Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Prithwi-sandhan

Ray,shashankanath · 2009/10/21

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

পৃথুি-সন্ধান। শ্ৰশশাঙ্কনাথ রায়

No text on this page.

পরম শ্রদ্ধাস্পদ পিতৃদেব
শ্ৰীযুক্ত বাবু সৰ্বচন্দ্র রায়, জাড়া, মেদিনীপুর।
অাপনার
শ্রীচরণে এই
পুস্তিকা
আমার প্রথম উদ্যমের ফল
উৎসর্গীকৃত
হইল।
প্রণত, ঐশশাঙ্ক নাথ।
১৩১৮

No text on this page.

নিবেদন। আমার কয়েকটি ত্রুটির বিষয়, গ্রন্থ আরম্ভ করিবার পূর্বে পাঠক মহাশয়দিগের জানা আবশ্যক বিবেচনা করি। মহামতি মিল্টন, সয়তান সহচরদিগের যে সমুদয় নাম দিয়া উল্লেখ করিয়া গিয়াছেন, আমি সেই নামগুলি সম্ভব মত বঙ্গানুমােদন বা বঙ্গত্যনুমােদন করিয়া, যতদূর পারিলাম ব্যবহার করিয়াছি। তদ্ব্যতীত অন্য নাম কতক- গুলিরও ভাষা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শুদ্ধ পরিবর্তন করি নাই, একেবারে অন্য আকার ধারণ করাইয়াছি। সেজন্য কাহারও পথভ্রান্ত হইবার সম্ভাবনা দেখি না। কেবল মাত্র ‘সিরাফিমের’ স্থানে খদ্দ্যোতি পুঞ্জ’ বা ‘খদ্দ্যোতি পুঞ্জিকা ব্যবহার করিয়াছি। এই বিষয়গুলি মহাশয়দিগের বিবেচনায় রাখিলাম। তৎসহিত আমার নিবেদন এই যে আমার পদে পদে ত্রুটি থাকিতে পারে কিন্তু যদ্যপি আমায় অনুগ্রহ পূৰ্ব্বক জ্ঞাপন করান হয়, তাহা হইলে আমি পরসংস্করণে সংশােধন করিয়া দিয়া বাধিত হইব। ইতি- ৬৫ নং নীমতলা ঘাট ষ্ট্রীট, } শ্ৰীশশাঙ্ক নাথ রায় কলিকাতা।

No text on this page.

পৃথুি-সন্ধান।
অর্থাৎ
মহামত মিল্টনের প্যারেডাইঙ্গষ্টের বঙ্গানুবাদ
দ্বিতীয় ভাগ।
উচ্চ মঞ্চে সিংহাসনে রাজ-আড়ম্বরে
আসীন সয়তান, লাজি’ছে ঝলসিয়া
মণি রত্ন অর্গাসের বিশ্রুত ভুবনে
আর যাহা ভারতের ; কিম্বা যেই খানে
বৃষ্টিছে রত্ন-রতন, মুকুতার পাঁতী
হীরক চূন্নি, পান্না, বন্যদেশ-উদ্ভব।
আরূঢ় তাহাতে আপন গুণে, সবার
উপরি,—পাপ-প্রধান পাপ মাঝে যেন।
অভুন্নতি আশাতীত হতাশ-গহ্বর
হ’তে তার, আবার লােভিছে দাড়াইতে
তারও উপরি, যুদ্ধ ইচ্ছি’ছে বৃথায়
মহেশের সনে ; আস্ফালি’ছে অহঙ্কারে
অভিসন্ধি গর্বিত তাহার, না লভিয়া
শিক্ষা “যুদ্ধ স্বর্গচ্যুতি” পূৰ্ব্বঘটনায়।
ক্ষমবান শক্তি হে তােমরা, বীর্যবান।

( ৮ )
২০
ত্রিদিব-নিবাসী! সম্বােধি তােমায় ভাষি’
হেন,-স্বর্গ পাইব আশা—হেতু হে তার ;
পড়িয়াছি বটে মােরা আঁধার মরুতে
স্বরগ হইতে হইয়া তাড়িত, রবে
ঘাের, তথাপি না কভু সক্ষমে ধরিতে
জীবে অমর-প্রতাপ কোনো নীচাশয়
তার ঘৃণিত গরভ মাঝারে মলিন।
এ হেন পতন হইতে মােদের, তেজ
ঐশী ভাতিবে অন্তরে, দুর্দান্ত হইব
হে মাের আরও, নির্ভৱি আপন তেজে
ভেটিব বিপদ অন্য না উরি উৎপাত।
রীতিতে বা স্বরগ-বিধানে নেতা আমি
তােমা সবার। স্থাপি’ছে বটে, দৃঢ়ভাবে
এ নেতৃত্বে আমায় তােমা-স্বাধীন-ইচ্ছা,
নৈপুণ্য-কুশলতা আর মাের, মন্ত্রণা-
আগারে কিম্বা বীর-শায়ী স্থলে ; তথাপি
এ পতন, ( উদ্ধারি’ছি যাহা হ’তে মাের।
এতদূর ) রক্ষি’ছে নিরাপদে সুদৃঢ়
আমারে সদাই
অলুব্ধ রাজ-তকতে
দত্ত কিবা সৱল অন্তরে। আধিপত্য
প্রধান্য ধাবিত ; সে সম্পদ পারে হিংসা
আকৰ্ষিতে প্রতি অপ্রধান হিয়া হতে
অমর-পুরে ; কিন্তু কে, হেথায় হিংসিবে
সেই নেতৃত্বে তাঁহার, দুর্গসম যিনি

( ৯ )
৪ ০
৫০
সম্মুখিবে বজলক্ষ্য সর্বাগ্রে দাড়ায়ে,
আজ্ঞ্যপ্ত হইবে বা কে, সহিতে অশেষ
যন্ত্রণা, অনন্ত নরক ? লভিতে যেথা
চেষ্টায় নাহি কিছু ধন ইঙ্গিত ; পারে
না বিবাদ কোনো উঠিতে হেথায়, হতে
দলাদলি ; অতি-উচ্চ সভাপতিম্পদ
নরকে কেহ না চাহিবে নিশ্চয় বলি;
নরক যন্ত্রণা সম্প্রতি নহেত অল্প
কাহারও,—যে, ইচ্ছিবে অধিক সহিতে
সে ভার যাতনা, (লভি’ সভাপতি-পদ)
তৃষিত,অন্তরে। মিলি সবে এস মােরা
সে মিলে, সে দৃঢ়পণে সেই এক প্রাণে
যাহা না কভূ সম্ভবে সে স্বরগ-পুরে ;
এস ফিরি মােরা তবে অধিকার-হেতু
লভিতে সে স্বর্গসুখ পুনঃ, আরাে সেই
স্বর্গীয় পূৰ্ব্ব-ক্ষমতা অতুল মােদের।
লভিব, লভিব নিশ্চয় সেই সম্পদ
এখনো মােরা পুনঃ, নারে সৌভাগ্যে যাহা
প্রদানিতে সে অতুল বৈভব মােদের।
নির্ণিতে উপায় কোনো যুক্তিব এখন,
প্রকাশ্য যুদ্ধে অথবা লুক্কায়িত ভাবে--
সিদ্ধিতে সে সাধন ; কহ হে, আজ্ঞাকরি,
( যে পার যেরূপ উপদেশিতে ইহার
কি বিধান প্ৰদানিবে আমা-প্রয়ােজন।

;
{ ১০ )
থামিল সয়তান উঠিল তারপর
মালেক বীর, অতি ভয়ানক, দুরন্ত
অসুর ( স্বর্গে যুদ্ধ-কারী অসুরমাঝে )
রাজদণ্ড করে করি’ ; হতাশে এবে সে
আরও দুর্বিসহ। অনন্তদেব-সম
বলে, বিশ্বাস তাহার ছিল ; মৃত্যু তার
স্বতঃই অভিপ্রেত, ঈশ্বর-তুলনায়
হীনত্বে ; বিকাশে হীনত্বের, ভয়াকুল
অন্তর্হিত তার ; ঈশ্বরে, নরকে কিম্বা
যন্ত্রণায়, নরক-অধিক ডরে নাহি
সে আর ; বলিতে লাগিল চাই এ সব :-
৭ ০
“প্রকাশ্য যুদ্ধে বাসনা আমার কাপট্যে
অকুশল আমি ; তাহে গর্বিত না কভু।
আবশ্যক.যাদের উপায় তারা করুগ
সেই সব, আবশ্যক যদ্যপি বা হয়,
নহে হে এখন। বসিয়া বসিয়া যবে
তা’রা উদ্ভাবিবে সে সব উপায় চুল,
অস্ত্রে সুসজ্জিত সহস্র সহস্র আছে
দাড়ায়ে, হইয়া প্রস্তুত পলকে আজ্ঞা
পালিবে আক্রমি’, কাটাবে কি তথা তারা
অমর্ত্য-পলাতক ঔদাস্যে দীর্ঘকাল ?
আর আবাস-হেতু ইবে কি এ স্থান,
এ অন্ধকার ঘৃণিত-গহ্বর মাঝারে,

( ১১ )
কারাগৃহ সে অত্যাচারীর, শাসি’ছে যে
স্বর্গপুর এবে মােদের বিলম্ব-হেতু ?
তবে সেই পীড়ক বিরুদ্ধে, ফিরাইয়া
যন্ত্রনায় তাহার যন্ত্রনে, হও ত্বরা
সুসজ্জিত ভয়ঙ্কর নরক-অনলে
সবে আক্রমিতে স্বরগ-দূর্গ-সকলে
ঠেলিয়া বাধায় নিরাপদ করি পথ।
তদা তবে, শুনিবে সে নারকী-কুলীশে
শবদে ভেটিতে বজ্রে সর্বশক্তিমান ;
দেখিবে আর তামসানল ভয়ানক
ছুটিছে অনুন বেগে অন্ন
প্রতাপ
দেবগণ মাঝে সমকক্ষি’ বজানল ;
দেখিবে সে তাহারই স্বাবিস্কৃত যন্ত্র,
-নরক-গন্ধক, নরক-অনল কিবা-
ধ্বংসিবে, মিশিবে দিব্য পবিত্র আসন।
কিন্তু বুঝি, সহজ নয় হে, পথ, ভৃগু
অতি লঙ্ঘিতে উড্ডয়নে, উচ্চে আসীন
রিপুদল, মুখে। ওসব ভাবুক তারা
মােহ-পান অচেতনে যদ্যপি না কেহ
আছে ভ্রমে, সে হ্রদের ভ্রমাত্মক, নিজ
প্রকৃতি শক্তি:তুলিবে স্বয়ং স্বভাবতঃ
শূন্য পথে স্বস্থান অবধি ; এ পতন
কিম্বা নিম্ন-প্রবণতা প্রকৃতি-বিরুদ্ধ
মােদের। মনে নাই কাহার সে ঘটনা,
১০০
*
;
১১০

( ১২ ) ১২০ আক্রমিল ভীষণ শত্রু যবে,মর্দিয়া মােদেরে ভগ্ন-বৃহ-পৃষ্ঠ, কুৎসিৎ আচারি, অনন্ত-অম্বর গভীর প্রদেশ দিয়া ধাবিল যবে পশ্চাৎ পশ্চাৎ অরাতি দল, কত অরি-তেজে, কত কষ্ট-পলায়নে আইনু ডুবিয়া মােরা এ নিম্ন প্রান্তরে ? আরােহন সহজ তবে ; উদ্যমেরই ফল অতি ভয়াবহ ; জ্বালাইব তবে কি পুনঃ মােরা প্রবল শক্ররে ? ক্রোধাগ্নি তাঁহার বিভীষিকাময়, যদ্যপি থাকে কোনো অধিক ভীষণ হেথা আরাে কিবা। জিজ্ঞাসি তােমাদের- তােমাদের সুখের নীড় হ'তে হইয়া তাড়িত, এ ঘৃণিত অন্ধ-কূপে হইয়া দণ্ডিত, এত কষ্টেও হইয়। পীড়িত—এ দুঃখ পরে আছে কিবা আর ? কত অনিৰ্বান জ্বালা ক্লেশ! কুটির দয়া-লেশহীন-কসা ! দুরন্ত অকাল দণ্ডিবার লাগি’ কত শাসি’ছে মােদের। ইহার অধিক দণ্ডিত উচিত যদি, তবে সৃষ্টি হতে লােপ একেবারে। কিবা ভয় আর তবে ? সন্দিগ্ধ বা কেন উদ্দিপতে ক্রোধ তার চূড়ান্ত সীমায় ? প্রজ্বলিত ক্রোধ-বহি তাহার, ভস্মিবে মোদের একেবারে, এ দিব্য শক্তি-পুঞ্জ ১৩০

( ১৩
;
না রাখিবে আর, (সুখকর শতগুণে
কষ্টকর অনন্তজীবন কাছে ); কিম্বা
কারণ-সামগ্রী মােদের দেহের যদি
প্রকৃত ঐশ্বরীক হয়, কিবা না হয়
বিলুপ্ত যদ্যপি, তবে অতীব বিষম
জীবন ধারণ পক্ষে।
জানি মােরা এবে
অভিজ্ঞতা-বলে যথেষ্ট ক্ষমতা আছে
মােদের, ত্রাসিতে স্বর্গপুর আক্রমণে
ক্রমিক, যতই হােক না কেন রক্ষিত
অদৃষ্ট-বলে কিম্বা অলঙ্ঘ্য,-সিংহাসন
জয় না হয়, তথাপি প্রতিহিংসা হবে।”
১৪ ০
ভঙ্গিয়া জা শেষিল সে এবে, প্রতিহিংসা
রেখা হতাশ-বদনে তাহার ভাতিল
শাসিয়া, দেবােন-আহবে সে ভয়ঙ্কর
অতি। দাড়াইল বল্লাল অপর দিকে
সুন্দর গঠন, ভঙ্গী চিত্ত আকর্ষণী
সভ্য অতিশয় ; এ হেন সুন্দর জীব
খসে না স্বর্গ হতে কভু ; মূৰ্ত্তি তাহার
গঠিত বুঝি উচ্চ পদ-হেতু, দীক্ষিত
বুঝি বা সৎ-অনুষ্ঠানে ; কিন্তু সমুদয়
তার অতি অপ্রশস্থ, অতি প্রলােভন ;
যদিও অমৃত-নিঝরি-
জিহ্বা তাহার,
পারে দেখাইতে ছলে, অসতে করি সৎ

( ১৪ ) ধাঁধিয়া, বিকৃতিয়া কিম্বা, ন্যায় নির্মল ; নীচাশয় অতীব সে ; পাপীষ্ঠ উদ্যমে দক্ষতা ক্ষমতা তার, দীর্ঘসুত্রী কিন্তু পুণ্যে ; শবন শ্রোতার তৃপ্তিল সে তবু, মধুর অক্ষরে আরম্ভিল এইরূপ। ১৭০ “প্রকাশ্য যুদ্ধে অভিলাষ আমারও হে-- ছিল ; ঘৃণিতে পশ্চাৎপদ কভু না আমি ; উদ্দিপীত যে মহা কারণে আশু-যুদ্ধ- প্রস্তাবনা, নিবারি’ছে অতিশয় মােরে সে কারণ, নিক্ষিপি’ছে, বুঝি বা, অশুভ সন্দেহছায়া যুদ্ধ পরিণামে ; নিপুণ যিনি সর্বাপেক্ষা বিগ্রহ কৌশলে ( মন্ত্রে, রণে সসন্দেহ) ভিত্তি’ছেন নির্ভীকতা বীরত্ব বা আপনার হতাশ উপরি সমগ্র আত্মলােপে কিবা, মুখ্য-উদ্দেশ্য যাহার প্রতিহিংসা পরে। জিজ্ঞাসি অগ্রে, কি হিংসিতে পারি মােরা ? সজ্জিত প্রহরী আছে সুসজ্জিত স্বর্গীয় দুর্গ সকলে, দুলঘ্য সদা আক্রমণে ; শিবির স্থাপি’ আছে বা কভু সীমান্ত গহ্বরে ; কভু বা বহুদূর-ব্যাপী-গতি দিক-চতুষ্টয়ে আন্ধ-প্রদেশের, বিরিছে তন্ন তন্ন উড়ি’ অদৃশ্য ভাবে তুচ্ছিয়া আক্রমণ ( ১৫ ) আকস্মিক। হয় শকতিয়া যদ্যপি প্রবেশ লভিতে পারি, নরক-তিমির- বহি প্ৰকুপিয়া উঠে বা মােদের সাথে স্বাভ পশ্চাৎ পশ্চাৎ যদ্যপি প্রধূমিতে কালিমায় দিব্য পবিত্র-প্রভা, তথাপি রহিবেন বসি’ কিন্তু তিনি মহাঅরি সিংহ-আসনে, অক্ষুন্ন মেধাসনে যেন ; স্বভাব স্বচ্ছ ব্যোম-প্রকৃতি খেদাইবে দূরে ত্বরা দুরিতে তাহার, পাপবহি- অশুদ্ধতা নাশিবে বিজয়ী। মুখ্যোদ্দেশ্য ১৯০ মুচ্ছিত তবে এবে মােদের পলায়নে ; ধ্বংসিতে মােদেরে রাগাইৰ অদ্বিতীয় জয়ী সর্বশক্তিমানে ; আরাম তাহাতে- না থাকিয়া কিবা আর। ছার! সে আরামে, দুঃখকর যদ্যপি এ জীবন, কে চায় ত্যজিতে বল সে চিন্তা মনােমুগ্ধকরী ভ্ৰমি’ছে যাহা অনন্ত ভূত ভবিষ্যতে ; স্পন্দহীন অজ্ঞান হইয়া বা কে চায় পড়িতে গ্রাসে মহারাত্রি-কাল-গহ্বরে ? অতি কষ্টেও জীবন বরং ভাল। ধর না হয়, লােপই ভাল ; নিশ্চয় কে জানে মহরিপু পারে দিতে, দিবে বা কখনো ইহা পারে সে কি করে সন্দেহ ইহাতে ; নিশ্চয় কিন্তু দানিবে না কভূ। ধ্বংসিবে ; २०० •• ( ১৬ ) ==== মােদেরে কূপি’ হয়তাে, অসংযত ক্রোধ- হেতু পূর্ণিতে তার শত্রু-আশ—এত কি সে জ্ঞানী হবে, নাশিবে ক্রোধে, রক্ষি’ছেন যাদেরে দণ্ডিতে অনন্তকাল ? “সুস্থির কেন তবে মােরা” পারে প্রস্তাবিতে রণ পারিষদ, “দণ্ড-আজ্ঞা প্রদৃষ্ট যখন, ২১০ রক্ষিত তদ্ধেতু, কিম্বা অদৃষ্টে নিশ্চিত সহিতে দুঃখ-অশেষ অনন্ত-জীবনে, তবে যাই করি না কেন, কি বা অধিক, কি আর ভয়ানক সহিতে পারি মােরা” ? এই যে বসিয়া যুক্তি করিতেছি হেথা - এই যে সজ্জিত বৰ্ম্মে আছি হে আমরা- একি তবে জীবনের কষ্টকর অতি ? ওঃ! কি ভয়ানক বেগে পলাইনু যবে পৃষ্ঠে শত্রু করি, স্তম্ভিত বজ-তাড়নে ভীষণ, যাচিলাম আশ্রয়-হেতু কূপে, ২২০ তখন (এ) নরক হয়েছিল যন্ত্রণায় নিরাপদ আশ্রয়-স্থানীয় ; কিন্তু সবে জলন্ত হ্রদে ছিলাম পড়িয়া আবদ্ধ শৃঙ্খলে—তখন বটে ছিল কষ্টকর। যদ্যপি ক্রোধে জাগিয়া পুনঃ নিশ্বসেন বারম্বার জলাইয়া সপ্তগুণে পূর্ব বহি-প্রতাপ, মােদের দহন-কারণে, ডুবাইতে সে বহি শিখায়—নতে কি সে २४० কষ্টকর ? কিম্বা, উপায় কি তবে যদি, ঊৰ্ধ হ’তে তঁার রক্তিমােজ্জল তপত বজ্রপানী উত্তোলেন মােদের দহনে ? কি উপায়, যদ্যপি উদঘাটে দ্বারদেশ নরক-ভাণ্ডার, হানিবে অনল-শিলা শূন্যস্থল, বিভীষিকাময়ী দুরাতঙ্ক নিশ্চয় শাসাইবে মােদেরে, পড়ি ঘাের মহাবেগে ভয়াকুল শিরে একদিন ; নিশ্চিত-জয় এবার উদ্যমে, —এ ভাবি’ আঁটিতেছি বসি’ মােরা কত যে যুকতি অশেষ। অঙ্গারময় ঝটিকায় ধৃত পাছে হই মােরা ; খেদাইবে নিক্ষিপিয়া তাহলে সুদূরে, প্রত্যেকে স্তব্ধি’ প্রত্যেক পৰ্ব্বতে সবফলকে বিন্ধি মােদেরে উপপ্লব-ইচ্ছা-অধীন ; কিম্বা থুইবে অনন্ত কাল উষ্ণোৰ্ম্মি-অসীম-সলিল- মাঝে জড়িত শৃঙ্খলে অসীম অসহ্য জ্বালা সহ, অনিন্মুক্ত অদয়িত ভাবে কত কাল না জানে ফুরাতে। দেখ তবে যুদ্ধে, প্রকাশ্য বা লুক্কায়িত ভাবে, নাহি মত মম। বল বা কৌশল কি করিবে তার, কে পারে ছলিতে তারে, অন্তর্যামী যিনি, দেখেন সকলে মুহুৰ্ত্ত কটাক্ষে ? হাসি’ছেন ; আন্দোলন, বৃথা আস্ফালন ; ২৫০ ।

( ১৮ ) ২৬ হেরি’ দ্যুলােক হইতে ; নন কিন্তু নন বিক্রম বা কৌশলে ফাসাইতে কল্পনা যতেক। স্বর্গীয় জাতি মােরা রহিব কি এভাবে তবে ঘৃণিত, দলিত, তাড়িত হেন ভূগিতে হেথায় যন্ত্রণা অশেষ, সহিতে শৃঙ্খল-গুরু-ভার? এও ভাল, তথাপি মন, মন অতিশয় ; মেরেছে অব্যর্থ-অদৃষ্টে মােদেরে, দুলঘ্য সদা আদেশ, জয়ী-অভিলাষ। শক্তি মােদের সহিতে, করণে বৃথা, সমান -অবধি নহে এ বিধি-আদেশ। নির্দিষ্ট হইত প্রথমে এ বিধি, দৃষ্টিহীন যদি মােরা না হইতাম মহারি-বিরুদ্ধে কলহে, তাই এ সন্দেহ এত কি ঘটিতে পারে। হাসী পায়, দুঃসাহসে তাদের, কুশলী যাহাৱা রণে, কিম্বা যদি বৃথায় যায় ত্রস্ত কম্পিত তখন, (কি জানি আছে কি পরে ) সহিতে নির্জন-আবাস, ঘৃণাক্ত- পঙ্ক, শৃঙ্খল কিম্বা তীব্রতা যন্ত্রনার বিজেতৃ- আদেশে। অদৃষ্ট বুঝি বা তাই ; যতেক দুঃখনিচয় সহি যদি মােরা, রিপু-প্রধান রক্ষিবেন কালে হ্রাসিয়া কোপবহি তার । সুদূরে রয়েছি পড়ি, নিৰ্বিরােধে সহিতেছি যন্ত্রণা অশেষ, ২৭ ০

( ১৯ )
২৮
হেরি’হয়তাে রক্ষিবেন অতি পীড়ন
হ’তে ; তাহলে কমিবে এ বহূি-প্রতাপ
যদ্যপি রােষে নিশ্বাস’ না বাড়ান জ্বালা।
স্বর্গীয় উপাদান তখনই মােদের,
নশিবে এ দুষ্ট-বাষ্প; কিম্বা অনুভব
না হবে অভ্যাস-হেতু ; স্থানীয় প্রকৃতি
বশে, মােদের প্রকৃতি ফিরি’ অবশেষ
সহিবে উৎকট উত্তাপ, লঘু ; ত্যজিবে
ভীষণ ভাব বিভীষিকা, এ অন্ধকার
ত্যজিবে ঘন ; এ ছাড়া অনন্তগতি-
আশা-পিছে সৌভাগ্য অপেক্ষিছে লাগিয়া
মােদের, ভবিতব্য অপেক্ষনীয়, সদা
অদৃষ্ট এক্ষণে প্রসন্ন মােদের ; মন্দ
যদি বা কেবল, মন্দ বটে আতিশয্য
নয়, যদ্যপি না ডাকি দুঃখজ্বালা পুনঃ।”
;
যুক্তি পরিচ্ছদে আচ্ছাদিয়া বাণী এবে
উপদেশ বল্লাল দিল সন্ধি কারণে-
বিগর্হিত সুস্থতা, অকর্মণ্য বশ্যতা-
স্বীকার ; ম্যামন, পরে কহিতে লাগিল।
t
যুদ্ধ, স্বর্গরাজে সিংহাসন-কূতি-হেতু,
কিম্বা উদ্ধারিতে পুনঃ নষ্ট-অধিকার,
ভাল বটে, যদি ভাল হয় তাতে কিন্তু

( ২০ ) ৩১০ দৃঢ় অদৃষ্ট..( জগৎ চালিত যা’তে) যবে ত্যজিবে কর্ণ অনিত্য ঘটনায়, যবে অরাজক অপ্রকৃতি বসিবে বিচার হেতু এ কলহ, তখনই আশা হয় চূতিব তাহায়। বৃথা আশা, অসম্ভব মনে গণি চূতিতে তাহায়, উদ্ধারিতে সেই রূপ নষ্ট অধিকার। কোন স্থান আছে স্বরগ মাঝারে মােদের লাগিয়া, যতক্ষণ অদ্বিতীয় স্বরগ-প্রভুরে পরাভূত না করিতে পারি ? পুনৰ্ব্বার বশ্যতা-স্বীকার, ধর যেন ক্ষনিলেন তিনি, কি লজ্জায় সম্মু খব অতি হীন- ভাবে ; মানিব কেমনে বা কঠিন আজ্ঞা বিধিবদ্ধ দমিতে দুষ্টতা ; বাখানিব কোন কণ্ঠে তান-লয়ে রচি রাজ্যেশ্বরে ; বিহিত বন্দনায় বন্দিব কোন লাজে ঈশ্বর সম্মানে, সবে তিনি বসিবেন মহা-আড়ম্বরে প্রভু; ত্রিদিব-সৌগন্ধে আমােদিবে বেদী যবে অৰ্ত্ত-কুসুম- উপহার দাসত্ব অঞ্জলির ? স্বরগে অবশ্য কর্তব্য ইহা হইবে মােদের কায়-মনে-প্রাণে 'এ ভাবে অনন্তকাল কাটিবে কত দুঃখময়, (ঘৃণি যাহাকে মােয়া, তুচ্ছ ইন!) তাঁহারই হয় ! ; ৩২ ৫

( ২১ )
বৃথা কেন ভাবি এ দাসত্ব-আড়ম্বর ;
বলে,—বান্ধিতে মােদেরে দাসত্ব-শৃঙ্খলে
অসম্ভব ; আজ্ঞায়,-দাসত্ব-প্রতিভাও
স্বরগ-দুয়ারে কিবা, নহে বাঞ্ছনীয়
তবু;
আপন-নির্ভরি’ আপনার লাগি
লহ সুখের সন্ধান,সেও শ্রেয়ঙ্কর।
আপন কৌশলে আপন শক্তিতে রক্ষ
আপনারে স্বাধীন, যদিও (এ) অন্ধকূপ।
স্বাধীনতা কাঠিন্য মিশ্রিত, শ্রেষ্ঠ গণি
মনে ; ছার ! সে সুস্থতা দাসত্বের যুগে
নীচে উচ্চ, দুষ্টে ইষ্ট, দুঃখে সুখ, যবে
সৃজিব মােরা, যেখানেই হােগ না কেন
যতিব উন্নতিতে ববে অনিষ্ট-মাঝে
তােলপাড়ি, দৈন্য মাঝে স্বচ্ছন্দ-শ্রমিক
যবে, তখনি মহত্ত্ব মােদের অতীব
ভাতিৰে উজলি । এ ঘন আঁধারে ভয়
কি মােদের ? ঘনমেঘ, অন্ধকার মাঝে
ত্রিদিব-ঈশ্বর কত বাসেন থাকিতে
অসংযতি প্রভা, আবরিয়া সিংহাসন
রাখেন তামসী ঘনঘটা মাঝে কিবা
বজ, যথা হ'তে গম্ভীর নিনাদি’ জ্বলে
মহাতেজে ; সামঞ্জস্য হেথায় স্বরগে।
নরকে। পারি না কভু কি খুসি’, ঢাকিতে
মােদের আলােকে তঁার, ঢাকেন আপনা
৩৪।

( ২২ )
৩৫০
মােদের আঁধারে যথা? এ মরু প্রদেশ
বন্ধ্যা নহে গুপ্ত-তৈজসে—স্বর্ণ কি রত্নে ;
নহি অকুশল মােরা নিৰ্ম্মিতে প্রাসাদ
পূর্ণ আড়ম্বরে ; কি বেশী দেখাতে পারে
সে দূলােক ? যন্ত্রণা মমাদের কালবশে
অবশেষ মিলিবে স্বভাবে। তীব্ৰজ্বালা
শমিবে এ বহির, তীক্ষ্ণ এখন যত ;
প্রকৃতি মােদের, বহি-ধরমে শাম্যতা
লভিবে ; কাৰ্যতঃ স্পর্শ-গ্রাহ্য না হইবে
আর। আম্বানি'ছে যাবৎ বস্তু বিবেচিতে
সুস্থমনে, নিরুপিতে রাষ্ট্র-কুশলতা,
কি ভাবে কোথায় অমৰ্ত্তজীবন এবে—
সংহারি’ অাহব-চিন্তা, লাঘব, এ দুঃখ
অশেষ, যত্নিয়া নিরাপদে সদ।।
বাখানি তােমায় উপদেশ- হেতু এই।”
৩৬৫
শােযিল ম্যামন অমনি যেই, পুরিল
গণ্ডগােলে সভা মহা হুহুঙ্কারি, গুহা
মাঝে যথা নিবদ্ধ-নিনাদ ঝটিকার,
ভীষণ হুঙ্কারি বাত্যা ভীষণ গর্জনে ,
কম্পিত বারিধি ত্রাসে উচ্ছলিত-বেগ
সমস্ত রজনী, এবে মিশি’ছে মন্দিয়া
তেজ, মুগ্ধয়া নিদ্রার আবেশে নাবিকে
কত সতর্ক এতক্ষণ রক্ষিতে ডিঙী,

( ২৩ ) ৩৭০ ৩৮০ আবদ্ধ ঘটনাক্রমে এবে শৈলময় উপকুলে ঝাউপশমে। কোলাহল এ হেন উৎসব-মাঝে ম্যামন শােষিল ; সন্ধি-উপদেশ-বক্তৃতায় তুষ্ট সবে ; আবার যুদ্ধ যদ্যপি, নরক অধিক সুদূস্তরে মহাভীত তারা ; ততােধিক বজে, ত্রিদিব-পারিষদ “মক্কেল”-অসি- বিভীষিকা এখনো হানি’ছে হৃদে ভয় ; এ অন্ত্যপুরে সাম্রাজ্য-স্থাপন-বাসনা অল্প নহে; কালে, নীতিবলে উন্নতিয়া পারে বা উঠিতে প্রতিদ্বন্দি’ স্বর্গপুর। সয়তান পরে অনন্য-সম্মান, শ্রেষ্ঠ- আসীন বীলজেব, সম্যক উপজিয়া উঠিল গম্ভীর মুরতি, রাজ্যের কেতু বুঝি যেন বা, উত্তোলিলা শির ; ললাটে তাহার গভীর খােদিত, অসীন যেন বিচার বিবেচনা সমষ্টি-শুভ-হেতু ; বদনে ভাতি’ছে আড়ম্বর রাজসীক, এ পতনে এখনো ; সাম্রাজ্য-গুরুভার বহনে ক্ষম, পৃষ্ট-স্কন্ধ অতি, প্রবীন ; মূৰ্ত্তি তার শ্রোতৃ-চিত্ত-স্থৈর্য আর্কষণী ; আরভিল যবে, নিশীথ তামসী কিম্বা, | গ্রীষ্ম-মধ্য মারুৎ যথা স্তব্ধ সকলি।

( ২৪ ) ৪ ০৫ ; “হে মুকুট, রাজশক্তি, ত্রিদিব-প্রসূত স্বর্গীয় সুবীরনিচয়,—কিম্বা ত্যজিয়া কি উপাধি এ সব বাখানিব নরক- রাজ ? কেন না নিৰ্ম্মিতে সাম্রাজ্য হেথায়, রহিতে এ হেন স্থানে সম্মতি সবার অতি বলধতী ; নিশ্চয়ই নিদ্রা-ঘোরে মােরা, নতুবা জানি না কেন, অন্ধকূপ এ স্থান নির্দিষ্ট মােদের-কারণ ; নহে নিরাপদ আশ্রয় মােদের, অধিকার- বহির্ভূত নহে যে তাঁর ; স্বাধীনতায় কাটাইতে, দলবদ্ধ নবতন্ত্রে মােরা, প্রত্যাখি’ স্বরগ-শাসন; কিন্তু সুদৃঢ় বন্ধনে, অতি অলঘ্য প্রতাপে রক্ষিত মাের বন্দীদল, সুদূর যদ্যপি পথ ; আদি অন্তে, একা রাজা স্বর্গ নরকের, বিদ্রোহে মােদের, রাজ্য অক্ষয় তাহার ; রাষ্ট্র, নরকেও ব্যাপ্ত তার ; লৌহদণ্ডে শিষ্ট মােরা হেথা, সৌবর্ণে স্বরগে যথা। কি হেতু তবে বসিয়া মােরা আঁটিতেছি সন্ধি কিম্বা যুদ্ধ প্রস্তাবনা ? ফলিয়াছে সে যুদ্ধফলে ক্ষতি অশেষ, অনুদ্ধাৰ্য্য নষ্টে পরিণত ; সন্ধিসূত্র এখনো না কেহ যাচিল বা দিল। কিবা'সত্ত্ব আছে। সুত্রিবে মােদের সাথে, বন্দি পরাজিত ৪১ ০ ( ২৫ ) ৪২ = মােরা? কর্তব্য কাঠিন্য, যন্ত্রণা অশেষ, দুঃখ অবিচারি’ হানিবে মােদের শিরে। কিবা সত্ত্ব প্রস্তাবি’ তাহার পারি দিতে ? কিন্তু এ সব—দ্রোহিতা, দ্বেষ, প্রতিহিংসা, অদম্য বৈরীতা। বিলম্বে যদ্যপি, কিন্তু চক্রান্তিব অবিরত মােরা, কি প্রকারে কত লাভবান জয়ী, জিত হতে হয়, আনন্দে বা কেমনে, হেরি নিমগ্ন দুঃখে। সুযােগের অসদ্ভাব নাহি হবে, নহে আক্ৰমিতে স্বর্গপুর সহসা ত্রাসিয়া- অলঙ্ঘ প্রাকার—যুদ্ধে কিম্বা অবরােধে, হঠাৎ উল্লম্ফনে কিবা, গভীর হইতে। কেন এ, যদ্যপি সহজ উপায় থাকে ? প্রাচীন ভবিষ্য প্রবাদ যদি অলীক না হয়, আর এক লোেক, মানব আখ্যা নব-জাতি-হেতু স্বচ্ছন্দ নিবাস আছে এক স্থান। বুদ্ধি বা বিক্রমে হীন যদি (বা) সে জীব তথাপি দ্যুলােক-নিয়ন্ত্ৰী-কৃপা- অধিকারী; সৃজিত বুঝি বা তারা যেন সাদৃশ্যে মােদের। ইচ্ছা এ হেন তাহার বিঘােষিত দেবদল মাঝে, শপথিয়া সমর্থিত, কম্পিত সমগ্র তায় স্বর্গ- পরিধি। সমগ্রচিন্তা-স্রোত ফিরাইয়া সে দিকে দেখি এস মােরা, নিবাসে কোন ৪৩০ ৪৪ ০

( ২৬ )
•
;
৪৫০
জীব তথা ; সৃজিত বা কোন উপাদানে
কিবা সুক্ষ্ম তেজে দিপ্তিমান ; কোন বলে
বলী ; দৌৰ্বাল্য আছে বা কোথায় তাদের,
কেমনে বলে বা ছলে আক্রমিতে পারি।
অর্গলিত স্বরগ যদ্যপি, দ্যুলােকেশ
নিশ্চিন্ত্য বদি বা স্বতেজে, তথাপি বুঝি
সে স্থান রয়েছে পড়িয়া দূলােক প্রান্তে,
ন্যস্তভার অধিকারী পরে। আক্ৰমিতে
সহসা সে পুর সুবিধা বুঝি বা কিছু
ধ্বংসিয়া সমগ্র সৃষ্টি নরক বরুিতে,
লইয়া কিম্বা নিজ অধিকারে, অথবা
খেদিয়া হীন জীবে খেদিত মাের। যথা ;
না উপাড়ি’ যদি বঞ্চনে নীত বা হয়,
তবে তাদের ঈশ্বর জল', অনুতাপে,
শত্রু হয়ে বুঝি, লােপিবে জগৎ রচনা।
প্রতিহিংসা চূড়ান্ত তা'হলে ; এ উৎপাতে
উল্লাস তার বিগ্রস্ত হবে, উছলি’
বহিবে অপার আনন্দ-স্রোত তা'হতে
আমাদের, যবে হীন প্রিয় পুত্রদল
ক্ষিপ্ত হেথা, দুঃখ-ভোগ-হেতু বাখানিবে
ভঙ্গুর মৌলিক কারণ ভূতে; ক্ষণিক
সুখ-ভােগ মিশিবে অচিরে ! এ উদ্দেশ্য
উদ্যম যােগ (?) কিম্বা বসি’ আঁধারে হেথা ।
ঝুমিব বৃথা-রাজ্য-প্রতিষ্ঠা হেতু ? যুক্ত
৪৬০

( ২৭ ) ৪৭ কিবা বিচারে এবে।” যুক্তিল বীলজেব এবে আসুরী:মন্ত্রণা, অংশে সমর্থিয়া সয়তান প্রস্তাব। তা না হলে কোথায় হ’তে অসি’ এ পাপ কল্পনা উতরিবে, গভীর কূট হিংসা নীতি ধ্বংসিতে নরে আমূলে একেবারে, মিশাইতেঘণ্টিয়া ভূতলে পাতালে সনে,—এ কেবল হিংসা- লাগি’ উপদ্রব মহাস্রষ্টা পরি কিবা ? তবু উজলি এখনাে ভাতি’ছে মহিমা তার। উপজিল অগাধ আনন্দরাণী নারকী মন্ত্রীদল অদ্ভুত প্রস্তাবনে উল্লাস-বিস্ফারিনেত্রে ; সমর্থিল সবে প্রকাশি’ উৎসাহ-বাণী ; তাই এবে পুনঃ- ৪৮৫ “দেবলােক অয়ি ! সুন্দর বিচার কিবা, মহাতৰ্ক সুসিদ্ধান্ত এবে ; উপনীত সিদ্ধান্তে মহৎ-কল্পনা ; যথার্থ যে তাই, তােমা-হেন মহত্ত্বের কাজ ; উত্তেজিবে বারেক (সে) কল্পনা পুনঃ, লঙ্ঘিয়। নিয়তী, উঠিতে আঁধার এ গুহা হতে পূর্বের আবাস পাশে—হয়তাে আলােক সীমান্ত- গােচরে--যথা হ'তে মােরা পুনঃ প্রবেশ স্বরগে সহসা লভিতে পারি ; কত যে- কিবা শুভ্ৰোজ্জল মধুর আলােক: দেশে

( ২৮ )
৪৯৫
;
নিরাপদে বসি’ উজ্জল কিরণ-পুঞ্জে
খেদাইব এ আঁধারের জ্বালা ; কত যে
মৃদু সুখ বায়ু স্বচ্ছন্দিবে কূপ-বহি-
খেদ নিশ্বসি’ সমীর। সর্বাগ্রে, এখন
খুজিতে সে লােক কাহারে পাঠান যায় ?
উপযােগী ওকবা ? কষ্টে সযতনে কেবা
ঘুরিয়া ফিরিয়৷ খুঁড়িবে অনন্ত ব্যাপী
অসীম আঁধার হাতাড়ি কেবা লইবে
খুঁজি’ ভয়াবহ পথ, গ্রাহ-তমাে-মাঝে,
কিম্বা পক্ষোপরে কেবা সহিবে বিস্তীর্ণ
অম্বর-প্রয়াণ, অক্লান্ত সুউৰ্দ্ধ মার্গে,
যাবৎ না লভিবে সে সুথের দ্বীপ ? আছে
যথেষ্ট কোনও বল বা কৌশল ? কিবা
এড়াইবে তারে শক্ত রক্ষীদল হ'তে
নিরাপদে, ঘন কটকিত চতুদৃষ্টি
দেবসেন। তথা? দৃষ্টি, সুতীক্ষ সন্যক
প্রয়ােজন হেথা; যুক্তি হেন মনোনীতে
তারে বহুবিচার-সাপেক্ষ ; শেষ আশা
সুচির-ভরসা, অনন্য নির্ভরি তায়।”
এবে সে বসিল ; নেত্র তার আশান্বিত,
উদগ্রীব বয়ান অপেক্ষি’ছে যেন কেবা
উঠিবে এখনি সমর্থিতে, তর্কিবে।
কেহ ব্যগ্রভাবে, কিম্বা উদোগী কেহ বা

( ২৯ ) হবে, উদ্যমিতে সে দুষ্ট প্রস্তাব। মৌন কিন্তু সবে, গভীর ভাবনায় অধীর- চিন্তিয়া আপদরাণী ; বিলের শুষ্ক- ছবি লক্ষিছে প্রত্যেকে প্রতিমুখ হেরি’ হতাশে। দূলােক-আহবে কুশল, রথী মহারথী মাঝে নাহি সনাপল কেহ উদ্যমিতে সগর্বে লঘিবার লাগিয়া দুস্তীর্ণ অম্বর-প্ৰয়াণ একা ; মন্দ্রিল অচঞ্চল, সয়তান, শেষ, সাথীগণ- গরীমা লাঞ্ছিয়া রাজসী-গৌরবে, ধীর। ; ; “ত্রিদিব-কুমার ! হতাশ-বিহ্বল নহি মাের। নিৰ্বাক্‌ বিমুগ্ধতা হেতু যথার্থই আছে। কোথা স্বর্গ, দেখ কোথায় নরক । দৃঢ়কারা এ প্রকাণ্ড অনল-গােলক গ্রাসি’ছে উন্মাদে যেন বেষ্টি’ চতুর্দিক নবধা প্রাকারে ; তপত প্রবেশদ্বার রুদ্ধ মােদের হেতু, নিবারিছে নির্গম সদা আমা সবার। লঘিয়া এ সকল, ছিদ্র কোনো থাকে যদি কিবা, ঘনঘোর তামসী নিশা সম্বদ্ধিবে অচিরে তারে বক্ত বিস্তারি, হানে ভয় যেন গিলিবে একেকরে, নিমজ্জিবে যবে বন্ধ্যা-গর্ভে মরুময়। রক্ষা যদি পায় এ বিপদ • ( ৩০ ) ৫৪ ০ হতে পলায়ে অজানিত স্থানে, জগতে বা কোনো, তথাপি পরিত্রাণ কোথা আছে হঠাৎ বিপৎ-পাতে? হে বীর-বৃন্দ, নারিবে বিপদ কোনাে রক্ষিতে মােরে উদ্যমিতে সে প্রস্তাব সৰ্ব্বশুভ হেতু ; রাজতক্ত- গরিমা নাবে, প্রভুত্ব অক্ষুন্ন রবে রহিবে সামর্থ্য অব্যাহত সমুজ্জ্বল। রাজদণ্ড কেন ধরি তবে? বিড়ম্বনা,- যদ্যপি এ গুরু-বিপত্তি-ভার না করি স্বীকার ; মহৎ-সম্মান-ভাগী যেবা, সেই (সে) বিপদ-ভার অবশ্য বহিবে সমান, অত্যধিক বরং বাহ উচ্চপদহেতু। হে শক্তিপুঞ্জ, ত্রিদিব-আতঙ্ক, যাও হে তবে, নিবেশি’ বিচারে এবে হেথা, কিসে এ দুঃখ এখন নিবারিতে পার, কিসে (এ) বঘ্নি, রুদ্র-তেজ ত্যজি’ শাম্যতা লভিবে ; কি ঔষধ নিবাইবে জ্বালা, কিবা মন্ত্র মােহিবে, লাঘবি’ দুঃখ অশেষ এ দৈন্য- আগারে ; বাহিরিব যবে আঁধার মরু- কুল দিয়া, মুক্তি সন্ধান হেতু, রাখিও সতর্ক সর্বদা তীক্ষ্ণদৃষ্টি শত্রু’পরে। না কভু লইবে মাের সাথ এ উদ্যমে কেহ।” বলিয়া ত্যজিল আসন, প্রত্যাখি, উত্তর ; অতি ধূর্ত, পাছে কেহ, বিজ্ঞাপি’ : •

( ৩১ )
আপন মত দাড়ায় সে উদ্যম-লাগি
সমর্থি’ মন্তব্য তাহার, এস্ত যাহাতে
এত ; কিম্বা পাছে কেহ প্রস্তাববিরুদ্ধে
দাড়ায়, প্রতিদ্বন্দি কিবা, মহৎ-সন্মান
সুলভ্য জ্ঞানে, দুঃসাধ্য সাধনি’ অর্জিবে
সে যাহা। উদ্যমে ভীত কিন্তুন্নহে তারা,
বারণ-ইঙ্গিতে যত ; একেবারে সবে
উত্থিত তার সনে। সে শব্দ দূর-নাদি
বজ্ররােল প্রায়। স্তুতিল সম্রমে বেষ্টি
ঝুকিয়া তাহায় ঈশ্বর-সমান মানি।
তুচ্ছিল আপন সুখ সকলের হেতু
বাখানিয়া এই ভাবে কত যে স্তুতিল
তাহারা ; এখনো দৈত্যদলে গুণগন্ধ
আছে ; তা না হলে যশ-হেতু, কিম্বা ভানি’
সদুদ্যম কোনো, গুপ্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা-হেতু
বাহদীপ্তি কীৰ্ত্তিরাশী স্থাপিয়া মরতে
হইত দুৰ্জ্জন দৃপ্ত আত্ম-অভিমানে।
.
এবে মাহিল তাহারা উৎসব ব্যসনে
অদ্বিতীয় নেতাসনে তমােময়ী যুক্তি-
শেযে। শীতবায়ু যবে সুসুপ্ত হিল্লোল,
মেরু চূড়া হ’তে ঘনঘাের যবে নামে
বিস্তারিয়ী অমল অধর-মুখ, যেন
হানিবে এখনি ঝটিকা, তুষার, শিলা,
৫৮

{ ৩২ )
।
ম্লানময়ী প্রকৃতির বুকে, দৈবাৎ যদি
সাজের কনক-রবি এ হেন সময়ে
মধুর বিদায়-নেত্রে প্রকাশে মৃদুল
প্রসারি’ তিমির-অন্তরেকর, উদ্ভাসে
প্রকৃতি, কুজে বিহঙ্গ-কুল পুনঃ নাচি,
ডাকে মেষদল যথা আনন্দে অপার,
পৰ্বত, কন্দর, ধ্বনিত উৎসবে হেন।
তেমতি মাতিল উৎসব ব্যসনে তারা।
ধিক্‌ নরে ! দৈত্য, নীচ দৈত্য সনে একতা
ধরে ; বৈষম্য কেবলই নরে, সত্তি-
জীব-সৃষ্টি মাঝে ;
শান্তি
কল্পবৃক্ষমূলে
অনন্ত করুণা-নিঝরি তীরস্থ নর,
তথাপি জীবন, হায় ! বৈরিতা, বিবাদ,
দ্বেষ-হেতু পরস্পর, সমর-কৌতুক
নিষ্ঠুর আচার, পৃথিবী ধ্বংসিতে কিবা
আপনা ধ্বংসিতে, যেন নররিপু বিনা
আছে নারকী রিপুদল নরত্রাস,
(এ কারণ সমপ্রাণ সম্ভবিতে পারে)
দিবা নিশি কত অসংখ্য অসংখ্য হেন
অপেক্ষি’ছে ঘুরি’ফিরি’ ধ্বংস-হেতু নরে।
ভাঙ্গিল নিরয়-সভা এবে ; বীরবৃন্দ
নৈরয় নিচয় বলী বাহিরিল ক্রমে।
নিয়ন্তা প্রধান মহাবীৰ্য্যবান আসি

( ৩৩ ) ৬১০ উতরিল বেষ্টিত সকলে, অদ্বিতীয় ত্রিদিব-অরাতি, নরক সম্রাট-সম অনুন ত্রাস মহা আড়ম্বরে, ঐশ্বৰ্য্য বিকাশি’ বিড়ম্বিত দেব-যথা। বেষ্টিল খদ্দ্যোতি-পুঞ্জ গােলক-আকারে তাহায়, বাঁধি উজ্জ্বল কবচ, ঢাল বিভাতিত- (বীরােচিত উপাধি, কেতনে) তীক্ষ্ণ-অগ্র- হাতীয়ার। উচ্চনাদে ঘােষিল উদ্দেশ্য মহান, তূর্য্যফুকারি’ অধিষ্ঠান-শেষে। প্রতিদিম্মুখে ধ্বনিল দুন্দুভি-নিনাদ, বিজ্ঞপিল দুত, পরে, সঙ্কল্প সভার কিবা। সুদূর প্রান্তর সে মরুগম্বর শুনিল সে ধ্বনি, শুনিল যতেক আর নিরয়-পতিত ; প্রচণ্ড চীৎকারে স্তম্ভি, উত্তরিল তারা সবে আনন্দ-বারতা। সুস্থ এবে তাই ; অভিমান বশে, বৃথা অনিশ্চিত আশায় অধৈৰ্য্য শক্তিপুঞ্জ। ভ্ৰমি’ একা একা বহুদিক নিজমনে, কিম্বা অগত্যা অনিচ্ছায় পাগলপ্রায় ধাই’ছে, কোথায় সম্ভাবিত সুখ আসি, হবে চিত্তচাঞ্চল্য বিলােপ, স্বচ্ছন্দিবে কোথা কাল, যত দিন সয়তান ফিরি না আসিবে আবিস্কার-অভিযান হ’তে। একদল ময়দান’পরে, পক্ষোপরে, D ( ৩৪ ৩৪ ) ৭৩০ বৈমানিক কেহ, অশ্ব’পরে বিদ্যুৎ-গতি কেহ বা আনন্দে, অলিম্প-ক্রীড়ায় যথা কিম্বা পিথিয়ান্ মাঠে। আরােহী-দল এক দমি’ছে প্রগ্রহে অশ্ব উষ্ণতেজ, ত্যজি’ কিম্বা যুপস্তম্ভ ধায় রথী দ্রুতচক্র, অথবা রচি’ছে বৃহ-শয্যা-সম্মুখীন যথা যবে, দৃপ্ত-নগর-তৰ্জনে, ধায় সেনা দ্রুততেজ বিপ্লবে অম্বর পথে দগ্ধ ঘন প্রধুমিত সমর-অনলে ; বায়বীয় অশ্বীদল ধাবি’ সম্মুখি’ছে প্রতিবিপক্ষ, রাখিয়া আধানে বল্লাম বিপ্লব-বিহানে। অস্ত্র-সুকৌশলে দীপ্ত, বঘ্নিময় অন্তরীক্ষ, সমগ্র পরিধি। অন্য এক, ক্রোধে অগ্নিশর্মা সুনির্দয়, উপাড়ি’ পৰ্ব্বত, ভাঙ্গি’ মেরু-চুড়া কত, ঘুর্ণিত বাতাসে উঠিছে আকাশ-পথে সহে না নরক কভু তাণ্ডব-ব্যাপার :- যথা হরি-কুল-ঈশ, ইকেলিয়া হতে বিজয়ী ফিরিল যবে, গাত্রদাহে হঠাৎ অধৈৰ্য্য, বিষাক্ত-পরিচ্ছদে, ছারখারি’ থেসেলি কানন, উপাড়িল দেবদারু আমূল, জ্বালায় ; গিরিশের উপকুল- সমুদ্রে ঠেলিল লিখ্যে, গিরিশৃঙ্গ হতে। স্থির ন একদল অন্য তুলনায়, ৬৪ ০ .

( ৩৫ ) বসিয়া নির্জন উপত্যকায় গাহিছে আপন বীৰ্য-প্রতিভা, যুদ্ধচক্রে হায় দুর্ভাগ্য পতন গাহিছে অসংখ্য বীণে, আপ্সরি তানে। নিসর্গ বীরত্ব প্রকৃতি, অদম্য নিয়তি, কত বিলাপি’ছে তারা, বাধ্য ছার বলে কিম্বা অনিত্য-ব্যাপারে। গীত তাদের পক্ষপাতী ; কিন্তু মাধুর্যে— ( কি(বা) মধুরতা আছে অমর কণ্ঠকাছে?) সু-স্তবধ নরক, নিবিড় শ্রোতৃবৃন্দ উল্লাসিত কিবা। মধুর আলােচনায় (রমে আত্মা ওজস্বিনী, মুগ্ধ গীতে মন ) বিশ্রামি’ছে অন্য আর সুদুর পর্বতে উচ্চভাব, সু-উচ্চ-যুকতি, ঐশী প্রশ্নে পূৰ্ব্বজ্ঞানে, কামনায়, অদৃষ্ট বিবাদে অদৃষ্ট নির্দিষ্ট, স্বাধীন কামনা, পূৰ্ব্ব- জ্ঞান অবিচল—অকুল দুস্তরে মগ্ন ধাঁধা লাগি’ খুঁজিয়া না পায় কিছু আর। বিতর্কিল পরে কত পাপ-পুণ্য-কথা সুকৰ্ম্ম, কুকৰ্ম্ম, কত তেয়াগ, আকাঙ্ক্ষা, ভালমন্দ পরিণাম কিসে কিবা আছেঃ- এ সব দর্শন-যুক্তি মিথ্যা তত্ত্বময় ! তবুও আপাত মধুর ঐন্দ্রজালিক 'ভুলায় বেদনা, মৰ্ম্মদাহ কত কিবা ক্ষণেকের তরে, আকাশে কুসুম হেরে,

( ৩৬ )
;
সুদৃঢ় ধৈৰ্যবেগে বাঁধে কঠিন হিয়া,
লৌহবৰ্ম্মে আচ্ছাদে যেমন, বক্ষস্থল।
আর এক, দলবদ্ধ, ব্যহিত, সজ্জিত,
দুঃসাহসে উদ্যমিতে জঘন্য জগতে
আবিষ্কার-হেতু, কোনো স্থান থাকে যদি
স্বচ্ছন্দ্য-নিবাস, চলে অভিযানে তথা
চতুবুহাকারে চতুর্দিক, পক্ষোপরে
চতুর্দীকুল দিয়া ; নৈরয় সে নদী
ঢালিছে জ্বলন্ত হ্রদে দুঃখময় স্রোত :--
জঘন্য দূষিকা ‘তীক্ষ্য, পুতিগন্ধ ঢেউ ;
‘একাবােন, তামিস্রা গভীর দুঃখময় ;
মৌন বিলাপের তপোচ্ছাস, হা হুতাশ,
‘কোসাইটাস’ রৌরবি পুলিন ; কালবহি
কূট ‘ফ্লেগীথ, স্রোত ক্ষিপ্ত-ঝক্কা-উদগারী।
বহুদূরে কুটিলা গতি, এক নিঃশব্দে
গড়াইছে শান্তশীলা, ‘লিথি, ভ্রমাত্মক
যে পান করিবে বিন্দুমাত্র স্রোতবারী,
ভুলিবে পূৰ্বভাব তদবধি, আপন।
ভুলিবে, সুখ দুঃখ সব, ভােগ বেদন।
সকলি ভুলিৱে । এ স্রোতের পারে এক
তুষার জগত মরু-অন্ধকার, বহে
ঝড় ঘুর্ণিবিপাকে অবিরল, দুর্মদ
শিলাবৃষ্টি তাহে, দ্রবে না কখনো হেথা
ইমানি স্তুপ, উপচয় সদা, দেখায়
•

৭১০
!
• যেমতি ভগ্নাবশেষ জীর্ণ অট্টালিকা ;
যা কিছু সকলি ঘন তুষার, হীমানি,
ডামেটা-কেশীমেরু-মাঝে সাৰ্বনি জলা
যথা, যথা প্রােথিত সমগ্ৰ সেনাদল ;
তুষারিয়া দহিতেছে শুষ্ক শীত বায়ু,
দাহিকা আছে, সে শীত-পবন হিল্লোলে।
নির্দিষ্ট কাল-আবর্তে টানিয়া আনিছে
খেদি পতিত যতেকে তথা, উগ্রমূৰ্ত্তি
নিশাচর ধারাল-নখর। বিপরীত
সহি’ছে এবে অতি কষ্টকর। কোথায়
রুদ্র আগ্নেয় তেজ। কোথায় বিপরীত
তেজ কম্পান্বিত, হীমানির ! কত কাল
শুকাবে হেথা তুষারের মাঝে, বিলুপ্ত
মন্দ্য উত্তাপ, নিসর্গ প্রকৃতি, অচল
প্রায়। তথা হ'তে আবার প্রচণ্ড বহি:
কুণ্ডে খেদাইছে ত্বরা। কালদুত হায় !
বাড়াইতে দুঃখজালা, লিথি পারাপার
বহুবার করে ; কত ইচ্ছা কত চেষ্টা
হায় ! না পারে ছুইতে কভু স্রোতবারী
সন্নিকটে তৃয। উত্তেজক, নিবাইতে
দুঃখজ্বালা সব একটি ক্ষুদ্রকণায়
মুহুর্ত্তেক পরে মধুময় ভ্ৰমােন্মাদে।
নিয়তী নিধারিছে সদা ; সর্পকেশীনি
বজ্ৰদৃষ্টি, বিভীষিকা-আতঙ্ক, মেদুষা,
१२.

( ৩৮ ) . ; রক্ষী সে পারঘাটে, প্রদানে বাধা তীব্র, ৫ পান-চেষ্টা পতিতের ; জালাইতে তৃষ্ণা খেদ উড়িল আকাশে সে সলিল রাণী আপনা হইতে, তানতালু শুষ্কওষ্ঠ হতে যথা একবার। কত যে এ ভাবে ঘুরি'ছে ফিরিছে নিরয়-পতিত-শ্রেণী, কম্পিত, মলিন, বিভীষিকায় স্তম্ভিত নেত্রে নেহারি'ছে বিলাপি কত দুর্ভাগ্য- তাড়ন, না জানে কোথা শেষ আছে কিবা। অতিক্রমি কত তিমির স্তবধ গুহা, পশি’ছে তাহারা কত খেদপূর্ণ-দেশ, তুষার-মধ্য কত, কত বহি-পৰ্বত, গিরি, শৃঙ্গ, অধিত্যকা, দুর্গন্ধ-উগারী নিরাময় দেশ, তিমির কানন কত মৃত্যু প্রহেলিকা-মৃত্যুর জগত এক, ঐশী-রােষ-বহি-ময়, পাপ, প্রসূতিকা ; প্রাণ মরে, মৃত্যু জাগে, প্রকৃতি বিকৃতি যেথা, কিম্ভুতকিমাকার, দৈত্য পিশাচ, জঘন্য, অকথ্য, অবৈধ ব্যাপার, গল্পে এ অবধি বর্ণিতে অক্ষম, চিন্তায় না আনে কখনো ভীত, বজদৃষ্টি-গর্গন' শতশীর্ষ-অহি, দুষ্ট কালনেমী শত। ৭৪ ০ এতক্ষণে সয়তান দেবনর-অরি,

( ৩৯ )
;
৭৫:
উগ্ৰতেজ আপন মতলবে, উড়িল
নরক-দ্বার দিকে একাকী আবিষ্কারে
কভু যায় বামে, কভু বা দক্ষিণ পার্শ্বে ;
এবে মিশি মাটি সনে যেন, উড়িল সে--
সুদীর্ঘ বিশাল, তপ্ত গােলক-পরিধি-
সীমায়। মিলিয়া সাগর অম্বর, যেথা
একাকার বহুদূর অম্বুরাশী পরে—
বঙ্গ কিম্বা মালাক্কা-আনীত.পণ্যগর্ভ,
ঘন শ্রেণী, বায়ুমুখ বাণিজ্য নৌরাশী,
দৃশ্য, লম্বমান সুবিশাল যথা, যবে
ভারত সমুদ্রে, প্রতিনিশা অতিক্রমি
তরঙ্গ-উত্তাল-বিক্রম, কষ্টে ধাইছে
প্রতিহত বেগ, যথা উত্তমাশা-কুল,
সুদূর দক্ষিণ-মেরু-অভিমুখ ; যেন
নেপথ্যে সেইরূপ, উনি সয়তান।
অবশেষ উপস্থিত নরক-সীমায়
অত্যুন্নত চূড়াব্যাপী কিবা ভয়ঙ্কর,
ত্রিবর্গ নরক প্রবেশ ; পিত্তলময়
তিন দ্বার, তিন আয়সের, বৈদূৰ্যেয়
অভেদ্য অশ্মসার তিন ; অগ্নি বেষ্টিত
প্রতিদ্বার-দেশ, অদগ্ধ তবুও তাহে।
মূৰ্ত্তি ভয়ঙ্কর উপবিষ্ট দুই পার্শ্বে ।
কোমরঅবধি নারী মূর্তি, যেন এক
সুন্দরী, কিন্তু কুৎসিৎবিকৃতি নিম্নদেশ
१७.
০৭৩

( ৪০ )
৭৮০
ভূজঙ্গ-ভঙ্গী—মারাত্মক গরলে পূর্ণ
অহি আশীবিষ। সারমেয়াবলী তুলি
অতুল নিনাদ, আকর্ণ ব্যাদানি মুখ
নৈরয় নিচয়, ডাকিছে স্বঘনে ঘোর
অনিবার, কটিদেশ চতুর্দিকে তার
কোনো বিঘ্ন যদি উচ্চরব সারমেয়
হেরে, প্রবিষ্ট অমনি গরভ-মাঝারে
তার, নিজগর্তে কক্কর যেমন সুখে ;
অদৃশ্যভাবে তথা হ'তে তবু. চীৎকারে।
ত্ৰিণাকৃ-ইতালী-মধ্য সমুদ্র-নির্ঘোষে
কত ত্যক্ত অশায়িত শীলা সিন্ধু-শৈলে ;
নহে তত পরিত্যক্ত, অর্ধনারী যুথ।।
শিশুশশাণিত-গন্ধ-লােভে প্রমত্ত প্রেত
আহুত গােপনে যবে কাল নৃত্য-হেতু
ডক্তি, দানা সনে নিশা-শেষ নাই যেথা,
তুষার-আবৃত, মন্ত্রজালে ক্ষীণ-প্রভ
শশী, উল্লম্ফ-দৃশ্য হেরি গ্রস্ত তিমিরে
এ হেন পরেত-অনুগামী নিশাচর
নহে কদাকার তত, ভূজঙ্গী যাদৃশী।
মুরতি আর এক যদ্যপি মূর্তি বলি
তারে, মূৰ্ত্তি তার কিছু বুঝিবার নয়,
অপার্থক্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, কিবা সংযােগ
ব্যবধান ; কিম্বা নির্দেশি’ যদ্যপি বস্তু
বলি কোনো, মিথ্যা ছায়াময় হয় বােধ
।

( ৪১ ৮০০ বস্তু কি ছায়া, উভয় কিবা-নির্ধারণ কঠিন সমস্যা। কৃষ্ণবর্ণ, যেন নিশা দিগন্ত প্রলয়ে গাঢ় তামােময় অমা ; ভয়প্রদ, কি যেন দ্বাদশ কালনেমী, পরিত্রাণ কোনো দিকে নাই তাহে 'কারু ; ভয়ঙ্কর, নরক-সদৃশ, কম্পান্বিত ততােধিক ভয়ঙ্কর পাশ। শির বলি, লক্ষ্য যেটি হয় তাতে, পরিহিত রাজ- শিরস্ত্রাণ সদৃশ যেন তায়। নিকট, সয়তান এবে তার, সহসা উথিত জীব-ত্রাস, ধায় দ্রুতপদে অভিমুখ। ভয়ে কঁপিল নরক প্রতিপদে তার। কিবা সবিস্ময়ে, ভয়ে সবিস্মিত নয়, ( ডরে নাহি কিছুতে সয়তান, কেবল দূপতি, কুমারে আর) সবিস্ময়ে কিবা বাখানিল তুচ্ছি’ এবে নির্ভীক পামর। “কোথাকার, কে তুই, আকৃতি কদাকার, স্পর্ধা এত সম্মুখিতে, রােধিতে নির্গম মমপথ ঐ দ্বার-রাজী পানে? নিশ্চয় জানিস্ বাহিরিব এই পথে নবদ্বার দিয়া আমি, না লভি আদেশ তাের কিবা । ১ যাও নির্বিবাদে, না হয় ভুগিবি মূঢ়,

( ৪২ )
জানিবি তা' হলে পরে, নিরয়জ! কিবা
ফলে বিবাদিয়া ত্রৈদিব শকতি সনে।”
৮২০
আঁধারে আঁধারি ক্রোধে উত্তরে তাহায়
“সেই কিরে তুই বিশ্বাস-নিহন্তা-স্বর্গী,
সেই কিরে তুই শান্তিভঙ্গকারী অগ্রে
স্বরগ-দুয়ারে ; সে দিনে অশান্তিময়
কত, প্রজ্বালি' বিদ্রোহবহি, তৃতীয়াংশ
স্বর্গীয় কুমার সনে চক্রান্তিয়া মিলি
সদর্পে খগহস্ত, মহীয়ান-বিরুদ্ধে
যবে,—তাই, তুই তােরা সব, বহিষ্কৃত
দেব, পতিত, দণ্ডিত এবে কাটাইতে
অনন্তকাল বিষাদে যাতনায় হেথা ?
গণি’ছ তুহারে স্বরগ-শকতি সনে
নিরয় নিহিত, প্রলাপি’ছ ব্যঙ্গ, শ্লেষ,
প্রগলভে আমার সনে, রাজা আমি হেথা ;
কিবা নাহি জ্ঞাত, আমি রাজা, আমি প্রভু
তাের ? যাও দণ্ডাগারে পলাতক, যাও
ত্বরা দ্রুতগতি, স্বপক্ষে নির্ভর, নতু
আঘাতি' বৃশ্চিক-কসা খেদা'ব অচিরে।”
শাসিল এরূপে ত্রাস, দুর্দান্ত পিশাচ,
দশ প্রসারি’ মূর্তি কদাকার অতি
ভয়ঙ্কর তা হ'তে ততােধিক।
এ দিকে
সয়তান রক্তিমােগ্র, অবিল স্থিত,

( ৪৩ ) ৮৪ ০ ৮৫০ যেন জ্বলিছে স্বতেজে, দীর্ঘ ধূমকেতু প্রজালিয়া হিমময় উত্তর-গগনে বৃহৎ ধানুষ্ক অহিধরে ; সূচ্যগ্র কেতু- পুচ্ছ-বিভৎস-কম্পনে, জাগিছে মড়ক, জাগিছে সমর বিভীষিয়া জীব। লক্ষ্য অব্যর্থ যােজি’ছে উভয়ে উভয় পানে; অস্ত্র-অব্যর্থ সংহারে উভয়ে নিবেশ যেন দ্বিতীয় প্রহার না হানিবে কেহ। কিবা ভঙ্গী কুটি’ছে প্রতিদ্বন্দি-দ্বয়। বজ্ৰদৃপ্ত কৃষ্ণ ঘন-দ্বয় ধায় রােলে দম্ভোলি-নিক্ষেপি মুহুর্মুহুঃ, স্তব্ধ যথা হঠাৎ অম্বরে, ঘনি’ছে অভ্রদল এবে তােলপাড়ি' বিস্তীর্ণ তিমির-আয়তন, অপেক্ষি’ছে হুহুঙ্কারি' সম্মুখে সম্মুখে বাযুর ইঙ্গিতে যেন মিলিবে এখনি অন্তরীক্ষে ঘনদ্বয় তমিস্রা আহবে- বিক্ষুব্ধ-বীচি কৃষ্ণসাগর, নিম্নে যেথা ঝটিকা-প্রহত সদা ফেনময় কুল। মহাবলী দ্বন্দিদ্বয় ভ্রুকুটি এহেন, নিরয়-নিশীথ তমােময় ততধিক, সে ভঙ্গীমা হেরি ; সমবল পরাক্রম তা'রা ; কভু না, কেবল একবার আর ঘটেছিল আহবে মিলন, মহারিপু (প্রত্যেকের সনে। এখনি হইত মহৎ • ;

( ৪৪ )
সাধন, বাজিত নরক আনন্দ রােলে
যদ্যপি উত্থিত না হয়ে ভূজঙ্গী হায় !
মহাকোলাহলে পড়িত তাদের মাঝে।
";
৮৭০
ভূজঙ্গী কহিল উচ্চে “কি চায় সাধিতে
হে পিতঃ, উত্তোলিত কর তব, অনন্য
সন্তান প্রতি ? একি রােষ, হে পুত্র তাের,
তব জন্মদাতা পরে লক্ষ্য মর-পাশ ?
কা’র লাগি লক্ষ্য হায় ! সাধিতে জঘন্য
ব্যাপার আজ্ঞাধীন তুমি, আদেশে তার ;
সাধিতে যথেচ্ছা, অন্যায়, ক্রোধ-উদ্দিপ্ত
তঁাহার আদেশ, ন্যায্য-আদেশ-ছলনা!
নাশিবে এক দিন তােমাদ্বয়ে সে ক্রোধ ;
হাসি’ হেরিছেন দ্বন্দ উৰ্ধ হতে তিনি।”
;
নৈরয় কণ্টক সহিল যতেক, কত
সয়তান-বাক্য রূঢ়, নারীর কথায়।
পরে, ভাষিল নারীরে সয়তান এবে :-
৮৮০
“সম্পূর্ণ অপরিচিত তােমার চীৎকার,
আশ্চৰ্য্য তােমার যতেক কথ!, আবার
সম্মুখে আসিয়া নিবারিছ তুমি কিবা
এ উদ্যত কর মম ; বাখানি বৃথায়,
কাৰ্য্যে দেখাইবে কি চায় সাধিতে কর ;

( ৪৫ ) ততক্ষণ জিজ্ঞাসি তােমায়—এ, কি তুমি অর্ধনারী অর্ধ কুণ্ডলিত ফণীকায় দ্বিমূৰ্ত্তি, কেন এ মূৰ্ত্তি, নিরয়-গহ্বরে প্রথম এ সাক্ষাৎ, বাখানি’ছ পিতা বলি মােরে, ও ছায়ামূৰ্ত্তিরে আমার সন্তান। চিনি না তােমায়, কিম্বা দেখিনা কখনো এত কদাকার জঘন্য আকার, তার কিম্বা তােমা হেন, কেবল এখানে এই।” উত্তরিল প্রবেশ-পালিকা এবে তায় :- ‘ভূলেছ আমারে তুমি তবে ; এবে হায়, আমি তােমারি নয়নে এতই কদৰ্য্য ? কত যে সুন্দরী ছিনু আমি আগে স্বর্গে— যবে মণ্ডলি-বেষ্টিত, খদ্দ্যোতি-পুঞ্জিকা- সমগ্রে মিলিত তুমি ষড়যন্ত্র হেতু, ব্যস্ত গভীর মন্ত্রণায়, ত্রিদিব-রাজ- বিরুদ্ধে, চমকিল হঠাৎ দগ্ধ যন্ত্রণা স্পন্দিল পীতবর্ণ নেত্রযুগ আঁধারি’ বিঘুর্ণিত, জলিল বহি-শিখা মস্তকে বিস্তারিয়া জিহ্বাশত গাঢ় প্রজ্বলিত শিরমধ্য হতে কিবা, ফাটি’ ৰামপার্শ্ব তার পর, তােমা হেন মুরতি গঠন উজ্জল ব্যান, ত্রিদিব-সম্ভবা জ্যোতি পূর্ণ আভরণে বাহিরি আমি তব ০ ( ৪৬ ) ৯১০ ; শির হ'তে সজ্জিত মুরতি দেবী কিব। আভা বিকশিতা। স্তম্ভিত তা দেখি সবে দ্যুলোক নন্দন ; পলাইল ভয়ে আগে, বাখানিল মােরে ‘পাপ' বলি, পরিণাম অশুভ লক্ষিল ; কিন্তু তুষিলাম আমি তােমায়, মিলিয়া মিশিয়া ঘনিষ্ঠ ভাবে, ফলিল বিপরীত তায়, মােহিনী-ভঙ্গী আমার, ঢলাইল তােমায় অত্যধিক ; তব মুরতি-প্রতিমা কেবলি আমাতে হেরি মজিলে ; প্রমােদিয়া নির্জনে, কত সুখ-ভােগি, সম্ভাবিলে এ বিপত্তি-ভার, ক্রমে গুরু। স্বর্গে যুদ্ধ আরম্ভিল পরে ; বহু যুদ্ধ পর, সর্বশক্তিমান, শেষে ( কি আর হবে ?) বিজয়ী, আরতি মােদের ; পরাজয়, ক্ষতি, সকলি মােদের নিত্য- ব্যাপার, তারপর অম্বর সমুদয় প্রদেশ দিয়া খেদিত, পশ্চাত ধাবিত কভু। স্বর্গ, সু-উচ্চ হইতে নিম্ন-শির করি ফেলিল তাহারা সুগভীর হেথা জয়ী দেব-সেনা ; সকলের সাথে তাই আমিও পতিতা ; সেইক্ষণে এই কাঠি দ্বার-যন্ত্র-উন্মােচনী, দিল মম করে, রক্ষিতে সর্বদা আবদ্ধদ্বার, আমি আমিই হেথা ; প্রবেশ-নির্গম-সাধন, ৯২০ ৯৪০ ( ৪৭ ) সম্ভবে মাের উন্মােচনে। একা ছিলাম আমি বসিয়া আলস্যে, কিন্তু পূর্ণগর্ভ বসিতে নারিলাম বহুদিন, অস্থির প্রসব-উন্মুখ-যাতনা কিবা, বেদনা বহুল, নড়িল ব্রাসি’ ভয়ঙ্কর কিবা। শেষে হতভাগা এই তােমারি সস্তৃত বিদারি স্বতেজে পথ, ছিনিল জরায়ু ; ভয়ে, যাতনায় বিকৃতিল নিম্ন-দেহ- ভাগ ; তাই পরিবর্তন এ কদাকার ; এই ভাবে বাহিরিয়া:গরভ হইতে ঝলমলি’ দিক ঘুরাইল মৰ্ত্ত পাশ তার, ধ্বংসের কারণ। পলাই আমি, উচ্চে কঁদিলাম ‘মৃত্যু! অলঙ্ঘ্য-প্রতাপ, কম্পিল নিরয় সে নামে, পৰ্বত-গুহা- দ্বার দিয়া উচ্ছাসিল প্রতিধ্বনি ‘মৃত্যু !- পলাইনু আমি ; ধাবিল পশ্চাৎ আমার ( নহে ক্রোধে, বুঝি যেন প্রমত্ত উন্মাদে) অতি দ্রুতগতি, ধরিল আমায়, মাতা তার, অধৈর্য্যে একেবারে, জড়িল কুৎসিৎ আলিঙ্গনে কু-অভিপ্রায় ; প্রসূ, তা হতে এ সব নাদি’ছে-ঘাের রােলে চতুর্দিক বেষ্টিয়া আমারে,দেখেছিলে কিছু পূর্বে তুমি,—প্রহরে সঞ্চার, প্রহরে জন্মিছে আকুলিত কত দুঃখে কষ্টে আমি, পারি ••

( ৪৮ )
;
না বর্ণিতে, অনন্ত যাতনায় দহি’ছে
আমারে ; প্রবেশে, গরভে যখন ইচ্ছা ;
হানে রব তথা হ'তে ; চীবায় জরায়ু
চৰ্বিত-চর্বনে যেন ; ত্রাসে দগ্ধে মােরে,
বাহিরি' হঠাৎ নব-প্রসূত যেন, বেষ্টে
চারিদিক, চমকিতে ভীতজ্ঞান। মােরে ;
আরাম বিরাম মম কভু নাহি হেরি।
সম্মুখে আমার বসে পুত্র মম, ‘মৃত্যু’-
শত্রুও আমার। ত্রস্ত করিবার আশে
মােরে, উত্তেজি’ছে সদা তাদেরে ; গিলিত
সমুদয় মােরে এবে, শিকার-বিহনে,
কিন্তু জানে,সে, আমার অন্তে তার অন্ত
আছে, উগ্র-আস্বাদন, বিষ তার আমি
নিয়তী আদেশ। সাবধান পিতঃ, ত্যজ
বাণ-কক্ষ তার ; ছাড়, বৃথা আশা প্রভু,
রক্ষিবে সে কালবাণ দুল্য-প্রতাপ
তােমার উজ্জ্বল বাণে, অমর্ত্ত-নিৰ্মাণ
যদিও ; বােধিতে গতি তার, নারে কেহ
কেবল তিনিই একা, যার উর্ধে রাজ।”
;
৯৭০
কুচক্রী শেলি, বিচক্ষণ সয়তান
এবে মৃদু, ভাষিল সম্ভাষিয়া, আদরে :--
“স্নেহের দুহিতে মম, সম্ভাষি'ছ পিতা
বলি যখন, দেখাইছ যাদু সন্তানে

( ৪৯ )
৯৮০
হেথায় তব প্রতি ফল, কত আনন্দে
মাতিনু তােমারি সনে প্রেম-বিনিময়ে
ত্রিদিবে যবে, কোথা হতে আসি কঠিন
বিপৰ্যয় আকস্মিক নারিনু বুঝিতে
অচিন্ত্য ব্যাপার, বাখানিতে ব্যথা পাই
তাই, সুখের কথায়, সে সুখ তখন
কত মধুময়,—জানিও আমায় মিত্র,
আসি নাই বৈর-অভিপ্রায়ে, কিন্তু হেথা :
বিষাদ, তিমির-পূৰ্ণ যাতনা-আগার
হ’তে, যথা সম্ভব মুক্তি-হেতু তাহার,
তােমার কিবা ত্রৈদিব-শকতি-নিচয়
যতেকের, পতিত উদ্ধা হতে একত্রে।
সকলের লাগি,' একা আমি, ভয়ঙ্কর
অজ্ঞাত দৌত্যে সমপিনু তুচ্ছি’ বিপদ,
ভয়, অনন্য আশ্রয়, সাধারণ-হেতু,
ধুড়িব একা তন্ন তন্ন অজ্ঞাত নিম্ন
গভীর প্রদেশ অনন্ত শূন্য অম্বর
সন্ধান-হেতু, নহে অশ্রুতপূৰ্ব্ব, স্থান
সুনিশ্চিত-নির্মিত এবে বুঝি প্রকাণ্ড,
গােলক-আকৃতি কিবা—সুরম্য নিবাস
স্বরগ-প্রান্তরে ; রক্ষিত তথায় এক
ঔন্নতিক, গুপ্তবীৰ্য্য জাতি, জোগাইতে
বুঝি বা মােদের পরিত্যক্ত পদে ; স্বর্গ
হ’তে বহুদূর যদিও সে স্থান, পাছে
১০ ০ ০
;

( ৫ )
আবার উৎপাত ঘটে ; ভারগ্রস্থ স্বর্গ
যদি হয় প্রতাপীনিবাসে পুনর্বার।
যাই হােগ, সত্বর যাইব আমি, কিবা
গুহ-রহস্য তথা শীঘ্র জানিব ; জানি’
একবার ফিরিব তখনি, তােমাদ্বয়ে
লইব তথায়, বসিবে সুখে, উল্লাসে,
মৃত্যু,
উভয়ে উড়িবে মদ্য,
পক্ষ্য বিস্তারি’ নির্বিঘ্নে, মৃদুল হিল্লোলে
সৌগন্ধ আমােদ কিবা। সদাই ভরপুর
রহিবে তথা তােমাদ্বয়, পূর্ণ ভাণ্ডার ;
সকলি যাহা কিছু শীকার তােমাদের।”
তুমি কিম্বা
১০১০
তুষি’ দ্বাররক্ষীদ্বয়ে শেষিল সে এবে ;
বুঝি আনন্দ, উভয়ে উপজিল তারা ;
মৃত্যু হাসিল অট্ট পৈশাচিক, ক্ষুধায়
ভরপুর লভিবে শুনি, রহিল আশায়
কত, কবে জুড়াইবে দগধ-উদর,
কবে বা আসিবে, হেন শুভকাল তার।
আনন্দিত কম নয় তাহে, মৃত্যু-প্রসূ,
পাপ; বলিতে লাগিল প্রভুরে তাহার :-
১০২৩.
“রাখি মম পাশে নিরয়-গহ্বর-দ্বার
যন্ত্র আমি, তারি আদেশে ত্রিদিবনাথ ;
নিবারিত দ্বার-উনােচনে আমি আর,

১০৩,
বৈদূৰ্য-প্রবেশ-আবলী পথ। দাড়ায়ে
প্রস্তুত মৃত্যু পাশ হস্ত, নির্ভয় কিবা-
জীব-শক্তি সমকক্ষ কভু না তাহার।
কিবা প্রয়ােজন আছে রক্ষিতে আদেশ
তঁার, থুয়েছেন হেথা যিনি ঘৃণি’ মােরে
এ অন্ধ-কুণ্ডে কুর-গন্ধধূম-উদগার,
বসিতে জঘন্য কাৰ্যে আবদ্ধ হেথায়
ত্রিদিব-নিবাসী আমি, স্বর্গ-জন্মস্থান
মম, সদাই হরিতে কাল যাতনায়,
কষ্টে, ভয়ে ; ত্রাসে অভিভূতে এ জঞ্জাল,
পুষ্ট শােণিতে আমার, জরায়ু-চৰ্বনে,
জ্বালায় সদা ! তুমি মম পিতা, তুমি হে,
প্রভু, তুমি জন্মদাতা মাের ; তুমি বিনা
কাহারে মানিব, কাহারে সেবিব আমি?
দেব-অভিলাষ, স্বচ্ছন্দ্য-বিহার, যেথা
সুখালােকময় নবীন জগত, লয়ে
যাবে তুমিই আমায় ত্বরা; বসি’ কত
রাজ-আড়ম্বরে তথা তব সনে বামে,
ভুঞ্জিব অতুল সুখ, লালস। বিস্তারি,
বথা যুক্ত কিবা তব প্রিয়া দুহিতায়।”
১০৪ ০
বলিয়া এরূপে, লইল কুক্ষি হ'তে
নারী, দ্বার-উদঘাটনী-দণ্ড, কত জ্বালা
বিষাদের যন্ত্র কিবা আমাদের হায়।

( ৫২ )
১১৫০
তিগ-গতি নড়িল দ্বারদিকে, ভূজঙ্গ
যেমতি আয়াসে, টানিল সুবৃহদ্বার
একা, উৰ্দ্ধ হ’তে যথা দুর্গের, তখনি
অক্লেশে ; নৈরয়-শতি-নিচয় মিলি
সবে, কভু নারিবে নড়াইতে সে দ্বার
একবার ; দ্বারযন্ত্র মধ্যে ঘর্ঘরিয়া
ঘুরিল প্রণালী, লৌহময়, অশ্মময়
কিম্বা, প্রত্যেক প্রকাণ্ড অর্গল টলিল,
শিথিল এবে হায় ! নৈরয়-দ্বার-রাজী
হঠাৎ খুলিল। উল্লস্ফি' কবাট খুলিল
নির্ঘোষে, কলে স্বতেজে নড়িল, ধ্বনিল,
কর্কশ বজ যেন তায়, অন্ত্যন্থ নিম্ন
নিরয়ের কাপিল তাহাতে। উন্মােচিল
দ্বার, কিন্তু আবদ্ধে অক্ষম একেবারে
উদঘাটিত দ্বার এত সুবিস্তর, যেন
শক্ত উতরিতে চতুরঙ্গ সেনাদল
প্রসারি’ উর্ধে বৈজয়ন্তীকুল, ব্যহিত
মহাআড়ম্বরেরথ, অশ্ব সসজ্জিত
ব্যবধামে ; এ হেন দ্বার দীর্ঘ বিস্তার
মহাচুল্লি যেমতি-উদগারে ঘন ধূম
প্রবাহে, বঘ্নিশিখা--মলিন, কম্পমান।
দৃষ্টি হঠাৎ নিপতিত রহস্য-সঙ্কুল,
অতি প্রাচীন গহবরে—তমােমর এক
অপরিমা উদধি মহান, বেলাহীন,
;
১০৭৫

( ৫৩ ) ; ; ১০৮০ পরিমাণ অসম্ভব ; লম্ব, প্রস্থ, কিবা উচ্চতা, গভীর, দেশ, কাল, হারায়েছে হেথা সব ; অনন্তব্যাপী; স্থিতি-অনন্ত- কাল ; সৃষ্ট নহে, সৃষ্টির আধার-গর্ভ; হেথা প্রকৃতি-জননী, অগ্ৰজা যামিনী কলরব’ সনে শাসে অনন্ত অরাজ ; অশেষ সংগ্রাম, কোলাহল মাঝে স্থিত সুদৃঢ়। উষ্ণ, শীত, রস, নিরস—গুণ চতুষ্টয় বিবাদি’ছে হেথা প্রভুত্বের লাগি, প্রত্যেকে লড়ি’ছে প্রতি সাথে, লয়ে কিবা কণাচয় অপক্ক আপন অনু। স্বতন্ত্র পতাকাতলে স্বতন্ত্রে মিলি’ছে আনবিক কণা পৃথক বৃহ, সজ্জিত লঘু কিম্বা গুরু, উগ্র বা সরল, কিম্বা দ্রুত বা মন্দ্য অসংখ্য ঘন সন্নিবেশ, বার্কা কিম্বা সৈরীনের তপ্ত মরু-বালু অগনন, যথা উড়ে ঝটিকা পবন- সাথে, পক্ষ পিরপুষ্ট বায়ুবেগ তায়। কণাচয় যে গুণ লাগিয়া বিভ্রাটি’ছে ভয়ানক, সেই মুহুর্ত্তেক প্রভু; বসে মধ্যস্থ, কলরব, সে বিভ্রাটে ; বিচারে উপদ্রব আরাে দুর্বিসহ—এইভাবে রাজত্ব তাহার ; ভাগ্য, নিয়ন্তা প্রধান দমিল সকল তার পরে। প্রকৃতির ;

৫৪ ) ১১০০ জন্মস্থল এ মরু-গহ্বর, বুঝি কিবা সমাধি বা তার ; ক্ষিত্যপ-তেজ-বায়ুর স্বতন্ত্র অস্তিত্ব না আছে, মিশ্র বিপাক- সংহতি, অপরিণত ভৌতিক কারণ কেবল ; সংগ্রামিবে অনন্তকাল তারা যাবৎ না নিয়ােজেন মহাস্রষ্টা, তামিস্রা হেতু-ভূতে রচিতে অনন্ত জগৎ, পৃথি. গ্রহচয়। দাড়ায়ে নরকের সীমায় নেহারিল সয়তান এ মরু-গহবর মুহুৰ্ত্তকাল, মহাভাবিত এবে তাই ; পার হতে হবে কিবা সুদীর্ঘ বিস্তার উৎপাতে যুবে ‘বেলােন৷ রণ-দেবী, যথা মার্তণ্ড্য-রবে, উদ্যত প্রকার ধ্বংসিতে লইয়া দুর্ধর্ষ টেকীযন্ত্র উপাড়িতে রাজধানী কোনো, ( দৃষ্টান্ত বৃহৎ ব্যাপারে, লঘু) তথা দোর্দণ্ড বিগ্রহ উপদ্রবে পূর্ণশ্রুতি সয়তান ; কিম্বা যদি গ্রহ, কেতু, আদি স্বর্গীয় পরিধি হতে খসে, তা হলে যে উপদ্রবে স্বকক্ষ-বিচ্যুতি, উৎপাটে স্থির-পৃথি—সে হেন উপদ্রবে হেথা চমকিত সয়তান। অবশেষ, বিস্তারিল পক্ষদ্বয়, উৎপতি’ ত্যজিল ভূমি, উড়িল দ্রুতবেগ প্রবাহ ধূমে, ক্রমিল বহুযােজন উর্ধপথ, উগ্র ১১১০ ; {

( ৫৫ )
;
১১৩০
ধূমবেগ বলে তথা হ’তে ; মহাধূৰ্ত্ত,
অভ্রনে যেন, ক্রমিক উন্নত ; হঠাৎ
নিৰ্বান ধূম-তেজ, শূন্যে আশ্রয়হীন,,
শূন্যময় একা। সবি অতর্কিত ভাবে ;
পক্ষ নাড়িল বৃথায়, পড়িতে লাগিল
একেবারে সরলভাবে লক্ষ্য যােজন
সুনিয়ে গভীর, মুহুৰ্ত্ত মুহুৰ্ত্ত বেগ
বর্ধমান, এখনো পতন ফুরাত না
কভু, কিন্তু হায়! অতি দুর্ভাগ্য মােদের,
তাই, বহি-ক্ষারে-দৃপ্ত-তেজ ঘন-খণ্ড
সুউর্ধে উৎক্ষিপিল যােজন ততােধিক।
বহি-ক্ষার-উদ্ভুত দৃপ্ত-তেজ স্থগিত
নিবা'লাে চরা বালুকায়,না শুষ্ক স্থল
ন জলধি কেবল——আবদ্ধ পঙ্কিলে সে,
ধাবমান অর্ধউড়িন, অর্ধ চারনে ;
প্রয়ােজন-বশে দাড়-পালে এবে ধায়।
সন্তৰ্পে কাঞ্চন-রক্ষী. যক্ষ শেন যথা,
একাক্ষি দ্রবিণ-দসু অরিমাস্প’ জাতি-
পাছে ধায় বিস্তারি’ পক্ষ, অর্ধ উজ্জিন
নিবিড় জঙ্গল দিয়া, শৈবাল-বল্লরী-
ব্যাপ্ত গিরি বা করে, ব্যগ্রতায় ধায়
তথা কৰ্বর-সন্ত্রাস, গর্ত, শৃঙ্গ’পর
দিয়া, কিম্বা শক্ত, ঘন বা শূন্য প্রণালী:
মধ্য দিয়া, হস্তে, পদে, পক্ষে কিম্বা শিরে,
১১৪০

( ৫৬ ) ১১৫০ চলে পথ, সাঁতারি, ডুবি, স্তম্ভি’ চারণ, হামাগুড়ি কিম্বা উড়ি। পরিশেষে, স্তব্ধ অন্ধ-শূন্যময় বিশ্বব্যাপী গণ্ডগােলে, আক্রান্ত শ্রুতি তার, বিভৎস উচ্চ নাদে। প্ৰস্থিত সে তথা, অকুতােভয়ে ভেটিতে শকতি তথাকার যেবা, কিম্বা অন্ত্যস্থ দৈত্য কোননা, যদি থাকে উপদ্রব-মূলে হেথা, জিজ্ঞাসিতে কোন দিকে এ আঁধার- মরু-তীর মিশেছে আলােক-প্রান্তে, অতি সন্নিকট। সম্মুখে দেখিল ‘কলরব’ রাজতক্তে, সুবিস্তীর্ণ কৃষ্ণ-কটকিত- সমাবাস, ব্যাপ্ত মরু-ময়। কৃষ্ণ-চ্ছদে আবৃত। যামিনী বসে,তার সনে, রাণী, বৃদ্ধা, সর্বাগ্ৰজা। পার্শ্বচর তাহাদের ‘ক্রবাদ, অগ্রীর, কট’ ভীতিপূর্ণ নাম ; ‘কিম্বদন্তী, ‘অদৃষ্ট, ‘বিদ্রোহ, বিষম্বাদ, খগহস্ত সবে পরস্পর ভয়ানক, বিগ্রহে, কোটী ভিন্ন-বক্ত লয়ে, ‘বিবাদ। ; ১১৬০ সয়তান এবে ;--“হে শক্তিপুঞ্জ, প্রভাব, এ অধঃ-প্রান্তের, হে কলরব, হে পুরা ‘যামিনী, আসি নাই আমি হেথা দ্বেষ্য-অভিপ্রায়ে, বিরক্তি কারণে কোনো, সন্ধান-হেতু বা গুপ্ত রহস্য ভাণ্ডার ( ৫৭ ) ১১৭ ০ এ রাজ্যের ; কিন্তু প্রয়ােজনে ভ্রমিতেছি আমি এ অন্ধ মরু-প্রান্তর, পথে পথে, সুবিস্তীর্ণ তব রাজ্য’পর দিয়া-একা, অনন্য আশ্রয়, হতাশ-প্রায়, আলােক- উদ্দেশে, সন্ধান-হেতু কোন সােজা পথে মিলিবে আলােক, যেথা তদীয় সীমান্তে মিলিত স্বরগ-সীমা, তদীয় পরিধি হ’তে কোনো স্থান কিবা বিজিত ইদানি ত্রৈদিব-অধিকারে, প্ৰস্থিতে তথা আমি ভ্রমিতেছি এ দুরন্ত গহ্বর। নির্দেশ, গন্তব্য আমায়,—কোন সােজা পথে যাই ; নির্দিষ্ট হইলে, নহে অল্প লভ্য তব উৎখাতি’ অনধিকার খেদাই যদ্যপি তথা হতে, ফিরাই মূল নৈশ-তামিস্রা তথায় আবার, আনি’ তদীয় শাসনে (গন্তব্য যথা মম) নিখাতি’ পুনৰ্ব্বার যাম্য-নিশান মহৎ উল্লাসে। এ রাজ্যেরি সমুদয়-লভ্য কিম্বা সুবিধা যা কিছু, (কিন্তু) প্রতিহিংসা, প্রতিহিংসা, কেবলি আমার !” ১১৮০ উত্তরিল সয়তানে প্রবৃদ্ধ অরাজ- রাজ, কম্পমানস্বরে চঞ্চল বয়ান :- “জানি আমি তােরে, বৈদেশিক, তুই কেবা- ত্রিদিব চক্রান্ত অগ্রণী, বিরােধি, স্বর্গ-

( ৫৮ )
১} ৯০
১২০০
রাজে খগহস্ত যেবা, তাড়িত যদিও।
শুনেছিনু, দেখেছিনু, আমি, পলায়ন
নিস্তবধে নহে ; অসংখ্য অসংখ্য সেনা,
তােলপাড়ি’ এ নিম্ন-গভীর সঙ্কুচিত
‘ত্রাস’ ঝঞ্ঝার উপরি ঝঞ্চা বৃহপৃষ্ঠে,
প্রপতন উপরি উপরি, দলে দলে,
ছত্রভঙ্গ সেনা, বিষন্থাদি বিষম্বাদে
ঘাের ; বাহিনী-প্রবাহ বাহিরি' ত্রিদিব,
দুয়ার হ'তে কোটী কোটী বিজয়ী দল
ধাবিল পশ্চাতে। যাম-রাজদণ্ড, হের,
ক্রমশ লঘু প্রভাব! হস্তক্ষেপ কিবা !
এ রাজ্য' পরে এখনো, স্বগৃহ-বিচ্ছেদে
তােমাদের ; সমুদয় যা কিছু, রক্ষিতে
আড্ডা মম তাই হেথা, সীমান্ত প্রদেশে
ঠেলে বসে হেথা, যদ্যপি যা কিছু হয়,
সবে মাত্র তা'তে অপারক নহি আমি ;
নিম্নে দিগন্ত প্রসারি' নরক প্রথম
ব্যাপ্ত, কারাবেন্ম তােমাদের ; তারপর
এবে, পৃথিবী, গগনমণ্ডল-নূতন
জগৎ, ঝুলি’ছে আমার অধিকার’পরে,
সুবৰ্ণ শৃঙ্খলে স্বর্গৈক দেশে ; সদলে
যথা হতে পতিত তােমরা, প্রতি বৃহ !
তথায় গন্তব্য যদি, দূর নাই আর ;
সাবধারূ, বিপদ নিকটে ততােধিক।
।
;
১২১০

)
যাও তথা, হও প্রবৃত্তে সফলকাম,
বিধ্বস্ত, উৎখাত কিম্বা, সকলি আমার।”
১২২০
;
চুপিল সে; তারে উত্তরিতে সয়তান
থামিল না এবে. মগ্ন পুলকে কত যে-
অভিযান এবে তার অবশ্য হেরিবে
শেষ, উদধি মহান কিবা অন্তবান
হেথা তার, উৎফুল্লিত আবার উদ্যমে,
আবার পূর্ণ উত্তেজনায় মরু শূন্যে
উত্তুঙ্গ উল্লম্ফ দ্রুতবেগে যেন কিবা
বঘ্নিময় রেখা ক্ষণেকের তরে, যথা
রচে মহাবেগ মহােল্কা-গতি আকাশে
লভি’ছে আয়াসি' পথ, ভৌতিক দ্বন্দ বা,
ধাক্কা-মধ্য দিয়া, পরিবৃত চতুর্দিক
এ হেন উৎপাতে ; ‘আর্গো, বাণিজ্যনৌ যবে
প্রবিষ্ট প্রণালী, ডার্ডানালি সুক্ষ্ম পথে--
দুর্গম দ্বিকুল-আলিঙ্গিত গিরিপথ,
কিম্বা গিরিশের ‘ওজেশা' ভূপাল যবে
‘বায়ে রােখি’ চারি'-জলধি বিপৰ্যয়,
অর্ণব-পােত-পরিত্রাণ-আশে, পড়িল
‘যীলা'-ঘূর্ণীমাঝে দুৰ্বিপাক অন্য দিকে,
ততােধিক বিপন্ন সয়তান, বিক্ষিপ্ত
কঠিন বিপর্যয়ে ততােধিক। এ হেন
পতিত বিপাকে ঘাের ; আয়াসি’ ঠেলি'ছে
১২৩০

৬০ ) ১২৪ ০ পথ। কত যে বিপাকে, বিভ্রাটে, আয়াসে বহুল, নড়ি ছে নিরুপায় সে। উত্তীর্ণ সে যেই, প্রাকৃতিক:বিপৰ্যয় ! মুচ্ছিত অমনি আদিম ‘মানব।' তৎক্ষণাৎ, বেগে ধাবিল পাপ, মৃত্যু, সেই পথে (ত্রিদিব- সঙ্কল্প ছিল যেমন) নির্মিত শড়ক, সুপ্রস্বস্থ বত্ম কিবা, অভিযান শেষে ; আঁধার গহ্বর-উপরে প্রকাণ্ড সেতু দুৰ্ম্মদ গভীর অবাধে সহ'ছে কত সেতু মেদিনী-কাতর-প্রান্ত অবধি ; সহজে নায়, আসে, সেতুষােগে হেথা সেথা, কত প্রেত, দুরন্ত পিশাচ, দহিতে, ছলিতে মৰ্ত্তগণে, দৈবী বা ঐশ্বরী কৃপা-লব্ধ সুবিশিষ্ট নর, প্রেত-প্ররােচনাতীত। সুলম্ব বিস্তীর্ণ নরক হইতে অবশেষ, আলােক দিব্য মহিমা, কিছু পরিস্ফুট এবে, স্বর্গীয় প্রাকার হতে তেজ, বিকীর্ণ কিবা সুদূর তমােময় নিশা-বক্ষে প্রভাতি উষা। প্রকৃতির হেথা আদ্য ক্ষেত্র লেখা মৃদু, বিকৃতিক কলরব, সরিতেছে ধীরে, ছত্রভঙ্গ যথা সেনা, মন্দীভূত ক্রমে গণ্ডগােল বিদ্রোহ, বিপ্নত; অল্পায়াসে সয়তান • ' ( ৬১ ) ১২৬০ উচ্ছিন, সুখে কভূ ; ঢলায়ে মন্দ্যবেগে দেহ, চলিছে ভাসিয়া আঁধার-আলােকে, কিনার সমীপে, দুঃখ সিন্ধু-তরী তার এবে ছিন্ন রজ্জ, প্রণালী, সাধন, বাত- বিদগ্ধ পােত যথা চলে বন্দর দিকে ; উড়ি'ছে সরল পক্ষে সমভাবে মৃদু এবে, শূন্যময় ক্ৰমে ঘনায়িত বায়ু ; উন্নমিত নেত্রে হেরি’ছে কভু বা দূরে নিস্বর্গ-প্রকৃতি দুলােক, দিগন্ত ব্যাপ্ত, অননুমেয় গােলক কিম্বা চতুষ্কোণ, অলঙ্কত স্থানে স্থানে উপল-নির্মিত সৌধদুর্গে সমুন্নত চূড়া মনোহর, প্রাকার-বেষ্টনে আর, লাবণ্য উজ্জ্বল মণিময়-রক্ত, নীল, পীত, নানারাগ- সে সব, পূর্বে স্বস্থান একদা তাহার ; জগৎ ঝুলি’ছে অদূরে সুবর্ণ শৃঙ্খলে, চন্দ্রপাশে যথা ক্ষুদ্রতম তারা ; শপ্তি এবে, গতি তথা তার প্রতি হিংসা-আশে দুষ্টমতি, লজিঘ’ লভিল দুর্দিনে ধরা। ১২৭০ • হামতি মিল্টন-কৃত ত্রিদিব-চুত' মহাকালে পৃথ্বি সন্ধান-প মাপ্ত।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Prithwi-sandhan

Author
Ray,shashankanath
Title
Prithwi-sandhan
File name
Prithwi-sandhan
Text
OCR done
Citation
1911
Published
2009/10/21
Publisher
N.a
Language
Sanskrit
Pages
68
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Tridib Parishad
DLI number
513109
Barcode
4990010020118.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
M0bRwxkDIUl
Download PDF

Prithwi-sandhan