ বৃষঃ। তা-৩৫'১২ “হে মৈত্রেয় দেব। আপনার সখা কৃষ্ণদ্বৈপায়ন মহাভারতের বক্তা”। বনপৰ্বে দেখিতে পাই যে, ইহার পর কুরুসভায় মৈত্রেয়দেব উপবিষ্ট হইয়া প্রথমতঃ মধুর অথচ যুক্তিযুক্ত বাক্যে দুৰ্য্যোধনকে অনেক প্রকারে সৎ উপদেশ দিলেন। কিন্তু সে সকল হিতবাণী বধিরের কর্ণে প্রবেশ লাভ করিল না। তখন মৈত্রেয় দেব ভাবী কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের শেষ ফল দুর্যোধনের ঊরুভঙ্গ দিব্যদৃষ্টিতে লক্ষ্য করিয়া তাহাকে অভিশাপ দিলেন। ঋষিদিগের অভিশাপ ক্রোধজনিত নহে, তাহারা ব্যক্তিবিশেষের স্বকৃত দুষ্কর্মের ফল দিব্য চক্ষুতে যেরূপ উপলব্ধি করেন, অভিশাপচ্ছলে তাহাই অভিব্যক্ত হয়। এ ক্ষেত্রেও তাহাই হইল । এ স্থলে আমাদের ইহাই লক্ষ্য করিবার বিষয় যে, দুর্যোধনের ধৰ্ম্ম- দ্রোহের ভাবী ফল ব্যাসদেব প্রকাশ না করিয়া মৈত্রেয় দেবের দ্বারা কেন প্রকাশিত হইল? ইহার উত্তর এই যে, এ যুগের ধর্মগােপ্তা পরমর্ষি মৈত্রেয় দেব। ধৰ্ম্মের গ্লানি নিবারণে ও প্রশমনে তাঁহারই অধিকার। ভাগবত পুরাণে মৈত্রেয় দেবের আমরা যে পরিচয় পাই, তাহার আলােচনা করিলে এ কথা স্পষ্ট হইবে। অতএব আমরা তাহারই আলােচনায় প্রবৃত্ত হইব। অনেকেই বােধ হয় অবগত আছেন যে, ভাগবত পুরাণের তৃতীয় স্কন্ধে মৈত্রেয়-বিদুর-সংবাদ নামে একটি অপূৰ্ব্ব সামগ্রী আছে। মহর্ষি মৈত্রেয় ইহার বক্তা এবং ধাৰ্ম্মিকপ্রবর বিদুর ইহার শ্রোতা। এই সংবাদের আরম্ভ এইরূপ :- চতুর্থ অধ্যায়। ৪১ কুত্ৰ ক্ষগুগষতা মৈত্রেয়ণাস সঙ্গমঃ। কদা বা সহ সম্বাদ এতদ্বর্ণয় নঃ প্রভাে॥ পরীক্ষিৎ প্রশ্ন করিলেন, “হে প্রভু! মৈত্রেয় ঋষির সহিত বিদুরের কোথায় সাক্ষাৎ হয় এবং কিরূপ কথােপকথন হয়, ইহা আপনি সবিস্তরে বর্ণনা করুন।” তদনুসারে ভাগবতের বক্তা শুকদেব বলিতে আরম্ভ করিলেন ।—কৌরব ও পাণ্ডবের মধ্যে যুদ্ধ অনিবাৰ্য্য হইলে ধাৰ্মিক বিদুর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা ধৃতরাষ্ট্রকে বহুবিধ উপদেশ দিয়া অবশেষে বলিলেন, “কৃষ্ণদ্বেষী আপনার পুত্র দুৰ্য্যোধন অমঙ্গলস্বরূপ ; যদি নিজের ও কুলের মঙ্গল কামনা করেন, তবে অবিলম্বে ইহাকে পরিত্যাগ করুন। দুর্যোধন এই কথা শ্রবণ করিয়া ক্রোধে কম্পিত হইয়া উঠিল এবং বিদুরকে গৃহ হইতে নির্বাসিত করিবার আজ্ঞা প্রচার করিল। তখন বিদুর হস্তিনা- রাজ্য হইতে নিষ্ক্রান্ত হইয়া বল্কল ধারণ করিয়া ভারতবর্ষের নানা তীর্থ ভ্ৰমণ করিতে লাগিলেন। ইতিমধ্যে কুরুক্ষেত্রের ধ্বংসলীল অভিনীত হইয়া গেল। আঠার দিনের যুদ্ধে ক্ষত্রিয়কুল প্রায় নির্মূল হইল এবং দুৰ্য্যোধন গদাযুদ্ধে ভগ্ন-উরু হইয়া মৃত্যুশয্যায় শয়ন করিল। ইহার পরও কয়েক বৎসর অতীত হইল। মায়ামানুষ শ্রীকৃষ্ণের লীলা অবসানের সময় উপস্থিত হইল, এবং যদুবংশ ধ্বংস হইবার সূচনা-স্বরূপ যাদবদিগের মধ্যে বিবিধ দুর্নীতি এবং যাদব-রাজধানীতে বিবিধ উৎপাত আরম্ভ হইল। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ইহার কোন প্রতীকার করিলেন না। কেমনে নিবারি, কেন নিবৱিব আমি, নহি যাদবের আমি, জগতের স্বামী। কাল পূর্ণ হইলে যাদবের রথারােহণ করিয়া প্রভাসতীর্থে গমন করিল। তে মাং মৈরেয়দোষেণ বিষমীকৃতচেতসাম্। নিম্নোচতিরববাসীবেণুনামিব মর্দন । গা -২
৪২
জগদ্গুরুর আবির্ভাব
যেমন পরস্পরের ঘর্ষণে বেণু গুচ্ছ দগ্ধ হইয়া সমূলে ধ্বংস প্রাপ্ত
হয়, সেইরূপ সুরাপানে বিভ্রান্তচিত্ত যাদবগণ পরস্পরের কট ক্তিতে
উভ্রান্ত হইয়া পরস্পর পরস্পরকে প্রহার করিতে লাগিল এবং সূর্যাস্তের
পূৰ্বেই যদুকুল নিৰ্ম্মল হইল।
এইবার ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মানবলীলা সংবরণ জন্য গম্ভীর ভাব
ধারণ করিলেন এবং সরস্বতীর জলে অচিমন করিয়া অশ্বখতরু-মূলে
যােগাসনে উপবিষ্ট হইলেন।
ভগবান্ স্বাত্মমায়ায়া গতিং তামবলোক্য স।
সরস্বতীমুপস্পৃশ্য বৃক্ষমূলঘুপাশিৎ।
ভা-৩৪।
তখন ভক্তপ্রবর উদ্ধব প্রভুর চরণ হারাইবার ভয়ে ব্যাকুল হইয়া
সেখানে উপস্থিত হইলেন এবং অন্তরাল হইতে ভগবাকে দেখিতে
লাগিলেন। তিনি দেখি.ন, সরস্বতীর তীরে শ্রীনিবাস জগৎপতি শ্রীকৃষ্ণ
একাকী উপবিষ্ট রহিয়াছেন। ঐ সময় তাহার অপূৰ্ব শােভা প্রকাশিত
হইতেছিল। তাহার অনিন্দিত শ্যাম বপু ও অরুণাভ আয়ত লােচন
যেন জগৎকে আলােকিত করিতেছিল। তাহার পরিধানে পীত কৌষের
এবং তাহার মূর্তি চতুভুজ। বাম উরুর উপর তাহার দক্ষিণ পাদপদ্ম
রক্ষিত হইয়াছে। তিনি একটি নবীন অথবৃক্ষে পৃষ্ঠ রক্ষা করিয়াছেন।
তিনি জগতের সম্পর্ক পরিত্যাগ করিতেছেন। তথাপি তাহার
বদনে আনন্দ উথলিয়া উঠিতেছে।
অক্ষমেকমাসীনং বিচি দয়িতং পতিম্।
এনিকেতং সরত্যাংকৃতকেতমকেতন।
শ্যামাবদাতং বিরজং প্রশান্তাকুণলােচন।
দোর্ভিভূৰ্ভিবিদিতং পীতকৌশাম্বরেণ চ।
বাম উরাবধিশ্ৰিত্য দক্ষিণবি-সনােহ।
অপার্ভিকামশং তাক্তপিলম।
৩৪-
চতুর্থ অধ্যায়। জগতের সেই মহাসন্ধিক্ষণে, মহাবিষ্ণুর অবতার লিকা, লীলা- বসানের অব্যবহিত পূৰ্বে—যখন এক অন্তরঙ্গ ভক্ত উদ্ভব ছিন্ন কেহই ভগবানের সন্নিকটে নাই, সেই সময় মহর্ষি মৈত্রেয় তথায় উপস্থিত হইলেন। তস্মিন্ মহাভাগবতে দ্বৈপায়নসুহৃৎসখা। লােকানচর সিদ্ধ আসিসা যদৃচ্ছ। তা--তাঃ}} এমন সময় বেদব্যাসের অন্তরঙ্গ বন্ধু, মহাভাগবত, সিদ্ধ ঋষি মৈত্রের যদৃচ্ছাক্রমে ভ্ৰমণ করিতে করিতে সেই স্থানে উপনীত হইলেন। ভগ- বানকে দেখিয়া পরম ভাগবত মৈত্রেয় ঋষি প্রেমে গদগদ হলেন এবং মস্তক অবনত করিয়া তাহাকে প্রণাম করিলেন। নীকৃত ও মৈয়ে ঋষির কি কথাবার্তা হইল, ভাগবত তাহা প্রকাশ করেন । তবে এইমাত্র ইঙ্গিত করিয়াছেন যে, ভগবান্ তাহাকে এ যুপে 'কশিক্ষার ভার অর্পণ করিলেন। অনন্তর ভগবান্ ভক্ত উদ্দবকে রি চরম উপদেশ প্রদান করিবার পর লীলা সংবরণ করিলেন। * যাত্রার পূর্বেই তিনি উদ্ধবকে বদরিক আশ্রমে প্রস্থান করিবাশ : দিয়া- ছিলেন। গচ্ছেদ্ধব ময়াদিষ্টো বদৰ্য্যাখাং মমাশ্রম। এখন বিয়ােগবিধুর উদ্ধব ভগবানের সেই উপদেশ স্মরণ করিয়া বদরিকাম অভিমুখে প্রস্থান করিলেন। সােহং তদ্দর্শনাহাবিয়ােগার্নিযুত প্রতে। গমিয্যে দয়িতং তস্থ বদৰ্য্যাশ্রমমণ্ডল। যত্র নারায়ণাে দেবােনর ভগবানৃষি। মৃদুতীব্রং তপাে দীর্ঘং তেপাতে লােকভাবনে। তা-অ৪২১২ উদ্ধব বলিতেছেন—যেখানে লােক-ভাবন নর ও নারায়ণ ঋষি দীর্ঘকাল মৃদুতীব্র তপস্যার অনুষ্ঠান করিতেছেন, আমি ভগবানের বিরহে ৪৪ জগদ্গুরুর আবির্ভাব। কাতর হইয়া তাহার প্রিয়ভূমি সেই বদরিকাশ্রমে প্রস্থান করিতেছি। পথিমধ্যে যমুনাকূলে উদ্ধব ও বিদ্যুরের সাক্ষাৎ হইল। কালেন যাবৎ যমুনামুপেতা, তশ্রোদ্ধবং ভাগবতং দদর্শ। ভা-৩১২০ বিদুর তীর্থযাত্রা করিয়া ফিরিতেছিলেন, উদ্ধব বদরীর অভিমুখে অগ্রসর হইতেছিলেন। পথিমধ্যে তাহাদের সাক্ষাৎ হইল। উদ্ধবকে দেখিয়া বিদুর যদুদিগের—বিশেষতঃ শ্রীকৃষ্ণের কুশলবাৰ্তা জিজ্ঞাসা করিলেন। অর্থায় জাতস্য যদুজসা। বাৰ্তাং সখে কীৰ্ত্তয় তীর্থকীৰ্ত্তঃ ভা-৩১৩৬ বিদুর বলিলেন, “হে সখে! যিনি জগতের হিতার্থে যদুকুলে জন্মগ্রহণ করিয়াছেন, শ্রবণমঙ্গল সেই ভগবানের বিশেষ করিয়া কুশল- বার্তা বল। উদ্ধব সখেদে বলিলেন, “বিদুর ! আমাদের শ্রীকৃষ্ণ-সূৰ্য্য অস্তমিত হইয়াছেন। কালরূপ সর্প যদুকুলকে গ্রাস করিয়াছে। যাদব দেশ আজ হতশ্রী। আমাদের কুশল কোথায় ? ইহার পর উদ্ধব সবিস্তারে যদুবংশধ্বংস ও ভগবানের লীলাবসানের কাহিনী বলিলেন। বিদুর যখন শুনিলেন যে, ভগবান্ বৈকুণ্ঠ-প্রয়াণের পূর্বে উদ্ধবকে তত্ত্বরহস্যের উপদেশ দিয়াছিলেন, তখন তিনি উদ্ধবকে বলিলেন, “হে উদ্ধব ! ভগবান যােগেশ্বর আপনাকে আত্মপ্রকাশক যে পরমজ্ঞানের কথা কহিয়াছেন, আপনি অনুগ্রহপূর্বক সেই জ্ঞান আমাকে প্রদান করুন। উদ্ধব বলিলেন, ‘না, তােমাকে উপদেশ দিবার অধিকার আমার নাই। লীলাবসানের সময়ে শ্রীহরি লােকশিক্ষার অধিকার ভগবান্ মৈত্রেয় ঋষিকে দিয়া গিয়াছেন। তুমি তঁাহার সমীপে গমন চতুর্থ অধ্যায়। ৪৫ ননু তে তত্ত্বসংরাধ্য ঋবিঃ কোশারবােহন্তিকে। সাক্ষাভগবতাদিষ্টো মর্তলােকং জিহাস । ভা-৩|s২ি৬ ভক্তিবিনম্রবুদ্ধি বিদুরের তাদৃশ বিনীত প্রার্থনা শ্রবণ করিয়া উদ্ধব তাঁহাকে সম্বােধন পূর্বক বলিলেন, “হে আৰ্য্য! আপনাকে উপদেশ প্রদানের অধিকার আমার নাই। আপনার তত্ত্বজ্ঞান-উপদেষ্টা কুশারু- নন্দন ভগবান্ মৈত্রেয় মুনি। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মর্ত্যলােক পরিত্যাগকালে স্বয়ং তাহাকেই ঐ অধিকার প্রদান করিয়া গিয়াছেন। ঐ ঋষিও এক্ষণে আমাদের অদূরেই অবস্থান করিতেছেন। বিদুর তাহাই করিলেন। তিনি যমুনাতট হইতে যাত্রা করিয়া কয়েক দিবসের মধ্যেই যেখানে মিত্রাতনয় ( মৈত্রেয় দেবের মাতার নাম মিত্রা) মৈত্রেয় মুনি অবস্থান করিতেছিলেন, ভাগীরথীর তীরবর্তী সেই স্থানে উপস্থিত হইলেন। দ্বারি দ্যা ঋষভঃ কুরূণং মৈত্রেয়মাসীনমগাধবােধ। ক্ষন্তোপত্যাচ্যুতভাবসিদ্ধ পপ্ৰচ্ছ সোশীল্যগুণাভিতৃপ্ত। ভা-৩৫১ কুরুসত্তম বিদুর দেবনদী ভাগীরথীর দ্বারে (হরিদ্বারে) সমাসীন, অগাধ সত্ব মৈত্রের ঋষিকে দর্শন করিলেন এবং তাঁহার সারল্যাদি গুণগ্রামে নিতান্ত পরিতুষ্ট হইয়া তাহাকে প্রশ্ন করিতে প্রবৃত্ত হইলেন। অন্যান্য কথার পর বিদুর মৈত্রেয় দেবকে বলিলেন :- তদস্য কৌশারব শৰ্ম্মদাতুহরেঃ কথামেব কথা সার। উদ্ধত্য পুষ্পেভ্য ইবাৰ্ত্তবন্ধো শিবায় নঃ কীৰ্ত্তম তীর্থ কীর্তে। -ভা-৩১৫ “অতএব হে ত্ৰিতাপহারি মৈত্রেয়! মধুকর যেমন পুষ্পসমূহ হইতে কেবল মধুভাগ গ্রহণ করে, আপনিও সেইরূপ সৰ্ব্বকথাসার হরিকথা অন্যান্য সকল প্রসঙ্গ হইতে উদ্ধার করিয়া পরমানন্দ-প্ৰদানাথ আমাদের নিকট কীৰ্ত্তন করুন। মৈত্রেয় দেব বিদুরের প্রার্থনা পূর্ণ করিলেন।
জগগুরুর আবির্ভাব। তিনি অনাঘ ও অমৃতময় মৈত্রেয়-বিদুর-সংবাদ উপদেশ করিলেন। ইহা ভাগবতের এক অতি উপাদেয় অংশ। এখানে আমরা মৈত্রেয় দেবকে তথাপদেষ্টা সম্পূর্ণ গুরুর উচ্চ আসনে উপবিষ্ট দেখিলাম। আরও অবগত হইলাম যে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ লীলাবসানের সময় স্বয়ংই তাহাকে এই উচ্চ অধিকার দিয়া গিয়াছেন। মৈত্রেয়দেব যে এখনও সেই অধিকার পালন করিতেছেন, তাহা বিচিত্র নহে। ভাগবতে আমরা মৈত্রেয়দেবের যে পরিচয় পাইলাম, তাহা প্রায় ••• বৎসরের কথা। ইহার ২,৫০০ বৎসর পরে ভগবান্ বুদ্ধ দেবের শ্রীমুখে পুনশ্চ তাহার পরিচয় পাই। বুদ্ধদেবের মুখের কথা আমরা দ্বিতীয় অধ্যায়ে বিস্তৃত ভাবে উদ্ধৃত করিয়াছি। প্রাচীন পালিগ্ৰন্থ দীর্থ- নিকায় ও অনাগতবংশে এই পরিচয় রক্ষিত হইয়াছে। বুদ্ধদেব বলিতেছেন : ‘সাধুগুম সম সম্বু মৈত্রেয় দেব যিনি সর্বজ্ঞ, যিনি আমার্গের পারগামী, যিনি কল্যাণময়, যিনি সংযমীর অনুপম সারথি, দেব-মানবের শিক্ষক, ভাৰী ধুদ্ধ ভগবান্ মৈত্রেয়। সম্প্রতি আমি যেমন পৃথিবীতে আবির্ভূত হইয়াছি, সম্যক্ সম্বু তথাগত মৈত্রের সেইরূপ আবিভূত হইবেন। যে মার্গ আদিতে, মধ্যে এবং অন্তে মধুম, তাহা তিনি সম্যক উপদেশ দিবেন, তিনি সম্পূর্ণ ও সুপবিত্র শিক্ষার প্রচার করিবেন। হে সারিপুত্র। সেই কল্যাণীয় যুগে যাহা ঘটবে, তােমায় বলিতেছি। আমার পূর্বে তিন জন বুদ্ধ হইয়াছেন;-কাস, পুণাগমন এবং কাশ্যপ, আমি চতুর্থ বুদ্ধ সম্যক্স লােক-শিক্ষক মৈত্রেয় দেব পঞ্চম বুদ্ধ। তিনি সেই কল্যাণীয় যুগে আবিদ্যুতাইবেন। অতএব আমরা দেখিতেছি যে, বৌদ্ধমতে আমাদের মৈত্রেয় নেবই আগামী বুদ্ধ। সেই জন্যই বৌদ্ধেরা তাঁহাকে বােধিসত্ব মেয়ে বুদ্ধ বলেন।
চতুর্থ অধ্যায়। ৪। ব্রহ্মদেশের (যেখানে বৌদ্ধ ধর্ম এখনও সজীব আছে) অনেক স্থানে দেখা যায় যে, যেখানেই বুদ্ধদেবের প্রতিমূর্তি, তাহার সহিত প্রায়ই এই ভাবী বুদ্ধ মৈত্রেয় দেব সংযুক্ত আছেন। বুদ্ধদেব গৌরবর্ণ, যােগাসনে সমাসীন ; মৈত্রেয় শ্বেতবর্ণ, তাঁহার পার্শ্বে দণ্ডায়মান। আমরা বলিয়াছি, যে মৈত্রেয় দেব ঋষিসংঘের এক জন প্রধান সদস্য। পরবর্তী অধ্যায়ে এই বিষয়ের আলােচনা করিব।
৪৮ জগদ্গুরুর আবির্ভাব। পঞ্চম অধ্যায়। । = পূৰ্ব অধ্যায়ে আমরা বলিয়াছি যে, মৈত্রেয় দেব ঋষিসঙ্ঘের এক জন প্রধান সদস্য। এই ঋষিস কি, তাহার কিঞ্চিৎ পরিচয় জানা আবশ্যক। প্রথমতঃ সদ্য বলিতে আমরা কি বুঝি? সজ্য অর্থে রাশি নহে। সেনা (Army) ও জনতার (Rabble) মধ্যে যে প্রভেদ, সজৎ ও রাশির মধ্যে সেই প্রভেদ। যখন কোন জনসমূহের মধ্যে পরস্পর অঙ্গাঙ্গিভাব থাকে, যখন তাহারা পরস্পর আন্তরিক যােগে সংযুক্ত হয়, যখন তাহারা এক ভাবে বিত, এক প্রাণে অনুপ্রাণিত থাকে, তখন সেই জমসমূহ সঙ্ঘে পরিণত হয়। অতএব সদ্য: Organised Hierarchy প্রাচীন গ্রন্থে ঋষিদিগের এইরূপ সরে পরিচয় পাওয়া যায়। উপনিষদ্ ব্ৰহ্ম-বিজ্ঞানকে ঋষি-সম্ব-জুষ্ট এই বিশেষণে বিশেষিত করিয়াছেন। “প্রােবাচ সম্যক্ ঋষিসংঘজুষ্ট।” বাস্তবিক এই ঋষিসই ব্ৰহ্মবিদ্যার ধারক, পালক ও রক্ষক। বৌদ্ধেরা প্রতিদিন বলেন,—“বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি, ধম্মং শরণং গচ্ছামি, সঙ্ঘং শরণং গচ্ছামি’—“আমি বুদ্ধের শরণ লই, আমি ধৰ্ম্মের শরণ লই, আমি সত্বের শরণ লই। এই সঙ্ঘ ঋষিসখৃষ্টানেরা ইহাকে Community of Saints বলেন। প্রাচীন গ্রন্থে যদিও এই ঋষিসঙ্ঘের উল্লেখ আছে, তথাপি ইহার বিশিষ্ট বিবরণ আমরা থিওজফি হইতে জানিয়াছি। থিয়জফিষ্টরা এই ঋষিসঘকে the occult Heirarchy বা White Lodge ( শুদ্ধ ধৰ্ম্মমণ্ডল) বলেন। কিছু দিন পূর্বে থিয়জফিক্যাল সােসাইটীর নেত্রী শ্ৰীমতী এনি বেসেন্ট এ সম্বন্ধে একটি চমৎকার প্রবন্ধ প্রকাশ করিয়া- ছিলেন। তাহা হইতে কয়েকটি কথা আমরা নিম্নে উদ্ধত করিয়া দিলাম। "One Department of the Occult Hierarchy 'is 'the Governing Department; the second Great Depart- পঞ্চম অধ্যায়। ment is the Teaching, the education of humanity, the one of Power and the other of wisdom, of the growth of Religion, of all that requires the higher teaching. “First then of Power. You know how in your own Hindu scriplures you have the four great Kumaras, and you see in them the mighty but mysterious powers which seem to stand beliind human evolution. Heads of the Hierarchy are they, whom H. P. Blavatsky described as the spreading Banyan Tree. : "Try to realise that the Manu is present amongst us as really as He was in the past ; that He is living in the physical body in the far off Himalayas with His strength. “Realise also that in those Himalayas is the ancient Rishi Maitreya, now the Bodhisattva. Think then of the two mighty Ones, one in the Ruling and the other in the Teaching Department, shaping and working, and hold. ing all these powers that nothing can stand against." -Occult Hierarchy. ইহা হইতে জানা গেল যে, ঋষিজ বা শুদ্ধ ধৰ্ম্মমণ্ডলের শীর্ষস্থানে মহাঋষি সনৎকুমার ও তাঁহার সহকারী আর তিন জন কুমার, সনক, সনন্দ ও সনাতন। এই কুমার চতুষ্টয়ের আমাদের পুরাণে সবিশেষ উল্লেখ আছে, তাহাদিগকে চতুঃসনঃ বলে। বৌদ্ধ গ্রন্থে যে চারি জন প্রত্যেক বুদ্ধের উল্লেখ আছে, সম্ভবতঃ তদ্বারা এই কুমার-চতুষ্টয়কেই লক্ষ্য করা হইয়াছে। এই চারি জন কুমারের মধ্যে প্রধান সনৎকুমার। ইনি যেন এই ভূমণ্ডলের রাজা। তাহার অধীনে দুই জন মহাপাত্র, বৈবস্বত মনু ও “মৈত্রেয় বােধিসত্ত্ব-যেন তাহার দক্ষিণ ও বাম বাহু। এক জন (ম) শাসন-বিভাগের অধ্যক্ষ, অন্য জন (মৈত্রেয় দেব) পালন-বিভাগের (৪)
জগদ্গুরুর আবির্ভাব।
অধ্যক্ষ। রাজরাজ সনৎকুমার এই দুই বাহুর দ্বারা ভূমণ্ডলের শাসন ও
পালন বিধান করিতেছেন।
শাস্ত্র গ্রন্থের স্থানে স্থানে এই মহাঋষি সনৎকুমারের উল্লেখ দৃষ্ট হয়।
ছান্দোগ্য উপনিষদের সপ্তম অধ্যায়ে এইরূপ লিখিত আছে যে, কোন
সময়ে নারদ ব্রহ্মবিদ্যা লাভের জন্য এই সনৎকুমারের নিকট শিষ্য ভাবে
উপনীত হইয়াছিলেন।
“অধীহি ভগব ইতি হােপসসাদ সনৎকুমারং নারদঃ।” এবং ভগবান্
সনৎকুমার ভুমা-তত্ত্বের উপদেশ দিয়া নারদকে তমসের পরপারে উত্তীর্ণ
করিয়াছিলেন।
“তস্মৈ মৃদিতকয়ায় তমসঃ পারং দর্শয়তি ভগবান্ সনৎকুমার। ৭২৬২
মহাভারতে লিখিত আছে যে, শ্রীকৃষ্ণের দ্বারকা-লীলায় সনৎকুমার
প্রদ্যুম্নরূপে আবির্ভূত হইয়াছিলেন।
‘‘সনৎকুমারং প্রদুম্বং বিদ্ধি রাজন্ মহোজসমূ।”
মহাভারত আদিপর্ব ৬৭:৫২
‘সনৎকুমার প্রশ্নঃ পবিবেশ যথাগতম।”
স্বর্গারােহণ ৫১৩
ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ তাহার পরিচয়স্থলে বলিয়াছেন যে, তিনি বৈষ্ণবদিগের
প্রধানদিগের প্রধান, এবং জ্ঞানীদিগের গুরুর গুরু।
বৈষ্ণবানামণীশশা জানিনাঞ্চ গুরােরঃ।”
ব্রহ্মবৈবর্ত ১২৯ অধ্যায় শ্রীকৃষ্ণের জন্ম।
মহাপ্রভুর অন্তরঙ্গ ভক্ত সনাতন গােস্বামী তাহার পরিচয় আরও
একটু স্পষ্ট করিয়া খুলিয়া দিয়াছেন ।
সনৎকুমারনামায়ং জ্যেষ্ঠাম্মাকং মহত্তমঃ ।
আত্মারামাপ্তকামানামীদ্যাচাধে বৃহঃ॥”
বহদ্ভাগবতামৃত ২৭
পঞ্চম অধ্যায়। বৃহদ্ভাগবতামৃত গ্রন্থে সনাতন গােস্বামী কোন ঋষিকুমারের মুখ দিয়া বলাইতেছেন, এই সনৎকুমারই আমাদিগের জ্যেষ্ঠ। তিনি মহত্তম, তিনি বৃহত, তিনি অাত্মারাম ও অপ্তিকাম (জীবন্মুক্ত) দিগের আদ্যাচাৰ্য। * তিনি চিরকুমার, ক্রিয়াশক্তিবলে যুগযুগান্ত পূর্বে যে কুমার-দেহে উৎপন্ন হইয়াছেন, অদ্যাবধি সেই দেহে প্রতিষ্ঠিত থাকিয়া ভূমণ্ডলের কর্তৃত্বভাররূপ বৃহৎ অধিকার বহন করিতেছেন। সেই জন্য তাহার নাম সনৎকুমার। এই মৰ্ম্মে হরিবংশ বলিতেছেন :- যথোৎপন্নস্তথৈবাহং কুমার ইতি বিদ্ধি মাম। তস্মাৎ সনৎকুমারেতি নামেতৎ মে প্রতিষ্ঠিত।” কয়েক বৎসর পূর্বে শ্ৰীমতী অনি বেসান্ত ‘মানবের অতীত ও ভবিষ্যৎ (Man-whence & whither) নামে এক সুবৃহৎ পুস্তক প্রচার করেন । তাহাতে স্থানে স্থানে ভগবান সনৎকুমারের প্রসঙ্গ আছে। ঐ গ্রন্থের এক স্থানে উক্ত হইয়াছে। Sanatkumara--the supreme Lord of the Hierarchy the Eternal virgin, in all the beauty of unchanging youth, who was yet the Ancient of Days. - page 269. অর্থাৎ সনৎকুমারই ঋষিসংঘের অধিনায়ক—চিরকুমার, সনাতন ঋষি অথচ স্থির যৌবনের সৌকুমাৰ্যে বিমণ্ডিত। (ইহার সহিত হরিবংশের যথােৎপন্নস্তথৈবাহং এই উক্তি তুলনীয়)। অন্যত্র মিসেস্ বেসান্ট লিখিতেছেন- * "The Arbats of tha 'fire-nist' of the seventh ring are but one remove from the Root-base of their Hierarchy--the highest on Earth, and our Terrestrial chain. This Root-base has a nine which can only be translated by several compound words into English-the ever living human Banyan." (The Secret Dootrine, vol. I, pp 207) জগদ্গুরুর আবির্ভাব . There he stood, the youth of sixteen summers, Sanatkumara the Eternal virgin youth, the New Ruler of Earth come to his Kingdom. His pupils, the three Kumaras with Him clothed in the glorious bodies They had created by Kriya sakti, the first occult hierarchy, branches of the one spreading Banyan tree, the nursery of future adepts, and centre of occult life. Their dwelling place was and is the imperishable sacred land on which shines down the blazing star, the symbol of earth's monarch-PP 102–03. সহস্র সহস্র বৎসর পূর্বে এই ভূমণ্ডলে ঋষিসঙ্ঘের কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত করিয়া দীক্ষা-মন্দির রচনা করিবার জন্য, যে দিন ভগবান্ সনৎকুমার সহযােগী কুমারদিগের সহিত শুক্র গ্রহ হইতে এই পৃথিবীর উপর অবতরণ করেন, সেই দিনের কথা লক্ষ্য করিয়া, মিসেস বেসান্ট লিখিতেছেন ;- “মােড়শ-বর্ষীয় কুমার, সনৎকুমার চিরকুমার, এই ভূমণ্ডলের নবীন অধিরাজ, তাহার সাম্রাজ্যে উপনীত হইলেন। তাহার সহিত তাঁহার তিন জন শিষ্য কুমারত্রয়, সকলেই ক্রিয়াশক্তির প্রভাবে বিরচিত জ্যোতির্ময় দেহধারী; ইহারাই ঋষিসম্মের আদিদীক্ষারূপী মহা বটমের শাখা-প্রশাখা, ভাবী জীবন্মুক্তের নিদান এবং অধ্যাত্ম-জীবনের কেন্দ্র। পূৰ্ব্বাপর তাহাদের আবাসস্থান সেই অক্ষয় পুণ্যভূমি শ্বেতদ্বীপ, যাহার শিরে সেই অধিরাজের কেতনস্বরূপ উজ্জ্বল তারকা দীপ্তি পাইতেছে।” ইহুদী ও খৃষ্টানদিগের ধৰ্ম্মপুস্তক Old Testament গ্রন্থে এইরূপ একজন বিরাট পুরুষের উল্লেখ আছে, ইহুদীদিগের আদি পিতা এব্রাহেমের সহিত তাহার সাক্ষাৎ হইয়া ছিল। তাঁহার সম্বন্ধে বাইবেল বলিতেছেন ;- Without father without mother, having neither beginning nor end of life, made like unto the son of God, He abideth priest continually,' অর্থাৎ তাঁহার জনক নাই, পঞ্চম অধ্যায়। জননী নাই, আরম্ভ নাই, শেষ নাই, তিনি ঈশ্বরের পুত্রস্বরূপে প্রতিষ্ঠিত হইয়া জগতের পুরােহিতরূপে চিরদিন বিরাজিত রহিয়াছেন। সম্ভবত এ স্থলে বাইবেল ভগবান্ সনৎকুমারকে লক্ষ্য করিতেছেন; কারণ, তিনি অধিকার পরিসমাপ্তি পর্যন্ত ভূমণ্ডলের রাজ্যাধিকার বহন করিতেছেন।* যাবধিকারম, অবস্থিতিরাধিকারিকাণাম-প্রহ্মসূত্র। তাহারই মহাপাত্রদ্বয় বৈবস্বত মনু এবং আমাদের আলােচ্য মহা ঋষি মৈত্রেয় দেব। ঋষিসংঘের প্রসঙ্গে কয়েক জন ঋষি মহর্ষির উল্লেখ আমরা শাস্ত্রগ্রন্থে প্রাপ্ত হই। এখানে সংক্ষেপে তাঁহাদের কিছু পরিচয় দেওয়া যাইতে পারে। মহাভারত ও পুরাণ গ্রন্থের আরম্ভে সৰ্ব্বত্র নারায়ণ ও নরকে নমস্কার করা হইয়াছে। নারায়ণং নমস্কৃত্য নরঞ্চৈব নরােত্তমম। এ প্রসঙ্গে মাডাম ব্ল্যাভাটকি তাঁহার অপূৰ্ব্ব গ্রস্থ Secret Doctrine Safarga :-Why doos the solitary Watcher remain at his selfchosen post? Why does he sit by the fountain of primeval wisdom, of which he drinks no longer, as he has naught to learn which he does not know-aye neither on this Earth, nor in its Heaven? Because he would fain show the way to that region of freedom anil light, from which he is a voluntary exile himself, to every prisoner who has succeeded in liberating himself from the bonds of flesh and illusion. Because, in short, he has sacrificed himself for the sake of mankind though but a few elect may profit by the great sacrifice. --The Secret Ductrine, vol. I, p 258 (First Edition), এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করিয়া মাদ্রাজনিবাসী সার সুব্রহ্মণ্য আইয়ার লিখিয়াছেন, "He has, it would seem, to continue to hold this stupendous charge, until the evolutionary life completely passes on to the next globe in our chaiu." (Theosophist for November 1915.)
৫৪ জগদ্গুরুর আবির্ভাব। এই নর ও নারায়ণ কে ? আমরা শুনিতে পাই- “অর্জুনে তু নরাবেশঃ কৃষ্ণো নারায়ণঃ স্বয়ম, অর্জুনে এই নরের আবেশ ছিল এবং নারায়ণ স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণরূপে আবিভূত হইয়াছিলেন। অন্যত্র শুনা যায় যে, ইহারা পুরাতন ঋষিদ্বয়-বদরিকাশ্রমে বহু বৎ- সর তপস্যা করিয়াছিলেন, পরে ভগবানের দ্বাপরলীলার সময় কৃষ্ণার্জুন- রূপে তাহার সহায়তা করেন। মহাভারতের বনপৰ্বে কিরাতপর্বাধ্যায়ে মহাদেব অর্জুনকে বলিতে- ‘রং পূর্বদেহে বৈ নারায়ণসহায়বান। বদৰ্যাং তপ্তবান্ উগ্র তপাে বর্ষাযুতা বহু।” বনপর্ব-৪১ হে অর্জুন! তুমি পূর্বদেহে নররূপে নারায়ণের সহিত বদরীতে বহু সহস্র বৎসর উগ্র তপশ্চরণ করিয়াছিলে। “নরনারায়ণে যে তো পুরাণৌ ঋবিসত্তমৌ। সহিতৌ মানুষে লােকে সংভূতাবমিতাতী। ভীষ্মপর্ব-৬৬১১ ‘সেই পুরাতন অমিততেজা ঋষিশ্রেষ্ঠ নরনারায়ণ সম্প্রতি (দুষ্টবধের জন্য) মনুষ্যলােকে (কৃষ্ণাৰ্জ্জুনরূপে ) আবিভূত হইয়াছেন। ‘এষ নারায়ণঃ কৃষ্ণঃ ফালুনশ্চ নরঃ মৃতঃ। উদ্যােগপৰ্ব্ব-৪৯০ ‘নারায়ণ ঋষি শ্রীকৃষ্ণ, নর ঋষি অর্জুন। ঐ পর্বের অন্যত্র শ্রীকৃষ্ণ বলিতেছেন- “নয়মসি দুর্ধর্ষা হরিনারায়ণােহই। কালে নােকমিমং প্রাপ্তে নরনারায়ণাষী।”
পঞ্চম অধ্যায়। - ‘হে অর্জুন, তুমি দুর্ধর্ষ নর, আমি নারায়ণ হরি। আমরা সেই নরনারায়ণ ঋষি কালে এই ভূমণ্ডলে অবতীর্ণ হইয়াছি। এই মর্মে ভাগবত বলিতেছেন- “পূর্ণকামাবপি যুবাং নরনারায়ণাবৃষী। ধৰ্ম্মমাচরতাং স্থিত্যৈ ঋষভোঁ লােকসংগ্ৰহম।” ভূ-পুরুষ বলিতেছেন ঃ- হে কৃষ্ণাৰ্জ্জুন! তোমরা পূর্ণকাম নরনারায়ণ ঋষি। কেবল লােক- সংগ্রহের জন্য, জগতের স্থিতির জন্য ধর্মাচরণ কর। এই সকল উক্তি হইতে জানা যায় যে, ঋষিসংঘের এই দুই জন পুরাণ ঋষি কৃষ্ণাবতারে ভগবানের পালনকার্য্যের সহায়তার জন্য নরঋষি অর্জুনের দেহে আবিষ্ট হইয়াছিলেন এবং নারায়ণ ঋষি দেবকীর পুত্ররূপে জন্মগ্রহণ করিয়া শ্রীহরির বৈষ্ণব তেজের আধার হইয়াছিলেন। সেই জন্য মহা- ভারতে শ্রীকৃষ্ণকে কোথাও নারায়ণ ঋষি, কোথা বা শ্রীহরি বলা হইয়াছে। এ সম্বন্ধে দেবীভাগবত বলিয়াছেন, “আবাঞ্চ ধৰ্ম্মপুলে দে নরনারায়ণাভিধৌ। লীনােহহং কৃষ্ণপাদাজে বভূব ফান্তুনােহবরঃ।” ‘আমরা (কৃষ্ণার্জুন) ধৰ্ম্মপুত্র নরনারায়ণ ঋষি। আমাদের মধ্যে এক জন (নারায়ণ) কৃষ্ণপাদপদ্মে বিলীন হইলাম ; অন্য জন (নর) অক্ষুনরূপে উৎপন্ন হইলাম। নরনারায়ণের স্থান বদরী আশ্রম হিমালয়ের শিখর গন্ধমাদন পৰ্ব্বতে অবস্থিত। “বদরীশ্রমং পুণ্যং গন্ধমাদনপৰ্বতে। নরনারায়ণস্থানে তৎপাতিমহীতলে । বিষ্ণুপুরাণ ৫৩৭৩২-৩ এই বদরী আশ্রমে সময়ে সময়ে ঋষিদিগের বৈঠক হয় এবং কলাপ- গ্রামবাসী মহাত্মাগণ সমবেত হন। এক দিনের ঘটনা ভাগবতে এইরূপ বর্ণিত হইয়াছে
জগদ্গুরুর আবির্ভাব।
“একদা নারদো লােকান্ পর্যটন্ ভগবৎপ্রিয়।
সনাতনষিং দ্রষ্টং যযে নারায়ণাশ্রম।
যাে বৈ ভারতবর্যেহস্মিন্ ক্ষেমায় স্বয়ে নৃণাম ।
ধৰ্ম্মজ্ঞানশমেপেত আলাদাস্থিতপঃ।
তত্ৰোপবিষ্টমৃষিভিঃ কলাপ গ্রামবাসিভিঃ।
পরীতং প্রণতােহপৃচ্ছদিদমে কুরূহ।
তস্মৈ হবোচদ্ভগবানৃষীণাং শৃথতামিদ।
যাে ব্ৰহ্মবাদঃ পূৰ্ব্বেং জনতােকনিবাসিনা।”
ভা, পু, ১০৮৭
-কদা ভগবৎপ্রিয় নারদ ঋষি লােক পৰ্যটন করিতে করিতে সনাতন
নারায়ণ ঋষিকে দেখিবার জন্য তাহার আশ্রমে গমন করিলেন। সেই
ঋষি মনুষ্যজাতির মঙ্গলকামনায় কল্পের আরম্ভ হইতে এই ভারতবর্ষে
তপস্যার আচরণ করিতেছিলেন। কলাপ-গ্রামবাসী ঋষিগণ তাহার
চতুর্দিকে উপবিষ্ট ছিলেন। প্রণত নারদ ঋষি তাহাকে প্রশ্ন করিলেন,
তিনি জনলােকবাসী কুমারদিগের মধ্যে যে ব্ৰহ্মবাদ হইয়াছিল, তাহা বর্ণনা
করিলেন। কলাপগ্রাম কোথায় ? মহাভারত বলিতেছেন -
“হিমালয়মতিক্রম্য কলাপগ্রামমাবিশ!”
-মোবলপর্ব।
অর্থাৎ কলাপগ্রাম হিমালয়ের অপর পারে । ইহা ঋষিস্থান-অনেক
মহাত্মার বাসভূমি।
কলাপগ্রামবাসী দুই জন সিদ্ধ মহাত্মার বিবরণ আমরা জ্ঞাত হইয়াছি-
ইহারা পুরাণকথিত মরুদেব ও দেবাপিদেব বর্তমানে রাজপুত ক্ষত্রিয়
শরীরে ও কাশ্মীরি ব্রাহ্মণদেহে অবস্থান করিতেছেন। ইহারাই থিয়সফি-
কাল সভার প্রতিষ্ঠাতা এবং জগদ্গুরুর ভাবী আগমনের পূৰ্ব্বযাত্রী ।
ইরাও ঋষিসংঘ বা শুদ্ধ ধৰ্ম্মমণ্ডলের দুই জন বিশিষ্ট সদস্য। ইহাদের
সম্বন্ধে পুরাণে এইরূপ পরিচয় পাওয়া যায়।
পঞ্চম অধ্যায়। ৫৭ “দেবাপিঃ শাশুনোতা মরুশ্চেক্ষাকুবংশজঃ। কলাপগ্রাম আসাতে মহাযােগবলাম্বিতে। ৩৭ তাবিহেত্য কলেরন্তে বাসুদেবানুশিক্ষিতে। বর্ণামযুতং ধৰ্ম্মং পূর্ববৎ প্রথয়িষ্যতঃ ॥” ৩৮ ভাগবতপুরাণম্। দ্বিতীয় অধ্যায়। ১২ গন্ধ। “শান্তনুর ভ্রাতা দেবাপি এবং ইক্ষাকুবংশজাত মরু মহাযােগবলে সীয়া হইয়া কলাপগ্রামে অবস্থিতি করিতেছেন। ইহারা উভয়ে বাসুদেব কর্তৃক উপদিষ্ট হইয়া পূৰ্ব্ববৎ বর্ণাশ্রম-সমন্বিত ধৰ্ম্ম বিস্তার করিবেন। “দেবাপিঃ পৌরবে রাজা মরুশ্চেক্ষাকুবংশজঃ । মহাযােগবলােপেতে কলাপগ্রামসংশ্রয়ে ৪৫ কৃতে যুগ ইহাগত্য ক্ষত্ৰপ্ৰবৰ্ত্তকে হি তো । ভবিষ্যতে মনােবংশে বীজভূতো ব্যবস্থিতো। ৪৬ এতেন ক্রমযােগেন মনুপুৰ্ব্বসুন্ধরা। কৃতত্ৰেতাদিসংজ্বানি যুগানি শ্রীণি ভুজ্যতে। ৪৭ কলৌ তো বীজভূতান্তে কেচিৎ তিষ্ঠন্তি ভূতলে। যথৈব দেবাপিমরূ সাম্প্রতং সমবন্থিতে । ৪৮ বিষ্ণুপুরাণম—২৪ অ—৪র্থ শশ | “পুরু-বংশীয় রাজা দেবাপি ও ইক্ষাকুবংশীয় রাজা মৰু মহাযােগ- বলশালী হইয়া কলাপগ্রাম অশ্রিয়ে বসতি করিতেছেন। সত্যযুগের আগমনে ইহারা ক্ষত্রবংশ প্রবর্তিত করিবেন। ইহারা ভবিষ্যৎ বংশের বীজরূপে অবস্থিতি করিতেছেন। এই প্রকার ক্রমযােগে মনুপুত্রগণ সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর এই তিন যুগে পৃথিবী ভােগ করিয়া থাকেন। সম্প্রতি দেবাপি ও মরু যেরূপে অবস্থিতি করিতেছেন, এইরূপ কোন কোন মহাত্মা কলিয়ুগে বীজরূপে ভূতলে অবস্থান করিয়া থাকেন।” বলা বাহুল্য যে, উপরে আমরা যে কয় জন মহর্ষি ও মহাত্মার উল্লেখ করিলাম, তাহারা ব্যতীত ঋষিসংঘের আরও অনেক সদস্য আছেন ।
৫ জগদ্গুরুর আবির্ভাব। বাস্তবিক প্রত্যেক জীবন্মুক্ত পুরুষই এই শুদ্ধ ধৰ্ম্মমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত এবং সকলেরই আদ্যাচাৰ্য্য ও অধিনায়ক ভগবান সনৎকুমার। ইহারা সকলেই অধিকারী পুরুষ। কেহ পূৰ্ব্ব মন্বন্তরে, কেহ এই মন্বন্তরে প্রভূত সাধনা ও প্রচুর আত্মত্যাগের দ্বারা সেই সেই অধিকারের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করিয়াছেন। এই সকল অধিকার বহনের জন্য কিরূপ ভাবে প্রস্তুত হইতে হয়, তাহার কতক পরিচয় আমরা মার্কণ্ডেয় চণ্ডীতে প্রাপ্ত হই। পূর্ধ্বতন স্বারােচিষ মন্বন্তরে সুরথ নামে এক জন মহীপতি ছিলেন। তিনি শত্রুর চক্রান্তে ও দুমন্ত্রীর বিশ্বাসঘাতকতায় রাজ্যচ্যুত হইয়া বনবাসী হইতে বাধ্য হয়েন। সেখানে সমাধি নামক এক হৃতসৰ্বস্ব বৈশ্যের সহিত তাহার সাক্ষাৎ হয়। উভয়ে নিরুপায় হইয়া মেধস ঋষির আশ্রয় গ্রহণ করেন। ঋষি তাহাদিগকে ভগবতী মহামায়ার আরাধনা করিতে উপদেশ দেন। একাগ্র সাধনায় সিদ্ধ হইলে দেবী তাহাদের অভিলষিত বরদানে উদ্যত হন। তখন দুৰ্বল অধিকারী বৈশ্য মুক্তি বর প্রার্থনা করিলেন; কিন্তু সুরথ রাজা আগামী অষ্টম মন্বন্তরে সাবৰ্ণি মনু হইবার অধিকার প্রাপ্ত হন। “সাবর্ণির্ভবিতা মনুঃ-চণ্ডী। বাস্তবিক মার্কণ্ডেয় চণ্ডী ভাবী সাবর্ণি মনুর জাতকগ্রন্থ ভিন্ন কিছু নহে। সেই জন্য এই গ্রন্থের আরম্ভ এইরূপ;- “সাবর্ণিঃ সূৰ্যোতনয়ে যাে মনুঃ কথ্যতেষ্টমঃ। নিশাময় তদুৎপত্তিং বিস্তরাৎ গদাতাে মম।” পুরাণবক্তা ঋষি বলিতেছেন—“সূর্যতনয় অষ্টম মনু সাবর্ণির উৎপত্তি- কথা সবিস্তারে বলিতেছি, শ্রবণ কর।” এইরূপে দেখা গেল যে, সেই 'র অতীত মন্বন্তরে সুরথ রাজা অষ্টম মনুর অধিকার বহন করিবার জন্য আপনাকে প্রস্তুত করিয়াছিলেন। এখন সপ্তম মনু বৈবস্বতের মন্বন্তর। ইনি আৰ্যজাতির আদি পিতা—জম্বুদ্বীপের অধিপতি। কালবশে পঞ্চম অধ্যায়। জম্বুদ্বীপের ধ্বংস হইয়া নূতন জাতির উদ্ভব হইবে। সেই জাতির জনক ও সেই দ্বীপের অধিপতি হইবেন—সাবৰ্ণি মনু, চণ্ডীবর্ণিত পূৰ্ব্ব মন্বন্তরের সুরথ রাজা। এইরূপ অন্যান্য অধিকারী পুরুষের কথা আমরা পুরাণদিতে পাঠ করি। “দ্রৌণিব্যাসাে ভবিষ্যতি । বলিরিত্রো ভবিষ্যতি” ইত্যাদি। অশ্বথামা ব্যাস হইবেন, বলি ইন্দ্র হইবেন, ইত্যাদি। অর্থাৎ বর্তমানে যাহারা ইন্দ্র, ব্যাস প্রভৃতির অধিকার পালন করিতেছেন, কাল পূর্ণ হইলে তাহাদের অধিকার-সমাপ্তি হইবে এবং অন্য জীবন্মুক্ত পুরুষ তাহাদের পদ গ্রহণ করিয়া তাঁহাদের অধিকার পালন করিবেন। শুনা যায়, মহর্ষি মরু ও দেবাপি ভাবী মন্বন্তরে মনু ও বােধিসত্ত্ব বা ব্যাসের অধিকারে অধিষ্ঠিত হইবেন। এই যে সকল সিদ্ধ মহাত্মা ভাবী অধিকার পালন করিবার জন্য অপেক্ষা করিতেছেন, আমাদের স্মরণ রাখা উচিত যে, তাহারা অনেকেই স্থূলদেহধারী স্থূলদেহধারী জীব। এই মৈত্রেয় দেব—আমরা যাহার প্রতীক্ষা করিতেছি—তিনি কিরূপ দেহে আছেন? ঋষিরা ইচ্ছা করিলে যােগবলে যত দিন ইচ্ছা দেহ রক্ষা করিতে পারেন অথবা কালবশে দেহ জীর্ণ হইলে মাতৃগর্ভে প্রবেশ করিয়া কিংবা পরদেহে প্রবিষ্ট হইয়া দেহান্তর গ্রহণ করিতে পারেন। মরুদেব ও দেবাপিদেব সম্বন্ধে যেরূপ শুনা গিয়াছে, তাহাতে মনে হয়, তাহারা প্রাচীন দেহ ত্যাগ করিয়া ইতি- মধ্যে অনেক বার জন্ম পরিগ্রহ করিয়াছেন এবং সম্প্রতি মরুদেব রাজপুত- শরীরে এবং দেবাপিদেব কাশ্মীরি-ব্রাহ্মণ-দেহে অধিষ্ঠিত আছেন। শ্ৰীশঙ্করাচাৰ্য কয়েক বৎসরের জন্য যেরূপ অমরু রাজার দেহে প্রবিষ্ট হইয়াছিলেন, 'শুনা যায়, কোন কোন মহাত্মা নিজ দেহ জীর্ণ হইলে এইরূপ পরকায় প্রবেশ করিয়া অবস্থান করিতেছেন। গ্রীকদিগের মধ্যে একটি কাহিনী প্রচলিত আছে যে, গ্রীক যােগী পীথাগােরস নিজ দেহ নষ্ট হইলে, জগদ্গুরুর আবির্ভাব। এক মৃত ধীবরের দেহে প্রবেশ করিয়া অনেক বৎসর জীবিত ছিলেন। অথবা ইচ্ছা করিলে যােগীরা দেহের মধ্যে যােগাগ্নি প্রজ্বলিত করিয়া এই পঞ্চভূতাত্মক নশ্বর দেহকে অজর অমর করিতে পারেন। শাস্ত্রে অশ্বত্থামা, বলি, ব্যাস প্রভৃতি সপ্ত চিরজীবীর উল্লেখ আছে। সম্ভবতঃ তাঁহাদেব এইরূপ জরা-মৃত্যুর অতীত যােগাগ্নিময় শরীর। এ সম্বন্ধে শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ্ এইরূপ কহিয়াছেন— “পৃথপতেজোহনিলখে সমৃদ্ধিতে পঞ্চত্মকে যােগগুণে প্রবৃত্তি। ন তস্য নােগাে ন জরা ন মৃত্যু প্রাপ্ত যােগাগ্নিময়ং শরীর।” যেত ১২ অর্থাৎ যােগগুণ প্রবৃত্ত হইলে, যােগী পঞ্চভূতাত্মক দেহের স্থলে যােগাগ্নিময় শরীর প্রাপ্ত হন। এ শরীর জরা মৃত্যুর অতীত। এইরূপ দেহের সম্বন্ধে শ্বেতাশ্বতর বলিতেছেন— “লঘুইমারােগ্যমলােলুপত্বং বর্ণপ্রসাদং স্বরসৌষ্ঠবঞ্চ। গন্ধঃ শুভাে মুত্রপূরীঘমল্লং যােগপ্রবৃত্তিং প্রথমাং বদন্তি। খেত ৩১৩ অর্থাৎ ঐরূপ যােগীর শরীর লঘু হয়, বােগহীন হয়, অলােলুপ হয়, তাহার বর্ণপ্রসাদ হয়, স্বরসৌষ্ঠব হয়, শুভগন্ধ হয় এবং মুত্রপুরীষ অল্প হয়। যােগের ভাষায় ইহাকে কায়-সম্পদ বলে। ইহা অন্যতম যােগসিদ্ধি- ততোৎণিমাদিপ্রাদুর্ভাবঃ কায়সম্পৎ তদ্ধৰ্ম্মানভিঘাত” বােগসূত্ৰ ৩৪৫ “রূপলাবণ্য-বল-বুসংহনানি কায়সম্পৎ।”- ৩৪ ‘অতঃপর অণিমাদির প্রাদুর্ভাব হয় এবং কায়সম্পৎ লাভ হয় এবং ভূতধৰ্ম্মের অর্থাৎ ক্ষিতি, অপ, তেজ প্রভৃতির অনভিঘাত হয়। রূপ, লাবণ্য, বল ও বজ্রের ন্যায় শরীরের দৃঢ়তাকে কায়-সম্পদ বলে।
পঞ্চম অধ্যায়। দর্শনীয়ঃ কান্তিমান্ অতিশয়বলাে বজ্র-সংহননশ্চেতি। ব্যাসভাব্য। ভগবদগীতার ‘ধ্যানেশ্বরী’ নামে একখানি মহারাষ্ট্র ভাষায় লিখিত প্রাচীন ভাষ্য আছে। ঐ ভাষ্যকার যােগসিদ্ধ পুরুষ ছিলেন। ভাষ্যে যােগাগ্নিময় শরীরের বিস্তৃত বর্ণনা আছে। নিম্নে সেই বর্ণনার ইংরাজী অনুবাদ প্রদত্ত হইল।* তাহার সার মর্ম এইরূপ— on When this path is beheld, then thirst and hunger are forgotten ; night and day are undistinguished in this road. Then with a discharge from above, the reservoir of moon fuid of immortality (contained in the brain ), leaning over o side, communicates into the mouth of the Power. Thereby the tubes ( Derves ) are filled with the fluid ; it penetrates into all the members, and in every direction the vital breath dissolves thereinto. As from the heated crucible all the wax flows out, and then it remains thoroughly filled with the molten metal poured in. Even so, that lustre ( of the immortal moon-fluid ) has become actually moulded into the shape of the body : on the outside it is wrapped up in the folds of the skin. Exen so, above is this dry shell of the skin, which like the husk of grain of itself falls off. Afterwards such is the splendour of the limbs, that one is perplexed whether it is a self-existing shaft of Cashmere porphyry, or shoots that have sprouted up from jewel seed. Such becomes the body, what time the serpentine (or annular) Power drinks the moon fluid (of immortality descending from the brain ), then oh! friend, Death dreads the shape of the body. Then disappears old age, the knots of youth are cnt to pieces, and the lost state of childhood re-appears ! As the golden tree at the freshly sprouting extremities of its branches puts forth jewel buds daily new, even só, new and beautiful nails sprout forth (from his fingers and toes).
জগদ্গুরুর আবির্ভাব। যােগসিদ্ধ পুরুষের কুণ্ডলিনী শক্তি জাগ্রত হইয়া সুষুম্নার দ্বারে সহস্রার স্পর্শ করিলে, সহস্রদল হইতে একরূপ অমৃতক্ষরণ হয়। সেই অমৃতধারা সৰ্ব্বাঙ্গে প্রবাহিত হইয়া, প্রাণকে আপ্লুত করে। তখন সেই ধারার দ্যুতি যেন ঘনীভূত হইয়া শরীরের এক নবীন ত্বক রচনা করে। তখন যােগীর দেহ- চৰ্ম্ম ধান্যতুষের ন্যায় খসিয়া পড়ে এবং দেহে অপূর্ব লাবণ্যের বিকাশ হয়— যেন দেহ রত্ন-খচিত বলিয়া মনে হয়। মৃত্যু তাহার নিকট হইতে দূরে অবস্থান করে, জরা কোথায় অন্তর্হিত হয়, এমন কি যৌবনও পুনঃ মুকুলিত হইয়া শৈশবের দিকে ফিরিয়া যায়। যেমন বসস্তাগমে তরুবর নব পুষ্প- কিশলয়ে ভূষিত হয়, সেইরূপ দেহও নবীন নখদন্তে শােভিত হয়, যেন হীরকশ্রেণী দীপ্তি পাইতে থাকে। এবং যােগীর পদতল, করতল রক্তপদ্মের সমতুল্য হয় ; এবং চক্ষুতে অপূৰ্ব্ব জ্যোতি খেলিতে থাকে ; যোগীর শরীর বায়ুর তুল্য লঘু হয় এবং আনখ সুবর্ণময় বােধ হয়। মহাঋষি মৈত্রেয়দেবের যখন আমরা মহাভারতের সময় কুরুসতায় দর্শন পাই, তখন তিনি অন্ততঃ পাঁচ হাজার বৎসরের লোেক। কুরুসভায় তিনি যে দেহে অবিভূত হইয়াছিলেন, যদি এখনও সেই দেহই রক্ষা করিয়া থাকেন, তবে তাহা নিশ্চয় যোগাগ্নিময় শরীরে পরিণত হইয়াছে। নতুবা তিনি কয়েক বার দেহপরিবর্তন করিয়া বর্তমানে নবতর শরীরে বিদ্যমান আছেন। ব্ৰহ্মদেশস্থ অনেক বৌদ্ধ মন্দিরে বুদ্ধদেবের মূর্তির সহিত এক শ্বেতাঙ্গ যােগিমূর্তি দেখা যায়। ইনিই বােধিসত্ত্ব মৈত্রেয়দেব। Ile gets other teeth also ; but these shine beyond all measure as rows of diamonds set on either side. The palms of the hands and soles of the feet become like red Jotus flowers; the eyes grow inexpressibly clear. The body becomes of gold in lustre, but it has the lightness of the wind, for of water and of earth no portion is left.Quoted in Dream of Ravan pp. 189-192.
পঞ্চম অধ্যায়। বুদ্ধদেব স্বর্ণকান্তি, ইহার ঐ সকল মূৰ্ত্তি শ্বেতকান্তি। এরূপ মূর্তির কি ইহাই ভাবার্থ যে, মৈত্রেয়দেব সম্প্রতি যে শরীর ধারণ করিয়া আছেন, তাহা শ্বেতাঙ্গ শরীর ? মৈত্রেয়দেব যে শরীরেই থাকুন এবং যেখানেই অবস্থান করুন শুনিয়াছি, তিনি হিমালয়ের কোন দক্ষিণাভিমুখীন শিখরস্থ যােগােদ্যানে অবস্থিতি করিতেছেন), আমাদের জানিবার বিষয় এই যে, কয়েক বৎসরের মধ্যে তিনি হিমাচলের অভ্রভেদী চূড়া পরিত্যাগ করিয়া যখন আমাদের কঠিন মাটীতে অবতীর্ণ হইবেন, তখন তিনি কোন দেহে দর্শন দিবেন । অর্থাৎ তিনি কি স্বশরীরে আবিভূত হইবেন অথবা আবির্ভাবের জন্য শরীরান্তর গ্রহণ করিবেন ? শরীরান্তর গ্রহণ করাই সম্ভব ও সঙ্গত। কারণ, সিদ্ধযােগীর যােগাপ্পি- ময় অথবা যােগসুকুমার দেহ আমাদের পাপ-তাপ-ক্লিষ্ট আবহাওয়ার সমযােগ্য নয়। তাই বলিতেছিলাম, তিনি অন্য দেহে অবিভূত হইবেন। সাধারণত দেখা যায় যে, অবতারস্থানীয় মহাপুরুষেরা পৃথিবীতে আবির্ভাবের জন্য জননী-জঠরে প্রবেশ করিয়া শৈশব ও কৈশােরের কয়েক বর্ষ অপব্যয় করেন না। বরং দেখা যায় যে, শঙ্করাচাৰ্য যেরূপ বিশেষ কাৰ্য উপলক্ষে অমরু রাজার দেহে প্রবেশ করিয়াছিলেন, সেইরূপ তাহারা পরকায় প্রবেশ করিয়া জগতে আবির্ভূত হন। পরশুরামের দেহে এইরূপে বিষ্ণুতেজ প্রবেশ করিয়া ক্ষত্রিয় কানন দগ্ধ করিয়াছিলেন । পরে শ্রীরামচন্দ্র সেই তেজ সংহরণ করিলে, পরশুরাম ভার্গব ঋষি হইলেন ; আর বৈষ্ণব তেজের আধার পরশুরাম রহিলেন না। এইরূপ ইহুদী দেশে প্রায় দুই সহস্র বৎসর পূর্বে যখন আর এক বৈষ্ণবী লীলার অভিনয় হইয়াছিল, তখন ক্রাইষ্ট শিষ্য যীশুর দেহে প্রবেশ করিয়া যীশুখৃষ্টরূপে এই অভিনয়ের অধিনায়কত্ব করিয়াছিলেন। এখানেও সেই অবেশের ব্যাপার। যীশুখৃষ্টকে ক্রুশে চড়াইলে যখন সেই ক্রাইষ্টশক্তি যীশুর দেহ জগদ্গুরুর আবির্ভাব। হইতে অপহৃত হইল, তখন যীশু সখেদে বলিয়াছিলেন-Father ! Father! Why hast Thou forsaken me ?”- পিতঃ! পিতঃ ! কেন তুমি আমায় পরিত্যাগ করিলে ? কিন্তু এই আবেশের বা পরকায় প্রবেশের প্রকাণ্ড কাও আমরা ৪০০ শত বৎসর পূর্বে এই বঙ্গদেশে প্রত্যক্ষ করিয়াছি। সেই ব্যাপারের প্রধান অভিনেতা শ্রীচৈতন্যদেব। প্রথম বয়সে নিমাই পণ্ডিত তীক্ষ্ণবুদ্ধি তর্ককুশল শুদ্ধপূত ব্রাহ্মণকুমার মাত্র ছিলেন, পরে তাহার দেহ-রঙ্গভূমে বিচিত্র বিবিধ অভিনয় আরম্ভ হইল। এমন কি, গােলােকবিহারী শ্ৰীকৃষ্ণ এবং রাসেশ্বরী শ্রীরাধাও সেই দেহে প্রবেশ করিলেন। জগদগুরু মৈত্রেয় দেবের আগামী আবির্ভাব ব্যাপারেও সম্ভবতঃ এইরূপই ঘটিবে। তিনিও কোন ভক্ত শিষ্যের যােগশুদ্ধ সাধনাপুত শৰীরে প্রবেশ করিবেন এবং যে কয় বৎসর এই পৃথিবীতে লীলা করার আবশ্যক হইবে, সেই কয় বৎসর সেই শরীরেই অবস্থান করিবেন। আমরা সেই শুভদিনের অপেক্ষা করিতেছি।
ষষ্ঠ অধ্যায়। ৬৫ ষষ্ঠ অধ্যায়। ( আগমনের পূর্ব লক্ষণ।) সূর্যোদয়ের পূর্বে পূৰ্বাকাশে যেরূপ উষার অরুণচ্ছটা প্রকাশিত হয়, যাহা লক্ষ্য করিয়া বিশ্ববাসী নিশ্চয় করে যে, সূর্যোদয় আগতপ্রায়, মৈত্রেয় দেবের আগমনের সইরূপ কোন পূৰ্ব্বসূচনা কি লক্ষিত হইতেছে -যদ্বারা আমরা ধারণা করিতে পারি যে, তঁাহার আবির্ভাব আগতপ্রায় ? জগতের সর্বত্র এ সম্বন্ধে যে অশা-প্রতীক্ষা জাগিয়া উঠিয়াছে, ইহা তাহার ভাধী আগমনের একটা সূচনা বটে, কিন্তু ইহা অপেক্ষাও স্পষ্টতর লক্ষণ কিছু ফুটিয়া উঠিয়াছে কি না? এরূপ লক্ষণ অনেকগুলি ইতিমধ্যে সুস্পষ্ট হইয়াছে। অতঃপর আমরা তাহারই আলােচনা করিব। এই সকল লক্ষণকে আমরা বহিলক্ষণ (External signs) এবং অস্তলক্ষণ ( Internal signs) এই দুই ভাগে বিভক্ত করিতে পারি। পৃথিবীর পুরাণ ইতিহাসের আলােচনা করিলে দেখা যায় যে, পৃথিবীর প্রত্যেক সন্ধিক্ষণে এক একটি নূতন মহাদ্বীপের (Continent) আবির্ভাব হয়। আমাদিগের পুরাণ শাস্ত্র এবং থিওসফিক্যাল গ্রন্থের প্রতি দৃষ্টি করিলে এ সম্বন্ধে সন্দেহ থাকে না। পাশ্চাত্য বৈজ্ঞানিকেরা এখন স্বীকার করিতে বাধ্য হইয়াছেন যে, আমাদের পৃথিবীর বয়স অন্ততঃ দশকোটী বৎসর। এই দীর্ঘকাল * Physicists are now willing to allow that the Earth may have been in existence for eight hundred million years. This is in view of the discovery of radio-active substances in the crust of the Earth.Theosophist, vol xxxiv, p. 294 (৫) জগদ্গুরুর আবির্ভাব ব্যাপিয়া পৃথিবীর সংস্থান (Configuration ) বরাবর একরূপ ছিল না। ইতিমধ্যে কালের প্রভাবে এবং পৃথিবীর অভ্যন্তরিক পরিবর্তনে অনেক বার জল স্থল হইয়াছে, স্থল জল হইয়াছে, পৰ্বত গহ্বর হইয়াছে, গহ্বর পৰ্ব্বত হইয়াছে। ভূবিদ্যা (Geology) এ সম্বন্ধে বিশিষ্ট সাক্ষ্য দিতেছে। অনেকেই বােধ হয় অবগত আছেন যে, এখন যাহা কয়লার খনিতে পরিণত হইয়াছে এবং যে খনি পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রােথিত রহিয়াছে, এক কালে তাহা প্রকাণ্ড জঙ্গল ছিল এবং পৃথিবীর গাত্রে শােভা পাইত। কালবশে সেই সকল পাদপ কয়লায় পরিণত হইয়াছে এবং ভূমিকম্পের ফলে পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়াছে। এমন এমন কয়লার খনি আবিষ্কৃত হইয়াছে—যাহা পর পর আট দশটি স্তরে বিন্যস্ত। এক এক স্তর হয় ত পঁচিশ ত্রিশ হাত গভীর। নিম্নতম স্তর হয় ত চারি পাঁচ শত হাত মাটীর নীচে অবস্থিত। তাহার উপর ১০, ১৫, ২০ হস্ত পরিমিত একটা জমাট বালির স্তর। তাহার উপর আবার কয়লার স্তর, আবার জমাট বালি, আবার কয়লার স্তর, এইরূপে স্তরে স্তরে সাত আট প্রস্থ কয়লার খনি উপরি উপরি সজ্জিত রহিয়াছে। ইহা হইতে প্রমাণিত হয় যে, যাহা স্থল ছিল তাহা ভূপ্রােথিত হইয়া তাহার উপর সমুদ্র তরঙ্গ লীলা করিয়াছে। পরে সমুদ্র সরিয়া গিয়া বালুকাপের উপর পলি জমিয়া আবার কাননের উদ্ভব হইয়াছে। সেই কানন কয়লায় পরিণত হইয়া আবার ভূপ্রােথিত হইয়াছে। আবার সমুদ্রের লহরী খেলিয়াছে, আবার পলি পড়িয়াছে, আবার কানন ঘনীভূত হইয়াছে, আবার তাহা কয়লায় পরিণত হইয়া ভূগর্ভে প্রােথিত হইয়াছে ;--অর্থাৎ এইরূপে মেদিনীর পুনঃ পুনঃ উত্থান-পতন হইয়াছে। এইরূপে দেখা যাইতেছে যে, স্থিরা পৃথী—ইহা কথার কথা মাত্র, বাস্তবিক পৃথিবী ভর ও পরিবর্তন- ৫ See Story of & Piece of Coal.-Story of Science sories ষষ্ঠ অধ্যায়। শল এবং যুগে যুগে পৃথিবীর সংস্থানের পরিবর্তন হইয়াছে। * পৃথিবীর বর্তমান সংস্থানের নাম পুরাণের ভাষায় জম্বুদ্বীপ। পুরাণকার বলেন যে, জম্বুদ্বীপ সপ্তদ্বীপা মেদিনীর একটী দ্বীপমাত্র। ইহার পূর্বে আর চারিটি দ্বীপ ছিল (তাহাদিগের নাম ক্রৌঞ্চ, প্ল, শালি ও কুশ) এবং পরে আর দুইটি দ্বীপ হইবে (তাহাদিগের নাম শাক ও পুষ্কর)। জম্বুদ্বীপের অধিপতি বৈবস্বত মনু; তাহার সন্তান আৰ্য মানবজাতি (Aryan race)। থিওফিক্যাল গ্রন্থে এই আৰ্য জাতিকে পঞ্চম জাতি (Fifth race) বলা হইয়াছে। ইহা সঙ্গত কথা। কারণ, জম্বুদ্বীপের পূৰ্ব্বে যে চারিটি দ্বীপ ছিল, তাহাদিগের প্রত্যেক দ্বীপের অধীশ্বর এক এক জন মনু ছিলেন (সেই জন্য গীতা বলিয়াছেন—“চত্বারাে মনবস্তথা*) এবং প্রত্যেক দ্বীপ এক একটি জাতির (Race র ) লীলাভূমি ছিল। যেমন ক্রৌঞ্চদ্বীপ প্রথম জাতির, প্লক্ষদ্বীপ দ্বিতীয় জাতির, শালিদ্বীপ—যাহার ইংরাজী নাম Lemuria—তৃতীয় জাতির, এবং কুশদ্বীপ—যাহার ইংরাজীনাম Atlantis —চতুর্থ জাতির লীলাভূমি ছিল। বর্তমান জম্বুদ্বীপ আৰ্যজাতির লীলাভূমি হইয়াছে। অন্য অন্য দ্বীপ যেরূপ কালবশে বিধ্বস্ত হইয়া জলমগ্ন হইয়াছে, সময়ে জম্বুদ্বীপও ধ্বংস প্রাপ্ত হইবে এবং তাহার স্থলে ষষ্ঠদ্বীপ শাকদ্বীপ সমুদ্রের গর্ভ হইতে আকাশের উপর মস্তক উত্তোলন করিবে। ইহার স্পষ্ট লক্ষণ ইতিমধ্যেই দেখা যাইতেছে। প্রশান্ত মহাসাগরের বক্ষ বিদীর্ণ করিয়া একটি দ্বীপপুঞ্জ উথিত হইতে আরম্ভ হইয়াছে। এই দ্বীপপুঞ্জ যখন পরস্পর সংযুক্ত হইয়া একটি মহাদ্বীপে পরিণত হইবে, তখনই শাকদ্বীপ সম্বন্ধে পুরাণের ভবিষ্যদ্বাণী সফল হইবে । এবং সেই দ্বীপের • Dr. M. Albert Nobles of Philadelphia, one of the foremost investigators, of Scismic phenomena in the United States, says that the science of Geology proves that continente, no less than human beings, have their periods of life and death. † Dr. Nobles says--A tremendous catastrophe is impending. Not only will a large portion of the old world be swallowed up জগদ্গুরুর আবির্ভাব। উপর ষষ্ঠ মনুর সন্তান Sixth Race (যষ্ঠ জাতি) বিরাজিত হইবে। তাহার এখনও অনেক বিলম্ব আছে। কিন্তু ইতিমধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরের স্থানে স্থানে ভুমিকম্পের ব্যাপারে ভীত হইয়া কোন কোন বৈজ্ঞানিক পৃথিবীর উপর এক প্রকাণ্ড জলপ্লাবনের আশঙ্কা করিতেছেন।* ভীতির আপাততঃ কোন কারণ নাই। কিন্তু কালবশে আৰ্য্যলীলাভূমি জম্বুদ্বীপ যে পূর্বগামী শাল্মলি (Lemuria) এবং প্লক্ষদ্বীপের ( Atlantis ) ন্যায় সমুদ্রগর্ভে নিমজ্জিত হইবে, তাহা সুনিশ্চিত। কিন্তু তৎপূৰ্ব্বে জগ- গুরু আবিভূত হইয়া আৰ্যজাতির জীবনে এক নূতন অধ্যায়ের অবতারণা করিবেন। এখন যেখানে এটলান্টিক মহাসাগর বিস্তৃত রহিয়াছে, কয়েক সহস্র বর্ষ পূর্বে সেখানে যে একটি মহাদ্বীপ (প্লক্ষ বা Atlantis ) বিদ্যমান ছিল এবং সেই মহাদেশ যে একটি সুসভ্য জাতির লীলাভূমি ছিল, এ সম্বন্ধে এখন অনেক প্রমাণ সংগৃহীত হইয়াছে। গ্রীক মনীষী প্লেটো ইহার but a new continent will be born in a vast stretch of Pacific waters. ........Already, too, the new Pacific continent has begun to shew itself as the result of volcanic eruptions in the Behring Sea.- Theosophist, vol 4. p. 294. * Sume two or three years ago, there was m long discussion in the British Association for the Advancement of Science at its aunualmeeting with regard to these volcanic eruptions and the islands, which thus suddenly had appeared. The discussion turned on the question whether the globe itself was in danger ; it was pointed out that if these eruptions increased in violence and a larger Jand area was suddenly thrown up in the Pacific, the result of that, inevitably, would be a tremendous tidal wave not such a tidal wave as is sometimes known in Japan but a tidal wave of enormous magnitude, which might sweep outwards from the Pacific and practically drown the world.Herald of the Stur, vol'ii. p 393. † Apart from all questions of occult research, there is a mass of testimony that lands pow widely separated by the ocean show ষষ্ঠ অধ্যায়। নাম দিয়াছিলেন—অ্যাটল্যানটি ( Atlantis )। কালবশে সেই মহাদেশ বিধ্বস্ত হইয়া জলমগ্ন হইয়াছে। তাহারও পূৰ্বে ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ ভাগে তৃতীয় জাতির লীলাভূমি শাল্মলি দ্বীপ । (Lemuria) প্রস্ত ছিল। এ সম্বন্ধেও অনেক প্রমাণ সংগৃহীত হইয়াছে। এই মহাদেশ কালক্রমে ধ্বংস প্রাপ্ত হইয়াসমুদ্রগর্ভে প্রবেশ করিয়াছিল; অতএব কাল পূর্ণ হইলে আমাদের জম্বুদ্বীপও যে জলমগ্ন হইবে এবং ষষ্ঠ জাতির মহাদেশ শাকদ্বীপ তাহার স্থান অধিকার করিবে, ইহা বিচিত্র নহে। জগদ্গুরুর আগমনের দ্বিতীয় বাহ্য লক্ষণ আমেরিকা প্রভৃতি প্রদেশে নূতন শাখা-জাতির আবির্ভাব। অনেকেই অবগত আছেন যে, মূল আৰ্যজাতি হইতে যুগে যুগে কয়েকটি শাখা-জাতির উদ্ভব হইয়াছে এবং signs of former land communication between the western side of Africa and the eastern coast of America. ......... There are, of course, as I say, many scientific facts, and many other points, some of them interesting, as regards the relationship between Egypt and Mexico : for in both those widely separated countries you get the same type of frescoes, the same sort of temple, indicating that from ancient Egypt people went out across the Atlantic and founded that great civilization in Mexico which the Spaniards, in their turn, destroyed. * It is not only with regard to Atlantic that this change has taken place in the distribution of water or land, but you also find similar indications in connexion with Australia.......... Research among the animals of the country shows a connecting link between Australia and Mauritius, indicating that which is, I believe, practically accepted by most evolutionists--by Hackael and so mauy others--that there was also a continent there named Lemuria and that tontinent was the cradle of the human race. Those of you who have read Heakael's book on this will remember the panzage to which I refer.-Ibid p 393.
জগদগুরুর আবির্ভাব। প্রত্যেক শাখা-জাতির উদ্ভবের প্রাক্কালে বা সমকালে এক মহাপুরুষের আবির্ভাব ঘটিয়াছে। আর্যজাতির আদিম বাসস্থান (প্রত্ন ওকঃ) মধ্য এসিয়া হইতে যুগে বুগে জনপ্রবাহ প্রবাহিত হইয়া বিভিন্ন জনপদে উপনিবেশ রচনা করিয়া- ছিল। আৰ্যজাতির প্রথম শাখা ভারতবর্ষে উপনিবিষ্ট হইয়া ভারতীয় সভ্যতার ভিত্তি স্থাপন করিয়াছিল। এই সভ্যতার মূলমন্ত্র ছিল “ধৰ্ম্ম” এবং ইহাদিগের মধ্যে জগদ্গুরু ব্যাসরূপে আবির্ভূত হইয়াছিলেন। আৰ্যজাতির দ্বিতীয় শাখা মিসরে, ক্রীটে এবং ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণ উপকূলে উপনিবিষ্ট হইয়া মিসরীয় সভ্যতার সূত্রপাত করিয়াছিল। এই সভ্যতার মূলমন্ত্র ছিল—“বিজ্ঞান” (Science) এবং ইহাদিগের মধ্যে জগদ্গুরু হার্মিস (Hermes) রূপে আবির্ভূত হইয়াছিলেন। আৰ্যজাতির তৃতীয় শাখা পারস্যে উপনিবিষ্ট হইয়া ইরাণীয় সভ্যতা প্রতিষ্ঠা করিয়াছিল। সেই সভ্যতার মূলমন্ত্র ছিল—“শুদ্ধি” (Parity) এবং তাহাদিগের মধ্যে জগদ্গুরু (Zeroaster) জোরােএষ্টার-রূপে অবিভুত হইয়াছিলেন। আৰ্যজাতির চতুর্থ শাখা গ্রীস, বােম প্রভৃতি দেশে উপনিবিষ্ট হইয়া কেটি (Celtic) সভ্যতা প্রতিষ্ঠা করিয়াছিল। সেই সভ্যতার মূলমন্ত্র ছিল—“সৌন্দৰ্য” ( Beauty) এবং ইহাদিগের মধ্যে জগদ্গুরু অরফিউস্- (Orpheus) রূপে আবির্ভূত হইয়াছিলেন। আর্যজাতির পঞ্চম শাখা জার্মানি, ইংলণ্ড প্রভৃতি দেশে উপনিবিষ্ট হইয়া টিউটনিক সভ্যতার সূত্রপাত করিয়াছে । এই সভ্যতার মূলমন্ত্র “ক্তিত্ব” এবং “প্রতিমােগিতা” (Individuality and competetion) এবং ইহাদিগের মধ্যে জগরু ক্রাইষ্ট-( Christ) রূপে আবির্ভূত হইয়াছিলেন।
ষষ্ঠ অধ্যায়। ৭১ এখন অৰ্যজাতির জীবন-নাটকে একটি নূতন অঙ্কের অভিনয় হইবার সময় উপস্থিত হইতেছে। অৰ্যজাতির ষষ্ঠ শাখার অভ্যুদয়ে যে নূতন সভ্যতার সূত্রপাত হইবে, তাহার মূলমন্ত্র হইবে—“ভ্রাতৃত্ব” (Brotherhood ), “ব্যক্তিত্ব’ নহে, “সমবায়” (Co-operation), প্রতিযােগিতা (Competition) নহে। এই নূতন সভ্যতার উৎস মানব-জাতিকে উন্নতির আরও উৰ্দ্ধতন সোপানে উপনীত করিবে। বাস্তবিক এইরূপেই মানবের ক্রমবিকাশ ও ক্রমােন্নতি সাধিত হয়, এবং প্রাচীন পদ্ধতি পরিবর্তিত হইয়া নবতর বিধানের প্রতিষ্ঠা হয়। সেই জন্য কবি বলিয়াছেন :- The old order changeth, yielding place to new And God fulfils himself in many ways-কারণ, উন্নতিই জগতের ধারা, বিকাশই প্রকৃতির পরিণাম। ১৮৮২ খৃষ্টাব্দে তত্ত্ববিদ্যা-সভার জননী ম্যাডাম ব্লভিটী যখন “গুপ্ত বিদ্যা” (Secret Doctrine) গ্রন্থ প্রকাশিত করেন, তখন তিনি বলিয়াছিলেন যে, অৰ্যজাতির ষষ্ঠ শাখা মার্কিণ মহাদেশে উদ্ভূত হইবে। ইতিমধ্যেই তঁাহার ভবিষ্যদ্বাণী সফল হইয়াছে। কারণ, আমেরিকার ক্যালিফর্নিয়া প্রদেশে একটি বিশিষ্ট জাতীয় শিশুর উদ্ভব হইতেছে। ইহা সাধারণ আমেরিকাবাসী হইতে স্বতন্ত্র ও বিভিন্ন। আমেরিকার প্রাণি- তত্ত্ববিৎ পণ্ডিতেরা এই নবতর মনিবের আগমন লক্ষ্য করিয়া তৎসম্বন্ধে আলােচনা আরম্ভ করিয়াছেন। ইহাই আমাদিগের প্রত্যাশিত আৰ্য- জাতির ষষ্ঠ শাখা । * In America, at the present time, a new and quite distinct type of humanity is gradually arising, and this fact is borne witness to by the report of one of the leading ethnologists of America. The report was printed in the papers issued by the Ethnological Bureau at Washington. He points out that, into that great १२ জগদ্গুরুর আবির্ভাব। অৰ্যজাতির অতীত ইতিহাস সাক্ষ্য দিতেছে যে, পূৰ্ব্ব পূৰ্ব্ব বার যখনি আৰ্যজাতির নূতন শাখার উদ্ভব হইয়াছে, তখনি তাহার সঙ্গে সঙ্গে জগদ্গুরু লােকশিক্ষকরূপে ভূমণ্ডলে অবতীর্ণ হইয়াছেন। যে ঘটনা বার বার পাঁচ বার ঘটিয়াছে, এবারে কি তাহার ব্যত্যয় হইতে পারে ? জগদ্গুরু যখন ভারতবর্ষে ব্যাসরূপে, মিশরে হারমিরূপে, ইরাণে জোবােয়াষ্টাররূপে, গ্রীসে অরফিউসরূপে, এবং জুডিয়ায় যীশুখৃষ্টরূপে আবির্ভূত হইয়াছিলেন, তখন আৰ্যজাতির ষষ্ট শাখার উগমসময়ে তিনি কি উদাসীন থাকিবেন ? আৰ্যজাতির শৈশবে, কৈশােরে, যৌবনে যে ব্যাপার ঘটিয়াছিল, তাহার প্রৌঢ় দশায় তাহা কি অসম্পন্ন থাকিবে ? অতএব ইতিহাসের শিক্ষা যদি অমূলক না হয়, জাগতিক ব্যাপার যদি একটা যদৃচ্ছাজাত খামখেয়াল না হয়, তবে, আমেরিকায় আৰ্যজাতির ষষ্ঠ শাখার উদ্ভবে অমিরা জগদ্গুরুর আশু আবির্ভাবের স্পষ্ট লক্ষণ দেখিতে পাইতেছি। * এতক্ষণ আমরা জগদ্গুরুর আগমনের বাহ্য লক্ষণ সম্বন্ধে আলােচনা করিলাম। অতঃপর তাহার আগমনের অন্তলক্ষণের কিছু আলােচনা করিব। পৃথিবীর উপর দিয়া যে কালের ধারা বহিয়া গিয়াছে, আৰ্য্য melting pot as we might call it, of America, all European nations are pouring large numbers of their population. In that Republic, with the mixture of all these European types, there is gradually growing up a new type, distinct from all of them, and this type is rapidly becoming more and more numerous, and may fairly be called the coming American type.-Herald of the Star, vol iii, p 391. • If we find that with each new sub-race a new religion and a new civilisation appear, it is not unnatural to suppose that the history of the past will be repeated in the present ; that with the coming of a new aub-race, there will be a new religious impulse and on that, and moulded by it, a new impulse of civilisation.--Mrs. Annie Besant in Herald of the Star, vol iii, p 461.
ষষ্ঠ অধ্যায়। ঋষিরা সেই প্রবাহকে কয়েকটি যুগে বিভক্ত করিয়াছেন। যুগের ইংরাজী নাম Age। এক যুগ চলিয়া যায়, অন্য যুগ আসে। দুই যুগের মধ্যে যুগ-সন্ধি। যখন এক যুগ গতপ্রায়, অন্য যুগ আগতপ্রায়, সেই কালকে যুগ-সন্ধি বলে। তখন প্রাচীন যুগের বিজয়া এবং নবীন যুগের আগমনীয় সময়। যদি আমরা জগতের প্রতি অবহিত হইয়া দৃষ্টিপাত করি, তবে আমরা দেখিতে পাই যে, এক্ষণে আমরা এক যুগসন্ধির ক্ষণে উপনীত হইয়াছি। প্রাচীন যুগের সূৰ্য যেন পশ্চিম আকাশে হেলিয়া পড়িয়াছে, এবং নবীন যুগের ঊষা পূৰ্বাকাশ আলােকিত করিতেছে। প্রত্যেক বিভাগে একটা স্তম্ভন, একটা স্থগনের ভাব লক্ষিত হইতেছে—ইংরাজিতে ইহাকে বলে Deadlock। কি ধৰ্ম্মে, কি বিজ্ঞানে, কি সুকুমার কলায়, কি সমাজে, কি রাষ্ট্রে, সর্বত্র মানবের চিন্তা ও চেষ্টা, উদ্যম ও উৎসাহ যেন স্তম্ভিত—স্থগিত হইয়াছে। সকল ক্ষেত্রে একটা অবসাদ, একটা নিশ্চেষ্টতা, একটা নিষ্ফলতা পরিলক্ষিত হইতেছে। কে ইহার প্রতীকার করিবে ? কে এই রুদ্ধ জীবন-স্রোতকে সজীবতা ও গতি দান করিবে ? কয়েক বৎসর পূর্বে শ্রীমতী অ্যানি বেসান্ট সর্বক্ষেত্রে এই সর্বনাশী Deadlock প্রদর্শন করিয়া কয়েকটি চমৎকার বক্তৃতা দিয়াছিলেন । সেই সকল বক্তৃতা পরে গ্রন্থাকারে The Changing World নাম দিয়া প্রকাশিত হইয়াছে। সেই গ্রন্থ হইতে সার সঙ্কলন করিয়া আমরা নিয়ে কয়েকটি কথা বিবৃত করিলাম। অভিজ্ঞ পাঠক তাহা হইতেই বুঝিতে পারিবেন যে, জগতের সঙ্কট সন্ধি-স্থলে জগদ্গুরুর আগমন সম্ভব ও সঙ্গত কি না? If you look around you on every side you will see the signs of a closing age; thoughts have reached a point beyond which they cannot continue on the old lines and in the old methods that is which I have called a deadlock so that in
৭৪
জগদগুরুর আবির্ভাব।
প্রথমতঃ ধৰ্ম্মে। ধৰ্ম্ম যত দিন সজীব ও প্রাণবন্ত থাকে, তত দিন
ইহার ভিত্তি প্রত্যক্ষ অনুভূতি বা সাক্ষাৎকারের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়,
মানব তত দিন কেবল আকাঙ্ক্ষা করিয়া বলে না
“অসতো মা সগময় তমসসা মা জ্যোতির্গময়।”
কিন্তু সাহস করিয়া উচ্চকণ্ঠে ঘােষণা করে
“বেদাহমেতং পুরুষং মহান্তম।”
‘আমি সেই পরম পুরুষকে জানিয়াছি।
“অগম জ্যোতিরবিদাম দেব।”
‘আমি জ্যোতির মধ্যে প্রবেশ করিয়াছি, দেবতাদিগের সাক্ষাৎ লাভ
করিয়াছি। তখন ধর্মের প্রাণ থাকে mysticism (ধ্যানরস),
অপরােহ্মানুভূতি—ভগবানের সহিত নিবিড় মিলন।* তখন জীব
যীশুখৃষ্টের সহিত সমস্বরে বলিতে থাকে——the kingdom of heaven is
within you—সর্গরাজ্য বাহিরে নহে, তােমার অন্তরের মধ্যে। কিন্তু
যখন ধৰ্ম্মের গ্লানি হয়, যখন ধৰ্ম্মের সজীব ভাব চলিয়া যায়, তখন ধৰ্ম্ম
অনুভূতির বিষয় না হইয়া বিশ্বাসের উপর স্থাপিত হয়। তখন ধৰ্ম্ম পরােক্ষ
উপদেশে এবং তর্কে ও বাক্যে পর্যবসিত হয়। তখন ঋষির স্থানে ‘ঋষভ’
প্রতিষ্ঠিত হন, প্রফেটের (prophet) স্থান ‘পুরুত’ গ্রহণ করেন।
তখন মানুষ বলিতে আরম্ভ করে-
“বিশ্বাসে মিলয়ে কৃষ্ণ তর্কে বহুদূর।
the great departments of buman thought and human activity, it
seems as though we could go no further along the old lines. -
The Changing World, p 3.
• সেইজন্য একজন অভিজ্ঞ লেখক বলিয়াছেন,
Mysticism is the temperamental reaction to the vision of
reality-Evelyn Underhill's Introduction to Kabir.
॥
ঘষ্ঠ অধ্যায় ৭৫ যত দিন না সেই ধর্মের মধ্যে আবার তত্ত্বদ্রষ্টা সাক্ষাৎকৰ্ত্তা পুরুষ আবিভূত হন, তত দিন সে ধৰ্ম্ম জীবন্ম ত থাকে, নবজীবন লাভ করিতে পারে না। কারণ, দ্রষ্টা পুরুষই ধৰ্ম্মমন্দিরের প্রকৃত স্তম্ভ। * সম্প্রতি ধৰ্ম্মজগতের প্রতি দৃষ্টিপাত করিলে আমরা দেখিতে পাই যে, সর্বত্রই এই ধৰ্ম্মের গ্লানি উপস্থিত হইয়াছে। তাহার ফলে ধৰ্ম্মজীবন নিষ্ফল আড়ম্বরে, কোথায়ও বা অন্ধ কুসংস্কারে এবং প্রায় সকল স্থলে প্রচ্ছন্ন জড়বাদে পরিণত হইয়াছে। দূরদর্শী ব্যক্তিগণ ধৰ্ম্মের এই গ্লানি লক্ষ্য করিয়াছেন এবং বলিতে আরম্ভ করিয়াছেন যে, ধর্মের মধ্যে mysticismর পুনরাগমন না হইলে, ধৰ্ম্মের শুষ্কভূমি ধ্যানরসের দ্বারা অভিষিক্ত না হইলে, প্ৰতীকারের জন্য আশা নাই। এজন্য কিছুদিন পূর্বে বিলাতের একজন ধর্মাচাৰ্য্য (Dean of St Paul) বলিতেছিলেন যে, জড়বাদ বরং ভাল ছিল ; কারণ, তারা জীবনের কতকগুলি সমস্যার মীমাংসা হইতে পারিত; কিন্তু এখন অবিশ্বাস ও সংশয়বাদের প্রচারে খৃষ্টীর জগতে * সেইজন্য খৃষ্টীয় ধর্মাচাৰ্য্য ওরিজেন (Origen) বলিয়াছেন, 'It is necessary for the Christian Church to have in it many Gnostics as the pillars on which it should be reared.- The Changing World, p 145. + The Dean of St. Paul in his Essex Lectures points out that things have been changing with regard to religion, to Christianity, that the materialistic hypothesis that was brought against it has broken down, is insufficient ; it, he says, was at least & coherent and a rational schome, explaining some of the things around us. Now men in the Churches are looking for some otber foundation, there seems a danger of their falling into scepticism, And he goes on to say that he believes that Mysticism, the testimony of the Mystic doesoffer the foundation that religion is seeking, and that the mystics possess that which the religious world is craving for today.
জগদ্গুরুর আবির্ভাব একটা নীরসতা ও শুষ্কভাবের প্রভাব দৃষ্ট হইতেছে—যাহা ধর্ম-জীবনের বিশেষ অকল্যাণকর। ইনি খৃষ্টীয় দেশের কথা যাহা বলিলেন, বােধ হয়, পৃথিবীর সকল দেশ ও সকল জাতির সম্বন্ধেই সেই কথা বলা চলে। এই জগদ্ব্যাপী নীরসতার রাজ্যে ধর্মের পূতধারা পুনঃ প্রবাহিত করিতে হইলে, ধ্যানঘন জগদ্গুরুর পুনরাগমন ভিন্ন উপায়ান্তর নাই ধৰ্ম্মরাজ্য ছাড়িয়া যদি আমরা বিজ্ঞানরাজ্যের প্রতি দৃষ্টিপাত করি, তাহা হইলে আমরা কি দেখিতে পাই ? এখানেও সেই স্থান-স্তম্ভনের ভাব (Deadlock ) *। ঊনবিংশ শতাব্দীতে নানা বিভাগে বিজ্ঞানের যথেষ্ট উন্নতি হইয়াছে বটে, কিন্তু এখন যেন বিজ্ঞান সফলতার সীমানায় উপনীত হইয়াছে, আর যেন অগ্রসর হইতে পারিতেছে না। জড়বিজ্ঞান, মনােবিজ্ঞান, উভয় বিজ্ঞান সম্বন্ধেই এ কথা বলা যায় ; এইজন্য বিজ্ঞানা- চাৰ্য লর্ড কেলভিন কিছুদিন পূর্বে বলিয়াছিলেন,—“The word 'failure' is writ large on most of the attempts of Science during the last 50 years." অর্থাৎ “বিগত অর্ধ শতাব্দী ধরিয়া বিজ্ঞানের প্রায় সর্বক্ষেত্রের চেষ্টার ললাটে ‘নিষ্ফলতা’ শব্দ অঙ্কিত রহিয়াছে।” এরূপ হওয়া বিচিত্র নহে, কারণ, বিজ্ঞান এখন যে ভূমিকায় উপনীত হইয়াছে, সেখানে বিজ্ঞানের পরিচিত যন্ত্র-তন্ত্রে আর কার্যোদ্ধার হইতেছে না। দৃষ্টান্তস্বরূপ পরমাণুর *"We find that all the sciences aro coming up to the borderland in which their methods fail them, and their senses no longer answer to the delicacy of the waves that beat upon them from the outer world. "In Psychology, as in Chemistry, Physics, and Electricity, there is & deadlock-The Changing World, pp 18-19. "Thus Science is daily approaching more nearly to the boun. daries of its present field of work, namely, the physical plane". Soma Recent Advances in science by Dr. Richardson Ph. D., p 80.
ষষ্ঠ অধ্যায়। ৭৭ কথা ধরুন। সম্প্রতি পরমাণুকে লইয়া অনেক আলােচনা ও গবেষণা চলিতেছে—কিন্তু পরমাণু যত দিন না বৈজ্ঞানিকের দৃষ্টিগােচর হইতেছে, তত দিন এ সকল অলােচনা আন্দাজির নামান্তর। যদি পরমাণুকে আমাদের দৃষ্টিপথে আনিতে হয়, তবে অণুবীক্ষণকে অন্ততঃ ১০৯ গুণ তীক্ষ্ণতর করিতে হইবে, * অথচ বিগত ৭০ বৎসরের বিবিধ চেষ্টায় অণু- বীক্ষণ মাত্র ৯ গুণ তীক্ষ্ণতর হইয়াছে। অতএব বর্তমান প্রণালীর অনু- সরণে সাফল্যের আশা কোথায় ? অথচ যে সকল সমস্যা এখন বিজ্ঞানের সম্মুখে উপস্থিত, তাহার সমাধান অত্যাবশ্যক । আর এক কথা। বিজ্ঞানের অনেক ক্ষেত্রে সফলতা সত্বেও বলিতে হয় যে, বিজ্ঞানের এখনও কৈশার দশা, বিজ্ঞান এখনও সফলতার উচ্চ- চূড়ায় উঠিতে পারে নাই, জ্ঞানের প্রাংশুলভ্য ফলের আশায় বিজ্ঞান এখনও উদ্বাহু বামনের ন্যায় দণ্ডায়মান। সেইজন্য একজন খ্যাতনামা বৈজ্ঞানিক বলিয়াছেন যে, নবকিশাের বিজ্ঞান এখনও প্রকৃতি-গ্রন্থের মাত্র ‘ক’ ‘খ’ প্রভৃতি প্রথম অক্ষর আবৃত্তি করিতেছে, যে মহাগ্রন্থের দুর্বোধ্য পংক্তি ঋষিদিগের স্বাধ্যায়ের বিষয়। বিজ্ঞানের উপর প্রজ্ঞান ; যেখানে বিজ্ঞানের শেষ, সেইখানে প্রজ্ঞানের আরম্ভ—এমন সময় আসিয়াছে—যখন প্ৰজ্ঞান বিজ্ঞানের হাত ধরিয়া তুলিলে উপায় নাই। উভয়ে বিবােধ ভুলিয়া, বাহুবদ্ধ হইয়া, অঙ্গে অঙ্গ মিশাইয়া সমাধানের পথে অগ্রসর হইতে হইবে, তবেই জ্ঞান-মন্দিরের } • Dolbear's Matter, Ether and Motion. + "The science of to day is but in its infancy, representing but the first few letters of the great nature book, "written in celestial hieroglyphs of which even prophets are happy that they cau read here a line and there a line."-Some Recent Advances in science by Dr. A. Richardson, p 15.
৭৮ জগদ্গুরুর আবির্ভাব গর্ভগৃহের গুপ্তার মানবের জন্য উদঘটিত হইবে। বিজ্ঞানকে এই পথে চালিত করিবার জন্য, বৈজ্ঞানিককে এইরূপে সাফল্যমণ্ডিত করিবার জন্য, একজন মহা বৈজ্ঞানিক, একজন প্রাজ্ঞানিক আবিভূত হওয়া চাই। জগদ্গুরু (আমরা যাহার আগমন প্রতীক্ষা করিতেছি,) তিনি ভিন্ন এমন পুরুষ কে ? বিজ্ঞান-রাজ্য ছাড়িয়া আমরা যদি কলারাজ্যে ( Fine Arts) প্রবেশ করি, সেখানেও প্রকৃষ্ট অরাজকতা দেখিতে পাই। সুকুমার কলা ( Fine Arts) রসাত্মক বস্তু,রসাে বৈ সঃ। ইহার প্রাণ সজীবতা ও মৌলিকতা। কলা-বধূ যদি পরপথগামিনী হয়, যদি স্বাতন্ত্র ছাড়িয়া হীন অনুকরণে প্রবৃত্ত হয়, তবে বুঝিতে হইবে, তাহার মতিচ্ছন্ন হইয়াছে। সম্প্রতি কলাবিদ্যার এইরূপ দুর্দশাই ঘটিয়াছে। পুরাতন প্রণালী পদ্ধতি ভাঙ্গিয়া পড়িয়াছে, অথচ নূতন এখনও গড়িয়া উঠিতে পারে নাই । যুগ-সন্ধির সময় এইরূপই হয়। পুরাতন বার্ধক্যের ফলে পঙ্গু হইয়া পড়ে, অথচ নূতন তখন পর্যন্ত আপনাকে সুপ্রতিষ্ঠ করিতে পারে না। অতএব বলিতে হইবে, কলা-রাজ্যে একটা নব উদ্দীপনার প্রয়ােজন, একটা নব- বিধান অবশ্যম্ভাবী হইয়াছে। যিনি নিখিল কলানিধি, যিনি অখিল * You may see it in your works of art. They are not creative but imitative, and that is the sign that Art along that line has reached its ending and must find a new inspiration.--The Changing World, p. 23. of When you look at Art, the old canons on which we elder people were all brought up are all going. We find all sorts of new ideas. In many cases they are not satisfactory at present. In all sorts of directions we ste old foundamental ideas being thrown aside.-C. W. Leadbeater in the Herald of the Star, vol v, p. 60.
ষষ্ঠ অধ্যায়। রসামৃত-সিন্ধু, সেই জগদ্গুরু ভিন্ন কে এই কলারাজ্যে নব জাগরণ আনয়ন করিবে, নববিধানের প্রতিষ্ঠা করিবে ? ভাবরাজ্যের ‘ওপার হতে যে আনন্দ ভাসিয়া আসিতেছে, অথচ উপযুক্ত আধারের অভাবে যাহাকে আমরা ধারণ করিতে পারিতেছি না, একা তিনি ভিন্ন কে আর আমাদিগের নবীন আশা, নবীন উদ্যম, নবীন আদর্শকে নবতর আকার দান করিয়া সেই আনন্দকে ঘনীভূত করতঃ কলারাজ্যে যুগান্তর আনয়ন করিবে ? চিন্তা-রাজ্য ছাড়িয়া যদি আমরা বস্তুরাজ্যে অবতরণ করি, ভাবের আকাশ হইতে যদি সমাজের কঠিন মাটীতে নামিয়া আসি, সেখানেও এই অরাজকতার সমস্যা আমাদের সম্মুখীন হইবে, এই অশান্তির ধূলি-পটল আমাদের মনশ্চক্ষে পতিত হইবে। পৃথিবীর যে দেশের প্রতি দৃষ্টিপাত করি না কেন, সর্বত্রই দেখিতে পাই, অশান্তি-পিশাচ তাণ্ডব নৃত্য করিতেছে। তাহার এক হস্তে অতুল বৈভব, অফুরন্ত বিলাস, অন্যায্য ব্যসন—অন্য হস্তে নিদারুণ দারিদ্র্য, নিষ্করুণ পেষণ, হৃদয়ভেদী আৰ্তনাদ! সৰ্বত্ৰ কলহ ও বিদ্রোহ, অসদ্ভাব ও অত্যাচার। রাজা-প্রজা, ধনী-দরিদ্র, প্রভু-ভৃত্য, মহাজন-শ্রমজীবী, কোথাও সদ্ভাব, সৌভ্রাত, শীলতা দেখা যায় না। # The Artist has yet to come to this civilization - the man who can see, through the forms of the present, the divine idea which is striving to express itself in new ideals, new hopes, new powers. The Changing World, p. 23. + But in the social conditions of our day thousands and millions of human beings are suffering, suffering starvation, suffering ill-shelter and ill-clothing : the chiidren suffering because they are under-fed, and their whole lives handicapped by the hardships of their boyhood and their youth. Unrest every where, strikes and lock-outs, everywhere capital arrayed against labour, labour arreyed against capital : wherever you look in the civilised world, you have the breaking down of a civilisation which is based on selfishness, and, therefore cannot endure.
জগদ্গুরুর আবির্ভাব সেইজন্য পাশ্চাত্য ও প্রাচ্য সমাজের বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ অবস্থা প্রত্যক্ষ করিয়া শ্ৰীমতী এনি বেসান্ত এক স্থলে লিখিয়াছেন,-“সমাজের দুর্দশা অসহনীয় , এ অবস্থা কখনই স্থায়ী হইতে পারে না। সমাজ আপনার ভারে আপনি ভূমিসাৎ হইবে। সমাজের উৰ্দ্ধস্তরে অনর্থক অর্থ—নিম্নস্তরে অসহ্য দারিদ্র্য।” + সামাজিক মনীষীরা সময়ে সময়ে এই দুর্দশার প্রতী- কারের চেষ্টা না করিয়াছেন, তাহা নহে, কিন্তু তাহাদের চেষ্টা ক্ষত-বিক্ষত সমাজদেহের স্থানবিশেষে প্রলেপ-প্রয়ােগ মাত্র ; যাহাকে ইংরাজীতে ‘Tinkering Legislation বলে। এরূপ মুষ্টিযােগ-প্ৰয়ােগে বিশেষ কিছুই ফল হয় নাই, হইবেও না; কারণ, ক্ষত এক স্থানে শুকাইবে, দশ স্থানে নূতন মুখে দেখা দিবে। অতএব এরূপ কোন সমীচীন রসায়নের ব্যবস্থা করা চাই—যাহাতে রােগগ্রস্ত সমাজদেহ আমূল সংস্কৃত ও বিশুদ্ধ হইতে পারে। ইউরােপে যাহাদিগকে “socialists” বলে, তাহারা সময়ে সময়ে এইরূপ রাসায়ন প্রয়ােগের প্রস্তাব করিয়াছেন। তাহাদের ব্যবস্থার মূলমন্ত্র এই যে-ধনীকে নিধন কর, উচ্চকে নীচ কর, ‘মুড়ী মিছরীর এক দর’ কর,—এক কথায় সমাজে একাকার কর। একাকার প্রলয়ের দশা, সৃষ্টি বহুত্ব ও বৈচিত্র্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। “একোহহং বহু স্যাম্” ইহাই সৃষ্টির প্রথম বাণী। আর এক কথা, যে সমাজ-সংস্কারের মূলতত্ব ‘আদান-প্রদান’ নহে, সংগ্রহ—বিসর্গ নহে, যাহার ভিত্তি স্বার্থপরতা- পরহিতৈষণা নহে, যাহার কেন্দ্রে ‘অহং—“ত্বং নহে, বিধাতার সৃষ্টিতে ঙ্গে সংস্কার টিকিতে পারে না। প্রকৃত Socialism-এর ভিত্তি আত্মত্যাগ আত্মপ্রতিষ্ঠা নহে, পরার্থ–স্বার্থ নহে। তত্বসভার প্রতিষ্ঠাত্রী ম্যাডাম * The social state is intolerable ; it cannot endure : it will be broken down by its own weight, the weight of useless wealth on one side, the weight of horrible misery on the other. Some remedy must be found either by.revolution or by teaching.
ষষ্ঠ অধ্যায় ব্ল্যাভ্যাটুঙ্কীকে এক জন জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন,-“আপনি কি Socialist?” উত্তরে তিনি বলিয়াছিলেন যে,—“যে Socialism পরিগ্রহ করে—দান করে না, সংগ্রহ করে ত্যাগ করে না,আমি সেরূপ Socialismকে বিশ্বাস করি না।”* বস্তুতঃ সমাজ-রক্ষার অক্ষয় কবচ- ত্যাগ; সমাজ-উদ্ধারের মর্মবাণী—বিসর্গ। যিনি ত্যাগের সচল মূর্তি যাহার জীবন ত্যাগ-মন্ত্রে গঠিত, সেই মহাত্যাগী জগদ্গুরুর আবির্ভাব ভিন্ন সমাজের বর্তমান অশান্তি, অসদ্ভাব, অত্যাচার অবিচারের প্রতীকার অসম্ভব। এই জন্য কিছু দিন পূৰ্ব্বে বিলাতের পালামেন্ট সভার এক জন প্রণীণ সভ্য কথাপ্রসঙ্গে বলিয়াছিলেন যে, যীশু খ্রীষ্টের পুনরাগমন ভিন্ন সামাজিক বিশৃঙ্খলার কোনই প্রতিবিধান হইবে না। সেই ধ্যানরাজই এই সামাজিক অরাজকতার সুশৃঙ্খলা স্থাপন করিবেন। তাহার মহা- ত্যাগের আদর্শে-তাহার সর্বোৎসর্গের আলােকে পৃথিবীর আকাশে নূতন ঊষার উদয় হইবে এবং এই দুঃখদারিদ্র্য-নৈরাশ্য-পীড়িত সমাজ-মরুভূমে নন্দনবনের শােভা ফুটিয়া উঠিবে। রাষ্ট্র ছাড়িয়া যদি আমরা অন্তঃরাষ্ট্রের প্রতি দৃষ্টিপাত করি, তাহা হইলে আরও প্রবলতর অশান্তি, প্রকাণ্ডতর বিপ্লবের উদ্ধৃত রূপ দেখিতে পাই । এই যে ইউরোপে প্রচণ্ড যুদ্ধদাবানল জ্বলিয়া উঠিয়াছে—যাহাতে প্রায় সমস্ত পাশ্চাত্য জাতি ভস্মীভূত হইবার সম্ভাবনা হইয়াছে, যাহার উত্তাপে পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রফুল্ল কমল বিশুষ্ক হইবার উপক্রম হইয়াছে, এই দাবানলের উৎপত্তি কোথা হইতে? এত বড় অগ্নি প্রজ্বলিত করিতে হইলে অনেক কাষ্ঠ পুঞ্জীভূত করিতে হয়। সে ব্যাপার এক আধ বৎসরে I remember that one day when H. P. Blavatsky was asked : "Are you a socialist ?" Her answer was, "I believe in the socialism that gives ; 1 do not believe in the socialism that takes.'' There lies the keynote of the future - The Changing World, P, 44. (৬) ২ জগদ্গুরুর আবির্ভাব। সম্পন্ন হয় না, এক জন দুই জন জাতির বা ব্যক্তির চেষ্টাতেও হয় না। বাস্তবিক ইউরােপে আমরা এখন যে অন্তঃরাষ্ট্র বিপ্লবের তাণ্ডব-নৃত্য দেখিতেছি, এই বিপ্লবের উদ্যোগ আয়ােজন অনেক বৎসর ধরিয়া হইতে ছিল। যদি আমরা জ্ঞান-নেত্রে ইউরােপের প্রতি দৃষ্টিপাত করি, তাহ ইলে দেখিতে পাইব যে, মহাভারতের সময় কুরুক্ষেত্র-যুদ্ধের পূর্বে ভারত- বর্ষের যেরূপ অবস্থা হইয়াছিল, ইউরােপীয় কুরুক্ষেত্র বাধিবার পূর্বেও ইউরােপেরও ঠিক সেইরূপ অবস্থা দেখা যাইতেছিল। আমাদের জাতীয় কবি নবীনচন্দ্র তাহার রৈবতক কাব্যে ভারতবর্ষের ঐ চিত্র অমর তুলিতে অঙ্কিত করিয়াছেন :- “শুধু হস্তিনায় নহে। এই হিংসা-বিষ সমস্ত ভারতবর্ষে, মগধে, চেদিতে, হইতেছে বিধৃমিত। প্রত্যেক নৃপতি, ক্ষুধার্ত শার্দল মত, রয়েছে চাহিয়া নিজ-প্রতিবাসী পানে। ভাবিছে সুযােগ বলম্ফে পৃষ্ঠে তার পড়িবে কখন। দহিয়া দহিয়া এই হিংসার অনলে কমলার পদাশ্রিত বাণিজ্য-কমল, জ্ঞানের সহস্রদল ভারতী-আশ্রয়, শুকাইছে ; পড়িয়াছে হেলিয়া পশ্চিমে আৰ্য-সভ্যতার রবি।” অনাত্ৰ কবি শ্রীকৃষ্ণের মুখে ভারতের এইরূপ বর্ণন করিয়াছেন :- “ভারত অদৃষ্টাকাশে চারি দিকে, প্রভাে! হইতেছে যে বিপ্লব-নীরদ-সঞ্চার খণ্ড খণ্ড ; ছুটিতেছে মন্থরগতিতে মিলিতে কোথায় ভীমাকারে, কোথায়
ষষ্ঠ অধ্যায়।
আঘাতিয়া পরস্পরে হইতে বিনাশ,
করিতে ভারতভূমি মহর্ষি! আবার
ঝটিকায় বিদলিত, শােণিতে প্লাবিত।
সাজিতেছে জরাসন্ধ,—দুই পার্শ্বে তার
শিশুপাল, ভগদত্ত,
উত্তর-ভারত
সুসজ্জিত পৃষ্ঠদেশে, বিপুল-বিক্রমে
ডুবাইয়া দ্বারাবতী সমুদ্রের জলে,
সমুদ্র-প্রতিম সৈন্যে প্লাবিতে ভারত।
হস্তিনা হিংসায় মত্ত ক্ষিপ্তগ্রহমত
আঘাতিতে ইন্দ্রপ্রস্থ। ভারত তখন
হইবেক কেন্দ্ৰভ্ৰষ্ট, আর রাজ্য যত
গতিভ্রষ্ট গ্রহমত একে অন্যতরে
আঘাতিবে,কিবা ঘাত! কিবা প্রতিঘাত।
কি ভীষণ সংঘর্ষণ, বিপ্লব ভীষণ,
ঘটিবে তখন, প্রভাে! ভাবিতে না পারি।”
‘রৈবতকে’র সপ্তদশ সর্গে কবি রূপকের ভাষায় ভারতের তদানীন্তন
চিত্র অঙ্কিত করিয়াছেন :-
পশ্চিমে চাহিয়া দেখ !
কি ভীষণ চিত্র এক।
অসংখ্য গৃধিনী, কিবা বিকট-দর্শন।
কেবা সে দেবী; গােবিন্দ,
কিবা মুখ-অরবিন্দ!
খণ্ড খণ্ড করি যারে শকুন নির্মম,
কেহ হস্ত, কেহ পদ, করিছে ভক্ষণ?
-
৮৪ জগদ্গুরুর আবির্ভাব বিধিতেছে পরস্পরে, কি হিংসা কটাক্ষ শরে! একে অন্যগ্ৰাস যেন লইবে কাড়িয়া, একে অন্যে আক্রমণ করিতেছে ঘন ঘন, কিবা পাকসাট! কিবা চীৎকার ভীষণ ! পশিতেছে কর্ণে যেন আকুলিয়া মন।” বলা বাহুল্য, এ চিত্র তদানীন্তন ভারতের চিত্র ; আর ঐ দেবী আৰ্য- লক্ষ্মী-ভারত-মাতা। “চিত্র ভারতের, পার্থ ! আৰ্য লক্ষ্মী দেবী খণ্ড দেহ, খণ্ড দেশ; দেখ গৃধ নিৰ্বিশেষ ভারত নৃপতিগ্রাম! দেখ দুর্বিসহ বৰ্ত্তমান ভারতের চিত্র শােকাবহ!” এই চিত্রের সহিত বর্তমান ইউরােপের অবস্থার বিশেষ সাদৃশ্য আছে। সেখানেও খণ্ড জাতি—খণ্ড দেশ; সেখানেও শকুনি-গৃধিনীর উৎপাত সেখানেও হিংসার কটাক্ষ-শর, ঘন ঘন আক্রমণ, পাট ও বিকট চীৎ- কার। ভারতের এই দুর্দশা দূর করিবার জন্যই কুরুক্ষেত্রের মহাযুদ্ধ। খণ্ড-ভারতে মহাভারত স্থাপনই শ্রীকৃষ্ণ অবতারের উদ্দেশ্য ও সার্থকতা। ‘বাধি ধৰ্ম্মনীতি-পাশে মিলাইব অনায়াসে জননীর খণ্ড দেহ ; করিয়া চালিত জ্ঞানাঙ্কুশে, ভেদজ্ঞান করিব রহিত। শিখাব একত্ব-মৰ্ম্ম, এক জাতি এক ধৰ্ম্ম ।
ষষ্ঠ অধ্যায়। ৮৫ এরূপে করিব এক সাম্রাজ্য স্থাপন, সমগ্র মানব প্রজা রাজা নারায়ণ ! -~- এক ধৰ্ম্ম, এক জাতি, এক রাজ্য, এক নীতি, সকলের এক ভিত্তি—সৰ্ব্বভূতহিত ; সাধনা নিষ্কাম-কৰ্ম্ম, লক্ষ্য সে পরম ব্রহ্ম,- একমেবাদ্বিতীয়ং ! করিব নিশ্চিত ওই ধৰ্ম্মরাজ্য মহাভারত স্থাপিত। ইউরােপে সম্প্রতি যে মহা কুরুক্ষেত্র অভিনীত হইতেছে, তাহার ফলা- ফল সম্বন্ধে অনেক ভবিষ্যদ্বাণী ইতিমধ্যেই প্রচারিত হইয়াছে। তন্মধ্যে রুসদেশীয় বিখ্যাত জননায়ক প্রথিতনামা কাউন্ট টলস্টয় মহােদয় ১৯১০ সালে তাহার মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বে যে ভবিষ্যদ্বাণী তাঁহার ভ্রাতুষ্প শ্রীর দ্বারা লিপিবদ্ধ করিয়াছিলেন, তাহা অতীব বিস্ময়কর। “The great conflagration will start about 1912, set by the torch of the first arm in the countries of Southeastern Europe. It will develop into destructive calamity in 1913. In that year I see all Europe in ſlames and bleeding. I hear the lamentations of huge battlefields. But about the year 1915, a strange figure from the North-a new Napoleon--enters the stage of the drama. He is a man of little militaristic training, a writer or a journalist, but in his grip most of Europe will remain until 1925. The end of the great calamity will mark a new political era for the old world. There will be left no Empires or Kingdoms, but the world a জগদ্গুরুর আবির্ভাব। will form a federation of united states of Nations. There will remain only four great giants, the Anglo- Saxons, the Latins, the Slavs, and the Mongolians." য়ুরােপীয় মহাকুরুক্ষেত্রের ফলে যদি পাশ্চাত্য জাতিরা গৃহ-বিবাদ ত্যাগ করিয়া এক মহাযুক্তরাজ্যে মিলিত হয়, তবে পৃথিবীতে এক নব- যুগের সূত্রপাত হইবে এবং পাশ্চাত্য সভ্যতার এক অভিনব অধ্যায় উ- ঘাটিত হইবে। এই প্রসঙ্গে টলস্টয় মহােদয় এক দ্বিতীয় নেপােলিয়ানের আবির্ভাবের উল্লেখ করিয়াছেন। ১৯১৫ খৃষ্টাব্দে উত্তর য়ুরােপে নাকি এই অদ্বিতীয় মহাপুরুষের আবির্ভাব হইবে। ১৯০৮ সালে তত্ত্ববিদ্যা সভা হইতে প্রকাশিত ‘থিয়ােসফিষ্ট’ পত্রিকায় এইরূপ এক মহাপুরুষের আগমন সূচিত হইয়াছিল। ঐ সময় শ্ৰীযুত লেড- বিটর মহােদয় পৃথিবীর ভাবী উন্নতি সম্বন্ধে আলােচনা করিয়া লিখিয়া- ছিলেন যে, যে মহাপুরুষ ২০০০ বৎসর পূর্বে জুলিয়াস সিজাররূপে ইটা- লীতে আবিভূত হইয়া রােমক সাম্রাজ্যে যুগান্তর আনয়ন করিয়াছিলেন, তিনি আবার ইউরােপে আবির্ভূত হইয়া জাতি-রাজ্য-নির্বিশেষে এক মহাযুক্তসাম্রাজ্য স্থাপন করিবেন—যেখানে সৌভ্রাত্র ও সম্প্রীতি কলহ ও বিদ্বেষের স্থান অধিকার করিবে। টলষ্টয়-কথিত দ্বিতীয় নেপােলিয়ান ও লেড বিটর-উদ্দিষ্ট জুলিয়াস সিজার কি একই ব্যক্তি? এই দ্বিতীয় নেপােলিয়ান ভূতপূৰ্ব জুলিয়াস সিজার হউন কিংবা না হউন, তিনি যে জগদগুরুর জন্য রথ্যারচনা করিবেন, তঁাহার আবির্ভাবের পথ পরিষ্কার করিবেন, ইহা সুনিশ্চিত। বর্তমান কুরুক্ষেত্রের সময়- কোলাহল নিবৃত্ত হইলে, আবার যখন শান্তি-সুধাকরের উদয় হইবে, তখনই জগদ্গুরু শান্তিদেবের (খৃষ্টানেরা যাহাকে Prince of Peace বলেন। আবির্ভাব সম্ভব হইবে। এ সম্বন্ধে এক জন প্রতিভাবা চিত্রকর কিছু দিন পূর্বে একখানি সুন্দর চিত্র অঙ্কিত করিয়াছেন। বিশাল রণভূমি—শব- ষষ্ঠ অধ্যায়। ৮৭ পূর্ণ, কামান-বন্দুকের ধূমাচ্ছন্ন, শিৰা-গৃধিনী-সমাকুল, আহত-মুমুর্মু-মুখরিত -দিগন্ত ব্যাপিয়া প্রস্ত রহিয়াছে। তাহার সর্বত্র রক্ত-নদী শত ধারায় প্রবাহিত হইতেছে—উপরে রক্ত, নীচে রক্ত, আশে পাশে সর্বত্র রক্ত। সেই রক্তের উপর দাঁড়াইয়া শান্তিমুখে বরাভয়হস্তে শান্তিদেব জগদ্গুরু- বদনে কি করুণা, দেহে কি জ্যোতি, সর্বাঙ্গে কি মহিমা! এ চিত্র কেবল কল্পনা নহে—ইহা বাস্তব-মণ্ডিত, ভবিতব্য-প্রদর্শক। বস্তুতঃ যুদ্ধের ফলে জাতিতে জাতিতে যে হিংসাবিষ সঞ্চারিত হইয়াছে, দেশে দেশে যে বিদ্বেষ- বহ্নি জ্বলিয়া উঠিয়াছে—তাহাতে মনে হয়, একমাত্র মৈত্রীর অবতার মৈত্রেয়দেবের, প্রেমের গুরু জগদ্গুরুর আগমন দ্বারাই ইহার নিবৃত্তি হইতে পারে। নতুবা পাশ্চাত্য জাতিরা উত্তরাধিকার-সূত্রে এই হিংসা- দায় ( Legacy of Hate) প্রাপ্ত হইয়া যুগযুগান্ত কলহ ও বিদ্বেষের অনুশােচনা করিবে। আজ যদি জগদ্গুরু সত্য সত্যই আসেন, তবে ধৰ্ম্মে রাষ্ট্রে সমাজে, বিজ্ঞানে ও কলাবিদ্যায় সর্বত্র নব জাগরণের সঞ্চার হইবে,-নব বসন্তের আবির্ভাব হইবে। ধৰ্ম্ম mysticism দ্বারা অনুপ্রাণিত হইয়া অনুভূতির ভিত্তিতে নুতন ভাবে গড়িয়া উঠিবে এবং ধর্মে ধৰ্ম্মে কলহ তিরােহিত হইয়া সৰ্ব্বধৰ্ম্মের সমন্বয় সাধিত হইবে। * রাষ্ট্রে জাতি-রাজা-নির্বিশেষে * এ সম্বন্ধে ফরাসী মনীষী বার্গসন অন্য ভাবে কয়েকটি সার কথা বলিয়াছেন, তহা আমাদের প্রণিধানযােগ্য। It will then be clear to all that, mere material civilisation, when it presumes to be self-sufficing, and still more when it is the servant of low and morbid appetites, may lead to the worst barbarism. It cannot ever ensure lasting power, for it can only build up & machine, and the best machine wears out, whereas moral force finds ever fresh strength in itself, as if a soul were to rebuild the body it occupies. Thus attention will be paid to "psychological, moral, social matters, not centered on material ৮ জগদ্গুরুর আবির্ভাব এক যুক্ত-মহাসাম্রাজ্য স্থাপিত হইবে এবং সেখানে সৌভ্রাত্র ও সম্প্রীতি, হিংসা ও বিদ্বেষের স্থান অধিকার করিবে। সমাজে প্রতিযােগিতার স্থানে সমবায় (co-operation) এবং স্বার্থের স্থানে পার্থ প্রতিষ্ঠিত হইবে এবং তাহার ফলে অত্যাচার এবং অবিচার, দারিদ্র্য ও নৈরাশ্য, দুস্বপ্নের ন্যায় তিরােহিত হইবে। বিজ্ঞানে এবং কলাবিদ্যায় নূতন উদ্যম এবং নবতর বিধান প্রতিষ্ঠিত হইয়া নূতন আদর্শ ও নূতন সাফল্যের সূচনা হইবে। স্বর্গরাজ্য আকাশ হইতে নামিয়া আসিয়া পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠালাভ করিবে এবং দ্বিসহস্র বৎসর পূর্বে উচ্চারিত যীশুখৃষ্টের বাণী নূতন সফলতা লাভ করিবে "Behold I make a new heaven and a new earth in which rigliteousness shall dwell." মানবের এই আশা-প্রতীক্ষা কি সফল হইবে না? দীনদয়াল জগthings ; the evolution that has long seemed possible and probable will come to be. As the nineteenth century was the age of playsical science, the twentieth will be that of moral science. বার্গসনের কথার সার এই যে, যে সভ্যতা জড়বাদের উপর প্রতিষ্ঠিত, যাহা আত্মম্ভরী স্বার্থসার, যাহা পশুবৃত্তির দ্বারা চালিত, সে সভ্যতা কখনও স্থায়ী হয় না। ইহার ফলে মানুষ মানুষ থাকে না, প্রাণহীন যন্ত্রে পরিণত হয়। বার্গসন আশা করেন যে, যুদ্ধের অব্যবহিত ফলে পাশ্চাত্য জনগণ জড়বাদ ছাড়িয়া অধ্যাত্মবাদে মনােনিবেশ করিবেন এবং ধর্ম, নীতি ও সমাজ এই সকল বিষয়ে চিন্তা প্রয়ােগ করিবেন এবং উনবিংশ শতাব্দী যেমন বিজ্ঞানযুগ বলিয়া প্রতিষ্ঠা লাভ করিয়াছে, বিংশ শতাব্দী ঐরূপ ধৰ্ম্মনীতির যুগ বলিয়া প্রসিদ্ধি লাভ করিবে। * এই কথার প্রতিধ্বনি করিয়া একজন পাশ্চাত্য কবি বলিয়াছেন :- Out of the wreck and chaos Of the order that used to be A strong new race shall take its place In a world we are yet to see. Lady Byron.
গষ্ঠ অধ্যায়। গুরু কি আ জগতের আর্তনাদে কর্ণপাত করিবেন না ? তাহার আবি- ভাবের এত উযোগ আয়ােজন, এত পূর্বলক্ষণ, সবই কি মরীচিকা মাত্র হইবে ? ইহা সম্ভব নহে, ইহা উচিত নহে; এরূপ কখনই হইবে না। যাহারা জগদ্গুরুর 'গণ, যাহারা তাহার চিহ্নিত দাস, যাহারা ধ্যানযােগে তাঁহার সহিত মিলিত হইয়া থাকেন, তাহারা প্রচার করিতেছেন যে, জগদ্গুরু হিমালয়ের উচ্চ চূড়ায় ভারতবর্ষে অবতরণ করিবার জন্য প্রতীক্ষা করিতেছেন। তার স্নিগ্ধ সৌম্যমূৰ্ত্তিতে দিত্মণ্ডল উদ্ভাসিত হইয়াছে। সুনীল আকাশ তার চন্দ্রাতপরূপে বিদ্যমান। ঐ আকাশতলে জগ- 'গুরুর কেতন (symbol ) পঞ্চাগ্র তারকা স্নিগ্ধ জ্যোতিতে দীপ্তিমান। এই জ্যোতি যাহাতে অচিরে ভারতভূমিতে অবতীর্ণ হয়, জগদ্গুরু যাহাতে হিমাচলের উৰ্দ্ধ-চূড়া হইতে ভারতের উপত্যকায় অচিরে আবির্ভূত হন, আসুন, তজ্জন্য আমরা সকলে মিলিত হইয়া সমস্বরে তাহার আবাহন করি :- হে দেব-মানবের শিক্ষক পরমগুরু ধৰ্ম্মপালক পরমষিদেব। আমাদের এই পাপতাপ-ক্লিষ্ট হিংসা-জর্জরিত বসুন্ধরায় আব একবার আবিভূত হও; জগৎ তােমার অাশাপথ চাহিয়া আছে, নরনারী তােমার প্রতীক্ষা করিতেছে; তােমার শান্তিপাঠে জনগণের কলহ অন্তর্হিত হউক, জাতি- গতির বর্ণ-বর্ণের বিবাদ প্রশমিত হউক; এস প্রভু! তােমার প্রেমের শক্তিতে, তোমার ঐশ্বর্যের মহিমায় এস, এই আৰ্ত্ত জগৎকে পবিত্রাণ কর। সংগচ্ছবং সংবধ্বং। আসুন, আমরা সঙ্গত হইয়া সমস্বরে আবাহনা করি- সমানা ব অকৃতিঃ সমানা হৃদয়ানি বঃ । আমাদের আকাঙ্ক্ষা সমান হউক, আমাদের হৃদয় একতান হউক
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.