Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Oci O Moci

Basu,prabhathkiran · 2009/12/30

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

অসি ও
ও মসী
শ্রীপ্রভাতকিরণ বসু
কান পাবলিশিং হাউস
কলিকাতা
{

শনিরন প্রেস, ২২ মােহনবাগান রে,
কলিকাতা হইতে প্রবােধ নান কর্তৃক
মৃত্ৰিত ও প্রকাশিত
বৈশাখ,
মূল্য এক টাকা

শ্ৰীমতী রুচিয়া দেবী
কবি-প্রিয়া,
মুগ্ধমনের নিলে মিলমের মালা,
নিয়েছ কবির গভীর প্রীতির ডালা,
যে মর্মপীড়া লিছে দুর্বিসহ,
হে নৰ্ম্মসখি, তাহারো অংশ লহ।
ব্যথাহত মনে, দুঃখ দিলাম প্রাণে।
কেই চেনে মােরে, কেহ ভালাে নাহি জানে
তুমি জানো, কেন যক্ষ্মণ। অহরহ
তাহারে অংশ গহ।
১৪ই বৈশাখ ১৪৪
৭ রাঙ্গাবাগান ফুট
কলিকাতা
তিকিরণ বশ

No text on this page.

সুচী অতি-আধুনিকা ভীষণ আফশােষ গের বৌ ৬ ••• *** . পখি নারী বিলাসে ও স্যাকামিতে সন্তা হয়েছে যারা তাদের ডাকিয়া শুধু রুহি নারীর লজ্জা অামারে দেখিতে চেয়েছে একটি মেয়ে যে নারীর শ্রদ্ধা করি, যে নারীর ভালোবাসি দুরদৃষ্ট কলেজের ছেলে কলেজের খেয়ে ক্যালকেশিয়ান পতিত বাঙালী জাতি ছুটিতে মহাপজ। কুৎসিৎ কুৎসা অসমগ্ন রোগা হওয়ার সুযোগ শিক্ষা চাকুরীগত প্রাণ সম্পাদকে ৪ ৫ নিত্যকর্মপদ্ধক্তি যখন লাগে না ভালো কিছু সর্ষের তেলচাই সর্ষের তেল।

No text on this page.

অতি-আধুনিকাসু
আমি ভালােবাসি ঘুরিয়ে কাপড় পরা,
তাই তুমি পথবা পিছনে আঁচল দিয়ে।
আমি ভালােবাসি বসিতে তােমার পাশে,
তাই তুমি বসে। অডিটোরিয়মে গিয়ে।
আমি ভালােবাসি চুর্ণ-অলক রাশি,
রুক্ষ, এলানো তাইত তােমার খোপা।
আমি চঞ্চল পছন্দ করি বলে
লজ্জা করেনা, থাকোনাক' তুমি বােবা !
রূপাের ঝুমকো, দুগাছি সােনার চুড়ি,
দুটি বাহুলতা রহিবে অনাবৃত,
পিঠের রাউস ক্ষণে ক্ষণে যাকে দেখা,
তাম্বুল-রাগে ওষ্ঠ না রঞ্জিত,
একেলা চলিলে, যাবে গম্ভীর হয়ে,
সঙ্গিনী পেলে, হাসিয়া পড়িবে চলে
এই সবি তুমি পছন্দ কর দেখি,
যেহেতু আমারি রুচিসম্মত বলে ।

অ সি ও ম সী
।
একদিন ছিল পাত পেড়ে চুল কাটা,
পাছাপেড়ে শাড়ী, একগােছা চুড়ী হাতে,
ইহুদীমাড়ি, সােনার চিরুণী বাঁকা,
লেখা ছিল ‘পতি পরমগুরু’ যে তাতে।
পানে দোক্তায় ঠোঁট দুটি ছিল রাঙা,
চওড়া করিয়া আলতা পরিতে পায়ে,
লম্বা ঘােমটা সহসা টানিয়া দিতে,
লজ্জাবনত হতে ফুলশয্যায়।
হাড়ে মাসে তুমি বপুটি করিতে ভারী,
আজিকার মত ছিল না সূক্ষ্মদেহ।
স্তোত্র জানিতে, শিখিতে না গান গাওয়া,
নৃত্যের কথা ভাবিতে পারাে নি কেহ।
—সেদিনাে অমনি পছন্দ ছিল মাের,
তাই তুমি নারী মানিতে মনে ও প্রাণে।
পুরুষ যা চায়, নারী তাই হয়ে ওঠে।
তােমাদের চিরপরাজয় সেইখানে।
কলেজে পড়াে, কি সাইকেলে চলাে ছুটে,
এরােপ্লেনে চড়া, সাঁতারে কর যে নাম,
আমার চয়েস্-স্যাংশন আছে মাের,
হুড়ােহুড়ি ক'রে পুরাও মনস্কাম।
অতি-আধুনিক ছেলেরা যেমন চায়,
অতি-আধুনিক মেয়েরা তেমনি হবে।
মমাদেরই রুচির অধীন,স্বাধীনা বলে
প্রগতিবাদিনী কেন উচ্ছ্বাস তবে ?
২

ভীষণ আফশােষ
ট্রামে যেতে যেতে, গড়ি আর ভাঙি,
ছােট গল্পের প্লই।
চারিধারে হয় ভীষণ শক---
ঝনাঝন্ খটাখট্‌ ।
তারি মাঝে এক তরুণী 'উঠেছে,
নেই এবার ঠাই,
পাশের ছরা, খালি করে, মোর
পাশের আসনটাই।
বসিল মেয়েটি, জড়ােসছে। হ'য়ে,
আমি মনে মনে ভাবি,
হতভাগ। ট্রাম, বিদ্যুদ্বেগে
আরো কতদূর যাবি ?
কারেন্ট শটের সময় হয়েছে,
থেমে যা পথের মাঝে।
ডেষ্টিনেশন্ আসে যদি, পাশে
সঙ্গিনী রবে না যে।
কহিল মেয়েটি এলগিন সো'
অাছে আপনার জানা ?
জানেন কোথায় বিজল। সিনেম?
ভবানীপুবের থানা ?
কোনটা কোথায়, ছিল না ধারণা,
কহিলাম মুখ ফুটে

অ সি ও ম সী
‘পাশাপাশি নয় জানি এইটুকু
একেবারে বিদঘুটে
জবাবটা যেন, কাব্যমধুর
মােটেই ত’ হল না কো ।
মনে মনে বলি, আধফোটা কলি,
আরাে কিছুখন থাকো।
মােহনবাগান ব্ল্যাক্ওয়াচের
রেজাল্ট কি হল আজ।
দ্বিতীয়বারের নূতন প্রশ্নে
পড়িল মাথায় বাজ ।
ও পথে যাই না, সখ মােটে নেই,
তবু ফেলিলাম বলে,
‘মােহনবাগান পেয়েছে পয়েন্ট।
জিতেছে যে পাঁচ গােলে।
‘পাঁচ গােল দিলে ? জানেন কি ঠিক?
কে দিলে ? নন্দ ? কানি ?
স্কোর কে করলে? হামিদ? হাবুল ?”
আমিও কি ছাই জানি।
চুপ করে আছি, কহিল হঠাৎ
‘দেখেছেন মানময়ী ?
তাও দেখি নাই। কহিনু তবুও
‘হয়েছে চলন সই।
মানময়ী কিছু বেশী মান করে।
শেষটা সে গেল মরে।
৪

ভী য ন আ ফু শশা য
চাপাহাসি হেসে, ক্রমশঃ দেখি সে
হাসিয়া উঠিল জোরে।
চলে গেল উঠে, ক্রিং করে বেল
টেনে দিয়ে গেল নেমে ।
বালা হাওয়ায় সামনে বসেছি,
তবু দেখি, গেছি ঘঘমে।
পিছনের সীটে যে বসেছিল, সে
শুনেছিল আগাগোড়া।
কহিল, “ওটি যে নামজাদা মেয়ে,
জানে বন্দুক ছোঁড়া !”
ম্যাচ, থিয়েটার, ট্রামে আর বাসে
পরিচিত ও ফিগার।
বেশে ও চমকে, ঠমকে, খােরা
যােগায় ও কবিতার।
আপনি মশায়, জানেন না কিছু।
সবেতে গেলেন ঠকে।
অপাচু নিটি এমন, খু জিয়া
বেড়ায় কত যে লােকে।
পেয়ে হারালেন! হায়রে কপাল!
ও মেয়ে যা ধড়িবাজ।
সেদিনের কথা মনে করে শুধু
আফশােষ করি আজ।
৫

গেরস্তর বো
কুনাে কোটে, বাইনা বাটে, রান্না চড়ায় ভােরে,
সারা সকাল ব্যস্ত থাকে তাড়াহুড়াে করে,
কর্তা গেলে আপিস, গেলে ইস্কুলেতে ছেলে,
হাঁপটি ছেড়ে বসে তােফা, হাত-পা দিয়ে মেলে।
ছাচড়া চড়ায়, পােস্ত চড়ায়, ঝাল দিয়ে মাছ নাবে,
আমড়া দিয়ে ‘ট’টি করে, মনের সুখে খাবে ।
একটা বাজু, দুটো বাজুক, কিসের অত তাড়া?
জানলা দিয়ে পাশের বাড়ীর বৌ যদি দেয় সাড়া,
পরের ঘরের কুলুজিতে ফুৰ্ত্তি তখন ভারী,
পুত্র-সম্ভাবনায় কে যে গেছে বাপের বাড়ী।
ছেলে হবার খবর ছাড়া আর কি কথা আছে ?
এদিকে সব মুক্তি মাগেন ষষ্ঠী দেবীর কাছে।
স্নানটি হ’ল, ভাতটি হ’লবাসি রুটির সাথে
মুখরােচক গরস করে গিন্নী এলো ধাতে ।
ভারী ঘটির জলটি খেয়ে, পানটি পুরে মুখে,
জর্দা দিয়ে ট্যাপটি করে, এলিয়ে পড়ে সুখে,
ইচ্ছে হল, টেনে নিলে লাইব্রেরীটার বই।
বালিশ করেই নাকটি ডাকায়, পড়েই বা আর কই।
ছেলেগুলাের দুপদাপেতে ঘরটি যেন ফাটে।
উঠেই, তাদের চড়িয়ে দিয়ে দুপুরটি বেশ কাটে।

গে র স্ত র বৌ
হয়ত বয়স পঁচিশ হবে, বুড়ীমতন লাগে।
একটু তবু সাজ করা চাই, স্বামীর ফেরার আগে।
চুলটা ঈষৎ নাবিয়ে দেওয়া, টিপ টি একটু পরা,
রঙীন বেশে মিষ্টি হেসে চায়ের কাপটি ধরা।
বাবুর তখন ঘুরছে মাথায় অফিসে কাজ কত।
সজ্জা দেখার, সােহাগ করার সময় কোথায় অত ?
তার ওপরে সন্ধ্যে হ’তেই আছে ব্রীজের তাড়া,
রান্নাঘরের তাতে, ধোঁয়ায় বোটি হ’ল সারা।
অনেক রাত্রে ছেলে কঁদে, মেয়ে চেঁচায় উঠে।
হায়রে বিয়ে! হায়রে প্রিয়। প্রেম চলে যায় ছুটে।
এই আমাদের মধ্যবিত্ত বাঙালীদের বন্ধু ।
কেমন করে ঝবে তাদের কথায় কথায় মধু ?
জাল সে কি ? বুঝল সে কি ? শুধু কেবল খাটে,
সূচী-বিকার, কুৎসা করে, কিছু সময় কাটে।
মেজাজখানি বিগড়ে গিয়ে, ঝগড়া করার ভাষা
কাংস্য-গলায় চালিয়ে দিতে, সুযােগ মেলে খাসা।
দুএকখানা গয়না শাড়ী, দাও ফেলে দাও ছুড়ে,
দুএকটা দিন দাও থিয়েটার-বায়স্কোপে পুরে,
বাপের বাড়ী থেকে আসুক, চেঞ্জে দুএকমাসে
ঘুরে এলেই, বলবে, ‘স্বামী ভীষণ ভালােই বাসে !
ঘুঘুর মতন নিরীহ জীব, গুগলি সেঁড়ির মত
এই বধূদের সন্তানেরা মানুষ হবে কত ?
৭

অ সি ও ম সী
কোথায় পাবে দূরের দৃষ্টি বিপুল উদার মন।
মা জানে সার খাওয়ানাে, আর খাওয়ার আয়ােজন।
দেহ এবং মনের রূপে কোথায় রূপবতী
এদের মূখ-বন্দীদশায় সারা দেশের ক্ষতি।
সারা দেশের ক্ষতি, তবু জ্ঞানের দিকে কবে
পােস্ত ছেড়ে, ঘণ্টো ছেড়ে, একটু নজর হবে ?
কমিয়ে দিয়ে গঙ্গাজলের, গােবরজলের প্রীতি,
কমিয়ে দিয়ে নজর দেওয়ার, ভূতেধরার ভীতি,
মানুষ হবার, মানুষ করার কল্পনারি ছবি
জাগিয়ে দেওয়া হবে কবে? প্রশ্ন করে কবি।
জবাব কি তার মিলবে দেশে? রইল সিকেয় ভােলা।
নাবল বাটি-চড়ী, ওর সােয়াদ কি যায় ভােলা।

পথি নারী
পায়ে পায়ে কেন ? আরাে জোরে হাঁটো। তাড়াতাড়ি এসাে চলে।
ছেলেটাকে ধরো। ছাতাটাকে নাও। খুকিটাকে করে কোলে।
টর্চটা কে নেবে? আমি ? কি যে বলাে। দেখচ না ছড়ি হাতে।
খাব সিগারেট! মিথ্যে তােমায় এনেছি বদ্যিনাথে ।
আরাে জোরে হাঁটো। বেড়াতে পাও না, থাকো ত অন্ধকূপে ।
চেঞ্জে এসেও চলাে পায়ে পায়ে । ঐ দেখ আসে ভূপে,
ঘােটাটা টানাে। দেখে ফেললেই ভারী মুস্কিল হবে।
বলবে ‘অমন ক্যাড, মেয়ে দেখে কি করে পড়লি লভে ?
ওদের বৌরা পাশকরা মেয়ে কত-কি ফ্যাশান জানে।
চপ্পল নয়, হিল-উচু জুতো, ঠমকে ঠমকে টানে।
পার্শী শাড়ীটা ভাটিয়ার মত কেমন ঘুরিয়ে পরে।
খোঁপার কাপড় খসলে, কেমন বাঁহাতে কোণটি ধরে।
তুমি কি তা পারাে? ঐ যে সামনে মেয়েটি দেখতে বেশ ।
ছোঁড়াটার দিকে অত কি দেখছ? বেহায়ার একশেষ।
বছর বছর ছেলে আর মেয়ে দেখতে পারি না চোখে।
জানি না মুখ মেয়ে কি দুঃখে বিয়ে করে আনে লােকে ।
কালো চেহারা যে সইতে পারি না, তুমি হলে সেই কালো।
আমার কী রূপ? আমি যে পুরুষ! পুরুষের সবি ভালাে।
বিদ্বান্ নই? গুণবান্ নই? কি দেখে যে মেয়ে দেবে ?
তুমি সতী নও, পতির বিষয় এতই রেখেছ ভেবে।
২

बमि ७ अनौ
আমি যা হই না। স্বামী ত তােমার ? স্বামীরে দেবতা জানা
মেয়ে মানুষের প্রধান ধৰ্ম্ম, দোষ দেখা তার মানা।
মুখ বা কিসে? পড়েছি কলেজে, আই-এ না হয় ফেল।
গুটি এসেছে।
ফটক ঐ দেখ আসে রেল।
বন্ধ।
ফুলের গন্ধ পাচ্ছ কি তুমি? মিষ্টি ফুলের বাস ?
টর্চ জ্বলবে না। ব্যাটারী গিয়েছে। এই রে সর্বনাশ।
ফিরে চল রাণী, এ অন্ধকারে চলতে কষ্ট হবে।
হাঁপ ধরে গেছে? বুড়াে মেয়েটাকে কোলে রাখা কেন তবে ?
আমাকে দাও না। ছাতাটাও দাও। ছড়িটাকে ধরাে, এই।
এখন লজ্জা করবে না আর, পথে লােকজন নেই।
কত কষ্টের পয়সা! ছুটিটা কত কষ্টের পাওয়া।
সবি সার্থক, রােগ সেরে গেলে লেগে পশ্চিমে হাওয়া।
তুমি সেরে ওঠো। কথা নেই কেন ? কত কি বলেছি বলে ?
অার বব না। মাপ চাইছি যে। এবারে ত খুসি হলে।

—বিলাসে ও ন্যাকামিতে সস্তা হয়েছে যারা
তাদেরি ডাকিয়া শুধু কহি—
১
দুর্দিন বড় দেশে,
তােমাদের দিকে চেয়ে
সে কথা হয় না কভু মনে।
সাজিয়া পরীর মত হাসিয়া করিছ ভীড়,
আমােদ-প্রমােদ-নিকেতনে।
জাপানী রঙীন ছি,
জরীঝলমল শাড়ী,
নকল হীরার হার গলে,
রিমলেস চশমায়
কটাক্ষ জ্বলে ওঠে,
ঝুমকো সে ঝিকিমিকি ঝলে।
মরিসে’র পাদানীতে, পাথর বসানাে জুতা
রাখিয়া ক্ষণিক, যাও ঢুকে।
সহসা দেখিতে পাই,
গাড়ী রুখিয়াছে তব
ভিড়ে ট্রাম-রাস্তার মুখে ।
২
নিমন্ত্রণের বাড়ী
সজ্জা দেখাতে যাও
অলঙ্কারেতে ঝুকে পড়ে।
দামী সেন্টের শিশি
উজাড় করিয়া দাও
গন্ধে আসর তােল ভ'রে ।
রান্না ঘরের মাঝে
হলুদে ছােপানো শাড়ী
ধোয়ায় ময়লা রং থাকে,
১১

অ সি ও ম সী গার্টাপার্চারে গড়া বিলাতী ‘ডলে’র মত চকিতে সাজাও আপনাকে। চেনার উপায় নাই, দেখিয়া স্বপ্ন জাগে, স্বর্গে বেঁধেছ যেন বাসা । সুখের পায়রা যেন, ফুটন্ত ফুল যেন, দুঃখী জগতে যেন আশা ! শােক নাই ? তাপ নাই সত্য কি সংসারে তােমার অভাব নাই লাগি ? পুত্র মানুষ হ’ল ? সুপাত্রে পড়ে মেয়ে ? স্বামী সৌভাগ্যের ভাগী ? শত কোটি দুর্দশা বাংলা দেশের বুকে, চিন্তায় চিরচঞ্চল, বঙ্গভূমির কোলে হাস্য-উছল নারী দল, সত্য কি তােমাদের অপূর্ণ সাধ নাই ? কি মনে নাই মায়া-লেশ ? লজ্জিত হও না কো সজ্জিত হতে আজো । অর্ধ-নগ্ন সারা দেশ। মুক্ত বিহঙ্গম ৪ বায়স্কোপের মাঝে মারাঠি সাজিয়া এসাে, ট্রামে চললা ভাটিয়ার মত, ১২ -বি লা সে ও ত্যা কা মি তে স স্তা হয়ে ছে যা রা স্বদেশী মেলায় যােবাে জলছবিটির মত, রামধনু-রং ঝরে কত। লেকের ব্রীজেতে হাসসা মেমের মতন হাসি, মিঠে কলঝঙ্কার তার। একেবারে সাধাসিধে বাঙলার মেয়ে হয়ে আলাে করে গঙ্গার ধার । শিবের মতন বর পাবার লােভেতে দেখি স্নান শেষে ভক্তি দারুণ । রুজ-পমেটম নেই, লাল গরদের পাড়, সে যেন মহান্ নবারুণ । ৫ সুন্দরী নগরীর ম্লানতম ফুটপাথে কাদা-গােলা জল চলে যায়, ভরা ছেড়া হ্যাণ্ড বিলে, পাতার ঠোঙায়, পীচে, পােড়া বি ড়ি, কলার খােসায়, ঝাকা নিয়ে কুলী আসে, ছাতা নিয়ে বুড়ো আসে, ছড়ি নিয়ে নবীন যুবক, কেউ চেয়ে চেয়ে হাসে, কেউ গান গেয়ে ওঠে, মজলিসে মসগুল রক্। সেথায় কলেজ থেকে, রোদে-জলে হেঁটে যাও গরু আর জনতার সনে। সত্যি বল ত বােন, বড় কি ভালাে লাগে? বিত্র হয় না মােটে মনে ? ১৩ অ সি ও ম সী প্রােফেসর সাথে নিয়ে তােমরা ক্লাসেতে ঢােক, বিলেতে কি তাই হয় না কি ? চমকে কি ওঠো কভু দিদিমা সুইকি বলে পাশ থেকে কেউ গেলে ডাকি। হােষ্টেলে বাতায়নে চুল বাঁধিবার ক্ষণে রাস্তায় দাড়াইলে কেহ, দুর্জন বলে তারে এক লহমারও তরে কখনাে কি জাগে সন্দেহ ? কি জানি চলেছ কোথা, উল্কার বেগে ছুটে, আমি কবি, তােমাদেরি ভাই, মঙ্গলকামী বলে, শঙ্কা-ব্যাকুল চোখে কাণ্ড দেখিয়া লিখে যাই। ৭ । জলের কলসী নিয়ে, সিক্ত বসন পরে ঘাট থেকে কেন আস উঠে ‘বাসী’র বিচার ফেলে শুক্ননা কাপড়ে এলে, জন্তু আসিত নাকো ছুটে। আঁশবঁটিটার গায়ে আর কি নেই ক’ ধার ? জানােয়ার পার পেয়ে যায় । দুৰ্বল পুরুষের অঙ্কশায়িনী হয়ে এখনাে কি রবে নিরুপায় । পল্লীতে, নগরীতে, দুহিত জাগিয়া ওঠো । বিধিয়ে বি ধিয়ে কবি কয়। ১৪

—বি লা সে ও ত্যা ক মি ত স স্তা হয়ে ছৈ যা রা
মিথ্যা দুর্গাপূজা,
শক্তির আরাধনা,
নারী যদি নিদ্রিত রয়।
আমাদের শৈশবে
এ মূরতি দেখি নাই,
মহিমার দেখেছি বিকাশ।
ঘর-ঘরকন্নায়
দেখিয়াছি রমণীর
পূর্ণ সকল অভিলাষ ।
বিদ্যা ও বুদ্ধির
যে দীপ্তি দেখিয়াছি,
আজ তাহা মিলালো কোথায় ?
সুন্দর
শিক্ষার
যে মাধুরী হেরিয়াছি,
বিমুগ্ধ মন আজো তায়।
স্বাধীনতা-কাপ লাগি ঘােড়দৌড়ের রান
নিয়ে যায় দূরতম দেশ।
তীক্ষ্ণ এ লেখনীর
তীব্র এ কণ্ঠের,
বান্ধবী, রবে রবে রেশ।
কোথায় সে মমতায়
বিগলিত মুখখানি ?
কোথায় সে মায়া-ভরা মন ?
ভােরের আলাের মত স্নিগ্ধ সে রূপ কোথা?
গুণ কোথা ফুলের মতন ?
এ যে দুপুরের রােদ
জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মারে,
ঝলসিয়া যায় দুই চোখ ।

অ সি। घमौ গৃহদাহ ঘটাইতে পল্পী ও নগরীতে এ কি রূপসাধনার ঝোঁক। কাপুরুষ পুরুষের নারীদের স্পর্ধায়, অধীনের স্বাধীনতা লােভে, ক্ষমা কোর প্রিয়সখী, কবি যদি কটু বলে মরমের লজ্জায় ক্ষোভে। ১০ হাসি পায়, হাসি পায়। সত্যি ব্যাপার দেখে, আমার ভীষণ হাসি পায় । অভিভাবকের দল মেয়েদের ছেড়ে দিয়ে, জেনে শুনে জাগিয়া ঘুমায়। এ বড় গরীব দেশ, চাকরীতে, কারবারে, রােজগার কত কষ্টের। লেখাপড়া, নাচে, গানে, এতটুকু লাভ নেই। শুধু পথ টাকা নষ্টের । তবু সাজসজ্জার ধূম যেন বেড়ে চলে, তবু আসে ফ্যাশানের বান্, পথ নেই কোনােদিকে, ধ্বংসের অভিমুখে ই কি বিপুল অভিযান ? ১১ আমি ত’ বলিয়া যাই, কে শুনিবে কথা মাের? কানে ত’ যায় না কারাে দেখি। ১৬ -বি লা সে ও ত্যা কা মি তে স স্তা হয়ে ছে যা রা তবুও বেহায়াপনা আরাে যেন বেড়ে যায়। ওরা কয়, “আরে, বলে এ কি ? ঠেলিয়া চলিয়া যায়, হাসিয়া গলিয়া যায়, যা খুসি বলিয়া যায়, চলে। থিয়েটারে সিনেমায় চকোলেট কিনে খায়, হাসে ইন্টার-ভ্যাল হ'লে । বন্ধু বলিল মােরে, ‘শুধু বসে দেখে যাও, বুদ্ধিবিহীন তুমি অতি। মলিন এ রাজধানী মধুর করেছে, জানি বাধাহীন নারীর প্রগতি। ১২ দীর্ঘ এ কবিতার প্রত্যেক অক্ষরে জাননা কত বেদনা আমার ? কি গভীর দুঃখের ফস্তুঃপ্রবাহ, জাননা, তলে তলে করে হাহাকার ? কবি আর শিল্পীর নারী যে ধ্যানের ধন। স্বর্গ ও স্বপ্ন ও সুখ! সেই রমণীরে যদি সরম ভুলিতে দেখি মন হয় তখনি বিমুখ। লজ্জায় সচকিত দুর্বোধ হয়ে ওঠো, দুর্লভ হয়ে, হও জয়ী। বিলাসে ও ন্যাকামিতে সস্তা হয়েছ যারা, তাদেরি ডাকিয়া শুধু কহি ১৭

নারীর লজ্জা
।
সত্যি কথা বলে, দেখি
তােমরা ভারী চটো,
তােমরা বেজায় চটো
কোণটি ঠাসা করবে মােদের,
এই তােমাদের ‘মটো,
সেইটি কেবল ‘মটো’!
গলাবাজী, কলমবাজী,
তাইতে দেখি নিত্য রাজী,
আমরা খারাপ, আমরা পাজী
প্রমাণ করতে ছােটো ।
একটু ঈষৎ স্পষ্ট কথায়
তিড়বিড়িয়ে ওঠে।
২
তােমরা নারী, নারীর লজ্জা
কাগজ খুলে পড়াে
আশা করিই পড়াে?
অপমানের কঁাটা গায়ে
বিধছে না যে বড়াে?
লাগছে না যে বড়াে ?
দেশে দেশে, গ্রামে গ্রামে,
কলঙ্কদাগ নারীর নামে,
১৮

রী র ল জা
কোথায় সভা ? ডাইনে বামে
কী আন্দোলন করাে।
সমাজচ্যুত নির্যাতিতার
গৃহ কোথায় গড়ে ?
পর্দা ছিড়ে বেরিয়ে এলে
খােলা আকাশতলে,
বিপুল ধরাতলে।
দুঃখিনীদের কান্না কোথায়
ডুবল কোলাহলে,
গভীর কোলাহলে ?
নৃত্য, গীতি, শিল্পরেখা
অনেক বিদ্যা, অনেক লেখা।
অনেক কিছুই হ’ল শেখা
পরিশ্রমের বলে ।
ভুললে শুধুই, ব্যথা কোথায়
নারীর চোখের জলে।
৪
নয় কি তারা কেউ তোমাদের ?
মানুষ তার নয় ?
গণ্য তারা নয় ?
দাসীর মতন ভাবে তাদের,
তাই ত’ মনে হয় ।
দেখেই মনে হয়।
১৯

অ সি ও ম সী
কুশ্রী তারা, গরব তারা,
ড্রইংরুমের নেই ইসারা,
মােটর বিলাস, সুরের ধারা,
বর্ণ-পরিচয়
নেই বলে কি, করবে তাদের
নারীত্বে সংশয় ?
৫
কী অসহায় তারা, তাদের
কি দুঃখে দিন কাটে,
কি কষ্টে দিন কাটে ।
সীতা যেন বন্দিনী আজ
শত্ৰুপুরীর ঘাটে,
বিপজ্জনক ঘাটে।
একটি রাত্রে তাদের মাথায়
আজীবনের দুঃখ চাপায়
যে পশুদল,-বাড়ীর হাতায়
তােমার, যদি হাঁটে,
লাগাও চাবুক!বােন্ যে তােমার
তেপান্তরের মাঠে।
৬
আমরা পুরুষ, ভালাে কিছু
করতে গেলেও দোষ।
বলতে গেলেও দোষ।

রী র ল জ্জা
সপ্তরথীর ছুটবে তখন
শব্দভেদী রােষ,
কুঞ্চনের রােষ।
হিল-উচু শু, স্কার্ট-শাড়ীতে,
ট্যাক্সী, বাসে, ট্রামগাড়ীতে,
মেমের সঙ্গে পাল্লা দিতে
দিল ত’ দেখি খােস্।
পাটের ক্ষেতে কঁাদি যারা,
নারীই তারা নােস্।
স্তাবকদলের বন্দনাতে
উচ্ছ্বসিত হিয়া,
গুঞ্জরিত হিয়া
নাগরিকায় পুজে তারা,
পল্লী বিসর্জিয়া,
বিস্মরণে দিয়া ।
তাই বলে কি, মহােৎসবে
তুমিও নিমজ্জিতই হবে ?
নারী জাতির অগৌরবে
অমর্যাদা নিয়া
সজ্জা যদি লজ্জা না পায়,
ধিক প্রগতিপ্রিয়া ।
২১

আমারে দেখিতে চেয়েছে একটি মেয়ে
আমারে দেখিতে চেয়েছে একটি মেয়ে,
বন্ধু, তুমি যে হেসেই আকুল হলে।
এত অবজ্ঞা কোর না আমায় সখা,
বিধিপ্রদত্ত চেহারা বিশ্রী বলে।
আমারে দেখিতে চেয়েছে একটি মেয়ে,
নাকটা আমার না হয় বেজায় খাদা।
আমারে দেখিতে চেয়েছে একটি মেয়ে
বুদ্ধিতে আমি হলাম না হয় হাঁদা।
দীর্ঘ শ্মশ্রু দীর্ঘ গুম্ফ ঢাকা
জাম্বুবানের মতন চেহারাখানি,
নিজের জন্য লজ্জিত আমি নিজে,
তাহার উপরে বােল না কঠিন বাণী
তবু প্রসাধন করি পাউডার মেখে,
তবু টেরী কাটি শণের মতন চুলে,
মেয়ে-কলেজের গাড়ী চলে গেলে পথে,
আশা করি, কেহ ভুলিবে চোখের ভুলে।
সহসা জীবনে শুনিনু প্রথম সখা,
আমারে দেখিতে চেয়েছে একটি মেয়ে।
পরণে তাহার জানি না কি রং শাড়ী,
জানি না সে দেখে কেমন করিয়া চেয়ে ।
বন্ধু, শুনিবে দুঃখের কথা মম ?
সে মেয়েটি যে কে, আজিকে পেয়েছি টের।
দেখিবে না মােরে, একেবারে নেবে দেখে,
সে হ’ল শ্বাশুড়ী আমার ছােট মেয়ের।
২২

যে নারীরে শ্রদ্ধা করি যে নারীরে
ভালােবাসি
১
কাব্যবন্দনায় মাের
তুমি কি ভেবেছ বন্ধু,
দেশে দেশান্তরে
আমি প্রেম করে ফিরি ? বিমুগ্ধ হৃদয় নিয়ে
চলি রঙ্গ করে ?
কোনাে তরুতলচ্ছায়ে, কোনাে নিঝরিণী তটে,
কোনাে কুঞ্জবনে,
তরুণী তন্বীরা যত
আমারে ঘিরিয়া বসে
মৃদু গুঞ্জরণে?
সূৰ্য্য অস্তে চলে যায়,
শুক্লরাত্রি ফুটে ওঠে
শালবীথি 'পরে,
প্রীতি-উচ্ছলিত বাণী গীতি-কাব্যে তুমি গেঁথে
অরণ্য-মর্মরে ?
২
‘আরাে বলল, আরো বলল, আরাে যে শুনিতে চাই,
আরো বলে কথা।
কলকণ্ঠে অনুরােধ,
আঁখিপদ্মে সুকরুণ
কত চঞ্চলত।
বিদায়-মুহূৰ্ত আসে,
ছলােছলো দু নয়নে
অশ্রু সুগভীর ?

অ সি ও ম সী
বিচ্ছেদ-বেদনা-ক্লান্ত
শূন্য তীর পড়ে থাকে
বন্য-তটিনীর ?
উপলব্যথিত গতি স্রোতােচ্ছ্বাসে শােনা যায়
ক্রন্দনের বাণী ?
সেই স্বপ্ন দেখে তুমি
কত কি কল্পনা কর,
জানি বন্ধু জানি ।
হে সখা, রেখো না ক্ষোভ, এ যুগের আধুনিকা
বরাঙ্গনা যত
স্মরণের যােগ্য মনে
করে নাকো কবিদের
পূর্বেকার মত ।
ট্রামে, বাসে, ঘাটে, মাঠে, গিরিডিতে, আগ্রায়,
নীল সিন্ধুতীরে
জলাপাহাড়ের পথে, ত্রিকূটে কি হেদুয়ায়
দেখেও না ফিরে।
শুনিলে মােদের নাম রােমাঞ্চিত হয় নাকো
আনন্দ-আবেশে।
কবিদের অসম্মান,
হায়, এ দেশের মত
আছে কোন্ দেশে ?
৪
কোনাে দিন শুনি নাই, পড়িয়া আমার লেখা
কোনাে উষাকালে
২৪

যে নারী বে শ্রদ্ধা ক রি যে না রীরে ভালাে বা সি পূৰ্ব্ব-বাতায়নে বসি কোনাে নারী ডুবিয়াছে ঘনচিন্তাজালে । সােনালী ও রাঙা মেঘ রৌদ্রে হইয়াছে লীন, নিদ্রিত নগরী ধীরে উঠিয়াছে জেগে, জনারণ্য দুলিয়াছে কলকণ্ঠ ধরি। বহুদূর-বনচ্ছায়া- মৰ্ম্মর, কাকলী তার, তারি প্রতিচ্ছবি, কিছু প্রেম, কিছু প্রীতি, গীতিমাল্যে গেঁথে তুলি, অর্থহীন সবি। ৫ পুরুষ তাহারে কহি, রমণীর রূপশােভ বঁধিবে না যারে, দলিয়া চলিয়া যেতে পারে, ললনার লােভ, সত্য অহঙ্কারে, উচ্ছলিত যৌবনের উদ্দাম গতিরে করে সংযত সহজে, মোহে নয়, আত্মজয়ে চলেছে জীবন যার দেবত্বের খোজে, জানে যে রূপের জ্যোতি আজ যা উঠিল ফুটে, স্নান হবে কালে, আদবের মদিরতা, সােহাগ, অগিত দিনে যাবে অন্তরালে। ২৫

बभि ७ म
H
শুধু একখানি বুকে
একদিন দেবে ধরা,
এক শুভক্ষণে,
শুধু একখানি মালা
দোলাইবে কণ্ঠে এক
জীবনে-মরণে,
শুধু এক হৃদয়ের
প্রেম নিয়ে রবে ভাের,
কভু পথ ভুলে
দূর হতে দূরান্তরে
ছুটে ছুটে চলিবে না
নদী কূলে কূলে।
আমাদের এ জীবন
সেই পুরুষের নয়।
দিন হ’তে দিনে
ভাঙা হাটে হাটে ঘুরি বেলা শেষে চেয়ে দেখি
কি আনিসু কিনে ?
কাহারো খোপার গন্ধ, কাহারো শাড়ীর পাড়,
মাথার কঁাটাটি,
কিছু হাসি, কিছু লিপি, কিছু কথা, কিছু গান,
সেবা পরিপাটি।
হজাবো স্মৃতির চিহ্ন
ভরিয়া রয়েছে মন,
তবু ব্যথাভরে
যে নাৰী কৰিল কবি,
তাৰেই আহত কবি
অকরুণ-করে ।

যে নারী রে শ্রদ্ধা করি যে নারী বে ভালো বা সি
যে নারীর শ্রদ্ধা করি, যে নারীরে ভালােব
তারি ত্রুটিকণা
তােমরা ভুলিয়ে বন্ধু,
আমি কবি সুনিৰ্ম্মম
কভু ভুলিব না।
৮
বিধাতার শ্রেষ্ঠ দান,
নিখিলের স্বপ্নজাল
রমণীয় নারী,
মহিমা চেয়েছি তার,
চাই, শুভ্র যশ থাক্‌
অকলঙ্ক তারি ।
বিলাসের স্রোতে তারে ভাসিয়া চলিতে দিলে,
হতভাগ্য দেশে
যতটুকু সুখশান্তি
এখনাে রয়েছে, বন্ধু,
মিলাবে নিমেষে।
তােমরা চলিয়া যাও, দিগন্ত মুখরি তােল,
স্তবগানে তার।
দেশের দুঃখের বাণী,
আমার লেখনীমুখে
তুলিবে ঝঙ্কার।
যে নারীর শ্রদ্ধা করি, যে নারীরে ভালোবাসি
আজি ঝন্ধাহত
তীক্ষ্ণ বাক্যবাণে তারে প্রণমি, ভীষ্মের পায়ে
অর্জুনের মত।
২৭

অ সি
म मौ
‘দুর্গতিহারিণীরূপে
দুর্গার মূরতি ধরো,
বরাভয় দানে !
রণচণ্ডীবেশে তব
নৃত্যপরা দীপ্তি আজ
ভূমিকম্প আনে।
ভরিয়া সমস্ত দেশ
হে নারী, রহস্যময়ী,
অপূর্ব গৌরবে
অাপন আসনে বসাে,
আমি ধন্য হব, দেবী
তুমি ধন্য হবে।
এ কথা বলিয়া, বন্ধু, ঘ দিয়া ফিরেছি নারী
হৃদয়-তন্ত্রীতে ।
এক সুপ্রভাতে, জানি, উচ্ছ্বসিত হব তারি
বিজয়-সঙ্গীতে ।
আজ রূঢ় সত্যকথা,
অসংযত চিত্র হেরি
হয়েছি অস্থির।
প্রশংসা পাব না বন্ধু,
লাঞ্ছনার নাম সব
‘নারী-বিদ্বেষী’র ।
২৮

দুর আমি আমি জামার কলার দিছি দুমড়ায়ে, হাফহাতা শার্ট পরেছি। কুড়ি টাকা দিয়া চশমা কিনিয়া নাসিকা টিপিয়া ধরেছি। কোচা যে লুটায়ে বাধে পায়ে পায়ে, সাদা স্যাণ্ডাল চরণে। যে মেয়েটি ট্রামে উঠিল, সে বামে চাহিল না বাঁকা ধরণে! মাের আমি মোর দেড়শো টাকার শাল জড়াই সাতাশ টাকার কোটে গাে, ক্যালিকো মিলের দামী মিহি ধুতি জরীদার পাড় ললাটে গো। $ পর ছালের পাম্প শু পরিমু, সােজা টেরী চুল চিরিয়া! যে মেয়েটি বাসে বসিয়া, এ পাশে দেখিল না হায় ফিরিয়া । আমি অামি সাহেব বাড়ীর সুট চড়াই ফেল্টক্যাপ, সাজ মিলাতে। ২৯

का भि ७ सभी
আমি
মোর
টপ টু বটম
সাজিনু যে সাব,
ঘুরিয়া আসিনু বিলাতে।
মুখে সিগারেট,
খাটি ইংরাজী,
বাংলা ভুলিনু ঝ। ক'রে ।
যে মেয়েটি ট্রেনে
হেরিল না মােরে হাঁ করে ।
ওঠে জংশনে,
৪
আমি
অামি
সামারকুলের
শ্রাদ্ধ করিনু,
পুলওভার সাৱা পরিয়া,
মােটর হাঁকায়ে, ঘড়টি বাঁকায়ে
চাল দিনু শেষ করিয়া ।
হায় অদৃষ্ট!
কারো অনিষ্ট
হল না প্রেমের ব্যাপারে !
ভাগিরথীমুখে, নিয়ে থেলো হুকে।
টানি, ঢেকে মাথা ব্যাপারে ।
আজ

কলেজের ছেলে কলেজের মেয়ে
কলেজের ছেলে, কলেজের মেয়ে, দিব্য আরামে থাকো।
তােমাদের দেখে ঈর্ষা করিলে, দুঃখিত হয়ো নাকো।
ভাবনাবিহীন দিবস-রাত্রি, খুসির আমেজে ভরা।
নূতন প্রেমেব আভাষে রঙীন, স্বপন-মধুর ধরা!
নাহি ত চিন্তা অর্থের তবে, চলে আসে মাসে মাসে।
সন্ধ্যার ঝোঁকে উড়ে চলে যাও ডবল-ডেকাৰ বাসে ।
নগরীর যত সুখ
তামাদের কৃপাদৃষ্টি লভিতে হয়ে আছে উন্মুখ ।
সমুখে রয়েছে ভবিষ্যতের আলো-ঝলমল আশা।
রাজা বাদশার সম্ভাবনাই মনে বাঁধিয়াছে বাসা ।
এখন পেয়েছ বাতাসে আকুল দক্ষিণ-খােলা ঘর,
সেরা দাম দিয়ে সেরা প্রসাধন করিছ অতঃপর ।
ফার্পে, পেলিটি, চাঙোয়, এবং চায়ের দোকান যত,
নিউ মার্কেট টকি, থিয়েটাৰ, সবি করতলগত !
সখ করে দল বেঁধে,
চলে। বোটানি। সােদপুবে কালো বাগানেতে খাও বেঁধে
যে দিবসগুলি পেয়েছ আজিকে নির্ভাবনায় ঘিরে,
জমিদারী আর জজীয়তীতেও পাবে না তা আর ফিরে ।
আমাদের দিন কাটিয়া গিয়াছে, তােমাদের দেখে কঁাদি।
তোমাদের দিন কেটে গেলে, সুর ধরিবে এমনি বাঁধি'।

অ সি ও ম সী
অভিজ্ঞতার কষ্টিপাথরে এ শিক্ষা হ’ল কসা,
বাঙালী জীবনে কলেজ লাইফ বৃহস্পতির দশা।
যতদিন বেঁচে রবে,
এমনটি সুখ, এতটা ফুর্তি, কখনাে আর না হবে।
কত কি কিনিছ ছবি ও কাগজ, কত কি দেখিছ খেলা,
গড়ের মাঠের মত প্রাণ,-নাই সরিষা ফুলের মেলা।
টিনের দালানে, খড়ের কুটিরে, যে টাকা জমিয়া ওঠে,
ট্যাক্সি ও ট্রামে, প্রেজেন্টেশনে, ভাই অপাত্রে ললাটে।
ভালো আছ বলে হিংসা হলেও, দুঃখ ও বুকে জাগে,
দেহমনধন-অপচয় হেরি মরমে আঘাত লাগে।
বাঙালীর ছেলে মেয়ে,
তোমাদের পিতামাতার সঙ্গে দেশ আছে মুখ-চেয়ে।
দুলে দুলে আজ চলে যাও পথে, জীবনটা নয় দোলা।
অবহেলা ভরে ছড়াইয়া যাও চীনাবাদামের খােলা।
ধুতি শাড়ী আর পাদুকা-বাহার,আহারেতে রাজকীয়,
বােহেমিয়ানের উচ্ছ,ঙ্খল জীবন এতই প্রিয় ?
যে দিন সাঙ্গ হবে পড়া, ট্রাঙ্ক, বাক্স, বেডিং সাথে,
চলে যেতে হবে, ফিরে যেতে হবে, মাটি ভরা আঙিনাতে।
ছাউনীতে ঠেকে মাথা,
প্রাসাদ সমান হােষ্টেল স্মরি, ভিজিব চোখের পাতা।
এই রাজধানী, এ তােমার নয়, অবাঙালী-দল-করে ।
কি করেছ পণ তাহারে তােমার করিয়া আনার তরে ?

ক লে জে র ছে লে ক লৈ জে র মেয়ে
যত প্রবাসীর হৰ্মমালায় তােমার আবাস চাপা।
সেই তাহাদেরি অধীনে তােমার ভিক্ষাপাত্র মাপা।
এ তােমার নয়, তােমার কেবল রূপালী নদীর পারে,
শ্যাম-ছায়া ঢাকা গ্রামটি, ঝলে যা ভােরের অন্ধকারে।
দুঃখ ঘুচাতে তারাে,
কলেজের ছেলে, কলেজের মেয়ে, বলো কি করিতে পারো।

ক্যালকেশিয়ান
কথায় যাহার তুবড়ি ছোেটায়, হুজুগে যাহারা মাতে,
অফিসে খাটুনী ছাড়া, মেহনৎ সহে না যাদের ধাতে,
মুখে সিগারেট, চরণে লপেটা, দাড়াইয়া যায় ট্রামে,
ধােপ-দুরস্ত পাঞ্জাবি গায়ে, চায় দক্ষিণে বামে,
একলহমায় চিনিবে তাদের, দেখিতে শিখেছ যারা,
অদ্ভুত চী—এ কলিকাতার ‘ক্যালকেশিয়া’ তারা।
বাঁকুড়া, বগুড়া, ঢাকা, কি কটক, পাটনা, চাটগাঁ, উলল,
যে দেশেরি হােক্ কেবল হলেই বাঙালী কতকগুলাে,
এ সহরে কেনা বালাম চালের দানাটি পড়িলে পেটে,
ফকিরি দেওয়া কলের জলেই সব দোষ যাবে কেটে।
সেলুনের ক্লিপে মসৃণ ঘাড়, মুদ্দাফরাস পারা।
কলকাত্তাই ভাষা শিখে হবে ‘ক্যালকেশিয়া’ তারা।
দুলিয়া দুলিয়া চলিবে তখন হাসিবে মেয়েলি ধাঁজে,
ছাপা-শাড়ী পরা তরুণী হেরিলে, থামিৰে পথেরি মাঝে।
গায়ে যারা চলে মাথা নীচু করে, হেথা যায় গায়ে ঢ’লে,
‘ফরওয়ার্ড’ মন, ‘অনওয়ার্ড’ গতি, ‘ক্যালকেশিয়া’ বলে ।
চেনা যায় না কো কোনটা পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র কারা।
ধুতি ট্রাউজারে সকলে সমান, ক্যালকেশিয়ান’ তারা।
ঝুমকো দোদুল দোলে, বুলবুল-কণ্ঠে আলাপ করে,
স্যাম্পুতে চুল রুক্ষ, বাতাসে মুখে উড়ে এসে পড়ে,
৩৪

ক্যা ল কে শিয়া ন
শাড়ীর পাড়ের রংএর ব্লাউস, কান কেশ-পাশে ঢাকা,
চপ্পল চলে টেনে টেনে, যেন চলনই তাদের বাকা !
মুখপানে চেয়ে না দেখিলে রাগে, দেখিলেও রেগে সারা,
বন্ধুর সাথে চলে ফুটপাতে, ‘ক্যালকেশিয়া তারা।
সুতানুটি আর গােবিন্দপুরে যারা বেঁধেছিল বাসা,
কজন তাহারা? পনেরাে লাখের জনতায় কোণঠাসা ।
এলো মাড়ােয়াড়ি, ভাটিয়া, উড়িয়া, বেহারী ও মাদ্রাজী,
এলাে পাঞ্জাবী, এলাে চীনাম্যান, লুটিয়া লইতে বাজী,
তাহাদেরি সাথে ভাঙি দুই হাতে সাতপুরুষের ধারা,
দেশ ছেড়ে যারা জমে গেল হেথা, ক্যালকেশিয়া’ তারা।
গায়ে ঘরে ঘরে প্রদীপ জ্বলে না, ম্যালেরিয়া চলে নেচে,
আলােকোজ্জ্বল সিনেমার ‘হল সে স্মৃতি মুছিয়া দেছে।
কে দেখে চণ্ডী-মণ্ডপ, আর কে রাখে কাহার ভিটা?
সাপ-ব্যাং-বিছে, কোনাে ভয় নেই, ভালাে চৌরঙ্গীটা !
চলো চাঙায়ায়, সােডা ফাউন্টেন, মেট্রোয় পথহারা
হয়ে ঘুরে দেখাে, ভিড় করে যারা, ক্যালকেশিয়া’ তারা!

পতিত বাঙালী জাতি তােমারে না যদি করি খােসামােদ, “স্যার স্যার’ নাহি বলি, খাঁটি সরিষার তৈল আনিয়া চরণে না দিই ডলি, ধামাটি তােমার না ধরি দু-হাতে, তুড়ি নাহি মারি হাই-তােল সাথে, লাগাই ফঁাস জুতার ফিতাতে, করে না কাণ মলি, তবে কি আমার আশা নাই আর ? এমনি কি ঘাের কলি। গুণের আদর নাহি কি বদর, কুষ্ঠিতে তব লেখা। নিজের নামের গুণকীর্তন- শ্রবণই কি হ’ল শেখা ? শুনিবে কি শুধু তুমি রাজালােক, তুমি দরিদ্র অনাথপালক। যদিও কঁদিছে ভিখারী বালক নিয়ত দুয়ারে একা। সােনার গাধারে কে শিখাতে পারে ? চলনই যে তার ‘বেকা।

প তি ত বা ঙা লী জাতি
আর কত কাল খুসির খেয়াল
চলিবে এমন ধারা ?
আর কত দিন বুদ্ধিবিহীন
ছুটিবে পাগল পারা ?
আফিসে আফিসে বড় বড় কাজে
রাষ্ট্রে, ধৰ্ম্মে, সভায়, সমাজে,
অযােগ্য জন যােগ্যের সাজে
হাসিবে তক্‌মা-মারা।
চরণ-লেহনে বড় যার হল,
গুণের কি জানে তারা ।
খাঁটি সরিষার সুরভি তােমার
রয়েছে জীবন ঘিরে,
আভূমি সেলাম, জানাে তার দাম,
তাই তুমি চাও ফিরে।
তীর্থে, কৰ্ম্মে, বিদ্যায়তনে,
ব্যবসাক্ষেত্রে, নট-নিকেতনে,
লুটায়ে প্রণাম বিনয়ে যতনে
চলিছে দ্রুত ও ধীরে,
জন্মের শোধ সম্ভ্রম বােধ
ডােবে জাহ্নবী-নীরে।
উঠিল যে জন উচ্চ শিখরে,
মনে হয় কহি ডেকে,
কত তােষামােদ করেছ বন্ধু,
যৌবনকাল থেকে ।
৩৭

অ সি ও ম সী
হাসি পায় নাই, তবুও হেসেছ
ভালােবাসো নাই, তবুও বেসেছ,
গুণগার দিয়ে সকলি ঠেসেছ
উপরিওলার টেকে।
আজ প্রয়ােজন নাহি পুরাতন
সে কাহিনী উল্লেখে।
মিথ্যা শিক্ষা, মিথ্যা সাধনা
জাগিয়া দীর্ঘ রাতি,
অযােগ্যতার মােসাহেবী যবে
সার্থকতার সাথী ।
মিথ্যা সত্য সাধুর জীবন,
মিথ্যা আত্মসম্মান-পণ,
সংযত বাণী, পবিত্র মন,
সচ্চরিত্ৰ-খ্যাতি,
তােমােদে যবে বাঁচে গৌরবে
পতিত বাঙালী জাতি।

ছুটিতে
বাঙালীরা আজ ছড়ায়ে পড়েছ
দেশ হতে আর দেশে।
চলে গেছ, যেথা সিন্ধু সুনীল
দিত্মণ্ডলে মেশে।
চলে গেছ, যেথা অভের হার
ঢাকে দুর্গম শৃঙ্গ-তুষার,
চলে গেছ, যেথ নদী-মেখলার
রজত-দীপ্তি ঝলে।
দীর্ঘ শুভ্র মন্দির ছায়ে-
তীর্থ বেদীর তলে।
হাজারিবাগের কেনারি পাহাড়ে,
রাচী-মােরাবাদি-হিলে,
উস্ত্রীর পারে হরিতকী বনে
কাকলী ছড়ায়ে দিলে।
তাজমহলের চত্বর 'পরে,
দেখি তােমাদের লােক নাহি ধরে।
যাও জয়পুরে, রঙীন নগরে,
অম্বরে চল ছুটে।
ভাঙাগড়া-রাশি দেখ পাশাপাশি
কুতুবমিনারে উঠে।
৩৯

অ সি ও ম সী
বৃন্দাবনের কূলে কূলে ঘাের
মধু-কাননের লােভে।
পুরী-তটে বসি দেখো ওঠে শশি,
রবি ডুবে যায় ক্ষোভে।
ষ্টিমারের ডেকে পদ্মার বুকে,
বদ্ধ তােমার আঁখি
সম্মুখে,
ছল ছল জল হাসে
গােয়ালন্দের ছবি
মিলাইয়া গেছে। দখলে পেয়েছে
নদী নয়-ভৈরবী ।
কৌতুকে
পথ হ’তে পথে, গ্রাম হতে গ্রামে,
দেশ হতে আর দেশে,
আমার বাঙালী চলেছ ছুটিয়া,
শরৎ এসেছে ভেসে।
তােমাদের হাসি, তােমাদের গান,
তােমাদের প্রীতি, তােমাদের প্রাণ,
নির্জন-পুরে করিয়াছে দান
নব সুষমার ধারা।
চলে যবে যাবে, কঁাদিয়া শুধাবে
কোথায় কোথায় তারা।
কোথায় সে শাড়ী রঙে ঝলমল ?
কোথা উচ্ছল বাণী ?
কোথা সুমধুর মায়াভরা সুর।
বায়ু কবে, নাহি জানি।
৪০

ছু টি তে
কঁদিবে বিন্ধ্য, বারাণসী-তীর,
মধুপুর, পুরী, কঁদিবে গভীর
পল্লী কুটীর, তরু বনানীর
কঁদিবে মােহের ঘােরে।
পেন্স রূপরস মহানগরীর,
ভুলিবে কেমন করে ?

។
*
মহাপুজা
1
পুজো এল তােমার কি তায়? পুজো তােমার নয়।
আমার ত’ ভাই পুজোর আমােদ মিথ্যে মনেই হয় ।
মাত্র বারােদিনের ছুটি বেশী লােকেই পাবে ।
বােনাসও নেই, কোন্ বিদেশে চেঞ্জে কোথায় যাবে?
চারটি দিবস ছুটি কারুর, হয়ত তারি ফঁাকে
এক্সট্রা কাজের জন্যে আপিস যেতেই হবে তাকে।
পূজোর আমােদ করবে কখন ? দেখবে কখন চেয়ে
আপন দেশে এসে গেছেন গিরিরাজের মেয়ে।
ক্যানিংটে, ক্লাইভষ্ট্ৰীটে ঝন্ঝনিয়ে বাজে
টাকার তােড়া। তাদের দলে তােমায় দেখি না যে।
সার বেঁধে ‘কার’ দাড়ায় যেথায়, সেথায় তুমি নেই ।
হারিয়ে গেছ হাওড়া ব্রিজে ভিড়েরি মধ্যেই।
কলেজষ্ট্রীটে কাঁচের কেসে পাশী শাড়ীর ঝেকে
বন্ধু, দেখি দাড়িয়ে আছ অশ্রুভরা চোখে।
ছেলের কাপড়, মেয়ের জামা এবার হবে না ত’!
পারাে যদি, চৌমাথাতে হাত দুখানি পাতো।
শ
একটি কড়াও পড়বে নাকো, দুপাশ দিয়ে ঘেঁসে
ফুলবাবুরা এগিয়ে যাবে গল্প করে হেসে।
কলেজ তাদের বন্ধ হ’ল, ফৰ্ত্তি তাদের ভারী।
বড়লােকেরমােটর যাবে, যাবে ফীটনগাড়ী।
।
*
৯।

৩ ম হা পূজা
T
তুমি থাকো অন্ধকূপে, ভাঙা বাড়ীর কোণে।
তােমার কথা এমন দিনে পড়বে বা কার মনে?
ক’জন আছ ? সংখ্যাবিহীন ? নিজের হাতেই বাঁধে?
রুগ্ন বধুর সেবা করাে, পুজোর দিনে কঁাদো ?
কসেশনের লােভে যারা দিগ্বিদিকে ধায়
তাদের দলে ভিড়বে? আছে রয়েল ক্লাসই হায়!
বেরিয়ে এলে কেন হঠাৎ ? বেরিবেরির চাপে ?
লাঠি-লােটা-গাজার গন্ধ খৈনিতে প্রাণ যাবে।
তবুও যদি বেঁচেই থাকো, বোঁচকা বেডিং নিয়ে
শেষটা যদি উঠতে পারে। গিরিডিতেই গিয়ে,
খবর শুনলে ভয় পেয়াে না, একশাে জনের আয়ু
ঐ বাড়ীতেই ফুরিয়ে গেছে! চমকে গেল স্নায়ু ?
করবে কি আর? ঐ টাকাতে কোথায় ভালো বাড়ী ?
সারতে হবে । সন্ধ্যে হ’লবেরােও তাড়াতাড়ি।
মাঠের শেষে সূর্য ডােবে, উত্রি নদী বাঁকে,
হওঁকী-বন পায়ে-চলার পথের ছবি আঁকে,
দুরে পুজোর বাজনা বাজে, সার বেঁধে যায় মেয়ে।
তােমর ছেলে খেলে বেড়ায় বালির পরশ পেয়ে।
ঝিঝিরে ঐ নদীর বুকে, কান্না কিসের জাগে ?
সেরে তােমার নিতেই হবে বারো দিনের আগে।
গিন্নী তােমার জোর পেলে কই? চলতে গেলে ভাবে?
দিন সাতেকের ছুটি কি আর কোনােক্রমেই পাবে ।
চাকর্মী যাবে ? ফিরেই চল ! রেখেই না হয় যাও।
৪৩

छ भि ७ चौ
।
এমনি ফেলে চলল সবাই। খাঁচতে যদি চাও
এ ছাড়া আর উপায় কি আর ? ‘দয়াল’কে কি চেনাে?
এমন দিনে সেই অজানার নামটি মনে এনাে।
মেয়ে তােমার দাড়িয়ে থাকুক, পত্নী দেখুক চেয়ে,
এগিয়ে চলাে। ঝরুক না জল গাল দুখানি বেয়ে।
ট্রেন চলেছে। রুক্ষমাঠে শাল পিয়ালের বনে
চেয়েই আছ। কোন্ ছবিটি জাগছে তােমার মনে।
রুগ্ন পরিবারের স্মৃতি? ক্লান্ত করুণ দিঠি
বন্ধু, তােমায় ছাড়তে হবে সেন্টিমেন্টালিটি।
যেথায় বিপুল সমারােহে চলছে বেচা কেনা,
সেথায় মােরা কেরাণী দল বাড়িয়ে চলি দেনা,
মলিন মুখে চেয়ে থাকি পরাজয়ের ঘােরে,
পুজোর দিনে ভুলের বােঝা ভুলব কেমন করে ?
সেই গিরিডি-শেলেট নদী, পড়বে মনে সবি,
জাগবে মেঘচ্ছায়ার মতন পরেশনাথের ছবি,
কালো চাদর বিছিয়ে আছে হাজারিবাগ রােডে ;-
সেসব কথার আলােচনা চলচে না ত বাের্ডে ।
ডিরেক্টররা ব্যস্ত ভারী, হিসাবপত্র নিয়ে,
আনাে লেজার, বঁাধে ফাইল, শরীর ভেঙে দিয়ে।
হঠাৎ তােমার ডাক পড়েছে। কাপছ কেন অত ।
রিডাকশনে নাম উঠেছে। বেলা এখন কত ?
অন্ধকার কি দেখছ চোখে ? সন্ধ্যে নয়কো মােটে।
এই ত সবে চারটে। একটু দাড়াও দেখি হ'টে
৪

ম হা পূজা
জুতাের তলায় ও কি কাগজ ? মাথায় ঠেকাচ্ছ যে?
লালকালীতে শ্রীদুর্গা নাম ? মিথ্যে হ’ল ও যে।
সেই বেটি কি করলে দয়া? তারি পুজোর নামে
আনন্দে বুক কাপে তােমার, শরীর তােমার ঘামে।
লক্ষ চোখের জল ঝরে যে,-মনে কি সুখ হয় ?
যাদের পূজো তাদের পুজো, তােমার আমার নয়।
৪৫

।
কুৎসিৎ কুৎসা
কুৎসিৎ কুৎসার উৎস-ভূমি
জুজুৎসু পঁাচে কাৎ করিবে তুমি ?
ব্যর্থ সে অভিযান, চেষ্টা মিছে।
কুৎসা মহোৎসাহে উচ্ছ্বসিছে।
চরিত্র-বলে তুমি অপরাজেয় ?
কুৎসা করিয়া দিবে ঘৃণ্য, হেয়।
মিথ্যার পশরায় মুখে ও মুখে,
পত্রিকা মারফৎ চলিছে সুখে
কুসার কারবার, তারিফ করো।
আক্রমণেই তার হবে যে বড়।
বন্দিত জনই হয় নিন্দিত যে !
কুৎসা চলে না হীন-জনেরি খোঁজে।
উচু মাথা নীচু করা কারচুপি তার।
অন্যায় আদালতে বিশ্রী বিচার।
ধন্য গাে ধন্য সে, জীবন-পথে
কুৎসা এসেছে যার সঙ্গী হতে।
t
ঝক্ষার অবসানে রেঞ্জ-করে
ঝলিবে মহত্তম গর্বভরে।
১
৪৩

কু ও সি - কু সা
বিষাক্ত নিঃশ্বাসে পড়িবে ঢলে
অযোগ্য, চলে যেবা যােগ্য বলে।
কুৎসার জুৎসই উৎবেতে
দুর্ভাগা সারা দেশ উঠেছে মেতে ।
জলবিছুটির পাতা রঙ্গে চুমি,
কুৎসা মুখর করে বঙ্গ ভূমি।
সুন্দরী, নিখিলের বন্দনীয়া,
পয়ঃপ্রণালী থেকে গন্ধ নিয়া,
এসো পল্লীর যত বখাটে দলে,
পঞ্চায়েতের পাশে, মফঃস্বলে,
সহরের আখড়াতে, আড্ডা-ঘরে,
চায়ের দোকানী ডাকে সমস্বরে,
বারলাইব্রেরী আর মিশনে, ট্রামে,
কুৎসা, তােমারে চাহে ডাহিনে বামে।
পষ্ট কথায় এসাে লোকের মুখে,
ইঙ্গিতে এসে সখী, বইয়ের বুকে,
চোখ-ইসারায় এসে তৃপ্তি দিতে,
অভিজাত-ঘরে এসে চাপা হাসিতে।
শিক্ষিত জনগণ জাগিয়া ওঠে,
দিনে দিনে মানব ধূলিতে ললাটে ।
৪৭

অ সি ও ম স
আসিছে এমন কাল বাংলা দেশে,
তােমারে চলিতে হবে পথের শেষে।
রুচি-পরিবর্তনে সকলকারি
উৎসাহ, কুৎসার দমিবে ভারী।
সেই শুভ-প্রত্যুষে দীপ্ত-রবি
দেখিবার আগ্রহে, ব্যস্ত কবি।
৪

অসময়
( দুপুরে)
স্বামী-নাই খোপাটি, সখি, নাই খোঁপা।
স্ত্রী—এখন স্যার রাখাে, এসেছে ধােপ।
স্বা-ঝুমকো দোদুল দোলে, প্যাটার্ন ভালো ।
স্ত্রী—দু দিনে কাপড় জামা হ’ল কী কালো।
স্বা-চুর্ণ-অলক ওড়ে ললাট ঘিরে ।
खौ দিলুম নতুন শাড়ী, হারাবি কি রে ?
স্বাগতির ভঙ্গিমাটি ছন্দ যেন!
স্ত্রী--ভত্তি
-ভৰ্ত্তি দুপুর বেলা রঙ্গ কেন ?
( রাত্রে)
স্ত্রী- রাত যে অনেক হ’ল, শােবে না না-কি ?
স্বা–সায়েব দিয়েছে কাজ, চুকিয়ে রাখি।
স্ত্রী- আকাশে উঠেছে চঁাদ ছবির মত।
স্বা--কোথায় লিখেছে কী যে ! মুখু যন্ত।
স্ত্রী-বসেছ সন্ধ্যে থেকে। হয় নি সারা।
স্বা—এখনো ন-পাতা বাকী ? যাব যে মারা।
স্ত্রী-মিষ্টি হাওয়াটি । পাতি শীতলপাটি।
স্বা-ঐ যাঃ, করেছি ভুল !
হযেছে মাটি
।

রােগা হওয়ার মুষ্টিযােগ
বাংলা দেশের ধনী লেখক
জগচ্চন্দ্র খাস্তগীর
ভীষণ রকম যত্ন যখন
নিতে লাগলেন স্বাস্থ্যটির,
তখন হঠাৎ বেড়ে গেল
বেড়টি তাহার উদরের,
মূর্তিটি তঁার হ’ল ক্রমে
চলন্ত এক ভূধরে।
অল্প করলেন পরিত্যজ্য,
দুটি বেলায় পাঁচখানি
রুটি খেয়েও, কমল না তার
বুকের পেটের খাজখানি ।
ফল দিলে না এক্সারসাইজ,
মুগুরে ডন বঠকীতে,
ফল দিলে না ফলাহারেও,
শেষকালে এক ঘীতে,
ঘটুকী বলে তুচ্ছ নয় সে,
ভীষণ পাড়া-বেড়ানী,
বললে, বাবু রােগা হবেন ?
হােন্ না কেন কেরাণী

রাে গা ই ও য়া র মুষ্টি যােগ
দশটা পাঁচটা খাটুতে হলেই
আপসে যাবেন চুপসে যে !
মেয়ের বাপের দশা দেখে
জ্ঞান পেয়েছে খুব সে যে !
জগন্দ্র ভাবলেন মনে
যুক্তিটা খুব মন্দ না।
সত্যি রােগ হতে পারলেই
সফল হবে যন্ত্রণা।
কাজ হ’ল তাঁর লেখা তখন
Being given to understand !
হঠাৎ চাকরি দিয়ে ফেললে
দিশি আপিস, থাণ্ডার ব্র্যাণ্ড!
এককড়ি তার ছােটবাবু,
বলে ফেললে জোড়হস্তে
‘কবির সঙ্গে আলাপ, ভাগ্য!
গুডমর্নিং, না, নমস্তে!
ভেবেছিল, বাবুর সঙ্গে
যাবে বােধ হয় মাছ ধর্তে ।
বলে গেল, শুলে যখন
এসেছে সে কাজ কর্তে !
বড়বাবু চাকরি দিলেন,
ছােটবাবু বধ করে,
প্রতি-নমস্কার না করে
এখন কেবল নড় কার !

অ সি ও ম সী
হুকুম করে, ভুল ধরে সে,
অপমানের চূড়ান্ত।
অফিস সুদ্ধ সকলকারি
বাপান্ত আর খুড়া।
তৈলদানে কেদাসীন,
কণ্ঠে দারুণ রুক্ষতা,
সাহেব সেজে, চীৎকারে, সে
চায় ঢাকিতে মুখতা।
আইন করে, ফাইন করে,
বলে, ‘সবাই সিধা হও।
লেখক জগচ্চন্দ্র বলেন,
‘হে ধরণী দ্বিধা হও।
দিনে দিনে সাহিত্যিকের
মজ্জা ও মেদ কুহে!
তাড়া লাগায় সাব-অফিসার
দগ্ধ বদন মুখুয্যে !
এন্টেন্স কোর্স, চরিয়ে বেড়ায়
গাচারেক বি-এ পাস।
বলে, “মশায়, লেখা পড়া
শিখলেন বুঝি দিয়ে ঘাস ?
তিরিশ বছর করছি চাকরি,
কাজে সবার ঠাকুর্দা।
দগ্ধ বদন, বাড়ীটা তার
ঝাকড়দা না মাকড়দা।

রাে গা হ ও মা । মুষ্টি যােগ
বড় বাবুর ভাইপাে এবং
ভাগ্নে এবং শাসকরা,
খােনাই এবং বেহাই এবং
গ্রামের যত বালকরা,
অফিস ছেয়ে বসে আছে-
পারিবারিক দপ্তরে,
বড়বাবুই মালিক যখন,
বলবে কে কি খপ করে ?
বঙ্গভূমি নিত্য সহে
মামার বাড়ীর আলাদই।
সস্তা হেথায় উল্টো-গণেশ,
সস্তা হেথায় লালবাতি।
জগচ্চন্দ্র দেখেন, এবং
ফেলেন শুধু নিঃশ্বাসই।
ভাবেন, সারা ভারতবর্ষে
নেই কি বেশী বিশ্বাসী।
নির্ভরতার নেই তুলনা,
আমরা ভাবি সকলকে
পরম সাধু! খোজাখুজিব
সইতে যাবে ধকল কে ?
বাঙালী আর অবাঙালী,
সবাই মিলে ভাগ করে
কলকাতাকে ঠকিয়ে নিলে,
আমরা বসে, রাগ করে ।

অ সি ও ম সী
এই ধরণের প্রবন্ধ এক
জগচ্চন্দ্র যান লিখে।
একাগ্র তঁার মনটি তখন,
মগ্ন যেন আহ্নিকে।
দগ্ধবদন দেখে ফেলে,
এককড়িকে দেয় খবর!
বৃদ্ধ ঘুঘু, কালাচারা,
ভাবে, ব্যাপার বেশ জবর।
পরের চাকরী গেলে, খুসি
হয় না বলে কোন্ জনা ?
দেখতে সবাই ছুটল শ্ৰীমান্
জগচ্চন্ত্রের গঞ্জনা।
‘ছােট সাহেব ডাকছে’ নয়ক’,
‘সেলাম দিয়া” পিয়নটা
বললে যখন, ভাবেন জগৎ
যায় যদি যাক্ জীবনটা !
আজকে সােজা স্পষ্টকথা,
দশটা আটটা ঠায় খাটা,
রবিবারেও আসা, কামাই
হলেই, যে রােজ যায় কাটা,
এমন চাকরী নাইবা থাকুক,
ফ্যাক্টরী-রুল চলবে না।
কুলীর চেয়েও বেহদ্দ কাজ ।
কেউ ত’ কিছু বলবে না।
৫৪

মােগা হ ও য়া র মুষ্টি যাে গ
ঘােট সাহেব বললে, ‘মশায়,
ডিসিপ্লিনটা শিখুন গে ।
গদ্য পদ্য লিখতে হয়ত
বাড়ী গিয়েই লিখুন গে !
জগচ্চন্দ্র বসলে, ওহে
ছোকরা, তুমি নিতান্ত
ফাজিল দেখি, দুঃশাসনে
আমি তােমার কৃতান্ত।
সবাই হঠাৎ চমকে ওঠে।
ছাড়বে ও আজ চেয়ার কি ?
প্রবল প্রতাপ ছােটবাবুর
সঙ্গে চালায় ‘এয়ারকি’!
জগচ্চন্দ্র বলেই চলেন,
‘রইল দোয়াত, কলম নাও।
গাট্টা দিয়ে করছি ক্ষত,
ধীরে সুস্থে মলম দাও!
‘গরীব । মা, দুঃস্থ
তাদের ওপর চাপ-মারা ?
শাস্তি তারি রইল তােল
গর্দভস ছাপমার!
এই না বলে, দুলকি চালে
বেরিয়ে গেলেন ফুর্তিতে।
আজকে তিনি হকা মানুষ,
ছিপছিপে এক মূর্তিতে ।

ब मिल
म मौ
( নীতিবাক্য)
চর্বিভরা অঙ্গ যাদের,
কষ্ট করেই চলতে হয়,
ক্লার্ক সাজে ত’ ‘হম্ভীমার্কা
একটি মাসেই ‘শতে হয় ।

শিক্ষ
লাল ভেলভে-মােড়া কুশন চেয়ারখানি
রিজার্ভ করিয়াছিনু আগে,
ওমেগা চলিতেছিল কারেক্ট টাইম রেখে,
দেখিনু কতক্ষণ লাগে,--
বালীগঞ্জ প্লেস হতে, আমার ফিয়্যাটু কারে
মেট্রোয় দশটি মিনিট ।
অনেক সময় আছে।-বন্ধু হঠাৎ এল,
এবারে সে হয়েছে ‘ডি-লিটু।
বলিল, ‘নাই বা গেলে, এমন সন্ধ্যাবেলা
এসো না গল্প করি বসে।
কহিমু, ‘
কাকে হবে, গ্রেট জীগফীল্ড ছেড়ে
ডুবিতে চাহি না আফশেষে।
পিসিম বলেন, “ওরে, আমাকে পৌছে দিবি
শালকে দেওরপাের বাড়ী ?
খবর পেলুম, তার সব-ছােট ছেলেটার
অসুখ করেছে নাকি ভারী।
কহিনু, ‘আজকে নয়, রয়েছে ভীষণ তাড়া,
কাল কি পরশু যেতে পারে।
আমার সােফার নেই, নিজেই হাঁকাতে হবে,
কে যেন পড়েছে আজ তারে।।

অ সি ও ম সী
‘ললাে মজুমদার’ হঠাৎ ফোনেতে ডাক
যার, মনােলােভ রূপ তার,
“বাড়ীতে থাকুন ব’সে, এখনি আসছি আমি”
গলা মিস্ শােভা গুপ্তার।
সন্ধ্যা কাটিয়া গেল বৃথাই আশায় চাহি,
এলাে না ত’ ক্যাডিলাখানা।
নিজেই করিনু রিং, শুনিনু, বাহিরে গেছে
কোথায়, কারুরি নেই জানা।
বন্ধু চলিয়া গেল লাহােরে পরের দিন,
গল্প হ’ল না আর সারা!
পিসিমা খবর পেলে, দেওরপােটির ছেলে
হঠাৎ সকালে গেছে মারা।
টিকিট কিনেও কাল দেখা যে হ’ল না ছবি,
দুঃখে বলিনু তা-ই ফোনে,
এপলজাইস্।” “প্লীজ শুনিনু ওধার থেকে,
“মােটেই ছিল না মাের মনে।”
‘যান্ নি ভালােই হ’ল। স্যাভেজ ইণ্ডিয়ান’
তাইতে বলছে কোনাে মেয়ে,
পরনে বলতে গেলে যাদের কিছুই নেই,
তারাই যায় যে নেচে গেয়ে ।
ফিপটি ল্যাই যারা বছরে আদায় করে,
তারাই ফিরিয়ে দেবে গালি ?
লজ্জাহীনার শেষ, তাদেরি সভ্য বলি ।
তাদেরি তারিফ করি খালি।
৫৮

শি না
তখন ভাৰতে বসি, বাংলাদেশের মেয়ে,
যতই বাচাল হো না সে,
তবুও অনেক ভালো, নকল করতে গিয়ে
মাত্র বিপদ নিয়ে আসে।

চাকুরীগতপ্রাণ
কারবার করা? আরে রাম রাম ।
কারবারীদের খাতির আছে ?
ঘুরে ঘুরে মরো, খোসামােদ করে
রাম-শ্যাম-যদু-মধুর কাছে।
রােদে পােড়, শীতে কাঁপে, জলে ভেজো,
পাওনা টাকার তাগাদা করে ।
ফোনট মাসে এলো। দুশাে, কোনাে মাসে
হাপিত্যেশেই রইলে পড়ে।
কোনাে মাসে ভােজ, কোনাে মাসে ‘কচু’!
ওঠা আর পড়া লেগেই আছে।
বেশী দেনা হলে জেলে যেতে হবে,
পালিয়ে বেড়াও, ধরে বা পাছে।
f
তার চেয়ে ভালো বাঁধা-মাইনেটি,
সােনায় সােহাগা, বেশীই হলে।
কমই যদি হয়, তবুও তা ভালাে,
ফিক্সড ইঙ্কাম কমে না বলে।
মাথার ওপরে পাখা ঘােরে, জ্বলে
দিনের বেলাতে বিজলী-আলো।
সিড়ি-ভাঙা নেই, ‘বেঙ্গ’ দিলে লিফট
তুলে দেয়, কার না লাগে ভালাে ।
4;

চা কু রী গ ত প্ৰা ।
‘ঘন্টি মারিলে বয় ছুটে আসে,
করা ফরমাস, যে যত পায়ে ;
বাড়ীতে বেয়ায়া নেই যার, দেখ
হুকুম করার কায়দা তারও।
কাগজ, কলম, পেন্সিল, নিব,
পি, ক্লিপ, কালী, চাইলে পাবে।
খসখস-ঢাকা ঠাণ্ডা ঘরটি,
গরমের দিনে কোথায় যাবে ।
কামাই করিলে চটে বড়বাবু,
কাজে ভুল হলে বস্ যে রাগে,
হয়ত খিচোয়, চ'লে যেতে বলে,-
ক্রমে স’য়ে যায়, কিছু না লাগে।
মাস গেলে পাও বাধা মাইনেটি,
করে বাবুয়ানী, ‘সায়েব’ সাজে।
কড়া কথা যদি সহিতে না পারাে,
করে। সরকারী, বাসন মাজে।
স’য়ে যদি যাও, তৈল খরচ
করে যদি যাও, সবুরে ফলে
মেওয়া কি রকম। দেখে নিয়ে দাদা,
বাড়ী করা হয়, গাড়ীও চলে।
ধাঁধা-মাইনের সাধ যে আরাম,
হদাগুলো তারে পালায় ছেড়ে,
‘গোলামী কখনো করব না বলে
খােলে মণিহারী দোকান তেড়ে।
চাকরী করার খাতির আলাদা
জজ হতে ক্ষুদে কেরাণীটার
.

অ সি ও ম সী
।
গােত্র যে এক,—সবাই চাকর।
স্বাধীন থাকার জ্বালা দেদার।
গৃহিণী বলেন, ‘পােয়েডান্স’ যাব,
লে দেখালে না, হ’ল না কাশী।
বন্ধুরা চায় সাবস্ক্রিপশন,
নাতি দেখাতে যে এসেছে মাসী।
ছেলের ভাতেতে ভােজ দিতে হবে,
‘চেঞ্জে যাবারে খরচ আছে।
সিগারেট খাওয়া একলা হয় না,
দিতে হয়, কেউ থাকিলে কাছে।
ট্রাম-বাস-ভাড়া, আইবুড়াে-ভাত,
ঝি-বঁধুনীদের মাইনে গােণা,
পাঞ্জাবি করা, ডাইংক্লিনিং,
কম দামে কেনা পুয়ােন সােনা,
হাজার রকম ব্যয় যে রয়েছে,
ডালভাত খাওয়া দুবেলা ছাড়া।
ঘরে ও বাহিরে তাগাদা, চলেছে,
চা জলখাবার রােগের তাড়া।
বাকী ফেলা চলে, দেনা পাওয়া চলে,
শুধু মাইনেটি থাকিলে বাঁধা।
তুমি যে বাঙালী, জন্ম-চাকর,
অবাঙালী
ভূত নও ত’ দাদা।
তাদের ত’ নামকরণ করেছ
ডকারান্তের নানা ঢঙে।
‘চাকরী-চাকরী কর জপমালা,
দুনিয়া হেরিবে নতুন রঙে।

সম্পাদকে
বন্ধু, তুমি ত’ পুরানাে জার্নালিষ্ট।
নতুন যুগের খবর রেখেছ কোনো ?
এসেছি গ্র্যাটিস দিতে যে এডভাই,
লক্ষ্মীছেলের মতন বসিয়া শােনো।
সহজে কি চাও কিস্তি করিতে মাৎ ?
খিস্তি খেউড় জোসে চালাও তবে।
হারিসন রােডে হকার হঁাকুক্ তেড়ে,
হট-কে সম কাগজ বিক্রী হবে।
বানিয়ে বানিয়ে কুৎসা রটনা করাে,
কে কবে কোথায় কি করে রাত্রিকালে,
সর্জন দেবে মুখ-বন্ধের টাকা,
দুর্জন ধরা পড়িবে চক্রজালে।
জনসাধারণ মুগ্ধ হইবে দেখে
সত্য-প্রকাশে অদ্ভুত তব মতি,
কভু
ডিফামেশনের দায়ে,
‘ক্ষমা প্রার্থনা অাছে অগতির গতি।
পড়ে। যদি
হান্টার খাও, প্রাণটা ত’ যাবে নাকো,
ভদ্রসমাজে অচল না হয় হলে,
কুটুম্ব যদি ঘৃণায় ফেরায় মুখ,
ক্ষতি কি, বন্ধু? কাগজ ত’ যাবে চলে

অ সি
ম সী
-
এসেছি বহুৎ ঘরের খবর নিয়ে,
জানি, কায়দায় ফেলিব কাহারে কিসে।
কিছু না করে ত’, দেবদেবী নিয়ে টানাে,
হাস্য মিশাও অহিন্দু সনে মিশে।
ভাদুড়ী, লাহিড়ী, চৌধুরীদের ধরে
ছিনিমিনি খেল খেয়ালখুশিতে তােফা
গ্রেটাগাৰ্বোর হাই-তােল নিয়ে লেখাে,
আলােচ্য কর কাননবালার খোপা।
গালাগালি দাও, গালাগালি খাও কসে,
দন্তপংক্তি বিকশিত করে হাসসা,
বংশধরের পরকাল দাও খেয়ে,
সুপরামর্শ আশা করি ভালবাসো?
৬৪

স্বদেশী
সাবাস্ মমদের বাঙ্গালী জাত।
সেন্টিমেন্টে ভরা।
ঠকাও দেশের সেবার নামে,
পড়বে না কেউ ধরা।
কঁঠাল ভাঙে। পরের মাথায়,
পরের টাকা লুটে
পকেট ভারী করাে শালা-
ভগ্নীপতি জুটে।
বাগান করো, বাড়ী করো,
বেড়াও গাড়ী চড়ে।
চক্ষুদানের কাৰ্য্য চালাও
কম্বিনেশন করে।
পােষা তোমার চরণ চাটে,
তৈল লাগায় পায়ে,
গদীওল। কেদারা দাও,
চাকর রাখে। বয়ে,
আল ফুলে হোক্ কলাগাছ,
দুনিয়া দেখুক সরা,
দেশের টাকায় মালিক তুমি,
তুচ্ছ বসুন্ধরা !
মুখপােড়াকে ‘চন্দ্রবদন’,
এককড়িকে বলল।
বড় দামী, দেশের টাকায়
মাইনে গুণে চলে।

অ সি ও ম সী
মােসাহেবে পূর্ণ যে ঘর,
সবাই বলে ‘প্রভু
‘মূখ তােমায় বললে আমি,
জ্ঞান হবে কি তবু ?
আপন ব্যবসা চালিয়ে যাবে
চরিয়ে যত বােকা,
বাংলাদেশের লোকগুলােকে
সহজ দেওয়া ধোঁকা।
সেন্টিমেন্টে ঘা দিয়েছ,
‘দেশের সেবা করো।
সত্যি বাঁচে বাঙালী জাত,
তােমরা যদি সরো।
‘স্বদেশী” নাম শুনলে যে আজ,
ঘেন্না জেগে ওঠে।
সারা দেশের নিন্দা, ক’টি
জুয়াচোরের চোটে।
মান্যহানির আশঙ্কা নেই,
নেইকো জেলের ভয়।
লুটছে টাকা, দিচ্ছে কঁকি,
আর কতদিন সয় ?
বিজ্ঞাপনের প্রলােভনে
জার্নালিজুম্ বাঁধা।
মনের সুখে বনের শেয়াল
সাছে সােনার গাধা!

নিত্যকৰ্ম্মপদ্ধতি
কি করবে? বসে আছ ?
বলও লেন্স,
দৃষ্টি আসুক। খােল
ইনসিওরেন্স ।
দুইটি হাজার নিয়ে
খুলবে আপিস।
দুমাসে দেখবে, করে
লােক গিগিস।
দুলাখ জুটিয়ে নিয়ে
জ্বালাে বাতি লল ।
এই পথ ধরে হীরা-
লাল সাদিলাল ।
সার্ভিস-বুরো খােলস,
এটি-ফী
বড়লোক হও । ওঠে
লণ্ডি নিয়ে ।
সাবান শিক্ষা দাও,
হােমিওপ্যাথীর
ডিগ্রী বিলাও, নিয়ে
নােটই মােটা ফীর ।
১৭

অ সি ও
स मौ
ভেজাল ঘৃত ও তেল,
জলীয় গাে-দুধ,
মাদুলী, কবচ, বেরি-
বেরির ওষুধ,
যা খুসি চালাও, নাও
এজেন্সী ফের
সােইং মেশিন, ফ্যান,
মােটরকারের।
বসে থাকা ভালো নয়,
চাকরী কোথায় ?
পায়ে তেল দিয়ে দিয়ে
হাত ক্ষয়ে যায় ।
উকীলের ‘গাছতলা,
‘বার’ নিকামাই।
রাস্তা দেখছে বসে
ডাক্তাররাই।
হাকিম ডাইনে আনে,
কুলােয় না বায়ে,
সহরে নেইকো ভাত,
টাকা নেই গায়ে ;
যা ছেলের দলে
*পে প্রােফেসার,
রােদে পুড়ে ঘেমে ওঠে
ইঞ্জিনীয়ার।

নিত্য ক শ্ম প দ্ধ তি
বড় কাজে ‘অম্বল,
‘রক্তের চাপ,
ছােট কাজে অপমান,
গালি, অভিশাপ।
ধরে নব পদ্ধতি
গণপতি নিয়ে
সুরু কর, স’রে পড়ে
উল্টিয়ে দিয়ে।

যখন লাগে না ভালাে কিছু
কিচ্ছু লাগে না ভালো, তবু কী যে ভালাে লাগে
প্রশ্ন করিছ কেন মােরে ?
থিয়েটারে হাঁপ লাগে, সিনেমায় চোখ যায়,
বিড়ির ধোঁয়ায় মাথা ঘােরে !
বাসে যা ঝাকানী লাগে! ট্রামে বড় বেশী ভিড়,
ফুটপাথে লােক ছুটে যায়।
পেঁয়াজীতে, সরবতে, কচুরিতে, চায়ে, চপে
চারিদিকে ভেজাল চালায়।
আড্ডায় বসে গিয়ে, শুধু বড় বড় কথা,
শেয়ানে শেয়ানে কোলাকুলি ।
আত্মীয়-বাড়ী যাও, মেয়ের জন্যে যত
পাত্র খোঁজার ঝােলাঝুলি ।
কি করি, কোথায় যাই, ভেবেই পাই না মােটে,
লিখিব ? তাই বা কেবা পড়ে
কিছুই লাগে না ভালাে যখন, তখন লােকে
হায়রে, জানি না কী যে করে।
হঠাৎ বাজনা বাজে, পূজো যে আসিয়া গেছে,
সাজিতে সবারি চায় মন!
সাৰ্বজনীন-পূজা, পাড়ায় পাড়ায় হয়
তাহারি বিপুল আয়ােজন।
কেহবা প্রতিমা দেখে, কেহবা রমণী দেখে,
কেহবা পকেট দেখে নেড়ে,
বাজিছে বেলুন-বাঁশী, পাঁপর ভাজার রাশি,
চলি, লাগিতে পারে বেড়ে'!
৭০

সর্ষের তেল ! চাই সর্ষের তেল !!
সর্ষের তেল চাই, সর্ষের তেল।
দেখাে ভাই মজাদার দুনিয়ার খেল।
বড়কর্তার পায়ে চালাও মালিশ,
আজ আছে ক্ষুদে, কাল তােমারি আপি।
ডাইনে ও বাঁয়ে পাবে লম্বা সেলাম,
বীর হনুমান্ হবে তুমি কেনারাম
গলা হবে গম্ভীর, মেজাজও কড়া,
অনায়াসে মনে হবে ধরাকে সরা ।
পদলেহী চাটুকার ঘিরিয়া রবে,
সর্ষের গুণ দেখে খলিফা হবে ।
তুমিও চাইবে, তব চরণ তলে
খাটি সরিষার তেল গরমে গলে ।
চরিত্রবল নেই, আছে সম্বল
ব্যাঙ্কের খাতাখানা, আছে ‘অম্বল,
স্যাম্পেন ভরা গ্লাস নিয়ে মােসাহেব,
বাগানের জাগরণে মহাগুরুদেব,
টুকটুকে রাঙাবৌ, বাপ দাদা তার
সর্ষের তেল করে তত্ত্বয় পার ।
পতিভক্তির চাপে সর্ষের তেল।
দেখাে ভাই মজাদার দুনিয়ার খেল :
৭১

অ সি ও ম সী
রূপের ধুচুনী আর গুণের গােবর
নারী, বর-অভিলাষী নবনটবর।
অহরহ করে গোঁসা, মনােরঞ্জন
তরে চায়, নতজানু, মানভঞ্জন,
চায় পদতলীন পুরুষের সার,
সরিষার তৈলের শত ব্যবহার।
প্রকাশক, প্রযােজক, চায় না প্রণাম,
চায় শুধু মুখে কথা তােমারি গােলাম।”
এক হাতে ধামা, আর এক হাতে ভাড়
রাখাে যদি, হবে যশােভাগ্য তােমার।
যােগ্যতা বিদ্যার নেই দরকার
তাতে শুধু হতে পারে বিল-সরকার
চাকরীতে ঢুতে কি লিফটু যদি চাও
সর্ষের তেল নাও, সজোরে চালাও।
ভেজালবিহীন তেল, বড় গুণ তার,
ঘুটে-কুড়ানীর ছেলে রাজার কুমার।
অতি-আধুনিক যুগে, দেখি নি কোথাও
বিনা সরিষার তেলে মমরে নিলে দাও।
‘জল উঁচু -জল নীচু, চলছে অঢেল,
তারি সাথে চলে যায় সর্ষের তেল।
যেখানেই টাকা আছে, যেখানেই নাম,
মানুষের দাম নেই, সর্ষের দাম।
৭২

一

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Oci O Moci

Author
Basu,prabhathkiran
Title
Oci O Moci
File name
Oci O Moci
Text
OCR done
Citation
1937
Published
2009/12/30
Publisher
Ranjan Publishing House,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
88
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Basu,Prabhathkiran
DLI number
511244
Barcode
4990010018411.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
MtiZdB7SbY5
Download PDF

Oci O Moci