Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Gitika Ed. 1st
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
গীতিকা
শ্রীসুশীল কুমার সেন।
প্রথম সংস্করণ।
সন ১৩৪২ সাল।
কলিকাতা।
মূল্য এক টাকা মাত্র।
প্রাপ্তিস্থান
সেন্ট্রাল বুক এজেন্সী,
১৪, কলেজ স্কোয়ার, কলিকাতা।
শ্রীশশধর চক্রবর্তী দ্বারা মুদ্রিত,
মিত্র প্রেস,
৪৫নং গ্রে স্ত্রীট, কলিকাতা।
ভ-সর্গ।
যার লাগি মাের এ গানের ফুল
ঝরেছে অশ্রু সাথে,
তাহারে যে জন ভালবাসে হেথা
(সব) তুলে দিনু তারি হাতে।
সুশীল কুমার সেন।
No text on this page.
সূচীপত্র। পত্রাঙ্ক ২ ৪ ৫ ৮ ১৫। । গান ১। তুমি আসিবে বলিয়া ২। কোন পথে গেলে ওগাে ৩। জীবন যখন ফুরায়ে যাবে ৪। আঁধার যখন আসবে নেমে তেমন করে ব্যাকুল সুরে ৬। তােমারি পানে বুঝি ছুটেছে ৭। আমার সকলি গিয়েছে সুধু ৮। আমি জীবন ভরে খুঁজে তােমায় ১। কবে মাের বিজন ঘরে ১০। কেন দূরে থেকে কর ছলনা ১১। কেন অমন করে ১২। তােরা শুনতে কি পাস ১৩। হে প্রিয়তম জীবনে তােমারে ১৪। তােমার আশীষ আমার মাথার পরে ১৫। যে গান খানি জগত মাঝে ১৬। কোন উদাশীর ব্যাকুল বাঁশী ১৭। সবার মাঝেই আপন তুমি ১৮। (আমায়) প্রাণের সুরে এমন করে ১৯। আমি চির আঁধারের ভ্রান্ত পথিক ২০। এত আনন্দ কোথাছিল ওগাে ২১। তােমার সুরটি দাওগাে মােরে ২২। আমার বাদল রাতের গানের সাথী ••• ১২ ১৬ ১৭ ১৮ :: २० ২১ ২২ . : ৩ ২৪ % ২৬ ২৭ ২৮ ২৯ ৩১ ৩২ ৩৩ ৩৪ গান ২৩। আজি ব্যথায় রাঙা হিয়ার মাঝে ২৪। একা মাের দিন কেটে যায় ২৫। যখন আমায় ডাক দিয়েছ প্রিয় ২৬। ওগাে সুরের দরদী ২৭। ও তুই, এই জীবনের চলার পথে ২৮। বিশ্ব আজি উঠল মেতে ২৯। কে আজি ডাকলাে মােরে ৩০। বাদল ঝরে ঝরে বাদল ৩১। মম শূন্য কুটীর দুয়ারে ৩২। ওরে আঁধার ঘেরা মন, ৩৩। কেন দেখা দিয়ে ওগে। ৩৪। বিশ্বে ওর। বিরাট কায়া ধরে ৩৫। কে গাে তুমি বাজাও বাঁশী ৩৬। আমার বােঝার পালা শেষ করে দাও ৩৭। আমার যাহা কিছু আছে ৩৮। যদিগো চকিত শিখায় ৩৯। আজি উতলা দখিনা বায় ৪০। তুমি আমায় ডাক দিয়েছ ৪১। আমার পাগল এ পরাণ নিয়ে ৪২। নিশীথ পােহাল সখি ৪৩। ভালবাসি তােমায় আমি ৪৪। এই জীবনের নূতন পথে ৪৫। সেই সকাল হতে তােমার আশে ••• :: ৩৮ ৪০ ৪১ 82 ৪৩ ৪৪ ৪ ৪৭ ৪৮ ৪১ • পত্রাঙ্ক ৫০ ••• ৫ ৪ ৫৪ ৫৬ ৫৭ ৫৮ ৬ ২ ৬১ গান ৪৬। (যবে) আঁধার ঘন শায়ন রাতে ৪৭। আজি মাের হৃদয় মাঝে ৪৮। যদি ডাকার মত ডাক দিয়ে নাও ৪৯। (বুঝি) মাের কুটীরের সুমুখ পথে ৫০। তুমি জগতের মাঝে বিরাজিত ওগাে ৫১। কতাে আর ভাসবাে বল ৫২। প্রিয় তােমার লাগি ৫৩। (তুমি) সুখের দিনে আসােনাতে ৫৪। কে বলে এধরা সুধু দুখে ভরা ৫৫। প্রাণের মাঝে যে প্রাণ মম ৫৬। (আমি) এসেছি আজ গাইব বলে ৫৭। (আজি) বসে আছি নিশি জাগি ৫৮। সুন্দর আজি এসেছে আমার ৫৯। কত মতে তুমি জানালে তােমারে ৬০। কত কাল হতে বসে আছি ৬১। (যবে) জোস্না রাতে একলা বসে ৬২। (সুধু তােমার গানের পরশ টুকু ৬৩। একলা তুমি ওগাে আপন মনে ৬৪। (তুমি) কোন পথেতে যাওগাে আসে ৬৫। (আজি) ফাগুন হাওয়ায় মনের বনে ৬৬। আর আমি চাইব কতে বল ৬৭। জীর্ণ এ মাের প্রাণের তরী ৬৮। (তুমি) এমন করে আর আমারে ৬২ ... ৬৬ ৬৮ ৬৯ ৭০ ৭১ ••• १२ . ৭৩ ৭৪ • পত্রাঙ্ক ৭৫ ••• ৭৬ ৭৭ ৭১ ৮০ ৮১ ৮২ ... ৮৪ গান ৬৯। (আমি) তােমায় ভাল বেসেছিলেম ৭। ফুলের সাজি সাজিয়ে আজি ৭১। আমি কবে যে, সে তােমার গানে ••• ৭২। (যবে) বাদল রাতে বইগাে জেগে ৭। তােমার বাঁশীর সুরটি প্রিয় ৭৪। তােমার সুরটি থেকে থেকে ৭৫। গভীর রাতে বাঁশী তােমার ৭৬। তুমি, ইসারাতে ডাক দিয়েগাে ৭৭। আঁধার করে আসে ভুবন ৭৮। (তুমি) ডাক দিয়ে যাও আড়াল হতে ৭৯। প্রেমের নদী বইছে প্রিয় ৮০। খুঁজে খুঁজে ফিরবাে আমি ৮১। (তুমি) পারবেনা তাে রইতে ওগাে ৮২। সারাদিন মাের ক্লান্ত নয়নে ৮৩। তােমার প্রেম যে পেয়েছে নাথ ৮৪। নীরব পথের পথিক বাউল ৮। (যদি) উৎসব রাতে হে সাথী ৮৬। আমি চলেছি সুধু চলেছি ৮৭। সুধু তােমায় ভাল বাসি বলে ৮৮। আমার অভিমানের পালা ৮৯। (যদি) খেলার পালা ফুরাল আজ সূচীপত্র সমাপ্ত। ৮৭ ৮৮ ৮৯ ১২ ৯৪
(১)
তুমি আসিবে বলিয়া কত আর বল
পথ পানে রব চাহিয়া,
কত আর বল কাটাব জীবন
বিরহের গান গাহিয়া
প্রভাতের সেই তপ তপন
দিবসের বুকে জাগায়ে স্বপন
সন্ধ্যার কোলে ঐ পড়ে ঢলে
প্রভাতের স্মৃতি বহিয়া ;
নব ফাল্গুন আসিল ফিরিয়া
গত বরষের স্মৃতিটি স্মরিয়া,
কাননে কাননে মিলনের তানে
গাহিল পাপিয়া পিয়া পিয়া।
লুকালাে যে চঁাদ অমানিশায়
আজি সে ফিরেছে পূর্ণিমায়,
(আজি) মিলনের তানে বিশ্ব মাতিছে
(শুধু) মাের পথ চাওয়া হবে কিগাে মিছে ?
তুমি কিগাে প্রিয় আসিবে না ফিরে
প্রেমের তরিটি বাহিয়া ?
গীতিকা
২
(২)
কোন পথে গেলে ওগাে বঁধু মাের
দেখা হবে তব সাথে?
(আমি) পথ হারা হয়ে ঘুরে মরি সুধু
বারি ঝরে আঁখি পাতে ?
দুর্গম মরু সাগর মাঝারে
অথবা গভীর কানন কান্তারে
বলগাে সে পথ কোথা কত দূরে
আমি, পাব কোন সাধনাতে।
যে পথে পাখীরা আপন কূলায়
ফিরে যায় ওগগা সন্ধ্যা বেলায়
যে পথে তপন লয়গাে বিদায়—
শ্রান্ত ধরণী হতে,
সেই পথে কিগাে সেই পথে ?
কোন পথে গেলে ওগাে দাও বলে
মিলিব তােমারি সাথে।
গীতিক
(৩)
জীবন যখন ফুরায়ে যাবে
ক্লান্ত দিনের শেষে
তখন তুমি সম্মুখে মাের
দাড়ায়াে বারেক এসে।
আঁধার যখন আসবে ঘিরে
পাখীরা সব ফিরবে নীড়ে
সাথীরা সব ফিরবে যখন
যে যার আপন দেশে,
তখন তুমি এসাে গাে প্রিয়
চির মােহন বেশে !
( যবে) মৃত্যু পারের আঁধার পথে
চলব তিমির রাতে
এ যবে) পথের কথা বলতে আমার
রইবে না কেউ সাথে,
এসসা গাে প্রিয় তখন এসাে
চির নবীন বেশে
আঁধার মাঝে হাত ধরে মাের
পথ দেখায়াে হেসে।
(৪)
আঁধার যখন আসবে নেমে
দিনের অবসানে
বন্ধু ওগো ! মােদের মিলন
হবে কি সেই খানে ?
নিভিয়ে দিয়ে আঁখির আলাে
আঁধার যেথায় বেসে ভালাে
?
ডেকে নেবে গােপন হৃদয় তলে।
সেথায় মােরা দোহার বুকে
ঘুমিয়ে কিগাে রইব সুখে ;
বাহুর মালা পরিয়ে দিয়ে গলে ?
ঘুচিয়ে দিয়ে সকল চাওয়া
প্রণয় বিবশ প্রাণে।
(যবে) সাঙ্গ হবে গানের পালা
শুকিয়ে যাবে ফুলের মালা
রিক্ত প্রাণে রইবে সুধু
আমার গােপন আমি,
খেলা শেষের বাজিয়ে বাণী
তখন ওগাে ভাল কি বাসি-
৫
গীতি
দুয়ারে মাের নীরব পায়ে
আসবে তুমি নামি ?
আমায় নিয়ে চলবে ভেসে
সীমা হারার পানে।
(৫)
তেমন করে ব্যাকুল সুরে
কবে তুমি ডাকবে গাে,
যে ডাকেতে ঘুম ভেঙ্গে মাের
প্রাণের মানুষ জাগবে গাে।
যে ডাকেতে খুলবে তাহার
লক্ষ যুগের বদ্ধ দুয়ার
অন্তরালের সকল আঁধার
এক নিমেশেই কাটবে গাে।
তুমি যদি ডাক দিয়ে নাও
মুখের পানে মুখ তুলে চাও
তাহলে কি আরাে পাওয়ার
ভাবনা কিছু থাকবে গাে।
গীতিকা
তােমায় পাত্তয়ার অন্তরালে
সকল চাওয়াই ঢাকবে প্রাণের
সকল পাওয়াই ঢাকবে গাে।
(৬)
তােমারি পানে বুঝি
ছুটেছে সবে আজি
আকুল উন্মনা
আবেশ জড়া প্রাণে,
নেছে তব গান
তােমারি আহ্বান,
বুঝিগাে যায় তাই
তােমারি সন্ধানে।
পবন যায় চলি
পরশে চঞ্চলি
তােমারি পানে বুঝি
তােমারি পানে গো
গীতিকা
•
আপন স্রোত বেয়ে
তটিনী চলে গেয়ে
মিলায়ে সুর বুঝি
তােমারি তানে গাে।
মােঘেরা দলে দলে
আকাশে উড়ে চলে
স্বর কোন দেশে
কোথা সে কোনখানে
রাতের তারা যত
প্রভাতে হয় গত
তােমার পথ বুকি
জানে গাে ওরা জানে।
রুণ আসে প্রাতে
দিনের আলাে হাতে
আবার দিন শেষে
কি ভাবি চলে যায়,
তােমারি পথ বুঝি
সহসা পায় খুঁজি
পেছন পানে তাই
আর না ফিরে চায়।
গীতিকা
সবারি মাঝে বুঝি
দিলে গাে ধরা দিলে
সবারে বুঝি তব
কাছেতে টেনে নিলে ;
দূরে কি ওগগা বঁধু
রাখিলে মােরে শুধু
আপনি নিয়ে যেতে
জীবন অবসানে।
(৭)
আমার সকলি গিয়েছে সুধু
ভালবাসা নাহি গেল,
মিছে আশে বসে বসে দিন ফুরাল
তবু ভালবাসা নাহি গেল।
যে লতাটি সুখে দুখে
রেখেছিনু লুকিয়ে বুকে
নিরাশার উষ্ণ শ্বাসে তাও শুকালাে।
জ্বালায়ে যে দীপ-শিখা
নিশীথ কাটিল একা
নীরবে নয়ন ঝরি তাও নিভিয়া গেল।
গীতিক।
যার লাগি মালা গাঁথি
জাগিয়া কাটিল রাতি
সে নাহি আসিল মাের মালা যে শুকাল।
জীবনের যত আশা
সকলি ফুরাল শুধু ভালবাসা নাহি গেল।
(৮)
আমি, জীবন ভরে খুজে তােমায়
নাও যদি গাে পাই
রইব আশে পরপারের
দুঃখ কিছু নাই।
একলা পথে সারা বেলা
তােমায় ভালবেশে
দিন ফুরালে যাবাে চলে
পরপারের দেশে,
সুধু, চলতে পথে তােমার ছবি,
রয় যেন মাের বুকে-
আর কিছু না চাই।
গীতিকা
১০
তােমায় ভেবে চলতে পথে
আঘাত যত বাজবে এসে বুকে
আমি সইব সে মাের সকল ব্যথাই
সইব হাসিমুখে।
বিফল হােলেও সব সাধনা মাের
তােমার প্রেমেই হয় যেন গাে ভাের .
সুধু, পথের শেষে আলাের পারাবারে
কণ্ঠে আমার তােমার গানের
সুরটি যেন পাই।
(৯)
কবে মাের বিজন ঘরে
তােমার বিজয় রথে চড়ে
আসবে ওগগা অভিমানি ?
আমার এই বুকের মাঝে
উঠবে জ্বলে যে কোন সাঁঝে
তােমার প্রেমের প্রদীপখানি।
১১
গীতিকা
আর কত দিন বিরহ গান গেয়ে
কাটবে দিবস এমনি পথ চেয়ে।
একলা ঘরের দ্বারের পাশে
আর কত কাল তােমার আশে
বাজাব এই সুর বেদনার
জীবন বীণার তার টানি
(১০)
কেন দূরে থেকে কর ছলনা ?
চোখের ভাষায় কি কথা জানাও
মুখ ফুটে কেন বলনা।
( আমি) পিয়াসী চাতক তৃষিত প্রাণে
চেয়ে থাকি তব মুখের পানে
(তুমি) ক্ষণিক হাসিয়া চকিতে মিলাও
( মাের ) প্রাণ ভরে দেখা হােলনা।
গীতিকা
১২
ওগাে নিঠুর প্রিয় কি কঠিন ডােরে
কেমনে বলগাে তুমি বেঁধেছ মােয়র
কি নিঠুর খেলায় বল দিবস রাতি
দহিছ হৃদয় মম এমন করে।
ওগাে নিদয় এ কি কঠিন বাধা
হতাশে চাওয়া সুধু নীরবে কাঁদা
নয়ন জলে মাের ফরাল বেলা
তবুও এ নিঠুর বাধা গেল না।
(১১)
কেন অমন করে লুকিয়ে বেড়াও
আমার মনের আড়াল দিয়ে
ধরা না দাও ডাক দিয়ে যাও
ক্ষণে ক্ষণে চঞ্চলিয়ে।
ব্যাকুল আমার হিয়ার মাঝে
তােমার নূপুর
সদাই বাজে
বাণী তােমার ক্ষণে ক্ষণে
সুরের দোলায় মনের কোনে
দোল দিয়ে যায় আকুলিয়ে।
দিবস রাতি নয়ন মম
তােমার রুপে হে নিরুপম
বিভাের হয়ে মিছেই খুঁজে মরে
হৃদয় আমার বাঁশীর সুরে
কোন অজানায় বেড়ায় ঘুরে
প্রণয় আবেশ ভরে।
এবার ধরা দিয়ে হৃদয় মাঝে
আপনাকে মাের তােমার কাজে
জগৎ মাঝে দাও বিলিয়ে।
(১২)
তােরা শুনতে কি পাস
শুনতে কি পাস ওরে।
আজ দখিন হাওয়ায় ফুলের বনে
যে সুর কেঁদে মরে ?
বকুল বনে ঐ যে পাখী
গাইছে সকাল হােতে
সুর
মিলিয়ে কোন অজানার
পাগল সুরের স্রোতে;
১৪
দুয়ার খােল দুয়ার খােল বলে
ঐ যে পাগল ডাক দিয়ে যায় চলে
ঘুমিয়ে থাকা প্রাণের ঘােরে ঘেরে ;
তােরা শুনতে কি পাস
শুনতে কি পাস ওরে ?
ঐ যে আসে ঐ যে আসে
সকল ভুবন ছেয়ে
বিশ্ব গানের দরদী আজ
সুরের তরী বেয়ে,
সুরের নেশায় দিল মাতাল করে।
তােরা শুনতে কি পাস
শুনতে কি পাস ওরে
১৫
গীতিকা
(১৩)
হে প্রিয়মত জীবনে তােমারে
মিছে খুজে
মরি
ঘুরে
জানি নে যে তুমি রয়েছ আমার
গােপনে হৃদয় পুরে।
(আমি) আপনার ক্ষিণ পথ রেখা ধরি
কাছে রেখে তােমা দূরে যাই সরি
পথে পথে সুধু মিছে খুঁজে মরি
তােমারি বাঁশীর সুরে।
(তুমি) রয়েছ আমার জীবনে মরণে
রয়েছ আমার অতীত স্মরণে
রয়েছ আমার পূরণে হরণে
(আমার) সকল আমার জুড়ে ;
(তুমি) রয়েছ আমার বড় কাছে ওগাে
তবু রয়েছ যে বড় দূরে।
গীতিকা
(১৪)
তােমার আশীষ
আমার মাথার পরে
পরুক ঝরে পরুক ঝরে,
এই জীবনের রিক্ততা সব
উঠুক ভরে উঠুক ভরে।
হারিয়ে গেছে যে ধন আমার
ফুরিয়ে গেছে যাহা
তােমার মাঝে, আমার চোখে
মিলুক আজি তাহা ;
জীবন ভরে অবিরত
অবুঝ আঁখি ঝরল যত
সে কঁাদা মাের দাওগাে আজি
দাও গাে ধন্য করে।
(আজি) তােমার আশীষ মাথার পরে
পরুক ঝরে পরুক ঝরে।
১৭
গীতিক
(১৫)
যে গান খানি গত মাকে
গাইতে ছিল আশা
হােলনা বুঝি এই জীবনে
হােননা সে গান গাওয়া।
যাহার লাগি ছিল আমার
প্রাণের ভাল বাসা
তারেও বুঝি হােলনা আমার
হেলনা এবার পাওয়া।
দুই নয়নে বহে অশ্রু ধারা
পূজা আমার হয়নি আজো সারা
(তাই) তােমার কাছে সাহস করে
আজো আমার হয়নি তারে চাওয়া।
যে গান খানি গাইতে ছিল আশা
হােলন বুঝি হােলন এবার
হােলনা সে গান গাওয়া ।
তােমার কাছে গাইব বলে
সকাল হােতে নয়ন জলে
একলা বসে যে গান হেল সাধ,
এখনাে সেই গানের মাঝে
সাধের মুরটি লাগলাে না, যে,
২
গীতিকা
পড়লাে না’কো গানের সুরে
প্রাণের সুরটি বাঁধা।
(তাই) যে গান খানি গাইতে ছিল আশা
হােলন। বুঝি হােলনা এবার
হােলনা সে গান গাওয়া ।
(১৬)
কোন উদাসীর ব্যাকুল বাঁশী
বাজল আজি হিয়ার পরে
বলছে ডেকে আয় চলে আয়-
সকল বাঁধন ছিন্ন করে।
বলছে বাঁশী গভীর সুরে
কেনরে তুই মরিস ঘুরে,
আয় চলে আয় আমার কাছে
সকল ব্যথা যাবে দূরে।
মিছে তুই করিস আশা
; মিছেরে তাের ভাল বাসা
মিছেরে তাের বসে থাকা
মায়ায় বাঁধা আপন ঘরে।
১৯
গীতিকা
(ওরে) চাওয়া পাওয়া চুকিয়ে দিয়ে
আপনাকে তাের আপনি নিয়ে
আয়রে বাঁধন ছিন্ন করে।
*
(১৭)
সবার মাঝেই আপন তুমি
সবার মাঝেই পর।
সকল ঘরেই আছেগাে তব
আছে আপন ঘর।
রয়েছ তুমি সবার প্রাণে
রয়েছ তুমি সকল গানে
রয়েছ তুমি সকল খানে
রয়েছ নিরন্তর।
যে জন তােমায় সকল কাজে
চিনিতে পারে আপন মাঝে
(কেবল) তাহার পরাণ বীণায় বাজে
তােমার বীণার স্বর ।
সবার মাঝেই আপন তুমি
সবার মাঝেই পর ॥
গীতিকা
বুকের মাঝে আসন তব
রয়েছে পাতা যে অভিনব
সেথায় তুমি সদাই জাগে,
নাইকো আপন পর ।
( ১৮ )
(আমার)
প্রাণের সুরে এমন করে
বাঁধব বীণার তার
তােমার সুরে আমার গানে
হবে গাে একাকার।
বিশ্ববাসী বিবশ প্রাণে
রইবে চেয়ে মুখের পানে
আকাশ বাতাস পাগল গানে
ফেলবে অ ধার।
প্রাণের সুরে এমন ক'রে
বাঁধব বীণার তার।
মরা নদী উঠবে বেঁচে
তালে তালে ছুটবে নেচে
বিশ্ব গানের সুরের তানে
তুলবে গাে ঝঙ্কার।
১১
গীতিকা
দৃষ্টি-হারা বধির যারা
নয়ন এবন পাবে তারা
চলবে গেয়ে আপন হায়
সুরের আলােয় কাটবে অন্ধকার।
(১৯)
আমি চির আঁধারের ভ্রান্ত পথিক
পথ পাশে আছি পড়ে
তব প্রেমা লােকে ঘুচায়ে আঁধার
(ওগাে) তুলে নাও তব ঘরে।
আমায় দাও গাে মুক্ত করে।
ঘুচাও আঁখির কালাে আবরণ
ঘুচাও যা আছে মিছে আভরণ
ঘুচায়ে আমার জীবন মরণ
দাও গাে মুক্ত করে,
আমায় দাও গাে পূর্ণ করে।
গীতিকা
২২
ঘুচায়ে আমার জ্ঞানের গর্ব
মিছে অহমিকা করিয়ে খৰ্ব্ব
T
তােমার প্রেমেতে মাের প্রেম ওগাে
দাওগাে যুক্ত করে,
(আমায়) দাওগাে ধন্য করে ।
( ২০ )
এত আনন্দ কোথা ছিল ওগো
কোথা ছিল এত গান,
কোথা ছিল এত রূপের মাধুরী
বসন্ত পিক তান?
আনন্দে ভরা আজি এ ভুবনে
বহিয়া আনিছে সে সুর পবনে
(মাের পাগল হৃদয় দোলে ক্ষণে ক্ষণে
আকুলিয়ে সারা প্রাণ।
এত আনন্দ কোথা ছিল ওগাে
কোথা ছিল এত গান ?
২৩
গীতিকা
ঐ যে ডাকে সুরের পাগল
একতারাটি হাতে
“গানের সুরের স্রোত বেয়ে আয়
আয় কে যাবি সাথে ;
আনন্দের ঐ সাগরে আজ
দেখ উঠেছে তুফান।
(২১)
তােমার সুরটি দাওগাে মােরে
দাওগাে মােরে,
তােমারি গান গাইব আমি
জনম ভরে জনম ভরে।
এই জগতে তােমারি গান
গাইতে আমার আসা
জীবন খানি ধন্য করে
তােমায় ভালবাসা,
সফল হােলে সেই সাধনা
সেই কামনা মাের
চলে যাবাে তােমার আপন ঘরে
(যবে) মরণ রাতি আসবে আঁধার করে।
গীতিক।
২৪
(আমি) দিনে রাতে কেবল ক্ষেপার মতাে
তােমায় ভেবে গান বাঁধি যে কত
(মধু)
গাইবারে চাই গাইতে নাহি পারি
সুর লাগেনা আমার কষ্ট স্বারে।
( ২২ )
আমার বাদল রাতের গানের সাথী
এসেছে আজ ঘরে
ও তার নূপুর ধ্বনির তালে তালে
বাদল ধারা ঝরে।
সালের বনে শিহর লাগে
তারি গানের অনুরাগে
কোন অজানার দরশ মাগে,
আজকে রাতের তরে।
মেঘ সাগরের উদাস পথিক
মেঘের সাথেতে
নেমে এলাে ধরার বুকে
আজকে রাতে তে।
২৫
গীতিকা
আজ বাদলের গানের সাথে
মাের নয়নের ঘুম ভােলাতে
মাের সুরে আজ সুর মেলাতে
গাইছে সােহাগ ভরে।
(২৩)
আজি ব্যথায় রাঙা হিয়ার মাঝে
মিলন বাঁশী কে বাজালাে
আমার এই জীবন সাঁঝে
(আজ) কে ফোটালাে ভােরের আলাে ?
মনের কোনে আজ গােপনে
পশিল কে ধীর চরণে,
(আজি) রুদ্ধ নদীর দগ্ধ বুকে
মিঃ ধারা কে বহাল ?
ভাঙা এ মাের বীণার তারে
জীবন ভরে বারে বারে
বাল যে গান ক্লান্ত বেহাগ সুরে,
কে আজিকে এই অবেলায়
বাঁশীর সুরে বাজালাে তায়
বৈরীতে শ্রান্ত হৃদয় পুরে।
৭
গীতিকা
২৬
ন
যারে ডেকে সুখে দুখে
আঘাৎ সুধু বাজল বুকে
সেই কি আমার শ্যামল বঁধু
আজকে মােরে বাসল ভাল ।
(২)
একা মাের দিন কেটে যায়
পথ চেয়ে হায় তােমার তরে।
হে প্রিয় নিরজনে
বসিয়া আনমনে বিজন ঘরে।
যে কুশুম ফোটে প্রাতে
আমার এ আঙ্গিনাতে
নীরবে সাঁঝ বেলাতে লুটিয়ে পড়ে,
(মাের) সে ফুলে মালা গাঁথি
জাগিয়া কাটে রাতি
নিরাশে ব্যথার ব্যথি অশ্রু ঝরে।
যে পাখী প্রভাত বেলায়
নীড় ছেড়ে যায় উড়ে যায়
ফিরে সে আসে কূলায় ডুবিলে দিনমনি
২৭
গীতিকা
.
যে বিধু অমানিশায়
অভিমানে ওঠেনা হায়
সেও আবার জোস্না ধারায়
ডুবায়ে দেয় ধরণী।
সুধু মাের কুটীর দ্বারে
বাজেনা হারে
তােমার ঐ নূপুর ধ্বনি
আঁখিজলে দিনরজনী
হয় যে গত বেদন ভরে।
(২৫)
যখন আমায় ডাক দিয়েছ প্রিয়
তখন ঘরের বাঁধন ছিন্ন করে
বাহির হ’তে দিও।
শিখিয়ে তােমার গােপন বাণী
সব হারাবার মন্ত্র খানি,
তোমার সবার মাঝে আপন যেথা
সেথায় মােরে সঙ্গে করে নিও
যখন আমায় ডাক দিয়েছ প্রিয়।
গীতিকা
আমার আপন বলে রয়না যেন কিছু
চলতে নয়ন চায় না যেন পিছু
সবার চির আপন মাকে নিয়ে
মােরে ধন্য করে দিও
যখন আমায় ডাক দিয়েছ প্রিয়
(২৬)
ওগাে সুরের দরদী
তােমার ঐ সুরের নেশা
আমায় দিল মাতাল করে।
যা ছিল মাের আপন মনের
গােপন ধ্যানের
সে যে নিল সকল হ'রে।
আমার ঘুচিয়ে দিয়ে ঘরের বাঁধন
হারিয়ে ফেলার বিফল কঁাদন,
সব হারাবার অশ্রু জলে
বাঁধল কঠিন ডােরে।
২৯
গীতিকা
আমার প্রাণের মাঝে যেগান খানি
ঘুমিয়ে ছিল তারে কি জানি,
তােমার ঐ পাগল সুরের পরশ পেয়ে
সহসা আজি উঠল মেতে।
নিরালা মাের মনের কোনে
ফাগুন যেথা ছিল গােপনে
বিবশ হিয়া সেথায় আজি
সুরের আসন দিল পেতে ;
আপনাকে মাের ভাসিয়ে দিল
তােমার ঐ সুরের স্বপন ঘােরে।
(২৭)
ও তুই, এই জীবনের চলার পথে
যা পেয়েছিস নেরে তুলে
পাসনি যাহা নাই বা পেলি
সে কথা আজ যারে ভুলে।
ঐ চেয়ে দেখ দিনের শেষে
নামছে আঁধার ধরায় এসে
পারে মাঝি ডেকে ডেকে
শেষে খেয়া তার দেয়ার খুলে।
গতিকা
যে গান খানি হয়নি শেখা
কাজ কিরে তায় যা ফেলে যা
যা শিখেছিস হােক সে মিছে
যাবার বেলায় তাই গেয়ে যা।
মিথ্যে কেন ভাবিস ওরে ।
রইল যা তা থাকনা পড়ে
যা পেয়েছিস তাই নিয়ে চল
জীবন নদীর সাগর কূলে।
(২৮)
বিশ্ব আজি উঠল মেতে
দরদী গো তােমার গানে
বনে বনে গাইছে পাখী
ওই গানেরি ছন্দে মানে।
আকাশ পারে ঐ যে শুনি
ব্যাকুল তােমার বীর ধ্বনি
পবন ব’য়ে দিচ্ছে আনি
গােপনে মাের কানে কানে।
গীতিকা
বনের নীরব অন্তরালে
ময়ুর নাচে তালে তালে
ভ্রমর বুঝি ঐ সুরেতেই
গুঞ্জরিছে ফুল বিতানে
আনন্দে আজ বিশ্বমাঝে
প্রেমের সুরে যে গান বাজে
সেই গানেরই বিভল পরশ
লাগল কি আজ আমার প্রাণে।
(২৯)
কে আজি ডাকলে মােরে বাঁশীর সুরে
গােপন ইসারায়
ও তার মাতাল পরশ লাগলাে আমার
প্রাণের কিনারায় ।
প্রভাতের আলাের ধারায়
ফাগুনের ব্যাকুল হাওয়ায়
হৃদে মাের দোল দিয়ে যায়
গভীর বেদনায়।
গীতিকা
৩২
দিক হারন ঐ মুহুরে
জানা কোন গানের সুরে
কোন বিরহীর বাঁশী ঝুরে
আজকে নিরালায়।
ব্যাকুল বাশীর করুণ তানে
কে তুমি আজ পাগল গানে
ঘর ছাড়ান পাগল টানে
টানলে গাে আমায়।
(৩০)
বাদল ঝরে ঝরে বাদল
ঝর ঝর বিরাম হার
শূন্য ঘরে পরাণ কাঁদে
কঁদে পরাণ পাগল পারা।
বিফলে কার আসার আশে
রইগাে ব’সে দ্বারের পাশে
সারা বেলা সারা বেলা
কাহার লাগি বাদল ধারার
মতই যেগগা ঝরে আমার
ব্যাকুল চোখের ধারা।
গীতিকা
মাঠের শেষে সালের বনে
বাদল হাওয়ায় ক্ষণে ক্ষণে
কঁাপন দিয়ে কাপন দিয়ে
সুধায় যেন কাহার কথা।
জানায় কি যে ব্যাকুলতা
বাদল ঝরার গানের সাথে
ব্যাকুল বসুন্ধরা।
(৩১)
মম শূন্য কুটীর দুয়ারে
কার চরণের নূপুর ধ্বনি
সহসা উঠিল বাজিয়ারে।
মনে হয় যেন সে ধ্বনিখানি
জীবন ভরেই জানি গাে জানি
তারি তরে যেন বসে আছি আমি
পথ চেয়ে নিশি জাগিয়ারে।
গীতিকা
৩৪
আজি, এলােকি আমার প্রাণের দেবতা
ঘুচাইতে মাের মরমের ব্যথা
এলাে কি আমার সুরের দরদী
সুরের তরিটী বাহিয়ারে ?
মম শূন্য কুটীর দুয়ারে।
(৩২)
ওরে আঁধার ঘেরা মন,
তাের রুদ্ধ ঘরের দুয়ার খুলে
নয়ন মেলে দেখ চেয়ে আর
কাণ পেতে ঐ শােন।
ডাক দিয়ে যায় বিশ্ব পাগল
খোল রে ও তাের ঘরের আগল,
দীপ্ত প্রাণের অরুণ আলােয়
গেল ভুবন ছেয়ে।
ও তুই দুয়ার খুলে বাইরে এসে
দেখরে বারেক চেয়ে।
এখনাে কে ঘুমের ঘােরে
বইলি অচেতন।
৩৫
গীতিকা
ছিল যারা চেতন হারা
প্রাণের সাড়ায় জাগলাে তারা
তুই কি শুধুই একলা ঘুমে
থাকবিরে মগন।
(৩৩)
কেন দেখা দিয়ে ওগগা দূরে চলে গেলে
বারেকের তরে আসি
আমি সুধু তব পথ পানে চেয়ে
নয়নের জলে ভাসি।
চেয়ে থাকি
দূর মেঘের পানে
ভাবি তব কথা বুঝি সে জানে
চঁাদেরে সুধাই ওগাে কোন খানে
বঁধু মাের পরবাসী ?
আমি তারকার পানে মেলি দুটি আঁখি
নীরব নিশীথে জেগে বসে থাকি
দিগন্তে সুধু শুনি ডাকি ডাকি
কেঁদে ফেরে কার বাঁশী ।
৩৬
গীতিকা
আমারাে পরাণ কঁাদে সেই সুরে
দিকে দিকে তােমা খুজে মরে ঘুরে
এবারের মত রহিলে গাে দূরে
(বুঝি মাের) অপরাধ ভালবাসি।
(৩৪)
বিশ্বে ওরা বিরাট কায়া ধরে
আমার নয়ন হতে তােমায় ওগো
রাখলাে আড়াল করে।
ঘরের থেকে দেখার মত
বাতায়নের আলােক যত
কঠিন হাতে দিলাে বন্ধ করে।
ভুলিয়ে আমায় নানান ছলে
ভীষণ ওদের কোলাহলে
তােমার গানের সুরের মধুটুকু
ডুবিয়ে দিলাে বিপুল গর্ব ভরে
তােমায় ওরা সারা বেলাই
রইল আড়াল করে।
৩৭
গীতিকা
সেই যে ওগগা ভােরের বেলায়
অমনি ডেকে ছিলে খেলায়
সেই ডাকেতে আজো আমায়
থেকে থেকে ব্যাকুল করে,
তবু ওরা কতই ছলে
কত মতে কতই বলে
দুয়ার এটে রাখলে আমায় ঘরে
জীবন ভরেই ওরা তােমায়
রইল আড়াল করে
(৩৫)
কে ওগাে তুমি বাজাও বাঁশী
আমার মনের কুঞ্জ বনে
সুরের দোলায় শিহর জাগায়
হৃদয় মাঝে ক্ষণে ক্ষণে।
অন্তর মাের দিবস রাতি
পাগল সুরের নেশায় মাতি
খুজে মরে তােমার অকারণে।
গীতিকা
কোথা তুমি ওগাে কোন সুদূরে
বাজাইছ বাঁশী কি মধু সুরে
কোন বীথিকার ছায়ার
নিরালায় বসি কি মায়া ছলে
কি গাহিছ ওগাে আপন মনে ?
বুঝিনে তােমার কি বলে বাঁশী
খুঁজে সুধু,
আঁখি জলেতে ভাসি
পাইনে তবুও সুরের পিয়াসী
অন্তর বলে আছছা গো আছে
খোঁজার পালা সাঙ্গ হােলে
হবে দেখা তােমার সনে
(৩৬)
আমার বােঝ’র পালা শেষ করে দাও
ঘুচিয়ে দাও গাে সকল বাধা,
যে সুরখানি পথে পথে
সেধেছি সেই সকাল হতে
(এবার) পূর্ণ করে দাও গাে আমার
ব্যর্থ বীণার সে সুর সাধা।
లేని
গীতিকা
একলা পথে ঘুরে ঘুরে
ব্যাথার আঁখি জলে
তােমার কথা সুধাই আমি যারে
ডাক দিয়ে সে আপন কথাই
বােঝায় নানা ছলে
( সুধু) তােমার কথাই বলতে নাহি পারে।
( আমার অনেক পথেই হাে’ল খোজা
অনেক কথাই হাে’ল বােঝ
অনেক সুরেই হাে’ল বীণা বাঁধা,
(এবার) অনেক খোজা অনেক বােঝ
অনেক সুরের শেষে
তােমার সুরটি লাগবে নাকি প্রাণে ?
(ওগাে) এখন কি শেষ হবেনা কঁাদা।
গীতিকা
৪০
(৩৭)
আমার যাহা কিছু আছে ওগাে প্রিয়তম
সে’তে তােমারি সবি তােমারি,
আমি সুধু ওগগা জনমে জনমে
তব দ্বারে চির ভিখারী শুধু ভিখারী।
শেষ হারা তব অজানা এ পথে
নিশিদিন আমি চলি কোন মতে
( সুধু ) তব সম্বদ হেরি পথ পাশে
ক্ষিণ আঁখি দু’টি পশারি ওগগা পশারি।
আমি চলিতে চলিতে একা পথ মাঝে
যাহা কিছু পাই প্রভাতে ও সাঁঝে
আন মনে পুনঃ ফেলে যাই চলে
স্মৃতিটুকু নিয়ে ব্যথারী মাের ব্যথারী।
বিপুল তােমার নিখিল বিশ্ব
সব দিয়ে মােরে করেছ নিঃস্ব,
(তাই) রিক্ত হৃদয়ে এক ব’সে আমি
মালা গাঁথি শুধু কথারি মিছে কথারি।
৪১
গীতিকা
(৩৮)
যদি গাে চকিত শিখায় আলালে বাতি
আমার আঁধার প্রাণের দ্বারে
কেন নিভিয়ে দিলে ডুবিয়ে দিলে
আবার তারে গভীর অন্ধকারে।
যদি অাধার মাঝে পথ দেখাতে
আপনি এলে প্রদীপ হাতে
পরিয়ে দিলে কণ্ঠে তােমার
বিজয় মাল্যখানি।
( তবে ) আবার কেন হে প্রিয়তম
নিভিয়ে বাতি স্বপন সম
লুকালে মােরে পথের মাঝে আনি ?
আঁধার পথে আলাের মায়ায়
সঙ্গি হারা একলা আমায়
ফেলে গেলে শূন্য তরী
খেয়া ঘাটের পারে।
পারে যাবাে নাইকো তরী
নাইকো মাঝির দেখা
নাইকো আলাে কেমন করে
ফিরবাে ঘরে একা?
গীতিকা
৪২
ঘরে পারের মাঝখানেতে
ধূলার পরে শয়ন পেতে
আলাের লাগি সারা বেলা
এমনি কিগাে ভাসবে নয়ন ধারে।
( ৩৯ )
আজি উতলা দখিনা বায়
কি সুর বহিয়া যায়-
কে যেন ব্যাকুল সুরে
গাহিছে হৃদয় পুরে
সে কোথায় ওগো সে কোথায় ?
আঁধার আসিছে ঘিরে
পাখীরা ফিরিছে নীড়ে
ব্যাকুল স্রোতের জলে
ঢেউগুলি কল কলে
কি যেন গাহিয়া যায়
সে সুরে পরাণ মম
কেঁদে বলে সে কোথায় সে কোথায় ?
৪৩
গীতিকা
ওপারে তটিনী তীরে
দূরে যাওয়া গাভীটিরে
রাখাল ডাকিছে আয়,
আমার পরাণ কঁদে সে কোথায়
সে কোথায় ওগাে সে কোথায়।
(৪০ )
তুমি আমায় ডাক দিয়েছ
বাহির হতে
তাইতাে আমি তােমার লাগি
এলেম পথে ।
একলা আমার আঁধার ঘরে
ছিলেম আমি ঘুমের ঘােরে
এলে তুমি নিঝুম রাতে
স্বপন রথে
ডাক দিলে গাে আপনি এসে
দুয়ার হতে।
গীতিকা
৪৪
চমকে উঠে চাইনু মেলি
ব্যাকুল আঁখি
শুনি সুধু ডাকছে নীড়ে
ভােরের পাখী।
আবার তুমি ডাক দিলে গাে
বাহির হতে
তাইতাে আমি তােমার লাগি
এলেম পথে ॥
(৪১)
আমার পাগল এ পরাণ নিয়ে
কেমনে দিন কাটাই বল
সে যে শােনে নাকো কোন কথা
সুধু ফেলে আঁখি জল ।
আমি যত বলি ওরে পাগল
কি তাের হয়েছে বল ?
তত সে নীরবে বসি
কঁদে অবিরল।
৪৫
গীতিকা
বসিয়া শাখীর ও শাখে
সুখে যবে পাখী ডাকে
তখনি সে কেঁদে বলে-
ঘর ছেড়ে ঐ বনে চল,
নিশীথে অসীমাকাশে
যখনি চাদিমা হাসে
তখনি সে কেঁদে বলে
উড়ে চল ঐ আকাশে,
একা থেকে এই ভুবনে
জীবনে আর কিবা ফল !
গীতিকা
৪৬
(৪২)
নিশীথ পােহাল সখি
আঁখি মেল আঁখি মেল।
পুরব অচলে রবি
একেছে উষার ছবি
বারেক দুয়ার খুলে
চেয়ে দেখ কত আলাে।
হের গাে অঙ্গন পরে
বকুল পড়েছে ঝরে
তাের ওগাে তােল তারে
সােহাগে ভরি আঁচল।
ফুল বনে মধু বায়ে
আনন্দে পাপিয়া গাহে
পবন তাহারি সুরে
ডেকে বলে দ্বার খােল ।
এতদিন যার লাগি
কঁদিয়া কাটালে জাগি
আজিকে দেখ গাে চেয়ে
সে বুঝি ফিরিয়া এলাে।
৪৭
গীতিকা
( ৪৩ )
ভালবাসি তােমায় আমি
সেই সুখেতেই ভালবাসি
সেই সুখেতেই বিভাের হয়ে
একলা বসে কঁদি হাসি।
দেখা যদি নাইবা দিলে
নাইবা কাছে টেনে নিলে
এই কথাটি জানি, তুমি
আমার আপন গৃহবাসী,
ভালবাসি তােমায় আমি
সেই সুখেতেই ভালবাসি।
আমি যত গান গাহি গাে
তােমার লাগি আপন মনে
তােমার লাগি আমার যত
অশ্রু ঝরে দুই নয়নে,
জানিনে মাের সে অশ্রু গান
কঁাদায় কিনা তােমার ও প্রাণ,
এই কথাটি জানি সুধু
আমি তােমায় ভালবাসি,
ভালবাসি তােমায় আমি,
সেই সুখেতেই ভালবাসি।
।
গীতিকা ৪b- (৪৪) এই জীবনের নূতন পথে কবে আমার যাত্রা শুরু হবে তােমার পায়ের চিহু ধরে বন্ধু ওগাে চলব আমি কবে ? কবে চির মােহন বেশে দাড়াবে মাের প্রাণে এসে কবে আমায় তােমার কাজের যােগ্য করে লবে । এই কান্না হাসির জগত মাঝে (আমি) ঘুরে মরি বিফল কাজে (কেবল) আপন মনে আপনি আসি যাই, কত পায়ের চিহু ধরি মিথ্যে আশে ঘুরে মরি (সুধু) তােমার পায়ের দাগ খুঁজে না পাই। ( কবে) এই বদ্ধ নয়ন পাবে ছাড়া তােমার মাঝেই হবে হার। হৃদয়ে মাের তােমার সুরই ধ্বনিবে গৌরবে।
৪১
গীতিকা
(৪৫)
সেই সকাল হতে তােমার আসে
বসে আছি নদী তীরে
ঘনিয়ে এলাে সাঁঝের আঁধার
তবু তাে না এলে ফিরে।
যারা মাের সাথে এলে
একে একে ফিরে গেলাে
একা সুধু আছি বসে
ভাসিতে নয়ন নীরে।
( আমি) সাধিনু যে গান খানি
তােমারে শােনাব বলে
গাঁথিনু যে ফুল মালা
পরাতে তােমারি গলে,
( আমার) সে গান হােল না গাওয়া
শুকাল সে ফুল
মালা
আশার আলােকটুকু
নিভে গেলাে ধীরে ধীরে,
' আঁধার ঘনাল তবু
তুমি তাে না এলে ফিরে।
০
(৪৬)
(যবে) আঁধার ঘন শায়ন রাতে
নীরব গৃহ কোণে
একলা বসে তােমারি গান
গাই গাে আপন মনে,
ভাবি শুধু তােমার যে সুর
অঝোর ধারায় ঝরছে মধুর
আমার এ গান মিলবে তারি সনে,
সুরের মাঝে তােমার পরশ
লাগবে শুভক্ষণে।
গভীর রাতে নয়ন যখন
জড়িয়ে আসে ঘুমে
শ্রান্ত দেহ বিজন ঘরে
লুটিয়ে পড়ে ভূমে,
ভাবি তােমার আমার সময় হােল
কখন বুঝি ডাকবে দুয়ার খােল ।
চমকে উঠে ব্যাকুল চোখে
চাই গাে বাতায়নে,
শূন্য ঘরে কাদায় হিয়া
সিক্ত সমীরণে ॥
গীতিকা
(৪৭)
আজি মাের হৃদয় মাঝে
তােমার পূজার হােমের শিখা জ্বেলে
আপনাকে মাের নিঃস্ব করে রিক্ত করে
দিলেম আজি ঢেলে।
হয়ত বা মাের এই সাধনা
সব হারাবার আরাধনা
তােমার বুকে বাজবে কঠিন হয়ে,
হয়ত তােমার কঠিন বুকে
বাজবে না’সে দুখে সুখে
আপন মনে আপনি যাবে বয়ে
অনন্ত ঐ আঁধার পথে
ক্লান্ত পাখা মেলে।
আমি চাইব ব’লে পাছে
তুমি রইলে না মাের কাছে
{ তাই) আজ সব চাওয়া মাের ঘুচিয়ে দিয়ে
বাহির হােলেম তােমার অভিসারে।
হয়ত দেখা এই জীবনে
হবে না মোের তােমার সনে,
মিছেই সুধু কেঁদে কেঁদে
বক্ষ আমার ভিজবে আঁখি ধারে।
গীতিকা
*.
তবু আমি চাইব নাকো আর
নীরবতায় সইব দুখ ভার
(সুধু তােমায় ভেবেই কোন মতে
এই ধরণীর বক্ষ হতে
মিলিয়ে যাবাে দিনের শেষে
আঁধার নেমে এলে।
(৪৮)
যদি ডাকার মত ডাক দিয়ে নাও মােরে
( তবে ) কেগাে আমায় ধূলার খেলায়
রাখবে আমরা ধরে ।
যদি ডাকার মত ডাক দিয়ে নাও মােরে ।
কোন্ সে খেলা কোন্ সে বাঁধন
কার সে হাসি কাহার কঁাদন
ভুলিয়ে আমার রাখবে আরাে
মিথ্যে খেলার খেলা ঘরে।
যদি ডাকার মত ডাক দিয়ে নাও মােরে।
৫
৫৩
গীতিকা
খেলা সে তত কতই হােল
কাটলাে সারা বেলা,
এবার তােমার ডাকে
ভাঙ্গবে গাে সেই খেলা ;
এক নিমেশে বাঁধন টুটে
ছুটি নিয়ে চলব ছুটে
নূতন খেলার তরে
যদি ডাকার মত ডাক দিয়ে নাও মােরে।
(৪৯)
( বুঝি ) মাের কুটীরের সুমুখ পথে
তােমারি আনাগােনা
উতল হাওয়ায় যায় যে গাে ঐ শােনা।
তােমার বাঁশীই কেবল বুঝি ওগো
মনে ভাবি যায় আমারে ডেকে
ঐ সবুজ ছায়ার, বীথির আড়াল থেকে।
পাগল সুরে কেবল ডেকে যায়
(আর) করে যে সে আমনা।
গীতিকা।
৫৪
সন্ধ্যা যখন ঘনিয়ে আসে
ধূসর
মাঠের পরে
প্রদীপটি মাের জ্বালাই যবে ঘরে,
শুনি হঠাৎ কার যেন ডাক্
নীরব পথের ধারে
চমকে ভাবি তুমিই বুঝি দ্বারে।
শেষে দেখি আর কিছু নয়
সুধুই হাওয়ায় দোলা
আর, পথের ধারে বাউল সে গায়
সন্ধ্যারি বন্দনা।
.
(৫০ )
তুমি জগতের মাঝে বিরাজিত ওগাে
কত রূপে কত সাজে
সুন্দর ওগগা লুকায়ে রয়েছ
আমারে এ হৃদি মাঝে।
আমি অন্ধ নয়নে সারা ধরণীতে
খুজে ফিরি তােমা দিবসে নিশীথে
ওরূপ মাধুরী খুঁজিয়া না মেলে
বুকে অধু ব্যথা বাজে।
গীতিকা
তুমি সারা ধরণীর অঙ্গে অঙ্গে
জড়ায়ে রয়েছ কতনা রঙ্গে
কত রূপে রসে গন্ধে তােমার
স্বরূপ রয়েছে জাগি,
নয়ন আমার সেরূপ মাধুরী
পায় না দেখিতে সুধু মরে ঘুরি
মূরতিটি তব খুজিয়া খুঁজিয়া
সে যে তব অনুরাগী।
আজি এসাে গাে হে প্রিয় বারেকের তরে
দেখা দাও মােয়র সেই রূপ ধরে
যে রূপ মাধুরী শয়নে স্বপনে
অন্তরে মম রাজে।
গীতিকা
৫৬
(৫১)
কত আর ভাসবাে বল
হে প্রিয় নয়ন নীরে ?
ক্লান্ত দিনের আলো
ঐ তত নিভিছে ধীরে।
জীবনের যত খেলা যত চাওয়া যত পাওয়া
যত কথা যত ব্যথা যত স্মৃতি যত মায়া
সকলি দিয়েছি বলি তােমারি পায়ে ;
তবুও হে পাষাণ
আজিও না এলে ফিরে।
হে নিঠুর নীরব দেবতা, আমার
মুছিবেনা কিগাে নয়নের ধার ?
তােমার তরীটি ভিড়িবেনা কিগাে
আমার নদীর এ তীরে।
৫৭ গীতিকা (৫২) প্রিয় তোমার লাগি কেঁদে কেঁদে মাের নীরবে কাটিল কতনা যামিনী জাগি । (আমি) কত দেশে দেশে কত ভালবেসে জনমে জনমে কতবার এসে ঘুরিমু তােমারে মাগি। কত আশা যাওয়া কত গান গাওয়া বাতায়নে বসে কত পথ চাওয়া মিছে হােল নাহি মনে, সুধু আসি যাই সুধু গান গাই চমকি তেমনি পথ পানে চাই- আজো সুধু আনমনে। কত দিন আর হে প্রিয় আমার এমনি রহিব জাগি ? দরশ পিয়াসী এ হৃদয় লয়ে হয়ে প্রেম অনুরাগী।
গীতিক
৫
৫৩ )
(তুমি) সুখের দিনে আসােনাতে।
সুখের ভাগী হয়ে
(কেবল) দুখের দিনে বেড়াও আমার
দুখের বােঝা বয়ে ।
বসন্তের ঐ জোস্না রাতে
(আমি) বেড়াই যখন সবার সাথে
তখন ওগাে তােমার কথা
পড়ে না মাের মনে,
তাইতে ওগাে অভিমানি
আসােনা মাের কাছে জানি;
সুধু আড়াল থেকে বাঁশী তোমার
বাজাও ক্ষণে ক্ষণে।
দখিনের ঐ পাগল হাওয়ায়
মরমে মাের দোল দিয়ে যায়
সুরটি র’য়ে র’য়ে।
(যবে ) দুখের মাঝে আপন-হারা
নয়নে মাের অশ্রু ধারা
অঝোর ধারায় ঝরে,
৫৯
গীতিকা
(যবে) দুখের বােঝ ল’য়ে মাথে
চলতে না’রি সবার সাথে
বিষম বােঝার ভরে,
( কেবল) তখন তুমি সঙ্গে চল--
সে বােঝা মাের লয়ে।
( আমার) দুঃখ রাতের বন্ধু ওগাে,
দুখের বােঝ ব’য়ে।
(৫)
কে বলে এ ধরা সুধু দুখে ভরা
কে বলে গাে সুখ নাই হেথায়
কে বলে মানবে পাঠায়েছ ভবে
জ্বালাইতে সুধু দুখ ব্যথায় ।
সুন্দর ওগাে দেবতা আমার
তােমারে যে নাহি জানে,
সেই সুধু বলে এ তব ধরার
সুখ নাই কোন খানে।
সেই সুধু দোষে নিশিথে দিবসে
সুখময় তব বসুধায়।
গীতিকা
তােমার প্রেমেতে হইয়ে বিভাের
ওগো প্রিয়তম এজীবনে মাের
আমি তাে নেহারি সুন্দর সবি
উছলিত তব প্রেম সুধায়।
তব নাম গেয়ে যে পথেতে চলি
আপনা হারায়ে নেহারি সকলি
ভরিয়া রয়েছে ওগাে অপরূপ
তােমারি মধুর রূপ শােভায়।
(৫৫)
প্রাণের মাঝে যে প্রাণ মম
তােমার সাথে মিলবে বলে
লুকিয়ে ছিল নিভৃত মাের
হৃদয় পদ্ম শতদলে ;
আজকে তাহার ঘুচলল আড়াল
টুটলাে গাে তার সব মায়াজাল
বাঁধন হারা ছুটলাে ধেয়ে
ঐ অসীম নীল গগন তলে।
গীতিকা
কি জানি আজ কাহার গানে
এমন দোলা লাগলে প্রাণে
হৃদয় আজি কাহার পাণে
ছুটলাে ব্যাকুল হয়ে
গােপন তাহার সকল আশা
সব কামনা লয়ে।
বাহির হতে খেলার সাজে সাজি,
সেকি তুমি, তুমিই প্রিয় আজি
ডাক দিয়েছ গান গাহিবার ছলে।
(৫৬)
(আমি) এসেছি আজ গাইব বলে
শেষ বিদায়ের পালা
পরিয়ে দিতে কণ্ঠে তােমার
গানের সুরের মালা
(যদি) গাইতে গিয়ে গানের মাঝে
সুর কেটে যায় ভয়ে লাজে
মিছেই যদি হয় গাে সুধু
অশ্রুবারি ঢালা।
তুমিই প্রিয় গেয়াে আমার
শেষ বিদায়ের পালা।
গীতিকা
৬২
যদি আমার গানের মাঝে
অর্থ কিছুই নাহি রাজে
(তবে ) তােমার প্রাণের অর্থ দিয়ে
আমার সুরে সুর
মিলিয়ে
তুমিই প্রিয় শেষ করে মাের
শেষ বিদায়ের পালা,
আপন হাতেই ক তব
পরাে গানের মালা।
(৫৭)
( আজি) ব'সে আছি নিশি জাগি।
ঝর ঝর ঝর ঝরে বাদল
আমারো নয়নে ঝরিছে জল ।
পরাণ আমার কাঁদে কেবল
আজি বঁধু তােমা লাগি।
ঘুম ভােলা আঁখি পাতে
তুমিও কি বঁধু আমারি মতই
বসে আছ আজি রাতে?
একেলা বসে ভাবিছ কি
আমারে ই । হে অনুরাগী।
ও
গীতিকা
থেকে থেকে মাের দুয়ার পরে
ঝড়ের হাওয়ায় আঘাৎ করে
চমকিয়া ভাবি তুমি বুঝি
এলে বঁধু আজি ঘরে ।
( নিরাশায় ) কাটে নিশি মাের আনমনে
জল ঝরে সুধু দুনয়নে,
আজ বাদল নিশিথে তােমারে মাগি
বসে আছি একা জাগি।
(৫৮)
সুন্দর আজি এসেছে আমার
ভাঙ্গা এ কুটীর দ্বারে
(আমি) কি দিয়ে আজিকে তুষিব তাহারে
সাজাব কি ফুল হারে।
নাহিক আমার স্বর্ণ আসন
নাহিক আমার রত্ন ভূষণ
কি’দিয়ে সাজায়ে কোন আসনেতে,
বসাব গো দেবতারে।
(আজি) ভাঙ্গা এ কুটীর দ্বারে।
গীতিকা
৬৪
দীর্ঘ দিবস গত হয়ে গেছে
বিজন কুটীর ঘিরে
ম্লান সন্ধ্যার বিবশ আঁধার
নীরবে নামিছে ধীরে,
(আজি) বিদায় ব্যথায় ঝরে আঁখি লাের
নয়নে জড়ায়ে আসে ঘুম ঘাের
দুরু দুরু হিয়া কঁপে ক্ষণে ক্ষণে
কেমনে কি কথা কব তার সনে
বিদায় বেলায় কি ফুল মালায়
সাজায়ে যাবােগাে তারে,
অতিথি সে যে গাে দ্বারে।
*
গীতিকা
(৫৯)
কত মতে তুমি জানালে তােমারে
কত না বেদনা দিয়ে
তুমি যে রয়েছ বােঝালে সে কথা
কত যে গাে কঁদাইয়ে ।
সুখের আবেশে যত বার আমি
ভুলেছি তােমারে হে জীবন স্বামী।
ততবার তুমি পঁাড়ায়েছ এসে
দুখ দীপ জ্বালাইয়ে।
(আমি) দুখ পেয়ে যাবে বড় বেদনায়
ভাবিয়াছি মনে বুঝি তুমি নাই
তখনি আবার এসেছ সুমুখে
প্রেমের আলােটি নিয়ে ।
“আছ আছ তুমি সকল ভুবনে
আছ আছ, মম অন্তরে মনে,
এ কথাটি তুমি হাজার রকমে
দিয়েছ গাে জানাইয়ে।
৫
গীতিকা
( ৬০ )
কত কাল হতে বসে আছি আশে
নীরব কুটীরে মাের
হতাশায় ওগাে ঝরয়েছি কত
ব্যথিত নয়ন লাের।
ফানে যবে ডেকেছে বনের পাখী,
চমকি ভেবেছি তুমি বুঝি গেলে ডাকি।
মৰ্ম্মর ধ্বনি বাহিরে শুনেছি যবে
ভাবিয়াছি বুঝি তব পদধ্বনি হবে
ভাবিয়াছি দূর রাখালের বাঁশী রবে
(বুঝি) তােমারি বাঁশীর স্বর ।
(যবে) শ্রাবণ নিশীথে চঞ্চলি বারে বারে
বাদল হাওয়ায় আঘাত দিয়েছে দ্বা
চমকি চেয়েছি ব্যাকুল নয়ন মেলে
ভাবিয়াছি মনে তুমি বুঝি বঁধু এলে
অথবা গােপনে ডেকে বুঝি ফিরে গেলে
দেখিয়া রুদ্ধ ঘোর ।
৬৭
গীতিকা
(৬১)
(যবে) জোস্না রাতে একলা বসে
বাতায়নের ধারে
তােমার লাগি সুদূর পানে
চাই গাে বারে বারে ;
পাইনে দেখা মেলি ব্যাকুল আঁখি
দেখার আশে কেবল চেয়ে থাকি
(আর) গভীর ব্যথায় বুক ভেসে যায়
নয়ন জলের ধারে।
ঘরের প্রদীপ ক্লান্ত হয়ে আসে
বাইরে ধরা জোস্না ধারায় ভাসে
নিঝুম রাতে সুদূর গগন তলে
তারা গুলি রয় গাে সুধু চেয়ে।
তখন তুমি যাও কি চুপে চুপে
নীরব ওগাে জোস্না ধারার রূপে
অকারণে অমনি ভেসে যাওয়া
তন্দ্রা জড়া মেঘের তরী বেয়ে।
তখন তব অলস দুনয়ানে
বারেক এ মাের বাতায়নের পানে
যাওকি চেয়ে, নেশার মত
দুরের অভিসারে।
গীতিকা
(৬২)
(সুধু তােমার গানের পরশ টুকু
লাগে আমার প্রাণে
পাগল করে ব্যাকুল হিয়া
টানে দূরের পানে।
কেবল আমায় করে আপন ভােলা
মনের মাঝে দেয় সারাক্ষণ দোলা
আবার কভু নীরব রহে
বিপুল অভিমানে।
হয়ত আমি দিনের কাজে
অমনি ভুলে যাই
তাই বুঝি গাে ক্লান্ত সাঁঝে
আবার সাড়া পাই;
নেশার মত আবার সে সুর মােরে
পরশ দিয়ে যায় যে আবেগ ভরে,
নীরব রাতের গােপন পথে
আবার দূরে টানে।
అని
গীতিকা
(৬৩)
একলা তুমি ওগাে আপন মনে,
বেড়াও ঘুরে কেবল অকারণে,
স্বপ্ন লােকের শুভ্র রথে
বেড়াও আলাে ছায়ার পথে
(ক) ডাক দিয়ে যাও হাহির হতে
সঙ্গোপনে।
দেখা তুমি না দাও প্রিয় কভু
তােমার লাগি ব্যাকুল আঁখি তবু
দেখার আশে রয় গাে চেয়ে দূরে,
পাগল হিয়া মরে কেবল ঘুরে
ঘর ছাড়ান তােমার বাঁশীর সুরে
রিক্ত মনে।
কত কালের এই যে চেয়ে থাকা
গােপন ব্যথা। বক্ষে ঢেকে রাখা
সফল হবে কোথায় কেবা জানে,
কোন সে ব্যাকুল দিনের অবসানে
তােমায় আমায় মিলবে প্রাণে প্রাণে
কোন সাধনে।
গীতিকা
৭০
(৬৪)
(তুমি)
কোন পথেতে যাওগাে আসে
কেমন সাজে,
কোন পথে যে গান গেয়ে যাও
ভুবন মাঝে,
(আমি) কেবল ভাবি কেবল বসে ভাবি
আপন মনে
আর চেয়ে থাকি ব্যাকুল আঁখি মেলি
অকারণে
মিথ্যে আশে তােমার লাগি
সকাল সাঁঝে।
এমনি করে দিন কাটে মাের
কেবল চেয়ে চেয়ে
কান্ত সুরে তােমার তরে
কেবলি গান গেয়ে ;
ভােরের বেলায় ডাকলে পাখী চমকে ভাবি
বুঝি গাে
এলে এলে
সন্ধ্যা বেলায় ডুবলে রবি আবার ভাবি
ঐ পথে কি লুকিয়ে গেলে।
ঐ
৭১
গীতিকা
(কেবল) ডাক দিয়ে যাও কভু তুমি
স্বপন মাঝে
চম্কে
উঠে তখন সুধু
মরি লাজে ।
(৬৫)
(আজি) ফাগুন হাওয়ায় মনের বনে
দোল দিয়ে যায় ক্ষণে ক্ষণে
পাগল করে,
কাহার যেন বাঁশীর সুরে
আনন্দ আজ জগত জুড়ে
পড়ছে ঝরে
কাহার যেন গােপন অভিসার
ভুবন
আজি জানায় বারে বার
আকাশ আলো চাইছে যেন কার
দরশ তরে।
গীতিকা
৭২
তুমিই বুঝি আসবে আজি
সেই অপরূপ সাজে সাজি,
যেরূপ লাগি ঝরল আঁখি
জনম ভরে।
( ৬৬ )
আর আমি চাইব কতাে বল ?
চেয়ে চেয়ে কতাে বা আর
ফেলব নয়ন জল ?
সেই যে তুমি ডাক দিয়েছ প্রাতে
সারাটি দিন কাটলাে সে আশাতে
আবার যদি বারেক ভুলে
ডাকহে চঞ্চল।
এই যে আমর গান গাওয়া আর
কেবল চেয়ে থাকা
তােমার ছবি কল্পনাতে
কেবল বসে আঁকা
একেবারেই সব কি মিছে হবে ?
জীবন ভরে দূরেই কিগাে রবে-
আধেক ফুটেই ঝরবে কি মাের
আশার শত দৰ ?
৭৩
গীতিকা
(৬৭)
জীর্ণ এ মাের প্রাণের তরী
আপনি ভেসে যায়,
কে জানেগাে লাগবে গিয়ে
কোন সে কিনারায় ।
নাই কো কোন পথ জানা নাই
কোন পথেই নাই মানা নাই
কেবল আমি যাই ভেসে যাই
দুরন্ত আশায়।
(আমার) কতাে মরণ চলার বেগে
রইলাে পড়ে পিছে
কত জীবন পথ খুঁজে যে
কাটল কেবল মিছে ;
বােঝা যত পথের মাঝে
বােঝাই করি সকাল সাঁঝে
আজো কেবল ভয়ে লাজে
ধাই গাে অজানায়।
আজো কেবল ভেবে মরি
কোন ঘাটে যে ভিড়বে তরী
কোন পাড়ে সব
উজাড়
করি
দেব তােমার পায়।
গীতিকা
৭।
(৬৮)
(তুমি)
এমন করে আর আমারে
রেখনা এক ধারে
সবার মাঝে লজ্জা গো আর
দিওনা বারে বারে।
লােকের মাঝে বলি আমি
তুমিই গাে মাের জীবন স্বামী
শুনে তারা কৌতুকেতে
চায় গাে আঁখি ঠারে ।
চৈতি রাতে বিশ্ব যখন
জোস্না ধারায় ভাসে
বলি তাদের গর্ব ভরে
ঐ বুঝি সে আসে!
শেষে যখন ভোরের বেলায়,
হেসে তারা মুখ পানে চায়
লাজে আমি যাইগো মরে
ভাসি অশ্রু ধারে।
শ্রাবণ রাতে বাহির যবে
ঝড় বদলে মাতে
বলি তাদের আমার প্রিয়
আসবে আজি রাতে,
৭৫
গীতিকা
শুনে তার পাগল বলে হাসে
আমি সুধু চাই গাে তব আশে
জেগে থেকে ভােরের বেলায়
অশ্রু মুছি হারে।
(৬৯)
(আমি) তােমায় ভাল বেসেছিলেম মনে
এই কথাটি সত্য করাে
আমার এ জীবনে।
গান গেয়েছি যত আমি পথ চেয়েছি যত
জীবন ভ'রে যে অশ্রু মাের
ঝরল অবিরত,
সে’তাে কেবল তােমার লাগি
তােমার আরাধনে,
সত্য করে এই কথাটি
আমার এ জীবনে।
গীতিকা
৭৬
যে পথ আমি খুঁজে খুঁজে
ফেলে এলেম পিছে
সুমুখ পানে টাছে যে পথ
তাও যদি হয় মিছে,
তবু আমি ফিরেছি যে তােমারি অন্নেষণে
সত্য করে এই কথাটি
আমার এ জীবনে।
(৭০)
ফুলের সাজি সাজিয়ে আজি
কে আসে ঐ বনের পথে,
হাসির মত চৌদিকেতে—
ছড়িয়ে সমীরণের রথে ?
কে আসে গােয় কোন অতিথি
কঁপিয়ে ব্যাকুল শ্যামল বীথি
আবেশ মাখা সুরের মত
কোন সাগরের ওপার হতে।
৭৭
গীতিকা
বিশ্ব গানের সুর খেলে তার
রঙীন পায়ের কিঙ্কিীনীতে,
হৃদয় মম ঐ পায়ে আজ
চায় গাে সবি বিলিয়ে দিতে ;
ভাসিয়ে দিতে চায় যে আজি
আপনাকে ঐ সুরের স্রোতে।
(৭১)
আমি কবে যে, সে তােমার গানে
পাগল হলেম নাই মনে
বাহির হলেম তােমার খোঁজে
কোন জনমের কোন ক্ষণে।
(আমি) হাজার বাধা বিপ্ন ঠেলে
জনম মরণ পিছে ফেলে
আজো কেবল পথ চলি আর
খুঁজি তােমায় আনমনে।
গীতিকা
৭৮
(তুমি) কবে যে গাে বাজিয়ে বাঁশী
বারেক ডেকে ছিলে হাসি
আজো এ মাের হৃদয় মাঝে
ফেরে সে সুর গুঞ্জরি,
তাইতাে আমি সকল হারা
তােমার লাগি পাগল পারা
পথে পথে পথ হারিয়ে
ফিরি আজো সঞ্চরি ।
কে জানে গাে কোন সে দেশে
কোন জনমে কেমন বেসে
তােমার সাথে হৃদয় আমার
মিলবে প্রেমের বন্ধনে
৭৯
গীতিকা
(৭২)
(যবে) বাদল রাতে রইগাে জেগে
আসবে তুমি বলে,
দুয়ার খুলে বিজন ঘরে
ভাসি নয়ন জলে !
( আমি) বারে বারে বাহির পানে
চাইগাে ফিরে ব্যাকুল প্রাণে,
কি যেন গাে ভয়ে আশায়
কেবল হিয়া দোলে।
( কভু ) ঝােড়াে হাওয়ায় বজ্র হেঁকে
জানায় যেন ডেকে ডেকে
আসবে তুমি হে অপরূপ
আসবে আজি রাতে,
সুদূর ওগো তােমার লাগি
ঘুম ভুলে তাই বইগগা জাগি
তবু সে ঘুম জড়িয়ে আসে
ক্লান্ত নয়ন পাতে;
(যবে) শ্রান্ত দেহ ঘুমের নেশায়
লুটিয়ে পড়ে গভীর নিশায়
তখন কিগাে গােপন তুমি
ডাক দিয়ে যাও চলে ?
গীতিকা
৮.
পানে
বাদল রাতের গানটি গাহি
যাও কি চলে সুদূর ওগাে
নীরব আঁধার তলে ।
(৭৩)
তােমার বাঁশীর সুরটি প্রিয়
লাগলো আমার মনে
জানিনে যে লাগলো এসে
কোন সে শুভক্ষণে
যাছিল মাের সব বিলিয়ে
কেবল আমার আমি নিয়ে
বাহির হলেম তোমার লাগি
তোমার এ ভুবনে।
কে যে তুমি নাই জানা নাই
তবু আমি পথ খুজে ধাই
তােমার কথাই কেবল সুধাই
সুধাই বিশ্ব জনে।
গীতিকা
ওগাে আমার সুরের সাকী
তােমার দেখা মিলবে নাকি
মিছেই কি মাের কাটবে জীবন
খোঁজার আরাধনে।
(৭৪)
তােমার সুরটি থেকে থেকে
দেয় আমারে দোলা
তাই, কেবল আমার পথ চলা আর
কেবলি পথ ভােলা।
আপন মনে এই জগতে
চলি আমি পথ বিপথে
দেখি তােমার সকল দ্বারই
রয়েছে নাথ খােলা
গীতিকা
৮২
তুমি, কোন পথেতে ডাক দিয়ে যে
কোন পথে যাও চলে,
আমি, দেখা না পাই কেবল খুঁজে
ভাসি নয়ন জলে ;
জানিনে যে কোন সাধনে
কোন সে দিনের শুভক্ষণে
তােমার দেখা মিলবে গাে মাের
শেষ হবে এই চলা।
(৭৫)
গভীর রাতে বাঁশী মােমার
বাজেগাে কোন দূরে,
পাগল করে ব্যাকুল হিয়া
বাজে ভুবন জুড়ে !
তখন, সবাই থাকে ঘুমে বিভোর
সুধু, ঘুম আসেনা নয়নে মাের
তােমার সে সুর গুঞ্জরিয়া
ফেরে হৃদয় পুরে।
৮
গীতিকা
আমি, ভাবি মনে কোন ভুবনে
কোন সুদূরে সংগােপনে
একলা বসে কি গান তুমি
বাজাও এ কোন সুরে।
(৭৬)
তুমি, ইসারাতে ডাক দিয়ে গাে
অজানা পথ পানে,
পথের পথিক করলে আমায়
তােমার বাঁশীর গানে ;
ভেঙ্গে আমার আড়াল যত
ব্যথা দিলে কতই মত
তবু ওগাে এমন করে
টানলে গাে কোন টানে।
লুকিয়ে থেকে ওগাে সুদূর
একি তােমার খেলা নিঠুর।
আড়াল থেকে এ কোন বাঁধন
লাগালে মাের প্রাণে।
৪
পেছনে মােয় রইল যারা
ফেলছে তারা নয়ন ধারা,
তুলিয়েছ যে তুমি আমায়
সে কি গাে তারা জানে!
(৭৭)
আঁধার করে আসে ভুবন
নামলাে বাদল ধরণীতে,
আজ তুমি কি আসবে গাে ঐ
কাল মেঘের তরণীতে।
আকাশ আজি সজল আঁখি
কাঁদছে যেন থাকি থাকি
চেয়ে আছে শ্যামল ধরা
তােমার চরণ বুকে নিতে।
(আমি) এমন দিনে বিজন ঘরে
রইব বল কেমন করে ;
কোন্ আশাতে বাঁধবাে এ মাের
অশ্রু সজল হিয়া
নাই যদি গাে আসসা তুমি
হে মাের দরদীয়া ।
গীতিক
'। (মাের) চিত্ত আজি দরশ লাগি
ব্যাকুল হয়ে আছে জাগি
মুক্ত করি হৃদয় দ্বার
গােপন তােমায় বরে নিতে।
(৭৮)
(ভুমি) ডাক দিয়ে যাও আড়াল হতে
গানের সুরে,
(মাের) হৃদয় মাঝে বাজে সে সুর
বাজে মধুরে।
কি কথা যে যাও বলে যাও
কোন সুরে যে বাঁশী বাজাও
(আমি) কেবল শুনি, ভেবে মরি
আর, নয়ন বুরে।
(আমায়) ঘরের মাঝে ভুলিয়ে রেখে
ডাক দিয়ে যাও আড়াল থেকে
ওগাে খেয়ালী।
ঘুচিয়ে প্রাণের আঁধার ঘাের
জাগাও তুমি নয়নে মাের
রূপের দেয়ালী।
গীতিকা
মন লাগেনা ঘরের কাজ
সেই রূপেতে ভুবন মাঝে
তােমায় খুঁজে হৃদয় আমার
মরে যে ঘুরে।
(৭৯)
প্রেমের নদী বইছে প্রিয়
মুক্তি সাগর পানে,
বইছে যে সে উছল স্রোতে
তােমার প্রেমের গানে,
আমি ঘর বেঁধে তার দুই কূলেতে
জীবন মরণ খেলায় মেতে
কেৰল আসি কেবলি যাই
যাওয়া আসার টানে।
আমার ঘরের দুয়ার পাশে
তােমার প্রেমের নদী
মন তুলান গানের সুরে
বইছে নিরবধি ;
গীতিকা
প্রভাত বেলার খেলায় ভুলে
(আমি) ফিরি গাে তার কূলে কূলে
কেবল, তরঙ্গেরি সুরটি প্রিয়
লাগেনা মাের প্রাণে।
( ৮০ )
খুঁজে খুঁজে ফিরবাে আমি
তােমায় নাহি পেয়ে
জীবন হতে মরণ পারের
যাবাে াে পথ বেয়ে ;
বারে বারে আসব ঘুরে
তােমার পূজার লাগি,
এমনি করেই বিরহে নাথ
রইব নিশি জাগি
একলা আমি আপন মাঝে
ফিরবে কেবল তােমার কাজে
দুই কূলেতে তােমার গানই
ফিরবাে গেয়ে গেয়ে।
গীতিক
৮
দেখা যদি নাই বা মেলে
নাই পুরে গাে আশা
তবু আমি চলৰৰ নিয়ে
গােপন ভালবাসা।
জীবন মরণ ধন্য করি
তােমার প্রেমের বসন পরি
কেবল আমি তােমার লাগি
চলব পথ চেয়ে।
(৮১)
(ভুমি) পারবে না তাে রইতে ওগগা
লুকিয়ে আমার নয়ন হতে
গানের সুরে পড়বে ধরা
পড়বে আনার চলার পথে।
লেগেছে আজ প্রাণে আমার
তােমার গানের সুরের মধু
(এবার) খুঁজে তােমায় ধরব প্রাণে
যতই সে দূর হােকনা বঁধু।
ভাসিয়ে দেবে আপনাকে মাের
তােমার মধুর সুরের স্রোতে।
গীতিকা
(৮২)
1
সারা দিন মাের ক্লান্ত নয়নে
মিছে হােল পথ চাওয়া
একটি জনম বৃথা হােল প্রিয়
তোমারে হােলনা পাওয়া।
(আমার) যত সাধ আশা প্রেমের পিপাসা
ঘুমায়ে ছিলগাে প্রাণে,
ভাঙ্গিলনা
ঘুম
জাগিলনা তাহা
তােমারি মধুর গানে,
(সুধু) স্বপনের ঘােরে সারা দিন মান
মিছে হােল পথ ধাওয়া।
(আমি) গান গাবাে বলে আনি যে ৰীণ,
(সুধু) তার বাঁধা তার হােল সারা দিন,
লাগিলনা সুর, প্রেমের আবেশে
হােলনাকো গান গাওয়া ॥
গীতিকা
৯০'
(৮৩)
তােমার প্রেম যে পেয়েছে নাথ
সেই তাে ভবে রাজাধিরাজ,
নাই কো তাহার দুঃখ ব্যথা
নাই কোন ভয় নাই কোন লাজ ।
মণি মাণিক কিবা আছে,
চাইবে যে, সে তােমার কাছে
(যদি) আপন হাতে পরিয়ে তারে
দিলে তােমার প্রেমের তাজ।
পাওয়ার এই জীবনে
তােমায় যে জন পেলো মনে
আর কি তাহার চাওয়ার মত
রইল কিছু ভুবন মাঝ ।
৯১
গীতিকা
(৮৪)
নীরব পথের পথিক বাউল
আপন মনে যায় গেয়ে,
বলে, আর কতকাল কাটবে বলে
পথ চেয়ে মাের পথ চেয়ে।
তার, একতারাটী বাজায় থেকে থেকে
আর কচিৎ কোন পথিক জনে
সুধায় ডেকে ডেকে,
বলে, তােমরা কি কেউ জানাে আমার
বঁধুর কথা ওগাে ?
দিন যে আমার ফুরিয়ে এলাে
আঁধার আসে ছেয়ে !
গলায় তাহার বন ফুলের মালা
হাতে আছে রঙীন্ বাঁশের বাঁশী
রঙটি চেয়ে দেখবে বড়ই কালাে
তবু, মুখখানি তার সদাই হাসি হাসি !
তােমরা তাে গাে অনেক পথেই
করাে আনা গােনা
দেখেছ কি সেই বঁধুরে মাের ?
সেও যে আমার পথের পথিক
চলে, বিশ্ব পথ বেয়ে।
গীতিকা
১২
(৮৫)
(যদি) উৎসব রাতে হে সাথী আমায়
নাই পড়ে তব মনে
(তবে) বিষাদ নিশীথে মনে করাে ওগাে
মনে করে। অকারণে।
যদি প্রভাতের ফুল উৎসবে
ভুলে থাক মােরে সুখ কলরবে,
(তবে) বেলা অবসানে ডেকে নিও ওগাে
ডেকে নিও তব কাঙ্গাল নিমন্ত্রনে।
ফানে যদি সুর অনুরাগে
মাের গান খানি ভাল নাই লাগে,
এসাে তবে এসাে শ্রাবন নিশীথে
(মাের) অশ্রু ধারার সনে। • •
হৃদয়ের মাঝে নিভৃত কুঞ্জে
ব’সসা প্রিয় নিরজনে।
నం
গীতিকা
(৮৬)
আমি চলেছি সুধু চলেছি
চলেছি পথিক বেশে
জানিনে কোথায় কোন অজানায়
কোন সে দূরের দেশে !
কোন অতীতের গুহাতল হতে
জানিনে কে, মােরে এনেছে এ পথে
জানিনে কোথায় নিয়ে যাবে সে, যে
শ্রান্ত চলার শেষে!
চির অনন্ত এ চলার মাঝে
শুনি সদা কার বাঁশী যেন বাজে,
মাঝে মাঝে সে যে ডেকে বলে আয়
যাবি যদি পথ শেষে
নিশিদিন তাই বুঝে বা না বুঝে
চলি আমি তপরি পথ খুঁজে খুঁজে
(সেই) সুদূর পথের অজানা সাথীরে,
অন্তরে ভালবেসে।
১৯
গীতিকা
১৪
(৮৭)
সুধু তােমায় ভাল বাসি বলে
আমি সবারে বেসেছি ভাল,
দেখেছি তাই সবার মাঝে
প্রিয় তােমার প্রেমের আলাে।
আমার মনের গােপন পুরে
আঁধার যত ছিল জুড়ে,
(আজি) তােমার ঐ বিশ্ব প্রেমে
সকল আঁধার কাটল গাে তার
ঘুচলো সকল কালাে।
(আমি) তােমার এই বিশ্ব জনে
আড়াল করে ব্যাকুল মনে
ছুটে ছিলাম, কেবল তােমার তরে ;
তাই এ বিরাট বিশ্ব ছায়ায়
আড়াল করে ছিল যে তােমায়
আমার, রেখেছিল সকল প্রকাশ
আঁধার করে মলিন করে,
আজি তােমায় সবার মাঝে
পেয়েছি যে সকল সাজে ;
আলাে ওগাে লাে।
৯
গীতিকা
তােমার প্রেমের প্রদীপ খানি
হৃদয়ে মাের আরাে
দিনে দিনে পূর্ণ করে আলাে
(৮৮)
আমার অভিমানের পালা
এবার শেষ হয়েছে
শুকিয়ে গেছে ভােরের গাঁথা
মিলনের মালা।
ঘনিয়ে এলাে আঁধার রাতি
জ্বলবে না তায় সাঁঝের বাতি
এবার আঁধার ঘরে হবে আমার
বিরহ দীপ জ্বালা !
আশার কুশুম
ঝরিয়ে সবি
ডুবলাে আমার সুখের রবি,
এবার আঁধার ঘরে নূতন আশায়
(হবে) অশ্রু বারি ঢালা।
(৯)
(যদি) খেলার পালা ফুল আজ
যাবার বেলা হােল
(তবে আবার কেন বীণার তারে
পুরােনাে সুর তােল ?
আবার কেন জাগিয়ে তােলা
সেই পুরােনাে গান
খেলা ঘরের সাথীর পরে
নীরব অভিমান ;
আবার কেন আগল দেওয়া
স্মৃতির দুয়ার খােল ?
গেল যা, তা দাও যেতে দাও
আসে বা তাই নাও তুলে নাও
যে জন ভুলে গেল চলে
এবার তারে ভােল।
সমাপ্ত।
No text on this page.
No text on this page.