Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Sri Krishna Gitika
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা ।
গ্রন্থকার ও প্রকাশক :-
শ্রীহরেন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী
জেল নােছ, শিলং।
অব@ে@@
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
প্রাপ্তিস্থান গ্রন্থকার, জেল রােড়, শিলং।
আশ্বিন ১৩৩৮ বাঙ্গালা ।
মূল্য ৬১০ সাড়ে বারানা মাত্র।
শিলং, নেপালী প্রেসে সুধীর চন্দ্র দাস দ্বারা মুদ্রিত।
No text on this page.
শ্রী কৃষ্ণ
গী তি কা র
গীতাঞ্জলি
পিতৃদেবতা রাজনারায়ণ চৌধুরী মহাশয়ের
উদ্দেশ্যে
শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ চরণে
উৎসর্গ
করিলাম।
শ্রীহরেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী।
No text on this page.
... লেখকের নিবেন। প্রায় দেড় বৎসর পূর্বে একদিন অপরাহ্ন প্রায় তিন ঘটিকার সময় নিম্নলিখিত দুই পংক্তি স্তোত্র হঠাৎ আমার মনে উদিত হয়। নমঃ নারায়ণ কৃষ্ণ জনার্দন জুগােবন বিশ্বগুরু। ত্রিতাপবারণ ত্রিলােকপালন ত্রিবন্ধগঠন ব্রহ্মারু। *. স্তোত্র গুলি মনােমধ্যে বারবার আনাগােনা করিতে লাগিল। আমার বেশ মনে আছে যে সেই দিন শুক্রবার ছিল। এইদিন সন্ধ্যার সময়ে দাঁতে বিষম বেদনা হয়। যাহাদের ঐতবেদন আছে তাহাদিগকে বলিয়া বুঝাইতে হইবে না যে ইহা কিরূপ অসহ্য। ভাবিলাম যে রাত্রি ত জাগিয়া কাটাইতে হইবে এমতাবস্থায় নিষ্কর্মা অবস্থায় বসিয়া না থাকিয়া ভগবানের নাম করা উচিত। কতক্ষণ পরে মনে হইল যে স্তোত্রের প্রত্যেক শব্দের পূর্বে একবর্ণ থাকিলেই শুনিতে সুন্দর শুনা যাইবে ইহা মনে করিয়া স্তোত্র রচনা করিতে ইচ্ছা করিলাম। রাত্রি, প্রায় তিন ঘটিকার সময় ষড়বিংশ পংক্তি হইল। তখন মনে করিলাম যে দ্বাত্রিংশ পংক্তিতে ভগবানের স্তোত্র শেষ করা উচিত। পর- দিন কেবল চারি পংক্তি হইল। তার পরদিন আরও দুই পংক্তি লিখিতে পুনঃ পুনঃ চেষ্টা করিয়াও অকৃতকার্য হইলাম। তখন
০
“ভগবান আর পারিলাম না” বলিয়া নিরাশ.. অন্তঃকরণে তাঁহার
উপরে ভার দিয়া বসিয়া রহিলাম। হঠাৎ প্রায় পাঁচ মিনিট
পরে শেষ দুই পংক্তি আসিল তাহা এই
নরকবারণ নরকসূদন নিখিলপালন নরহরি।
চঞ্চলচরণ চঞ্চলাভূষণ চঞ্চলজীবন চক্রধারী।
আমি পরে পংক্তিগুলি স্থানে স্থানে পরিবর্তন করিয়া
সাজাইয়াছি।
আমি পরে অনেক চিন্তা করিয়া দেখিয়াছি যে দ্বাবিংশ অক্ষয়
পূর্ণ স্তোত্র আমার মনােমধ্যে হঠাৎ উদিত হইবার কারণ সম্ভবত
আমার খুল্লপিতামহ গুরুনারায়ণ চৌধুরী মহাশয়ের কৃত
ব্রজবধূকাব্য”। এই গ্রন্থখানা আমি কয়েক মাস পূর্বে পড়িয়া-
ছিলাম ও তাহাতে এই প্রকার দ্বাবিংশ অক্ষর পূর্ণ স্তোত্র ছিল।
সেই গ্ৰন্থখানা পুনরায় মুদ্রিত করিবার ইচ্ছা আছে। আর্থিক
অসচ্ছলতাই অন্তরায় দাড়াইয়াছে নতুবা এতদিনে গ্ৰন্থখানা
মুদ্রিত হইত।
উপরােক্ত স্তোত্র মনােমধ্যে উদিত হইবার ৭৮ বৎসর পূর্ব
হইতেই আমি “বর্ধমান রাজবাড়ীর” ও কালীপ্রসন্ন সিংহ মহােদয়
* এই গ্রহের শেষ ভাগে গুরুনারায়ণ চৌধুরী মহাশয়ের
সংক্ষিপ্ত বংশাবলী সন্নিবেশিত হইল।
**
ve
প্রণীত মহাভারত পড়িয়া “অৰ্জ্জুন চরিত্র” নামে একখানা বহি
লিখিয়াছিলাম কিন্তু বহিখানা সম্পূর্ণ হইলে দেখি যে আমি “কৃষ্ণ
চরিত্র” লিখিয়া ফেলিয়াছি। তৎপর নরনারায়ণ” নাম দিয়া
আর একখানা বহি লিখি। লিখা শেষ হইলে দেখি যে আমি
“পাণ্ডব চরিত্র, কৌরব চরিত্র, কৃষ্ণ চরিত্র” সমস্তই লিখিয়া
ফেলিয়াছি। তখন ইহা বাদ দিয়া “ভারত চন্দ্ৰমা” নাম দিয়া
মহাভারতের সমালােচনায় প্রবৃত্ত হই। বহিখানার কতকাংশ
লিখা হইলে পরে হঠাৎ উপয়ােক্ত স্তোত্র আমার মনােমধ্যে উদিত
হয়। তখন “ভারত চন্দ্রমা” লিখা বন্ধ করিয়া পূর্ণব্রহ্ম, মায়ামনুষ
নন্দনন্দন সম্বন্ধে স্তোত্র লিখিবার ইচ্ছা বলবতী হইল
যখন
যাহা মনে হইয়াছে তাহাই লিখিয়াছি। রচনার উপরে আমার
কোনও কর্তৃত্ব ছিল না। স্তোত্রগুলি আপনা আপনি আসিয়াছে
আমি কোনও দিন কবি ছিলাম না, কবিতা লিখায় কোন ক্ষমতাও
আমার নাই ও এই শেষ বয়সে কোথা হইতে এই “শ্রীকৃষ্ণ
গীতিকার” পদ্যগুলি আসিয়াছে তাহা যিনি দিয়াছেন তিনিই
জানেন।
কোনও সুযােগ্য ও সুবিখ্যাত লিখকের প্রশংসাপত্রের
অন্তরালে আমার অক্ষমতা গােপন করিয়া রাখিবার ইচ্ছা আমার
একদা নাই এজন্য নিজের কৈফিয়ৎ নিজেই দিলাম ।
পাঠকপাঠিকাগণ বহিখানা পড়িয়া কথঞ্চিৎ আনন্দ বােধ
ওঁ করিলেই এমসার্থক মনে করিব। নানাকারণবশতঃ বহিখানাতে অনেক ভুল প্রমাদ রহিয়াছে। আশা করি সহৃদয় পাঠক পাঠিকারা দয়াপূৰ্ব্বক ক্ষমা করবেন। - ভগবানের দয়ায় সত্বরই ‘ভারত চন্দ্রমা” মুদ্রিত, করিবার ইচ্ছা আছে, ইচ্ছাময় ইচ্ছাপূর্ণ করিলেই হয়। উপসংহারে ইহা বক্তব্য যে হবিগঞ্জের এলাকাধীন জয়পুর নিবাসী শ্ৰীযুত প্রমােদ রঞ্জন ভট্টাচাৰ্য মহাশয় ও পং ভানুগাছ, সাং সরিসকান্দি নিবাসী যুত রেশ চন্দ্র ভট্টাচাৰ্য্য মহাশয় “শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা” লিখার সময়ে আমাকে বিশেষভাবে সাহায্য করিয়াছেন। তাঁহাদের নিকট আমি চিকৃতজ্ঞ। জেল রোড়, শিলং। নিবেদক- শ্রীহরেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী, পােঃ পুটীজুরী, গ্রাম সন্তোষপুর, জিলা শ্রীহট্ট। আশ্বিন, ১৩৩৮ বাং। হাং সাং জেল রােড়, শিলং (আসাম)।
সূচীপত্র। বিষয়। পৃষ্ঠা ২ ৪-১৪ ১৫-১৬ ৪ ৬ শ্রীকৃষ্ণের জন্ম গােষ্ঠ শ্রীরাসমণ্ডল শ্রীরাধাকৃষ্ণ পুলিনে রাখালরাজ যুগলরূপ কৃষ্ণকালী মথুরা গমন দূতীসংবাদ ৭ ৮ ১ :: ••• ১০ ১৭-১৮ ১৯২২ ২২২৩ ২৪-২৫ ২৬-২৮ ২৯-৩৫ ৩৬-৪১ ৪১-৪৮ ৪৯৬২ ৬২৯২ ৯২-১১১ ১১২-১২১ ১১ ••• ১২ ১৩ পাণ্ডব গৌরব ১৪ ভীষ্মের শরশয্যা জয়দ্রথ বধ প্রভাস যজ্ঞ কৃপকর। ১৬। স্তোত্র ১৭। গােষ্ঠ ১৮। রামকৃষ্ণ ১৯। শ্রীচৈতন্য ২০। কংস বধ ২১। রুক্মিণীহরণ ২২। শিশুপাল বধ ১২৪-১২৫ ১২৫-১২৬ ১২৬ ১২৭-১২৮ ১২৯-১৩৩ ১৩৩-১৩৭ .
No text on this page.
শুদ্ধিপত্র পত্রার্ক। পংক্তি। ১৪ যাবে নারী যারে রাণী ১৪ ১১ ২০ ৭ হয়ে ১ । ১৯ ২২ ৭ তারে বারি মহীতে করি বারী সঙ্গীতে ২৬ ১০ ২৯ ৪ ৩০ ১১ ন থ ১৮ রাধাকুণ্ডে ধৰ্ম্মে হেরিতেছ ৭৩ ১৩ রাধাকুণ্ড ধৰ্ম হরিতেছ অদ্ভুত যথা সাদি bro ৫ যেথা সাদী ১৩ ১১১
No text on this page.
৪০ ৫ ০ ০ ১ ৫ ০ ০ ০ ০ ০ ০ ৫ ০ ০ ০ ৩ ০ ১৮A
গীতিকা।
-
নেপালী প্রেস, শিলং।
।
= ৩.
*
N
।
- - - -
* ====
===
* *
ই
খ); 6 5 ৩ ০ ০ ১ ৫
No text on this page.
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা।
Poc:22:>oc
স্তোত্র।
(১)
নােনারায়ণ নিত্যনিরঞ্জন নিকুঞ্জশােভন নটবর।
চপল-ঈক্ষণ চন্দ্রমাবদন চলনয়ন
চিত্তহর।
অনঙ্গমােহন অলকাশােভন অম্বুজনয়ন অনুপম।
ত্রিবকগঠন ত্রিতাপবারণ ত্রিপদধারণ ত্রিবিক্রম।
নবীনমন নয়নরঞ্জন নূপুরশােভন নীলত।
নাগরনবীন নবনীহরণ নীরদবরণ
গােকুলজীবন গােকুলভূষণ গােকুলতারণ গিরিধারী।
দানব-নাশন দেবেন্দ্র-শাসন দান্তিকদলন দহানী।
নন্দ।
[ ২ ]
শ্ৰীকৃষ্ণ গীতিকা
(২)
পঙ্কজনয়ন পাতকীরণ পরমকারণ পীতবাস ।
শ্রীবৎসলাঞ্ছন শ্রীনন্দনন্দন, শ্রীরাধারমণ নিবাস।
গােষ্পদধারণ গােকুলরক্ষণ' গােপাললালন শােপেশ্বর।
যাশােনা-নন্দন যমুনাশােভন যােগেশমােহন যজ্ঞেশ্বর ॥
বৃন্দাবনধন ব্রজেন্দ্রনন্দন বিপিনরঞ্জন বিশ্বম্ভর
পঙ্কজচরণ পতিতপাবন
পুতনানাশন
পীতাম্বর।
গােপালপালন গােপালনন্দন গােপিকারমণ গােপীপতি।
বিরিঞ্চিদমন বরুণশাসন বিপদবারণ
বিশ্বগতি।
(৩)
বঙ্কিমনয়ন বিনােদচরণ বিনােদভূষণ বংশীধারী।
জগতলােচন জীবনজীবন জনমবারণ জয়হরি ।
কমললােচন কলঙ্কভঞ্জন কালীয়দমন কংস-অরি।
ভূভারহারণ ভুবনপালন ভূধরধারণ ভয়হারী ।
ল জানিবারণ লোকেশ পূজন লীলানিকেতন লীলাময় ।
রমণীমােহন রাধিকাজীবন রুক্মিণীরমণ রসময় ।
কৃিষ্ণ গীতিকা
মদনমােহন মহেশমােক্ষণ
প্রহলাদতরণ পাবকদমন
মুরনিসূদন মধু-অরি।
পাষগুদলন পাপহারী ।
(৪)
নরকবারণ নরকসূদন নিখিলপালন নরহরি।
চঞ্চলচরণ চঞ্চলাভূষণ
চঞ্চলাজীবন চক্রধারী।
দেবকীনন্দন দ্বারকানােভন, দৈত্যনিসূদন দীনবন্ধু ।
কৌস্তুভধারণ কৈটভশন কিরীটিরক্ষণ কৃপাসিন্ধু।
পক্ষীন্দ্ৰবাহন পাঞ্চালীমােণ পাণ্ডবতারণ পরমেশ।
অবনীপালন অনাথশরণ অখিলপাবন অখিলেশ।
যাদবনন্দন যােগেশবন্দন যােগেন্দ্রজীবন যদুপতি।
শশাঙ্কবদন শারঙ্গধারণ শমনশাসন শেষগত ॥
শেষের সে দিনে শ্রীরাধা রমণ শেষ নিবেদন শৌরি ।
শােভিও সাক্ষাতে শিখি পাখামাথে শ্ৰীমতীর সাথে হরি।
[ ৪ ]
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
শ্রীকৃষ্ণের জন্ম।
হৈল সুরাসুরে রণ
পরাজিত দৈত্যগণ
সবে মিলি করিল মন্ত্রণা।
স্বর্গপুরে ঠাই নাই
বল কোথা যাব ভাই
কোথা গেলে পাবনা যন্ত্রণা।
নরলােকে নরগণ
করে সুখে বিচরণ
ইন্দ্ৰ কঁপে তাদের প্রতাপে।
চল ভাই নরলােকে
রব তথা মনসুখে
দেবগণে কঁপাইৰ দাপে।
নরলােকে যত নর
যজ্ঞ করে নিরন্তর
দেবগণে
নিমন্ত্রণ করে।
যজ্ঞ ভাগ দেবে পায়
বল বৃদ্ধি হয় তায়
অবহেলে দানবে সংহারে ।
সরাজগণ-ক্ষেত্রে
জমিয়া ভারতক্ষেত্রে
চল সবে কমিগে রাজত্ব।
দানযজ্ঞ নষ্ট করি
দুর্বল করব অরি
ঘুচাইব দেবের দেবত্ব ।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা [ ৫ ] এই যুক্তি বিচারিয়া দৈত্যগণ হৃষ্ট হৈয়া ধরা ধামে জন্মিতে লাগিল। জরাসন্ধ জন্ম নিল কালনেমী কংস হৈল দৈত্যগণে পৃথিবী ছাইল । ধৰ্ম্ম পথে সদা বক্র জন্ম নিল দন্তবক্র দিতিত হৈল শিশুপাল। শিবিদত্য দ্রুম হৈল ক্রোধহন্তা দণ্ড হৈল বহু দৈত্য হইল ভূপাল ॥ অঘাসুর জন্ম নিল বকাসুর যােগ দিল বাঞ্চল হইল ভগদত্ত। কুবলয় জন্ম নিল কংসের বাহন হৈল দৈত্যগণ হৈল মদমত্ত । সা করে অত্যাচার ধরা নাহি সহে ভার ধরা দেবী কাতরা হইল। ব্ৰহ্মার নিকট যায় বলে বিধি রাখ পায় পাপ ভারে ধরা যায় তল । শুনিয়া ধরার বাণী হৃদে চিন্তি পদ্ম-যােনি চলিলেন নারায়ণ স্থানে। প্রণাম করিয়ে,পদে বলে বিধি মনখেদে নিবারণ . দৈত্য গণে।
[:৬ ] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা দানব প্রবল হৈল ধৰ্ম্ম কৰ্ম্ম লুপ্ত কৈল দান যজ্ঞ নষ্ট হৈল ভবে । রক্ষ প্রভু শ্রীনিবাস কর দৈত্যগণে নাশ তােমা বিনা কে বল তারিবে । শুনিয়ে বিধির বাণী হেসে কন চক্রপাণি জন্ম নিতে বল দেবগণে। যার যার অংশ মতে জন্ম নিতে ধরণীতে বিনাশিতে মুঢ় দৈত্যগণে। আনকদুন্দুভি ঘরে জন্ম নব মধুরে পিতৃগৃহ পরিহার করি । গােকুলে করিব বাস অঘা বকা করি নাশ পুনঃ যাব মথুরা নগরী। বিনাশিরে কংসারে আর যত অনুচরে ধরা ভার করিব হরণ। দন্তবক্র শিশুপালে বিনাশ করিব হেলে ধৰ্ম্মরাজ্য করিব স্থাপন। শুনি নারায়ণকথা দুরে গেল মনটব্যথা বিধি হ’ল প্রফুল্ল বদন। নারণে প্রণমিয়ে দেবগণে আজ্ঞা দিয়ে যান বিধি আপন ভবন।
কৃিষ্ণ গীতিকা [ ৭ ] আজ্ঞা পেয়ে দেবগণ হয়ে আনন্দিত মন অংশ মতে জন্মিতে লাগিল। জমে সবে হভরে দানববিনাশ তরে দেবগণে.. পৃথিবী ভরিল । ধৰ্ম্ম অংশে যুধিষ্ঠির বায়ু অংশে ভীম বীর ইন্দ্র অংশে বীর ধনঞ্জয় । শিব অংশে দ্রোণসুত বসু অংশে দেবব্রত তায়ুধ বরুণ তনয় । বৃহস্পতি অংশে দ্রোণ সূৰ্য্য অংশে বসুসেন অগ্নি-অংশে ধৃষ্টদ্যুম্ন হয়। সাত্যকী পবন অংশে শেষনাগ যদুবংশে ইন্দ্র অংশে হিড়িম্বাতনয় । বিরাট মরুত অংশে কামদেব বৃষ্ণি বংশে রুদ্র অংশে কৃপাচার্য্য হয়। শচী অংশে যাজ্ঞসেনী লক্ষী ভীষ্মকনন্দিনী বায়ু অংশে কৃতবর্মা হয় । কুন্তী মাদ্রী সিন্ধি ধৃতি ধর্ম বিদুর সুমতি বায়ু তাংশে দ্রুপদ রাজন। অশ্বিনীকুমার অংশে সহদেব পাণ্ডু বংশে চন্দ্রপুত্র সুভদ্রানন্দন।
[৮] কৃষ্ণ গীতিকা বসুদেব মতিমান সদা ধগত প্রাণ হৃদি মধ্যে নিত্য ভগবান। দেবকী দেবকন্যা যার কমে ধরা খায় বসুদেবে করে মাল্যদান। বিবাহ হইল পরে উভে চড়ে রথােপরে সারথী হইল কংসার। আচম্বিতে শূন্য বাণী করে ঘােতর ধ্বনি ভয়েভীত হ’ল মহাসুর ॥ শুন কংস মূঢ়মতি ভগ্নীস্নেহ দেখি অতি শত্রু মিত্র নাহি তাের জ্ঞান। দেবকী অষ্টম গর্ভে যেই জন জন্ম নিবে সেই তাের বধিবে পরাণ । শুনি কংস রুষ্ট হৈয়া করে তীক্ষ্ণ অসি নিয়া নাশিতে ইচ্ছিল দেবকীরে। করযােড়ে করে স্তুতি বধ নাহি কর ভগিনীরে। তুমি রাজা জ্ঞানবান নিলে ভগিনীর প্রাণ অকীৰ্ত্তি ঘােষিবে ত্রিজগতে। দেবকী সন্তানগণে দিব আনি ব স্থানে বিনাশ করিহ ইচ্ছামতে । বসুদেব মহামতি শ্ৰীকৃষ্ণ গীতিকা [৯] বসুদেব ধর্মনিষ্ঠ শুনি বসুদেব কথা দূর হল মনােব্যথা হল কংস আনন্দিত মন। স্থির জানে কংস দুষ্ট তার বাক্য করিবে পালন । তার কতদিন পরে দেবকী দেবীর ঘরে জন্মে এক সুন্দর নন্দন । বসুদেব নিয়ে তারে অপিলেন কংস করে কংস তারে না কৈল নিধন । ইহার বিনাশ বৃথা শুধু হবে মনােব্যথা ইহা ভাবি ফিরাইয়া দিল। আর পাঁচ সুত হৈল বসুদেব কংসে দিল কংস করে প্রাণে না বধিল । দেবকী সপ্তম গর্ভে জন্ম নিল বলদেবে যােগমায়া ডাকিয়া শ্রীহরি। বলে দেবী যাহ ত্বরা যথা বসুদেবদারা গােপকুল যথা গােপনারী । যথা আছে মহাবন যথা শ্রীনন্দ ভবন মর্তে যেন নন্দন কানন। বথা যমুনা পুলিনে চরে ধেনু বৎস সনে যথা শােভে গিরি গােবর্ধন ।
[ ১ ] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা যথা তরু গু লতা প্রেম ভরে পুলকিতা জীবগণ আনন্দে বিহরে। যথা গােপ বৃদ্ধগণ প্রেমানন্দে নিমগন কেহ কারে দ্বেষ নাহি করে । প্রকৃতি সৌন্দৰ্য্য অতি শান্ত বহে স্রোতস্বতী বারি যেন অমৃতের ধারা। পশু পক্ষী মৃগগণ করে মুখে বিচরণ চারিদিকে শােভে গােপ পাড়া । বসুদেব ভ্রাতা নন্দ দেহে স্নেহপাশে বন্ধ এক প্রাণ ভিন্ন শুধু দেহে। বসুদেব কারাগারে রােহিণী নন্দের ঘরে যাহ ত্বরা বিলম্ব না সহে। মায়াবলে আকষিয়া দেবকীর সুতে নিয়া রাখ ত্বরা রােহিণী গর্ভেতে। পূজিবে সবে তােমারে যত আছে চরাচরে কীৰ্ত্তি তব ঘােষিবে জগতে। আজ্ঞা পেয়ে পুলকিতা ধায় দেবী ত্বরান্বিতা রাখে গর্ভে রােহিণী উদরে। দেবকীর গর্ভপাত হয় গেল অকস্মাৎ ভীত সবে হইল অন্তরে ।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিক। [১১] বসুদেব হৈল ভীত নেত্র বারি অবিরত ক্ষণে ক্ষণে কাঁদে উচ্চৈঃস্বরে। রক্ষা কর ভগবান ভাবে বুঝি যাবে প্রাণ অপমৃত্যু কংস-কারাগারে। হবে শুনে মাের সুত দুষ্ট উগ্রসেন সুত বান্ধিয়া রেখেছে কারাগারে। দেবক রাজার সুতা হয়ে যেন আছে মৃতা হেরে দশা পরাণ বিদরে। রক্ষা কর শ্রীনিবাস তুমি দীনহীন আশ পড়িয়াছি, বিপদ সাগরে। শ্রীমধুসূদন হরি ভক্ত দুঃখ সৈতে নারি দেখা দিল হৃদয় কন্দরে। আনকদুন্দুভিমন হ’ল পুলকে মগন হৃদে রাজে সদা নারায়ণ। সদা বহে শান্তি স্রোত যেন পূত গঙ্গাস্রোত জ্ঞান অগ্নি জ্বলে অনুক্ষণ । দেবকী সৌন্দৰ্য্য বাড়ে চন্দ্ৰ নভে তুচ্ছ করে নারায়ণ গর্ভেতে প্রবেশে। অনুক্ষণ দেখে আঁখে সদা পঁাড়ায় সম্মুখে পীতাম্বর মনােহর বেশে।
[ ১২ ] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা বলে মাগাে শুন কথা দূর কর মনোব্যথা দুঃখ কষ্ট হবে নিবারণ। জন্মিয়া তােমার ঘরে বিনাশিব কংসারে ধরা ভার করিব হরণ। কুফ পক্ষ ভাদ্র মাস মুখে মৃদু মৃদু হাস গগণে উদিত শশধর। হেয়ে সুখী হল মনে জন্ম নিল শুভক্ষণে নিজ বংশে দেব গদাধর। হেরে অকলঙ্ক চন্দ্র লাজে স্নান হৈল চন্দ্র ধরাপরে না ঢালে কিরণ। পুলকে গর্পয়ে ঘন হেরে খাম নবঘন মহানন্দে গর্জে সমীরণ । ঘন ঘন বজ্রপাত ঝড় বৃষ্টি খর বাত চপলা চঞ্চলা হয়ে ফিরে। হর্ষে ভানুসুতা ধনী হয়ে গেল উন্মাদিনী তীর বেগে ছুটে রাজপুরে। প্রকৃতি উন্মত্ত হল সব শক্তি প্রকাশিল কার সাধ্য যাইতে বাহিরে। এহেন যামিনী কালে হরি বসুদেবে বলে চল শীঘ্র নন্দের মন্দিরে।
[১৩] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা যশােদার কাছে মােরে রেখে এস ত্বরা করে নিয়ে এস তনয়া তাহার । প্রহরীরা অচেতন এই অতি শুভক্ষণ চল ত্বরা কি ভয় তােমার ॥ কৃষ্ণ চন্দ্রে কোলে নিতে দ্বার খুলে আচম্বিতে বসুদেব হয়ে গেল ভ্রান্ত। বৃষ্টি নিবারণ তরে ফনা-ছত্র ধরে শিরে পাছু পাছু চলিল অনন্ত । প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ কৈল কংসে নাহি পুত্র দিল বসুদেব হারাইল জ্ঞান। যমুনা সলিল হেরি কোল হৈতে পড়ি হরি নদী জলে করে নিল স্নান। বসুদেব ধরে তুলে পুনঃ কৃষ্ণে নিল কোলে অনায়াসে যমুনা তরিল। দূর হল অন্তরায় বসুদেব ত্বরা ধায় যশােদা মন্দিরে প্রবেশিল । রেখে তথা নীলমণি কোলে নিল কাত্যায়নী ত্বরা গতি আবাসে ফিরিল । কারাদ্বার বন্ধ হৈতে কান্দে কন্যা আচম্বিতে প্রহরীরা সকলি জাগিল ।
কৃষ্ণ গীতিকা
[ ১৪ ]
ধেয়ে গিয়ে কংসে বলে
কংস ক্রোধ ভরে চলে
প্রবেশিল বেগে কারাগারে।
ধরিয়া কন্যারে বলে
আছাড় মারিল বলে
শুনে কন্যা উঠে নােযভরে ।
শুন শুন মূঢ় কংস
তােরে যে করিবে ধ্বংস
নিরাপদে আছে অন্য স্থানে।
বধিলে নির্দোষ শিশু
লভিবে পশু
যাবে ফিরে আপন ভবনে।
কংসাসুর ভীত হৈয়া
দেবকীরে প্রবােধিয়া
চলে গেল নিজ নিকেতন।
নারী যশােদার কোলে বাড়িল নন্দ গােকুলে
দিনে দিনে দেবকী নন্দন ।
কি ফল
[ ১৫]
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
গােষ্ঠ
০
গাকুল ভূষণ গােকুল সঙ্গে
পীত বসন শ্যামল অঙ্গে।
ত্রিভঙ্গ সুন্দর মুরলী করে,
ময়ূরমুকুট শােভিছে শিরে
অলকাশশাভন লম্বিত মালা
চরণে চন্দ্রমা করিছে খেলা।
নূপুরশােভন চরণ
কম্পিতা ধরণী পুলক ভরে।
নয়ন রঞ্জন নীরদ
হেরিয়ে নাচিছে আনন্দে ধেনু।
মুরলীনিঃস্বন পবনে
বহে
ভূলােকে দ্যুলােকে সবারে মােহে ॥
দেবতা গন্ধর্ব আসিল' ধেয়ে
অসুর দানব পলাল ভয়ে।
চতুর-আনন চাতুরী ছেড়ে,
প্রণতি জানায়ে চৌদিকে ফিরে।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
[ ১৬ ]
সহস্র নয়ন নয়নে বারি
মার্জনা চাহিছে চরণ ধরি।
শঙ্কর বিভাের কেশবে হেরে
লম্ফন ঝম্ফন
নৰ্ত্তন করে ।
বসন ভূষণ
খসিয়া
পড়ে
ফণীন্দ্র পােল মস্তক ছেড়ে।
ভুবনমােহিনী
শঙ্কর বামে
হেরিছে আনন্দে সুন্দর শ্যামে।
চম্পকবরণী চম্পক আভা
দামিনী জিনিয়া দশনপ্রভা।
শ্ৰীমুখসররাজে
শ্ৰীকরে শােভিছে ধারাল অসি।
রঙ্গের ছটায়
ভুবন মােহে
শ্রীনন্দ নন্দনে আনন্দে কহে।
গােধন চরাবে হরিষ মনে
সহিত ফিরিব বনে ।
মধুর হাসি
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
[১৭]
রাসমণ্ডল।
মদনমােহন
গােকুল-শশী
করে শােভিছে মােহন বাঁশী।
মুখ মণ্ডলে মধুর জ্যোতি
ময়ুরমুকুট শিরসি ভাতি।
কপালে তিলক সুন্দর আকা
পঙ্কজ নয়ন ভঙ্গিমা বাঁকা।
নীরদ বরণ বিনােদ বেশ
অলকা শােভন কুঞ্চিত কেশ।
শ্যামল সুন্দর লম্বিত মালা
শ্রীপদ বিপদ-সাগর-ভেলা।
হরি বামেতে শ্রীমতী রাজে
বিদ্যুত খেলিছে জলদ মাঝে।
শ্রীরাধা শ্রীপদ চন্দ্রমা জিনি
চম্পক বরণী কিশােরী ধনী।
কিশাের কিশােরী মধুর সাজে
গােলক মাধুরী ভূলােকে রাঙ্গে।
চৌদিকে বেড়িয়া গােপিকা রহে
ভুবন মােহন সবারে মােহে।
[ ১৮]
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
মলয়
লক্ষন
শ্রীরাস মণ্ডলে শ্রীনন্দ সুন্
হেরিয়ে নাচিছে নন্দিনী ভানু।
মারুত বহিছে ধীরে
দেবতা গন্ধর্ব পুলকে হেরে ।
সঘনে গগনে-দুন্দুভি বাজে
শ্রীরাসহেরিতে শ্ৰীকণ্ঠ সাজে।
ঝম্ফন নৰ্ত্তন করি
শ্রীরাসে পশিল হেরিতে হরি।
খসিয়া পড়িল বসন হায়
শঙ্কর বিভাের পাগল প্রায় ॥
ময়ূর ময়ূরী আনন্দে
পুলকে কম্পিত নয়ন ঝরে ।
শ্ৰীশুক সারিকা মােহিত ভাবে
শ্রীরাস মণ্ডল হেরিব কবে ।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
[ ১৯ ]
শ্রীরাধা কৃষ্ণ।
নিকুঞ্জ কাননে
শ্যাম রাধা সনে
দুই ভাবে দুহু মােহে।
চৌদিকে বেড়িয়া
মণ্ডলী করিয়া
সখীগণ হেরে দেহে।
রত্ন সিংহাসনে
আনন্দিত মনে
শ্ৰীমতী শ্রীকৃষ্ণ শশাভে।
ত্রিভঙ্গ সুন্দর
রূপ মনােহর
তুচ্ছ করে চন্দ্ৰ নভে।
শিরে শিখি পাখা
রাধা নাম, লিখা
রাধা পদ ইচ্ছা করে।
দক্ষিণ ত্যজিয়া
বামেতে হেলিয়া পড়ে।
অবনত হৈয়া
নব জলধর
শ্যাম কলেবর
বিদ্যুত বরণী রাধা।
অনুপম শােভা
মুনি মনােলােভা
দোহে প্রেম ভােরে বাঁধা।
,
[ ২ ] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা নাহিক তুলনা বিশাখা ললিতা শ্যামা কুলা আনন্দে মর্গন উমু। হেরে ঘনশ্যামে রাধারাণী বামে শ্রীকর শােভিত বেণু । শ্ৰীমতী ত্বরিতে শ্রীকর হইতে বাশরি কাড়িয়া নেয়। হেরি সব সখি হরে অতি সুখী উলুধ্বনি সবে দেয় । পাখীগণ শাখে হৈরে অনিমিখে মােহন যুগল রূপ। জগতে মিলেনা রাধা শ্যাম অনুরূপ। শুক বলে সারী আমার মুরারি নারীগণ মন হরে। সায়ী বলে শুক কি কর কৌতুক রাধা পদ শিরে ধরে। বলে মােয় নবীন কিশাের গােবর্ধন গিরি ধরে। সারী বলে প্যারী অক্ষম নেহারি সঞ্চারিল শক্তি তারে।
কৃষ্ণ গীতিকা [ ২১] শুক বলে বংশী ধরে কাল শশী বেণু রবে ধেনু ধায়। সারী বলে হরি করিয়ে চাতুরী রাধা গুণ গেয়ে যায় । শুক বলে সারী বৃথা দ্বন্দ্ব ছাড়ি চল দেহে হেরি শ্যামে । সারী বলে শুক ইল বড় সুখ হেরিবে রাধারে বামে । প্রেম ভরে নত প্রেমেতে গলিয়া যায়। শুনিয়ে বাঁশরী আপনা পাশরি যমুনা উজান ধায়। জীব জন্তু যত হয়ে পুলকিত শ্রীরাধা মাধব হেরে । ব্রহ্মা আদি দেব সহিতে বাসব ইচ্ছে জন্মে জপুরে। যত কৃষ্ণে হেরে তত ইচ্ছা বাড়ে নয়ম হেরিতে চায়। নিয়ন তারে নিন্দে বিধাতারে অমুত নয়ন চায়।
[ ২২ ]
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমা
রূপের অসীমা
মদনমােহন তনু।
চন্দ্রপ্রভা জিনি
চরণ দুখানি
শােভে সুতা বৃষভানু ॥
হরেন্দ্ৰ দুৰ্ম্মতি
ত্যজেনা দুৰ্ম্মতি
দুরাশা ছাড়িতে নারে।
কৃষ্ণ কাল বারি
তার ভাব হেরি
দয়া নাহি করে তারে ।
পুলিনে।
বাজিল বাজিল বেণু
চল চল মনধেনু
চল ত্বরা কৃষ্ণে হেরিবারে।
বংশীরবে
নিল প্রাণ নিল তনু
চক্ষু কর্ণ আকর্ষণ করে।
নীলতনু
কৃষ্ণ
[ ২৩]
ব্ৰজেন্দ্র নন্দন কানু
সঙ্গে সুতা বৃষভানু
যমুনা পুলিনে শােভা করে।
হেরে দেহে সুভানু
আনন্দে মগন তনু
দুকূলে বহিছে খরধারে।
নিকটে চরিছে ধেনু
ক্ষণে ক্ষণে হেরে কানু
মুখে তৃণ হেরে দামােদরে ।
তৃণ খেতে বড় সাধ
কৃষ্ণ রূপ সাধে বাদ
তৃণ ছাড়ি হেরিতে না পারে।
তৃণ চায় কৃষ্ণ চায়
দুই দিকে মন ধায়
দুই দিকে ঘুরাঘুরি করে।
সেই মত মন ধেনু
চাহে ভােগ চাহে কানু
মধ্যে পড়ি আপনা পাশরে।
শুনরে সুবােধ ভাই
দুই পাবে এক ঠাই
অনাসক্ত ভজ যদি তারে।
কহে সব মুনিগণ
ভাবগ্রাহী জনার্দন
ভাব বুঝি উদ্ধারিবে তােরে
[ ২৪ ]
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
রাখাল রাজ।
পুরতঃ ভাতি
সুন্দর মূরতি
বিমল তিলক ভালে।
শিখি পুচ্ছ
শিরে
বংশীরব করে
যমুনা পুলকে দোলে ।
ধেনু বৎস সব
করি হাম্বা রব
ছাড়িয়া মুখের গ্রাস।
হেরে নন্দলালে
রাখাল ভূপালে
ছাড়িয়া তৃণের আশ ।
বনমালা গলে
শিখি পাখা হেলে
মধুর মধুর হাসি।
হরে প্রাণ মন
করি
আকর্ষণ
শ্রীনন্দ কুলের শশী ।
বদন সুন্দর
নীল কলেবর
দশন দামিনী জিনি।
আজানুলম্বিত
দ্বিভুজ মুরলী
চন্দন চচ্চিত
পাণি।
শ্ৰীকৃষ্ণ গীতিকা
[ ২৫]
নয়ন যুগল
ফুল
শতদল,
উজ্জ্বল নয়ন তারা।
ললাট প্রসর
অতুল অধর
বচনে অমৃত ধারা।
শ্রীবৎস লাঞ্ছন
পীত বসন
ত্রিবঞ্চ গঠন কায়া।
ত্রিভঙ্গে ত্রিপাপ
হরে সর্ব পাপ
নাশয়ে সংসার মায়া।
চরণে চরণ
করে সংস্থাপন
জীবের মঙ্গল তরে।
ভাগ্যবান জন
অবহেলে ভব তরে ॥
চরণে নুপুর
বাজিছে সুন্দর
পাতকী মঙ্গল গেয়ে।
হরেন্দ্ৰ দুৰ্ম্মতি
শুন পাপীগতি
পাতকী সবার চেয়ে ।
হেরে চরণ
২৬
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
যুগল রূপ।
ভানু সুতা কুলে
ভানু সুতা হেলে
দাড়ায়ে শ্যামের পাশে।
ভাজা সলিল
হইয়ে ব্যাকুল
চরণ চুম্বিতে আসে।
স্থলে নীল তনু
জলে নীল তনু
হেরিয়ে যমুনা ধনী।
ভাঙ্গি কুল বেলা
করে পদে খেলা
তুলিয়ে মধুর ধ্বনি।
মণে নূপুর
বাজিছে সুন্দর
যমুনা মহীতে মিশে।
প্রেমে উন্মাদিনী
রাই বিনােদিনী
ধরিল শ্যামেরে হেসে।
নন্দ নন্দন
নীরদ বরণ
বিদ্যুত
বরণী বামে।
দোহা রূপ হেরে
জলধরে ছেয়ে
দামিনী আসিল নেমে ।
কৃষ্ণ গীতিকা [২৭] লুকাল অমনি জলদ পশ্চাতে আসিল ত্বরিতে দামিনী ধরিতে বলে। ভয় পেয়ে ধনী শ্রীরাধা, চরণ তলে ॥ হারায়ে দামিনী জীবন সঙ্গিনী জলদ দুঃখেতে ভাসে। সঙ্গিনী লভিতে বাঞ্ছা করি চিতে; শ্রীহরি চরণে মিশে। নীল বর্ণ বারি নীলিমা লহরী উপরে নীরদ শ্যাম। স্থিরা সৌদামিনী বামে বিনােদিনী দুহই হরেন্দ্রে বাম। অস্তাচল ভানু হেরি দোহা তনু আনন্দে মগন হয়ে। অমিয় কিরণ করে বরিষণ কে চেয়ে। অস্ত নাহি যায় একি হল দায় সন্ধ্যা না আসিতে পারে। যামিনী ভূষণ করে উচাটন পড়িল বিপদ ঘােরে ।
[ ২৮ ]
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
বিধির নিয়ম
হল ব্যতিক্রম
সবিতা রজনী ঢাকে।
অদূরে বলাই
কোথারে কানাই
বলিয়া সঘনে ডাকে।
স্বর শুনি হরি
রাধা পরিহরি
ধাইল বলাই পানে ।
আজার নন্দিনী
হারা হয়ে মণি
চলিল ভবন পানে ।
সদা যে বলাই
হরে যে কানাই
রাধ। যে পলায় দূরে।
হলে মাের অন্ত
ওহে রাধাকান্ত
দিওনা কৃতান্তে মােরে ।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
[২৯]
কৃষ্ণকালী।
ভারত মণ্ডলে
বিখ্যাত ভূতলে
অমৃত লহরী
বহে এক পূণ্য তােয়া ।
সদা শান্ত বারি
পানে হরি করি দয়া ।
অতি
পূত
বারি
নাশে পাপ ভারি
জগত মঙ্গল গায়।
বসি তার তীরে
সুমধুর স্বরে
হরি গাথা পাখী গায় ।
অদূরে কানন
হেরে মুগ্ধ মন
নন্দন কানন জিনি।
আনন্দিত মন
চৌদিকে বেষ্টিত ধনী ॥
হের রূপ রাশি
ঢালে সুধারাশি
রূপেতে মন হারে।
বদন মণ্ডল
নীল শতদল
মুরলী শােভিছে করে।
শ্রীনন্দ নন্দন
==
[ ৩০ ] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা চঞ্চল নয়ন হরে প্রাণ মন যেই তার পানে চায় । ত্রিভঙ্গ সুন্দর রূপ মনােহর শ্যামল বরণ কায় । বনমালা গলে নখে চন্দ্র খেলে নুপুর বাজিছে পায় । চৌদিকে গােপিনী প্রেমে উন্মাদিনী ঘেরিয়ে রেখেছে তায়। রম্য নিকেতনে নিকুঞ্জ কাননে সজ্জিত মধুর সাজে। বৃষভানু সুতা রূপ গুন গুন যুতা শ্রীনন্দ নন্দনে পূজে। জটিলা কুটিলা হইয়ে উতলা ধেয়ে বলে আয়ানেয়ে । তব পত্নী রাধা নাহি মানে বাধা পূজিছে নন্দ কুমারে । শুনি চমকিত ধায় অতি দ্রুত . T আয়ান লগুড় হাতে। মারিব রাধারে কে রাখে, সংসারে চল ধরা মাের সাথে ।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা [ ৩১] । উন্মত্ত আয়ান ক্রোধে কম্পমান পবন বেগেতে আসে। হেরিয়ে শ্রীমতী হরষিতা অতি আনন্দ সলিলে ভাসে। হাসে রাধারাণী আয়ান এখনি হেরিবে শিবানী হেথা । কুটিলা সভয়ে যাবে পলাইয়ে পাইবে বিষম ব্যথা। নন্দ কুল শশী মুখে মৃদু হাসি বলিছে মধুর সুরে । শুন বিনােদিনী রাজার নন্দিনী বিদলে পূজ মােরে। কালী কৃষ্ণ ভিন্ন ভাবি মতিচ্ছন্ন হয়েছে জটিলা-সুতা ; হর বিমােহিনী কৃষ্ণ নীলমণি এক সূত্রে দোহে গাথা। ভিন্ন ভাবি দেহে পড়িয়াছে মােহে “হৃদয় সতত দহে। 'একেরে বন্দিলৈ অন্যেরে নিন্দিলে কেহ নাহি তাহা সহে । . = T [ ৩২ ] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা পূজ জবা বিহুদলে কুতুহলে আয়ান আগত প্রায়। হেরে কৃষ্ণ কালী দূর হবে কালী পড়িবে আমার পায় । তােষিয়ে তােমারে পরম আদরে ফিরে যাবে নিজ ঘরে । কৃষ্ণ কেলে সােনা সদা কেলে সােনা সতত মুরলী করে। বলিতে বলিতে আয়ান ত্বরিতে আসিল লগুড় করে। কৃষ্ণ কালী হেরে পদতলে পড়ে লগুড় ফেলিল দূরে। হেরে মুক্তকেশী ভালে শােভে শশী করেতে ধারাল অসি। নাহি যে বাঁশরী নাহি বংশীধারী মুখে শুধু অট্ট হাসি। কটিতে কিঙ্কিনী জিনিয়া দামিনী নর মুণ্ড শােভে গলে। নাহি পীত ধড়া নাহি বনমালা নাহি দুলে। শিরে চূড়া শ্রীকৃষ্ণ গীতিক। [ ৩৩ ] - কালী পদ নাহি শিখি পাখা রাধা নাম লিখা নাহি শােভে পীতবাস । শ্যামা উলঙ্গিনী নীরদ বরণী পদতলে কীৰ্ত্তিবাস । ভাবে গদ গদ চিন্তি আয়ান ভাসিছে নীরে। হয়ে অতি ভীত জটিলা সহিত কুটিলা পলাল দূরে। হেরিয়ে কানে * লজ্জা পেয়ে মনে আয়ান চৌদিকে চায়। পড়িয়ে বিপাকে কুটিলাকে ডাকে কুটিলা সভয়ে পায় । কোথায় কুটিলা কোথা নন্দলালা হর বিমােহিনী রাজে। তোমার কথায়, আসিয়ে হেথায় পড়িনু বিষম লাজে । এস মা জটিল সহিত কুটিল এস এস ত্বরা করে। শিব সীমন্তিনী ভুবনমােহিনী হের হের আঁখি ভরে। *। ", . * কানু (শ্রী কৃষ্ণ)।
[ ৩৪ ] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা ধন্যা রাধা সতী কালী পদে মতি বিদলে পূজে মায়ে। শ্রীপদ-রােজে কোটী চন্দ্র রাজে শমন পােয় ভয়ে । অসুর নাশিনী ত্রিলােক পরিণী কৈলাসবাসিনী হেথা। কোথা নীলমণি বল গাে জননী কি কারণে দিলে ব্যথা। জানি চিরকাল নাহি কালাকাল কুটিলা অসত্য কয়। বলিলে আবার করি বিচার পাঠাব শমনালয় । সতী শিরােমণি পূজিছে শিবানী যুড়িয়া যুগল পাণি। জননী হাসিছে অভয় দানিছে তুলিয়া দক্ষিণ পাণি ধন্যা রাধা সতী আমি পতি পবিত্র হইল কুল। ত্রিনেত্রধারিণী ত্রিতাপবারিণী দিতেছে রাধারে কোল । ধন্য শ্রীকৃষ্ণ গীতিক। [ ৫ ] হেসে নমিয়ে আয়ান গেল নিজ স্থান শ্ৰীমতী আনন্দে হাসে। ত্রিভঙ্গ সুন্দর শ্যাম বংশীধর দাড়াল রাধার পাশে । রাধা: কয়.. একি রসময় হইলে রূপসী নারী। মাের ইচ্ছা হয় হতে ঋণালয় মদনমােহন হরি । হের হের ভাই ব্রজের কানাই নীরদ বরণী হল । কৃষ্ণ কাল শশী করে ধরে অসি বাঁশরী পলায়ে গেল। পীতবসন হল বিকন শিখিপাখা নাহি শিরে। হল এলােকেশী ভালে শােভে শশী ভােলানাথ মন হরে | পুরুষ কি নারী বুবহ, বিচারি নানার:পে সদা ফিরে। যে ভাবে যে চায় সে ভাবে সে পায় দ্বন্দ্ব ত্যজি ভজ তারে ।
[ ৩৬ ]
শ্রীকৃষ্ণ
মথুরা গমন।
রূপ বিরূপ আজি
যান ব্রজভূমি ত্যজি
উচ্চৈঃস্বরে কান্দে গােপীগণ।
অক্রর সারথী রথে
বলরামে নিয়ে সাথে
চলে যান ব্রজেন্দ্রনন্দন ।
কপালে করুন হানে মূচ্ছা যায় ক্ষণে ক্ষণে
গােপীগণ ধরাতে লুটায়।
যেওনা মােদেরে বধে
কি দোষ করিনু পদে
এত বলি কান্দে উভরায় ।
নিকুঞ্জ কানন ছাড়ি কেন যাবে মধুপুরী
পাইবে তথায়।
নগর হইতে বন
শ্রেষ্ঠ কহে মুনিগণ
বৃন্দাবন সর্বশ্রেষ্ঠ তায় ।
মথুরাতে দুষ্ট কংস পাইলে করিবে ধ্বংস
কেন যাও বিপদ মাঝারে ।
বধিলে অবলা নারী হবে কিবা বাহাদুরি
ফের ফের ফের ব্ৰজপুরে।
কিবা সুখ
শ্ৰীকৃষ্ণ গীতিকা [ ৩৭ ] বসন ভূষণ ছেড়ে হের রাধারাণী পড়ে স্বর্ণলতা লুটায় ভূমেতে। হেরহে নিদয় কানু এই সুতা বৃষভানু যারে তুমি হৃদয়ে রাখিতে । যারে দিলে দাস খত শ্রীহস্তের দস্তখত সাক্ষী মােরা আছি সখীগণ। খত বলে ধরে আনি শাস্তি দিব গুণমণি বৃথা কেন কর পলায়ন। যার উপেক্ষিত হয়ে গেলে রাধাকুণ্ড ধেয়ে ত্যজিবারে আপন জীবন। তিলেক না হেরি যারে যেত প্রাণ দেহ ছেড়ে সেই রাধা কর দরশন। রাধারাণী ছাড়া হলে মরিবে তুমি অকালে কান্দাইবে সব বন্ধুগণে। তাই বলি ব্রজনাথ যেওনা অর্ক র সাথ ফের ফের আপন ভবনে রাধারাণী তুষ্ট হলে মােক্ষপদ ত্বরা মিলে পূজ তুমি রাধার চরণ। রাধা চিহ্ন সৰ্ব্ব গায় গেলে তুমি মথুরায় তাড়াইয়ে দিবে সৰ্বজন ।
[ ৩৮ ] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা মথুরার যত নারী ; রাধারাণী-দাস হেরি ধরি হেথা দিবে পাঠাইয়া। ধরিবে তব চাতুরি ঘুচে যাবে জারী জুরী তাই বলি কি কাজ যাইয়া। অন্ধ কি হয়েছ হরি চক্ষুত আছয়ে হেরি কর্ণদ্বয় হয়েছ কি হায়া। কিছু নাহি শুন কাণে কিছু নাহি হৃদে হানে কেন্দে কেন্দে হইলাম সারা ॥ হেম চেয়ে বৃদ্ধ নন্দ কান্দে বলি শ্রীগােবিন্দ যশােদা নয়নে বহে জল। কবলী ধবলী ধেনু শুনিয়ে তৰ বেণু পিপাসায় নাহি পিয়ে জল । শ্ৰদাম সুদাম হের আর যত সহচর কাতর নয়নে হের চায় । বুঝি প্রাণ বাহিরায় হের চেয়ে আমরায় ফের ফের ফেরহে ত্বরায় যত সব পশুপাখী হের ঝরে দুই আঁখি হের চেয়ে লুষ্ঠিত ধরায়। ভাবে বুঝি যাবে প্রাণ শুনহে নিঠুর কান ফের ফের ফের রায়:
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা [ ৩ ] - যমুনা চলিছে সাথে যাবে বুঝি মথুরাতে ব্রজভূমি পরিত্যাগ করি । ব্ৰজ হবে জল শূন্য বাড়িবে তােমার পূণ্য জলাভাবে সবে যাবে মরি । যশােমতী স্নেহ ভরে দুগ্ধ দিয়ে পালে তােরে জল বিনে মারিবে তাহারে। শুনি নাই কোন কালে এমন সুপুত্র ফলে ধিক্ ধিক্ শতধিক তােরে । আমরা জানি যে পথ তাই বলি রাখ রথ মধুপুরী নহে বেশী দূরে। আছে তথা কংসার ভয়ে কঁাপে সুয়াসুর বেন্ধে হেথা পাঠাইবে তােরে । বনবাসী বনচরে হেরে যদি মধুপুরে সবে মিলি দিবেহে যন্ত্রণা। তাই বলি ফের ব্রজে যেওনা মােদের ভজ ছাড় ছাড় ছাড় কুমন্ত্রণা। যেওনা অর রথে ফিরে এস এজপথে ফিরে এস ব্রজেন্দ্রনন্দন। নিকুঞ্জ কাননে হেরে পুনঃ রাধা দামােদরে ধন্য হব মােরা দাসীগণ ।
[ ৪ ]
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
শুনি গােপীগণ বাণী
হেসে কন নীলমণি
পুনঃ আমি আসিব ত্বরায়।
কি সাধ্য যে যাব ছেড়ে বেধেছ প্রেমের জােরে
প্রেম পুনঃ আনিবে হেথায় ।
বলিতে বলিতে হরি
ছেড়ে যান ব্ৰজপুরী
রথবর অতি বেগে ধায়।
হেরিরে চিন্তামণি
মণি হারা যেন ফণী
ব্রজবাসী ধরাতে লুটায়।
কে কারে প্রবােধ দিবে
অচৈতন্য হল সবে
চারিদিকে শুধু হায় হায়।
নিত্য বৃন্দাবন শােভা ছিল মুনিমনােলােভা
এবে হল মরুভূমি প্রায় ॥
হরেন্দ্র কহে কাতরে
কে তারে রাখিতে পারে
যদি নাহি রহে ইচ্ছা করে।
অনন্তে করিতে বাধ্য
কাহার আছয়ে সাধ্য
নিজে যদি দয়া নাহি করে।
যেই হরি হরি স্মরে
হরি নেয় ধন হরে
অপমান দুর্গতি অপার।
রাধা রাধা বলে যেই
ধরাতলে পড়ে সেই
ধারা ধরা সল, তাহার ।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
[৪১]
যদি ই গৃহবাস
ভজিনা পীতবাস
পীতবাস বাস নিবে কেড়ে ।
করি তােমা লণ্ড ভণ্ড
বাকী রাখি প্রাণদণ্ড
সৰ্বস্ব কাড়িয়া দেবে ছেড়ে ৷
দূতী সংবাদ।
১৯
মথুরার পতি
করিয়ে প্রণতি
ব্ৰজের দুর্গতি বলি।
পােপরাজ ঘরে
যশােদা উদরে
জন্ম নিল বনমালী ।
সুন্দর নন্দন
আনন্দ বর্ধন
নন্দরাজ সুখে ভাসে।
যশোদার কোলে
হেরিতে গােপালে
গােপগােপ সদা আসে
-
[ ৪২ ] শ্রীকৃষ্ণ রূপপ চন্দ্র হারে চন্দ্রহার ‘হারে অনুপম রূপ শােভা। নন্দকুল-ইন্দু জিনি শরদিন্দু নারীগণ মনােলােভা। তার বাঁশী শুনি ভানু সুশ ধনী উজান বাহিনী হত । শুনে তার বেণু যত সব ধেনু তার পানে ধেয়ে যেত । গােধন চরায়ে প্রেম বিলাইয়ে নিকুঞ্জে বিহার করি । নারী মন হরি’ করিয়ে চাতুরি এসেছে মথুরা পুরী। এসেছে হেথায় বান্ধিয়ে তাহায় ফিরাইয়া দেহ রাজা। কান্দে দিবানিশি যত ব্রজবাসী তরে করহ সাজা । অতি বৃদ্ধ নন্দ হেরে গােবিন্দ পাগল হইল শশাকে। কোথা গেলে বাপ সদাই নন্দের মুখে। দূর কর তাপ কৃষ্ণ গীতিকা [ ৪৩] . হয়ে যেন কাল নন্দের গোপাল এসেছিল তার ঘরে। শান্তি-মুখ-হারা নন্দ দিশাহারা কপালে আঘাত করে । রাণী যশােমতী হয়ে ভ্রান্ত মতি ধেনুশালে সদা যায়। ভাবে মনে হয় লুকায়ে তথায় চঞ্চল গােপাল রায় । হাতে সয় ননী কান্দে নন্দরাণী গােপাল গােপাল বলল। কোথা নীলমণি নয়নের মণি এস বাপ এস কোলে। কভু ভাবে রাণী তার যাদুমণি গিয়েছে রাখাল সাথে । ধেয়ে মাঠ পানে হেরিয়ে কানে করাঘাত করে মাথে ৷৷ ক্ষণে মুচ্ছা যায় ভূমেতে লুটায় নাহি জ্ঞান দিবা নিশা। ওহে মহারাজ চল ‘ব্রজে আজ হেরিবে তাদের দশা।
[ ৪৪ ? শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা কবলী ধবলী শ্যামলী অবলী তৃণ জল নাহি খায়। ধেনুশালে পড়ি যায় গড়াগড়ি মাঠ পানে নাহি পায় । চারিদিক হেরে না হেরি কানুরে পাগলের মত ধায় । তৃণ জল দিলে দেয় দূরে ফেলে কাতর নয়নে চায় । রাজার নন্দিনী হয়ে উন্মাদিনী যমুনা পুলিনে ধায়। ভাবে মনে ধনী শ্যাম নীলমণি বাঁশীতে ডেকেছে তায়। হেরিয়ে কানে ব্যথা পেয়ে মনে জীবন ত্যজিতে যায়। তাহেরি ললিতা হইয়ে ত্বরিতা পাছু পাছু বেগে ধায়। গিয়া ধরে আনে বলে চন্দ্রাননে কেন প্রাণ ত্যজ বৃথা। মিলিবে এখনি কৃষ্ণ গুণমণি দূর কর মনােব্যথা।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা [ ৪৫ ] শুনি তার বাণী কহে বিননাদিনী বল বল কোথা ন্যাম । পরাণ বিকল বিধি প্রতিকূল কেলেসােনা মাের বাম ॥ সখীগণ মিলি করি চাতুরালী বলে চল ত্বরা করে। রসিক নাগর শ্যাম কলেবর লুকায়ে তােমার ঘরে। শুনি হরষিত রাধা চলে দ্রুত হেরিতে শ্যাম নাগরে। কিছু দূর গিয়ে হেরে তাহারে মূৰ্ছা হয়ে ভূমে পড়ে । রাধা মরে যাবে ভাবি সখী সবে পাঠাইল মােরে হেথা। যদি ইচ্ছা হয় চল দয়াময় বিলম্ব না কর বৃথা। যমুনার জল হইয়ে বিকল দুকূলে বহিয়ে যায়। তাতে নেত্র বারি পড়ি অনিবারি বেগ বৃদ্ধি করে তায়। :
[ ৪৬ ] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা সব ভেসে যাবে কিছু নাহি রবে অধৰ্ম্মে পড়িবে তুমি। চল ত্বরা করি চল নরহরি চল চল ব্রজভূমি। যেতে নাহি পার বান্বিয়ে সত্বর পাঠাইয়া দেও কামু। রাধা গুণ গেয়ে যায় যেন ধেয়ে হাতে তার দিও বেণু । শুনিয়ে বৃন্দার কথা হৃদয়ে বাজিল ব্যথা ভূমে পড়ে কমললােচন। ব্ৰজপুরী মনে পড়ে দুনয়নে জল ঝরে কেন্দে বলে শ্রীবৎসলাঞ্ছন। কঁহা মেরা বৃন্দাবন কঁহা নিকুঞ্জ কানন কঁহা মেরা গিরি গােবর্ধন। কঁহা মেরা ভাংসুতা কঁহা বৃষভানু সুতা কঁহা মেরা বাঁশরী বাদন। কঁহা মেরা শ্রীললিতা কঁহা শ্যামা কুলতা কঁহা মেরা গােপনারীগণ। কঁহা মেয়া বংশীবট কঁহা মেরা, শ্ৰীযাবট কঁহা মেরা বিপিন ভ্রমণ।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
[ ৪৭ ]
কঁহা মেরা শুকসারী
কঁহা ময়ুরা ময়ুরী
কঁহ মেরা নিকুঞ্জ ভবন।
কঁহা মেরা শিখিপাখা কঁহা মেরা ভঙ্গীবাঁকা
কঁহা মেরা গােধন চারণ।
কাহা মেরা শ্ৰীসুদাম
কঁহা মেরা বসুধাম
কঁহা মেরা সুবল মঙ্গল।
কঁহা মেরা শ্ৰীঅৰ্জ্জুন
কঁহা মেরা অংশুমান
কঁহা মেরা গােন সকল ।
কঁহা মেরা তালবন
কঁহা ভাণ্ডীর কানন
কঁহা মেরা পুলিন ভােজন।
কঁহা মেরা নন্দ পিতা কঁহা যশােমতী মাতা
কাহা মেরা নন্দের ভবন।
হেরিয়ে কৃষ্ণের শােক
মনেতে পাইয়া সুখ
বলে দূতী চল ব্ৰজপুরে।
বিলাপে নাহিক কাজ
চল ব্ৰজে মহারাজ
চল চল চল ত্বরা করে।
বৃন্দার বচন শুনি
হৃদে ভাবি চিন্তামণি
বলে বৃন্দা যাহ ব্ৰজপুরে।
নিশিযােগে যাব আমি
বলগে রাধারে তুমি
দেখা হবে কুঞ্জের দুয়ারে।
[ ৪৮] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা রাধা আমি নহে ভিন্ন কেন হলে মতিচ্ছন্ন কেন মােরে বুবাক্য বলিলে। কভু নহি ব্ৰজ ছাড়া রাধা মাের চক্ষুতারা সদা ফিরি কালিন্দীর কূলে। রাধারাণী শ্বাসে শ্বাসে সদা মােরে হেরে পাশে হেরে সদা তৃপ্ত নাহি হয় । প্রেমে টানে সর্বক্ষণ তাই হৃদি উচাটন উন্মাদিনী বলে মনে হয় । ত্যজ চিন্তা সুবদনী মরিবে চন্দ্রাননী কৃষ্ণ-চিন্তা মৃত্যু ভয় হরে। ভয় পেয়ে মৃত্যুরাজ নাহি যায় ব্রজ মাঝ দূর হতে নমস্কার করে। কৃষ্ণপ্রেম আস্বাদন তপ্ত ইক্ষু চর্বণ বিষামৃতে একত্র মিলন। বিষে প্রাণ নাহি যায় অমৃত যে আছে তায় কেন দুঃখ কর অকারণ। ত্যজি চিন্তা যাহ ঘরে আছি সদা ব্ৰজপুরে ব্রজবাসী আমার জীবন। প্রেমভােরে আছি বাঁধা জানে প্রেমময়ী রাধা শ্রীরাধাচরণ। পূজ গিয়ে
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
* [ ৪৯ ]
পাণ্ডব গৌরব
মুনিশাপে স্বর্গ ভ্রষ্ট
হৃদয়ে বিষম কষ্ট
কান্দে সদা উর্বশী অপ্সরী।
দিবসে অশ্বিনী-রূপ
রজনীতে নিজ রূপ
ধরি ঘুরে নেত্রে বহে বারি।
অষ্ট বজ্র সম্মিলনে
মুক্ত হবে জেনে মনে
কাতরে ডাকয়ে নারায়ণে।
দণ্ডীরাজ পেয়ে তারে
বহু সমাদর করে
নিয়ে গেল আপন ভবনে।
হেথায় দ্বারকা পরে
চিন্তামণি চিন্তা করে
কিসে হবে পাণ্ডবের মান।
ধৰ্ম্মপুত্র মতিমান
সদা কৃষ্ণগত প্রাণ
জ্যেষ্ঠ হয়ে করে মােরে মান।
ভীমার্জুন মহাবীর
পরাজিয়া সব বীর
ধরাধামে লভেছে সুনাম।
বিমুখ করিলে রণে
সুরাসুর ত্রিলােচনে
ত্রিলােক ব্যাপিয়া হবে নাম ।
[ ৫ ]: ঐকৃষ্ণ গীতিকা উর্বশীর শাপ মুক্তি দেখাতে ভক্তির শক্তি বাড়াইতে পাণ্ডব-গৌরব। দূতে ডাকি ত্বরা করি পাঠান অবন্তীপুরী ভকতবৎসল শ্ৰীমাধব । দূত বলে দণ্ডীরাজ অশ্বিনী সহিত আজ যেতে হবে দ্বারাবতী পুরে । দ্বারকার নৃপমণি ইচ্ছে তােমার অশ্বিনী চল নৃপ চল ত্বরা করে। শুনিয়া দূতের কথা বাজিল বিষম ব্যথা বলে দণ্ডী যাহ দূতবর। বল গিয়ে পােপরাজে যেন আসে রণসাজে বল তারে আসিতে সত্বর। ক্রুদ্ধ হয়ে দূতবর শীঘ্র চড়ে রথােপর উপনীত দ্বারকা নগরে। বলে শুন যদুবর আসিল নরবর অপমান করিয়াছে মােরে । শুনিয়া দূতের বাণী ক্রুদ্ধ হন চক্রপাণি যদুগণ সাজিল সমরে। অবন্তীর নরপতি হয়ে চিন্তান্বিত অতি কৃষ্ণ ভয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে।
আকৃষ্ণ গীতিকা [ ৫১] শুনি বারতা অদ্ভুত কেহ নাহি দিল আশা ছাড়ি জীবনের আশা প্রাণত্যাগ ইচ্ছা কৈল জলে। নিয়ে বধূ উত্তরারে স্নান করিবার তরে গেল ভদ্রা যমুনার জলে। শুনি দণ্ডীর কাহিনী ব্যথিতা কৃষ্ণ-ভগিনী আশ্রয় দিলেন দণ্ডীরাজে। গিয়ে ভীমসেন পাশে বলে দেবী মৃদু ভাষে রক্ষ বীর পড়িয়াছি লাজে । তুষ্ট হয়ে কুন্তী সুত দাড়াইল কৃষ্ণের বিপক্ষে। আনন্দে হল অস্থির হেন নারী নাহি হেরি চক্ষে । বার্তা পেয়ে যদুপতি হয়ে মনে সুখী অতি ডাকিলেন সত্যক-নন্দনে। বলেন সাত্যকি বীরে যাহ তুমি ত্বরা করে বা দেহ ইন্দ্র পঞ্চাননে। দণ্ডীরাজ মম ভয়ে ভীমের শরণ নিয়ে আছে সুখে বিরাট নগরে। স্বদে আমি স্থির জানি যুধিষ্ঠির মম করে অর্পিবে না তারে। পুনঃ পুনঃ বলৈ বীর নৃপমণি [ ৫২] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা পাণ্ডবেরে যুদ্ধে জিনে নাহি হেরি ত্রিভূবনে ভয়ে মম কঁপিতেছে দেহ। বল গিয়ে মহেশ্বরে সাহায্য করিতে মােরে সুরাসুর যক্ষ বক্ষ সহ। ধর্মবলে বলীয়ান ধৰ্ম্মপুত্র বলবান কেবা তারে জিনিবে এ ভবে। গাণ্ডীব ধনুক ধরি গগাবিন্দ হৃদে স্মরি একা পার্থ বিনাশিবে সবে । শ্রীকৃষ্ণের আজ্ঞা পেয়ে চলিল সাত্যকি ধেয়ে জানাইল বিধি ইন্দ্র হরে। শুনি: সব দেবগণ নিয়ে দৃঢ় প্রহরণ উপনীত দ্বারাবতী পুরে । সাত্যকিরে ডাকি হরি বলে যাহ ত্বরা করি বল গিয়ে ধৰ্ম্ম নরবরে। দণ্ডীরে পাঠালে হেথা দূরে যাবে মনােথ। অপমান করিয়াছে মােরে । অশ্বিনী সহিত ভূপে বল তারে বিনয় বচনে। শুনিলে মম বাণী বল তঁারে বীরমণি যুদ্ধ হবে পাণ্ডবের সনে । পাঠাইতে বল নৃপে শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা [ ৫৩] বিধি হর সুরাসুর আসিয়াছে মাের পুর সহায় হইবে তারা রণে। বল তুমি ভীমসেনে দুরাশা ত্যজিতে মনে পাঠাইতে অবন্তী রাজনে। বৃকোদর অল্পমতি জানে তাহার শক্তি যুদ্ধ ইচ্ছে যার তার সনে। বলরাম সহ রণে যাবে যম-নিকেতনে কান্দাইবে পাণ্ডব প্রধানে। বল ভগ্নী সুভদ্রারে ধৰ্ম্ম রাখে ধার্মিকেরে ধর্ম যেন কভু নাহি ত্যজে। কি সাধ্য আছয়ে কার ধার্মিকের অপকার করি বাঁচে এই ধরা মাঝে। শ্রীকৃষ্ণের বাক্য শুনি রথে চড়ে বীরমণি উপনীত বিরাটভবনে। বলে শুন নৃপমণি পাঠাইল চক্রপাণি নিবেদিতে তােমার চরণে। দুরাচার দণ্ডীরাজ নাহি তার মনে লাজ দুৰ্বাক্য বলেছে যদুবরে । দেহ তারে মাের করে নিয়ে যাব ত্বরা করে সুখী হবে কৃষ্ণ তারে হেরে ।
[ ৫ ] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা অশ্বিনী সহিত তারে নিয়ে যাব নিজ ঘরে নিবেদন তােমার চরণে। শুনিয়া সাত্যকি-বাণী হেসে কন নৃপমণি বল ধৰ্ম্ম ত্যজি বা কেমনে। কৃষ্ণ চন্দ্র মাের প্রাণ বল গিয়ে তার স্থান পাণ্ডবের বল বুদ্ধি হরি। কুন্তি-গর্ভে জন্ম ধরি আশিতে ত্যজিতে নারি বিনা যুদ্ধে উপায় না হেরি। বল গিয়ে যদুবীরে যুধিষ্ঠির অকাতরে প্রাণ দিবে হরির চরণে। পাবংশ হবে লয় যা করেন ইচ্ছাময় কৃষ্ণ বলে প্রবেশিব রণে। সাত্যকি বিয়ে কয় শুন ধৰ্ম্ম মহাশয় হর ইন্দ্র সাহায্য করিবে। আসিয়াছে সুরাসুর ভয়ে কঁপে তিন পুর পাণ্ডুবংশ নাশ বুঝি হবে। শুনিয়ে সাত্যকি কথা পাইয়া বিষম ব্যথা ক্রোধে বলে পাণ্ডব ফানী । শুন শুন বীরমণি জানে কৃষ্ণ চিন্তামণি সুরাসুরে রণে নাহি গণি ।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা [৫৫] কৃষ্ণ পদ হৃদে স্মরি গাণ্ডীব ধনুক ধরি অগ্রসর হইব আহবে । যনি কৃষ্ণে থাকে ভক্তি কাহার আছয়ে শক্তি বিনাশিবে সমরে পাণ্ডবে । গাণ্ডীব-টঙ্কার শুনি স্তব্ধ হবে শূলপাণি বিধি ইন্দ্র পালাবে সমরে। স্বচক্ষে হেরিবে বীর নাহি রবে কেহ স্থির সবে যাবে রণভূমি ছেড়ে । হৃদি মধ্যে সারাৎসার বলে মােরে যুদ্ধ কর তৃতীয় পাণ্ডব। রণজয়ী তুমি হবে অক্ষয় সুকীর্তি রবে বৃদ্ধি পাবে পাণ্ডব-গৌরব । যাচি আমি বীরবর আতিথ্য স্বীকার কর আহার করহ মাের পুরে । সাত্যকি কাতরে কয় গুরু তুমি ধনঞ্জয় আজ্ঞা আছে যাইতে সত্বরে। দেহ মােরে অনুমতি যাব আমি দ্বারাবতী নমস্কার করিয়ে ধৰ্ম্মেরে। শুনিয়া সাতকী বাণী হেসে বলে বীরমণি যাহ বীর যাহ ত্বরা করে ।
[ ৫৬ ] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা সাত্যকি চলিল হেরি বলে ধৰ্ম্ম অধিকারী শুন পার্থ আমার বচন। হবে ঘােরতর রণ লয় যদি তব মন দুৰ্য্যোধনে কর আবাহন। যাই আমি কুতূহলে পার্থ বলে আজ্ঞা পেলে বার্তা দিতে কৌরব রাজনে। ধর্ম বলে শীঘ্র যাহ পিতামহ বীরে কই যুদ্ধ হবে যাদবের সনে । যুদ্ধে আসে যদুবর সঙ্গে নিয়ে গঙ্গাধর গঙ্গাপুত্র বিনে কে তারিবে । বল গঙ্গা-পুত্র বীরে নেতা তিনি এ সমরে রক্ষা যেন করেন পাণ্ডবে । আজ্ঞা পেয়ে পার্থ ধায় উপনীত হস্তিনায় জানাইল রাজা দুর্যোধনে। হষমতি দুর্যোধন করি যুদ্ধ আয়ােজন উপনীত বিরাট বলরাম সহ হরি সঙ্গে নিয়া ত্রিপুরারি সুরাসুর যক্ষ রক্ষ সহ। আসিল সমর সাজে রণবাদ্য ঘন বাজে আগু হৈল দেব হব্যবাহ। ভবনে ।
গীকৃষ্ণ গীতিকা [৫৭] ভীষ্মে সেনাপতি কৰি মনােরম রথে চড়ি রণে এল রাজা যুধিষ্ঠির। স্বর্ণছত্র শােভে শিরে উজ্জ্বল ধনুক ধরে বাম ভিতে শােভে ভীমবীর। ভীমসেন গদা হাতে যাদব বাহিনী মথে বলরামে নাহি করে ভয়। মিলে সব দেবগণ করে বাণ বরিষণ অগ্রসর হৈল মৃত্যুঞ্জয় । গঙ্গাধর শূল এড়ে গঙ্গাপুত্র বাণ ছাড়ে ভূমি তলে, শূল পড়ে যায় । অতি ক্রোধে ত্রিপুরারি জয়ন্ত ধনুক ধরি ভীষ্ম বধে অতি বেগে ধায় ৷ বীরবর অস্ত্র মারি দৃঢ়তর নিবারিল দেব গঙ্গাধরে। আদিল শ্রীকৃষ্ণ রণে যুদ্ধ হইল দ্রোণ সনে আচাৰ্য বিন্ধিল দামােদরে ॥ যুধিষ্ঠির দুৰ্য্যোধন করে ঘােতর রণ নিবারণ করে দৈত্যগণে। করেতে সুতীক্ষ্ণ তীর রণে এল কৃপবীর যুদ্ধ করে কৃতবর্মা সনে। গঙ্গাপুত্র [ ৫৮ ] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা কামদেব পশে রণে যুদ্ধ করে কর্ণ সনে ক্রোধে দোহে কাঁপে থরথর। শমনে হেরিয়ে পাশে অশ্বথামা হেসে হেসে আগু হৈল নিয়ে ধনুঃশর। অভেদ্য কবচ পরি কপিধ্বজ রথে চড়ি রণে আসে বীর ধনঞ্জয়। কৃষ্ণ পদ হৃদে স্মরি ধর্মে নমস্কার করি পশে রণে নির্ভয় হৃদয়। দেবদত্ত শঙ্খ নাদ ধ্বজে মহাবীর নাদ গাণ্ডীব টঙ্কার ভয়ঙ্কর। ধনুক ধরিয়ে করে দ্রোণেরে প্রণাম করে পদতলে মারি দুই শর । হইয়ে পুলক তনু ভরদ্বাজ অঙ্গজনু স্নেহভরে ছাড়ে এক শর। শর গিয়ে চুষে শির বলে যুদ্ধ কর বীর অবহেলে জিনিবে সমর । গুরুর আশীষ লভি গুরু পদ হৃদে ভাবি দৃঢ় করে ধরে শরাসন। অৰ্জ্জুনের বীর দাপে দেবাসুর ভয়ে কাঁপে হেরি দ্রোণ আনন্দিত মন ।
কৃিষ্ণ গীতিকা [ ৫৯] প্রণে আসে পুরন্দর চড়ে ঐরাবতােপর বজ্র করে ছত্র শােভে শিরে। দেবাসুরে ভীত হেরি কোপেতে নমুচি অরি বাণ এড়ে পার্থের উপরে। পাণ্ড-পুত্র দিব্য শিক্ষা ভরদ্বাজ-পুত্র দীক্ষা অজেয় গাণ্ডীব ধরে ধনু। গােবি স্মরিয়া বীর সঘনে ছাড়িল তীর ভেদ করে সুররাজ তনু , হানিল পবনে বাণ গদা হৈল খান্ খান্ ঘােয় রবে গর্জে জলপতি। শিবে নমস্কার করি পার্থ শব্দভেদী এড়ি বরুণের করিল দুর্গতি । দেখি দেবে ভঙ্গীয়ান ক্রোধে হয়ে কম্পমান গড্ডি আসে নিতানন্দন । বজ্ৰ সম দন্ত নখে আসিল বিস্তার মুখে পার্থ বীরে করিতে ভক্ষণ। তখন গরুড় পক্ষী আকাশে আইসে দেখি দিব্য অস্ত্র নিল বীরবর। করি দ্রোণ পদ ধ্যান এড়ে ব্ৰহ্মশির বাণ অগ্নি বৃষ্টি গরুড় উপর ৷৷ [৬ ] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা ! গর্জে ব্ৰহ্মশির অস্ত্র গরুড় হইল ব্যস্ত পলাইল পেয়ে মহা ভয়। গরুড় পলায় হেরি মনে মনে হাসে হরি ধন্য বীর কুন্তীর তনয় । শক্তিপুত্র মহাবীর, কোপভরে নহে স্থির শক্তি অস্ত্র হানে পার্থোপরে । যুধিষ্ঠির পা স্মরি পার্থ রুদ্ৰবাণ মারি অচেতন করিল কুমারে। কৈলাসে মহেশ জায়া আচম্বিতে কাপে হিয়া অমঙ্গল হেরেন নয়নে। নিয়ে দৃঢ় প্রহরণ যুদ্ধে অগ্রসর হন উপনীত সমর প্রাঙ্গনে। অষ্টব মিলে রণে হেরি তাহা স্বনয়নে স্বর্গ পথে উর্বশী পলায়। ঊর্বশীর মুক্তি হেরি সবে বলে হরি হরি রণে ক্ষমা দিল যদুরায় ॥ সবে বলে জয় জয় ধন্য বীর ধনঞ্জয় ধন্ঠ ধন্য পাণ্ডু পুত্রগণে। ধন্য ধন্য কৃষ্ণ ভক্তি রােধিল তিলােক শক্তি হরি হর পরাজিত রণে।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা [ ৬১ ] ৬ রথ ছাড়ি যদুপতি ধেয়ে গিয়ে দ্রুতগতি বন্দিলেন ধৰ্ম্মের চরণ। ধর্ম আনন্দিত হৈয়া দুই বাহু প্রসারিয়া কৃষ্ণ চন্দ্রে দেন আলিঙ্গন । ভীমসেন হয়ে সুখী বলে এস কমলাখি এস ভাই দেহ আলিঙ্গন। জননী বলেছে মােরে নিয়ে যেতে ধরে তােরে স্কন্ধে ভাই কর আরােহণ ॥ পার্থবীর হেসে কয় পরাজিলে লােকয় উপলক্ষ করি পাণ্ডবে । পাণ্ডবের দিলে জয় মেনে নিলে পরাজয় তােমার তুলনা তুমি ভবে । চল সখা চক্রপাণি চিন্তিতা আছে জননী চল ত্বরা বিলম্ব না সহে । সুভদ্রা রয়েছে বসে হেরিতে দাদা শ্রীবাসে চল সখা যাই মিলে দেহে। শুনিয়া পার্থের বাণী রথে চড়ে চক্রপাণি পুষ্প বৃষ্টি দেবগণ করে। সাত্যকি চালায় রথ ক্ষণে উত্তরিল পথ সুখী কুন্তী হেরিয়ে দোহারে। - -
[ ৬২]
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
ভীমসেন বলে মাতা
ত্যজ তুমি মনােব্যথা
পাণ্ডবে সদয় যদুপতি ।
পরাজিল লােক-ত্রয়
পাণ্ডবেরে দিল জয়
ত্রিশােক ব্যাপিয়া রৈল কীৰ্ত্তি ৷
শঘ্ৰ আন দুগ্ধ দধি
খাবে মাের কৃপানিধি
নিজ হাতে দিব মুখে তুলে ।
রক্ষা কৈল ঘাের রণে
পরাজিল সজনে
মরি যেন তাঁর পতলে
ভীষ্মের শরশয্যা।
সিংহাসনে যুধিষ্ঠির
বাম পাশে ভীম বীর
পুরাে ভাগে পার্থ নারায়ণ।
রজনী প্রভাত হৈতে
যেতে হবে কুরুক্ষেত্রে
ধৰ্ম্মক্ষেত্রে নিয়ে সেনাগণ।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিক। [ ৬৩] অভিমন্যু যুযুধান ধৃষ্টদ্যুম্ন সেনাপতি সপ্ত অক্ষৌহিণী পতি নিবেদিল ধৰ্ম্ম নরবরে। দ্রোণেরে বধিব আমি স্থির জেন ধরাস্বামী শিখণ্ডী নাশিবে ভীষ্মবীরে । বৃকোদর গদা হাতে বিনাশিবে কুরুনাথে দুঃশাসন আদি সহােদরে । মধ্যাহ্ন মার্তণ্ড সম তেজ বীর্যে অনুপম পার্থবীর ভুবন মাঝারে । হলে রণে আগুয়ান ভীত হবে কৌরব সেনানী। হিড়িম্বাতনয়ে হেরি রণসাজ পরিহরি পলাইবে কৌরব বাহিনী। কৌরব রণ-সাগর অবহেলে হবে পার বৃথা চিন্তা ত্যজ নরবর । গাণ্ডীব ধনুক করে তিনলােক জয় করে তব ভ্রাতা পার্থ বীরবর ধৃষ্টদ্যুম্ন বাক্য শেষ হৃদে চিন্তি গুড়াকেশ ধৰ্ম্মবলে আনন্দিত মনে। মধু কৈটভারি হরি পাণ্ডবেরে দয়া করি সহায় হইল কুরুরণে।
[ ৬৪ ] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা পাণ্ডুত পঞ্চ-জন্য করে ধরে পাঞ্চজন্য দেবকীতনয় যদুপতি। পাঞ্চজন্য শঙ্খ নাদে ধ্বজে কপিবর নাদে কৌরবের ঘটিবে দুর্গতি ৷ গাণ্ডীব অজেয় ধনু ধ্বজে গঞ্জে বীর হনু গগাবিন্দ সারথী মাের রথে। ভীষ্ম দ্রোণ মহাবলে নিবারিব অবহেলে বিনাশিব কর্ণ জয়দ্রথে । ফাঙ্কন-বচনে তুষ্ট হলেন পাণ্ডব জ্যেষ্ঠ হেসে নৃপ করেন উত্তর। হৃদে আমি স্থির জানি শুন পার্থ বীরমণি তব সম নাহি ধনুর্দ্ধর । লক্ষ রাজা জিনি হেলে পাঞ্চালী লাভলে বলে তব তেজে কম্পিত বাসব। চিত্রসেনে জয় করি দুৰ্য্যোধনে মুক্ত করি বাড়াইলে পাণ্ডব গৌরব। যুদ্ধে তুষ্ট করি হয়ে গেলে তুমি সুরপুরে বিনাশিলে দেবতার বৈরী। উত্তর গােগৃহ রণে বিমুখিলে কুরুগণে ভীষ্ম দ্রোণ ভীত রণ হেরি।
কৃষ্ণ গীতিকা : [ ৬৫ ] যদি দেহ যুদ্ধে মন ভঙ্গ দিবে কুরুগণ কার সাধ্য তব রণ সহে। হৃদে তব দয়া অতি পাছে কর অন্য মতি তাই ভাবি মন মাের মােহে । চাহিয়ে পার্থের পানে মৃদু হেসে হৃষ্ট মনে নৃপবরে বলে নারায়ণ। ত্যজ চিন্তা ধৰ্ম্মরাজ রণে নাহি পাবে লাজ যুদ্ধে যেতে কর আয়ােজন । ভাই তব ধনঞ্জয় সুরাসুর করে ভয় বৃকোদর অনিল সমান। তেজে বৈশ্বানর সম ধৃষ্টদ্যুম্ন অনুপম সখা তব সাত্যকি ধীমান্ । দূর কর সব ভয় রণে তব হবে জয় রণে যেতে দেহ অনুমতি। পাণ্ডব গৌরব হবে অক্ষয় সুকীৰ্ত্তি রবে কুরুরাজ্যে হইবে নৃপতি। গােবিন্দের আজ্ঞা শুনি আনন্দিত নৃপমণি কৃতাঞ্জলি করে দেবে স্তুতি। সদা বলে অন্তর্যামী যখন সহায় তুমি নষ্ট হবে কৌরব দুৰ্ম্মতি ।
[ ৬৬] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা == অনুমতি কিবা বল তুমি পাণ্ডবের বল সহায় সম্পদ তুমি হরি। কিবা বল জয়জয় কিবা বল মাের ভয় তব আজ্ঞা সদা শিরে ধরি । প্রাতে যাবে সর্বজন নিয়ে দৃঢ় প্রহরণ কুরুক্ষেত্র সমর প্রাঙ্গনে। প্রাণ সম অৰ্জ্জুনেরে সমর্পিনু তব করে চলিলাম বিশ্রাম ভবনে । রজনী প্রভাত বহে মৃদুবাত পূরবে উদিত ভানু। পার্থ মহারথী গগাবিন্দ সারথী সাজিল পুলক তনু । ঘন শঙ্খ ধ্বনি করে যদুমণি সজ্জিত সারথী সাজে। নীলােৎপল আভা কোটী সূৰ্য্য প্রভা ভাস্কর মলিন লাজে । নীরদ বরণ অর্জুন কিরীট শিরে। ভুবনে অতুল রূপেতে কুমার হারে। কৌস্তভ ভূষণ শ্রীকৃষ্ণ যুগল শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা [ ৬৭ ] যদুকুল শশী রথােপরে বসি করেতে বগা ধরি। চালাইল হয় দেবকী তনয় কৌরব বাহিনী হেরি । রথ ধায় দ্রুত পার্থ আনন্দিত গাণ্ডীব ধনুক করে । পাঞ্চজন্য নাদ কপির নাদ ত্তিলােক কম্পিত করে । দেব-দত্ত ধ্বনি কাপিল ধরণী পাণ্ডুর তনয় আসে। ভীষ্ম দ্রোণ কর্ণ হইল বিবর্ণ কৌরব অস্থির ত্রাসে। নর নারায়ণ ভূবনমােহন অনুপম দেহ দ্যুতি। কি দিব তুলনা জগতে মিলেনা রবি শশী জিনি ভাতি। ভকত জীবন দেব নারায়ণ ভকত গৌরব তরে। সুদর্শন ছাড়ি অশ্ব রশ্মি ধরি পশিল সমর ঘােরে।
[ ৬৮ ] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা কৌরবের সেনাপতি ভীষ্মদেব মহামতি উঃৈস্বরে বাজাইল শস্থ। ভেরি শব্দ ঘন ঘন আনক গােমুখ স্বন রিপুগণে করিল আতঙ্ক। শ্বেতবর্ণ অশ্বযুত মহতি স্যন্দনে স্থিত মাধব পাণ্ডব আসে রণে। পাঞ্চজন্য হৃষিকেশ দেবদত্ত গুড়াকেশ পৌণ্ড বাজে ভীমের বদনে। অনন্ত বিজয় নাম ধরে ধ য় গুণধাম সুঘােষ নকুল মুখে বাজে। মণিপুক সুন্দর ধরে সহদেব বীর শঙ্খ ধ্বনি কুরুবুকে বাজে । হেরি কৌরব বাহিনী বলে পাণ্ডব ফান্ধনী রথ রাখ কৃষ্ণ মধা স্থানে। কুরু সেনাপতিগণে যাবত হেরি নয়নে কে কে যুদ্ধ ইচ্ছে মােরসনে। পার্থ বাক্যে পীতবাস নিয়ে যান কুরুপাশ হিরণ্যে খচিত কপিধ্বজ। বলে হেয় পাবীর এই সব কুরুবীর হের অগ্রে গঙ্গার আত্মজ ॥
শ্রীকৃষ্ণ গীতিক [ ৬৯ ] হেরে পার্থ ভীষ্ম দ্রোণ কৃপ বাহলীক লক্ষ্মণ চারিদিকে প্রতি বন্ধুগণ । হেরিয়ে বিষন্ন অতি ধনঞ্জয় মহামতি কর হৈতে পড়ে শরাসন। গুরু বৃদ্ধ বধে ভীত সব্যসাচী কুন্তীসুত বক্ষ বয়ে পড়ে নেত্ৰজল। ঘন কাঁপে বক্ষ তনু ত্যজি তূণ শর ধনু অপােমুখে বসে মহাবল। বিশ্বরূপ ধরি হরি অৰ্জ্জুনে মােহিত কর বলে শুন আমার বচন। বধিয়াছি কুরুগণে হের পার্থ স্বন:নে হও তুমি নিমিত্ত কারণ। কৃষ্ণ বাক্যে মােহ ভর ত্যজি, বীর ধনঞ্জয় গাণ্ডীব ধনুক নিল করে। জােজর কৃষ্ণে দিয়ে নিজে অনাসক্ত হয়ে প্রবেশিণ সমর সাগরে। হের হের মণ ওহে সুধীগণ গগন ছাইল বাণে। করেতে গাণ্ডীব, বামেতে মাধব অৰ্জ্জুন ধাইছে রণে ।
[৭০] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা কপির ঘােষ গাণ্ডীব নির্ঘোষ চৌদিকে অনল বাণ। পাঞ্চজন্য ধ্বনি শত বজ্র ধ্বনি বধির করিল কাণ ॥ ভারদ্বাজ দীক্ষা ইন্দ্রপুরে শিক্ষা অক্ষয় ধনুক করে। ঝাঁকে ঝাঁকে বাণ করিছে সন্ধান সন্ধান যুগল করে । কোদণ্ড প্রচণ্ড করে লও ভ কৌরব বাহিনী কাঁপে। হেরি সবে ভীত বীর দেবব্রত ধাইল বিষম কোপে। ধরি দিব্য ধনু বিন্ধে পার্থ তনু ধনুকে অনল জ্বলে। মাধব উপরে তীক্ষ্ণ বাণ মারে অৰ্জ্জুন উঠিল জ্বলে । দুহাতে গাণ্ডীব ধরিয়া পাণ্ডব আকর্ণ, সন্ধান, পূরে। কাটে ভীষ্ম-ধ্বজ পাণ্ডুর ভীষ্মেরে ভেদিল শরে । , অঙ্গজ কৃষ্ণ গীতিকা [ ৭১ ] চারি বাণ মারি কাটি অশ্ব চারি ভীষ্মের পানেতে চায়। বীর দেবব্রত হেরিয়া অদ্ভুত আনন্দে বাখানে তার । ধরে অর্জুন কুন্তীর নন্দন আমারে ভেদিলে বাণে। জামদগ্ন্য বীর নাহি ছিল স্থির আমার সহিত রণে। ধন্য তাের শিক্ষা দিলেরে পরীক্ষা ভরত কুলের রত্ন। করি আশীর্বাদ পূরে যেন সাধ সফল হউক যত্ন এত বলি বীর ছাড়ে তীক্ষ তীর কৃষ্ণ বক্ষেতে পড়ে। হেমিয়ে অর্জুন ক্রোধে হুতাশন ভীষ্মের সারথী মারে। ভকত বৎসল ভকত সম্বল ভকত রক্ষার তরে। হের বক্ষে বাণ ধরে ভগবান ধর বহিছে ধারে।
[ ৭২ ] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা রুধির ভূষণ বাণে বিদ্ধ হের কঁপে কলেবর তবু না ভক্তেরে ত্যজে। নীরদ বরণ নীরদে বালার্ক রাজে। ভীষ্ম বলবান মারে তীক্ষ্ণ বাণ পার্থে না বিন্ধিতে পারে। রথ সদা ঘুরে বাণ হৈতে দূরে কে মারে সে রাখে যারে । পার্থের হুঙ্কার গাণ্ডীব ঝঙ্কার বজ্র সম বাণ ধায়। কুরু সৈন্য ভীত হারাইয়ে পথ বিপথে ভয়ে পলায়। ভীষ্মৰ্জ্জুনে রণ হল বহুক্ষণ কেহ না জিনিতে পারে । গগাধূলি সময়ে পরাজিত হয়ে দেবব্রত ফিরে ঘরে। অষ্টম দিবস রণ পরাজিত কুরুগণ দুর্যোধন করে হাহাকার। নবম দিবস শেষে ভীষ্মবীর মহারােষে বহু সৈন্য করিল সংহার ।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা [৭৩] শিবিরে গমন করি রণ সাজ পরিহরি সিংহাসনে বসে যুধিষ্ঠির। বলে শুন যদুবর সেনাপতি অস্যে কর ভীষ্ম রণে যে হবে স্থির। তােমার অর্জুন সখা করে পদে বাণ রেখ। মধ্যস্থ হয়েছে কুরু রণে। কি উপায় নারায়ণ পুনঃ যেতে হবে বন কেন যাব যম নিকেতনে । অর্জুন ধরিলে ধনু বিন্ধে সুররাজ তনু কেবা আছে যুঝে তার সনে। যুদ্ধে তুষ্ট কর হরে পাশুপত অস্ত্র ধরে অব্যর্থ সন্ধান, তার বাণে। উপেক্ষা করিছে রণ হরিতেছ নারায়ণ ভীষ্ম দ্ৰোণ সৈন্য মারে হেলে । এত বলি নরপতি হলেন দুঃখীত অতি নেত্রদ্বয় পূর্ণ হৈল জলে। চাহিয়ে অর্জুন পানে হরি বিনয় বচনে যুধিষ্ঠিরে করে নিবেদন। আজ্ঞা কর মহারাজ পরি আমি রণসাজ কুরু যুদ্ধে করিব গমন। } [ ৭৪ ] কৃষ্ণ গীতিকা ধরিয়া শারঙ্গ ধনু বিন্ধিব ভীষ্মের তনু কুরুগণে করিব বিনাশ । বৃথা চিন্তা পরিহর ওহে ধৰ্ম নরবয় পুরাইব তব অভিলাষ । অব শ্রাতা ধনঞ্জয় ভীষ্মবীরে করি জয় ইচ্ছা করে সুযশ লভিতে। সুণে ক্ষান্ত তাই আমি শুনহে ধরণী স্বামী যুদ্ধ ইচ্ছা সদা করি চিতে। অর্জুন বলুক মােরে তীক্ষ অস্ত্র নিয়ে করে কল্য করি ভীষ্মেরে সংহার। ভীষ্মীর হত হৈলে কুরু যাবে রসাতলে ধরা রাজ্য লভিবে আবার। নাশিতে বিপক্ষ পক্ষ পার্থবীর এক শক্য কিন্তু ভীষ্মে দৃঢ়ভক্তি তার । মৃদু যুদ্ধ সদা করে ভয় যদি ভীষ্ম মরে অপশ হইবে তাহার। মােহান্ধ হয়েছে পার্থ নাহি বুঝে নিজ স্বার্থ ফেলিয়াছে বিপদে আমারে। করিব প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ ধরিব ধনু শারঙ্গ রণে যেতে আজ্ঞা কর, মােরে ।
কৃষ্ণ গীতিকা [ ৭৫ ] বলে ধৰ্ম্ম নরপতি শুনহে কৃষ্ণ সুমতি শুন ভাই শুন সাবধানে। রণে নাহি জয় হবে তাতে মাের কিবা যাবে কিন্তু যাবে কৃষ্ণ নিন্দা শুনে। সম্বন্ধ গৌরব জন্য ধরিয়াছ পাঞ্চজন্য সাজিয়াছ সারথীর সাজে। তুচ্ছ এই রাজ্য জন্য হইবে প্রতিজ্ঞা শূন্য হেন.বাণী কভু নাহি সাজে । মাের হিতে সদা রত গঙ্গামুত দেবব্রত মাের জয় সদা ইচ্ছে হৃদে । বলেছেন স্নেহ বশে যাইতে তাহার পাশে চল যাই ধরি গিয়া পদে । তিনি বলিবেন যাহা অবশ্য করিব তাহা এই যুক্তি মাের মনে লয় । হাসিয়া বলেন হরি চল নৃপ ত্বরা করি রণে জয় হইবে নিশ্চয়। চলিল পাণ্ডবগণ সহ দেবকী-নন্দন উপনীত ভীষ্মের শিবিরে। দ্বারপাল জানাইতে ভীষ্ম, আনন্দিত চিতে আগু হয়ে নিল দামােদরে ।
[ ৭৬ ] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা প্রণতি করিয়া পদে বলে ধৰ্ম্ম মনভেদে পিতামহ কি উপায় করি। কিরূপে হইবে জয় বল শান্তনু তনয় তব রণে উপায় না হেরি ॥ ভীষ্মবীর হেসে কয় শুন কুন্তীর তনয় সখা তব দেব যদুপতি। আসিয়া আমার স্থান বাড়ালে আমার মান চিরকাল ধৰ্ম্মে রেখ মতি । শত ভীষ্ম দ্রোণ দ্রোণী শুনি পাঞ্চজন্য ধ্বনি নাহি স্থির রহিবে আহবে । হেন সাধ্য আছে কার করে তব অপকার কার সাধ্য জিনিবে পাণ্ডবে । ক্রুদ্ধ হলে নারায়ণ দহে সব ত্রিভুবন কি ছার কৌরব বলে রণে। রণে তব হবে জয় কুরু পাবে পরাজয় মতি রেখ গােবিন্দ চরণে। নর-নারায়ণ বিনে নাহি কেহ ত্রিভুবনে রণে মােরে করে পরাজয়। শিখণ্ডী অগ্রেতে করি গগাবিন্দে সারথী করি : আসে যেন বীর ধনঞ্জয়।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা [ ৭৭ ] = নষ্ট হবে কুরু দুষ্ট তােমার পূরিবে ইষ্ট কুরু রাজ্যে হইবে নৃপতি। লভিবে বিমল যশঃ দূরে যাবে যুদ্ধ ব্লেশ ধৰ্ম্মে স্থির রহিও সুমতি। প্রহার করিও মােরে চিন্তা ত্যজি অকাতরে ফিরে যাও আপন শিবিরে। অন্তঃকালে কিন্তু মাের পুনঃ এস নৃপবর সঙ্গে নিয়ে দেব দামােদরে। শুনিয়ে ভীষ্মের কথা অন্তরে বাজিল ব্যথা কেন্দে বলে কবচ-দমন। # রাজ্য নাহি চাহি হরি বলি তব পদে ধরি অতি বৃদ্ধ শান্তনু নন্দন । তাঁহার বিনাশে ইষ্ট হবে জনার্দন। আমা হতে নাহি হবে অন্য যুক্তি কর সবে উপায় না হেরি নারায়ণ । - পিতামহ জীর্ণ দেহ হতেছে আমার স্নেহ তঁারে বিন্ধি বল কোন প্রাণে। রুধিয়ে রঞ্জিত রাজ্য কিম্বা ত্রিদিব সাম্রাজ্য সুখ নাহি দিবে মাের মনে। # কবচ-দমন-অর্জুন। পূজ্যতম কুল শ্রেষ্ঠ কভু নাহি [৭৮] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা শিশুকালে পিতা বলে উঠি তাহার কোলে বলেছিল কেঁদে পিতামহ। পিতার পিতৃব্য আমি পিতা না বলিহ তুমি ইহা বলি করেছিল স্নেহ। ধূলি ধূসরিত হেরে পিতামহ স্নেহভরে ধূলি ঝাড়ি নিয়েছিল কোলে। তার বিনিময়ে বাণে ব্যথা দিলে তার প্রাণে দগ্ধ হব রৌরব অনলে । যাবে মাের ইহকাল যাবে মাের পরকাল যাবে মাের ধৰ্ম্ম অর্থ সব। যা রাজ্য যা ধন পুনঃ ফিরে যাব বন উপায় না হেরি কেশব এত বলি পার্থবীর দুনয়নে বহে নীর অধধামুখে বসে ধরাতলে । উপায় চিন্তিয়া হরি অর্জুনের বাহু ধরি ভূমি হৈতে উঠাইল বলে । শ্রীকৃষ্ণ বলেন পার্থ নাহি জান ধৰ্ম্ম অর্থ নাহি জান ক্ষত্রিয়ের রীতি। ধৰ্ম্ম যুদ্ধে ক্ষত্রগণ নাশে গুরু বৃদ্ধগণ চিরকাল আছে এই নীতি ।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা [৭৯] ' পার্থ বলে নিবারিব কৌরববাহিনী সব শিখণ্ডী ভীষ্মেতে হবে রণ। শিখণ্ডী পশ্চাতে হরি যাইব ধনুক ধরি বিনাশিব কুরু সেনাগণ। কুরু মহারথীগণে বিনাশ করিব রণে শিখণ্ডীরে রক্ষিব সতত। শিখণ্ডী উপরে বাণ নাহি ছাড়ে মতিমান ব্রহ্মচারী বীর দেবব্রত। এই যুক্তি স্থির করি ভীষ্মেরে প্রণাম করি ফিরে এল পাণ্ডুপুত্রগণ। রজনী প্রভাত হল দশদিশি প্রকাশিল বাহিরিল পাণ্ডুসৈন্যগণ। শিখণ্ডী অগ্রেতে চলে ধনুক আকষি বলে ঘন ঘন ছাড়ে সিংহনাদ। পশ্চাতে গাণ্ডীব ধরি চলিল নিবাত অরি দেবদত্ত করে ঘাের না। পাঞ্চজন্য ঘন বাজে শৈল সম বুকে বাজে ভীষ্ম দ্রোণে করে কম্পমান। চারিদিকে অমঙ্গল কপিল কৌরব দল দিনকর হয়ে গেল ম্লান।
[ ৮০ ] শ্রীকৃষ্ণ গতিক ভীষ্মের সারথী কয় শুন শান্তনু তনয় আজি রণে কুশল না হেরি। শিবাগণ ঘন ডাকে ধ্বজ বেড়িয়াছে কাকে রুদ্রমূর্তি ধরেছে শ্রীহরি। ভীষ্মদেব বলে সুত সাক্ষাতে হের অদ্ভুত গােবিন্দ পরমানন্দ হরি। নির্ভয়ে চালাও রথ পূর্ণ হবে মনােরথ নেত্র ভরে হেরিব মুয়ারী। জীবৎস লাঞ্ছন হরি অশ্ব রশ্মি করে ধরি আসিছেন সম্মুখে আমার । কভু নহে কার অরি সদাই বিপদ বারী হরি সদা সুধার আধার । সুধাময় হরি নিত্য তাঁর নাম সদা সত্য তার নামে শমন পলায়। কেন সুত হলে ভ্রান্ত শ্রীহরি নহে কৃতান্ত অন্তঃকালে জীবের উপায় । মাের মাতামহ হরি মাের প্রতি স্নেহ ভারি হের হাসি অধর কোণেতে। সত্বর চালাও হয় দূর কর মিথ্যা ভয় রথ রাখ অর্জুন অগ্রেতে। ** শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা [ ৮১] . হের দামােদর রূপ মনােহর নীল কলেবর ভাতি। চরণ রাতুল জগতে অতুল য়া দ্যুতি । সিংহ জিনি কটি আটি দৃঢ় ধনী আজানু লম্বিত ভুজ। সুবিশাল রক্ষ হরি কমলাক্ষ অজামধ্যে যেন গজ। করে পাঞ্চজন্য পাণ্ডুত জন্য অর্জুন সারথী হয়। জগত শরণ্য জগতের জন্য একাকী পার্থের নয় । যুগল নয়ন করে আকর্ষণ ভুবনের নরনারী। কৃষ্ণ কালবারী ভবার্ণবে তরী হের সুত আঁখি ভরি । করুণার ধারা ভাসিতেছে ধরা জগত মঙ্গল হরি। কভু নহে কাল যশােদাদুলাল কালের পরম অরি। :
[ ৮২} শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা হয়ে এক মন হের শ্রীচরণ আনন্দে চালাও হয়। নাহি কোন ভয় জানিহ নিশ্চয় মাধব মঙ্গলময় । সুত চালাইল হয় হাসে গঙ্গার তনয় প্রচণ্ড কোদণ্ড নিল করে। করে ঘাের অস্ত্রবৃষ্টি যেন মজাইতে সৃ পাণ্ডু সৈন্য হাহাকার করে । পড়িল অনেক সৈন্য ঘন বাজে পাঞ্চজন্য ক্রোধে কঁপে দেব দামােদর। কোপেতে কমল আঁখি হইল লােহিত আঁখি হেরি পার্থ সভয় অন্তর । হেন কালে ভীষ্মবীর বলে শুন শুন ভাই শুন স্থির মনে। বধেছি অনেক সৈন্য হৃদয়ে হয়েছে দৈন্য ত্বরা বধ কর মােরে রণে। ভীষ্মের আদেশ পেয়ে কুন্তীসুত সুখী হয়ে ধৃষ্টদ্যুম্নে বলেন তখন। সত্বর নিয়ে বাহিনী আগু হও বীরমণি কর আজি ভীষ্ম সহ রণ। যুধিষ্ঠির ::
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা [ ৮৩ ] ধাইল পাণ্ডব বল কাঁপে মর্ত্য-রসাতল ঘন ঘন হয় শঙ্খধ্বনি। দেবদত্ত পার্থ পুরে রৌদ্রবাণ ঘন ছাড়ে ভয়ে কাঁপে কৌরববাহিনী। শ্রাবণ ধারার মত বাণ বৃষ্টি অবিরত সহস্র সহস্র বাণ ধায়। যেন যুগান্তের যম পার্থ রণে অনুপম চতুরঙ্গ ভয়েতে পলায়। দ্রোণাচাৰ্য মতিমা হেরি ঘাের অকল্যাণ বলিলেন আপন আত্মজে। শুন পুত্র মহাবীর মাের মন নহে স্থির শুন শুন ঘাের শঙ্খ বাজে। পাঞ্চজন্য দেবদত্ত হরে নিল সব সন্তু সহীন সব যােদ্ধাগণ। বাণ নাহি ধনু ছাড়ে ধনুক খসিয়া পড়ে বক্ষ উরু কাপে ঘনেঘন । যাও বৎস ত্বরা করে তীক্ষ্ণ বাণ নিয়ে করে রক্ষ গিয়ে শান্তনু কুমারে। আজি রণে দেবব্রত পার্থ করে হবে হত বহু সৈন্য যাবে যমঘরে ।
[ ৮৪ ] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা পিতৃ আজ্ঞা পেয়ে বীর করে নিয়ে তীক্ষ্ণ তীর চলে গেল দেবব্রত পাশে। শিখণ্ডী আক্রোশ ভরে বাণ ছাড়ে ভীষ্মেপরে তারে হেরি কুরুবৃদ্ধ হাসে। অর্জুন উপরে বাণ মারে ভীষ্ম বলবান্ ব্যথা পায় কুন্তীর তনয়। ধরিয়া অজেয় ধনু বিন্ধিল ভীষ্মের তনু ধনু তঁার কাটে ধনঞ্জয় । যত ধনু ভীষ্ম লয় পার্থ করে হয় লয় দেবব্রত কাঁপে ক্রোধভরে। অশ্বত্থামা দুঃশাসন কৃপ শল্য দূর্যোধন রক্ষা করে গঙ্গার কুমারে। অভিমন্যু যুযুধান যুধামন্য চেকিতান ভীমসেন পশিল সমরে। ভীষ্মৰ্জ্জুনে মহারণ অগ্নি অস্ত্র বরিষণ বহু সেনা যায় যমপুরে। ঘন ঘন শঙ্খনাদ চারিদিকে আর্তনাদ বাণ বৃষ্টি হয় চারিভিতে। পার্থের অজস্র বাণ কুরুবৃদ্ধ" ধনুস্মান অক্ষম হইল নিবারিতে ।
কৃষ্ণ গীতিকা [ ৮৫} নৃপতিচয় বুকে বাণ বিদ্ধ হল হয়ে বৃদ্ধ হীনবল পড়ে গেল সন হইতে। কৌরব পাণ্ডব সব ধনু অস্ত্র ছাড়ি সব দাড়াইল তার চারিভিতে । বলে গঙ্গার তনয় শুনহে নৃ উপাধান আন ত্বরা করে। লম্বিত হয়েছে শির মন মাের নহে স্থির যােগ্য উপাধান দেহ মােরে । শুনি কুরু নরপতি হইয়ে ব্যাকুল অতি ত্বরা আনে দিব্য উপাধান। হেরি বিষন্ন বদন হল গঙ্গার নন্দন বলে কোথা অৰ্জ্জুন ধীমান্ । শুনিয়ে ভীষ্মের বাণী জুড়িয়ে যুগল পাণি বলে পার্থ আজ্ঞা কর দাসে। ভীষ্ম বলে ধনুস্মান্ দেহ মােরে উপাধান যােগ্যবলি যেন লােকে ঘােষে ॥ আজ্ঞা পায়ে পার্থবীর ছাড়িল সুতীক্ষ্ণ তীর তীর হল শিরে উপাধান। যােগ্য উপাধান পেয়ে ভীষ্মদেব সুখী হয়ে ধন্য ধন্য করিল বাখান।
[ ৮৬ ] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা পরদিন বলে বীর মন মাের নহে স্থির পিপাসায় হয়েছি অস্থির। কোথা নৃপ দূর্য্যোধন পানীয় সত্বর আন প্রাণ মাের হতেছে বাহির। আজ্ঞা পেয়ে মহাবল সুবর্ণ ভৃঙ্গারে জল আনে ত্বরা ভীষ্মের সদনে। হেরয়ে দুঃখী ত অতি গঙ্গাপুত্ৰ মহামতি বলে ডাক সত্বর অর্জুনে। বার্তা পেয়ে মহােয়াসে পার্থ গিয়ে ভীষ্ম পাশে বলে আজ্ঞা কর এ কিঙ্করে । ভীষ্ম বলে শুন বীর পিপাসায় নহি স্থির উত্তম পানীয় দেহ মােরে। শুন ভাই বীর পার্থ তুমিই একা সমর্থ দিতে মোরে পানীয় উত্তম। সত্বর পানীয় দেহ হের কাঁপিতেছে দেহ নরললাকে তুমি নরােত্তম। ভীষ্ম বাক্যে পাবীর ছাড়িল সবলে তীর পৃথিবী ভেদিল এক বাণে। ভােগবতী গঙ্গাজল করি ভীষণ কল্লোল বেগে পড়ে ভীষ্মের বদনে।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা [ ৮৭ ] হেরিয়ে কৰ্ম্ম অদ্ভূত হর্ষে বলে গঙ্গাত ধন্য পার্থ ধন্য মহাবল। হইনু পরম তুষ্ট সত্বর লভহ ইষ্ট ধরা রাজ্য কর করতল । সবিতা দক্ষিণে হেরি গঙ্গাসুত ব্রহ্মচারী মৃত্যু ইচ্ছা পরিত্যাগ করে। রহে কাল প্রতীক্ষায় মৃত্যু না নিকটে যায় রহে বীর শরের উপরে । দিন অষ্টপঞ্চাশত ভীষ্ম শরশয্যাগত ধ্যান করে দেব দিবাকরে। জিতেন্দ্রিয় মহাসত্ত্ব কে বুঝিবে ভঁর তত্ত্ব তত্ত্বজ্ঞানী বিখ্যাত সংসারে। পিতার সন্তোষ তরে রাজ্য দারা অকাতরে বিসর্জন দিল যেই জন । মৃত্যু যার ইচ্ছাধীন ভৃত্য সম আজ্ঞাধীন যারে হেরি পলায় শমন । হইলে উত্তরায়ণ সঙ্গে নিয়ে জনার্দন ধৰ্ম্মরাজ গেল তার পাশে । বলে পিতামহ হের চক্রধর দামােদর ঈড়াইয়ে মনোেহর বেশে।
[ ৮৮ ] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা চারিদিক সুপ্রকাশ ধৃতরাষ্ট্র ভীমবীর সহদেব পার্থ ধীর নকুল দাড়ায়ে পদপ্রান্তে। এল চান্দ্র মাঘ মাস হের আৰ্য হের লক্ষ্মীকান্তে । শুনি যুধিষ্ঠির বাণী দেবব্রত বীরমণি চক্ষু মেলি দরশন করে। দূরে হেরি জনার্দনে বিষম বাজিল প্রাণে হৃদয়ে হেরিতে ইচ্ছা করে । হৃদয় করিয়া স্থির গঙ্গাপুত্র মহাবীর হৃদে ভাবে দেব নারায়ণে। ওহে প্রভু যদুনাথ তুমি অনাথের নাথ নাথ হীন জেনাে দীনজনে। ওহে প্রভু শ্রীনিবাস আমি যে দাসের দাস দয়া করে কর হৃদে বাস । ছেড়েছি সংসার বাস এবে কুরুক্ষেত্রে বাস কৃপা করে কাট অষ্ট পাশ । নষ্ট কর যমদণ্ড স্থানে এসে দেহ মােরে দণ্ড। নিজ হাতে কর দণ্ড গত হল বহু দণ্ড দগ্ধ করে প্রচণ্ড মার্তণ্ড ।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা [ ৮৯ ] বাণে বুক ভেদ করে হের কষ্টে আঁখি ঝরে মাের মত কেবা নিরুপায়। ত্বরা এস যদুরায় রাখ মােরে রাঙ্গাপায় তােমা বিনা না হেরি উপায় । শিরে মাের নাহি শর হের প্রভু দামােদর পদ তুমি রাখ সেই স্থানে। তব পদস্পর্শে হরি যাব আমি ভবতরি রক্ষা কর দুহিতা-সন্তানে। হয়ে কৌরবের পক্ষে যুঝেছি তব বিপক্ষে, দয়া কর মূঢ় দুরাচারে। দয়ার সাগর তুমি অধম পাতকী আমি রক্ষা কর এ দীন কিঙ্করে । শুকাবে না দয়া সিন্ধু দিলে মােরে এক বিন্দু ইন্দু সুধা দেয় সর্বজনে । চন্দন ঘষলে প্রভু সুগন্ধ না ছাড়ে কভু ইক্ষু শুধু রস দিতে জানে। নাহি জানি ভক্তি স্তুতি তুমি দীনহীন গতি রক্ষা কর এ ঘাের বিপদে। ভক্তাধীন কমলাখি ভীষ্ম দুঃখে ঝরে আঁখি লক্ষীসহ দেখা দিল হৃদে ।
[ ৯০ ] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা কৌস্তভ ভূষণ লক্ষ্মীনারায়ণ গঙ্গার নন্দন হেরিয়া আনন্দে ভাসে। পদে সুরধুনী করে কুলুধ্বনি মাভৈঃ মাভৈঃ বলে হাসে। চরণ সরোজে কোটী চন্দ্র রাজে জন্মেছে জননী যথা। শ্রীপদে প্রণতি করে মহামতি ভুলিল সকল ব্যথা। শ্রীবৎসলাঞ্ছন ভুবনমােহন বিভু। তুলসী-ভূষিত ত্রিলােক শরণ্য প্রভু । আজানুলম্বিত বাহু সুগঠিত নাগ বিনিন্দিত রাজে। সিংহ পরাজিত শ্ৰকটী শােভিত বিবিধ সুন্দর সাজে। বদন মণ্ডল মিল তিলক ভালে। অতুল অধর ললাট প্রসর মুকুতা শােভিছে গলে। চন্দন চতি ফুল্ল শতদল কৃষ্ণ গীতিকা [ ৯১ ] কুণ্ডল করে ঝলমল বামেতে কমলা রাজে। কমল নয়ন সহাস্য বদন অভয় দুন্দুভি বাজে । গন্ধব কিন্নর যক্ষ বিদ্যাধর শ্রীপদ মহিমা গায়। দেব ঋষি যত হয়ে অবনত প্রণাম করিছে পায় । হরি কমলাক্ষি বামে শােভে লক্ষ্মী অনুপম দেহ আভা। মূঢ় ভক্তি হীন অশক্ত এ দীন কিঞ্চিৎ বর্ণিতে শােভা। সুদর্শন করে ভীষ্মের নাশিছে মােহ। হর্ষে গঙ্গাত হেরিছে অচ্যুত আনন্দে কাঁপিছে দেহ। লক্ষ্মী বাম পাশে মৃদু মৃদু হাসে হেরিয়া হরির দয়া। জয় শঙ্খরব শুনি শান্তনব ছাড়িল দেহের মায়া। অষ্টপাশ হরে
[ ৯২ ']
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
ধন্য ভীষ্মদেব
যারে বাসুদেব
দিলেন পদ ছায়া।
অন্তকালে হেরি
মধুকৈটভারি
আনন্দে ত্যজিল কায়া ॥
জয়দ্রথ বধ।
সংসপ্তক যুদ্ধ শেষ
গৃহে চলে গুড়াকেশ
বক্ষ উরু কাঁপে ঘনঘনে।
করুণ ক্রন্দন করে
বায়স ধ্বজেতে পড়ে
প্রাণ কেন্দে উঠে ক্ষণে ক্ষণে।
কাতরে বলিল বীর
শুন সখা যদুবীর
অমঙ্গল কেন চারিভিতে।
বল বল বল সখা
কি মাের কপালে লিখা
দেহ কেন কাঁপে আচম্বিতে।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা [ ৯৩ ] বল বল বল হরি বল মােরে ত্বরা করি কেমন আছেন যুধিষ্ঠির । দ্রোণাচাৰ্য বলবান্ নিল কি তাহার প্রাণ ভেবে আমি হতেছি অস্থির । শুন শুন চক্রপাণি কৌরবের জয়ধ্বনি পলাইছে পাণ্ডববাহিনী। কি হৈল কি হৈল রণে কেন কান্দে যােদ্ধাগণে বল বল বল যদুমণি! শ্রীকৃষ্ণ বলেন ভয় ত্যজ তুমি ধনঞ্জয় কুশলে আছেন ধর্মরাজ। চল যাই শিবিরেতে বলিব সব পশ্চাতে অল্প ক্ষতি হইয়াছে আজ। কপিধ্বজ বেগে ধায় শিবিরেতে ত্বরা যায় রথ ত্যজে নরনারায়ণ। যােদ্ধাগণ পার্থে হেরে হেরি পার্থ বিষন্ন বদন । আকুল হইয়ে বীর গেল যথা যুধিষ্ঠির প্রণাম করিল গিয়ে পদে। চারিদিকে নেহারিয়ে ভদ্রাসুতে না হেরিয়ে বলিতে লাগিল মন খেদে । পলাইল বহু দূরে [ ৯৪ ] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা কোথা অভিমন্যু মোর বল ধর্ম নৃপবর কেন নাহি আসে মাের কাছে । চক্রপাণি ভগ্নীসুত বীরত্ব যার অদ্ভুত হেরি জীবন মাের মিছে। প্রথম যুদ্ধের দিনে ভীস্নেরে ভেদিল বাণে কেটেছিল তার স্বর্ণধ্বজ । র মধ্যে অগ্রগণ্য অতুল দেহ লাবণ্য বল কোথা আমার আত্মজ ॥ কেন্দে বলে যুধিষ্ঠির শুন ভাই পার্থবীর চক্রব্যুহে দ্রোণ করে রণ। মাের অনুমতি পেরে অভিমন্যু গেল ধেয়ে আরলি গুরু সহ রণ। বৃহমুখে জয়দ্রথ দিল পশিতে পথ সবে মিলি বধেছে কুমারে। ত্বরা কাট মাের মাথা দূর কর মনােব্যথা অনুমতি দিলাম তােমারে । শুনি নিদারুণ বাণী অস্থির গাণ্ডীবপাণি হা পুত্র বলিয়া ভূমে পড়ে। কান্দে রাজা যুধিষ্ঠির বক্ষ বয়ে পড়ে নীর যােদ্ধাগণ হাহাকার করে।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা ( ৯৫ ] পাঠাইব যমপুরে কতক্ষন পরে জ্ঞান লভি পার্থ মতিমা বলে বীয় মহা ক্রোধভরে। সৈন্ধবে বধিব আমি শুন শুন ধরাস্বামী যদি নাহি যায় যুদ্ধ ছেড়ে। তোমার শরণ নেয় কিম্বা কৃষ্ণ ক্ষমা দেয় তবে রক্ষা পাইবে দুৰ্ম্মতি। নতু কল্য তীক্ষ শরে স্বচক্ষে হেরিবে তার গতি ॥ কল্য সূৰ্যাস্তের পূর্বে হেরিবে কৌরব সর্বে জয়দ্রথ শূন্য এই ধরা। কর্ণ দ্রোণ দূৰ্য্যোধন কান্দিবেক সর্বজন নেত্ৰনীরে ভাসিবেক ধর। যদি না বধিতে পার অগ্নি প্রজ্জ্বলিত করি জীবন ত্যজিব শুন সবে । শুন শুন যােদ্ধাগণ এই মাের দৃঢ়পণ কল্য প্রাতে রণে যেতে হবে । ইহা বলি মহাবল গাণ্ডীবে টঙ্কার দিল শব্দ উঠে ভেদিয়া আকাশ। ভীম করে সিংহনাদ দর হৈল অবসাদ কুরুবুকে উঠে নাভিশ্বাস।
[ ৯৬ ]
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
ভীষণ তুমুল শব্দ
কুরুসৈন্য হৈল স্তব্ধ
জয়দ্রথ শয্যা ছেড়ে উঠে।
ধেয়ে গেল নৃপবর
যথা কুরু নরবর
ভাবে মনে কপালে কি ঘটে ।
শ্রীহরি চিন্তিত অতি অর্জুন কারণ।
পাঠালেন ত্বরা করি দূত একজন ॥
কি মন্ত্রণা করিতেছে রাজা দূর্যোধন।
জানিতে করেন বাঞ্ছা দেবকী নন্দন।
দূতবর তত্ব জানি ত্বরায় ফিরিল ।
দূত বাক্য শুনি হরি প্রমাদ গণিল ।
শ্রীহরি বলেন শুন পার্থ ধনুর্ধর।
হইবে কৌরব সহ ভীষণ সমর ।
চতুর্বিংশ ক্রোশ ব্যুহ কৌরব করিবে।
পূৰ্বাদ্ধ শকটাকার পরে পদ্ম হবে ।
পদ্ম মধ্যে সূচীৰূহ অদ্ভুত গঠন।
তথা রবে জয়দ্রথ মহারথিগণ।
কর্ণ আদি ছয় বীর রবে সেই স্থানে।
বৃহ মুখে দ্রোণাচাৰ্য কৃতবর্মা সনে।
করেছ প্রতিজ্ঞা তুমি না জিজ্ঞাসি মােরে।
চল পুনঃ যুক্তি করি ডাকিয়ে সবারে।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিক।
[ ৯৭ [
ছয়জন মহারথী সময়ে প্রখর।
বৃহমুখে দ্রোণাচাৰ্য দ্বিতীয় ভাস্কর ।
কি রূপে সৈন্ধবে বধ করিবে হে বীর ।
তাই ভাবি মন মাের হতেছে অস্থির ।
শ্রীকৃষ্ণের বাক্য শেষ
গঞ্জি উঠে গুড়াকেশ
বলিতে লাগিল দম্ভ ভরে।
শুন শুন চক্রপাণি
সুরাসুরে নাহি গণি
হের হের পাশুপত করে।
হের হের ব্রহ্মশির
ইন্দ্রজাল অস্ত্র সৌর
হের হের সম্মােহন বাণ ।
হের অঞ্জলিক অস্ত্র
কেন সখা হলে ব্যস্ত
কল্য নিব জয়দ্রথ প্রাণ
হের হের শব্দভেদী
শত বজ্র আছে মাের তুণে।
কুরু নাহি অস্ত্র জানে
কি সাধ্য দাঁড়াবে রণে
কেন চিন্তা কর অকারণে ॥
দেবদত্ত রথ মোর
সারথী শ্রীদামােদর
অজেয় গাণ্ডীব ধনু করে।
অক্ষয় যুগল তূণ
ধ্বজে পবন নন্দন
কার সাধ্য জিনিবে আমারে।
কুরুব্হ যাব ভেদি
[ ৯৮ ] শ্রীকৃষ্ণ গীতি শুন সখা চক্রপাণি প্রভাতা হলে যামিনী নিয়ে এস সৃন্দন আমার। কল্য মহাযুদ্ধ হবে যাও সখা যাও এবে কল্য প্রাতে আসিও আবার । উত্তরা ভদ্ৰারে শান্তি দেও গিয়ে নীলকান্তি প্রবােধিও দ্রুপদ সুয়ে। সান্ত্বনা দানিয়ে সবে বল গিয়ে নরদেবে কোন চিন্তা নাহিক সমরে। পার্থবাক্যে যদুবর চলে গেল অন্তঃপুর প্রবােধ দানিল সৰ্ব্ব জনে। পুনঃ গেল হৃষীকেশ যথা বীর গুড়াকেশ ততালপাড় করিতেছে মনে। অর্জুনের শয্যা রচি বলে শুন সব্যসাচী নিদ্রা যাও নিশ্চিন্ত হৃদয়ে । শৈববলি পার্থ দিল কৃষ্ণে গন্ধমাল্য দিল ভক্তিভরে, আনন্দিত হয়ে । শিবিরেতে দ্বারী রাখি চলে গেল কমলাখি ত্বরা গেল আপন শিবিরে। বিশ্বের বিধাতা হরি অন্য চিন্তা পরিহরি অর্জুনের ইষ্ট চিন্তা করে।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিক। [ ৯৯ ] যােগবলে হৃষীকেশ হয়ে নিল সব ক্লেশ তেজ বৃদ্ধি হল পার্থবীরে। ব্যাসমন্ত্র হৃদে স্মরি এথায় গাণ্ডীব ধারী নিদ্রাঘােরে হেরে দামােদরে । হেরে পাৰ্থ কৃষ্ণ সনে গেল কৈলাস ভুবনে প্রণমিল দোহে মৃত্যুঞ্জয়ে। ভােলানাথ হয়ে তুষ্ট বলে পূরিবেক ইষ্ট দেহে আসে আনন্দিত হয়ে ॥ রজনী শেষ প্রহর নিদ্রা ত্যজি দামােদর দারুকেরে বলেন তখনি । মাের রথ সাজ করি হইয়ে কবচধারী এস সূত পােহাতে যামিনী । মাের ধনু অস্ত্র তুণ শাঙ্গ চক্র সুদর্শন সব তােল রথের উপরে। আষভ পূরিত ধ্বনি শুনা মাত্র রথখানি নিয়ে কাছে যাবে ত্বরা করে। যদি পার্থ নূন হয় করিব কৌরবে জয় শুন সূত শুন হয়ে স্থির। পত্নী পুত্র ধনজন কেহ পার্থ তুল্য নন পার্থ মাের অর্ধেক শরীর ।
[ ১০০ ] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা পার্থশূন্য ধরা ভূমি কভু না হেরিব আমি হেরিতে নারিব কদাচন। কভু নাহি তাহা হবে জয়দ্রথ ক্ষয় পাবে কার সাধ্য করে নিবারণ । দারুক বিনয়ে কয় তুমি প্রভু দয়াময় ভক্তাধীন জানে ত্রিজগতে। বিজয়ের জয় জন্য বুথ সজ্জা করি ধন্য হব আমি রজনী প্রভাতে। দারুকের বাক্য শেষ রজনী হইল শেষ শয্যা ত্যজি উঠে নৃপবর। জ্ঞান দান সন্ধ্যা পূজা সমাপন করি রাজা ত্বরা গেল সভার ভিতর। দ্বারেতে দাড়ায়ে হরি বলে নৃপ আন ত্বরা করে। প্রধান আসন আন আসিতেছে জনার্দন আন তঁারে বহু সমাদরে । পরে ধৰ্ম্ম আজ্ঞা পেয়ে সবে আনন্দিত হয়ে ভীম আদি বসিল সভায়। যার যার যােগ্য স্থানে বসে সবে হৃষ্ট মনে প্রণাম করিয়া ধৰ্ম্ম পায়। দূত বলে নরহরি T;
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা ( ১০১ ] ফুল্ল হেরি আহ্নিকাদি শেষ করি চক্ৰধরে হৃদে স্মরি তথা গেল পার্থ বীরবর। ধৰ্ম্মেরে প্রণাম করি পদধূলি শিরে ধরি দাড়াইল যুদি দুই কর। ধৰ্ম্ম আনন্দিত হয়ে ত্বরা আসন ত্যজিয়ে অনেরে দিল আলিঙ্গন। বলে ধৰ্ম্ম হৃষ্টমনে তুষ্ট হেরি জনার্দনে তােমার বদন । রণে তব হবে জয় জয়দ্রথ হবে ক্ষয় পরম বিজয় হবে রণে। পার্থ বলে নতশিরে স্বপ্নে দেখিয়াছি হরে কৃষ্ণ সনে আনন্দিত মনে। শুনিয়ে অদ্ভুত সবে ভূমে রাখি মাথা প্রণমিল শঙ্কর চরণে। সবে বলে জয় জয় জয়দ্রথ পাবে লয় আজ্ঞা দেহ ত্বরা যাই রণে। ধৰ্ম্মরাজ আজ্ঞা দিল যােদ্ধাগণ বাহিরিল কৃষ্ণ পাৰ্থ শিবিরেতে আসে। সারথীর সাজ পরি হরি অশ্বরশ্মি ধরি রথ নিয়ে গেল পার্থ পাশে। * কথা [ ১০২ ] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা চারিদিকে সুমঙ্গল হৃ েভাবি নীলতনু করে নিয়ে অস্ত্র ধনু বিজয় আনন্দে রথে বসে। শঙ্খ ধ্বনি করি হরি চালাইলা অশ্ব চারি ন্ধৈব মুকুট পড়ে খসে। পক্ষীগণ আগে চলে আহার মিলিবে বলে অনুকূল প্রভঞ্জন ধায়। হেরি পার্থ হৃষ্ট হল রথবর বায়ুবেগে ধায় ৷ ধ্বজে ভয়ঙ্কর ধ্বনি জিনি শত বজ্রধ্বনি ধনুক টঙ্কার ঘাের রব। অশ্বগণ হ্রেষারব ঘােরতর শঙ্খরব চারিশব্দে কঁপিল কৌরব ॥ শরপাত স্থানে হয় রাখে দেবকীতনয় রূহ হেরে ধনঞ্জয় কয়। রথ লহ জনার্দন যথা আছে দুৰ্ম্মষণ যথা হের বহু হস্তী হয় । গজ স্যৈ ভেদ করি চল সখা বিলম্ব না কর । তােমার প্রসাদে হরি নাশিব পুত্রের অরি চল চল চল দামােদর । হেতে পশিব হরি শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা [১০৩] হরি চালায় হয় ধনু ধরে ধনঞ্জয় গগন ছাইয়া বাণ আসে। বহিল রক্তের নদী ভাসে নর গজ সাদি দুম্মাষণ পলাইল ত্রাসে। মহারোষে বৃদ্ধ দ্রোণ রণে হল আগুয়ান আগু হয়ে আগুলিল পথ। দ্রাণেরে প্রণাম করি বলিল গাণ্ডীবধারী আজ্ঞা দেহ চালাইব রথ । তােমার প্রসাদে আমি নাশিব সৌবির স্বামী আশীষ করহ কৃপাধার । হেসে দ্রোণবীর কয় যুদ্ধ কর ধনঞ্জয় জয়দ্রথ রক্ষিত আমার । ইহা বলি দ্রোণবীর ছাড়িল ভীষণ তীর গুরুশিষ্যে বাজিল সমর। অগ্নিবাণ সর্পবাণ ব্ৰহ্মঅস্ত্র, রুদ্রণ দেহে বর্ষে দোহার উপর। বহুক্ষণ হল রণ বলে দেবকী নন্দন চল সখা বিলম্ব না সহে। হরিবাক্যে হর্ষ মনে প্রদক্ষিণ করি দ্রোণে বৃহপথে পলাইল দোহ।
[১০৪ ] শ্রীকৃষ্ণ গীতি দ্রোণ বলে হে বিজয় করিয়া মােরে জয় কেন তুমি পলাও আহবে । শুনহে বিজয় বৎস কুরুবংশ অবতংস অপযশঃ কেন রাখ ভবে । পার্থ বলে তুমি গুরু শিষ্য বাঞ্ছা কল্পতরু কভু তুমি শত্ৰু নহ মাের । আমি তব প্রণাধিক পুত্র অশ্বত্থামাধিক তুমি মাের পিতার সােসর । কে আছে এ ত্রিভুবনে তােমারে সময়ে জিনে তব নামে কঁপে ইন্দ্র হর। দয়া করে দিলে দীক্ষা তাতে হল বাণ শিক্ষা কিবা সাধ্য করিব সমর ॥ ইহা বলি ছাড়ে অস্ত্র কুরুসৈন্য হৈল ব্যস্ত চারিদিকে উঠে ঘােরনাদ। মিলে সব যােদ্ধাগণ করে বাণ বরিষণ পার্থে বেড়ি করে সিংহনাদ । দ্রোণাচাৰ্য পাছু ধায় পার্থেরে দেখিতে পায় বাণ বৃষ্টি করে ক্রোধভরে। হেরিয়া দ্রোণের মন্ত পলাইল যুধামন্যু উত্তমৌজা সভায় অন্তরে।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা [ ১০৫ ] কপিধ্বজ বহু দূরে করে দিবে চক্র রক্ষক পলাল হেরি পার্থ মহাবল দুহাতে গাণ্ডীব ধরে বলে । দ্রোণ বাণ নাশ করি ভােজরাজে মুগ্ধ করি পদ্মব্যুহে পশিল সবলে । পবন গরুড় বেগে কপিধ্বজ যায় আগে কুরুসৈন্য ভীত হয়ে রয়। দ্রোণ না ধরিতে পারে ধন্য মানি স্তব্ধ হয়ে রয় । যদি বৃহমুখ ছাড়ে ভীমসেন গা করে কুরুব্যুহ ক্ষয়। ইহা ভাবি দ্রোণবীর করিতে না পারে স্থির কিরূপে সমরে হবে জয় । সহস্র সহস্র বাণ করে পার্থ সুসন্ধান পদ্মব্যুহ ভঙ্গ হয়ে যায় । হেরিয়ে দুঃখীত অতি দূর্যোধন কুরুপতি দ্রোণ পাশে দুঃখ ভরে যার ॥ বলে হের হের আর্থ হের অর্জুনের কাৰ্য্য জয়দ্রথ রক্ষা নাহি পাবে । পদ্মব্যুহ চুরমার পার্থ গতি অ-নিবার বল গুরু কি উপায় হবে ।
• [ ১০৬] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা : দ্রোণ বলে দূর্যোধন তুমি কর গিয়ে রণ অর্জুন অজেয় ত্রিভুবনে। পূর্বে বলিয়াছি আমি শুন নাই ধরাস্বামী কেন মােরে নিন্দ অকারণে ॥ হের হের রথ গতি রশ্মিধারী যদুপতি পার্থ তার প্রাণের সমান। কৃষ্ণদ্বয় ক্রোধভরে জগত দহিতে পারে আজি নিবে সবাকার প্রাণ। যদি ব্যহমুখ ছাড়ি ভীমসেন গদাধারী ব্যুহ ভাঙ্গি নিবে সূচীব্যুহে। ব্যুহ অগ্রে বৃকোদর মধ্যে পার্ধ দামােদর দুই দিকে কুরুসৈন্য দহে। বলে নৃপ দূর্যোধন কিরূপে করিব রণ বল গুরু করে মাের দয়া। চিন্তিয়া বলিল দ্রোণ তুমি কর গিয়ে রণ কবচে আবৃত করি কায়া। অভেদ্য কবচ দিব হেরিবে পাণ্ডব সব দূর্যোধন যুঝে পার্থ সনে। ইহা বলি দ্রোণাচাৰ্য্য সাধিতে কৌরব কাৰ্য্য কবচ পরাল দূর্যোধনে ॥
শ্রীকৃষ্ণ গীতিক [ ১০৭ ] T মন্ত্র পড়ি ভারদ্বাজ অঙ্গ করে দিল সাজ দূর্যোধন পুলক অন্তরে। ধেয়ে গেল মহাবেগে । দাড়াইল পার্থ আগে বলে পার্থ যুদ্ধ দেহ মােরে। পার্থবীর বাণ ছাড়ে কবচে ঠেকিয়া পড়ে কৃষ্ণ বলে একি ধনঞ্জয়। নাহি কি বাহুতে বল অস্ত্র গেল রসাতল বিপরীত হেরি লাগে ভয়। হেসে বলে ধনঞ্জয় শুন সখা রসময় কবচে আবৃত ওর অঙ্গ । ভারদ্বাজ ইহা জানে পরায়েছে দুর্যোধনে কেন রঙ্গ করিছ ত্রিভঙ্গ । বিধান জানেনা রাজা হের করিতেছি সাজা ইহা বলি বাণ এক নিল। অশ্বত্থামা দুর হৈতে বাণ মারে আচম্বিতে অর্জুনের ৰাণ কেটে দিল। মহাকোপে কুন্তীসুত বাপ এড়ে অবিরত দূর্যোধন রথ কাটি পাড়ে । রথের সারথী মারে ধ্বজ কেটে ফেলে শরে দূর্যোধন ভূমিতলে পড়ে । .
[ ১০৮ ] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা ! হস্তের তালুতে শর মারে পার্থ বীরবর দূর্যোধন গড়াগড়ি যায় । হত হৈল কুরুমণি উঠে চারিদিকে ধ্বনি সব সৈন্য পার্থ পানে ধায়। সব সৈন্য হল কুদ্ধ পার্থ সহ মহাযুদ্ধ গাণ্ডীবের ধ্বনি লােপ পায় । উঠে পাঞ্চজন্য ধ্বনি জিনি শতেক অশনি শুনি ধৰ্ম্ম হল মৃতপ্রায়। চারিদিকে নেহারিয়ে ধনঞ্জয়ে না হেরিয়ে পাঠাইলা ত্বরা যুযুধানে। কতক্ষণ পরে ধর্ম ভাবিয়া উচিত কৰ্ম্ম পাঠাইলা বীর ভীমসেন । যুযুধান বৃকোদর ধনঞ্জয় যদুবর চারিবীর একত্র মিলিল । ভূরিশ্রবা হত হল কুরুসৈন্য ভঙ্গ দিল আৰ্তনাদ গগনে উঠিল । ক্লান্ত হেরি অশ্ব চারি অর্জুন গাণ্ডীবধারী ভূমে নামি সমর করিল। অশ্রম দূরে গেল কৃষ্ণ রথ নিয়ে এল পুনঃ পার্থ রথেতে উঠিল । ** কৃষ্ণ গীতিকা [ ১০৯ ] সবেগে চলিল রথ ক্ষণে উত্তরিল পথ পার্থ হেরি রাজা জয়দ্রথে। দুহাতে সন্ধান পুরে সূচীৰূহ চূর্ণ করে কর্ণ আসি দাড়াইল পথে । ড্রেণিী কর্ণ দুঃশাসন আদি বীর ছয়জন মহারােষে বাণ বৃষ্টি করে। জয়দ্রথ বাণ ছাড়ে পার্থ বাণে কেটে পাড়ে পার্থোপরে সবে বাণ মারে । অস্ত্রবৃষ্টি অনিবার বাণে হৈল অন্ধকার ছয় রথী সিংহনাদ করে । কোপে পার্থ হল পূর্ণ ছাড়িল ঐন্দ্ৰাস্ত্র ভূর্ণ অন্ধকার দূর করে শরে । পার্থে বলে জনার্দন যুদ্ধে তুমি দেহ মন সূৰ্য্যদেব ত্বরায় ডুবিবে। নাহি আর বেশী বেলা যুদ্ধে নাহি কর হেলা তীক্ষ্ণ বাণ ছাড় তুমি এবে । শুন শুন ধনঞ্জয় ছাড় তীক্ষ্ণ অচয় নহে ইহা বিশ্রাম সময়। কৃষ্ণ বাক্যে নিবাতারি রথিগণে লক্ষ্য করি কোপে এড়ে অগ্নিস্ত্র চয়। '.... .
( ১১০ ) শ্ৰীকৃষ্ণ গীতিকা s পলাইল ছয় রথী হইয়ে নিজে সারথী রুণ ছাড়ি যােদ্ধারা পলায়। নিতে জয়দ্রথ প্রাণ পার্থ নিল হাতে বাণ জয়দ্রথ পানে ঘন চায়। কৃষ্ণ বলে শুন বীর ভূমে না ফেলিহ শির শির ফেল বৃদ্ধক্ষত্র ক্রোড়ে। কুরুক্ষেত্র বহির্ভাগে বৃদ্ধক্ষত্র আছে যােগে তথা শির ফেল শরে শরে। মৃদু হাসি পার্থীর ছাড়িল বহুল তীর তীরে তীরে শির শূন্যে চলে । বৃদ্ধক্ষত্র ক্রোড়ে পড়ে উঠে রাজা ধ্যান ছেড়ে ভূমিতলে শির দিল ফেলে । রাজা হল প্রাণশূণ্য সবে বলে ধন্য ধন্য জয় জয় কুন্তীর কুমার। যারে ইন্দ্ৰ দিল দীক্ষা সদা হরি সহায় যাহার । যদি রাখে জনার্দন কি করিবে দুষ্টজন দুজ্জননাশন দেব হরি। চক্রী-চক্র ভেদ করে হেন শক্তি কেবা ধরে যায় নামে যমভয়ে তরি। অদ্ভুত বিচিত্র শিক্ষা
শ্ৰীকৃষ্ণ গীতিকা
[ ১১১ ]
বিপদে সম্পদ হরি
সম্পদে ভূলনা হরি
হরি হরি সব নিবে হরি।
হরিনাম সব হয়ে
সত্তঃ রজঃ তমঃ হরে
ভবার্ণবে হরিই কাণ্ডারী ।
ছেড়না ছেড়না হাল
সদাই আছে জঞ্জাল
জঞ্জালে হইবে পাপক্ষয়।
দৃঢ় ভাবে হরিবল
নৌকা নাহি যাবে তল
অসময়ে আসে দয়াময় ।
অসময়ে হরি বন্ধু
তখনি দয়ার সিন্ধু
সুসময়ে বিন্দু নাহি দেয় ।
শৌরি যদুকুল ইন্দু
তেজে জিনে রবি ইন্দু
পাপ তাপ সব হরে নেয়।
{ ১১২]
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
প্রভাস যজ্ঞ।
দ্বারকার সিংহাসনে প্রভু চক্রপাণি।
বাম ভাগে হোসনে ভীষ্মকনদিনী।
বিদ্যুৎত্বরণী ধনী কৃষ্ণ জলধর।
দোহার রূপপতে মােহে দোহার অন্তর ।
হাস্য পরিহাস আর প্রেম সম্ভাষণ।
প্রেমেতে বিভাের দোহে প্রেমে মুগ্ধমন।
হেসে কন কৃষ্ণচন্দ্র শুন চন্দ্রানে ।
যজ্ঞ করিবার ইচ্ছা হৈল মাের মনে।
প্রভাস সুপুণ্য
তীর্থ রমণীয় স্থান।
যঃ ভূমি তথা এক করিয়া নির্মাণ।
তােমার সহিত যজ্ঞ করিব তথায়।
বল প্রিয়ে এতে তব কিবা অভিপ্রায় ।
কৃষ্ণ বাক্যে হরষিতা প্রদুম্ন জননী।
বলে যাহা তব ইচ্ছা প্রভু চক্রপাণি ।
তব পদ শিরে ধরি ধন্য এ জীবন।
নতু মাের নারী দেহে কিবা প্রয়ােজন।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
[ ১১৩ ]
:
শুনিয়ে হইয়ে সুখী করি আয়ােজন।
নারদে বলেন হরি কর নিমন্ত্রণ।
দেবাসুর নাগ নরে আছে যত জন ।
যজ্ঞ বার্তা দেহ তুমি ভ্রমিয়া ভুবন।
বৃন্দাবনে যাইবার নাহি প্রয়ােজন।
ব্রজবাসী মাের প্রাণ জানে সৰ্ব্বজন।
নিমন্ত্রিয়া মুনিবর ত্বরায় ফিরিল ।
যজ্ঞেশ্বর যজ্ঞ করে ত্রিলােক মিলিল।
শ্রীদাম সুদাম স্তোক অৰ্জ্জুন ধীমান্।
ধাম বসুধাম মধু সখা অংশুমান।
উপনীত যজ্ঞস্থানে দ্বারপাল রােধে।
শ্রীদাম সুদাম আদি পড়িল বিপদে।
বলে কোথা ভাই কানু দ্বারকার রাজা।
কি দোষে মােদেরে তুমি দিতেছ রে সাজা।
গােপালনন্দন তুই চরস্ গাে-পাল।
গােপালের সনে সদা গােপাল রাখাল
গােপাল হইতে শ্রেষ্ঠ কিসে রে ভূপাল ।
গােপালের পরজে পবিত্র ভূপাল ।
গােপাল বিহনে যজ্ঞ হয় না ভূপাল।.. :
গােপালে অবজ্ঞা হলে রুষ্ট লােকপাল।
[ ১১৪ ]
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
ভূপাল ভূপাল হয় গােপাল দেবতা।
গােপালে ধরিয়ে বক্ষে ধন্য বসুমাতা।
ছিলে যবে গােপকুলে গােপের ভবনে।
ইন্দ্রে অতিক্রমি তুমি পূজ গােবর্ধনে।
রুষ্ট হয়ে পুরন্দর শিলাবৃষ্টি করে।
গােকুল রাখিলে গিরি ধরে বাম করে ।
ভয় পেয়ে পুরন্দর মাগে পরাজয়।
এবে কেন ইচ্ছে পূজ পেয়েছ কি ভয়।
ছিলে যবে বৃন্দাবনে মােদের সংহতি।
ব্ৰহ্মা ইন্দ্ৰ আদি দেব করিত যে স্তুতি।
এবে কেন দেবে পৃজ বল নন্দলাল।
ভয় নাই পুনঃ ব্ৰজে চলহ গােপাল।
চল ত্বরা বৃন্দাবনে যথা গােবর্ধন।
গিরিধারী হেরে ভীত হবে দেবগণ !
এসেছি হেথায় মােরা হেরিতে তােমারে।
হেরিয়া পুনঃ মােরা নাহি যাব ঘরে ॥
প্রহার করুক দ্বারা যায় যাবে প্রাণ।
পুনঃ ব্ৰজে নাহি যাব না হেরিয়ে কান।
ইহা বলি সখাগণ ডাকে কানু কানু ।
চল দ্বারকানাথ কঁাপে বক্ষ তনু।
শ্রীকৃষ্ণ
গীতিকা
[১১৫]
নেত্রবারি অনিবারি বুক ভেসে যায়।
হেরিয়ে রুক্মিণী দেবী করে হায় হায় ।
যজ্ঞ বুঝি নষ্ট হল বিধি বিড়ম্বন।
কি অভাবে এই ভাব ধরে নারায়ণ।
যজ্ঞেশ্বরে যজ্ঞে পূজে ত্রিলােকের জন ।
যজ্ঞেশ্বর কারে পূজে না বুঝি কারণ।
কাজ নাই মাের যজ্ঞে করিহে মিনতি।
চল শীঘ্র চক্রপাণি পুরী দ্বারাবতী।
কিছু না বলিয়ে কৃষ্ণ মৌন হয়ে রয়।
হেরিয়ে ভীষ্মক সুতা ব্যথিত হৃদয়।
ব্রজাঙ্গনাগণ সহ বৃষভানু সুতা।
ললিত বিশাখা আর শ্যামা কুলতা।
সবে আসি যজ্ঞ-ভূমে
উপনীত হৈল ।
দৌবারিক দ্বার রাখে পথ নাহি দিল ।
বলে কৃষ্ণ কৃপাসিন্ধু গােপীজনপতি।
দ্বারপাল হাতে হের মােদের দুর্গতি ৷
সবে জানে কৃষ্ণ চন্দ্র যশােদানন্দন।
পীত ধড়া শিরে চূড়া মুরলীবদন।
ত্রিভঙ্গ সুন্দর হরি বনমালা গলে।
মূরলী নিস্বনে যার ভানুসুতা দুলে ॥
[.১১৬.]
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
গােপালপালন হরি গােপালনন্দন।
গােপীজনপ্রিয় হরি গােপিকারমণ ।
গােকুল-ভূষণ হরি গােকুল-জীবন ।
রাধা-প্রেমে সদা বাধা জানে জগজ্জন ।
গােপাল গোপাল ছাড়ি হয়েছে ভূপাল।
দ্বারকার রাজা হরি রাখে দ্বারপাল ॥
দ্বারী তার পথ রােধে করে অপমান।
গােপিকাবল্লভ কৃষ্ণ হারায়েছে জ্ঞান।
রাধামে ভুলে গেছে পাইয়ে রাজত্ব।
ভুলে গেছে দাসখত রাধার দাসত্ব ।
ধরিব বলেতে দাসে কি করিবে দ্বারী।
মােদের জীবন কৃষ্ণ জানে জগৎ ভরি।
এত বলি গােপগণ কৃষ্ণে ঘন ডাকে।
যজ্ঞেশ্বর যজ্ঞ ভূমে পড়িল বিপাকে ৷
থর থর কঁপে হিয়া প্রাণ উচাটন।
রুক্মিণী বলেন নাথ একি বিড়ম্বন ।
কেন ঘন ঘন কাপ যজ্ঞে নাহি মন।
কোন্ স্থানে যেতে ইচ্ছা বল বিবরণ ।
কেহ বুঝি ডাকিতেছে ব্যথা পেয়ে হৃদে।
আকুল ফরিল বুঝি ভক্তি বাণে বিঁধে।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
[ ১১৭]
নিরুত্তর কৃষ্ণচন্দ্র উদাসীনপ্রায়।
বক্ষ কঁাপে ঘন যেন প্রাণ বাহিরায় ।
অন্য দ্বারে নন্দরাণী নিয়ে সর ননী ।
বলে কোথা কোলে এস বাপ যাদুমণি।
নন্দ বসে কোথা বাপ কোথারে গােপাল।
দেখি নাহি তােরে বাপ গেছে বহুকাল ।
দ্বারপাল দ্বার রাখে না দেয় পশিতে।
হা কৃষ্ণ বলিয়া রাণী বসিল ভূমেতে ।
কোথা বাপ নীলমণি এস ত্বরা করি ।
বিলম্বে যশােদা প্রাণ যাবে দেহ ছাড়ি।
আকুল আহ্বানে কৃষ্ণ রহিতে না পারে।
উদ্ধশ্বাসে ধায় হরি রুক্মিণীরে ছেড়ে ।
ধেয়ে গিয়ে বন্দিলেন যশােদা চরণ।
আনন্দে বিহবল রাণী হেরে চানন ।
হাতে নিয়ে সর ননী দেয় রাণী মুখে।
মা মা বলে কৃষ্ণচন্দ্র ঘন ঘন ডাকে।
যত আছে ভক্ষ্যদ্রব্য সংসার ভিতরে।
তােমার হাতের ননী সবার উপরে ।।
উদর ভরিল মাগাে আর খেতে নারি।
জীবন হইল ধন্য তব পদ হেরি ।
( ১১৮ ]
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
যশােদা প্রবােধি কষ্ণ অন্য দ্বারে যায়।
হেরে গােপীগণ সব ধরাতে লুটায়।
গােপীগণে হেরি মনে পড়ে বৃন্দাবন।
যমুনাপুলিন আর নিকুঞ্জ কানন ।
রাধা-প্রেম-ধারা বহে নেত্রে বহে বারি ।
রাধা রাধা বলে হরি আপনা পাশরি ।
ভেবনা ভেবনা রাধা আছি প্রেমে বাঁধা।
কার সাধ্য দিতে পারে তব প্রেমে বাধা ।
র ক্মিণী কালিন্দী আদি যাদবরমণী ।
সদ। ইচ্ছে পেতে তব চরণ দুখানি ।
রমণীর শিরােমণি প্রেমের প্রতিমা।
তব পদ নখ নিন্দে শারদ চন্দ্রম।।
কার সাধ্য বর্ণিবারে তােমার মহিমা।
বেদ বিধি নাহি পারে করিতে সে সীমা ।
মাের চক্রে ঘুরে যত জগতের জন ।
তব চক্রে ঘূরি প্রিয়ে আমি অনুক্ষণ।
যটচক্রে মুনিগণ মােরে নাহি পায়।
তব পদ যেই ভাবে সেই মােরে পায়।
তব কুণ্ডে যেই জন করে স্নান দান।
বিনা মূলে কৃষ্ণে কিনে সেই ভাগ্যরা।
শ্ৰীকৃষ্ণ গীতিকা
[ ১১৯]
যাহা ইচ্ছা মনে লয় করহ ভৎসন।
সম্মুখে দাঁড়ায়ে আছি মেল দুনয়ন ।
উঠ উঠ ত্বরা করি উঠ গােপীগণ।
কালিন্দী পুলিনে সদা করি যে ভ্রমণ।
গােপেন্দ্রনন্দন কৃষ্ণ গােপাগত প্রাণ।
সাধ্য নাহি ব্ৰজ ছেড়ে যেতে অন্যস্থান ।
কৃষ্ণ বােলে গােপীগণ উঠে ভূমি হৈতে ।
শিরে চূড়া নাহি হেরি ব্যথা পেল চিতে।
পীত ধটি আটি কটী মুরলী বদন ।
বনমালা বিভূষিত ব্রজেন্দ্রনন্দন ।
কৃষ্ণচন্দ্রে রাজবেশ হেরি হয়ে দুঃখী।
অন্য কেহ হবে ভাবি ফিরাইল আঁখি।
ফঁফরে পড়িয়া কৃষ্ণ হরে নিল মন ।
গােপীগণ হেরে কৃষ্ণে মদনমােহন ॥
কৃষ্ণে হেরি মনে পড়ে নিত্য বৃন্দাবন ।
ভাবে যদি এথা হত নিকুঞ্জ কানন ।
যমুনা বহিত যদি হত বংশধ্বনি।
ধন্য তবে হইতাম হেরে গুণমণি ।
গােপীগণে প্রবােধিয়া কৃষ্ণ বেগে ধায়।
শ্রীদাম সুদাম আদি কান্দিছে যথার ।
'
[ ১২০ ]
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
ধেয়ে গিয়ে কৃষ্ণচন্দ্র ধরে শ্রীদামেরে।
হাসিয়া শ্রীদাম কৃষ্ণে নিল বক্ষোপরে ॥
সব সখাগণ মিলি দিল আলিঙ্গন।
বলে ভাই ফেলেদে রে এ রাজভূষণ ।
ভুবনসুন্দর তুই এবেশে না সাজে।
শারদ চন্দ্রমা যার পদতলে রাজে ।
কুৎসিত করেছ দেহ পরে রাজবেশ ।
এ বেশ ত বেশ নয় পর সেই বেশ ।
যেই বেশে ভূলে যায় ত্রিলােকের জন ।
তরু লতা গুল্ম ভূলে ভূলে পশুগণ ।
যেই বেশে ধেনু বৎস তৃণ ছাড়ি চায়।
যেই বেশ হেরিবারে ভানুমুতা ধায়।
যেই বেশ মুনিগণ ধ্যান ছাড়ি চায় ।
যেই বেশ হেরে হর পাগলের প্রায় ॥
কাল আসিবে বলে রে গেলে মধুপুরী।
বহুকাল গত হল শুন বংশীধারী।
বেনুধর ল আজি আমাদের সাথে।
পথশ্রম হলে ভাই নিব তােরে মাথে ।
যদি নাহি যেতে পার অরে ভাই কান।
দ্বারপালে কর আজ্ঞা নিয়ে যা প্রাণ।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিক।
[ ১২১ ]
কি উত্তর দিবে কৃষ্ণ ভাবিয়া না পায়।
মায়া প্রকাশিয়া হরি মােহিল সবায় ।
বিনয় বচনে হরি সবে প্রবােধিয়া।
যজ্ঞ পূর্ণ করিলেন
যজ্ঞভূমে
গিয়া।
হরি হরি বল,সবে হরি হরি বল ।
বিপদে সম্পদে সদা হরিই সম্বল।
সম্পদে ভুলিলে হরি পড়িবে বিপদে।
বিপদে পড়িলে সদা ভাব তঁারে হৃদে ।
বিপদবারণ, হরি নিরানন্দহারী।
আনন্দে রহিবে সদা ভাব পদতরী ।
[ ১২২}
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
কৃপাকর।
ক্ষঃ
স্তোত্র।
‘এ’শ শূরসুতাত্মজ শ্রীবৎসলাঞ্ছন।
‘হ’রপ্রিয় হরনাথ হরি জনার্দন।
‘রে’বতীরমণানুজ দেব চক্রপাণি।
ন’রসখা নারায়ণ শ্যাম চিন্তামণি ।
‘দ্রবময়ী পিতা বিভু অনাদি ঈশ্বর।
‘কে’শব করুণাসিন্ধু গােবিন্দ শ্রীধর।
‘কৃষ্ণ বিষ্ণু কৃপাময় ভকত বৎসল।
‘পা’তকিতারণ নাথ অনাথ সম্বল।
‘ক’ংসারি মুরারি প্রভু ব্রজেন্দ্রনন্দন।
‘র’ক্ষ হে হরেন্দ্রে সদা পতিতপাবন ॥
করুণা কর মাধব দীনগতি।
নন্দদুলাল গােপাল গােপীপতি।
পীতবসন শিরসি শিখিপাখা।
শ্যামসুন্দর নাগর ভঙ্গীবাঁকা।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
[ ১২৩]
নবনীরদবরণ নীলমণি।
করুণাময় চিন্ময় চিন্তামণি ।
বিশ্বােবন পালন বিশ্বপতি।
জগদীশ্বর সংহর পাপমতি ।
গােপাল গােবিন্দ গিরিধারী।
মুকুন্দ মাধব মধু-অরি।
রাখাল রাকেশ রসময়।
রসিক রমণ রমাপ্রিয় ।
নবীননীরদ নীলবপু।
কেশব কেশিহা কংসরিপু।
শ্রীনন্দনন্দন নটবর ।
মদনমােহন মুরহর।
যাদবনন্দন যদুবর।
পাতকিপাবন পাপ হর ।
[ ১২৪]
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
গােষ্ঠ।
‘শ্রীকৃষ্ণ শ্ৰীবৃন্দাবনে গােধন চরায় ।
‘যাে’গেন্দ্র হেরিতে গােষ্ঠ বায়ুবেগে ধায়।
‘গেল গেল গেল ধরা ধূর্জটীর ভরে।
‘নতশির দেবগণ ত্রিলােচনে হেরে ।
‘দ্রবময়ী গতি বেগে কঁাপে ঘন ঘন ।
নারায়ণ রক্ষমা বলে দেবী ঘন ৷
‘থর থর কঁপে দেবী চারিদিকে চায় ।
‘কে’শব কেশব বলি ভােলানাথ ধায়।
কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ গোলকবিহারী ।
‘পাহিমা পাহিমা বলে ত্রিপুরারী।
‘ক’মল নয়নে হেরি দেব দিগম্বর।
‘র’ক্ষ রক্ষ বক্ষ বলি ধরিল সত্বর।
পঞ্চমুখে কৃষ্ণ নাম বলে পঞ্চানন ।
‘তি’তিল নয়ন জলে হেরি চন্দ্রানন।
স্তমাল তরুর মূলে হরি সনে হর।
‘পাশে রাজে বলরাম রূপ মনােহর।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
[ ১২৫ ]
বলরাম সহ হেরি হর গােপীনাথ।
ন’য়ন সার্থক কর যােগেন্দ্রনাথ।
‘হরি হরি হরি হরি হরে শ্রীকেশব ।
রি’পুভয় যমভয় পাপপুণ্য সব ।
‘দ’য়াল পরমানন্দ শ্রীনন্দনন্দন ।
‘যায়না কখন ছেড়ে লইলে শরণ।
মদনমােহন হরি শ্যাম বংশীধারী।
‘যশােদানন্দন কৃষ্ণ ভবার্ণবে তরী ॥
রামকৃষ্ণ।
শ্রীনাথ জানকীনাথ অভেদ আত্মায়।
‘জা'নকীজীবন নবদুৰ্ব্বাদল কায় ।
নাম যার নিলে হয় সংসার মােচন।
‘কীৰ্ত্তি যার ব্যাপ্ত আছে এ তিন ভুবন।
না’য়ক প্রধান কৃষ্ণ নবঘন শ্যাম।
‘থকে থাকে শাখে পাখী গায় যার নাম ।
‘কে’শব করুণাসিন্ধু জগতবান্ধব।
‘কৃপা কণা পেলে যার সকল সম্ভব ।
[ ১২৬ ]
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
‘পাকিতারণ কৃষ্ণ রাম পাপহারী ।
‘ক’ভু দোহে ভিন্ন নয় দুহই কাণ্ডারী ॥
“রুচি অনুসারে জীব ভিন্নরূপে ভজে।
‘হেরে যদি জ্ঞাননেত্রে উভয়েতে মজে॥
‘প্রমাণ পুরাণে আছে সশাস্ত্রে কয়।
‘ভুবনমােহন দোহে দোহে বিশ্বময়।
শ্রীচৈ
তন্য।
ঃঃ
‘শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু সুরধুনীকূলে।
‘দীপ্তি করিতেছে যেন চন্দ্রমা ভূতলে।
‘লুকায়ে শ্রীকৃষ্ণরূপ শ্ৰীমতীর সাজে।
‘রাধানাথ রাধা সহ একদেহে রাজে।
‘খ’মভয় দূরে যায় লইলে শরণ।
‘কে’ন ভ্রান্ত হও মন ভাব চরণ।
‘ক’পাসিন্ধু দীনবন্ধু অনাথশরণ।
‘পাতবিতারণ নাথ বিপদবারণ ।
‘কমলনয়ন প্রভু কৃপাপ্রবণ।
‘র’ক্ষ দীলুরায়ে সদা শ্ৰীশচীনন্দন ।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
[ ১২৭ ।
কংস বধ।
‘শ্রীকৃষ্ণ চানুর সহ যুদ্ধে অগ্রসর ।
‘ভৈরব মূরতি হেরি কঁপে কংসচর।
‘র’মণীমােহন কৃষ্ণে হেরে যত ধনী।
‘বসুদেব হেরে সুতে নয়নের মণি।
‘চ’ঞ্চলা চঞ্চল পদে ছাড়ি কংসালয়।
‘নতশিরে যদুবীরে করেন আশ্রয় ।
‘দ্র’ব হয়ে দেবকীর পয়ােধর সুধা ।
‘কে’শবের পানে ধায় নাহি মানে বাধা ।
‘কৃষ্ণে রক্ষ বলি কান্দে দেবকনন্দিনী।
‘পা’র্ববতী মহেশ জারা অসুরনাশিনী ।
‘ক’ংসাসুর হেরে কৃষ্ণে সাক্ষাৎ শমন।
‘রক্ষা নাই ভাবে মনে নিকট মরণ ।
‘ভগবানে রণে হেরে যত দেবগণ।
‘গগন হইতে করে পুস্পবরিষণ ।
‘বাসুদেবহস্তে হেরে চানুর বিনাশ।
‘নয়নে বহিল জল কংস পেল ত্রাস।
[ ১২৮ ]
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
‘গােপগণে বধ কর বধ বলদেবে।
‘ল’হ অস্ত্র বধ শীঘ্র নন্দ বসুদেবে ।
‘ক’ংসের এতেক আজ্ঞা শুনিয়া শ্রীহরি।
‘বি’পুল বিক্রমে ধা’ গজে যেন হরি।
‘হাহাকার ধ্বনি উঠে চৌদিকে সমর।
‘রীতি নীতি নাহি রহে সভার ভিতর।
‘পড়িল মরিল কংস দূর হৈল ভয়।
‘তি’তিয়া আনন্দনীরে বসুদেব কয়।
তপােবনে মুনি ঋষি যার ধ্যান করে।
‘পাষণ্ড নাশিতে জন্ম নিল মাের ঘরে।
‘বলরাম সহ হেরে কৃষ্ণ নীলমণি ।
‘নয়ন সফল কর শ্রীকৃষ্ণজননী ।
‘হরি বামে শােভে হের দক্ষিণে বলাই ।
‘রি’পুকুল বিনাশিল মিলি দুই ভাই ।
‘দ’শন দামিনী জিনি চঞ্চল নয়ন।
‘যামিনীভূষণ জিনি অঙ্গের কিরণ।
‘ম’রাল জিনিয়া গ্রীব।
অধর অতুল।
‘ঘ’ক্ষ রক্ষ সুরাসুরে নাহি সমতুল।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
[ ১২৯ ]
রুক্মিণীহরণ
শ্রীকৃষ্ণ দ্বারা পুরে বিদর্ভে রুক্মিণী।
হে’মাসনে বসি হরি ভাবে হেমাঙ্গিনী।
‘ম’ন মধ্যে জাগে সদা ভীষ্মকনন্দিনী।
‘কা’তর শ্রীহরি যেন মণি হারা ফণী ।
‘ন’ ধীর স্থির মতি ভীষ্মকনন্দিনী।
‘ত’প জপে রত সদা হৃদে চিন্তামণি ।
‘কে’শব ভাবনা বিনা অন্য চিন্তা নাই।
‘কৃষ্ণ দ্বেষী রুক্মী পথে দাড়াল বলাই ।
‘পামর দুজ্জন মূঢ় শিশুপাল করে।
‘ক’রে ইচ্ছা সমর্পিতে ভগ্নী রুক্মিণীরে ॥
‘র’মা অংশে অবতীর্ণ। ভীষ্মকতনয়া।
‘কৃষ্ণু বিনা কার সাধ্য স্পর্শে তঁার ছায়া।
‘পারে কি স্পর্শিতে অজ সিংহের আহার।
‘মত্ত হলে মৃত্যু পথ করে পরিষ্কার।
‘য’দুবরে আনিবারে বিদর্ভ নগরে।
পত্র লিখি পাঠালেন রুক্মিণী সত্বরে।
[ ১৩ ]
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
‘তিতিয়া নয়ন নীরে লিখে পত্র খানি।
ত’ব পদ জপি আমি দিবস রজনী।
‘পা’বন পালন তুমি, জীবনজীবন।
‘বল নাথ তােমা বিনা রবে কি জীবন।
‘নত শিরে মাগি ভিক্ষা তােমার চরণে।
‘ব’লে মােরে হরে নিও স্বয়ম্বর দিনে।
‘সুধামুখী পত্র নিয়ে বিপ্র শীঘ্রগতি।
‘দেখা দিল যথা শশাভে পুরী দ্বায়াবতী।
‘ব’লে বিপ্র পড় পত্র চল গুণমণি।
‘ত’ব পথ পানে চেয়ে আছে যে রুক্মিণী ।
নয়নের জলে ভাসে তব পদস্মরি।
‘ঘ’দুপতি পত্র পড়ি উঠে ত্বরা করি।
‘ভয় পেয়ে বুথ বেগে কাপে বিপ্রবর।
‘গ’রুড় গর্জনে ভীত হৈল চরাচর।
বাসুদেব উপনীত বিদর্ভ নগরে।
নগরের লােক সুখী কৃষ্ণচন্দ্রে হেরে।
‘হরিয়া বলেতে হরি বিদর্ভ কুমারী।
‘রিপু দর্প চূর্ণ করি চলে নিজ পুরী।
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা [ ১৩১] ক্রোধে কাপে থর থর রুক্মিণীর সহােদর বলে কোথা যাবে গুণমণি। কোথা যাবে গােপরাজ তিলেক না বাস লাজ চুরি করে আমার ভগিনী । কৃষ্ণ অগ্রে দর্প করি নানাবিধ অস্ত্র ধরি ক্রোধে বাণ এড়ে বহুতর। রুক্মীরে হেরিয়া হরি শারঙ্গ ধনুক ধরি বাণ ছাড়ে রুক্মীর উপর । রুক্মীর ধনুক বাণ সব হৈল খান্ খান্ রথ ভাঙ্গি ভূমিতলে পড়ে। লইতে রুক্মীর প্রাণ ভগবান, নিল বাণ ভয় পেয়ে রুক্মিণী সত্বরে। বসি কৃষ্ণ পদমূলে ভাসি নয়নের জলে বলে রক্ষ নাথ যদুবর। ভিক্ষা মাগি করযােড়ে মারহ সহােদরে ক্ষমা কর দ্বারকা ঈশ্বর। রুক্সিণী কাতরা হেরি ঈষৎ হাসিয়া হরি ছেড়ে দিল মুড়াইয়া মাথা। লজ্জা পেয়ে বীরবর আর নাহি গেল ঘর প্রতিষ্ঠিল রাজ্য এক তথা । t [ ১৩২] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা রথবেগে আচম্বিতে রুক্মিণীর কর্ণ হৈতে কুণ্ডল পড়িল নদীজলে। নদী হৈল স্নানে হরি করে দয়া কুণ্ডীল বলিয়া লােকে বলে । পূণ্যতােয়া রথ বেগে ধায় নিয়ে যদুরায় রুক্মিণী সহিত রথে। দ্বারকানিবাসী গৃহ হৈতে আসি দাঁড়াইল রাজপথে । কুসুম চন্দন নিয়ে নারীগণ উলুধ্বনি দেয় সবে। জয় জয় রব করে লােক সব হেরে রুক্মিণী কেশবে । রথ হৈতে নামি বসুদেবে নমি প্রবেশিল নিজ পুরে। জননীর পায় নমে যদুরায় দেবকী আশীষ করে। বঁধূরে হেরিয়া আনন্দিত হৈয়া গৃহে নিল সযতনে। বঁধু পায় পড়ে তুলিয়ে ভঁহারে চুষে শির ঘনে ঘনে।
শ্রীকৃষ্ণগীতিকা
[ ১৩৩]
হেমের কারণ
রুক্মিণী হরণ
বর্ণিলাম শুন সবে।
হেমাঙ্গিনী বামে
হেরে ঘনশ্যামে
দুঃখ দূর কবে হবে ।
শিশুপাল বধ।
‘শ্রীকৃষ্ণ অগ্রজ সহ মথুরা ভবনে।
‘শিশুপাল জন্ম কথা শুনিলা শ্রবণে ।
‘বসুদেব আজ্ঞা নিয়ে চলেন শ্রীহরি।
‘রাম সহ উপনীত চেদিরাজপুরী ।
মদনমােহন কোলে নিতে শিশুপালে।
‘কে’শবের ক্রোড়ে চক্ষু লুকাইল ভালে।
‘ক’রম্পর্শে দুই হস্ত খসে পড়ে যায় ।
‘ক্ষ কৃষ্ণ বলি বেগে শ্রবা ধায়।
[ ১৩৪ ]
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
‘কৃষ্ণ মাের বাপ শুন আমার বচন।
‘পামর দুর্জন হবে আমার নন্দন।
‘কৃষ্ণদ্বেষী হবে সদা তােমাকে হিংসিবে
‘পাতকী নারকী সহ মিত্ৰতা করিবে।
‘মদমত্ত হবে নিত্য ধাম্মিকে নিন্দিবে।
‘ঘ’দুকুল বৈরী হবে অনিষ্ট করিবে ।
‘ব’ল বাপ ক্ষমা তুমি করিবে তাহারে।
‘সুখী হব যদি কর নির্ভর আমারে ।
‘দেবাসুর নাগ নরে কেবা হেন বাপ।
‘বল কার সাধ্য সহে তােমার প্রতাপ।
তপন শমন আদি যত দেবগণ।
নতশিরে তব দয়া মাগে অনুক্ষণ।
‘ঘ’দুপতি হেসে কন শুন পিসীমাতা।
‘ভয় ত্যজ অকারণে না হও ব্যথিতা।
‘গমন করিব মাগাে দেহ অনুমতি।
‘বাক্য তব মনে রবে ত্যজ চিন্তা সতী ।
নন্দন তােমার হলে পাপী দুরাচার।
‘হেরিবে ক্ষমিব আমি শতদোষ তার ।
‘হরিবাক্যে হল সুখী শিশুপালমাতা ।
‘রি’পুভয় দূরে গেল গেল মনােব্যথা।
কৃষ্ণ গীতিকা [ ১৩৫ ]; যুধিষ্ঠির মহাভাগ করে রাজসূয় যাগ নিমন্ত্রিত সব নৃপগণে। পৃথিবীর সব রাজা ইন্দ্র সম মহাতেজা সবে এল যজ্ঞ দরশনে । রাজসূয় পূর্ণ দেখি যুধিষ্ঠির হয়ে সুখী জিজ্ঞাসিল শান্তনুকুমারে। কহ পিতামহ মােরে অগ্রে অর্ঘ্য দিব কারে কেবা শ্রেষ্ঠ ভুবন ভিতরে। ধৰ্ম্মপুত্র বাণী শুনি কহে ভীষ্ম বীরমণি শুম রাজা কহি তব স্থানে। কৃষ্ণ অগ্রে অর্ঘ্য পায় নাহি কেহ এ ধরায় অগ্রে পূজ দেবকীনন্দনে। শুনি হর্যে নৃপমণি পাদ্য অর্ঘ্য শীঘ্র আনি পূজে কৃষ্ণে আনন্দিত মনে । হেরিয়া কৃষ্ণের পূজা শিশুপাল মহাতেজা উঠে গর্জে কর্কশবচনে। কহে শিশুপাল ধিক্ হে ভূপাল যজ্ঞ তব হৈল বৃথা। পূজিলে গােপালে কি ফল লভিলে কেম সবে দিলে ব্যথা।
[ ১৩৬] শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা অপূজ্য গােপাল চরায় গাে-পাল গােপবাধা শিরে বয়। তুমি নরপতি চন্দ্রবংশ জ্যোতি তব পূজ্য কৃষ্ণ নয় । মহাপাপী হয় কৃষ্ণ দুরাশয় রমণী বধেছে ব্ৰজে। যত আছে পাপ করিয়াছে পাপ মূঢ়জন তারে পূজে। অনেক ভৎসিল শ্রীকৃষ্ণ সহিল শত দোষ ক্ষমা দিল। পিসীবাক্য স্মরি নীরব শ্রীহরি প্রতিকার নাহি কৈল। শত দোষ শেষ হেরি হৃষিকেশ সুদর্শনে আজ্ঞা দিল। শিশুপাল শির কাটি যদুবীর শিশুপালে মুক্ত কৈল। শত্রুভাবে শিশুপাল ভাবি কৃষ্ণে চিরকাল দিব্যগতি চরমে লভিল.। ভক্তি ভাবে যেই জন ভজে সদা জনার্দন তার ভাগ্য কি আর বলিব ৷
শ্রীকৃষ্ণ গীতিকা
[ ১৩৭]
ত্রিগুণ অতীত হরি
কভু নহে কার অরি
যেই ভাবে তার বাধ্য হয়।
বৃথা যাইতেছে কাল
ভজ ভাই নন্দলাল
আসিতেছে নিদান সময় ॥
কালাকাল নাহি ভাব
ভাব সদা শ্রীমাধব
শমন দমন নীলতনু।
দুরে যাবে সব মােহ
অানন্দে ত্যজিবে দেহ
দয়া যদি করে নন্দমু ।
হরেন্দ্র কপাল দোষে
না ভাবিয়ে হৃষীকেশে
বৃথাকাজে সময় কাটায়।
হল হল দিন অন্ত
নিকটে হেরে কৃতান্ত
একান্তে শরণ মাগে পায় ।
সাধুগণ নিজগুণে
স্থান লভে শ্রীচরণে
গৌরব ইহাতে কিবা হরি।
পাপী হরেন্দ্রের মত
উদ্ধারিলে শত শত
ধন্য ধন্য বলিব মুরারি |
সমাপ্ত
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.