Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Nabya-ukil
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
নব্য-উকীল।
नवू
লিহ ইব মধু বিন্দ
বিরলনপি ভজত গুণলেশান।”
শ্ৰীযুক্ত রমানাথ সান্যাল কর্তৃক
প্রকাশিত।
নাভি।
ইষ্ট ইণ্ডিয়া প্রেস
ভুবনমােহন ঘোষ দ্বারা মুদ্রিত।
• ১২৮২ সাল।
No text on this page.
বিজ্ঞাপন।
৫৫ নং
এই পুস্তক নিম্ন লিখিত স্থানে প্রাপ্তব্য।
কলেজ স্ট্রীট, ক্যানিং, লাইব্রেরিতে,
শ্ৰীযুক্ত বাবু যােগেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় মহা-
শয়ের নিকট; পটলডাঙ্গা সীতারাম ঘােষের
স্ট্রীট, ২৩ নং বাটীতে প্রকাশকের নিকট ; ও
শ্ৰীযুক্ত বাবু বােগীন্দ্রনাথ সান্যাল মহাশয়ের
নিকট।
মফঃস্বলের গ্রহণেচ্ছুক মহাশয়গণ, উল্লিখিত
স্থানে, আপন আপন ঠিকানা এবং পুস্তকের
মূল্য ও ডাক মাসুল এক আনা প্রেরণ করিলে
উহা প্রাপ্ত হইবেন।
শ্রীরমানাথ সান্যাল।
No text on this page.
= বিনোদ উকীল। নিত্যানন্দ বিনোদের পিতা। ভুবন বিনোদের পরিচিত যুবক। মাধব বিনােদের আদালত পরিচিত উকীল। নফর বিনােদের আদালত পরিচিত এক জন দালাল। হরমোহন ঘোষ ফরিয়াদী। জৈন উদ্দিন হরমােহনের পক্ষে মোক্তার। দুর্গাদাস হরমােহনের ভ্রাতা। রামদাস নিত্যানন্দের প্রতিবেশী, একজন সামান্য লােক। নিমদ দত্ত ডাক্তার বাবু। মাহনলাল জনৈক ফরিয়াদী । হরিদাসী বিনােদের মত। শরৎকুমারী বিনােদের স্ত্রী। জজ, মাজিষ্ট্রেট, পেস্কার পেয়াদা, দুইজন পাহারাওয়ালা, মক্কেল, মােক্তার, দর্শকগণ ও কেরাণী ইত্যাদি।
No text on this page.
নব্য উকীল
প্রথম অঙ্ক
প্রথম গর্ভাঙ্ক।
-
নিত্যানন্দের বহিবাচীর ঘর।
[ নিত্যানন্দ আসীন।]
নিত্য। হরিবােল হরিবোল! (মালা জপ করিতে
স্বগত) বিনু আমার ওকালতির লাইসেনী কর্তে গেল,
এখনও আচে না কেন? বেলাও আর নেই। এই ত
সৰ আপিস অওলারা আপিল করে বাড়ী ফিরে আসছে।
আদালত কি এখনও বন্দ হয় নি? না আমার বিনু এখনও
লাইসেনী কর্তে পারে নি ? সে ত হাবা ছেলে নয় ! বােধ
হয় কোথায়ও বসে গল্প কক্ষে। কৃষ্ণ ! কৃষ্ণ! কৃষ্ণ !!
[ হরিদাসীর প্রবেশ।]
হরি। হ্যাগ। বিনু এসেচে ?
এর উকীল ।
৫
নিত্য। না। তাই এখনও আসছে না কেন!
হরি। হ্যা গা উকীলদের কি নাইসেনী কত্তে দেরি
টাকা!
নিত্য। হ্যা হয় নাকি। ঐ সে দিন বিনু বলছিল যে
কোথায় ইষ্টম্বর আপিসে গে ইষ্টম্বর কিনতে হবে। তার
পর অাবার জজের সই তাইতে নিয়ে কি ডিক্লেশন দিতে
হবে। তা এত কায কি আর অল্প সময়ে হয় ?
হরি "আচ্ছা এবারে নাইসেনী কত্তে বিনুকে কত
টাকা দিতে হলো ?
নিত্য ।
পঞ্চাশ টাকা।
হরি। (সবিস্ময়ে ) পঞ্চাশ
আর বুকি দিতে হবে না ? এই বার দিলেই হলো?
নিত্য। হু তাতে হাইকোটের জজেরা খুব! বিষ্ণু
ব’লছিল এবারে নাকি আবার একটা নতুন হুকুম বার
করেছে যে যারা উকীল হবে তাদের প্রতি বছরে পশি
টাকা দিয়ে লাইসেনী কৰ্ত্তে হবে।
হরি। সবই অনাছিষ্টি। আচ্ছা বিনুর এখন কত
টাকা মাইনের কম্ম হবে ?
হরি। পাগলি মাইনে কি ? ওকালতির কি মাইনে
আছে ? না এতে উপায়ের ঠিক আছে ? তােমার বিষ্ণু
যটা পাস করে উকীল হয়েছে তেমন উকীল কি আদালতে
আছে ?
ওদের মতন মানুষ আদালতের মধ্যে সেরা
উকাল।
নব্য উকীল।
হরি। তবু জিগ্যেস করি, বিনু কত টাকা রোজগার
কবে ?
নিত্য। এই কোন মাসে পাঁচশ, কোন মাসে সাতশ
আবার কোন মাসে বা হাজার বারশ টাকা রোজগার
কবে।
হরি। আহা তাই হ’ ! তোমার ত এই দশা
দেখ চি। আমার বিনু দশ টাকা না আনতে পাল্যে অার
আমাদের সুখ নেই।
নিত্য। প্রথম মাসে কি বিনু অত টাকা আন্ত
পাবে ? তবে প্রথম প্রথম দুই একশ হবে।
হরি। হাঃ তা কি আর একেবারেই কেউ শির
ডগায় ওটে? আচ্ছা যদি এখন বিঃ চাকরি করে তবে
ওর কি চাকরি হয় ?
এখন ওরা জজ, মেজেষ্টার, কালেক্টার,
সবই হতে পারে।
হরি। আহা বিনু কেন তাই একটা হ’না আমি
দেখে মরি।
নিত্য। তার আর আশ্চয্য কি ? বিনু আমার চাকরিতে
রাজি হলে এক্ষণি হয়। অমন লােক কি পাগলি পড়তে
পায় ? কোম্পানিতে লুপে নেয়। ওদের কি চাকরি খুঁজতে
হয়, চারি ওদের খুঁজে নেবে।
হরি। তুমি কেন তাই বলে কয়ে বিন্দুকে রাজি
৪
নব্য উকীল ।
অার
করাও না? আমার বড় ইচ্ছে করে যে নোকে আমাকে
জজের মা বলে।
নিত্য। তা হলে পাগলি বড় মানুষ হবি কেমন
করে ! বাদ। মাইনেতে কি লােক বড় মানুষ হয় ? আর
যদি তােমার বিন্দু চাকরি করে তা হলে কি ও হেথায় থাকতে
পাৰে? কোথায় পাঠাবে তার ঠিক কি ? অার উকীলের
মান কত ? দেখিস আর দশ দিন পরে এ বাড়ীতে
সকাল বিকালে লোক ধ’রবে না।
আপনাদের
ত আপদ বিপদ আছে, এমন একটা উকীল হাতে থাকলে
উপকার কত তাত বুঝিসনে ?
ও মা বিনু হেথা থাকতে পাবে না ? তবে
এমন চাকরিতে কায নেই।
নিত্য। যা যা এখন বাড়ীর ভিতর যা; আর অত
আশায় কায নেই। এখন বিনু বেঁচে বত্তে থাক্ তা হলেই
আমাদের পরম সুখ। তার পর টাকা রােজগার সে নারা-
যুণের ইচ্ছে।
হরি। তার আর কথা কি ? (নেপথ্যে দৃষ্টি ) কেন
গ! এত দেরি হচ্চে? একবার এগিয়ে গিয়ে দেখ না ?
( কিয়ৎক্ষণ পরে বউমার যে বল দুগাছি বাদ রয়েছে সে
দুগাছি খালাস ক’রবার কি হবে ? এই ত দেখতে দেখতে
এক বচ্ছর হয়ে গেল। সেই ওবচ্ছর অঘ্রাণ মাসে বাদ।
দিয়ে তিরিশ টাকা এনে দিয়েছি আর এ বচ্ছরের প্রাঃ
তিনমাস হলাে। এই সুদে আসলে ( চিন্তা) প্রায় দুকুড়ী
নব্য উকীল।
৫
দুটাকা দাঁড়িয়েছে। এখনও যদি খালাস কর তবে বালা
দুগাছি থাকে তা না হলে ত যায় দেখি।
নিত্য। ক্ষেপী আমার হাতে কি এখন কিছু আছে?
তোমার ত কিছু অজানত নেই। এই দেলে ত বিনুর
লাইসেনীর জন্যে পঞ্চাশ টাকা তিন পয়সা সুদে, সুধু
হাতে ঐ ঘােষালদের বাড়ী থেকে ধার করে আনলুম।
আর এই দেখ না এক পয়সা বাড়তি সুদ অনর্থক দিতে
হ'লো। এক খানা জিনিষ বাদ দিলে ত আর তিন পয়সা
লাগত না।
হরি।
তা ত দেখতে পাচ্ছি। আমার কি আর কিছু
আছে ? হাতে ত সুদু শকাই সার করেছি—সবই ৩
বিনুর নেখা পড়ার জন্যে বাদ দিয়েছি। তা আমার
যাক, আমি বুড় মাগী আর এখন গয়না কি পরবো ? তবে
কি না বিমুর বৌ যে ৰুলি হাতে দিয়ে বেড়ায় তা দেখতে
পারিনে।
নিত্য।
এখন আমি কি করবো বলে ?
এও কি
আমার সাদ যে আমার বৌমা কলি হাতে নিয়ে বেড়াবেন ?
একটু সবুর কর না। বিনােদের এত লেখাপড়া হয়েছে
আমাদের কি এ কষ্ট ঘুচবে না? হরি কি তা কর
বেন না?
হরি। আমিও তাই বলি। আমার বিন্দু মাসে দুশ
একশ আনতে পাই অাবার সব হবে।
নব্য উকীল।
নিত্য। (গাত্রেধান করিয়া) তবে যাই
তবে যাই একটু
এগিয়ে দেখি।
' [ প্রস্থান।
হরি । ( জানালার নিকট দাঁড়াইয়া পথপানে
i ও স্বগত) বিনু আমার বড় দুঃখের ধন। বিন্দুর
জন্যে গয়না বাদ দেওয়া জিনিস্ পত্র বেচা-তা আমার
এদ্দিনে সাথ্যক হলো। বিনু আমার উকীল হয়েছে
( ঈষদ্ধাস্য) এই বারে দেখব বিনু প্রথমে টাকা এনে
কার হাতে দেয়। অনেক জায়গা পড়ে রয়েছে, বাড়ী
কল্লে কি কম বাড়ী হয় ?—আহা ঘোষালদের বাড়ী খানি
কেমন চক মিলন! তাদের বাড়ীর উঠনটী কিন্তু বড় ছােট।
সব খুঁজি খুঁজি ঘর। এখানে পেল্লায় উঠন থাকবে।
উকীরে গাড়ী ঘোড়া করে যায়, তা আস্তাবল বাগানের
অনেক জায়গা আছে-তিন জন কে ?
[ প্রস্থান।
( নিত্যানন্দের, বিনােদের উকীল বেশে ও ভুবনের
কেরাণী বেশে প্রবেশ। ]
নিত্য। তার পর ?
বিন। আর সে অনেক কথা—বৃষ উচ্ছাগু ব্যাপার
চালান নিয়ে দশ জায়গায় ঘুরে ঘুরে তার পর স্ট্যাম্প
পাওয়া গেল। আবার ওখান থেকে জজের কাছারীতে
এসে জজের সই নিয়ে ডিক্লেয়ারেসন দিয়ে আসছি।
নব্য উকীল । ৭ বিন। ভুবন। কিসের ডিক্লারেসান ? তাও জান না? একখানা কাগজে লিখে দিতে হয় আমি হাইকোর্টে, জজের কোর্টের উকীল বলে এন- রােল্ড হইচি। আমি কাহারও উপর অসদ্ব্যবহার কি কোন আইনের বিরুদ্ধে কার্য কৰাে না। ভুবন। তোমাদের এ ডিক্লারেশান দিতে হয় কেন? বিন। কেন? (ঈষদ্ধাসা) আমাদের কি কম রেস- পনসিবিলিটির কায ? আর আমাদের পােজিসন কেমন ? কোর্টের হাত পা হচ্ছি আমরা। নিত্য। তার আর কথা কি। উকীলে “যা বলবে আদালত ত সেই অনুসারে কায কবেন। তা আজ তােমার লাইসেনী পাওয়া হয়েছে ? বিন। । পেয়েছি। নিত্য। আদালতের হাব ভাব কেমন দেখলে ? বিন। মােকদ্দমা বিস্তর। আর ভাল উকীল কৈ দেখলুম না, ঐ যা আছে তাও আবার সাবেক রকমের। নিত্য। তা তােমাদের মতন বিএ বিএল ইংরাজি উকীল কি আর অধিক থাকে? কি বল ভুবন ? ভুবন। (আস্তে২) হা তা বৈকি। বিন। আর আমি যা দেখলুম তাতে বোধ হয় যে দু চ চার মাসে শদাবধি দেড় শ টাকা হতে পারে। নিত্য। তা তােমাদের হবে না ত হবে কাদের ? যায় নিরেট মূখ তারাও মাসে তিন চারশ নিয়ে যায়, অরা
নব্য উলীল।
৫
তােমরা ত এত লেখা পড়া শিখেছ। ভাল, এ কথাটা যে
হঠাৎ বল্যে? কেন কোন রকম সকম দেখলে নাকি ?
বিন। হ্যা আজ একজন লােক এসে আমাকে তার
একটা মােকদ্দমার কথা জিজ্ঞাসা ক’চ্ছিল।
নিত্য। (সহাস্যে) মােকদ্দমাটা কি তুমি নিয়েছ?
বিন। না আমি দুই কারণে নিলুম না, প্রথমতঃ তার
ত আপিলের কোন গ্রাউণ্ডই খুঁজে পেলুম না। দ্বিতীয়তঃ
ভাবলুম সে সবে এই আমার প্রথম যদি হা’র হয় তবে
কি অখ্যাতি কুড়বো ?
নিত্য। তা বেশ করছ বাবা। তারা দিতে চেয়ে,
ছিল কি ?
বিন। টাকার আমি কোন কথাই কই নি, কারণ
আমার টাকা চাইতে কেমন লজ্জা করে।
নিত্য। বাবা, আসল কাযে লজ্জা; যা’হক তাতে
আমি তােমাকে কোন দোষ দিই নে। প্রথম প্রথম
অমন সকলেরি লজ্জা হয়ে থাকে।
ভুবন। বিনােদ বাবু! আপনি এত দিন কোন কাষ
কৰ্ম্ম কৰ্ত্তেন ?
কাষ কৰ্ম্ম কি ?
ভুবন। মাষ্টারি কি কোন আফিসে?
বিন। আফিসে ? কেরাণী গিরি? ছছাঃ ননসেন্স !
কেরাণী, গিরির মাথায় সাত জুত মারি। বড় পয়জমি
কাষ। বরং মাষ্টারী কায দু চার দিনের জন্যে কর্তে পারি
বিন।
নব্য উকীল।
৯
যদি অনেক মাইনে হয়। ওকালতি আর ডাক্তারির মতন
কি আর কায আছে? এতে কত স্বাধীনতা! কত মনের
ভুবন। ( স্বগত) ভাই আসল জিনিস টাকা।
টাকা না হলে কিছুতেই সুখ নেই। (প্রকাশ্যে) বলি
বি এ পাসের পর কি এত দিন বসে ছিলেন ?
বিন। বসে থাকব নত কি করবো? তা বলে ত্রিশ
চল্লিশ টাকার মাষ্টারী কি কেরাণীগিরি কর্তে পারিনে।
নিত্য। (ভুবনের প্রতি) তুমি এখন কটাকা মাইনে
পাও ?
ভুবন। ত্রিশ টাকা।
বিন। এ ৱিশ টাকায় তােমার চলে ? দেখ আমাদের
অাদালতে দেখলুম যে সেখানকার দালাল মােক্তার গুলো
মাসে মাসে পঞ্চাশটে টাকা রােজগার করে।
তা তুমি
কেন কেরাণীগিরি ছেড়ে মােক্তারী আরম্ভ কর না ?
নিত্য। (ভুবনের প্রতি) তা মন্দ কি ? তোমরা বেশ
দু জনে এক সঙ্গে কায কৰ্ম করবে। আমি জানি অনেক
লােক মােক্তারী করে বড় মানুষ হয়ে গিয়েছে।
ভুবন। আমি তা পারিনে। কারণ একটা কৰ্ম্মে
নিযুক্ত আছি সেটাকে হটাৎ ছেড়ে দেওয়া ভাল নয়।
রন। তাতেই ত বাঙ্গালীর এত দুরবস্থা। বাঙ্গা-
লীর সাহস কোথা ? তাদের স্বাধীন হবার কোন চেষ্টা
নব্য উকীল । আছে কি ? এই এত অল্প টাকায় চাকরিও ছাড়তে পারে না। নিত্য। বিমু এখন তবে কাপড় ছাড়গে। [ সকলের প্রস্থান। দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক। জর্জের আদালতের সম্মুখে আম্রবৃক্ষ তলা। [ মাধব ও বিনোদ শামলা কক্ষে আসীন।] বি। আপনি হেথা কত দিন প্রাটি কচ্চেন? মা। প্রায় দেড় বৎসর। বি। এর মধ্যে কতগুলি মােকদ্দমা প্লীজ, করেছেন? মা। সে কথায় আর কায কি ? বি। বলেন কি। মা। কেন আপনি কি দেখতে পাচেন না? আপ- মার হেথায় কত দিন হলো ? বি। প্রায় তিন মাস। মা । এর মধ্যে ৪ টা কেস পেয়েচেন ? বি। পাওয়া দূরে থাক, কেউ ফিরেও জিজ্ঞাসা করে না। মা। তবে আর বিস্মিত হচ্ছেন কেন?
নব্য উকীল । ১১ বি। অাচ্ছ। আপনি এই দেড় বৎসরের মধ্যে কত টাকা রােজগার করেছেন! মা। কার সাক্ষাতে বলবেন না যেন, সবে মাত্র আটটি টাকা। একটা চাকরের মাইনেও নয়। তা ভাই সে দুঃখের কথা আর বলবো কি। বি। তাইত ভাই আর ত গাড়ীভাড়া দিতে পারিনে। মা। এখনি আপনার মুখে এই কথা! তা হলে আমরা দাঁড়াই কোথায়? এত সবে কলির ভাের । বি। আপনার ঐ আট টাকা কেমন করে হয়েছিল ? মা। হায় হায় !মক্কেলের ফয়সলা বার করে দিয়ে আর সনক্ত করে। বি। আমি আগে ভাবতুম ধে তিন চার মাসের মধ্যে শয়েক দেড় টাকা রােজগার কর্তে পারবো। কিন্তু এখন দেখছি বছরের ভিতর গাড়ী ভাড়া পােষণ ভার। চার মাস। চার বছরে হলে বাচি ! বি। সাবেক উকীলরে ত মােকদ্দমা ছাড়া নেই দেখি ? মা। সুদ্ধ পশার! পশার !! পশার!!! বি। আমাদের কি অদৃষ্ট! সৰ্বস্ব নষ্ট করে লেখা পড়া শিখে এই আম তলায় বসতে হলো ! ( অতর্কিতে শামলা ভূমিতে স্বলন ও তাহা কুড়াইয়া লইয়া) আর ভাই । অণদের এই পাগড়ীটে যেন গােদের উপর বিষফোড়া ” হয়েছে ! এটা যদি সঙ্গে না থাকত তা হলে দু কোশ হাট- মা।
নব্য উকীল।
লেও ক্ষতি ছিল না, বা আমতলায় মাটীর উপর বসলে ও
লজ্জা ছিল না।
মা। আপনার ত দেখছি এখনও ভারি মানের ভয়।
আছে। তবেই আপনি ওকালতি করেছেন !! অভিমান
ছাড়ুন। এ আপনার কালেজ নয়। এখানে কত লাথি
খেয়ে মানুষ হতে হয়। বলি আপনার হাতে মােক্তার
কি কোন জমীদার আছে ?
বিন। জমীদার মােক্তার কোথায় পাব ? যত দিন
কলেজে ছিলুম তত দিন কি অহঙ্কারে কাৰু সঙ্গে আলাপ
করেছি! এখনও দেখুন না, যারা আমাদের মত ব্ৰট, আপ
হয় নি তাদের সঙ্গে কথা কৈতে ঘৃণা ও অপমান বােধ
হয়।
মা। তবে কিছু কাল ভেরেণ্ডা ভাজুন গে।
[ মাধবের প্রস্থান।]
বিন। (করতলে কপােল বিন্যস্ত করিয়া স্বগত)
হয়। যদি উকীল হয়ে এমন করে শামলা বগলে গাছতলায়
গাছতলায় ফিরতে হবে জানতুম তা হলে কি আমি এ
প্রোফেসনে আসতুম? সেই দশটার সময় এসে অবধি
রোদ্রে ঘুরে ঘুরে তৃষ্ণায় বুকের ছাতি ফেটে যাচ্ছে। কেউ
ভুলেও একবার নিকটে বসতে বলে না। সঙ্গে এমন
অধিক পয়সাও নাই যে দু পয়সার জলখাবার খাই।
আমি যখন কলেজে ছিলুম তখন ভাবতুম, যে কুমি
ওকালতিতে কতই সুখ আছে! কিন্তু এখন সেই সুখ
ধিক,!!
নব্য উকীল।
সমস্তই মরীচিকাবৎ হলো। বাড়ীতে সকল আত্মীয় বন্ধুগণ
উপার্জনের কথা জিজ্ঞাসা করে, কিন্তু তাদের কাছে মিথ্যা-
কথা কইতে কইতে জিহ্বা কঠোর হয়ে গেল! উঃ কি
পরিবর্তন! জগৎ কি কঠিন! এমন করে কত দিন আর
যাওয়া আসা কবে ? পিতা মাতা আমায় রােজগার
থাবেন বলে হাঁ করে রয়েছেন। হা ধিক! আমাকে শত
উঃ
কত লােক আমার দিকে তাকিয়ে কি বলতে
বতে যাচ্ছে।
[ একজন মােক্তারের প্রবেশ।
মাে। কি মশাই! একলা বসে কি কচ্চেন?
বি। গাছতলায় বসে হাওয়া খাচি। মােক্তার
মশাই আপনাদের এসে আশ্রিত হলুম দুই একটা মােক
মা দিন না।
মো। দেবে বৈ কি, আর কিছু দিন জানবিত হন
না। আর কি জানেন, এখন মামলা বড় কম।
পান না প্রায়ই হাত গুড়িয়ে বসে থাকি ?
আপনার ত হাতের ফুরসৎ কখনই দেখিনে।
এই দেখলুম দশটা থেকে কতগুল ওকালত নামায় কবুল
লিখিয়ে নিয়ে গেলেন।
মো। (হাস্য করিয়া) হ্যা, সে সব মােকর্দমা কি
আমাদের হাতে আসে? সে মক্কেলরা নিজে এসে উ কী
অ দিয়ে যায়।
বি। তা মশাই একটু অনুগ্রহ কবেন।
দেখতে
১৪ নব্য উকীল। (হাস্য করিয়া) মশাইরে সব বড় লােক। আপ- নাদের অনুগ্রহে আমরা আছি, আমরা আর আপনাদের কি অনুগ্রহ করবো ? আপনারা বিএ বিএল। বাপরে, বড় লােক! তা আচ্ছা, এবারে যখন হাতে মােকদ্দমা আসবে তখন আপনাকেই দেবো। বি। মশাই আমি টাকা কড়ি কিছু চাই নে, আমার নামটা ওকালত নামায় দেবেন। মাে। হয়েছে কি জানেন মশাই, মক্কেলে যে উকী- লের নামচী করে সেই নামটা দিতে হয়। তা আচ্ছা, এই বারে যত ওকালত নাম হবে সকলেতেই আপনা: নাম দেবো। [ মােক্তারের প্রস্থান। বি। (স্বগত) হায়, ওকালতি কি অধৰ্ম্ম ! আমি যে টাকা এই লেখা পড়া শিখতে খরচ করেছি সে টাকা যদি এখন সুদে খাটিয়ে খাওয়া যেত, তাহলে আর এমন করে এন্তেজারি কত্তে হতনা। এই কাজে এসে যাদের সঙ্গে কথা কইতে ঘৃণা বোধ হয় তাদের পায় ধরে একটা মােকদ্দমার জন্য খোসামোদ কত্তে হচ্ছে। সেদিন আমি স্বকর্ণে শুনলুম্ একটা লােক বতে বলতে যাচ্চে যে “বাপরে উকীলের গাঁদি মেরেচে, ঝেটিয়ে ফেল্লেও ছিড়েন মরে ”-হায় এ সকল কথা গুলােও শুনলে আবার দুঃখের উপর দুঃখ বাড়ে। যে বিএ বিএ পূৰ্বে কত সমা হতো এখন তাদের কি দুর্দশাই হয়েছে।
নব্য উকীল।
[ অন্য এক জন মােক্তারের প্রবেশ ]
মো। কি মশাই বড় রােদ্দর লেগেছে তাই গাছতলায়
বসে রয়েচেন ?
আর কি করি, কি সময় পড়েছে দেক্চেন ত।
মাে। তার আর কথা কি ? এই
দেকুন
এই ওকা-
লতি আগে যত ভাল কাষ ছিল এখন তেমনি হে থুঃ
হয়েছে। উকীল আর এখন পায়ে ঠেলা যায় না।
কেমন করেই বা মােকদ্দমা পাওয়া যায় বলুন? মক্কেলের
চেয়েও উকীলের সংখ্যা অধিক দাড়িয়ে গেছে।
কি, এখন টাকায় চাটে করে উকীল, যে উকীলকে
পূর্বে খোসামােদ করেও পাওয়া যেতনা। আর কেনই
বা এমন না হবে ? বছর বছর এমন দুচারুশ করে উকীল
বেৰুলে কি আর উকীলের মান থাকে ?
মােক্তার মশাই, প্রায় তিন চারু মাস হলো
আপনাদের চরণাশ্রিত হয়েছি তা এক বারও ত দয়া কত্তে
বলেন
বি।
দেকলুম না।
মো। মােকদ্দমা কোথায় যে আপনাকে দেব ?
[ মােক্তার গমনােছত ]
বি। মশাই রাগ কোরে চল্লেন যে ? আচ্ছ। একটা
বন্দোবস্ত করি আসুন না, যত মােকদ্দমা হবে আপনার
অর্ধেক আর আমার অর্ধেক।
• মাে। অর্ধেক ত আমাদের আর আর উকীলের সঙ্গে
বন্দোবস্ত আছে।
[ মােক্তর গমনােদ্যত ]
)
নব্য উকীল।
বি। মশাই শুনে যান, মশাই শুনে যান, আচ্ছ।
আপনা বার আনা আর আমার চা আনা।
মাে। ( প্রত্যাবর্তন) আচ্ছা দেখা যাবে। কাল
এক জন ছানির দরখাস্ত কত্তে আসবে বলেচে, সেইটাই
হয় আপনাকে দেওয়া যাবে।
[ মােক্তারের প্রস্থান।
বি। (স্বগত) আদালতে কি ভদ্রতা নাই ? এখানে
কি কাহারও মনে দয়ার লেশ নাই, সকলেই কষাই ?
আমি এই মােক্তারীর সঙ্গে যেমন মােকদ্দার কথা
কয়েচি অনি ও পেচন ফিরে চলে যাচ্ছিল, কিন্তু আর
যেমনি টাকার কথা কয়েচি অমনি যেন কত বশীভূত।
আমার এই এত অল্প দিন অ্যাকটিসে শুদ্ধ এই জাতে
পারুলুম্ যে আদালতে অর্থ ভিন্ন কেহ কারই নয়, যে
পরম বন্ধু সেও এই আদালতের সীমার মধ্যে এলেই পরম
আরও এখানকার লোকের এই দেখতে পাচ্ছি
যে ভ্রাতা কিম্বা পিতা পর্যন্ত কোন মােকদ্দমার কথা
কইতে এলে এরা বোধ হয় ভাল করে কথা কয় না।
হায়, সংসারের কি বিচিত্র গতি! আমার পঠদ্দশ। মনে
হলে এখন তাকে স্বর্গ তুল্য বােধ হয়।
[ মাধবের পুনপ্রবেশ ]
মা। কি মশাই এখনও বসে রয়েছেন?
বি। আর এ রৌদ্রে কোথায় টো টো করব ? আs
এতক্ষণ কোথা ছিলেন ?
নব্য উকীল।
১৭
এলুম।
মা। থাকবার কি আর চুলো আছে ? এই একবাব
একটা চক্কর দিয়ে
বি। কিছু গাঁথতে পাল্লেন ?
মা। আদত ঠোকরায়ই না, তা আর গাথব কি।
আপনি অমন করে বসে থাকেন কেন? আমাদের মতন
ঘুরে ঘুরে বেড়ান, বসে থাকলে কে আপনাকে চিনবে,
আর কেই বা জিজ্ঞাসা করবে ?
বি। আর ভাই ভাল লাগেনা। আজ মশাই দুটো
মােক্তারকে হাত করিচি।
মা। কি করে ?
বি। মিষ্টি কথা বলে, তা তারা স্বীকার হয়ে গেছে
এইবারে আমাকে মােকদ্দমা দেবে।
মা। (হাস্য করিয়া তাদের কথায় আপনি বিশ্বাস
করেন ? ওদের ঐ রকম রীত,-কখনও কাহাকে “ দেব
না বলে না। আমাকেও মােক্তাররা এই দেড় বৎসর দেবে।
দেবে। কচ্চে, কিন্তু কখনওত একটা দিতে দেখলুম না।
এই আপনাকে একটা সার কথা বলে দিই, যে যতক্ষণ না
টাকা হাতে পাবেন ততক্ষণ কাহাকেও বিশ্বাস কবেন না,
টাকা পেলেই নিশ্চিন্ত থাকবেন। মােক্তারদের কথাতেও
বিশ্বাস কত্তে আছে? ওরা কি কম ধূর্ত? ওরা কাহা-
রেও চটাতে চায় না—এই আপনার সঙ্গে এত হেসে কথা
কষ্টে, কিন্তু সুযােগ পেলেই আপনার মুখের আহাটী
কেড়ে নিয়ে নিজের গালে ফেলে দেয়। মশাই দুঃখে
নব্য উকীল।
কথা বলব কি--আমি সে দিন আমার একটা আলাপী
লােকের আপীল ৰুজু করবার জন্য তাকে বাড়ী থেকে সঙ্গে
করে নিয়ে এলুম-কিন্তু সে লােকটী আদালতে যাই
এসেছে, অমনি একটা মােক্তার এমনি তার চোখ দিয়ে
হাত করে নিলে, যে সেই মক্কেলটী ওই মােক্তারের উকীল
দিয়ে আপীল ৰুজু কল্লে। আমার গা তখন রাগে গ গস্
কতে লাগলাে—কি করব তখন সবে নূতন এসেছি ফ্যাল,
ফ্যা করে চেয়ে রইলুম-তা ভাই মােক্তারদের রােগারির
মধ্যে যেন পড় না। আমি সকলকেই চিনিচি’ ওরা সেই
ঈসর্গ ফেলের শৃগাল~~-সিংহকে ফাঁকি দিয়ে আপনারা
শিকারের উত্তম মাংস ভক্ষণ করে।
বি। হু-এত টাকা খরচ করে চাটে পাশ না হয়ে
এর চেয়ে যদি কাণে একটা কলম গুজে মােক্তারি কত্তম
তা হলে এত দিনে কত টাকা রােজগার হতো।
মা। তার আর সন্দেহ কি, মােক্তারদের কি কম লাভ?
আমাদের উকীল ভায়ারা বা কি পান ? মােক্তারেরাই
মক্কেলের রস টুকু চুসে নেয়, তার পর সিটেটা কেবল উকী-
লরা চিবিয়ে মরেন। আমি এমন অনেক ইন্স্ট্যান্স, জানি
যাতে মােক্তাররা মক্কেলের সঙ্গে একটা মােকদ্দমা খরচ বাদে,
দশ টাকা কি বার টাকা ফুরণ করেছে, তারপর সেই মােক্তার
এসে, উকীলকে মক্কেলের দুঃখের হাল জানিয়ে তার সঙ্গে
দু টাকা কি চার টাকা ফুরণ কল্লে, আর বাকী টাকা আন
গােয় দিলে। আবার ফের উকীলের কাছথেকে অর্ধেক কি
d
নব্য উকীল । ১৯ । দশ আনা রকম নিলে। উকীল ভায়া কি করবেন মােক্তা - রের শঠতা জানতে পাল্লেও তারে চটাতে পারেন না কারণ তার হাতে মরণ বচনের কাট। তা মশাই যদি আমাদের মােক্তার সহায় থাকত তাহলে কি এমন হয়ে মাথার সত্ব পায়ে পড়ে? আর দুঃখ কলে কি হবে এখন আসুন বি। কোথা যাবেন বসুন না—আরও আপনার সাক্ষাতে দুই একটা দুঃখের কথা কয়ে প্রাণটা জুড়াই। মা। দুঃখের কথা আর কি কবেন মাথা আর মুণ্ড- বি। আচ্ছা আমি জিজ্ঞাসা করি মুম্মেফের আদালতে গিয়ে প্লীজ, কল্লে হয় না? মা। মশাই যেথায় যান পসার জমাতে না পাল্লে কোথাও সুখ নাই। বি। তা বটে—কিন্তু আবার মুন্সেফের আদালতে প্র্যাকটিস কতেও লজ্জা হয়, কারণ হাকিম হয়ত বিএল কি এ এ আর তার উকীল বিএল ! মা। দুঃ, টাকার কাছে আর লজ্জা- অদৃষ্টে যে কত কষ্ট ও অপমান আছে তার আর ঠিক নাই, হায়রে নূতন বিএলদের আর ত্ৰিকুলে আহা বলবার কেউ নেই—হাইকোর্ট অবধি তাদের উপর বিমুখ হলেন! কোথায় হাইকোর্টের উকীল হব, না পাশ হয়ে জজের কোর্টে আসতে হলো—আবার হেথায়ও তেম্নি সুখ; মাক্তারদের খোসামােদ কত্তে কত্তে প্রাণ বেরিয়ে গেল এর পর হয়ত মুন্সেফের আদালতেও নামতে হয়, সেথায়ও বি।
২০
নব্য উকীল।
.
যে কি হবে তা কে বলতে পারে-শেষে অপরন্থা
কিং ভবিষ্যতি -হায় হায় মন্তে কেন উকীল হতে
গিছলুম !
মা। আচ্ছা, হাইকোর্ট, আপনাদের হাইকোর্টে যাওয়া
বন্ধ কল্লেন কেন ?
বি। হাইকোর্টই জানেন—শুনতে পাই নাকি, যে
হাইকোর্টের উদ্দেশ্য এই যে আধুনিক বিএগণ নিম্ন আদা-
লতে গিয়ে প্লীভ করুক তাতে তাদেরও উপকার আছে
আর আদালতেও সুবিচার হবে। আচ্ছা মশাই তাই যেন
হ’লল-আমরা এখনকার বিএল, আমরা যেন কলেজ থেকে
দুটো হাত নিয়ে বেরিয়েছি আর আমাদের পূর্বের বিএল রা
যেন চারটে হাত নিয়েই বেরিয়েছেন—তা বলে আমাদের
আবার সর্বত্র প্লীড কত্তে দিলেন না কেন ? যে জেলায়
এনরােল হতে হবে সেই জেলাতেই থাকতে হবে—জজের
কাছ থেকে ট্রান্সফার না নিলে আর অন্য জেলায় যাবার
বলুন
দেখি একি আমাদের কম নিগ্রহ ? এ যেন
হাত পা বেঁধে কূপের মধ্যে ফেলে দিয়ে বলা হচ্যে
ঝেড়ে ওঠ।” আরও আমাদের যেমন পসার তাত দেখ
তেই পাচ্চেন-যদি কালে ভদ্রে একটা মােকদ্দম অন্য
জেলাতে পাই তাও আবার যাবার যযা নাই। আর যারা
হাইকোর্টে বিএল উকীল আছেন তারা অনায়াসে যেথায়
ইচ্ছ। সেথা যেতে পাচ্চেন-অবারিত দ্বার, যত আঁটা সাটি
এই আমাদের বেলায় ?
যে নাই
it
এখন
নব্য উকীল।
২১
মা। হাঁ-হাইকোর্ট যদি আপনাদের হাইকোর্টে যাওয়া
বন্ধ নাও কত্তেন-আর যেমন কাল পড়েছে—তাতে উকী-
লরা আপনা হতে সেখান থেকে ভেগে পড়ত। আমার
বােধ হয় অত কঠিন নিয়ম করা তাদের ভ্রম হয়েছে।
বি। আরও শুনুন, জ্বালার উপর জ্বালা–আবার হুকুম
হ'লাে যে আধুনিক উকীলদের বৎসরান্তে পঁচিশ টাকা
দিয়ে লাইসেন্স নিতে হবে। কেন, আমাদের ঘরে কি
টাকা ধরে না, চিরকাল যুগিয়ে এলুম আবার এখনও
যােগাতে হবে ? যে সকল হাইকোর্টের বিএল, মফঃসলে
ওকালতি কচ্চেন তারা বিনা লাইসেন্সে প্লী, করবেন,
আর আমরা কি চারদিকেই চোর দায়ে ধরা পড়িছি ? যখন
উকীলরা গবর্ণমেন্ট হতে মােকদ্দমা মামলার বিশেষ সাহায্য
কিছুই পাচ্ছেন না তখন যে তাদের মধ্যে কতকগুলি লাই:
সেন্স দেবেন, আর কতকগুলি দেবেন না এ কেমন ধারা
নিয়ম ?
মা। তা ত সবই জানি এই অবস্থায় সম্বৎসরে পচিশ
টাকা হওয়া ভার। গত সনে ত আমি ঘর থেকে টাকা
এনে লাইসেন্স নিলুম—আর হাইকোর্টের একুইটী বুঝে-
ওঠা ভার তাদের উপর ত কার কথা কইবার সাধ্য
নই, যা দয়াকরে করেন তাই ভাল। আমার বোধ হয়
এর মধ্যে কোন না কোন ভাল উদ্দেশ্য আছে তা না
এলে হাইকোর্ট এমন সকল নিয়ম কেন করবেন? তারা
ত আর অন্যায় কায করবেন না।
২২ নব্য উকীল। । মা। বি। হাইকোর্টের একুইটী হাইকোর্টেই থাক। মশাই বলেন কি, এসব কথা বলতে গেলে কান্না পায় আমরা বিলম্বে পাশ হয়েছি বলেই কি আমরা একেবারে সমস্ত সুবিধা থেকে বর্জিত হব ? কেন হাইকোর্ট ত আপনাদের একেবারে হাই- কেটে যাওয়া বন্ধ করেনি চার বৎসরের পর ত আবার যেতে পারবেন—তখন আবার সমস্ত সুবিধাই পাবেন। বি। সেদিকেও আবার একটু খোঁচ দিয়ে রেখেছেন। মা। কি? বি। চার বৎসরের পর যদি জজ সারটিফাই করেন যে এ ব্যক্তি হাইকোর্টে প্রাটিস করবার উপযুক্ত পাত্র তাহলে হাইকোর্টে যেতে পারবেন তা না হলে নয়-তা যে রকম অবস্থা দেখছি এতে জজের সার্টিফিকেট নিতেও পারব না আর যাওয়াও হবে না। মা। আচ্ছ। তবে কেন হাইকোর্ট প্লীডরের কাছে আর্টিকল,ড, হ’ন গে না, তা হলে ত দু বৎসরের পরই হাইকোর্টে যেতে পাবেন। বি। মশাই তা আর এখন পেরে উঠিনি অর্থের খেচ হয়েছে। মা। তবে আপনি এও চান, ওও-চান; দুদিক কেমন করে হবে ? বি। কেন এ নিয়মটী না হলে ত দুদিই বলল- থাকৃত
নব্য উকীল।
২৩
মা। তা এখন যা হবার হয়ে গেছে তার জন্য দুঃখ
কল্লে কি হবে ?
[ দ্রুতবেগে রমদাসের প্রবেশ ]
বি। (দৃষ্টি করিয়া) নামা যে রে, এত দৌড়ে
কো’থেকে ?
রাম। (হাঁপাতে হাঁপাতে) আপনাকে শীগগির করে
বাড়ী যেতে হবে
বি। (ব্যাকুল ভাবে) কেনরে? কি হয়েছে?
রা। বাড়ীতে বড় বিপদ
বি। বিপদ ?
রা। বড় বিপদ আপনি শীগগির এস।
বি। ভেঙ্গে বনা-কার ব্যারাম হয়েছে কি ?
কত্তাকে বেঁধে নে যাচে।
বি। (ব্যাকুল ভাবে) কে ?
রা। এই সার্জন পাহারােলা।
কেন ?
রা। কৰ্ত্তা-একটা মানুষ-খুন করে ফেলেছে।
বি।(সােদ্বেগে) মানুষ? খুন হয়ে গেছে?
কাকে ?-চল, চল,
[ রামার ও বিনােদের শামলাকক্ষে প্রস্থান।]
। (স্বগত) উঃ কি ভয়ানক! মানুষের যে কখন
কি বিপদ ঘটে বলা যায় না। বেলা ত অপরাহ্ন হলো
বি।
২৪
নব্য উকীল।
আর বাড়ী যাবার সময় ও হয়েছে দেখছি—আস্তে আস্তে
বাড়ী যাওয়া যাক।
[শামলা চাদর দিয়া ঢাকিয়া লইতে লইতে মাধবের প্রস্থান।
তৃতীয় গর্ভাঙ্ক।
বিনােদের শয়ন ঘর।
.
| বিনোদ বাবুর উকীলবেশ পরিধান করিতে
করিতে প্রবেশ ]
বি। (স্বগত) রােজ রােজ আর রৌদ্রে কর্মভােগ
কতে পারি নে কিছুই ত হয় না। দূর হ--আজ যাব না-
একটু শাে’য়া যা’—লােকে নয় কর্মস্থলে গিয়ে দু টাকা
রােজগার করে--আমি না বিছানায় শুয়ে আজ টাকা
রােজগার করি। তবু ছ’গণ্ডা পয়সারও সাশ্রয় হবে।
{ শামল লইয়া বিছানার উপর নিক্ষেপ ও বিরক্ত ভাবে )
এ আবার একটা বিষম গের হয়েছে। এ নিয়ে দু পা
পথে চলবারও যে নাই। আমাদের মত লােকের উকীল
হওয়াই বক্মারি। বাড়ীর গাড়ী থাকে, বাপের অগাধ
বিষয় থাকে তবেই এসব কায এখন শােভা পায়। লোকে
আর কত দিন ঘরের খেয়ে বনের ম’ষ তাড়াতে পারে।
যাব কি? যাই কিনা যাইনাই ভাল। (বেশ উন্মোচনও
প্রকাশ্যে )--ওগাে কে আছ হােথা ? আমায় একটা পান
নব্য উকীল। ২৫ p দিয়ে যাও—বড় গা বমি বমি কচ্চে। (একখানা পুস্তক খুলিয়া শয্যায় শয়ন)। নেপথ্যে। বউ মা একবার যাও, বিনু কি চাচ্ছে দেখে শুনে দাও গে। বি। কৈ গাে এখনো দিলে না? দূর হ বেলা হয়ে গেল। নেপথ্যে। ও বউমা শীগগির করে যাও। আগে দিয়ে এস–ওঠো। নেপথ্যে। দাঁড়াও না কুটনাটা কুটে যাচ্ছি। বি। কাৰুরি বুঝি হু’স নেই? দূর হ'গ্যে আজ আর যাব না- নেপথ্যে। ওগো যাও, বল্লে কথা শােন না কেন ? [ শরৎকুমারীর প্রবেশ ] শর। কেন কি চাই বল! শুয়ে পড়েছ যে? বেরবে না? বি। আর এত বেলায় বেরিয়ে কি করবো গিয়ে। এখন কি আর মােকদ্দমা পাব ? দেখ দিকি সাড়েদশ টা— বেজে গিয়েছে—আমার জন্যে কি আর মক্কেলরা এত বেলা পর্যন্ত মােকদ্দমা নিয়ে বসে রয়েছে ? ( ঈষদ্ধাস্য করিয়া) এখন একটা পাণ দেও— শর। উঃ ভারি ত কাযের ভিড়, * বড় ত বিয়ে তার আবার দুপায়ে আলতা।” এই এত দিন বেঞ্চ কৈ কখ- নও ত একটা পয়সাও চকে দেখতে পেলুম না। ধর এই পাণ নাও- =
নব্য উকীল।
।
'?
বি। (তাম্বুল গ্রহণ)
শর। এখন বেরও। ওঠা-এখনো যে শুয়ে রৈলে
বড়মে বেলা হলো বেলা হলো বলে পাণের জন্যে তাড়া
লাগাচ্ছিলে-নাও ওঠো।
বি। (আলস্য ভাঙ্গিয়া ) আজ আর পারি নে
যে’তে।
শর। তা হবে না যেতেই হবে। (মস্তক ধরিয়া
উত্তোলন ও বিনােদের পুনঃ শয়ন) ওকি রােগ হলে।
খৈামার মাঝে মাঝে কামাই কর কেন? ঠাকুর বুঝি
তােমাকে এত নেকাপড়া শেখালেন কুনাে হয়ে ব্যস
থাকতে ?
বি। বড় গা বমি বমি কক্ষে।
তা বুঝিছি, এখন বেরবার ভয়ে কত কি
হবে। ভালঃ, রকম দেখলে সব্বাঙ্গ জ্বলে যায়।
(গমনােদ্যত)।
বি। ( সহাস্যে) শরৎ, শুনে যাও শুনে যাও।
শর। ( প্রত্যাবৃতা) কি ?
বি। বেরিয়েই বা আর কি করবাে? কিছু হয় না।
শর। নাই হক তা বলে
সব দেখতে শুনতে
হয় না ?
বি। দেখবার আর আছে কি? যা দেখ বার তা
আমি দু দিনেই বুঝে নিইছি, এখন আর টাকা না পেলে
মিছে মিছি যাওয়া আসা ভাল লাগে না।
শর।
নব্য উকীল । কেন যারা আছে তাদের কি হচ্ছে না? বি। তাদের যে হচেছ তার কারণ তাদের জমিদার মােক্তার সহায় আছে। আমার কে আছে ? শর। তুমিও কেন তাই কর না? ঐ না মুকুয্যের। জমীদার ? তা ওদের কাছে একবার যাও না। বি। আমি কি আপনি যেতে পারি ? তা হলে কি মান থাকবে ? বল্বে কি যে এমনি উকীল, সে’বে মােক- দ্দমা নিতে এসেছে। একজন কেউ আগে বলে দেয় তা হলে যেতে পারি। শর। হ্যা তা যাবে কেন? এদিকে যে কোণের বউ কেবল আমাদের উপর আস্ফালন কত্তে পার। ( একখান কাগজ হস্তে নিত্যানন্দের প্রবেশ ও শর তের ঘােমটা দিয়া প্রস্থান) নিত্য। দেখত বিৰু এটা কিসের সমন? ( কাগজ প্রদান )। বি। (উঠিয়া গ্রহণ) এ কে দিয়ে গেল ? নিত্য। একটা পেয়াদা। বি। (পাঠ করিয়া) এ যে দেখ চি মুখুয্যের আপ- নার নামে দেনা পাওনার নালিশ করেছে। নিত্য। দেখ আবার গ্রহের উপর গ্রহ। একটা ত ফৌজদারি মােকদ্দমা সম্প্রতি হাতে, আবার এই একটা উপস্থিত। বলি ফৌজদারি মােকদ্দমাতে কি আর কোন দল উকীলকে সঙ্গে নেবে ?
২৮ নব্য উকীল।, । বি। আবার কাকে নেব ? একলাই রক্ষা নাই ভারি ত মােকদ্দমা-মারপিটের বৈত নয় ? নিত্য। বলি তোমরা নতুন, যদি আপনার মোকদ্দমা বলে ভয় খাও, তা হলে সব নষ্ট হবে। বি। যদি অন্য উকীল দেন তা হলে আমি এ মােক- দ্দমায় থাকব না—আমরা বি এল থাকতে তারা যে সও- য়াল জবাব করবে তা আমাদের প্রাণে সবে না। নিত্য। না-না-আমি তা বলচি নি। তবে ডাক্তার উললে এমনি করে থাকে। আপনাদের দায় পড়লে তারা অপরকে ডাকে। বি। আপনি যদি বলেন তা হলে সেই কোর্টের একটা মােক্তারকে না হয় সঙ্গে নেব এখন। নিত্য। সে বেশ কথা - [ নিত্যানন্দের প্রস্থান বি। (স্বগত) এই মােকদ্দমাতে কি বলবো? যদি নজিরের ব’ই খানাও থাকত তা হলে তাই নয় উটকে পাটকে দেখা যেত। তাও আবার নেই। এ ওকালহি কাজ কি গরীবের ছেলের পােষায় ? এতে অগাধ পড়তে হয় আর অগাধ না পড়লেও ভাল উকীল হয় না। এত বই কেনবার টাকা কোথায় ? এই একখানা ডাইজেস্ট কিনিবারই ত্রিশ টাকা যুঠে উঠে না। আর আমাদের যা পড়া শুনা আছে তাত কিছুই নয়। তাও আবার এই দুঃখের জ্বালায় তিন চার মাসের মধ্যে একবার উল্টাইনি, -
নব্য উকীল।
২৯
বোধ হয় সব ভুলিই গেছি। পেনাল কোড খানা কোথায় ?
( অনুসন্ধান করিয়া) সে খানাও যে দেখতে পাচ্চিনি।
হারিয়ে গেল কি ? দেখি দিকি ও ঘরে যদি থাকে।
[ প্রস্থান।
দ্বিতীয় অঙ্ক।
প্রথম গর্ভাঙ্ক।
আদালতের সম্মুখ।
[ নফর ও একজন মক্কেলের প্রবেশ ]
নফ। তার কাছে কেন যাচ্ছ ? সে মােকদ্দমা মম,
লার কি ব’ঝে ? সে সবে নতুন এসেছে বৈত নয় !
হাতে দিয়ে কি মামলটী হারাবে? যদি ভাল চাও আমার
সঙ্গে এস। আমি তোমাকে এমন উত্তম উকীল কম
টাকায় করে দ’ব যে তুমি তার বক্তৃতা শুনলে আশ্চয্যি
হয়ে যাবে।
ম। আমাকে একটা লােক বলে দিলেন যে তিনি
আদালতের সেরা উকীল ।
নফ। ( হাস্য করিয়া) রাধা মাধব ! সে দেখছি
তােমাকে আচ্ছা দম দিয়েছে। দেখ আমরা এই দা:
নব্য উকীল। ম। লতে কৰ্ম্ম কায করে বুড় হয়ে গেলুম। আমরা, যে উকীলের যে গুণ যেমন জানব, অপর লোকে কি তেমন জানতে পারে ? দেখ বাপু আমি বলছি তার কাছে যেও না। গেলে নিশ্চয়ই হারতে হবে। আর আমি যাকে বলছি তঁাকে দিলে মােকদ্দমাটী নিশ্চয়ই আপীলে ফিরবে। তা মশাই আমি অত্যন্ত গরীব যদি কিছু কম জম করে হয় তা হলেই বাঁচি। নফ। কমে হবে না? হবে বৈকি। তবে ওকালত নমপান লিখে ফেলি ? ম। ফেলবেন—কিন্তু-উকীল বাবুকে কি দিত হবে সেটা একবার বলে দিন। মফ। সে আমি তোমার কমে করে দ’ব তার জন্য ভাবনা নেই। তবে ওকলাতনামার স আট আনা পয়সা দাও দিকি এক পয়সার একখান কাগজ আর আট আনার এক খান কোর্ট ফিস কিনে আনি। ম। (মুদ্রা প্রদান ) [ বিনােদের প্রবেশ। ] বি। কি নফর বাবু কি কচ্চেন ? ( নিকটে গমন) নফ। এই এর একটা মােকদ্দমা আছে তাই আপ- নাকে দেবার কথা বলছি। ম। (নফরকে) এই উ কীলের কথা বলছিলেন ? নফ। হঁ্যা। ইনি বড় সামান্য উকীল নন এর হাই কোটের পাস। বাবু আমাদের সব কটা পাস করেছেন
নব্য উকীল।
আর এর মতন লেখা পড়া জানা উকীল এ আদালতের
মধ্যে কেউ নেই। লিখতে পড়তে সওয়াল জৰাব কত্তেও
যেমন, বক্তৃতা কত্তেও তেমনি। বাবু আমাদের চারি দিকে
তোয়েরি ।
বি। (গম্ভীরভাবে ) মােকদ্দমাটা কি ?
নফ। মুন্সেপ বাবু এর একটা দাবি ডিমিস্ করেছেন
তাই তার রায়ের উপর আপীল করবেন বলে এসেছেন।
বি। (মক্কেলকে ) রায় ফরসালা হেঁয়ে আছে ? কৈ
দেখি।
(বিনােদকে থানকতক কাগজ প্রদান )
নফ। তা বাবুত তোমার মােকদ্দমা নেবেন এখন
তোমার ঠেয়ে কি আছে বল দিকি ?
ম। তিনটা টাকা আছে। তা থেকে অাপনাকে স
আট আনা দিইছি।
নক। কুল্যে তিনটী টাকা? (হাস্য) তবে মােকদ্দমা
ক’রবে কি করে?
ম। তা মশাই আরত কিছু আনিনি আর ঠেয়েও নেই।
নফ। ঐ তিনটী টাকা কি খরচা ছাড়া ?
ম। না, সৰ শুদ্ধ।
নফ। (হাস্য করিয়া) এর থেকে খরচাইত যাবে
ন’সিকে। তার পর বাবুই বা কি নেবেন আর আমার লেখাই
• বা কি পাব ? (বিনােদকে) দেখুনত মশাই কত টাকার
মােকদ্দমা।
৩২
নব্য উকীল ।
বি। কুড়ি টাকার।
নফ। তবে দেখচি কোর্ট ফিস যাবে দেড় টাকা,
ওকলত নাম স আট আনা আর আমার লেখাই চারি
আনা। আর বাকী থাকে পৌণে বার জানা, তবে উকীল
ফিসের কি হবে ?
ম। ঐ পৌণে বার আনা এখন উকীল বাবু নিন,
তার পর কাল কি পরশু पाम আবার দু টাকা
দ’ব।
ক্ষ। (বিনোদকে) কি বলেন মশাই।
বি। (গম্ভীরভাবে ) দু টাকার কম ও কলাত না?
সই কত্তে পারিনে।
ম। (হাত যোড় করিয়া) মশাই এখন ঐ নিন তার
পর আবার ত এনে দ’ব বলছি।
বি। (গম্ভীর ভাবে ) অত কমে আমরা সই করি
নে। আমরা চার আনির উকীল নই।
পারে
তাদের কাছে যাও।
মা (হাত যোড়) আচ্ছা মশাই; ঐ পৌণে বার ;
আনা আপাতক আপনার পাণ খাবার বলে দিচ্চি।
নফ। (বিনােদকে) এ ধিকে অাসুন। (উভযে
কিঞ্চিৎ
দূরে
গমন।)
নফ। ( আস্তে আস্তে) ও ত বলছে যে ওর ঠেয়ে আর
কিছু নেই, তা কেন মক্কেলটা হাত ছাড়া হয়ে যায়।
পাওয়া যায় তাই লাভ আর বছেত যে কাল দুটাকা এনে
নব্য উকীল।
দেবে। তা যদি এনে দেয় তবে ওর আপীল ৰুজু করা
যাবে তা না হলে তিন টাকাই লাভ।
বি। আচ্ছা।
নফ। (মক্কেলের নিকটে গিয়া ) দেখ বাপ, বাবুত
কখন রাজী হবেন না, তা আমি অনেক বলে কয়ে ওর
মন অনেক নরম করেছি, কিন্তু কাল টাকা আনতে
চাই। এখন কি আছে দাও দিকি। (হস্ত প্রসারণ )
ম। (মুদ্রা প্রদান।)
নফ। ওহো ভাল কথা মনে পড়েছে কাল দুটা
সশন খরচা এনাে।
ম।
যে আজে। তবে আমি এখন আসি।
[ মক্কেলের প্রস্থান ]
নফ। এই মশাই ছ’আনার পয়সা নিন।
( চারিদিকে তাকাইয়া পয়সা গ্রহণ ও পকেটে
নিক্ষেপ।
নফ। সে দিনের সেই রামলাল, মােহন লালের
মােকদ্দমাটার কি হলো ?
বি। ডিক্রি হয়েছে। আর আসামীরে তার পর
দিনেই টাকা আমানত করে গেছে।
নফ। আমাদের টাকা গুল কি আদায় হবে না ?
বি। আমাদের টাকা কোথায় যাবে ? যেমন করে
পারি আদায় করবই।
নফ। (নেপথ্যে দৃষ্টি ও উচ্চৈঃস্বরে) ওহে শুনেও।
বি।
৩৪
নব্য উকীল।
?
নফ।
[ অন্য একজন মক্কেলের প্রবেশ।]
কি গো ভাল আছ ত ? আর যে দেখতে শুনতে
পাই নি।
এখানে আবার কি দরকার ?
ম। মশাই আপনাকে যেন চেন কচি। আপনি-
আমাকে চিনতে পারছ না? সেই আর
একবার তােমার একটা মােকদ্দমাতে আমি সব লিখে
পড়ে দিই।
আজ্ঞে তবে হবে, আমার কিছু মনে পড়ছে
নাসে অনেক দিন হয়ে গেছে। মশাই একবার দেখুন
এ চিটীর উপর কোন, উকীলের নাম লেখা রয়েছে।
(নফরকে লিপি প্রদান )
(বিনােদ ও নফরের লিপি দর্শন।)
নফ। (স্বগত) এত দেচি বনমালী ঘোষ উকী-
লের নাম লেখা রয়েছে। ( প্রকাশ্যে ) তা বেশ হয়েছে
এই উকীল বাবুই চিঠি । তা তােমার মােকদ্দমাটা কি
বল দিকি শুনি?
ম। কোন মােকদ্দমা নেই, তবে কি না আমার একটা
ডিক্রি জারি কত্তে হবে। মুন্সফি আদালত থেকে সব
নথি এ আদালতে চালান হয়েছে। তা এখানে এক খানা
দরখাস্ত কত্তে হবে।
নফ। আচ্ছা ভাল কথা, খরচা দাও।
ম। (মুদ্রা দিয়া) আমি তবে কাল আস্ব।
[ মক্কেলের প্রস্থান ]
নব্য উকীল । বি। কি ক'ল্লেন মশাই! কার চিটি আপনি নিলেন ? নফ। আপনি চুপ করুন। এমন না ক'লে কি কখন টাকা রোজগার হয়? এখানে যুধিষ্টির হলে চলে না। এখন আসুন একবার ঘুরে ফিরে দেখি গে। [ উভয়ের প্রস্থান। দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক। মাজিষ্ট্রেটের এজলাস। কয়েদী বক্সে নিত্যানন্দের-ফরিয়াদীর—মেজিষ্ট্রেটের বিনোদের-জৈন উদ্দীনের—পেস্কারের—পেয়া- দার ও দর্শক গণের যথা স্থলে অবস্থিতি। পেঙ্কার। (দণ্ডায়মান হইয়া দরখাস্ত পাঠ) মহামহিম সাং ধনপুরের শ্রীযুক্ত মাজিষ্ট্রেট সাহেব বরাবরেষু আসামী ফরিয়াদী অকুবের দিন চাৰ্য্য নিত্যানন্দ মজুমদার। শ্রী হরমােহন ঘােষ। ২০ নবেম্বর- ৩২০। ২২ ধারা নিবেদন এই যে আসামী মজকুরের বাটীতে আমি গত ৩ অগ্রহায়ণ মােতাবেক ইং ২০ নবেম্বর বাধা কপি বিক্রয় করিতে যাওয়ায় ও আসামীর সঙ্গে দরে চুক্তি না ওয়ায় নব্য উকীল। আমি তাহার হস্ত হইতে কপি কাড়িয়া লওয়ায় উক্ত আসামী আমাকে প্রথমে গালি গালাজ করিয়া পা হইতে খড়ম খুলিয়া আমার ব্লগে প্রহার করতে রগ ফাটিয়া গেল অনন্তর আমার প্রাণ সঙ্কট হওয়াতে পুলিসের লােক আসিয়া আমাকে হাসপাতালে লইয়া গিয়াছিল সেখানে একুশ দিনের অধিক দেহের কষ্টে শয্যাগত হইয়া আপন পেৰা চালাইতে সম্পূর্ণ রূপে অক্ষম হইয়াছিলাম। অতএব হুজুরে দরখাস্ত করিয়া প্রাথ্যিৎ এই যে উচিত বিচারের ক্ষতি হয় ইতি। মাজি। পেয়াডা। পি। খোদাবন। মাজি। ফরিয়াডিকো হলপ ডাও। পি। বল “ আমি প্রতিজ্ঞা পূব্বক “ আমি প্রতিজ্ঞা পূৰ্ব্বক ”— পি। কহিতেছি যে, কহিতেছি যে- এই মােকদ্দমায় যে এজাহার দ’ৰ ” এই মােকদ্দমায় যে এজাহার দ’ব ” পি। তাহ, সব সত্য “ তাহা সব সত্য- “ সত্য বই । 5. হর। পি। } পি। সত্য বই- ‘পি। * মিথ্যা হইবে না ” নব্য উকীল। ৩৭ ৫ মিথ্যা হইবে না।” বি। (মাজিস্ট্রেটকে ) হুজুর আসামীর তরফে আমাকে উকীল হতে অনুমতি হয়। জৈন। হুজুর তা হতে পারে না। কারণ ওর ওকালতনামা দাখিল হয় নি। মাজি। আচ্ছা আগে ডাখিল কর। বি। নফর বাৰু শীঘ্ন করে একখান ওকালতনামা লিখে আনুন, ত। [ নফরের প্রস্থান জৈন। (হরমােহনকে) তােমাকে কে মেরেছিল? হর। ঐ উনি ( নিত্যানন্দের প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ ) জৈন। কবে ? হর। তেরা অঘ্রাণ। কেন মেরেছিলেন ? হর। আমি বাদ। কপি বেচতে গিছলুম, তাই ওনার সঙ্গে দরে চুক্তি না হওয়াতে আমি ওনার হাত থেকে কপি কেড়ে নিলুম। তাই পাকে রেগে মানে। রক্ত বেরিয়েছিল ? হর। বেরিয়েছিল। নফরের ওকালতনামা লইয়া পুনঃপ্রবেশ ও বিনােদ কর্তৃক দাখিল। পেঙ্কার। ( বিনােদকে) (বিনােদকে) কৈ ৰার, কবুল লিখলেন না ? জৈন। জৈন।
নব্য উকীল ।
বি। (শশব্যস্তে ওকালতনামা গ্রহণ ও তেড়া বাকা
অক্ষরে নাম লিখন)
নফ।
ভয় খাবেননা, হাত কাঁপচে যে? একটু ধীরে
সুস্থিরে লিখুন।
বি। যে তাড়াতাড়ি। (ওকালতনামা পুন দাখিল
ও দাঁড়াইয়া ফরিয়াদিকে জেরা) ক দিয়ে মেরেছিলেন?
হর।
থড় ম দিয়ে ।
বি। কোন্ পায়ের? বা পায়ের না ডান পায়ের ?
ডান পা’র।
বি। তুমি যে বল্লে রক্ত পড়েছিল, তা কতখাক্তি
বেরিয়েছিল?
কত খানি রক্ত বেরিয়েছিল তা কি আমি পো
ধরে মাপতে গি’ছি । আমার গা কাপড় সব ভিজে
গেছল।
মাজি। বাবু, এ টোমার কেমন জেরা?
বি। হুজুর তা, না হলে ফরিয়াদীর ভিরেসিটি অাদা-
লত কেমন করে টের পাবেন ?
মাজি। আচ্ছা খুব জেরা কর ।
বি। (হরমােহনকে) আচ্ছা মার খেয়ে তুমি কি
কলে? পালালে ?
পাবার কি জো ছিল যেমন মাল্লেন অমনি
মাথাঘুরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলুম।
বি। তার পর কি কল্লে ?
নব্য উকীল । :বি। হর। আমি আর কি করবো। তার পর কখন আমাকে হাসপাতালে ধরাধরি করে নেগেছে, তা আমি জানিউ নি। কে নিয়ে গিছ ল ? মাজি। ( বিরক্ত ভাবে এমন প্রশ্ন কেন জিগেস্ ক’চো? কে নে গিছল ও কেমনে জানবে ? (হর- মােহনকে) টুমি নেবে যাও। (আসামীকে) টুমি ফরি- য়াড়ীকে মেরেচিলে? নিত্য। (হাত জোড়) হুজুর আমি- ( নিত্যানন্দকে) তুমি চুপ কর তোমার যা বল- বার তা আমি বলছি। (মাজিষ্ট্রেটকে) হুজুর আসামীর প্লী হচ্চে নট, গিলটি। মাজি। আসামী যা ব’লচিল টা টুমি ওকে ব’টে ডিবে না। (পেস্কারকে) ফরিয়াডীর গাওয়া ডাক। পেঙ্কার। হুজুর, ডাক্তার বাবুর একখানা রেপােট, এখানে আছে, যদি অনুমতি হয় তবে পেস হয়। মাজি। (পেক্ষারকে) ভক্টার ইখানে হাজির কাছে ? পেস্কার। হুজুর মাক্তি। পোলাও। পোৱ। নিমচাঁদ ডাক্তার। [ পিয়দার প্রস্থান।] নেপথ্যে। নিমচাঁদ ডাক্তার হাজির, নিমচাঁদ ডাক্তার হাজির। ।
৪০
নব্য উকীল।
নিম।
জৈন।
[ ডাক্তারের সহিত পিয়াদার পুনঃ প্রবেশ ]
(হলফ, পাঠ)
জৈন। আপনার নাম কি ?
নিম। ঐ নিমচাঁদ দত্ত।
অাপনার পেষা ?
নিম। গবর্নমেন্ট হাসপাতালের ডাণ।
আপনার হাসপাতালে এই লোক ছিল (হর
মােহনের প্রতি অঙ্গ লি নির্দেশ।
মি। # ছিল ?
জৈন। কতদিন ছিল ?
নিম। তেইশ দিন।
জৈন। আপনার কাছে , ' যায় ?
নিম। বিশএ নবেম্বর।
এ কি হেঁটে গিয়েছিল ?
না, একে পুলিসের লােকে পাকি করে নিয়ে
যায়।
জৈন। তখন একে কেমন দেখেছিলেন ?
নিম। অজ্ঞান।
জৈন। তখন এর অজ্ঞান হবার কারণ কি ছিল?
নিম। ক্রানিয়মে স লাগার দরুণ।
আঘাতের কোন চিনু ছিল?
নিম। টেম্পােরাল, মা ছেলে একটা ডীপ ইনসিশন।
দেখেছিলুম। আরও এক্সটারন্যাল ক্যারাটিডের যে
নিম।
জৈন।
৪১ নব্য উকীল। পােষ্টীরিয়ার ব্রাঞ্চ টেম্পল বোনকে সাপ্লাই কক্ষে তার রপচার হয়েছিল। মাজি। Was the wonnd dangerous to life Babu? faal Certainly, your worship. মাজি। How far did the incision extend ? নিম। About two inches, your worship, commencing from just above the anterior root of the Zygomatic process and extending upward Fand Lasteriorly over the sapuamous portion. Sq মাজি। ( বিনােদকে) Have you any tling to ask, Babu ? fa! No, your worship. মাজি। ( নিমাদকে) Go you then, Babu. জৈন। হুজুর আর একটী সওয়াল ক’ত্তে অনুমতি হয়। মাজি। কি ? জৈন। এই তেইশ দিনের মধ্যে ফরিয়াদী আপন পেষা চালাইতে সক্ষম ছিল কি না? মাজি। আচ্ছা। নিম। না। [ নিমচাঁদের প্রস্থান।] মাজি। (পেস্কারকে) র কোন গাওয়া আছে ? ডাক।
৪২ নব্য উকীল। পেস্কার। দুর্গাচরণ ঘােষ- [ পিয়াদার প্রস্থান ] নেপথ্যে। চরণ ঘােষ হাজির, চরণ ঘােষ হাজির। [ দুর্গাচরণ ও পিয়াদার পুনঃ প্রবেশ।] দুর্গা। (হলফ, গ্রহণ) জৈন। তুমি ফরিয়াদী হরমােহন ঘােষকে চেন? দু। চিনি, ধম্ম অবতার । জৈন। তুমি, যখন আসামী ফরিয়াদীকে মারে তখন তুমি ছিলে ? বি। হুজুর এ কোশ্চেন আপত্তি যােগ্য। জৈন। কেমন করে? বি। এর দ্বারা আসামীকে চিনিয়ে দেওয়া হচে- মাজি। (জৈনকে) আচ্ছা, এ প্রশ্ন জিগেশ করা হবে না। জৈন। হরমােহনের মারপিটের বিষয় কিছু জান ? দুর্গা। (হাতযোড় করিয়া) জানি, ধৰ্ম্মৰতর- জৈন। ফরিয়াদীকে কে মেরেছিল? দুর্গা। ঐ উনি (নিত্যানন্দকে নির্দেশ।) জৈন। উনি হরমােহনকে কবে মেরেছিলেন? দু। ধৰ্ম্ম অবতার, সে অনেক দিন হয়ে গেল। তো কি চৌট অঘ্রাণ। জৈন। কেন মেরেছিলেন?
নব্য উকীল। দুর্গা। ধৰ্ম্ম অবতার, হরমােহন ওনার হাত থেকে কপি কেড়ে নিল বলে। জৈন। রক্ত বেরিয়েছিল ? দুর্গা। তা আমি দেখিনি হুজুর। মিছে কথা কেন বলব ? বি। ( উঠিয়া) রক্ত বেরিয়েছিল কি না তা তুমি দেখ নি ? দুর্গা। না। তার পর দেখলুম যে ওনার কাপড় রক্তে ভেষে গেছে। বি। কেন দেখনি? তখন ত তুমি সেথা ছিলে। দুর্গা। আমি ওনাকে মাত্তে আসতে দেখে ভয়ে পালালুম। বি। তুমি সেথা কেন গিছলে ? দুর্গা। আমরা দুজনে কপি বেচতে গিছলুম। বি। তুমি ফরিয়াদীর কে হও? দুর্গা। ভাই হই, ধম্ম অবতার- বি। তাই বুঝি ভায়ের জন্যে সাক্ষী দিতে এসেছ। দুর্গা। হুজুর, ভাই ব’ল কি সাকী দিতে এইচি ? আমাকে তলব হয়েছে তাই এইচি। বি। কিসেরবাড়ি মেরেছিলেন বলতে পার ? দু। খড়মেরবাড়ি। বি। কোন পায়ের খড়ম? দুর্গা। হুজুর, তা এত কে মনে করে রেখেছে।
৪৪
নব্য উকীল।
নিত্য। হুজুর ফরিয়াদী আমাকে গা ছিল কি
জিজ্ঞাসা করা হয়।
বি। আচ্ছ। হরমােহনকে আসামী কি সুদু দুই
মাল্লে? কোন গালি গালাজ হয় নি কি ?
দুর্গা। হুজুর ক’পি দরে চুক্তি হলো না বলে ঐ উনি
বল্লেন ( নিত্যানন্দকে নির্দেশ) দিবিনি বেটা ? দিয়ে যা।
তাইতে হরমােহন ওনার হাত থেকে কপি কেড়ে নিয়ে
বল্লে যে, তােমাদের মত বামুন অনেক দেখিছি, তোমার
কোন পুৰুষে কুপি খেয়েছে ? তাইতে উনি, তবেরে ব্যাটা-
“আমার কোন পুৰুষে খায়নিক” বলে মাত্তে এলেন। ,
অবতার, শুদ্ধ খানি এই কতাটী হয়ে ছাল ।
মাজি। টোমার কোন পুৰুষে গভি খেয়েছে” কেন,
এটা ভাল কঠ। বলেছে—Has any male member
eaten cabbage.
বি। (মাজিষ্ট্রেটকে ) হুজুর আর আমি কিছু জিজ্ঞাসা
করবো না।
মাজি। (দুর্গাকে) যাও।
[ দুর্গার প্রস্থান।
{ নিত্যানন্দকে ) টোমার কোন গাওয়া আছে ?
নিত্য। ধৰ্ম্ম অবতার, আমি আর গাওয়া কোথা
পাব? হুজুর আমি ওকে মারিনি, ও আমাকে গালাগাল
দেওয়াতে ওকে আমি ঠেলে ফেলে দিছলুম তাই পড়ে •
গিরেকেটে গিয়েছে।
নব্য উকীল। ৪৫ মাজি। (উকীলদ্বয়কে ) টোমাদের এখন কিছু যেলবার আছে ? বলো। জৈন। হুজুর আসামী যে ফরিয়াদীকে মেরেছে তার আর অত্র সন নাস্তি। প্রথমে ফরিয়াদীর এজাহারেই তা পষ্ট প্রকাশ পেয়েছে। দ্বিতীয়তঃ আমাদের সাক্ষী দুর্গাচরণ ঘােষের দ্বারা তা প্রমাণ হয়েছে। আর আসামী যা ব’লছেন যে উনি ফরিয়াদীকে মারেননি। ঠেলে ফেলে দিছলেন, তা হুজুর আদালতের কখন বিশ্বাস যােগ্য হতে পারে না, আর সে ঠেলে ফেলে দেবার প্রমাণই কৈ ? অমামীর কোন সাক্ষী:নাই, আর আমাদের প্রধান সাক্ষী-- সে তৎকালে মারপিট স্থলে হাজির ছিল, সমস্তই দেখেছে । হুজুরে আর একটা নিবেদন এই যে আমার মক্কেল যে আসামীকে গালিগালাজ করবে তা কখন সম্ভব হয় না কারণ ফরিয়াদী শূদ্দর আর আসামী ব্রাহ্মণ। মাজি। টুমি ও কঠা কেন বলাে? টোমার গাওয়াই ত বলে গেল যে ও আসামীকে গাল ডিয়েছে। জৈন। আচ্ছা তবে হুজুরের যা বিবেচনা হয়। তার পর আমাদের সাক্ষী, ডাক্তার বাবুর জবানবন্দীতে প্রকাশ পেয়েছে যে ফরিয়াদী সাংঘাতিক আঘাত পেয়েছিল ও তেইশ দিন পর্যন্ত কোন কায কম্ম কত্তে পাত না। অত- এব এই সকল প্রমাণ সত্তে এ উত্তমই প্রকাশ পাচ্চে যে ঐ আসামী কর্তৃক ফরিয়াদী আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে এবং আসামীর অপরাধও প্রমাণ হয়েছে।
নব্য উকীল।
বি। (উখিত হইয়া শুষ্ক কণ্ঠে) হুজুর, এ-হেঁঃ এ
মােকদ্দমা সম্পর্কে আমার আর অধিক কিছু বলার প্রয়াে-
জন করে না (পিনাল কোড খুলিয়া ) ফরিয়াদি ৩২০ ও
৩২২ ধারা অনুসারে আসামীর নামে চাৰ্য এনেচে, কিন্তু
দেখা যাক্ ফরিয়াদি আসামীর অফেন্স প্রচ্ছ, কত্তে পেরেছে
কি না। ফরিয়াদীর সাক্ষী দুর্গাচরণের দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে
যে ফরিয়াদী আসামীকে গালি গালাজ করে অতএব
দেখা যাচ্চে যে, যদিও অাসামী অাঘাত করে থাকে, তাও
On gove and sudden provocation. দ্বিতীয়তঃ আসামীর
অাঘাত কবার Intention ফরিয়াদী কি প্রমাণ করে
আর ওর যে সাক্ষী সে একজন সামান্য লোক এবং ওর
ভাই; এতে দেখা যাচ্চে যে এত Interested উইটনেসের
কথা কখন আদালত বিশ্বাস ক’তে পারেন না। আর এই
মােকদ্দমা সম্বন্ধে এই এক আমার বক্তব্য আছে যে আমরা ।
কোন সাক্ষী হাজির করি নাই কারণ এই মােক দমায় সাক্ষী
দিবার কোন আবশাক করে না। যখন Primo Fac Case
establish ক’ত্তে ফরিয়াদী অক্ষম হয়েছে তখন আমরা কি
Disprove করব ? এই সকল প্রেমিসে আমার বােধ হয়
যে আসামীর অপরাধ প্রমাণ হয় নাই। (গুণ বেশন ও
ৰুমাল দিয়া মুখ মা র্জন।)
মাজি। (রায় লিখন ও অাসামীর প্রতি ) ভেখ
আমার মটে টোমার অপরাঢ় প্রমাণ হেয়েছে। অতএক
হুম হইল যে টোমার ডু মাস কঠিন পরিশ্রমের সহিট
.
নব্য উকীল ।
৪৭
মিয়াড হয় ও পঞ্চাশ টাকা জরিমানা হয়। আর টুমি
জরিমানা দিতে অক্ষম হইলে আরও এক মাস মিয়া হয়।
নিত্য। (কাদিতে কাদিতে) হুজুর আমি ত মারি নি।
পেঙ্কার। কে আছ হেথা আসামীকে নিয়ে যাও।
[ দুই জন পাহারাওয়ালার প্রবেশ ]
বি। (স্বগতঃ ) হায় এত চেষ্টা করেও বাবাকে
ছাড়াতে পালুম না। বাবাকে কয়েদে যেতে হলো।
(ক্লান ভাবে অবস্থিতি ও দীর্ঘ নিশ্বাস অনন্তর নিত্যানন্দুকে
প্রকাশ্যে) কাদেন কেন ? মােকদ্দমার আপীল করে।
নিত্যানন্দের হাত ধরিয়া পাহারাওয়ালা দিগের গমন।
বি। ( নিত্যানন্দের পচাৎ গমন করিতেকরিতে দীর্ঘ
নিশ্বাস পরিত্যাগ পূৰ্ব্বক।) হাকিম অন্যায় কল্লেন বৈত
নয়। না হলে মােকদ্দমাত জিতে ছিলুম। আচ্ছা
আপীলে এর রায় কেমন টেকে দেখা যাবে।
নিত্য। বিনেরে তোরে অনেক দুঃখে লেখা পড়া
শিখিয়েছিলুম তার কিছু
[ পাহারা ওয়াদ্বয়ের নিত্যানন্দকে লইয়া প্রস্থান ও
বিনােদের তৎপশ্চাৎ পশ্চাৎ ২ প্রস্থান।]
তৃতীয় গর্ভাঙ্ক। জজের আদালত-এজলাস ঘর। [ বিনােদ, নফর ও মােহনলালের প্রবেশ ] মো। কার হুকুমে তুমি টাকা নাও ? বি। আমার ওকালতনামা আছে। মো। কে তোমাকে ওকালতনামা দেছে ? বি) কেন, তােমার ভাই রামলাল- মো। সে দেছে আমার কি ? আমার ত তুমি উলি নও। বি। আমার ফী বাকি ছিল। মো। ( ক্রুদ্ধভাবে ) তােমার ফী বাকি ছিল, তা আমার কি ? তার সঙ্গে ব’ঝাপড়া করগে বি। 'আমি রামলালের টাকা নিয়েছি, তােমার নিইনি। মম। আমার নাওনি? সত্যি বচ ? চল দিকি নাজিরের কাছে। বি। আমার এত দায় পড়েনি নাজিরের কাছে যেতে মম। এখন তুমি আমার টাকা দেবে কি বল ? বি। কে তােমার টাকা ধারে ? তুমি আমার টাকা নাওনি ? মম। ফের ব’
নব্য উকীল।
৪৯
বি। (চক্ষু রাঙ্গাইয়া) যা-যাঃ, বিরক্ত করিসনে,
এখন জজ আসবার সময় হয়েছে।
মম।
আসুন না কেন জজ-আমি তারই সাক্ষাতে
ব’চি।
বি। উঃ, জজ তাের হাতধরা ?
মো। তােরই বড় হাত ধরা-এখন টাকা দিয়ে
কথা কঃ
বি। ফের ব’লচি আমার কাছ থেকে চলে যা—যদি
তাের টাকা নিয়ে থাকি আমার নামে নালিস ক’রূগে।
মো। আচ্ছা, তুই কেমন জোচ্চর উকীল তা আমি
দেব,-তুই আদালত থেকে টাকা উঠিয়ে নিয়ে ক’দিন
থাবি ?
বি। দেখি-
[ মােহনের প্রস্থান ]
[ জজের প্রবেশ ও চেয়ারে উপবেশন, ]
[ অনন্তর বিনােদের জন্য চেয়ারে উপবেশন।]
নফ। (বিনােদকে) এই বারে আমাদের মােক
মাটা পাকে প্রকারে তুলে দিন।
বি। দিচ্চি দাঁড়ান, জজ একটু জিন।
জজ। (বিনােদকে) টোমার কি মোকড়,ডম আছে ?
বি। (শঙ্কিতভাবে দণ্ডায়মান) হুজুর, নিত্যানন্দ
নামে এক আসামীকে ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব দু মাস কঠিন
নব্য উকীল । পরিশ্রমের সহিত মিয়াদ ও পঞ্চাশ টাকা জরিমানা করে ছেন; তা সেই হুকুম রদের নিমিত্ত, আপীল, হুজুর আদা- লতে ৰুজু করা হয়েছে এবং অদ্য সেই মােকদ্দমা পেষ- ইবার দিন ধার্য আছে। জজ। (রায় পাটানর) আচ্ছা টোমার মোকড মা বলো। বি। হুজুর, ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে ফরিয়াদী হর- মােহন ঘােষ, আসামী নিত্যানন্দের নামে ৩২০। ৩২২ ধারা মতে গ্রিভাস হার্টের এই চার্য আনে যে, আগামী ২০ শে নভেম্বর তারিখে তাহার রগে খড়ম মারিয়া তাহার ব্রা ফাটাইয়া দিয়াছিল এবং উক্ত চার্য প্রমাণ করিবার জন্য সে একটা মাত্র সাক্ষী হাজির করিয়াছে। হুজুরের ইহা দৃষ্ট হইবে যে সে সাক্ষী ফরিয়াদীর ভ্রাতা, আর সে আসামীকে মারিতে দেখে নাই। তাহার জবানবন্দীতে স্পষ্ট দৃষ্ট হইবে যে আসামী যখন মারিতে আসিয়াছিল তৎকালে ঐ সাক্ষী পলায়ন করে। আরও, হুজুর দেখিবেন যে ঐ সাক্ষী অতি ছােট লােক, তার কথা সম্পূর্ণ বিশ্বাস করা যায় না। জজ। কেন? সে যে মিঠা বলেচে, টা টুমি কেমনে জানলে ? বি। আর আসামী ভদ্রলােক। তার এজাহারে স্পষ্ট দেখা যাচ্চে যে, সে ফরিয়াদীকে মারে নাই; ঠেলিয়া ফেলিয়া দিয়াছিল।
নব্য উকীল ।
৫১
জজ। টাহার প্রমাণ আসামী কি ভিয়েছিল? আর
রেকর্ডে, আসামীর এজাহার “নট গিল্টি” আচে
বি। হুজুর, যখন ফরিয়াদীর সাক্ষী আসামীকে মারিতে
দেখে নাই ও, আসামী ঠেলিয়া দিয়াছিল তখন, হুজুরের
বােধ হইতে পারে যে, ফরিয়াদীর রগ, ইটে কাটিয়া
গিয়াছে।
জজ। (ক্রুদ্ধভাবে ) Oh, it is a nice inference.
He must be a fool who says so. কেমন করে আমার
টা বিশ্বাস হবে ।
বি। (ভয়ে ধৰ্ম্মাক্ত কলেবর)
মফ। ( আস্তে আস্তে বিনােদকে) অমন ক'রে ঘামচেন
কেন ?
বি। (জনান্তিকে দেখচ ত জজের সঙ্গে কেমন
লড়চি, এমন কল্লে আর ঘাম বেরুবে না ?
জজ। আর কিছু বলবে। Then go on
বি। হুজুর, আর সেই উণ্ড, কিছু ডেঞ্জারস, ছিল না।
যদি ডেঞ্জারস, হইত তাহা হইলে ফরিয়াদী মরিয়া যাইত।
জজ। (বিরক্তভাবে ) টুমি এমন প্লীডিং কোঠা
শিখেচ? টুমি কি ডাক্তরের চেয়েও ভাল জান?
বি। (উপবেশন )
জজ। (রায় লিখন) আসামীর ছয় মাস কঠিন
পরিশ্রমের সহিত মিয়ড হইল আর ফাইন পঞ্চাশ টাকাই
রহিল। ফাইন না ডিলে এক মাস মিয়াড় বাহাল থালি।
নব্য উকীল ।
,
নফ। (জনান্তিকে কি হ’ল । হিতে বিপরীত !!
বি। (বিমর্ষ ভাবে ও জনান্তিকে) আহা আপীল
যদি না কভুম তা হলে নিত্যানন্দের দুই মাসই থাকত
আমার দোষ কি বল ? সেই ম্যাজিষ্ট্রেট বেটাই সব খারাপ
করে রেখেছে। (দীর্ঘ নিঃশ্বাস )
নফ। আর মশাই “শতে, মারি ভবেৎ বৈদ্য, যা
হবার তা হয়ে গেছে আপনি ত কিছু পেয়েছেন। আমা-
দের উকীল মােক্তারের টাকা হলেই হলো ; এত আর
বাপ ভাই নয়।
বি। ( অঙ্গলি কামড়াইতে কামড়াইতে ও দীর্ঘ নিঃ
ছাড়িয়া নফরের সহিত প্রস্থান।)
তৃতীয় অঙ্ক।
প্রথম গর্ভাঙ্ক।
বিনােদের শয়ন ঘর।
[ বিনোদ শয্যোপরি আসীন।]
বি। (বিষন্ন ভাবে স্বগত) “ সে কজ, হােয়াই ইউ
স্যাল নট বি ডিসবার্ড, ” উঃ (দীর্ঘনিশ্বাস) বিনা
মেঘে বজ্রাঘাত! বিপদের উপর বিপদ! (বাষ্পকুলিত .
লোচুল)। এই বারে কি আমার ভবিষ্যতের আশা ভরস।
.
নব্য উকীল।
একেবারে উন্মলিত হবে! ( চক্ষু মার্জন ও দীর্ঘনিঃশ্বাস।)
হাঃ ই, এমন নিদারুণ কার্য বিষম শত্রুও তার শত্রুর
উপর করে না। আমার অন্নের হন্তারক হ’ল! একি
তাদের ধর্মে সৈবে।
[ শরৎকুমারীর প্রবেশ ]
শর। (দৃষ্টি করিয়া ) আজ যে বড় মুখখানি ভার
ভার দেখ ছি ; কেন হয়েছে কি ?
বি। (শরৎকে দেখিয়া রােদন)
শর। (উদ্বিগ্না ও নিকটে গমন) কঁদছো যে? কেন
কাচা ?
বি। ( নিস্তব্ধ)
শ। ঠাকুর, কয়েদ হয়েছেন বলে কঁাদচ? ( দীর্ঘনিঃ-
শ্বাস) তা আর কেঁদে কি করবে বল, তার কপালে যা ছিল
তাই হয়েছে। (পুনঃ দীর্ঘ নিঃশ্বাস) তুমি অমন করে
কাঁদলে ঠাণ যে অস্থির হবেন! ব্রাহ্মণ কন্যার সে দিন
থেকে আর পেটে ভাত পড়ে নি। ছি অমন করে কেঁদ না।
বি। (দীর্ঘনিঃশ্বাস ও স্বগত) হাইকোর্ট, কি এমন
আমার গুৰুতর অপরাধ দেখলেন যে একেবারে আমাকে
ডিসবার কত্তে উদ্যত হলেন। আমি তাদের কাছে ফী
পেতুম
তাই টাকা উঠিয়ে নিইছি, এই অপরাধে আমার
এই সর্বনাশ হলো! এখন যে কি ‘কজ সাে” করবে। তা
•ভেবে ঠিক পাই নে। হা বিধাতা আমার অদৃষ্টে কি
এত বিড়ম্বনা লিখেছ? হায় এমন কায ক’ত্তে আমাৰ
।
৫৪
নব্য উকীল।
কেন দুর্বুদ্ধি হলো। আমি অল্প টাকার তরে আমার
ভাবি উন্নতির আশা সব হারালুম (দীর্ঘনিঃশ্বাস।)
শর। কেন ভাবছ? কিসের ভাবনা? আমি ঠা-
কণকে ডেকে আনি।
[ প্রস্থান।]
বি। নানা স্বগত) হাঃ হ,পিতা মাতার আমি
একমাত্র অবলম্ব ছিলুম। তারা সর্বস্বান্ত হয়ে আমাকে
উকীল কল্লেন, আর,এখন তাদের এক কথাতেই কি না সব
ভয়ে ঘৃতাহুতি হলো! (দীর্ঘনিঃশ্বাস ) বাবা কয়েদে রয়ে-
ছেন, কিসে যে পরিবার প্রতিপালন হবে তারও কে
উপায় দেখিনি। আর এমন আমার সহায়ই বা কে আছে
যে কোন স্থলে আমায় একটু চাকরী করে দেয়। চারি-
দিকেই শঙ্কট! যে টাকাগুলি কী পেয়েছিলুম, সে গুলি
ফুরিয়ে গেলে অন্নাভাবে দেখছি মারা যেতে হবে। এমন
অর্থ সঙ্গতিও নাই যে আমার পক্ষে একজন ভাল উকীল
নিযুক্ত করে এ ঘাের বিপদ হতে উদ্ধার পাই। হায়,
শেষে যে এমন বিপদে পড়তে হবে তা আমি একবারও
মনে করি নি।
[ হরিদাসীর প্রবেশ ও শরতের বাটের বহির্দেশে
শ্রবণোৎসুকে দণ্ডায়মান।]
হরি। বাবা, তুমি কি কঁাচ ?
রি। ( আস্তে আস্তে ) না।
হরি। তবে অমন করে বসে রয়েছ যে ?
নব্য উকীল ।
হরি।
০
বি। (নিস্তব্ধ )
হরি। (বাষ্পাকুল লোচনে ও গদগদ কণ্ঠে) বাবা,
আর মড়ার উপর খাড়ার ঘা কেন দাও ? কেন সেই
মুকুয্যেদের নালিশের কিছু হয়েছে কি ?
বি। ( আস্তে আস্তে ) না।
তবে কি হয়েছে, বল ?
বি। (আস্তে আস্তে ) ব’লব আর কি আমার মাথা।
জন্মের মতন গেলুম আর কি ?
হরি। (সৌৎসুক্যে) সে কি ?
বি। আমি একটা মােকদ্দমা পেয়েছিলুম, তাইতে
এক পক্ষে দু’জন ফরিদী ছিল। তার মধ্যে একজন
আমাকে উকীল দেয়। তার পর সেই মােকদ্দমায় আমা-
দের জিত হলো। কিন্তু আমার মক্কেল আমাকে তখন টাকা
দেয় নি। তার পর যখন আসামীরে আদালতে টাকা জমা
দিয়ে যায় তখন আমি সব টাকা সেখান থেকে উঠিয়ে
নিইছি।
হরি। তাতে হয়েছে কি ?
বি। তাইতে মােহন লাল বলে একটা লােক আমার
নামে হাইকোর্টে গিয়ে লাগিয়েছে যে, আমি আদালত থেকে
সমস্ত টাকা তুলে নিয়ে তাদের দিই নি। সেই জন্যে
হাইকোর্ট থেকে আমার উপর হুকুম এসেছে যে কেন
তােমাকে ওকালতি কা থেকে তাড়িয়ে না দেওয়া হবে
তার কারণ দেখাও।
নব্য উকীল।
"
।
হরি। (সবিস্ময়ে) ওম-এই অপরাধে তােমাকে
তাড়িয়ে দেবে ? (ক্ষণকাল নিস্তব্ধ। তা যদি আর
ওকালতি নাই ক’ত্তে দেয়, তবে কি আর তুমি অপর
চাকরী কত্তে পাবে না ? তার জন্যে চিন্তেকি ? যখন তােমার
নেকা পড়া হয়েছে তখন বনে থাকলেও অন্ন হবে।
বি। চাকরি হবে না কেন? তবে এতে যতদূর আশা
ছিল, তা আর হবে না।
হরি। বাবা, যদি তােমার কপালে টাকা থাকে তবে
যে কাৰ্যই কর তাইতে টাকা হবে। আর আমাদের সর্বস্ব
গেছে না যেতে আছে। চাকরি হওয়া পয্যন্ত কি আর
আর
তোমাকে খাওয়াতে পাবাে না ?
বি। ( নিস্তব্ধ )
আর এই ত তুমি এত দিন বেৰুচ্চ, ত। কৈ
কি রোজগার করেছ? আমি যা ভেবে ছিলুম ত ত আর
হলো না!
এ ছাই কাযের চেয়েও যদি এদিন কোন
চাকরি ক’ত্তে তা হলে কত টাকা জমাতে পাত্তে। তার
জন্যে আর কান্না কেন। ওঠো বাবা, ঐ ঘােষালদের বাড়ী
গিয়ে একটু ব’সগে। দশ জনকে দেখে মনের কষ্ট
যাবে এখন।
[ বিনােদের গাত্রোত্থান ও ধীরে ধীরে দ্বার দেশে গমন
হরি।
দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক।
গবর্ণমেন্ট হাউসের দক্ষিণ দিকের পথ,
[ উমেদারের বেশে বিনোদের প্রবেশ ]
বি। (স্বগতঃ ) হায়! কাল কি কঠিন পড়েছে ।
এখন দেখছি চাকরী হওয়া বড় সুকঠিন। সহায় না
থাকূলে আর কায কর্মের সুবিধা নেই। গােটা কতক পাস
করে আমার কি হলাে বল? পাস নিয়ে কি আমি ধুয়ে
ব? কি আশ্চর্য্য এই যে ইউনিভার্সিটি থেকে বৎসর বৎসর
হাজার হাজার ছেলে পাস হচ্ছে এদের দশা হবে কি?
কোথায় কায পাবে ? আমাদেরি ত এই দশা ! হায় কেন
আর বাঙ্গালীরা আপনার আপনার ছেলেকে পাস করাতে
খরচ করে তারা, যে টাকা গুলো ছেলেকে পাস করতে
খরচ করে, সেই টাকাতে যদি তারা তাদের আর কিছু
ব্যবসায় শিখায় তা হলে পরিণামে কত ভাল হয়। হবেন
কি না উকীল !!! যাদের কোথায় অন্ন ও নেই !! এই ত
আমি সমস্ত দিন রৌদ্রে এ অফীস ও আফীস করে বেড়া
লুম
কিন্তু কোথায়ও ত কম্মের সুযােগ দেখলুম না।
যেখানে যাই সেই খানেই শুনি যে আমরা এল এ, বি
এ নিয়ে কি করবো ? কাজের মানুষ চাই। হয় (দীর্ঘ
নিঃশ্বাস ) যখন কলেজে পড়তুম তখন এক উচু রকম
মন ছিল। এখন তার আর কিছুই নেই।
৫৮ নব্য উকীল । : [ ভুবনের ও অন্য এক জন কেরাণীর প্রবেশ ] ভু। কি বিনােদ বাবু কোথা গি’ছিলেন। বি। আর বাবু বলে কথা কও কেন ভাই? কে। ( বিনােদকে) মশাই, আপনি না ওকালতি করেন ? আপনাকে যেন আদালতে দেখিছি বােধ হচ্চে। বি। হ্যা মশাই, আমি ওকালতি ক’ত্তম। কে। এখন করেন না ? বি। না। ভুবন। কেন ? বি। আর তাই সে দফা হয়ে গিয়েছে ভু। (সৌৎসুকে) কি হলাে? বি। ডিসবার করে দেছে। ভু। (সবিস্ময়ে) ডিসবার করে দেছে! বল কি? না। বি। হ্যা আমি সত্য বলছি। কে। কেন ? বি। আর মশাই সে কথায় কায নেই। ভু। তবে এখন গিছিলেন কোথা? বি। এই ভাই চাকরীর সন্ধানে বেড়াচ্চি। কে। হাতে কি ? বি। হ্যাণ্ড, রাইটিং। কে কোথায় কোথায় দেখলেন ? বি। এই পােষ্ট অফীস থেকে আরম্ভ করে, কমি সেটি অফীস, মেডিকেল একজামিনার অফিস, পাব-
নব্য উকীল।
লিক ওয়ার্কস্ নাগাৎ বেঙ্গল সেক্রেটারিএট। এই সব
খুচ্চি। তােমাদের আফীসে কোন সন্ধান সুলভ আছে ?
ভু। এখন ত কোন সুবিধাই নেই, তবে মাঝে মাঝে
একসট্রা হ্যাণ্ড, দরকার হয়,তখন কেনার সাহেব আপনি
একটা একজামিন করে যাদের সিলেক্ট করেন তাদের
দরকার মতে কায দেন।
বি ( (হাসিতে হাসিতে) আবার একজামিন! আচ্ছা
এমন কোন সুবিধা নাই যে সেখানে গিয়ে কায কৰ্ম্ম শেখা
যায়।
ভু। কায কৰ্ম্ম শেখবার আর কি? কাল থেকে
আমার সঙ্গে বেলে, হতে পারে।
বি। আচ্ছা ভাই কাল তবে ঐ ন'টার মধ্যে তােমার
বাড়ীতে যাব।
কে। মশাই, আপনি ত ডিসবার কেন হলেন বল্লেন
। আচ্ছা, যত দিন ওকালতি করেছিলেন তাতে কি
রােজগার করেছেন?
বি। সে দুঃখের কথা আর কেন বলেন ? আমি ত
আমি যারা তিন চার বৎসর রয়েছে তারাও মাসে দশ,
পনর টাকা পায় কি সন্দেহ।
কে। বলেন কি ? (হাস্য। তবে আর ফেন ম’ত্তে
লােক উকীল হয় ?
বি। তাদের কপালের লােগ। গাছতলায় বেড়াতে
বেড়াতে প্রাণটা বেরিয়ে যায়। মশাই বলব কি, শামুল।
নব্য উকীল।
কি বল
বগলে করে সেই পাঁচ শ লােকের মধ্যে বেড়াতে এমনী
লজ্জা কতো যে এক একবার মনে হত পৃথিবী তুমি
দুভাগ হও আমি তােমার মধ্যে প্রবেশ করি। লােকে বলে
যে ওকালতি কাষ ভাল, কিন্তু ওতে প্রথমে যত কষ্ট আর
অপমান সৈতে হয় এমন আর কিছুতে হয় না।
কে। তা বৈ কি। অনেক হলেই এই দুর্গতি হয়।
যারে জিজ্ঞাসা করি মশাই কি করেন সেই বলে ওকালতি।
তবে আর উকীল ধরূবে কোথায়? আমরা ত তবে এর
চেয়ে শত গুণে ভাল আছি, ভাই
ভুবন ? সেতুম
ত্রিশ টাকা এখন ত চল্লিশ টাকা পাচ্ছি। আর এই হাইকোর্টে
গে দেখুন যে চলে গেলে দশটা শামলা ঠোকাঠুকী হয়ে
যায়।
বি। মশাই এখন ওসব কথা যেতে দিন; কপালের
গ্রহ ছিল দিন কতক ভুগে এলুম। এখন একটা কেরাণী
গিরি পেলে দুটাকার মুখ দেখে বাঁচি। তা মশাই আপনা-
দের বলে রাখলুম কোন জায়গায় সন্ধান হলে আমাকে
অনুগ্রহ করে একবার খবর দেবেন।
কে। আচ্ছা।
ভু। (স্বগতঃ ) বড় যে ভাই কেরাণীগিরির মাথায়
জুত মেরেছিলে! এখন!-(প্রকাশ্যে ) এখন কি বাড়ী
যাবেন ?
বি। তোমরা এগোও
[ কেরাণীদয়ের প্রস্থান।]
নব্য-উকীল।
;
বি। (স্বগত) রাম বলল। ভাগ্যিস টের পায় নি
যে একবার কেনার সাহেবের এক জামিনে ফেল হয়ে
ছিলুম। (দীর্ঘ নিঃশ্বাস ) কপালে এত দুঃখও ছিল।
হয়, ওকালতী কাযে কেন আমি আসিলাম
ইহা লাগি অনর্থক কেন ধন নাশিলাম ;
এ কাযে অর্থের আশ কেন বৃথা করিলাম
থাকিয়া আশার আশে কেন দিন হরিলাম।
বাঙ্গালী উকীল যেন আর কেই হয় না,
দালালের পায়ে তেল যেন কেহ দেয় না,
শামলা মাথায় যেন, গাছতলে বসে না ;
উকীলের দশা দেখে লােকে যেন হানে না।
মােক্তারের পেছু পেছু আর যেন ধায় না,
কুকুর সমান যেন আর তাড়া খায় না।
নিরাশ্রয়, যেন আর রােদে টোটো করে না,
সময়ে সময়ে যেন মরমেতে মরে না।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.