Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Kalikachcher Data Bansha
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
কালীকচ্ছের দাতা বংশ
অগ্নি দেবতা--o-ঋষি ভরদ্বাজ
বন্না সুলনা সহপসা নাে বিহায়া অগ্নে তােকং তনয়ং বাজিনাে দাঃ
বিশ্বাভিগীভিভিপূর্তিমাং মদেম শহিমাঃ সুবীরাঃ ।
(ঋগ্বেদ ষই মণ্ডল-১মূক্ত—ভঋক )
শ্ৰ:নিকুঞ্জবিহারী দত্ত শৰ্মা
No text on this page.
উৎসর্গ পত্র।
পুণ্যশ্লোক
দাতা রঘুনাথ ও দাতা গােপীনাথের
স্মরণার্থে উৎসর্গ করিলাম,
যেন তাঁহাদের মহানুপ্রাণতায় অনুপ্রাণিত হই
কালীকচ্ছ
শ্ৰীনিকুঞ্জবিহারী দত্ত শৰ্মা
সন ১৩ :
No text on this page.
ঐতিহাসিক চীপত্র। পৃষ্ঠা छ। অবিনাশচন্দ্র ব্রজ বিহারী অযােধ্যানাথ ১৪ মনােমােহন আক্ষয় কুমার মহিম চন্দ্র মােহিনী মােহন আনন্দমােহন ১৮ যােগেন্দ্র চন্দ্র ২৪ যােগেশ চন্দ্র উমেশচন্দ্র উল্লাস কর কালীকুমার কুঞ্জবিহারী কুমুদবিহারী ১৪ রজনী নাথ রমেশ চন্দ্র রঘুনাথ রাম কুমার গগনচন্দ্র গঙ্গাদাস ১১ রান লােচন ২৪ ১ গিরীশচন্দ্র গিরীজা শঙ্কর গােপীনাথ গৌরচন্দ্র রাম সন্তোষ রুক্মিণী কুমার বােহিনী কুমার ললিত বিহারী শৈল বিহারী সৰ্বরক্ষা দেবী চন্দ্রকুমার ১৭ জগমােহন ১১ সারােজ বিহারী ১১ সুরেন্দ্র মােহন সুখ সাগর জয়চন্দ্র দীন নাথ দিগম্বর দ্বিজদাস নন্দরাম নিকুঞ্জবিহারী নীরদ বিহারী ১৮ হরচন্দ্র ১৮ ০ হরিনারায়ণ ক্ষত্র নাথ কালীকচ্ছগ্রাম ১ পূর্ণচন্দ্র বদনচন্দ্র ভরদ্বাজ বংশ ভরদ্বাজ মুনির প্রাদুর্ভাব নীলকান্ত রায় বৃন্দাবন চন্দ্র বিনােদ বিহারী
No text on this page.
কালীকচ্ছের দাতাবংশ ভূমিকা। স্তোত্র-~-অগ্নি দেবতা-...- ঋষি ভরদ্বাজ দ্ম সুননা সহসা নাে বিহায়া অগ্নে তােকং তনয়ং বাক্তিনাে দাঃ বিশ্বাভিগীভিরভিপূৰ্ত্তিমাং মদেম শতহিমাঃ সুবীরাঃ । (ঋগ্বেদ ষষ্ঠ মণ্ডল-~~-১৩সুক্ত- ৬ঋক) অর্থাৎ হে শক্তিপুত্র অগ্নি (সসস সুনাে অগ্নে ) তুমি মহাদাতা ( বিহায়া) তুমি আমাদের হিতােপদেষ্ঠা (বদ্য) হও, তুমি আমাদিগকে (নঃ ) তাম্নসহকারে (বাজি) পুত্র (তােকং) ও পৌত্র (তনয়ং) দান কর (দাঃ) আমি তােমার স্তব স্তুতি করিয়া ( বিশ্বাভিগীভিঃ) যেন পূর্ণকাম হই (পূৰ্ত্তি অভি অশ্যাং ) আমরা যেন উত্তম পুত্র পৌত্র লাভ করিয়া (সুবীরাঃ) শত বৎসর (শতহিমাঃ) আনন্দে জীবন ধারণ করি (মদেম)। কালীকচ্ছ গ্রাম। দাতাবংশাবলী লিখিবার পূর্বে কালীকচ্ছু গ্রামের পরিচয় লিখা কর্তব্য মনে করি : কারণ মাতৃগুণেই সুসন্তান জন্মিয়া থাকে। “জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী”। ত্রিপুরা জিলার অন্তর্গত সরাইল পরগণাতে এই গ্রাম অব- স্থিত ; পূর্ববঙ্গের সকল স্থানেই ইহা সুপরিচিত। এই গ্রামের দুই ক্রোশ পশ্চিমে; বিশালবক্ষা স্বল্পবাতবিক্ষোভিতা বানিজ্যসম্প্রসারিণী মেঘনা নদী ও উত্তরে একটী বিস্তীর্ণ বিল এই সরিৎ প্রবরের সহিত সম্মিলিত হইয়াছে। কচ্ছ শব্দের আভিধানিক অর্থ তীর, সুতরাং কালীকছু শব্দের অর্থ কালীদহ সাগর কিম্বা কাল নদীর তীর বলিলে অযে- ক্তিক হয় না। ইহার আয়তন ৫ বর্গ মাইল হইবে। বিগত আদম শুমারিতে দেখা গিয়াছে যে এই গ্রামের লোেক সংখ্যা ৮ আট সহস্র হইবে। ইহাতে বহু উচ্চ শ্রেণীর হিন্দু সন্তানের এক সমাবেশ হেতু ইহা একটী আদর্শ হিন্দুগ্রাম বলিয়া চিরপরিচিত হইয়া আসিয়াছে। হিন্দু ব্যতীত এই গণ্ডগ্রামে অন্য কোন ধর্মাবলম্বীর বাস নাই। পুরাকালে মহাত্মারা জলাশয় খনন, অতিথিসৎকার শিক্ষার্থে টোল সংস্থাপন ছাত্রদের বাসস্থান প্রদান প্রভৃতি লােকহিতকর কাৰ্য্য করিয়া যশস্বী হইয়া গিয়াছেন। বর্তমান যুপে আধুনিক শিক্ষিত মহাত্মাৱা এই সকল বিষয়ে উদাসীন তাহারা নিজ গ্রামের উন্নতি উপেক্ষা করিয়া নগরে অট্টা- লিকাদিতে বাস পূর্বক স্ব স্ব আত্মসুখ সম্ভোগে নিমগ্ন। নিজ পৈত্রিক ভদ্রাসন বাড়ী যেন লক্ষ্মী ছাড়া হইয়া পড়িয়া রহিয়াছে। যাঁহারা বাড়ীতে আছেন কেবল তাহাদের দ্বারা জন্মভূমির দুঃখ মােচন করা সুদূরপরাহত। এই গ্রামে মুসলমান রাজত্বের সময় হইতে বহু শিক্ষিত লােকের বাসস্থান বলিয়া সুপরিচিত। ইহা সৰ্ব্ব- বিষয়ে উন্নত হেতু পূর্ববঙ্গের একটী আদর্শ গ্রাম। বর্তমান সময়ে ৮০ জন পুরুষ গ্রেজুয়েট, ৬ জন স্ত্রী গ্রেজুয়েট, ২০ জন সংস্কৃত উপাধী প্রাপ্ত পণ্ডিত এবং বহু উচ্চপদস্থ ভদ্র- লােকের বাসস্থান বলিয়া প্রসিদ্ধ। পূণ্যশ্লোক মহাত্যাগী দাতা গােপীনাথ, পরম সাধক আনন্দস্বামী প্রভৃতি সিদ্ধ- পুরুষগণের জন্মদাত্রী এই কালীকচ্ছ গ্রাম। ;
No text on this page.
সন ১৩৩৩ বাং কালীকচ্ছের দাতবংশ। ভরদ্বাজ বংশ। ৫৫. । কালীকচ্ছের ভরদ্বজ বংশ ত্রিপুরা ভিলা এবং তৎসমীপবর্তী জলা সমূহে ‘দাতা গোপীনাথ রায়ের বংশ বলিয়া সুপরিচিত। দাতা গে পীনাথো একমাত্র পুত্রকে তাহারই ঠাকুর পূজক ব্রাহ্মণ হস্তস্থিত সুবর্ণবলয়ের লােভে জঙ্গলে হত্যা করে। এই মহাত্মা নীরবে তাহা সহ্য করেন। তিনি নিঃসন্তান হইলেন বটে, কিন্তু তাহার বংশধরগণ আজ পর্যন্ত তাহারই নামে সর্বত্র সম্মান পাইয়া আসিতেছেন। বৃহস্পতির পুত্র ভরদ্বাজ ঋগ্বেদের ষ্ঠ মণ্ডলের ঋষি। তাঁহার মত জ্ঞানী ঋষি ঋগ্বেদ ও বিল। সৃষ্টির রহস্য ভেদকরা অথবা সৃষ্টির উদ্দেশ্য বর্ণনা করা সম্বন্ধে তাহার কিম্বা তাহার পুত্রদের সহিত তুলনা হইতে পারে আজ পর্যন্ত কাহাকেও দেখা যায় না। তাহার পুঃ ঋনি গর্গ দৃষ্ট এই ঋটিই তাহার প্রমাণ। রূপং রূপং প্রতিরূপ বভূব তদস্য রূপ; প্রতিচক্ষণায়। ইন্দ্রো মায়াভি পুরুরূপ ঈয়তে যুক্তা হস্থ হয় শতদশ । ( ৬ষ্ঠ মণ্ড- ৪-সুক্ত ১৮ঋক্) অর্থাৎ যেখানে যেরূপ আছে, প্রত্যেকরূপেই তিনি প্রতিবিম্বিত হইয়া আছেন। কেন ? যেন তিনি তাঁহার সেই সেই রূপ বাহিরে প্রতিবিম্বিত প্রত্যক্ষ করিতে পারেন ( objectively realist করিতে পারেন)। ইন্দ্র তাহার মায়াশক্তি অর্থাৎ নির্মাণ শক্তি প্রভাবে নানা রূপে বিচরণ করিতেছেন। সংখ্যাতত জীবগত ইন্দ্রিয়রূপ অশ্ব সকল (হরঃ) তাঁহার এইকাৰ্য্য ণিযুক্ত রহিয়াছে। ( দ্বিজদাস দত্ত) মহর্মি ভরদ্বাজ আয়ুৰ্বেদ বিদ্যা শিক্ষার জন্য অন্যান্য মহর্ষিণ কর্তৃক মনােনীত হইয়া ইন্দ্রের নিকট গমন করেন । পরম মেধাবী তেজস্বী ভরদ্বাজ তম্মনা হইয়া ত্ৰিস্কন্ধ অনন্ত আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অল্প সময়ের মধ্যেই আয়ত্ব করিয়া অন্যান্য ঋষিদিকে লােক শিক্ষার্থে সমগ্ৰ আয়ুর্বেদ যথার্থ রূপে শিক্ষা প্রদান করেন। এইরূপ মৌদগল্য, ভরদ্বাজ, আত্রেয় কৃষ্ণত্রয়, কাশ্যপ, কৌশিক প্রভৃতি বৈদ্যগণের গােত্র প্রবর্তক মণি ও যে বৈদ্য ছিলেন তাহার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। ( চরক, সু ২১-২৬ অঃ দ্রষ্টব্য) “ভরদ্বাজ মুনির প্রাদুর্ভাব” দীর্ঘঞ্জীবিতমচ্ছিন্ ভরদ্বাজ উপগম্য। ইন্দ্ৰমুগ্ৰতপা বুদ্ধা শরণ্যমমরেশ্বরম্ । বিভূতা যদা বােগাঃ প্রাদুভূতাঃ শরীরিণম্। তপােপবাসাধ্যয়ন ব্রহ্মচর্য ব্রতায়ুম্ ॥ তদা ভূতধনুক্রোশং পুরস্কৃত্য মহুয়ঃ। সমেতঃ পুণ্যকৰ্ম্মাণ; পাশ্নে হিমবতঃ শুভ। ভাজা মুনিবরঃ প্রথম সমুপাগত। তােহঙ্গিরাস্তাতে গর্গা মরীচিভৃগুভার্গবে । পুলস্ত্যাহগন্তিরসিতাে বশিষ্ঠ সপরাশরঃ। হারীতে গােতম সংখ্যা মৈত্রেয়শ্চ্যবনােহপিচ । যমদগ্নিশ্চ গশ্চ কাশ্যপ কশ্যপােইপিচ। নারদো বাম দেবশ্চমার্কণ্ডেয়: কপিল। শাণ্ডিলঃ সহকৗগুিল্য শাকুনেয়ঃ সশৌনক। অম্বলায়ন সাংকৃত্যো বিশ্বামিত্র পরীক্ষিতঃ ॥ দেবলে গালবাে ধৌম্য: কাপাকাত্যায়নাবুভৌ। কাঙ্গানাে বৈজবাপঃ কুশিকো বাদরায়ণিঃ । হিরণ্যাক্ষশ্চ লােকাস্পি: শরমােচ গােভিলঃ। বৈখানসা বালখিল্লাস্তৗথবান্যে মহর্ষয়। ব্ৰহ্মজ্ঞানস্য নিধয়ে দমস্য নিমস্য চ। ওপসাজে দীপ্তা ই ইয়ানা ইবাগ্নয়ঃ । সুখােপবিষ্টাস্তে তত্ৰ সৰ্ব্বেচক্রু: কথানিমাম্ । ৰ্মার্থকামমােক্ষাণাং মলমুক্ত কলেবরম্ ।
No text on this page.
সন ১৩৩৩বাং। কালীকচ্ছের দাতবংশ। তত্র সার্থসংসিদ্ধেভাবেদদি নিরাময়। তপাধ্যায়ধৰ্ম্মাণ ব্ৰহ্মচৰ্যব্রতায়ুম। হর্তার প্রকৃত মােগা যত্র তত্র চ সর্বতঃ। বােগাঃ কাকরা বলয়করা দেহচেষ্টাহরা। দৃশ্যাদীন্দ্রিয়শক্তি সংক্ষয়কঃ সৰ্ব্ব পীড়াকরাঃ। ধৰ্মার্থাখিলকামমুক্তিযু মহাবিপ্ন স্বরূপ বল'। প্রাণানা হরতি সন্তি যদিতে মেংকুতঃ প্রাণিনাম্ । তৎ তেষাং প্রশমায় কশ্চন বিধিশ্চিন্তা ভর্বিধৈ- যোগৈরিত্যভিধায় সংসদি ভরদ্বাজ মুনিং তেহব । ত্বং যােগ্যো ভগবান্ সহস্রনয়নং যাচস্ব লক্ৰমাৎ। আয়ুর্বেদমধীতা যং গদভয়াম্মুক্তা ভবামােবয়ম্ । ইখং সমুনিভিষোগৈঃ প্রার্থিতাে বিনয়ান্বিতঃ। ভরদ্বাজে মুনিশ্রেষ্ঠো জগাম ত্রিদশালয়। তত্ৰে ভবনং গত্বা সুয়র্ষিগণমধ্যগম্ । দৃষ্টবান্ বৃহন্তারং দীপ্যমানমিবলম্। দৃষ্টবসঃমুনিং পাহ ভগবান্ মঘবা মুদা। ধর্মজ্ঞস্বাগতং তেহথ মুনিং তং সমপূজয়ৎ। সােহধিগম্য জয়াশীভিরভিব্য সুরেশ্বরম্ । ঋষীণাং বচনং সমগশ্রাবত সমম্ ॥ ব্যাধয়াে হি সমুংপন্ন: সর্বপ্রাণি ভয়ঙ্কর। তেষাং প্রশমনােপায়ং যথ.বক্তইসি। তস্ম প্রােবাচ ভবানায়ু:র্বদং শতক্রতুঃ। পদৈর’ল্পমতিং বুদ্ধা বিপুলাং পরমর্ময়ে । সসহনন্তপার ত্রিমায়ুর্বেদং মহামতি। যথাবদচিরাৎ সংবুবুধে তম্মনা মুনিঃ । (তনায়ু: সুচিরং লেভে ভরদ্বাজো নিরাময় । অন্যানপি মুনীংশ্চক্রে মীরু: সুচিরায়ুষঃ। তৎ তত্র গুনিতজ্ঞানচক্ষু ঋষয়ােহখিলা গুণান্ দ্রব্যাদি-কৰ্ম্মাণি-দৃষ্টা তদ্বিধিমশ্রিত। আনােগ্যং লেভিরে দীর্ঘময়ুশ্চ মুখ সংযুতম্। আয়ুৰ্ব্বেদোক্ত বিধিনাহেপি মুনিয়াে যথা । (চরক সুত্র প্রথম অধ্যায়) বঙ্গানুবাদ। কিরূপে দীর্ঘজীবন লাভ করিতে পারা যায়, তাহা জানিবার জন্য মহাতপা ভরদ্বাজ মুনি ইন্দ্রের নিকট আয়ু- বেদ অধ্যয়ন করিয়া ছিলেন। রােগ সকল প্রাদুর্ভূত হওয়াতে মানবদিগের তপস্যা, উপবাস, অধ্যয়ন, ব্রত ও তা'য়ুর বিগ্ন উপস্থিত হইল। তখন জীবদিগের প্রতি দয়া- বশতঃ পূণ্যকৰ্মা মহর্ষিগণ হিমালয় পার্শ্বে সমবেত হইলেন। মুনিশ্রেষ্ঠ ভরদ্বাজ প্রথমে আসিলেন। তৎপর অঙ্গিরা, গর্গ, মরীচি, ভৃগু, ভাগব, পুলস্ত্য, অগস্তি অসিত, বশিষ্ঠ, পৱাসর, হারীত, গােতম, সাংখ্য, মৈত্রেয়, চ্যবন, যমদগ্নি, গর্গ, কাশ্যপ, কশপ, নারদ, বামদেব, মার্কণ্ডেয়, কপিল, শাণ্ডিল্য, কৌণ্ডিল, শাকুনেয়, শৌনক, আলায়ন, সাংকৃত্যা, বিশ্বামিত্র, পরীক্ষিত, দেবল, গাল, ধৌম্য, কাপ্য, কাত্যায়ন, কঙ্কায়ন, বৈজবাপ, কুশিক, বাদরায়ণি, হিরণ্যাক্ষ, লােকাক্ষি, শরললাম, গােভিল, বৈখানশা, বালখিল্ল-মুনিগণ এবং অন্যান্য মহর্ষিগণ সমবেত হইলেন। তাহারা ব্ৰহ্মজ্ঞান শান্তি ও নিয়মের নিধিরূপ ও তপস্যার তেজে হয়মান তাগ্নি সমূহের ন্যায় প্রদীপ্ত। উহারা সেই স্থানে সুখােপবিষ্ট হইয়া প্রস্তাব করিলেন যে সুস্থ শরীরই ধৰ্ম্ম, অর্থ, কাম ও মােক্ষলাভের প্রধান উপায়। ব্যাধিই তপস্যা বেদ অধ্যয়ন, ধর্মানুষ্ঠান, ব্রহ্মচর্য এবং ব্রত প্রভৃতির অনিষ্টকর। রােগ সকল দেহের কৃশত্ব সম্পাদক, বলক্ষয়কর, চেষ্টানাশক ইন্দ্রিয়গণের ও শক্তিনাশক, সর্বাঙ্গ- যন্ত্রণাদায়ক এবং ধর্মার্থ কাম মােক্ষের মহাবিপ্ন স্বরূপ। যদি রােগ শরীরে থাকে তবে প্রাণীর মঙ্গল কোথায় বরং শীঘ্রই প্রাণ নাশ করে। সেই রােগের শান্তির জন্য
No text on this page.
সন ১৩৩৩বাং কালীকচ্ছের দাতাবংশ ২ আপনারা জ্ঞান যােগের দ্বারা কোন একটা উপায় চিন্তা করুন। এই বলিঃ মুনিগণ সভাতে ভরদ্বাজ মুনিকে বলি- “হে মহাত্মন আপনিই উপযুক্ত পাত্র। আয়ুর্বোধ লাভ করিবার নিমিত্ত সহস্র লােচনের নিকট প্রার্থনা করুন যাহা অধ্যয়ন করিয়া ক্রমে আমরা রােগমুক্ত হইতে পারি” বিনীত যােগ্য মুনিগণ কর্তৃক মুনিশ্রেষ্ঠ ভরদ্বাজ এইরূপ প্রার্থিত হইয়া দেবলােকে গমন করিলেন। তিনি ইন্দ্র- ভবনে গমন করিয়া দেবর্মিণ মধ্যস্থিত জ্বলন্ত অগ্নির ন্যায় বৃহন্তাকে দর্শন করিলেন। সেই ইন্দ্ৰ ভরদ্বাজ মুনিকে দেখিয়াই আনন্দিত হইয়া কুশল প্রশ্ন জিজ্ঞাসাপূর্বক তাহার সম্মান প্রদর্শন করিলেন। সেই ভরদ্বাজ মুনি এই রূপে সম্মানিত হইয়া সাধুশ্রেষ্ঠ সুরেশ্বরকে জয়াশীর্বাদ দ্বারা অভিবন্দনা করিয়া ঋষিদিগের প্রস্তাব সম্যকরূপে জ্ঞাপন করিলেন! “হে দেবেশ! সর্বজীবের ভীতিপ্রদ নানা ব্যাধি সমুৎপন্ন হইয়াছে উহাদের শান্তির উপায় নির্দেশ করুন”। ভগবান ইন্দ্ৰ ভরদ্বাজের প্রশস্ত অতি- প্রায় অবগত হইয়া তাহাকে সংক্ষেপে সমস্ত আয়ুর্বেদ শিক্ষা দিলেন। সেই তাপার ত্রিস্কন্ধ আয়ুর্বেদ মহামতি ভরদ্বাজ তন্মনা হইয়া অচিরাৎ অভ্যাস করিয়াছিলেন। সেই হেতু ভরদ্বাজ মুনি নিরাময় হইয়া সুদীর্ঘ জীবন লাভ করিয়াছিলেন। এবং অন্যান্য মুনিগণকে ও নীরােগ ও দীর্ঘজীবী করিয়াছিলেন। তৎপর সমগ্র মহষিগণ ভরদ্বাজ মুনি হইতে আয়ুর্বেদ লব্ধ জ্ঞান চক্ষুদ্বারা গুণ, দ্রব্য এবং কৰ্ম্ম দশন করিয়া সেই আয়ুর্বেদের বিধি গ্রহণ করিলেন যেন অন্যান্য মুনিও আয়ুর্বেদোক্ত বিধিদ্বারা সুখ শান্তি- পূর্ণ দীর্ঘায়লাভ করিতে পারেন। (চরক সুত্র প্রথম অঃ) ওষয়ঃ সংবদন্তে সােমেন সহ রান্না। যম্মৈ কুণাতি ব্রাহ্মণং রাজন পারয়ামসি। (ঋগ্বেদ, ১০ম মণ্ডল, ৯৭ সুক্ত, ১২-ঋক্) অর্থাৎ ওষধি সকল রাজা সােমের সহিত কথা কহিতেছেন,-“হে রাজন, যে রুগ্ন ব্যক্তিকে ওবধিসামর্থজ্ঞ ব্রাহ্মণ অর্থাৎ বৈদ্য সাহায্য করে আমরা তাহাকে রােগমুক্ত করি”। সায়ন এস্থলে “ব্রাহ্মণ” শব্দের অর্থ করিতেছেন “ওষধিসামর্থ্যজ্ঞ বৈদ্যঃ”। ব্ৰহ্মার মানস পুত্র অঙ্গি, অঙ্গিরার পুত্র বৃহস্পতি, বৃহস্পতির পুত্র ঋগ্বেদের যষ্ঠ মণ্ডলের ভ্ৰষ্টা পােত্র শ্রেষ্ঠ ভরদ্বাজ ঋষি। উদ্ধত ঋকমন্ত্র এবং চরক সুত্রদ্বারা ই প্রতিপন্ন হইয়াছে যে ভরদ্বাজ মুনি একজন ওষধি- সামর্থ্যজ্ঞ ব্রাহ্মণ অর্থাৎ বৈদ্য ব্রাহ্মণ ছিলেন। আমাদের দাতাবংশ এই মুনিশ্রেষ্ঠ ভরদ্বাজ বংশােদ্ভব ইহারা ভরদ্বাজ গােত্ৰজ ভরদ্বাজ, আঙ্গিরস, বাম্পত্য প্রবর বিশিষ্ট যজুর্বেদীয় কাধশাখাধ্যায়ী বৈদ। অনুন ৪০০ শত বৎসর পূর্বে দত্তকুলভূষণ নীলকান্ত রায় বাদশাহি আমলের কননগুই পদ (বর্তমান Settlement (Officer হইতে অধিক ক্ষমতাপম) প্রাপ্ত হইয়া ত্রিপুরা জিলার অন্তর্গত প্রসিদ্ধ কালীকছু গ্রামে আসিয়া বাস করেন। তাহার আদিস্থান দক্ষিণ রাহু দেশের আন্তর্গত বটগ্রাম। বিশেষ জ্ঞাতব্য। (১) যজুর্বেদের একশত শাখা। মহর্ষি কশ্ব যে শাখা প্রণয়ন করেন তাহাই কাৰ্থ। কথশাখধ্যায়ী অর্থাৎ যাঁহারা বেদের উক্ত শাখানুযায়ী ক্রিয়াকলাপ অনুষ্ঠান করেন। (২) বৈদ্যদিগের গােত্র বংশের মূলপুরুষ দ্বারা প্রবর্তিত বলিয়া প্রকৃত গােত্র। (৩) জমদগ্নির্ভরদ্বাজো বিশ্বামিত্রাত্রি গৌতমঃ । বশিষ্ঠঃ কাশ্যপাগস্ত্যা মুনয়ােগােত্ৰকারিণঃ । এতেষাং যাপত্যানি তানি গােত্ৰানি স্যতে ॥ ( অতি )
No text on this page.
১৩৩৩বং কালীকচ্ছের দাতাবংশ একথাও ভুলিবেন না, যে ঋগ্বেদীয় ঐতরেয় ব্রাহ্মণ পর্যন্ত সাক্ষ্য দিতেছে যে “বৈশ্বামিত্রা দশনাং ভূমিষ্ঠ।”— বা দাদিগের অধিকাংশই গায়ত্রী মন্ত্র-ষ্টা ঋগ্বেদীয় ঋষি বিশ্বামিত্রের সন্তান। ঋগ্বেদের সময় দেখা যায় সাদা আখ্য অথবা কাল দাস (কক্ষীবান, কবষ এবং নারী ঋষি ঘােমা প্রভৃতি) সকলেই ইচ্ছামত নিজ নিজ—শিক্ষা ও যােগ্যতা অনুসারে কেহ ব্রাহ্মণ বা স্তোতা হইতেন, আর কেহ বা কৃষক অথবা তন্তুবায় হইতেন”। ( দ্বিজদাস দত্ত প্রণীত বৈদিক জাতি বা বর্ণতত্ব)। (৫) “দ্বিজেযু বৈদ্যাঃ শ্রেয়াংশঃ” অর্থাৎ দ্বিজদিগের মধ্যে বৈদ্যেরাই শ্রেষ্ঠ। (মহাভারত, উদ্যোগপৰ্ব্ব, ৫ অঃ) অর্থাৎ জমদগ্নি, ভরদ্বাজ, বিশ্বামিত্র, অত্রি, গৌতম, বশিষ্ঠ, কাশ্যপ ও অগস্ত্য ইত্যাদি মুনিগণই গােত্রকারী। যাঁহারা ইহাদের অপত্য তাহারাই তয়ামক গােত্র ভাগী। বংশ পরম্পরা প্রসিদ্ধ আদিপুরুষই গােত্র, এবং প্রবর আর্থ বংশের গােত্র প্রবর্তক বিখ্যাত মুনিগণ। (১) কেহ কেহ অজ্ঞানতা বশতঃ বলিয়া থাকেন যে ব্রাহ্মণেতর জাতির গােত্র তাহাদের কাহারাে আদিপুরুষ নয়! এই উক্তি যে মূর্খতা-ব্যঞ্জক তাহা প্রমাণের জন্য এস্থলে কয়েকটা মাত্র শাস্ত্রীয় প্রমাণ উল্লেখ করা হইল। “গর্গাচ্ছিনিস্তােগার্গঃ ক্ষত্ৰাহ্মহবত” অর্থাৎ গর্গ হইতে যিনি উৎপন্ন হয়েন। তাহার পুত্র, গার্গ। ক্ষত্রিয় হইতে উৎপন্ন হইলেও ইনি ব্রাহ্মণ হইয়া- ছিলেন। (মদ্ভাগবৎ ৯ম-স্কন্ধ ২১ অঃ- ১৩)। দুরিতক্ষয়ে মহাবীৰ্য্যাত্তস্য-ত্রয্যারুণিঃ কবিঃ পুরারুণি রিত্যত্র যে ব্রাহ্মণ গতিংগতা। অর্থাৎ দুরতিক্ষয়ের তিন পুত্র য্যারুণি, কবি, পুরুণি। তাহারা তিনজন ক্ষত্রিয় বংশে জন্মিয়াও ব্রাহ্মণত্ব প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। (ঐ-১৪) অজমীরের বংশে প্রিয়মমদাদি কতিপয় ব্রাহ্মণ এবং বুহাদিযু প্রভৃতি ক্ষত্রিয় উৎপন্ন হইয়াছিল। মুদগলা হ্ম ণির ভং গোত্র’ মৌশল্যসংজ্ঞিতং”। (ঐ-২৩) অর্থাৎ ক্ষত্রিয় ভাশ্বের পুত্র মুদগল ব্রাহ্মণত্ব লাভ করিয়া মোগল্য গােত্ৰকারী হয়েন। এইরূপ এইরূপ শ্রীমদ্ভাগবতের ১১শ স্কন্ধে ২য় অধ্যায়ে---“ঋষভের পুত্র নয়জন, নয়নের রাজা হয়েন এবং ৮১ জন ব্রাহ্মণ হয়েন”। “এস্থলেও পাঠক লক্ষ্য করুন, দাস বা দস্যরা ও বিশ বা পরবর্তী কালের সুদ্রেরাও বৈশ্য, অতএব দ্বিজ । মহাভারতও তবে সত্য কথা বলিতেছে (পৃঃ ১১১) “তে দ্বিজাঃ সুতাং গতাঃ”। ব্রাহ্মণেতর জাতি সকল (৬) “অব্রাহ্মণাঃ সন্তি তু যে ন বৈদ্যাঃ” অর্থাৎ বৈদ্যগণই প্রকৃত ব্রাহ্মণ পদ বাচ্য। অপর ব্রাহ্মণেরা ব্রাহ্মণ নামের অধিকারী। ( মহাভারত, উদ্যোগপ, ২৭ অঃ) (৭) “বিপ্রান্তে বৈদ্যতাং যান্তি রােগ দুঃখপ্রণাশকা অর্থাৎ যে বিপ্র রােগজনিত দুঃখ নাশ করেন, তিনিই বৈদ্য নাম পাইয়া থাকেন। (উশনঃ সংহিতা)
No text on this page.
১৩৩৩ বাং কালীকচ্ছের দাতাবংশ ৬ ইতিবৃত্ত। দাতা রঘুনাথ (৬ষ্ঠ পুরুষ)। এই বংশে দুইজন দাতা জন্ম গ্রহণ করেন, তাহাদের নামে বংশের নাম দাতা বংশ হইয়াছে। জগৎ সুহৃদ রায়ের পুত্র দতা রঘুনাথ রায় এবং কেশবরাম রায়ের পুত্র দাতা গােপীনাথ রায়। দাতা রঘুনাথ রায়ের সম্বন্ধ তখনকার বিশেষ কোনও ঘটনা জানা যায় না কেবল মামীয় একটা দীঘিক তাহার যশঃ কীৰ্ত্তণ করিতেছে। তিনি দানবীর গােপীনাথ হইতে উৰ্দ্ধতন পঞ্চম পুরুষ। তিনি দাতানামেই প্রসিদ্ধ । দাতা গােপীনাথ (১০মপুরুষ) এ জগতে এমন অনেক লােক জন্মধারণ করেন যাহারা শৈশবে এক মুষ্টি অন্নের জন্য দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করিয়া অবশেষে শত শত লােকের আশ্রয় দাতা হইয়া উঠেন। আমাদের দাতা গােপীনাথ তাহাদের মধ্যে একজন । তিনি বাল্যকালে প্রাচীন পদ্ধতি অনুসারে লিখাপড়া শিক্ষা করেন। জনৈক কৃতবি প্রাচীন মুন্সীর নিকট আরব্য ও পারস্য ভ যা শিক্ষা লাভ করেন। কাল মধ্যে চরিত ও শিক্ষার গুণে তিনি সকলের প্রিয়পাত্র হইয়া উঠেন। তাহার মেধা ও প্রতিভার কথা সরাইলের দেওয়ান সাহেবের কর্ণগােচর হয়। জমিদার তাহাকে ডাকাইয়া আনেন এবং তাহার গাম্ভীৰ্য, প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব ও স্পষ্টবাদীতায় বিমােহিত হইয়া তাহাকে তাহার খাস মুৰ্গীপদে নিযুক্ত করিলেন। বর্তমানে প্রাইভেট সেক্রে- টারী বা প্রাচীন খাস মুন্সী একই কথা। গগাপীনাথ রায়ের কাৰ্যতৎপরতা, সততা ও কর্তব্যনিষ্ঠা জমিদার সাহেবের দৃষ্টি আকর্ষণ করিল। পূর্বতন নায়েবের মৃত্যুর পরই গােপীনাথ নায়েব হইলেন। কেবল ধন ও পদের সহিত আত্মা প্রশস্ত হয়, একথা সত্য নহে। নিঃস্ব ভিক্ষুক ও নিস্কাম কর্মদ্বারা মহাত্মা হইয়া থাকেন। উচ্চহৃদয়বান ব্যক্তি নীচ প্রকৃতির ধনবান অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। হৃদয় দো- ল্যই দরিদ্রের মূল। কপর্দক হীন ব্যক্তির যদি হৃদয় চরিত্র থাকে, আত্মমর্যাদা জ্ঞান থাকে তবে সে ও ধনী। যাহারা ত্যাগী তাহারা পার্থিব অভাবে অভিভূত হয় না বরং উন্নত মস্তকে অসঙ্কোচে সকলের সহিত ভদ্র ব্যবহার করে। আমাদের গােপীনাথ একজন সেই প্রকৃতির লােক ছিলেন। তিনি এক কথা বলিয়া অরূপ ব্যবহার করিতেন না। গােপীনাথ সর্বসাধারণ লােকের নিকট দাতা নামেই প্রসিদ্ধ। আজও যাহার বংশধরগণ কেবল ত্রিপুরা জিলাতে কেন, নিকটস্থ জিলা সমূহেও দাতা গোপীনাথের বংশধর বলিয়া বিখ্যাত তাহার দানের কথা কহিয়া অধিক কি, গৌরব বৃদ্ধি করিব। তাহার নামের পূতি দাতা শব্দই তাহার বংশধরগণের গৌরব স্থানীয় হইয়া উঠিয়াছে। তাহার দানশক্তির কয়েকটা মাত্র কথা বলিব। এই দাতা গােপীনাথ যে যখন যাহা চাহিত তখনই তাহাকে তাহা অকাতরে দান করিতেন। দানের কালাকাল পাত্ৰাপাত্র অথবা ফলাফল কিছুই বিচার করতেন না। মহাত্মা সক্রেটীস, তঁাহার শিষদিগকে বলিয়াছলেন “Prudence is the Arithmetic of fools ,,। এই কথার মর্যাদা গােপীনাথ প্রকৃতই রক্ষা করিয়া গিয়াছেন। স্নান করিয়া উঠিয়াছেন এমন সময় কেহ পরিধেয় বস্ত্র চাহিলে অমনি তাহা দান করিয়া গামছা পড়িয়া ঘরে আসিতেন। পায়খানা হইতে আসিয়াছেন, তখন কেহ
No text on this page.
১৩৩৩২ কালীকচ্ছের দাতাবংশ। ক্রয় করিয়া নবাবকে প্রত্যর্পণ করিলেন। তদ্দর্শনে নবাব অত্যন্ত প্রীত হইয়া গােপীনাথকে “দাতা” খেতাব প্রদান ঘটী চাহিলে, অমনি তাহা দান করিতেন। প্রার্থীগণ টাকা পয়সা, এমন কি গরু, ঘােড়া, শাল প্রভৃতি যাহা কিছু চাহিত, তৎক্ষণাৎ তাহা অকাতরে দান করিতেন। তিনি যখন বাড়ীর ভিতর প্রবেশ করিতেন, তখন তাহার জননী পাছে গােপীনাথ বাড়ীর সমস্ত বস্ত্রাদি দান করিয়া ফেলেন, এই ভয়ে বাহিরে রৌদ্রে কাপড় চোপড় ইত্যাদি যাহা থাকিত, তাহা সমস্ত তাড়াতাড়ি ঘরে নিয়া লুকাইয়া ফেলিতেন। তাহার সময় ঢাকা ই বাঙ্গালার রাজধানী ছিল (খৃষ্টাব্দ ১৬৬৪ হইতে ১৬৮৯)। তিনি জমিদারের খাজানা লইয়া একবার ঢাকায় নবাবের সাক্ষাতে গিয়া- ছিলেন। তখন ঢাকার দরিদ্র ভিক্ষুকের ভিক্ষার জন্য তাহাকে ঘেরিয়া দাড়াইলে পর, গােপীনাথ হরিলুটের বাতাসার মত রাজস্বের সমস্ত টাকা দান করিয়া রিক্ত হস্তে নবাব সরকারে উপস্থিত হইলেন। নবাব সায়েস্তা খাঁ খাজানা তব পরাধে তাহাকে কারাবাসের আদেশ করিলেন। গােপীনাথ কারারুদ্ধ হইলে পর, তাহার অলােকমান্য দানশীলতার কথা নবাবের কর্ণগােচর হইল । তাহাতে দাতার প্রতি নবাবের শ্রদ্ধার উদ্রেক হইল। তিনি কারামুক্ত হইলেন। নবাব গােপীনাথের দানশীলতার পরীক্ষা করিতে ইচ্ছা করিলেন। নানাদেশ হইতে সমাগত জমিদার কর্মচারীদিগকে নবাব এক এক জোড়া শাল বকশিশ প্রদান করিলেন । পরে নবাব তাহার একজন বিশ্বাসী ভৃত্যকে গােপীনাথের নিকট শালজোড়া চাহিবার জন্য বলিলেন। ভৃত্য চাহিবা মাত্র গােপীনাথ তাহার শালজোড় দান করিলেন। পরদিন দরবারের পর একজন লােক পাঠাইয়া নবাব গােপীনাথকে জানাইলেন, যে শাল বদল হইয়াছে। যে শাল গােপীনাথকে দেওয়ার কথা, তাহা না দিয়া অন্য শাল তাহাকে দেওয়া হইয়াছে। গােপীনাথ নিজ ব্যয়ে অবিকল এইরূপ একজোড়া শাল করেন।' দাতা গােপীনাথের একমাত্র পুত্র ছিল। কোন ব্রাহ্মণ সেই বালকের হস্তস্থিত স্বর্ণ-বলয়ের লােভে তাহাকে নিবিড় অরণ্য মধ্যে লইয়া যায় এবং তথায় শিশু টীকে বধ করিয়া সুবর্ণবলয় আত্মসাৎ করে। বহু অনু: সন্ধানের পর সেই শিশুর মৃতদেহ গহন কাননাভ্যন্তরে পাওয়া গেল,এবং সেই দ্বিজবন্ধুর কীর্তিও প্রকাশিত হইল। পাড়ার প্রতিবেশীরা আততায়ী বিপকে সুবর্ণ বলয় সহ দাতার নিকট উপস্থিত করিল, দাতা গােপীনাথ শােক সম্বরণ করিয়া এইমাত্র বলিলেন, “বৃথা আর ব্রাহ্মণকে যন্ত্রণা দিওনা। তাহাকে যন্ত্রণা দিলে, আমার পুত্র ফিরিয়া আসিবে না। তাহার বন্ধন খুলিয়া দাও।” তাঁহার আদেশে পাষণ্ডকে ছাড়িয়া দেওয়া হইল। স্বর্ণবলয় দাতার নিকট উপস্থিত করা হইলে পর, দাত বলিলেন “এই বলয়ও ইহাকে দাও, বলয়ের লােভে সে এই মহাপাপ করিয়াছে।” এইরূপে দাতা গােপীনাথ নিঃসন্তান হইলেন। আমরা দাতা মহাশয়ের ধর্মনিষ্ঠার একটি বিবরণ এস্থলে উল্লেখ করিলাম। দাতা গােপীনাথ কাশীধাম যাইবেন বলিয়া দিন স্থির করিলেন। তিনি সরাইলের পরম ক্ষমতাশালী জমিদার সাহেবের নায়েব। বহু নৌকা ও লােক সজ্জিত হইল। তিনি জ্ঞাতি অন্ন, মাতুলাম, ও অন্যান্য আত্মীয়গণের অল্প গ্রহণ করিয়া, কাশীধামে রওয়ানা হইলেন। কিন্তু প্রসিদ্ধ সুবর্ণ গ্রামে (সােণার গাঁ) স্বীয় গুরু ভবনে গিয়া বলিলেন “এই আমার কাশী”।। এখানেই কাশীর সমস্ত করণীয় কাৰ্য,-কুমারী পুজা, ব্রাহ্মণ ভােজন, অন্নপূর্ণা (গুরু পত্নী), বিশ্বেশ্বর (গুরু) দর্শন করিলেন। মাঝিমাল্লাগণও কাশী গেলে যেরূপ
No text on this page.
১৩৩৩বাই কালীকচ্ছের দাতাংশ। অর্থ পাইত তাহা পাইল। নৌকার সঙ্গীয় লােকগণ ও . অর্থলােভে বাঞ্চিত হইল না। এইরূপে তিনি কাশী দর্শন করিয়া মহাসমারােহে প্রত্যাবর্তন করিলেন। দাতা গােপীনাথ, যদিও দাতা ও গৰ্মিক বলিয়া প্রসিদ্ধ তাহার বিষয় বুদ্ধি ও সাহস অসাধারণ ছিল। ঢাকা যাইতে প্রায়ই পথে ডাকাতি হইত। এক সময় দাতা গােপীনাথ ও ডাকাতের হস্তে পতিত হইয়াছিলেন। ডাকাত আসিয়া যখন তাহার নৌকা আক্রমণ করিল তখন তিনি পরিচিত ভাবে টাকা দিয়া বিদায় দিতে যত্ন করিলেন। ডাকাতগণ ভবিষ্যতের আশঙ্কা করিয়া তাহাতে স্বীকৃত হইল না। তাহাদিগকে বধ করিতে উদ্যত হইল। দাতা গােপীনাথ বীরভাবে তরবারি হস্তে দাড়াইয়া গুলি চালাইতে আদেশ করিলেন, একটা ছােট খাট যুদ্ধ হইয়া গেল। দাতা জয়ী হইলেন। দাতা গােপীনাথ ক্ষত- বিক্ষত শরীরে খাজানার টাকা লইয়া ঢাকা উপস্থিত হইলেন। দাতার জীবে দয়ার একটা কথা বলিয়া আমরা উপ- সংহার করিব। একবার ঢাকা যাইয়া দেখিলেন পাখী ব্যবসায়ীগণ অনেকগুলি পাখী নিয়া বিক্রয় করিতেছে ও নিষ্ঠুরভাবে আবদ্ধ করিয়া রাখিয়াছে। দাতার প্রাণে আঘাত লাগিল, তিনি ঢাকার সমস্ত পাখী ব্যবসায়ীর পাখী খরিদ করিয়া ছাড়িয়া দিলেন। পক্ষিগণও স্বাধীনতা লাভ করিয়া কলরব ধ্বনিতে তাহাকে আশীর্বাদ করিতে করিতে বিমান পথে উড়িয়া গেল। দানবীর গােপীনাথ তদীয় একমাত্র পুত্রের মৃত্যুতে শােকাভিভূত না হইয়া আজীবন কর্তব্য পালন এবং স্বীয় সঙ্কল্পিত দানধর্ম ব্ৰতর উদ্যাপন করিয়া গিয়াছেন। তাঁহার দানে তাহার বংশ ও দেশ পবিত্র হইয়াছে। দাতা গােপীনাথ কোন বলে এই গৌরব লাভ করিলেন। তিনি বাহুবলে এ শক্তি লাভ করেন নাই। তীবুদ্ধি বা উচ্চ পদের দ্বারা এই সম্মান লাভ করিতে পারেন নাই। তিনি চরিত্র, কার্যক্ষমতা ও দান শক্তির প্রভাবে এত বড় হইয়াছিলেন। এই সংসারে প্রতিদিন জল-বুদবুদের স্থায় কত লােক জম্মিতেছে, কত লােক লয়প্রাপ্ত হইতেছে, কে তাহার সংবাদ রাখে। কিন্তু যাহারা নিষ্কাম কর্মদ্বারা অক্ষয়কীর্তি রাখিয়া যাইতে পারেন তাহারাই ধন্য। তাহারা নশ্বর শরীর ধারণ করিয়া এ জগতে অমর হইয়া থাকেন; সাধুগণ এই সকল পুণ্যশ্লোক লােকোত্তর চরিত মহাত্মাদের পবিত্র নাম স্মরণ ও গুণ কীৰ্ত্তন করিয়া পয়ম শান্তিলাভ করিয়া থাকেন। মানব কুলের দেবতা দাতা গােপীনাথ মলােক হইতে চলিয়া গিয়াছেন বটে কিন্তু তিনি তাঁহার নিঃস্বার্থ ও অলৌকিক বদান্যতার প্রভাবে অমর হইয়া রহিয়াছেন। এই বংশের অনেক মহাত্মা তাঁহার মহানু- প্রাণতায় অনুপ্রাণিত হইয়া পরসেবাদ্বারা যশম্বী হইয়া গিয়াছেন। নামরায়১০মপুরুষ)। নন্দরাম রায়-একজন সুশিক্ষিত লােক ছিলেন দাতা গােপীনাথের পর তিনি সরাইল জমীদারের নায়েব হন। তাঁহার স্বনাম প্রসিদ্ধ কীৰ্ত্তিসবােবর অদ্যাপি বিরাজমান। নন্দরাম রায়ের খুল্লতাত কালাচঁাদ রায়ের কোন সন্তান ছিল না। তাঁহার বিয়ােগান্তে তদীয় পত্নী নন্দরাম রায়ের সঙ্গে থাকিতেন। তিনি খুড়ীকে অত্যন্ত ভক্তি ও শ্ৰা করিতেন। কথিত আছে উহার খুড়ীর
No text on this page.
১৩৩৩ বাং কালীকচ্ছের দাতাবংশ। মৃত্যুর পর কোন আত্মীয় বলিয়াছিলেন “এই অপুত্ৰা হতভাগনীর আবার শ্রাদ্ধ। নন্দরাম রায়ের কাণে এই কথা লে, তিনি খুড়ীর শ্রদ্ধা দানদি কাৰ্য চুর অর্থ ব্যয় করিয়া প্রতিষ্ঠার ভাজন হন। স্বগ্রামে এই শ্রাদ্ধের সুখ্যাতি স্বরূপ নিম্নলিখিত প্রবাদ বাক্যটি পচলিত আছে। “দাতা গােপীনাথের দাতানাম, নন্দরামের খুড়ীর কাম। জয়চন্দ্র রায় (১১শ পুরুষ)। জয়চন্দ্র রায় পারস্য ভাষায় পণ্ডিত ছিলেন বলিয়া মুন্সী নামে পরচিত। কালীকচ্ছ গ্রামে “মুন্সী বাড়ী” বলিলে তাহারই বাড়ী বুঝায়। তিনি চুন্টার গুপ্তবংশজ বিদ্যাকুট নিবাসী দেওয়ান জগন্নাথ গুপ্তের কন্যা লক্ষ্মী- দেবীর পাণি গ্রহণ করেন। তিনি গ্রামের সমাজপতি ছিলেন। কথিত আছে কোন এক ব্রাহ্মণ পর এক ব্রাহ্মণের কন্যাকে চক্রান্ত করিয়া বিবাহার্থে নিজ বাড়ীতে নিয়া আসে। কেহই সাহস করিয়া বালিকাকে উদ্ধার করিতে পারিল না। সে খড়গ হস্তে করিয়া সকলকে ভয় দেখাইয়া তাড়াইয়া দিত। বালিকার পিতা তাহাকে উদ্ধার করিতে না পারিয়া অতি ক্ষুন্ন মনে মুন্সী মহাশয়ের সাহায্য প্রার্থনা করিল। তিনি তৎক্ষণাৎ বিবাহাঙ্গীর বাড়ীতে যাইয়া অতি সাহসে খড়গ সহ পাত্রকে ধরিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন “তুমি বিবাহ করিবে তােমার হাতে খড়গ কেন?” পাত্র ভয়ে বালিকাকে ছাড়িয়া দিল। বালিকার পিতা সহাস্যবদনে ঘরে ফিরিল । সরাইলের জমিদার দেওয়ান মনোহর আলী সাহেবের পিতা দেওয়ান মছলন্দ আলী কোনও কারণ বশতঃ নগদ টাকা মােহর প্রভৃতি মূল্যবান জিনিস পত্র লইয়া কুণ্ড গ্রামে তাহার অন্যতম পুত্র দেওয়ান ছমৃদু আলীর কাছে চলিয়া যান। তথায় হায় জীবন বীমা শেষ হয়। জয়মুন্সি এবং তঁাহার জ্ঞাতিভ্রাতা রামলােচন রায় এক দল লাঠিওল সহ কুণ্ডাগ্রামে যাইয়া ছােটখাট যুদ্ধ করিয়া উক্ত মােহর, টাকা প্রভৃতি মূল্যবান জিনিসপত্র উদ্ধার করিয়া আনিয়া দেন। এই ঘটনাতে তাহারা উভয় ভ্রাতা অতি সাহসের পরিচয় দিয়াছিলেন। দেওয়ান ছমৃদু আলী তাহাদের বিরুদ্ধে ডাকাতির মােকদ্দমা করেন এবং বিচারে জয়মুন্সি ও রামলােচন রায় দোষী প্রমাণিত হইয়া কারা- দণ্ডের আদেশ প্রাপ্ত হইবেন এমন সময় জয়মুন্সী বিচারককে বলিলেন “হুজুর পুত্র পিতার সম্পত্তি আনিলে, ডাকাতি হয়, ইহা কোন আইনে বলে”। বিচারক এইরূপ তেজস্বী ও যুক্তিযুক্ত ন্যায্য কথা শ্রবণ করিয়া তাহাদের মুক্তি প্রদান করেন। জয়মুন্সী ও তাহার সুযােগ্য ভ্রাতপুত্র হরি- নারায়ন মুন্সী নিজ বাড়ীতে স্তম্ভমালা পরিশােভিত একটা মনােহর দুর্গামন্দির প্রতিষ্ঠা করিয়া গিয়াছেন। এস্থলে একটী জনশ্রুতি উল্লেখ যােগ্য। তাহার পুত্রবধু অতিশয় কঠোর কলেরা রােগে আক্রান্ত হন। তাঁহার স্ত্রী লক্ষ্মী বলিলেন “মা কালী আমার বৌমার অসুখ আমাকে দিয়া বোমাকে সুস্থ কর” । সত্য সত্যই মা কালী তাঁহার অনুরােধ রক্ষা করিল। সেই দিন হইতে শাশুড়ী পীড়া- গ্রস্থ হইয়া কালগ্রাসে পতিত হন এবং পুত্রবধু ও আরােগ্য লাভ করেন। তিনি প্রতিভার সহিত সমাজের অনেক হিতকর কাৰ্য করিয়া প্রায় ৮০ বৎসর বয়সে পরলােক প্রাপ্ত হন।
No text on this page.
১৩৩৩বং কালীকচ্ছের দাতাবংশ। ১০' তার ধৰ্ম্মে এত নিষ্ঠা ছিল যে, শিবপূজা শেষ না করিয়া দৈনন্দিন কোন কার্যেই হস্তক্ষেপ করিতেন না। রাজকীয় কার্যে ভদন্ত করতে তাহার কিঞ্চিত বিলম্ব দেখিয়া উদ্ধতন কর্মচারী তঁাহার বিরুদ্ধে রিপাের্ট করেন। ইহার ফলে তিনি কর্মচ্যুত হইলেন। চাকুরী যাওয়াতে বিন্দুমাত্র বিচলিত না হইয়া ধর্মসাধনায় জীবন যাপন করিয়া চির- শান্তি লাভ করিলেন। রামসন্তোষ রায় (১১শ, পুরুষ) রামসন্তোষ রায় এই বংশের একজন প্রসিদ্ধ লােক ছিলেন। তাহার পিতা নন্দরাম রায়ের মৃত্যুর পর তিনি সরাইল ইস্টেটের নায়েবী পদ প্রাপ্ত হন । দেওয়ান মছলন্দ আলী তৎকালে জমিদার ছিলেন। এই প্রতিভা- শালী নায়েবের কাৰ্যতৎপরতায় তাহার জমিদারীর অত্যন্ত শ্রবৃদ্ধি হয়। তিনি পিতৃশ্রাদ্ধে ( দান সাগর) গাে, অশ্ব, হস্তী, ভূমি, দ্বিজদম্পতি প্রভৃতি দান করিয়া সুখ্যাতি লাভ করেন। প্রত্যহ দেবক্রিয়া, অতিথি সৎকার, তায়- দানাদিতে বহু অর্থব্যয় করিতেন। তিনি তুলাপুরুষ ( তৰ্থ ৎ ভুলদণ্ডের এক পাল্লাতে স্বামী স্ত্রী ও তাপর পাল্লায় সােণা রূপা প্রভৃতি ধাতু দিয়া ওজন করিয়া এই সকল দান করন )। মহাভারত পাঠ, বৃন্দাবনচন্দ্র বিগ্রহের উদ্বাহাদি শুভানুষ্ঠানদ্বারা শুভানুষ্ঠানদ্বারা আত্ম প্রসাদ লাভ করিয়া গিয়াছেন। পূজার জন্য একটি সুন্দর মন্দির নির্মান করেন; 'পরলােকগত উমেশচন্দ্র রায় ১৩১৫ বঙ্গাব্দে ইহার পুন সংস্কার করেন। রামলােচন রায় (১১শ পুরুষ) রামলােচন রায় নন্দরাম রায়ের কনিষ্ঠ পুত্র। তিনি মুকৈর প্রসিদ্ধ চৌধুরী বংশজ মহামায়া দেবীর পাণি গ্রহণ করেন। এই স্ত্রীর বিয়ােগান্ত কুণ্ডা নিবাসী শম্ভুনাথ দত্তের কন্যা হরসুন্দরী দেবীকে বিবাহ করেন। ইনি সরাইলের জমিদার মনােহর আলীর ইষ্টেটের নায়েবী করিতেন। তাহার কাৰ্য দক্ষতায় জমিদার অত্যন্ত সন্তুষ্ট ছিলেন। তিনি এবং জয়মুন্সী উক্ত জমিদারের বৈমাত্রেয় ভ্রাতা কুণ্ডা গ্রাম নিবাসী দেওয়ান ছৎ আলীর বাড়া হইতে তাহার পৈত্রিক ধন (নগদ টাকা, মােহর ও গহনা প্রভৃতি) অতি কষ্টে উদ্ধার করিয়া তানিয়া দেন। এক বিষয়ে জমিদারের সহিত তর্ক বিতর্ক হওয়ার পর তিনি জমিদারকে বিরক্ত হইয়া বলিলেন “এই জমিদারী তামাদের, তুমি খানে ওয়ালা মাত্র”। এই কঠোর উক্তির পর ইনি পর দিবস জমিদারের বৈঠকখানায় না যাওয়াতে, জমিদার পাল্কী অবােহন করিয়া তাহার বাড়ীতে উপস্থিত হন, এবং তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “রায়, আজ তােমার জমিদারীতে যাও নাই কেন ? আমি তােমাকে লইয়া যাইতে আসিয়াছি”। নিজে চরিত্রবান্ না হইলে এইরূপ প্রতি- পত্তির সহিত নায়েবী করা সম্ভব। অতিথি-সেবা গৌরচন্দ্র রায় (১১শ,পুরুষ) গৌরচন্দ্র রায় নন্দরাম রায়ের চতুর্থ পুত্র। তিনি চুন্টা নিবাসী হরিচরণ সেনের কন্য। তারা সুন্দরী দেবীকে বিবাহ করেন। তিনি পুলিসের দারােগা ছিলেন । অতিথি সেবা এবং দেব ক্রিয়াতে তাহার উপার্জনের অধিকাংশ অর্থব্যয় হইত। তিনি প্রাতে স্নান করিয়া শিব- পূজা না করিয়া কোন কাজ করিতেন না। একবার যখন শিবপূজায় ব্যাপৃত, তখন জনৈক উর্দ্ধতন কর্মচারী তার নিকট কোন সরকারী কাৰ্য্যোপলক্ষে উপস্থিত হইলেন । তিনি তঁাহাকে তাল্পক্ষণের জন্য অপেক্ষা করিতে বলিলেন। কোন
No text on this page.
১৩৩৩বাই কালীকচ্ছের দাতাবংশ। ইহার প্রধান ধর্ম ছিল। প্রত্যহ কোন একজন অতিথিকে খাওয়াইয়া নিজে খাইতেন না। বর্ষাকালে ইহার বাড়ীর ঘাটে বহু নৌকা থাকিত। নৌকার আরােহীরা এবং মাঝিরা অভুক্ত থাকিলে.তিনি তাহাদিগকে খাওয়াই তেন। সেই জন্যই “রামলােচন রায়ের ঘাট” প্রসিদ্ধ ছিল। শারদীয় পূজার সময় তাহার বাড়ীর প্রতিমা এত সুন্দর হইত যে, দর্শকরন্দ রামলােচন রায়ের বাড়ীর প্রতিমা না দেখিয়া স্বগৃহে প্রত্যাবর্তন করিতেন না। ইনি ১২৬০ বঙ্গাব্দের আশ্বিন মাসে দেহত্যাগ করেন। করেন। বৃন্দাবন রায় বৃন্দাবন রায় এই নূতন খরিদা জমিদারীর প্রথম নায়েব হন। জমিদারী দখলে আনিতে প্রথমে যথেষ্ট বেগ পাইতে হইয়াছিল বটে, কিন্তু তাহার প্রতিভাও কাৰ্যনৈপুণ্য বলে অল্পকাল মধ্যে দখলে আনিয়াছিলেন। তিনি একটা পুষ্করিণী খনন করাইয়া জলের কষ্ট নিবারণ করেন। দীননাথ রায় (১১শ,পুরুষ) দীননাথ রায় একজন তেজস্বী পুরুষ ছিলেন। তিনি অষ্টগ্রাম নিবাসী শাণ্ডিল্য গােত্ৰ উগ্ৰকণ্ঠ দত্তের কন্যা অভয়াসুন্দরী দেবীর পাণিগ্রহণ করেন। তিনি বাঙ্গালা ও পারস্য ভাষা শিক্ষা লাভ করিয়া ওকালতি সনদ প্রাপ্ত হন। তিনি নাছিরনগর মুন্সেফী আদালত থাকার সময় তথায় ওকালতি করিতেন। তিনি বহু অর্থোপার্জন করিয়াছেন এবং উৎসবাদিতে অকাতরে অর্থ ব্যয় করিয়া বংশের মর্যাদা রক্ষা করিয়া গিয়াছেন। বাঙ্গালা ১২৫৭ সনের পৌষ মাসে তিনি লােকান্তর প্রাপ্ত হন। সর্বক্ষা দেবী (১১শ পুরুষ) বৃন্দাবন রায়ের ভ্রাতা বিশ্বনাথ রায় তিনি বিবাহের অল্পকাল পরে কালগ্রাসে পতিত হন। সৰ্বরক্ষা দেবী তাহার সহধর্মিণী । তিনি সহমৃত হইয়াছিলেন। এইরূপ কথিত আছে যে সহমরণ কালে জ্ঞাতিবর্গ সৰ্বরক্ষা দেবীকে উক্ত কাজ করিতে নিষেধ দেওয়াতে তিনি স্বেচ্ছায় আগুণের উপর হাত ধরিয়া উলুধ্বনি করিয়া পরীক্ষা দেন। তাহারা তাহার এইরূপ অমানুষিক ধৈৰ্য দেখিয়া তাহার সহমরণ ব্রতের অনুমতি প্রদান করেন। তিনি হর্ষোৎফুল্ল হৃদয়ে চিতায় আরােহণ কয়িয়া উলুধ্বনি করিতে করিতে ভষ্মীভূতা হইলেন। পতির সহিত সহ- গমনকারিণীদের মধ্যে ইনিই এই বংশের শেষ সতী। গঙ্গাদাস রায় (১২শ পুরুষ) বৃন্দাবন রায় (১১শ পুরুষ) বৃন্দাবন রায় পারস্য ভাষায় পণ্ডিত ছিলেন। বাঙ্গালা ১২০৯ সনে সরাইলের জমিদার গােলাম হুসেন আলী ও নবাব আলীর হিস্যে ।/১২ গণ্ডার জমিদারী নীলাম হয়। কাশীম বাজারের জগদ্বন্ধু রায় এই জমিদারী খরিদ গঙ্গাদাস রায় গুরুমহাশয়ের পাঠশালায় বাঙ্গালা ভাষায় সাধারণ জ্ঞান লাভ করেন। তিনি মহেশ্বরদী পরগণার অন্তর্গত সাতগা নিবাসী উদয়চন্দ্র গুপ্ত মহাশয়ের কন্যা শিবসুন্দরী দেবীর পাণিগ্রহণ করেন। তিনি নিজ বুদ্ধি প্রভাবে পিতার ন্যায় কালীকচ্ছ গ্রামের সমাজপতি 2 1 ১৩৩৩বং কালীকচ্ছের দাতাবংশ। জগমােহন রায় (১২শ পুরুষ) । শত শত ছিলেন। তিনি সরাইল ইষ্টেটের ইজারাদারী করিয়া বহু অর্থ উপার্জন করেন ও অনেক লোেকহিতকর কাৰ্য্য করিয়। প্রশংসার ভাজন হইয়া গিয়াছেন। অসংখ্য লােক প্রত্যই তাহার বাড়ীতে আহার পাইত। তন্মধ্যে টোল ও স্কুলের ছাত্র অধিকাংশ ছিল। প্রতি মাসেই দেব-ক্রিয়া অতি সমারােহে সুসম্পন্ন হইত। লােক সুস্বাদু দ্রব্যে পরিতৃপ্ত হইত। তিনি মাতৃশ্রাদ্ধে বহু অর্থব্যয় করেন। ভিন্ন ভিন্ন করেন। ভিন্ন ভিন্ন দেশের নিমন্ত্রিত অধ্যাপকগণ ও কাঙ্গালদিগকে আহারান্তে প্রচুর অর্থ- দানে সন্তুষ্ট করেন। তাঁহার মৃত্যুর প্রাক্কালে জমিদার ইজারা-কর বাবৎ প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রাপ্য। দাবীতে মােকনা করেন। তিনি নিজ ভদ্রাসনবাড়ী ও অন্যান্য জমি জমিদারকে ছাড়িয়া দিয়া জমিদারকে সন্তুষ্ট করিয়া মুক্তি লাভ করেন। প্রকৃত পক্ষে জমিদার ও তাহার দ্বারা অনেক উপকৃত হইয়াছিলেন। তাঁহার সুযােগ্য পুত্র শ্ৰীযুত দ্বিজদাস দত্ত পুনরায় উক্ত বাড়ী ও জমি পুনরুদ্ধার করেন। তিনি এই ধনরাশির কোন অপব্যয় করেন নাই। নিজে সাধারণ লােকের ত্যায় বাস করিতেন, কোনও রূপ ভোগ বিলাসে তাহার মন আকৃষ্ট হয় নাই। তিনি এই ধন পরসেবায় ব্যয় করিয়া আত্মপ্রসাদ ভােগ করিয়া গিয়াছেন। তাঁহার একমাত্র পুত্র দ্বিজদাস দত্ত রায়কে এম, এ, পৰ্যন্ত পড়ান। সুবিজ্ঞ পুত্র তাঁহার পিতার অনিচ্ছাতে নিজ গ্রামে ব্রাহ্মধর্মাবলম্বী পরম সাধক আনন্দ স্বামীর কন্যার পাণি গ্রহণ করেন। সেকালের সমাজের কঠোর শাসন নিবন্ধন তিনি পুত্রকে পরিত্যাগ করিতে বাধ্য হন। এই বিচ্ছেদে তিনি অটল ছিলেন। তিনি পাণীয় জলের জন্য দুইটি পুষ্করিণীর পক্ষোদ্ধার করিয়া প্রতিবেসীদের জলের অভাব দূর করেন। জগমােহন রায় অতি হৃদয়বান ও সরল প্রকৃতির লােক ছিলেন । তিনি ঢাকা জিলাতে রায় ব্রজ সুন্দর মিত্র ডিপুটি কলেক্টার বাহাদুরের অধীনে থাকবার পেষ্কার পদে বহুদিন প্রতিষ্ঠার সহিত কাজ করিয়া উক্ত জিলার অন্তর্গত টুর পরগণার জমিদার লুৎফে আলীর ইষ্টেটের নায়েবী পদ গ্রহণ করেন। তিনি ঢাকাতে থাকিয়াই কাজ করিতেন; কখন কখন মফস্বল যাইতেন। অমায়িক চরিত্রগুণে ও ভদ্র ব্যবহারে তিনি ঢাকার অনেক সম্ভ্রান্ত লােকের প্রিয়পাত্র হইয়াছিলেন। তিনি ৪০ বৎসর পূর্বে আপন প্রতিভাবলে এবং কাৰ্য- দক্ষতা গুণে ঢাকার মত সহরে সেসনে জুরির আসনে উপবিষ্ট হইয়া, দীর্ঘকাল প্রশংসার সহিত জুরির কাৰ্য্য করিয়াছেন। তাহার ন্যায় পরােপকারী লােক সচরাচর দৃষ্টিগােচর হয় না। তিনি বহু অর্থোপার্জন করিয়াছেন বটে, কিন্তু কিছুই সঞ্চয় করিয়া রাখেন নাই। এমন কি তাহার মৃত্যুর পর তদীয় সহধর্মিণীর গ্রাসাচ্ছাদনের জন্য বিশেষ কিছু রাখিয়া যান নাই। তদুপালিত অধিকাংশ অর্থ পরার্থ-কারিতায় ব্যায়িত হইত। তিনি প্রতিবৎসর পিতৃপক্ষে প্রার্থীদিগকে প্রচুর অর্থদান তাহার মাতার অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়াতে ত্রিপুরা, ঢাকা ও শ্রীহট্ট জিলার টোলের অধ্যাপক মহােদয়- গণকে অভ্যর্থনা পূর্বক যথােচিত সম্মান সহকারে বিদায় করেন। প্রতি শারদীয় পূজার সময় বাড়ী আসিয়া অতি সমারােহে পূজার উৎসব সম্পাদন করিতেন। এমন কি আজ প্রায় ৪০ বৎসর পরও জগমােহন রায়ের বাড়ীর পাকা ফলার সমুহের কথা জন সাধারণের মুখে শুনিতে পাওয়া যায়।
No text on this page.
১৩৩৩ কালীকচ্ছে দাতাবংশ। বদনচন্দ্র রায় (১২শ পুরুষ) বদনচন্দ্র রায় ১২০৯ বঙ্গাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি অষ্টগ্রাম নিবাসী কাশীনাথ মজুমদারের কন্যা আনন্দময়ী দেবীকে বিবাহ করেন। তিনি সরাইল ইস্টেটের ইজারাদারী করিয়া জীবিকা নির্বাহ করিতেন তিনি বাঙ্গালা ১২৮২ সনে লােকান্তর প্রাপ্ত হন। তিনি ধর্মশিক্ষার্থে বিদেশ হইতে আনিত সুবিজ্ঞ অধ্যাপক দ্বারা সমস্ত মহাভারত, শ্রীমদ্ভাগবৎ ও রামায়ণ পাঠ করাইয়া প্রতিষ্ঠার ভাজন হইয়া গিয়াছেন। ফান্দাউক গ্রামের স্বনাম প্রসিদ্ধ ডিপুটী গিরীশচন্দ্র দত্ত চৌধুরী, চুন্টা গ্রামের হরিশচন্দ্র সেন সবডেপুটী, ঢাকা জজ- কোর্টের খ্যাতনামা উকীল শরৎচন্দ্র গুপ্ত, বড়িশালের বারিপাড়ার রামচন্দ্র আচাৰ্য ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট কালীকছু গ্রামের যুক্ত দ্বারকানাথ দত্ত এম, এ, বি, এল শ্ৰীযুক্ত দ্বিজদাস দত্ত এম, এ, হবিগঞ্জের সুপ্রসিদ্ধ উকীল উমেশচন্দ্র দত্ত প্রভৃতির ন্যায় অন্যূন ৫জন প্রার্থী মহােদয়গণ ঢাকার ন্যায় ব্যয়বাহুল্য নগরে হৎ অট্টালিকায় তৎপ্রদ অন্ন ও আশ্রয় পাইয়া তাহারই গৌরব বৃদ্ধি করিয়া গিয়াছেন। তিনি অকাতরে অন্নদান, অতিথিসৎকার উৎসবাদি ক্রিয়াতে ধনের স্বার্থকতা করিয়া কীৰ্ত্তি লাভ পূৰ্ব্বক সজীব হইয়া রহিয়াছেন। মহানুভব ব্যক্তি মহৎ উদ্দেশ্যে প্রণোদিত হইয়া কর্তব্য পালনার্থে স্বীয় সুখ ও স্বার্থ জলাঞ্জলি দিতে কুণ্ঠিত হন না। জগমােহন রায় এই শ্রেণীর লােক ছিলেন। তিনি নিঃসন্তান ছিলেন। তাঁহার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা রাধামােহন রায় অতিশাশু প্রকৃতির লােক ছিলেন। তিনি বাড়ীতে থাকিতেন, তাহার একমাত্র পুত্র হৃদয়চন্দ্র অল্প বয়সেই মৃত্যুগ্রাসে পতিত হয়। পতিত হয়। তাহার তিনটীকে জগমােহন রায় অতিস্নেহ করিতেন ও তাহাদের বিবাহে যথেষ্ট অর্থব্যয় করেন। ১২৯০ বাং সনের ৮ই জ্যৈষ্ঠ জগমােহন রায় এজগতের কর্তব্য সাধন করিয়া এবং হরিনারায়ণ রায় (১২শ পূরুষ) হরিনারায়ণ রায় পারস্য ভাষায় একজন সুপণ্ডিত ছিলেন। তিনি মুন্সী নামে পরিচিত। তিনি আমাদের গ্রামে সর্বপ্রথম ডেপুটি কলেক্টার পদ প্রাপ্ত হন। বাঙ্গালা ১২৬৬ সনে থাকের জরীপ হয়। তিনি অতি প্রশংসার সহিত উক্ত জরীপের কাজ পরিচালনা করেন। সেকালে গ্রামে গ্রামে উচ্চ বিদ্যালয় ছিল না। নগরে ও কোন ছাত্র নিবাসের বন্দোবস্ত ছিল না, কাজেই বিদ্যার্থীরা নগরস্থ কোন দানশীল মহাত্মার আশ্রয় গ্রহণ করিতেন। কুমিল্লা সহরে অনেক ছাত্র তাহার বাসায় আহার ও বাসস্থান পাইয়া জানােপান করিয়াছেন। তিনি বড় চাকুরী করিতেন বটে, কিন্তু উত্তর পুরুষের জন্য এক কপর্দক না রাখিয়া উৎসবাদিতে ও পরসেবায় তাহার তাহার স্বােপার্জিত ধনের স্বার্থকতা করিয়া অমরধামে চলিয়া গিয়াছেন। । দিগম্বর রায় (১২শ পু) দিগম্বর রায় ১২৩৪ বঙ্গাব্দে জন্ম গ্রহণ তিনি সুলতানপুর নিবাসী উমানথ দত্তের কন্যা কাসুন্দরী দেবীকে বিবাহ করেন। তিনি জমিদারের ইজারাদারী করিতেন কখন কখন চাকুরী করিতেন। জমিদার নশ্বর মানব দেহ ত্যাগ করেন।
No text on this page.
১৩৩৩ বাং কালীকচ্ছের দাতাবংশ। মিতব্যয়ী ও সদুপদেষ্টা ছিলেন। গ্রামবাসিদিগের গৃহ- বিবাদ বা তাহাদের মনােমালিন্য ভঞ্জন প্রভৃতি সালিসি বিচার করিয়া সর্বসাধারণের মঙ্গল সাধন করিয়া প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। তিনি বাঙ্গালা ১৯৯৪ সনের ২৪শে চৈত্র বারুণী স্নানের দিবস পরলোেক প্রাপ্ত হন। কালীকুমার রায় (১২শ পুরুষ)। মনােহর আলী তার কার্তিকপুরের বিবির কাবিন সংক্রান্ত মােকদ্দনায় তাহাকে সাক্ষ্য দিবার জন্য পীড়া- পীড়ি করেন। তিনি মিথ্যা সাক্ষ্য দিবার ভয়ে চাকুরী ছাড়ান দেন। তিনি যেরূপ সতাপরায়ণ ছিলেন সেইরূপ সাহসী ছিলেন। কোন এক কাৰ্য্য উপলক্ষ ময়মনসিংহ জিলার অন্তর্গত কাস্তৈল গ্রামে যাইতেছিলেন পথে বাঘীগ্রামের নিকট এক প্রকাণ্ড ব্যাঘ্ৰ শুইয়া রহিয়াছে দেখিতে পাইলেন। ইহাকে বধ করিবার জন্য অত্যন্ত সাহসের সহিত চেষ্টা করিলেন । লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়াতে বন্দুকের গুলি বাঘের গায় পড়িল না। শাল- প্রবর অমনি লক্ষ প্রদানপূর্বক তাহাকে আক্রমণ করিল। একটী পরিচিত নমশুদ্র তৎক্ষণাৎ একটী বল্লমদ্বারা ব্যাঘ্নকে আঘাত করে ব্যাঘ্র তাহাকে ছাড়িয়া উক্ত নমশুদ্রকে আক্রমণ করিয়া তৎক্ষণাৎ বধ করে। তিনি অব্যাহতি লাভ করিয়া ক্ষতবিক্ষত দেহে দৌডিয়া এক নিকটবর্তী বাড়ীতে আসিয়া অজ্ঞান হইয়া পড়িলেন। তৎপর নিজ বাড়ীতে আনীত হন এবং তিন দিবস জীবিত থাকিয়া বাঙ্গালা ১২৭৮ সনের পৌষ মাসে পরলােক চত হন। কালীকুমার রায় ১২৪৩ বাঙ্গালা সনে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি বাঙ্গালা ভাষায় অভিজ্ঞ ছিলেন। তিনি ভােলাচঙ্গ নিবাসী উমানাথ দেব চৌধুরীর কন্যা ইচ্ছাময়ী দবীকে বিবাহ করেন। তিনি লস্করপুর সেরেস্তাদারের কাজ কিছুকাল করিয়া মুক্তারী সনদ প্রাপ্ত হন এবং ব্রাহ্মণ- বাড়ীয়াতে মােক্তারী করিয়া প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন। তাহার ন্যায় উপস্থিত বক্তা সচরাচর দৃষ্টিগােচর হয় না। তিনি একঙন নিরলস কর্মবীর ছিলেন। তাহারই জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা আমােধানাথ রায়ের শ্রাদ্ধে বহু অর্থ ব্যয় করিয়া প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। তিনি উক্ত ভ্রাতার স্মশান-ক্ষেত্রে দাতা গােপীনাথ রায়ের প্রতিষ্ঠিত কালীর মন্দিরটা স্থায়ীভাবে ইষ্টক দ্বারা নির্মাণ করিয়া গিয়াছেন। তিনি ১৩২২ বাঙ্গালা ৩০শে চৈত্র জীবন লীলা সম্বরণ করেন। অযােধানাথ রায় ১২শ পুরুষ) রামকুমার রায় (১২শ পুরুষ)। অযােধ্যানাথ রায় বাঙ্গালা ১২৩৮ সানের আযাট মাসে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি খৈরিয়াল নিবাসী কাশীনাথ দাস মুন্সেফ মহাশয়ের কন্যাকে দারপরিগ্রহ করেন। তিনি বঙ্গভাষা শিক্ষালাভ করিয়া ইং ১৮৬২ খৃষ্টাব্দে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সবডিভিসনে নকলনভিস কাজ তৎপর চাদপুর, মুরাদনগর প্রভৃতি স্থানে চাকুরী করিয়া ১২৯০' বঙ্গাব্দে পেন্সন গ্রহণ করেন। তিনি পান। রামকুমার রায় বাঙ্গালা ১২৭৮ সনে (১৭৬৩ শক) ২২শে বৈশাখ মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পৈল নিবাসী হরকৃষ্ণ গুপ্ত দেওয়ানজী মহাশয়ের কন্যা
No text on this page.
১৩৩৩ বাং কালীকচ্ছের দাতাবংশ। ১৫ হরমােহিনী দেবীকে বিবাহ করেন। তিনি শিলচর তহশীল- দারী কার্য্য করিতেন এবং পেন্সন প্রাপ্ত হইয়া স্বগ্রাই শেষ জীবন যাপন করেন। তিনি বাল্যকাল হইতে নিরামিষ ভােজী ছিলেন। তিনি গ্রামে নিরপেক্ষ ভাবে থাকিতেন এবং গ্রাম্য দলাদলিতে যোগদান করিয়া বৃথা সময় নষ্ট করিতেন না। তাহার অধিকাংশ সময় মহাভারত গীতা ও শ্রীমদ্ভাগবৎপাঠ ও হরিনাম কীর্তনে ক্ষেপন হইত। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য তিনি একজন আদর্শ পুরুষ ছিলেন। সুদীর্ণ জীবন লাভ করিয়া হরি- নামের মালা বুকে ধারণ করিয়া সৎজ্ঞানে বাঙ্গালা ১৩২৯ সনের ১৭ই মান অমর ধামে চলিয়া গিয়াছেন। ১৮৮৪ খৃষ্টাব্দে তিনি চাকুরী পরিত্যাগ করেন। চাকুরী তাগ করিয়া কোনও প্রকার বিব্রত হন নাই। বার্ণারপুর চা বাগিচার সুপ্রসিদ্ধ সদাশয় ম্যানেজার দীননাথ দত্ত, স্বনাম প্রসিদ্ধ B, C, (tupta. পৈলগ্রাম নিবাসী শিলচরের সেরেস্তাদার হর কিশোের গুপ্ত, শ্রীহট্টের প্রসিদ্ধ স্কুল ডেপুটী-ইন্সপেক্টার নবকিশাের সেন ও পাইলগাঁও নিবাসী জমীদার রসময় চৌধুরী প্রভৃতি অন্তরঙ্গগণের অনুকম্পায় কলিকাতা যাইয়া এজেন্সী কাজ আরম্ভ করেন। চাকুরী ছাড়ান দিয়া মঙ্গলময় ভগবানের কৃপায় তাহার আর্থিক আয় চতুগুণ বৃদ্ধি হইল। তিনি একজন সদাশয় লােক ছিলেন। শিলচর থাকা কালে চাকরী প্রার্থী ও বিদ্যাশিক্ষার্থী অনেকেই তাহার অম্নে প্রতিপালিত হইয়াছেন। তিনি অন্ন ৪০ বৎসর কাল কলিকাতায় ছিলেন । ঢাকা, ময়মনসিংহ, শ্রীহট্ট ও ত্রিপুরা জিলার ছাত্রগণের যখন অর্থাভাব হইত তখনই “গগনবাবুর” নিকট হইতে হাওলাত গ্রহণ করিয়া শঙ্কটসময় অতিক্রম করিতে সক্ষম হইতে পারিত। এমন কি মৃত্যুর পরও অনেকের নিকট অনাদায়ী টাকা বর্তমান ছিল। কাহারাে ২ নিকট হইতে একেবারেই অদায় হওয়া সম্ভব নাই। তিনি নিরলস, সদুপদেষ্টা ও পরােপকারী ছিলেন। ইনি সুদীf (৮২ বৎসর কাল) জীবন লাভ পূর্বক আমৃত্যু কৰ্ম্ম করিয়া কৰ্ম্মময় জীবনের আদর্শস্থল লাভ করিয়া ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ৩০শে আশ্বিন নশ্বর দেহ ত্যাগ করেন। গগনচন্দ্র রায় (১২শ পুরুষ) গগনচন্দ্র রায় বাঙ্গালা ১২৫১ সনের ১২ই পৌষ জন্ম গ্রহণ করেন তিনি এন্টেন্স স্কুলের প্রথম শ্রেণীর পাঠ্য অধ্যয়ন করিয়াই দরিদ্রতা নিবারণে স্কুলের পড়া ক্ষান্ত দিতে বাধ্য হন। তিনি খৈরিয়াল নিবাসী রামজয় সেনের কন্যা রাজলক্ষীদেবীর পাণিগ্রহণ করেন। তিনি শিলচর শহরে একটি শিক্ষকতার কাজ গ্রহণ করেন। ইনি অধ্যবসায় ও পরিশ্রমগুণে অল্পসময়ের মধ্যেই ইংরেজী ভাষায় বুৎপত্তিলাভ করেন। আসামের স্কুলের ইনস্পেক্টার তার গুণের পরিচয় পাইয়া শিলচর জিলার অন্তর্গত হাইলাকান্দি সবডিভিসনের স্কুল-সবইন্সপেক্টর পদে নিযুক্ত করেন। অনতিবিলম্বে শিলচর স্কুলের ডিপুটীইনস্পেক্টর পদে উন্নীত হন। দশ বৎসর কাল উক্ত কাৰ্য্য দক্ষতার সহিত সুসম্পন্ন করার পর ইনস্পেকারের সহিত উহার মনােমালিন্য ঘটে এবং আনন্দমােহন রায় (১২শ পুরুষ) বাঙ্গালা ১২৪৭ সনে আনন্দমােহন রায়ের জন্ম হয়। অল্প বয়সেই তিনি পিতৃহীন হন। তিনি দারিদ্রের সহিত
No text on this page.
১৩৩৩ বাং কালীকচ্ছের দাতাবংশ। ঘাের সংগ্রাম করিয়া অষ্টাদশ বর্ষ বয়সে শ্রীহট্ট গবর্ণমেন্ট স্কুল হইতে প্রবেশিকা পরীক্ষা উত্তীর্ণ হইলেন। তৎকালে এন্টেন্স পাশ ছাত্রের পক্ষে সবডিপুটী হওয়া বিশেষ কষ্টকর ছিল না। তিনি কালীকচ্ছ নিবাসী ব্রজনাথ রায়ের কন্যা বসন্তকুমারী দেবীর পাণিগ্রহণ করেন। স্বাভাবিক অভিরূচি বশতঃ তিনি কুমিল্লা গবর্নমেন্ট স্কুলে একটী শিক্ষকের পদ গ্রহণ করেন। সেখানে কিছুকাল চাকুরী করিবার পর তিনি নােয়াখালী বদলি হন। বৎসরান্তে সেখান হইতে বরিশাল স্কুলে বদলি হন। এই বরিশালই তার প্রধান কার্যাস্থান। স্বগীয় বিজয়- কৃষ্ণ গোস্বামী মহাশয়ের প্রভাবে পূর্বেই কালীকচ্ছ গ্রামে একটী ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল। মহাত্মা আনন্দস্বামী তাহাকে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত করেন। তাঁহার জ্যেষ্ঠভ্রাতা হার মত পরিবর্তনে এরূপ বিরক্ত হইলেন যে, তাঁহাকে গৃহ হইতে বঞ্চিত করিয়া নানা প্রকার নির্যাতনে ফেলিলেন। উক্ত বরিশাল নগরে ত্রিশবৎসর শিক্ষকতা করেন এবং পেসন লইবার পর ৮ বৎসরকাল তথায় থাকেন। মৃত্যুর ৫ বৎসর পূর্বে কলিকাতা মহা- নগরীতে বাস করিয়াছিলেন। তাঁহার মত কৰ্মীপুরুষ কখন অলস ভাবে জীবন যাপন করেন নাই। প্ৰাতে ও মধ্যাহ্নে তিনি বহু দরিদ্র ছাত্রকে বিনা বেতনে শিক্ষা দান করিতেন এবং নানা প্রকার সৎকার্যে স্বীয় ক্ষুদ্রশক্তি নিয়ােগ করিতেন। তিনি কোন সাম্প্রদায়িক মতের বশীভূত ছিলেন না, স্বাধীন চিন্তা ও বিচার দ্বারা যে সত্যে উপনীত হইতেন তাহাই আজীবন দৃঢ়তার সহিত ধরিয়া রাখিয়াছিলেন। পরের দুঃখে সহানুভুতি করা মানবের স্বাভাবিক ধৰ্ম্ম ; কিন্তু পরের সুখে আনন্দিত হওয়া বহু সাধনা সাপেক্ষ। পরের উন্নতিতে তিনি যেরূপ আনন্দিত হইতেন সেরূপ সচরাচর দেখা যায় না। তাঁহার স্নেহ ও সহানুভুতি সুধু ভদ্ৰশ্রেণীর ভিতর আবদ্ধ ছিল না। তাহার বেশ লগ্নি কারবার ছিল কিন্তু উক্ত লগ্নি টাকা আদায় করার জন্য তাঁহাকে আদালতে আশ্রয় গ্রহণ করিতে হয় নাই। ৫০ বৎসর পূর্বে আজ কালের মত English to Bengali fpe Bengali to English Traislation পুস্তক ছিল না। তিনিই প্রথমে Boy's Book, Helps to Students og Students Guide নামক পুস্তকগুলি প্রণয়ণ করিয়া ছাত্রগণের বিশেষ উপকার সাধন করিয়া গিয়াছেন। এবং তদ্দারা বহু অর্থ উপার্জন করিয়া গিয়াছেন। তাঁহার পুস্তকগুলি কিরূপ নৈপুণ্যের সহিত সম্পাদিত হইয়াছিল উহার পরিচয় তাহার পুস্তকগুলির বহু সংস্করণেই দিতেছে। তিনি বহু ব্রাহ্মপরিবারে নানা প্রকার উপকার করিয়াছেন। তিনি নিরলস প্রকৃতির আদর্শ পুরুষ- ছিলেন। নিম্নে Amritalbagel Patrika হইতে তৎসম্বন্ধে যাহা লিখা হইয়াছিল তাহা উদ্ধৃত করিয়া দেওয়া হইল। He spent the major portion of his life is a teacher of Barisal Zillah School and endeared himself to one and all there. This was due to his taking paternal interest in his pupils whose welfare le sought primarily He never knew what was fatigue in teaching a boy and was the type of a teacher like Rajnarayan Bose or Ramtanu Lahiri who worked for love and not for pay. He continued to take interest in his pupils after their passing out of the school like Dr. Arnold of Rugby and spared no pains to Nee their sous even woll provided for. Even atter his retirement when he was enjoying Well-earned leisure, he received pupils whom he trught yratis with grent interost. ( 2nd June, 1919 a. p. ) ।
No text on this page.
১৩৩৩বং কালীকচ্ছের দাতাবংশ। ১৭। তিনি বাঙ্গালা ১৩২৬ সনের ১০ই জ্যৈষ্ঠ নিত্যধামে প্রস্থান করিয়াছেন। নিবাসী নবীনচন্দ্র দত্তের কন্যা তীর্থবাসী দেবীর পাণি- গ্রহণ করেন। তিনি ১৩১৬ বা সনের ভাদ্রমাসে দেহ ত্যাগ করেন। পূর্ণচন্দ্র রায়(১৩শ, পুরুষ)। চন্দ্রকুমার রায় (১৩শ,পুরুষ)। পূর্ণচন্দ্র রায় ১২৪৯ বঙ্গাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি গুরুমহাশয়ের পাঠশালায় বাঙ্গালা ভাষায় শিক্ষা লাভ করেন। তিনি শ্রীরামপুর নিবাসী জগন্নাথ দত্তের কন্যাকে বিবাহ করেন। তিনি লস্করপুর কিছুকাল চাকুরী করেন। তৎপর বাড়ীতে থাকিয়া জীবন যাপন করেন। তিনি ১৩০২ বঙ্গাব্দের ২৯শে বৈশাখ দেহত্যাগ করেন। গিরীশচন্দ্র রায় (১৩শ, পুরুষ)। চন্দ্রকুমার রায় ইংরেজী ভাষায় সাধারণ জ্ঞান লাভ করেন। তিনি মেড্ডা নিবাসী ঈশানচন্দ্র দত্তের কন্যা চন্দ্রকুমারী দেবীর পাণিগ্রহণ করেন। তিনি সরাইল মধ্য ইংরেজী স্কুলে কয়েক বৎসর শিক্ষকতা করেন। এই অল্পআয়ে তাহার সংসার যাত্রা নির্বাহ হইত না। তিনি হটু, শিলচর প্রভৃতি স্থানে চাকুরির চেষ্টায় কিছুকাল ক্ষেপণ করেন, তৎপর একটী তাল্লুক বিক্রয় করিয়া প্রায় এক হাজার টাকা প্রাপ্ত হন। তিনি অতি মিতব্যয়ী ছিলেন। তাহার তীক্ষ্ণবুদ্ধি প্রভাবে উক্ত টাকা দ্বারা কুসীদব্যবসায় হইতে বিশেষ লাভবান হন। অল্পকাল মধ্যেই গ্রামের ধনীদের মধ্যে একজন মান্য ব্যক্তি বলিয়া সম্মান পাইতে লাগিলেন। গ্রামের উন্নতি কল্পে প্রায় বৎসর ক্রমান্বয়ে গ্রাম্য ইউনিয়নের প্রেসিডেন্টের কাৰ্য করেন। তিনি গবর্নমেন্ট প্রদত্ত অনারেরী ম্যাজি- ষ্টেটের কাৰ্য প্রায় সাতবৎসর কাল করেন। তিনি বঙ্গভাষায় অতিসুন্দর গান রচনা করিতে পারিতেন। তিনি পানীয় জলের জন্য ডিষ্ট্ৰীক্ট বাের্ডে এক হাজার টাকা দিতে প্রতিশ্রুত হন, কিন্তু হঠাৎ তাহার বহুমুত্র রােগের আক্রমন বৃদ্ধি পাওয়াতে জীবনের শেষ ভাগে অজ্ঞান অব- স্থায় ছিলেন। কাজেই এই শুভকাজ সম্পন্ন হইল না। তিনি ১৩১৭ বঙ্গাব্দের ২৮শে অগ্রহায়ণ পরলােক গমন দাতা গােপীনাথের ভ্রাতা শিবনারায়ণ রায়ের বৃদ্ধ প্রপৌত্র গিরীশচন্দ্র রায়। তিনি ১২৫২ বাং সনের ১৮ই আষাঢ় জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি জীবনের প্রথম ভাগে পূর্ব গৌরব রক্ষা করিতে সচেষ্ট ছিলেন। তাহার আত্মা সবাদী সম্মত অতি প্রশস্ত ছিল। কথায় বলে যে “যাহার ধন আছে তাহার মন নাই এবং যাহার মন আছে তাহার ধন নাই”। গিরীশ রায়ের আয় অপেক্ষা খরচ বেশী ছিল কাজেই জীবনের শেষ ভাগে অর্থাভাবে মনের সাধ পূর্ণ করিতে পারেন নাই। যাহা হউক পরহিতকর কাৰ্য্যে উৎসাহী বলিয়া জন সাধারণের প্রিয়ভাজন ছিলেন। তিনি দাউদপুর নিবাসী লক্ষ্মীকান্ত চৌধুরীর কন্যা জয়কুমারী দেবীর পাণিগ্রহণ করেন। এই স্ত্রীর গর্ভে কোন সন্তান না হওয়াতে উহারই প্রবােচনায় মূলগ্রাম নয় করেন।
No text on this page.
১৩৩৩ বাং কালীকচ্ছের দাতাবংশ। ১৮ হরচঁন্দ্ররায় ১২শ পুরুষ) ( কুলৰ ১৬পৃষ্ঠার জীবনী এপানে ছাপা হইল) হরচন্দ্ররায় পরম শিবভক্ত গৌরচন্দ্র রায়ের জ্যেষ্ঠ পুত্র। তিনি অত্যন্ত সরল ও স্পষ্টবাদী ছিলেন। তিনি স্থানীয় মীদার মমােহর আলীর অধীনে বহুকাল চাকুরী করেন । উক্ত জমীদারের মৃত্যুর পর জমীদারী নিলাম হইয়া যাওয়াতে তিনি তাহার ভাগিনেয় পাইলগাঁও নিবাসী রসময় চৌধুরীর জমীদারীর অন্তর্গত বাঙ্গাল পাড়ার তহশীলদারের কাজ করিতেন। তাহার ন্যায় স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন লােক সচরাচর দৃষ্টিগােচর হয় না । পাড়ার লােকের কে কোন সনের কোন মাসে জন্ম গ্রহণ করিয়াছেন তাহা প্রকৃতরূপে অনতিবিলম্বে বলিয়া দিতেন। তিমি ৭২ বৎসরের সুদীর্ঘ জীবন লাভ করিয়াছিলেন এবং আজীবন বিরাজ কিম্বা ডাক্তারের কোন ঔষধ ব্যবহার করেন নাই বলিয়া অহঙ্কার করিতেন। যদিও তিনি অতিকষ্টে জীবনযাত্রা নির্বাহ করিতেন, তথাপি লৌকিকতা ও ভদ্ৰব্যবহারের জন্য প্রশংসনীয় ছিলেন। বাঙ্গালা ১৩১২ সনের ৯ই ভাঙ্গ মানবলীলা সংবরণ করেন। এমন কি তারাসুন্দরী দেবীকে বিবাহ করেন। প্রথমে শ্রীহট্টজিলার আন্তর্গত লস্করপুর মুন্সেফী আদালতে ওকালতি আরম্ভ করেন। ১৮৭৯ খৃষ্টাব্দে হবিগঞ্জে নুতন সবডিভিসন্ হয় এবং লস্করপুর হইতে মুন্সেফী আদালত উঠিয়া যায়। ইনি সেইসঙ্গে হবিগঞ্জে ওকালতি আরম্ভ করেন এবং ১৯৩৭ খৃষ্টাফে অবসর গ্রহণ করেন। তঁাহার সময়ে তিনিই হবিগঞ্জের প্রধান উকীল ছিলেন। তৎকালে তাহার মাসিক আয় প্রায় ৬০০ ছয়শত টাকা ছিল। ওকালী ব্যবসায়ে তাহার মুসাবিদা ও জেরা-শক্তির অতিশয় প্রশংসা ছিল। তিনি শ্রীহট্ট জিলার জমীদারবর্গের ইষ্টেটের পুঙ্খানুপুঙ্খ ইতিবৃত জানিতেন বলিয়া জমীদারগণ তাহাকে আদর করতেন। তাহাদের পরস্পরের মধ্যে বিরােধ ও মনােমালিন্য তিনি অতি সহজে আপােষ মিমাংসা করাইয়া দিতেন। তিনি কখনাে কলেরা প্রভৃতি বিপদ- সঙ্কুল ব্যাধি আক্রান্ত রােগীর সংবাদ পাইলে নির্ভয়ে উক্ত রােগীর সেবা শুশ্রুষা করিতেন। বাড়ীতে পূজা, বিবাহ, শ্রাদ্ধাদি উৎসবে প্রচুর অর্থব্যয় করিয়া যশস্বী হইয়া গিয়াছেন। হবিগঞ্জে তাহার নিজ বাসায় বহু বিদ্যার্থী ও উমেদার জাকাতর অন্ন ও বাসস্থান পাইত। খ্রীস্তুত রায় রমেশচন্দ্র ম্যাজিষ্ট্রেট বাহাদুর তাঁহার জ্যেষ্ঠপুত্র । তৃতীয় পুত্র সুরেশচন্দ্র অকালে কালগ্রাসে পতিত হন। জীবনের শেষভাগে বহুমুত্র রােগে আক্রান্ত হন এবং পৃষ্ঠাঘাত রােগে ১৩১৮ বঙ্গাব্দের ভাদ্রমাসে পরলােক প্রাপ্ত হন। উমেশচন্দ্র রায় (১তুশ পুরুষ)। উমেশচন্দ্র রায় ১২৫৫ বঙ্গাব্দের ১৭ই আশ্বিন জন্ম গ্রহণ করেন। বাল্যকালে আর্থিক অবস্থা ভাল ছিলনা। কাজেই অন্যের সাহায্য গ্রহণ করিয়া বিদ্যাশিক্ষা লাভ করেন। তিনি অত্যন্ত প্রতিভাশালী মেধাবী ও অধ্যা- বুসায়শীল ছিলেন। ইনি মধ্য ইংরেজী পরীক্ষায় বৃত্বিলা ; করেন এবং ঢাকা ইহার ত্ িজগমােহন রায়ের বাসায় থাকিয়া ১৮৬৮ খৃষ্টাব্দে পগােজ স্কুল হইতে এণ্টন্স পর্কীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৮৭০ খৃষ্টাব্দে ওকালতী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি চুন্টা নিবার্সী শরচ্চন্দ্রসেনের কন্যা শ্ৰীযুত জিদাসরায় (১৩শ পুরুষ) বেদজ্ঞ পণ্ডিত যুত দ্বিজদাস রায় ত্রিপুরা জিলার একটী উজ্জ্বল রত্ন। তিনি ১২৬১ সনের ৭ই বৈশাখ
No text on this page.
১৩৩৩বাং কালীকচ্ছের দাতাবংশ। শ্ৰীযুত মহিমচন্দ্র রায় (১৩শ পুরুষ) শ্ৰীযুত মহিমচন্দ্র রায় বাঙ্গালা ১১৫৭ সনে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি জগদীশপুর নিবাসী জয়নাথ দত্ত চৌধুরীর কন্যা বিধুমুখী দেবীর পাণি গ্রহণ করেন। তিনি মােক্তারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইয়া ১২৮৫ সনে হবিগঞ্জে মােক্তারী আরম্ভ করেন, তথায় তিনি ত্রিপুরা মহারাজের সরকারের মােক্তার ছিলেন। আজ ৫ বৎসর হইল অবসর গ্রহণ করিয়া নিজ বাড়ীতেই বাস করিতেছেন। শ্ৰীযুত ক্ষেত্ৰনাথ রায় (১৩শ পুরুষ) জন্মগ্রহণ করেন। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি পরীক্ষায় উচ্চস্থান অধিকার করিয়া ১৮৭৭ খৃষ্টাব্দে ইংরেজী সাহিত্যে সম্মানের সহিত প্রেসিডেন্সী কলেজ হইতে এম, এ, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি গ্রাম নিবাসী শ্রীমৎ আনন্দস্বামীর কন্যা শ্ৰীমতী মুক্তকেশী দেবীর পাণিগ্রহণ করেন। ক্রমান্বয়ে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের দ্বিতীয় শিক্ষক প্রথম শ্রেণীর সবডেপুটী, বানেশ্বর ইংরেজী হাই স্কুলের হেডমাষ্টার, কুমিল্লা জিলাস্কুলের হেডমাষ্টার, কলিকাতা বেথুন কলেজের প্রফেসার পদের করেন। তৎপর স্টেটস্কলারসিপ প্রাপ্ত হইয়া আড়াই বৎসর কাল ইংলণ্ডে কৃষিতত্ব অনুশীলন করিয়া তথা হইতে M. R. A. S. (ciencester) উপাধি পান। স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করিয়া ডেপুটী ম্যাজিষ্ট্রেটের পদে কয়েক বৎসর কাজ করেন। তিনি আশৈশব সত্যপ্রিয় ও ধর্মানুরাগী এইরূপ তেজস্বী মহাত্মার কাছে ডেপুটীগিরী ভাল লাগিবে কেন ? কাজেই এই পদ ত্যাগ করিয়া চট্টগ্রাম কলেজের প্রধান অধ্যাপকের পদে নিযুক্ত হন ও তৎপর শিবপুর ইঞ্জিনীয়ারিং কলেজের অধ্যাপকের কাজ সুসম্পন্ন করিয়া অবসর গ্রহণ করেন। তাঁহার, জ্ঞানপিপাসা এত প্রবল যে এই ৭৩ বৎসরের বৃদ্ধ আরব্য ভাষা শিক্ষা করিয়া কোরাণ আয়ত্ত করেন। তিনি বেদান্ত দর্শনে পারদর্শী তৎপ্রণিত মৎশঙ্করাচাৰ্য্য ও শারদর্শন এবং Bedanta and Sankaracharya তাহার গভীর গবেষণার সাক্ষ্য প্রদান করিতেছে। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তৎপ্রদত্ত সংবাদ পত্রের প্রবন্ধগুলি সাহিত্য জগতে বৃদ্ধি করিতেছে। বর্তমান সময়ে “বেদমাতা গ্রন্থাবলী” সঙ্কলনে প্রবৃত্ত হই- য়াছেন। তিনি স্বাধ্যায় নিরত অতি নিষ্ঠাবান ব্রাহ্ম । তাহার গুণে তদ্দেশবাসী সকলেই গৌরবান্বিত। শ্ৰীযুত ক্ষেত্ৰনাথ রায় বাঙ্গালা ১২৬৭ সনের ১৭ই পৌষ জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ইংরেজী স্কুলের এন্টেন্স ক্লাস পৰ্যন্ত অধ্যয়ন করিয়া হবিগঞ্জের হাইস্কুলে ও সরাইল অন্নদাহাই স্কুলে ১০ বৎসর কাল অধ্যপনার পর অবসর গ্রহণ করেন। তিনি চুন্টা নিবাসী বিশ্বেশ্বর গুপ্তের কন্যা শ্ৰীমতী মুক্তকেশী দেবীর পাণিগ্রহণ করেন। তিনি ১৯০৪ খ্রীষ্টাব্দ হইতে ১৯২৬ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত ইউনিয়ন বাের্ডের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের কাজ সুখ্যাতির সহিত করিয়া আসিতেছেন। গ্রামের রাস্তাঘাটের উন্নতিসাধন, গ্রামবাসীদের গৃহবিবাদ মিমাংসা, উৎসবে যােগদান, বিপদে পরােপকার ইত্যাদি সদনুষ্ঠানে তিনি গ্রামবাসী- দিগের হৃদয় অধিকার করিয়াছেন।
No text on this page.
২০ কালীকচ্ছের দাতাবংশ। শ্ৰীযুত কুঞ্জবিহারী রায়। শ্ৰীযুত নিকুঞ্জবিহারী রায়(১৩শপু) শ্ৰীযুত কুঞ্জবিহারী রায় বাঙ্গলা ১২৭৩ সনের ২২শে যুত নিকুঞ্জবিহারী রায় বাঙ্গালা ১২৭৭ সনের ১২ই কার্তিক জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শিলচর হাইস্কুলের পৌষ জন্মগ্রহণ করেন। তাহার এক বৎসর বয়সে পিতৃ- প্রথমশ্রেণীর পাঠ্য অধ্যয়ণ করিয়া ১৮৮৪ খৃষ্টাব্দে শ্রীহট্ট বিয়ােগ হয়। তিনি কলিকাতা সেন্ট জেভিয়র কলেজ হইতে টেলিগ্রাফ ট্রেনিং স্কুলে পড়িতে যান, তথায় কৃতিত্বের এফ, এ পরীক্ষা উত্তীর্ণ হইয়া ১৮৯৩ খ্রীষ্টাব্দে শিবপুর সহিত উত্তীর্ণ হইয়া ১৮৮৫ খ্রীষ্টাব্দে কাজলধরা পােষ্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ১ বৎসর কাল পড়িয়া পুনরায় সেন্ট মাষ্টারের পদে নিযুক্ত হন। অল্প বয়সেই পােষ্ট অফিসের জেভিয়র কলেজে অঙ্ক ও বিজ্ঞান শাস্ত্র বি, এ পর্যন্ত কাজে সুখ্যাতিলাভ করেন এবং ১৮৮৬ খ্রীষ্টাব্দে অতি দুর্গম অধ্যয়ণ করেন। তিনি ১৩০০ বাং সনে তুঙ্গেশ্বর নিবাসী পথ দিয়া মণিপুর যান । তথায় আড়াই বৎসর পােষ্ট গিরীশ চন্দ্র সেন মজুমদার মহাশয়ের তৃতীয় কন্যা বিনাে- মাষ্টারের কাজ করেন। মনিপুর হইতে আসিয়া চুন্টা দিনী দেবীর পাণিগ্রহণ করেন, ১৩০৩ সনে এই স্ত্রীর নিবাসী কৃষ্ণমােহন সেনের কন্যা সৌদামিনী দেবীকে মৃত্যু হয় তৎপর ১৩০৬ বাং সনে কর্ণপােপ নিবাসী চন্দ্রনাথ বিবাহ করেন তৎপর পাচদুনা হইতে আগত আজাদী দাস মহাশয়ের কন্যা শ্ৰীমতী প্রাণকুমারী দেবীকে বিবাহ নিবাসী গঙ্গানারায়ণ সেনের কন্যা শ্রীমতী নির্মলা সুন্দরী করেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া অন্নদা হাইস্কুলে দুইবৎসর দেবীর পাণিগ্রহণ করেন। তিনি প্রায় ১১ বৎসর কাল এবং এডওয়ার্ড হাইস্কুলে ১বৎসর অধ্যপনার কাজ করিয়া পােষ্টাফিসের ইনিস্পেক্টারী করেন প্রায় ১১বৎসর কাল যাবৎ সরাইল অন্নদা হাইস্কুলের ক্রমান্বয় শিবসাগর, তেজপুর, গৌহাটী, মাদারীপুর, ঢাকা, অধ্যাপনার কাজ করিয়া আসিতেছেন। রঙ্গপুর পাবনা, শিলচর ও শ্রীহট্ট জিলার পােষ্টমাষ্টারী কাৰ্য্য করিয়া ১৯২• খ্রীষ্টাব্দে পেন্সন গ্রহণ করেন। তিনি ১৮৮৬ ও ১৮৮৭ খৃষ্টাব্দে মণিপুরের সন্নিহিত ব্ৰহ্মার চিনউইল উপত্যকার যুদ্ধের সময় ডাকের সুবন্দোবস্ত করেন শ্ৰীযুত অক্ষয়কুমার রায় (১৩শ,পুরুষ)। এবং লুসাই সর্ব প্রথমে পাহাড়ের উপর দিয়া ডাকের শ্ৰীযুত অক্ষয়কুমার রায় ১৩৭৯ বাঙ্গালা ৪ঠা ফান বন্দোবস্ত করিয়া প্রশংসা প্রাপ্ত হন। ১৯০৫ খৃষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এণ্টেন্স ক্লাস পর্যন্ত অধ্যয়ণ লর্ড কার্জন ভূটানের পাহাড়ের নিয়ে আসাম উপত্যকায় করিয়া ভিন্ন ভিন্ন স্থানে কিছুকাল চাকুরী করেন। তঁাহার শিকার করিতে যান তথায় ডাকবিভাগের কাজ করিয়া প্রশংসাপত্র লাভ করেন। ১৮৮৬ খৃষ্টাব্দে ইহার বাল্যবন্ধু পিতৃবিয়ােগের পূর্ব হইতেই তিনি নিজ সংসারের কাজে শ্ৰীযুত যােগেশচন্দ্র সিংহ একমাত্র ইহার আর্থিক সাহায্যে ব্যাপৃত আছেন। তাহার জ্যেষ্ঠপুত্র শ্ৰীযুত শিশিরকুমার ইহার নিজ আটচালা গৃহে কালীকচ্ছ গ্রামের প্রথম রায় এইবৎসর এম, এস, সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইলেন। মাইনর স্কুল সংস্থাপন করেন। ৫ বৎসর কাল তথায় তিনি দারারা নিবাসী মহেশচন্দ্র দাস নীয়ােগ মহাশয়ের এই স্কুলটী থাকে তৎপর স্থানান্তরিত হয়। কন্যা শ্রীমতী তরঙ্গময়ীর পাণিগ্রহণ করিয়াছেন। গােপীনাথ রায় নামীয় পুকুরের পঙ্কোদ্ধার করিয়া পানীয় জলের অভাব দূর করিয়াছেন। এবং তিনি দাতা - ১৩৩৩২ কালীকচ্ছের দাতাবশ। জেরিয়নেট, বাজানায় একজন ওস্তাদ ছিলেন। তাহার ভবিষ্যৎ উন্নতির পথ প্রশস্ত ছিল কিন্তু অকালে ১৩২৪ বঙ্গাব্দের ১৪ই ভাদ্র কালগ্রাসে পতিত হন। শ্ৰীযুত মনােমােহন রায় (১৩শ পুরুষ)। মনােমমাহন রায় বাঙ্গালা ১২৮২ সনের ১৭ই অগ্রহায়ণ জন্মগ্রহণ করেন। ইনি বরিশাল হাইস্কুলে এন্টেন্স অধ্যয়ন করেন। ১৮৯৭ খ্রীষ্টাব্দে বহরম কলেজ হইতে ইংরেজী সাহিত্য অনার সহ বি, এ এবং ১৯০২ খ্রীষ্টাব্দে বি, এল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি মধ্যপাড়া নিবাসী জগচ্চন্দ্র দাস একা এক্ট কমিশনাত মহাশয়ের কন্যা মর্তী প্রতিভা দেবীর পাণিগ্রহণ করেন। কুমিল্লা দুই বৎসর ইয়ুসফ স্কুলে হেড মাষ্টারের কাজ করিয়া বরিশাল ৪ বৎসর ওকালতী করেন, তৎপর ক্রমায় বগরিবাড়ী ইষ্টেটে ৮ বৎসর, রাণী রাসমণীর ইষ্টেটে ২ বৎসর, ঢাকা ৭ বৎসর নবাব ইষ্টেটে প্রশংসার সহিত ম্যানেজারী করিয়া বর্তমানে কাকিনা ইষ্টেটে ম্যানেজারী করিতেছেন। তিনি সর্বত্র স্বাধীনভাবে তেজস্বীকার সহিত কাজ করিয়া আসিতেছেন। শ্ৰীযুতরজমীনাথ রায়(১৩শপুরুষ) শ্ৰীযুত রজনীনাথ রায় বাঙ্গালা ১২৮৪ সনের ৭ই কার্তিক জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এল, এ পর্যন্ত অধ্যয়ন করিয়া ব্রাহ্মণবাড়ীয়া এড়ােয়ার্ড হাইস্কুলে ও সরাইল অন্নদা হাইস্কুলে অধ্যপণার কাজ করেন এবং উক্ত কাজে থাকিয়া মােক্তারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। মােক্তারীতে তাহার গায় শান্ত ব্যক্তির ভাগ্যলক্ষ্মী সুপ্রসন্ন হইল না। কাজেই পুনরায় অধ্যপণার কাজ করিতে বাধ্য হইয়াছেন। তিনি দুপতারা নিবাসী জগদ্বন্ধুসেনের কন্যা শ্ৰীমতী নির্মলাসুন্দরী দেবীর পাণিগ্রহণ করেন। বিনােদ বিহারী রায় (১৩শ পুরুষ) বিনােদ বিহারী রায় বাঙ্গালা ১২৮১ সনের ১৭ই মাঘ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এণ্টেল ক্লাশ পৰ্য্যন্ত অধ্যয়ন করেন। তিনি একজন প্রসিদ্ধ খেলােয়ার ছিলেন। শিলচর ক্লাবের ইংরেজদের সহিত বাঙ্গালীদের ক্রীকেট খেলা হয়। তিনি বল চালনায় এত দক্ষ ছিলেন যে ২০ মিনিট মধ্যে ৫ জন সাহেবকে আউট করিয়া ফেলেন এবং সেই খেলায় বাঙ্গালীরাই জয়ী হন। তাঁহার খেলায় গুণ দেখিয়া শিলচরের ডেপুটী কমিশনার কেরাণীর পদে নিযুক্ত করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে কমিশনারের টুরিং ক্লার্ক পদে উন্নীত হন। তিনি মেভড়া নিবাসী তারিণীচরণ দত্তের কন্যা সৌদামিনী দেবীকে বিবাহ করেন। তিনি শ্ৰীযুত ললিতবিহারী রায় (১৩শ পুরুষ) ললিতবিহারী রায় বাঙ্গালা ১২৮৭ সনের ৮ই পৌষ জন্মগ্রহণ করেন তিনি বি, এ, পৰ্যন্ত অধ্যয়ন করিয়া ১৩১৪ সনে ওকালতী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি চুন্টা নিবাসী সারদাচরণগুপ্তের কন্যা প্রিয়বালাকে প্রথম বিবাহ করেন। তৎপর এই স্ত্রীর মৃত্যুর পর দাবােরা নিবাসী ফণীভূষণদাস নীয়ােগীর কন্যা শ্ৰমতী পুষ্পবালার পাণিগ্রহণ করেন। ব্রজবিহারী রায়(১৩শ পুরুষ) জবিহারী রায় বাঙ্গালা ১২৮৮ সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বরিশাল হাইস্কুলে এন্টেল অধ্যয়ন করেন তৎপর শ্রীহট্ট M. c. Collegeএ এফ, এ অধ্যয়ন করিয়া নানা 也 ১৩৩৩বাং কালীকচ্ছের দাতাবংশ। ২২ স্কুলে লে অধ্যাপনার কাজ করিয়া প্রায় ৫ বৎসর শ্রীহট্ট গভর্ণমেন্ট হাইস্কুলে বহু প্রশংসার সহিত শিক্ষকের কাজ করেন। তিনি মেড় নিবার্সী সারদাচরণ দত্তের প্রথমা কন্যা ঐমতী প্রফুল্ল মুখী দেবীকে বিবাহ করেন। তিনি অতিশয় পরিশ্রমী, সরল প্রকৃতির লােক, ও আদর্শ চরিত্রবাণ ছিলেন। তিনি একজন ভাল ফুটবল খেলােয়ার ছিলেন। ১৩২৩ বাং সনের ২৩শে কার্ত্তিক হঠাৎ জ্বরবােগে মনাব- লীলা সম্বরণ করেন। এখন তাহার বিধবা স্ত্রী শ্ৰীমতী প্রফুল্লমুখী নিজ চেষ্টা ও অধ্যবসায়ের বলে জুনিয়ার ও সিনিয়ার ট্রেনিং অনার সহ উত্তীর্ণ হইয়া শিলচর মিশন হাইস্কুলে প্রশংসার সহিত শিক্ষয়ীত্রির কাজ করিতেছেন। শ্ৰীযুতকুমুদবিহারী রায় ১৩শ,পুরুষ। শ্ৰীযুত কুমুদবিহারী রায় ১২৯০ বঙ্গাব্দের ১৪ই ফান চন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইংরেজী হাই স্কুলের প্রথম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়ন করিয়া ফরেষ্ট অফিসের কাজ করিতেছেন। তিনি শরচ্চন্দ্র চৌধুরীর কন্যা মােক্ষদা দেবীর পানিগ্রহণ করেন। শ্ৰীযুত নীরদবিহারী রায় (১৩শ, পুরুষ শ্ৰীযুত নীরদবিহারী রায় ১৩০০ বাঙ্গালার ৩রা পৌষ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এন্টেন্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইয়া পােষ্ট মাষ্টারী কাজ করিতেছেন। তিনি স্বগ্রাম নিবাসী শ্ৰীযুত উপেন্দ্রচন্দ্র দত্ত চৌধুরীর কন্যা শ্ৰীমতী অমিয়বালা দেবীর পানিগ্রহণ করেন। শ্ৰীযুত সরােজবিহারী রায় (১শ পুরুষ) শ্ৰীযুত সরােজবিহারী রায় বাঙ্গালা ১২৮৯ সনের২২শে আশ্বিন জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কলিকাতা নগরে তাহার পৈত্রিক এজেন্সির কাজ করিতেছেন। তিনি শুহিলপুর নিবাসী প্রসন্নকুমার দত্তের কন্যা কুসুমকুমারীদেবীর পাণি- গ্রহণ করেন। শ্ৰীযুত শৈলবিহারী রায় (১৩শ,পুরুষ) শ্ৰীযুত শৈলবিহারী রায় বাঙ্গালা ১৩০৬ সনের ৮ই পৌষ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইংরেজী হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়ণ করিয়াছেন। বর্তমান সময় বাড়ীতে থাকিয়া সংসার যাত্রা নির্বাহ করিতেছেন। শ্ৰীযুত সুরেন্দ্রমােহন রায় (১৩শ পুরুষ ) সুরেন্দ্রমােহন রায় ১৮৮১ খৃষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বরিশাল রাজচন্দ্র কলেজ হইতে ১৯০২ খৃষ্টাব্দে বি, এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। প্রায় ১৫ বৎসর শ্রীহট্ট গভর্মেন্ট স্কুল ও আসামের অন্যান্য স্থানে শিক্ষকের কাজ করেন এবং বি, টী পরীক্ষা দিয়া উত্তীর্ণ হন। তৎপর এম, এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইয়া কলিকাতায় পাঠ্য পুস্তক প্রণয়ন এবং অধ্যাপনার কাজ করিতেছেন। তিনি শ্রীমতী কিরণবালা দেবীর পানি গ্রহণ করিয়াছেন। যােগেন্দ্রচন্দ্র রায়(১৭শ,পুরুষ) শ্ৰীযুত যােগেন্দ্রচন্দ্র রায় বাঙ্গালা ১২৭৮ সনে জন্মগ্রহণ তিনি এণ্টেন্স স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়ণ করিয়া কিছুকাল উকীলের মহরের কাজ করেন। তৎপর প্রায় ১০ বৎসর কাল সরাইল ইষ্টেটের তহশীল
No text on this page.
১৩৩৩বাং কালীকচ্ছে দাতাংশ। দারের কাজ করিয়া অবসর গ্রহণ করিয়াছেন। তাহার জ্যেষ্ঠ পুত্র যুত যতীন্দ্রচন্দ্র রায় বারানসী হিন্দু বিশ্ব- বিদ্যালয় হইতে B. Sc. Engineer. হইয়াছেন। তিনি মুরাকৈর নিবাসী কৈলাসচন্দ্র দত্ত চৌধুরীর কন্যা সরল সুন্দরী দেবীকে বিবাহ করেন। মােক্তারী করিতেছেন। প্রথমে তিনি বিক্রমপুর বহর নিবাসী শ্ৰীযুত বিপিন চন্দ্র সেনের কন্যা শৈবালিনী দেবীর পাণিগ্রহণ করেন তৎপর করতলা নিবাসী শ্ৰীযুত গিরীশ চন্দ্র সেনের কন্যা শ্ৰীমতী বিমলাবালা দেবীকে বিবাহ করেন। তাঁহার পুত্র শ্ৰীযুত ধীরেন্দ্রকুমার রায় ১৩৩২বাং সনে বি, এ, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। রায় বাহাদুর শ্ৰীযুত রমেশচন্দ্র রায় (১৪শ,পুরুষ)। শ্ৰীযুত রমেশচন্দ্র রায় ১২৮০ বঙ্গাব্দে ২৬শে ভাদ্র জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাল্যকাল হইতেই বিদ্যানুরাগী ও অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। তিনি ১৮৯০ খৃষ্টাব্দে বি, এ, অঙ্কশাস্ত্রে সম্মানসহ উত্তীর্ণ হন। ১৮৯৫ খৃষ্টাৰে ডেপুটী ম্যাজিষ্ট্রেট পদ প্রাপ্ত হন। উক্ত কাজ অত্যন্ত সুখ্যাতির সহিত সম্পন্ন করিতেছেন বলিয়া গবর্ণমেন্ট তাহাকে রায় বাহাদুর উপাধী দ্বারা অলঙ্কত করিয়াছেন। বৰ্তমান সময়ে কালীকচ্ছ গ্রামে সর্বোচ্চ রাজকর্মচারীর পদে অাছেন। তিনি এখন দিনাজপুর জিলার ম্যাজিষ্ট্রেটের পদে নিযুক্ত আছেন। তিনি মহেশ্বরদি পরগণার অন্তর্গত দুপতারা নিবাসী রামমানিক্য দাসের কন্যা মৃনালিনী দেবীর পাণি গ্রহণ করেন। এই স্ত্রীর বিয়ােগান্তে দারােরা নিবাসী প্রসচন্দ্র দাস নীয়ােগীর কন্যা শ্ৰমতী বিনােদিনী দেবীর পাণি শ্ৰীযুত যােগেশচন্দ্র রায়(১শ,পুরুষ) যুত যােগেশচন্দ্র রায় ১৮৮২ খৃষ্টাব্দের ৬ই নবেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এণ্টেন্স ক্লাস পৰ্যন্ত অধ্যয়ন করেন। তিনি বিক্রমপুরের অন্তর্গত বহর নিবাসী যুত বিপিনচন্দ্র সেন মহাশয়ের কন্যা শ্ৰীমতী প্রবালিনী দেবীকে বিবাহ করেন। তিনি পশ্চিম বঙ্গে এসিষ্টেন্ট সেটেলমেন্ট অফিসারের কাজ প্রায় ৮ বৎসর কাল করেন তৎপর ১০ বৎসর কাল যাবৎ সরাইল ইষ্টেটের সহকারী ম্যানেজার, তহশীল ইন্সপেক্টর প্রভৃতি পদে কাজ করিয়া সুখ্যাতি লাভ করিয়াছেন। বিগত সরাইল ইষ্টেটের জরীপের সময় তিনি সার্ভে সুপারিন্টেন্ডেন্ট পদে বৃত হইয়া অতি দক্ষতার সহিত কাজ করাতে প্রশংসা পত্র লাভ করিয়াছেন। গ্রহণ করেন। শ্ৰীযুত রােহিনীকুমার রায় (১৪শ,পুরুষ) যুত রােহিনীকুমার রায় বাঙ্গালা ১২৮২ সনের ৭ই মাঘ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এণ্টেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইয়া মােক্তারী সনদ প্রাপ্ত হন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে শ্ৰীযুত মােহিনীমােহন রায়(১৪শ,পুরুষ) শ্ৰীযুত মােহিনীমােহন রায় ১৮৮১ খৃষ্টাব্দের অক্টোবর মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের B. Sc. পৰ্যন্ত অধ্যয়ন করিয়া শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অন্তর্গত কৃষি বিভাগে অধ্যয়ন করেন। গবর্নমেন্ট বৃত্তি পাইয়া আমেরিকা কৃষি বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন তৎপর
No text on this page.
কালীকচ্ছের দাতাংশ। পূর্বক তথা হইতে M. Sc. A. ( Cornel U. S. A.) উপাধী লাভ করিয়া দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি মেড়া নিবাসী প্রসিদ্ধ উকীল কৈলাস চন্দ্র দত্তের পুত্রী চারুনলিনী দেবীর পাণিগ্রহণ করেন। প্রায় ২০ বৎসর কাল কলিকাতায় স্বাধীন ব্যবসা করেন। বর্তমানে একটি মুদ্রাযন্ত্র খরিদ করিয়া ইহারই কাৰ্য্য পরি- চালন করিতেছেন। শ্রেণীর পাঠ্য অধ্যয়ন করিয়া স্কুল পরিত্যাগ পূর্বক তাহার পৈত্রিক সম্পত্তি সংরক্ষণে ব্যাপৃত হন। তিনি চুন্টা নিবাসী শ্ৰীযুত প্রিয়কৃষ্ণ সেনের পুত্ৰী শ্ৰীমতী তরল বালা দেবীর পাণিগ্রহণ করিয়াছেন। শ্ৰীযুত অবিনাশচন্দ্র রায় (১৪শ,পুরুষ ) যুত অবিনাশচন্দ্র রায় ১৩০৪ বঙ্গাব্দের ৬ই শ্রাবণ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হইতে বি, এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইয়া অধ্যাপনার কাজ করি- তেছেন। তিনি দাউদপুর নিবাসী শ্ৰীযুত যােগেশচন্দ্র মজুমদারের পুত্রী এমতী মৃনালিনী দেবীর পাণিগ্রহণ করিয়াছেন। শ্ৰীযুত উল্লাসকর দত্ত(১৪শ,পুরুষ) যুত উল্লাসকর দত্ত শ্ৰীযুত দ্বিজদাস রায় মহাশয়ের দ্বিতীয় পুত্র। তিনি কলিকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে রসায়ন শাস্ত্র শিক্ষা লাভ করেন । তিনি স্বীয় প্রতিভা বলে রসায়ন শাস্ত্র নিজ আয়ত্বাধীন করিয়া যশঃলাভ করিয়াছেন। তৎকৃত অভিনব বােমা বড় বড় রাসায়নিক পণ্ডিতগণেরও বিস্ময় উৎপাদন করিয়াছিলেন। তিনি ১৯০৮ খৃষ্টাব্দে বৃটিশ গবর্ণমেন্টের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করিয়া- ছেন বলিয়া প্রমাণিত হওয়ায় আলীপুরের জর্জ বিচক্রফট সাহেব তাহাকে প্রাণদণ্ডের আদেশ দেন। ১৯০৯ খ্রীষ্টকে ২৩শে নবেম্বর মাসে হাইকোর্টের আপিল আদালতের প্রধান বিচারপতি মাননীয় সার লরেন্স জেন্সি মহােদয় প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত হইবার আদেশ রহিত করিয়া যাবজ্জীবন দীপান্তর কারাদণ্ডের আদেশ দেন। প্রায় দ্বাদশ বৎসর কারাবাসের পর শরীর অত্যন্ত অসুস্থ হওয়াতে গবর্ণ- মেন্ট তাহাকে কারামুক্ত হইতে আদেশ দেন। তিনি বাড়ীতেই আছেন। শ্ৰীযুত সুখসাগর রায়(১৮শ,পুরুষ) শ্ৰীযুত সুখসাগর রায় ১৮৯০ খৃষ্টাব্দে ১১ই জ্যৈষ্ঠ জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৯১০ খৃষ্টাব্দে ইংলণ্ডে চলিয়া যান। তথায় কিছুকাল কলেজে পড়িয়া নাটকের অভিনেতার কাজ করিয়া প্রশংসা লাভ করেন। তথায় রুবী নাম্নী এক ইউরােপীয় মহিলার পাণিগ্রহণ করেন। তৎপর মেডিকেল কলেজে অধ্যয়ন করিয়া ডাক্তারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। বর্তমানে ইংলণ্ডে থাকিয়াই ডাক্তারী করিয়া জীবিকা নিৰ্বাহ করিতেছন। তথায় একটা বাড়ী খরিদ করিয়া স্বাধীন দেশের আবহাওয়া সম্ভোগ দ্বারা পরম শান্তিতে বাস করিতেছেন। এখন শ্ৰীযুক্ত গিরীজাশঙ্কর রায়(১৪শ,পুরুষ) শ্ৰীযুত গিরীজাশঙ্কর রায় ১৩০৭ বঙ্গাব্দের ২৩শে কার্তিক মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মেট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইয়া ১৯২৫ খৃষ্টাব্দে মােক্তারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি করতলা নিবাৰী শ্ৰীযুত গিরীশচন্দ্র সেনের কন্যা শ্ৰীমতী কুসুমকামিনী দেবীর পাণিগ্রহণ করিয়াছেন। শ্ৰীযুত রুক্মিণীকুমার রায় (১৪শ,পুরুষ) শ্ৰীযুত রুক্মিণীকুমার রায় ১২৯৪ বাং ৯ই কাত্তিক তিনি ইংরেজী হাইস্কুলের দ্বিতীয় জন্মগ্রহণ করেন। সমাপ্ত
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.