BIRCHANDRA STATE CENTRAL LIBRARY, TRIPURA

The Sabdasakti Prakasika Of Jagaisa Tarkalamkara Vol. 3

Nyayaharya Madhusudan Bhattacharya Ed. · 2013/05/20

PDF Proofread

Front matter

THE
ŚABDAŠAKTI PRAKĀŠIKĀ
OF
JAGADĪŠA TARKĀLAMKĀRA
VOLUME THREE
Edited
WITH
BENGALI TRANSLATION AND ELABORATE EXPOSITION
Ву
MADHUSUDAN BHATTACHARYA NYAYĀCHARYA
TARKATIRTHA, TARKARATNA, TARKĀLAMKĀRA
Professor of Indian Philosophy (Retired),
Department of Post Graduate Training and Reseurch,
Sanskrit College, Calcutta
where
w
संस्कृत कलेज
कलिकाता. १८२४
SANSKRIT COLLEGE
CALCUTTA
1985

Published by
The Principal, Sanskrit College
1, Bankim Chatterjee Street, Calcutta 700 073
Printed by
$. Mitra, BODH PRESO
5, Sankar Ghoub Lanc, Calcutta 700 006

कलिकाता संसकतमहाविद्यालय-गवेषणानन्यमाला-ग्रन्थाः १२९ जगदीशतर्कालङ्कार-विरचिता शब्दशक्तिप्रकाशिका तृतीयः खण्डः वङ्गभाषयाऽनूध विवृत्या समलङ्क. त्य कलिकाता राष्ट्रिय संस्कृतमहाविद्यालयस्य गवेषणाविभागीय- प्राक्तन-भारतीयदर्शनशास्वाध्यापकेन तर्कतीर्थ-तकरतन-सकालमारोपाधिमता श्रीमधुसूदनमट्टाचार्य-न्यायाचार्येण सम्पादिता मम्कतकालन +14... १९९२ पजाब्वे कलिकाता नगी प्रकाशिता

No text on this page.

প্রাককথন পণ্ডিত কুলতিলক আচার্য মধুসূদন ভট্টাচার্য ন্যায়াচার্য ভারতীয় বিদ্বৎ- সমাজে একটি অতি সুপরিচিত নাম। তাঁর সম্পাদিত মহানৈয়ায়িক জগদীশ তর্কালংকারের “শব্দশক্তি প্রকাশিকা” গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ড ‘সমাস প্রকরণ' প্রকাশে কিছু বিলম্ব হলেও নিরতিশয় আনন্দ অনুভব করছি ; সেই সংগে বেদনার সংগে মনে পড়ছে যে গ্রন্থকার জীবিত অবস্থায় এ গ্রন্থটির এই খণ্ডের প্রকাশ দেখে যেতে পারলেন না। “শব্দশক্তি প্রকাশিকা” চিন্তামণি দীধিতির ন্যায় ন্যায়শাস্ত্ৰামমাদিগণের পক্ষে কৌস্তুভমণি বিশেষ। ব্যাকরণে এই মনীষী জগদীশের অসাধারণ ব্যুৎপত্তি তার রচনার ছত্রে ছত্রে পরিস্ফুট। ব্যাকরণ ও ন্যায়ের গঙ্গা-যমুনাসংগম ঘটেছে এই “শব্দশক্তি প্রকাশিকায়”। ‘ব্যাখ্যা গম্যমিদং তত্ত্ব বলেই প্রয়াত মহাপণ্ডিত মধুসূদন তার বিবৃতির মাধ্যমে আমাদের কাছে শব্দ গঙ্গাধরের জটা থেকে জাহ্নবীশক্তিকে মুক্তি দিয়ে ভগীরথের ন্যায় সহৃদয়ৰেদ্য করে তুলেছেন মনােরম প্রকাশশৈলীতে। আমি এই বইটির বহুলপ্রচার কামনা করি। সংস্কৃত কলেজ গবেষণা বিভাগ থেকে এই গ্রন্থের প্রকাশ নিশ্চয়ই পাঠকদের সাগ্রহ অভ্যর্থনা লাভ করবে—এ আশা নিশ্চয়ই করতে পারি। ইতি সংস্কৃত কলেজ ডঃ নারায়ণচন্দ্র ভট্টাচার্য কলিকাতা ৭৩ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ •শে মার্চ, ১৯৮৫

No text on this page.

সূচীপত্র পৃষ্ঠা [১] [• •] ৪০০ নিবেন ভূমিকা সমাসের সামান্য লক্ষণের ভুমিকা (মূল ও বিতি) কাঝিকো সমাসের সামান্যলক্ষণ (মূল ও বিবৃতি) মূল বিৰণােত সমাসেম, সামান্য লক্ষ, সামান্য লক্ষণের এতগত মহাৰাক্যে লক্ষণ ও বাক্যগত মহত্ত্বেৰ বৰূপ (মূলত বিবৃতি) সমাসের সামান্য লক্ষণে ‘’ প্রভৃতি তদ্ধিত প্রত্যয় নিবেশের এয়ান কর্মধারয়, বি, তৎপুরুষ, অব্যয়ীভাব, বহুব্রীহি এবং ভেদে সমাস ৰিধ। কুম্ভকার প্রভৃতি উপপ সমাসকে গ্রহণ করিয়া গমসের মবিধ বিভাগ সমর্থন প্রসঙ্গত তৎপুরুষ সমাস অপেক্ষা উপপদ সমাসের বৈলক্ষণ সমাস বড়বিধ ৰা সপ্তৰিধ হইলেও ৰাভটাদি সম্মত সমাসের পৰিধত্ব সমর্থন পূর্বপদ প্রধান, মধ্যপদ প্রধান, অ্যপদ প্রধান, সর্বপদ ধান এবং অত্যপদ প্রধান সমাসের পর্যালােচনা পাণিনীয় ব্যাকরণের ভাষাবৃত্তি, একাকার নয়াদিত্য কথিত নিত্য এবং নিত্যভেদে সমাসের বৈৰিধ্য (মূল ও বিবৃতি) নিত্য ও অনিত্য সমাসের উৎপত্তি প্রদর্শন পূর্বক উদাহরণ প্রদর্শন (মূল ও বিবৃতি) ‘ফুৰাণ, চলচ্চৈত্র' এই সকল কর্মধারয় সমাসের নিত্যত্ব সমর্থন। মূল ও বিবৃষ্টি) কুন্তী ৰাণী’ এই বিগ্রহ বাক্য এবং ফুণ এই সমাণের তুল্যার্থক এবং এতে বাকের ভাৰ এমুক্ত সমাস মাত্ৰ হিৰাক্যল্য অর্থের প্রতিপাক না হলেও ১-১৭ ১৭-১৮ ( খ ) বিষয় পৃষ্ঠা । ৫ ০ ০ ০ ০ ০ যেখানে ব্যঞ্জকের সম্ভাৰ থাকিবে সেখানে সমাস হইতেও বিগ্রহ বাক্যের ন্যায় লিঙ্গ ও সংখ্যার অবগতি সমর্থন, প্রাচীন বৈয়াকরণ মতের উল্লেখ পূর্বক নিমত সমর্থন, পতঞ্জলির মতে সমাসের স্বতন্ত্র শক্তি স্বীকৃত হওয়ায় সমাসের ঘটক কোনও পদের শকাৰ্থ লিঙ্গ সংখ্যাদি গৃহীত হইবেনা, পরন্তু সমাসগত শক্তিমত্য একটি বিশিষ্টার্থের অবগতি হইবে (মূল ও বিবৃতি) কর্মধারয় সমাস ‘কমিকং যন্নামদ্বয়ম্ ইত্যাদি শ্লোকের মাধ্যমে কর্মধারয়সমাসের লক্ষণ প্রদর্শন। ( (মুলকারিকা ও বিবৃতি) কারিকো লক্ষণের ব্যাবৃত্তি প্রদর্শন ( বিবৃতি) ‘কমিকং যন্নামদ্বয়’ ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে মূল কারিকাটির ব্যাখ্যা প্রদর্শন। পুরুষসিংহ এই সকল স্থলে সিংহ পদের সিংহ-সদৃশে লক্ষণ। স্বীকৃত হইবে, পরন্তু পুরুষপদে পুরুষ সদৃশে লক্ষণমূলে ‘পুরুষ ইৰ এইরূপ বিগ্রহবাক্য হইবেন। এইমতের সমর্থনে কৃষ্ণকান্তের মত প্রদর্শন (মূল ও বিবৃতি) কর্মধারয় লক্ষণে তাদান্ধোন এই অংশের ব্যাবৃত্তি প্রদর্শন প্রসঙ্গে নাম পদের ধাতুভিম্নোপলকত্ব কথন এবং কেনা ইত্যাদি স্থলে স্তোক পদার্থের ধাত্বর্থে অন্বয়ের অনুরােধে লক্ষণের অন্তর্গত নাম পদটির সার্থক শব্দপৰত্ব ব্যবস্থাপন ‘ম পচতি ইত্যাদি কালে কর্মধারয় লক্ষণে অতিব্যাপ্তি নিয়াস। ক্রমিক পদের অর্থ পর্যালােচনা। যদি চ’ ইত্যাদি মূল গ্রন্থ ও বিবৃতির মাধ্যমে কর্মধারয় লক্ষণের অন্তর্গত ক্রমিক পদটির নিষ্প্রয়ােজনীয়তা কথন। প্রসঙ্গক্রমে ‘রাজপুরুষ’ ইত্যাদি সমাস ও বিগ্রহবাক্যের তুল্যাৰ্থকত্বের অনুরােধে রাজপদের রাজসম্বন্ধে লক্ষণা-মশিকারের উক্তির মাধ্যমে সমর্থন। (মূল ও বিবৃতি) ‘পপুলী’ প্রভৃতি দ্বিগু সমাসে এবং দ্বিগাৰ্গং গচ্ছত ২০-২৫ •••২০২১ [ গ ) পৃষ্ঠা ৩০-৫ ইত্যাদি ব্যয়ীভাব সমাসে কর্মধারয় সমাস লক্ষণের অতিব্যাপ্তি শঙ্কা ও তাহার নিরাম। ‘মা ব্রাহ্মণ, ব্রাহ্মণ মানুষ এই সকল অপপ্রয়ােগ বা কবির জন্য যেখানে বিশেষ্য ও বিশেষণ তদাত্মাসম্বন্ধে পরস্পরের ব্যভিচারী হইৰে তাদৃশ স্থলে কর্মধারয়ের সাধু সমর্থন • ৩৬-৩৭ ৩-৩৭ ‘এমেয় ধূমঃ এই সমাস তৎপুরুষ রূপেই স্বীকৃত হইবে—এই প্রাচীন সিদ্ধান্ত প্রদর্শন নামতে চান তরু, বিন্ধ্যগিরি এই সকল প্রামাণিক প্রয়ােগের অনুরােধে কর্মধারয় সমাস স্থলে বিশেষ্য পদার্থে বিশেষণ পদার্থের ব্যভিচায়িত্ব নিয়ামক কিন্তু বিশেষণ পদার্থে বিশেষ্য পদার্থের ব্যভিচারিত্ব নিয়ামক নহে (মূল ও বিবৃতি) ‘পুরুষােত্তম’ এখানে ভ্রমশূন্যত্ব উত্তমত্ব স্বীকৃতি মূলে পুরুষ পদার্থে উত্তম পদার্থের ব্যভিচার থাকায় কর্মধায় সমাসের উপপত্তি প্রদর্শন। (মূল ও বিবৃতি) তৎ পদ প্রভৃতিকে উত্তরপদরূপে গ্রহণ করিয়া প্রায়শঃ কর্মধারয় সমাস অভীষ্ট নহে শাব্দিক জুমরনন্দী প্রভৃতির মতে ‘পরমঃ স’ এইরূপ পৰম স ইত্যাদি কর্মধারয় এবং পাদপদ্মং শিবাযদ্ধি বিধৃতং শম্ভু তদ হৃদি এই সকল তৎ প্রভৃতি উত্তর পদকে গ্রহণ করিয়া তৎপুরুষ সমাস ও স্বীকৃত হইবে (মূল ও বিবৃতি) সমাস শক্তিবাদি পতঞ্জলির মত, প্রদর্শন। (মূল ও বিবৃতি) সমাস, শক্তিদের সমর্থনে ভর্তৃহরির কারিকা প্রদর্শন (মূল ও বিবৃতি) সমাস শক্তি খণ্ডন (মূল ও বিবৃতি) মশাল শক্তি দিগণের আশঙ্কা ও তাহার সমাধান (মূল ও বিবৃতি) একমে বিধেয়তা পদার্থের নিরূপণ এবং ঘটম ইত্যাদি ৩০-৪০ •• ০ ০ ০ ৪২-৪৩ ০ ০ ০ ০২-৫৫ [ ২ বিষয় পৃষ্ঠা • • ০১ ৪০-৪১ বলে কর্মাদি অংশে ঘটেম বিধেয়ত্ব নিয়াস (মূল ও বিবৃতি) নীলোৎপল সর’ ইত্যাদি বহুব্রীহি সমাসের ন্যায় নীলং পীত উৎপল এইরূপ অর্থে নীলপীতােৎপল ইত্যাদি কাধায়ের আপত্তি ও তাহার সমাধান (মূল ও বিবৃতি) ‘নীল পতৎপলে বম্যে এই সকল স্থলে নীল পীত পদের সহিত উৎপল পদের কর্মধারয় সমাস যীকৃত নহে। পরন্তু তভাবে ‘নীলপীতে চ উৎপলে চেতি' ইত্যাদি বিগ্রহ বাক্যস্থলে নীলোৎপল এবং পীতােৎপল রমণীয়—এইরূপ অবয়বােধের উপপত্তি প্রদর্শন (মূল ও বিবৃতি) টাধিকরণম’ এই সকল মধ্যপদ প্রধান তৎপুরুষ সমাস নাম গর্ভিত নহে কিংবা ‘একত্ৰয় এই রীতিতে কীয় অর্থের বােধক নহে, এই সাম্প্রদায়িক মত এদন ( মূল ও বিবৃতি) দেতৎ' ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে সমাস শক্তিবাদীর পুনরায় আশঙ্কা প্রদর্শন (মূল ও বিবৃতি) ত্যৈকদেশার্থে' ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে উক্ত আশঙ্কার সমাধান (মূল) ত্তি শব্দের একদেশ যে পদ তাহার অর্থে সম্বন্ধে কিংবা কারকের ষোধক নহে এইরূপ বিভক্তির নিজ নিজ অর্থবােধের অনুকুল আকাঙ্ক্ষা শুনত্ব প্রদর্শন এবং বাচস্পতির্মিতায় ইত্যাদি সমাসস্থলে বা প্রভৃতি পদার্থে যষ্ঠ্যন্ত মিত পদার্থের অভেদ সম্বন্ধে অয়বােধের আপত্তি নিরাস (বিবৃতি) ‘চৈত্র গুরুকুল, শনৈঃ শাতিত পত্ৰক’ ইত্যাদি স্থলে ‘গুরু’ বা শাতন বৃত্তি শব্দের একদেশ হইলেও তৎ পদার্থে য বিভক্তি অর্থ সম্বন্ধের তৃতীয়া বিভক্তির অর্থকরণত্বের সময়ের সবদিসিকত্ব প্রদর্শন ••• ০ ০ ০ সমাসের স্থায় ক্য, কঙ, এভৃতি প্রত্যয়ান্ত শব্দ মাত্রের ভিৰ কথন [ ] 을 এই প্রসঙ্গে প্রতিযােগিপদাৎইত্যাদি পরিশিষ্টকালের মত উল্লেখ পূর্বক কর্মচাখাল যােগােখং কুপাপক্ষয়ং মম এই বাক্যের ব্যাখ্যা প্রদর্শন (মূল ও বিবৃতি) ‘পদানাং এত্যয়ৈর্যোগে সমাশ্চেহ বৃত্তয়' পরিশিষ্টকারের এই উক্তির মাধ্যমে বৃত্তিশব্দের ব্যাখ্যা প্রদর্শন শণগগনং সমবেত এই সকল কাকে অযােগ্য না বলিয়া নিরাকাবলার প্রয়ােজন প্রদর্শন। (বিবৃতি) পবিতায় সতত’ ইত্যাদি কারিকার মাধ্যমে বৃত্তিশব্দের একদেশর্থ বা পদার্থে যষ্ঠীবিভক্ত্যন্ত পরিষ্কৃত পদার্থের অন্বয় বােধের প্রতি পরিষ্কতায়া: সততং এই বাক্যের নিরাকাঙ্কত্ব প্রদর্শন, (মূল ও বিবৃতি) ‘অতএব’ ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে শ্ৰপতি দন্তের মত উদ্ধৃত করিয়া নিজ সিদ্ধান্তের প্রামাণিকত্ব প্রদর্শন ‘প্রতিযােগিণদাদ্যৎইত্যাদি কারিকার ব্যাখ্যা প্রদর্শন ( বিবৃতি) ‘কর্মচাণ্ডালযােগােখং কুক পাপক্ষয়ং মম’ এই স্মৃতিচনের যথাশ্রুত অর্থে অসঙ্গতি প্রদর্শন পূর্বক সমাধান প্রদর্শন ( বিবৃতি) ‘যস্মিণ রাশি গতে সূর্যে বিপত্তিং যান্তি মান” ইত্যাদি ৰচনের অসঙ্গতি নিরাস( বিবৃতি) দ্বিগু সমাস কারিকো দ্বিগুসমাসের লক্ষণ (মূল ও বিবৃতি) ৰিৰণােক দ্বিগুসমাসের লক্ষণ ও উদাহরণ প্রদর্শন (মূল) বিরণােক্ত লক্ষণাদির ব্যাখা (বিবৃতি) ৫৬৭৩ Bet t ও অলক্ষ্যে অভিব্যাপ্তি ৰায়ণ পূর্বক লক্ষ্যে লক্ষণ সমন্বয় প্রদর্শন অতএব কন্টকার্ষাদিকং খং ইত্যাদি কারিকার মাধ্যমে ‘পমূলং’, ‘দশমূলং ইত্যাদি খুলে দ্বিগুসমাস লক্ষণের অক্ষাত্ব প্রদর্শন পূর্বক এক বচনের সমর্থনে যুক্তি প্রদর্শন (মুল ও বিবৃতি) [ ] বিষয় পৃষ্ঠা বিসমাস লক্ষণের অন্তর্গত প্ৰকাতাতে তদাত্ম্য সম্বন্ধাৰচ্ছি নিৰেশের এবং পর্যাপ্তনিবেশের ব্যাবৃত্তি প্রদর্শন পূর্বক পৰ্যাপ্তি সম্বন্ধে আলােচনা (বিবৃতি) ০ ৬৩-৬ ০ ০ ০ ৭৭২ ৪০ ৭২-৭৩ ‘দ্বিগাৰ্গং গচ্ছত' এই স্থলে অব্যয়ীভাব সমাসে দ্বিশুলক্ষণের অতিব্যাপ্তি নিরাস ও দ্বিগু সমাসের ভেদ প্রদর্শন (মূল ও বিবৃতি) তদ্ধিতার্থদ্বিগুসমাসের লক্ষণ ও উদাহরণ প্রদর্শন পূর্বক পরিশিষ্ট কারের মত সমর্থন ও ফণিভাকারের মত খণ্ডন, ( মূল ও বিবৃতি) উত্তরপদ দ্বিগুসমাসের লক্ষণ ও উদাহরণাদি প্রদর্শন (মূল ও বিবৃতি) সমাহার দ্বিগুর লক্ষণ ও উদাহরণ প্রদর্শন (মূল ও বিবৃতি) পঞ্চপুলী এই দ্বিগুসমাসস্থলে অন্তিম শব্দটির সমাহার রূপ অর্থে লক্ষণ। স্বীকৃতি পক্ষে শঙ্কা ও তাহার সমাধান (বিবৃতি) পঞ্চপুলী ইত্যাদি দ্বিগুসমাসে কর্মধারয়ত্ব প্রযুক্ত সমাসের বড় বিধত্ব ব্যাঘাতের আশঙ্কা ও তার সমাধান (বিবৃতি) তৎপুরুষসমাস ভূমিকা সহ কারিকো তৎপুরুষসমাসের লক্ষণ (মূল ও বিবৃতি) মূল বিবােক্ত তৎপুরুষ সমাসের পবিষ্কৃত লক্ষণ নিরূপণ, ‘পূর্বকায়াের্ধপিপ্পলী ইত্যাদি স্থলে ব্যাপ্তিভয়ে প্রকারান্তরে লক্ষণার্থ নিরাস—স্তোক পা, মহাকবি ইত্যাদি স্কুলে কর্মধারয় সমাসের উপপত্তি প্রদর্শন ভোকং শা’ ইত্যাদি স্থলে অক বিভক্তির তাদাহ্মবাচি বীকৃতি পক্ষে স্তোকনম্ৰান্তনাত্যাং' ইত্যাদি স্থলে কর্মধারয় সমাসের উপপত্তি প্রদর্শন (মূল ও বিবৃতি)। দ্বি এবং কর্মধারয় সমাসে পদসংস্কাররূপ প্রয়ােজনে শাব্দিক সম্প্রদায়ের গৌণ তৎপুরুষত্ব ব্যপদেশ কথন (মূল ও বিবৃতি) “দ্বিতীয়াদি যুব’ ইত্যাদি কায়িকার মাধ্যমে তৎপুরুষ সমাসের ভেদ এবং দ্বিতীয়াদি সুষর্থের প্রায়শঃ ক্রিয়ায়িত্ব প্রদর্শন (মূল ও বিবৃতি) ৭৪-১০২ ৭-৭৫ ০ ০ ০ ৭৫-৭ ৭-৭১:

[ ২ ] বি পৃষ্ঠা ০ ০ ০ ৮১ ৮১৮২ ২-৮৬ ৮৬-৮ গ্রামগত ইত্যাদি স্থলে লক্ষ্যসমুহ প্রদর্শন পূর্বক তৎপুরুষের বিশেষ লক্ষণসমুহ নিরূপণ ও শাবােধের শৈলী প্রদর্শন। ‘ইয়াং বিশেষ' ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে বিভাজককার কর্তৃক উত্তর্ধের ব্যাখ্যা প্রদর্শন (মূল ও বিবৃতি) দ্বিতীয়াদি তৎপুরুষ স্থলে দ্বিতীয়াদি বিভক্তির অর্থ ধাতুর অর্থে ভাসমান হইয়া থাকে-সমান্তর অপেক্ষা তৎপুরুষ সমাসের এই বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন (মূল ও বিবৃতি) ‘পীঠং পরিত’ ইত্যাদি স্কুলে দ্বিতীয়াদি বিভক্তির অর্থ ধাতুর অর্থে অম্বিত না হওয়ায় ঐ সকল বাক্যের বিগ্রহ বাক্যত্ব ব্যবচ্ছেদ প্রদর্শন ( মূল ও বিবৃতি) ‘ননু গ্রাম গত' ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে সিদ্ধান্তিগণের অভিপ্রেত বিবিধ আশঙ্কার খণ্ডন পূর্বক পূর্বপক্ষগণ কর্তৃক তৎপুরুষ লক্ষণের অসম্ভব আশঙ্কা (মূল ও বিবৃতি ) ‘ইতি চেৎ ন’ ইত্যাদি সম্পর্ডের মাধ্যমে উক্ত অসম্ভব আশঙ্কার সমাধান (মূল ও বিবৃত ) ‘ন যদি ইত্যাদি গ্রন্থের দ্বারা গ্রামগত ইত্যাদি স্থলে কর্মত্ব দি সংসর্গে গ্রাম প্রভৃতির গতিক্রিয়াতে অন্বয়ের আশঙ্কা প্রদর্শন ( মূল ও বিবৃতি) ‘ইতি চেৎ সাম্' ইত্যাদি সন্দর্ডের মাধ্যমে প্রথম কল্প গ্রামগত ইত্যাদিস্থলে গ্রাম প্রভৃতিপদের গ্রামমত্বে লক্ষণ। স্বীকৃত এবং উত্তর কল্পে কর্মত্বাদসংসর্গে গ্রাম প্রভৃ তর গতি ক্রয়াতে অন্বয় সমর্থন (মুল ও বিবৃত) ‘গ্রাম ইত্যাদি স্থলে কমত্বাদি *র্মিক অন্বয়ের অনুরােধে দ্বিতীয়াদি বিভক্তির কর্মত্বার্থকত্ব সমর্থন ‘অঘট পট' ইত্যাদি তৎপুরুষে অব্যাপ্তি বরণের অনুরােধে গ্রামগত ইত্যাদিস্থলে ভেদ সম্বন্ধে অন্বয়বােধের স্বীকৃতি (মূল ও ব্ৰিতি ) ‘শট্যাব এইরূপ অর্থে এসহ নঞ নিপাতের দ্বারা ‘অপট” ইত্যাদি সমাসের অধ্যয়ীভাবত্ব সমর্থন ও তাহার যুক্তি প্রদর্শন (মূল) অ-ই ০ ০ ০ ৮১-১০ ১০•১৩ বিষয় মতান্তরে প্রসহ নঞর দ্বারা ও ‘অপট' ইত্যাদি তৎপুরুষ সমাসের স্বীকৃতি ও ইহার অনুকুলে কিণাবলীকারের মত প্রদর্শন পূর্বক পক্ষধরমিশ্রের সিদ্ধান্তকথন (মূল ও বিবৃতি) তৎপুরুষ সমাসে কর্মত্ব, স্বত্ব প্রভৃতি সংসর্গমর্যাদায় ভাসমান হইবে এই উত্তর কল্পটির যুক্তির দ্বারা সমর্থন ‘গ্রামগত’ ইত্যাদি স্থলে গ্রামকত্বে লক্ষণস্বীকৃতি পক্ষে ‘দশৈতে রাজ মাতা ইত্যাদি স্থলে তৎপদের দ্বারা একদেশ রাজপদার্থের উপস্থিতি সম্ভব নহে তস্যৈবামী তুরঙ্গমা’ ১৪:১৫ ০০০ ১৬-১৭ ১৭-১৮ ‘ন হি প্রজ্ঞাবতীয়ং মে’ ইত্যাদি কারিকার মাধ্যমে বৃত্তিশব্দের একদেশ পদের অর্থ ভ্রাতৃ প্রভৃতি তৎপদের দ্বারা উপস্থাপিত নহে (মূল ও বিবৃতি) তৎপুরুষ সমাসস্থলে লক্ষণ স্বীকৃত না হইলে ‘নিষাদষ্ণপতিং যায়েৎ এই শ্রুতির অন্তর্গত ‘নিষাদ: স্থপতি:' এইরূপ অর্থে কর্মধারয় হইবে, তৎপুরুষ হইবে না এই সিদ্ধান্তের ব্যাঘাতশঙ্ক। (মূল ও বিবৃত) ইতি চেন্ন ইত্যাদি সম্পর্ডের দ্বারা উক্ত শঙ্কার সমাধান (মূল ও বিবৃতি) ‘অথ’ ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে পুনরায় আশঙ্কা ও প্রতিবন্ধি মুদ্রায় উক্ত আশঙ্কার সমাধান, (মূল ও বিবৃতি) গ্রন্থকারের গঢ় অভিপ্রায় প্রদর্শন ( বিবৃতি) লক্ষণা নিবন্ধন বহুব্রীহি সমাসের জঘন্যতা পরন্তু কল্পনা গৌরবাদি প্রযুক্ত জঘন্যত। এইমত সমর্থন । মূল ও বিবৃতি) অব্যয়ীভাব সমাস কারিকোজ অব্যয়ীভাব সমাসের লক্ষণ ও ব্যাখা (মূল ও বিবৃতি) ‘য সমাস ইত্যাদি বিবরণ গ্রন্থের মাধ্যমে অব্যয়ীভাব সমাসের নিষ্ক, উদাহরণ ও লক্ষণ ঘটক পদের ব্যাবৃত্তি প্রদর্শন, (মূল ও বিবৃতি) • ‘উত্তরান্বিত স্বার্থ' ইত্যাদি কারিকোক্ত লক্ষণের দোষ প্রদর্শন পূর্বক আমাদেশং বিনা' ইত্যাদি কারিকো লক্ষণের ভূমিকা প্রদর্শন (মূল ও বিবৃতি) ১৯-১০২ ১০২ ১২ ১০২-১১২ ০ ০ ০ ১০২-১০৩ ১••• ১•১৮ [ ৪ ] পৃষ্ঠা ০ ০ ০ ১•১১১২ ১১২১৫৫ ১১২.১১ ১১৩১১ ‘মাদেশং নি।' ইত্যাদি কারিকার ব্যাখ্যা প্রদর্শন (বিবৃতি) বিবরণগ্রন্থের এবং বিবৃতির মাধ্যমে কারান্তরোক্ত অব্যয়ীভাব সমাস লক্ষণের বিশদার্থ প্রদর্শনপূর্বক শ্ৰয়মাণ যষ্ঠীর এবং লুপ্ত যষ্ঠী ও সমান্তরার্থ একাকবােধের প্রতি স্বরূপ যােগ্যত্ব প্রদর্শন। ‘য়মাণ ষষ্ঠী' ‘অমাদেশং বিনা’ এবং শায়মাণ ষষ্ঠী এখানে যষ্ঠী পদটির প্রয়ােজন প্রদর্শন, (মূল ও বিবৃতি) বহুব্রীহি কারিকানুসারে বহুব্রীহি সমাসের লক্ষণ তাহার ব্যাখ্যা (মূল ও বিবৃতি) বিবরণ গ্রন্থের মাধ্যমে বহুব্রীহি সমাস লক্ষণের বিশদার্থ কথন, দ্বিতীয়, তৃতীয়দি বিভক্তিভেদে বহুব্রীহি সমাসের লক্ষ্য নিরূপণ ও বহুব্রীহি সমাসস্থলে অন্বয়বােধের রীতি প্রদর্শন (মূল ও বিবৃতি) দিক ৰাচক অর্থাৎ বিদিক বহুব্রীহি স্থলে সমাস ও বিগ্রহবাক্য হইতে অন্বয়বােধের রীতি প্রদর্শন (মূল ও বিবৃতি) ‘অস্তিক্ষীরা, নাস্তিক্ষীরা গৌ’ ইত্যাদি স্কুলে বিগ্রহবাক্য ও সমাস বাক্যের অর্থবােধের শৈলী প্রদর্শন (মূল ও বিবৃতি) ‘অন্তিক্ষীরা ইত্যাদি স্থলে ‘অন্তি’ প্রভৃতি কোনও মতে তিঙন্তু ক্রিয়াপদ, অপর কোনও সম্প্রদায়ের মতে অস্তি প্রভৃতি ক্রিয়ার প্রতিরূপক অব্যয়বিশেষ কথন (মূল ও বিবৃতি) অস্তি বা নান্তি পদকে অব্যয়রূপে স্বীকৃতিপক্ষে অতিক্ষীরা প্রভৃতি বহুব্রীহি সমাসের অব্যয়ীভাব সমাসত্ব নিরাকরণ, ( বিবৃতি) “উপদশাঃ শকুনয়ঃ” ইত্যাদি বহুব্রীহি সমাস স্কুলে ‘উপসমীপে দশ যে, এই বিগ্রহবাক্য হইতে বহুব্রীহি সমাসস্থলে নিজ সমীপ গণিত দশ সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে নব সংখ্যক অথবা একাদশ সংখ্যক পক্ষি বােধের উপপত্তি প্রদর্শন (মুল ও বিবৃতি) উক্ত স্কুলে এবং অধিকদশা: পুৰুষা ইত্যাদি স্থলে দুর্গসিংহ প্রভৃতি। মত অনুযায়ী অন্বয় বােধের রীতি প্রদর্শন। (মূল ও বিবৃতি) বে। বায়ো ৰা যে এইরূপ অন্যতৰ্থক ৰা শব্দ ঘটিত বিগ্রহ ১১ [ ঞ ] বিষয় পৃষ্ঠা ১২০২১ ১২০•১২২ ১২১২৬ ১২৩-১২৪ ০০ ০ ১২ হইতে ‘দ্বিা: পবিত্ৰা' এই সকল বহুব্রীহি সমাসস্থলে এবং পঞ্চ: পুরুষঃ' বহুব্রীহি স্থলে অষয়বােধের উক্ত রীতিই গৃহীত হইবে। (মূল ও বিবৃতি) ‘বে বা ত্ৰয়ো বা ইত্যাদি স্থলে বা শব্দের অন্যতররূপ ‘ঘটে, পটে বা পটত্ব ইত্যাদি স্থলের ন্যায় প্রমাণসিদ্ধ হইলেও ‘অয়ং ‘াণুর্ব পুরুষে। বাবা শব্দটি ঋণুত্ব তদভারকোটিক এবং পুরুষত্ব কোটিক সংশয়ের ৰােধকত্ব সমর্থন। (মূল ও বিবৃতি) ‘দ্বিত্ৰা পৰিত্ৰা: পরমা:' বহুব্রীহি স্থলে বা শব্দের অন্যতম রূপ অর্থ লাক্ষণিক অর্থে প্রবেশ নিবন্ধন গতার্থ হওয়ায় শ্রবণেন্দ্রিয় গ্রাহ্য কইবে না। (মূল ও বিবৃতি ) মতান্তরে বা শব্দের সংশয় কোটি রূপ অর্থের স্বীকৃতিমূলে ‘দ্বিাঃ পবিতা' ইত্যাদি স্থলে শাত্ববোধের শৈলী প্রদর্শন ও উক্ত মত খণ্ডন । ( (মূল ও বিবৃতি) অচ, প্রত্যয়ান্ত দ্বিশ ঘটিত বিগ্রহ বাক্য হইতে জাত বহুব্রীহি সমাস স্থলে শব্দবােধের শৈলী প্রদর্শন। (মূল ও বিবৃতি) ‘জন্তর্ভাবেনৈব’ এই ‘এ’ কারের সার্থক্য প্রদর্শন। (মূল ও বিবৃতি) ধনসম্বন্ধি চৈত্র, পটসম্বন্ধি এবং মাতৃভক্ত, এই সকল তৎপুরুষ সমাসের বহুব্রীহিত্ব নিরাকরণ। (মূল ও শিবৃতি) ‘দ্বিমুনি ত্রিমুনি ৰা গ্ৰন্থ’ ইত্যাদি তৎপুরুষ সমাসে বহুব্রীহি লক্ষণের অতিব্যাপ্তি শঙ্ক! ও তাহার সমাধান। (মূল ও বিবৃতি) চিত্ৰ:’ ইত্যাদি কালে চিত্ৰ সমুদায়ের অথবা চিত্রপদের নিরূঢ় লক্ষণ। স্বীকৃতি পক্ষে দোষ প্রদর্শন। (মূল ও বিবৃতি) চিত্ৰ:' এই বহুব্রীহি সমাসস্থলে তত্ত্বচিন্তামণিকার গঙ্গেশ উপাধ্যায় প্রভৃতির মতে চিভিন্ন স্বকীয় গো সম্বন্ধিরূপ অর্থে গােপদের নিরূঢ় লক্ষণ এবং চিত্র পদটির তাৎপৰ্যাদি গ্রাহকত্ব প্রদর্শন পূর্বক উক্ত মতের খণ্ডন। (মূল ও বিবৃতি) ‘তস্মাৎ' ইত্যাদি গ্রহের মাধ্যমে চিত্র এখানে গােপদের ‘অগােসম্বন্ধি' সম্বন্ধুরূণ অর্থে নিরূঢ় লক্ষণ। স্বীকৃত হইবে এবং ‘গো পদার্থে তদাত্ম্যসম্বন্ধে চিত্র পদার্থের আয় হইবে’-এইরূপ নিজ সিদ্ধান্ত প্রদর্শন। (মূল ও বিবৃতি) ০ ০ ০ ১২৫ ১২৬ ১২৭-১২১ ১২১-১৩৩ ০০০ ( ট ) বিষয় পৃষ্ঠা ১৩৩-১৩ ১৩৫১৩ ১৩১৩ ‘ঘট-শূন্য' ইত্যাদি স্থলের ন্যায় ‘পদার্থ: পদার্থেনৈব অন্বেত নতু পদার্থৈকদেশেন’ বা কার্য-কারণভাব রূপ ব্যুৎপত্তির বৈচিত্র্য ৰীকৃতি মূলে চিত্র এখানে লাক্ষণিক অর্থের একদেশে গো পদার্থের চিত্রপদার্থের অভেদ সম্বন্ধে চিত্র পদার্থের অন্বয় সমর্থন। (মূল ও বিবৃতি) চিত্ৰ এই স্থলে গাে-পদটি কীয় গোত্বপুরস্কারে এবং সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে যকীয় গো এবং সম্বন্ধিরূপ অর্থে নিরূঢ় লক্ষণ। স্বীক কোনও শাব্দিক সম্প্রদায়ের মত প্রদর্শনপূর্বক খণ্ডন। (মুল ও বিবৃতি ) ‘আরূঢ় বানরো বৃক্ষঃ এইলে রুহ ধাতুর দ্বারা স্বগত কর্মতার নিরূপক আরােহণরূপ অর্থের ক্ত প্রত্যয়ের দ্বারা কর্তৃরূপ অর্থের, বানর পদের দ্বারা বানর সম্বন্ধি রূপ অর্থের উপস্থিতি মূলে স্বকীয় কর্মতার নিরূপক আরােহণ কর্তা হইতে অভিন্ন বানর সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে বৃক্ষাদি বােধের উপপত্তি প্রদর্শন। (মূল ও বিবৃতি) অরূঢ়ো বানরে যস্য বৃক্ষম’ ইত্যাদি বিগ্রহ বাক্য হইতে আরূঢ় বানর পদটি স্বকীয় বৃক্ষারূঢ় বানর সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে গ্রামাদি বোধের জনক হওয়ায় বহুব্রীহি সমাস হইবে না কেন? এই আপত্তি প্রদর্শন পূর্বক তাদৃশ বাক্যের উক্ত আপত্তির সমাধান কল্পে ‘অকৈং প্রথমাং সৎ’ ইত্যাদি কারিকার মাধ্যমে বিগ্রহত্ব খণ্ডন। (মূল ও বিবৃতি) বহুব্রীহির অন্তর্গত একটি নাম প্রথম বিভক্তান্ত হইতে হইবে এবং সুবন্ত অন্যান্য পদসমূহের সহিত ভেদ সম্বন্ধে অন্বয় বােধের উপযােগি দ্বিতীয়াদি বিভক্ত্যন্ত যৎপদের সহিত সাকক্ষ হইলে উক্ত বাক্যের বহুব্রীহি সমাসের বিগ্রহবাক্যত্ব কথন। ভেদ ও সুবন্তের সহিত সাকক্ষ না হওয়ায় ‘আরূঢ়ো বানরো ষষ্ণ ব’ এই বাক্যের এবং আরূঢ়। বানরো যঃ এই বাক্যের বহুব্রীহি সমাস স্থলে বিগ্রহবাক্যত্ব নিবাস। ‘অটো দেশ’, ‘সপুত্র' ইত্যাদি স্থলে ‘ন ঘটো যন্ত্র সহ পুত্রো যেন এইরূপ বিগ্রহ বাক্যের সমর্থন পূর্বক ‘পুত্ৰেণ সহ ইত্যাদি বাক্যের বিগ্রহত্ব নিরাল। ১৩১৩১ ৪ ০ ০ ১৩১১০০ ১৪০•১৪২ ১৪৪ [ ১ ] বিষয় পৃষ্ঠা ‘সহ ঘটে। যেন এইরূপ বিগ্রহস্থলে সহ পদটির অর্থ প্রদর্শন পূর্বক ‘জীবৎ পিতৃক' ইত্যাদি স্থলে জীবৎ অভিন্ন পিতা যদিও এই প্রকার অন্বয়েই সাকাঙক্ষত্ব সমর্থন। ১৪••১৪২ ১৪৬ যে বিগ্রহ বাক্যে সুবন্ত যৎ পদটি ক্রিয়া সাকা হইবে কোনরূপ বাধক না থাকিলে তাদৃশ যৎ পদান্বিত ক্রিয়া গভিত বাক্যার্থে বহুব্রীহি সমাসের ব্যুৎপত্তিসিদ্ধত্ব সমর্থন। যেখানে সুবন্ত যৎপদটি ক্রিয়া কাজ নহে সেখানে বিগ্রহ বাক্য হইতে যে নামার্থ মুখ্য বিশেষ বােধ উৎপন্ন হইবে, সুবন্ত যং পদার্থের সহিত অন্বিত সেই নামার্থ গতি বিগ্রহ বাক্যের পক্ষে বহুব্রীহি সমাসের সমর্থন। ১৪৪•১৪৬ ১৪৭-১৪১ ‘চন্দ্রচূড় শিবঃ' ইত্যাদি বহুব্রীহি সমাসঋলে স্বকীয় চূডাবৃত্তি চন্দ্র সম্বন্ধিত্ব পূস্কারে শিৰ বিষয়ক বােধের সমর্থন। চৈত্র পুত্ৰকতােৎকর্যঃ এই সকল স্থলে স্বকীয় পুত্র কত উৎকর্ষ সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে চৈত্রাদিগােচর বােধের সমর্থন তদগুণসংবিজ্ঞান অতদগুণসংবিজ্ঞানতেনে বহুব্রীহি সমাসের বৈবিধ্য কথন, উক্ত দ্বিবিধ বহুব্রীহি সমাসের মধ্যে বিগ্রহ বাক্যের অন্তর্গত বিশেষবােধক পদের দ্বারা প্রতীয়মান পদার্থবিশেষ্যক বোধজনক বহুব্রীহি সমাসের তদ্‌গুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহিত্ব ব্যবস্থাপন। তগুণসংবিজ্ঞান ভিন্ন বহুব্রীহি সমাসের অতগুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি কথন। ‘ঘটম্বরূপং যস্য এই বিগ্রহ বাক্য অনুসারে ‘ঘটম্বরূপঃ পদার্থ এই বহুব্রীহি সমাসের এবং ‘কুট আদি’ এই ব্যুৎপত্তি অনুসারে কুটাভিন্ন স্বধর্মিক যে ব্যবস্থাধর্মি তৎসম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে অপরাপর ধাতুর ন্যায় কুট ধাতুও গৃহীত হওয়ায় ‘কুটাদিন না' এই বহুব্রীহির তদগুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি সমর্থন। যঃ স্বার্থ ঘটকার্য ইত্যাদি কারিকার মাধ্যমে প্রাচীন মতানুসারে তগুণ সংবিজ্ঞান বহুব্রীহি সমাসের লক্ষণ। (মূল ও বিবৃতি) যাে বহুব্রীহি' ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে প্রাচীন সম্মত গুণ ০ ০ ০ ১৪১ ০ ০ ০ ১০১ [ ৬ ] বিষয় পৃষ্ঠা ৪ । ১১-১২ সংবিজ্ঞান বহুব্রীহি সমাসের পরিকৃত লক্ষণ ও উদাহরণ প্রদর্শন। (মূল ও বিবৃতি) বহুব্রীহি সমাসের ঘটক নাম হয়, নাম ব্ৰয় অথবা নাম চতুষ্টয় ঘটিত বিগ্রহ বাক্য প্রযুক্ত দ্বিপদ, ত্রিপদ এবং চতুম্পদ প্রভৃতি বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ প্রদর্শন। (মূল ও বিবৃতি) ১৫২-১৫ দ্বন্দ্ব সমাস ১৫৫-১৯০ ‘য, যদর্থক ষন্নাম’ ইত্যদি কারিকার মাধমে দ্বন্দ্ব সমাসের লক্ষণ। গদাধর ভট্টাচার্য কৃত অনুমিতি গ্রন্থে ‘পদার্থানাং প্রধানহে ভৰতি দ্বন্দ্ব সংজ্ঞক এই কারিকাংশের উল্লেখ পূর্বক দ্বন্দ্ব সমাসের লমণ কথন। ১৫৬-১৫। ০ ০ ০ ১৫৬-১৬৯ বিবরণ এবং বিবৃতি গ্রন্থে উদাহরণ সহযোগে দ্বন্দ্ব সমাসের নিষ্কর্য প্রদর্শন। ‘যত্ত, ইত্যাদি সন্দর্ভের দ্বারা দ্বন্দ্ব সমাস স্থলে সাহিত্যে লক্ষণা-দি- প্রাচীন সম্প্রদায়ের মত প্রদর্শন পূর্বক খণ্ডন। ‘পাণিপাদম’ ইত্যাদি দ্বন্দ্ব সমাস স্থলে সমাহার পরিভাষার ক্লীবলিঙ্গত্ব নিত্য এক বচনদি পদসংস্কারের উপযােগিরূপে প্রয়ােজন প্রদর্শন। ‘খৰ খদিরে ইত্যাদি ইতরেতর দুমাসলে উত্তরপদের ধব খদির সাহিত্যায়ে লক্ষণার আশঙ্কা ও খগুন। ত্রিতয়া বিশেষ্যক ধৰ দিদি ধর্মিক ধীবিশেষ বিশেষ্যত্ব রূপ ধৰ খদিরগত সাহিত্যের আশঙ্কা ও তাহার খণ্ডন। যে দ্বন্দ্ব সমাস স্থলে নানা ধর্মগত প্রত্যর্থতার অবচ্ছেদকত্ব ভাসমান হইবে, সেই দ্বন্দ্ব সমাসস্থলে তত্তৎ ধর্মাবচ্ছিন্ন সমূদায়ে পর্যাপ্ত সম্বন্ধে দ্বিত্বাদি বােধের অনুকুল দ্বিবচনাদির আকাঙ্ক্ষত্ব প্রদর্শন পূর্বক ধব-খদিরে ইত্যাদি দ্বন্দ্ব সমাস হইতে ধৰদ্বয় বা খদিরদ্বয় গোচর বােধের প্রসক্তি নিরাস। ১৫১-১৬৪ ১৬৫-১৬ ‘ঘট-ঘট, ঘট কলস, ঘট তদূঘট, তাদৃশ নাম সমূহের দ্বন্দ্ব সমাসত্ব নিস। সমস্যমান পদার্থদ্বয়ের অথবা পদার্থতাবচ্ছেদকদ্বয়ের পরস্পর ভেদ থাকিলেই দ্ব সমাসের সাধুত্ব কথন।

[ ঢ ) বিষয় পৃষ্ঠা ১৬৬-১৭ ১৬৮১৬১ পাণিনি ‘চার্থে দ্বন্দ্ব এই সূত্রের দ্বারা এবং ভেদগর্ভ সমুচ্চয়ার্থক শব্দকে অন্তর্ভাব করিয়া বৃদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রয়ােগের দ্বারা এবং পরস্পর ভেদ প্রাপ্তির অনুরােধে চকার দ্বয়ের পরিগ্রহ করিয়া উক্ত মতের সমর্থন। (মূল ও বিবৃতি ) ‘পীত-তৎপটয়েস্তাদাত্ম্যম্ ইত্যদি স্থলে ব্যুৎপত্তির বৈচিত্র্যবশতঃ পীতত্ব তৎপটত্বৰূপ প্ৰকৃতার্থতার ধর্মদ্বয়ের দ্বিবচনের অর্থ দ্বিত্বাদিৰ পৰ্যাপ্তির সম্বন্ধে অম্বয় সমর্থন। কিৰণাবলীগ্রন্থে আচার্য উদয়নের ‘জ ত্যভিপ্রায় কমে কবচন' এই উক্তির দ্বারা উক্ত ব্যুৎপত্তি বৈচিত্র্যের সমর্থন। ‘শ্যাল ভ্রাতরঃ পত্নাঃ স্বামিনে দেবৃদেবরো' এই অমরকোষ সর্ডের দ্বিবচন থাকার ফলে স্বামীর ভ্রাতৃপ :দ বৃদের এই উভয়পদ বাচ্য এই দুভূতি প্রভৃতি টাক' গ্রন্থের সমর্থন। (মূল ও বিবৃতি) কাৰ্যদ্রব্যং নশতি’ এই প্ৰশশুপাদ ভাষ্য সন্দর্ভের অন্তর্গত দ্রব্য পদটি আচাৰ্য উদয়নের অভিমত ভাবপ্রধান নির্দেশ স্বীকৃত হইলেও আশ্রয় প্রতিযােগিকত্ব সম্বন্ধে নশ, ধাতুর ধ্বংসে অন্বয় সম্ভবপর হওয়ায় উক্ত বুৎপতির সঙ্কোচ ব্যতীতও অন্বয়বােধের উপপত্তি শংকা ও তাহার সমাধান। ( বিবৃতি) ভূতলে পটদ্বয় না থাকা কালেও ‘ভূতলে পীতপটী’ ইত্যাদি প্রয়ােগের আপত্তি ও তাহার সমাধান। (মূল ও বিবৃতি ) ‘বিদ্যতি, বিতি, বিনমিটি’-এই সকল সূত্রের অন্তর্গত বিদ্যতি প্রভৃতি শব্দের বিদ সাতুত্ব পুরস্কারে বি ধাতুর উপস্থাপকত্ব নিরাস পূর্বক সার্থক তাদৃশ ধাতুত্ব পুরস্কারে বিদ ধাতুর উপস্থাপকত্ব সমর্থন। (মূল ও বিবৃতি) মৃগ এবং পাণ্ডর এই পদার্থদ্বয়ের পরস্পর ভেদ থাকিলে ও ‘হরিণ- হরিণৌ এইরূপ প্রয়ােগ অপপ্রয়ােগ হয় বলিয়া উক্ত সমান শব্দদ্বয়ের দ্বন্দ্ব সমাসের প্রতিস্থলে ‘হরিণৌ' এইরূপ একশেষ সমর্থন পূর্বক অন্বয় বােধের উপপত্তি প্রদর্শন। (মূল ও বিবৃতি) ‘হরি হরীম’ে ইত্যাদি প্রয়ােগের আপত্তি বারণ করিবার জন্য ‘হরীনমস্তে’ এখানে ও উক্ত রীতি অনুসারে বিষ্ণু এবং চন্দ্রমা এত উভয় বিষয়ক বােধের উপপত্তি প্রদর্শন। (মুল ও বিবৃতি ) ০ ০ ৫ ১৬১-১৭ ১৩১৭১ [ । ] বিষয় ग ১৭১•১৭২ ০ ০ ০ ১২:১৭৩ ১৭২-১৩ ‘হরী চ হয়শ্চেতি এইরূপ হয়' ইত্যাদি একশেষ হইতে সমস্যমান পদার্থসমূহের অবান্তর সংখ্যার অবগতি হইলে তৎ তৎ সংখ্যা বিশিষ্ট অর্থে লাক্ষণিক লুপ্ত হরি পদের উত্তত্ব পুরস্কারে জ্ঞাত হরিপদের ব্ৰিত্ব সংখ্যাবিশিষ্ট সিংহণ অর্থের লক্ষণারূপ বৃত্তির দ্বারা বােধকত্ব সমর্থন। (মূল ও বিবৃতি) উক্তরূপ শ্রুত হরিপদের প্রতি সন্ধান না থাকিলে শ্রুত হরিপদের একই লক্ষণামূলে অথবা শক্তি ভ্রম হইতে বিষ্ণু চন্দ্র উভয়ের এবং সিংহ ত্রয়ের বােধকত্ব সমর্থন। (মূল ও বিবৃতি) ‘ন চ’ ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে বিগ্রহের অন্তর্গত সুপ, বিভক্তির অর্থ বিত্বাদি সংখ্যা সমাসের দ্বারা প্রতিপাদ্য নহে এইরূপ নিয়ম থাকায় দ্বিত্ব বা ত্রিত্ব সংখ্যাকে অন্তর্ভাব করিয়া সমাসের অসাধুত্ব প্রযুক্ত দ্বন্দ্ব সমাসের অপবাদক একশেষের যুক্তিযুক্তত্ব বিষয়ে আশঙ্ক। এবং শলাকাপরি ইত্যাদি সন্দর্ভের দ্বারা উক্ত আশঙ্কার সমাধান। (মূল ও বিবৃতি) ‘হংস হংসী চ' এইরূপ বিগ্রহে ‘হংসহং’ে এই দ্বন্দ্ব সমাসের অধীকৃতি মূলে হংসপদ লুপ্ত হইলেও অনুসন্ধানবশতঃ স্ত্রীহংস ও পুরুষহংস এতদুভয় বােধের উপপত্তি প্রদর্শন এবং উক্ত হংসীপদের পােপ কোনও ব্যক্তির পক্ষে অজ্ঞাত থাকিলে সেই ব্যক্তির পক্ষে শ্রুত হংসদের স্ত্রীহংসত্ব পুরস্কারে একটি শক্তি অথবা লক্ষণার জ্ঞান হইতে স্ত্রীহংস পুরুষ হংস এতদ উভয়ের বােধ সমর্থন। (মুল ও বিবৃতি) উক্ত একশেষ স্বলে য’ ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে প্রাচীনমত প্রদর্শন পূর্বক তাহার খণ্ডন। (মূল ও বিবৃতি) ‘হংস্তো চ হংসা' এইরূপ বিগ্রহ অনুসারে ‘ংসা’ী চ দুন্দুভি' এইরূপ বিগ্রহ অনুসারে দুন্দুভী, সুন্দরী যুবা চ যুবতি এইরূপ অর্থে যুবানৌ এই সকল স্থলে শব্দবােধে পূর্বোক্ত শৈলী সমর্থন। (মূল ও বিবৃতি) বরটাহংসৌ, লক্ষণাসো ইত্যাদি পদগত বৈরূপ্য হলে স্ত্রী পুরুষের দ্বস্থলে একশেষের অস্বীকৃতি প্রদর্শন। (মূল ও বিবৃতি ) ব্রাহ্মণ ইত্যাদি স্থলে পূর্বোক্ত রীতিতে দ্বন্দ্বে: অপবাদক একশেষ সমর্থন। (মূল ভিতি) । ১৭২-১৭৪ ১৭৫১৭৬ ১৭৫-১৭৮ ১৭৫-১৭ ১৭৫৭ [ ৩ ] বিষয় পৃষ্ঠা ১৭১১১ ১৭১-১৮১ ১৮১-১৮২ ‘এক একা চ’ একে, দৌচ দে চ'ছৌ, ‘উভে চ উভোচ’ উভৌ, ‘জয়শ্চ তিশ্চ’ ব্রয় ইত্যাদি একশেষের সমর্থন। (মূল ও বিবৃতি) গ্রাম্যানেকশব্দেঘতরুণেষু এই অনুশাসন অনুসারে সারূপ্য বিশিষ্ট দ্বন্দ্বের প্রসক্তিস্থলে পুরুষবােধকপদের লােপ ও স্বাবােক পদের একশেষ সমর্থন ও সূত্রের অন্তর্গত গ্রাম্যাদিপদের ব্যাবৃত্তি প্রদর্শন। (মূল ও বিবৃতি) ‘বসা চ ভ্রাতা চ’ ভ্রাতরে, ‘পুত্ৰশ্চ দুহিত চ’ পুত্রে, এই সকল বিরূপ একশেষ স্থলে ভ্ৰাতৃভগিনী উভয় এবং পুত্র কন্যা উভয়ের বােধ সমর্থন। (মুল ও বিবৃতি ) ‘জ্যেষ্ঠপুত্র দুহিত্রোশ্চ জ্যৈষ্ঠেমাসি ন কারস্নেৎ এই ধর্মশাস্ত্রীয় প্রয়ােগস্থলে বিরূকৈশেষের প্রত্যাখ্যান ও দ্বন্দ্ব সমাসের সমর্থন। ( বিবৃতি) ‘স চ মৈত্র এইরূপ বিগ্রহবাক্যস্থলে ‘তো’ ইত্যাদি একশেষ স্থলে লুপ্ত মৈত্ৰাদি পদের অনুসন্ধান ক্রমে মৈত্ৰাদি বােধের উপপত্তি প্রদর্শন। (বিবৃতি) ‘স চ তঞ্চে’ত্যাদি বিগ্রহ অনুসারে যুৰাং এই একশেষ স্থলেও পূর্বোক্ত ক্রমেই তদর্থ ও শূদর্থের বােধ সমর্থন। ‘স চ স চ ইত্যাদি বিগ্রহস্থলে বিভিন্নার্থে তৎ শব্দের দ্বন্দ্ব প্রসক্তিস্থলে একশেষ সমর্থন। ‘ভন্মানুষ তুল্যোইসৌ য য বিদ্যতি নির্মলা ইত্যাদি প্রয়ােগস্থলে সর্বনাম বহিভূত তদাদি অব্যয়ের সহিত দ্বন্দ্ব সমাস সমর্থন। (মূল ও বিবৃতি) চৈত্ৰত পিতা ইত্যাদি বিরূপৈকশেষলে, প্রাচীন মত অনুসারে মাতা পিতা উভয়ের বােধ শৈলী প্রদর্শন। ০ ০ ০ ১৮২-১৮৪ ০০ ০ ১৮৪ ১৮২-১৮৪ ১৮২১৮৪ ১৮২১৮৫ চৈত্ৰ পিতরে, শত্রু শ্বশুরশ্চ এইরূপ বিগ্রহবাক্য অনুসারে শ্বশুরো এই সকল বিরূপ একশেষ স্থলে কাত ব্যাকরণের মতান্তর প্রদর্শন। ‘বৌ তোৰ শাস্ত্রোকৌ' ইত্যাদি শ্লোকের মাধ্যমে দ্বন্দ্ব সমাসের বিভাগ এবং বিভক্ত সমাহার বন্দ ও ইতরেতর দ্ব সমাসের লক্ষণ এদর্শন। (মূল ও বিতি) ১১

[ ১ ]
ग
৮০ )
১•১৮০
৪০০
১১•১২
‘এ ঘশ্য ঘৌ ভেদৌ' ইত্যাদি ৰিৰণ গ্রন্থের মাধ্যমে বিভক্ত
সমাহার ও ইতরেতর দ্বন্দ্ব সমাসের পরিকৃত লক্ষণ উদাহরণ এবং
‘পদিলি এই সূত্রাংশের মধ্যপদলােপ কর্মধারয় সমাস সমর্থন।
(মূল ও বিবৃতি)
উপপদ সমাস
উপদ সমাসের কারিকোজ এবং বিৰণােক্ত পরিত নক্ষণ
(মূল ও বিবৃতি)
উপপদ সমাসের উদাহরণ প্রদর্শন পূর্বক ‘চন্দ্রনিং ইত্যাদি
তৎপুরুষে অতিব্যাপ্তি নিরাস।
কারক ভেদে উপপদ সমাস বড়বিধ এই মতে খণ্ডন ও উপপদ
সমাসের বিভাগ প্রদর্শন। (মূল ও বিবৃতি)
কর্তৃকারক, কর্মকারক প্রভৃতি কাক ভেদে উপপদ সমাসের
উদাহরণ প্রদর্শন এবং সূর্যাস্পশ্যা’ এই সমাসের উপপদ
সমাসত্ব সমর্থন। (মূল ও বিভি)
•••
।
১১২১১৩
১১০•১১

No text on this page.

নিবেদন মা জগদম্বায় অহৈতুকী কুপায় বহু বাধাবিঘ্ন অতিক্রম কয়িয়া মহামনীষী জগদীশ তর্কালঙ্কার প্রণীত শব্দশক্তি প্রকাশিকার তৃতীয় খণ্ড (সমাস প্রকরণ) মুদ্রিত হইল। মৎকৃত অনুবাদ ও বিবৃতি সহ শব্দশক্তি প্রকাশিকার’ সম্পাদনা কার্যে প্রথমতঃ কলিকাতা সংস্কৃত কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ শ্ৰীযুক্ত বিষ্ণুপদ ভট্টাচার্য্য এম.এ পি.আর.এস. মহােদয় এবং প্রাক্তন অধ্যক্ষ শ্ৰীযুক্ত হেরম্বনাথ চট্টোপাধ্যায় এম.এ.পি.এইচ.ডি. মহােদয় আমাকে এই দুরূহ কার্যে বিশেষভাষে অনুপ্রাণিত এবং উৎসাহিত করিয়াছিলেন। এইজন্য আমি মাননীয় অধ্যক্ষদ্বয়কে কৃতজ্ঞতা সহকারে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করিতেছি। বিশেষত সংস্কৃত কলেজের প্রকাশন বিভাগের প্রধান (Editor) শ্ৰীযুক্ত ননীগােপাল তর্কতীর্থ এই প্রস্তাবিত গ্রন্থের প্রকাশনা কার্যে যে অক্লান্ত পরিশ্রম করিয়াছেন ইহার জন্য শ্রদ্ধেয় তর্কতীর্থ মহাশয়কেও কৃতজ্ঞতা সহকারে ধন্যবাদ প্রদান করিতেছি। আমার প্রিয় বৈবাহিক শ্রীরামরতন ভট্টাচার্য, প্রিয় ছাত্রীদ্বয় কল্যাণীয়া শ্ৰীমতী সবিতা দত্ত এম.এ. এবং কল্যাণীয়া শ্ৰীমতী গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায় এম.এ. (গবেষণারত।) পাণ্ডুলিপি তৈয়ারী, প্রুফ, সংশােধন কার্যে সহায়তা করিয়াছেন এইজন্য শ্রীশ্রীজগদম্বার শ্রীপাদপদ্মে ইহাদের কল্যাণময় সুদীর্ঘ জীবন ও অ্যুদয় কামনা করি। সম্পাদক

No text on this page.

ভূমিকা মহানৈয়ায়িক জগদীশ তর্কালঙ্কার প্রণীত শব্দশক্তি প্রকাশিকা গ্রন্থের প্রকরণ সমূহের মধ্যে সমাসপ্রকরণ একটি অসাধারণ প্রস্থান। নামকরণের পরেই সমাসকরণ বিশদ ভাবে গ্রন্থকার কর্তৃক পর্যালােচিত হইয়াছে। প্রশ্ন হইতে পারে, পাণিনীয় ব্যাকরণ এবং অপরাপর কাতন্ত্র প্রমুখ ব্যাকরণ সমূহে নাম প্রকরণের পরেই কায়ক প্রকরণ নিরূপণ করিয়া সমাস প্রকরণের নিরূপণ করা হইয়াছে। সুতরাং ঐ রীতি পরিত্যাগ করিয়া জগদীশ তর্কালঙ্কার কারক প্রকরণে নিরূপণ বর্জন করিয়া সমাসকরণের নিরূপণ করিলেন কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে আমাদের বক্তব্য শব্দশক্তি গ্ৰকাশিকা গ্ৰন্থখানি ব্যাকরণশাস্ত্র মহে। জগদীশ প্রীত এই গ্রন্থখানি ন্যায়দর্শনেরই একখানি প্রকরণ গ্রন্থ। কেননা, মহামনীষী গঙ্গেশােপাধ্যায় যে তৎকৃত তত্ত্বচিন্তামণি নামধেয় নবন্যায়ের আকর- গ্রন্থ প্রণয়ন করিয়াছেন, ঐ গ্রন্থে প্রধানত প্রত্যক্ষ, অনুমান, উপমান এবং শৰ প্ৰমাণকে উপজীব্য করিয়াই উক্ত মণিগ্রন্থ রচিত, আর এই মণিগ্রন্থকে উপজীব্য করিয়া বিভিন্ন নায়াচার্যগণ বহু একরণ গ্রন্থ রচনা করিয়া গিয়াছেন। জগদীশ তর্কালঙ্কারকৃত ‘শব্দশক্তি প্রকাশিকা' গ্রন্থখানিও মণিকারোক্ত ও চতুষ্টয়াত্মক-নব্যন্যায় গ্রন্থের একখানি অসাধারণ প্রকরণ গ্রন্থ—এ বিষয়ে বিদ্বৎ সমাজের কোন মতবিরােধ নাই। মণিকার শব্দখণ্ডের প্রথমে শব্দপ্রামাণ্য সম্বন্ধে মীমাংসক, বৌদ্ধ এবং বৈশেষিক সম্প্রদায়ের অভিমত শব্দের অপ্রামাণ্য বিশদভাবে আলােচনা পূর্বক খণ্ডন করিয়াছেন, এবং বিশিষ্ট প্রমাণরূপে শব্দের প্রামাণ্য ব্যবঞ্চিত করিয়াছেন। আলোচ্য গ্রন্থখানির প্রস্থানসমূহ নিরূপণকালে জগদীশ তর্কালঙ্কার অন্ধভাবে মণিকারের পদাঙ্ক অনুসরণ না করিলেও মুখ্যতঃ শচিন্তামণির এবং পাণিনি, কাতন্ত্র প্রভৃতি ব্যাকরণের রীতি অনুসরণক্রমেই শবশক্তি প্রকাশিকা প্রণয়ন করিয়াছেন। এই গ্রন্থখানি পর্যালােচনা করিলে দেখা যায়, নাম প্রকরণে (১) শব্দের প্রামাণ্য (২) সার্থক শব্দ (৩) প্রকৃতি (৩) প্রত্যয় (৫) নিপাত (৬) বাক্য (!) নাম এবং (৮) রূঢ়, লক্ষক, যােগরূঢ়, যৌগিকভেদে নামের চতুবিধ ভেদ বিস্তৃতভাবে আলােচিত হইয়াছে। এই নামও নৈমিত্তিক সংজ্ঞা, পারিভাষিকী সংজ্ঞা এবং ঔপাধিকী সংজ্ঞা রূপে ত্রিবিধ কীতিত হইয়াছে। নৈমিত্তিক সংজ্ঞা রূপ নামের নিরূপণ প্রসঙ্গে মীমাংসক সম্মত জাতিশক্তি আলােচনা প্রসঙ্গে অসাধারণ যুক্তিসহকারে ভট্র, শ্রীক, মশুনাচার্য এবং এক সম্প্রদায়ের নাতিশক্তিবাদ পর্যালােচিত ও খণ্ডিত হইয়াছে। এইভাবে পারিভাষিকী নাম পর্যালােচিত হওয়ার পরে লক্ষক নাম নিরূপণ প্রসঙ্গে লক্ষণরূপ বৃত্তির বিশদভাবে নিরূপণের অন যােগরূঢ় নামের নিরূপণ করেন। উক্ত ঘােগরূঢ় নাম [ ৪ ] নিরূপণের পরে যৌগিক নামের লক্ষণ এবং সমাস তদ্ধিতাক্ত ও কৃদন্ত এই বিবিধ যৌগিক নাম নিরূপণের প্রসঙ্গে সমাসরূপ যৌগিক নামটি প্রথম উল্লিখিত হওয়ায় নাম নিরূপণের পরে প্রস্তাবিত যৌগিক নামের উপপাদকত্বরূপ উপােদাত সঙ্গতির মাধ্যমে সমাসের নিরূপণ করিয়াছেন। সমাস নিরূপণের পরে তদ্ধিতাক্ত ও কৃদতনামের নিরূপণ করা হইবে। সুতরাং ব্যাকরণ শাস্ত্রে কারকের পরে সমাস নিরূপিত হইলেও শব্দশক্তি একাশিকা গ্রন্থের ক্রম অনুসারে নাম নিরূপণের পরেই সমাস নিরূপণ করা সঙ্গত হইয়াছে। এই সমাপ করণের প্রারম্ভে মহাবাক্যঘটিত সমাসের সামান্য লক্ষণ করা হইয়াছে। উক্ত সমাসের সামান্য লক্ষণটি বুঝিতে হইলে সর্বাগ্রে মহাবাক্য কাহাকে বলে তাহা বুঝিতে হইবে। জগদীশ তর্কালঙ্কার মহাৰাক্যটির অর্থ বিবৃত করিবার জন্য প্রথমে স্ব-ঘটক অনেক নাম-লভ্য তাদৃশ অর্থ বােধকবাক্যকেই মহাবাক্য বলিয়াছেন। গ্রন্থকারের অভিপ্রায় এই যে যাদৃশ আনুপূর্বী বিশেষ নিজের অন্তর্গত অনেক নাম লভ্য যাদৃশ বিশিষ্টার্থ বিষয়ক বােধগতন্যতা নিরূপিত জনকতাবচ্ছেদ হয় তাদৃশ আনুপুৰী বিশিষ্ট শব্দত্বই হইবে তথাবিধ অর্থে মহাবাক্যত্ব। এইভাবে মহাৰাক্যত্ব নিরূপণের পরে বাক্যগত মহত্ত্ব কি ইহা বুঝাইবার জন্য গ্রন্থকার বলিতেছেন প্রকৃত্যৰ্থ মাত্রাবচ্ছিন্ন প্রত্যয়ার্থ বিষয়ক অন্বয়- বােধের প্রতি অযোগ্যত্বই সমাসপ্রকরণে বাক্যগত মহত্ত্ব বুঝিতে হইবে। সমাসশব্দটির ব্যুৎপত্তি পর্যালােচনা করিলে দেখা যায় কোনও কোনও শাব্দিকগণ ‘গমসনং সমাসঃ এইরূপ ভাববাচ্যে বিহিত ঘঞ, প্রত্যয়ান্ত সমাসপদটির সংক্ষেপ অর্থাৎ অনেক পদের একপদীভাবকেই সমাসণদের অর্থ কল্পনা করিয়াছেন। আবার কোনও সম্প্রদায় “অকৰ্তরি চ কারকে এই পাণিনীয় সূত্র অনুসারে সমাস পদটি কর্মবাচ্যে বিহিত খঞ, প্রত্যন্ত বলিয়াছেন। কলাপ ব্যাকরণের ‘কবিরাজ’ নামক ব্যাখ্যাকার সুষেণ আচার্য বলেন “সমসনং সমাস: সংক্ষেপঃ, একার্থীভাবাপন্ন ইতি যাব’দিতি। নিত্য ও অনিত্য ভেদে বিবিধ সমাস স্বীকৃত হইয়াছে। যেই সমাসের বিগ্রহবাক্য সম্ভব নহে সেই সমাসকেই নিত্য সমাস বলা হইয়াছে। যেমন কৃষ্ণসপ, লােহিতশালি প্রভৃতি। কৃষ্ণসর্প এই সমস্ত পদসমূহ কেবলমাত্র কৃষ্ণবর্ণসর্পের বােক নহে পরন্তু বিজাতীয় বিষধর সর্প (কেউটে সাপ) এই নিত্য সমাস হইতে অবগতি হইয়া থাকে। যদি ‘কৃষ্ণশ্চাসো সর্পশ্চেতি এইরূপ বিগ্রহবাক্য হইতে ‘কৃষ্ণসৰ্প' এই সমস্তপদটি নিষ্পন্ন হয় তাহা হইলে উক্ত ‘কৃষ্ণসৰ্প' এই সমাস হইতে কেবলমাত্র কৃষ্ণবর্ণ সর্পেরই বােধ হইবে বিজাতীয় বিষধর সর্পের নহে। ‘নীলােৎপল’, ‘রাজপুরুষ’-এই সকল সমাস নীলঞ্চ তদ উৎপলঞ্চেতি এবং রাজ্জ পুরুষ এইরূপ বিগ্রহবাক্য হইতে উৎপন্ন হওয়ায় নীলােৎপল বা রাজপুরুষঃ এই সকল ১। যাদৃশ মহাৰাক্যন্যান্তদিনিজাৰ্থকে। যাশা ধীহেতুঃ স সমান্তদর্থক। ২। প্রাক কভাৰাৎ সমাসঃ এই সূত্রের সূত্রের টাকা।

[ ৫ ] সমাসকে অনিত্যসমাস বলা হইয়াছে। এই অনিত্য সমাগকে বৈকল্পিক সমাসরূপেও অভিহিত করা হইয়াছে। কারণ বাক্য যেরূপ সমাসরূপে পরিণত হয় তদরূপ বাক্যৰূপে ও নীলমুৎপলম বা জ্ঞঃ পুরুষ এইরূপ বিগ্রহবাক্যরূপে অবস্থিত থাকে। পাণিনীয় সুত্রের কাশিকা বৃত্তিকার শাব্দিক অয়াদিত্যের মত-অনুসারে সমাসের অন্তর্গত নামসমূহের বিভক্তিমাত্ৰ এক্ষিপ্ত হইলে তাহা হইতে সমাস-লভ্য অর্থের অবােধ এবং বােধ প্রযুক্ত নিত্য এবং অনিত্য সমাস হইবে। জগদীশতর্কালঙ্কার এই মত অনুসরণ করিয়া ‘কৃষ্ণসর্প ‘নিমক্ষিক’ ‘অর’ প্রভৃতি সমাসকে নিত্যসমাস এবং রাজপুরুষ’ ‘পূর্বকায়’ ইত্যাদি সমাসকে অনিত্যসমাসরূপে অভিহিত করিয়াছেন। “ফুরবাণী, চলচ্চৈত্র* এই সকল কর্মধারয় সমাসও অনিত্যসমাস। কারণ উক্ত সমাসে ক্ষুদভিন্ন অংশ ও চলভিন্ন অংশ উদ্দেশ্য কোটিতে অন্তর্ভুক্ত হইলেও স্ফুরন্তী বাণী ইত্যাদি বিগ্রহে বাণ বিধেয়ক বােধের জনকত্ব না থাকিলেও ক্ষুদভিন্ন বার্তা প্রভৃতিতে একত্ব সংখ্যার বােধকত্ব গৃহীত হওয়ায় সমার্থের বােধক হইয়াছে। “ফুরন্তীং বাণীংশ ইত্যাদি বাক্যই উক্ত স্থলে বিগ্রহবাক্য হইতে পারে কেননা, বিগ্রহবাক্যেই সমাসলভ্য অর্থের বােধকত্ব স্বীকৃত কিন্তু সমাসে বিগ্রহ বাক্যের অর্থবােধকত্ব স্বীকৃত নহে। কারণ বিগ্রহ বাক্যল্য যে লিঙ্গ ও সংখ্যা তাহার ব্যঞ্জক বৈধুর্য প্রযুক্ত অর্থাৎ সমাসে, লিঙ্গ ও সংখ্যার বােধক প্রায়শঃ না থাকায় সমাস হইতে বিগ্রহ বাক্যজনিত লিঙ্গ ও সংখ্যার বােধ হইতে পারে না। যদি সমাসে লিঙ্গ ও সংখ্যার ব্যঞ্জক থাকে তাহলে কিন্তু তাদৃশ সমাস হইতেই লিঙ্গ ও সংখ্যার অবগতি হইবে। দৃষ্টান্ত স্বরূপ বলা যায় “জয়তী চিত্ৰগুৰ্জন”, “প্রিয়তি পুরুষঃ” ইত্যাদিস্থলে স্ত্রীবিহিত ভীপ, প্রত্যয় হওয়ায় এবং তিস্ আদেশ যথাক্রমে লিঙ্গ ও সংখ্যার ব্যঞ্জক হওয়ায় ‘জরতী চিত্ৰগুৰ্জন' এবং প্রিয়তিষা পুরুষঃ এই উভয় বাক্য হইতে স্ত্রীত্বের অবগতি হইবে এবং অপরি’ শলাকাপরি’ ‘প্রিয়যুবয়’ ‘হন্তাশ্ব ইত্যাদিস্থলে ‘অক্ষ’ এবং শলাকা উভয়ের একত্ব সংখ্যা গৃহীত হইলেই অব্যয়ীভাব সমাসের এবং যুগ্ম এবং ‘অম্মদ’ পদের দ্বিত্বৰূপ অর্থ গৃহীত হইলেই যুৰ এৰং আৰ আদেশ হইয়া থাকে। ‘হতাশ্ব এখানেও সেনাঙ্গগত বহুত্বসংখ্যা প্রতীয়মান হইলেই সমাহার দ্বন্দ্ব বিহিত হওয়ায় উক্ত সমাস চতুষ্টয় হইতে একত্ব বা দ্বিত্ব বা বহুত্ব প্রতীয়মান হইয়া থাকে। ইহার অনুকূলে প্রাচীন শাব্দিক সম্প্রদায় বলেন “সংখ্যা হু ব্যঞ্জকাভাৰাৎ অব্যক্তা প্রাতরাদিৎ। যত্র তু ব্যঞ্জক কিঞ্চিৎ তন্ত্র সংখ্যা প্রকাশতে, শলাকাপরি হত্যং পূর্বকায়ােৎপিপ্পলী ইতি। পূর্বপ্রভৃতির এবং অর্থ পদার্থের ও বিভক্তির অর্থ একত্বকে অন্তর্ভাব করিয়াই হয়বিয় সহিত তৎপুরুষ সমাস ব্যুৎপত্তিসিদ্ধ স্বীকৃত হয়। সরসিজ এবং কঠেকাল এই সকল অলুক সমাসে সুপ, বিভক্তি হইতে সংখ্যার অবগতি স্বীকার করিলেও কোনও ক্ষতি নাই। অবশ্য ১। বিভক্তিমাত্ৰ এক্ষেপাদ নিজান্তৰ্গতনামসু। স্বার্থবােধৰােধাভ্যাং নিত্যানিত্যসমাসকো। (জয়াদিত্য।

[ ৬ ] মহাভাষ্যকার সমসশক্তিৰাদি পতঞ্জলির মতে সরসিজ ও কণ্ঠেকাল এই অলুক সমাস হইতে সংখ্যার অবগতি হইবে না। শব্দশক্তি প্রকাশিকার গ্রন্থকার কর্মধারয় (১) দ্বিগু (২) তৎপুরুষ (৩) অব্যয়ী- ভাব (৪) বহুব্রীহি (৫) ও দ্বন্দ্ব (৬) এই ষড়বিধ সমাস বলিয়া উপপদ সমাস তৎপুরুষ হইতে অতিরিক্ত স্বীকৃতি পক্ষে সমাস সপ্তবিধ হইবে বলিয়াছেন। ৰাভ প্রমুখ প্রাচীন শাব্দিক সম্প্রদায় পূর্ব-মধ্য-অন্ত্য-সর্ব ও অন্যপদের প্রাধান্য প্রযুক্ত পঞ্চবিধ সমাস স্বীকার করেন। দৃষ্টান্তস্বরূপে বলা যায় যা প্রাপ্তকায়, অর্ধশিল্পসী, পূর্বকায় প্রভৃতি তৎপুরুষ সমাস। উপকুম্ভম ইত্যাদি অব্যয়ীভাব ও পুরুষসিংহ ইত্যাদি কর্মধারয় পূর্বপদপ্রধান। এবং ঘটানধিকরণ, প্রতিযােগিতানবচ্ছেদক ইত্যাদি তৎপুরুষ মধ্যপদপ্রধান। রাজপুরুষ ইত্যাদি তৎপুরুষ, নীলােৎপলমিত্যাদি কর্মধারয়, দ্বিগাৰ্গং ইত্যাদি অব্যয়ীভাব সমাস অন্তাপদ প্রধান, ধব-খদির-পলাশঃ ইত্যাদি দ্বন্দ্ব সমাস সর্বপদপ্রধান এবং আরূঢ়বানরো বৃক্ষ ইত্যাদি বহুব্রীহি এবং খলে যবং ইত্যাদি অব্যয়ীভাব সমাস অন্যপদপ্রধান বুঝিতে হইবে। এইভাবে সমাসের অন্তর্গত পদার্থের ভেদপ্রযুক্ত পদের ভেদনিবন্ধন বাভটু প্রমুখ প্রাচীন বৈয়াকরণ সম্প্রদায় পঞ্চবিধ সমাস বলেন। সমাপশক্তিবাদি পতঞ্জলির মত পাণিনিব্যাকরণের ভাষ্যকার পলি, ভর্তৃহরি এবং অপরাপর বৈয়াকরণ সম্প্রদায় নীলােৎপল, রাজপুরুষঃ, ইত্যাদি সমাসে স্বতন্ত্রশক্তি স্বীকার করেন। অর্থাৎ এই সকল মতে নীলমুৎপল এই অসমস্ত বাক্যটি নীলােৎপলং এই সমাসে পর্যবসিত হয় না। কারণ বৈয়াকরণ মতে ব্যাসবাক্য হইতে সমস্ত বাক্য অর্থাৎ সমাস ভিন্ন, অতএব নীমুৎপলং, রাজ্ঞঃ পুরুষ ইত্যাদি বাক্য হইতে ঐ সকল বাক্যের অন্তর্গত প্রত্যেকটি পদের শক্তি বা লক্ষণরূপ বৃত্তি হইতে প্রত্যেক পদার্থের উপস্থিতিক্রমে বিশেষ বিশেষণ- ভাবে বাকার্থ গােচর অন্বয়বােধ হইয়া থাকে। নীলােৎপলং এই সকল সমস্তবাক্যটি কিন্তু বিগ্রহবাক্য হইতে স্বতন্ত্র শব্দ, সুতরাং বিগ্রহ ৰাকাৰ্থ ৰােধের নীতিতে বাক্যর্থ বােধ হইবে না। পর-নীলােৎপল শব্দের নীলােৎপলত্বাবচ্ছিন্নে শক্তিগ্রহ হইতে নীলোৎপল- সমুদায়ের উপস্থিতিক্রমে নীলোৎপলবিষয়ক শব্দবােধ স্বীকৃত হইবে। অতএব বৈয়াকরণ- মতে বিশেষ্যতাসম্বন্ধে নামার্থ মাকে বিশেষণরূপে গ্রহণ করিয়া অন্বয়বােধমাত্রের প্রতি নামের অব্যবহিতেওরবর্তী যে বিভক্তি তাহার দ্বারা উপস্থিতি বিষয়ত্ব কারণ এইপ্রকার একটিমাত্র লঘুকার্যকারণভাৰ কল্পনা করেন। নৈয়ায়িকসম্প্রদায় কিন্তু উক্ত কার্যকারণ- ভাবের অন্তর্গত কার্যতাবচ্ছেদক কোটিতে প্ৰকাতাতে তাদাত্ম্য সন্ধানবচ্ছিন্নত্ব নিবেশ করিয়া “নীলমুৎপল” ইত্যাদি বিগ্রহবাক্যের অন্তর্গত ‘নীল’ এই নীল পদার্থ প্রকার অমাদি বিভক্তির অর্থবিশেষক অৰয় ষােধের উপপত্তি করেন। অতএব সমাস ও ব্যাস বাক্যের তুল্যার্থকত্ববাদি নৈয়ায়িকমতে তাদৃশ কার্যকারণভাব স্বীকারের ফলে গৌরব স্বীকার করিতে হয়। এই সমাস শক্তি ব্যবস্থিত করিবার জন্য—ভর্তৃহরি বলেন, ‘অবুধানপ্রত্যুপায়া বিহিঃ প্রতিপয়ে। শান্তৱত্বাদত্যং ভেদে বাক্যসমালয়ে। অর্থাৎ অবােধগণের বােধের অনুকূল উপায় সমূহ (মৎ কর্তৃক) পূর্বে অভিহিত হইয়াছে।

[ । ] যেহেতু বিগ্রহবাক্য হইতে সমাস ক্যাঙ এতএব বিগ্রহবাক্য ও সমাস এই উভয়ের আত্যকি তে স্বীকার করিতে হইবে। এই সমান শক্তিবাদ খণ্ডন করির গদীশ তর্কালঙ্কার বলেন, সমাগ শক্তিৰাদি বৈয়াকরণ সম্প্রদায়ের এইমত সমীচীন নহে, কাৰণ নীলােৎপন ইত্যাদি সমাসস্থলে, সমুদায় শক্তিরূপ রূঢ়ি নিশ্চয় না থাকা কালেও নীল প্রভৃতি প্রত্যেক পদার্থের উপস্থিতি ক্রমে উৎপল পদার্থে নীল পদার্থের অভেদ সম্বন্ধে অষয়বােধ অনুতৰসিদ্ধ। অতএব উক্ত তন্বয়বােধের অনুরােধে নীলমুৎপল ইত্যাদি বাক্যের অন্তর্গত দ্বিতীয়া বিভক্তির অর্থ কর্মত্বে নীলপদার্থের অন্বয়ের অনুরােধে তাদাসম্বন্ধানবচ্ছিন্ন নীলপ্রকারােক অস্বয় বুদ্ধির প্রতি নামােত্তর বিভক্তি জন্য উপস্থিতি বিষয়ত্ব কারণ, সুতরাং কার্যতৰচ্ছেদক কোটিতে প্রকারতে তাণাত্ম সম্বন্ধানবচ্ছিন্নত্বনিবেশ নিবন্ধন গৌরব প্রমাণ সিদ্ধ হওয়ায় দুষণীয় নহে। যদি কার্যকারণভাবে অনুকুল তাদৃশ গৌরব সমাসশক্তিবাদি বৈয়াকরণ সম্প্রদায়, স্বীকার না করেন তাহা হইলে বৈয়াকরণ সম্প্রদায় যেরূপ বিশেষ্যতা সম্বন্ধে নামার্থ একাক বুদ্ধির প্রতি নামের অব্যবহিতােজরবর্তি বিভক্তিজনিত অর্থের উপস্থিতিকে কারণ কল্পনা করেন, প্রতিবন্ধিরূপে নৈয়ায়িক সম্প্রদায়ের মতে ও বিশেষ্যতা সম্বন্ধে নামার্থ প্রকারক বােধ সামান্যের প্রতি নামের উত্তর তিনমজনিত উপস্থিতিকে কারণ কল্পনা করিয়া ‘নীলমানয়’ ইত্যাদিলে নীলরূপ নামাৰ্থের আধেয়ত্ব সম্বন্ধে দ্বিতীয় বিভক্তির অর্থ কমত্বে অন্বয়বােধ স্বীকার না করিয়া দ্বিতীয় বিভক্ত্যন্ত নীলপদের নীলবিশিষ্ট কৰ্মত্বে সমুদায় শক্তিরূপ রূঢ়ি কাল্পত হইবে কেন? এইরূপ আপত্তি উত্থাপন করিতে পারেন। বৈয়াকরণ সম্প্রদায় যে বলেন নামার্থ প্রকারক অন্বয়বােধের প্রতি নামােত্তাবিভক্তিজনিত উপস্থিতিই কারণ নামােতর নামজনিত উপস্থিতি বিষয়ত্ব কারণ নহে এবিষয়ে কোনরূপ বিনিগমনাও অনুভৰসিদ্ধ নহে। এইভাবে আরও বিভিন্ন যুক্তির দ্বারা সমাস শক্তিবাদি বৈয়াকরণ মত খণ্ডন করিয়া জগদীশ তর্কালঙ্কার প্রৌঢ় যুক্তির মাধ্যমে সমাস ও ব্যাসবাক্যের তুল্যার্থকত্ব সাধন করিয়াছেন। কর্মধারয় সমাস শষশক্তি প্রকাশিকা গ্রন্থে জগদীশ তর্কালঙ্কার, একটি পদের অর্থে অপর পদার্থের তদাত্ম্যসম্বন্ধে অম্বয়বেথের যােগ্য ক্রমিক নামদ্বয়কে কর্মধারয় সমাস বলিয়াছেন। সর্ববর্মাচার্য, পদে তুল্যাধিকরণে সমাসঃ কর্মধারয় এই সূত্রের মাধ্যমে কর্মধারয় সমাসের লক্ষণ করিয়াছেন। ১। ক্রমিকং যন্নামযুগমেকার্বেন্যার্থবোধক। ভাদাত্মোন বেদে সমাসঃ কর্মধারয়। (শশক্তি প্রকাশিকা, কর্মধারয় সমাস লক্ষণ) [ ১ ] পাণিনীয় ব্যাকরণে কর্মধারয় সমাসকে তৎপুরুষ সমাসে এবং দ্বিৎসমাসকে কর্মধারয় সমাসে এবং কাত ব্যাকরণে কর্মধারয় এবং দ্বিগু সমাসকে তৎপুরুষ সমাসে অন্তর্ভাব কৰা হইয়াছে। সুতরাং এই সকল বৈয়াকরণ মতে তৎপুরুষ, অব্যয়ীভাব, বহুব্রীহি ও দ্বন্দ মুখ্যতঃ এই চারিটি সমাস স্বীকৃত হইয়াছে। অতএব কর্মধারয় সমাসও তৎপুরুষের অন্তর্গত হওয়ায় স্বতন্ত্র সমাস নহে। দ্বিগু সমাসের ও স্বতন্ত্র সত্তা না থাকায় কর্মধারয়, আবার কর্মধারয়ও তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্ভুক্ত। শুধু ইহাই নহে উপপদ সমাস নামে যে একটি সমাস স্বীকৃত হয়, এই সমাসও ব্যাকরণে উপপদ তৎপুরুষ নামেই খ্যাত, স্বতন্ত্র নহে। পাণিনি ব্যাকরণে বলা হইয়াছে তৎপুরুষ সমানাধিকরণপদ কর্মধারয়ঃ” অর্থাৎ সমমান তৎপুরুষ সমাসের পদদ্বয় যদি সমানাধিকরণ অর্থাৎ অভেদ সম্বন্ধে একই অর্থের প্রতিপাদক হয় তাহাকে কর্মধারয় সমাস বলে। কাতন্ত্র ব্যাকরণেও সূত্রকার “পদে তুল্যাধিকরণে বিয়ে কর্মধারয় এইরূপ কর্মধারয় সমাসের লক্ষণ করিয়াছেন। পঞ্জিকাকার ত্রিলােচন দাস প্রমুখ ঐ সূত্রটির অর্থ করিয়াছেন—“পদে তুল্যাধিকরণে এখানে তুল্য। মাতা বলিলে যেরূপ একই মাত এইরূপ অর্থ বােধগম্য হয় পদে তুল্যাধিকরণে এখানেও তুল্য শব্দটি একরূপ অর্থের বােধক, এবং অধিকরণ শব্দটির মাধ্যমে অর্থ এইরূপ অর্থগ্রহণ করিয়াছেন। সুতরাং ‘পদে তুল্যাধিকরণে এই অংশের ঘটক পদদ্বয় তুল্যাধিকরণ অর্থাৎ একই অর্থের বােধক হইলে উক্ত ( ক্রমপ্রযুক্ত)পদদ্বয় কর্মধারয় সমাস। আমাদের মনে হয় জগদীশ তর্কালঙ্কার এই সকল বৈয়াকরণ সম্প্রদায়ের সুত্ৰোক্ত কর্মধারয় সমাসের লক্ষণ মনে রাখিয়া ক্রমিকং যন্নামযুগ ইত্যাদি শ্লোকের মাধ্যমে এবং বিবরণ গ্রন্থের মাধ্যধে পরিস্কৃত কর্মধারয় লক্ষণ এবং আনুষঙ্গিক কর্মধারয় লক্ষণ সংক্রান্ত বিষয় সমূহ বিবৃত করিয়াছেন। তবে ইহাও নিশ্চিত ন্যায়মতাবলম্বী জগদীশ তর্কালঙ্কার, কর্মধারয় এবং দ্বিগুকে মুখ্যসমাসরূপে গ্রহণ করিয়া তৎপুরুষ, অব্যয়ীভাব, বহুব্রীহি এবং দ্বন্দ্ব সমাসকে গ্রহণ করিয়া মুখ্যসমাস ষড়বিধ ব্যবস্থিত করিয়াছেন। জগদীশ আরও বলেন, যদি উপপদ সমাস তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্গত না হয় তাহা হইলে অতিরিক্ত উপপদ সমাসকে গ্রহণ করিয়া সমাস সপ্তবিধ স্বীকার করা হইবে, ইহাই জগদীশ তর্কালঙ্কারের নৈয়ায়িক সম্মত সিদ্ধান্ত। দ্বিগু সমাস সংখ্যেয়রূপ অর্থের বাচক দ্বি, ব্রি প্রভৃতি শব্দের অব্যবহিতােত্তৰতী যে নামটি নিজের অর্থকে বিশেষ্যরূপে এবং বি ভি প্রভৃতি পদের সংখ্যেয় অলক্ষ্যার্থকে তারাত্ম্য ১। বৈয়াকরণ সম্প্রদায় যে কর্মধারয় সমাসকে তৎপুরুষ সমাসে এবং দ্বিও সমাসকে তৎপুরুষ সমাস বলেন ঐ তৎপুরুষত্বৰ্যপদেশ, শব্দসংস্কারের অনুকুল গৌণ তৎপুরুষ মুখ্য তৎপুরুষ নহে।

[ ১ ] সম্বন্ধে বিশেষণরূপে গ্রহণ করিয়া অবয়বােধের রূপ যােগ্য হইবে, উক্ত সংখ্যেয় বােধক দ্বি জি বিশিষ্ট উক্ত নামটি তাদৃশ অর্থে দ্বিগু সমাস হইবে। তদ্ধিতার্থ দ্বিগু এই দ্বিগুসমাস তদ্ধিতার্থ, উত্তরপদ এবং সমাহার ভেদে ভিৰিধ। যে দ্বিশুসমাস নিজের অব্যবহিতােত্তরবর্তি তদ্ধিত প্রত্যয়ের অর্থে সম্বদ্ধ হইয়া স্বকীয় অর্থের বােধ হয় সেই দ্বিগুসমাস তদ্ধিতার্থ দ্বিগু নামে অভিহিত হইবে। দুইটি মুদ্রা দ্বারা ক্রীত এই অর্থে দ্বিমুদ্রে। বৃষ, দুই বৎসর হইতে অভিন্ন এই অর্থে দ্বিবর্ষা গৌঃ, দুইটি কুশের দ্বারা নির্মিত এই অর্থে দ্বিদলং পবিত্র এই সকল তদ্ধিতাৰ্থ দ্বিগুর উদাহরণ। এই প্রসঙ্গে কাতন্ত্র পরিশিষ্টকারের মতে-দ্বিমুদ্রে। বৃষ’ ইত্যাদি—যেই দ্বিগু স্কুলে ঠক প্রভৃতি লুপ্ত তদ্ধিত প্রত্যঙ্গ ক্রীতাদি অর্থে লাক্ষণিক হইবে সেই দ্বিগু তদ্ধিতাৰ্থ দ্বিগু বলা হইয়াছে। জগদীশ উক্ত উভয় মতের সমর্থন করেন এবং ভাষ্যকারের মতে দোষ প্রদর্শন করেন। উত্তরপদ দ্বিগু যে দ্বিগুসমাস নিজের অন্তর্গত দুইটি নামের সহিত সাকা অপর একটি নামের দ্বারা ঘটিত বহুব্রীহি প্রভৃতি কোন একটি সমান্তরের অন্তর্গত হয় সেই দ্বিগু সমাস উত্তর- পদ দ্বিগু সমাস নামে অভিহিত হয়। যথা পঞ্চ গবে। ধনমস্য এইসকল বিগ্রহ হইতে পঞ্চ- গবনঃ পুরুষঃ এই সকল স্থানে বহুব্রীহি সমাসে নিবিষ্ট পঞ্চ গৰ প্ৰভৃতি উত্তর পদ দিও সমাস হইবে। সমাহার দ্বিগু যে দ্বিগু সমাসে নিজের দ্বারা উপস্থাপিত অর্থের সমাহাররূপ অর্থে যে দ্বিগু সমাসের অন্তিম নামটি লাক্ষণিক হইবে-সেই দ্বিগু সমাহার দ্বিগু নামে অভিহিত হইবে। “পঞ্চপুলী” এখানে পঞ্চাভিন্ন পুলগত যে সমাহার তাহাই পুলশকের লাক্ষণিক অর্থ হইয়াছে। সমাসরূপ বাক্যে শক্তি যথাকায় লক্ষণাও যীকৃত হইতে পারে না। ‘পঞ্চপুলী’ এখানে দ্বিগু পঞ্চশব্দের পরবর্তী পুল শব্দটি পঞ্চাভিন্ন পুরূপ যােগ লভ্য পদার্থের সমাহার অর্থে লাক্ষণিক হওয়ায় পঞ্চপুলী প্রভৃতিতে সমাহার বিশুর শাশমন্বয় অতএব } হইবে। এইভাবে ত্রিবিধ দ্বিগু সমাসের লক্ষণ এবং লক্ষ্যে লক্ষণ সমন্বয় করিবার পরে ৩৮ সংখ্যক কারিকার দ্বিতীয়ার্ধের মাধ্যমে গ্রন্থকার সমাহার দ্বিগুন সক্ষণান্তর করিয়াছেন। গ্রন্থকারের বক্তব্য এই যে পঞ্চপুলী এই সমাহার দ্বিগু হইতে সমাহার অর্থের বােধ হইবে ১। সংখ্যাপূর্বে। ঘি (পাণিনি)। সংখ্যাপূর্বে। দ্বিগুরিতি জ্ঞেয়ঃ। (কাম) [ ১ ] , কিন্তু পঞ্চসংখ্যক পুল মাত্রেরই বােধ হইবে। কারণ পপুলী-ইত্যাদিস্থলে সমাহার বােধ হইলে ‘পঞ্চপুলীং ছিন’ি এখানে অনিত একত্ব বুদ্ধিজনিত সমুদায়ত্বরূপ যে সমাহার তাহার ছেদন সম্ভবপর নহে বলিয়া উক্ত ছেদন ক্রিয়ার কর্মস্থ সমাহারে বাধিত হওয়ায় উক্ত বাক্যটি নিরাকা ও অযােগ্য, সুতরাং প্রমাণ হইতে পারে না, পুল প্রভৃতিতে পঞ্চত্ব ৰা বহুত্ব সংখ্যা থাকিলেও ‘রামদায়া মৈথিলী ইত্যাদি বাক্যস্থলে একত্ব বিশিষ্ট রামপত্নী মৈথিলীর বিশেষণ হইলেও দাশব্দের পরতি জবিভক্তির দ্বারা যেরূপ বহুত্বসংখ্যা বিৰক্ষিত নহে দারাশব্দটি বহুবচনাপ্ত বলিয়া আনুশাসনিক বহুবচন স্বীকৃত হয়-তদ রূপ পঞ্চপুলীং ছিনত্তি’ এখানেও পুলগত পঞ্চত্ব বা বহুত্বসংখ্যা বিৰক্ষিত হইলেও আনুশাসনিক একবচনের উপপত্তি হইবে। এই সকল সূক্ষ্ম বিবেচনার ফলে প্রস্তাবিত দ্বিশুর নাম সমাহার দ্বিগু হইলেও উক্ত সমাহার দ্বিগু সমাস হইতে সমাহার রূপ অর্থের বােধ হইবে না। এইজন্য সমাহার গভিত লক্ষণটি পরিত্যাগ করিয়া তদ্ধিতার্থ এবং উত্তরপদ দ্বিগু ভিন্ন যে দ্বিগু তাহাই সমাহার দ্বিগু সমাস নামে পরিচিত হইবে। এই প্রসঙ্গে অন্যান্য বিষয় মূল ও বিবৃতিতে পর্যালােচিত হইয়াছে। তৎপুরুষ সমাস যে সমাসটি নিজের অন্তর্গত কোনও পদের অর্থ গত সুপ, বিতক্তিব অর্থের দ্বারা বিশেষিত অপর পদার্থ বিষয়ক অন্বয়বােধের স্বরূপযােগ্য হয় সেই সমাস তাদৃশ পদার্থ সম্বদ্ধ অপর পদার্থ গােচর অন্বয়বােধের অনুকুল তৎপুরুষ সমাস হইবে। গ্রাম গত: এই বিগ্রহ বাক্য হইতে ‘গ্রামগত তৎপুরুষ সমাসটি গ্রামপদার্থ গত কর্মত্বরূপ সুপ, বিভক্তির অর্থের দ্বারা বিশিষ্ট গতি ক্রিয়া বিষয়ক অন্বয়বােধের স্বরূপযােগ্য হওয়ায় গ্রামগত এই বাক্যটি দ্বিতীয়া তৎপুরুষ হইবে। এইভাবে তৃতীয়াদি তৎপুরুষেও লক্ষণ সমন্বয় করিতে হইবে। তৎপুরুষ সমাসস্থলে প্রায়শঃ দ্বিতীয় তৃতীয়া প্রভৃতি বিভক্তির অর্থ ধাতুর অর্থে অন্বিত হইয়া সমাসের ঘটক হইবে। গ্রামং গত এইরূপ বিগ্রহবাক্য হইতে উৎপন্ন গ্রামগত এখানে গ্রামগত কর্মত্ব, নিরূপকত্ব সম্বন্ধে গতি ক্রিয়াতে, এবং চৈত্রে নীত চৈত্ৰনীত এই তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাসস্থলে তৃতীয়া বিভক্তির অর্থ চৈত্রগত কর্তৃত্ব নীত এই নয়নক্রিয়াতে অন্বিত হইবে । পীঠং পরিতঃ, পুণ্যেন সুখ ইত্যাদিলে দ্বিতীয় তৃতীয় প্রভৃতি বিভক্তির অর্থ ক্রিয়াতে অম্বিত না হওয়ায় কোনও সম্প্রদায় তৎপুরুষ স্বীকার করেন না। আবার বিশেষ বিধি অনুসারে ‘বসুখ ‘লােষ্ট্রকাণ' এই সকল স্থলে বিভক্তির অর্থ "ক্রিয়াতে অন্বিত না হইলেও তৎপুরুষ সমাস ৰীকৃত হইয়া থাকে। ফলকথা প্রয়ােগ অনুসারেই তৎপুরুষ সমাস কল্পনা করিতে হইবে। জগদীশ তর্কালঙ্কার, ‘অঘটঃ পট’ সুয়ো দৈত্য:* এই সকল নঞ নিপাত ঘটিত সমাসস্থলে ন নিপাতের দ্বারা উপস্থাপিত অর্থে, প্রতিমােগিত্ব প্রভৃতি ভেদ সম্বন্ধে সবাদি সম্মত অন্বয়বােধকে প্রমাণরূপে গ্রহণ করিয়া গ্রামগত ‘রাজপুরুষ এইসকল t১১ ) যশেও কমত্ব স্বত্ব প্রভৃতি গজে অৱয়বােধের উপপত্তি করিয়াছেন। যদি গ্রামগত ইত্যাদি স্থলে কর্মত্ব প্রভৃতির ভেদসম্বন্ধে অন্বয়বােধ যীকৃত না হয় তাহা হইলে নঞ,ঘটিত তৎপুরুষ সমাস সমূহে তৎপুরুষ সমাস লক্ষণের অ্যাপ্তি হইবে। এই প্রসঙ্গে জগদীশ আরও বলেন প্রস নঙনিপাতের সহিত ঘটাদিপদের অঘটম এই আকারে অধ্যয়ীভাব সমাসই স্বীকৃত হইবে। এই সিদ্ধান্ত প্রাচীন সম্মত হইলেও পক্ষধর মিশ্র কিন্তু ঘটন্য অভাবঃ এইরূপ অর্থে প্রস নঞ নিপাতের সহিত ঘটাদিপদের অঘটঃ এই আকারের তৎপুরুষ সমাসই সিদ্ধান্ত রূপে গ্রহণ করিয়াছেন। এই নঞ তৎপুরুষ সমাসের অনুকূলে আচার্য উদয়নের ‘বাদিমবিবাদঃ এই প্রয়ােগকে প্রমাণরূপে পরিগ্রহ করিয়াছেন। এক্ষণে প্রশ্ন হইবে ‘গ্রামগত’ ইত্যাদি তৎপুরুষ সমাসস্থলে গ্রামপ্রভৃতি পদের গ্রামকাদিরূপ লাক্ষণিক অর্থ পরিহার করিয়া কৰ্মত্ব প্রভৃতিকে সংসর্গ মর্যাদায় ভান স্বীকার করিলে, “অনয়ৈব ঋচা নিষাদস্থপিতং যাজয়েৎ” এই শ্রুতিবাক্যের অন্তর্গত নিষাদস্থপতি এই বাক্যটি তৎপুরুষ সমাস অথবা কর্মধারয় সমাস হইবে? এইরূপ প্রশ্ন উপস্থাপিত করিয়া “মুখ্যে শব্দঘরসঃ অর্থাৎ কোনও রূপ বাধক না থাকিলে মুখ্যার্থেই শ্রুতির প্রামাণ্য হইয়া থাকে পরন্তু প্রমাণান্তরের দ্বারা প্রমাণিত নহে—এইরূপ লক্ষ্যার্থে শ্রুতির প্রামাণ্য স্বীকৃত হইবে না। অতএব নিষাদ স্থপতি এই সকল কর্মধারয় স্বীকৃত হইবে তৎপুরুষ নহে। কর্মধারয় পক্ষে বিরুদ্ধবাদিগণের এই সিদ্ধান্ত কিন্তু যুক্তিযুক্ত নহে। কারণ উক্ত মীমাংসক সিদ্ধান্ত অনুসারে মীমাংসক মত স্বীকৃত হইলে “অনয়ৈব ঋচা নিষাদস্থপতিং যাজয়েৎ” এই সকল স্থলে অপূর্ব বিদ্যার প্রয়ােগ কল্পনা নিবন্ধন গৌরব অপরিহার্য হইবে। অতএব ‘নিষাদস্থপতিং যাজয়েৎ এইসকল স্থলে নিষাদস্য পতিঃ নিষাদস্থপতিঃ এইরূপ তৎপুরুষ সমাস গৃহীত হওয়াই সমীচীন হইবে। তৎপুরুষ সমাস গৃহীত হওয়ার ফলে নিষাদস্থপতি এই সমাস হইতে বেদের অধিকারী ব্রাহ্মণ প্রভৃতি বর্ণয় গৃহীত হওয়ায় অপূর্ববিদ্যার প্রয়ােগ নিবন্ধন যে গৌরব তাহাও পরিহার করা সম্ভবপর হইবে। আমাদের মনে হয় ইহাই জগদীশ তর্কালঙ্কারের গুঢ় অভিপ্রায়। তৎপুরুষ সমাসেও লবিশেষে উত্তরপদ পরে থাকিলেও পূর্বপদের বিভক্তির লােপ হয় না। এইজন্য এই সকল সমাসকে অপু সমাস বলা হয়। উদাহরণ হিসাবে যুধিষ্ঠির, বনেচর, আত্মনেপদ, দেবানাং প্রিয়ঃ, পরম্মৈপদ, কর্ণে জপ, অস্তেবাসী ইত্যাদি গৃহীত হইবে। অব্যয়ীভাব সমাস যেই সমাসে নিজের উত্তরপদের দ্বারা উপস্থাপিত অর্থবিশেষিত স্বকীয় অর্থের বোধক অব্যয় (অংশ) পূর্বপদ হইবে সেই সমাস ভাদৃশৰিশিষ্টাৰ্থবােধের অনুকুল অব্যয়ীভাব সমাস হইবে। ১। পূর্বপদাৰ্থবানােৰ্যয়ীভাবঃ ইতি পাণিনি। পূর্বং চং বেদ যা সােথ- ব্যয়ীভাৰ ইয়ুতে ইতি কাম।

[১২] উপকুন্ত, নির্মক্ষিকম ইত্যাদি অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ। শলাকাপরি, দ্বিগাৰ্গম, দ্বিদন্তি ইত্যাদিস্থলে সমাসের অন্তর্গত পূর্বপদ অব্যয় না হওয়ায় ঐ সকলস্থলে অব্যয়ীভাব সমাস লক্ষণের ব্যাপ্তি হইবে এইজন্য গ্রন্থকার, উক্ত লক্ষণ পরিত্যাগ করিয়া লক্ষণান্তর করিতেছেন- অমাদেশ ব্যতিরেকে শায়মাণ যষ্ঠ বিভক্তির নিজ অর্থে যে সমাদার্থের বােধক হয় না সেই সমাস অব্যয়ীভাব সমাস হইবে। অব্যয়ীভাব সমাস লক্ষণের অন্তর্গত ষষ্ঠীবিভক্তির অংশে ক্রয়মাণ বিশেষণটি না দিলে, ‘কৃতয়েরেকাক্ষান্যথা পাতনয়ে। নিস্ফলত্ব এইরূপ অর্থে কৃতগােরক্ষপরিব্যর্থত্ব এই প্রকার অব্যয়ীভাব সমাসে লুপ্ত বিভক্তি নিজ অর্থে সম্বন্ধে সমার্থপ্ৰকাৰক অন্বয় বােধের স্বরূপযােগ্য হওয়ায় উক্ত অব্যয়ীভাব সমাসে অব্যপ্তি হইবে। অতএব উক্ত অব্যাপ্তি বারণ করিবার জন্য ষষ্ঠবিভক্তিতে ‘শায়মাণ’ এই বিশেষণটি দেওয়া হইয়াছে। যদি অব্যয়ীভাব সমাস লক্ষণের অন্তর্গত ‘শায়মাণ ষষ্ঠীবিভক্তিতে ‘অমাদেশং বিনা এই বিশেষণটি না দেওয়া হয় তাহা হইলে, ‘সিগন্য গঙ্গাসমীপস পাবি এইরূপ অর্থে ‘মি উপগঙ্গং পবিত্র এই অব্যয়ীভাব সমাসে উক্ত লক্ষণের অব্যাপ্তি হইবে, কারণ, শায়মাণ ষষ্ঠীবিভক্তির নিষ্ঠত্বরূপ অর্থে গঙ্গাসমীপরূপ সমার্থপ্রকারক অন্বয়বােধের প্রতি ঘমাণ যষ্ঠীবিভক্তি স্বৰূপযােগ্য হইয়াছে। অতএব উক্ত অব্যাপ্তি বারণ করিবার জন্য ‘অমাদেশং বিনা এই অংশটিকে ষষ্ঠবিভক্তির বিশেষণরূপে নিবেশ করা হইয়াছে। বিষয় মুল ও বিবৃতিতে সবিস্তারে আলােচিত হইয়াছে। এই সকল বহুব্রীহি সমাস যে সমাপ স্বপদার্থ গতিত সম্বন্ধিত্বপ্ৰকাৰক অন্বয় বােধের যােগ্য এবং নিরূঢ় লক্ষণ- বৃত্তির দ্বারা স্ব’পদার্থের জ্ঞাপক কোনও শব্দের দ্বারা যুক্ত হইবে, সেই সমাস, স্বপদার্থ- গতি সম্বন্ধিরূপ অর্থের বোধক বহুব্রীহি সমাস বুঝিতে হইবে। ‘আরূঢ়ো বানরাে য’ এই বিগ্রহবাক্য হইতে উৎপন্ন আরূঢ় বানরো বৃক্ষ' এই বহুব্রীহি সমাস স্বকর্মক আরােহণ কর্তৃ বানরসম্বন্ধিত্বরূপ স্বপদার্থ গর্ভিত সম্বন্ধিত্বকারক বৃক্ষবিশেষক অন্বয়বােধের জনক হওয়ায় এবং নিরূঢ় লক্ষণাবৃত্তির দ্বারা স্ব’ এই অংশের বােধক ‘অপূর্বক রুহুধাতু অথবা বানর পদটির দ্বারা ঘটিত হওয়ায় তাদৃশ অর্থবােধের অনুকুল বহুব্রীহি সমাস হইবে। এই প্রসঙ্গে ইহাও বুঝিতে হইবে মণিকাৱেৰ মতে ‘অঢ় বানরো বক্ষঃ এখানে বানর পদটি বকর্মক আয়ােহণ কর্তৃ বানর সন্ধিরূপ অর্থে নিরূঢ়লক্ষণা স্বীকৃত হইবে, ১ বহুব্রীহি স্বগর্ভার্থ সম্বন্ধিত্বে বােধ। নিরূঢ়য়া লক্ষণয়া আংশজাপক শব্দ। (শব্দশক্তি প্রকাশিকা) অনেকমন্যপদার্থে (বহুব্রীহিঃ) ইতি পাণিনিঃ।

[ ১ ] আরূঢ় পদটি তাদৃশ লক্ষণার তাৎপর্য গ্রাহকমাত্র। জগদীশ তর্কালঙ্কারের মতে এ পূর্বক রুহ ধাতুর তাদৃশ অর্থে নিরূঢ়লক্ষণ এবং বানর পদটি তাদৃশ লাক্ষণিক অর্থের তাৎপর্য গ্রাহকমাত্ৰ বুঝিতে হইবে। ‘দক্ষিণপূর্ব এই বিদিক বহুব্রীহিস্থলে দক্ষিণয়। (সহ) পূর্ব শস্যাঃ এই বিগ্রহবাক্য হইতে দক্ষিণপূর্ব দিক এই বিদিক বহুব্রীহি হইতে নিজ পার্শ্বস্থিত দক্ষিণ দিকের সহিত পূর্বদিক সম্বন্ধিত্বপুরষ্কারে আগ্নেয়ী (অগ্নিকোণের) বিদিকের বােধ হইবে। এবং ‘পূর্বোত্তর। এই বিদি বহুব্রীহি হইতে পূর্বয়া (সহ) উত্তর দিক যা এই বিগ্রহবাক্য হইতে পূর্বোত্তর। দিক এই বিদিক বহুব্রীহি সমাস হইতে স্বস্থিত পূর্বদিকের সহিত উত্তরদিক সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে ঈশান কোণ প্রতীয়মান হইবে। উক্ত ৰীতি অনুসারে উত্তরপশ্চিমা দক্ষিণপশ্চিমা বিদিক গৃহীত হইবে। অন্তিক্ষীরা গৌ, নাস্তিক্ষীরা গো এই সকল বহুব্রীহি স্থলে অস্তিক্ষীরং যস্যাঃ, নান্তি ক্ষীরং যস্যা ইত্যাদি বিগ্রহ বাক্য হইতে অস্তিত্ববিশিষ্ট স্ব ক্ষীরসম্বন্ধিত্বপুরস্কারে এবং নাস্তিত্ববিশিষ্ট ব ক্ষীরসম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে গবাদি- বিষয়ক অন্বয়বোধ হইবে। কিন্তু এখানে বিশেষ এই যে ঐ সকলস্থলে কাহারও মতে ‘অস্তি’ ‘নাস্তি’ এই সকল তিঙন্ত ক্রিয়াপদ আবার কোনও সম্প্রদায়ের মতে ‘অন্তি বা ‘নাস্তি' এই সকলপদ ক্রিয়াপদের অনুরূপ অব্যয় বিশেষ। সমানাধিকরণ এবং ব্যধিকরণ ভেদও বিবিধ বহুব্রীহি সমাস নৈয়াত্মিক সম্মত, সমাস প্রসঙ্গে সমানাধিকরণ শব্দটির ব্যুৎপত্তি পর্যালােচনা করিলে সমাসং তুল্যং অধিকরণ অর্থ: যয়ে: ( যামিতি বা) এই ব্যুৎপত্তি অনুসারে যেই বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্গত পদদ্বয় বা পদত্রয় সমার্থক হইবে, অথবা যেই বহুব্রীহি সমাস, বিশেষ্মবােধক পদের অর্থে বিশেষণবােধক পদের অর্থটি অভেদ সম্বন্ধে অম্বয়বােধের যােগ্য হয় সেই বহুব্রীহি সমাসকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলা হইবে। যেই বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্গত পদদ্বয় বা পদব্রয় তুল্যার্থক নহে অথবা যেই বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্গত পদদ্বয় বা পদত্রয়, বিশেষবােধক পদের অর্থে বিশেষণবােধক পদের অর্থটি, (অথবা বিশেষণ পদেয় অর্থসমূহ) ভেদ সম্বন্ধে অন্বয়বােধের যােগ্য হয় সেই বহুব্রীহি সমাস ব্যধিকরণ বহুব্রীহি সমাসরূপে গণ্য হইবে। সমাধিকরণ বহুব্রীহির উদাহরণ-আরূঢ় বানিয়ে বক্ষ পীতাম্বরঃ পঃ কৃষ্ণঃ তণ্ডুলশ্চৈত্ৰ ইত্যাদি। ব্যধিকরণ বহুব্রীহির উদাহৰণ:-ৰাণেন ছিন্ন- করো যেন য ব ইত্যাদি বিগ্রহ হইতে ‘বাণছিন্ন করাে না' ইত্যাদি। তত্ত্বচিন্তামণি অনুমান খণ্ডের অন্তর্গত “আধ্যাভাৰবদবৃত্তিত্ব” এই পূর্বক্ষব্যাপ্তিলক্ষণে সাধ্যাতাবৰতােন বৃত্তিৰ্ষত্ৰ এই বিগ্রহ অনুসারে সাধ্যাভাৰবদবৃত্তি’ এই সমাসটিকেও ত্রিপদ ব্যধিকরণ ১। এবং দণ্ড পাণৌ এই বিগ্রহ অনুসারে দণ্ড পাণিঃ ধনুহন্তে যস এইরূপ বিগ্রহ বাক্য হইতে ধনুহঃ ইত্যাদি ব্যধিকৰণ ৰহৰীহি বুঝিতে হইবে।

[ ১৪ ] বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণরূপে গ্রহণ করা যাইতে পারে। এই প্রসঙ্গে ইহাও বলা আবশ্যক বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্গত নাময়, নাময় ৰা নমিচতুষ্টয় ঘটিত বিগ্রহবাক্যের ভেদনিবন্ধনও বহুবিধ বহুব্রীহি সমাস স্বীকৃত হইয়া থাকে। চিত্র। গৌ ঘ্য এই বিগ্রহ বাক্য হইতে যেরূপ চিত্ৰ:' এই দ্বিপদ বহুব্রীহি স্বীকৃত হইৰে তদ্রূপ জৱতী চিত্রা গো যন্ত এই বিগ্রহবাক্য হইতে ‘জয়তীচিত্ৰ শ্চৈত্ৰ' ইত্যাদি ব্রিপদ বহুব্রীহি এবং মা হবে। কৃষ্ণা মাতা যস্মিন এই বিগ্রহবাক্য হইতে মত্ত বহু কৃষ্ণ মাতঙ্গং বন’ এই প্রকার চতুষ্পদ ঘটিত বহুব্রীহি সমাসও স্বীকার করা আবশ্যক। তদশ সংবিজ্ঞান এবং অতগুণসংবিজ্ঞান ভেদেও বহুব্রীহি সমাস দ্বিবিধ স্বীকৃত হইয়াছে, নবীনমতে ‘তগুণ- সংবিজ্ঞান’ শব্দটি অম্বৰ্থসংজ্ঞাশব্দ, অতএব স্বার্থগুণীভূত, সমগ, বিশেষ্যবিধয়া, বিজ্ঞান যন্মাৎ এইরূপ ব্যুৎপত্তি অনুসারে, যেই সমাসের বিগ্রহবাক্যের অন্তর্গত যে পদার্থটি বিশেষ রূপে প্রতীয়মান হইবে তদবিশেষক অন্বয় বোধের জনক বহুব্রীহি সমাস, তদগুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি সমাস হইবে। এবং তাদৃশ বােধজনক ভিন্ন বহুব্রীহি সমাস অতগুণ সংবিজ্ঞান বহুব্রীহি নামে অভিহিত হইবে। এই নব্য মতে ঘটম্বরূপঃ পদার্থ এই বহুব্রীহি সমাসলে ঘটঃ স্বরূপে। যস্য এই বিগ্রহবাক্যের অন্তর্গত ঘট পদার্থটি বিশেষরূপে প্রতীয়মান হওয়ায় স্বরূপাভিন্ন ঘটসম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে অথবা ঘটাভিন্ন স্বরূপসন্ধিত্ব পুরস্কারে বিগ্রহবাক্যার্থের অন্তর্গত পদার্থেরই বোধ হইয়া থাকে এবং কুটাদিৰ্গণ এইস্থলে কুট আদি ধন্য এই বিগ্রহ অনুসারে কুটাভিয় ধর্মিক ব্যবস্থা ধর্মিসম্বন্ধিত্বপুরস্কারে কুটাভিন্ন ধাতুর ন্যায় কুট ধাতুও গৃহীত হইয়াছে। অতএব ঘটঃ স্বরূপঃ পদার্থ এবং কুটাদিৰ্গণ: এই উভয় সমাসই তদগুণ- সংবিজ্ঞান বহুব্রীহি সমাস হইবে। এতদভিন্ন আরূঢ় বানরো বৃক্ষঃ ইত্যাদি সমাস অতগুণ- সংবিজ্ঞান বহুব্রীহি হইবে। পাণিনি প্রভৃতি প্রাচীন বৈয়াকরণ মতে কিন্তু প্রকারান্তরে তদণসংবিজ্ঞান ও অতগুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি স্বীকৃত হয়। এইমতে সেই বহুব্রীহি স্বকীয় অর্থের অন্বয়ি কর্ম প্রভৃতি অর্থে নিজ অর্থের ঘটক পদার্থের অষয় বােধনে সক্ষম হয় সেই বহুব্রীহি তদগুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি। এই বহুব্রীহির উদাহরণ ‘লম্বকর্ণমানয়’ ‘হারগ্রীবং পশ’ ইত্যাদি। এই সকলস্থলে, বহুব্রীহি সমাস, ব্যুৎপত্তি-বৈচিত্র্য বশতং লম্বকর্ণসম্বন্ধিরূপ বকীয় গ্ৰীৰাবৃত্তিহারসম্বন্ধিরূপ স্বকীয় অর্থের অন্বয় কর্মত্ব, পদার্থে, কর্ণ বা হার পদার্থের অন্বয় বােধের যােগ্য হওয়ায় এই সকল সমাস, তদগুণ সংবিজ্ঞান বহুব্রীহিই। এই জাতীয় বহুব্রীহি সমাস অতগুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি সমাস হইবে। দৃষ্টান্তরূপে ‘দৃষ্টসাগরমানয়’ ইত্যাদি অতগুণসংবিজ্ঞানকে গ্রহণ করা যাইতে পারে, ইহাই পাণিনি প্রভৃতি প্রাচীন সম্প্রদায়ের অভিপ্রায়। ১। মথুরানাথ ব্যাপ্তিপঞ্চকের রহস্য টাকায় সাধ্যাভাৰৰবৃত্তিম এই লক্ষণটি সাধ্যাভাৰৰতো ন বৃত্তি যত্ৰ সাধাৰৰদৰত্তি, এইরূপ ত্রিপদ ব্যধিকরণ সমাস স্বীকার করিয়াছেন।

[ ১ ] बजयांग বন্দ্ব সমাসের পর্যালােচনা করিলে দেখা যায়, দ্ব সমাসের লক্ষণ এবং স্বরূণ বিষয়ে বৈয়াকরণ, মীমাংসক ও নৈয়ায়িক সম্প্রদায়ের ঐকমত্য যেরূপ প্রতীয়মান হয় তরূপ বিষয় বিশেষে মত পার্থক্য ও বিদ্যমান। পাণিনীয় ব্যাকরণের মতে; সমস্যমান পদার্থ দ্বয়ের অথবা পদার্থতাবকোয়েল যেই সমাস হলে পরস্পর ভেদ থাকিবে, সেই সমাস পূলেই বম্ব সমাসের সাধুত্ব স্বীকৃত হইবে। অতএব প্রাচীন সম্প্রদায়, “চার্থে দ্ব” এই পাণিনীয় সূত্রে, ভেদগঞ্জ সমুচ্চয়ের ৰােধক “চ” শব্দটি থাকায়, ভেদগর্ভ সমুচ্চয়ার্থের প্রতিপাদক ‘চ’ শব্দকে অন্তর্ভাব করিয়া ‘ধবখদিরৌ’ ইত্যাদি দ্বন্দ্ব সমাস স্থলে, ‘ধব খদিয়’ এই আকারের বিগ্রহবাক্য প্রয়ােগ করিয়া থাকেন। উক্ত আলােচনার পরিপ্রেক্ষিতে যেই সমাসের অন্তর্গত পদসমূহ বিভিন্ন অর্থের বােধক হইবে তাদৃশ পদসমূহ বিভিন্ন অর্থবােধের অনুকুল দ্বন্দ্ব সংজ্ঞক সমাস ইহাই প্রাচীন বৈয়াকরণ পাণিনি প্রভৃতির অভিপ্রেত। পাণিনীয় সূত্ৰস্থ ভেদার্থক ‘চ' শব্দটির দ্বারা যেরূপ দ্বন্দ্ব সমাসের অন্তর্গত পদার্থ সমূহের ভেদ গৃহীত হইবে তদ্রুপ পীততৎপটয়ােরভেদঃ ইত্যাদিস্থলে পীতপদটি পীতরূপৰিশিষ্ট লাক্ষণিক সুতরাং পীতরূপবিশিষ্ট যে পীতপদার্থ এবং তৎপট পদার্থ পরস্পর অভিন্ন হওয়ায় সমাস হইতে পারে না। এইজন্য পীত- পদার্থতার অবচ্ছেদক পীতত্ব তৎপটত্ব এতদুভয়ের ভেদ গ্রহণ করিয়া পীতততপটয়ােভেদঃ উক্ত স্কুলে দ্বন্দ্ব সমাসের উপপত্তি করিতে হইবে। এই প্রসঙ্গে জগদীশ তর্কালঙ্কার আরও বলেন, ‘পীততৎপটয়ে: এই ষষ্ঠীর দ্বিবচন বিভক্তির দ্বিত্ব সংখ্যারূপ যে অর্থ তাহার পর্যাপ্ত সম্বন্ধে প্রকৃতির অর্থে অম্বয় ব্যুৎপত্তিসিদ্ধ হইলেও পীততৎপটয়ােরভেদঃ এইস্থলে পীত এবং তৎপট অভিন্ন পদার্থ। সুতরাং পীতত পটে পাণ্ডিসম্বন্ধে দ্বিত্বসংখ্যার অন্বয় বাধিত । সুতরাং একবচন দ্বিবচন প্রভৃতির অর্থ একত্ব দিত্ব প্রভৃতি সংখ্যা প্রকৃতির অর্থেই অন্বিত হইবে। এই বুৎপত্তির বৈচিত্র্য স্বীকার করিয়া প্রকৃতার্থতার অবচ্ছেদক যে পীতত্ব এবং তৎপটত্ব এই ধর্মদ্বয় তাহতেই পাপ্তি সম্বন্ধে ষষ্ঠ দ্বিবচন বিভক্তি অর্থ দ্বিত্ব সংখ্যা অম্বিত হইবে। জগদীশ উক্ত ব্যুৎপত্তির সঙ্কোচ স্বীকৃতিপক্ষে ‘দ্বাণুকান্তকসংযােগনাশেভ্যঃ কার্যব্যং নশতি’ এই প্রশস্তপদ ভাষ্যাংশের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে আচার্য উদয়ন কার্যদ্রব্যং’ এই সুবর্থ একত্ব সংখ্যা দ্রব্যসমূহে বাধিত হওয়ায় দ্রব্যত্বরূপ যে প্রকৃত্যর্থতার অবচ্ছেদক ধর্ম তাহাতে উক্ত একত্ব সংখ্যার অন্বয় অভিপ্রায়ে ‘জাত্যভিপ্রায়মেকবচন এইরূপ ব্যাখ্যা করিয়াছেন। জগদীশ তর্কালঙ্কার ১। বঃ সমুচ্চয়ােনামো বহুনাং বাপি যে ভবেৎ' কাত ব্যাকরণে সর্ববর্মাচার্য এইরূপ দ্বন্দ্ব সমাসের লক্ষণসূত্র করিয়াছেন। পাণিনীয় মতে ও কলপ ব্যাকরণের মতে দ্বন্দ্ব সমাসের লক্ষণ প্রায় অভিন্ন।

[ ১৬ । যে যে অর্থের উপস্থাপক ক্রমিক যাদৃশ নামসমূহ বিয়য়ক নিশ্চয় তৎ অর্থ প্রকারক অন্বয়- বােধের প্রতি তাদৃশ নিশ্চয়ত্ব পুরস্কারে মােগ্য হইৰে তাদৃশ নাম সমুদায়, তৎ অর্থবােধের অনুকুল দ্বন্দ্ব সমাস হইবে বলিয়াছেন। বখদিয়ে ছিন্ধি’ এই সকল স্থলে ও প্রভৃতি সুবৰ্থ কর্মত্ব প্রভৃতিতে ধৰখদির প্রকার অন্বয়বােধের প্রতি ‘ঔ' বিভক্তি ধর্মিক ধৰখদির ইত্যাদি ক্রমিক নামসমূহের অব্যবহিতােত্তরত্ব সম্বন্ধে নিশ্চয় কারণ হওয়ায় ধৰখদির অর্থে বখদির সমুদায় দ্বন্দ্ব সমাস হইবে। এই দ্বন্দ্ব সমাস ইতরেতর এবং সমাহার ভেদে দ্বিবিধ। ধবখদিয়ে এই সমাস ইতরেতর দ্বন্দ্ব সমাস, পাণিপাদং বাদয়' এইস্থলে অম্ বিভক্তির অর্থ কর্মত্বাংশে কর-চরণাদি প্রকারক অন্বয়বােধের প্রতি অম্ ধর্মিক পাণিপাদ প্রভৃতি ক্রমিক নামসমূহের অব্যবহিতােরত্ব সম্বন্ধে নিশ্চয় কারণ অতএব করচরণাদি অর্থে পাণিপাদ সমুচ্চয় সমাহার দ্বন্দ্ব হইবে। পাণিপাদং বাদয় ইত্যাদি সমাহার দ্বন্দ্ব স্থলে সমাসের ঘটক পাণিপাদ প্রভৃতি নানা হইলেও ‘পাণিপাদং' ইত্যাদি দ্বন্দ্ব সমাসের যে সমাহার পরিভাষা রহিয়াছে তাহার ফল ‘পাণিপদং' ইত্যাদি পদসংস্কার অর্থাৎ ‘পাণিপাদং’, ‘হ্যশ্ব ইত্যাদি সমাহার দ্বন্দ্ব সমাসস্থলে নিয়মিত ক্লীবলিঙ্গ ও নিত্য একবচন হইবে । জগদীশ তর্কালঙ্কার যেরূপ ‘চার্থে দ্বন্দ্ব এই পাণিনীয় সূত্রকে উপজীব্য করিয়া দ্বন্দ্ব সমাসের লক্ষণ করিয়াছেন, গদাধর ভট্টাচার্য অনুমিতি প্রকরণের টীকাগ্রন্থে উক্ত পাণিনীয় সুত্র এবং ‘পদার্থানাং প্রধানত্বে পরস্পরবিভেদত। একদৈকক্রিয়াযােগাবতি দ্বন্দ্বসংজ্ঞক। এই প্রাচীন কারিকাকেও উপজীব্য করিয়া দ্বন্দ্ব সমাসের লক্ষণ করিয়াছেন। ইতরেতর দ্বন্দ্ব এবং সমাহার দ্বন্দ্ব বিষয়ে জগদীশ ও গদাধরের প্রায়শঃ ঐকমত্য থাকিলেও সরূপৈক- শেষ এবং বিরূকৈশেষ বিষয়ে উভয়ের মত পার্থক্য রহিয়াছে। জগদীশের মতে সরূপৈক- শেষ বা বিরূকৈপকশেষ দ্বন্দ্বের অপবাদক অর্থাৎ সরূপৈকশেষ বা বিরূকৈশেষ সম্ভাবিত হইলে দ্বন্দ্ব সমাসকে বাধিত করিয়া সরূপৈকশেষ বা বিরূপৈকশেষ সমাস স্বীকৃত হইবে। গদাধর কিন্তু সরূপৈকশেষ বা বিরূকৈশেষকে দ্বন্দ্বের অপবাদক বা বাধক স্বীকার করেন নাই। পরত দ্বন্দ্ব সমাস হওয়ার পরে কৃত দ্বন্দ্ব সমাসই স্বরূপৈকশেষ বা বিরূপৈকশেষ রূপে পরিণত হয় বলেন। শেষ পর্যন্ত ভট্টাচার্য এই পক্ষ পরিহার করিয়া সরূপৈকশেষ বা বিরূপকশেষ সমাস একেবারেই অস্বীকার করিয়াছেন। আশঙ্কা হইতে পারে যে দ্বন্দ্বেক- শেষ স্বীকৃত না হইলে ঘটা ইত্যাদি পদ হইতে বহুঘটের এবং চৈত্ৰ পিরো ইত্যাদি বাক্য হইতে পিতামাতা উভয়ের বােধ কেমন করিয়া সম্ভবপর হইবে, এই আশঙ্কার উত্তরে গদাধর বলেন, ঐ সকল স্থলে তাৎপর্য বিশেষের জ্ঞানই বহুঘটে বা পিতামাতা উভয়ের বােধের প্রতি নিয়ামক স্বীকৃত হইবে। প্রাচীন শাব্দিক সম্প্রদায় বলেন ‘পাণিপাদং বাদয়' ইত্যাদি সমাহার দ্বন্দ্ব সমাসস্থলে শৰত্র উত্তর পদে, পাণি শাদাদি সাহিত্যে লক্ষণা খীকৃত হইবে। অতএব সমাহারের এক 5 # [ ১৭ ] নিৰান পাণিপা সাহিত্যেও একবীকৃত হওয়ায় সমাহার ঘৰ খুলে নিত্য একবচনীকৃত হইয়া থাকে, সমাহার দ্বন্দ্বের উত্তরণ ভিন্ন পদান্তর কিন্তু উক্ত লক্ষণার নিকচুত্ব সম্পাদক রূপে গণ্য হইবে। পাণিপাদং এই সমাহার ঘৰ সমাস মূলীয় সাহিত্য ও স্বায়বৃতিত্ব সম্বন্ধে বিভক্তির অর্থ কমত্বে সাকা হওয়ায় পাণিপাদং বাদয়' ইত্যাদি বাক্যে নিত অর্থবােধের অনুকুল মােগ্যতাও অবশ্যই থাকিবে। ইহাই প্রাচীন শাকি সম্প্রদায়ের সিদ্ধান্ত। জগদীশ বলেন, প্রাচীন শাব্দিক সম্প্রদায়ের এই সিদ্ধান্ত সঙ্গত নহে। পাণিপাদ ইত্যাদি সমাহার দ্বন্দ্ব স্থলে উত্তর পদের (পাদ পদের) যে প্রাচীনগণ সাহিত্যে লক্ষণ। স্বীকার করেন, উক্ত সাহিত্য শব্দটির অর্থ পর্যালােচনা করিলে দ্বিবিধ অর্থ প্রতীয়মান হইয়া থাকে। একটি অর্থ হইবে তুল্যবদেক ক্রিয়ায়িত্ব অর্থাৎ একজাতীয় ক্রিয়াগত একজাতীয় সংসর্গ নিরূপক এবং অপর অর্থ হইবে বুদ্ধি বিশেষ বিশেষ্যত্ব অর্থাৎ অনেকৈকত্ব বৃদ্ধি বিশেষ্যত্ব, এই যদি সাহিত্যের স্বরূপ হয় তাহা হইলে পাণিপদগত সাহিত্যের নানাত্ব স্বীকৃত হওয়ায় তগত দ্বিত্বাদি সংখ্যার অবগতির অনুরােধে উক্ত সমাহার দ্বন্দ্ব সমাসস্থলে দ্বিবচনাদির আপত্তি হইবে। (যদি প্রাচীন সম্প্রদায় বলেন, সাহিত্যগত দ্বিত্ব বহুত্ব স্বীকৃত হইলেও সমাহার দ্বন্দ্ব হলে দ্বিত্বাদি সংখ্যাবােধের অনুকুল দ্বিবচনাদি প্রসক্তির সম্ভাবনা নাই, কারণ সমাহার দ্বিগু সমাস যেরূ। দ্বিত্বাদিবােধের অনুকুল, দ্বিবচনাদি সকাঙ্ক নহে তদ্রুপ ‘পাণিপাদ’ ইত্যাদি সমাার দ্বন্দ্ব ও দ্বিবচনাদি সাকাক্ষ নহে। প্রাচীনগণের এই বক্তব্যের উত্তরে জগদীশ বলেন, প্রাচীনগণ যদি উক্তরীতি অনুসরণক্রমে সমাহার দ্বন্দ্বস্থলে বিবচন বহুবচনের নিরাকাঙ্ক্ষত্ব কল্পনা করিয়া সমাহার দ্বন্দ্ব স্কুলে একবচন মাত্রের উপপত্তি করেন তাহা হইলে সিদ্ধান্তিগণও পাণিপাদ সাহিত্যে লক্ষণ স্বীকার না করিয়া বলিতে পারেন সমাহার দ্বন্দ্বে পাণিপাদ প্রভৃতি নানা হইলেও সমাহার দ্বন্দ্বে দ্বিবচন বহুবচন সাকাশ্রুত্ব স্বীকৃত হইবে না ইহাই বলা সমীচীন হইবে, সমাহার দ্বন্দ্ব সমাস স্থলে পরপদের পাণিপাদাপি সাহিত্যে লক্ষণ। স্বীকার করিবার প্রয়োজন নাই। জগদীশ আরও বলেন, নামার্থদ্বয়ের স্বায়ত্ব প্রভৃতি ভেদ সম্বন্ধে অন্বয় ব্যুৎপত্তি সিদ্ধ নহে। সুতরাং ‘হ্যশ্বং ধনম ইত্যাদি সমাহার দ্বন্দ্ব স্থলে হস্তি সমূহের ও অশ্বসমূহের সাহিত্য স্বায়ত্বাদি সম্বন্ধে ধনপদার্থে অম্বিত হইতে পারে না। তাদৃশ সাহিত্যে ধনাদি পদার্থের অভেদ না থাকায় অভেদ সম্বন্ধেও তাদৃশ সাহিত্যের ধনাদি পদার্থে অন্বয় সম্ভব নহে। অতএব উক্ত বাক্যের অযােগ্যতাও বারণ করা যাইবে না। ‘পাণিপাদং এবং হন্তাশ্বম’ ইত্যাদি সমাহার দ্বন্দ্বে যে সমাহার পরিভাষা স্বীকৃত হয়, তাহার ফল, কেবলমাত্র ঐ সকল সমাসের ক্লীবলিঙ্গত্ব ও নিত্য একবচনাস্তত্ব, এই প্রসঙ্গ পূর্বেই আলােচিত হইয়াছে। মীমাংসক সম্প্রদায় দিয়ে ছিদ্ধি ইত্যাদি ইতরেতর ছন্দ সমাস স্কুলেও খদির প্রভৃতি উত্তর পদের খবখদিরাজি সাহিত্যের আশ্রয়ে লক্ষণা স্বীকার করেন। যদি তাদৃশ সাহিত্যের আশ্রয়ে লক্ষণা স্বীকৃত না হয় তা হলে বিবচন এভূতি বিভক্তি স্বকীয় [ ১৮ ] প্রকৃতার্থতার অচ্ছেদক ধর্মের আশ্রয়েই নিজের অর্থ বিত্ব, বিত্ব প্রভৃতি পাতি সম্বনে এন্বয়ে বােধক হইয়া থাকে। এইরূপ ব্যুৎপত্তি থাকায় ‘বখদিয়ে এই সকল ইতরেতর দ্বন্দ্ব সমাস হইতে বয় বিষয়ক এবং দিরদ্বয় বিষয়ক বােধের আপত্তি হইৰে। উক্ত মীমাংসক মত খণ্ডনের অভিপ্রায়ে জগদীশ বলেন, ধৰখদিয়ে ইত্যাদি ইতরেতর এ সমাস স্থলে মীমাংসক সম্প্রদায় যে উত্তর পদের ধবখদিদি সাহিত্যে লক্ষণ কল্পনা করেন ইহা সমীচীন নহে, কারণ পূর্বোক্ত রীতিতে তুল্যৰদেকক্রিয়ায়িত্ব অথবা ধবখদির বিশেষ্যক ধীশেষবিশেষত্ব ধব-খদির দ্বয়ের সাহিত্য বলিতে হইবে। তাদৃশ সাহিত্যের আশ্রয় থবদ্বয় এবং খদিরদ্বয়ও হইবে সুতরাং তাদৃশ সাহিত্যের আশ্রয়ে মীমাংসক মতে লক্ষণ কল্পিত হইলে খবখদিনে ইত্যাদি ইতরেতর দ্বন্দ্ব সমাস হইতে ধবয় ঘদিদ্বয় বিষয়ক বােধ বারণ করা যায় না। যদি মীমাংসক সম্প্রদায় নিজমত সমর্থন করিবার জন্য বলেন, ধৰখদি বিশেষ্যক ব্রিয়াবিশেষ্যক ধীবিশেষ বিশেষ্যত্বকেই সাহিত্য বলা হইবে। সুতরাং ধষয় বিশেষ্যক- খদিরদ্বয় বিশেষ্যক বুদ্ধি গৃহীত হইবে না, জগদীশ বলেন, মীমাংসক সম্প্রদায়ের এই বক্তব্যও সমীচীন নহে। কারণ তাদৃশ সাহিত্য কোনও সম্প্রদায়ের অনুভবসিদ্ধ নহে। সুতরাং ন্যায় সিদ্ধান্তে যেখানে ধৰত্ব খদিত্ব প্রভৃতি নানা ধর্মগত প্রত্যর্থতাবচ্ছেদকত্ব ভাসমান হইবে, সেখানে তৎতৎ ধর্মের আশ্রয় যে সমুদায় তাহাতেই পর্যাপ্ত সম্বন্ধে দ্বিত্বাদি প্রকারক বােধের অনুকুল ঔ প্রভৃতি দ্বিবচন সাকা হইবে, পরন্তু এক ধর্ম বিশিষ্টকে পরিহার করিয়া অপর ধর্মবিশিষ্ট নহে। এইভাবে সাকাকত্ব নিরুক্তির ফলে ধৰখদিয়ো ইত্যাদি ইতরেতর দ্বন্দ্ব সমাস হইতে ধৰদ্বয় ও খদিরদ্বয় গােছর বােধের আপত্তি তিরােহিত হইল। দ্বন্দ্ব সমাস নিরূপণের উপসংহারে জগদীশ তর্কালঙ্কার বলিতেছেন, এই দ্বন্দ্ব সমাসের সমাহার ও ইতরেতর এই দুইটি ভেদ শাস্ত্রসম্মত। এই দ্বিবিধ দ্বন্দ্ব সমাসের মধ্যে যেই দ্বন্দ্ব সমাস একবচন ভিন্ন সুপ, বিভক্তির সহিত আকাঙ্ক্ষা শূন্য হইবে, অর্থাৎ কেবলমাত্র একবচন অণ, বিভক্তির সহিত সাকা হইবে, সেই দ্বন্দ্ব সমাসই সমাহার দ্বন্দ্ব বুঝিতে হইবে। ‘পাণিপাদ’, ‘হতাশং' ইত্যাদি সমাসকে সমাহার দ্বন্দ্বের উদাহরণ রূপে গ্রহণ করিয়া এবং একবচন ভিন্ন 'ঔ' ‘জস' প্রভৃতি সুপ, বিভক্তির সহিত সাকাক্ষ ধবখদিয়ে, বখদির- পলাশান ইত্যাদি সমাসকে ইতরেতর দ্বন্দ্ব সমাসরূপে গ্রহণ করিয়া দ্বন্দ্ব সমাস নিরূপণের উপসংহার করিয়াছেন। উপপদ সমাস ন্যায়সিদ্ধান্ত অবলম্বন করিয়া জগদীশ উপপদ সমাসকে তৎপুরুষ সমাসে অন্তর্ভুক্ত করিলেও বাহার উপপদ সমাসকে পৃথক সমাসরূপে গ্রহণ করিয়া সমাস সপ্তৰিধ বলেন তাহাদের মত গ্রহণ করিয়া উপপদ সমাসের লক্ষণ ও বিভাগ প্রদর্শন করিয়াছেন। উপপদ সমাসের সামান্য লক্ষণ হইৰে, ধাতুর সহিত কৃৎ প্রত্যয় যােগে নিয় যে [ ১ ] সমাসের উত্তর পদটি কোন শব্দাৱে উত্তয়বর্তী না হইয়া যাদৃশ অর্থবােধের প্রতি সমর্থ হয় না তাদৃশ অর্থের ৰােখক অন্তিম পদঘটিত সমাস উপপদ সংজ্ঞক সমাস হইৰে। কুম্ভকার এই উপপদ খুলে কথাতু এবং কংপ্রত্যয়ের দ্বারা নিষ্পন্ন ‘কার’ পদ কুন্ত প্রভৃতি পদায়ের উত্তরক্ষণে অবস্থিত না হইলে কর্তৃগােচর অন্বয়বােধের মােগ্য হয় না, অতএব কুকায় এই সমস্ত বাক্যটি উপপদ সমাস হইবে, এই রীতি অনুসরণ করিয়া ক্ষীণায়ী ইত্যাদি উপপদ সমাসেও লক্ষণ সময় করিতে হইবে। জগদীশ আরও বলেন উড়ান শেতে, পূর্বং সরতি এইরূপ অর্থে উত্তাশয়, পূর্বসরঃ প্রভৃতি সমাসে কর্তৃকারক উপপদ, কুম্ভং করােতি, সৌীরং পাতুং শীলমত এইরূপ অর্থে কুম্ভকার, সৌৰীপায়ী প্রভৃতি সমাস কর্মকারক উপপদ, কচ্ছেন পিবতি এইরূপ অর্থে কচ্ছপ, পার্থেন শেতে এইরূপ অর্থে পার্শ্ব প্রভৃতি সমাসে করণকারক উপপদ, উখায়া: সংসতে এইরূপ অর্থে উখাৎ, বহাৎ ভশতে এইরূপ অর্থে বহভ্র প্রভৃতি সমাসে অপাদান কারক উপাদ, খে-শেতে, এইরূপ অর্থে ‘খশয়া’, ‘কুরুষু চরতি এইরূপ অর্থে ‘কুচর' প্রভৃতি সমাসে অধিকরণ কারক উপপদ হইবে, আবার ইহাও দেখা যায় ‘ব্ৰহ্মভূয়’ ইত্যাদি স্থলে কাকভিন্ন ব্ৰহ্মপদ উপপদ রূপে গৃহীত হইয়াছে। যাহারা বলেন কারক-মাকে গ্রহণ করিয়া বড়বিধ উপপদ সমাস তাহাদের মত সমীচীন নহে। কারণ সম্প্রদান কারক কখনও উপপদ রূপে গৃহীত হইয়া উপপদ সমাস হয় না এবং কারক ব্ৰহ্মপদকে উপপদ রূপে গ্রহণ করিয়াও ব্রহ্মপুর ইত্যাদি উপপদ সমাস গৃহীত হয়। সূৰ্য্যম্পশ্যা’ এই সমাসটি উপপদ সমাস নামে অভিহিত হইবে। পরন্তু ‘অসূর্যম্পশ্যা’ এইরূপ নঞ, ঘটিত সমস্ত বাক্যটিই নিজ অর্থবােধের অনুকুলে ব্যুৎপত্তিসিদ্ধ হইয়া থাকে। সুতরাং নঞ, রহিত কেবল ‘সুৰ্যম্পশ্যা’ এই বাক্যের প্রয়ােগ কখনও হইবে না। ইহাই গ্রন্থকার জগদীশ তর্কালঙ্কারের অভিপ্রায়। আমরা মহামনীষী জগদীশ তর্কালঙ্কার প্রণীত ‘শশক্তি প্রকাশিকা' গ্রন্থের এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ প্রস্থান সমাস প্রকরণের মূল ও বিবরণের সংক্ষিপ্ত আলােচনা করিলাম। অতীৰ ব্যুৎপাদক ‘শব্দশক্তি প্রকাশিকা' গ্রন্থের পাঠার্থিগণ মূল গ্রন্থের বিবৃতিসহ বিবরণ গ্রন্থেয় বিশেষভাবে পর্যালােচনা করিলে বৈয়াকরণ দৃষ্টিতে এবং নৈয়ায়িক সম্মত সমাসগত পদার্থতত্ত্ব অবগত হইয়া শাৰিক এবং ন্যায়নীতি বিষয়ক অসাধারণ ব্যুৎপত্তি লাভ করিতে পারিবেন। এই প্রসঙ্গে ইহাও বলা আবশ্যক যে ব্যাকরণ শাস্ত্রে এবং নব্যন্যায়ের মুক্তাবলীসহ ভাষা পরিচ্ছেদ গ্রন্থে যাহারা ব্যুৎপন্ন তাহারাই শব্দশক্তি প্রকাশিকা' গ্রন্থ অধ্যয়নের অধিকারী। শ্রীমধুসূদন ভট্টাচার্য নায়াচাৰ

No text on this page.

शब्दशक्तिप्रकाशिका [ वङ्गानुवाद-विवृतिभ्यां समेता ] तृतीयः खण्डः कलिकाता-सस्कृतमहाविद्यालयगवेषणाविभागीय- भारतीयदर्शनशास्त्राध्यापकेन श्रीमधुसूदनभट्टाचार्य न्यायाचार्येण सम्पादिता

No text on this page.

शब्दशक्तिप्रकाशिका तृतीयः खण्डः समासप्रकरणम् मूलम् यौगिकेषु समासं लक्षयति- यादृशस्य महावाक्यस्यान्तस्त्वादिनिजार्थके यादृशार्थस्य धीहेतुः स समासस्तदर्थकः ॥ ३१ ॥ অনুবাদ যৌগিক নামসমূহের মধ্যে সমাসের লক্ষণ করা হইতেছে যাদৃশ মহাবাক্যের অব্যবহিতােত্তরবর্তী ত্ব প্রভৃতি প্রত্যয় স্বকীয় অর্থে যাদৃশ অর্থপ্রকারক অম্বয়বােধের জনক হয়, সেই মহাবাক্যটি তাদৃশ অর্থে সমাস হইয়া থাকে। বিবৃতি নামপ্রকরণের অন্তিম কারিকায় (৩০) সমাস, তদ্ধিতাক্ত ও কৃদন্ত ভেদে যৌগিক নামের ত্রিবিধ বিভাগ প্রদর্শিত হইয়াছে। বিভক্ত উক্ত ত্রিবিধ যৌগিক নামের মধ্যে সমাস প্রথমে উল্লিখিত হওয়ায় ক্রমপ্রাপ্ত সমাসের লক্ষণাদি নিরূপণ করিবার জন্য ভুমিকা রচনা করিতেছেন-“যৌগিকেষু সমাসং লক্ষতি”। এখানে যৌগিক পদের পরবর্তী সপ্তমী বিভক্তির নির্ধারণরূণ অর্থ প্রতীয়মান হইবে। কোন একটি বিশেষ পদার্থে স্বভিন্ন সামান্যধর্মাবচ্ছিন্ন ব্যাবৃতত্বকে ‘নির্ধারণ' বলা হয়। এখানে বিশেষ পদার্থরূপে সমাস গৃহীত হইবে। “স্বভিন্ন’ এখানেও ‘স্ব’ পদের দ্বারা ১। “বিশেষ স্বেতসামান্যধর্মাবচ্ছিন্ন ব্যাবৃতধর্মবত্ত্বং নির্ধারণম্। রাণাং নরেষু বা ক্ষত্রিয় শূরতম ইত্য, ক্ষত্রিয়াননবত্বাৰচ্ছিন্নভিকভেদ-প্রতিযােগিত্ববচ্ছতমাভিন্ন ক্ষত্রিয় ইত্যাকাৰকৰােধ।" শব্দশক্তি-কারকে জগদীশ।

शब्दशक्तिप्रकाशिका সমাসই গৃহীত হইবে। সামান্য ধর্মাবচ্ছিন্ন’ এখানেও সামান্য ধর্মটি হইবে যৌগিকত্ব, সামান্য ধর্মাবচ্ছিন্ন ব্যাবৃতত্বপদার্থের ঘটক ভেদে আধেয়ত্ব সম্বন্ধে উক্ত সামান্য ধর্মাবচ্ছিন্নের অন্বয় হইবে। নরণাম্ নরেষু ৰা ক্ষত্রিয়ঃ তমঃ' ইত্যাদি স্থলে ব্যবৃত্তত্ব’ শব্দের দ্বারা ভে- প্রতিযােগিত্ব প্রতীয়মান হইবে। সুতরাং ব্যাবৃতত্বের ঘটক ‘ব্যাবৃত্তি’ কদাচিৎ অত্যন্তা- ভাবরূপ প্রতীয়মান হইলেও এখানে অন্যান্যাভাব গৃহীত হইবে। যৌগিকেষু’ এখানে নির্ধারণাৰ্থক সপ্তমী বিভক্তির দ্বারা বিশেষগত স্বভিন্ন সামান্যধর্মাবচ্ছিন্নের ব্যাবৃতত্ব গৃহীত হওয়ার ফলে ‘যৌগিকেযু’ ইত্যাদি বাক্য হইতে সমসভিন্ন যৌগিক (পাচক প্রভৃতি কৃৎপ্রত্যয়ান্ত বা তদ্ধিত প্রত্যয়ান্ত শব্দ) বৃত্তি যে অন্যোন্যাভাব তৎ প্রতিযােগি সমাস লক্ষণ- গােচর কৃতিমান্ ( গ্রন্থকারঃ) এইরূপ অন্বয়বােধ হইবে। যাদৃশস্য’ এখানে যাদৃশ পদের যাদৃশানুপূর্বী বিশিষ্ট রূপ অর্থ প্রতীয়মান হইবে। ষষ্ঠী বিভক্তির অর্থ অভেদ মহাবাক্যে অম্বিত হইবে। মহাবাক্য' এই মহাবাক্য পদের দ্বারা নিজের অন্তর্গত অনেক নামাৰ্থের বােধক নামসমূহ গৃহীত হইবে। মহাবাক্য সম্বন্ধে অন্যান্য কথা বিবরণ গ্রন্থে গ্রন্থকার নিজেই বলিবেন। এখানে প্রকৃতপক্ষে সার্থক সাকাচ্চ পদসমূহই মহাবাক্যরূপ অর্থে প্রযুক্ত হইয়াছে। “ত্বাদি’ এই আদি পদের দ্বারা ভাববিহিত তল প্রভৃতি প্রত্যয় গৃহীত হইবে, নিজাৰ্থকে এখানে স্বার্থে ‘ক’ প্রত্যয় হওয়ায় এবং বিশেষত্বরূপ অর্থে সপ্তমী বিভক্তি প্রযুক্ত হওয়ায় নিজাৰ্থ বিশেষকরূপ অর্থ প্রতীয়মান হইবে। যাদৃশার্থ এখানে ‘যাদৃশার্থ’ পদের দ্বারা পূর্বোক্ত মহাবাক্যের অর্থ গ্রহণ করিতে হইবে। ষষ্ঠী বিভক্তির অর্থ হইবে প্রকারত্ব বা প্ৰকারিত্ব। উক্ত উভয়বিধ অর্থই অন্বয়বােধরূপ অর্থে প্রযুক্ত ধী পদার্থে অন্বিত হইবে। স’ পদের দ্বারা পূর্বোক্ত মহাবাক্য গৃহীত হইবে ‘তদর্থক’ পদের দ্বারা তাদৃশ অর্থবোধের অনুকুল’ এইরূপ অর্থ প্রতিপাদন করা হইয়াছে। উক্ত আলােচনার পরিপ্রেক্ষিতে যাদৃশ মহাবাক্যের অব্যবহিতােত্তরবর্তী তল প্রভৃতি ভাববিহিত তদ্ধিত প্রত্যয় নিজ নিজ অর্থবিশেষ্যক যাদৃশ অর্থনিষ্ঠ প্ৰকাতার নিরূপক অন্বয়বােধের জনক হইবে, সেই মহাবাক্যটি তাদৃশ অর্থবােধের অনুকূল সমাস হইবে। যদিও তল প্রভৃতি তদ্ধিত প্রত্যয়ান্ত মহাবাক্যকেই তাদৃশ মহাবাক্যাৰ্থ প্ৰকাৰক তল প্রত্যয়ার্থ বিশেষ্যক অন্বয়বােধের হেতু বলা হইয়াছে, বাস্তবিকপক্ষে কিন্তু তাদৃশ মহা- বাক্যের অব্যবহিতোত্তরবর্তী তল প্রত্যয়ের জ্ঞানই তাদৃশ অর্থবােধের জনক হইবে। অতএব, কারিকাস্থ হেতু পদটির বিষয়বিধয়া জনকতাৰচ্ছেদকরূপ অর্থ গ্রহণ করিতে হইবে, কারণ, জ্ঞায়মান বাক্য শব্দবােধের জনক নহে। मूलम् यादृशमहावाक्योत्तरस्त्वतलादिः स्वार्थस्य यादृशार्थावच्छिन्नविषयता- शालिबोधे हेतुस्तादृशं तद्वाक्यं तथाविधार्थे समासः । पाचकादिकन्तु समासप्रकरणम् पाकक वर्षकं वाक्पमपि स्वघटकानेकनामलभ्यताशार्थकत्वविरहान महावाक्यम् । प्रकृत्यर्थमात्रावच्छिन्नप्रत्ययार्थस्यान्वयबोधं प्रत्ययोग्यत्वं वा प्रकृते वाक्यस्य महत्वं वाच्यम् , तेन उपकुम्भादौ नाव्यातिर्न वा नील- घटत्वत्वमित्यादौ नीलघटत्वादिमागेऽतिप्रसङ्गः। 'क्षीरपायी'त्यादिकन्तु प्रकृत्यावच्छिन्नकदर्थस्यान्वयबोधे समर्थोऽपि न प्रकृत्यर्थमात्रावच्छिन्नस्य, ततः पानशीलसामान्यस्याप्रत्ययात् । 'राज्ञः पुरुषत्व'मित्यादितो राजन्येव पुरुषभावः प्रतीयते न तु राजपुरुषस्य भावः, तद्धितानां प्रकृत्यर्थमात्रान्वित- स्वार्थबोधकत्वादतो 'राज्ञः पुरुषे त्यादिमागे न प्रसङ्गः। पायं पाय- मित्यादिणमन्तभागन्तु स्वार्थावच्छिन्नस्य धात्वन्तरार्थस्यैवान्वयबोधको न तु त्वादिप्रत्ययार्थस्य । प्रस्थायेत्यादी समासव्यपदेशो ल्यवादिशब्द- বাসমৗলী মীযঃ ॥ ইং । অনুবাদ যাদৃশ মহাবাক্যের অব্যবহিতােত্তরবর্তী ত্ব, তল প্রভৃতি ( প্রত্যয়) স্বকীয় অর্থবিশেষ্যক যাদৃশার্থনিষ্ঠপ্রকারতার নিরূপক বােধের জনক (হয়,) তাদৃশ মহাবাক্যটি তথাবিধ অর্থে সমাস (হইবে ), পাচক প্রভৃতি পদ কিন্তু পাককর্তৃ- রূপ অর্থের বােধক বাক্য হইলেও নিজের অন্তঃপাতী অনেক নামের দ্বারা উপস্থাপিত তথাবিধ অর্থের বােধক না হওয়ায় ঐ সকল বাক্য মহাবাক্য হইবে ( বাক্যগত মহত্ত্বের স্বরূপ কি হইবে তাহা বলিতেছেন)। অথবা প্রকৃত্যর্থ মাত্র প্রকার প্রত্যয়ার্থ বিশেষ্যক অন্বয়বােধের প্রতি অযােগ্যত্ব সমাসলক্ষণের উপযােগী বাক্যগত মহত্ত্ব স্বীকৃত হইবে। (ইহার ফলে) উপকুম্ভ’ প্রভৃতি (সমাসে) উক্ত সমাসলক্ষণের অব্যাপ্তি হইবে না। কিংবা ‘নীলঘটত্ব এই সকল বাক্যের ঘটক নীলঘটাদি ভাগে অতিব্যাপ্তিও হইবে না। ক্ষীরপায়ী এই সকল সমাস কিন্তু প্রকৃত্যৰ্থ বিশেষিত কৃৎ প্রত্যয়ার্থ বিষয়ক অন্বয়বােধের প্রতি যােগ্য হইলেও প্রকৃত্যর্থ মাত্র বিশিষ্টের বােধক নহে কারণ ( উক্ত বাক্য হইতে) ‘পানশীল সামান্যের বােধ উৎপন্ন হয় না। রাজ্ঞ পুরুষত্ব ইত্যাদি ( বাক্য হইতে) রাজপদার্থে পুরুষত্বই প্রতীয়মান হইয়া থাকে, পরন্তু রাজপুরুষের ভাবরূপ ৪ शब्दशक्तिप्रकाशिका তদ্ধিতার্থ প্রতীয়মান হয় না, কারণ ভাববিহিত তদ্ধিত প্রত্যয়সমূহ প্রকৃত্যর্থ মাত্রের দ্বারা অন্বিত যে স্বকীয় অর্থ তাহারই বােধক হইয়া থাকে। অতএব, ‘রাজ্ঞঃ পুরুষঃ ইত্যাদি ভাগে সমাসলক্ষণের অতিব্যাপ্তি হইবে না। পায়ং পায় ইত্যাদি ণমন্ত ভাগ কিন্তু স্বকীয় অর্থবিশিষ্ট অপর ধাত্বর্থেরই অম্বয়- বােধক হইয়াছে, ত, তলাদি প্রত্যয়ার্থের নহে। প্রস্থায়’ প্রভৃতি স্থলে যে সমাসের ব্যপদেশ হইয়া থাকে, তাহা কিন্তু মুখ্য সমাস নহে। পরন্তু ল্যপ, প্রভৃতি শব্দ সংস্কারের অনুকুল গৌণ সমাসমাত্র। ৩১। বিবৃতি ‘যাদৃশমহাবাকোত্তর-তলাদি ইত্যাদি বিবরণ গ্রন্থের মাধ্যমে গ্রন্থকার কারিকো সমাস সামান্য লক্ষণের নিষ্কর্ষ প্রদর্শন করিতেছেন। স্বার্থস্য এখানে ‘স্ব’ পদের দ্বারা , তল প্রভৃতি প্রত্যয় গৃহীত হইবে। ষষ্ঠী বিভক্তির নিষ্ঠত্বরূপ অর্থগ্রহণ করিতে হইবে। নিষ্ঠত্বও আধেয়ত্বশ্বরূপ বুঝিতে হইবে। উক্ত নিষ্ঠত্বরূপ অর্থের অগ্রিম বিষয়তা পদার্থে অন্বয় করিতে হইবে। যাদৃশার্থাবচ্ছিন্নত্ব’ ইহার যাদৃশার্থনিষ্ঠপ্রকারতানিরূপকত্ব রূপ অর্থ গৃহীত হইবে। উক্ত আলােচনার ফলে যাদৃশ আনুপূর্ব বিশিষ্টগত অব্যবহিতােত্তরত্ব- সম্বন্ধাবচ্ছিন্ন প্রকার নিরূপক অথচ ত্ব, তল প্রভৃতি প্রত্যয় বিশেষক নিশ্চয় যাদৃশ বিশিষ্ট অর্থকে বিশেষণরূপে এবং ত্ব, তল প্রভৃতি প্রত্যয়ের অর্থকে বিশেষ্যরূপে গ্রহণ করিয়া অন্বয়বােধের জনক হইবে, মহাবাক্যগত তাদৃশ আনুপূর্বীমত্ত্বই হইবে সমাসের নিকৃষ্ট সামান্যলক্ষণ। লক্ষ্যরূপে আমরা ‘নীলোৎপল ইত্যাদি কর্মধারয় প্রভৃতি সমাসকে গ্রহণ করিতে পারি, কারণ ‘নীলােৎপল’ এই মহাবাক্যটিকে অব্যবহিতােত্তরত্ব সম্বন্ধে বিশেষণ- রূপে এবং ত্ব, তল প্রভৃতি প্রত্যয়কে বিশেষ্যরূপে গ্রহণ করিয়া নীলোৎপলত্ব এই আকারের নিশ্চয়টি আধেয়ত্ব সম্বন্ধে নীভিন্ন উৎপলকারক ত্ব প্রত্যয়ার্থবিশেষক অন্বয়বােধের কারণ হওয়ায় নীলপদোত্তর উৎপলপদত্বরূপ তাদৃশ আনুপূর্বী বিশিষ্ট ‘নীলােৎপলম এই মহাবাক্যটি পূর্বোক্ত অর্থে কর্মধারয় সমাস হইবে। এইভাবে ‘রাজ- পুরুষ' প্রভৃতি তৎপুরুষাদি সমাসেও লক্ষণ সমন্বয় করিতে হইবে। এক্ষণে প্রশ্ন হইতে পারে সমাসসামান্যের লক্ষণে কেবলমাত্র ‘বাক্য, নিৰেশ না করিয়া মহাবাক্য নিবেশ করা হইয়াছে কেন? নীলােৎপল' প্রভৃতি সমাসলে কেবল ‘উৎপল’ পদ বাক্য নহে, সুতরাং বাক্য মাত্র নিবেশ করিলেও সমাসের একদেশ ‘উৎপল পদ প্রভৃতিতে সমাসলক্ষণের অতিব্যাপ্তি সম্ভাবিত নহে। এই প্রশ্নের সমাধানকল্পে গ্রন্থকার বলিতেছেন-‘নীলােৎপল’ প্রভৃতি সমাসস্থলে উক্ত সমাসের ঘটক ‘উৎপল প্রভৃতি পদে সমাসলক্ষণের অতিব্যাপ্তির সম্ভাবনা না থাকিলেও পাচক, পাঠক এভৃতি পদে সমাসলক্ষণের অতিব্যাপ্তি হইবে, কারণ অব্যবহিতকারত্ব সম্বন্ধে পাচক, পাঠক প্রভৃতি পদপ্ৰকাৰক তল প্রত্যয়বিশেষক নিশ্চয় পাককর্তৃরূপ বাক্যাথ একারক অথবা পাঠকপি समासप्रकरणम् বক্যাৰ্থ প্ৰকাৰক তল প্রত্যয়ার্থ বিশেক অন্বয়বােধের জনক হইয়াছে। অতএব উক্ত অতিব্যাপ্তি বারণ করিবার জন্য বাক্য' মাত্র নিবেশ না করিয়া সমাগলক্ষণে ‘মহাবাক্যের নিবেশ করা হইয়াছে। মহাবাক্য' এবং বাক্য এতদুভয়ের বৈলক্ষণ্য এই যে, সাকা, যােগ্য, আসন্ন পদসমূহকে বলা হয় বাক্য’, ‘মহাৰাক্য কিন্তু ঠিক তদ্রুপ নহে, পৰত নিজের অন্তর্গত অনেক নামের দ্বারা উপস্থাপিত পদার্থসমূহের বিশিষ্ট বৈশিষ্ট্যাবগাহী অন্বয়বােধের জনক যে বাক্য, তাহাই হইবে ‘মহাৰাক্য। এই অভিপ্রায়ে গ্রন্থকার বলিতেছেন—পাচক, পাঠক প্রভৃতি বাক্যস্থলে পাককর্তৃৰূপ অর্থে বা পাঠকর্তৃরূপ অর্থে বাক্য হইলেও নিজের অন্তর্গত বিভিন্ন নামের দ্বারা উপস্থাপিত অর্থসমুহের বিশিষ্ট বৈশিষ্ট্যাবগাহী-অম্বয়বােধের জনক না হওয়ায় ঐ সকল বাক্য ‘মহাবাক্য নহে। উক্ত আলােচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলিতে পারি যে, যাদৃশ আনুপূৰী বিশিষ্ট শব্দসমূহ নিজের অন্তর্গত একাধিক নামের দ্বারা উপস্থাপিত বিশেষ্যবিশেষণভাবাপন্ন পদার্থসমূহ- গােচর অন্বয়বােধের বিষয়রূপে জনকতাবচ্ছেদক হইবে, তাদৃশ আনুপূৰী বিশিষ্ট শব্দসমূহ তথাবিধ অর্থে ‘মহাবাক্য হইবে। নীলােৎপল ইত্যাদি সমাসস্থলে নীলপদোত্তর উৎপলপদত্বরূপ আনুপূর্বী বিশিষ্ট নীলােৎপলম্' এই বাক্যটি নিজের অন্তর্গত ‘নীল’ পদের দ্বারা এবং ‘উৎপল’ পদের দ্বারা উপস্থাপিত নীল’ এবং ‘উৎপল’ পদার্থদ্বয় অভেদসম্বন্ধে নীলপদার্থ বিশেষিত উৎপল পদার্থ বিশেষক অন্বয়বোধের জনক হওয়ায় ‘নীলােৎপল এই বাক্যজ্ঞানগত জনকাংশে বিষয়রূপে অবচ্ছেদক হইয়াছে। অতএব নীলাভিন্ন উৎপলপদার্থ বিষয়ক অন্বয়বোধের অনুকুল নীলােৎপল’ এই বাক্যটি “মহাৰাক্য লক্ষণের লক্ষ্য হওয়ায় ‘মহাবাক্য রূপে অবশ্যই স্বীকৃত হইবে। এখানে আশঙ্কা হইতে পারে, উক্ত রীতিতে মহাবাক্যের লক্ষণ স্বীকৃত হইলে ‘অঘটঃ পটঃ এইরূপ তৎপুরুষ সমাসস্থলে এবং ‘উপকুম্ভ ইত্যাদি অব্যয়ীভাব সমাসস্থলে নঞ, নিপাত এবং উপ-উপসর্গ নাম না হওয়ায় ঐসকল সমাসনিম্পন্ন বাক্য নিজের অন্তর্গত একাধিক নামের দ্বারা উপস্থাপিত অর্থের বােধক নহে, সুতরাং তাদৃশ মহাবাক্য ঘটিত সমাসের লক্ষণ সমন্বয় না হওয়ায় উক্ত সমাস- দয়ে অব্যাপ্তি হইবে। এইজন্য গ্রন্থকার উক্ত মহাবাক্যের লক্ষণ পরিহার করিয়া ‘প্রকৃত্যমাত্রাবচ্ছিন্ন ইত্যাদি সম্পর্ডের মাধ্যমে স্বতন্ত্রভাবে বাক্যগত মহত্বের স্বরূপ বলিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, যাদৃশ আনুপূর্বীরূপ ধর্ম বিশিষ্ট বাক্যটি প্রত্যয়ের অর্থকে বিশেষ্যরূপে এবং স্বকীয় প্রত্যর্থকে বিশেষণরূপে গ্রহণ করিয়া অষয়বােধের যােগ্য হয় না। তাদৃশ আনুপূর্বীমত্বই বাক্যগত মহত্ত্ব। নীলোৎপলদি সমাসস্থলে তাদৃশ বাক্যটি প্রকৃত্য- মাত্র প্রকার প্রত্যয়ার্থ বিশেষক অন্বয়বােধের অযােগ্য হওয়ায় উক্ত বাক্যে মহত্ত্ব অবশ্যই থাকিবে। এখন প্রশ্ন হইতে পারে, কেবল ঘটাদি পদও প্রকৃতির অর্থ বিশিষ্ট প্রত্যয়ার্থের বােধক না হওয়ায় উক্ত ঘটাদিপদ মহাৰাক্য হইবে না কেন? এই আশঙ্কায় উত্তরে বক্তব্য—উক্ত রীতি অনুসারে ঘটাদিপদে মহত্ত্ব থাকিলেও সাকা পদসমূহত্ব রূপ বাক্যত্ব না থাকায় উক্ত ঘটাদিপদ মহাৰাক্য হইতে পারিবে না। একাকার सन्दशक्तिप्रकाशिका অনেক নাম ঘটিত মহাবাক্যের লক্ষণ পরিত্যাগ করিয়া কেন প্রকারান্তরে মহত্ত্বের স্বরূপ বিবৃত করিয়াছেন, তাহার প্রয়ােজন ‘তেন ইত্যাদি সর্ডের মাধ্যমে নিজেই বলিতেছেন। ‘উপকুম্ভ স্থলে অনেক নাম ঘটিত সমাসলক্ষণের অব্যাপ্তি প্রদর্শন করিয়া ‘নীলঘটত্বত্ব’ এই বাক্যের অন্তর্গত নীলঘটত্বভাগও অনেক নামলভ্য অর্থের বােধকত্বরূপ মহাবাক্যের লক্ষণাক্রান্ত হওয়ায় পূর্বকল্পানুসারে উক্ত বাক্যে একদেশে নীলঘটত্বভাগে যে অতিব্যাপ্তির সম্ভাবনা ছিল, তাহাও দ্বিতীয় কল্পানুসারে তিরােহিত হইল। ইহার উপরেও আশঙ্কা হইতে পারে, গ্রন্থকার যে প্রকৃত্যৰ্থমাত্র বিশিষ্ট প্রত্যয়ার্থ- গােচর অন্বয়বােধের অযােগ্যত্বকেই মহত্ত্ব বলিয়াছেন, এখানে ‘মা’ পদটি নিবেশ না করিলে ক্ষতি কি? ইহার উত্তরে গ্রন্থকার নিজেই ক্ষীরপায়ী' ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে ‘মা’ পদটির সার্থকতা প্রদর্শন করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, যদি প্রকৃত্যৰ্থমাত্রাবচ্ছিন্ন এখানে ‘মা’ পদটি প্রযুক্ত না হয়, তাহা হইলে ‘ক্ষীরপায়ী এই উপপদ সমাসে তাদৃশ মহত্ত্বঘটিত সমাস লক্ষণের অব্যাপ্তি হইবে, কারণ কীর উপপদ বিশিষ্ট ‘প’ ধাতুরূপ যে প্রকৃতি, তাহার পরে তাচ্ছিল্যার্থে ণিনি প্রত্যয় হওয়ায় ক্ষীরপানশীল কর্তৃত্বের অন্বয়বােধ হওয়ায় প্রকৃত্যৰ্থ যে পান তদ্বিশিষ্ট কৃৎ প্রত্যয়ার্থ যে তাচ্ছিল্য তদ্বিশিষ্ট কর্তৃবােধক হইয়াছে। সুতরাং উক্ত উপপদসমাসে প্রকৃত্যর্থবিশিষ্ট প্রত্যয়ার্থগােচর অম্বয়বােধের স্বরূপ যোগ্যই হইয়াছে। অতএব তাদৃশ অম্বয়বোধের অযােগ্যত্বরূপ মহত্ত্ব না থাকায় উক্ত মহত্ত্বগর্ভ সমাস লক্ষণের ক্ষীরপায়ী প্রভৃতি সমাসে অব্যাপ্তিবারণ করিবার জন্য ‘প্রকৃত্যৰ্থমাত্রাবচ্ছিন্ন’ এখানে মাত্র পদটি প্রযুক্ত হইয়াছে। ফলে উক্ত উপপদ সমাসে অব্যাপ্তি হইবে না, কারণ উক্ত উপপদ সমাস পা’ ধাতুরূপ প্রকৃত্যৰ্থমাত্রের দ্বারা অবচ্ছিন্ন প্রত্যয়ার্থের বােধ হয় না, পরন্তু ক্ষীররূপ যে উপপদ তদর্থবিশিষ্ট যে পা খাত্বৰ্থ তদবচ্ছিন্ন কৃৎপ্রত্যয়ার্থ তাচ্ছিল্যরূপ স্বভাবের অন্বয় হইয়াছে। এই অভিপ্রায়েই জগদীশ বলিয়াছেন ক্ষীরপায়ী' ইত্যাদি উপপদ সমাস প্রকৃত্যর্থবিশিষ্ট প্রত্যয়ার্থের বােধক হইলেও প্রকৃত্যৰ্থমাত্ৰবিশিষ্ট প্রকৃত্যর্থের বােধক নহে। কেন নহে? এই প্রশ্নের উত্তরে জগদীশ বলিতেছেন, উক্ত সমাসরূপ বাক্য হইতে পানশীল সামান্যের বােধ উৎপন্ন হয় না, এইভাবে বাক্যগত মহত্ত্বের অন্তর্গত ‘মা’ পদটির সার্থকতা প্রদর্শন করিবার পর ‘রাজ্ঞ পুরুষঃ এই ব্যাসবাক্যে উক্ত সমাসলক্ষণের অতিব্যাপ্তি বারণ করিবার জন্য “রাজ্ঞ পুরুষত্ব সন্দর্ভের অবতারণা করিয়াছেন। তাৎপর্য এই যে, “রাজ্ঞঃ পুরুষত্ব” এইরূপ তল প্রত্যয়ান্ত “রাজ্ঞঃ পুরুষত্ব” এই বাক্যটি তল প্রত্যয়ার্থবিশেষক “রাজ্ঞ পুরুষঃ এই বাক্যাৰ্থ প্ৰকাৰক অন্বয়বােধের যােগ্য হইয়াছে। এবং পূর্বে মহত্বের যে স্বরূপ বলা হইয়াছে, উক্ত মহত্ত্বও ‘রাজ্ঞ পুরুষ এই বিগ্রহবাক্যে অবস্থিত থাকায় উক্ত বিগ্রহবাকো সমাগলক্ষণের অতিব্যাপ্তি হইবে। এই আশঙ্কার উত্তরে জগদীশ বলিতেছেন, “রাজ্ঞ পুরুষত্ব” ইত্যাদিস্থলে রাজ পদার্থে পুরুষত্বের অম্বয়বােধ হইয়া থাকে। কিন্তু ‘ পুরুষত্ব এই বিগ্রহবাক্য হইতে রাজসম্বন্ধী পুরুষের প্রত্যয়ার্থের সহিত অন্বয়বােধ समासप्रकरणम् উৎপন্ন হয় না। কেন উক্ত বাক্য হইতে রাজপুরুষত্বের অন্বয়বোধ হয় না, তাহার যুক্তি- প্রদর্শন করিবার জন্য বলিতেছেন, তদ্ধিতপ্ৰতায়সমূহ প্ৰকৃত্যর্থ মন্ত্রে দ্বারা অম্বিত যে স্বকীয় অর্থ তদ্বিষয়ক অয়বােধের জনক হইয়া থাকে। ইহাই ব্যুৎপত্তি। উপসংহারে বলিতেছেন, অতএব ‘রাজ্ঞঃ পুরুষত্ব এইস্থলে ‘রাজ্ঞ পুরুষঃ এইভাগে সমাসলক্ষণের অতিব্যাপ্তি হইবে না। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে, যাদৃশ মহাবাক্যের পরবর্তী শব্দ (অথবা যাদৃশ মহাবাকোত্তর যে শব্দটি), যাদৃশার্থাবচ্ছিন্নবিষয়তাশালী অম্বয়বোধের জনক হইবে, তাদৃশার্থবোধক তদবাক্যই তাদৃশ অর্থে সমাস হইবে, এইরূপ লণুসমাসের লক্ষণ না করিয়া সমাসলক্ষণের অন্তর্গত বিশেষভাবে ত্ব, তলাদি তদ্ধিত প্রত্যয় নিবেশ করিবার প্রয়ােজন কি? এই আশঙ্কার সমাধানকল্পে গ্রন্থকার ‘পায় পায় ইত্যাদি সম্পর্ডের অবতারণা করিতেছেন। স্বার্থাবচ্ছিন্নস্য' এখানে স্বার্থ’ শব্দের দ্বারা পৌনঃপুনরূপ ণ প্রত্যয়ের অর্থ প্রতীয়মান হইবে। ত্বম্ভরার্থ’ এই অংশের দ্বারা পানকৃতিরূপ পা ধাতুর অর্থ গৃহীত হইবে। ইহার ফলে পায়ং পায়ং ব্রজতি ইত্যাদি বাক্য হইতে পুনঃ পুনঃ পানকৃতি সমানকালীন, গত্যাশয়ের অন্বয়বােধ হইয়া থাকে। কেননা, ‘ণচাভীক্ষ্যে দ্বিশ্চ পদ এই সূত্র অনুসারে পৌনঃপুন্যরূপ আভী অর্থে ‘ণ’ (ণমূল) বিহিত হইয়াছে। যদি স্বরূপতঃ ত্ব, তলাদি তদ্ধিত প্রত্যয় সমাসলক্ষণে প্রবিষ্ট না হয়, তাহা হইলে ‘পায়ং পায়, ব্রজতি ইত্যাদি স্থলে মন্তভাগে সমাসলক্ষণের অতিব্যাপ্তি হইবে। স্বার্থাবচ্ছিন্ন ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে ত্ব, তলাদি নিবেশ পক্ষে উক্ত অতিব্যাপ্তি পরিহার করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, পায়ং পায়ং ব্রজতি ইত্যাদি স্থলে পৌনঃপুনরূপ ‘প’ প্রত্যয়ের অর্থবিশিষ্ট ধাত্বন্তরের অর্থ যে পান কৃতি বিষয়ক বােধের জনক হইলেও , তলস্বরূপ তদ্ধিতার্থবিশেষক তাদৃশ মহাবাক্যাৰ্থ প্ৰকাৰক অন্বয়বোধের জনক না হওয়ায় উক্ত শমন্তভাগে সমাসলক্ষণের অতিব্যাপ্তি সম্ভাবিত নহে। ইহার উপরেও প্রশ্ন হইতে পারে, ‘প্রস্থায় ইত্যাদি স্থলে সমাসের পরে বিহিত ল্যপ, প্রত্যয় হইতে পারে না, কারণ প্রস্থ ধাতু পূর্বোক্ত সমাসলক্ষণাক্রান্ত নহে। এই প্রশ্নের উত্তরে জগদীশ বলেন, প্রস্থায়’ ইত্যাদি স্থলে যে প্রস্থধাতুর সমাসত্ব ব্যপদিষ্ট হয়, তাহা মুখ্য সমাস নহে, কেবলমাত্র প্রস্থায় ইত্যাদি স্থলে ল্যবাদি পদসংস্কারের অনুকুল গৌণ অর্থাৎ ভক্ত সমাসমাত্র, প্রকৃত লক্ষণ- ক্রান্ত সমাস নহে। मूलम् स चायं पड्विधः कर्मधारयादिप्रमेदतः। यश्चोपपदसंज्ञोज्न्यस्तेनासौ सप्तधा मतः ॥ ३२ ॥ स चायं निरुतः समासः, कर्मधारय-द्विगु-तत्पुरुषाव्ययीमाव- ৭০ शब्दशक्तिप्रकाशिका बहुव्रीहि-द्वन्द्वभेदात् पड्विधः, यश्च, कुम्मकारादिरप्युपपदसंज्ञक समासोऽस्ति, तेन समं समासः सप्तविधः । सङ्काश-निम-नीकाशादीनामिव कारादीनामपि शब्दानामुपपदार्थान्वितस्यैव स्वार्थस्य बोधकतया तथाविध- नामान्तत्वमेव चैतस्य समासान्तराद्विशेषः ॥ ३२ ॥ অনুবাদ পূর্বোক্ত লক্ষণের দ্বারা লক্ষিত সমাসের বিভাগ করিতেছেন-সমাস কর্ম- ধারয়াদিভেদে ষডুবিধ। উপপদসংজ্ঞক যে অপর একটি সমাস স্বীকৃত হয়, তাহাকে গ্রহণ করিয়া এই সমাস সপ্তবিধ হইয়া থাকে। (পূর্বকারিকায় যে সমাসের লক্ষণ উক্ত হইয়াছে) এই সমাস(১) কর্মধারয়, (২) দ্বিগু, (৩) তৎপুরুষ, (৪) অব্যয়ীভাব, (৫) বহুব্রীহি এবং (৬) দ্বন্দ্ব ভেদে ছয় প্রকার। কুম্ভকার প্রভৃতি উপপদ সংজ্ঞক যে সমাস রহিয়াছে, তাহার সহিত ( এই ) সমাস সপ্তবিধ হইবে। সংকাশ, নিভ, নীকাশ প্রভৃতির ন্যায় ‘কার’ প্রভৃতি শব্দসমূহেরও উপপদের অর্থের দ্বারা বিশেষিত স্বকীয় অর্থের বােধক হওয়ায় তাদৃশ নামান্তরূপেই ইহার ( উপপদ সমাসের) সমান্তর অপেক্ষা বিশেষত্ব। ৩২। বিবৃতি পূর্বকারিকায় (সমাসের সামান্যলক্ষণ নিরূপণ করিবার পরে) উক্ত লক্ষণের দ্বারা লক্ষিত সমাসের বিভাগ প্রদর্শন করিবার জন্য ‘স চায় ইত্যাদি কারিকার অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, পূর্বোক্ত প্রকারে সামান্যলক্ষণের দ্বারা লক্ষিত এই সমাস কর্মধারয়ত্ব, দ্বিগুত্ব, তৎপুরুষত্ব প্রভৃতি সমাসবিভাজকধর্মের ভেদনিবন্ধন ষড়বিধ হইবে। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে, শাব্দিক সম্প্রদায়ের মতসিদ্ধ উপপদ সমাস নামক অপর একটি সমাস স্বীকৃত থাকায়, সমাসের ষড়বিধ বিভাগ ব্যাহত হইবে না কেন? এই আশঙ্কার সমাধান কল্পে উক্ত কারিকার দ্বিতীয় পদের অবতারণা করা হইয়াছে। অর্থাৎ উপপদ সমাস নামক সমান্তরের স্বীকৃতিপক্ষে সমাস সপ্তবিধ হইবে। পূর্বে যে যৌগিক নামের বিভাগ করা হইয়াছে, বিভক্ত উক্ত যৌগিক নামের অন্তর্গত সমাপ স্বরূপ নামটি সমাস লক্ষণের দ্বারা লক্ষিত, ইহা প্রতিপাদন করিবার জন্য বিবরণগ্রন্থে ‘গ চায় এই অংশটি বিভাগ কারিকার প্রতীকরূপে গৃহীত হইয়াছে। নিরুক্ত’ পদটির দ্বারা স’ এই পদটি বিবৃত হইয়াছে, ‘নিরুক্ত' পদটিও যৌগিক নামের বিভাজকতাবচ্ছেদক ধর্মবিশিষ্ট রূণ অর্থের বােক। সমাস' এই পদটির দ্বারা অল্প’ পদটির অর্থ প্রতিপাদিত হইয়াছে।

समासप्रकरणम् ৭৭ ইতরেতর, সমাহার প্রভৃতি সমাসের বহুবিধ অবান্তরভেদ থাকিলেও মুখ্যতঃ সমাসের ষড়ৰিধত্ব ব্যবস্থিত করার জন্য কর্মধারয়’, ‘দ্বিগু’ ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিয়াছেন, অর্থাৎ কর্মধারয়, দ্বিগু, তৎপুরুষ, অব্যয়ীভাব, বহুব্রীহি এবং দ্বন্দ্ব এই ছয়টি সমাস সমাসত্বের সাক্ষাৎ ব্যাপ্য যে কর্মধারয়ত্ব, বিশুত্ব, তৎপুরুষত্ব, অব্যয়ীভাবত্ব, বহুব্রীহি ও দ্বন্দ্বত্ব রূপ ছয়টি ধর্ম, তাহার এক একটি ধর্মের দ্বারা বিশিষ্ট হইবে। সুতরাং ছয়টি বিভাজক ধর্ম হওয়ার ফলে উক্ত বিভাজক ধর্মসমূহের দ্বারা বিভক্ত সমাসও বড়, বিধ হইবে। ইহাই গ্রন্থকারের অভিপ্রেত। অতএব, ইতরেতর, সমাহার ভেদে দ্বন্দ্ব প্রভৃতি সমাস বিভিন্ন হইলেও বিভক্ত দ্বন্দ্ব প্রভৃতি সমাসের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দ্বন্দ্ব প্রভৃতি সমাসের অন্তর্গত হইবে। সুতরাং কারিকো বিভাগ ব্যাহত হইবে না। ‘যশ্চ’ ইত্যাদি সম্পর্ডের মাধ্যমে বিভাগ কারিকার দ্বিতীয় ধাদের ব্যাখ্যা করিতেছেন। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে যে, কুম্ভকার, নথকার প্রভৃতি উপপদ সমাস উক্ত ষড়বিধ সমাস হইতে অতিরিক্ত স্বীকৃত হওয়ায় সমাসের সংখ্যা ব্যাহত হইবে না কেন? এই আশঙ্কার সমাধান কল্পে গ্রন্থকার বলিতেছেন—প্রথমত: সমাসের সংখ্যা বলা হইলেও বাস্তবিক পক্ষে উক্ত উপপদ সমাসকে গ্রহণ করিয় সমাস সপ্তবিধই হইবে। এখন আশঙ্কা, হইতে পারে যে, উক্ত উপপদ সমাস তৎপুরুষ সমাসে অন্তর্ভুক্ত হইবে না কেন? উক্ত আশঙ্কার পরিহারকল্পে তৎপুরুষ সমাস অপেক্ষা উপপদ সমাসের বৈলক্ষণ্য উপপাদন করিবার জন্য বলিতেছেন, সংকাশ, নিত, নীকাশ প্রভৃতি শব্দ জবাকুসুম প্রভৃতি উপপদের সহিত সমাসবদ্ধ হইলে যেরূপ জবাকুম প্রভৃতি উপপদের অর্থের সহিত অন্বিত হইয়াই নিজ নিজ অর্থের বােধ হয়, তদ্রুপ কুম্ভ, রথ প্রভৃতি উপপদ ঘটিত সমাসস্থলেও উক্ত কুম্ভ, রথ প্রভৃতি উপপদার্থের সহিত অন্বিত হইয়াই ঘন্ত ক- খাত্বর্থের অম্বয়বােধ হইয়া থাকে। পরন্তু উপপদকে পরিত্যাগ করিয়া কার প্রভৃতি শব্দ অন্বয়বােধের জনক হয় না। রাজপুরুষ ইত্যাদি তৎপুরুষ সমাসস্থলে কিন্তু রাজপদকে পরিত্যাগ করিয়াও পুরুষ-পদ পদান্তরের সহিত সাকা হইলে অন্বয়বােধের যােগ্য হয়। সমান্তর অপেক্ষা উপপদ সমাসের এই বিশেষত্ব থাকার ফলে উপপদ সমাস সমান্তর অপেক্ষায় অতিরিক্তরূপে গণ্য হইয়া থাকে । मूलम् ननु यदि षड्विधः सप्तविधो वा समासस्तदाऽस्य पश्चविधत्वोक्तिः प्राचामसङ्गनेत्यतस्तामुपपादयति- पूर्वमध्यान्त्यसर्वान्यपदप्राधान्यतः पुनः । সাঃ বিঃ সীক্ষঃ, স্বামী আমাৱিমিঃ ॥ ২২ ।

१२ যকিসফাহিকা অনুবাদ (প্রশ্ন হইতে পারে) সমাস যদি ষড়বিধ বা সপ্তবিধ (স্বীকৃত হয়, তাহা হইলে) প্রাচীন-( শাব্দিক) গণ যে সমাস পঞ্চবিধ বলেন, তাহা অসঙ্গত হয়। এইজন্য প্রাচীন মতবাদ উপপাদন করিতেছেন। বাভট প্রভৃতি প্রাচীনগণ পূর্বপদ প্রধান, মধ্যপদ প্রধান, অন্তিমপদ প্রধান এবং সকলপদ প্রধান ও অন্যপদ প্রধান এইরূপে সমাসের পাঁচটি ভেদ বলিয়াছেন। বিবৃতি পূর্ব কারিকার আলোচনা হইতে ইহাই প্রতিপন্ন হয় যে, সমাস মতবিশেষে বড়,বিধ, আবার কোন মতে সপ্তবিধ ! যদি সমাসের ছয়টি ভেদ বা সাতটি ভেদ স্বীকৃত হয়, তাহা হইলে বাভট প্রভৃতি প্রাচীন বৈয়াকরণ সম্প্রদায় পঞ্চবিধ সমাস বলিয়াছেন, তাহা অসঙ্গত হইয়া পড়ে। এইজন্য গ্রন্থকার উক্ত প্রাচীন মতবাদের সহিত সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য পূর্বমধ্যান্ত ইত্যাদি কারিকার অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, বাভট প্রভৃতি বৈয়াকরণ সম্প্রদায় যে পঞ্চবিধ সমাস বলেন, ইহার সহিত সমাস ষড়বিধ বা সপ্তবিধ, তাহার কোন বিরােধ থাকিতে পারে না, কারণ তৎপুরুষ প্রভৃতি সমসমাত্রেরই যথাসম্ভব পাচটি অবান্তরভেদ প্রাচীনগণ কর্তৃক স্বীকৃত হইয়াছে। দৃষ্টান্তস্বরূপ আমরা বলিতে পারি, ‘উপকুম্ভ’ প্রভৃতি অব্যয়ীভাব সমাস হইলেও উক্ত সমাস পূর্বপদ প্রধান হইয়াছে। ‘ঘটাধিকরণ এই সকল সমাস তৎপুরুষ হইলেও মধ্যপদ প্রধান হইয়াছে। নীলােৎপল’ প্রভৃতি কর্মধারয় সমাস হইলেও অন্ত্যপদ প্রধান হইয়া থাকে। এইভাবে বহুব্রীহি সমাস এবং দ্বন্দ্ব মাস অন্যপদ প্রধান এবং সকলপদ প্রধান হইয়া থাকে। সুতরাং বাভটাদির মতের সহিত সিদ্ধান্তিগণের ষড়বিধ বা সপ্তবিধ উক্তির কোন বিরােধ থাকিতে পারে না। मूलम् कश्चित् समासः पूर्वपदार्थ धर्मिकान्वयबोधजनकतया पूर्वपदप्रधान उच्यते, यथा प्राप्तजायार्ध-पिप्पली-पूर्वकायादिकस्तत्पुरुषः, यथा वा उपकुम्भाधव्ययीभावः, पुरुषसिंहादिकर्मधारयश्च । करिचन्मध्यपदार्थ- धर्मिकधीजनकतयव मध्यपदप्रधानो, यथा पटानधिकरणप्रतियोगितानव- च्छेदकेत्यादिकस्तत्पुरुषः, पटस्य न अधिकरणमित्यादिविग्रह मध्यपदार्थ- समासप्रकरणम् स्यैव विशेष्यत्वात्, 'बहुपदे बहुव्रीहिरेवे'त्यस्य तत्पुरुषादेहुनाम- गर्भत्वाभावे तात्पर्य मित्यो व्युत्पाद्यत्वात् । অনুবাদ কোন সমাস পূর্বপদার্থ বিশেষ্যক অম্বয়বােধের জনক হওয়ায় উক্ত সমাসকে পূর্বপদ প্রধান বলা হয়—যেমন প্রাপ্তজায়ঃ, অর্থপিপ্পলী এবং পূর্বকায় প্রভৃতি তৎপুরুষ সমাস, উপকুম্ভ প্রভৃতি অব্যয়ীভাব সমাস এবং পুরুষসিংহ প্রভৃতি কর্ম- ধারয়। কোনও সময় মধ্যবর্তী পদার্থকে মুখ্যবিশেষ্যরূপে গ্রহণ করিয়া অম্বয়বােধের জনক হওয়ায় উক্ত সমাসকে মধ্যপদ প্রধান বলে। যথা পটাধিকরণ- প্রতিযােগিতানবচ্ছেদক ইত্যাদি তৎপুরুষ সমাস। যেহেতু ‘পটস্য ন অধিকরণ ইত্যাদি বিগ্রহানুসারে মধ্যবর্তী ন, পদার্থ ( অভাবে ) বিশেষ্যত্ব রহিয়াছে। বহুপদঘটিত সমাস বহুব্রীহিই হইবে (বহুপদে বহুব্রীহিরে ) এই অনুশাসনের তৎপুরুষ সমাস বহুনামগর্ভ হইবে না ইহাই তাৎপর্য। এই বিষয় অগ্রিম গ্রন্থে আলােচিত হইবে। বিবৃতি কারিকায় বর্ণিত পূর্ব-মধ্য-অন্ত্য-সর্ব এবং অন্য পদ প্রাধান্য প্রযুক্ত ‘বাভ’ প্রভৃতি শাদিকগণ যে পঞ্চবিধ সমাস বলিয়াছেন, তদন্তৰ্গত পূর্বপদ প্রধান সমাস উদাহৰণ প্রদর্শন মুখে প্রতিপাদন করিবার জন্য কশ্চিৎ সমাসঃ' ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। গ্রন্থকার যে পূর্ব পদার্থ বিশেষ্যক অন্বয়বােধের জনকত্বনিবন্ধন সমাসগত পূর্বপদ প্রাধান্য বলিয়াছেন এই পূর্বপদ প্রাধান্য, সমাসের অন্তর্গত যে পদটি পূর্বে উল্লিখিত হইয়াছে তৎ পদঘটিত উক্ত সমাসের অন্তর্গত অপর পদার্থাংশে তৎ পদার্থটি যদি মুখ্যবিশেষ্যরূপে শাবােধে ভাসমান হয় তাহা হইলে উক্ত বােধজনকই সমাসগত পূর্বপদ প্রাধান্য বুঝিতে হইবে। পূর্বপদ প্রধান তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ প্রদর্শন করিবার জন্য যথা প্রাপ্তজায় ইত্যাদি সন্দর্ভ উপস্থাপিত করিতেছেন। জায়াকে প্রাপ্ত (জায়াং প্রাপ্ত) এইরূপ অর্থে প্রাপ্তজায়, পিপ্পলীর অর্থভাগ (পিপ্পল্যা অর্ধ) এইরূপ অর্থে অর্ধপিঞ্জলী এবং শরীরের পূর্বাংশ (কায় পূর্ব) এই অর্থে পূর্বকায় এই সকল তৎপুরুষ সমাস যেরূপ পূর্বপদ প্রধান হইবে তদ্রুপ কুম্ভের সমীপ (কুন্ত সমীপ) এই অর্থে উপকুম্ভ প্রভৃতি অব্যয়ীভাব এবং পুরুষ সিংহ সদৃশ (পুরুষঃ সিংহ ইব) এইরূপ অর্থে পুরুষসিংহদি কর্মধারয় সমাস পূর্বপদ প্রধান হইয়া থাকে। কোনও সমাস তদন্তৰ্গত মধ্যবর্তী পদের অর্থকে মুখ্যবিশেষরূপে शब्दशक्तिप्रकाशिका গ্রহণ করিয়া অৱবােধের জনক হওয়ায় মধ্যপদ প্রধান হইয়া থাকে। ইহার উদাহরণ- স্বরূপে গ্রন্থকার পটাধিকরণ প্রতিযােগিতানবচ্ছেদক প্রভৃতি তৎপুরুষ সমাসকে উল্লেখ করিয়াছেন। যদি পটাধিকরণ প্রভৃতি তৎপুরুষ সমাস দৃষ্টান্তরূপে গৃহীত হয়, তাহা হইলে উক্ত মধ্যপদ প্রধান সমাসস্থলে বিগ্রহবাক্যটি কিরূপ হইবে? এই জিজ্ঞাসার উত্তরে গ্রন্থকার নিজেই সমাসের অন্তর্গত মধ্য পদটি মুখ্য বিশেষ্যরূপে গৃহীত হইবার অনুকুল ‘পট ন অধিকরণ' ইত্যাদি বিগ্রহবাক্য প্রদর্শন করিয়াছেন। আদি পদের দ্বারা প্রতিযােগিতানবচ্ছেদকম্ এই তৎপুরুষ সমাসস্থলেও প্রতিযােগিতায়াঃ ন অবচ্ছেদক এইরূপ বিগ্রহবাক্যের সূচনা করিয়াছেন। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে বহুপদঘটিত সমাস স্থলে বহুপদে বহুব্রীহিরে নেতরে দ্বান্তঃ এই অনুশাসন অনুসারে বহুব্রীহি সমাস এবং সমাসমাত্র হইবে। সুতরাং বহুপদঘটিত তৎপুরুষ সমাস কি করিয়া সম্ভবপর হইবে? এই আশঙ্কার উত্তরে বহুপদে বহুব্রীহিরেব' ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে বহুপদে বহু- ব্রীহিরে নেতরাে দ্বন্দ্বান্তঃ' এই অনুশাসনের অন্তর্গত বহুপদে’ এখানে শব্দটি নামমাত্রের বােধক, পদমাত্রের নহে। ইহার ফলে মধ্যপদ প্রধান তৎপুরুষ সমাস বহুপদঘটিত হইলেও বহুনাম ঘটিত হয় নাই কারণ প্রতিযােগিতানৰচ্ছেদক’ ইত্যাদি তৎপুরুষস্থলে নঞ, নিপাত হইলেও নাম নহে। অতএব উক্ত তৎপুরুষ সমাস স্বীকৃতিপক্ষেও বহুপদে বহুব্রীহিরেব’ ইত্যাদি অনুশাসনের বিরােধ হইবে না। मूलम् कश्चिदन्त्यपदार्थधर्मिकधीहेतुत्वादन्त्यपदप्रधाना, यथा राजपुरुषा- दिकस्तत्पुरुषो नीलोत्पलादिकः कर्मधारयो द्विगााद्यव्ययीभावश्च । कश्चित् सर्वपदार्थधर्मिकबुद्धिहेतुत्वात् सर्वपदप्रधानः, यथेतरे द्वन्द्वो द्वन्द्व- मात्रं वा। कश्चित् स्वघटकान्यपदार्थधर्मिकज्ञानजनकत्वादन्यपदार्थ- प्रधानः यथा बहुव्रीहिः खले यवाद्यव्ययोभावश्च । तदेवं पञ्च भेदानादायव पञ्चविधत्वं प्राच्यरक्कमतो न विरोधः । অনুবাদ কোনও সমাস অন্তিম পদার্থ বিশেষ্যক অম্বয়বুদ্ধির কারণ হওয়ায় অন্ত্যপদ প্রধান হইয়া থাকে। রাজপুরুষ প্রভৃতি তৎপুরুষ, নীলােৎপল প্রভৃতি কর্মধারয় समासप्रकरणम् ৭% দ্বিগাৰ্গ প্রভৃতি অব্যয়ীভাব দৃষ্টান্তরূপে গৃহীত হইবে। কোনও সমাসে, সমাসের অন্তর্গত প্রত্যেকটি পদের অর্থ অন্বয়বােধে বিশেষ্যরূপে ভাসমান হইলে তাদৃশ অন্বয়বােধের জনক সমাস সর্বপদপ্রধান হইবে আবার কোনও সমাস নিজের অন্তর্গত পদ হইতে অন্য পদের অর্থ মুখ্যবিশেষ্যক অন্বয়বােধের জনক হইলে উক্ত সমাস অন্যপদ প্রধানরূপে গণ্য হইবে। দৃষ্টান্তস্বরূপে ‘আরূঢ়ো বানরাে বৃক্ষ প্রভৃতি বহুব্রীহি এবং ‘খলে যব প্রভৃতি অব্যয়ীভাব সমাস গৃহীত হইবে। অতএব প্রাচীন সম্প্রদায় এই প্রকার (সমাসের ) পাঁচটি ভেদ গ্রহণ করিয়াই পঞ্চবিধ সমাস বলিয়াছেন। বিবৃতি কশ্চিৎ ইত্যাদি সন্দর্ভের দ্বারা অন্ত্যপদ প্রধান সমাস প্রদর্শন করিতেছেন, যেহেতু রাজপুরুষ, নীলােৎপল প্রভৃতি সমাস উক্ত সমাসের অন্তর্গত অন্তিম পদের মুখ।বিশেষক অন্বয়বােধের জনক হইয়া থাকে, এইজন্য ‘রাজপুরুষ’ ইত্যাদি তৎপুরুষ সমাস অন্ত্যপদ প্রধান হইয়া থাকে। এখন আলােচনা করিতে হইবে ‘রাজপুরুষ’ ইত্যাদি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসস্থলে ‘রাজ’পদার্থ এবং পুরুষ’পদার্থরূপ নামার্থদ্বয়ের স্বত্বাদিরূপ তে সম্বন্ধে অন্বয় বুৎপভিসিদ্ধ নহে বলিয়া পুরুষ পদার্থে রাজপদার্থের অভেদ সম্বন্ধে অম্বয়বােধের অনুরােধে রাজপদের রাজসম্বন্ধীতে লক্ষণ। স্বীকার করিতে হইবে, উক্ত লক্ষ্যার্থ যে রাজ সম্বন্ধী তাহার অভেদ সম্বন্ধে পুরুষ পদার্থে অন্বয় হওয়ার ফলে ‘রাজসম্বন্ধী পুরুষ এইরূপ অন্বয়বােধ উৎপন্ন হইবে। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে-‘রাজ’পদের রাজসম্বন্ধীতে লক্ষণা স্বীকৃত হইলে সমাস এবং বিগ্রহবাক্যের তুল্যার্থকত্ব নিয়ম ব্যাহত হইবে না কেন? এই আশঙ্কার উত্তরে বলিতে হইবে—তৎপুরুষ সমাসাতিরিক্ত কর্মধারয় প্রভৃতি সমাস স্থলে সমাস এবং বিগ্রহ- বাক্যের তুল্যার্থকত্ব স্বীকৃত হইবে, ইহাই উক্ত ব্যুৎপত্তির তাৎপর্য। এই সম্পর্কে আরও বক্তব্য—যাহার ব্যাসবাক্য ও সমাসের তুল্যার্থকত্ব বলেন, তাহাদের নিকট জিজ্ঞাসা তুল্যার্থকত্ব বলিতে তাহারা কি বুঝাইতে চান? যদি তাহারা বলেন, তুল্য বিশেষণ বিশেষত্বই সমার্থকত্ব বুঝিতে হইবে, তুল্যার্থকত্ব বাদীর এই উক্তি কিন্তু সমীচীন নহে। “আরূঢ়ো বানরে য” ইত্যাদি বিগ্রহ বাক্য অন্য পদার্থ বিশেষ্যক না হইলেও ‘আরূটো বানরাে বৃক্ষঃ এই বহুব্রীহি সমাস কিন্তু অপদার্থ যে বৃক্ষ তদবিশেষকই হইয়া থাকে। সুতরাং বহুব্রীহি সমাস স্থলে সমাস এবং ব্যাসবাক্যের উক্ত তুল্যার্থকত্ব থাকিবে না। যদি বলা হয়, সমান বিশেষ প্রকারক রূপ তুল্যার্থকত্ব বিবক্ষিত নহে, পরন্তু সমান বিষয়ক বােধজনকত্বই এখানে তুল্যার্থকত্ব বুঝিতে হইবে, এই কল্পনাও ঠিক নহে। কারণ পাণিপাদ’ ইত্যাদি সমাহারবন্দ্ব সমাস স্থলে বিগ্রহবাক্য অপেক্ষায় সমাহাররূপ সাহিত্যের বােধক হওয়ায় সমাস এবং বিগ্রহবাক্য তাদৃশ তুল্যার্থক হইতে পারে না।

शब्दशक्तिप्रकाशिका সুতরাং সমাস এবং ব্যাসবাক্যের তুল্যার্থকত্ব কেবলমাত্র ‘নীলােৎপলম ইত্যাদি কর্মধারয় সমাসবিশেষ স্থলেই স্বীকৃত হইবে, তৎপুরুষাদি সমাস স্থলে নহে। গ্রন্থকার নিজে ‘রাজপুরুষ’ ইত্যাদি স্থলে স্বত্ব সম্বন্ধে রাজপদার্থের পুরুষ পদার্থে অন্বয়বােধ স্বীকার করেন। ‘রাজ্ঞ পুরুষঃ এই বিগ্রহ বাক্যস্থলেও স্বত্ব সম্বন্ধেই রাজ পদার্থ প্রকারক পুরুষ বিশেষক অন্বয়বােধ স্বীকৃত হইবে, ঙস এই ষষ্ঠী বিভক্তির স্বত্ব সম্বন্ধে রাজপদার্থ একাক বােধের তাৎপর্য গ্রাহক মাত্র। সুতরাং প্রাচীনমতে তৎপুরুষ সমাসস্থলে সমাস এবং বিগ্রহ বাক্যের তুল্যার্থকত্ব স্বীকৃত না হইলেও গ্রন্থকার জগদীশ তর্কালঙ্কারের মতে উক্ত রীতিতে তুল্যার্থকত্ব রক্ষিত হইবে। অন্ত্যপদ প্রধান সমাসে প্রসিদ্ধ উদাহরণান্তর প্রদর্শন করিবার জন্য নীলােৎপলদিক কর্মধারয় ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন, তাৎপর্য এই যে নীলােৎপল এই কর্মধারয় সমাসের অন্তর্গত উৎপল পদার্থধর্মিক অভেদ সম্বন্ধে নীলপদার্থ প্রকারক অন্বয় বােধের জনক হওয়ায় নীলোৎপল প্রভৃতি সমাস অন্তিম পদপ্রধান হইবে। আরও একটি অন্ত্যপদপ্রধান সমাসের উদাহরণ উপস্থাপিত করিবার জন্য দ্বিগার্গাদ্যব্যয়ীভাবাশ্চ’ এই সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। অর্থাৎ দৌ গর্গে এইরূপ অর্থে দ্বিগাৰ্গ এই অব্যয়ীভাব সমাস সমাসের অন্তিমপদ যে গার্গ্য তদ বিশেষক অন্বয়বােধের জনক হওয়ার উক্ত অব্যয়ীভাব সমাস অন্ত্যপদ প্রধানরূপে গণ্য হইবে। অন্ত্যপদপ্রধান সমাসের স্বরূপ এবং উদাহরণ প্রদর্শন করিয়া গ্রন্থকার সর্বপদ প্রধান সমাসের স্বরূপ বিবৃত করিতেছেন। কোন সমাস সমাসের অন্তর্গত যাবতীয় পদের অর্থকে মুখ্য বিশেষরূপে গ্রহণ করিয়া অম্বয়বােধের জনক হইলে উক্ত সমাস সর্বপদ প্রধান হইয়া থাকে। দৃষ্টান্তস্বরূপ ‘ঘটপটৌ এই সমাসটিকে গ্রহণ করা যাইতে পারে। এখানে ঘটপটগত দ্বিত্ব সংখ্যা প্রকারক তুল্যরূপে ঘটপট এতদুভয়গত মুখ্যবিশেষ্যতার নিরূপক অষয়বােধের জনক হওয়ার ‘ঘটপটো' এই দ্বন্দ্ব সমাস সর্বপদ প্রধান হইবে। আবার ‘ধবখদিরপলাশংশ্চিন্ধি’ এখানে ছেদন ক্রিয়াতে সমাসের অন্তর্গত ধবখদির- পলাশ পদপ্রতিপাদ্য প্রত্যেকটি অর্থ স্বতন্ত্র ভাবেই ছেদনক্রিয়াতে কমত্বকে দ্বার করিয়া অন্বিত হওয়ার এই দ্বন্দ্ব সমাস ও সর্বপদ প্রধান হইবে। যদিও গ্রন্থকার সর্বপদার্থ ধর্মিক শাব্দবুদ্ধির জনক সমাসকেই সর্বপদ প্রধান বলিয়াছেন, ইহা সার্বত্রিক নহে, কারণ ‘ধবখদিরপলাশংশ্চিন্ধি ইত্যাদিস্থলে ধবখদিরাদি পদপ্রতিপাদ্য পদার্থসমূহ তাদৃশ বাক্যজনিত শাবােধে ধৰ্মীরূপে ভাসমান নহে। পরন্তু ধৰখদিরাদি পদার্থ সাক্ষাৎ কমত্বাংশে বিশেষণ এবং দ্বিতীয়া বিভক্তির অর্থ ছেদনক্রিয়াংশে বিশেষণ হইয়াছে। ১। জগদীশ তর্কালঙ্কার ‘যুজ্যতে চোত্তরকল্প ইত্যাদি সন্দর্ভের মাধ্যমে রাজ্ঞ পুরুষঃ, রাজপুরুষ ইত্যাদি ব্যাসবাক্যেরও সমাসের তুল্যার্থকত্ব সমর্থন করিবার জন্য সমাসস্থলে যেরূপ স্বত্বসম্বন্ধে রাজপদার্থে পুরুষপদার্থের ভেদান্বয় হইবে ‘রাজ পুরুষ এইরূপ বিগ্রহবাক্যস্থলেও ষষ্ঠীবিভক্তির স্বত্বৰূপ অর্থ ভান হইবে না, পরন্তু স্বত্বসংসর্গেই রাজপদার্থের পুরুষপদার্থে অন্বয় হইবে এই অতিপ্রায় ব্যক্ত করিয়াছেন।

समासप्रकरणम् সুতরাং সমাসের অন্তর্গত পদার্থসমূহ একই সময়ে যদি একটি ক্রিয়াতে অম্বিত হয়, তাহা হইলে উক্ত অন্বয়বােধের জনক সমাস হইবে সর্বপদ প্রধান। জগদীশ, যে সকল পদার্থ ধর্মিক অন্বয়বােধের জনক সমাসকে সর্বপদ প্রধান বলিয়াছেন, তাহা কেবল ‘ঘটপটমঠা' ইত্যাদি প্রথমান্ত দ্বন্দ্ব সমাসস্থলে বুঝিতে হইবে। এখন প্রশ্ন হইতে পারে—ইতরেতর দ্বন্দ্বসমাস সম্ভবপর হইলেও ‘পাণিপাদম' ইত্যাদি সমাহার স্থলে সমাসের অন্তর্গত উত্তরপদটি (পদ' পদটি ) পাণিপদ সাহিত্যে লাক্ষণিক যাহারা স্বীকার করেন, তাহাদের মতে উক্ত সমাস হইতে পণিপদ সাহিত্যের বােধ হওয়ায় সাহিত্যবিশেষ্যক অন্বয়বােধ স্বীকৃত হইয়া থাকে। সুতরাং দ্বন্দ্ব সমাসমাত্র সর্বপদ প্রধান হইতে পারেনা। এই প্রশ্নের সমাধান কল্পে গ্রন্থকার নিজেই বলিতেছেন, যেমন, ইতরেতরদ্বন্দ্ব (যথা ইতরেতরঃ)। পাণিপাদম' ইত্যাদি সমাহারদ্বস্থলে উক্ত পদের সাহিত্যরূপ অর্থে লক্ষণা ন্যায়সম্মত নয়। এইজন্য বলিতেছেন--‘মাত্ৰং ৰা। ‘কশ্চিৎ স্বঘটক ইত্যাদি সম্পর্ডের দ্বারা অপদার্থ প্রধান, সমাসের স্বরূপ এবং উদাহরণ প্রদর্শন করিতেছেন অর্থাৎ যে সমাস নিজের অন্তর্গত পদভিন্ন অপর পদ প্রতিপাদ্য পদার্থ বিশেষক অম্বয়বােধের জনক হয়, তাদৃশ সমাস অন্যপদার্থ প্রধান হইয়া থাকে। দৃষ্টান্তস্বরূপে চিত্ৰ' ইত্যাদি বহুব্রীহি সমাসকে গ্রহণ করা যাইতে পারে, চিত্রা গৌঃ য’ এই অর্থে চিত্ৰণ্ড: পদের অন্তর্গত গো পদটি চিত্ৰগােস্বামীরূপ অর্থে লাক্ষণিক হওয়ার ফলে সমাসের অন্তর্গত পদার্থ ভিন্ন অপর পদার্থ যে গােপালক তদ্বিশ্যেক অয়বােধের জনক হওয়ায় উক্ত বহুব্রীহিসমাস অন্য পদার্থ প্রধান হইবে। কেবলমাত্র যে বহুব্রীহি সমাসই অন্যপদার্থ প্রধান হইবে তাহা নহে, পরন্তু ‘খলে যব এই সকল অব্যয়ীভাব সমাসও অন্যপদার্থ প্রধান হইবে, কারণ উক্ত সমাস, সমাসের ঘটক পদার্থভিন্ন কালবিশেষ বিশেষ অম্বয়বােধের জনক হইয়াছে। এই অভিপ্রায়ে গ্রন্থকার ‘খলে যবাদ্যব্যয়ীভাব এই উক্তির দ্বারা অন্যপদার্থ প্রধান সমাসের দৃষ্টান্থান্তর প্রদর্শন করিয়াছেন। উপসংহারে গ্রন্থকার বলিতেছেন এইতাবে সমাসগত পাঁচটি ভেদকে অবলম্বন করিয়াই প্রাচীন সম্প্রদায় পঞ্চবিধ সমাস বলিয়াছেন। সুতরাং পূর্বে গ্রন্থকার যে কর্মধারয়াদিভেদে ছয়প্রকার বা সাত প্রকার সমাস প্রদর্শন করিয়াছেন, তাহার সহিত এই পঞ্চবিধ সমাসের ভেদ বলা নিবন্ধন কোন বিরােধ নাই। मूलम् नित्यानित्यमेदेन समासस्य वैविध्यमप्यस्ति यदुक्तं जयादित्येन, विभक्तिमात्रप्रक्षेपानिजान्तर्गतनामसु । खार्थस्याबोधवोधाभ्यां नित्यानित्य- বলাকী। ছবি।

৭s शब्दशक्तिप्रकाशिका অনুবাদ নিত্য ও অনিত্যভেদে দ্বিবিধ সমাসও বর্তমান। ইহার অনুকুলে জয়াদিত্য বলেন, নিজের অন্তর্গত নাম সমূহে বিভক্তিমাত্র প্রক্ষিপ্ত হইলে তাহা হইতে সমাসলভ্য অর্থের অবােধ এবং বােধ প্রযুক্ত নিত্য এবং অনিত্য সমাস হইবে। বিবৃতি প্রকারান্তরে বিভক্ত পদার্থের অন্য প্রকারে বিভাগ পরস্পর বিরুদ্ধ নহে। এই তাৎপর্যে গ্রন্থকার জগদীশ বলেন, নবীনসম্প্রদায় কর্মধারয় প্রভৃতি ষড়বিধ বা সপ্তবিধ সমাস স্বীকার করিলেও প্রাচীন সম্মত পূর্ব পদার্থ প্রধান প্রভৃতি পঞ্চবিধ বিভাগের যেরূপ বিরােধ হইবে না। তদ্রুপ বৈয়াকরণ জয়াদিত্য যে নিত্যও অনিত্যভেদে সমাসের দ্বিবিধ বিভাগ বলিয়াছেন, ইহার দ্বারা পূবােক্ত নবীন ও প্রাচীন মতসিদ্ধ বিভাগ ব্যাহত হইবে না, ইহা প্রতিপাদন করিবার জন্য গ্রন্থকার বলিতেছেন—নিত্যনিত্যভেদেও সমাস দ্বিবিধ। এই দ্বিবিধ বিভাগও যে প্রাচীন বৈয়াকরণ সম্মত, তাহা বুঝাইবার জন্য বৈয়াকরণ জয়াদিত্যের “বিভক্তিমাত্ৰ প্ৰক্ষেপাৎ* ইত্যাদি উক্তি উদ্ধৃত করিতেছেন। मूलम् स्वान्तर्गतनामसु विभक्तिमात्रप्रक्षेपेन यल्लभ्यार्थस्याबोधः स नित्यः समासः। यथा कृष्णसर्पनिमक्षिकासुरादिः, कृष्णः सर्पो, मक्षिकाया निः, न सुर इत्यादितस्तल्लभ्यस्य वैजात्यादेरग्रहात् । यत्नभ्यस्य च बोधः सोऽनित्यसमासः यथा राजपुरुष-पूर्वकायादिः तलभ्यार्थस्य राज्ञः पुरुषः, पूर्वम् कायस्येत्यादिवासादपि प्रतोतिः । অনুবাদ নিজের (সমাসের) অন্তর্গত নামসমূহে বিভক্তিমাত্র প্রয়ােগ করিলে (যেখানে) সমাসলভ্য অর্থের বােধ হয় না, তাহাই নিত্য সমাস, যেরূপ কৃষ্ণসর্প, নির্মক্ষিক, অসুর প্রভৃতি, কৃষ্ণঃ সৰ্পঃ, মক্ষিকায়া নিঃ’, ‘ন সুর' ইত্যাদি বিগ্রহবাক্য হইতে সমাস লভ্য বৈজাত্য প্রভৃতি অর্থ গৃহীত হয় না। (আবার) বিগ্রহ- समासप्रकरणम् বাক্যে বিভক্তি প্রক্ষিপ্ত হইলে যেরূপ অর্থের অবগতি হয়, সেই সকল সমাস অনিত্য সমাস—যেমন রাজপুরুষ, পূর্বকায় প্রভৃতি। (কেননা) ‘রাজ্ঞঃ পুরুষ, ‘পূর্বং কায়স্য ইত্যাদি বিগ্রহবাক্য হইতেও তৎ তৎ সমাসলভ্য অর্থের প্রতীতি হইয়া থাকে। বিবৃতি “স্বান্তৰ্গতনাম” ইত্যাদি সম্পর্ডের মাধ্যমে জগদীশ জয়াদিত্যের ‘বিভক্তিমাত্ৰ- প্রক্ষেপাৎ’ ইত্যাদি শ্লোকটির বিবরণ প্রদর্শন করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে কোনাে একটি সমাসের বিগ্রহবাক্য প্রদর্শিত হইলে উক্ত বাক্যের অন্তর্গত নাম সমূহের পরে যদি বিভক্তি প্রযুক্ত হয়, তাহা হইলে তাদৃশ বিভক্ত্যন্ত নাম সমূহের যেরূপ অর্থবোধ হইবে, উক্ত বিগ্রহ বাক্যানুসারে সমাসনিম্পন্ন বাক্য হইতেও যদি তাদৃশ অর্থের বােধ হয়, তাহা হইলে উক্ত সমাস অনিত্য সমাস রূপে অভিহিত হইবে, আবার যে সমাস বিভক্ত্যন্ত বিগ্রহবাক্যগত পদার্থের বােধক হয়না, তাহাই নিত্য সমাস। রাজপুরুষ, নীলােৎপল’ প্রভৃতি সমাস অনিত্য সমাসের উদাহরণ, কারণ গ্রন্থকারের মতে রাজ্ঞ পুরুষঃ এই বিগ্রহ বাকা হইতে যেরূপ অন্বয়বােধ হইবে, ‘রাজপুরুষ’ এই সমাস হইতেও তাদৃশ অন্বয়বােধ হইবে, এই জন্য তৎপুরুষ সমাসের নিরূপণ প্রসঙ্গে গ্রন্থকার সমাস এবং বিগ্রহবাক্য উভয়স্থলেই পুরুষ পদার্থে রাজ পদার্থের স্বত্ব সংসর্গে অম্বয়বোধ হয় এই রূপ সিদ্ধান্ত করিয়াছেন। তুল্য যুক্তিতে ‘নীল উৎপল, নীলােৎপলম্ এইরূপ ব্যাসবাক্য এবং সমাস উভয়স্থলেই অভেদ- সম্বন্ধে নীলপদার্থের উৎপল পদার্থে অন্বয়বােধ স্বীকৃত হইবে। এখন প্রশ্ন হইতে পারে- অনিত্যসমাসস্থলে যদি স্বত্ব প্রভৃতি ভেদসম্বন্ধে অথবা অভেদ সম্বন্ধে অন্বয়বােধ স্বীকৃত হয়, তাহা হইলে রাজ্ঞ: পুরুষ অথবা নীলমুৎপল এই বিগ্রহ বাক্যের অন্তর্গত ষষ্ঠীবিভক্তি বা প্রথমাবিভক্তি নিরর্থক হইবে না কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে গ্রন্থকার অগ্রিম গ্রন্থে অন্যান্য মতের সমালোচনাপূর্বক উপসংহারে ঐ সকল বিভক্তি ভেদ বা অভেদসংসর্গের অনুকুল তাৎপর্য, গ্রাহকত্ব রূপে সার্থকতা ব্যবস্থিত করিয়াছেন। অনিত্যসমাসের উদাহরণরূপে গ্রন্থকার, কায়স পূর্ব এইরূপ বিগ্রহবাক্য হইতে উৎপন্ন পূর্বকায় প্রভৃতি অব্যয়ীভাব সমাসকেও অনিত্য সমাস রূপে গ্রহণ করিয়াছেন। ফলকথা, সমাসের দ্বারা প্রতিপাদ্য পদার্থের যদি বিগ্রহবাক্যের দ্বারা প্রতিপাদিত হয়, তাহা হইলেই সমাস এবং বিগ্রহ বাক্যের তুল্যার্থকত্ব নিবন্ধন তাহা অনিত্য সমাস হইবে। যেই সমাস এবং বিগ্রহবাক্য ভিন্নার্থক হইবে, সেই সমাস নিত্য সমাসরূপে গৃহীত হইৰেকৃষ্ণ সর্প প্রভৃতি নিত্য সমাসের উদাহরণ। জম্নদিত্যের শ্লোকে নিত্যসমাসের উখে প্রথমে থাকায় উক্ত শ্লোকের বিবরণ গ্রন্থে গ্রন্থকার কৃষ্ণসর্প, নিক্ষিক ইত্যাদি নিত্যসমাসের উদাহরণ এথমে উল্লেখ করিয়াছেন। কৃষ্ণসর্প এই নিত্য কর্মধারয় সমাসস্থলে যদি বিগ্রহবাক্য স্বীকার করিতে হয়, তাহা शब्दशक्तिप्रकाशिका হইলে ‘কৃষ্ণশ্চাসো সর্পশ্চেতি এইরূপ বিগ্রহবাক্য স্বীকৃত হইবে। উক্ত বিগ্রহবাক্য হইতে কৃষ্ণরূপবিশিষ্ট সর্পমাত্রেরই প্রতীতি হইবে, কিন্তু সমাস হইতে যেরূণ বিজাতীয় বিষধর কৃষ্ণসর্পের প্রতীতি হয়, উক্ত বিগ্রহবাক্য হইতে তাদৃশ সমাসলভ্য অর্থের প্রতীতি হয় না। সুতরাং সমাস এবং বিগ্রহবাক্য বিভিন্ন অর্থের বােধক হওয়ায় কৃষ্ণসৰ্প এবং মিমক্ষিক প্রভৃতি নিত্য সমাসরূপে অভিহিত হইবে। ইহাই জয়াদিত্যের बलियन। मूलम् 'स्फुरद्वाणी, चलच्चैत्र' इत्यादिकः कर्मधारयोऽप्यनित्य एव समासः, स्फुरन्तो वाणोत्यादि विग्रहस्य वाण्यादौ स्फुरदादिविधेयक बोघाजन- कत्वेऽपि स्फुरदभिन्न वाण्यादावेकत्वादि बोधकत्वमादायव तदर्थप्रकाश- कत्वात्, स्फुरन्ती वाणीमित्यादिवाक्यस्यैव तत्र विग्रहत्वसम्मवाच्च, विग्रह एव समासलभ्यार्थस्य बोधकत्वं तन्त्रं, न तु समासे विग्रहार्थस्य, विग्रह- लभ्ययोलिङ्गसंख्ययोव्यंजकवैधुर्येण प्रायशः समासाबोध्यत्वात् । अतएव यत्र समासे तयोर्व्यञ्जकसद्भावस्तवावगमोऽपि, यथा, जरतोचित्रगु र्जनः, 'प्रियतिसा पुरुष' इत्यादौ स्त्रीत्वस्य स्रोप्रत्यय-तिस्रादेशयोस्तदमि- व्यञ्जकयोः सत्त्वात्, यथा वा अक्षपरि, शलाकापरि, प्रिययुवया, हस्त्यश्व- मित्यादावेकत्वादेः, अश्वशलाकयोरेकत्व एवाव्ययीभावस्य युष्मदस्मदो- वित्व एव युवाद्यादेशस्य सेनाङ्गानां वहुत्व एव समाहारद्वन्द्वय विधानात् । অনুবাদ ‘ক্ষুরদ্বাণী’, ‘চলচ্চৈত্র’ এই সকল কর্মধারয় ও অনিত্য সমাস, ‘ক্ষুরন্তী বাণী ইত্যাদি বিগ্রহবাক্যে স্ফুরদাদি বিধেয়ক অন্বয়বােধজনকত্ব না থাকিলেও ক্ষুদ ভিন্ন বাণ্যাদি ধর্মিক একাদি প্রকারক বােধজনকত্বকে গ্রহণ করিয়াই সমাসলভ্য অর্থের বােধকত্ব থাকিবে। “ক্ষুরন্তীং বাণী ইত্যাদি বাক্যেরও বিগ্রহবাক্যত্ব স্বীকৃত হইতে পারে। বিগ্রহ বাক্যেই সমাসলভ্য প্রতিপাদকত্ব থাকিবে, ইহাই নিয়ম পরন্তু সমাসে বিগ্রহবাক্যার্থের বােধকত্ব থাকিবে এইরূপ নিয়ম নহে।

समासप्रकरणम् ২৭ বিগ্রহবাক্যলভ্য লিঙ্গ ও সংখ্যা ব্যঞ্জকের বৈগুণ্য বশতঃ প্রায়শঃ সমাসের দ্বারা প্রতিপাদিত হয় না। অতএব যাদৃশ সমাসে ব্যঞ্জকের সদ্ভাব থাকিবে, তাদৃশ সমাসেই লিঙ্গও সংখ্যার অবগতিও অবশ্যই থাকিবে, যেমন জরতী চিত্রগুর্জন, প্রিয়তিস পুরুষ’ ইত্যাদি সমাসস্থলে স্ত্রীত্বের ব্যঞ্জক স্ত্রীলিঙ্গে বিহিত ‘ই’ প্রত্যয় এবং তিস্ আদেশরূপ স্ত্রীত্বের ব্যঞ্জক থাকার ফলে উক্ত বহুব্রীহি সমাসদ্বয়ে স্ত্রীত্বের ও বােধ হইবে। যথা অক্ষপরি, শলাকাপরি, প্রিয়যুবা, হত্যশ্বম্ এই সকল সমাস একত্বের বােধক হইয়া থাকে, কেননা, অক্ষ এবং শলাকা এতদুভয়ের একত্ব সংখ্যাস্থলেই অব্যয়ীভাব সমাস যুগ্ম, অম্মদ গত দ্বিরূপ অর্থেই যুব প্রভৃতি আদেশ এবং সােনাঙ্গগত বহুত্বরূপ অর্থেই সমাহারদ্বন্দ্ব বিহিত হইয়াছে। বিবৃতি সমাস ও ব্যাসবাক্য সমানার্থক হইলেই উক্ত সমাস অনিত্য সমাসরূপে গণ্য হইবে, ইহা স্বীকৃত হইলে আপত্তি হইতে পারে, ক্ষুগবাণী, ‘চলচ্চৈত্র: এই সকল সমাস অনিত্য সমাসরূপে স্বীকৃত হইতে পারে না, কারণ উক্ত সমাসস্থলে বিগ্রহবাক্য ‘ফুরন্তী বাণী' বা ‘চলন চৈত্র এইরূপ স্বীকার করিতে হইবে। প্রথমাস্তাৰ্থ বিশেষ্যক শত্ন অর্থ প্রকারক অম্বয়বোধ নিষিদ্ধ হওয়ায় বর্তমানে শতৃ-শানচাবপ্রথমৈকাধিকরণমন্ত্রিতয়ােঃ* এই অনুশাসন অনুসারে ‘ফুরন্তী বাণী’ বা ‘চলন্ চৈত্র' এইরূপ বিগ্রহবাক্য সম্ভবপর নহে। অতএব সমাস ও বিগ্রহবাক্য তুল্যার্থক না হওয়ায় ঐ সকল সমাস কি করিয়া অনিত্যসমাস হইবে। এই আপত্তির সমাধানকল্পে গ্রন্থকার ‘ক্ষুদ্বাণী’ ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিয়া ঐ সকল সমাসের অনিত্য সমাসত্ব প্রতিপাদন করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, ‘ফুরন্তী বাণী’ এই বিগ্রহবাক্য হইতেই অভেদ সম্বন্ধে ফুৎ প্রকারক বাণী বিশেষক অন্বয়- বােধ না হইলেও ক্ষুদ ভিন্ন বাণী বিশেষক সুবৰ্থ একত্ব প্রকারক অন্বয়বোধ উৎপন্ন হওয়ায় সমাসও বিগ্রহবাক্য সমার্থক বোধজনক হইবে। ইহার ফলে ‘ক্ষুদ বাণী প্রভৃতি অনিত্য সমাস হইবে। উক্ত অম্বয়বােধে বাণী পদার্থাংশে ক্ষুরৎ পদার্থ বিধেয় রূপে ভাসমান হয় না, কারণ একত্বরূপ বিধেয়াংশে উদ্দেশ্য যে বাণী (পদার্থ) তদংশে শত্ন অর্থ উদ্দেশ্যতাবচ্ছেদকরূপে ভাসমান হইয়াছে। ক্ষুদ বাণী’ এই সমাসলে উক্ত বিগ্রহ বাক্যার্থের অনুরূপ অর্থবোধ হওয়ায় সমাস ও ব্যাসবাক্যের তুল্যার্থকত্ব সিদ্ধ হইবে। এখন আপত্তি হইতে পারে, “বর্তমানে শতৃশানচাবপ্রথমা” ইত্যাদি সূত্রের মধ্যে যে প্রথমান্ত পদের দ্বারা উপস্থাপিত অর্থবিশেষক শর্থপ্রকারক বােমা নিষিদ্ধ, ইহাই সূচিত হইয়াছে। যদি ইহা স্বীকৃত না হয়, তাহা হইলে শতৃণ ও তৎপরবর্তী প্রথমান্ত পদমাত্র হলে সর্বত্রই উক্ত রীতিতে অন্বয়বােধ সম্ভবপর হওয়ায় উক্ত সূত্রের নিষেধাৰ্থকত্ব ব্যাহত হইবে, আরও বক্তব্য ‘ক্ষুন্তী ৰাণ’, ‘চল চৈত্র, ইত্যাদি স্থলে পূর্বোক্ত রীতিতে অন্বয়বােধ २२ शब्दशक्तिप्रकाशिका কঞ্চিৎ স্বীকৃত হইলেও চলৎ এক' ইত্যাদিস্থলে চলৎ অভিন্ন যে একত্ববিশিষ্ট, তদ্বিশেষক একত্বপ্রকারক অন্বয়ৰােধ ব্যুৎপত্তি বিরুদ্ধ হওয়ায় তাদৃশ অন্বয়বোধের অনুকুল চলদেকঃ ইত্যাদি বাক্য নিরাকা হওয়ায় অপার্থক হইবে, এই আপত্তির উত্তরে গ্রন্থকার ক্ষুরন্তী বাণী’ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে ক্ষুর বাণী, চলচৈত্র এই সকললে সমাস ও বিগ্রহবাক্যের উভয়ের সমার্থকত্ব প্রতিপাদন করিতেছেন। সমাসে বিগ্রহ বাক্যলভ্য অর্থের বােধকত্ব কেন থাকিবে না। ইহার যুক্তি প্রদর্শন করিবার জন্য বলিতেছেন ‘ব্যঞ্জকবৈধর্মেণেতি’ এখানে ব্যঞ্জক শব্দটির বােধকরূপ অর্থ গৃহীত হইবে। উক্ত সন্দর্ভে গ্রন্থকার যে প্রায়শঃ শব্দটির উল্লেখ করিয়াছেন, নিজেই তাহার প্রয়োজন প্রদর্শন করিবার জন্য অতএব ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে সমাসমাৱেই যে পূর্বোক্ত “ব্যঞ্জক বৈধুর্য থাকিবে তাহা নহে কারণ যে যে সমাসস্থলে লিঙ্গ বা সংখ্যাদির ব্যঞ্জক অর্থাৎ বােধক উপস্থিত থাকিবে, তাদৃশ সমাসস্থলে কিন্তু সমাস হইতেও লিক সংখ্যাদির অবগতি অবশ্যই হইবে। কীদৃশ সমাসলে ব্যঞ্জক উপস্থিত থাকিবে, তাহার নিদর্শন প্রদর্শন করিবার জন্য, যথা-‘জরতীচিত্ৰগুৰ্জন ইত্যাদি সম্পর্ডের উল্লেখ করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে “জরতী চিত্রা গৌ যএইরূপ অর্থে ‘জরতীচিত্রগু’এই সমাসে, এবং প্রিয়াস্তিস্রো যস্য’ এই অর্থে ‘প্রিয়তি পুরুষ' এইরূপ সমাসে স্ত্রীত্ববিহিত ‘ঈপ, প্রত্যয় এবং তিস্ আদেশ স্ত্রীত্বের ব্যঞ্জক থাকায় উক্ত সমাসদ্বয় হইতে স্ত্রীত্বের বােধ হইবে। গ্রন্থকার আরও বলিতেছেন—অপরি, শলাকাপরি, এই সকল অব্যয়ীভাব সমাস হইতেও একত্ব সংখ্যার অবগতি হইবে। এই প্রশ্নের উত্তরে গ্রন্থকার বলিতেছেন অক্ষপরি’ এখানে অপদার্থে, শলাকারি’ এখানে শলাকা পদার্থে একত্ব-সংখ্যাবােধের অনুকুলে ‘একস্য অক্ষ দূতে অন্যথা পাতন’ এইরূপ অর্থে ‘অপরি’ রূপ “এক শলাকায় দূতে অন্যথা পাতন”, এইরূপ অর্থে শলাকারিরূপ একত্ব সংখ্যার ব্যঞ্জক অব্যয়ীভাব সমাস হইতেও একতৃ সংখ্যার অবগতি হইবে, কারণ “অ শলাকা সংখ্যা পরিণ” এই পাণিনীয় সূত্রানুসারে অক্ষগত এবং শলাকাগত একত্ব সংখ্যারূপ অর্থে বর্তমান অক্ষ এবং শলাকা শব্দের সহিত ‘পরি’ শব্দের অব্যয়ীভাব সমাস গৃহীত হইবে। আবার “প্রিয়ৌ যুবং মস্যা তয়া” এই অর্থে ‘প্রিয়যুবয়া’ এই বহুব্রীহি সমাস এবং ‘হস্তিনামশ্বানাঞ্চ সমাহার এই অর্থে ‘হত্যশ্ব’ রূপ সমাহার এতদুভয়ের প্রথমটি ‘যুবয়ে দ্বি’বচনে এই পাণিনীয় সূত্রানুসারে দ্বিত্বসংখ্যারূপ অর্থে যুম্মদ শব্দস্থানে ‘যুব’ আদেশ হওয়ায় উহাই দ্বিত্বসংখ্যার ব্যঞ্জক হইবে। ইহার ফলে উক্ত সমাস হইতে দ্বিত্বসংখ্যাবিশিষ্ট সম্বন্ধ পুরুষপদার্থের অবগতি হইবে। দ্বিতীয়স্থলে, “শ্চ প্রাণিতুর্য-সেনানা” এই পাণিনীয় সূত্রানুসারে এই সমাহাদ্বন্দ্ব সমাস সেনাগত বহুত্বসংখ্যারূপ অর্থে গৃহীত হওয়ায় উক্ত সমাহারদ্বন্দ্ব সমাস হইতেও বহুত্ব সংখ্যার বোধ হইবে।

समासप्रकरणम् ব मूलम् तदुक्रमभियुक्तः- संख्या तु व्यञ्जकाभावादव्यता प्रातरादिवत् । यत्र तु व्यञ्जकं किञ्चिचत्र संख्या प्रकाशते, शलाकापरि, हस्त्यश्वं पूर्वकायोऽर्धपिप्पलीति, पूर्वादेरर्धस्य च उसकत्वमन्तर्भाव्येवावयविना तत्पुरुषस्य व्युत्पनत्वात्, "सरसिजादौ", "कण्ठेकालादौ" चालुकसमासे सुपः, संख्यावगमेऽपि न দাবি, বঙ্গ যুক্ত সুধি য ন র ছবি ও বাষহাফি- নাবিনঃ যান। ২২ অনুবাদ ইহার অনুকুলে বৈয়াকরণ সম্প্রদায় বলেন—‘প্রাতঃ' প্রভৃতি শব্দের ন্যায় ব্যঞ্জক না থাকায় সমাসগত সংখ্যার অভিব্যক্তি হয় না। যদি কোন সমাসে ব্যঞ্জক উপস্থিত থাকে, তাহা হইলে (তাদৃশ সমাস হইতে) সংখ্যা অবগত হইবে। শলাকাপরি, হস্তশ্ব, পূর্বকায় এবং অর্ধপিপ্পলী এই সকল সমাসকে ( দৃষ্টান্তরূপে গ্রহণ করা যাইতে পারে) পূর্ব প্রভৃতি শব্দের অর্ধ শব্দের স প্রত্যয়ান্ত একত্ব সংখ্যাকে অন্তর্ভাব করিয়াই অবয়বী পদের সহিত তৎপুরুষ সমাস ব্যুৎপত্তিসিদ্ধ। সরসিজ’, ‘কণ্ঠেকাল' প্রভৃতি অলুক সমাসে সুপ, প্রত্যয় হইতে একত্ব সংখ্যার অবগতি হইলেও কোন ক্ষতি নাই। পাতঞ্জল মতে কিন্তু সংখ্যার ব্যঞ্জক সুপ, থাকিলেও সংখ্যার অবগতি হইবে না। ইহাই সমাস শক্তিবাদী পতঞ্জলির অভিমত। বিবৃতি শাত্ববোধের অনুকুল ব্যঞ্জক থাকিলে সমাস হইতেও যে স্ত্রীদি লিঙ্গ বিশেষের এবং একাদি সংখ্যাবিশেষের বােধ হয়, ইহা প্রমাণিত করিবার জন্য সংখ্যা তু ব্যঞ্জকা- তাৎ-ইত্যাদি শ্লোকের মাধ্যমে প্রাচীন বৈয়াকরণ সম্প্রদায়ের উক্তি উদ্ভুত করিতেছেন। বৈয়াকৰণ সম্প্রদায়ের বক্তব্য এই যে, যে সমাসে লিঙ্গ বা সংখ্যাবােধের অনুকুল ব্যঞ্জকের অভাব থাকিবে, সেই সমাসে লি সংখ্যা প্রভৃতি অব্যক্ত অর্থাৎ সমাসজনিত শব্দবুদ্ধির গােচর হইবে না, আবার যেখানে লিঙ্গ ও সংখ্যাদিগোচর शब्दशक्तिप्रकाशिका শাত্ববােধের অনুকুল ব্যঞ্জকের সম্ভাব থাকিবে তাদৃশ সমাস হইতে লিঙ্গ ও সংখ্যা অন্বয়- বােধগম্য হইবে। কীদৃশ সমাসস্থলে ব্যঞ্জক সস্তাব প্রযুক্ত লিঙ্গ সংখ্যাদির বােধ হইবে । এই জিজ্ঞাসার উত্তরে কারিকার তৃতীয়পাদে শলাকাপরি, হন্তা, পূর্বকায়, অর্ধশিল্পী এই চারটি উদাহরণ প্রদর্শিত হইয়াছে। একস্যাঃ শলাকায় দূতে অন্যথা পাতন (অর্থাৎ যে সকল শলাকার দ্বারা দূতক্রীড়া অনুষ্ঠিত হয়, ঐ সকল শলাকার মধ্যে একটি শলাকা অন্যভাবে পতিত হইলে) এইরূপ অর্থে শলাকাপরি এইরূপ সমাস একত্বের ব্যঞ্জক হওয়ায় উক্ত সমাস হইতে শলাকাগত একত্বের বোধক হইয়া থাকে। এইভাবে অব্যয়ীভাব সমাসরূপ সংখ্যা ব্যঞ্জকের প্রতিপাদন পূর্বক ‘হত্যশ্ব এই সমাহার দ্বন্দ্বের উদাহরণ প্রদর্শন করিতেছেন। এখানে হস্তী এবং অশ্বগত বহুত্ব সংখ্যারূপ অর্থে সমাহারদ্বন্দ্ব সমাস, কায়স্য পূর্ব এইরূপ কায়গত একত্ব সংখ্যারূপ অর্থে এবং অর্ধপিপ্পলী’ এখানে ‘পিপ্পল্যা অর্ধ এইরূপ ক্লীবলিঙ্গ বিহিত অর্ধ শব্দের সহিত তৎপুরুষ সমাস বিহিত হওয়ায় উক্ত উভয় সমাসই যথাক্রমে সংখ্যা ও লিঙ্গের ব্যঞ্জক হইয়াছে। এখন প্রশ্ন হইতে পারে, পূর্বকায় ইত্যাদি সমাসে একত্বের, অর্থপিপ্পলী ইত্যাদি সমাসের পিপ্পলীগত একত্ব এবং অর্ধদিগত নপুংসকত্বের কেন প্রতীতি হইয়াছে। এই প্রশ্নের সমাধান কল্পে গ্রন্থকার “পূর্বাদের এই সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে পূর্বকায় এবং অর্থপিপ্পলী এইসকল স্থলে বিগ্রহবাক্যস্থিত অবয়বীবােধক পদের পরবর্তী ও বিভক্তির অর্থ একত্বকে অন্তর্ভাব করিয়াই ঐ সকল অবয়বী বােধক পদের সহিত পূর্ব বা অর্ধরূপ অবয়ব বোধক পদের সমাস পূর্বকথিত অনুশাসন অনুসারে ব্যুৎপত্তিসিদ্ধ হইবে। এখন আশঙ্কা হইতে পারে, কণ্ঠেকালঃ' এবং সরসিজম্ প্রভৃতি অলুক সমাসের নিত্যসমাসত্ব ব্যবস্থিত হইতে পারে না, কারণ উক্ত সমাস প্রতিপাদ্য অর্থগােচর বােধের প্রতি সপ্তমী বিভক্তি ঘটিত তাদৃশ আনুপূর্ব প্রকারক জ্ঞানের কারণত্ব অবশ্যই স্বীকার করিতে হইবে। এই আপত্তির উত্তরে গ্রন্থকার ইষ্টাপত্তি করিতেছেন। উক্ত অনুৰু সমাসলে, সুপ, বিভক্তি হইতে সংখ্যার অবগতি হইলেও কোন ক্ষতি নাই, অর্থাৎ, ব্যঞ্জক থাকার ফলে তাদৃশ সমাস হইতেও সুৰৰ্থ সংখ্যার বোধ হইবে, সুতরাং এই অলুক সমাস অনিত্য সমাসই হইবে, নিত্য সমাস নহে। নিজের বক্তব্য বলিয়া গ্রন্থকার মহাভাষ্যকার পতঞ্জলির সিদ্ধান্ত অনুসারে উক্ত অলুক সমাস নিত্যসমাসে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় নিত্যসমাসত্ব ব্যবস্থিত করিবার জন্য বলিতেছেন, একত্বাদি সংখ্যার ব্যঞ্জক সুপ, বর্তমান থাকিলেও উক্ত সুপ, বিভক্তি হইতে সংখ্যার অবগতি হইবে না। কারণ পতঞ্জলির মতে সমাসের স্বতন্ত্র শক্তি স্বীকৃত হওয়ায় সমাসের ঘটক কোন পদ বা সুপ, বিভক্তি হওয়ায় অর্থবিশেষে শক্তি স্বীকৃত হইতে পারে না। অতএব সমাস হইতে সমাসগত শক্তিলভ্য একটি বিশিষ্ট অর্থের অবগতি হইবে ইহাই পতঞ্জলির সিদ্ধান্ত।

समासप्रकरणम् २५ मूलम् समासेषु कर्मधारयं लक्षयति- क्रमिकं यत्रामयुगमेकार्थेऽन्यार्थबोधकम् । तादात्म्येन भवेदेष समासः कर्मधारयः ॥ ३४ ॥ অনুবাদ উক্ত সমাসের অন্তর্গত (প্রথমােক্ত) কর্মধারয় সমাসের লক্ষণ করা হইতেছে। একটি পদের অর্থে অপর পদার্থের তাদাত্ম সম্বন্ধে অন্বয়বােধের যােগ্য যে ক্রমিক নামদ্বয়, ইহাই কর্মধারয় সমাস। বিবৃতি গ্রন্থকার ৩২ সংখ্যক কারিকায় কর্মধারয়, দ্বিগু, তৎপুরুষ, অব্যয়ীভাব, বহুব্রীহি এবং ধভেদে সমাসের বিভাগ প্রদর্শন করিয়াছেন, বিভক্ত উক্ত সমাসসমূহের মধ্যে কর্মধারয় সমাস প্রথম উল্লিখিত হওয়ায় প্রথমােপস্থাপিতত্যাগে মানাভাবাৎ' এই ন্যায়ে “ক্রমিকং যন্নামযুগ” ইত্যাদি কারিকার মাধ্যমে কর্মধারয় সমাসের লক্ষণ উপস্থাপিত করিতেছেন। তাদা সম্বন্ধে পূর্বনামৰ্থ প্ৰকারক পরবর্তী নামার্থবিশেষক অষয়বােধের প্রতি যােগ্য যে ক্রমিক নামদ্বয় তাহাই কর্মধারয় সমাস। কলাপ ব্যাকরণে তুল্যাধিকরণ পদদ্বয়কে কর্মধারয় সমাস বলা হইয়াছে। এখানে তুল্যাধিকরণ পদের দ্বারা এক পদার্থে অপর পদার্থের অভেদ সম্বন্ধে অন্বয়বােধের উপযােগী “সমানবিভক্তিকত্বই তুল্যাধিকরণত্ব বুঝিতে হইবে। তদনুসারে অভেদসম্বন্ধে পূর্বনামার্থ প্রকার উত্তর নামার্থ বিশেষ্যক অন্বয়বােধ যােগ্য তুল্যাধিকরণ পদদ্বয় ঘটিত সমাসত্বং কর্মধারয়ত্ব-এইরূপ কর্মধারয়ের লক্ষণ প্রতীয়মান হইবে। ক্রমিক যয়াম যুগ ইত্যাদি কারিকানুসারে কিন্তু অব্য- বহিতেতত্ব সম্বন্ধে এথমেদ্দিষ্ট নাম বিশিষ্ট দ্বিতীয়াের্দিষ্ট নামটি যদি অভেদ সম্বন্ধে প্রথমােদ্দিষ্ট নামার্থ প্রকারক, দ্বিতীয়ােষ্টি নামার্থবিশেষ্যক অম্বয়বােধের স্বরূপ যােগ্য হয়, তাহা হইলে (অব্যবহিতােত্তারত্ব সম্বন্ধে ) উক্ত প্রথমােদিষ্ট নামবিশিষ্ট দ্বিতীয়াের্দিষ্ট নামই হইবে কর্মধারয়ের লক্ষণ। নীলঞ্চ তৎপলক্ষেতি এই ব্যাসবাক্য অনুসারে অব্যবহিতােত্তারত্ব সম্বন্ধে পূর্বনাম বিশিষ্ট উত্তর নামরূপ ক্রমপ্রযুক্ত নীলোৎপল এই নামদ্বয় অভেদ সম্বন্ধে নীলপদার্থ প্রকারক, উৎপল পদার্থ বিশেষ্যক অন্বয়বোধের রূপযােগ্য হওয়ায় নীলােৎপল এই নামঘরে কর্মধারয় সমাসের লক্ষণ সময় হইবে। অব্যবহিতােত্তারত্ব সম্বন্ধে একনামৰিশিষ্ট অপর নামরূপ ক্রমিক নাময় স্থলে ‘মিক २६ शब्दशक्तिप्रकाशिका পদটি না দিলে ‘নীল উৎপল এই বিগ্রহবাক্যে কর্মধারয় সমাসের লক্ষণের অতিৰাপ্তি হইবে। অতএব উক্ত অতিব্যাপ্তি বারণের জন্য ‘মিক পদটি নিবিষ্ট হইয়াছে। ‘তাদাত্মেন’ এই অংশটি না থাকিলে ‘কুম্ভ সমীপম্ এইরূপ অর্থে উপকুন্ত এই অব্যয়ীভাব সমাসে অতিব্যাপ্তি হইবে। এই জন্য তদাত্ম সম্বন্ধে বলা হইয়াছে। तथा मूलम् क्रमिक यन्नामद्वयं तयोरेकस्य नानोऽर्थे धर्मिणि तादात्म्येनापर- नानोऽर्थस्यान्वयबोधं प्रति समर्थ तादृशं नामद्वयं कर्मधारयः, नीलोत्पल- मित्यादावुत्पलादिपदस्यार्थे नोलादिपदार्थस्य तादात्म्येनान्वयः । 'पुरुषसिंह' इत्यादावपि पुरुषादावुत्तरपदलक्ष्यस्य सिंहादि सदृशस्य पुरुषः सिंह इवेत्यादि विग्रहे "प्रायेनोपमेयस्योपमानैरिति” कर्मधारयानुशासनात् , कुम्मस्य समोपमित्याद्यर्थक उपकुम्भादिन तादात्म्येनान्वयबोधकः प्रवल- मपद्रव्यमित्यादेः संग्रहाय नामपदस्य धातुभिन्नोपलक्षकत्वात्, सार्थकसामान्य- परत्वेऽपि क्षत्यमावाच्च, नीलमुत्पल मित्यादिकं तु समानविभक्तिक नामद्वयं स्वार्थयोरभेदान्वयं बोधयदपि न क्रमिकं, विभक्तग व्यवधानात् । অনুবাদ ক্রমিক যে নামদ্বয়(তদুভয়ের মধ্যে)একটি নামের অর্থরূপ ধর্মীতে তাদাত্ম সম্বন্ধে অপর নামাৰ্থের অন্বয়বােধের প্রতি স্বরূপযােগ্য হইবে। তাদৃশ নামদ্বয় কর্মধারয় (সমাস) রূপে গণ্য হইবে। নীলমুৎপলমিত্যাদি স্থলে ‘উৎপল’ পদের অর্থে তদাত্ম সম্বন্ধে নীলাদি পদার্থের অন্বয়বােধ হওয়ায় এবং পুরুষসিংহ ইত্যাদি স্থলে পুরুষ প্রভৃতি উত্তর পদের লক্ষ্যার্থ যে সিংহাদি সদৃশ তাহার ( অম্বয়) হইয়া থাকে, কারণ “পুরুষঃ সিংহ ইব” ইত্যাদি বিগ্রহে ‘উপমিতং ব্যাঘ্রাদিভিঃ (পাণিনি ২। ১। ৪৩ সূত্র ), “প্রায়েনােপমেয়স্যোপমানৈঃ”—এই অনুশাসন অনুসারে কর্মধারয় সমাস নির্দিষ্ট হইয়াছে। কুম্ভস্য সমীপম্ এইরূপ অর্থে উপকুন্তাদি (অব্যয়ীভাব সমাস হইতে তাদাত্ম সম্বন্ধে পূর্বনামার্থ প্রকারক অন্বয়বােধ হয় । প্রবল, অপদ্রব্য ইত্যাদি কর্মধারয় সমাস সংগ্রহের জন্য (কারিকাস্থ ) समासप्रकरणम् নামপদটি ধাতুভিন্নের উপলক্ষক বুঝিতে হইবে, অথবা নামপদটি সার্থক শব্দ সামান্যের বােধকরূপে গৃহীত হইলেও কোন ক্ষতি নাই। নীলমুৎপল ইত্যাদি বিগ্রহবাক্য কিন্তু উৎপল পদার্থে নীলপদার্থের অভেদান্বয় বােধে সমর্থ হইলেও মধ্যবর্তী বিভক্তির দ্বারা ব্যবহিত হওয়ার ফলে ক্রমিক নহে। বিবৃতি ক্রমিকং যন্নামদ্বয়ম্” ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে ৩৪ সংখ্যক কারিকাটি ব্যাখ্যাত হইতেছে। “ক্রমিক যন্নামযুগ” এখানে ক্রমিক পদটি অব্যবহিতােত্তারত্ব সম্বন্ধে পূর্ব প্রযুক্ত নামটির বৈশিষ্ট্যরূপ অর্থের প্রতিপাদক রূপেই নির্দিষ্ট হইয়াছে। “তয়ােরেক” ইত্যাদি গ্রন্থের দ্বারা কারিকাস্থ “একাৰ্থে অন্যাৰ্থবোধক” এই অংশটি ব্যাখ্যাত হইয়াছে। ইহার ফলে অব্যবহিতােত্তারত্ব সম্বন্ধে যে নাম বিশিষ্ট যে নামটি তদাত্মাসম্বন্ধাৰচ্ছি সেই নামার্থপ্রকারক, সেই নামার্থবিশেষক অন্বয়বুদ্ধির প্রতি বিষয়রূপে জনকতাৰচ্ছেদক হইবে। অব্যবহিতােরত্ব সম্বন্ধে সেই নাম বিশিষ্ট সেই নামটি কর্মধারয় সমাস-ইহাই হইবে কর্মধারয় সমাসের পর্যবসিত লক্ষণ। লক্ষ্যে লক্ষণ সমন্বয় করিবার জন্য ‘নীলমুংপল ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণ। করিতেছেন। “নীলমুৎপল” এখানে অব্যবহিতোত্তরত্ব সম্বন্ধে নীলরূপ নামবিশিষ্ট উৎপরূপ নামটি অভেদ সম্বন্ধে নীলপদার্থ প্রকারক, উৎপল পদার্থ বিশেষক অম্বয়বােধের বিষয়রূপে জনকতাবচ্ছেদক হইবে এবং পুরুষসিংহ” এই সকল স্থলেও সিংহ পদার্থের লক্ষ্যার্থ যে সিংহ সদৃশ, তাদাত্ম্য সম্বন্ধে তৎকাৰক অম্বয়বোধের বিষয় রূপে কাৰণতার অবচ্ছেদক হইবে। অতএব ‘নীলমুৎপল এইরূপ অর্থে নীলােৎপলম্ এইরূপ সমাসে এবং পুরুষঃ সিংহ ইব” এইরূপ অর্থে ‘পুরুষসিংহ এইরূপ সমাসে কর্মধারয় সমাসের লক্ষণ সমন্বয় হইবে। জগদীশ যে “উত্তরপদ লক্ষিত সিংহাদি সদৃশ” অর্থাৎ পুরুষসিংহ এখানে পুরুষ পদের পরবর্তী সিংহ পদটির সিংহ সদৃশরূপ অর্থের লক্ষণ স্বীকার করিয়া পুরুষসিংহ এইরূপ কর্মধারয় সমাসের উপপাদন করিয়াছেন, ইহার ফলে পুরুষ সিংহাদি স্থলে পুরুষরূপ পূর্বপদটির পুরুষ সদৃশ অর্থের লাক্ষণিক হইলে উক্ত অর্থে কর্মধারয় সমাস হইবে না, এবং সিংহপদের সিংহ সদৃশৰূপ অর্থে লক্ষণ। স্বীকৃত হইলেও সিংহপদটি যদি পুরুষ পদের পূর্বে উল্লিখিত হয়, তাহা হইলে সিংহপুরুষ এইরূপ কর্মধারয় সমাসও হইবে না। এই অভিপ্রায়ে গ্রন্থকার পূর্বপদ লক্ষিত না বলিয়া ‘উত্তরপদ লক্ষিত’ বলিয়াছেন। যাদৃশ সমাসস্থলে উত্তরপদটি উপমান পদ হইবে, সেখানেই তথাবিধ সমাস হইবে, ইহা প্রমাণিত করিবার জন্য প্রায়েনােপমেয়ঙ্গোপমানৈ”, এই পাণিনীয় অনুশাসনকে উক্তদালে কর্মধারয় বিধায়করূপে উল্লেখ করিয়াছেন। পুরুষঃ সিংহ ইব' এইরূপ বিগ্রহবাক্য २८ शब्दशक्तिप्रकाशिका প্রদর্শনের ফলে পুরুষ ই সিংহঃ' এইরূপ বিগ্রহেৱ ৰা ‘সিংহ ইব পুরুষঃ এইরূপ বিগ্রহ অনুসারে কর্মধারয় সমাস হইবে না—ইহাই সূচিত হইয়াছে। এখন আশঙ্কা হইতে পারে প্রায়েন উপমেয়মুপমানৈঃ” এই সূত্রানুসারে উপমেয় পদটি যে সমাসের বিগ্রহবাক্যে পূর্বনির্দিষ্ট হইবে ইহার অনুকুলে সূত্রে উপমেয়ের পূর্বত্ববােধক কোন পদ না থাকায় উপমেয়ের পূর্বত্ব উক্ত সূত্রের দ্বারা কিরূপে উপপন্ন হইবে । এই আশঙ্কার সমাধান কল্পে টীকাকার কৃষ্ণকান্ত বলেন ষষ্ঠাঃ পূর্বস্যৈব’-কাতন্ত্র- পরিশিষ্টের সূত্রানুসারে প্রায়েনােপমেয়' ইত্যাদি সূত্রে ষষ্ঠী বিভক্তির উল্লেখ থাকায় উক্ত সূত্রানুসারেই পুরুষাদি উপমেয় পদের পূর্ব প্রতীয়মান হইবে। কারিকায় ‘তাদাদ্যেন' এই অংশের ব্যাবৃত্তি প্রদর্শন করিবার জন্য কুন্তের সমীপ রূপ অর্থে উপকুম্ভ প্রভৃতি অব্যয়ীভাব সমাস তাদাত্ম্য সম্বন্ধে অন্বয়ের বােধক নহে। এই সন্দর্ভের অবতারণা করিয়াছেন। তাৎপর্য এই যে ‘উপকুম’ এই অব্যয়ীভাব সমাস সামীপরূপ উপপদার্থে নিরূপিতত্ব সম্বন্ধে কুম্ভ পদার্থের অন্বয়বােধজনক হইয়াছে, তাদা সম্বন্ধে নহে। কুম্ভের সামীপ্যও এখানে কুন্তসংঘােগি সংযুক্তাদি রূপ প্রতীয়মান হইবে। এখন আশঙ্কা হইতে পারে প্রকৃষ্টং বল’ এইরূপ অর্থে প্রবল এবং ‘অপকৃষ্টং দ্রব্যম্ এইরূপ অর্থে অপদ্রব্যম্ এই সকল উপসর্গ ঘটিত কর্মধারয় সমাস ক্রমিক নাময় ঘটিত না হওয়ায় কর্মধারয় সমাস লক্ষণের অব্যাপ্তি হইবে, কারণ নাম নিরূপণ প্রস্তাবে, প্র, পরা, প্রভৃতি উপসর্গের নামত্ব নিকৃত হইয়াছে। এই আশঙ্কার উত্তরে জগদীশ বলিতেছেন “প্ৰবলমপদ্রব্যম্‌” এই সকল কর্মধারয়সমাস সংগ্রহ করিবার জন্য কারিকাস্থ এবং বিবরণস্থ নাম পদের ধাতুভিন্নরূপ অর্থে অজহৎত্যাৰ্থলক্ষণা স্বীকার করিতে হইবে। এই অভিপ্রায়ে জগদীশ বলিয়াছেন “নামপদস্য ধাতুভিল্লোলকত্বাৎ”। ইহার উপরও আপত্তি হইতে পারে, যদি ধাতুভিন্নরূপ অর্থে নামপদের লক্ষণ। স্বীকার করা হয়, তাহা হইলে “ন্তোকনা স্তনভ্যা” এখানে দ্যোকপদের সহিত নপদের কর্মধারয় সমাস উপপন্ন হইতে পারে না। কারণ নম্র পদার্থের অন্তর্গত ধাত্বৰ্থ যে নমন্ তাহাতে স্তোক পদার্থের অন্বয়বােধ হইয়াছে। এই আশঙ্কা পরিহার করিবার জন্য জগদীশ বলিতেছেন, কর্মধারয় সমাস লক্ষণের অন্তর্গত নামপদটির সার্থক সামান্যরূপ অর্থে তাৎপর্য স্বীকৃত হইলেও ক্ষতি নাই। সুতরাং প্রাদি উপসর্গ বা নমনাদি ধাতু নাম না হইলেও নাম পদোপলক্ষিত সার্থক শব্দ হওয়ায় প্রবল স্তোকনা, ইত্যাদি কর্মধারয় সমাসে লক্ষণের অব্যাপ্তি হইবে না। এখন আশঙ্কা হইতে পারে যে, ‘সুপচতি ইত্যাদিস্থলে ধাত্বৰ্থ যে পাক, তাহাতে সুপদাৰ্থ শােভনদির তদাত্ম সম্বন্ধে অন্বয়বােধ হওয়ায় ‘শােভন পাক’ ইত্যাদি কর্মধারয় সমাসের ন্যায় ‘সুপচতি’ এখানে কর্মধারয় সমাস লক্ষণের অতিব্যাপ্তি হইবে না কেন? এই আশঙ্কার উত্তরে বলিতে হইবে যে, কর্মধারয় লক্ষণের বােধকাংশ পচতি ইত্যাদি অংশে থাকিলেও সমাস সামান্যের লক্ষণ না থাকায় অতিব্যাপ্তি হইবে না, কারণ, সমাসের বিশেষণে সর্বত্র সমাসত্বে সতি’ এই সত্যন্তদল অবশ্যই নিবেশ করিতে হইবে। ‘নীলম উৎপল ইত্যাদি বিগ্রহকে অতিব্যাপ্তিকারক ‘কমিক’ পদের সার্থক্য समासप्रकरणम् २९ প্রদর্শন করিবার জন্য ‘নীলমুৎপল ইত্যাদি তু' ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, নীল উৎপল এইরূপ সুবন্তু নীলপদের অব্যবহিতোত্তরবর্তী সুৰন্ত উৎপল পদটি সমানবিভক্তিক হওয়ায় অভেদ সম্বন্ধে অন্বয়বোধের ঘােগ্য হইলেও न বিভক্তির দ্বারা ‘নীলপদ ও ‘উৎপল’ পদ ব্যবহিত হওয়ায় ক্রমিক নহে। এখন প্রশ্ন হইতে পারে, গ্রন্থকার ‘ক্রমিক’ পদের দ্বারা কিরূপ অর্থ প্রতিপাদন করিতে চাহেন। যদি বলা হয়, যােত্তরত্বসম্বন্ধে উৎপলপদগত নীলপদবৈশিষ্ট্যই ক্রমিকত্ব, ইহা কিন্তু ঠিক হইবে না, কারণ, স্বাধিকরণক্ষণধ্বংসাধিকরণ ক্ষণবৃতিত্বৰূপ ষােত্তরত্বসম্বন্ধে নীলপদ বৈশিষ্ট্য, সুবাদি দ্বারা ব্যবহিত উৎপলপদেও থাকায় উক্ত বাক্যে তাদৃশ ক্রমিকত্ব বিবক্ষিত হইলেও অতিব্যাপ্তি হইবে। অতএব এই আপত্তির সমাধানকল্পে ব্যবহিততত্তত্ব সম্বন্ধে উত্তরপদগত নীলপদবিশিষ্টত্বরূপ ক্রমিকত্বই এখানে বিৰক্ষিত। সুতরাং সুদি বিভক্তির দ্বারা ব্যবধানস্থলে তাদৃশ ক্রমিকত্ব ‘নীলমুৎপল ইত্যাদি বাক্যে না থাকায় অতিব্যাপ্তি বারিত হইবে। ব্যবহিতোভরত্ব সম্বন্ধও এখানে-স্বাধিকরণক্ষণধ্বংসা- ধিকরণক্ষণধ্বংসনধিকরণত্বে সতি স্বাধিকরণক্ষণ ধ্বংসাধিকরণ যে ক্ষণ তদ বৃত্তিত্ব বুঝিতে হইবে। मूलम् यदि च, तादात्म्येन नीलादिनामार्थस्यान्वयबुद्धौ नीलादिनामोत्तर- नामोपस्थाप्यत्वं तन्त्रमतो न तत्राभेदसम्बन्धेन नीलादेरन्वयः, परन्तु विशेषणविमत्त्युपस्थापिते तादात्म्य एवाधेयत्वेन । नीलघटपटावित्यादौ च नीलपदव्यवहितेन घटपटेत्येवं द्वन्द्वात्मकनाम्नैवोपस्थापिते पटे नीलस्य तादात्म्येनान्वयान व्यभिचारः, 'स्तोकं पचति', 'धान्येन धनम्', 'प्रकृत्या पटुरित्यादावपि स्तोकादेन धात्वाद्यर्थे तादात्म्येनान्वयः, किन्तु द्वितीयाद्यर्थे तादात्म्य एवाधेयत्वेन इत्यादिकं विभाव्यते, तदा क्रमिकत्वमनुपादेयमेव । 'राजपुरुष' इत्यादिकन्तु तत् पुरुषो न पुरुष पूर्वपदलक्षितराजसम्बन्धिन- स्तादात्म्येनान्वयबोधकः समासविगृहयोस्तुल्यार्थकत्वहान्यापत्तेः, परन्तु राजसम्बन्धस्यैव, अतएव 'राजपुरुष' इत्यादौ पूर्वपदे षष्ठ्यर्थसम्बन्धे लक्षणेति मणिकदुक्कमपि सङ्गच्छते। यथा च नामार्थयोमेंदेनान्वयेऽपि न शब्दशक्तिप्रकाशिका पतिस्तथोपरिष्टाद्वक्ष्यते । किश्चिद्विशिष्टसुवर्थानवच्छिन्नस्यैव वा तादात्म्ये- नान्वयबोधकत्वमुक्तनिरुतौ निवेश्यम् । অনুবাদ যদি, তাদাত্ম সম্বন্ধে নীলাদিনামার্থপ্রকারক অন্বয় বুদ্ধির প্রতি নীলাদি নামের অব্যবহিতােত্তরবর্তী নামের দ্বারা উপস্থিতি বিষয়ত্বই নিয়ামক স্বীকৃত হইবে, অতএব ‘নীলমুৎপলম’ এখানে অভেদ সম্বন্ধে উৎপল পদার্থে নীলপদার্থের অন্বয়বােধ হইবে না, পরন্তু বিশেষণ বিভক্তির দ্বারা উপস্থাপিত তাদাত্মে আধেয়ত্ব সম্বন্ধে (বিশেষণ পদার্থের) অন্বয় স্বীকৃত হইবে, ‘নীলঘটপটে’ ইত্যাদি স্থলে নীলপদের অব্যবহিতােত্তরবর্তী ‘ঘটপট’ রূপদ্বন্দ্ব সমাসাত্মক নামের দ্বারা উপস্থাপিত পটপদার্থে নীলপদার্থের তাদাত্ম সম্বন্ধে অন্বয়বােধ (সম্ভবপর হওয়ায়) পূর্বোক্ত নিয়মে ব্যভিচার হইবে না। ‘স্তোকং পচতি’, ‘ধানে ধন, প্রকৃত্যা পটুঃ ইত্যাদিলেও ধাত্বর্থে স্তোকাদি পদার্থের তদাত্ম্য সম্বন্ধে অন্বয় স্বীকৃত নহে, কিন্তু দ্বিতীয়াদি বিভক্তির তাদাত্মারূপ অর্থে আধেয়ত্ব সম্বন্ধে স্তোকাদি পদার্থের অম্বয়ই ( অনুভবসিদ্ধ ) এইরূপ ভাবনা উপস্থিত হয়, তাহা হইলে কর্মধারয় সমাস লক্ষণের অন্তর্গত ক্রমিক পদটি পরিত্যাগ করাই সমীচীন হইবে । ‘রাজপুরুষ’ ইত্যাদি তৎপুরুষ সমাস কিন্তু পুরুষ পদার্থে পূর্বপদলক্ষিত রাজসম্বন্ধীর তদাত্ম সম্বন্ধে অম্বয়বােধক নহে। (কেন নহে তাহার যুক্তি প্রদর্শন করিতেছেন) কারণ তাহা হইলে সমাস ও বিগ্রহবাক্যে এতদুভয়ের সমানার্থকত্বহানির প্রসক্তি হইবে, পরন্তু (রাজপদলক্ষিত ) রাজ সম্বন্ধের পুরুষ পদার্থে ( অম্বয়বােধ ) স্বীকৃত হইবে, অতএব ‘রাজপুরুষ ইত্যাদিস্থলে পূর্বপদের (রাজপদের) ষষ্ঠী-বিভক্তির অর্থ যে সম্বন্ধ তাহাতে লক্ষণা’ এই মণিকারের উক্তিও সঙ্গত হইবে। নামার্থদ্বয়ের ভেদ সম্বন্ধে অন্বয়বােধ স্বীকৃত হইলেও কোন রূপ ক্ষতির সম্ভাবনা নাই ইহা পরবর্তী গ্রন্থে ব্যক্ত হইবে। অথবা উক্ত লক্ষণে কিঞ্চিদ্বিশিষ্ট সুবানবচ্ছিন্ন পদার্থের তদাত্ম সম্বন্ধে অম্বয়বােধকত্ব স্বতন্ত্র- ভাবে নিবেশ করিতে হইবে।

समासप्रकरणम् বিবৃতি বিশেষণ বিভক্তির অর্থ স্বীকৃতিমূলে নীলমুৎপল এই সকল বিগ্রহ বাক্যের অন্তর্গত নীলপদের অব্যবহিতােভরবর্তী তাদাত্মারূপ বিশেষণ বিভক্তির অর্থে বিশেষণ নীল পদার্থের আধেয়ত্ব সম্বন্ধে অন্বয়বােধ অঙ্গীকার করা হইবে, পরন্তু তাদাসম্বন্ধে উৎপল পদার্থে নীল পদার্থের অন্বয়বােধ স্বীকৃত হইবে না। সুতরাং কর্মধারয় লক্ষণে ক্রমিক পদটি ‘নমযুগে’র অংশে বিশেষণপদরূপে নিবেশ না করিলেও ‘নীলমুৎপল ইত্যাদি বিগ্রহবাক্যে কর্মধারয় লক্ষণের অতিব্যাপ্তি সম্ভাবিত নহে, কারণ উক্ত বিগ্রহবাক্য ‘নীলােৎপল এই সমাসের তুল্যার্থক নহে। এই অভিপ্রায়ে উক্ত সমাগলক্ষণের ঘটক ক্রমিকত্ব এই বিশেষণটি পরিহার করিবার জন্য যদি চ’ ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। ‘নীলমুৎপল ইত্যাদি বিগ্রহবাক্য হইতে তাদাত্ম্য সম্বন্ধে অর্থাৎ অভেদ সম্বন্ধে নীলাদি প্রকারক উৎপলাদি বিশেষ্যক অন্বয়বােধ বারণ করিবার জন্য অভেদ সম্বন্ধে নীলাদি প্রকারক উৎপলাদি বিশেষ্যক অন্বয়বােধের প্রযােজক কে হইবে তাহা প্রদর্শন করিবার জন্য গ্রন্থকার ‘তদানে নীলাদি নামার্থস্য ইত্যাদি গ্রন্থের উপস্থাপনা করিতেছেন, তাৎপর্য এই যে বিশেষ্যতা সম্বন্ধে তদত্মসম্বন্ধাবচ্ছিন্ন নীলাদি নামার্থগত প্রকারতার নিরূপক অন্বয়বুদ্ধির প্রতি নীলাদি নামের অব্যবহিতাের্তী নামজন্য মার্থের উপস্থিতি বিষয়তা সম্বন্ধে কারণ, এইরূপ কার্যকারণভাব কল্পনা করিবার ফলে নীলােৎ- পল এই কর্মধারয় সমাস স্থলে নীল পদের অব্যবহিতােত্তরবর্তী উৎপল পদার্থের উপস্থিতি বিষয়তা সম্বন্ধে উৎপল পদার্থে থাকায় সেখানে বিশেষ্যত সম্বন্ধে অভেদ- সম্বন্ধাবচ্ছিন্ন নীল পদার্থগত প্ৰকাতার নিরূপক অন্বয়বােধের উৎপত্তি হইতে পারিবে। ‘নীলমুৎপলম ইত্যাদি বিগ্রহ বাক্যের অন্তর্গত বিভক্তির দ্বারা উৎপল পদ ব্যবহিত হওয়ায় বিষয় সম্বন্ধে নীলাদি নামােত্তর নামজনিত নামার্থের উপস্থিতি বিষয়তা সম্বন্ধে উৎপল পদার্থে না থাকায় সেখানে বিশেষ্যতাসম্বন্ধে অতেদসম্বন্ধাবচ্ছিন্ন নীলাদিগত প্রকারতার নিরূপক অন্বয়বােধ উৎপন্ন হইবে না। যদি উক্ত কার্যকারণৰ কল্পনা করা না হয়, তাহা হইলে ‘ব্যে সরসিজম' ইত্যাদি স্থলেও ‘দ্রব্য’পদ ও ‘সসি’পদ এতদুভয়ের সমান বিভক্তিকত্ব নিবন্ধন অভেদ সম্বন্ধে অন্বয়বোধের আপত্তি হইবে। অতএব উক্ত আপত্তি ৰাৰণ করিবার জন্য অভেদ সম্বন্ধে অন্বয়বােধের প্রতি তাদৃশ নীলাদি নামের নামজনিত উপস্থিতিকে অবশ্যই কারণ কল্পনা করিতে হইবে। ‘অতাে ন ত ইত্যাদি সম্পর্ভের মাধ্যমে উক্ত কার্যকারণভাব কল্পনার ফল প্রদর্শন করিতেছেন, বিশেষ বিভক্তি দাঙ্গরূপ অর্থ স্বীকৃতি পক্ষে কিরূপ অম্বয়বােধ হইবে তাহ একশন করিবার জন্য প” ইত্যাদি গ্রহের অবতারণা করিতেছেন। অর্থাৎ অতেদরূপ তদাত্ম যাহা ‘নীল' এই নীল পদের পরবর্তী বিশেষণ বিভক্তির দ্বারা উপস্থাপিত হইয়াছে উক্ত তদাত্মাংশে বিশেষণীভুত নীলাদি নামাৰ্থে আধেয়ত্বসম্বন্ধে शब्दशक्तिप्रकाशिका অন্বয় হইবে এবং উক্ত তদাত্মস্বরূপ অভেদের রূপসম্বন্ধে বিশেষ্যীভূত উৎপল পদার্থে অয় স্বীকৃত হইবে। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে অভেদ সম্বন্ধে নীলাদি নামার্থ একারক অম্বয়বােধের প্রতি নীলাদি নামােতর নামার্থের উপস্থিতিকে কারণ স্বীকার করিলে নীলঘটপটো” এখানে পট’ পদার্থে নীলপদের অব্যবহিতােত্তর নামজনিত উপস্থিতি না থাকায় উক্ত স্থলে পট পদার্থে নীলপদার্থের অভেদসংসর্গে অম্বয়বােধের অনুপপত্তি নিবন্ধন উক্ত কার্যকারণভাব স্বীকৃত হইতে পারে না, এই আশঙ্কার সমাধানকল্পে উক্তস্থলে ব্যভিচার বারণ করিবার জন্য গ্রন্থকার ‘নীলঘটণটো চ' ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন, তাৎপর্য এই যে ঘটশ্চ পট ঘটপটে এইরূপ দ্বন্দ্ব সমাস নিম্পন্ন ঘটপট এই সমুদায় একটি নামরূপে স্বীকৃত হইবে। সুতরাং “নীলে চ ঘটপটো চেতি নীলঘটপটে এই কর্মধারয় সমাস নিষ্পন্ন ঘটপট এই উভয়ই একটি নাম হওয়ায় নীল পদোত্তর নামজনিত উপস্থিতির বিষয় নামার্থরূপে ঘটের ন্যায় পট ও গৃহীত হওয়ায় পটপদার্থেও নীল পদোত্তর নামজনিত নামার্থ বিষয়ক উপস্থিতিরূপ কারণ বিষয়সম্বন্ধে থাকায় পট পদার্থেও বিশেষ্যতাসম্বন্ধে অভেদ সংসর্গক নীলপ্রকারক অন্বয়বােধের উৎপত্তি হইতে পারিবে। সুতরাং ব্যতিরেক ব্যভিচার নিবন্ধন উক্ত কার্যকারণভাব ব্যাহত হইবে না। ইহার উপরেও আশঙ্কা হইতে পারে স্তোকং পচতি’, ‘ধানে ধন’, ‘প্রকৃত্য পটুঃ এই সকল স্থলে স্তোক পদার্থের পাক পদার্থে, ধান্য পদার্থের ধন পদার্থে, প্রকৃতি পদার্থের পটু পদার্থ পটুত্বে অভেদ সংসর্গে অন্বয়বােধের উপযােগী তৎ নামােত্তর নামজনিত নার্থের উপস্থিতিরূপ কারণ না থাকায় ব্যতিরেক ব্যতিচার হইবে না কেন? এই আশঙ্কার উত্তরে জগদীশ ‘স্তোক পচতি ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। গ্রন্থকারের বক্তব্য এই যে ‘স্তোক পচতি ইত্যাদি স্থলে তদাত্ম্যসম্বন্ধে স্তোকাদি প্রকারক পাকাদিবিশেষ্যক অন্বয়বােধ স্বীকৃত নহে। পরন্তু ঐ সকল স্থলে দ্বিতীয় এবং তৃতীয়া বিভক্তির অভেদরূপ অর্থই গৃহীত হইবে। সুতরাং স্তোকং পচতি’ এখানে স্তোকাভেদ প্রকারক পাকবিশেষ্যক, ‘ধানে ধন’ এখানে ধান্যাভেদ প্ৰকাৰক ধনবিশেষক এবং প্রকৃত্যা পটু’ এখানেও প্রকৃতাতে প্রকারক পটুতা বিশেষ্যক অন্বয়বােধই অঙ্গীকৃত হওয়ায় পূর্বোক্ত কার্যকারণ- ভাবের প্রতিকূল ব্যভিচার হইবে না। কারণ স্তোক' প্রভৃতি পদের পরবর্তী দ্বিতীয়া, তৃতীয় প্রভৃতি বিভক্তির অর্থ যে তদাত্ম তাহাতেই তোকাদি নামাৰ্থের আধেয়ত্ব সম্বন্ধে অন্বয় স্বীকৃত হইবে। পাকাদি পদার্থে স্তোকাদি পদার্থের অন্বয়বােধ নহে। উক্ত আলােচনার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রন্থকার সিদ্ধান্ত করিতেছেন “ইত্যাদিকং যদি বিভাব্যতে তদা ক্রমিকপদমনুপাদেয়মিতি”—অর্থাৎ উক্ত কার্যকারণভাব স্বীকৃতির ফলে ‘নীলম উৎপল ইত্যাদি বাক্যে যদি অতিব্যাপ্তির সম্ভাবনা না থাকে তাহা হইলে কর্মধারয় সমাগলক্ষণের অন্তর্গত ক্রমিক পদটি পরিত্যাগ করিয়াই কর্মধারয় সমাসের লক্ষণ করিতে হইবে। এক্ষণে আরও একটি আশঙ্কা হইতে পারে পুরুষ এই তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্গত রাজপদের রাজসম্বন্ধীরূপ অর্থে লক্ষণা স্বীকার করিয়া উক্ত সম্বন্ধীরূপ অর্থে অভেদসম্বন্ধে পুরুষ পদার্থে অন্বয় স্বীকার করিতে হইবে। কারণ নামার্থদ্বয়ের অভেদান্য समासप्रकरणम् সম্বন্ধে অয় অব্যুৎপন্ন। সুতরাং উক্ত তৎপুরুষ সমাসে কর্মধারয়লক্ষণের অতিব্যপ্তি অপরিহার্য, এই আশঙ্কায় সমাধানকল্পে জগদীশ বলিতেছেন-“রাজপুরুষ ইত্যাদিকন্তু ইত্যাদি। তাৎপর্য এই যে রাজপুরুষ ইত্যাদি স্থলে সমাসের ঘটক রাজপদার্থের রাজ- সম্বন্ধীরূপ অর্থে লক্ষণা স্বীকৃতি মুলে রাজপদার্থ যে রাজসম্বন্ধী তাহার অভেদ সম্বন্ধে অন্বয়বােধ স্বীকার করা যায় না। কারণ তাহা হইলে “জ্ঞ পুরুষ, রাজপুরুষ এই বিগ্রহবাক্য ও সমাসবাক্যের তুল্যার্থকত্ব সাত হয় না। অতএব ‘রাজ্ঞঃ পুরুষঃ এখানে যেরূপ ‘রাজসম্বন্ধবান পুরুষ এই প্রকার অন্বয়বোধ হইবে রাজপুরুষ এই সমাসস্থলেও তাদৃশ বােধের অনুরােধে রাজপদের রাজস্বত্বৰূপ অর্থে লক্ষণ। স্বীকার করিতে হইবে। এই মতটি মণিকারের উক্তির দ্বারা সমর্থন করিবার জন্য বলিতেছেন-“অতএব ইত্যাদি। অর্থাৎ এই মতটি স্বীকৃত হইলে মণিকার গয়েশ উপাধ্যায় যে বলিয়াছেন ‘রাজপুরুষ’ ইত্যাদিস্থলে পূর্ববর্তী রাজপদের পরবর্তী ষষ্ঠী বিভক্তির স্বত্বরূপ অর্থে লক্ষণা স্বীকৃত হইবে। এই উক্তিও সঙ্গত হইবে। এক্ষণে আপত্তি হইতে পারে যদি রাজপুরুষ ইত্যাদি স্থলে রাজপদের রাজসম্বন্ধে লক্ষণ। স্বীকৃত হয় তাহা হইলে নিপাতাতিরিক্ত নামায়ের অভেদাতিরিক্ত সম্বন্ধে অন্বয় অব্যুৎপন্ন এই ব্যুৎপত্তি ব্যাহত হইবে না কেন? এই আশঙ্কার উত্তরে গ্রন্থ কার বলিতেছেন, তৎপুরুষস্থলে ভেদ সম্বন্ধে অন্বয় স্বীকৃত হইলেও কোনওরূপ ক্ষতি হইবে না ইহা পরবর্তী গ্রন্থে প্রতিপাদন করা হইবে। অর্থাৎ তৎপুরুষ সমাসের অতিরিক্ত স্থলেই অভেদান সম্বন্ধে অন্বয় অবুৎপন্ন এইরূপ উক্ত ব্যুৎপত্তির সংকোচ করিয়া তৎপুরুষস্থলে ভেদ সম্বন্ধে অন্বয়বােধ স্বীকৃত হইবে। কল্পান্তর অনুসরণ করিয়া প্রকার বলিতেছেন, কিঞ্চিদ্বিশিষ্ট সুবর্ণানবচ্ছিন্নেতি-অর্থাৎ ক্রমিক নামদ্বয়ের একটি অর্থকে বিশিষ্টরূপে গ্রহণ করিয়া তাদাত্মাসম্বন্ধে কিঞ্চিদ্বিশিষ্ট সুবর্থের দ্বারা অবিশেষিত অপর নামাৰ্থ প্ৰকাক বোধের জনক তাদৃশ নামসমুদায়ত্বই কর্মধারয় সমাসের লক্ষণ পর্যবসিত হইবে। তৎপুরুষ সমাসস্থলে, ষষ্ঠী বিভক্তির অর্থ যে রাজনিরূপিত স্বত্বৰূপসম্বন্ধ তদবচ্ছিন্ন তাদাত্ম্য সম্বন্ধাবচ্ছিন্ন প্রকারক পুরুষবিশেষ্যক অবয়বােধের জনক হওয়ায় রাজপুরুষ এই তৎপুরুষে কর্মধারয় সমাস লক্ষণের অভিব্যাপ্তি হইবে না। मूलम् न चैवमपि पञ्चपुल्यादि-द्विगौ द्विगायं गच्छत इत्यादिस्थलीये द्वितयामिन्नगाग्यादिबोधकाव्ययीभावे चातिव्याप्तिस्तदन्यत्वेनापि विशेष- गोयत्वाद् , अत्र च, मानुषत्राह्मणो ब्रामणमानुष इत्याद्यपप्रयोगाविशेषण- विशेष्ययोर्यत्र मिथस्तादात्म्येन व्यभिचारस्तत्रैव कर्मधारयः साधुः ।

शब्दशक्तिप्रकाशिका प्रमेय इत्याधौ तु 'नरव शरीरम्', 'राहोः शिर' इत्यादाविव तादात्म्य- सम्बन्धार्थकषष्ठ्या तत्पुरुष एवेति वृद्धाः । অনুবাদ উক্ত রীতিতে কর্মধারয় সমাসলক্ষণ নিরূপিত হইলেও আশঙ্কা হইতে পারে পঞ্চপুলী প্রভৃতি দ্বিগু সমাসে এবং “দ্বিগাৰ্গং গচ্ছতা” ইত্যাদি স্থলীয় দ্বিতয়াদি হইতে অভিন্ন গাৰ্গ প্রভৃতির বােধক অব্যয়ীভাব সমাসেও (কর্মধারয় লক্ষণের ) অতিব্যাপ্তি হইবে। (এই আশঙ্কার উত্তরে জগদীশ বলিতেছেন) উক্ত অতিব্যাপ্তি বারণের জন্য তদ্ভিন্ন কর্মধারয় লক্ষণে বিশেষণ দিতে হইবে । এখানে, মানুষ ব্রাহ্মণ, ব্রাহ্মণ মানুষ ইত্যাদি অপপ্রয়ােগ বারণ করিবার জন্য যেখানে বিশেষ বিশেষণ তাদাত্ম সম্বন্ধে পরস্পরের ব্যভিচারী হইবে, তাদৃশ স্থলেই কর্মধারয়ের সাধুত্ব স্বীকৃত হইবে। প্রমেয়ধূম’ এই সকল স্থলে কিন্তু “নরের শরীর” (নর শরীর ) রাহুর শির (রাহেঃ শিরঃ) ইত্যাদি প্রয়ােগের ন্যায় তাদাত্ম সম্বন্ধ বােধক ষষ্ঠী বিভক্তির মাধ্যমে তৎপুরুষ সমাসই স্বীকৃত হইবে। বৃদ্ধগণ এইরূপ বলিয়া থাকেন। বিবৃতি পূর্বোক্ত রীতিতে অর্থাৎ ক্রমিক নামদ্বয়ের একটি নামার্থরূপ ধৰ্মীতে তাদা সম্বন্ধে কিঞ্চিঘিশিষ্ট সুবর্থের দ্বারা অবিশেষিত অপর নামাৰ্থ প্ৰকাৰক অন্বয়বােধজনক তাদৃশ নামসমুদায়ত্বরূপ কর্মধারয় সমাসের লক্ষণ পরিস্কৃত হইলেও আশঙ্কা হইতে পারে যে, ‘পঞ্চানাং পুলানাম্ এই অর্থে পঞ্চপুলী (পিষ্টক) এই দ্বিগু সমাসে ক্রমিক পঞ্চপুল নামদ্বয় পুল রূপ অর্থে, পঞ্চরূপ অর্থের তদাত্ম্য সম্বন্ধে অন্বয়বােধক হইয়াছে এবং ‘দৌ গার্গে। এই রূণ অর্থে দ্বিগাৰ্গ এইরূপ অব্যয়ীভাব সমাসে দ্বিপদটির দ্বিত্ব বিশিষ্টে লাক্ষণিক হওয়ায় দ্বিপদার্থের গার্গ্য পদার্থে তাদাত্ম্য সম্বন্ধে অন্বয়বােধজনক হওয়ায় পঞ্চপুলী এই দ্বিগু সমাসে এবং “ৰি গাৰ্গং গচ্ছত: এই বাক্যের অন্তর্গত দি গাৰ্গ এই অব্যয়ীভাব সমাসে উক্ত কর্ম- ধারয় সমাসের অতিব্যাপ্তি হইবে না কেন? এই আশঙ্কার পরিহার কল্পে গ্রন্থকার বলিতেছেন-উক্ত অতিব্যাপ্তি বারণ করিবার জন্য দ্বিগু এবং অব্যয়ীভাব সমাস ভিন্নস্বরূপ বিশেষণের দ্বারা উক্ত কর্মধারয় সমাসের লক্ষণ বিশেষিত করিতে হইবে। অতএব উক্ত সমাস বয়ের প্রথমটিতে দ্বিও ভিন্নত্ব এবং দ্বিতীয়টিতে ব্যয়ীভাব ভিয়ত্ব না থাকায় উক্ত সমাসদ্বয়ে লক্ষণের অতিব্যাপ্তি হইবে না। এখানে অপর একটি শঙ্কা উত্থাপন করিয়া প্রাচীন মত অনুসারে উক্ত শঙ্কার সমাধান করিতেছেন-শ। এই যে, মানুষব্রাহ্মণ, समासप्रकरणम् ‘ব্রাহ্মণ মানুষ’ এই সকল প্রয়ােগের সাধুত্ব স্বীকৃত না থাকায় এই সকল বাক্য প্রযুক্ত হইলে ইহাদিগকে অপপ্রয়ােগ বলা হইয়া থাকে, অথচ পয়ােগের অন্তর্গত ক্রমিক নামদ্বয় একটি নামাৰ্থে অপর নামাৰ্থের অভেদ সম্বন্ধে অন্বয়বােধের যােগ্য হওয়ায় মানুষ ব্রাহ্মণ ইত্যাদি বাক্যে কর্মধারয় সমাস লক্ষণের অতিব্যাপ্তি হইবে। এই আশঙ্কার উত্তরে প্রাচীন সম্প্রদায় বলেন, কর্মধারয় সমাস সেখানেই স্বীকৃত হইবে যেখানে সমাসের অন্তর্গত নামার্থ- দ্বয় তদাত্ম্য সম্বন্ধে পরস্পরের ব্যভিচারী হইবে। দৃষ্টান্তস্বরূপ ‘নীলােৎপল এই সকল সুলকে গ্রহণ করা যাইতে পারে। উক্ত সমাসের অন্তর্গত নীল পদার্থ তাদা দ্য সম্বন্ধে ঘট পট প্রভৃতিতে অবস্থিত থাকায় নীল পদার্থ তাদাত্ম সম্বন্ধে উৎপল পদার্থের ব্যভিচারী হইবে, আবার নীল ভিন্ন রক্তোৎপলে উৎপল পদার্থটি অভেদ সম্বন্ধে থাকায় উৎপল পদার্থও তাদাঝা সম্বন্ধে নীল পদার্থের ব্যভিচারী হইবে। অতএব বিশেষ এবং বিশেষণ তদাত্ম্য সম্বন্ধে পরস্পরের ব্যভিচারী হইলে কর্মধারয় সমাস হইবে। মানুষ ব্ৰাহ্মণ’, ‘ব্রাহ্মণ মানুষ’ এখানে কিন্তু মানুষ পদার্থ ব্রাহ্মণ পদার্থের তদাত্ম্য সম্বন্ধে ব্যভিচারী হইলেও ব্রাহ্মণ পদার্থ কিন্তু অভেদ সম্বন্ধে মানুষ পদার্থের ব্যভিচারী নহে, কারণ মানুষ ভিন্ন ব্রাহ্মণত্ব থাকিতে পারে না। অতএব “নীলোৎপল” ইত্যাদি স্কুলেই পরস্পর ব্যভিচার নিবন্ধন কর্মধারয় সমাসের সাধুত্ব স্বীকৃত হইবে, ব্রাহ্মণ মানুষ' ইত্যাদি স্থলে নহে, কারণ ব্রাহ্মণ ভিন্ন ক্ষত্রিয় প্রভৃতিতেও মনুষ্যত্ব অবস্থিত থাকায় তদন্তর্ভাবে তদাত্ম্য সম্বন্ধে ব্রাহ্মণের ব্যভিচার হইলেও মনুষ্য ভিন্ন ব্রাহ্মণত্ব না থাকায় ব্রাহ্মণ তদাত্ম্য সম্বন্ধে মানুষের ব্যভিচারী হইবে না। ইহার উপরে আশঙ্কা হইতে পারে তদাত্ম্য সম্বন্ধে বিশেষ্য ও বিশেষণের ব্যভিচার স্থলেই যদি কর্মধারয় সমাস স্বীকৃত হয় তাহা হইলে প্রমেয় ধুম এই সকল স্থলে কর্মধারয় লক্ষণের অব্যাপ্তি হইবে না কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে বলিতে হইবে দর্শিত স্কুলে প্রমেয় ধূম ব্যভিচারী হইলেও ধূম কিন্তু কখনই তদাত্ম্য সম্বন্ধে মেয়ের ব্যভিচারী হইবে না। এই আশঙ্কার উত্তরে প্রাচীন সম্প্রদায় বলেন ‘প্রমেয় ধূম: এখানে বিশেষ এবং বিশেষণ পরস্পবের ব্যভিচারী না হওয়ায় কর্মধারয় সমাস স্বীকৃত নহে। এখন প্রশ্ন হইবে যদি প্রমেয় ধূম এখানে কর্মধারয় সমাস স্বীকৃত না হয়, তাহা হইলে উহা কোন সমাস হইবে? এই প্রশ্নের উত্তরে প্রাচীন গণ বলেন, ‘নব শরীর এখানে নর শব্দের দ্বারা মনুষ্য শরীরেরই অবগতি হইয়া থাকে। রাহেঃ শিঃ, এখানেও রাহু পদের অর্থ শির ভিন্ন অন্য কিছু নহে। সুতরাং উক্ত স্থলয়ে ষষ্ঠী বিভক্তির ভেদরূপ সম্বন্ধ হইতে পারে না, কারণ নর ও শরীর, রাহু এবং শির পরস্পর অভিন্ন হওয়ায় রাজ্ঞ পুরুষ” ইত্যাদি স্কুলের নাম্ব ষষ্ঠী বিভক্তির ভেদ সম্বন্ধ কি করিয়া স্বীকৃত হইবে। অতএব ঐ সকল হলে যেরূপ ষষ্ঠী বিভক্তির অভেদরূপ অর্থ সর্বজন স্বীকৃত তদ্রুপ “প্রমেয় ধুঃ এইরূপ বিগ্ৰহৰাক্যানুসারে প্রমেয় ধূঃ এই সমাস তৎপুরুষরূপেই গণ্য হইবে। কর্মধারয় নহে। সুতরাং প্রমেয়ধুম এই সমাজ কর্মধারয় সমাসের লক্ষণের লক্ষ্য না হওয়ায় সেখানে লক্ষণের সমন্বয় না হওয়াই বাঞ্ছনীয়।

सम्वक्तिमकाधिका चन्दनतरु विन्ध्यगिरि वसन्त समय इत्यादि प्रयोगस्य प्रामाणिक- त्वात् विशेष्यस्यैव विशेषणव्यभिचारित्वं (अत्र ) कर्मधारये तन्त्रं न तु विशेषणस्याषि ताभिचारित्वम् । “पुरुषोत्तम इत्यत्र चोत्तमत्वं न नित्यज्ञानादिमन्चम्, किन्तु भ्रमविधुरत्वम् , अतएव तत्र पुरुषस्येव पुरुषेऽपि तस्य व्यभिचारसत्त्वादुत्तमपुरुष" इत्यादि कर्मधारयः साधुरिति না। অনুবাদ চন্দনতরু, বিন্ধ্যগিরি এবং বসন্ত সময় এই সকল প্রামাণিক প্রয়ােগের অনুরােধে (কর্মধারয় সমাসের অন্তর্গত) বিশেষ্য (পদার্থ ) গত বিশেষণ ( পদার্থের ) ব্যভিচারই কর্মধারয় সমাসের নিয়ামক হইবে, কিন্তু বিশেষণ পদার্থ- গত বিশেষ্য পদার্থের ব্যভিচার নহে, পুরুষােত্তম এখানে উত্তমত্ব নিত্যজ্ঞানাদির আশ্রয়াদিরূপ নহে পরন্তু ভ্ৰমশূন্যত্ব, অতএব সেখানে (উত্তম পদার্থে) পুরুষ পদার্থের ন্যায় পুরুষ পদার্থেও তাহার (উত্তম পদার্থের) ব্যভিচার রহিয়াছে বলিয়া উত্তম পুরুষ এইরূপ কর্মধারয় সমাস সমীচীন—ইহা নব্যমতে স্বীকৃত। বিবৃতি পূর্বোক্ত প্রাচীনমতে অৱস উদ্ভাবন পূর্বক নবীন সিদ্ধান্ত ব্যবস্থিত করিবার জন্য চন্দনত, বিন্ধাগিরি ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে যদি সমাসের অন্তর্গত বিশেষণ পদার্থ ও বিশেষ্য পদার্থ এতদুভয়ের তদাত্ম সম্বন্ধে পরস্পরের ব্যভিচার কর্মধারয় সমাসের নিয়ামকরূপে অঙ্গীকৃত হয় তাহা হইলে চনত, বিন্ধাগিরি, বসন্তসময় ইত্যাদি স্থলে বিশেষ তরু, গিরি, বা সময় তাদাত্মাসম্বন্ধে বিশেষণ যে চন্দন, বিন্ধ্য এবং বসন্ত যথাক্রমে ইহাদের ব্যভিচারী হইলেও চন্দন প্রভৃতি বিশেষণ পদার্থ কিন্তু তাদাত্ম সম্বন্ধে বিশেষ যে ত প্রভৃতি তাহাদের ব্যভিচারী নহে, অথচ ঐ সকল দলীয় কর্মধারয় সমাস প্রমাণসিদ্ধ হওয়ায় অবশ্য সাধু হইবে ইহা স্বীকার না করিয়া উপায় নাই। অত এব প্রাচীন সম্প্রদায় যে বলিয়াছেন বিশেষ্য ও বিশেষ তাদাত্ম্য সম্বন্ধে পরস্পরের ব্যভিচারী হইলে কর্মধারয় সমাস হইবে ইহা সঙ্গত নহে। ৩ समातमकरणम् “বিশেষগৈৰ এই যজ বিভক্তির আখেয়প অর্থ গ্রহণ করিতে হইবে। উক্ত আধেয়ত্ব অগ্রিম ব্যভিচারিত্ব পদার্থে পৰিত হইবে। ইহার ফলে বিশেগত বিশেষণের ব্যভিচারিত্বই এখানে কর্মধারয় সমাসের নিম্নমক হইবে। পরন্ত বিশেষণগত বিশেষের ব্যভিচারিত্ব নিয়ামক নহে। এখন আশঙ্কা হইতে পারে বিশেষ্যগত বিশেষণের ব্যভিচার যেরূপ কর্মধারয় সমাসের নিয়ামক স্বীকৃত হইয়াছে তপ লিবিশেষে বিশেষণগত বিশেষের ব্যভিচারও কর্মধারয় সমাসেরই নিয়ামক স্বীকার করিতে হইবে, তাহা না হইলে পুরুষােত্তম ইত্যাদি স্থলে বিশেষ বিশেষণের ব্যভিচারী না হওয়ায় কর্মধারয় সমাসের উপপত্তি হইতে পারে না। কারণ পুরুষােত্তম” এখানে পুরুষ পদটির যদি পুং বিশিষ্টরূপ অর্থ স্বীকৃত হয়, তাহা হইলে নিত্যজ্ঞানাদি বিশিষ্টরূপ উত্তম পদটিও পুংবের আশ্রয় না হওয়ায় পুরুষপদার্থ তদাত্ম্যসম্বন্ধে উত্তম পদার্থে অতি না হওয়ার ফলে উক্ত সমাস কর্মধারয় হইতে পারিবে না। যদি পুংত্বৰূপ পুরুষত্ব স্বীকার না করিয়া আত্মত্ব জাতিবিশিষ্ট পুরুষপদার্থ স্বীকৃত হয়, তাহা হইলেও সুখদুঃখাদি সমায়ি কাণতার অচ্ছেদক রূপে সিদ্ধ আত্মত্বজাতি উত্তমপদার্থ পরমেশ্বরে না থাকায় তাদাত্ম সম্বন্ধে পুরুষপদার্থে উত্তমপদার্থের অন্বয় সম্ভবপর নহে। যদি পরমাত্মারূপ গুরুষপদার্থ স্বীকৃত হয় তাহাও সঙ্গত নহে, কারণ উত্তমপদার্থ পরমাত্মাম্বরূপ হওয়ায় উখেতাবচ্ছেদক ও বিধেয়তাবচ্ছেদক ধর্ম এক হওয়ায় উত্তমপদার্থে পুরুষপদার্থের অভেদান্বয় সম্ভবপর নহে। এই সকল সমস্যা সমাধান করিবার জন্য গ্রন্থকার “পুরুষোত্তম” ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, পুরুষপদের পূর্বোক্ত পরমাত্মত্ব, নিত্যজ্ঞানরূপ অর্থ স্বীকার করিলে কর্মধারয় সমাসের অনুপপত্তি হইবে, ইহা ঠিক, কিন্তু বাস্তবিকপক্ষে ‘পুরুষােত্তম’ এখানে উত্তম পদার্থটি নিত্যজ্ঞানাশ্ৰয়ত্বরূপে উপস্থাপিত হইবে না, পরন্তু ভ্ৰমশূন্যত্বরূপে গৃহীত হইবে। ইহার ফলে পুং বা স্ত্রীনপুংসকত্ব শুষ্যত্ব অথবা ধ্বংস শূত্ব প্রভৃতি যে কোনরূপে উপস্থাপিত হউক না কেন বিশ্যেপদার্থটি বিশেষণ পদার্থের ব্যভিচারী হওয়ায় কর্মধারয় সমাসের উপপত্তি হইবে। পুরুষােত্তম’ এখানে উত্তমপদের ভ্রমশূন্যত্বরূপ অর্থ স্বীকৃতির পর একটি প্রয়ােজন প্রদর্শন করিবার জন্য অতএব ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে পুরুষােত্তম এই কর্মধারয় সমাসের ন্যায় উত্তমপুৰুৰ এখানে পূর্বোক্ত বিশেষ বিশেষণ ভাবের বৈপরীত্য ঘটিলেও উত্তমপদার্থে ভ্রমশূন্যত্বরূপ অর্থ গৃহীত হওয়ায় উত্তমপদার্থ যেরূপ পুরুষপদার্থের ব্যভিচারী হইবে তদ্রুপ পুরুষপদার্থও ভ্রান্তপুরুষ অন্তুর্ভাবে উত্তমপদার্থের ব্যভিচারী হওয়ায় ‘উত্তম পুরুষ এইরূপ কর্মধারয় সমাস প্রমাণসিদ্ধ হইবে। কাতন্ত্র পরিশিষ্টকাৰ উত্তমপুরুষ” ও “পুরুষােম এই বিবিধ কর্মধারয় সমাস অঙ্গীকার করিতেছেন। ।

शब्दशक्तिप्रकाशिका मूलम् तदाधु त्तरपदकः कर्मधारयः प्रायशो नेष्यते, नीलतदस्तीत्पादितो जात्वपि नीलोत्पलादेरस्तित्वाद्यप्रतीतेः । पक्कयद्भोजनं रम्यमामतद्भोजनं वृथा । नीलयद्रस आस्वाध कटुतद्रू- पमीक्ष्यते ॥ इत्यादिप्रयोगात् कचिदिष्यतेऽपि, प्रयुक्तन्तु जुमरनन्दिना परमः स इत्याद्यर्थे "परमसः" परमतावित्यादि । तत्पुरुषोऽप्येतेन व्याख्यातः ॥ অনুবাদ ‘তৎ প্রভৃতিকে উত্তর পদ রূপে গ্রহণ করিয়া কর্মধারয় সমাস প্রায়শঃ অভীষ্ট নহে, (কারণ) নীলতদন্তি ইত্যাদি বাক্য হইতে কখনও নীলােৎপল প্রভৃতিতে অস্তিত্বাদি প্রতীয়মান হয় না। পক যে ব্যঞ্জন তাহার ভােজন রমণীয়, অপৰু সেই ব্যঞ্জনের ভােজন বৃথা (নীল যদ্রস আস্বাদ্য )। নীলা ভিন্ন যে রস আস্বাদ যােগ্য (কটু তদ্রুপমীক্ষতে) কটু হইতে অভিন্ন সেই রূপ দর্শন করিতেছে, এই সকল (প্রামাণিক) প্রয়ােগ বশতঃ স্থল বিশেষে (তৎ, যৎ, প্রভৃতি) উত্তর পদের সহিত কর্মধারয় সমাস কদাচিৎ অভিপ্রেত হইয়া থাকে । শাব্দিক জুমরনন্দী পরমঃ স এই সকল অর্থে পরমসঃ পরমতো ইত্যাদি প্রয়োগ করিয়াছেন, ইহার দ্বারা তৎপুরুষও ব্যাখ্যাত হইল। বিবৃতি যদঘট, তদঘটঃ প্রভৃতিস্থলে যৎ তৎ প্রভৃতিকে পূর্বপদরূপে গ্রহণ করিয়া কর্মধারয় সমাস সর্ববাদীসম্মত। এইজন্য সমাসের উত্তরপদরূপে যৎ তৎ প্রভৃতি পদকে ব্যাবৃত্ত করিবার জন্য তদাত্তরপদক কর্মধারয় ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। ‘নেতে এখানে ‘বুধৈঃ এই কর্তৃপদ পূরণ করিতে হইবে। কেন পণ্ডিতগণ যৎ তৎ ইত্যাদি উত্তরপদকে অবলম্বন করিয়া কর্মধারয় সমাস স্বীকার করেন না তাহা ‘নীলতদন্তি ইত্যাদি সন্দর্ভে দ্বারা প্রতিপাদন করিতেছেন। তাৎপর্য এই, নীল তক্ষেতি এইরূপ অর্থে ‘নীলতদন্তি এইরূপ এবং নীলফ যচ্চেতি এইরূপ অর্থে নীলষদন্তি এইসকল বাক্য হইতে সমাসের অন্তর্গত যৎ ও তৎপদের দ্বারা পূর্বোপস্থাপিত উৎপলকে গ্রহণ করিয়া নীলাভিন্ন উৎপল বিশেক অস্তিত্ব একারক অবয়বােধ কখনও হয়না। অতএব উক্তমূলে কর্মধায়ের समासप्रकरणम् লক্ষণ সঙ্গত না হওয়ায় তৎ সৎ প্রভৃতি উত্তরপদ গৃহীত হইলে তাদৃশ বাক্য কর্মধারয় সমাসের লক্ষ্য নহে। প্রায়শ নেযুতে এই প্রায়শ পদটির বাবৃত্তি প্রদর্শন করিবার এ “ পভোজনং রম্য ইত্যাদি কারিকাটির অবতারণা করিতেছেন। পঞ্চ তৎ যচ্চেতি এইরূপ অর্থে পক যৎ এইরূপ কর্মধারয় সমাস হওয়ায় পরে পক যন্য ভােজনম্ ‘পক যভোজনম্ এইরূপ তৎপুরুষ সমাস হওয়ায় উক্ত বাক্যটি কর্মধারয়গর্ভ তৎপুরুষ সমাস হওয়ায় ফলে পক যে বস্তু তাহার ভােজন রমণীয় এইরূপ অর্থে উক্ত সমাজ স্বীকৃত হয়। এইরূপ যৎ পদঘটিত কর্মধারয় সমাস প্রদর্শন করিবার পর তৎ পদকে উত্তর পদরূপে গ্রহণ করিয়া কর্মধারয় সমাসের সাধুত্ব প্রতিপাদন করিতেছেন, ‘আমতঞ্জনং বৃথা এখানে আম শব্দটি অপরূপ অর্থাৎ কাচ। এই অর্থে গ্রহণ করা হইয়াছে। আমঞ্চ তচ্চেতি অর্থে ‘আম তৎ' এইরূপ কর্মধারয় সমাস নিষ্পন্ন হওয়ার পরে অপৰু তদস্তুর ভােজন (আমাভিম্নস্য তস্য ব্যঞ্জনস্য ভােজনম্ ) এইরূপ অর্থে কর্মধারয় গর্ভ তৎপুরুষ স্বীকৃত হয়। কেবলমাত্র যথার্থ বােধকরূপে যে তাদৃশ যৎ, তৎ পদঘটিত সমাস স্বীকৃত হয় তাহা নহে ভ্রমাত্মক অন্বয়বোধের জনক নীলঞ্চ তৎ যচ্চেতি এইরূপ অর্থে নীলষৎ এবং কটু চ তৎ তচ্চেতি এইরূপ অর্থে কটু তৎ এই আকারের কর্মধারয় সমাস হওয়ার পরে নীলতৎ পদের সহিত রূপপদের এবং কটু তৎপদের সহিত বপদের কর্মধারয় সমাস স্বীকৃত হইয়াছে। উক্ত সমস্ত বাক্যদ্বয় যথাক্রমে নীলাভিন্ন যৎপদার্থের অভেদান্বয়ের এবং কটু তৎপদার্থের অভেদান্বয়ের বোধক হইয়াছে। বাস্তবিক পক্ষে কর্মধারয়ের পরে পুনর্বার কর্মধারয়ের সাধুত্ব স্বীকৃত নহে। অতএব নীল যৎ এবং কটু তৎ এইরূপ কর্মধারয় সমাস হওয়ায় পরে ‘নীলাভিন্ন যস্য রস’ এইরূপ অর্থে নীলষস এইরূপ এবং কটুপদের সঙ্গে তৎপদের কর্মধারয় নিষ্পন্ন কটু তৎপদের সহিত রূপ পদের ‘কটুত রূপ এই অর্থে তৎপুরুষ সমাস স্বীকৃত হওয়াই সমীচীন। ইহার ফলে নীল য স আদ্য ইত্যাদি কারিকার দ্বিতীয়ার্ধে উল্লিখিত সমস্ত বাকায় ও যথার্থ অন্বয়বােধের জনক হইতে পারে। কারণ, নীলাভিন্ন বস্তু বিশেষের রস আস্বাদন যােগ্য হইতে পারে এবং কটু দ্রব্য বিশেষের রূপও দর্শনযােগ্য হওয়ায় উক্ত সমাস ঘটিত ‘নীলযদ্রস আস্বাদ্য’, ‘কটু তদ্রুপমীক্ষাতে এই বাক্যদ্বয়জনিত অন্বয়বােধ যথার্থই হইবে। গ্রন্থকার পূর্বোক্ত মদ পদঘটিত কর্মধারয় সমাসের প্রামাণিকত্ব সমর্থন করিবার জন্য অতি প্রাচীন শাব্দিক জুমনী কথিত প্রয়ােগ প্রদর্শন করিবার জন্য প্রযুক্ত ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। জুমনন্দী বলিয়াছেন “পমশ্চাসৌ স চেতি” এইরূপ অর্থে ‘পরমস' এবং পরমৌ চ তো চেতি’ এইরূপ অর্থে পরমতো ইত্যাদি সমাসলে তৎপদকে উত্তর পদরূপে গ্রহণ করিয়াছেন। অতএব প্রামাণিক এয়ােগস্থলে কর্মধারয় সমাসের পরবর্তী বৎ তৎ পদকে গ্রহণ করিয়া কর্মধারয় সমাস স্বীকৃত হইবে। ইহাই গ্রন্থকার প্রায়শঃ এই পদের দ্বারা সূচনা করিয়াছেন। হলবিশেষে যৎ তৎ পদকে উত্তর পদরূপে গ্রহণ করিয়া প্রামাণিক প্রয়ােগস্থলে তৎপুরুষ সমাসও স্বীকৃত হইবে এই অভিপ্রায়েই গ্রন্থকার বলিয়াছেন “তৎপুরুষােৰপেতেন ব্যাখ্যাত, অর্থাৎ পাদপদ্মং শিৰা शब्दशक्तिप्रकाशिका যদ্ধি বিধ্বতং শম্ভু দ হৃদি এই সকল প্রামাণিক প্রয়ােগস্থলে শিৰা’ পদের সহিত যৎ পদের, শম্ভু পদের সহিত তৎপদের তৎপুরুষ সমাস অঙ্গীকৃত হইবে। मूलम् ननु विशेष्यतया नामार्थप्रकारकान्वयबुद्धिमात्र प्रत्येव नामोत्तर- विमक्युपस्थाप्यत्वं तन्त्रं न तु तादात्म्यसम्बन्धानवच्छिन्न-तत्प्रकारकवुद्धि प्रति गौरवात् , अतो नामार्थयोनोंलोत्पलयोरन्वयासम्भवात् कर्मधारया- दिक समासो न यौगिक किन्तु नीलोत्पलत्वादिविशिष्टे रूढ़ एव, तदुकं भव हरिणा- अबुधान् प्रत्युपायाश्च विहिताः प्रतिपत्तये । शब्दान्तरत्वादत्यन्तं भेदो वाक्यसमासयोः ॥ इति वैयाकरणाः ॥ অনুবাদ সমসশক্তিবাদী পতঞ্জলির মত খণ্ডন করিবার জন্য আশঙ্কা করিতেছেন--- বিশেষ্যতা সম্বন্ধে নামার্থক প্রকারক অন্বয়বােধ মাত্রের প্রতি উক্ত নামের অব্য- বহিতােত্তরবর্তী বিভক্তির দ্বারা উপস্থিতি বিষয়ত্ব কারণ। পরন্তু অভেদ সম্বন্ধান- বচ্ছিন্ন নামার্থ প্রকারক বােধমাত্রের প্রতি তাদৃশ বিভক্তিজনিত উপস্থিতি বিষয়ত্ব কারণ নহে (ঈদৃশ কার্যকারণভাব কল্পিত হইলে) গৌরব হইবে। অতএব সমাসের অন্তর্গত নীল পদার্থ এবং উৎপল পদার্থ এতদুভয়ের অন্বয়বােধ সম্ভবপর নহে বলিয়া কর্মধারয় প্রভৃতি সমাস যৌগিক নহে কিন্তু নীলােৎপলদিরিশিষ্ট রূপ সমুদায়ে শক্তি কল্পিত হওয়ায় নীলােৎপল প্রভৃতি সমাস রূঢ় নামরূপেই গণ্য হইবে। এই সিদ্ধান্ত অনুসারেই ভর্তৃহরিও বলিয়াছেন—অবােধগণের প্রতি, বােধের অনুকুল উপায়সমূহ (মৎকর্তৃক) পূর্বে অভিহিত হইয়াছে। বিগ্রহ বাক্য হইতে সমাস যেহেতু শব্দান্তর অতএব বাক্য ও সমাস এতদুভয়ের আত্যন্তিক ভেদ স্বীকার করিতে হইবে।

समासप्रकरणम् । বিবৃতি ‘না’ ইত্যাদি সর্ডের মাধ্যমে সমাসক্তিবাদী মহাভাষ্যকার পতঞ্জলির মত আশঙ্কা করিতেছেন-‘বিশেষ্যতয়া অর্থাৎ বিশেন্যতা সম্বন্ধে, তাৎপর্য এই যে মহাভাষ্যকারের মতে বিশেষতা সম্বন্ধে যে কোন নামার্থপ্ৰকাৰক অৱয়বােধমাত্রেই স্বরূপ সশ্বন্ধে উক্ত নামের অব্যবহিতােত্তরবতী বিভক্তি প্রযােজ্য উপস্থিতিবিষয়ত্ব কারণ। এইরূপ কার্যকারণভাৰ কল্পিত হইয়া থাকে, কিন্তু বিশেষতাসম্বন্ধে তাদাসম্বন্ধানৰচ্ছিন্ন নামার্থকারক অয়- বুদ্ধির প্রতি উক্ত স্বরূপ সম্বন্ধে তাদৃশ নামের অব্যবহিতােত্তরবর্তী বিভক্তি প্রযােজ্য উপস্থিতিবিষয়ত্ব কারণ নহে। কেন কারণ নহে?' এই জিজ্ঞাসার উত্তরে বলিতেছেন ‘গৌরবাৎ'। সমাসশক্তিবাদিগণের বক্তব্য এই যে-নামার্থপ্ৰকাৰক অন্বয়বােধগত কার্যতার অবচ্ছেদ কোটিতে প্রকারাংশে যদি তদাত্মাসম্বন্ধানবচ্ছিন্নত্ব নিবেশ করা হয়, তাহা হইলে উক্ত নিবেশনিবন্ধন তাদৃশ কার্যকারণভাব গৌরবগ্রস্ত হইবে, তদপেক্ষায় সমাসশক্তি- বাপিগণের কল্পিত পূর্বপ্রদর্শিত কার্যকারণভাব কল্পিত হইলে কার্যতার অবচ্ছেদক কোটিতে একাতংশে তাদাসম্বন্ধানবচ্ছিন্নত্বের নিবেশ না থাকায় অবশ্যই লাঘব হইবে এখন আশঙ্কা কইতে পারে বৈয়াকরণসম্মত পূর্বোক্ত কার্যকারণভাব কল্পিত হইলে ‘নীলােৎপলম’ এই সমাসস্থলে পূর্বোক্ত কারণ না থাকিলেও অর্থাৎ বিভক্তি জন্য উপস্থিতি বিষয়ত্বরূপ কারণ না থাকা সত্ত্বেও উৎপলপদার্থে নীলরূপ নামার্থপ্রকারক অন্বয়বােধ উৎপন্ন হওয়ায় ব্যতিরেক ব্যভিচার দোষ নিবন্ধন তাদৃশ কার্যকারণভাৰ কল্পনা করা সভবপর অতএব তদাত্মাসম্বন্ধানবচ্ছিন্নত্ব কার্যতাবছেদক কোটি প্রবিষ্ট প্ৰকাতাতে নিবেশ নিবন্ধন উক্ত গৌরব ফলমুখ অর্থাৎ কার্যকারণভাবের অনুকুল হওয়ায় দূষণীয় নহে। এই আশঙ্কার সমাধানকল্পে ‘অতো নামার্থয়াে' ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, নীলােৎপল ইত্যাদি স্থলে সমাসের অন্তর্গত উৎপল পদার্থে নীল পদার্থের অভেদসম্বন্ধে অবয়বােধের সম্ভাবনা না থাকায় সমাসস্থলে কল্পিত তাদৃশ কার্যকারণভাবের প্রতিকুল ব্যভিচার সম্ভাবনা না থাকায় উক্ত গৌরবদোষ কার্যকারণ- ভাবের অনুকূল নহে বলিয়া অবশ্যই দূষণীয় হইবে। বৈয়াকরণমতের উপসংহারে তাহাদের সিদ্ধান্ত বিবৃত করিতেছেন কর্মধারয়াদিক সমাসে ন যৌগিক ইত্যাদি। অর্থাৎ নীলােৎপল ইত্যাদি সমাস পাচক, পাঠক প্রভৃতির ন্যায় যৌগিক শব্দ নহে; পরন্তু গো, ঘটাদি পদের ন্যায় রূঢ় হইবে। তাৎপর্য এই যে, গো ঘটাদি পদকে যেরূপ গোবছিয়ে বা ঘটত্বাবছিয়ে সঙ্কেত বিশিষ্ট হওয়ায় রূ নামরূপে গণ্য করা হয়, তদ্রুপ নীলােৎপল ইত্যাদি সমাসলে নীলােৎপল’ পদটিও নীলােৎপলত্বৰূপ উপাধিবিশেষাবছিয়ে সঙ্কেত বিশিষ্ট হওয়ায় ক নামরূপে পর্যবসিত হইবে, যৌগিক নহে। ইহাই পতঞ্জলির অভিপ্রায়। তহৰি উক্তি উতিমূলে উক্ত বৈয়াকরণ মত সমর্থন করিবার জয় বলিতেছেন নহে।

४२ शब्दशक्तिप्रकाशिका ‘দু ভর্তৃহরিণা ইত্যাদি। অবুধান প্রত্যুপায়া ইত্যাদি—যাহারা অৰােধ তাহাদের প্রতিপত্তির অর্থাৎ বিশিষ্টজ্ঞানের অনুকূল উপায়সমূহ মৎকর্তৃক পূর্ব পূর্ব গ্রন্থে বিহিত হইয়াছে ইহাই পূর্বাধের অভিপ্রেতার্থ, উক্ত কারিকার দ্বিতীয়ার্ধে পতঞ্জলির সিদ্ধান্ত যে সমাস এবং বিগ্রহবাক্য অত্যন্ত ভিন্ন ইহা সমর্থন করিয়া সমাপশক্তি ব্যবস্থিত করিতেছেন ‘শব্দান্তরহাৎ’ ইতি। তাৎপর্য এই যে যেহেতু নীলােৎপল প্রভৃতি সমাস ‘নীল উৎপলম্' এই বাক্যরূপ শব্দ হইতে শান্তর অতএব সমাস এবং ব্যাসবাক্য এতদুভয়ের মধ্যে আত্যন্তিক ভেদ অর্থাৎ বৈলক্ষণ্য অবশ্যই স্বীকার করিতে হইবে। मूलम् तन्मन्दम् , नीलोत्पलमित्यादौ समुदाये रूज्यप्रतिसन्धानेऽपि नीला- दिप्रत्येकपदोपस्थित्या तयोस्तादात्म्येनान्वयबोधस्यानुभविकत्वेन गौरवस्य प्रामाणिकत्वात् , अन्यथा नामार्थस्यान्वयबोधसामान्यं प्रत्येव नामोत्तर- नामोपस्थाप्यत्वं तन्त्रमुररीकृत्य 'नीलमानयेत्यादौ नामार्थसुवर्थयोर्नान्वय- बोधः, परन्तु सुवन्तभागस्य नीलविशिष्ट कर्मत्वादौ रूढिरेवेत्यपि किन्न न च समासस्याशक्तत्वे 'नीलो द्रव्यञ्च घट' इत्यादाविव 'नील घटो द्रव्यामि'त्यादावपि घटे धर्मिण्येकत्र द्वयमिति न्यायेन नील- द्रव्ययोस्तादात्म्येनान्वयापत्तिरिति वाच्यम् । नामार्थस्य मुख्य विशेष्यताक इव तादात्म्यावच्छिन्न विधेयताकेऽपि बोधे नाम्नः प्रथमान्तत्वस्य तन्त्रत्वात् । विधेयत्वन्तु विषयतावच्छेदकत्वान्यप्रकारत्वं प्रकारताभेदो वेत्यन्यदेतत् , 'पटमित्यादौ तु कर्मत्वादौ पटादि न तादात्म्येन विधेय इति न तत्र व्यभिचारः। रोचयेः। অনুবাদ উক্ত বৈয়াকরণ মত সমীচীন নহে। নীলােৎপল ইত্যাদি সমাসস্থলে সমুদায় শক্তিরূপ রূঢ়ি নিশ্চয় না থাকাকালেও নীল প্রভৃতি প্রত্যেক পদার্থের উপস্থিতি মূলে উৎপল পদার্থে নীলপদার্থের অন্বয়বােধ অনুভবসিদ্ধ হওয়ায় समासप्रकरणम् (পুর্বোক্ত কার্যকারণ ভাবের) গৌরব প্রমাণসিদ্ধ হওয়ায় দূষণীয় নহে। যদি ইহা স্বীকৃত না হয় তাহা হইলে নামার্থপ্রকারক অন্বয়বােধ সামান্যের প্রতিও নামের অব্যবহিতােত্তর নামজনিত উপস্থিতি বিষয়ত্বের কারণত্ব অঙ্গীকার করা যাইতে পারে। ইহার ফলে ‘নীলমানয়’ ইত্যাদিস্থলে সুবর্থে নামাৰ্থের অন্বয়- বােধ হইবে না, পরন্ত (নীলম্ এইসুবন্তভাগের নীলবিশিষ্ট কর্মত্ব প্রভৃতিরূপ অর্থে রূঢ়ি স্বীকৃত হইবে না কেন? সমাসশক্তিবাদিগণ আশঙ্কা করিতে পারেন, সমাসে শক্তি স্বীকৃত না হইলে নীলদ্ৰব্যবিশিষ্ট ঘট ইত্যাদিহুলের ন্যায় নীলে। ঘটো দ্রব্যম্' ইত্যাদিস্থলেও ঘটরূপধর্মীতে ‘একত্র বয়মিতি’ রীতি অনুসারে নীল এবং দ্রব্য এতদুভয়ের তদাত্ম সম্বন্ধে অন্বয়বােধের আপত্তি হইবে। এই আশঙ্কা সমীচীন হে, (কারণ) নামার্থ মুখ্যবিশেষক (বােধের ন্যায়) তদাত্মাসম্বন্ধাবচ্ছিন্ন নামার্থ বিধেয়ক অন্বয়বােধের প্রতিও প্রথমান্ত নামপদজনিত উপস্থিতিবিষয়ত্ব কারণ, (এখানে) বিধেয়ত্ব কিন্তু বিষয়বচ্ছেদকত্ব ভিন্ন প্রকারত্ব অথবা প্রকার- বিশেষরূপ ইহার যে কোন একটি স্বীকৃত হইবে। “পট ইত্যাদিস্থলে কিন্তু কর্মাদ্যংণে পট তদাত্মাসম্বন্ধে বিধেয় নহে, অতএব উক্তস্থলে ব্যভিচার হইবে না। বিবৃতি ‘তম্মম’ ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে সমাপশক্তিবাদী বৈয়াকরণমত খণ্ডন করিতেছেন। বৈয়াকরণগণ ন্যায়মতসিদ্ধ কার্যকারণভাবের যে গৌরবদোষ প্রদর্শন করিয়াছেন উক্ত গৌৰদোষ কার্যকারণভাবের অনুকুল, অতএব উক্ত গৌরবদোষ দূষণীয় নহে। এই অভিপ্রায়ে ‘নীলােৎপলমিত্যাদৌ' ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, ‘নীল উৎপল এইরূপ অসমস্ত বাক্য হইতে প্রথমান্ত উৎপল পদার্থে অভেদসম্বন্ধে নীলপদার্থপ্রকারক অন্বয়বােধ যেপ অনুভবসিদ্ধ তদ্রুপ ‘নীলোৎপল ইত্যাদি সমাসবদ্ধ সমূদায়ে সমুদায়শক্তিরূপ রূঢ়ির নিশ্চয় যখন থাকিবে না তখন নীলােৎপল এই সমাসের অন্তর্গত প্রত্যেক পদের শক্তি বা লক্ষণ। রূপ বৃত্তির দ্বারা উপস্থাপিত নীলপদার্থ এবং উৎপল পদার্থ এতদুভয়ের বিশেষবিশেষণভাবে অন্বয়বোধ অনুভবসিদ্ধ হওয়ায় উক্ত অন্বয়বােধের অনুরােধে বিশেষতাসম্বন্ধে তাদাসম্বন্ধানবচ্ছিন্ন নামর্থপ্রকায়ক অম্বয়বুদ্ধির প্রতি নামােত্তর নামজনিত উপস্থিতি বিষয়ত্বকে অবশ্যই কারণ কল্পনা করিতে হইবে। সুতরাং কার্যতাবচ্ছেদকের গৌরব প্রামাণিক হওয়ায় বৈয়াকরণগণ যে গৌরবদোষের আশঙ্কা করিয়াছেন, উক্ত গৌরব উপদর্শিত কার্যকারণভাবের অনুকুল হওয়ায় প্রামাণিক বলিয়া দূষণীয় নহে। যদি কার্যকারণভাবের অনুকুল গৌরব বৈয়াকরণসম্প্রদায় প্রামাণিক বলিয়া স্বীকার না করেন, তাহা হইলে বৈয়াকরণসম্প্রদায় যেরূপ বিশেষতাসম্বন্ধে নামার্থপ্রকারক অষয়- সিলিকা বােধের প্রতি নামের উত্তরণবতিবিভক্তিজনিত অর্থের উপস্থিতিবিষয়ত্বকে কারণ কল্পনা করেন, প্রতিবন্ধিরূপে নৈয়ায়িক সম্প্রদায়ও বিশেষতাসম্বন্ধে নামার্থকারক জয়বােধের প্রতি নামোত্তরবতিনামজনিত পদার্থেপস্থিতি বিষয়ত্বকে কারণ কল্পনা করিতে পারেন এবং নীলনয় ইত্যাদিস্থলে নীলরূপ নামাৰ্থের আধেয়ত্বসম্বন্ধে দ্বিতীয়া বিভক্তির অর্থ কমত্বে অম্বয়বােধ স্বীকার না করিয়া দ্বিতীয় বিভক্ত্যত নীল পদের নীলবিশিষ্ট কমতে সমুদায়শক্তিরূপ রূঢ়ি কল্পনা করা হইবে না কেন? এইরূপ আপত্তি উত্থাপন করিতে পারেন। বৈয়াকরণসম্প্রদায় যে বলেন, নামার্থপ্রকারক অন্বয়বােধের প্রতি নামমাত্তর- বিভক্তির দ্বারা উপস্থিতিবিষয়ত্বই কারণ হইবে, নামােত্তর নামের দ্বারা উপস্থিতিবিষয়ত্ব কারণ হইবে না,-এই বিষয়ে কোনরূপ শিনিগমনা অনুভবসিদ্ধ নহে। নৈয়ায়িকসম্প্রদায় উক্ত প্রতিবন্ধিরূপদোষ প্রদর্শন করিলে সমাপশক্তিবাদিগণ নিজ সিদ্ধান্ত ব্যবস্থাপিত করিতে না পারিয়া ন চ সমাসাশক্তত্বে” ইত্যাদি সন্দর্ভের দ্বারা নৈয়ায়িকমতের উপর দোষের আশঙ্কা করিতেছেন। ‘ন চ' এই অংশটিকে পরবর্তী বাচা এই অংশের সহিত অন্বয় করিতে হইবে। তাৎপর্য এই যে, নীলে। দ্রবঞ্চ ঘট' এইরূপ বাক্যে লাক্ষণিক নীলপদের অর্থ যে নীলরূপবিশিষ্ট এবং দ্রব্যপদের অর্থ যে ব্যত্ববিশিষ্ট এতদুভয়ের প্রত্যেকটি পদার্থের অভেদসম্বন্ধে ঘটপদার্থে অন্বয় যেরূপ অনুভবসিদ্ধ, তদ্রুপ ‘নীলে ঘটো দ্রব্যম’ এই বাক্যের অন্তর্গত সমস্ত নীলঘটরূপ বিশেষ্যে দ্রব্যপদার্থোপস্থাপিত বাের অতেদসম্বন্ধে অন্বয় স্বীকার না করিয়া অসমন্তপূর্ববাক্যের ন্যায় ঘটরূপ বিশেষে অভেদসম্বন্ধে দ্রব্যের ন্যায় ঘটের ‘একত্রদ্বয়ম্' এই রীতিতে অন্বয়বােধ হইবে না কেন? সমাসশক্তিবাদিগণ বলিবেন, নীলঘটে। দ্রব্যম্‌’ এখানে নীলঘটরূপ সমাসলভ্য বিশিষ্টার্থে অভেদসম্বন্ধে ব্যপদার্থের অন্বয় হইতে পারিবে। ন্যায়মতে কিন্তু সমাস এবং ব্যাসবাক্য তুল্যার্থক হওয়ায় ঘটরূপ একটি বিশেষে ‘একত্রদ্বয়ম’ এই রীতিতে নীল পদার্থ এবং দ্রব্য পদার্থের যুগপৎ অন্বয়বোধের আপত্তি হইবে ইহাই শঙ্কাৰ্থ । উক্ত আশঙ্কার উত্তরে নৈয়ায়িক সম্প্রদায় বলেন যে, বৈয়াকরণসম্প্রদায়ের উক্ত আশঙ্কা যুক্তিযুক্ত নহে। কারণ নামার্থমুখ্যবিশেষক তদাত্মাসম্বন্ধাবচ্ছিন্ন নামার্থবিধেয়ক অম্বয়- বােধের প্রতি প্রথমান্তবিধেয়বােধক নাম কারণ, নীলে ঘটো ৰা এই স্থলে কিন্তু স্ত্রব্য পদার্থটি তদাত্মাসম্বন্ধে ঘটাংশে বিধেয় হইলেও নীলপদার্থ কিন্তু উদ্দেশ্যবচ্ছেদকরূপে প্রতীয়মান হইবে। সুতরাং উক্তস্থলে নীলপদার্থবিধেয়ক অন্বয়বােধ সম্ভাবিত নহে। পৰত উক্ত সমস্তবাক্য হইতে অতেদসংসৰ্গাবচ্ছিন্ন নীলত্বাবদির অবচ্ছেদকতাক সমবায় সন্ধাবচ্ছিন্ন ঘটত্বনিষ্ঠাবচ্ছেদকতক ঘটনিষ্ঠাব্দেতাক দ্রব্যত্বাবচ্ছিন্ন তদাত্মসন্ধাৰচ্ছিন্ন বিধেয়ক অষয়বােধই স্বীকৃত হইবে। এখন প্রশ্ন হইবে-নীলে ঘটে। দ্রব্যম্ এখানে উদ্দেশ্যতাবচ্ছেদকরূপে ভাসমান নীলপদার্থ বিধেয় হইবে না কেন? যদি বিধেয় হয়, তাহা হইলে প্রথমান্তপদের দ্বারা নীলরূপ নাম উপস্থাপিত না হওয়ার ব্যতিরেক ব্যভিচার অবশ্যম্ভাবী। এই আশার উত্তরে গ্রহকার বলিতেছেন-“বিধেয়ত্ব বিষয়বছেকান্যকার समासत्रकरण অবয়বােধে যে উদ্দেশ্য ও বিধেয়ভাৰ গৃহীত হইবে, উক্ত বিধেয়ত্ব প্রামাত্র বা অৰচ্ছেদকতারূণ বিষয়ত্ব নহে, পরন্তু বিষয়বচ্ছেদকতাভিন্ন বিষয়তাকেই যদি বিধেয়। বলা হয়, তাহা হইলে নীলে। ঘট’ ইত্যাদি স্থলে ঘটগত বিশেষতারও বিধেয়ত্ব প্ৰক্তি হইবে। এইজন্য বিধেয়ত্ব না বলিয়া প্রকারত্ব বলা হইয়াছে। যদি প্ৰকাতামাকে বিধেয়ত্ব বলা হয়, তাহা হইলে অবচ্ছেদকত্বও একারতাৰিশেষ হওয়ায় তাহারও বিধেয়ত্বপ্রসক্তি হইবে। এইজন্য কাতাতে ‘বিষয়বচ্ছেদকত্বাত্ব' বিশেষণ দেওয়া হইয়াছে। ‘পর্বতে। বহ্নিমান ধুমাৎ' ইত্যাদি অনুমানকালে বহ্নিব্যাপ্য ধূমবান পর্বত, পৰ্বতীয় ৰহীতৰ ৰাভাৰাংশ্চ এইরূপ পরামর্শকালে পৰ্বতীয় বীতর বহির বাধনিশ্চয় থাকিলে “পর্বতঃ পৰ্বতীয় বহ্নিমান” এই আকারের অনুমতি হইয়া থাকে। উক্ত অনুমিতিতে পৰ্বতীয় বহ্নিত্ব পুরস্কারে পৰ্বতীয় বহ্নি প্রকার হইলেও বিধেয় নহে, কারণ যদ্ধর্ম পুরস্কারে সাধ্যে প্রকৃত হেতুর ব্যাপকত্ব গৃহীত হইবে, ঠিক তদ্ধর্ম পুরস্কারে সাধ্যবিধেয়তাক অনুমিতিরূপ ফল স্বীকৃত হইবে। আলােচ্য অনুমিতি স্কুলে বহ্নিমাত্র পুরস্কারে হেতু ব্যাপকত্ব জ্ঞান হওয়ায় বহ্নিগত বিধেয়তাও বহ্নিমাত্রধর্ম পুরস্কারে গৃহীত হইবে, পৰ্বতীয় ৰহ্নিত্ব পুরস্কারে নহে। অথচ বিধেয়তার যাহা স্বরূপ বলা হইয়াছে উক্ত বিষয়তাবচ্ছেদকত্ব- ভিন্ন প্রকারত্ব পৰ্বতীয় বহ্নিতেও বুহিয়াছে। এইজন্য উক্ত কল্প পৰিত্যাগ করিয়া বিধেয়তাস্বরূপ বলিয়াছেন—‘প্রকায়তা প্রভেদে। বা। এই পর্যন্ত বিধেয়ত্ব সম্বন্ধে যাহা বলা হইল, ইহা কিন্তু পৃথিব্যাতির ভেদঃ” ইত্যাদি স্থলে ইতৱতে গত বিধেয়ত্ব অস্বীকার করিয়াই বলা হইয়াছে। ‘পক্ষতা'-গ্রন্থে কিন্তু জগদীশ তর্কালঙ্কার নিলেই বিশেষগত বিধেয়তা স্বীকার করিয়াছেন। তাদাসম্বন্ধাবচ্ছিন্ন নামার্থ বিধেয়তাক অন্বয়বােধের প্রতি প্রথমাস্ত নামণজনিত উপস্থিতি বিষয়দের যে কারণত্ব কল্পনা করা হইয়াছে। উক্ত কার্যকারণভাবের অন্তর্গত কার্যতার অবছেদক অংশে প্রবিষ্ট বিধেয়তাতে “তাদাস্থ্যসম্বন্ধাবচ্ছিন্নত্ব” কেন নিবেশ করা হইয়াছে স্বয়ং গ্রন্থকারই তাহার ব্যাবৃত্তি প্রদর্শন করিবার জন্য ‘ঘট’ ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে ঘট’ এই আকারের ‘অ’ প্রত্যয়ান্ত ‘ঘট’ পদ হইতে আধেয়ত্ব সম্বন্ধে ঘটগত বিধেয়তার নিরূপক কর্মত্ব বিশেষতক অবয়বােধ হইয়া থাকে। যদি পূর্বোক্ত কার্যতার অবচ্ছেদক কোটিতে বিধেয়তাংশে তদাত্মা- সন্ধাবচ্ছিন্নত্ব নিবেশ না করা হয়, তাহা হইলে উক্তস্থলে কর্মবিশ্যেক ঘটবিধেয়ক অন্বয়বােধরূপ কার্যের পূর্বক্ষণে প্রথমান্ত পদোপস্থাপ্যত্বরূপ কারণটি না থাকায় ব্যতিরেক ব্যভিচার হইবে। অতএব উক্ত ব্যতিরেক ব্যভিচার বারণ করিবার জন্য গ্রন্থকার বিধেয়তংশে তাদাহ্মসম্বন্ধাৰচ্ছিন্ন নিবেশ করিয়াছেন। এখন একটি আশঙ্কা হইতে ১। বিধেয়ত্ব ন প্রকারত্বনিয়তমপি তু পর্বতে বহ্নিমুমিনােমি ন তু ব বকে পর্বত-ইত্যমুভবসাক্ষিক বিষয় বিশেষ।

২৭ शब्दशक्तिप्रकाशिका পারে নীলােৎপল এখানে নীল পদার্থটি উৎপলাংশে তাদাঝসম্বন্ধে বিধেয় হইয়াছে বটে কিন্তু প্রথম পদের দ্বারা উপস্থাপিত হয় নাই বলিয়া এখানে ব্যতিরেক ব্যভিচার হইৰে না কেন? এই আশঙ্কার উত্তরে বলিতে হইবে ‘নীলমুৎপল এখানে নীলপদার্থ তাদা- সম্বন্ধে বিধেয় নহে পরন্তু প্রথমাবিভক্তির অর্থ যে একত্ব তাহাই এখানে বিধেয় হইবে নীলপদার্থ ধর্মিতাবচ্ছেদকরূপে শাত্ববােধের বিষয় হইবে। मूलम् ननु नीलं पोतश्चोत्पलं यत्र इत्यर्थ 'नीलोत्पलं सर' इत्यादिको बहुव्रीहिरिव, नीलं पीतश्चोत्पलमित्यर्थ नीलपीतोत्पलं पुष्पमित्यादिकः कर्मधारयोऽप्येकत्रद्वयमिति न्यायेन नीलपीताभ्यामवच्छिनोत्पलनिष्ठ- धर्मिताकधीजनकः कथं न स्यादिति चेन। 'बहुपदे बहुव्रीहिरेव नेतरो द्वन्द्वान्यः समासः' इत्यनुशिष्टिबलेन बनीहिरेव स्वनिविष्टनामद्वयो- पस्थाप्यार्थद्वयावच्छिन्न तादृशनामान्तरार्थनिष्ठ विषयताकबोधं प्रति हेतुत्वेन समासान्तरस्य तादृशधियं प्रत्यसमर्थत्वात् । অনুবাদ এক্ষণে প্রশ্ন এই যে, নীল এবং পীত উৎপল যেখানে (নীলং পীতঞ্চোৎপলং যত্র) এই প্রকার অর্থে নীলও পীত উৎপলের আশ্রয় সােবর (নীলপীতােৎপলং সরঃ) এই সকল বহুব্রীহি সমাসের ন্যায় নীল এবং পীত উৎপল (নীলপীতঞ্চোৎ- পলং) এই প্রকার অর্থে নীলপীততাৎপল পুষ্প (নীলপীতােৎপলং পুষ্পস্) এই সকল কর্মধারয় সমাস ও “একত্রদ্বয়ং” এই রীতি অনুসারে নীল এবং পীত এই উভয়াবচ্ছিন্ন উৎপল গত বিশেষ্যতার নিরূপক অন্বয়বােধের জনক হইবে না কেন? (ইহার উত্তরে বলিতেছেন) এই প্রশ্ন সমীচীন নহে, কারণ, বহুপদঘটিত সমাস স্থলে বহুব্রীহিসমাসই বিহিত, দ্বন্দ্ব ভিন্ন অপর কোন সমাস বিহিত নহে। এই অনুশাসন অনুসারে বহুব্রীহি সমাসই নিজের অন্তর্গত নামদ্বয়ের দ্বারা উপস্থাপিত যে অর্থদ্বয়, তদবচ্ছিন্ন তাদৃশ নামান্তরার্থগত বিষয়তাশালী অন্বয় বােধের প্রতি জনক হইবে। অতএব কর্মধারয় প্রভৃতি সমান্তর তাদৃশ অন্বয়বােধের প্রতি যােগ্য নহে।

समासप्रकरणम् বিবৃতি গ্রন্থকার পূর্বোক্তপ্রকারে কার্যকারণভাব কল্পনাপূর্বক ‘নীলঘটো দ্রব্যম্ এই সকল লে ‘একত্রদ্বয় এই রীতি অনুসারে অন্বয়বোধের আপত্তি বারণ করিবার পর ‘ননু ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে অপর একটি আশঙ্কা উত্থাপন করিতেছেন। আশঙ্কাটি এই যে, ‘নীলং পীতঞ্চোৎপলং যত্র’ এই আকারে বিগ্রহবাক্য অনুসারে ‘নীলপতােৎপলং সর' এইরূপ বহুব্রীহি সমাস হইতে যেরূপ স্বাধিকৰণক যে নীল পীতােভয় তৎ সম্বন্ধিত্ব গত প্রকার নিরূপিত সরােবর গত বিশেষ্যতাশালী বােধ উৎপন্ন হয় তদ্রুপ ‘নীলংপীতঞ্চ তদুৎপল এইরূপ বিগ্রহবাক্য অনুসারে ‘নীলপীততাৎপলং' এইরূপ কর্মধারয় সমাস হইতে তদাত্ম্য সম্বন্ধাবচ্ছিন্ন নীল-পীত উভয়নিষ্ঠ অবচ্ছেদকতানিরূপিত উৎপলবিশেষতক অন্বয়বােধ হইবে না কেন? কারণ, নীলপদ এবং পীতপদটি প্রথমান্ত না হওয়ায় পূর্বোক্ত কার্যকারণ তাব অনুসারে উৎপলাংশে নীল অথবা পীত কোনটিই বিধেয় হইতে পারিবে না। সুতরাং ‘নীলপীতােৎপল এখানে প্রথম বিভক্তির অর্থ যে একত্ব তাহাই বিধেয় হইবে। উক্ত বিধেয়াংশে উদ্দেশ্যরূপে ভাসমান উৎপলাংশে ধর্মিতাবচ্ছেদকরূপে ‘একত্র দ্বয়মিতি রীত্যা’ তাদাত্মাসম্বন্ধে নীল এবং পীত এতদুভয়ের ভান স্বীকৃত হইতে পারে, এই আশঙ্কার উত্তরে গ্রন্থকারের বক্তব্য এই যে সমাসে বহু পদ প্রবিষ্ট থাকিলে তাদৃশস্থলে বহুব্রীহি সমাস এবং দ্বন্দ্ব সমাসই স্বীকৃত হইবে, কর্মধারয় প্রভৃতি অপর কোন সমাস নহে। অতএব “বহুপদে বহুব্রীহিরের নেতরো ধান্যঃ সমাসঃ” এই অনুশাসন অনুসারে সমাসের অন্তর্গত নীলপীতরূপ পদার্থদ্বয়কে অবচ্ছেদকরূপে গ্রহণ করিয়া সমাসের অন্তর্গত নহে এইরূপ পুষ্পদি অপর নামার্থনিষ্ঠ বিষয়তার নিরূপক অন্বয়বােধ সম্ভাবিত নহে। পরন্তু পূর্বোক্ত অনুশাসন অনুসারে “নীলং পীতঞ্চোৎপলং যত্র* এইরূপ বিগ্রহ অনুসারে “নীলােৎপল সর” এইরূপ বহুব্রীহি সমাসই হইবে এবং নীলপীতরূপ পদার্থদ্বয় ‘একত্র দ্বয়মিতি’রীতিতে উৎপলগত প্ৰকাতার অবচ্ছেদকরূপে উক্ত সমাসজনিত বাক্যাৰ্থবােধে ভান হইবে। मूलम् नीलपीतोत्पले रम्ये पीतनीलोत्पलाश्रितमित्यादौ तु नीलोत्पलं पीतोत्पलश्च रम्यमित्याकारक एवान्वयबोधो न तु नीलं पोतश्च यदुत्पल तद्रम्यमित्याकारः। अतएव द्वन्द्वात् परस्य प्रत्येकममिसम्बन्धसूचनार्थ नीलपीते च ते उत्पले चेत्यादिकमेव तत्र विग्रहं वर्णयन्ति, न तु नील पीतश्च तदुत्पलश्चेत्यादिकम् । घटस्य नाधिकरणमित्यादि विगहे 'घटा- ঘফিসায়িকা नधिकरणमित्यादिकन्तु मध्यपदप्रधानस्तत्पुरुषो न बहुनाम गर्मो नबैकत्र- यमिति न्यायेन स्वार्थस्य बोधक इति सम्प्रदायविदः । ৫ অনুবাদ “নীলপীতােৎপলে রম্যে পীতনীলােৎপলাশ্রিত” এইসকল স্থলে নীলােৎপল ও পীততাৎপল রমণীয় এই আকারের অন্বয়বােধ হইয়া থাকে। পরন্তু নীলরূপবিশিষ্ট এবং পীতরূপবিশিষ্ট যে উৎপল তাহা রমণীয় এই আকারের অম্বয়বােধ হইবে না। অতএব দ্বন্দ্ব সমাসের পরবর্তী পদার্থে দ্বন্দ্ব সমাসের অন্তর্গত প্রত্যেক পদার্থের স্বতন্ত্রভাবে সম্বন্ধ সূচনা করিবার জন্য উক্তস্থলে ‘নীলপীতে চ তে উৎপলে চ’ এইরূপ বিগ্রহবাক্য বর্ণন করা হয়। কিন্তু ‘নীলং পীতঞ্চ তদুপলঞ্চেতি’ এইরূপ বিগ্রহবাক্য হইবে না। ঘটন্য নাধিকরণম্ এইরূপ বিগ্রহ অনুসারে ‘ঘটানধিকরণম্ এই সকল মধ্যপদ প্রধান তৎপুরুষ সমাস বহুনাম গর্ভিত নহে কিম্বা একত্রদ্বয়ম্ এই রীতিতে স্বকীয় অর্থের বােধকও নহে, ইহাই সাম্প্রদায়িকগণের সিদ্ধান্ত। বিবৃতি এক্ষণে আশঙ্ক। হইতে পারে “নীলপতােৎপলে রম্যে* এই সকল স্থলে নীলং পীত তদুৎপলঞ্চেতি’ এই আকারের বিগ্রহবাক্য অনুসারে নীলপভােৎপলে এইরূপ কর্মধারয় সমাস হওয়ার ফলে বহুব্রীহি সমাসের অতিরিক্ত স্থলেও বহুপদর্ড কর্মধারয়াদি সমাস হওয়ায় সঙ্কুচিত কার্যকারণভাৰ অবলম্বন করিয়া কেবলমাত্র বহুব্রীহি বা দ্বন্দ্ব সমাসেই তাদৃশ অন্বয়বােধের সামর্থ্য কি করিয়া সম্ভবপর হইতে পারে। এই আশঙ্কার সমাধানকল্পে জগদীশ-নীলণতােৎপলে রম্যে ইত্যাদি সর্ডের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে পূর্বোক্ত রীতিতে নীলপীতপদের সহিত উৎপল পদের কর্মধারয় সমাস স্বীকৃত নহে। কিন্তু স্বতন্ত্রভাবে নীলপদার্থ এবং পীতপদার্থ উৎপল পদার্থে অন্বিত হইবে, সুতরাং কেবলমাত্র নীলবিশেষিত উৎপল পদার্থ এবং কেবলমাত্র পীতপদার্থ বিশেষিত উৎপল পদার্থ রম্য পদার্থে অম্বিত হইবে, সুতরাং ‘নীলফ পতঞ্চ নীলপীতে এইরূপ দ্বমাদের ‘নীলণীতে চ তে উৎপলে চেতি’ এই প্রকার কর্মধারয় সমাস উৎপন্ন হইলেও ‘দ্বন্দাৎ পর পূর্বং বা ক্রয়মাণঃ শব্দঃ প্রত্যেকভিসম্বধ্যতে' অর্থাৎ দ্বন্দ্ব সমাসের পরবর্তী বা পূর্ববর্তী শব্দের সহিত দ্বন্দ্ব সমাসের ঘটক প্রত্যেক শব্দটি স্বতন্ত্রভাবে সম্বদ্ধ হইয়া থাকে। এই নিয়মানুসারে দ্বন্দ্ব সমাসের পরে কর্মধারয় সমাসের অন্তর্গত নীলপদার্থ এবং পীতপার্থ উভয়েরই পৃথকভাবে উৎপল পদার্থে অন্বয়ক্রমে সমার্থের বােধ হইবে। এই অভিপ্রায়েই समासप्रकरणम् জগদীশ বলিয়াছেন-নীলােৎপলং পীতেৎপলঞ্চ রম্যমিত্যাকারক এবাম্বয়বােধ, ‘ইত্যাকারক এব’ এই এব কারের দ্বারা কাহার ব্যাবৃত্তি হইবে, তাহা স্বয়ংই বলিতেছেন- নতু নীলং পীতঞ্চ যদুৎপলং তদম্যমিত্যাকারঃ”। তাৎপর্য এইযে, ‘নীলপীতােৎপলে এখানে নীলঞ্চ পীত নীলপীতে-এইরূপ দ্বন্দ্ব সমাসের পরে নীলপীতে চ তে উৎপলে চেতি' এইরূপ কর্মধারয় সমাস স্বীকৃত। নীলং পীতঞ্চ তদুপলঞ্চেতি' এইরূপ ত্রিপদগঙ কর্মধারয় সমাস স্বীকৃত নহে, যাহার ফলে নীলাভিন্ন পীতাভিন্ন উৎপল বিষয়ক সমাদার্থের বােধ স্বীকৃত হইতে পারে। দ্বন্দ্ব সমাসের পরবর্তী কর্মধারয় সমাস স্বীকৃত হওয়ার ফলে নীলাভিন্ন উৎপল বিষয়ক এবং পীতাভিন্ন উৎপল বিষয়ক উক্ত সমাবোধের অনুকুলে প্রাচীন শাব্দিক সম্প্রদায়ের সম্মতি প্রদর্শন করিবার জন্য অতএব ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। অর্থাৎ যেহেতু ‘নীলপীতোৎপলে এইরূপ সমাস হইতে নীলােৎপলবিষয়ক-পীততাৎপলবিষয়ক সমূহলম্বনবােধ উৎপন্ন হয় এইজন্য দ্বন্দ্ব সমাসের পরবর্তীপদের অর্থের সহিত দ্বন্দ্ব সমাসনির্দিষ্ট প্রত্যেকটি পদার্থের অন্বয় ব্যুৎপত্তিসিদ্ধ করিবার জন্য দ্বন্দাৎ পরস্য” ইত্যাদি সন্দর্ডের মাধ্যমে নীলপীতে চ তে চ উৎপলে চেতি প্রাচীনসম্মত বিগ্রহবাক্য বর্ণনা করিয়াছেন। যদি উক্ত সমাগস্থলে তাদৃশ সমূহলম্বন বােধ স্বীকৃত না হয় এবং ত্রিপদ কর্মধারয় সমাস স্বীকৃত হয় তাহা হইলে প্রাচীন সম্প্রদায় বর্ণিত তাদৃশ বিগ্রহবাক্য অসঙ্গত হইয়া পড়ে, অতএব প্রাচীনমতবিরুদ্ধ বিগ্রহবাক্যে নিজের সম্মতি প্রদর্শন পূর্বক ত্ৰিপদ কর্মধারয়কে ব্যাবৃত্ত করিবার জন্য বলিয়াছেন ‘ন তু নীলং পীতঞ্চ তদুপলঞ্চে ত্যাদি। এখন আশঙ্কা হইতে পারে “বহুপদে বহুব্রীহিসেব নেতরো দ্বন্দ্বান্যঃ* এই অনুশাসন বলে বহুব্রীহিস্থলে যেরূপ সমাসের অন্তর্গত নামদ্বয়ের দ্বার উপস্থাপিত পদার্থ বিশেষিত অপর পদার্থ-বিষয়ক অন্বয়বােধ স্বীকৃত হইবে তদ্রুপ ঘটস্য ন অধিকরণ' এইসকল তৎপুরুষ সমাসও বহু নামগর্ভ হওয়ায় সমাসের ঘটক নামদ্বয়ের দ্বারা উপস্থাপিত পদার্থদ্বয় বিশেষিত সমাসের অন্তর্গত অপর নামার্থক বিষয়ক শাব্দ বোধের জনক হওয়ায় পূর্বোক্ত অনুশাসন অনুযায়ী নিয়ম অসঙ্গত হইবে না কেন? এই আশঙ্কার সমাধানকল্পে জগদীশ বলিতেছেন “ঘটানধিকরণ” এইস্থলে মধ্যপদপ্রধান তৎপুরুষ সমাস স্বীকৃত উক্ত সমাসের অনুকুল বিগ্রহবাক্য হইবে ‘ঘটন্য ন অধিকরণম্ এইরূপ, অতএব উক্ত সমাস নঞ, পদ ঘটিত হওয়ায় বহুনামগতি সমাস নহে। নঞ, নিপাতের নামত্ব পূর্বেই নিরাকৃত হইয়াছে। গ্রন্থকার আরও বলেন, যেরূপ উক্ত তৎপুরুষ সমাস বহুনাম গর্ভ নহে তদ্রপ “একত্রয়- মিতি রীত্যা নামার্থদ্বয়াৰচ্ছিন্ন পদার্থান্তরবিষয়ক অন্বয়বােধেরও জনক নহে। ন নিপাতের তুষ দুর্জন” এই নায়ে নামত্ব স্বীকৃতির পক্ষেও পূর্বোক্ত অনুশাসনের বিরােধ থাকা সম্ভবপর নহে। অতএব ২০ शब्दशक्तिप्रकाशिका मूलम् स्यादेतत् समासानां समुदायशक्तत्वे 'वाचस्पतिर्मितायाः स श्यामे कण्ठे व्रणः पुमान्' इत्यादौ वाचि मितायाः कण्ठे च श्यामादेन भेदे नान्वयो वागादेः पदार्थैकदेशत्वेन तत्र पदार्थान्तरस्य पशुरपशु गंगनं समवेतमित्यादाविव निराकासत्वात्, एवं पन्या द्विजाति स्वाध्यायो, जटाभिस्तापसस्पृहेत्यादौ पत्नोसहभावस्य द्विजातौ जटावैशिष्ट्यस्य च तापसे भेदेनापि नान्वयो यथा-इहाकाशमभिघातात् । यौगिकत्वे तु तत्र तथाविधान्वयो दुर्वारः। वाक् प्रभृतेः पदार्थत्वादिति चेन्न । অনুবাদ সমাস শক্তিবাদী পুনরায় আশঙ্কা করিতেছেন—সমাস সমূহের সামুদায়িক শক্তি ( স্বীকৃত হইলে) বাচস্পতিমিায়া’, ‘স শ্যামে কণ্ঠে ব্ৰণঃ পুমা এই সকল স্থলে বা পদার্থে ‘মিত’ পদার্থের এবং কণ্ঠ পদার্থে ‘শ্যামাদি’ পদার্থের অভেদান্বয় হইবে না। কারণ বাক্ প্রভৃতি পদার্থের একদেশ হওয়ায় সেখানে পদার্থান্তরের অন্বয় ‘পশুরপশু, (পশু ভিন্ন পশু) গগন সমবেত ইত্যাদি স্থলের ন্যায় নিরাকাক্ষ হইয়া থাকে এবং পা দ্বিজাতি স্বাধ্যায়াে’ ‘জটাভি- স্তাপস স্পৃহা ইত্যাদি স্থলে দ্বিজাতিতে পঙ্গীর সাহচর্য এবং তাপসে জটার- বৈশিষ্ট্যরূপ ভেদ সম্বন্ধে ও অন্বয় হইবে না, যেরূপ ‘আকাশমভিঘাতাৎ'ইত্যাদিস্থলে জন্যত্ব সম্বন্ধে অভিঘাত পদার্থের অন্বয় হয় না। যদি সমাসে সমুদায় শক্তি স্বীকৃত না হইয়া যৌগিকত্ব স্বীকৃত হয় তাহা হইলে (পূর্বোক্ত স্থল সমূহে) ভেদ বা অভেদ সম্বন্ধে (পদার্থান্তরের) অন্বয়বােধ বারণ করা দুষ্কর, কারণ সমাসের যৌগিকত্ব পক্ষে বা প্রভৃতি পদার্থ, পদার্থের একদেশ নহে। বিবৃতি গ্রন্থকার ‘স্যাদেতৎ' ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে সমাসশক্তিবাদী বৈয়াকরণগুণের একটি আকাক্ষা উথাপন করিতেছেন। প্রথমতঃ বৈয়াকরণ মত সমর্থন করিয়া সমাসের যৌগিকত্ববাদী নৈয়ায়িকমতের দোষ প্রদর্শন করিতেছেন। সমাসশক্তিবাদিগণের বক্তব্য समासप्रकरणम् এই যে, নীলােৎপল', ‘রাজপুরুষ এই সকল সমাসবদ্ধপদ ‘গাে’ প্রভৃতি পদের ন্যায় ‘রূঢ় অর্থাৎ সমুদায় শক্ত। এই সমসশক্তি স্বীকারের ফলে পশুপ', গগনং সমবেতম' এই সকল বাক্যে পশুপদার্থের একদেশ লােমবৎলাঙ্গুলাদিতে যেরূপ পতিত্ব এবং শায়রূপ গগনপদার্থের একদেশ শব্দে সমবেত পদার্থের অম্বয়বােধের অনুকুল আকাঙ্কা স্বীকৃত নহে, তদ্রুপ ‘বাচস্পতির্মিতায়’, ‘খামে কর্থে ব্ৰণঃ পুমান' এই সকলৰাকস্থলেও ‘চম্পতি- মিয়া' এই সমাসের অর্থ যে বাক্যের অধিপতি তাহার একদেশ যে বাক্য তাহাতে মিত পদার্থের এবং খামে কন্তে ব্ৰণ: এই সমার্থের একদেশ যে কণ্ঠ তাহাতে শ্যাম পদার্থের অভেদ সম্বন্ধে অন্বয় বােধের অনুকুল আকাঙ্ক্ষা স্বীকৃত হইবে না। কেবল মাত্র যে তাদৃশ অন্বয় বােধের প্রতি উক্ত বাক্য সমূহ নিরাকাঙ্ক হইবে, তাহা নহে পরন্তু ‘পত্না দ্বিজাতি স্বাধ্যায় এবং ‘জটাভিস্তাপসম্পৃহ এই সকল বাক্যস্থলেও ‘দ্বিজাতি স্বাধ্যায় এই সমাদার্থের একদেশ দ্বিজাতিতে পত্নী সাহচর্যে এবং তাপসম্পৃহা এই সমাদার্থের একদেশ তাপসে জটাবৈশিষ্ট্যের ভেদ সম্বন্ধে অন্বয় বােধেও তাদৃশ বাক্যদ্বয় নিরাকাঙ্ক হইবে। অর্থাৎ পূর্বে প্রদর্শিত সমাসসমূহ সমুদায়শক্ত হওয়ায় গােপ্রভৃতি পদের ন্যায় ‘রূঢ় শব্দরূপে প্রতীয়মান হইবে। সুতরাং ‘পদার্থঃ পদার্থেনৈব অন্বীয়তে, ন তু পদার্থৈকদেশেন’ এই ব্যুৎপত্তি অনুসারে সমাদার্থের একদেশের সহিত পদার্থান্তরের অন্বয় বােধ স্বীকৃত হইবে না। এইভাবে সমাসশক্তিবাদীগণ নিজপক্ষ সমর্থন করিয়া ‘যৌগিকত্বে তু’ ইত্যাদি সন্দর্ভের মাধ্যমে সমাসের যৌগিকত্ববাদীমতে দোষ প্রদর্শন করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, সমাস যদি যৌগিক হয় তাহা হইলে বিশেষ্য-বিশেষণভাবক্রান্ত অপরাপর বাক্যার্থের ন্যায় ‘বাচস্পতির্মিতায়' ইত্যাদি স্থলেও যৌগিক সমাসের অন্তর্গত বাক্যপদার্থে মিতাদি পদার্থের অভেদ সম্বন্ধে এবং পত্না দ্বিজাতি স্বাধ্যায়:' ইত্যাদি হলেও সমাসের অন্তর্গত দ্বিজাতিতে পত্নী সাহচর্যের ভেদ সম্বন্ধে অন্বয়বোধের অনুকুল আকাঙ্ক্ষা থাকায় তাদৃশ অন্বয়বােধের আপত্তি হইবে। অতএব সমাসের সমুদায় শক্তি স্বীকৃত হওয়াই সমীচীন। বৈয়াকরণ সম্প্রদায়ের এই আশঙ্কার সমাধানকল্পে সিদ্ধান্তিগণ বলেন, এই আশঙ্কা ঠিক নহে। मूलम् वृत्य कदेशपदस्याथै सम्बन्धस्य कारकस्य वा बोधकान्यविभक्तः स्वार्थानुभावकतायां निराकासत्वादेव तस्य निरस्तत्वादतएव चैत्रस्य गुरुकुल शरैः शातित पत्रक इत्यादौ गुर्वादिपदस्य बृत्त्य कदेशत्वेऽपि तदर्थे षष्ठ्यर्थ- सम्बन्धस्य तृतीयार्थकरणत्वादेश्चान्वयः सर्वसिद्धः। समासस्येव पजादि- प्रत्ययान्तस्यापि वृश्चित्वात् । “परिष्कृतायाः सततं यस्तु पाचस्पतीयते ।

शब्दशक्तिप्रकाशिका "प्रतियोगिपदादन्यद्यदन्यत् न तस्यान्वय सम्पदा जटया वापि पुत्रीयति स पुरुष" इत्यादेरपि वागावशे 'परिष्कृतादेः' पुत्रायशे च 'सम्पदादेः' सहभावादि बोधकतायां न सामर्थ्यमतएव कारकादपि । वृत्तिशब्दकदेशार्थ इष्यते" इत्यपि पठन्ति । "कर्मचाण्डालयोगोत्थं कुरु पापक्षयं ममे"त्यत्र च योगोत्थमित्यस्य योगप्रयोज्यमित्यर्थः, स चाभेदेन पापक्षयेऽन्वितः । "यस्मिन् राशिगते सूर्य विपत्तिं यान्ति मानवाः। तेषां तत्रैव कर्तव्या पिण्डदानादिका क्रिये"ति वचनन्तु अमूलं, समूलत्वे तु यस्मिन् राशौ गते सूर्य इत्येव तत्र पाठ इत्यास्तां विस्तरः । অনুবাদ (কারণ) বৃত্তি শব্দের একদেশ যে পদ তাহার অর্থে, সম্বন্ধের বােধক কিংবা কারকের বােধক নহে এইরূপ বিভক্তি নিজ নিজ অর্থ গোচর অম্বয়বােধের অনুকুল আকাঙ্ক্ষা শূন্য হওয়ায় পূর্বোক্ত ‘বাচস্পতির্মিতায় ইত্যাদি সমাস যৌগিক হইলেও বাক্ প্রভৃতি পদার্থে ষষ্ঠী বিভক্ত্যন্ত ‘মিত’ পদার্থের অভেদ সম্বন্ধে অম্বয়বোধের আপত্তি নিরস্ত হইবে। অতএব চৈত্রের গুরুকুল (চৈত্রস্য গুরুকুলম্) শরকরণক ছিন্নপত্র সম্বন্ধী (শরৈঃ শাতিত পত্ৰকঃ) ইত্যাদি বৃত্তিশব্দ- স্থলে গুরুপ্রভৃতি পদ, বৃত্তি শব্দের একদেশ হইলেও তৎ তৎ পদার্থে ষষ্ঠী বিভক্তির অর্থ সম্বন্ধের এবং তৃতীয়া বিভক্তির অর্থ করণ প্রভৃতির অম্বয় সবাদিসিদ্ধ। কেবলমাত্র সমাসই যে বৃত্তিশব্দ হইবে তাহা নহে, পরন্তু ক্যচ, প্রভৃতি প্রত্যয়ান্ত শব্দও বৃত্তি শব্দরূপে গণ্য হইবে। সুতরাং যে ব্যক্তি সর্বদা পরিষ্কৃত বাক্যের অধিপতিকেই ইচ্ছা করেন এবং সেই পুরুষ, সম্পত্তি ও জটাবিশিষ্ট পুত্র কামনা করেন এইরূপ অর্থে বাচস্পতীয়তে’, ‘পুত্রীয়তি’ এই সকল বৃত্তিশব্দের একদেশ বা পদার্থে এবং পুত্র পদার্থে পরিষ্কৃত বা সম্পত্তি প্রভৃতির সাহচর্যবােধের অনুকুল সামর্থ্য ( আকাঙ্গা) স্বীকৃত নহে। অতএব প্রতিযােগিপদ হইতে অতিরিক্ত এবং কারক পদ হইতে ভিন্ন যে পদার্থ তাহার সহিত বৃত্তিশব্দের একদেশ পদার্থের অন্বয় অভীষ্ট নহে। এইরূপ পাঠ করিয়া থাকেন। ‘কর্মচাণ্ডালযােগােখং কুরু পাপক্ষয়ং মম’এখানে কিন্তু কর্মচাণ্ডালযােগােখ समासप्रकरणम् এই অংশের কর্মচাণ্ডাল যােগ প্রযােজ্য রূপ অর্থ গৃহীত হইবে। তাদৃশ প্রযােজ্য রূপ অর্থও পাপক্ষয় পদার্থে অন্বিত হইবে। সূর্য যেই রাশি গত হইলে মনুষ্য মৃত্যুমুখে পতিত হয়, সূর্য উক্ত রাশিগত হইলেই (পুত্ৰাদিকর্তৃক) পিণ্ডদান প্রভৃতি ক্রিয়া কর্তব্য। এই বচনটি অমূলক। যদি সমূলক হয়, তাহা হইলে ‘যস্মিন্ রাশিগতে’ এখানে ‘যস্মিন্ রাশৌ গতে সূর্যে’ এইরূপ পাঠ গ্রহণ করিতে হইবে। এবিষয়ে অধিক আলােচনা নিস্প্রয়ােজন। বিবৃতি কেন উক্ত আশঙ্ক। ঠিক নহে তাহা বিবৃত করিবার জন্যে ‘বৃত্ত্যৈকদেশদ্যার্থে ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। “বৃত্তি’ শব্দটি এখানে কৃৎ, তদ্ধিত এবং কাচ, প্রভৃতি প্রত্যয়ান্ত শব্দের এবং সমাসের উপস্থাপক অর্থাৎ ‘বৃত্তি’ শব্দের দ্বারা কৃৎপ্রত্যয়ান্ত, তদ্ধিত প্রত্যয়ান্ত, কাচ, প্রত্যয়ান্ত এবং সমাস উপস্থাপিত হইয়াছে। শ্রীপতি দত্ত ‘কাতন্ত্র পরিশিষ্ট’ গ্রন্থে, ‘পদানাং প্রত্যয়ৈর্যোগে সমসাৎ চেহ বৃত্তয়' এইরূপ বৃত্তি শব্দের ব্যাখ্যা করিয়াছেন। সেখানে প্রত্যয় শব্দটি কিন্তু সুপ, তিঙ, প্রভৃতি হইতে অতিরিক্ত কৃৎ ও তদ্ধিত প্রত্যয় বুঝিতে হইবে। যদি উক্ত প্রত্যয় শব্দটি সুপ, তিঙ, প্রভৃতি প্রত্যয়েরও বােধ হয় তাহা হইলে নীল ঘটমানয়’ এই সকল বাক্যের ‘ঘট’ পদার্থে ‘নীল পদার্থের এবং আঙ,পূর্বক ‘নী’ পদার্থে ‘ঘট’ পদার্থের অন্বয় হইতে পারে না। চৈত্ৰ দাস- ভার্মেয় এখানে ‘দাস’ পদার্থে ষষ্ঠীবিভক্ত্যন্ত ‘চৈত্র সম্বন্ধের এবং শরৈঃ শাতিতপত্ৰকঃ পত্রের একদেশ শাতনে শ গত কৰণতা নিরূপকত্বের অদ্বয়বোধ সকলমতেই স্বীকৃত হয়। এই জন্য পদার্থাংশে সম্বন্ধ বোধক এবং কারক বােধক যে বিভক্তি তদ্ভিন্নত্ব বিশেষণ দেওয়া হইয়াছে। তাৎপর্য এইযে বৃতিশব্দের একদেশে কর্তৃত্ব করণত্ব প্রভৃতি কারকের বােধক তৃতীয়াদি বিভক্তি ভিন্ন এবং সম্বন্ধের বােধক ষষ্ঠী বিভক্তি ভিন্ন বৃত্তিশব্দের ঘটক নহে এইরূপ কোনও পদের অর্থ বৃত্তি শব্দের একদেশীভূত পদের অর্থে অন্বয়বােধের অনুকুল আকাঙ্ক্ষা শূন্য হওয়ায় উক্ত বৃত্তি শব্দের অন্তর্গত নহে এইরূপ কোনও পদের অর্থ বৃত্তি শবের একদেশীভূত পদের অর্থে অম্বিত হইতে পারিবে না, অতএব আকাঙ্ক্ষাজ্ঞানরূপ কারণ না থাকার ফলে প্রত্যয়ান্ত তদ্ধিত প্রত্যন্ত ও সমাস প্রভৃতি বৃত্তি শব্দের একদেশীভূত পদার্থে পদার্থান্তরের অন্বয়বােধ হইবে না। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে পশুপ ‘গগনং সমবেত এই সকল বাক্যকে অযােগ্য না বলিয়া নিরাকা বলা হইল কেন? এই আশঙ্কার উত্তরে বক্তব্য পশুপদের একদেশ যে পশুত্ব তাহা লােমৰৎ লাঙ্গুলরূপ শ্ৰব্য বিশে, তাহাতে পশুর ভেদ এবং গগনং সমবেত’ এখানে শাশ্ৰয়ত্বরূপ গগনেয় একদেশ যে শব্দ তাহাতে সমবেতত্ব অর্থাৎ সমবায় সম্বন্ধাবচ্ছিন্নবৃত্তিত্ব থাকায় ঐ সকল বাক্য অযােগ্য নহে, এইজন্য মােগ্যতার অভাব না বলিয়া নিকাজ বলা হইয়াছে।

शब्दशक्तिप्रकाशिका পদার্থান্তরে তাদৃশ্যত্ব বিশেষণটি কেন দেওয়া হইয়াছে তাহার ফল প্রদর্শন করিবার জন্য অতএব’ ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। অতএব অর্থাৎ যেহেতু পদার্থান্তরে তাদৃশ অন্যত্ব নিবেশ করা হইয়াছে, এইজন্য “চৈত্র গুরুকুল’ এখানে গুরুকুল শব্দের এক- দেশ গুরু পদের অর্থে চৈত্র সম্বন্ধুিত্বের এবং শনৈঃ শাতিতপত্ৰক' এখানে ‘শাতিত পত্রক এই বৃত্তি শব্দের একদেশে শাতনরূপ অর্থে 'শরৈঃ এই শর পদোত্তর তৃতীয় বিভক্তির অর্থ করণত্বের নিরূপকত্ব সম্বন্ধে অম্বয়বােধ সকল সম্প্রদায়েরই সম্মত। করণত্বাদের এই আদি পদের দ্বারা অপাদান প্রভৃতি কারকান্ত গৃহীত হইবে। কেবলমাত্র সমাসই যে বৃত্তি শব্দ হইবে তাহা নহে পরন্তু কচ, কঙ, কৃৎ প্রত্যয়ান্ত, তদ্ধিত প্রত্যয়ান্ত শব্দও বৃত্তি শব্দ রূপে গণ্য হইবে। এই অভিপ্রায়ে বলিয়াছেন মাসসেব ক্যাদি প্রত্যয়ান্তাপি বৃত্তিত্বাৎ”-“বৃত্তিত্বাৎ' এই অংশটি অগ্রিম “ন সামর্থ্য” এই অংশের সহিত অন্বয় করিতে হইবে। “পরিস্কৃতায়া: সততমিত্যাদি কারিকার মাধ্যমে বৃত্তি শব্দের একদেশ পদার্থে পদার্থান্তরের অন্বয় বােধের প্রতি পরিষ্কতায়ঃ সততম ইত্যাদি বাক্যের নিরাকাঙ্ক্ষত্ব প্রদর্শন করিতেছেন, ‘পরিষ্কতায়াঃ এই পদটির পূর্বে ‘অভেদেন এই পদটি যােজনা করিতে হইবে। বাচস্পতীয়তে শব্দটি কঙ, প্রত্যয়ান্ত হওয়ায় যেরূপ বৃত্তিশব্দ হইয়াছে তদ্রুপ ক্যঙ, প্রত্যয়ের প্রকৃতিভূত বাচস্পতি শব্দটি সমাস নিবন্ধন ও বৃত্তি শব্দ হইয়াছে, সুতরাং বাচস্পতি শব্দের একদেশ বাক পদার্থের ও পদার্থান্তর যে পরিস্কৃত পদার্থ তাহার অভেদ সম্বন্ধে অন্বয় হইতে পারিবে না এইজন্য “বাচস্পতীয়তে এই ক্যন্ত বৃত্তি শব্দটি পরিত্যাগ করিয়া ক্যন্ত “সম্পদ। জটয়া বাপি পুত্রীয়তি স পুরুষঃ” এই দ্বিতীয় বৃত্তি শব্দের উদাহরণ প্রদর্শন করিয়াছেন, “ইত্যাদের পি” এই অংশেরও অগ্রিম ‘ন সামর্থ্য এই অংশের সহিত অন্বয় করিতে হইবে। পরিষ্কতাদের এই অংশটির পূর্বে ‘অভেদেন’ এই অংশটি পূরণ করিতে হইবে। “পরিষ্কতাদের এই অংশেরও অগ্রিম “বােধকতায়া: এই অংশে অন্বিত হইবে। সহঙ্গবাদে এই আদি পদের দ্বারা বৈশিষ্টারূপ সম্বন্ধ গৃহীত হইবে, ‘সহভাব’ শব্দের দ্বারাও সাহচর্যরূপ সমানাধিকরণ্য প্রতীয়মান হইবে। কেন উক্ত বৃত্তি শব্দের একদেশ পদার্থের পদার্থান্তরে অন্বয়বােধ হইবে না তাহার কারণ প্রদর্শন করিবার জন্য বলিতেছেন—“ন সামর্থম”—তাৎপর্য এই যে উক্ত কারিকার অন্তর্গত বাচস্পতীয়তে এই বৃত্তি শব্দের অন্তর্গত বাক পদার্থে অভেদ সম্বন্ধে পরিস্কৃত” পদার্থের অভেদ সম্বন্ধে অন্বয়- বােধের প্রতি এবং “পুত্ৰীয়তি” এই বৃত্তি শব্দের একদেশ পুত্র পদার্থে, সম্পদ পদার্থের সহব রূপ সম্বন্ধে এবং জটা পদার্থের বৈশিষ্ট্যরূপ সম্বন্ধে অন্বয়বােধর প্রতি তাদৃশ বৃতিশব্দ ঘটিত বাক্যদ্বয় নিরাকা হওয়ায় অন্বয়বোধের যােগ্য হইবে না। ১। পদানাং প্রত্যয়ৈর্যোগে সমাসশ্চেহ বৃত্তয়ঃ-এই শাব্দিক নিয়মানুসারে সমাসের অনুরূপ ক্যচ, ক্যঙ প্রভৃতি প্রত্যয়ান্ত পদ মাত্রেই বৃত্তি শব্দ হইবে।

समासप्रकरणम् ‘অতএব’ ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে শাব্দিক শ্রীপতিদন্তের মত উদ্ধৃত করিয়া নিজ সিদ্ধান্তের প্রামাণিকত্ব প্রদর্শন করিতেছেন। প্রতিযােগিপদাৎ—এখানে প্রতিযােগী শব্দটি ষষ্ঠী প্রভৃতি বিভক্তির অর্থ যে সম্বন্ধ তাহার প্রতিযােগী বুঝিতে হইবে, ‘পদ্যতে অনেন ইতি পদ এইরূপ ব্যুৎপত্তি অনুসারে পদ শব্দটির জ্ঞাপকরূপ অর্থ প্রতীয়মান হইবে এবং প্রতিযােগী পদং জ্ঞাপকং য” এইরূপ বহুব্রীহি সমাসের দ্বারা নিষ্পন্ন প্রতিষােগী পদ” শব্দটি প্রতিযােগী বিশেষিত সম্বন্ধের বােধক হইবে। কেননা প্রতিযােগী এবং অনুযযাগিরূপ সম্বন্ধিদ্বয়ের দ্বারা নিরূপণীয় সম্বন্ধগােচর জ্ঞানের প্রতি প্রতিযােগী ও অনুযােগী এই সম্বন্ধিদ্বয়ের জ্ঞান কারণ হইয়া থাকে। অতএব প্রতিযােগিণদাদৎ” এই অংশের সসম্বন্ধিক পদ হইতে ভিন্ন এইরূপ অর্থ পর্যবসিত হইবে। ‘যদনৎ কারকাপি’ এই অংশেরও ‘কাকবিভক্ত্যন্ত’ পদের দ্বারা উপস্থাপিত পদার্থ হইতে ভিন্ন এইরূপ অর্থ গৃহীত হইবে, “বৃত্তিশকৈদেশার্থে এখানেও বৃত্তিশষের দ্বারা পদের সহিত প্রত্যয়যুক্ত শব্দ, সমাস, ও কৃদন্ত শব্দ প্রতীয়মান হইবে। সাম্প্রদায়িকগণের মতে প্রতিযােগীপদ” এই সমাসবদ্ধ বাক্যটি হইতে নিয়ত সম্বন্ধী পদ রূপ অর্থ প্রতীয়মান হইবে, ইহার ফলে “চৈত্র গুরুকুল” এই সকল স্থলে ‘চৈত্রস’ এই পদটি নিয়ত সম্বন্ধী পদরূপে গৃহীত হইবে। কারক পদটির দ্বারা করণত্ব কর্তৃত্ব কমত্ব সম্প্ৰদানত্ব অপাদানত্ব এবং অধিকরণত্বকে বুঝিতে হইবে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় ‘শৱৈ শাতিতপত্রোহয়ং বৃক্ষাৎ এই স্থলে তৃতীয় বিভক্তির অর্থ করণত্ব, পঞ্চমী বিভক্তির অর্থ অবধিতা নিরূপকত্ব এই দুইটি বিভক্ত্যর্থের “শাতিত পত্র” রূপ বৃত্তি শব্দের একদেশ শাতন ক্রিয়ায় অন্বয় নৈয়ায়িক এবং বৈয়াকরণ উভয়ের সম্মত। এই জন্য কারিকার যৎ পদার্থে প্রতিযােগিপদভিন্নত্ব এবং কাকভিম্নত্ব বিশেষণ দেওয়া হইয়াছে। ইহার ফলে প্রতিযােগি পদ এবং কারক ভিন্ন অন্য কোনও পদার্থের বৃত্তি শকের একদেশীভূত পদের অর্থে অন্বয় বােধ হইবে না। উক্ত সিদ্ধান্তের প্রতিকুলে আপত্তি হইতে পারে, প্রতিযােগি পদ এবং কাকভিন্ন পদার্থের যদি বৃত্তি শব্দের একদেশী অর্থে অন্বয়বােধ স্বীকৃত না হয় তাহা হইলে, “উতিষ্ঠ গম্যতাং হো ত্যজ্যতাং চন্দ্ৰসঙ্গমঃ। কর্ম চাণ্ডালযােগােখং কুরু পাপক্ষয়ং মম।” এখানে পাপক্ষয়ের একদেশ যে পাপ, তাহাতে যােগােথ পদের অর্থ যে যােগজত্ব তাহার অন্বয় কি করিয়া সঙ্গত হইবে। যােগোখং' এই দ্বিতীয়া বিভক্তিও সঙ্গত হইতে পারে না। এই আপত্তির সমাধান কল্পে গ্রন্থকার বলিতেছেন কর্মচাণ্ডালযােগােখং ইত্যাদি স্থলে ‘যােগে।থং' শব্দের দ্বারা যােগ প্রযােজত্ব- রূপ অর্থটি অভেদ সম্বন্ধে পাপক্ষয়ে অম্বিত হইবে। অতএব ‘ক্রিয়াবিশেষণানাং কর্মম” ইত্যাদি ন্যায় অনুসারে দ্বিতীয়াবিভক্তির সাধুত্ব রক্ষিত হইবে। ষােগ শব্দটি এখানে চন্দ্রের সহিত রাহুর সম্বন্ধবােধক বুঝিতে হইবে। যােগ প্রযােজ্যত্বও পাপক্ষয়ের প্রতিযােগী যে পাপ তাহাকে দ্বার করিয়া বুঝিতে হইবে। প্রতিযােগিতা সম্বন্ধে পাপধ্বংসের প্রতি তাদাসম্বন্ধে প্রতিযােগী কাৰণ হওয়ায় পাপ এবং ধংসরূপ পাপক্ষয় এতদুভয়ের জন্য জনক ভাব গৃহীত হইবে। ইহাই তাৎপর্ষার্থ। ইহার উপরেও আশঙ্কা হইতে পারে, যদি शब्दशक्तिप्रकाशिका বৃত্তিশব্দের একদেশে পদার্থান্তরের অন্বয় ব্যুৎপত্তিসিদ্ধ না হয় তাহা হইলে-“যস্মিন্ রাশি- গতে সূর্যে বিপত্তিং যান্তি মানব। তেষাং তত্রৈব কর্তব্যা: পিণ্ডদানাদিকা ক্রিয়া। এই স্মৃতিকে “যম্মি” এই সপ্তম্যন্ত যৎ পদের অর্থ “রাশিগতে এই বৃত্তিশব্দের একদেশে রাশি পদার্থে অন্বয় বোধ কিরূপে সমীচীন হইবে? এই আশঙ্কার উত্তরে গ্রন্থকার বলেন এই বচনটি অমূলক অর্থাৎ সংহিতা বা পুরণ প্রভৃতি স্মৃতি গ্রন্থের অন্তর্গত নহে। “তুষ্যতু বা দুর্জন” এই নীতি অনুসারে বিকল্প আশ্রয় করিয়া বলিতেছেন—যদি উক্ত বচনটি সমূলক হয় তাহা হইলে “যস্মিন্ রাশৌ গতে সূর্যে” এইরূপ পাঠ স্বীকার করিতে হইবে। ইহার ফলে সপ্তম্যন্ত রাশি পদার্থে বৃত্তি শব্দার্থের একদেশ না হওয়ায় যৎ পদার্থের অন্বয় হওয়ার পক্ষে কোনও রূপ বাধা রহিল না। —— मूलम् ভিন্ন লরি संख्याशब्दयुतं नाम तदलक्ष्यार्थबोधकम् । अभेदेनैव यत् स्वार्थे स द्विगुत्रिविधो मतः ॥ ३५ ॥ অনুবাদ দ্বিগু সমাসের লক্ষণ করিতেছেন-সংখ্যা বিশিষ্টের বােধক যাদৃশ শব্দের অব্যবহিতােত্তরবতী যে নামটি স্বার্থ বিশেষ্যক অভেদ সম্বন্ধে লক্ষ্যার্থভিন্ন প্রকারক অন্বয়বােধের যোগ্য হয় অব্যবহিতােত্তারত্ব সম্বন্ধে তাদৃশ শব্দ বিশিষ্ট সেই নামটি দ্বিগু সমাস হইবে। এই দ্বিগু সমাস ত্রিবিধ কীর্তিত হইয়াছে। বিবৃতি কর্মধারয় সমাস নিরূপণ করিবার পরে অবসর সঙ্গতিক্রমে ক্রমপ্রাপ্ত দিশুসমাস নিরূপণ করিবার জন্য বলিতেছেন, “দ্বিগুং লক্ষতি”-আদশত সংখ্যা সংখ্যেয়ে বর্ততে এই বৈয়াকরণ বিধি অনুসারে এক, দ্বি প্রভৃতি শব্দ হইতে আরম্ভ করিয়া অষ্টাদশ শব্দ পর্যন্ত প্রত্যেকটি শব্দ সংখ্যা বিশিষ্টের অর্থাৎ একত্ব, দ্বিত্ব প্রভৃতি সংখ্যাবিশিষ্টের বাচক হইয়া থাকে। এই অভিপ্রায়ে গ্রন্থকার সংখ্যা শব্দ যুক্তং নাম” ইত্যাদি কারিকার মাধ্যমে দ্বিগুসমাসের লক্ষণ করিতেছেন। সংখ্যা শব্দযুতং” এখানে সংখ্যা শব্দটি “সংখ্যেয়” অর্থাৎ সংখ্যা বিশিষ্টরূপ অর্থের বাচক দ্বি, ত্রি প্রভৃতি শব্দের বােক। “যুত ১। পিণ্ডদানাদিকা ক্রিয়া' এই স্থলে কোনও প্রাচীন পুশুকে “পিণ্ড দানোদক- কিয়া” এইরূপ পাঠান্তর দৃষ্ট হয়।

समासप्रकरणम् শব্দের দ্বারা যদিও যুক্ত রূপ অর্থ প্রতীয়মান হয় এখানে কিন্তু অব্যবহিতােরত্ব সম্বন্ধে উক্ত সংখ্যাবিশিষ্ট রূপ অর্থে সংখ্যা শব্দযুত শব্দটি প্রযুক্ত হইয়াছে, নাম পদটির হাৱা উক্ত সংখ্যেয় বােধক পদের অর্থটি তাদাসম্বন্ধে যে পদার্থে অন্বিত হইবে উক্ত পদার্থের বােধক (পুল-গো প্রভৃতি) নাম গ্রহণ করিতে হইবে। “তলক্ষ্যার্থ বােধক এখানে তস্য অলক্ষং তদলক্ষ্যম্ এইরূপ ব্যুৎপত্তি অনুসারে তৎ পদের দ্বারা পূর্বে কথিত সংখ্যা শব্দ গৃহীত হইবে। তদলক্ষ্যশ্চাসৌ অর্থশ্চেতি এইরূপ অর্থে “তদলক্ষ্যার্থ এই সমস্ত পদটি-নিষ্পন্ন হওয়ায় উক্ত সমস্ত শব্দের দ্বারাও সংখ্যাবিশিষ্টরূপ দি ব্রি প্রভৃতি শব্দের শক্যার্থ গৃহীত হইবে। “তলক্ষ্যার্থ বােধক এইরূপ অর্থে তৎপুরুষ সমাস হওয়ায় তদলক্ষ্যাৰ্থ প্ৰকারক বােধজনকরূপ অর্থ প্রতীয়মান হইবে। উক্ত অলক্ষ্যার্থ প্ৰকাৰক বােধে কে বিশেষ্য হইবে। কোন সম্বন্ধেই বা উক্ত অলক্ষ্যার্থ প্রকার হইবে । তাহা বুঝিবার জন্য বলিতেছেন—“অভেদেনৈব যৎ স্বার্থে এখানে স্বার্থে এই সপ্তমী বিভক্তির বিশেষতারূপ অর্থ নিরূপকত্বসম্বন্ধে পূর্বোপস্থাপিত বােধে এবং অভেদেন’ এই তৃতীয় বিভক্ত্যন্ত অভেদপদের অভেদসংসর্গবিচ্ছিন্নরূপ অর্থ অলক্ষ্যার্থ এই যষ্ঠী বিভক্তির অর্থ প্রকারতে অম্বিত হইবে। ইহার ফলে কারিকা হইতে, সংখ্যেয়রূপ অর্থের বাচক শব্দের অব্যবহিতােত্তরবর্তী যে নামটি যকীয় অর্থবিশেষ্যক অভেদসম্বন্ধে উক্ত সংখ্যেয়ব্ধ’ (দ্বিত্রি প্রভৃতি) পদের অর্থ প্রকার অন্বয়বোধের স্বরূপযােগ্য হইবে, উক্ত সংখ্যেয় বােধক শব্দ বিশিষ্ট উক্ত নামটি তাদৃশ অর্থে দ্বিগু সমাস হইবে। এই দ্বিগু সমাল তদ্ধিতাৰ্থ দ্বিগু, উত্তরপদ দ্বিগু এবং সমাহার দ্বিগু ভেদে ত্ৰিবিখ। অন্যান্য বিষয় বিবরণ গ্রন্থে বিশদ ভাবে আলােচিত হইবে। मूलम् संख्यावच्छिन्नशक्तयत्पदोत्तरत्वविशिष्टं यनाम स्वार्थर्मिकं तादा- त्म्येन तदलक्ष्यार्थस्यान्वयबोधं प्रति समर्थं तमामोत्तरतापन्न तन्नामैव तदलक्ष्यार्थाभिन्नस्वार्थे द्विगुरुच्यते । त्रिकटु, त्रिभुवन, चतुर्युग, चतुर्वर्ग, ঘন্য, যক্ষ্মা, ঘ, ঘর্থ, সমৰ্থি, অনা, অনন্ত, ন, नवग्रह, दशमूल, एकादशरुद्र, एकादशेन्द्रिय द्वादशादित्यादिकस्तु कर्मधारयः शुण्ठ्यादिपर्याप्तत्रित्वावच्छिनबोधकतया न पूर्वपदालक्ष्यार्थस्य बोधकत्रिकटुप्रभृतिभ्यः कटुवयादि सामान्यस्याप्रतीतेः पश्चमूलीत्यादौ तु मूलपञ्चकत्वेनैव मूलविशेषेषु तात्पर्य न तु विशेषरूपेणापि ।

शब्दशक्तिप्रकाशिका অনুবাদ সংখ্যাবিশিষ্ট শক্ত (বাচক) পদের অব্যবহিতােত্তারত্ব বিশিষ্ট যে নামটি স্বকীয় অর্থধর্মিক, তাদাত্মাসম্বন্ধাবচ্ছিন্ন উক্ত সংখ্যাবিশিষ্ট অলক্ষ্যার্থ প্রকারক অন্বয়বােধের প্রতি যােগ্য হইবে, সেই নামােত্তরবিশিষ্ট সেই নাম লক্ষ্যার্থভিন্ন নিজ অর্থে দ্বিগুসমাসরূপে অভিহিত হইবে। ত্ৰিকটু, ত্রিভুবন, চতুর্যুগ, চতুর্বর্গ, পঞ্চামৃত ষড় রস, ষট্‌পদার্থ, সপ্তর্ষি, অষ্টনাগ, নবগ্রহ, দশমূল, একাদশরুদ্র, দ্বাদশাদিত্য এই সকল সমাস কিন্তু কর্মধারয়, কারণ শু্যাদিয়ে পর্যাপ্ত যে ত্রিত্ব তদবিশিষ্টের বােধক হওয়ায় পূর্বপদের অলক্ষ্যার্থপ্রকারক বােধজনক নহে, অতএব ত্ৰিকটু প্রভৃতি সমাস হইতে কটুত্রয়াদি সামান্যের অবগতি হয়না। পঞ্চমূলী প্রভৃতি দ্বিগুসমাসে কিন্তু মূলগত পঞ্চত্ব পুরষ্কারে পঞ্চসংখ্যা বিশিষ্টে মূলবিশেষে তাৎপর্য স্বীকৃত, পরন্তু ত্ৰিকটু প্রভৃতি শব্দের ন্যায় বিশেষরূপে তাৎপর্য স্বীকৃত নহে। বিবৃতি ‘সংখ্যাশকযুত’ ইত্যাদি কারিক বিবৃত করিবার জন্য সংখ্যাবচ্ছিন্ন ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। সংখ্যাবচ্ছিন্ন যৎ পদোত্তরবিশিষ্ট যন্নাম' এই সন্দর্ভের দ্বারা সংখ্যাশব্দযুতং নাম’ এই অংশটি ব্যাখ্যাত হইয়াছে। তাৎপর্য এই যে, মূলােক্ত সংখ্যাশব্দ এই অংশটি সংখ্যাবিশিষ্টে শক্তিমান যে পদ তাহার বােধক এবং যুত শব্দটি অব্যবহিতােত্তরত্বের বােধক। যন্নাম' এই নাম পদটির দ্বারা দ্বিগু সমাসের অন্তর্গত উত্তর পদটি গৃহীত হইবে। যৎ স্বার্থে এই সপ্তমান্ত স্বার্থ পদটি স্বার্থধর্মিক এই অংশের দ্বারা ব্যাখ্যাত হইয়াছে। তাদাত্মোন' এই উক্তির দ্বারা অভেদেন' এই তৃতীয়ান্ত পদটির অর্থ প্রদর্শিত হইয়াছে। স্বরূপযােগ্যত্ব’ রূপ কারণত্ব নিৰেশের অভিপ্রায়ে ‘কারণ না বলিয়া ‘সমর্থ এইরূপ কারিকো বােধক শব্দের অর্থ করা হইয়াছে। কারিকার উক্ত বিবরণ প্রদর্শনের ফলে যাদৃশ আনুপূৰী প্ৰকারক জ্ঞান, নিজের অন্তর্গত সংখ্যাবিশিষ্ট নিরূপিত শক্তি বিশিষ্ট নামের অব্যবহিতােত্তরবর্তী নাম প্রতিপাদ্য যাদৃশার্থ বিশেয়ক লক্ষ্যার্থভিন্ন যাদৃশ অর্থগত প্রকারশালি অন্বয় বােধের স্বরূপযােগ্য হইবে, তাদৃশ আনুপূর্ববিশিষ্ট সমাসটি তাদৃশ অর্থে দ্বিগু সমাস হইবে। এইরূপ লক্ষণেই বিবরণের তাৎপর্য বুঝিতে হইবে। “পঞ্চমুলানি” এইরূপ বিগ্রহ বাক্যে অতিব্যাপ্তি বারণের জন্য অন্তিম সমাস পদটি দেওয়া হইয়াছে। পঞ্চানাং ভাৰ্যাঃ পঞ্চভাৰ্যাঃ' এই তৎপুরুষ সমাসে অতিব্যাপ্তি বারণের জন্য প্রকাতে তাদাত্ম্যসম্বন্ধাবচ্ছিন্নত্ব নিবেশ করা হইয়াছে। ত্ৰিকটু প্রভৃতি কর্মধায়ে অতিব্যাপ্তি বারণ করিবার জন্য যে লক্ষ্যার্থ- समासप्रकरणम् ভিন্ন নিবেশ করিতে হইবে ইহা নিজেই ত্ৰিকটু, ত্রিভুবন ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে বলিয়াছেন। অন্তেসিগণের বিশদ ভাবে ব্যুৎপত্তি লাভের জন্য ত্ৰিকটু, ত্রিভূবন প্রভৃতি বিবিধ প্রয়ােগ প্রদর্শিত হইয়াছে। তাৎপর্ষ এই যে ব্ৰয়াণাং কটনাং সমাহার এইরূণ অর্থে শুষ্ঠী, পিপ্পলী এবং মরিচ এই তিনটিতে পর্যাপ্ত সংখ্যাবিশিষ্ট ত্রি শব্দটি লাক্ষণিক হওয়ায় সমাস নিবিষ্ট পূর্বপদটি লক্ষার্থের বােধক হইয়াছে, অর্থাৎ শক্যার্থের বােধক হয় নাই। ত্রিভুবন প্রভৃতি কর্মধারয় সমাস স্থলেও এইভাবে ত্রি প্রভৃতি শব্দ লাক্ষণিক হওয়ায় ত্ৰিকটু হইতে দাদশাদিত্য পর্যন্ত কোন কর্মধারয় সমাসেই দ্বিগু সমাসের লক্ষণের অতিব্যাপ্তি হইবে না। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে, ত্ৰিকটু, ত্ৰিভুৰন প্রভৃতি সংখ্যা শব্দযুক্ত প্রযুক্ত স্থল সমূহ যদি দ্বিগু লক্ষণের লক্ষ্য না হয়, তাহা হইলে উক্ত দ্বিগুলক্ষণের লক্ষ্য কে হইবে? এই আশঙ্কার সমাধানকল্পে গ্রন্থকার নিজেই দ্বিগুলক্ষণের লক্ষ্য প্রদর্শন করিবার জন্য, “পঞ্চমূলীত্যাদৌ-” ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, ত্ৰিকটু প্রভৃতি সমাস হইতে কটুত্ৰয়াদি সামান্যের প্রতীতি না হইলেও পঞ্চমূলী প্রভৃতি দ্বিগু সমাস হইতে কিন্তু মূল পঞ্চকত্ব পুরস্কারে মূল বিশেষের তাৎপর্য রহিয়াছে। সুতরাং পঞ্চমূলী এখানে পঞ্চ শব্দটি পঞ্চত্ব সংখ্যাবিশিষ্টে শক্ত হওয়ায় তাদৃশ অলক্ষ্যার্থ অর্থাৎ অভেদ সম্বন্ধে শক্যার্থ প্রকারক বধের স্বরূপযােগ্য হইয়াছে। পরন্তু ত্ৰিকটু প্রভৃতি কর্মধারয় সমাস হইতে কটুত্ৰয়াদি পর্যাপ্ত ত্ৰিত্বৰূপ বিশেষ ধর্ম পুরস্কারে ব্ৰিত্ববিশিষ্টের অভেদ সম্বন্ধে মূল পদার্থে অন্বয় বোধ হইলেও, দ্বিগুস্থলে কিন্তু পঞ্চত্বরূপ সামান্য ধর্ম পুরস্কারে পঞ্চত্ব বিশিষ্টের অভেদ সংসর্গে মূল পদার্থে অন্বয়বােধ স্বীকৃত হইয়া থাকে। এইভাবে ত্রিভুবন, চতুযুর্গ প্রভৃতি কর্মধারয় সমাসের সহিত ‘পঞ্চমূলী’ ইত্যাদি দ্বিগু সমাসের বৈলক্ষণ্য বুঝিতে হইবে। मूलम् श्रतएव- "कण्टकार्यादिकं स्वल्पं, गाम्भीर्यादि च यन्महत् । पञ्चमूलं तदुभयं दशमूलमुदाहृतम् ॥ इत्यादिकस्स्तद्रूपेण बोधस्थलीय प्रयोगः। “वर्षाकाले मघर्वेण्ण युक्ता चापि त्रयोदशी"त्यादिवदेकवचनस्य साधुत्वसम्भवात् । द्वयोरूप- मित्याद्यर्थे द्विरूपादिपदं, नाभेदेन द्विप्रभृतेरनुभावकम् , एकत्वसंख्यया शब्दशक्तिप्रकाशिका विशिष्टं बोधयदपि एकपदं न पर्याप्ति संसर्गेण तदवच्छिन्नस्य बोधकं, द्वितीयादिपदं एप्तिग द्वित्वावच्छिन्न प्रतिपादयदपि न तत्र शक्तं, वाक्यत्वात् , अतो नैकघटद्वितयपटेत्यादिकर्मधारयेऽतिप्रसङ्गः। सप्तशती पठ्यतामित्यादौ च यद्यपि शते धर्मिणि सप्तानामभेदेन नान्वयो वाधितत्वान्नापि सप्तपदलक्षितस्य सप्तगुणितस्य द्विगुत्वहान्यापत्तेः तथापि शत पदार्थैकदेशे शतत्वसंख्यायां, तस्याः सप्तत्वसम्भवादिति वदन्ति । द्विगार्ग्य गच्छत इत्याचव्ययीभाववारणन्तु पूर्ववत् । स चायं द्विगु- त्रिविधः, तद्धितार्थोत्तरपदसमाहारभेदात् ॥ ३५ ॥ অনুবাদ অতএব কণ্টকারী প্রভৃতি অল্পমাত্রায় রহিলে এবং গাম্ভীরী প্রভৃতি অধিকমাত্রায় অবস্থিত থাকিলে এতদুভয়ের প্রত্যেকটি পঞ্চমূলনামে, উক্ত পঞ্চ- মূলদ্বয় দশমূল নামে উদাহৃত হয়। তাৎপর্যবশতঃ বিশেষরূপে বােধের অনুকুল এই সকল প্রয়ােগ দৃষ্ট হয়, বর্ষাঋতুতে মঘা নক্ষত্রের সহিত সম্বদ্ধ ত্রয়ােদশী এইরূপ মঘা শ্রাদ্ধের বিধায়ক বচনে যেরূপ একবচনের সাধুত্ব স্বীকৃত হইয়া থাকে তদ্রুপ “পঞ্চমূলং” “দশমূলং” ইত্যাদিলেও একবচনের সাধুত্ব স্বীকৃত হইবে। “দ্বয়াে রূপম্” (দ্বিত্ববিশিষ্টের রূপ) এইরূপ অর্থে দ্বিরূপ প্রভৃতি পদ অভেদসম্বন্ধে দ্বি প্রভৃতির অম্বয়বােধের জনক নহে, একপদ কিন্তু একত্ব সংখ্যাবিশিষ্টের জনক হইলেও পৰ্যাপ্তিসম্বন্ধের একত্ববিশিষ্টের বােধক নহে, দ্বিতয়াদি পদ পৰ্যাপ্তি সম্বন্ধে দ্বিত্ববিশিষ্টের প্রতিপাদক হইলেও তাদৃশ অর্থে শক্ত নহে ( কারণ দ্বিতয় শব্দটি পদ নহে পরন্তু বাক্য) এইজন্য “এক ঘট”, ‘দ্বিতয় পট’ এইসকল কর্মধারয় সমাসে দ্বিগু লক্ষণের অতিব্যাপ্তি হইবে না। ‘সপ্তশতী পঠ্যতাম্ এই সকল স্থলে যদিও শতত্বের আশ্রয় যে ধর্মী তাহাতে সপ্ত পদার্থের অভেদ সম্বন্ধে অম্বয় হইতে পারে না, কারণ শতব্দের আশ্রয়ে সপ্তত্ব সংখ্যা বাধিত, যদি সপ্তগুণিত রূপ সপ্তপদের লক্ষ্যার্থের শত পদার্থে অন্বয় স্বীকৃত হয় ইহাও সঙ্গত নহে, কারণ এইভাবে অন্বয় স্বীকৃত হইলে উক্ত সমাসে দ্বিগুত্বের হানির আপত্তি হইবে। তথাপি শত পদার্থের একদেশে শতত্বসংখ্যারূপ ধর্মীতে সপ্তত্ব সংখ্যার অন্বয় করিতে হইবে, কেননা শতত্ব সংখ্যাতে সপ্তত্ব সংখ্যা বিদ্যমান রহিয়াছে। প্রাচীনগণ समासप्रकरणम् ৭ এইরূপ বলেন। দ্বিগাৰ্গং গচ্ছতঃ এইসকল অব্যয়ীভাব সমাস বারণ করিবার জন্য পূর্বকথিত রীতি অনুসরণ করিতে হইবে। এই দ্বিগু সমাস তদ্ধিতার্থ, উত্তরপদ এবং সমাহারভেদে ত্রিবিধ। (৩৫)। বিবৃতি এখন প্রশ্ন হইবে ‘পঞ্চমূলী' প্রভৃতিস্থলে তাৎপর্ষবিশেষ রূপ কারণ হইতে পঞ্চাভিন্ন মূল প্রভৃতি বিশেষ পদার্থের যেরূপ ভান হইবে, তদ্রুপ কন্টকার্ষাদিকং স্বল্পং ইত্যাদি কারিকার অন্তর্গত ‘পঞ্চমূল’, ‘দশমূলম্ এই সকল প্রয়োেগ স্থলে ‘পঞ্চমূলী’, ‘দশমূলী এইরূপ দ্বিগু সমাস স্বীকৃত হইবে না কেন? যদি ইষ্টাপত্তি করা হয় তাহা হইলে দ্বিগু সমাসের লক্ষণে ‘তলক্ষ্যার্থ’ এই বিশেষণটি ব্যর্থ হইয়া পড়ে। এইরূপ আশঙ্কার সমাধান কল্পে উক্ত মলদ্বয়ে দ্বিগুসমাসত্বের অভাব প্রদর্শনপূর্বক তাদৃশ তাৎপর্যের অভাব প্রদর্শন করিতেছেন। অতএব অর্থাৎ যেহেতু পঞ্চমূলী প্রভৃতি স্থলে বক্তার তাৎপর্য বিশেষ নিয়ামকরূপে স্বীকৃত হইয়াছে। অতএব উক্ত কারিকার অন্তর্গত ‘পঞ্চমুল’, ‘দশমূল’ প্রভৃতিঋলে পঞ্চমূলত্ব প্রভৃতি বিশেষ ধর্মপুরস্কারে বোধস্থলীয় প্রয়ােগ স্বীকৃত হইয়াছে। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে যদি পঞ্চমূল’ প্রভৃতিস্থলে মূল পঞ্চকাদির বােধ স্বীকৃত হয় তাহা হইলে পঞ্চমূল প্রভৃতির প্রয়ােগ একবচনা না হইয়া বহুবচনান্ত হইবে না কেন? আশঙ্কার উত্তরে বর্ষাকালে প্রভৃতি মঘাশ্রাদ্ধের বিধায়ক বচনটি উদ্ধৃত করিতেছেন তাৎপর্য এই যে, ‘মঘা’ শব্দটির দ্বারা প্রতিপাদ্য মঘা নক্ষত্রগত বত্ব সংখ্যা এবং ত্রয়ােদশীগত বহুত্ব সংখ্যা স্বীকৃত হইলেও মথ। এবং ত্রয়ােদশী শব্দের পরে প্রথমার একবচন যেরূপ সাধু হইয়া থাকে তােপ পঞ্চমূল প্রভৃতিস্থলেও মূলগত বহুত্ব সংখ্যা প্রতীয়মান হইলেও একবচনের সাধুত্ব স্বীকৃত হইবে। দ্বিগুলক্ষণের অন্তর্গত প্ৰকাতাতে তাদাসম্বন্ধাবচ্ছিন্নত্ব নিবেশের ব্যাবৃত্তি প্রদর্শন করিবার জন্য গ্রন্থকার “দ্বয়ােৰূপমিত্যাদ্বার্থে বিরূপাদি- পদমি”ত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে গ্রন্থকারােক্ত ‘দ্বিরূপ এই সমাসের কর্মধারয়ত্ব ব্যাবৃত্ত কৰিবার জন্য ‘দ্বয়ে রূপ এই বিগ্রহ বাক্যটি প্রদর্শন করিয়াছেন এবং ‘ইত্যান্ত’র্থে এই উক্তির দ্বারা ‘দ্বিরূপ এইসমাসটি যে তৎপুরুষ অর্থাৎ কর্মধারয় সমাস নহে ইহাই ব্যক্ত করিয়াছেন। ‘দ্বয়ে: রূপম্ ‘দ্বিরূপ এখানে এই তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্গত দ্বি পদটি দ্বিত্ব বিশিষ্টে শক্ত হইলেও উক্ত দ্বি পদার্থের সমবেতত্বৰূপ ভেদ সম্বন্ধে রূপ পদার্থে অন্বয় হইয়াছে। অতএব তদাত্ম্য সম্বন্ধে দ্বি পদার্থ রূপ পদার্থে অন্বিত না হওয়ায় উক্ত ষষ্ঠীতৎপুরুষ সমাস নিষ্পন্ন দ্বিরূপ এই বাক্যে দ্বিগু লক্ষণের অতিব্যাপ্তি হইবে না। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে এক ঘট’ ইত্যাদিস্থলে একপদের অর্থ যে একত্ব বিশিষ্ট তাহার অভেদ সম্বন্ধে ঘট পদার্থে অন্বয় হওয়ায় তাদৃশ অন্বয়ের বােধক ‘এক ঘট’ এই কর্মধারয় সমাসে দ্বিগু লক্ষণের অতিব্যাপ্তি হইবে না কেন? এই আশার সমাধানকল্পে একা বলিতেছেন উক্ত কর্মধারয় সমাস অঙ্গে সন্ধে ६२ शब्दशक्तिप्रकाशिका একত্ব বিশিষ্ট একারক বােধের জনক হইলেও পৰ্যাপ্তি সম্বন্ধে একত্ব বিশিষ্টের বােধক হয় নাই। অর্থাৎ উক্ত কর্মধারয়ের অন্তর্গত এক পদটির সমবায় সম্বন্ধে একত্ব বিশিষ্টের উপস্থাপক হইয়াছে, পর্যাপ্ত সম্বন্ধে নহে। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে অচ্ছেদকত্ব নিরুক্তি গ্রন্থে ‘অয়মেকে ঘট' ইত্যাদি প্রতীতির অনুরোধে ‘ইদত্যাবচ্ছেদে ঘট প্রভৃতি ধমীতে একত্বরূপ সংখ্যাৰ পৰ্যাপ্তি ও স্বীকৃত হইয়াছে, অতএব ‘এক ঘট’ এই কর্মধারয়- সমাসও পৰ্যাপ্তি সম্বন্ধাবচ্ছিন্ন একত্ব গত অবচ্ছেদকতা নিরূপক অভেদসম্বন্ধাবচ্ছিন্ন একত্ব বিশিষ্টগত প্ৰকাৰতাক বােধজনক সম্বন্ধ হওয়ায় দ্বিগু লক্ষণের অতিব্যাপ্তি হইবে না কেন? এই আশঙ্কার উত্তরে বলিতে হইবে জগদীশ যে পর্যাপ্ত সম্বন্ধের কথা বলিয়াছেন উক্ত পর্যাপ্ত পদের দ্বারা ব্যাসজ্যবৃত্তি ধর্মাবচ্ছিন্নানুযযাগিতাক পর্ষাপ্তি সম্বন্ধ গৃহীত হওয়ায় দ্বিত্বাদির পর্যাপ্তই-ব্যাসজ্যবৃত্তিধর্মাবচ্ছিন্ন অনুযযাগিতার নিরূপক হইয়া থাকে। একত্বের পর্ষাপ্তি স্বীকৃত হইলেও উক্ত পর্যাপ্ত অনুযযাগিতা কিন্তু ইদত্ত বা তদ ব্যক্তিত্বরূপ ধর্মের দ্বারা অবচ্ছিন্ন হইয়া থাকে, অতএব ইদত্ত্ব বা একত্ব একাধিক ব্যক্তিতে বর্তমান নয় বলিয়া ব্যাসবৃত্তি নহে। সুতরাং ‘এক ঘট’ ইত্যাদি কর্মধারয় সমাসে দ্বিগু লক্ষণের অতিপ্রসক্তি হইবে না। এইভাবে গ্রন্থকার কর্মধারয় সমাসে অতিব্যাপ্তি বারণ করিলেও ‘দ্বিতয়, ‘ত্ৰিতয়' প্রভৃতি পদ পৰ্যাপ্তি সম্বন্ধে দ্বিত্বাদি বিশিষ্ট প্ৰকাক বােধের জনক হওয়ায় উক্ত পদদ্বয়ে দ্বিগু লক্ষণের অতিব্যাপ্তি হইবে না কেন? এই আশঙ্কার সমাধানকল্পে গ্রন্থকার ‘দ্বিতয়াদিপদ ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। গ্রন্থকারের তাৎপর্য এই যে দ্বিতয়াদিপদ পর্যাপ্ত সম্বন্ধে দ্বিত্ববিশিষ্টের বােধক হইলেও অতিব্যাপ্তির সম্ভাবনা নাই কারণ ‘দ্বিতয়, ত্ৰিতয়’ প্রভৃতি শব্দ বাক্য, পদ নহে। বাস্তবিক পক্ষে পদে শক্তি কল্পিত হইয়া থাকে, বাক্যে নহে। অতএব বাক্যে শক্তি না থাকায় দ্বিতয়াদি শব্দ দ্বিত্ববিশিষ্টরূপ অর্থে শক্তি নহে। অতএব এক ঘট’ এই কর্মধারয় সমাসে যেরূপ পূর্বোক্ত যুক্তি বলে দ্বিগু লক্ষণের অতিব্যাপ্তি নিরাকৃত হইয়াছে তদ্রুপ দ্বিতয়াদি বাক্যরূপ শব্দ শক্ত না হওয়ায় ‘দ্বিতয়পট’, ‘তিয়পট’ এই সকল কর্মধারয়েও দ্বিগুলক্ষণের অতিব্যাপ্তি বারিত হইল। এখন আশঙ্কা হইতে পারে ‘সপ্তশতী পঠ্যতাম্ এই সকল স্থলে সপ্তশতী এই দ্বিগুসমাসে দ্বিগু লক্ষণের অব্যাপ্তি হইবে। কারণ সপ্ত পদের শক্যার্থ যে সপ্তত্ব বিশিষ্ট তাহা শতত্ব সংখ্যা বিশিষ্ট শতপদার্থে বাধিত। যদি এখানে সপ্তপদের সপ্তগুণিতরূপ অর্থ গ্রহণ করিয়া শতপদার্থে অন্বয় স্বীকৃত হয় তাহা হইলে সপ্ত পদার্থটি লক্ষ্যার্থ ভিন্ন না হওয়ায় উক্ত সমাসে দ্বিগুর লক্ষণ সমন্বয় হইতে পারেনা। এই আশঙ্কার সমাধান কল্পে গ্রন্থকার ‘সপ্তশতী পঠ্যতাম্ ইত্যাদি সন্দর্ভের মাধ্যমে শঙ্কা প্রদর্শন পূর্বক প্রাচীন সম্প্রদায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উক্ত শঙ্কার সমাধান করিতেছেন। সিদ্ধান্তীগণের অভিপ্রায় এই যে শত পদার্থে সপ্তপদার্থের কিংবা সপ্তগুণিতরূপ অর্থের অন্বয় অব্যাপ্তি দোষ বশতঃ স্বীকৃত * পর্যাপ্ত ‘অয়মেকে। ঘট', ‘ইমো দ্বাবি’ত্যাদি প্রতীতিসাক্ষিকঃ স্বরূপ-সম্বন্ধ- বিশেষ এব। জাগদীশ্যাঃ ব্যাপ্তিবাদে অবছেদকতা নিরুকি। পৃঃ২৬২

समासप्रकरणम्
না হইলেও শত পদার্থের একদেশ যে শতত্ব সংখ্যা তাহাতে সপ্তপদে শ্যার্থ যে সপ্তত্ব
সংখ্যা তাহার অন্বয়ের পক্ষে কোনরূপ বাধক না থাকায় সপ্তশতী এই দিগুমালে শত
পদার্থের একদেশ শতত্বে অর্থাৎ শতত্ব সংখ্যাতে সপ্ত পদার্থের অন্বয় স্বীকৃত হওয়ায় উক্ত
দ্বিগুসমাসে অব্যাপ্তি হইবে না। ইহার উপরেও আশঙ্কা হইতে পারে শত পদার্থের একদেশ
শতত্ব সংখ্যা বিশেষ হওয়ায় সেখানে সপ্তত্ব সংখ্যার অন্বয় হইতে পারে না। কারণ শতত্ব
বা সপ্তত্ব সংখ্যাগুণ বিশেষ হওয়ায় শতত্ব সংখ্যারূপগুণে সপ্তত্ব সংখ্যারূপ গুণের অয় ন
গুণে গুণ বৃতি” এই নিয়মানুসারে বাধিত। এই আশঙ্কার উত্তরে টীকাকার কৃষ্ণকান্ত
বলেন-সমবায় সম্বন্ধে শতত্ব সংখ্যায় সপ্তত্ব বাধিত হইলেও পর্যাপ্ত সম্বন্ধে শতত্ব
সংখ্যারূপ ধমীতে সপ্তত্ব সংখ্যা থাকার পক্ষে কোন বাধা না থাকায় সপ্তশতী এখানে শত
পদার্থের একদেশে শতত্বরূপ ধমীতে পর্যাপ্ত সম্বন্ধে সপ্ত পদার্থের একদেশ যে সপ্তত্ব তাহার
অন্বয় স্বীকৃত হইবে। গদাধর ভট্টাচার্যের মতে দ্বিত্বাদি সংখ্যা যখন গুণবিশেষ রূপ হইবে
তাহার সম্বন্ধ হইবে সমবায়। আর যখন অপেক্ষাবুদ্ধি বিশেষ বিষয়ত্বরূপ দ্বিত্বাদি
সংখ্যা স্বীকৃত হইবে তখন কিন্তু উক্ত দ্বিত্বাদির নিয়ামক সম্বন্ধ পর্যাপ্ত হইবে, সমবায় নহে।
অতএব অপেক্ষাবুদ্ধি বিশেষ বিষয়ত্বরূপ সপ্তত্ব সংখ্যা পর্ষাপ্তি সম্বন্ধে শতত্ব সংখ্যাতে অবাধে
অন্বয় হইতে পারিবে। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে দৌ গার্গেী এইরূপ অর্থে ‘দ্বিগার্গ
এইরূপ অয়ীভাব সমাসে দ্বিগুলক্ষণের সমম্বয় হওয়ায় অতি ব্যাপ্তি হইবে না কেন? এই
আশঙ্কা পরিহার করিবার জন্য জগদীশ ‘দ্বিগার্গম্' ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা
করিতেছেন। দ্বিগার্গম্' এখানে একবচনান্ত এই রূপ ভ্রম নিরসনের জন্য গচ্ছতঃ এই
ক্রিয়া পদটির প্রয়ােগ করা হইয়াছে। জগদীশ বলিতেছেন পূর্বোক্ত রীতিতে অতিব্যাপ্তি
বারণ করিতে হইবে। তাৎপর্য এই যে, যেরূপ তৎপুরুষ সমাস বিশেষে কর্মধারয় লক্ষণের
অতিব্যাপ্তি বারণ করিবার জন্য উক্ত লক্ষণে তৎপুরুষত্ব নিবেশ করা হইয়াছে তদ্রুপ
দ্বিশুলক্ষণেও অব্যয়ীভাবসমাসান্যত্ব নিবেশ করিয়া অতিব্যাপ্তি বারণ করিতে হইবে।
এই পর্যন্ত কারিকার তিনটি চরণ ব্যাখ্যাত হওয়ার পরে ‘স চায়ং দ্বিগুস্ত্রিবিধঃ
ইত্যাদি সম্পর্ডের দ্বারা চতুর্থ চরণের ব্যাখ্যা করিয়াছেন।
मूलम्
तत्र तद्धितार्थ द्विगु लक्षयति,-
तद्धितार्यान्वितस्वार्थस्तद्धितार्थद्विगुर्मतः ।
तद्धितार्थे लाक्षणिकस्वान्त्यनामा त्वसर्वगः ॥ ३६ ॥

मन्दाक्तिप्रकाशिका অনুবাদ পূর্বোক্ত ত্রিবিধ দ্বিগুসমাসের মধ্যে তদ্ধিতাৰ্থ দ্বিগু’র লক্ষণ করিতেছেন- যে দ্বিগু (সমাস)তদ্ধিতার্থের সহিত অম্বিত স্বকীয় অর্থের বােধক হয় সেই দ্বিগু সমাসকে তদ্ধিতাৰ্থ দ্বিগু বলা হয়। যে দ্বিগুসমাসের অন্তিম নামটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের অর্থে লাক্ষণিক হয় সেই দ্বিগু সমাসই তদ্ধিতার্থ দ্বিগুফণিভাষ্যকারের এই মত সমীচীন নহে, কারণ সকল তদ্ধিতার্থ দ্বিগুসমাসে উক্ত লক্ষণ সমন্বয় না হওয়ায় ভাষ্যকারসম্মত উক্ত লক্ষণের অব্যাপ্তি হইবে । বিবৃতি পূর্বকারিকার অন্তিম চরণে যে তদ্ধিতার্থ, উত্তরপদ এবং সমাহারভেদে ত্রিবিধ দ্বিগু সমাসের কথা বলা হইয়াছে, উক্ত বিভক্ত দ্বিগু সমাসের মধ্যে প্রথম উল্লিখিত তদ্ধিতার্থ দ্বিগু’র লক্ষণ করিতেছেন তদ্ধিতার্থ’ ইত্যাদি। উক্ত কারিকার প্রথমার্ধে গ্রন্থকার নিজ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তদ্ধিতার্থ দ্বিগু’র লক্ষণ করিয়াছেন। উত্তরাধে পাণিনি ভাষ্যকার পতঞ্জলি সম্মত লক্ষণ প্রদর্শন পূর্বক উক্ত লক্ষণের খণ্ডন করা হইয়াছে। তদ্ধিতার্থান্বিত- স্বার্থ' এই প্রথম চরণের দ্বারা নিজ সিদ্ধান্ত সম্মত লক্ষণের সূচনা করিয়া দ্বিতীয় চরণের দ্বারা উক্ত লক্ষণের লক্ষ্য প্রদর্শিত হইয়াছে। যে দ্বিগু সমাস নিজের অব্যবহিতােত্তরবর্তী তদ্ধিত প্রত্যয়ের অর্থে সংবদ্ধ হইয়া স্বকীয় অর্থ প্রতিপাদন করে সেই দ্বিগুসমাস তদ্ধিতার্থ দ্বিগু। ইহাই সর্বসম্মত তদ্ধিতার্থ ‘দ্বিগু’র লক্ষণ। দ্বিমুদ্রে। বৃষ:' ইত্যাদি স্থলে ‘দ্বাভ্যাং মুদ্রাভ্যাং ক্রীতঃ এই ক্রীতার্থে বিহিত ‘ঠ’ প্রভৃতি লুপ্ত হইলে ক্রীতরূপ অর্থের জ্ঞাপক হওয়ায় তাদৃশ ক্রীতরূপ তদ্ধিত প্রত্যয়ের অর্থে দ্বিমুদ্র এই দ্বিগুসমাসের অর্থে অন্বয় হওয়ায় দ্বিমুদ্র এই দ্বিগুসমাস তদ্ধিতার্থদ্বিগু হইয়াছে। ফণিভাষ্যকার বলেন-যে দ্বিগুসমাসে অন্তিম পদটি তদ্ধিত প্রত্যয়ের অর্থে লাক্ষণিক হইবে সেই দ্বিগু সমাসই তদ্ধিতাৰ্থ দ্বিগু নামে অভিহিত হইবে। এই মতে ‘দ্বিমুদ্রা বৃষ এখানে ‘দ্বাভ্যাং মুদ্রাত্যাং ক্রীতঃ এই অর্থে উক্ত দ্বিগুসমাসের মুদ্রারূপ অন্তিম নামটি ‘মুদ্রাভাং ক্রীত: এইরূপ ক্রীতরূপ অর্থে লাক্ষণিক হওয়ায় দ্বিত্ববিশিষ্টাভিন্ন মুদ্রা করণক ক্রয়ের অন্যত্র বৃষে অন্বিত হইবে। গ্রন্থকার বলিতেছেন ফণিভাষ্যকারের এই সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত নহে কারণ উক্ত লক্ষণ ‘পঞ্চপুরুষি ইত্যাদি তদ্ধিতার্থ দ্বিগুসমাসে অপত্যার্থক ইঞ, প্রত্যয়ের দ্বারাই অপত্যরূপ অর্থ প্রতীয়মান হওয়ায় উক্ত দ্বিগুসমাসে পুরুষরূপ অন্তিম নামটি অপত্যরূপ অর্থে লাক্ষণিক না হওয়ায় ফণিভায় সম্মত উক্ত লক্ষণ ঐ সকল তদ্ধিতার্থ দ্বিৎসমাসে সমন্বয় না হওয়ায় ব্যাপ্তি দোষ হইবে। (৩৫)।

समासप्रकरणम् मूलम् यो द्विगुः स्वोत्तरतद्धितान्वितान्वयस्वार्थकः स तद्धितार्थद्विगुः । 'द्विमुद्रो वृषः' इत्यादौ द्वाभ्यां मुद्राभ्यां क्रीतस्य, 'द्विवर्षा गौरित्यायो द्वाभ्यां वर्षाभ्यामभिन्न वयस्कस्य, 'द्विदलं पवित्रमित्यादौ द्वाभ्यां दलाभ्यां निर्मितस्य, 'द्विगुलं स्वर्णमित्यादौ द्वाभ्यां गुञ्जाभ्यां तुलितस्य, 'त्रिकाण्डः पुरुष' इत्यादौ त्रिभिः काण्डः परिमितस्य, 'पश्चकपालश्चरित्यादौ पञ्चभिः कपालः संस्कृतस्य बोधने लुप्तस्यैव ठगादितद्धितस्य क्रीताधभिधायकत्वात् , परिशिष्टकृतां मतेनेदम्। उक्तप्रयोगेषु द्विगोरन्तिमनाम्न व क्रोतादि- रूपार्थो लक्ष्यते, न तु लुप्तष्ठगादिरप्यपेक्ष्यतेऽतस्तद्धितार्थलाक्षणिकस्वान्त्य- नामको द्विगुरेव तद्धितार्थद्विगुरिति फणिभाष्यमतन्तु न युक्तम् , अस- वर्गत्वान, 'पाञ्चपुरुपिरित्यादौ पश्चानां पुरुषाणामपत्यस्त्र, 'पञ्चगर्गरूप्यो गौरित्यादौ पञ्चानां गर्गाणां श्रुतपूर्वस्य बोधने तद्धितेनैव स्वार्थस्यापत्य- प्रभृतेरुपस्थापनात् । 'द्विस्वर्णमुद्रः पशुरित्याद्यावुत्तरपदस्य शक्तिविरहेन क्रोताद्यर्थ लाक्षणिकत्वायोगाच्च ॥३६ ॥ অনুবাদ যে দ্বিগু (সমাস) নিজের অব্যবহিতপরবর্তী তদ্ধিত প্রত্যয়ের অর্থে সম্বদ্ধ হইয়া স্বকীয় অর্থের প্রতিপাদক হয়, সেই দ্বিগু সমাস তদ্ধিতার্থ দ্বিগু নামে অভিহিত হইবে। দ্বিমুদ্রো বৃষঃ ইত্যাদিস্থলে দুইটি মুদ্রার দ্বারা ক্রীতরূপ অর্থে, ‘দ্বি বর্ষা গৌ' ইত্যাদি স্থলে দ্বিবর্ষ হইতে অভিন্ন বয়স্করূপ অর্থে, ‘দ্বিদলং পবিত্র এই সকলস্থলে দুইটি কুশের দ্বারা নির্মিতরূপ অর্থে, ‘দ্বিগুঞ্জং স্বর্ণ ইত্যাদিস্থলে দুইটি গুঞ্জার (কুচের) দ্বারা তুলিতরূপ অর্থে, ‘ত্রিকাণ্ডঃ পুরুষঃ ইত্যাদিস্থলে তিনটি কাণ্ডের (শাখাবিশেষের) দ্বারা পরিমিতরূপ অর্থে এবং ‘পঞ্চকপাল চরু ইত্যাদিস্থলে পাঁচটি কপালের অর্থাৎ নির্মাণ পাত্র বিশেষের দ্বারা সংস্কৃতরূপ অর্থের প্রতিপাদন করিতে হইলে লুপ্ত ঠক্ প্রভৃতি তদ্ধিত शब्दशक्तिप्रकाशिका প্রত্যয়ের উত্তর কৃদিরূপ অর্থের অভিধায়ক হইয়া থাকে। পরিশিষ্টকার (শ্রীপতিদত্তের) ইহাই সিদ্ধান্ত। মতান্তরে উক্ত প্রয়ােগসমূহে দ্বিগুসমাসের অন্তিম নামটি ক্রীতাদিরূপ অর্থে লাক্ষণিক হইবে ( সুতরাং এইমতে লুপ্ত ঠক্‌ প্রভৃতি প্রত্যয়ের অপেক্ষা থাকিবে না)। অতএব যেই দ্বিগুসমাসের অন্তিম নাম তদ্ধিতাৰ্থে লাক্ষণিক হইবে সেই দ্বিগু তদ্ধিতার্থ দ্বিগু নামে পরিচিত, ফণিভাষ্য- কারের এই সিদ্ধান্ত কিন্তু যুক্তিযুক্ত নহে, কারণ এইরূপ লক্ষণের সকল তদ্ধিতার্থ দ্বিগুসমাসে সমন্বয় হয় না, ‘পাঞ্চ পুরুষিঃ এই সকল স্থলে পঞ্চানাং পুরুষাণাম অপত্যস্য অর্থাৎ পঞ্চপুরুষের অপত্যরূপ অর্থে, এবং “পঞ্চগৰ্গরূপপ্যা গৌঃ” ইত্যাদিস্থলে পঞ্চগগ্যদিগের ভূতপূর্বরূপ অর্থের প্রতিপাদন করিতে হইবে। তদ্ধিত প্রত্যয়ের দ্বারাই অপত্য প্রভৃতিরূপ স্বকীয় অর্থ উপস্থাপিত হইয়া থাকে। দুইটি স্বর্ণমুদ্রা দ্বারা ক্রীতরূপ ‘দ্বিস্বর্ণমুদ্রঃ পশু ইত্যাদিস্থলে স্বর্ণমুদ্রা রূপ দ্বিগু সমাসের অন্তিম পদটি শক্তি শূন্য হওয়ায় ক্রীতাদিরূপ অর্থে লাক্ষণিক হইতে পারিবে না। বিবৃতি “ষােত্তরতদ্ধিতার্থান্বিতাম্বয় স্বার্থক এখানে দুইটি ‘স্ব’ পদের দ্বারা দ্বিগুসমাস গৃহীত হইবে। এই বাক্যের অন্তর্গত ‘ষােত্তর তদ্ধিতার্থ’ এই অংশটি ‘ষােত্তরশ্চাসৌ তদ্ধিতার্থ- শ্চেতি’ এই রূপ বিগ্রহ অনুসারে কর্মধারয় সমাসের দ্বারা সমস্ত হওয়ার পরে ‘ঘােত্তর- তদ্ধিতাৰ্থে অতি স্বার্থ: যস্য এইরূপ বহুব্রীহি সমাসের দ্বারা নিষ্পন্ন উক্ত মহাবাক্য হইতে, যে দ্বিশুসমাসের নিজের অব্যবহিতোওরবর্তী ঠক্ প্রভৃতি তদ্ধিত প্রত্যয়ের অর্থে নিজের অর্থটি অন্বিত অর্থাৎ সম্বদ্ধ হইবে সেই দ্বিগু সমাস তদ্ধিতাৰ্থ দ্বিগু সমাসরূপে গণ্য হইবে। তদ্ধিতার্থ দ্বিগু' এই অংশের দ্বারা তদ্ধিতাৰ্থ দ্বিগু সমাস লক্ষণের লক্ষ্য নির্দেশ করা হইয়াছে। উক্ত দ্বিগুসমাসের লক্ষণটি বক্ষ্যমাণমীতিতে পরিষ্কার করিতে হইবে। যথা যাদৃশ আনুপূর্বী রূপ ধর্মটি নিজের আশ্রয়ের অব্যবহিত পরবর্তী তদ্ধিত প্রত্যয়ের দ্বারা উপস্থাপিত ষাদৃশার্থ বিশেষক, যাদৃশাৰ্থ প্ৰকাৰক অন্বয়বােধগত জন্যতা নিরূপিত জনকতাবচ্ছেদক বিষয়িতা নিরূপকতাবচ্ছেদক হইবে, তাদৃশ আনুপূর্ববিশিষ্ট দ্বিগুসমাসটি তাদৃশ তদ্ধিতার্থ বিশেষক তাদৃশ সমাৰ্থ প্ৰকাৰক অন্বয়বােধের অনুকুল দ্বিগুসমাস হইবে। ইহাই ‘যাে দ্বিগু' ইত্যাদি সন্দর্ভের দ্বারা প্রদশিত তদ্ধিতার্থ দ্বিগু সমাসের পৰ্ষৰসিত লক্ষণ হইবে। টীকাকার কৃষ্ণকান্তও প্রায় এই ভাবেই তদ্ধিতাৰ্থ দ্বিগুসমাসের নিষ্কর্য প্রদর্শন করিয়াছেন। “দ্বিমুদ্ৰো বৃষ” ইত্যাদি সম্পর্ডের মাধ্যমে তদ্ধিতার্থ দ্বিগুসাসের ছয়টি উদাহরণ প্রদর্শন করিতেছেন। উক্ত ছয়টি উদাহরণের মধ্যে প্রথম উদাহরণ দ্বিমুদ্রে। এখানে समासप्रकरणम् ‘াভ্যাং মুদ্রাত্যাং ক্রীতঃ এইরূপ অর্থে দ্বিমুদ্ৰা শব্দের পরে ক্রীত অর্থে প্রত্যয় হওয়ার পরে উক্ত তদ্ধিতপ্রত্যয় (ঠ) লুপ্ত হওয়ায় পরে দ্বিমুদ্র এই সমস্ত পদটি নিষ্পন্ন হইয়াছে। এইরূপ লুপ্ত তদ্ধিতান্ত দ্বিগুস্থলে অনুসন্ধীয়মান লুপ্ত ঠক্ প্রত্যয়ের দ্বারা উপস্থাপিত ক্রীত- রূপ ধমীতে দ্বিমুদ্র পদত্বৰূপ আনুপূর্বী বিশিষ্ট দ্বিগুসমাসের অর্থ যে দ্বিমুদ্রাকরণকত্ব তাহা ক্রীত পদার্থের বিশেষণ হওয়ায় তাদৃশ সমার্থপ্রকারক ক্রীতরূপ লুপ্ত তদ্ধিতার্থ বিশেষ অন্বয়বােধের প্রতি তাদৃশ আনুপূর্ব প্রকার জ্ঞান বিশেষণ জ্ঞানরূপের জনক হইবে আনুপূর্ব বিশিষ্ট জ্ঞান। উক্ত জনকতার অবচ্ছেদক যে বিষয়তা তাহার নিরূপকতাব- চ্ছেদক যে দ্বিমুদ্র পদত্বরূপ আনুপূর্বী তাদৃশ আনুপূর্বিমত্ত্ব এবং সমাসত্ব ‘দ্বিমুদ্র’ এই সমাসে থাকায় তদ্ধিতার্থ দ্বিগুর লক্ষণ সমন্বয় হইবে। এই ভাবে ‘দ্বিবর্ষ। গৌ’, ‘দ্বিদলং পবিত্র ইত্যাদি পাঁচটি উদাহরণেও লক্ষণ সমন্বয় করিতে হইবে। অন্তেসিগণের বিশদভাবে ব্যুৎপত্তিলাভের জন্য এখানে ছয়টি উদাহরণ প্রদর্শিত হইয়াছে। জগদীশ বলিতেছেন—উক্ত ছয়টি উদাহরণেই ক্রমে দুইটি মুদ্রার দ্বারা ক্রীত, দ্বিবর্ষ হইতে অভিন্ন বয়স্ক, দুইটি কুশের দ্বারা নির্মিত, দুইটি কুঁচের দ্বারা তুলিত, তিনটি কাণ্ডের দ্বারা পরিমিত এবং পাঁচটি কপালের দ্বারা সংস্কৃত এইসকল অর্থবোধের অনুকুল যে ঠগাদি তদ্ধিত প্রত্যয় তাহারই ক্রীতাদিরূপ অর্থের অভিধায়ক অর্থাৎ শক্তিরূপ বৃত্তির দ্বারা উপস্থাপক হইবে। এই যাহা সিদ্ধান্ত করা হইল তাহা কাতন্ত্র পরিশিষ্টকার শ্রীপতিদন্তের মত অনুসরণ করিয়া বলা হইয়াছে। ফণিতাষ্যকার পতঞ্জলি তদ্ধিতার্থ দ্বিগুসম্বন্ধে ভিন্ন মত পােষণ করেন। তাহার মতে লুপ্ত ঠক্ প্রভৃতি তদ্ধিত প্রত্যয়ের দ্বারা ক্রীতাদিরূপ অর্থের উপস্থিতি হইবে না। পরন্তু তদ্ধিতার্থ দ্বিগুস্কুলে দ্বিগুসমাসের অন্তিম পদটি ক্রীতাদিমত্ত্বরূপ অর্থে লাক্ষণিক হইবে। জগদীশ তর্কালঙ্কার ফণিভাষ্যকারের উক্ত সিদ্ধান্ত খণ্ডন করিবার জন্য বলেন--যদি সর্বত্রই ক্রীতাদিরূপ অর্থে বিহিত তদ্ধিত প্রত্যয় লুপ্ত হইত তাহা হইলে সমাসের অন্তর্গত অন্তিম পদের লাক্ষণিক অর্থ স্বীকৃত হইতে পারে। কিন্তু তাহা সম্ভব নহে। কারণ ‘পঞ্চপুরুষঃ প্রভৃতিস্থলে পঞ্চানাং পুরুষাণমপত্যার্থে বিহিত ‘ঞ,' প্রত্যয়টি বিদ্যমান থাকায় সেখানে উক্ত ‘ই’ প্রত্যয়ের দ্বারাই অপত্যরূপ অর্থটি প্রতীয়মান হইবে। অতএব সমাসের অন্তিম পুরুষ পদটি পঞ্চপুরুষের অপত্যরূপ অর্থে লাক্ষণিক অর্থ সম্ভবপর নহে বলিয়া উক্ত তদ্ধিতার্থ দ্বিগুসমাসের উক্ত লক্ষণে ফণিভাষ্যকার মতে অব্যাপ্তি হইবে। এইভাবে পঞ্চ গর্গরূপে। গৌ: এখানেও পঞ্চ গর্গের ভূতপূর্বরূপ অর্থবােধের অনুকুল “রূপ এই তদ্ধিত প্রত্যয়টি অবস্থিত থাকায় তাহার দ্বারাই ভূতপূর্ব শক্যার্থের উপপত্তি হইবে। সুতরাং অন্তিম নাম যে গর্গ্য’ শব্দ তাহার লক্ষণ। স্বীকৃত হইতে পারে না অতএব এখানেও তদ্ধিতার্থ দ্বিগুলক্ষণের অব্যাপ্তি অবশ্যই হইবে। যদি বলা যায় ‘পাঞ্চপুকুষি’, ‘পঞ্চগর্গরূণ্য' এই সকল দ্বিগুসমাসস্থলে অন্তিম যে পুরুষাদি পদ তাহার অপত্যাদিরূপ অর্থে লক্ষণ স্বীকৃত হইবে, অপত্যার্থক ‘ই’ প্রত্যয়টি তাদৃশ লাক্ষণিক অর্থে তাৎপর্য গ্রাহকমাত্র স্বীকৃত হইবে। এখন আপত্তি হইতে পারে উক্ত দ্বিগুসমাসলে পুরুষ পদের লক্ষ্য পুরুষের অপত্য- शब्दशक्तिप्रकाशिका রূপ অর্থ স্বীকৃত হইলে উক্ত পুরুষাপত্যে পঞ্চ পদার্থটি অম্বিত হইতে পারে না। কারণ তাদৃশ অপত্যরূপ অর্থে পঞ্চত্ব সংখ্যা বাধিত। এই আশঙ্কার উত্তরে যদি ভাষ্যকার বলেন—‘পদার্থ পদার্থেনৈব অম্বিয়তে’-এই বুৎতির বৈচিত্র্য স্বীকার করিয়া উক্তস্থলে পুরুষাপত্য রূপ লক্ষ্যার্থ একদেশে পুরুষে পঞ্চপদার্থের অভেদান্বয় স্বীকৃত হইবে। সুতরাং ঐ সকল স্থলে লক্ষণের অব্যাপ্তির সম্ভাবনা থাকিবে না। জগদীশ বলেন এইভাবে কথঞ্চিৎ অব্যাপ্তি পরিহার সম্ভবপর হইলেও যেখানে তদ্ধিতার্থ দ্বিগুসমাসের অন্তিম শব্দটি দুইটি পদের দ্বারা ঘটিত হইবে সেখানে অর্থাৎ ‘দ্বিস্বর্ণমুদ্রঃ পশু এই সকল স্থলে পদদ্বয় ঘটিত অন্তিম শব্দটি যেহেতু শক্তিমান নহে সুতরাং শক্যসম্বন্ধরূপ লক্ষণাও সেখানে স্বীকৃত হইতে পারে না। অতএব ‘দ্বিস্বর্ণমুদ্রে। বৃষ:' ইত্যাদি স্থলে ‘দ্ব্যাভ্যাং স্বর্ণমুদ্রাভ্যাং ক্রীতঃ এইরূপ অর্থে তদ্ধিত অন্ প্রত্যয় হওয়ায় লুপ্ত অন প্রত্যয়ে অভিসন্ধি পূর্বক উপস্থাপিত ক্রীতরূপ তদ্ধিত প্রত্যয়ার্থে ‘দ্বিস্বর্ণমুদ্রঃ পদার্থের অন্বয় অবশ্য স্বীকার করিতে হইবে। ইহাই গ্রন্থকারের অভিপ্রায়। मूलम् उत्तरपदद्विगु लक्षयति- स्वान्तर्निविष्टशब्दाभ्यां शब्दान्तरसमासगः । যী ভিযুঃ মাঙ্কিঃ স ভবঘরিয়ঃ ॥ ২৩ ৷৷ यो द्विगुः, स्वघटकनामभ्यां सह साकाङ्घनामान्तरेण समासान्तर्गतः, स उत्तरपद द्विगुः, यथा पञ्च गावो धनमस्येत्यादिविग्रहे पञ्च गवधनः पुरुष इत्यादौ बहुव्रोह्यादिनिविष्टः पञ्च गवादिः ॥ অনুবাদ উত্তরপদ দ্বিগুসমাসের লক্ষণ করিতেছেন—যে দ্বিগু (সমাস) নিজের অন্তর্গত দুইটি শব্দের সহিত অপর একটি শব্দকে গ্রহণ করিয়া সমস্ত অর্থাৎ অপর একটি সমাসের অন্তর্গত হয় সেই দ্বিগুসমাস শাব্দিক সম্প্রদায় কর্তৃক উত্তরপদ দ্বিগু (সমাস) নামে অভিহিত হইয়া থাকে। সেই দ্বিগু সমাস নিজের অন্তঃপাতী নামদ্বয়ের সহিত আকাঙক্ষাযুক্ত অপর একটি নামান্তরের সহিত সমাসের অন্তর্গত হওয়ায় সেই সমাস উত্তরপদ দ্বিগু (সমাস হইবে)। দৃষ্টান্তস্বরূপ বলা যায় ‘পঞ্চ গাবাে ধনমস্য’ এইরূপ বিগ্রহ অনুসারে ‘পঞ্চ গবধন समासप्रकरणम् e পুরুষঃ ইত্যাদিস্থলে বহুব্রীহি প্রভৃতি সমাসে নিবিষ্ট যে ‘পঞ্চগব’ প্রভৃতি (তাহাই হইবে উত্তরপদদ্বিগু)। বিবৃতি তদ্ধিতাৰ্থ দ্বিগু (সমাস) নিরূপণ করিবার পরে পূর্বোক্ত বিভাগ অনুসারে বিভক্ত উত্তর পদ দ্বিগুসমাসের লক্ষণের অনুকুল ‘যান্তনিবিষ্ট ইত্যাদি কারিকাটির উল্লেখ করিতেছেন। স্বাগুনিবিষ্ট’ এখানে স্বপদের দ্বারা দ্বিগুসমাসকে গ্রহণ করিতে হইবে। ‘অন্তর্নিবিষ্ট পদটি ঘটকরূপ অর্থের বোধক, ঐ অংশটি শব্দের বিশেষণরূপে অভিহিত হইয়াছে। শব্দাভ্যাং’ এখানে তৃতীয় বিভক্তির দ্বারা সহাৰ্থ প্রতীয়মান হইবে। ‘শান্তরসমাসবৎ’ এই শান্তর শব্দের পূর্বে সাকা শব্দটি অধ্যাহার করিতে হইবে। ইহার ফলে নিজের অন্তর্গত শব্দদ্বয়ের সহিত সাকা শান্তরের সহিত সমাগ অর্থাৎ বহুব্রীহি প্রভৃতি সমাসের অন্তর্গত যে দ্বিগু তাহাই হইবে শাব্দিক সম্প্রদায়ের মতসিদ্ধ উত্তরপদদ্বিগু’ ইহই কারিকার অর্থ । এইরূপ তাৎপর্য গ্রহণ করিয়া যে দ্বিগু’ ইত্যাদি বিবরণের মাধ্যমে উত্তরপদ দ্বিগুসমাসে লক্ষণটি ব্যাখ্যাত হইয়াছে। ঘটকনামভ্যাম্ এই অংশের দ্বারা স্বান্তনিবিষ্ট- শব্দাত্যা' এই প্রথম চরণটি বিবৃত হইয়াছে। শব্দান্তরেণ সমাসগ: এইরূপ বিগ্রহ অনুসারে ‘শান্তর সমাসগ' এই সমস্ত বাক্যটি নিষ্পন্ন হওয়ায় সহাৰ্থক উভয় তৃতীয় বিভক্তির উপপত্তি হয় না। এই জন্য প্রথমােক্ত তৃতীয় বিভক্তির যে সহাৰ্থক ইহা প্রতিপাদন করিবার জন্য বিবরণে সহ শব্দটি প্রযুক্ত হইয়াছে। উক্তহার্থে সমাস পদার্থে অন্বয় সম্ভপর নহে বলিয়াই কারিকো শান্তর পদের পূর্বে সাকা শব্দটি যােগ করিতে হইবে। এই অভিপ্রায়ে শান্তরেণ’ পদের ‘সাকাঙ্ক নামান্তরেণ এইরূপ বিবরণ প্রদর্শিত হইয়াছে। উক্ত আলােচনার পরিপ্রেক্ষিত যে দ্বিৎসমাস নিজের অন্তর্গত নামদ্বয়ের সহিত সাকাঙ্ক নামান্তরের দ্বারা ঘটিত বহুব্রীহি প্রভৃতি কোন একটি সমান্তরের অন্তর্গত অর্থাৎ ঘটক হইবে, সেই দ্বিগুসমাস উত্তর পদ দ্বিগু (সমাস) নামে অভিহিত হইবে। লক্ষ্যে লক্ষণ সমন্বয় করিবার জন্য যথা ইত্যাদি সম্পর্ডের অবতারণা করিতেছেন। দ্বিগুসমাসের উপযােগী নামদ্বয়ের তুল্যাধিকরণত্ব এবং নামান্তরে উক্ত নামদ্বয়ের সাকাঙ্ক্ষত্ব সম্পাদন করিবার জন্য ‘পঞ্চগবে। ধনমন্য’ এইরূপ বিগ্রহবাক্য প্রদর্শিত হইয়াছে। ‘ইত্যাদৌ এই আদি পদের দ্বারা ‘পঞ্চজনা দাসােহস্যএইরূপ বিগ্রহানুসারে ‘পঞ্চজনদাস' এই দ্বিগুসমাসগর্ভ বহুব্রীহি সমাস গৃহীত হইবে। বহুব্রীদি এই আদি পদের দ্বারা অপর বহুব্রীহি সমাসই গৃহীত হইবে কিন্তু সমান্তর নহে। কারণ কর্মধারয়, তৎপুরুষ এবং অব্যয়ীভাব সমাস পদদ্বয়ঘটিত হইয়া থাকে ত্রিপদ ঘটিত কখনও হয় না।

शब्दशक्तिप्रकाशिका मूलम् समाहारद्विगुं लषयति- स्वार्थान्वितसमाहारः लक्षकस्वान्त्यशब्दकः । उक्ताभ्यामितरः किं वा, समाहारद्विगुर्द्विगुः ॥ ३८ ॥ অনুবাদ সমাহার দ্বিগু’র লক্ষণ করিতেছেন—যে দ্বিগুসমাসে অন্তিম শব্দটি স্বকীয় অর্থের সহিত অন্বিত সমাহাররূপ অর্থের লাক্ষণিক হইবে সেই দ্বিগুসমাস সমাহারদ্বিগু হইবে। অথবা তদ্ধিতার্থ এবং উত্তরপদ ভিন্ন যে দ্বিগু তাহাই সমাহার দ্বিগু। বিবৃতি ‘সমাহারদ্বিগুং লক্ষয়তি' এই অংশের দ্বারা লক্ষণ প্রভৃতির মাধ্যমে সমাহার দ্বিগু নিরূপণ করিতেছেন। স্বার্থান্বিতসমাহার' এখানে ‘স্ব’ পদের দ্বারা সমাহার দ্বিগুসমাসটি গ্রহণ করিতে হইবে। অন্বিত শব্দটি পরিচায়কমাত্ৰ। সমাহার শব্দটি সমষ্টি অর্থাৎ সমুদায়রূপ সংখ্যা বিশেষের প্রতিপাদক। স্বান্তশব্দ’ এখানেও ‘স্ব’ পদের দ্বারা দ্বিগু সমাস গৃহীত হইবে। স্বার্থান্বিত’ ইত্যাদি প্রথম ও দ্বিতীয় চরণের—স্বস্য অর্থ: স্বার্থ, তেন অন্বিত স্বার্থান্বিত। স্বার্থান্বিতশ্চাসৌ সমাহারশ্চেতি স্বার্থান্বিতসমাহার। তস্মিন ক্ষক স্বান্তাশক: যত্ৰ অসৌ এইরূপ বিগ্রহ বাক্য অনুসারে যে দ্বিগু সমাসের স্বীয় অর্থের সহিত সম্বরূপ অর্থে অন্তিম নামটি লাক্ষণিক হইবে সেই দ্বিগু সমাহার দ্বিগুসমাস হইবে। যদি উক্ত লক্ষণটি লাক্ষণিক অন্তিম পদঘটিত হওয়ায় বিচার সহ না হয় তাহা হইলে পূর্বে যে, তদ্ধিতার্থ এবং উত্তরপদ দ্বিগুসমাসের নিরূপণ করা হইয়াছে। উক্ত দ্বিদ্বয়ভিন্ন যে দ্বিগু তাহাই হইবে সমাহাৰ দ্বিশুর লক্ষণ। এ বিষয়ে বিবরণে গ্রন্থকার নিজেই পর্যালােচনা করিয়াছেন। ৩৮ मूलम् स्वोपस्थाप्यार्थस्य समाहारलक्ष्यको यदीयान्त्यशब्दा, स द्विगुः समाहारद्विगुः । पञ्चपुलीत्यत्र हि योगलभ्यानां पञ्चाभिन्नपुलानां समाहारः समासप्रकरणम् परस्थ-पुलशब्देन लक्ष्यते, न तु तत्र दिगोः शक्तिरन्यलभ्यशक्ययोगात्, अतएव न लक्षणापि, शक्यसम्बन्धस्यैव लक्षणात्वेन वाक्ये तदसम्भवात् । অনুবাদ ‘স্ব'য়ের (নিজের) দ্বারা উপস্থাপিত অর্থের সমাহাররূপ অর্থে লাক্ষণিক যে দ্বিগুসমাসের অন্তিম নামটি হইবে, সেই দ্বিগু সমাহারদ্বিগু (রূপে অভিহিত হইবে)। ‘পঞ্চপুলী’ এখানে পঞ্চাভিন্ন পুলগত যে সমাহাররূপ অর্থ তাহাই উক্ত দ্বিগুসমাসের অন্তর্গত অন্তিম পুলশব্দের লক্ষ্য হইয়াছে। সমাহাররূপ অর্থে উক্ত দ্বিগুসমাস লাক্ষণিক হইবে, ইহা বলা যায় না। কারণ ‘অনন্যলভ্যো হি শব্দার্থঃ এই নিয়ম থাকায় দ্বিগুসমাসের অন্তর্গত প্রত্যেকটি পদের (অর্থবিশেষে ) শক্তি স্বীকৃত সুতরাং সমাসরূপ বাক্যে শক্তি কল্পিত হইতে পারে না। লক্ষণাও কল্পিত হইবে না। কারণ শক্যসম্বন্ধরূপ লক্ষণা স্বীকৃত। সুতরাং বাক্যে লক্ষণা সম্ভবপর নহে। অতএব বিবৃতি ‘স্বার্থান্বিত ইত্যাদি কারিকার প্রথমার্ধের দ্বারা একটি এবং দ্বিতীয়ার্ধের দ্বারা অপর একটি, এই দুইটি সমাহার দ্বিগু’র লক্ষণ বলিয়াছেন। উক্ত দুইটি লক্ষণের মধ্যে প্রথম লক্ষণটি ব্যাখ্যা করিতে প্রবৃত্ত হইয়া কারিকো স্বার্থপদের ‘পেস্থাপ্য অর্থস' এইরূপ অর্থ প্রদর্শন করিয়াছেন। এখানে স্ব’ পদের দ্বারা বিগুসমাসকে গ্রহণ করিতে হইবে। মূল কারিকায় ‘অন্বিত’ শব্দটি প্রবিষ্ট হইলেও উক্ত অন্বিত শব্দের দ্বারা কলিতাৰ্থ দেখানো হইয়াছে মাত্র, বাস্তবিক পক্ষে অতািংশ লক্ষণে প্রবিষ্ট হইবে না। এই অভিপ্রায়ে প্রথম লক্ষণের বিবরণে অন্বিতাংশটি পরিত্যক্ত হইয়াছে। ইহার ফলে যেই দ্বিগু সমাসের অন্তিম নামটি উক্ত সমাসের দ্বারা উপস্থাপিত পদার্থের সমাহাররূপ অর্থে লাক্ষণিক হইবে সেই দ্বিগু সমাস সমাহাদ্বি হইবে। অর্থাৎ দ্বিগু সমাসত্বের আশ্ৰয়ত্ব থাকিবে অথচ উদ্বিগুসমাসের অন্তিম পদটি দ্বিগু সমাস দ্বারা প্রতিপাদিত পদার্থের সমাহাররূপ অর্থে লক্ষণারূপ বৃতিবিশিষ্ট হইবে। দ্বিগুত্বের আশ্রয়ত্বের সমানাধিকরণ তাদৃশ সমাসত্বই সমাহায় দ্বিগু’র লক্ষণ হইবে। ইহাই পর্যবসিত সমাহার দ্বিগু’র লক্ষণ। পপুলী ইত্যাদি সম্পর্ভের দ্বারা লক্ষ্যে লক্ষণের সময় প্রদর্শিত হইয়াছে। পঞ্চপুলী’ এখানে দ্বিগু সমাসের অন্তর্গত পঞ্চশব্দের পরবর্তী পুল শব্দটি পঞ্চাভিন্ন পুলরূপ যােগলভ্য পদার্থের সমাহাররূপ অর্থে লাক্ষণিক হওৱায় পঞ্চপুলী’ প্রভৃতি সমাহায় দ্বিগু সমাসে উক্ত লক্ষণ शब्दशक्तिप्रकाधिका সমন্বয় হইবে। এখন আশঙ্কা হইতে পারে অন্তিমশব্দটিকে তাদৃশ সমাহাররূপ অর্থে লাক্ষণিক না বলিয়া উ$ দ্বিগুসমাসের তাদৃশ সমাহার রূপ অর্থে শক্তি স্বীকৃত হয় নাই কেন এই আশঙ্কার উত্তরে গ্রন্থকার বলেন ‘শক্ত্যযােগাৎ' অর্থাৎ বাক্যের অন্তর্গত কোন একটি পদের শক্যার্থ লাভ হইলে অপর কোন শব্দের তাদৃশ অর্থে শক্তি স্বীকৃত হইবে না। কারণ অন্য শব্দের শক্তি দ্বারা যে অর্থ টি লভ্য নহে সেই অর্থ টি শব্দবিশেষের শক্তির দ্বারা লভ্য হইয়া থাকে । (অনন্যলভ্যো হি শক্যার্থঃ) এই নিয়ম অনুসারে পঞ্চ এবং পুল পদার্থ পঞ্চ শব্দ এবং পুলশব্দের শক্যর্থ হওয়ায় দ্বিগুসমাসের শক্তির দ্বারা উপস্থাপিত হইতে পারে না। যদি সমাহার মাত্রে দ্বিগু সমাসের শক্তি স্বীকৃত হয় ইহাও সঙ্গত নহে। কারণ তাহা হইলে ‘পঞ্চপুলী' প্রভৃতি দ্বিগুসমাস হইতে কেবলমাত্র সমাহারেরই বােধ হইতে পারে। পঞ্চপুল সমাহারের নহে। গ্রন্থকার আরও বলিতেছেন পঞ্চপুলের সমাহার। রূপ অর্থে উক্ত দ্বিগুসমাসের শক্তি স্বীকৃত না হওয়ায় তাদৃশ বাকারূণ দ্বিগুসমাসের পঞ্চপুলসমাহার রূপ অর্থে লক্ষণাও স্বীকৃত হইতে পারে না। অতএব উক্ত দিওসমাসের পরবর্তী পদে লক্ষণ। স্বীকৃত হইয়াছে। এই ভাবে প্রথম লক্ষণটি ব্যাখ্যাত হওয়ার পরে এই লক্ষণ পরিত্যাগ করিয়া কারিকার দ্বিতীয়ার্ধের দ্বারা কেন লক্ষণান্তর করা হইয়াছে তাহার বীজ প্রদর্শন করিবার জন্য যদি চ’ ইত্যাদি সম্পর্ডের অবতারণা করিতেছেন। ‘যদি চ' এই অংশের ইতি সুক্ষ্মমীক্ষাতে এই অগ্রিম অংশের সহিত অন্বয় করিতে গ্রন্থকার বলিতেছেন ‘পঞ্চপুল। এই সমাহার দ্বিগুসমাস হইতে সমাহাররূপ অর্থের বােধ হইবে না। পরন্তু পঞ্চ সংখ্যক পুল মাত্রেই বােধ হইৰে। তাৎপর্য এই যে ‘পঞ্চপুলী' ইত্যাদিস্থলে যদি সমাহারের বোধ হয় তাহা হইলে ‘পঞ্চপুলীং ছিনত্তি ইত্যাদি বাক্য অপ্রমাণ হইবে। অর্থাৎ অকাভক্ষ। যােগ্যতাদি শূন্য হইবে। কারণ সমাহার অনিয়ত একত্ববুদ্ধিজনিত সমুদায়ত্বরূপ সংখ্যাবিশেষ। সুতরাং ‘পঞ্চপুলীং ছিনতি’ এখানে সংখ্যাবিশেষ যে যে সমাহার তাহার ছেদন সম্ভবপর নহে বলিয়া উক্ত ছেদনক্রিয়ার কর্মত্বসমুদায়রূপ সমাহারে বাধিত হওয়ায় উক্ত বাক্য নিরাকাক্ষ এবং অযােগ্য হওয়ায় প্রমাণ হইতে পারে না। এইজন্য সমাহার গুস্থলে পঞ্চশব্দটি সমার্থ সম্বদ্ধক সমাহাররূপ অর্থে লাক্ষণিক হইতে পারে না। এখন আশঙ্কা হইতে পারে উক্ত দ্বিগু সমাসের সমাহার রূপ অর্থ স্বীকৃত না হইলে পুলগত দ্বিত্ব ত্ৰিত্বাদি সংখ্যাবােধের অনুকুল দ্বিবচন বহুবচন বাস্তবিক পক্ষে পুলপদার্থে দ্বিত্ব বহুত্বাদি সংখ্যা থাকায় পঞ্চপুলীং ছিনতি” ইত্যাদিস্থলে দ্বিতীয়া বিভক্তির একবচনের দ্বারা একত্ববশিষ্ট পুলপদার্থে ছেদনক্রিয়ার কর্মত্ব প্রতীয়মান হইলে উক্ত বাক্যটি অযােগ্য হওয়ায় অপ্রমাণ হইতে পারে। এই আশঙ্কার উত্তরে গ্রন্থকার পুলাদেদ্বিত্বহুত্বেপি” ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে একমাত্ৰ পত্নীর বােধক দারা প্রভৃতি শব্দ যেরূপ অনুশাসনিক বহুবচনাত হইয়া থাকে, দৃষ্টান্তস্বরূপ “মদাৱা মৈথিলী” এইরূপ বাক্যস্থলে একত্বসংখ্যাবিশিষ্ট মৈথিলীর বিশেষণ হইলেও দায়া শব্দটির পরবর্তী ‘জ’বিভক্তির দ্বারা বহুসংখৰিক্ষিত নহে, সুতরাং দারা শব্দের পরে যেরূপ অনুশাসনিক বহুবচন হইয়া থাকে, তদ্রুপ ‘পপুলীং समासप्रकरणम् হিনত্তি’ এখানেও পুলগত পঞ্চত্ব ৰা বহুত্ব বিক্ষিত হইলেও অনুশাসনিক একবচনের উপপত্তি হইবে। দারা বা পঞ্চপুলী এইসকলস্থলে বহুবচন বা একবচনের দ্বারা বহুত্ব ৰা একত্বৰূপ অর্থ বিৰক্ষিত হয় নাই। পরন্ত উক্ত বহুবচন বা একবচন শব্দ বা বাক্যগত আকাঙ্ক্ষার সম্পাদক মাত্র। অর্থাৎ পঞ্চপুলী বা রামদার ইত্যাদিস্থলে একবচনাত বা বহুবচনাপ্ত পদঘটিত না হইলে ঐসকল বাক্য নিরাকাঙ্ক্ষত্বপ্রযুক্ত প্রমাণশব্দ হইবে না। ইহাই গ্রন্থকারের অভিপ্রায়। ইহার পর আপত্তি হইতে পারে পঞ্চপুলী প্রভৃতি স্কুলে সমাহাররূপ অর্থ স্বীকৃত না হইলে যেরূপ পুল প্রভৃতিদ্ৰব্য প্রধান হইয়া থাকে, গৌণ নহে, তদ্রুপ ‘পঞ্চানাং খট্টানাং সমাহার এইরূপ অর্থে ‘পঞ্চখটি, এই সকলস্কলে গুণীভূত ব্যরূপ অর্থের বােধক খটির ইকারটি হ্রস্ব হইতে পারে না। ইহার উত্তরে গ্রন্থকার বলেন সমাহার সংজ্ঞক দ্বিগুর অন্তিম পদটির গৌণ অর্থের বােধক অর্থাৎ উপসর্জন না হইলেও তদুর স্ত্রীলিঙ্গে বিহিত প্রথম স্ত্রীপ্রত্যয়ান্ত হইলে প্রথমভাগে আকার এবং দীর্ঘ ঈ কারের দ্বিগুসমাসনিবন্ধনই বিহিত হইবে। কারণ এয়ােগ অনুসারেই অনুশাসন কল্পিত হইয়া থাকে। যদি বলা হয় উক্ত রীতিতে দ্বিগুসমাসের উত্তরপদগত স্ত্রীপ্রত্যয়ের স্বতন্ত্রভাবে হ্রষবিধি কল্পনা করিলে কল্পনা গৌরব স্বীকার করিতে হয়। অতএব সমাহার সংজ্ঞক দ্বিশুর উত্তর পদটির সমাহারূপ অর্থে লাক্ষণিক স্বীকৃত হওয়াই সমীচীন। এই বক্তব্যের উত্তরে গ্রন্থকার বলেন পঞ্চপুলী প্রভৃতিস্থলে দ্বিগুসমাসের অন্তর্গত অন্তিম পুল শব্দটি তাদৃশ সমাহার রূপ অর্থে লাক্ষণিক সম্ভবপর হইল। পঞ্চ পাচকি’ ইত্যাদি স্থলে দ্বিশুসমাসের অন্তিমপদটি বাক্য হওয়ায় তাদৃশ সমাহাররূপ অর্থে লাক্ষণিক হইতে পারে না। সুতরাং উক্ত সমাহার দ্বিগু’র লক্ষণটির অব্যাপ্তি হইবে। গ্রন্থকার বলিতেছেন এইভাবে সূক্ষ্মবিবেচনার ফলে উক্ত লক্ষণটি নির্দোষ না হওয়ায় কারিকার দ্বিতীয়ার্ধের দ্বারা সমাহারদ্বিগু’র লক্ষণান্তর করা হইয়াছে। উক্ত লক্ষণান্তরের স্বরূপটি কি হইবে ইহা ব্যক্ত করিবার জন্য পূর্বনিরুক্তাভ্যামি’ত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। এক্ষণে আপত্তি হইবে পঞ্চপুলী প্রভৃতি দ্বিগু সমাস যদি পঞ্চাভিন্ন পুলমাত্ৰে বােধক হয় তাহা হইলে উক্ত দ্বিগু সমাস নীলােৎপলাদির ন্যায় কর্মধারয় সমাস হইবে না কেন? এই আপত্তিকে ইষ্টাপত্তি করিয়া গ্রন্থকার বলিতেছেন-এইভাবে দ্বিগুসমাসে কর্মধারয় স্বীকৃত হইলেও কোন ক্ষতির কারণ নাই। এখন আপত্তি হইতে পারে, ঘিওসমাস যদি কর্মধারয়ের অন্তর্ভুক্ত হয় তাহা হইলে সমাসের ষডধিত্ব ব্যাহত হইবে না কেন? ইহার উত্তরে বলিতে হইবে সংখ্যাবাচক নানাৰ্থ বিষয়ক বােধজনকত্বৰূপ যে উপাধিবিশেষ তাহাকেই গ্রহণ করিয়া সমাসের বড়বিধত্ব বিভাগের উপপত্তি সম্ভবপর হইবে। ॥ ৩৮। । ইতি দ্বিগুসমাস।

शब्दशक्तिप्रकाशिका मूलम् तत्पुरुषं लक्षयति- यदीयेन सुवर्थेन युतयद्बोधनक्षमः । या समासस्तस्य तत्र सः तत्पुरुष उच्यते ॥ ३९ ॥ অনুবাদ ( গ্রন্থকার) তৎপুরুষ সমাসের লক্ষণ করিতেছেন— যেই সমাস নিজের অন্তর্গত যে কোনও একটি নামার্থগত সুবর্থের দ্বারা বিশেষিত (সমাসের ঘটক) অপর যে নামার্থ বিষয়ক অন্বয়বােধের যােগ্য হইবে সেই সমাস তদর্থ প্রকারক তদর্থবিশেষ্যক অন্বয়বােধের অনুকুল তৎপুরুষ সমাস হইবে। বিবৃতি দ্বিশুসমাস নিরূপণ করিবার পরে গ্রন্থকার অবসরসঙ্গতিক্রমে তৎপুরুষসমাস নিরূপণ করিবার জন্য ‘যদীয়েন সুবৰ্থেন' ইত্যাদি শ্লোকের দ্বারা তৎপুরুষ সমাসের সামান্যলক্ষণ করিতেছেন। “যদীয়েন সুবনে* এখানে যৎপদের দ্বারা রাজপুরুষ’ ইত্যাদি তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্গত ‘রাজপদার্থ এবং পূর্বকায়’ ইত্যাদি তৎপুরুষস্থলে উত্তরবর্তীকায়’ পদটি গৃহীত হইবে। যদীয়েন’ এই অংশের অগ্রিম সুবর্ণের সহিত অন্বয় করিতে হইবে । ‘যর্থগতেন’ এইরূপ অর্থে ‘যুদীয়েন’ শব্দটি প্রযুক্ত হইয়াছে। যুত শব্দটির বিশিষ্টরূপ অর্থ করিতে হইবে। দ্বিতীয় যৎ পদটির দ্বারা ‘রাজপুরুষ’ ইত্যাদিস্থলে উত্তর পদার্থ পুরুষ এবং পূর্বকায় ইত্যাদি তৎপুরুষস্থলে পূর্বপদার্থকে গ্রহণ করিতে হইবে। যেই নামের অর্থগত সুবর্থের দ্বারা বিশেষিত যেই নামার্থবিয়য়ক অম্বয়বােধের স্বরূপযােগ্য যে সমাস হইবে সেই সমাস তাদৃশ নামার্থগত বিভক্ত্যর্থ সম্বদ্ধ নামার্থৰােধের অনুকুল তৎপুরুষ হইবে। বাস্তবিকপক্ষে শ্লোকটির তাৎপর্য গ্রহণ করিয়া আমরা বলিতে পারি যে সমাসের উত্তর পদটি লক্ষণাশূন্য হইবে। অথচ পূর্বপদটি লুপ্ত দ্বিতীয়াদি বিভক্তির প্রকৃতি হইবে এবংবিধ সমাসত্বই তৎপুরুষ সমাসের লক্ষণ উক্ত কারিকার দ্বারা সূচিত হইয়াছে। তাদৃশ লক্ষণ- শূন্য অংশটি লক্ষণে নিবেশ না করিলে পঞ্চমূলী ইত্যাদি দ্বিগুসমাসে লক্ষণের অতিব্যাপ্তি হইবে। নীলােৎপলদি কর্মধারয় সমাসের বারণের জন্য লুপ্ত দ্বিতীয়াদি অংশটি দেওয়া হইয়াছে। অঘটঃ” ইত্যাদি অব্যয়ীভাব সমাসে অতিব্যাপ্তি বারণের জন্য পূর্বপদটি নিবেশ করা হইয়াছে।

প্রশাসক সমাসের অন্তর্গত ‘গ্রামং গত' এই অর্থে ‘গ্রামগতঃ এই তৎপুরুষ সমাস নিবিষ্ট (পূর্বনামঃ) গ্রাম পদটি লুপ্ত দ্বিতীয়। বিভক্তির প্রকৃতি হইয়াছে এবং উক্ত সমাসের পরবর্তী গত এই নামটি লক্ষণাশূন্য অর্থাৎ গতিক্রিয়ারূপ আশ্রয়ের অর্থে শক্ত হওয়ায় গ্রামকৰ্মতা- বিশিষ্ট গতির আশ্রয়বিষয়ক অন্বয়বােধের স্বরূপ যােগ্য সমাস হইয়াছে অতএব গ্রামক নিরূপকত্ব রূপ যে সম্বন্ধ তদ্বিশিষ্ট গতিক্রিয়ারূপ অর্থে গ্রামগত এইসমাসটি তৎপুরুষ হইবে। অতএব ‘গ্রামগতশ্চৈ’ ইত্যাদি স্থলে গ্রামনিষ্ঠ কর্মতা নিরূপক গতমান চৈত্র এইরূপ শব্দবােধ হইবে। मूलम् यदर्थगतेन सुवर्थेन विशिष्टस्य यदर्थस्यान्वयबोधं प्रति यः समासः खरूपयोग्यः स तदर्थस्य तदर्थे तत्पुरुषः, न तु 'यन्नामोत्तर' यभाम यदर्थगतसुवर्थावच्छिन्नस्य यत् स्वार्थस्य बोधकं तदुत्तरं तन्नामैव तदर्थयो- स्तत्पुरुषः, पूर्वकायोर्धपिप्पलीत्यादावव्याप्तः। 'स्तोकपक्के'त्यादौ क्रिया- विशेषणः कर्मधारय एव, 'महाकविर्महाविज्ञ' इत्यादौ कवित्वादाविव प्रकृतेऽप्येकनामार्थंकदेशे पचनादावपरनामार्थस्याभेदान्वयबोधकतया तथात्व- सम्मवात् । 'स्तोकं पक्ते त्यादौ अमस्तादात्म्यवाचित्वे तु तत्पुरुषः सम्भवत्येव । "क्रियाविशेषणः समास एवाव्युत्पम" इति तु न देश्यम् , स्तोकनम्रा स्तनाभ्यामित्यादेः कालिदासाः प्रयुक्तत्वात् । द्विगौ कर्म- धारये च शाब्दिकानां तत्पुरुषत्वव्यपदेशः पदसंस्कारार्थो गौणः । অনুবাদ যে সমাসটি নিজের অন্তর্গত যে কোনও একটি পদার্থগত সুবর্থের দ্বারা বিশেষিত যে অপরপদার্থ তদ্বিষয়ক অন্বয়বােধের প্রতি স্বরূপযােগ্য হইবে সেই সমাস তাদৃশ পদার্থ সম্বন্ধ অপর পদার্থ বিষয়ক অম্বয়বােধের অনুকুল তৎপুরুষ সমাস হইবে। পরন্তু যেই নামের অব্যবহিতােত্তরবর্তী যে নামটি সেই পদের দ্বারা উপস্থাপিত অর্থগত সুবৰ্থ বিশিষ্ট যাদৃশ স্বার্থের বােধক হয় সেই নামের অব্যবহিতােত্তরবর্তী সেই নামটি তাদৃশ নামার্থ সম্বদ্ধ তাদৃশ নামার্থবােধের অনুকুল তৎপুরুষ সমাস হইবে। এইরূপ তৎপুরুষ সমাসের লক্ষণ কিন্তু সমীচীন शब्दशक्तिप्रकाशिका নহে। কারণ পূর্বকায় এবং অর্ধপিপ্পলী' ইত্যাদি তৎপুরুষ সমাসে উক্ত লক্ষণ সমন্বয় না হওয়ায় অব্যাপ্তি হইবে। ‘স্তোকপক্তা এই সকল স্থলে ক্রিয়ার বিশেষণবােধক স্তোক প্রভৃতি পদের সহিত কর্মধারয় সমাসই স্বীকৃত হইবে। “মহাকবি’, ‘মহাবিজ্ঞঃ এইসকল স্থলে যেরূপ কবিত্ব প্রভৃতি একদেশ পদার্থে কবিত্ব প্রভৃতিতে অপরনামাৰ্থের অন্বয় স্বীকৃত তক্রপ প্রকৃত স্থলে ও একনামাৰ্থের একদেশ যে পাক তাহাতে অপর নামাৰ্থের অভেদান্বয়বােধক হওয়ায় কর্মধারয় সম্ভবপর হইতে পারে। যদি ‘স্তোকং পক্তা ইত্যাদিস্থলে স্তোক পদের পরবর্তী ‘অম্ বিভক্তি তাদাত্মের বাচক হয় তাহা হইলে উক্ত সমাস তৎপুরুষই হইবে। ক্রিয়াবিশেষণের সহিত সমাস ব্যুৎপত্তি সিদ্ধ নহে এই আপত্তিও সঙ্গত নহে (কারণ) কালিদাস প্রভৃতি মহাকবিগণ ‘স্তোকনা শুনাভ্যাম্' ইত্যাদি প্রয়ােগ করিয়াছেন। দ্বিগু এবং কর্মধারয় সমাসে শাব্দিকসম্প্রদায়ের যে তৎপুরুষত্ব ব্যপদেশ ( দেখা যায়) তাহা কিন্তু পদসংস্কারের অনুকুল গৌণ তৎপুরুষ। বিবৃতি ‘যদর্থগতেন' ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে কারিকোক্ত তৎপুরুষ সমাসের বিশদার্থ প্রদর্শন করিতেছেন। যদর্থগতেন সুবৰ্থেন’ এই অংশের দ্বারা যুদীয়ে সুবৰ্থেন’ এই কারিকাংশের অর্থ বিবৃত হইয়াছে। সুৰৰ্থেন’ এখানে বিশেষণে তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হইয়াছে ইহা সূচনা করিবার জন্য বিশিষ্ট পদটির প্রয়ােগ করা হইয়াছে। তদর্থ’,তদর্থে এই অংশের দ্বারা কারিকায় উল্লিখিত ‘তস্য’ ‘তত্র’ এই দুইটি পদের অর্থ ব্যাখ্যাত হইয়াছে ‘যদর্থগতেন ইত্যাদি তৎপুরুষলক্ষণের পর্যবসিত অর্থ হইবে যাদৃশ আনুপূৰী প্ৰকাৰক জ্ঞানটি যে অর্থ বিশেষিত সুবৰ্থ প্ৰকারক যে অর্থ বিশেষ্যক অন্বয়বােধেব জনক হইবে অর্থাৎ যে অর্থগত বিষয়তা নিরূপিত সুবর্ধগত বিষয়তা নিরূপিত যে অর্থগত বিষয় শালি বােধের জনক হইবে তাদৃশ আনুপূর্বী বিশিষ্ট সমাসত্ব সেই অর্থে সেই অর্থের বােধের অনুকুল তৎপুরুষত্ব, এইরূপ। “রাজ্ঞঃ পুরুষ” ইত্যাদি বিগ্রহবাক্যে অতিব্যাপ্তি বারণ করিবার জন্য তৎপুরুষ লক্ষণে ‘সমাসত্ব’ নিবেশ করা হইয়াছে। রাজপুরুষ এই সমাসগত রাজ পদোত্তর পুরুষ পদত্বরূপ আনুপূৰী প্ৰকাৰক রাজ পদোত্তর পুরুষ পদ জ্ঞানটি কাজ পদার্থে বিশেষিত যে দুপ, বিভক্তির অর্থ অর্থাৎ ও বিভক্তির অর্থ তৎপ্রকারক পুরুষ বিশেষক অন্বয় বােধের জনক হওয়ায় রাজসম্বন্ধ (স্বত্ব) বিশিষ্ট পুরুষরূপ অর্থে রাজপুরুষ এই সমাসে তৎপুরুষ সমাসের লক্ষণ সমন্বয় করিতে হইবে। এই ভাবে গ্রামগত ইত্যাদি তৎপুরুষ স্থলেও তৎপুরুষ সমাসের লক্ষণ সমন্বয় করিতে হইবে। জগদীশ তর্কালঙ্কারের মতে সমাস ও বিগ্রহবাক্যের তুল্যার্থকত্ব স্বীকৃত হওয়ায় রাজপুরুষ ইত্যাদি সমাস স্থলে समासप्रकरणम् সমাসের অন্তর্গত রাজপদের রাজ সম্বরূপ অর্থে লক্ষণা স্বীকৃত হইবে। এক্ষণে আপত্তি হইতে পারে রাজপুরুষ ইত্যাদি তৎপুরুষ সমাস স্থলে রাজপদের যদি রাজত্বৰূপ অর্থে লক্ষণ। স্বীকৃত হয় তাহা হইলে নিপাতের অতিরিক্ত নামার্থদ্বয়ের অভেদান্ত সম্বন্ধে অন্বয় অবুৎপন্ন এই নিয়ম ব্যাহত হইবে না কেন? এই আপত্তির উত্তরে নিয়মের অন্তর্গত নামার্থ- দ্বয়ের যেরূপ নিপাতাতিরিক্তত্ব বিশেষণ নিবেশ করা হইয়াছে তদ্রুপ তৎপুরুষ সমাস ভিন্নত্বও নিবেশ করিতে হইবে। সুতরাং তৎপুরুষ সমাস ভিন্নত্ব ঘটিত উক্ত নিয়ম রাজপুরুষ ইত্যাদি তৎপুরুষ স্কুলে স্বীকৃত হইবে না। অতএব রাজপুরুষ ইত্যাদি তৎপুরুষ সমাস হইতে স্বরূপ সম্বন্ধে রাজস্বত্ব প্রকারক পুরুষ বিশেষ্যক অন্বয়বােধ অবশ্যই হইতে পারিবে। উক্ত নিয়মের সঙ্কোচ করিবার ফলে, যাহারা তৎপুরুষ সমাস মাত্রে লক্ষণের সমন্বয় না হওয়ায় অসম্ভব দোষ হইবে মনে করেন তাহাদের মতও নিরাকৃত হইল। লক্ষণের অন্তর্গত সুবর্থ বিষয়তাতে সাংসর্গিক বিষয়ুতা ভিন্নত্ব নিবেশ করিয়া নীলােৎপল’ প্রভৃতির সমান্তরে অতিব্যাপ্তি বারণ করিতে হইবে। যাহারা সমাস এবং বিগ্রহ বাক্যে তুল্যার্থকত্ব স্বীকার করেন তাদের মতে যে অর্থের দ্বারা বিশেষিত স্বর্থগত তদাত্ম্যসম্ববচ্ছিন্ন প্রকারতা নিরূপিত যে অর্থ বিশেষক অম্বয়বোধের জনক যাদৃশ আনুপূর্ব প্রকারক জ্ঞানটি হইবে তাদৃশ আনুপূর্বীমৎ সমাসত্বই তৎপুরুষ সমাসের লক্ষণ হইবে। অথবা যাদৃশ অর্থ বিষয়তা নিরূপিত সুর্থ বিষয়তা নিরূপিত যাদৃশ অর্থ বিষতা নিরূপক অন্বয়বােধের জনক হইবে যাদৃশ আনুপূর্ব প্রকারক জ্ঞানটি তাদৃশ আনুপূর্ব বিশিষ্ট সমাসত্বই হইবে উভয়মত সাধারণ তৎপুরুষ সমাসের লক্ষণ। ‘ন তু’ ইত্যাদি সন্দর্ভের দ্বারা মতান্তরসিদ্ধ তৎপুরুষের লক্ষণ খণ্ডন করিতেছেন। মতান্তরে যে নামের অব্যবহিতােরবতী নামগত সুবৰ্থ বিশিষ্ট উত্তরবতী নামার্থের বােধক হয়, সেই নামের অব্যবহিতােত্তরবর্তী নামটি তাদৃশ অর্থে তৎপুরুষ সমাস হইবে। এই লক্ষণটি স্বীকার করিলে ‘পূর্বকায় এবং ‘অর্থপিপ্পলী এই সকল তৎপুরুষসমাসের লক্ষণ সমন্বয় না হওয়ায় অব্যাপ্তি হইবে, কারণ ‘পূর্বকায়’ প্রভৃতি সমাসস্থলে পূর্বপদার্থের সম্বন্ধবিশিষ্ট উত্তর পদার্থের বােধ হয় না, পরন্তু উত্তর পদার্থের সম্বন্ধবিশিষ্ট পূর্বপদার্থেরই বােধ হইয়া থাকে। এখন আশঙ্কা হইতে পারে ভোকপক্তা ইত্যাদি দ্বিতীয়া তৎপুরুষে উক্ত তৎপুরুষ লক্ষণের অব্যাপ্তি হইবে। কারণ উক্ত সমাস জনিত শাত্ববােধে দ্বিতীয়া বিভক্তির অর্থ প্রকার নহে। এই আশঙ্কার সমাধানকল্পে গ্রন্থকার বলিতেছেন, ‘স্তোকপক্তা ইত্যাদি স্থলে ক্রিয়াবিশেষণ তোপদের সহিত যে সমাস হইবে উক্ত সমাজ কর্মধারয়ই হইবে, তৎপুরুষ নহে। এখন আপত্তি হইতে পারে উক্ত সমাস উত্তর পদার্থে পূর্ব পদার্থের অভেদান্বয় বােধক না হওয়ায় কি করিয়া কর্মধারয় সমাস হইবে। এই আশঙ্কার উত্তরে গ্রন্থকার বলেন ‘মহাকবি’, ‘মহাবিজ্ঞ’ প্রভৃতি স্কুলে যে ৰূপ নামাৰ্থের একদেশ কৰিছে এবং বিজ্ঞত্বে মহং পদার্থের অভেদ সম্বন্ধে অল্প স্বীকৃত হইয়া থাকে তদ্রুপ ‘খােকপা’ এখানেও উত্তর

शब्दशक्तिप्रकाशिका
পদার্থের একদেশ, যে পাক, তাহাতে স্তোক পদার্থের অভেদসম্বন্ধে অন্বয়বােধ স্বীকৃত
হওয়ায় কর্মধারয় সমাসের উপপত্তি হইবে। যদি স্তোক পড়া ইত্যাদি স্থলে ‘অম’
বিভক্তির তাদাত্ম বাচকত্ব স্বীকৃত হয়, তাহা হইলে কিন্তু ভোকপক্তা এই সমাস তৎপুরুষ
সমাস হইবে।
যাহারা স্তোকপা এখানে লুপ্ত অম্ বিভক্তির অভেদ (তাদাত্ম্য) বাচকত্ব স্বীকার
করেন, তাহাদের মতে বিশেষণরূপে অভেদ ভাসমান হইবে। কর্মধারয় স্থলে কিন্তু
ভাসমান অভেদ সংসৰ্গরূপে প্রতীয়মান হইয়া থাকে। অতএব ক্রিয়া বিশেষণগত অম
বিভক্তির অভেদ বাচকত্ব পক্ষে ভোকপড়া ইত্যাদি সমাস কর্মধারয় হইবে না। এইজন্য
গ্রন্থকার বলিয়াছেন “অমস্তাদাত্মবাচিত্বে তু তৎপুরুষ সম্ভৰত্যেব”। অবধারণার্থক
‘এ’ কারটির দ্বারা কর্মধারয়াদি ব্যাবৃত্ত হইয়াছে।
এখন আপত্তি হইতে পারে ক্রিয়াবিশেষণের সহিত কোনরূপ সমাস স্বীকৃত নহে,
সুতরাং স্তোকপা এইস্থলে ক্রিয়াবিশেষণ ‘কে’পদের সহিত ‘প’ পদের সমাসই
যখন সম্ভবপর নহে, তখন তৎপুরুষ বা কর্মধারয়াদির প্রসঙ্গ অনর্থক কল্পনামাত্র। এই
আপত্তির উত্তর জগদীশ বলেন ইহা আমাদেরই কল্পনা নহে, মহাকবি কালিদাস প্রভৃতি
‘স্তোকনা শুনাভ্যাম্’ ইত্যাদি প্রয়ােগের মাধ্যমে ক্রিয়াবিশেষণ পদের সহিত সমাস
সমর্থন করিয়াছেন।
এখন অপর একটি আশঙ্কার সমাধান করিয়া এই কারিকার বিবরণের উপসংহার করা
হইতেছে। আশঙ্কাটি এই যে, ‘দ্বিগুত্ব এবং কর্মধারয়ত্ব তৎপুরুষত্বের বিরুদ্ধধর্ম হওয়ায়
দ্বিগু এবং কর্মধারয় সমাসে তৎপুরুষত্বের ব্যপদেশ কি করিয়া সম্ভবপর হইবে, এই
আশঙ্কার সমাধান কল্পে গ্রন্থকার ‘দ্বিগৌ কর্মধারয়ে চ’ ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা
করিয়াছেন। তাৎপর্য এই যে মহংশ্চাসে রাজা চেতি এইরূপ বিগ্রহ অনুসারে মহারাজ
প্রভৃতি কর্মধারয়ের পর অৎ প্রত্যয়ের অনুরােধে কর্মধারয় এবং দ্বিগু সমাসে গৌণ
তৎপুরুষত্ব স্বীকার করা হইয়াছে এই জন্য গ্রন্থকার বলিয়াছেন “শাব্দিকানাং তৎপুরুষত্ব-
ব্যপদেশঃ”। যদি কর্মধারয় সমাসে ‘গৌণ তৎপুরুষত্ব” স্বীকৃত না হয়, তাহা হইলে
‘প্রাগুতো বিধিতৎপুরুষ এবেতি’ নিয়ম অনুসারে মহারাজ প্রভৃতি কর্মধারয় সসাসের
পরে অৎ প্রত্যয় সিদ্ধ হইতে পারে না।
मूलम्
द्वितीयादि सुवर्थस्य भेदादेव च षड़विधः ।
क्रियान्वयी द्वितीयादेरर्थप्रायोज योजितः ॥ ३९ ॥

समासप्रकरणम् অনুবাদ এই তৎপুরুষ সমাস দ্বিতীয়, তৃতীয়া প্রভৃতি সুবর্থের ভেদ নিবন্ধন ছয় প্রকার হইয়া থাকে এবং প্রায়শঃই দ্বিতীয়াদি বিভক্তির অর্থ ক্রিয়াতে অন্বিত হইয়া ইহার (তৎপুরুষ সমাসের) ঘটক হইয়া থাকে। বিবৃতি ‘দ্বিতীয়াদি সুবর্থস’ এখানে আদি পদের দ্বারা তৃতীয়, চতুর্থী সুপ, বিভক্তি গৃহীত হইবে। সুবৰ্থন্য এখানে সুর্থ পদটির দ্বারা সুবৰ্থবিষয়ক বােধ গৃহীত হইবে। ভেদাদেব’ এখানে বিশেষ অর্থে ভেদ শব্দটি প্রযুক্ত হইয়াছে। এব’ শব্দটির টীকাকার রামভদ্র ‘এ’ এইরূপ পাঠ গ্রহণ করিয়াছে। পুণ্যেন সুখ ইত্যাদি স্থলে তৎপুরুষসমাস বারণ করিবার জন্য বলিতেছেন “ক্রিয়ায়ী দ্বিতীয়াদে। প্রয়ােত্ৰ যযাজিত” এখানে প্রায়ঃ পদটি থাকার ফলে ‘বর্ষং সুখী' ইত্যাদি অর্থে বর্যমুখী এইরূপ স্থলে দ্বিতীয় বিভক্তির অর্থ ক্রিয়াতে অম্বিত না হইলেও তৎপুরুষ সমাস স্বীকৃত হইবে। मूलम् "ग्रामगतः, चैत्रनीतः, बाक्ष्मणदत्तः, वृक्षपतितः, चैत्रधनं, मैत्रगतिः, गृहस्थित" इत्यादौ द्वितीयादि सुवर्थस्य कर्मकर्त त्वादेबोधभेदादेतस्य द्वितोयातृतीयादि तत्पुरुषत्वेन पड़मेदाः, स्वघटकपदार्थनिष्ठ द्वितीया वच्छिन्नापरपदार्थबोधकसमासत्वादेर्धर्मपटकस्य सुवचत्वात् । इयांस्तु विशेषो यदेतेषु धात्वर्थान्वय्येव द्वितीयादेरर्थः प्रायो घटकः, 'पोठं परितः', 'पुण्येन सुखम्', 'शमाय विद्या', 'दण्डात् घटः', 'गवां कृष्णा सम्पन्नक्षीरा,' 'तिलेषु तैलमित्यादि विग्रहे तत्पुरुषस्यासाधुत्वात् , 'वर्षसुखी लोष्ट्रकानः, कुण्डलहिरण्यं, घटान्यः, कुवेरचलिः, कर्मकुशल इत्यादौ तु तद्विशेषविधेर्द्धि तीयादितत्पुरुषः ।

शब्दयक्तिप्रकाशिका অনুবাদ ‘গ্রামং গতঃ এই অর্থে গ্রামগতঃ, চৈত্রেন নীতঃ এই অর্থে চৈত্রনীতঃ, ‘ব্রাহ্মণায় দত্তঃ এই অর্থে ব্ৰাহ্মণদত্ত, বৃক্ষাৎ পতিতঃ এই অর্থে বৃক্ষপতিতঃ, “চৈত্রস্য ধনং এই অর্থে চৈত্রধনং, ‘মৈত্রস্য গতিঃ এই অর্থে মৈত্র গতিঃ, ‘গৃহে স্থিতঃ এই অর্থে গৃহস্থিতঃ ইত্যাদি হলে দ্বিতীয়াদি সুপ, বিভক্তির অর্থ যে কর্মত্ব কর্তৃত্বাদি তবিষয়ক বােধের বৈলক্ষণ্য প্রযুক্ত দ্বিতীয়া তৎপুরুষত্ব, তৃতীয়া তৎ- পুরুষত্ব পুরস্কারে (তৎপুরুষ সমাসের) ছয়টি ভেদ স্বীকৃত হইবে। নিজের (তৎপুরুষ সমাসের) অন্তর্গত একপদার্থনিষ্ঠ দ্বিতীয় বিভক্ত্যর্থ বিশেষিত অপরপদার্থবােধক সমাসত্ব প্রভৃতি ছয়টি বিভাজক ধর্ম বলা যাইতে পারে। এখানে ইহাই বিশেষত্ব যে, তৎপুরুষ সমাসস্থলে প্রায়শঃ দ্বিতীয়া, তৃতীয়া প্রভৃতি বিভক্তির অর্থ ধাত্বৰ্থে অন্বিত হইয়া সমাসার্থের ঘটক হইবে কারণ পীঠং পরিতঃ, পুণ্যেন সুখ, শমায় বিদ্যা, দণ্ডাৎ ঘটঃ, গৰাং কৃষ্ণা সম্পন্নক্ষীরা, তিলেবু, তৈলম্ ইত্যাদি বিগ্রহ বাক্য অনুসারে তৎপুরুষ সমাসের সাধুত্ব কোন মতেই স্বীকৃত নহে। বর্ষ সুখী, লােষ্ট্রকান, কুল হিরণ্য, ঘটান্যঃ, কুবের বলিঃ, কর্মকুশলঃ এই সকল স্থলে তৎ তৎ বিশেষ বিশেষ বিধি অনুসারে দ্বিতীয়াদি তৎ- পুরুষ সমাস স্বীকৃত হইয়া থাকে। বিবৃতি গ্রামগত ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে তৎপুরুষ সমাসের লক্ষ্য সমূহ প্রদর্শনপূর্বক বিভাজক ধর্মরূপ বিশেষ লক্ষণ সমূহ নিরূপণ করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে গ্রামং গত' এই বিগ্রহ অনুসারে ‘গ্রামগত: এই সমাস হইবে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ। গ্রন্থকারের মতে উক্ত দ্বিতীয়। তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্গত গ্রাম এই পূর্বপদটি গ্রামকমত্বরূপ অর্থে লাক্ষণিক হওয়ায় উক্ত গ্রাম কর্মত্ব, গত এই নামাৰ্থে বিশেষণ গতি ক্রিয়াতে নিরূপকত্ব সম্বন্ধে অন্বিত হইবে। সুতরাং উক্ত সমাস হইতে গ্রাম নিষ্ঠ কর্মতার নিরপক যে গতি তদায় বিষয়ক অন্বয়বােধ হইবে। এই ভাবে চৈত্রেন নীতঃ, এইরূপ বিগ্রহ বাক্য অনুসারে ‘চৈত্ৰনীত এই তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস হইতে চৈত্রনিষ্ঠ কর্তৃতার নিরূপক নয়নরূপ যে ক্রিয়া তৎ কর্মবিষয়ক অবয়বােধ, ‘ব্রাহ্মণায় দত্ত' এইরূপ বিগ্রহ বাক্য অনুসারে ব্রাহ্মণদও এই চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস হইতে ব্রাহ্মণগত উদ্দেশ্যতার নিরূপক দান কর্ম বিষয়ক অন্বয়বােধ, বৃক্ষাৎ পতিতঃ এইরূপ বিগ্রহ বাক্য অনুসারে ‘বৃক্ষ পতিতঃ এই পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হইতে বগত অবধিতা নিরূপক পতন কর্মবিষয়ক অন্বয় বােধ, চৈত্র ধনম' এইরূপ বিগ্রহ समासप्रकरणम् বাক্য হইতে চৈত্ৰধন’ এই ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাসে চৈত্রীয় স্বত্বৰিশিষ্ট ধনবিষয়ক অবয়বোধ, ‘মৈত্ৰ গতিঃ এই বিগ্রহ বাক্যানুসারে ‘মৈত্ৰগতিঃ এই যষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস হইতে মৈত্তগত কর্তৃতার নিরূপক গতি বিষয়ক অন্বয়বােধ এবং ‘গৃহে স্থিতা’ এরূপ বিগ্রহ বাক্য অনুসারে গৃহস্থিত এই সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস হইতে গৃহনিরূপিত স্থিতি বিশিষ্ট বিষয়ক অম্বয়বােধ হইবে। গ্রন্থকার বলিতেছেন উক্ত স্থল সমূহে দ্বিতীয়া তৃতীয়া প্রভৃতি পবিতক্তির অর্থ কর্মত্ব কর্তৃত্বাদি গােচর বোধ সমূহের বৈলক্ষণ্যবশত: গ্রামগত' ইত্যাদি সমাসগত দ্বিতীয়া তৎপুরুষত্ব, তৃতীয়া তৎপুরুষত্ব প্রভৃতি ছয়টি বিভাজক ধর্ম গৃহীত হইবে। সুতরাং তাদৃশ ধর্ম পুরস্কারে দ্বিতীয়াতৎপুরুষ, তৃতীয়তৎপুরুষ হইবে। গ্রন্থকার দ্বিতীয়াদি তৎপুরুষ গত ছয়টি ধর্মের নিষ্কর্ষ বুঝাইবার জন্য ‘স্বঘটক’ ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিয়াছেন। এখানে ‘স্ব’ পদটির দ্বারা দ্বিতীয়াদি যে কোনও একটি তৎপুরুষ সমাস গৃহীত হইবে। এক পদার্থনিষ্ঠ এই নিষ্ঠ পদার্থটি ঘটকরূপ অর্থে প্রযুক্ত হইয়াছে, কারণ গ্রন্থকারের মতে গ্রামগত এই তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্গত গ্রাম পদটি গ্রাম কর্মত্বরূপ অর্থে লাক্ষণিক হওয়ায় স্বতন্ত্র ভাবে লুপ্ত দ্বিতীয়া বিভক্তির দ্বারা উপস্থাপিত কর্মাদির বােধ সম্ভবপর নহে। সুতরাং গ্রাম পদটি গ্রামমত্ব রপ অর্থে লাক্ষণিক হওয়ায় ফলে উক্ত কর্মত্ব এক পদার্থ নিষ্ঠ নহে, পরন্তু এক পদার্থ যে গ্রামকমত্ব তাহার ঘটকই হইবে। ‘অপর পদার্থ এই অংশের দ্বারা সমাসের অন্তর্গত উত্তরপদার্থ গৃহীত হইবে। ইহার ফলে তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্গত এক পদার্থের ঘটক কর্মত্ব বিশেষিত অপর পদার্থ বােধক সমাসত্বই হইবে দ্বিতীয়াতৎপুরুষগত বিভাজক ধর্ম। এই ভাবে দ্বিতীয়া বিভক্তির স্কুলে তৃতীয়াদি বিভক্তির নিবেশ করিয়া তৃতীয়াদি তৎপুরুষের লক্ষণ পরিষ্কার করিতে হইবে। কারিকার উত্তরা ব্যাখ্যা করিবার জন্য “ইয়াংস্তু বিশেষ ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। এখানে যৎ' পদটি ‘যস্মাৎ অর্থে প্রযুক্ত হইয়াছে। এতেষু এই অংশটির দ্বারা মূলােক্ত অত্র’ পদটি ব্যাখ্যাত হইয়াছে। ইহার ফলে যেহেতু দ্বিতীয়াদি তৎপুরুষ সমাস জনিত বােধে ধাত্বৰ্থে অম্বিত দ্বিতীয়াদি বিভক্তির অর্থ ভাসমান হইয়া থাকে। ইহাই সমান্তরাপেক্ষায় তৎপুরুষ সমাসের বিশেষত্ব। ধাত্বৰ্থান্বয়্যেব এই অংশের দ্বারা যে সকলৰিগ্ৰহ বাক্য ব্যবচ্ছিন্ন হইয়াছে উক্ত বিগ্রহ বাক্য সমূহ ‘পীঠং পরিতঃ' ইত্যাদি প্রয়ােগের মাধ্যমে বিবৃত করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, পীঠং পরিত’, ‘পুণ্যেন সুখ এই সকল বিগ্রহ বাক্যের অন্তর্গত দ্বিতীয়, তৃতীয়া প্রভৃতি বিভক্তির অর্থ ক্রিয়াতে অন্বিত হওয়ায় উক্ত বিগ্রহবাক্যসমূহ হইতে তৎপুরুষ সমাস স্বীকৃত হইবে না। কারণ ‘পীঠং পরিত’ এখানে কর্ম এৰচনীয় এই অর্থে দ্বিতীয় বিভক্তি হইয়াছে। পুণ্যেন সুখম’ এখানে হেত্বর্থে তৃতীয়া, ‘শমায় বিদ্যা এখানে তাদর্থে চতুর্থী, ‘গৰাং কৃষ্ণা সম্পন্ন কীরা এখানে নির্ধারণরূপ অর্থে ষষ্ঠ বিভক্তি হইয়াছে। তিলে তৈল'—এখানে আধেয়ত্ব অর্থে সপ্তমী বিভক্তি, কারক নয়। সুতরাং কারুক বিভক্তি না হওয়ায় উল্লিখিত কোনও ८२ शब्दशक्तिप्रकाशिका বিগ্রহবাক্য হইতে তৎপুরুষ সমাস হইবে না। কারিকাস্থ ‘প্রায়' পদটির প্রয়ােজন প্রদর্শন করিবার জন্য ‘বর্য সুখী’, বালােষ্ট্রকান ইত্যাদি স্থলে ‘বং সুখী' বা লােষ্ট্রে কান' এইরূপ বিগ্রহ বাক্যস্থিত দ্বিতীয় বা তৃতীয়াবিভক্তি কারক না হইলেও বিশেষ বিধি অনুসারে ঐ সকল বিগ্রহ বাক্য হইতে তৎপুরুষ সমাস স্বীকৃত হইয়া থাকে। मूलम् ननु 'ग्रामगत' इत्यत्र गतौ ग्रामकर्मत्वस्य 'राजपुरुष' इत्यत्र च पुरुषे राजसम्बन्धस्यावगमो न ग्रामादि पदेभ्यो लुप्तसुपः स्मरणात् , तल्लोप- मजानतोऽप्यन्वयबोधात् समृद्धं ग्रामगत इत्यादितः समृद्धग्रामयोरभेदा- न्वयधीप्रसङ्गाच सम्पन्न दधि पश्येत्यादाविव तत्रापि नामार्थयोरभेदान्वय- बोधोपयुक्तरुप नाम्नोः समानविभक्तिप्रतिसन्धानस्याविशिष्टत्वात्, नापि प्रामादिपदस्य ग्रामकर्मत्वादिलक्षकत्वात् अभेदान्यसम्बन्धेन नामार्थस्यान्वय- बोधं प्रत्यनुकूलस्य नामोत्तरविभक्त्युपस्थाप्यत्वस्य तादृशप्रत्ययोपस्थाप्य- त्वस्य वा गत्यादावसत्वात् । न च ग्रामादिपदलक्षितस्य ग्रामकर्मका- देरेव तत्र गत्यादौ तादात्म्येनान्वय इति साम्प्रदायिकानां मतमेव साम्प्रतं तत्पुरुषस्यापि समस्यमानपदार्थयोरभेदान्वयबोधकत्वे कर्मधारयत्वापत्तेः ग्रामं गतः, राज्ञः पुरुषः इत्यादि विग्रहस्प समासतुल्यार्थकत्वहान्यापचेश्चेति चेन्न । অনুবাদ ( আশঙ্কা) গ্রাম প্রভৃতি পদ হইতে লুপ্ত সুপ, বিভক্তির স্মরণ ক্রমে ‘গ্রামগত’ এখানে গতি ক্রিয়াতে গ্রাম কর্মত্বের, ‘রাজপুরুষ’ এখানেও পুরুষে রাজ সম্বন্ধের অবগতি হইতে পারে না, (কারণ) অম্ বা ঙস্ প্রভৃতি সুপ, বিভক্তির লােপ অবগত নহে, এবংবিধ পুরুষেরও গ্রামগত প্রভৃতি সমাস হইতে অন্বয় বােধ হইয়া থাকে। (আরও বক্তব্য) সমৃদ্ধং গ্রামগত' ইত্যাদি বাক্য হইতে সমৃদ্ধ পদার্থের সহিত গ্রাম পদার্থের অন্বয়বােধের প্রসক্তি হইবে—কেননা “সম্পন্নং দধি পশ” ইত্যাদি স্থলের ন্যায় সমৃদ্ধং গ্রামগত’ ইত্যাদি স্থলেও নামার্থ समासप्रकरणम् s দ্বয়ের অভেদান্বয় বােধের উপযুক্ত নাম দ্বয়ের সমান বিভক্তি প্রতিসন্ধান তুল্য- ভাবেই রহিয়াছে। যদি বলা হয় গ্রামাদি পদের গ্রামকমত্বাদিরূপ অর্থে লক্ষণা স্বীকৃত হইবে, ইহাও ঠিক নহে (কারণ) অভেদান্য সম্বন্ধে নামার্থ প্রকারক অম্বয়বােধের প্রতি কারণ যে নামােত্তর বিভক্তির দ্বারা উপস্থিতি বিষয়ত্ব অথবা নামােত্তর প্রত্যয়ের দ্বারা উপস্থিতি বিষয়ত্ব (ইহার একটিও) গতি ক্রিয়াতে থাকে না। (উক্ত দোষ বারণ করিবার জন্য) সাম্প্রদায়িকদের মত অনুসরণ করিয়া যদি বলা হয় গ্রামগত’ ইত্যাদিস্থলে গ্রামপদের লক্ষণার দ্বারা লক্ষিত গ্ৰামকর্মকরূপ গ্রাম পদার্থের অভেদ সম্বন্ধে গতি পদার্থে অন্বয়বােধ স্বীকৃত হইবে, এইমতও ঠিক নহে। (কারণ) তৎপুরুষ সমাসও যদি সমস্যমান পদার্থদ্বয়ের অভেদান্বয়ের বােধক হয়, তাহা হইলে তৎপুরুষ সমাসেরও কর্মধারয়ত্ব প্রসক্তি হইবে এবং গ্রামং গতঃ, ‘রাজ্ঞঃ পুরুষঃ এই সকল বিগ্রহ বাক্যের সমাসের তুল্যার্থকত্বও ব্যাহত হইবে, এই আশঙ্কা সমীচীন নহে। বিবৃতি ‘যদীয়েন সুবৰ্থেন' ইত্যাদি কারিকা এবং উক্ত কারিকার বিবরণ-গ্রন্থে তৎপুরুষ সমাসের যে লক্ষণ করা হইয়াছে, ‘ননু গ্রামগতি' ইত্যাদি সন্দর্ভের মাধ্যমে উক্ত লক্ষণের অসম্ভব দোষ আশঙ্কা করিতেছেন। ক্রমে ক্রমে সিদ্ধান্তিগণের বিরুদ্ধে তিনটি আশঙ্কা উত্থাপন করা হইতেছে, এথম আশঙ্কা এই যে-যদি তৎপুরুষ সমাসে লক্ষণ সমন্বয় করিবার জন্য সিদ্ধান্তিগণ বলেন, ‘গ্রামগতঃ এই দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসস্থলে গ্রাম পদোত্তর কর্মকারকে বিহিত অম্ বিভক্তি লুপ্ত হইলেও উক্ত লুপ্ত অম্ বিভক্তির স্মরণজনিত কৰ্মত্বরূপ অর্থের উপস্থিতি হইতে সুবর্ণ কর্মত্ব-প্রকারক গতি বিশেষ্যক অন্বয়বােধ হইবে এবং রাজপুরুষ এই ষষ্ঠীতৎপুরুষ সমাসের হলেও উক্ত রীতিতে উস বিভক্তির অর্থ যে স্বত্বৰূপ সম্বন্ধ তৎ প্রকারক, পুরুষ বিশেষক অন্বয়বােধ হইতে পারিবে। সুতরাং ঐ সকল তৎপুরুষ সমাস পূর্ব পদার্থবিশেষিত অর্থ- প্রকারক অপর পদার্থবিশেষক অন্বয়বােধের স্বরূপ যােগ্য হওয়ায় তৎপুরুষ সমাসে লক্ষ। সমন্বয় হইবে। সিদ্ধান্তিগণের এই বক্তব্যের উত্তরে বিরুদ্ধবাদিগণ বলেন, এইভাবে লক্ষণ সমন্বয় করা সম্ভবপর নহে, কারণ যে ব্যক্তির পক্ষে সুপ, বিভক্তি অনুভৰযােগ্য নহে, সেই ব্যক্তির পক্ষে সুপ্ত সুপ, বিভক্তির অরণও সম্ভব নহে, কারণ যে কোনও পদার্থের অরণের প্রতি সেই বস্তুগােচর পূর্বানুভব কারণ। সুতরাং সুপ, বিভক্তির স্মরণজনিত সুবৰ্থ কর্মত্বের উপস্থিতিও সম্ভবপর নহে, কর্মত্বের উপস্থিতি ব্যতিরেকে গ্রামকৰ্ম প্ৰকাৰক গতিবিশেষক অন্বয়বােধও সম্ভবপর নহে। সুতরাং উক্ত রীতিতে কোথাও তৎপুরুষের লক্ষণ সময় হওয়ায়, ঐ লক্ষণটি অসম্ভব দোষগ্রস্ত হইবে, যদি সিদ্ধাতিগণ বলেন, গ্রামাদিপদোন্তর ও সুপ, বিভক্তির অনুভব যে ব্যক্তির নাই, সেই ব্যক্তির পক্ষে উক্ত অষয়বােধও ৰীকৃত शब्दशक्तिप्रकाशिका হইবে না। সুতরাং লুপ্ত সুপ, বিভক্তির প্রতিসন্ধান বশতঃই পূর্বোক্ত প্রকারে অন্বয়বােধ হওয়ায় লক্ষণ সমন্বয় করা যাইবে। সিদ্ধান্তিগণের এই বক্তব্যের প্রতিবাদে বিরুদ্ধবদিগণ বলিতেছেন এইভাবে কঞ্চিৎ তৎপুরুষ সমাস তাদৃশ অষয়বােধের যােগ্য হইলেও লুপ্ত হণ, বিভক্তির প্রতিসন্ধানের দ্বারা উপস্থাপিত কর্মাদি পদার্থ গ্রাম’ হইতে অতিরিক্ত পদার্থ হওয়ায় সমৃদ্ধং গ্রামগত:” ইত্যাদিস্থলে গ্রাম পদার্থে সমৃদ্ধ পদার্থের অভেদান্বয় বোধের আপত্তি হইবে। যদি সিদ্ধান্তিগণ বলেন, নামার্থদ্বয়ের অভেদান্বয় বােধের প্রতি নামদ্বয়ের সমান বিভক্তিকত্বই কারণ, এই উক্তি কিন্তু সমর্থন যােগ্য নহে, কারণ সম্পন্ন দধি পশ্য’ ইত্যাদি বাক্যস্থলে দধিপদের পরবর্তী-অম্’ বিভক্তিটি উপস্থিত না থাকিলেও দধি পদার্থে সম্পন্ন পদার্থের অভেদ সম্বন্ধে অম্বয়বােধ উৎপন্ন হইয়া থাকে, অতএব নামার্থ- দ্বয়ের অভেদসম্বন্ধে অন্বয়বােধের প্রতি সমান বিভক্তিক নামদ্বয়জনিত উপস্থিতি বিষয়ত্ব কারণ নহে, পরন্তু নামদ্বয়ের সমান বিভক্তি প্রতিসংহিত নামদ্বয়ের উপস্থিতি বিষয়ত্বকেই কারণ স্বীকার করিতে হইবে, ইহার ফলে ‘সম্পন্নং দধি' এই বাক্যস্থলে ‘সম্পন্ন এবং দধি এই নামদ্বয়ের দ্বিতীয়ার একবচন ‘অম্' বিভক্তির প্রতিসন্ধান বশত: ‘দধি’ পদার্থে সম্পন্ন পদার্থের অভেদ সম্বন্ধে যেরূপ অম্বয়বােধ হইবে, তদ্রুপ ‘সমৃদ্ধ গ্রামগত: এখানেও গ্রাম পদোত্তর অম্ বিভক্তির অনুসন্ধান বশতঃ গ্রাম পদার্থে সমৃদ্ধ পদার্থের অন্বয়বােধের প্রসক্তি হইবে। এখন আশঙ্কা হইতে পারে ‘দ্রব্যে সরসিজ এখানে সপ্তম্যন্ত সরসি পদার্থের সহিত সপ্তম্যন্ত দ্রব্য পদার্থের অভেদ সম্বন্ধে অন্বয়বোধের আপত্তি বারণ করিবার জন্য নামার্থ- দ্বয়ের অভেদ সম্বন্ধে অন্বয়বােধের প্রতি সমানবিভক্তিক নামদ্বয়জনিত উপস্থিতি বিষয়ত্বের কারণত্ব অবশ্য স্বীকৃত হইবে। সুতরাং ‘সমৃদ্ধং গ্রামগতঃ ইত্যাদিলে গ্রামপদটি বৃত্তি শব্দের একদেশ হওয়ায় ‘বৃত্তিশব্দান্যপদার্থোপস্থাপ্যত্বরূপ' কারণ না থাকার ফলেই গ্রাম- পদার্থে সমৃদ্ধ পদার্থের অভেদ সম্বন্ধে অন্বয়বােধের প্রসক্তি বারিত হইবে, সুতরাং ‘গ্রামগত’ ইত্যাদি তৎপুরুষ স্থলে লুপ্ত ‘অম্ বিভক্তির দ্বারা উপস্থাপিত কর্মত্বের গতি- পদার্থে অন্বয়ের পক্ষে কোন বাধা দেখা যায় না এই আশঙ্কাও সমীচীন নহে। কারণ, নামার্থদ্বয়ের অভেদান্বয়বােধের প্রতি সমানবিভক্তিক নামােপস্থাপ্যত্বের যে কারণ। কল্পিত হইয়াছে, সেখানে সমান বিভক্তির প্রতিসন্ধানরূপ অর্থ গৃহীত হইবে না, পরন্তু যথার্থই স্বীকৃত হইবে। ইহার ফলে সমৃদ্ধং গ্রামগতঃ এই স্থলে গ্রাম পদটির ক্রয়মাণ ‘অম্ বিভক্তির প্রকৃতি না হওয়ায় উক্ত ‘অম’ কার্যকারণভাবের পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হইবে । সুতরাং গ্রামগত প্রভৃতি তৎপুরুষ স্থলে লুপ্ত ‘অম’ বিভক্তির দ্বারা উপস্থাপিত কর্মত্বাদিরূপ অর্থের ‘গতি’ প্রভৃতি অর্থে অন্বয়বােধ স্বীকৃত হইবে। সমৃদ্ধ গ্রামগত এই সূলে গ্রামপদার্থে’ ‘সমৃদ্ধ’ পদার্থের অতেদায়বােধের আপত্তিই তৎপুরুষাদি স্থলে লুপ্ত বিভক্তির দ্বারা উপাণিত কর্মাদির গতি প্রভৃতি পদার্থে অন্বয়বােধের বাধক। ইহাই গ্রন্থকারের তাৎপর্য। নাপি ইত্যাদি সম্পর্ডের মাধ্যমে অপর একটি শঙ্কা উত্থাপন করিতেছেন। উক্ত শঙ্কাগ্রন্থের তাৎপর্য এই যে, গ্রামগত ইত্যাদি তৎপুরুষ সমাসলে समासप्रकरणम् a পূর্বোক্ত দোষ নিবন্ধন লুপ্ত দ্বিতীয়াদি বিভক্তির দ্বারা উপস্থাপিত কর্মাদির গতিক্রিয়াতে অন্বয়বােধ সম্ভবপর না হইলেও গ্রামগত ইত্যাদিলে গ্ৰামকর্মহে লক্ষণ। স্বীকৃত হইবে। গ্রামকমত্বরূপ গ্রামণদের লক্ষ্যার্থ গতিক্রিয়াতে নিরূপকত্বসম্বন্ধে অম্বিত হইবে, এইরূপ লক্ষণার স্বীকৃতির ফলে এই কল্পে লুপ্ত অমাদি বিভক্তি হইতে কমত্ব প্রভৃতি অর্থের স্মরণ কল্পনা করিবার প্রয়ােজন হইবে না এবং সমৃদ্ধ গ্রামগত: এইরূপ বাক্য হইতে গ্রামপদার্থে সমৃদ্ধ পদার্থের অভেদ সম্বন্ধে অন্বয়বােধও সম্ভাবিত নহে। কারণ, গ্রাম পদার্থটি গ্রামপদের লাক্ষণিক অর্থ যে গ্রাম কর্মত্ব তাহার একদেশ হওয়ায় “পদার্থ পদার্থেনৈব অন্বীয়তে ন তু পদার্থৈকদেশেন'- এই নিয়ম অনুসারে গ্রামকত্বের একদেশ গ্রামে সমৃদ্ধ পদার্থের অভেদান্বয় কইতে পারিবে না, এরূপ আশঙ্কার সমাধান কল্পে গ্রন্থকার ‘অভেদান্যসম্বন্ধেন' ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। গ্রন্থকারের বক্তব্য এই যে বিশেষতা সম্বন্ধে অভেদাতিরিক্ত সম্বন্ধাবচ্ছিন্ন তৎ নামার্থ প্রকার অস্বয়বােধের প্রতি তgৎ নামােতরবর্তী বিভক্তির দ্বারা উপস্থিতি বিষয়ত্ব অথবা তৎ নামােজরবর্তী প্রত্যয়ের দ্বারা উপস্থিতি বিষয়ত্ব কারণ, এইরূপ কার্যকারণভাব কল্পনার ফলে গ্রামগত ইত্যাদি তৎপুরুষ সমাসস্থলে গতিপদার্থে তাদৃশ বিভক্তি প্রযােজ্য উপস্থিতি বিষয়ত্ব অথবা তাদৃশ প্রত্যয় প্রযােজ্য উপস্থিতি বিষয়ত্বরূপ কারণ না থাকায় সেখানে, বিশেষ্যতা সম্বন্ধে নিরূপকত্বসম্বন্ধাবচ্ছিন্ন গ্রামকৰ্মত্ব প্রকারক অৰয়বােধ হইতে পারিবে না। সুতরাং তাদৃশ অন্বয়বােধের অনুৎপত্তিরূপ দোষ নিবন্ধন গ্রামগত ইত্যাদি তৎপুরুষস্থলে গ্রামপদের গ্রাম- কমত্বরূপ অর্থে লক্ষণ কল্পনা করা যাইবে না। উক্ত কার্যকারণভাবস্থলে ‘সম্বন্ধসামানেন না বলিয়া ‘অতেদান্য সম্বন্ধেন' বলার ফলে নীলােৎপলম্' ইত্যাদিলে অভেদ সম্বন্ধে নীলপদার্থের উৎপলপদার্থে অন্বয়বােধের উৎপত্তি নিবন্ধন ব্যতিরেক ব্যভিচার ইবে না। ‘পুত্রস্যাপত্যং পৌত্র ইত্যাদিস্থলে অপত্যাদিরূপ তদ্ধিত প্রত্যয়ের অর্থে তাদৃশ বিভক্তির দ্বারা উপস্থাপ্যত্বরূপ কারণ না থাকিলেও অভেদান্ত সম্বন্ধে পুৱ পদার্থের অন্বয়বােধ হওয়ায় উক্ত কার্যকারণভাবের প্রতিকুল ব্যতিরেক ব্যভিচার হওয়ায় বিভক্তির দ্বারা উপস্থাপ্যত্ব পরিহার করিয়া তাদৃশ প্রত্যয়ের দ্বার উপস্থাপ্যত্বকে কারণ বলা হইয়াছে। এইভাবে এই কল্পটিও দোষদুষ্ট হওয়ায় গ্রন্থকার ‘ন চ’ ইত্যাদি সম্পর্ডের দ্বারা কল্পান্তরের আশঙ্কা করিতেছেন, উক্ত শঙ্ক। গ্রন্থের তাৎপর্য এই যে, গ্রামগত' ইত্যাদি তৎপুরুষ সমাসস্থলে গ্ৰামাদিপদের গ্রামকমত্বাদিরূপ লাক্ষণিক অর্থ সম্ভবপর না হইলেও গ্ৰামকর্মকরূপ অর্থে লক্ষণা স্বীকৃত হইবে, উক্ত লক্ষণার স্বীকৃতির ফলে গম্ ধাতুর অর্থ গতি ক্রিয়াতে গ্রাম- পদের গ্রামকৰ্মক রূপ লক্ষ্যার্থের অভেদ সম্বন্ধে অম্ববােধ স্বীকার করা যাইতে পারে। গ্রন্থকার বলিতেছেন প্রাচীন সম্প্রদায় অভেদ সম্বন্ধে গ্ৰামকর্মকরূপ লক্ষ্যার্থের অবােধ স্বীকার করেন বটে, কিন্তু উক্ত প্রাচীন মত সমীচীন নহে। প্রথমতঃ তৎপুরুষ সমাসলেও যদি পূর্ব পদার্থের অভেদ সম্বন্ধে পর পদার্থে অন্বয়বােধ স্বীকৃত হয় তাহা হইলে তৎপুরুষ সমাসে কর্মধারয় সমাসের লক্ষণ সমন্বয় হওয়ায় তৎপুরুষ সমাসস্থলে কর্মধারয়ত্বে আপত্তি হইবে। যদি বলা হয় তৎপুরুষ এবং কর্মধারয় অভিন্ন হইলেও উপাধি যে তৎ शब्दशक्तिप्रकाशिका 3B পুরুষত্ব বা কর্মধারয়ত্ব এতদুভয়ের ভেদ নিবন্ধন তৎপুরুষ এবং কর্মধাৱয়ের বিভাগ উপপন্ন হইবে; এইজন্য গ্রামং গত’ ইত্যাদি সম্পর্ভের মাধ্যমে দ্বিতীয় দোষ প্রদর্শন করিতেছেন। বক্তব্য এই যে, যদি গ্রামগতে। রাজপুরুষ’ ইত্যাদি স্থলে গ্রামণদের গ্রামকর্মকরূপ অর্থে রাজপদের রাজসম্বন্ধীরূপ অর্থে লক্ষণ। স্বীকৃতির মূলে অভেদ সম্বন্ধে অৱয়বােধ স্বীকৃত হয়, তাহা হইলে, ‘গ্রামং গতঃ, রজ্ঞঃ পুরুষ' ইত্যাদি বিগ্রহবাক্যের সহিত গ্রামগতঃ, বাজ পুরুষ’ ইত্যাদি সমাসের তুল্যার্থকত্ব ব্যাহত হইবে। কারণ বিগ্রহবাকাস্থলে নিরূপিতত্ব সম্বন্ধে গ্রামাদি পদার্থ অমাদি পদার্থ কর্মত্ব প্রভৃতিতে অন্বিত হইবে। আবার উক্ত কর্মত্ব প্রভৃতি বিভক্তির অর্থ নিরূপকত্ব সম্বন্ধে গতিক্রিয়াতে অম্বিত হওয়ায় অভেদান্বয়বােধের উপযােগী সমাসের সহিত উক্ত বিগ্রহবাক্য ভিন্নার্থক হইয়াছে। জগদীশ তৎপুরুষ সমাস- হলে গ্রামদিপদের গ্রামকৰ্মত্বাদিরূণ লাক্ষণিক অর্থ আপাতত সমর্থন করিবার জন্য বলিতেছেন পূর্বোক্ত আশঙ্কা সমীচীন নহে। मूलम् प्रत्ययान्त-तत्तनामार्थस्य व भेदेनान्वयबोधं प्रति तत्तन्नामोत्तरप्रत्ययो- पस्थाप्यतायास्तन्त्रत्वोपगमेन ग्रामगत इत्यादी ग्रामादि पदलक्षितस्य ग्राम- कर्मत्वादेर्गत्यादौ भेदेनान्वये वाधकाभावात् , न चैवं, गतो ग्रामेत्यत्रापि ग्रामपदलक्षितस्य ग्रामकर्मत्वादेर्गत्यादौ भेदेनान्वयबोधप्रसङ्गः, प्रत्यया- न्तान्य-तन्नामोपस्थाप्यार्थस्यान्वयबोधसामान्य प्रत्येवोत्सर्गतस्तादृशतत्त- नामोत्तरनामोपस्थाप्यत्वस्य हेतुत्वेन तदसम्भवात् । अतएवार्धपिप्पली- च्छेद इत्यादौ पूर्वपदप्रधानत्वेनानुशिष्टस्य तत्पुरुषादेरन्त्यपदार्थानां पिप्पली प्रभृतोनां अर्धेत्याद्यर्थे, घट-पट-मठानामित्यादौ च सर्वपदप्रधानत्वेन द्वन्द्वस्या- नन्त्यपदार्थानां घटादीनां सुवर्थेऽन्वयः, तथा बहुगुड़ो द्राक्षेत्यादौ गुड़ादीना- मपि बहुजफै प्रकृत्यर्थस्येषदसमाप्तौ नाम्नः प्राग्बहुचो विधानादिति । অনুবাদ প্রত্যয়ান্ত তত্তৎ নামাৰ্থের ভেদসম্বন্ধে অন্বয়বােধের প্রতি তত্তৎ নামের অব্যবহিতােত্তরবর্তী প্রত্যয়ের দ্বারা উপস্থিতি বিষয়ত্বের কারণত্ব স্বীকার করিলেই ‘গ্রামগত’ ইত্যাদি তৎপুরুষ সমাসস্থলে গ্রামাদি পদের লক্ষ্যার্থ যে, समासप्रकरणम् গ্ৰামকর্ম প্রভৃতি, তৎপ্রকারক গতি প্রভৃতি বিশেষ্যক ভেদান্বয়বােধে, কোনও রূপ বাধক থাকিবে না। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে ‘গতাে গ্রাম, এখানেও গ্রামপদের লক্ষ্যার্থ গ্রামকৰ্মত্ব প্রভৃতির ভেদসম্বন্ধে, গতি প্রভৃতি ক্রিয়াতে অন্বয় বোধের প্রসক্তি হইবে না কেন? এই আশঙ্কার সমাধানকল্পে বলিতেছেন—উক্ত আশঙ্কা ঠিক নহে। কারণ প্রত্যয়ান্তভিন্ন তত্তৎ নামের দ্বারা উপস্থাপিত অর্থের অন্বয়বোধ সামান্যের প্রতি সামান্যতঃ তত্তৎ নামােত্তরবর্তী নাম প্রযােজ্য উপস্থিতি বিষয়ত্বের কারণত্ব কল্পিত হওয়ায় (গতো গ্রামঃ এই স্থলে) গতি ক্রিয়াতে গ্রামপদের লক্ষ্যার্থ গ্রামকৰ্মত্বের অন্বয়বােধ হইবে না। ‘অর্ধপিপ্পলীচ্ছেদঃ এই সকল পূর্বপদ প্রধান রূপে অনুশিষ্ট তৎপুরুষ সমাস স্থলে অন্তিম পদার্থ পিপ্পলী প্রভৃতি ‘অর্ধ' প্রভৃতি পূর্ব পদার্থে এবং ‘ঘট-পট মঠানাং এইরূপ দ্বন্দ্ব সমাসের অন্তর্গত প্রত্যেক পদের প্রাধান্য নিবন্ধন অন্তিম পদার্থ ভিন্ন ঘট প্রভৃতি পদার্থেরও ‘সুপ’ (ষষ্ঠী) বিভক্তির অর্থে যেরূপ অম্বয়বােধ হইবে তােপ ‘বহুগুড়ো দ্রাক্ষা' এই সকল স্থলে গুড় প্রভৃতি পদার্থেরও বহুচ পদার্থ যে প্রকৃতার্থ অপেক্ষা ঈষন্ননত্ব তাহাতে অম্বিত হইবে, কারণ, গুড় প্রভৃতি নামরূপ প্রকৃতির পূর্বে বহুচ’ প্রত্যয় বিহিত হইয়াছে। অতএব বিবৃতি কারণ হইতে যেখানে যে কাষ উৎপন্ন হয় উক্ত কার্যরূপ ফল অনুযায়ী কারণ কল্পিত হইয়া থাকে। সুতরাং নামার্থপ্ৰকাৰক অন্বয়বােধ সামান্যের প্রতি নামের অব্যব- হিতােত্তরবতী প্রত্যয়ের দ্বারা উপস্থাপিতত্ব কারণ নহে। পরন্তু প্রত্যন্ত অর্থাৎ যেই নামের পরে কোন প্রত্যয়ের উল্লেখ থাকিবে সেই নামটি প্রত্যয়ান্ত নামৰূপে পরিচিত হইবে। কার্ষতায় অবচ্ছেদক কোটিতে উক্ত বিশেষণ দেওয়ার ফলে, বিশেষতা সম্বন্ধে প্রত্যয়ান্ত নাম প্রযােজ্য তত্তৎ নামার্থকারক তত্তৎ অন্বয়বােধের প্রতি তত্তৎ নামের অব্যবহিতােরবতী প্রত্যয়ের দ্বারা উপস্থিতি বিষয়ত্বের কারণ কল্পনা করিতে হইবে। ইহার ফলে, গ্রামগত ইত্যাদি তৎপুরুষ সমাসস্থলে গ্রামপদটি প্রত্যয়ান্ত না হওয়ায় গ্রামপদ- লক্ষিত গ্রামকৰ্মত্ব-প্রকারক অন্বয়বােধে তাদৃশ প্রত্যয়েপস্থাপ্যত্বরূপ কারণ অপেক্ষিত নহে, সুতরাং কোনরূপ বাধক না থাকায় উক্ত দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসস্থলে গ্রাম কৰ্মপ্ৰকাৰক গতি বিশেষ অবয়বোধ হইতে পারিবে। ইহার উপরে আশঙ্কা হইতে পারে যদি প্রত্যয়ান্ত ভিন্ন নামার্থপ্রকারক অবয়বােধে উক্ত কারণের অপেক্ষা না থাকে তাহা হইলে গ্রামগত: এই স্কুলের ন্যায় ‘গতােগ্রাম' এইরূপ নির্বিভক্তিক গ্রামপদের দ্বারা শক্ষিত গ্রামকমত্ব- প্ৰকাৰক গতি বিশেষ অম্বয়বােধ হইবে না কেন? ‘ন চ’ ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে এই আশঙ্কাটি উপস্থাপিত করিয়া উক্ত আশঙ্কার উত্তরে প্রত্যয়ান্তা ইত্যাদি গ্রহের बनशक्तिमकाधिका G অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, ‘গতে গ্রামঃ এই স্থলে গ্রামপদটি প্রত্যয়ান্ত না হওয়ায় পূর্বকল্পিত প্রত্যয়ান্ত তৎ নামঘটিত কার্যকারণভাবের দ্বারা আক্রান্ত না হইলেও অপর একটি কার্যকারণভাৰ কল্পিত হইবে। কার্যকারণভাৰটি এই যে, বিশেষতসম্বন্ধে প্রত্যয়ান্তভিন্ন তৎ নামার্থপ্রকারক অন্বয়বােধ সামানের প্রতি কোনও রূপবাধক না থাকিলে প্রত্যয়ান্তভিন্ন তত্তৎ নামােত্তরবতী নামযােক্য উপস্থিতি বিষয়ত্ব কারণ‘প্রত্যয়ান্তা ইত্যাদি সমাধান গ্রন্থের মাধ্যমে এইরূপ কার্যকারণভাৰ কল্পিত হইয়াছে, উক্ত কার্যকারণভাব কল্পনার ফলে তাদৃশ নামােপস্থাপ্যত্বরূপ কারণ না থাকায় ‘গতো গ্রাম ইত্যাদিস্থলে গ্রামপদের লক্ষ্যার্থ যে গ্ৰামকর্ম তৎপ্রকারক অন্বয়বােধ সম্ভবপর নয়। বাধকং বিনা' এই অর্থে প্রযুক্ত ‘উৎসৰ্গতঃ এই পদটির ব্যাবৃত্তি প্রদর্শন করিবার জন্য অতএব’ ইত্যাদি সম্পর্ডের অবতারণা করিতেছেন। অতএব ইহার অর্থ করিতে হইবে উৎসৰ্গত; ইতি-নিবে-দেব। অর্ধপিপ্পলীচ্ছেদ: এখানে ‘পিপ্পলী’ পদটি যে প্রত্যয়ান্ত নহে ইহা বুঝাইবার জন্য ‘ছেদ: পদটি দেওয়া হইয়াছে। তাৎপর্য এই যে, অর্ধপিপ্পলীচ্ছেদ: এখানে বাধক থাকায় উক্ত কার্যকারণভাবের দ্বারা আক্রান্ত হইবে না। ফলে প্রত্যয়ান্ত না হইলেও পিপ্পলী পদার্থ অর্ধ পদার্থে অম্বিত হইবে। এখানে বাধকটি কি ইহা স্পষ্ট করিবার জন্য পূর্বপদ প্রধানহেন অনুশিষ্ট অর্থাৎ পূর্বপদ প্রধানরূপে উক্ত সমাসের অনুশাসনই এখানে বাধকরূপে গণ্য হইবে। যদি বলা হয় তৎ নামােতর নামােপস্থাপিতত্বস্থলে উত্তর পদটি নিবেশ না করিয়া অব্যবহিত পদটি নিবেশ করা হইবে, ইহার ফলে তাদৃশ নামার্থপ্ৰকাৰক অন্বয়বােধের প্রতি তৎ নামাব্যবহিত নামােপস্থাপিতত্ব কারণ, এইরূপ কার্যকারণভাব কল্পনা করিলে ‘অৰ্ধপিপ্পলীচ্ছেদ' এখানে অন্ধপদটি পিপ্পলী পদের অব্যবহিত (পূর্ব) হওয়ায় উক্ত কার্যকারণভাৰ ব্যাহত হইবে । এইজন্য ‘ঘট-পট-মঠানাং' এই স্থলান্তর অনুসরণ করা হইয়াছে। এখানেও ‘সর্বপদ- প্রধানত্বেন' এই উক্তির দ্বারা দ্বন্দ্ব সমাসের অন্তর্গত প্রত্যেক পদের প্রাধান্য সুচিত হইয়াছে, যদি বলা হয় স্বর্থভিন্নবিষয়ক তত্তন্নামৰ্থ প্ৰকাৰক অন্বয়বােধের প্রতি- প্রত্যয়ান্তভিন্ন তৎমােত্তর নামােপস্থাপ্যত্ব কারণ, এইরূপ কার্যকারণভাব কল্পিত হইলে ‘ঘট-পট-মঠানাং এই স্কুলে সুর্থ বিশেষক ঘট-পটাদি প্রত্যেক নামার্থ একারক অন্বয়- বােধের উপপত্তি হইতে পারে, কারণ উক্ত স্কুল তাদৃশ কার্যকারণভাবের দ্বারা আক্রান্ত হইবে না। এইজন্য তথা ইত্যাদি গ্রন্থের দ্বারা বহুগুড়ো দ্রাক্ষা' এই স্থান্তর অনুসরণ করিয়াছেন। তাৎপর্য এই যে, বহুগুড়ো দ্রাক্ষা’ এখানে গুড়স্বরূপ প্রকৃতির অর্থ যে গুড় তাহা হইতে ঈষৎ নূত্বরূপ অর্থে ‘বহুচ' প্রত্যয় বিহিত হওয়ায় তাদৃশ বহুচ, প্রত্যয় বিধানই এখানে ৰাধকরূপে গণ্য হইবে, ইহার ফলে ঈষৎ ন্যুনত্বরূপ বহুচ, প্রত্যয়ার্থে সমাসের অন্তর্গত গুড় পদটি পরে নির্দিষ্ট হইলেও উক্ত গুড় পদার্থের ঈষৎ ন্যুনত্বৰূপ পূর্ব- নির্দিষ্ট বহচ, পদার্থে অষয়বােধ হইবে। ইহাই ‘অতএব’ ইত্যাদি গ্রন্থে পাথহচে- বিধানা'ইত্যন্ত গ্রন্থের তাৎপর্য।

समासप्रकरणम् ननु, यदि नामार्थयोरपि भेदेनान्वयो व्युत्पन्नस्तर्हि ग्रामगत इत्यादौ कर्मत्वादिसंसर्गेण ग्रामादेरेव गत्यदावन्वयोऽस्तु, कृतं ग्रामादिशब्दस्य ग्राम- कर्मत्वादिलक्षणयेति चेत्, सत्यं, विग्रहवाक्यानां समाससमानार्थकत्व- रक्षणाय तत्र लक्षणास्वीकारात् , मास्तु वा प्रामादिपदस्य तवकर्मत्वादौ लक्षणा, कर्मत्वादिसंसर्गेणैव ग्रामादेर्गत्यादावन्वयसम्मवात्तथापि न चतिः, ग्रामं गत इत्यादि विग्रहस्यापि कर्मत्वार्थकद्वितीयाद्यनुसन्धानवशादेव कर्मत्वा- दिसंसर्गेण गत्यादौ ग्रामाद्यन्वयबोधकतया समाससमानार्थकत्वसम्भवात् , ग्राममित्यादौ कर्मत्वादिधर्मिकान्वयबोधानुरोधेण द्वितीयादेः कर्मत्वाद्यर्थ- বানু। অনুবাদ । এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে, (তৎপুরুষ স্থলে) যদি নামার্থ দ্বয়ের ভেদ সম্বন্ধে অন্বয় ব্যুৎপত্তি সিদ্ধ হয়, তাহা হইলে ‘গ্রামগত এই সকল স্থলে কর্মদিসম্বন্ধে গ্রামাদি পদার্থের গতিক্রিয়াতেই অন্বয় স্বীকৃত হউক, অতএব গ্রামপদে গ্রামকৰ্মত্ব প্রভৃতি অর্থে লক্ষণা কল্পনা করা নিষ্প্রয়ােজন। উক্ত আশঙ্কার সমাধান কল্পে গ্রন্থকার বলেন, উক্ত অশঙ্কা যথার্থ বটে কিন্তু বিগ্রহ বাক্য সমূহ এবং সমাস সমূহের সমার্থকত্বের অনুরােধে তৎপুরুষ সমাসস্থলে গ্রামকৰ্মত্ব প্রভৃতি অর্থে লক্ষণা স্বীকৃত হইয়াছে। অথবা, গ্রামগত ইত্যাদি স্থলে কর্মত্ব সম্বন্ধে গ্রামাদি পদার্থের গতিক্রিয়াতে অন্বয় স্বীকৃত হইলেও কোন ক্ষতির সম্ভাবনা নাই, (কেননা) গ্রামং গতঃ এই সকল বিগ্রহ বাক্য স্থলেও কর্মার্থক দ্বিতীয়াদিবিভক্তির অনুসন্ধানবশতঃ গতি প্রভৃতি পদার্থে কর্মসম্বন্ধে গ্রামাদি পদার্থের অন্বয়বােধ স্বীকৃতি মূলে সমাস ও ব্যাসবাক্যের তুল্যার্থকত্ব রক্ষিত হইতে পারিবে। গ্রামং ইত্যাদি প্রয়ােগ স্থলে কর্মাদিধর্মিক গ্ৰামাদি প্রকারক অন্বয়বােধের অনুরােধে অম্ প্রভৃতি দ্বিতীয়া বিভক্তির কর্মাদিরূপ অর্থের বােধক হইবে।

शब्दयक्तिप्रकाशिका বিবৃতি ‘ন' ইত্যাদি গ্রন্থের দ্বারা পুনরায় একটি আশঙ্কা করিতেছেন। শঙ্ক। গ্রন্থের তাৎপর্য এই যে, সামান্যতঃ নিপাতাতিরিক্ত নামার্থ দ্বয়ের অভেদান্য সম্বন্ধে অন্বয় ব্যুৎপত্তি সিদ্ধ নহে, এই নিয়মটি সঙ্কুচিত করিয়া যদি ‘গ্রামগত:’, ‘রাজপুরুষ’ ইত্যাদি তৎপুরুষ সমাস স্থলে গতিপদার্থে গ্রামপদের লক্ষ্যার্থ গ্রামকৰ্মত্বের, পুরুষপদার্থে রাজপদের লক্ষ্যার্থ রাজসম্বন্ধের ভেদ সম্বন্ধে অন্বয়বোধ বাঞ্চনীয় হয়, তাহা হইলে উক্ত স্থলয়ে ‘গ্রাম’পদ বা ‘রাজ’পদের গ্রামকৰ্মৰূপ অর্থে অথবা ‘রাজপদের রাজত্ব অর্থে লক্ষণ। কল্পনা না করিয়া যথাক্রমে কর্মত্ব এবং স্বত্বসম্বন্ধে গ্রামপদার্থে গতি পদার্থের, রাজপদার্থে পুরুষ- পদার্থের অন্বয়বােধ স্বীকৃত হওয়াই সমীচীন। সুতরাং ঐ সকল স্থলে গ্রামকমত্বরূপ এবং রাজস্বত্বরূপ লক্ষ্যার্থ কল্পনা নিষ্প্রয়ােজনীয়, এই আশঙ্কার সমাধান কল্পে ‘চেৎ সত্য ইত্যাদি সমাধান গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। গ্রন্থকার বলেন উক্ত আশঙ্কাটি ঠিক বটে, কিন্তু গ্রামগত’ ইত্যাদি তৎপুরুষ সমাসস্থলে কর্মত্বাদিসম্বন্ধে গ্রামাদি পদার্থের গতিক্রিয়াতে অনয় স্বীকৃত হইলে লক্ষণ। কল্পনা অপেক্ষা লাঘব হয় বটে, কিন্তু গ্রামং গত এবং গ্রামগতঃ এই সকল বিগ্রহ বাক্য ও সমাস ‘এতৎ উভয় তুল্যার্থক হইতে পারে না। কারণ ‘গ্রামং গতঃ' এই বিগ্রহবাক্য স্থলে ‘অম্' বিভক্তির অর্থ কর্মত্ব পদার্থরূপেই ভাসমান হইয়া থাকে, সম্বন্ধ রূপে নহে, অতএব বিগ্রহবাক্য এবং সমাস এতদুভয় যাহাতে সমার্থক হয় তদনুরােধে উক্ত সমাসস্থলে গ্রামাদিপদ গ্রামদিকৰ্মত্বরূপ অর্থে লাক্ষণিক স্বীকৃত হইয়াছে। ইহার ফলে গ্রামগত: এখানে যেরূপ ‘গ্রামকৰ্মত্ব নিরূপক গতিমান চৈত্র' এইরূপ অন্বয়বােধ হইবে, ‘গ্রামং গতঃ এইরূপ বিগ্রহবাক্য হইতেও গ্রামবৃত্তি কর্মতানিরূপক গতিমান চৈত্রঃ এইরূপ অম্বয়বোধ হইবে । এইভাবে গ্ৰামাদি পদের গ্রামদিকৰ্মত্বরূপ অর্থে লক্ষণ পক্ষ সমর্থন করিয়া কৰ্মত্ব সংসর্গবাদীর আপতিকে ইষ্টাপত্তি করিবার জন্য গ্রামগত’ ইত্যাদি স্থলে কর্মাদি সম্বন্ধে গ্রামাদি পদার্থের অন্বয় স্বীকার করিলেও বিগ্রহ ও সমাস এতদুভয় বাক্যের সমার্থকত্ব সম্পাদন করিবার জন্য তথাপি ন ক্ষতি' ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। এখন প্রশ্ন হইবে ‘গ্রামগত এই সমাসস্থলে গতিক্রিয়াতে গ্ৰামরূপ নামাৰ্থে কর্মত্বসম্বন্ধে অধ্যয় সম্ভবপর হইলেও ‘গ্রামং গত এই ব্যাসবাক্য স্থলে বিভক্তির অর্থরূপে কৰ্মত্বভাসমান হওয়ায় উক্ত কর্মত্বের সংসর্গ মর্যাদায় কি করিয়া ভান হইবে, এই প্রশ্নের উত্তরে জগদীশ বলিতেছেন-কর্মার্থক যে দ্বিতীয়াদি বিভক্তি তাহার অনুসন্ধান অর্থাৎ সমভিব্যাহার বশতঃই গ্রামং গত' ইত্যাদিস্থলে কর্মত্বসংসর্গে গ্রামাদিনার্থের অন্বয়বােধ হইবে, তাৎপর্য এই যে-গ্রামং গতঃ এই স্থলে গ্রামপদোত্তর ‘অম’ পদোত্তর গতপদত্বরূপ যে আনুপূর্বী অর্থাৎ আকাঙ্ক্ষা তগোচর জ্ঞানই কর্মসংসর্গে গ্রামাদিরূপ নামাৰ্থ প্ৰকাৰক গত্যাদি বিষয়ক অন্বয়বোধ উৎপন্ন হইবে, অতএব বিগ্রহ বাক্যস্থলে কর্মত্ব প্রভৃতি পদার্থরূপে ভাসমান হইবে না। পরন্তু সংসর্গ রূপেই প্রতীয়মান হইৰে। অম্' প্রভৃতি বিভক্তি समासप्रकरणम् কর্মাদির বােধক না হইলেও সংসৰ্গরূপে ভাসমান কর্মাদিবিষয়কৰােধের তাৎপর্য গ্রাহক ইহা নিঃসংশয়রূপে বলা যাইতে পারে। এখন আপত্তি হইতে পারে'কর্মাদি যদি সংসর্গমাদায় ভাসমান হয়, তাহা হইলে কমহদিরূপ অর্থে দ্বিতীয়া বিভক্তির অনুশাসন ব্যর্থ হইবে না কেন? এই আশঙ্কায় সমাধান কল্পে ‘গ্রামমিত্যাদৌ' ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিয়া বলিতেছেন-ন্যায়মতে অম্ বিভক্ত্যন্ত গ্রাম’ এই পদটিও বাক্যরূপে গৃহীত হইয়া থাকে। সুতরাং উক্ত বাক্য হইতে আধেত্বসম্বন্ধে গ্রাম প্ৰকাৰক কৰ্মতৃবিশেষ অম্বয়বােধের অনুরােধে কর্মত্ব যে ‘অ’ প্রভৃতি দ্বিতীয়া বিভক্তির অর্থ ইহা অবশ্যই স্বীকার করিতে হইবে। সুতরাং উক্ত বাক্যাৰ্থবােধে বিশেষ্যরূপে ভাসমান কমত্বের অনুরােধে কর্মত্ব যে দ্বিতীয়া বিভক্তির শ্যার্থ উক্ত শক্তি গ্রহের উপায়রূপে ‘কর্মণি দ্বিতীয়া ইত্যাদি অনুশাসনের উপযােগিতা স্বীকৃত হইবে। मूलम् अतएवाघटः पट इत्यादावन्यस्य, असुरो दैत्य इत्यादौ विरोधिनः, अनिन्छः शर इत्यादौ सदृशस्य, अब्राह्मणो वाई पिकइत्यादावपकृष्टस्य, अनुदरमुदरन्तरुण्या इत्यादौ खल्पस्य वाचकेन नञ् निपातेन स्वार्थे प्रति- योगित्वादि सम्बन्धेनैव घटादेरनुभावेऽपि तत्र तत् तत्पुरुषे नाव्याप्तिः, पटस्याभाव इत्यर्थ प्रसह्य नना अव्ययीभाव एव समासः प्रमाणम् , तेनापटं वर्तत इत्यायव तत्र प्रयोगः तत्पुरुषस्योत्तरपदलिङ्गकत्वनियमात् इति प्रसह्य नाप्यपट इत्यादिकस्तत्पुरुष एव साधुः, नाव्ययीभावः । नत्र तत् पुरुषविधेस्तदपवादकत्वात् , अत एव वादिनामविवाद इत्यादिकः किरणावल्यादौ पुंसि प्रयोग इति तु पक्षधरमिश्राः । বাঃ। অনুবাদ অতএব ‘অঘটঃ পটঃ এই সকল স্থলে অন্যরূপ অর্থের, ‘অনুরাে দৈত্য এই সকল স্থলে বিরােধী রূপ অর্থের, অনিঃ শরঃ এই সকল স্থলে সদৃশপ অর্থের, ‘অব্ৰাহ্মণণা বান্ধষিকঃ এই সকল স্থলে অপকৃষ্ট রূপ অর্থের, অনুদমুদরং তরুণ্যাঃ এই সকল স্থলে স্বল্পরূপ অর্থের বাচক নঞ, নিপাতের দ্বারা উপস্থাপিত স্বকীয় शब्दशक्तिप्रकाशिका অর্থে প্রতিযােগিত্যাদি সম্বন্ধে ঘটাদি পদার্থের অন্বয়বােধ উৎপন্ন হইলেও তত্ত তৎপুরুষ সমাসে অব্যাপ্তি হইবে না। ‘পটস্যভাবঃ এইরূপ অর্থে প্রসহ নঞ, নিপাতের দ্বারা (যে সমাস উৎপন্ন হইবে তাহা) অব্যয়ীভাব সমাস রূপেই প্রমাণিত হইবে। এইজন্য ‘অপটং বৰ্ততে’ ইত্যাদি রূপই সেখানে প্রয়ােগ হইয়া থাকে (কেন তৎপুরুষ সমাস হইবে না তাহার কারণ ), তৎপুরুষসমাস কিন্তু সমাসের অন্তর্গত উত্তর পদটি যে লিঙ্গ হইবে তল্লিঙ্গকই নিয়মত হইয়া থাকে ইহাই প্রাচীন সম্মত। (মতান্তর প্রদর্শন করিবার জন্য বলিতেছেন) প্ৰসহ নঞ, নিপাতের দ্বারা ‘অপটঃ ইত্যাদি সমাসও তৎপুরুষ সমাস স্বীকৃত হওয়া সমীচীন পরন্তু অব্যয়ীভাব কারণ নঞ তৎপুরুষের বিধি অব্যয়ীভাবের অপবাদক হইয়া থাকে। অতএব আচার্য উদয়ন, কিরণাবলী প্রভৃতি গ্রন্থে ‘বাদিমবিবাদঃ ইত্যাদি প্রকারে পুংলিঙ্গেই প্রয়ােগ করিয়াছেন। ইহাই পক্ষধর মিশ্রের সিদ্ধান্ত। নহে। বিবৃতি তৎপুরুষ সমাস স্থলে সমাসের অন্তর্গত একপদার্থে অপর পদার্থের ভেদসম্বন্ধে যে অন্বয়বােধ হয় তাহা প্রমাণিত করিবার জন্য অতএব ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। অতএব পদটির তৎপুরুষ সমাস স্থলে ভেদসম্বন্ধে অন্বয়বােধ হওয়ার ফলে এইরূপ অর্থ করিতে হইবে। অন্য’ ইত্যাদি যষ্ঠী বিভক্ত্যন্ত পাঁচটি পদার্থের অগ্রিম ‘বাচকেন নিপাতেন', এই অংশের সহিত অন্বয় করিতে হইবে। আবার ‘ন, নিপাতেন’ এই অংশটি অগ্রিম ‘অনুভাবেইপি এই অংশের সহিত অন্বিত হইবে। স্বার্থে’ এখানে স্বপদের দ্বারা নঞ, নিপাত গৃহীত হইবে। প্রতিযােগিত্বাদি’ এই আদিপদের দ্বারা কর্মত্ব, নিরূপিতত্ব, আধেয়ত্ব প্রভৃতি সম্বন্ধ গৃহীত হইবে নঞ, নিপাত প্রভৃতি অন্য প্রভৃতি অর্থের বাচক হওয়ার ফলে ‘অঘটঃ পটঃ এইরূপ নঞ তৎপুরুষ ঘটিত বাক্যস্থলে নঞ, পদটি অন্যরূপ অর্থের বাচক, উক্ত অন্য পদার্থের এক- দেশ অন্যত্বে (ভেদে) প্রতিযােগিতা সম্বন্ধে ঘট পদার্থের অন্বয় হওয়ায় প্রতিযােগিতা সম্বন্ধে ঘটবিশিষ্ট “ভেদৰদতি: পট:” এইরূপ শব্দবােধ হইবে। অসুরাে দৈত্য এইরূপ বিরােধ্যর্থক নঞ তৎপুরুষ ঘটিত বাক্যস্থলে নঞ, পদটি ছেষবিশিষ্টরূপ অর্থের একদেশে বিরােধিত্বে (দ্বেষে) কর্মত্ব সম্বন্ধে সুর পদার্থে কর্মতা সম্বন্ধে অন্বয় হওয়ায় ‘সুরকর্মবিরােধিত্ববভিন্ন দৈত্যঃ এইরূপ অন্বয়বােধ হইবে। অনিক্ষুঃ শরঃ এইরূপ সদৃশ বাচক নঞ তৎপুরুষ ঘটিত বাক্যস্থলে সদৃশরূপ ন পদার্থের একদেশ সাদৃশ্যে নিরূপিতত্ব সম্বন্ধে ‘ই’ পদার্থের অন্বয় হওয়ায় ‘ই নিরূপিত সাদৃশ্যবভিন্ন শর' এই- রূপ অন্বয়বোধ হইবে। এখানে ইন্ধুগত মাধুর্যরূপে সাদৃশ্য গৃহীত হইবে। অব্রাহ্মণে।

समासप्रकरणम् বাৰ্ধষিকঃ এইরূপ একশনরূপ অর্থের বাচক নঞ তৎপুরুষ ঘটিত ৰাক্যস্থলে উৎকর্ষশূন্য- রূপ ন পদার্থের একদেশে উৎকর্ষে ব্রাহ্মণ পদার্থের আধেয়ত্ব সম্বন্ধে অষয় হওয়ার ফলে ‘ব্রাহ্মণ বৃত্তি উৎকর্ষ শূন্যে বাৰ্ধষিকঃ এইরূপ অন্বয়বােধ হইবে। অনুমুদরং তরুণ্যাঃ এইরূপ স্বল্পরূপ অর্থের বাচক নঞ তৎপুরুষ ঘটিত বাক্যস্থলে অল্প (ক্ষীণ) রূপ অর্থের একদেশে অল্পত্বে (কীত্বে) আধেয়ত্ব সম্বন্ধে উদর পদার্থের অন্বয় হওয়ায় উদবৃত্তি অল্পতাদভিন্নং তরুণ্যা উদর এইরূপ শব্দবােধ হইবে। মূলে যে পঞ্চবিধ ন, তৎপুরুষ প্রদর্শিত হইয়াছে এখানে চতুর্থ অর্থাৎ ‘অব্রাহ্মণো বাৰ্ধষিক: এই প্রয়ােগটি অপ্রশস্তরূপ অর্থের বাচক নঞ তৎপুরুষ ঘটিত “অসূর্যম্পশ্যা ৰাজদার। এই নঞ তৎপুরুষ ঘটিত প্রয়ােগটি ও উপলক্ষিত হইবে। যদি গ্রামগত' ইত্যাদি তৎপুরুষ সমাসস্থলে গ্রামাদি পদার্থের কর্মত্ব প্রভৃতি ভেদ সম্বন্ধে গতি প্রভৃতিতে অন্বয় স্বীকৃত না হয়, তাহা হইলে উল্লিখিত পঞ্চবিধ নঞ তৎপুরুষে অব্যাপ্তি হইবে। ইহাই ‘অতএব’ ইত্যাদি গ্রন্থের দ্বারা ব্যক্ত হইয়াছে। এখন প্রশ্ন হইবে, গ্রন্থকার যে উক্ত পঞ্চবিধ অর্থের বাচক ন, নিপাতের কথা বলিয়াছেন ইহা কি করিয়া সঙ্গত হইবে? সদৃশাদি অর্থের ন্যায় অত্যন্তাভাবরূপ অর্থের বাচক ন, পদঘটিত তৎপুরুষ সমাস ও স্বীকৃত হইয়াছে ? এই প্রশ্নের উত্তরে গ্রন্থকার প্রাচীন মত অনুসারে প্রথমতঃ উক্ত প্রশ্নের সমাধান করিবার জন্য ‘পটস্যাভাব ইত্যাদি সম্পর্ডের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, পষুদাস এবং প্রত্য- বৃত্তিভেদে যে দ্বিবিধ নঞ, স্বীকৃত হয়, উক্ত উভয়বিধ নঞর মধ্যে পযু দাস নটি পূর্বোক্ত পঞ্চবিধ নঞ তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্ভুক্ত হইয়াছে। প্রসজ্য বৃত্তি নঞ, নিপাতটি অত্যন্তাভাবের বাচক হওয়ায় তাদৃশ নঞ, পদঘটিত সমাসটি অব্যয়ীভাব সমাস- রূপেই গণ্য হইবে। সুতরাং অতান্তাভাববাচক নঞ নিপাতকে গ্রহণ করিয়া ‘পটস্যাভাবঃ এই অর্থে ‘অপট এই অব্যয়ীভাব সমাসটি তৎপুরুষ না হওয়ায় ছয় প্রকার নর্থের ভেদ থাকিলেও অত্যন্তাভাববাচক নঞ, নিপাত ঘটিত অতএব ইত্যাদি সর্ডে উল্লেখ করা হয় নাই। তৎপুরুষ সমাস হলে উত্তর পদটির যে লিঙ্গ থাকিবে তৎপুরুষ সমাসের দ্বারা সমস্তপদটি ও সেই লিঙ্গেই প্রযুক্ত হইবে। অব্যয়ীভাব সমাসে কিন্তু সমস্ত পদটি ক্লীবলিই হইয়া থাকে। অতএব ‘পটস্যাভাব' এই বিগ্রহ বাক্য হইতে ‘অপট (বর্ততে) এইরূপই অব্যয়ীভাব সমাসের প্রয়ােগ হইবে। ইহাই বৃদ্ধ সম্প্রদায়ের সিদ্ধান্ত। এইভাবে প্রাচীন সিদ্ধান্ত প্রদর্শন কৰিবার পরে পক্ষধর মিশ্রের অভিমত সিদ্ধান্ত জ্ঞাপনের জন্য প্রসজ্য না’ ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। মিশ্রের অভিপ্রায় এই যে, ‘পটাভাব' এইরূপ অর্থে ‘অপটঃ এইরূপ নঞ তৎপুরুষ সমাসই স্বীকৃত হইবে। ইহার উপরে আপত্তি হইতে পারে—উক্ত অত্যন্তাভাববােধক সজ্য নঞ, নিপাতঘটিত সমাণে অব্যয়ীভাব সমাসের লক্ষণ সঙ্গত হওয়ায় অব্যয়ীভাব সমাস হবে না কেন? এই আপত্তির উত্তরে মিশ্র বলেন, অব্যয়ীভাব সমাস সামান্যবিধি অনুসারে সম্ভবপর হইলেও বিশেষবিধি সামান্যবিধির ৰাধক হওয়ায় অর্থাৎ উৎসর্গ ও অপৰদৰিধিদ্বয়ের মধ্যে অপবাদবিধি বলবৎ হওয়ায় घान्दाक्तिप्रकाशिका ঘটিত সমাসটি তৎপুরুষ অপবাদ অর্থাৎ বিশেষবিধি অনুসারে উক্ত অভাব বোধক ন, সমাসরূপে গণ্য হইবে ইহাই মিশ্রের আশঙ্কা। মিশ্র নিজের সিদ্ধান্ত প্রমাণিত করিবার জন্য আচার্য উদয়নের ‘কিরণাবলী’ প্রভৃতি গ্রন্থ হইতে অত্যন্তাভাববােধক নঞ, নিপাতঘটিত ‘অবিবাদ' ইত্যাদি পুংলিঙ্গে বিহিত প্রয়ােগের উদ্ধৃতির মূলে আচার্যেও যে ইহাই সিদ্ধান্ত তাহা ব্যক্ত করিবার জন্য অতএব ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। ‘ইতি পক্ষধরমিশ্ৰাঃ এই উক্তির দ্বারা গ্রন্থকারেরও মিমতের উপরেই নির্ভরতা সূচিত হইয়াছে। मूलम् युज्यते चोत्तरः कल्पः, नचेदेवम् । दर्शते राजमातङ्गास्तस्यैवामी तुरङ्गमाः। चैत्रो ग्रामगतस्तत्र, मैत्रः किं कुरुतेऽधुना ॥ इत्यादौ राज- सम्बन्धादे राजादिपदलक्षकत्वे तदेकदेशस्य राजादेस्तदा परामर्शो न स्यात्, विशेष्यविधया वृत्या पूर्वोपस्थापितस्यैवार्थस्य परामर्शकत्वात् तदादि शब्दानाम् । "न हि प्रजावतीयं मे, त्वं तस्मै देहि कम्बलम् । नोलो मणिगुणः सोज, भ्रात्रादिर्बोध्यते तदा ॥" অনুবাদ ( তৎপুরুষ সমাসে কর্মত্ব স্বত্ব প্রভৃতির সংসর্গমর্যাদায় ভান হইবে) এই উত্তর কল্পটি যুক্তিযুক্ত, যদি ইহা স্বীকৃত না হয় তাহা হইলে এই দশটি রাজহস্তী (দশৈতে রাজমাতঙ্গাঃ) তাহারই পুরােবর্তী অশ্বসমূহ, (তস্যৈবাসী তুরঙ্গমাঃ) চৈত্র গ্রামে গমন করিয়াছে (চৈত্রে গ্রামে গতঃ ) এখন মৈত্র কি করিতেছে (মৈত্রঃ কিং কুরুতেহধুনা) এই সকল স্থলে স্বরূপ রাজসম্বন্ধ প্রভৃতি যদি রাজপদের লক্ষ্যার্থ স্বীকৃত হয় তাহা হইলে (উক্ত রাজ সম্বন্ধের) একদেশ রাজ প্রভৃতির তৎ পদের দ্বারা পরামর্শ হইতে পারে না। কারণ বৃত্তির দ্বারা পূর্বে বিশেষ্যরূপে উপস্থাপিত যে পদার্থ তাহাই তৎ প্রভৃতি (সর্বনাম ) পদের দ্বারা পরামৃষ্ট হইয়া থাকে। ইনি আমার ভ্রাতৃজায়া (প্রজাবতীয়ং মে) তুমি তাহাকে (ভ্রাতাকে) কম্বল দান কর (বং তস্মৈ দেহি কম্বল) নীলস্বরূপ মণি সম্পর্কিত গুণ (নীলে।

समासप्रकरणम् মণিগুণঃ) এখানে সে (বর্তমান ) (সােহ) এই সকল স্থলে প্রজাবতী প্রভৃতি পদার্থের একদেশ ভ্রাতা প্রভৃতি পূর্বে বৃত্তির দ্বারা বিশেষ্যরূপে উপস্থাপিত হয় নাই এইজন্য তস্মৈ ইত্যাদিলীয় ‘তৎ’পদের দ্বারা ভ্রাতা প্রভৃতির অবগতি হইবে না। বিবৃতি (গ্রামগতঃ, রাজপুরুষঃ প্রভৃতি) তৎপুরুষ সমাস স্কুলে দ্বিতীয়া বা ষষ্ঠী বিভক্তির অর্থ কর্মত্ব বা স্বত্ব প্রভৃতি সংসর্গ রূপেই ভাসমান হইবে, প্রকারান্তরে নহে, অর্থাৎ বিশেষণ রূপে নহে। এই শেষ কল্পটিকে নিজ সিদ্ধান্তরূপে গ্রহণ করিবার জন্য “যুজ্যতে চোত্তর কল্পঃ” ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে যুক্ত্যন্তর প্রদর্শন করিতেছেন। যুজাতে চোত্তরঃ কল্প এই উক্তির দ্বারা কর্মধারয় সমাস স্কুলে ভাসমান কর্মত্ব প্রভৃতির সংসৰ্গতপক্ষ যে যুক্তিসিদ্ধ তাহ। প্রতিপাদিত হইয়াছে। যদি কর্মতা প্রভৃতির সংসৰ্গরূপে তৎপুরুষ সমাসজনিত অন্বয়বােধে ভাণ স্বীকার না করিয়া গ্রাম কর্ম প্রভৃতি অর্থে লক্ষণ। স্বীকৃত হয় তাহা হইলে “দশৈতে রাজমাতাঃ তস্যৈবামী তুরঙ্গমাঃ” এই বাক্যের অন্তর্গত ‘তস্যৈব’ এই তৎপদের দ্বারা ‘রাজমাতঙ্গা' এই তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্গত রাজপদের লক্ষ্যার্থ যে রাজসম্বন্ধ তাহার একদেশ রাজপদার্থের এবং চৈত্রে। গ্রামগতস্তত্র ইত্যাদি বাক্যের অন্তর্গত তত্র এই তৎপদের দ্বারা গ্রামগত এই তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্গত গ্রামদের লক্ষ্যার্থ যে গ্রামকমত্ব তাহার একদেশ গ্রামপদার্থের উপস্থিতি হইতে পারে না। কেন পারে না তাহার যুক্তি প্রদর্শন করিবার জন্য ‘বিশেষ্যবিধয়াবৃত্তা' ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, শক্তি বা লক্ষণারূপ বৃত্তিগ্রহে যে পদার্থটি মুখ্য বিশেষ্য রূপে ভাসমান হইবে না সেই পদার্থটি অগ্রিম তদাদি সর্বনামপদের দ্বারা উপস্থাপিত হইবে না পরন্তু শক্তিগ্রহে বা লক্ষণাগ্রহে যে পদার্থটি মুখ্য বিশেষ্যরূপে ভাসমান হইবে সেই পদার্থটি অগ্রিম তদাদি পদের দ্বারা পরামৃষ্ট এই অভিপ্রায়ে গ্রন্থকার বলিয়াছেন বৃত্তিজ্ঞানে বিশেষ্যরূপে পূর্বোপস্থাপিত পদার্থেরই তদাদি শব্দের দ্বারা পরামর্শ হইয়া থাকে। এই পর্যন্ত যাহা বলা হইল ইহা তদাদি সর্বনাম শব্দের প্রান্ত বাচিত্ব যাহারা স্বীকার করেন উক্ত প্রাচীন মত অনুসরণ করিয়া বলা হইয়াছে। নবীন মতে কিন্তু বুদ্ধিবিষয়তাবচ্ছেদকথােপক্ষিতধর্মাবন্দিরে তদাদিপদের শক্তি স্বীকৃত হওয়ায় এই মতে পদার্থগত পূর্বোপস্থাপিতত্ব অপেক্ষণীয় নহে। তদাদি শব্দ যে পদার্থের একদেশের উপস্থাপক হয় না এই বিষয়ে প্রাচীন শ্রীপতি দত্তের মত প্রদর্শন করিবার জন্য ‘ন হি প্ৰজাৰতীয়ং মে’ ইত্যাদি কারিকার অবতারণা করিতেছেন। উক্ত কারিকায় উল্লিখিত প্রজাবতী শব্দটির ভ্রাতৃপত্নীরূপ অর্থে এবং ‘নীলােমণিগুণ: এখানে মণি সন্ধিরূপ লাক্ষণিক অর্থের বােধক উক্ত শব্দদ্বয়ের পরবর্তী তৎ শব্দের দ্বারা ভ্রাতৃজায়ারূপ প্রজাবতী পদার্থের একদেশ যে মণি পদার্থ ইহাদের অগ্রিম তস্মৈ এবং ‘স' এই তৎ শব্দের দ্বারা উপস্থাপিত হয়, ইহা কাহারও মতে স্বীকৃত নহে।

शन्दशक्तिप्रकाशिका मूलम् नन्वेवमनयेव ऋचा "निषादस्थपतिं याजयेदिति" श्रुतौ निषादानां स्थपतिरिति व्युत्पत्या न तत्पुरुषः, परन्तु निषादः स्थपतिरित्यर्थे कर्मधारय एवेति सिद्धान्तो व्याहन्येत, तत्पुरुषे भक्तिभिया हि तत्र कर्मधारयस्वीकार- स्तन्मूलके निषादस्याधाने पूर्वविद्याप्रयुनिश्च कल्प्यते, कल्प्यते च निषादोयतत्तदध्ययने निषेधविधिवाधात्, स्त्रीश द्रौ नाधियेतामिति श्रुतौ तत्तदध्ययनेतराध्ययनपरत्वं धातोः, शूद्रपदस्य त्रैवर्णिकान्योपलक्षकत्वात् । অনুবাদ আশঙ্কা-এক্ষণে প্রশ্ন হইবে তৎপুরুষ সমাসস্থলেও যদি গ্ৰামাদি পদের লক্ষণ। স্বীকৃত হয় তাহা হইলে এই ঋক্ ( মন্ত্রের) দ্বারা নিষাদ স্থপতিকে যজ্ঞ করাইবে, এই শ্রুতিবাক্যের অন্তর্গত নিষাদস্থপতি শব্দটির “নিষাদানাং স্থপতিঃ এইরূপ অর্থে ( নিদস্থপতিরূপ) তৎপুরুষ সমাস হইবে না কিন্তু নিষাদ স্থপতিঃ ( নিষাদাভিন্ন স্থপতি) এইরূপ অর্থে কর্মধারয় সমাসই হইবে। এই সিদ্ধান্ত ব্যাহত হইবে না কেন? কারণ তৎপুরুষ সমাসে লক্ষণা স্বীকার করিতে হয় বলিয়া লক্ষণ। স্বীকারের ভয়েই উক্ত স্থলে কর্মধারয় সমাস স্বীকৃত হইয়া থাকে এবং কর্মধারয় সমাস স্বীকারের ফলে নিষাদ জাতীয় স্থপতি গৃহীত হওয়ায় নিষাদ কর্তৃক বিধিবিহিত বেদাধ্যয়ন কল্পিত হইয়া থাকে এবং “স্ত্রীশূদ্রৌ নাধীয়েতা” এই শ্রুতির মূলে নিষাদ কর্তৃক তত্তৎ বেদমন্ত্রের অধ্যয়নে অপূর্ব নিষেধবিধির বাধবশতঃ উক্ত শ্রুতির অন্তর্গত ধাতুটির যাগের উপযােগী তৎ অধ্যয়নভিন্ন অধ্যয়নে তাৎপর্য কল্পনা করিতে হয় (উক্ত শ্রুতির অন্তর্গত ), শূদ্র পদটি কিন্তু ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য এই বর্ণত্রয়ভিন্নের উপলক্ষক। বিবৃতি গ্রামগত প্রভৃতি তৎপুরুষ সমাসস্থলে গ্রামাদি পদের গ্রামকৰ্মৰূপ লাক্ষণিক অর্থ পরিত্যাগ করিয়া গতি প্রভৃতি উত্তর পদার্থে গ্রামাদি পদার্থের কর্মত্বসম্বন্ধে অবােধ সিদ্ধান্তরূপে গৃহীত হওয়ায় উক্ত সিদ্ধান্তের প্রতিকুলে নম্বেং ইত্যাদি সন্দর্ভের মাধ্যমে समासप्रकरणम् একটি প্রশ্ন উত্থাপন করিতেছেন।‘নন্বেৰং’ এখানে ‘এবং’ শব্দটির তৎপুরুষ সমাসলে লক্ষণা স্বীকৃত না হইলে এইরূপ অর্থ গৃহীত হইবে। তাৎপর্য এই যে ‘অয়ৈব ঋচা’, ‘নিষাদস্থপতি যালয়েৎ' এইরূপ শ্রুতি বাক্যের দ্বারা নিষাদ স্থপতি অর্থাৎ বর্ণবহিভূত চণ্ডাল জাতীয় রাজমিস্ত্রী প্রভৃতি কর্তৃক যাগের অনুষ্ঠান বিহিত হওয়ায় নিষাদ স্থপতিকে যজ্ঞের উপযােগ তৎ মন্ত্র অধ্যয়নের অর্থাৎ পাঠের অধিকারও বিহিত হইয়াছে। এখন প্রশ্ন হইবে যাগ কর্তৃরূপে নিষাদ গৃহীত হইলে নিষদ কর্তৃক তত্তৎ পাঠ্যমন্ত্ৰ অধীত হইলে ‘স্ত্রীশূদ্রে নাধীয়েতা' অর্থাৎ স্ত্রীলােক এবং শূদ্রগণ কর্তৃক বেদাধ্যয়ন নিষিদ্ধ, এই নিষেধবিধির অন্তর্গত অধ্যয়নবােধক অধি +ই ধাতুর যাগের উপযুক্ত নিষাদ কর্তৃক পাঠ্য তত্তৎ বেদমন্ত্রের অতিরিক্ত বেদাধ্যয়নের নিষেধবিধি কল্পনা করিতে হইবে। এইভাবে উক্ত নিষেধবিধি সঙ্কুচিত হওয়ার ফলে নিষাদম্পতি কর্তৃক যাগের উপযুক্ত তত্তৎ মন্ত্রের অধ্যয়ন উক্ত সামান্যবিধির দ্বারা ব্যাহত হইবে না। এই প্রসঙ্গে আরও বক্তব্য, যদিও “স্ত্রীশূদ্রৌ নাধীয়েতা” এই শ্রুতির অন্তর্গত শূদ্র পদটি চতুর্থবর্ণের বােধক সুতরাং নিষাদ- স্থপতি উক্ত শূদ্রবর্ণের অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় উক্ত শ্রুতির দ্বারা নিষাদস্থপতির অধ্যয়ন বাধিত হইবে কেন? এই আশঙ্কার সমাধানকল্পে গ্রন্থকার বলিতেছেন “শূদ্ৰপদস্য ত্রয়ীবর্ণিকান্যোপ- লকত্বাৎ” অর্থাৎ উক্ত নিষেধবিধির অন্তর্গত শূল পদটির ব্রাহ্মণাদি বর্ণত্রয় হইতে অতিরিক্ত অর্থে অজহৎ স্বার্থরক্ষণা স্বীকার করিতে হইবে। ইহার ফলে ক্ষুদ্র পদের দ্বারা নিষাদ প্রভৃতিও অবশ্যই গৃহীত হইবে। অতএব উক্ত নিষেধৰিধির সঙ্কোচ করিয়া নিষাদস্থপতির তত্তৎ বেদমন্ত্রের অধ্যয়ন বেদবিহিত হইবে। ইহাই গ্রন্থকারের বক্তব্য। मूलम् यदि च कर्मधारय इव तत्पुरुषेऽपि न लक्षणा, तदा तत्पुरुष एव तत्रोचितस्त्र वर्णिकस्यैव निषादीयस्थपतित्वेन प्राप्तावपूर्वविद्याप्रयुक्तस्तन्मूलक- निषेधविधिसङ्कोचस्य चाकल्प्यत्वादिति, चेन, तत्पुरुषे लक्षणापक्षेऽपि किमिति कर्मधारय एव तत्राभ्युपेयते, न तु तत्पुरुषः, निषादानां स्थपति- रिति व्युत्पच्या निषादस्थपतिपदानिषादसम्बन्धवत्त्वेन स्थपत्यनुमवसहस्रस्य सर्वसिद्धत्वेन तदनुरोधालचणायाः कृप्तत्वेन तत्कल्पनामयस्यासम्मवात् , न हि निषादस्थपत्यादिपदं निषादादिसम्बन्धवत्तया स्थपत्यादि बोधने निराकाङ्क्ष, तथा सति निराकाङ्घत्वादेव तत्पुरुषत्वासम्भवेन लक्षणा- पत्तेस्तबाधकतयोपन्यासानौचित्यात् ।

৪ ग्दशक्तिप्रकाशिका অনুবাদ যদি কর্মধারয়ের ন্যায় তৎপুরুষেও লক্ষণা (স্বীকৃত) না হয় তাহা হইলে সেখানে (নিষাদস্থপতিস্থলে) তৎপুরুষ সমাসই স্বীকৃত হওয়া উচিত, (কারণ) নিষাদীয় স্থপতিরূপে ব্রাহ্মণাদি বর্ণত্রয় প্রাপ্ত হওয়ায় তগত বিধি- বােধিত বেদমন্ত্রের প্রয়ােগ এবং তন্মলক (পূর্বোক্ত ) নিষেধবিধির সঙ্কোচও স্বীকার করিতে হয় না। এই আশঙ্কা কিন্তু যুক্তিযুক্ত নহে, [ কারণ ] তৎপুরুষ সমাসে লক্ষণা স্বীকৃতি পক্ষেও কেন কর্মধারয় সমাসই সেখানে অঙ্গীকৃত হইবে, পরন্তু তৎপুরুষ নহে। কারণ ‘নিষাদানাং স্থপতিঃ এইরূপ ব্যুৎপত্তি দ্বারা ( লভ্য) নিষাদ সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে স্থপতি বিষয়ক সহস্ৰ অনুভব সর্ববদিসিদ্ধ। অতএব উক্ত অনুভবের অনুরােধে (উত্তস্থলে) লক্ষণাও কক্ষপ্ত । তৎপুরুষপক্ষে লক্ষণ কল্পনার ভীতিও সম্ভবপর নহে। যদি বলা হয় নিষাদ- স্থপতি’ প্রভৃতি পদের নিষাদ প্রভৃতি সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে স্থপতি প্রভৃতি বিষয়ক অন্বয়বােধের অনুকুল আকাঙ্ক্ষা স্বীকৃত হইবে না, এই উক্তিও সমীচীন নহে, (কারণ) তাহা হইলে উক্ত সমাসের নিরাকাক্ষ প্রযুক্তই তৎপুরুষত্ব সম্ভবপর না হওয়ায় তৎপুরুষের ক্ষেত্রেও লক্ষণার আপত্তিরূপ যে বাধকের কথা বলা হইয়াছে তাহা অসঙ্গত হইয়া পড়ে। অতএব বিবৃতি এখন প্রশ্ন হইবে তৎপুরুষ সমাসে লক্ষণা স্বীকৃত না হইলে পূর্বোক্ত সিদ্ধান্ত কেমন করিয়া ব্যাহত হইবে। ইহাই “যদি চ” ইত্যাদি ‘ইতি চেৎ' ইত্যন্ত সর্ডের দ্বারা ব্যক্ত করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে ‘নিষদস্য স্থপতি: এইরূপ বিগ্রহবাক্য অনুসারে ‘নিষাদ- স্থণতি’ এই সমস্ত পদ হইতে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্য ইহাদের যে কোনও একটি বর্ণের নিষাদ সম্বন্ধি স্থপতিরূপে (গৃহাদিনির্মাতা বাস্তুকাররূপে ) লাভ হওয়ায় ক্ষুদ্রাদি ষাগাদি কর্তৃরূপে প্রাপ্তিসম্ভাবনা না থাকায় “নিষাদস্থপতিং যাজয়েৎ' এই বিধিবাক্যের অনুরােধে পূর্বোক্তরূপে ‘স্ত্রীশূদ্রৌ নাধীয়েতা’, শ্রোতবাক্যের সঙ্কুচিত অর্থে তাৎপর্য স্বীকার করিবার প্রয়ােজন নাই, সুতরাং তৎপুরুষ সমাসের পূর্বোক্ত রূপে লাক্ষণিক অর্থ পরিত্যক্ত হইলে ‘নিষাদস্থপতিং যাজয়েৎ' এই স্থলে ‘নিষাদস্থপতি’ এই সমস্ত পদটির তৎপুরুষত্ব সমর্থন করাই সমীচীন। ইহার ফলে পূর্বোক্তরূপে অপূর্ব বিদ্যার প্রয়ােগ এবং স্ত্রীশূন্ত্রেী নাধীয়ে এই নিষেধবিধি ৰাক্যার্থের পূর্বোক্ত প্ৰকাৰে সঙ্কোচও করিতে হইবে না। কারণ বৈর্ণিকে বিদ্যাধিকার প্রাপ্ত থাকায় অপ্রাপ্তির প্রাপ্তিরূপ অপূর্বদ্যিা প্রয়ােগ যেরূপ নির্থক তদ্রুপ তাদৃশ বিধিবাক্যের অন্তর্গত নাখীয়েতাম’ এই অধিপূর্বক ই-খাতুর দৃশ समासप्रकरणम् অধ্যয়ন বিশেষরূপ সঙ্কুচিত অর্থেরও কল্পনা করিতে হইবে না। অতএব তৎপুরুষ স্বীকৃতিপক্ষে কল্পনা লাঘব রূপ বীজ থাকায় পূর্বোক্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই ব্যাহত হইবে। এইভাবে পূর্বপক্ষকে দৃঢ় রূপে ব্যবস্থিত করিয়া সমাধান করিবার জন্য বলিতেছেন ‘ইতি চেন্ন। অর্থাৎ উক্ত আশঙ্কা সঙ্গত নহে। কেন সঙ্গত নহে ইহাই তৎপুরুষে’ ইত্যাদি সর্ডের দ্বারা বিবৃত করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, ‘নিষাদস্থপতি এইরূপ তৎপুরুষ সমাসস্থলে নিষাদ শব্দের নিষাদসম্বন্ধবত্ত্বরূপ অর্থে লক্ষণা স্বীকার পক্ষেও তৎপুরুষ সমাস উপেক্ষা করিয়া কর্মধারয় সমাস স্বীকারের পক্ষে কোনরূপ যুক্তি নাই। কারণ ‘নিষাদানাং স্থপতি। অর্থাৎ নিষাদবর্গের বাস্তুকার এইরূপ অর্থে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস নিষ্পন্ন নিষাদ- পদটি নিষাদসম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে স্থপতিবিষয়ক অজস্ৰ অনুভব সিদ্ধান্তবাদী এবং বিরুদ্ধবাদী উভয় সম্মত হওয়ায় উক্ত নিষাদ সম্বন্ধিত্ব প্রকার স্থপতি বিশেষ নিশ্চয়ের অনুরোধে নিষাদপদের নিষাদসম্বন্ধিত্ব রূপ অর্থে লক্ষণাও স্বীকার করিতে হইবে। সুতরাং উক্ত লক্ষণাও সৰ্ববাদী সম্মত হওয়ায় অবশ্য কাপ্ত, অতএব নিষাদ পদের নিষাদসম্বন্ধবরূপ অর্থে লক্ষণার কল্পনা নিবন্ধন কল্পনা গৌরবও সম্ভাবিত নহে। অপর একটি আশঙ্কা উত্থাপন করিয়া বিরুদ্ধবদিগণের শঙ্কিতদোষের সমাধান করিবার জন্য ‘ন চ’ ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। আশঙ্কাটি এই যে, যেই পদটি যাদৃশ অর্থে সাকা হয় সেই পদটি তাদৃশ অর্থের বােধক হইয়া থাকে। প্রকৃত স্থলে ‘নিষাদস্থপতি এই পদটি নিষাদ সম্বন্ধিত্ববিশিষ্ট স্থপতিরূপ অর্থে সাকাক্ষ নহে। অতএব তাদৃশ অর্থে নিরাকা হওয়ায় নিষাদস্থপতি পদ হইতে নিষদসম্বন্ধিত্ব প্রকার স্থপতি বিশেষকরূপ অন্বয়বােধ হইতে পারে না। উক্ত আশঙ্কার সমাধান করিবার জন্য বলিতেছেন, উক্ত আশঙ্কা ঠিক নহে। কারণ তাহা হইলে নিষাদস্থপতি পদের নিষাদসম্বন্ধিত্বরূপ অর্থে নিরাকাঙ্ক্ষত্ব নিবন্ধনই তাদৃশ অর্থে নিষাদস্থপতি পদের তৎপুরুষ সমাসের সম্ভাবনা নিরস সম্ভবপর হইতে পারে। উক্ত সমাসের নিরাকরণের জন্য বাধকরূপে লক্ষণপত্তির উপন্যাস অসঙ্গত হইয়া পড়ে। সুতরাং উক্ত স্থলে তৎপুরুষ সমাস পক্ষে লক্ষণাকে বাধক রূপে বর্ণনা করিয়া কর্মধারয় সমাসের উপপত্তি করাই সঙ্গত নহে। मूलम् अथ बाधकं विना मुख्यार्थ एव श्रुतीनां प्रामाण्यं न तु प्रमाणान्तरा- विषयेऽपि लक्ष्यार्थे “मुख्ये शब्दस्वरस" इत्यादि मीमांसया तथैव सम्प्रतिपचेरिति, चेचर्हि वाधकासत्त्वे कर्मधारयविधथैव वेदानां प्रामाण्यं, न तु प्रमाणान्तराविषयेऽपि तत्पुरुषविधया, कर्मधारयात् समासान्तरस्य दौर्बल्यमित्यादिमीमांसया तथैव तथैव प्रतिपत्तेरित्यपि किन বীৰঃ, } ৭০০ शब्दशक्तिप्रकाशिका तत्पुरुषादहुबोहेर्जघन्यत्वमित्यत्राप्युक्लव रीतिरनुसतव्या, न हि बहुलीही समस्तपदानां लाक्षणिकत्वादेव तती दुर्बलत्वम्, एकपदमावलक्षणयापि बहुब्रोहेय॑वस्थाप्यत्वादित्यास्तां विस्तरः । অনুবাদ অথবা কোনরূপ বাধক না থাকিলে মুখ্যার্থে বেদবাক্যসমূহের প্রামাণ্য ( স্বীকৃত হইবে) পরন্তু প্রমাণান্তরের দ্বারা প্রমাণিত নহে, এইরূপ লক্ষ্যার্থে শ্রুতির প্রামাণ্য গৃহীত হইবে না। মুখ্যার্থেই শ্ৰেতিশব্দের স্বারসিকতা ইত্যাদি মীমাংসা গ্রন্থের (উক্তির) দ্বারা পূর্বোক্ত অর্থেরই প্রতিপত্তি হইয়া থাকে। যদি ইহাই প্রতিপক্ষগণের অভিমত হয় তাহা হইলে সাধক না থাকিলে কর্মধারয় সমাস বিধিতেই বেদের প্রামাণ্য গৃহীত হইবে। পরন্তু প্রমাণান্তরের দ্বারা অগৃহীত বিষয়ে তৎপুরুষ বিধির ( প্রামাণ্য) স্বীকৃত হইবে না, (কারণ) কর্মধারয় সমাস অপেক্ষা সমান্তরের দুর্বলতা ( বিদ্যমান )-এই মীমাংসা গ্রন্থের দ্বারা (কর্মধারয়ের) প্রাধান্য প্রতিপন্ন হইবে। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণেই বা অরুচি হইবে কেন? তৎপুরুষ সমাস অপেক্ষা বহুব্রীহি সমাস যে জঘন্য বলা হইয়াছে) এখানেও উক্ত রীতিই অনুসরণ করিতে হইবে। (একথা কিন্তু ঠিক নহে যে) বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্গত যাবতীয় পদসমূহ, লাক্ষণিক হয় বলিয়াই উক্ত সমাসের তৎপুরুষ অপেক্ষা দুর্বলতা ( স্বীকৃত হয় ), কারণ একটি মাত্র পদের লক্ষণ। ( স্বীকৃতির মূলে) বহুব্রীহি সমাস ব্যবস্থিত হইয়া থাকে। এবিষয়ে আর বিস্তার করা নিষ্প্রয়ােজন। বিবৃতি এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে শ্ৰেতিবাক্যসমূহের মুখ্যার্থেই প্রমাণ্য স্বীকৃত হইয়া থাকে লক্ষ্যার্থে নহে। কারণ শ্রুতিবাক্যসমূহের মুখ্যার্থে ই স্বারসিকত। অর্থাৎ প্রামাণ্য মীমাংসা গ্রন্থে সিদ্ধান্ত করা হইয়াছে। ইহার ফলে উক্ত সিদ্ধান্তই লক্ষণ। স্বীকৃতি পক্ষে ‘নিষাদস্থপতি’ এই সমস্তপদটির তৎপুরুষত্ব পরিত্যাগের বীজ কল্পিত হইবে। এই আশঙ্কায় সমাধান করিবার জন্য অথবা ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। মুখ্যার্থ এব’ এখানে মুখ্যার্থ পদটি শক্যার্থের বােধক। ন তু ইত্যাদি সন্দর্ভের বাবা ইতর ব্যবচ্ছেদৰূপ এবকারার্থের ব্যবচ্ছেদ্য প্রদর্শিত হইয়াছে। যদি সামান্য ভাবে লক্ষার্থের ব্যাবৃত্তি করা হয় তাহা হইলে “আয়ুৰৈ ঘৃত”, “আদিত্যো বৈ যুণঃ” ইত্যাদি সূলে আয়ুপদের আয়ুজনকরূপ অর্থে এবং আদিত্যপদের আদিত্য সদৃশরূপ অর্থে উক্ত समासप्रकरणम् ৭৭ তিদ্বয়ের প্রামাণ্য রক্ষিত হইতে পারে না। এইজন্য প্রমাণারাবিষয়ে এই অংশটি লক্ষার্থে বিশেষণরূপে প্রযুক্ত হইয়াছে। প্রমাণান্তৱাৰিষয়ে এই অংশের প্রকৃত শ্রুতিবাক্য হইতে অতিরিক্ত প্রমাণজনিত প্রতীতির অবিষয় এইরূপ অর্থ করিতে হইবে। এখন প্রশ্ন হইবে, “মুখ্যে হি শব্দষয়সঃ” এই সাৰধারণাত্মক মীমাংসা গ্রন্থ হইতে সামান্য রূপে লক্ষ্যার্থ মাত্রের ব্যাবৃত্তি হইবে এইরূপ সিদ্ধান্তই প্রতীয়মান হয়। সুতরাং ‘বাধক বিনা ইত্যাদি যাহা প্রতিপাদিত হইয়াছে তাহা ব্যাহত হইবে না কেন? এই প্রশ্নের সমাধানকল্পে ‘মুখ্যে হি শব্দম্বরসঃইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে বাধকং বিনা' ইত্যাদি গ্রন্থের দ্বারা যাদৃশ অর্থ প্রতিপাদিত হইয়াছে ‘মুখ্যে হি শব্দরসঃ” অর্থাৎ শক্যার্থেই শ্রুতির প্রামাণ্য এই মীমাংসা গ্রন্থের দ্বারাও তাদৃশ অর্থই এতিপাদিত হওয়ায় উক্ত মীমাংসা গ্রন্থের দ্বারা পূর্ব প্রতিপাদিত অর্থ ব্যাহত হইবে না। প্রাচীন সম্প্রদায়, ‘মুখ্যে হি শব্দষসঃ এই মীমাংসা গ্রন্থের দ্বারা তৎপুরুষ সমাস লক্ষ্যার্থের বােধক হওয়ায় লাক্ষণিক অর্থনিবন্ধনই “নিষাদস্থপতিং যাজয়েৎ” ইত্যাদি শ্রুতিবাক্যের অন্তর্গত নিষাদস্থপতি শব্দের তৎপুরুষত্ব পরিত্যক্ত হইবে এবং মুখ্যার্থবােধক কর্মধারয়ত্ব গৃহীত হইবে, এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইলে গ্রন্থকার প্রতিবন্ধিমুখে নিজের সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করিবার জন্য ইতি চেহি' ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। গ্রন্থকারের বক্তব্য এই যে, যদি বাধক না থাকে তাহা হইলে কর্মধারয়পক্ষে বেদের প্রামাণ্য অঙ্গীকৃত হইবে। কিন্তু কর্মধারয়পক্ষে বাধক থাকিলে সেখানে তৎপুরুষ সমাস স্বীকৃত হইবে। এখানে বাধক না থাকিলে এই অংশটির দ্বারা ‘চন্দ্রসূর্যগ্রহে আনং, শ্রাদ্ধং দানং তথা জপঃ এই সকল স্থলে এবং ‘পিং দ্যা গয়াশিরে’ এই সকল শাস্ত্রীয় বাক্য কর্মধারয়ের বাধক হওয়ায় ঐ সকল স্থলে তৎপুরুষ সমাসই স্বীকৃত হইবে, কর্মধারয় নহে। সুতরাং নিষাদস্থপতিং যাজয়েৎ' ইত্যাদি বাক্যের তৎপুরুষত্ব পক্ষে প্রামাণ্য স্বীকার করিতে হইবে। কর্মধারয়বিধয়ৈব” এই ‘এ’ কারের দ্বারা তৎপুরুষ সমাসের ব্যাবৃত্তি করা হইয়াছে। প্রমাণান্তবিষয়ে এই অংশটি তৎপুরুষ সমাসের অতিরিক্ত সমাসের সম্পাদক প্রমাণের অবিষয়ে এইরূপ অর্থ গৃহীত হইবে। তাৎপর্য এই যে কর্মধারয় সমাসের দ্বারা যে অর্থের বােধ হইবে তাহার অনুকুল যােগ্যতা প্রভৃতি উপস্থিত থাকিলে উক্ত ঘােগ্যতাদি প্রমাণ মূলে কর্মধারয় সমাসই প্রমাণিত হইবে। [ কোনও কোনও গ্রন্থে ‘প্রমাণান্ত বিষয়ে এইরূপ নরহিত পাঠ দেখা যায়। উক্ত পাঠ স্বীকৃত হইলে এই বাক্য হইতে কর্মধায়য়ের অতিরিক্ত তৎপুরুষের সম্পাদক যুক্তির বিষয় হইলে এইরূণ অর্থ প্রতীয়মান হইবে।] এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে সমান্তরঙ্গ দৌর্বল্যম'—এই মীমাংসা সন্দর্ভ অনুসারে কর্মধারয় সমাস অপেক্ষা তৎপুরুষ সমাসের যে দুর্বলতা প্রতিপাদিত হইয়াছে তাহার কারণ লক্ষণাভিন্ন অন্য কিছু নহে। সুতরাং এই মতে উক্ত মীমাংসা সিদ্ধান্ত গ্রন্থ ব্যাহত হইবে না কেন? এই আশঙ্কার উভয়ে গ্রহকার বলিতেছেন কর্মধারয় সমাস দৌর্বল্য ইত্যাদি মীমাংসা গ্রন্থে তাদৃশ অর্থে তাৎপর্য এইরূপ সিদ্ধান্তে রুচি হইবে না ৭০ मान्दशक्तिप्रकाशिका কেন? গ্রন্থকারের গুঢ় অভিপ্রায় এই যে মীমাংসক সম্প্রদায়ের উক্ত মত যুক্তিযুক্ত নহে। সুতরাং উক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণযােগ্য নহে। বিশেষতঃ উক্ত মীমাংসক মত গৃহীত হইলে অপূর্ব বিদ্যার প্রয়ােগ কল্পনা নিবন্ধন গৌরবও অপরিহার্য। অতএব “নিষাদস্থপতি জয়েৎ এই স্থলে উক্ত গৌরব পরিহার করিবার জন্য এই শ্রোতবাক্যের অন্তর্গত নিষাদস্থপতি অংশের ‘নিষাদশ স্থপতি’ নিষাদস্থপতিঃ এইরূপ বিগ্রহ বাক্য অনুসারে তৎপুরুষসমাসই গ্রন্থকারের অভিপ্রেত। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে তৎপুরুষ সমাস অপেক্ষা বহুব্রীহি সমাস যে জঘন্য ইহার কারণ তৎপুরুষ সমাসে একটি পদের লক্ষণা স্বীকৃত হয়, বহুব্রীহি সমাসে কিন্তু সমাসের ঘটক প্রত্যেকটি পদ লাক্ষণিক কল্পিত হয়। অতএব বহুব্রীহি সমাসের ঘটক সকলপদের লক্ষণযুক্ত বহুব্রীহি সমাসের জঘনত্ব স্বীকৃত, এই সিদ্ধান্ত ব্যাহত হইবে কেন? এই আশঙ্কার সমাধানকল্পে গ্রন্থকার বলিতেছেন-“তৎপুরুষাদ্বীহেজঘন্যত্ব- মিত্যাপি উজৈব রীতিরনুসর্তব্যা—এই রীতিটি কি তাহা ব্যক্ত করিবার জন্য গ্রন্থকার নিজেই ‘ন হি বহুব্রীহৌ’ ইত্যাদি সম্পর্ডের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, যাহারা বহুব্রীহি সমাসের ঘটক যাবতীয় পদের লক্ষণা নিবন্ধন তৎপুরুষ সমাস অপেক্ষা বহুব্রীহির জঘন্যতা বলেন, তাহাদের উক্তি অযৌক্তিক বলিয়া শ্রদ্ধেয় নহে। পরন্তু বহুব্রীহি সমাসস্থলেও সমাসের ঘটক একটি পদেরই লক্ষণ। স্বীকৃত হইবে। সুতরাং কল্পনা গৌরব প্রভৃতি নিবন্ধনই বহুব্রীহি সমাসের জঘনত্ব স্বীকৃত হইবে। যদি কল্পনা গৌরব না থাকে তাহা হইলে বক্তার অভিপ্রায় বিশেষই বহুব্রীহি পরিত্যাগের নিয়ামক হইবে। I তৎপুরুষ সমাস সমাপ্ত। मूलम् अव्ययीभावं लक्षयति- उत्तरान्वितखार्थाव्ययपूर्वस्तु यो भवेत् । समासः सोऽव्ययीभावः स्त्रीपुंलिङ्गविवर्जितः ॥ অনুবাদ অব্যয়ীভাব সমাসের লক্ষণ করিতেছেন। যে সমাসে উত্তরপদার্থবিশেষিত স্বকীয় অর্থের বােধক অব্যয় পূর্বপদ হইবে, সেই সমাস অব্যয়ীভাব সমাস হইবে। এই অব্যয়ীভাব সমাস স্ত্রীলিঙ্গ এবং পুংলিঙ্গশূন্য হইবে।

समासप्रकरणम् বিবৃতি পূর্ব শ্লোকে তৎপুরুষ সমাসের লক্ষণ বিভাগ প্রভৃতির নিরূপণ করিয়া অসমে অব্যয়ীভাব সমাস নিরূপণ করিবার জন্য গ্রন্থকার ভূমিকা রচনা করিতেছেন। অব্যয়ীভাৰং লয়তি’—অর্থাৎ লক্ষণ প্রভৃতির মাধ্যমে অব্যয়ীভাব সমাস নিরূপণ করা হইতেছে। “উত্তরার্থান্বিতৰার্থায়পূর্বঃ—এই বাক্যটির অর্থ অবগত হইতে হইলে প্রথমতঃ উক্ত সমস্ত বাক্যের বিগ্রহবাক্য প্রদর্শন করা প্রয়ােজন। উত্তরপদটি এখানে উত্তরপদে লাক্ষণিক বুঝিতে হইবে। উত্তর অর্থ: উত্তরার্থঃ তেন অন্বিত স্বার্থে। যস্য উত্তরার্থান্বিত- স্বার্থঃ। সচাদো অব্যয়শ্চেতি উত্তরার্থান্বিতস্বার্থাব্যয়ঃ স পূর্বে যস্য (সমাস) এবভুতে। যঃ সমাস। অর্থাৎ উত্তর পদার্থবিশিষ্ট স্বকীয় অর্থের বােধক অব্যয় যে সমাসের পূর্বপদ হইবে সেই সমাস অব্যয়ীভাব সমাস হইবে। উপকুম’ ইত্যাদি অব্যয়ীভাব সমাসের পূর্বপদ প্রধান হওয়ায় সমাসের অন্তর্গত উত্তরপদের কুম্ভরূপ অর্থটি বিশেষণরূপে এবং উপ’ এই পূর্বনির্দিষ্ট অব্যয়পদের সামীপ্যরূপ অর্থটি বিশেষরূপে প্রতীয়মান হওয়ায় তাদৃশ বিশেষণ বিশেষ ভাৰাক্ৰান্ত পূর্বোত্তর পদার্থের বােধক হইয়াছে এবং সমাসের অন্তর্গত পূর্ববর্তী পদটি অব্যয় হওয়ায় কুম্ভের সামীপ্যরূপ অর্থে ‘উপকুম্ এই সমাসটি অব্যয়ীভাব হইবে। অন্যান্য বিষয় বিবরণের বিবৃতিতে ব্যক্ত হইবে। मूलम् यः समासः स्वोत्तरपदोपस्थाप्येन पदार्थेनान्वितस्य यदर्थव बोधका- व्ययपूर्वभागका, सः, तद्विशिष्टस्य तदर्थस्य बोधनेऽव्ययीभावः, गृहे निर्मक्षिकम् , उपकुम्भमित्यादौ हि मक्षिकाया अमावः, कुम्भादेश्च सामोप्यादिमक्षिकादिपदप्राग्वर्तिना निराद्यव्ययेनानुभाव्यते। अर्धशरीर- मित्यादौ उत्तरपदार्यान्वितस्वार्थबोधकमप्यर्धपदं नाव्ययम्, निर्मचिका भूमिः, निर्मनुष्यो देश इत्यादौ तु मक्षिकादेरमाववन्तं बोधयन्नपि निर्मचिकादिस्तत्पुरुषो न तादृशार्थे स्त्रीपुंलिङ्गकार्यविधुर इति तत्र न কি অনুবাদ যে সমাস, নিজের উত্তরপদের দ্বারা উপস্থাপিত পদার্থের সহিত অম্বিত যাদৃশ অর্থের বােধক অব্যয়রূপ পূর্বপদ ঘটিত হইবে সেইসমাস তাদৃশ পদার্থবিশিষ্ট তদর্থবােধের অনুকুল অব্যয়ীভাব সমাস হইবে। গৃহে নিৰ্মকিং এবং ‘উপকুম্ভ ইত্যাদি সমাস স্থলে মক্ষিকার অভাব বা কুম্ভাদির সামীপ্য প্রভৃতি ( উক্ত সমাসের অন্তর্গত) মক্ষিকাদি পদের পূর্ববর্তী নির্ এবং কুম্ভ প্রভৃতি পদের পূর্ববর্তী উপ প্রভৃতি অব্যয়ের দ্বারা অনুভবগােচর হইয়া থাকে। অর্ধশরীর ইত্যাদি স্থলে উত্তর পদার্থের দ্বারা অন্বিত পূর্বপদার্থের বােধক হইলেও অর্ধ পদটি অব্যয় নহে। নির্মক্ষিকা ভূমিঃ এবং নির্মমুয়া দেশ' এই সকল সমাসস্থলে মক্ষিকা প্রভৃতির অভাব বিশিষ্ট বিষয়ক বােধজনক হইলেও নির্মক্ষিক প্রভৃতি তৎপুরুষ সমাস তাদৃশ অর্থে স্ত্রীপুংলিঙ্গবিহিত কার্য বিবর্জিত নহে। অতএব উক্ত তৎপুরুষ সমাসে অব্যয়ীভাব লক্ষণের অতিপ্রসক্তি হইবে না। বিবৃতি ‘য সমাস ইত্যাদি গ্রন্থের দ্বারা কারিকাটি বিবৃত করিতেছেন। গ্রন্থকারের তাৎপর্য এই যে, যাদৃশ আনুপূর্ব নিজের অন্তর্গত উত্তরপদের দ্বারা প্রতিপাদ্য যাদৃশ অর্থগত প্রকার। নিরূপিত যাদৃশ অর্থনিষ্ঠ বিশেষত। নিরূপক বােধনিষ্ঠ জন্যতা নিরূপিত জনকতার অবচ্ছেদক বিষয়িতার নিরূপকতার অবচ্ছেদক হইবে, তাদৃশ আনুপূৰীবিশিষ্ট শব্দটি—পুংলিঙ্গ- বিহিত এবং স্ত্রীলিঙ্গবিহিত কার্যশূন্য হইবে তাদৃশ আনুপূর্ববিশিষ্ট সমাসই হইবে তাদৃশ অর্থবিশেষিত তাদৃশ অর্থবিষয়ক বােধের অনুকুল অব্যয়ীভাব ইহাই হইবে অব্যয়ীভাব সমাজের নিকৃষ্ট লক্ষণ। ষােত্তর এখানে ‘স্ব’ পদটি অব্যয়ীভাবরূপে অভিমত সমাসের প্রতিপাদক বুঝিতে হইবে। লক্ষ্যে লক্ষণ সমন্বয় করিবার জন্য ‘গৃহে নিৰ্মক্ষিকম’ ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। মক্ষিকায়াঃ অভাবঃ এই অর্থে ‘নিমক্ষিক, ‘কুম্ভশ্য সমীপ’ এই অর্থে ‘উপকুম্ভ’ এই সমাস নিষ্পন্ন হইয়াছে। উক্ত অব্যয়ীভাব সমাসে লক্ষণ সমন্বয় করিবার জন্য মক্ষিকার অভাব এবং কুন্তাদির সামীপ্যাদি এই অংশের অবতারণা করিয়া লক্ষণের অন্তর্গত পূর্ব পদটি যে অব্যয় হইয়াছে তাহা বুঝাইবার জন্য বলিতেছেন “মক্ষিকাদি পদ প্রার্তিনা ইত্যাদি। অর্থাৎ নিমক্ষিকম' এই সমাসের পূর্ববর্তী যে ‘নির’ প্রভৃতি অব্যয় তাহার দ্বারা মক্ষিকার অভাব প্রতীয়মান হইয়াছে। ‘উপকুন্ত স্থলেও উক্ত রীতিতে সমাসের পূর্ববর্তী উপ’ শব্দের দ্বারা কুম্ভের সামীপ্যরূপ অর্থ প্রতীয়মান হওয়ায় উক্ত উভয়বিধ অব্যয়ীভাব সমাসে লক্ষণ সমন্বয় হইবে। বিবরণে যে সমাসের অন্তর্গত পূর্বপদটির অ্যয় হইবে বলা হইয়াছে তাহার ব্যাবৃত্তি প্রদর্শন করিবার এ ‘অর্ধশরীরম' ইত্যাদি সম্পর্কের অবতারণা করিতেছেন। এখানে আদিপদের দ্বারা समासप्रकरणम् ‘অর্থপিঞ্জলী’ প্রভৃতি তৎপুরুষ সমাস ৰিহিত হইবে। যদি বিবরণক্তে লক্ষণে অব্যয় পূর্বভাগত্ব নিবিষ্ট না হইত তাহা হইলে শরীর অধম্ এই অর্থে অর্থপিপ্পলী এই সকল তৎপুরুষ সমাসে অব্যয়ীভাব সমাস লক্ষণের অতিব্যাপ্তি হইত। কারিকায় কথিত স্ত্রী পুংলিঙ্গ বিবর্জিত অর্থ বা বিবরণােক্ত স্ত্রী পুংলিঙ্গ বিহিত কার্যবিধুরত্ব নিবেশে ব্যাবৃত্তি প্রদর্শন করিবার জন্য নির্মক্ষিকা ভূমি ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। কেবল মাত্ৰ পুংলিঙ্গ বিহিত কার্যবিধুরত্ব নিবেশ করিলে ‘নির্মক্ষিকা ভূমিঃ এই তৎপুরুষে অতিব্যাপ্তি হইবে। যদি কেবলমাত্র স্ত্রীলিঙ্গ বিহিত কার্যবিধুরত্ব নিবেশ করা হয় তাহা হইলে ‘নির্মনুষ্যো দেশ' এই তৎপুরুষে অতিব্যাপ্তি হইবে। এইজন্য উভয়লিঙ্গ বিহিত কার্যবিধুরত্ব নিবেশ করা হইয়াছে। নিমক্ষিকা ভূমিঃ' এই তৎপুরুষ সমাস হইতে ‘মক্ষিকা- শূন্য। ভূমিঃ এবং নির্মমুয়ে। দেশ' এই তৎপুরুষ সমাস হইতে ‘মনুষ্যাভাববৎ দেশ: এইরূপ অর্থ প্রতীয়মান হইবে। উভয়ই বিশেষগত লিঙ্গসংখ্যাদি প্রতীয়মান হইবে। বিশেষ্যপদের অনুরূপ ‘নির্মক্ষিক’ বা ‘নির্ম্য’ রূপ সমাসের অন্তর্গত বিশেষণপদেও স্ত্রীপুংলিঙ্গাদিবিহিত কার্য হইবে। অতএব স্ত্রী পুংলিঙ্গ কার্যবিধুরত্ব অব্যয়ীভাব লক্ষণের নিবেশ করার ফলে উক্ত উভয়বিধ তৎপুরুষে অব্যয়ীভাব সমাস লক্ষণের অতি ব্যাপ্তি হইবে না। ৪১। मूलम् नन्वेकस्याक्षस्य शलाकाया वा छु तेऽन्यथापातनमित्यर्थक्षपरि, शलाकापरि, इत्यव्ययीभावेऽव्याप्तिस्तस्याव्ययगर्भत्वेऽपि तत्पूर्वकत्वाभावात् , एवं द्वौ गाावित्यर्थे द्विगार्ग्य गच्छत इत्यादौ, द्वाभ्यां दण्डाभ्यामित्यर्थ द्विदण्डि प्रहरतीत्यादौ, तिसृणां यमुनानां समाहार इत्यर्थे त्रियमुनं स्नातीत्यादौ, लोहिता गङ्गा यस्मिनित्यर्थ लोहितगङ्ग देश इत्यादौ, दण्डेन मिथः प्रहृत्य रणं वृत्तमित्यर्थे दण्डादण्डि रणमित्यादौ, केशेषु मिथः प्रगृह्म युद्ध वृत्तमित्याद्यर्थे केशाकेशि युद्धमित्यादौ, खले यवा यदा, संहता यवा यदा, तिष्ठन्तो गावो यदेत्याद्यर्थ खले यवं, संहृतयवं, तिष्ठद्गु वा काल इत्यादौ द्विगायं द्विदण्डादिष्वपि तेष्वव्ययगर्भत्वस्याप्यमावादतः प्रका- रान्तरेण निर्वक्ति- शब्दशक्तिप्रकाशिका अमादेशं विना श्रूयमाण षष्ठी न बोधिका । स्वार्थे यदर्थस्य यद्वा सोऽव्ययीभाव इष्यते ॥ ४२ ॥ অনুবাদ ( অব্যয়ীভাব সমাসের লক্ষণ প্রতিপাদক কারিকান্তরের ভূমিকা রচনা করিতেছেন।) আশঙ্কা এই যে, ‘একস্ অক্ষ দূতে অন্যথা পাতন, এই অর্থে অক্ষপরি এবং একস্যা শলাকায়া দূতে অন্যথা পাতন এই অর্থে শলাকাপরি এই অব্যয়ীভাব সমাসে উক্ত লক্ষণের অব্যাপ্তি হইবে। কারণ উক্ত অব্যয়ীভাব সমাস অব্যয়গর্ভ হইলেও উক্ত সমাসে অব্যয় পূর্ববর্তী নহে এবং ‘দ্বৌ গার্গেী এই অর্থে ‘দ্বিগাৰ্গং গচ্ছত' অর্থাৎ গার্গদ্বয় গমন করিতেছে, ‘দ্বাভ্যাং দণ্ডাভ্যাং’ এই রূপ অর্থে ‘দ্বিদণ্ডি প্রহরতি অর্থাৎ দুখানি দণ্ডের দ্বারা প্রহার করিতেছে, ‘তিসৃণাং যমুনানাং সমাহার এইরূপ অর্থে ‘ত্রিযমুনং স্নাতি এই সকল স্থলে, লােহিত গঙ্গা যস্মিন’ এইরূপ অর্থে ‘লােহিতগঙ্গ’ অর্থাৎ লােহিত গঙ্গাবিশিষ্ট দেশ ইত্যাদি স্থলে, ‘দনে পরস্পরং প্রহৃত্য রণং বৃত্ত এইরূপ অর্থে ‘দাদণ্ডিরণম’ ইত্যাদি স্থলে ‘কেশেযু মিথঃ প্ৰগৃহ যুদ্ধং বৃত্ত এইরূপ অর্থে ‘কেশাকেশি যুদ্ধ ইত্যাদি স্থলে, ‘খলে যব। অর্থাৎ অঙ্গনে যব যে সময়ে ‘সংহৃত যবা যদা অর্থাৎ বিনষ্ট যব সমূহ যে সময়ে এবং ‘তিষ্ঠন্তো গাব যদা অর্থাৎ অবস্থিত গােসমূহ যে সময়ে এই সকল অর্থে ‘খলে যব, সংহৃতবম, তিষ্ঠ কালঃ এই সকল স্থলে দ্বিগাৰ্গ, দ্বিদণ্ডি প্রভৃতি অব্যয়ীভাব সমাস অব্যয়ঘটিতও হয় না, অতএব প্রকারান্তরে লক্ষণ বলিতেছেন। অথবা অম্ আদেশ ব্যতিরেকে ক্রয়মাণ ষষ্ঠী বিভক্তি নিজ অর্থে যে সমাসার্থের বােধক হয় না, সেই সমাস অব্যয়ীভাবরূপে ইষ্ট হইবে । বিবৃতি উত্তরার্থান্বিত ইত্যাদি কারিকার মাধ্যমে অব্যয়ীভাব সমাসের একটি লক্ষণ করিয়া ‘অমাদেশং বিনা' ইত্যাদি কারিকান্তরের দ্বারা অব্যয়ীভাব সমাসের অপর একটি লক্ষণ করা হইয়াছে। এখন স্বভাবতই প্রশ্ন হইবে পূর্ব কারিকো লক্ষণ পরিহার করিয়া অপর কারিকার মাধ্যমে লক্ষণান্তর করা হইল কেন? এই জিজ্ঞাসার উত্তরে পূর্ব কারিকো লক্ষণটি যে নির্দোষ নহে তাহা অর্থাৎ পূর্ব কারিকোক্ত লক্ষণের দোষ প্রদর্শনের মাধ্যমে অপর লক্ষণের প্রতিপাদক ‘অমাদেশ বিনা ইত্যাদি কারিকান্তরের ভূমিকা রচনা করিতেছেন ‘কে’ ইত্যাদি। এক এক শলাকায়া বা এখানে যষ্ঠ বিভক্ত্যক্ত শলাকা শব্দের পূর্বে স্ত্রীলিঙ্গ যষ্ঠ বিভক্ত্যন্ত এক শব্দটির প্রয়ােগ করিতে হইবে, ইহার ফলে समासप्रकरणम् একটি অক্ষের (পাশা প্রভৃতি) দূত ক্রীড়াতে প্রকারান্তরে পাতন রূপ অর্থে অক্ষপরি এবং একটি শলাকার দূত ক্রীড়াতে প্রকারান্তরে পাতনরূপ অর্থে শলাকাপরি এই সকল অব্যয়ী- ভাবসমাস অব্যয় ঘটিত হইলেও উক্ত ব্যয় কিন্তু সমাসের পূর্বপদ নহে। এইজন্য উক্ত অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বকারিকায় কথিত বা বিবরণোক্ত অব্যয়ীভাব সমাস লক্ষণের অ্যাপ্তি হইবে। যদি বলা হয় পূর্ব কারিকোক্ত লক্ষণে অব্যয় পূর্বপদ ঘটিতত্ব নিবেশ না করিয়া অব্যয় ঘটিতত্ব মাত্র নিবেশ করা হইবে। ইহার ফলে ‘অপরি’ প্রভৃতি অব্যয়ীভাব সমাস পরি এই অব্যয় পদঘটিত হওয়ায় ঐ সকল সমাসে লক্ষণের অব্যাপ্তি হইবে না। এইজন্য ‘দৌ গার্গেী’ ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে লক্ষণের ব্যাপ্তি প্রদর্শন করিতেছেন। ছৌ গার্গেী এইরূপ অর্থে ‘দ্বিগাৰ্গং গচ্ছত অর্থাৎ গর্গের পুত্রদ্বয় গমন করিতেছে—এই সকল স্থলে, দ্বিগার্গ্য প্রভৃতি অব্যয়ীভাব সমাস অব্যয়ঘটিত না হওয়ায় পূর্বলক্ষণের অব্যাপ্তি ঘটিবে। ‘দ্বিগার্গম্' এই শব্দটি যে দ্বিবচনাপ্ত ইহা ব্যক্ত করিবার জন্য ‘গচ্ছত' এই দ্বিবচনান্ত ক্রিয়াপদটির প্রয়ােগ করা হইয়াছে। সামান্যতাবে দ্বিবচনাপ্ত সংখ্যাবােধক অব্যয়ীভাব সমাসে অব্যাপ্তি প্রদর্শন করিবার পরে করণ বােধক অব্যয়ীভাব সমাসে ‘দ্বাভ্যাং দণ্ডভ্যামি’ত্যাদি সন্দর্ভের দ্বারা অব্যাপ্তি প্রদর্শন করিতেছেন। দ্বিত্ব-সংখ্যাবিশিষ্ট দণ্ডরূপ আর্ণে ‘দ্বাত্যাং দণ্ডাভ্যা এইরূপ বিগ্রহবাক্য অনুসারে ‘দ্বিদণ্ডি প্রহতি’ অর্থাৎ দশুদ্বয়ের দ্বাৰা প্ৰহার করিতেছেন। এই সকল স্থলে দ্বিদণ্ডি প্রভৃতি অব্যয়ীভাব সমাস অব্যয়ঘটিত না হওয়ায় পূর্বোক্ত লক্ষণের অব্যাপ্তি হইবে। দ্বিদণ্ডি এই সমস্ত পদটি যে করণ কারকবিহিত তৃতীয় বিভক্তির দ্বিবচনের দ্বারা নিম্পন্ন ইহা পৰিস্ফুট করিবার জন্য প্রহরতি এই ক্রিয়াপদটি প্রযুক্ত হইয়াছে। করণ কারক বােধক তৃতীয় বিভক্ত্যন্ত তাদৃশ অব্যয়ীভাব সমাসে অব্যাপ্তি প্রদর্শন করিবার পর সমাহারার্থ অব্যয়ীভাব সমাসে অব্যাপ্তি প্রদর্শন করিবার জন্য ‘তিসৃণা যমুনানং' ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে ‘তিসৃণাং যমুনানাং সমাহার এইরূপ বিগ্রহবাক্য হইতে ‘ত্রিযমুন’ অর্থাৎ ত্রিধারারূপ যমুনানদীসমূহে স্নান করিতেছে এই সকল স্থলে অব্যয়ীভাব সমাস অব্যয়গর্ভ না হওয়ায়,পূর্বোক্ত লক্ষণটির অ্যাপ্তি হইবে। যদি সংখ্যা ভিন্নত্বে সতি অব্যয় হিন্নো যৎ তদন্যত্বরূপ পর্যবসিত অব্যয় গৰ্ভত্ব’ পূর্ব লক্ষণে নিবেশ করা হয় তাহা হইলে শঙ্কিত অ্যাপ্তিসমূহ বারণ করা যাইতে পারে, এইজন্য ‘লােহিত গঙ্গা' ইত্যাদি সম্পর্ভের দ্বারা লান্তরে অব্যাপ্তি প্রদর্শন করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, লোহিত গঙ্গা যশি, এইরূপ বিগ্রহ অনুসারে লােহিতগঙ্গং দেশ এখানে বক্তরূপ বিশিষ্ট গাঙ্গেয় (প্রদেশ) এইরূপ অর্থে লােহিতগঙ্গম’ এই অব্যয়ীভাব সমাস লক্ষণের ব্যাপ্তি হইবে। দেশবােধক অব্যয়ীভাব সমাজে অব্যাপ্তি প্রদর্শন করিবার পরে ক্ৰিয়াৰােধক অব্যয়ীভাব সমাসে অব্যাপ্তি প্রদর্শন করিতেছেন ‘দনে মিথ' ইত্যাদি অর্থাৎ দণ্ডেন (দণ্ডের দ্বারা) মিথঃ পৰস্পৰং প্রত্বত্য (প্রহার করতঃ ) রণং (যুছে) এম (প্রবৃত্ত হইয়াছে) এইরূপ অর্থে দাদণ্ডিরণমিত্যাদি স্থলে এবং উক্ত রীতিতে ‘কেশে মিথঃ প্ৰগৃহ যুদ্ধ প্রম’ এইরূপ অর্থে কেকেশি যুদ্ধ’ এইরূপ কিয়াৰােধক ৭. शब्दशक्तिप्रकाशिका অব্যয়ীভাব সমাস অব্যয়ীভাবগর্ভ না হওয়ায় লক্ষণের অব্যাপ্তি হইবে। ক্রিয়াবােধক অব্যয়ীভাব সমাসে অব্যাপ্তি প্রদর্শন করিয়া কালবোধক অব্যয়ীভাব সমাসে অ্যাপ্তি প্রদর্শন করিবার জন্য ‘খলে যা যদা ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। এখানে বলে (অঙ্গনে) যঃ (যবসমুহ) যদা (যেই কালে) এইরূপ অর্থে ‘খলে যম’ সংহৃত (বিনাশ প্রাপ্ত) যব (যৰসমূহ) যেই কালে এইরূপ বিগ্রহবাক্য অনুসারে ‘সংহৃতবম্ এবং তিষ্ঠন্তো (অবস্থিত) গাবঃ (গেসমূহ) যেই কালে এইরূপ অর্থে ‘খলে যব (অঙ্গনে অবস্থিত যবসমূহের আশ্ৰয়ীভূত কাল) সংহৃত যব (বিনষ্ট যব সমূহের অধিকরণকাল) এবং তিষ্ঠদণ্ড ( অবস্থিত গােসমুহের অধিকরণ কাল) এই সকল কালবোধক সমাস অব্যয়ঘটিত না হওয়ায় প্রথমােক্ত অব্যয়ীভাব লক্ষণের অব্যাপ্তি হইবে। এইজন্য প্রথমােক অব্যয়ীভাব লক্ষণ পরিহার করিয়া প্রকারান্তরে কাৰিকান্তরের মাধ্যমে অব্যয়ীভাব সমাসের লক্ষণান্তর করিতেছেন। ‘অমাদেশং বিনা’ ইতি অকান্ত অব্যয়ীভাব সমাসের পরে পঞ্চমী ভিন্ন সুপ,বিভক্তির স্থানে অম্ আদেশ হইয়া থাকে। অবশ্য তৃতীয় এবং সপ্তমী বিভক্তি স্থানে উক্ত অমাদেশ বৈকল্পিক হইলেও ষষ্ঠী বিভক্তি স্থানে নিয়তঃ অমাদেশ হয়। এই অনুশাসন অনুসরণ করিয়া গ্রন্থকার ‘অমাদেশং বিনা' ইত্যাদি কারিকার মাধ্যমে অব্যয়ীভাব সমাসের লক্ষণান্তর করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, যেই সমাসের অন্তর্গত ষষ্ঠী বিভক্তির স্থানে অম্ আদেশ না হইলে উক্ত যষ্ঠ বিভক্তির অর্থকে বিশেষ্যরূপে এবং সমাসের অর্থকে বিশেষণরূপে গ্রহণ করিয়া শায়মাণ ষষ্ঠী বিভক্ত্যন্ত সমাসটি অন্বয়বােধের যােগ্য হয় না, সেই সমাস উক্ত সমার্থবিশিষ্ট ষষ্ঠী বিভক্ত্যর্থ বােধের অনুকুল অব্যয়ীভাব সমাস হইবে। তৃতীয়, পঞ্চমী ও সপ্তমী বিভক্ত্যন্ত অব্যয়ীভাব সমাসস্থলে অমাদেশ ব্যতিরেকেও উপকুভা প্রভৃতি অব্যয়ীভাব সমাস যমাণ তৃতীয়াদি বিভক্তি সমাৰ্থ প্ৰকাৰক উক্ত বিভক্ত্যর্থ বিশেষ্যক অম্বয়বােধের যােগ্য হওয়ায় লক্ষণের অব্যাপ্তি হইবে, এইজন্য বিভক্তি মাত্র না বলিয়া ষষ্ঠী বিভক্তি বলা হইয়াছে। উপবধূ, উপকর্তৃ প্রভৃতি অকারান্ত ভিন্ন অব্যয়ীভাব স্থানে লুপ্ত ষষ্ঠী বিভক্তি অম্বয়বােধের জনক হওয়ায় অব্যাপ্তি হইতে পারে,এইজন্য ক্রয়মাণ পদটি দেওয়া হইয়াছে। শ্ৰয়মাণ পঞ্চমী বিভক্ত্যন্ত উপকুম্ভাৎ' ইত্যাদি অব্যয়ীভাব সমাসস্থলে শ্ৰয়মাণ ষষ্ঠী বিভক্তি স্বকীয়াধর্মী অব্যয়ীভাবসমার্থ প্রকারক অন্বয়বােধের যােগ্য না হওয়ায় অব্যাপ্ত হইবে। উক্ত অব্যাপ্তি বারণের জন্য অম্ ভাব প্রাপ্ত ক্রয়মাণ ষষ্ঠী স্বার্থে যাদৃশ সমসাৰ্থ প্ৰকাৰক অন্বয়বােধের স্বরূপযােগ তাদৃশ অর্থে উক্ত সমাস অব্যয়ীভাব হইবে, এইরূপ ভাবগঠিত লক্ষণ না করিয়া অভাবগতি অব্যয়ীভাব সমাসের লক্ষণ করা হইয়াছে। নিষেধগর্ভিত লক্ষণ করার ফলে ‘উপকুন্তাৎ’ ইত্যাদি পঞ্চম্যন্ত অব্যয়ীভাব সমাস তদীয় অর্থ প্রকার যষ্ঠ বিভক্ত্যর্থ বিশেষক বােধের স্বৰূপ মােগ্য না হওয়ায় লক্ষণ সময় হইবে।

समासप्रकरणम् १०६ मूलम् अमादेशं विना श्रूयमाणषष्ठी, स्वार्थे यत्समासार्थस्यान्वयबोधं प्रत्यसमर्था, स एवाव्ययीभावः। श्रूयमाणैव षष्ठो खार्थे समासान्तरार्थ- स्यान्वयबोधेन समर्था, न तु लुप्तापि। कृतयोरक्षपरि व्यथत्वमित्यादौ त्वव्ययीभावार्थस्य लुप्तापि, कृतयोरेकाक्षान्यथापातनयोर्निष्फलत्वमित्यन्षये लुप्तषष्ठर व पातनस्य सम्बन्धप्रत्यायनात् । स्निग्धस्योपगङ्ग पवित्रमित्यादौ, स्निग्धस्य गङ्गासमीपस्य पवित्रत्वमित्याद्यन्वये समीपादेः श्रुतयाऽप्यमादेशवशादेव षष्ठ्यानुभाव्यते, इति न तत्रोपगङ्गाद्यव्ययी- भावेऽव्याप्तिः। अनुगङ्गन सञ्चारः, उपगङ्गषु पूतत्वमुपकुम्भादानीत- मित्यादावमादेशं विनापि श्रूयमाणामिस्तृतीयासप्तम्यादि सुभिरव्ययो- भावार्थस्य करणत्वाधिकरणत्वादिकं बोध्यते इति षष्ठीपर्यन्तानु- समीपादेः सम्बन्धः, सरणम् ॥ ४२ ॥ অনুবাদ অমাদেশ ব্যতিরেকে ক্রয়মাণ ষষ্ঠী বিভক্তির নিজ অর্থে যে সমার্থ প্রকারক অন্বয়বােধের প্রতি সমর্থ’ অর্থাৎ স্বরূপ যােগ্য নহে সেই (সমাস) অব্যয়ীভাব ( হইবে)। শায়মাণই ষষ্ঠী বিভক্তি স্বকীয় অর্থে সমান্তর অর্থের অম্বয়বােধের প্রতি স্বরূপ যােগ্য হইয়া থাকে। কিন্তু লুপ্ত ষষ্ঠী বিভক্তি নহে। কৃতয়ােরপরি ব্যর্থত্ব ইত্যাদি অব্যয়ীভাবার্থ প্রকারক বােধের প্রতি কিন্তু লুপ্ত ষষ্ঠী বিভক্তিও স্বরূপযােগ্য হইয়া থাকে, কারণ ‘কৃতয়ােরেকাক্ষান্য- থাপাতনয়াের্নিস্ফলত্বং এইরূপ অন্বয়বােধ স্থলে লুপ্ত ষষ্ঠী বিভক্তি দ্বারাই পাতনের সম্বন্ধ প্রতীয়মান হইয়া থাকে, “স্নিগ্ধস্যোপগঙ্গং পবিত্র” এই সকল স্থলে স্নিগ্ধ যে গঙ্গা সমীপ তগত পবিত্রত্ব বিষয়ক অন্বয়বােধে প্রতীয়মান সমীপাদি সম্বন্ধ (তাহা কিন্তু ) অমাদেশ বশতঃ শ্রুত ষষ্ঠী বিভক্তির দ্বারাই অনুভূত হইয়া থাকে। অতএব উপগঙ্গ প্রভৃতি অব্যয়ীভাব সমাসে অব্যাপ্তি হইবে না। অনুগঙ্গেন সঞ্চার’, ‘উপগঙ্গেযু পূতত্ব’ এবং উপকুম্ভাদানীত ইত্যাদি অব্যয়ীভাব সমাস- ৭৭০ शब्दशक्तिप्रकाशिका স্থলে অমাদেশ শূন্য শায়মাণ তৃতীয়, সপ্তমী এবং পঞ্চমী প্রভৃতি সুপ, বিভক্তির দ্বারা অব্যয়ীভাবার্থ প্রকারক করণত্ব অধিকরণত্ব অপাদান প্রভৃতি বিষয়কবােধ উৎপন্ন হওয়ায় বিভক্তি সামান্য নিবেশ না করিয়া ষষ্ঠী পর্যন্ত নিবেশ করা হইয়াছে। ৪২। বিবৃতি ‘অমাদেশং বিনা এখানে বিনা শব্দটির শূনরূপ অর্থ বুঝিতে হইবে। উক্ত বিনা শব্দার্থ ষষ্ঠী পদের অর্থ ষষ্ঠী বিভক্তিতে অন্বিত হইবে। উক্ত বিনা শব্দের একদেশ যে অভাব অর্থাৎ শূন্যত্ব তাহাতে ব্যুৎপত্তি বৈচিত্র্য প্রযুক্ত ‘অমাদেশং এই দ্বিতীয়া বিভক্তির অর্থ প্রতিযােগিত্বের নিরূপকত্ব সম্বন্ধের অন্বয় হইবে। স্বার্থে এখানে স্ব-পদের দ্বারা শায়মাণ যষ্ঠ বিভক্তি গৃহীত হইবে। যৎ সমার্থ এই অংশটির দ্বারা কারিকো ‘যদ' অর্থ ইহার বিবরণ প্রদর্শিত হইয়াছে। কারিকার অন্তর্গত ‘ন বােধিকা’ এই অংশটি বিবৃত করিবার জন্য বলিতেছেন ‘অম্বয়বােধং প্রতি অসমর্থ।' অর্থাৎ স্বরূপযােগ্য নহে, তাৎপর্য এই যে-ন বােধিকা’ ইহার যথাক্রতার্থ ‘ন বােজনিকা', উক্ত জনকত্ব কোন সময়ে কলােপধায়কত্বরূপ গৃহীত হয়, আবার কখনও স্বরূপযােগ্যত্বরূপ গৃহীত হইয়া থাকে। যদি অব্যয়ীভাব লক্ষণের অন্তর্গত শ্ৰয়মাণ ষষ্ঠী ‘ন বােধিকা’ এখানে ফলােপ ধায়কত্বরূপ তাদৃশ বোধজনকত্ব গৃহীত হয় তাহা হইলে তাদৃশ বােধের ফলােপধায়কত্বরূপ জনকতা শূন্য তৎপুরুষাদি সমাসারের অব্যয়ীভাব সমাস লক্ষণের অতিব্যাপ্তি হইবে না। কারণ তৎপুরুষাদি সমাসের পরবর্তী ষষ্ঠী বিভক্তি কদাচিৎ সমাধাৰ্থ প্ৰকাৰক স্বকীয় অর্থ বিশেষক অন্বয়বােধের প্রতি স্বরূপ যোেগ্য হইয়া থাকে। সুতরাং তাদৃশ তৎপুরুষাদি সমাস উক্ত বোধরূপ কার্যের ফলােপধায়কতারূপ কাৰণত শূন্য হওয়ায় অব্যয়ীভাব লক্ষণের অতিব্যাপ্তি হইবে। উক্ত অতিব্যাপ্তি বারণের জন্য গ্রন্থকার স্বরূপ যােগ্যত্বরূপ কারণত্বের অভিপ্রায়ে ‘ন বোধক। এই কারিকাংশের ‘ন সমর্থ। এইরূপ অর্থ বিবৃত করিয়াছেন। এইরূপ ব্যাখ্যাত হওয়ার ফলে আমাদেশ শূণ্য ক্রয়মাণ ষষ্ঠী বিভক্তি নিজ অর্থকে বিশেষ্যরূপে এবং যেই সমার্থকে বিশেষণরূপে গ্রহণ করিয়া অন্বয়বোধের প্রতি স্বরূপযােগ্য হইবে না সেই সমাস অব্যয়ীভাব হইবে। ইহাই যথাশ্রুত অর্থ। টীকাকার কৃষ্ণকান্ত উক্ত লক্ষণের তাৎপর্য গ্রহণ করিয়া যাদৃশ আনুপূর্বী বিশিষ্ট সমাসাত্মক শব্দ স্বগত অমাদেশের অব্যবহিত পূর্ববর্তিত্ব বিশিষ্ট ষাদৃশ আনুপূর্ব প্রকারক জ্ঞানটি ক্রয়মাণ ষষ্ঠী বিভক্তির দ্বারা উপস্থাপিত অর্থবিশেষ্যক স্বকীয় যাদৃশাৰ্থ প্ৰকাৰক অন্বয়বােধের প্রতি স্বরূপ যােগ্য নহে তাদৃশ আনুপূর্বী বিশিষ্ট তাদৃশ শব্দ তথাবিধ অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হইবে। এইরূপ অব্যয়ীভাব লক্ষণের পরিষ্কার করিয়াছেন। আনুপূৰীতে যে স্ববৃতি অমাদেশের অব্যবহিত পূর্ববর্তিত্ব ১। তথা চ, যাদৃশঃ শব্দঃ সমাসত্বে সতি স্বদেশাব্যবহিত পূর্ববর্তিত্ববিশিষ্ট, আশানুপূৰী প্ৰকাৱকজ্ঞানং ক্রয়মাণ ষষ্ঠ্যর্থধমিক স্বীয় যাদৃশার্থ প্রকায়বােধ समासप्रकरणम् ৭৭৭ বিশেষণ দেওয়া হইয়াছে, উক্ত বিশেষণের বৈশিষ্ট্য সমানাধিকরণ্য সম্বন্ধে গ্রহণ করিতে হইবে। উপবধূ—“বধ্বাঃ সমীপম এইরূপ অর্থে উপৰধু এবং ‘কতু: সমীপ’ এইরূপ অর্থে উপকৰ্ত এই সকল লুপ্ত ষষ্ঠ বিভক্তির অব্যয়ীভাব সমাসে অব্যাপ্তি বারণ করিবার জন্য ৰষ্ঠী বিভক্তিতে ক্রয়মাণ বিশেষণটি দেওয়া হইয়াছে। বাস্তবিক পক্ষে আমাদেশ শূন্য ক্রয়মাণ ষষ্ঠী বিভক্তি স্বার্থ বিশেষক তাদৃশানুপূর্বী বিশিষ্টের দ্বারা প্রতিপাদ্য যাদৃশার্থ প্ৰকাৰক অন্বয়বােধের প্রতি স্বরূপ মােগ্য নহে তাদৃশ আনুপূর্ববিশিষ্ট বাক্য তাদৃশ অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হইবে। ইহাই অব্যয়ীভাব সমাসের লক্ষণের নিষ্কর্য। শ্ৰয়মাণ পদেয় ব্যাবৃত্তি প্রদর্শন করিবার জন্য ‘কৃতগােরক্ষপুরি ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, অব্যয়ীভাব লক্ষণের ষষ্ঠী বিভক্তির অংশে শায়মাণ বিশেষণটি বর্জন করিলে ‘কৃতয়ােকোথাপাতনয়ােনিষ্ফলত্ব এইরূপ অর্থে ‘কৃতয়ােপরিব্যর্থত্ব’ এইরূপ অব্যয়ীভাব সমাসের স্থলে লুপ্ত যষ্ঠী বিভক্তি নিজ অর্থে সম্বন্ধে সমার্থ প্রকারক অন্বয়বােধের স্বরূপ যােগ্য হওয়ায় উক্ত অব্যয়ীভাব সমাসে অব্যাপ্তি হইবে, অতএব উক্ত অব্যাপ্তি বারণ করিবার জন্য ষষ্ঠী বিভক্তির অংশে ‘শ্রয়মাণ এই বিশেষণটি দেওয়া হইয়াছে। লুপ্তেহপি' এই ‘অপি' শব্দটি এবাৰ্থক বুঝিতে হইবে। এইরূপ অর্থ প্রতিপাদনের জন্য গ্রন্থকার নিজেই ‘লুপ্তষবে' এইরূপ ‘এ’ কারের প্রয়ােগ করিয়াছেন। স্নিগ্ধস উপগঙ্গম্ পবিত্র ইত্যাদি সন্দর্ভের দ্বারা অব্যয়ীভাব সমাসের অন্তর্গত ‘অমাদেশং বিনা’ এই অংশের ব্যাবৃত্তি প্রদর্শন করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, যদি অব্যয়ীভাব সমাসের লক্ষণের অন্তর্গত শ্ৰয়মাণ ষষ্ঠী বিভক্তিতে ‘অমাদেশং বিনা' এই বিশেষণটি না দেওয়া হয়, তাহা হইলে “ মিস্ত গঙ্গা-সমীপস পবিত্র” অর্থাৎ স্নিগ্ধ গঙ্গ। সমীপগত পবিত্রতারূপ অর্থে ‘ মিস্ত উপগঙ্গম্ পবিত্ৰম এই স্থলে উপগঙ্গম্ এই অব্যয়ীভাব সমাসে অব্যাপ্তি হইবে। কারণ নিষ্ঠত্বরূপ ক্রয়মাণ যষ্ঠ বিভক্তির অর্থে গঙ্গা সমীপরূপ সমাৰ্থ প্ৰকাৰক বােধের প্রতি শ্ৰয়মাণ ষষ্ঠী বিভক্তি স্বরূপ যােগ্য হইয়াছে। অতএব উক্ত অ্যাপ্তি বারণ করিবার জন্য ‘অমাদেশং বিন’ এই অংশটিকে ধষ্ঠী বিভক্তির বিশেষণ রূপে নিবেশ করা হইয়াছে। ইহার ফলে উক্ত শায়মাণ ষষ্ঠী বিভক্তি ‘অম্ আদেশ ব্যতিরিক্ত হইয়া উক্ত অম্বয়বােধের স্বরূপ যােগ্য হয় নাই অতএব দণিত হলে ‘উপগঙ্গম’ এই অব্যয়ীভাব সমাসে লক্ষণ সমন্বয় হওয়ায় অব্যাপ্তি বারিত এইবে। ‘উপগঙ্গ’ এখানে অমৃভাবাপন্ন শায়মাণ বিভক্তিটি যে ষষ্ঠ বিভক্তি তাহা পরিস্ফুট করিবার জন্য উপপদার্থের অংশে ‘সিগন্য এই বিশেষণটি প্রযুক্ত হইয়াছে। আমাদেশ বিনা’, ‘শ্রয়মাণ যষ্ঠ, এখানে যষ্ঠ পদটি নিবেশ করিবার প্রয়ােজন প্রদর্শন করিবার অন্য ‘অনুগঙ্গেন সঞ্চার' ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। অভিপ্রায় এই যে, লক্ষণের অন্তর্গত শ্ৰয়মাণ ৰষ্ঠ—এখানে যষ্ঠীপদটি নিবেশ না করিয়া যদি সামান্যভাবে । প্রত্যসমর্থ, তাদৃশানুপূৰিমাংস্তাদৃশশবস্তাদৃশার্থেব্যয়ীভাব ইতি পর্যবসিতৰ্থঃ। আনু- পূর্বাং তাদৃশ পূর্ববতিত্ববৈশিষ্ট্য সমানাধিকরণ্যসম্বন্ধেন। [ কৃষ্ণকান্তটীকা-শব্দশক্তি একাশিকা, পৃ৩।]

৭৭ং शब्दशक्तिप्रकाशिका সুপ, বিভক্তি নিবেশ করা হয়, তাহা হইলে গঙ্গার সমীপবর্তী দেশকে করণরূপে গ্রহণ করিয়া সঞ্চরণরূপ অর্থে ‘অনুগঙ্গং সঞ্চার এই স্কুলে গঙ্গার সমীপৰূপ অব্যয়ীভাবসমার্থ প্রকারক তৃতীয়ার্থ করণত্ব বিশেষ অন্বয়বােধের প্রতি অমাদেশ ব্যতিরিক্ত তৃতীয়। বিভক্তি স্বরূপযােগ্য হওয়ায় এবং উপগঙ্গেযু পূতত্ব অর্থাৎ গঙ্গার সমীপ (তীর) বৃত্তি পবিত্রতা এইরূপ অর্থে ‘উপগঙ্গেযু এখানে এবং উপকুন্তাদানীত, অর্থাৎ কুম্ভসমীপ হইতে আনয়ন এইরূপ অর্থে ‘উপকুম্ভাৎ এই অব্যয়ীভাব সমাসে অব্যাপ্তি হইবে। কারণ উক্ত ত্রিবিধ স্থলে যথাক্রমে তৃতীয়া বিভক্তি, সপ্তমী বিভক্তি এবং পঞ্চমী বিভক্তি অমাদেশ ব্যতিরেকেও গঙ্গাসমীপরূপ অব্যয়ীভাব সমাসাৰ্থ প্ৰকারক অন্বয়বােধের স্বরূপযােগ হইয়াছে, অতএত উক্ত তৃতীয়ান্ত, সপ্তম্যন্ত এবং পঞ্চমীবিভক্ত্যন্ত অব্যয়ীভাব সমাসে অব্যাপ্তিরণ করিবার জন্য সামান্যতঃ সুপ, বিভক্তির নিষেধ না করিয়া কেবলমাত্র ষষ্ঠী বিভক্তি নিবেশের অভিপ্রায়ে শায়মাণ’ ষষ্ঠী, এখানে ষষ্ঠী পদটি নিবেশ করা হইয়াছে। ৪২। | অব্যয়ীভাব সমাস সমাপ্ত। मूलम् অনুষ্টি লনি— बहुव्रीहिः स्वगर्भार्थसम्बन्धित्वेन बोधकः । निरूढ़या लक्षणया स्वांशज्ञापक शब्दवान् ॥ ४३ ॥ অনুবাদ বহুব্রীহি সমাসের লক্ষণ করিতেছেন— যে সমাস স্বপদার্থগর্ভিত সম্বন্ধিত্ব প্রকারক অন্বয়বােধের যােগ্য এবং নিরূঢ় লক্ষণার দ্বারা স্ব পদার্থের জ্ঞাপক কোনও একটি শব্দের দ্বারা যুক্ত হইবে সেই সমাস স্ব পদার্থ গর্জিত অর্থ সম্বন্ধীরূপ অর্থের বােধক বহুব্রীহি সমাস হইবে। । বিরতি অবসর সঙ্গতিক্রমে অব্যয়ীভাব সমাস নিরূপণ করিবার পরে লক্ষণ ও উদাহরণাদির মাধ্যমে বহুব্রীহি সমাস নিরূপণ করিবার জন্য গ্রন্থকার বলিতেছেন বহুব্রীহি লক্ষতি’- বহুব্রীহি সমাসমাত্রই যেরূপ স্বপদার্থ গর্ভিত সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে তাদৃশ সম্বন্ধীর বোধক হইয়া থাকে তদ্রুপ নিরূঢ় লক্ষণার মাধ্যমে পদার্থের থােক কোনও একটি শব্দের দ্বারা যুক্ত হইয়া থাকে। এই তাৎপর্য গ্রহণ করিয়া গ্রন্থকার ‘বহুব্রীহি স্বগর্ভার্থ' ইত্যাদি শ্লোকের समासप्रकरणम् ११३ মাধ্যমে বহুব্রীহি সমাসের লক্ষণ করিতেছেন। উক্ত শ্লোকের অন্তর্গত বহুব্রীহি পদটির মাধ্যমে বহুব্রীহি সমাসরূপ লক্ষ্য নির্দেশ করা হইয়াছে। স্বগর্ভার্থ’ ইত্যাদি অংশের দ্বারা বহুব্রীহি সমাসের লক্ষণ নিরূপণ করা হইয়াছে। আরূঢ়ো বানরাে য' এইরূপ বিগ্রহবাক্য হইতে উৎপন্ন ‘আরূঢ় বানরো বৃক্ষ এই আকারের বহুব্রীহি সমাস ‘পদার্থ গভিত’ সম্বন্ধিত্ব প্রকাকে বৃক্ষ বিশেষক অস্বয়বােধের জনক হওয়ায় এবং নিরূঢ়লক্ষণার দ্বারা স্ব’ এই অংশের বােধক আঙ-রুহ ধাতু অথবা বানর পদটির দ্বারা ঘটিত হওয়ায় উক্ত বহুব্রীহি সমাসে লক্ষণ সমন্বয় হবে। এই প্রসঙ্গে ইহাও বুঝিতে হইবে আরূঢ় বানরো বৃক্ষ' এই বহুব্রীহি সমাসের ঘটক বানর পদটি তাদৃশ বানর সম্বন্ধীরূপ অর্থে লাক্ষণিক হইবে, ইহাই মণিকারের সিদ্ধান্ত। আরূঢ় পদটি তাদৃশ লক্ষণার তাৎপর্য গ্রাহকরূপে সার্থক হইবে। চিত্রগুর্জন' এই সকল স্থলেও গো পদের চিত্রা ভিন্ন স্ব গাে সম্বন্ধীরূপ অর্থে গােপদের লক্ষণস্বীকৃতি মূলে এবং নিরূঢ় লক্ষণ মুলে পদার্থের বােধক জন পদটি যুক্ত হওয়ায় উক্ত বহুব্রীহি সমাস হইতে চিত্র ভিন্ন স্ব গো সম্বন্ধিত্ব প্রকারক জন বিশেষক অন্বয়বােধ হইবে। স্বাংশজ্ঞাপক-শব্দবান শ্লোকের এই অংশের মাধ্যমে বহুব্রীহি সমাস যে অন্যপদপ্রধান ইহাই সূচিত হইয়াছে। मूलम् समास इति प्रकृतं, तथा च, स्वांशस्य निरूढलक्षणया ज्ञापकेन शब्देन घटितः स्वगर्भस्य यादृशार्थस्य सम्बन्धित्वप्रकारेणान्वयबोधं प्रति समर्थः समासः, स्वगर्भतादृशार्थसम्बन्धिबोधने बहुबोहिरित्यर्थः। श्रारूड़- वानरो वृक्षः, इत्यत्रारूडो वानरो यमिति व्युत्पन्या स्वकर्मकारोहणक - वानरसम्बन्धित्वेन वृतं, पीतपयस्कं पात्रमित्यत्र पोतं पयो येन इति रीत्या स्वकरणकपानकर्मजलसम्बन्धित्वेन पात्रं, पक्कतण्डुलश्चैत्रः, इत्यत्र पक्क- स्तण्डुलो येनेति दिशा स्वकर्तृ कपाककर्मतण्डलसम्बन्धित्वेन चैत्रं, दत्तदक्षिणो द्विजः, इत्यत्र दत्ता दक्षिणा यस्मै इति क्रमेण स्वसम्प्रदानक- दानकर्मदक्षिणासम्बन्धित्वेन द्विजं, पतितपत्रस्तरुरित्यत्र पतितं पत्रं यस्मादिति विग्रहेन स्वापादानकपतनाश्रयपत्रसम्बन्धित्वेन तरु', चित्रगुश्चत्र इत्यत्र चित्रा गौर्यस्येति वाक्यानुसारेण चित्रा मिन्न स्वगोसम्बन्धित्वेन चेत्रं, रकपटः कायः, इत्यत्र रतः पटो यत्रेति व्युत्पन्या रक्तामिनस्व- ৭৭ शब्दशक्तिप्रकाशिका वृचिपटसम्बन्धित्वेन कायम् । एवं वाणच्छिनकरो नरः, इत्यादावषि वाणेन छिन्नः करो येन, यस्य वा इत्यादि विग्रहेन वाणकरणक स्वकत क- च्छिदाकर्म-करसम्बन्धित्वादिना नरादिकं, बहुव्रीहिबोधयतीति । सर्वत्रैव स्वगर्भतत्तदर्थसम्बन्धित्वेन धर्मिणामवगमः । অনুবাদ ‘প্রকরণ প্রাপ্ত সমাস' এই অংশটি বহুব্রীহি সমাসের লক্ষণে যােগ করিতে হইবে। ইহার ফলে নিরূঢ় লক্ষণা প্রযুক্ত ‘স্ব’ এই অংশের বােধক শব্দের দ্বারা ঘটিত স্ব(পদার্থ) গর্ভিত যাদৃশ পদার্থের সম্বন্ধিত্ব প্রকারক অন্বয়বােধের প্রতি যােগ্য যে সমাস, সেই সমাস ‘স্ব’ পদার্থ গর্ভিত তাদৃশ পদার্থের সম্বন্ধী বােধের অনুকুল বহুব্রীহি সমাস। ইহাই শ্লোকটির অর্থ। এই বহুব্রীহি সমাস, আরূঢ়- বানররা বৃক্ষঃ এখানে ‘আরূঢ়ো বানরাে য’ এই ব্যুৎপত্তি অনুসারে ‘স্ব’ (বৃক্ষ ) কর্মক আরােহণ কর্তৃ বানর সম্বন্ধিত্ব প্রকারক বৃক্ষ বিশেষ্যক বােধের, পীতপয়স্কং পাত্র এখানে পীতং পয়ো যেন এইরূপ বিগ্রহ অনুসারে ‘স্ব’ (পাত্র) করণক পান কর্ম জল সম্বন্ধিত্ব প্রকার পাত্রবিশেক বােধের, পতঙুলশ্চৈত্রঃ এখানে ‘পস্তণ্ডুলাে যেন এই রীতিতে ‘স্ব’ (চৈত্র) কর্তৃক পাককর্ম তণ্ডুল সম্বন্ধিত্ব প্রকারক চৈত্র বিশেষ্যক বােধের, ‘দত্তদক্ষিণ দ্বিজঃ এখানে ‘দত্তা দক্ষিণা যস্মৈ’ এইরূপ বিগ্রহবাক্য অনুসারে ‘স্ব' (দ্বিজ) সম্প্রদানক দান কর্ম দক্ষিণা সম্বন্ধিত্ব প্রকারক দ্বিজ বিশেষ্যক অন্বয়বােধ, ‘পতিপত্ৰস্তরুঃ এখানে ‘পতিতং পত্রং যস্মাৎ এইরূপ বিগ্রহ অনুসারে ‘স্ব' ( তরু) অপাদান পতনাশ্রয় পত্র সম্বন্ধিত্ব প্রকারক তরু বিশেষ্যক বােধের, “চিত্রগুশ্চৈত্রঃ, এখানে চিত্রা গৌর্যস্ত এইরূপ বিগ্রহ অনুসারে চিত্রা ভিন্ন স্ব’ (চৈত্র) গো সম্বন্ধিত্ব প্রকারক চৈত্র বিশেষ্যক বােধের, রক্তপটঃ কায়, এখানে রক্ত পটো যস্য এইরূপ ব্যুৎপত্তি অনুসারে রক্তা ভিন্ন স্ব’ (কায় ) বৃত্তি পট সম্বন্ধিত্ব প্রকারক কায় বিশেষ্যক অন্বয়বােধের এবং বাণচ্ছিন্নকরাে নরঃ ইত্যাদি স্থলে ‘বাণেন ছিন্ন করে যেন অথবা ‘যস্ত ইত্যাদি বিগ্রহ অনুসারে বাণ করণক ‘স্ব’ (নর) কর্তৃক ছেদন কর্ম করসম্বন্ধিত্ব প্রকারক নয়াদি বিশেষ্যক অম্বয়বােধের জনক হইয়া থাকে। বহুব্রীহি সমাস মাত্র স্থলে ‘স্ব’ পদার্থ গর্ভিত তত্তৎ পদার্থ সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে ধর্মীসমূহের অবগতি হইবে।

ফ বিবৃতি কারিকায় কথিত বহুব্রীহি সমাসের লক্ষণে সমাসপদটি না থাকায় ‘স্য সম্বন্ধী ঘট’ এই আকারের সমাস ভিন্ন ৰাক্য ও স্বপদার্থ গর্ভিত সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে ‘স্ব এই অংশের নিরূঢ় লক্ষণ দ্বারা ‘' এই অংশের বােধক ঘট’ শব্দের দ্বারা ঘটিত হওয়ায় উক্ত অসমাস বাক্যে বহুব্রীহি সমাস লক্ষণের অতিব্যাপ্তি নিবন্ধন গ্রন্থকারের ন্যূনতা হইবে, অতএব উক্ত নতা পরিহারের জন্য জগদীশ বলিতেছেন ‘সমাস ইতি প্রকৃতম্। অর্থাৎ কারিকায় সমাস পদটি উল্লিখিত না হইলেও সমাস প্রকরণে সমাসভিন্ন অন্য কাহারও লক্ষণ প্রমাণ সিদ্ধ নহে, অতএব সমাসের প্রস্তাব অনুসারে ক্রমপ্রাপ্ত সমাসেরই লাভ হইবে। এই অভিপ্রায়ে গ্রন্থকার প্রকরণ প্রাপ্ত অর্থেই ‘প্রকৃত’ পদটির প্রয়ােগ করিয়াছেন। ‘তথা চ' ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে কারিকায় কথিত বহুব্রীহি লক্ষণের বিশদার্থ প্রদর্শন করিতেছেন। স্বাংশ’ এখানে স্ব’ পদের দ্বারা সমাসের ঘটক পদ ভিন্ন অন্য বৃক্ষ প্রভৃতি পদ গৃহীত হইবে। শক্তিরূপ বৃত্তি হইতে সমাসের অন্তর্গত বানর প্রভৃতি কোনও পদ ‘স্ব এই অংশের বােধক হয় না, এইজন্য শক্তিরূপ বৃত্তিকে পরিহার করিয়া নিরূঢ় লক্ষণরূপ বৃত্তি অনুসরণ করা হইয়াছে। “জ্ঞাপকেন শব্দেন ঘটিত: এই অংশের দ্বারা জ্ঞাপক শবান’ কারিকার এই অংশটি বিবৃত হইয়াছে। যগর্ভস্য যাদৃশার্থস্য এই অংশের দ্বারা কারিকার প্রথম চরণে কথিত ‘স্বগর্ভার্থ’ পদটি ব্যাখ্যাত হইয়াছে। বিবরণােক্ত ‘গর্ভ যাদৃশার্থ’ এখানে স্বগর্ভপদের স্বপদার্থ গর্ভিতরূপ অর্থ এবং ‘যাদৃশার্থ' এই পদের দ্বারা আরূঢ় বানরো বৃক্ষ' ইত্যাদিলীয় আঙ, পূর্বক রুহ, ধাতু এবং বানর প্রভৃতি পদ গৃহীত হইবে। উক্ত আলােচনা হইতে নিরূঢ় লক্ষণারূপ বৃত্তিমূলে ব’ এই অংশের বােধক কোনও একটি শব্দের দ্বারা ঘটিত অথচ ‘স্ব’ গর্তিত যাদৃশ পদার্থ সম্বন্ধিত্ব প্রকারক অন্বয়বােধের প্রতি স্বরূপযােগ্য হইবে এইরূপ সমাস ‘স্ব’ গর্ভিত তাদৃশ সম্বন্ধিগােচর বােধের অনুকুল বহুব্রীহি সমাস হইবে। এইভাবে কারিকায় কথিত বহুব্রীহি সমাসের লক্ষণ বিবরণ গ্রন্থে বিবৃত হইয়াছে। আরূঢ় বনয়ে বৃক্ষ' এই স্থলে নিরূঢ় লক্ষণারূপ বৃত্তির দ্বারা ‘ঘ’ এই অংশের বোধক আঙ-রুহ, ধাতু অথবা বানর শব্দ ঘটিত হওয়ায় এবং ‘স্ব কর্মক আরােহণ কর্তৃ বানর সম্বন্ধিত্ব প্রকারক বৃক্ষবিশেষক অন্বয় বােখের স্বরূপযােগ্য সমাস হইয়াছে। সুতরাং বিবরণােক্ত লক্ষণটি উক্ত বহুব্রীহি সমাসে সমন্বয় হইবে। এই প্রসঙ্গে ইহাও বলা আবশ্যক যে মণিকারের মতে উক্ত সমাসের ঘটক বানর পদটির ‘স্ব’ কর্মক অারোহণ কর্তৃ বানর সম্বন্ধীরূপ অর্থে লক্ষণ। স্বীকৃত হইয়াছে। গ্রন্থকার কিন্তু উক্ত মতের সমালােচনা করিয়া আরূঢ় পদের অন্তর্গত আঙ-রুহ, ধাতুর ‘স্ব কর্মক আরােহণ কর্তৃ রূপ অর্থে এবং বানর পদের বানর সম্বন্ধিরূপ অর্থে লক্ষণ। স্বীকার করিয়া উক্ত সমাস হইতে ‘’ কর্মকারােহণ কর্তৃ বানর সম্বন্ধী বক্ষ এইরূপ অম্বয়বােধ হইবে সিদ্ধান্ত করিয়াছেন। পরবর্তী গ্রন্থে এবিষয়ে বিশদভাবে আলােচনা করা হইবে।

सब्दशक्तिप्रकाशिका দ্বিতীয়, তৃতীয়াদি বিভক্ত্যন্ত অন্য পদার্থভেদে বহুব্রীহি সমাস নানাবিধ হইবে। এইজন্য লক্ষ্যে লক্ষণ সমন্বয় করিবার জন্য প্রথমতঃ দ্বিতীয় বিভক্ত্যন্ত অন্য পদার্থঘটিত বিগ্রহবাক্য অনুসারে বহুব্রীহি সমাস প্রদর্শন করিবার জন্য আরূঢ়ো বানরে। যম্' ইত্যাদি শর্তের অবতারণা করিতেছেন। ‘ব্যুৎপত্তা’ এখানে ব্যুৎপত্তি' এই শব্দটির বিগ্রহ রূপ অর্থে প্রযুক্ত হইয়াছে। বিগ্রহ- বাক্যের সহিত বহুব্রীহি সমাসের তুল্যার্থকত্ব প্রদর্শন করিবার জন্য আরূঢ়ো বানিয়ে য ইত্যাদি—এই ব্যাসবাক্যস্থলেও সমাসবাক্যের ন্যায় স্বকর্মক আরােহণ কর্তৃ বানর সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে বৃক্ষাদিবিষয়ক অন্বয়বােধ হওয়ায় সমাস ও ব্যাসবাক্য সমার্থক হইবে। ‘আরূঢ়ো বানরে। যম্' এখানে আঙ, পূর্বক রুহ ধাতুটি উধ্বদেশসংঘােগানুকুল ব্যাপারের বােধক। কর্তৃবাচ্য বিহিত ও প্রত্যয়ের দ্বারা কর্তৃত্ব অর্থাৎ কৃতিরূপ অর্থ প্রতিপাদিত হইয়াছে। যম্' এই অন্বয়বাধক যৎশব্দের পরবর্তী অম্ বিভক্তির অর্থ কর্মত্ব। উক্ত কর্মত্ব, নিরূপকত্ব সম্বন্ধে, আঙ, পূর্বক রুহ ধাতুর অর্থ যে আরোহণ তাহাতে অন্বিত হইবে। ‘আরূঢ়ো বানরে। যম্ এইরূপ বিগ্রহ বাক্য অনুসারে বহুব্রীহি সমাস নিষ্পন্ন হওয়ার পরে সমাসের অন্তর্গত বানর পদটি আরােহণ ক্রিয়ার কর্তৃপদ হইলেও বহুব্রীহি সমাসের পরে স্বকর্মক আরােহণ কর্তৃবানরসম্বন্ধিরূপ অর্থে লাক্ষণিক হইবে। কারণ ন্যায়সিদ্ধান্তে সমাস বাক্যবিশেষ। সুতরাং বাক্যে শক্তি স্বীকৃত না হওয়ায় লক্ষণ ও গৃহীত হইবে না। অতএব ‘রূঢ়ো বানরে বৃক্ষ' এই বহুব্রীহি সমাস হইতে সকর্মক আরােহণ কর্তৃ বানর- সন্ধি কারক বৃক্ষবিশেষক অন্বয়বােধ হইবে। দ্বিতীয় বিভক্ত্যন্ত অন্য পদবটিত বিগ্রহবাকপ্রদর্শিত হইল। পীতং পয়ো যেন এইরূপ বিগ্রহবাক্য হইতে ‘পীতপয়স্কং পাৱ এইরূপ বহুব্রীহি সমাসকালে পীতপদটি পানাৰ্থক পা খাতু পরবর্তী কর্মবাচ্যে বিহিত ও প্রত্যয়ের দ্বারা নিষ্পন্ন হওয়ায় পান কর্মরূপ অর্থের বােধক হইবে। এখানে দ্রব্যগলাধঃ সংযােগানুকুল ব্যাপার পা ধাতুর অর্থ প্রতীয়মান হইবে উক্ত পত পদটি কর্মবোধক পয়স শব্দের বিশেষণ পদরূপে নির্দিষ্ট হইয়াছে। এখানেও সমাসের অন্তর্গত এবং বিগ্রহবাক্যের অন্তর্গত পয়সশব্দটির স্বকরণক পানকর্ম জলসম্বন্ধিরূপ অর্থে লক্ষণ। স্বীকৃত হওয়ায় সমাস এবং বিগ্রহ উতয়বাক্য হইতেই য (পাত্র) গত কৰণতার নিরূপক পান কর্মবিশিষ্ট জলসম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে পাত্রবিষয়ক অবােধ হইবে। পাত্রটি পানক্রিয়ার করণ হওয়ায় একটি ব্যাপার কল্পনা করিতে হইবে। কারণ—ব্যাপারবৎ কারণকেই ন্যায়সিদ্ধান্তে করণ বলা হইয়া থাকে। প্রকৃতস্থলে পাত্ৰমুখ্যসংযােগকে দ্বার করিয়া পাত্রকরণ হওয়ায় উক্তসংযােগই ব্যাপাররূপে গৃহীত হইবে। পণ্ডুলাে যেন এই বিগ্রহবাক্য অনুসারে পকততুলশ্চৈত্ৰঃ এইরূপ কর্মণি বিহিত ক্ত প্রত্যয়ান্ত পচ,ধাতুস্থলে পচ ধাতুর অর্থ বিনুিকুলব্যাপার, ক্ত প্রত্যয়ার্থ কর্মত্ব, বিগ্রহবাক্যস্থ তৃতীয়া বিভক্তির অর্থ কর্তৃত্ব এখানেও বিগ্রহবাক্য ও সমাসের তুল্যার্থকত্বের অনুরােধে তণ্ডুল পদটির স্ব (চৈত্ৰ) গত কর্তৃতানিরূপক পাক কর্ম ততুল সন্ধিপুরস্কারে তাদৃশ সম্বন্ধিরূপ অর্থে লক্ষণ স্বীকৃত হওয়ার ফলে কর্তৃক পাককর্ম समासप्रकरणम् ৭s ততুলসম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে চৈত্রবিষয়ক অনুবােধ হইবে। তৃতীয় বিভক্ত্যন্ত অঞ্চপদঘটিত বিগ্রহবাক্যজনিত বহুব্রীহি সমাস ও তজ্জনিত শাৰবােধ প্রদর্শনের পরে চতুর্থ বিভক্তান্ত অন্যপদঘটিত বিগ্রহবাক্য প্রদর্শন করিবার জন্য ‘দদক্ষিণে দ্বিজ ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। “দতা দক্ষিণ যস্মৈ এইরূপ বাক্যের অন্তর্গত দত্ত এই বিশেষণ পদটি কর্মবাচ্যে ক্ত প্রত্যয়ান্ত দা ধাতু হইতে নিষ্পন্ন হইয়াছে। দা ধাতু দানরূপ অর্থের বােধক। স্বস্বত্ব ধ্বংসের অনুকুল অপরের প্রকারক যে ইচ্ছ। ইহাই দা খাতুর দানরূপ অর্থ বুঝিতে হইবে। ক্ত প্রত্যয়ের অর্থ কর্মত্ব দক্ষিণ পদটি স্ব (দ্বিত) সম্প্রদানক দানকর্ম দক্ষিণা সম্বন্ধিরূপে অর্থে লাক্ষণিক হওয়ায় উক্ত বিগ্রহবাক্য এবং তজ্জনিত বহুব্রীহি সমাস হইতে স্বসম্প্রদানকর্ম দক্ষিণাসম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে দ্বিবিষয়ক অন্বয়বােধ হইবে। ‘পতিতপত্রগুরু এইরূপ বহুব্রীহি সমাসস্থলে ‘পতিতং পত্ৰং যৎ' এইরূপ পঞ্চমী বিভক্ত্যন্ত অন্যপদঘটিত বিগ্রহবাক্যের অন্তর্গত পত ধাতুটির গুরুত্বজন্যবচ্ছেদকরূপে সিদ্ধ পতনত্বজাতিবিশিষ্ট অর্থের বােধক। দুর্গসিংহ প্রভৃতি বৈয়াকরণের মতে অধােদেশ- সংযােগানুকুলব্যাপারে পত ধাতুর অর্থ স্বীকৃত হইয়াছে। যদিও আপাততঃ পতধাতু অকর্মক মনে হয় তথাপি নরকপতিত' ইত্যাদি দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ দেওয়ার ফলে এই মতে অধঃসংবােগানুকুলব্যাপারকে পত ধাতুর অর্থ স্বীকার করিতে হইবে। “পতি পং’ এখানে কর্তৃবাচ্যে বিহিত ও প্রত্যয়ান্ত পত ধাতু হইতে পতন কর্তৃত্বরূপ অর্থ প্রতীয়মান হইবে। বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্গত পত্ৰ পদটি স্বাপাদনক পতনায় সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে লাক্ষণিক হওয়ায় ‘পতিতং পত্ৰং যৎ' এই বিগ্রহবাক্য এবং তজ্জনিত বহুব্রীহি সমাস হইতে পানক পতনাশ্রয় পত্র সম্বন্ধিত্বপুরস্কারে তরুবিষয়ক অন্বয়বােধ হইবে। “চিত্রগুশ্চৈত্ৰ:” এইরূপ বহুব্রীহি সমাসস্থলে গােপদটি চিত্রাভিন্ন স্বকীয় গােসম্বন্ধিত্ব বিশিষ্টরূপ অর্থে লাক্ষণিক হওয়ায় ‘চিত্র। গৌর্ষস’ এই বিগ্রহবাক্য অনুসারে স্বকীয় চিত্রা- ভিন্ন গো সম্বন্ধিত্ব প্ৰকাৰক (অন্য পদার্থ) চৈত্ৰাৰিশেষক তন্বয়বােধ উৎপন্ন হইবে। ‘রক্তপট: কায়' এইরূপ বহুব্রীহি সমাসস্থলে রক্ত পটো যন্ত্র আকারের বিগ্রহবাক্য হইবে। এখানে যত্ৰ এই সপ্তম্যন্ত যৎ পদের দ্বারা অন্য পদার্থকে গ্রহণ করা হইয়াছে। রক্ত পদটি পটাংশে অভেদ সম্বন্ধে বিশেষণ। ইহার ফলে রক্ত পটো যন্ত্র' এইরূপ বিগ্রহবাক্য হইতে স্বকীয় বৃত্তি রাভিন্ন টসম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে কায়বিশেষ্যক শব্দবােধ হওয়ায় বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্গত পটপদটি ব্যবৃত্তিরাভিন্নপটসম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে তাদৃশ সম্বন্ধিরূপ অর্থে লাক্ষণিক হইবে। একটি বিভক্ত্যন্ত যে অন্যপদ তদবিশেষ অম্বয়বােধের জনক বহুব্রীহি সমাসলে তাৎপর্যারূপ কারণ থাকিলে অন্য বিভক্ত্যন্ত অন্যপদঘটিত বিগ্রহবাক্য হইতে অন্য- পদার্থ বিশেষ অম্বয়বোধও সম্ভবপর হইতে পারে। এই অভিপ্রায়ে ‘এবং' ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিয়াছেন, অতএব ‘বাণছিন্ন করো নয়' এই বহুব্রীহি সমাসস্থলে ‘বাণেন ছিন্ন করে যেন, য ৰা এই বিগ্রহবাক্যে যেন, য' এইরূপ তৃতীয় এবং যষ্ঠী বিত্যন্ত অন্যপদ গৃহীত হইয়াছে। তৃতীয়ত অন্যপদ গৃহীত হইলেও উক্ত বিগ্রহবাক্য এবং তদনুযায়ী বহুব্রীহি সমাস হইতে অকর্মক ৰাণকরণক ছেদৰকৰ্ম সমন্ধিত্ব পুরস্কারে নৱৰিষয়ক এবং যন্ত এইরূপ অপদটিত বিগ্রহস্থলে ৰাণকরণক ছেদনকর্ম কর সন্ধি একারক নয়াদিবিশেষক অবয়বোধ উৎপন্ন হইৰে। সৰৰৈৰ ইত্যাদি গ্রন্থের দ্বারা বর্তমান সন্দর্ভের উপসংহার করিতেছেন অর্থাৎ বহুব্রীহিমাহুলে স্বপদার্থগর্তিত তত্তৎ পদার্থসম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে ৰিগ্ৰহৰাক্য এবং তদধীন বহুব্রীহি সমাস হইতে অন্বয়বােধ হইবে। मूलम् 'दक्षिणपूर्वा, पूर्वोत्तरेत्यादिविदिग् बहुव्रीहिस्थले दक्षिणया पूर्वा इत्यादि विग्रहेण खपार्श्वस्थदक्षिणसहितपूर्वसम्बन्धित्वादिना आग्नेयोप्रभृतीनां विदिशां बोधः । यया অনুবাদ দক্ষিণপূর্ব এবং পূর্বোত্তরা এই সকল বিদি বহুব্রীহিস্থলে, দক্ষিণের সহিত পূর্বদিক যাহার (দক্ষিণয়া সহ পূর্বা দিক্‌ যস্যা:) এই সকল বিগ্রহবাক্যের দ্বারা নিজ পার্শ্বস্থিত দক্ষিণ দিকের সহিত পূর্বদিক্‌ সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে আগ্নেয়ী ( অগ্নিকোণ) বিদিকের বােধ হইবে। বিবৃতি ‘বিদিক তথা এই সূত্রানুসারে বিদি বহুব্রীহি সমাসের লক্ষণের উপপত্তি করিবার অন্য দক্ষিণ পূর্ব ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। দক্ষিণ পূর্ব এই বহুব্রীহি সমাস এবং বিগ্রহবাক্য হইতে কিরূপ অন্বয়বােধে হইবে তাহা বুঝাইবার জন্য প্রথমতঃ ‘দক্ষিণয়া পূর্ব যস্যাঃ' এই বিগ্রহবাক্যটি প্রদর্শন করিয়াছেন। দক্ষিণয়’ এখানে হার্থে তৃতীয় বিভক্তি হওয়ায় দক্ষিণ দিকের সহিত এইরূপ অর্থ প্রতীয়মান হইবে। “যাঃ' এই পদের দ্বারা আগ্নেয় দিস্বরূপ অন্যপদার্থ গৃহীত। পূর্বোক্ত বিগ্রহবাক্য হইতে যথার্থ দক্ষিণ সহিত পূর্বষম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে অগ্নিকোণ প্রতীয়মান ইত্যাদি হইবে। ইত্যাদি বিগ্রহেণ’ এই আদি পদের দ্বারা এবং সম্বন্ধিত্বদিন এই আদি পদের দ্বারা পূর্বয়া সহ উত্তর দিক যাঃ' এই বিগ্রহানুসারে পার্শ্বস্থ পূর্ব সহিত উত্তর সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে ঈশান কোণ প্রতীয়মান হইবে। পূর্বোত্তরেত্যাদি’ এই আদি পদের দ্বারা পূর্বপশ্চিম, উত্তরপশ্চিমা প্রভৃতি বিদিক পরিগৃহীত হইবে।

समासप्रकरणम् ৭। मूलम् अस्तिक्षीरा, नास्तिक्षीरा गौरित्यादावप्यक्षीरं यस्या इत्यादिविग्रहे- णास्तित्ववत् स्वक्षीर सम्बन्धित्वादिप्रकारेण गवादेरवगतिः। इयांस्तु विशेषो यत्तत्रकेषान्मतेऽस्तीत्यादिकं तिङन्तमन्येषां तत्प्रतिरूपकाव्ययमिति । उप समीपे दश येषामिति समीपगणितार्थकषष्ठ्या विग्रहादुपदशाः शकुनय इत्यादौ खसमोपगणितदशसम्बन्धित्वेन नवानामेकादशानाश्च पक्षिणा- না। অনুবাদ অস্তিক্ষীরা এবং নাস্তিক্ষীরা গৌঃ এইসকল বহুব্রীহি সমাসস্থলে অস্তি- ক্ষীরং যস্যা এবং নাস্তিক্ষীরং যস্যাঃ এই সকল বিগ্রহবাক্য অস্তিত্ববিশিষ্ট ক্ষীর- সম্বন্ধিত্বাদি পুরস্কারে গবাদিবিষয়ক বােধ হইবে। এখানে ইহাই বিশেষ যে কোনও এক সম্প্রদায়ের মতে অস্তি কিংবা নাস্তি এই সকল তিঙন্ত ক্রিয়াপদ আবার অন্যকোনও সম্প্রদায়ের মতে অস্তি বা নাস্তি এই সকল পদ ক্রিয়াপদের প্রতিরূপক অব্যয়বিশেষ। উপ (অর্থাৎ) সমীপে দশ (সংখ্যা) যে এই রূপ অর্থের প্রতিপাদক যষ্ঠীসমাস ঘটিত বিগ্রহবাক্য হইতে উপদশাঃ শকুনয়ঃ ইত্যাদি বহুব্রীহি সমাসস্থলে নিজ সমীপগণিত দশ (সংখ্যা) সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে নবসংখ্যক অথবা একাদশসংখ্যক পক্ষীর বােধ হইবে। বিবৃতি এক্ষণে একটি আশঙ্কা হইতে পারে তিঙন্ত পদের সহিত সমাস যীকৃত নহে সুতরাং ‘অন্তিক্ষীরা’ অথবা নাস্তিক্ষী এই সকললে প্রাচীন শাব্দিক সম্প্রদায় যে বহুকীহি সমাস স্বীকার করেন ইহা কি করিয়া সঙ্গত হইবে? এই আশঙ্কায় প্রকারান্তরে সমাধানকল্পে গ্রন্থকার ‘অন্তিক্ষী’ ইত্যাদি গর্তের অবতারণা করিতেছেন। গ্রন্থকারের বক্তব্য এই যে অন্তিক্ষীরা অথবা নাস্তিক্ষীরা ইত্যাদি বহুব্রীহি সমাসস্থলে অতি (অস্তিত্বৰৎ কীং যাঃ) এবং নান্তি (নাত্বিৎ গীরং যন্যা:) এইরূপ বিগ্রহবাক্য অনুসারে অস্তিত্ববৎ স্বকীয় ক্ষীয় সম্বন্ধিত্বপুরস্কারে এবং নাস্তিত্ববৎ যকীয় ক্ষীয় সম্বন্ধিপুরস্কারে গােবিষয়ক বােধীকার করিতে হবে।

৭২ शब्दशक्तिप्रकाशिका ইহার উপরে আশঙ্কা হইতে পারে যদি তাদৃশ বিগ্রহবাক্য হইতে বহুব্রীহি সমাস স্বীকৃত হয় তাহা হইলে গ্রন্থকারের তিঙন্ত পদের সহিত বহুব্রীহি সমাস অতিপ্রেত বলিয়া বুঝিতে হইবে। এই আশঙ্কার উত্তরে গ্রন্থকার ‘ইয়াংন্তু বিশেষ ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিয়াছেন। গ্রন্থকারের তাৎপর্য এই যে অস্তিকীরা, নাস্তিকীরা এখানে অন্তি এবং নান্তি এই দুইটি পদের বিভিন্নরূপে প্রতিপত্তি করা হইয়াছে। প্রাচীন শাব্দিকগণের মতে অস্তি বা নান্তি এই দুইটি পদকে তিঙন্ত পদ রূপে গণ্য করিয়া উক্ত পদের সহিত বহুব্রীহি সমাস স্বীকৃত হইয়াছে। নব্যমতানুকারিগণ বলেন অস্তিক্ষীরা নাস্তিক্ষীরা এখানে অন্তি বা নাস্তি এই দুইটি পদ তিঙন্তের সমার্থক অব্যয় বিশেষ। সুতরাং অব্যরূপ অন্তি বা নাস্তি পদের সহিত বহুব্রীহি সমাস হওয়ার পক্ষে কোনও বাধা নাই। এই নব্য মতের উপরেও আপত্তি হইতে পারে যদি অন্তি বা নাস্তি পদ অব্যয় হয় তাহা হইলে অব্যয়টি পূর্বপদ হওয়ায় অব।য়ীভাব সমাস হইবে না কেন? এই আশঙ্কার উত্তরে বক্তব্য উপ, অধি, আঙ, প্রভৃতি অব্যয়ের সহিতই অব্যয়ীভাব সমাস স্বীকৃত হইয়া থাকে, অব্যয় মারে সহিত নহে। অতএব তিঙন্ত অস ধাতুর প্রতিরূপক অন্তি বা নান্তি শব্দটি অব্যয়রূপে গৃহীত হইলেও এই সকল পদের সহিত অব্যয়ীভাব সমাস হওয়ার সম্ভাবনা নাই। ‘উপদশা: শকুনয়া ইত্যাদি স্থলে উপদশাঃ এই বহুব্রীহি সমাসে স্বকৃত বহুব্রীহি সমাসের লক্ষণ সমন্বয় করিবার জন্য ‘উপ সমীপে ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। উপ এই সপ্তম্যন্ত অব্যয়ের অর্থ প্রদর্শনের জন্য সপ্তম্যন্ত সমীপ শব্দটি প্রযুক্ত হইয়াছে। উপ সমীপে দশ যে এই বিগ্রহবাক্যের অন্তর্গত ষষ্ঠী বিভক্তি যে সমীপ গণিতরূপ অর্থের বােধক ইহা ব্যক্ত করিবার জন্য বলিয়াছেন ‘সমীপ গণিতার্থক ষষ্ঠ্য। বিগ্ৰহাৎ'। তাৎপর্য এই যে বিগ্রহবাক্য হইতে এবং উক্ত বিগ্রহবাক্য জনিত উপদশ। এই সমাস হইতে স্বামীপগণিত দশসম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে নবসংখ্যক পক্ষি সমূহের বােধ হইবে। मूलम् तत्र दशशब्दस्य दशत्वलक्षणया स्वपर्याप्तसंख्यासमोपगणितदशत्व- सम्बन्धित्वेनैव नवादेर्बोधः इति दुर्गप्रभृतयः । अधिका दश येषामित्यादि- विग्रहे अधिकदशाः पुरुषा इत्यादावपि स्वपर्याप्तसंख्याधिकदशवृत्तिसंख्या- पर्याप्तधिकरणदशसम्बन्धित्वेन नवादिपुंसां नवादिपुंसां प्रत्ययः। द्वौ त्रयो वा येषां वा शब्दे विग्रहे 'द्वित्राः पवित्राः परममित्यादौ द्विव्यन्यतरपर्याप्तस्वपर्याप्तसंख्यासम्बन्धित्वेन द्वयोस्त्रयाना वा पवित्राणां इत्यन्यतरार्थक समासप्रकरणम् ৭২৭ बोधः पटे घटे वा घटत्वमित्याद्यनुरोधेन वाकारस्यान्यतरार्थकताया व्युत्पाद्यत्वात् तस्य च वृत्तौ गतार्थत्वादश्रुतिः, पञ्च षड् वा येषामित्यादि- विग्रहात् 'पश्चषाः पुरुषा' इत्यादावप्युक्तरीत्यवान्वयो द्रष्टव्यः । অনুবাদ উপদশা প্রভৃতি স্থলে দশশব্দের দশত্বে লক্ষণা স্বীকার করিয়া প্যাপ্তি সম্বন্ধে স্বগত যে সংখ্যা তৎসমীপগণিত দশত্বসম্বন্ধিত্বপুরস্কারে নবাদির সংখ্যেয় বােধ উৎপন্ন হইবে ইহাই কাতন্ত্র বৃত্তিকার দুর্গ প্রভৃতির সিদ্ধান্ত। অধিকা দশ যে এইরূপ বিগ্রহ অনুসারে ‘অধিক দশাঃ পুরুষাঃ এই সকল বহুব্রীহি সমাসস্থলেও পর্যাপ্তিসম্বন্ধে স্বনিষ্ঠ যে সংখ্যা তদধিক দশগত সংখ্যার পৰ্যাপ্তি সম্বন্ধে অধিকরণ দশ সংখ্যেয় তৎসম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে নবাদি সংখ্যক পুরুষের বােধ হইবে। দ্বৌ বা ত্রয়য়া বা যেষাং এইরূপ অন্যতরর্থক বা শব্দঘটিত বিগ্রহমূলে ‘দ্বিত্রা পবিত্রাঃ পরমা’ এই সকল বহুব্রীহি সমাসস্থলে দ্বিত্রি অন্যতর পর্যাপ্ত সংখ্যা সম্বম্বিত্বপুরস্কারে দ্বিসংখ্যক বা ত্রিসংখ্যক পবিত্ৰসমুহের বােধ হইবে। ‘পটে ঘটে বা পটত্ব ইত্যাদি প্রয়ােগের অনুরােধে অন্যতররূপ অর্থে বা শব্দের ব্যুৎপত্তি স্বীকার করিতে হইবে। বহুব্রীহি সমাসস্থলে উক্ত অন্য রূপার্থক বা শব্দের নিরূঢ় লক্ষণারূপ, বৃত্তিতে গতার্থ হওয়ায় শ্রবণেন্দ্রিয়গ্রাহ্য হয় না। ‘পঞ্চ ষড় বা যে এই সকল বিগ্রহবাক্য হইতে ‘পঞ্চ পুরুষ ইত্যাদি বহুব্রীহি সমাসস্থলেও উক্ত রীতিতেই অম্বয়বােধ বুঝিতে হইবে। বিবৃতি কাতন্ত্র ব্যাকরণের বৃত্তিকার দুর্গ সিংহ প্রভৃতির মত উপস্থাপনা করিবার জন্য ‘তন্ত্র ইত্যাদিগ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। তত্র’ পদের দ্বারা উপদশা: শকুনয় এই সকল বহুব্রীহি সমাসকে গ্রহণ করিতে হইবে। উক্ত সমাসের অন্তর্গত দশ শব্দের যে দশত্বে লক্ষণ। স্বীকৃত হইয়াছে উক্ত লক্ষণ নিরূঢ় লক্ষণা, আধুনিক লক্ষণ নহে, অতএব গ্রন্থকার যে লক্ষণয়া বলিয়াছেন ইহার পূর্বে ‘নিরূঢ়য়া’ এই অংশটি পূরণ করিতে হইবে। দুর্গমতে ‘উপ সমীপে দশ যে এইরূপ বিগ্রহবাক্য হইতে উৎপন্ন উপদশা শকুনয়' এই বহুব্রীহি সমাসলে কিরূপ শব্দবােধ তাহা প্রদর্শন করিবার জন্য ‘স্বপর্যাপ্ত ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। পর্যাপ্ত এখানে ২ পদের দ্বারা বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্গত অন্য পদার্থ নদি গৃহীত হইবে।

৭৫ शब्दशक्तिप्रकाशिका এখানে একটি প্রশ্ন হইতে পারে পর্যাপ্ত সংখ্যা এখানে বৃত্তি সংখ্যা না বলিয়া পর্যাপ্তসংখ্যা কেন বলা হইল? ইহার উত্তরে বক্তব্য পর্যাপ্তসংখ্যা ইহার অর্থ হইবে পর্ষাপ্তিসম্বন্ধে নবস্বরূপ যে সংখ্যেয় পর্যাপ্ত সম্বন্ধে তদগত নবত্ব সংখ্যা। কেবলমাত্র যদি সবৃত্তিসংখ্যা বলা হয়, তাহা হইলে নবরূপে সংখ্যেয় পদার্থে বর্তমান সংখ্যারূপে যেরূপ নবত্বসংখ্যা গৃহীত হইবে তদ্রুপ অষ্টত্বাদি সংখ্যাও গৃহীত হইতে পারে এবং যদি অষ্টত্ব সংখ্যা গৃহীত হয় তা হইলে তৎসমীপগণিত সংখ্যারূপে দশত্বসংখ্যা লাভ না হওয়ায় উক্ত সমাসবাকাটি অপার্থক হইবে। এই জন্য স্ববৃত্তি না বলিয়া স্বপর্যাপ্ত বলা হইয়াছে। অধিক দশ-যে এইরূপ বিগ্রহবাক্য অনুসারে অধিকদশা: পুরুষাঃ এই স্কুলেও শাব্দবােধ প্রদর্শন করিবার জন্য অধিক দশ ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। পদার্থ সংখ্যাধিক এখানে স্বপদের দ্বারা অন্যপদার্থ নবসংখ্যক পুরুষ গৃহীত হইবে। অতএব পর্যাপ্তসম্বন্ধে স্ব (নব) বৃত্তি সংখ্যাধিক যে পর্যাপ্তসম্বন্ধে দশবৃত্তি সংখ্যা তদধিকরণ দশ সম্বন্ধিপুরস্কারে নবসংখ্যক পুরুষের বোধ স্বীকৃত হইবে । এখানে পর্যাপ্তসম্বন্ধে যনিরূপিত বৃতিত্ব নিবেশ না করিয়া কেবলমাত্র বৃত্তিত্ব নিবেশ করিলে অধিকদশাঃ এই বহুব্রীহি সমাস হইতে অষ্টাদি সংখ্যাও বােধ হইতে পারে, কারণ অষ্টসংখ্যক পদার্থেও সম্বন্ধবিশেষে দশত্ব সম্বন্ধিত্ব বিদ্যমান থাকে। অতএব পৰ্যাপ্তিসম্বন্ধে দশবৃত্তি সংখ্যার অধিকরণই নিবেশ না করিয়া কেবলমাত্র দশবৃত্তি সংখ্যাধিকরণ দশসম্বন্ধিমাত্র নিবেশ করিলে তাদৃশ দশত্ব সংখ্যায় সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে একাদশ পুরুষাদিবােধের আপত্তি হইবে এই জন্য উক্ত বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্গত দ্বিতীয় পর্যাপ্ত নিবেশ করা হইয়াছে। উপদশা: শকুনয়, অধিকদশাঃ পুরুষাঃ ইত্যাদিস্থলে বিগ্রহবাক্য এবং বহুব্রীহি সমাসজনিত বােধ প্রদর্শন করিয়া দ্বিা: পবিত্ৰা পৰমাঃ ইত্যাদি বহুব্রীহি সমাসস্থলেও বিগ্রহবাক্য এবং বহুব্রীহি সমাস হইতে বাক্যার্থ বােধ প্ৰদৰ্শন করিবার জন্য দ্বেী এয়ো বা যেষাম ইত্যাদি সন্দর্ভের উপস্থাপনা করিতেছেন। এখন আশঙ্কা হইতে পারে জগদীশ যে ‘দ্বেী বা ত্ৰয়ো ব’ এখানে বা শব্দের অন্যতররূপ অর্থ স্বীকার করিয়াছেন ইহা কি করিয়া সঙ্গত হইবে? কারণ ‘বা’ শব্দটি সংশয়েরই দ্যোতক হইয়া থাকে অন্যতররূপ অর্থে ‘বা’ শব্দের প্রয়োগ প্রায় দেখা যায় না। এই আশংকার উত্তরে জগদীশ বা শব্দের অন্যতরর্থকত্ব প্রমাণিত করিবার অন্য ‘ঘটে পটে বা ঘটত্ব এই স্কুলটি প্রমাণরূপে গ্রহণ করিয়া বা শব্দের অন্যতরর্থকত্ব ব্যুৎপত্তি- সিদ্ধ করিয়াছেন, কারণ ঘটে পটে বা ঘটত্ব এই বাক্য হইতে ঘট পটানতর বৃত্তি ঘটত্ব এইরূপ শব্দবােধ হইবে। সুতরাং উক্ত শব্দবােধের অনুরােধে বা শব্দ অন্যতররূপ অর্থের প্রতিপাদক ইহা অবশ্য স্বীকার করিতে হইবে। এখন প্রশ্ন হইতে পারে, অয়ং স্থাণুবা পুরুষাে বা ইত্যাদি কালে বা শব্দের দ্বারা যেরূপ স্থাণুত্ব তদভাব কোটিক এবং পুরুষত্ব তদভাব কোটিক সংশয় প্রতীয়মান হয়। পটে ঘটে বা ঘটত্বম’ এখানেও তদ্রুপ ঘটত্বং ঘটবৃত্তি পটবৃত্তি বা এইরূপ সংশয়ের বােধক বা শব্দটি হইবে না কেন?

समासप्रकरणम् ইহার উত্তরে বক্তব্য পরোক্ষজ্ঞান অসন্ধিগ্ধ এবং অনাহার্য হইয়া থাকে। এইরূপ সিদ্ধান্ত থাকায় ঘটে পটে বা ঘটত্ব ইত্যাদি বাকা হইতে শাল সংশয় সভাৰিত নহে। সুতরাং উক্ত শব্দের অন্যতরার্থকত্বই গ্রহণ করিতে হইবে। এখন আশঙ্কা হইতে পারে ‘দ্বৌ বা ত্ৰয়ো বা যে, এইরূপ বিগ্রহবাক্যে বা শব্দটি শ্রুতিগােচর হইলে দ্বিত্ৰা পৰিত্ৰাঃ ইত্যাদি সমাসে বিগ্রহকের ন্যায় বা শব্দটি শ্রুতিগােচর হয় না কেন? এই আশঙ্কার সমাধানকল্পে বক্তব্য এই যে ‘দ্বিাঃ পবিত্রাঃ পরমা এইস্থলে ঘি ত্রি এতদন্যতর পর্যাপ্ত-ষপর্যাপ্ত সংখ্যাসম্বন্ধিত্বপুরস্কারে দ্বিপদের অথবা ত্ৰিণদের নিরূঢ় লক্ষণারূপ বৃত্তি স্বীকৃত হওয়ায় বা শব্দের অর্থ যে অন্যতত্ব তাহা উক্ত লাক্ষণিক অর্থে প্রবেশ নিবন্ধন গতার্থ হওয়ায় ‘বা’ শব্দ শ্রুতিগােচর হইবে না। ইহার পরে গ্রন্থকার বলিতেছেন ‘পঞ্চ ষড়, বা যেষাম’ এইরূপ বিগ্রহবাক্য হইতে পঞ্চষঃ পুরুষাঃ এই সকল বহুব্রীহি সমাসলেও পূর্বোক্ত রীতিতে অন্বয়বােধ করিতে হইবে, অর্থাৎ পঞ্চ টু এতদন্যতর সংখ্যাসম্বন্ধিত্ব- পুরস্কারে পঞ্চ অথবা যটু সংখ্যক পুরুষের বোধ হইবে ইহাই গ্রন্থকারের তাৎপর্য। मूलम् परे तु द्वौ वा त्रयो वा येषामित्यादिविग्रहे वा शब्दस्य संशयकोव्यर्थ- कतया 'वित्रा' इत्यादिबहुव्रीहेः स्वधर्मिकसंशयकोटितापनद्वित्रिसम्बन्धित्वेन द्विप्रभृतिबोधकत्वमित्याहुः। द्विस्त्रयो येषामिति विग्रहे तु द्विशब्दस्य द्विगुणितवाचित्वेन द्विगुणितविपर्याप्तस्वकृत्तिसंख्यासम्बन्धित्वेन 'वित्रा रसा' इत्यादौ षण्णामवगमः । सुजन्तर्भावनैव विग्रहस्य व्युत्पन्नत्वाच्च, पश्चकृत्वो दश येषामित्यर्थे 'पञ्चदशा' इत्यादिको न समासः सर्वत्रोक्तबहुव्रीही राजा- दित्वादतिचरमस्वरादेर्लोपः। অনুবাদ অন্য কেহ ‘দ্বৌ বা এয়াে বা যে এই সকল বিগ্রহবাক্যের অন্তর্গত বা শব্দের সংশয়কোটিরূপ অর্থ গ্রহণ করিয়া দ্বিত্র এই সকল বহুব্রীহি সমাস স্বধর্মিক সংশয় কোটিতাবিশিষ্ট দ্বিত্রি সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে দ্বি প্রভৃতি সংখ্যেয়ের বােধক (হইবে) এইরূপ বলেন। দ্বিয়য় যে এইরূপ বিগ্রহস্থলে কিন্তু দ্বি শব্দ দ্বিগুণিতের বাচক হওয়ায় দ্বিগুণিত ত্রিতে পর্যাপ্তি সম্বন্ধে বর্তমান যে স্ববৃত্তি সংখ্যা তৎ সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে ‘দ্বিা রসা' ইত্যাদি বহুব্রীহি সমাসস্থলে ষট, (রস) ৭২ शब्दयक्तिमकाशिका বিষয়ক বােধ হইবে। সুচ, প্রত্যয় অন্তর্ভাবেই সমাসস্থলীয় বিগ্রহবাক্য ব্যুৎপত্তি সিদ্ধ হওয়ায় ‘পঞ্চকৃত্ব দশ যেষা এইরূপ বিগ্রহবাক্য অনুসারে পঞ্চদশা ইত্যাদি বহুব্রীহি সমাস হইবে না। উক্ত স্থলে ‘রাজাদিত্বাৎ' ইত্যাদি মূত্রানুসারে (সমাসের অন্তর্গত) অন্তিম সাদিলােপ হইয়াছে। বিবৃতি ‘বৌ বা ত্রয়ে বা যেষা ইত্যাদি বিগ্রহবাক্যের অন্তর্গত বা শব্দের জন্যওর রূপ অর্থ নিজ সিদ্ধান্ত অনুসারে গৃহীত হওয়ায় ‘পরে তু' ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে কাতা পরিশিষ্টকার শ্রীপতি দত্তের মতবিশেষ প্রদর্শন করিতেছেন। এই মতে ‘দ্বেী বা এয়াে না যো’ এই সকল বিগ্রহ বাক্যের অন্তর্গত বা শব্দটি সংশয়কোটিরূপ অর্থের বোধক হইবে। ৰা শব্দের সংশয়কোটি রূপ অর্থ গৃহীত হইলে ‘দ্বিত্র। পবিত্র। এই সকল বহি সমাস হইতে কীদৃশ শব্দবোধ উৎপন্ন হইবে? এই জিজ্ঞাসার উত্তরে ‘দ্বিত্র ইত্যাদি বহুব্রীহে?' ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। স্বধর্মিক’ এখানে স্বশব্দের দ্বারা বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্গত অপদার্থ গৃহীত হইবে। উক্ত অন্যপদার্থও এখানে দ্বিত্রিরূপ সংখ্যেয়কে বুঝিতে হইবে। ইহার ফলে স্ব (সংখ্যেয় রূপ দ্বি বা ত্ৰি) বিশেষ্য যে সংশয় তন্নিরূপিত কোটিত। (প্রকারত। বিশেষ) তদ্বিশিষ্ট দ্বিত্ব (সংখ্যা) তৎ সম্বন্ধিপুরস্কারে দুই যা তিনটি পবিত্তের বােধ হইবে। ইহাই শ্রীপতি দত্তের মত। ‘বিভ্রান্তিন্তি' এই সকল বহুব্রীহি সমাস হইতে ‘দ্বো বা ভয়ে ৰা তি' এইরূপ সংশয় প্রতীয়মান হয় না। কারণ দ্বিত্র ইত্যাদি সমাসলে ভারদ্বয় কোটিকসংশয় অনুতব সিদ্ধ নহে। স্থাণুবা পুরুষো ৰা ইত্যাদিলেও স্থাণুত্ববৎ পুরুষত্ববৎ ৰা এইরূপ ভাৰদ্বয়কোটিকসংশয় স্বীকৃত হইবে না। পরন্তু স্থাণুত্ব তদ্ভাৰ ৰূপ চতুষ্কোটিক সংশয়ই বীকৃত হইয়া থাকে। সুতরাং দ্বিৱা ইত্যাদি সমাসস্থলেও তাবত্বয়কোটিক সংশয় স্বীকৃত হইবে না। তদ্ধিত প্রকরণের ‘দ্বিত্রি চতুর্ভ সুচ,' এই সুত্র অনুসারে দ্বিগুণিত অর্থে সুচতায়াত দ্বিশ ঘটিত বিগ্রহ বাক্য হইতে জাত বহুব্রীহিসমাসলে কিরূপ শাৰ ৰােধ হইবে তাহা প্রদর্শন করিবার জন্য দ্বিয়ে যেষামি’ত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। দিণিত ত্রিপর্যাপ্ত’ না বলিয়া দ্বিগুণিত ব্রিবৃত্তিমাত্ৰ বলিলে তাদৃশ বহুব্রীহি সমাস হইতে এত পদার্থরূপে পঞ্চ প্রভৃতি বিষয়ক বােধের আপত্তি হইবে, এই জন্য ব্রিবৃত্তিমা না বলিয়া পর্যাপ্ত সম্বন্ধে বৃতিত্ব লাভের জন্য পর্যাপ্ত পদ দেওয়া হইয়াছে। ববৃতি’ এখানে পদের দ্বারা সংখ্যেয় রূপ যে য পদার্থ তাহাই গৃহীত হইবে। সংখ্যা সম্বন্ধি শব্দের আয়াও এখানে সংখ্যার অশ্ৰয়ত্ববত্ত্ব গৃহীত হইবে। ইহার ফলে ‘দ্বিা রসা' এইরূপ যীহি সমাস হইতে পর্যাপ্ত সম্বন্ধে দ্বিগুণিত বিবৃতি যে গত সংখ্যা তদায়ত্ব পুরস্কারে যটু সংখ্যক রসের অবগতি হইবে।

समासमकरणम् १२५ এখন আপত্তি হইতে পারে তদ্ধিতবিহিত সুচ, প্রত্যন্ত বি শব্দটিত বিগ্রহবাক্য হইতে যেরূপ বহুব্রীহি সমাস উৎপন্ন হয় তদ্রুপ তদ্ধিত বিহিত কৃত্ব প্রভৃতি প্রত্যয়ান্ত পঞ্চ এভৃতি পদটিত বিগ্রহ বাক্য হইতে পঞ্চদশা ইত্যাদি বহুব্রীহি সমাস হইবে না কেন? এই আপত্তির উত্তরে গ্রন্থকার ‘জন্তর্ভাবেনৈব' ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। সুজাৰেনৈৰ এই এবারের দ্বারা সুচ, এতয়তি কৃত্বস প্রভৃতি অন্যতদ্ধিত প্রত্যয়ের ব্যবচ্ছেদ করা হইয়াছে। ব্যুৎপন্নত্বাচ্চ এই উক্তির দ্বারা প্রয়ােগানুসারে শাব্দ ব্যুৎপত্তি কল্পিত হইবে ইহাই সূচিত হইয়াছে। কারণ ফলানুরােধেই ব্যুৎপত্তি কল্পনা করা হইয়া থাকে। কীদৃশ তদ্ধিত প্রত্যয়ান্ত পদঘটিত বাক্য ব্যাবৃত্ত হইৰে তাহা প্রদর্শন করিবার জন্য পঞ্চকৃত্বে। দশ যেষা’ এইরূপ বিগ্রহবাক্য প্রদর্শিত হইয়াছে অর্থাৎ তাদৃশ বিগ্রহবাক্য হইতে পঞ্চদশা এইরূপ বহুব্রীহি সমাস হইবে না। সর্বত্রোক্ত- ৰহৰীহৌ' এখানে সর্বত্র পদের দ্বারা উপদশা, দ্বিত্র, পঞ্চৰা এই সকল বহুব্রীহি সমাস গৃহীত হইবে। সর্বত্র উক্ত বহুব্রীহিসমাসলে ‘রাজাদিত্বাদি’ত্যাদি অনুশাসন অনুসারে উক্ত ৰহৰীহি সমাসে অন্তর্গত অন্তিম স্বর প্রভৃতি বর্ণের শােপ হইবে। मूलम् स्वधनसम्बन्धी चैत्र इत्यादौ स्वधनस्य सम्बन्धोति व्युत्पत्या स्वगर्भार्थस्य सम्बन्धित्वेन चैत्रं बोधयन्नपि तत्पुरुषो न स्वांशस्य निरूढ़- लक्षणया प्रत्यायकपदेन घटितः । तथा आधुनिकलक्षणया स्वपट- बोधकेन पटपदेन गर्भितः 'पटसम्बन्धी त्यादिरपि 'मातृभक्त' इत्यादिकस्तु तत्पुरुषः स्वमातृत्वेन निरूढलक्षणया बोधकेन विशेषितोऽपि न तत्- सम्बन्धित्वेन बोधकः । न च द्वौ मुनी, त्रयो वा मुनयो यस्येति वक्तृत्वार्थकपष्ट्या विग्रहे स्ववकृमुनिद्वयसम्बन्धित्वेन बोधके 'द्विमुनि त्रिमुनि वा ग्रन्थ' इत्यादौ दिमुन्यायव्ययीभावे, स्वमात्सम्बन्धित्वेन बोधके 'मावसम्बन्धी'त्यादि तत्पुरुषे चातिव्याप्तिः, तदन्यत्वेनापि विशेषणीयत्वात् । অনুবাদ ‘স্বধনসম্বন্ধী চৈত্র এই সকল তৎপুরুষ সমাসস্থলে স্বীয় ধনের সম্বন্ধী এইরূপ ৰিহৰাক্য অনুসারে অগৰ্তিত পদার্থ সম্বন্ধি পুরস্কারে চৈত্রাদির বােধক হইলেও १२८ शब्दशक्तिप्रकाषिका প্রথমান্ত পদের দ্বারা উপস্থাপিত পদার্থ ই ভাবনার (ক্রিয়ার) বিশেষ্য হইয়া থাকে—ইহাই নিয়ম। যদি ইহা স্বীকৃত না হয় তাহা হইলে ‘রাজপুরুষােহস্তি এই সকল স্থলেও রাজপদার্থে অস্তিত্বাদি ক্রিয়ার অন্বয়ের প্রসক্তি হইবে। প্রকৃতির অর্থে ই বিভক্তির অর্থ যে সংখ্যা তাহার বােধ হইয়া থাকে। এইরূপ ব্যুৎপত্তি থাকায় গােপদের পরবর্তী প্রথম বিভক্তি, চিত্রপদের দ্বারা উপস্থাপিত চিত্রাভিন্ন স্বকীয় গােসম্বন্ধিরূপ অর্থে একত্বের বােধ হইতে পারে না। বিবৃতি বহুব্রীহি সমাসের লক্ষণে যে নিরূঢ় লক্ষণার কথা বলা হইয়াছে উক্ত লক্ষণা বহুব্রীহি সমাসবাক্যে অথবা সমাসের অন্তর্গত পদবিশেষে স্বীকৃত হইবে ইহা বিবেচনা করিবার জন্য ‘ইদমত্রাবধাতব্য ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। প্রথমতঃ ‘চিত্র ইত্যাদি সমাসস্থলে ‘চিত্রগু' এই সমুদায় গত লক্ষণ যাহারা বলেন, তাঁহাদের মত খণ্ডন করিবার জন্য বলিতেছেন ‘চিত্রগু' ইত্যাদি স্থলে চিত্রাভিন্ন স্বকীয় গােসম্বন্ধী প্রভৃতি বােধের জন্য চিত্রগু’ সমুদায়ে লক্ষণ। কল্পিত হইতে পারে না। কেন কল্পিত হইতে পারে না? ইহার উত্তরে বলিতেছেন—“তস্য বাক্যত্বেন লকত্বাযােগৎ' অর্থাৎ যেহেতু ন্যায় সিদ্ধান্তে ‘চিত্রগু’ এই সমাসটি বাক্য, অতএব সেখানে লক্ষণ। কল্পিত হইতে পারে না। কেন বাক্যে লক্ষণ। কল্পিত হইবে না। এই জিজ্ঞাসার উত্তরে গ্রন্থকার বলেন পূর্বেই ইহা নিরাকৃত হইয়াছে। তাৎপর্য এই যে, কোন স্থলে বাক্যে শক্তি কল্পিত না হওয়ায় ক্য সম্বন্ধরূপ লক্ষণও বাক্যে কল্পিত হইতে পারে না। গ্রন্থকার নিজেই লক্ষক নামের লক্ষণপ্রসঙ্গে বাক্যগত লক্ষণার খণ্ডন করিয়াছেন। ‘ন চ’ ইত্যাদি সম্পর্ভের দ্বারা অপর একটি আশঙ্কা উত্থাপন করিতেছেন। অর্থাৎ চিত্রগুঃ এই বহুব্রীহি সমাসস্থলে সমাসের অন্তর্গত চিত্র পদটির চিত্রাভিন্ন স্বকীয় গােসম্বন্ধিরূপ অর্থ লক্ষণা স্বীকৃত হইবে। আপত্তি হতে পারে চিত্র পদেরই যদি তাদৃশ সম্বন্ধিরূপ লাক্ষণিক অর্থ স্বীকৃত হয় তাহা হইলে গো পদটি ব্যর্থ হইবে না কেন? এই আপত্তির উত্তরে বলিতেছেন গো পদটি তাদৃশ লক্ষার্থের তাৎপর্য গ্রাহকরূপে উপযােগী হইবে। যদি বলা হয় গ্রন্থকারের মতে তাৎপর্যজ্ঞান শাত্ববােধের কারণ নহে, সুতরাং গােপদকে তাৎপর্যগ্রাহক বলা চলে না। এইজন্য গ্রন্থকার প্রকারান্তরে গােপদের সার্থকতা প্রদর্শন করিবার জন্য বলিতেছেন গােপদটি লক্ষণাগত নিরূঢ়ত্বের উপস্থাপক রূপে উপযােগী হইবে। যাদৃশার্থ সম্বন্ধৰতি শক্ত যদভবেং। তৱ তল্লকং নাম তচ্ছক্তিবিধুরং যদি। ২৪। । রুকনাম বর্ণন প্রসঙ্গে।

समासप्रकरणम् ২৫ ‘ন চ’ ইত্যাদি সম্পর্ডের আয় যে আশঙ্কা ব্যক্ত হইয়াছে ইহা ঠিক নহে, কারণ চিত্র এই সমস্ত বাক্যের অন্তর্গত চিত্ৰপদটি প্রথম বিভক্ত্যন্ত না হওয়ায় চিত্র পদার্থে ‘অন্তি’ পদের অর্থ যে অস্তিত্বৰূপ জিয়া তাহার অন্বয় হইতে পারে না। কারণ প্রথমান্ত পদের দ্বারা উপস্থাপিত পদার্থই ক্রিয়ার মুখ্য বিশেষরূপে প্রতীয়মান হইয়া থাকে। গ্রন্থকায়েত প্রথমান্ত পদের প্রত্যুত্তৰত্বৰূপে অনুসন্ধীয়মান প্রথম বিভক্তিকরূপ অর্থ গৃহীত হইবে। ইহার ফলে ‘দধি অন্তি এই সকলস্থলে প্রথম বিভক্তি শ্রুত না হইলেও দধিরূপ প্রকৃতির অব্যবহিতােৰত্বৰূপে অনুসন্ধীয়মানত্ব লুপ্ত অ বিভক্তিতে থাকায় তাদৃশ প্রথমাস্তত্ব ব্যাহত হইবে না। উক্ত নিয়ম যাহারা স্বীকার করেন না তাহাদিগকে লক্ষ্য করিয়া ‘অন্যথা ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে যদি প্রথমান্ত পদের দ্বারা অনুপস্থাপিত পদার্থেও ভাবনার অর্থাৎ ক্রিয়ার অন্বয় স্বীকৃত হয় তাহা হইলে ‘রাজপুরুষঃ এইরূপ বিগ্রহবাক্যজনিত ‘রাজপুরুষ এই সমস্ত বাক্যের সহিত সাকা অন্তি পদের অর্থ যে অস্তিত্ব তাহারও উক্ত সমাসের অন্তর্গত শিবিভক্তিক রাজপদার্থে অম্বয়ের প্রসক্তি হইবে। অতএব প্রথমান্ত পদের দ্বারা উপস্থাপিত নয় এইরূপ উক্ত স্থূলীয় রাজপদার্থে অস্তিত্ব ক্রিয়ার অন্বয় বারণ করিবার জন্য প্রথমান্ত পদের দ্বারা উপস্থাপিত পদার্থে ক্রিয়ার অন্বয় স্বীকার করিতে হইবে। সুতরাং চিত্ৰণ্ড প্রভৃতিস্থলে চিত্রাভিন্ন গােসম্বন্ধিরূপ চিত্ৰা পদার্থে অস্তিত্বের অন্বয় হইবে না। যদি বলা হয় রাজপুরুষস্থলে অস্তিত্ব ক্রিয়ার যে অন্বয় প্রসক্তি কথিত হইয়াছে ইহা প্রতিবন্ধি উত্তর হইলেও যথার্থ উত্তর নহে, এইজন্য প্রকারান্তরে পূর্বের মত খণ্ডন করিবার জন্য প্রকৃত্যৰ্থ এব’ ইত্যাদি সন্দর্ভের উথাপন করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে সুবর্থ যে সংখ্যা তাহার সুপ, বিভক্তির প্রকৃতির অর্থে অন্বয়বােধ হইয়া থাকে ইহাই ব্যুৎপত্তি। সুতরাং ‘চিত্রগু’ এই বহুব্রীহি সমাসলে গােপদের পরবর্তী প্রথম বিভক্তির অর্থ যে একত্ব তাহা চিত্রপদের দ্বারা উপস্থাপিত চিত্রাভিন্ন স্বকীয় গো সম্বন্ধিরূপ অর্থে অন্বয়বােধ হইতে পারিবে না। যদি ইহা স্বীকৃত না হয় তাহা হইলে ‘গঙ্গায়াং ঘােষো’ এই সকল স্থলেও ঘােষ পদোত্তর বিভক্তির যে দ্বিত্ব সংখ্যারূপ অর্থ তাহা গঙ্গাদের লক্ষ্যার্থ যে তীর তাহাতেও অন্বয়ের আপত্তি হইবে। मूलम् गोपदमेव तादृशगोसम्बन्धिलक्षकं, चित्रपदन्तु तत्र तात्पर्यादिग्राहकम्-इति मणिकाराय कम्, तम युक्तम् -पूर्वपदार्थ- साकाङ्क्षस्यैव खार्थस्योपसर्जनवायां गोपदस्य हस्वविधानात् चित्रपदार्थेन समं तदर्थस्यान्वये वदनुपपरे, अन्यथा, "गौरस्ती"त्यादावपि चित्राभित्र शब्दाक्तिप्रकाशिका स्वगोसम्बन्धित्वेन गोपदस्य लक्षणायामुदन्तत्वापत्तेः । न च नामोत्तर- वर्तिन एव गोपदस्य स्वार्थोपसजेनतायां ह्रस्वविधि यंत्र गोपदेन लक्षणयो- पस्थापिते चित्रमिनस्वगोसम्बन्धिन्यमेदेन चित्रपदस्यान्वयस्तत्र 'चित्र- गवोऽस्तीत्यादिकर्मधारयेऽपि गोपदस्य ह्रस्वप्रसङ्गात् । वस्तुतः 'कृत- पाकश्चत्र' इत्यादौ स्वकृतिविषयापाकसम्बन्धित्वादिना चैत्राघवगमः पूर्वपदस्य परपदस्य वा लक्षणया न सम्भवदुक्तिकस्तयोरशक्तत्वेन भक्त्वा- योगात् । न च तत्र कादिवर्णस्य स्वरूपशन-धनादिप्रत्ययस्य वा स्वकृति- विषयपाकसम्बन्धिनि लक्षणा, तनिरूढत्वसम्पादकश्च शब्दान्तरमिति साम्प्रतम् । कृतादिपदेभ्यः स्वार्थानुपस्थितावपि तदन्वयबोधप्रसङ्गात्, पत्रादिमात्रस्य नामत्वाभावेन तन्मात्रोपस्थाप्यार्थे सुवर्थान्वयायोगात् प्रकृत्यर्थावच्छिन्नस्यय कुदर्थस्य पदार्थान्तरेऽन्वयबुद्ध'युत्पन्नत्वाच्च । .. অনুবাদ (চিত্রগু ইত্যাদি স্থলে) গােপদটি চিত্রাভিন্ন স্বকীয় গােসম্বন্ধিরূপ অর্থে লাক্ষণিক, চিত্রপদটি তাদৃশ লাক্ষণিক অর্থের তাৎপর্যাদির গ্রাহক—এই যে মণিকার প্রভৃতির মত ইহা কিন্তু যুক্তিযুক্ত নহে; (কারণ) পূর্বপদার্থ সাকা স্বকীয় অর্থটি উপসর্জন অর্থাৎ গৌণ হইলেই গােপদের হ্রস্ব বিহিত। অতএব চিত্র পদার্থের সহিত গােপদার্থের অন্বয় না হইলে গােপদের ‘ও’ কার হ্রস্ব হইতে পারে না। যদি ইহা স্বীকৃত না হয়, তাহা হইলে ‘গৌরস্তি’ এই সকল স্থলেও গোপদটি চিত্রাভিন্ন স্বকীয় গােসম্বন্ধীতে লাক্ষণিক হইলে ‘চিত্রগু’ পদের ন্যায় উদন্ত হইতে পারে। যদি বলা হয়, কোনও নামের পরবর্তী যে গােপদ, তাহার স্বীকৃত অর্থ অপ্রধান হইলেই হ্রস্থবিধি স্বীকৃত হইবে। এই উক্তিও সমীচীন নহে, কারণ যেখানে গােপদের দ্বারা লক্ষণামূলে চিত্রাভিন্ন স্বকীয় গােসম্বন্ধিরূপ অর্থে অভেদসম্বন্ধে চিত্রপদার্থের (স্বতন্ত্র ভাবে) অন্বয় হইবে, সেখানে চিত্র- গবােহস্তি’ এই সকল কর্মধারয় স্থলেও গােপদের হস্ব প্রসক্তি হইতে পারে। বাস্তবিক পক্ষে ‘কৃতপাকশ্চৈত্র ইত্যাদিলে স্বগতকৃতির বিষয় পাক- সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে চৈত্রাদিবিষয়ক বহুব্রীহি সমাসজনিত বােধ উৎপন্ন হইয়া समासप्रकरणम् থাকে। (এখানে কিন্তু) পূর্বপদ এবং পরপদ ইহার কোনটিই (উক্ত অর্থে) লাক্ষণিক বলা চলে না, কারণ যে পদটি শক্ত নহে, সেই পদটি লাক্ষণিক হইতে পারে না। যদি বলা হয় (কৃতপাকশৈত্রঃ) এ স্থলে স্বরূপে শক্তি বিশিষ্ট যে ক-কারাদিবর্ণ, অথবা, পচ, ধাতুর উত্তরবর্তী ঘঞাদি প্রত্যয়ের স্বকীয় কৃতির বিষয় যে পাক তৎ সম্বন্ধিরূপ অর্থে লক্ষণা স্বীকৃত হইবে এবং উক্ত লক্ষণার নিরূঢ়ত্ব সম্পাদকরূপে অন্যান্য শব্দের উপযােগিতা স্বীকৃত হইবে। এই উক্তিও বিচারসহ নহে, (কারণ) (ঐরূপ লক্ষণা স্বীকৃত হইলে) কৃত বা পাক প্রভৃতি শব্দ হইতে নিজ নিজ অর্থের অনুপস্থিতিকালেও তাদৃশ অম্বয়বােধের প্রসক্তি হইবে। (বিশেষতঃ ) ঘঞাদিমাত্রের নামত্ব না থাকায় কেবলমাত্র তাহার দ্বারা উপস্থাপিত অর্থে সুবর্থের অন্বয় হইতে পারে না, কারণ প্রকৃতির অর্থের দ্বারা বিশেষিত যে কৃৎ প্রত্যয়ের অর্থ তাহারই পদার্থান্তরে অন্বয় বুদ্ধি হইয়া থাকে ইহাই ব্যুৎপত্তি সিদ্ধ । বিবৃতি পূর্ববর্তী গ্রন্থের দ্বারা স্বহারা বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্গত পূর্বপদের নিরূঢ়লক্ষণ। স্বীকার করেন, তাহাদের মত খণ্ডন করিবার পর তত্ত্বচিন্তামণিকার গঙ্গেশ উপাধ্যায় প্রভৃতি যাহারা বহুব্রীহি সমাসের (চিত্রঃ প্রভৃতি) অন্তর্গত উত্তর পদের পূর্বোক্তরূপ অর্থে নিরূঢ়লক্ষণ। স্বীকার করেন, তাহাদের মত খণ্ডন করিবার জন্য ‘বত্ত, ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। গোপদবে’ এখানে ‘এ’ কানের দ্বারা চিত্ৰাপ্রভৃতি পূর্ব পদের ব্যবচ্ছেদ করা হইয়াছে, তাদৃশ গােসম্বন্ধি লক্ষক এখানে তাদৃশ পদটি চিত্রাভিন্নরূপ অর্থের বােধক বুঝিতে হইবে। এইরূপে গােপদের লক্ষণ। স্বীকৃত হওয়ার ফলে গােপদের চিত্রাভিন্ন স্বকীয় গােসম্বন্ধিরূপ অর্থে গােপদোত্তর সুপ, বিভক্তির অর্থ একই সংখ্যা অম্বিত হওয়ায় সুবর্থ সংখ্যায় প্রকৃত্যর্থে অন্বেতি এই সকল নিয়মও ব্যাহত হইবে না। মণিকারাদুক্ত এই আদি পদের দ্বারা পক্ষধর মিশ্র প্রভৃতি গৃহীত হইবে। উক্ত মণিকার প্রভৃতির মত তন্ন যুক্ত’ ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে খণ্ডন করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে মণিকার প্রভৃতি যে চিত্র প্রভৃতিস্থলে গাে প্রভৃতি উত্তর পদের নিরূঢ়- লক্ষণা স্বীকার করিয়া চিত্রা পদের তাৎপর্যগ্রাহকত্ব অথবা লক্ষণার নিরূঢ়ত্ব সম্পাদকরূপে উপযােগিতা স্বীকার করে, ইহা যুক্তিযুক্ত নহে, কারণ, চিত্রগু' প্রভৃতিস্থলেগাের ‘এ’ কার স্থানে যে ‘হু-উ’ বিধান রহিয়াছে, সেখানে গাে প্রভৃতি পদার্থ পূর্ববর্তী কোন পদার্থের দ্বারা বিশেষিত না হইলে এবং কোন পদার্থাংশে উপসর্জন অর্থাৎ সাক্ষাৎ বা পরম্পরায় বিশেষণ না হইলে উক্ত হ্রবিধি প্রযুক্ত হইবে না, অর্থাৎ অন্বয়বােধে গাে পদার্থটি প্রধানরূণে (মুখ্য বিশেষরূপে ) ভাসমান হইলে ফুৰিধি প্রযুক্ত হইবে না। মণিকাকের মতে যদিও ‘চিত্র মূলে গাে পদের ক্যার্থ এবান নহে, কয়।

૧૨ बन्दयक्तिप्रकाशिका তাদৃশ সম্বন্ধিরূপ লাক্ষণিক অর্থে বিশেষণ হইয়াছে, তথাপি পূর্ব পদার্থ সাকা না হওয়ায় গাে পদের ‘ও' কার হষ হইতে পারিবে না। গােরপ্রধানসাগু স্ক্রিয়া- মাদাদীনাঞ্চেতি স্বে”-এই সূত্রের অন্তর্গত ‘গােরপ্রধানন্যান্ত' এই ‘অন্ত’ পদের দ্বারা পূর্বপদাৰ্থ সাকা গাে পদার্থ বােধক গো পদটি গৃহীত হইয়াছে। যদি উত্তর পদের লক্ষণাবাদী মণিকার মতানুকারিগণ বলেন, গাে পদার্থ অপ্রধানরূপে প্রতীয়মান হইলেই তাদৃশ গাে পদের বিধান স্বীকৃত হইবে। সুতরাং চিত্রা’ পদার্থটি লাক্ষণিক অর্থে অম্বিত না হইলে হ্রষবিধানের হানি ঘটিবে না। এই উক্তির প্রত্যুত্তরে গ্রন্থকার ‘অন্যথা ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন, অর্থাৎ বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্গত পূর্বপদের অর্থ বিশেষের দ্বারা বিবেচিত না হইলেও যদি গো পদের বিধি স্বীকৃত হয়, তাহা হইলে ‘গৌরত্তি ইত্যাদি বাক্যের অন্তর্গত গো পদটি যখন চিত্রাভিন্ন স্বকীয় গােসম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে তাদৃশ সম্বন্ধিত্বরূপ অর্থে লাক্ষণিক হইবে, তাদৃশ ঋলেও গো পদের শক্যার্থ প্রধান না হওয়ায় দুষবিধির আপত্তি হইবে। ফলে, গৌরক্তি’ এখানে গুরন্তি’ এই প্রয়ােগের প্রসক্তি হইবে। ‘ন চ’ ইত্যাদি সম্পর্ডের মাধ্যমে উক্ত আপত্তির নিদর্শন কল্পে একটি শঙ্কা উত্থাপন করিতেছেন, অর্থাৎ মণিকার মতাবলম্বীগণ যদি বলেন পূর্বোক্ত আপত্তি বারণের জন্য কোন একটি নামের পরবর্তী গাে পদ প্রযুক্ত হইলে উক্ত গাে পদের অর্থ যখন উপসর্জনীভূত অর্থাৎ অপ্রধান হইবে, তখনই হয়বিধি প্রযুক্ত হইবে। এই উক্তিও কিন্তু যুক্তিসিদ্ধ নহে কারণ ‘চিত্র। চাসৌ গৌশ্চেতি এইরূপ অর্থে ‘চিত্র। গবােহন্তি' এই সকল কর্মধারয় সমাসস্থলে যদি গো পদটির চিত্রাভিন্ন গোসম্বন্ধিরূপ অর্থে লাক্ষণিক হয় এবং উক্ত লক্ষার্থে অর্থাৎ লক্ষণার দ্বারা উপস্থাপিত চিত্রাভিন্ন স্বকীয় গােসম্বন্ধিরূপ অর্থে চিত্র পদের অভেদ সংসর্গে অন্বয়বােধ স্বীকৃত হইবে, সেখানেও গাে পদের শক্যার্থ হওয়ায় বিধির আপত্তি ক্রমে চিত্রগবা স্থলে ‘চিত্ৰ' এইরূপ প্রয়ােগের প্রসক্তি হইবে। যদি বলা হয় নিরূঢ় লক্ষণাস্থলে যেখানে গো প্রভৃতি পদার্থ অপ্রধানরূপে ভাসমান হইৰে, সেইখানেই গাে প্রভৃতি পদের বিধি স্বীকৃত হইবে। পূর্ব প্রদর্শিত ‘চিত্ৰগবঃ প্রভৃতি স্কুলে গো পদের লক্ষণা স্বীকৃত হইলেও উক্ত লক্ষণ আধুনিক লক্ষণ, নিরূঢ়লক্ষণ নহে। অতএব তাদৃশ স্থলে চুষবিধি গৃহীত হইবে না। এই বক্তব্যের উত্তরে গ্রন্থকার ‘বস্তুতন্তু’ ইত্যাদি কল্পান্তর অনুসরণ পূর্বক মণিকারের মত খণ্ডন করিতেছেন। ‘কৃতপাকে যেন এইরূপ বিগ্রহবাক্য অনুসারে “কৃতপাকশ্চৈত্ৰ এই সকল বহুব্রীহি সমাসলে স্ব সমবেত কৃতিনিরূপিত বিষয়তা বিশিষ্ট যে পাক, তৎ সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে চৈত্রাদিবিষয়ক অন্বয়বােধ হইয়া থাকে। এখানে কিন্তু পূর্বপদ কিংবা পরপদ অর্থাৎ কৃতপক এই বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্গত কৃত’ এবং পাক’ এই দুইটি পদই ন্যায় সিদ্ধান্তে বাক্যম্বরূপ হওয়ায় বাক্যে শক্তি স্বীকৃত না হওয়ায় শক সম্বৰূপ লক্ষণাও স্বীকার করা যায় না। সুতরাং ‘কৃতপাকশ্চৈ' ইত্যাদি স্থলে কোন পদেরই লক্ষণ স্বীকৃত হইতে পারে না। ইহাই ‘ােরশনে ভাষােগাৎ' ইত্যাদি বক্তব্যের তাৎপর্য।

समासत्रकरणम् १३३ ‘চ’ ইত্যাদি গ্রহের মাধ্যমে একটি শঙ্কায় অবতারণা করিতেছেন। শঙ্কা গ্রন্থের তাৎপর্য এই যে ‘কৃতপাকশ্চৈ' ইত্যাদি স্থলে কৃত পদে অথবা পাকপদে নিরূঢ় লক্ষণ সম্ভবপর না হইলেও কৃত পদের অন্তর্গত পার্থক কর্ণের এবং পাকপদের অন্তর্গত ভাৰ গৃহীত ঘ, প্রত্যয়ের নিরূঢ় লক্ষণা স্বীকৃত হইবে। উক্ত সমাসের অন্তর্গত অপরাপর পদ তাৎপর্য গ্রাহকরূপে অথবা লক্ষণার নিরূঢ়ত্ব সম্পাদকরূপে উপযােগী হইবে। গ্রন্থকার বলিতেছেন, এই আশঙ্কাও সমীচীন নহে, কারণ যদি ককারাদি বর্ণের বা ঘ, প্রত্যয়ের লক্ষণ পূর্বোক্ত রূপে অঙ্গীকৃত হয় তাহা হইলে কৃত এবং পাক এই দুইটি পদ হইতে নিজ নিজ অর্থের উপস্থিতি ব্যতিরেকেও স্বসমবেত কৃতি বিষয়ক ‘পাক সম্বন্ধী চৈ’ ইত্যাদি অন্বয় বােধের প্রসক্তি হইবে। বিশেষতঃ ‘ঘ’ প্রভৃতি প্রত্যযুমাত্র নাম নহে। সুতরাং যদিও ঘঞাদি শব্দের লক্ষণস্থলে তাদৃশ সম্বন্ধিরূপ অর্থ উপস্থাপিত হয় তাহা হইলে উক্ত অর্থে কৃত পাক পদের পরবর্তী সুবর্ণ একত্ব প্রভৃতির অন্বয় হইতে পারিবে না। আরও বক্তব্য এই যে পচ, প্রভৃতি প্রকৃতির অর্থের দ্বারা বিশেষিত যে ঘঞাদি প্রত্যয়ার্থ তাহারই পদার্থান্তরে অন্বয়বােধ হয়। সুতরাং এই সকল ব্যুৎপত্তির বিরােধ উপস্থিত হওয়ায় মণিকারের পূর্বোক্ত মত গৃহীত হইতে পারে না। मूलम् तस्माचित्रगुरित्यत्र गोपदं खगोसम्बन्धिलक्षक, तदेकदेशे च गवि तादात्म्येन चित्रपदार्थस्यान्वयः। न च गोधर्मिकान्वयबुद्धौ तद्धर्मिक- वृत्तिज्ञानत्वेन हेतुत्वात् पदार्थंकदेशे गवि चित्रस्यान्वयो दुर्घटः, 'चित्रव्रजो- ऽस्ती'त्यादौ गोस्थानरूपस्य व्रजस्यैकदेशे गवि चित्रस्यानन्वयेन तादृश- व्युत्पत्तेरावश्यकत्वादिति वाच्यम् । 'घटशून्यं, चैत्रनतेत्यादि तत्पुरुषे भेदेनेव चित्रगुप्रभृतिबहुव्रीहावप्यमेदेन पदार्थैकदेशर्मिकान्वयबोधस्य व्युत्पत्तिवैचित्र्येन सम्भवात् , फलानुरोधित्वात् कल्पनायाः प्राव्यरपि 'सुन्दरराजपुरुष' इत्यादावभेदेन सुन्दरादेः पदार्थैकदेशे राजन्यन्वयबुद्धः स्वीकाराच। १। चित्रपदस्य मन्वय इति प्राचीनपाठस्तु प्रामाविक एवेत्यवधेयम् ।

৭r शब्दशक्तिप्रकाशिका অনুবাদ ( যেহেতু পূর্বোক্ত মতসমূহ যুক্তিযুক্ত নহে,) অতএব, ‘চিত্রগুঃ এখানে ‘গাে’ পদটি স্বকীয় গােসম্বন্ধি রূপ অর্থে লাক্ষণিক হইবে, (উক্ত) লাক্ষণিক অর্থের একদেশে গাে পদার্থে তাদাত্ম্যসম্বন্ধে চিত্রপদার্থের অন্বয় হইবে। এখন আশঙ্কা হইতে পারে, গােধর্মিক অন্বয়বুদ্ধির প্রতি গােধর্মিক বৃত্তিজ্ঞানত্ব পুরস্কারে (বৃত্তিজ্ঞান) কারণ হওয়ায় তাদৃশ (লক্ষণামূলে উপস্থাপিত) পদার্থের একদেশ যে গাে, তাহাতে চিত্র পদার্থের অন্বয় সম্ভাবিত নহে, কারণ ‘চিত্র জোহস্তি’ এই সকলস্থলে গােস্থানরূপ ব্ৰজপদার্থের একদেশ যে গাে তাহাতে চিত্রপদার্থের অন্বয় কোনমতেই স্বীকৃত না হওয়ায় পূর্বোক্ত ব্যুৎপত্তি স্বীকার করা আবশ্যক। এই আশঙ্কা কিন্তু ঠিক নহে, (কারণ) ‘ঘটশূন্য’, ‘চৈত্রনা ইত্যাদিস্থলে ভেদ সম্বন্ধে (যেরূপ একদেশান্বয় স্বীকৃত হয়) তদ্রুপ ‘চিত্রগু’ প্রভৃতি বহুব্রীহি সমাস স্থলেও পদার্থের একদেশধর্মিক অম্বয়বােধ ব্যুৎপত্তি বৈচিত্র্যের স্বীকৃতিমূলে সম্ভবপর হইবে। (কারণ) যাহা কিছু ব্যুৎপত্তি কল্পিত হয়, তাহা ফলের অনুরােধেই কল্পিত হইয়া থাকে। প্রাচীন সম্প্রদায়ও সুন্দর রাজপুরুষঃ ইত্যাদি। স্থলে অভেদসম্বন্ধে সুন্দর পদার্থের একদেশে রাজসম্বন্ধীর একদেশ যে রাজা তদ্ধৰ্মিক অন্বয়বােধ স্বীকার করিয়া থাকেন। বিবৃতি এই পর্যন্ত বৈয়াকরণ, মীমাংসক এবং মণিকারের মত খণ্ডন করিবার পর উপসংহারে স্বকীয় সিদ্ধান্ত ব্যবস্থিত করিবার জন্য তস্মাৎ ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, চিত্রগু' ইত্যাদি বহুব্রীহি সমাস স্থলে গােপদে যে নিরূঢ়লক্ষণ। স্বীকৃত হইৰে, উক্তলক্ষণ চিত্রাভিন্ন স্বকীয় গােসম্বন্ধিরূপ অর্থে নহে, পরস্তু স্বকীয় গােসম্বন্ধীমান্তে কল্পিত হইবে, উক্তলক্ষ্যার্থের একদেশ গো-পদে চিত্র। পদার্থের অভেদ সম্বন্ধে অন্বয় হইবে। উক্ত একদেশ অম্বুয়ের বিপক্ষে ‘চ’ ইত্যাদি সম্পর্ডের মাধ্যমে একটি আপত্তি উখাপন করিতেছেন। আপত্তির তাৎপর্য এই যে, চিত্ৰব্ৰজ' ইত্যাদিস্থলে গাে- আবাসস্থান-রূপ যে ব্ৰজ পদার্থ, তাহার একদেশে গো ব্যক্তিতে অভেদ সম্বন্ধে চিত্র- পদার্থের অন্বয় না হওয়ায় অবশ্যই গােধমিক পদার্থান্তরের অন্বয় বৃদ্ধির প্রতি গােধর্মিক শক্তি-লক্ষণান্যতর ব্যক্তিজ্ঞানত্ব পুরস্কারে উক্ত বৃতিজ্ঞানের কারণতা কল্পনা করিতে হইবে। সুতরাং ‘চিত্রগু' এই স্থলে গােধর্মিক বৃত্তিজ্ঞানরূপ কারণ না থাকায় গােপদের লাক্ষণিক অর্থের একদেশ যে গো, তাহাতে চিত্র পদার্থের আয় ৰীকৃত হইতে পারে না।

समासप्रकरणम् গ্রন্থকারের উক্ত আপত্তির উত্তরে ‘বটশন’ এখানে ‘’ এই পদ দ্বারা অত্যন্তাভাৰ বিশিষ্ট প্রতীয়মান হইবে। “চৈত্রপ্তা’ এখানে ‘ন' শব্দের দ্বারা দুহিতার পুত্র’ প্রতীয়মান হইয়া থাকে। সুতরাং পূর্বোক্ত কার্য কারণ ভাৰৰূপ ব্যুৎপত্তির বৈচিত্র্য স্বীকার কন্নিয়া ঘটশূন্য এখানে অত্যন্তভাষের আশ্রয়রূপ শূন্য পদার্থের একদেশে অত্যন্তভাবে ঘটপদার্থের প্রতিযােগিকত্ব’ সম্বন্ধে অন্বয় এবং চৈনপ্তা’ এখানে ন, পদার্থের একদেশ দুহিতাতে চৈত্ৰপদার্থের জন্য সম্বন্ধে এম্বয়বােধ সকলেই স্বীকার করিবেন, কারণ যেখানেই কার্যকারণভাৰাদিরূপ ব্যুৎপত্তি কল্পিত হইবে তাহা কিন্তু ফলানুরােধেই কল্পনা করিতে হইবে। এবং লবিশেষের অনুরােধে ব্যুৎপত্তির বৈচিত্র্য স্বীকার না করিয়া উপায় নেই। গ্রন্থকারের গুঢ় অভিপ্রায় এই যে, পদার্থ পদার্থেনৈবান্বেতি নতু পদার্থৈকদেশেন’ এইরূপ যে ব্যুৎপত্তি বা পূর্বোক্ত কার্যকারণভাব স্বীকৃত হয়, তাহার তৎপুরুষ এবং বহুব্রীহি সমাসস্থলে সংকোচ করিতে হইবে, অর্থাৎ তৎপুরুষ এবং বহুব্রীহি সমাসের অতিরিক্ত স্থলেই উক্ত ব্যুৎপত্তি বা কার্যকারণভাৰ স্বীকৃত হইবে। এখানে আশঙ্কা হইতে পারে, ভেদসম্বন্ধে পূর্ব প্রদর্শিত স্থলবিশেষে অন্বয়বােধ ব্যুৎপত্তিবৈচিত্র্য বশতঃ সম্ভবপর হইলেও ‘চিত্ৰগুঃ এই সকল বহুব্রীহি সমাসস্থলে গােপদের লাক্ষণিক অর্থের একদেশ যে গাে তাহাতে চিত্রাদার্থের অভেদ সম্বন্ধে অম্বয়বোধ কেহই স্বীকার করেন নাই। এই আশঙ্কায় সমাধান কল্পে গ্রন্থকার ‘প্রাচ্যৈরপি ইত্যাদি গ্রন্থে অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, প্রাচীন সম্প্রদায় নিপাততিরিক্ত নামার্থদ্বয়ের অভেদ সম্বন্ধে অন্বয়ের অনুরােধে ‘রাজপুরুষ’ এইস্থলে রাজপদের রাজ সম্বন্ধিরূপ অর্থে লক্ষণ। স্বীকার করিয়া থাকেন। উক্ত রাজপদার্থের একদেশ যে রাজা তাহাতে সুন্দরাদি পদার্থের অভেদসম্বন্ধেও একদেশধর্মিক পদার্থান্তর প্রকারক অন্বয়বােধ স্বীকার করিয়া থাকেন। অতএব বহুব্রীহি সমাসস্থলেও একদেশ যে গাে’ তাহাতে ‘চিত্র’ পদার্থের অভেদ সম্বন্ধে অয় স্বীকৃত হইবে। मूलम् यत्तु, गोपदं तत्र स्वकीयगोत्वेन सम्बन्धित्वेन च लचकमतश्चित्रस्य गोपदार्थ एव स्वकीये गवि, तस्य च सम्बन्धिन्यन्वयान्न पदार्थंक- देशान्वयित्वम् , एकपदार्थयोश्च मिथोऽन्वयः कृतिवर्तमानत्वयोरिव নানুষ হবি। বল, বখা বনি ‘ৰিয় কৰাঃ জাবি- मनोहर इत्यादौ तदादेः स्वकीयगवादिपरामर्शकत्वापत्तेः, पदार्थेकदेशस्यैव परामर्शकतायास्तदादावव्युत्पनत्वादिति । एवञ्च "भारूदवानरो वृष इत्या- शब्दशक्तिप्रकाशिका दावपि रूहधातुना स्वकर्मकारोहणकतु निरपदेन च वानरसम्बन्धिन उपस्थापनादमीपामाकासादिधोसाचिव्यादेव स्वकर्मकारोहणकामिन- वानरसम्बन्धित्वादिना वृकादेर्बोध इत्यास्तां विस्तरः । অনুবাদ কেহ যে বলেন, (চিত্রগু ইত্যাদিস্থলে) স্বকীয় গােত্বপুরস্কারে এবং সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে স্বকীয় গাে এবং সম্বন্ধিরূপ অর্থে গােপদটি লাক্ষণিক (স্বীকৃত হইবে)। অতএব, চিত্রপদার্থে স্বকীয় গােরূপ অর্থে এবং স্বকীয় গােরূপ অর্থটি সম্বন্ধিরূপ অর্থে অন্বিত হওয়ায় পদার্থের একদেশে (চিত্ৰাপদার্থের ) অন্বয় স্বীকার করিতে হইবে না। একই গােপদের দ্বিবিধ লক্ষ্যার্থ হইলেও ‘পচতি ইত্যাদি। স্থলে কৃতি এবং বর্তমানরূপ শক্যার্থান্বয়ের যেরূপ পরস্পর অন্বয় হইয়া থাকে, তদ্রুপ এখানেও স্বকীয় গাে এবং সম্বন্ধী এই লাক্ষণিক অর্থদ্বয়ের পরস্পর অন্বয় ব্যুৎপত্তি বিরুদ্ধ নহে। এই মতটিও সমীচীন নহে। যদি ঐরূপ দ্বিবিধ লাক্ষণিক অর্থ স্বীকৃত হয়, তাহা হইলে “চিত্রগােসম্বন্ধিপুরুষ তাহার গতি অতি মনোহর” এই সকল স্থলে ‘তস্যাঃ এই তৎপদের দ্বারা স্বকীয় গােপদের পরামর্শ (উপস্থিতি) হইতে পারে। কারণ তদাদি শব্দের কোন পদার্থের একদেশে উপস্থাপকত্বই ব্যুৎপত্তিবিরুদ্ধ ( স্বীকৃত হইয়া থাকে)। পূর্বোক্ত আলােচনার ফলে ‘আরূঢ় বানরাে বৃক্ষঃ এই সকল স্থলেও ‘রূহ’ ধাতুর দ্বারা স্বগত কর্মতার নিরূপক আরােহণরূপ অর্থের, ‘ক্ত’ প্রত্যয়ের দ্বারা কর্তৃরূপ অর্থের, বানর পদের দ্বারা বানর সম্বন্ধিরূপ অর্থের উপস্থিতি হওয়ায় আকাঙক্ষাদি জ্ঞানসহকারে উক্ত বহুব্রীহি সমাস হইতে স্বকীয় কর্মতার নিরূপক আরােহণ কর্তা হইতে অভিন্ন যে বানর তৎসম্বন্ধি পুরস্কারে বৃক্ষাদির বােধ ( উৎপন্ন হইবে । বিবৃতি কোন শাব্দিক সম্প্রদায় পদবিশেষে যেরূণ বিভিন্ন অর্থের খণ্ড শক্তি স্বীকার করিয়া শাবােধবিশেষের উপপাদন করেন, চিত্ৰ:' ইত্যাদি সমাসস্থলেও একদেশাত্ময় স্বীকার করিয়া একই গাে পদের স্বকীয় গো-রূপ অর্থে এবং সম্বন্ধিরূপ অর্থে বিবিধ লাক্ষণিক অর্থ অঙ্গীকার করিয়া ‘চিত্ৰ: এই বহুব্রীহি সমাসস্থলে চিত্রাভিন্ন যকীয় ‘গো সম্বন্ধী পুরুষ’ এইরূপ অন্বয়বােধের উপপত্তি করেন। তন্তু ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে গ্রন্থকার समासप्रकरणम् ৭৬ উক্ত মত উত্থাপন করিতেছেন। আপত্তি হইতে পারে, একটি গােপদের দ্বারা যদি যকীয় গাে এবং সম্বন্ধিরূপ দুইটি লাক্ষণিক অর্থ স্বীকৃত হয়, তাহা হইলে একপদ প্রতিপাদ্য উক্ত অর্থদ্বয়ে বিশেষ বিশেষণ তাৰে অৱয়বােধ কি করিয়া উপপন্ন হইবে? এই আপত্তির উত্তরে গ্রন্থকার ‘একপদার্থয়েশ্চ’ ইত্যাদি গ্রন্থের দ্বারা উক্ত বােধের উপপত্তি করিতেছেন। ‘মিথ' এই শব্দটি পরস্পর রূণ অর্থের বােধক। কৃতি বর্তমানয়ােরিব’ এই শব্দটির তাৎপর্য এই যে ‘পচতি’ ‘গচ্ছতি ইত্যাদিস্থলে যেরূপ একই আখ্যাতিক ‘তি, প্রত্যয়ের আকাক্ষাদি জ্ঞান সহকারে কৃতি এবং বর্তমানত্বৰূপ শক্যাথদ্বয়ের পরস্পর অন্বয়বােধ হইয়া থাকে, তদ্রুপ চিত্ৰগু' এই স্থলেও গােণদের একটি লক্ষ্যার্থ যে স্বকীয় গো তাহার অপরলক্ষ্যার্থ যে সম্বন্ধী তাহাতে অম্বয়বােধক্রমে স্বকীয় চিত্রাভিন্ন গােসম্বন্ধী পুরুষ বিষয়ক অন্বয়বােধের উপপত্তি হইবে। গ্রন্থকার বলিতেছেন, এই মতটি সমীচীন নহে। কেন সমীচীন নহে, তাহা ‘তথা সতি’ ইত্যাদি সম্পর্ভের দ্বারা বিবৃত করিতেছেন। গ্রন্থকারের বক্তব্য এই যে, “চিত্রগুঃ পুরুষতস্যাঃ সঞ্চারােইতিমনোহরঃ এইলে গােপদের খণ্ডশ লক্ষণস্বীকৃতি খুলে যদি গােপদের দ্বারা স্বকীয় গাে এবং সম্বন্ধী স্বতন্ত্রভাবে উপস্থাপিত হয়, তাহা হইলে যকীয় গােরূপ অর্থটি পদার্থই হইবে, পদার্থের একদেশ নহে। সুতরাং অগ্রিম ‘তস্যাঃ' এবং ‘চ’ পদের দ্বারা স্বকীয় গােরূপ অর্থের উপস্থিতি অবশ্যই স্বীকার করিতে হয়। বাস্তবিক পক্ষে উক্ত তৎপদের দ্বারা স্বকীয় গােপদার্থের পরামর্শ কাহারও সম্মত নহে, সুতরাং স্বকীয় গােপদার্থটি পদার্থের একদেশ হওয়া নিবন্ধনই উক্ত গােরূপ অর্থ অগ্রিম তৎপদের দ্বারা উপস্থাপিত হয় না। অতএব পূর্বে যে গ্রন্থকার গােপদের স্বকীয় গােসম্বন্ধীতে নিরূঢ় লক্ষণ অঙ্গীকার করিয়া চিত্রাভিন্ন স্বকীয় গােসম্বন্ধি পুরুষাদি বিষয়ক অন্বয়বােধের উপপত্তি করিয়াছেন ইহাই যুক্তিযুক্ত। এখন আশঙ্কা হইতে পারে আরূঢ়ো বানরবৃক্ষঃ এখানে আরূঢ়শব্দটি বাক্য হওয়ায় তাহার লক্ষণ কল্পিত হইতে পারেন এবং বানর পদটির বানর সম্বন্ধীতে লক্ষণ। স্বীকৃত হইলে বানরপদ ‘স্ব’ এই অংশের জ্ঞাপক না হওয়ায় উক্ত বহুব্রীহি সমাসে কি করিয়া লক্ষণ সমন্বয় হইবে? এই আশঙ্কার সমাধান কল্পে গ্রন্থকার আকৃঢ় বানর’ ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, আরূঢ়া বানবৃক্ষ' এই সমাসের অন্তর্গত আরূঢ় শব্দটি বাক্য হওয়ায় উক্ত শব্দের নিরূঢ় লক্ষণা স্বীকৃত না হইলেও বানর ১। জগদীশ তর্কালঙ্কার “চিত্রগু: পুরুষস্তস্যাঃ সঞ্চায়ােহতি মনােহর” ইত্যাদি শ্লোকে ‘তা' এই তৎপদের দ্বারা গােসম্বন্ধির একদেশ যে গো, তাহার উপস্থিতি হয় না। বলিয়াছেন। ইহা কি করিয়া সঙ্গত বলা যায়—কারণ, সাংখ্যকারিকায় ঈশ্বরকৃষ্ণ বলিয়াছেন—“দুঃখয়াতিঘাতা জিজ্ঞাসা তদবঘাতকে হেতো” ইত্যাদি কারিকায় ‘তদবঘাতকে হেতে’ এখানে অগ্রিম তৎপদের দ্বারা দুঃখয়াভিঘাতের একদেশ যে দুঃখ অয়, তাহার পরামর্শ করা হইয়াছে। সুতরাং জগদীশ যে তদাদি পদের একদেশ পরামর্শকতা অস্বীকার করিয়া য’ মত খণ্ডন করিয়াছেন ইহা কি করিয়া সঙ্গত হইৰে- বীগণের বিচার্য।

शब्दशक्तिप्रकाशिका শব্দের যেরূপ বানর সম্বন্ধে লক্ষণ। স্বীকৃত হইবে, তদ্রুপ ‘আরূঢ় শব্দের একদেশ ‘রূহ ধাতু স্বগত কর্মতার নিরূপক আয়ােণরূপ অর্থে এবং নিরূঢ়লক্ষণ। স্বীকৃত হওয়ায় উক্ত ‘রূহ’ ধাতুটি তাদৃশ অর্থের বােধক হইবে। সুতরাং স্ব’ এই অংশের জ্ঞাপক রূহ ধাতু ঘটিত হওয়ার ফলে বহুব্রীহি সমাসের লক্ষণীয় সমন্বয় হইবে। যদি ও আঙ,পূর্বক রূহ ধাতুর দ্বারা স্বকর্মক আরােহণরূপ অর্থের ‘ক’ প্রত্যয়ের দ্বারা কর্তৃরূপ অর্থের এবং বানর পদের দ্বারা বানর সম্বন্ধরূপ অর্থের উপস্থিতি হইয়াছে, তাহা হইলে ও আকাঙ্ক্ষাদি জ্ঞানসহকারে উক্ত বহুব্রীহি সমাস হইতে স্বগত কর্মতর নিরূপক যে আরােহণ, তদনুকুল ‘কৃতিমদভিন্ন বানরসম্বন্ধিক্ষঃ এইরূপ শব্দবােধের উপপত্তি হইবে । ৪৩ | r मूलम् न चारूढ़ो वानरो यम्य वृक्षमित्यादि विग्रहादारूढ़वानर पदं स्वकीय- वृत्तारूढ़वानर सम्बन्धित्वेन ग्रामादिकं बोधयदपि बहुव्रीहिः स्यादतस्ताह- वाक्यस्य विग्रहत्वं खण्डयन्नाह- अस्य के प्रथमान्तं सत् सुवन्तेरितरैः सह । यदा भेदसुवन्तेन साकाङ्क्ष नाम विग्रहः ॥ ४४ ॥ . অনুবাদ প্রশ্ন হইতে পারে, আরূঢ়ো বানরো যস্য বৃক্ষ এইরূপ বিগ্রহবাক্য হইতে ‘আরূঢ় বানর’ পদটি স্বকীয় বৃক্ষগত কর্মতা নিরূপক আবহণ কর্তৃ যে বানর তৎ সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে গ্রামাদির বােধক হওয়ায় বহুব্রীহি সমাস হইবে না কেন? – এই প্রশ্নের উত্তরে তাদৃশবাক্যের বিগ্রহত্ব খণ্ডন করিবার জন্য “অকৈং প্রথমাং” ইত্যাদি কারিকাটি বলা হইয়াছে---সুবন্ত ইতর পদসমূহের সহিত সাকা একটি নাম, ইহার ( অর্থাৎ বিগ্রহবাক্যের ) প্রথম বিভক্ত্যন্ত হইলে এবং ভেদ সম্বন্ধেই (অম্বয়বোধের উপযােগী) সুবন্ত ‘যৎ' শব্দের সহিত সাকাক্ষ হইবে। তাদৃশবাক্যই বহুব্রীহিসমাসস্থলে বিগ্রহবাক্য হইবে। বিবৃতি আরূঢ়ে। বানরো যম্' ইত্যাদি অর্থে আরূঢ়বানবৃক্ষ' ইত্যাদি বহুব্রীহি সমাসের উপপত্তি করিবার পর আরূঢ় বানরাে যস্য বৃক্ষ ইত্যাদি বিগ্রহবাক্য ইহতে আরূঢ় বানরো গ্রামঃ' এইরূপ বহুব্রীহিমাস স্বীকৃত হইবেনা কেন? অর্থাৎ আরূঢ় বানরো समासप्रकरणम् ৭ ষষ্ণ বৃক্ষ এইরূপ বিগ্রহবাক্য স্বীকৃত হইলেও ‘আরূঢ়বানর এই সমস্ত পদটি স্বকীয় বৃক্ষগত কর্মতর নিরূপক আরােহণ কর্তৃবানরসন্ধিত্ব পুরস্কারে গ্রামাদিরূপ অন্যপদার্থের বােধক হইয়াছে। সুতরাং উক্ত বিগ্রহবাক্যটি স্বগতি সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে গ্রামাদিরূপ অন্যপদার্থের বােধজনক এবং স্বাংশবোধক শব্দের দ্বারা ঘটিত হইয়াছে। অতএব উহা বিগ্রহবাক্য অনুসারে ‘আরূঢ়বানর এইরূপ বহুব্রীহি সমাস স্বীকৃত হইবেনা কেন-ইহাই জিজ্ঞাস্য। এই জিজ্ঞাসার সমাধান কল্পে ‘অখৈকং' ইত্যাদি ৪৪ সংখ্যক কারিকাটির অবতারণা করিতেছেন। ‘আৰূঢ়োবানয়ে। যস্য এই ‘যৎ' পদোত্তর ষষ্ঠী বিভক্তির বৃত্তিত্বরূপ অর্থ গৃহীত হইবে। ‘বৃক্ষ এই দ্বিতীয়া বিভক্তি ও পূর্বের ন্যায় কর্ম ত্বরূপ অর্থ বোধক। উক্ত কর্মতা নিরূপকত্ব সম্বন্ধে আরােহণ ক্রিয়াতে অন্বিত হইবে। আঙ, পূর্বক রূহ ধাতুর অর্থ উর্বদেশ সংযােগানুকুল ব্যাপার। উক্ত ধাত্বৰ্থ আরােহণ অনুকুলত্ব সম্বন্ধে ‘ক্ত পদার্থের একদেশ কৃতিতে অন্বিত হইবে। স্ব’ পদের দ্বারা বিগ্রহবাক্যের অন্তর্গত ‘যৎ পদার্থ গৃহীত হইবে। ইহা ফলে, উক্ত বাকা হইতে “ (গ্রাম) বৃত্তি বৃক্ষগত কর্মতা নিরূপক আরােহণানুকুল কৃতিমদভিন্ন বানর সম্বন্ধিগ্রামঃ” এইরূপ অন্বয়বােধ হইবে। উক্ত বিগ্রহবাক্যার্থের অনুরূপ অর্থের বােদক আরূঢ়বানর' এই বহুব্রীহি সমাসের আপত্তি বারণ করিবার জন্য গ্রন্থকার ‘অকৈং প্রথমান্তং সৎ' ইত্যাদি কারিকাটি উপস্থাপিত করিয়াছেন। কারিকাটির তাৎপর্য এই যে-বহুব্রীহি সমাসের বিগ্রহবাক্যের অন্তর্গত একটি পদকে প্রথমাবিভক্ত্যন্ত হইতে হইবে এবং সুবন্ত অন্যান্য পদসমুহের সহিত ভেদসম্বন্ধে অন্বয়বােধের উপযােগী দ্বিতীয়াদি বিভক্ত্যন্ত যৎ পদের সহিত সাকা হইতে হইবে। বহুব্রীহি স্থলেই এইরূপ বাক্য বিগ্রহ বাক্য অন্যথা নহে। শঙ্কিত বাক্যে কিন্তু উক্ত বাক্যের অন্তর্গত ভেদস্যবন্ত যৎ পদার্থটি ইতর পদার্থের সহিত প্রথমান্ত পদার্থে সাকা হয় না, পরন্তু উক্ত যং পদার্থটি দ্বিতীয় বৃক্ষ পদার্থের সহিতই অন্বিত হওয়ায় উক্ত বাক্যে বিগ্রহবাক্যের লক্ষণ সমন্বয় হইবে না। ইহা অগ্রিম বিবরণ গ্রন্থে গ্রন্থকার ব্যাখ্যা করিবেন। मूलम् अस्य बहुव्रीहेर्घटकमेकं नाम प्रथमान्तं सत् सुवन्तरितरनामभिः सह भेदार्थकसुवन्तयच्छब्देन साकाङ्क्ष विग्रहः कथ्यते । न चोकवाक्ये तथा, सुवन्तस्यापि यदस्तत्र वृक्षपदेनैव साकाहत्वात् । श्रारूदो वानरो य इत्यादौ तु यच्छन्दो न भेदार्थकसुवन्त इति न तादृशस्यापि वाक्यस्यार्थ बहुवोहिः। पतितस्य धनं यस्य, दण्डाद् घटो यस्मादित्यादिकस्तु, ৭০ মনিসকাধিক समानार्थकसुवद्वयीमन्तर्भाव्य न विग्रहः, सम्प्रदायविरोधात् । एवं घटेन पटो यत्रेत्यादिकः सहाद्यर्थमन्तर्भाव्यापि सुवन्तरिति तु सम्भवाभि- प्रायम् , तेन 'अघटो देश' इत्यादि बहुव्रीहेर्न घटो यत्रेत्यादिविग्रहेण नादेः सुबन्तत्वाभावेऽपि नाव्याप्तिः। 'सपुत्र' इत्यादौ तु सह पुत्रो येनेत्यादिरेव विग्रहो, न तु पुत्रेण सहेत्यादिरन्यपदार्थाप्राप्तेः। 'सघटो देश" इत्यादौ च सह घटो येनेत्यादिविग्रहे सहार्थो वैशिष्ट्य, न तु सामानाधिकरण्यम् , घटे देशस्य तद्वाधात् । 'जीवत्पितृक' इत्यादेस्तु जीवन् पिता यस्य इति विग्रहो यस्य च पिता जीवनित्येवं जोवद्विधेयकान्वये निराकासोऽपि जीवदभिन्नः पिता यदोय इत्यन्वय एव साकासः । } অনুবাদ এই বহুব্রীহির অন্তর্গত একটি নাম প্রথমান্ত হইয়া সুলন্ত ইতর নামের সহিত ভেদার্থক সুবন্ত অন্যান্য নামের সহিত ভেদাথক সুবন্ত, যৎ শব্দের সহিত সাকা হইলে তাদৃশ বাক্যকেই বিগ্রহবাক্য বলা হইবে। আরূঢ় বানরে যস্য বৃক্ষ এই সকল বাক্যে কিন্তু ভেদ সুবন্ত যৎ শব্দটি বানর পদটির সহিত সাকাক্ষ নহে, পরন্তু বৃক্ষ পদের সহিতই সাকা হইয়াছে। আরূঢ়ো বানরে যঃ' ইত্যাদি বাক্যে কিন্তু যৎ শব্দটি ভেদাৰ্থক সুবন্ত নহে। সুতরাং তাদৃশ বাক্যার্থে ‘আরূঢ় বানর” ইত্যাদি বহুব্রীহি সমাস হইবে না। পতিতস্য ধনং যস্য, যস্মাৎ ইত্যাদি বাক্যে কিন্তু সমার্থক সুপবিভক্তিদ্বয় অনুভূত হওয়ায় ঐ সকল বাক্য বহুব্রীহি সমাসস্থলীয় বিগ্রহবাক্য হইবে না, কারণ ঐ সকল বাক্যস্থলে বহুব্রীহি সমাস সম্প্রদায় বিরুদ্ধ এবং ‘ঘটেন পটো যত্র’ এই সকল সহাৰ্থক তৃতীয়া বিভক্তিকে অন্তর্ভাব করিয়াও বিগ্রহবাক্য হইবে না। ইতর সুবন্ত পদের সহিত যে আকাঙ্ক্ষার কথা বলা হইয়াছে যেখানে সুবন্ত পদসমূহের সহিত সাকা সম্ভবপর তৎ তৎ স্থলের অভিপ্রায়েই ঐরূপ বলা হইয়াছে। পরন্তু সার্বত্রিক নহে। ইহার ফলে ‘অঘটো দেশঃ এই সকল বহুব্রীহি স্থলে ‘ন ঘটে। যত্র ইত্যাদি বিগ্রহবাক্য স্থলে নঞ, প্রভৃতি সুবন্ত না হইলেও উক্ত বাক্যে বিগ্রহ বাক্য লক্ষণের অব্যাপ্তি হইবে না। সপুত্র ইত্যাদিস্থলেও ‘সহ পুত্রো যেন’, এইরূপ বিগ্রহ বাক্য হইবে, পরন্তু পুত্রেণ সহ ইত্যাদি নহে। ঐরূপ समासप्रकरणम् ৭৭ স্বীকৃত হইলে অন্য পদার্থের প্রাপ্তি সম্ভবপর নহে। সঘটে। দেশ’ ইত্যাদি বহুব্রীহিস্থলে ‘সহ ঘটো যেন' এইরূপ বিগ্রহবাক্যে সহপদটি বৈশিষ্ট্যরূপ অর্থের বােধক হইবে, পরন্তু সামানাধিকরণ্যরূপ নহে, কারণ ঘটের সহিত দেশের সামানাধিকরণ্য বাধিত। জীবৎ পিতৃক’ ইত্যাদি স্থলে কিন্তু জীব পিতা যস্য’ এইরূপ বিগ্রহবাক্য যস্য চ পিতা জীবন এই প্রকার ‘জীববিধেয়ক’ অন্বয়ে নিরাকাক্ষ হইলেও ‘জীবভিন্ন পিতা যদীয়' এইরূপ অন্বয়বােধে সাকা হইবে। বিবৃতি ‘অস্য বহুব্রীজেরিত্যাদি সম্পর্ভের দ্বারা “অসৈকং প্রথমাং সৎ” ইত্যাদি কারিকার বিবরণ প্রদর্শন করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, বহুব্রীহি সমাসলে আরূঢ় বানরো যস্য বৃক্ষ এই সকল বাক্যের বিগ্রহত্ব ব্যাবৃত্ত করিবার জন্য গ্রন্থকার বলেন, বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্গত একটি নাম প্রথমান্ত হইতে হইবে এবং উক্ত সমাসের অন্তর্গত অপরাপর নাম সমূহের সহিত বর্তমান যে তেদাৰ্থক ‘বন্ধু’ ‘যৎ’ পদ, তাহার সহিত সাকা হইবে, উক্ত বাক্যেরই বিগ্রহত্ব স্বীকৃত হইবে। সুতরাং আরূঢ়ো বানরো যস্য বৃক্ষ এইস্থলে গ্রামবোধক সুৰন্ত যৎপদার্থের বৃক্ষপদার্থে অম্বিত হওয়ায় দ্বিতীয় বৃক্ষণদটিই উক্ত সুবন্ত যৎপদের সহিত সাকা হওয়ায় উক্ত বিগ্রহবাক্য অনুসারে বহুব্রীহি সমাস হইবে না। ‘আরূঢ়ো বানরো যা এইরূপ সুপ, প্রত্যয়ান্ত যৎ পদঘটিত বাক্যও বহুব্রীহি সমাসের বিগ্রহবাক্য হইবে না, কারণ উক্ত বাক্যের অন্তর্গত যৎ পদটি প্রথমান্ত হওয়ায় ভেদার্থক সুবন্ত নহে। অতএব উক্ত বাক্য বিগ্রহবাক্য হইতে পারিবে না। তাদৃশ বাক্যার্থে বব্রীহি সমাসও সম্ভবপর নহে। এখন প্রশ্ন হইতে পারে, ‘পতিত ধনং য’ এবং ‘দাদ ঘটে। যস্মাৎ এই সকল বাক্যের অন্তর্গত প্রথমান্ত ধনপদ এবং ঘটপদ যথাক্রমে ‘য এবং যাৎ' এই ভেদার্থক সুবন্ত পদের সহিত সাকা হওয়া সত্ত্বেও উক্ত বাক্যার্থে বহুব্রীহি সমাস হইবে না কেন? এই প্রশ্নের সমাধানকল্পে গ্রন্থকার বলিতেছেন সমার্থক সুপ, বিভক্তিদ্বয়কে অন্তর্ভাৰ করিয়া বহুব্রীহি সমাসের বিগ্রহবাক্য হইবে না। কেন হইবে না। ইহার উত্তরে বলিতেছেন সম্প্রদায় বিয়ে। গ্রন্থকারের অভিপ্রায় এই যে, কোন সম্প্রদায় সমার্থক সুপ, প্রত্যয়ান্ত পদদ্বয়ঘটিত বহুব্রীহিসমাসের বিগ্রহবাক্য যেহেতু স্বীকার করেন না, অতএব ‘অকৈং প্রথমান্ত এই কারিকোক্ত বিগ্রহবাক্যের লক্ষণে ‘প্রথমান্য সমানা- থক সুৰন্ত পদদ্বয়াঘটিতত্বে সতি’ এইরূপ নিবেশ করিয়া পূর্বোক্ত বাক্যদয়ে উক্ত লক্ষণের অতিব্যাপ্তি বারণ করা হইবে। গ্রন্থকার আরও বলিতেছেন, সহর্ধক তৃতীয় বিভক্ত্যন্ত পদঘটিত ঘটেন পটো যন্ত্র ইত্যাদি বাক্যেও বহুব্রীহি সমাসের বিগ্ৰহৰাক্য স্বীকৃত হইবে না। এখানেও পূর্বের ন্যায় ৭ शम्दशक्तिप्रकाशिका সম্প্রদায় বিরােধই যুক্তিরূপে গৃহীত হইবে। এখন আশঙ্কা হইতে পারে, বহুব্রীহি সমাসের বি গ্রহলক্ষণের যে সুবন্তৈরিতরৈ: সহ’ বলা হইয়াছে, ইহা কিরূণে সঙ্গত হইবে। কেননা, অঘটে। দেশ:' ইত্যাদি বহুব্রীহি সমাসস্থলে ‘ন ঘটে। যত্ৰ' ইত্যাদি বিগ্রহবাক্য সর্বদি সম্মত অথচ উক্ত বিগ্রহবাক্যের অন্তর্গত ‘ন' নিপাতটি নাম নহে বলিয়া সুবন্ত হইতে পারে না। সুতরাং উক্ত বাক্যে বিগ্রহ লক্ষণের অব্যাপ্তি হইবে। এই আশঙ্কার সমাধানকল্পে গ্রন্থকার বলিতেছেন ‘সুবশুৈরিতি তু সম্ভব।ভিপ্রায়। যেখানে ইতর নাম সমূহের সহিত প্রথমান্ত নামটি সাকাক্ষ হইবে, তাদৃশ বাক্যস্থলেই ইতর নাম সমূহের সুপ, বিভক্ত্যস্ত হওয়া প্রয়ােজন। অভ্র নহে। সপুত্র ইত্যাদি বহুব্রীহিসমাসস্থলে কিরূপ বিগ্রহবাক্য হইবে তাহা দেখাইবার জন্য বলিতেছেন ‘সহ পুত্রো যেন ইত্যাদিরেব। এই ‘এ’ কারের দ্বারা পুত্ৰেণ সহ ইত্যাদি বাক্য ব্যাবৃত্ত হইযাছে। পুত্ৰেণ সহ ইত্যাদি বিগ্রহবাক্য স্বীকৃত হইলে দোষ প্রদর্শন করিবার জন্য বলিতেছেন ‘অন্য পদার্থপ্রাপ্তেঃ' অর্থাৎ ‘পুত্র’ এখানে ‘সহপুত্রো যেন এইরূপ বিগ্রহবাক্য স্বীকার না করিয়া যদি পুত্ৰেণ সহ এইরূপ বিগ্রহবাক্য স্বীকৃত হয়, তাহা হইলে বিগ্রহবাক্যের অন্তর্গত সুৰন্ত যৎ পদটি এখানে নিরাকা হইবে, ফলে অন্য পদার্থ অজ্ঞাত হওয়ায় উক্তবাক্য বিগ্রহবাক্যরূপে গণ্য হইতে পারে না। সহপুত্রো যেন এই বিগ্রহবাক্যের অন্তর্গত ‘স' শব্দের দ্বারা একক্রিয়ান্বয়িত্বৰূপ সাহিত্যের বােধক হওয়ায় পুত্র কর্তৃক সমান জাতীয় ক্রিয়ার সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে পিতার বােধ হইবে । একক্রিয়ায়িত্বরূপ সমানাধিকরণ্যার্থক সহ’ পদ ঘটিত বিগ্রহবাক্যে লক্ষণ সমন্বয় করিয়া সমানাধিকণ্যাতি(ক্তার্থক ‘সহ’ পদঘটিত বিগ্রহবাক্যে লক্ষণ সমন্বয় করিবার জন্য ‘সঘটে। দেশ’ ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে ‘সঘটে। দেশ’ এই বহুব্রীহি সমাসলীয় ‘সহ ঘটে। যেন এই বিগ্রহ বাক্যের অন্তর্গত সহ’ শব্দের অর্থ ভূতলাদি প্রদেশে ঘটের সংযোেগরূপ বৈশিষ্ট্য মাত্র স্বীকার করিতে হইবে। পূর্বের ন্যায় সমানাধিকারণ্যমাত্ৰ ‘সহ’ শব্দের অর্থস্বীকৃত হইলে অপদার্থ যে দেশ তাহাতে ঘটপদার্থের একাধিকরণ বৃত্তিত্বরূপ সমানাধিকরণ্য বাধিত হওয়ায় তাদৃশার্থ গৃহীত হইতে পারে না। এই অভিপ্রায়ে গ্রন্থকার বলিয়াছেন, ‘ঘটে দেশস্য তদ্ধাৎ। এখন আশঙ্কা হইতে পারে, প্রথম বিভক্ত্যন্ত পদের দ্বার উপস্থাপিত পদার্থবিশেষ্যক শতৃ প্রত্যয়ান্ত পদার্থবিধেয়ক অন্বয় বােধ অঙ্গীকৃত না হওয়ার ফলে ‘জীবৎ পিতৃক ইত্যদি বহুব্রীহি সমাস স্থলীয় জীব পিতা যস্য’ এইরূপ বিগ্রহবাক্য কেমন করিয়া সম্ভবপর হইবে? এই আশঙ্কার সমাধানকল্পে গ্রন্থকার বলিতেছেন, জীব পিত। য’ এইরূপ বিগ্রহবাক্যের অন্তর্গত শতৃপ্রত্যয়ান্ত ‘জীবৎ’ পদার্থটি উদ্দেশ্যতার অবচ্ছেদকরূণে নির্দিষ্ট হওয়ায় উদেশীভূত পিতার অংশে জীবৎ বিধেয়ক অন্বয়বােধের প্রতি নিরাকা হইলেও ‘জীবভিন্ন পিতা যদীয় এইরূপ ‘জীবৎ' পদার্থটি উদ্দেশ্যতাবছেদক হওয়ায় এৰয়বােধের প্রতি নিরাকা হইবে না।

समासप्रकरणम् १४३ मूलम् इदन्तु बोध्यम्-यत्र विग्रहवाक्ये सुवन्तयदः क्रियासाकाङ्गत्व- सम्मवस्तत्र तदर्थान्वितक्रियागर्भित एवार्थे विना वाधकं बहुव्रीहिव्युत्पन्नः, तेन गन्तव्यो ग्रामो यस्येति विग्रहे गन्तव्यग्रामचैत्र इत्यादितः स्वकतक- गतिकर्मग्राम सम्बन्धित्वेनैव चत्रादेरौतसर्गिको बोधः ; कदाचित्त- तात्पर्यादिवशाद्गन्तव्याभिन्नस्वकीय ग्रामसम्बन्धित्वेन । यत्र तु यदस्तु साकाङ्गत्वासम्भवस्तत्र विशेषविध्यसत्त्वे यन्नामार्थमुख्य विशेष्यको विग्रह- वाक्यादिबोधः सुवन्तयदर्थान्विततन्नामार्थगर्भित एवार्थ, अतएव धनी दासो यस्येत्यर्थ यदोयधनवान् दासस्तस्य 'धनिदासकोऽयमित्यादितो नावगमः, किन्तु धनवत्स्वदास सम्बन्धिन एव ! चन्द्रश्चूड़ायां यस्येत्यादिकन्तु विग्रहो न यदीयश्चन्द्रश्चूड़ायामिन्यर्थकः, किन्तु यदीयचूड़ायां चन्द्र इत्यर्थकस्तादृशार्थ एव सप्तम्यन्तेनेन्द्वादेविशेषतो बहुव्रीहिविधानात् , तेन 'चन्द्रचूड़ः शिव' इत्यादौ स्वचूड़ावृत्तिचन्द्रसम्बन्धित्वेन तस्य गगनादेर्वा बोधः। ससम्बन्धिकपदार्थस्य विशेषणत्वस्थले तु सुवन्तयदान्वितेन तादृशपदस्यार्थेन गर्भितेऽपि, अतएव “चैत्रः पुत्रकृतोत्कर्ष" इत्यादौ स्वपुत्र- कृतोत्कर्षवानेव चैत्रादिः प्रतीयते, न तु अन्यदीयपुत्रकृतोत्कर्षाश्रयः ॥ অনুবাদ এখন বিবেচ্য এই যে, যে বিগ্রহবাক্যে সুবন্ত ‘যৎ' পদটি ক্রিয়া সাকা সম্ভব হইবে, সেই বিগ্রহবাক্য স্থলে কোনরূপ বাধক না থাকিলে তাদৃশ যৎ পদার্থম্বিত ক্রিয়াগর্ভিত বাক্যার্থের বহুব্রীহিসমাস বুৎপত্তিসিদ্ধ হইবে। তাহার ফলে ‘গন্তব্যে গ্রামে য’ এই বিগ্রহস্থলে ‘গন্তব্য গ্ৰামশ্চৈত্র ইত্যাদি বহুব্রীহি সমাস হইতে সকর্তৃক গতি ক্রিয়া কর্মবিশিষ্ট যে গ্রাম তৎসম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে চৈত্ৰাদিগােচর সামান্যতঃ বােধ হইবে। আবার কোন সময়ে তাৎপর্য বিশেষ থাকিলে গন্তব্যাভিন্ন যে স্বকীয় গ্রাম তৎ সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারেও (চৈত্ৰাদিগােচর) ৭ शब्दशक्तिप्रकाशिका বােধ হইবে। আবার যেখানে মুবন্ত যৎ পদটি ক্রিয়া সাকাক্ষ নহে সেখানে কিন্তু বিশেষ বিধি না থাকার ফলে বিগ্রহবাক্য হইতে যে নামার্থ লক্ষ্য বিশেষ্যক বােধ ( উৎপন্ন হইবে ) সুবন্ত যৎ পদার্থের সহিত অম্বিত সেই নামার্থগর্ভিত বিগ্রহবাক্যের অর্থেই (বহুব্রীহি সমাস হইবে)। কিন্তু, ধনবিশিষ্ট স্বকীয় দাসসম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে সম্বন্ধি বিষয়ক বােধই ( উৎপন্ন হইবে)। চন্দ্ৰশ্চডায়াং যস্য ইত্যাদি বিগ্রহবাক্য কিন্তু যদীয় চন্দ্রচূড়াবৃত্তি এইরূপ অর্থের বােধ হইবে না, পরন্তু যদীয় চূড়াবৃত্তিচন্দ্রঃ এইরূপ অর্থেরই বােধক হইবে এবং তাদৃশ অর্থেই সপ্তমীবিভক্ত্যন্তের সহিত চন্দ্র প্রভৃতির বহুব্রীহি সমাস বিহিত থাকায় ‘চন্দ্রচূড় শিবঃ' ইত্যাদি বহুব্রীহি সমাস স্থলে স্বকীয় চূড়াবৃত্তি চন্দ্র সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে শিববিষয়ক বােধ হইবে । পরন্তু চূড়াবৃত্তি স্বকীয় চন্দ্র সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে শিবের অথবা গগনাদির বােধ হইবে । (আবার) যেখানে সম্বন্ধিক পদার্থ যৎ পদার্থাংশে বিশেষণরূপে প্রতীয়মান হইবে, সেই স্থলে সুবন্ত যৎপদার্থান্বিত তাদৃশ (সসম্বন্ধিক) পদার্থের দ্বারা গর্ভিত অর্থেই বহুব্রীহি সমাস হইবে । অতএব, “চৈত্রঃ পুত্ৰকৃতােকষঃ” এই সকল স্থলে স্বকীয় পুত্ৰকৃত উৎকর্ষ সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে চৈত্ৰাদিগােচর প্রতীতি হইয়া থাকে। কিন্তু অন্যদীয় পুত্ৰকৃতাৎকৰ্ষ সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে চৈত্রাদিগােচর অন্বয়বােধ হইবে না। বিবৃতি ‘গন্তব্যগ্ৰামশৈত্র: এই বহুব্রীহিস্থলীয় বিগ্রহবাক্যের অন্তর্গত সুবন্ত যৎপদটির সহিত গত্যৰ্থক গমধাতুর আকাঙ্ক্ষা থাকিলে উক্ত বহুব্রীহি সমাস হইতে কিরূপ শব্দবােধ হইবে; —আবার কোনরূপ বাধকবশতঃ যদি উক্ত গতিক্রিয়াবােধক পদের সহিত বিগ্রহবাক্য না হয় তাহা হইলেই বা উক্ত বহুব্রীহি সমাস হইতে কিরূপ শব্দবােধ হইবে—ইহা প্রতিপাদন করিবার জন্য ‘ইদ চিন্ত্যতে' ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। বিনা বাধক অর্থাৎ বাধক না থাকিলে এই অংশের সার্থকতা প্রদর্শন করিবার জন্য কদাচিন্তু —ইত্যাদি সম্পর্ভের উল্লেখ করিতেছেন। গ্রন্থকারের বক্তব্য এই যে, সুবন্ত যৎপদটি যদি ‘এবং প্রত্যয়ান্ত গতিক্রিয়ার্থক গমধাতুর সহিত সাকা না হয়, তাহা হইলে তাৎপর্য- জ্ঞানাদি হইতে অভেদ সম্বন্ধে গন্তব্য পদার্থটি গ্রাম পদার্থে অম্বিত হইয়া স্বকীয় তাদৃশ গ্রামসম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে ‘গন্তব্যগ্ৰামশ্চৈত্ৰ:' ইত্যাদি বহুব্রীহি সমাস হইতে বােধ হইবে। আবার যেখানে যৎপদার্থটি কোন ক্রিয়া সাকা হইবেন তাদৃশ স্থলে কোনরূপ বিশেষ বিধি যদি না থাকে, তাহা হইলে বিগ্রহবাক্য হইতে যে নামার্থক মুখ্যৰিশেয়ক বোধ समासप्रकरणम् ৭ উৎপন্ন হইবে, সুবন্ত যৎপদার্থান্বিত সেই নামার্থ-ঘটিত বিগ্রহবাক্যের অর্থেই বহুব্রীহি সমাস স্বীকৃত হইবে। যৎপদার্থ কোলে ক্রিয়া কাজ নহে—তাহার উদাহরণ প্রদর্শন করিবার জন্য অতএব ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, ‘খনিদাসকোয় এই সকল বহুব্রীহি সমাস হইতে ধনী যে বকীয় দাস (ভৃত্য) তৎ সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে অন্বয়বােধ উৎপন্ন হইবে। কিন্তু যীষ ধনবিশিষ্ট যে দাস বিষয়ক বােধ হইবে না। বিধি না থাকিলে এই অংশের সার্থকতা প্রদর্শন করিবার জন্য ‘তেন’ ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন, অর্থাৎ ‘চন্দ্রচূড়শিব' এই সকল বহুব্রীহি সমাসস্থলে ‘ চড়ায়াং যস্য’ বিগ্রহবাকাটি ‘যদীয় চন্দ্র চূড়াতে বিদ্যমান এইরূপ অর্থের বােধক নহে, পরন্তু যদীয় চূডাবৃত্তি চন্দ্র এইরূপ অর্থেরই বোধক হইবে এবং তাদৃশ বিগ্রহবাক্যার্থেই সপ্তমান্ত চূড়াপদের সহিত চন্দ্রপদের বহুব্রীহি সমাস বিহিত হওয়ার ‘চন্দ্রচূড় শিবঃ' ইত্যাদি বহুব্রীহি সমাস হইতে স্বকীয় চূড়াবৃত্তি যে চন্দ্রমা তৎসম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে বহুব্রীহি সমাসলভ্য অন্যপদার্থ যে শিব, তাহার বােধ উৎপন্ন হইবে। এখন আশঙ্কা হইতে পারে, চূড়াবৃত্তি স্বকীয় চসম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে বােধ হইবে না কেন? এই আশঙ্কার উত্তরে বলিতেছেন, ‘গগনাদে ইতি’। তাৎপর্য এইযে ‘ চচুড়’ ইত্যাদি সমস্তবাক্য হইতে কোনক্রমেই প্রথমাপ্ত গগনপদার্থের বােধ উৎপন্ন হয় না। ইহা সর্বদিসিদ্ধ। যদি চূড়ার সহিত অন্য পদার্থের অন্বয় স্বীকার না করিয়া চন্দ্র পদার্থের সহিত অন্বয় স্বীকৃত হয়, তাহা হইলে অনুভৰ বিরুদ্ধ হইলেও চূড়াবৃত্তি স্বকীয় চন্দ্র সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে গগনদির বােধ স্বীকার না করিয়া উপায় নাই। অতএব বহুব্রীহিত্য অন্য পদার্থের চূড়াতে অন্বয় স্বীকার করিয়া স্বকীয় চুড়বৃত্তি চন্দ্র সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে শিব বিষয়ক বােধের উপপাদন করিতে হইবে। স্বসম্বন্ধিক পদার্থ যেখানে বিশেষণ হইবে, অর্থাৎ নিয়ত প্রতিযোগী সাকা পদার্থ যে বহুব্রীহি সমাসস্থলে বিশেষণ হইবে, তাদৃশস্থলে সুবন্ত যৎপদার্থের দ্বারা অম্বিত উক্ত স্বসম্বন্ধিক পদের যে অর্থ গর্ভিত বিগ্রহবাক্যার্থ বেধে তনুকুল বহুব্রীহি সমাস স্বীকার করিতে হইবে। অতএব’ ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে তাদৃশার্থে বহুব্রীহি সমাসপ্রদর্শন করিবার জন্য ‘চৈত্ৰ পুত্ৰকৃতােৎকর্ষঃ এই বহুব্রীহি সমাস হইতে স্বকীয় পুত্ৰকৃত উৎকর্ষ সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে চৈত্রাদিগােচর বােধই উৎপন্ন হইবে, পরন্তু পুরুষান্তরীয় পুত্ৰকৃতােৎক সন্ধিত্ব পুরস্কারে চৈত্রাদির অবগতি হইবে না—ইহাই তাৎপর্য। ৩ मूलम् बहुव्रीहि विभजते तदतद्गुणसंविज्ञानौ द्वौ मेदौ तदादिमः । विग्रहस्य विशेष्यो यस्तद्विशेष्यकबोधकृत् ॥ ४५ ॥ ৩-৭ ৭ शब्दशक्तिप्रकाशिका অনুবাদ বহুব্রীহি সমাসের বিভাগ করিতেছেন- তগুণসংবিজ্ঞান, অতগুণসংবিজ্ঞান ভেদে বহুব্রীহি সমাস দ্বিবিধ। উক্ত দ্বিবিধ বহুব্রীহি সমাসের মধ্যে বিগ্রহবাক্যে বিশেষ্যরূপে প্রতীয়মান যে পদার্থ তবিশেষ্যক বােধজনক বহুব্রীহি সমাস (আদিম) অর্থাৎ তদ্গুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি হইবে । বিবৃতি পূর্ব পূর্ব কারিকার মাধ্যমে বহুব্রীহি সমাসের লক্ষণ এবং লক্ষ্যে লক্ষণ সমন্বয় প্রভৃতি প্রদর্শন করিয়া বহুব্রীহি সমাসের বিভাগ নিরূপণের ভূমিকা রচনা করিতেছেন ‘বহুব্রীহিং বিভজতে’—তদণসংবিজ্ঞানে এখানে তচ্চ অতগুণসংবিজ্ঞানঞ্চ-তে ‘তদতগুণসং- বিজ্ঞানে এইরূপ ব্যুৎপত্তি অনুসারে উক্ত বাক্যটি তৎপদ সাকা হওয়ায় উক্ত আকাঙ্ক্ষা বলে তদগুণসংবিজ্ঞানের বোধক হইবে। তদগুণসংবিজ্ঞান শব্দটির অর্থ পর্যালােচনাক্রমে উক্ত বহুব্রীহিসমাসের লক্ষণ করিবার জন্য ‘বিগ্রহস্য বিশেষে। ইত্যাদি কারিকার দ্বিতীয়ার্ধের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে বহুব্রীহি সমাসের বিগ্রহ বাক্যে বিশেষ বিয়া ভাসমান পদার্থটি বহুব্রীহি সমাস হইলে ও বিশেষ্যরূপে প্রতীয়মান হইবে তাদৃশ বিশেষ বােধক বহুব্রীহি তদগুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি নামে অভিহিত হইবে। দৃষ্টান্তস্বরূপে ‘পটস্বরূপঃ প্রমেয়' এই বহুব্রীহি সমাসটি উল্লেখ করা যাইতে পারে। এই স্থলে ‘পট: স্বরূপে। ষ এইরূপ বিগ্রহবাক্যে পট পদটি যেরূপ বিশেষ্যপদ হইয়াছে ‘পটস্বরূপঃ প্রমেয় এই বহুব্রীহি সমাসস্থলেও প্রমেয়ত্ব পুরস্কারে পট পদার্থই বিশেষরূপে প্রতীয়মান হওয়ায় উক্ত পটবিশেষ্যক প্রতীতির জনকরূপে ‘পটম্বরূপঃ প্রমেয়ঃ এই বহুব্রীহি সমাস তদগুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি হইবে। তদ্‌গুণসংবিজ্ঞানভিন্ন যে বহুব্রীহি তাহাই হইবে অতগুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি। দৃষ্টান্তস্বরূপে ‘আরূঢ় বানরে। যমি’ত্যাদি অর্থে ‘আরূঢ়ে। বানরো বৃক্ষ' এবং ‘দৃষ্টং সাগরং যেন এইরূপ অর্থে ‘দৃষ্টসাগরমানয় এই বহুব্রীহিকে অতগুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি বলা যাইতে পারে। গ্রন্থকারও পরবর্তীগ্রন্থে অতগুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহির এই উদাহরণ গ্রহণ করিবেন। मूलम् तद्गुणसंविज्ञानोऽतद्गुणसंविज्ञानश्च बहुव्रीहेद्वौं भेदौ। तत्र विग्रह- वाक्यस्य विशेष्यविधया प्रत्याय्यो योऽर्थस्तद्विशेष्यकबोधकद्वहुव्रीहिः समासप्रकरणम् tিy तयोरादिमस्तद्गुणसंविज्ञानः, तस्य स्वार्थ गुणीभूतस्य सम्पग्विशेष्यविषया विज्ञानं यस्मादिति व्युतपच्या सान्वयसंज्ञाकत्वात् , तद्भिनरचातद्गुण- संविज्ञानश्चरम इत्यर्थाद्गम्यते। 'घटस्वरूपः पदार्थः' इत्यादितो हि घटत्व- स्वरूपं यस्येति विग्रहस्थले स्वस्वरूपामिन्नघटसम्बन्धित्वेन घटाभिन्न स्वस्वरूप- सम्बन्धित्वेन वा विग्रहविशेष्यं कलसमेव विशेष्यविधया बोध्यते । घटस्य स्वरूपं यस्मादिति विग्रहे च विग्रहस्य यद्विशेष्यं ततोऽन्यदेव स्वजन्यस्वरूपामिन्नघटसम्बन्धित्वेन । 'कुटादिगण इत्यादिरपि कुट आदियस्येति व्युत्पत्या कुटामिन्नस्य स्वधर्मिक व्यवस्थाधर्मिणः सम्बन्धित्वेन धात्वन्तरमिव कुटमपि बोधयंस्तद्गुणसंविज्ञान एव बहुव्रीहिः ॥ ४५ ॥ অনুবাদ তদ্‌গুণসংবিজ্ঞান ও অতগুণসংবিজ্ঞানভেদে বহুব্রীহি সমাস দ্বিবিধ। উক্ত দ্বিবিধ বহুব্রীহি সমাসের মধ্যে বিগ্রহবাক্যের অন্তর্গত বিশেষ্য বােধক পদের দ্বারা প্রতীয়মান যে পদার্থ তদৃবিশেষ্যক বােধজনক বহুব্রীহি উক্ত দ্বিবিধ বহুব্রীহি মধ্যে আদিম অর্থাৎ তদ্‌গুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি। তাহার অর্থাৎ স্বকীয় অর্থে গুণীভূত সম্যক অর্থাৎ যথাযথ ( বিশেষ্যবিধয়া ) বিশেষ্যরূপে বিজ্ঞান যাহা হইতে এইরূপ ব্যুৎপত্তি অনুসারে গুণসংবিজ্ঞান শব্দটি অর্থসংজ্ঞাশব্দ বুঝিতে হইবে। তদ্ভিন্ন অর্থাৎ তদ্‌গুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি হইতে অতিরিক্ত বহুব্রীহি ‘অতগুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি' নামে অভিহিত হইবে। ঘটস্বরূপ: পদার্থ এই সকল বহুব্রীহি সমাস হইতে ‘ঘটম্বরূপং ষষ্য' এইরূপ বিগ্রহস্থলে নিজের স্বরূপ হইতে অভিন্ন যে ঘট তৎসম্বন্ধিত্ব পুবস্কারে অথবা ঘটাভিন্ন যে স্বকীয় স্বরূপ তৎসম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে বিগ্রহবাক্যার্থের অন্তর্গত বিশ্যে কলসপদার্থই বিশেষ্যরূপে বােধের বিষয় হইয়া থাকে। ঘটস্থ স্বরূপং যস্মাৎ' অর্থাৎ ঘটস্বরূপ হইয়াছে যাহার এই বিগ্রহস্থলে কিন্তু বিগ্রহবাক্যার্থের অন্তর্গত যে বিশেষ অভিন্ন পদার্থই স্বজনিতস্বরূপাভিন্ন ঘটসম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে দণ্ডাদি বােধ বিষয় হইবে। ‘কুটাদিগণ এই সকল বহুব্রীহিস্থলে ‘কুট আদি যস্য এই ব্যুৎপত্তি অনুসারে কুটাভিন্ন স্বধর্মিক যে ব্যবস্থাধর্মী তৎসম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে অপরাপর ধাতুর ন্যায় ৭s शब्दशक्तिप्रकाशिका কুট ধাতুবিষয়ক বােধজনক হওয়ায় উক্ত বহুব্রীহি সমাসও তদ্‌গুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি হইবে। বিবৃতি বহুব্রীহি সমাসের দুটি ভেদ প্রদর্শন করিবার জন্য বিবরণ গ্রন্থে “তগুণসংবিজ্ঞানােহ- তদগুণসংবিজ্ঞানৌ” ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। যদিও কারিকায় ‘তগুণসংবিজ্ঞান উল্লিখিত হয় নাই, তথাপি কারিকাস্থ “তদণ্ডণসংবিজ্ঞানৌ* এই সমস্ত বাক্যের অন্তর্গত প্রথমােক্ত তৎপদটি গুণসংবিজ্ঞান গণের সহিত সাকা হওয়ায় উক্ত ‘তৎ’ পদের দ্বারা গুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি গৃহীত হইবে। কারিকোজ তদণসং- বিজ্ঞানে” এই অংশের ব্যুৎপত্তি উক্ত কারিকার বিবৃতিতে বলা হইয়াছে। কেবলমাত্র এখানেই যে তাদৃশ ব্যুৎপত্তি স্বীকৃত হইয়াছে তাহা নহে, ভাষাপরিচ্ছেদ গ্রন্থেও সংসৰ্গালো- নাভাবতেদত' এই কারিকার অন্তর্গত অভাবপদের সহিত সংসর্গগণের আকাঙ্ক্ষা জ্ঞানমূলে উক্ত অন্যান্যাভাবের একদেশ অভাবপদার্থের সহিত সংসর্গপদার্থের অন্বয় স্বীকৃত হইয়াছে। উক্ত স্কুলের ন্যায় তদতগুণসংবিজ্ঞানে এই স্থলে সাকাহ্নত্বনিবন্ধন অতগুণসং- বিজ্ঞানের একদেশ গুণসংবিজ্ঞানের সহিত উক্ত তৎপদার্থের অন্বয় স্বীকৃত হওয়ায় উক্ত সমস্ত বাক্য হইতে তদণ্ডণসংবিজ্ঞান এবং অতগুণসংবিজ্ঞান এতদ্ববিধ বহুব্রীহি সমাস পাওয়া যায়। বিগ্রহবাক্য এই অংশের দ্বারা কারিকাস্থ ‘বিগ্রহস্য’ এই অংশটি ব্যাখ্যাত হইয়াছে। এখন প্রশ্ন হইবে বিগ্রহবাক্যের যে বিশেষ হইবে কারিকার বা বিবরণের এই উক্তি কি করিয়া সম্ভবপর হইবে, কারণ বাক্য নিরূপিত বিশেষ্যত কুত্রাপি স্বীকৃত নহে এই প্রশ্নের উত্তরে বলিতে হইবে ‘বিগ্রহবাক্য যাে বিশেষ এইস্থলে বিগ্রহবাক্যার্থগােচর বােধের যে বিশেষ এইরূপ অর্থ করিতে হইবে। অর্থাৎ স্বার্থগোচর প্রতীতিকে দ্বার করিয়াই বিগ্রহবাক্যের বিশেষতার কথা বলা হইয়াছে। এই অভিপ্রায়েই গ্রন্থকার কাৰিকাস্থ বিশেষ্যপদটির বিশেষবিধয়া প্রতীয়মানরূপ অর্থ প্রদর্শন করিয়াছেন। উক্ত আলােচনার পরিপ্রেক্ষিতে যাদৃশ বহুব্রীহি সমাসস্থলে বিগ্রহবাক্যার্থের ঘটক যে পদার্থটি বিশেষরূপে প্রতীয়মান হইবে তৎ পদার্থবিশেষ্যক বােধজনক যে বহুব্রীহি সমাস তাহা উক্ত দ্বিবিধ বহুব্রীহি সমাসের মধ্যে তদ্‌গুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি নামে অভিহিত হইবে। উক্ত গুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহির লক্ষণটি যে উদগুণসংবিজ্ঞান পদের ব্যুৎপত্তিলভ্য অর্থ হইতে অবগত হওয়া যায় তাহা প্রমাণিত করিবার জন্য ‘তস’ ইত্যাদি সম্পর্ডের মাধ্যমে তদগুণসংবিজ্ঞান শব্দের ব্যুৎপত্তি প্রদর্শন করিতেছেন। ত’ এই তৎপদের দ্বারা বুদ্ধি ভদগুণসংবিজ্ঞানকে গ্রহণ করিতে হইবে। স্বার্থগুণীভূত’ এখানে স্বাদের দ্বা বহুব্রীহি সমাস গৃহীত হইবে। স্বার্থগুণীভূত' এই অংশের দ্বারা তদণপদটি ব্যাখ্যাত হইয়াছে। ‘সমগবিশেষ বিষয়। বিজ্ঞান’ এই অংশটির দ্বারা সংবিজ্ঞান পদটি বিবৃত হইয়াছে। এখন सभासप्रकरणम् ৭ যেহেতু এই অর্থে যােগ্য যে ৰিগ্ৰহৰাক্য প্রযােজ্য বােধীয় মুখ্যবিশেষ্যক বােধনক বহুব্রীহি সমাসত্বকে তদগুণসংবিজ্ঞান বলা যাইতে পারে, এতাদৃশ বহুব্রীহিসমাসভিন্ন বহুব্রীহিসমাসত্বই হইৰে অতগুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি সমাসের লক্ষণ। উক্ত গুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি নক্ষণ সমন্বয় করিবার জন্য “ঘটঃ স্বরূপঃ পদার্থ ইত্যাদি গ্রহের অবতারণা করিতেছেন। এযুক্ত ‘হি’ শব্দটির অর্থ অগ্রিম ‘বােধ্যতে এই ক্রিয়ার সহিত বিত হইৰে। ‘ঘটঃ স্বরূপং ব’ এখানে বটপদটি বিধেয় বােধক, রূপ পদটি উদেশ্য বােধক, উদ্দেশ্য বিধেয় ভাস্থলে উদ্দেশ্যবাচক পদটি যে নিয়মতঃ বিধেয় বাচক পদের পরে উল্লিখিত হইবে এইরূপ নিয়ম না থাকায় ‘টাভিন্নস্বরূপসন্ধিত্বেন বা এই রূপ প্রকারান্তরে বিগ্রহবাক্য প্রদর্শন করিয়াছেন। অতগুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহিতে উক্ত লক্ষণের অলক্ষ্যত্ব প্রতিপাদন করিবার জন্য ‘ঘটঃ স্বরূপং যাৎ' ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই ঘটঃ স্বরূপং যক্ষ্মাৎ' এইরূপ বিগ্রহবাক্যের অন্তর্গত রূণটি বিশেষপদ হইলেও উক্ত বিগ্রহবাক্য হইতে উৎপন্ন-‘ঘটম্বরূপাে দণ্ড’ ইত্যাদি বহৰীহি সমার্থ গােচর বােধে কিন্তু, অন্যপদার্থরূপে দাদি বিশেষ্যরূপে ভাসমান হওয়ায় উক্ত বহুব্রীহি সমাসে লক্ষণের অতিব্যাপ্তি হইবে না। উক্ত লক্ষণে মুখ্য বিশেষত্ব নিবেশ না করিয়া কেবল বিশেষ্যত্ব মাত্র নিবেশ করিলেও ঘটত্বাংশে ঘটাদি বিশেষ্য হওয়ায় উক্ত সমাসে অতিব্যাপ্তি হইবে, অতএব উক্ত অতিব্যাপ্তি বারণ করিবার জন্য বিশেষাংশে মুখ্যত্ব নিবেশ করা হইয়াছে। এখন আশঙ্কা হইতে পারে ‘কুটাদিগণ এই তদ্‌গুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি সমাসস্থলে কুট শব্দটি বহুব্রীহি সমাসার্থ বােধীয় বিশেষাংশে বিশেষণ হওয়ায় মুখ্য বিশেষ্যরূপে ভাসমান হইবেনা। সুতরাং ‘কুটাদিৰ্গণ: এই তদগুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি সমাসে উক্ত লক্ষণের অব্যাপ্তি হইবে। এই আশঙ্কার সমাধানকল্পে গ্রন্থকার ‘কুটাদিগণ ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে ‘কুটাদিগণ এই বহুব্রীহিসমাসস্থলে ‘কুট আদিৰ্যস’ এইরূপ ব্যুৎপত্তি অনুসারে আদি পদটি অজহংস্বার্থ লক্ষণার দ্বারা ব্যবস্থাধর্মী। এখানে ব্যবস্থা শব্দটি জ্ঞানবিশেষের বােধক। উক্ত ধর্মীতে কুট পদার্থের অভেদসম্বন্ধে অন্বয় হওয়ায় কুটাভিন্ন যে স্বধর্মিক জ্ঞানধর্মী তৎসম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে যেরূপ কুটাভিন্ন ধাতু গৃহীত হইবে তদ্রুপ কুট ধাতুও গৃহীত হওয়ায় কুটাদিৰ্গণ এখানে অতগুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহির পূর্বোক্ত লক্ষণ সমন্বয় হইবে।

• शन्दशक्तिप्रकाशिका मूलम् प्राचां मतेन तद्गुणसंविज्ञान बहुव्रीहिमन्यथा निर्वक्ति यः स्वार्थघटकार्थस्य स्वार्थान्वयिनि बोधने अनुकूलो बहुव्रीहिः स तयोरथवादिमः ॥ ४६ ॥ অনুবাদ প্রাচীন মতানুসারে তগুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি সমাসের প্রকারান্তরে লক্ষণ বলিতেছেন-যে বহুব্রীহি (সমাস) স্বকীয় অর্থের অম্বয়ী পদার্থে নিজের অন্তর্গত পদার্থের অন্বয়বােধে অনুকুল হইবে, সেই বহুব্রীহি উক্ত দ্বিবিধ বহুব্রীহির মধ্যে আদিম অর্থাৎ ৩গুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি রূপে গণ্য হইবে। বিবৃতি গ্রন্থকার ‘বিগ্রহস্য বিশেষ্যে। য’ ইত্যাদি পূর্ব কারিকাংশের দ্বারা যে তদগুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহির লক্ষণ করিয়াছেন—প্রাচীন শাব্দিক সম্প্রদায় কিন্তু অন্যভাবে লক্ষণ বলেন। উক্ত প্রাচীন সম্প্রদায়সম্মত লক্ষণ বলিবার জন্য প্রাচাং মতেন ইত্যাদি সন্দর্ডের দ্বারা ভূমিকা রচনা করিতেছেন। কারিকার প্রথম পাদে ‘যঃ' এই যৎ পদার্থটি দ্বিতীয় পাদস্থিত বহুব্রীহি পদার্থের সহিত অন্বয় করিতে হইবে। স্বার্থঘটকাৰ্থন্য এখানে স্বার্থ পদের দ্বারা তদগুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি সমাসলভাপদার্থ গৃহীত হইবে। ঘটকাৰ্থ পদের দ্বারা বহুব্রীহি সমাস প্রতিপাদ্য পদার্থের বিশেষণ পদার্থ গৃহীত হইবে। স্বার্থান্বয়িান’ এখানে স্বপদের পূর্বোক্তরূপ অর্থই প্রতীয়মান হইবে। অনুকুল শব্দটির অর্থ জনকতাৰচ্ছেদক। বহুব্রীহি সমাসের জ্ঞান বহুব্রীহি সমাসলভ্য অর্থবােধের জনক হওয়ায় বহুব্রীহি সমাস বিষয়ুরূপে জনকতার অবচ্ছেদক হইবে। লম্বমানয় এই সকল গুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি সমাস- স্কুলে ‘লম্বো কর্ণে। যস্য তানয়' এইরূপ বহুব্রীহি সমাসলভ্য লম্ব কর্ণ বিশিষ্ট পদার্থটি যেরূণ দ্বিতীয়া বিভক্তির অর্থ কর্মত্বে অম্বিত হইয়াছে তদ্রুপ বহুব্রীহি সমাসার্থের অন্তর্গত লম্বকর্ণ পদার্থটিও বিশেষ্যের অবয়ী কর্মত্ব পদার্থে অন্বিত হওয়ায় উক্ত অর্থে লম্বকর্ণমানয় এই হলে ‘লম্বকর্ণ এই বহুব্রীহি সমাস তগুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি হইবে। এখানে ইহাও বলা আবশ্যক ‘কুটাদিগণ' ইত্যাদি তদগুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি স্থলেও ‘আদি’ পদের কুটাভিন্ন অধমিক জ্ঞান সম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে অজহৎ স্বার্থলক্ষণ। স্বীকৃত হওয়ায় লক্ষ্যচ্ছদক কুট প্রভৃতি বিশেষ্যের অন্বয়ী ধাত্বর্থের সহিত অন্বয় হওয়ায় কুটাদিগণ এখানেও উক্তলক্ষণ সময় হইবে।

समासप्रकरणम् ৭২৭ मूलम् यो बहुव्रीहिः स्वार्थस्यान्वयिनि स्वार्थ घटकार्थस्यान्वय बोधने समर्थः स तयोस्तदतद्गुणसंविज्ञानयोरादिमः। लम्बकर्णमानय, हारग्रीवं पश्येत्यादौ हि बहुव्रीहिलम्बकर्णसम्बन्धिनः स्वग्रीवावृत्तिहारसम्वन्धिनश्च स्वार्थस्यान्वयिनि कर्मत्वादौ स्वार्थघटकीभूतस्य तादृशकर्णहारादेरपि व्युत्पत्तिवैचित्र्येणान्वयबंधने समर्थ इत्येवं विध एव तद्गुणसंविज्ञानस्तद्भिश्न एव चार्थादतद्गुणसंविज्ञानः यथा दृष्टसागरमानय इत्यादीतिप्राचां मतम् । অনুবাদ যে বহুব্রীহি সমাস স্বকীয় অর্থের অন্বয়ী পদার্থে স্বকীয় অর্থের ঘটক অর্থের অন্বয়বােধে স্বরূপযােগ্য হইবে সেই বহুব্রীহি তগুণসংবিজ্ঞান এবং অতগুণ- সংবিজ্ঞান এই দ্বিবিধ বহুব্রীহির প্রথমটি বুঝিতে হইবে। লম্বকর্ণমায়, হারগ্রীবং পশ—এই সকলস্থলে বহুব্রীহি সমাস লম্বকর্ণ সম্বন্ধিরূপ এবং স্বকীয় গ্রীবাবৃত্তি হারসম্বন্ধিরূপ স্বকীয় অর্থের অন্বয়ী কর্মাদি পদার্থে স্বকীয় অর্থের ঘটক তাদৃশ কর্ণ বা হারাদিরূপ ব্যুৎপত্তি বৈচিত্র্যবশতঃ অন্বয়বােধে সমর্থ হওয়ায় এই সকল সমাস তদ্‌গুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহিরূপে গণ্য হইবে। এতদ্ভিন্ন যে কোনও বহুব্রীহি সমাস অতগুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি হইবে । যথা দৃষ্টসাগরমানয় ইত্যাদি—ইহাই প্রাচীন সম্প্রদায়ের মত। বিবৃতি ‘যা বহুব্রীহি ইত্যাদি সন্দর্ভের দ্বারা গুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহির প্রাচীন সম্মত লক্ষণ বিবৃত করিতেছেন। স্বার্থান্বয়িনি এখানে ‘’ পদের দ্বারা বহুব্রীহি সমাস গৃহীত হইবে। অন্বয়ী’ শব্দটি এখানে সম্বন্ধীয় বােধক। ঘটক’ শব্দটির বিশেষণরূপ অর্থগ্রহণ করিতে হইবে। সমর্থ’ পদটি স্বরূপযােগ্য রূপ অর্থে প্রযুক্ত হইয়াছে। উক্ত আলােচনার ফলে যে বহুব্রীহি সমাসের দ্বারা প্রতিপাদ্য পদার্থ যেখানে অন্বিত হইবে, সেই পদার্থটি হইবে বহুব্রীহি সমাদার্থের অন্বয়ী। উক্ত অন্বয়ী পদার্থে বহুব্রীহি সমাস প্রতিপাদ্য পদার্থের ঘটক কোন পদার্থ যদি অন্বিত হয় তাহা হইলে তাদৃশ অম্বয়বােধের যােগ্য যে যে বহুব্রীহি সমাস তাহাই হইবে তদণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি। দৃষ্টান্তস্বরূপ ‘লম্বকর্ণমানয়’ এবং ‘হারগ্রীবং পশ্য’ এই দুইটি বহুব্রীহি সমাস গৃহীত হইয়াছে। লম্বকর্ণনানয়’ এখানে লম্ব ৭ शब्दशक्तिप्रकाशिका কীয় কর্ণসম্বন্ধিত্ব পুরস্কারে পশু বিশেষের বােধ হইয়া থাকে। উক্ত বহুব্রীহি প্রতিপাদ্য লম্বকর্ণ পর যেরূপ দ্বিতীয় বিভক্তির অর্থ কর্মত্বে অন্বয় হইবে, তদ্রুপ বহুব্রীহি প্রতিপাদ্য পদার্থের ঘটক লম্বকর্ণেরও অন্বয় হওয়ায় উক্ত বহুব্রীহি সমাস তগুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি হইবে। যদি বলা যায়, লম্বকর্ণ সম্বন্ধী পশু লম্বকর্ণকে পরিত্যাগ করিয়া কেবলমাত্র পত কৰ্মত্বে অন্বয় কদাচ সম্ভবপর নহে। সুতরাং কর্ণের আনয়ন ব্যতীত তাদৃশ লম্বকর্ণ বিশিষ্ট পশুর আনয়ন সম্ভব হইবে না। এইজন্য ‘হারগ্রীবং পশ’ এই উদাহরণান্তর প্রদর্শিত হইয়াছে। এই স্থলীয় পুরুষের কিন্তু হার ব্যতীতও দর্শন সম্ভবপর হইতে পারে। সুতরাং পুরুষের ন্যায় হায়েরও দর্শনক্রিয়াতে অন্বয়ের অনুরােধে দ্বিতীয় উদাহরণটি প্রদর্শিত হইয়াছে। সাধারণতঃ একটি পদার্থে বিশেষণরূপে অন্বিত পদার্থ অপর পদার্থে বিশেষণরূপে অম্বিত হয় না। ইহাই ব্যুৎপত্তি। সুতরাং পুরুষ’ পদার্থে অম্বিত ‘হার’ পদার্থ দ্বিতীয়ার্থ কর্মত্বে তাদৃশপুরুষ পদার্থের ন্যায় অন্বয় হইতে পারে না। এইজন্য গ্রন্থকার বলিতেছেন, উক্ত বুৎপত্তির বৈচিত্র্য স্বীকার করিয়া লম্বকর্ণ এবং হার’ পদার্থেরও আনয়নক্রিয়ার কর্মদ্ধে বা দর্শন ক্রিয়ার কর্মত্বে অন্বয় স্বীকার করিতে হইবে। এইভাবে গুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি সমাস বিবৃত করিয়া অশুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহি নিরূপণ করিবার জন্য ‘ত ভিন্ন এৰ' ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। অর্থাৎ গুণসংবিজ্ঞানরূপ বহুব্রীহি সমাস অবগত হইলে ভিন্নত্বই হইবে অত গুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহির লক্ষণ। এই অভিপ্রায়েই গ্রন্থকার বলিয়াছেন অর্থাৎ ‘অত গুণসংবিজ্ঞান। “দৃষ্টসাগরমানয়’ ইত্যাদি। স্থলে প্রাচীনমতে ‘অতগুণসংবিজ্ঞান বহুব্রীহির উদাহরণ। = मूलम् व्युत्पत्तिवेशद्यार्थमन्यथापि पुनर्विभजते- स्वान्तर्निविष्टद्विव्यादिनामभिर्विग्रहात् पुनः । बहुव्रीहिर्बहुविधो द्विपद-त्रिपदादिकः ॥ ४७ ॥ অনুবাদ ব্যুৎপত্তি বিশেষের প্রয়ােজনে প্রকারান্তরে বহুব্রীহি সমাসের বিভাগ করিতেছেন। বহুব্রীহি সমাসের অন্তর্গত নামদ্বয় বা নাম ত্রয়াদিঘটিত বিগ্রহবাক্য ভেদপ্রযুক্ত দ্বিপদ, ত্রিপদাদিভেদে বহুব্রীহি সমাস বহুবিধ হইবে।

समासप्रकरणम् १५३ বিবৃতি আশঙ্কা হইতে পারেপূর্বে যেভাবে বহুব্রীহি সমাসকে বিভক্ত করা হইয়াছে। তদনুসারে দ্বিপদ, ত্ৰিপদাদি বহুব্রীহি সমাস বিভক্ত না হওয়ায় দ্বিপদ, ত্ৰিপদাদি বহুব্রীহি সমাসের ব্যবহার হইতে পারে না। এইজন্য প্রকারান্তরে বিভাজকত্বজ্ঞাপক কারিকার অবতরণিকায় বলিতেছেন ‘ব্যুৎপত্তি বৈশদ্যার্থ’—“স্বান্তর্নিবিষ্ট’ এখানে স্বপদটি বহুব্রীহি সমাসের বােধক। দ্বিাদি’ এই আদি পদের দ্বারা চতুরাদি গৃহীত হইবে। বিগ্রহাৎ এই পঞ্চম্যন্ত বিগ্রহপদের বিগ্রহবাক্য প্রযুক্তরূপ অর্থ গৃহীত হইবে। “দ্বিপদ-ত্রিপদাদিকঃ এখানেও পদশব্দের দ্বারা নাম এবং আদি পদের দ্বারা চতুরাদিপদকে গ্রহণ করিতে हशेव। मूलम् द्वि-त्रि-चतुरादिमिरेव स्वघटकनामभिर्विग्रहवशात् द्विपद-त्रिपद- चतुष्पदादिको बहुव्रीहिर्बोध्यः । चित्रा गौर्यस्येति विग्रहात् 'चित्रगुरि- त्यादौ द्विपदस्यैव', जरती चित्रा गौर्यस्य, महन्नीलमुत्पलं यत्रेत्यादि विग्रहात् 'जरतो चित्रगुश्चत्रो' 'महन्नीलीत्पला सरिदित्यादि त्रिपदस्यापि बहुबोहेरावश्यकत्वात् , जरती चित्रगवो यस्य, महन्नीलोत्पलं यत्रेति, द्विपदविग्रहे जरतोशब्दे पुंवद्भावस्य महच्छब्दे चाकारस्य प्रसङ्गादुत्तरपदे तयोविधानात् समासान्त्यपदस्य चोत्तरपदत्वात्, एकत्र द्वयमिति न्यायेन गवि चित्रजरत्योरभेदानुभवस्योक्तरोत्या सम्पादयितुमशक्यत्वेन तदर्थमेव त्रिपदादि बहुबोहेरावश्यकत्वाच ॥ অনুবাদ বহুব্রীহি সমাসের ঘটক নামদ্বয়, নাম এয়, অথবা নাম চতুষ্টয় ঘটিত বিগ্রহবাক্য প্রযুক্ত দ্বিপদ, চতুষ্পদ প্রভৃতি বহুব্রীহি সমাস বুঝিতে হইবে। ‘চিত্রা গৌর্যস্থ এইরূপ বিগ্রহবাক্য হইতে যেরূপ চিত্ৰগু এই দ্বিপদ বহুব্রীহি স্বীকৃত হয় তােপ ‘জরতী চিত্রা গৌর্যস্য (বৃদ্ধা বিচিত্র বর্ণের গাে যাহার ) ‘মহন্নীলােৎপল যত্র’ (মহানীল উৎপল যেখানে) এই সকল বিগ্রহবাক্য ‘জরতী চিত্রগুশৈত্রঃ, ‘মহল্পীলােৎপলা সরিৎ' এই সকল স্থলে ত্রিপদ বহুবীহির ও घ-१७ ৭ शब्दाक्तिप्रकाशिका আবশ্যকত্ব স্বীকার করিতে হইবে। ‘জরতী চিত্রগবী যস্য, ‘মহীলােৎপলং যত্র এইরূপ দ্বিপদ বিগ্রহ স্বীকৃত হইলে জাতী শব্দে পুংবভাবের এবং মহৎশব্দে আকারের প্রসক্তি হইবে। সমাসান্ত পদরূপ উত্তরপদ পরে থাকিলে উক্ত পুংস্তাবের বিধান রহিয়াছে। বিশেষতঃ উক্ত স্থলয়ে দ্বিপদ বহুব্রীহি স্বীকৃত হইলে ‘একত্রদ্বয়ম্ এই রীতি অনুসারে গাে পদার্থে চিত্র ও জরতী পদার্থের অভেদানুভব উক্ত রীতি অনুসারে সম্পাদন করা যায় না। অতএব তাদৃশ বােধের অনুরােধে দ্বিপদ ত্রিপদাদি বহুব্রীহি স্বীকার করা আবশ্যক। বিবৃতি ‘দ্বিত্ৰিচতুদিভিনেব’ ইত্যাদি গ্রন্থের দ্বারা স্বান্তর্নিবিষ্ট ইত্যাদি কারিকার বিশদার্থ প্রদর্শন করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, যে বহুব্রীহি সমাসস্থলে নিজের অন্তর্গত নামদয় ঘটিত বিগ্রহবাক্য প্রযুক্ত বহুব্রীহি সমাস হইবে, উক্ত সমাস দ্বিপদ বহুব্রীহি হইবে ‘চিত্রা গৌর্যন্ত এইরূপ বিগ্রহবাক্য চিত্রা এবং গগ এই দুইটি নাম গর্ভিত হওয়ায় উক্ত বিগ্রহবাক্য প্রযুক্ত ‘চিত্রগুঃ এই দ্বিপদ বহুব্রীহি সমাসরূপে গণ্য হইবে। জতী চিত্ৰশৈত্র: এই বহুব্রীহি সমাসের প্রযােজক ‘জরতী চিত্রা গৌর্যন্য এই বিগ্রহবাক্য অতী, চিত্রা এবং গাে এই তিনটি নাম ঘটিত হওয়ায় উক্ত সমাস ত্ৰিপদ বহুব্রীহি হইবে। বদি বলা যায় ‘মহুবহুমাতঙ্গং বন’ ইত্যাদি বহুব্রীহি সমাসস্থলে ‘হবাসো মাতঙ্গাশ্চেতি' এইরূপ কর্মধারয় নিষ্পন্ন বহুমাতঙ্গপদের সহিত ( ‘মা বহুমাতঙ্গা যমিন) এইরূপ বিগ্রহবাক্য অনুসারে মত্তবহুমাতঙ্গং বনম্' এই সমাসকে দ্বিপদ বহুব্রীহি সমাসে অন্তর্ভব করা যাইতে পারে। সুতরাং ত্রিপদ চতুঃপদাদি বহুব্রীহি সমাস স্বীকার করিবার প্রয়ােজন কি? এই আশঙ্কার সমাধান কল্পে গ্রন্থকার বলিয়াছেন, উক্তগলে দ্বিপদ বহুব্রীহি সমাস সম্ভবপর হইলেও ‘জরতী চিত্রগু’ এবং ‘মহন্নীলােৎপলা সরিৎ' ইত্যাদিলে কিন্তু ত্রিপদ বহুব্রীহি অবশ্যই স্বীকার করিতে হইবে। যদি উক্তস্থলে কর্মধারয় নিষ্পন্ন চিত্রগু’ পদের সহিত জতী পদের এবং নীলােৎপলপদের সহিত মহৎপদের দ্বিপদ বহুব্রীহি স্বীকৃত হয়, তাহা হইলে উক্তসমাসের অন্তর্গত জতী শব্দের পুংদতাৰ এবং মহৎশব্দের অন্তিম বর্ণকানে আকারের প্রসক্তি বশতঃ ‘জরতীচিত্রগু’ ‘মহানীলােৎপল এইরূপ প্রয়ােগের আপত্তি হইবে, কারণ, উত্তরপদ পরে থাকিলে ‘ভাষিত পুংস্ক ইত্যাদি সূত্রানুসারে চিপদের আকারটি হ্র হইবে এবং আঙমহত?' ইত্যাদি সূত্রানুসারে মহৎ শব্দের অন্তিম বর্ণখানে আকারের প্রসক্ত হইবে। সুতরাং উক্ত প্রতি বারণ করিবার জন্য ‘জরত চিগৌর্যস্য’ এরূপ বিগ্রহানুসারে ‘জৱতীচিত্রগু’ এই সমাসকে এবং ‘মহৎ- নীলমুৎপল য’ এইরূপ বিগ্রহানুসারে ‘মহল্লীলােৎপলা সরিৎ' এই সমাসকে ত্ৰিপদবহুব্রীহি কলাপ সূত্র ২। পাণিনি समासप्रकरणम् সমসরূপে স্বীকার করিতে হইবে। ইহার ফলে সমাপদরূপ উত্তর পদ পরে না থাকায় পূর্বোক্ত হ্রষাবধিৰ ৰা আকার বিধির প্রসক্তি হইবে না। ত্ৰিশদ বহুব্রীহি স্বীকৃতির আরও একটি ফল দেখাইতেছেন। যদি ত্রিপদ বহুব্রীহি স্বীকৃত না হয়, তাহা হইলে ‘রতী চিত্ৰ:' এখানে গো পদার্থের জতী পদার্থের ও চিত্ৰপদার্থের এবং ‘মহল্পীলােৎপল। সরিৎ এখানে উৎপলপদার্থে মহৎ পদার্থ এবং নীল পদার্থের ‘একত্রয়মিতি রীত্যা’ অভেদ সম্বন্ধে অন্বয়বােধ হইতে পারে না। অতএব উক্তস্থলে একদয়মিতি বীতা অয়বােধের অনুরােধেও বিপদাদিবহুব্রীহি অবশ্যই বীকার করা আবশ্যক। । বহুব্রীহি সমাস সমাপ্ত। मूलम् द्वन्द्वं लक्षयति- यद्यदर्थकयन्नामव्यूहो यद्यत् प्रकारके । बोधे समर्थः स द्वन्द्वः समासस्तावदर्थकः ॥४८॥ অনুবাদ দ্বন্দ্ব সমাসের লক্ষণ করিতেছেন- যে যে অর্থের প্রতিপাদক যে নাম সমূহ যে যে অর্থপ্রকারক অন্বয়বােধর যােগ্য হইবে, সেই নাম সমূহ তৎ তৎ অর্থবােধের অনুকুল দ্বন্দ্ব সমাস হইবে। বিবৃতি বহুব্রীহি সমাস নিরূপণের পরে ক্রম প্রাপ্ত দ্বন্দ্ব সমাস নিরূপণ করিবার অভিপ্রায়ে বা সমাসের লক্ষণ করিতেছেন।* পাণিনি ব্যাকরণে ‘চার্থে দ্বন্দ্ব এই দ্বন্দ্ব বিধায়ক সূত্রের দ্বারা দ্ব সমাসের অন্তর্গত প্রত্যেকটি পদার্থ প্রধান হইলেই দ্বন্দ্ব সমাস হইবে বলিয়াছেন এবং ইহার সাধকরূপে ‘পদার্থানাং প্রধানত্বে তৰতি দ্বন্দ্ব সংখ্যক এই উদাহরণ দিয়াছেন। টিপ্পনী—যদিও বৈয়াকরণ এবং নৈয়ায়িক সম্প্রদায় নানাভাবে দ্বন্দ্ব সমাসের বিভিন্ন লক্ষ করিয়াছেন, তাহা হইলেও আমাদের মনে হয় যে সমাসের অন্তর্গত পদসমূহ পরস্পর অসম্বন্ধ পদার্থ সমূহের প্রতিপাদক হইবে, তাদৃশ পদসমূহ ঘটিত সমাসত্বই দ্বন্দ্ব সমাসের লক্ষণ করা যাইতে পারে।

१५.६ पाब्दशक्तिप्रकाशिका মীমাংসকমতে অন্যান্য সমাসের ন্যায় দ্বন্দ্ব সমাসস্থলেও সাহিত্যে লক্ষণ স্বীকৃত হয়। এই সাহিত্য শব্দের দ্বারা ‘এক ক্রিয়ায়িত্ব অথবা বুদ্ধি বিশেষ বিষয়ত্ব ব্যাখ্যাত হইয়াছে। বিবরণ গ্রন্থে এইমত উথাপন করিয়া গ্রন্থকার নিজেই খণ্ডন করিবেন। पस्थापकस्य मूलम् यद्यदर्थोपस्थापकस्य क्रमिकयादशनामस्तोमस्य निश्चयस्तचदर्थ- प्रकारकान्वयबोधं प्रति तत्वेन समर्थस्तादृशनामनिवह एव तावदर्थको द्वन्द्व- समासः। 'पाणिपादं वादय (धावय १), धवखदिरौ छिन्धीत्यादौ हि कर्मत्वाद्यशे करचरणादिप्रकारकान्वयबोधं प्रत्यमादिधर्मिकः करचरणाद्य - पाणिपादादिक्रमिकनामस्तोमस्याव्यवहितोत्तरत्वसम्बन्धेन निश्चयः कारणम्, अतः पाणिपादादिसमुच्चयः करचरणादितत्तदर्थे द्वन्द्वः । यत्तु—पाणिपादमित्यादौ समाहारद्वन्द्वे सर्वत्रोत्तरपदे पाणिपादादि- साहित्ये लक्षणा, अतएव नित्यं तत्रैकवचनं समाहारस्यैकत्वात्, पदान्तरन्तु तादृशलक्षणाया निरूढत्वसम्पादकं तथाविधसाहित्यस्य च स्वाश्रयनिष्ठत्वादि सम्बन्धेनैव द्वितीयाद्यर्थकर्मत्वादौ साकाङ्क्षत्वात् पाणिपादं वादयेत्यादेन योग्य- त्वम् इति प्राच्यैरुक्तम् । অনুবাদ যে যে অর্থের উপস্থাপক ক্রমিক যাদৃশ নামসমুহ বিষয়ক নিশ্চয় তৎ তৎ অর্থপ্রকারক অন্বয়বােধের প্রতি তাদৃশ সমুদায়ত্ব পুরস্কারে যােগ্য হইবে, তাদৃশ নামসমুদায় তৎ তৎ অর্থবােধের অনুকুল দ্বন্দ্ব সমাস হইবে ! পাণিপাদং বাদয় ‘ধবখদিরৌ ছিন্ধি এইসকল স্থলে যেহেতু কমত্ব প্রভৃতিতে করচরণাদি প্রকারক এবং ধবখদির প্রকারক অন্বয়বােধর প্রতি অমাদি (বিভক্তি ) ধর্মিক করচরণাদির এবং ধবখদিরাদির উপস্থাপক পাণিপাদে এবং ধবখদির ইত্যাদি ক্রমিক নাম- সমূহের অব্যবহিতােত্তারত্ব সম্বন্ধে নিশ্চয় কারণ। অতএব, পাণিপাদ সমুদায় করচরণাদিরূপ অর্থে এবং ধবখদির সমুদায় ধবখদিররূপ অর্থে দ্বন্দ্ব সমাস হইবে । প্রাচীন শাব্দিকগণ বলেন ‘পাণিপাদ’ ইত্যাদি সমাহার দ্বন্দ্ব সমাস স্থলে समासप्रकरणम् १५७ অতএব সর্বত্র উত্তর পদে পাণিপাদ প্রভৃতির সাহিত্যে লক্ষণা স্বীকৃত হইবে। সমাহার একত্ব নিবন্ধন উক্ত দ্বন্দ্ব সমাসের পরে নিত্য একবচন হইয়া থাকে। উত্তরপদভিন্ন অন্যান্য পদ কিন্তু তাদৃশ লক্ষণার নিরূঢ়ত্ব সম্পাদকরূপে গণ্য হইবে। তথাবিধ সাহিত্যও স্বায়বৃত্তিাদিসম্বন্ধেই দ্বিতীয়া বিভক্তির অর্থ কর্মত্ব প্রভৃতিতে সাকা হওয়ায় ‘পাণিপাদং বাদয়’ ( ইত্যাদিবাক্য) অযােগ্য হইবে না। বিবৃতি ‘যদ য অর্থোপস্থাপক’ ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে যদ্যদর্থক’ ইত্যাদি কারিকাটির অর্থ ব্যাখ্যাত হইতেছে ‘ব যদ অর্থ উপস্থাপকস ইত্যাদি সম্পর্ডের দ্বারা গ্রন্থকার দ্বন্দ্ব সমাসের লক্ষণটি পরিষ্কার করিতেছেন। ইহার ফলে নিজের অন্তর্গত যে যে নামের দ্বারা উপস্থাপিত যে যে অর্থ প্ৰকাৰক অন্বয়বােধের প্রতি যাদৃশ আনুপূর্বপ্রকার নিশ্চয়ত্ব পুরস্কারে কারণত্ব কল্পিত হইবে, তাদৃশ আনুপূর্বী বিশিষ্ট সমাসত্বই তৎ তৎ অর্থবিষয়ক বােধের অনুকুল পর্যবসিত দ্বন্দ্ব সমাসের লক্ষণ হইবে। পাণিপাদং বাদয়' এই সকল স্থলে ‘পাণিপদং' এই দ্বিতীয় ভাগে অতিব্যাপ্তি বারণের জন্য লক্ষণে সমাসত্ব নিবেশ করা হইয়াছে। লক্ষ্যে লক্ষণ সমন্বয় করিবার জন্য পাণিপদং বাদয়' ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। সমাহার এবং ইতরেতর ভেদে দ্বন্দ্ব সমাস দ্বিবিধ। অতএব উভয় লক্ষণ সমন্বয় করিবার জন্য পাণিপদং বাদয় এই সমাহার দ্বন্দ্ব ঘটিত বাক্যটি উল্লিখিত হইবার পরে ‘ধবখদিরে হিন্ধি এই ইতরেতর দ্বন্দ্ব সমাসঘটিত ক্যান্তর প্রদর্শন করিয়াছেন। কর্মাদ্যাংশে এই আদি পদের দ্বারা করণত্ব, অধিকরণত্ব প্রভৃতি গৃহীত হইবে। করচরণাদি’ এই আদি পদের দ্বারা সমান্তরীয় ধৰ-খদির প্রভৃতির পরিগ্রহ করিতে হইবে। সম্বন্ধান্তরে ধৰখদিরাদিপদ প্রভৃতি ক্রমিক নামসমূহের ‘অম’ প্রভৃতি দ্বিতীয়াদি বিভক্তি ধর্মিক তাদৃশ নিশ্চয় ধবখদিরাদি প্রকারক কর্মাদি বিশেষ্যক অন্বয়- বােধের উপযােগী নহে। এই জন্য তাদৃশ নামসমূহগত একারতার অবচ্ছেদক রূপে অব্যবহিতােরত্ব রূপ সম্বন্ধটি নিবেশ করা হইয়াছে। তাদৃশ কার্যকারণভাব ঘটিত দ্বন্দ্ব সমাসের লক্ষণ কল্পনার ফল প্রদর্শন করিবার জন্য ‘অতঃ' ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। অর্থাৎ, যেহেতু পাণিপাদং ইত্যাদি স্থলে অব্যবহিতােত্তরত্ব সম্বন্ধে তাদৃশ আনুপূর্ববচ্ছিন্ন পাণিপাদ প্রকার নিশ্চয় কর্মত্ব ধর্মিক করচরণকারক অন্বয়বােধের কারণ, অতএব করচরণাদিরূপ অর্থে পাণিপাদ প্রভৃতি সমুদায়ে সমাসের লক্ষণ সময় হইবে। সমাসস্থলে সাহিত্যে লক্ষণাবাদী প্রাচীন সম্প্রদায়ের মত খণ্ডন করিবার অভিপ্রায়ে ‘যত্ত, ইত্যাদি গর্ভের দ্বারা উক্ত প্রাচীন মত উত্থাপন করিতেছেন। বাক্যে শক্তি না থাকায় শক্য সম্বন্ধরূপ লক্ষণা স্বীকৃত হইতে পারে না, এই জন্য পাণিপাদন ৭ वाक्तिमकाधिका ইত্যাদি সমাহার ঘৰ প্ৰলে সমাসের ঘটক পদ পদের পাণিপাদসাহিত্যে শশা যীকৃত হইয়াছে। কেন তাদৃশ সাহিত্যে লক্ষণ। স্বীকৃত হইবে তাহার যুক্তি প্রদর্শন করিবার জন্য ‘অতএব ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। অর্থাৎ যেহেতু সমাহার দ্বলে পূর্বোক্ত সাহিত্যে লক্ষণা স্বীকৃত হইয়াছে, অতএব সমাহার দ্বস্থলে সর্বত্র একবচন হইৰে। কেন সর্বত্র একবচন হইৰে ইহার উত্তরে বলিতেছেন সমাহার রূপ সাহিত্যে দ্বিত্বাদি সংখ্যা বাধিত হওয়ার ফলে সর্বত্রই একত্ব স্বীকৃত হইবে। ইহারা আরও বলেন যদি সাহিত্যরূপ অর্থে লক্ষণা অঙ্গীকৃত না হয় তাহা হইলে ইতরেতর দ্বন্দ্ব সমাসের ন্যায় পাণিপাদ ইত্যাদি সমাহার দ্বন্দ্বে ও দ্বিবচন বহুবচন প্রভৃতির প্রসক্তি হইবে। এখন প্রশ্ন হইৰে যদি সমাহার দ্বন্দ্বের অন্তর্গত অন্তিম পদে লক্ষণা স্বীকৃত হয়, তাহা হইলে পাণি প্রভৃতি অন্যান্য পদ ব্যর্থ হইবে না কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে গ্রন্থকার বলিতেছেন ‘পদান্তর তাদৃশলক্ষণায়া নিরূঢ়ত্ব- সম্পাদক, অর্থাৎ পাণিপাদম্ ইত্যাদিস্থলে পাদ শব্দের যে পাণিপদ সাহিত্যে লক্ষণ স্বীকৃত হইয়াছে, উক্ত লক্ষণ। যে আধুনিক লক্ষণ নহে পরন্তু নিরূঢ়লক্ষণ। তাহার সম্পাদকত্বৰূপেই পাণি প্রভৃতি পূর্ব পূর্ব পদের সার্থকতা স্বীকৃত হইবে। আশঙ্কা হইতে পারে চিত্র প্রভৃতি স্থলে চিত্রাদি পদের যেরূপ তাৎপর্ষগ্রাহকত্ব স্বীকৃত হইয়াছে এখানে পাণি প্রভৃতি পদের তাৎপর্যগ্ৰাহকত্ব স্বীকার না করিয়া লক্ষণ নিরূঢ়ত্ব-সম্পাদক বলা হইল কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে বক্তব্যগ্রন্থকার এই গ্রন্থের শব্দপ্রামাণ্য প্রকরণে তাৎপর্যজ্ঞানের কারণত্ব নিজে খণ্ডন করিয়াছেন এই জন্য পাণিপ্রভৃতি পদের তাৎপর্যগ্রাহকত্ব না বলিয়া নিরূঢ়ত্ব সম্পাদক বলিয়াছেন। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে উক্ত পাণিপদ সাহিত্যরূপ লক্ষ্যার্থ সাক্ষাৎ সম্বন্ধে দ্বিতীয় বিভক্তির অর্থ কমত্বে বাধিত হওয়ায় পাণিপাদম এই বাক্যটি অযােগ্য বাক্য হইবে না কেন? এই আশঙ্কার উত্তরে গ্রন্থকার ‘তথাবিধ সাহিত্যস চ’ ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। গ্রন্থকারের বক্তব্য এই যে তথাবিধ সাহিত্য সাক্ষাৎ সম্বন্ধে পাণিপদগত হইলেও সাশ্রয়তিত্ব রূপ পরম্পরা সম্বন্ধে কৰ্মত্বে থাকায় উক্ত বাক্য অযােগ্য হইবে না। ইহাই প্রাচীন দিগের সিদ্ধান্ত। ন मूलम् युक्तम् , तुल्यवदेकक्रियान्वयित्वं बुद्धिविशेषविशेष्यत्वं वा पाणिपादयोः साहित्यं तस्य च नानात्वसम्भवेन तद्गत द्वित्वादि बोधार्थ समाहारद्वन्द्वादपि द्विवचनाद्यापत्तेढुंवारत्वात् । साहित्यस्य द्वित्वबहुत्वेऽपि । न समाहारद्वन्द्वस्य द्विवचनादि साकावृत्त्वं तादृश द्विगोरिवेति चेत्, तर्हि पाणिपाद प्रभृतीनां नानात्वेऽपि न तदर्थकस्य द्वन्द्वस्य द्विवचनापाकासत्व- मित्येव वक्तुमुचितं कृतं साहित्यमक्या । हस्त्यश्वं धनमित्यादेरयोग्यताया दुर्वारतापाताच नामार्थयोर्भेदान्वयस्याव्युत्पन्नत्वेन हस्तिनामश्चानाच साहित्यस्य स्वाश्रयत्वादि सम्बन्धेन धनादावन्वयायोगात् तादृश साहित्ये धनादेरमेदविरहाच्च । समाहारपरिभाषा तु लोवलिङ्गत्वनित्य कवचन- त्वादिपदसंस्कारोपयोगितयवोपपन्ना न द्वन्द्वस्यार्थव्यवस्थापिका । एतेन धवखदिरावित्यादावितरेतरद्वन्द्वेऽप्युत्तरपदे धवखदिरसाहित्याश्रये लक्षणा अन्यथा द्विवचनादेः प्रकृत्यर्थतावच्छेदकवत्येव पर्याप्तिसम्बन्धेन स्वार्था- द्वित्याद्यनुभावकत्वव्युत्पत्ते र्धवखदिरावित्यतो धवद्वयस्य च प्रतीत्यापत्तेरिति मोमांसकानाम्मतमप्यपास्तम् । অনুবাদ উক্ত মীমাংসকমত যুক্তিযুক্ত নহে (কারণ ‘পাণিপাদ’ ইত্যাদিস্থলে ) পাণিপাদ এতদুভয়ের সাহিত্য তুল্যবদেকক্রিয়ায়িত্ব অথবা বুদ্ধি বিশেষ্যত্বরূপ { স্বীকৃত হইবে )। উক্ত সাহিত্যগত নানাত্ব সম্ভবপর হওয়ায় তত দ্বিত্বাদি বােধের প্রয়ােজনে সমাহার দ্বন্দ্ব সমাসের পরেও দ্বিবচনাদি বিভক্তির আপত্তি বারণ করা যায় না। (যদি বলা হয় ) সাহিত্যগতদ্বিত্ববহুত্ব স্বীকৃত হইলেও সমাহার দ্বিগু সমাসের ন্যায় সমাহার দ্বন্দ্ব সমাস দ্বিবচনাদি সাকাভক্ষ নহে। ( প্রাচীনগণের) এই উক্তিও ঠিক নহে। কারণ তাহা হইলে পাণিপাদ প্রভৃতি। গত নানাত্বকে গ্রহণ করিয়া তদর্থক দ্বন্দ্বসমাস দ্বিবচনাদি সাকা নহে, ইহাই বলা সমীচীন হইবে। অতএব সাহিত্যলক্ষণা স্বীকার করা নিষ্প্রয়ােজন। বিশেষতঃ হস্ত্য ধনম্ ইত্যাদি বাক্যের অযােগ্যতা বারণ করা যায় না। কারণ নামার্থদ্বয় ভেদসম্বন্ধে অন্বয় অব্যুৎপন্ন বলিয়া হস্তিসমূহের ও অশ্ব সমূহের সাহিত্য স্বায়ত্ব প্রভৃতি সম্বন্ধে ধন প্রভৃতিতে অন্বিত হইতে পারে না, অভেদ সম্বন্ধেও অন্বয় হইতে পারে না। কারণ তাদৃশ সাহিত্যে ধনাদির অভেদ থাকে না।

৭৫০ কিকায়িকা সমাহার পরিভাষা কিন্তু পদসংস্কারের অনুকুল ক্লীবলিঙ্গত্ব, নিত্যএকবচনত্ব, প্রভৃতির দ্বারা উপপন্ন হইবে, উক্ত পরিভাষা দ্বন্দ্ব সমাসের ব্যবস্থাপিকা নহে। মীমাংসক সম্প্রদায় যে বলেন, ‘ধবখদিরাবিত্যাদি ইতরেতর দ্বন্দ্বস্থলেও উক্ত সমাসের ঘটক উত্তরপদের ধবখদিরাদিগত সাহিত্যের আশ্রয়ে লক্ষণা স্বীকার করিতে হইবে। ইহা স্বীকার না করিলে দ্বিবচন প্রভৃতি বিভক্তি, প্রকৃত্যর্থতার অবচ্ছেদক ধর্মের আশ্রয়েই পৰ্যাপ্তি সম্বন্ধে স্বার্থদ্বিত্ব প্রভৃতির অন্বয় বােধক হইয়া থাকে, এইরূপ ব্যুৎপত্তি থাকায় ধবখদিরৌ এই সকল ইতরেতর দ্বন্দ্বসমাস হইতে ধবদ্বয়বিষয়ক প্রতীতির আপত্তি হইবে। এই (মীমাংসক) মতও বক্ষ্যমাণ দোষ নিবন্ধন নিরস্ত হইল। বিবৃতি ‘পাণিপাদ’ ইত্যাদি সমাহার দ্বন্দ্ব সমাস স্থলে উত্তর পদের সাহিত্যে লক্ষণাবাদী প্রাচীন সম্প্রদায়ের মত প্রদর্শন করিয়া ‘তন্ন যুক্ত ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে উক্ত মত খণ্ডন করিতেছেন। প্রাচীন সম্প্রদায় যে সমাহার দ্বন্দ্বের ঘটক উত্তর পদের সাহিত্যে লক্ষণ। স্বীকার করেন। উক্ত সাহিত্য শব্দের বিশ্লেষণ করিলে দ্বিবিধ অর্থ প্রতীয়মান হইয়া থাকে, একটি অর্থ হইবে ‘তুল্যবদেকক্রিয়ায়িত্ব অর্থাৎ একজাতীয় ক্রিয়াগত একজাতীয় সংসর্গ নিরূপকত্ব, অপর অর্থ হইবে ‘বুদ্ধিবিশেষ বিশেষত্ব’ অর্থাৎ ‘অয়মেক’ ‘অয়মেক' এই আকারের নানা একত্ব প্রকারক যে বুদ্ধি তন্নিরূপিত বিশেষত্ব সাহিত্যের স্বরূপ যদি এবংবিধ হয়, তাহা হইলে উক্ত সাহিত্য বিভিন্ন হওয়ার ফলে ‘পাণিপাদ’ ইত্যাদি সমাহার দ্বন্দ্ব স্থলেও দ্বিত্বাদি সংখ্যার বােধক দ্বিবচনাদি বিতক্তির প্রসক্তি বারণ করা যায় না। উক্ত আপত্তির পরিহার কল্পে যদি প্রাচীনগণ বলেন, আমাদের মতে সাহিত্য নানা হইলেও উক্ত সমাহার দ্বন্দ্বের পরে দ্বিত্বাদি বােধের অনুকুল দ্বিবচনাদি প্রসক্তির সম্ভাবনা নাই। কারণ সমাহার দ্বিগুসমাস যে রূপ দ্বিত্বাদি বােধক দ্বিবচনাদির কাজ নহে তদ্রুপ সমাহার দ্বন্দ্ব ও ইতরেতর দ্বন্দ্বের ন্যায় দ্বিবচনাদি কাক্ষ নহে। প্রাচীনগণের এই বক্তব্যের উত্তরে গ্রন্থকার এইমত খণ্ডনের জন্য ‘তহি' ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে প্রাচীনগণ যদি উক্ত রীতি অনুসরণ করিয়া সমাহার দ্বন্দ্ব স্কুলে দ্বিচাদির নিরাকাঙ্কত্ব স্বীকার করিয়া কেবলমাত্র একবচনের ১। সংসর্গ নিরূপকত্ব ইহার অর্থ সংসর্গ প্রতিযােগিকত্ব বুঝিতে হইবে। ইহার ফলে ‘পাণিপাদং বাদ’ এই স্থলে বাদন ক্রিয়াগত যে সন্ধবিশেষ তন্নিরূপকত্বৰূপ একক্রিয়ায়িত্ব পাণি ও পাদ উভয়ে থাকায় এবং সমাহার প্রতীয়মান হওয়ায় মীমাংসক- মতে পাণিপাদম' ইত্যাদিলে সমাহার দ্বন্দ্বের উপপত্তি হইবে। অতএব উক্ত ক্রিয়াগত সম্বন্ধ প্ৰাভাকর মীমাংসকমতে সময়। ভটুমতে স্বরূপ সম্বন্ধ স্বীকৃত হইবে।

समासप्रकरणम् উপপত্তি করেন তাহা হইলে অনর্থক সমাহার দ্বন্দ্ব স্থলে পরপদের সাহিত্যে লক্ষণা স্বীকার করিয়া সিদ্ধান্তিগণ বলিবেন-সমাহার দ্বন্দ্বের ঘটক পাণিপাদ প্রভৃতি নানা হইলেও তৎপ্রতিপাদক দ্বন্দ্ব সমাসে ৰিচনাদি বিভক্তি সাকাহ্নত্ব কল্পিত হইবে না ইহাই বলা সমীচীন। সাহিত্যে লক্ষণ। স্বীকার করিবার কোন প্রয়ােজন নাই। যদি প্রাচীনগণ বলেন ‘পাণিপাদং ন দ্রব্যং’ এইরূপ অনুভবের অনুরােধে সমাহার দ্বন্দ্ব স্থলে উত্তরপদের সাহিত্যে লক্ষণ। স্বীকার করিতে হইবে। ইহার উত্তরে সিদ্ধান্তিগণ যদি বলেন উক্ত অনুভব প্রামাণিক নহে পরন্তু ‘পাণিপদং দ্রব্যম’ এইরুপ অনুভবই প্রমাণসিদ্ধ। ইহার উত্তরে প্রাচীনগণ বলিবেন, অনুভব থাকা সত্ত্বেও যদি লক্ষণ স্বীকৃত হয়, তাহা হইলে কোনওরূপ অনুবই পদার্থের সাধক হইতে পারে না। বিশেষত সাহিত্যে লক্ষণা স্বীকৃত হইলেও পাণিপাদং দ্রব্যম্ এইরূপ যথার্থ অনুতসিদ্ধ হইতে পারে না। কারণ লাক্ষণিক অর্থ যে সাহিত্য তাহার স্বাশ্রয় তাদাত্ম সম্বন্ধে দ্রব্য পদার্থে যথার্থ অন্বয়বােধ হওয়ার পক্ষে কোনও বাধা নাই। প্রচীন গণের এই বক্তব্যের উত্তরে গ্রন্থকার ‘হ্যশ্বং ধন’ ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন, তাৎপর্য এই যে, ‘পাণি পাদ ইত্যাদি স্থলে পরপদের সাহিতাে লক্ষণা স্বীকৃতি পক্ষে ‘পাণিপাদং দ্রব্যম’ ইত্যাদি স্থলে স্বাশয় তাদাসম্বন্ধে অম্বয়বােধের উপপত্তি হইলেও ‘হত্যশ্বং ধন ইত্যাদি স্থলে ধনপদার্থে হন্তী ও অশ্বগত তাদৃশ সাহিত্যের অন্বয় ও সম্ভাবিত নহে। কারণ যদি ধন পদার্থে উক্ত সাহিত্যের অন্বয় করিতে হয় তাহা হইলে স্বায়ত্ব সম্বন্ধে অন্বয় করিতে হইবে অথবা স্বাশ্রয় তদাত্মা সম্বন্ধে অন্বয় করিতে হইবে। উক্ত সাহিত্য সমাসের অন্তর্গত অশ্বরূপ নামের লক্ষ্যার্থ হওয়ায় ধনরূপ নামাৰ্থে স্বায়ত্বরূপ ভেদ সম্বন্ধে অন্বয় হইতে পারিবে না। কারণ একটি নামাৰ্থে অপর নামাৰ্থের অভেদান্যসম্বন্ধে অন্বয় ব্যুৎপত্তি সিদ্ধ নহে। যদি বলা হয় উক্ত সাহিত্যের ধনপদার্থে তাদা সম্বন্ধে অন্বয় প্রাচীনগণের অভিপ্রেত তাহাও সঙ্গত নহে, কারণ উক্ত সাহিত্যে ধনপদার্থের অভেদ না থাকায় তাদাহ্ম্য সম্বন্ধেও ধনপদার্থে তাদৃশ সাহিত্যের অন্বয় হইতে পারিবে না। এই অভিপ্রায়ে গ্রন্থকার বলিয়াছেন “তাদৃশ সাহিত্যে ধনাদেরভেদবিরহাচ্চ। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে ‘পাণিপাদ’, হন্তাশ্ব ইত্যাদি দ্বন্দ্ব সমাস স্থলে যদি সাহিত্যে লক্ষণা স্বীকৃত না হয়, তাহা হইলে ঐ সকল সমাসের সমাহার পরিভাষা ব্যর্থ হইবেনা কেন? এই আশঙ্কার সমাধানকল্পে গ্রন্থকার ‘সমাহার পরিভাষা তু’ ইত্যাদি সম্পর্কের অৰতাৰণা করিতেছেন, তাৎপর্য এই যে পাণিপাদ’ ইত্যাদি দ্বন্দ্ব সমাসের যে সমাহার পৱিতা রহিয়াছে তাহার ফল পদসংস্কার অর্থাৎ সমাহার দ্বন্দ স্কুলে নিয়মত ক্লীবলি নিত্য একবচন রূপ যে পদসংস্কার ইহাই সমাহার পরিভাষার ফল, উক্ত দ্বন্দ্বমাসে সাহিত্যাদি রূপ অর্থবিশেষের অবগতিরূপ ফল নহে। এতেন’ ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে মীমাংসকমত খণ্ডিত হইতেছে। এতেন’ ইহার অর্থ করিতে হইবে, বক্ষ্যমাণ দোষের १६२ बन्दाक्तिप्रकाधिका ফলে মীমাংসকগণের মত নিকৃত হইল এই অগ্রিম অংশের সহিত এতেন’ ইহার অন্বয় করিতে হইবে। মীমাংসক সম্প্রদায়ের অভিপ্রায় এই যে কেবলমাত্র যে সমাহার দ্বন্দ স্কুলে উত্তর পদের সাহিত্যের আশ্রয়ে লক্ষণ। স্বীকৃত হইবে তাহা নহে ‘বখদিয়ে ইত্যাদি ইতরেতর দ্বন্দ্ব সমাস হলেও খদির প্রভৃতি উত্তর পদে বখদির গত সাহিত্যের আশ্রয়ে লক্ষণ। স্বীকৃত হইবে। যদি উক্ত লক্ষণা স্বীকার করা সম্ভব না হয়, তাহা হইলে ধৰহয় এবং ঋদিয় বিষয়ক প্রতীতির আপত্তি হইবে, কারণ ঔ’ প্রভৃতি দ্বিবচন বিভক্তি প্রকৃত্যৰ্থতাবচ্ছেদক ধর্মবিশিষ্টেই পর্যাপ্ত সম্বন্ধে স্বকীয় অর্থ যে দ্বিত্বাদি তগােচর অন্বয়বােধের জনক হইয়া থাকে। প্রকৃত্যর্থতাবচ্ছেদক শব্দটি এখানে প্রকৃতি জন্য বােধের বিশেষ্যবচ্ছেদক রূপ অর্থ গৃহীত হইবে। প্রকৃত্যৰ্থতাৰচ্ছেদক- বত্যেব’ এই এব কারের দ্বারা ধর্মান্তর পুরস্কারে ভাসমান প্রকৃত্যর্থের ব্যবচ্ছেদ করা হইয়াছে। ধব এবং খদির এতদুভয়ের প্রত্যেকটি ধবত্ব এবং খদিরত্ব পুরস্কারে ধৰ পদার্থে ও খদির পদার্থে সমবায় সম্বন্ধে ধব-খদিরগত দ্বিত্ব সংখ্যা থাকিলেও ধবত্ব পুরস্কারে কেবল ধবপদার্থে, খদিরত্ব পুরস্কারে কেবল খদির পদার্থে কিন্তু পর্যাপ্ত সম্বন্ধে দ্বিবচনের অর্থ দ্বিত্বসংখ্যার অন্বয় হয় না। পরন্তু ধবত্ব পুরস্কারে ধৰ, খদিরত্ব পুরস্কারে খদির এতদুভয়েই দ্বিত্বসংখ্যার পর্যাপ্ত সম্বন্ধ স্বীকৃত হইয়া থাকে। বব-খদিয়ে দৌ এইরূপ প্রতীতির ন্যায় ‘ধবো ধবখদিরােভয় এইরূপ প্রতীতি কাহারও মতে স্বীকৃত নহে। সুতরাং পর্যাপ্ত সম্বন্ধে ধবখদির উভয়েই দ্বিবচনাদি বিভক্তির অর্থ দ্বিত্বের অন্বয় স্বীকৃত হইবে। এই পর্যাপ্তি অভিপ্রায়েই গ্ৰন্থান্তরে বলা হইয়াছে, ‘উতয়ত্ব উভয়ত্ৰৈৰ পর্যাপ্ত নত্বেক। এইভাবে মীমাংসকমত প্রদর্শন করিবার পর বলিতেছেন, এই মীমাংসক মত বক্ষ্যমাণ দোষে নিরাকৃত হইল। मूलम् तुल्यवदेकक्रियान्वयित्वं धव-खदिरविशेष्यकधीविशेषविशेष्यत्वं वा धवखदिरयोश्च साहित्यं तदाश्रयश्च धवद्वयादिकमपीति तादृशसाहित्याश्रय- लचकत्वपक्षेऽपि धवखदिरावित्यतो धवद्वयादि बोधस्य दुरितापत्तेः, न च त्रितयाविशेष्यक धवखदिरधर्मिकधीविशेष्यत्वमेव प्रकृते धवखदिरयोः साहित्यं तच न चवद्वयादेरिति वाच्यम्, तादृश साहित्यान्वयस्यानुभवेनास्पर्शनात् , नानाधर्माणां प्रकृत्यर्थतावच्छेदकत्वं तत्र तत्तद्धर्मावच्छिने समुदित एव पर्याप्तिसम्बन्धेन द्वित्वादि बोधने द्विवचनादिकं साकाङ्क्षन तस्मात् यत्र समासप्रकरणम् ৭% तु वारशैकधर्मावच्छिन्न परित्यज्य तथाविधापरधर्मावच्छिने: यतो धवखदिरावित्यादितो धवयोः खदिरयोश्च बोधप्रसङ्ग इति तत्वम् । অনুবাদ তুল্যবদেকক্রিয়ায়িত্ব অথবা ধবখদিরবিশেষ্যক বুদ্ধি বিশেষ বিশেষ্যত্ব ধবখ- দিরগত সাহিত্য (বলিতে হইবে)। তাদৃশ সাহিত্যের আশ্রয় কিন্তু ধবদ্বয়- খদিরদ্বয় প্রভৃতিও হইবে, সুতরাং তাদৃশ সাহিত্যায়ে মীমাংসকগণ যে লক্ষণা স্বীকার করেন, তাহাদের মতেও কিন্তু ‘ধব-খদিরো' ইত্যাদি সমাস হইতে ধব- দ্বয়াদি বােধের আপত্তি বারণ করা যায় না, মীমাংসকগণ যদি বলেন, প্রকৃতস্থলে ত্রিতয় বিশেষ্যক নহে, এতাদৃশ ধবখদিরধর্মিক বুদ্ধিবিশেষ্যত্বই ধবখদিরগত সাহিত্য স্বীকৃত হইবে। তাদৃশ সাহিত্য কিন্তু ধবদ্বয়াদিগত নহে। মীমাংসক গণের এই উক্তিও সঙ্গত নহে কারণ তাদৃশ সাহিত্যের অন্বয় (কাহারও) অনুভবসিদ্ধ অতএব যেখানে নানা ধর্মগতপ্রকৃত্যৰ্থতাবচ্ছেদকত্ব ভাসমান হইৰে, সেখানে তৎধর্মাবচ্ছিন্ন যে সমুদায় তাহাতেই পৰ্যাপ্তি সম্বন্ধে দ্বিত্বাদি প্রকারক বোধের অনুকুল দ্বিবচন প্রভৃতি সাকা হইবে, পরন্তু তাদৃশ একধর্মবিশিষ্টকে পরিহার করিয়া অপর ধর্মবিশিষ্টে নহে, যাহার সঙ্গে ‘ধব-খদিরে ইত্যাদি দ্বন্দ্ব সমাস হইতে ধবদ্বয় অথবা খদিরদ্বয় গােচর বােধের প্রসক্তি হইতে পারে, ইহাই এখানে তত্ত্ব। নহে। বিবৃতি পূর্বোক্ত মীমাংসকমতের দোষ প্রদর্শন করিবার জন্য প্রথমে সাহিত্য পদার্থটি পরিস্কৃত করিবার জন্য তুলাবদেকক্রিয়াধয়িত্বং' ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। পূর্বে প্রাচীন মতে যেরূপ সাহিত্য শব্দের অর্থ প্রদর্শিত হইয়াছে, মীমাংসক মত খণ্ডন প্রসঙ্গেও অনুরূপ ভাবেই ‘সাহিত্য' শব্দটি ব্যাখ্যাত হইতেছে। প্রাচীনমতে সাহিত্যে লক্ষণ কল্পিত হইয়াছে, মীমাংসকমতে কিন্তু সাহিত্যাশয়ে লক্ষণ। কল্পিত হইয়াছে। এখানে ও ‘তুল্যৰদেকক্রিয়ায়িত্ব’ শব্দের দ্বারা একজাতীয় ক্রিয়াগত একজাতীয় সাক্ষাৎ সংসর্গ- নিরূপক রূপ অর্থ গৃহীত হইবে। পূর্বে যে বুদ্ধি বিশেষ বিশেষ্যত্বরূপ কল্পান্তর বলা হইয়াছে, এখন তাহারই পরিস্ফুট অর্থকে গ্রহণ করিয়া বলিতেছেন-ধৰ-খদির বিশেষ্যক শীবিশেষ বিশেষ্যত্ব, বা অর্থাৎ ‘অল্পং ধব, অয়ং খদি এই আকারের ধৰিশেষ্যক দির বিশেৰ্যক বুদ্ধি বিশেষ নিরূপিত বিশেষ্যত্ব ধবখদিৱগত সাহিত্যরূপে গৃহীত হইবে। তাশ সাহিত্যায়ে যদি মীমাংসক সম্প্রদায় লক্ষণা খীকার করেন, তাহা হইলে উক্ত s शब्दाक्तिप्रकाशिका সাহিত্যের আশ্রয় যেরূপ ‘অয়ং ধৰ' ‘অয়ং খদি ইত্যাদি বুদ্ধি বিশেষ্যত্ব একটি ধবপদার্থে ও একটি খদির পদার্থে থাকিবে তদ্রুপ ‘ইমো বৌ, ‘ইমো খদিরৌ’ ইত্যাদি বুদ্ধি বিশেষের বিশেষ্যত্ব ধবধায় এবং খদিরদ্বয় এই উভয়ে থাকায় উক্ত সাহিত্যের আশ্রয় ধবয় ও খদিরও অবশ্যই হইবে। এই অভিপ্রায়েই গ্রন্থকার বলিয়াছেন, ধৰয়াদিমপতি। ধবদ্বয়াদি তাদৃশ সাহিত্যের আশ্রয় হইলে কি অনিষ্ট হইত তাহা প্রদর্শন করিবার জন্য বলিতেছেন, তাদৃশ সাহিত্যায় লকত্ব’ ইত্যাদি অর্থাৎ মীমাংসকগণ যদি তাদৃশ সাহিতাশ্রয়ে লক্ষণ অঙ্গীকার করেন, তাহা হইলে ধৰখদিরে ইত্যাদি বাক্য হইতে যেরূপ একটি ধব এবং একটি খদির প্রতীয়মান হয়, তদ্রুপ ধবদ্বয় এবং খদির দ্বয়ের ও প্রতীতি বিষয়কত্বের আপত্তি হইবে। ইহার উপরে ও ‘ন চ’ ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে মীমাংসকগণ একটি শঙ্কা উত্থাপন করিতেছেন। অর্থাৎ মীমাংসকগণ যদি বলেন ধৰ খদির ইত্যাদি স্থলে যে ধব বিশেষ্য খদির বিশেষ্যক বুদ্ধি-বিশেষ বিশেষ্যত্বকে সাহিত্য বলা হইয়াছে উক্ত সাহিত্যের অন্তর্গত বুদ্ধিতে ‘ত্রিতয় বিশেষ্যকতিত্ব’ বিশেষণের দ্বারা বিশেষিত করিলেই প্রকৃতলে ধবদ্বয়াদি বােধের আপত্তি বারিত হইতে পারে। জগদীশ সিদ্ধান্ত পক্ষ অবলম্বন করিয়া বলিতেছেন, মীমাংসকগণের এই উক্তি সমীচীন নহে। কেন সমীচীন নহে তাহা প্রতিপাদন করিবার জন্য বলিতেছেন, তাদৃশ সাহিত্যানুয়ানুভবেন- স্পর্শনাৎ' ইত্যাদি। অর্থাৎ মীমাংসকো তাদৃশ সাহিত্য অন্বয় বােধের বিযয় হয়- ইহা কাহারও অনুভৰসিদ্ধ নহে। সুতরাং অনুভবের বিরুদ্ধ হওয়ায় তাদৃশ সাহিত্য কল্পনা অসম্ভব। এইভাবে মীমাংসকমত খণ্ডন করিয়া স্বকীয় সিদ্ধান্তের উপসংহার করিবার জন্য ‘তস্মাৎ’ ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে সমাহার বা ইতরেতর যে কোন দ্বন্দ্ব সমাসস্থলে সমাসের ঘটক পদার্থদ্বয়ে সাহিত্যরূপ অথবা সাহিত্যায়রূপ অন্তিম পদের লাক্ষণিক অর্থ অনুভৰসিদ্ধ না হওয়ায় সাহিত্যাদি কল্পনা পরিহার করিতে হইবে। সুতরাং ইতরেতর দ্বন্দ্ব সমাস স্থলে যখন ধবত্ব খদিরত্ব প্রভৃতি দুইটি বা তিনটি ধর্ম প্ৰকৃত্যর্থতার অবচ্ছেদকরূপে প্রতীয়মান হইবে, তৎ তৎ স্থলে ধর্মদ্বয়ের অথবা ধর্ম- ত্রয়াদির প্রত্যেকটি ধর্ম বিশিষ্টের যে পদার্থদ্বয়রূপ সমুদায় অথবা পদাৰ্থৰয়াদিরূপ সমুদায় তাহাতে ধৰ খদিয়ো ইত্যাদি স্থূলীয় দ্বিৰচনাৰ্থ দ্বিত্ব সংখ্যার ‘বখদির পলশান, ইত্যাদি স্থূলীয় ধৰখদির পলাশাদি সমূদায়ে বহু বচনলভ্য ত্ৰিত্ব সংখ্যার পর্যাপ্ত সম্বন্ধে অৱয়বােধ হইবে। ইহাই বস্তু গতি। এই অভিপ্রায়েই বলিয়াছেন ‘ইতি তু তত্ত্ব।

समासप्रकरणम् १६५ मूलम् घटघटेत्यादिकस्य, घटकलसेत्यादिकस्य, घटतद्घटेत्यादिकस्य च क्रमिकनामस्तोमस्य निश्चयत्वेन घटादेरन्वयबोधं प्रत्यहेतुत्वमतो न तादृङ्नामनिवहो घटाद्यर्थे द्वन्द्वः । अतएव समस्यमानपदार्थयोस्त- चावच्छेदकयोर्वा यत्र मिथो भेदस्त्रत्रैव द्वन्द्वस्य साधुत्वसूचनाय 'चार्थेद्वन्द्वः' इति पाणिनिः प्राह । अतएव भेदगर्भसमुच्चयार्थक शब्दमन्तव्य धवश्च खदिरश्चेत्यादिकं विग्रहमस्य प्रयुञ्जते वृद्धाः, समुपाददते च, तत्र मिथो भेदप्राप्तार्थञ्चकारद्वयम् । पीत-तत्पटयोस्तादात्म्यमित्यादौ तत् पटादेः पीताद्यमिन्नत्वेऽपि पीतत्व-तत् पटत्वाद्योः पदार्थतावच्छेदकयोरस्त्येव मेदः, सुवर्थस्तु द्वित्वं न तत्र प्रकृत्यर्थेऽन्वेति, पर्याप्तिसम्बन्धेन पीतततपटे तस्य वाधात्, सुवर्थ द्वित्वादेस्तादृश सम्बन्धेनैव प्रकृत्यर्थसाकासत्वात् , परन्तु प्रकृत्यर्थतावच्छेदकयोः पोतत्वतत्पटत्वयोरेव व्युत्पत्ति वैचित्र्यात् , अतएव 'द्वाणुकारम्भकसंयोगनाशेभ्यः कार्यद्रव्यं नश्यतोति' भाष्यस्य योग्यता- सम्पत्तये सुवर्यैकत्वस्य कार्यद्रव्यत्वेऽन्वयमभिधित्सुनाचार्येण 'जात्यभिप्राय- कमेकवचन मिति गुणकिरणावल्यामभिहितम् । অনুবাদ ‘ঘট-ঘট’, ‘ঘট-কলস’, ‘ঘটত ঘট’ ইত্যাদি স্থলে (কিন্তু) ক্রমিক নাম সমুদায়ের নিশ্চয়ত্ব পুরস্কারে (নিশ্চয়সমূহ ) ঘটাদি প্রকারক অন্বয়বােধের প্রতি হেতু নহে, এইজন্য তাদৃশ নাম সমুদায়ের ঘটাদি রূপ অর্থে দ্বন্দ্ব সমাস হইবে না। অতএব সমস্যমান পদার্থদ্বয়ে অথবা পদার্থতাবচ্ছেদকদ্বয়ে যে সমাসস্থলে পরস্পর ভেদ থাকিবে (সেই সমাস স্থলেই) দ্বন্দ্বের সাধুত্ব সূচনা করিবার জন্য পাণিনি ‘চার্থে দ্বন্দ্ব (২২২৯) এই সূত্রটি বলিয়াছেন। অতএব বৃদ্ধ সম্প্রদায় ভেদগর্ভ সমুচ্চয়রূপ অর্থের প্রতিপাদক শব্দকেই অন্তর্ভাব করিয়া ধব খদির এই আকারের দ্বন্দ্ব সমাসের বিগ্রহবাক্য প্রয়ােগ করিয়া থাকেন। এবং পরস্পর ৭ शब्दशक्तिप्रकाशिका ভেদপ্রাপ্তির অনুরােধে উক্ত বিগ্রহ বাক্যে চার দ্বয়ের পরিগ্রহ করিয়া থাকেন, “পীতৎপটয়ােস্তাদাত্ম” ইত্যাদি স্থলে তৎপট প্রভৃতিতে পীতের (পীতরূপ বিশিষ্টের ) অভেদ থাকিলেও পীতত্ব এবং তৎ পটত্ব প্রভৃতিপদার্থতাবচ্ছেদকদ্বয়ে পরস্পর ভেদ অবশ্যই থাকিবে, সুবর্ধদ্বিত্ব কিন্তু উক্ত স্থলে প্রকৃত্যর্থে পর্ষাপ্তি সম্বন্ধে অন্বিত হইবে না, কারণ পীত তৎপটে দ্বিত্ব বাধিত। অথচ পর্ষাপ্তি সম্বন্ধে সুবৰ্থ দ্বিত্বাদি প্রকৃত্যর্থে সাকা হইয়া থাকে, পরন্তু প্রকৃত্যর্থতার অবচ্ছেদক যে পীতত্ব, তৎপটত্বরূপ ধর্মদ্বয়, তাহাতেই পূর্বোক্ত সম্বন্ধে ব্যুৎপত্তি বৈচিত্র্যবশতঃ দ্বিত্বাদি অন্বিত হইবে। অতএব “দ্ব্যণুকের আরম্ভ সংযােগ নাশ হইতে কার্যদ্রব্যের নাশ হইয়া থাকে” এই ভাষ্য সন্দর্ভে যােগ্যতাসম্পত্তির অনুরােধে কার্যদ্রব্যম্ এই দ্রব্যপদের পরবর্তী যে সুবর্থ একত্বের কার্যদ্রব্যতে অন্বয় করিবার অভিপ্রায়ে আচার্য উদয়ন, গুণকিরণাবলী গ্রন্থে বলিয়াছেন, দ্রব্যম’ এই একবচনটি জাত্যভিপ্রায়ে (ভাষ্যকার কর্তৃক) প্রযুক্ত হইয়াছে। বিবৃতি যাদৃশ আনুপূৰী প্ৰকাৰ নিশ্চয়ত্ব পুরস্কারে উক্ত আনুপূৰী প্ৰকারক নিশ্চয়, সমাসের ঘটক যে যে নামের দ্বারা উপস্থাপিত যে যে পদার্থপ্রকারক অন্বয়বোধের প্রতি কারণ, তাদৃশ আনুপূৰী বিশিষ্ট যে সমাস, তাহাই হইবে দ্বন্দ্ব সমাস, এইরূপ দ্বন্দ্ব সমাসের গুরুতর লক্ষণ না করিয়া কর্মধারয়াদি সমাস হইতে ভিন্ন তৎ তদর্থ বােধক নামসমূহ তত্তদর্থে ঘৰ সমাস হইবে, এইরূপ লঘু লক্ষণ করা হয় নাই কেন? এই আশঙ্কার উত্তরে গ্রন্থকার ‘ঘট ঘটেত্যাদি' গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন, তাৎপর্য এই যে দ্বন্দ্ব সমাসের উক্ত লঘুলক্ষণ স্বীকৃত হইলে ঘট ঘট,' ‘বট-কলস’, ‘ঘট ত ঘট, এই সকল আনুপূৰী বিশেষ বিশিষ্ট বাক্য ও কর্মধারয়াদি সমাস হইতে ভিন্ন হইয়াছে এবং ঘট রূপ অর্থ বিশেষের উপস্থাপক হওয়ায় ঘট ঘট ইত্যাদি শব্দে উক্ত দ্বন্দ্ব সমাস লক্ষণের অতিব্যাপ্তি হইবে। উক্ত অতিব্যাপ্তি বারণ করিবার জন্য যদ যদ অর্থক এবং যদ যৎ প্ৰকাৰক এই হলে বীপিত অর্থাৎ দ্বিরুক্ত যৎ পদের প্রয়ােগ করা হইয়াছে, দ্বন্দ্ব লক্ষণে এইভাবে দ্বিরুক্ত যৎ পদের প্রয়ােগ থাকার ফলে ‘ঘট ঘট' ইত্যাদি বাক্যে ঘটাদিরূপ অর্থে সমাস হইবে না, কারণ ‘ঘট ঘট’ ইত্যাদি শব্দ পরস্পর বিভিন্ন অর্থ সমূহের উপস্থাপক নহে। লক্ষণে যৎ যৎ একারক এই বীঙ্গা প্রবেশের প্রয়ােজন দেখাইবার জন্য গ্রহকার ‘অতএব’ ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন, অর্থাৎ সক্ষণান্তর পরিহার করিয়া দ্বিরুক্ত যৎ পদ ঘটিত দ্বন্দ্ব সমাসের লক্ষণ করিবার ফলে, যাদৃশ আনুপূৰী বিশিষ্ট শব্দ সমূহের দ্বারা উপস্থাপিত পদার্থ সমূহ অথবা পদার্থতাৰচ্ছেদক সমূহ বিভিন্ন হইলে তাদৃশ समासप्रकरणम् ৭৬ অর্থের প্রতিপাদক শব্দসমূহ দ্বন্দ্ব সমাস হইৰে। চার্থে ঃ এই পাণিনীয় সূত্রের দ্বারা উক্ত দ্বন্দ্ব সমাসের সাধুত্ব সূচনা করিতেছেন। ‘চার্থে দ্বন্দ্ব এখানে চ পদটি ভেদগর্ভ সমুচ্চয়ের বােধক, অর্থাৎ যে সমাসের অন্তর্গত পদসমূহ বিভিন্ন অর্থের বােধক হইবে, তাদৃশ পদ সমূহ দ্বন্দ্ব সংজ্ঞক সমাস-ইহাই পাণিনির অভিপ্রায় বুঝিতে হইবে। ভেদগর্ভ সমুচ্চয়ার্থক ‘চ’ কারকে অন্তর্ভাব না করিয়া কখনও দ্বন্দ্ব সমাসের বিগ্রহবাক্য হইবে না, এই অভিপ্রায়ে ‘অতএব’ ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। প্রাচীন পাণিনি প্রভৃতি বৈয়াকরণ মতে পূর্বোক্ত সূত্র অনুসারে, ‘ধব খদির’ ইত্যাদি ভেদগর্ভ সমুচ্চয়ার্থক ‘চ’ কার গর্ভিত বিগ্রহ বাক্যই প্রযুক্ত হইবে, অন্যত্র নহে। পাণিনীয় সূত্ৰস্থ ভেদার্থক চারটির দ্বারা যেরূপ দ্বন্দ্ব সমাসের অন্তর্গত পদার্থের তেদ গৃহীত হইবে, তদ্রুপ লবিশেষে পদার্থতাবচ্ছেদক-দ্বয়েরও ভেদনিবন্ধনও দ্বন্দ্ব সমাস স্বীকৃত হইবে, এই অভিপ্রায়ে ‘পীত তৎ পটয়ােদাত্ম্যম্' ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। গ্রন্থকারের বক্তব্য এই যে, পীততৎপটয়ােরভেদ ইত্যাদি স্থলে পীত পদটি পীতরূপ বিশিষ্টে লাক্ষণিক, সুতরাং পীতরূপ বিশিষ্ট যে পত পদার্থ এবং তৎপট পদার্থ পরস্পর অভিন্ন হওয়ায় দ্বন্দ্ব সমাস হইতে পারে না, এইজন্য পীতপদার্থ- তাবচ্ছেদক এবং তৎপটপদার্থতাবচ্ছেদক এতদুভয়ের ভেদ গ্রহণ করিয়া উক্ত স্থলে দ্বন্দ সমাসের উপপত্তি করিতে হইবে। গ্রন্থকার আরও বলতেছেন, ‘পীত তৎ পটয়াের এই ষষ্ঠী দ্বিবচন বিভক্তির দ্বিত্ব সংখ্যারূপ যে অর্থ তাহা পর্যাপ্ত সম্বন্ধে প্রকৃত্যর্থে অন্বয় ব্যুৎপত্তি সিদ্ধ হইলে দ্বিবচনান্ত ‘পীত তৎ পট’-লে প্রকৃত্যৰ্থ পীত এবং তৎ পট একই পদার্থ হওয়ায় এখানে পর্যাপ্ত সম্বন্ধে দ্বিত্বের অন্বয় বাধিত, অতএব একবচন দ্বিবচনাদির অর্থ যে একত্বদ্বিত্ব প্রভৃতি সংখ্যা তাহারা প্রকৃত্যর্থেই অন্বিত হইয়া থাকে, এই ব্যুৎপত্তির বৈচিত্র্য অর্থাৎ সংকোচ স্বীকার করিয়া একত্যর্থতার অবচ্ছেদক যে পীতত্ব এবং তৎ পটত্ব এই ধর্মদ্বয় তাহাতেই অন্বিত হইবে। জগদীশ বলিতেছেন, এই ব্যুৎপত্তির বৈচিত্র্য যে নবীনমতেই স্বীকৃত তাহা নহে, আচার্য উদয়নেও স্বীকৃত, কারণ, প্রশস্ত পাদভাষ্যের অন্তর্গত ‘দ্বাণুকারকসংযােগনাশেভ্য কাৰ্যদ্রব্যং নতীতি’-এখানে দ্রব্য পদের দ্বারা কার্য দ্রব্য সমূহই ভাষ্যকার কর্তৃক বিৰক্ষিত হইয়াছে, সুতরাং প্রথমার একবচনের অর্থ একত্ব সংখ্যা দ্রব্য সমূহে বাধিত হওয়ায় আচার্য উক্ত সুর্থ একত্ব সংখ্যার দ্রব্যত্বরূপ প্রকৃত্যর্থতাবচ্ছেদকরূপ ধর্মে অন্বয়ের অভিপ্রায়ে কিরণালী গ্রন্থে ‘জাত্যভিপ্রায়কমেক- বনম্' এইরূপ ব্যাখ্যা করিয়াছেন। ১। গদাধর ভট্টাচার্যও অনুমিতি গ্রন্থে দ্বন্দ্ব সমাসের বিচার প্রসঙ্গে নীলঘটয়াের- তে' এই দ্বন্দ্ব সমাসের উপপত্তির জন্য পদার্থদ্বয়ভেদের ন্যায় পদার্থতাবচ্ছেদক দ্বয়ের ভেদ নিবন্ধনও দ্বন্দ্ব সমাস অঙ্গীকার কৰিয়াছেন, এবং ‘পদার্থানাং প্রধানতে পরস্পর বিভেদত। একদৈক্রিয়াযােগৎ ভবতি দ্বন্দ্ব সংজ্ঞক। এই বৈয়াকরণ শ্লোকটি উদ্ধৃত করিয়াছেন।

१६८ शब्दशक्तिप्रकाशिका मूलम् अतएव च 'श्यालाः स्युर्धातरः पत्न्याः स्वामिनो देव-देवरौं' इत्यत्र द्विवचनमहिम्ना स्वामिनो भातरो देवृदेवरोभयपदवाच्या इत्यर्थः सुभूत्यादि- सिद्धः सङ्गच्छते। यदि च पटद्वयासत्त्वेऽपि भूतले पीतपटावित्यादिकः प्रयोगः स्यात् पोतत्वपटत्वोभयाश्रयस्य तत्र सत्त्वात् , एवं पीतपटयोरभेद इत्यादितः शुद्ध पटत्वादेबोधप्रसङ्गश्च, तदर्थे सुवर्थद्वित्वस्य प्रकारत्वा- दित्यादि सूचममीक्ष्यते, तदा गोदी ग्राम इत्यादाविव साधुत्वार्थमेव तत्र द्विवचनमिति वदन्ति । 'विद्यति, विन्दति विनत्तोनामनिट', इत्यत्र विद्यत्यादिशब्दो न विदधातुत्वेनोपस्थापकः, किन्तु सत्ताद्यर्थक तादृश- धातुत्वेनैव मृगपाण्डरयोः पदार्थयोर्भदेऽपि 'हरिणहरिणावित्यप्रयोगात् समानशब्दयोर्द्वन्द्वप्रसक्तावेकशेषो व्युत्पत्तिसिद्धस्तेन हरिणावित्यत्र लुप्त- श्रुताभ्यामेव हरिणपदाभ्यामुपस्थितयोमृगपाण्डरयोधिः । हरी नमस्या- वित्यत्राप्युक्तरीत्यव हरिपदाम्यां विष्णुचन्द्रयोरवगतिः अन्यथा हरिहरी नमस्यावित्यपि प्रयोगापत्तेः । . অনুবাদ অতএব “শালাঃ সুভ্রাতরঃ পত্নাঃ স্বামিনাে দেবৃদেবরো” এই অমরকোষ সন্দর্ভে দ্বিবচন বিভক্তি থাকার ফলে স্বামীর ভ্রাতৃগণ দেব-দেবর এই উভয় পদবাচ্য হইবে। এইরূপ উক্ত সন্দর্ভের অর্থ হওয়ায় উক্ত অর্থের প্রতিপাদক অমরকাষের সুভূতি প্রভৃতি টীকা গ্রন্থও সঙ্গত হইয়াছে। এখন আশঙ্কা হইতে পারে পটদ্বয় না থাকা সত্ত্বেও ‘ভূতলে পীতপটো’ ইত্যাদি প্রয়ােগের আপত্তি হইবে না কেন? কারণ, পীতত্ব এবং পটত্ব এতদুভয়ের আশ্রয় (পীতপট) ভূতলে রহিয়াছে এবং পীতপটয়ােরভেদঃ ইত্যাদি (বাক্য) হইতে শুদ্ধ পটত্ব প্রভৃতির বােধও হইতে পারে না, কারণ, পটাদিরূপ অর্থে সুপ, বিভক্তির অর্থ দ্বিত্ব প্রকার হইয়াছে। এইরূপে সূক্ষ্ম দৃষ্টি সহকারে বিচারে প্রবৃত্ত হইলে তাদৃশ আশঙ্কার সমাধান কল্পে প্রাচীনগণ বলেন ‘গােদৌ গ্রামঃ समासप्रकरणम् ৭৫ ইত্যাদি স্থলের ন্যায় পদগত সাধুত্ব মাত্রের প্রয়ােজনেই উক্ত স্থলে দ্বিবচন বিহিত হইয়াছে। (অন্য কোন প্রয়ােজন সাধনের জন্য নহে)। ‘বিদ্যতি বিন্দতি বিনীনামনিট” এই সকল সূত্রের অন্তর্গত বিদ্যতি প্রভৃতি শব্দ বিধাতুত্ব পুরস্কারে বিদ্ ধাতুর উপস্থাপক নহে, কিন্তু সত্তার্থক তাদৃশ ধাতুত্ব পুরস্কারেই ( উপস্থাপক হইয়াছে)। মৃগ এবং পাণ্ডর এই পদার্থদ্বয়ে পরস্পর ভেদ থাকিলেও হরিণ-হরিণৌ এইরূপ প্রয়ােগ করিলে তাহা কিন্তু অপপ্রয়ােগ হইবে। এইজন্য সমান শব্দদ্বয়ে দ্বন্দ্ব সমাসের প্রসক্তি হইলে একশেষই ব্যুৎপত্তি সিদ্ধ হইবে, ইহার ফলে হরিণৌ এইরূপ এক শেষ স্থলে লুপ্ত এবং শ্রুত হরিণ পদ দ্বয় হইতে উপস্থাপিত মৃগ এবং পাণ্ডর উভয় বিষয়ক বােধ হইবে। হরী নমস্কৌ এখানেও উক্ত রীতি অনুসারে (লুপ্ত এবং শ্রুত) হরি পদদ্বয় হইতে বিষ্ণু এবং চন্দ্রমা এতদুভয়বিষয়ক বােধ উৎপন্ন হইবে, যদি ইহা স্বীকৃত না হয় তাহা হইলে ‘হরি হরী নমস্তো” ইত্যাদি প্রয়ােগের আপত্তি হইবে। বিবৃতি এই প্রসঙ্গে একটি আশঙ্কা উত্থাপিত হইতে পারে। আশঙ্কাটি এই যে “কার্য দ্রব্যং নতি” এই প্রশস্ত পাদ ভাষ্য সন্দর্ভের অন্তর্গত দ্রব্য পদটি আচার্য উদয়নের অভিমত ভাৰ প্রধান নির্দেশ স্বীকার করিলে ও পদার্থঃ পদার্থেনৈব অন্বেতি নতু পদার্থৈকদেশেন এই ব্যুৎপত্তির বৈচিত্র্য অর্থাৎ সঙ্কোচ করিবার প্রয়ােজন নাই, কারণ, আচার্যের অভিমত তাব প্রধান নির্দেশের ফলে দ্রব্য পদের দ্বারা উপস্থাপিত প্রবাহের স্বপ্রতিযােগিকত্ব সম্বন্ধে নশ ধাতুর অর্থ নাশে অন্বয় না হইলেও আশ্রয় প্রতিযােগিকত্ব সম্বন্ধে নশ ধাতুর অর্থ ধ্বংসে অন্বয় সম্ভবপর হওয়ায় ‘পদার্থঃ পদার্থে নৈব অন্বেতি এই ব্যুৎপত্তির সঙ্কোচ ব্যতীতও ‘কাৰ্য্য দ্রব্যং নতি’ এই স্থলে অস্বল্প বােধের উপপত্তি হইতে পারে, এই আশঙ্কার সমাধান করিবার জন্য গ্রন্থকার “অতএব” ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। অতএব এই অংশের অগ্রিম সংগচ্চতে” এই ক্রিয়াপদের সহিত অন্বয় করিতে হইবে। খালাঃ সুতরঃ পত্নাঃ স্বামিনে দেবৃদেবয়ৌ এই কোষ সন্দর্ভের সুভুতি নামক কোষ টিপ্পনী গ্রন্থে ‘স্যালাঃ ' ইত্যাদি কোষ বাক্যগত প্রথমার দ্বিবচন নিবিষ্ট থাকার ফলে স্বামীর ভ্রাতৃগণ দেব এবং দেবর এই উভয় শ বাচ্য হইবে এইরূপে ব্যাখ্যাত হওয়ায় উক্ত দ্বিবচনের অর্থ যে দ্বিত্ব তাহার প্রকৃত্যর্থতাবচ্ছেদক যে দেবৃ এবং দেৰৰ শব্দ তাহাতেই অন্বয় হইয়াছে। সুতরাং প্রত্যর্থে যেখানে দ্বিবচন বিভক্তির অর্থ দ্বিত্বাদি সংখ্যা বাধিত হইৰে সেখানে প্রকৃতার্থতার অবচ্ছেদক ধর্মদ্বয়ে উক্ত দ্বিত্ব সংখ্যার ব্যাপ্তি সম্বন্ধে অন্বয় হইবে। এই অভিপ্রায়ই ‘মৃত্যাদি সিদ্ধ সতে’ ইত্যাদি সম্পর্ভের দ্বারা ব্যক্ত হইয়াছে।

शम्दशक्तिप्रकामिका ‘যদি চ’ ইত্যাদি সর্ডের মাধ্যমে গ্রন্থকার একটি শঙ্কা উথাপন করিয়া প্রাচীনয়ত অনুসরণ কমে তাহার সমাধান করিতেছেন। শঙ্কা গ্রন্থের তাৎপর্য এই যে, ‘পতত- পটষোভেদ, ইত্যাদি স্থলে পদার্থতার অবচ্ছেদক পীতত্ব এবং পটত্বরূপ ধর্মঘয়ে যদি পীতপটপদোত্তরবর্তী দ্বিবচনের অর্থ দ্বিত্ব সংখ্যার পর্যাপ্ত সম্বন্ধে অন্বয় স্বীকৃত হয় তাহা হইলে, ভূতল প্রভৃতিতে পটদ্বয় যখন বর্তমান থাকে না তখনও পতত্ব পটত্বগত দ্বিত্বকে অবলম্বন করিয়া ভূতল প্রভৃতি অধিকরণে ‘পীতপটৌ এইরূপ প্রতীতির প্রসক্তি হইবে না কেন? আরও বক্তব্য এই যে, একত্যর্থতাবচ্ছেদকগত দ্বিত্বাদি বিবক্ষিত হইলে ‘পীতপট’ ইত্যাদি বােধস্থলে দ্বিত্বাধিবিশেষণশূন্য অনুভব সিদ্ধ শুদ্ধ পটাদি প্রকারে পটাদি বিষয়ক বােধও সম্ভপর হইতে পারে না। এইরূপ আপত্তি এবং অনুপপত্তিরূপ সূক্ষ্মবিচারে প্রবৃত্ত হইলে, গ্রন্থকার প্রাচীন বৈয়াকরণগণের মত অনুসরণ করিয়া উক্ত আশঙ্কার সমাধান কল্পে বলিতেছেন, উক্ত আপত্তি এবং অনুপপত্তি বারণ করিবার জন্য প্রাচীন গণের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করিয়া ইহাই বলিতে হইবে যে, গোদৌগ্রামঃ এখানে যে রূপ গ্রাম বােধক গােদৌ শব্দের পরবর্তী দ্বিবচন বিভক্তি কেবলমাত্র পদ সাধুত্বের প্রয়ােজনে স্বীকৃত হইয়া থাকে, ৩প পীতপটয়ােরভেদঃ এই সকল স্থলেও পদসাধুত্বমাত্রের প্রয়ােজনে পীতপট পদোত্তর দ্বিবচন বিভক্তি স্বীকৃত হইবে। ‘বদন্তি' এই উক্তির দ্বারা এই প্রাচীন মতটি গ্রন্থকার সমর্থন করিয়াছেন। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে, বিদ্যতি-বিতি-বিনতীমনিট’ এই সূলে বিধাতুত্ব পুরস্কারে যদি বিদ ধাতুত্ৰয় উপস্থাপিত হয় তাহলে সমানুপুৰীক তাদৃশ সমান শব্দ সমূহের কি করিয়া দ্বন্দ্ব সমাস উপন্ন হইবে? কারণ পদার্থ বা পদার্থতাবচ্ছেদক বিভিন্ন হইলে দ্বন্দ্ব সমাস বিহিত হইবে না। এই আশঙ্কার সমাধান কল্পে গ্রন্থকার বলিতেছেন, ‘ৰিদ্যতি-বিতি-বিনীনামনি’ এখানে বিদ ধাতুত্ৰয় সমানুপূৰীক নহে, প্রথম বিদ ধাতুটি সত্তারূপ অর্থের প্রতিপাদক, দ্বিতীয় বিদ ধাতু লাভরূপ অর্থের প্রতিপাদক, তৃতীয় দি ধাতু বিচার রূপ অর্থের প্রতিপাদক, এইরূপ শক্যার্থের ভেদ থাকায় উক্ত শক্যাৰ্থ প্ৰকৃত্যর্থতাবচ্ছেদককোটিতে নিবেশ করিয়া সত্তারূপ অর্থের প্রতিপাদক বিদ ধাতুত্ব পুরস্কারে লাভরূপ অর্থের প্রতিপাদক বিদ ধাতুত্ব পুরস্কারে এবং বিচার রূপ অর্থের প্রতিপাদক বি ধাতুত্ব পুরস্কারে। উক্তবিদ ধাতুত্ৰয় যথাক্রমে উপস্থাপিত হওয়ায় প্রত্যেকটি ধাতুগত আনুপূৰী রূপ প্রকৃত্যৰ্থৰচ্ছেদকরূপ ধর্ম বিভিন্ন হওয়ার ফলে পদার্থতাবচ্ছেদক ভেদ নিবন্ধন বিদ্যতি-বিজতি-বিনতীন’ এখানে দ্বন্দ্ব সমাস উপপন্ন হইবে, ইহাই গ্রন্থকারের তাৎপর্য। এই পর্যন্ত দ্বন্দ্ব সমাসের ঘটক পদার্থের ও পদার্থবচ্ছেদকের ভেদ নিবন্ধন বন্দ সমাসের উপপত্তির উপসংহার করিয়া বিভিন্ন অর্থের প্রতিপাদক সমান শব্দ ঘটিত দ্বন্দ সমাসের অসাধুত্ব নিরূপণ পূর্বক তাদৃশ হলে একশেষ অঙ্গীকার করিবার জন্য ‘মৃগ- পাওয়াে’ ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, হরিণ শব্দটি যেরূপ মুগের বাচক তদ্রুপ পাণ্ডব বর্ণের (রক্তাত্ব বর্ণে) ও বাচক। অথচ তাদৃশ समासमकरणम् অর্থবয়ের বােধ সমানুপূৰীক পদদ্বয়কে গ্রহণ করিয়া হরিণ হরিণৌ। এইরূপ দৃশ্য সমাসের,সাধুত্ব প্রাচীন বা নবীন কেহই স্বীকার করেন না। এইজন্য গ্রন্থকার বলিতেছেন, সমানুপূৰীক ‘হরিণ হরিণৌ' এইরূপ দ্বন্দ্ব সমাসের প্রসক্তি হইলে উক্ত দ্বন্দ্ব সমাসের অপৰাদক হরিণৌ' এই আকারের একশেষই স্বীকার করিতে হইবে। এখন আপ হইতে পারে, হৰিণ হরিণশ্চ হরিণে' এই আকারের একশেষ স্বীকৃত হইলে একবার উচ্চারিত শব্দ হইতে একটি মাত্র অর্থ ই প্রতীয়মান হইয়া থাকে। সুতরাং হরিণৌ এই একশেষ স্থলে হয় মৃগবিশেষ অথবা কেবলমাত্র পাওর বর্ণেরই বােধ হইবে, উক্ত অর্থদ্বষের বােধ হইতে পারে না, এই আশঙ্কার উত্তরে গ্রন্থকার বলিতেছেন, সমানা- পূৰীক শব্দ দ্বয়ের বিগ্রহবাক্য হইতে দ্বন্দ্ব প্রসক্তি হলে পৰ্বাৱপদটি লুপ্ত হয় অতৰ মৃগরূপ অর্থের বােধক প্রথমে উল্লিখিত হরিণ পদটি লুপ্ত হইলে ও নুপ্ত এবং শ্রুত হরিণ পদদ্বয় হইতে মৃগ এবং পাণ্ডৱ ৰূপ অর্থ দ্বয়ের অবগতি হইবে। ইহাই গ্রন্থকায়ের বক্তব্য। বিষ্ণু এবং চন্দ্র এতদুভয়ের নমস্তত্ববােধক হরীনমস্কো এই প্রয়ােগের উপপত্তি করিবার জন্য গ্রন্থকার বলিতেছেন, ‘হরীনমস্তো ইত্যাপি উক্ত হরিপদাভ্যাং বিষ্ণুচয়ােরবগতি, গ্রন্থকারের বক্তব্য এই যে, সমানপূর্বক শব্দদ্বয়ের দ্বন্দ্ব সমাসের প্রসক্তি হইলে একশেষ ব্যুৎপত্তিসিদ্ধ হইয়া থাকে, সুতরাং হীনমস্তে এখানেও লুপ্ত এবং শ্রুত হরিপদদ্বয় হইতে বিষ্ণুত্ব চন্দ্ৰত্ব উতয় ধর্ম পুরস্কারে বিষ্ণু এবং চন্দ্রের বােধ হইৰে। যদি ইহা স্বীকৃত না হয় তাহা হইলে ‘হরিহরীনমস্তেী’ এইরূপ প্রয়ােগের আপত্তি হইবে। অতএৰ হীনমতো এখানে “হরিশ্চ হরিশ্চ” এইরূপ ৰিগ্ৰহৰাক্য হইবে “হরিহরী এইরূপ দ্বন্দ্ব সমাসের প্রসকি থাকায় স্বরূপৈকশেষ সমাসই আদৃত হইবে। যদি বলা হয় হীনমস্তে' এখানে দ্বিবচন মাত্র সাকা প্রকৃত্যন্তর স্বীকার করিলেই যখন হীনমস্কো এই প্রয়ােগের উপপত্তি হইতে পারে তখন উক্ত স্কুলে একশেষ স্বীকার করা নিষ্প্রয়ােজন। এই অভিপ্রায়ে গ্রন্থকার বলিতেছেন ‘অনথেতি’ অর্থাৎ উক্ত স্কুলে একশেৰ স্বীকৃত না হইলে ‘হরিহরীনমতো এইরূপ প্রয়ােগের আপত্তি হইবে। हरी च हरयश्चेति विग्रहस्थले तु यत्र हरय इत्यादितः समसमान- पदार्थानामवान्तरसंख्यावगमस्तत्र तत्त तसंख्यावच्छिन्न स्वार्थलक्षकस्य लुप्तस्य हर्यादिपदस्योत्तरत्वेन प्रतिसंहितमेव हर्यादिपदं तथाविधस्वार्थस्य लक्षणया बोधकम् , तदप्रतिसन्धाने तु श्रुतमेव हरिपदं विष्णुद्भयस्य सिंहत्रयस्य ১। সচ্চরিত শব্দ সং গময়তি’ ইতি ন্যায়াৎ।

१७२ शब्दशक्तिप्रकाशिका चकया लक्षणया शक्तिभ्रान्त्येव वा, न च विग्रहस्थ सुवर्थस्य द्वित्वादेः समासाप्रतिपाद्यत्वनियमात् तथाविधद्वित्वत्रित्वान्तर्भावेन द्वन्द्वस्यैवासाधुत्वा- दुक्तक्रमण कशेषो न युक्तः, शलाकापरि, हस्त्यश्वमित्यादौ व्यभिचारेणोक्त- नियमस्यासन्चात् एकत्वे चैकत्वानि चेति विग्रहे च एकत्वानीत्येकशेषस्य गुणकिरणावन्यामाचार मिहितत्वाच्च । हंसश्च हंसी च इत्यर्थे हंसहंस्या- वित्यप्रयोगात् तत्रापि "पुंसास्त्रियाः सारूप्ये" इत्यनुशिष्टेः हंसीपदस्य लोपे हंसावित्यत्र लुप्तमेव हंसीपदमनुसन्धाय स्त्रीनुसयोर्बोधः तल्लोपमजान- तस्तु हंसपदे स्त्रीहंसत्व-पुरुषहंसत्वाभ्यां विभिन्नरूपाभ्यामेकस्याः शक्के- लक्षणाया वा ग्रहादेव । অনুবাদ ‘হরী চ হয় এইরূপ বিগ্রহস্থলে কিন্তু যেখানে ‘হরয়া ইত্যাদি একশেষ হইতে সমস্যমান পদার্থ সমূহের অবান্তর সংখ্যার অবগতি হইবে, সেখানে তৎতৎ সংখ্যাবিশিষ্ট অর্থে লাক্ষণিক লুপ্ত হরি’ প্রভৃতি পদের উত্তরত্ব পুরস্কারে জ্ঞাত হরি প্রভৃতি পদ, তথাবিধ স্বার্থের ( ত্রিত্ব সংখ্যাবিশিষ্ট সিংহরূপ অর্থের) লক্ষণারূপ বৃত্তির দ্বারা বােধক হইবে। যদি উক্তরূপে শ্রুত হরিপদের প্রতিসন্ধান না থাকে, (তাহা হইলে) শ্রুত হরি পদটিই শক্তির ভ্রম হইতে বিষ্ণুচন্দ্র এতদুভয়ের এবং সিংহত্রয়ের একই লক্ষণামূলে বােধের জনক হইবে। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে, বিগ্রহের অন্তর্গত সুপ বিভক্তির অর্থ যে দ্বিত্বাদি সংখ্যা তাহা সমাসের দ্বারা প্রতিপাদ্য নহে, ইহাই নিয়ম, অতএব ( উক্ত স্থলে) দ্বিত্ব বা ত্রিত্ব সংখ্যাকে অন্তর্ভাব করিয়া দ্বন্দ্বসমাস সাধু না হওয়ায়, দ্বন্দ্ব- সমাসের অপবাদক একশেষও যুক্তিযুক্ত নহে। (এই আশঙ্কার সমাধান কল্পে গ্রন্থকার বলিতেছেন) উক্ত আশঙ্কা ঠিক নহে। কারণ ‘শলাকাপরি এবং ‘হস্ত্য ইত্যাদি স্থলে ব্যভিচার হওয়ায় উক্ত নিয়ম স্বীকৃত হইতে পারে না। ( আরও বক্তব্য) গুণকিরণাবলী গ্রন্থে আচার্য উদয়নও ‘একত্বে চ একনি চ’ এইরূপ বিগ্রহ বাক্যস্থলে একনি’ এই আকারের একশেষ সমাস স্বীকার করিয়াছেন।

समासप्रकरणम् ৭২ ‘হংস হংসী চ’ এইরূপ বিগ্রহে হংহং’ে (এইরূপ দ্বন্দ্ব সমাস স্বীকৃত হইলে) ইহা অপপ্রয়ােগ হইয়া থাকে। সুতরাং উক্ত স্থলেও ‘পুংসা স্ক্রিয়া সারূপে (পুংসা স্ত্রিয়া ১৯৬৭) এই অনুশাসন অনুসারে হংসীপদের লােপ হইলেও অনুসন্ধান বশতঃ স্ত্রীহংসও পুরুষ হংস এতদুভয়ের বােধ হইবে । যদি কোনও ব্যক্তির পক্ষে হংসীপদের শােপ অজ্ঞাত থাকে তাহা হইলে সেই ব্যক্তির পক্ষে শ্রুত হংসপদের স্ত্রীহংসত্ব পুরুষহংসত্ব এই বিভিন্ন ধর্ম পুরস্কারে একটি শক্তি অথবা লক্ষণাগ্রহাধীন স্ত্রীহংস ও পুরুষ হংস এই উভয়ের বােধ হইবে। বিবৃতি এক্ষণে প্রশ্ন হইতে পারে যদি হীনমতো এখানে দ্বিবচন সাকাজ হরিপদ হইতে বিষ্ণু এবং চন্দ্র উভয়ের বোধ অঙ্গীকৃত না হয়, তাহা হইলে ‘হরী চ হয় এইরূপ বিগ্রহ অনুসারে ‘হরয়া ইত্যাদি প্রয়ােগ হইতে সিংহব্রয় ও বিষ্ণুচন্দ্রদ্বয়ের বােধ হইতে পারে না। লুপ্ত হরিপদের স্মরণ সম্ভবপর হইলেও সংখ্যা বােধক সুপ, প্রভৃতি প্রত্যয় থাকায় দ্বিত্ব বা বিত্ব সংখ্যার অবগতি হইতে পারে না। এই প্রশ্নের সমাধান কল্পে গ্রন্থকার ‘হরী চ হয়শ্চ’ ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে ‘হরী চ হয়শ্চ’ ইত্যাদি বিগ্রহ স্থলে হয় এই একশেষ হইতে দ্বিত্বাদি ততং সংখ্যাৰচ্ছিন্ন স্বকীয় অর্থে লাক্ষণিক লুপ্ত হরিপদের অব্যবহিতােত্তরত্ব পুরস্কারে জ্ঞাত দ্বিতীয় হরিপদের ব্ৰিত্বাবচ্ছিন্ন সিংহরূপ অর্থে লক্ষণস্বীকৃতি মুলে বিষ্ণু দ্বয়ের এবং সিংয়ের অবগতি হইবে। যদি তাদৃশ অব্যবহিতােত্তয়ত্ব পুরস্কারে শ্রুত হরিপদ জ্ঞাত না হয়, তাহা হইলে শ্রুত হরিপদটির বিষ্ণু দ্বয়ে এবং সিংহয়ে লক্ষণাবৃত্তি মূলে অথবা শক্তি ভ্রম বশতঃ বিষ্ণু চন্দ্র উভয়ের এবং সিংয়ের বােধ সম্ভবপর হইবে। ইহার পরে ‘ন চ’ ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে গ্রন্থকার একটি শঙ্কা উপস্থাপিত করিতেছেন। শঙ্কা গ্রন্থটির তাৎপর্য এই যে, ‘নীলে চ তদুৎপলে চেতি’ ইত্যাদি বিগ্রহ বাক্যের অন্তর্গত , ঔ প্রভৃতি বিভক্তির অর্থ যে দ্বিত্ব, ব্ৰিত্ব প্রভৃতি সংখ্যা তাহা যেরূপ নিয়মতঃ নীলােৎপলে ইত্যাদি সমস্ত পদের যারা এতিপাদিত হয় না তপ ‘হী চ হয় ইত্যাদি বিগ্রহ এলেও তথাবিধ দ্বিত্ব ত্ৰিত্ব সংখ্যাকে অন্তর্ভাব করিয়া দ্বন্দ্ব সমাসের সাধুত্ব স্বীকৃত হইবে না, সুতং উক্ত ক্রমে দ্বন্দ্ব সমাসের প্রসক্তি না থাকায় একশেষ অর্থাৎ ‘হরী চ হয়” এইরূপ বিগ্রহ বাক্য অনুসারে অনুসংহিত লুপ্ত দ্বিবচনায় হরীপদের অব্যবহিতােন্তরত্ব পুরস্কারে শ্রুত হৰি পদ হইতে লক্ষণা বা শক্তি শ্রম বশতঃ বিষ্ণু দ্বয় এবং সিংহয়ে বােধের অনুকুল একশেষও যুক্তি যুক্ত হইতে পারে না। এই আশঙ্কা গ্রন্থের সমাধান কল্পে গ্রন্থকার, শলাকাপরি, হত্যশ’ ইত্যাদি গ্রহের অবতারণা করিতেছেন। গ্রন্থকারের বক্তব্য এই যে, শলাকা পরি’, ‘হত্যশ’ এইসকল অ্যয়ীতাৰ v কাজি সমাস হলে অ, শলাকাগত একত্ব প্রভৃতি সংখ্যা যেরূপ অব্যয়ীভাব সমাসে বাৱা এতিপাদিত হইয়া থাকে তদ্রুপ উক্ত স্থলে দ্বন্দ্ব সমাসের দ্বারা একত্ব সংখ্যার প্রতিপত্তি সম্ভবপর হওয়ায় এবং হত্যশ’ এই সকল স্কুলেও হস্তী এবং অশ্বগত সমাহাৱেৰ একত্ব সংখ্যা সমাসের দ্বারা অভিহিত হওয়ায় ব্যভিচার নিন সমাসত্বাবচ্ছেদে একাদি সংখ্যার অৰিক্ষিতত্ব স্বীকৃত হইতে পারে না। যদি পূর্বপক্ষিগণ বলেন একসংখ্যা সমাসের দ্বারা প্রতিপাদিত হইবে না। এই নিয়ম আমাদের অতিতে নহে পরন্তু দ্বিত্বাদি সংখ্যার সমাপ্রতিপাদ্যত্ব এই নিয়মই আমাদের অভিমত,এই নিয়মেরও আচার্য উদয়নের ‘একতে চ একত্বনি চ’ ইতি বিগ্রহে ‘একত্বানি' এই গ্রন্থের মাধ্যমে গুণকিরণবলীর উক্তি উদ্ধৃত করিয়া একত্বে চ ‘একত্বানি চ’ এইরূপ বিগ্রহ অনুসারে একানি এই একশেষ হলে দ্বিত্ব প্রভৃতি সংখ্যার সমাসাপ্রতিপাদ্য নিয়মের ব্যভিচার প্রদর্শন করিয়াছেন। ‘হংস হংসী চ এইরূপ বিগ্রহ বাক্য হইতে হংহংস্কো এইরূপ দ্বন্দ্ব সমাসের অসাধুত্ব এবং হংসৌ এইরূপ সরূকৈশেষ সিদ্ধ করিবার জন্য হংস হংসী চ ইত্যাদি সর্ডের অবতারণা করিতেছেন, গ্রন্থকারের বক্তব্য এই যে, ‘হংশ্চ হংসী চ এইরূপ বিগ্রহ বাক্যের অন্তর্গত হংসী পদটি পুংখ্রিয়াঃ সারূপাে’, এই অনুশাসন অনুসারে বিগ্রহ বাক্যের অন্তর্গত হংসী পদটির ললাপ হইবে এবং হংসের এই একশেষ গুলে লুপ্ত হংসী পদটির অনুসন্ধান বশতঃ স্ত্রীহংস পুরুষহংস এই উভয়ের বােধ হইৰে। পুষ্পবন্ত পদস্থলে চন্দ্ৰত্ব সূর্ষত্ব এইরূপ বিরুদ্ধ ধর্মদ্বয় পুরস্কারে যেরূপ চন্দ্র ও সূর্ষ উভয়ের বােধ হয় তদ্রুপ যে পুরুষের পক্ষে হংসী পদের লােপ অজ্ঞাত থাকিবে তাহার পক্ষে শায়মাণ হংস পদের স্ত্রীহংসত্ব পুরুষহংসত্বরূপ বিভিন্ন ধর্ম পুরস্কারে একটি শক্তির অমবশতঃ শ্ৰমাণ হংস পদ হইতে স্ত্রী হংস এবং পুরুষ হংস উভয়ের বােধ হইৰে। শক্তিম ব্যতিরেকেও উক্ত বােধ সিদ্ধ করিবার জন্য বলিয়াছেন ‘লক্ষণায়া বেতি’ ইহার ফলে উক্ত স্কুলে ‘হংসী চ হংস’ এইরূপ বিগ্রহ বাক্য হইতে অহৎব্যর্থলক্ষণারূপবৃত্তি হইতে স্ত্রীহংসত্ব পুরুষহংসত্ব উভয় ধর্ম পুরস্কারে স্ত্রীহংস এবং পুরুষ হংস উভয়ের ৰােধ হইবে। সর্বত্র শক্তির ভ্রম অভীষ্পিত নহে। এই জন্য শক্তিম ব্যতিরেকেও উক্ত বিগ্রহ বাক্যজনিত হংসের এই সরূপৈকশেষ হইতে হংস মিথুনের বােধ নির্বাহ করিবার জন্য বলিয়াছেন লক্ষণীয় বা গ্রহাদেব”। ১। পুরুষ বােধক হংসাদি পদের সহিত স্ত্রীৰােধক (হংসী) পদের গন্ধকৈশেৰ হইলে স্ত্রীবােধক হংসী পদটি লুপ্ত হইবে এবং শ্রুত পুকৰ বােধক হংস পদ হইতে লুপ্ত হংসী পদের অনুসন্ধান বশতঃ স্ত্রীহংস পুৰুৰ হংস উভয়ের বােধ হইবে।

समासप्रकरणम् १७५ मूलम् यत्तु तत्र हंसपदमेव लक्षणया हंसीत्वेन, शक्या च हंसत्वेन बोधकं, सुवर्यस्तु पुंस्त्वं हंस एवान्वेति, न तु हंस्यामयोग्यत्वात् इति मतम् । तन्त्र, तथा सति, स्त्रोहंसत्वहंसत्वयोः पदार्थतावच्छेदकयोमिथो भेदविरहेन द्वन्द्वाप्रसक्तावेकशेषस्य दुष्करत्वापत्तेः, अन्यथा घटतद्घटावित्यपि द्वन्द्व- प्रसङ्गात् । हंस्यौ च हंसाश्चेति विग्रहेऽपि हंसाः इत्यतो हंसीद्वयहस- त्रययोः प्रागुक्तरीत्यावगमः। दुन्दुभी च दुन्दुभिश्चेति विग्रहे दुन्दुभी सुन्दरावित्यत्राक्षमेर्योर्बोधस्थले पुंलिङ्गस्यैव दुन्दुभिशब्दस्य शिष्टतया तद्विशेषणत्वादेव सुन्दरादेः पुंस्त्वं । युवा च युवतिश्च इत्यर्थे युवाला- वित्यत्राप्युक्तरोत्यैव युवतियौवनवतोर्बोधः, वरटा हसौ लक्षणासारसावित्यादौ तु स्त्रीमुमयोद्वन्द्वेऽपि पदसारूप्यविरहान कशेषः। दम्पत्यर्चणप्रकरणे ब्राह्मणावानयेदित्यत्रापि ब्राह्मणश्च ब्रामणी च इति विग्रहे प्रागुनदिशा ब्राह्मणमाऱ्यांपत्योरवगमः। शव । অনুবাদ ‘ষ ইত্যাদি সন্দর্ভের মাধ্যমে গ্রন্থকার প্রাচীনমত প্রদর্শন করিতেছেন। প্রাচীনগণ বলেন পুরুষ হংস এবং স্ত্রীহংস উভয়ের সরূপৈক শেষ স্থলে হংস পদটির লক্ষণারূপ বৃত্তির দ্বারা হংসীত্ব পুরস্কারে স্ত্রীহংসের এবং শক্তিরূপ বৃত্তির দ্বারা হংসত্ব পুরস্কারে পুরুষ হংসের বােধক হওয়ায় সুবর্থ পুংস্তুধর্মটি হংস পদার্থে অম্বিত হংস পদের লাক্ষণিক অর্থ হংসীতে নহে, কারণ, সুবর্থ পুংস্থের অন্বয়ের পক্ষে হংসী পদ যােগ্য নহে। ইহাই প্রাচীন সম্প্রদায়ের মত। এই মতটি কিন্তু সমীচীন নহে, কারণ, যদি উক্ত প্রাচীন মত স্বীকৃত হয় তাহা হইলে স্ত্রী হংসত্ব এবং হংসত্ব এই পদার্থতাবচ্ছেদকদ্বয়ের পরস্পর ভেদ না থাকায় দ্বন্দ্ব সমাসের প্রসক্তি হইবে না আবার দ্বন্দ্ব সমাসের প্রসক্তি না হইলে একশেষও দুষ্কর হইবে। যদি পদার্থতাবচ্ছেদক দ্বয়ের এবং স্থল বিশেষে পদার্থদ্বয়ের পরস্পর ভেদ দ্বন্দ্ব সমাসের নিয়ামকরূপে স্বীকৃত না হয় তাহা হইলে ‘ঘট-তদবটে এই-আকারের १७६ शब्दशक्तिप्रकाक्षिका দ্বন্দ্ব সমাসের আপত্তি হইবে। হংস্তো চ হংসাশ্চ’ এইরূপ বিগ্রহ বাক্য হইতে প্রাগুক্তরীতি অনুসারে হংসী দ্বয়ের এবং হংসত্রয়ের বােধ হইবে। ‘দুন্দুভী চ দুন্দুভিস্ট এইরূপ বিগ্রহ অনুসারে ‘দুলুভী সুন্দরৌ’ এই একশেষ স্থলে অক্ষ ও ভেরী উভয়ের বােধ যখন হইবে তখন পুংলিঙ্গ দুন্দুভি শব্দটি একশেষ রূপে প্রতীয়মান হওয়ায় তাহার বিশেষণ সুন্দরাদিপদেরও পুংস্তু বিহিত হইয়াছে। যুবা চ যুবতিশ্চ এইরূপ অর্থে ‘যুবানৌ’ এই একশেষ স্থলেও উক্ত রীতি অনুসারে যুবন্ শব্দটি শিষ্ট হওয়ায় যুবতি ও যুবকের বােধক হইবে। বরটা চ হংসর্শ এই রূপ বিগ্রহস্থলে এবং লক্ষণা চ সারস’ এইরূপ বিগ্রহস্থলে কিন্তু বরটা হংসৌ এবং লক্ষণা সারসৌ এই আকারের স্ত্রী পুরুষের উভয়েরই বােধক দ্বন্দ্ব সমাস হইবে। পদদ্বয়ের সারূপ্য না থাকায় একশেষ হইবে না। দম্পতি অর্চনা প্রকরণে ‘ব্রাহ্মণৌ আনয়েৎ' এখানে কিন্তু ব্রাহ্মণশ্চ ব্রাহ্মণী চ’ এইরূপ দ্বন্দ্ব সমাসের প্রসক্তি স্থলে পূর্বোক্তক্রমে ব্রাহ্মণ ভাৰ্য্যা ও ব্রাহ্মণপতি উভয়ের অবগতি হইবে। বিবৃতি উক্ত স্কুলে প্রাচীনমত প্রদর্শন পূর্বক খণ্ডন করিবার জন্য ‘ব ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন, ‘তত্র ইহার অর্থ করিতে হইবে ‘হংস হংসী চ’ ইত্যাদি বিগ্রহ জনিত, হংসৌ ইত্যাদি সরূপৈকশেষ ঋলে, হংস পদমেব’ অর্থাৎ শ্ৰয়মান হংস পদটিই লক্ষণা বৃত্তির দ্বারা হংসীত্ব পুরস্কারে স্ত্রীহংসের এবং হংসপদের শক্তির দ্বারা হংসত্ব পুরস্কারে পুরুষ হংসের বােধক হইৰে। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে যদি হংস পদের লক্ষণারূপ বৃত্তির দ্বারা স্ত্রীহংসের বােধ হয় তাহা হইলে স্ত্রীহংসে হংসদোত্তর সুবৰ্থ যে পুং তাহার অন্বয় কি করিয়া সম্ভবপর হইবে। কারণ স্ত্রীহংসে কখনও পুং সম্ভাবিত নহে। এই আশঙ্কা পরিহার করিবার জন্য গ্রন্থকার বলিতেছেন “বস্তু পুংত্বং হংস এব অন্বেতি ইতি” অর্থাৎ পুরুষ হংসেই সু বিভক্তির অর্থ পুং অন্বিত হইবে, হংসীতে নহে। অন্বয় হইবে না ইহা প্রতিপাদন করিবার জন্য বলিতেছেন ন তু হংশ্যাম্ অযােগ্যত্বাৎ,” অর্থাৎ স্ত্রীহংসীতে সুর্থ পুং বাধিত, সুতরাং স্ত্রীহংসীতে পুংশ্বের অন্বয় হইবে না ইহাই প্রাচীনদের অভিপ্রায়। ‘তর ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে উক্ত প্রাচীনমত খণ্ডন করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে ‘হংসে এই একশেষ হলে হংস পদের দ্বারা স্ত্রীহংসবােধের অনুকুল লক্ষণাবৃত্তি এবং পুরুষ হংস বােধের অনুকুল শক্তিরূপ বৃত্তি যদি প্রাণীনগণ কল্পনা করেন, তাহা হইলে একই হংসপদের স্ত্রীহংসত্ব এবং হংসত্বরূপ পদার্থতাৰ অৰচ্ছেদক যে দুইটি ধর্ম তাহাদের মধ্যে পরস্পর ভেদ না থাকায় দ্বন্দ্ব সমাসের প্রতি সম্ভাবিত নহে। যদি দ্বন্দ্ব সমাসের প্রসক্তি না হয় তাহা হইলে সরূপকশেষেরও এসক্তি হইতে পারিবে না। এই অভিপ্রায়ে समासप्रकरणम् গ্রন্থকাৰ বলিয়াছেন, পদার্থতাবদেকিয়াের্মিধ্যে ভেৰিৰহে বাসাবেকশেষ দুরত্বাপত্তেৰিতি। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে উক্ত নীতিতে পদার্থবিচ্ছেদকদ্বয়ের পরস্পর ভেদ না থাকিলেও হংসী চ হংস ‘হংসৌ'–এখানে হংসে হংসীর ভেদ থাকায় দ্বন্দ্ব সমাসের প্রসক্তি নিবন্ধন প্রাচীনমতে সরূকৈশেষ হইতে পারিবে না কেন? এই আশঙ্কার উত্তরে বলিতে হইবে এই আশঙ্কা ঠিক নহে, কারণ, হংসে হংসীর ভেদ থাকিলেও হংসীতে হংসের তে না থাকায় পদার্থদ্বয়ে পরস্পর ভেদ থাকিবে না। পরস্পর ভেদ না থাকায় দ্বন্দ্বের প্রসক্তিও হইবে না। সিদ্ধান্তপক্ষে কিন্তু স্ত্রীত্ব বিশিষ্ট হংসত্বাৰচ্ছিন্ন এবং পুংত্ব বিশিষ্ট হংসত্বাবচ্ছিন্ন এতদুভয়ের পরস্পর ভেদ থাকায় দ্বন্দ্ব সমাসের অপবাদক সন্ধকৈশেষের পক্ষে কোনও রূপ অনুপপত্তি থাকিবে না। এখন আশঙ্কা হইতে পারে পদার্থতাবচ্ছেদকদ্বয়ের ভেদ দুইটি অননুগত হওয়ায় উক্ত পরস্পর ভেদ দ্বন্দ্ব সমাসের নিয়ামক হইতে পারে না। সুতরাং একটি পদার্থত্বের সমানাধিকরণ্যে অপর পদার্থত্বাবচ্ছিন্নের ভেদকেই দ্বন্দ্ব সমাসের নিয়ামক বলা সমীচীন। ইহার ফলে হংসে হংসীর ভেদ থাকায় দ্বন্দ্বের অপ্রসক্তি হইবে । এই আশঙ্কার উত্তরে অন্যথা ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন অর্থাৎ ছন্দ সমাসের নিয়ামক কোটিতে যদি পরস্পর এই অংশটি প্রবিষ্ট না হয় তাহা হইলে, কেহ বলেন, বিশিষ্ট এবং কেবল পদার্থদ্বয়ের পরস্পর ভেদ যদি স্বীকৃত হয় তাহা হইলে, ‘অন্যথা’ শব্দের এইরূপ অর্থ গৃহীত হইবে। অন্যথা ঘটতদঘটাৰিত্যপি দ্বন্দ্ব প্রসঙ্গাদিতি অর্থাৎ সমাসের ঘটক পদার্থবয়ের পরম্পর ভেদ যদি দ্বন্দ্ব সমাসের নিয়ামক না হয় তাহা হইলে, অথবা কেবল ঘট এবং বিশিষ্ট ঘট এতদুভয়ের পরস্পর ভেদ স্বীকৃত হইলে ‘ঘটতদঘটে এইরূপ দ্বন্দ্ব সমাসের প্রসক্তি হইবে। অতএব প্রাচীন সম্মত হংসপদের লক্ষণ ও শক্তি উভয় বৃত্তি হইতে হংস মিথুনের বােধ স্বীকৃত হইতে পারে না। অতএব ‘হংস্তো চ হংসাশ্চ’ এইরূপ বিগ্রহ অনুসারে ‘হংস: এই একশেষ স্থলে পূর্বোক্ত রীতিতে অর্থাৎ দ্বিত্ব সংখ্যাবিশিষ্ট হংসী বােধক লুপ্ত দ্বিৰচনান্ত হংসী পদের অব্যবহিতাের পুরস্কারে-অনুসন্ধীয় মান হংস পদটি শক্তি ভ্রম অথবা লক্ষণ। রূণ বৃত্তি হইতে হংসীদ্বয়ের এবং হংসত্ৰয়ে বােধক হইবে এই নব্য মতই সিদ্ধান্ত রূপে গ্রহণ করা সমীচীন। এখন প্রশ্ন হইতে পারে দুন্দুভী চ দুন্দুভিশ্চ এইরূপ বিগ্রহ বাক্য হইতে “দু-ভী সুয়ে” এই একশেষের পরবর্তী সুন্দরে এই বিশেষণ পদটি স্ত্রীলিঙ্গে বিহিত না হইয়া পুংলিতে বিহিত হইয়াছে কেন? এই প্রশ্নের সমাধান কল্পে গ্রন্থকার, দুভী চ দুন্দুভি ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে দুঙ্গী চ দু-তিশ্চ এই বিগ্রহ বাক্যের অন্তর্গত প্রথমােক্ত হীলিত দুন্দুঙী পদটি অক্ষের বােধক, পুংলিত দুন্দুভি পদটি ১। পাশা এতি কাচার উপকরণ ৭৭ शब्दशक्तिप्रकाशिका ভেরীর বােধক, সুতরাং স্ত্রী লিঙ্গ ও পুংলিঙ্গ বিশেষ্যবােধক পদদ্বয়কে গ্রহণ করিয়া সরূপক- শেষ স্থলে স্ত্রী-পুংয়ে: পুমান শেষ: এই অনুশাসন অনুসারে পুংলিঙ্গ দুন্দুভি পদটি শিষ্ট অর্থাৎ একশেষ রূপে প্রতীয়মান হওয়ায় সুন্দয়ে” এই বিশেষণ পদটি পুংলিঙ্গ হইৰে স্ত্রীলিঙ্গ নহে, এই অভিপ্রায়ে গ্রন্থকার বলিয়াছেন “পুংলিঙ্গবৈ দুন্দুভিশব্দ শিষ্টতয়া তদ্বিশেষণ হাদেব সুন্দরাদে পুং”। এখানে তদ্বিশেষণত্বাদের এই অংশের দ্বারা অজহল্লিঙ্গ বিশেষণ শব্দ নিয়মত: বিশেষ বােধক শব্দের সমান লিক হইবে, ইহাই সূচনা কর। হইয়াছে। এখন জিজ্ঞাস্য ‘যুবা চ যুবতি’ এইরূপ অর্থে যখন ‘যুবানো এইরূপ একশেষ হইবে তখনও বিভক্তির অর্থ যে পুং তাহার অন্বয় কোথায় হইবে? এই জিজ্ঞাসার উত্তরে জগদীশ বলিতেছেন “যুবনাবিত্যাদাযুক্তরীত্যৈৰ বুৰতি-যৌবনবতাবোধ। গ্রন্থকারের অভিপ্রায় এই যে যুব যুবতি শব্দের একশেষ স্থলে পুংলিঙ্গ যুন শব্দটি শিষ্ট হওয়ায় “মুবানো” এই ঔ বিভক্তির অর্থ পুং যুষন শব্দেই অন্বিত হইবে যুবতি শব্দে নহে। এখন প্রশ্ন হইতে পারে স্ত্রী এবং পুরুষের দ্বন্দ্ব সমাসের প্রসক্তি হইলে একশেষের বিধান থাকায় ‘বরটা চ হংস’ এইরূপ বিগ্রহ হইতে ‘হংসৌ’ এইরূপ একশেষ এবং লক্ষণ। চ সারস' এইরূপ বিগ্রহ হইতে ‘সারসৌ' এবম্বিং একশেষ স্বীকৃত হইবে না কেন? কারণ একশেষ দ্বন্দ্বের বাধক হওয়ায় পূর্বোক্ত বিগ্রহ বাক্য হইতে যথাক্রমে বরটা হংসৌ, লক্ষণা- সারসে এই প্রকার দ্বন্দ্ব সমাস সম্ভাবিত নহে—এই প্রশ্নের সমাধানকল্পে জগদীশ, টা হংসে লক্ষণাগারসৌ” ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। গ্রন্থকারের অভিপ্রায় এই যে স্ত্রী পুরুষ বোধক পদদ্বয়ের যদি সারূপ্য থাকে তাহা হইলেই সেখানে দ্বন্দ্ব সমাসের অপবাদক একশেষ স্বীকৃত হইবে। বরট। হংসে লক্ষণাগারসৌ' এই উভয় স্কুলেই দ্বন্দ্ব সমাসের ঘটক পদদ্বয়ের সারূপ্য না থাকায় একশেষ হইবে না। পরন্তু দ্বন্দ্ব সমাসই স্বীকৃত হইবে এই আশয়ে জগদীশ স্বয়ংই বলিয়াছেন; “পদরূপ্য বিরহান্নৈকশেষ। ব্রাহ্মণ দম্পতীর অর্চনা প্রকরণে উল্লিখিত “ব্রাহ্মণবানয়েৎ” এখানেও ব্রাহ্মণ ব্রাহ্মণী চ এই বিগ্রহ হইতে ব্রাহ্মণে এই একশেষ স্থলে ব্রাহ্মণ শব্দটি শিষ্ট হওয়ায় বিভক্ত্যর্থ পুং প্রভৃতি ব্রাহ্মণ পদে অন্বিত হইয়া ব্রাহ্মণভার্যা ও ব্রাহ্মণপতি উভয়ের বােধক হইবে, এই অভিপ্রায়ে জগদীশ বলিয়াছেন ব্রাহ্মণশ্চ ব্রাহ্মণী চ ইতি বিগ্রহে প্রাকৃদিশা ব্রাহ্মণভার্যা পত্যুরবগম।” ১। বট। হংসে এই দ্বন্দ্ব সমাসের ঘটক বরটা পদটি হংস পত্নীর বােধক এবং ‘লক্ষণা সারসো এখানে দ্বন্দ্ব সমাসের ঘটক লক্ষণ পদটি সারস পত্নীৰ বােবক ইহা বুঝাইবার জন্য অমরকোষকার নিজেই বলিয়াছেন হংস যােষিদ বরটা”, “লক্ষণ। সারসত্য তু” ইতি। ২। সমস্যমানপদয়ে স্বিত্বাদিব্যঞ্জকবিধুরয়ােরেকানুপূৰীমত্বমেৰাত্র সারূপ্যমিত্য- বধেয়।

तवातप्रकरण मूलम् एकश्चैका चेत्यत्र एको, द्वौ च द्वे चेत्यत्र द्वौ, उभौ चोभे चेत्यत्र उभौ, त्रयश्च त्रिसश्च इत्यत्र च विग्रहे वय इत्यादिरेकशेष इष्यत एव । 'ग्राम्पानेकशफेवतरुणेषु' स्त्रीपुंसयोबहुत्वमन्तर्भाव्य सारूप्येण द्वन्द्वस्थले तु पुंस एव लुक्, तेन मेष्यश्च मेषाश्चेत्यर्थे मेष्य इत्यत्रापि लुप्तं बहुमेषाणां लक्षकं मेषपदं प्रतिसन्दधत एव बहुमेषाणामनेकमेषोणाश्चा- वगमः। एवं महिषाश्च महिष्यश्चेत्यर्थे महिष्य इत्यत्रापि महिषपदं बहूनां महिषाणाम् । मृगाश्च मृग्यश्चेत्यर्थे मृगा इत्यत्र तु मृगादेर- ग्राम्यत्वान पुंसो लुक् परन्तु स्त्रियाः । तथा गर्दभाश्च गर्दम्यश्चेत्यर्थे गर्दमा इत्यत्रापि खराणामेकशफत्वात् । वर्कराश्च वर्कर्यश्च इत्यर्थ वर्करा इत्यत्रापि तरुणार्थकत्वात् । स्वसा च भ्राता चेत्यर्थं भ्रातरावित्यत्र, पुत्रश्च दुहिता चेत्यर्थे पुत्रावित्यत्र च विरूपैकशेषेऽपि स्वसृपदं दुहितृपदश्च लुप्तं प्रतिसन्धायैव भातृभगिण्योः पुत्रकन्ययोश्चावगमः। “ज्येष्ठपुत्र- दुहित्र्योश्च ज्यैष्ठे मासि न कारये"दित्यादिकस्तु प्रयोगः परिचिन्तनीयः । অনুবাদ ‘একশ্চ একা চ’ এইরূপ বিগ্রহবাক্য হইতে একৌ, ‘দ্বেী চ দ্বে চ' এই আকারের বিগ্রহবাক্য হইতে দৌ, ‘উভৌ চ উভে চ’ এইরূপ বিগ্রহবাক্য হইতে উভৌ এবং ‘য়শ্চ ত্ৰিশ্চ’ এইরূপ বিগ্রহবাক্য হইতে এয়ঃ ইত্যাদি একশেষ স্বীকৃত হইবে। “গ্রাম্যানেকশফেতরুণেষু” এই অনুশাসন অনুসারে স্ত্রী এবং পুরুষের বহুত্ব সংখ্যাকে অন্তর্ভাব করিয়া সারূপ্যবিশিষ্ট দ্বন্দ্বের প্রসক্তি স্থলে পুরুষ বােধক পদের লােপ হইবে এবং স্ত্রীবোধক শব্দটি একশেষরূপে গৃহীত হইবে। ইহার ফলে মেষ্যশ্চ মেষাশ্চ এইরূপ অর্থে মেষঃ এইরূপ একশেষ স্থলে বহুমেষের লক্ষকরূপে লুপ্ত মেষ পদটির প্রতিসন্ধানবশতঃ বহুমেষবিষয়ক এবং অনেক মেষী বিষয়কবােধ হইবে। মহিষাশ্চ মহিষ্যশ্চ এইরূপ অর্থে মহিষ্য: এই একশেষ স্থলে মহিষ্য পদ হইতে বহু মহিষ বিষয়ক এবং অনেক মহিষী বিষয়ক বােধ se दिशक्तिप्रकाशित হইবে। মৃগাস্ট মৃগ্যশ্চ এইরূপ অর্থে ‘মৃগাস্ট মৃগ্যশ্চ মৃগাং এই একশেষ স্থলে মৃগ প্রভৃতি গ্রাম্য না হওয়ায় পুরুষ মৃগ পদটি লুপ্ত হইবে না, পরন্তু স্ত্রীবােধক মৃগী পদটি লুপ্ত হইবে, এবং গর্দভাষ্ণ গর্দভ্যশ্চ এইরূপ অর্থে গর্দভাঃ এই একশেষীভূত গর্দভ পদটি এক খুর বিশিষ্ট গর্দভের বােধক হওয়ায় স্ত্রীবােধক গর্দভ পদটি লুপ্ত হইবে, পুরুষবােধক গর্দভ পদটি নহে। বৰ্করাশ্চ বৰ্কৰ্যশ্চ এইরূপ বিগ্রহ হইতে একশেষ স্থলে স্ত্রীবােধক বকরী শব্দটি তরুণ পশুর বােধক হওয়ায় স্ত্রীবােধক বৰ্করী শব্দটি লুপ্ত হইবে। স্বসা চ ভ্রাতা চ এইরূপ অর্থে ভ্রাতরে এখানে, এবং পুত্ৰশ্চ দুহিতা চ এইরূপ অর্থে পুত্রৌ এইসকল বিরূপ একশেষ স্থলে, স্বপদ এবং দুহিতৃপদ লুপ্ত হইবে এবং ঐ লুপ্ত পদদ্বয়ের প্রতিসন্ধানবশতঃ ভ্ৰাতৃভগিনী এই উভয় ও পুত্র এবং কন্যা এই উভয়ের বােধ হইবে। জ্যেষ্ঠপুত্ৰদুহিত্যোশ্চ জ্যৈষ্ঠে মাসি ন কারয়ে’ ইত্যাদি স্থলীয় দ্বন্দ্ব সমাসের সাধুত্ব কি করিয়া সম্ভব হয় তাহা চিন্তা করিতে হইবে। বিবৃতি এক একা ইত্যাদি সংখ্যেয় বােধক শব্দকে গ্রহণ করিয়া স্ত্রী পুরুষ বােধক পদয়ের একশেষ স্থলে কোন পদটি লুপ্ত হইবে এবং কোন পদটি শ্ৰয়মাণ থাকিবে এই জিজ্ঞাসার উত্তরে গ্রন্থকার ‘ছো চ বে চ’ ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। গ্রন্থকারের বক্তব্য এই যে, সংখ্যেয় বােধক এক, বি প্রভৃতি শব্দদ্বয়ের একশেষ স্থলে অর্থাৎ এক একা এইরূপ বিগ্রহবাক্য হইতে একে, ছৌ চ দে চ এইরূপ বিগ্রহবাক্য হইতে বৌ, উভে চ উঙে চ এইরূপ বিগ্রহবাক্য হইতে উভৌ এবং এয়শ্চ তিশা' এইরূপ বিগ্রহবাক্য হইতে ব্ৰয় ইত্যাদি একশেষের পক্ষে কোনরূপ বাধক না থাকায় এবং তুলযুক্তিতে পুংলিঙ্গ স্ত্রীলিঙ্গ বিহিত সংখ্যেয় বােধক পদয়ের একশেষ সকল শাব্দিক সম্প্রদায়েরই অভিমত। এই অভিপ্রায়েই জগদীশ বলিয়াছেন, ‘ইত্যাদিরেকশেষ ইয়ত এব, ‘ইত্যাদি’ এই আদি পদের বা ‘চত্বার চত' এইরূপ বিগ্রহঙ্কুলে । সমাসের অপৰাদক চত্বার ইত্যাদি একশেষ অঙ্গীকৃত হইৰে। গ্রাম্যানেকশফেতরুণেযু ইত্যাদি সর্ডের মাধ্যমে গ্রামীণ অনেক খুর বিশিষ্ট ও তরুণ ভিন্ন বহু খ্রীণতর এবং বহু পুরুষপশুর সন্ধকৈশেষ হলে পুরুষ পশু বােধক পদটি লুপ্ত হইবে। ইহার ফলে মেষ মেষাশ্চ এইরূপ বিগ্রহ স্কুলে মেয় এই পদটি শিষ্ট হওয়ায় ক্রয়মাণ মেষপদটি হইতে বহু মেষ রূপ অর্থে লাক্ষণিক লুপ্ত মেষ পদটির এতিসন্ধানবশতঃ বহমেৰিষয়ক এবং ১। আদশত সংখ্যা সংখ্যেয়ে ৰঙতে, অতঃপর সংখ্যেয়ে সংখ্যানে চ’ এই শাব্দিক অনুশাসন অনুসারে অষ্টাদশ পর্যন্ত সংখ্যাৰােধক শব্দ কেবল মাত্র সংখ্যেয়ের ৰােধক হইৰে, উনবিংশতি হইতে সংখ্যাৰােধক শব্দসমূহ সংখ্যা ও সংখ্যেয় এই উভয়ের বোধক হইয়া থাকে।

समीसप्रकरणम् ৭ অনেক মেৰী বিষয়ক বােধ হইবে। মহিষাশ্চ মহিষ এইরূপ বিগ্রহ হইতে মসি' এইরূপ সরূপৈকশেষ স্থলে বহু মহিষরূপ অর্থে লাক্ষণিক লুপ্ত পুংলিঙ্গ মহিষ পদে অনুসন্ধানবশতঃ শ্রুত মহিষী পদ হইতে বহু পুরুষ মহিষ এবং বহু মহিষীর বােধ হইবে। গ্রাম্যানেকশফেতরুণেষু” এই অনুশাসনের অন্তর্গত গ্রাম্যপদটির ব্যাবৃত্তি প্রদর্শন করিবার জন্য বলিতেছেন- মৃগ্যশ্চ” এইরূপ বিগ্রহবাক্য হইতে ‘মৃগাং এই একশেষ স্থলে মৃগ প্রভৃতি গ্রাম্য না হওয়ায় “শ্রীপুংসয়েঃ পুমা শেষ” এই সামান্য অনুশাসন অনুসারে স্ত্রীবােধক মৃগ পদটি লুপ্ত হইবে। পুরুষবােধক গণদটির শােপ হইবে না। গদত পশুটি অনেক খুর বিশিষ্ট না হওয়ায় “গর্দভা গর্দভ্যশ্চ” এইরূপ অর্থে ‘গর্দভ: এই একশেষ স্থলেও পুরুষ গদত পদটি লুপ্ত হইবে না। পরন্তু স্ত্রীবোধক গর্দভী পদটি লুপ্ত হইবে লুপ্ত হইবে। এবং পূর্বীতি অনুসারে লুপ্ত গদতী পদের অনুসন্ধান বশত শ্রুতগর্দভ পদটি গদত এবং গদতী এই উভয়ের বােধক হইবে। উক্ত অনুশাসনের অন্তর্গত “অতরুণ” পদটির ব্যাবৃত্তি প্রদর্শন করিবার জন্য একরাশ বর্যশ্চ এইরূপ বিগ্রহ বাক্য হইতে বৰ্কঃ* এই প্রকার একশেষ স্কুলেও বৰ্কৰা শব্দটি তরুণ পশুরূপ অর্থের বােধক হওয়ায় পুংলি বৰ্কর শব্দের লােপ হইবে না। পরন্তু স্ত্রীবােধক বকরী পদটি লুপ্ত ইহবে। এবং পূর্বোক্ত নিয়মে লুপ্ত বৰ্করী শব্দের অনুসন্ধান বশতঃ শ্রুত পুংলিঙ্গ বৰ্কর শব্দ হইতে বহুবকরী এবং বহুবকরের বোধ হইৰে। এখানে বকর শব্দটির তরুণপশুরূপ অর্থ বুঝিতে হইবে। এই পর্যন্ত সরূপকশেষ প্রদর্শন কৰিবার পরে বিরূপকশেষ প্রদর্শন করিবার জন্য গ্রন্থকার, “সা চ ভ্রাতা চ” ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে পূর্বে আলোচিত সরূকৈশেষের ন্যায় “বসা চ ভ্রাতা চ” এইরূপ বিগ্রহ হইতে “ভ্রাতরে” এবং “পুত্ৰ দুহিতা চ” এইরূপ বিগ্রহ হইতে “পুত্রে এই সকল বিরূপৈকশেষ স্বলেও লুপ্ত স্বসৃপদের এবং লুপ্ত দুহিতৃপদের অনুসন্ধানবশতঃ ভ্রাতৃ-ভগিনী উভয়ের এবং পুত্রকন্যা উভয়ের অবগতি হইবে। এক্ষণে প্রশ্ন হইবে “জ্যেষ্ঠপুত্ৰদুহিৰ্যোশ্চ জ্যৈষ্ঠে মাসি ন কায়েৎ” এই ধর্মশাস্ত্রীয় প্রয়ােগস্থলে বিরূপকশেষ স্বীকৃত না হইয়া দ্বন্দ্ব সমাস স্বীকৃত হইয়াছে কেন? এই জিজ্ঞাসার উত্তরে গ্রন্থকার বলিতেছেন ‘ইত্যাদিকন্তু প্রয়ােগঃ পরিচিন্তনীয়।' গ্রন্থকারের অভিপ্রায় এই যে পুষ্পবন্ত পদ হইতে যেরূপ চন্দ্ৰত্ব সূর্যত্ব উভয় ধর্ম পুরস্কারে চন্দ্র সূর্য উভয়ের শক্তিগ্রহ হইতে চত্ব সুষত্ব উভয় ধর্ম পুরস্কারে চন্দ্র এবং সূর্য এই উভয়বিষয়ক একটি শব্দবােধ উৎপন্ন হয়, তদ্রুপ ধর্মশাস্ত্রীয় প্রয়ােগের অন্তর্গত জ্যেষ্ঠপুত্ৰদুহিত্যোশ্চ এখানেও পুদুহিতৃ পদটির পুত্ৰত্বহুহিতৃত্ব উভয়ধর্মপুরস্কারে পুত্র ও দুহিতা এই উভয়ের ৰােধক একই শক্তিগ্রহ স্বীকৃত হইবে। সুতরাং বিচনাত পুত্ৰ-দুহিতৃ পদটি একটি বিলক্ষণ ১। বরুণো যু, তরুণ পরিতি চ অমর

सम्मासिसकारिता
বিবচনাপ্ত একতি, কিন্তু বিভিন্ন প্রকৃতি নহে। এইরূণে উক্ত শঙ্কৰ সমাধান জগদীশ
তর্কালঙ্কার পরিচিন্তনীয় উক্তির দ্বারা সূচনা করিয়াছেন।
स च
मूलम्
स च मैत्रश्चेति विग्रहे त्यदादिना तदन्यस्य द्वन्द्वे लुकि तावित्य-
त्रापि लुप्तमैत्रादिपदमनुसन्दधत एव मैत्रायवगमः। स च त्वञ्चेत्यादि
विग्रहे किं पदान्यत्यदादिद्वयगर्भ द्वन्द्वे तु पूर्वस्यैव खानुत्तरस्य वा
त्यदादेलुकि युवामित्यावप्युक्तक्रमेण तदर्थयुष्मदर्थयोर्बोधः ।
स चेत्यत्रापि विभिन्नार्थयोविग्रहे स्वपूर्वागणितोऽपि तदादिः स्वोत्तरा पठित
एव । “तत्तन्मानुषतुन्योऽसौ यद्यद्विद्यातिनिर्मलें"त्यादौ तु न त्यदादि-
गणेन द्वन्द्वः परन्तु त्यदाद्यव्ययेन, यथा “तत्तत्तामसभूतभीतय" इत्यादौ,
यत्तदादिव्यतिरिक्तानामेवाव्ययानां सरूपैकशेषस्य व्युत्पन्नत्वात्, प्रयोगानु-
सारित्वात् कल्पनायाः । कश्च तश्चेत्यादिविग्रहेण किमा तादृशद्वन्द्वे तु
तदन्यस्यैव न्यदादेल कि कारित्यादिक एव प्रयोगः ।
चैत्रस्य पितरावित्यत्रापि विरूपैकशेषे लुप्तस्य मातृपदस्य स्मरणात्
मातुरवगमः, तदस्मरतस्तु पितृपदे जनकशरीरत्वेन लक्षणया मातापित्र्योर-
वगतिरिति तु प्राश्चः। कौमारास्तु, मात्रा पितुर्द्वन्द्वे मातापितृभ्यां
मातरपितराम्यामिति प्रयोगद्वयी दर्शनात् चैत्रस्य पितरावित्यत्र नैकशेषः
परन्तु, पुष्पवन्तादि पदवत् मातृत्व-पितृत्वाभ्यां विभिन्नरूपाभ्यामेकशक्तिमदेव
नियतद्विवचनाकाङ्क्ष पितृपदं प्रकृत्यन्तरम् । एवं श्वश्रूश्च श्वशुरश्चेत्यर्थे
श्वशुरौ, इत्यत्र धशुरपदमपि श्वश्वा श्वशुरस्य द्वन्द्व श्वश्रूश्वशुरावित्येव
प्रयोगादित्याहुः॥४८॥

समासप्रकरणम् ৭s একশেষ নহে। অনুবাদ ‘স চ মৈত্ৰশ্চ’ এইরূপ বিগ্রহবাক্যস্থলে ত্যদাদি সর্বনামশব্দ এবং ত ভিন্ন শব্দান্তরের সহিত দ্বন্দ্ব সমাসের প্রসক্তি স্থলে ত্যদাদিভিন্ন (মৈত্র প্রভৃতি) শব্দের সােপ হইলে ‘তৌ এই বিরূপৈকশেষস্থলে লুপ্ত মৈত্ৰাদি পদের অনুসন্ধানবশতঃ মৈত্রাদিবিষয়ক বােধ হইবে। ‘স চ’, ‘ঞ্চ’ ইত্যাদিবিগ্রহবাক্য স্থলে কিং পদভিন্ন ত্যদাদি দ্বয়গর্ভ দ্বন্দ্বসমাসস্থলে কিন্তু পূর্ববর্তী ত্যদাদিশব্দের অথবা নিজের উত্তরবতী নহে এইরূপ ত্যাদিশব্দের লােপ হওয়ায় ‘যুবা’ ইত্যাদি একশেষ স্থলেও পূর্বোক্ত ক্রমেই তৎপদার্থ এবং যুগ্ম পদার্থ এই উভয় বিষয়ক বােধ উৎপন্ন হইবে। “স চ স চ” এইরূপ বিভিন্নার্থক তৎপদদ্বয়ের বিগ্রহবাক্যস্থলে স্ব পূর্ববর্তী না হইলেও ত্যদাদি শব্দ ষোত্তরক্ষণে অপঠিত, (অর্থাৎ সর্বনাম গণনায় নিজের উত্তর ক্ষণে পঠিত নহে, অতএব এইরূপ ত্যদাদিশব্দ লুপ্ত হওয়ায় ‘তে' ইত্যাদি একশেষ স্বীকৃত হইবে।) “তত্তনুষতুল্যোইসৌ য যদ্বিদ্যাতিনির্মলা” ইত্যাদিস্থলে কিন্তু ত্যদাদিগণের সহিত দ্বন্দ্বসমাস স্বীকৃত নহে পরন্তু সর্বনাম বহিভূত ত্যদাদি অব্যয়ের সহিত দ্বন্দ্ব সমাসই স্বীকৃত হইবে, যেমন “তত্তত্তামসভূতভীতয়ঃ” ইত্যাদিস্থলে। সর্বনামগণের অন্তর্গত যত্তদাদিভিন্ন অব্যয়পদসমূহেরই সরূপৈকশেষব্যুৎপত্তি সিদ্ধ হইয়া থাকে। কারণ, প্রয়ােগের অনুরােধেই তাহার নিয়ামকের কল্পনা করা হইয়া থাকে। “কশ্চ ত্বঞ্চ” ইত্যাদি বিগ্রহস্থলে কিম্ শব্দের সহিত তভিন্নত্যদাদি শব্দের দ্বন্দ্ব সমাসের প্রসক্তিস্থলে ‘কিম্ পদভিন্ন ত্যাদি লুপ্ত হওয়ায় ‘কে’ ইত্যাদি আকারের একশেষের প্রয়ােগ স্বীকৃত হইবে। চৈত্রস্ত পিতরে এই আকারের বিরূপ একশেষ স্থলে লুপ্ত মাতৃপদের স্মরণ হইতে মাতৃবিষয়ক বােধ হইবে। যে ব্যক্তির পক্ষে তাদৃশ স্মরণ সম্ভাবিত নহে, তাদৃশব্যক্তির পক্ষে তপিতৃপদের জনক শরীরত্ব পুরস্কারে লক্ষণারূপ বৃত্তি হইতে মাতা পিতা উভয়ের অবগতি হইবে ইহাই প্রাচীনমত। কৌমার বৈয়াকরণ সম্প্রদায়ের মতে, মাতার সহিত পিতার দ্বন্দ্ব সমাসস্থলে ‘মাতাপিতৃভ্যাম্ ‘মাতরপিতরাভ্যাম্’ এই দ্বিবিধ প্রয়ােগ দেখা যায়, এই জন্য চৈত্রস্ত পিতরে এখানে একশেষ নহে, পরন্তু, পুষ্পবন্ত প্রভৃতিপদের ন্যায় মাতৃত্বপিতৃত্বরূপ বিভিন্ন ধর্মদ্বয় পুরস্কারে পিতৃপদের একটি শক্তি স্বীকৃত হইবে এবং উক্ত পিতৃপদ দ্বিবচন সাকা অপর একটি প্রকৃতিরূপে গণ্য এবং শশাশ্চ শ্বশুর এইরূপ বিগ্রহ হইতে শ্বশুরৌ এখানে শ্বশুর পদটিও পূর্বোক্তরীতিতে পত্নীর পিতৃত্বমাতৃত্বৰূপ বিরুদ্ধধর্মদ্বয়পুরস্কারে পত্নীর হইবে।

৭ सम्पयक्तिप्रकाशिका জনক দম্পতী বিষয়ক বােধের জনক হইবে এবং দ্বিবচন সাকা স্বীকৃত হইবে, একশেষ নহে। কারণ শত্রুপদের সহিত শ্বশুরপদের দ্বন্দ্ব সমাস স্থলে ‘শ্ব- শ্বশুরৌ এই আকারেরই প্রয়ােগ দেখা যায়, ইহাই কৌমার বৈয়াকরণ সম্প্রদায়ের বক্তব্য। ৪৮ ৷ বিবৃতি এই পর্যন্ত গ্রন্থকার বিভিন্নার্থক নামদ্বয়ের দ্বন্দ্ব সমাসের প্রসক্তিস্থলে একশেষ সিদ্ধান্তরূপে গণ্য করিয়া এখন সর্বনামের অন্তর্গত ত্য, তদ, যদ, এতদ, অদ, ইদ কি, যুম্মদ, অস্মদ এই সকল ত্যাদি গণের সহিত তদাদিভিন্ন শব্দান্তরের সমাসের প্রসক্তি পক্ষে কোন পদটি লুপ্ত হইয়া লুপ্ত পদার্থের স্মরণ সহকারে শ্রুতপদ হইতে বিশিষ্টবােধ উৎপন্ন হইবে ইহা ব্যক্ত করিবার জন্য গ্রন্থকার জগদীশ তর্কালঙ্কার ‘স চ মৈত্ৰশ্চ’ ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তদন্য এখানে তদন্য পদের ত্যদাদিতির রূপ অর্থ গ্রহণ করিতে হইবে, এবং তদন্য এই অংশের অগ্রিম লুকি’ এই সপ্তম্যন্ত লুক পদের সহিত অন্বয় করিতে হইবে। তাৰিত্যাপি’ অর্থাৎ ‘তো এই আকারের একশেষ স্থলেও লুপ্ত যে মৈত্র প্রভৃতি পদ তাহার অনুসন্ধান অর্থাৎ স্মরণ হইতে মৈত্র প্রভৃতি ত্যদাদি ভিন্ন পদার্থের অবগতি হইবে। স চ ত্ব' এই আকারের বিগ্রহস্থলে কিং পদভিন্ন ত্যদাদিগণের অন্তর্গত দুইটি পদগর্ভিত দ্বন্দ্ব সমাস স্থলে কিন্তু নিজের পূর্ববর্তী অথবা নিজের উত্তরবতী নহে এইরূপ ত্যদাদিপদের লােপ হইলে “যুবা” ইত্যাদি একশেষস্থলে লুপ্ত তৎপদের অনুসন্ধানক্রমে তৎপদার্থ এবং যুগ্মদ পদার্থের বোধ হইবে। স্বানুত্তরস্য বা এই দ্বিতীয় কল্পানুসরণের বীজ প্রদর্শন করিবার জন্য বলিতেছেন ‘স চ স চ এই বিগ্রহ- বাক্যে পদদ্বয়ের সারূপ্য থাকিলেও অর্থগত বৈষম্যব্যতিরেকে একার্থক পদদ্বয়ের দ্বন্দ্ব সমাসের প্রসক্তি না থাকায় একশেষও সম্ভাবিত নহে এইজন্য তৎপদার্থবয়ের বিভিন্নতা প্রতিপাদন করিবার জন্য বলিতেছেন “বিভিন্নার্থয়ােরিতি”। “পূর্ব। গণিতােহপি এই অংশের পর্যবসিত অর্থ করিতে হইবে ‘ত্যৎ তদ যদ ইত্যাদি সর্বনাম গণনায় নিজের পূর্বে গণিত না হইলেও নিজের উত্তরক্ষণে অপঠিত হইয়াছে এইজন্য তৎ পদের শােপ হইবে । এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে তদাদিগণ পঠিত ত্যদ ত যৎ প্রভৃতি শব্দের সরূপৈকশেষ অথবা বিরূকৈশেষই যদি শাস্তসিদ্ধ হয় তাহা হইলে তন্মনুষতুলোগো যদ যদ বিদ্যাতিনির্মল এই সকল প্রামাণিক কাব্যের প্রয়ােগস্থলে দ্বন্দ্বের অপৰাদক একশে না হইয়া দ্বন্দ্ব সমাসের সাধুত্ব কিরূপে সিদ্ধ হইবে? এই আশঙ্কায় সমাধানকল্পে জগদীশ বলিতেছেন উক্ত আশঙ্কা ঠিক নহে কারণ ততুললাংসৌ ইত্যাদি কাবা সশর্তের অন্তর্গত তত্তনুষ এখানে ত্যদাদিগণের অন্তর্গত তৎ' শব্দের যায় । সমাস হয় নাই, পরন্তু ত্যাদাদিগণের অন্তর্গত তৎশব্দের সমার্থক শব্যয় ৰূপ তৎ' समासप्रकरणम् শব্দের সহিত তাদৃশ পদান্তর তৎ শব্দের মাধ্যমেই উক্ত কাব্য সন্দর্ভে ‘তত্তনুষ এই আকারে এ সমাস গৃহীত হইয়াছে—এই অভিপ্রায়ে জগদীশ বলিয়াছেন “ইত্যাদৌ ত্যদাদিগণেন বন্দঃ পরন্তু তদাথব্যয়েন” যেহেতু তৎ প্রভৃতি অব্যয় পদ ঘটিত দ্বন্দ্ব, অতএব একশেষ সম্ভাবিত নহে। “তত্তন্মানুষতুল্যোইসো ইত্যাদি বাক্যস্থলে তদাদি’ অব্যয় ঘটিত বন্দ্ব সমাসের কথা যে বলা হইয়াছে এই উক্তি প্রমাণিত করিবার জন্য “যথা তামসভূত- ভীত ইত্যাদৌ* এই সন্দর্ভের অবতারণা করিয়াছেন। গ্রন্থকারের বক্তব্য এই যে “তত্তমভূতভীতয় এখানে তদাদি অব্যয় পদ ঘটিত দ্বন্দ্ব সমাস যেরূপ সর্বদিসম্মত তদ্রুপ “তত্তনুষতুল্যোহসৌ” এখানেও তৎতৎ স্বরূপ অবয় ঘটিত বন্দ্ব সমাস স্বীকৃত হইবে। এক্ষণে আশঙ্কা হইতে পারে যৎ তৎ স্বরূপ অব্যয় ঘটিত দ্বন্দ্ব সমাস স্থলে সরূপক- শেষ স্বীকৃত হইবে না কেন? এই আশঙ্কার সমাধান কল্পে গ্রন্থকার বলিতেছেন-এই আশঙ্কাও ঠিক নহে, কারণ ষৎ তৎ প্রভৃতি অব্যয় হইতে ভিন্ন যে অব্যয় সেই সকল অৰ্যয়- সমূহেরই যথাসম্ভব একশেষ ব্যুৎপত্তি সিদ্ধ ইহা স্বীকার করিতে হইবে। যদি বলা হয় ইহা কি রাজার আজ্ঞা। অর্থাৎ রাজার আদেশ যেমন কিনা বিচারে শিরােধার্য করিতে হয় যৎতদ্বতিরিক্ত অব্যয়সমূহেরই একশেষ স্বীকার করিতে হইবে ইহাও কি তপ । এই আশঙ্কার উত্তরে জগদীশ বলিতেছেন, না ইহা রাজ আজ্ঞা নহে পরন্তু প্রয়ােগা- রােধিত্বাৎ কল্পনায়া” অর্থাৎ যৎ ত ভিন্ন অব্যয় পদাবলীর প্রয়ােগকে অনুসরণ করিয়াই যেহেতু একশেষ দৃষ্ট হয়—অতএব ইহার অনুকুলেই যৎ ৎ হইতে অতিরিক্ত যে অব্যয় সমূহ তাহাতেই দ্বন্দ্ব সমাসের অপবাদক একশেষ স্বীকার করিতে হইবে, ইহাই প্রয়ােগামুরােধিত্বাৎ কল্পনায়া” এই সন্দর্ভের তাৎপর্য । “কিংপদান্য ত্যদায়ি গর্ভদ্বন্দ্বে ভু” এখানে ত্যদাদ্যংশে কিং পদান্যত্ব বিশেষণটি নিবেশের প্রয়ােজন প্রদর্শন করিবার জন্য গ্রন্থকার ‘স চ ত্বঞ্চেত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। ‘কিমা এই তৃতীয়ান্ত কিং শব্দের অর্থ করিতে হইবে কিংশব্দের সহিত, তদন” এখানেও তদন্যপদের কিং পদভিন্নরূপ অর্থ গৃহীত হইবে। উক্ত আলােচনার ফলে কশ্চ তঞ্চ এইরূপ বিগ্রহ হইতে কিং শব্দের সহিত ত্বং পদের দ্বন্দ্ব সমাসের প্রসক্তিস্থলে কিং পদভিন্ন ত্যদাদিগণের অন্তর্গত ত্বং পদটি লুপ্ত হইয়া কৌ” এইরূপ একশেষের উপপত্তি করিতে হইবে। “চৈত্রস্ত পিতরৌ* এই বিরূপ একশেষ স্থলে প্রাচীন মতে, চৈত্রের মাতৃপিতৃ বিষয়ক বােধের উপপত্তি করিবার জন্য “চৈত্রস্ত পিতরে” ইত্যাদি সন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। প্রাচীন সম্প্রদায়ের অভিপ্রায় এই যে মাতা চ পিতা চ এইরূপ বিগ্রহবাক্য হইতে পিতয়ে এই বিরূপ একশেষে সহিত চৈত্র যষ্ঠী বিভক্ত্যন্ত চৈত্রপদটি সাকা হইলে বিগ্রহবাক্যস্থিত মাতৃপদটি লুপ্ত হইবে এবং উক্ত লুপ্ত মাতৃপদের অনুসন্ধানবশতঃ মৃত মাতৃরূপ অর্থের এবং শ্রুত পিতৃপদ হইতে পিতৃরূপ অর্থের উপস্থিতি ক্রমে চৈত্রের পিতৃমাতৃবিষয়ক বােধ উৎপন্ন হইবে। যদি কোনও ব্যক্তির পক্ষে লুপ্ত মাতৃপদের অরণ না হয় তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির শ্রুত ‘পিতরে এই পদটির প্রকৃতীভুত পিতৃপদটির জনক ৭ রাকিসঙ্গম শরীরত্বপুরস্কারে অজহৎত্যৰ্থলক্ষণা রূপ বৃত্তি হইতে শ্ৰত পিতৃপটিই পিতৃমাতৃ উভয় বিষয়বোধের জনক হইবে। চৈত্রস্ত পিতরে এখানে একশেষ যাহারা অঙ্গীকার করেন না তাহাদের মতান্তর প্রদর্শন করিবার জন্য “কৌমারা” ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। কৌমারা এই অংশের দ্বারা কলাপ ব্যাকরণে অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণকে গ্রহণ করিতে হইবে। “মাত্রা এখানে মাতৃ পদের দ্বারা মাতৃশব্দকে এবং ‘পিতু এখানে পিতৃ পদের দ্বারা পিতৃশব্দকে গ্রহণ করিতে হইবে। “দ্বন্দ্বে” অর্থাৎ দ্বন্দ্ব সমাসস্থলে, ‘মাতৃপিতৃভ্যাং’ ‘মাত- পিতরাভ্যামিতি প্রয়ােগদ্বয়ী দর্শনাদিতি। কাতন্ত্র বৈয়াকৰণ সম্প্রদায়ের বক্তব্য এই যে ‘চৈত্রস্ত পিতরো” এখানে একশেষ স্বীকার করিলেও ‘মাতৃপিতৃভ্যাং’ এবং মাতর- পিত ভ্যাং' এই দ্বিবিধ প্রয়ােগের অনুরােধে যখন উক্তস্থলয়ের প্রকৃত্যন্তর স্বীকার না করিয়া উপায় নাই তখন ‘চৈত্রস্ত পিতৗে' এখানেও একশেষ স্বীকার না করিয়া প্রত্যন্তরস্বীকার করাই সমীচীন। এই অভিপ্রায়ে জগদীশ কাতন্ত্র ব্যাকরণের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করিয়া বলিতেছেন ‘চৈত্ৰস্য পিতরে ইত্যত্র নৈকশেষ’—অর্থাৎ “চৈত্ৰ পিতরে এখানে একশেষ স্বীকৃত হইবে না। এক্ষণে প্রশ্ন হইবে যদি উক্তস্থলে একশেৰ স্বীকৃত না হয় তাহা হইলে কি উপায়ে “চৈত্রস্ত পিতরে' এই বাক্য হইতে চৈত্রের পিতৃ-মাতৃবিষয়ক বােধ উৎপন্ন হইবে? এই প্রশ্নের সমাধানকল্পে ‘পরন্তু পুষ্পবন্তাদি পদবৎ” ইত্যাদিসন্দর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তাৎপর্য এই যে, পুষ্পবন্তপদ, যেরূপ চন্দ্ৰত্ব সূর্যত্ব এই দ্বিবিধ ধর্মপুরস্কারে চন্দ্রসূর্যরূপ অর্থে একটি শক্তি বিশিষ্ট ও দ্বিবচনমাত্রের সাকা হইয়া থাকে তদ্রুপ “চৈত্রস্ত পিতরে’ এখানেও পিতৃপদ টি মাতৃ-পিতৃত্বৰূপ বিভিন্ন ধর্মপুরস্কারে মাতাপিতারূণ অর্থে একটি শক্তিবিশিষ্ট ও দ্বিবচনকা প্রকৃত্যন্ত স্বীকার করাই সমীচীন। চন্দ্ৰত্ব, সুর্যত্ব পুরস্কারে চন্দ্র সূর্য রূপ অর্থে পুষ্পবন্তপদটি যেরূপ একয়ােক্ত্যা পুষ্পৰতো দিবাকরনিশাকরো” এই অমরকোষ অনুসারে একটি শক্তি বিশিষ্ট হইয়া থাকে তদ্রুপ ‘মাতাপিত’ে ‘পিতরো’ ‘মাতরপিত’ে চ ‘তাতজনয়িত্রে এই অমর সিংহের উক্তি প্রমাণরূপে গৃহীত হইবে, সুতরাং অমরকোষের উক্তির দ্বারা প্রমাণিত হওয়ায় ‘চৈত্রস্ত পিতরে’ এখানেও পিতৃপদটি প্রকৃত্যন্তর এবং পূর্বোক্ত রীতিতে দ্বিচন- সাকা অবশ্যই স্বীকার করিতে হইবে। ইহার পরে গ্রন্থকার শ্বশুশ্চ শ্বশুর এইরূপ অর্থে শ্বশুরো এখানে একশেষ স্বীকৃত হইবে। অথবা পিতৗে এই পদের ন্যায় দ্বিবচনকাজ প্রত্যন্তর স্বীকৃত হইবে? এই প্রশ্নের সমাধান কল্পে পূর্বোক্ত কলাপ ব্যাকরণের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করিয়া এবং শশ্চ শ্বশুরশ্চ” ইত্যর্থে শ্বশুরো ইত্যাদি সম্পর্ডের উপস্থাপনা করিতেছেন। গ্রন্থকারের বক্তব্য এই যে শ্বশ্চ শ্বশুরশ্চ এইরূপ অর্থে নিষ্পন্ন শ্বশুয়ে এই পদটিও পুষ্পবন্ত পদের ন্যায় শত্ব শতত্বৰূপ বিভিন্ন ধর্ম পুরস্কারে শশ্রু শ্বশুররূপ অর্থে একশেষ বিলক্ষণ দ্বিৰচনমাত্র কাজ প্রত্যন্ত স্বীকৃত হইবে। কারণ শ্বশ্চ খরশ্চ এইরূপ বিগ্রহ হইতে যে দ্বন্দ্ব সমাস হইবে তাহার আকার হইবে ‘শশ্বশুরে' এইরূপ। শশ। অর্থাৎ শ্বাপদের সহিত শস্য ইহার समासप्रकरणम् ৭০ অর্থ হইৰে শশুর পদের, বলে অর্থাৎ দ্বন্দ্ব সমাস হইলে শ্বশুয়ে' এইরূপই প্রয়ােগ হইবে পরন্তু তরে' এইরূপ একশেষের প্রয়ােগ হইবে না। मूलम् দু বিন— द्वौ भेदावस्य शास्त्रोक्ती, समाहारेतरेतरौ । एकान्यवचनाकासा, हीनोपादानतश्च तौ ॥ ४६॥ অনুবাদ দ্বন্দ্ব সমাসের বিভাগ করিতেছেন। এই দ্বন্দ্ব সমাসের সমাহার এবং ইতরেতর এই দ্বিবিধ ভেদ শাস্ত্রে উক্ত হইয়াছে। যেই দ্বন্দ্ব সমাস, একবচনভিন্ন সুপ, বিভক্তির সহিত আকাঙ্গাশূন্য হইবে, সেই দ্বন্দ্ব সমাসের নাম সমাহার দ্বন্দ্ব। আবার যেই দ্বন্দ্ব সমাস, দ্বিবচনাদি সুপ, বিভক্তির সহিত আকাক্ষা যুক্ত হইবে তাহার নাম হইবে ‘ইতরেতর দ্বন্দ্ব। বিবৃতি পূর্বে ৪৮ সংখ্যক কারিকায় দ্বন্দ্ব সমাসের উদ্দেশ ও লক্ষণ প্রভৃতি বিস্তৃতভাবে আলোচনা করা হইয়াছে। দৌ ভেদাবস্ত শাস্রোতে' এই কারিকার মাধ্যমে দ্বন্দ্ব সমাসের বিভাগ আলােচনা করিতেছেন। সমাহার এবং ইতরেতর এই দুইটি দ্বন্দ্ব সমাসের শাস্ত্রোক্ত ভেদ অর্থাৎ বিভাগ। এই দুইটির মধ্যে প্রথমটির অর্থাৎ সমাহার দ্বন্দ্বের লক্ষণ প্রসঙ্গে বলিতেছেন—প্রস্তাবিত দুইটি দ্ব সমাসের মধ্যে যেই দ্বন্দ্ব সমাস, একবচনভিন্ন সুপ, বিভক্তির সহিত আকাঙ্ক্ষা শুন্য হইবে, সেই দ্বন্দ্ব সমাস হইৰে সমাহার দ্বন্দ্ব। পাণিপদ’, ‘হত্য ইত্যাদি সমাহার দ্বন্দ্বকে উদাহৰণরূপে গ্রহণ করা যাইতে পারে। পাণীনাং পাদানা সমাহার এই অর্থে পাণিপাদ’ এই সমাহার দ্বন্দ্ব হইতে বহু হস্তপদ প্রভৃতির অবগতি হইলেও সেখানে একবচন বিভক্তিই প্রামাণিক এবং হস্তিনামশ্বনাঞ্চ সমাহার এই অর্থে ‘হত্যখ’ এই দ্বন্দ্ব সমাস হইতে বহু হন্তী এবং বহু অশ্ব প্রভৃতির অবগতি হইলেও সেখানে সুপ, বিভক্তির একবচনই এমাণসিদ্ধ হইবে। ইতরেতর দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ- রূপে ‘বখদিয়ে এবং বখদিরপলাশ’ (ছিন্ধি) এই সকল দ্বন্দ্ব সমাস গৃহীত হইবে। খৰ খদি এইরূপ বিগ্রহ বাক্য হইতে ‘বখদিয়ে এই ইতরেতর দ্বন্দ্ব সমাস নিম্পন্ন দিয়ে এই সমস্ত বাক্যটি দ্বিতীয় ও বিভক্তির সহিত সাকা হইয়াছে এবং ‘ १८६ যকিমকায়িকা খদি পলাশশ্চ’ এইরূপ বিগ্রহ হইতে ‘বখদিরপলাশন' এইরূপ ইতরেতর দ্বন্দ্ব সমাস স্থলে সমস্ত ধৰখদিরপলাশ এই অংশের সহিত ত্ৰিত্ব সংখ্যা বােধক বা বহুত্বসংখ্যাৰােধক দ্বিতীয়ার বহুবচন শস্ বিভক্তির সহিত সাকা হওয়ায় ধবখদিরপশন (হিন্ধি) এই সমস্ত বাক্যটি ইতরেতর দ্বন্দ্ব সমাস রূপে গণ্য হইবে। এই দ্বন্দ্ব সমাস সম্বন্ধে অন্যান্য জ্ঞাতব্য বিষয় লক্ষণ প্রকরণেই বিশেষভাবে আলােচিত হইয়াছে। मूलम् अस्य द्वन्द्वस्य द्वौ भेदौ, समाहार इतरेतरश्च शास्त्रसिद्धौ। तत्रैक- वचनान्यसुवाकाङ्क्षाविहीनः समाहारः, समाहारः, तथाविधसुवाकासश्चेतरेतरः । पाणिपादम्, हस्त्यश्वमित्यादितो हि करचरणादीनां बहूनामप्यवगतावेक- वचनमेव प्रमाणं, धवखदिरावित्यादौ तु द्विवचनादिः। 'पदिस्कन्दि- खिदेर्दादित्यादौ तु पदिस्कन्दिभ्यां सहितः खिदिरिति विगृह्य मध्यपद- लोपी कर्मधारयो यथा "अव्याप्त्यतिव्याप्ते"रिति मणिग्रन्थादौ ॥ অনুবাদ এই দ্বন্দ্ব সমাসের সমাহার ও ইতরেতর এই দুইটি ভেদ শাস্ত্রসিদ্ধ। এই দুইটির মধ্যে যে দ্বন্দ্ব সমাসটি একবচনভিন্ন সুপ বিভক্তির সহিত আকাক্ষাশূন্য হইবে সেই দ্বন্দ্ব সমাস, সমাহার (দ্বন্দ্ব ) নামে অভিহিত হইবে। আবার যে দ্বন্দ্ব সমাস একবচন ভিন্ন সুপ, বিভক্তির সহিত সাকা হইবে সেই দ্বন্দ্ব (সমাস) ইতরেতর (ঘ) নামে অভিহিত হইবে। “পাণিপাদং’, ‘হস্ত্যং ইত্যাদি দ্বন্দ্ব সমাস হইতে কিন্তু কর-চরণাদি বহুপদার্থ প্রতীয়মান হইলেও একবচনই সেখানে প্রমাণরূপে গৃহীত হইবে। ধবখদি’ে এই সকল ইতরেতর দ্বন্দ্ব স্থলে কিন্তু দ্বিবচনাদি সুপ, বিভক্তিই প্রমাণরূপে পরিগৃহীত হইবে একবচন নহে। “পদি- স্কলিখিদেদাৎ” ইত্যাদি স্থলে কিন্তু পদিকন্দিভ্যাং সহিতং খিদিঃ এইরূপ বিগ্রহ হইতে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাস স্বীকৃত হইবে। অতএব মণিগ্রন্থ প্রভৃতিতে “অব্যাপ্ত্যতিব্যাপ্তেঃ” ইত্যাদি প্রয়ােগ করা হইয়াছে। • समासप्रकरणम् ৭৫ বিবৃতি সমাহারেতরেতরে” এই কারিকাংশের পরে ‘তয়াের্মধ্যে এই অর্থে “” পদটির প্রয়ােগ না থাকায় শঙ্কিত গ্রন্থকারীয় নূনতা পরিহার করিবার জন্য, জগদীশ বিবরণ গ্রন্থে, “তন্ত্র এই অংশটি পূরণ করিয়াছেন। তত্র পদটির অর্থ করিতে হইৰে সমাহার ও ইতরেতর এই উভয়ের মধ্যে। বিভাজক কারিকায় প্রথম সমাহার দ্বন্দ্ব উদ্দিষ্ট ও লক্ষিত হওয়ায় বিবরণ গ্রন্থেও কারিকার ক্রম অনুসারে প্রথমে সমাহার দ্বন্দ্বের লক্ষণ পরিষ্কার করিবার জ একবচনান্যে’ত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। একবচনন্য এই অংশটি ‘সুপে’র বিশেষণ বুঝিতে হইবে। তাদৃশ সুকাঙ্ক্ষা বিহীন’ এই অংশটির পরে বিশেষ রূপে, যে দ্বন্দ্ব সমাস, এই অংশটি পূরণ করিতে হইবে। ইহার ফলে সুপ্রভৃতি একবচনভিন্ন যে ঔ প্রভৃতি সুপ, তাহার সহিত আকাঙ্ক্ষা শূন্য যে দ্বন্দ্ব সমাস, তাহাই সমাহার দ্বন্দ্ব বুঝিতে হইবে, সমাহার দ্বন্দ্বের উদাহরণ প্রদর্শন করিবার জন্য অগ্রিম গ্রন্থে ‘পাণিপদং' এবং ‘হত্যম্ এই দুইটি উদাহরণ প্রদর্শিত হইয়াছে। এবং বলা হইয়াছে উক্তসমাহার হইতে অনেক কর-চরণাদির বােধ হইলেও একবচনভিন্ন অপর কোনও সুপ, বিভক্তি প্রমাণিত হইবে না। পরন্তু একবচন সুপই সেখানে প্রমাণৰূপে গৃহীত হইবে। ‘ধবখদিয়ে এবং ‘ধবখদিরপলাশ’ এই সকল স্থূলীয় ইতরেতর দ্বন্দ্ব সমাসের লক্ষণ প্রদর্শন করিবার জন্য ‘তথাবিধ সুবাকাঙ্ক্ষতেরেতর' এই গ্রন্থের অবতারণা করিয়াছেন। এখানে তথাবিধ শব্দটির একবচনভিন্নরূপ অর্থ গৃহীত হইবে। ইহার ফলে, একবচনতি (৪, জস্) সুপ, বিভক্তির সহিত সাকা যে দ্বন্দ্ব সমাস তাহাই হইবে ইতরেতর দ্বন্দ্ব। ধবখদিয়ে এবং “ধবখদিরপলাশান” এই সকল স্কুলে একবচনভিন্ন ঔ, জস্ প্রভৃতি দ্বিবচন ও বহুবচনরূপ সুপ, বিভক্তি প্রমাণরূপে গৃহীত হইবে। দ্বিবচন দি’- এই আদি পদের দ্বারা বহুবচন গৃহীত হইবে। উক্ত আলােচনার পরিপ্রেক্ষিতে, একটি আশঙ্কা হইতে পারে ইতরেতর দ্বন্দ্ব সমাসস্থলে যদি দ্বিবচন বহুবচন প্রভৃতি সুপ, প্রমাণিত হয় তাহা হইলে “অদি-তুদি-মুদি-খুদি-স্বিদ্যতি-বিদ্যতি-বি-তি-বিনতি-ছিদি-ভিদি-হদি- সদি-শদি-পদি-স্কন্দি-খিদেদাৎ” এই সূত্রে পঞ্চমীর এৰচন অসঙ্গত হইবে না কেন? এই আশঙ্কার উত্তরে গ্রন্থকার পদি-স্কলিখিদেদাৎ” ইত্যাদি গ্রন্থের অবতারণা করিতেছেন। গ্রন্থকারের বক্তব্য এই যে, ঐ সূত্রের অন্তর্গত—যে পদি-স্কলিখিদেদাৎ এই অংশ গৃহীত হইয়াছে—এইটি ইতর দ্বন্দ্ব সমাস নিষ্পন্ন বাক্য নহে। পরন্তু পদি- স্কুন্দিভ্যাং সহিত খিদি এইরূপ বিগ্রহ অনুসারে মধ্যপদলােপী কর্মধারয় সমাসের দ্বারা ঐ সমস্ত বাক্যটি নিষ্পন্ন হইয়াছে। সুতরাং ঐ স্থলে ইতরেতর দ্বন্দ্বের প্রতি না থাকায় উক্ত স্থলে একবচনের কোনরূপ অসঙ্গতি হইবে না। ইহার উপরেও প্রশ্ন হইতে পারে উক্ত সূত্রে অবস্থিত ‘অদি-হুদি হইতে আরম্ভ করিয়া ‘গদি-ঋন্দি, পর্যন্ত প্রত্যয়ান্ত শব্দসমূহের ইতরেতর দ্বন্দ্ব অবশ্য স্বীকার করিতে হইবে, সুতরাং উক্ত স্থলে গ্রন্থকারের পলি-কন্দিভিঃ এইরূপ বহুবচনান্ত প্রয়ােগ না করিয়া পদি-কন্দিত্যাং এইরূপ দ্বিবচনা ৭০ शब्दशक्तिप्रकाधिका প্রয়ােগ অসঙ্গত হইবে না কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে বক্তব্য এই যে, জগদীশ তর্কালঙ্কায়, সূত্রে অদি-তুদি-প্রভৃতি পনেরটি ইত্যয়ান্ত শব্দকে ইতরেতর দ্বন্দরূপে পরিগ্রহ করেন নাই, পরন্তু একদেশ পদি ও ঋদি এই দুইটি পদকেই ইতরেতর দ্ব রূপে গ্রহণ করিয়া ‘পদি-স্কন্দিত্যাং সহিত খিদি এইরূপ মধ্যপদলােপী কর্মধায়য়ের বিগ্রহবাক্য প্রদর্শন করিয়াছেন। সুতরাং উক্ত দ্বিবচন পদ গ্রহণ সতই হইয়াছে। নিজের উক্তিকে প্রমাণিত করিবার জন্য গ্রন্থকার মণি গ্রন্থের দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করিয়া বলিতেছেন; যথা “নব্যাপ্ত্যতিব্যাথেরিতি এখানেও অব্যাপ্তি সহিত। তিব্যাপ্তি” এইরূপ মধ্যপদলােপী কর্মধারয় যেরূপ তত্ত্বচিন্তামণি গ্রন্থকার গয়েশ উপাধ্যায়ের সম্মত তদরূপ পদি-শি- খিদেদাৎ এখানেও মধ্যপদলােপী কর্মধারয় প্রমাণরূপে গৃহীত হইবে। ৪৯। = मूलम् उपपदसमासं लक्षयति- यदुत्तरपदं नामानुत्तरं सदबोधकम् । धातुकृयामुपपदसमासः स तदन्तकः ॥ অনুবাদ উপপদ সমাসের লক্ষণ করিতেছেন- যে সমাসের উত্তরপদটি কোনও শব্দাত্তরের উত্তরবর্তী না হইয়া যাদৃশার্থের বােধক হইবে না তাদৃশার্থ বিষয়কবােধের অনুকুল ধাতু এবং কৃৎপ্রত্যয়ের দ্বারা নিষ্পন্ন অন্তিমপদ ঘটিত উক্ত সমাস উপপদ সমাস নামে অভিহিত হইবে। বিবৃতি উপপদসমাস বােধক কাৰিকাটির অবতরণিকা প্রদর্শন করিবার জন্য বলিতেছেন- উপপদসমসং লক্ষতিপূর্বে, মতভেদে সমাসের সংখ্যা যাহারা সাতটি বলেন তাহাদের মত অনুসারে উপপদ সমাস কর্মধারয় প্রভৃতির ন্যায় একটি ভিন্ন সমাস। তাহাদের মত অবলম্বন করিয়া মন্দ সমাস নিরূপণ করিবার পরে অবসর সঙ্গতি ক্রমে উপপদ সমাসের লক্ষণ ও বিভাগের মাধ্যমে উপপদ সমাস নিরূপণ করিবার জন্য কমপ্রাপ্ত উপপদ সমাসের লক্ষণ করিতেছেন “যদুত্তরপদ নাম। এখানে যৎপদের বা উপপদসমাসরূপে অভিমত সমাগটিকে গ্রহণ করিতে হইবে। “যদুত্তপদটির ‘য উত্তরপদং যদুত্তরপদং' এইরূপ ব্যুৎপত্তি অনুসারে যে সমাসের উত্তরবতী পদটি এইরূপ অর্থ গৃহীত হইবে। নামানুত্তর সদৰােধম এখানে নাম পদটি শব্দরূপ समासप्रकरणम् ৭৭ অর্থ গ্রহণ করিতে হইবে। সুতরাং প্রথম দ্বিতীয় চরণের অর্থ হইবে যে সমাসের উত্তর পদটি কোনও শান্তরে অর্থাৎ ধাতু এবং কৃত্যয়ান্ত শব্দভিন্ন অপর কোনও শফের উত্তরবতী না হইলে অর্থের বােধ হয় না। তাদৃণার্থক খাতু এবং কদমােগে নিষ্পন্ন উত্তরপদমুক্ত যে সমাস তাহার নাম উপদসমাস। দৃষ্টান্তরূপে কুম্ভকার প্রভৃতি উপপদ সমাস গ্রহণ করিতে হইবে। কুম্ভকার' এই উপপদ সমাসলে ধাতু এবং কৃৎপ্রত্যয়ের দ্বারা নিম্পন্ন ‘কার প্রভৃতি পদ অন্য কোনও কুম্ভ প্রভৃতি পদান্তরের উত্তরবতী হইলে উক্ত কর্তৃপ্রভৃতির গোচর অন্বয়বােধের অযােগ্য হইয়া থাকে। এইজন্য কুকার এই বাক্যটিতে উপপদসমাসের লক্ষণের সমন্বয় হইবে। ধাতুক্যাং” এই অংশটি না দিলে ‘চনিভ' ইত্যাদি তৎপুরুষ সমাসে অতিব্যাপ্তি হইৰে। ধাতুক্যাম’ এই অংশের পরে ‘নিম্পন্ন এই অংশটি যােগ করিতে হইবে। এই অংশটি উত্তরপদের বিশেষণরূপে গৃহীত হইবে। मूलम् धातुकद्भर्ग निष्पन्न यस्योत्तरपदं शब्दान्तरानुत्तरं सत् यादृशार्थबोधं प्रत्यसमर्थ ताशार्थकान्त्यपदकः समासः उपपदसंज्ञकः। कुम्भकारः, क्षीरपायीत्यादिके तूपपदसमासे धातुकद्भर्ग निष्पन्न कर्बाद्यर्थकं कारादिपदं पदान्तरानुत्तरं सन्न कर्नादेरन्वयबोधक्षमम् । चन्द्रनिमित्यादौ तु तत्पुरुषे निभादिपदं सदृशार्थे तादृशमपि न দ্বারা নিমিনি বাৰঃ ॥ ০। অনুবাদ ধাতুর সহিত বৃদ্যোগে নিষ্পন্ন যেই সমাসের উত্তরপদটি শব্দান্তরের উত্তরবর্তী না হইয়া যাদৃশ অর্থবোধের প্রতি সমর্থ হয় না তাদৃশার্থক অন্তিম পদ ঘটিত সমাস উপপদসংজ্ঞক সমাস হইবে। কুম্ভকার, ক্ষীরপায়ী প্রভৃতি উপপদ সমাস ধাতুর সহিত কৃদ্যোগে নিষ্পন্ন কর্তৃ প্রভৃতি অর্থের বােধক কার ইত্যাদি পদ পদান্তরের উত্তরবর্তী না হইলে কর্তৃ প্রভৃতি গোচর অম্বয়বােধেব যােগ্য হয় না। চনিভং ইত্যাদি তৎপুরুষসমাসস্থলে কিন্তু নিভ প্রভৃতি পদ সদৃশরূপ অর্থে শব্দান্তরের উত্তরবতী না হইয়া তাদৃশ অর্থবােধের প্রতি অক্ষম হইলেও ধাতুর ৭২ ঘনসিকারিকা সহিত বৃদ্যােগে নিষ্পন্ন নহে। (অতএব চনিভ প্রভৃতি তৎপুরুষে অতিব্যাপ্তি হইবে না।) বিবৃতি মূল কারিকায় ‘নিষ্পন্ন’ পদটি না থাকিলেও ধাতুকৃষ্ট্যাং এই পদটি সাকাঙ্ক, এই জন্য উক্ত আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য ধাতুক্যাং এই পদের সহিত নিম্পন্নং এই পদটি বিবরণ গ্রন্থে যােগ করা হইয়াছে। কারিকাস্থ ‘যদুত্তরপদং এই অংশটি যাত্তর- পদং” এই বিবরণ সন্দর্ভের মাধ্যমে ব্যাখ্যাত হইয়াছে। “শান্তনুত্তরং সৎ” এই বিবরণ সন্দর্ভের দ্বারা কারিকাস্থ নামানুত্তরং সৎ এই কারিকাংশ বিবৃত হইয়াছে। ‘যাদৃশৰ্থবােধং প্রতি অসমর্থং এই সন্দর্ভের দ্বারা কারিকায় উল্লিখিত ‘অবােধকং পদটির ব্যাখ্যা উপদর্শিত হইয়াছে। কারিকার চতুর্থ চরণে উল্লিখিত “তদন্তক” এই অংশটি ব্যাখ্যা করিবার জন্য বলিতেছেন ‘তাদৃশার্থক্যপদক: ইতি, “ধাতুকৃভ্যাং নিষ্পন্ন ইত্যাদি বিবরণ গ্রন্থের পর্যবসিত অর্থ এই যে, যেই সমাসের যাদৃশার্থক ধাতু কৃঘটিত যাদৃশানুপূর্ববচ্ছিন্ন যেই যেই পদটি অপর কোনও শব্দের পরবর্তী না হইয়া যাদৃশ অর্থ- বােধের প্রতি সক্ষম হয় না, তাদৃশার্থক তাদৃশানুপূর্বী বিশিষ্ট উত্তরপদ ঘটিত সমাস উপপদ সংজ্ঞক সমাস হইবে। কৃষ্ণকান্তও এইভাবেই উপপদ সমাসের লক্ষণ পরিষ্কার করিয়াছেন। গ্রন্থকার, কুম্ভকার, ক্ষারয়ী ইত্যাদি গ্রন্থের মাধ্যমে উপপদ সমাসের লক্ষণটি লক্ষ্যে সমন্বয় করিতেছেন। কারাদি পদং এখানে আদি পদের দ্বারা ক্ষীরপায়ী ইত্যাদি উপপদসমাসের উত্তরপদ পায়ী প্রভৃতিকে গ্রহণ করিতে হইবে। “ধাতুকৃত্যাং নিষ্পন্নং” এই অংশের ব্যাবৃত্তি প্রদর্শন করিবার জন্য “ চনিভমিত্যাদি তৎপুরুষে তু” ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। তৎপুরুষে তু এখানে সপ্তমী বিভক্তির অর্থ ঘটকত্ব, সপ্তমী বিভক্ত্যন্ত তৎপুরুষ পদের পরে অন্তিমরূপ অর্থের বােধক অন্ত্যশব্দটির যােজনা করিতে হইবে। ঘটকত্বরূপ সপ্তমী বিভক্তির অর্থ উক্ত অন্ত্যপদার্থে অন্বিত হইবে। আবার অন্ত্য পদার্থও পরবর্তী নিভপদার্থে অন্বিত হইবে। অতএব “চন্দ্রনিং ইত্যাদৌ তু তৎপুরুষে নিদিপদং এই সমুদিত বাকা হইতে চনিভমিত্যাদি তৎপুরুষ ঘটকীভূত অন্তিম নিভাদি পদ, এইরূপ অর্থ প্রতীয়মান হইবে। তাদৃশমপি’ এই পদটিরও শান্তরের উত্তরবর্তী না হইয়া তাদৃশ অর্থবধে অক্ষম হইলেও, এইরূপ অর্থ গ্রহণ করিতে হইবে।। তথচ যস্য সমাস যাদৃশার্থকং ধাতুকদঘটিত যাদৃশ আনুপূৰ্যবচ্ছিন্নং যদ যৎ পদং শান্তনুত্তরং যৎ যাদৃশার্থবোধং প্রত্যসমর্থং তাদৃশার্থক তাদৃশানুপূৰীমদুত্তপদক সমাসাদৃশার্থে উপপদসংজ্ঞক ইতি পর্যবসিত। শব্দশক্তি ও শ্লোক, কৃষ্ণকান্তী টাকা।

मूलम् विमजते च कारकैकोपपदकः पविघोऽयमिति प्रमः । कर्मकांद्य पपदमेदाव् बहुविधस्त्वसौ ॥५१॥ অনুবাদ উপপদ সমাসের বিভাগ করিতেছেন- এই উপপদ সমাস কারমাত্রকে উপপদরূপে গ্রহণ করিয়া কারকমাত্র উপপদ ঘটিত হওয়ায় (কারক ভেদে) উপপদ সমাসও যাহাদের মতে ষড়বিধ বলা হয়, ইহা প্রম, বাস্তবিকপক্ষে কর্মকর্তৃভভদে উপপদ সমাস বহুবিধ হইবে। বিবৃতি উপপদ সমাসের প্রস্তাবে ‘ৰিভজতে চ' এইরূপ প্রয়ােগ করায় প্রস্তাবিত উপপদ সমাসেই বিভাগ প্রতীয়মান হইবে। কারকৈকোপপদক’ ইহার অর্থ করিতে হইবে কাকমাবেশ ঘটিত। হা কাকমাকে উপপদরূপে গ্রহণ করিয়া ছয়টি কারকের ভেদ নিবন্ধন উপপদ সমাসও বড়বিধ স্বীকৃত হইবে বলেন তাদের সিদ্ধান্ত খণ্ডন করিবার জন্য কারিকার প্রথমাংশে ‘কায়কৈকোণপদক' ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। বড়ৰিৰােয়মিতি ভ্রমঃ এই কাৱিকাংশের মাধ্যমে ন্যূনত্ব এবং অধিকত্ব দোষ নিবন্ধন কারকভেদে বড়বিধ উপপদ সমাহাদিগণের সিদ্ধান্ত যে ভ্রান্ত তাহাই এতিপাদন করা হইয়াছে। এই প্রসঙ্গে অন্যান্য বিষয় পৰতী বিবৃতি গ্রহে ব্যক্ত হইবে। কারিকায় চতুর্থ চরণে যে বলা হইয়াছে, এই উপপদ সমাস বহুবিধ, কেন উপপদ সমাস বহুৰিধ হইবে ইহার অনুকুল যুক্তি প্রদর্শন করিবার জন্য বলিতেছেন, ‘কর্মকাপ- পাদভেদাং এখানে কমকর্তাদি এই আদি পদে দ্বারা যেণ করণ অপাদান অধিকরণ রূপ কায়কোবাদ গৃহীত হইৰে তপ কাৰক ভিন্ন ব্রহ্মভূয়’ ইত্যাদি মূলীয় ব্ৰহ্ম’ প্রভৃতি উপপদও গৃহীত হইবে। সুতরাং কর্ম-কর্তৃ-করণ প্রভৃতি কারকোণপদকে গ্রহণ কষিয়া যেরূপ উপপদ সমাস স্বীকৃত হইবে তণ ‘হ্ম’ প্রভৃতি কারক ভিন্ন উপপদকে এহণ করিয়া উপপ সমাস ৰীত হইবে।

सक्तिकाधिका मूलम् कारकेषु उत्तानशयः, पूर्वसर इत्यादावुत्तानादिः की। कुम्भकारः सौवीरपायीत्यादौ कर्म । कच्छपः पार्श्वशयः इत्यादौ करणम् । उखाश्रत् वहभ्रट् इत्यादावपादानम् । खशयः कुरुचरः इत्यादावधिकरणमुपपदम् । सम्प्रदानन्तु न कुत्रापि दृश्यते । दृश्यते च ब्रह्मभूयमित्यादौ कारकमित्र- नाप्युपपदेन समास इत्यसावनेकविध एव । न तु कारकमात्रोपपदकत्वात् पद विध एव । न्यूनत्वाधिकत्वाभ्यां विभागव्याघातादिति । 'सूर्य- म्पश्येत्यपि उक्तः समासः परन्तु अव्ययपदस्येव नत्रा समस्तस्यैव तस्य स्वार्थबोधने व्युत्पनत्वान केवलस्य तस्य प्रयोगः ॥ ५१ ॥ इति श्रीजगदीशतर्कालङ्कारकतौ शब्दशक्तिप्रकाशिकायां समासप्रकरणं समाप्तम् । অনুবাদ কারক উপপদ ঘটিত সমাসসমূহের মধ্যে উত্তাশয়, পূর্বসরঃ ইত্যাদি সমাসস্থলে উত্তানাদি কর্তা, কুম্ভকারঃ সৌবীরপায়ী ইত্যাদি সমাসস্থলে কর্ম, কচ্ছপ, পার্শ্বশয় ইত্যাদি সমাসস্থলে করণ, “উখাত’ বহট’ ইত্যাদি সমাসস্থলে অধিকরণ উপপদ হইবে। সম্প্রদান (কারক) কিন্তু কোথাও উপপদ সমাসের ঘটক দেখা যায় না। আবার ইহাও দেখা যায় যে ব্রহ্মভূয়ম ইত্যাদি লবিশেষে কারকভিন্ন উপপদের দ্বারা ঘটিতও উপপদ সমাস হইয়া থাকে। অতএব উপপদ সমাস অনেকবিধ। কাৰকমাত্র উপপদ ঘটিত হওয়ার ফলে উক্ত সমাস ষড় বিধ নহে। কারণ ন্যুনত্ব, অধিকত্ব নিবন্ধন বিভাগ ব্যাহত হইবে। সূর্যম্পশ্যা’ এই সমাসটিও উপপদ সমাস, পরন্তু নঞ, ঘটিত ( অসূর্যম্পশ্যা) সমস্ত বাক্যটিই স্বার্থবােধের অনুকুলে ব্যুৎপত্তিসিদ্ধ হইয়া থাকে কিন্তু ন রহিত তাদৃশ বাক্যের কদাচ প্রয়ােগ হইবে না। ৫১।

বিবৃতি কায়করূপ উপপদকে গ্রহণ করিয়া উপদ সমাস নিরূপণ কৰাি ‘কায়কে ইত্যাদি সম্পর্ভের অবতারণা করিতেছেন। প্রথমতঃ কাপ উপলকে গ্রহণ করিয়া উপাদ সমাসের উদাহরণ প্রদর্শন করিতেছেন, ‘উদ্ভাশয়ঃ পূর্বস ইত্যাদাৰুত্তানাদিঃ কা ইতি, অর্থাৎ উত্তানঃ শেতে এইরূপ বিগ্রহ হইতে এবং পূর্বং সরতি এইরূপ বিগ্রহ বাক্য হইতে কর্তৃকারকরূপ উপপদকে গ্রহণ করিয়া উপপদ সমাস হওয়ায় উক্ত সমাসের অন্তর্গত উত্তাপদ এবং পূর্বপদ, কায়কোপপদ হইবে। মূলগ্রন্থাে উদ্ভানাদিঃ কর্তা” এই অংশটি অগ্রিম উপপং এই অংশের সহিত এৰিত হইবে। কর্মরূপ উপপদকে গ্রহণ করিয়া ‘কুকার, সৌৰীয়ায়ী এই দুইটি উপপদ সমাসের দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হইয়াছে। কারণ, কুন্ত কয়েতি, সৌৰীয়ং পাতুং শীলম এই বিগ্রহ হইতে উক্ত উপাদ সমাসদ্বয়, নিম্পন্ন হওয়ায় ‘কুন্তকারঃ এই উপপদ সমাসের ঘটক কুম্ভ পদটি এবং সৌৰীপায়ী এই উপপদ সমাসের ঘটক ‘সৌৰীর’ পদটি কর্মরূপ উপপদ হইয়াছে। কুম্ভকারঃ সৌৰীপায়ীত্যাদে। কম। এই কর্মপদটিরও অগ্রিম উপপদং’এই অংশের সহিত অৰয় করিতে হইবে। করণ রূপ উপপদ ঘটিত উপপদ সমাসের উদাহরণ প্রদর্শন কৰিষার জন্য কচ্ছপ পায় এই দুইটি উপপদ সমাস দৃষ্টান্তরূপে গৃহীত হইয়াছে। কেননা ‘কছেন পিবতি’, ‘পাখেন শেতে’ ইত্যাদি বিগ্রহ হইতে এই দুইটি উপপদ সমাস নিষ্পন্ন হওয়ায় কচ্ছপ এই উপপদ সমাসের খটক ক পদটি পার্শ্বশয় এই উপপদ সমাসের ঘটক পার্থ পদটি করণ কারক হওয়ায় উক্ত সমাসবয় করণেপপদ সমাসরূপে গণ্য হইবে। ইত্যাদী কণং' এই করণ পদটিও অগ্রিম উপদং এই অংশের সহিত অবিত হইবে। অপাদান কারকরূপ উপদকে গ্রহণ করিয়া উপপদসমাসের দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করিবার জন্য ‘উখাবট’ এই দুইটি স্কুলের উল্লেখ করা হইয়াছে। কারণ উখায়াঃ অংসতে এই বিগ্রহ অনুসারে উত, এই সমাসটি এবং বহাদ ভ্রতে এইরূপ বিগ্রহ ইহতে ‘হট’ এই সমাসটি নিম্পন্ন হওয়ায় উক্ত সমাস দুইটির অন্তর্গত উখা এবং বহ এই দুইটি পদ অপাদান কারক রূপ উপপদ হইয়াছে। এখানে অপাদানং এই অংশটিও অগ্রিম উপদং ইহার সহিত এন্বিত হইবে। অপাদান কারকরূপ উপপ সমাস প্রদর্শনের পরে এধিকরণ কারকরূপ উপপদ সমাস প্রদর্শন করিবার তখশয়’, ‘কুচর' এই দুইটি উদাহরণ উপস্থাপিত করা হইয়াছে। কারণ এই দুইটি উপপদ সমাস ‘ণে শেতে’, ‘কুকযু চরতি এইরূপ বিগ্রহ বাক্য হইতে নিপন্ন হওয়ায় উক্ত সমাসদ্বয়ের গত পদটি এবং ‘কুক পদটি অধিকরণ কারকরূপ উপদ হইয়াছে। ‘’ এবং ‘কুক এই পদদুইটিও উপদং এই অংশের সহিত যুক্ত হইবে। সম্প্রদান কারককে উপপদ সমাসের ঘটক পূর্বপদ হইতে ব্যাবৃত্ত করিবার জন্য জগদীশ বলিতেছেন সম্প্রদান ক কুত্রাপি তে এই অংশটি সিংহ বৃষ্টি ন্যায়ে পূর্বোক্ত উপপদং ইহার সহিতই যুক্ত হওয়ায়, সম্প্রদান কারক কি কুপি উপপদ দৃষ্ট হয় না, এইরূপ শৰ্ষৰসিত অর্থ হইবে। সুং সান কারক উপাদ সমাসের টক না হওয়ায় শাহানা কাকভেদে বড় বিধ 1 बब्वशक्तिकामिका উপপদ সমাজৰীকার করিতে চান, তাদের মতে প্রদান উপসমালেক হওয়ায় নতা দোষ অবশ্যভাষী, এবং ইহাদের মতে ‘ব্ৰহ্মভূয়’ ইত্যাদি উপপদ সমাসস্থলে উপপ সমাসের ঘটক ব্ৰহ্ম পদটি কাৰকোপণ না হওয়ায় অধিক দোষ হইৰে। অতএব নিতা এবং আধিক্য রূপ নিগ্রহ বান দোষ নিবন্ধন কারুক ভেদে যড়বিধ উপপদ সমাস দিগণের অতিতে সিদ্ধান্ত অবশ্যই ভ্রান্ত হইবে। এই অভিপ্রায়ে গ্রন্থকার বলিয়াছেন “তু কাক মাত্রোণপদকত্বাৎ ষড়বিধ এব, নৃত্বাধিকাভ্যাং বিভাগৰ্যাতাদিতি। অসূর্যম্পশ্যা’ এই নঞ তৎপুরুষের অন্তর্গত ‘সূর্যম্পশ্যা’ এই অংশটিও সূর্যরূপ কাকাতিরিক্ত উপপদ ঘটিত সমাস হওয়ায় উপপদ সমাসরূপেই গণ্য হইবে। কিন্তু নঞ, পদটি মুক্ত না হইলে কেবলমাত্র ‘সূর্যম্পশ্যা’ এইরূপ এয়ােগ কোনক্রমেই হইবে না। এই অভিপ্রায়ে জগদীশ তর্কালঙ্কার বলিতেছেন-“সূর্যম্পত্যেপুসমাস, পরব্যয়পদৰে নঞ সমস্তস্যৈবত স্বার্থবােধনে ব্যুৎপন্নত্বা কেবলস তথ্য প্রয়ােগঃ।” অর্থাৎ অব্যয় পদের ন্যায় ন, পদে সহিত সমস্ত যে অসূর্যম্পশ্যা’ এই সমস্ত বাক্য তাহাই যকীয় অর্থবােধনে বুৎপন্ন হইবে অতএব নঞ, পদ রহিত কেবল সূর্যম্পশ্যা এইরূপ উপপদ সমাসের দ্বারা সমস্ত বাক্যটি তাদৃশার্থ বােধের যােগ্য না হওয়ায় কদাপি নঞ শূন্য তাদৃশ বাক্যের প্রয়ােগ হবে না। ইহাই গ্রন্থকারের নিগুঢ় তাৎপর্য বুঝিতে হইবে। ১। সমাস প্রকরণের বিবৃতি সমান্ত। আস্তিকশিয়ােমণি শিবদাসবৃতিভূষণাত্মক- শ্রীমধুসুদনন্যায়াচার্বকৃত-বঙ্গানুবাদবিবৃতিসহিতং শব্দশক্তিপ্রকাশিকায়াঃ সমাসপ্রকরণং সমাপ্ত। ১। কাশী বা অন্যত্ৰ মুঠিত পুস্তকে অসূর্যম্পশ্যা এই পাঠ ভ্রান্তিপূর্ণ। এজন্য আমরা সুখা এই পাঠটি গ্রহণ করিয়াছি। কেন গ্রহণ করিয়াছি ভাই বিবৃতি গ্রন্থ অনুসরণ কৰিলেই মুসগিণ বুঝিতে পারিবেন।

গুক্তিপত্র ( সংশােধন ও সংযােজন ] পৃষ্ঠা পংক্তি ১৩ পরবর্তি ৮ ১২ অSদ্ধ পরবর্তী বাক্যে ঘটাধিকরণ পদার্থ সমাসমাত্র হইবে এখানে শব্দটি নিপাত হইলে ১৩ বাক্যের ঘটানধিকরণ পদার্থে সমাপমাত্রই বহুপদঘটিত এখানে পদ শব্দটি নিপাত পদ হইলেও নাম ১৪ a ? ১৪ ১৪ ১৬ নহে। (মূল) ২০ যথেতরে হইবে ১০ ১৫ ১৭ ১৭ অন্তিম পদের জিজ্ঞাসা আরূঢ়ো পণিপাদ দ্ধে বিধ্যমপ্যন্তি কোনাে বিভক্তি সমাগলভ্য ক্ষুবভিন্ন ব্যরকৰিষমেনেতি এই খে যথেতরেতনাে হইবে যথা ইতরের ( ৰা মাত্র। অভিম পদার্থ बिछा আরূঢ় পাণিপাদ দ্বৈবিধ্যমণ্যন্তি কোনও বিভক্তির সমাস লভ্য অর্থের ফুদভিন্ন ব্যঞ্জকবৈর্ষেণেতি কেন আৰ্যমীতাৰ সমাস হইতে ৩ দ্বিসংখ্যাবিশিষ্ট যু পুরুষের সম্বন্ধ। বিসংখ্যাবিশিষ্ট সজ পুক পদার্থে। . কােণ ৭ss शब्दशक्तिप्रकाशिका পৃষ্ঠা ১৫ ২৫ য পংক্তি বােধক পূর্বনামৰ্থ প্ৰকারক পরবর্তী এক নামার্থ বিশেষক অপর নামার্থ বিশেষক নামার্থ প্রকারক পূর্ব নামার্থপ্রকারক উত্তর একনামার্থ বিশেষ্যক অপর নামার্থ বিশেষ্যক নামার্থপ্রকারক প্রথমেমার্দিষ্ট নামবিশিষ্ট একনামবিশিষ্ট অপরনামটি দ্বিতীয়ােদ্দিষ্ট প্রথমােদ্দিষ্ট নামার্থ প্রকারক একনামার্থ একারক অপর দ্বিতীয়ােদ্দিষ্ট নামার্থবিষেয্যক নামার্থবিশেষ্য ৯ ( মূলম্ । প্ৰায়েনােপমেয়স্যোপমানৈবিতি প্ৰায়েণােপমেয়ণেমানে- রিতি। হইবে প্রভৃতি প্রভৃতিতে উপমিতং ব্যাঘাদিভিঃ উপমিতং ব্যাঘ্রাদিভিঃ ১৫ হইবে তাদৃশ ১৮ ২৬ সামান্যাপ্রয়ােগে । প্রায়েনেপ••• মধ্যবর্তী ৪ প্রায়েণােপ••• মধ্যবর্তি তৎপ্রকারকপুরুষবিশেষ্যক প্রায়েণোপ••• ১৭ তংপ্রকারক ২৭ প্ৰায়েনোপ••• ২৮ प ২৮ প্রায়েনোপ অতিব্যাপ্তিকারক অব্যবহিতােত্তরবত্তী অব্যবহিতােত্তরবতী বিশেষ্যপদার্থ টি ৩৭ প্রায়েণোপ••• অতিব্যাপ্তিবাক অব্যবহিতােত্তরবর্তি অব্যবহিতােরবর্তি বিশেষণ পদার্থ টি বিশেষ্য পদার্থের ন্যায় বিশেষ্য পদার্থ টি ও অব্যবহিতােত্তরবতি সমাসলক্ষণের নীলং পীতঞ্চোৎপল প্রমেয় ঘুমের ৪১ ৪ २४ ৪৬ অব্যবহিতোত্তরবত্তী সমাণের নীলপীতঞ্চোৎপল প্রমেয়ধূমব্যভিচারী আকাক্ষা ৪। ২৪ সমসাৎ চেহ সমালহে এখানে শাতিত পত্রের ১৮ পরের शुद्धिपत्र ৭ং পৃষ্ঠা পংক্তি প্রতিযােগী কারকাপি প্রতিযোগীপদ সম্বন্ধীপদ ৫ ১৩১ঃ ৪ প্রতিযােগিদ কারকাদপি প্রতিযোগিপদ সম্বন্ধুিপদরূপে -ইতি কর্মধারয় সমাস। অলক্ষ্যার্থভিন্ন অব্যবহিতােত্তরবর্তি তদ্ধিতার্থান্বিতস্বার্থক তদ্ধিতার্থ!ন্বিতস্বার্থক। লক্ষ্যার্থের অন্তঃপাতি ৫৮ ২৪ লক্ষ্যার্থভিন্ন অব্যবহিতের স্ত্রী তদ্ধিতার্থাস্বিতন্বয় স্বার্থক তদ্ধিতার্থম্বিতন্বয় সার্থক লক্ষ্যার্থ অন্তঃপাতী ১ ৮ ৪ ২৫ ১৪ সমাসে সমাসের ৭১ ১ ৭ ১৭ •••রলভ্য হইল। কায় পদটি কর্মতানিরূপকগতমান ••• নলভ্যে হইলেও কায় পদার্থটি কর্মতার নিরূপক গতির ৭৪ ৭৫ পদার্থ সম্বন্ধ পদার্থ সমৃদ্ধ পুরুষ পদার্থ ৭১ ১৪ ৮৮৭ ৮৭ ৮৮ ৮৮ ১৮ পদার্থে ব্রাহ্মন দত্তঃ ব্রাহ্মণ দত্ত: নামােত্তরবত্তী:•• নামােরবতি••• অব্যবহিতেরবঙী অব্যবহিতােত্তরবতি নামমাত্তরবর্তী নামােতরবতি (পূর্ব) পূর্ববর্তী তস্যৈবাসী তলৈবামী মণিসম্বন্ধি মণিশব্দটি পদার্থের একদেশ যে ভ্রাতা এবং মণিসম্বন্ধিপ মণিপদার্থ ইহাদের মণিপদার্থের একদেশ যে মণি ইহাদের। নমেনয়ে নবেমনয়ৈব স্বীকৃত হয় স্বীকৃত না হয়। ত্রয়ীবর্ণিকান্যোপলকত্বাৎ বৈর্ণিকান্যোপলক্ষকাৎ। করাই করা। ১ ১১•১ ૨૩ ২০০ যামিলি। পৃষ্ঠা পংক্তি ১০; ১৮ ১৮ ১১১ ১৪ ১১২ পূর্ববর্তী নিবেশ রেকে ও উপকুত্তা সমাস শ্ৰয়মান সমান্তর অর্থের লুপ্তেইপি সম্বন্ধীরূপ সম্বন্ধীরূণ জন পদটি সম্বন্ধীবােধের ধৰ্মীসমূহের না থাকায় শুরু সম্বন্ধী ঘট: ‘ঘ’ এই অংশের নিরূঢ় ঘট প্রভৃতি পদ অরূঢ়ো বানরাে বৃক্ষ বলিয়া বুঝিতে হইবে পূর্বৰতি নিবেশের উপকুন্তে উপকুত্তাৎ मघाम সমান্তরার্থের লুপ্তাহপি সম্বন্ধিরূপ সন্ধিরূপ গোপদটি সন্ধিবোধের ধর্মিসমূহের থাকিলে অরূঢ়ো। বানরে। যম। নিরূঢ় লক্ষণার দ্বারা প্রভৃতি পদের অর্থ আরূঢ় বানরাে বৃক্ষ অভিপ্রেত বলিয়া স্বীকৃত হইবে ১১৪ ১১ঃ ১১ ১৭ কেন? এ্য ১৩০ ১২ ১৪০ চিত্রভিয় চিত্রাভিন্ন স্তিয়ামাদাদীনাথেতি গোরপ্রধানন্তজাদ্বিয়ামাদা- দীনফেতি হ্রষঃ।” যদি গো পদটির যেখানে পােশদটি গোসম্বন্ধী গোসম্বন্ধি ভেদার্থকসুৰন্ত অন্যান্য নামের সহিত ভেদার্থক সুৰন্ত স্বসন্ধিক স সন্ধিক প্রতিযােগিতাকা প্রতিযােগিতাকা পদার্থ কোন ও পদার্থে স্বসন্ধিক সসন্ধিক ভেদার্থক সুবন্ত ১৪৫ ২১ ২ঃ বোধে বােধের s ১৭ ঘটত্ব গুণীভূত সম্যক ১৪ গুণীভূত পদার্থের সম্যক शरिपत्र ২০৭ পৃষ্ঠা পংক্তি ২৪ ১১ অন্বয়ী বহুব্রীহিত্য বৈচিন্ত্রেণায় বনে অন্বয়ীকর্মহদি হামাদিরূপ লম্বকর্ণসম্বন্ধীপশু কেবলমাত্র গোপদার্থের प्रशि বহুব্রীহিলভ্য বৈচিত্ৰোণৰয়বােধনে অষি কর্মদি হারাদি, লম্বকর্ণ সম্বন্ধি পতলে, কেবল মাত্র পর গো পদার্থে সাধকরূপে গদাধৰ ভট্টাচার্য ও অনুমিতি গ্রন্থে ১৫২ ৪ ১৪ সাধকরূপে এই উদাহরণ দিয়াছেন অন্যায় সমাসের ন্যায় ১৬ সমুদায়ত্ব পুরস্কারে পাণিপাদে ১৫৬ ২ সমহর একত্ব ১৫। ১১ পুরস্কারে কারণত্ব এই কারিকাংশ গ্রহণ করিয়াছেন অন্যান্য সমাসে যেরূপ লক্ষণ স্বীকৃত হয় তদ্রুপ তাদৃশনিশ্চয়ত্ব পুরস্কারে পাণিপাদ সমাহারের একত্ব পুরস্কারে ভাদৃশ নিশ্চয়ের কারণত্ব লক্ষণাবাদি সাহিত্যে লক্ষণা পারেনা, ধবখদিয়ো ইত্যাদি লক্ষণা বাদি নাই, কারণ, যাহার ফলে, পরিস্কৃত বিষয়ত্বের পৰ্যাপ্তি পরবর্তি সুর্থ ১৬০ লক্ষণা বাদী সাহিত্য লক্ষণ। পারেনা, ধৰখদিলাবিত্যাদি লক্ষ বাদী নাই। কারণ যাহার সঙ্গে পরিস্কৃত বিষকদের পর্যাপ্ত পরবর্তী যে মুর্থ ১০ ১৪ ১৭ ১৪ ১৪ ২ ১১ ১৭ শীত পটোত্তর ৰঙী পীতপটোৰতি :

२०२ शब्दशक्तिप्रकाक्षिका পৃষ্ঠা পংক্তি ১৭ পুরস্কারে শ্রীপুংসন্ধের্বোধ ১৭২ ৭ ১৭৩ ১৪ ১৭২ ১৫ साथि পুরস্কারে। স্ত্রীপুংসয়াের্বোধ এত শ্রুত হরিপদটিই শক্তির ভ্রম হইতে বিষ্ণু চন্দ্র এতদু- ভয়ের এবং সিংহভ্রয়ের একই লক্ষণ। মূলে বােধের জনক হইবে । ঔ প্রভৃতিবিভক্তিয় ব্রাহ্মণৌনরেৎ সম্ভবপর হইবে। বুর কাবিত্যাদিক এব কিনা বিচারে তহৰি পদটিই একই লক্ষণার দ্বারা অথবা শক্তির বশত বিষ্ণুচন্দ্র এতদুভয়ের এবং সিংহ এয়ের বােধক হইবে । ওঁ প্রভৃতি সুপ, বিভক্তির ব্রাহ্মণবানিয়েৎ সম্ভবপর হইবে । ১৭৩ ২৩ ১৭৬ ১১ ১৮৮১ ৪{ ১৮২ ঃ ৫ কাবিত্যাদি ক বিনা বিচারে ১৮৫ ১৮ ২৩ তদন্যপদের অদ্য পদের واد ৩৪ শ্বশর পদের পদি স্কলিত্যাং সহিতং শর্জ পদের পদিলিভ্যাং সহিত اهد দ্বন্দ্ব সমাস সমাপ্ত। ১১২ শব্দান্তরাত্তরং যৎ কর্ম কর্তাদি ১১৩ ১৮ শব্দান্তরানুরং সৎ কর্মকত্ৰাদি উপপদ সমাস সমাপ্ত । ১১৬ शब्दशक्तिप्रकाशिका-समासप्रकरणम् यदिच, पच पुलोत्यतः पञ्चानां पुलानामेव बोधो, न तु तत- समाहारस्यापि, अतएव पश्च पुलों छिनत्तोत्यादिकः प्रयोगः प्रमाणम्, अन्यथा समूहात्मनः समाहारस्य च्छिदाद्यसम्भवेन तदयोग्यत्वापत्तेः, पुला- देद्वित्वबहुत्वेऽप्येकवचनन्त्वानुशासनिकम्, दारादेबहुवचनवदुपपद्यते । न च द्रव्यप्राधान्ये पश्च खट्रीत्यादौ हृस्वो न स्यात् गोशब्दस्येव स्त्रीप्रत्यय- स्याऽपि समासान्त्यस्योपसर्जनस्य व तद्विधानादिति वाच्यम्, समाहार संज्ञक- द्विगोरप्यन्त्यस्य स्त्रीप्रत्ययस्य पृथगेव ह्रस्वविधैर्वक्तव्यत्वात् । प्रयोगानु- सारित्वात् कम्पनायाः, पञ्चपाचकीत्यादावव्याप्तिरच, तत्रोत्तर पदस्य वासत्वेन लक्षकत्वायोगादिति न सूक्ष्ममीक्ष्यते तदा पूर्व निरुताभ्यां तद्धितार्थोत्तरपद द्विगुभ्यां भिन्न द्विगुरेव समाहार द्विगुर्बोध्यः । द्विगोः कर्मधारयान्तर्गतत्वेऽपि न क्षतिरिति तु विभावनीयम् ॥ ३८ ॥* एवश्व * [१७ * (ग्टनन ) ७ अलि शेछ । ] शब्दशक्तिप्रकाशिका-समासप्रकरणम् অনুবাদ [ আশঙ্কা ] যদি (চ) পঞ্চপুলী এই সমস্ত বাক্য হইতে পঞ্চ সংখ্যক পুলেরই বােধ ( হইয়া থাকে) পরন্তু পঞ্চ পুল সমাহারের নহে অতএব ‘পঞ্চপুলীং ছিনত্তি’ ইত্যাদি প্রয়ােগ প্রমাণসিদ্ধ হইয়া থাকে যদি পঞ্চপুলী এই সমাস হইতে সমূহাত্মক পঞ্চপুল সমাহারের বােধ স্বীকৃত হয় তাহা হইলে সমূহাত্মক সমাহারের ছেদন সম্ভাবিত নহে বলিয়া (পঞ্চপুলী ইত্যাদি বাক্যে) অযােগ্যতার আপত্তি হইবে। পুল প্রভৃতির দ্বিত্ব, বহুত্ব সংখ্যা থাকিলেও আনুশাসনিক একবচন কিন্তু দারাদি শব্দের বহুবচনের ন্যায় উপপত্তি করিতে হইবে। ইহার উপর আশঙ্কা হইতে পারে দ্রব্যের প্রাধান্য স্বীকৃত হইলে ‘পঞ্চখটি ইত্যাদি হ্রস্ব (ই-কার) হইতে পারে না। কারণ গােশব্দের ন্যায় স্ত্রী প্রত্যয়েরও সমাসের অন্তিম উপসর্জনীভূত ( স্ত্রী লিঙ্গে বিহিত দীর্ঘ-ঈকার ও দীর্ঘউ কারেরই বিধান স্বীকৃত হইয়াছে ), এই আশঙ্কা কিন্তু ঠিক নহে, কারণ, সমাহারসংজ্ঞক দ্বিগুসমাসেরও অন্তিম স্ত্রী প্রত্যয়ের পৃথকভাবে বিধি বলা হইয়াছে। কেন না, প্রয়ােগ অনুসারে বিধি কল্পনা করিতে হয়। পঞ্চপাচকী ইত্যাদি স্থলে অব্যাপ্তিও হইবে। কারণ, উক্ত বাক্যের ঘটক উত্তরপদটিও বাক্য হওয়ায় লাক্ষণিক হইতে পারে না। এইভাবে সুক্ষ্মদোষ অনুসন্ধান করা হয় তাহা হইলে ( এই লক্ষণ পরিহার করিয়া) পূর্ব- কথিত তদ্ধিতাৰ্থোত্তরপদ দ্বিগু সমাসদ্বয় হইতে ভিন্ন যে দ্বিগু সমাস তাহাই সমাহার দ্বিগু বুঝিতে হইবে। ( এইভাবে লক্ষণান্তর করিবার ফলে দ্বিগু সমাস কর্মধারয় সমাসের অন্তর্গত হইলেও কোনরূপ ক্ষতি হইবে না—ইহাই চিন্তনীয়)। ৩৮। ১. ৭১ পৃঃ (অনুবাদের) ১৪ পংক্তির পরে সংযােজন।

The Sabdasakti Prakasika Of Jagaisa Tarkalamkara Vol. 3

Author
Nyayaharya Madhusudan Bhattacharya Ed.
Title
The Sabdasakti Prakasika Of Jagaisa Tarkalamkara Vol. 3
File name
The Sabdasakti Prakasika Of Jagaisa Tarkalamkara Vol. 3
Text
OCR done
Citation
1985
Published
2013/05/20
Publisher
Sanskrit College Calcutta
Language
Sanskrit
Pages
246
Library
BIRCHANDRA STATE CENTRAL LIBRARY, TRIPURA
Keywords
Pratyay
DLI number
267496
Barcode
99999990343108.00
Scanning centre
North Eastern States Libraries
Digital publisher
Digital Library Of India
VMLT id
LlNRDKXbF9H
Download PDF

The Sabdasakti Prakasika Of Jagaisa Tarkalamkara Vol. 3