Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Tarak Sanhar

Sarkar,akhay Kumar · 2009/10/21

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

তারক সংহার
কাব্য!
যদি কোবিদ মানস তোষক রং
মম গুতি কাব্য মিদং ভবিতা
চির চিন্তন কষ্টমশেষমিতঃ
সফলং সকলঞ্চেত ইদং।
শ্রীকাক্ষয় কুমার সরকার
প্রণীত।
.
কলিকাত
।
২০১নং কর্ণওয়ালীশষ্ট্ৰীট, বেঙ্গল মেডিকেল লাইব্রেরী হইতে
ঐগুরুদাস চট্টোপাধ্যার কর্তৃক প্রকাশিত
২৩ নং পঞ্চানন তলা লেন নিউক্যানিং প্রেসে
'শ্রীরামব্রহ্ম কুমার দ্বারা মুদ্রিত।
১২৯৫

No text on this page.

তারক সংহার কর
প্রথম স্বর্গ
নমি আমি শ্বেতভুজে, স্বয়ম্ভুনদিনি,
অমৃতভাষিণিদেবি! পদাম্বুজে তব, •
সচন্দন ভক্তি পুষ্পে ও পদ পল্লব,
অবি, বরদে মাতঃ, বরপ্রদায়িনি।
কবিতাসাগর পারে যাইতেবাসনা
ভাবনা তরঙ্গ তায় নিয়ত উখিত,
নিরখি হৃদয় মম সভয়ে কম্পিত
দেহ মা, চরণ তরী দাসে পদ্মাসনা।
কালিদাস ভবভূতি বাগ্মীকি হােমর।
হর্ষ, ভাবী আদি যত কবিচয়,
একে একে পদতরী করিয়া আশ্রয়,
হইয়াছে পার সবে বশের সাগর।
কবির মানসক্ষেত্রে উদ্যান শােভিত,
কল্পনার তরু কত শােভে নিরন্তু,
মল্লিকা, মালতী, বেল, কুসুম নিকর
বিস্তারি সৌগন্ধ তায় নিত্য বিরাজিত।

তারক সংহার কাব্য।
চিন্তা সহ কুতূহলে বসি তরুতলে,
তুলি ফুল গাঁথি মালা দিব উপহার,
বড় সাধ আছে মাতঃ, হৃদয়ে আমার,
না জানি সে আশা বৃক্ষে কি ফল মা ফলে
উর তবে বিশ্বরমে। উর বীণাপাণি।
সদরে বসয়ে মাতঃ, মাননিলয়ে
কপনাপ্রসূত নব পুষ্পহার লয়ে
পূজিব সারদে, তব চরণ দুখানি।
ভীষণ তার সহ ভঙ্গ দিয়া রণে,
কি যুক্তি করিল দেব মিলিয়া সকলে;
কেমৰুে ত্রিদিব রাজ্য উদ্ধারিল বলে,
বর্ণিতে সে সব মাতঃ, বড় সাধ মনে।
হিমাদ্রি শিখর মাঝে অসুরারিগণ
ছদ্মবেশ ধরি সবে লুক্কায়িত হায় !
দৈত্য শরে প্রপীড়িত হীনবীৰ্য প্রায়
ফেরুপাল সম সবে এমে অনুক্ষণ।
সন্ত্রাসিত, পরাভূত, বিতাড়িত হয়ে
ওজিয়। অমররাজ্য অবনীমণ্ডলে,
মিছে, দহিয়া সবে যাতনা অনলে,
কে সিঞ্চিবে শান্তি বরি দেবেব হৃদয়ে।

প্রথম স্বর্গ।
•৫
প্রতিহিংসা প্রতিক্ষণে জাগে দুর্ণিবার,
ঈর্ষা, ভয়, ঘৃণা, বােষ উদি প্রতিক্ষণে,
লজ্জায় আকুল চিত ভাবে মনে মনে,
কেমনে স্বরগ রাজ্য হইবে উদ্ধার।
যথা গােমুখীর ধারা বাহিত সুস্বনে,
ভাগিরথী কলনাদে মৃদু নিনাদিত,
ভয়াকুল সুরবৃন্দ হৃদয়ে চিন্তিত,
বসিল গাঙ্গিনী তীরে বিষাদিত মনে।
অধােমুখ হয়ে সবে বসি পরস্পর
নিৰ্ব্বাক নিস্পন্দ দুঃখে রহে কতক্ষণ,
দীর্ঘশ্বাস ত্যজি ইন্দ্র কহিল তথন,
শিহরিল দেবতনু শুনিয়া সে স্বর।
বিষম ঘৃণায় রােযে হইয়া বিহবল
সম্বােধিয়া দেবগণে কহিল বাসব,
* সামান্য দৈত্যের রণে হয়ে পরাভব
ভুলেছ কি সবে হায়! আত্ম বীৰ্য্যবল ?
হ ধিক্। দেবতাকুণে নির্লজ্জ জীবন।
মর্তলােকে নরগণ তারাও প্রধান,
রক্ষিতে সতত ব্যস্ত নিজ খ্যাতি, মান,
নরের অধম দেব হয়েছে এখন!

তারক সংহার কাব্য
কি জানি, সে কোন্ বলে দৈত্য মহাবলী ?
নাহি কি সে বীর কোন-দেবতারদলে
অমর আলয় স্বর্ণ উদ্ধারিতে বলে ?
বীর
শূন্য হয়েছে কি অমরমণ্ডলী ?
অমরের কীর্তি ভাতি প্রদীপ্ত ভুবনে।
সে কীর্তিচন্দ্রিমা হলাে অষশ নীরদে
আবৃত, দলিত আজি দৈত্য রাহুপদে,
কি সুখ দেবের আর ধরিয়া জীবনে ?
কোকিল কুলায়ে হলে বায়সের বাস,
সুগন্ধি প্রসূন মাঝে কীটের সঞ্চার,
সাধুর আবাসে হলাে চের অধিকার,
সুরভােগ্য স্বর্গে এবে দৈত্যের নিবাস ।
দেবের সম্বল বল গিয়াছ হে ভুলি,
গৌরব, বিভব, মান সকলই বিগত,
দেবত্ব দাষত্বে এবে হলো পরিণত,
বাকি মাত্র আছে নিতে দৈত্য পদধুলি।
মার্জার নিয়ে আসি মূষিকের দল
প্রকাশে বিক্রম হায় ? নির্ভয় অন্তরে,
জীত হয়ে দৈত্যরণে দৈতমণ্ডল
বিস্মৃত কি অাত্মবল জনমের তরে ?

নরের দুর্লভ স্ব বৈজয়ন্তপুরে
প্রবেশি দানবকীট দুষ্ট দৈত্যদলে,
ছিন্ন ভিন্ন করিয়াছে নিজ ভুবলে,
তবু সে হলাে না ঘৃণা অনুরারি সুরে।
ত্যজিয়া স্বরগ ভূমি ত্রিদিব মণ্ডলে,
কাপুরুষ ভীরু প্রায় অমর সমাজ
গুপ্ত বেশে অহর্নিশ ভ্রমে মহী মাঝ,
ব্ৰহ্মাণ্ডপূজিত জাতি শত্ৰু পদতলে ! ·
কি আশ্চর্য! কাশ্যপেয়! নিরুত্তর সবে,
ডুবায়ে অমর নাম কলঙ্ক সারে,
নিশ্চিন্ত আছ কি ভেবে না জানি অন্তরে,
নিৰ্বণ, নির্জর সবে জানালে বাসর!
কেমনে দেখাবে মুখ সুৰবালা দলে।
কাপুরুষ বলি যবে অমৰে ঘৃণিবে,
টুটিবে পরাণ তবে হৃদয় দহিবে ;
করতালি দিয়া তার হাসিবে সকলে।
কেন বা অমর করি সৃজিল বিধাতঃ।
নতুবা দৈত্যের রণে হয়ে পরাজিত
এখন ও কি এ জীবন বহিতে হইত,
কোন দিনে সে যাতনা নিৰ্বাপিত হ'ত।”

ঘর বাধ্য
সুষুপ্ত শার্দুল যেন জাগিয়া উঠিল
দারুণ ভৎসনা বিষে জর্জরিত কায়
কুষিল অনল দেব অনলের প্রায়,
পরুষ বচনে ইন্দ্ৰে কহিতে লাগিল।
* আখল পুরন্দর, কেন বারম্বার,
বৃথা এ অমরগণে নিল অকারণে,
কিদোষ দেবের বন হেরিলে নয়নে ?
ভুমিও তাে সঙ্গে ছিলে ৰণে সবাকার ।
যার যত পরাক্রম জানে পরস্পরে,
প্রমত্ত মাতঙ্গ যথা পদ্মবন দলে,
দলিত অমর চমু, দানবের বলে,
স্বচক্ষে দাড়ারে সবে হেরেছ সমরে।
তারক সংগ্রামে যবে হইয়া বিজিত,
আদেশিলে মাতলিরে, পৃষ্ঠ দিয়া রণে
পলাইতে প্রাণভয়ে রথ আরােহণে,
সংজ্ঞাশূন্য মৃতপ্রায় রহিলে পতিত।
হইতে পক্ষ গত বিস্মৃত হইলে ? ।
আত্ম দোষ নাহি দেখি পরগ্লানি করে
কে আছে 'তাহার সম মুখ চরাচরে,
কি হেতু দৈত্যেন্দ্র বল রনে উপেক্ষিলে ?

এম বগ
করিয়াছি বহুযুদ্ধ দানবের সনে,
সুতীক্ষ্ণ শলাকা সম শর প্রহরণে
গেদায়েছি দৈত্যবৃন্দে পাতাল ভবনে,
হই নাই শ্রান্ত তবু কভু এ জীবনে।
ধাতার প্রসাদে দুষ্ট অবহেলে সুরে।
অজেয় অমর রিপু দৈত্যকুল পতি,
নতুবা কি সুর করে পেয়ে অব্যাহতি
অধিকার করে বলে বৈজয়ন্তপুরে ?
বিষম পরুষ বাক্যে হইয়া পীড়িত
অধোমুখে সুররাজ বসিল সভাতে
উর্দফণা ফণী যথা দণ্ডের আঘাতে
প্রসারি পুনঃ সে ফণা করে কুণ্ডলিত।
ক্ষুব্ধচিত্ত মৌনব্রতী হেরি অখণ্ডলে
গর্জিয়া উঠিল রােষে দেব এভঞ্জন ;
(প্রলয়ের ঝড় যেন বহিল তখন
কহিতে লাগিল তবে সম্বােধি অনলে।
“হে অনন্ত, সেনাপতে, ছি! ছি! একি কাষ,
পুরন্দর শচীকান্ত দেবের ঈশ্বরে,
এ হেন কুৎসিত বাক্যে নিন্দি বারে তারে,
উপজিল নাহি মনে বিন্দুমাত্র সাজ ?

[১ার কাব্য।
এত যদি হেয় ইন্দ্র অমরের দলে,
নমূচি শম্বর আদি দুর্দান্ত দানবে,
কে নাশিল বল শুনি ভীষণ আহবে,
বৃত্রের সংহার কার্য কে সাধিল বলে ?
কাপুরুষ, ভীরু তুই দেবকুল মাঝে,
পশিতে শঞ্চিত যদি অরাতি সমরে,
যীরের ঘৃণিত কাৰ্যে বাসনা অন্তরে,
কেন বা রয়েছে তবে অমর সমাজে ?
নৈমিষ কানন মাঝে সুরবাল গণ
নন্দন কানন ত্যজি, বিহরে যথায়,
( ব্যাধশরে ভীত যেন কুরঙ্গিনী প্রায় )
চঞ্চক গতিতে মরি ফিৰে অনুক্ষণ।
আশুগিয়া মিশমি, সে সবার দলে,
পুন: সে পশিত নহি হইবে সমরে ;
লুকাইয়া রহ গিয়া অঞ্চল ভিতরে,
লুকায় চপলা যথা জলদের কোলে।
অথবা কিঙ্কর বেশে দৈত্যরাজ পাশে।
তোষ গিয়া মন তার বিবিধ প্রকারে,
জানিয়া শরণাগত ক্ষমিবে তোমারে,
সেবিবে দৈত্যেশপদ মনের উল্লাসে।

প্রথম স্বর্গ ।
স্বাধীনতা মহাব্ৰত করি উদ্যাপন,
দৈত্যপদ রজঃ শীরে করিয়া ধারণ,
স্বর্গ সুখ ভুঞ্জি সুখে করিবে ভ্রমণ,
কৃতার্থ হইবে আত্মা সফল জীবন।”
যক্ষঃরক্ষঃ নরত্রাস যক্ষঃকুলপতি
সম্বােধিয়া উচ্চৈঃস্বরে কৈল আখণ্ডলে,
বৃথা কেন সুরপতে, নিন্দ সুরদলে,
কে না জানে সুর ভাগ্যে ঘটেছে দুর্গতি।
বিষন্ন বাসব তুমি, মৌন কি কারণে,
অকারণে কেন বশ নিন্দিছ অনলে,
বিপক্ষ বিনাশি স্বর্ণ উদ্ধারিতে বলে
কার না বাসনা ইন্দ্র হয় বল মনে।
শক্তিহীন সুরবৃন্দ দানবের রণে,
নতুবা দলিত হয়ে শত্রু পদতলে,
এখন ও নিশ্চিন্ত কিসে রয়েছে সকলে,
কোন দিনে দৈত্যাধমে নাশিত জীবনে।”
বিষম বাক্যের স্রোত বহিতে লাগিল,
প্রলয়ের ঝড় যেন উঠি আচম্বিতে
ডুবায়ে সলিলে বিশ্ব উদ্যত নাশিতে,
ব্ৰহ্মাণ্ড করিতে লর স্বমূৰ্ত্তি ধরিল ।

তারক সংস্থার কাব্য
;
ভীষণ নিনাদে গিরি কম্পিত হইল
ভয়াকুল পক্ষীকুল, বিরত কূজনে,
শ্বাপদ সভয় মনে পলায় সঘনে,
উন্মীলি নয়ন যােগী ইঙ্গিতে চাহিল।
.
আত্ম দ্বন্দ্বে লিপ্ত দেখি দানারিগণে,
জলদ গম্ভীর স্বরে কহিল প্রচেতঃ ;
বৃথা কেন আত্ম দ্বন্দ্বে হও সবে ৰত,
অশিব নিদানকার্যে রত কি কারণে?
হে অনল, হে অনিল, ক্ষান্ত হও রণে,
অমরের কীর্তি, মান বিদিত সংসারে
এ হেন কুৎসিত কাৰ্য্য সাজে কি তাহারে।
অস্তমিত যশঃ রবি হলাে এতক্ষণে ।
স্বাধীনতা মহারত্নে জনমের তরে
অতল জলধি গর্ভে করি বিসর্জন,
দাষত্ব নিগড়ে বদ্ধ করেছ চরণ,
তবু কি সে তৃপ্ত নহে বাসনা অন্তরে ? .
ভীমাকৃতি দৈত্যদল নির্ভয়ে অদূরে,
শক্রর অন্বেযিয়া ভ্রমে অবিরত,
পাইলে বারতা তারা হয়ে প্রফুল্লিত,
আমিবে সুর বৃন্দে আসি মৰ্ত্তপুরে।

প্রথম স্বর্গ ।
ধিক্‌! ধিক্‌! শতধিক! দেবের জীবনে,
যশঃ ক্ষয়, ৰীৰ্য্য নাশ, আত্মীয় সংহার,
অরাতি উৎসাহ বৃদ্ধি যে কার্যে সঞ্চার,
কেন সে জঘন্য কার্যে রত সুরগণ।
দলিত করিয়া বন্ধু রিপু পদতলে,
পবিত্র দেবের তনু কলুষ সাগরে,
ডুবাতে বাসনা হায়! করেছ অন্তরে
ধিরে । অমর নামে, ধিক্ বাহুবলে !
এখন ও কি নিদ্রাভরে দেখিছস্বপন,
দৈত্যের করাল ছায়া হৃদয়ে অঙ্কিত,
জানি সে কতদিনে হইবে জাতি
দৈত্য পদাশ্রিত দেব বুঝিবে তখন।
বেষ্টত অমর চম্‌ অতি সাগরে,
কৌশল তরঙ্গচয় নিয়ত উথিত,
ঐক্যতরী ভাসে তায় সাহস সজ্জিত,
কর্ণধার যুক্তি বিনা কে লইবে পারে।
আত্মপর জ্ঞানশূন্য আত্মীয় মণ্ডলে,
কে আছে তাহার সম মুখ চরাচরে,
পশুর (ও) জাতীয়প্রম বিরাজে অন্তরে,
তা হতেও হেয় কিসে দেবতা সকালে ;

তারক সংহার কাব্য।
মানিনী যুবতী যথা বসি একাসনে
পতিসহ, বাক্যালাপে বিরত অন্তরে,
লজ্জিত দেবতাবৃন্দ, অভিমান ভরে
নিরুজুর, বাক্যহীন বরুণ বচনে।
দণ্ডহস্তে দণ্ডধর নির্ভয় অন্তরে
(হায় রে মার ভয়ঙ্কর যে দণ্ডের বলে
‘আবাল বনিতা বৃদ্ধ ত্রাসিত সকলে)
সম্বােধি বারিধে তবে কহে উচ্চৈস্বরে।
“ যা কহিলে সত্য ওহে জলদলপতি ;
কার্ভিলােপ, ধৰ্ম্মক্ষয় যে কার্যে ঘটন,
কে সে ঘৃণিত কার্যে রত সুরগণ,
না জানি অমর ভাগ্যে আছে কি দুর্গতি
অকারণে আত্মদ্বন্দ্বে র পরস্পর,
সম্মুখে প্রবল শত্রু বিরাজিত হয়,
কেমন জিনিবে রণে মা তাবি উপায়,
কেবল জঘন্য কার্যে রত নিরন্তর।
পুরন্দর, শচীকান্ত, দেব কুলপতি,
বৃথা কেন চিত্ত মনে, ভাব অকারণ,
নিয়তি নিয়ম বাধ্য ব্রহ্মাণ্ড ভুবন,
কে পারে রােধিতে ভবে প্রাক্তনেরগতি

প্রথম স্বর্গ ।
ভ্রাম্যমান্ জগতের সকলি অস্থির,
কালচক্রে নিয়তই হতেছে পেষিত,
রথচক্র সম প্রায় হইয়া ঘূর্ণিত,
সাম্যভাব চিরদিন কোথা প্রকৃতির।
কে কোথা হেরেছে ভবে চিরসুখীজন,
ঐশ্বৰ্য্য, বিভব, পদ, গৌরব, সম্পদ,
অনিত্য সকলই ভবে, নহে চির পদ,
অলঘ্য ধাতার লিপি নাহয় খণ্ডন।
০
যতদিন দৈত্যভাগ্য সুপ্রসন্ন রবে,
না পারিবে কেহ তারে জিনিতে সমরে,
কেবল কলঙ্ক সার হইবে অমরে,
নিষ্কণ্টকে স্বর্গরাজ্য ভুঞ্জিবে দানবে।
দাষত্ব-পাদুকা শিরে করিয়া বহন
ছদ্ম বেশে কতদিন ভুমিব এ ভবে,
কত কালে দৈত্য-ভাগ্য বিলুপ্ত বা হবে,
চল সবে জানি গিয়া ধাতার সদন।”
সুমধুরবাক্যে ইন্দ্রে করিয়া সান্ত্বনা,
কহিল কৃতান্ত দেব বিষগ্নহৃদয়,
“যত দিন দৈত্য ভাগ্য না হবে নির্ণয়,
ভুঞ্জিতে হইবে ,দবে অনন্ত যাতনা।”

তারক সংহার কাব্য।
চিন্তাকুল আখণ্ডল বসিল সভয়ে,
বিষম ভাবনাশ্ৰাত হইরা বাহিত
সংক্ষুব্ধ সাগর প্রায় আন্দোলিত চিত,
জানিতে ভবিষ্য-বাৰ্তা কামনা হৃদয়ে।
গােমুখীর মুখ যথা সুম্বনে বাহিত,
বিশাল পৰ্বত বক্ষঃ বিদারিয়া বলে,
ঝরে পূতঃ বারিধারা অবিরল ধারে,
গজ শুণ্ডাকার সম ধরায় পতিত ।
নিৰ্ম্মল নিঝর নীরে প্রফুল্ল অন্তরে
অভিষেক হেতু সবে নামে কুতূহলে,
পবিত্র দেবের তা স্পর্শি গঙ্গাজলে,
ধরিল অপূৰ্ব্ব শােভা শৈলেশ শিখরে ।
দৈত্যের লিধন বাঞ্ছা চিন্তির অন্তরে,
সঙ্কল্প করিয়া চিত সে ব্রত পালনে
উঠিল বিমান পথে বিমানারােহণে,
ধাইল বিষাদে সবে ভেদিয়া অম্বরে।

দ্বিতীয় স্বর্গ । স্বর্গীয় সুষমা নৈমিষ কাননে সুরবাল সনে ভ্রমে পুলােম-নন্দিনী। সঙ্গে,সহচরী চপলা সুন্দরী রতি মদনমােহিনী। রুপে নিরুপমা কি আছে উপমা, দিতে সে তুলনা ভৰে । ও মুখ চন্দ্র মা, কেমনে শিব তবে। কষিত কাঞ্চন জিনিয়া বরণ চারু ইন্দু নিভানন। রুপের প্রভাষ ঝলসিছে কায় উজল করেছে বন। মাধুরী সম্ভার তনুরুচি সার কোমল কমল প্রায়। অলক্ত রঞ্জিত চরণ শোভিত ভ্রমর গুঞ্জরে তায়। চাতুরী ছলনা অবল ললন না জানে কাহারে বলে । সারল্যের খনি স্নেইস্পর্শমণি বিরাজে মানস তলে। সে পবিত্র ভাবে শিখাতে মানবে উইয় ধরণী তলে।

তারক সংহার কাব্য। চুচুক চুম্বিত হেরিলে ও মুখ শােক তাপ দুঃখ দূরে যায় সব চলে। আপৃষ্ঠ লম্বিত অলকা শােভিত কায় । বিমুক্ত কুন্তল, গিয়াছে সকল, নাহি সে মাধুরী হায়। ত্রিদিব ঈশ্বরী স্বর্গ পরিহরি বিরাজে অবনী মাঝ । যেন রাখা শশী পড়িয়াছে খসি, লুণ্ঠিত ভূতলে আজ। দুঃখ নব ঘনে ঢেকেছে বনে নাহি সে সুষমা আর। পূর্ণ শশধরে না জানি কি করে হইল কলঙ্ক সার। কি জানি কি দুঃখে পড়িয়াছে মুখে বিষাদ কালিম রেখা। দহে দুঃখানলে, না জানি কপালে আরও বা কি আছে লেখা। কিচ নলিন নিন্দিত নয়ন, বারিধারা ঝরে তায়। তুষার আসর হইয়া সঞ্চার ভিজেছে নলিন কায়। তিতি অনীরে সম্ভাষি রতিকে কহিল মধুরস্বরে।

দ্বিতীয় স্বর্গ। যে দু :খ অন্তরে কহিব কি করে, আছিলো মরমে মরে। পরের বেদন পরে কি কখন পারে কি বুঝিতে মনে। প্রতী বিহনে প্রসব বেদনে জানে কি অন্য জনে । স্বামী রাজ্যহত, পুত্ৰ মূৰ্ছাগত, ঘটিয়াছে কভু যায় । জানে সেই জন, সে দুঃখ কেমন নারীর অন্তরে হায় । না জানি কি বিধি নিদারুণ বিধি লিখেছেন মম ভালে। এ দুঃখ রজনী প্রভাত সজনি, হবে কি গাে কোন কালে। মীনকেতু-জায়া কাতর হৃদয় কহিছে শচীরে ধীরে। পুলােম-নন্দিনি, কেন বিষাদিনী, ভাসিছ নয়ন নীরে। অচিরে সজনি, হইবে প্রভাত তব। হৃদয়ে প্রকাশি, নাশিবে দুঃখ সব। আহা দেবেন্দ্রানি, তুমি স্বর্গরাণী, আমরা কিঙ্করী সবে। এ দুঃখ রজনী পুনঃ সুখ রবি

তারক সংহার কাব্য
ভূষণ বিহনে
পূজিতে চরণে বড় সাধ মনে,
কবে সে পূরণ হবে।
হেরে অশ্রুধারে ইচ্ছি মরিবারে,
চাহি অমরপুরে।
সশ্বর রোদন,
এ মনোবেদন
অচিরে যাইবে দূরে ।
সাজায়ে যতনে
চারু আস্তরণে
হেরিব মানস করি।
ও চারু গঠনে
সাজে কি কখন মরি।
কেন এলাে কেশে এ মলিন বেশে
রয়েছ সজনি বল।
বিনাইয়া বেণী বধি দেবেন্দ্রানি
দিব ও চারু কুন্তল।
বাসব রমণী
শচী সুবদনী
কহিল, রতিরে তবে।
যেন তন্ত্রী তার
করিয়া ঝঙ্কার
বাজিল মধুর রবে।
কহে ইন্দ্র জায়া, শুন কাম জায়া,
যে দুঃখে অন্তর জ্বলে।
স্মরিলে সে কথা মনে পাই ব্যথা,
মরি জ্বলি মনানলে।
কেন দেবেন্দ্রানী, বলি কাম রাণি,
স! শচীরে অার।

দ্বিতীয় স্বর্গ। এবে দৈত্য রাণী, হলো স্বর্গ রাণী, ইন্দ্রাণী কি তুল তার। সিংহের মহিষী শৃগালের দাসী হইল কপাল গুণে। শচীর ললাটে আরও বা কি ঘটে, কি আছে বিধির মনে। কবরী বন্ধন কি সুখে এখন, করিব সজনি বল। বসন ভূষণে সাজিয়া যতনে বল কি হইবে ফ। গিয়াছে সে কাল, শচীর কপাল ভেঙেছে সজনি এবে। শচী ভিখারিণী, জনম দুঃখিনী, কি হবে তাহারে সেবে। রতি গলা ধরে 'কঁদে মৃদু স্বরে, বসনে বদন ঢাকি। মুছায়ে অঞ্চলে, নয়নের জলে ভাষে রতি তিতি আঁখি। কেন সুলােচনে, চারু চাননে, টেকেছ বসনে মরি। স্মরিলে ও কথা পাও যদি ব্যথা, কি কাজ তবে সে স্মরি। দৈত্য দুরাচার স্বর্গ অধিকার করিয়াছে সখি, বলে। .

তারক সংহার কাব্য। i. সে গৰ্ব্ব তাহার তূর্ণ চুর্ণাকার হইবে কর্মের ফলে। হরি পরধন কেহ কি কখন সুখী এ ধরণী মাঝে। দ্য দৈত্যপতি এ কুৎসিত বৃত্তি তেঁই সে তাহারে সাজে। পতি তব যথা আশুগতি তথা পাঠাও সখি চপলায়। পাইলে বারতা যাবে সব ব্যথা, দহিতে হবে না হয় । পতি তব বীর, কেন গো অধীর, একি গো নিরখি সখি। দৈত্যকুল নাশি আশু তিনি আসি উদ্ধারিবে তােমা সখি । এ জালা ঘুচিবে, হাসিবে মধুর হাসি। হেরে সে মিলন জুড়ব জীবন, সুখের সাগরে ভাসি। শুনি রতিবাণী, কহিল ইন্দ্রানী রতি লো কি কহিব আর। যা ছিল সম্বল, গিয়াছে সকল, কি দিয়া শুধিব ধার। মদন মােহিনি, হওলো সুখিনী, আশীযি তােমায় বালা। পুনঃ সে মিলিবে, দ্বিতীয় স্বর্গ। এবে সে দুঃখিনী, পিয়িলে ও সুধা দূরে যায় ক্ষুধা ভুলি সে অমনি জ্বালা। যাওলো চপলে দ্রুত রণ স্থলে, বলে সে নাখেরে মম। শর্চী অভাগিনী, কে আছে তাহার সম। কত দিন পরে অমর নগরে প্রবেশি জুড়ব প্রাণ। হইয়া বন্দিনী মৰ্ত্ত নিবাসিনী সব কত অপমন্। শচী আদেশিল, চপলা চলিল, দ্রুতগতি রণস্থলে। কি আছে তুলনা, গতির উপমা ধাইল বিমান তলে। পুনঃ সে রতিরে সম্ভাষিয়া ধীরে কহিল পুলােম-রালা। পুনঃ কি অমরে হেরে স্বর্গপুরে জুড়াব হৃদয় জ্বালা। বসি পতি পাশে তুষিব সাদরে তারে। গাঁথি প্রেম হার বিয়। উপহার বাধিব হৃদয়াগরে। নন্দন কাননে সুরবালা সনে কভু কি ভ্ৰমিব আর। ০ সুমধুর ভাষে २२ তারক সংহার কাব্য। পারিজাত তলে বসি, কুতূহলে নামাব হৃদয় ভার। সরােবর মাঝে নলিনী বিরাজে, তুলিয়া পরিব কেশে। বেণী বিনাইয়া কুন্তল বাঁধিয়া সাজিব মােহন বেশে। বিদ্যাধরী দলে মিলিয়া সকলে নাচিবে গাহিবে সবে। অপ্সরা নৰ্ত্তন করিয়া দর্শন জুড়াইব আঁখি কবে। হাব ভাব হেরে সুখের সাগরে ভাসিব নাথের সনে। কভু কি শচীর নিরাশা তিমির ঘুচিবেলে এ জীবনে। ইন্দুনিভাননা রতি সুলােচনা কহিল শচীরে পুনঃ। রোদন সম্বর, দুঃখ পরিহর, নিভিবেলে মনাগুণ। আহা মহেন্দ্রানি, অমঙ্গল বাণী কভু কি হৃদয়ে সয় । পতি অকল্যাণ করিতে বিধান নারীর উচিত নয়। হৃদে ভাব হরি, পূরিবে বাসনা তব । দুঃখ পরিহরি

দ্বিতীয় স্বর্গ ।
অনন্ত যাতনা ভুঞ্জিতে হবে না
ঘুচিবে বিষাদ সব।
অগতির গতি বৈকুণ্ঠের পতি
অবলা হৃদয় বল।
বিনা মাপতি সতীর দুর্গতি
কে নাশিবে বল।
বসি রতি পাশে
সুমধুর ভাসে
ভাষিছে পুলােম-বালা।
দ্রুতগতি আসি শচীরে সম্ভাষি
কহিল সখি চপলা।
পালিতে আদেশে উঠি নভঃদেশে
চলিনু সত্বর পদে।
আরােহি বিমানে প্রথম সোপানে
পড়িনু ঘাের বিপদে।
স্বর্গের দুয়ারে
দানব বিহারে
হেরিনু সভয়ে হায়।
মত্ত মহােৎসবে, সে ভীষণ বরে
আতঙ্কে কম্পিত কায় ।
সভয়ে নিরখি ফিরাইনু আঁখি
দুষ্ট দানবের দলে।
হেরে অমরে
বিষন্ন অন্তরে
পুনঃ সে ফিরি চলে।
আসিতে অসিতে
স্বর্গ মধ্য পথে
হেরিলাম বৈশ্বানরে।

২
৪
তারক সংহার কাব্য।
হলাে না এখন
জামায়ে কুশল,
পুনঃ সে অনল
জিজ্ঞাসে কুশল মােরে ।
বিধাতৃ সদন
করিছে গমন
দৈত্যের বিনাশ আশে।
চপলার বাণী শুনিয়া ইন্দ্রানী
কহিল রতির পাশে।
কহিল ইন্দ্রানী
মন্মথ মােহিনি
শুনিলে সকলি মরি।
দৈত্যের নিধন,
কি সুখে জীবন ধরি।
দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি পড়িল আছাড়ি
লুণ্ঠিয়া ধরণী তলে।
পড়িল রে খাস,
ত্যজিয়া গগণ তলে।
ব্রততী যেমতি। পড়িল তেমতি
ধুলায় ধূসর কায় ।
শচী শ্রুষায়
নিযুক্ত সেবায়
হায় রতি চপলায়।
যেন পূর্ণ শশী
।

তৃতীয় স্বর্গ।
নমি আমি পদাম্বুজে কেশববাসনা,
উর মা, হৃদয়াসনে শ্বেতপদ্মাসনা,
শ্ৰীতিপুষ্প ভক্তিধনে, পূজিতে মা ও চরণে,
উদিত অন্তরে মম হয়েছে বাসনা,
অভয়ে, অভয় দানে হওনা কৃপণ।
আদিত্য সভার মাঝে নব রত্নগণ
আদিত্য সদৃশ সবে উজলি ভুবন,
নব নব রসালিত,
রচিয়া কবিতামৃত,
উল্লাসে করিত তব সুষশ কীৰ্ত্তন,
পূজিত আনন্দে মাগাে! ও রাঙা চরণ।
তেমতি বাসনা মম হইয়াছে মনে,
অর্চিব বিমলে, তব বিমল চরণে।
কবিতা কুসুম স্তরে,
মনসাধে ভক্তি ভরে,
সাজাব চরণ তব সাদরে যতনে,
কবির মানসলােভা কল্পনার ধনে।
মাইকেল, হেমচন্দ্র বঙ্গকবিগণ
বঙ্গীয় সাহিত্যাগারে অমূল্য রতন।
ভারত ভারতখ্যাত, গুপ্ত, দত্ত সুবিখ্যাত,
যশের প্রভায় সবে উজলে
ভুবন,
লেখনী-লিখিতে রত নমি সে চরণ।

তারক সংহার কাব্য।
সুমেরু শিখর পারে ত্রিদিব আলয়,
যাের্গী বাসনা স্বর্গ বিরাজে যথায়।
মন্দাকিনী কলম্বিনী, মৃদুনাদে নিনাদিনী,
সুধার সুধারা যেন বরষে ধরায়,
উদ্ধারিবে নরলােকে মনে অভিপ্রায়।
। নন্দন কাননে যথা কল্পতরুচয়,
মােক্ষ ফল দানে তােষে যাচক হৃদন্ত ।
আস্বাদি অমৃত ফলে,
ব্ৰহ্মলােকে যায় চলে,
জীবন্মুক্ত হয় নর পরশনে লয়,
লভিতে জনম ভবে পুনঃ নাহি হয়।
সুলোচনা বিধরা বিদ্যাধরীগণে,
রমিত করিয়া কায় সুচারু ভূষণে,
কটাক্ষ কুসুমন,
হানিয়া দর্শক প্রাণ,
ভুলতে চেষ্টিত সদা বঙ্কিক কুক্ষণে,
খঞ্জন গঞ্জিত মরি অায়ত লােচনে।
৫
কামঘ দুগ্ধধারা নিয়ত ক্ষরিত,
তাপিত তৃষিত তৃষা করি নিবারিত,
পীযূষ পূরিত পয়ঃ লীয়ে সুখে ভক্ত চয়,
বিধূত কলুষরাশি প্রেমে পুলকিত,
অপার শান্তির ক্রোড়ে অনন্ত শায়িত।

তৃতীয় স্বর্গ।
মানস বিহঙ্গ মম কুলায় ত্যজিয়া,
উড়িল কল্পনা পথে পক্ষ প্রসারিয়া 1.
মুনির মানস লােভ, মরি কি অতুল শােক
অনন্ত সুষমাপূর্ণ মাধুরী স্বর্গীয়া,
সফল হইবে আত্মা ননে হেরির।.।.
দেব শিল্পী বিশ্বকৰ্ম্ম স্বহস্ত চিত্রিত,
শােভিছে অমরাবতী অপূৰ্ব্ব শােভায় ।
চমৎকার চারু কারু কাৰ্য্য সমন্বিত,
শিল্পীর অদ্ভুত শিল্প প্রকাশ হয়।
মণিমুক্তা, মরকত, হীরক খচিত,
কাঞ্চন মণ্ডিত গৃহ করি আলোকিত,
অয়স্কান্ত সূর্যকান্ত চন্দ্রকান্ত মণি
শোভিছে উদয়াচলে যথা দিন মণি।
অতুচ্চ প্রাসাদ চূড়া করি। ধারণ
স্ফটিকের স্তম্ভরাজি চৌদিকে শশাভিত ।
বিস্তারি সহস্রফলা অনন্ত যেমন,
সাদরে ধরেছে শিরে ধরা সুশােভিত ।
সুগন্ধী কুসুল মাল্যে হইয়া ফড়িত,
দুলিছে দোলকবং ঝাড় অগণন,
শ্বেত পীত লাল নীল নয়ন রঞ্জন,
বিবিধ বরণে মরি হইয়া রঞ্জিত।

তারক সংহার কাব্য।
বিকশিত পারিজাত কিবা শােভা ধরে,
মধুর
সৌরভে সভা করি আমােদিত,
তুষিতে দীনের চিত প্রফুল অন্তরে
বিতরেন ধনী যথা ধন অগণিত।
গুঞ্জনে বিরত অলি পরিমল লােভে,
নাপশে সুরভিপূর্ণ কুসুম আসবে,
শোকাকুল পীককুল মৌনী মনঃ ক্ষোভে,
হেরে বাসবে সবে রয়েছে নীরবে।
নববাদগত মুকুলিতচ্যুত পত্র সা র;
আন্দোলিত স্তম্ভোপরে বায়ু সঞ্চালনে,
পূর্ণ বারি হৈম কুম্ভে সিন্দুর সঞ্চার,
প্রোথিত কদলি তরু বাহির তােরণে
জিনিয়া অমর রাজ্য নিজ ভূজবলে
মাঙ্গলিক কাযে রত অনুক্ষণ সবে।
গাইছে গায়কী নট নাচে কুতূহলে,
বহিছে আনন্দ স্রোত মত্ত মহোৎসবে।
এহেন সভায় বসি দনুজ রান,
পাত্রমিত্র সভাসদ বেষ্টিত সকলে,
বেষ্টিত তাৰক জালে শশাঙ্ক যেমন,
উদিত রজনী যােগে নীল লভঃস্থলে।

তৃতীয় স্বর্গ।
পন্ধিহাস বাক্যালাপ কৌতুক তরঙ্গে
আন্দোলিত আলোড়িত দৈত্য সভাস্থলী,
তুষিতে দৈত্যেন্দ্র চিত্ত বাক্যের প্রসঙ্গে
উন্মত্ত দানৰ কুল করে হুলহুলি।
শিষ্যের কল্যাণবাঞ্চা চিন্তিয়া অন্তরে,
উপনীত দৈত্যগুরু দানৰ সভায়।
উচ্চারি মঙ্গল বাক্য মধুমাখা স্বরে,
অর্থ হন্তে তপােধন আশীষ তাহা ।
সসমে দৈত্যরাজ ত্যজিয়া মাসন,
প্রণমি অষ্টাঙ্গে পদে মহাভক্তি ভরে,
করপুটে নতশীরে রহি কতক্ষণ,
গুরুদত্ত অর্থ শীরে ধরিল সাদরে ।
আশীষি তােমায়, বৎস!-কহে তপােধন,
কীর্তিমান্, আয়ুষ্ম, যশস্বী ভুবনে,
রণশ্রান্ত ক্লিষ্টত শ্রম বিমােন
হইবে বিজয় লকা প্রসাদ ভুজনে।
হুশ্রমে বুশরু করেছ রােপণ,
আদি সুরস ফলে তৃপ্তি হবে মন ।
যশরি! পরম যশ লভিলে ভূতলে,
উড়াইলে কীর্তি ধ্বজা এ বিপুল কুলে -

তারক সংহার কাব্য।
রাখিলে বংশের মান স্বীয় বীৰ্য্যবলে,
ফুটিল গৌরব পুষ্প দৈত্যতরু মূলে।
যশের সৌরভে তার জগৎ পূরিবে,
কে জানিত দৈত্য ভাগ্যে এ সুখ ঘটিবে।”
গুরুর কল্যাণ বাক্য করিয়া শ্রবণ
হৃষ্টচিত্তে দৈত্যরাজ কহিলেন তারে ।
পাইলে ও পদধুলি,
কেশব বাসবশূলী,
কিছার অমর গুরাে! না ডরি কাহারে,
সম্পদে বিপদে মাত্র ভরসা চরণ।
;
ঐড়স্থলী রণভূমি জ্ঞান হয় মনে ;
নহে সে অন্তর ভীত সংগ্রাম মাঝারে,
অস্ত্র বৃষ্টি বরিষণে, ধূলি খেলা ভাবি মনে,
পুষ্পঘা জ্ঞান অঙ্গে অশনি প্রহারে,
তৃপ্ত হ বাহু মম অমরের রণে।
গুরাে ! গুরুভার জিনিতে অমরে।
বালক অমর পতি অমর নিকরে,
রবিচন্দ্র হুতাশনে,
আখণ্ডল প্রভঞ্জনে,
হেরিয়াছি বহু যুদ্ধে আসিতে শমনে,
ৰিমুখ রক তবু নহে কভু রণে।

তৃতীয় স্বর্গ।
৩১
রণ শ্ৰন্ত ক্লিষ্ট তনু বিরাম সাধনে
সুখের পয়ােধি মাঝে ভাস চিরতরে,
গুরুর কর্তব্য যাহা, কেন না পালিব তাহা,
শিষ্যের কল্যাণবাঞ্চা জাগিছে অন্তরে,
বিব্রত নিয়তচিত অশিব নাশনে।
চির শত্রু অসুরের অমর নিচয়,
কেনা জানে বল তাহা বিখ্যাত সংসারে।
চির অরি বিনাশিতে,
কার না বাসনা চিতে
কে আছে কাপুরুষ হেন দৈত্যের মাঝারে
প্রতিদ্বন্দ্বী শত্রুপদে লইবে আশ্রয়।
দৈত্যকুল শশধর! চির সুখী হয়ে
অহরহ: ভ্রম সুখে অমর ভবনে।
অরাতি সাগর মন্থি, পাইলে যে রত্নগ্রন্থি,
সাদরে ধরিয়া কণ্ঠে সে অমূল্য ধনে,
বিরাজ ত্রিদিব মাঝে দৈত্যগণ লয়ে।
বরুষ আমিয় সুধা কল্যাণ বচন,
প্রয়ানিশ দৈত্যগুরু প্রফুল্ল হৃদয়ে ;
পুনঃ তায় আশীষিয়া,
স্বস্তিবাক্য উচ্চারিয়া
চলিল সত্বর পদে আপন আলয়ে ;
চিন্তিত কল্যাণ সদা করিতে সাধন।

তারক সংহার কাব্য।
শুঞ্জেরে বিদায় দিয়া বিষয় অন্তরে,
ভাবিছেন দৈত্যপতি ব্যাকুলিত মনে।
মণিময় সিংহাসনে,
বসিয়া সচির সনে,
বিরত কাতর চিত বাক্য আলাপনে ;
সম্বােধি অমাত্যে পুনঃ কহিল কাতরে।
কল হে অমাত্য ! শুনি কিসের কারণে,
কেন না আইল দূত ফিবিয়। সভায় !
শত্রু যুক্তি জানিবারে, গিয়াছে ধরণী পরে,
পারিল কি সুরগণ চিনিতে তাহায় ?
ভীষণ-নিহত কি সে অমরের রণে ?
গিয়াছে একাকী, সঙ্গে নাহি সেনাপতি,
জানিতে নির্ভয়ে বীর অমর যুকতি।
কপটা দেবের দলে
চিনিল কি মন্ত্র বলে,
করিল কি সবে মিলে ভীষণ দুর্গতি।
বলিতে বলিতে দূত সহসা উদিল।
ভীষণ ভীষণকায় দাঁড়ায়ে অন্তরে,
করঘােড়ে সকাতরে, কহিল বিষাদ ভরে
অমরের বার্তা মুক্ত দৈত্যেশ গোচরে।
নির্ভয় হৃদয়ে বীর কহিতে লাগিল ;

তৃতীয় স্বর্গ।
পালিতে আদেশ তব পশি মৰ্ত্তপুরী
অবনীর মেরুদণ্ড হিমানী অচলে,
হেরিনু অমর দলে, ক্ষুব্ধ চিত্ত অখণ্ডলে,
বিমর্ষ সরিৎপতি, অনিল, অনলে
গণিছে হৃদয় তার প্রমাদ লহরী।
B
.
আত্ম দ্বন্দ্বে রত সবে দেখি পরস্পরে
প্রবেশিনু ছদ্মবেশে সে সবার দলে।
দৈত্যের অদ্ভুত ছল,
অমরের বুদ্ধিবল
পারে কি ভেদিতে তায় কভু সুকৌশলে ;
কি সাধ্য দানব মায়া বুঝিবে অমরে?
সুরবৃন্দে সঙ্গে লয়ে অমর ঈশ্বর
করিল বিষম যুক্তি দানব নিধনে,
ত্রিদিব উদ্ধার আশে, গৈল সবে ধাতা পাশে,
আশু সে পশিবে আসিমপুরের বনে,
তারক সংহার কার্য সাধিতে সম্বর।
এহেন বারতা শুনি দূতের বদনে
সহাস্যে দনুজপাত কহে উচৈঃস্বরে,
নিম্ন জ্জ অমরগণে,
লজ্জা নাহি কারও মনে,
তেঁই সে বাসনা পুনঃ পশিতে সমরে,
নতুবা এখনও বাঞ্চা দৈত্যের নিধনে।

তারক সংহার কাব্য ।
নহে সে মাসাদ্ধ গত জিনিয়া সমরে,
খেদাইমু সুরবৃন্দে পাতাল ভবনে।
বিষম সুতীক্ষ্ণ শরে,
জর্জরিত কলেবরে,
পলাইল প্রাণ ভয়ে পৃষ্ঠ দিয়া রণে,
তবু সে হলােনা ঘৃণা দেবের অন্তরে।
।
ধিক্ ! সে দেবতা কুলে নিল্লজ্জ জীবনে,
কেমনে দেখাবে মুখ পুনঃ দৈত্যগণে?
দানবের বীৰ্য যত, সকলেই আছে জ্ঞাত,
হেরেছে স্বচক্ষে সবে সমর প্রাঙ্গনে,
এখন (ও) ব্যথিত তনু শর প্রহরণে।
সম্বােধি দনুজ নাথে ভগ্ন কণ্ঠ স্বরে,
কহিল অমাত্য, (বুধশ্রেষ্ঠ ভবতলে।
দৈত্যনাথ! বৃথা কেন,
সুখুনীরে নিমগণ,
ভেবেছ কি সুবৃনে পরাজয়ি রণে,
অনন্ত নিষ্কৃতি লাভ করেছ সমরে ?
যতদিন স্বর্গপুরে রহিবে দানব,
পশিতে হইবে সবে অমরের, রণে। •
স পিয়া অরির করে, রাজ্যধন চিরতরে,
কে কোথা ত্যজেছে যুদ্ধ হয়ে পরাভব,
বিজয়ী শত্রুর পদে দলিয়া জীবনে।

তৃতীয় স্বর্গ।
অমর অমরকুল নাহি সে মরণ,
তেঁই সে সাহস ভরে দানবে আক্রমে,
অনন্ত সাগর সম,
অগণ্য অমর চমু,
বেষ্টিবে স্বরগ ভূমি বিপুল বিক্রমে,
না ছাড়িবে কভু রণ থাকিতে জীবন।
কহিল দনুজনাথ, রণাগ্নি নিৰ্ব্বাণ,
হবেনা জানি সে ওহে, অমাত্য প্রধা
যতদিন স্বর্গেরবে, দানবে ভুঞ্জিতে হবে
অমর সমর ক্লেশ অনন্ত যাতনা,
জানি আমি দৈত্য ভাগ্যে ঘটিবে লাঞ্ছনা।
যা আছে অদৃষ্টে তাহা নিশ্চয় ঘটিবে,
সুবিধি বিধির বিধি চিরদিন রবে,
ললাট লিখন যাহ,
লজিতে কে পারে তাহা,
বল কে জিনিবে তায় ভীষণ অহবে,
যতদিন দৈত্য ভাগ্য অক্ষুণ্ণ রহিবে।
কে কোথায় ভাবী দুঃখ ভাবিয়া অন্তরে,
ব্ধ সুখ কাজি মজে শােকের আগারে
গৃহ দগ্ধ হবে বলে,
গৃহী কি সে গৃই ফেলে,
পলাম স্বজন সঙ্গে বিজন কান্তারে,
ত্যজে কি কুরঙ্গী বন ডর বাধশরে ?

তারক সংহার কাব্য।
কহিল অমাত্য তবে, আদেশ সত্বরে,
সৈনাধ্যক্ষে সাজাইতে সেনা অগণন,
কি জানি আলিয়া কবে,
দৈত্যপুরী আক্রমিবে,
আবরিবে শরজালে গগণ প্রাঙ্গন,
খেদাইবে বাহু বলে অসুর নিকরে ।
সামান্য ভাবিয়া অরি উপেক্ষিতে রণে
বিজ্ঞের কর্তব্য নহে ঘৃণিতে অরাতি।
যুক্তির বিরুদ্ধ যাহা, পালিলে অবশ্য তাহা,
ঘটিবে কুফল তাহে নীতি উল্লঙ্ঘনে,
জ্বলিবে বিষম বিধ প্রজ্জ্বলিত বাতি।
-
।
সম্বােধি অমাত্যে পুনঃ কহিল রাজন,
বৃথা চিন্তা মুন্ত্রিবর! পরিহর মনে,
গন্ধৰ্ব্ব কিন্নর সুরে,
পশে যদি স্বর্গপুরে,
পশিব নির্ভয়েতবু অমরের রণে,
না হবে তারক তায় বিমুখ কখন ?
৮.
যামিনীর অর্ধযাম ক্ৰমশঃ বিগত,
মলিন শশাঙ্ক জ্যোতিঃ নিভ এখন,
পরধনে ধনী শশী, সুধাময় সুধা রশ্মি,
বিতরি তেঁই সে প্রভা উজলি ভুবন,
ধীরে ধীরে অস্তাচলে পশিতে উদ্যত।

তৃতীয় স্বর্গ।
৩৭
দেখিতে দেখিতে বিশ্ব তিমিরে গ্রাসিল,
তমােময় বাসে সতী আবরি বদনে,
বিস্তারি বিকট আস্য, হাম্বিয়া ভীষণ হাস্য
সাজিছে রূপসী নিশি মঞ্জিত দশনে,
নৃমুমালিনী যেন সমরে সাজিল।
গৌরবে গলায় পরে তারার ননী,
অহঙ্কারে কাফরীনারী শশাঙ্কে কটাক্ষ করি,
আলিঙ্গন আশে ধনী যায় ত্বরা করি,
ঘৃণা ভাবি মনে শশী ষায় পরিহরি।
হেরে সে কুৎসিৎ কায়, ভাল নাহি বাসি তায়,
লুকালাে আড়ালে শশী মনে ইচ্ছা করি।
সঙ্গে লয়ে নিদ্রা সখী স্বপ্ন সহচরী,
ফিরিছে রজনী সতী ,
অমর
আলয়ে।
কাতর নিদ্রার ভরে, পড়িছে ঢলিয়া সবে,
আলিঙ্গিতে মুখে তায় প্রফুল্ল হৃদয়ে,
ব্যস্ত-চিত্ত দৈত্যকুল ভুঞ্জিতে শর্বরী।
আদেশিল দৈত্যরাজ ভাঙ্গিতে সভায়,
নিদ্রায় কাতর চিত দানবমণ্ডলী ।
কোলাহল পূর্ণ করি ত্যজি সভাস্থী
প্রণমি দৈত্যেত্নে পদে হইল বিদাষ ।

৮
তারক সংহার কাব্য।
প্রবেশিয়া অন্তঃপুরে দৈত্য চুড়ামণি
দানব কুলের গৰ্ব ভরসা আশ্রয়।
বিরাজে মহিষী যথা, আশুগতি গিয়া তথ্য,
হেরিয়া অপূৰ্ব্ব ভাব বিস্মিত হৃদয়,
ভাৰিল প্রমাদ কি বা ঘটিল এখনি।
ঢেকেছে অঞ্চলে বামা সুন্দর আনন,
নাহি অঙ্গে অলঙ্কার, কবরী কঙ্কন হার,
রতন মুকুতা হীরা ফুল আভরণ,
মুক্ত-কেশে ধরাতলে
ভাসিছে নয়ন জলে,
সৌগন্ধ-লেপিত দেহ ধুলায় লুণ্ঠন।
প্রফুল্ল-পঙ্কজে কীট করেছে আশ্রয়,
ঈর্ষা বিষরাহ আসি গ্রাসিছে হৃদয়।
মুখে মধুময় হাসি, অন্তরে গরল রাশি,
বিষকুম্ভ পয়ঃমুখ নিষ্ঠুর নিদয়,
সাবাস রমণী যার কঠিন হৃদয়।
পাতিয়া চাতুরীফঁাদ,
ভুলায় রমণী ব্যাধ,
লুব্ধ-মৃগ পড়ে তায় পুরুষ নিচয়।
dh
.
নির্জনে মিশায়ে বিধি সুধায় গলে,
থুয়েছে কি দানবীর হৃদয় কমলে ?
অমতে গরল মিশি, বামার অন্তরে পশি,
বিষয় বিষের বহ্নি হৃদে যবে জ্বলে,

তৃতীয় স্বর্গ।
কি যে তাহা কি ভাব সে বর্ণিব কি বলে ?
কে বলে অবলা বামা, প্রবল তাহার সমা,
কে আছে চঞ্চলা বল ভূবন মণ্ডলে ?
নারীচক্রে পিষ্টনর পড়ি পদতলে,
সংশয় জীবন তার স্পর্শি হলাহলে।
ভুলাতে পুরুষ মন, জানে সে রমণীগণ,
ক্রীড়ার পুতলী সম নাচাইতে কলে ।
আকর্ষণী শক্তিবলে
আকৃষ্ট
পুরুষ দলে,
হৃদয় কুসুম কেন্দ্রে মিলিত সকলে,
আকৃষ্ট দানবপতি সে শক্তির বলে।
রাহুগ্রন্থ শশী সম ও বিধু বদন,
হেরিয়া দনুজপতি চিন্তায় মগন.
নাজানি কিসের তরে, কোন অভিমান ভরে,
সুবর্ণ সন্নিভ দেহ ধূলায় লুণ্ঠন
অলঙ্কার শূন্যকায় কিসের কারণ?
নেহারি বদন প্রতি,
চিন্তিত দানব পতি,
প্রেয়সীর করে ধরি কহিল তখন।
এ আনন্দ দিনে নিরানন্দ মনে,
ত্যজি আভরণ বসন ভূষণে,
বল প্রিয়ে। গুনি কিসের কারণে
ধূলায় লুষ্ঠিত ও বরাকায়।

তারক সংহার কাব্য।
ছিলে দৈত্যরাণী, হলে স্বর্গরাণী,
তবু কি বাসনা তৃপ্ত নহে ধনি,
যা চাহ তােমারে দিব সে এখনি,
অদেয় কি আছে বলনা তােমায়।
কি বিষাদ ঘন উঠিয়া সঘনে,
আবৃত করেছে হৃদয় গগণে,
ঝরে বারিধারা কমপ নয়নে,
আবক্ষ প্লাবিত করিয়া হৃদয়।
মানস রসে প্রফুল্ল নলিনী
না জানি কি দুঃখে হয়েছ দুঃখিনী
দুঃখ শশী তাপে হয়েছে তাপিনী
বল প্রিয়তমে! বল সে আমায় ।
জ্বলন্ত অনলে,তনু সমর্পিত
কা’র সে বাসনা হইয়াছে চিতে,
কালকণী করে মুটায়ে ধরিতে
নহে কি অন্তর শঙ্কিত তার ?
স্নেহের প্রতিমা কোমল পরাণী
কে দহিল বল হানি কটুৰাণী?
বাতুল সে জন মনে অনুমানি,
সাহস নতুবা হইবে কার।

তৃতীয় স্বর্গ।
পতিবাক্য শুনি দানব নন্দিনী,
আঁখি ছল ছল-হইয়া মানিনী,
কহিছে কাতরে হয়ে বিষাদিনী
কপটে তুষিতে পতির মন্।
কেন কান্ত, বল বক্ষে শেল হানি
তুষিছ দাসরে বলে স্বর্গরাণী,
স্বর্গের ঈশ্বরী শচী মহেন্দ্রানী,
সুরসা নহেত তাহার মতন
নাহি সে সেবিতে কিঙ্করী যাহার,
সাজাইতে অঙ্গ দিয়া অলঙ্কার।
কিসের গৌরব বল না তাহার ?
বৃথা কেন সে করে অভিমান ?
আমা চেয়ে শ্রেষ্ঠ শতগুণে মানি,
ভাগ্যবর্তী বলে শচীরে বাখানি,
সেবিছে কিঙ্করী চরণ দুখানি,
সুরসা কিসে শৰ্চীর সমান?
বৃথা সে অমরে সমরে জিনিল,
নাহি যদি সুখ কপালে ঘটিল ।
রাজ্যলাভে তবে কি ফল ফলিল ?
যতনা কেবল হইল সার !
T

তারক সংহার কাব্য।
মুরসা বচন করিয়া শ্ৰবণ,
দৈত্যকুলমণি দনুজ নন্দন
ঘৃণিত অন্তুরে কহিল তখন,
কি বলিলে প্রিয়ে, বল পুনর্বার।
তােমা চেয়ে শচী শ্রেষ্ঠ কোগুণে,
কি সৌভাগ্য তার হেরিলে নয়নে ?
হারাইয়া রাজ্য-নৈমিষ কাননে
সহিছে যাতনা বন্দিনী হয়ে।
বাসব রমণী পুলােম নন্দিনী
হইয়াছে এবে পথভিখারিণী,
তবু কিসে তারে দেখিলে, সুখিনী,
কি বেদনা তব হইল হৃদয়ে ?
সুরসে--সুরমে, কি কহি লৈ মােরে,
নাহি সে বিরী সেবিতে তােমারে,
শত দাস দাসী দৈত্যের সীগারে,
নহে কি তারা দাসীযােগ্য তব ?
1
কি সম্পদ শচীর হেরিম নয়নে,
ছি মনােদুঃখে বিয বদনে,
শ। পূর্ণ তব প্রার্থনা পূরণে,
খ কিনা হয় নয়নে হেরিব।

তৃতীয় স্বর্গ।
নিঠুর বচন শুনিয়া শ্রবণে,
দৈত্যেশ রমণী রক্তিম নয়নে,
হেলায়ে অঙ্গ লি চাহি পতিপানে,
পরুষ বচনে কহিল বালা।
d
কভু যদি রতি সেবে এ চরণ,
যাবে তবে জ্বালা, ঘুচিবে বেদনা।
নতুবা জীবনে ত্যজিয়া জীবন,
জুড়াইব নাথ, হৃদয়-জ্বালা।
অলক্ত রঞ্জিত করিতে চরণে
বিনাইয়া বেণী কুন্তল বন্ধনে,
কহিনু রতিরে বড় সাধ মনে,
ফুল আভরণে সাজাতে কার।
শতদাসে ঘের আছে তবু পুরী,
মুরসা সেবিতে সহস্র কিঙ্করী।
নাহি কিন্তু রতি চপলা সুন্দরী,
কি কাজ তবে থাকিয়া হেথায় ?
:
সুরসা বচনে তুচ্ছ জ্ঞান করে,
এত গৰ্ব্ব। রতি অহঙ্কাৰ ভরে
চলে গেল নাথ 'ভাসি করে।
এ দুঃখ আমার না যাবে মলে।

তারক সংহার কাব্য।
তব অনুরােধ ভাবি নাথ চিতে,
না পারি তায় শাস্তি প্রদানিতে।
কাম বঁধু বক্ষে চরণ হানিতে
না হতো সুরসা বিরত তা হ'লে ।
কি কুহক জানে ইন্দ্রের কামিনী,
ভুলাইল ছলে মদনমােহিনী ।
কতগুণ ধরে পুলোমনন্দিনী
নাহি কি সে গুণ সুরসা সদনে ?
পরনারী সুখ নয়নে হেরিলে
যে অনল সদা নারী হৃদে জ্বলে,
জানিতে সে নাথ, রমণী হইলে,
পুরুষ তুমি জানিবে কেমনে ?
দনুজ ঈশ্বর সদর বচনে,
কহিল প্রিয়ার চু ম্বিয়া বদনে,
আহা প্রিয়তমে! এই সে কারণে,
ভাসে আঁখি নীরে ও বিধুবদন।
পাইতে বুভিরে এত সাধমনে,
কিঙ্করী করিয়া রাখিতে ভবনে,
বলিতে যদি আগে তা ললনে!
কোন দিনে অাশা হত পূরণ।

তৃতীয় স্বর্গ
টি
নারী পরশনে তনু শিহরিল,
বিলাস বাসনা অন্তরে উদিল
ধরিতে তরুণী কর প্রসারিল,
পুলকে অঙ্গ কাপিল হৃদয়।
সাবাস্ মদন ! সাবাস্ তোমারে !
জানি কি গুণ আছে ফুলশরে,
পরশনে অঙ্গ অঙ্গে শিহরে,
সহজে জীবে জ্ঞানের বিলয়।
হানি তীবাণ পতির অন্তরে,
ঈষৎ হাসিয়া দাড়ায়ে অন্তরে,
হেলায়ে নিতম্ব সম্বােধি সাদরে,
কহিল বামা কপট বচনে।.
w
ত্যজি মৰ্ত্তপুরী ত্রিদিব পুর তে
রতি কেশে ধরে পার সে আনিতে,
তবে সে দাসীরে পাইবে হেরিতে,
নতুবা ত্যজিব এ পাপ ভবনে।
এত স্পর্ধা! রতি করে অহঙ্কার,
সে গরব তার ভাবি এবার,
পূজে কি না পূজে চরণ আমার,
হেরিব গরব কোথায় রয়।

তারক সংহার কাব্য।
ভুলিয়া প্রেয়সী মােহিনী মায়ায়
ভাবিয়া আকুল না পায় উপায়,
ব্যাধজালে বদ্ধ মৃগপতি হায়!
পলাইতে চেষ্টা মূক্ত নাহি হয়!
ভাবি উপায় আকুল অন্তরে
কহিছে প্রেয়সী করদ্বয় ধরে,
এনে দিব রতি কহিনু সত্বরে,
*প্রতিজ্ঞা তব হইবে পূরণ ।
আলিঙ্গন আশে কর প্রসারিল,
তরুণী ধরিয়া হৃদয়ে পইল,
সুখে দৈত্য পতি রজনী বঞ্চিল,
প্রেমের সাগরে হইয়া মগন।

চতুর্থ স্বর্গ।
নিৰ্ম্মল নিঝর নীরে স্নায়ি কুতূহলে,
ত্যজিয়া ধবলাকৃতি হিমানী অচল,
সঙ্গে লয়ে স্বরবৃন্দে দেব আখল
ধাইল অম্বর পথে মহা ঘোররােলে।
আদেশি জয়ন্তু সহ মরুৎ মণ্ডলে
পাঠাইল সুররাজ নৈমিষ কাননে,
শচীসহ রক্ষিবারে সুরবাল দলে,
আরােহি বিমানে দেৰ উঠিল গগণে।
কত শত গিরিশৃঙ্গ অতিক্রম করে,
অভ্রভেদী দেব আত্মা ভীষণ দর্শন,
প্রান্তর, কানন, দেশ, নদ, অগপন,
অম্বরে ধাইছে সবে প্রফুল্ল অন্তরে।
ছায়াশূন্য দেবকায় শােভিত গগণে,
সবিস্ময়ে নরকুল চাহি উদ্ধপানে,
দেবের অপূৰ্ব্ব জ্যোতিঃ হেরিয়া নয়নে,
জ্যোতিষ্ঠু বলিয়া সবে মনে অনুমানে।
বিস্ময়ে দেবতা চাহে অবনী মণ্ডলে,
অধােমুখে এক দৃষ্টে রহি কতক্ষণ,
শীর্ণাকৃতি নারী এক করিল দর্শন;
রৈবত অচল পারে বট বৃক্ষ তলে।

তারক সংহার কাব্য।
অদিতি কশ্যপ জায়া অমর জননী
দৈত্যের নিধন কল্প অভীষ্ট সাধনে
নিবিষ্ট নিযুক্ত চিত ইষ্ট আরাধনে,
তনয় মঙ্গল হেতু ভাবে সুবদনী ।
অনাহার ক্লিষ্ট তনু জীর্ণ শীর্ণকায়,
কঠোর মহং ব্রত পালিবার তরে,
অনন্ত যাতনা
সতী সহিরা অন্তরে,
করিছে শরীর পাৎ লক্ষ্য নাহি তায়।
পুনঃ যে অমর বৃন্দ নামিয়া ধরায়।
বটবৃক্ষ মূলে যখা ত্রিদিব জননী
করেন কঠোর তপ দিবস রজনী
ধীরে ধীমে উপনীত হইল তথায়।
প্রণমি জননী পদে মহা ভক্তিভরে,
(করুণ দেবের চিত সে ভাব দর্শনে,
গলি অপার দুঃখ নিরথি নয়নে
দাড়াল সম্মুখে সবে কাতর অন্তরে।
হেরিয়া তনয়ে মরি । বহুদিন পরে,
বারিল স্নেহের বারি অদিতি নয়নে,
পুত্র ক্রোড়ে করি সতী চুম্বিয়া বদনে
জিজ্ঞাসে কুশল তায় মধুমশ রে।

চতুর্থ স্বগ।
কেন বৎস! রক্তধারা হেরি কলেবরে ?
বল কে হানিয়া শর বিধিল হৃদয়,
দুরন্ত দানব কি সে এতই নিদয়,
নাহি কি দয়ার লেশ দৈত্যের অন্তরে ?
না জানি কতই তনু হয়েছে ব্যথিত,
কাজ নাই সংগ্রামে সে পশি পুনঃব্বার।
দুরন্ত দৈত্যের রণে হইয়া পীড়িত,
না জানি কোমল অঙ্গে বাজে কত শর।
বহুদিন না হেরিয়া ও চাঁদবদন,
কত বা সহি যে জ্বলা কহিব কেমনে,
মায়ের অবােধ প্রাণে প্রবােধ না মানে,
হেরিতে তনয়মুখ চাহে অনুক্ষণ
কোথা বৎস! বধু মম শচী সুহাসিনী ?
না হেরি জয়ন্তে কেন অমরের সনে।
কোথা তারা বল শুনি, মৌনী কি কারণে,
শচী কি দানবপুরে হ'য়েছে বন্দিনী ?
মধুময় মেহবাক্য শুনিয়া শ্রবণে,
ভগ্নচিত্তে আখণ্ডল কহিল মায়েরে ;-
কেন মা! বল সে লজ্জা দাও তুয়েরে ?
কাপুরুষ পুত্র তব বিদিত ভূবনে।

ভারক সংহার কাব্য।
নহে সে বন্দিনী শচী বিপক্ষ ভবনে,
অনন্ত বাতনা সদা সাহয় হৃদয়ে,
সুরবালা সহ এবে অবনী নিয়ে
মিছে বিষয় মনে নৈমিষ কাননে।
-
দুরন্তু দানব দল ফিরিছে অদূরে,
রক্ষা হেতু নিয়ােজিত জয়ন্ত তথায় ;
• তাই সে দেখতে তারে না পাও হেথায়,
প্রহরী পধন সনে ফিরে মর্তপুরে
দীর্ঘশ্বাস ত্যজি মরি বিষম বিষাদে
কহিল অদিতী সতী সম্বােধি তনয়ে ;-
ভুজঙ্গবিবরে ভেক পশি মন সাধে,
প্রকাশে ক্রিম হায় ? নির্ভয় হৃদয়ে।
আজন্ম করি ওশঃ-পুণ্য আচরণ,
ফশিল কি তপঃ বৃক্ষে ফল এতক্ষণে,
চির শত্রু অসুরের অভীষ্ট পুরণে,
না জানি সদয় বিধি হলো কি কারণ।
।
আজন্ম হিংসুক, খল, দুষ্ট দৈত্যগণে,
তেঁই সে অমরে ভারা হিংসে অনুক্ষণ,
চির দুষ্ট দৈত্যে বিধি তুষ্ট কি কারণ,
কি দোষে অমৰ দোষী তাহার চরণে।

চতুর্থ স্বর্গ
লা হ'তে অদিতী বাক্য শেষ শচীশ্বর
নমিয়া পদারবিন্দে বিষয় বদনে,
ব্যস্ত চিত্ত হইয়া লে বিদায় গ্রহণে
কহিল কার স্বরে জননী গােচর।
কেন মা, কাতরচিত-মলিন বদনে ?
অচিরে ঘুচিবে তব এ মনোবেদন,
নিদাঘ সন্তপ্ত ধরা তাপ বিমােচন
হইৰে শীতল পুনঃ আশু বরিষণে ।
দেহ মা, বিদায় দাসে, প্রণমি চরণে,
কত দিনে দৈত্যকুল নিৰ্ম্মল হইবে,
অমরের সুখ রবি কৰে সে উদিবে,
জানিতে গমনবাঞ্চা ধাতার সূদনে।
আশীষি তনয়ে সতী কল্যাণ বচনে,
চুম্বিয়া বদন মেহে বিষঃ অন্তরে
কহিল কহিতে ইন্দ্রে বিধির গােচরে,
জানাইতে দুঃখ ভায় নির্জনে গােপনে।
প্রণমি জননী পদে পুনঃ ভক্তিভরে,
ধাইল সত্বরে সবে নীল নভঃস্থলে,
আশ্চৰ্য্য নিসর্গ-ক্রীড়া অন্তরীক্ষ তলে
হেরিয়া বিস্মিত যত অমর নিকরে।

তারক সংহার কাব্য।
দীপ্যমান, কত শত উল্কা অগণন,
প্রকাশি অদ্ভুত দ্যুতি ভ্ৰমিছে গগণে
দীর্ঘাকৃতি ধূমকেতু প্রচণ্ড গমনে,
প্রদক্ষিণ করি রবি করিছে ভ্রমণ
,
বুধ, শুক্র, শনি আদি নব গ্রহগণ
আকৃষ্ট রবির বলে হইয়া সবগে,
ঘূর্ণিত নিযুত হবে আকাশ মণ্ডলে,
কক্ষ পথে গ্রহজে করি আবর্তন।
নির্দিষ্ট সময়ে সূর্য্যে কধিয়া বেষ্ঠন,
আরস্তিয়া গতি ক্রমে পুন সেই স্থলে
উপনীত গ্রহকুল স্বীয় শক্তিবলে,
আশ্চর্য্য প্ৰতিলা কে করে বর্ণন ।
বিংশতি অধিক এক উপগ্রহগণ
রবিদত্ত প্রভাবলে দীপ্ত প্রভান্বিত,
আকর্ষণ শক্তিবলে হইয়া ঘূর্ণত,
ভ্রাম্যমান্ গ্রহদলে করিয়া বেষ্ঠন।
সঙ্গে ল’য়ে গ্রহদলে গ্রহ দলপতি,
তরুণ অরুণ রথে করি আরােহণ,
নিয়ত অম্বর পথে করিয়া ভ্রমণ,
ধাইছে বিশাল অন্য গ্রহরাজ প্রতি

ঋত্তিকা, রােহিণী আদি নক্ষত্র নিয়ে
জনপােক, তপােলােক, সপ্তর্ষি মণ্ডল,
একে একে অতিক্রম করিয়া সকল,
উঠিল শনৈঃ দেব নির্ভয় হৃদয়।
হরিতালী মধ্য রেখা লঘি কুতুহলে,
ত্রিংশৎখােন কোটা ঊর্ধ অবস্থিত,
ধ্রুব তারা দেখি দেব হরষিত চিত,
চলিছে বিমানে সবে অন্তরীক্ষ তল্পে।
.
অস্ফুট বেদের ধ্বনি পশিয়া শ্রবণে,
সহসা দেবের চিত মােহিত করিল,
পবিত্র অমর তনু পুলকে পুরিল,
ভক্তি বারি বিগলিত দেরের নয়নে।
অজিরা, সনক আদি প্লাচ্য ঋষিগণ
প্রাতঃকৃত্য সমাপিয়া প্রসন্ন বদনে,
মধুময় বেদবাক্য উচ্চারি সঘনে
উল্লাসে করিছে সবে হরি সংকীৰ্ত্তন।
হরিনাম সুধাপানে হইয়া সৰল,
ক্ষুধা তৃষ্ণা জয়ী সবে প্রফুল্ল হৃদয়ে,
নির্জনে বসিয়া গাঁথা গাইছে নির্ভয়ে,
সিছে প্রেমের নীরে হইয়া বিল।

তারক সংহারকাব্য।
অনন্ত ভক্তির স্রোত মৃদু প্রবাহিত,
শাস্তিৱ সাগরে গিয়া মিলে অবিরত,
প্রেমের লহরী তার উঠিয়া নিয়ত
ভক্তের হৃদয় বেলা করিছে প্লাবিত ।
হিংসা, দ্বেষ, কাম, ক্রোধ বৃত্তি কিবর্জিত,
নিফাম তাপসবৃন্দ প্রসন্ন অন্তরে
বিবাজে নিমগ্ন সবে প্রেমের সাগরে,
অপার শান্তির ক্রোড়ে অনন্তু শায়িত।
অরা, মৃত্যু ব্যাধি নাহি করে পরশন,
পাপ পূণ্য লেশ মাত্র নাহি সে তথায়,
সুখ দুঃখাতীত জীব ভাপমুক্ত কায়,
চিদানন্দময় সবে আনন্দে মগন।
কোটা শশী রব তারা গ্রহ অগণন
অবিরাম গতি সৰে উদিয়া নিয়ত,
প্রকাশি অদ্ভুত কিবা দ্যুতি অবিরত,
ভ্ৰমিছে উজলি মরি ব্রহ্মাণ্ড ভূবন।
2.
নাহি সে উদয় অস্ত গতির বারণ
বৎসৱ, 'অয়ন, ঋতু পক্ষ নিরুপণ,
দিবা রাত্রি ভেদ তথা নাহসে কখন,
সাম্যভাব প্রকৃতির চির দরশন।

চতুর্থ স্বর্গ।
প্ৰকৃতিৰ গুণগর্ভে হইয়া বিলীন
অকালে ব্ৰহ্মাণ্ড কত হইতেছে লয়,
সত্বনাশ রজঃ হাস জানিয়া নিশ্চয়,
ইঙ্গিতে মুহুর্তে বিধি করিছে সুজন।
কত বা হইছে লয় সৃজন গঠন,
অপার বিচিত্র শক্তি কল্পনার বলে,
গড়িছে ভাঙ্গিছে কত আশ্চর্য কৌশলে
অদ্ভুত বিধির লীলা কে করে বর্ণন।
উপনীত সুৰবৃন্দ হইয়া তথায়,,
প্রণমিয়া ভক্তিভরে ঋষির চরণে,
জিজ্ঞাসে কুশল তায় মধুর বচনে,
প্রত্যুত্তরে দেব চিত্ত তুষিলে হায় !
বহুদিন দেখি নাই অমর ভবন,
জানি কেমন আছ অমর নিকরে,
ঘটিল কি অমঙ্গল পুনঃ স্বর্গপুরে,
কি হেতু বল,সে ইন্দ্র! হেথা আগমন।
সংক্ষেপে কহিল ইন্দ্র আত্ম বিবরণ,
পাষণ্ড দানব জিনি অমর মণ্ডলে
অধিকার করি স্বর্গ লইয়াছে বলে,
তেঁই সে ধাতার ঠাই হ'লাে আগমন

তারক সংহার কাব্য।
অধৰ্ম্মী, হিংসুক, খল, দুষ্ট দৈত্যগ
কপটা কুটিল, সবে নিদয় হৃদয়,
প্রতিক্ষণে প্রতিহিংসা অন্তুরে উদয়
তেঁই.সে অমরে তারা হিংসে অনুক্ষণ
।
।
এতই সদয় বিধি যদি সে দানবে,
অমরে বিরক্ত যদি দিতে রাজ্যধনে,
---কেন সে দেবতাদলে কিসের কারণে,
অমর করিয়া সৃষ্টি করিলেন ভবে।
বিষাদে পসর্গ নিষ্কাম হৃদয়,
অর্পিল বাসবে বর জিনিয়া দানবে,
উদ্ধারিবে স্বর্গভূমি ভীষণ আরবে,
মেঘ-মুক্ত ববি পুনঃ হইবে উদয় ।
আশ্বস্ত ঋষিবাক্যে দেব পুরন্দর,
নিষ্প্রভ শশাঙ্ক সম মলিন বদনে
প্রবেশি অপূৰ্ব্ব পুরী ধাতার ভবনে
দাড়াইল করযােড়ে বিধির গােচরে।
শ
মণিময় চিত্রিত মরাল আসনে
নির্জনে বসিয়া বিধি সানন্দ অরে,
নিযুক্ত নিমগ্ন চিত চিন্তার সাগরে,
ব্যস্তচিত্ত সদা জীব অদৃষ্ট লিখনে।

চতুর্থ স্বর্গ
৫৭
কভু বা নিমগ্ন চিত ধ্যানের সাগরে,
কভু বা হাস্যের ছটা প্রকাশ বদনে,
সম্পূর্ণ করিয়া সৃষ্টি প্রফুল্ল অন্তরে,
চিন্তিত--পুনঃ বিলীন বিশ্বের সৃজনে।
.
হেরিয়া অপূর্ব ভাব বিস্মিত বদনে,
তুষিতে বিধির চিত ব্যাকুল হৃদয়ে
আরলি স্তুতি—ইন্দ্র কাতরে নিয়ে
উম্মীলি নয়ন ধাতা চাহিল সঘনে।
সস্তুষ্ট বিধির চিত দেব আরাখুন,
মলিন বিষাদযুক্ত হেরিয়া অমরে,
সম্বােধিয়া পুরন্দরে কহিল সত্বরে,
জিজ্ঞাসে কুশল তায় মধুর চনে।
।
অন্তরে,
কেন সে মলিন ই
বিষন্ন
ঘটিল কি অকুশল দৈৰত মণ্ডলে,
পুনঃ কি দানব বৃন্দ পরাজয়ি বলে,
কাড়িয়। ল’য়েছে স্বর্গ বঞ্চিয় জয়ে
ঘৃণায় লজ্জায় রোষে আকুল অন্তরে,
অগ্রসরি সুরবৃন্দে রাখিয়া পশ্চাতে--
ধাতার চরণে মরি দুঃখ নিবেদিতে
ভগ্ন-কী আখণ্ডন কহিল সত্বরে।

তারক সংহার কাবা ।
হে বিধি! সৰ্ব্বজ্ঞ তুমি বিদিত ভূবনে,
শুভাশুভ জগতের যা কিছু ঘটনা,
সকল(ই) জান তুমি, দেবের যাতনা,
অবিদিত নহে কিছু তােমার চরণে ?
শার্দুল বনগ্রাস মার্জার কবলে,
শঙ্কিত মণ্ডুক ভয়ে ভুজঙ্গের দল,
‘পলায় বিবর ত্যজি সভয় দুর্বল,
দলিত কেশরী 'কায় মৃগপদ তন্সে।
তব বরে বরীয়ান দুষ্ট দৈত্যদলে,
পশিয়া স্বরগপুরে পরাক্রমভরে,
বিজিত শত্রুর দেশ লণ্ডভণ্ড করে,
অধিকাম করি স্বর্গ লইয়াছে বলে।
শঙ্কিত অমরবৃন্দ দনুজের ভয়ে,
লুক্কায়িত ছদ্মবেশে অবনীমণ্ডলে,
মথিত অমরচমূ দানবের বলে,
তিষ্ঠিতে না পারে কেহ অমর অালয়ে।
{
অমরে বঞ্চি। স্বৰ্গ অসুরে অর্সিতে
ছিল সে বাসনা যদি তােমার অন্তরে,
কেন তবে বল দেব সৃজিলে অমরে,
সুদীর্ঘ জীবন ভার জগতে বহিতে।

চতুর্থ স্বর্গ।
শুনিয়া বারতা বিধি ইন্দ্রের বদনে,
কহিল সম্বােধি দুষ্ট দানব তারকে,
বিষম রােষের চিহু ললাট ফলকে
বাহিরিল তেজঃপুঞ্জ উজাল ভবনে।
অরেরে পাষণ্ড দৈত্য দুর্মতি ঘটিল
অমরে জিনিয়া স্বর্গ ভুঞ্জিবার আশং,
ভেবেছ কি পূর্ণ কভু হবে সে দুরাশা :
বুঝিনু দানবকুল নির্মূল হইল।
এতদন্ত! অহঙ্কার! দেবে অবহেলে,
সিংহের আসন লাভে শৃগালে বাসনা,
বামন হইয়া চন্দ্ৰে ধরিতে কামনা,
জানে না অচিরে দর্প যাবে রসাতলে।
বলিতে বলিতে বন্ধি জলয়া উঠিল,
ভেদিয়া-অম্বর মার্গ প্রচণ্ড গমনে,
পশিল অনল শিখা ত্রিবিদ ভবনে,
সহসা দৈত্যের পুরী কম্পিত হইল।
সুরম্য প্রকোষ্ঠ মাঝে মহেন্দ্র আবাসে
নিদ্রিত দানব পতি বিচিত্র শয়নে,
বিরত ইন্দিরা সহ প্রেম আলাপনে,
স্বপ্ন ভাবি নি দ্রা ত্যজি বসে শয্যাপাশে

তারক সংহার কাব্য।
জ্যোতির্ময় হেরি গৃহ সহসা নয়নে,
বাতায়নমুক্ত পথে চাহি বারম্বার,
ভবিল প্রমাদ একি! ঘটিল আবার
রুষ্ট কি হইল বিধি দৈত্যে এতদিনে।
দেখিতে দেখিতে অগ্নি প্রচণ্ড নিঃস্বনে,
গর্জিল গভীর নাদে দৈত্য বিনাশিতে,
প্রলয়ের শিখা যেন উঠি আচম্বিতে,
দহিতে উদ্যত বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড ভূবনে।
ত্রাসিত অমরবৃন্দ ভয়ঙ্কর রবে,
কম্পিত কাতর চিত ভত কলেবরে
না পারি সহিতে তেজ সভয় অন্তরে
ধাতার পশ্চাতে গিয়া লুকাইল সবে।
ঈষৎ হাসিয়াবিধি ক্রোধ সম্বরণে
সম্বােধি বাসবে তবে কহিল ত্বরায়,
আই)স ইন্দ্র ! মম সঙ্গে করিব উপায়,
দৈত্যের নিধন বাঞ্চা অভীষ্ট পূরণে।
ক্ষণকাল চিন্তি মনে ত্যজিপ্পা আসন,
ছায়ারুপী দেবগণে সঙ্গে লয়ে বিধি,
ক্ষীরােদ শয়নে বথা কমলার নিধি
মুহুর্তে পৌছিল গিয়া বিষ্ণু সদন।

চতুর্থ স্বর্গ।
কমলা কোমল অঙ্কে শায়িতার্থ কায়,
বিৰাজে হরির দেহ অর্ধ নিরসনে,
ধ্বজ বজ্রাঙ্ক শ চিহ্ন শোভিত চরণে,
চঞ্চলা কমলা সুখে সেবিতেছে তায়।
d,
যােগনিদ্রানীরে তনু করিয়া মগন,
নীমিলিত পদ্মনেত্র ধ্যানমগ্ন চিত,
জগতের ইষ্ট চিন্তা
অন্তরে
উদিত,
ব্ৰহ্মাও পালন কার্যে রত অনুক্ষণ।
অনাদি, অনন্তচিৎ স্বরূপ নিগুণ,
নির্বিকার, নিরঞ্জন, নিত্য সত্যাশ্রয়,
জীবের কল্যাণ বাঞ্চা অন্তরে উদয়,
জগৎ পালন হেতু কারণ সাল।
জানিয়া অন্তরযামী করি অন্তরে
বিধি সহ বাসবের ক্ষীরােদা গমনে,
উন্মীলি নয়ন চাহি করুণময়নে
তুষিল ধাতায় হরি মহা সমাদরে ।
কিহেতু বল সে বিধি! আগমন তব,
স্বৰ্গত্যজি কেন ইন্দ্র! সুরবৃন্দ সনে,
মৌনভাবে হেরি সবে কিসের কারণে?
কি বিপদ সুরপুরে ঘটালে দানব?

তারক সংহার কাব্য।
বিষাদে বাসব তবে কহিল মাধবে:-
বিধিবরে বরীয়ান দুষ্ট দৈত্যদলে,
ঘটালে জঞ্জাল আসি অমর মণ্ডলে,
পরাজিত সুৱবৃন্দ দানব আহবে।
সশঙ্কিত দৈত্যভয়ে স্বর্গবাসীগণ,
কর সে উপায় প্রভাে! উচিত বিধা,
তোম। বিনা অমরের কে রাখিবে মান।
দেবের সম্বল বল তোমার চরণ।
}
ক্ষণকা, চিন্তি হার কৈল পুরন্দরে ;-
শুন সে উপায় ইন্দ্র। দানব নিধন
হবে না অমর করে বিধির লিখন,
বুধ। কেন, কান্ত হও অসুর সমরে।
পাৰ্বতী পরেশ হ হইয়া মিলন
একাঙ্গে শােভিবে পুনঃ কৈলাশ শিখরে,
মহাবীৰ্য্য রূদ্রবীর্যে জন্মিয়। নন্দন
অচিরে করিবে দুষ্ট তারক নিধন।
নমিয়া কেশৰ পদে দানবারিগণ,
প্রয়াণিল বিধি সহ আপন আলয়,
অনন্ত শয়ন হর করিয়া আশ্রয়
শায়িত, পুনঃ সে চিত ধ্যানে নিমগন

চতুর্থ স্বর্গ।
=
কাভরে কহিল ইন্দ্র ইন্দিরা সদনে :-
জগৎ জননী রমে! কেন মা ছলনা ?
কি হেতু অমরে মাতঃ! করিলে বঞ্চনা ?
কি ক্রটি সেৰিতে দেব করিল চরণে।
জগদয়ে ।
নিদয়া অমরে মাতঃ হ'লি কি কারণে,
জগৎ আরাধ্যপদ পূজিব কি দিয়ে?
যা ছিল সম্বল ইন্দ্রের ল’য়েছ কাড়িয়ে,
আছে মাত্র উক্তিধন পূজিতে চরণে।
শচী ভিখারিণী এবে মৰ্ত্ত নিবাসিনী,
বিরাজে সঙ্গিনী সহ নৈমিষ কাননে,
কহিল জানাও নাথ! কমলা চুরণে
শচীর হৃদয় জ্বালা দুঃখে কাহিনী।
অকছিল
বিষাদে নিশ্বাস ত্যজিকহিল কমলা,
ভক্তিডােরে বাঁধিয়াছে মােরে দৈত্যপতি।
তেঁই সে ত্যজিতে তায় না পারি সম্প্রতি,
কলঙ্ক রটিৰে নামে ভকৎবৎসল।
যাও ইস্ত্র! ত্বরা, ভেবে না মােরে অচল।
কঁদিছে পরাণ মম শচীর রােদনে,
অচীরে ত্যজিব, দুষ্ট দৈত্যেশ ভবনে
না পারি তিষ্টিতে আর হয়েছি চঞ্চলা।

তারক সংহার কাব্য।
দেবদ্বেষী, দুরাচার, দুষ্ট দৈত্যপতি
নিঠুর নাহি সে দয়া, রত কুক্রিয়ায়,
নিতি নিতি এ আচার সহ নাহি যায়,
ত্যজিব বাসনা তেঁই করেছি সম্প্রতি।
কমলার পাদপদ্মে বন্দিয়া বাসব
একাকী প্রয়াণে সুর চিন্তিত অন্তরে
পুনঃ সে অমর সহ মিলিয়া সত্বরে
চিনে কেমনে হবে দৈত্য পরাভব।

পঞ্চম সর্গ।
ধীবর পালিতা কন্যা ভূবনমােহিনী
মৎস্যগন্ধা পদ্মগ । মহর্ষি কৃপায়,
মােহিত অনঙ্গ শরে পরাশর তায়
আন্সিঙ্গিল মহাঋষি অনুঢ়া কামিনী।
কৃষ্ণকায় মহাজ্ঞানী জন্মিয়া নন্দন,
রাখিল অদ্ভূত
কীৰ্ত্তি ভুবন ভিতরে,
কবিকুল চুড়ামণি ভারতীর বরে,
দ্বীপে জন্ম নাম তেঁই হলাে দ্বৈপায়ন।
বর্তমান ভবিব্যত অতীত ঘটনা
ক্যানসােগে জানি ঋষি প্রতিভা প্রভাবে,
জুগ পূণিত করি যশের সৌরভে
রচিত পুরাণ খণ্ড আ কল্পনা।
পার্বতী নন্দন প্রিয় দেবগণপতে।
শুভক্ষণে ধরেছিলে তুমিও লেখনি,
কল্পনাসম্ভত শ্লোক ব্যাস মুখবাণি
লিখিয়া সরস রসে প্লাবিলে ভারতে।
নাহি সে কল্পনা শক্তি কবিতা রচনে,
অশক্ত লেখনি পটু নহে ৩ কখন,
কৃপাকরি কৃপাময়! কিঙ্করে এখন,
দেহ তং পদর অ ইষ্ট পূরণে ।

তারক সংহার কাব্য।
নমি আমি দ্বৈপায়ন মহাজ্ঞানী জ্ঞানে।
ভারতীর প্রতি পাত্র বিখ্যাত ভূবনে,
অনন্ত কল্পনা সিন্ধু বিন্দু বরিষণে
অধম কিঙ্করে ঋষে! তােষ কৃপাদানে।
তারক নিধন যুক্তি কেশব সদসে
জানিয়া অমরগণ কি যুক্তি করিল,
শিবের সমাধি ভঙ্গ কেমনে হইল,
বর্ণিতে সে সব দেব। বড় সাধ মনে।
তুষার মণ্ডিত গিরি হিমাদ্রি শিখরে
রজত ভূধরােপম হর কলেবর,
শােভিত পর্বত অঙ্গে কিবা মনােহর,
নিমগ্ন শৃলী চিত সমাধি সাগরে।
অর্ধচন্দ্র রেখা ভালে ধক ধক্ জলে।
দিগম্বর কলেবর ভস্ম বিভূষিত,
বাহ্যজ্ঞান শূন্য দেব তপমগ্ন চিত,
শশাভিত রুদ্রাক্ষমালা নীলক গলে।
আদ্যাশক্তি মহামায়া পরমাপ্রকৃতি
শক্তিহীন শিব তনু সে শক্তি বিহনে,
কাতর উমেশচিত গৌরীর মিলনে,
উমার বদন ধ্যানে মগ্ন পশুপতি

পঞ্চম স্বর্গ
মহাশক্তি লাভে তনু নিয়ােজিত চিত,
ভাবিছেন সতীসনে কৈলাস শিখরে,
ভাসিবেন কবে পুতঃ প্রেমের সাগরে,
গৌরীর মিলন আশা অন্তুরে উদিত।
মিলিত দানৰ রিপু সুমেরু শিখরে,
আশুতােষ ধুর্জটির সমাধি ভঞ্জনে,
সুযুক্তি করিছে সবে বিষাদিত মনে,
পরিত্রাণ আশা হজে দানবের করে ।
বিষাদিত ক্রদ্ধচিত্ত কহিল শমন ;-
বাসব! বৃথা কেন নিন্দ সুরদলে,
কে আছে সাহসী হেন অমর মণ্ডলে,
ধ্যয়িত রুদ্রের ধ্যান করিবে ভজন।
জানি আমি মহাক্রোক ইদৰ মহেশ্বরে,
উন্মত্ত সতীর শােকে জ্ঞান শূন্য হর,
ভীষণ রুৰে তেজ সহিতে অন্তরে
শক্তিমান্ নহে কভু অমর নিকরে।
ভয়ঙ্কর প্রজ্বলিত পাবক শিখায়
জেনে শুনে অহি মুখে জীবন অর্পিতে
কার সে ভরসা ইন্দ্র ! হয় বল চিতে ?
কে আছে নির্বোধ হেন অমর সভায়।

তারক সংহার কাব্য
রি ক্রোধবন্ধুি প্রজ্জ্বলিত হলে।
অমর পতঙ্গ তায় পুডিবে নিশ্চয় ;
ঘুচিবে হৃদয়ে আশা সমর বিজয়,
ভষ্মীভূত দেবকায় হবে সে অনলে।
নহে সে গমন সাধ্য হিমাদ্রি-শি থরে
পশিতে নির্ভয় মনে পিণাকী সনে,
প্রলয় চিন্তায় যথা মগ্ন ত্রিলোচনে,
আদেশি স্বরে তথা পাঠাও অনলে।
কহিল অনল তবে সম্বােধি শমনেঃ-
আপনি অশক্ত যাহে না জানি সে কেন,
অপর (ও)স্বাতে আয় চাহে অকারণ,
কিতে-হে সক্ষম অগ্নি হেরিলে নয়নে ?
নাহি কি েীর অন্য অমর মণ্ডলে,
সাধিতে সকল কাৰ্য আদেশ অনলে,
কি বিক্রম অনলের হেরিলে নয়নে?
অন্য রাখি তারে প্রের এ কাৰ্য সাধনে ।
কেন বা অমর নামে কলঙ্ক রটিবে ?
আপনি ত সুররাজ পারেন যাইতে,
বৃথা অন্যে অনুরােধে কি ফল ফলিৰে ?
অনাদি ঈশ্বর হর সমাধি ভাঙ্গিতে।

পঞ্চম স্বর্গ।
মুহুর্ভে ইঙ্গিতে যার ব্রহ্মাণ্ড বিলয়, -
অনন্ত প্রশান্ত মূৰ্ত্তি রুদ্রের সদনে
নহে সে অনল সাধ্য করিতে গমন
যাও তুমি মৃত্যুপতি ! যদি ইচ্ছা হয় ।
বিস্ময়ে কহিল ইন্দ্র সম্বােধি অনলে -
অমরে মরণ ভয় ! আশ্চর্য কথনে
বিষম লজ্জার কথা শুনিলে শ্রবণে,
আবাল বনিতা বৃদ্ধ হাসিবে সকলে।
অহিভূক বিহঙ্গমে হলো অহিভয়,
অন্ধের হৃদয়ে ভয় হারাতে নয়ন ।
বাতুল অমর কুল হইল এখন,
উচ্চারিতে হেন বাক্য লজ্জা,শাহি হয় ?
যঢ়িছিল সবাকার,
পারিবে মনে যদি ভুল সবাকার,
কেন সে জানিতে যুক্তি কেশব সদনে,
বৃথা বল সুরবৃন্দ করিল গমন,
পণ্ডশ্রম পরিশ্রম হলো মাত্র সার।
মিথ্যা লজ্জাভাগী সবে করিলে আমায়,
কোন মুখে পুনঃ ফিরে ক্ষীরােদালয়ে
যার হে অনল! বল তােমা সবে লয়ে,
জিজ্ঞাসিলে হরি আমি কি বলিব তায় ?

তরিক সংহার কাব্য।
উর্বশী, মেনকা, রম্ভা বিদ্যাধরীগণে
অশক্ত সকলে হয় সমাধি ভঙ্গনে ;
অমর (ও) অক্ষম যদি সে কাৰ্য্য সাধনে,
বল সে উপায় তবে কি হবে এখন ।
অমরের ভাগ্যলক্ষ্মী হয়েছে চঞ্চলা,
জানিনু অনল আমি নিশ্চয় এবার,
হল..না অমর হতে দানৰ সংহার,
নিতান্ত নিদয় দেবে হয়েছে কমলা।
বিষাদিত সুরপতি বসি গিরিতলে
চিন্তে অন্তুরে যুক্তি অভীষ্ট সাধনে,
কারে সে প্রেরিবে পুনঃ ঈশান সদনে,
তপঃউল হেতু তার অবনীমণ্ডলে।
কতক্ষণে মেনভাবে বসি শিলাসনে
সহসা উঠিল ঝড় বহিল পবন,
কম্পিত সুমেরু চুড়া ভীষণ নিঃস্বনে,
হুঙ্কারি গভীর নাদে কহিল পবন :-
বিস্মৃত কি দেবদল আত্মঘল সবে ?
যার যত পরাক্রম পরস্পর জানে,
সুধুই অমর রত আত্ম অভিমানে,
ভাবে না গৌরব মনে কেমনে সে রবে।

পঞ্চম স্বর্গ।
৭
এস ইন্দ্র! সবে মিলে হিমানী গিরিতে।
পশিব নির্ভয় মনে এম্ব্যক সদনে,
উদ্যোগী পুরুষ সিংহ বিদিত ভূবনে,
কাপুরুষই ভীত ভবে স্বকাৰ্য্য সাধিতে।
ধুর্জটির ক্রোধানল জ্বলিয়া ভীষণ
যদিও অমরে ভস্ম করে সে এখন,
দাসত্ব পাদুকা শিরে করিয়া এক
ভ্রমিতে হবেনা দেবে ভবে সে কখন ।
নিরুত্তর সুরবৃন্দ কেন হেরি সবে?
এতই অমরে কি সে মরণের ভয়,
নিজ তেঁই সে মনে লজ্জা নাহি হয়,
ধিরে ! দেবতাকুলে সুখ্যাতিগৌরবে ।
অধীনতা বিষে করিণীবন সংশয়
কি কাজ আর সে বল রহি শত্ৰুপাশে,
চলহে প্রচেত ! চল তােমার 'আবাসে,
লুকাইব সবে যাবে মরণের ভয়।
দীর্ঘশ্বাস ত্যজি ক্ষোভে বিষন্ন বদনে
জলদ গম্ভীর স্বরে কহিল প্রচেত ;-
বৃথা তর্কে সুরগণ কেন সবে রত,
অকারণ, দ্বন্দ্বে সবে রত কি কারণে?

৭২
তারক সংহার কাব্য ।
অতল জলধি গর্ভে, পৰ্বত করে,
কিম্বা সে প্রবেশ যদি বিজন কাননে,
দাবাগ্নি ক্রোধাগ্নি তবু পশিয়া নির্জনে
দহিবে, দহিবে জেন নিশ্চয় অমরে।
ভাগ্যদোষে বুদ্ধিহীন বুদ্ধিমান জনে,
মিথ্যা যুক্তি লাভে বল কি ফল ফলিবে ?
কেল সমর ভাগ্যে কলঙ্ক রটিবে,
হবে না রবে না যাতা’ কেন ভাব মনে।
উৰ্ধনেত্র মহাযােগী শঙ্কর সদনে
পশিতে নির্ভয় মনে সমাধি ভঞ্জনে
নহে সে বীরের কাৰ্য জেন সুনিশ্চয়,
বৃথা যুক্তি অমরের অন্তরে উদয়।
পার্বতীর প্রেমে মুগ্ধ হর কলেবরে
কৌশলে বিৰূিবে যবে ফুলশর তায়,
বি ধিয়া অনঙ্গ শর যােগীয় অন্তরে
হইবে সমাধি ভঙ্গে প্রধান উপায় ।
ত্যজ চিন্তা শচীশ্বর ! আদেশি সত্বরে,
পাঠাও স্বপনে দেব আনিতে মদনে,
সঙ্গে লয়ে রতি পতি স্বীয় অনুচরে
পশুগ, অবনী মাঝে ভবের সদনে।

পঞ্চম স্বর্গ
প্রফুল্লিত সুরবৃন্দ বরুণ বচনে।
আদেশি স্বপনে তবে দেব পুরন্দর
কহিল অবনী মাঝে পশিতে সত্বর,
বিরাদে মদন যথা অনুচর সনে।
প্রয়াণি সত্বরে দেবী ধরণী ভিতবে
উপনীত মুহুর্তে সে মদন সদনে,
জানারে আদেশ তঁায় মধুর বচনে,
কহিল স্মরিছে ইন্দ্র অমর নিকরে।
জরাজীর্ণ চির রুগ্ন বিরহী হৃদয়ে,
নীরস পাদপ সম যােগীর অন্তরে,
অব্যর্থ কুনুম শরে জর্জরিত করে
দম্পতি সদনে বীর পশিল নিয়ে।
বহুক্ষণ ভাসি সুখে৯ম আলাপনে
দম্পতী প্রফুল্ল কায় বসি শৰ্যাগারে,
অবিতৃপ্ত পরস্পর বদন নেহারে,
বিমল সুচারু দৃষ্টি কটাক্ষ নয়নে।
অলক্ষিতে ফুলশর হানিয়া অন্তরে
বিধিছে কোমল কায় অবলা হৃদয়ে,
আকুল দম্পতী যুগ সন্মােহন শরে
আলিঙ্গনে তৃপ্তিলাভ করিছে উভয়ে।
৭.

তারক সংহার কাব্য।
সাধিয়া আপন কাৰ্য বিরহী বেদন
ব্যস্তচিত্ত রতিপতি উদ্যত গমনে,
বিরত প্রেমিকদ্বর প্রিয় আলাপনে,
ভুঞ্জিতে শৰ্বরী সুখে করিল শয়ন।
স্বপন সদনে বাৰ্তা করিয়া শ্রবণ
সহসা মদন হৃদি চঞ্চল হইল,
ভারিল আবার কিবা বিপদ ঘটিল,
জানি কেন ৰা ই করিল স্মরণ।
নিষঙ্গ শ্লোভিত পৃষ্ঠে, ভুবন মােহন
ফুলময় পুষ্প ধনু লয়ে নিজ করে
উপনীত মীনকেতু চিন্তিত অন্তরে
সভয়ে সুমেরু মাঝে বাসবদন।
রতিপ
ব্যস্তচিত্ত
আদেশ পালনে,
করধৃত পুষ্পধনু খসিয়া পড়িল,
কাতর মদন মন চঞ্চল হইল,
সুরপুরে পদার্পণ করিল কুক্ষণে।
{
সভয়ে দায়ে কাম মহেন্দ্র গােচরে
কহিল সম্বােধি তায় কাতরবচনে
* এ ঘোর নিশীথ কালে বল কি কারণে
স্মরিলে কিঙ্করে দেব ! কি ভাবি অন্তরে।

-...
পঞ্চম স্বর্গ
স্বর্গম ব্রিভূবনে কে আছে এমন,
পরাভূত নহে যেই মদনের শরে
কটাক্ষে কুসুম শর হানিয়া অন্তরে
মোহিত করিতে পারি ব্ৰহ্মাণ্ড ভূবন ।
কাতর অমর বৃন্দ নিরখি বা কেন ?
কি হেতু নিস্তব্ধ সবে স্মলন বদনে,
কি বিষাদ উদি মনে কি কার্য সাধনে,
স্মরিলে এ দাসে দেব, বল সে এখন।”
বিষাদে মদনে ইন্দ্র কহে ভগ্নস্বরে,
‘রতিপতি।
! অশুগতি পপতি পাশে
পশশা আশুতােষ পার্বতীর আশে,
নিমগ্ন তপঃ সাগরে হিমাদ্রি শিখরে।
ভীষণ রুদ্রের ধ্যান মগধ ভঞ্জনে,
ভােমা বিনা মহারথি। অমর মাঝারে
নহে সে সশক্ত কেহ, আদেশ তােমারে,
তেঁই সে পশিতে সুরা এম্ব্যক সদনে।
জানি আমি মীনধ্বজ, পরাক্রম তৰ
মূহুর্তে মােহিতে পার ব্ৰহ্মাণ্ড ভূবন,
তুমি না রক্ষিলে বল কে আর এখন,
রক্ষিবে অমর মা অতুল গৌরব।”

তারক সংহারকাব্য ।
করঘােড়ে নতশীরে বিষন্ন বদনে
সম্বােধি মহেন্দ্রে কাম কহিল কাতরে,
ক্ষম ইক, ক্ষম দাষে, এ চির কিঙ্করে
পাঠাও অপরে দেব, ধুর্জটী সদনে।
কে অ“ছে বাসব ভবে ভবে পরাভরে
নির্বিকার জিতেন্দ্রিয় নিষ্কাম অন্তরে
বিলাস জন্মাতে চাই তুচ্ছ ফুলশরে,
লােলুপ মধুপ শুষ্ক কুসুম আসবে।
ভাসাতে রতিরে দেব। বৈধব্য সাগরে
বিলুপ্ত মদন নাম করিতে ভূবনে,
এত কি বাসনা ইন্দ্র! হইয়াছে মনে,
কি দোষ মদন দোষী মহেন্দ্র গােচরে।
শতক্রতু! মহা শঙ্কর সমাধি
ক্রোধাগ্নি হােমাগ্নি তায় হবিঃ পঞ্চশর
দহিবে মদন কাষ্ঠ বহি ভয়ঙ্কর
আখণ্ডন ! কি ফল বল বাদ সাধি
৩.
কাম ইন্দ্র! ক্ষম দাযে ধরি হে চরণে
নহে সে প্রভুর রীতি নাশিতে কিঙ্করে,
অবৈধ আচার প্রভাে। সাজে কি অমরে
ত্যঙ্গ রােষ, হের দাষে করুণ। নয়নে।”

পঞ্চম স্বর্গ।
ছি ! ছি ! কাম ! ধিক্ তােরে নি জীবনে,
ডুবালি মদন নাম কলঙ্ক সাগরে
ভূবন মোহন ধনু ধৰি ধৰু নিজ করে
তবু সে অন্তর ভীত সমাধি ভঞ্জনে।
দেবের অপ্রিয় কার্যে বাঞ্ছা যার মনে,
কেন বা অমর দলে রহে সে এখন ;
প্রেম-মুগ্ধ শঙ্করের সমাধি,ভা
এত কি বিষম ভার হইল মদনে।
বিরত হইয়া কাম অনুজ্ঞা পানে,
ভেবেছ কি সুস্থ চিত্তে জগতে ভ্ৰমিরে
যথা ইচ্ছ পশ তুমি নিশ্চয় দহিবে
নিশ্চয় অমর করে হারাবে জীবনে।”
,দ্ধচিত্ত আখণ্ডলে হেরিয়া নম্বনে,
সশঙ্কিত ব্যাকুলিত চিন্তাশ্বত অতি
বিষম বিপদনীরে মগ্ন রতিপতি
ভাবিছেন উপায় কি করিবে এক্ষণে।
কি কুক্ষণে সুরপুরে করিনু প্রবেশ ।
জানিনু বিপদ মম ঘটিল এবার
নিশ্চয় হইল হায় জীবন সংহার
ঘটিল রতির ভাগ্যে বৈধব্য বেদনা।

তারক সংহার কাব্য।
নিস্বার্থ পরম ধৰ্ম্ম করিয়া পালন
লম্বকের করে মৃত্যু শ্রেয়ঃ সে এখন
দেবের মঙ্গল কার্যে অর্পিয়া জীবন
লবি অক্ষয় কীর্তি অনন্ত জীবন।
চিন্তিয়া অন্তরে কাম বিষঃ অন্তরে
নিষ্কাম পবিত্র ধর্ম সাধিবার তরে
দীর্ঘশত্যজি ক্ষোভে আকুল হৃদয়ে
পশিল সভয়ে ধীরে ধুৰ্জ্জটী গােচরে।
ত্যজিয়া বিষাদ ইন্দ্র কহিল মদনে,
হিমাদ্রি শিখর মাঝে নির্ভয় অন্তরে
অবিলম্বে পশ গিয়া ধুৰ্জ্জটী সদনে
রক্ষিতে আর বর্গ মিলিবে সত্বরে।

ষষ্ঠ সর্গ।
সুরসা দানব পত্নী প্রফুল্লিত মনে
সখি সঙ্গে রঙ্গে ভঙ্গে, প্রমােদ তরঙ্গে অঙ্গে
ঢেলেছে রঙ্গিনী রাম ত্রিদিব কাননে।
চিন্তিত পতির মন ভুলাবে কেমনে।
উপনীত সখিসহ পারিজাত তলে,
সুন্দর প্রসূনমালা, গাঁথিয়াদার,
সদরে ধরিল কঠে কবৰী কুলে
সজ্জিত পতির মন ভুলাইতে ছলে।
নিতম্বে মেখলা পদে অলক্ত রঞ্জিত,
পীনােন্নত পয়ঃধরে, মুক্তামালা শােভা করে,
খঞ্জন, গঞ্জিত চক্ষে অঞ্জন অঙ্কিত
বালার্ক সদৃশ ভালে সিন্দুশােভিত।
চারু অঙ্গে অলঙ্কার পরিয়া যতনে,
কটাক্ষ নয়ন ঠারে, পতিচিত্ত তুষিবারে
চলেছে সানন্দে বাম গজে গমনে
হাব ভাব চিহ্ন অঙ্গে প্রকাশ লক্ষনে।
শিখেছে চাতুরী ছল প্রেমের কৌশলে,
শিখিয়াছে ভালবাসা, পুরাতত মনের আশা
শিখেছে পতির মন ভুলাইতে ছলে
শিখেছে বাধিতে তায় প্রেমের শৃঙ্খলে।

তারক সংস্থার কাব্য।
দর্পনে বদন বামা নিরখি নয়নে
হাসিল মুচকি ঘন, বিজলীর রেখা যেন,
প্রকাশিল সুন্দরীর অধরের কোনে,
পারিবে ভুলাতে কান্তে ভাবিল সে মনে।
অঙ্গীকার পাশে পতি বদ্ধ জানি মনে,
প্রতিজ্ঞা পূরণ করে, চলিয়াছে রােষভরে,
একাক্স জানাতে কান্তে প্রার্থনা পূরণে
আনিতে রতিরে ধরে ত্রিদিব ভবনে।
নৃত্যগীত আমােদিত পূর্ণ বাদ্যরবে।
দৈত্যবাল। সুলোচনা, বাজায় বাঁশরীবীণা,
মধুর পঞ্চমতানে মুললিত রবে,
সুমিষ্ট সংগীত ধ্বনি করিতেছে সবে।
গাইছে গায়কীট নাচে কুতুহলে,
ষােড়ষী রুপসী রামা, দৈত্য বামা মনােরম
মােহিত করিয়া মন যৌবনের বলে
বঙ্গস্থলে অভিনয়ে মত্ত কুতুহলে।
মহােৎসবে মত্ত সবে মগ্ন মহােল্লাসে
অপার আনন্দ সরে, সুখে সবে ক্রীড়া করে,
বিজয়ী জাতির নারী নব সুখ আশে
কেবল দনুজ পতি চিন্তা নীরে ভাসে।

ষষ্ঠ স্বর্গ।
নিভৃত নিকুঞ্জ মাঝে নির্জন আসনে,
ভাবিয়া অদ্ভুত জ্যোতি, চিন্তিত দানবপতি,
এখনও সে প্রভা যেন ঝলসে নয়নে
সত্য মিথ্যা স্বপ্ন কভু অনুমানে মনে।
বিষাদ কালিমা রেখা পড়িয়াছে ভালে,
নাহি দীপ্তি প্রভান্বিত, চিন্তা রাহু কবলিত
আবৃত অদৃষ্ট রবি দুঃখ ঘন-জলে-
চিন্তিত অন্তরে সদ। কি আছে কপালে।
হতাশ্বাস দীর্ঘশ্বাস পরিত্যাগ ক্ষণে,
বসিয়া নিভৃতাসনে, ভাবিত আকুল মনে,
জাগ্রত কি স্বপ্নে ইহা হেরিনু নয়নে
আশ্চৰ্য্য সে ইন্দ্রজাল। অধূ বর্ণনে।
ভুলালে কুহকে দেৰ মানব মণ্ডলে,
দৈত্যপতি মুগ্ধতায়, আশ্চর্য্য কহিব কায়,
ত্রৈলক্যবিজয়ী বীর মুগ্ধ যাদুবলে,
মৃগেন্দ্র মােহিত ধূর্ত শৃগাল কৌশলে!!
সামান্য কুহকে ভীত দৈত্যপতি নয়
জাগ্রতে হেরিনু যাহা, স্বপ্নজ্ঞান মনে তাহা,
অসম্ভব ভাব মম হৃদয়ে উদয়,
উন্মাদ হইনু স্বর্গ করিয়া বিজয়!!

তারক সংহার কাব্য।
বুঝি বুঝিনু ছল অমরের নয়,
ভয়ঙ্কর বহ্নি রাশি, দহিল ললাট আসি,
ধাতার ক্রোধাগ্নি তায় জানি নিশ্চয়
ভীষণ অনলে দগ্ধ তার হৃদয় !!
৫.
বিদগ্ধ দনুজপতি চিন্তা হুতাশনে,
দৈত্যে দুষ্ট জানি মনে, রুষ্ট বিধি এতক্ষপে,
অমর সন্তুষ্ট ধাতা হলো তে কারণে,
অদৃষ্ট ভাবিয়া রহে বিষন্ন বদনে।
সহসা শিঞ্জিনী বােল পশিল শুনে।
রুনু রু রুনু বোলে, বাজিল মধুর রােলে
শত তন্ত্রীর যেন মৃদু নিনাদিল
চমকি দঙ্গপতি সঘনে চাহিল।
ভূবন মােহিনী ঋবে মুগ্ধ ত্রিভূবন,
কি ছার দানবপছি, আপনি গােলকপতি,
রাধার নুপুর ধ্বনি করিতে শ্রবন
বাজাত বাঁশরী, হরি রাধা বিনােদন।
রূপের মাধুরী হেরি বিমােহিত চিত,
ছুটিল নয়নবান্, ভেদিল দনুজ প্রাণ,
মূহুর্তে বিষম চিন্তা হৃদে অপনীত
ধরিতে তরুনীকর কর প্রসারিত।

ষষ্ঠ সগ।
রমণী নবণীকর পৃষ্ট করতলে,
তরুণী রূপ সাগরে, মগ্ন মন ক্ষণ তরে,
না মিলিল রত্ন কিন্তু হৃদিসিন্ধুতলে
হলাহল উদগীরণ অমৃত বদলে।
কুটী বিস্তারি বামা রক্তিম নয়নে,
চাহিয়া পতির পানে, পঞ্চম সপ্তমানে
ক্ষোভে রােষে মনো দুঃধে জানাতে বেদনে।
কহিল সম্বােধিনাথে কর্কশ বচনে।
শিখেছ কদিন বল চাতুরী ছলনা,
অদ্ভুত শঠতা জাল, শিখিছ কতকাল
শিখেছ কদিন বল ভুলাতে ললনা
নারীর অন্তরে দিতে বিষয় বেদনা।
জানিতাম যদি আগে হইবে এমন,
কামুক লম্পট জনে, জীবন যৌবনে ধনে,
* পিয়া হইতে হবে প্রাণে জ্বালাতন,
তাহলে কি কভু তারে স পিতাম মন।
বৃথা দম্ভ অহঙ্কার বৃথা অভিমান,
বিষম বিষের বাতি, হৃদে জ্বলে দিবারাতি,
হলো না হলে না জ্বালা হলো না নিৰ্বান
বুঝিনু দানবপতি বালিকা ভূলান্।

১
তারক সংহার কাব্য।
হা ধিক্‌! ঘৃণার কথা কহিব কেমনে,
মিথ্যাবাদী, দৈত্যপতি কুটীল হৃদয়গতি,
অধৰ্ম্মে অন্তর ভীত নহেতে কারণে
এত কি বিষম ভার প্রতিজ্ঞা পূরণে ।
নিপ্লজীবনে লক্ষা নাহি সে কখন,
তুচ্ছ অঙ্গীকার যার, হৃদয়ে বিষমভার,
কেন বা করে সে পণ করিতে লঙঘন ।
ভাবিতে উচিত ছিল প্রতিজ্ঞা যখন।
কি কহিলে প্রিরে! মিথ্যাবাদী দৈত্য: তি
কহিতে অনৃত বাণী, কিসে সে হেরিলে রাণী ।
কপট কুটীলতার হৃদয়ের গতি
কিসে বা হেরিলে তারে ছলিতে যুবতী।
বামা তুমি সুশােচনে ! জানিবে কেমনে,
যে আল বীরের প্রাণে, জানিবে বল কেমনে
জানিতে লভিতে যদি শক্র রাজ্যধনে,
বিজয়ী বিজিত জ্বালা সমান দুজনে।
সামান্য প্রতিজ্ঞা তব করিতে পূরণ
দৈত্যপতি ভীত নয়, তবে যে কেন সে ভয়
কি বলিব প্রিয়তমে! তোমায় এখন
অদৃষ্ট বিদ্ধ হলে কদিন সে ধন।

ষষ্ঠ সগ।
.
কহিল সুন্দরী—কান্ত! ভ্রান্ত হলে মনে,
অদৃষ্ট তব বিরূপ, কিসে সে হেরিলে ভূপ,
সৌভাগ্য উচ্ছেদ কিসে হেরিলে নয়নে,
অনুকুল দৈত্যকুলে পাতা প্রতিক্ষণে ।
។
নারী আমি দৈত্যনাথ! কহিলে কেমনে,
নারীভবে শক্তিদাত্রী, জগৎ পালনকত্রী,
এত কি ঘৃণিত নারী পুরুমণ্ডলে
পুরুষে পৌরুষমান নারী শক্তি বলে।
পুরুষের মন্ত্রী নারী, বিপদে সহায়,
নারী না থাকিলে পরে, কিসের গৌরব নরে
সভ্যতা সােপান বাম সংসার উপায়,
সুখভােগী নরকুল নারীর কৃপায় ।
না চাহি সাহায্য তব মিথ্যা পরাক্রম,
রক্ষিতে আপন পণ, অশক্ত যদি এখন
পুরাতে বাসনা তার সুর সঙ্গম,
দেখিবে দনুজনাথ বামার বিক্রম।”
হাসিয়া দনুজপতি কহিল প্রিয়ায় :-
“জানি আমি চাননে, বিচিত্ৰ ৰা ভাবি মনে,
সিংহের মহিষী গিয়া পশিয়া ধরায়,
রিয়া আনিবে দাসী শৃগাল জয় ।

তারক সংহার কাব্য।
৩
কিন্তু কি সাহসে প্রিয়ে। চাহ সে পশিতে,
নৈমিষ কানন মাঝে, ইন্দ্রাণী সহ বিরাজ
অগণ্য অমর চমু রতিরে রক্ষিতে,
কি সাহসে শত্রু সৈন্য চাহ সে ভেদিতে?
দৈত্যপতি ভীত নহে অমরের ভয়ে,
নিশার ঘটনা চিত, ভাবি সদা সশঙ্কিত,
কালাগি সদৃশ অগ্নি প্রচণ্ড প্রলয়ে,
দহিছে নিয়ত মম হৃদয় নিয়ে।
ধাতার রোষাগ্নি তায় জেনেছি নিশ্চয়,
জানি আমি প্রিয়তমে, রুষ্ট বিধি এ অধমে,
দৈত্যের সৌভাগ্য হোর কাতর হৃদয়,
কি দোযেs চির দাষে হ'লেন নিদয়।
একে সে অতুষ্ট বিধি দানব মণ্ডলে,
তাহে যদি কেশে ধরে, আনি রতি স্বগোপরে,
ঘটিবে বিষম আল খাতা রােষানলে,
দৈত্যকুল সুথ রবি যাবে অস্তাচলে।
ক্ষান্ত হও প্রিয়তমে! ক্ষান্ত হও, মনে,
ত্যজ বিয়ে! অভিলাষ, রতির সেবন অশ,
ত্যজ বিধুমুখি ! তুমি, ত্যজ চন্দ্রাননে।
করাে না হৃদয়ে আশ উচ্ছেদ সাধনে।”,

ষ স্বগ।
দীর্ঘশ্বাস তাজি ঘন কহিল সুন্দরী :-
“ঘটিল সাধে বিষাদ, সাধিল বিধাতা বাদ
নৈরাশ্য সাগরে মগ্ন হলাে আশা তরী,
শিখিল হতাশ আজ দানব ঈশ্বরী।
ধন্য সে রমণী শ্রেষ্ঠ ভূবন ভিতরে,
নিরাশা না জানে মনে, আশা পূর্ণ প্রতিক্ষণে,
সেই সে সুখিনী নাথ। জানিনু অন্তরে,
সার্থক জনম তার ব্রহ্মাণ্ড ভিতরে।
আগে যদি প্রাণনাথ ! জানিতাম মনে,
আশারূপ আশীবিষে, দংশিয়া যাতনা বিষে,
বহিবে দাসীর প্রাণ হায় ! প্রতিক্ষণে,
তাহলে কি বলিতাম প্রার্থনা পূরণে।”
সুরসাবল্লভ তারুক ফুহিল প্রিয়ায়,
“যাও ইন্দু নিভাননে! সখিসহ উপবনে,
ভ্রমণে পরম সুখ লভ গিয়ে হায়,
অচিরে ভেটিব আমি পুনঃ সে তােমায় ।
একান্তে জানাতে কান্তে, বাসনা ধাতায়,
জানাৰ যাতনা হয়, কেন বিধি ক্রদ্ধ হায়,
কি দোষে দানব দুষ্ট রুষ্ট তেঁই তায়
কিসে বা বঞ্চিত হনু চরণ কৃপায়।”

৮
তারক সংহার কাব্য।
কটাক্ষ নয়নে বামা চাহি পতি পনে,
কাতর কুণ্ঠিস্বরে, কহিল বিষাদভরে,
৫ ধরিতে হইল প্রাণ এত অপমানে,
সার্থক রতিরে তার গৰ্ব অভিমানে।
পুনঃ যদি রতিসহ হয় দরশন,
হাসিয়া মদন জায়া, দহিবে দানবী কায়া,
বিম বিদ্রুপ বাণে জ্বলিবে জীবন,
ভুজঙ্গী হইবে নত মণ্ডুকী সদন।
নিরাশা না জানে মনে দানব নন্দিনী,
জানে না কখন যায়, জানিল এখন তায়,
মহেন্দ্র লক্ষণ হরি হইনু সঙ্গিনী,
ভাগ্য যে দৈত্য রাণী হইল দুঃখিনী।
কি হবে দাসীরে নাথ দিয়া দরশন,
অশান্ত হৃদয় মম, ক্ষান্ত নহে প্রিয়তম,
কেমনে সান্ত্বনা তায় করিবে এখন,
আশা অংশু তেজে পাংগু হবে মম মন।
না চাহি স্বরগ নাখ ত্রিদিব ভূবনে,
নিশ্চয় জানিও মনে, উদ্বন্ধনে অনশনে,
ত্যজিব জীবন কিম্বা জলধি জীবনে,
নৈরাশ্য জীবন ভার বিফল বহনে।

মঃ স্বর্গ
থাক সুখে প্রাণনাথ ! অনুচর সনে,
বহুশ্রমে রাজধন, করিয়াছ উপার্জন,
মিটাও মনের ক্ষোভ ভুঞ্জি সুখ মনে,
না চাহে মুরসা তব তুচ্ছ রাজধনে ।
ঈড়ল ক্ষণেক রাম নীরব অন্তরে,
বুঝিতে পতির মন, চাহিতেছে প্রতিক্ষণ,
নিমগ্ন দনুজপতি চিন্তার সাগরে,
হেরিয়া চলিয়া রাম গে রােভরে।
ক্ষণে সে মিলিয়া আঁখি চিন্তিত বদনে,
হেরিল দনুজপতি, নাহি সে রূপের জ্যোতি,
নিরখে নাহিক বামা বিস্মিত লােচনে,
লুকাল চপলা যেন সঘন গগনে।
ত্যজিয়া নিভৃতাসন, নন্দন কাননে
চলিল বিষন্ন মনে, প্রিয়তমা অন্বেষণে,
সান্ত্বনা করিতে তার মধুর বচনে,
ভাসিতে সুরসা সহ প্রেম আলাপনে।
নৈমিষ কাননে কাতর অন্তরে,
মদনমােহিনী শচী পদধরে,
কঁদিছে বালা সকরুণ সুরে,
ইন্দ্রাণী (ও) কঁাদে রতির রােদনে।

তারক সংহার কাব্য।
মুছায়ে অঞ্চলে নয়নের জল,
মহেন্দ্র ঘরণী আঁখি ছল ছল,
কহিছে রতিরে বিলাপে কি ফল,
সম্বর সখি । এ মননাবেন।
পতি অমঙ্গল ভাবিতে গগ! মনে,
পতিব্রত রীতিনহে সে ভূবনে,
কেন ক্ষান্ত সখি ! সে ব্রত পালনে,
নারীর কর্তব্য করিতে পালন।
মিথ্যা স্বপ্নে কেন সত্য ভাবি চিতে,
দহিছ সজনি। বল মনাগ্নিতে,
অশুভ ঘটনা ভাবি আচম্বিতে,
অধীরা কেন গাে বৃথা এখন।
পতি তব বীর ব্যক্ত চরাচরে,
ব্ৰহ্মাণ্ড বিজয়ী ফুল ধনু করে,
কেন তবে বল রয়েছ কাতরে,
ভাবী অকুশল ভাবিয়া হয়।
নীল নলিন নিন্দিত নয়নে,
বারিধারা বল ঝরে কি কারণে,
গােনার কমলে তুষার পছনে
ভিজেছে মরি নলিন কাষ।”

পঞ্চম স্বর্গ।
সম্বােধি সাদৰে শচীরে কাতরে
কহিতেছে রতি সুমধুর স্বরে :-
“তুষাগ্নি নিয়ত জ্বলিছে অন্তরে,
কেমনে নির্বাণ করিগো তায়।
কেন বা হেরিনু হেন কুস্বপন,
জানি ললাটে আছে কি লিখন,
অকস্মাৎ শিরে অশনি পতন,
বৈধব্য যন্ত্রণা ঘটিল হায়
মিয়া শর্বরী সুখে নাখসনে,
যামিনীর ক্লেশ মােচন কারণে,
নিদ্রা নিমগন অদ্ভুত স্বপনে,
হেরিনু কহিতে বিদরে প্রাণ।
=
মহেন্দ্র আদেশ করিতে লন;
ত্যজিয়া দাসীরে অমনি তখন,
চলিল প্রাণেশ সুরেশ সদন,
বিরহ অনলে দহিয়া প্রাণ।
তখনি স্বপন অবসর পেয়ে
কহিল আমারে,-“দেখ, রতি চেয়ে
রুত্রের ক্রোধাগ্নি আসিতেছে ধেয়ে
ভীমরবে তাের দহিতে হিয়া।

তারক সংস্থায় কাব্য।
বসিয়া সুন্দরী মম শিরোপাশে,
ভাসিল বারতা সকরুণ ভাবে ;
শুনিয়া সে বাণী নিজার আবেশে
চমকি সখি! উঠি জাগিয়া।
সে ভবিষ্য দৃশ্য হেরিয়া নম্বনে,
দহিছে হৃদয় অনন্ত বেদনে
যে যাতনা প্রাণে কহিব কেমনে,
সকল(ই) তুমি জান মহেন্দ্রাণি ।।
একে কুপন করিয়া দর্শন,
ভাবিয়া অন্তরে হতেছি দহন,
পুনঃ কুসংবাদ করিয়া শ্রবণ,
চপলার মুখে ত্রাসিত পরাণী।
সুরসা নাকি করিয়াছে পন,
ধরিতে আমারে, বিলাস কারণ,
মনে আশা রতি করিবে সেবন,
কিঙ্করী করিয়া রাখিবে তায়।
কি হবে ইন্দ্রাণ! বল গো এখন,
অবলার মানকে করে রক্ষণ, ..."
বালক জয়ন্ত, দনুজনন
পরাক্রান্ত, সে কি হবে উপায়।

ষষ্ঠ-গ।
১
একে কুপন অন্তরে উদয়,
পতি মন্দ ভাবি কাতর হৃদয়,
তাহে মহাদেবি! দানবের ভয়,
কেমনে বল পাব পরিত্রাণ।
শুনিনু সজনি ! বাসব আদেশে
শঙ্কর সমাধি ভঞ্জন উদ্দেশে,
পশিবেন নাথ রজনীর শেষে,
নিশ্চয় তাহে হারাবে প্রাণ।
মহাক্ৰোধী রুদ্র বিখ্যাত ভূবনে,
কার সাধ্য তার সমাধি ভঞ্জনে,
ললাট অনল বাহিরি সঘনে,
রতির ললাট পােড়াবে হায়।
কামবধু কহে শচী পদধরে
চপলারে দেবি । পাঠাও সত্বরে .
যেন কান্তে মম নিবারণ করে,
সমাধি ভনে পশিতে তঁায়।”
রতি মুখে শুনি দুঃখের কাহিনী,
বিষাদে কহিছে বাসব মোহিনী,
“কেন সখি। বল হতেছ তাপিনী ?
অচিরে (এ) তাপ হবে নিবারণ।

তারক ..সুহার কাব্য।
যাওলো চপলে । আশুগতি তখা,
হৃদয়েশ মম বিরাজেন যথা,
কহিও তঁাহারে রতির বারতা,
না পাঠান কামে হরের সদন।
নাহি চাহি হ'তে ত্রিদিব ঈশ্বরী,
স্বর্গসুখ হৃদে কামনা না করি,
রতি দুঃখ হেরে সে সুখ পাশরি,
সহে প্রাণে পরের বেদন।
পরের অন্তরে অর্পিয়া যায়না
না করে ইন্দ্রাণী মুখের কামনা,
তুচ্ছ রাজধনে কি হবে বলনা,
অনিত্য সকল(ই) নহে চিরন্তন।
শচীর আদেশে চলিল চপলা,
দ্রুতগতি বালা হয়ে সচঞ্চল;
রূপের গরবে ঠমকি উজলা
জানাতে ইন্দ্রে শচীর বারতা।
বাসব বাসনা কহে দুঃখবশে :
মধুর কোমল ব্রততী সরসে
ভাবনা-তপন কিরণ পরশে
শুকায়েছে হেন কুসুম লতা।

৯।
কেন বৃথা শঙ্কা করগাে সজনি,
কি সাধ্য এত যে দানব রমণী,
স্পর্শিবে তােমারে প্রবেশি অবনী
'
সিংহের বনিতা মহেন্দ্র জায়া।
শচী কি কাতর রক্ষিতে আশ্রিতা,
বীরের জননী বীরের-বণিতা,
দানবের ডরে নহে কভু ভীত
তজে কি কায়া কভু সখি! ছায়া।”
মধুর বচন শুনি শচী মুখে,
সম্বােধি তাহারে কহে রতি, দুঃখে,-
‘ধরিব জীবন আর কিবা সুখে,
রতির কপাল ভেঙেছে এবার।
ধৈরজ সজনি! নাহি ধরে প্রাণী,
অবােব হৃদয় প্রবােধ না মানি,
কি হবে উপায় নাহি মম জানি,
ভাবিয়া হৃদয় হইল ক্ষার।
যদবধি সখি! নাহি হেরি না,
পুনঃ মন সাধে ভ্রমি তার সাথে,
তদবধি মম মনপ্রাণ কঁদে,
কিসে সে সান্ত্বনা করিব তায়।”

তারক সংহার কাব্য ।
পুনঃ দেবেন্দ্রাণী কহে মধুম্বরে
“কেঁদোনা সজনি! ভেবােনা অন্তরে;
কেন বৃথা বল বিষাদ সাগরে
ঢালিয়াছ তনু কি হেতু হায় !
একান্তু হরর সমাধি ভঞ্জনে,
পশে কান্ত তব আদেশ পালনে,
দেবতা সকলে মিলিয়া যতনে
রক্ষিবে তারে জেন সুনিশ্চয়।
দানবীয় ভয় ভেবােনালাে মনে,
কি সাধ্য তাঁহার শচীর সদনে,
প্রবেশি হরিবে এ অমূল্যধনে,
সুরসা অন্তরে নাহি কি ভয়।
বিধাদে নিশ্বাস ত্যজিয়া কাতরে
কহিল ইন্দ্রাণী রতির গােচরে
“রাগ, দম্ভ, দ্বেষ, বৃথা গৰ্ব্বভরে
মন্তু জীবকুল কেন বা হয়।
প্রপঞ্চ জীবন পঞ্চভূতে লয়
জানে যদি সবে হবে সুনিশ্চয়,
জেনে শুনে কেন নিঠুর হৃদয়,
পরের কাতরে কাত না হয়।

ষষ্ট স্বর্গ।
কেন হিংসা কার্য্যে রত পরস্পরে,
বাদ বিসম্বাদে কি ভাবি অন্তুরে,
রত অনুক্ষণ তুচ্ছ রাজ্য তরে,
না জানি কি সুখ লভিবে তায়।
অনিত্য সম্পদ, জীবন, যৌবন,
চিরস্থায়ী ভাবে নহে ত কখন,
পর প্রাণে তবে দিতে সে বোন,
নহে কি কাতর অন্তর হার!
সম্ভাষি সাদরে রতি সুবদনী,
কহিল শচীরে ‘আহা চন্দ্রাননে।
রমণী কুলের তুমি শিরােমণি,
হেরিলে (ও) মুখ ভলি সব জ্বালা।”
1
কহিলেন শচী সম্ভাষি সাদরে,
“ভেবো না সজনি। ভেবাে না অন্তরে,
কেন আর বল বিষাদের ভরে
রহিয়াছ সহি অনন্ত জ্বালা।”

সপ্তম স্বগ।
ত্যজিয়া কৈলাশগিরি হিমানী শিখরে,
দুস্তর সমাধিনীরে মগ্ন ত্রিপুবারি,
গোরীয় মিলন আশা উদিয়া অন্তরে
চঞ্চল উমেশ চিত, নিমগ্ন সে ধ্যানে,
তুষার মণ্ডিত শৈল, শুভ্রাকৃতি সদা,
উচ্চ চূড়হিমাচলে, রজত ভূধর--
নিভ হর কলেবর, মিশিয়া একাঙ্গ
যেন হইয়াছে, মরি কিবা মনােরম।
বাঘাস্বর কচিতটে, আপৃষ্ঠলম্বিত
জট, সদ। শোভে ভালে অর্ধ-চক্ষু রেখা,
ভষণ লাগ্নি তার বক্ ধ্বক্ জ্বলে,
উৰ্দ্ধক্ষণ। ফণী শিরে গভীর গরজে।
নীল কণ্ঠ কণ্ঠে শােভে নীলকান্ত অাভা,
নীমিলিত উর্ধনেত্র, উৰ্দ্ধরেত সদা,
প্রলয় আসনে বসি ব্যোমকেশ শূলী
ঢালিছে চিত্ত যেন প্রলয় চিন্তায়।
অকালে নাশিতে বিশ্ব, বিশ্বনাথ যেন
ধরিয়াছে মহাকাল ভৈরব মূরতি,
মহাধ্যানে নিমগন পার্বতীর আশে,
শুতোষ, অসন্তোষ, পূৰ্ব্বভাব তুলি।

সপ্তম স্বর্গ।
১৯
লচন্দন বিল্বপত্র লয়ে নিজ করে,
কন্নাত, মুকেশে নগেন্দ্র নন্দিনী
উপনীত সখিসহ, পূজিতে মহেশে,
প্রসন্ন করিতে হরে, বিশ্বের কারণে।
প্রকৃতি রূপিনী বালা মহাশক্তি ভবে,
জগদ্ধাত্রী, ত্রিনয়না, ত্রিগুণ রূপিণী,
সাক্ষায়ণী দাশয়ে ত্যদি নিভাকায়
লভিছে জনম পুনঃ শৈলরাজ গৃহে।
গোরীর রূপের প্রভা শৈলেশ খিরে
ধরেছে অপূৰ্ব্ব শােভা, সুধাংশু কিরণ—
বাসে প্রকৃতি সুন্দরী সাজিয়াছে যেন
সুন্দর মােহন সাজে, ভুলাইতে বে ।
সুক্ত জবা রাগ সম পদ কোকনদ
গুঞ্জরে মধুপ সদা, মধুপান আশে,
চম্পক কলিকানিত অঙ্গুল্যা গ্রভাগে
কোটা শশী রবি তারা দিবানিশি জ্বলে
সুবলিত সুগঠিত পদ তরুমূলে
ধৰ্ম্ম, অর্থ, কাম, মােক্ষ চতুৰ্গফল,
ছড়াছড়ি অহর্নিশ, মধুর আস্বাদ,
তৃপ্তি লভে আস্বাদনে ভকত মণ্ডল।

তারক সংহার কাব্য।
ব্ৰহ্মাও উদর ভাণ্ডে, নাভি সরােবরে
মায়া পদ্মা পর্ণ চক্র বেড়া সুকৌশলে,
মহামায়া মায়া মুগ্ধ জীব অচয়,
সদা বদ্ধ মায়ানালে, বন্দীপ্রায় সবে।
বিমুক্ত কুন্তল রাশি স্পর্শিত,
অনুন্নত কুচরেখা পর্ণচক্র সম,
অস্ফুট, শােভিত কিবা বক্ষঃ সরােবরে
অমৃত আধার, বিশ্ব পালনে সহায়।
ব্রহ্মাণ্ডের জীব তরু করিয়া বেষ্ঠন,
হে ভূলত বদ্ধ প্রণয় কীলকে,
ভূবন ভূলান হাসি অধরের কোনে,
মৃদু হাস্যে বিমােহিত অখিল সংসার।
ত্রিনেত্ৰ বনত্রয়, ব্রহ্মাণ্ড বদনে,
কটাক্ষ ভঙ্গিমা তায়, ব্রি গুণ শােভিত
মহাশক্তি স্বত্বঃ, তমঃ, রজঃ অভিধেয়,
সৃষ্টিস্থিতি লয়ের নিদান কারণ।
প্রপঞ্চ জগৎ পঞ্চ সূ ভূতস্থিত।
আকর্ষণ, বিকর্ষণ, বিয়ােজনাদি
ব্ৰহ্মাণ্ড সমষ্টিশক্তি, বঞ্ছি ভাবান্বিত,
গুণময়ী গুণ ক্ষোভে ব্যক্ত স্বরূপিণী ।

সপ্তম সর্গ ।
কঠোর ৩পের ফলে হিমালয় জায়।
ভূন মােহিনী কন্যা, অতু ল জগতে,
উদরে ধরিলা, মাতা জগৎ জননী,
আদ্যাশক্তি মহামায়া ত্ৰিপুর ভাবিনী ।
সরলা বালিকা রূপে ব্রহ্মাণ্ড মােহিনী,
লে কৃতী রূপণী সতী, পুরুষ প্রধান
নাদি অন স্তু হর-সংমিলন “শে,
উপনীত, সখি সহ প্রভাত সময়ে।
গৈরিক বনে গৌরী তনু আহরিত,
( তবুও উজ্জ্বল গিরি লাবণ্য ৮টায় )
অনন্ত রূপের জ্যোতি বিস্তারি ভুবনে,
বিমুগ্ধ করেছে মরি অখিল সংসার।
নন্ত অম্বর মার্গে অনর নিকর
অম্বিকার অাগমন হেরিয়া হরষে,
( জানিয়া প্রকৃত কাল সমাধি ভঞ্জনে )
পাঠাইল কামে সবে, ভব সন্নিধারে।
মহেন্দ্র আদেশে কাম ধুর্জটী সদনে,
সভয়ে পশিল ধীরে, ফুসশর করে,
সেনানী বসন্ত সৈন্য ভ্রমরের সহ,
পাপিয়া, মলয়, পীক অনুচর যত ।

তারক সংহার কাব্য।
উদিল বসন্ত ঋতু পর্বত শিখরে,
ফুল ফুল সাজে হর্ষে, বসুন্ধরা সতী
সজিল সহসা নব পত্র কিশলয়ে,
নীরস জীর্ণাঙ্গ তরু সরস সবল,
মধুর কুসুম গন্ধে আমােদিত গিরি!
পরিমল লোভে অলি, কুসম নিকরে,
গুঞ্জরে সুস্বরে, ক্ষণে উড়ে বসে তায়,
শাখী শাখে পীকবঁধু আছিল নীরবে,
সহসা উঠিল দোহে ঝঙ্কারি হরষে।
পাপিয়া-পঞ্চম-তান-সুলিত 'বে
ধ্বনিত কর গিরি, কম্পিত সঘনে,
মলয় অনিল, মন্দু মৃদু প্রবাহিত,
ঋতুরাজ আগম
আগমনে
নে শােভিত অচল।
আকুল বিরহীকুল বসন্তাগমনে,
আবাল বনিতা মগ্ন সুখের হিল্লোলে,
ধ্যানমগ্ন মাের্গীকুল উন্মিলী নয়ন,
প্রসন্ন অন্তরে পুনঃ চাহে মহীপানে।
পশুপতি-পাদপদ্বে অর্পি বিশ্বদল,
নগেন্দ্রনন্দন বালা মহা ভক্তিভরে,
গলগ্ন কৃতবাদে মিয়া চরণ,
দাড়াল অদূরে , ধ্যান ভঙ্গ অশে।

সপ্তম স্বর্গ।
কুসুম নির্মিত ধনু লয়ে নিজ করে,
সভয়ে চলিল কাম ত্র্যম্বক সদনে,
জানু পাতি রতি পাত বসিয়া অদূরে,
চিন্তিছে, কেমনে শর বিন্ধিব হৃদয়ে।
হুলে ধরি মহাধনু নােয়াইয়া বলে,
অৰ্দ্ধ চন্দ্রাকৃতি জাগুণ আরােপনে,
আকর্ষি শিঞ্জিনী, হর্যে টঙ্কাসিয়া গুণ,
মর্মভেদী পঞ্চ শর যুড়িল ধনুকে।
উৰ্দ্ধচারী সুরবৃন্দ বিস্মিত নয়লে •
অনিমিষ, এক দৃষ্টি চাহি পিরিপানে,
প্রমাদ লহরী সবে গণিতেছে মনে,
সংশয় অনলে দগ্ধ অমর জীবন।
জীবন।
মদন বিপদ শঙ্কা চিন্তিয়া অন্তয়ে,
চিন্তান্বিত পুরন্দর সুরবৃন্দ সই,
প্রতিক্ষণে কৌতুহল অন্তরে উদয়;
সশস্ত্র সজ্জিত সবে রক্ষিবারে কামে।
হানিল বিষম শর, ছুটিল সবেগে,
মূহুর্তে বিধি ল গিয়া শঙ্কর হৃদয়ে,
আকুল করিল চিত সমাধি ভঞ্জনে,
সক্রোধে চাহিল দেব মদনের পানে।

১
তারক সংস্থার কাব্য।
ঘূর্ণিত লােচন দ্বয় রক্তিম বরণ,
মহারুদ্র রুদ্রতেজ ললাট ফলকে,
(ভয়ঙ্কর প্রজ্বলিত পাবকের শিখা)।
বাহিরিল তেজঃ পুঞ্জ ভীষণ দর্শন।
জলন্ত অনল শিখা হেরি মীনকেতু
উৰ্দ্ধশ্বাসে, প্রাণভয়ে পলায় সঘনে,
বাসব, অনই, অনল, বরুণ, শমনে,
লিত অন্তরে সবে ডাকে উচ্চৈস্বরে :-
৫
পুরন্দর; শচীকান্ত। কোথা এবে সবে,
সাধিয়া আপন কার্য কি হেতু এখন
পলায়িত, সবে বল কাপুরুষ প্রায় ;
স্বার্থপর মুরবৃন্দ ঘৃণিত, এমন।
কৃতঘ্ন অমর আজ ভাগ্য দোষে মম,
দেবের কর্তব্য নহে ত্যজিতে আশ্রিতে,
পরকার্যে হারাইনু জীবন অকালে,
ঘটিল রতির ভাগ্যে বৈধব্য বেদনা।
দেখিতে দেখিতে অগ্নি প্রচও নিম্বনে
স্পর্শিল মদন গাত্র, ভয়ঙ্কর বেগে,
ভূবন মােহন তনু ভীষণ অনলে
প্রজ্জলিত, অবিলম্বে ভস্মে পরিণত।

সপ্তম স্বর্গ,
অকস্মাৎ দৈববাণী হইল আকাশে,
‘নিম্বার্থ পবিত্র পুণ্য-ধৰ্ম্ম আচরণে
অক্ষয় অনন্ত কীৰ্ত্তি লাভলে ভূবনে ,
চিরদিন তব কীর্তি ঘুষিবে জগতে।
হবে বিধবা রতি, বৈধব্য অনলে
দহিতে হবে না তায়, আশু সে উপায়
আশুতোষ, করিবেন সদয় হৃদয়,
হরের প্রসাদে কাম লভিবে জীবন।
চেতনা পাইয়া নাথ উন্মিলী নয়ন,
জাখিমেল চাহিলেন হিমানী শিখুরে,
হেরি সতীরে পুনঃ উন্মত্ত বিষম,
মহাক্ৰদ্ধ, রুদ্ৰতেজ ক্রমশঃ বর্ধিত।
s
সভয়ে দেবতাবৃন্দ নামি গিরিতলে,
পশি বিষন্ন ভাবে পিনাকী সদনে,
মহাক্রোধে মহেশ্বাশ ছাড়ি দীর্ঘশ্বাশ,
সম্বােধি বসবে কৈল মহাষ্ট মনে :-
অম্বিকার ধ্যানে মগ্ন মানস চকোর
সুধাপানে উল্লাসিত ছিল ক্ষণকাল,
মহাকষ্টে ‘চত স্থির করেছিনু হায়,
কেন সে যাতনা ইন্দ্র, কৈলে উদ্দীপন ?

তার সংহার কাব্য।
কোথা মম সতী, ইন্দ্র ! বলহে এখন,
না, হেরি বদন শশী বিদরে জীবন,
সতী না পাইলে আজ, অনর্থ ঘটিবে,
দহিব নিশ্চয় বিশ্ব প্রায় অনলে।”
।
দেবের অনন্তু কষ্ট, আত্ম বিবরণ,
পশুপতি পদ্ম পদে নিবেদিয়া সব,
স্তুতি বাকে, আশুতোষে কহিল বাসব :-
নহে দোষী বিশ্বনাথ। বিশ্ববাসীজনে।
=
অকারণে,কেন প্রভো! কর সৃষ্টি লয়,
ব্ৰহ্মাণ্ড বিনাশী অস্ত্র নিয়া কি ফল,
নাশ ইন্দ্রে, নাশ ত্বরা, ঘুচিবে এ জালা,
দহিতে হয় না আর অধীন বিষে।
~
দাসত্ব পাদুকা শিরের করিয়া বহন,
পারি না নিতে আর অবর্নী মণ্ডলে,
কিনা তুমি জান দৈব ! ব্রহ্মাণ্ড বারতা,
অবিদিত নহে কিছু তােমার গােচৰে।
--
সিংহের অাসন কাভ করেছে শৃগালে,
বৈজয়ন্তপুরে এবে দৈত্য অধিকার,
উপল আদেশে তেঁই সমাধি গুঞ্জনে
নিযুক্ত অমর বৃন্দ, কাতর অন্তরে।

সপ্তম সগ।
১০
যােগমায়া যােগে তনু ত্যজি দক্ষালয়ে
লভেছে জনম পুনঃ শৈলরাজ গৃহে,
গৌরীরূপে অবতীর্ণ অবনী মণ্ডলে,
হের আশু আশুতােষ"। সতী তব পাশে।”
গৌরীরে হেরিয়া হর প্রসন্ন অন্তরে
প্রসারিত ক রদ্বয়, ধরিতে তাহায়,
ঈষৎ হাসিয়া বালা, দাড়ায়ে অন্তরে,
নিবারণ কৈল হরে অষ্ট পরশনে।
অবৈধ আচার দেব। সাজে না তোমারে,
অনূঢ়া কুমারী আমি, কেমনে এখন
পরশিবে অঙ্গ মম, পরিণয় পাশে
বাঁধিয়া দাসীরে, মম পূরা বাসলা ?
স্তবে তুষ্ট আশুতােষ, কষ্ট ভাব ত্যজি
সাদরে কহিল ইন্দ্রে, "না ভাব বিষাদ
মনে, জানিয়াছি ধ্যানে সব, বৈজয়ন্ত
ধামে কুঘর্টন ঘটিয়াছে যত এবে।
দেবের বাসনা পূর্ণ করিতে বাসনা
থাকে যদি হে মহেন্দ্র। অচিরে পার্বতী
সহ সুমিলন মম কর তুমি তবে,
সর্তীর বিচ্ছেদ জ্বালা সহেনা হৃদয়ে।”

তারক সংহার কাব্য।
নৈমিযারণ্য মাঝে রতি সুলােচনা
শচীপাশে বসি সদা ভাসে মনােহুঃখে,
পতির বিপদ ভাবী ভাবিয়া হৃদয়
ব্যথিত, সৰ্ব্বদ। বাল ভাসে অশ্রুজলে।
বাসব রমণী তায় করিছে সান্ত্বনা,
তবুও অবােধ মন প্রবােধ না মানে,
হৃদয়ের সুখরবি মানস গগনে
আবৃত সতত চিন্তা নব ঘন জালে।
সীমন্তে সিন্দুরবিন্দু সুন্দর শােভিত,
অকস্মাৎ সুলােচনা মুছি মন ভ্রমে,
কহিল শচীরে ধীরে তিতি অশ্রনীরে-
“তির অষ্ট বুঝি ভেঙ্গেছে নিশ্চয়।
{
বহুক্ষণ হলো সখি গিয়াছে চপলা,
এখন (ও) ফিরিয়া কেন, না আইল ৰল,
কি বিপদ থাণকান্তে ঘটিল না জানি,
অভাগিনী রতি কি গাে হলো কাঙ্গালিনী ?”.
হেন কালে দ্রুতগতি চপলা সুন্দরী,
ইরাকৃতি বালা স্বভাব চঞ্চল।
উপনীত শচী পাশে, বিষাদিত মনে
ভাবিত কেমনে বাৰ্তা কহিবে রতিরে।

সপ্তম স্বর্গ।
১০১
শুনিলে বারতা রতি ত্যজিবে জীবন,
পতির বিয়ােগ জালা, অবলার প্রাণে
শেল সম বাজে, কেমনে কহিয়া হয়।
সে দারুণ-বাণী, হিব পরাণ তার ।
সমিয়া শচীর পদে, সম্ভাষি রতিরে,
কহিল বারতা যত ভাবিয়া হৃদয়ে,
হর কোপানলে কামে ভস্মীভূত হেরি ,
আইনু সজনি! ত্বনা দিতে সমাচার।
চপলার মুখে শুনি পতির নিধন,
মূচ্ছাগত কামবঁধু, শচ। ক্রোড়লে
আছাড় পড়িল বালা মহাশােক ভরে,
বিচ্ছিন্ন ব্রততী ভিন্ন শুনি তরুরাজে।
কাতরে মহেন্দ্র জায়া কৈল চপলায়,
“হায় লো চপলে! অকালে বিচ্ছেদ কীট
পশিয় হৃদয়ে, কাটিল কুসুম বালা,
বিক্ষ প্রসুন মরি শােক রবিতাপে।
ভাগ্য দোষে প্রাণনাথ হইল নিদয়,
বধিতে কোমল কায় অবল। রতনে
এত যদি সাধমনে, কেন না সজনি।
বধিলেন তবে তিনি এ দাসীর হয়!

وود
তারক সংহার কাব্য।
নিতি নিতি এ যাতনা সহিতে হতো না,
ভুঞ্জিতে অনন্ত ক্লেশ হৃদয়ের জ্বালা,
পরের হৃদয়ে ব্যথা দিয়া অকারণে,
না জানি বীরের প্রণে কিবা সুখ হয়।”
বসন অঞ্চলে মুছি নয়নের জল,
রতি সুশার শচী নিযুক্ত নিয়ত,
নেহারি বদন মরি, অন্তরে গুমরি,
কাদিছে পুলােম কালা ব্যাকুল হৃদ।
বহুশ্রমে সুশায় লভিয়া চেতন,
আলু থালু বেশে রতি হাহাকার রবে
বাইল বিমান মার্গে, কঁাদি উচ্চবােল,
মূহুর্তে পৌছিল, রাম। তম্বক সদনে ।
রাজী পতি দেহ হেরিয়া নয়নে,
বিবাদে কঁদিয়া রতি কহে উচ্চৈস্বরে :-
‘হা শঙ্কর উমাপতে। হার বামদেব ।
কি দোষে দাসীরে বাম হইলে এখন ।
দুর্গতি নাশিনী শিবে! পতিত পাবনি?
পতি মৰ্ম্ম জগদয়ে। জাম সে সকলি,
জেনে শুনে তবে কেন, এ দাসীরে বল,
করিলে ছলন। উমে! জগৎ জননি!

সমাপ্ত স্বগ।
হে ৰাসব! স্বার্থপর । অমর'কলঙ্ক ।
কাধিয়া অভীষ্ট নিজ, সন্তুষ্ট অন্তরে
রয়েছ দাড়ায়ে সবে, না জানি কেমনে,
নিঠুর ।
হলো না দয়া, কঠিন হৃদয়ে ?
জীবন শক ধন, হৃদয় রতনে
হাৱামে জনম তরে, কি সুখে এখন
ধরিব জীবন আর, বিসজ্জিব তায়,
বঁচে কি শকরী কভু সলিল বিহনে ?
বৃস্তুচ্যুত পুষ্পরাজী সরস কখন,
থাকে কি জীবিত ইন্দ্র! বল হে আমায়,
ব্রততী বিটপী-ভ্রষ্ট বাঁচিবে কেমনে,
কি দোষে কাঠুর করে দিলে তরুবরে ?
হে প্রচেত! ভূবন বিখ্যাত, অস্ত্র, পাশ
অভিধেয়, হানি শিরে, নাশ ত্বরা, সহে না
দারুণ জ্বালা, পতির বিচ্ছেদ অগ্নি
পশিয়া হৃদয়ে দহিছে পরাণ মম ;
হে কুলিশি ! অশনি প্রহরি ত্বরা রতির
মস্তকে, জুড়াও বেদনা তার, ত্রিশূলি !
ত্রিশূল হানি, পতি পাশে প্রের মােরে,
বৈধব্য যন্ত্রণা আশু কর নিবারণ।

তারক সংহার কাব্য।
অস্তমিত সুখ রবি, নলিনী বাচিৰে
তবে বল সে কেমনে, নয়নাসার নিত্য
তুহিন সম্পাতে, শুকাবে কমল কায়,
বৃস্তুচ্যুত হয়ে ধরা পড়িবে ভূতলে।
হা কান্ত! একান্ত কি হে দাসীরে ত্যজিলে ?
ভূবন মােহন ধনু ধরি নিজ করে
বারেক সম্ভাষ নাথ ! দিয়া দরশন,
নিরখি বদন শশী জুড়াব জীবন।
এস না! দেহে মিলি নন্দন কাননে
নিব পরম সুখে, তুলি পারিজাত,
প্রেমহার, উপহার দিয়া তব করে
ঘুচাব হৃদ ভার, ভাসিব উল্লাসে।
তেম বিনা শূন্যময় হেরি ত্রিভুবন,
কে আছে দাসীর আৱ, বল ত্রিসংসারে,
চিরদাসী দাসীপদে, বিপদ সলিলে
কি হেতু নিমগ্ন তারে কৈলে গুণমণি ?
*শন
হে বসন্ত। প্রাণকান্ত! কোথা মম বল?
কোকিল! মলয়ানিল ! নিরুত্তর কেন?
অমর! গুনে বিরত কেন? কি ভাৰি
ৰিবঃ অন্তরে সবে, রয়েছে নীরবে ?

সপ্তম সগ । প্রভূদ্রোহি ! অবিশ্বাশি ! কৃতগ্ন! নিঠুর, স্বামীর বিপদ দৃশ্য হেরিয়া নয়নে, নিশ্চিন্ত অন্তরে সবে রয়েছ কেমনে, অনুগত জনােচিত এই কি বিধান ? সব। মিনতি, আমি করি তব পদে, অবিলম্বে দেহ মােরে সাজাইয়া চিতা, প্রবেশি অনল মাবো, ত্যজিৰ জীবন, পারি না সহিতে আর, এ দারুণ জ্বালা। বিলাপে বিষাদে রতি, কঁদে উচ্চতরালে, আকুল দেবকুল, অনল, অনিল, নিস্তব্ধ সকলে শােকে, নাহি সরে বাণী, পারে রতির কেহ করিতে সান্ত্বনা। কতক্ষণে অশ্রুজল মুছি সুলােচনা কহিল সম্বােধ ইন্দ্রে, শচীশ্বর ! যাও ৰা আশুতােষ পাশে, জাশও যাতন নম, বৈধব্য বেদনা রতি সবে কতকাল!” অশ্বশি রতরে ইন্দ্র, আগু সরি হরপদে করি'নমস্কার, কৈল তঁারে, “হে অন- নাথ। ভিখারী বাসব ভিক্ষা মাগে তৰ -ঠাই, বাঁচা(ও) করুণাময় ; বচিা (ও) মদনে।

তারক সংস্থার কাব্য।
আশ্বাশি মহেন্দ্রে তবে দেব মহেশ্বর,
বৃতির ললাট দুঃখ ঘুচাবার তরে,
ভস্মৃতি স্তুপাকার কাম-তনু পানে
চাহিলেন পুনঃ মরি প্রসন্ন নয়নে।
জীও কাম, স্বস্তি বাক্য উচ্চারি সঘনে,
পঞ্চমুখে পঞ্চমুখ, বাচায়ে অনলে,
অধৈৰ্য অন্তরে সদা, গৌরীর কারণে,
অশান্ত হৃদয় মরি না হয় সুস্থির।
ভবের প্রসাদে কান লভিয়া জীবন
আরস্তিল স্তুতি তায়, বিবিধ প্রকারে,
তিসহ মিলি পুনঃ প্রফুল্ল অন্তরে,
সুরবৃন্দে সঙ্গে কার, প্রয়ানিল ত্বরা।
সম্বমান হিম গোয় জট। পৃষ্ঠেপরি,
মধ্যাহ্নতপন, মহাযশা তপােধন,
দেবর্ষি নারদ, করে বীণা যন্ত্র ধরি
হরিগুণ গানে রত, ভুষিতে শুবনে।
ধ্যান ভঙ্গ জানি হয়ে প্রফুল্ল অন্তরে
উপনীত মহাঋষি হিমাদ্রি শিখরে,
সম্বােধি মহেন্দ্রে তবে কহিল তখন,
“পাৰ্বতী সহিত আশু করিতে মিলন।

সপ্তম স্বর্গ।
প্রণমি দেবর্ষি পদে, দেবেন্দ্র তখন
কহিল শহর্ষে, “যাও ঋযে! অবিলবে
গিরিরাজপুরে, কহিও শৈলেশে, ত্বরা।
অর্দিতে নগেন্দ্র বলা শঙ্করের করে।
তােম। বিনা তপােনিধে। এ কার্ধ্য সাধনে
নহে সে সশক্ত কেহ, যাও ত্বরা গিরিপুরে,
মিলাও পার্বতীসহ পাৰ্বতী বল্লভে,
ঘূচাও দেবের দুঃখ, অনন্ত যাতনা।”
ইন্দ্র বাক্যে মহাঋষি চলিল সত্বরে
হিমালয় রাজগৃহে, কহিতে বারতা ;
সখিসহ গিরিবালা ধাইল পশ্চাতে,
মেনকা জননী পাশে মূহুর্তে পৌছিল।

অষ্টম স্বর্গ।
অষ্টাদশবর্ষ ব্যাপী দানব সমরে
অক্লান্ত অমর বৃন্দ, বিরত আহবে,
সমবেত পুনঃ সবে স্বর্গের দুয়ারে,
করিছে বিষম যুক্তি জিনিতে অসুমে।
.:
ভর্কের প্রসঙ্গে কাল বহুক্ষণ গত,
নিরুৎসাহ সুরবৃন্দ জীত দেত্য রণে,
দানব বিক্রম হেৰি স্তম্ভিত সকলে
আশ্চষ্য, অদ্ভুত রণ-কোশল দর্শনে।
সম্বােধি দৈবদলে কহিল অনল :-
‘ক্ষাস্ত হও দেববৃন্দ! বৃথা রণশ্রমে
ক্লান্ত কেন করতনু, দানব বিজৰ
হবে না অমর হতে জেল নিশ্চয়।
কার্তিকেয় মহারথী স্কন্দ তরকারি,
রুদ্রের ৩নয় বীর, রুদ্র সম তেজে,
তারক নিধন হেতু জনম গ্রহণ,
সেনাপতি পদে আশু বর সে তঁাহার।
চল পাশি! পশি ত্বর কৈলাশ শিখরে,
উমাসহ উমাপতি বিরাজে খায়,
সেনাসহ পরিণয় প্রণয় বন্ধনে
ৰাধিতে কুমারে, দেব কল্যান কারণে।”

অষ্টম স্বর্গ।
চিত্তিয়া হৃদয়ে দেবনিমেষ সময়ে
কৈলাশ ভূবনে গিয়া উপনীত সবে,
বিচিত্র ভূধর শোভা নিরখি পুলকে
বিস্মিত অমর কুল, অদ্ভুত বর্ণনে।
রাগ, দত্ত, হিংসা, ক্রোধ, গ, অভিমান
লেশ মাত্র নাহি তথা, সদ। শান্তি-শ্রোত
প্রবাহিত মৃদুভাবে, উল্লাসে মগন
সবে, নাহি জানে কভু দুঃখ করে বলে।
আশ্চর্য প্রীতির ভাব ভক্ষ্য ভক্ষুকেতে,
অহরহঃ ভ্রমে সুখে ভূজঙ্গে ময়ুরে,
মার্জারে মুষিকেশাল ছাগলে পদা;
কুরঙ্গী কেশরী সনে ফিরে গি-পৰে।
কিন্নর, অপর, নর, সিদ্ধ, বিদ্যাধর.. "
যক্ষ, রক্ষ, আদি সবে, তন্ত্র সিদ্ধ, মন্ত্র
বলে ভ্রমে সবে নির্ভয় হৃদয়ে, অহঃ-
রহঃ মগ্ন প্রেমনীরে, সুখের হিল্লোলে
অপরী কিন্নরী কুল মনের হরষে
নামিয়া সরসী নীরে, মহা কুতহলে
জলকেলি করে সবে, বাইপাশে ভূজ
লতা বাধি পরস্পরে, সন্তরণ দেয়

১১
তার ক সংহার কাব্য।
সুখে, কুবলয় (ধন) তুর্ণিয়া সাদরে,
কেহ বা পরিছে কেশে, সলিল দর্পনে
কেহ হেরিয়া বদন, ভাসে মন সুপে,
উচ্ছসিত বারি মাশি মহা আন্দোলনে।
৫
প্রসারি বিচিত্র পুচ্ছ, শিখিনীরসহ
শহীকুল নাচে সুখে কেকা হবে, তাল,
ভঙ্গ হেরি রােষে, খঞ্জন খঞ্জনী দেহে
আশু অসি তথা, আরম্ভিল নৃত্য সুখে ।
উচ্চশিক শাখী শাখে বিহঙ্গম কুল
বাঁধি নীড় থাকে সুখে, সুসঙ্গত তাল
মান, সুললিত স্বরে, বৈতালিক গীত
গাহিতেও সবে, নির্ভয় অন্তরে সদা।
ন
অনন্ত বসন্ত তথা চির বিরাজিত
ফুল ফুল নব সাজে তরু লতা চয়
সুশােভিত, সদা তায় ভ্রমর গুঞ্জয়ে,
কুহরে কোকিল কুল, সুমধুর রবে।
মহামূল্য রত্নরাজী—দীপ্ত প্রভান্বিত,
তিমির পাষাণ গর্ভ ভেদিয়া নিয়ত,
সৰ্ম্মর প্রস্তর শ্বেত, সুধাংশু কিরণে
স্ফটিকের আভা কিবা প্রকাশে নিয়ত।

অষ্টম স্বর্গ। '
গৈরিক নিঃশ্রব ধাতু প্রচও গমনে
উদগীরণ গিরি পথে ভয়ঙ্কর রবে,
পদ্মরাগ, মকত, অয়স্কান্ত আদি
অগনন, শোতে কত শৈলেশ শিখরে।
বিচিত্র কৈলাশ শােভা নিরখি নয়নে,
সবিস্ময়ে, সপুলকে দেবেন্দ্র বাসব
সঙ্গে লয়ে সুরবুন্দে, ভবেশ আবাসে
পশিল বিষাদে, হারি দনুজ সমরে।
ঈশান ঈশান কোনে বসি বিল্পমূলে,
ঈশানীর সহ সুখে ভাসে প্রেমালাপে,
আগম, নিগম, বেদ, পঞ্চতন্ত্র কথা,
পঞ্চমুখে পঞ্চমুখ কহিছে উমারে।
হর গৌরী পদে ই মিয়া সমে
দণ্ডাইল করযােড়ে, নতশ:রে রহিক্ষণ,
কহিল সম্বােধি হরে, “হরনাথ! হর
দেবের যাতনা আশু, আশুতােষ তুমি,
তে অনাথ নাথ! ভকং বৎসল তুমি
বিদিত ভুবনে, আশ্রিত জনার গতি
একমাত্র ভবে, নিরাশ্রয় মুরবৃন্দ,
দেহ সে অশ্ৰিয় এভো ! কৃপাময় ওকে

তারক সংহার কাব্য।
তুমি, দুর্বলের বল, অমর সম্বল,
চির ভরসা আশ্রয়, হে পিনাকি! তেঁই
ভিক্ষা মাগে ইন্দ্র, দেহ ভিক্ষা তারে আজ,
দুব্বল দেবতাকুল দনুজ সমরে।
ৰারিতে কুমারে আজ সেনাপতি পদে,
অভিলাষ মুরবৃন্দ করিয়াছে মনে,
পুরাও বাসনা দেব ! দাষত্ব--শৃঙ্খল
ঘুচাও সত্ত্বরে, নাশ দেবের যাতনা।
হবে না কুমার বিনা তারক নিধন,
নিশ্চয় জেনেছি মনে, বিরুপাক্ষ! হয়ে।
না বিপক্ষ দাষে, দেহ ভিক্ষা কৃপাময়।
কৃপা করে আজ, কুমারে অমৰে ত্বরা।”
রুপসী রমনী রমা সেনা অভিধেয়,
যৌবনের ভরে অঙ্গ সদা সচঞ্চল,
চাহিয়া কুমার পানে কটাক্ষ নয়নে,
মােহিত সুন্দরী, মরি সেরূপ নেহারি ।
শিখী ধ্বজ শক্তিধর কুমার শহর্ষে
চাহিয়াছিলেন ক্ষণ, দেববৃন্দ পানে,
সহসা পড়িল দৃষ্টি, হেরিল নয়নে,
ৰিতি বদন ছবি হৃদিসিন্ধু হলে।

অষ্টম স্বর্গ ।
কুমারের মনােভাব বুঝিয়া গােপনে,
দেবের কল্যাণ হেতু, চিন্তিয়া অন্তরে,
কহিল মদনরিপু দৈত্যরিপু প্রতি
“বৃ দুঃখ সুরপতে। পরিহর চিতে;
দানব সৌভাগ্য রবি অস্তমিত প্রায়,
অচিরে বাসব তব পুরিবে বাসনা,
বৈজয়ন্ত ধামে পুনঃ অসুরারি গণ,
ভাসিবে সুখের সরে, অপার আনন্দে।
সখােধি কুমাৰে তলে কৈল পশুপতি :-
‘ষাও বৎস! ইন্দ্র সহ ত্রিদিব মণ্ডলে,
ভেটিতে দুর্দান্ত রিপু দনুজ ঈশ্বরে,
তােমা বিনা দুষ্ট দৈত্য হবে না-নিধন।
নাশিয়া তারকাসুরে ভীষণ আহবে,
অনুর মর্দন আখ্যা গত ত্রিজগতে,
বিপুল বিজয় ধ্বজা উড়ায়ে গগণে,
অনন্ত অক্ষয় কীৰ্ত্তি লভ ত্রিভুবনে।”
অভয়ার পাদপদ্মে নমিয়া মহেন্দ্র
কহিল সম্বােধি পুনঃ, “ভিখারী বাসব
মাগাে! মাগে ভিক্ষা পদে, দেহ মা কুমারে
আজ ভিক্ষা তায়, জগদম্বে । মাগি পদে।”

তারক সংস্থার কাব্য। বিষাদে নিশ্বাস ছাড়ি কহিল অম্বিকা :- কত যে আশঙ্কা নব; উদে হে দেবে। প্রতিক্ষণে মায়ের অন্তরে, কহিব কেমনে, জানে সে পুলােম বালা, কি জানিবে তুমি শুনেছি দনুজ পতি কঠিন হৃদয়, বাছার কোমল অঙ্গে নিদারুণ বাণ ভেদিয়া ব্যথিত 'যবে করিবেও তনু, কেমনে সহিব প্রাণে, বল শুনি?” কাতরে কহিল ইন্দ্র-অম্বিকা চরণে ঃ- অসুর নাশিনি শিবে! অসুর নাশিতে নহে তব পুত্রে ভার; মাতঃ। বিশেষতঃ রক্ষিবকলে মিলি, কি সাধ্য দনুজ- পতি, বিনাশিবে তায়, অন্তর যামিনী ভুমি, জান সে সকলি, অন্তর বারতা যত, জেনে শুনে কেন তবে এ ছলনা করিছ অমরে মাতঃ! বল গোআমায়।” “সপিনু কুমারে, তব করে, হে বাসব। কহিল অম্বিকা, রেখ খতনে তুমি ভিখারিণী ধনে, দেখাে যেন, দৈত্যকীটে না কাটে অকালে মম হৃদয় কুসুমে।”

অষ্টম স্বর্গ।
ভক্তিভাবে নমি ইন্দ্র পার্বতী শঙ্করে
চলিল হরযে, সঙ্গে লয়ে শিখীধ্বজে,
প্রফুল্পিত মনে সবে আনন্দে মগন,
দানব বিজয় ত্বর জানিয়া নিশ্চিত।
সজ্জিত কুমারে সুর করি যােদ্ধ সাজে,
মন্দাকীনি পুতঃধারা পবিত্র সলিলে
অভিষিক্ত করি তায় সেনাপতি পদে,
কৃতার্থ হইয়া ধায় অন্তরীক্ষ তুলে।
নিজ পাশ দিল পাশী, দণ্ড দণ্ডধর,
গাণ্ডীব অনল দিল, বজ্র বজ্রধর ;
যার যত অস্ত্র ছিল, সন্তুষ্ট অন্তরে
কুমারে অর্পিল সবে, দৈত্যের নিধনে।
সেনাপতি করি অগ্রে দেব অনিকিনী
বিপুল বিক্রম ভরে উৎসাহিত হয়ে
ধাইল প্রচণ্ড রবে, নির্ভয় অন্তরে
স্বর্গের দুয়ারে গিয়া বাজাল দুন্দুভি।
অলজ্য্য প্রাচীর সম দেব অনিকিনী
বেষ্টিল দানব পুরী, ত্রাসিত দানব
বৃন্দ, সহসা পশিতে হেরি অমরের
দলে, ভীষণ আহবে অসজ্জিত সবে।

নবম স্বগ।
অসংখ্য অমচমু স্বর্গের তোরণে
বিেষ্টত জলধি প্রায়,
কোলাহল বীচি তায়,
উখিত নিয়ত ভীম গভীর গর্জনে।
কম্পিত স্বরগ ভূমি বীরপদে ভরে,
অস্ত্রের ঝন ঝনাঘাত,
প্রলয়ের ঝাকত,
পশিছে ভীষণ নাদে শ্রবণ বিবরে।
মাতঙ্গ বৃংহিত ধ্বনি, অশ্বহে সা রবে।
কম্পিত ত্রিদিববাসী,
বনে নাহি সে হাসি,
সভয়ে দিল আঁখি সশঙ্কিত সবে।
অমরের রণ বাদ্য বাজিল সঘনে,
কম্পিত নন্দনবন,
স্বর্গ মর্ত্ত ত্রিভুবন,
কম্পিত স্বরগ-বাসী ভীষণ নিঃস্বনে।
মন্দাকিনী পুতঃ বারি উচ্ছসিল রােষে,
রথের ঘর্ঘর নাদে
মাতৃকোলে শিশু কাঁদে,
চুম্বিয়া বদন মাতা তনয়েরে তােষে।

নবম স্বর্গ।
কেও টঙ্কার ধ্বনি করিয়া শ্রবণ,,
শ্বাপদ সভয় মনে
পলায় বিজন বনে,
কুলায় পশিল পক্ষী ভয়াকুল মন।
কোষমূক্ত ক্রোধভরে উখিত কৃপাণ।
ভীমরবে সৈন্যগণ
করে মহা আস্ফালন,
আরােহী বিমানে দেব ছাইল বিমান।
সজ্জিত সৈনিকচয় মণ্ডল আকারে।
আগম নিগমােপায়
একমাত্র জ্বরতায়,
অশক্ত বিপক্ষ ব্যুহ ভেৱািৰে,
বিপুল বিক্রমে সবে পরাক্রম ভরে
আক্রমিল সুপুরে,
জিনিব দানবারে,
উদ্ধাৰিৰ জন্মভূমি বাসনা অন্তরে।
বিপক্ষ বিনাশ আশ চিন্তিয়া হৃদয়ে
দ্বিগুণ উৎসাহে সবে
ভেটিতে দানব ধরে
ঘিরেছে স্বরণ পুরী অমর নিলয়ে।

তারক সংহার কাব্য।
জীত হয়ে পূৰ্বরণে মহাক্রদ্ধ মনে,
আশিবিষে দংশে বারে,
সে কি কভু ভুলিবারে
পারে সে দারুণ আলা হায় আজীবনে।
এখনও সে অপমান জাগৃত হৃদয়ে
কুমার সেনানী সঙ্গে
সমর তরঙ্গে রঙ্গে
দিয়াছে তেই সে ঝাঁপ ভাবিয়া নির্ভয়ে।
।
:
গর্জিল কুমার ঠাঠ গরজি ঠমকে
ভীমরবে দিগাঙ্গন
কাপাইয়া সিংহাসন,
সঘনে দনুজ পতি চাহিল চমকে।
}
সম্মুখে সেনানী ছিল কহিল তাহায়-
পুনঃ কি অমর আসি
ঘেরিল ত্রিদিব বাসী : '.
নিণ অমর মনে ঘৃণা নাহি হয়।
*
কি সাহসে পুনঃ তারা পশিল আহৰে।
অকস্মাৎ সিংহাসন
প্রকম্পিত কি কারণ,
জানি বিপদ কিবা ঘটিবে দানৰে

নবম সগ।
এত স্পর্ধা অমরের অনুরে জিনিবে,
পশিতে বিপক্ষ রণে
নহে ভীত দৈত্যগণে,
কি সাধ্য দেবের তায় রণে পরাজিবে।
যাও তুমি সেনাপতে! সাজাও সত্বরে,
চতুরঙ্গ সেনাদলে,
শত্রু সহ রণস্থলে
ভেটিব ত্বরার আমি ভীষণ সময়ে।”
ভীষণ তারকাদেশ পালিতে যতনে
চলিল সক্রোধ ভরে,
সেনাপতি সুকৌশলে
সাজাইতে অনিকীনি সমর কারণে।
অত্যুচ্চ প্রাসাদোপরি করি আরােহণ,
শত্রু সৈন্য অগণন
নিস্তব্ধ হেরিয়া ক্ষণ,
অলঘ্য প্রাচীর সম দনুজনন্দন।
অদ্ভূত রচিতVহ-চক্র সুকৌশলে ;
শিখী পৃষ্ঠে সমারুঢ়,
কুমারে হেরিয়া মুছ,
নিমগ্ন দনুজপতি চিন্তা সিন্ধু তলে।

১২.
রক সংহার কাব্য।
“শিথীধ্বজ, ষড়ানন, সহাস্য বদল,
প্ৰসর উস, কার,
বীর চিহ্ন স্পষ্টতায়,
হেরি নাই হেন যােদ্ধা জীবনে কখন!!
শক্তিধর শক্তি পুত্র জানি এখন,
বিপক্ষ অদৃষ্ট দোষে,
বিরুপাক্ষ তেঁই নােষে, ,
পাঠাইল পুত্রে নিজ করিতে নিধন।
চাহি সাহায্য কারও পশিব সমরে,
একাই কৰিব রণ,
কি সাধ্য অমরগণ
জিনিবে আমায়, রণে নাশিবে কি করে।
তাজিয়া প্রসাদ চুড়া নামি হৰ্ম্মতলে,
এবেশিয়া অস্ত্র গেহ
সজ্জিত করিয়া দেই,
বাহিৰিল যােঙ্ক বেশে ভীম রণস্থলে।
অর্ধ পথে সুরঙ্গার সহ দান
রণবেশে সুসজ্জিত
হেরি কান্তে পুলকিত,
কহিছে সাদরে তারে তরুণী তখন।

নবম স্বগ।
“পুনঃ কি পশিতে নাথ হইবে মরে,
মিটে নাই রণ তৃষা,
এখন(৩) বিজয় আশা
করে কি নিষ্মণ ভীরু অমর নিকরে ?
আনিও মদনে নাথ ! করিয়া বন্ধন,
উদ্ধারিতে নিজ পতি,
দেখিব আসে কি রতি,
দেখিব সে সেবে কিনা সুরসা চরণ।
বাসব বসন কান্ত! আনিও যতনে,
ক্রীড়ার পুতলীবাস
করিব হৃদয়ে আশ,
সাজাব তােমার নাথ! মহেন্দ্র ভূষণে।”
সুরসা বচন শুনি দনুজ ঈশ্বর,
বিরক্ত হইয়া চিতে,
চাহিয়া তরুণী ভিতে,
কহিল সক্রোধে তায় তাপিত অন্তর।
‘পরিহাস কাল প্রিয়ে! নহে সে এখন,
অসংখ্য বিপক্ষ দল
ঘিরেছে দানববল,
জানি অদৃষ্টে আজ, কি আছে লিখন।

তারক সংহার কাব্য।
বহু দিন নহে গত জিনিয়াছি রণে,
পুনঃ কি সাহসে সুরে
আক্রমিল স্বর্গপুরে,
নব বলে বলীয়ান হেৰি শত্ৰুগণে।
নিশ্চয় বিনাশ মম জানিয়াছি চিতে,
নিজ পুত্রে সেনাপতি
করিয়াছে পশুপতি,
ভীষণ অহবে এবে তাকে নাশিতে।
.
তবু যে সমরে যেতে কেন সে বাসনা,
বীরের কর্তব্য নয়,
শত্রুভয়ে ভীত হয়;
মরিলে সমর ক্ষেত্রে সুযশ ঘােষণা।
দেখাব কুমারে আজ দানবের বল,
তারক বিমুখ নয়,
কাপুরুষ রণে ভয়
পৃষ্ঠ নাহি দেয় হেরে বিপক্ষ মণ্ডল।
যাও প্রিয়ে! অন্তঃপুরে রমণী সমাজে,
জিনিয়া অমরে রণে,
পুনঃ তব চন্দ্রাননে
হেরিব অচিরে কান্তে হৃদয়ের মাঝে।

নবম স্বগ।
বেষ্টিত স্বরগ ভূমি শক্ৰশর জালে,
কেমনে নিশ্চিন্ত মনে
রহিব বল ভবনে,
কে চাহে হইতে বদ্ধ জানি ব্যাধ জালে
সসৈন্যে দনুজম্বামী পশিল সমরে।
সেখীপতি অগ্রে যায়,
পশ্চাতে আপনি ধায়,
সুন্দর সজ্জিত রথে আরােহী সত্বরে।
বিবিধ আয়ুধ তুলি লইল যতনে,
শেল, শূল,
জাঠা, শির,
মুষল মুগর তীর
ভীষণ প্রচণ্ড ধনু অদ্ভুত দর্শমে।
চলিল দানবপতি শক্র অভিমুখে,
সাজাইয়া সৈন্যচয়,
সেনাপতি নাহি ভর
দাঁড়াল ত্বরায় আসি প্রভুর সম্মুখে।
অনাদ সম কমু ভীষণ নিনাদে,
তুরী ভেরী রণ ধ্বনি
শুনিয়া প্রমাদ গণি,
মুচ্ছিত স্বরগবাসী পড়িল প্রমাদ।

তারক সংহার কাব্য।
;
গর্জিল দানব চমু ভয়ঙ্কর স্বরে ;
যুঝিতে শত্রুর সনে
চলেছে নির্ভয় মনে,
উৎসাহিত রণজয়ী পৰাক্ৰম ভরে।
উপনীত দৈত্যপতি হয়ে রণস্থলে,
সৈন্য সমাবেশ হেরি,
বিস্ময়ে চেষ্টিত মরি
অদ্ভুত
নির্মিত
বৃহ ভেদিতে কৌশলে
ছড়াহুড়ি উড়াছড়ি বাক্যের তরঙ্গে
উখিত গরল রাশি,
কটু ভাষা মুখে ভাষি,
অনিবাৰ বাক্য বিষ বরিষণ বঙ্গে।
বাজিল তুমুল ৰণ দেবতা অনুরে ;
অস্ত্রে অস্ত্রে প্রতিঘাত,
সদা অঙ্গে শরাঘাত
প্রবাহিত রক্তস্রোত বৈজয়ন্তপুরে।
যুঝিছে বিক্রমে সবে অন্তরে নির্ভয়,
বরিষার বৃষ্টি প্রায়,
অস্ত্র বৃষ্টি পড়ে গায়,
মর্মভেদী শরাঘাতে ব্যথিত হৃদয়।

নবম মগ।
আশ্চর্য বুহের দ্বারে হেরিয়া কুমারে,
সক্রোধে দনুজনাথ,
মিলিতে মহেন্দ্র সাথ
আরম্ভিল অস্ত্র বৃষ্টি সৈন্যের সংহারে।
হাসিয়া কুমার কহে দনুজরাজনে :
“বৃথা এ আয়াস তব,
অগ্রে মােরে পরাভব,
তবে সে হইবে দেখা বাসবের সনে।
এত শক্তি, শক্তিধর! জিনিৰে তারকে ?
সংগ্রামে শৈশব তুমি ;
যােগ্য নও রণ ভূমি,
যাও গিয়া সুখে তুমি থাক মাতৃ অঙ্কে।”
বাজিল তুমুল যুদ্ধ দেহে ওয়ঙ্কর ;
টঙ্কারিয়া ধনুর্বাণ,
হানিল দারুণ বাণ,
আকুল দনুজপতি হেরি মহাশয়।
নিবারণ করি অস্ত্র মহাক্রোধভরে,
হানিয়া সুতীবান্,
ভেদিল কুমার প্রাণ,
মুচ্ছাগত শক্তিহীন পড়ে রথােপরে।

তারক সংহার কাব্য।
কুমারে মূৰ্ছিত হেরি,
বুই
ভেদি বলে
সক্ষিত অমরপতি,
হেরিল দনুজপতি,
হেরিল কুবের যম বরুণ অনলে।
নিরথি তারকে রােষে কহিল অনল :-
“নিশ্চয় মরণ তব,
জে’ন মনে দৈত্যধব,
অচিরে ভূঞ্জিবে তুমি নিজ কৰ্ম্ম ফল।
জিনিয়া অমরে স্পর্ধা বাড়িয়াছে এত,
কোদণ্ড টঙ্কারি বাণ,
হানিয়া হরিব প্রাণ,
নিশ্চযু অমর করে হইবে নিহত।”
কৃষিয়া দানবপতি অনলে কহিল :
“নিৰ্বণ নির চয়,
লজ্জা নাহি মনে হয়,
জিত হয়ে পূৰ্ব্ব রণে এখনি ভুলিল।
এখনও শর চিহ্ন অঙ্গে বিদ্যমান
মৃচ্ছাগত, শরাহত,
কাপুরুষ প্রায় বত,
পলাহিত সুবৃন্দ পেলে প্রাণদান ।

নবম স্বর্গ।
কি সাধ্য অনল তোর জিনিবি আমায়,
শার্দল চরমাবৃত
গর্দভ দর্শন ভীত,
পারে কি সাধিতে কভু প্রাণীর সংহার।
শত ইন্দ্র, চন্দ্র, রবি, বায়ু, হুতাশনে,
পশে যদি দৈত্য রণে,
নাহি তবু ডরি মনে,
অমর নহিলে সবে নাশিম রণে।”
বিষম পরুষ বাক্যে পীড়িয়া মরমে
কহিলেন প্রভঞ্জন :-
“দৈত্যাধম অকারণ,
বৃথা তুমি আত্মশ্লাঘা কর কি কারণে ।
বহুযুদ্ধে পরাভব করেছ অমরে,
পরাক্রম যত তব
জানি মনে দৈতধ,
পরাজয় অনিশ্চয় প্রভঞ্জন করে।
পতঙ্গ প্রণয় মুগ্ধ আলোকে যেমন,
ত্যজে প্রাণ কুতুহলে,
তেমতি অমর দলে
দলিবে জীবন তব, নিকট শমন

১৩৬
তারক সংস্থার কাব্য।
ভীষণ চিত্রিত দণ্ড তুলি দণ্ডধর,
উচ্চৈঃস্বরে ক্রোধভরে
কাহল দনুজশ্বরে :-
“বৃখা গব্ব দৈত্যরাজ মনে পরিহর।
অকারণ বাক্য ব্যরে নাহি প্রয়ােজন,
আছে তব শক্তি যত
প্রকাশ নির্ভয়ে তত,
না উরে শমন তোমা নিশ্চিত মরণ।”
মহাক্রোধে দৈত্যপতি ধরি ধনুর্বাণ,
হানিল বিষম শর,
অমরের কলেবর
আপ্লুত ধরে হৃদি বৰ্ম্ম বাণ ।
পলায়িত সুরবৃন্দ শৃগালের প্রায়,
হাসিয়া দনুজ পুনঃ
টঙ্কারিয়া ধনুণ,
বিনাশে অমর চম্ প্রফুল্লিতকায় ।
এদিকে ভীষণ সহ বাসবের রণ,
দোহে মহা বলবান,
হানিছে সুর্ত ক্ষু বাণ,
পরাজয় জয় কভু করে উপার্জন।

নবম স্বগ।
বহুক্ষণ বুঝি ইন্দ্র নির্ভয় হৃদয়ে,
হানিল ভীষণ তীর,
কাটিল ভীষণ শির,
দ্বি খণ্ডিত হয়ে বীর পড়ে রণালয়ে।
ভীষণ নিহত দেখি দনুজ নন্দন,
সম্বােধিয়া পুরন্দরে,
কহিলেন উচ্চৈস্বরে :-
বাখানি সাহস তব মহেন্দ্র এখন।
সামান্য সেনানী রণে করিয়া ব্রিজ,
ভেবে না অগুর মাঝে,
জিনিয়াছ দৈত্য রাজে,
বুঝিৰ ৰিক্রম তব সমরে নি।
দৈত্যরাজ। কহে ইন্দ্র, ত্যগ মনে,
নাহি তব পরিত্রাণ,
হারাইতে সাধ প্রাণ
নিশ্চিত বিনাশ তব ই সহ রণে।
নহে ভীত সুরপতি দানবের রণে,
করিতে শৃগাল জয়,
মৃগেন্দ্র সে ভার নয়,
পারে কি পলতে মৃগ পড়ি অাক্ষাবনে।

তারক সংহার কাব্য।
বামন হইয় চন্দ্রে পরিবার সাধ,
পঙ্গু অভিলাষে মনে,
তুঙ্গ শৃঙ্গ আরোহণে,
সমুদ্র বাধিভে চাহ দিয়া রেণুৰাধ ।
নহে মম অবিদিত শক্তি তৰ বত,
ধর ধনু ধর আসি,
এখনই দানব শশি,
=
যাইবে হে অস্তাচলে জনমের মত।
মহেন্দ্ৰ বচন ক্রোধে দৈত্যকুলপতি,
নােয়াইয়া ধনুগুণ,
বাহির করিয়া তু,
নিক্ষেপিল তীক্ষ্ম শর ভয়ঙ্কর অভি।
বাসব বসায়ে' চাপ শিঞ্জিনী টারি,
আকর্ণ পুৰিয়া টান,
করিল বক্ষে সন্ধান,
ফুটিল দারুণ শর হৃদয় বিদারি।
বহুক্ষণ বুঝি করে ধনুৰ্ব্বাণ লয়ে
ক্র চিত্ত দৈত্যপতি,
'ভয়ঙ্কর গদা অতি
হানিল সঘনে রােষে ব্যসব হৃদয়ে। :

নবম স্বর্গ।
নিদারুণ গদাঘাতে হইয়া ব্যথিত
কাতর মহেন্দ্র অতি,
আদেশে মাতলি প্রতি,
পলাইতে রথােপরি পতিত মূৰ্জিত।
সমরে অমর বর্গে করিয়া ৰিজয়,
উল্লাসিত দৈত্যধব,
নাশিছে গন্ধৰ্ব্ব সব,
অগনন গজৰাজী নির্ভয় হৃদয়।
কৈলাশ শিখরে হেথা নগেনন্দিনী।
বিজয় জয়ার সনে,
প্রেমালাপে সুখমনে,
ভাসিছেন জগদম্বা ত্রিতাপনাশিনী।
অকস্মাৎ সিংহাসন প্রকম্পিত ঘন,
চিন্তিত পাৰ্বতী অতি
কহিলেন জয়। প্রতি :-
“কেন লাে বিজয়ে! মম টলিল আসন ৫
গিয়াছে কুমার আজ দানবের, রণে,
বহুক্ষণ সমাচার ,
পাই নাই সখি তার,
কি জানি বিপদ কিবা ঘটিল নন্দনে।

তারক সংহার কাব্য।
মহাযোদ্ধা দৈত্যপতি বিখ্যাত ভূবন,
ৰালক কুমার তার,
কেমন জিনিবে হায়,
ভাবিয়া আকুল মম বিদগ্ধ জীবন।
খড়ি পাতি গণি দেখি কহিল বিজয়।
কুমার মুচ্ছিত রণে,
স্মরিছে মা ও চরণে,
তেঁই সে কাতর হিয়া শুনগো অভয়!”
সম্বােধি জয়ায়, ক্রোধে কহিল পাৰ্বত :
পশিব সংগ্রামে আমি,
বিনাশিব দৈত্যস্বামী,
পারি না হেরিতে আর দেবের দুর্গতি।
যাও ত্বরা, সুলােচনে, ধুর্জটী সদনে,
কহিও তাহারে তুমি,
যাব আমি রণ ভূমি,
হেরিব সংগ্রাম ক্ষেত্রে দনুজ নন্দনে।”
সাজিল অম্বিকা ক্রোধে নাশিতে অসুৰে
এলােকেশে দিগম্বরী
পদভরে থর খরি
কম্পিত ব্রহ্মাণ্ড যক্ষ বক্ষঃ সুরে

নবম স্বর্গ।
হেনকালে উপনীত শঙ্কর তথায় ;
গৌরীরে হেরিয়া হর,
কহিছেন দিগম্বর ;
একি বেশ প্রিয়তমে! দেখাও আমায়।
.
কেবা কোন অপরাধ করিয়াছে পদে,
কাহার বিনাশ আশে,
সাজিতেছ রণ বেশে,
কেবা সে বব্বর হেন পড়িল বিপদে
}
বিজয়ার মুখে শুনি পুত্র সমাছা,
সতীরে কহিল হর :-
ত্যজ ক্রোধ ভয়ঙ্কর,
অকারণে সৃষ্টি প্রিয়ে। কােনা সংহার।
অবধ্য তারক তব নাশিতে নারিবে,
ত্যজ প্রিয়ে। ক্রোধ মনে,
শাস্তি দুষ্ট পাবে রণে,
অকারণে কেন বল লজ্জা তুমি পাবে ।
হাসিয়া করিল মাতা ক্রোধ সম্বরণ ,
সুযুক্তি শঙ্কর সনে
করিয়া বিচার মনে,
পাঠাইল বিজয়ারে কুমার সদন।

১৪২
তারক সংহার কাব্য।
৫ বাওলো! বিয়ে করা কুমার সদনে,
দিও সে ত্রিশূল তায়,
শক্তি মন্ত্র কর্ণে হায়,
জানাও আশীষ মম তায়, সুবদনে।
চলিল বিজয়া ত্বরা আদেশ পালিতে,
মূচ্ছাগত রণস্থলে,
মহাশক্তি মন্ত্র বলে,
কুমার চৈতন্য লভি উঠে আচম্বিতে।
সম্ভাষি বিজয়া তায় কহিল সাদরে
* ভেবােনা বিষাদ মনে,
অচিরে দানব রণে
হইবে নিধন, বৎস! লও শূল করে।”
মূহুর্তে পেছিল বেগে কৈলাশ আলয়ে,
কুমার গর্জিয়া ক্রোধে,
নিবারি। দৈত্য যােধে,
ভেটিতে দনুজ রাজে চলিল নির্ভয়ে।
তুমারে হেরিয়া পূনঃ দানব ঈশ্বর,
কেশরী সদৃশ মন,
করি মহা অস্ফালন,
অাক্রমিল রােষ ভরে শ্রান্ত করে।

নবম স্বগ।
১৪৩
“ শক্তি পুত্র শক্তি তেজে মহাশক্তিমান, এ
চড়াইয়া ধনুগুণ,
বাহির করিয়া তুণ,
আকর্ণ পুরিয়া বাণ করিল সন্ধান।
শিবদত্ত শূলকরে হেরিয়া সভয়ে
চিন্তিত দানব পতি,
বিষাদিত হৃদে অতি,
ভাবিল নিশ্চয় মম সমরে নিধন।
এতদিনে বিরুপাক্ষ হইল বিপক্ষ
বুঝি করিনু দোষ
তেঁই উপজিল রােষ,
তেঁই সে অমরে তিনি হইল সপক্ষ।
ছিন্তিয়া মরণ নিজ প্রবৃত্ত সংগ্রামে,
মুহমূহুঃ শরাঘাত,
নাহি তায় দৃষ্টিপাত,
অবসর নাহি কেহ পায় সে বিশ্রামে।
বাজিল ভীষণ রণ অদ্ভুত বর্ধনে।
অদূরে অমরগণ,
হেরিতেছে প্রতিক্ষণ,
আশচর্য্য অন্তরে সবে সংগ্রাম দর্শনে।

তারক সংহার কাব্য।
আচ্ছাদিত শরজালে গগন প্রাঙ্গন,
নাহি শর তুণ আর,
বাকি মাত্র অল্প তার,
চিন্তিত দনুজ পতি আকুল জীবন।
;
মহাক্রোধে শিখধ্বজ হানিল ত্রিশূল।
কাতর ব্যথায় অতি
আকুল দানব পতি,
সমূলে দানব কুল হইল নিল।
দৈত্য সুখ রবি গেল অস্তাচলে ,
অন্তঃপুরে দৈত্যরাণী,
শুনিয়া বারতা ধনী
মৃতি হইয়া শােকে পড়ে ধরাতলে ।
হইতে আশা পূর্ণ অকালে পবন
গ্রাসিল হৃদয় ধনে,
ত্যজি মহেন্দ্র ভবনে,
উন্মাদিনী বেশে শোকে ভ্ৰমিল ভূবন।
.
অশান্ত হৃদয় তবু না হলে সুস্থির
পতির বিচ্ছেদ জাল,
ভূলিতে দানব বালা,
পশিল জাধি গর্ভে অনন্ত গভীর।
সমাপ্তঃ

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Tarak Sanhar

Author
Sarkar,akhay Kumar
Title
Kabya
File name
Tarak Sanhar
Text
OCR done
Citation
1888
Published
2009/10/21
Publisher
Gurudas Chattopadhyay,calcutta
Language
Sanskrit
Pages
152
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Mallika
DLI number
513407
Barcode
4990010020387.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
MY0I8gjHXvZ
Download PDF

Tarak Sanhar