Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Paromartha-bigyan-ratnakar Part 1
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
পরমাথ-বিজ্ঞান-রত্নাকর।
অর্থও
অসত্য পরিহার ও সত্যবিষ্কার-বিষয়ক প্রবন্ধসমূই।.
বিশ্বপূজ্য
শ্রীজগদীশ্বর সার্বভৌমের সাহায্যে
ঐকেশবচন্দ্র রায় কর্মকার প্রণীত
স্ত্রীকেশবচন্দ্র
}
শ্রীরামপুর * চন্দ্রোদয় যা লয়ে
শ্ৰীযুত গঙ্গাধর কর্মকারের দ্বারা মুদ্রাঙ্কিত হইল।
১২৭
-
মূল্য • দেড় টাকা মাত্র।
No text on this page.
পরমার্থবিজ্ঞান-রত্নাকর।
অর্থাৎ
অসত্য পরিহার ও সত্যবিষ্কার-বিষয়ক প্রবন্ধসমূহ
।
বিশ্বপূজা
ঐ জগদীশ্বর সার্বভৌমের সাহায্যে
শ্রীকেশবচন্দ্র রায় কৰ্ম্মকার প্রণীত।
প্ৰথম ভাগ।
।
রামপুর চন্দ্রোদয় যালয়ে
যুত গঙ্গাধর কর্মকারের দ্বারা মুজাঙ্কিত হইল।
১২৭৮ ।
No text on this page.
ভূমিকা। পরম পরাৎপর পরমেশ্বরকে স্মরণপূৰ্ব্বক এতদন্থের মঙ্গলাচরণ সম। পন করিয়া পাঠক ও গ্রাহক মহাশয়দিগের বিদিতার্থ প্রকাশ করা যাইতেছে যে, কএক বৎসরাবধি অভিনব ব্রাহ্মধৰ্ম্মের উন্নতি দর্শনে অাৰ্য্যধর্মাবলম্বিগণ স্বধৰ্ম্ম-রক্ষার্থ স্থানে সভা স্থাপন করিয়া বক্তৃত। দ্বারা-কেহ বা ক্ষুদ্র গ্রন্থ প্রণয়নদ্বারা সৰ্ব্ব সাধারণের নিকট সনা- তন ধর্মের মর্ম প্রকাশ করিতেছেন। তদষ্টে আমিও কএক খানি ক্ষুদ্রং শাস্ত্ৰ একত্র করত নিগূঢ় তাৎপর্যের সহিত গৌড়ীয় ভাষায় অর্থ বিবৃতি করিয়া পরমার্থ জ্ঞানরত্নাকর নামক এক খানি গ্রন্থ প্রকাশ করিয়াছিলাম। ঐ গ্রন্থে সনাতন ধর্মের যথার্থ মৰ্ম্ম প্রকাশিত আছে। কিন্তু সাধনাভাবে তাহার ফল প্রত্যক্ষ করিতে না পারিয়া অনে- কানেক সদাশয় লোক আমাকে পত্র লিখিয়াছিলেন। এতন্নিমিত্ত আমি তাহাদিগের বিশেষ উপকারার্থে পরমার্থ বিজ্ঞানরত্নাকর নামক এই এক খানি অভিনব গ্রন্থ বিরচন করিলাম। এই গ্রন্থে সৰ্বসা- ধারণের বিজ্ঞানসিদ্ধির নিমিত্ত ছয় খানি প্রতিকৃতির সহিত অষ্টাঙ্গ যােগসাধন বিশেষৰূপে বর্ণনা করিয়াছি। বিশেষতঃ সত্যান্বেষি জন-- গণের পক্ষে যে সমস্ত অসত্য বিষয় পরিত্যাগ করা বিধেয় তাহাও এই গ্রন্থের প্রথমাবধি চতুর্থাধ্যায়ে লিখিত হইয়াছে। যদিও ঐ চারি অধ্যায় পাঠ করিবামাত্র কুসংস্কারাবিষ্ট জনগণ এই গ্রন্থ খানিকে আধুনিক ব্রাহ্মধর্মের প্রতি পোষক বলিয়া স্থির করিতে সঙ্কুচিত হই- ভূমিকা। p, বেন না, তথা ইহার পঞ্চমাধ্যমৰধি দ্বাদশাধ্যায়পর্যন্ত পাঠ করিলে তাঁহার। যে এই গ্রন্থ খানিকে আধুনিক ব্রাহ্ম ধৰ্ম্মের উন্মলক অথচ সনাতন ধর্মের নিগঢ় মৰ্ম্মপ্রকাশক বলিয়া জানিতে পারিবেন, ইহাতে সন্দেহ মাত্র.নাই। বহি হউক, যাহারা পরমার্থ জ্ঞানরত্নাকর ও পরমার্থ বিজ্ঞান- রত্নাকর এই দুই খানি পুস্তক উত্তমরূপে পাঠ করত একতা ভক্তি যোগে পরমার্থ সাধন করিবেন, তঁাহারা প্রতি দিবস যোগসাধনের ফল প্রত্যক্ষ করিতে অচিরকাল মধ্যেই জগদীশ্বরকে অপরোক্ষ ৰূপে জ্ঞাত হইয়া ব্রহ্মোপাসনার অধিকারী হইতে পারিবেন। নিয়- মিতৰূপে সাধনা করিয়াও যদি কোন বিশুদ্ধচিত্ত ব্যক্তি গ্রন্থোক্ত ফল প্রত্যক্ষ করিতে নিতান্ত অক্ষম হয়েন, তবে তিনি আমার নিকট আগমনপূৰ্ব্বক সমস্ত বিষয় বিজ্ঞাপন করিলে যে উপায়ে তৎ , কাৰ্য্য সিদ্ধি হইতে পারিবে তাহা জ্ঞাত হইতে পারিবেন। কিন্তু যিনি প্রাগুক্ত পুস্তক দুই খানি পাঠ করেন নাই, পরমার্থ-জ্ঞানভি- লীষে তিনি যেন আমার নিকট আগমন না করিয়াই আমাকে পরম বাধিত করেন। কিমধিকং নিবেদন মিতি। কেশবচন্দ্র রায় কর্মকার। সাং রামপুর পরমার্থ বিজ্ঞানরত্নাকর। প্রথম অধ্যায়। [ সন ১২৭৪ সালের কার্তিকীয় ঝটিকার কতিপয় দিবস গত হইলে পর, পর-রাজ্যের ঈশ-জেলাস্থিত মনুজ-রাজধানীর হৃদয়-টেনহলে (দালানে) কতকগুলি বিষয়ীলােক একত্রে মিলিত হইয়া যে সকল কথােপকথন কৰিতেছিলেন, এবং সেই সময়ে সুবোধসিদ্ধান্ত নামক এক মহাত্মা সেই স্থানে আবির্ভূত হইয়া তাহাদিগের সহিত যে সকল কথা কহিয়াছিলেন ; সৰ্ব্ব সাধারণের উপকারজনক বিবেচনায় তাহ পুস্তকাকারে লিপিবদ্ধ করিয়া কহিতেছি পাঠক মহাশয়ের। কিঞ্চিৎ মনোযােগপূৰ্ব্বক শ্রবণ করুন। বোধ চাৰ্য্য নামক এক ব্যক্তি কহিতেছেন। ও হে ভাই! যৎ- কালে ইয়োরোপ-দেশীয় সিষ্টপুল দুর্গে সিয়াদেশের সম্রাটের সহিত ইংরাজ ও ফরাসীপ্রভৃতি মৃতিগণ ঘােরতর সমরানল প্রস্তু- লিত করেন, তৎকালে সেই স্থানহইতে,শনি মহাশয় বঙ্গদেশের প্রতি যে কটাক্ষপাত করিয়াছিলেন তারা এতদ্দেশে অন্ন বস্ত্রাদি সমূহ দ্রব্য অতিশয় দুর্মূল্য হইয়াছিল। তদনন্তর সন ১২৭১ সালের দুর্গোৎ- সবের পঞ্চমী তিথিতে তিনি খাড় তুলে পুনর্ধার বঙ্গদেশের প্রতি পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। ; কটাক্ষপাত করাতে, দেবীপুজাের মস্তুকের ন্যায় এককালে অনেক ঘর দ্বার উড়িয়া পড়িয়া যায়। সুতরাং ফাঁকেই তঁাহার সৃষ্টিনাশা দৃষ্টি অনাবৃষ্টির সহিত মাঠে পড়িয়া ধানক্ষেত্র শূন্য করত মন্বন্তরের সখ। হাযাপন করিতেছিল। আবার সেই পোড়া শনির দৃষ্টি উঠে যাবার সময়ে হনুমানের বাপের সহিত মিত্ৰতা করিয়া ঘর দ্বার বাগান বাড়ী সকলই ভাঙ্গিয়া গেল। এখন করি কি-পরিবারাদির সহিত কোথায় যাই-কি খাই—কিছুই স্থিরতা নাই ; তোমরা কিছু উপায় বলতে পার ? অবোধভট্ট নামক এক ব্যক্তি কহিলেন। উপায় আর কি ? গোটা কতক দিন ভাঙ্গা ঘরে কঁাথা মুড়ি দিয়ে পড়ে থাক, তাহার পর মহাপ্রলয়ের করাল বদনে ঘর বাড়ীর সহিত সকলকেই প্রবেশ করি- তে হইবেক ; তখন আর আহা উহুঃ করিতে হইবেক না। বোধাচাৰ্য। সে কি হে! তুমি ক্ষেপেছ না কি? মহাপ্রলয় এখন কি? এইত কলির সন্ধ্যাকাল, এখনও রাত্রি প্রভাত হয় নাই; অথচ বেদবিহিত ধৰ্মকৰ্ম্মাদি সকলি রয়েছে। অবোধভট। ওহে ভাই! আমি ক্ষেপি নাই, কিন্তু আমার বোধ হইতেছে যে, ঝড়ের সময়ে তুমি নিদ্রিত ছিলে, অথবা তুমি বধির ; নচেৎ গো মনুষ্য বৃক্ষাদির যে প্রলয়াবস্থা হইয়াছিল কি না তাহা জানিতে পারিতে। যাহা হউক, এক্ষণে তুমি একপ্রকার মুদ্রিতনয়ন হইয়া কিছুই দেখিতে পাইতেছ না; এই জন্যে কহিতেছ ধৰ্মকৰ্ম্মাদি সকলি আছে। কোথায় আছে ? একমাত্র ব্রাহ্মধৰ্ম্ম উন্নত হইয়া মদমত্ত হস্তির কপিথফল ভক্ষণের ন্যায় বেদবিধি সমুদায় গ্রাস করি- য়ছে। তবে যে কোন স্থানে কিছু ধৰ্ম্ম কৰ্ম্মাদি দেখিতে পাও, তাহার ভিতরখানা ফাঁক, বাহিরে আড়ম্বর মাত্র। ঐ পাপে সমস্ত দ্রব্য উচ্ছিন্ন হইয়া গেল; কলা মূল সীম বেগুণপ্রভৃতি তরি তর- কারির বাজারে যেন আগুন লাগিয়াছে। অারো আশ্চর্য এই যে, বালককালে আমরা যে সকল বস্তুকে যেৰূপ দেখিয়াছিলাম, এক্ষণে •• পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। ৩ •• অরি আর সে সকল বস্তুর সেৰূপ ভাব নাই। তখন যে সকল দ্রব্যের যে সমস্ত উৎকৃষ্ট গুণ ছিল, এখন আর সে সকল দ্রব্যের সেরূপ গুণও নাই; দিন২ গুণবিহীন হইয়া দ্রব্যসমূহ অপকৃষ্ট হইতেছে। কতিপয় বৎসরের মধ্যেই সমস্ত দ্রব্য যে এককালীন গুণবিহীন হইয়। মহাপ্রলয় (সৰ্ব্বনাশ) উপস্থিত হইবেক তাহার কোন সন্দেহ নাই। বোধাচাৰ্য। বেশ! তবে না কি তুমি ক্ষেপ নাই? আমার বিজ- ক্ষণৰূপে এতদ্রুপ বোধ হইতেছে যে, কার্তিকীয় বড়ের বায়ু তোমাৰ উদরে প্রবেশ করিয়া স্বভাবের কিছু অন্যথাভাব করিয়াছে। কেননা এ কথা সকলেই জানেন যে, জগতের সমুদীয় দ্রব্য ক্ষণেই ভাবান্তর প্রাপ্ত হয়। কিন্তু যে কালে যে দ্রব্যের যে সকল স্বাভাবিক গুণ প্রকাশিত হইয়া থাকে, তাহার অন্যথা হয় না। গুড়ের মিষ্টতার পরিবর্তে কি তিক্ততা, না-সুরভি কুসুমের সৌগন্ধ্যের বিনিময়ে দুগন্ধা হইয়াছে ? কখন না, বরং সৃষ্টির আদি কালবিবি অদ্য পর্যন্ত যে দ্রব্যের যে সকল স্বভাবসিদ্ধ গুণ আছে তাহা অবিকল রহি- য়ছি। অবোধভট্ট। ওহে! গুড়ের মিষ্টতার পরিবর্তে তিক্ততা হয় নাই বটে, কিন্তু তুমি স্মরণ করিয়া দেখ, বাল্যকালে আমরা খজুর গুড়ের মুড়কীর যে প্রকার গন্ধাস্বাদন অনুভব করিয়াছি এক্ষণে তজপ অনু- ভূত হয় না। বিশেষতঃ তখন অত্যল্প মুড়কী অনিয়া ঘরে রাখি- লেও বহু দূর হইতে তাহার সৌগন্ধ গুণ অনুভূত হইত , এখন নাসি- কারন্ধে; মুড়কী প্রবিষ্ট করিয়া দিলেও তাহার বাস পাওয়া যায় না। তখন কোন পাড়ার মধ্যে ইলীশ মৎস্য রন্ধন কৰিলে গন্ধগুণে সে পাড়ার সকলেই জানিতে পারিত ; এখন ঘরের ভিতর ইলীশ মাছ বঁধিলে দ্বারে বসিয়াও তাহার বাস পাওয়া যায় না। পূর্বে যে স্থানে যে দ্রব্য যে পরিমাণে জন্মিত, এক্ষণে সে স্থানে সে দ্রব্য সে পরিমাণে জন্মে না। অর্থাৎ তখন যে বৃক্ষে দুই কাহণ অফল হইত এখন সে বুক্ষে এক কাহণ ও হয় । তবে এ কথা কে না বলা য;- j ৪ পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাক।। ইবে “ যে কালেং সকল দ্রব্যই গুণবিহীন হইতেছে বিশেষত সকল দ্রব্যের আধারভূত। এই পৃথিবীও দিন ছোট হইতেছেন। বিবেচনা করিয়া দেখ বালককালে যে বৃক্ষ বা বাটী যত দুর বলিয়া তােমার বােধ হইত এক্ষণে সেই বৃক্ষ বা বাটী তদপেক্ষা নিকটতর বোধ হয় কি না? কিন্তু সে বৃক্ষ বা বাটীত সরিয়া আইসে না। তবেই যেমন সমস্ত দ্রব্যাদি ক্রমেই গুণবিহীন ও পৃথিবী দিন ছোট হইতেছেন, তদ্রুপ কলিকালের পরিমাণ স্নান হইয়া মহাপ্রলয়ের দিন কি নিকটতর হইতে পারে না? এক্ষণে পেন্টলুনপরা সভ্যাভিমানি বাবুদিগের কথায় অার বিশ্বাস করিবেন না। সেপাহিদিগের বিদ্রোহাচরণ, আশ্বিনে ঝড়, মহামম্বম্ভর ও কাৰ্ত্তিকে ঝড় এই গুলিকে মহা প্রলয়ের আগমনি দূত বলিয়া জানিবেন । হে পাঠক মহাশয়গণ ! অবোধভটের এই কথা শ্রবণ করিয়া সভাস্থ অধিকাংশ লোকেই এককালে ‘' বেশ! বেশ! বেশ বলিয়াছ, এই কথা কহিয়া তাহার প্রসংশা করিতে লাগিলেন। এবং কেহ কহিলেন তাইতো হে । পূৰ্ব্বকালে যে সকল দ্রব্যের যেৰূপ সদ- গন্ধ ও মধুর আস্বাদন গুণ অনুভূত হইত, এক্ষণে তাহা নাই বলি- লেই হয়। আমরা যে সকল দ্রব্যে যেৰূপ সুখভোগ করিয়াছি, বোৰ হয় আমাদের পুত্রপৌত্রগণ সেইং দ্রব্যে তাহার দশাংশের একাংশও সুখভােগ করিতে পারিবে না। তবেই “ অল্পকালের মধ্যে সমস্ত দ্রব্যাদি এককালে গুণবিহীন হইবেক” অবোধ মহাশয়ের এই ৰাক্যটি অসঙ্গত বােধ হইতেছে না। সুতরাং তােগের অভাবহেতু অনতিবিলম্বে যে মহাপ্রলয় হইবেক তাহাও বিলক্ষণ বোধ হইতেছে। এইৰূপে অবোধভট্টের বাক্য সভাস্থ অধিকাংশ লােকের মুখে প্রতি- ধ্বনিত হইতেছে এমত সময়ে তাহারা দেখিলেন যে, সুবোধসিদ্ধান্ত নামক একটা সৌম্য পুরুষ তাহাদের অভ্যন্তরে অবস্থিতি করিয়া ঐ সকল কথাবার্তা যত্নপূৰ্ব্বক শ্রবণ করিতেছেন। তদনন্তর কোন বুদ্ধিমান লোক সুবোধসিদ্ধান্তকে সমাদরে উপবেশন করাইয়া কহি, রমার্থ বিজ্ঞান রত্না কর। ; লন ‘* মহাশয় ! আপনার কোন নিগূঢ় ভাবযুক্ত কলেবর দর্শন করি- য়া বোধ হইতেছে যে অপিনিই আমারদিগের এই সন্দেহ গুলি অপনোদন করিতে সক্ষম হইবেন। অতএব অবােধভূট মহাশয় যাহা কহিয়াছেন সেই বাক্যগুলি মীমাংসা করিয়া অাপনি আমার দিগের বুভুৎসা নিবৃত্তি করুন। এতদ্বাক্য শ্রবণে সুবোধসিদ্ধান্ত মহাশয় যে প্রত্যুত্তর প্রদান করিলেন তাহা করিতেছি শ্রবণ করুন। সুবোধসিদ্ধান্ত কহিতেছেন। হে মহাশয়গণ ! অবোধভউ মহা- শয়ের কথাগুলি নিতান্ত অবোধের মত। কেননা সৃষ্টির প্রথম কালাৰবি সমস্ত দ্রব্যের সন্ধানি গুণসমুহ ক্রমেই যদি ক্ষয়প্রাপ্ত হইত; তবে এত দিবস সকল দ্রব্যই গুণবিহীন হইয়া জীবগণের পক্ষে অপদার্থ হইয়া উঠিত। এবং আমাদিগের আধারভূত। এই পৃথিবীও যদি দিন ছােট হইতেন, তবে স্থানাভাবনিমিত্ত এত দিবস অৰ্যদিগের ভাশুর ভাদ্রবধূকেও একাসনে উপবেশন করিয়া কাল- যাপন করিতে হইত। বস্তুতঃ তাহা নহে, তবে যে পূৰ্ব্বাপেক্ষা এক্ষণে দ্রব্যাদির গুণসমূহের ভাবান্তর ও পৃথ্বীস্থ বৃক্ষাদি কিঞ্চিৎ নিকটতর বোধ হয়, তাহার কোন বিশেষ কারণ আছে; আমি তাহা স্পষ্ট করিয়া কহিতেছি আপনারা মনোযোগপূৰ্ব্বক শ্রবণ করুন। বালককালে মনুষ্যের চক্ষু জিহ্বা নাসিকাদি ইন্দ্রিয়সমূহ কোমল ত্বকদ্বারা আচ্ছাদিত থাকে বলিয়া তৎকালে গুড় প্রভৃতি দ্রব্যাদির মধুরাদন ও সৌগন্ধগুণ অনুভূত হয়, আবার যৌবনাবস্থায় সেই ইন্দ্রিয়াচ্ছাদিত ত্বক ক্রমেই কিঞ্চিৎ ভুল হইলেই গুড় প্রভৃতি ঐ সমস্ত দ্রব্যাদির গন্ধাস্বাদনে ক্রমেই কিঞ্চিৎ ভাবান্তর বোধ হইতে থাকে। এবঞ্চ বালককালে মনুষ্যের দর্শনেন্দ্রিয় কিঞ্চিৎ অস্পষ্ট ভাবযুক্ত থাকে , বয়োবৃদ্ধি সহকারে জ্ঞানলাভ করিবার নিমিত্ত যৌ- বনাবস্থায় ক্রমশ বিস্পষ্ট হয়। সুতরাং বালককালে যে বৃক্ষ বা বাটী অধিক দুস্থিত বলিয়া বােধ হয় যৌবনাবস্থায় তাহা কিঞ্চিৎ নিকট- তর অনুভুত হইয়া থাকে। ফলতঃ তোমরা বালককালে খাজুরে পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। গুড়ের মুড়কী ব ইলীশ মৎস্থাদির যেৰূপ গন্ধাস্বাদন অনুভব করি- য়ছি, এক্ষণকার বালকগণও তদ্রপ অনুভব করে; এবং পৃথিবীস্থ বৃক্ষাদিও এক্ষণে তাহারদের দুরতর বোধ হয়। আবার যৌবনা- বস্থায় তাহারাও তোমাদিগের ন্যায় ভাবিযুক্ত হইবে। অর্থাৎ তখন অরি তাহাদিগের পূৰ্বভাব থাকিবে না। জগতের স্বভাবই এইরূপ দ্রব্যাদির গুণসমূহ যথাসময়ে অবিকৃত থাকে, কিন্তু মনুষ্যের ইন্দ্রিয় সমূহ স্কুল হইয়া দোষযুক্ত হইলে তৎকালে সে সকল দ্রব্যে অর সেৰূপ সুখবোধ হয় না। বোধাচাৰ্য। ভাল, মহাশয় ! আমি একটি কথা জিজ্ঞাসা করি, জগদীশ্বর মনুষ্যগণকে ভোগসাধন ইন্দ্রিয়সমুহ প্রদান করিয়া যৌব- নাবস্থায় এত শীভ তাহাদের ভাবান্তর করেন কেন? সুবোধসিদ্ধান্ত। জগদীশ্বর মনুষ্যগণকে ভোগসাধন ইন্দ্রিয়সমূহ প্রদান করিয়া অল্পকালের মধ্যে যে তাহাদের ভাবান্তর আপদিন করেন তাহার কারণ এই যে, মনুষ্যগণ যদি চিরকাল ইন্দ্রিয়সুখে অলক্ত থাকে, তবে পশ্বাদির সহিত তাহাদের কোন বিশেষ থাকে না। অর্থাৎ পশুগণ যেৰূপ নিরন্তর ভোগসাধন দ্রব্যান্বেষণেই কাল যাপন করে, মনুষ্যগণ যদি চিরকাল সেইৰূপ থাকে, তবে পশ্বা- পেক্ষা মনুষ্যের মহত্ব কি রহিল ? অতএব দয়াময় জগদীশ্বর মনুষ্য- গণকে পশ্বাপেক্ষ। মহত্বসূচক অতীন্দ্রিয় সুখভোগের অধিকারী করি- বার নিমিত্ত তাহাদের দেহযাত্রার অবিরোধে ক্রমেই ইন্দ্রিয়বিকার- দ্বারা বৈষয়িক সুখহইতে বিরত হইবার অভিপ্রায় প্রকাশ করিয়াছন; এইজন্যে দ্রব্যাদির গন্ধাস্বাদনে যৌবনাবস্থায় ক্রমেং মনুষ্যের ভাবান্তর বোধ হইতে থাকে। যে ব্যক্তি সেই কৰুণাময় পরমপিতার এই ৰূপ নিগঢ অভিপ্রায় জ্ঞাত হইয়া ক্রমেং ইন্দ্রিয়সুখে বিরত হইতে অতীন্দ্রিয় সুখন্বেষণে যত্নবান হয়েন, তিনি অচিরে তঁাহাকে দর্শন করিয়া অতীন্দ্রিয় সুখভােগদ্বারা মনুষ্যজন্ম সফল করিতে পারেন।
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। ৭ জগতে যিনি একবার মাত্র অতীন্দ্রিয় সুখভােগ করিয়াছেন, তিনি অার ইন্দ্রিয়সুখকে সুখ বলিয়া জ্ঞান করেন না। বােধাচাৰ্য। মহাশয়! অতীন্দ্রিয় সুখের স্বৰূপ কি ? এবং তাহা কি প্রকারে প্রাপ্ত হওয়া যায়, ইহা আমাদিগের বিশেষ বােধের নিমিত্ত আপনি বিশেষ করিয়া বলুন। সুবোধসিদ্ধান্ত। ওহে বোধাচাৰ্য্য ! সুখপদার্থ অাত্মা, যাহা তৃপ্তি- ৰূপা অন্তঃকরণবৃত্তিতে ফুৰ্ত্তি হইলে আমি সুখী বলিয়া মনুষ্যের বােৰ জন্মে। শ্রোত্র ত্বক চক্ষু জিহ্বা ঘ্রাণ এই পাঁচটি জ্ঞানেন্দ্রিয়দ্বারা শব্দ স্পর্শ ৰূপ রস গন্ধ এই পাঁচ প্রকার বিষয়ভােগ করিলে যে সুখস্ফুৰ্ত্তি হয়, তাহাকে ইন্দ্রিয়সুখ কৰা যায়। আর জগদীশ্বরের উপাসনাদিঘারা তঁাহাকে জ্ঞাত হইতে পারিলে মনুষ্যের হৃদয়কমলে যে বিশুদ্ধ সুখস্ফুৰ্ত্তি হয়, তাহাকে অতীন্দ্রিয় সুখ কহে; ফলত ইন্দ্রিয়দ্বারা বিষয়ভোগকালে আমরা যে সুখভােগ করি, তাহা প্রকৃত সুখ নহে; সে কেবল উপস্থিত দুঃখ নিবৃত্তি করা মাত্র। বিবেচনা করিয়া দেখুন, যেমন ক্ষুধপীড়িত না হইলে কেহ কখন মি- ষ্টান্নাদি ভক্ষণ করিয়া সুখ লাভ করিতে পারে না; তদ্রুপ কর্প পীড়িত না হইলে স্ত্রীসহবাস করিয়া কোনকালে কাহার সুখবোধ হইয়া থাকে? কখন না। তবেই, ইন্দ্রিয়দ্বারা আমরা যে সুখভোগ করি, তাহাকে এক প্রকার দুঃখনাশ বলিলেও বলা যায়। অর্থাৎ যখন ক্ষুধাৰূপ দুঃখ উপস্থিত না থাকে তখন অত্যুৎকৃষ্ট মণ্ডপ্রভৃতি খাদ্য দ্রব্যও ভোজন করিতে ইচ্ছা হয় না, এবং তৎকালে অনিচ্ছা- পূৰ্ব্বক ভোজন করিলেও তারা কিঞ্চিত্রি সুখবোধ হইবার সন্তা- বনা নাই। কিন্তু অতীন্দ্রিয় সুখ সে প্রকার নহে। ইহা প্রগাঢ় ভক্তিদ্বারা একবার প্রকাশিত হইলে যখন ইচ্ছা হয় তখনই অাত্মাতে মনঃসংযােগ করিবামাত্র সুখলাভ হইয়া থাকে, এবং তাহাই মনুষ্য জন্মের প্রকৃত ফল ৰলিয়া শাস্ত্রে পরিগণিত আছে। এতন্নিমিত্ত যে সকল মনুষ্য পরমার্থ জ্ঞানলাভ-দ্বারা অতীন্দ্রিয় সুখে সুখী না পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। হয়েন, শাস্ত্রে তাহাদিগকে দ্বিপদ পশুবিশেষ বলিয়া বর্ণনা করিয়া •• বোধাচাৰ্য। মহাশয় ! পৃথিবী মধ্যে যত প্রকার ধর্মশাস্ত্র প্রকা- শিত অাছে সকলই ভিন্ন২। ইহার মধ্যে কোন শাস্ত্র সত্য এবং কোন শাস্ত্রমতেই বা জগদীশ্বরের উপাসনা করিলে অতীন্দ্রিয় সুখ ভোগের অধিকারী হইয়া চরমে পরম পদ লাভ করতে পারা যায়, অাপনি আমাদিগকে তাহা প্রকাশ করিয়া বলুন। সুবোধসিদ্ধান্ত। ওহে বোধাচাৰ্য্য! আৰ্যদিগের একমাত্র বেদ শাস্ত্রই সত্য রত্নাকর। ঐ শাস্তুহইতেই খৃষ্টীয় ও মহম্মদীয়প্রভৃতি অন্যান্য ধৰ্ম্মশাস্ত্র উৎপন্ন হইয়াছে। ফলত অতি প্রাচীনকালবধি এই অনীমণ্ডলে যে সমস্ত ধর্মশাস্ত্র ঈশ্বর-প্রণীত বলিয়া প্রচলিত আছে সেই সমস্ত ধৰ্ম্মশাস্ত্রে ভিন্ন ভাষায় ভিন্ন ইতিহাস লিখিত থাকিলেও তাহাদের তাৎপৰ্য ভিন্ন২ নহে। কেননা ধর্মের যে ফল তাহার নাম সত্ত্বশুদ্ধি ; সেই সত্ত্বগুণের কাৰ্য অহিংসা, ক্ষমা, দয়া, বিবেক, সত্য, সরলতা, ও অস্তিক্য ইত্যাদি দ্বারা পরিচিত হয়। কিন্তু পৃথিবীতে এমত একখানি.প্রসিদ্ধ ধৰ্ম্মশাস্ত্র নাই যে, যাহাতে উক্ত ক্ষমা দয়া অহিংসা প্রভৃতির প্রতি দ্বেষ প্রকাশ আছে; বরং সমু- দায় ধর্মশাস্ত্রেই ঐ সকল সাত্বিক গুণকার্য্যের অশ্যিকতা ও প্রশংসা বলিত রহিয়াছে, সুতরাং সকল প্রকার ধর্মশাস্ত্রই সত্য। এমশ্যে যে ধৰ্ম্মশাস্ত্রে যে ব্যক্তির দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে, সে ব্যক্তি সেই শাস্ত্র সম্মত উপাসনাদি দ্বারা চিত্তশুদ্ধি করিতে পারেন। কিন্তু অৰ্যদিগের বেদ বৰদস্তিাদি শাস্ত্র ভিন্ন অন্য কোন শাস্ত্রে পরমাত্মার সহিত সাক্ষাৎ কার লাভের কোন প্রকার উপায় বর্ণিত নাই; তথা বিশ্বাস থাকি- লে সেই সমস্ত শাস্ত্রসম্মত উপাসনাদি দ্বারা চিত্তশুদ্ধি হইতে পারে । নচেৎ একজন দেশীয় লােক খৃষ্টধর্ম আশ্রয় করিয়া চিরকাল যদ্যপি মনেই এইরূপ তর্ক বিতর্ক করেন যে, নাসরীয় ক্রাইষ্ট জগদীশরের পুত্র, কি বৃন্দাবনস্থ কৃষ্ণই স্বয়ং ভগবান? তবে সেই *মথ । জ্ঞান কর । ব্যক্তি * ইতােঃ তেভষ্টা নচ পূৰ্ব্বং নচ পরং" এতন্ন্যায়ে অথবা স্বর ব্যঞ্জন সার্জাতিক্রান্ত অনুর বিসর্গের ন্যায় ভিকুল বৈষ্ণবকুল উভয় কুল ভ্রষ্ট হইয়া অকূল পাপসাগরে পতিত হইয়া থাকেন । এতদেশীয় খীয়ানদিগের মধ্যে এ প্রকার লোকের বড় অসচ্ছবি নাই। কেনন, যৎকালে কলিকাতায় পতিতোদ্ধারিণী নামী সভা স্থাপিত হইযাছিল, তৎকালে এদেশীয় অনেকানেক খৃষ্টীয়ান পুনর্দার স্বজাতীয় সমাজভুক্ত হইবার প্রত্যাশায় স্বীয় নাম স্বাক্ষর করিয়াছিলেন। অপিচ আমরা প্রত্যক্ষ দেখিয়াছি, জাননগর নিবা- সিনী করুণ। নামী একটী প্রাচীন স্ত্রীলোক খীষ্টীয়ান অত্যন্ত পীড়িত। হইয়া চৰমে জাদু ৰীকূলে তনু ত্যাগ করাভিলাষে ঐ রামপুর কালে- জের বারাণ্ডীব আসিয়া ৰাস করিয়াছিল। তদনন্তর প্রাগুক্ত কালে- "নর জবারক পদরি সাহেব তাহার অভিপ্রায় ভাবগত হইয়া অনুযোগপূর্দাক সে স্থানহইতে তাহাকে দুবীকৃত। করিলে পর সেই প্রাচীন গঙ্গালীভের নিমিত্ত অতিশয় রোদন করিয়াছি!! এবঞ্চ এদেশীয় কোন খীষ্টীয়ান বিপুল বিত্ত ব্যয় করিয়া অৰ্যদিগে। দ্বারা সমারোহে রক্ষাকাশীপু »া করাইয়া থাকেন ; কেহ বা সিদ্ধ পুরুষ হইবার নিমিত্ত রাত্রিকালে শ্মশা জাগান!!! ফলত সকল প্রকার ধর্মশাস্ত্রের তাৎপর্য একরূপ হইলেও এতজপ সন্দেহাকুল জনগণ কোন প্রকার শাস্ত্র সম্মত উপাসনাদি দ্বারা কোনক্রমে পরিত্রাণ পাইতে পারিবেন না । তদ্ভিন্ন, যাহাদের ধর্মশাস্ত্রে দৃঢ় বিশ্বাস আছে, তাহাৱা যে কোন ধর্মশাস্ত্র অবলম্বন করিয়া পরমেশ্ববের উপাসনা করবেন, সেই শাস্ত্র দ্বারা ক্রমেই চিত্তশুদ্ধি করিতে পরম পদ ৪াপ্ত হইবার যোগ্য হইতে পারিবেন ইহাতে কোন সন্দেহ নাই। হে মহাশয়গণ! অদ্য অধিক বেলা হইয়াছে একারণ আমি স্বস্থানে গমন করিবার অভিলাষ করিতেছি। যদি আপনাদিগের অভিমত হয়, তবে আগামী অর্যেয় এই তিথিতে অমি এই স্থানে অগমনপূর্ব্বক এতদ্রুপ কোন বক্তৃতা করিতে ইচ্ছা করি যারা আপনাদিগের খ পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। মনোগত সংশয়ৰূপ তিমিররাশি অপগত হইয়। জ্ঞানকিরণে মানস প প্রস্ফুটিত হইতে পারিমেক। [হে পাঠক মহাশয়গণ ! এতদ্বাক্য শ্রবণে সভাস্থ সকল লোকের প্রতিনিধি হইয়া বোধাচাৰ্য ও অবোধভউ কহিলেন, মহাশয়! অদ। আপনার সরলতা ও পাণ্ডিত্যগুণে আমরা পরম বাধিত হইলাম, ঈশ্বরেচ্ছায় আগামী বর্ষে অাপনার বক্তৃতা শ্রবণে সমধিক সুখী হইব। তদনন্তর সভাভঙ্গ হইল। ইতি পরম্পরা ভ্ৰমনিরাশ সহকারে ঈশ্বরাভিপ্রায় (ইন্দ্রিয় দমনের আবশ্যকতা) ব্যঞ্জক নামক প্রথম অধ্যায়। দ্বিতীয় অধ্যায়। {হে পাঠক মহাশয়গণ ! সুবোধসিদ্ধান্ত মহাশয় বক্তৃতা করবেন বলিয়া নিয়মিত দিবসে সভাস্থলে অধিক লোক সমাগমনপূৰ্ব্বক তঁাহার আগমন প্রতীক্ষা করিতেছিলেন। তদনন্তর তিনি সভায় আসিয়া সমুপস্থিত হইলে পর, সকলের অভ্যর্থনায় হৃদাসনে অধ্যা- সীন হইয়া কহিলেন; হে মহাশয়গণ ! গত বর্ষাপেক্ষা অদ্য এ স্থলে সকল প্রকার লোকের সমাগম হওয়াতে সভার অপূৰ্ব্ব শোভা বৃদ্ধি হইয়াছে। অতএব এক্ষণে আমি বিশেষ ব্যক্তিকে সম্বোধন করিয়া আমার মনােগত বিষয় সুস্পষ্টরূপে ব্যক্ত করিবার নিমিত্ত একটি বক্তৃতা করিতেছি শ্রবণ করুন। সুবোধসিদ্ধান্তের বক্তৃতা। সুবোবসিদ্ধান্ত। হে ভারতবর্ষবাসি আৰ্য্যগণ। সম্প্রতি আমি আপনারদিগকে কোন গুরুতর বিষয় নিবেদন করিবার নিমিত্ত একটি বক্তৃতা করিতে উদ্যত হইলাম। যদিও আমার বক্তৃতাটি শ্রবণ করিয়া আপনারা হয়তো আমার প্রতি একেবারে খড়গহস্ত হইবেন, পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। ;. } নতুবা কটুকাটব্য প্রয়োগ করিতেও ক্ষান্ত হইবেন না; অথচ আমি সেই পরাৎপর পরমেশ্বরের বিনিয়ােগে নিয়চিত্ত হইয়া মনোগত সমুদায় বিষয় সুস্পষ্টরূপে প্রকাশ করিতে বিরত হইব না। হরিগুণ গান করিতে করিতে যদি জিহ্বা ক্ষয় হয়, এবং অমৃত ভোজন করিতে করিতে যদি দন্ত বিগলিত হয়, হউক , তাহাতে এই শরীর ব্যতীত আমার (আত্মার) আর কোন প্রকার ক্ষতি হইতে পারিবে না, বরং হরিণ গানে পরমানন্দ ও অমৃত ভোজনে অমরত্ব প্রাপ্ত হইতে পারি । হে প্রিয় মহাশয়গণ! বহু শতাব্দ গত হইল এই সৰ্ব্ব রত্নাকর ভারতবর্ষ সৰ্ব্বদেশীয় লোকের নিকট সভ্যদেশ বলিয়া পরিচিত ছিল। এবং এই স্থান হইতেই যে বিদ্যারত্ন, ধন ও শাস্ত্রাদি সংগ্রহ করিয়া ভিন্ন দেশীয় জনগণ স্বীয় জন্মভূমিতে গমনপূর্বক বিদ্বান, ধনী ও শাস্ত্রকর্তৃক বিখ্যাত হইয়াছেন ও অদ্যাপি হইতেছেন ইহার ভূরিং প্রমাণ দেদীপ্যমান রহিয়াছে। কিন্তু এক্ষণে এই ভারতবর্ষ (ষােল অনার দুই চারি কড়া ব্যতীত) মূখের সমাজ, দুঃখের অংগার ও শাস্ত্র ন্ধের গহ্বরস্বৰূপ হইয়া:ছ। যদি বলেন কেন হইয়াছে, ইহার কারণ কি ? তবে শ্রবণ করুন। আদিকালে এই স্থানে মানবজাতির প্রথম সৃষ্টি হইয়াছিল বলিয়া মেদিনীর প্রথম কালা বণি এই ভারতবর্যের প্রতি পরম পরাৎপর পরমেশ্বরের প্রচুর কৃপাদৃষ্টি ছিল এবং তন্নিমিত্তই পৃথিবীর অন্যান্য স্থানাপেক্ষ। এ স্থানের মানবগণ সৰ্ব্বাগ্রে সমধিক জ্ঞান ধন ও পর- ক্রমবিশিষ্ট বলিয়া বিখ্যাত হইয়াছিলেন। সেই সময়ে এতদেশীয় সমধিক বুদ্ধিমান জনগণ একমাত্র বেদশাস্ত্র হইতে মনুষ্যজাতির মহদুপকারজনক যে সকল বিদ্যার উদ্ভাবন (পুরাণ তন্ত্রাদিদ্বার। বেদের ভাব উদ্দীপন) করিয়াছিলেন, সেই সকল বিদ্যাদেবীকে অধুনা বিদেশীয় ব্যক্তিগণ বিবিধ রত্নালঙ্কারে বিভূষিত করিয়া অস্মনালির বিস্ময়েৎপাদন সহকারে বিপুল বিত্ত উপার্জন করিতেছেন। কিন্তু হায়! কি দুরদৃষ্ট!! ভারতের সন্তানগণ সে দিগে নয়নপাত না করিয়া খ ২ পরমা ৰিত , কর। অধুনা কেবল কাল্পনিক জাতি ও তৎ সম্বন্ধীয় দললি, এবং কল্পিত ধর্মাচরণ ও তৎসম্বন্ধে নিকৃষ্ট বৃত্তির চব্যির্থতা সম্পাদন এবং সভ্যাভিমানিতায় কদাচার প্রচলিত করণ, এই তিন বিষয় লইয়াই বল বীৰ্য্য পরাক্রম ধন ধৰ্ম্ম বিদ্য। যশ ও একতাদি বিবিধ প্রকার সাদ্বষয় হইতে ক্রমশঃ প্রবঞ্চিত হইতেছেন। এদিগে প্রশস্ত। জগদী- শ্বর ঐ সকল কদাচারদি হেতু সময়ে ভারতসত্তানগণের প্রবোধের নিমিত্ত স্বীয় ক্রোবৰূপ ঝটিকা মন্বন্তর মারকদি দ্ব, রা বিবি একার উৎপাত উপস্থিত করিতেছেন। কিন্তু অস্মদেশীয় জন প্রায় পাষাণের ন্যায় এমত অচেতন হইয়াছেন যে, ঐ সকল দূর্ঘটনা কে হইতেছে তদ্বিষয়ের কারণানুসন্ধানে একবারও মনোনিবেশ করেন না। পূৰ্ব্ব শত বৎসরের মধ্যে কেবল কার্ত্তিক মাহাতে একটি ঝটিকা হইয়াছিল ; যাহা কার্তিকে ঝড় বলিয়া এদেয় প্রানিগণের নিকট প্রসিদ্ধ আছে। কিন্তু সন ১২৪৪ সালবিধি বর্তমান কালপর্যন্ত এদেশে চারি পঁাচ বার ভয়ানক ঝটিকা হইয়াছে, এবং তদার। সর্ব সাধারণ জনগণের যে কিপৰ্যন্ত ক্ষতি হইয়াছে তাহা কোন অনবীনের অবিদিত নাই। এই সময়ে যদি এতদ্দে “শীয় জনগণ সতর্ক না হয়েন, তবে কতিপয়, বৎসরের মধ্যে কোন নৈসর্গিক উৎপাত দ্বারা বঙ্গদেশের রাজধানী ও তদন্তঃপাতি দেশসমুহ গৌড় রাজধানীর ন্যায় এককালে উচ্ছিন্ন প্রায় হইবেক। পুরাকালে এই ভারতবর্ষের সভ্যসমাজে কেবল একমাত্র সর্বব্যাপী সৰ্ব্বশক্তিমান নিরাকার পরমেশ্বরের উপাসনা করার পদ্ধতি প্রচ- লিত ছিল, দেব দেবীর উপাসনার নামনাও বে ছিল না ; প্রাচীন শাস্ত্রাণি পাঠ করিলে তাহার ভূরিই প্রমাণ প্রাপ্ত হওয়া যায়। এতন্নিমিত্ত ভারতবর্ষীয় জনগণ ঈশ্বরানুগ্রহে তৎকালে স্বাধীনতার সহিত সৰ্ব্ব সুখ সম্ভোগে সন্তপ্ত ছিলেন। তদনন্তর এতদ্দেশায় স- ধিক বুদ্ধিবিশিষ্ট সুচতুর ভূদেবগণ স্বকীয় স্বার্থপরতার বশীভূত হইয়া অথবা অন্য কোন কারণেই হউক; কতকগুলি অৰোধ লোকের নিমিত্ত কর্মকাণ্ডের সহিত কল্পিত দেব দেবীর উপাসনাতে! ব!
পরমার্থ বিজ্ঞা! দুকর। রচনা করিয়া পুরাণ তন্ত্রাদি শাস্ত্র দ্বারা জনসমাজে তাহা প্রচলিত করত অস্মাদির সৌভাগ্যবৃক্ষের মূলে এককালে কুঠারাঘাত করি- লেন। এবং আপনাদিগের বংশ পরস্পর পরমার্থ-বিষয় কোনক্রমে বিস্মৃতি না হয় তজ্জন্য ব্রাহ্মণজাতির উপনয়নকালীন গায়ত্রী শিক্ষাব পদ্ধতি প্রচলিত রাখিয়াছেন। কিন্তু প্রবঞ্চনা করতে গেলে কাল সহকারে প্রবঞ্চিত হইতে হয়ই হয়, তাহার কোন সন্দেহ নাই। দেখুন, যে ধ্যানস্বৰূপ গায়ত্রীতে পরম পরাৎপর পরমাত্মার পরত্ত্ব প্রকৃষ্টরূপে প্রকীৰ্তিত আছে, এক্ষণকার ব্রাহ্মণগণের মধ্যে অনেকেই তাহার অর্থ বুঝিতে পানির প্রতি বিস কেহ শতবার, কেহ বা সহস্র বার গায়ত্রী অতি করিয়াই আপনাদিগকে পরম ধার্মিক বলিয়া মা-িতেছেন। Tয় ত্রায় বিষয় ধ্যান না করিয়া দিবসের মন । দশ সহস্র বার গায়ত্রী জপ করিলেও কেবল একাগ্রচিত্ততা ব্যতীত উদার আর অন্য কোন প্রকার ফললাভ করবার সম্ভাবনা নাই । সে যাহা হউক, যদবধি কর্মকাণ্ড সহিত কল্পিত দেব দেবীর উপাস | এতদ্দেশে প্রচলিত হইয়াছে, ৩t fণ ভাতের সা গণ যে দুবৃত্ত যবনজীত-কর্তৃক বা স্বা। উপদ্রুত ও অবশেষে তাহ; দিগের অধীনভ, শৃঙ্খলে আবদ্ধ হইয়া দুঃখ সাগরে নিমগ্ন হইয়াছে তাহার কোন সন্দেহ নাই। যৎকালে এই ভারতবর্ষে দেব দেব? পূজা প্রথম প্রচলিত হয়, তৎকালে কেবল বিশেষ কাৰ্থ স্থানে এবং রাজা ও ভূমকিারিদিগের স্থাপিত নদিরাতেই পূজাদি হইত। সেই সময়ে জগদীশ্বরের ক্ৰোধৰূপ ঝটিকাদ্বারা সমুদ্রের জল উচ্ছসিত হইয়া গৌড় রাজধানী ও দন্তঃপাতি দেশসমূহ একেবারে নিমনুষ্য হয়। তার কিছুকাল পরে দ্বায়িী কোন আৰ্যযুবত। তদ্রুপ দুর্ঘটনাহইতে ভারত-সন্তানগণের রক্ষার নিমিত্ত বিপুল বিত্ত ব্যয় *পূর্বে যে যে স্থানে যে যে দেব দে । এহিঃর্তি ।পন কযা তত্ত্ব জ্ঞ ব্রাহ্মণগণ অজ্ঞ লেবিদগকে উতজ্ঞান ও দান করতেন সেই সেই স্থান অদ্যাপি ৩at বলিয়, সিন্ধ 'অ ৮। • •ণ্ড এক্ষণে এ+নত্র কাশভিন্ন অন্য নেন ভর্থ- স্থানে তার লি রব , এ । সুকরপে অব । ৬ হইত হয় ।
র. র্থ বিজ্ঞান রত্নাকর । করিয়া স্থানে জাঙ্গাল নির্মাণ করিয়া দিয়াছিলেন, যা অদ্যাপি ভারতবর্ষের অনেক স্থানে দ্বারীর জাঙ্গাল বলিয়া প্রসিদ্ধ রহিয়াছে। তদনন্তর যখন সৰ্ব্ব সাধারণ জনগণের বাটীতে সেই সমস্ত কল্পিত দেব দেবীর পূজা এতদ্দেশে বাহুল্যৰূপে প্রচলিত হয়, তখন (কার্তিক মাসে দুর্গোৎসবের সময়ে) জগদীশ্বর অস্মানির পরামননের নিমিত্ত স্বীয় ক্ৰোধৰূপ ভয়ানক ঝটিকা উথাপন করিয়াছিলেন; যাহা কার্তিকে ঝড় বলিয়া বহু দিবসবিধি প্রসিদ্ধ আছে। তৎপরে যখন এই বঙ্গদেশে প্রাগুক্ত দেব দেবীর পূজা অতিশয় প্রবলৰূপে প্রচ- লিত হয়, তখনও (সন ১২৩০ সালের অশ্বিন মাসে দুর্গোৎসবের সময়ে) জগদীশ্বর ভয়ানক বন্যা দ্বারা চণ্ডীমণ্ডপের সহিত ভগবতীর প্রতিমা ও শতং গে মনুষ্যকে ভাসাইয়া সমুদ্রনীরে নিক্ষেপ করিয়- ছেন। তাহার পর যখন অ প্রসিদ্ধ বারােয়ারি পূজার পদ্ধতি ও তৎসহ ঘৃণিত সখের যাত্রা প্রথম প্রচলিত হয় তৎকালে (জ্যৈষ্ঠ মাসে) জগদীশ্বর ভয়ানক ঝটিকাদ্বারা বিবিধ প্রকার উৎপাত উপস্থিত করিয়াছিলেন। তাহার দশ বৎসর পরে যখন ঐ বারোয়ারি পূজা প্রবলৰূপে বঙ্গদেশের সর্ব্বত্র প্রচলিত হয় তৎকালও (জ্যৈষ্ঠমাসে) তিনি ঝটিকাদ্বারা অস্মাদির নিকট স্বায় ক্রোধ প্রকাশ করিয়াছেন। তদবধি রাত্রি জাগরণাদি বিবিধ প্রকার স্বাভাবিক নিয়মভঙ্গ জনিত রাজধানী ও তদন্তঃপাতি কতিপয় দেশে স্বর ওলাউঠা বসন্তপ্রভৃতি রোগসমূহ মারীভয়ৰূপে অবতীর্ণ হইযা নিরন্তর প্রজা ক্ষয় করি- তেছে। তাহার পর সন ১২৭১ সালের ২০ আশ্বিন তারিখে (দুর্গোৎ- পূজার পঞ্চমী তিথিতে) জগদীশ্বর ক্রদ্ধ হইয়া চণ্ডীমণ্ডপ ও দালানের সহিত কত শত প্রতিমাকে ভয় করিয়া শত মনুয্যের প্রাণনাশ করিয়াছেন । তৎকালে প্রকৃতিদেবী আমাদিগের কাতরতার সহিত কঠিনান্তঃকরণ দেখিয়া যে রােদন করিয়াছিলেন, তারা সমুদ্রের জল বৃদ্ধি হইয়াছিল। এবং তাহাতেও বহু লােকের প্রাণ নাশ হইতেছে দেখিয়া দয়াময় জগদীশ্বর দয়া প্রকাণ পূর্বক স্বীয় ক্রোধৰূপ সেই ঝটিকাকে আকাশ মধ্যে সম্বরণ করিয়া রাখিয়া- 'পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর । ছিলেন। কিন্তু কি আক্ষেপের বিষয়। অম্মদেশীয় জনগণ কাল্পনিক আমোদে উন্মত্ত হইয়া এমত বিচেতন হইয়াছেন যে, পূজার সময়ে কি কারণে ঐ সকল অনিষ্ট ঘটনা হয়, তদ্বিষয়ে একবারও মনো- নিবেশ করেন না। এইরূপে আমারদিগের নিতান্ত অমনোযােগ দেখিয়া তিনি আমাদিগকে এককালে সমুচিত শান্তি দিবার নিমিত্ত বিগত বর্ষের কার্ত্তিক মাসের ১৬ তারিখে (জগদ্ধাত্রী পূজার প্রাক্কালে) সেই পঞ্চমী তিথিতে সেই দিগহইতে সেই ঝটিকাকে অবতরণ করিয়াছিলেন। বোধ হয় কতিপয় সাধুলোকের স্তব স্তুতিতে তিনি সন্তুষ্ট হইয়া পুনৰ্ব্বার সেই ঝটিকাকে আকাশ মধ্যে শান্তভাবে রাখি- যাছেন। এখনও যদি ভারতের সন্তানগণ বিশুদ্ধ মনে বেদ শাস্ত্র সম্মত সচ্চিদানন্দ স্বৰূপ একমাত্র পরমেশ্বরের উপাসনায় ব্রতী হয়েন, তবে তিনি অল্পকালের মধ্যে আমাদিগের স্বাধীনতার সহিত সৰ্ব্ব সুখ সম্বিধান করিবেন। নচেৎ অত্যল্প কালের মধ্যে আমাদিগকে ঘোর তর বিপদজালে জড়াভূত হইয়া এককালে উচ্ছিন্ন হইতে হইবেক। অর্থাৎ জগদীশ্বর ভয়ানক যুদ্ধ উপস্থিত করিয়া আমাদিগকে ঘোর- কর বিপদজালে নিক্ষেপ করিবেন। অথবা আমারদিগের পাপরাশি দ্বারা তিনি এই পৰ্বতহীন প্রদেশে একটি বৃহৎ পৰ্বত উৎপন্ন করি- ধেন। কিম্বা অন্য কোন ঘটনদ্বারা বিলক্ষণৰূপে শাস্তি প্রদান করিবেন। এতন্নিমিত্ত শিক্ষকের বেত্রান্দোলনের ন্যায় গুরুতর আঘাতের প্রাক্কালে ঝটিকা মন্বন্তর মারকাদিদ্বারা জগদীশ্বর অমান দিগকে ভয় প্রদর্শন করিতেছেন। হে প্রিয় মহাশয়গণ ! আপনার চক্ষুঃ থাকিতে অন্ধ ও কর্ণ থাকি। তে বধির হইবেন না। ছয় মাস কাল যোগ সাধন করিলে জগদী- শ্বরকে জ্ঞাত হইতে পারা যায়, এতদ্রপ বাক্য যে মহাভারতাদি শাস্ত্রে বর্ণিত আছে, পরীক্ষা না করিয়া তৎপ্রতি অবিশ্বাস করিবেন না। যে প্রকারে যোগ সাধন করিলে ভগবানকে জানিতে পারা যায়, তাহা আমি আপনাদিগের নিকট শাস্ত্রসম্মত বাক্যে প্রকাশ করিয়া কহিব। সম্প্রতি আমার সমুদায় বক্তৃতাটি শ্রবণপূৰ্ব্বক হৃদয় পরনার্থ বিজ্ঞান কর । ভূমিতে সত্যধৰ্মৰ বীজ দেপিণ করিয়া মষ্য জন্মের সার্থকতা। সম্পাদন করুন। স্বস্তি ! স্বস্তি! বস্তি। ইতি ভারতের দুর দুষ্টের বাণ নিয়ে নানক দ্বিতীয় অধ্যায় : তীয় জয় জাতিবিষয়ক । হে পাঠক মহাশযগণ ! যে সমস্ত অভিশন ধারণ করিয়। ভারত- বর্ষীয়গণ ক্রমে ক্রমে অবনত হইতেছেন, বোধসিদ্ধান্ত মহাশয় যে প্রকারে তার কিছু বর্ণনা করিয়া কহিয়াছিলেন অমি তাহা কৰি তেছি শ্রবণ করুন। সুবােধসিদ্ধান্ত। হে বমি মহাশয় গণ! আপনারা যে জাতি- গৌরবে গৌরবান্বিত হই। ভিন্ন দেশীয় জনগণকে মেচ্ছ, যবন ও অন্ত্যজদি বলিয়া অভিমান প্রকাশ করেন, সেই জাতিপদার্থ কে জল করিয়াছে এবং তাহ'র অতিই বা কি প্রকার ? জগদীশ্বর কখ হ্মিণ কায়স্থাদি জাতি-সৃষ্টি করেন নাই। তিনি সে ভিন্ন জাতি সৃষ্টি করিয়াছেন তাহার আকার ভিন্ন, যথা--মনুষ্য, গে, অশ্ব, পক্ষী, মৎস্য, সর্প ও বৃক্ষাদি। ইহারা চিরকালই ভিন্ন আকারে সৃন কর্তার অনিৰ্ব্বচনীয় সৃষ্টিৰৌশলের পরিচয় প্রদান করিতেছে। ব্রাহ্মণ কায়স্থাদি জাতি যদি ঈশ্বরের সৃষ্ট হইত, তবে অবশ্যই তাহার কোন বিশেষ চিনু থাকিত; এবং সেই জাতি অমাদিগের সুখের পরিবর্তে কখনই দুঃখের কারণ হইত না। এবং কোন ব্যক্তি কোন প্রকারে জমাদিগের সেই জাতি নাশ করিতেও পারি না। অতি প্রাচীনকালে শাস্ত্রকারের সাধুর সহিত অসৎ লোকের সংব নিবারণের নিমিত্ত সত্ত্বপ্রধান ব্রাহ্মণ, রজঃ প্রধান ক্ষত্রিয়, রজত্তমঃ প্রধান বৈশ্য এবং তমঃপ্রধান শূদ্র এপে রাজনিয়মস্বৰূপ এই পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর । কল্পিত জাতির প্রথা প্রচলিত করিয়াছিলেন। অর্থাৎ দেহের মধ্যে মস্তক সত্ত্বগুণসম্পন্ন , যেহেতুক ইহাতে সমুদায় জ্ঞানেন্দ্রিয় আছে। দেহের স্কন্ধাবধি মূলাধারপৰ্য্যন্ত রজোগুণসম্পন্ন ; যেহেতুক এন্মধ্যে বাহু- বল অবস্থিতি করিতেছে । আর মূলাশার অবধি পদতলপৰ্যন্ত তমােগুণসম্পন্ন; যেহেতুক অপরাপর অঙ্গের ন্যায় নিশ্বাস প্রশ্বাস দ্বারা ইহার অন্দোলন লক্ষিত হয় না। এই সত্বাদি গুণের ভাবানু- সরে শাস্ত্রকারের ব্রহ্মার রূপ কল্পনা করিয়া তাঁহার মস্তক বাহু পণাদি হইতে ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় শূদ্রাদি জাতির জন্ম কল্পনা করিয়া- ছিলেন। পরে বেণ বা পৃথুরাজার সময়ে ঐ চারি জাতির সংশ্রবে ষটত্রিংশৎ বা তদধিক জাতির কল্পনাদ্বিারা শাস্ত্রকারের যে খেচরাম পাক করিয়াছেন তাহা কেবল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিরাই ভােগ করিয়া আসিতেছে । ব্রাহ্মণাদি অপর তিন প্রকার শ্রেষ্ঠ জাতি বিশুদ্ধ রহিয়াছেন ! ! ! চমৎকার বুদ্ধি ! চমৎকার বিচার" !! চমৎকার, চমৎকার, অতিশয় চমৎকার !!! যাহা হউক, এতদ্রপ জাতি কল্পনার। তঁাহােিগর মনোহভিলাস সম্পূৰ্ণৰূপে সুসিদ্ধ হয় নাই, এবং হইারও কোন সম্ভাবনা নাই। কেননা, বিবিধ প্রকার কাৰ্যানুরোধে অসৎ লোকের সহিত সৎ লােকের পূৰ্ব্বে যেমন সংশ্রব ছিল, এক্ষণেও তদ্রপ কাছে এবং পরেও থাকিবেক! জগদীশ্বরের নিয়মের অন্যাচরণ করা মনুষ্যের সাধ্য- য়ত্ত নহে। সুতরাং ঐ জাতিদ্বারা যে আমাদিগের মঙ্গলাপেক্ষা সমূহ ক্ষতি হইয়াছে এবং এক্ষণেও হইতেছে তাহা কহিতেছি শ্রবণ করুন। হে মহাশয়গণ ! আপনার বিবেচনা করিয়া দেখুন, বিবিধ প্রকার জাতি প্রচলিত আছে বলিয়াই আমরা ক্রমেই বল বীৰ্য পরাক্রম একতা ও তৎসহ স্বাধীনতার সুখ হইতে ক্রমশঃ প্রবঞ্চিত হইতেছি। *যখন বেণরাজার অনুসারে চারি জাতি স্বেচ্ছাচারী হইযাছিলন তখন ব্রাহ্মণাদি চারি জাতিই পতিত হইযাছেন। অতএব শকারের। যখন শূদ্রদিগের ছত্রিশ বা তদধিক প্রকার জাতি কষ্পমা করিযাছিলেন তখন ব্রাহ্মণাদি অপর তিন প্রকার জাতিরও শ্রেণী বিভেদ করা কর্তব্য ছিল, নচেৎ শাস্ত্রমতানুসারে অধুম। কেবল শূদ্ৰজাতিরাই সংস্কৃত বলি যা পরিগণিতই পারে। গ পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর । কেননা, যেমন স্ত্রীপুরুষের রক্ত বীৰ্যে কোন প্রকার রোগ বা দোষ থাকিলে সন্তানগণ তাহার অধিকারী হয় বলিয়া অৰ্য্যগণ স্বীয় গোত্রে কন্যা পুত্রের বিবাহ দিতে ক্ষান্ত হইয়াছেন; তদ্রপ এক্ষণে ভিন্ন জাতি প্রচলিত থাকাতে এক জাতিগত (এক২ জাতির বীৰ্য্য গত) যে দোষ জন্মিয়াছে, জাতি পরিত্যাগ না করিলে তাহার পরিহার হইতে পারে না। অর্থাৎ তাহা না হইলে আমাদিগের সন্তান সন্ত- তীগণ কোন ক্রমে সমধিক বল বীর্যের অধিকারী হইতে পারিবেক হে মহাশয়গণ ! ব্রাহ্মণ কায়স্থ গােপদি ভিন্ন জাতিৰূপ শৃঙ্খলে বহুকালাবাব বন্ধ থাকিয়া এক্ষণে একং জাতি একই গোত্রের ন্যায় প্রতিপন্ন হইয়াছে। সুতরাং ঐ জাতিদ্বারা ক্রমশ অমার- দিগের মহদনিষ্ঠের মূল বর্ধিত হইতেছে। বিবেচনা করিয়া দেখুন মুসলমানদিগের স্বগোত্রে বিবাহ করিবার প্রথা আছে বলিয়া তাহা- দিগের কাণ। কুটে ক্লীব ও বিকলাঙ্গাদি যত দেখিতে পাওয়া যায়, হিন্দুদিগের তত নহে; অথচ মুসলমানাপেক্ষা হিন্দুজাতির সংখ্যা প্রায় তিন গুণ অধিক। অবোধভট্ট। মহাশয়! পশুর মধ্যে যেমন গে অশ্ব ছগি মেষ মহিষাদি এবং পক্ষির মধ্যে কাকাতুয়া ময়না বুলবুল ও টুনটুনীপ্রভৃতি এবং বৃক্ষ মধ্যে অস্র জন্ধু কাটালাদি ভিন্ন জাতি দৃষ্ট হইতেছে ; তদ্রুপ মনুষ্যের মধ্যে ব্রাহ্মণ কায়স্থ গোপ গোয়ালপ্রভূতি জাতি ভেদ না থাকিবে কেন? পরমেশ্বর যখন পশু পক্ষি বৃক্ষাদির মধ্যে ভিন্ন জাতি নির্দিষ্ট করিয়া রাখিয়াছেন, তখন মনুষ্যগণের মধ্যেও তিনি যে তদ্রুপ ভিন্ন জাতি নির্দিষ্ট করিয়া দেন নাই ইহা কোনক্রমে বিশ্বাস্য নহে। সুবোধসিদ্ধান্ত। ওহে অবােধ! গো মেষ হস্তাশ্ব মহিষাদি এবং কাক শালিক ময়না ও অস্রি জন্তু কঁাটালপ্রভৃতি, পশু পক্ষী বৃক্ষাদির মধ্যে যে প্রকার ভিন্ন জাতি দৃষ্ট হয়, মনুষ্যগণও তােপ জরায়ুজ পশুর মত এক জাতি। অপিচ গোসমূহের মধ্যে কিঞ্চিৎ অকার বৈলক্ষণ্যহেতু যেমন গুজরাটী গো, পাহাড়ে গো ও বিলাতি গো পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। শলিয়া তাহারা ভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত আছে, মনুষ্যগণও তদ্রুপ ইংরাজ বাঙ্গালী কাফরি ও মগ মোগলপ্রভৃতি ভিন্ন জাতি বলিয়া প্রসিদ্ধ রহিয়াছে। পশুর সহিত মনুষ্যের শ্রেণীগত প্রভেদ ভিন্ন প্রকার গত প্রভেদ কোথায় ? তথাচ ব্ৰহ্মা'ও পুরাণে আহারেনিদ্রা ভয়মৈথুনঞ্চ, সামান্য মেতৎ পশুভিন রাণাং। জ্ঞানং হি তেষামধিকে বিশেষে জ্ঞানেন হীনা পশুভিঃ সমান। অর্থাৎ আহার নিদ্রা ভয় মৈথুনাদি শারীরিক ব্যাপার পশুগণের যে প্রকার মনুষ্যগণেরও সেইরূপ ; তবে পশুহইতে মনুষ্যের একমাত্র ধৰ্ম্মজ্ঞানই বিশেষ। অতএব যাহারা ধৰ্ম্মজ্ঞান বিহীন তাহারা পশুর সদৃশ। ফলতঃ ছাগ মেৰ মহিষাদির অকৃতি-বিশেষের ন্যায় ব্রাহ্মণ কায়স্থ গোপ গোয়ালা প্রভৃতি জাতির যদি কোন বিশেষ আকৃতি থাকি, তবে তাহা ভগবানের সৃষ্ট বলিয়া পরিগণিত হইতে পারি এবং তাহা হইলে একজন শূদ্ৰ উৰীত ধাৰণ করিয়া বিদেশে গম:- পূর্ধক ধনের সহায়তায় পাকে চক্রে চক্রবর্তী ব্রাহ্ম। বলিয়া কখনই পরিগণিত হইতে পারিতেন না। হে মহাশয়গণ ! যে জাতি আপনাদিগের পরম প্রিয় পার্থ বলিয়া পরিগণিত আছে, সেই জাতি নিত্যং হোটেল্যলয়ে, বেশ্যালয়ে, উদ্যানলিয়ে, দেবালয়ে, পান্থলিয়ে, ঘোষালয়ে ও বিশেষালয়ে যম- লয়ে গমন করিতেছে। আবার সেই জাতি রক্তবীজের ন্যায় তৎ- ক্ষণাৎ জীবন প্রাপ্ত হও অপিনাদিগের দেহে আরোহণ করিয়া আস্ফালিত হইতেছে। ছি! ছি! এ প্রকার জাতি লইয়া বজ্জাতি করিলে কস্মিনকালেও আমাদিগের সুমঙ্গল হওনের সম্ভাবনা নাই। *ঘোষপাড়া গ্রামে দোলের সময়ে ব্রাহ্মণ শূদ্র মুসলমান ওভৃতি সকল জাভয় কর্তাভজার মজা করিয়া এক বিছান। য বসিয,ঘাষts ভোজন করে। ব্রাহ্মণ শূদ্রর অন্ন স্তুপাকারে থাকে, মুসলমানকে সেই বিছানার উপর গামছ! পাড। ভাত দে ওয় হয়। অাহ! কি চমৎকার বিধি ! ইহাবু। অাবার বলে অমর। এ ৫ মুনি । কিন্তু ওজন করিলে কোন কোন ট ব পরিমাণ দেমোন দুই মোন অা। ই *ীন হইতে ?ীরে । কি ভণ্ডামি।।। २ পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। ভগবান মহাদেব কহিয়াছেন যে, “ যাবদ্বর্ণং কুলং সৰ্ব্বং তাৰজ- . জ্ঞানং ন জায়তে।” অর্থাৎ যদবধি জীবের আমি ব্রাহ্মণ, আমি কত্রিয়, আমি বৈশ্য ইত্যাদিৰূপে জাত্যভিমান ও কুলভিমানাদি অন্যান্য প্রকার অভিমান বিদ্যমান থাকে তদবধি তাহার জ্ঞান জন্মে না। হে মহাশয়গণ ! আপনারা সূক্ষমৰূপে বিবেচনা করিয়া দেখুন । যে জাতি পদার্থ অন্য জাতির অন্ন ভক্ষণ করিলে, অথবা তাহার প্রাণ নইলে, কিন্তু যে ব্যক্তি ভিন্ন জাতির অন্ন ভোজন করিয়াছে তাহার সহিত একত্রে ভোজন করিলেও লৌকিকাচারে বিনষ্ট হইয়া যায়, সেই জাতি যদি কোন সত্য পদার্থ হয়, তবে সকল লোকেরই জাতি বিনষ্ট হইয়াছে কি না? যদি আপনাদিগের বিচারে ইহাই ধাৰ্য্য হয় যে, মেচ্ছ সংসর্গে অধুনা অন্তরে জাতি পদার্থ কারো বিশুদ্ধ নাই ; তবে উচ্ছিষ্ট মৃত্তিকাভাণ্ডের ন্যায় ন জাতিকে এক কালে সকলে পরিত্যাগপূৰ্ব্বক সভ্যসমাজে পরিগণিত হওত বি শুদ্ধভাবে (নিরভি- মানে) পরমেশ্বরের উপাসনার অধিকারী হইয়া মনুষ্য জন্মের সার্থকতা সম্পাদন করুন ; তদ্দারা ভারতের সমূহ মঙ্গল হইবার সম্ভাবুন। আছে। স্বস্তি! স্বস্তি! স্বস্তি। জ্ঞানগুৰু বিষয়ক। হে জ্ঞানদাতা ভারতবর্ষীয় গুরু মহাশয়গণ ! অাপনারা কখনং অজ্ঞান তিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জন শলাকয়া। চক্ষুরুন্মীলিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ” এতন্মন্ত্রেও শিষ্য গণের প্রণাম গ্রহণ করিয়া থাকেন। কিন্তু ঐ মন্ত্রের সহিত অপিনাদিগের মধ্যে অধিকাংশ লোকের প্রাকৃতিক কোন সম্বন্ধ নাই। অর্থাৎ অধিকাংশ গুৰুই জ্ঞান কাহাকে বলে তাহা অবগত নহেন। জ্ঞান কি বস্তু, ইহা অপ- নাদিগের সহস্রের মধ্যে দুই একজন যাহারা অবগত আছেন, তাহা- রাও ৰূপচাঁদের প্রলোভে স্বীয় শিষ্যের হৃদয়ে মিচাদ, শিবচদি নিতাইচাঁদ ও গৌরচাঁদের ফান ফদিয়া ভবসমুদ্রের বাঁধ বাঁধিয়া দেন। হায়, 'কি দুরদৃষ্ট! যাঁহারা ভবসমুদ্রের কাণ্ডারী, তাহাদিগের পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। २० নৌকা নাই, হাইল নাই, পাইল নাই, এবং দাড় ও ধ্বজীও নাই; অথচ ভৰসমুদ্র পার করিবার নিমিত্ত ঝি কা মরিবার কোন অংশে ক্রটিও নাই। অর্থাৎ জ্ঞান না থাকিলেও আপনারা শিষ্যগণের মস্তকে কেবল পদার্পণ করিয়াই গুরুত্ব প্রকাশ করিতেছেন। এই জন্যে এতদ্দেশে একটি নুতন প্রভাৰ্ব্ব (প্রবাদ বাক্য) প্রচলিত হই- য়াছে যে, ৫ ফলন হাতে পায়ে বিলক্ষণ দশ টাকা রােজগার করিতে- ছেন। বস্তুতঃ যিনি জ্ঞানগরিষ্ঠ গুরু হয়েন, তিনি আপনাকে গুৰু বলিয়া অভিমান প্রকাশ করেন না, এবং কুরিতেও পারেন না। কেননা যাহার সকল বস্তুতে সমভাব জ্ঞান আছে তিনিই যথার্থ জ্ঞানী, এবং গুরু বলিয়া পরিচিত হইবার যোগ্য। কিন্তু তিনি যদি অন্যকে আপন শিষ্যকে) লঘু জ্ঞানপূৰ্ব্বক আপনাকে গুৰু বলিয়া অভিমান প্রকাশ করেন, তবে তাহার সকল বস্তুতে সমভাব জ্ঞান কোথা থাকে ? সুতরাং গুৰু আপনাকে গুরু বলিয়া কোন কালেই অভিমান প্রকাশ করিতে পারেন না; কিন্তু শিষ্যের ভক্তিপূৰ্ব্বক তঁাহাকে গুরু বলিয়া মান্য করা কর্ত্তব্য। হে ভবসমুদ্রের কাণ্ডারি মহাশয়গণ। আপনারা যখন তরীবিহীন হইয়া এই ভবসাগরের প্রবল তরঙ্গে নিপতিত হওত নিরবধি হাবু- ডুবু খাইয়া বেড়াইতেছেন, তখন শিষ্যগণকে যে আবার সেই পথের পথিক করিতে কোন সাহসে সাহসী হন, আমিতো তাহার কিছুই মর্ম বুঝিতে পারিতেছি না। বোধাচাৰ্য। মহাশয় ! যখন রজ্জতে সর্প জ্ঞান হয় তখন সেই রজ্জ্বর সহিত সর্পের কোন সম্বন্ধু না থাকিলেও তারা যখন মনুষ্যের ভয় ও হৃৎকম্পাদি হইয়া থাকে, তখন ভবসমুদ্রের কাণ্ডারীস্বৰূপ দীক্ষাগুরুর অথবা উপাস্য দেবতার প্রতিমূর্তিকে অবলম্বন করিয়া বিশ্বাসের সহিত পরমেশ্বরের উপাসনা করিলে পূৰ্বোক্ত প্রকারে শিষ্যের কৃতার্থ হইবার অসম্ভাবনা কি আছে? সুবোধসিদ্ধান্ত। ওহে বোধাচাৰ্য্য! রজ্জতে সর্পজ্ঞান হইলে মনু- য্যের যে ভয় ও হৃৎকম্পাদি হইয়া থাকে, তাহা অজ্ঞানের কাৰ্য। বস্তুত পরথি বিজ্ঞান রত্নাকর। ভয়াদি হইলেও যেমন ঐ রঞ্জ, কখন সর্প হইয়া মনুষ্যকে দংশন বা মণি প্রদান করিতে পারে না; তদ্রুপ সাকার বস্তু অবলম্বনপূর্বক বিশ্বাসের সহিত নিরাকার পরমেশ্বরের উপাসনা করিলেও সেই সবিকার সাকার বস্তু কখন নির্বিকার পরমেশ্বর হইয়া মনুষকে মুক্তি ফল প্রদান করেন না। কৃত্রিম দ্রব্যকে সত্য পদার্থ বলিয়া বিশ্বাস করিলে, সেই কৃত্রিম দ্রব্যগত যে সকল দোষ আছে, তাহা অপগত হইয়া যদি সেই পদার্থ সত্য বস্তুর স্বৰূপ ধারণ করিত, তবে দীক্ষাগুৰু অথবা মৃত্তিকা প্রস্তর কাষ্ঠদিকে ঈশ্বরভাবে উপান। করিলে ক্ষতি ছিল না। প্রত্যুতঃ আমরা প্রত্যক্ষ দেখিতেছি যে এক ব্যক্তিকে কতকগুলি নিষ্ট আলুর সহিত যদি একখানি মানকচু গোপনে খাইতে দেওয়া যায় তবে সে ব্যক্তি মিষ্ট আলু বিশ্বাসে মান- কচুখানি মুখে দিবামাত্র মিষ্টতার পরিবর্তে সেই মনকচুখ নি আপি- নার বিলক্ষণ স্বভাব প্রকাশ করেই করে। কেন না করিবে? বিশ্বাস মনের ধৰ্ম্ম, তাহা মনেতেই থাকে ; সে কি প্রকারে অন্য পদার্থের শক্তিকে অন্যথা করিতে সক্ষম হইবে ? বোধাচাৰ্য। মহাশয়! পরমেশ্বর সৰ্ব্বব্যাপী, সুতরাং তিনি সকল পদার্থে সমানভাবে অবস্থিতি করিতেছেন । অতএব যে কোন বস্তুকে অবলম্বন করিয়া তঁাহার উপাষনা করা যায়, তাহাতে প্রকার- স্তরে উঁহারই উপাসনা সিদ্ধি হয় কি না, তাহা আপনি বিবেচনা করিয়া দেখুন। সুবোধসিদ্ধান্ত। হা,–তিনি সৰ্ব্বব্যাপী বটেন, এবং সকল মায়িক পদার্থ হাতে তুল্যৰূপে অবস্থিতি করিতেছে বলিয়া প্রকারান্তরে তঁাহারই উপাসনা সিদ্ধি হয় বটে, কিন্তু মায়িক পদার্থকে অমায়িক বােধে উপাসনা করিলে তাহার (মায়িক পদার্থের) স্বৰূপের অপরিত্যাগ হেতু উপাসকের মনের নায়িকা বিনাশের সম্ভাবনা কোথায় ? বরং নিত সেই মায়িক দেবতার চরিত্রীদির অনুকরণ করিতেই মনের মায়িকতা ক্রমশঃ বৃদ্ধিই হইয়া থাকে। এই কারণবশতঃ অৰ্য- দিগের সত্যধৰ্মৰূপ প্রচণ্ড মার্তণ্ড বিদ্যমান থাকিতে ও সামান্য পৰ্ম্ম- ৮ পরমাণ বিজ্ঞান রত্নাকব। ৰূপ খদ্যোতিকাসমূহ স্বীয় পুচ্ছদেশের যৎসামান্য জ্যোতি প্রদর্শ- মার্থ হাটে মাঠে ঘাটে পরিভ্রমণ করিয়াও লজ্জিত হইতেছে না। অতএব হে গুরুমহাশয়গণ ! এই সময়ে আপনারা আর্যশাস্ত্রমতে উপাস্য কে ? উপসিন কি, এবং তাহার ফলই বা কি ? তাহা অগ্রে বিশেষৰূপে অবগত হইয়া তাহার পরে শিষ্য করুন। নচেৎ কেবল গোপালায় নমঃ, বা গােবিন্দায় নমঃ, অথবা হং কং ঢংপ্রভৃতি কতক গুলি রংচঙে মন্ত্র শিক্ষা করিয়া ধনলোতে শিষ্য করিলে কস্মিনকালেও ভারতবাসিগণের সুমঙ্গল হওনের সম্ভাবনা নাই। এতদ্দেশে এই একটি কুপ্রথা প্রচলিত আছে যে, গুৰুপুত্র অতিশয় গণ্ডমুখ ও কদা- চারী হইলেও ভবিষ্যতে তিনি অনেকের গুৰু হইবেন, অন্য কোন ব্যক্তি মহাজ্ঞানী হইলেও গুৰু হইতে পারিবেন না। এতন্নিমিত্ত ভারতবর্ষীয় অনেক গুরুর প্রথম স্থিত পঞ্চম স্বরটি অপগত হইয়াছে। এবং সেই জন্যই ভারতবর্ষীয়গণ ভিন্ন দেশীয়দিগের নিকট পতঙ্গ স্বৰূপ হইয়া বিবিধ প্রকার যাতনা সহ্য করিতেছেন। অবোধভউ। মহাশয়। অপিনি নাস্তিকের ন্যায় কথা কহিতে- ছেন; কেননা আমরা বিজ্ঞালোকের মুখে শ্রবণ করিয়াছি যে গুরু ভক্তি থাকিলে মন্ত্র জপ করিতে শিষ্যের চিত্তশুদ্ধি ও জ্ঞানলাভ হইয়া থাকে। আপনি কি ইহা বিশ্বাস করেন না ? সুবোধসিদ্ধান্ত। ওহে অবোধ ! জ্ঞানগরিষ্ঠ গুরুর প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা করিলে যে জ্ঞানলাভ করিতে পারা যায় ইহা মহাভারতের বীজস্বৰূপ প্রথম আখ্যায়িকাতে বিশেষৰূপে বর্ণিত আছে সুতরাং তাহা মিথ্যা নহে; কিন্তু গুৰু কয় জন আছেন ? ধনীর পুত্র যেমন পিতার অবৰ্ত্তমানে তাহার ধনাধিকারী হইয়া ধনী হয়েন; জ্ঞানীর পুত্র তদ্রুপ জ্ঞানী হইতে পারেন না, ইহাকে স্বয়ং জ্ঞানার্জন করিয়া জ্ঞানী হইতে হয়। অতএব অগ্রে গুরু নিশ্চয় করুন, তৎপরে তৎপ্রতি ভক্তি প্রকাশপুৰ্ব্বক চিত্তশুদ্ধি সহকারে জ্ঞানলাভ করিতে পারিবেন । বস্তুতঃ চিত্তশুদ্ধি না হইলে কোন ব্যক্তির ঈশ্বরোপাসনায় প্রবৃত্তিই হইতে পারে না। আর বিশেষৰূপে চিত্তশুদ্ধি ঈশ্বরোপাসনা না করি- ২৪ পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। লেও হয় না; যে চিত্তশুদ্ধিতে জগদীশ্বর স্বয়ং সাধকের নিকট প্রকাশ শিত হয়েন। বিশেষতঃ তোমরা কোনকালে কোন শিষ্যকে তোমার চিত্তশুদ্ধি হইয়াছে বলিয়া তত্ত্বজ্ঞান প্রদান করিয়াছ? কখন না, বরং তোমাদিগের কোন শিষ্য দিবারাত্রি হরেকৃষ্ণ হরেকৃষ্ণ বলিয়া উপাসনা করিতেং অত্যন্ত প্রাচীন হইলেও অর্থাৎ ভক্তিযােগে তাহা- দিগের চিত্ত দ্রবীভূত হইলেও তোমরা যে ভঁহাকে তত্ত্বজ্ঞান প্রদান কর না ইহা আমরা সচরাচর দেখিতে পাই। উৰ্ব্বর। মৃত্তিকার ন্যায় সেই সমস্ত জনগণের চিত্তভূমিতে তত্ত্বজ্ঞান বীজ আহিত হইলেই তৎক্ষণাৎ তাহাতে প্রচুর পরিমাণে ফলােৎপত্তি হইতে পারে। হায়, কি বিড়ম্বনা!হা ভারতবর্ষ ! যে সকল ব্রাহ্মণগণের (জ্ঞানীগণের) অভ্যুদয়ে তোমার সৌভাগ্য সূৰ্য্য সমুদিত হইয়া দিগ দিগন্তরে ক্রমশঃ প্রখর কিরণ বিস্তার করিতেছিল, সেই সকল ভূদেবগণের সন্তানেরা স্বার্থপরতাৰূপ মেঘমগুল দ্বারা তোমার সৌভাগ্যসূৰ্য্যকে আবৃত করিয়া অমঙ্গলৰূপ অন্ধকারে আচ্ছন্ন করিয়াছে। কত দিনে যে ব্রাহ্মণগণ সরল হৃদয়ে উক্ত অন্ধকার অপসারিত করিবেন তাহা সেই ত্রিকালজ্ঞ ভূতভাবন ভাবময় ভগবানই অবগত আছেন। যাহা হউক, মন্ত্র ব্যবসায়ী গুরু মহাশয়গণের শ্রীচরণ সরেজে শত কোটি প্রণাম সহকারে এক্ষণে আমার নিবেদন এই যে, তাহারা সদ গুরুর উপাসনাপূৰ্ব্বক তত্ত্বজ্ঞান লাভে কৃতার্থ হইয়া শিষ্যগণের মানস। ভূমিতে ত্বরায় সত্য বীজ রোপণ করুন; তদ্দারা ভবিষ্যতে ভারতের সমুহ মঙ্গল হইতে পারিবেক। স্বস্তি ! স্বস্তি ! স্বস্তি। মঠাধ্যক্ষ বিষয়ক । সুবোধসিদ্ধান্ত। হে চতুষ্পাঠীধারি ভট্টাচাৰ্য মহাশয়গণ ! অপি নীরা এই ভারতে মিথ্যা জাতি ও কাল্পনিক দেব দেবীর উপাসনা * দিবানিশি ঈশ্বরে মনঃসংযোগ করিলে ভক্তিযোগে যে জগদীশ্বর স্বয়ং সা. কের নিকট প্রকাশিত হয়েন বেদশারে এই বাবমিথ্যা নহে কিন্তু গৌরাঙ্গে সময়াবধি যে নিয়মে উহ। প্রচলিত হইয়াছে তারা জগতের মহদনিষ্ট সাধিত হইতেছে।
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। প্রচলিতকারি পূর্ব-পুরুষদিগের পদে অধিষ্ঠিত হইয়া মুৰ্বতোভাবে সম রক্ষা করিতেছেন। অধুনা কেবল এতদ্দেশীয় অধিকাংশ লােক সংস্কৃত ভাষা জানে না বলিয়াই আপনাদিগের বিদ্যার সীমা নির্ণয় করে এমত ব্যক্তি ভারতে অত্যন্ত দুর্লভ হইয়াছে। যেহেতু আপনা- দিগের মধ্যে এতদ্রপ অধিকাংশ ব্যক্তি বিদ্যমান রহিয়াছেন; যাহারা কেবল মুগ্ধবোধ ব্যাকরণ ও স্মাৰ্ত্ত রঘুনন্দনের সংগৃহীত অষ্টাবিংশতি তত্ত্বের সুচীপত্র পাঠ করিয়াই জনসমাজে চতুষ্পঠী কৰত এক এক জন প্রকাণ্ড ভট্টাচাৰ্য্য হইয়া সন্ত্ৰমের সহিত বিদ্যাবৃত্তি (মড়ার বৃত্তি !!) গ্রহণ করিতেছেন। কেহ বা বহু কষ্টে ক খ অবধি বানান কলাপৰ্যন্ত শিখিয়া পিতৃ পিতামহের অথবা মাতুল মাতামহের ন্যায়রত্ন, বিদ্যারত্ন, শিরোমণি ও চুড়ামণিপ্রভৃতি উপাধি ধারণপূর্বক বিদ্যাখনি রক্ষা করিতেছেন। কেই বা সরস্বতীর সহিত দলাদলি থাকাতে স্বয়ং শ্রীপঞ্চমী হইয়া কেবল টিকী ফোটার দীর্ঘতা করিয়াই সশ্রম রক্ষা করিয়া থাকেন । হে বিদ্যাপকি ও ধর্মধ্বজ মহাশয়গণ ! আপনাদিগের মলিন- বর্ণ বিদ্যাপতাকা (টিকী) উৰ্দহইতে ক্রমশঃ পশ্চাদ্ভাগে অধোগমন করিতেছে, এবং কাল্পনিক ধৰ্ম্মের ধ্বজা (ফেটা) সম্মুখে অধোভাগ হইতে ক্রমশঃ উন্নত হইতেছে। ইহাতে বোধ হয় যে, কেবল আপ- নাদিগের ধ্বজ পতাকার এতদ্রুপ বিচিত্র ভাব অবলোকন করিয়াই বিদ্যাদেবী পশ্চাতে (ইয়োরোপাদি দেশে) পলায়ন করিয়াছেন। একেবারে মমতা পরিত্যাগ করিতে না পারিবীয় বৎসরান্তে ঐপ- মীতে মূৰ্ত্তিমান হইয়া কাল্পনিক ধর্মের ধ্বজা দর্শন কবিতে চতুষ্পা- চাতে আগমন করেন। সে সময়ে জাও আবার বিদ্যাদেবীকে দর্শন করিয়া ক্রোধে অরিক্তবর্ণা হয়। সে, যাহা হউক আপনারা যদি কাল্পনিক কর্মকাণ্ডের পরিবর্তে পৰূতত্ত্ব এবং ভূগােল, খগোল, জ্যোতি, পদার্থ, উদ্ভিজ্জ, পাশিত ক্ষেত্র পরিমাণ, পাটিগণিত, ও রসায়নদি সদ্বিদ্যাসমুহে বিভূষিত হইয়া ছাত্রগণকে অধ্যয়ন করান; তাহা হইলে কি শকুনির ন্যায় ব २७ পরমার্থ বিজ্ঞান ব্লাকব। মড়ার প্রতাশায় ঘড়া ও গড়ার উপর নির্ভর করিতে হয়? না- অর্জি আতপ তণ্ডুল শুষ্ক করিয়া কদন্ন ভক্ষণ করিতে হয় ? কত শত সদাশয় লোক যে আপনাদিগের পদানত হইয়া প্রচুর অর্থের সহিত নিয়ত উপাসনা করে তাহার ইয়ত্তা নাই। হে ভট্টাচাৰ্য মহাশয়গণ। যতকাল অাপনারা যৎসামান্য ধনলোতে সত্য ধর্মকে কাল্পনিক বস্ত্ৰ আবৃত করিয়া গোপন রাখিবেন, তত কাল সুবিজ্ঞ ভারত-সন্তানগণের সহিত আপনাদিগের সুমঙ্গল ছও নের সম্ভাবনা নাই। ভাল ! কাল্পনিক উপাসনাদির অধিকাংশ পুথীই-ত আপনাদিগের চতুষ্পাঠীতে বিদ্যমান রহিয়াছে ; এবং তাহা বুঝিতে বা ভাঙ্গিতে গড়িতে কেবল আপনারাই সক্ষম। অতএব সত্যের অনুগত হইয়া সভ্যসমাজে প্রকাশ্যৰূপে সত্যধৰ্ম প্রচলিত করণার্থ কাল্পনিক জাতি ধৰ্ম্মাদি এককালে রহিত করিয়া স্বদেশের মঙ্গলকারিৰূপে বিখ্যাত হওত পরাৎপর পরমেশ্বরের পরম প্রিয়পাত্র- ৰূপে পরিগণিত হউন। নচেৎ ঐহিক ও পারত্রিক পথে কন্টক রোপণ করিয়া যৎসামান্য ধন উপার্জন করিলে চরমে পরমেশ সন্নি ধানে সকলকেই গুৰুতর দণ্ডভোগ করিতে হইবেক। অার ইহকালে আমাদিগের গুরুতর দগুভোগেরই বা ত্রুটি কি আছে? বিবেচনা করিয়া দেখুন, আমারদিগের সাধারণ্যে ধন নাই, সত্য ধর্ম নাই, বিদ্যা নাই, মান্য নই, পরাক্রম নাই, একতা নাই, স্বাধীনতাও নাই। কেন মাই? তাহা কি আপনাদিগের জানা নাই? অবশ্যই আছে। পাছে পিতৃ পিতামহের প্রবঞ্চনা-জাল ছিন্ন করিলে ঝুঁচি-মণ্ডামীন এককালে পলায়ন করে; এই ভয়ে সর্বদা সশঙ্কিত হইয়া সৈই জাল জালের উপর আবার ভণ্ডামীৰূপ কত প্রকার কেপলা জাল চাপা দিয়া ক্রমশঃ তাহা সুদৃঢ় করিতেছেন। অর্থাৎ পূৰ্ব্বকালে যে সকল বার ব্রতের নাম কেহ কখন শ্রবণ করেন নাই; এমত কতকৰ ৰার ব্রত ঘটিত পুথীপত্ৰ আপনাদিগের চতুষ্পাঠীতে জন্মগ্রহণ করিতেছে। এর যে সমস্ত বাৰ ব্ৰত বহুদিবিধি প্রচলিত আছে তাহারও অঙ্গ প্রত্যঙ্গ রছনা করিয়া আপনারা বাহুল্যৰূপে প্রচলিত করিতেছেন ;
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। সকল বার ব্রত প্রবলৰূপে প্রচলিত করণের তাৎপৰ্য এই যে, পুরুষাপেক্ষা বোধহীন অবলীদিগের স্বর্গীয় সঙ্কল্প এক প্রকার কাটালি কলায় স্থাপন করিয়া আপনাদিগের সুবর্ণ সঙ্কল্প সৰ্ব্বতে- ভাবে সুসিদ্ধ হইতে পারিবেক। হায়! কি বিড়ম্বনা !! যদি এত দেশের অধিকাংশ লোক সংস্কৃত ভাষা জানিত, তাহা হইলে কি আপনাদিগের বিদ্যা বুদ্ধির পরিচয় প্রাপ্ত হইয়া এতদিন তাহারা তন্ত্র মন্ত্রের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রকাশ করত সুপথের পথিক হইতে পারিত না? হে পুরোহিত ভট্টাচাৰ্য মহাশয়গণ ! আপনার বেদমন্ত্রে দেবতা- দিগকে অনায়াসে প্রাণদান ও চক্ষুদান করিয়া থাকেন; কিন্তু আপনা- দিগের পুত্র কন্যা বা বন্ধু বান্ধবাদি প্রা-হীন বা নয়নবিহীন হইলেও আপনারা তাহাদিগকে যে চক্ষু কি প্রাণ দান করিতে পারেন না, ইহার কারণ কি? প্রবঞ্চনা-না আর কিছু ? না-মনুষ্যের প্রতি সে মন্ত্র সফল হয় না? ভাল, আমি আর একটি কথা জিজ্ঞাসা করি, আপনারা শ্রাদ্ধাদি ক্রিয়াকালীন যজমানকে সৰ্ব্বাগ্রে অপবিত্র পবিত্রোবা সর্বাবস্থাং গতেইপিবা। যঃ স্মরেৎ পুণ্ডরিকাক্ষং স বাহ্যাভ্যান্তরঃ শুচিঃ।” এই যে সংস্কৃত বাক্যটিী বলান, ইহার অর্থ কি? আমার বোধ হয় আপনারা ইহার অর্থ বুঝিতে পারেন না। কেননা, যিনি শ্রাদ্ধাদির মন্ত্র বিরচন করিয়াছিলেন, তিনি কেবল নারায়ণ নাম স্মরণদ্বারা যজমানের দেহ মনকে পবিত্র করণার্থ ঐ সংস্ক ত বাক্যে পুরােহিত ভট্টাচার্যের প্রতি আদেশ করিয়াছেন; তাহা না হইলে স্মৃধাতুতে বিধিলিঙ, বিভক্তি থাকিত না। কিন্তু আপনারা য়জমানকে নারায়ণ নাম না বলাইয়া তাৎপৰ্যানজি শুক পক্ষির হরেকৃষ্ণ বলার ন্যায় ঐ সংস্কৃত বাক্যটি বলান। ঐ বাক্যের *পঙ্গাদির ফললাভের নিমিত্ত, যে সঙ্কল্প করা হয় তাহার অধীর কল। ও পরই প্রশস্থ !! কিন্তু এতদ্দেশায় কোন লোককে যদি বলা যাৎ, যে মহাশয: একটা কলা আর দুইটা সুপারী ভক্ষণ করতে পারেন। তবে ধময়। ঘ ২ ২৮ পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। অর্থ এই যে * অপবিত্র বা পবিত্রই হউক, যে ব্যক্তি পুণ্ডরিকাক্ষকে নারায়ণকে) স্মরণ করেন তিনি সর্বাবস্থায় কায়মনোবাক্যে শুচি হরেন।” হে মহাশয়গণ! এক্ষণে বিবেচনা পূৰ্ব্বক ইহার তাৎপৰ্য শ্রবণ করুন। পুরােহিত সংস্ক ত বাক্যে কহিলেন, “ যে ব্যক্তি মারায়ণকে স্মরণ করে তার দেহ মনঃ পবিত্র হয়। এবং পুরোহিতের বাক্য- সুক্ৰমে ঐ সংস্কৃত বাক্যে যজমানেরও বলা হইল যে : যে ব্যক্তি নারায়ণকে স্মরণ করে তার দেহ মন পবিত্র হয়। কিন্তু পুরো- হিত ও যজমান এতদুভয়েরই নারায়ণকে স্মরণ করা হইল না; ইহা কি আশ্চর্য্য নহে? বিশেষত আরো আশ্চর্য এই যে, বহুকাল গত হইল যৎকালীন কর্মকাণ্ডাদি প্রথম প্রচলিত হয়, তৎকালেই ঐ সংস্কৃত বাক্যটি বিরচিত হইয়াছিল। কিন্তু তদবধি একালপর্যন্ত আপনাদিগের মধ্যে কোন ব্যক্তিই ঐ সংস্কৃত বাক্যের তাৎপর্য অব- ধারণ করিতে পারেন নাই। অথবা অনেক ভট্টাচাৰ্য বুঝিতে পারিয়াছিলেন, কিন্তু চক্ষুঃ থাকিতে না হাতড়াইলে স্বলস্থ প্রধা- নো বাহাদুর বলিয়া বিশ্বাস করিবেন না। এইজন্য প্রকাশ করেন অবােধভট্ট। মহাশয়। প্রথমে ঐ মন্ত্রটি যজমানকে বলাইয়া , ইহার পরেই নমাে বিষ্ণু নমো বিষ্ণুং বলিয়া নারায়ণ নাম বলাইতে হয়, ইহা কি আপনি কখন শ্রবণ করেন নাই ? সুবোধসিদ্ধান্ত। ওহে অবোধ ! নমো বিষ্ণু নমাে বিষ্ণু বলিয়া তিনবার নারায়ণ নাম বলাইতে হইলেই ঐ সংস্কৃত বাক্যটি যে অর যমানকে লাইতে হয় না, তাহা সৰ্ব্বতােভাবে প্রতিপন্ন হইতেছে। এবং তাহার নিমিত্ত্বই আমি তোমার সহিত এত বকাবকি করি- তেছি; বুঝেছত- এই প্রকার অনভিজ্ঞতাপ্রযুক্ত ব্রাহ্মণজাতির মধ্যে বহুকালাবধি গায়ত্রী জপের প্রথা প্রচলিত আছে। গায়ত্রী জপের ফল কি ? কিছুই নহে; যেহেতুক সেই সৰ্ব্বব্যাপী পরমাত্মাকে ধ্যান না করিয়া পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। ২৯ কেবল ৫৫ তঁহাকেই ধ্যান করি, ভঁহাকে ধ্যান করি”এইরূপ শত সহস্র বার মুখে গায়ত্ৰী উচ্চারণ করিলে কি পরমাত্মা সন্তুষ্ট হই- বেন? কখন না। বিবেচনা করিয়া দেখুন, যদি একজন ভৃত্য তাহার প্রভুর সেবা না করিয়া দিবানিশি এক স্থানে উপবেশনপূৰ্ব্বক “ তো- মার সেবা করি, তোমার সেবা করি, তোমার সেবা করি’কেবল মুখে এই বাক্য কহে, আর সেবা না করে ; তবে কি তাহার প্রভু সন্তুষ্ট হইয়া অন্যান্য ভূতাপেক্ষ। তাহাকে অধিক সেবাকারী বলিয়া উচ্চ- পদ প্রদান করিবেন? কখন না, বরং সেই প্রভু কহিবেন যে, এই ভূতটা পাগল হইয়াছে, ইহার যাহা ইচ্ছা হয় তাহা করুক; এ ব্যক্তি কোনক্রমে আমার সেবা করিবার পাত্র নহে। হে পুরােহিত ভট্টাচাৰ্য মহাশয়গণ! এই সকল কি আপনার- দিগের অনভিজ্ঞতার কাৰ্য্য নহে? যাহা হউক, আপনাদিগের শ্রীচ- রণে শত কোটি প্রণাম সহকারে এক্ষণে আমার নিবেদন এই যে, অাপনারা ভারত-সন্তানগণের প্রতি সদয় হওত মিথ্যা জাতি ও কর্ম কাণ্ডের সহিত কাল্পনিক দেব দেবীর উপাসন। আপাতত সভ্যসমাজে এককালে রহিত করিয়া পুরাকালের ন্যায় বেদবিহিত একমাত্র পর- মেশ্বরের উপাসনা করণের প্রথা প্রচলিত করুন, তাহাতে ভবিষ্যতে ভারতের সমুহ মঙ্গল হইতে পারিবেক। স্বস্তি ! স্বস্তি! স্বস্তি ৩ ! গ্রহাচাৰ্য্য বিষয়ক। সুবোধসিদ্ধান্ত। হে গ্ৰহাচাৰ্য মহাশয়গণ ! আপনারা স্বয়ং এক একটি গ্রহ হইয়া ভারতবাসিগণের মহা গলগ্রহ হইয়াছেন। কেনন] আপনারা বার তিথি নক্ষত্র যোগ করণৰূপ প্রহরণ প্রহারে শুভ যাত্রার গঙ্গাযাত্রা বিধান করাতে দেহযাত্রার অনেক ব্যাঘাত ঘটি- তেছে। আপনাদিগের বারোমেসে পঞ্জিকাখানি বারে বার উটে পালটে তৎ করিয়া অনুসন্ধান করিলেও বারোটি শুভযাত্রা পাওয়া পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। ভার। যদিও বৎসরের মধ্যে দুই চারটি শুভযাত্রা পঞ্জিকায় দেখি- তে পাওয়া যায়, তাহাতেও আবার পূর্বে যােগিনী, পশ্চিমে ডাকিনী উত্তরে শঙ্খিনী ও দক্ষিণে প্রেতিনী বসিয়া থাকে। সুতরাং এমত ভযাত্রায় যাত্রা করিলে অনেককে যমালয়ে যাত্রা করিতে হয়। অাশিনে ঝড় ও কার্তিকে ঝড়ই ইহার নিদর্শন প্রদর্শন করিতেছে। যে দিবম ঝড় নাই, বাদল নাই, কোন প্রকার বিড়ম্বনা নাই, সে দিবস যেন আপনাদিগের পঞ্জিকাতে শুভযাত্রাও নাই। আবার যে দিবস ঝড় বাদল অথবা কুয়াশায় চতুর্দিক অচ্ছিন্ন হইয়া থাকে, বাটীহইতে বহির্গত হইতে পারা যায় না, সেই দিবস শুভ যাত্রা। ইহার কারণ কি? কেন! অপিনারাত ত্রিকালজ্ঞ !!! গণনা পূৰ্ব্বক ভূত ভবিষ্যৎ মৰ্ত্তমান সকলি বলিতে পারেন, কোন বিষয় গণনা করিতে পরাঙ্মুখ হয়েন না; তবে কেন শুভযাত্রার দিবস এত বিড় স্বনা হয়? না, কোন দিবস ঝড় বাদল হয়, তাহা গণনা করিবার পুথী নাই। যাহা হউক, আমিত এ বিষয়ের কোন কৰ্ম্ম অবধারণ করিতে পারিতেছি না। তবে বোধ হয়, যে প্রকার কোন ব্যক্তির গাভী অপহৃত হইলে আপনারা তৎক্ষণাৎ গণতপুৰ্ব্বক “ তােমার সেই অপহৃত বস্তুটি চালের বাতায় গেজ। . আছে,, বলিয়া উত্তর প্রদান করেন, আপনাদিগের সকল প্রকার গণনই সেইৰূপ। আপনারা চন্দ্র সূর্যের জ্যোতি অৰণৰূপ (গ্ৰহৰূপ) ঢালদ্বার ভারতবাসি- গণের জ্ঞানচক্ষু অবরণ করিয়া যে কত প্রকার প্রবঞ্চনা প্রচলিত করিয়াছেন তাহার ইয়ত্তা নাই। অলোকেরা মনে করে, যে ব্যক্তি পৃথিবীস্থ মনুষ্য হইয়া বিমানবিহারি চন্দ্র সূর্যের ভাবি গ্রহণ গণনা করিতে পারেন, তিনি যে পৃথিবীর ভূত ভবিষ্যৎ বৰ্ত্তমান কালের সমুদায় বিষয় গণনা করিবেন, ইহাতে আশ্চর্য কি? হে ত্রিকালজ্ঞ জ্যোতির্বিদ ভট্টাচাৰ্য মহাশয়গণ ! চন্দ্র সূর্যের গ্রহণ গণনা করা আশ্চর্য ব্যাপার নহে, যেহেতুক তাহার পুথী আছে। অার যদি বা না থাকে ; দুই এক বৎসর প্রতি দিবস একটি পরি- মিত কাটিদ্বারা চন্দ্র সূর্যের কিরণে তাহার (কাটীটির) ছায়া পরিমাণ পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। ; ; পুৰ্ব্বক অয়নমণ্ডল এবং বিষুবরেখার সহিত তাহার উত্তর দক্ষিণের পাতস্থল (রাহু কেতু) অবগত হইতে পারিলেই গ্রহণ গণনার পথী প্রস্তুত করতে পারা যায় । পরে সন্ধান বনিয়া দিলে সেই পুথীদ্বার। যে ব্যক্তির নামতা (সংখ্যা নির্ণয় কর:) অভ্যস্ত অাছে সে ব্যক্তি গ্রহণ গণনা করিতে সক্ষম হয়। কিন্তু অপহৃত দ্রব্য কোথায় আছে, কে চুরি করিয়াছে, এবং কোন দিবস কে রাজা বা দরিদ্র অথবা নীরোগ হইবেক ইহা গণনা করিবার পুর্থী কোথায় ? জগদীশ্বর যদ্যপি মনু- ষ্যকে ঐ সমস্ত বিষয় নিশ্চয় করিবার ক্ষমতা প্রদান করিতেন তবে মনুষ্যের তুল্য হতভাগ্য জীব এই ভূমণ্ডলে আর কেহই থাকিত না। মহাত্মা সূর্যসিদ্ধান্ত ও অভিপ্রভৃতি সুবিজ্ঞ জ্যোতিৰ্ব্বিদগণ যৎকালে জনসমাজে প্রথমে জোতিগ্রন্থ প্রকাশ করেন, তৎকালে তাহাতে কোন প্রকার ভণ্ডামি ছিল না ; এতন্নিমিত্ত প্রাগুক্ত জ্যোতি- ব্বিদগণ সৰ্ব্ব সাধারণ জনগণের নিকট যথার্থ ভূদেব বলিয়া বিখ্যাত হইয়াছিলেন। কাল মাহাত্ম্য সেই সকল মহাত্মাগণের দেহযাত্ৰা সমাপ্ত হইলে পর, যে সকল ভট্টাচার্যের। প্রাগুক্ত গ্রন্থদ্বারা গ্রহণ গণনা করিতে পারিতেন, তাঁহারাই ঐ চন্দ্র সূর্যের গ্রহণকে ধ্বজা করিয়া কাল্পনিক দেব দেবীর উপাসনার সহিত কর্মকাণ্ড ও তাহার বিশেষ তিথি ৰার এবং শুভ যাত্রাদি ঘটিত এক একখানি পাজী পুথী রচনা করিয়া জনসমাজে তাহা প্রচলিত করিয়াছিলেন। তদবধি অদ্য পর্যন্ত কর্মকাণ্ডের সহিত ঐ পাজী পুথী ভারতবর্ষে সুন্দরৰূপে প্রচ- লিত আছে। কাল সহকারে খনা ও খাদা মহাশয়ের জ্যোতির্বিদ হইয়া টিকটিকী বা গিরগিটী লড়িলে, অথবা অারগুল উড়িলে মনু- য্যের কিরূপ শুভাশুভ হয়, তদ্বিষয়ক কতকগুলি বিচিত্র বচন রচন পূৰ্ব্বক পঞ্জিকার কায়াবৃদ্ধি করিয়াছিলেন । চন্দ্র সূর্যের গ্রহণ মাহাত্ম্যে এতদ্দেশীয় জনগণ খনার রচিত ঐ সকল গণার কথাকেও বেদবাক্য বলিয়া মান্য করেন!!! যে সকল বুদ্ধিমান লোকেরা এক আর মাত্র খনার বচন পাঠ করিয়াছেন তাহারা তাহার ভাব ও ফল- * অশুভ বার্ত। যে জন ভণ, তাহার মুখে যে জন শুনে ইত্যাদি।
পরমার্থ বিজ্ঞান ভুকর। ফল বিবেচনা করি। চমৎকৃত হইয়াছেন; সুতরাং তদ্বিষয় আর বা হুল্যৰূপে বর্ণনা করিবার প্রয়োজন নাই। এইরূপে যখন খনার বচন গণীর পুথীমধ্যে সন্নিবেশিত হইল, তখন কোন বিদ্যাটুনটুনী ভট্টাচাৰ্য মহাশয় স্বীয় তঁাতকাটা বুদ্ধির প্রভাবে ইচ্ছা মৃত্যু একবিংশতি হস্ত পরিমিতো মানবদেহঃ লক্ষবং পর- মায়ুঃ সুবর্ণ নির্শিতং ভোজনপাত্ৰং সত্যযুগত্য লক্ষণং ইত্যাদি প্রকার তো দ্বাপর ও কলিযুগেরও লক্ষণ রচনা করিয়া পঞ্জিকার অঙ্গপুষ্টি করিয়াছিলেন। তৎকালিক জ্যোতিৰ্ব্বিদগণ অনভিজ্ঞতা- প্রযুক্ত চতুযুগের লক্ষণ-প্রকাশক ঐ বাক্যগুলিকে পঞ্জিকার পুরো- ভাগে স্থান দান করিয়াছিলেন ; তদবধি অদ্যপর্যন্ত সম্ভ্রমের সহিত পঞ্জিকার প্রথমেই ঐ বাক্যগুলি অবস্থিতি করিয়া গণনা বিষয়ক সত্যতার সাক্ষ্য প্রদান করিতেছে। হে ত্রিকালজ্ঞ জ্যোতির্বিদ মহাশয়গণ ! সত্যাদি যুগের লক্ষণ প্রকাশক ঐ বাক্যগুলি যদি সত্য হয় ; তবে আপনারা বারদোষ, তিথিদোষ, গ্রহদোষ, স্বপ্নদোষ ও জলদোষ প্রভৃতি যাহা কিছু গণনা করেন সকলি সত্য। আর যদি মিথ্যা হয়, তবে অাপনাদিগের তিথি বার তারিখ, চন্দ্র সূর্যের গ্রহণ ও গ্রহগণের সঞ্চারগত ফলাফল ব্যতিরিক্ত সকল প্রকার গণনাই মিথ্যা। ভাল, এক্ষণে বুদ্ধি পরি চানপূর্বক ইহার সত্যাসত্য নির্ণয় করা যাউক। " হে জ্যোতিৰ্বিদ মহাশয়গণ ! সত্যযুগে সকল মনুষই যে একুশ হাত লম্বা ছিলেন, তাঁহারা কাহার হাতের একুশ হাত পরিমিত ? স্বহস্তের না-এক্ষণকার খোকার হাতের ? অবোধভট্ট। মহাশয়! তাহার না হয় এক্ষণকার খোকীর হাতের একুশ হাত পরিমিত দীর্ঘ ছিলেন । তাহাতেই বা হানি কি অাছে? ফুরোধসিদ্ধান্ত। ওহে অবােধ ! এক্ষণকীর খোকার, ৰা তোমার মত অন্য কোন বোকার হাতের পরিমাণের স্থিরতা নাই। কেননা আমরা প্রত্যক্ষ দেখিতেছি যে, ময়রাশীর খােকার হন্ত অপেক্ষা ধোবানীর খোকার হন্ত অনেক ছোট বা বড়, এবং তোমার হাপেক্ষ।
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। বোকারাসের হওঁ কিঞ্চিৎ ছোট বা বড়। সুতরাং খােকার অথবা মস্ত বোকার হন্তের পরিমাণ নিশ্চয় না থাকাতে তারা সত্যযুগের মনুষ্য যে কত বড় লম্বা ছিলেন তাহা মিশ্চয় করা যাইতে পায়ে না। অবোধ ভট। না-না, মহাশয়! আমি ভুলিয়াছিলাম, এক্ষণে স্মরণ করিয়া কহিতেছি শ্রবণ করুন। কলিকালে যে প্ৰকাব স্বহস্তের সর্পত্রিহস্ত পৰিমিত মানবদেহ বলিয়া পঞ্জিকাতে লিখিত আছে এবং তাহা সকলেরই প্রত্যক্ষীভূত কইতেছে ; তদ্রুপ সত্যযুগেও মনুষ্যগণ স্বীয় হস্তের একুশ হাত পরিমিত দীর্ঘ ছিলেন; ইহাতে কোন প্রকার গোলযোগ নাই। সুবোধসিদ্ধান্ত ! ওহে অবোধ ! যে কোন প্রকারে হউক, ঐ বাক্যটিকে বেদবাক্য করিবার নিমিত্ত তােমার অতিশয় আগ্রহ দেখি- তেছি। । ভাল, তুমি বিবেচনা করিয়া দেখ, এক্ষণকার একটি যুব মনুষ্যের দুইটি হস্তই যদি চারি অঙ্গুলি পরিমিত হয়, তবে তাহাকে যেমন অতিশয় কদাকার দেখায়, এবং তহির সেই ক্ষুদ্র হস্তদ্বারা যেৰূপ এই জগতের কোন প্রকার কার্যনির্বাহ হইতে পারে না ; তদ্রুপ সত্যযুগেয় মনুষ্য আপন হস্তের একবিংশতি ইস্ত পরিমিত দীর্ঘ হইলে তাহাকেও সেই প্রকার কদাকার দেখাইবে, এবং তাহার সেই চারি অঙ্গুলি পরিমিত ক্ষুদ্র হস্তদ্বারাও জগতের কোন প্রকার কার্য নির্বাহ হইতে পারিবে না। অর্থাৎ তোমার সঁতে সত্যযুগের মনুষ্য যদি একটি মধ্যম প্রকার তালবৃক্ষের সদৃশ উচ্চ হয়; তবে স্বহস্তের একুশ হাত পরিমিত দীর্ঘ হইলে তাহার হস্ত আমারদিগের হস্তাপেক্ষা অনেক ক্ষুদ্র হইবেক ; সুতরাং তাহাকে কদাকার ও কার্যক্ষম বলিয়া নিশ্চয় করা যাইতে পারে কি না তাহা তুমি অাপ নি বিবেচনা করিয়া দেখ। বিঁশেষতঃ সত্যাদি যুগের যে সকল রাজা ৰ। দেবগণের প্রতিমূৰ্ত্তি এক্ষণে এই ভারতবর্ষে দেখিতে পাওয়া যায়, * সাড়ে তিন কে একুশ ভাগ করিলে তাহার প্রত্যক অংশ চাষি অঙ্গলি পর্মিত। * ।
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। ; তাহারা সকলেই স্বস্ব হস্তের সার্ধত্রিহস্ত পরিমিত ; সুতরাং চারি যুগের মনুষ্যগণ সকলেই যে অাপনই হস্তের সার্পত্রিহস্ত পরিমিত, ইহা সর্বতোভাবে সুসিদ্ধ হইতেছে। তবে কেন আপনারা সত্য যুগে ২১ হাত, ত্রেতায় ১৪ হাত, দ্বাপরে ৭ হাত ও প্রত্যক্ষসিদ্ধ বলিয়া) কলিতে ৩ হাত ৰলিয়া পঞ্জিকাতে প্রকাশ করতঃ সৰ্ব্ব সাধা- ব্রণ লোকের ভ্রান্তি জন্মান। ইহা কি আপনাদিগের প্রবঞ্চনা ও অভিভন্নতার কাৰ্য্য নহে? অধিকন্তু যখন পুরাণাদি শাস্ত্রমধ্যে শত লোকের যুদ্ধ ও রােগাদি দ্বারা মৃত্যু বর্ণিত আছে, তখম সত্যযুগের সকল লােকেই যে ইচ্ছামৃত্যু ছিলেন, ইহা কি প্রকারে সঙ্গত হইতে পারে ? আর তৎকালে সকলেই যদি সুবর্ণপাত্রে ভােজন করিতে তবে সুবর্ণাহরণ ও পত্রিনির্মাণ কে করিত ? যেহেতু তাহা স্বল্পায়াস সাধ্য কাৰ্য্য নহে। অতএব হে গ্রহাচাৰ্য মহাশয়গণ। আপনা- দিগের শ্রীচরণে শত কোটি প্রণাম সহকারে এক্ষণে আমার নিবেদন এই যে, আপনারা ভদ্রসমাজে মিথ্যা জাতি ও কল্পিত দেব দেবীর উপাসনার সহিত জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমুদায় প্রবঞ্চনা এককালে পরিত্যাগপূর্বক সচ্চিদানন্দ স্বৰূপ পরমেশ্বরের উপাসনা প্রচলিত করণার্থ ভারতসন্তানগণের দুঃখৰূপ রাহুগ্রন্ত সৌভাগ্য-সূর্যের মুক্তি স্থির করুন, তারা ভারতের সমূহ মঙ্গল হইবার সম্ভাবনা আছে। শক্তি। স্বস্তি। স্বস্তি। ইতি আৰ্যদিগের মিথ্যাভিমান প্রকাশ নামক তৃতীয় অধ্যায়। চতুর্থ অধ্যায় কদাচায় বিক। (হে পাঠক মহাশয়গণ। যে সমস্ত কাচার প্রচলিত থাকাতে এত পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। দেশীয় জনগণ রােগ শোকাদি বিবিধ প্রকার কষ্ট ভােগ করিতেছেন, সুবোধসিদ্ধান্ত মহাশয় বক্তৃতাচ্ছলে তাহারই যে কিছু বর্ণনা করিয়া কহিয়াছিলেন সম্প্রতি আমি তাহা কহিতেছি শ্রবণ করুন। সুবোধসিদ্ধান্ত। হে বর্ণাশ্রণি মহাশয়গণ! কল্পিত জাতি ও দেব দেবীর উপাসনা সম্বন্ধে কতকগুলি যে কদাচার এতদ্দেশে প্রচলিত আছে, তারা এদেশীয় জনগণের সমূহ অমঙ্গল ঘটিতেছে। সেই সমস্ত কদাচারের পরিবর্ত্তে যাহাতে এতদ্দেশে সদাচার প্রচলিত হয়, দ্বিষয়ে সৰ্ব্ব, সাধারণ লোকের যত্ন করা বিধেয়। যদিও সমস্তু কদাচার গুলি বর্ণনা করিতে হইলে বৃহৎ একখানি গ্রন্থ হইয়া উঠে, তথা এস্থলে তাহার দুই একটি উল্লেখ না করাও যুক্তিযুক্ত রোধ হইতেছে না। হে প্রিয় মাশয়গণ! আপনারা পুণ্যোদ্দেশে পিতৃ মাতৃ শ্রাদ্ধে এবং প্রতিমাপূজা ও পুত্র কন্যার বিবাহদিতে যে বিপুল বিক্ত ব্যয়, করেন, তারা আপনাদিগের পুণ্যের পরিবর্তে বিবিধ প্রকার পাপ সঞ্চিত হয়। বিবেচনা করিয়া দেখুন, অদ্যশ্রাদ্ধে সভা করিয়া আপনারা যে ষােড়শী দানীয় দ্রব্য উৎসর্গ করেন, সেই সকল দ্রব্য কেবল নিমন্ত্রিত ব্রাহ্মণগণই প্রাপ্ত হইয়া থাকেন। অভিন্ন ক্ষুদ্র শূদ্রাদি জাতির কুশানিৰ্মিত মোটকটীও প্রাপ্ত হয়েন না। ফলতঃ দানোৎসর্গ কালে যখন পুরােহিত মহুশিয় বেদমন্ত্রীরা যজমানকে • এই সমস্ত দ্রব্য আমি ব্রাহ্মণকে দান করিতেছি” এই বাক্য বলা ইয়া থাকেন; তখন সেই সমস্ত দ্রব্যে ব্রাহ্মণভিন্ন অন্য কোন জাতির অধিকার নাই। কিন্তু এই স্থলে আমার জিজ্ঞাস্য এই যে, দান কাহাকে বলে, এবং তাহার পাত্রই বা কে? যদি,-যাহার যে দ্রব্যের অভাব থাকে তাহাকে সেই দ্রব্য দান করিলে দাতার পুণ্য হইতে পারে ইহা সত্য হয়; তবে তাহার বিপরীত পাত্ৰকে অপ্রয়োজনীয় দ্রব্য দান করিলে দাতার পুণ্যের পরিবর্তে পপ কেন না হইতে পারিবে ? যে ব্যক্তির গৃহে দুই শত থাকা আছে এবং তৈলামিকা গণ তদুপরি বিহার করিয়া সৰ্ব্বদা মলিন করিতেছে তাহাকে এক পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। ; মামি ফল দান করিলে দাতার পুণ্য হইতে পারে না; বরং যে ব্রাহ্মণের ভোজন করিবার নিমিত্ত্ব একখানি মেটে পাথরও নাই এমত অনেক ব্রাহ্ম। তথায় উপস্থিত থাকিলেও, তাহাদিগের মধ্যে কোন ব্যক্তিকে ভােজনপত্র দান না করাতে দাতার পাপ হইতে পারে কি না, তাহা আপনার বিবেচনা করিয়া দেখুন। এবঞ্চ শ্রদ্ধ বাটীতে যে সময়ে শতং উদরপূর্ণ ব্যক্তি শরবপূর্ণ মিষ্টান্ন প্রাপ্ত হয়েন, কালে যদি একজন বুভুতি দরিদ্র লােক কিঞ্চিৎ অহিরীয় ঐব্য পাইবার আশয়ে তথায় সমাগত হয়, তবে সেই হতভাগ্য নিম্ন দরিদ্রের ভাগ্যে অনেক স্থলেই অহারের পরিবর্তে বিলক্ষণ প্রহর লাভ হইয়া থাকে; ইহা অনেক স্থলে অনেকে প্রত্যক্ষ করিয়াছেন। ভাল? ইহাতে কি দাতার পাপ হইতে পারে না ? তাবোধভট। মহাশয়! সে ব্যক্তি অনাহত, বিশেষত নিকৃষ্ট ; এতন্নিমিত্ত নিমন্ত্রিত ব্যক্তিগণের সহিত তাহাকে কিছু ভোজ্য দ্রব্য দান করা অকৰ্তব্য, এবং নিমন্ত্রিত ব্যক্তিগণ স্বস্ব গৃহহইতে ভোজন করিয়া সমাগত হইলেও তৎকালে তাহাগিকে শরবপূর্ণ মিষ্টান্ন দেওয়া কৰ্তব্য ; নচেৎ লোকনিন্দা সহ্য করতে হয়। সুবােধসিদ্ধান্ত। ওহে অবোধ ! তবেই কৃত্রিম অপষশের নিমিত্ত নুভুতি মনুষ্যকে অনুদান না করতে, এবং কৃত্রিম যশোলাতের নিমিত্ত পরিতৃপ্ত ব্যক্তিগণকে প্রচুর মিষ্টান্ন দান করাতে দাতার উভ, যত গাধা হইতে পারে কি না, তাহ৷ তুমি সূক্ষমৰূপে বিবেচনা কারিয়া দেখ। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কহিয়াছিলেন “ হে অর্জুন! দরিদ্র দিগের উদর পূর্ণ কর, পরিতৃপ্তদিগকে ধন প্রদান করিও না'' এই কথা কি তুমি কখন শ্রবণ কর নাই? হে মহাশয়গণ ! শ্রাদ্ধাদি যজ্ঞ সময়ে আপনার স্বজনসমূহকে মধ্যাকালে ভোজন করিবার নিমন্ত্রণ করিয়া থাকেন, কিন্তু ভোজ্য ঐক্য প্রস্তুত করণানন্তর তাহাদিগকে সমারোহে ভোজনে উপবেশন করাইতে প্রায় অপরানু হয় ; ইহাতে নিয়ন্ত্রিত ব্যক্তিগণের মধ্যে ফ্লাহর উপযুক্ত কালে স্বগৃহে ভােজন করিয়াছে, কিম্বা যাহারা ;
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। ভাজন না করিয়া উপবাসী থাকে, তাহাদের সকলকেই তৎকালে কষ্টভোগ করিতে হয়। বিশেষতঃ তাহারা আপন গৃহে পীঠাদি কোন প্রকার আসনে উপবেশন করিয়া ভোজন করে; কিন্তু নিম- স্ত্ৰণ স্থানে আসনা তাবে তাহাদিগকে কোন জন্তুবিশেষের ন্যায় উপবেশন করিয়া ভোজন করিতে হয়। তৎকালে তাহাদের মধ্যে কোন ব্যক্তির একটি বিচিত্র ভাব অবলোকন করিলে হাস্যবেগ সরণ করতে পারা যায় না। অর্থাৎ অধিনাভাবে জন্তবিশেষের ন্যায় উপবেশনপুৰ্ব্বক কেহং আপন বামহল্প কেঁচড়ে পুরিয়া যেন কুড়াজালিতে মালা জপ করিতে থাকে। সে যাহা হউক, একে অসিন নাই, জলপাত্রের অনাটন, তাহাতে আবার একত্রে গুরুতর ভোজন করিতেং কালবিলম্বহেতু তৎকালে তাহাদের যেৰূপ কষ্টভোগ হয় ; ষণ্ডামার্ক গুরুমহাশয়ের পাঠশালার দুর্দান্ত ছাত্রগণ কেদেরায় বসিয়াও তত কষ্ট ভােগ করে না। এদিগে আবার অম্মদেশীয় অধিকাংশ জনগণ নিমন্ত্রণক্ষেত্রে ফজীর বৃক্ষের গােলাকার পত্র ফল প্রাপ্ত হইলে দধি ছক্কার সহিত যথেষ্ট ভােজন করিতে পারেন। পরিণামে সেই ফলাহারে যে বিসদৃশ ফল ফলিবে তৎকালে তাহার ফলাফলের বিবেচনা থাকে না। সুত রাং ভেজনান্তে অনেককেই গুরুতর উদর বহনপূৰ্ব্বক স্বস্ব গৃহে গমন করিয়া শয্যাগ্রহণ করিতে হয়। হয়তো কোন ব্যক্তিকে সেই শয্যা হইতে আর উথান করিতে হয় না। অবশিষ্ট ব্যক্তিগণও উদয়ের বেদনা ও অনিদ্ৰাদি বিবিধ প্রকার কষ্ট ভােগ করিয়া দুই চারি দিবসে সুস্থ হইয়া থাকে ; ইহা য় বঙ্গদেশের সকলেই অবগত আছেন। হয়! ঐ পাপপঙ্কে পতিত হইয়া কত শত লোক যে অকালে কলি কবলে নিপতিত হইতেছে, তাহার ইয়ত্তা নাই। হে মহাশয়গণ! এই স্থলে অামার জিজ্ঞাস্য এই যে, এতাধিক *বঙ্গদেশের কোন কোন পাঠশালাতে গুরুমহাশয় ছাত্রকে দণ্ড দনি। দুই খানি ইষ্ট খণ্ড তাহার জঞ্জার মধ্যে দিয়া উচ্চ করিয়, যে বইয়া রাখেন, তার নাম কেদে রায় বস! | পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। অর্থ ব্যয় করিয়া মূৰ লোককে কষ্ট প্রদান করেন কেন? ইহা কি সৌজন্যতা !! যদি ভোজনসিন, জলপতি ও উপযুক্তকালে ভোজ দ্রব্য প্রদান করিতে পারিবেন না, তবে এতাধিক স্বজনসমূহকে নিম- স্ত্ৰণ করিবার প্রয়োজন কি? অৰোধভট্ট। মহাশয়! এ প্রকার প্রথা যখন পরস্পর মুকুল লোকের বাটীতেই প্রচলিত আছে তখন ইহাতে দোষ নাই। সুবােধসিদ্ধান্ত। কেন দোষ নাই? অবশ্য দোষ আছে; কিন্তু কদাচারকে সদাচার বলিয়া বোধ থাকাতে আপনারা তাহাতে দোষ দেখিতে পান না। নচেৎ যে ব্যক্তি অর্থ ব্যয় করিয়া শত লােককে কষ্ট প্রদান করে, তাহাকে তাহার পাপফল ভোগ করিতে হয়ই হয়, ইহাতে কোন সন্দেহ নাই। বিশেষত ঐরূপ পাপে কত শত মধ্য- বিৎ গৃহস্থ দরিদ্রতানীরে নিমগ্ন হইয়া একেবারে উচ্ছিন্ন হইয়াছে এবং অদ্যাপি হইতেছে তাহারও ইয়ত্তা নাই। অর্থাৎ সমারোহ পিতৃ মাতৃ শ্রাদ্ধ বা দুর্গোৎসবাদি করিয়া ব্যয়িত টাকার সুদ গুণিতে গুণিতে পরিবারবর্গের গহনা ও বাগান বাটী প্রভৃতি বিক্রয় করিয়াও অনেকে এই সুখময় সংসারকে দুঃখময় বলিয়া জানিয়ছে এবং অদ্যাপি জানিতেছে। হে মহাশয়গণ ! আপনারা কল্পিত দেব দেবীর পূজাতেও পুণে। দেশে যে বিপুলার্থ ব্যয় করিয়া থাকেন, তাহাতেও অাপনাদিগের বিলক্ষণ পাপ সঞ্চিত হয়। বিবেচনা করিয়া দেখুন, আপনারা প্রতিমা দর্শনার্থ যে সমস্ত ব্যক্তিগণকে নিমন্ত্রণ করিয়া থাকেন ; তাহারা প্রত্যেকে এক টাকা, কেহ বা অটি অনা, চারি আনা,কোন ব্যক্তি দুই আনা দর্শনী দান করিয়া প্রতিমা দর্শন করেন। কর্মকর্তা বিচিত্র সমাদরপুৰ্ব্বক তাহাদিগের প্রত্যেককে যে জলপানীয় দ্রব্য প্রদান করেন, তাহার মূল্য স্থানবিশেষে দুই অানার অধিক নহে। * যে এৰিাসৰ ৰাটাতে প্রতি দিবস গমন করা যায় একটিও উচ্চ বাক্য শুনিতে পাওয়া যায় না, প্রতিমা দর্শনার্থ । মন কৰিলে তথয় তিন কারিন অাসতে অজ্ঞ হউক শুনতে পাওয়া যায় ।
পরমার্থ বিজ্ঞান কর। ইহাতে যে ব্যক্তি এক টাকা দর্শনীয় দিয়াছেন, তিনি দুই অনার মিষ্টান্ন ভক্ষণ করিলে, তঁাহার অবশিষ্ট চৌদ্দ আনা কর্মকর্তাকে দান করা হইল। আর যে ব্যক্তি চারি আনা দর্শনীয় দিয়াছেন, তিনি না হয় ছোট পুত্র কন্যার সহিত ছয় অনার মিষ্টান্ন প্রাপ্ত হইলেন। এই প্রকারে কর্মকর্তার কোন ব্যক্তির নিকট অধিক দান গ্রহণ, এবং কোন ব্যক্তিকে বা কিঞ্চিৎ দান করাও হয়। কিন্তু অবশিষ্ট মিষ্টান্নতি যিনি প্রতিমাকে প্রাণদান ও চক্ষুদান করিয়াছেন তিনি এবং তঁাহার জাতীয়গণ প্রাপ্ত হয়েন। ইহার মধ্যে অশ্চর্য এই যে, ব্রাহ্মণ- দিগকে কিঞ্চিত্র দর্শনী প্রদান করিতে হয় না, ভঁহারা স্বাধীন ও দেব দেবীগণ তাহাদিগের অধীন ; এ প্রকার সংস্কৃত বচনও পাওয়া যায়। যথা- ৫ দেবাধীন জগৎ সৰ্ব্বং মন্ত্রাধীনঞ্চ দৈবতং। তন্মত্ৰো ব্ৰাহ্মণাধীনং ব্রাহ্মণো মম দৈবতং।” তৰে'যে ব্রাহ্মণেরা দেব দেবীর প্রতিমাকে প্রণাম করেন; সেটা কেবল জীবহত্যার আশঙ্কায় বকের ধীরেই পাদ নিক্ষেপ সদৃশ। শনৈঃ শনৈঃ ক্ষিপেৎ পাদৌ প্রাণীনাধশঙ্কয়া। পশু লক্ষণ সম্পায়াং ৰকঃ পরম ধাৰ্মিকঃ সে যাহা হউক, আমরা প্রত্যক্ষ দেখিয়াছি পূজাকালীন গ্রাম ব্রাহ্মণগণের মধ্যে কোন ব্যক্তির নানা স্থানহইতে এতাধিক মিষ্টা ক্লানির সমাগম হয় যে, প্রায় তাহা রাখিবার উপযুক্ত স্থান ও ভোজন করিবার উপযুক্ত লোকও থাকে না ; পাঁচ সাত দিন পরে সেই সমস্ত লুচি বিকৃত হইয়া গেলে তারা উনান ধরণ হয়!! সুতরাং এতদ্রুপ পরিতৃপ্ত ব্রাহ্মণগণকে প্রচুর মতিচুরাদি দান করতে দাতার কোনমতে কিঞ্চিত্র পুণ্য হইবার সম্ভাবনা নাই। অবোধভট্ট। মহাশয়। আপনি ব্রাহ্মণগণের মর্যাদা কিঞ্চিত্র অবগত নহেন, তজ্জন্য হাদিগের প্রতি যে প্রকাশ করিতেছেন। ফলত এতজার। আপনার বিলক্ষণ পাপ হইবার সম্ভাবনা আছে। সুৰোধসিদ্ধান্ত। ওহে অবোধ! ব্রাহ্মণ কে ? জাতি, কি য- ;
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। * সুত্র, মা আর কিছু? যদি বল “ জাতিই ব্রাহ্ম” তবে তাহার উত্তর এই যে, ব্রাহ্মণ যদি জাতি হয়, তবে সকল ব্রাহ্মণেরই জাতি নষ্ট হইয়াছে। বিবেচনা করিয়া দেখ, শাস্ত্রে যে সকল কার্য করিলে ব্রাহ্মণের জাতি নাশ হয় বলিয়া লিখিত আছে, এক্ষণকার অনেক ব্রাহ্মণ তহি। অমনি বদনে সুসম্পন্ন করিতেছেন। যথা মদিরা ও বিনামা বিক্রয়, চ্ছে সংসর্গে দীপান্তরে গমন, মেচ্ছের দাসত্ব করণ এবং মাংস ও কন্যা বিক্রয়াদি বিবিধ প্রকার অসৎ কাৰ্য্য করিতেছেন, সুতরাং শাস্ত্রমতে তাহাদিগের জাতি নষ্ট হইয়াছে। এবঞ্চ সেই সমন্তু ব্রাহ্মণগণের সহিত যাহাদিগের ভোজ্যতা আছে শাস্ত্রমতে তাহাদিগেরও জাতি নষ্ট হইয়াছে। কিন্তু অদ্যাপি তাহাদিগের মধ্যে কোন ব্যক্তি যে শূদ্র বলিয়া পরিগণিত হইয়াছেন ইহা আমরা কস্মিনকালেও দেখিতে পাই নাই। এতবতা বিবেচনা হইতেছে যে ব্রাহ্মণত্ব যে পদার্থ তাক। মনুষ্যকল্পিত কোন প্রকার জাতি নহে। আর যজ্ঞসূত্রকে ব্রাহ্মণত্ব বলিয়া প্রতিপন্ন করিতে পারিবেন না ; যেহেতু শত সহস্র ক্ষত্রিয় বৈশ্যের যজ্ঞসূত্ৰ থাকিলেও তঁাহার ব্রাহ্মণ ৰলিয়া কস্মিনকালেও মান্য প্রাপ্ত হয়েন নাই। সুতরাং যদি জাতি ও যজ্ঞসূত্র এতদুভয় পদার্থই ব্রাহ্মণত্বৰূপে সুসিদ্ধ না হইল, তবে শীসম্মত জ্ঞানপদার্থকেই ব্রাহ্মণত্ব বলিয়া স্বীকার করুন। পুরা- ফলে যে সমস্ত লােক তপস্যা বা বিদ্যাভ্যাস দ্বারা সত্বগুণসম্পন্ন বা জ্ঞানী হইতেন, ভঁহারাই ব্রাহ্মণত্ব প্রাপ্ত হইতেন, শাস্ত্রাদিতে ইহার সুরিং প্রমাণ দেদীপ্যমান রহিয়াছে। ব্যাসদেবপ্রভৃতি মুনিগণই ইহার দৃষ্টান্ত স্থল। অধুনা কেবল প্রতারকের প্রতারণা প্রবলৰূপে প্রচলিত থাকাতেই কোন ক্ষত্রিয় বৈশ্য শূদ্র জ্ঞানী (ব্রাহ্মণ) হইলেও কল্পিত ব্রাহ্মণজাতি হইতে পারেন না। যদি বল ব্রাহ্মণেরা কোন ক্রমে প্রতারক নহেন। তবে তাহার উত্তর এই যে, শূদ্রের প্রতিমা পূজাত যত টাকা ব্যয় করেন প্রায় তাহার সমুদায় দ্রব্য ব্রাহ্মণগণ ভোগ, ফরিয়া থাকেন। খুদ্রের স্বজীয় ও অপরাপর বন্ধুগণ কিছুই প্তি হয় না। ব্রাহ্মণদিগের প্রতাগণ জিকির প্রথমাধ্যায়ে লিখিত য পরমার্থবিজ্ঞান রত্নাকর। ঈহে যে, “ ব্রাহ্মণ ভিন্ন যে কেহ পূজাবাটীতে নিমন্ত্রণ রক্ষার্থে প্রবি হইবে তাহাকে চাৰি অনা আট আনা কিম্বা এক টাকা জরিমাণ দিতে হইবে, ইহা কি প্রতারণা নহে? যাহা হউক, যহুয়াশা সাত ব্রাহ্মণদের বাচ্য হয়েন, তাহাদিগের চরণে আমি শত প্রণাম করি। সেই সমস্ত ভুদেবগণের আশীৰ্ব্বাদে প্রবঞ্চকদিগকে প্রতারক কহিলে তারা আমার কোনক্রমে পাপ হইতে পারিখে না। এক্ষণে ব্রাহ্মণগণের পূর্বপুরুষদিগের ঐ,গুৰুতর প্রতারণার ফুল প্রকাশ করিয়া কহিতেছি আপনারা মনােযােগপূর্বক শ্রবণ করুন। পুরাকালে যখন এই ভারতবর্ষীয় আর্যগণ বল বীর্য পরাক্রম ও ধর্ম বিদ্যাদি বিবিধ প্রকার অমুল্য লঙ্কায় বিভূষিত ছিলেন; হংকালে পাশ্চাত্য যবন ভুপতির লােভপ্রযুক্ত এই দেশ জয় করি- ৰাৰ নিমিত্ত পুনঃ২ চেষ্টা করিয়াও কৃতকার্য হইতে পারেন নাই। বরং এজেশে যে সমস্ত দোর্দণ্ড প্রতাপশীল রাজা ছিলেন, স্থা: দিগের ঐক্য। অস্ত্রে ছিন্ন ভিন্ন হইয়া ঐ সমস্ত যবন ভূপতিৱা ক্ষিপ দিয়ে পলায়ন করিয়াছিল। অবশেষে কোন সুজুর যখন ভূপতি মন্ত্রণাপূর্বক ভারতের ঐক্যতা নিশিাখ এলেশীয় ক্ষঠাৱিদিগকে প্রচুয়ার্থ প্রদান করিয়া ঘশীভূত করিলেন। তৎকালক গুঞ্চাক্ষণ রো অর্থলোতে যন ভুপতির বশ হইয়া ভারতের এ বিনাশ ও তৎলই জানাদিগের উপজীবিকা ৰিখানা পূর্বকালে, পট, নারিকেল, (ঝ অন্য কোন ফল) দুপণ ও প্রদীপ, এই কোচ প্রায় সব তান প্রদানের আলোয় যন্ত্রস্বৰূপে + ণিজি ছি'; উহায়া অথম চালি কৰা ফুল ও ধুপধুনার শক্তি ঔপ প্রকায় দৰোর #ধ্যে পটকে পরমার্থ শাখলর বিশেষ কা একা শক্ত প্রতিমূর্তিকে স্মৃত্তিকা কাষ্ঠ'পাষাণদিবারা নির্মাণ করিয়া #সিলঙ্কে' স্থাপনপূর্বক পুজা করার প্রথা প্রচলিত করিলেন। ফিগের এক গুরুতর তারুণ ফল এক্ষণে খীস্থ সমস্তীর **পযুক্ত সময়ে আমি 'ইকার পাতা প্রমাণ করো। " পরমার্থ বিজ্ঞান বাক'। শোক বিলক্ষণৰূপে ভোগ করিতেছেন। অর্থাৎ ব্রাহ্মণেরা যদি অলোকদিগের চিত্তশুদ্ধির নিমিও পৌত্তলিক মত প্রচার না করি- য় অন্য কোন উপায়বান করিতেন , তবে অাৰ্যদিগের দ্বারা এত দিম পৃথিবীর সমস্ত দেশে যে সত্যধৰ্ম্ম প্রকাশিত হইত ইহা কোন সন্দেহ নাই। সে বহিহউক, তৎকালে যে সকল মহাত্মারা এতদ্রুপে পুতলিকাপুজা করণের কারণ জিজ্ঞাসু হইয়াছিলেন, তাঁহাদিগের প্রবোধাৰ্থ প্রাগুক্ত ব্ৰহ্মণগণ এতদ্রপ সংস্কৃত বাক্য রচনা করিয়া শাস্ত্রমধ্যে নিহিত করেন যে, “ যে সকল মুঢ়লোকেরা তত্ত্বজ্ঞানের অধিকারী তাহারা নাস্তিকতাৰে সৰ্ব্ব সাধারণের যেন অনিষ্টকারী না হয়, তজ্জন্য বল- কের পুত্তলিকা খেলার ন্যায় কোন এক বিষয়ে তাহাদিগকে নিবিষ্ট রাঁখা কর্তব্য।” এইজন্যে শাস্ত্রমধ্যে ৫ কাষ্ঠ লােষুে মূখণাৎ যুক্তস্যাত্মনি দেবতা” এতদ্রুপ বাক্যেরও অসদ্ভাব নাই। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এই যে, কত শত বৎসর গত হইল কেবল মুখলোকের নিমিত্ত যে কাল্পনিক বিষয় প্রচলিত হইয়াছিল, কাল সহকারে কি মূর্থ কি জ্ঞানী সকলেরই সেই কল্পিত দেব দেবী আরাধ্য হইয়া উঠিলেন !! যিনি জ্ঞানবান বা বিদ্বান হইয়াছেন, কল্পিত দেব দেবীর পূজাপ্রভূতি কিছুই মানেন না; তিনিও কদাচার ও কৃত্রিম আমাদের বশীভূত হইয়া স্বীয় বাটীতে প্রতিমা পুজাদি করেন, এবং ইংখাদিগকে নিমন্ত্রণ করিয়া ফলনা। ও ফলমা !!!! প্রভৃতি ভােজ্য পেয় ঐব্য প্রদানপূর্বক কাল্পনিক হিন্দুধর্মের একোর্দিষ্ট শ্রাদ্ধ ফরিয়া থাকেন। যৰনী নর্তকীগণ সেই শ্রদ্ধসঙাতে বিচিত্র নর্তন কীৰ্ত্তন করিয়া সভ্যসমূহের মনােরঞ্জন করত অবশেষে দধি ঢালিয়া শান্ধৰাটী পবিত্র ফরম। পুরােহিত ভট্টাচাৰ্য মহাশয়েরা যে ইহা অনবগত আছেন মত নহে- পাছে সুচি মার ভাণ্ডারে প্রিলিৰূপ নেংটে ইন্দুরের উপ হয়, এই ভয়ে চোরের মায়ের কায় ম্যাঁয় প্রকাশ করিয়া কহিতে পারেন না। মাকছন, অায়ে। কতিপয় বৎসর এই প্রকারে পৌত্তলিক ধর্মের শ্রাদ্ধের সমারােহ পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। বৃদ্ধি থাক্ষিলেই ইংরাজদিগের বিদ্যাকৌশলে সর্ব সাধারণ লোকে জানিতে পারিবেন যে হিন্দুধর্মের (পৌত্তলিক ধর্মের ). পরলোক প্রাপ্তি হইয়াছে। অথবা হিন্দুধৰ্ম্ম নামক কোন পদার্থই ছিল না, ব কেবল প্রতারকেরা প্রবঞ্চনাপূর্ষক পুণ্য সঙ্কল্পের কলা দেখা চালি কলা ও সুচি মণ্ড। খাইবার উপায় স্থির করিয়াছেন। অবোধভট। মহাশয়! আমাদিগ্নের বোধ হইতেছে আপনি খীষ্টা- মান হইয়াছেন, নচেৎ দেব দেবীর পূজার প্রতি এত বিদ্বেষ প্রকাশ করিতেছেন কেন ? তাহা প্রকাশ করিয়া বলুন। সুবোধসিদ্ধান্ত। ওহে অবোধ ! আমি যে নিমিত্ত দেব দেবীর পূজার নিন্দা করিতেছি তাহা স্পষ্ট করিয়া কহি, তুমি মনোযোগ পূর্বক শ্রবণ কর। ঋক্ যজু সাম অথৰ্ব্ব এই চারি বেদ শাস্ত্রে এবং পঞ্চম বেদস্বৰূপ মহাভারত গ্রন্থে কালী দুর্গা জগদ্ধাত্রী এবং ষষ্ঠী মহাকাল পঞ্চানন প্রভৃতি কোন প্রকার দেব দেবীর প্রতিমা নির্মাণ করিয়া পূজা করিবার বিধান বর্ণিত নাই; সুতরাং প্রতিমা পূজার পদ্ধতি যে বনসাম্রাজ্যের কিঞ্চিৎ প্রাক্কীলাবধি এতদ্দেশে প্রচলিত হইয়াছে তাহার কোন সন্দেহ নাই। বিবেচনা করিয়া দেখুন, প্রাচীন শাস্ত্রাদিতে মনুষ্যের জাবালি গৌতম পুরোরব। ও কপিলার্দি : যে সমস্ত নাম দৃষ্ট হয়, তাহা দেব দেবী ঘটিত অাধুনিক ব্যক্তিদিগের নামের সদৃশ নহে। অতএব দেব দেবীর পূজা যে অতি অল্পকাল প্রচলিত হইয়াছে প্রাচীন শসমুহ তাহা সুন্দররূপে প্রতিপন্নু করিয়া দিতেছে। হে মহাশয়গণ। এক্ষণে কল্পিত জাতি প্রচলিত থাকতে আমরা যে প্রকার মানসিক উন্নতি সহকারে দিনই অতিশয় দুৰ্বল ও ভীরু স্বভাব হইতেছি; কল্পিত দেব দেবীর উপাসনা প্রচলিত থাকাতেও = - *সম্প্রতি কাশীতে একটি বিদ্বান অাসিয়া প্রকাশ করিয়াছেন যে বেদের মধ্যে কোন স্থানে পৌত্তলিকতা নাই। । অনিনিক উন্নতির প্রধান কারণ মৎস্য ভক্ষণ ; যেহেতু ভগবান মৎসীক্ষপ ধারণ করিয়া নে (জ্ঞান) উদ্ধার করিয়াছিলেন ইহ শাস্ত্রে তিখিত কাছে।
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। । কালচারের উন্নতি সহকারে ধর্মবিষয়ে আমাদিগের সেই প্রকার ‘দৌর্বল্যতার বৃন্ধি হইতেছে। 'বিৰেচনা করিয়া দেখুন, চীনেশ চীনের রাজা, ইজাও ইংরাজদিগের রাজ্য, ফানস ফরাশীলিগের রাজ্য, কবুল যদিগের, রাজ, এই প্রকার সকল দেশীয়েরাই স্বীয় শের 'জাধি:ভোগ করিতেছেন: কিন্তু বাঙ্গালির বঙ্গদেশের # মহেন। কেন রাজা নছেন ? যেহেতু ইহা বিপথগামী হইয়া পরম পিতা পরমেশ্বরের কুপুত্ৰৰূপে গণ্য হইয়াছেন। যত দিবস ইহার কল্পিত জাতি ও প্রতিমা পূজা পরিত্যাগপূর্বক ভদ্রসমাজে প্ৰকাৰূপে একমাত্র সর্বব্যাপী নিরাকার পরমেশ্বরের উপাসনা করণের পদ্ধতি প্রচলিত করিবেন, তত দিবস ইহাদিগকে ভিন্ন দেশীয়দিগের অধীনতা শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকিয়া বিবিধ প্রকার কষ্ট জাগ করিতে হইবে। হে মহাশয়গণ! যখন চক্ষুদ্বারা জগদীশ্বরের প্রতিমূর্তিকে (সূৰ্য্য নারায়ণকে প্রত্যক্ষ করিয়াও আমরা পুত্তলিকা পূজা করিতেছি, তখন আমারদিগের প্রতি জগদীশ্বরের এতদ্রুপ গুরুতর দ ও বিধান অসঙ্গত নহে। ভাল, আমি একটি কথা জিজ্ঞাসা করি, যখন বেদাদি শাস্ত্রসম্মত উপাসালাদ্বারা জগদীশ্বরকে (সূৰ্য্যমগুলতি চৈতন্য প্রতিবিম্বকে অপরােক্ষপে জ্ঞাত হওয়া যায়, তখন দেব দেশীয় প্রতিমা গড়িয়া তাঁহার পূজা করিবার প্রয়োজন কি? ঔৰাৰ এতিম (সুৰ্য্যমগুল) কি জগৎকে প্রকাশ করিয়া অাদিবারা প্রতি- পালন করিতেছেন না? যদি বলেন শাকারেরা জড় প্রকৃতি অঞ্জলােকদিশ্বের নিষিক্ত এতিমা পূজার রিপি প্রচলিত করিলে; তবে তাহার উত্তয় এই বে, কোন বিপক্ষ রাজার মন্ত্রণানুসারে ব্রাহ্মণেরা অপমাদিগের প্রভুত্ব ও লাভের নিমিত্ত প্রবঞ্চনাপূৰ্ব্বক অলোকের নাম দিয়া যে উহা প্রচলিত করিয়াছিলেন এ কথা মিথ্যা নহে, কিন্তু এক্ষণে এই দেশের লােকেরা তার সে প্রকার আজ নহেন। অনেকের নচক্ষু উন্মীলিত হইয়াছে, অনেকে বিন ও সত্য হইয়াছে, পরমার্থ বিমি রত্নাকর। ৪৫ নেকে কল্পিত ধম্মে মন্তুকে পদার্পণ করিয়া ৰিলাহ গম্বন কতে ছেন, অনেকে অনেক প্রকার কুসংস্কার পরিত্যাগ করিয়া রায় গ্রহে উচ্চাসনে উপবেশনপূর্বক দেশের গৌরব বৃদ্ধি করিতেন, তএব এই সময়ে সকলে সমবেত হইয়া ভদ্রসমাজের সংস্কার সংস- ধম করুন; অর্থাৎ যাঁহারা অজ্ঞ নহেন ভঁহাদিগের নিমিত্ব প্রকাশ্য ৰূপে ৰেদৰিহিত জ্ঞানকাণ্ডের উপাসনা প্রচলিত করুন দ্বারা ভার- তের সমূহ মঙ্গল হইবার সম্ভাবনা আছে। জৰেধভট। মহাশয়! কেহ পিতৃ মাতৃ শ্রাঞ্জ ও জ্বালী দুর্গ জগ- জাৱীভূতি প্রতিমা পূজা না করেন, এবং সমুদায় প্রসিদ্ধ কালয় গুলি বিগ্রহের সহিত এককালে ভগ্ন হইয়া যায়; ইহাই আপনার ইচ্ছ। অতএব কৈশব সম্প্রদায় ও ষ্টীয়ানদিগের মতের সহিত আপনার মতের বিভিন্নতা কি আছে তাহা প্রকাশ করিয়া কুন। সুৰোধসিদ্ধান্ত। ওহে অবোধ ! আমি পিতৃ মাতৃ ভক্তি প্রদ- শনার্থ দানাদির সহিত শ্রাঙ্কক্রিয়া করিতে নিষেধ করিতেছি না ; কিন্তু ধ্যে যে সকল কাহার প্রচলিত অাছে তাহা পরিত্যাগ করিতে কহিতেছি। অার সুর্যমণ্ডল বিদ্যমান থাকিতে কালী কম- দ্ধাত্রীভূতির প্রতিমা পূজা করা নিতান্ত মুখের কাৰ্য্য; সুতরাং সভ্যসমাজে তাহা এককালে পরিত্যাগ করিতে উপদেশ প্রদান করি- তেছি। এবং তত্ত্বজ্ঞান লাভের (সানের) ভাব প্রকাশক শ্ৰীৰিগ্ৰহ সমূহ ভগ্ন করিতে কহিতেছি না, কিন্তু ভদ্রসমাজে ঈশ্বর বোধে চালি কলায়। হাদিগের পূজা করিতে নিষেধ করিতেছি। অর্থাৎ ভারতবর্ষের প্রাচীন সভ্যাবস্থায় শাস্ত্রশিদ্ধ যে সমস্ত বিষয় প্রচলিত ছিল, সভ্যসমাজে তাহা পুনৰ্ব্বার প্রকাশ্যৰূপে প্রচলিত করিতে এবং যে সমস্ত বিষয় সাধারণের কামনায় মুত্তন প্রচলিত হইয়া- ছি তাহা রহিত করিতে কহিতেছি। অতএব কৈশৰ সম্প্রদায় ীষ্টানদিগের মতের সহিত আমার মতের সম্পূর্ণ বিভিন্নতা শাখের না। জগদীর যে সূর্যমগুলে সমরূপে বরামান অাজন ইতাই অতিপক্ষ করু: এই ঘরে উঙ্কেশ্য, পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। রহিয়াছে। কৈশব সম্প্রদায় ইংরাজদিগের আচার ব্যবহার ও গীর্জা ঘরে ঈশ্বরেপাসনাপ্রভৃতি সমুদীয় রীতি নীতি উত্তম বিবেচনায় দৰলম্বন দেশী সাহেঁৰ সাজিয়াছেন, কিন্তু আমি বেদাদি শাস্ত্র মস্তকে ধারণপূর্বক উৰ্দ্ধবাহু হইয়া তারস্বরে কহিতেছি যে, যারা দলবদ্ধ হইয়া কেৰল সমাজগৃহে ঈশ্বরোপাসনা করিবেন তঁাহার। কস্মিনকাজেও সচ্চিদানন্দস্বৰূপ পরমাত্মাকে জ্ঞাত হইতে সক্ষম, হইবেন না। হে মহাশয়গণ ! অাপনারা যদি অশীতি বর্ষ পূৰ্ব্বে বিজ্ঞসমাজে প্রকাশ্যৰূপে সত্যধর্মোপাসনার প্রথা প্রচলিত করিতেন তাহা হইলে কোন এক ভদ্র ব্যক্তিও খীষ্টীয়ান বা আধুনিক ব্রাহ্ম' বলিয়া পরিচিত হইছেন না। এবঞ্চ মহাত্মা রামমোহন রায় যৎকালে কলিকাতায় ব্ৰহ্মসভা স্থাপন করিয়া পৌত্তলিক মতের বিরুদ্ধে সত্যধর্মের মর্ম প্রকাশক গ্রন্থাদি বিরচন করেন, তৎকালে দেব দেবীর প্রতিমাগুলি যে কি পদার্থ ও সত্যধৰ্ম্মের সহিত তাহার যে সম্বন্ধ কি আছে, এৰুং কোন প্রয়োজনের উদ্দেশে শাস্ত্রকারের যে উহার পূজা করার প্রথা প্রচলিত করিয়াছিলেন, তাহা তিনি জ্ঞাত ছিলেন না। তিনি যদি প্রতিমাগুলির যথার্থ তাৎপৰ্য ব্যক্ত করিয়া সৰ্ব্ব সাধারণ লোকের নিকট সত্যধর্মের মর্ম প্রকাশ করিতেন, তাহা হইলে এত দিবস কেহ আর কণ্ঠ। তুলিয়া ঘণ্টা বাজাইত না, এবং তিনিও বর্ণাশ্রমিদিগের নিকট কখন নাস্তিক বলিয়া পরিচিত হইতেন না। এবং তঁাহার স্থাপিত সভার শাখা অবলম্বন করিয়া যাহারা সভ্য ও বিজ্ঞাভিমানি- ভায় ধরাকে শরা জ্ঞান করিতেছেন তঁাহারাও সাধারণের নিকট অনা- দৃত হইতেন না। হে মহাশয়গণ। শাস্ত্রকারের। অৰ্যদিগের সুখ স্বচ্ছন্দতার নিমিত্ত যে সমস্ত অাচার ব্যবহার প্রচলিত ফরিয়া গিয়াছেন তাহার মর্মা ধাবন করিয়া যদি সংসারযাত্ৰা নিৰ্বাহ করা যায়, তবে মুখের সীমা থাকে না। কিন্তু অনভিজ্ঞতপ্রিযুক্ত অর্যের। সুপথ ভুলিয়া কুপথে গমনপূর্বক বিবিধ প্রকার কষ্ট ভোগ করিতেছেন; সুতরাৎ মুনি ঋষি পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। ৪৭ প্রণীত সেই সমস্ত অাচার ব্যবহার এক্ষণে থাকা না থাকা দুই তুল্য হইয়া উঠিয়াছে। আমি আপনাদিগের বিজ্ঞানীসদ্ধির নিমিত্ত এ স্কুলে তাহার দুই চারটা বিষয় প্রকাশ করিয়া কহিতেছি এৰণ ; বিবাহের সম্বন্ধ। বিবাহের পূৰ্বে বর অথবা কন্যা দর্শনার্থ (উপমুক্তানুপযুক্ততা নিশ্চয় করণার্থ) শাস্ত্রকারের। দুই একটী জ্ঞানী লােককে সমভিব্যাহারে লইয়া যাইবার যে বিধি প্রচলিত করিয়াছিলেন, তদনুসারে সকলেই দুই একটা ব্রাহ্মণ লইয়া গমন করেন। কিন্তু সেই ব্রাহ্মণেরা বিজ কি অবিজ্ঞ তাহা বিবেচনা করেন না; ব্রাহ্মণ হইলেই হইল। সুতরাং সেই নিরক্ষর ব্রাহ্মণেরা বর কন্যার ভাবি সুখের প্রতি লক্ষ্য করিয়া একটী কথাও উথাপন করতে পারেন না, কেবল দক্ষিণ পাইলেই হইল। এতবতা ভাবি বৈবাহিক স্বয়ের মত স্থির হইলেই বিবাহ কাৰ্য্য সম্পন্ন হইয়া যায়। হায়! বর কন্যার যোগ্যযোগ্যতা নিশ্চয় না করিয়া বিবাহ দেওয়াতে যে কত প্রকার অনিষ্ট সাধিত হইতেছে তাহার ইয়ত্তা নাই। বিবাহ। বিবাহকালীন পুরোহিত মহাশয় যে সকল মন্ত্র বলনি তাহার অর্থ কেহই বুঝিতে সক্ষম হয়েন না। অর্থাৎ কন্যাকৰ্ত্তা কি বলিয়া কন্যা সম্প্রদান করিলেন, এবং বরই বা কি প্রতিজ্ঞা করিয়া কন্যার কর গ্রহণ করিলে, এতদ্বিষয় তঁাহারা জ্ঞাত হইতে পারেন না। সুতরাং সুক্ষৰূপে বিবেচনা করিয়া দেখিলে আৰ্যদিগের ঐ উদ্বাহ কাৰ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলিয়া প্রতীতি হয়। হায়! বর কোন প্রতিজ্ঞায় আবদ্ধ হইয়া কন্যাকে গ্রহণ করিলেন তাহা জানিতে না পারাতে সংসারে যে কত প্রকার অনিষ্ট সাধিত হইতেছে তাহার ইয়ত্তা নাই। পঞ্চামৃতাদি। কন্যা গবতী হইলে পঞ্চম মাসে তাহার দেহকে কিঞ্চিৎ লঘু করি- পরমার্থ বিজ্ঞান রায়। বায় নিমিত্ত কিছু দিস তাকে নীরস ভাঙ্গা দ্রব্য সেবন করাইবার বিধি আছে। কিন্তু তাঁহার শশুর শাশুড়ীপ্রভৃতি পরিচারকগণ সে বিষয়ে অপুর্ব পঞ্জিকার মতে এক দিব কতকগুলি বিবিধ প্রকার ভাজা ভাজিয়া প্রতিসি লোকের গশোধন করিয়া থা- কেন। পরে আট নয় মাস পূর্ণ হইবার সময়ে সহজে প্রসূত হইবার নিষিদ্ধ কিছু দিবস গন্তবতীকে যে ইচ্ছানুৰূপ পঞ্চামৃত (দধি দুগ্ধ ঘৃতাদি) তােজম করিতে দিবার বিধি আছে, পরিচারকেরা সে বিষয়ে মনােযােগ না করিয়া পঞ্জিকার মতে এক দিবস যথেষ্ট ভােজ্য দ্রব্য প্রস্তুত কৰানন্তর প্রতিবাসিনী রমণীগণকে সাবপুর্ণ করিয়া ভোজন করাইয়া থাকেন। হয়তো গর্ভিণী সে দিবস অসুস্থ আছেন, তঁাহার মুখে দধি ধৃতপ্রভৃতি একত্র করিয়া একবার স্পর্শ করাইতে পারি সেই কাৰ্যসিদ্ধি হইল। হায়! এই সকল কদাচারের নিমিত্ত সু- তীর গৰ্ভযন্ত্রণা যে কত গুণ বৃদ্ধি হইয়া যায় তাহার ইয়ত্তা নাই। অন্নপ্রাশনে কুটুম্বিতা। শাস্ত্রকারের সতের সহিত অসৎ লোকের সংশ্রব নিবারণের নিমি- ওই ভদ্রাভদ্র জাতির সৃষ্টি করিয়াছিলেন; কিন্তু এক্ষণে এক এক জাতির এক দলে ভদ্র অভদ্র চোর জুয়াচোর মিথ্যাবাদী প্রতারক ও কুষ্ঠাদি বিবিধ প্রকার রোগাক্রান্ত লােক দেখিতে পাওয়া ব্যায়। ঐ সকল লোক একত্রে ভোজন করিলে তারা ভদ্র লোকের যে কি পৰ্য্যন্তু অনিষ্ট সাধিত হয় তাহ। এই দলভিমানি বাঙ্গালিয়া কিছুমাত্র অষগত নহেন। এমন কি, ইহারা সর্বাঙ্গে কুষ্ঠ রােগাক্রান্ত কুটু লোকের কোলে আপন শিশু সন্তানকে অর্পণ করিয়া তাহার নিকট যৌতুক গ্রহণ করিতেদিতে ভীত হয়েন না। হায়! মহা লাপী লোকের সহিত কত্রে তো নয়। কত সালোকরে লজষ্ট হইয়া-আধাপটি হয়নাইয়া নাই। বালকের বিদ্যাশিক্ষা পঞ্চম বর্ষে বালকের হাতে খড়ি ক্ষিয়া একজন ঘোরতর মুখ ও যাচারি মাশয়ের নিকট তাহাকে নিযুক্ত করিয়া. লৈ শুরু পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। মহাশয় নিজে ত্রৈলোক্যনাথ লিখিতে তৈলক্ষ্যনাথ লিখিয়া থাকেন, সুতরাং তাহার নিকট বালকের বিদ্যাভ্যাস করা দুরে থাকুক কেবল কতকগুলি কুসংস্কার শিক্ষা করা হয় মাত্র। বিশেষত গুরুমহাশয় কেবল দাগ। দাগিয়া দিয়া দগুহস্তে যমরাজের ন্যায় এক স্থানে বসি- য়া থাকেন, বালকের। সেই দাগা দেখিয়া শিক্ষা করিতে ক্রমেই বিলক্ষণ দাগাবাজ হইয়া উঠে। পরে শিশুবোধক পুস্তকস্থিত কলঙ্ক ভঞ্জন নামক গ্রন্থখানি পাঠ করিয়া বিলক্ষণৰূপে লম্পটতাচরণ ও আপনার কুকৰ্ম্মসমূহ অপরের নিকট কি প্রকারে গোপন করিতে হয় বালকেরা তাহার প্রকরণ শিক্ষা করিয়া একেবারে অবিদ্যার বশীভূত হইয়া থাকে। হায়! ঘোরতর মূখের নিকট সুকুমারমতি বালকগণের অমূল্য সময় নষ্ট হওয়াতে যে কত ক্ষতি হইতেছে তাহার ইয়ত্তা নাই। সে যাহা হউক, এক্ষণে আপনারা ভদ্রসমাজে কল্পিত জাতি ও দেব দেবীর উপাসনা এবং তদঙ্গীভূত কদাচার গুলি এককালে রহিত করিয়া পুরাকালের ন্যায় বেদবিহিত সদাচার সম্বলিত একমাত্র পর মেশ্বরের উপাসনা প্রচলিত করিতে সত্বরে যত্নবান হউন ; তদ্দারা ভারতের সমূহ সুমঙ্গল হইবার সম্ভাবনা আছে। স্বস্তি! স্বস্তি। স্বস্তি। ইতি কদাচার প্রদর্শন নামক চতুর্থ অধ্যায়। পঞ্চম অধ্যায়। সত্যধর্ম বিষয়ক। [ সুৰোধসিদ্ধান্তের বক্তৃতাদ্বারা বিজ্ঞসমাজে উপধৰ্ম্মের অযোগ্যতা প্রতিপন্ন হইবায়, সত্যপৰ্ম্মের মর্ম জানিবার অভিপ্রায়ে সম্প্রতি ছু পরমর্থ বিজ্ঞান রত্নাকর বোচাৰ্য্য যে প্রশ্ন কহিতেছেন পাঠক মহাশয়েবা তাহা মনোযোগ পূৰ্ব্বক শ্রবণ করুন।] বোধাচার্য। মহাশয় ! শ্রুতি স্মৃতি ও পুরাণ তন্ত্রাদি ধৰ্ম্মশাস্ত্র অনেক প্রকার বিদ্যমান আছে; কিন্তু ঐ সমস্ত শাস্ত্রের তাৎপর্য এক প্রকার নহে। অতএব কোন শাস্ত্রের আশ্রয় গ্রহণ করিলে পরমাত্মাকে জ্ঞাত হইয়া কৃতকার্য হইতে পারা যায়, আপনি আমা- দিগের বিশেষ বোধের নিমিত্ত তাহা প্রকাশ করিয়া বলুন। সুবোধসিদ্ধান্ত । ওহে বোধাচাৰ্য্য ! বেদাদি ধর্মশাস্ত্র অনেক প্রকার হইলেও, তাহার তাৎপৰ্য অনেক প্রকার নহে। কেননা একমাত্র সত্য বস্তুকে লক্ষ করিয়াই মুনি ঋষিগণ পুরাণাদি বিবিধ প্রকার ধর্মশাস্ত্র বিরচন করিয়াছেন। তঁাহারা সকলেই সেই এক মাত্ৰ সৰ্বব্যাপী সনাতন পুরুষকে প্রতিপন্ন করিতে উদ্যত হইয়া স্বীয় বুদ্ধি বিদ্যার ক্ষমতানুসারে যে ভিন্ন ধর্মশাস্ত্র প্রণয়ণ করি- জ্ঞাছেন; স্থিরচিত্তে বিবেচনা করিয়া দেখিলে ঐ সমস্তু শাস্ত্রাদিতে কোন প্রকার বৈষম্য দৃষ্ট হইবেক না। মনুষ্যগণের স্বভাব এক প্রকার নহে, কেহ সত্ত্ব গুণাবলম্বী, কেহ রজোগুণসম্পন্ন, কাহারও বা তমােগুণের আধিক্য আছে; সুতরাং সকল প্রকার লোকের চিত্তশুদ্ধির নিমিত্ত যদি এক প্রকার প্রবৃত্তি-শাস্ত্র প্রণীত থাকে, তবে তদরি। অনেককে ধৰ্ম্মের অমৃতময় ফলের পরিবর্তে বিষফল ভােজন করিতে হয়। এই কারণ বশতঃ শাস্ত্রকারের। কেবল অজ্ঞলোক- দিগের চিত্তশুদ্ধির নিমিত্ত কৰ্ম্মকাণ্ডের সহিত পৌত্তলিক মত প্রচার করিয়াছিলেন। ধর্মশাস্ত্র দুই প্রকার, প্রবৃত্তি ও নিবৃত্তি। প্রবৃত্তি শস্ত্রসম্মত উপাসনার জড়প্রকৃতি লােকের চিত্তশুদ্ধি হয় ; আর *জগদীশ্বৰ মনুষ্যকে নির্মলরূপে সৃষ্টি করিয়াছিলেন সুতরাং প্রথমাবস্থায় সকল মনুষ্যই নিস্পাপী বা জ্ঞানী ছিলেন। সেই সময়ের কথাগুলি বেদবাক্য বলিয়া প্লসিন্ধ অাছে। তদনন্তর রজোগুণের প্রাবল্যহেতু ক্রমে ক্রমে মনুষ্যগণ কাম ক্রোধা- দির বশীভূত হইযা অননীরধিতে নিমগ্ন হওত অজ্ঞ বলিয়া প্রসিদ্ধ হয়। বাইবেল শাস্ত্রে মনুষ্যের এই পতিনা। বিশেষরূপে বর্ণিত আছে এবং অৰ্যদিগের সনা- তুন ধর্মের অবরণ স্বরূপ উপধৰ্ম্মা তাহা সৰ্ব্বতোভাবে প্রমাণীকৃত হইতেছে। ;
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্না কর। নিবৃত্তি (অধ্যয়) শাস্ত্রসম্মত উপাসনাদ্বারা সুবােধ লােকের মোক্ষ লাভ হইয়া থাকে। সুতরাং জড় প্রকৃতি মনুষ্যগণকে ক্রমেই বৈষ- য়িক সুখহইতে বিরত করিয়া নিত্যসুখে সুখী করণার্থ হাদিগের স্বভাবানুসারে মুনি ঋষিগণ শাস্ত্র মধ্যে যে ভিন্নং উপাসন। প্রচার করিয়াছেন তাহ! বড় অসঙ্গত নহে। ফলতঃ সুচতুর ব্রাহ্ম , গণ অ- পনাদিগের প্রভুত্ব ও লাভের নিমিত্ত ঐ সমস্ত শাস্ত্রার স্থানে কতকগুলি কল্পিত বাক্য রচনা করিয়া ধর্মশাস্ত্রকে যদ্যপি দুষিত না করিতেন, তাহা হইলে কোন প্রকার গোলযোগ থাকিত না। আর যদি বা গোলযােগ থাকে, তাহাতেই বা হানি কি আছে ? যাহা- দিগের জ্ঞানচক্ষু উন্মীলিত হইয়াছে, তাহারা কচি-মধ্যস্থিত অত্যু- ভঞ্জল হীরকের ন্যায় সকল প্রকাব শাস্ত্ৰহইতে অমূল্য জ্ঞানরত্ন গ্রহণ করিতে সক্ষম হয়েন। বিশুদ্ধ জ্ঞানাগ্নি কৃত্রিম বাক্যৰূপ ভস্মাচ্ছা- দিত থাকিলেও অনুশীলনৰূপ বাযুদ্বার। সন্ধু।ক্ষত হই মা আপনার বিমল প্রল প্রকাশ করেই করে, তাহার কোন সন্দেহ নাই। যা- হার বুদ্ধির তীক্ষ্ণতা ও ধৰ্ম্মে প্রগাঢ় শ্রদ্ধা এবং জগদীশ্বরের প্রতি ভক্তিবৃত্তির অতিশয্য আছে, তিনি সকল প্রকার শাস্ত্র হইতে সত্য রত্ন গ্রহণপূৰ্ব্বক কণ্ঠদেশে ধারণ করিয়া পরমানন্দ ভোগ করিতে সক্ষম হয়েন। হে মহাশয়গণ। এক্ষণে সত্যধৰ্ম্ম কাহাকে কহা যায় ও তাহার ফলই বা কি? এবং তাহার অনুষ্ঠানই বা কি প্রকারে করিতে হয়, তাহা সমু চিত দৃষ্টান্তের সহিত স্পষ্ট করিয়া কহিতেছি আপনারা মনোযোগ পূৰ্ব্বক শ্রবণ করুন। তিসিদ্ধ এই সত্যধৰ্ম্ম (তত্ত্বজ্ঞান) পূৰ্ব্বে ছিল এক্ষণে আছে এবং চিরদিন বর্তমান থাকিবে। যে কোন ক্ষমতা ম্ন লোক ই হার কোন অংশ পরিবর্তন করিয়া নুতন প্রণালী স্থাপন করিয়াছেন বা করিবেন তাহা চিরদিম প্রচলিত থাকিবে না। যেহে- তুক তাহা ভ্রান্তিযুক্ত মনঃকল্পিত ও ভিন্ন শাস্ত্রের অসংলগ্ন ভাব বিমি- শ্রিত। কিন্তু বেদ শাস্ত্রে যাহা লিখিত আছে তাহা ৰিবেকজাত, মনঃকল্পিত নহে; ইহা আমি উত্তমরূপে পরীক্ষা করিয়া দেখিয়াছি।
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। আমি কেবল শ্রুতিসিদ্ধ বলিয়া অথবা অনুমানের উপর নির্ভর করিয়া এই সত্যধৰ্ম্ম প্রকাশ করিতেছি না; কিন্তু বহুকালাবধি অৰ্য্য শাস্ত্রের মতানুসারে দিবানিশি ঈশ্বরোপাসনা করিয়া যে ফললাভ করিয়াছি, বেদশাস্ত্রের সত্যতা প্রমাণার্থ তাহাই সংক্ষেপে প্রকাশ করিতে বাধ্য হইলাম। এই ব্যাপক কালের মধ্যে আমি ইচ্ছাপূর্বক একদিবসও নিদ্রা প্রার্থনা অথবা কাহারো সহিত বৃথালাপদ্বারা অধিক সময় নষ্ট করি নাই। বরং প্রথমং ঈশ্বরীর নাকালে আমার কর্ণ মধ্যে কোন প্রকার শব্দ প্রবিষ্ট হইলে একাগ্রচিত্ততার অভাব হইত বলিয়া আমি তুলার সহিত মধূচ্ছিষ্ট মিশ্রিত করিয়া শ্রবণেন্দ্রিয় এক প্রকার বদ্ধ করিয়াছিলাম, এবং অদ্যাপি আমার কর্ণ বদ্ধ আছে। সৰ্ব্ব সাধারণ জনগণের কোন বিশেষ উপকারার্থ আমি যে ব্রত অবলম্বন করিয়াছি ঈশ্বরেচ্ছায় সেই ব্রত উদ্যাপন করিতে পারিলে পুনৰ্ব্বার কর্ণ মুক্ত করিব ; নচেৎ যে ভাবে আছি মৃত্যুকাল পর্যন্ত সেই ভাবে থাকিব। হে মহাশয়গণ ! আৰ্যদিগের একমাত্র বেদশাস্ত্রের জ্ঞানকাণ্ডই সত্যধৰ্ম্ম; এবং পরমার্থ জ্ঞানরত্নাকর গ্রন্থে উত্তরগীতা ও রামগীত। প্রভৃতি যে একাদশখানি ক্ষুদ্রং শাস্ত্ৰ স্বৰূপর্থের সহিত বঙ্গভাষায় প্রকাশিত হইয়াছে, তাহাকেই সত্যধৰ্ম্মের সারসংগ্রহ অথচ মৰ্ম্ম প্রকাশক বলিয়া জানিবেন। ফলত ঐ কএকখানি জ্ঞানকাণ্ডীয় শাস্ত্র বেদশাস্ত্রের ন্যায় অলৌকিক ভাবে বর্ণিত আছে। সম্প্রতি আমি আপনাদিগের বিজ্ঞানসিদ্ধির নিমিত্ত সেই সমস্ত বিষয় লৌকিক ভাবে সংক্ষেপ করিয়া কহিতেছি আপনারা মনােযোগপূৰ্ব্বক শ্রবণ পরব্রহ্মের বিবরণ। ব্ৰহ্মপদার্থ অনন্ত অপরিমিত নিৰ্বিশেষ চৈতন্যমাত্র। সেই চৈতন্য পদার্থ সমুদায় ব্রহ্মাণ্ডের অন্তর্বাহ্যে সমানভাবে বৰ্ত্তমান থাকিয়াও কম্মিনকালে বিকারপ্রাপ্ত হয়েন না। অপিচ তিনি সমস্ত ব্রহ্মাণ্ডের পরমাপ বিজ্ঞান রত্না কর । ৬ মূল কারণ হইলেও কর্তৃত্ব তাে ত্বাদি ধৰ্ম্ম বহির্ভূত হয়েন। তথা ব্ৰহ্মতর্কে সমস্ত ভেদরহিতং সচ্চি নিন্দমদ্বয়ং। সৰ্বানুস্থত মদ্বৈতং শুদ্ধং ব্রহ্মেতি দ্বিদুঃ । অর্থাৎ যিনি দেহ দেহীপ্রভৃতি সমস্ত ভেদরতি ও সত্ত্বা জ্ঞান আ: নন্দস্বৰূপ এবং সৰ্ব্ব কাৰ্য্যে অনুগত ও কর্তৃত্ব ভােতৃত্বাদি ধৰ্ম্ম বহি- ভূত; সেই ব্রহ্মকে জ্ঞানিগণ জানেন। ফলতঃ যেহেতু ব্ৰহ্মপদার্থ চৈতন্যস্বৰূপ (জ্ঞানস্বৰূপ। অতএব তঁাহাতে কোন প্রকার ভেদ থাকিবার সম্ভাবনা নাই; তবে যে তাঁহাকে সত্তা ও অানন্দৰূপে ভিন্ন করা যায়, সে কেবল অভাব ও দুঃখপদার্থের ব্যাবৃত্তৰ্থ ; নতুবা চৈতন্য পদার্থের বিশেষার্থ নহে। বস্তুত একমাত্র চৈতন্যই সত্তা ও আনন্দস্বৰূপ হয়েন। বিবেচনা করিয়া দেখুন, যে বস্তু চৈতন্য বা তৎ প্রকাশিত নহে তাহার সত্তা নাই, এবং যে পদার্থ চৈতন্যবিহীন, অর্থাৎ যে পদার্থের জীব- চৈতন্য নাই, সেই পদার্থের অনিন্দও থাকে না। সুতরাং একমাত্র চৈতন্যপদার্থই যে সত্তা ও অনিৰূপে প্রকাশিত হয়েন, ইহা সুন্দর ৰূপে প্রতিপন্ন হইতেছে। ঐ চৈতন্যপদার্থের কোন ক্রিয়া নাই, কিন্তু তিনি সমস্ত ক্রিয়ার সাক্ষীস্বৰূপ হইয়া অবস্থিতি করিতেছেন। অর্থাৎ নাট্যশালাস্থিত দীপ যেকার নৰ্তক ও দর্শকপ্রভৃতি সকল পদার্থকে অবিশেষৰূপে প্রকাশ করে, একমাত্র চৈতন্যপদার্থ সেই প্রকার বুদ্ধি মনঃ শরীর ঈশ্বর ও জীবাদি সমুদীয় পদার্থকে প্রকাশ করিয়া রহিয়াছেন। ব্ৰহ্ম শব্দের অর্থ বৃহৎ। যেহেতু জীবের অজ্ঞানাবস্থায় তিনি সত্তা ৰূপে সমুদায় পদার্থের আশ্রয়, অতএব তঁাহার নাম ব্ৰহ্ম। যে বস্তু যাহার অাশ্রয়, সে তাহা অপেক্ষা বৃহৎ হয়। এই কারণ বশত ব্রহ্মাণ্ডের অন্তঃপাতি দিক কাল আকাশাদি যে সমস্ত ব্যাপক পদার্থ অাছে তদপেক্ষাও তিনি ব্যাপক, অথচ তিনি বিক্রিয়াযুক্ত সমস্ত কার্যের অন্তর্বাহ্যে সমানভাবে থাকিয়াও স্বয়ং অবিক্রীয়। অর্থাৎ পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। আকাশাদি সমুদায় পদার্থের যে সত্তা আছে তাহা একরূপ ভিন্ন কল- পি অন্য ৰূপ নহে; যদি বিক্রিয়াযুক্ত হইয়া অন্য ৰূপ হইত, তবে জীবের জ্ঞানাবস্থায় এই অখিল ব্ৰহ্মাণ্ড একমাত্র ব্ৰহ্মৰূপে কদাচ প্রকাশিত হইত না। এতন্নিমিত্তই বেদশাস্ত্রে তিনি একমেবাদ্বিতীয় বলিয়া প্রসিদ্ধ আছেন, অর্থাৎ সমুদায় ব্রহ্মাণ্ডে তঁহার স্বৰ্গত, স্বঙ্গা- তীয় বা বিজাতীয় অন্য কোন পদার্থ নাই ; তিনি একমাত্র । অবোধভউ। মহাশয় ! ব্রহ্মজ্ঞানীরা তন্নকে ব্ৰহ্ম বলিয়া থাকেন, কিন্তু অত একটি নহে। সংসারে যখন কোটিং অন্ন থাকা দৃষ্ট হইতেছে তখন অন্নকে ব্ৰহ্ম বলিয়া স্বীকার করিলে কোটি ব্ৰহ্ম থাকা স্বীকার করিতে হয়। তবে কেন অাপনি ব্রহ্মজ্ঞানী হওত ও এক ব্ৰহ্ম দ্বিতীয় নাস্তি” বলিয়া সৰ্ব্ব সাধারণের নিকট প্রকাশ করি- তেছেন? সুবােধসিদ্ধান্ত। ওহে অবোধ ! আমি কেবল অন্নকে বা স্বর্ণকে ব্ৰহ্ম কহিতেছি না, কিন্তু ব্ৰহ্মও মধ্যে যত পদার্থ আছে সকলই ব্ৰহ্ম। চৈতন্যস্বৰূপ ব্রহ্মের অতিরিক্ত অন্য কোন পদার্থ নাই। যদি তুমি সূক্ষমৰূপে বিচার করতে সক্ষম হও, তবে আমি তোমার নিকট সমুদায় দ্বৈত পদার্থকে ব্ৰহ্মৰূপে প্রতিপন্ন করিয়া দিতে পারি। অবোধতটু। মহাশয়। তবে দেব দেবীর প্রতিমাগুলিও অপি- নার মতে ব্রহ্ম পদার্থ হইলেন; তবে কেন ব্ৰহ্মকে এক বলিয়া দেব দেবীর পূজা করিতে নিষেধ করিতেছেন ? তাহা প্রকাশ করিয়া বলুন। সুবোধসিদ্ধান্ত। ওহে অবোধ ! তোমার ন্যায় পূৰ্ব্বাপর বিবে- চনাক্ষম ব্যক্তির সহিত তদ্রুপ সামান্য বিষয়ে বাদ বিতণ্ডা করিতে হইলে শত বর্ষেও আমার বক্তৃতার শেষ হইবেক না। অতএব সমুদায় পদার্থ যে ব্ৰহ্ম এবং তিনি যে দ্বিতীয় রহিত একমাত্র, ইহার কোন নিগঢ় বৃত্তান্ত আমি তোমাকে কহিতেছি, তুমি সেই বিষয় শ্রবণ করিয়া এতক্রপ সামান্য বিষয়ে আর কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিও না। যে প্রকার একটি কণামাত্র অশ্বথ বীজহইতে মৃত্তিকা জমাদির পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। লাহায্যে শাখা প্রশাখাবিশিষ্ট প্রকাণ্ড একটি অশ্বথ বৃক্ষ উৎপন্ন হয়, তদ্রুপ অত্যন্ত সুক্ষনতম বিশ্ববীজ ব্ৰহ্মপদার্থ হইতে এই সমুদায় বিশ্ব বিরচিত হইয়াছে। কমাত্র অশ্বথ বীজহইতে অভিন্ন হইয়াও একটি অশ্বথ বৃক্ষ যে প্রকার ভিন্নরূপে লক্ষিত হয়। সেই প্রকার বিশ্ববীজ ব্ৰহ্মপদার্থ হইতে অভিন্ন হইয়াও এই সমস্ত জগৎ বিলক্ষণ ৰূপে দৃষ্ট হইতেছে। কিন্তু তত্ত্বজ্ঞান উদয় হইবামাত্র এই সমস্ত জগৎ একমাত্র ব্ৰহ্মৰূপে প্রকাশিত হইয়া থাকে। অর্থাৎ যাঁহারা ব্ৰহ্ম- জ্ঞানী হয়েন, তাহারা সমুদীয় দ্বৈতপদার্থের কল্পিত নামৰূপ পরি- ত্যাগ করিয়া সমুদায় ব্রহ্মাণ্ডের সহিত একমাত্র ব্ৰহ্মৰূপে অবস্থিতি করেন। বিশেষত এই সমস্ত দ্বৈত বস্তুর কল্পিত নাম ৰূপ ভিন্ন ভিন্ন ৰূপে প্রকাশিত হইলেও তন্মধ্যে যখন একাকারে আকাবিত দুইটি পদার্থ দেখিতে পাওয়া যায় না, তখন এই সমস্ত দ্বৈত বস্তুর মূল কারণ ব্রহ্ম পদার্থ যে একমাত্র তাহা সৰ্ব্বতোভাবে সিদ্ধ হইতেছে। অর্থাৎ একটি তিন্তিড়ী বৃক্ষে লক্ষাধিক পত্ৰ থাকিলেও, একাকারে অকা- রিত দুইটি পত্র দেখিতে পাওয়া যায় না। এমন কি, এক সচে •িম্মিত দ্রব্যও দুইটি সমনিকারে আকারিত হয় না, ইহ, আমি উত্তম কাচের সাহায্যে ছাপার অক্ষরদ্বারা পরীক্ষা করিয়া দেখি, য়াছি। সুতরাং যখন এক একটি দ্রব্য অথবা তাহার এক একটি সূক্ষমতম পরমাণু সকলই ভিন্ন আকারে অা করিত রহিয়াছে তখন এই সমস্ত জগৎ দ্বৈতরূপে প্রকাশিত হইলেও তাহা যে প্রকারান্তরে এক পদার্থ (একমেবাদ্বিতীয়ং) ইহা সৰ্ব্বতো ভাবে সিদ্ধ হইল। হে মহাশয়গণ ! সর্পের অস্যিদেশে যে প্ৰকাৰ কিঞ্চিৎ হলাহল থাকে, সেই প্রকার ঐ সৰ্ব্বব্যাপী চৈতন্যস্বৰূপ ব্ৰহ্ম পদার্থের এক দেশে” তাহার তটস্থ। শক্তি প্রকৃতি অবস্থিতি করিতেছেন। ঐ প্রকৃতি স্থনিস্থিত (সৰ্ব্বব্যাপী) চৈতন্য পদার্থকেই পরমাত্মা কই যায়। * ব্ৰক্ষ পদার্থের অাদি অন্তু মধ্য বা পূর্ধ্ব পশ্চিম অথবা উৰ্দ্ধ ধ: কোন দেশ নাই, তবে যে এস্থানে তাহার একদেশে প্রকৃতি আছে বলিয়া বথিত হইল, সে tAল পঠন গগের বোধ সেকৰ্য্যাধ। ।
৩ পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। আর প্রকৃতিস্থান ভিন্ন অনন্ত অপরিমিত চৈতন্য পদার্থ পরব্রহ্ম বলি- য়া কথিত হয়েন ; ইহাই পরব্রহ্ম ও পরমাত্মার বিশেষার্থ। শাস্ত্রে যে অসত্তা, অজ্ঞান ও দুঃখস্বৰূপ বলিয়া প্রকৃতির স্বৰূপ কথিত হইয়াছে, তাহাকেই অভাব বা দুঃখ পদার্থের ব্যাবৃত্তৰ্থ বলি- য়া নির্দেশ করা যায়। অর্থাৎ যে প্রকার অজ্ঞানস্বরূপ অন্ধকার পদার্থ না থাকিলে জ্ঞানস্বৰূপ জ্যোতি য়ে একটি পদার্থ, ও দুঃখ না থাকিলে মুখ যে একটি পদার্থ, এবং অভাব না থাকিলে ভাব যে একটি পদার্থ তাহা কাহারো বোধগম্য হইত না ; সেই প্রকার জড় স্বৰূপ প্রকৃতি না থাকিলে চৈতন্য যে একটি পদার্থ তাহা কাহারে। বোধগম্য হইতে পারিত না। এতন্নিমিত্ত শাস্ত্রে প্রকৃতিকেই তত্ত্ব জ্ঞানের উদয়কারিণী বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন। ঐ প্রকৃতির তিনটি গুণ আছে, যথা সত্ত্ব, রজ ও তমঃ। এন্মধ্যে সত্ত্বগুণ প্রকাশ ধৰ্ম্ম, রজোগুণ প্রবৃত্তিধৰ্ম্ম, মোগুণ অপ্রকাশধৰ্ম্ম। প্রকৃতির সত্বাদি এই তিন গুণ সর্বব্যাপী চৈতন্যপদার্থকে আশ্রয় করিয়া বিবিধ প্রকার নাম ৰূপ ধারণপূৰ্ব্বক বিবিধ প্রকার জগৎ প্রসব করিতেছেন । এই আমি আপনাদিগের নিকট পরব্রহ্ম এবং তঁাহার তটস্থ শক্তিৰূপ প্রকৃতির বিবরণ সংক্ষেপে বর্ণনা করিয়া কহিলাম। অতঃপর পর- মাত্মার বিবরণ কহিতেছি আপনারা মনোযােগপূৰ্ব্বক শ্রবণ করুন। পরমাত্মার বিবরণ। অখণ্ড মণ্ডলাকারং ব্যাপ্তং যেন চরাচরং। তৎপদং দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ । অস্থার্থ। কোন উচ্চস্থানে দণ্ডায়মান হইলে নীলবর্ণ কটাহের ন্যায়, গ্রহ নক্ষত্রাদির সহিত উপরিভাগে যে অৰ্দ্ধাংশ আকাশমণ্ডল দৃষ্ট হয়, পৃথিবীর নিম্নভাগে । ঠিক ঐ প্রকার অর্ধাংশ আকাশমণ্ডল * চৈতন্য ও জড় এতদুভয পদার্থেরই ক্রিয় নাই, কিন্তু তদুভয়ের কোন বিশেষ সংযোগহেতু ক্রিয়া উৎপন্ন হয়। । পৃথিবীর নিম্ন বা উভাগ নাই, অতএব দারমন ব্যক্তির সম্বন্ধে পৃথিবীর নিম্নভাগে । } পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। অাছে। এতদুভয় অর্ধাংশ আকাশমণ্ডলকেই অখণ্ড মওলাকার কম যায়। ঐ প্রকার অখণ্ড মওকার পরমাত্মা সমুদায় চরাচর বস্তুর অন্তর্বাহ্যে পরিব্যাপ্ত হইয়া রহিয়াছেন । যে গুরুদেব কর্তৃক ঐ পর- মা আর শ্রীপাদপদ্ম দৃষ্ট হইয়াছে, অর্থাৎ যিনি বিবিধ প্রকার সদুপ- দেশদ্বার। আমার (জীবাত্মার) সহিত ঐ পরমাত্মাৰ ঐক্যতাজ্ঞান সম্পাদন করিয়া আমাকে জ্ঞানদান করিয়াছেন, ভবসমুদ্রের কাণ্ডারি স্বৰূপ এতদ্রুপ শ্রীগুরুদেবকে পরমাত্মার সহিত অভিন্ন-জ্ঞানে নম- স্কার করি। হে মহাশয়গণ ! পূর্বোক্ত ব্ৰহ্মপদার্থের যে প্রদেশে তঁাহার তটস্থা শক্তি (প্রকৃতি) অৰস্থিতি করিতেছে, সেই প্রদেশকে যখন সচেতনা চেতন সমুদায় পদার্থের প্রবর্তকতা শক্তির সহিত ব্যপদেশ করা যায়, তখন তিনি (ব্রহ্মপদার্থ) পরমাত্মা বলিয়া খ্যাত হয়েন। তথচ গীতায়াং দ্বাৰিমৌ পুরুষৌ লোকে ক্ষরশ্চাক্ষর এব চ। ক্ষরঃ সৰ্বাণি ভূতানি কূটন্থোইক্ষর উচতে। উত্তমঃ পুরুষ, ন্যঃ পরমাত্মত্যুদাত। যেকেয়মাবিশ্ব বিভব্যয়মীশ্বর। অন্যা। এই সংসার মধ্যে ক্ষর ও অক্ষর নামক দুই প্রকার পুরুষ প্রসিদ্ধ আছে, তন্মধ্যে ব্রহ্মা অাদি স্থাবরান্ত প্রাণিসমূহের শরীর ও তৎকারণ পৃথিব্যাদি ভুত সকল ক্ষর (নশ্বর) পুরুষ, এবং কুটস্থ অর্থাৎ জীবেপাধি যাহা দেহনাশ হইলেও নষ্ট হয় না, তাহা অক্ষর (অবিনশ্বর) পুৰুষ বলিয়া উক্ত হয়। ঐরূপ ক্ষর ও অক্ষর এতদুভয় পুরুষহইতে ভিন্ন, অথচ তদপেক্ষা উত্তম পুরুষ। যিনি লােকয়ে অনুপ্রবিষ্ট হইয়া জীবসমূহের 'বুদ্ধিকে ওঁ অজীব বস্তুর স্বভাবকে স্বস্ব কাৰ্যে প্রত্ত করেন তিনিই পরমাত্মা নামে খমত হয়েন।
রমর্থ বিজ্ঞান রত্নাকর 0 উপরিভাগে যে অখণ্ড মণ্ডলাকারের প্রতিমূর্তি দর্শন করিতেছ তাহাকেই অনন্ত ও অপরিমিত ব্ৰহ্মপদার্থের একদেশস্থিত প্রকৃতি সংযুক্ত পরমাত্মা বলিয়া জ্ঞাত হও। এবং ঐ অখণ্ড মণ্ডলাকারের মধ্যভাগে যে ক্ষুদ্রং চি দৃষ্ট হইতেছে সেইগুলিকে এক একটি সূর্য ৰা নক্ষত্র বলিয়া জানিবেন। এই আমি অাপনাদিগের নিকট অখণ্ড মশলাকার পরমাত্মার বিবরণ সংক্ষেপে বর্ণনা করিয়া কহিলাম। অতঃপর খণ্ড মওলাকার জগদীশ্বরের বিবরণ প্রকাশ করিয়া কহি- তেছি আপনারা মনােযোগপুৰ্ব্বক শ্রবণ করুন। জগদীশ্বরের বিবরণ। সুবোধসিদ্ধান্ত। যিনি অনন্ত অপরিমিত বিশুদ্ধ চৈতন্য পদার্থ অথচ পরব্রহ্ম বুলিয়া প্রসিদ্ধ আছেন; তিনিই প্রকৃতি-প্রবর্তকতা শক্তির সহিত ব্যপদিষ্ট হইলে পরমাত্মা বলিয়া কথিত হয়েন। অার ঐ ব্রহ্মপদার্থই স্বীয় শক্তি প্রকৃতির সহিত ব্যপদিষ্ট হইলে গদীশর বুলিয়া নিরূপিত হইয়া থাকেন। অথচ ভাগবতে- * সাধকগণের বোধ মুলার নিমিত্ত পরমাত্মার প্রতি বলিয়। কথিত ই বাস্তবিক ঔই সমষ্টি জগঞ্জশ্বরের প্রকৃত পরমার্থ বিজ্ঞান প্রকল্প বদন্তি তত্ত্ববিদ যজ্ঞানমষং। ব্রহ্মেতি পরমাঝেতি ভগবানিতি শৰ্যতে। অর্থাৎ তত্ত্ববিদগণ যে তত্ত্বকে অদ্বিতীয় জ্ঞানস্বৰূপ বলিয়া অভিধান করেন, তাহা ব্ৰহ্ম পরমাত্মা ও ভগবান বলিয়া খ্যাত হয়েন। এই ঈশ্বরই স্বীয় মায়াতে অবরুদ্ধ হইয়া জগৎ সুজন করিয়াছে, পরব্রহ্ম বা পরমাত্মার সহিত জগৎ সৃজনের কোন সম্বন্ধ নাই। তথা ব্রহ্মার্কে- সত্যং জামমনন্তং যদত্ৰহ্মেত্যেৰু তে এতং । দেব প্রকৃতেৰ্ষোগদীশ্বর কুরুতে জগৎ। অর্থাৎ সত্য ও জ্ঞানস্বৰূপ অথচ অন্তরহিত যে ব্রহ্মপদার্থ শ্রুতিতে খ্যাত আছেন, তিনিই প্রকৃতির গেহেতু ঈশর হইয়া জগৎ সৃজন করেন। سموسے۔ উপরিভাগে যে খণ্ড মণ্ডলাকারের প্রতিমূৰ্ত্তি দর্শন করিতেছ তা হার ঠিক মধ্যভাগে মুমণ্ডল। ঐ সূর্যমণ্ডল মধ্যে জগদীশ বিরাজমান * আছেন; এবং এতদ্বুহ্মাণ্ডস্থ জরায়ুজ অগুঞ্জ স্বেদজ ও * বেদান্ত মতানুসারে জগদীশ্বরের অস্তিত্ব স্বীকৃত হয় অন্যান্য শাস্ত্রে ইনিই * রমাত্মা বলিয়া বর্ণিত আছেন। কত আনি উমরূপে পরীক্ষা করিয়া দেখি, শরমার্থ বিজ্ঞান কর । উদ্ভিজ্জ এই চতুর্ধ্বিধ প্রাণি জাতির দেহমধ্যে কারণ শরীরপে (শিবলিঙ্গাকারে ) অবস্থিতি করিয়া সত্ব রজস্তমোগুণের তারতম্যানু- সাৱে তাহাদিগের শরীরের সহিত যথাযােগ্য সম্বন্ধ নিৰ্মাণপুৰ্ব্বক জীবগণকে সুখদুঃখ ভােগ করাইতেছেন। সূৰ্যমগুলের বহির্ভাগে যে অঙলাকা দৃষ্ট হইতেছে, তাহ; বুধগ্রহের গমলয় পথ। তাছার বহির্ভাগে শুক্রগ্রহের গমনীয় বক্স, এবং পশ্চাতে যে মণ্ডলাকার দৃষ্ট হইতেছে তাহাকেই পৃথিবীর গমনীয় পথ *ফিয়া জানিবেন। পৃথিবীর পার্শ্বদেশে যে একটি ক্ষুদ্র চিহ্ন দৃষ্ট হইতেছে, তাহা চন্দ্র- মণ্ডল। আকর্ষত্রে পৃথিবী যেরূপসূর্যের চতুর্দিগে পরিভ্রমণ করিতেছে, চন্দ্রও সেই সূত্রে পৃথিবীর চতুর্দিগ পরিভ্রমগ করিয়া থাকে। চন্দ্র প্রায় ২৭ দিনবঘন্টা ৪৩ মিনিট ও ১২ সেকেণ্ডে এক বার পৃথিবীর চতুর্দিগ পরিভ্রমণ করে। ঐ সময়ের মধ্যে চন্দ্রের পশ্চিমহইতে পূৰ্ব্বদিগে গমনানুসাবে যে শুক্ল ও কৃষ্ণপক্ষ হয় তাহা- কেই চান্দ্রমাস কহা যায়। সূর্যমণ্ডলের বহির্ভাগে যে প্রকার বুধ শুক্র ও পৃথিবীর গমনীয় পথ দৃষ্ট হইতেছে , তদ্রুপ পৃথিবীর বহি- র্ভাগে ক্রমশঃ মঙ্গল বৃহস্পতি ও শনিপ্রভৃতি গ্রহগণের গমনীয় পথ আছে। পৃথিবী ও সূৰ্য্য এতদুভয়ে মধ্যভাগে যে নেমি শুক্র ও বুধগ্রহ আছে, তাহাদিগের গহিত পৃথীস্থ জীবগণের শারীরিক সম্বন্ধ এবং পৃথিবীর বহির্ভাগে মঙ্গল বৃহস্পতি ও শনিপ্রভৃতি যে সমস্ত গ্রহগণ আছে, তাহাদিগ্নের সহিত জীবগণের সুখ দুঃখ বিষ- মুক কোন বিশেষ সম্বন্ধ রহিয়াছে। বেদশাস্ত্রে যাহা নির্ণীত আছে তাহা অযথার্থ নহে; ইহা অামরা উত্তমরূপে পরীক্ষা করিয়া দেখি- প্রাছি। যদি কে অজ্ঞতা-দেবীর ক্রোড়ে উপবেশনপূর্বক অবরণকরিয়া তৃপ, আপত্তি উপস্থিত করেন যে, দুৱস্থিত, গ্রহাদির সহিত ছি যে, বিশুদ্ধ পায় চৈতন্যক্তি তাঁহার প্রস্কিষ্মিকাশে ঈশ্বরে চৈতন্য কুমণ্ডলে বর্তমান অাছেন। এবং জীবগলের কারণ-দেহের সহিত তাহার কোন শেষ সম্বন্ধ রহিয়াছে।
পরমার্থ বিজ্ঞান যত্নাকর। পৃথিবীস্থ জীবগণের কোন সম্বন্ধ নাই। তবে আমি তাঁহাকে বিনয় পূৰ্ব্বক কহিতেছি যে, যদি তঁাহার বিশুদ্ধ জন্মপত্রিকা (কোষ্ঠী) থাকে, তবে তিনি বৃস্পতি ও শমিগ্রহের সঞ্চারগত ফলাফলের বিষয় পরীক্ষা করিয়া দেখিলেই বুঝিতে পারিবেন। যদি বুঝিতে নিহা অক্ষম হয়েন, তবে আমি তাঁহাকে পুনৰ্ব্বার কহিতেছি যে, সমুদা ব্রহ্মাণ্ডের সমুদীয় পরমাণুর সহিত সমুদয় পরমাণুর কোন বিশেষ সম্বন্ধ অাছে, তাহা সামান্য বুদ্ধিতে প্রতিভাত হয় না। যাহা সা- মান্য বুদ্ধিতে প্রতিভাত হয় তাহা কহিতেছি শ্রবণ করুন। চন্দ্র পৃথিবীহইতে ন্যূনধিক ২,৩৭,৮৪৮.দুই লক্ষ সাঁইত্রিশ হাজার আট শত চল্লিশ মাইল অন্তরে অস্থিতি করিতেছে। কিন্তু ঐ চন্দ্রে সহিত এতদনীস্থ সমুদ্রের যে প্রকার সম্বন্ধ আছে, জীবগণের দেহের সহ্নিতও সেই প্রকার সম্বন্ধ রহিয়াছে। অর্থাৎ অমাবস্যা ও পুণি- মার সময় চন্দ্রের আকর্ষণদ্বারা সমুদ্রের জল উচ্ছসিত হইয়া নদী- দিতে যে প্রকার বন্যা অগিতা হয়; জীবগণের দেহমধ্যেও সেই প্রকার জল বৃদ্ধি হইয়া থাকে। সৰ্ব্ব সাধারণ লোকে তাহা বুঝিতে পরুন বা না পাক্কন, কিন্তু , ফঁাহারা তত্ত্বজ্ঞানী এবং যাহাদিগের একশিরা কুরও বাত ও শ্লষ্টপদপ্রভূতি শ্লেষ্মঘটিত কোন প্রকার স্থায়ি রোগ আছে তঁাহারা উত্তমরূপে বুঝিতে সক্ষম হয়েন। এতন্নিমিত্ত শাস্ত্রকাররা অমাবস্যা ও পূর্ণিমার প্রাক্কালবিধি সরস দ্রব্য ভোজন করিতে নিষেধ করণার্থ নবমীতে অলবু, দশমাতে কলম্বীশাক, একা- দশীতে অন্ন, শীতে পূতিকা ও তৎপরে মাসকলাই প্রভূতি শ্লেষ্মেংপাদক জুব্যসমূহ অভক্ষ্য বলিয়া শাস্ত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। অাধুনিক নব্য সভ্যাভিমানির। শাস্ত্রের এতদ্রুপ তাৎপৰ্য বোধগম্য করিতে না পারিয়া উন্মত্তের প্রলাপ বাক্য বলিয়া উপহাস করেন। অৰোৱ সুষ্ট । মহাশয়! পৃথিবী হইতে চ.যে দুই লক্ষ মাইল অন্তরে আছে তাহা কি প্রকারে বিশ্বাস্য হইতে পারে? কেহত পৃথিবী হইতে দড়ি ধরিয়া চন্দ্রমণ্ডল পর্যন্ত পরিমাণ করিতে সক্ষম হয় না। সুতরাং চন্দ্রমণ্ডলের দুরতা বিষয়ে আপনি যাহা ৰুক্ত পরর্থ বিজ্ঞান ফির। •• করিতেছেন, তাহা নিতান্ত অজ্ঞ ভিন্ন অন্য কোন বিজ্ঞ লোক বিশ্বাস করিবেন না। সুৰোধসিক্সান্ত। ওহে অবােধ! তুমি নিতান্ত অৰোধের ন্যায় কথা কহিতেছ, এক্ষণে আমি যাহা কহিতেছি তাহা শ্রবণ করিয়া নীরব হও। আমি এই স্থানে দণ্ডায়মান হইয়া একটি ত্রিকোণ দ্বারা বহুদূরস্থিত একটি বৃক্ষ দর্শন করিয়া যদি কহি যে ঐ বৃক্ষটি ৫• হন্ত উচ্চ, এবং এখান হইতে দুই মাইল ) হাত ও অঙ্গুলি অন্তরে আছে । পশ্চাৎ তুমি দড়ি ধরিয়া এস্থান হইতে সেই বৃক্ষ পৰ্যন্ত পরিমাণ করিলে যদি তাহা সত্য হয়, তবে সেই ত্রিকোণ যন্ত্রদ্বার। চন্দ্রমণ্ডলের স্থূলতা ও দূরতবিষয়ে আমি যাহা নিশ্চয় করিব, তাহা কেন বিশ্বাস, করিবে না? তুমি বিশ্বাস না করিলে করিতে পারি । কিন্তু যাহারা সংস্কৃত ত্রিকোণত গ্রন্থ পাঠ করিয়াছেন তঁাহারা অবশ্যই বিশ্বাস করিবেন। ঐ ত্রিকোণতত্ত্ব গ্ৰন্থ ইংরাজ বাহাদুরের স্বজাতীয় ভাষা ভাষান্তরিত করিয়া ট্রিগণ ম্যাটারি (ত্রিকোণতত্ত্ব) নাম প্রদান করিয়া ছেন। এপশকার কৃতবিদ্য যুবকগণের মধ্যে যাঁহারা ঐ গ্রন্থ পাঠ করিয়াছেন এবিষয়ে তঁাহাদিগের সংশয়. হইবার সম্ভাবনা নাই। সে যাহা হউক, এক্ষণে সোম ও বুধ গ্রহের সহিত জীগণের যে শারীরিক সম্বন্ধ আছে তাহা কহিতেছি শ্রবণ করুন। জীবগণের সূক্ষমধমনী ও অস্থিমধ্যে তৈলের ন্যায় যে এক প্রকার পদার্থ আছে, যাহাকে মেদেধাতু কহা যায়, সেই বস্তু বুধগ্রহের পরমাণুধারা বিরচিত হইয়া শরীরস্থ রস-ধাতুদ্বারা পরিবর্ধিত হইয়া থাকে, এবং চৈতন্য সহকারে তাহাই জীবগণের বুদ্ধি বা চিত্ত বলিয়া কথিত হয়। ঐ মেদেধাতু বিকৃত যা ক্ষয় প্রাপ্ত হইলেই মনুষ্যের বাতুলতা অথবা মৃত্যু হইয়া থাকে । মেদেধাতু মনুষ্যর অস্থিমধ্যেও থাকে বলিয়া সাধারণ লােকে কহিয়া থাকে য়ে, লর হাড়ে বুদ্ধি আছে। আঁপিচ জীগণের দেহমধ্যে যে শুক্ৰধাতু আছে, তাহা শুক্রগ্রহের পর- মাগুরা বিরচিত হইয়া শরীরস্থ রশ-খাতুদ্বাৱাৰিবৰ্ধিত হইয়া থাকে। ঐ কইতেই জীষগণের কাম উত্তেজিত হয়, এবং তাহাই বীজশ্বৰূপ পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। ইয়; জীগর উত্তরোত্তর বংশ রক্ষা করিতেছে। শাস্ত্রে চৈতন্য সহকারে শুক্ৰধাতু জীবগণের অহঙ্কার বলিয়া কথিত আছে। এবঞ্চ জীবগণের শিরোমধ্যে (মস্তকের পশ্চাদ্ভাগে) যে দীর্ঘীভূত মস্তিষ্ক আছে, যাহাকে কোনং তন্ত্রশাস্ত্রে মেরুদণ্ডের মজ্জা বলিয়াও বর্ণনা করিয়াছেন, তাই চন্দ্রমণ্ডলের পরমাণুদ্বারা বিরতি ও শরীর রস ধাতুদ্বারা বিবর্জিত হয়। চৈতন্য সহকারে ঐ মস্তিষ্ক জীবগণের মন বলিয়া প্রসিদ্ধ আছে। চন্দ্রমণ্ডলের পরমাণুদ্বারা মনুষ্যর মন বিরচিত হইয়াছে বলিয়া অৰ্যদিগের অনেকের নামের অন্তে চন্দ্ৰশব্দ প্রযুক্ত করিবার বিধি রহিয়াছে। মঙ্গল বৃহস্পতি ও শনি প্রভৃতি গ্রহ- গণের পরমাণু বিশেষ মনুষ্যের দেহমধ্যে আছে কি না, তাহা বহু দিবস সমাধি সাধন করিয়াও জ্ঞাত হইতে পারিলাম না। ঈশ্বরেচ্ছায় তদ্বিষয় জ্ঞাত হইতে পারিলে সৰ্ব্ব সাধারণ লোকের নিকট প্রকাশ করিতে বিস্মৃত হইব না। ফলত, যখন শনিপ্রভৃতি গ্রহগণের সঞ্চার গত কালের সহিত মনুষ্যের শুভদৃষ্ট বা দুরদৃষ্ট প্রত্যক্ষীভূত হই- তেছে, তখন ঐ সমস্ত গ্রহগণের পরমাণু যে জীবগণের দেহমধ্যে নাই এমত কথা কোনক্রমেই বলা যাইতে পারে না। এই আমি আপনা- দিগের নিকট জগদীশ্বরের বিবরণ কিঞ্চিৎ বিশেষৰূপে বর্ণনা করিয়া কহিলাম, সম্প্রতি ঋীবাত্মার বিবরণ কহিতেছি শ্রবণ করুন। জীবাত্মার বিবরণ। জীবে অন্তঃকরণে ( মনোবুদ্ধি, অহঙ্কার প্রভৃতিতে ) যে চৈতম প্রতিবিম্ব অাছেন তাহাকেই জীবাত্মা বলিয়া জানিবেন। তথা । , কূটস্থে কল্পিত বুদ্ধিস্তত্র চিৎপ্রতিবিম্বক। প্রাণানাং ধারণাজ্জীবঃ সংসরেণ সযুজ্যতে। অর্থাৎ সাধারভূত কুটস্থ চৈতম্যস্থিত কল্পিত বুদ্ধিতে সেই কুটস্থ চৈতন্যের যে প্রতিবিম্ব তিনি যেহেতু প্রাণসমুহকে ধারণ করিতেছেন, অতএব তিনি চীশব্দে উক্ত হয়েন, এবং তিনিই সংসারের সুখ দুঃখ ভোগ করেন। .
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। নহে। স্বৰূপত জীবাত্মা পরমাত্মাহইতে অভিন্ন, অর্থাৎ পরমাত্মার প্রতি- বিশ্ব মাত্র। কিন্তু তত্ত্বজ্ঞানের পূর্বাবস্থার যন্ত্র দিবস তিনি অন্তঃ- করণে প্রতিবিম্বিত থাকেন, তত দিবস তিনি অঙ্গুষ্ঠ প্ৰমাণৰূপে নিৰূপত হয়েন ।। কোন শাস্ত্রে জীবাত্মাকে যে প্রাদেশ, তাল, গোকর্ণ বা বিতস্তি প্রমাণ বলিয়াও বর্ণনা করিয়াছেন তাহাও অযথার্থ কেননা যৎকালে দীক্ষাগুরুর অনুগ্রহে জীবাত্মাকে জ্ঞাত হইয়া পরমাত্মার সহিত তঁাহার ঐক্যৰূপ সাধনানুষ্ঠান করা যায়, তৎকালে সেই অঙ্গুষ্ঠ পরিমিত জীবাত্মা ক্রমেই দেশ,তাল গোকর্ণ এবং তদনন্তর দেহপ্রমাণ হইয়া ক্রমেই পরমাত্মার সহিত অভিন্ন অথবা হাতে লয়প্রাপ্ত হয়েন ; ইহা সাধক মাত্রেই অবগত অাছেন। অন্তঃকরণ মধ্যে জীবাত্মাকে অঙ্গুষ্ঠ প্রমাণৰূপে জ্ঞাত হওয়া যায় বটে, কিন্তু তঁাহার আর কোন প্রকার বিশেষ সাকার, উপলব্ধি হয় না। বোধাচাৰ্য। মহাশয়! জীবাত্মাকে যদি অন্তঃকরণ মধৈ অঙ্গুষ্ঠ প্রমাণৰূপে জ্ঞাত হওয়া যায়, তবে তাঁহার কোন প্রকার অকার উপলব্ধি হয় না কেন? এই বিষয়ে অনাদিগের গুরুতর সংশয় উপস্থিত হইয়াছে; আপনি অনুগ্রহপূর্বক এই সংশয়টি অপনােদন করুন। সুবোধসিদ্ধান্ত। ওহে বোধাচাৰ্য্য! জীবাত্মা দেহের ভিতর অন্ধ। কারে অাছেন বলিয়া কেই তঁাহাকে দর্শন করিতে পারে না, কিন্তু জগদীশ্বর মনুষ্যের জ্ঞানলাভের নিমিত্ত একটি ক্ষুদ্র জীবের দেহকে জ্যোতিদ্বার। এমত বিভূষিত করিয়াছেন যে, সেই ক্ষুদ্র জীবের আ- আটিকে চক্ষুদ্বারা দর্শন করিতে পারা যায়, কিন্তু তাহার কোন আকৃতি উপলব্ধি হয় না । ওহে বোধাচাৰ্য্য! অনি তোমাকে সেই জীবাত্মাটি দর্শন করাইতেছি, তুমি তাহার কোন প্রকার * প্রতিবিম্বরপ বটে, বস্তু এf নহে, হi চিনি মিছরি ওড়ভৃতির ভাস্বাদন বিশেষের ন্যায় বাক্য। রা বর্ণনা করতে পারা যায় না । । জীবাত্মা মিরাক হইলে ও কৃতি সম্বন্ধ তু অঙ্গুষ্ঠ প্রমাপরূপে জেমধ্যে বিদিত হইয়া খান ।
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। আকার নিশ্চয় করিতে পারি কি না, তাহা বিবেচনা করিয়া দেখ। রাত্রিকালে একটি জ্যোতিরিঙ্গণ কীটকে হতলে রাখিয়া তার গুহ্য- দেশে যে জ্যোতি আছে সেই জ্যোতির মধ্যভাগে নিরন্তর যে ধপং করিতেছে; তাহাই ঐ কীটের জীবাত্মা। এক্ষণে তুমি যদি ঐ ক্ষুদ্র কীটের জীবাত্মার কোন প্রকার অাকৃতি দর্শন করিতে পার তবে তুমি আপনার দেহমধ্যে জানজ্যোতিদ্বারা স্বয়ং প্রকাশিত জীবা- স্মারও কোন প্রকার অকৃতি. অনুধাবন করিতে সক্ষম হইবে। বাস্তবিক জীবাত্মা পরমাত্মা জগদীশ্বর ও পরব্রহ্ম-ইহারা সকলেই নিরাকার একমাত্র বিশুদ্ধ চৈতন্য পদার্থ। তবে কেবল উপাধিস্থিত বলিয়া জীবাত্ম ও জগদীশ্বর,এতদুভয় পরিমিত চৈতন্য (জলমধ্যস্থিত প্রতিবিম্বিত আকাশের ন্যায়) পরমাত্মার প্রতিবিম্ব মাত্র। তথা বেদন্তিশাস্ত্রে জলাভোপাধ্যধীনে তে জলকশোখে তয়োঃ। অাধারেীতু ঘটাকাশমহাকাশৌ সুনির্মলো। এবমান বিজ্ঞানময়ে মায়াধিয়ােৰ্ব্বশে । তদধিষ্ঠান কুটস্থ ব্ৰহ্মণী তু সুনির্মলে। অর্থাৎ যেমন জলাকাশ ও মেঘাকাশ এতদুভয় আকাশ পদার্থ জল ও মেঘৰূপ উপাধিদ্বয়ের অধীন, এবং তদুভয়ের আধারভূত যে ঘটাকাশ ও মহাকাশ তাহারা নিৰ্ম্মলৰূপে অবস্থিত হয়। তদ্রুপ আনন্দময়ৰূপ ঈশ্বর ও বিজ্ঞানময়ৰূপ জীব ইহারা মায়া ও বুদ্ধির অধীন হয়, কিন্তু তদধিষ্ঠানভূত কুটন্তু চৈতন্য ও ব্রক্ষ্ণ চৈতন্য ইহারা উভয়েই নির্মমৰূপে চিরদিন সমানতাবে আছেন। বোধাচার্য। মহাশয়। আপনি যে ঘটাকশি জলাকাশ মেঘাকাশ প্রভূতি কতকগুলি শব্দ উচ্চারণ করিলেন, আমারাত তাহার কিছুই বুঝিতে পারিলাম না, অতএব জলকাশদি কাহাকে কহে তাহা স্পষ্ট করিয়া বন্ধন। সুবোধসিদ্ধান্ত। ওহে বোধাচাৰ্য্য! যেমন একমাত্র সর্বব্যাপী আকাশ পদার্থ উপাধিভেদে ঘটাকশি মহাকশি জলাকাশ ও মেষ- পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। কাশ নামে প্রসিদ্ধ হয়, তদ্রুপ একমাত্র সর্বব্যাপী চৈতন্য পদার্থ চারি প্রকারে বিভক্ত হইয়া আছেন। যথা-কুটস্থ চৈতন্য, ব্রহ্ম চৈতন্য, জীবচৈতন্য ও ঈশ্বরচৈতন্য। এক্ষণে পুৰ্বোক্ত চার প্রকার আকাশ --বেদান্তু মানুসারে বিশেষৰূপে কহিতেছি শ্রবণ করুন। ঘটমধ্যস্থিত পরিচ্ছিন্ন ( বিভিন্ন ) আকাশের নাম ঘটা কাশ। অপরিচ্ছিন্ন সমষ্টি অাকাশের নাম মহাকাশ । ঘট-মধ্যস্থিত জলেতে মেঘ নক্ষত্রাদির সহিত প্রতিবিম্বিত যে গীকাশ তাহাকে জলাকশি কহা যায়। উপরে মহাকাশমধ্যে যে মেঘমণ্ডল দৃষ্ট হয়, তাহা জলের পরিণাম বিশেষ ; সুতরাং তাহাতে (মেঘমল্যে) যে আকাশের প্রতিবিম্ব অনু- মান করা যায়, সেই প্রতিবিম্বিত আকাশের নাম মেঘাকশি। এই আমি আপনাদিগের নিকট শাস্ত্রমতে চারি প্রকার আকাশের বিব- ৰণ বিশেষৰূপে বর্ণনা করিয়া কহিলাম। অতঃপর একমাত্র চৈতন্য পদার্থ পূর্বোক্ত আকাশের ন্যায় যে ভাবে দ্বারি প্রকারে বিভক্ত হইয়া অাছেন তাহাও কহিতেছি শ্রবণ করুন। কুটস্থ চৈতন্য। জীবগণের স্থল সুক্ষন শরীরাবস্থিত সৰ্বব্যাপী (ব্রহ্মশক্তি প্রকৃতির সৰ্বব্যাপী) চৈতন্য পদার্থ কুটের ন্যায় নিৰ্বিকারে আছেন বলিয়া তাহাকে কূটস্থ চৈতন্য কহা যায়। এই কূটন্থ চৈতন্য ঘটমধ্যস্থিত নিৰ্ম্মল আকাশের ন্যায় দেহঘট-স্থিত • বিশুব্ধ চৈতন্য পদার্থ ; অর্থাৎ পরমাত্মা। জীবচৈতন্য। পূৰ্ব্বোক্ত সব্যাপী কুটন্তু চৈতন্য-স্থিত কল্পিত বুদ্ধিবারিতে সেই কুটস্থ চৈতন্যের যে প্রতিবিম্ব অাছেন, তিনি জীব চৈতন্য শব্দে কথিত হয়েন। এই জীব চৈতন্যকে ঘটমধ্যস্থিত প্রতিবিম্বিত জলাকাশের ন্যায় বুদ্ধিবারিন্থিত চৈতন্য প্রতিবিম্ব বলিয়া জাত হও। ফলতঃ * মনুষ্যের হস্ত পদ পরিত্যাগ করিলে দেহটি ঠিক ঘটের মত দেখায় বলি । অনেক পাশে দেহঘট” এই শব্দটি প্রসিদ্ধ ক্লাছে ।
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। ষে প্রকার ঘটমধ্যস্থিত প্রতিবিম্বিত জলাকাশদ্বার। বিশুদ্ধ ঘটাকাশে তিরোভাব জুয়। অর্থাৎ ঐ প্রতিবিম্বিত আকাশেতে বিশুদ্ধ ঘটা- কাশ লয়প্রাপ্ত হয়, তাহাকে আর ভিন্নরূপে দেখিতে পাওয়া যায় না ; তদ্রুপ তত্ত্বজ্ঞানের পূৰ্ব্বাবস্থায় জীব চৈতন্যদ্বারা দেহস্থিত কুটন্তু চৈতন্যের তিরোভাব হইয়া থাকে। এই কারণবশতঃ কূটস্থ চৈতন্য দেহের সর্বাবয়বে সমভাবে থাকিলেও অজ্ঞানাবস্থায় কেহ তাহাকে জা-িতে সক্ষম হয়েন না। ইহাকেই শারীরক ভাষাদিতে অন্যে- ন্যাধ্যাস (একের বিষয় অন্য আরােপিত) বলিয়া বর্ণনা করি- য়াছেন। ঈশ্বরচৈতন্য। সূৰ্যমধ্যে পূর্বোক্ত সৰ্বব্যাপী কূটস্থ চৈতন্যের যে প্রতিবিম্ব আছেম তিনিই ঈশ্বরচৈতন্য। এই ঈশ্বরচৈতন্য পূর্বোক্ত মেঘকাশের ন্যায় অস্পষ্টৰূপে সূৰ্য্যমগুলে ও কিঞ্চিৎ বিস্পষ্টৰূপে জীবগণের অনিন্দময় কোষ বা কারণশরীরে অবস্থিতি করিতেছেন। অজ্ঞানাবস্থায় জীব- গণ যে প্রকার ভিন্ন২. ঈশ্বর ও সেই প্রকার ভিন্ন। এক একটি নক্ষত্র এক একটি সূৰ্য, এবং এক একটি সূৰ্য্য এক একটি ব্রহ্মাণ্ডের কেন্দ্র স্বৰূপ। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যৌগৰূিঢ় (পরমাত্মস্বৰূপে অবস্থিত) হইয়া কহিয়াছেন যে, “ আমার বিরাটদেহের এক লোমকুপে এক ব্ৰহ্মাণ্ড আছে।” ফলতঃ তত্ত্বজ্ঞানের পূর্বাবস্থায় জীবগণের যে প্রকার ছত্ব স্বীকার করা যায, সেই প্রকার জগদীশ্বরেরও বহুত্ব স্বীকার করুন। অর্থাৎ যেমন এক একটি দেহ এক একটি জীবাত্মার অধীন তদ্রুপ এক একটি ব্রহ্মাণ্ড এক একটি জগদীশ্বরের অধীনে থাকিয়া মুশাসিত হইতেছে। ইহা শ্রীকৃষ্ণের পূর্বোক্ত বাক্যের তাৎপৰ্য ভিন্ন অন্য কোন স্ত্রাদিতে প্রকাশ নাই; আমি সমাধিদ্বার উত্তমরূপে জ্ঞাত হইয়া আপনাদিগের নিকট এই প্রথম প্রকাশ করিলাম। ব্রেহ্মচৈতন্য। জানাবস্থায় জীবাত্মা যে একমাত্র সৰ্বব্যাপী চৈতনৰূপে (ব্রহ্মা ৰূপে) অবস্থিতি করেন, তাহাকেই মহাকাশের ন্যায় ব্রহ্মচৈতন্য } পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। যালয় অবগপ্ত হইবেন। এই আমি আপনাদিগের নিকট চারি প্রকার আকাশের ন্যায় চারি প্রকার চৈতন্যের বিশেষ বর্ণনা করি বোধাচাৰ্য। মহাশয়! আপনি যে জগদীশ্বরের বহুত্ব কীর্তন করিলেন, তাহা শাস্ত্রসিদ্ধ নহে, যেহেতুক সকল শাস্ত্রে একমাত্র ঈশ্বর সর্বব্যাপী বলিয়া বর্ণিত আছেন। • সুবোধসিদ্ধান্ত। ওহে বােধাচাৰ্য। আমি জীব বা জগদীশ্বরকে অনেক বলিয়া কীৰ্ত্তন করি নাই। জীব, জগদীশর, পরমাত্মা ও পরব্রহ্ম ইহারা সকলেই একমাত্র বিশুদ্ধ চৈতন্যপদার্থ। কিন্তু যুক্ত দিৰ পৰ্য্যস্ত জীব অজ্ঞানীরধিতে নিমগ্ন থাকিয়া পরমাত্মাকে জাত হইতে না পারেন, তত দিবস উহার জীবগণকে যে প্রকার ভিন্ন ৰলিয়া বোধ থাকে, কিঞ্চিৎ জ্ঞানলাভ হইলে জগদীশ্বরও তদ্রুপ ভিন্ন ভিন্নরূপে প্রতীতির বিষয় হয়েন। তত্ত্বজ্ঞান উদয় হইবামাত্র জীব ঈশ্বর পরমাত্মা ও পরব্রহ্ম ইহারা একমাত্র চৈতন্যরূপে প্রকা শিত হইয়া থাকেন। জগৎ একটি নহে; প্রত্যেক সূৰ্য ৰা নক্ষত্র এক একটি জগতের কেন্দ্রস্থল। যে সকল জীব তত্ত্বজ্ঞান লাভে এক প্রকার কৃতকার্য হয়েন, তঁাহারা বিদেহকালীন জগদীশ্বর হইয়া সুতন জগৎ সৃজন করেন। এই জন্যে শাস্ত্রে কথিত আছে যাহার। এই পৃথিবীতে জীবন্মুক্ত হইয়া নিৰ্ব্বাণমুক্তি লাভ করিতে অক্ষম হয়েন, তঁাহারা সূৰ্যলােকে গমনপুৰ্ব্বক মুক্তিলাভ করেন। এবং সেই কারণ বশত অতি প্রাচীন কালৰধি চৌদ্দভুবন বলিয়া একটি কথা প্রসিদ্ধ রহিয়াছ। প্রথম সৃষ্টিকালে এতাধিক গ্রহ নক্ষত্র ছিল না দিনই গ্রহ নক্ষত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি হইতেছে। এতন্নিমিত পুৰ্বকালাবধি ভারতবর্ষের সর্বসাধারণ লোকে গ্রহ নক্ষত্রগণকে মৃত সাধু মনুষ্যের কোন প্রকার স্বর্গীয় চিঃ কহিয়া থাকেন। সামান্য মনুষ্যের মৃত্যু হইলে প্রথমতঃ তিনি আকাশমণ্ডলে প্রেতাবস্থায় পরমাণুপুঞ্জ জড়িত হইয়া অবস্থিতি করেন, সেই সময়ে তঁাহর উর্ধগমনের নিমিত্ত তর্পণ ও পিণ্ডদানাদি করিবার বিধি অাছে। তদনন্তর সূৰ্য্যমগুল- পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। স্থিত জগদীশ্বর যখন তাহাকে পাপ পুণ্যের ফল ভোগার্থ অন্য যােনিতে নিক্ষেপ করেন, তৎকালে সেই পরমাণুপুঞ্জ পৃথিবীর নিকটস্থ হইলেই সৰ্বসাধারণ লোকের দৃষ্টিপথে পতিত হয়। ইহারই নাম তারা খসিয়া পড়া। ইহা অতি প্রাচীন কালাবধি ভারতবর্ষের আবাল বৃদ্ধ বনিতা সকলেই অবগত আছেন। এক্ষণে আমরা এই যে পৃথিবীতে বাস করিতেছি ইহার অধি- পতি সূৰ্য্যমগুলে বিরাজিত আছেন, ইহা আমি শাবাক্যদ্বারা ( মহাভারতের সর্বোৎকৃষ্ট একটি প্রবন্ধদ্বারা) উত্তমরূপে প্রতিপন্ন করিব, এবং ঐ জগদীশ্বরের সহিত জীবাত্মার যে সম্বন্ধ অাছে অর্থাৎ যেমন সূত্রধরেরা ( পুতলানাচ ওয়ালারা) কাষ্ঠপুত্তলিকার মন্তকে এক খাই সুত্র বদ্ধ করিয়া তাহাকে আপন ইচ্ছামত নৃত্য করায়, তদ্রুপ সুর্যমণ্ডল জগদীশ্বর পৃথিবীস্থ সমস্ত জীবগণের কারণ দেহকে দিবানিশি যে নৰ্ত্তন করাইতেছেন, যাহাকে কোন শাস্ত্রে মায়াচক্র ভ্রমণ বলিয়াও বর্ণনা করিয়াছেন, তাহা যে প্রকারে জ্ঞাত হওয়া যায়, তাহার উপায় বিধান করিয়া জগদীশ্বরকে দর্শন করাই। সম্প্রতি সূৰ্যমগুল হইতে জগদীশ্বর যে প্রকারে পৃথিব্যাদি এই জগৎ সৃজন করিয়া জীবগণের উপর আধিপত্য করিতেছেন, তাহা শাস্ত্র সম্মত বাক্যে স্পষ্ট করিয়া কহিতেছি আপনারা মনোযােগপূর্বক শ্রবণ করুন। ইতি সারতত্ত্ব বিবেক নামক পঞ্চম অধ্যায়। ষষ্ঠ অধ্যায় সৃষ্টি বিষয়ক। { হে পাঠক মহাশয়গণ ! সুবোধসিদ্ধান্ত মহাশয় সমুদায় ব্রহ্মাণ্ডেব সৃষ্টি প্রক্রিয়া না কহিয়া কেবল এই জগতের যে সৃষ্টি-বিবরণ বর্ণন পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। করিয়া কহিয়াছিলেন আমি তাহা কহিতেছি আপনার মনোযােগ পূৰ্ব্বক শ্রবণ করেন । সুবোধসিদ্ধান্ত। অনেক শাস্ত্রে এতদ্রপ বর্ণনা আছে যে জগ- জীশ্বর প্রথমত জীবসমূহ ও তৎপরে আকাশাদি পৃথিবীপৰ্যন্ত ভূত সকল সৃঞ্জন করিয়া তাহার পর এককালে সমুদয় গ্রহ নক্ষত্রগণের সৃষ্টি করিয়াছেন। কিন্তু আমি একথা কোনক্রমে বিশ্বাস করিতে পারি না। কেননা পৃথিবীর সহিত দুরন্থিত নক্ষত্রগণের তুলনা করিতে হইলে পৃথিবী এককালে ক্ষুদ্র হইয়া অদৃশ্য হইয়া যায়। দূর- স্থিত কেবল একটি ক্ষুদ্র নক্ষত্রের পরিমাণ তালকে তিল করার ন্যায় অল্প ধরিয়া যদি তাহাকে হিমালয় পর্বতের তুল্য ক্ষুদ্র করা যায়, তবে সেই পরিমাণে পরিমিত হইলে পৃথিবী একটি বাটীর সদৃশ হইতে পারে না; সুতরাং জগদীশ্বর অগ্রে এতাধিক একটি ক্ষুদ্র গ্রহের সৃষ্টি করিয়া পশ্চাতে যে এককালে বৃহৎ নক্ষত্রগণের সৃষ্টি করিয়াছেন, ইহা কোন ক্রমেই বিশ্বাসীধারে স্থান প্রাপ্ত হয় না। বিশেষত পৃথিবী যখন শুন্যমধ্যে সূর্যের অর্ষিণে অবস্থিতি করিতেছে তখন অগ্রে সূর্যের সৃষ্টি না হইলে পৃথিবী সৃষ্ট হইয়া যে কোন আধারে স্থাপিত হইয়া- ছিল তাহার উত্তর করিতে কেহই সক্ষম হইবেন না। যাহারা মনে করে যে পৃথিবী ভিন্ন অন্য কোন গ্রহদিতে মনুষ্য সদৃশ শ্রেষ্ঠ জীব নাই, তাহারাই নক্ষত্রগণকে ক্ষুদ্র বিবেচনা করিয়া থাকে। কিন্তু আমি সমাধিদ্বারা উত্তমরূপে জ্ঞাত হইয়াছি যে, এই পৃথিবীতে হস্ত পদ চক্ষু কর্ণ নাসিকাহীন একটি কিঞ্চলুক হইতে একটি মনুষ্য যেমন শ্রেষ্ঠ ; তদ্রুপ মনুষ্য অপেক্ষা অন্য জগতে এমত শ্রেষ্ঠ জীব আছেন যে, সেই জগতে মনুষ্য গমন করিলে তিনি সেই স্থানের কিঞ্চলুক সদৃশ নিকৃষ্ট জীব হয়েন। ফলত যাহারা প্রাচীন সংস্কার বশত নক্ষত্রগণকে মৃত মনুষ্যের চক্ষু বা এক একখানি থালার ন্যায় ক্ষুদ্র বিবেচনা করে, সেই ক্ষুদ্রদৃষ্টি লােকেরাই প্রাগুক্ত শবাক্যে বিশ্বাস করিয়া থাকে। সে যাহা হউক, এক্ষণে সুৰ্য্যমগুল-স্থিত জগদীশ্বর যেৰূপে কেবল পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। তদনন্তর এই জগতের সৃষ্টি করিয়াছেন তাহা অনুমানের সহিত শাস্ত্র বাক্যের ঐক্যতা রাখিয়া কহিতেছি শ্রবণ করুন। সৃষ্টি বিষয়ক প্রবন্ধ যিনি যাহা রচনা করিয়াছেন সকলই অনুমানমুলক ; যেহেতুক জগদীশ্বর কাহাকেও সাক্ষী রাখিয়া জগৎ সৃজন করেন নাই এবং অদ্যাপি তাহা প্রত্যক্ষীভূত হইবার সম্ভাবনা নাই। সূৰ্যমণ্ডলকে এই জগতের সত্ব রক্তস্তমোগুণবিশিষ্ট প্রকৃতি বলিয়া জানিবেন। ঐ প্রকৃতিহইতে জগদীশ্বরের (চৈতন্য পদার্থের) অধি- ষ্ঠান নিমিত্ত প্রথমতঃ যে মহত্তত্ত্ব জাত হয়, তাহাই (রজন্তুমে। মিশ্রিত) সত্ব প্রধান বুপগ্রহ। তদনন্তর প্রকৃতি হইতে যে অহঙ্কার তত্ত্ব জাত হয়, তাহাকে (তমঃ লমিশ্রিত) রজঃপ্রধান শুক্র গ্রহ বলিয়া জানি- বেন। তাহার পর প্রকৃতি হইতে যে অন্তঃকরণতত্ব জাত হয়, তাহাই (রজঃ সমিতি) তমঃ প্রধান চন্দ্রমণ্ডল। হইতে এক মাত্র শব্দগুণ বিশিষ্ট আকাশ জাত হয় । আকাশ পদার্থ শূন্য বা কোন প্রকার দৃশ্য বস্তু নহে; যেহেতু শূন্য শব্দের অর্থ অভাব অর্থাৎ কিছুই নহে; অতএব যাহা কিছুই নহে, তাহার শব্দগুণ থাকিবার এবং তাহা হইতে বায়ু উৎপন্ন হইবার সম্ভাবনা নাই। ইংরাজেরা যে পদার্থকে অদৃশ্য গ্যাস বলেন, তাহাই আকাশপদার্থ। আকাশ হইতে যে বায়ু জাত হয় তাহান্তে শব্দ ও স্পর্শ এই দুইটি গুণ আছে। বায়ুও দৃশ্য পদার্থ নহে। ইংরাজের। দূরস্থিত পৰ্বতাদিকে নীল বর্ণ দেখায় বলিয়া বায়ুর যে নীলবর্ণ ৰূপ স্বীকার করেন, তাহা বায়ুস্থিত জলীয় পরমাণুর বর্ণমাত্র। বায়ুহইতে যে তেজঃ পদার্থ জতি হয় ইহাতে শব্দ স্পর্শ ও ৰূপ এই তিনটি গুণ অাছে।' তেজ হইতে যে জল জাত হয় তাহাতে শব্দ স্পর্শ রূপ ও রস এই চারিটি গুণ আছে। এবং জলহইতে যে পৃথিবী জাত হয়, তাহাতে শব্দ স্পর্শ ৰূপ রস ও গন্ধ এই পাঁচটি গুণ বিদ্য- মান রহিয়াছে। তন্মধ্যে অকাশের শব্দ, বায়ুর স্পর্শ, তেজের * ইহা আদিম সৃষ্টি নহে, কেবল 'মরা যে জগতে ৰাস করিতেছি তাহারই পুষ্টিক্রিয় কথিত হইছে। - পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর । ৰূপ, জলের রস ও পৃথিবীর গন্ধ গুণ স্বভাবসিদ্ধ ; তবে যে পৃথিবীর পক্ষ গুণ বলিয়া কথিত হইল, তৎসমূহ তাহার পূৰ্ব্বং কারণ হইতে আগত গুণমাত্র। যে ভাবে আকাশাদি পৃথিৰী পৰ্যন্তের সৃষ্টি প্রক্রিয়া কথিত হইল সেই ভাবে বুধ শুক্রাদি গ্রহগণেরও আকাশাদি ক্রমে সৃষ্টি হইয়াছে জানিবেন । আকাশ বায়ু তেজ প্রভূতি ভূতসমুহ যে ভাবে অস্থিতি করিতেছে তাহার একখানি প্রতিমূর্তি দর্শন করুন। সূর্যমণ্ডলস্থিত জগদীশ্বরকর্তৃক পুৰ্বোক্ত ঐ পঞ্চভূতদ্বারা জীব- গণের দেহ নির্মিত হইয়াছে। অর্থাৎ আকাশের সত্ত্বগুণ হইতে জীবের শ্রোত্র ইন্দ্রিয়, বায়ুর সত্বগুণ হইতে ত্বগিন্দ্রিয়, তেঙ্গের সত্বগুণ হইতে চক্ষুরিন্দ্রিয়, জলের সত্বগুন হইতে রষনেন্দ্রিয়, এবং পৃথিবীর সত্বগুণ হইতে স্রাণেন্দ্রিয় উৎপন্ন হই- আছে। এই পাঁচটি জ্ঞানেন্দ্রিয় সত্বগুণ হইতে উৎপন্ন হইয়াছে বান্ধিয়া ইহার প্রশান্ত। অর্থাৎ ইহাদিগের অবয়বে শাদি বিষয় সংলগ্ন হইলেই মন গুণগ্রাহক হইয়া থাকেন ; হস্ত পদাদি কর্মে- ন্দ্রিয়ের ন্যায় ইহারা স্থানান্তরে চালিত হইয়া বিষয় প্রকাশ করে পরমার্থবিজ্ঞা রত্নাকর। ৭৩ অপিচ আকাশের রজোগুণহইতে বাগিন্দ্রিয়, বায়ুর রজো হইতে হস্তেন্দ্রিয়-তেজের রজোগুণহইতে পানেন্দ্রিয়, জলের রজোগুণ হইতে পায়ু-ইন্দ্রিয় এবং পৃথিবীর রজোগুণহইতে উপন্থেন্দ্রিয় উৎপন্ন হইয়াছে। এই পাঁচটি কৰ্ম্মেন্দ্রিয় রজোগুণ হইতে উৎপন্ন হইয়াছে বলিয়া ইহার মনোদ্বারা চালিত হইয়া বিষয় প্রকাশ (গ্রহণ করে এবং সেইজন্য ইহাদিগের নাম কৰ্ম্মেন্দ্রিয় । এবঞ্চ কাম ক্রোধ লোভ মোহ লজ্জ। এই পাঁচটি আকাশের তিন গুণ হইতে উৎপন্ন হয়। ঐরূপ ধারণ চালন ক্ষেপণ সঙ্কোচ ও প্রসা- রণ এই পঞ্চ বায়ুর গুণ হইতে উৎপন্ন হয়। নিদ্রা ক্ষুধা তৃষ্ণা ক্লান্তি আলস্য এই পঞ্চ তেজের গুণ হইতে উৎপন্ন হয়। শুক্র শোণিত মা মল মূত্র এই পঞ্চ জলের গুণ হইতে উৎপন্ন হয়। এবং অস্থি মাংস নখ ত্বক লোম এই পঞ্চ পৃথিবীর গুণ হইতে উৎপন্ন হয়। সর্বব্যাপী চৈতন্যকে আশ্রয় করিয়া এই সমস্ত উৎপন্ন হইলে পর তারা জরায়ুজ অঙ্গ স্বেদজ ও উদ্ভিজ্জ ভেদে চতুৰ্ব্বিধ জীব জাত হইল। বস্তুত প্রকৃতির রজোগুণ ব্ৰহ্মাৰূপে সৃষ্টিকাৰ্য্য নি- ব্রাহ করিতেছেন, এবং সত্বগুণ বিষ্ণুৰূপে সমুদায় জীবগণকে প্রতি- পালন ও তমোগুণ ৰুদ্ৰৰূপে সকলকে সংহার করিয়া থাকেন। বোধাচাৰ্য। মহাশয় ! যদি ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর ইহারা তিন জনে সৃষ্টি স্থিতি প্রলয়কাৰ্য্য নিৰ্বাহ করেন, তবে জগদীশ্বর যে কে ? ইহা অমাদিগের বোধগম্য হইতেছে না। সুবোধসিদ্ধান্ত। ওহে বোধাচাৰ্য্য । যেমন মনােবুদ্ধি অহঙ্কারাদির সহিত দেহৰূপ ক্ষুদ্র ব্রহ্মাণ্ড-ব্যাপী চৈতন্যপদার্থ জীব বলিয়া কথিত হয়, তদ্রুপ ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশরাদির সহিত বৃহব্রহ্মাণ্ড (সৌর জগৎ) ব্যাপী চৈতন্য পদার্থ জগদীশ্বর বলিয়া কথিত ইয়েন। অর্থাৎ যেমন প্রত্যেক জীবদেহে মনোবুন্ধি জার" আছে তদ্রুপ প্রত্যেক ব্ৰহ্মাণ্ডে ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্ব : বি ।। — T• ছুন। অবি- দ্যদ্বারা দেহমধ্যে যেমন জীবাত্মা পৃথৰূপে কল্প । ঐ মায়াদ্বারা ব্ৰহ্মামধ্যে জগদীশ্বরও পৃথকৰূপে কল্পিত আছেন। মনোবুদ্ধি = ৭৪ পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। যেহেতুক অহঙ্কারাদি পদার্থ যেমন জীবাত্মাহইতে অতি দ্রুপ ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বরকেও জগদীশ্বরহইতে অভিন্ন বলিয়া জানিবেন। বুঝেছত- পুর্বোক্ত প্রতিকৃতির এক চিহ্নযুক্ত স্থান পৃথিবী, দুই চিহ্র জল, তিন চি তেজঃ, চারি চিদু বায়ু ও পঁাচ চি আকাশমণ্ডল। মৃত্তিকা- পেক্ষা যে পরিমাণে জল অধিক দেখিতে পাওয়া যায়, সেই পরি- মাণে জলীপেক্ষা তেজঃ, তেঙ্গোপেক্ষা বায়ু ও বাপেক্ষা অকিশি পদার্থকে মহৎ বলিয়া জানিবেন। বোধাচাৰ্য। মহাশয় ! অাপনি তেজঃ পদার্থকে স্বল্প স্থানব্যাপী বলিয়া বর্ণনা করিলেন, কিন্তু আমরা সকলেই জ্ঞাত অছি যে, পৃথিবী হইতে সূর্যের নিকট পৰ্যন্ত যত উর্দ্ধে গমন করিতে পার। যায়, ততই তেজের আধিক্য অনুভূত হইতে পারে। সূর্যের কিরণই তেজঃ পদার্থ। অপিচ বুদ্ধিমান ইংরাজেরাও কহি- য়াছেন যে, বুধগ্রহের নিকট যদি পৃথিবীর কোন জীব গমন করে তবে সেই জীব তৎক্ষণাৎ ভস্ম এবং জল লইয়া গেলেও বাস্প হইয়া যায়। অতএব আপনি তেজঃপদার্থকে স্বল্প স্থানব্যাপী বলাতে অধিকাংশ লোক আপনার কথায় অশ্রদ্ধা প্রকাশ করিধেন। সুবোধসিদ্ধান্ত। ওহে বোধাচাৰ্য্য! অধিকাংশ লোক আমার বক্তৃ- তা শ্রবণ করিয়া যদি নিন্দা করে তবে আমার সৌভাগ্য। যেহেতু জগতের অধিকাংশ নিকৃষ্ট ও স্বল্পাংশ উৎকৃষ্ট হইয়া থাকে। যদি একটি অস্ত্র বা জবাদি কোন বৃক্ষে অধিক পরিমাণে ফল উৎপন্ন হয় তবে তাহার মধুরীস্বাদন থাকে না, স্বল্প হইলেই মিষ্ট হইয়া থাকে, সুতরাং স্বল্প পরিমিত সুবোধ ব্যক্তি বিজ্ঞগণ) আমার বক্ততার তাৎ- পর্ষ বোধগম্য করিয়া মনােনীত করিলেই আমি কৃতার্থ হইব। যাহা হউক, এক্ষণে তেজের বিষয় আমি সতেজে কহিতেছি শ্রবণ কর। সূর্যের কিরণ তেজঃপদার্থ নহে, তবে কিরণমধ্যে যেপর্যন্ত তেজের সত্তা আছে সেইপৰ্যন্ত তাহার আধিক্য বোধ হইয়া থাকে। কচি- পধুমর্থি জ্ঞান-রত্নাকর গ্রন্থের পরিশিষ্ট পাঠ করিয়া উত্তমরূপে বুন্ধি পরি . চলম কয়। .
পরমার্থ জ্ঞান রত্নাকর । ৭৫ দিব সাহায্যে বহু স্থানব্যাপী কিরণসমূহকে স্বল্প স্থাব্যাপী করিতে পারিলেই দারা তেজঃ পদার্থ বাহুল্যৰূপে প্রকাশিত হয়। কিরণ পদার্থ, তেজাদি সমুদায় ভুত প্রকাশক। বিবেচনা করিয়া দেখ, তেজ পদার্থ যদি ঊর্ধদিগে ক্রমশঃ অধিক পরিমাণে থাকিত, তবে এক ক্রোশ উচ্চ সমুদীয় পৰ্বতশৃঙ্গ তুষারাচ্ছাদিত থাকে কেন? বরং পর্বতশৃঙ্গ বরফাচ্ছাদিত না হইয়া পৃথিবীমণ্ডল চিরকাল নীহারমণ্ডিত থাকিত। অপিচ কোন সময়ে কক জন ফরাসী ব্যোমযান অারো- হপূর্বক প্রায় দুই ক্রোশ ঊর্ধ্বে উঠিয়াছিলেন, কিন্তু তঁহাদিগের ব্যে মনস্থিত জল, দুগ্ধ তৈল প্রভৃতি সমুদায় তরল দ্রব্য অতিশয় শীতল হইয়া ইষ্টকের ন্যায় কঠিন হইয়াছিল ; ইহা এতদ্দেশীয় কৃত বিদ্য জনগণের মধ্যে অনেকেই অবগত আছেন। সুতরাং অধিক উন্ধে যে তেজঃপদার্থ অধিক পরিমাণে নাই, তাহা সৰ্ব্বতোভাবে প্রমাণীকৃত হইল । বােধ চাৰ্য। মহাশয় ! পৃথিবীর অভ্যন্তরে-ত তেজ পদার্থ আছে; ইহা আগ্নেয়গিরির অগ্নীরণ দ্বারা সঞ্জমাণ হইতেছে। তবে পৃথিবীর উপর জল ও জলের উপর তেজ আছে ইহা কি প্রকারে সঙ্গত হইতে পারে ? সুবােধসিদ্ধান্ত। ওঁহে বোৰাচাৰ্য্য! সুৰ্য নারায়ণদেব হইতে পৃথিবী পৰ্ব্বত বৃক্ষ ও জীবদেহ প্রভৃতি যত প্রকার জড় পদার্থ সৃষ্ট হইয়াছে, সেই সমস্ত পদার্থের অভ্যন্তরে ও জল বায়ু তেজঃপ্রভৃতি ভূতসমুহ ঠিক পূর্বোক্ত ভাবে অবস্থিতি করিয়া সৃষ্টিকাৰ্য্যের অনি- চনীয় কৌশল প্রকাশ করিতেছে। ইহাকেই শাস্ত্রকারের। পঞ্চ- ভূতের পঞ্চীক্রিয়া বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন। সে যাহা হউক, ইহার সত্যতা প্রমাণার্থ সত্যধৰ্ম্মের (ষটচক্র গ্রন্থে।) মৰ্ম্মানুসারে আমি তােমার আপন দেহের তেজাদি ভূত সকল উপ পৰি যে ভাবে বর্তমান অাছে তাহার সত্তা স্থির করিয়া দিতেছি, তুমি মনোযােগপুর্বক শ্রবণ করিয়া সংশয়নে কর। ওহে বোৰাচাৰ্য্য ! পৃথিবী জল তেজঃ প্রভূতি ভূত সমুহ উপ- এ ২
৭৬
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর
পরি যে ভাবে সমস্ত দ্রব্যে অবস্থিতি করিতেছে জীবগণের দেহমধ্যেও
ঠিক যে সেই ভাবে থাকিয়া দৈহিক কাৰ্য্য পরিচালন করিতেছে ইহা
আপনার উত্তমরূপে বুঝিতে পারিলে সৃষ্টিবিষয়ে আমি যাহা বর্ণনা
করিয়াছি তাহার সত্যতা প্রমাণ হইবেক। অতএব তদ্বিষয়
প্রকাশ্যৰূপে কখিতেছি, আপনারা শ্রবণ করুন।
জীবদেহের মৃত্তিক।
মনুষ্যের গুহ্য-সমদেশে যে মূলাধার চক্র আছে তন্মধ্যে পৃথিবীর
অধিষ্ঠাত্রী দেবতা ব্ৰহ্মাত্মক এক শিশু আছেন; তৎ সাহায্য গুহ্যদ্বার
দিয়া মৃত্তিকাস্বৰূপ মল নির্গত হয়।
ঐ জল।
মূলাধার চক্রের কিঞ্চিৎ উর্ধে অর্থাৎ লিঙ্গসমদেশে সাধিষ্ঠান নামক
শিচক্রে জলধিষ্ঠাত্রী বরুণ দেবতা আছেন, তৎসাহায্যে লিঙ্গদ্বার
দিয়া জলস্বৰূপ মুত্র নির্গত হয়।
ঐ তেজঃ ।
লিঙ্গ চক্রের কিঞ্চিৎ ঊর্ধে মণিপুর নামক নাভিচমধ্যে যে অগ্নি-
দেবতা আছেন, তৎসহায্যে মনুষ্যের ভুক্ত দ্রব্যাদি জীর্ণ হইয়া
থাকে।
ঐ বায়ু।
নাভিচক্রের কিঞ্চিৎ উর্ধে অনাহত নামক হৃদয়পগে যে বায়ু দেবত
আছেন, তৎসাহায্যে জীবের নিশ্বাস প্রশ্বাসাদি কার্য নির্বাহ হয়।
ঐ আকাশ।
হৃদয়পগের কিঞ্চিৎ উ: অর্থাৎ কণ্ঠসমদেশে বিশুদ্ধ পরে যে
আকাশমণ্ডল আছে, সেই আকাশবের (ইন্দ্রের সাহায্যে কণ্ঠ
হইতে কম্পোজাম এবং জীবের চিত্ত স্থিরীকৃত হয়।
ঐ চন্দ্রমগুল।
বিশুদ্ধ পয়ের কিঞ্চিৎ উর্ধে অর্থাৎ যুগলের মধ্যভাগে দ্বিদল
পমধ্যে অর্থাৎ উভয় ক্ষুদ্র মন্তঙ্কের মধ্যে যে স্থান হইতে দীর্ঘীভূত
* ঠিক সমধ্যে অথচ মস্তকের পশ্চাদ্ভাগে।
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। ৭৭ মস্তিস্ক উৎপন্ন হইয়াছে সেই স্থানে (বা তাহার কিঞ্চিৎ নিম্নদেশে ) চন্দ্র দেবাত্মক মন অবস্থিতি করিতেছেন। ঐ মনের সাহায্যে জীব দর্শন শ্রবণ ও অনুমানাদি দ্বারা বিবিধ প্রকার জ্ঞান লাভ করিয়া থাকেন। ঐ শুক্রমণ্ডল। যুগলের কিঞ্চিৎ উর্ধ্বে অর্থাৎ করোটিমধ্যে (মস্তকের পশ্চাদ্ভাগে) যে ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক আছে তাহাকেই শুক্ৰদেবাত্মক অহঙ্কার বলিয়া জানিবেম। এই মস্তিষ্ক অধিক পরিমাণে ক্ষয় প্রাপ্ত হইলে মনুয্যের রগ ঢিলা হইয়া থাকে। ঐ বুধমণ্ডল। ক্ষুদ্র মস্তিষ্কের কিঞ্চিৎ উর্ধে অর্থাৎ করোটিমধ্যে (মশুকের পুরো ভাগে) যে বৃহন্মস্তিষ্ক আছে তাহাকেই বুধদেবাত্মক বুদ্ধি বলিয়া অবগত হইবেন। এই মস্তিষ্কের আধিক্য বশতঃ যাহার ললাট দেশ উন্নত হয়, তিনি অতিশয় বুদ্ধিমান হইয়া থাকেন। ঐ প্রকৃতি পুরুষ ৰা সুৰ্য্যমণ্ডল। ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক যে প্রকার দুই অংশে বিভক্ত, বৃহন্মস্তিষ্কও সেই প্রকার দুই অংশে বিভক্ত হইয়া রহিয়াছে। ঐ উভয় যুগ্ম মস্তিষ্কের গ্রন্থি স্থানের নিকট দুইটি পরম রমণীয় স্থান • আছে। ঐ দুই স্থানকে শৈগণ শিবস্থান, বৈষ্ণবগণ বিষ্ণুনিকেতন, এবং তত্ত্বজ্ঞানি মুনিগণ ব্ৰহ্মাণ্ডৰূপ প্রকৃতি পুরুষের নির্মল স্থান বলিয়া বর্ণনা করি- রছেন। বস্তুত মহাভারত শাস্ত্রে বেদব্যাস যে প্রকার জরাসন্ধের দেহকে দুই অংশে বিভক্ত বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন; চক্ষু কর্ণ নাসি- কা ও মস্তিস্কাদির সহিত সকল মনুষ্যের দেহ সেই প্রকার দুই অংশে বিভক্ত হইয়া রহিয়াছে। ঐ দুই অংশ দেহের মধ্যে দক্ষিণাংশ পুরুষ মাংশ স্ত্রী, আবার প্রকারান্তরে পশ্চাদংশ পুরুষ ও পুরো- বৰ্ত্তি জংশ স্ত্রী বলিয়া নিশ্চিত হয়। এই আমি আপনাদিগের নিকট এত হ্মাণ্ডস্থ পৃথিব্যাদি ভূতগণ ও চন্দ্র শুক্র বুধপ্রভৃতি গ্রহ- * মস্তিষ্কমধ্যে জীবের মনোবুদ্ধিরূপ দুইটি সুক্ষদেহের এখিনি।
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর।
গণ উপর্যপরি যে ভাবে অবস্থিতি করিতেছে তাহা ষটচক্র গ্রন্থের
মৰ্ম্মানুসারে জীবদেহের সহিত-ঐক্য করিয়া বিশেষৰূপে বর্ণনা করি-
লাম। জীবগণের দেহমধ্যে বাহ্য পদার্থসমূহ যথা স্থানে সন্নিবেশিত
অাছে বলিয়া শাস্ত্রকারের। এদেহকে ক্ষুদ্র ব্রহ্মাণ্ড বলিয়া বর্ণন।
করিয়াছেন।
ইতি সংক্ষেপে সৃষ্টি প্রক্রিয়া কথন নামক ষষ্ঠ অধ্যায়।
সপ্তম অধ্যায়।
••
[ হে পাঠক মহাশয়গণ ! জীবগণের দেই স্কুল সূক্ষম কারণভেদে
যে ভাবে তিন প্রকারে বিভক্ত হইয়া আছে ; সুবোধসিদ্ধান্ত মহাশয়
বক্তৃতাচ্ছলে তাহারই যে কিছু বর্ণনা করিয়া কহিয়াছিলেন সম্প্রতি
আমি তাহা কহিতেছি আপনারা মনোযোগপূৰ্ব্বক শ্রবণ করুন।
স্থূল দেহের বিবরণ।
সুবোধসিদ্ধান্ত। হে মহাশয়গণ ! চক্ষুঃ কর্ণ নাসিকা ও ইস্ত পদাদি
অঙ্গ প্রত্যঙ্গবিশিষ্ট মনুষ্যের স্কুল দেই যে কি প্রকার, তাহা জন্মান্ধ
ব্যতীত আপনারা সকলেই দর্শন করিয়াছেন; সুতরাং তদ্বিষয়
এস্থলে বর্ণনা করিবার প্রয়োজন নাই। তথা শাস্ত্রকারের। এই
স্থূল দেহকে যে এক প্রকার বৃক্ষ বিশেষ বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন
তদ্বিষয়ক একটি গীত শ্রবণ করুন।
বাউলের সুর।
চৌদ্দ গোয়া বৃক্ষ এটি।
গড়েছেন ভগবান দেখিতে কি পরিপাটি।
এ গাছের মাথা মুল; মূল শিকড় শিখচুল ,
দ্বিতীয় খণ্ডে 'নৃদেহ নির্ণয়” নামক প্রবন্ধে এ
এতৰিয় বিশেষরূপে
বর্ণনা করিবার কল্পনা আছে।
এতদ গ্রন্থের
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর।
কর পদ চারি ডালে রয়েছে পাতা কুড়িটি। ১।
কেশব ঘায়ে বলে; এ গাছের মধ্যস্থলে ;
ভাবের বেটাতে ঝুলে ; অাত্মাৰূপ ফল আছে দুটি। ২।
সাধন-আকর্ষী ধরে ; যদি কেউ পড়তে পারে ।
তার তারে তারে তারে; যেটি খায় তার সমান দুটি। ৩।
ভক্তি প্রেমের সোপান ধরে , এ গাছে উঠলে পরে ;
ফল পাবে নিজ করে, তখন আর রবে না দুটি। ৪।
সূক্ষম দেহের বিবরণ।
10
মুৰোধসিদ্ধান্ত। হে মহাশয়গণ ! উপরে দুইটি প্রতিমূৰ্ত্তির মধ্য
দেশে যে শুক্লবর্ণ রেখা দর্শন করিতেছেন, তাহাই মনুষ্যের ধমনী
বা স্নায়ুনিৰ্ম্মিত সূক্ষমদেহের স্থূলাবয়ব। ঐ দুই দেহমধ্যে অন্তঃকরণ
অবস্থিতি করিতেছে। ফলত মনুষ্যের স্থূল দেহমধ্যে (সম্মুখ ও
পশ্চাদ্ভাগে) মনোবুদ্ধির অবাসস্বৰূপ ঐ যে দুইটি দেহ রহিয়াছে;
তাহার একটি দেহের মূল ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক এবং অন্যটির মূল বৃহম্মস্তিষ্ক
হইলেও হৃদপিণ্ড বলিয়া জানিবেন। যে দেহটি ছােট মস্তিষ্ক হইতে
উৎপন্ন হইয়াছে সেইটি মেরুদণ্ডের ছিদ্র মধ্যে প্রবিষ্ট হইয়া মূলাধার
* একটি মনুষ্যর সম্মুখ ও পশ্চাদ্ভাগে।
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। পর্যন্ত বিস্তীর্ণ হইয়া অাছে ও তাহা হইতে চারিটি বড়ং শাখ। উৎপন্ন হইয়া হস্ত পদে গমনপূর্বক অঙ্গুলিপৰ্য্যন্ত বিস্তীর্ণ হইয়া রহি- আছে, এবং প্রত্যেক পরাস্থির মুলদেশে ঐ দেহ হইতে এক গোছা শাখ। উৎপন্ন হইয়া দেহের সাবয়বে গমন করিয়াছে। এই দেহমধ্যে যে চৈতন্য প্রতিবিম্ব আছেন ভঁহাকেই জীবের মন বলিয়া অবগত হইবেন। আর যে দেহটি হৃদপিণ্ড হইতে উৎপন্ন হইয়াছে সেটিও মূলাধার পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এবং তাহাহইতেও চারিটি বড়ং শাখা উৎপন্ন হইয়া হস্ত পদে গমন করত অঙ্গুলি পর্যন্ত বিস্তীর্ণ হইয়া আছে। এই দেহমধ্যে যে চৈতন্য প্রতিবিম্ব আছেন, তঁাহাকেই জীবের বুদ্ধি বলিয়া অবগত হইবেন। ঐ উভয় সূক্ষ দেহের অব- য়ব হইতে ৭২০০০ দ্বিসপ্ততি সহস্র প্রসবিকা নাড়ী (ক্ষমং ধমনী) উৎপন্ন হইয়া সৰ্ব্ব শরীরে ব্যাপ্ত হত স্কুল দেহের ন্যায় অবিকল অকারবিশিষ্ট হইয়া রহিয়াছে। এবং ঐ ৭২০০০ বায়ত্তর হাজার প্ৰসৰিকা নাড়ী হইতে লক্ষ২ সূক্ষ নাড়ী উৎপন্ন হইয়া দেহের চৰ্ম্মো- পরি বিস্তীর্ণ হইয়া আছে ; মনুষ্যগণ তাহা চক্ষুদ্বারা দর্শন করিতে সক্ষম হয়েন না। সেই সমস্ত সুক্ষং ধমনীর এক একটি মুখ এক একটি লোমকূপ। একটি অশ্বথপত্র জলে পচিলে পর সূক্ষমং শিরা দ্বারা সেই পত্রের অবয়ব যে প্রকার দৃষ্ট হয়; মনুষ্যের সূক্ষম দেহের সূক্ষমং ধমনীমূহ সেই ভাবে স্কুল দেহের অবয়ব রক্ষা করিতেছে। বিৰাহকালে বরণ করিবার সময়ে বরের কোলে কন্যা উপযুক্ত হই। লে যে ভাবে দণ্ডায়মান থাকে, স্থূল দেহমধ্যে ঐ দুইটী সুক্ষ দেহের মুলাবয়ব অবিকল সেই ভাবে দণ্ডায়মান আছে। অর্থাৎ বড় দেহ- টীর হৃদয়স্থানে ছোট দেহটীর মস্তক, রহিয়াছে, এতন্নিমিত্ত বরণের সময়ে কন্য। বরের হৃদয়স্থান পর্যন্ত উন্নতা হইলেই সর্ব সাধারণ লোক কহিয়া থাকেন যে ৫ র কন্যা বেশ মানিয়েছে বা উপযুক্ত সংঘটন হইয়াছে।” এবঞ্চ পুরােহিত মহাশয় বরের উত্তরীয় বরে সহিত যে প্রকারে কন্যার বস্ত্রে গ্রন্থি দিয়া তদুভয়ের ঐক্যতা সম্পা- দন, করেন, সেই প্রকার হৃদপিণ্ড হইতে দুইটি মােটা শির উৎপন্ন •• পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। ৮১ হইয়া মস্তকে গমনপুৰ্ব্বক গ্রন্থির ন্যায় হওত ঐ দুই সুক্ষ দেহের ঐক্য- তা সম্পাদন করিয়াছে। এতন্নিমিত্ত কন্যা বরাপেক্ষা অনেক ছোট হইলেও বরের অর্ধাঙ্গ বলিয়া পরিগণিত হয়। অার কন্যার বন্ত্রের সহিত একখণ্ড বক্সমধ্যে হরীতকী বিভীতকীপ্রভৃতি যে প্রকার কতৃক গুলি ফলমূল বদ্ধ থাকে সেই প্রকার হৃদপিণ্ডের নিকট যে ফুসফুসী (বায়ৰাধার বা হৃদয়পদ্ম) আছে তন্মধ্যে কতকগুলি গুটিকা রহিয়াছে। ব্রহ্মানন্দ ভোগকালীন (খােলাতে খই ফুটিবার মত) সেই ছােট গুটি- কাগুলি অান মাখা হয়। ইহা ধারণা মন্ত্রীর সাহায্যে সুষুপ্তি রাজ্ঞীর প্রথমাবস্থা অবগত হইতে পারিলেই সুন্দররূপে বোধগম্য হইতে পারিবেক। বস্তুতঃ হৃদপিণ্ডের সহিত বায়বধারের (হৃদয়পরে) যে সংযােগ ও তন্মধ্যে যে কতকগুলি গুটিকা অাছে তাহার অবৰোধার্থ শাস্ত্রকারের প্রাগুক্ত পুটলীটি কন্যার বস্ত্রে বাধিয়া দিবার প্রথা প্রচলিত রাখিয়াছেন। হে মহাশয়গণ! এক্ষণে আৰ্যজাতির বৈবাহিক আচার ব্যবহারের কিঞ্চিৎ নিগঢ় তাৎপর্য বুঝিতে পারিলেন কি না? এই প্রকারে শাস্ত্রোদিত প্রায় সমস্ত আচারবিষয়ক কোন না কোন নিগঢ় তাৎপর্য আছেই স্মাছে, তাহার কোন সন্দেহ নাই। সম্প্রতি আৰ্যদিগের অাচার ব্যবহার আধুনিক সভ্য ভিমানি দিগের চক্ষুশূল হইয়াছে। ইহার। ইংরাজদিগের আচার ব্যবহারকে সভ্যতার পরাকাষ্ঠা বিবেচনায় ইংরাজি বস্ত্র পরিধান, কমোডে মলত্যাগ, কাগজদার। শৌচক্রিয়া সম্পাদন, টেবিলে অন্নভোজন ও পুত্র কন্যাদিগের বৈবাহিক কাৰ্য্যে ইংরাজীমতে অার ব্যবহার করিতেছেন। এমন কি, আনি রাজধানী কলিকাতার ফোন ক স্থানের একটি ক্ষুদ্র গলিমধ্যে একটি যুবককে আটপৌরে ইজার পরিধান করিতে দেখিয়াছি; কিন্তু ঐ কএকটি যুবক আৰ্যসন্তান কি গোমেষ ডিক্রজের সন্তান তাহা জ্ঞাত নহি। যাহা হউক, এতক্রপ সত্যাভিমানি যুবকেরা উত্তমরূপে বুঝিয়াছে, যে আৰ্য- দিগের অপেক্ষা ইংরাজদিগের আচার ব্যবহার সকলই উত্তম। টু ;
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। এমন কি, ইংরাজের। যদি বৃক্ষে আরােহণপূৰ্ব্বক অপীনদেশ উত্তোলন করিয়া মৰুৎক্রিয়া সম্পাদন করেন, তবে ইহারা মার্জিত বুদ্ধির তেজ- স্বিতায় অবশ্যই কহিবেন যে, ইহা সদৰ বটে; যেহেতুক ঊর্ধ্বদেশে অপীনবায়ু পরিত্যাগ করিলে কোন প্রকারে গন্ধানুভূত হইবার সানা নাই। কিন্তু ইংরাজের য়ে অধ্যাপি তদ্রুপ অাচরণ করেন মাই, ইহা কেবল সভ্যাভিমানিপিগের দুরদৃষ্ট বলিয়া জানি- সম্প্রতি ইহারা পুত্রকন্যাদিগের বিবাহকালীন প্রাচীন বীতানুসারে তাহাদিগকে শোলানিতি টোপর ও পতিময়ূর প্রদান করিতেও লজ্জিত হয়েন; কিন্তু ইংরাজদিগের সুন্দর সুন্দরীরা আর- ‘পুৰ্ব্বক শোলানিৰ্ম্মিত টোপর (টুপি) ও পাতিময়ুর সৰ্ব্বদা ব্যবহার করিতেছেন। বিরির। এক্ষণে ধুচুনী রা সাজীর মত সেকেলে টুপি মাথায় দিয়া কবরী আচ্ছাদন করিতে বুঝি লজ্জা বােধ করেন, এতন্নি- মিত্ত অনেকেই আৰ্যদিগের বিবাহিতা কন্যার ন্যায় মস্তকের পুরো- ভাগে বনির্মিত পাতিময়ুর সদা ব্যবহার করিতেছেন। যাহে- বেরা বহু পরিশ্রমে সংস্কৃত পাঠ করিয়া শাস্তীদি হইতে উত্তম২ রত্ন সংগ্রহপূৰ্ব্বক জগতের অশেষ বিধ কল্যাণ সাধন করিতেছেন। এ দিগে সভ্যাভিমানিরা সংস্কৃত ভাষাকে ম্যাজিক ওয়াড (কুহক- রাক্য) বলিয়া স্মৃণা প্রকাশ করেন। ছি! ছি! সে যাহা হউক, স্নায়ুনিৰ্ম্মিত ঐ দুই সূক্ষম দেহের মধ্যে প্রথমটির অভ্যন্তরে যে মজ্জা ধাতু আছে, সৰ্বব্যাপী চৈতন্য সহকারে তাহাই মনুষ্যের মন বলিয়া কথিত হয়। এবং দ্বিতীয় সূক্ষম দেহটির অভ্যন্তরে যে মেদেধাতু (অথবা অনিৰ্দেশ্য বর্ণবিশিষ্ট কোন ধাতু) অাছে চৈতন্য সহকারে তাহাকেই জীবের বুদ্ধি বলিয়া জানিবেন। মনোবুদ্ধির আবাসস্বৰূপ ঐ দুইটি সূক্ষ দেহের অকৃতি অৰ্যজাতিরা সিন্দুর দ্বারা অঙ্কিত করিয়া বৈদিক মতে খাতা, কড়িকাষ্ঠ ও লক্ষীপ্রভৃতি দেব দেবীগণের পুজা করিয়া থাকেন। অৰ্যেরা যে ভাবে ঐ দুইটি দেহের আকৃতি সিন্দুরদ্বারা অঙ্কিত করেন তাহাই পুৰ্ব্বোক্ত প্রতি রুতির প্রথমে অঙ্কিত রহিয়াছে। ইংরাজের মনকে বিশুদ্ধ চৈতন।
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। ৮ ৩ ? দার্থ বলেন , কিন্তু অামরা তাহ কোনক্রমে স্বীকার করিতে পারি না। বিবেচনা করিয়া দেখুন, এক জন ভদ্রলোক স্বীয় বৈঠকখানায় উপবেশনপূৰ্ব্বক বিবিধ প্রকার জ্ঞানজনক বাক্যদ্বারা অনেকের চিত্ত্ব বিনােদন করিতেছিলেন, এমত সময়ে অভ্যাস বশতঃ তিনি দুই তিন bষক মদ্যপান করিষা প্রলাপ বাক্য কহিতে অৱক্ত করিলেন ; তঁাহার পূর্বের দেবভাব একেবারে অন্তর্হিত হইয়া পশুভাবের আবির্ভাব ইল। অতএব যখন মা িমাদক দ্রব্য সেবন করিলে তাহার পর মাণুর সহিত অন্তঃকরণের পরমাণু বিমিশ্রিত হইয়া মনুষ্যের মন বিকৃত হয়, ইহা প্রতিদিবস অনেকের প্রত্যক্ষভূত হইতেছে, তখন আৰ্যশাস্ত্রে মনুষের অন্তঃকরণ frড় মিশ্রিত বলিয়া যে বর্ণিত অাছে তাহাই যথার্থ। চৈতন্যপদার্থ অবিক্রয়, সমবায় সম্বন্ধে তাহাতে কোন প্রকার পরমাণু মিশ্রিত হইবার সম্ভাবনা নাই। সুত- রাং মনুষ্যের মজ্জাধাতুতে মদ্যাদির পরমাণু বিমিশ্রিত হইয়যে অন্তঃকরণের ভাবান্তর অপাদান করে তাহা সৰ্ব্বতোভাবে সিদ্ধ হইল। শাস্ত্রে জীবের সূক্ষনদেহকে সপ্তদশাবয়ব বলিয়া বৰ্ণনা করিয়াছেন। যথা পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয়, পঞ্চ কৰ্ম্মেন্দ্রিয়, পঞ্চ বায়ু এবং মন ও বুদ্ধি । এতন্মধ্যে শ্রোত্র ত্বক চক্ষু জিহ্বা ণ এই পাঁচটি জ্ঞানেন্দ্রিয় ও হস্ত *দ অস্থি গুহ্য লিঙ্গ এই পাঁচটি কৰ্ম্মেন্দ্রিয় বলিয়া কথিত হয় । এবঞ্চ প্রাণ অপান ব্যান উদান সমান এই পঞ্চ প্রকার বায়ু পঙ্গু প্রাণ বলিয়া কথিত আছে। সে নাসিকাস্থিত বায়ুর নাম প্রাণ, পায়ুস্থিত বায়ুর নাম অপান, সমস্ত শরীরব্যাপী বায়ুর নাম ব্যান; কণ্ঠ- স্থিত বায়ুর নাম উদান এবং উদর প্রয্যের পরিপাককারী বায়ুর নাম সমান। 'এই সপ্তদশাবয়ব সুক্ষন শরীরকে কোন শাস্ত্রকার লিঙ্গ- দেহ বলিয়াও বর্ণনা করিয়াছেন। যাহা হউক, ইলেকট্রিক ট্যালি- গ্রাফের কাৰ্যকৰ্ত্ত। যেমন এক স্থানে উপবেশনপূর্বক বিদ্যুদ্ধৰ্ম্মি তারের দ্বারা নানা স্থানের সম্বাদাৰি অান প্রদান রিতেছে তদ্রুপ জীবের মন প্রাগুক্ত সুক্ষ দেহে অবস্থিত করিয়া সূক্ষাৎ পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। ধমনীর মধ্যস্থিত বিদ্যার দেহের সাবয়বের শুভাশুভ বিবরণ পরিজ্ঞাত হইতেছেন। কিন্তু জড় উপাধি থাকাতে সেই মন আপনি যে কি প্রকার তাহা সহজে জ্ঞাত হইতে পারেন না। পরমার্থ জ্ঞানরত্নাকর গ্রন্থের পরিশিষ্টে মমকে জ্ঞাত হইবার কারণ যে একখানি মানসিক ক্রিয়াৰূপ দর্পণের নাম উল্লেখিত হইয়াছে সেই মানসিক ক্রিয়ার মস্তিষ্ক আলোড়ন করিলে মন আপনি অপি- নাকে উত্তমরূপে জ্ঞাত হইতে পারেন। মস্তিষ্কের ঐরূপ আলোড়ন ক্রিয়াকে ইংরাজ ব্যবচ্ছেদকেরা পলসেশন অথবা কঙ্কসন কহিয়া থাকেন। আমি সেই মানসিক ক্রিয়াৰূপ দর্পণখানি সুতন আবিস্কার করিয়াছি বটে, কিন্তু সর্ব সাধারণের নিকট তাহা প্রকাশ করা অবিধেয়। বোধাচাৰ্য। মহাশয়। আপনি যখন হৃদয়ভাণ্ডারের দ্বার উদ- ঘাটন করিয়া অকাতরে সত্যরত্ন প্রকাশ করিতেছেন, তখন ঐ মান- সিক ক্রিয়াৰূপ দর্পণখানির বিষয় প্রকাশ করিতে বাধা কি আছে? সুবোধসিদ্ধান্ত। ওহে বোধাচাৰ্য্য! তাহা প্রকাশ করিয়া কহিতে যে বাধা অাছে তাহা কহিতেছি শ্রবণ কর। যে প্রকার শরীরের কোন বেদনাস্থানে তীব্রতর ঔষধ (তোটালিজের অটিাপ্রভৃতি) প্রদান করিলে তারা কিঞ্চিৎ বিশেষ উপকার হয়, কিন্তু যে স্থানে বেদন নাই সেই স্থানে উক্ত ঔষধ প্রদান করিলে সদ্য ক্ষত হইবার সম্ভাবনা থাকে; তজপ যে সকল যুবকের মস্তিষ্ক কোমল আছে, অর্থাৎ যাহাদিগের বয়ঃক্রম পঞ্চবিংশতি বৎসর অতিক্রম করে নাই, তাহারা ঐ মানসিক ক্রিয়াধারা মস্তিষ্ক পরিচালন ক্রিয়াতে রত থাকিলে তারা তাহাদিগের কোন প্রকার পীড়। জামবার বিলক্ষণ সস্তাবনা অাছে । যাহাদিগের বয়ঃক্রম ত্রিংশৎ যা চত্বারিংশৎ বৎসর পরিপূর্ণ হইয়াছে, তাহাদিগের নিকট প্রকাশ করিতে বাধা মাই। অতএব যাহার ইচ্ছা হইবেক তিনি কলিকাতার শোভাবাজারস্থ পুশুকলিয়ে আমার নিকট অগিত হইলেই জ্ঞাত হইতে পারিবেন। কিন্তু যদি কেহ সেই মানসিক ক্রিয়ার 'একবার মস্তিষ্ক নির্মল পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। ৮৫ করেন, তবে চোরেরা তাঁহাকে চোর, জুয়াচোরেরা জুয়াচোর, মিথ্যা- বাদিরা মিথ্যাবাদী, মুখের মুখ, বিদ্বানের বিদ্বান, পাগলেরা পাগল এবং জ্ঞানিরা তঁাহাকে জ্ঞানী বলিয়া জ্ঞান করিবেন। অর্থাৎ ঈশ্বরে- পাসনাম্বার। মস্তিষ্ক নিৰ্মলীকৃত হইলে জীব স্বয়ং একখানি নির্মল দর্পণস্বৰূপ হইয়া বিবিধ প্রকার জনগণের স্বভাবের প্রতিমূৰ্ত্তিধারী হয়েন। অন্য মনুষ্যের কথা দূরে থাকুক, ভগবান শ্রীকৃষ্ণকেও সৰ্ব্ব সাধারণ লোক তাদৃশ প্রকার জ্ঞান করিয়াছিলেন। তথাচ শ্রীমদ্ভাগ- বতের দশম স্কন্ধে মাল্লনমিশনি নৃণাং নরবর স্ত্রী• Tং স্মরো মূৰ্ত্তিমান গোপনাং স্বজনেসতাং ক্ষিতিভুজাং শাস্তা, স্বপিত্রোঃ শিশু। মৃত্যুর্ভোজ পতেৰ্বিরাড় বিদূষং তত্ত্বং পরং যোগীনাং বৃষ্ণী পরদেব- তেতি বিদিতোরঙ্গ: গতঃ স্বাগ্রজঃ। অর্থাৎ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যখন অগ্রজের সহিত কংসের রঙ্গভূমিতে প্রবেশ করেন, তখন তিনি মল্লগণের দৃষ্টিতে বজ্র ও অসাধারণ জন- গণের দৃষ্টিতে নরশ্রেষ্ঠ এবং কামার্থিনী নারীগণের দৃষ্টিতে মূৰ্ত্তিমান কর্প ও শ্ৰদামাদি বয়স্য গোপসকলের দৃষ্টিতে স্বজন (বন্ধু) ও অসৎ রাজাগণের দৃষ্টিতে শাসনকর্তা এবং পিতা মাতার দৃষ্টিতে শিশু ও ভােজপতির দৃষ্টিতে মৃত্যু (যম) ও অন্যান্য অজ্ঞলোকের দৃষ্টিতে বলহীম বালক ও যােগিগণের দৃষ্টিতে পরতত্ত্ব (পরমেশ্বর) এবং বৃষ্ণিগণের দৃষ্টিতে পরম দেবতা এইরূপ ভিন্ন ভাবে বিদিত হইয়া- ছিলেন। পরমার্থ সাধনদ্বারা চিত্ত নির্মলীকৃত হইলে নানা প্রকার ভাবমুক্ত মনুষ্যেরা যে ভঁহাকে আপন মনের ভাবানুসারে দর্শন করে তাহা সম্প্রতি যুক্ত বাবু কেশবচন্দ্র সেন মহাশয়ের বিষয় পর্যালােচনা করিয়া দেখিলেই যথেষ্ট হইবে। অর্থাৎ আজি কালি কেহং তাহাকে খ্রীষ্টিয়ান, কেহ বা ব্রহ্মজ্ঞানী, কেহ বা নাস্তিষ্ক, কেহ বা বিদ্বান, কেহ ৰা গৌরাঙ্গ, কেহ বা যিশুখৃীষ্ট, কেহ বা ধৰ্ম্মবিপ্লকারী বলিয়া বিৰে- রথ বিজ্ঞান রান্না কর । চনা করিতেছেন। এই আমি আপনাদিগের নিকট সূক্ষমদেহের বিবরণ এক প্রকার ক্ষমৰূপে বর্ণনা করিয়া কহিলাম ; এক্ষণে কারণ দেহের বিবরণ কহিতেছি শ্রবণ করুন। কারণদেহের বিবরণ। সুবোধসিদ্ধান্ত। মনুষ্যের স্থূলদেহ যে প্রকার আকারবিশিষ্ট মুক্ষন ধমনীর সহিত মইও সেই প্রকার আকারবিশিষ্ট বটে; কিন্তু কারণদেহ সে প্রকার নহে। ইহার আকৃতি অবিকল শিবলিঙ্গ অথবা যিশুখীষ্টের ক্রশসদৃশ ; অথচ স্থূল সূক্ষমদেহের অভ্যন্তরে দিব। নিশি নৃত্য কবিতেছেন। বেদমতে চৈতন্য সহকারে মায়াময় এই কারণদেহ ব্যষ্টি জগদীশ্বর বলিয়া কথিত হয়েন। এই দেহের অ কৃতি শিবলিঙ্গ কি যিশুখৃষ্টের কুশসদৃশ তাহা উত্তমরূপে নিশ্চয় করিতে পারা যায় না। কোন শাস্ত্রে এই কারণদেহকে বুদ্ধির পরি নাম বিশেষ, মায়া বা আনন্দময় কোষ বলিয়াও বর্ণনা করিয়াছেন। ফলত আমরা ধ্যানদ্বারা উত্তমরূপে জ্ঞাত হইয়াছি যে, যে শক্তিতে জীবের কারণদেহ দিবানিশি নৃত্য করিতেছেন সেই শক্তির সহিত সূৰ্যমগুলের কোন বিশেষ সম্বন্ধ আছে। এতন্নিমিত্ত ব্যাসদেব মহাভারতের মােক্ষধর্ম পাধ্যায়ের অনেক স্থলে প্রথম ও শেষ রাত্তিতে সমাধি সাধন করিতে উপদেশ প্রদান করিয়াছেন। কেননা প্রথম ও শেষ রাত্রিতে জীবদেহের সহিত পৃথিবী ও সূর্যের পূর্ব পশ্চিমদিগে সমসূত্রপাত থাকে; সাধকগণ পরীক্ষা করিয়া দেখি- লেই ইহার সত্যতা বুঝিতে পারিবেন! • বোধ হয় পৃথিবীর পুৰ্বাভি- মুখে গতিহেতু কষ্পশষন্ত্রের (দিক্ নিৰূপণ যন্ত্রের) কাটার সহিত উত্তর দক্ষিণদিগের যে প্রকার কোন বিশেষ সম্বন্ধ আছে; তদ্রুপ সুৰ্য্যের পূৰ্ব্বাভিমুখে গতিহেতু জীবের কারগদেহের সহিত পূৰ্ব্ব পশ্চিমদিগে সূর্যের সেই প্রকার সম্বন্ধ থাকিলেও থাকতে পারে।
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। ; যাঁহারা ইংরাজী ভাষায় খগোল বিবরণ উত্তমরূপে পাঠ করেন নাই, উহারা সুর্যের গতি শ্রবণ করিয়া চমকৃত হইবেন না। অংশে বিভক্ত রাশিচক্রের মধ্যে সমুদায় গ্রহগণের সহিত সুৰ্য ৬৬৮ ষটষষ্টি বৎসর আট মাসে এক অংশ গমন করেন ; ইহাকেই অয়- নাংশ কহা যায়। যংকালে আৰ্যদিগের জ্যোগ্রিন্থ প্রথম বিরচিত হইয়াছিল তৎকালে ১ বৈশাখ ও ১ কার্তিক তারিখে দিবা রাত্রির পরিমাণ সমান হইত। এতন্নিমিত্ত ১ বৈশাখ অৰ্য্যদিগের নুতন বর্ষ বলিযা প্রসিদ্ধ হিয়াছে। তদবধি একাল পর্যন্ত সূৰ্য ২০ অংশ গমন করাতে কুড়ি দিন পশ্চাৎ পড়িবায় অধুনা চৈত্র ও আশ্বিন মাসের ১০ তারিখে দিবা রাবির পরিমাণ সমান হইতেছে। আবার সূর্য এক অংশ গমন করিলে (আর কতিপয় বৎসর পরে) চৈত্র ও অশ্বিন মাসের ৯ তারিখে বিা রাত্রির পরিমাণ সমান হইবেক; ইহা ইংরাজ ও এতদ্দেশীয় জ্যোতির্বিদের। উত্তমরূপে অবগত আছেন। সে যাই হউক, প্রকৃতির সহিত চৈতন্যস্বৰূপ পুরুষের দিবানিশি সঙ্গম হইতেছে বলিয়া শাস্ত্রে যে বর্ণনা অাছে, কারণদেহ বিষয়ে সম্প্রতি তাহাই যথার্থ বলিয়া জ্ঞাত হউন। জীবদেহে প্রকৃতি (কারণদেহ) ভগবতীর যােনিস্বৰূপ, এবং পুরুষ মহাদেবের লিঙ্গম্বৰূপ বলিয়া শাস্ত্রে কথিত আছে। রাত্রিকালে একটি জ্যোতিরিঙ্গণ কীটের আলোকময় কারণ দেহ দর্শন করিলেই তাহা শিবলিঙ্গ সদৃশ কি না ? এবং প্রকৃতি পুরুষের সঙ্গম হইতেছে কি না? তাহা উত্তমরূপে দর্শন করিতে সক্ষম হই- বিশেষতঃ ষটচক্রগ্রন্থে মূলাধার চক্রে যে যযানিলিঙ্গ এবং ফাহাদেব পশ্চিমাস্য হইয়া দিবানিশি বিহারসুখ অনুভব করিতে- ছেন বলিয়া বর্ণনা আছে তাহাও অযথার্থ নহে। যিনি পরমাত্মাকে জ্ঞাত হইতে অভিলাষী হইবেন, তিনি সৰ্ব্বাগ্রে আপনার মূলাধার চক্র ধ্যানদ্বারা কারণদেহের ঐ নৃত্যক্রিয়া ( প্রকৃতি পুরুষের সঙ্গম ক্রিয়া) জ্ঞাত হইতে যত্নবান হউন। ঐ নৃত্য ক্রিয়াধারা ভুক্ত দ্রব্যের জীর্ণকাৰ্য্য, নিশ্বাস প্রশ্বাস, রক্তের গতিবিধি বেন।
৮৮ ফারমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। এবং তৎসাহায্যে জীবের গমনাগমন ও বাক্য কথনাদি সমুদায় দৈহিক কাৰ্য্য নিষ্পন্ন হইতেছে। ইংরাজ ব্যবচ্ছেদকের। কারণ দেহের ঐ নৃত্যক্রিয়াকে জার্কিং বলিয়া নাম প্রদান করিয়াছেন। এবঞ্চ মহাত্মা রাম প্রসাদ সেন মহাশয়ের বিরচিত অনেক গীতের, মধ্যেও ঐ তত্ত্ব প্রকাশিত রহিয়াছে। আমি আপনাদিগের বিজ্ঞান সিদ্ধির নিমিত্ত এলে তাহার দুই চরিটী গীত কহিতেছি শ্রবণ করুন। যথা- হৃদয়কমল-মঞ্চে দোলে করাল বদনী। মন পবনে দোলাইছে দিবস রজন। আবির রুধির তায়, কি শোভা হয়েছে গায়, কাম আদি মোহ যায়, হেরিলে অমনি যে দেখেছে মায়ের দোল, সে ছেড়েছে মায়ের কোল, রামপ্রসাদের এই বোল, ঢোলমারা বাণী। মা আমার অন্তরে অছি। তোমায় কে বলে অন্তরে শ্যাম মা আমার অন্তরে আছি। তুমি পাষাণমেয়ে বিষম মায়া কত কাচে কাচাও কাচ। উপাসনাভেদে তুমি প্রধান মূৰ্ত্তি ধর পাঁচ। যে পাচেরে এক করে ভাবে, তার হাতে কোথা ৰাচ ।। বুঝে ভার দেয় যে জন, তার ভার নিতে ইচ। যে কাঞ্চনের মুল্য জানে, সে কি ভুলে পেয়ে কঁাচ ॥ প্রসাদ বলে আমার হৃদয়, অমল কমল সাচ। তুমি সেই সাঁচে নির্মিত হয়ে, মনোময়ী হয়ে নাচ। * যিনি প্রকৃতির আন্দোলনক্রিয়া অবগত হইয়া আত্মিানন্দ ভোগ করেন তিমি জীবন্মক্ত সুতরাং উহাকে ভীর জঠরযন্ত্রণা ভোগ করিতে হয় না। । সাধক যৎকালে সমাধিতি হইয়া একমাত্র ব্রহ্মরূপে অবস্থিতি করেন তৎ- কালে উহার অত্মিনিন্দ (প্রকৃতির নৃত্যক্রিয়াজনিত সুখ বোধ রহিত হইয়া ব্ৰহ্মানন্দ ভোগ হইয়া খকে।
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর।
৮৯
নরে আমার এই মিনতি।
তুমি পড়া পাখী হও করি স্তুতি।
অনুবুগিরিসুতা, পড়লে শুনলে দুদিডাতি।
ওরে, জনি মা কি ডাকের কথা, না পড়িলে ঠেঙ্গার গুতি।
কালী কালী কালী পড় মন, কালীপদে রাখ প্রীতি।
ওরে, পড় বাবা আত্মািরাম, অাত্ম জনার কর গতি।
উড়েৎ বেড়েং বেড়য়ে কেন বেড়াও ক্ষিতি।
ওরে, গাছের ফলে কদিন চলে, কররে চারি ফলে স্থিতি।
রামপ্রসাদ বলে ফলগাছে, ফল পাবি মন শোন যুকতি।
ওরে, বসে মুলে * কালী বলে, গাছ নাড়া দেও নিতি
.
এবার কালী কুলাইব।
কালী কসে কালী বুঝে লব।
কালী ভেবে কালী হয়ে কালী বলে কাল কাটাব।
আমি কলিকালে কালের মুখে, কালি দিয়ে চলে যাব।
সে যে নৃত্যকালী কি অস্থিরা, কেমন করে তায় রাখিব।
আমার মনোযন্ত্রে বাদ্য করি হৃদিপদ্মে নাচাইব।
কালীপদের পদ্ধতি যা মন তোরে তা জানাই।
আছে আর যে ছটা বড় স্ট্যাটা, সে কটাকে কেটে দিব ।
প্রসাদ বলে অার কেন মা, আর কতগো প্রকাশিব।
অামার কিল খেয়ে কিল-চুরি । তবুকালীং বাত না ছাড়িব ।
তক্তার দোলনায় উপবেশন করিয়া দুলিলে যেৰূপ সুখানুভূত হয়,
কারণদেহের নৃত্যার। যদিও সাধকের সেই প্রকার সুখানুভব হয়
* মন্তকে অবস্থিতি করিযা ।
। প্রকৃতির নৃত্যক্রিয়াতে যত বেগ দেওয়া যায় সে সমস্তু তাহাতেই উপ্ত হই।
মাকে, অর্থাৎ প্রকৃতির নৃত্যের সহিত সেই বেগের পুনরাবৃত্তি কার্য লক্ষিত হয় না।
১
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর বটে তথা কোতরা গুড় ও মিছরী এতদুভয় এক পদার্থ হইলেও তদুভয়ের আস্বাদনে যে বৈলক্ষণ আছে; তক্তার দোলনা ও প্রকৃতির নৃত্যক্রিয়া জনিত সুখেরও সেই প্রকার বিভিন্নতা বুঝিতে পারি- বেন। এতন্নিমিত্ত শাস্ত্রকারের ঐ সুখকে অতীন্দ্রিয় মুখ বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন। যে হেতুক তাহা শ্রোত্র ত্বক চক্ষুঃ জিহবা স্ত্ৰণ এই পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয়ের অতীত, এবং মন বা বুদ্ধিও সেই সুখকে প্রকাশ করিতে পারেন না; সে সুখ জ্যোতিঃপদার্থের ন্যায় স্বয়ং প্রকাশিত হয়েন; সুতরাং তাহাকেই জ্ঞানপদার্থ বলিয়া অবগত হইবেন। অর্থাৎ ঐ সুখপদার্থই সচ্চিদানন্দ স্বৰূপ পরমাত্মা । এতমিমি অনেক শাস্ত্রে প্রকৃতিকেই তত্ত্বজ্ঞানোদয়ের কারণ-স্বৰূপ বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন। জীবের কারণদেহ দিবানিশি উচ্চলিত হইলেও ঐ মুখস্বৰূপ পরমাত্মাকে সৰ্ব্বদা অচল বলিয়া জানিতে পারা যায় এবং শাস্ত্রেও (ব্রহ্মাণ্ডপুরাণে শ্রীকৃষ্ণের উক্তিতে ) সেইরূপ কথি আছে। যথা স্বয়মুচ্চলিতে দেহে দেহী ন্যস্ত সমাধিনা। নিশ্চলং তং বিজানীয়াৎ সমাধিস্য লক্ষণং । অর্থাৎ সমাধিদ্বারা জীবের কারণদেহ স্বয়ং উচ্চলিত হইলেও ( উৰ্দ্ধাধোভাবে নৃত্য করিলেও) সাধক সেই সুখস্বৰূপ পরমাত্মাকে নিশ্চল বলিয়া জ্ঞাত হয়েন, ইহাই (যথার্থ) সমাধিসিদ্ধ পুরুষের অস। কাৰ্য্যশাস্ত্রে শিবলিঙ্গ স্থাপনের যে বিধি বর্ধিত হইয়াছে ও মোক্ষ, প্রদ বারাণসীক্ষেত্রেই যে তাহার প্রাদুর্ভাব দৃষ্ট হয় এবং ইংরাজদিগের প্রত্যেক গীৰ্জামন্দিরের উপরিভাগে শিবলিঙ্গ সদৃশ যে ক্রুশ যন্ত্র দৃষ্ট হইয়া থাকে, তাহার কারণ এই যে, যে মনুষ্য যোনিলিঙ্গস্বৰূপ প্রকৃতি পুরুষের যথার্থ তত্ত্ব অবগত হইতে পারেন, তাহার মােক্ষ লাভ হইয়া থাকে। নচেৎ কাশীতে মৃত হইলেই অথবা গীর্জাঘরে প্রার্থনা করিলেই যে মনুষ্যের মােক্ষ লাভ হয় তাহা নহে। বােধ হয় পৌত্তলিক মত প্রচারিত হইবার সময়ে কোন সিদ্ধ পুৰু পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। হইয়ছি। রাণসী ক্ষেত্রে শিবলিঙ্গ স্থাপন করিয়া তত্ত্ব ব্যাখ্যাদ্বারা মনুষ্য গণকে তত্ত্বজ্ঞান প্রদান করিতেন; এম্নিমিত্ত কাশীক্ষেত্র মােক্ষদ বলিয়া প্রসিদ্ধ হইয়াছে। অবোধভউ। মহাশয়। ইতঃপূর্বে অাপনি পৌত্তলিক মতের প্রতি দ্বেষ প্রকাশ করিতেছিলেন ; আবার এক্ষণে শিবলিঙ্গের মাহাত্ম্য -কীৰ্ত্তন করিলেন। অদ্য অধিক পরিমাণে বিজয়া সেবন করিয়াছেন কি না, তাহা প্রকাশ করিয়া বলুন। সুবাসিন্ধান্ত। মন্দ নয়। তবে না কি অবোধের বোধ নাই? ওহে অবোধ ! অামার বিলক্ষণৰূপে এত স বোধ হইতেছে যে, তুমি যােনি লিঙ্গের নাম শ্রবণে সমধিক মুরসিক হইয়া পূৰ্ব্ব-কথা বিস্মৃত কেননা পূৰ্বে চতুর্থাধ্যায়ে আমি কহিয়াছি যে, শাস্ত্রে তত্ত্বজ্ঞান প্রদানের যন্ত্রস্বৰূপ যে কএক খনি প্ৰতিমূৰ্ত্তি (ছবি) প্রসিদ্ধ ছিল , ব্রাহ্মণেরা আপনাদিগের জীবিকার নিমিত্ত প্রবঞ্চনাপুৰ্ব্বক চালি কলা ফুল দিয়া সেই গুলির পুজা করিবার প্রথা প্রচলিত করি- আছেন, ইহা তােমার হয় কি? যদি স্মরণ না থাকে, তবে এই অবধি স্মরণ করিয়া রাখ, অৰ্য্যশাস্ত্রের সত্যতা প্রমাণার্থে আমি আরো কএক খানি দেবদেবীর প্রতিমূর্তি নিগুঢ় তাৎপর্য প্রকাশ করিয়া কহিব, তাহা শ্রবণ করিয়া তুমি আমাকে পৌত্তলিক ৰিবে- চনা করিও না। বোৰাচাৰ্য। মহাশয়। কারণদেহের অবৰোধাৰ্থ শাস্ত্রকারের। যে শিবলিঙ্গ স্থাপনের বিধি দিয়াছেন এবং তন্নিমিত্ত ইংরাজেরাও যে গীর্জামন্দিরে ও গলায় ঘঁথিয়া ক্রশস্ত্র ব্যবহার করিতেছেন, তাহা সুন্দররূপে বােধগম্য হইতেছে কিন্তু কালীমূৰ্ত্তি স্থাপনের উদ্দেশ্য যে কি প্রকার তাহা অামারদিগের বোধগম্য হইতেছে না, অতএব তদ্বিষয় প্রকাশ করিয়া আপনি আমাদিগের সংশয়পনোদন করুন। সুবোধসিদ্ধান্ত। ওহে বোধাচার্য্য! তুমি উত্তম প্রশ্ন করিয়াছ। এক্ষণে আমি তদ্বিষয় প্রকাশ করিয়া কহিতেছি তুমি মনােযােগ- পুৰ্ব্বক শ্রবণ কর। কালীর পদতলে সদাশিব যে ভাবে শয়ন করিয়া २
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর
ns
১
bility
UUHAIRelIL,
[
urrent
| life
liviWAII
...।
If ( 1-
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। অাছেন, সাধক কারণদেহকে ( ব্যষ্টি জগদীশ্বরকে) জ্ঞাত হইয়া অবিকল সেই ভাবে শয়নপূর্বক জীবাত্মার সহিত পরমাত্মার ঐক্য রূপ সাধনানুষ্ঠান করিবেন। অর্থাৎ মহাদেবের উরু ও উরস্থলে যে ভাবে কালীর উভয় পদ স্থাপিত আছে; সাধক অাঁকার মায়া- চক্রকে (কারণদেহের নৃত্যক্রিয়াকে) সেই ভাবে রাখিয়া সবিকল্প অনিন্দ ভোগ করিবেন। ইহার অন্যথাচরণ করিলে অনিন্দ ভোগে সমূহ ব্যাঘাত উপস্থিত হয়। শুক্লপক্ষে নটবর মহাদেবের এবং কৃষ্ণপক্ষে শ্রী কৃষ্ণের নটবর প্রতিমূৰ্ত্তিই প্রশস্ত। কারণদেহের নৃত্য- ক্রিয়ার অববোৰাৰ্থ বলিয়া মহাদেব কালী শ্ৰকৃষ্ণ ও গৌরাঙ্গভূ- তির নৃত্যক্রিয়া শাস্ত্রাদিতে বিশেষরূপে বর্ণিত আছে। এই আমি আপনাদিগের নিকট কালী ও কৃষ্ণের নটবর প্রতিমূর্তির বিশেষ তত্বের সহিত কারণদেহের বিবরণ প্রকাশ করিয়া কহিলাম। অতঃ- পর ধ্যান ধারণা সমাধিপ্রভৃতি অষ্টাঙ্গ যােগ সাধনার। যে প্রকারে জীবাত্মা ও জগদীশ্বরকে জানিতে পারা যায় তাহা প্রকাশ করিয়া কহিতেছি শ্রবণ করুন। *খুন। যে সমস্ত ব্রাহ্মণেরা এতদ্বিষয় জ্ঞাত আছেন, তঁাহাদিগকে সমুদায় পৃথিবীর আধিপত্য প্রদান করিলেও তাহারা এ বিষয় অকপট হৃদয়ে কাহারও নিকট প্রকাশ করেন না; সুতরাং ফল ত্যক্ষ করিতে না পারিয়া অনেকেই শাস্ত্র বাক্যে অশ্রদ্ধা প্রকাশ করিয়া থাকেন। কিন্তু আমি সে প্রকার লোক নহি; প্রৰু ঋনাপুৰ্ব্বক খাল ঘড়া গড়া অথবা পাড়ু কি লাব প্রত্যাশা করি । না , সুতরাং বহুকালারধি দিবানিশি যোগসাধন করিয়া যে ফল লাভ করিয়াছি; সরুল হৃদয়ে,তাহা সুবোধ অথচ ভক্তলোকের নিকটে প্রকাশ করিতে কুণ্ঠিত হই না। ইতি দেহতত্ত্ব প্রকাশ নামক সপ্তম অধ্যায়।
পরর্থ বিজ্ঞান রকির অষ্টম অধ্যায়। ; ( হে পাঠক মহাশয়গণ। সাধনাভাবে এতদ্দেশীয় ভট্টাচাৰ্য মহা- শয়গণ বিবিধ শাস্ত্র পাঠ করিয়াও যে তাহার ফললাভ করিতে পারেন স। ইহা অত্যন্ত আক্ষেপের বিষয়। কেন পারিবেন ? শাস্ত্রে লিখিত অাছে যে- শাস্ত্ৰাণ্যধ্যিাপি ভবন্তি মূখা যস্তু ক্রিয়াবান পুরুষঃ সবিদ্বান। সুবীৰ্যমপৌষধ মাতুরাণাং ন নামমাত্রণ করত্যরেগিং। অর্থাৎ যেমন কোন বীৰ্য্যশালি ঔষধের নাম করিবামাত্র রোগির রোগ নষ্ট হয় না, কিন্তু সেই ঔষধ রােগিকে সেবন করাইতে হয়; তদ্রুপ ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়ন করিলেই মনুষ্য পণ্ডিত হইতে পারেন না; বরং মূর্ষ হইয়া থাকেন; কিন্তু সেই শাস্ত্রানুযায়ি কৰ্ম্ম করিলে অর্থাৎ শাস্তুবাক্যের মর্মানুসারে সাধনা করিলে তাহার ফল লাভ করিয়া পণ্ডিত হয়েন। হায় কি দুরদৃষ্ট! হে পাঠক মহাশয়গণ ! মহারত্নস্বৰূপ এত দ্রুপ সংস্কৃত কৰিত থাকিতেও অস্মদ্দেশীয় ভট্টাচাৰ্য মহাশয়ের। বিদ্বান হইয়াও যে জ্ঞানী হইতে পারেন না এবং যাহারা বিভাতীয় ভাষায় কৃতবিদ্য হইয়া (বিঃ এঃ) উপাধিপ্রাপ্ত হইয়াছেন তঁাহারাও যে কেবল অঙ্ক ও ভূমিপরিমাণ বিদ্যা ব্যতীত অন্য কোন বিদ্যার ফল কহিতে পারে না; ইহা অত্যন্ত আক্ষেপের বিষয়! যাহা হউক, সম্প্রতি যে প্রকারে সাধনা করিলে অত্যল্প দিবসের মধ্যে জগদীশরকে জাত হইতে পারা যায় সুবোধসিদ্ধান্ত মহাশয় বক্ত তাচ্ছলে তাহা ষে প্রকারে বর্ণনা করিয়া কহিয়াছিলেন, সম্প্রতি আমি তাহা কহিতেছি আপনারা মনোযোগপূর্বক শ্রবণ করুন। সুবোধসিদ্ধান্ত। হে মহাশয়গণ ! যম, নিয়ম অসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধ্যান, ধারণা ও সমাধি এই অষ্টাঙ্গ যোগ যে প্রকারে পরমার্থ বিজ্ঞান বা কর । সান করিতে হয়, তাহা আমি শাস্ত্র মতে বিশেষৰূপে বর্ণনা করিয়া কহিতেছি। কিন্তু তন্মধ্যে যে দুইটী অত্যাশ্চর্য কৌশল আছে তাহা কোন শাস্ত্রকার প্রকাশ্যৰূপে বর্ণনা করেন নাই, সুতরাং এস্থলে আমিও তাহা সর্ব সাধারণের নিকট প্রকাশ করিয়া কহিব না। যিনি সেই কৌশল এক দিবসে জ্ঞাত হইয়া এক পক্ষের মধ্যে যোগসাধনের ফল প্রত্যক্ষ করিতে অভিলাষী হইবেন, তিনি কলিকাতার চিৎপুর রোড বাদ। বটতলার দক্ষিণ শ্ৰীযুক্ত বাবু বিশ্বম্ভর লাহার পুস্তকালয়ে প্রতি সোমবারে আমার সহিত সাক্ষাৎ করিলে কার্যসিদ্ধি হইতে পরিবেক। সুবােধসিদ্ধান্ত। হে মহাশয় গণ ! শাস্ত্রে কথিত আছে যে তত্রাহিংসাসত্যাস্তেয় ব্রহ্মচর্যাপরিগ্রহাঃ, যমাঃ । অথাৎ অহিংসা (কায়মনোবাক্যদ্বারা পরপীড়া পরিবৰ্জন) সত্য ( যথার্থ ভাষণ ) অস্তেয় (পরস্ব হরণ না করণ) ব্রহ্মচর্য ( অষ্টাঙ্গমৈথুন ৰজ্জন - যথা---স্মরণ, কীৰ্ত্তন, কেলি, প্রেক্ষণ, গুহ্যভাষণ, সঙ্কল্প, অধ্য- বসায়, ক্রিয়ানিবৃতি) ও অপরিগ্রহ ( সমাধি অনুষ্ঠানের অনুপযুক্ত বস্তু মাত্রের অসংগ্রহ) এই পাঁচ প্রকার অচারাম বলিয়া কথিত অাছে। কায়মনােবাক্যে পূৰ্ব্বোক্ত ঐ পঞ্চ যমানুষ্ঠানদ্বারা বিশুদ্ধচিত্ত না হইলে যোগসাধনের ফল প্রত্যক্ষ করিতে পারা যায় না। নিয়ম। মুৰোধসিদ্ধান্ত। হে মহাশয়গণ ! শব্ধে কথিত আছে যে- শৌচসন্তোষপঃ স্বাধ্যায়ের প্রণিধাননি, নিয়মা। অর্থাৎ শৌচ (মৃতিকাজলাদি দ্বারা বাহ্য শোচ ও ভাবশুদ্ধিদ্বারা অন্তরশৌচ) সন্তোষ (অদৃচ্ছ। লাভে সন্তুষ্টি ও অলভে অবিষাদ) তপশা ( পরিমিত ভোজন অথবা মনের একাগ্রতা) অধ্যয়ন (উপনিষদাদি গ্রন্থ পাঠ) ও ঈশ্বরে প্রণিধান { মানসােপচারে জগদীশ্বরের অর্চনা করণ)। এই পঞ্চ নিয়ম পালন না করিলে যােগসাধনে সমূহ বিঘ্ন উপস্থিত হয়।
রমার্থ বিজ্ঞান রত্না কর। সন। সুবোধসিদ্ধান্তু। হে মহাশয়গণ! শাস্ত্রে কথিত আছে যে— কয়চরণাদিসংস্থানবিশেষলক্ষণানি পদ্মস্বস্তিকাণীনি, আসননি। অর্থাৎ পদ্ম স্বস্তিক ভদ্রাসনাদি কোন প্রকার আসনে হস্ত পদাদির সংস্থান বিশেষকে অসন কহা যায়। যে প্রকারে হস্তপদাদি সংস্থান করিয়া যােগসাধন করিতে হয়, তাহার কৌশল জানিতে পারলে এক পক্ষের মধ্যে যােগসাধনের ফল, প্রত্যক্ষ করিতে পারা যায়। এই দেশীয় ভট্টাচার্য্যের হস্তপদাদি সংস্থানের যে উপদেশ প্রদান করেন, তাহ। সর্বৈব মিথ্যা। বোধ হয় সাধনাভাবে বেদান্তের টিকাকার মহাশয়ের ভ্রমপ্রমদিবশত ঐ ৰূপে হস্তপদাদি সংস্থান করিবার নিয়ম প্রচলিত হইয়াছে। প্রণায়াম। সুবােধসিদ্ধান্ত। হে মহাশয়গণ! শাস্ত্রে কথিত আছে যে- রেচকপুরককুম্ভকলক্ষণ প্রাণনিগ্রহেপয়া, প্রাণায়াম। অর্থাৎ চেক-পূরক- কুৰূপ প্রাণদমন করিবার উপায়কে প্রাণায়াম রুহা য়ায়। এতন্মধ্যে ক্রমেই বামনা সা পুটহইতে দক্ষিণ নাসাপুটে থবা দক্ষিণ নপুট হইতে ৰাম নাসাপুটে নিশ্বাস বায়ুর বহিনি- সরণকে রেচক কহা যায়। এবং পূর্বোক্ত প্রকারে প্রণবায়ুর অন্তু প্রবেশন পুরক বলিয়া কথিত হয়। আর অন্তঃ প্রবিষ্ট আর অন্তঃ প্রবিষ্ট বায়ুর নিরো ধকে কুস্তক কই যায়। অথচ শাস্ত্রে- ইয়া পুরয়েঘায়ুং মুঞ্চেদক্ষিণয়ানিলং। যাবৎ শ্বাসং সমাসীনঃ কুয়েং সুষময়া। অর্থাৎ যােখ পদ্মাসনাদি কোন প্রকার আসনে উপবেশনপূর্বক ৰামদিগের ইড়ানাড়ী জ্বর। বায়ু গ্রহণ কয়া দক্ষিণদিগের পিঙ্গল। নাড়ীদ্বারা সেই বায়ুকে পরিত্যাগ করিবেক এবং যতক্ষণ সেই বায়ুকে দেখে রাখিতে পারা যায় ততক্ষণ পর্যন্ত তাহাফে সুমুৱা নাড়ীতে নিয়োষ করিয়া রাখিৰেক। বস্তুতঃ যৎকালে যােগী যোগাভ্যাস করেন তৎকালে তিনি গুলফ ক পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। ০ দ্বারা স্বকীয় গুহ্যদেশ নিপীড়ন করিয়া প্রণিধারণাতে মূলাধারচক্র হইতে কুলকুণ্ডলিনী শক্তিকে উত্থাপনপূৰ্ব্বক সুষুম্নামা দিয়া স্বাধিষ্ঠান মণিপুর অনাহত বিশুদ্ধ ও অজ্ঞা এই ষটচক্র ভেদক্রমে সহস্রদল পদ্মমধ্যে পরমাত্মার সহিত তাহাকে যােজনা করেন ; তাহাতে সেই যােগির চিত্ত নিৰ্ব্বাত দীপশিখার ন্যায় অচল হইয়া পরমানন্দ রসপন করিতে থাকে; ইহাই প্রাণায়ামের চরম ফল। সগর্ভ ও অগর্ত ভেদে প্রাণায়াম দুই প্রকার। এতন্মধ্যে প্রণবের সহিত বাম নাসি- কায় বায়ু গ্রহণপূৰ্ব্বক সুষুম্না নাড়ীতে স্তম্ভিত করিয়া দক্ষিণ নাসিকা দ্বারা পরিত্যাগ করার নাম সগর্ড, আর প্রণব উচ্চারণ না করিয়া প্রাক্ত প্রকার রেচক পূরক-কুম্ভক-দ্বারা প্রাণনিরোধকে অগর্ভ কথা যায়। প্রাণায়ামার। কিঞ্চিৎ জিতশ্বাস না হইলে ধ্যান ধারণা সমাধি সাধন করিতেং বিবিধ প্রকার রোগ জীত হইয়া থাকে। প্রত্যাহার । সুবোধসিদ্ধান্ত। হে মহাশয়গণ ! শাস্ত্রে কথিত আছে যে - ইন্দ্রিয়াণাং স্ববিষয়েভ্য প্রত্যাহরণং, প্রত্যাহার। অর্থাৎ শব্দ স্পর্শ ৰূপ রস ও গন্ধ এই পঞ্চ বিষয় হইতে শ্রোত্র ত্বক চক্ষু জিহ্বা ও ঘ্রাণ এই পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের নিবারণ করাকে প্রত্যা- হার কহ। যায়। বিষয়হইতে ইন্দ্রিয়গণকে আকর্ষণ করিয়া অাত্মাতে স্থির করিয়া রাখিবার একটি চমৎকার কৌশল গুরু পরম্পরায় এতদ্দেশে প্রচলিত অাছে। যিনি উপযুক্ত গুরুর নিকট সেই কৌশল অবগত হইতে পারেন তিনি অচির-কলমধ্যে যোগসাধনের ফল লাভ করিতে সক্ষম হয়েন ; নচেৎ যােগসাধনকালে তঁাহার অন্তঃকরণ পুনঃ২ বিষয়ে প্রধা- বিত হইয়া অনর্থক সময় নষ্ট করে । ধান। সুবােধসিদ্ধান্ত। হে মহাশয়গণ ! বালককালে গুরু মহাশয়ের পাঠশালাতে অনেকেই কখ লিখিয়া থাকেন, কিন্তু কখর মধ্যে দুইটি ব লিখিবার প্রয়োজন কি?” ইহা যে কোন বালক কস্মিন- ৯৮ পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। কালে গুরুমহাশয়কে জিজ্ঞাসা করে না, তার কারণ এই যে, তৎ- কালে তাহাদিগের তাদৃশ বোধশক্তির অভাব থাকে। পরন্তু সেই সমস্ত লোক জ্ঞানবান হইয়া মাহেশগ্রামে যখন জগন্নাথ দেবের স্নান- যাত্রা দর্শন করিতে গমন করেন, তখন জগন্নাথকে ফুল কলা কিনিয়া দেন; কিন্তু “ জগন্নাথের পেটে মুখে একাকার ও গলা নাই কেন?” একথা যে অদ্যাপি কোন জগন্নাথ ভক্ত কাহাকেও জিজ্ঞাসা করেন না, ইহার কারণ কি ? বালকের ন্যায় বোধহীনতাকে তাহার কারণ কহিতে পারিবেন না। তবে এই একটি প্রবাদ বাক্য প্রচলিত আছে যে, * বিশ্বকর্মা যেমন কারিগর তাহা জগন্নাথেই জানা আছে। এই প্রবাদ বাক্যানুসারে বিশ্বকর্মার অপটুতাকেই যে তাহার কারণ কহিবেন তাহা ও যুক্তি সঙ্গত নহে। কেননা, যে বিশ্বকৰ্ম্মা স্বকীয় তীক্ষ বুদ্ধির ক্ষমতানুসারে কএক খানি সামান্য কাষ্ঠদ্বারা তৈলমন্ত্র (ঘনিগাছ) নিৰ্মাণ করিয়া জগতের অশেষবিধ কল্যাণ সাধন করিয়া- ছেন ; যে যন্ত্রের দর্প চূর্ণ করিতে গিয়া ইংবাজ বাহাদুরেরা হতবুদ্ধি কুওত দুই তিন বারে অনেক লক্ষ টাকা নষ্ট করিয়াছেন, সেই ঘনি- গাছ নির্মাণকৰ্ত্তা বিশ্বকৰ্ম্ম। যে ক একটি পুত্তলিকা নিৰ্মাণ করিতে গিয়া ক্রমশঃ তাহাদিগের গলা রাখিতে ভুলিয়াছিলেন, একথা কোন ক্রমেই বিশ্বাসযোগ্য নহে। তবে ইহার কারণ কি?-আপনারা যদি ইহার কারণ কহিতে পারিলেন না, তবে আমি কহিতেছি শ্রবণ করুন। ইহার কারণ গড়ডলিকা প্রবাহ। অর্থাৎ সকলে জগন্নাথ দর্শন করি- তেছে আমিও দর্শন করিলাম, সকলে ফুল কলা কিনিয়া দিতেছে আমিও কিনিয়া দিলাম, কেহ জগন্নাথের আকারের কথা জিজ্ঞাসা করে না, আমিও জিজ্ঞাসা করিব না। এই প্রকারে সকলেই সকলের ভাবের উপর নির্ভর করিয়া ধৰ্ম্মাচরণ করিতেছেন। কিন্তু যিনি ত্বজ্ঞানী হইতে অভিলাষী, তিনি এতদ্রুপ আচরণ না করিয়া সকল বিষয়ের তত্ত্বজিজ্ঞাসু হইবেন; নচেৎ তঁাহার আশা কোন ক্রমে ফলবতী হইতে পারিবে না। এক্ষণে জগন্নাথের পেটে মুখে একাকার ও গলা নাই কেন, তাহ
পরমার্থ f; জ্ঞান রত্নাকর
১০৯
স
।
1.., lll
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। কহিতেছি শ্রবণ করুন। জগন্নাথের প্রতিমূৰ্ত্তিটি ধ্যানের আকৃতি। বস্তুতঃ বৎকালে সাধক হৃদয়পদ্মেজগদীশ্বরকে দর্শন করিতে অভি- লাষী হইবেন, তৎকালে তিনি ধ্যানদ্বারা আপন মস্তককে হৃদয়ে প্রবিষ্ট করিয়া আপনাকেই জগন্নাথস্বৰূপ চিন্তা করিবেন। অর্থাৎ জগ- স্নাথের আকৃতি যে প্রকার পেটে মুখে একাকারবিশিষ্ট, সাধক অবি- কল সেই ভাবে অন্তমুখচিত্ত হইয়া আপনাকেই জগন্নাথস্বৰূপ চিন্তা করিবেন। নাভিপদ্মের উপরিভাগে যে ভাবে জগন্নাথের মুখ অঙ্কিত আছে, সাধক ইন্দ্রিয়সমূহকে দমন করিয়া হৃদয়ে গমনপূর্বক অবিকল সেই ভাব ধারণ না করিলে জগদীশ্বরকে জ্ঞাত হইতে সক্ষম হইবেন । এতন্নিমিত্ত শাস্ত্রকারের। ইন্দ্রদ্যুম্নকর্তৃক জগন্নাথের প্রতিমূৰ্ত্তি স্থাপিতা বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন। ইন্দ্রদ্যুম্ন শব্দের অর্থ ঐশ্বৰ্য বা ইন্দ্রিয় দমনকারী, অর্থাৎ শ্ৰোত্রাদি পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয় বা শব্দাদি পঞ্চ বিষয় দমনকারী। ধ্যানদ্বারা সম্মুখে জগন্নাথমূর্তি দর্শন করিলে কস্মিনকালেও কেই জগদীশ্বরকে অপরোক্ষে জ্ঞাত হইতে পারিবেন না; কিন্তু যিনি শব্দ স্পর্শ ৰূপ রস গন্ধ এই পাঁচটি বিষয়কে শ্রোত্র ত্বক চক্ষু জিহ্বা ঘ্রাণ এই পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয়ে লয়প্রাপ্ত করিয়া হৃদয়ে গমনপুৰ্ব্বক পশ্চাদুক্ত ধারণায় একাগ্রচিত্ত হওত অবিকল অন্তরে মুখ প্রবিষ্ট জগন্নাথের আকৃতির • ভাব অবলম্বন করিতে পারিবেন, তিনি আপন মনো- মধ্যস্থিত জগন্নাথকে জ্ঞাত হইতে সক্ষম হইবেন। শীন্ত্রে লিখিত কাছে যে তত্রাদ্বিতীয়বস্তুনিবিচ্ছদ্য বিচ্ছিদ্য অস্তরিন্দ্রিয়বৃত্তিপ্রবাহ, ধ্যানং। অর্থাৎ বিচ্ছিন্ন হইয়া অদ্বিতীয় ব্ৰহ্মৰস্তুতে অন্তঃকরণের যে বৃত্তি প্রবাহ তাহাকেই ধ্যান কহা যায়। হে মহাশয়গণ ! তালপটকায় অগ্নি প্রদান করিলে যে ভাবে পট, করিয়া তালপটকা ফাটিয়া যায়, পূর্বোক্ত প্রকারে কিছুদিন ধ্যান * এক্ষেশে যতগুলি জগন্নাথের প্রতিমূর্তি দেখিতে পাওয়া যায়, তন্মধ্যে মহেশ গ্রামের গাখটি বিশুদ্ধ ভাযুক্ত। •• পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। •• করিতে প্রথমতঃ সাধকের হৃদয় ও মূলাধারস্থানহইতে অবিকল সেই ভাবে বায়ু উৎক্ষিপ্ত হইয়া ভূমিকম্প হইয়াছে বলিয়া বোধ হইবেক। পশ্চাৎ তিনি জানিতে পারিবেন যে, ভূমিকম্প হয় নাই, কিন্তু দেহ- মধ্যে আমি স্বয়ং আন্দোলিত হইয়া একটি অনিৰ্ব্বচনীয় আনন্দ ভোগ করিতেছি; যে আনন্দের সহিত সূৰ্য নারায়ণদেবের সম্পূর্ণ সংশ্রব রহিয়াছে। ঐ আন্দোলন ক্রিয়াই প্রকৃতির নৃত্য বা মায়াচক্র ভ্রমণ এবং ঐ সবিকল্প আনন্দ পদার্থই প্রকৃতিসংযুক্ত ব্যষ্টি জগদী- শ্বর। সৌর ফাণের শুক্ল প্রতিপদাবধি সৌর চৈত্রের কৃষ্ণ চতুর্দশী পৰ্যন্ত কারণ দেহের ঐ আন্দোলন ক্রিয়ার কিঞ্চিৎ প্রাদুর্ভাব হয় । এতন্নিমিত্ত শাস্ত্রকারের। পূৰ্ব্বোক্ত সময়ে শ্রীকৃষ্ণের দোলযাত্রার বিধান বর্ণনা করিয়াছেন। এবং বোধ হয় তন্নিমিই দোলের সময়ে ঘোষপাড়া গ্রামে কর্তাভজাদিগের মহা সমারোহ হইয়া থাকে। ফলত আমি দুই বৎসর পরীক্ষা করিয়া জ্ঞাত হইয়াছি যে, শিবরাত্রি, শ্রীরামনবমী এবং শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী, ঝুলনযাত্রা, রাস, দোল ও ফুলদোলপ্রভৃতি যত গুলি পৰ্ব্বদিবস প্রচলিত আছে সেই পৰ্ব্বকালে কারণদেহের আন্দোলন ক্রিয়ার কিঞ্চিৎ প্রাদুর্ভাব হয়। সে যাহা হউক, যাহাদিগের উত্তৰূপে চিত্তশুদ্ধি হয় নাই তঁাহার। ধ্যান সাধনের পূর্বে কিছুদিন দিবানিশি ভগবানকে স্মরণ করিবেন, অথবা ভগবানের নাম মনে জপ করিয়া মনে২ সংখ্যা নিরূপণ করি- বেন, এবং কৌশলক্রমে জ্ঞাত হইবেন যে এককালে ভগবানের নামমাস্টারণ ও সংখ্যা নিৰূপণ এই উভয় ক্রিয়া কে সম্পাদন করি- তেছে। এতরি। সাধক আপনার মন যে দুই অংশে বিভক্ত তাহা পরােক্ষৰূপে জ্ঞাত হইতে পারিবেন, অপরোক্ষৰূপে জ্ঞাত হইতে পারিবেন না। যাহা হউক, পূর্বোক্ত প্রকারে কিছু দিবস জপদ্বারা চিত্তশুদ্ধি করিয়া (ঈশ্বর প্রবণচিত্ত হইয়া) তাহার পর কিছুকাল দিব। নিশি ধ্যান সাধন করিবেন। এই আমি আপনাদিগের নিকট * বোধ হর ইংরাজদিগের আবিস্কৃত নেপচুন নামক গ্রহের আকর্ষণ সম্বন্ধে ঐরূপ ভাবান্তর হয়। অৰ্যদিগের জ্যোতিগ্রস্থ প্রকাশের সময় ঐ গ্রহ ছিল না।
১০২ পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর ধ্যানের বিষয় স্পষ্ট করিয়া কহিলাম, অতঃপর ধ্যান ও সমাধির সহ- কারী ধারণার বিষয় কহিতেছি শ্রবণ করুন। ধারণ। সুবোধসিদ্ধান্ত। হে মহাশয়গণ ! শাস্ত্রে লিখিত আছে যে- অদ্বিতীয় বস্তু ন্যন্তরিন্দ্রিয়ধারণং ধীর। অর্থাৎ অদ্বিতীয় ব্ৰহ্ম বস্তুতে অন্তঃকরণের যে অভিনিবেশ তাহা কেই ধারণা কহা যায়। বস্তুতঃ যাহাতে চিত্ত অবধারণ করিয়া ধ্যান করিতে হয় তাহাকেই ধারণার বিষয় কই যায়। সগর্ভ ও অগর্ভ ভেদে ধারণা দুই প্রকার। এতন্মধ্যে সপ্ত মুখবিশিষ্ট অনন্ত নাগের ক্রোড়ে বিষ্ণু শয়ন করিয়া রহিয়াছেন, এবং বিষ্ণুর নাভিপদ্মের উপরিভাগে সৃষ্টিকৰ্ত্তা ব্ৰহ্ম। উপবিষ্ট ; এতক্রপ যে একখানি শাস্ত্রসিদ্ধ প্রতিমূর্তি প্রসিদ্ধ আছে কাহাই সগর্ভ ধারণার প্রতিকৃতি। সপ্তম অধ্যায়ে যে দুইটি সূক্ষম দেহের বিষয় উল্লেখ করিয়াছি, তাহার মধ্যে যে দেখটি ক্ষুদ্র মস্তি- স্কাবধি মূলধার পর্যন্ত বিস্তীর্ণ, ধমনী-নির্মিত সেই দেহটিকে সপ্ত মুখবিশিষ্ট অনন্তনাগ বলিয়া জানিবেন। দুই চক্ষু, দুই কর্ণ, দুই মাসিক ও বদন কমল এই সাতটি ইয়িদ্বার অনন্ত নাগের সপ্ত মুখ। অর্থাৎ ঐ সাতটি ইন্দ্রিয়ার পূর্ব্যেক্তি সূক্ষমদেহে ধমনীদ্বারা সম্বন্ধ আছে। আর যে দেহটি হৃদপিণ্ডহইতে মূলাধার পর্যন্ত বিস্তীর্ণ সেই দেহটিকে অনন্ত নাগের ক্রোড়ে শরিত বিষ্ণু বলিয়া জানির্ষেন। যদি কেহ এমত অপত্তি করে যে, প্রথম দেহটি নাগ বলিয়া কখিত হইবার কারণ কি?, তবে তাহার উত্তর এই যে; অনুবীক্ষণ যন্ত্রদ্বারা দর্শন করিলে পুরুষের এক ফোটা বীৰ্যমধ্যে যে চারি পাঁচটি সর্প- * এতদ্দেশে কৃষ্ণচন্দ্র কর্মকারের নির্মিত যে একখানি অনতদেবের প্রতিমূর্তি প্রকাশিত গাছে তাহার ভার বিশুদ্ধ নহে, যেহেতুক ঐ প্রতিমুরি পুরোভাগে যে সাতটি মুখ আছে তাহাই যথার্থ পশ্চাদ্ভাগে যে কতকগুলি মুখ অঙ্কিত অাছে, সেইখলি অশুদ্ধ। পারি ওয়াজ সাহেব ভারতবর্ষের প্রসিদ্ধ দে বলিয়তি দেব দেবীর প্রতিমূর্তি দর্শসহ দিরিলিজন (হিন্দুধর্ম) নামক যে গ্রন্থ প্রকাশ করি- য়াছেন, সেই গ্রন্থে যে,একখানি অনন্তদেবের প্রতিমূর্তি আছে সেইগুলি বন্ধ।
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। কৃতি দেহ দৃষ্ট হইয়া থাকে, সেই সর্পাকার দেহই স্ত্রীলোকের গর্ত্ত মধ্যে প্রবিষ্ট হইয়া ক্রমেই মনুষ্যাকারে পরিণত হয়। দুই তিন মাসের গর্ত দর্শন করিলে দৃষ্ট হইবেক যে, তন্মধ্যে হস্ত পদহীন প্রায় সর্পাকার বা বেঙাসির ন্যায় একটি দেহ রহিয়াছে। তদনন্তর স্ত্রী লােকের রজোদ্বারা ক্রমেই ঐ দেহটি হস্ত পদাদি অঙ্গ প্রত্যঙ্গবিশিষ্ট হইয়া মনুষ্যাকারে পরিণত হয়। যদিও ঐ সর্পকার দেহটি পুরুষের দেহহইতে বিনির্গত হইয়া স্ত্রী গর্ভে বিষ্ট হও মনুষাকারে পরিণত হয় বটে, তথা মস্তিষ্ক স্থানবধি মূলাধার স্থানপৰ্য্যন্ত যাবজ্জীবন ঐ দেহটি প্রায় সর্পাকারই থাকে। এই দেহমধ্যে অহঙ্কার সূক্ষৰূপে অবস্থিতি করিতেছেন। অহং জ্ঞানযুক্ত জীব নানা প্রকার অথচ সংখ্যাতীত (অনন্ত অপরিমিত) এতন্নিমিত্ত শাস্ত্র করেরা জীবকে অনন্ত নাগ বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন। •অপিচ বাইবেল শাস্ত্রে সর্পের প্ররােচনায় ইব নামী নারী উদ্যানের মধ্যস্থিত সদসজ, জ্ঞানদায়ক বৃক্ষের ফল ভোজন করিয়া পাপপঙ্কে পতিত হইল বলিয়া যে লিখিত আছে, তাহার ও অর্থ এই যে, সর্প কার মনের বাক্যে (ইচ্ছানুসারে) বুদ্ধিৰূপা নারী একেবারে মুগ্ধ হইয়া দেহৰূপ উদ্যানের ঠিক মধ্যস্থিত বৃক্ষের ফল (দেহের ঠিক মধ্যস্থিত ইন্দ্রিয়সুখ) ভোগ করিলেন। এতন্নিমিত্ত জগদীশ্বর ইব নারীকে কলিলেন যে, “ যে হেতুক তুমি আর অজ্ঞা লঙ্ঘন করিয়া নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল ভোজন করিয়াছ অর্থাৎ ইন্দ্রিয়সুখ ভোগ করিয়াছ, অতএব তুমি বেদনার সহিত বহু কষ্টে গর্ভমোচন করিব। এবং অদিমকেও কহিলেন “ অতঃপর তুমি ঘর্মাক্ত কলেবরে ভোজন (ইন্দ্রিয়সুখ ভোগ) করিবা ! সে যাহা হউক, যে দেহটি হৃদপিণ্ড হইতে উৎপন্ন হইয়াছে, সেই দেহটিতে চক্ষু কর্ণাদি কোন ইন্দ্রিয়-দ্বার নাই; কিন্তু তন্মধ্য জগ- ধীশ্বর (বিষ্ণু) সূক্ষাৰূপে অবস্থিতি করিয়! জীবের সমুদায় দৈহিক কার্য পরিচালন করিতেছেন। দেহের যে স্থানে যে দ্রব্যের প্রয়ােজন হয়, জগদীশ্বর একমাত্র ভুক্ত দ্রব্যের সারাংশ হইতে সেইং দ্রব্য পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। উৎপন্ন করিয়া যথাস্থানে সন্নিবেশ এবং জীবের ইচ্ছানুসারে গমনাদি সমুদায় কাৰ্য্য নিৰ্বাহ করিতেছেন, এই জন্যে শাস্ত্রকারের এই দেহ- টিকে বিষ্ণু বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন। বোধাচাৰ্য। মহাশয় ! জগদীশ্বর যদি সমুনায় কার্য পরিচালন করেন, তবে কি জীবের কিছুমাত্র কৃতি সাধ্য নাই ? সুৰোধসিদ্ধান্ত। ওহে বোধাচাৰ্য্য! জীব যৎকালে স্বভাবের অধীন হইয়া কোন প্রকার কাৰ্যানুষ্ঠান করিতে অভিলাষী হয়, তৎ. কালে জগদীশ্বব স্বয়ং তাহার কৃতিসাধ্যৰূপে পরিণত হয়েন। অর্থাৎ কারণদেহের আন্দোলন ক্রিয়ার সাহায্য ব্যতীত জীব গমনাগমন ও বাক্যকথনদি কোন কাৰ্য্য করিতে সক্ষম হয়েন না, সুতরাং শক্তিরূপে জগদীশ্বর সমুদয় কাৰ্য্য নিৰ্বাহ করিতেছেন, কিন্তু জীবের ইচ্ছাকেই সেই সমস্ত কার্যের কারণ বলিয়া জানিবেন। এই স্থলে কোন মহা- জনের রচিত একটি গীত শ্রবণ করিয়া সন্দেহ নিরাশ কর। তাল অাড়া ঠেকা। ৬৫ সকলি তােমার ইচ্ছা, ইচ্ছাময়ী তারা তুমি। আপনার কৰ্ম্ম অপিনি কর, লোকে বলে করি আমি। কারেও বা দেও পঙ্গু করে ; পারে গিরি লঙ্বিারে ; কারেও যা দেও শিবত্ব পদ ; কারেও কর অধোগামী ,, জগদীশ্বর যে কেবল জীবের ইচ্ছানুসারে তাহার কৃতিসাধ্যৰূপে পরিণত হয়েন, এমত নহে। জীবের ইচ্ছা না থাকিলেও তিনি তা- হার পাপ পুণ্যানুসারে সুখ দুঃখ বিধান ও অন্যান্য আবশ্যকীয় কাৰ্য্য নিৰ্বাহ করিয়া থাকেন। বিবেচনা করিয়া দেখ, যখন তুমি নিদ্রিত হও (অথবা জাগ্রত থাক) তখন তোমার নিশ্বাস প্রশ্বাস ও রক্তের গতিবিধি কাৰ্য কে পরিচালন করেন এবং নিদ্রাকালীন ঈশ্বর- ধারণা রহিত হইবামাত্র তোমার দুইটি মনঃ ( মনোবুদ্ধি উভয়ে) স্বাধীন হইয়া যখন তাহার একটি মন ব্যাঘ্রের আকার ধারণ করে, তখন অন্যটি (যে মনটির মধ্যে অহঙ্কার থাকে সেইটি) ব্যঘ্ৰি দৃষ্টে ভয়ে পলায়ন করিতে থাকে । কিন্তু মস্তিষ্ক স্থানে ঐ দুইটি দেহের পরস্পর ; ;
পরমার্থ বিজ্ঞান বাকর। সংযোগ থাকাতে তাহার একটি মনঃ কোনক্রমে পলায়নপর বা লুক্কায়িত হইতে পারে না। অর্থাৎ স্বপ্নকালে কেহ কখন ঋলয়ন বা আত্মগোপন করিতে সক্ষম হয়েন না। প্রত্যুতঃ যখন অত্যন্ত ভয়ে অভিভূত হয় তখন চৈতন্যস্বৰূপ জগদীশ্বর স্বয়ং তাহাদিগকে ধারণ পুৰ্ব্বক তদুভয়ের স্বাধীনতা বিনষ্ট করিয়া অহঙ্কারকে মহাভয় হইতে রক্ষা করিয়া থাকেন। এতদ্রুপ স্বপ্ন-ত তোমরা বহু দিবস অনুভব করিয়াছ। অতএব সমস্ত কার্য জগদীশ্বর যে পরিচালন করিতে- ছেন তাহাতে সংশয় কি আছে ? অপেভক্ট। মহাশয়! আপনার মতে জগদীশ্বর যদি স্বয়ং চুরি করিতেছেন, ডাকাতি করিতেছেন, মিথ্যা কথা কহিতেছেম ; তবে অাবার মনুষ্যগণ যে কেন তাহার ফল ভোগ করে, তাহা বোধগম্য হইতেৰ্ছে না, আপনি এ বিষয় স্পষ্ট করিয়া বুঝাইয়া দিন। বোধসিদ্ধান্ত। ওহে অরোধ ! বুদ্ধিমান ইংরাজ বাহাদুরের ও এই মতের প্রতি খন দোষারোপণ করিয়া থাকেন, তখন এ সকল বিষয় 'বোধগম্য করা তোমার সাধ্যায় নহে। বেদশাস্ত্রে এইরূপ লিখিত অাছে বলিয়া আমি যে ইহা প্রকাশ করিতেছি কেবল তাহা মহে; কিন্তু শক্তিৰূপে সমুদায় কার্য জগদীশ্বর য়ে স্বয়ং নিৰ্বাহ করি- তেছেন তাহা অপরোক্ষে জ্ঞাত হইয়া কহিতেছি, অতএর এতদ্বিষয়ে তুমি কোন প্রকার সংশয় করিও না। ভাল, আমি একটি করুণ জিজ্ঞাসা করি যদি তুমি এক ব্যক্তিকে বধ করিতে অভিরামী হইয়া শক্তভাবে অন্য এক ব্যক্তির সাহায্যে নিয়ে কৃতকাৰ্থ হও; তবে বিচারানুষারে কুত ব্যক্তির প্রাণের পরিবর্তে মোদির উয়ের মধ্যে কাহার শিও হওয়া বিধেম তাই তুমি পনি বিবেচনা করিয়া দেখ '; এতন্নিয়মে জগদীশ্বর জীবের ইচ্ছানুসা তাহার শক্তিৰূপে সমুদয় কার্যের পরিচালক হইলেও জীবপ্ন ে তাহাদিগের সদসং কর্মের ফক্সভাখী হঞ্জ তাই। তোমার লৱ- ৰূপে বোধগম্য হইতে পারবে। হে মহাশয়গণ! এক্ষণে যে প্ৰকাৰে সৰ্ডাৰণাৰু ফল লাভ করিতে ট পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। হয় তাই কহিতেছি শ্রবণ করুন। অনন্ত নাগের ক্রোড়ে যে ভাবে বিষ্ণু শয়ন করিয়া আছেন, এবং বিষ্ণুর নাভিপদ্মের উপরিভাগে যে ভাবে ব্ৰহ্ম। অবস্থিতি করিতেছেন, সাধক ধ্যানদ্বারা (অন্তমুখচিত্ত হইয়া) দুই ঐ সূক্ষমদেহকে অনন্ত ও বিষ্ণুস্বৰূপ এবং আপনাকে (অহ- কারকে) ব্ৰহ্মাস্বৰূপ ভাবিয়া ক্রমেই দেহাভিমান পরিত্যাগ করিবেন। যদি সৰ্ব্বতোভাবে দেহাভিমান পরিত্যক্ত না হয়, তবে ব্রহ্মার চারি দিগে যে ভাবে চারটি মুখ আছে সাধক অবিকল সেই ভাব ধারণ করিয়া অখণ্ডমণ্ডলাকার পরমাত্মাকে চিন্তা করিতে হাতেই (অখণ্ড মণ্ডলাকার আকাশমধ্যে) আপনি লয়প্রাপ্ত হইয়া স্থিরভাবে থাকি- বেন। কিছুদিন এইরূপ স্থিরভাবে থাকিতেং যদ্যপি তাহার সূক্ষম দেহের মধ্যে প্রণব (ওঁ) শব্দ উচ্চারিত হয়, অর্থাৎ সূত্ৰকৰ্ত্তন সময়ে চৰকাহইতে যে প্রকার শব্দ নির্গত হইয়া থাকে, সেই প্রকার অবি- চ্ছেদ (দীর্ঘ ঘন্টার শব্দের ন্যায়) শব্দ উচ্চারিত হয়; তবে তিনি সেই শব্দে মনঃসংযােগ করিয়া সৰ্বব্যাপি পরমাত্মাকে লক্ষ্য করত সৰ্ব্ব- ব্যাপি ভাব ধারণ করিবেন। তথা শাস্ত্রে - প্রণবোধঃ শরহাত্মা ব্ৰহ্ম তক্ষামুচ্যতে। অপ্রমনে বেজবং শরবত্তন্ময়ো ভবেৎ। অর্থাৎ প্রণবকে ধনু ও জীবাত্মাকে (মমকে) শর এবং সর্বব্যাপী ব্রহ্ম পদার্থকে লক্ষ্যস্থানস্বৰূপ বিবেচনা করিয়া অপ্রমত্ত ভাবে জীবাত্মারূপ শরকে ব্ৰহ্মৰূপ লক্ষ্যস্থানে বিদ্ধ করত ব্রহ্মময় হইয়া অবস্থিতি করি- বেন। সুক্ষদেহের ঐ ওঁ শব্দকে ইংরাজ ব্যবচ্ছেদকে মসকিউলার ফ” বলিয়া নাম প্রদান করিয়াছেন। যাহা হউক,এইরূপ স্থিরভাবে কিয়ৎকাগ অবস্থিতি করিতে যখন তঁাহার সেই ভাব অপগত হইবে তখন তিনি জানিতে পারিবেন যে, অামি যে আনজসলিল অব গাহন করিয়া অনিন্দময় হইয়া হিমি তাদৃশ অন কস্মিনকালেও উপভোগ করি নাই। ফলত সেই আনন্দ পদার্থই পরমাত্মা, প্রথ- মত প্রকৃতির সহিত সুক্ষদেহের ও শব্দৰূপে সবিকল্পে প্রকাশিত * সাধকের অঙ্গ স্পর্শ করলে ঐ শব্দ অন্য ব্যক্তির বোধগম্য হয়। = পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। • হইয়া তৎপরে নির্বিকল্পৰূপে প্রকাশিত হয়েন। ঐ শব্দের অব- বোধার্থ মহাদেব ও বলরামের হস্তে শিক্ষা এবং শ্রীকৃষ্ণের হস্তে বাঁশী আছে; নচেৎ কুচনী বা গােপিনীদিগের মনােরঞ্জনার্থনহে। কুমী ও গোপিনীকে পরমার্থতঃ প্রকৃতি বলিয়া জানিবেন । বোধাচাৰ্য্য। মহাশয়। শ্রীকৃষ্ণের বক্ষস্থলে যে ঐবৎসলাঞ্ছন নামক চিহ্ন আছে তাহা কি প্রকার, এবং তাহার উদ্দেশ্যই বা কি ? ইহা আমাদিগকে প্রকাশ করিয়া বলুন। সুবোধসিদ্ধান্ত। ওহে বোধাচাৰ্য্য! তুমি যদি আমার বক্তৃতার মৰ্ম্মানুসারে সাধনা করিয়া জগদীশ্বরকে অপরােক্ষৰূপে জ্ঞাত হইতে পরি, তাহা হইলে তোমাকে আর এ প্রকার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিতে হইবে না। তুমি শাস্ত্ৰসিদ্ধ যে বিষয়ের তৎপৰ্য্য জ্ঞাত হইতে অভিলাষ হইবে তৎক্ষণাৎ তাহা স্বয়ং জানিতে পারবে। ভাল, সম্প্রতি যাহা জিজ্ঞাসা করিতেছ তাহা কহিতেছি শ্রবণ কর। শ্রীকৃষ্ণের বক্ষঃস্থলে চতুর্দ পুষ্পের ন্যায় যে একটি চিহ্ অাছে শাস্ত্র কারেরা তাহাকেই শ্রীবৎসলাঞ্ছন বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন। চিটি শ্রীকৃষ্ণের হৃদয়ের যে স্থানে অঙ্কিত আছে, মনুষ্যের হৃদয়ের ঠিক সেই স্থানের অভ্যন্তরে ঐ আকারে আকারিত হৃদপিণ্ড বা অন্তঃকরণ রহিয়াছে। সেই চারি অংশে বিভক্ত অন্তঃকরণমধ্যে জীবের রক্ত গমনাগমন করিতেছে। ঐ রক্ত কোন অংশহইতে কোন অংশে গমন করিতেছে, ইহা যিনি যখন স্থিরচিত্তে অনুভব করিতে পারিবেন, তিনি তখন আপনাকে প্রশান্তচিত্ত বলিয়া অবগত হইবেন। অপিচ বিষ্ণুর বক্ষস্থলে কৌস্তুভ নামক যে একটি মণি আছে তাহা যে প্রয়োজনৌদ্দেশে শান্ত্রকারের বর্ণনা করিয়াছেন তাহা আমি প্রকাশ করিয়া কহিব না। যিনি দিবাশি ধ্যান ধারণা সমাধিপ্রভৃতি অষ্টাঙ্গ মোগ সাধন করিবেন, ff। আপন হৃদয়মধ্যে সেই মণি দর্শন করিতে সক্ষম হইবেন! এই আমি আপনাদিগকে কৃষ্ণের শ্রীবৎস লাঞ্ছনের কথা বিশেষৰূপে বর্ণনা করিয়া কহিলাম ; ७२ পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর । অতঃপর দুই তিন সপ্তাহ দিবানিশি যে ধারণায় ধ্যান সাধন করিলে ভগবান স্বয়ং প্রকাশিত হইবেন তাহাও কহিতেছি শ্রবণ করুন। এদেশে অর্ধনারীশ্বর বলিয়া যে একখানি শাস্ত্ৰসিদ্ধ হরগৌরীর প্রতিমূর্তি প্রসিদ্ধ আছে, সেই প্রতিমূর্তিতে যে ভাবে দক্ষিণার্ধে মহাদেবের ও বামাৰ্দ্ধে ভগবতীর দেহ অঙ্কিত রহিয়াছে, সাধক ঠিক সেই ভাবে আপন দেহের অর্ধাংশে থাকিয়া (অভিমান রাখিয়া) অপ- বাৰ্দ্ধাংশে জগদীশ্বরকে চিন্তা করিবেন। দুই তিন সপ্তাহ এতদ্রুপ ধারণায় ধ্যান করিতেং যখন তঁাহার সূক্ষমদেহের একটি (টিক২) শব্দ অনুভূত হইবেক, তৎকালে তিনি সেই শব্দ কোন স্থানে কি প্রকারে উৎপন্ন হইতেছে তাহা উত্তমরূপে জানিবার নিমিত্ত হরগৌরীৰূপে কখন বামাঙ্গে কখন বা দক্ষিণাঙ্গেও অহঙ্কারের সহিত অবস্থিতি করিবেন। ঘটিকাযন্ত্র হইতে যে প্রকার টিক করিয়া শব্দ নির্গত হয়, জীবের দুইটি সূক্ষম দেহহইতে অবিকল সেই প্রকার শব্দ সৰ্ব্বদ। নির্গত হইতেছে। রক্তের গতিবিধি দ্বারা হৃদপিণ্ডে যে শব্দ উৎপন্ন হয় আমি আপনাদিগকে সে শব্দের কথা কহিতেছি না। এ শব্দ মূলাধার স্থানে দুইটি সূক্ষ দেহহইতে উৎপন্ন হইতেছে। এই শব্দের সহিত রক্তের গতিবিধি শব্দের অনেক বিভিন্নতা উপলব্ধি হইয়া থাকে। অর্থাৎ সুক্ষদেহের শব্দ ও রক্তের গতিবিধিশব্দ বিশেষৰূপে ভিন্ন হইয়া প্রকাশিত হয়। সুক্ষম দেহের ঐ দুইটি শব্দের অববোধার্থ মহাদেবের হস্তে ডম্বুর নামক একটি বাদ্যযন্ত্র আছে ; যে যন্ত্র দুই দিগহইতে যোড়া করিয়া শব্দ উৎপন্ন করে । কতিপয় দিবস ঐ শব্দে মনঃসংযোগ করিলেই স্থূল সূক্ষমদেহমধ্যে অৰ্ধ হপ্ত পরিমিত উদ্ধাধোভাবে কারণদেহ যে নৃত্য করিতেছেন ইহ অনুভূত হয়। তদনন্তর কৌশলক্রমে পূর্বোক্ত প্রাণায়ামদ্বার। যখনই কারণদেহকে অচল করতে পারা যায় তখনং ঐ শব্দ লয়প্রাপ্ত হইয়া থাকে এবং সেইং, সময়েই সচ্চিদানন্দস্বৰূপ পরমাত্মা অনুভব- গম্য হয়েম। ইংরাজ ব্যবচ্ছেদকের কারণদেহের ঐ নৃত্য ক্রিয়াকে জার্কিং নাম প্রদানপূর্বক কহিয়া থাকেন যে, ঐ ক্রিয়া রহিত হইলেই পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। মনুষ্যের মৃত্যু হয়। অপি গৌরাঙ্গের সহচর শ্রীযুক্ত মুকুন্দদেব গোস্বামী মহাশয় স্বীয় রচিত অমৃতরসালি নামক গ্রন্থে কারণদেহ বিষয়ে এতদ্রপ বর্ণনা করিয়াছেন যে ৫ চিনিলে যদি ধরিতে পারে। জীবন থাকিতে তখনি মরে। পুনঃ 'সে বাঁচিয়ে আপন গুণে। যাহার হইয়াছে সেই তা জনে॥” এবং আমিও কত দিবস রাত্রি দশ ঘটিকার সময়ে কারণদেহের নৃত্যক্রিয়াকে অচল ভাবে রাখিয়া প্রতি কালে প্রবুদ্ধ হওত আশ্চর্ষান্বিত হইয়াছি। অর্থাৎ ঐ আট নয় ঘন্টা কাল আমার এক মিনিট বলিয়াও বোধ হয় নাই ; অথচ আমি নিদ্রিতও হই নাই। সুতরাং ঐ নিৰ্ব্বিকল্প অবস্থাকে এক প্রকার মৃত্যু বলিলেও বলা যায়। পূৰ্ব্বোক্ত ঐ দুই শব্দকে ভ্রমরা ভ্রমরী বলিয়া কোন এক মহাজন একটি গীত রচনা করিয়াছিলেন শ্রবণ করুন। যথা - গুৰু আমায় দিয়েছেন এক মন । আমার ভাঙলে চটকা হয় চেতনা আমার দেহভূমি ছিল শ্মশানবন, গুরু এসে কলে সিংহাসন; তাতে ভ্রমরা ভ্রমরী বিরাজ করে দেহ কলে ইত্যাদি যে প্রকারে ঐ দুইটি শব্দ এক সপ্তাহের মধ্যে জ্ঞাত হইয়া করৎ- দেহকে জানিতে পারা যায় তাহার একটি কৌশল গুরু-পরম্পরায় এতদ্দেশে প্রচলিত আছে, অর্থাৎ সহস্র জ্ঞানগুরুর মধ্যে দুই এক জন তাহা অবগত আছেন। এবং আমিও সেই কৌশল কোন মহা- জনের নিকট শ্ৰৰণ করিয়াছিলাম ; কিন্তু সৰ্বসাধারণ লোকের নিকট তাহা প্রকাশ করা কর্তব্য নহে। বােধাচাৰ্য। কেন মহাশয়! যারা সৰ্ব্ব সাধারণ লােকের বিশেষ উপকার হয়, এমত শ্রুত বিষয় কাশ করিতে বাধা কি আছে? সুবোধসিদ্ধান্ত। ওহে বোধাচাৰ্য! এক্ষণে আমি তোমাকে যে একটি দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করিতেছি তুমি তাহা শ্রবণ করি। এ বিষয়ে বৃন্দাবন'। ;
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। আর আগ্রহ প্রকাশ করিও না। ভারতবর্ষের বিখ্যাত কোহিনুর, নামক মণি অধুনা ইংলণ্ডেশ্বরীর হস্তগত হওয়াতে তারা তিনি আপন মুকুট সুশোভিত করিয়াছেন। কিন্তু ভারতবর্ষের প্রত্যেক অম্লিবৃক্ষের আম্র ফল সমূহ জগদীশ্বরের অনুগ্রহে এক্ষণে যদি কহিনুৰ মণিসদৃশ হইয়া স্বল্প মূল্যে বিক্রীত হয়, তবে কি ইংলণ্ডেশ্বরী কহিনুর মণিকে আর মুকুটে স্থান দান করিবেন ? বোধাচার্য্য ! উৎকৃষ্ট রত্নকে যত্নপূৰ্ব্বক গোপন করিতে নীতিবিদেরা ভূয়ৰ উপদেশ প্রদান করিয়াছেন ; যেহেতু তদ্দার। উপযুক্ত লােকের প্রয়োজন সিদ্ধি ও তৎ সহ রত্নেরও মুল্যবৃদ্ধি হইয়া থাকে, নচেৎ তাহার গৌরব বৃথা ? ; হে মহাশয়গণ ! এই আমি আপনাদিগের নিকট সগৰ্ব ধারণার বিষয় সংক্ষেপে প্রকাশ করিয়া কহিলাম, এক্ষণে জগ ধারণার বিষয় এতদ্রুপে সহস্রবার কহিলেও কোন ফলোদয় হইবার সম্ভাবন নাই। যেহেতুক তাহাতে ধ্রুবতারা এবং অশ্বিনী প্রভৃতি সপ্তবিংশতি নক্ষত্র দর্শনদ্বারা পৃথিবীর আহ্নিক ও বার্ষিক গতি, এবং সপ্তর্ষি- মণ্ডল ও অন্য একটি নক্ষত্র রাশি এবং শনি মঙ্গল বৃহস্পতিপ্রভৃতি গ্রহগণকে অগ্রে দর্শন করিতে হয়। কেননা ঐ সমস্ত গ্রহ নক্ষ- ভ্রাদির গতিবিধিদ্বারা সময়েই কারণদেহের আন্দোলনক্রিয়ার ভাব। স্তর বুঝিতে পারা যায়। এতন্নিমিত্ত শাস্ত্রকারের প্রতিপদ অষ্টমী ও দ্বাদশীপ্রভূতি কএকটি তিথিকে পরমার্থ সাধনাৰ্থ প্ৰশস্ত বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন, এবং ঐ তিথিতে স্ত্রীসহবাস ও অধ্যয়নাদি করাও নিষিদ্ধ বলিয়া শাস্ত্রে বর্ণিত আছে। যাহা হউক, এক্ষণে বাক্যদ্বারা সে কাৰ্য্য সম্পন্ন (গ্রহ নক্ষত্রাদি দর্শন করণ) হইতে পারে না। অতএব যিনি অগর্ভ ধারণার বিষয় জ্ঞাত হইতে অভিলাষী হইবেন, অথবা যিনি ইংরাজী এটলাসে অঙ্কিত সমুদায় নক্ষত্র রাশি দর্শন করিতে চা- হেন তিনি কার্ত্তিক অগ্রহায়ণ পৌষ মাঘ ফাল্গুণ ও চৈত্র এই ছয় মাসের প্রতি সোমবারে কলিকাতায় আমার নিকট আগমন করিলে সুৰ্য্য ভােগ্য রাশিভিন্ন অন্য একাদশ রাশি গ্রহ নক্ষত্রাদি দর্শন সহকারে পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর । ১১১ অগর্ত ধারণার বিষয় বিশেষৰূপে অবগত হইতে পারিবেন। এক্ষণে সমাধির বিবরণ কহিতেছি শ্রবণ করুন। সমাধি। সুবোধসিদ্ধান্ত। হে মহাশয়গণ ! অগ্রে ধ্যান ধারণাদ্বারা সূক্ষম দেহমধ্যে জগদীশ্বরকে জ্ঞাত হইতে না পারিলে সৰ্ব্বব্যাপি পরমা- ত্মাকে অথবা অনন্ত অপরিমিত ব্ৰহ্মপদার্থকে জ্ঞাত হইবার নিমিত্ত কেহ সমাধি সাধন করিবেন না। সােপানদ্বারা যেমন ক্রমেই উর্ধে উঠিতে হয়, তদ্রুপ প্রথমে ধ্যান ধারণাদ্বারা অপিন মন ও মনোমধ্য- স্থিত জগদীশ্বরকে জ্ঞাত হইতে পারিলে পরমাত্মা একং বার অনু- ভবগম্য হয়েন। তদনন্তর বহু দিবস পরমাত্মার সহিত জীবাত্মার ঐক্যৰূপ (অগর্ভ ধারণায়) সমাধি সাধন করিতে যখন সাধকের চিত্ত একেবারে দ্রবীভূত হইয়া যায় তখন পরমাত্মা স্বয়ং তঁাহার নিকট প্রকাশিত হইয়া থাকেন এবং সেই সময়াবধি পরব্রহ্মের সহিত সাক্ষাৎকার লাভের নিমিত্ত নিৰ্ব্বিকল্প সমাধি সাধন করিলে ভাল নচেৎ সমাধি সাধন করিলে আপন চিত্তশুদ্ধি ব্যতীত পরমাত্মার অথবা পরব্রহ্মের সাক্ষাৎকার লাভে সহজে কৃতকার্য হইতে পারি- বেন না। এতন্নিমিত্ত শাস্ত্রকারের নিত্যনিত্য বস্তুৰিবেক, ইহমুত্র ফলভােগ বিরাগ, শম দমাদি সাধন সম্পত্তি • ও মুমুক্ষুত্ব এই চারি প্রকার বিশেষণযুক্ত ব্যক্তিকে ব্রহ্মোপাসনার অধিকারী বলিয়া নি। শ্চয় করিয়াছেন। এই স্থলে খীষ্টীয় ধর্মশাস্ত্রের একটি ভাবও উত্তমরূপে সংলগ্ন হইতে পারে। অর্থাৎ যিশু (জগদীশ্বর) কহিয়াছিলেন যে, আমিই আমার াির গৃহের দ্বারস্বৰূপ, সুতরাং আমার নিকট দিয়া গমন না করিলে কোন ব্যক্তি আমার পিতার (পরব্রহ্মের) সাক্ষাৎকার লাতে কৃতকাৰ্য্য হইতে পারেন না। ধ্যান ও সমাধি প্রায় এক প্রকার বটে, তবে তন্মধ্যে বিশেষ এই যে, ধ্যানকালে সাধকের এতজপ বোধ থাকে যে, আমি জগন্নাথের * শম, দম, উপৰুতি, তিতিক্ষা, সমাধান, শ্রদ্ধা।
১১২ বার্থ বিজ্ঞান কর । আকৃতিস্বৰূপে হৃদয়ে স্থিত হইয়া ( অন্তমুখ চিত্ত হইয়া) ব্ৰহ্মাণ্ড ব্যাপি জগদীশ্বরকে ধ্যান করিতেছি, সচ্চিদানন্দস্বৰূপ জগদীশ্বরই আমার ধ্যেয় বস্তু। কিন্তু যে কালে সাধক জগদীশ্বরকে জ্ঞাত হইয়া পরমাত্মাকে মেখান্তত চপলার ন্যায় একই বার অনুভব করিতে সক্ষম হয়েন, অর্থাৎ পুৰ্ব্ব কথিত অতীন্দ্রিয় সুখপদার্থকে যিনি যখন এক বার নিশ্চল অথচ সৰ্বব্যাপীৰূপে বােধগম্য করিতে সক্ষম হয়েন তৎকালে তিনি সেই অচল পরমাত্মাকে ভাবনা করিতে যতক্ষণ তঁাহার মন লয়প্রাপ্ত থাকে, অর্থাৎ তঁাহার ধ্যেতা ও ধ্যান এই দুই বি- যয়ের জ্ঞান না থাকিয়া কেবল তিনি ধ্যেয় বস্তু পরমাত্মস্বৰূপে যতক্ষণ অবস্থিতি করেন, ততক্ষণ তঁাহার সেই অবস্থাকে নিৰ্ব্বিকল্লক সমাধি কহ যায়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কহিয়াছেন বায়ুশূন্য স্থানে দীপশিখা। ষে প্রকার স্থিরভাবে থাকে, তপ নিৰ্ব্বিকল্প সমারিকালে সাধকের অন্তঃকরণ (মনোবুদ্ধি অহঙ্কারাদির সহিত নিশ্বাসবায়ু) নিশ্চলভাবে অবস্থিতি করে। সমাধি দুই প্রকার, সবিকল্পক ও নিৰ্ব্বিকল্পক। এতন্মধ্যে নিৰ্ব্বি- কল্পক সমাধির বিষয় আমি আপনাদিগকে বিশেষ করিয়া কহিলাম, এক্ষণে সবিকলক সমাধির লক্ষণ কহিতেছি শ্রবণ করুন। মিৰ্বি- কল্পি সমাধি সাধন করণীর্থে যখন সাধকের মন আগর্ভক ধারণায় অবস্থিতি করিয়া অখণ্ড মণ্ডলাকার পরমাত্মার ভাব অবলম্বন করে, তৎকালে সাধকের চিত্তমধ্যে যে এক২ বার গ্রহ নক্ষত্রাদির অবয়ব স্কুৰ্ত্তি হয় বা তাহার পরেও সেই ভাব থাকে, তাহাকেই সৰিকল্পক সমাধি কহা যায়। অর্থাৎ তৎকালে সাধকের চিত্ত একেবারে লয় প্রাপ্ত না হইয়া পুনঃ২ গ্রহনক্ষত্রাদির রূপ ধারণ করতবিকল্পে অবস্থিতি কৰে; সুতরাং তাহাকে বিকল্প সমাধি অথবা এক প্রকার সুক্ষন ধ্যান বলিলেও বলা যায়। এই আমি আপনাদিগের নিকট বন্ধু- ভাবে ধ্যান ধারণা ও সমাধিপ্রভৃতি অষ্টাঙ্গযােগ সাধনের লক্ষণ সংক্ষেপে বর্ণনা করিয়া কহিলাম। শাস্ত্র হইতে কতকগুলি কবিতা সংগ্রহ পূর্বক ৰাহুল্যৰূপে বর্ণনা করিবার কোন প্রয়োজন নাই; •• পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। যেহেতু তারা সাধকের অন্তঃকরণে নানা প্রকার ভাবােদয় হইবার সম্ভাবনা আছে। তবে যাহারা সত্য বাক্যের প্রতি লক্ষ না করিয়া কেবল কতক গুলি সংস্কৃত কবিতা পাঠ করিতে ভালবাসে, তাহারা দুই আনা মূল্যের এক খানি হনুমানচরিত্র গ্রন্থ পাঠ করিলে অনেক কবিতা শিক্ষা করিয়া মানসিক ক্ষোভ নিবারণ করিতে পারিবে। আজি কালি উত্তর-পূৰ্ব্বদেশে প্রতি মাসে মুনাবিক পাঁচ শত হনু- মানচরিত্র গ্রন্থ বিক্রীত হইতেছে!! দক্ষিণপশ্চিম দেশের নিমিত্ত অদ্যাপি কোন গুণপুরুষ মেড়া চরিত্র গ্রন্থ রচনা করেন নাই বলিয়া তত্তদেশের বীর পুরুষেরা বহুমুলে তাল ঠুকিয়া মানসিক ক্ষোভ নিবারণ করিতেছেন!! হে মহাশয়গণ ! দুইটি বস্তুর একত্র হওয়ার নাম যোগ। সুতরাং এস্থলে পরমাত্মার সহিত জীবাত্মার ঐক্যৰূপ সাধনকেই যোগসাধন কহ যায় এবং তাহার অনুষ্ঠান যে প্রকারে করিতে হয় তাই আমি অপমাদিগকে এক প্রকার বর্ণনা করিয়া কহিলাম। এক্ষণে বেদান্ত যাক শ্রবণ মনন ও তদ্বিষয় নিদিধ্যাসনাদি দ্বারা যে প্রকারে পর- ব্রহ্মের স্বৰূপতা লাভ করিতে পারা যায়, অর্থাৎ ব্রহ্মজ্ঞানী হইতে পারা যায়, তাহা আপনারা স্বীয় দীক্ষাগুরুর নিকট অথবা শাস্ত্র পাঠ করিয়া অবগত হইবেন। কেননা, আমি কএক বৎসরাধি সমাধি সাধন করিয়াও তদ্বিষয়ে কৃতকার্য হইতে পারি নাই; সুতরাং সত্যধৰ্ম্মের সাক্ষ্য প্রদানার্থ অনুমানের উপর নির্ভর করিয়া কেবল শাস্ত্র-সাহায্যে তদ্বিষয় আপনাদিগের নিকট প্রকাশ করিতে ইচ্ছুক নহি। ফলত এক্ষণে আমার বোধ হইতেছে যে, সংসারে থাকিয়া তদ্বিষয়ে কৃতকার্য হওয়া সুকঠিন। এতন্নিমিত্ত মুনি ঋষিগণ নির্জন বনপ্রদেশে অথৰা পৰ্ব্বতের গুহামধ্যে অবস্থিতি করিয়া সমাধি সাধন কয়েন। অধিকন্তু মহাভারতেও এতদ্রুপ বর্ণিত আছে যে, ব্যাস দেবের পুত্র শুকদেব গোস্বামী সিদ্ধ হইয়া উন্ধে প্রয়াণ করিলেন, কিন্তু বিষয়াসক্ততা-নিমিত্ত ব্যাসদেবহার পশ্চাত্ব হইতে পারেন নাই। ন পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর । হে মহাশয়গণ! এক্ষণে সংসারে থাকিয়া ব্ৰহ্মজ্ঞান লাভ করা যে সহজ ব্যাপার নহে, তাহা অাপনারা এক প্রকার শস্ত্রবাক্য দ্বারা জ্ঞাত হইলেন। অতএব পরমার্থ-জ্ঞানরত্নাকর গ্রন্থের পরিশিষ্ট জগদানন্দ ব্রাহ্মাতার প্রতি যে কিঞ্চিৎ কটাক্ষ করা হইয়াছে তাহা যুক্তিসঙ্গত কি না, ইহা আপনার বিবেচনা করিয়া দেখুন। ইতি পরমার্থ সাধন(অষ্টাঙ্গ যোগসাধন) কথন নামক অষ্টম অধ্যায় নবম অধ্যায়। [ সুবোধসিদ্ধান্ত মহাশয় আপনার বক্তৃতা এক প্রকার শেষ করিয়া সৰ্ব্ব সাধারণ লোকের বিশেষ জ্ঞানার্থ এক্ষণে যাহা কহিতেছেন পাঠক মহাশয়েরা তাহা মনোযোগপূর্বক শ্রবণ করুন। সুবোধসিদ্ধান্ত। হে মহাশয়গণ। অৰ্যশাস্ত্রের সত্যতা প্রমণার্থ আমি অাপনাদিগের নিকট একটি বক্তৃতা করিব বলিয়া যে প্রতিশ্রুত হইয়াছিলাম, তাহা এক প্রকার সমাধা করিলাম। এক্ষণে আপনা- দিগের মনােমধ্যে যদি কোন সংশয় থাকে, তবে তাহা প্রকাশ করিয়া বলুন। যেখাচাৰ্য। মহাশয়। কারণদেহের নৃত্য বা অন্দোলনকে আপ যে মুখপদার্থ বলিয়া নির্দেশ করিলেন, তাহার প্রমাণ কি? মুৰোধসিদ্ধান্ত। ওহে বোধাচাৰ্য। তুমি কি কখন আন্দোলনদ্বার খভাগ কর নাই? যদি না করিয়া থাক তবে কহিতেছি এক কর। কীরক বালকের। দুগ্ধ পান করত মৃদু শয্যায় শয়ন করিয়া আদে মৃত্য (হস্ত পদ আস্ফালন) করিতে থাকে, অথবা তাহাকে তুলিয়া দণ্ডায়মান করিলেও আপনি নাচিতে থাকে। কোন লক পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। অভিলষিত দ্রব্য প্রাপ্ত হইয়া আদিত হইলে তৎক্ষণাৎ ধেইং করিয়া নৃত্য করে। কোন মনুষ্যের কোন প্রকার অভীষ্ট সিদ্ধি হইলেই তিনি হস্ত পদ বা সমুদায় দেহ আন্দোলন করিতে থাকেন । এমত হলে অনেক কৃতবিদ্য লোকেও এককালে দুইটি হস্ত লাড়িয়া অথবা হাততালি দিয়া আঙ্কা প্রকাশ করেন। কোন বালক রোদন করিলে পরিচারকেরা তাহাকে অন্দোলন করিয়া হইচিত করে। বৈষ্ণবগণ সঙ্কীৰ্ত্তন করিতে হষ্টচিত্ত হইলেই নৃত্য করিয়া থাকেন। দূরদেশ-জাত পক্ষীসমূহ (কাকাতুয়া নূরি চন্দনা প্রভৃতি। ঋতুবিশেষে হৃষ্টচিত্ত হইলেই পুরোভাগে আন্দোলিত হইয়া থাকে। স্ত্রীসম্ভোগকালে যে আনন্দ ভোগ করা যায়, তাহাও তেজঃ সহকারে দুই চারিকার জীবাত্মার আন্দোলন ক্রিয়া মাত্র। যদি কেহ ভ্রান্তি শতঃ সেই সুখকে বীর্যস্থলন নিমিত্ত বলিয়া আপত্তি করে, তবে তা- হার উত্তর এই যে, বীর্যস্থলনে যদি সুখলাভ হইত, তবে প্রমেহরোগির অধিক পরিমাণে মুখোৎপত্তি হইতে পারিত; কিন্তু এ পর্যন্ত তাহা কাহারও প্রত্যক্ষীভূত হয় নাই; বরং তারা (বীর্যস্থলনদ্বারা) প্রমে হরোগির বিলক্ষণ দুঃখ বোধ হইয়া থাকে ইহা অনেকেই অবগত অাছেন। অপিচ সকলেই কহিয়া থাকে যে, ফুলনা জাহাদে নেচে বেড়াইতেছে এবং সর্বলােক প্রসিদ্ধ বিবিধ প্রকার দোলনা খোৎ- পাদিকা বলিয়া প্রসিদ্ধ আছে। এতবিতা প্রকৃতির আন্দোলন- ক্রিয়াতে যে সুখপদার্থ প্রকাশিত হয় তাহার শত লৌকিক প্রমাণ দেদীপ্যমান রহিয়াছে। বোধাচাৰ্য। মহাশয় ! কারণদেহের আন্দোলন-ক্রিয়াতে য়ে সুখ- পদার্থ প্রকাশিত হয়েন, তিনি পরমাত্মা কি জগদীশ্বর, এতদ্বিষয়ে আমাদিগের গুরুতর সংশয় রহিয়াছে। অতএব ঐ মুখপদার্থ পর- মাত্মা কি জগদীশ্বর তাহা আমাদিগকে বিশেষ করিয়া বসুন। সুবােধসিদ্ধান্ত। ওহে বোৰাচাৰ্য্য! প্রকৃতি সংযুক্ত ঐ মুখপদার্থ অহঙ্কারের সহিত প্রকাশিত হইলে জীবাত্মা নচেৎ তিনি জগদীশ্বর, অতএব কারণদেহের আন্দোলনক্রিয়া অবগত হইতে পারিলেই সাধ- পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। ক কের পরোক্ষৰূপে জগদীশ্বরকে ওনা হইল। অপিচ ঐ সুখ- পদার্থ যখন অচল অথচ সৰ্ব্বব্যাপীৰূপে প্রকাশিত হয়েন, তখন তিনি পরমাত্মা বলিয়া অভিহিত হয়েন। অর্থাৎ সুখস্বৰূপ চৈতন্য পদার্থ যখন সবিকল্পৰূপে প্রকাশিত হয়েন, তখন তিনি জীবাত্মা অথবা ব্যক্তি জগদীশ্বর এবং নিঝিকল্পৰূপে প্রকাশিত হইলেই পর- মাত্মা বলিয়া কথিত হয়েন। বোৰাচাৰ্য। মহাশয়! মন ও বুদ্ধি এতদুভয়কেও আপনি মজ্জা ও মেদেধাতুতে প্রতিবিম্বিত চৈতন্য বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন, অতএব ইহারও সুখস্বৰূপ জগদীশ্বর ৰলিয়া কথিত না হয়েন কেন? অচি জগদীশ্বর ও জীবচৈতন্য এতদুভয়কেও আপনি প্রতিবিম্বিত চৈতন্য রলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন; কিন্তু জীব ও ঈশ্বর এতদুভয় যদি পর- মাত্মার প্রতিবিম্ব হয়েন, তবে তদুভয়ের মধ্যে নিয়ন্ত, নিয়ম ভাব থাকিবার সম্ভাবনা কোথায় ? এই সকল বিষয়ে আমাদিগের গুৰুতর সংশয় উপস্থিত হইয়াছে। অাপনি আমাদিগের ঐ দুইটি সংশয় অপনোদন, করিয়া চিরস্মরণীয় হউন। সুবোধসিদ্ধান্ত। ওহে বোৰাচাৰ্য্য! তুমি অতিশয় বুদ্ধিমান, নচেৎ এতক্রপ প্রশ্ন অন্য কোন ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করিতে সক্ষম হয়েন না। যাহা হউক, উপযুক্ত সময়ে আমি যে বিষয় কহিতে বিস্মৃত হইয়- ছিলাম সে বিষয় তোমার স্মরণ থাকাতে আমি তোমাকে অগণ্য ধন্যবাদ প্রদান করিয়া কহিতেছি শ্রবণ কর। ব্রহ্মের তটস্থাশক্তি যে ত্রিগুণাত্মিকা প্রকৃতি, যারা সমুদায় ব্ৰহ্মাণ্ড সৃষ্ট হইয়াছে তিনি বিশুদ্ধ (কেবল সত্বগুণ) ও অবিশুদ্ধ (রজ গুমাে মিশ্রিত সত্বগুণ) এতদুভয় অংশে বিভিন্ন হয়েন। শাস্ত্রে প্রকৃতির বিশুদ্ধ ত্বাংশকে মায়া বা বিদ্যা এবং অবিশুদ্ধ সত্বাংশকে অবিদ্যা বলিয়া বর্ণ করিয়াছেন। এতন্মধ্যে বিশুদ্ধ সত্ত্বাংশে (মায়। ৰা বিদ্যা:ত) প্রতিফলিত যে চৈতন্য তিনি ঈশ্বর ও অবিশুদ্ধ সত্বাংশে (অৰিদ্যাতে) প্রতিফলিত চৈতন্য জীব বলিয়া কথিত হয়েন। বিশুদ্ধ সত্বাংশ উপাধি থাকাতে. জগদীশ্বর মায়াকে বশীভূত করিয়া জগৎ পরমার্থ বিজ্ঞান বা কর । ১৯৭ সৃজনপূৰ্ব্বক তাহার আধিপত্য ভোগ করিতেছেন, এবং অবিশুদ্ধ সত্বাংশত-নিমিত্ত জীব মায়ার অধীন হইয়া সদসৎ কর্মের ফল ভোগ করিয়া থাকেন। এতন্নিমিত্ত ঈশ্বর সৰ্ব্বজ্ঞ, জীব অল্পজ্ঞ ; ঈশ্বর নিয়ামক, জীব নিয়ম; ঈশ্বর সৃষ্টিকৰ্ত্তা, জীব সৃষ্ট বস্তু ; ঈশ্বর সেব্য, জীব সেবক ; ঈশ্বর জগদ্ধাপী, জীব দেহব্যাপী; কিন্তু ঐ জীব বিদা- দ্বারা (কেবল সত্বগুণাবলম্বনদ্বারা) অবিদ্যাকে জয় করিয়া জগদীশ্বর পরমাত্মা অথবা নিৰ্বিশেষ ব্ৰহ্মপদার্থকে জ্ঞাত হইতে পারিলে তত্ত- চেতন্যের স্বৰূপতা প্রাপ্ত হয়েন। বিদ্যদ্বারা যে অবিদ্যাকে বশীভূত বা বিনষ্ট করিতে পারা যায়, তাহা অাপনারা লৌকিক বিষয় পৰ্য্যা- লোচনা করিয়া দেখিলেই বুঝিতে পারিবেন । বস্তুত একমাত্র অনন্ত অপরিমিত ব্ৰহ্ম চৈতন্য প্রকৃতির আধার- রূপে প্রকাশিত হইয়া পরমাত্মা, প্রকৃতির বিশুদ্ধ সত্ত্বাংশে প্রতি- ফলিত হইয়া জগদীশ্বর, প্রকৃতির অবিশুদ্ধ সত্বাংশে প্রতিফলিত হইয়া জীব, জীবের মেদেধাতুর সহিত প্রকাশিত হইয়া বুদ্ধি ও মজ্জাধাতুর সহিত প্রকাশিত হইয়া মনঃ বলিয়া কথিত হয়েন। এত মধ্যে কোন শাস্ত্রে পরমাত্মা ও জগদীশ্বর এক পদার্থ বলিয়া বণিত অাছেন। আবার সমষ্টি ও ব্যক্তিৰূপে জগদীশ্বর ও জীবাত্মা এত দুভয়ও এক পদার্থ। এক্ষণে আমি অাপনাদিগের এতদ্বিষয়ের দেহ নিরাশার্থ মহাভারতের মােক্ষধৰ্ম্ম পর্বাধ্যায়ের একটি উৎকৃষ্ট প্রবন্ধ কহিতেছি শ্রবণ করুন। মহাভারত। মােক্ষধৰ্ম্ম পৰ্ব্বাবা। এক পঞ্চাশদধিক ত্রিশতম অধ্যায়। ৫ জন্মেজয় কহিলেন, তপোধন! পুরুষ এক না হু? সর্ব শ্রেষ্ঠ পুরুষ কে, এবং সকলের উৎপত্তি স্থানই বা কে?
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। শৈম্পায়ন কহিলেন, মহারাজ! সঙ্খ্য ও যোগশাস্ত্র পুরুষকে বহু কলিয়া নির্দেশ করিয়া থাকেন। কিন্তু আমার মতে যেমন ঘট- পটালি গত ‘ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আকাশের একমাত্র মহাকাশই কারণ, সেই ৰূপ পরমাত্মাই সমস্ত পুরুষের কামৰূপে অভিহিত হন। এক্ষণে আমি পাপরায়ণ পরম পূজনীষ মহর্ষি বেদব্যাসকে নমস্কার করিয়া, কপিলদি মহর্ষিগণ অধ্যাত্মতত্ত্ব নিৰূপণ করিতে গিয়া সামান্য ও বিশেষ করে যাহা কহিয়াছেন, সেই সৰ্ব্ববেদ-থিত এই সত্য বিষয় কীৰ্ত্তন করিতেছি শ্রবণ কর। আমার গুৰু মহর্ষি বেদব্যাস সংক্ষেপে পুরুষের একত্বের বিষয় কীৰ্ত্তন করিয়া গিয়াছেন। এই স্থলে স্ব্যৈ কব্রহ্মসম্মান নামে এক প্রাচীন ইতিহাস আছে, তুমি অবহিত মনে উহা শ্রবণ করিলে' এই বিষয় সুস্পষ্ট হৃদয়ঙ্গম করিতে সমর্থ হইবে। ক্ষীরােদ সমুদ্রের মধ্যে সুবর্ণ সপ্রভ বৈজন্ত নামে এক পৰ্ব্বত আছে। প্রজাপতি ব্রহ্ম। প্রতিদিন ঐ পৰ্বতে গমন করিয়া একাকী অধ্য। ত্মতত্ত্ব চিন্তা করিতেন। তিনি একদা তথায় উপবেশন করিয়া আছেন, এই অবসরে তঁাহার লটদেশ-সমুৎপন্ন ভগবান মহেশ্বর যদৃচ্ছাক্রমে আকাশপথ দিয়া ঐ স্থানে আগমন করিলেন এবং অচিরাৎ কমলযােনির সম্মুখবর্তী হইয়া প্রীতমনে তাহার চরণে নিপ- তিত হইলেন। তখন প্রজাপতি ব্রহ্ম। ত্রিলােচনকে চরণতলে নিপ- তিত দেখিয়া বামহন্তে তঁাহারে গ্রহণপূৰ্ব্বক অবিলম্বে ভূতল হইতে উথাপিত করিলেন এবং তঁাহারে বহুকাল বিলম্বে আগমন করিতে দেখিয়া প্রতি প্রফুল্লচিত্তে কহিলেন, মহাবাহো! কেমন, তুমি নিৰ্বিঘ্নে আগমন নমিয়া ত। এক্ষণে তোমার তপ ও বেদাধ্যয়নের কুশল। রুদ্র * কহিলেন, ভগবন। আপনার অনুগ্রহে আমার তপ ও * বৈদিক মতে ব্রহ্ম বৰ্য্যকপী ও রুদ্র মনোরূপী এবং ব্রহ্মলোক মক ও বৈজয়ন্ত শব্দের অর্থ শ্রেষ্ঠ ধ্বস। এগুদ মুসরে পাঠক মহাশয়ে। এই ইতি, হাশটি যথ, র্থ তাৎপৰ্য বুঝিয়া লইবেন।
পরমার্থ বিজ্ঞান না কর । বেদাধ্যয়নের কুশল। সমস্ত জগতও নিৰ্ব্বিঘ্নে আছে। আমি ব্ৰহ্ম- লোকে আপনার বিস্তর অনুসন্ধান করিয়াছি, কিন্তু তথায় আপনার সাক্ষাৎকার না পাইয়া এই পৰ্বতে সমুপস্থিত হইলাম। হইলাম। এক্ষণে আপনারে এই নির্জন স্থানে অবস্থান করিতে দর্শন করিয়া আমার মনে যাহার পর নাই কৌতুহল উপস্থিত হইয়াছে। কেননা বোধ হইতেছে, আপনি সামান্য কারণে এই পৰ্বতবাস আশ্রয় করেন নাই। এক্ষণে আপনি কি নিমিত্তে সেই সুরাসুরসেবিত, ঋষি, গন্ধর্ব ও অরেগণে পরিপূর্ণ ক্ষুৎপিপাসাশূিন্য, উৎকৃষ্ট ব্ৰহ্মলোক পরিত্যাগ করিয়া একাকী এই পৰ্বতবাস করিতেছেন তাহা কীৰ্ত্তন ; ব্ৰহ্মা কহিলেন, রুদ্র! আমি এই বৈজয়ন্ত নামক পৰ্ব্বতে বাস করিয়া একাগ্ৰমনে বিরাট পুরুষকে চিন্তা করিতেছি। তখন রুদ্র কহিলেন, ভগবন। অাপনি বহু সংখ্যক পুরুষকে সৃষ্টি করিয়াছেন ও করিতেছেন; কিন্তু আপনি যাহারে চিন্তা করেন, সেই বিরাট পুরুষ কে ? আমার এই বিষয়ে অতিশয় সংশয় উপস্থিত হইয়াছে, আপনি তাহা নিবারণ করুন। ব্রহ্মা কহিলেন, রুদ্র। আমি বহু পুরুষের সৃষ্টি করিয়াছি, ইহা যথার্থ বটে এবং বেদমধ্যেও ইহার প্রমাণ সংস্থাপিত হইয়াছে। কিন্তু এক্ষণে যে একমাত্র বিরাট পুরুষের চিন্তা করিতেছি তিনি ঐ সমস্ত পুরুষের কারণ । ঐ সমস্ত পুরুষেরা ঐ বিরাটহইতে উদ্ভূত হইয়া সাধনবলে নিগুণ হইতে পারিলে সেই নিগুণ বিশ্বব্যাপী পুরুষে প্রবেশ করিতে সক্ষম হন। দিপঞ্চাশদধিক ত্রিশততম অধ্যায়। ব্রহ্মা কহিলেন, হে বৎস! পণ্ডিতেরা ভগবান নারায়ণকে শাশ্বত, অব্যয়, অপ্রমেয় ও সময় বলিয়া কীৰ্ত্তন করিয়া থাকেন। কি তুমি, রমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। কি আমি, কি অন্যান্য ব্যক্তি কেহই তঁাহারে চক্ষুদ্বর1 দর্শন করিতে সমর্থ হয় না। তিনি বুদ্ধীন্দ্রিয়-সম্পন্ন শম দমাদি বিহীন মুঢ়দিগের জ্ঞানের অগোচর। ঐ নিরাকার পুরুষ সমুদায় লোকের শরীরে অব- স্থান করিয়া ও শুভ শুভ কাৰ্য্য সমুদীয়ে নিলিপ্ত রহিয়াছেন। তিনি আমাদিগের সকলেরই অন্তরাত্মা ও সাক্ষিস্বৰূপ ; অথচ অমর। কেহই তঁাহারে পরিজ্ঞাত হইতে পারি না। সমুদায় ব্রহ্মাণ্ডুই তাঁহার মস্তক, ভুজ, পদ ও নাসিফাস্বৰূপ। তিনি একাকী স্বেচ্ছা- চারী হইয়া পরম সুখে সৰ্ব্বদেহে বিচরণ করিতেছেন। শরীরৰূপ ক্ষেত্র ও শুভাশুভ কৰ্ম্মৰূপ বীজ তঁাহার বিদিত আছে, এই নিমিত্ত তিনি ক্ষেত্র বলিয়া অভিহিত হইয়া থাকেন। তিনি কিরূপে প্রাণিগণের দেহ আশ্রয় ও কিরূপে উহা পরিত্যাগ করেন, তাহা কেহই পরিজ্ঞাত হইতে সমর্থ হয় না। আমি সংঙ্খ, বিধি ও যোগ- মল আশ্রয় করিয়া তাহার তত্ত্ব চিন্তায় তৎপর হইয়াছি, কিন্তু কো- ৰূপেই সেই পরমতত্ত্ব পরিজ্ঞাত হইতে পারিতেছি না। এক্ষণে আমি জ্ঞানানুসারে সেই সনাতন পুরুষের একত্ব ও মহত্ত্ব কীৰ্ত্তন করিতেছি, শ্রবণ কর। পণ্ডিতেরা তঁাহারে অদ্বিতীয় পুরুষ বলিয়া কীৰ্ত্তন করেন। মহাপুৰুষ শব্দ কেবল তঁাহাতেই অবস্থিত রহিয়াছে। যেমন এক মাত্র হুতাশন বিৰিধৰূপে প্রজ্বলিত হন, তদ্রুপ সেই একমাত্র মারা ঋণ বিবিধৰূপে প্রকাশিত হইয়া থাকেন। যেমন একমাত্র সূর্য সমুদয় জগৎ প্রকাশিত করেন, তদ্রুপ সেই একমাত্র পুরুষহইতে সমুদায় জগৎ প্রকাশিত হয়। যেমন একমাত্র বায়ু ইহলােকে সৰ্ব্বত্র প্রবাহিত হইয়াও কিছুতেই লিপ্ত হয় না, তদ্রুপ সেই একমাত্র নারায়ণ সর্বত্র সঞ্চরণ করিয়াও নিলিপ্তভাবে অবস্থান করেন এবং যেমন একমাত্র সমুদ্র সমুদায় জলের উৎপত্তি ও জয়ের স্থান, জপ সেই একমাত্র পুরুষ সমুদায় জগতের উৎপত্তি ও প্রলয়ের কারণ বলিয়া নির্দিষ্ট হইয়া থাকেন। যে ব্যক্তি দেহেন্দ্রিয়াদির অভিমান, ভাঙত কাৰ্য্য এবং সত্য ও মিথ্যা পরিভাগ করিতে পারেন, তিনিই নিগুণ হইয়া থাকেন। যে মহাত্মা যোগবলে সেই মনের অগোচর পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। পরম পুরুষকে পরিজ্ঞাত হইয়া ক্ৰমে অনিরুদ্ধের সহিত প্রদুয়ের, ঘুমের সহিত সঙ্কর্ষণের ও সঙ্কর্ষণের সহিত বাসুদেবের একীভাব সম্পাদনপূৰ্ব্বক সমাধি করিতে পারেন, তিনিই সেই পরম পুরুষে প্রবেশ করিতে সমর্থ হন। যোগবিদপণ্ডিতেরা সেই পরম পুরুষ পরমাত্মারে জীবাত্মাহইতে শ্রেষ্ঠ বলিয়া নির্দেশ করিয়া থাকেন। সাস্থ্যবিদ, পণ্ডিতেরা জীবাত্মা ও পরমাত্মা অভিন্ন বলিয়া কীর্তন করেন। পণ্ডিতেরা মাত্মারেই নিগুণ, সময় ও নারায়ণ বলিয়া নির্দেশ করিয়া থাকেন। পদ্মপত্র যেমন সনিলে লিপ্ত হয় না, তদ্রুপ তিনি সৰ্ব্বদাই কৰ্ম্মফলে নিলিপ্ত রহিয়াছেন। জীবাত্মা কখন মেক্ষি প্রাপ্ত, কখন বা বিষয়ভোগে অসক্ত হইতেছেন। তঁাহারে লিঙ্গ- শরীরে অধিষ্ঠিত হইয়া দেব মনুষ্যাদি বিবিধ মুর্ত্তি ধারণপূর্বক অব- স্থান করিতে হয়। এই নিমিত্ত পণ্ডিতেরা পুরুষের বহুত্ব স্বীকার করেন। কিন্তু বস্তুতঃ পুরুষ একমাত্র। সেই সৰ্ব্ব-প্রকাশক পুরুষই মন্তা ও মন্তব্য, ভোক্তা ও ভোগ্য, রসাস্বাদনকৰ্ত্তা ও রসনীয়, এাণ- কৰ্ত্তা ও স্রেয়, স্পর্শকৰ্ত্তা ও স্পর্শনীয়, দ্রষ্টা ও দর্শনীয়, শ্রোতা ও শ্রবণীয়, জ্ঞাতা ও জ্ঞেয় এবং সগুণ ও নিগুণ বলিয়া অভিহিত হইয়া থাকেন। সেই শাশ্বত অব্যয় পুৰুষহইতেই মহত্তত্ত্ব সমুদ্ভূত হই- য়াছে। ব্রাহ্মণগণ তঁাহারেই অনিরুদ্ধ বলিয়া নির্দেশ করেন । তিনিই সমুদায় বৈদিক কাৰ্য্যের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা। লোকে তঁাহা- রই প্রীতি সাধনার্থ কাম্য কর্মের অনুষ্ঠান করিয়া থাকে। জিতে ন্দ্রিয় মহর্ষিগণ তঁাহারেই যজ্ঞভাগ প্রদান করেন। আমি সেই নারায়ণহইতে উৎপন্ন হইয়া তোমারে উৎপাদন করিয়াছি এবং তােম। হইতে সমুদীয় স্থাবর জঙ্গমাত্মক প্রাণী ও সরহস্য বেদের সৃষ্টি হই- য়াছে। সেই ভগবান নারায়ণ পরমাত্মা, জীবাত্মা, বুদ্ধি ও মন এই চারি প্রকারে বিভক্ত হইয়া দেহমধ্যে ক্রীড়া করেন। জীবাত্মা আত্ম- জ্ঞান-প্রভাবে প্রতিবেধিত হইতে পারিলেই পরমাত্মায় লীন হইয়া * সমের সহিত বুন্ধি, বুদ্ধির সহিত অহঙ্কার, এবং অহঙ্কারের সহিত চিত্তের ।
:२२ পরমার্থ বিজ্ঞান বা কর। থাকেন। হে পুত্র! সঙ্খ্যজ্ঞান ও যােগশাস্ত্রে ধেৰূপ পরমতত্ত্ব বা ই অাছে, এই আমি তোমার নিকট তাহা সবিস্তারে কীৰ্ত্তন করিলাম।” সুবোধসিদ্ধান্ত। হে মহাশয়গণ ! এই আমি আপনাদিগকে মনে বুদ্ধি জীবাত্মা ও পরমাত্মার বিশেষ ও অবিশেষ এতদুভয় তত্ত্ব প্রকা- শার্থ দুই অধ্যায় মহাভারত (সিংহ মহোদয়ের বিরচিত মহাভারতের সারসংগ্রহ করিয়া) শ্রবণ করাইলাম, সম্প্রতি আর কোন বিষয়ে যদি কোন সংশয় থাকে, তবে তাহা প্রকাশ করিয়া বলুন। বেপাচার্য । মহাশয় ! সুমণ্ডলে যে জগদীশ্বর বিরাজমান আছেন ইহা আপনি মহাভারতের সর্বোৎকৃষ্ট একটি প্রবন্ধদ্বারা প্রতিপন্ন করিবেন বলিয়া প্রতিশ্রুত হইয়াছিলেন। অতএব তদ্বিষয় প্রকাশ করিয়া আমাদিগের সংশয়পনোদন করুন। সুবোধসিদ্ধান্ত। ওহে বোপাচার্য! মহাত্মা কালীপ্রসন্ন সিংহ মহোদয় শান্তিপৰ্কীয় মোক্ষধৰ্ম্ম পৰ্ব্বাধ্যায়ের ভূমিকাতে লিখিয়াছেন যে, “ মোক্ষধৰ্ম্মে ধৰ্ম্মসম্বন্ধীয় যতগুলি প্রস্তাব আছে, তন্মধ্যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিৰূপণ বিষয়ক বৈদিক মতের মীমাংসাই সৰ্ব্বোৎকৃষ্ট ; 'সুত- বাং যদি কাহারো জগদীশ্বরে বিদিত হইবার অভিলাষ থাকে, যদি পরলোক ও পরিণামের তত্ত্বজ্ঞ হইবার বাসনা হয়, তাহা হইলে এই মহাভারতেরই আশ্রয় গ্রহণ করুন।” ' ইহা কি তোমরা পাঠ কর নাই? বোধাচাৰ্য। মহাশয়! অমির। পুনঃ২ মহাভারত পাঠ করিয়াও সিংহ মহোদয় কোন প্রবন্ধের উদ্দেশে ভূমিকায় যে ঐরূপ লিখিয়া- ছেন, তাহা স্থির করিতে পারি নাই। অতএব সেই প্রবন্ধ কহিয়া অপিনি আমাদিগের বুভুৎসা নিবৃত্তি করুন। সুবোধসিদ্ধান্ত। ওহে বােধাচাৰ্য। আপনারা যদি চক্ষুঃ থাকিতে অন্ধ ও কর্ণ থাকিতে বধির এবং বুদ্ধি থাকিতে নিতান্ত অবােধের ন্যায় না হইয়া এই পরিদৃশ্যমান জগতের বিষয় পর্যালোচনা করিয়া দেখেন, তবে তৎক্ষণাৎ জগদীশ্বরকে দর্শন করিয়া তক্তিদ্বারা ক্রমেই পরমাত্মাকে জ্ঞাত হইতে সক্ষম হয়েন। ভাল, এক্ষণে যাহা জিজ্ঞাসা পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। করিতেছ তাহা সিংহ মহোদয়ের বিরচিত মহাভারতহইতে সংক্ষেপে বর্ণনা করিয়া কহিতেছি আপনারা মনােযোগপূৰ্ব্বক শ্রবণ করুন। মহ। ভারত মোক্ষ ধৰ্ম্ম পাধ্যায়ের ত্রিপঞ্চাশদধিক শিততম অধ্যায়- বধি মোক্ষপৰ্ম্মের শেষপৰ্যন্তের সারসংগ্রহ। সুবো সিদ্ধান্ত। হে মহাশয়গণ। ৫ ধর্মপরায়ণ ধৰ্ম্মরাজ ভীষ্মদে- বের মুখে নারায়ণ-মাহাত্ম্য শ্রবণপূৰ্ব্বক হৃষ্টচিত্ত হইয়া পুনরায় তাহারে কহিলেন, পিতামহ ! আপনি আমার নিকট সমুদায় মােক্ষ ধৰ্ম্ম কীৰ্ত্তন করিলেন, অধুনা আশ্রমবাসিদিগের শ্রেষ্ঠ ধৰ্ম্ম কীর্তন করুন। ভীষ্ম কহিলেন, ধৰ্ম্মরাজ! সকল অাশ্রমেই স্বর্গীপবর্গ-দ নানাবিধ ধর্ম নির্দিষ্ট অাছে। যজ্ঞাদি বিবিধ প্রকার উপায়বলম্বন করিয়া সেই সমস্ত ধর্মের অনুষ্ঠান করিতে হয়। ধর্ম ক্রিয়া কী নিষ্ফল হয় না। এতন্মধ্যে যাহার যে ধৰ্ম্মে অভিৰুচি হয়, তিনি সেই ধৰ্ম্মের প্রশংসা করিয়া থাকেন। এক্ষণে দেবর্ষি নারদ ইন্দ্রের নিকট যাহা কীৰ্ত্তন করিয়াছিলেন, তাহা কহিতেছি শ্রবণ কর। একদা দেবর্ষি নারদ পর্যটন করিতে করিতে ইন্দ্রালয়ে উপস্থিত হইলে পর, দেব- রঙ্গি তঁাহারে যথেষ্ট সমাদর করিয়া, আসন প্রদানপূর্বক সমীপে উপ বেশন করাইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, দেবর্ষে! আপনি কৌতুহলক্রান্ত হইয়া সাক্ষির ন্যায় এই চরাচর বিশ্ব পরিভ্রমণ করিতেছেন, সুতরাং আপনার অবিদিত কিছুই নাই। অতএব আপনি যদি কোন স্থানে কোন আশ্চৰ্য্য বিষয় দর্শন বা শ্রবণ করিয়া থাকেন, তাহা আমার নিকট কীৰ্ত্তন করুন। দেবর্ষি নারদ দেবরাজ কর্তৃক এতদ্রুপে অভি- হিত হইয়া যাহা কহিয়াছিলেন, তাহা কীৰ্ত্তন করিতেছি শ্রবণ কর।
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর চতুষ্পঞ্চাশবিক ত্রিশতম অধ্যায়। পূর্বে ভাগীরথীর দক্ষিণ তীরস্থ মহাপদ্ম নগরে অত্রিবংশ সম্ভত সৌম্যমূর্তি এক ব্রাহ্মণ বাস করিতেন। তিনি বেদপারদর্শী, সত্য- সুরক্ত অতিশয় সচ্চরিত্র ও জিতেন্দ্রিয় ছিলেন এবং ন্যায়পথে অব- স্থিতি করিয়া অর্থোপার্জন দ্বারা পরিবারবর্গের ভরণ পোষণ করি- তেন। ঐ সম্বত্তিসম্পন্ন ব্রাহ্মণের বহুসংখ্যক পুত্র ছিল। কালক্রমে পুত্রগুলি উপযুক্ত হইলে পর ঐ ব্রাহ্ম ধর্মানুষ্ঠানে সমধিক ব্যগ্র হইয়া চিন্তা করিতে লাগিলেন যে, বেদোক্ত ধৰ্ম্ম শাস্ত্রোক্ত ধর্ম ও শিষ্ট সমাচরিত ধৰ্ম্ম এই তিন প্রকার ধর্ম বিদ্যমান আছে , কিন্তু ইহার কোন প্রকার ধর্ম আমার পক্ষে কল্যাণকর, এক্ষণে অামি কোন্ ধৰ্ম্মই বা অবলম্বন করিব। ব্রাহ্মণ এইৰূপ চিন্তা করিতে করিতে বহু দিবস অতিবাহিত করিলেন; কিন্তু কিছুই অবধারণ করিতে পারিলেন না। কিছু কাল পরে এক ব্রাহ্মণ অতিথি হইয়া তঁাহার আলয়ে উপস্থিত হইলে তিনি যথাবিধানে হার পূজা করিলেন। পঞ্চপঞ্চাশবিক ত্রিশততম অধ্যায়। অতিথি সম্পূর্ণরূপে পরিশ্রমপিনোদন করিলে, ব্রাহ্মণ হারে সম্বোধনপূৰ্ব্বক কহিলেন, ব্ৰহ্মন্ ! আমি মিত্র ভাবে আপনারে কিছু কহিতেছি আপনি অনন্য মনে তাহা শ্রবণ করুন। গার্হস্থ্য ধৰ্ম্মের সমস্ত ভার পুত্রের উপর সমর্পণ করিয়া সন্ন্যাসধৰ্ম্ম অবলম্বনপূর্বক জীবাত্মার সহিত পরমাত্মার একতা প্রতিপাদন করিতে আমার অভিলাষ হইয়াছে; কিন্তু ধৰ্ম্মময় ভেলা কোথায় পাইব? এক্ষণে আপনি বুদ্ধিবল আশ্রয় করিয়া আমারে কোন উৎকৃষ্ট ধর্মপথে নিয়োগ করুন। ধৰ্মার্থী ব্রাহ্মণ এতদ্রুপ কহিলে মহাপ্রাজ্ঞ অতিথি তঁাহারে মধুর বাক্যে কহিলেন, ব্ৰহ্মন্। আপনার ন্যায় আমারও কোন উৎকৃষ্ট ধর্ম লাভের ইচ্ছা বলবতী হইতেছে; কিন্তু কোন্ ধৰ্ম্ম উৎকৃষ্ট, তাহা নির্ণয় করিতে পারি নাই। হইলোকে কোন মহাত্মা মুক্তির, কেহং বা যজ্ঞফলের, সবিশেষ প্রশংসা করেন এবং কেহং গার্হস্থ্য, কেহ রমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। . বানপ্রস্থ, কেহ বা ধৰ্ম্ম, কেহই জ্ঞানধৰ্ম্ম, কেহ গুৰুশুশ্রুষাদি ধৰ্ম্ম ও কেহ বক্সিংযমকে প্রিয়তর জ্ঞান করিয়া থাকেন। কতকগুলি বুদ্ধিমান লোক কেবল মাতা পিতার সেবা, কেহং অহিংসা ধর্মের অনুষ্ঠান, কেহং সত্য প্রতিপালন, কেহং সম্মুখযুদ্ধে দেহপরিত্যাগ, কেহই উঞ্ছত সাধন এবং কেহং বেদব্রত পরায়ণ ও জিতেন্দ্রিয় হইয়া অনবরত বেদাধ্যয়ন করিয়া স্বর্গলাভ করিয়াছেন। কেনই সরল প্রকৃতি মহাত্মা কুটিল ব্যক্তি কর্তৃক নিহত হইয়া দেবলোকে বিহার করিতেছেন। হে মহাত্মন্! এইরূপ বহুবিধ ধর্মের দ্বার উন্মুক্ত রহিয়াছে কিন্তু কোন্ট শ্রেয়ঃ তাহা স্থির করিতে গিয়া আমার মন নিতান্ত চঞ্চল হইয়াছে। ষটপঞ্চাশদধিক শিততম অধ্যায়। দৃশ্ম এইরূপ নিতান্ত দুরবগাহ বটে; কিন্তু আমার গুরুদেব অ- মারে যেৰূপ কহিয়াছিলেন, আপনার নিকট তাহাও কহিতেছি শ্রবণ করুন। পূৰ্ব্বসৃষ্টি সময়ে যে স্থানে প্রজাপতি ব্রহ্মার মানসচক্র প্রব- ৰ্তিত হইয়াছিল , যে স্থানে সুরগণ সমবেত হইয়া যজ্ঞানুষ্ঠানে প্রবৃত্ত হইয়াছিলেন এবং যে স্থানে মান্ধাতা দেবরাজ ইন্দ্র কে আক্রমণ করি- য়াছিলেন, সেই গোমতী তীরস্থিত নৈমিষারণ্যে একটি নাগপুর আছে । ঐ পরমধ্যে পদ্মনাভ নামে বিখ্যাত এক ধৰ্ম্মপরায়ণ মহ- নাগ বাস করিয়া থাকেন। তিনি কায়মনোবাক্যে প্রাণিগণের হিত সবন করেন এবং তত্ত্বানুসন্ধানপুৰ্ব্বক সাম, দান, ভেদ ও দণ্ড দ্বারা দুষ্ট দমন ও শিষ্ট প্রতিপালন করিয়া থাকেন। এক্ষণে আপনি তাহার নিকট গমনপূৰ্ব্বক আপনার মনােভিলাষ প্রকাশ করুন। তিনি অবশ্যই আপনারে প্রকৃত ধৰ্ম্মের উপদেশ প্রদান করিবেন। সপ্তপঞ্চাশদর্থিক ত্রিশততম অধ্যায়। অতিথি এই কথা কহিলে পর ব্রাহ্মণ তঁাহার বাক্য শ্রবণে নিতান্ত প্রীত হইয়া কহিলেন, ব্ৰহ্মন্ ! আপনার বাক্য আমার যাহার পর নাই প্রীতিকর হইয়াছে। এক্ষ আপনি যেৰূপ কহিলেন, আমি পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর অবশ্যই তাহার অনুষ্ঠান করব। আপনি এই রজনী অামার অালয়ে অতিবাহিত করুন। এভাতে গমন করিৰেন ব্রাহ্মণ এই কথা কহিলে, সেই আগন্তুক তুৎ প্রদত্ত আতিথ্য সৎকার গ্রহণপূৰ্ব্বক তঁাহার সহিত সন্ন্যাস ধৰ্ম্মের কথোপকথন করিতে দিবসের ন্যায় পরম সুখে রাত্রি অবিবাহিত করিলেন এবং প্রভাত হইবামাত্র গাত্ৰোথানপূর্বক ব্রাহ্মণকর্তৃক পূজিত হইয়া তঁাহার লয়ংইতে নিষ্ক্রান্ত হইলেন। তখন ব্রাহ্মণ ও স্বজনগণের অনুজ্ঞা গ্রহণপূৰ্ব্বক অতিথির উপদেশানুসারে সেই নাগরাজের আলয়ে গমন করিবার নিমিত্ত স্বীয় অখাসহইতে বহির্গত হইয়া নৈমিষাভি। মুখে গমন করিতে লাগিলেন। অষ্টদঞ্চাশদকি ত্রিশতম অধ্যায়। অনন্তর সেই ব্রাহ্মণ নেই বিচিত্র বন, পৰ্বত ও সরোবর সমুদায় অতিক্রমপূৰ্ব্বক এক মহর্ষির আশ্রমে সমুপস্থিত হইয়া তাহারে সেই নাগের বিষয় জিজ্ঞাসা করিলেন। ব্রাহ্মণ জিজ্ঞাসা করাতে মহর্ষি তঁাহার প্রতি সদয় হইয়া উহা সবিস্তারে কীৰ্ত্তন করিলেন। তখন ব্রাহ্মণ সেই নাগের অলিয়ে সমুপস্থিত হইয়া উচ্চৈঃস্বরে তাহারে সম্বোধন করিতে লাগিলেন। ঐ সময়ে নাগরাজ স্বীয় অবাসে উপ- স্থিত ছিলেন না। তাহার ধৰ্ম্মবৎসল পতিব্রতা পত্নী ব্রাহ্মণের বাক্য শ্রবণ করিবামাত্র তাহার নিকট সমুপস্থিত হইয়া স্বাগত জিজ্ঞাসা ও হার যথাবিধি, পূজা করিয়া কহিলেন, ভগবন্! আমারে আপ- নার কোন্ কাৰ্য্য সাধন করিতে হইবে, অজ্ঞা করুম্ । তখন সেই ব্ৰহ্মণ নাগপত্নীরে সম্বোধন করিয়া কহিলেন, দেবি। তোমার নিকট আমার কিছু প্রয়োজন নাই। মহাত্মা নাগরাজকে দর্শন করার নিমিত্তই আমি নিতান্ত উৎসুক হইয়াছি। তঁাহার দর্শন লাভ করিলেই আমার ভিলাষ পূর্ণ হয়। তখন নাগপত্নী কহিলেন, ভগবন্! আমার পতিরে এক বৎসরের মধ্যে এক মাস সূর্যের রথ বহন করিতে হয়। এক্ষণে তিনি সেই নিয়মানুসারে আদিত্যের রথ বহন করিতে গমন করিয়াছেন। অা- - পরমার্থ বিজ্ঞান ন্না কর । ; পনি পঞ্চদশ দিন এই স্থানে অস্থন করুন, নিশ্চয়ই তঁাহার সাক্ষাৎ- কার না ভ করিতে পারিবেন। তখন ব্রাহ্মণ নাগপত্নীরে সম্বােধনপূৰ্ব্বক কহিলেন, পতিব্রতে । অনি নাগরাজের দর্শন লাভের •ি পিত্ত এই গোমতীতীরে নিরাহারে অবস্থান করিব । তিনি গৃহে প্রত্যাগমন করিলে তুমি তঁাহার নিকট অামার আগমনের বিষয় কীৰ্ত্তন করিতে বিস্মৃত হইও না। উঃ ষষ্ট্যধিক ত্রিশততম অধ্যায়। অনন্তর সেই নাগরাজের ভাৰ্য্যা, বন্ধু বান্ধব ও ভ্রাতৃগণ সেই ব্রাহ্মণের নিকট সমুপস্থিত হইয়া দেখিলেন, তিনি গোমতীতীরবৰ্ত্তি বিজন প্রদেশে সমাসীন হইয়া নিরাহারে ইষ্টমন্ত্র জপ করিতেছেন। তখন তঁাহার। ব্রাহ্মণের যথোচিত পূজা করিয়া কহিলেন, ভগবন্! অাপনি ছয় দিন হইল এই স্থানে অগিমন করিয়াছেন; কিন্তু অদ্যা- পি' কিছুমাত্র আহার করিলেন না; এই বনে অনাহারে অবস্থান করিয়া আমাদিগের সমুদায় পরিবারকে অধর্মে লিপ্ত করা আপনার কখনই উচিত নহে। তখন ব্ৰহ্মণ কহিলেন, হে নাগগণ ! অপিনাদিগের প্রযত্নেই অামার তাহার করা হইয়াছে। নাগরাজের অগমন করিবার আর আট দিন অবশিষ্ট আছে, যদি আট দিন পরে নাগরাজ অাগমন না করেন, তাহা হইলে আমি নিশ্চয়ই আহার করিব। ব্রাহ্মণ এই কথা কহিলে, নাগগণ তাহার অধ্যবসায় অবগত হইয়া কৃতকাৰ্য্য হইতে না পারিবীয় দুঃখিত মনে স্বস্ব ভবনে প্রস্থান করিলেন। ষষ্ট্যধিক ত্রিশতম অধ্যায়। অনন্তর নিয়মিত কাল পরিপূর্ণ হইলে, পন্নগরাজ কৃতকাৰ্য ৫s সুৰ্য্যকর্তৃক সমনুজ্ঞাত হইয়া গৃহে প্রত্যাগমন করিলেন। তাঁর পত্নী তৎক্ষণাৎ তাঁহার পদ প্রক্ষালনার নিমিত্ত উথায় সমুপস্থিত হইলেন। নাগরাজ পতিব্রতা পত্নীকে সমীপে সমুপস্থিত দেখিয়া সম্বোধনপুৰ্ব্বক কহিলেন, প্রিয়ে! আমি পূৰ্বে যেৰূপ নিয়মে দেবতা পরমার্থ বিজ্ঞান ও কর। ও অতিথিদিকে পু। করিতে আদেশ করিয়াছি, তুমি সেইরূপ করিয়াছ ত? তখন নাগভাৰ্য্যা কহিলেন, নাথ! আপনি স্বধৰ্ম্মে অবস্থান করিয়া আমারে যেরূপ ধৰ্ম্মোপদেশ প্রদান করিয়াছেন, আমি তাহাই যথার্থ, ধৰ্ম্ম বলিয়া অবগত হইয়াছি। অতএব কি নিমিত্তে আমি সৎপথ পরিত্যাগ করিয়া কুপথে পদার্পণ করিব। আমি অলস পরিত্যাগ করিয়া প্রতিনিয়ত দেবতাদিগের পূজা ও অতিথিসেবায় নিযুক্ত রহিয়াছি। অদ্য পঞ্চদশ দিবস হইল এক ব্রাহ্মণ কোন কাৰ্যোপলক্ষে এ স্থানে আগমন করিয়াছেন। তিনি কোনৰূপেই আমার নিকট স্বীয় অতি প্রায় ব্যক্ত করেন নাই। আপনার সহিত সাক্ষাৎ করাই তাহার উদ্দেশ্য। তিনি আপনার প্রত্যাগমন প্রতীক্ষায় গোমতী- তীরে কাল প্রতীক্ষা করিতেছেন। ঐ মহাত্মা গমনকালে আপনি গৃহে উপস্থিত হইবামাত্র আপনারে তাহার নিকট প্রেরণ করিতে কহিয়া গিয়াছেন। আমিও তঁাহার বাক্যে স্বীকার করিয়াছি। অতএব এক্ষণে অবিলম্বে গোমতীতীরে গমন করিয়া তাহার সহিত সাক্ষাৎ করা আপনার অবশ্য কর্ত্তব্য। একষষ্ট্যধিক ত্রিশততম অধ্যায়। নগপত্নী এইরূপ কহিলে, নাগরাজ তঁাহারে, সম্বোধন করিয়া কহিলেন, প্রিয়ে ! তুমি সেই ব্রাহ্মণকে দর্শন করিয়া কি স্থির করিয়াছ ; তিনি কি মনুষ্য না কোন দেবতা মনুষ্যকার ধারণপূর্বক সমাগত হইয়াছেন। তখন নাগপত্নী কহিলেন, নাথ! আমি সেই ব্রাহ্মণের সরলতা দর্শনে অবগত হইয়াছি তিনি কখনই দেবতা নহেন। তিনি অাপনার একান্তভক্ত। অতএব নৈসর্গিক রোষ পরিত্যাগপূর্বক তঁাহার সহিত সাক্ষাৎ করা আপনার অবশ্য কর্তব্য। নাগরাজ কহিলেন, প্রিয়ে! আমার জাতি-নিবন্ধন কিছুমাত্র অভি- মান নাই। অন্যান্য ভুজঙ্গমের ন্যায় আমি কখনই ক্রোধে অজ্ঞান হই না। আমার যে নৈসর্গিক অল্পমাত্র ক্রোধ ছিল, তাহাও এক্ষণে পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর । তোমার বচনলে দগ্ধ হইয়াছে। অতঃপর আমি গোমতীতীরে সেই ব্রাহ্মণের নিকট চলিলাম। আমি অবশ্যই তাহার মনোরথ পূর্ণ করিব, তিনি নিশ্চয়ই কৃতকার্য হইয়া গমন করিতে সক্ষম হইবেন। দ্বিষ্যধিক ত্রিশতম অধ্যায়। অনন্তর ভুজগরাজ, ব্রাহ্মণ কোন্ কাৰ্যানুরোধে আগমন করিয়া- ছিলেন, মনে ইহাই আন্দোলন করিতে সেই ব্রাহ্মণের অনুসন্ধা- নার্থে গোমতীতীরে যাত্রা করিলেন এবং অনতিকালমধ্যে তথীয় সমু- পস্থিত হইয়া ব্রাহ্মণের নিকট গমনপূর্বক মধুর বাক্যে কহিলেন, তপােধন! আপনি ক্রোব সম্বরণপূর্বক আপনার এ স্থানে আগমন করিবার অতি প্রায় ব্যক্ত করুন। আপনি এই নির্জন গােমতীতীরে কাহার উপাসনা করিতেছেন ? ব্রাহ্মণ কহিলেন, মহাত্মন্। অামার নাম ধৰ্ম্মারণ্য। আমি কোন কার্যালুবোধে নাগরাজ মনতের সহিত সাক্ষাৎ করিবার মানসে এই স্থানে উপস্থিত হইয়াছি । আমি উহার অলিয়ে শুনিলাম, তিনি সূর্যের নিকট গমন করিয়াছেন। এক্ষণে কৃষক যেমন মেঘের প্রতীক্ষা করে, সেই ৰূপ আমি তঁাহার অপেক্ষা করিতেছি এবং যােগ অবলম্বনপূৰ্ব্বক তাহারই ক্লেশ ও অমঙ্গল নিবারণের নিমিত্ত বেদপাঠে প্রবৃত্ত হইয়াছি। তখন নাগরাজ কহিলেন, ব্ৰহ্ম! আপনি সচ্চরিত্র ও সজ্জন বৎসল। সেই নাগের প্রতি যথার্থই অাপনার যথেষ্ট স্নেহ আছে। এক্ষণে আপনি যাহার অনুসন্ধান করিতেছেন; আমিই সেই মাগ। অতএব আপনি ইচ্ছানুৰূপ অজ্ঞা করুম, আমি আপনার কি প্রিয়ানুষ্ঠান করব। আপনি যখন আপনার হিত 'পরিত্যাগ করিয়া অামার স্বস্ত্যয়ন করিতেছেন, তখন আমি নিশ্চয়ই আপনার গুণ গ্রামে প্রীত হইলাম। ব্রাহ্মণ কহিলেন, নাগরাজ। আমি পরমাত্মাৰে ভাত হইতে একান্ত সমুৎসুক হইয়াছি; সংসারে আমার দৃশ অনুরাগ বা বিরাগ নাই। আপনি শশাঙ্ক-কর-সঙ্কাশ আত্ম প্রকাশিত যঃ সমু পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। হদ্বারা আপনারে প্রখ্যাত করিয়াছেন। এক্ষণে আপনার সূৰ্য্য- লোকে গমনবৃত্তান্ত শ্রবণ করিয়া আপনারে একটী বিষয় জিজ্ঞাসা করিতে আমার বাসনা হইয়াছে। আপনি অগ্রে সেই বিষয়ের উত্তর প্রদান করিলে পশ্চাৎ আমি যে নিমিত্ত এখানে আসিয়াছি তাহা ব্যক্ত করিব। ত্রিষষ্ট্যধিক ত্রিশতম অধ্যায়। ব্রাহ্মণ কহিলেন, নাগরাজ ! আপনি পর্যায়ক্রমে সূর্যের একচক্র রথ বহন করিতে গমন করিয়া থাকেন। যদি তথায় কোন অদ্ভুত বস্তু আপনার দৃষ্টিপথে নিপতিত হইয়া থাকে, তাহা কীৰ্ত্তন করুন। নাগ কহিলেন, ব্ৰহ্মন্ ! ভগবান ভাস্কর বিবিধ অদ্ভুত পদার্থের আস্পদ। তঁাহাহইতে ভূত সমুদায় নির্গত হইয়াছে। তাহাহইতে সমীরণ নিঃসৃত হইয়া তাঁহারই রশ্মি আশ্রয় পূৰ্ব্বক নভোমণ্ডলে সঞ্চরণ করিতেছেন। সূৰ্য্যদেব সেই সমীরণকে পুরোবাতাদিৰূপে পরিণত করিয়া প্রজাগণের হিত সাধনের নিমিত্ত বর্ষাকালে জলের সৃষ্টি করিয়া থাকেন। বিহঙ্গমগণ যেমন বৃক্ষের শাখা অাশ্রয় করিয়া বাস করে, সেইরূপ উহার রশ্মিজালে দেবগণ ও সিদ্ধ মহর্ষিগণ বাস করিতেছেন। পরমাত্মা উহার মণ্ডলমধ্যে তেজঃপুঞ্জে প্রদীপ্ত হইয়া লোকসকলকে প্রত্যক্ষ করিয়া থাকেন। উহার শুক্র নামে কৃষ্ণবর্ণ একটী রশ্মি আছে । ঐ রশ্মি জলদৰূপে নভোমণ্ডলে প্রাদুর্ভূত হইয়া বর্ষাকালে বারিবর্ষণ করিয়া থাকে। দিবাকর বর্ষাকালে পৃথিবীতে যে ৰারি বর্ষণ করেন, আট মাস কিরণজলি-দ্বারা পুনরায় তাহা গ্রহণ করিয়া থাকেন। তিনি বীজ উৎপাদন ও পৃথিবী প্রতি পান করিতেছেন। অনাদি নিধন স্বয়ং নারায়ণ তঁাহীতে বাস ফরিয়া রহিয়াছেন। আমি নির্মল নভোমণ্ডলৈ সূর্যের সন্নিহিত * যে রাশিতে যুক্ত থাকে সেই বাশিতে চন্দ্র বৃহস্পতি শনিপ্রভৃতি কোন গ্রহ আগত হইলেই আকাশমণ্ডল মেঘবৃত ও অল্প পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয় এবং যে সময়ে শুক্রের নিকট দুই তিনটি গ্রহ অগিত হয় সেই সময়ে অতিশয় বৃষ্টি হইয়া থাকে; ইহা আমি অনেকবার পরীক্ষা করিয়া দেখিয়াছি। কোন কোন বৎসর বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ অথবা পৌষ মাঘ মাসে যে অতিশয় ব্রষ্টি হয় তাহার কারণ এই।
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। থাকিয়া এই সমুদায় অপেক্ষা আর একটী যে অদ্ভুত ব্যপার প্রত্যক্ষ করিয়াছি তাহাও শ্রবণ কৰুন্। একদা মধ্যাকালে দিবাকর কিরণ জাল বিস্তাৱপূৰ্ব্বক লোকসকলকে সন্তপ্ত করিতেছেন; এমন সময়ে আদিত্যের ন্যায় এক তেজঃপুঞ্জ কলেবর পুৰুষ আমাদের দৃষ্টিপং নিপতিত হইলেন। ঐ পুৰুষ স্বীয় তেজঃ প্রভাবে লোক সকলকে উদ্ভাষণ পূর্বক গগণতল বিদীর্ণ করিয়াই যেন সুৰ্য্যাভিমুখে আগমন করিতে লাগিলেন। অনন্তর সেই পুরুষ উপস্থিত হইবামাত্ৰ সুৰ্য্য তঁাহারে অভ্যর্থনা করিবার নিমিত্ত হস্তদ্বয় প্রসারিত করিলে তিনিও দিনকরের সম্মানরক্ষার্থে স্বীয় দক্ষিণহস্ত প্রসারিত করিলেন। তৎ- পরে তিনি গগণতল ভেদ করিয়া সূর্যের রশ্মিমণ্ডলে প্রবিষ্ট হইলেন। তখন সূর্যের সহিত তঁাহার আর কিছুমাত্র বিভিন্নতা লক্ষিত হইল না। ঐ সময় ঐ উভয়ের মধ্যে কে সূৰ্য্য তদ্বিষয়ে আমাদিগের বিল- ‘ক্ষণ সন্দেহ উপস্থিত হইল। অনন্তর আমরা সূর্যকে সম্বোধনপূর্বক কহিলাম, ভগবন্! এই যে পুরুষ নভােমণ্ডলে আগমন করিয়া দ্বিতীয় সুর্যের ন্যায় লক্ষিত হইতেছেন, ইনি কে? চতুঃষষ্ট্যধিক ত্রিশততম অধ্যায়। আমরা এই কথা জিজ্ঞাসা করিলে, সূৰ্য্য কহিলেন, তোমরা এই যে তেজঃপুঞ্জ কলেবর পুরুষকে নিরীক্ষণ করিতেছ, ইনি দেবতা, অয়ি, সর্প বা অসুর নহেন। ইনি একজন উঞ্ছ বৃত্তি ব্রতসিদ্ধ মহর্ষি । ইনি উঞ্ছবৃত্তি অবলম্বনপূৰ্ব্বক ফল, মূল, শীর্ণপত্র ও বায়ু ভক্ষণ এবং সলিল পান, উঞ্ছ বৃত্তিব্ৰত ধারণ, স্বৰ্গফল কামনা ও সংহিতাপাঠদ্বার। মহাদেবের প্রীতি সম্পাদন করিয়া স্বর্গলাভ করিয়াছেন। এই ব্রাহ্মণ অতিশয় নিরীহ ও সৰ্ব্বভূতের হিতাভিলাষী। যাহারা সদাতি লাভ করিয়া সূৰ্যমগুলে আগমন করেন, দেবতা গন্ধৰ্ব্ব অসুর ও পন্নগ- মধ্যে কেহই তঁাহাদিগের সমকক্ষ হইতে পারেন না। হে ব্ৰহ্মন্! আমি সূর্যের নিকট অবস্থান করিয়া এই আশ্চর্য ব্যাপার প্রত্যক্ষ করিয়াছি। উঞ্ছ বৃত্তি ব্রাহ্মণ অদ্যাপি সূৰ্য্যের সহিত সমুদায় পৃথিবী পৰ্যটন করিতেছেন। থ,২ পরমার্থ বিজ্ঞান-রত্নাকর। পঞ্চষষ্ট্যধিক ত্রিশতম অধ্যায়। তখন ব্রাহ্মণ কহিলেন, নাগরাজ ! আপনি যাহা কীৰ্ত্তন করিলেন, তাহা অতিশয় আশ্চর্য, সন্দেহ নাই। অপিনার অর্থমুক্ত বাক্য শ্রবণে সৎপথ আমার হৃদয়ঙ্গম হইল। আমি যার পর নাই প্রীতি লাভ করিয়াছি। এক্ষণে আপনার মঙ্গল হউক, আমি চলিলাম। আপনি ভূত্য প্রেরণ করিয়া মধ্যেই আমার তত্ত্ব করিবেন। নাগ কহিলেন, ভগবন! স্বায় অভিপ্রায় ব্যক্ত না করিয়া এ স্থান হইতে প্রস্থান করা অাপনার কৰ্ত্তব্য নহে। আপনি যে নিমিত্ত এ স্থানে আগমন করিয়াছেন, তাহা ব্যক্ত করুন। আপনার কর্তব্য কার্য সম্পন্ন হইলেই আপনি অামারে সম্ভাষণ করিয়া গমন করি- বেন। এক্ষণে আমাদের উভয়ের পরস্পর প্রণয় সঞ্চার হইয়াছে। সুতরাং বৃক্ষমূলে উপবিষ্ট পথিকের ন্যায় উদাসীনভাবে কেবল আমারে দর্শন করিয়াই গমন করা আপনার কদাপি কৰ্ত্তব্য নহে। আমার প্রতি আপনার যেৰূপ ভক্তি, আপনার প্রতিও আমার তদ্রুপ ভক্তি আছে, সন্দেহ নাই। যখন আমার সহিত অাপনার মিত্রত। জন্মিয়াছে, তখন আমার ভবনে অবস্থান করতে আপনার আশঙ্কা কি? অাপনাতে অামাতে কিছুমাত্র প্রভেদ নাই। আমার সমুফায় পরিবারই আপনার অধিকৃত। তখন ব্রাহ্মণ কহিলেন, নাগরাজ ! আপনি যাহা কহিলেন, তাহ অযথার্থ নহে। দেবগণ অাপনার অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ নহেন। যখন কি আপনি, কি আমি, কি অন্যান্য প্রাণিগণ সকলকেই একমাত্র পরব্রহ্মে প্রবিষ্ট হইতে হইবে, তখন অাপনাতে ও অামাতে যে কিছুমাত্র প্রভেদ নাই, তাহার আর সন্দেহ কি? যাহা হউক, পূর্বে আমি পুণ্য সঞ্চয়ের উপায় স্থির করিতে অসমর্থ ছিলাম, আপনার প্রসাদে তদ্বিষয়ে সমর্থ হইয়াছি। এক্ষণে আপনি পরম সুখে কাল যাপন কৰু, আমি চলিলাম। অতঃপর আমি পরমার্থ লাভের প্রধান ধিন উবৃত্তি অবলম্বন করিব, সন্দেহ নাই।
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। ১৩৬ যটষষ্ট্যধিক ত্রিশতম অধ্যায়। ভীষ্ম কহিলেন, ধৰ্ম্মরাজ! এইরূপে সেই ব্রাহ্মণ নাগরাজকে আমি- ন্ত্রণপূর্বক তথহইতে স্থান করিয়া দীক্ষা লাভের অভিলাষে ভৃগু- নন্দন চ্যবনের নিকট উপস্থিত দুইয়া স্বীয় বৃত্তান্ত আদ্যোপান্ত কীর্তন করিলেন। মহাত্মা চ্যবন তঁাহার বাক্য শ্রবণ করিয়া সংস্কার সম্পা- দনপুৰ্ব্বক তঁাহাকে উষ্ণু বৃত্তি ধর্মে দীক্ষিত করিলেন। তখন ব্রাহ্মণ ধৰ্ম্মে একান্ত অনুরক্ত হইয়া সংযম ও নিয়ম অবলম্বনপূৰ্ব্বক বনে বনে পরিভ্রমণ করিয়া উবৃত্তিারা জীবিকা নিৰ্বাহ করিতে লাগিলেন। প্রথমত মহর্ষি চ্যবন জনকের আলয়ে উপস্থিত হইয়া দেবর্ষি নারদের নিকট ঐ উঞ্ছবৃত্তি ব্রাহ্মণের বৃত্তান্ত অনুপূৰ্বিক কীৰ্ত্তন করেন। পরে নারদ দেবরাজ ইন্দ্রকে ও দেবরাজ ব্রাহ্মণগণকে ঐ বৃত্তান্ত কহিয়া- ছিলেন। পরশুরামের সহিত আমার যখন যুদ্ধ উপস্থিত হয়, সেই সময় বসুগণ আমার নিকট এই পবিত্র কথা কীৰ্ত্তন করিয়াছিলেন। এক্ষণে তুমি অামারে অশ্রিমীদিগের শ্রেষ্ঠ ধৰ্ম্ম জিজ্ঞাসা করাতে আমি তোমার নিকট সেই উঞ্ছবৃত্তি ব্রাহ্মণের উপাখ্যান কীৰ্ত্তন করিলাম। সুবোধসিদ্ধান্ত। হে মহাশয়গণ! এই আমি আপনাদিগের নিকট সূৰ্যমগুলমধ্যে যে পরমাত্মা বিরাজমান অাছেন, তাহা কএক অধ্যায় মহাভারত দ্বারা প্রতিপন্ন করিলাম। সুর্য নারায়ণদেব যে এই জগতের অধিপতি এবং মহাত্মা কালীপ্রসন্ন সিংহ মহােদয় মোক্ষধৰ্ম্ম পাধ্যায়ের ভূমিকাতে যে ঈশ্বরে বিদিত হইবার কথা উল্লেখ করিয়া ছিলেন, তাহাও আপনারা এক প্রকার জ্ঞাত হইলেন। আপনাদিগের মনোমধ্যে যদি কোন সংশয় থাকে, তবে তাহা প্রকাশ করিয়া বলুন। বোপাচার্য। মহাশয় ! নাগরাজ কে ? এবং তিনি যে বৎসরের মধ্যে কেবল এক মাস সূর্যের রথ বহন করেন ইহার তাৎপৰ্য্যই ৰা ১৩৪ পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর কি ? এবং সূর্যের এক চক্র। রথই বা কি প্রকার ? ইহা আমাদিগের বোধগম্য হইতেছে না। এক্ষণে আপনি অনুগ্রহপূর্বক আমাদিগকে ঐ তিন বিষয়ের তাৎপর্য বুঝাইয়া দিউন। সুবোধসিদ্ধান্ত। ওহে বোধাচাৰ্য্য! পরমারাধ্য মহর্ষি ব্যাসদেব বাহ্য পদার্থের সহিত দৈহিক পদার্থের সমন্বয় দেখাইবার নিমিত্ত দ্বিরাজকে (চন্দ্রমণ্ডলকে) নাগরাজ এবং জ্যোতিঃপদার্থকে সূর্যের রথ ও পৃথিবীকে ঐ রথের চক্র বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন। যেমন চক্র আবর্তিত না হইলে রথের গতি হয় না তােপ পৃথিবী আবর্তিত না। হইলে সূর্যের উদয়াস্ত দৃষ্ট হইতে পারি না। আর জ্যোতিষ শাস্ত্রে রাশিচক্র খানি বর্ষচক্র বলিয়া কথিত আছে। যেহেতু দৃষ্টতঃ সূর্যের ( যথার্থতঃ পৃথিবীর) দ্বাদশ রাশি ভোগ হইলেই সম্বৎসর পরিপূর্ণ হয়, অতএব ঐ রাশিচক্রই বর্ষচক্র। এক্ষণে দ্বিজ রাজ সার্ধ সপ্তবিং- শতি দিনে ঐ রাশিচক্র একবার পরিভ্রমণ করেন বলিয়া বৎসরে এক মাস (চান্দ্রমাস) সূর্যের রথ বহন করা সিদ্ধ হইতেছে। অর্থাৎ চন্দ্র মেষরাশিহইতে গমন করিয়া সমুদায় রাশি পৰিভ্ৰমণপূৰ্ব্বক পুনর্পার মেষরাশিতে আগমন করিতে যে ২৭ দিন হয়, তাহাকেই চান্দ্রমাস কহা যায়, এবং ঐ ২৭ দিনে সূৰ্য্য বা পৃথিবীর যে এক রাশি ভোগ হয়, আকর্ষণ-সূত্রে তৎসহ চন্দ্রেরও এক রাশি ভোগ হইয়া থাকে। সুতরাং ঐ এক রাশি ভােগের কাল ২ দিন ধরিয়া লইলে ২৭ দিনের সহিত মিলিত হইয়া ত্রিংশদিবস (সৌর মাস) পরিপূর্ণ হইয়া থাকে। চান্দ্র মাস ও সৌর মাসে এই বিশেষ থাকাতেই প্রায় অাড়াই বৎসর অন্তর তদুভয়ের ঐক্যতা বিধানৰ্থ শাস্ত্রকারের মল- মাসের সৃষ্টি করিয়াছেন। প্ৰস্তুত জীবের দেহমধ্যে বাম ও দক্ষিণাঙ্গ আশ্রয় করিয়া চন্দ্র দিব নিশি পূর্বোক্ত প্রকারে মায়াচক্র পরিভ্রমণ করিতেছেন, ইহা পদ্ম পুরাণে বর্ণিত আছে। রতিশাস্ত্র ও সম্ভোগ-রত্নাকর গ্রন্থে তিথিবি- শেষে দেহস্থিত চন্দ্রের স্থানবিশেষে যে অবস্থিতির বিবরণ লিখিত আছে, বোধ হয় তাহাও পদ্ম পুরাণহইতে সঙ্কলিত। এই আমি আপ- পরমার্থ বিজ্ঞান বা কর । ১৩৫ নাদিগের নিকট নাগরাজের ( চন্দ্রের) বর্ষমধ্যে সূর্যের এক মাস রথ বহন করার বিষয় স্পষ্ট করিয়া কহিলাম, সম্প্রতি দেহস্থিত নাগরাজ (চ) ও তাহার পত্নীই বা কে, তাহা আমি পূৰ্ব্বে বর্ণনা করিয়া কহি- যাছি ; সুতরাং এ স্থলে আর পুনার কহিবার প্রয়ােজন নাই। যিনি দেহমধ্যস্থ জগদীশ্বরের (কারণদেহের ) সহিত সূৰ্য্যমগুলের যে বিশেষ সম্বন্ধ আছে তাহা জ্ঞাত হইতে অভিলাষী হইবেন, তিনি অগ্রে দেহস্থিত নাগরাজের সহিত সাক্ষাৎকার করিতে যত্নবান হউন। ইতি শাস্ত্র প্রমাণ দ্বারা সন্দেহ ভঞ্জন নামক নবম অধ্যায়। দশম অধ্যায়। [ শ্রোতাগণের মধ্যে যাহারা নাস্তিক তাহাদিগের সন্দেই ভঞ্জনার্থ সুবোধসিদ্ধান্ত মহাশয় অবোধভট্টের প্রশ্নানুসারে পুনৰ্ব্বার যাহা কহিতেছেন, পাঠক মহাশয়গণ তাহা মনােযোগপূর্বক শ্রবণ করুন।] সুবােধসিদ্ধান্ত। হে মহাশয়গণ ! বেলা শেষ হইতেছে, আমি ত্বরায় স্বস্থানে গমন করিব। অতএব আপনাদিগের মধ্যে এখনও যদি কাহারো কোন বিষয়ে গুরুতর সন্দেহ থাকে, তবে তাহা প্রকাশ করিয়া বলুন। অবোধভউ। মহাশয়! এই ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা যে এক জন পরমেশ্বর বিরাজমান আছেন, এতদ্বিষয়ে আমার গুরুতর সংশয় রহিয়াছে। কেননা আমার যৌন হয়, যে কার বৃক্ষের বীজহইতে বৃক্ষ উৎপন্ন হইতেছে, জীগণের বীৰ্য্যৰূপ বীজ হইতেও সেই প্রকারে জীৰ সমূহ উৎপন্ন হইয়া থাকে। সুতরাং পরমেশ্বরের পরমার্থ বিজ্ঞান ৰত্ন: কব। অস্তিত্বে আমার দৃঢ় বিশ্বাস নাই। অতএব আপনি কোন উৎকৃষ্ট প্রমাণদ্বারা আমার এই গুরুতর সংশয় নিরাকরণ করুন্। সুবােধ সিদ্ধান্ত। ওহে অবােধ ! সাতকাও রামায়ণ শ্রবণপূর্বক সীত। কাহার ভাৰ্যা বলিয়া প্রশ্ন করার ন্যায় তোমার এই প্রশ্ন শ্রবণে আমি সমধিক দুঃখিত হইলাম। হায়! পূৰ্ব্বাবধি তুমি যদি নাস্তিক ছিলে, অর্থাৎ পরমেশ্বরের অস্তিত্বে যদি তোমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল না । তবে তুমি উপযুক্ত সময়ে ইহা জিজ্ঞাসা কর নাই কেন? যাহা হউক, এক্ষণে তোমার তুল্য অবোধ জনগণের নিমিত্ত আমি আধ্যাত্মিক, আধিভৌতিক ও আধিদৈবিক এই তিন বিষয়ে প্রত্যক্ষমূলক অনু- মান প্রমাণ দ্বারা পরমেশ্বরের সত্তা নিৰূপণ করিয়া কহিতেছি ; তুমি মনোযােগ, পূৰ্ব্বক ইহা শ্রবণ করিয়া উত্তমরূপে বুঝিতে পারিলে বুদ্ধি- ৰূপ জ্ঞানচক্ষুরা পরমেশ্বরকে দর্শন করিতে সক্ষম হইবে, ইহাতে কোন সন্দেহ নাই। আধ্যাত্মিক প্রমাণ। ওহে অবােধ ! তুমি বিবেচনা করিয়া দেখ, তোমার এই যে শরীর ইহা পাঞ্চভৌতিক ; অর্থাৎ মৃত্তিকা, জল, তেজ, বাযু ও আকাশ এই পঞ্চ মহাভুতের সূক্ষমাংশ দ্বারা বিনির্মিত। কিন্তু মৃত্তিকাদি ঐ পঞ্চ মহাভূতের কোন এক ভূতেও চৈতন্য নাই; অথচ ঐ পঞ্চভূতের সূক্ষনাংশ দ্বারা বিনির্মিত এই যে তোমার ক্ষুদ্র দেহ, ইহাতে চৈতন্য থাকা উপলব্ধি হইতেছে, যাহাকে জীবাত্মা বলা যায়। ভাল, যখন পৃথিবী জল তেজ বায়ু ও আকাশ এই পঞ্চ মহাভুতের কোন এক ভুতেও চৈতন্য নাই তখন ঐ পঞ্চ মহাভূতের ক্ষমাংশদ্বারা বিনির্মিত এই যে তােমার ক্ষুদ্র দেহ, ইহাতে কোথা হইতে কি প্রকারে চৈতন্য আগত হইল? এক্ষণে বিচার করিলে এই শারীরিক চৈতন্য বিষয়ে দুই টী'কোটি উপস্থিত হইতে পারে ; অর্থাৎ হয়ত ঐ পঞ্চভূত একত্রে * চৈতন্যপদী সৰ্ব্বব্যাপী সুতরাং সকল ভূতে সমভাবে বিরাজিত আছেন, কিন্তু যে পদার্থের জীবচৈতন্য আছে জীৰলোকে 'তাহাই সচৈতন্য বা সজীব বলিয়া ; কথিত হয়েন।
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। মিলিত হইলেই তন্মধ্যে চৈতন্যের উৎপত্তি হয়। না হয়, সকল দেহের পৃথকং চৈতন্যের পৃথক জীবের) আমূল কোন এক বৃহৎ অপার মহিম চৈতন্য আছেন। এক্ষণে বিবেচনা করিয়া দেখিলে ঐ দুইটী কোটির মধ্যে প্রথম কোটি প্রত্যক্ষমূলক অনুমান মণিদ্বার। অ প্রমাণ হইতে পারে। কেননা, ভিন্ন দ্রব্য মিশ্রিত হইলে যে গুণ উৎপন্ন হয়, তাই প্রত্যেক দ্রব্যের স্বাভাবিক যে গুণ থাকে তাহার মতই হয় ; কিম্বা প্রত্যেক দ্রব্যের গুণের হ্রাস কি বৃদ্ধি অথবা অন্য প্রকার গুণ উৎপন্ন হইয়া থাকে। কদাচ তাহার বিপরীত হয় না। যেমন গন্ধক পীতবর্ণ ও পারদ শ্বেতবর্ণ ; কিন্তু এই দুই বস্তু মিশ্রিত করিলে কৃষ্ণবর্ণ কঞ্জলী অথবা রক্ত বর্ণ হিঙ্গুল উৎপন্ন হয়। কি বর্ণের বিপরীত হয় না, অর্থাৎ গন্ধক ও পারদের শ্বেত পীত বং রহিত হইয়া এককালে বর্ণা ভাব জন্মে না । এক্ষণে পূৰ্ব্বোক্ত প্রমা দ্বারা বিবেচনা করিয়া দেখ, পৃথিবী জল তেজ বায়ু ঔ আকাশ ইহার প্রত্যেক ভূতে যখন চৈতন্যেৰ অভাব দৃষ্ট হই- তেছে, তখন ঐ পাঁচ ভূত জড় পদার্থ। সুতরাং ঐ পাঁচ প্রকার জড়ের সংযোগে জড়ত্বের অভাব যে চৈতন্য তাহার উৎপত্তি হইবার সম্ভাবনা নাই। এতবতা প্রথম কোটি যদি অসিদ্ধ হইল, তবে দ্বিতীয় কোটি প্রমাণ রহিল, অর্থাৎ এই সকল পৃথকং দেহস্থ পৃথকং চৈতন্যের আমুল কোন এক বৃহৎ অপরিমহিম চৈতন্য আছেন, তিনিই সৰ্ব্ব- ব্যাপী এবং তঁাহাহইতে শারীরিক পঞ্চভূতের অবস্থা বিশেষে জীব চৈতন্যের আবির্ভাব হয় ও অবস্থান্তরে সেই মহান চৈতন্যে লয় প্রাপ্ত হইয়া থাকেন। ওহে অবোধ! সেই সৰ্বব্যাপী চৈতন্য পদা- থকেই তুমি পরমেশ্বর বলিয়া স্বীকার কর। * প্রত্যক্ষমূলক অনুমান প্রমাণ এই প্রকার, যথা--• রামদাস শ্যামদাসভূতির মৃত্যু দর্শন বা শ্রবণ করিয়া ফরিদাসের মৃত্যু না দেখিলেও অনুমনিছার। এরূপ নিশ্চয় বোধ হয যে রামদাস শ্যামদাসের ন্যায় হবিদাও এক দিবস মহানিদ্রায় অভিভূত হইবেন।
১৩৮ পরমার্থ বিজ্ঞান বাকর। } ; আধিভৌতিক প্রমাণ। সুবোধ সিদ্ধান্ত। ওহে অবোধ ! তুমি বিবেচনা করিয়া দেখ, এই পরিদৃশ্যমান্ জগতের সত্তাবিষয়েও দুইটি কোটি উপস্থিত হইতে পারে; অর্থাৎ হয়ত ইহার আদি ছিল, না হয়ত ইহার আদি নাই, চিরকাল সমানভাবে আছে। এতন্মধ্যে তুমি প্রথম কোটি অবলম্বন করিয়া যদি বল ৫৫ জগতের আদি ছিল ; তবে তোমার প্রতি জিজ্ঞাস্য এই যে, যদি জগতের অাদি ছিল, তবে সেই আদি অব স্থার পুৰ্ব্বে অবশ্যই কোন সত্য পদার্থ ছিলেন ; যাহার কাৰ্য্য এই জগৎ। সুতরাং সেই আদি অবস্থায় যিনি এই অচিন্ত্য অনুপম বিশ্ব- সংসার বিরচন করিয়াছেন, তাহাকে সৃষ্টিকর্তা পরমেশ্বর বলিয়া স্বীকার কর । আর যদি দ্বিতীয় কোটি গ্রহণ কর ; অর্থাৎ এই বিশ্বের আদি নাই, অনাদি, চিরকাল সমানভাবে আছে বল ; তবে এই অচিন্ত্য অনাদি বিশ্বকাৰ্য্যের সমকালীন কোন এক অনাদি অনন্ত শক্তিমান কারণ অাছেন, ইহা অবশ্যই স্বীকার করিতে হইবেক। যেহেতুক কারণ ভিন্ন কার্যের উৎপত্তি হইবার সম্ভাবনা নাই; ইহা সৰ্ব্ববাদী সম্মত বাক্য। সুতরাং অনাদি কালাবধি যিনি এই জগতের স্থাপয়িতা ও নিৰ্বাহক তাঁহাকে সৃষ্টিকর্তা পরমেশ্বর বলিয়া বিশ্বাস কর । আধিদৈবিক প্রমাণ। ‘সুবোধ সিদ্ধান্ত। ওহে অবোধ! তুমি বিবেচনা করিয়া দেখ, এই অাকাশপদার্থ • অনন্ত ও অপরিমিত। এই অপরিমিত আকাশে সহজ দৃষ্টির দ্বারা অথবা দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে আমরা যত দুর পৰ্য্যন্ত দৃষ্টি করিতে পারি, তাহাতে গ্রহ নক্ষত্রাদি অসংখ্য অৰ- যুব দেখিতে পাই। আর ঐ আকাশস্থ অবয়বসমূহ অতি বেগে আপন আপন বিশেষৎ পথে গমন করিতেছে ইহাও প্রতি দিবস অনেকের নয়নগোচর হইতেছে। অধিকন্তু ঐ সকল নক্ষত্র ও বুধ যে পদার্থকে সাধারণ লোক অাকাশ কহে তাহাই পরমাত্মা, আকাশ দুষ্ট বস্তু, সুতরং অপরিমিত নহে। ;
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। শুক্র প্রভৃতি গ্রহগণ এৰূপ দ্রুত গমনে ও একটি অবয়ব অন্য একটিতে সংলগ্ন হইয়া ভগ্ন হইতেছে না, বরং একটি জীবদেহের হস্ত পদ মন্তকাদি পৃথকং অবয়বের ন্যায় ঐ সমস্ত গ্রহাদি পরস্পর অন্যোন্যের অনুকূল ও আশ্রয় হইয়া ভ্রমণ করিতেছে। এক্ষণে ঐ আকাশস্থ গ্রহ নক্ষত্রাদির গমনের প্রতি কারণ বিষয়ে দুই টি কোটি উপস্থিত হইতে পারে। অর্থাৎ হয়ত ঐ সকল অবয়বের প্রত্যেকের অভ্যন্তরে জীবাত্মার ন্যায়, এক একটি শক্তি আছেন, যারা জীব- দেহের ন্যায় উহরা আপন অসিন দেহ স্বয়ং পরিচালন করিয়া উদয়াস্ত সম্পাদন করিতেছে। আর তা না হয়ত উহাদিগের বহিঃস্থায়ী কোন শক্তি অবস্থই অাছেন, যিনি নৌকা অথবা গাড়ীর ন্যায় উহাদিগকে (সমুদায় গ্রহ নক্ষত্রদিগকে। সুনিয়ম পরিচালিত করিতেছেন। এক্ষণে সুক্ষমৰূপে বিবেচনা করিয়া নেসিলে ইহার প্রথম কোটিটি কিঞ্চিৎ অসঙ্গত বলিয়া বোধ হয়। কেননা, আমরা প্রত্যক্ষ দেখিতেছি যে, ঐ সমস্ত নক্ষত্রাদি অবয়ব সমূহ পৃথক হইয়াও যেন একটী যন্ত্রের ন্যায় গমন করিতেছে। অর্থাৎ যেমন মনুষ্যাদি জীব শরীরের হস্ত পদ মস্তকাদি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সকল পৃথক হইলে ও গমদি কালে কেহ কাহারো ব্যাঘাত না জন্মা- ইয়া পরস্পর অনুকুল ও আশ্রয়ভাবে গমন করে, ড্রপ ঐ সকল আকাশস্থ অবয়বও অনুকূল ও আশ্রয়ভাবে গমন করিতেছে। অত- এব যেমন এক শরীরের হস্ত পদাদি ভিন্ন অবয়বের প্রয়োজন ও শক্তি ভিন্ন হইলে ও গমনাদি ক্রিয়াতে সমুদায় শরীরব্যাপী এক শক্তিকে মানিতেছে ; যাহাকে জীবাত্মা বলা যায়, দ্রুপ ঐ সকল গ্রহ নক্ষত্রাদি পৃথক অবয়বের প্রয়োজন ও শক্তি পৃথক হইলেও গমনাদি ক্রিয়াতে তাহাদিগের সমুদায় শরীরব্যাপী এক মহান শক্তিকে মানিতে হইবেক। যাঁহাকে সৰ্ব্বব্যাপী সৰ্ব্ব শক্তিমান পরমে, শ্বর বলিয়া সৰ্ব্বদেশীয় জ্ঞানীলোকমাত্রেই বিশ্বাস করিয়া থাকেন। ওহে অবোধ ! এই আমি তোমার নিকট আধ্যাত্মিক, আবি- ভৌতিক ও আধিদৈবিক এই তিন বিষয়ে প্রত্যক্ষমূলক অনুমান ৪ পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। } প্রমাণদ্বারা প্রাচীন মুনি ঋষিগণের মতানুসারে পরমেশ্বরের সন্তা নিৰূপণ করিলাম। এক্ষণে পরমেশ্বরের অস্তিত্ব-বিষয়ে তোমার দৃঢ় জ্ঞান হইল কি না, তাহা প্রকাশ করিয়া বল। অবােধভট্ট। মুহাশয়! ইতঃপূৰ্বে পরমেশ্বরের অস্তিত্বে আমার যে সংশয় ছিল, তাহা আপনার বক্তৃতানলে সম্প্রতি দগ্ধ হইল। এক্ষণে যে প্রকারে জগদীশ্বরকে দর্শন করিতে পারা যায়, তাহ। অাপনি অনুগ্রহপূর্বক সংক্ষেপে প্রকাশ করিয়া বলুন। সুবোধসিদ্ধান্ত। ওহে অবোধ ! যে প্রকারে দেহমধ্যে ব্যষ্টি জগ দীশ্বরকে জ্ঞাত হইতে পারা যায়, তাহা আমি শাস্ত্র বাক্যের সহিত ঐক্যতা রাখিয়া যথার্থরূপে বর্ণনা করিয়া কহিয়াছি, সম্প্রতি তোমার স্মরণাৰ্থ পুনৰ্ব্বার সংক্ষেপে কহিতেছি শ্রবণ কর। সাধক শ্রোতাদি ইন্দ্রিয় সমূহকে শব্দাদি পঞ্চ বিষয়ের সহিত মনেতে লয় প্রাপ্ত করিয়া অন্তমুখচিত্ত হওত দেহমধ্যে সচ্চিদানন্দ- স্বৰূপ জগদীশ্বরকে দিবা নিশি অনুসন্ধান বা ধ্যান করিবেন। এই প্রকারে অনুসন্ধান করিতে যখন তঁাহার ঈশ্বরপ্রবণ চিত্ত সত্ত্বগুণ দ্বারা নির্মলীকৃত হইবেক, তখন জগদীশ্বর স্বয়ং তঁাহার নিকট প্রকাশিত হইবেন। অর্থাৎ তখন তঁাহার এতদ্রপ বােধ হইবেক যে, আমি আননীরে ভাসমান হইয়া আন্দোলন সহকারে একটি অনি- চনীয় আনন্দু ভোগ করিতেছি, যে আনন্দ আমার সমুদায় নিরা- নকে নিরাকৃত করিয়া স্বয়ং প্রকাশিত হইলেন। ঐ অনল পদার্থই জগদীশ্বর বা পরমাত্মা। যদি কেহ একাগ্রচিত্ত হওত প্রতিদিবস পাঁচ ছয় ঘণ্টাকাল সাধনা করেন, তবে তিনি বহুকালে কৃতকার্য হইতে পারিবেন। কিন্তু যিনি সাধ্যানুসারে একাগ্রচিত্ত হওত দিবানিশি সাধনা করিবেন, তিনি সত্যানুরক্ত, জিতেন্দ্রিয়, সদাশয় অথচ বুদ্ধিমা হইলে দুই মাসের মধ্যে আপনার কারণদেহ ও তৎসহ সূর্যমণ্ডলের যে বিশেষ সম্বন্ধ আছে তাহা উত্তমরূপে জ্ঞাত হইতে সক্ষম হইবেন, সন্দেহ নাই।
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। হে মহাশয়গণ! এই আমি আপনা রদিগের নিকট আত্মীয়ভাবে সনাতন ধর্মের সাক্ষ্য প্রদানার্থ বক্ত তদ্বিারা কিঞ্চিৎ নিগুঢ় মৰ্ম্ম প্রকাশ করিয়া কহিলাম। এক্ষণে আপনারদিগের অন্য কোন বিষয় শ্ৰৰণ করিবার নিমিত্ত যদি কোন অভিলাষ থাকে, তবে তাহা প্রকাশ করিয়া বলুন। ইতি বিচারৰূপ জ্ঞানচক্ষুদ্বারা পরমেশ্বর দর্শন নামক দশম অধ্যায়। একাদশ অধ্যায় । সম্প্রতি সুবোধ সিদ্ধান্তের বাক্যানুসারে বোধাচাৰ্য যে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিতেছেন, পাঠক মহাশয়েরা তাহা মনোযোগপূৰ্ব্বক শ্রবণ করুন :] বোপাচার্য্য। মহাশয়! এক্ষণে এই বঙ্গদেশের স্থানে মেলে- রিয়া নামক এক প্রকার জ্বররোগ মারিভয়ৰূপে অবতীর্ণ হইয়া নির- তর প্রজা ক্ষয় করিতেছে। এতন্নিমিত্ত বঙ্গদেশের অধিকাংশ লােকের মনে সুখ নাই। বিশেষতঃ মনুষ্যের অন্তঃকরণ প্রফুল্ল না থাকিলে ধৰ্ম্মানুষ্ঠান বা অন্য কোন মহদ্বিষয়ে চিন্তু ধাবিত হয় না, এতবতা অনেকেই বিমর্ষভাবে কালযাপন করিতেছেন। অধিকন্তু যাহারা মেলেরিয়ার হন্তে পতিত হইয়া বহু কষ্টে রক্ষা প্রাপ্ত হইয়া- ছেন, ভঁহাদিগের বিকৃত কলেবর অবলোকন করিলেও সরলচিত্ত ব্য- ক্তিবর্গের হৃদয় বিদীর্ণ হইয়া যায়। ঐ জ্বরের প্রভাবে কত শত গৃহস্থ যে কালকবলে নিপতিত হইয়াছে এবং এক্ষণেও হইতেছে তাহার ইয়ত্তা নাই। আর কিছু দিবস উহার এতদ্রুপ ৫াদুর্ভাব থাকিলে বোধ হয় এই সোনার বঙ্গদেশ এককালৈ জনশূন্য হইয়া ব্যাঘ্র ভক্স- S૬૨ পরমার্থ বিজ্ঞানী রত্না কর - কাদি হিংস্র জন্তুগণের অাসস্থল হইয়া উঠিবে। যাহা হউক, কোথা হইতে ঐ রোগ কি করে এতদ্দেশে আগত হইল এবং কি প্রকারেই বা উহার হস্তু হইতে পরিত্রাণ পাইতে পারা যায়, আপনি তাহা আমাদিগকে প্রকাশ করিয়া বলুন। সুবােধসিদ্ধান্ত। ওহে বোধাচাৰ্য ! মেলেরিয়া নামক যে জ্বর (আকাশ বা বায়ুবিকার) তাহা এতদ্দেশের প্রাচীন রােগ ; তবে যে পূৰ্ব্বাপেক্ষ। এক্ষণে মেলেরিয়া বসন্ত ও ওলা উঠা প্রভৃতি রোগসমূহ মারিভয়ৰূপে অবতীর্ণ হইয়া নিরন্তর প্রজাক্ষয় করিতেছে তাহার নিগূঢ় বারণ আমি অাপনাদিকে দ্বিতীয়ামে বর্ণনা করিয়া বহি- য়াছি। সম্প্রতি ঐ সমস্ত রোগৎপত্তির স্থূল বিবরণ (যাহা তোমাদি- গের বোধগম্য হইতে পারিবেক তদ্বিষয়) কএক দফায় কহিতেছি অাপনারা শ্রবণ পূর্বক তাহার প্রতীকার করিতে সত্বরে যত্নবান্ হউন, নৎ শমন ভবনে গমন করিবার নিনিত্ত প্রস্তুত হইয়! থাকুন। ১। আৰ্যশাস্ত্র মতে সেচ্ছ সংস্পষ্ট দূষিত জল চিরকাল অশুন্ধ, সুতরাং তাহা পান করা বিয়ে । বেদশাস্ত্রের মস্তকে পদ- পণ করিয়া যে সমস্ত প্রতারকের কল্পিত সাধু নাম ধারণপূর্বক দূষিত জল পান করিতে বিধি দেন, তঁাহারা অৰ্য্য নহেন। ২। সময়ক্রমে কোন উপায়ে লবণ বিশুদ্ধ করিয়া ভক্ষণ কর। কৰ্তব্য, কেননা তাহা চােদেশহইতে অনীত এবং এতদ্দেশেও যন- দিদ্বারা প্রস্তুতীকৃত হইতেছে। যেহেতুক সাধারণ লবণ পদার্থ লব- গাক্ত জল সিদ্ধ করিয়া প্রস্তুতকৃত হয়, অতএব তাহা শোধন করিয়া ভক্ষণ করা বিধেয়। এতন্নিমিত্ত শাস্ত্রকারের সৈন্ধব লবণকে বিশুদ্ধ বালিয়া বর্ণনা করিয়াছেন। ৩। যাঁহারা অহিফেণ ভক্ষণ করেন, তাহারা জল ও বস্ত্রদ্বার। ভাই। বিশুদ্ধ করিয়া লইবেন। যেহেতুক তাহা সেচ্ছ সংস্পষ্ট ও তন্মধ্যে ক্ষুদ্রং লৌহশলাকা দৃষ্ট হয়। ঐ শলাকা উদরে প্রবিষ্ট হইলে আমাশয়ে বিদ্ধ হইয়া বিবিধ প্রকার রোগগাৎপাদন করে। ৪। যাহারা অকারণে ইচ্ছানুৰূপ কারণ সেবন করেন, তঁাহার।
পরমার্থ বিজ্ঞান না কর । অবিলম্বে তাহা পরিত্যাগ করুন, নচেৎ যমরাজের আঁস্তাকুড়েও তাহ- দের স্থান প্রাপ্ত হওয়া দুর্লভ হইযা উঠিবে। ৫। কতিপয় বৎসর গত হইল এদেশের অমড়ছে প্রায় পাই। থাকে না; এক প্রকার সবিষ কীট আসিয়া সমুদায় পত্র ভক্ষণ করিয়া ফেলে। ঐ কীট গুলি বরদীর ন্যায় হরিদ্রাব, কিন্তু সৰ্ব্বাঙ্গে কলিং গোলাকার দাগ আছে । ছুরিকাদ্বারা উহাদের তাৰ্দ্ধাংশ দেহ কাটিয়া ফেলিলেও উহার কোন প্রকার যাতনা প্রকাশ করে না, বরং যে অর্ধাংশে পাখা থাকে সেই অর্ধাংশ উড়িয়া যায়। হস্তদ্বার। ধরিয়ে গেলে কিম্বা ধৰিলেও পলাইনার চেষ্টা করে না। ভাল, ঐ ৱিীহ বিষাক্ত কীটগুলি কোথহইতে এতদ্দেশে আগত হইল এবং কি প্রকারে উহাদিগকে দূরীভূত করতে পারা যায় আপনারা তা- হাব কারণানুসন্ধানে বায় যত্নবান হউন। কতিপয় বৎসব গত হইল ঢুণেখালিব আহইতে বহু সংখ্যক কীট জাত হইয়া এত দ্দেশের সমুদায় মিষ্ট আম্রকে দূষিত করিয়াছিল। এমন কি, ভাল আম্র কাটিবামাত্র তন্মধ্যে দুই একটি কীট ও প্রচুর পরিমাণে তাহা- দের মল দৃষ্ট হইত। আশ্বিন ও কার্তিকে ঝড়ের প্রভাবে উহার। এতদ্দেশে প্রায় নির্ধ্বংশ হইয়াছে। ৬। কতিপয় বৎসর গত হইল এতদ্দেশে এক প্রকার সবিষ শম্বুক আসিয়াছে। এই শম্বুকের দুইটি রযােৎপাদক শৃঙ্গ ও বৃহৎ বদন দেখিতে পাওয়া যায়। এই জন্তু অতিশয় বিষাক্ত, দিবানিশি শাকাদি বিবিধ প্রকার পত্র ভোজন করিয়া প্রচুর পরিমাণে মল ত্যাগ করে এবং যে স্থান দিয়া গমন করে উহাদিগের গাত্রবসীর। সেই স্থানের তৃণ বৃক্ষ পত্রাদি সমুদায় পদার্থ বিষাক্ত হইয়া যায় । সেই সমস্ত বিষদ্বারা অনেক গো মনুষ্য পীড়িত হইতেছে। ভাল, ঐ জন্তু কোথাহইতে এতদ্দেশে আগত হইল এবং কি প্রকারেই বা উহায়া দূরীভূত হইতে পারে আপনারা তাহার কারনান্বেষণে ত্বরায় যত্নবান হউন। ৭। এতদ্দেশের ক্ষুদ্রং পুষ্করিণীতে প্রতি দিবস স্ত্রীলোকেরা প্রায় Sও পরমার্থ বিজ্ঞান বসু কর। দুই কলসীর অবিক মুত্র পরিত্যাগ করে, সুতরাং প্রতি বৎসর তা হাতে ৭৩• কলসীরও অধিক মূত্র পতিত হয়। কিন্তু চৈত্র বৈশাখ মাসে সেই সকল পুষ্করিণীর প্রত্যেকটায় সহস্র কলসীর অধিক জল থাকে না। এতবতা তৎকালে পুকুরের বারো আনা (সূক্ষমৰূপে বিবেচনা করিয়া দেখিলে ষোল আনা) জল মুত্র বলিয়া লেণিত। হইয়া থাকে, এবং তদুপরি যমদণ্ডের ন্যায় ভয়ানক এক প্রকার ছেতলা (শৈবাল) ভাসিয়া বেড়ায়। এতদ্দারা যে এতদ্দেশের কি পর্যন্ত অনিষ্ট সাবিত হইতেছে তাহা বাক্যদ্বারা বর্ণনা করিতে গেলে শরীরের শোণিত শুষ্ক হইয়া যায় । অমর। বালককালে প্রতি বৎসর অনেক স্থানে অনেক লোককে নুতন পুষ্করিণী খনন করিতে দেখিয়াছি; কিন্তু রেইলওয়ে হওয়াবধি অন্নাদি দ্রব্যসমূহ দুর্মূল্য হইবায় প্রায় কোন স্থানে তদ্রপ কাহাকেও নুতন পুষ্করিণী খনন অথবা পুরাতনের পঙ্কোদ্ধার করিতে দেখিতে পাই না। এনিমিত্ত সেই সমস্ত পচা পুষ্করিণীহইতে বর্যেং কত শত প্রকার কোটিং কীট ও বিষাক্ত বাস্প উৎপন্ন হইয়া এতদ্দেশে মারিভয়ৰূপে বিচরণ করত নিরন্তর যে কত লােকের প্রাণ সংহার করিতেছে তাহার ইয়ত্তা নাই। । বিশেষতঃ বিসূচিকা বা ওলীউঠা নামক যে ভয়ানক ব্যাধি সে কেবল ক্ষুদ্র কীটমাত্র। ঐ কীটসমূহ মনুষ্যের শরীরে প্রবিষ্ট হইয়া নাড়ী চ্ছেদন করিলেই দেহের সমস্ত রক্ত আমাশয়ে পতিত হইযা তৎক্ষণাৎ জীর্ন হওত উৰ্দ্ধাধেদেশে প্রধাবিত (পুনঃ২ ভেদ বমি) হইয়া থাকে। বশিষ্ঠপুরাণের সপ্তমধ্যায়ে লিখিত অাছে যে পুরাকালে কর্কট নাম্নী প্রকাণ্ড শরীরবিশিষ্ট। এক রাক্ষসী ছিল। সেই রাক্ষসী এক কালে তিন লক্ষ জীব ভক্ষণ করিত, কিন্তু তত্ৰাচ তাহার উদরের এক কোণও পরিপূর্ণ হইত না। এত দ্রুপে সেই রাক্ষসী দিনং ক্ষুধায় অত্যন্ত কাতর হইয়া মনে এই প্রকার যুক্তি স্থির করিল যে, আমি এক্ষণে ব্রহ্মার সাক্ষাৎকারহেতু গন্ধমাদন পৰ্ব্বতে তপস্যা আরম্ভ করি। তদনন্তর সেই রাক্ষসী স্বকীয় মন্ত্রণানুসারে বহুল পয়সা বিজ্ঞান রত্নাকর। ১৪৫ -- । তপস্যাদ্বারা লোকপতি ব্রহ্মা তুষ্টি সম্পাদন করিলে পর, তিনি যখন তাহাকে বরদান করিতে আগত হইলেন, তখন রাক্ষসী তাহারে প্রণামপূর্ধ্বক করপুটে বিনীতভাবে কহিল “ হে লেকতে! আমি ক্ষুধায় অত্যন্ত কাতরা, সম্প্রতি আপনি আমাকে এই বর প্রদান করুন যেন আমার উদর পরিপূর্ণ হয়, আমি সূচিপ্রায় অাবারবি শিষ্ট লৌহজীব হইয়া স্বেচ্ছানুসারে লোকের উপরে বেশ ? ? ইচ্ছামত যেন রক্ত মাংস ভোজন করিতে পাই রাক্ষসীর এতদ্বাক শ্রবণে ব্রহ্মা কহিলেন-- ব্রহ্মোবছি। এবম তিতিতামু। পুনরাহ পিতামহঃ । সূচিকাসোপসগাং ভবিষ্যসি বিচিকা। দুর্ভোজন দুবাৰম্ভ দুঃখদুঃস্থিত যশ্চ যে। দুৰ্দেশবাসিনো দুষ্টান্তেষাং হিংসাং করিষ্যসি। অর্থৎ তাহাই হউক, ব্ৰহ্ম। ইহা কহিয়া পার কহিলেন, এই নিশাচরি! সুচিক-উপসহেতু অদ্যাবধি তুমি জানার বরে নানা উপ- সর্গযুক্ত বিসুচিকা ব্যাধি হইবে এবং যাহারা অশুদ্ধ দ্রব্য বা অতিশয় ভোজ নাভিলাষী, অথবা যাহারা অগমাতে উপরত কিম্বা যাহার। অতিশয় দুঃখ নিমিত্ত সৰ্ব্বদা চিন্তাশীল অথচ কদৰ্য স্থানবাসী, অথবা যাহারা দূরতর দেশবাসী বা কাটাররত ও অতিশয় দুরাত্মা হইবে, রক্তমাংস ভক্ষহেতু তুমি তাহাদিগের শরীরে প্রবিষ্ট হইয়; বি- চিকা ব্যাধিৰূপে বিবিধ প্রকার হিংস সাধন করিবে। বিচিকা বা ওলা উঠা ব্যাধিৰূপ। এই কর্কটী রাক্ষসীকে আর্য মহি- লারা ওলচণ্ডী বলিয় পূজা করেন এবং বোধ হয় তদষ্টে এতদ্দে- শীয়া মুসলমানীরা ও হিন্দুস্থানীয় যশােদার। ওলাউঠা রোগের অধিষ্ঠাত্রী দেবীকে ওবিবি বলিয়া নাম প্রদান করিয়া থাকিবেন। যাহা হউক, এক্ষণে এই সভ্য সময়ে ওলচণ্ডী বা ওলাবিবির পুজা দিলে কোন ফল দর্শিবেক না; বরং আপনারা সকলে মিলিত হইয়া অর্থধারা—অপাৰ্যমাণে না হয় রক্ষাকালী এবং দলাদলি, লোটেলি ও পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। চলাঢলির টাকা গুলি একত্র করিয়া তদ্দারা সমুদায় পচা পুকুর গুলি পরিষ্কত করিতে সত্বরে যত্নবান্ হউন, নচেৎ এককালে সকলকার গমনের নিমিত্ত পরকালের পথ প্রস্তুত হইবার আর বড় বিলম্ব নাই । হে মহাশয়গণ! আমি কটুক্তি সহ্য করিয়াও অনেক স্ত্রীলোককে পুষ্করিণীর মধ্যে মূত্র ত্যাগ করিতে নিষেধ করিয়াছিলাম, কিন্তু তাঁহারা এক জনের কথায় ক্ষান্ত হইবার লোক নহেন। হায় ! কি সৰ্ব্বনাশ হইতেছে! হে অৰ্য্যধর্মাবলম্বিগণ ! আপনার প্রতি দিবস বেদনিন্দিত এই গর্হিত কাৰ্যটি সচক্ষে দেখিয়ও স্ত্রীলােকদি- গকে নিবারণ করেন না কেন? আপনাদিগের ধর্মশাস্ত্রধারি ভট্টা- চার্য্যেরা কোথায় ? ইহারা যদি চিরকালই কৃত্রিম পণ্ডামি ও প্রকৃত ভণ্ডামি এবং অনর্থক ষণ্ডামি ও সার্থক মণ্ডামি লইয়াই কাল যাপন করিবেন, তবে আৰ্য বলিয়া পরিচয় দিবার প্রয়োজন কি? বরং গবর্নমেন্টের শ্রীমন্দিরে গমনপুৰ্ব্বক অনাৰ্য কাহাকে কইে তাহার অর্থ শিক্ষা করুন্। ৮। নিমন্ত্রণাদি স্থানে অসময়ে ভোজন ও যাত্রা পাচালি শ্রবণার্থ রাত্রি জাগরণাদি দ্বারাও অনেক লোক পীড়িত হইয়া থাকেন। ইহা পূৰ্বে এক প্রকার বলা হইয়াছে। ৯। যে দ্রব্য সচরাচর ভােজন করিতে না পাওয়া যায়, তাহা প্রাপ্ত হইলে হঠাৎ অধিক পরিমাণে, ভোজন করা কর্ত্তব্য নহে, যেহেতুক তারা রােগেৎপত্তি হইবার বিলক্ষণ সম্ভাবনা আছে। ১০। বেশ্যা ও ফ্লেচ্ছ যদি দূষিত (অৰ্য্যধৰ্ম্ম-বহির্ভূত) লোকের অন্ন ভোজন করা অবিধেয়। উপরোধীনুরোধে যিনি তাহা অনি- ছাপূর্বক ভোজন করে তঁাহার সেই অন্ন জীর্ণ প্রাপ্ত না হইয়া বিবিধ প্রকার রোগেৎপাদনের কারণ হয়। ১১। এতদ্দেশের প্রজাগণের বাটীরচতুষ্পার্শ্বে যে অনাবৃত স্থান আছে, একেত তাহাতে বিবিধ প্রকার বন জঙ্গলাদি জন্মিয়া সর্বদা বায়ুকে দুষিত করিয়া রাখে, আবার সেই বনমধ্যে সকলেই মলত্যাগ করিয়া থাকেন। এতদ্দারাও সময়ে নানা স্থানের বায়ু দূষিত পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। হইয়া বিবিধ প্রকার রােগেৎপাদনের কারণ হয়। বিশেষত আষাঢ় শ্রাবণ ভাদ্র মাসে জেলার মাজিস্ট্রেটের অজ্ঞানুসারে প্রজার বাটীর চতুর্দিগে ওল কচু অশিশাওড়া ও ভেরা প্রভৃতি যে সকল বন জঙ্গল কাটা হয়, সেই সমস্ত ক্ষুদ্র বৃক্ষাদি পচিয়া বিবিধ প্রকার রোগেৎপাদনের কারণ হইয়া থাকে। কৃতবিদ্য সাহেবের। এতদ্বিষয় জানিয়া শুনিয়াও কি নিমিত্তে যে কেবল বর্ষাকালে বন জঙ্গল কাটিতে অজ্ঞা প্রচার করেন, তাহা আমরা ক্ষুদ্র বুদ্ধিদ্বার। নিশচয় করিতে পারি না। তবে এই মাত্র নিশ্চয় করিতে পারি যে, কতিপয় বৎসরের মধ্যে বঙ্গদেশের স্থানে অরয়োগদ্বারা যে শত লোকের মৃত্যু হইয়াছে এবং সহস্রং লোক যে বিকৃত কলেবরে এক প্রকার জীবন্মত হইয়া কাল যাপন করিতেছে তাহার কারণ কেবল অসময়ে বনকাটা। আর একবার বলি, অসময়ে বনকাটা। আবার বলিব ? বর্ষাকালে বন জঙ্গল কাটাইয়া বায়ু দূষিত করা মাত্র !!! ১২। বর্ষাকালে খান। ডোবা বিলাদি নিম্ন স্থানে যে সমস্ত তৃণাদি পচিয়া যায়, তারা কার্তিক মাসাধি এক প্রকার যে গ্যাস উথিত (আকাশ বায়ু দুষিত) হয়, তাহাই মেলেরিয়া বলিয়া প্রসিদ্ধ অাছে। এতদ্দারা কার্ত্তিক তা গ্রহায়ণ পৌষ ও মাঘ এই কএক মাসে অনেক লোক পীড়িত হইয়া থাকেন। পূৰ্ব্ব কালে এতদ্দেশে অল্প পরিমাণে মেলেরিয়া উৎপন্ন হইত, এক্ষণে পচা পুকুরের শৈবালাদির সহায়তা- দ্বারা বৃদ্ধি প্রাপ্ত হইয়া মারিভয়ৰূপে অবতীর্ণ হইয়াছে। শাস্ত্রকারের। ঐ মেলেরিয়া নিবারণের নিমিত্ত কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে পাকাটী (পাটকাটী) প্রভৃতি পোড়াইয়া আঁজুজু করিবার বিবি দিয়াছেন। বস্তুতঃ যে স্থানে মেলেরিয়া থাকে সেই স্থানে অগ্নি প্রহ- লন করিলেই তৎক্ষণাৎ তাহা বিনষ্ট হইয়া যায়। এদেশের কৃষাণের। গ্রীষ্মক লে মাঠের ধারে যে বন জঙ্গল ও বাশপাত। প্রভৃতি পোড়াইয়া তৎ স্থানের বায়ু বিশুদ্ধ করিয়া থাকেন, কেবল তাহা না করিয়া তারা যদি উপযুক্ত সময়ে স্বীয় আবাস স্থানেরও চতুর্দিগের বায় বিশুদ্ধ করেন, তাহা হইলে মেলেরিয়া আর নারি- ৮ পরমার্থ বিজ্ঞান কর । ভয়ৰূপে ভীষণ মুক্তি ধারণ করিতে পারে না। হে ধৰ্ম্মশাস্ত্রধারি ভট্টাচার্য। মহাশয়গণ ! অাপনারা যদি বেদের মর্মানুসারে স্বদেশ শের উপকার সাধন করিতে নিতান্ত অক্ষম হইলেন, তবে ত্বরায় বে- দর বিদ্যা শিক্ষা করিয়া মামীর মার খেলটি বজায় রাখিতে যত্নবান হউন। হায়! এতদ্দেশে যত বেদে বেদ-এ!!!) ছিল, তাহারা কোন প্রতারকের দ্বারা প্রতারিত হইয়া বিলাত গমনপুক ধনাভাবে এই- দ্দেশে পুনরাগমন করিতে না পারিবায় সেই স্থানেই পটোল তুলিতে অারম্ভ করিয়াছে। কএক বৎসর অতীত হইল আমরা আর তত মামীরমার খেল দেখিতে পাই না। হায়! কি বিড়ম্বনা! এত দেশের লােকসমূহ এক্ষণে সেই বাজীওয়ালাদের অনুসন্ধান করি- (লন না বটে, কিন্তু ভবিষ্যতে ঐ বেদের বিদ্যা সাহেবদিগের দ্বারা উন্নহিলা তপূৰ্ব্বক ভারতবর্যে এক প্রকার নূতন বিদ্যা বলিয়া প্রকা। শিত হইৰেক। এবং বােধ হয় সেই সময়াবধি এতদ্দেশীয় ইয়ং বেঙ্গলের ইংরা জদিগকে সৰ্ব্ব শক্তিমান পরমেশ্বর বলিয়া দুই হস্তুে সেলাম করিবেন । ১৩। পুরাকলে ব্যভিচারিণীকে শাস্ত্রানুসারে গুরুতর দ ও ভোগ করিতে হইত বলিয়া এতদ্দেশে বেশ্যার সংখ্যা অত্যল্প ছিল | এক্ষণে ইংরাজাধিকারে ব্যভিচারিণীকে কোন প্রকার দণ্ড ভোগ করিতে হয় না, সুতরাং বেশ্যার সংখ্যা পূর্বাপেক্ষা বিংশতি গুণ অধিক হইয়াছে। এদার। ষোড়শ বর্ষীয় যুবকাবধি পঞ্চাশঘর্ষীয় মনুজ- গণ যে কত প্রকার পীড়ায় আক্রান্ত হইয়া অকালে শমনালয়ে গমন করিতেছে, ও কত শত জনগণ যে নিবীর্য হইয়া কাষ্ঠপুত্তলিকার স্থায় নিশ্চেষ্টভাবে কাল যাপন করিতেছে, ও কত শত ব্যক্তি যে দরিদ্রত। নীরে নিমগ্ন হইয়া অন্নাভাব হাহাকার করিয়া বেড়াইতেছে, ও কত লক্ষ গৃহস্থকে যে মুষ্টি ভিক্ষাদ্বারা বৃদ্ধ বেশ্যার (তপস্বিনীর ) প্রাণ রক্ষা * ইতোমধ্যেই ইয়োরাপহইতে অনেক সাহেব বাজিওয়ালা এতদ্দেশে অগ- মা ওব। ভারতবর্ষের বা ওযালাদিগের এক পয়সার বাজি প্রদর্শনের স্থলে ৯। শান, অাট অন এক টক লইয়া ৰা বৃদিগকে বাগ দর্শন করাইতেছেন পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। ১৪৯ করিতে হইতেছে এবং কত প্রকার দুস্ক্রিয়ার যে প্রাদুর্ভাব হইয়াছে তাহার ইয়ত্তা নাই। এতদ্বিষয়ে রাজা প্রজা উভয়েই এক্ষণকার, ন্যায় যদি আর কিছু দিবস প্রশ্রয় দান করেন, তবে শত বর্ষের মধ্যে এই হরিকেলীয় দেশ একেবারে নরকেলীয় দেশ (বেশ্যারাজ্য) বলিয়া সিদ্ধ হইবেক। ১১। অন্নাদি যে সকল খাদ্য দ্রব্য বিকৃত হইলে হঠাৎ তন্মধ্যে কীট জাত হয়, সেই সমস্ত দ্রব্য ঈষদ্বিকৃত হইলেও ভোজন করা অকৰ্ত্তব্য। এবঞ্চ সহজে অভিযোগ করিবার উপায় না থাকাতে (দাকান্দারের। ঘ ৩ প্রভৃতি খাদ্য দ্রব্যে যে ভাজাল নিশ্রিত করে তাহাকেও রোগেৎত্তির কারণ বলিয়া জানিবেন । ১৫। সময়ে ভেজন, নিয়মিত পরিশ্রম ও স্নানোৎসান না করণ, অথবা তাহার বিপরীত চরণ ( অতিশয্য ) এতদুভয়কেই রোগেৎ- গার কারণ বলিয়া জ্ঞাত হইবেন। • এতদ্ভিন্ন ইংরাজাধিকারে সদ্বিদ্যার আলােক বিকীর্ণ হইবায় ডাইন ভূত শাঁখচূর্ণী প্রভৃতি দূরী- ভূত হইলেও সম্প্রতি এতদ্দেশে যে কতকগুলি রাক্ষস রাক্ষসী মনু- ষ্যকার ধারণ করিয়া বাস করিতেছে ইহারাও অস্মদাদির রােগেৎ, পত্তির কারণ বলিয়া অভিহিত হওয়া অবিধেয় নহে। ১৬। বিবিধ প্রকার রাজকর, প্রকৃত ধৰ্ম্মানুষ্ঠানের জ্ঞানাভাবে উপধৰ্ম্মানুষ্ঠানে নিস্কতা ও অত্যন্ত প্রয়ােজনীয় দ্রব্যাদির মাহাতা এই সকলকেও রোগেৎপত্তির কারণ বলিয়া জানিবেন। হে মহা- “য়গণ ! কএক বৎসরের মধ্যে ঘরামী প্রভৃতি ক্ষুদ্র মসীজীবি পৰ্যন্তের বদনকমল একেবারে শুখাইয়া গেল কেন ? আপনারা ইহার কারণ- সন্ধানে যত্নবান হউন। নচেৎ সাহেব সাজিয়া সভাভিমান প্রকাশ করিলেই সত্য বলিয়া পরিগণিত হইতে পারিবেন না। সভ্যতা যে পদার্থ তাহা কিঞ্চিৎ জ্ঞান সাপেক্ষ। যিনি বিদ্বান হইয়া সর্ব সাধা- রণের মুখাবলোকনপূৰ্ব্বক সকলের কল্যাণকর কাৰ্যে কায়মনোবাক্যে যত্নবান হয়েন, তিনিই যথার্থ সভ্য । হে মহাশয় গণ! এই আমি আপনাদিগের নিকট বিবিধ প্রকার রােগেৎপত্তির কতকগুলিসুল পরমার্থ বিজ্ঞান রকির কারণ প্রকাশ করিয়া কহিলাম, এতদ্ভিন্ন কাম ক্রোধ লোভ মোহ মদ মাৎসৰ্যপ্রভৃতি বৰ্ধিত হইলে ইহাদিগকেও রোগেৎপত্তির এক একটি প্রধান কারণ বলিয়া জানিবেন। ইতি হরিকেলীয় স্থানের বিবিধ প্রকার রোগেৎপত্তির কারণ নির্দেশ নামক একাদশ অধ্যায়। দ্বাদশ অধ্যায় | সৰ্ব্ব সাধারণ লোকের বিশেষ উপকারার্থ বেপাচার্যের প্রশ্ন- সরে সম্প্রতি সুবোধসিদ্ধান্ত যাহা কহিতেছেন পাঠক মহাশয়ের। তাহ| ঋনোযোগপূর্বক শ্রবণ করুন। বোপাচার্য। মহাশয়! আপনার নিকট অামরা অনেক বিষয়ের অনেক কথা শ্রবণ করিলাম, সম্প্রতি সংসারশ্রমীদিগের কৰ্ত্তব্য। কৰ্তব্যৰূপ ধৰ্ম্মোপদেশ এবং গুটিকতক সন্নীতিপ্রদ কবিতা শ্রবণ করিবার ইচ্ছা বলবতী হইতেছে। আপনি কি অনুগ্রহপূৰ্ব্বক অমা- দিগের এই মনোবাঞ্ছাটি পরিপূর্ণ করিবেন ? সুবোধসিদ্ধান্ত। ওহে বোধাচাৰ্য্য ! শাস্ত্রকারের বিশেষ গুণ- ক্রান্ত ব্যক্তিবর্গের চিত্তশুদ্ধির নিমিত্ত শাস্ত্রমধ্যে বিশেষ কৰ্ম্মকে কৰ্তব্য বা অকর্তব্য বলিয়া নির্দেশ করিয়া রাখিয়াছেন। তন্মধ্যে কৰ্ত্তব্য কৰ্ম্মগুলি ধৰ্ম্ম ও অকৰ্ত্তব্য কৰ্ম্মগুলি অধৰ্ম্ম বলিয়া অভিহিত হয়। শাস্ত্ৰসিদ্ধ কৰ্তব্য কৰ্ম্মের অনুষ্ঠানে জড় প্রকৃতি লোকের চিত্ত- গুদ্ধিদ্বারা জ্ঞান লাভ সহকারে মোক্ষ বা সুখ প্রাপ্তি ও অকর্তব্য কৰ্ম্মানুষ্ঠানে তমোগুণ বৃদ্ধি সহকারে ঘোরতর নরক বা দুঃখ প্রাপ্তি হইয়া থাকে। কিন্তু জ্ঞানী লোকের পক্ষে সংসারে এমত একটি পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। কাৰ্য্য নির্দিষ্ট নাই যে, যাহা কর্তব্য বা অকৰ্তব্য করিয়া পরিগণিত হইতে পারে। অতএব আপনার? সৰ্ব্বতোভাবে জ্ঞানী হইবার চেষ্টা করুন, তাহা হইলে অর কব্যাকৰ্তব্যের উপদেশ বাহুল্যৰূপে শ্রবণ করিতে হইবেক না। ওহে বোধাচৰ্য! এই জগতের সমুদায় পদার্থ সার ও অসার (জ্জিড়) এতদুভয় অংশে মিশ্রিত, এতশ্নমিত্ত যে পদার্থে যে পরিমাণে গুণ আছে সেই পরিমাণে তাহাতে দোষের ও সত্তা দেখিতে পাওয়া যায়। বিবেচনা করিয়া দেখুন, অত্যুজ্জ্বল হীরক প্রস্তর একপক্ষে বহু মূল্যবান্ পদার্থ হইলেও পক্ষান্তরে তাহা বিষময় পদার্থ, ঐ বিষদ্বারা জীবের ৫াণ নাশ হইবার বিলক্ষণ সম্ভা- বনা আছে। এবঞ্চ কাল সর্পের বিষ এক পক্ষে অতিশয় হেয় পদার্থ হইলেও পক্ষান্তরে তারা বিকারপ্রাপ্ত জনগণের জীবন রক্ষা হইয়া থাকে। এতবত। সংসারের সমুদায় পদার্থ সময়ানুসারে যেমন প্রিয় বা প্রিয় বলিয়া পরিগণিত হয়, তদ্রুপ সংসারের সমুদায় কার্য- কদম্বও দেশ কাল পাত্রানুসারে কর্তব্য বা অকৰ্তব্যৰূপে নিরূপিত হইয়া থাকে। বিবেচনা করিয়া দেখুন, সকল শাস্ত্রে নরহত্যাকে মহাপাপ বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন, কিন্তু সময়ানুসারে নরহত্যা না করিলে (যে স্থলে এক জন দুরাত্মার প্রাণদণ্ড না করিলে বহুতর ভদ্র লোকের প্রাণ নাশ হইবার সম্ভাবনা আছে এমত স্থলে) মহাপাপে লিপ্ত হইতে হয় । তদ্রুপ মিথ্য। বাক্য প্রয়ােগ গুৰুতর পাপ বলিয়া প্রসিদ্ধ আছে, কিন্তু সময়ানুসারে মিথ্যা কথা না কহিলে (যে স্থলে একটি মিথ্যা কহিলে দুই চার জন ভদ্র লোকের জীবন রক্ষা হইবার সম্ভাবনা আছে সেই স্থলে) গুরুতর মহাপাতক হইবার অসম্ভাবনা নাই। এপে জগতের সমুদায় কাৰ্যই দেশ কাল পাত্রানুসারে কৰ্ত্তব্য বা অকৰ্ত্তব্য বলিয়া নিরূপিত হইয়া থাকে। যিনি জিতেন্দ্রিয়, সত্যবাদী, বিদ্বান্ অথচ পরহিতৈষী হয়েন, তিনি উপস্থিতমতে আপ- নার কাৰ্যটী কৰ্ত্তব্য কি অকৰ্ত্তব্য ইহা যথার্থরূপে নিৰূপশ করিতে * সংসারী লোকের পক্ষে এইরূপ বিধি সঙ্গত হইলেও সত্যান্বেষী লোকের সম্পূর্ণরূপে সত্যাবলম্বন করা বিধেয়।
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্না কর। সক্ষম হয়েন, সন্দেহ নাই। অজ্ঞ ব্যক্তি যদিও ক্ষমৰূপে তদ্রুপ ক ব্যাকৰ্তব্য নিৰূপণে সক্ষম না হউক, তথা সকল জীবের অন্তঃকরণে জগদীশ্বর যে ন্যায়পরতা বৃত্তি প্রদান করিয়াছেন, সেই বৃত্তির বশবর্ত্তী হইয়া সকলেই নিয়মে সংসারযাত্রী নিৰ্বাহ করিতেছে। কেহ কোন প্রকার অন্যায়চরণ করিলে স্বাভাবিক ন্যায়ানু বৃত্তির বশবর্তী হইয়া অপরাপর লোকে তৎক্ষণাৎ তাহার প্রতিবাদ করিয়া থাকেন। এমন কি, নিতান্ত স্বার্থপর ব্যক্তিও যৎকালে আপনার লাভের নিমিত্ত কোন প্রকার অন্যায়াচরণ করিতে প্রবৃত্ত হয়, তৎকালে সে ব্যক্তি ও ন্যায়ানুগত হইয়া দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করিতে সাধ্যানুসারে ত্রুটি করেন। অধিকন্তু একটি পশু বা পক্ষির প্রতি অপর কোন পশু পক্ষী অন্যা, যাচরণ করলে অপরাপর পশু পক্ষী ঐ ন্যায়পরতা বৃত্তির বশবর্তী হইয়া তৎক্ষণাৎ তাহার প্রতিবাদ করিয়া থাকে, ইহা অনেকবার অনেক স্থানে অনেক মনুষ্য দর্শন করিয়াছেন। অতএব উপস্থি- মতে আপনারাও সেই ন্যায়পরতা বৃত্তিদ্বারা আপনৰ বৰ্তব্য কৰ্ম্ম সূক্ষমৰূপে বিবেচনা করিয়া নিৰ্বাহ করিবেন এবং সাধ্যানুসারে ধৰ্ম্ম ও নীতিশাস্ত্র পাঠ করিতেও বিরত হইবেন না। সম্প্রতি আমি আপ- নাদিগের বিশেষ বােধার্থ রত্নস্বৰূপ কএকটি সন্নাতিপদ প্রাচীন কবিতা কীৰ্ত্তন করিতেছি, আপনারা অবহিত মনে শ্রবণ করিলে অনেক উৎকৃষ্ট বিষয়ের কর্তব্যবিধারণে সক্ষম হইবেন, সন্দেহ নাই। পঞ্চরত্ন। নাগোভাতি মদেন.কংজলৰুহৈঃ পূর্ণেন্দুনা শৰ্বরী। শীলেন প্রমদা জবেন তুরগােনিত্যোৎসবৈৰ্ম্মন্দির। বাণী ব্যাকরণেন হংসমিথুনৈনদ সভা পণ্ডিহৈ । সৎপুত্রেণ কুলং নৃপেণ বসুধা লােকত্ৰয়ং বিষ্ণুনা। ১। অস্বার্থঃ । মদদ্বারা হস্তী শােভা পায় অতিশয়। প্রফুল্ল কমলে জল সুশােভিত এমথ কিছু রত্নাকর। } চমৎকার। ২য়। পূর্ণচন্দ্র দ্বারা হয় শোভিত। রজনী। বেগদ্বারা তুরঙ্গ, সুস্বভাবে কামিনী। ব্যাকরণে বাক্য, নিত্যোৎসবেতে মন্দির। হংস হংসী দ্বারা শোভা হয় তটিনীর। পণ্ডিতের রাসুশোভিত। হয় সন্তা, সুপুত্র হইতে বৃদ্ধি হয় কুলপ্রভা পৃথিবী নৃপতি দ্বারা সুশোভিত। হয়। শােভা পায় বিষ্ণু দ্বারা ত্রিলােক নিশ্চয়। ১। পেতোদুস্তর বারিরাশিতরণে দীপেন্ধকারায়ে । নিৰ্ব্বাতে ব্যজনং মদন্ধকারণং দর্পোপশান্ত্যৈ শৃণিঃ | ই থং তৎভুবি নাস্তি যস্য বিবিনা নেপায়চিন্তা কৃত। মন, দুৰ্জ্জনচিত্তবৃত্তিহরণে ধাতাপি ভগ্নোদ্যমঃ । ২। দুস্তর সলিলরাশি হইবারে পার। সৃষ্টি করেছেন বিধি নৌকা অন্ধকার নিবার-হেতু দীপশিখা। বায়ু সঞ্চারের জন্য করেছেন পাখা। মান্ধ করির দর্প চূর্ণ করিবারে। অঙ্কুশের সৃষ্টি করেছেন এ সংসারে। জগতে এমন কিছু দেখিতে না পাই। সাহার উপায় চিন্তা বিধি করে নাই। কিন্তু দুর্জনের চিত্ত রঞ্জন করিতে। দেখিতে না পাই কোন উপায় জগতে। বোধ হয় এ বিষয় সাধ্যাতীত জানি। ভগ্নোদ্যম হয়েছেন বিধাতা আপনি। ২। বৈদ্যং পানরতং নটং কুপঠিতং স্বাধ্যায়হীনং দ্বিজং। যুদ্ধে কাপুরুষং হয়ং গতবয়ং মূখং পরিব্রাজকং রাজানঞ্চ কুমন্ত্রিভিঃ পরিবৃতং দেশঞ্চ সোপদ্রবং। ভাৰ্যাং যৌবনগতিং পররাং মুঞ্চন্তি শীঘ্রং বুঃ । ৩। মদ্যপান রত বৈদ্য, কুশিক্ষিত নট। অধ্যয়ন হীন দ্বিজ, কাপুরুষ ভট। অশ্ব বেগ-রহিত, সন্ন্যাসী জ্ঞানহীন। কুমস্ত্রি বেষ্টিত যেই রাজ। চিরদিন উদ্ৰবগ্রস্ত দেশ, আর ভাৰ্য্যা যিনি । যৌবন গৰ্ব্বিত। পরপুরুষ-গামিনী । অতি শীঘ্র বুধগণ এই সকলেরে। অন- র্থের হেতু জানি পরিত্যাগ করে। ৩। ক্ষান্তিশ্চেৎ কবচেন কিং কিমরিভিঃ ক্রোধোস্তি চেদ্দেহিনাং। জ্ঞাতিদেনলেন কিং যদি সুহৃদ্দিবোষঞ্চৈ কিং ফলং।
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর।
কিং সর্পৈৰ্যদি দুর্জনঃ কিমু ধনৈৰ্ব্বিদানবদ্য। যদি।
ব্ৰড়াচেৎ কিমুভূষণেন কবিতা যদ্যস্তি রাজ্যেন কিং। ৪।
ক্ষম। যার আছে তার কবচে কি করে। ক্রোধ যার আছে তার
কি কায শত্রুরে। জ্ঞাতি যার আছে তার কি করে অনল। সুহৃৎ
থাকিলে দিব্য ঔষধে কি ফল। দুৰ্জ্জন সমীপে যার থাকে নিজ
ভাবে। সর্প তার কাছে থেকে আর কি করিবে। যাহার নির্মল
বিদ্যা প্রকাশিত আছে। ধন কিবা কাৰ্যকর হয় তার কাছে।
লজ্জা যার থাকে তার কি করে ভূষণ। কবিত্ব থাকিলে রাজ্যে কিবা
প্রয়োজন ? ৪।
শক্যোবারয়িং জলেন হতভুক্ ছত্রেণ সুৰ্যাতপঃ।
নাগেন্দ্রে। নিশিতাঙ্কুশেন চপলৌ দণ্ডেন গোগর্দভৌ।
ব্যাধিদ্যৈক ভেষজৈনুদিনং মন্ত্ৰপ্ৰভাবদ্বিষং।
সৰ্বস্যৌষধমস্তি শাস্ত্রবিহিতং মুখস্য নাস্ত্যৌষধং। ৫।
জলসেকদ্বারা অগ্নি হয় নির্বাপিত। অতপ ছত্রের দ্বারা হয়
নিবারিত। শাণিত অঙ্কুশে শান্ত হয় দন্তবিল। দণ্ডদ্বারা দন্তি হয়
গো-খর চঞ্চল। বৈদ্যের ঔষধদ্বারা রোগ পায় ক্ষয়। মন্ত্র প্রভা-
বেতে বিষ নিবারিত হয়। এৰূপ ঔষধ সব অাছে শাস্ত্রমতে।
মুখের ঔষধ কিন্তু নাহি এ জগতে ৫।
ষড়রত্ন।
শাস্ত্রং সুচিন্তিতমপি প্রতিচিন্তনীয়ং
স্বরাধিতােপি নৃপতিঃ পরিশঙ্কনীয়।
অঙ্কে স্থিতাপি যুবতিঃ পরিশঙ্কনীয়া
শাস্ত্রে নৃপেচ যুবতৌচ কুতো বশিত্ব। ১।
অস্যর্থ।
সুন্দর ৰূপেতে শাস্ত্র থাকিলে চিন্তিত। পুনঃং চিন্তা তার করাই
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। ? উচিত। পরিতুষ্ট থাকিলেও নৃপতি সেবিত। সৰ্ব্বদা তঁাহারে শঙ্কা করাই বিহিত। ক্রোড়স্থিত হইলেও যুবতি রমণী। সতত তাহারে রক্ষা করিবে আপনি। যেহেতুক শাস্ত্র নৃপ আর নারীজন। ইহার। কদাচ কারো বশীভূত নন ॥ ১। কোহর্থান্ প্রাপ্য ন গৰ্ব্বিতে বিষয়িনঃ কস্যপদস্তং গতা স্ত্রাভিঃ কস্য ন খণ্ডিতং ভুবি মনঃ কোনমি রজ্ঞিং প্রিয়। কঃ কালস্য ন গােচারান্তরগতঃ কোর্থী গতোগৌরবং কোব। দুর্জন বাগ্রসে নিপতিত ক্ষমে যাতঃ পুমা। ২। কোন্ ব্যক্তি অর্থলাভে গৰ্বিত না হয় ?। কোন্ বিষয়ি লোকের অপদ না রয় ?। স্ত্রীগণ কাহার মন খণ্ডিত না করে ?। কোন্ ব্যক্তি রাজাদের প্রিয় হতে পারে ?। কোন্ ব্যক্তি কালের বিষয়ীভূত নয় ?। কোন্ যাচকের কোথা গৌরব বা রয়?। দুর্জনের বাক্য জালৈ হইয়া পতিত। কোন্ নর হয়েছেন কল্যাণ সংযুত ? ২। মুখোদ্বিজাতি স্থবিরোগৃহস্থঃ কামী দরিদ্রে। ধনবান্ তপস্বী। ' কেন্যা কুৰূপ। নৃপতি কদর্যঃ লোকে ষড়োনি বিড়ম্বিতনি। ৩। দ্বিজের মূর্খতা আর গৃহির বৃদ্ধতা। দরিদ্রের অতিশয় ভোগা- ভিলাষিত। তপস্বিলোকের অতি বিভৰশালিতা। কুলটা নারীর যদি হয় কুৰূপত। নৃপতির কদর্যতা দোষ থাকে নানা। সংসারে জানিবা বিড়ম্বনা। ৩। দনিং দরিদ্রস্য প্রভোস্ট শাস্তিযুনাং তপােজ্ঞানবতাঞ্চ মৌনং ইচ্ছানিবৃত্তিশ্চ সুখাশিতানাং দয়াচ ভূতেষু দিবং নয়ন্তি। ৪। দরিদ্র করিলে দান অতি অল্প বৃত্তি। সমর্থ লোকের হলে ক্রোধাদি নিবৃত্তি। যুবকগণের হলে তপস্যা প্রভাব। পণ্ডিতের মৌন অর ইচ্ছার অভাব। সুখভোগিদেৱ সৰ্ব্বভূতে দয়া হয়। স্বর্গের প্রাপক এই সকল নিশ্চয়। ৪। দুৰ্ম্মন্ত্ৰিণং কমুপন্তি ন নীতিদোষাঃ সন্তাপন্তি কমপথ্যভূজঃ ন এই ছয়, রোগ।
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। কংশ্রীন দর্পয়তি কংন নিহন্তি মৃত্যুঃ কংস্ট্রীকৃত। ন বিষয়ান- তপয়ন্তি। ৫। কুমন্ত্রী যাহার থাকে অনর্থের কোষ। এমত কাহার নাহি জন্মে নীতিদোষ ?। রোগগণ বল কোন্ কুপথ্য-সেবিরে। অতিশয় সন্তাপ প্রদান নাহি করে ?। ধন প্রাপ্ত হলে কেবা না হয় গতি ?। বল দেখি মৃত্যু কারে না করে নিজ্জিত? অবনীতে স্ত্রীকৃত বিষয় বল কারে। অতিশয় সন্তাপ প্রদান নাহি করে ?। ৫। লোকােপ্যস্তি গুণেন কিং পিশুনত। যদ্যন্তি কিং পাতকৈ, সৌজন্যং যদি কিং পরৈঃ সুমহিমী যদ্যন্তি কিং মণ্ড নৈঃ। সত্যং চেত্তপসচি কিং শুচিমনো যদ্যস্তি তীর্থেন কিং, সদ্বিদ্যা যদি কিং ধনৈরপযশে। যদ্যক্তি কিং মৃতুন। ৬। জীবের যদ্যপি লোভ থাকে অতিশয়। তবে তার গুণে কোন্ প্রয়োজন হয় ?। খলত। যাহার আছে হৃদয় ভাণ্ডাবে। পাক তাহার আর কি করিতে পারে? সৌজন্য যাহর আছে দেহের ভূষণ। কি করিতে ক্ষম হয় তার শত্রুগণ ? সুমহত্ত্ব আছে যার অবনী ভিতরে। ভূষণ তাহার কিবা শোভা বৃদ্ধি করে ? সকলেরে সত্য বাক্য কহে যেই জন। তপস্যায় তার অার কিবা প্রয়োজন ? বিশুদ্ধ যাহার মন হইয়াছে জ্ঞানে। কি ফল তাহার অার তীর্থ পৰ্য্য- টনে ? তাছেন উত্তরা বিদ্যা যাহার শরীরে। ধন তার সুখবৃদ্ধি কি কসিতে পারে ? অপযশ আছে যার জগতে নিশ্চয়। মৃত্যু তাব অধিক কি ক্লেশদ হয় ? ৬। সপ্তমরত্ন। বাঞ্ছা সজ্জনসঙ্গমে পরগুণে প্রীতিগুরে নম্রতা। বিদ্যায়াং ব্যসনং স্বঘােষিতি রতিলোকাপবাদয়িং। ভক্তিশ্চক্রিণি শক্তিরাত্মদমনে সংসর্গমুক্তি খলে। এতে যত্ৰ বসন্তি নিৰ্ম্মলগুণান্তেভ্যো নরেভ্যোনমঃ ॥ ১ পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। অন্তর্থিঃ । সর্জনের সহবাস যাহার মনন। পরকীয় গুণে প্রীতি করে যেই গুৰুজন-সমীপে নম্রতা যার হয়। বিদ্যাতে আসক্তি যার চিরদিন রয়। আপনার ভাৰ্য্যাতেই রতি থাকে যার। লোকাপ- বাদের ভয় থাকে যে জনার। বিষ্ণুতে যাহার থাকে অতিশয় ভক্তি। আর যার থাকে মন নিগ্রহের শক্তি। খলের স্বভাব মন্দ জানিয়া নিশ্চয়। যে জন তাহার সঙ্গ পরিত্যক্ত হয়। যারা হন এ সব নিৰ্ম্মল গুণধারী। তাহাদের প্রতি আমি নমস্কার করি। ১। রাজ। ধৰ্ম্মবিনা দ্বিজঃ শুচিবিনা জ্ঞানংবিনা যােগিনঃ। কান্তা সত্যবিনা হয়ো গতিবিনা ভূষাচ জ্যোতিৰ্ব্বিনা । যোদ্ধা শূরবিনা তপোব্রতবিনা ছন্দোবিনা গীয়তে। ভাতা স্নেহবিনা নরোহরিবিনা মুঞ্চন্তি শীং বুধাঃ ২। ধর্মহীন রাজা আর দ্বিজ অনাচারী। জ্ঞানহীন যােগী, সত্য বাক্য হীনা নারী। গতিহীন তুরঙ্গ, অলৈাকহীন ভূষা। বলহীন যোদ্ধা আর অব্ৰত তপস্যা। ছন্দেহীন গীত, স্নেহহীন সহোদর। হবিভক্তি-বিহীন যে মনুষ্য বৰ্ব্বর। জগতে অসার জানি এই সক লেরে। অতি শী বুশমণ পরিত্যাগ করে। ২। ছেদশ্চন্দনচুত চম্পকবনে রক্ষাচ সকেটকে। হিংসা হংসময়ূর কোকিলগণে কাকে নিত্যাদরঃ মাঙ্গেন খরক্রয়ঃ সমতুলা কপূরকার্পাসয়াে। এষা যত্র বিচরণ। গুণিগণে দেশীয় তস্মৈ নমঃ । ৩। যে দেশের লোকগণ ; চম্পক চূত চন্দন ; এ সকল সু বৃক্ষের বন। ছেদন করিয়া, পরে ; সাকোটকে রক্ষা করে ; অতিশয় করিয়া যতন। হংস ময়ুর পিকেবে , অতিশয় হিংসা করে ; কাকপ্রতি করে সমাদর।
১৫ ৮ পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর 1 বহু মূল্য কার্যকর ; দিয়া হেন করীবর ; পরিবর্তে ক্রয় করে খর। কপূরের সহকারে , কার্পাস তুলনা করে ; গুণিগণ-পক্ষে এ প্রকার। বিপরীত ব্যবহারে ; যে দেশে বিচার করে ; সে দেশের প্রতি নমস্কার। ৩। বৃক্ষং ক্ষীণফলং তজন্তি বিহগীঃ শুষ্কং সরঃ সারস। পুষ্পং প্যুষিতং ত্যজন্তি মধুপীঃ দগ্ধং বনান্তং মৃগী। নির্মব্যং পুরুষং ত্য জন্তি গণিকা ভ্রষ্টশ্ৰিয়ং মন্ত্রিণ। সৰ কাৰ্যবশজ্জিনেহিভিরমতে কস্যস্তি কোবল্লভঃ। ৪। ফলহীন বৃক্ষ ত্যাগ করে পক্ষগণ। সারসের শুষ্ক সরে না করে গমন। যুষিত পুষ্প ত্যাগ করে অলিচয়। মৃগগণ দগ্ধ বনান্তকে নাহি রয় । বেশ্যাগণ ত্যাগ করে ধনহীন নরে। মন্ত্রীগণ ত্যাগ করে ভ্রষ্ট শ্র৷ রাজারে ৷ কাৰ্যহেতু লোকেরা লোকের প্রিয় হয়। বাস্তবিক কেহই কাহারো প্রিয় নয়”। ৪। বিনে কিং বিতরণং যদি নাস্তি দীন। কিং সেবা যদি পরোপকৃতৌ ন যত্নঃ কিং সঙ্গমেন তনয়ে। যদি নেক্ষণীয়ঃ । কিং যৌবনেন বিরহো যদি বল্লভায়া। ৫। দীন প্রতি যদি নাহি থাকে বিতরণ। তবে তার ধনে আর কিবা প্রয়োজন ? পরোপকারেতে যদি যত্ন নাহি রয়। রাজার সেবাতে তবে কিবা ফলোদয়? সন্তানের মুখ যদি দেখিতে না পায়। কান্তা সঙ্গ করে তবে কিবা কামনায় ? প্রিয়াসঙ্গে যদি হয় বিচ্ছেদ ঘটন। তবে আর যৌবনের কিবা প্রয়ােজন? ৫। শ এ জগতে একমাত্র অাত্মা ভন্ন অার কোন প্রিয় পদার্থ নাই, এতন্নিমিত্ত যে সকল বস্তু বা ব্যক্তি অাত্মার উপকার হয় সেই সমস্ত লোক বা বস্তু প্লিয বলিয়া পরিগণিত হইয়া খা।
পরমার্থ বিজ্ঞান ব্লাকর। স্বর্গঃ কিং যদি বল্লভ। নিজবধূ কিং বা বিভূষা বিধি। লাবণ্যং যদি কিং সুধাকরকবৈও শৃঙ্গারগা গিরঃ মৃত্যু কিং যদি দুর্জনে বনতি কিং পি যদি প্রার্থনা। প্রপ্তেষ্ট করিকেতনে যদি ভবেৎ কিং কল্পভূমিহৈঃ। ৬। নিজ ভাৰ্যা যার অতি প্রিয়তমা হন। স্বর্গেতে তাহার আর কিব। প্রয়োজন ? স্বাভাবিক লাবণ্য দেহের যদি রয়। ভূষণ ধাবণে তার কিবা ফলোদয়? শৃঙ্গার রসঘটিত যে কহে বচন। চন্দ্রের কিরণে তার কোন্ প্রয়োজন? অবনত থাকে যেব দুর্জনের কাছে। তাহাব মৃত্যুর আর অপেক্ষা কি আছে ? যাচঞা করিতে যদি হয় দ্বার২ তদপেক্ষা অতিশয় কি আছে ধিক্কার? অভীষ্ট করিয়া লাভ গৃহেতে যে জন করিয়াছে মদমত্ত হস্তিরে বন্ধন । তাৰ আর কল্পবৃক্ষে কোন্ কাৰ্য হয় ? সকল কামনা পূর্ণ ধনেতে নিশ্চয়। ৬। ধনেন কিং যোন দদাতি যাকে । বলেন কিং যশ্চ রিপূন্ন বাধতে। তেন কিং যেন চ ধৰ্ম্মমাচরেৎ। কিমাত্মনা যােন জিতেন্দ্ৰিয়ো ভবেৎ। ৭। যাচকে দেখিয়া দান না করে যে জন । তবে তার ধনে আর কোন প্রয়োজন? বিপক্ষগণেরে যদি নাহি করে জয়। তবে তার শক্তি কোন্ কার্যকর হয়? ধৰ্ম্ম অচরণে যদি নাহি থাকে মন। তবে তার কি নিমিত্ত শাস্ত্র অধ্যয়ন? যে জন ইন্দ্রিয় জয় করিতে না পারে। কি ফল তাহার আর বাঁচিয়া সংসারে। ৭। অষ্টর। অর্থাগমো নিত্য মনোগিতা প্রিয়াচ ভাৰ্য্যা প্রিয়বাদিনীচ। ব্যশ্চ পুত্রোহকরীচ বিদ্যা ষড়, জীবলোকেচ সুখানি তত ॥১॥ অস্যর্থ। অর্থের অগম যদি হয় প্রতিদিন। আর এই দেহ যদি থাকে রােগ- হীন। প্রিয়া ও প্রিয়বাদিনী ভাৰ্য্যা যদি হয়। আর যদি নিজ পুত্র ১৬ রমার্থ বিজ্ঞান রসু কর। বশীভূত রয়। আর অর্থকরী বিদ্যা অমুল্য রতন। এ ছয় সংসারে তাত সুখের কারণ ১। ব্যোমৈকান্ত বিহারিণোপি বিহগা সংপ্রাপ্ত ব্যাপদং বধ্যন্তে নিপু ণৈরগাধ সলিলাৎ মৎস্যঃ সমুদ্রদিপি। দুর্নীতে হি বিধৌ কুতঃ সুচরিতং কংস্থানলাভে গুণঃ কাঃলাহি ব্যসন প্রসারিত করে। গৃহ্নাতি দূরদিপি। ২। গগণমণ্ডলে চরে যেই পক্ষিচয়। তাহারাও কখন আপৎ প্রাপ্ত হয়। সুনিপুণ জনগণ অগাধ সাগরে। কৌশল করিয়া মৎস্যগণে বধ করে। অতএব বিধাতা বিমুখ হলে পরে। পুরুষের সুচরিত্র কি করিতে পারে ? উপযুক্ত স্থনিলাভে হয় বা কি গুণ ? বিধাতা হইলে বাম সকলি বিগুণ। দূরহইতে দুঃখৰূপ কর বাড়াইয়া । গ্রহণ করেন কাল তাহারে ধরিয়া ২৪ নিত্যং ছেদন্তণানাং ক্ষিতি নখলিখনং পাদয়োরল্প পূজা দন্তা নমর- শৌচং বসনমলিনত ৰুক্ষতা মূৰ্দ্ধজানাং। দে সন্ধ্যে চাপি নিদ্রা বিবসন শয়নং গ্রাস হাসতিরেক স্বাঙ্গে পীঠে বাদ্যং হরতি ধনপতেঃ কেশবস্যাপি লক্ষনীং ॥ ৩ প্রতিদিন নিরর্থক তৃণের ছেদন। করহদ্বারা ভূমিতলেতে অঙ্কন। চরণদ্বয়ের অল্প সংস্কার করা। কেশ রুক্ষ রাখা ও মলিন বস্ত্র পর। দশনের অতি অল্প শুচিত্ব করণ। সূৰ্যাস্ত উদয়কালে নিদ্রায় মগন । বিছানায় দিগম্বর হইয়া শয়ন । অতিশয় হাস্য আর অধিক ভােজন * আপন শরীর ও অসন বাদ্য করা। এ সকল অলক্ষণ ত্যজিবেক ত্বরা। ধনপতি কুবের ও শ্ৰপতি কেশব; ইহাদেরও লক্ষী হরে লয় ঐ সব। ৩। ব্রহ্মা যেন কুলালবন্নিয়মিতো ব্রহ্মাণ্ড ভাণ্ডেীদরে। বিষ্ণুৰ্যেন দশাবতার গহনে ন্যন্তে। মহাশঙ্কটে। ৰুদ্ৰোযেন কপালপাণিরটনং ভিক্ষাটনং কারিত। সূৰ্যো ভ্রাম্যতি নিত্যমেব গগণে তস্মৈ নমঃ কৰ্মণে৪। ষার। বিধাতা কুন্তকারের মতন। নিযুক্ত ব্ৰহ্মাণ্ড ভণ্ড করিতে পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। ৭ । রচন। যাৰা শ্ৰবিষ্ণু মহাশঙ্কটে ভুনে নিযুক্ত আছেন দশা- বতার করণে যদ্দর। মহেশ হয়ে নৃকুপধারী। করিছো পূর্ষ টন হইয়া ভিখারী। যারা গগণে নিত্য সূর্যের বিহার।. আমি সেই কৰ্ম্মকেই করি নমস্কার । ৪। ভোগে রোগভয়ং, স্কুলে চুতিভয়ং বিত্তে নৃপালায় মানে.দৈন্যতয়ং বলে রিপুভয়ংকালে তরুণ্যা ভয়ং। শাস্ত্রে বাদিভয়ং গুণে খলজয়ং কয়েকৃতান্তাভয়ং, : সৰ্ব্বং বস্তু ভয়ন্ধিতং ভুবি নৃণা বৈরাগ্য মেবাভয়ং. •৫। ভোগে আছে রোগভয়, কুলে কুলহানি1: ধনে: রাজভয়, মানে দীনতাকে মানি বলে শত্রুভয়, ৰূপে যুবতি নিশ্চয়। শাস্ত্রীধ্যয়- নেতে কেবল বাদিভয়। গুণে আছে খলসুম, দাষ দেয়, পাছে। কলেবর ধারণে যমর ভয় আছে । একূপে'সকল-বস্তু য়াম্বিত হয়। কেবল বৈরাগ্য-মাত্র জীবের অভয়। ৫। শিনি খলু কলঙ্কঃ কন্টকং পদ্মনালে যুবতিকুচনিপাত পকতা কেশালে। জলধি জলমেপয়ং পণ্ডিতে নিধনত্বং বয়সি ধনবিবেকো নিৰ্ব্বি- বেকে। বিধাতা৬। সুধাকরে কলঙ্ক, মৃণালে কঁাটায়। যুবতির স্তনদ্বয় নিপতি যে হয়। কেশের পক্কত, অয়ি সমুদ্রের বন। লবণ মিশ্রিত, র পণ্ডিত নিধন। মুখোপভােগের উপমুক্ত যে সময়। সে সময়ে ধন চিন্তা করিতে যে হয়। করেছেন :এসকল ঘটনা যে বিধি।' তিনি নির্বোধ অতি ইহা কি সুনিধি? ৬। শশী দিবস ধূসরে গলিত যৌষনা কামিনী সরোবিগত বাৰিজং মুখমনক্ষং স্বীকৃতেঃ | প্রভু ধপরায়ণঃ সঙ, দুর্গতঃ সজ্জলো মূপঙ্গমগতঃ খলেয়মনসি সপ্ত শ্যানিম্নে । দিবসে যে, চন্দ্র, হয় ধুময় বরণ। আর যে গলিত হয় ধুৰতি যৌবন । আর ন্সরে করেতে য়ে পদ্ম নাহি অয়। সুন্দর ব্যক্তির মুখ অক্ষর ", প ১৬ পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। হয়। প্রভু হয়ে যিনি হন ধন-পরায়ণ। সৰ্ব্বদা দুর্গতি ভোগ করেন সজ্জন। খলের বসতি হয় রাজুর অঙ্গনে। এই অতি শল্য হয়ে আছে মম মনে। ৭। নিঃষোব্যষ্টিশত শতী দশশং লক্ষং সহস্রাধিপো ক্ষেশঃ ক্ষিতি পালতংক্ষিতিগতিশতং বাতি। চক্রেশঃ পুনরিন্দ্রভাং সুরপতিত্ৰহ্মং পদং বাতি ব্ৰক্ষ। শৈবপদ শিবোহৱিপং হ্যাশাবিং কোগতঃ ৮। শত মুদ্রা বাঞ্ছা করে য়ে জন নিৰ্দ্ধন। শহস্র করেন বাঞ্ছ। শতপতি জন। সহস্রপতির ইচ্ছা হতে লক্ষপতি। লক্ষপতি রাজ্য পায় এই জার মতি। রাজা সার্বভৌম হৈতে করে অভিলাষ। সাৰ্ব্বভৌম ইন্পদ করেন অশ্বিাস। ইন্দ্রের কামনা এই পায় ব্রাহ্মপদ। ব্রহ্মার পাইতে ইচ্ছ। শিবের সম্পদ। সদাশিব বিষ্ণুপদ প্রাপ্তি ইচ্ছা করে। অতএব কে গিয়াছে আশানদী পারে?৮। মিত্রং স্বচ্ছতয়া রিপুং নয়বলৈং ধনৈরীশ্বরং কার্ষেণদ্ধিজমাদ- রেণ যুবতীং প্রো সমৈৰ্বান্ধা। wং তিভিৰুং প্রণতিভিমূখং কথাধিং বিদ্যাভী বৃসিং রসের সকলং শীলেন কুৰ্মীশং। ২। অসার্থিঃ ॥ নির্মলচিত্ততা-দ্বারা বিচক্ষণ জন। বশীভূত করিবেক মিত্রকে আপন। অলক্ষে করিৰে ৰশ নীতি-সৈন্যদ্বারা। লেভিকে করিবে বশ ধন দিয়া ত্বরা। কাৰ্যৱার। প্রভুকে, ব্রাহ্মণে সমাদরে। প্রণয়েতে ৰশ্ন কৰিৰে মুৰতীরে। কৱিৰে ৰান্ধগণেশ সমভাৰে। গুতিতে করিবেশ অত্যুগ্ম স্বভাৰে। গুরুকে প্রতিদ্বারা, মুখকে কথাতে।
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। বুধকে করিবে বশ বিদ্যার দ্বারাতে। রসিকে করিবে যশ রসেতে নিশ্চিত। শীলতায় গলিকে করিৰে বশীভুত।১। অর্থী লাঘব মুচ্ছিতো মিপতনং কামাতুরে লাঞ্ছনং লুক্কোকীর্তি- মসঙ্গর পরিভবং দুষ্টোহন্যদোষে রতি। নিঃম্বােবঞ্চনমুনা বিকলাং শােকাকুলঃ সংশয়ং দুৰ্বলাপ্রিয়তা দুরােদবশঃ প্রাপোতি কষ্টং মুহঃ ।। ভিক্ষুক লাঘব প্রাপ্ত হয় যথোচিত। যে জন উচ্চতা পায় সে হয় পতিত। কামাতুর ব্যক্তিই লাঞ্ছনা প্রাপ্ত হয়। লােতি লোক লত করে অকীৰ্ত্তি নিশ্চয়। যুদ্ধ না করিলে রাজা পায় পরাজয়। পাইলে পরের দোষ দুষ্ট তুষ্ট হয়। নির্ধন যে জন সে বঞ্চনা লাভ করে । উন্মনস্ক ব্যক্তি লাভ করে বৈকল্যের। শোকাকুল ব্যক্তি পায় সং- শয় ভূতলে। আর, সকলের প্রতি দুৰ্ব্বাক্য যে বলে। সে জন জগতে পায় অপ্রিয়তা ভারি। পুনঃ২ কষ্ট পায় ক্রীড়া ফারী। ২। নীতিভূমিভুজাং নতিৰতাং হ্রীরঙ্গনানাং বৃতি দম্পত্যো শিশৰে গৃহস্য কবিতা বুদ্ধের প্রসাদোগিরা। লাবণ্যং পুষঃ স্মৃতি সুমনসাং শান্তিপ্ৰিজন্য ক্ষমা শক্তস্য দ্রবিণং গৃহাশ্রমবতাং স্বাস্থ্যং সতাং মনং। ৩। ভূপতিগণের হয় ভূষণ সুনীতি। গুণিসমূহের হয় ভূষণ বিনতি। কুল-কামিনীগণের লজ্জাই ঊষণ। ধৈৰ্য্য হয় দম্পতির ভূষণ শোভন শিশুগণ গৃহের ভূষণ মনােরম। বুদ্ধির কবিতাশক্তি ভূৰণ উত্তম। সরস স্পষ্টতা হয় বাক্যের ভূষণ { লাবণ্যই শরীরের ভূষণ শােভম। মনের ভুষণ স্মৃতি ব্রাহ্মণের শাস্তি। সমর্থ লোকের হয় বিভূষণ গান্তি। গৃহহু লোকের হয় বিভূষণ ধন। সাধুসমূহের হয় স্বাস্থ্যই ভূষণ। ৩ । ধৰ্ম্মা প্রাগেবচিন্ত্য সচিবমতিগতির্ভাবনীয়া দৈৰ। জ্ঞেয়ং লোকানুবর্তং বরচর নয়নৈর্মওলং ৰীক্ষণীয়।
পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। ॥ -- প্রচ্ছদৌ রীগৰাষৌমৃদুষগুণৌ যোজনীয়ৌচ কালে আত্মা যত্নেন রক্ষা রশিয়াল পুনঃ সোপনাপেক্ষণীয়। ৪। ধর্মচিন্তাকরিবেন সৰ্ব্বাগ্রে ভূপতি।' বুঝিবেন সদ। মন্ত্রিদের বুদ্ধি- গতি। জানিবেন সদা সকলের ব্যবহার। চারচক্ষে দেখিযেন রাজ্য আপনার রাগ দ্বেষ উভয়ের প্রচ্ছন্ন রাখিয়া। কালে মৃদু সময়ে বা কঠিন হইয়া ॥ যত্নের সহিত দেহ করিবেন রক্ষা না করিবে রণস্থলে তাহারো অপেক্ষা। ৪।' কার্পণ্যেন যশঃ কুধ গুণচয়ে দন্তেন সত্যংক্ষুধা মৰ্যাদা ব্যসনৈধনানি বিপদ। স্থৈর্য্যং প্রমাদৈদ্বিজঃ । পৈশুনেন কুলং মদৈন নিয়ে দুশ্চেষ্টয়া পৌরুষং ' : দারিদ্র্যেণ জনদিয়ে মমতয়াচীষ্ম প্রসাদে। হতঃ। ৫। নরের কার্পণ্যদ্বারী- যশো নষ্ট হয়। ক্রোধদ্বারা হয় গুণসমূহের ক্ষয়। দন্তদ্বারা সত্য বাক্য, মান বুভুক্ষায়। 'দ্যুতাদি ব্যসন রি। ধন নাশ পায়। বিপত্তিতে পুরুষের ধৈৰ্য্য নাশ হয়। প্রমাদে ব্ৰহ্মণ্য খলতায় কুলক্ষয়। মত্ততাতে নষ্ট হয় বিয় সুধারা। . পুরুষত্ব নষ্ট হয় দুশ্চেষ্টত দ্বারায় নিখভায় সমাদর, মমঙৰ দ্বারা । 'প্রসন্নত। বুদ্ধির বিনাশ পায় স্বর॥ tv1. মূহেশান্তন্তপস্বী ক্ষিতিপতিসলেমৎসরো ধৰ্মশীলে। দুস্থানী গৃহস্থঃ প্রভুরতিকৃপণঃ শাস্ত্রবিদ্ধৰ্ম্মহীন। জুড্ডিাহীনেময়েঃ শুচিরপি সতং যঃ-পাস্লোভোগী, - বৃক্ষেৰোগী দরিদ্রঃ চ য়ুৰতিপতি ধি:থড়স্ব প্ৰকৰং ৬। তপস্বী যদ্যপি হয়, জর্বোধ অশান্ত।..: ক্ষিতিপতি হন যদি অলস মিঅন্ত শর্মশীল ব্যক্তি যদি হয়ে মৎসৱগ, মানিগৃহস্থের জ্বলে মুন্তিয়। প্রভু যদি আপনি কৃপণ হন তিঃ শারে যদি হয় অধৰ্ম্মেতে মতি। নরপতি হন যদি অনুজ্ঞা রহিত। শুচি ব্যক্তি বদি হয় পরঞ্জে পালিত। যৈ জ্ঞন দরিদ্র রোগী বৃদ্ধ অতিশয় । অথচ * যতক্ষণ ক্রোধ থাকে ততক্ষণ জীবের সদৰ স্ফ স্ত্রি খাকে ।।
গরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর । রাজার সেবার সে যুবতির পতি যদি হয় । সংসারেতে এ সকল জানিব। নিশ্চয়। ধিক্কার অসচবিড়ম্বনার বিষয়। ৬। স্ত্রীণাং যৌবনমর্থনামগমে রাজ্জাং তপঃ সতাং সত্যং স্বল্পধনস্য সঞ্চিতিরসচ্চিত্তস্থ বাগড়ম্বরঃ । স্বাচারস্য মনােমঃ পরিণতৈর্বিদ্যা কুলকৈত। সেবায়াধনমুন্নতেগুণচয়ঃ শান্তেৰ্ব্বিবেকোবলং। ৭। অবলীগণের বল কেবল যৌবন। ভিক্ষুকের বল দা পশ্চাতে গমন। ভূপতিগণের বল প্রতাপ প্রবল। সাধুসমূহের হয় সত্য ভাষা বল। অত্যল্প ধনির বল সঞ্চয় বিস্তর। অসচ্চরিত্রের বল বাক্য আড়ম্বর। সাধু অাচারির বল মনের দমন। পরিণত বয়স্কের বল বিদ্যাধন। কুলের প্রবল বল ঐক্য পরস্পর। বল ধন তুষ্টিকর। উন্নতির বল হয় গুণ সমুদয়। শাস্তির বিবেক বলুজানিব নিশ্চয়। ৭। বিদ্বান্ সংসদি পাক্ষিকঃ পরবশে মানী দরিদ্রোগৃহী বিস্তাঢ্য কৃপণ সুখী পরবশে কৃন্ধোন তীর্থতি। রাজ। দুঃসচিবপ্রিয়ঃ কুলভবে মুখ পুমা স্ত্রীজিত বেদান্তী হতসৎক্রিয়ঃ কিমপরং হাস্যাস্পদং ভূতলে। ৮। সভায় পণ্ডিত যদি পক্ষপাতী হয়। পরবশ 'যে জন'সেমানী যদি কয় । গৃহস্থ যদ্যপি নিত্য হয় পনহীন। ধনাট্য কৃপণ’ যদি থাকে অনুদিন। পরাধীন যদি হয় সুখী যেই জন। বৃদ্ধ ঘদি নাহি করে তীর্থের সেবন। নরপতি যদি মন্ত্রির প্রিয় হন। পণ্ডিতের কুলে যদি মুখের জনন। পুরুষ যদ্যপি হয় নারী বশীভূত। বৈদাস্তি হন যদি সৎক্রিয়া বর্জিত। উচিত বলিতে গেলে দোষ দেও° পাছে । ইহাপেক্ষা হাস্যাস্পদ জগতে কি আছে ? ৮। উৎখাতা প্রতিরেপিয় কুমুমিতাংশ্চিন্থ শিশূ বৰ্দ্ধয় প্রো- সান্ নময় নান্ সমুদয় বিশ্লেষয় সংহ। তীব্ৰান্ কন্টকিনে, বহিনিয়ম মানা মুহাসৈচা মালাকার ইব প্রয়োগনিপুণে। রাজা চিরং নৃতি। ৯। - পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর যে প্রকার মালাকার উদ্যানতিয়ে। উম্মলিত বৃক্ষগণে প্ররো পণ করে। কুসুমিত বৃক্ষগণে করেন চয়ন। ক্ষুদ্র বৃক্ষগণে করেন বন্ধন। উচ্ছিত যে বৃক্ষ তারে করে অবনত। অবনত বৃক্ষগণে করেন উন্নত। পরস্পর যে বৃক্ষ হয় সম্মিলিত । সে বৃক্ষ পৃথক করে দেন নিয়মিত। যেং বৃক্ষে অতিশয় তীব্র কাঁটা ধরে। সে সব বৃক্ষকে শীঘ্র বহির্ভূত করে মান বৃক্ষ সমূহকে করিয়া যতন। পুনঃ পুন করে থাকে সলিল সেচন । সে প্রকার যে ভুপতি প্রয়ােগ- কুশল। তিনিই আনন্দ ভোগ করেন অচল। ৯। সুবোধসিদ্ধান্ত। হে মহাশয়গণ! এই আমি আপনাদিগের প্রশ্নানুসারে কএকটী প্রাচীন সংস্কৃত কবিতা বঙ্গভাষায় পদ্যছন্দে সূর্ণ বিবৃতি করিয়া কহিলাম। অতঃপর যাহার সম্নীতিপ্রদ অধিক কবিত। শ্রবণ করিবার ইচ্ছা আছে, তিনি সংস্কৃত নীতিগ্রন্থ পাঠ করিয়া সে অভাব দুরীভূত করিবেন। বোধাচাৰ্য। মহাশয়। সংস্কৃত কোন জাতির মাতৃভাষা ইহা আমাদিগকে প্রকাশ করিয়া বলুন। সুৰোধসিদ্ধান্ত। ওহে বোধাচাৰ্য। সংস্কৃতভাষা কোন জাতির মাতৃভাষা নহে, তৰে ঐ ভাষার সহিত যে জাতির মাতৃভাষার অত্যন্ত নৈকট্য সম্বন্ধ আছে; সেই আর্যজাতিরাই (বঙ্গদেশীয়েরা) আপনাদিগের মাতৃভাষাকে কোন সময় সংস্কৃত করিয়াছিলেন। এই জন্যে ঐ ভাষার নাম সংস্কৃত ভাষা। হিন্দুস্থানীয় লোকেরা - পনাদিগের হিন্দিভাষাকে যে সংস্কৃত করিয়াছিলেন, তাহা হিন্দি- সংস্কৃত বলিয়া প্রসিদ্ধ আছে। যাহা হউক, সময়ক্রমে একটি অব্যর্থ প্রমাণাৰা আমি এ বিষয় প্রমাণ করিয়া দিব; সম্প্রতি আমি সত্যধর্মের সাক্ষ্য প্রদানার্থ একটী বক্তৃতা করিতে যে প্রতি শ্রত হইয়াছিলাম, তাহা সম্পূৰ্ণৰূপে সমাধা করিয়াছি। ইহাতেও পরমার্থ বিজ্ঞান রত্নাকর। যদি কোন ব্যক্তির কুসংস্কার পরিহার সহ সবধর্মে দৃঢ় বিশ্বাস না জন্মে, তবে আর এক দিন ৰক্ততা করিতে বিস্মৃত হইব না। এক্ষণে আপনারা পরম সুখে কালযাপন করুন, আমি পুনৰ্ব্বার শীঘ্র আসিতেছি। ইতি সংস্কৃত রত্নাবলী কবিতাৰ্থ প্রকাশ নামক দ্বাদশাধ্যায়ে এতদন্থের প্রথম খণ্ড সমাপ্ত হইল। আত্ম পরিচয়। হে পাঠক মহাশয়গণ ! মনুজ রাজধানীর হৃদয়-দালানে বোধা- চাৰ্য্য ও অধোধভট্ট প্রভৃতি জনগণ যে সকল কথোপকথন করিয়া- ছিলেন, তাই আমি আপনাদিগের নিকট বর্ণনা করিয়া কহিলাম। সম্প্রতি অবাধভউ, বোধাচাৰ্য্য ও সুবোধসিদ্ধান্ত এবং আমিই বা কে, তাহা কহিতেছি শ্রবণ করুন। অবােধ অামার মন, বোধ বুদ্ধি যিনি। সুবোধ পর ম অত্মিা ; আমি বটে তিনি। অবােধ বােধেরে লয়ে হৃদয়-দালানে। দিবানিশি কথা কহে যত কথা জানে। অবোধের বোধ নাই, বােধের সুবোধ। যদি থাকে ; তবে তিনি আপনি সুবােধ। প্রথম খণ্ড সমাপ্ত।
বিজ্ঞাপন এতদ্বজ্ঞাপন পত্ৰদ্বারা সত্যান্বেষি বিশুদ্ধচিত্ত জনগণকে জ্ঞাত কর। যাইতেছে যে, যদি কেহ যোগকৌশল জ্ঞাত হইয়া এক সপ্তাহ অথবা দুই মাসের মধ্যে জীবাত্মার সহিত সাক্ষাৎকার করিতে ইচ্ছুক হয়েন, তবে তিনি পদিবস ব্যতীত প্রতি সােমবাসরে কলিকাতার চিৎপুররোড বাদ। বটতলার দক্ষিণ শ্ৰীযুত বাবু বিশ্বস্তয় লাহার পুস্ত, কালয়ে অাগমন পূৰ্ব্বক আমার সহিত সাক্ষাৎ করিলে যােগকৈৗশল অবগত হইতে পারিবেন। কিন্তু সর্বসাধারণের উপকারার্থ সম্ভবত তাহাকে কিঞ্চিৎ অর্থ প্রদান করিতে হইবেক। নিবেদন মিতি। শীকেশবচন্দ্র রায় কর্মকার। সাং শ্রীরামপুর
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.