Amta Public Library,howrah
Dheu
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
ঢেউ স্বনামধন্য, ঋষিকল্প- ডাঃ পি, সি, রায়, ডি, এস সি ; পি এইচ, ডি; সি, আই, ই; মহােদয় লিখিত ভূমিকা। জলধর চট্টোপাধ্যায়। প্রকাশক- প্রহলাদচন্দ্র “পা”ায় বি, এ, মল্লিকপুর হিন্দু লাইব্রেরী, যশােহর। আট আনা।
ht t..১ ৯
f
. a 13107
13187 ১৯৫৮
কলিকাতা ২ নং পটুয়াটোলা লেন, বিজয়া প্রেসে
রমেশচন্দ্র চৌধুরী দ্বারা দ্রিত।
উৎসর্গ- পরম পূজনীয় শ্ৰীযুক্ত গােপালচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পিতৃ-দেব শ্রীশ্রীচরণকমলে। প্রণত সেবক- জলধর।
No text on this page.
ভূমিকা। কাব্যের হিসাবে এই ক্ষুদ্র কবিতাসমষ্টি কোন স্থান অধিকার করিবে সে বিচার কবি ও সমালােচকগণ করিবেন। কিন্তু এই নবীন কবির প্রথম লেখনীসম্পাতে এমন কতকগুলি কবিতা রচিত হইয়াছে যাহার ভাষার প্রাঞ্জলতা, ছন্দের অব্যাহতগতি, ও ভাবের মাধুৰ্য্য একেবারে আমাদের হৃদয়ের দ্বারে আঘাত না করিয়া যায় না। এমন হৃদয়গ্রাহী ভাবপূর্ণ কবিতানিচয় যে কবির লেখনী হইতে প্রসূত সে কবি প্রশংসা সন্দেহ নাই। যদিও ইহার অধিকাংশ ছন্দ আধুনিক কবিদিগের প্রচ- লিত নৃতন ছন্দের অনুরূপ, তথাপি তাহার স্বচ্ছ ব্যবহার ও অবাধগতি এই নবীন কবির ক্ষমতার বিশেষ পরিচয় দেয়। ভাবের মহত্ত্ব যেন ছন্দের স্পন্দনের সহিত পদে পদে হৃদয়ের পথে অগ্রসর হইতে থাকে ; এই জন্যই বােধ হয় ছন্দের মাধুৰ্য অনেক সময় কবিতার উৎকর্ষতার কারণ হয়। কবি স্থানে স্থানে নূতন ছন্দ রচনার প্রয়াস করিয়াছেন ও তাহাতে অধিকাংশ স্থলে সফলও হইয়াছেন। তাহার এই মৌলিকত। উল্লেখযােগ্য। কতকগুলি কবিতায় এই তরুণ কবির উদ্দাম ভাবের কিছু কিছু উচ্ছলতা দৃষ্ট হইবে সন্দেহ নাই, কিন্তু তাহা কবির নবীন বয়স ও কবিতা রচনার প্রথম প্রয়াস প্রভৃতি বিচার করিয়া দেখিলে বিশেষ দোষাহ বলিয়া বােধ হইবে না। আশা করি নবীন কবির এই প্রথম রচনা জনসমাজে আদৃত হইয়া তাহাকে উৎসাহিত করিবে। পরিশেষে বক্তব্য এই যে আমার কর্মক্ষেত্র কাব্যজগৎ হইতে বহুদূরে অবস্থিত ; সুতরাং কাব্য বিষয়ে মতামত দেওয়া আমার পক্ষে অনধিকার চর্চা সন্দেহ নাই। কিন্তু যে কাব্য জাতিনিৰ্বিশেষে আবাল- বৃদ্ধ-বণিতা সকলকেই আনন্দ প্রদান করে সে বিষয়ে আপনাপন মতামত প্রকাশ করা আশা করি অসঙ্গত হইবে না। • কলিকাতা। ১লা বৈশাখ ১৩২২ সাল। প্রফুল্লচন্দ্র রায় সংগ্রাহকের নিবেদন সূচী। সাহিত্য-ক্ষেত্রে ইহাই কবির প্রথম অবতরণ। কিন্তু মাসিক পত্রি- কার ঘন-ঘটাপূর্ণ আকাশে সাহিত্যামােদিগণ বােধ হয় মাঝে মাঝে জলধর’ কবিকে উকি দিতে দেখিয়াছেন। ইহার অধিকাংশ কবিতা- গুলি ভারতবর্ষ, বিজয়। মানসী, প্রীতি, জাহ্নবী, ও পল্লীচিত্রে কদাচিৎ অতি ধীর এবং মন্থর গতিতে স্বপ্ৰকাশ করিয়াছে। ঢেউয়ের মধ্যে কবির অতি শৈশবের কয়টী রচনা, ছাড়িয়া দিয়াছি,ভাবের সারল্য এবং ভাষার অপরিপক্কতাই পাঠকের নিকট তাহাদের পরিচয় দিয়া দিবে। কয়েকজন সাহিত্যিক এবং ডাঃ পি, সি, রায় মহাশয় কবিতাগুলির ভাব ও ভাষার মৌলিকতা, এবং রচনায় চেষ্টাপরিশূন্য সহজ গতিদর্শনে মুগ্ধ হইয়াছেন। “ভারতবর্ষের” খ্যাতনামা জলধর সেন মহাশয় ইহায় কয়েকটা কবিতা পাঠ করিয়া স্বয়ং কবিকে বলিয়াছিলেন--“এরূপ একটা কবিতা লিখিতে পারিলে আমি নিজেকে ধন্য মনে করিতাম। ইহা অপেক্ষা তরুণ কবিকে উৎসাহ-দান আর কি হইতে পারে ? বােধ-সৌকৰ্য্যার্থে, সুচীপত্রে কতকগুলি কবিতার একটু সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিলাম—নতুবা ঐ কবিতাগুলির খাটি প্রসঙ্গ নির্ধারণ করা কঠিন হইয়া পড়ে। পরিশেষে ভগবানের নিকট কবির ভবিষ্যৎ কামনা করিয়া সাধারণ সমালােচনার মধ্যে পুস্তকধানির অবস্থা দেখিবার জন্য উদ্গ্রীব রহিলাম । শ্রীপ্রমথভূষণ মুখােপাধ্যায়।
সূচী। ৮ে৬ • কবি ও কল্পনা সুন্দর ও কালাে -বাল্যকালে কবি অত্যন্ত কালো ছিলেন। এই সৌন্দৰ্য-হীনতা তাহাকে সেই সরলতার দিনে, অতিশয় মনঃপীড়া দিত। কথিত আছে—কবি ‘হলুদ মাখিয়া একদিন তাহার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করিয়া- ছিলেন। এ কবিতাটা শৈশবের সেই মানসিক অবস্থা স্মরণে লিখিত। বুদ্ধ ও আমি • • • ৭ উদাসী मकान .. অসারতা ••• সা--গা-মা কল্যাণী ১৪ --কবির বিশেষ অনুরােধে পড়িয়া এ কবিতাটীর পরিচয় দিতে পারিলাম না। খেলা ঘরে ••• সে কোন্ দেশ খেয়া ১৮ সাদা কাগজ ৮ । । । । –এক দিন একখানা ‘সাদা কাগজ’-কবিতা লিখিবার বিষয়ের অভাব হইতে কবিকে উদ্ধার করিয়াছিল। আমার প্রদীপ আয়না নিবেদন • • ? .
সংগ্রাহকের নিবেদন সূচী। সাহিত্য-ক্ষেত্রে ইহাই কবির প্রথম অবতরণ। কিন্তু মাসিক পত্রি- কার ঘন-ঘাপূর্ণ আকাশে সাহামােনিগণ বােধ হয় মাঝে মাঝে ‘জলধর’ কবিকে উকি দিতে দেখিয়াছেন। ইহার অধিকাংশ কবিতা- গুলি ভাত, বিজয়। মানস, প্রীতি, জাহ্নবী, * পল্লীচিত্রে কাচিং অতি ধীর এবং মন্থর গতিতে স্বপ্ৰকাশ কবিয়াছে । ঢেউয়ের মধ্যে কবর অতি শৈশবের কয়টা রান, গাড়ি: দিয়াছি,-তাবের সারল্য এবং ভাষার অপরিহাই পাঠকের নিকট হনের পরিচয় দিয়া কবে। কয়েকজন সাহিত্যিক এবং ":: পি, *, রায় মহাশয় কবিগুলির জাব ও ভাষার মৌলিকতা, এবং চনৰ চেষ্টাপরি সহজ গতিনে মুগ্ধ হইয়াছেন। ভারতবর্ষের প্যান এস সেন মাশ; ইহার কয়েকটা কবিতা পাঠ করিয়া কব বলিয়াছিলেন- “প একটা কবিতা লিখিতে পারিলে আমি নিজেকে মনে করতাম । ইহা অপেক্ষা তরুণ কবিকে উৎসাহ-২ান আর কি হতে পারে? বােধ-সৌক্যাথে, সুচীপত্রে কতকগুলি কবিতার একটু সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিলা-নতুবা ঐ কবিতার খাটি প্রসঙ্গ নির্মাণ করা কঠিন হইয়া পড়ে। পরিশেষে ভগবানের নিকট কবির ‘বিষ্যৎ কামনা কষিয়। সাধারণ সমালোচনার মধ্যে পুস্তকপানির অবস্থা দেখিবার তা উদগ্রীষ রং লাম । প্রমথষণ মুখােপাধ্যায়।
मृग ঢেউ কবি ও করন। সুন্দর ও কালো -বাল্যকালে কবি অত্যন্ত কালো ছিলেন। এই সৌন্দৰ্য-হীনতা তাহাকে সেই সরলতার দিনে, অতিশয় মনঃপীড়া দিত। কথিত আছে-কবি ‘হলুদ মাখিয়া একদিন তাহার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করিয়া- ছিলেন। এ কবিতাটা শৈশবের সেই মানসিক অবস্থা স্মরণে লিখিত। * ৭ আমি উদাসী .. ১: অসং। • • ১২ ১২ -- ১১ কাণ -কবির বিশেষ অনুরোধে ডি এ কাৰতীয় পরিচয় দিতে পারলাম না। খেল : । । । সে কোন দেশ ১৮ সাদা কাগ -এক দিন একখান 'সঙ্গ কাগ'—কবিতা লিখিবার বিষয়ের অভাব হইতে কবিকে উদ্ধার করিয়াছিল। আমার প্রাপ বায়না ••• • ২ ২৩ নিবেদন অনাদৃত। अकबधाय -অন্ধতা অন্ধের দুঃখের কারণ নহে—ইহা সপ্রমাণ করিতে বদ্ধ- পৰিকব হইয়া লিখিত মানস সুন্দরী কথা ২৮ -বাল্যকালে কবির সম্পাদনায় মল্লিকপুরে এক খণ্ড হাতে-লেখ। সাপ্তাহিক প্রকাশিত হইত। কিন্তু অতি অল্পদিনে গ্রামের কর্তৃপক্ষ কোনও কারণবিশেষে উহা তুলিয়া নেন। ইহা অতি বাল্য-রচনা। বুডিব গান সির-হারা বর ক'নে ভারত-নারী दको ৩১ •• প্রাণের কথা • • রামপ্রসাদ ••• ৪১ বিরােধ-শান্তি প্রতি जो বিচ্ছেদে ও ৩ धिमान ৪; নন-রে -ই। একটা অর্থ সঙ্গতি হেয়ালী কবিই। বাগ্যের রচনা। রাগরাগিণী । ৪৮ পনে নৌকাডুবি -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নৌকাডুবি’ পাঠে—বাল্যে একদিন কবি ‘আহার নিদ্রা তুলিয়া যান ; সন্ধ্যাকালে অনুশােচনা করিয়া এই কবি- তাটা লিখিত। মরণে গায়িকাধু ৫৭ ৫১ ••• সুন্দরী ব্যানারী মেহের রাণী ••• ... •• ••• নিশাণী .. ওপারে ••• ১৮ কাব্য -কবি, আই, এ, ‘ফেল করিলে অত্যধিক কাব্যালােচনাই উহাব কারণ নির্দেশ করা হয়। অত্যন্ত অভিভূত অবস্থায় লিখিত। এই কবিতাটতে কবি 'দেব' অর্থে ‘অংশুমালী' শব্দ ব্যবহার করিয়াছেন। পমান পাঠ্যপুস্তকে অমনোযােগী হইয়া কবি কিরূপভাবে কাব্যমৃত্যু লিখিয়া অনুতাপ কমেন—ইহা তারই প্রমাণ। নির্ভীক -'দে মা অহয় পদ’ এত গান শুনিয়া লিখিত। কবি স্বয়ং ও-বিষয়ে অতিশয় ভীত এবং অকা। এ ‘নির্ভীকতা তাহার সাম- যিক উত্তেজনা মাত্র। মাটা ০ ০ ০ ২ ৭৩ দাদার বিবাহে -যতি বাস্য-রচনা। ৫ - পি, সি, রায় কে । বিজেতা আমার গান প্রণাম ৮০ •••
ছােট ছােট ঢেউগুলি,
লােক-লাজ-ভীতি ভুলি
ছুটে গেছে প্রাণারাম বেলাভূমি কোলে,
সে তাহারে বুকে করি,
আদর-সােহাগে ভরি'-
দেছে প্রাণ, ভেঙ্গে চির-ভীতি কলরােলে ।
AMTA PUBLIC 1.13** IX 01-DIVISIONAL IS A Y ভেউ সূৰ্য্য যখন লাল বসনে সুদূর মাঠের গায়, শালিক চড়ই অাধার মুখে বাসার পানে ধায়, আবার যখন বাগান থেকে উকি ঝুকি মারে, শ্রান্ত মনে বসেছিনু কোন নদীর ধারে। সন্ধ্যাকাশের রং 1 মেঘের রক্ত ছটাব কোলে, ঢেউগুলি তা'র নেচে নেচে একশাে মা তােলে। তা দেখে হয়! লজ্জা করে বলবো কিসে কথা ক্ষুদ্র কবির ব্যাকুল প্রাণ হার ঢেউয়ের মাথা এই ওঠে-এই ঘুরে পড—এটা ওটার গায়, তুফান সেজে, কোমর বেঁধে আকাশ ছুতে ঢাষ। নাই ক' তাদের শৃঙ্খলাটা কেমন-কি- এক ভাবে একাই যেন নেচে গেয়ে বিশ্বটাকে ছাবে। আর- ঐ দেখ, ঐ জলে বে সমা দিয়ে গাঁথা, প্রণমি যেন করছে কা'কে হাজার ঢেউয়ের মাথা। আমার প্রাণের ঢেউয়ের পায়ে নাই ক' তালের লেশ, ওদের কিন্তু তা কাটে না গানটাও গায় বেশ। আমার প্রাণের ঢেউযের গান বেসুর বড় লাগে, ওদেরসানে জানা কোন ক% যেন জাগে।
৩ ]
এল, স্রোতস্বিনী গরবিনী মন্দাকিনীর মেয়ে।
সন্ধ্যাবেলা দিক্ ডুবালে কা’র গানটা গেয়ে ?
ঢেউগুলি সব গুছিয়ে যবে যাবে নদীর পার,
ধরিয়ে দিও সুরটা তব, কণ্ঠে অভাগার ।
কবি
কল্পনা।
পনচ বরম
বয়স তখন,
নহে বেশী এক চুল,
শারদ উষায়
শেফালি তলায়
গেছিনু তুলিতে ফুল।
জগৎ তখনাে ঘুমিয়ে রয় ,
কোন পাখী কোনাে কথা না কয় ;
তখনাে আকাশে চাদ ভেসে ভেসে
বিদায়ের পালা গায়,
জোছনা কিরণ
গাছে গাছে মুরছায়।
‘টুপটাপ টুপ যেনরে কে এই
করিছে পুষ্প বৃষ্টি
ক্লান্ত মলিন
[ ৪ ]
চারি দিকে চাই কা' নাে দেখা নাই ।
শঙ্কিত মম দৃষ্টি !
কইকে কোথায় ? জগৎ ঘুমায়
সাজি ভরি’ ঢালে কে আমার গায়
শেফালির ঝরা ফুল ?
বয়স তখন
হাসিয়া আকুল
নহে বেশী এক চুল।
ভয়ে কচি প্রাণ উঠিল কেঁপে,
ছােট জলধারা কাপােল বােপ,
যাই কোথা কার কাছে ;
রাশি রাশি ফুল
কে হাসে শোলি গাছে ?
সহসা ঠেকিল চক্ষে আমার,
দ্ধি কাহার হল ভার,
চমকি' দেখিনু যে ;-
জ্যোছন বরণ
গােলাপী ৰসন
ফুট ফুটে কচি মেয়ে !
কোপা দেখিনি সুন্দর অত
কুটকট কচি মেযেটার মত
মুখখানি ভরা হাসি ;
কালের সুমনা
নাই সে উপমা
–6াদিমা জ্যোছনারাশি।
[ ৫ ]
ধীরে সে বালিকা, গলাটী ধরি’
কহে কথা কানে কানে-
“তুমি ‘কবি—আমি কল্পনা দাসী
—কেহ জেন নাহি জানে।
ভুলনা, ভুলনা, ভুলনা আমায়
চির দিন মনে রেখো,
মনে পড়ে যাবে ।
নয়ন মুদিয়া
নিরজনে বসে ডেকো।
মুগ্ধ নয়নে শুধু চেয়ে রই,
সাধ হয় তারে দুটী কথা কই,
কহিব কি যাই ভুলি’ ;
যখনি সে তার,
নয়নে আমার,
চাহিল নয়ন তুলি।
সুন্দর ও কালাে।
( কালাে'র খেদ )
সুন্দর তুমি,
রূপটা তােমার শতেক দৃষ্টি-ঘেরা,
চা সােণর বর্ণ তোমার
চোখটা পটল-চেরা,
ভ-প্রেমিক * দু'টা
শঠর সেবা,
ব্যর্থ আশার জ্বালার ভেতর ডােবা ;
-শােন কথা মাের
।
রাখ ঢেকে রে-
তিক্ত, কঠোর শােভা।
কুৎসিং আমি,
বর্ণ আমার টে’র মন কালাে-
নাক, চোখ, মুখ, কর্ণ আমার
একটাও নয় ভালো,
সবাই আমার নিন্দা লয়ে
লক্ষ প্রদীপ জ্বালাে-
[ ৭ ] বিরে মরা—প্রাণের ভাঙ্গা কুড়ে, তৃপ্ত বুকে মরব মুখে মাঝখানে তার পুড়ে ! কিন্তু তুমিই যাদের প্রিয় প্রাণের তােমার যারা প্রিয় শেষের দিনের অাঁধার রাতে, সঙ্গে তাদের নিয়ে ভেদ-ঘুচানো মৃত্যু-কোলে র’ব তােমায় ঘোঁসি, দেখবে তারা বর্ণ কাহার- উজল কতই বেশী । বু ও আমি। একলা বসে আপন মনে বিশ্ব-মানব-সাগর পারে, গন্ধ-ভরা, কুসুম-পর, আকাশ-মেশা, ঝোপের ধারে, যশােধারার অশ্রুধারার বাঁধন-ছেড়া পাগল প্রাণ। গাইছ এ কোন আত্ম-হারা গভীর শেমের নীরব গান।
[ ৮ | দূর গগনে শূণ্য তব দৃষ্টি কতই মধুর আহা! কোথায় খোজে। পরমযােগি ! মানব প্রাণের শাস্তি যাহা । নাই কি তাহা আমাদের এ বিয়ােগ-বিধুর বুকের মাঝে, যেথায় বঁধুর নীরব করুণ অশ্রুকণা বেজায় বাজে ? আমিই যে সব আমার বলে অাঁকড়ে ধরি হৃদয়-পুরে সন্ন্যাসী গাে! কোন পরাণে ঘৃণা বলে ফেললে দূরে? রাজার ভূষণ লক্ষ্য ক'রে কুড়ের বাহির ভােরের বেলা হয়েই দেখি, রাজার ছেলে করলে এক নৃতন খেলা! কোপ না পারে সাজলে তুমি আমার চেয়েও দানের দনি— এইকি তােমার বিশ্ব-বিজয় ?—বুদ্ধ, কাঙাল বুদ্ধি-ইনি। উদাসী । আজ কেন নীল-রেখা দিগন্তের কোলে ছুটে যেতে চাহে প্রাণ মন- সেথা, সে অচেনা দেশে নালিমের সাড়ে এ কাহার প্রেম আকর্ষণ?
( ৯ ]
অবিরাম, অনলস, মৃদু গন্ধ বায়
বলে যায় কাহার সন্ধান,
সীমান্ত নীলিম-প্রান্তে হইয়া বিলীন
আছে কোন প্রেমিক মহান।
অক্ষুট দিগন্ত-কোলে প্রভাতে সন্ধ্যায়
হাসি-ভরা জ্যোছনার রাণী
কার অযাচিত কোলে রাখে লুকাইয়া
অনুপম প্রেম-তনু খানি ?
একি সুখ ! একি শান্তি! একি উদ্দীপনা!
সে অজানা প্রেমিকের লাগি
সংসারের মােহময় চির-সুপ্ত-কোলে
ক্ষণ প্রাণে উঠিল গাে জাগি।
হেথায় লাগে না ভাল মদালস প্রাণে
সংসারের গাঢ় আলিঙ্গন,
তাই কি গাে নল-রেখা দিগন্তের কোলে
ছুটে যেতে চাহে প্রাণ মন?
( ৮ ) দূর গগনে শূণ্য তব দৃষ্টি কতই মধুর আহা! কোথায় খোজো পরমযােগি ! মানব প্রাণের শাস্তি যাহা ? নাই কি তাহা আমাদের এ বিয়ােগ-বিধুর বুকের মাঝে, যেথায় বঁধুর নীরব করুণ অশ্রুকণা বেজায় বাজে ? আমিই যে সব আমার বলে অড়ে ধরি হৃদয়-পুরে সন্ন্যাসী গাে ! কোন পরাণে ঘৃণ্য বলে ফেললে দূরে ? রাজার ভূষণ লক্ষ্য ক'রে কুড়ের বাহির ভােরের বেলা হয়েই দেখি, রাজার ছেলে করলে একি নৃতন খেলা! কোপ না পারে সাজলে তুমি আমার চেয়েও দানের দান- এইকি তােমার বিশ্ব-বিজয়?—বুদ্ধ, কাঙাল বুদ্ধি-ইনি । উদাসী। হাজি কেন নীল-রে দিগন্তের কোলে ছুটে যেতে চাহে প্রাণ মন- সেথা, সে অচেনা দেশে নালিমের আড়ে এ কাহার প্রেম আকর্ষণ। ,
( ৯ ]
অবিরাম, অনলস, মৃদু গন্ধ বায়
বলে যায় কাহার সন্ধান,
সীমান্ত নীলিম-প্রান্তে হইয়া বিলীন
আছে কোন্ প্রেমিক মহান ।
অস্ফুট দিগন্ত-কোলে প্রভাতে সন্ধ্যায়
হাসি-ভরা জ্যোছনার রাণী’
কার অযাচিত কোলে রাখে লুকাইয়া
অনুপম প্রেম-তনু খানি ?
একি সুখ ! একি শান্তি ! একি উদ্দীপনা !
সে অজানা প্রেমিকের লাগি
সংসারের মােহময় চির-সুপ্ত-কোলে
ক্ষীণ প্রাণে উঠিল গাে জাগি।
হেথায় লাগে না ভাল মদালস প্রাণে
সংসারের গাঢ় আলিঙ্গন,
তাই কি গাে নল-রেখা দিগন্তের কোলে
ছুটে যেতে চাহে প্রাণ মন?
সন্ধান। গগা ! আমার হৃদয় যাহা চায়- জানি না তা কোথায় আছে, কোন ফুলে, কোন কলের মাঝে, কোন ঝোপে কোন পরাগ সাজে, অমন বিপূল কায ! দৃষ্টি আমার ব্যর্থ, খুজি, অন্ধ নিরুপায় । পেছন থেকে ডাকিস নেরে । ডাকিস্ নােৱে কেউ ; ডুববাে রে আজ সিন্ধু-বুকে নীল আকাশে দেবাে ঢুকে ফেলবে গিলে দুঃখ ভুক- সমতার ঢেউ তন্ন করে খুজবাে আমি ০ ডাকি নেরে কেউ।
| ১১ } ছড়িয়ে পড়া মনটা আমার গুছিয়ে দেরে আজ ; মুছিয়ে দেরে নয়ন-বারি সবটা যেন দেখতে পারি— অসীম মাঝে সামের অাড়ি বেশ তো—কিসের লাজ ? যার কাছে যা পাওনা মনের চুকিয়ে দেন আজ। তুলবাের আজ এমনি ভীষণ ব্যোম-ফাটানো সুর- ত্যিপতেজ-মরুংমাঝে ঘাত-প্রতিঘাত নিত্য বাজে এমনি করেই ক্ষুব্ধ লাজে আহা ক'রে চুর ; লক্ষ্য আমার। সাধ্য আমার! দুঃখ হবে দূর।
অসাভা।
একটি নিশ্বাস সনে বাঁধা যার প্রাণ
তারি এত অহঙ্কার, তা'রি এত মান !
সেই ডাকে যা’কে তা’কে ‘আমার’ ‘আমার’
এর চেয়ে অসারতা আছে কিছু আর ?
সা-ধা-গা-মা।
গাইব না আর ‘সাঋগামা অমন করে
তালের চাপে কণ্ঠ যে মাের যায় গাে মরে।
সা’-ধরে যেই কণ্ঠে ওঠে তান,
‘ঋ’-এর তখন বেজায় অভিমান,
‘গা’, মাের প্রেমে, গায়েই পড়ে ঢলি’
‘মা’য়ের ‘পা'য়ের ‘ধারেই আমার
গানের শেষাঞ্জলি।
-
[ ১৩ }
বঠকে’ মাের ‘তবলা চাটি’ নাই ত ওরে ।
গাই নিরামিষ ‘সাঋগামা’ কেমন করে ?
‘সা’-ধরে ফের কণ্ঠে ওঠে তান,
‘ঋ’-এর আবার মুদ্রাদোষের ভান,
‘গা’য়ের তখন সলাজ-মধু রূপ,
সুরের শিখ। নিবতে কে দেয়—
কণ্ঠে আমার ধূপ !
আচ্ছা, পারে, শুনবাে আমি চুপ টী করে
কোন্ ‘সাঋগামাপাধানি’ বিশ্ব ভরে।
দাওনা তবে কণ্ঠে আমার ধূপ,
বিশ্বে যে ভাই মধুর বড়ই চুপ,
বলার চেয়ে শােনাই হল সুখ ভারি—।
গাইব না আর ‘সাঋগামা'
শুনতে যদি পারি
কল্যাণী
শুন, মাের কল্যাণ,
ৰক্ষ পিষিয়া কল্প-কুমারী বিশ্ব-রূপের রাণী
যেদিন আমারে কানে কানে কয়
মিছে চাহ মােরে আমি কার’ নয়,
মসী-মাখা-মুখে দিল সে অবাধে বেহায়া ঘােমষ্টা টানি’
-তুমি মােরে কল্যাণী,
বুকে ধরে ছিলে কম্পিত করে কল্যাণকর দানি'।
শুন, মাের কল্যাণী,
সে তাে চলে গেল দাম্ভিকা নারী কুসুমে বড় হানি’
নির্বাক তব আঁখি তারা দু’টা
বেদনায় মম কাছে এল ছুটি
শঙ্কার সনে, হর্ষের সনে, লজ্জর জানাজানি,
তখনি তাে কল্যাণী,
হৃদয়-রাজ্যে বাজা’য়ে তােমারে বরিয়া আনি।
[ ১৫ ।
শুন, মাের কল্যাণী,
দেখি যে সুমুখে সুখের বাসরে বাস্তব গেহখানি
তার মাঝে তুমি দাঁড়ায়ে বালিকা
কণ্ঠে দোলায়ে প্রেমের মালিকা
ছুটা’তে আমারে করমের পথে মৃদু কটাক্ষ হানি’
-তােরে দেখে কল্যাণী,
দূরে সরে গেল মদিরতা-ময়ীকল্পরূপের রাণী।
খেলাঘরে।
আমি যেন কিগগা হারা’য়ে ফেলেছি
ধুলাে-মাখ। খেলা ঘরে
কাদা-দিয়ে-গাঁথা দেওয়ালের মাঝে
মনে পড়ে, মনে পড়ে।
স্মৃতির দুয়ারে উকি দিয়ে দেখি
মধুময় ছিল দিনগুলি যে কি?
ভাবিতেই আঁখি ঝরে ;
কচি ছেলে গুলাে কেন বড় হয়ে
সুখে দুঃখে ভেঙ্গে পড়ে।
[ ১৬ ]
বর কনে সেজে বিবাহ বাসরে
কারা খেলা ঘরে, হেসে হেসে মরে ?
—খুজে দেখ, খুজে দেখ,
ঐ খানে আমি হারায়ে ফেলেছি
মানিক যেন কি এক?
কাদা-আলপনা-দেওয়া-খেলা ঘরে
মনে পড়ে, মনে পড়ে
প্রিয়তমা মম রাঁধুনা মেয়েটী,
রোধ-বেড়ে মাের তরে-
রধিতে রধিতে বাঁধিত না চুল,
ঘামে ভিজে যেত মালা গাঁথা ফুল
তবুও গরব করে,
মরালের মত গ্রীবাটী বাঁকায়ে,
মনে পড়ে, মনে পড়ে।
সে ছবিও হায়,
গিযেছে মিশায়ে ।
অতি দুরে কালাে অতীতের গায়ে,
-রেখে গেছে মাের তারে,
একটী-স্বপন-বিধুর বেদনা
‘মনে পড়ে’, ‘মনে পড়ে।
সেকোন দেশ ?
?
ওগাে, সে কোন্ দেশ ?
যেথায় গেলে মানুষেরা
যায় গাে ভুলে ঘরে যে,
অবাক চোখে আত্মীয়েরা
চেয়ে নিৰ্ণিমেষ ।
ভিজে-চোখে যায়না দেখা
ওগো সে কোন দেশ?
দূর গগনে অাঁধার-কোলে,
যে গেল—সেই গেল চলে ;
দেয় না সাড়া ডেকেও ম'লে-
নাই কি মায়ার লেশ!
মন-ভুলিয়ে-মানুষ-ধরা
ওগাে, সে কোন্ দেশ ?
যে সব ছেলে সন্ধ্যা হলে
অনি ছােটে মায়ের কোলে,
তারাও সেথা থাকে ভুলে’
এমন কি সে দেশ।
মায়ের চেয়েও মায়া যাহার
কেমন তাহার লে?
২।
[ ১৮ ]
ঐ যে সেথায় বাঁশী বাজে,
যাবার যারা সবাই সাজে,
আমায় এ কোন্ মিছে কাজে
রাখলে পরমেশ!
ভিজে-চোখে যায়না দেখা
ওগো, সে কোন্ দেশ ?
খেয়া।
বিশ্বের কোলে
চিনে সে দুইটা ঠাঁই,
এপার ওপার তাই ছাড়া আর
নাই তার গতি নাই।
রাখেন খবর জোয়ার ভাটার,
ঘুরে ঘুরে মরে কারা-
দিগদিগন্তে বাসনা ছুটা’য়ে,
উন্মাদ, দিশাহারা।
[ ১৯ ]
••
সে শুধু তাহার চির-পরিচিত
বাঁধা পথে ফেরে ঘােরে
যে আসে ছুটিয়া, শুধায় তাহারে
“ওপারে যাবি কি ? ওরে!”
বুকে ক'রে সােজ।
পার করে দেওয়াটাই
বুঝিয়াছেসার ; এপার ওপার
বিনে, কিছু চেনা নাই !
সাদা কাগজ।
আমার সাদা কাগজখানার বুকে,
কালির আঁচড় সইবে না তাের
‘নিবে’র সূচল মুখে!
জানি না তাের কোন্ ‘হরপে’র সাথে,
কোন্ ‘হরপে’র সঙ্গমে, প্রেম-প্রীতির অনুপাতে
উঠবে প্রাণের রুদ্ধ গানের সুর,
ভেদ করে মাের মৌন বিরাট সুপ্ত প্রেমাঙ্কুর।
মৌনী বাজায় লক্ষ প্রাণে লক্ষ গানের গৎ;-
বাচাল তাহার একটা কথায়,—রুদ্ধ সকল পথ।
( ২০ }
তাও যদি হয় সকল কথার সেরা-
নিত্য তাহার
পুণ্য-কথার
পশার জগৎ-যেরা।
বল্ দেখি তার গােপন-কথাই আগে
‘নিবে’র ঠোটে, চিরাভ্যাসের কোন্ কথাটুক জাগে ?
ছন্দ কিনা মন্দ তাহার,—গন্ধ কিনা কটু,
আসবে কিনা লুব্ধ প্রাণে ভ্রমরী বাকপটু,-
বাজবে কিনা হাজায় প্রাণের গােপন-কথার কানে ?
-তখন,
কবি
ঢালবে
কালি
শূন্য হৃদয় খানে!
আমার প্রদীপ।
ওগাে, আমার প্রদীপটীতে নাইক’ তেলের লেশ
আমায় কেন আনলে, যে ঝড়-বাতাসের দেশ!
মদের নেশায় রাঙিয়ে-তােলা আমার অলস অখি,
সেই ভয়েতে সারাটা রাত সজাগ মত রাখি।
কে জানে কে বায়ুর বেশে,
আসবে কাছে ভাল বেসে,
প্রদীপটীরে নিবিয়ে শেষে ক'রবে আঁধার ঘর
‘কেউ কারাে না’ দেখব তখন সবাই হ'বে পর।
{ ২১ ]
নেই সে গভীর অন্ধকারে রত্নহারে মাের—
প্রাণের প্রিয় বন্ধু আমার সাজবে গােপন-চোর!
প্রদীপ আমার জছে ব'লে,
সবাই আমায় করছে কোলে,
সবাই আমায় ‘আমার’ বলে ডাকছে অহরহ
নিবলে আলাে আঁধার ঘরে কেউ তাে আমার নহ
সকল সময় প্রদীপটীরে আগলে বসে রই,
ওই বুঝি ঝড় উঠলাে বলে' ভেবেই সারা হই ;
ঐ শােন কোর্ট দৈববাণী
চমকে দিলে হৃদয় খানি,
কইছে ডাকি'—“রে দীন প্রাণি, ভাবনা মিছে তাের
আপনা হ'তে নিবে আলাে জীবন হ'লে ভাের !
“যে অাঁধারে ভীষণ ভেবে করছ তুমি ভয়
আলাের মায়া কাটলে সেটা তেমন কিছুই নয়।
ক্ষণিক আঁধার ঠেলে এসে
পড়বি চির-আলাের দেশে,
স্বার্থ-তেলে প্রদীপ জেলে নাইক’ সেথায় কেউ
নিত্য-প্রেমের বন্যা সেথায় তরল প্রাণের ঢেউ'।”
আনা।
দেওয়ালের গায়ে নীরবে দাঁড়ায়ে
রয়েছে আয়না খানা ;
জানে না হিংসা, জানে না দ্বেষ,
কা’কেও করে না মানা,
পরাণের মাঝে বেদনা জাগা’য়ে
‘এদিকে চাহিয়াে না।
হােক না বিকৃত ভাবটী মুখের,
অমিয় হােক্ না চাহনি চোখের,
সবারে ডাকিছে ‘আয়না’
দেওয়ালের গায়ে নীরবে দাঁড়ায়ে
=
আমার আয়না খানা।
ধনী নির্ধন চিনে না সে,
গুণী নিগুণ বুঝে না কে,
কুরূপ রূপ দেখে না যে,
কাদা’তে কাহাকে চায় না ;
বলে কভু সে মুখটা ঘুরা’য়ে-
এদিকে চাহিয়াে না।
( ২৩ ]
যাহার ভিতর-বাহির কালাে,
মানুষ যাহারে বাসে না ভাল,-
‘আয়না অভাগা, আয়না’
ভেদাভেদ-জ্ঞান
মুছিয়ে দাড়ায়ে
আমার স্বচ্ছ আয়না !
নিবেদন।
আমূল বিধায়ে রেখেছ এ হৃদি
দুঃখের শরাঘাতে,
ক্ষোভ নাই ; তবে দেখাে যেন নাথ।
নাহি লাগে সেই হাতে ;
—যেই হাতগুলি আসিবে ছুটিয়া
মুছা’তে রুধির-ধার,
মূক আঁখি যেন চেয়ে চেয়ে, দেয়
দুটী ফোটা উপহার!
ঠাই থাকে যেন ক্ষত বিক্ষত
বক্ষের এক পাশে,
কোলে তুলে নিতে সেই অবুঝেরে
মােরে দেখে যেবা হাসে।
০
[ ২৪ )
ভাল বাসে যারা সুখে দুঃখে বিভাে!
দীন দুঃখী অভাগারে,
রাখিয়ে চিত্তে শক্তি—তাদেরি
স্মৃতিটুকু বহিবারে।
অনা।
কেহ তা’রে করে মা আদর,
সে কারাে না আদরের ধন ;
সে তত কা'বল হৃদয়ের কোণে
ঢালে নাই প্রেম-প্রস্রবণ।
—ঢালিতে সে গিয়াছিল ছুটি
প্রাণভরা ভালবাসা তা’র ;
অনাদরে চাহিল না কেহ,
খুলিল না প্রাণের দুয়ার।
ঐ কত প্রেমিক-প্রেমিকা
প্রাণ-খােলা কত কথা কয় ;
তা’র কেন মুখে কথা নাই,
এ জগতে সে কি কেহ নয় ?
এn
30 Ma].
চোখে যা’র প্রেম-হাসিরাশি,
মুখ-ভরা করুণ বচন,
তা’র কেন এত অনাদর,
উপেক্ষিতা কেন সে এমন ?
হে জগৎ,
কেন তারে এত অনাদরে
অদূরে রেখেছ ফেলিয়া,
ম্লান-মুখী তবু চেয়ে আহা!
নিরাশার নয়ন মেলিয়া।
তােমাদেরি ঘৃণিত চাহনি
হায়! তারি অঙ্গ-আভরণ,
অভিমানে নিরজনে বসি’
শতধারে ভাসিছে নয়ন।
এস এস ওগাে প্রেমময়ি।
দীন হীন কুটীরে আমার,
পূজিব গাে তপ্ত-অশ্রু-সেকে,
প্রেমময়ী মুরতি তােমার।
মােহহীনা প্রেমিকা যে তুমি,
তাই তব এত অনাদর,
তাই তােমা দেখেনি ফিরিয়া
মদে মত্ত, মােহে অন্ধ নর।
( ২৬ ]
চির-সুখ-চির-শান্তি-ময়ী,
কিবা প্রেম-প্রতিমাগাে আহা!
মানুষে কি বাসিবেনা ভাল
সুখময় স্বরগের যাহা ?
চিরদিন পিশাচের খেলা
খেলিবে কি মানব-হৃদয়ে ;
ভাণ-করা মিছে প্রেম-ঠাট
কত দিনে যাবে গাে ফুরা’য়ে ?
অন্ধ ও অধাৰ।
=
অন্ধ তাহার নয়ন-প্রান্তে
কিছুই দেখেনা আর,
বিশ্বব্যাপ্ত, অসীমানন্ত,
শুধুই অন্ধকার !
আঁধারে তাড়ায়ে আলােক যবে,
অন্ধের চোখে লাগিয়া রবে,
তখনাে অন্ধ আলোেক তাড়ায়ে
চুম্বিবে শতবার
চিরাকাঙিত শান্তিপূর্ণ
তব্ধ অন্ধকার।
[ ২৭ ]
মিছে আশা তব আলােক-সুন্দরি !
প্রকৃতির-দেওয়া নানা সাজ পরি’
ভুলা’তে অন্ধজনে ;
অধার ও অন্ধ প্রণয়ে বদ্ধ
প্রজাপতি-সুবিধানে!
মানস-সুন্দরী।
অচলখানে গােলাপ-গন্ধ বয়,
বর্ণ তাহার ঝুমকো-জবার হাস,
স্পর্শ যেন স্নিগ্ধ মলয়-বায়,
দীপ্তি যেন জোনাক-পােকার রাশ !
ভােমরা-কালাে আঁখির তারা দু’টী
এক নিমেষে কতই কথা কয়,
রূপের রাণী মরল মাথা খুটি’
সুন্দরী সে কণার কণাও নয়।
জলধরের নীরস আঁধার কোলে,
চাদের আলাে নিবে যাবার ভয়ে,
দেয়না উকি, চায়না বদন তুলে
• কিন্তু, অবাক—একটু ভীত নয় এ!
( ২৮ ]
হতাদরে’ কালাে মেড়ার মত
বৈশাখী এ কৃষ্ণ মেঘের গায়,
নিপুণ হাতে অলােক-রূপের রাণী
কাব্য লিখে রং ফলাতে চায়।
-না এখন ; আসলে যদি বসাে
আমার প্রাণের মরা নদীর কূলে ;
দুই কূলেতে ধূ ধূ বালি জ্বলে—
ঠাণ্ডা কর ‘ঢেউ' এর বােঝ তুলে।
কথা ।
;
হে কথা, কখন শুরুতে
সলিল ঢালিছ তুমি ;
কখন আবার তােমাকে পাইয়ে
শুষ্ক সরস ভূমি।
কখন বা তুমি স্নেহের পুতলি
প্রাণটী
জুড়িয়ে বস ;
কখন বা হয়ে উপদেশবাণী
মরমের মাঝে পশ।
| ২৯ ]
.
আবার কখন আশায় আবরি’
ও চারু দেহটী তাের,
লয়ে গিয়ে দূরে, কত দূর দেশে,
ফেলাও বিপদে ঘাের ;
ফেলি দাও, কভু লাজের সাগরে,
হাবু-ডুবু খেয়ে মরি—
তুমিই আবার বাঁচাতে আমায়
ভাসাইছ দয়া তরী।
কাহারও নিকটে কর্কশ হও,
গলাচেপে তারা ধরে ;
তােমা’ জাগা দিয়ে দমঠেকে মরি,
তাই বলি, যাও সরে।
তুমি ওগাে কথা, ত্রিদিব-রতন,
আঁধারে ফুটিলে কেন ?
নির্বাক মােরা,
কণ্ঠদেশ-বাঁধা-
হেথায় এসেছ কেন?
এ ফাসের দড়ি যদি কেটে দাও,
তবে গাে কহিব কথা
নতুবা হে কথা, এসনা এখানে
মরমে জাগাতে ব্যথা।
বুড়ীর গান।
পাঁচ-কুড়ি-এক-বছর, রবির জ্বালায় চোখে অন্ধকার,
বুকের মাঝে তুলসী-গাছে, বয়না গােলাপ-গন্ধ-ভার,
লাবণ-ঝরা ফু আমার,শ্রাবণ-ঘেরা আকাশ খান,
থাকতে পারে প্রেমের কুঁচি বুকের মাঝে বিদ্যমান।
কই গাে আমার মূর্তিখানি মৃত্যু-ভীতি-সান্ত্বনার ?
পাঁচ-কুড়ি-এক-বছর, রবির জ্বালায় চোখে অন্ধকার ।
যৌবনে সেই প্রেমের স্বপন ঘুমের আবেশ মৃত্যু-মাখা,
অলক ঝলক রূপের রাশি, পলক চপল, চাউনি বাঁকা ;
নীরদবরণ কুন্তলে মাের খেলতে সিন্দুর সৌদামিনী
আজকে কেমন তুষারধবল শুভ্র শারদ-অভ্র জিনি’!
ধূৰ্ত্ত যমের গুপ্ত-চুরি হাতের আঁটিল পুণ্য-শাখা,
যৌবনের সেই প্রেমের স্বপন ঘুমের আবেশ মৃত্যু-মাখা !
আজকে আমার ফুলের সাজির ব্যর্থ দাবী শিব-পূজার
বিফল বুকে ঝড় বয়ে যায় আত্মকৃত ভৎসনার ;
যৌবনে সেই নােলক-দোলা নাকের কোলে কুসুম-ঘ্রাণ ;-
আজ কেনগাে শ্বাস-বাতাসের কৃচ্ছ কঠোর ক্রুদ্ধ টান ?
কই সে পুলক! অবাধ প্রেমে হৃদয়-স্বামী-অৰ্চনার ?
আজকে আমার ফুলের সাজির ব্যর্থ দাবী শিব-পূজার!
[ ৩১ ]
বিরাট বিপুল বিশ্ব আমার তুলসী-তলে ক্ষুদ্রকায়
হলুদ-বরণ রক্তরবি!-ঝলসে গেছেন তীব্রতায় ;
শকুন-পাখীর পাখার ঝাপ মাথার উপর শুনতে পাই,
ঘরের পাশেই শৃগাল কুকুর ঝগড়া জুড়ে সর্বদাই ;
চমকে উঠি, শ্মশান-ঘাটের হরিধ্বনির মূচ্ছনায়
বিরাট বিপুল বিশ্ব আমার তুলসী-তলে ক্ষুদ্রকায় !
সিন্দুৱহাৱা।
সান্ধ্য নদীর
সূৰ্য্য তখন পাটে,
ছেলেরা সব মাঠে,
মেয়েরা সব ঘাটে
গিয়ে,
ঠাণ্ডা হাওয়ায়
কোন্দল দেছে জুড়ে ;
ওপারেতে বিয়ের বাড়ি,
দই চলেছে হাঁড়ি হাঁড়ি,
নব-বধূর লজ্জা ভারি,
ন
সানাই-দারের
গােপন-কথা
করুণ মধুর সুরে !
[ ৩২ ]
কি বােঝে সেই জানে,
কি আছে তার গানে,
ঘােমটা কেন টানে।
বুঝি,
স্বর্ণ-কিরণ
কেউ-না-দেখা-মুখে
পড়লে পরে,
কর্ণটী টুকটুকে!
রক্ত-রবির
ঝলসে যাবে
সামনে খােল! আয়না খানা,
কেউ সে দিকে চাইতে মানা,
চক্ষু দু’টি বেজায় টানা !
ওগাে,
হার ছাড়া আর
টিপ-পরাটা বাকি,
দেখলি নেরে
পাগলী মেয়ে
সিদূর দিলি নাকি ?
চুল বেঁধেছে,
–
৩
হঠাৎ কিসের কান্না-কাটি,
বিয়ের বাড়ি যায় যে ফাটি,
কাপল বধূর গয়না-কাঠি,
আহা !
[ ৩৩ ]
কেন সে তার সাথির সিদূর
পায়না কোথাও খুজি’-
মা তারে হায়,
ঐটী দিতেই
ভুল করেছে বুঝি!
বৰ কনে।
লতায় পাতায় ছড়িয়ে-ফেলা
স্বার্থভরা আত্মা-টু
আজকে ওদের কেন্দ্রীভূত,
মুক্ত প্রাণের গুপ্ত সুখ।
স্বর্গে যে দিন প্রথম প্রাতে
অন-প্ৰমৰ জন্ম-লা,
ওঙ্কারে তার ব্যক্তি মধুর
শক্তি শিবে সৌখ্যভাব।
জান্তা না কেউ, বুঝতে না কেউ
বিশ্বে পুরুষ করতে জয়
নারীর নয়ন-নীরে কখন,
গণ্ডে প্রেমের অভুদয় ।
৩৪
এই আকাশে এই বাতাসে
এই আলােতে পরস্পর,
হৃদয়-ভেঙ্গে-স্বপ্ন-গড়া
মুগ্ধ দু'টা ক্যাবর।
তবে-
রব চেয়েও কেমল কনে
হৃদয় তাহার উচ্চ ঢে4-
বক্ষ তাহার দাগ পড় কম
স্বার্থ-পিশাচ-নানের!
যাদের ভােলা ক্ষিপ্ত, বুকে
সতীর মৃত শরীর খান,
তাদের সমাজ তৃপ্ত, করে’
হেলার রক্ত পান।
ভাৰত নাৰী।
প্রসবিলা দুইমেয়ে ভারতের খনি,
এক যে সে কোহিনূর
অহঙ্কারে ভরপুর
লাফিয়ে উঠিল গিয়া
শিরে নৃমণির ;
;
আর যে ‘ভারত নারী
লাজ খেয়ে গেলা মরি’
ছি! ছি! ছি! ভগিনী তার গেল কোথা চলে,
-সমে লুকা'ল মুখ বন-অঞ্চলে।
বন্দী।
আজি এ মিলন-মন্দিরে
কেন, রেখেছ ফেলিয়া অন্ধ-কারায়
দীন এ চির-বন্দীরে ?
নয়নে আমার প্রেমাঞধার,
? চ্ছ-এ-হৃদি-ভক্তি অপার,
[ ৩৬)
মানস-মুকুরে মুরতি তােমার
বিম্বিত সুমধুরে ;
তুমি কেন ওগাে, প্রাণেশ আমার,
দাড়াইয়া বহুদূরে ?
হৃদয়ে ভকতি-কুসুম-রাশ
ফুটিয়া শুকায় বারটী মাস ।
তোমা বই আর কে আছে পূজা
গামারি এ মনন-মন্দিরে,
আর, কে পারে শাসিতে শৃঙ্খলাহীন
বিদ্রোহ মম মনটীরে ?
=
এ মাের পরাণী মত অলি
চরণকমলে পড়িবে ঢলি'-
পূর্ণ সে সুখ-স্বপ্ন আমার
হবে কি ? সে শুৎ সন্ধিরে।
ওগাে, বাঞ্ছিত-ধন! দাও দরশন
তােমারি মিলন মন্দির
অভাগা এ চির-বন্দর ।
প্রাণেৰ কথা।
বাচাল-প্রাণের কথাগুলি মাের,
য, কেন গাে নিষেধ নাহি মানে-
কোন্ সাহসে ছুটে যেতে চায়,
তােমাদেরি ব্যস্ত ব্যাকুল কণে?
সাহস কি যে জানিনা তাে ভাই,
অত জানা, ‘স্ম' আমার নয় ;
আমি শুধু বলে যেতে চাই
অামার খোলা প্রাণে যা কয় :-
“ধরি-চরণ। সন্ধ্যা এসে আজ
দুয়ার ধরে দাঁড়িয়ে আছে ঐ।
রঙ্গরসে দিন তো কেটে যায়-
সে দিক্ পানে দৃষ্টি তােমার কই ?
হয়নি সারা তােমার হাতের কাজ,
সে তত ফিরে দেখবে না তা চেয়ে
আঁধার ঘরে তােমায় দেবে লাজ,০
আইন-কড়া সময়-রাজের মেয়ে।
[ ৬ ]
ঘুমভরা তার কোমল আঁচল খানি
ঐ নয়নে বুলিয়ে দেবে যেই,
চোখের ওপর এত সােণার ছবি
দেখবে (তখন) কোথায় কিছু নেই।
প্রাণ-প্রতিম ছেলে কোলে নিয়ে
আর কেন গাে আঁকড়ে ধর আত?
শেষের দিনে কোথায় রবে তারা।
‘কেউ কারাে না’ এ দুনিয়ার মাঝ ?”
ভক্তকবি রামপ্রসাদ।
বঙ্গদেশের কাব্য-কাননে এ কোন্ কুসুম ফুটে,
পরাণ-মাতানাে গন্ধ যাহার অন্থরময় ছুটে ?
দিব্য কি জ্যোতিঃ মাখিয়া অঙ্গে,
এ কোন্ কুসুম ফুটিল বলে ;
গন্ধে তাহার, এ কোন্ প্রেরণা অন্তর ভরি.. উঠে
বঙ্গদেশের কাব্য-কাননে এ কোন্ কুসুম ফুটে ?
ঝির ঝির ঝির, বহিছে সমীর,
পাতা ছুয়ে ছুয়ে ফোটা ফুলটীর ;
ললিত-ছন্দে সঙ্গীত-সুধা পুষ্পপর্ণ-পুটে,
দিগরি গন্তে ভকতি বিলায়; বঙ্গ ভরিয়া উঠে
!
[ ৩৯ )
ভীমা-ভাষণা-এলােকেশী-পায়,
আপনার দান দেহটী লুটায়-
কে ঐ কুসুম ?—যদিও উহার চন্দন নাহি জুটে,
আপন গন্ধে আপনি মুগ্ধ, ক্ষুব্ধ পর্ণ-পুটে।
জননা তাহারে দিয়াছে কি বয়
মরিয়াও সে যে হয়েছে অমর,
শুকায়েছে, তবু গন্ধ তাহার অম্বর ভরি’ উঠে,
বঙ্গদেশের কাব্য-কাননে এ কোন্ কুসুম ফুটে ?
আর কি তৃষিত বাঙ্গালীর প্রাণ,
শুনিবে সে গান অমৃত সমান ;
কুসুমে কুসুমে উঠিবে সে তান জননী-চরণে লুটে
বঙ্গদেশের কাব্য-কাননে আর কি সে ফুল ফুটে?
আর কি মধুর ‘প্ৰসাদা’ সুরে,
বঙ্গ-আকাশ-বাতাস জুড়ে
উঠিবে ধ্বনিয়া জননী-ভক্ত-সাধক-কণ্ঠ টুটে' ;
বঙ্গদেশের কাব্য-কাননে আর কি সে ফুল ফুটে !
••
বিরােধ-শান্তি। “পূজার সদ্য, ক্ষুধার অন্ন, তৃষ্ণার বারি টুক ডান হাত দিয়ে ধরে নর নার— হিংসায় ফাটে বুক- বিষ্ঠা ফেলিতে, শৌচ-বাপরে, নাসা-পুটে পোঁটা ঝাড়ি আমি বাম হাত; হে বিধি ! তােমার একি অবিচার ভারি !” আটটা নয়নে হেসে কুটি কুটি, কহে বিধি ধীরে ধীরে “ক্ষীণদৃষ্টি নরে ঘুণা করে তােরে এটা আর বেশী কিরে ? তবে “যদিও আমারে দিতেছে দ্য, চন্দন ডান হাতে, পূজা হলে শেষ, প্রণাম করিতে তােরে ডেকে লবে সাথে।”
নীতি।
অরি ভাবময়ি প্রীতি।
বিশ্ব-কাব্য-মানসে, তুমি
ত্রিদিবের অনুভূতি।
তৃষিত এ মরু চাহে তােমারৈ,
মুক্ত-বাসনা-হৃদি-আগারে,
লয়ে তব সুখ-স্মৃতি
এস মনােময়ি প্রীতি
!
মানস-সৌধ উপরি
আসন শােভে তােমারি,
দীন এ জন পথ-চাহি
তুমি এস হে চির-অতিখি,
মনপ্রাণময়ি প্রীতি।
ঐ যে মানিনী সন্ধ্যারাণী
আঁধারে লুকাল হৃদয় খানি,
দূরাগত চিরমধু-ভরা
মধুর সাহানা-গীতি,
তুমি তার চেয়ে মধু
আরাে
মধুময়--
অয়ি মধুময়ি প্রীতি,
অমরার অনুভূতি।
ঐ
গণ্ডী।
ৰ'লে ভ্রমর ফুলের 'পরে
চায়না ফিরে জগৎ পানে
কোন কানাচের অাধার মেখে
যাচ্ছে সময় কে তা জানে ?
ধীর বাতাসে হেলে দুলে
রং-বেরংয়ের পাপ ডাগুলি,
আপনা হতে আছে বুজে,
তাও দেখে না চক্ষু তুলি’!
তেমনি তােমার স্বপ্ন-সুখের
ব্যক্ত-গােপন আঙ্গিনায়,
গণ্ডা দিয়ে রাখবে ঘিরে
মধু-পাগল ভােমরা প্রায়।
কিন্তু
তাহার প্রেমে কেন্দ্র করে
বৃঃ যত অকবে ভাই,
দেখবে তত দিব্য-চক্ষে
বিশ্বে প্রেমের গণ্ডী নাই ।
মিলনে।
আজি এ মিলনে, বুক
ভরে গেছে সব টুক!
ওগাে-
আমারি এবুকে আঘাত করেছ,
গৰ্ব তােমার এ বড় ;
পরাজয় মােরে করিতে, নয়নে •
অশ্র কয়েছ জড় ?
‘রবে-কি-না-রবে স্মৃতিটীতােমারি
আমারি চিত্ত-পটে।
প্রশ্ন করিছ সজল নয়নে!-
স্পর্ধা তােমার এ বটে।
ঋটি কথা শােনমিলনে-বিরহে
দু’জনারি ভুল চু-
আমায়,
এ মিলনে বুক
ভরে গেছে সব টুকু।
বিচ্ছেদে।
ওগাে, প্রিয়জন-প্রেম-বক্ষে
প্রিয়জন হানে কঠিন আঘাত
স্নেহেরি গােপন কক্ষে।
তবে, জীবন-মরণ মাঝে
মরণ সকলি লুটে লয়,শুধু
স্মৃতিটী জীবন যাচে।
অভিনয়-অবসানে
তাই এ বিরহ-গানে
অাঁখি-জলে করি তর্পণ, তব
তৃপ্তির অভিমানে।
কাঁদি কাতর করুণ ভাষে
রবে কি তব সকাশে
হতাদরে মন
ব্যধি স্মৃতিটা
বিচ্ছেদ-উপলক্ষ্যে,
স্নেহেরি গােপন কক্ষে।
-না-ৰে।
পাখীটা কহিল শাখীটারে—
“বসি না তাের উপরে” ;
শাখাটা কহিল পাখীটারে
করুণ চোখে “না না রে।”
পাখীটা শুনিল,
কথাটা রাখিল,
ভাবিলা মনে মনে
‘কেন সে আঁখি-কোণে
ছিল বারি,
হয় তারি ।
কি জ্বালা দেখাল মােরে ?
আর না ভাবিল
চকিতে উড়িল,
সুদূরে এক পাখী
কহিল, তাকে ডাকি,
“আয় ভাই
হেথা যাই
আমার সে কুঁড়ে ঘরে
খাবার কত কি আছে পড়ে”
-দেখায়ে সে গাছটীরে।
[ ৪৬ ]
বুঝিল পাখীটা
অবােঝ বাকীটা ;-
কেন সে এর তরে
কেঁদেছে চোখ ভরে !
তার দয়া,
তার মায়া,
উদিল মন-মাঝারে
অমনি গাহিল প্রাণ ভরে
করুণ চোখে “না-না-রে।”
রাগ-রাগিণী।
যদি-
রাগ-রাগিণী জানে-
‘ডুগি তবলা’ চাইনে কিছু,
‘হারমােনিয়াম থাকুক পিছু
আদর করে ডাকে যে তার
খােলা প্রাণের কোণে,
যে জন
রাগ-রাগিণী জানে-
[ ৪৭
১।
আমি সেথা
নিরিবিলি
মুক্ত প্রাণের কথা গুলি
ক্ষুব্ধ অভিমানে,
হয় হেসে, প্রেম আবেশে
গাইব খােলা প্রাণে,
সেই জনারি কাণে
যে জন
রাগ-রাগিণী জানে।
মিছে টানাও সামিয়ানা,,
আমি সেথা গাইব না।
না আমায় বলে-“সেথায়
কত জন কে জানে!-
আসবে যারা
হাসবে তারা
তাল কাটলে গানে,
তুইরে কেন
ময়তে অভিমানে?”
গাইবি সেথা
আদর করে যে জন মাের,
ডেকে নেবে প্রাণের দোরে,
গাইব গান
মিষ্টি সুরে
ঢালব মৃধা প্রাণে
সেই জনারি কাণে—যে জন
রাগ-রাগিণী জানে।
আমি স্বপে। স্বপনে দেখি গড়িমু যতনে সুন্দর এক তরী, ভাসানু তাহারে নদীর উপরে আপনি কর্ণ ধরি। সূর্ণ বিছা’য়ে গড়েছি তল, ধারে বিনায়েছি মুক্তা-ফল, মখমল দিয়ে পালটী তুলেছি মনের মতন করি- স্বপনে ভাসিমু গড়িয়া যতনে সুন্দর এক তরী। - গমি এনেছি সাপের মাথার মণি, জগৎ খুজিয়া হারা, মতি, চুনি, মধুরে সাজায়ে দেখায়েছি সবে- আমি কি নিপুণ কবি ; তারা তাই থাকে চেয়ে কি নিপুণ নেয়ে ! ভাসিছে মরি কি ছবি। নাচিয়া নাচিয়া চলিনু ভাসিয়া কত শত চোখ ঝলসি, আমি বিভব-গরবে ফেটে আটখান- শিরে সুখের কলসী!
[ ৪৯ ) আমি আমিই জগতে সবার বড় আমা’পরে হাত নাহিক কারাে আমার উপরে আছে একজন? -“না গাে না, সে কোন্ কথা ! আমিই বােপপছি, আমিই পেলেছি আমার এ ফুল পাতা। অনুকূল বায়ু চলেছে ছুটি, জল তাে-সেবিছে চরণে লুটি, আজ্ঞা আমার পালিছে সবাই আদেশ-বাহীর মত- স্বপনে ভাসি কনক-তরীতে- আশে পাশে ডিঙ্গি কত? সভয়ে তাহারা পথ ছাড়ি দেয়, নতুবা ডুবিয়ে মরে অভাগার দুঃখে সুখে মরে যাই আঁখি-কণা নাহি ঝরে ! ভাঙ্গা ডুবু-ডুবু কত যে ভেলা ভাটি ধরিয়াছে সাঁঝের বেলা, ঘৰ্ম্ম ঝরিছে কপােল ভিজায়ে, পিছে পীরের নাম! হেসে মরে যাই যখনি সুধাই “এ নেয়ের কোথা ধাম। আমি ৪
{ ৫০ ]
“ভয় পেয়ে বুঝি চলেছ ফিরি’
সুখের সাগরে তুফান হেরি’ ;
জনম তােমার বৃথা”-
স্বপনে কহিনু ভেলার মাঝিরে
কত কি গরব কথা ।
আমি
নাচিয়া নাচিয়া চলেছে ভাসিয়া
নয়ন-শােভন’তরী ;
সুনিপুণ আমি
নাবিক-প্রধান
বসেছি কর্ণ ধরি'।
সুদূরে আমরি ! লহরীগুলি
নাচিছে কেমনে মাথাটি তুলি’,
নাচাতে আমারে
সুখের সাগরে
তালে তালে ফিরিঘুরি,
সে সুখ ভাবিয়া
যেতেছি গলিয়া
স্বপনে ভাসা’য়ে তরী।
“ওরে-ও অভাগা ভেলার নেয়ে,
একবার ফিরে দেখ না চেয়ে
কি সুখে ভাসিয়া
হাসিয়া চলি
চড়িয়া কনক-নায়।
তাের দশা হেরে ঘৃণা হয় মনে,
দুঃখে বুক ফেটে যায়।”
আমি
[ ৫১ ]
।
যেথা
দেখিতে দেখিতে আসিল চকিতে
সাগরের মাঝে তরী,
ভীম উৰ্ম্মি-মালা করিতেছে খেলা
আকাশের গলা ধরি’!
ডাকিনীর মতাে ক্রুদ্ধ বায়
যা কিছু সুমুখে গ্রাসিতে চায়,
কোথাও ঘুরিয়ে ঘুরুণিয়া-জল
ভীষণ কবরী মেলি’ ;
আমি স্বপনে হারা’য়ে
জীবনের আশা
কাঁদিমু পরাণ খুলি।
সহসা শতধা ছিড়িল পাল,
বিকট শব্দে ভাঙ্গিল হাল,
অমনি ফুরা’ল সব
আমি চকিতে জাগি
প্রতী-বিহগী-রব!
শুনিনু অদূরে
০
চক্ষু মুছিয়া
মনটা কেমন গিয়াছে ধসি’,
ভাবি বসি’
স্বপনে দেখিনু যত,
হায়রে মােদের।
নহে কি ইহারি মত?
জীবন-প্রবাহ,
মনের ব্যথা।
আজ মায়ের পূজা !
ঊষার আলােক পড়লে গিয়ে
অলস মাখা প্রাণ জাগিয়ে
পূজার ঘরের সােজা ;
সুপ্ত চোখে ঝাপস,তবু
ঐ মা দশভুজা,
আজ সপ্তমী পূজা !
গাইল পাখী সুদূর বনে,
চোখভরা-ঘুম, অলস প্রাণে,
বল তারা মধুর তানে
“আয় মা দশভুজা !
(আজ) করবাে মােরা পূজা।
ফুটেছে ফুল ঘরের কোণে,
সারাটা রাত আপন মনে,
কতরঙ্গে সেজে!
ভাই-বােননতে গলা ধরে,
ফুল তুলতে পূজার তরে,
গেছে সেজে গুজে।
[ ৫৩ )
ফোটা ফুলের নীরব হাসি
কোমল প্রাণে জুড়ে বসি
মনটা দেছে ভিজে
রাঙ্গা নীলে সেজে।
তাই দেখিয়ে মনে হলাে
নূতন সাজের কথা;
ফুল তােলাটা পড়ে রইল,
বাজলাে মনে ব্যথা।
চার চোখেতে বইল ধারা,
ভাই বােনেতে কেঁদে সারা,
ফুলের শােভা দেখে
‘এই কিরে মা ভাল বাসে-
দেখে সমান চোখে ?
“দেখনা ওদের কেমন করে,
সাজিয়ে দেছে প্রাণটা ভরে,
আমরা কিসে ত্যজ্য হলেম ?
ওমা দশভুজা !
আমাদের তুই অম্নি করে,
অগ্নি করে সাজা।
[ ৫৪ ]
‘পুরুৎ-ঠাকুর হাতে ক'রে,
ওদের দেবেন পায়ের’পরে,
আমরা কিসে ত্যজ্য হ'লে ?
ওমা দশভুজা !
আমাদের তুই ওমি করে
ছু’তে দে তাের পা।
‘আমরা কথা কইতে পারি,
কাঁদতে পারি, হাসতে পারি,
ওরা কেবল হেসেই কুটি—
এইতে ওদের মা !
এইতে ওদের সাজা গােজা
আমরা কিছুই না ?
‘এইতে ওদের মাথায় করি,
পায়ে ধরিস্ হাতে পরিস্?
বছরের দিন একটা বার
কোলে করে যা
;-
চাইনে মােরা সাজা গােজা
ওমা দশভুজা !
‘নৌকাডুবি।
সন্ধ্যা এসেছে তাড়িয়ে,
তাই সূৰ্য্য গিয়াছে ডুবি,-
হায়রে, আমার দিনের কাৰ্য্য
-করা বল’ যে সবি।
আহার নিদ্রা ভুলিয়া,
রমেশের’ সনে কাঁদিয়া,
পড়েছি ‘নৌকাডুবি'—
দেখিনি চাহিয়া গগনের কোণে
সূৰ্য্য গিয়াছে ডুবি’!
দিয়ে সে
কোন্ ফাক
উঠেছিল আকাশে;
সাঙ্ক-ঢেউয়ের অাঁধার-সলিলে
তেজ তা’র গেছে নিবি-
হেমনলিনী’র চায়ের টেবিলে
এলােমেলাে রল সবি।
[ ৫৬ ]
পুলিনে বসিয়া
দাস ।য কাের,
হায়! কিগাে দোষ তার ?
সে কৰ্ম্ম-নদের
শুধু কি আকিবে ছবি ?
‘নৌকাডুবি'র কোলে ঘুমাইয়া
দেখি সূৰ্য্যডুবি !
মরণে।
উৰ্দ্ধমুখী হয়ে যবে,
প্রাণ-তারা ছুটে যাবে
করিয়ে তােমার সেই ঐপদ স্মরণ
কে ভাল বাসিবে বিতাে! আমায় তখন?
রবে না দেহের বল,
শূন্য হবে হৃদি-তল,
খি পাতা যাবে বুজে হইয়া বিকল
কেল বাসিবে বিভ! দেখি সে সকল
( ৫৭ ] পাবে না রসনা আর মধুর মধুর তার, কি-যে-কি হইয়া যাবে জানি না কেমন তুমি কি বাসিবে ভাল আমায় তখন? জননী রাখিবে দূরে, পিতা না দেখিবে ফিরে, দূরে বসি’ বিসর্জিবে মায়া-অশ্রু-লাের ! তুমি কি বাসিবে ভাল শূন্য দেহ মাের ? কাড়ি শয্যা সুকোমল, প্রাণ-প্রিয় সাথীদল রচিবে আমার তরে কঠোর শয়ন- কে ভাল বাসিবে বিভ! আমায় তখন ? গায়িকা-বধু। ধুলাে মাখা শত বাল্যের স্মৃতি ঝেড়ে পুছে দেখি আজ, গায়িকা-বধুর উজল গণ্ডে এখনাে রকত লাজ
[ ৫৮ ]
সে দিনের মত রয়েছে ফুটিয়া,
আঁখি-ভরা আছে জল,
তেমনি তুহিন-ঠাণ্ডা আহা!
বালিকার হৃদিল।
খেলার সাথী সে ছিল গাে আমার
আমার গায়িকা-বঁধু,
গান গেয়ে মােরে রাখিত ভুলা’য়ে
কণ্ঠ-ভরা কি মধু!
তটিনীর কূলে কোলে মাথা রাখি’
আমারি রচিত গানে,
মুখ খানি কেন রাঙা হয়ে যেত
সেই শুধু এক জানে!
কখনাে হাসিত, কঁদিত কখনাে
গলাটী জড়ায়ে ধরি’ ;
কহিত, এস এ জ্যোছনা-মাখান
জলে মােরা ডুবে মরি!
‘সুন্দরী।
ছেড়া লেপ-কাঁথা শ্মশানের
জোগাড় করেছে ঢের ঢের
পােড়া কাঠ, শ্মশানের দড়ি ;
অভাব নাহিক’ কিছু তার,
গলায় পরেছে কত হার,
-বড় খুসী ডাকিলে ‘সুন্দরি’!
সধবা মরেছে যত দেশে
গহনা যা কিছু ভালবেসে
পরায়ে দিয়েছে তারে ঢাকি'-
সতীর স্মৃতির বােক নিয়ে,
কৃষক-পতির দ্বারে গিয়ে,
দাড়ায় গহনাগুলি ঝাকি।
আহা! সে প্রিয়ার স্মৃতি-কণা
কৃষকে করেছে আন্না
গলায় ‘হাঁসলি’ হাসে দেখি ;
তাহারি কৃষাণ-খেটে-গড়া
‘হসলি’ এ কার গলে পরা ?
নমিত নয়নে ভাবে, একি!
* দৌলৎপুর (খুলনা) কলেজের পায়ে অতি-পরিচয়। “
নায়ী কোন শ্মশানবাসিনী উন্মাদিনী দৃষ্টে লিখিত।
বন্ধ্যা নাৰী ।
কাঁদিছে বন্ধ্যা নারী-
স্নেহ-মমতার
তাড়না যে আর
সহিয়া উঠিতে নারি।
বুকটা আমার নিষ্কাম ধর,
মুখটী করিয়া ম্লান ;
নারীর বক্ষ-শােণিতে ক্ষীর
-হওয়া কি অপমান।
“আয় আয় শিশু!
বুকে ছুটে আয়
ছেড়ে দে ধর্মঘট,
পুৎ-নরকের কুৎসিৎ কায়
চোখে লগে উৎকট!”
কাঁদিছে বন্ধ্যা নারী
“রে বিধি নিদয়! পরেনি তনয়
লয়ে বুকে আপনারি,
যদি বা নিভৃত নিরালা ঘরে
মাতৃ-ভাবাবেশে ভাের,
লাজে মরি-শিশু
কাদিয়া মরে
বুকে ক্ষীর কোথা মাের।
( ৬১ )
“ছুটে আসে মাতা, হাসিয়া অধীর,
-দুধ খেয়ে হয়রা!
নারীর বক্ষ-শােণিতে ক্ষীর
-হওয়া কি অপমান।”
মেহের বাণী।
“দাও মা ভিক্ষা, দাও মা ভিক্ষা,
ক্ষুধিত কণ্ঠ মাের।
ধনে ও পুত্রে
অচলা শমী
রহিবে দুয়ারে তাের !”
-কথা না ফুরাতে আ, মরি! মরি।
কে ঐ আসে গাে ছুটি ?
কনক আঙ্গুলে ব্যথা পায় বুঝি,
আনিতে অন্ন দুটী।
!
“স্নেহ ও মমতা কৃপা ও করুণ
সকল অঙ্গে•মাথ ;
কে তুমি নিত্য
শূন্য বুলিটা
পূর্ণ করিয়া রাখ ?
[ ৬২ ]
“ক্ষুধিত এ জনে
বিতর নিত্য,
মাগাে! যে করুণা-অন্ন ;
এ চির-সত্য
পেয়ে তা হবে না ধন্য ?”
কোন্-লাখপতি
ভাবি তবে এ দুঃখ আমার,
আহার মিলেনা নিত্য,
তাই কি আমার
এ ছুটা ছুটী,
বাস্ত ব্যাকুল চিত?
সকাল বিকাল,
তাই কি তােমার
দুয়ারে বসিয়া রই ?
অন্ন দিলেও
মুখপানে চাহি
কাদিয়া আকুল হই ?
“ক্ষুধিত যদিও, চাহি না অন্ন
ওগাে ও স্নেহের রাণি ।
উদারের ক্ষুধা
করুণ তােমার বাণী।
বঞ্চিত তাহে
ক'রাে না, এক্তনা
সব-হারা,
চির-দুঃখী ;
শুধু মেহ তৰ পোল এ অভাগ
নৃমণির চেয়ে সুখী।
[ ৩ ]
“রাখিয়াে মেলিয়া আমারই পানে
শতেক করুণ আঁখি,
কহিয়াে ডাকিয়া আমারই কাণে
—“আহা, হা জনম-দুঃখী!
তৃষিত শ্রবণে
কথাটী তৰ
তবেই এ মাের
ক্ষুধারে তুচ্ছ
মানি।”
ঢলুক অমৃত আনি’
ক্ষুধিত কণ্ঠের
শম।
ছল করে সব প্রেমিক তাের,
প্রেমের কিবা জানিস্ ব ?
প্রেম জাগলে মনের মাঝে
মুছবি শুধুই আঁখির জল!
হৃদয় ভরে উঠবে জেগে
অজানা কোন্ নূতন গান ;
প্রেম-পুলকে চোখের জলে
ভিজিয়ে দেবে সারাটা প্রাণ।
[ ৬৪ ]
অ-নীরে আবে বয়ে
বােঝয় বােঝায় স্বর্গসুখ,
ভাসিয়ে নিয়ে সুদূর-দেশে,
মানব-প্রাণের সর্ব দুঃখ।
প্রেম পুলকে শুষ্ক চোখে
হেসেই যে জন মরে,
প্রেম ত কভু জানেনা সে
মিছেই ভাণ করে।
নিশাৰাণী।
উষার কিরণে আলাে হবে দেশ যখনি-
তপনি আমার ছুটী হয়ে যাবে,
আমিও যাইব চলি’
বিদায়-বেদনে কাঁদিয়া ভিজাতে ধরণী,
অশ্রু-শিশিরে স্মৃতি রেখে বাব
ফুটায়ে কুসুম-কলি ?
“সারাটা রজনী আমিই জাগিয়া রচিব,
বরণ-কিরণে
নূতন
করিয়া
তােদেরি সােণার দেশ;
তােদেরি ঘুমান মুখপানে চেয়ে কঁদিব,
সুপ্ত-শিওরে শুনাব আমার
বেদনা কি অশেষ ।
ঢালিব নূতন
“ফুলে ফুলে আর পাতায় পাতায় আমি যে
চেতনা-পরশে মন্ত্র পড়িয়া
নূতন প্রাণ;
ঘুম থেকে তােরা উঠিয়া বলিবি—তুমি কে?
ঊষা এসে সব ক'রে দিয়ে গেছে
সুন্দর, শােভমান।
“মর্মভেদী যে নিঃশ্বাস দেই ফেলিয়া
সারাটী রজনী আঁখি-জলে মাখি’,
গতি তার অতি ধীর ;
তােরা জেগে বল-উষা আসিয়াছে নামিয়া,
তাই তার গায়ে ঢলিয়া ঢলিয়া
বহিছে মৃদু
সমীর।
“উষা-সুন্দরী-
-কুৎসিৎ আমি বলিয়া,
আমি যাহা কিছু করিব, তােদেরি
রহিয়া অন্তরালে
( ৬৬ ।
এভাত না হ'তে মনের মতন সাজিয়া,
আমার যা কিছু তাহারি দেখাতে
মােহের মদিরা ঢালে ।
“তারপর ধীরে মায়াবিনী ঢাকি' হাসিটা,
শত নয়নেরে নিরাশ করিয়া,
খুলিবে ছদ্ম বেশ!
দুপুর গগনে বাজিবে তাহার বাঁশীটী
ওগাে কি কঠোর, তপ্ত, রুক্ষ,
রােদে পুড়ে যাবে দেশ!
“আমিই আবার দুঃখিনীর বেশে তখনি,
শত অনাদর নিমেষে ভুলিয়া
কোন্ টানে আসি ছুটি।
প্রান্ত তােদেরি বুকে টেনে লই যখনি,
বাদ যত আঁচলে মুছাতে-
কেন বুজে চোখ দুটি !”
ও-পারে।
প্রীতি-প্রেম-পূত
পরাণ লইয়া
তােমার পিছনে ছুটি
তুমি চলিয়াছ
ঘৃণায় ফিরায়ে
নিরদয় অাঁখি দু’টি !
সজল নয়নে
তােমারি ধেয়ানে
কাটিল সারাটা দিন ;
শেষ-খেয়া দিয়ে
পাটনী চলিল
আঁধারে হইয়ে লীন
বড় দাগা পেয়ে,
বড় ব্যথা নিয়ে,
ও-পারে চলিনু সখা।
ঘৃণারি ভাষায়
বল হে পাষাণ!
ও-পারে দেবে কি দেখা ?
ও-পারের হাওয়া গায়ে লাগে যেই,
ঘৃণা, লাজ, অপমান
নিমেষের মাঝে
দূর হয়ে যায়,
বড় হয়ে যায় প্রাণ!
অপরাধ যদি
করে থাকি কিছু
ভুলে যেয়াে প্রাণাধিক।
তােমারে হেরিয়া
অন্ধ হয়েছি
হারায়ে ফেলেছি দিক
এপারে আমারে
এত অনাদর
করিয়াছ—ক্ষোভ নাই ;
ও-পারে যেন,
ও হৃদয়-কোণে
এতটুকু ঠাই পাই।
কাব্য-মৃত্যু।
ঘৃণ, লাজ অপমানে ম্লান অপি দুটী
চূর্ণ অহঙ্কারে তিক্ত-সিক্ত অশ্রু মাখি’-
ধনৈশ্বন-রাগে দপ্ত, অস্ত নগরীর
প্রান্তে পড়ি, ক্ষুন্ন মনে শূন্যে চেয়ে থাকি
সহসা চমকি’ উঠি,-ওরে মৃঢ় মন !
এ অঙ্কের যবনিকা হবে কি পতন ?
বহু দিন, বহু দিন, কল্পহৃদি-রাণি !
দুই জনে বসেছিনু কাব্য-নদী তটে-
আজি শেষ নিয়তির বক্তৃরূঢ় বাণী
ঘােষণা করিছে তাের মৃত্যু অকপটে !-
'ঠাই নাই, ঠাই নাই ;-নাসিকা-কুঞ্চন,
ঘৃণা, লাল, এ বুকের নিত্য আভরণ।
কলা
লক।
( কলা )
যােড়শ কলায় পূর্ণ সেদিন অংশু-মালীর অঙ্গখানি,
প্রথম যেদিন উঠলাে গগন-পট;
দিক-বধূ তার লজ্জা-রাঙা আনন ঢাকেন ঘােষ্টা টানি,
-“সুন্দৱই এ বটে!”
চন্দ্র তখন স্বেচ্ছাচারী পূর্ণ প্রেমিক যুবার মত
জ্যোছনা রূপে নিজেই গেলেনঝরি’ ;
দেখলে অমানিশায়, নিজের অঙ্গ খানার ওজন কত ?
—হয় না দু’চার ভরি।
( কলঙ্ক )
অঙ্কে উষার কমলমণি, ডাইনে রবির রক্তচেলি,
সাতটী ঘােড়ার লাগাম একই হাতে,
অরুণ-দেবের উদয়-বরণ!-বিশ্ব বিরাট নেত্ৰ মেলি
দেখল প্রথম সুপ্রভাতে।
রশ্মি তাহার ছুটলাে দেশের শিরায় শিরায় বহ্নি ঢালি’
স্বপ্ন-ভাঙ্গা লক্ষ কাজের লােক ;
পটল-চেরা চক্ষে চাদের পড়ল এ কোন লাজের কালি?
-সজল কবির চোখ।
অপমান।
ওগাে ও,
রাজার রাজা নিখিল-পতি,
বিপুল ধনের অধিকারি।
তােমার মতন অমন হলে
বিশ্বে কিনা করতে পারি ?
তুমি,
গাছ পুঁতেছ, ফুল ফুটিয়ে ফল বেধেছ তাতে,
দিন গড়েছ তেল পুড়িয়ে সূৰ্য্য আলােটাতে
মায়ের বুকে দুগ্ধ দিয়ে, খােকার মুখে হাসি ;
হাসির পরে কান্না দেছ, মৃত্যু পাশাপাশি !
স্বার্থ তােমার
कि
পারলে, এ মর-বিশ্ব আমি
অমর করেই দি'।
পড়ার ঘরে বই বুজিয়ে ভাবছি বসে—হায় !
হতেম যদি,-এমন সময় বসলাে আমার গায়
একটা মশা! বল আমায়—“বিপুল-বপু ভাই।
তৃপ্ত আমি, একটী ফোটা রক্ত যদি পাই।”
?
লজ্জা নিয়ে রক্ত উঠে গণ্ঠ বেয়ে কাণে,
সেথায় তারে বসতে বলি মরতে অপমানে!
নির্ভীক। ওমা! চাইনে ভয়-পদ, ভব-ভয়ের ভিতর ভাবে থাকবাে গদগদ। প’রবাে শিরে বিবেক-মুকুট গুরুর হাতে গড়ে, শিখব যত, পিছল পথেই আছাড় খেয়ে পড়ে, বাঁধবাে সকল অঙ্গে আমার প্রেমের পরিচ্ছদ- ভয়ের ভিতর শান্তি ! তােমার। চাইনে অভয়-পদ। ওমা ! চাইনে চরণ-ধূলি— লুঠবে না যা ধন্য হয়ে সবাই পরাণ খুলি। ‘বনে’র পথে স্বর্গে যাবেন স্বার্থ-সাধক যত। মত্ত কেন থাকবে চির-স্বর্গ-পদানত ? স্বর্গ সেধে বিশ্ব-বুকে করবে কোলাকুলি- এনি ক'রে গড়বে। তােমায় চাইনে চরণ-ধূলি। ?
মাটি ; পায়ের তলায় রাখবাে না আর তােরে রাখব মাথায় তুলি ; এমন নরম, এমন সরম, কোথায় পাব, ওরে! ততার সাথে আজি ক’রবাে কোলাকুলি । পা যদি পাই মাথায় করে লব, কাণ যদি পাই হাজার কথা কব, চোখ যদি পাই শুধুই চেয়ে রব, তৃষ্ণা ক্ষুধা ভুলি, পায়ের তলায় রাখবাে না আর তােরে রাখবে মাথায় তুলি’! তাের দেহের তরল রক্ত- রাঙ্গা সর্বজয়ার ঠোটে, প্রাণের গােপন গন্ধ গােলাপ পাপড়ী বেয়ে ছােটে, মনের প্রেমানন্দ বিলােয় ঠোঁটে ঠোঁটে;
[ ৭৩ ]
বুকের পরেই হাজার প্রাণের
তৃষ্ণা-ক্ষুধার ঝুলি,
পায়ের তলায় রাখবাে না আর তােরে
রাখব মাথায় তুলি ।
ভোর রৌদ্রে আমার তৃষ্ণা ওঠে বাড়ি,
বটের ছায়া মিষ্ট লাগে ভারি,
অঙ্গে মাখা দেখতে যেন পারি
তারই চরণ-ধূলি,
সাধ করে তাই, খােলা ক্ষেতের কোলে
করতে কোলাকুলি ।
পাৰ বিবাহে।
প্রণাম জানিনা যে !
খােল গাে দুয়ার, খোল গাে দুয়ার,
জগতের কবি হে!
আমি প্রণাম জানিনা যে !
তােমারি চরণ-প্রান্ত চুমি
পুলকে কাঁপুক হৃদয়-ভূমি,
[ ৭৪ ]
তবে ত অসাড় পরাণে আমার
তৃপ্তি বুঝি’ ল'বে?
-ওগাে জগতের কবি হে।
আমি প্রণাম জানিনা যে !
ঘুমিয়ে-অসাড় আঙ্গুল ক’টী,
অজানা পরশে চরণ-মাটী
করিয়া চুরি
কি বাহাদুরী ?
কিসের প্রণাম সে?
আমি প্রণাম জানিনা যে?
ওগাে, জগতের কবি হে।
দুয়ারে তােমার এসেছি আজ,
দিওনা, দিওনা, দিওনা লাজ;
দাও গাে শিক্ষা, আজি পরীক্ষা
তব মঙ্গল-চরাণে,
প্রণাম-পরশ চেনে।
—আমি প্রণাম জানিনা যে !
ওগাে, জগতের কবি হে!
আজি এ তােমারি “যুগল প্রাণে,
পূর্ণ করেছ কত কি দানে!
আশীষ-বচন দেছে কত জন,
প্রণাম জাের সেখানে ?
[ ৭৫ ]
-জানি যে কিছু না সে !
'ওগাে, জগতের কবি হে !!
-তবুও আমার পরাণে আজ
উঠেছে তুফান, হে কবি-রাজ।
প্রণমি তােমায়
শিরায় শিরায়
চেনা-তড়িৎ বহিয়ে,
সােদর-মেহের
নব জাগরণ,
তুলিব “সে পদ” ছুয়ে
ওগাে, প্রেম-জগতের কবি হে।
নমস্কাৰ
হে সাধক, হে ন্দর, হে চিত উদার।
হে প্রফুল্ল, কৃতিপুত্র বক্ষে বঙ্গমার !
হে দরিদ্র, জীর্ণ-শীর্ণ নীড় প্রতিভার !
এ দীনের লহ নমস্কার।
ভেবনা এ কৃতজ্ঞের স্বার্থ-আরাধনা,
এ যে হৃদি-ঢেলে-গড়া মুগ্ধ প্রীতিকণা!
হে মহান, হে নিৰ্ম্মল, হে চিরকুমার।
কত পরপুত্রে ধর বক্ষে আপনার
তাই আজি কোটী নমস্কার।
( ৭৬ ]
নিরবধি সুধাপানে তুমি ছাত্ৰ-কুলে
বিশ্বপ্রেমে দীক্ষা দিতে বাণী-পাদ-মুলে!
অজ্ঞ আমি বিজ্ঞানের নাহি ধারি ধার,
তবু তব কোলে মম আছে অধিকার
মুগ্ধ প্রাণে কোটী নমস্কার ।
• বিজেতা
কেগাে তুমি মন মাঝে পাকি’
অভাগারে কর উপস?
জীবনের কত আয়ােজনে
কত বার করেছ নিরাশ !
কত সুখ কত শান্তি আসি,
পায়ে ধরে কেঁদে গেছে মাের ;
লাজে স্লান, মুখ ঢাকিয়াছি-
উপহাস ওগাে কি কঠোর।
হৃদয়ের গােপন দুয়ারে
একা যদি বসি আনমনে ;
চুরি করে, কা’র হাসি রাশি
খ উকি দেয় অতি সঙ্গাপনে ?
[ ৭৭ ]
ভুলে যদি কভু চেয়ে রই
অনিমেষে সুধাকর-পাশে,
চমকিয়া উঠি যে গাে আমি
মন মাঝে তব উপহাসে ।
আমার গােপন কথা যত
অাড়ি পাতি’ শুনিয়াছ সব ;
পাছে তুমি আরাে শুনে লও
মন মম হয়েছে নীরব।
আমার অজেয় মনটীরে
তুমি শুধু করিয়াছ জয় ;
বিজিত জনেরে লাজ দেওয়া,
বিজেতার উচিত কি হয় ?
এসাে তবে, অকপট দ্বার
তব তরে মুক্ত চির দিন,
হে বিজেতা! বিজিতের প্রাণে
একেবারে হয়ে যাও লীন।
তাভাগার মন মাঝে থাকি,
আর নাহি কর উপহাস !
ীবনের নব আয়ােজনে
কেন আর করিবে নিশ?
আমার গান ।* আয় ভাই শুনি, কি গান তটিনী কুলু কুলু ধ্বনি গাহিয়া যায় ; কূলে কেন মিছে, অলস অবশ, দাড়ায়ে রয়েছি বধির, প্রায়। সে যেন কি-এক পুরাতন কথা নূতন করিয়া শুনাতে চায় ; আবেশে সুপ্ত শ্রবণে মােদেরি, পশেনা সে সুধা কেনরে হায় । কহিছে-“কে তােরা অবশ অঙ্গে আছিস্ পড়িয়া, আয়না সঙ্গে, বিশ্ব যে জন করেছে সৃজন, দেখাবাে তাহারে, ছুটিয়া আয়।” আয় ভাই শুনি কি গান তটিনী কুলু কুলু ধ্বনি গাহিয়া যায় । কূলে কেন মিছে অলস অবশ দাঁড়ায়ে রয়েছি বধির প্রায় ? নাহিকো সেথায় দুঃখ, দৈন্য ; কপট, রুক্ষ কুটী নাই ; অযাচিত দান করিবে সেজন কৃপা ও করুণা যে যাহা চাই । আছিস্ কে তােরা ধূলাতে পড়িয়া, ধনী পদতলে মরমে মরিয়া । আয় সে দেখে যা, কত রাজা প্রজা রয়েছে পড়িয়া তাহারি পায় আয় ভাই শুনি কি গান তটিনী কুলু কুলু ধ্বনি গাহিয়া যায় । কূলে কেন মিছে, অলস অবশ, দাড়ায়ে রয়েছি বধির প্রায় ? দৌলতপুর শারদ-সম্মিলনীতে গীত। সুর—দ্বিজেন্দ্রলাল রায় নননি বঙ্গ-ভাষা, এখীবন”।
প্রার্থনা। ( রাবেয়ার অনুকরণে ) হে মাের বিধাতঃ ! করে দাও মােরে নির্মল স্রোত-জল- তৃষিত কণ্ঠে পীযুষ ঢালিয়া, জনম করি সফল ! ক'রাে না আমায় জলদচুম্বা উন্নত গিরি-শির, করে দাও মােরে তৃষিতের প্রাণ স্বচ্ছ উৎস-নীর। যেন যষ্টি হইয়া অন্ধ জনেরে আশ্রয় করি দান, করাে না রুক্ষ সেনানীর করে তরবারি খরশাণ ; গলিত জার্ণ পর্ণকুটীরে তৃণ হয়ে রই যদি, চাহিনা শােভিতে নৃমণি-মুকুটে উজলিয়া নিরববি ! করে দাও মােরে রুগ্ন-শিওরে স্বরগ-সঞ্জীবনী-- তােমারি চরণ-পরশ বিলায়ে আপনা ধন্য গণি। কুসুম-কোমল মানবের প্রাণ বিপথে ভাসাতে কভু, করাে না আমায় মদিরার ধারা ওগগা ও জগৎ প্রভু! তােমারি নামের প্রতি অক্ষরে মিশায়ে রহিব আমি বিশ্ব জুড়িয়া ধ্বনিতে শুধুই—“হে মাের জগৎ-স্বামি!
এলাম।
* :
( গান )
প্রণাম যদি করবি রে মনারেই প্রণাম কর !
সে আছে তাের নিজের মাকে,
খাটিয়ে নে তাের আপন কাজে,
(কেন) পরের কথায় অহংলাজে মরি নিরন্তর,
তুই' তারেই প্রণাম কর।
জাগিয়ে তাের এ প্রাণের ঠাকুর
উঠুক প্রাণের পঞ্চমে সুর,
তাের) সাধনক্ষেতেই ৰাজবে নুপুর, নাচবে প্রাণেশ্বর!
তুই তারেই প্রণাম কর।
মানসসরােবরের কূলে,
বিবেক দারুণ-দারুর মূলে,
সে যে) বী’ বাজায় হেলে দুলেই—প্রমিক-ধুরুন্ধর,
তুই তারেই প্রণাম কর।
AMTA PUBLC LIBRARY
KUD-DIVISIONAL LIBRARY
সমাপ্ত।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.