Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Luliya

Mitra ,atulkrishna · 2010/03/26

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

লুলিয়া।
গীতি-নাত।
৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৩১৪ সাল, শনিবার,
মিনার্ভা থিয়েটারে,
প্রথম অভিনীত ।
শ্রীঅতুলকৃষ্ণ মিত্র-প্রণীত।
প্রকাশক-শ্রীগুরুদাস চট্টোপাধ্যায়
বেঙ্গল মেডিকেল লাইব্রেরী,
২০১ নং কর্ণওয়ালিস স্ট্রীট,
কুলিকাতা।
মুল্য । আট আনা :

কলিকাতা,
১৭ নং নন্দকুমার চৌধুরীর দ্বিতীয় লেন,
“কালিকা-যন্ত্রে”
শ্রীশরচ্চন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক মুদ্রিত।

গীতি-নাট্যোক্ত চরিত্র দিব্যকান্ত রবিরঞ্জ সৌরি অরবিন্দ পৌরি পুরুষগণ। কাশ্মীরের অমাত্যপুত্র। ঐ মহাসামন্ত। রবিরঞ্জের সম্ভ্রান্ত আত্মীয় ও দিব্যকান্তের প্রাণতম বন্ধু। ব্যাধজাতীয় জনৈক নাগরিক কালাশােক ••• অঞ্জন পিণ্ড দিব্যকান্তের প্রিয় অনুচর। দিব্যকান্তের সর্বাধ্যক্ষ, বঙ্গদেশী বৈদ্য, ভৃত্যগণ, পাহাড়ীয়া বালকগণ, দস্যগণ, সূৰ্যদেউলের মন্দিরাধ্যক্ষ ও মন্দির রক্ষীগণ ইত্যাদি। স্ত্রীগণ। ০ ০ ০ সরসা আরতী মানসী লুলিয়া ৫০০ . রবিরঞ্জের অবিবাহিতা কন্যা অরবিন্দের পত্নী। দস্যুগৃহ পালিতা । কালাশশাকের পত্নী। সজনীগণ, পাহাড়ীয়া বালিকাগণ ইত্যাদি। ৪ ০ ০

No text on this page.

লুলিয়া।
প্রথম অঙ্ক
প্রথম গর্ভাঙ্ক
হ্ৰদবক্ষে সুবর্ণমণ্ডিত ভাসমান আরাম কক্ষ।
নৌকাবাহিনী রমণীগণের গীত।
অতি সুন্দর সরােবর, নীল নিথর হের,
পূর্ণ দুকূল কানে কান।
প্রতিবিম্বেতে বিম্বিত, দৃশ্য শােভা যত,
তিরপিত হেরি দুনয়ান।
কিবা শীতল সুবিমল, শান্ত সুনির্মল,
মণ্ডিত মহিমা মহান্ ।
হেরি ইন্দু উদিত, মৃদু মন্দ পবুন বহমান
খর-সূর্য কিরণে পরিতপ্ত ধরাধর,
অম্বর করিছে সিনান।
[ প্রস্থান
•

লুলিয়া।
( লুলিয়া ও কালাশশাকের প্রবেশ)
কালা। তাের ঐ তত দোষ! একটা লা একটা কেঁাদল
লা হােলে থাকতে পারিস লা ! কুঁদুলে লাড়ী যেন কে কে
কোরে ওঠে।
লুলিয়া। ওরে মিন্সে মুই সাধে কি কেঁদল করি ? অসৈরণ
সইতে লারি, তাই করি ; মাের স্বভাবই এই।
কালা। হিংসুকে হােলে, তার সবই অসৈরণ হয়।
লুলিয়া। মুই হিংসুকে ? ওরে হতভাগা মিসে, মােকে
হিংসুকে বল্লি ?
কালা। হিংসুকে লােস তো কি ? কারাের ভাল যার
সয়না, সেই হিংসুকে।
লুলিয়া। একজন ভাল খাবে, ভাল পােরবে, আর মুই
খেতে পত্তে পাব নি বােলে মাের রাগ হবে ; আর সে যেন মাের
মতন হয়, ভগবানের কাছে তাই বর মাগ বাে বােলে কি
মুই হিংসুকে হলুম? একজন এক গা গয়না পােরে হাত পা
লেড়ে বেড়াবে, গ্যাদায় মাটীতে পা ঠেকাবে নি, ছাপর খাটে
শুয়ে ছাচি পান খেতে খেতে, দশটা ঝি চাকরকে খাটাবেক,
তাতে যদি মাের গাটা ইপিস্ করে, তাহােলে কি মুই হিংসুকে
হলুম ?
কালা। হিংসুকে লােস তাে কি ? ভাল তা না হয় হােগে
যা, কিন্তু আপনার ঘরের মনিষ্যির মুখ দেখলে যে তাের
চোখ টাটায়, এতে তােক কি বলি বল দিকি ?
লুলিয়া। আহা! আপনার মনিষ্যির সুখ তাে কত ?
কালা। সুখ নয়তো কি ? এই যে দিব্যকান্তি মশাই

প্রথম অঙ্ক।
লিজের চ্যাহারার সঙ্গে আমার চ্যাহারা কথকটা এক রকমের
বােলে, আমায় কত যত্তন করেন। অত বােড় নােক হোয়েও
আমায় নিয়ে এক সঙ্গে পা চাল্লি কোরে বেড়ান ; এ সুখ
লয়তাে কি ?
লুলিয়া। ও বড় মানুষের ল্যাজ ধােরে বেড়ানাে, মুই
দেখতে পারি না।
কালা। তা পাৰ্বি কেন ? ওই তাের রােগ। এই যে ভাল
পােষাক পরিয়ে, আজ আমায় শিকারে সাতে কোরে নিয়ে
যাচ্চেন, আর রক্ষে আছে, অমনি কেদল জুড়িছিস। সাধে
কি বলছি যে তুই আপনার মনিষ্যিরও ভাল দেখতে পারিস না।
লুলি। তা পারি আর না পারি, ও পােষাক তােরে ছাড়তে
হবে ! আগেকার মত লেংটী এটে, তির খামটা লিয়ে
শিকারে যাবি তােত যেতে দোব, নইলে এখনি মহা অর্থ
বাঁধিয়ে দেবাে।
কালা। দেখ ও ঘােটলােকমি ছাড়। তুই এলি ধাের
কত দুষ্ণ অকস্ম কোরেছিস, চখে দেখেছি, কিচ্ছু বলিনি; তুই
যে রকমে বুঝিয়েছিস তাই বুঝেছি। কত দুব্বাক্যি বলেছিস,
এক কান দে শুনিচি আর এক কান দিয়ে বার কোরে দিছি।
যা কোর্ল্ডে বােলেছিস, তাই কোরিচি, গুরু ঠাকুরের মত আদর
দিয়েছি; কিন্তু এখন আমার কপাল ফিচ্চে, এ সময় তাের কোন
কথা থাকবেও লা, কথামত কোন কাজও আমি কোর্নে পার্লোও
লা। তাই বলছি, আমি যা কচ্চি এতে বারল করিস লি ।
লুলিয়া। তাইতাে, মেজাজটা দেখছি যে ওলট পালট হােয়
গিয়েছে। ভাল এখন যা,—ফিরে এলে বুঝে পােব।

৪
লুলিয়া।
কালা। তাই লিস! এখন আমি সূৰ্য্য দেউলের ঘাটে লায়ে
চড়তে চলুম।
[ প্রস্থান।
লুলিয়া। (স্বগতঃ ) থাক, লেহাৎ চটালে চেলবে লা;
হাজার হােক স্বোয়ামী তােহাতে রাখা চাই।
( অঞ্জনের প্রবেশ)
অঞ্জন। এই মজালে! যেখানে বাঘের ভয়, সেইখানেই
সন্ধে হয়।
লুলিয়া। কেনেহে এতটা কেনে? মুই কি ধােরে খাই
লাকি ?
অঞ্জন। খাও কিনা খাও, যারা থাবাটা থুবােটা খেয়েছে,
তারা বলতে পারে।
লুলি। আমােরে যাই সোনার চাদ ! কি কথাই বল্লেগগা !
ওঁর ওপর একটু পড়ত হােয়েছে বােলে, উনি ঝােপে ঝাপে
বাগ, দেখছেন।
অঞ্জন। বাঘ আর দেখবো না। এখন অনুগ্রহ কোরে ওই
পড়তা টুকু ফিরিয়ে নিলে হয় না?
লুলি। কেনে? তােমার কি মােরে ভাল লাগে না?
অঞ্জন। ভাল না লাগলেই তাে ভাল হয়।
লুলি। ছি ছি ? তুমি না মরদ মানুষ।
তা হােলে কি হয়। আমি যে ছেলে মানুষ,
এখনও সাধ কোরে হোঁচট খেতে শিখিনি।
লুলি। শেখােনি—শিখতে সুরু কর।
অঞ্জন। এখন ত দিনকতকৃ যাক, পরে যা হয় দেখা যাবে।
অঞ্জন।

প্রথম অঙ্ক।
৫
লুলি। এদিকে যে মেয়ে মানুষটা মারা যায়।
অঞ্জন। মারা যাওয়াটা তাে আর মুখের কথা নয়।
ব্যায়ােম হওয়া চাই, কবিরাজ আসা চাই, তারপর চোখ কপালে
তুলে, দম আটকালে তবে তো মরণ !
লুলিয়া। মাের ব্যায়রামও হােয়েছে, কোবরেজও এয়েছে,
চোকও কপালে উঠেছে, নিশ্বেসও বন্ধ হয়েছে; এখন হয় তুমি
আর না হয় মরণ, একজনাকে চাই।
অঞ্জন। কৈ, যা বল্লে তারতাে কিছুই দেখি না !
গীত।
নিটোল গড়ন,
অঞ্জন।
কৈ ৰােগ তাে তােমার দেখছি না।
অমন নিরেট বাঁধন,
টোলতাে কোথাও বুঝছি না ।
লুলিয়া।
এ রােগ বাইরে কি জন্মায়,
এ রােগ ভিতরে খুলে খায়,
প্রাণের বাঁধন ছাদন, শক্ত কসন, এলিয়ে খােসে যায় ;
অঞ্জন।
রােগের এতই ঠাসুনি,
রােগের নামটা কি শুনি,
লুলিয়া।
আঁচে আঁচে লাও বুঝে লাম, মুখ ফুটে তা বলছি না।

লুলিয়া।
অঞ্জন।
বােল্লে না বুঝবাে, তােমার বাজে কথায় ভুলছি না ।
লুলিয়া।
লোেত শুনবে যদি তাই,
তবে পষ্ট বােলে যাই,
তার লামটী পিরিত, রীত্ বিপরিত্ কেবলই খাই খাই ;
অঞ্জন।
এ যে বড়ই শক্ত রােগ,
এর দিনরাত্তির ভােগ,
লুলিয়া।
বদ্দি তুমি কাজের কাজি, কাজ না পেলে লড়ছি না ।
নাড়ী টেপাবাে, অষুধ খাবাে, আর তােমারে ছাড়ছি না।
অঞ্জন। আহাহা কর কি, কর কি ? গরিব বেচারির ওপর
দৃষ্টিটা নাই দিলে ! আমি না হয় খুজে পেতে একজন ভাল
দরের বন্দি যােগাড় কোরে দেব ।
লুলি। ঘােলে কি আর দুধের সাধ মেটে সােনার চাঁদ।
আর ক্যানে গােল কর। তােমার মনীবের সাথে আজ
মাের হতভাগাটাও শিকারে যাচ্ছে। এখন চল, তােমার বাড়ী,
তােমার ঘর, যা চাইবে তাই পাবে, যা হওয়াবে তাই হবে, পানে
থেকে চূণ খােসলে—আমায় ঝাটা মেরে চোলে আসবে
এল।
অঞ্জন। ওরে বাপরে-এ যে সত্যি বলে ? আমি মনে
কচ্ছিলেম কথার কথা!

প্রথম অঙ্ক।
৭
লুলি। আমার যে কথা সেই কাজ ।
অঞ্জন। যাহােক, প্রভু যে খপর জানতে পাঠিয়েছিলেন—যে
শিকিরি যাত্রা করেছে কি না? যাই তাকে খবর দিইগে যে,
ঘাটের দিকে গেছে, তােমার কাজ নিয়ে তুমি থাক, আমি লম্বা
দিলুম।
[ প্রস্থান।
লুলিয়া। আহাহা, যাও কোথা? যাও কোথা?
[ পশ্চাতে পশ্চাতে প্রস্থান।
( অন্যদিক হইতে সরসাকে লইয়া গান করিতে করিতে
সজনীগণের প্রবেশ )
গীত।
ভালবাসা চাপলে কি রয় আপনা হােতে ফুটে ওঠে।
চটুল চোখের চাউনিতে আর চাপা হাসি চিকণ ঠোঁটে।
তুষের আগুণ ভিতরি চাপা রয়,
গুমে গুমে পুড়িয়ে করে ক্ষয় ;
(শেষে) শেষ হােলে আর রয়না চাপা,
আপনা হােতে ফিকি ফোটে;
আপনি পুড়ে পুড়িয়ে মারে, ছটফটি হয় জ্বালার চোটে ।
সরসা। ভালবাসা না চেপে, তােরা কি কর্তে বলিস ?
প্র-স। আমরা বলি খােলস কথা; বুক ফাটার চেয়ে মুখ
ফুটে বলা ভাল ! ছেলে বেলা থেকে যাদের ভাব, তাদের আবার
লজ্জা কেন ? মুখ ফুটে বােলে ফেলাে।

bu
লুলিয়া।
সরস। দুরূ-মেয়েমানুষের মুখ কি আগে ফোটে ?
প্রস। ভাল পষ্ট না ফুটুক, ভাবে ভঙ্গিতে জানালে হয় তো ?
সরসা। তাকি আর না জানানাে হয়। তাতেও যদি না
বােঝে।
এ স। ও কথাই নয়! পুরুষ মানুষ এত নির্বোধ হয় না।
সরসা। হয় না হােক! এখন তােরা এক কাজ কর
দেখি, সূৰ্য্য দেউলে গিয়ে পুরােহিতের কাছ থেকে আশীৰ্ব্বাদী
ফুল চেয়ে নিগে যা! দিব্যকান্ত যখন প্রণাম কোর্তে যাবেন তখন
আমার নাম কোরে তাকে দিস্।
প্র-স। বেশ কথা, এও একটা ইঙ্গিত বটে
( সজনীগণের প্রস্থান)
সরসা ! (স্বগতঃ) সত্যই তাে আর চেপে থাকতে পারিনা।
কতবার বলি বলি করিছি, কিন্তু বলবার সময় যেন মুখে কে হাত
চাপা দেয়। বয়েস হােয়ে পর্যন্ত আগেকার সে খােলা খুলি ভাব
যেন দুজনেই হারিয়ে ফেলেছি ; আমার যেমন লজ্জা, বুঝতে
পারি তারও তেমনি।
•
( অন্যদিক হইতে দিব্যকান্তের প্রবেশ)
দিব্য। একি সরসা ! এখানে যে ?
সরসা। তুমি শিকারে যাবে, তাই যাওয়ার সময় তােমায়
একবার দেখতে এসেছি। কেন আসতে কি নাই ?
দিব্য। আসতে নাই একথা কি আমি বলছি ? আমি আরও
তােমার সঙ্গে দেখা কোর্টে তােমার বাগান পর্যন্ত গেছলেম।
সরসা। বটে! এত ভাগ্য! তবু ভাল !

প্রথম অঙ্ক।
দিব্য। কার ভাগ্য ? আমার না তােমার ?
সরসা। আমারই । তােমার কিসে হবে বল ? আমায়
খুজতে তাে কোন দিন আমার বাগানে যাওনি।
দিব্য। অনেক দিন গেছি দেখা পাইনি
সরসা। ও কথা ঠিক নয়, দেখা করনি তাই বল।
দিব্য। ঠিক খাটী সত্য কথা বােলতে হােলে বােলতে হয়,--
দেখা করতে গেছি, দেখতেও পেয়েছি। কিন্তু দেখা দিতে কেমন
বাধা বাধাে ঠেকতত, না দেখা দিয়ে ফিরে এসেছি।
সরসা। কেন ?
দিব্য। এই কেনর উত্তর দুদিন আগে হোলে, দিতে পারতেন
; কিন্তু আজ আর চেপে রাখতে পাচ্ছিনা। সরসা ! তােমার
পিতামাতার সঙ্গে আমার স্বর্গীয় পিতা মাতার যথেষ্ট প্রণয়
ছিল, তা বােধ হয় তুমি জান ?
সরসা। খুব জানি।
দিব্য। তােমার জননীর সঙ্গে, তুমি বালিক। বয়সে প্রায়ই
আমাদের বাড়ীতে আসতে, তা মনে অেেছ ?
সরসা। খুব মনে আছে।
দিব্য। তুমি এলে, আমি অন্য সকলের সঙ্গে খেলাধূলো ছেড়ে,
কেবল তােমার সঙ্গে খেলা কবৃতেম, তা বােধ হয় ভােলনি ?
বরসা। না ভুলিনি!
দিব্য। তোমার সঙ্গে কখনও কোনদিন আমার কোন কিছু
নিয়ে ঝগড়া হয়নি, তাও বােধ হয় মনে হয় ?
সরসা। মনে হয় বটে, কিন্তু একদিন একটু ঝগড়া হোয়ে
ছিল !

১০
লুলিয়া।
দিব্য।
সে কবে ?
সরসা। সেই একদিন একছড়া মালা গেঁথে আমি তােমার
গলায় পরিয়ে দিয়েছিলেম, তুমি অমনি তখনি খুলে ফেলে আমার
গলায় পরিয়ে দিলে; আমি রাগ কোরে কেঁদে, যেখানে আমাদের
মায়েরা বােসে ছিলেন সেইখানে গিয়ে সব কথা ব’লেম !
দিব্য। হা মনে পােড়েছে-~~-আচ্ছা, তাতে তারা কি বলে-
ছিলেন, মনে আছে ?
সরসা। হ্যা আছে। বেলেছিলেন-তা বৈশ তো, কান্না
কেন ? তােদের আপনা আপনি মালা বদল হােয়ে গেছে, ভালই
হয়েছে। আমাদের আর পাত্রপাত্রী খুঁজে বেড়াতে হবেনা।
দিব্য। আর অমনি তােমার কান্না গেল। আমার হাত
ধােরে আবার বাগানের দিকে ছুটে গেলে—কেমন ?
সরসা। হ্যা !
দিব্য। সরসা ! সেই দিন আর এই দিন! সেই দিন যে
ফুলের কুড়ি ধােরেছিল, আজ তা ফুটে উঠেছে। সেই দিন থেকে
যে ভালবাসার সঞ্চার হােয়েছে, যে ভালবাসা বাল্যপ্রণয়ে বর্ধিত
হােয়েছে, আজ এই নবীন যৌবনে সেই ভালবাসার ভিক্ষুক
তােমার দ্বারে।
সরসা। ভিখারীকে ভিক্ষা দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু ভিক্ষা
পেলেই যে তিনি আশীষ কোরে পালাবেন—আর দেখা দেবেন
, তার কি ?
দিব্য। এমন নির্বোধ ভিখারী কেউ নাই যে, যে বাড়ীতে
ভিক্ষা পায়, সে বাড়ী ছেড়ে পালায়। একবার পেলে দশবার
আসে, গৃহস্থকে বিরক্ত কোরে তােলে।
১)

প্রথম অঙ্ক।
সরসা। যে পাকা গৃহস্থ, সেকি বিরক্ত হয়, সেতাে তাই চায়।
দিব্য। তবে ভিক্ষা দাও।
সরসা। কিসে নেবে ?
দিব্য। এই হৃদয় পেতে দিচ্ছি! এই আমার ভিক্ষা পাত্র।
সরসা। পাত্রটা একবার পরীক্ষা কোরে নিলে হতাে না?
যদি ফুটো হয়, ভিক্ষের জিনিষ,তা হােলে তাে সব পােড়ে যাবে।
দিব্য।
এ পাত্রে আর কখনও তো ভিক্ষা লইনি, এই
আমার প্রথম ভিক্ষা, এই আমার শেষ ।
সরসা। তবে পাত্ৰটী নূতনই আছে! ভাল, তবে নাও !
অনেক দিন থেকে যা দেবাে দেবাে কচ্চি, আজ তাই দিচ্চি নাও।
গীত।
ধর যা আছে আমার ।
এ বিনে এ অবলার কিছু নাহি আর।
লুকানাে এ হৃতি হােতে,
আপনি এসেছ লােতে ;
লহদান, প্রতিদান চাহিনা তােমার।
দেখাে সখে, রেখাে এরে বক্ষে আপনার ॥
দিব্য। আমিও অনেক দিন থেকে যা নেবাে
নেবাে নেবাে
কচ্ছিলেম, আজ তা পেলেম ; এতদিনের আশা আজ পূর্ণ
হােলো; পিপাসায় কণ্ঠতালু শুষ্ক হােয়েছিল--আজ সরসা তুমি
সুধা ঢেলে দিয়ে সরস কোল্লে ; তােমায় আপনার বােলে হৃদয়ে
ধারণ কোত্তে এতদিন যে আকাঙ্খ পুষেছিলেম, আজ তা সার্থক
;

১২
লুলিয়া!
হােল! ( হস্তধারণ করিয়া) এই প্রাণের মন্দিরে এই সুবর্ণ
প্রতিমা প্রতিষ্ঠা কোরে আজীবন পূজা কোর্তে পাব। প্রিয়ে !
( অবনত জানু হইয়া উপবেশন) এই আনন্দে আমি বিহ্বল
হােয়ে গেছি (হস্ত চুম্বন)
(এক পার্শ্ব হইতে অরবিন্দ ও আরতীর প্রবেশ )
আরতী। দেখছাে কি ?
অরবি। দেখছি আর কি, “দেহি পদপল্বব মুদারং!”
আরতী। ওতে তােমাদেরই ঢং।
অরবি। এ যে দুজনেরই দেখি দেহি দেহি। আজ বুঝি
খােলাখুলি হয়ে গেল।
আরতী। না হােলে কি আর অতটা হয় ! দুজনেই মুকিয়ে
ছিল, আজ খুলে গেল।
অরবি। চলনা এগিয়ে যাই।
( উভয়ের অগ্রসর )
আরতী। (উভয়কে জড়সড় হইতে দেখিয়া ) থাক থাক—
লজ্জা কি ? বেশ দেখাচ্ছিল যে, আমরা তো ঐ চাই।
অরবি। আমরা ফাকি দিয়ে চক্ষের সুখ কোরে নেবাে
সখার কি তা সয় ?
দিব্য। খুব সয়। যত পার সুখ কর, আমরা যে আর অসুখী
নয় তাতো বুঝতেই পাচ্ছাে ! এখন লােকতঃ কাৰ্যটা শেষ
হােলেই তােমরাও যা আমরাওতাই হবে। আমরা এতদিন
তােমাদের দেখে সুখ কোরে এসেছি, তােমরা এখন আমাদের
দেখে সুখ করাে।
আরতী। তারপর-তারপর সরসা ?

প্রথম অঙ্ক।
সরসা। তারপর আর কি? তারপর তুমি আমায় গােটা-
কতক সন্ধান বােলে দিও।
আরতী। কি সন্ধান ? ঘােয়ামী বশ, কৰ্বার ?
দিব্য। না—তায় আর কাজ নেই। আমি সহজেই বশ
হােয়ে যাবাে।
আরতী। তবু কেজানে, যদি মাঝে মাঝে বিগড়ে যাও! ইএ
যে আমাদের ইনি, এত কোরেও তবু চিট-রাখতে পারি না।
অরবি। বটে, আমার নিন্দে! তবে বলি;-
সরসা। না না বােলে কাজ নেই, আমি আবার শিখে
নেবাে !
অরবি।
তবে থাক, সরসার মান রাখতে এ যাত্রা তোমার
মান বাঁচিয়ে দিলেম।
আরতী। আচ্ছা বঁধু বেশ কোরেছ। তোমরা না বাচালে,
অামরা কার কাছে আর বাঁচতে যাবাে ?
গীত।
আরতী।
ও মিছে জারি, আপ্ত সারি, মন্‌কে চোকঠারা।
কথায় কাজে মিল থাকেনা, পুরুষের ধারা;
তােমাদের পুরুষের ধারা।
অরবী।--
পুরুষ যা কয় করে ঠিক,
কভু হয় নাকো বেঠিক ;
;

১৪
লুলিয়া।
=
আরতী।
তবে ঠিক দিতে ঠিক, বেঠিক হয়ে, ভুল করে যারা ।
মিলিয়ে গোজায়, গলদ কাটায়, পুরুষতত তারা;
তােমাদের পুরুষতাে তারা।
অরওদিব্য।
পুরুষ তাতেও টলে না,
কাউকে বাঁচাও বলে না
••
আরতা ও সরসা।
তা বোলে, তার সাক্ষী আছে, মিথ্যে নয়, খারা।
পায় ধরে প্রাণ বাঁচাও বােলে, হয়েছিলেন সারা ;
তােমাদেরই কেউ হয়েছিল সারা।
;
অর-দিব্য।
যদি সঠিক দাও যােলে,
আমরা মানবো তাহােলে ;
আরতী ও সরসা।
বৃন্দাবনে রাধার মানের দায়ে দিক, হারা।
বাঁচাও বােলেছিলেন কৃষ্ণঠাকুর বেচারা
পুরুষ তােমাদেরই পারা।
;
অরবী। সে ঠাকুর মানের দায়ে বাঁচাও বােলেছিল ; আম,
রাও মানের ধাক্কা সয়বার দায়ে আগেভাগে স্বীকার কোরে বাঁচ,
লেম! এখন আর কিছু আছে?

প্রথম অঙ্ক।
=
দিব্য। যা আর কিছুতে কাজ নেই, এখন আমায় ছুটী
দাও। চাদমুখ দেখে যাত্রা করি। সুফল ফেলবে।
( অঞ্জনের প্রবেশ)
এই যে অঞ্জন! কালাশােক কোথা?
অঞ্জন। আজ্ঞে সে সূৰ্য্য দেউলের ঘাটে উঠবে।
দিব্য। তবে আসি সখি—আসি সখা -
উভয়ে। এস!
সরসা। হ্যা সখি ! সরসা বুঝি কেউ নয় ?
দিব্য । সরসার সঙ্গে প্রাণে প্রাণে হােয়ে গেল যে ! তবু
যখন মুখের কথা চাও, তবে বলি আসি প্রিয়তমে!
সরসা। এস প্রিয়তম!
( সেতু বাহিয়া দিব্যকান্তর আরাম কক্ষে উত্থান ও
আরাম কক্ষের ঘাট হইতে অপসারণ )
দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক।
গভীর বনমধ্য।
( দস্যুদলপতি ও একজন দস্যুর প্রবেশ
দ-দ। বলিস কিরে ?
১ম-দ। বলছিই তাে!
দ-দ।
ঠিক ?
খুব ঠিক।

লুলিয়া।
দ-দ।
সেই ?
দ। সেই।
দ-দ। সাথে লােক জন কত ?
দ। পঁচিশ ত্রিশ জন ।
দ-দ। পঁচিশ-তিরিশ জন ? তা হােলে তাে সেখানে গিয়ে
হয় না। আচ্ছা সবই কি এক সঙ্গে একদিকে চোলেছে ?
দ। না সব ছড়িয়ে পােড়ছে দুজন দুজন, এরা দুজন যেন
এই দিকেই অসিবার উজ্জ্বগ, কোচ্ছে!
দ-দ। বেস! ভাল কোরে টেনে আনা চাই। বাইরে
বাইরে থাকলে কাজ হাসিল হবে না। এক কাজ কবু, শিগ্যির
গিয়ে মানসী ছুড়িকে সাথে কোরে আন্ ।
দ। আনি-
( প্রস্থানােদ্যোগ)
দ-দ। আর রুদ্র, ভীম, ভৈরে, আরও জন কতক যেন
হাতিয়ার নিয়ে সা কোরে গেলে আসে!
দ। আচ্ছা।
[ প্রস্থান।
দ-দ। (স্বগতঃ ) বাপ বেটা বড় জ্বালিয়ে গেছে, এইবার
বেটাকে দিয়ে তার শােধ নেবাে। যদ্দিন বেঁচেছিল এক লহমা
আমায় থির থাকতে দেয়নি। আজ এ জঙ্গল, কাল সে জঙ্গল,
আজ এ পাহাড়, কাল সে পাহাড়, 'বেটার লােকেরা যেন শিয়াল
তাড়িয়ে নে বেড়িয়েছিল। বড় কপাল জোর, তাই ধরা পড়িনি
নইলে এতদিন কোন্ কালে শুলের আগায় শিঙ্গে ফুকতে হােতো!
এ-এদের যে বড় বিলম্ হােচ্ছে! যাহােক এই মানসী ছুড়িটাকে

প্রথম অঙ্ক। ১৭ পেয়ে আমার কাজের বড় সুবিধে হােয়েছে, আর রাস্তায় গিয়ে ধর, পাকড় কোৰ্ত্তে হয় না, শিকার আপনি এসে ধরা দেয়। ভাগ্যে তখন রুদ্র বেটার কথা না শুনে ছুড়ির ধৰ্ম্ম রক্ষে করে- ছিঃ তাইতাে এখন কাজ পাচ্চি, নইলে ভয় ভেঙ্গে যেতাে, খাণ্ডার হােয়ে দাড়াতে, ওইযে আসছে ! ওরে শিগ্যির শিগ্যির আয়— নেপথ্যে-দ। আমর! হাঁটতে পারিস না ঐ-মান। এইতো হট ছি! ঐ-দ। জোরে জোরে হাঁট জোরে জোরে হাঁট, ! ঐ মান। এইতো জোরে হাঁটছি জোরে জোরে হাঁটছি। ( প্রবেশান্তর) উহুহুহু! দ-দ। কি হােললা ? মান। পায়ে কাঁটা ফুটলো ? দ-দ। ফুটুক ভাল হবে। এখন অায় এইখানে বােস ! মান। কেন ? দ-দ। কেন আবার কি ? বােস্ নইলে মার খাবি । মান। এই বসলুম। (উপবেশন) দ-দ। সুধু মজাকোরে বােসে থাকলে চোলবে না ! মান। কি কৰ্ত্তে হবে ? দ-দ। কি আবার কোর্ভে হবে ? যা কোরে থাকি, তাই- মান। আবার তাই ? আর যে পারি না। দ-দ। পারিনা কিরে ? মেরে হাড় গুড়া কোরে দেবাে জানিস! নে পা ছড়িয়ে দে, মাথার চুল খুলে ফ্যা! বেস। এখন সেই তেমনি কোরে বিনিয়ে বিনিয়ে তাের সেই কান্নার ধুয়ো ধরু! কেমনরে এরা সব হাজির ?

১৮
লুলিয়া।
দ-দ। বাস্! এখন এলে হয়।
দ। ঠিক আসবে।
দ-দ। বাস্ তাহোলে আর যায় কোথা! এখন তুই শিকিরি
যেমন বাঁশী বাজিয়ে হরিণকে টেনে নিয়ে আসে তেমনি কোরে
নিয়ে আয়। আমি মরাবাপের ঋণ জ্যান্ত বেটার ঠেঙ্গে সুন্ শুদ্ধ,
আদায় নিই। (নেপথ্যে দূরে শৃঙ্গনিনাদ ) ঐ যাচ্ছে ! ধুয়াে ধর
ধুয়াে ধর আমি দলবল নিয়ে অাড়ালে আছি, বেটা যেমন আসবে
আর অমনি বাঘের মত লাফিয়ে পােড়ে ঘাড় ভেঙ্গে তার রক্ত
শুষ বাে, কড়মড়িয়ে হাড় চেবাবো। ছাল ছাড়িয়ে টাটকা মাসে
শ্যা শুকুনের পেট ভরাবাে। প্রাণের জ্বালা মেটাবাে।
( মানসী ব্যতীত সকলের অন্তরালে গমন)
মানসী। (স্বগতঃ ) কি ভয়ানক মুক্তি ! কি ভয়ঙ্কর জিঘাংসা
প্রবৃত্তি !! ভগবান্ ! আর কতদিন! আর যে পারিনা প্রভু!
পিতৃমাতৃহন্তা পাপাত্মা পিশাচের পাপ কাৰ্য্যের সহায়তা কোর্ল্ডে
যে আর পরিন প্রভু! প্রায় একবৎসর হােলে বন্দী করেছে
এই একবৎসর কালই এই জঘন্য পাপকার্ষে ব্রতী হয়ে আছি।
ধৰ্ম্মে ধৰ্ম্মে সতীধৰ্ম্ম এখনও বজায় আছে, কিন্তু নরপিশাচদের যে
রূপ পশু-প্রকৃতি, তাতে যে আর কতদিন রক্ষাপাবাে তা বােলতে
পারি না। পলায়নের কত চেষ্টা কোরেছি, কিছুতেই পারিনি;
একদণ্ডও চক্ষের আড়াল হােতে দেয়না, সতর্ক প্রহরী, সদা সর্বদা
প্রহরায় নিযুক্ত আছে !
( নেপথ্যে অদূরে শৃঙ্গনিনাদ )
দ-দ। (বৃক্ষান্তরাল হইতে) ধূয়াে ধর ধুয়াে ধ !
?

প্রথম অঙ্ক।
মান। এই ধচ্চি (স্বগতঃ ) হা ভগবান্ ! কি কোর্বো ?
তুমিই জান, যা করাচ্চ তুই কচ্চি! পিতা বােলতেন--
“য়া হৃষিকেশ হৃদিস্থিতেন,
যথা নিযুক্তোষ্মি তথা করোমি।”
গীত।
দয়াময় কে আছ কোথায়।
বিজন বিপিনে আজি জীবন যে যায়
রাখ আসি রাখ অবলায় ।
পথ নাই,নাহি পাই,
কোথা যাই--কায় সুধাই,
কেহ নাই-কি বালাই,
একাকিনী অনাথিনী
ভয়ে মরি কাদি উভরায় ॥
নেপথ্যে-দিব্য। এই দিকেই--এই দিকেই বােধ হচ্ছে।
ঐ-কালা। আপনি তবে ঐদিক দেখুন-আমি অন্যদিক
দেখি !
ঐ-দিব্য। তাই যাও।
( দিব্যকান্তর দ্রুত প্রবেশ)
দিব্য। এই যে হেথায়ই বটে। ভয় নাই, ভয় নাই, ভগবান
সূৰ্য্যনারায়ণ তােমায় রক্ষা কোর্বেন।
মানসী। (স্বগতঃ ) অহা মরি ! ইনি যে নরদেবতা।
ইঙ্গিতে পালাতে বােলবাে নাকি ?

লুলিয়া।
দিব্য।
দিব্য। কাপছে। কেন? কিছু ভয় নাই মা! আমি শত্রু নই।
আমি এখনি তােমায় লােকালয়ে পৌছে দেবে।
মানসী (স্বগতঃ ) যা থাকে অদৃষ্টে, দিই সরিয়ে।
( ইঙ্গিতােদ্যোগ কালে, দস্যুদলসহ হুহুঙ্কার করিতে করিতে
দস্যুদলপতির প্রবেশ )
কে তােমরা ?
দ-দ। তাের বাবা!
দিব্য। কিরে দুরত্ত! এত বড় স্পর্ধা। ( অসি উন্মোচন)
দ-দ। (দস্যগণের প্রতি) বাস-সামাল দে।
(দস্যগণের অসি উন্মােচন ও অসি যুদ্ধ ও চারিজন দস্যু ও
( দিব্যকান্তর পতন )
দ-দ। ইঃ! চার চার টেকে খেয়ে মােলো। বেটা অসুর
অবতার।
দ। ঠিক তাই।
দ-দ। মরেছে বটে ?
দ। ( নাড়া দিয়া) তাই ত দেখি ।
দ-দ। বেশ হােয়েছে। এখন নে, ঠ্যাংধধরে নিয়ে চ.-
গড়ের গাড়ায় পােড়ে কুত্তো কেওর খােরাক হােগছে।
কটারেও তুলেনে।
[ দিব্যকান্ত ও দস্যু চতুষ্টয়কে তুলিয়া লইয়া দস্যগণের প্রস্থান।
মানসী। আহাহা ! এক মুহুর্তের মধ্যে পাঁচ পাঁচটা প্রাণী-
হত্যা হােয়ে গেল?
দ-দ। থাম্ বেটী থাম, তোর নাকে কান্না রাখ! এক

প্রথম গর্ভাঙ্ক।
মুহুর্তের মধ্যে পাঁচ পাঁচটা প্রাণীহত্যা হােয়ে গেল ? এক লহমার
ভেতর যে লাখাে লাখাে প্রাণী হত্যা হােয়ে যাচ্ছে তার কি ?
এখন আর এখানে বােসে থেকে কি পালাবার ফন্দি আঁটবি
নাকি? দেখিস সাবধান—পালাবার মৎলব করিছিস্ কি মরি-
ছিস! আয় !
{ উভয়ের প্রস্থান।
( অন্থ দিক হইতে কালাশশাকের প্রবেশ )
কালা। তাইতাে! জলজ্যান্ত মানুষটাকে ঝাঁকোরে বেটারা
মেরে ফেল্লে ! যাই-হােক, যে যাবার সে তাে গেল ! আমার
এখল কি হয় ? সহরে আমি কোন্ মুখ নিয়ে যাই! লােকে
বােলতে পারে আমিই হয় ত খুন করে এসেছি ! বলতে পারে
কি ? বােলবেই ! আমি ছােট নােক! আমায় কি রেয়াৎ
কোর্বে ? ও বাবা! তাহােলেই তাে গেছি। হয় শুলে লয় শালে।
তাই তাে কি করি? কি করলে এ বিপদ থেকে বাঁচন পাই ?
আ হতভাগা বেটারা! মাবুলি তাে তােরা, এখন আমি যে মরি।
( চিন্তা করিয়া ) হ-ভাল কথা! তাই যদি করি, তাহােলে কি
হয় ? কে টের পাবে? কেউ পাবে না। চেহারা তাে পেরায়
একই; যেটুকু তফাৎ আছে, সেটা আমাদের রাজবাড়ীর লাটুশা-
লার বেশকারির কাছ থেকে ঠিক কোরে লিলেই তাে হবে; সে
বেটা তাে আমার বঁধু ! তাকে কিছু টাকা দিলেই ঠিক হয়ে
যাবে, বাস! তারপর ভাব ভঙ্গীও কাছে থেকে থেকে একরকম
শিখে লিয়েছি। তবে কথাবাত্রা একটু ছােট লােকের মত, তা-
শুধরে লােবাে। ঐ যে-তার পাগড়ীটা পােড়ে আছে লা?

লুলিয়া।
তাইতাে বটে—এই যে ভাঙ্গা তরােয়ালখানাও আছে, বেশ
হােয়েছে—ভালই হােয়েছে। গায়ের এই ওপরকার এই
জামাটা, আর এই লাগোরা জোড়াটা ফেলে দি। গায়ে খানিকটা
ডাহা রক্ত মেখে লিই ! বাস -তারপর বেশকারীর ক্ষেমতা! ঠিক
দিব্যিকান্তি মশাই হবে।। লােকে জানবে কমজুরি কালাশােক
বেচারি—সে রাক্ষুসে ডাকাত বেটাদের সঙ্গে পার্কে কেনে?
মারা পােড়ে গেছে। আর আমি সাজোয়ান দিব্যিকান্তি মশাই
হারিয়ে দিয়ে পালিয়ে এসেছি! এই কথা আর কি ! তারপর
পরের পর—যেমন দেখা তেমনি করা !
[ প্রস্থান।
তৃতীয় গর্ভাঙ্ক।
( দিব্যকান্তের অট্টালিকা মধ্যস্থ নানাবিধ বিচিত্র চিত্রপট
ও প্রস্তর প্রতিমূৰ্ত্তি সম্বলিত সুসজ্জিত স্ফটিকাগার )
ত্ৰিপণ্ড নিদ্রিত ও অঞ্জনের প্রবেশ ।
অঞ্জন।. ত্ৰিপণ্ড খুড়াে! এখনও নাক ডাকাচ্ছ বাবা! চাকি
যে উঠলাে।
ত্ৰিপণ্ড। হা-হাঃ (হাই তুলিয়া দাড়াইয়া পাশ ফিরিয়া
শয়ন)
অঞ্জন। কি বাবা! দাড়িয়ে পাশ ফিল্লে? আবার দন্ত কড়,
মড়ি কচ্চ যে, স্বপ্নে ভূতে থােল্পে নাকি? ওখুড়াে-ওঠনা
বাবা!
?

প্রথম অঙ্ক। ত্ৰিপণ্ড। আঃ-দূর (জাগিয়া) এমন মজার স্বপ্নটা ভাঙ্গিয়ে দিলি? অঞ্জন। কি ? কি স্বপন খুড়াে? ত্ৰিপণ্ড। রাজকোন্নেরে বেটা-রাজ কোশ্নে! চেপে ধােরে- ছিল আর কি ? অঞ্জন। তােরের স্বপন সত্য হয় তারপর ? ত্রিপও। তারপর মনিবের কান্না--আর তোের ধাক্কা! অঞ্জন। মনিবের কান্না কি খুড়াে? ত্ৰিপণ্ড। ঐটুকুই তাে মজারে বেটা! ওই যেমন দাঁত কড়- মড় করা আর অমনি না—(নেপথ্যে দ্বারে আঘাত। অঞ্জন। কেও ? নেপ-কাল। আমি! আমি। ত্তিপণ্ড। এত তােরে আমি কে ? নেপ-কালা। ওরে আমি রে ? পিণ্ড। আবার বলে আমি রেদওয়ান সম্মন্দিরা ঘুম লাগাচ্ছে বুছি, যার ইচ্ছে সেই একেবারে ওপরে ? মনীব বাড়ী নেই কি না ? -মুনীব! নেপ-কাল। ওরে—আমি মুনীব- অঞ্জন। আজ্ঞে আপনি ? একি ? ( দ্বার উন্মােচন) (কালালােকের প্রবেশ ) ত্ৰিপণ্ড। একি! একি! একি! প্রভু! কালা। (স্বগতঃ ) বেশকারী বেটা দেখছি ঠিক সাজিয়ে দিয়েছে। লইলে পিভু বােলবে ক্যানে! (প্রকাশ্যে ) তাইতাে?

২৪ লুলিয়া। এখন যে ভারি আত্বি! এতক্ষণ দুয়াের ভােলাই হেচ্ছিল না। আমি যেন কেউ জুয়ােচুরি কোরে,ওঁয়াদের মুনীব সেজে এসেছি। অঞ্জন। না প্রভু! তা নয়! স্বরটা কিছু ভার ভার ঠেক- ছিল কি না—তাই আমরা বুঝতে পারিনি-আমাদের মাফ - কালা। আচ্ছা যা-মাফ কন্ন! এখন ভাল দেখে একটা পােষাক দে-এ সব ছেড়ে ফেলি। [ ত্রিপণ্ডের প্রস্থান। অঞ্জন। আজ্ঞে, আমরা সব ঠিক কোরে দিচ্ছি । কালা। হাঁ হাঁ তাইতাে দিবি! আমি মুনীব-বড়নােক- আমি কি আর নিজে হাতে পােষাক পাের্বো ! অঞ্জ। আজ্ঞে না প্রভু—তাকি কখন কোরেছেন ? কাল। কখন লা-ঠিক কি লা? হাঁ হুঁ অামার গলার আওয়াজটা কি বলছিলি ? ঠিক ততাদের মুনীবের মত -লা-লা ঠিক আমার আগেকার মত নয় ? অঞ্জ। আজ্ঞে একটু ভারি ভারি—তা বােধ হয় রাত্রি জাগ- রণ, শিকারের পরিশ্রম কালা। হ্যা তাই। আচ্ছা আমার চ্যাহারাতাে ঠিক আছে ? অঙ্গ। আজ্ঞে হ্যা। কালা। কিছু বেঠিক হয়লি ? অঞ্জ। আজ্ঞে কই না। কাল। ঠিক-ঠিক বােলেছিস-তুই আমার মনের মত কথা বােলেছি-তাের মাইনে বেড়িয়ে দোবাে।

প্রথম অঙ্ক।
• (পােষাক লইয়া ত্রিপণ্ডের প্রবেশ )
কালা। (পোষাক লইবার উপক্রম) দে—পরি। লাল
তাের যে পরাবি।
কালা। (অঞ্জনকে পােষাক ধরিতে দেখিয়া ) (স্বগতঃ )
এ আবার কি পােক বাবা! এতে পাের্তে জানি না।
( প্রকাশ্যে ) এ পােষাক কেনে? এ পােষাক কেনে?
অঞ্জ। আজ্ঞে, প্রভু তাে প্রতিদিন প্রাতে এই পােষাকই
পােরে থাকেন। '
কাল। পােরে থাকি ? আচ্ছা দে।
অঞ্জ। এই যে আমি দিচ্ছি। ( গাত্রস্থ পােষাক খুলিয়া
লইয়া উক্ত পােষাক পরাইয়া দেওন-পরিধানকালে কালা-
শােকের বহু বিকৃত ভাব প্রকাশ ।
কালা। এখন কি কোৰ্ত্তে হয় ?
অঞ্জ। আসনে উপবেশন করুন।
( কালাশশাকের উপবিষ্ট হওন)
(কল টিপিয়া ত্রিপণ্ডের প্রস্থান ও প্রতিমূর্তি হইতে
সংগীত ধ্বনি)
কালা। (চমকাইয়া) ও কি ?
অঞ্জ। আজ্ঞে-গান।
কালা। কে গায় ?
অঞ্জ। কেন প্রভু! ওই চিনে
ওই চিনে পুতুলরা!
বােজই তাে
গায়।
কালা। হাঁ হুঁয়ােজই গায়-রােজই গায়-গা গা
খুব ভাল করে গাইতে বােলে দে ।

২৬
লুলিয়া।
(প্রতিমূর্তির গীত )
প্রভাত হইল, পৃথিবী জাগিল,
বিহগ গাইল জয় নারায়ণ।
ফুল ফুল হাসি,
দশন বিকাশি,
সমীরে সঁপিল সুবাস রতন।
পুলকে প্রাচীতে, হাসিতে হাসিতে,
পৃথিবীর তম নাশিতে নাশিতে,
প্রেম প্রকাশিতে, জীবে আশ্বাসিতে,
উদিলেন ভানু পূর্ণ পুরাতন।
অঞ্জ। প্রভু! যদি রাগত না হােন্ --ত। হােলে একটা
নিবেদন কর্তে পারি কি ?
কালা। (স্বগতঃ ) বেটা বুঝতে পেরেছে লাকি ? (প্রকাশ্যে)
কি লিবেদন ?
অঞ্জ। প্রভু! আপনি যখন এলেন, তখন আপনার
পােষাক ছিল না, বিনামা ছিল না, মতির মালা, বীরবৌলি,
হীরের কষ্ঠী কিছুই ছিল না—আর গায়ে রক্তের দাগ ছিল;
কারণ কি?
কালা। ভয়ালক ব্যাপার ঘােটে ছিল রে-ভয়ালক ব্যাপার
ঘােটে ছিল। বনের ভেতর আমাদের ডাকাতে আটুকে ছেলে ;
আটকাতে আমরা তরােয়াল খুলে নােড়তে লেগে গেলুম। তাকে
তো-না-না—সেই কালাশােককে তো একেবারে তারা
দুখানা করে কেটে ফেলে, আমি লা তাই দেখে -ইমড়ি খেয়ে
•

প্রথম অঙ্ক।
পোড়ে গেলুম-- যেন মরে গেনু আর কি। বেটারা তখন আমার
সৰ্ব্বস্ব খুলে লিয়ে আমায় আর তাকে একটা গাড়ায় ফেলে দিয়ে
চোলে গেল। আমি খানিক পরে লা উঠে, চার্দিক পানে চেয়ে,
অমলি দে দৌড়- একেবারে এসে হদের ধারে এ! তারপর
রাতারাতি বাইয়ে এসে—ঠিক ভােরের সময় পৌছে গেছি!
কেমন ঠিক না ?
অঞ্জ। আজ্ঞে হ্যা ! তবে তো প্রভু বড়ই বিপদ গেছে।
আহা কালাশােক বেচারি বেঘােরে মারা গেল, তার পরিবারের
জানি কি দশাই হবে।
কালা। কি আর হবে? আমার সঙ্গে গিয়ে মেরেছে,
আমিই তাদের পুষবাে।
( ত্ৰিপণ্ডের পুনঃ প্রবেশ)
(নেপথ্যে অরবিন্দ )
নেপ-অর। ওরে অঞ্জন! ততাদের মনীব ঘুমুচ্ছে না জেগে
আছে ?
অঞ্জন। (কালাশশাকের প্রতি) অরবিন্দ মশাই।
কালা। বল্ ঘুমুচ্ছে-এখন দেখা হবে না।
অঞ্জ। আজ্ঞে আজ্ঞে
কালা। আবার বলে আজ্ঞে বব-ববালে আয়।
[ অঞ্জনের প্রস্থান।
ত্রিপ। আজ্ঞে অরবিন্দ মশাইয়ের সঙ্গে
কালা। দুঃতাের অরবিন্দ মশাইয়ের সঙ্গে! এখন দিনকতক
কারাে সঙ্গে দেখা কোর্বো লা। কেবল একবার সুলীর সঙ্গে-
ওই সেই শিকিরির মেগের সঙ্গে দেখা করে, একটা বন্দোবস্ত

লুলিয়া।
ত্রিপ।
ঠিককোরে দেব। --ভাল কথা—তুই গিয়ে তাকে চুপু চুপু
এখানে ডেকে নিয়ে আয় দিকি।
ত্ৰিপ। যে আজ্ঞে
কালা। যাবি আর অসবি। কেউ যেন না টের পায় ।
যে আজ্ঞে ।
[ প্রস্থান।
কালা। (স্বগতঃ ) আসবে তাে লিশ্চয়—এখন এসে লা
থােরে ফ্যালে ? শালি যে ঘাগি! ভয় হয় পাছে চিনে ফেলে ,
আমার সব মৎলব ভণ্ডুল কোরে দেয়। বন্দোবস্তটা নােক দিয়ে
কোলে হয় না? উহু। সেটা বড় সুবিধে হবে না। আসুক
ততা; ধরে ফ্যালা বড় সহজ লয় -এর। তাহলে ধরে ফেলে।
( অঞ্জনের প্রবেশ )
কি হােলাে, কি বলে গালি ?
অঞ্জ। আপনার শরীর অসুস্থ বােলে ।
কালা। সে বেস্! এখন তোয় আমায় একটা পরামমশ
আছে -শােন্। লুলীকে আনতে পাঠিয়েছি।
একটা যাহােক
বন্দোবস্ত কোরে দোবাে। দ্যাখ,---সে এলে, আমি বেণী কথা
কইবাে লা -খুব গাম্ভির হােয়ে থাকবে—আমি বড়নােক কি ?
যা বলবার কয়বার হয়—তুই লা হয় তিপুণ্ডে ববি। কেমন ?
অঞ্জ।
আজ্ঞে !
কালা। বেশী চেঁচামেচি লা করে, বুঝলি ?
অঞ্জ। আজ্ঞে।
নেপথ্যে লুলী। ( ক্রন্দনস্বরে) ওরে মাের কি হােলােরে --

প্রথম অঙ্ক। ২৯ ওরে মাের কোল জোড়া ধনকে মাের কোল থেকে লে গিয়ে যমের হাতে দিয়ে এল রে—ওরে ধনরে আমার। কালা। আরে চুপ ক’বুতে র—চুপ, ক’তে বল । লুলি ( ( প্রবেশ করিতে করিতে ) ওরে মুই কার সৰ্ব্বনাশ কোরেছিনু রে কালা। ( চাপা স্বরে) চুপ চুপ, ! লুলি। ওরে মুই কার বুকে ভাতের হাঁড়ি- কালা। (চাপা স্বরে ) চুপ চুপ; ওরে অঞ্জুনে, চুপ, করতে বলনারে! অঞ্জ। চুপ কর-চুপ কর। কর্তা কি বলেন শােন। কালা। ঐ বলনা-কাদলে আর কি হবে ? যা হবার তাতাে হেয়ে গেছে। লুলি। ওগাে এমন হওয়া কেনে হােলদা গােওগাে ! কাল।। (ঐ) চুপ চুপ, আবার কাদে? কঁদলে কি আর ফিরে পাবে ? ওরে অঞ্জুনে, জিগেস করনা, কি হােলে ওঁয়ার দুঃস্কু ঘােচে ? লুলি। ওগো মাের দুঃস্কু! কাল।। আবার কাঁদে! ( চাপা স্বরে) ওরে অঞ্জুনে বলনারে ! অঙ্গ। বলনা গাে ? কি হােলে তােমার দুঃখ ঘােচে ? লুলি। (ফেঁপাইতে ফোঁপাইতে) ওরে অঞ্জন—তুই বনা -কি হােলে মাের দুঃস্কু ঘােচে। কাল। ও কি বােলবে? ( চাপারে) ওরে অঞ্জুনে-বল- যাতে ওয়ার ভালাই হয়, আমি তাই করব। যাতে কোনাে কষ্ট ত লুলিয়া। করতে হয়—ছেরােম কোরে না খেতে হয়, আমি তার ঠিক বন্দোবস্ত করব! এখন বােলতে বল-কি-কি দরকার? লুলি। পেথ দরকার—ভাত আর কাপড়। কালা। (চাপাস্বরে) ব অঞ্জনে—আমি অ্যাও দোবাে, অ ও দোবাে। আর কি! লুলি। হাত খরচের টাকা। কালা। ( চাপাস্বরে) বলযত চাইবে—তত পাবে। অঞ্জ। আর কি? আর তত তােমার কিছু অভাব রইলো না ? লুলি। ও কি কথারে অঞ্জন? অভাব রইলাে না ? কালা। সব অভাব আমি ঠিক কোরে দোবাে। লুলি। তাতে হবে। কিন্তু এখন মুই একা মেয়ে নােক-- একা ঘরে থাকবাে কি কোরে ? কালা। ( চাপাস্বরে) বনারে-একটা নােক দোবাে- পাহারা দেবে। সুলি। সেতো যে সে নােকে হবে না-বিশ্বিসি চাই। বল- নারে অঞ্জন-বুঝিছিস ত বিশ্বিসি চাই। কাল।। তবে কি হবে ? লুলি! হবে আর কি? মুই দেখে শুনে বেচে লেবে আপনি দাম দিও। কালা। আচ্ছা তাই হবে । অঞ্জন। তবে আরকি? সব তাে মিটমাট হােয়ে গেল, এখন ত্রিপও খুড়াে তােমায় বাড়ী রেখে আসুক। লুলি। তিরূপণ্ড খুড়ােয় কাজ কি—তুমি এস না। - +

প্রথম অঙ্ক।
৩১
?
কাল। লালা তিরূপণ্ডই যা।
লুলি।' তাতো যাবে—(স্বগতঃ ) কিন্তু তুমি পােড়র
মুখে যে, মােরই সেই পােড়ার মুখো -- তার কি ? এতক্ষণ
ঠাউরে দেখিনি, দিব্যিকান্তি মশাইরেও চিনি—তােরেও চিনি।
এতক্ষণ বড় ঠাউরে দেখিনি।এখন যতই দেখছি-ততই বুঝতে
পাচ্ছি—এ তােরই ভিকিলিমি। চেহারাই লা হয় এক হােলল ;
—কিন্তু সেই হাত নাড়া—সেই ভাব ভঙ্গি—সেই কথা বাত্তারার
ঢং কোথা যাবে
কালা। ও কিরে অঞ্জুনে-যায় না ক্যানে ? আমার পানে
অম কম কোরে চেয়েই বা আছে ক্যানে ? ওরে যেতে
বলন ?
অঞ্জ। যাওনা গাে !
লুলি। এই যাচ্ছি হে যাচ্ছি।
(স্বগতঃ ) আচ্ছা তুই থাক
মিশ্নে! মুই এর লিগুড় বার ক’ব, তবে মাের নাম লুলি
দজ্জালি।
|| প্রস্থান।
কালা। ক্যানে বল দিকি অমন কোরে চেয়ে দেখছিলাে?
কিছু সন্দ কোলে লাকি ?
অঞ্জ। আজ্ঞে সন্দেহের কি কিছু কারণ আছে ?
কালা। আছে লাকি ?
অঞ্জ। কৈ-কি ?
কাল। তবে দেখছিলাে ক্যানে ? তােরাতাে দেখছিস না ?
অঞ্জ। আজ্ঞে না।
কালা। আজ্ঞে লা কি বল ?

লুলিয়া।
অঞ্জ। আজ্ঞে কিছুই না—ওটা ভ্রম!
কালা। ঠিক ঠি-ভেরােমই বটে! তুই ঠিক বােলেছিস--
তাের মাইনে বাড়িয়ে দেবাে।
।
চতুর্থ গর্ভাঙ্ক।
শৈলগাত্রে সরসার উদ্যান-দ্বার।
( উপস্থিত সরস)
গীত।
একাকিনী রহিতে নারি—কই রহিতে পারি ।
চাই--সতত হেরিতে চাদমুখ তাহারি।
হৃদে থাকিলে কি হয়,
চোখে না দেখিলে নয় ;
সদা-চোখােচোখী মুখখামুখী আশা আমারি
চাই—সতত পিয়িতে প্রেম পিয়াসে বারি ।
সরসা। (স্বগতঃ ) দেখার সাধ তো কই মনে মেটে না।
মন কল্পনা করে-আর ভাবে ; চোখ গড়ন গড়ে—আর প্রাণ
প্রতিষ্ঠা করে। মনের কাজ এক,-- চোখের কাজ আর! মন
অনেক ভেবেছে—আর ভাবতে চায় না! এখন - চোখ চায়
দেখতে-দিবারাত্রি দেখতে ; পলক পড়লে যদি দেখা না যায়
• চোখ আমার --তা হলে পলকও ফেলবে না। চেয়ে চেয়ে

প্রথম অঙ্ক। ' আত্মহারা হােয়ে যাবাে অন্য কিছু দেখতে পাবাে না!—কেবল দেখবাে - প্রিয়তমের সেই মানস মােহন মূর্তিখানি; কেবল শুনবাে সেই সুধ। মাখা স্বর লহরী; জগৎময় সেই মূর্তি দেখতে দেখতে—অবশেষে তিনিময় হােয়ে যাবো; আমিই তিনি তিনিই আমি হােয়ে দেখবো-তিনিই আমি–আমিই তিনি। ( রবিরঞ্জ সৌরির প্রবেশ) পিতঃ, প্রণাম গ্রহণ করুণ! (গলবস্ত্রে প্রণামকরণ) রবি। চিরায়ুতী হও। বৎসে! রাজাদেশে আমায় অদ্যই কোন দুর দেশে গমন ক’তে হােচ্ছে। সরসা। কেন পিতঃ, কেন ? রবি। বিশেষ আবশ্যক আছে। সরসা। কি বিশেষ আবশ্যক? রবি। কাফির রাজ-বিদ্রোহী হােয়েছে, দেয় কর রাজ- কোষে প্রেরণ করে না। বিশেষ নিজেকে স্বাধীন নরপতি বােলে প্রচার কোরেছে, নিজের নামাঙ্কিত মুদ্রার চলন কোরেছে। সরসা। কতদিন বিলম্ব হবে পিতঃ ? রবি। সে কথা সঠিক বলা যায় না, পক্ষ কালের অধিকই সম্ভব! সরসা। কেন পিতঃ! আপনার বাহুবল তত কারাে অজ্ঞাত নয়। বিশেষ এত বিলম্ব তাে আর কখনও দেখিনি। রবি। এবার শুধু এক কাৰ্য নয় বসে! প্রত্যাবর্তনকালে ভীমগড়ের দস্য নায়ককে স্বদলে বন্দী কোরে আনতে হবে। তারা বড়ই অত্যাচারী হয়ে উঠেছে। ধনী মধ্যবিত-গৃহস্থ দরিদ্র--বালক-বৃদ্ধ-যুবা—এমন কি দুগ্ধপােষ্য শিশু ও রমণী- -

৩৪
লুলিয়া।
গণের প্রতিও তারা অমানুষিক অত্যাচার কোরে থাকে ।
তাদের রীতিমত দমন করতে না পারলে-মহারাজার অকলঙ্ক
নামে কলঙ্ক বৃদ্ধি হেতে থাকবে।
সরসা। এ কাৰ্য্য উচিত বটে। কিন্তু পিতঃ ! যতশীঘ্র পারেন
ফিরে আসবেন। জননী রুগ্ন শয্যায়, আমি একাকিনী।
রবি। কিছু চিন্তা নাই মা! আমি সকলকে সাবধান কোরে
দিয়ে গেলেম।
আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব, দাস দাসী, সকলেই
তােমাদের রক্ষণাবেক্ষণ করূবেন। বিশেষ আরতীও তার
স্বামী সদাসর্বদা তত্ব লােতে স্বীকৃত হয়েছে। তুমি নিশ্চিন্ত
থেকো। আমি আসি ।
সরসা। যে আজ্ঞা। (প্রণাম )
রবি। খুব সাবধানে থেকে মা! সূৰ্য নারায়ণ তােমায়
রক্ষা ক’বেন। রুগ্নার সেবায় যেন কোন ত্রুটী না হয়।
[ প্রস্থান।
সরসা। (স্বগতঃ ) যত বিলম্ব বােলে গেলেন, তত বিলম্ব
হবে না। বীরচূড়ামণী পিতা আমার অবিলম্বে সমস্ত কাজ
সমাধান কোরে ফিরে আসবেন।
( গান করিতে করিতে সজনীগণের প্রবেশ)
গীত।
ফোটো ফোটো ফোটো ফুল বধু-তােমার ভােমা বঁধু
আসবে লাে ।
লুটে পুটে মধু খাবে টুটে কলি বাতাসে বাস্ ভাসবে লে,
তােমার বাতাসে বাস্ ভাসবে লাে॥

প্রথম অঙ্ক।
৩৫
‘গুন্ গুন্ রবে গুন্ গাবে অলি,
সােহাগে পড়িবে ঢলি ঢলি ঢলি
আকুলি বিকুলি জ্বালা যাবে চলি-হাসবে ভাল বাসবে লল,
ওসে হাসবে ভাল বাসবে তাে।
সরসা। কি লাে কথাটা কি ?
১ম-স। কথা আর কি ?
ঠাকুরটী ফিরেছেন।
সরসা। কখন ? কই ? মিছে কথা! এলে আগে এখানে
আসতেন।
১ম-স। তাই আসতেন—একটা বিপদের জন্যে।
সরসা। কি বিপদ তপতি ? কার বিপদ ? কি ?
১ম-স। না-না-তার নয়। তার সঙ্গে যে কালাশােক শিকি-
রিটা গেছলে। সেই টাকে ডাকাতে মেরে ফেলেছে, তাই তার
পরিবারকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে আসছেন।
সরসা। আহা হা! মেরে ফেলেছে? গরীব বেচারিটী মারা
গেছে ?
১ম-স। হ্যা মারা গেছে। এখন ইনি ভালয় ভালয় ফিরে
এসেছেন এই ঢের !
সরসা। ভগবান সূৰ্য্য নারায়ণ একে রক্ষা করেছেন ।
তিনি তাে কোন আঘাত পানি তপতি ?
১ম-স। না কিছু না; সুস্থ শরীরে ফিরে এসেছেন।
সর। তুই-দেখেছিস- না শুনে এলি ?
১ম-স। শুনে এলেও সে দেখার বেশী ।
সর। কি রকম?

লুলিয়া।
১ম-স। পথে ত্রিপুণ্ডর সঙ্গে দেখা হয়েছিল, সে বললে।
সর। তুই দেখা করে এলিনি কেন ?
১ম-স। আগে তােমায় খবর দিতে এলুম - তাই।
সর। তপতি! আমার মন কেমন কোচ্ছে। তুই একবার যা
দেখে আয়।
১ম-স। তা না হয় যাচ্ছি-
সর। যাচ্ছি না এখনি যা। গিয়ে একেবারে সঙ্গে করে
নিয়ে আয়।
১ম-স। তা আবাে; কিন্তু খােরে আবাে, না বেঁধে
আনবাে ?
যেমন করে পারিস আনা চাই।
১ম-স। তাই আবাে। আমি ছেড়ে আসবার বান্দা নই।
যাবধােৰ্বে-বাঁধবে—আর হিড়, হিড় করে টেনে নিয়ে
আসবাে।
২য়-স। নতুন করে আর তাকে বেঁধে আনতে হবে না;
যে বাঁধন আছে, টানের চোটে আপনি আপনি সুড়, সুড়,
করে এসে পড়বেন ; কি বল সখি ?
সজনীগণের গীত।
টানেতে আসবে তােমার প্রেমের মহাজন ।
শুনেছি আছে নাকি তার ভাড়ার ভরা ধন।
মখুলে ঠিক দেখায় যদি সে,
মনের মত হয় কিনা হয় বুঝবে লাে দেখে,

প্রথম অঙ্ক। ৩৭ । যদি বুঝি ভাল তার কোনাে দর-কিনবাে দেব পণ। দেহু দেব আর প্রাণ দেবব আর দেবদ নবযৌবন ;- তােমায়-দেবাে নবযৌবন। [ প্রস্থান। সরস। এখনও আসছে না কেন? শিকারীর পরিবারকে বােঝাতে পড়াতে আর কতক্ষণ লাগে? এতক্ষণে বুঝিয়ে পড়িয়ে ত আসা উচিত ছিল ? ( আরতীও অরবিন্দের প্রবেশ) আরতী । শুনেছ সরসা, তিনি ফিরে এসেছেন। সরসা। শুনিছি- অর। আমি তাে তােমায় বললেম আরতী,এ কথা কি আর শুনতে বাকি থাকে ? প্রাণের তার আপনি বেজে ওঠে। কেমন সরসা, ঠিক কি না? সরসা। আমি আর কি বলবাে ? এ আর নূন কথা কি ? নিজে নিজের অবস্থা ভেবে দেখলেই হয়। তােমাদের তার বেজে পুরােণণা হয়ে গেছে, আমার তাে এই সবে নূতন। অর। নুতন বলেই তাে বলছি; তােমাদের বাজবেও যেমন ঝাঁ করে, রেশ থাকবেও তেমনি বেশীক্ষণ। আমাদের ত মচে ধরে এয়েছে, হয় ত বাজলাে, নয় ত নয়। কি বল আরতী ? আরতী। ও কথাই নয়, তার যত পুরােণ হবে ততই বাজবে ; বেশী ঘা দিতে না দিতে ঝন্ করে উঠবে। অর। তবে তাই—আমার হার। ; ; ৪

লুলিয়া।
আরতী। দু’শােবার।
সরসা। তাঁর সঙ্গে তােমাদের দেখা হয়েছে ?
অর। দেখা আর হল কই ? দেখা করতে গিয়ে ফিরে
এসেছি!
সরসা। কেন—কেন ফিরে এলেন কেন ?
অর। না ফিরে এসে করবে কি! দেখা না করলে কি
আর জোর করে দেখা করবে ?
আরতী।
দেখা না করা কি করে হলে বল ?
অভিমান করা তােমার মিছে। এসে ঘুমিয়ে পড়েছেন ;
কাজেই,
অর। ঘুমনন কি রকম ? অঞ্জন কি বলে মনে আছে ত ?
আরতী। ঠিক ঘুমনাে না হােল্ক, ক্লান্ত হােয়ে পােড়েছেন ;
শিকারের পরিশ্রম, সমস্ত রাত্রি জাগরণ, তার ওপর দুর্ঘটনা
অর। তাই চাকরকে বলা হ'ল—বগে যা ঘুমিয়েছে ।
আবার কাকে বলা হল, না যাকে একদও না দেখতে পেলে
চক্ষে আঁধার দেখে, সেই একমাত্র প্রাণের বন্ধুকে।
(১ম সজনীর প্রবেশ)
১ম-স। ছি ছি কি লজ্জা! এত অপমান ? এত তাচ্ছিল্য ?
সরসা। কি হােয়েছে তপতি ? কি হােয়েছে ?
১ম-স। ছি ছি ছি এমন হবে জানলে কি আমি যাই ?
সরসা। কি হােয়েছে বনা?
১ম-স। বােলবাে কি আর আমার মাথামুণ্ডু! ছি ছি ছি
চাকরকে দিয়ে বলানাে ? আমি টের পাচ্ছি ঘরের ভেতর বােয়ে-
ছেন, তবু ঢুকতে মানা। আমি কি ভিখিরি, তার দুয়ারে ভিক্ষে

প্রথম অঙ্ক।
কোর্ডে গেছি, তাই দুর দুর কোরে তাড়ানাে। না হয় নাই
আসবেন, আমায় ডেকে ভাল মুখে বােল্লেই তাে হােত !
সরনা। কি বােল্লেন তপতি, কি বােল্লেন ?
অর। আবার বলে কি বােল্লেন ? ওই আমাদের ও যা
বােলে সরিয়ে দিয়েছে, ওকেও তাই বােলেছে আর কি ?
সরসা। তবু কি বােল্লেন শুনিই না।
১ম-স। কি আর বােলবেন-যেন ত্যক্ত বিরক্ত হােয়ে
বােল্লেন, “এখন যেতে বল্ এখন যেতে বলব আমি ঘুমিয়েছি
সাবকাশ মত যাব।” আমি তখন ঘরে যাবার জন্যে জেদ
কোর্তেই, রেগে মেগে বােল্লেন-“আরে মেললা কোথা কার
হতভাগা মাগী, দুর কোরে দে, দূরু কোরে দে। ওই কথা শুনেই
আমি কঁদতে কাঁদতে ফিরে এলুম।
[ প্রস্থান ।
সরসা। হ ভগবান! একি শুনি ? আমার যে প্রাণ ফেটে
যাচ্চে আরতী ? এমন অপমান কেন তিনি কল্লেন ?
আর। মেজাজটা বােধ হয় খুব খারাপ হয়ে আছে
তাই। নইলে কি তােমার দূতীকে তিনি এমন কথা বলতে
পারেন ?
অর। আর পারেন না-পাল্লে ! তবু তুমি
তবু তুমি বােলছে
পারেন কি ?
আর। দেখ - অত অভিমান কোত্তে গেলে আর বন্ধুতা
রাখা চলে না। না সরসা ! তুমি কিছু মনে কোনাে না-ওই
মানুষ দেখবে--এজন্যে কত ক্ষোভ কোর্বে, কত হাতে থাের্বে,
কত ক্ষমা ভিক্ষা চেয়ে নেবে।

৪০
লুলিয়া।
অর। তা যে কোর্বেন--তা আমি জানি।
তবে এরকম
কোরে দুঃখ দেওয়াটা তার ভাল হয়নি—একথা আমি দুশাে বার
বােলবাে।
আর। তা বােলাে-তিনি মাথা পেতে দোষ স্বীকার কোরে
নেবেন।
কি বল সরসা ! তাঁকে জান তাে ? তার মুখ দে
কি কেউ কখন কোন রূঢ় কথা শুনেছাে ?
সর। সেই জন্যেই তাে এত দুঃখ আরতী ।
আর। না-ছিঃ! দুঃখ কোরাে না। যদিও দুদণ্ড দেরি
কোরে আসতেন, ঠিক দেখাে এই জন্যে যত শীঘ্র পারেন—তত
শীঘ্র এসে তােমাদের সান্তনা কোর্বেনই কোর্বেন ।
[ সকলের প্রস্থান।
পঞ্চম গর্ভাঙ্ক
দিব্যকান্তের সজ্জাগৃহ-সম্মুখ ।
( অঞ্জন ও ত্ৰিপণ্ড উপস্থিত )
ত্রিপণ্ড। মনীব নয়ই নয় ।
অঞ্জন। তবে কে?
ত্রিপ। সেই শিকিরি বেটা।
অঞ্জন। দুরু, তাকি হয়? ও কথা মুখে আনিনি।
ত্রিপ। মনে যখন আসছে—তখন মুখে আসবেই। হয় ।
সেলাই কোরে দে, নইলে বােলতে ছাড়বে না।
অঞ্জন। ছাড়বিনি ? মনীব শুনলে কি হবে জানিস ?

প্রথম অঙ্ক।
৪১
ত্রিপ। আবার বলে মনীব-বল শিকিরি।
অঞ্জন। তুই বার বার যে ও কথা বলছিস—কিসে তাের
বােধ-হােললা ?
ত্রিপ। সব রকমেই। কথায়-বাত্রায়,—ভাবে-ভঙ্গীতে,
আচারে-ব্যবহারে চেহারা-চটকে, কিসে নয় ?
অঞ্জন। তুই কি বােলছিস রে? তাের যত আজগুবি কথা !
ত্রিপ। আজগুবি হয় হােক,-আমি কিন্তু বােলতে
ছাড়বাে না!
অঞ্জন। শুনতে পেলে কোড়া লাগাবে।
ত্রিপ। খাবাে-তবু বলব।
অঞ্জন। গলা টিপে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেবে।
ত্রিপ। তা হােলে তাে মজা হয় । এখন ঘরের ভেতর
বলছি—তখন হাটে বাজারে ট্যাটু পিটবাে
( উৎকৃষ্ট বেশে সজ্জিত কালাশােকের প্রবেশ )
কালা। ওরে লাগােরা-লা-লা-লপেটা দে। ( জুতা পরিয়া)
ঠিক মানিয়েছে কি না দেখ।
অন। বেশ মানিয়েছে।
কালা। তুই কি বলিস রে!
ত্রিপ। • বেশ মানিয়েছে—ঠিক তার মতন।
কালা। কার মতল রে ? কোন রাজ রাজড়ার ছেলের
মতন ?
ত্রিপ। আজ্ঞে না, ঠিক তার মতন।
কালা। কার মতল ?
ত্রিপ। আজ্ঞে সেই শিকিরি বেটার মতন।

৪২
লুলিয়া।
-
কালা। সেই ছােট নােক বেটার মতল ?
ত্রিপ। আজ্ঞে হ্যা—সে যখন বিয়ে কোর্ল্ডে গেছলাে,--
ঠিক সেই সময়ের মত মানিয়েছে।
কালা। যাগ, তার কথা আর শুনতে চাই না। এখন
যাওয়ার কি বল ?
অঞ্জন। যাবেন।
কালা। যাব তাে, কিন্তু কিছু দু লা ভাবে—কোন সন্দ
লা করে।
অঞ্জন। দুষ্ণু ভাববেন কেন? সন্দেহ কোর্বেন কিসে ?
কালা । লা-যদি মনে করে-এ-সে দিব্যিকান্তি লয় ?
অঞ্জন। তবে কোন্ দিব্যকান্ত প্রভু ?
কালা। লা-তাই বলছি-মেয়ে নােকের মন কি না? ত
যা, এখন ভাবছি পেরথমে গিয়ে কি রকমের কথা ফাদ্বাে।
বড় ননকের মেয়ে—তার সাথে পেরেম করাতাে সহজ নয়।
একটু বেফাঁস হােলে হয়তাে তুলকালাম নাগিয়ে দেবে।
অঞ্জন। বেফাস হবে কেন প্রভু? আপনিতাে নুতন নম্।
কালা। তাতে লই—তাতে লই। তবে কি জানিস অঞ্জুনে
-বারফটকা ঘুড়িটে ফুড়িটে হােলে-খুব লয় নাগাতে পাত্তম
প্রেমের টপ্পা উড়িয়ে, রসিকতার রস নিংড়ে, নেচে কঁদে
আচা ভুয়ার বােদাচা দেখিয়ে, লজর বিগড়ে দিতে পান্তুম।
কিন্তু এ বাবা গেরস্ত ঘর, অসামাল হােয়েছে কি, ধড়ের আগা
থেকে মুণ্ডুটী উড়ে গেছে। তাই ভাবছি-কি করি? অমন
হীরে জহরাত মােড়া সােনার পুতুলটীকে হাতে পেয়ে ছাড়তেও
পাচ্ছি না—অথচ এগুতেও পেরাটা ধড় ধড়, কোচ্ছে।
৩

প্রথম অঙ্ক।
৪৩
অঞ্জ।, কুমারী আপনার বাকদত্তা পত্নী-আপনার ভয় কি ?
কালা। ভয়তে লেই বলছি, কিন্তু যদি থােরে ফেলে?
অঞ্জন। কি থােরে ফেলবে প্রভু!
কালা। কি বলছিস ?
অঞ্জন। আজ্ঞে এই যে আপনি বােল্লেন, যদি থােরে ফেলে---
কালা। কই লা, অমিত বলিনি।
অঞ্জন। আজ্ঞে হ্য। বললেন বৈ কি ?
কালা। আবার বলে বল্লেন বৈ কি! আমি বলছি না বলিনি
অঞ্জন। আজ্ঞে না তবে বলেন নি।
কালা। (স্বগতঃ ) উঃ! ঢালাটা কানের পাশ দিয়ে সে-
কোরে বেরিয়ে গেল ।
ত্রিপ। ( জনান্তিকে অঞ্জনের প্রতি ) শুন্‌লি তো, এখনও
তাের সন্দেহ।
অঞ্জন। সন্দেহ না কোরে কি করি বল ?
ত্রিপ। (ঐ) পায়ের লাগােনা খুলে আয় বেটাকে বিশ
পঁচিশ ঘা বসিয়ে দিয়ে, গলাধাক্কা দিতে দিতে বাড়ী থেকে বার
কোরে দিই।
অঞ্জন। (ঐ) তারপর ?
ত্রিপ। (ঐ) তারপর অরবিন্দ মশাইকে-
কালা। দুটোতে কি বলাবলি কচ্ছিস্?
ত্রিপ। আজ্ঞে কই না ?
কালা। আবার বলে লা এই তিরপুণ্ডে বেটা দেখছি
পাজির পা ঝাড়া।

88 লুলিয়া। ত্রিপ। আজ্ঞে না। কালা। আচ্ছা লা তাে লা। এখন এক কাজ কর দেখি । একজন ছুটে যা, বাগান বাড়ীতে দেখে আয়,সে ছাড়া আর কেউ আছে কিনা ? কেউ লা থাকে তাে আমায় এসে খপর দিবি ; আমি ফুকু কোরে যাব, পিরিত জমাবাে, তারপর বিয়ের ঠিক্ ঠাক কোরে আবার ফুকু কোরে চোলে আসবে ! বুঝলি ? যা তিরপুণ্ডে তুইই যা। [ ত্রিপণ্ডের প্রস্থান! আর দেখ, অঞ্জুনে, তুই একবার দেখে আয়, অরবিন্দ মশাই বাড়ীতে আছেন কিনা। [ অঞ্জনের প্রস্থান। ( লুলিয়ার প্রবেশ।) এ আবার কি? তুই এখানে ক্যানে ? লুলি। ক্যানে হে আসতে কি লেই লাকি ? কালা। এ কি রকম কথা? এ কি রকম কথা ? লুলি। ক্যানে হে? কালা। আবার বলে ক্যানেহে ? আমি কি তাের ক্যানে হে বলবার যুগ্যি! তুই ছােট নােক, আর আমি ভদ্দর নােক- লুলি। ওরে মাের ভদ্দর নেকের বেটা ভদ্দর নােক দেখিতাে তুই কেমন ভদ্দর নােক। ( হস্ত ধারণ) কালা। হাত ছেড়ে দে, হাত ছেড়ে দে-নইলে— লুলি। নইলে কি কোরবিরে বেটা জোচ্চোর ! একি ? ওরে বেটা ভদ্দর নােক, এ হাতে তাের সেই তীর খাটার উল্কি এল কোত্থেকে ?

প্রথম অঙ্ক।
৪৫
কালা।' এ উল্কি তারও ছালাে, তারও ছ্যালাে।
লুলি। কার ছালােরে পাজী! (কালাশােকের মস্তকের
তাজ খুলিয়া ফেলিয়া দিয়া) এ চোটের দাগটাও ছ্যালাে নাকি ?
কালা। ছ্যালােইতাে - ছ্যালােইত !
লুলি। ফে বলে ছালাে? ঘা কতক না দিলে দেখছি তুই
মানবিনি;
কালা। লারে মারিনি-মােরে যাবো! তাের হাত তে।
লয়:-যেন হালপেটা হাতুড়ি ।
লুলি। তা জানিস তাে ? এখন সব কথা ভেঙ্গে বল!
লইলে মেরে থােরে চেঁচিয়ে পাড়ার নােক জড় কোরে তাের সব
ভরম ভেঙ্গে দোব। বল্ লইলে নােক ডাকি।
কালা। লারে ডাকিসনি ডাকিনি-
লুলি। তবে বল
কালা। কি বােলবাে ?
লুলি। আবার বলে কি বােলবাে? তবে ডাকি, ওরে
কালা। (লুলির মুখে হাত চাপা দিয়া) থাম থাম বছি
বছি সব কথা বলছি! আর বােলবােই বা কি? তুই তাে সব
বুঝতে পেরেছি।
লুলি। তাতে পেরেছি। দিব্যিকান্ত মশাইকে একেবারে
ধুন কোরে ফেলেছিস তাে?
কালা। আমি লা, আমি লা ডাকাতে ডাকাতে
লুলি। তা যেই করুক, একেবারে মরে গেছে তো?
কালা। তা গেছে ক্যানে ?
লুলি। লইলে কোন দিন ফিরে এসে তাের সব ভরম ভেঙ্গে

৪৬
লুলিয়া।
দেবে, তখন তুই গিয়ে চড় বি শুলে আর এই লুলি রাঁড়ি ফ্যাল
ফেলিয়ে চেয়ে থাকবে।
কাল। লা সে ভয় লেই।
লুলি। তা যদি লেই তবে এখন মাের ব্যবস্থা কি কোৰ্বি,
তাই বল।
কালা। ক্যানে? তুই যা চাইবি, তাই পাবি। ট্যাকা কড়ির
কোন অভাব থাকবে না।
লুলি। তাতে থাকবে না। এখন তােরে পাবার কি ?
কালা। আমায়ও পাবি।
লুলি। কেমন কোরে পাব ?
কালা। ক্যানে ? আমি লুকিয়ে লুকিয়ে রােজ তোর বাড়ী
একবার কোরে যাব।
লুলি। মুকিয়ে ক্যানে ?
কালা। লইলে যে লােক জানাজানি হবে। আমার নিন্দে
রােটে যাবে, লােকে সন্দ করবে।
লুলি। তার চেয়ে এক কাজ কা ক্যানে, কোন গোল হবেনা
কালা। কি বল ?
লুলি। মােয়ে বিয়ে কোরে ফ্যা।
কালা। তাকি হয় ? কি হয় ?
লুলি। ক্যানে হয় না?
কালা। ননকে নিচ্চয় সন্দ কোরে বােসবে!
লুলি। ক্যানে বােসবে ? লােকে ভাববে—দিব্যিকান্তর
বড় দয়ার শরীলতার দায়ে গিয়ে শিকিরিটা মােরেছ, তাই
তার বাড়ির দুষ্টু ঘােচাতে তাকে দয়া কোরে বিয়ে কোরেছে।

প্রথম অঙ্ক। 8१ কালা। লা-লা লুলী তা হয় না! দিব্যিকান্তর সাথে সামন্ত মশাইয়ের মেয়ের বিয়ের সব ঠিক ঠাক হয়ে আছে জালিস তত? সামন্ত মশাইয়ের সেই এক মেয়ে, অনেক টাকা নিয়ে আসবে আর- লুলি। আর কিরে পােড়র মুখখা মিসে, আর কি ? তুই ছুকরি লিয়ে আয়েস ক’বি আর মুই তাই চেয়ে চেয়ে দেখবাে ? কালা। তা ক্যানে ? তা ক্যানে ? সেও থাকবে তুইও থাকবি। লুলি। সে থাকবে অট্টালিকেয় হঁাকা ঝাকা পােরে তাের মাগ হােয়ে, আর মুই থাকবে কুঁড়ে ঘরে কাটকুড়,নীর মত তাের বেউস্তে হােয়ে,-কেমন? এই তাে ? কালা। তা ক্যানে? তা ক্যানে ? তােরেও মস্ত বাড়ী কোরে দেবাে, এক গা গয়না পরিয়ে রাখবে। লুলি। তা হবে না, মুই যা বলিছি তাই কোত্তে হবে। কালা। তা কিছুতেই হবে না। লুলী। হবে লা কিরে হতভাগা-হবে লা কি? মারের চোটে হওয়াব। বল যা মুই বােলছি, তাই কৰ্বি কিলা, লইলে এখনি তাের চুলের ঝুটী ধরে মারতে মারতে টেনে লে যাব, আর আসল কথা সক্কলকে বােলে দিয়ে তােকে শুলে চড়াবে। এখনাে বলছি বল বিয়ে কর্ধ্বি কিনা ? কালা। (ঘাড়নাড়িয়া) উহু।

৪৮
লু লিয়া
;
উভয়ের গীত।
লুলি। (কালাশশাকের ঝুটী ধরিয়া)
বিয়েকৰ্বি কিনা বল, বিয়ে কবি কিনা বল ?
(নইলে) কিলের চোটে হাড় গুড়িয়ে রক্ত কোৰ্ব জল,
ও তাের রক্ত কোৰ্ব জল ॥
কালা। (চুল ছাড়াইয়া) উহু উহু হুহুহুলা,
ওরে উহু হুহুহু লা ;
আমি নােড় বাে নড়াই তাের সঙ্গে, তবুও
বােলবাে লা
লুলী। বটে নােড়বি মড়া মাের সঙ্গে, এ্যাত হয়েছে বল্।
এই একটা দম স’ দেখি, এরঠ্যালায় বা কি ফ
ফলে ঠ্যালায় বা কি ফল।
( পৃষ্ঠে সজোরে মুষ্ট্যাঘাত)
কালা। কি খেয়ে কি করিছি চুরি-আর তা কোলা
তাে ঠ্যালার দম সােয়ে লিয়ে,এই উল্টে দিলুম ঘা
(পৃষ্ঠে সজোরে মুষ্ট্যাঘাত )
লুলী। (পুনরায় কালাশােকের চুল ধরিয়া)
ভিরকুটী তাের ভাঙ্গছি তবে বাইরে লে যাই চল, !
কালা। পায় ধরি ছাড় ওই কথাটী, ওইটী মারার কল,
আমায় ওইটী মারার কল।
লুলী। তবে বিয়ে কর্বি কি না বল ( ইত্যাদি)
•

দ্বিতীয় অঙ্ক।
প্রথম গর্ভাঙ্ক।
পর্বতশৃঙ্গ-বহুদূর-বিস্তৃত জলপ্রপাত–পূরােভাগে গহ্বর
( উপস্থিত—মানসী ও পত্ৰপুষ্পভরণ ভূষিত পাহাড়িয়া
বালক ও বালিকাগণ)
( বালক বালিকাগণের গীত )
বালিকাগণ।
ওরে রাজা, ওরে রাজা, ওরে রাজারে।
বালকগণ।
কেননা রাণী, কেননা রাণী, কেননা রাণীরে।
বালিকাগণ।
আমি চলবাে তাের দুয়ারে, গলায় দিব মালা।
বালকগণ।
আমি লিবাে আপন কোরে, দিব ফুলের ডাল।
বালিকাগণ।
ওরে রাজা, ওরে রাজা, ওরে বাজারে।
বালকগণ।
কেননা রাণী, কেননা রাণী, কেননা রাণীরে।

লুলিয়া।
বালিকাগণ।
আমি দিব বেটী ছাওয়াল, তুই দিবি বেটা।
বালকগণ ।
হাম গুড়াগুড় খেলবে ছাওয়াল, ঘুচিয়ে যাবে লেটা।
বালিকাগণ।
ওরে রাজা, ওরে রাজা, ওরে বাজারে।
বালকগণ।
কেননা রাণী, কেননা রাণী, কেননা রাণীরে।
বালিকাগণ।
আমি আবাে দামা টুডে, তুই আবি বহু।
বালকগণ।
বেটী দামাদ আর বহু বেটায় হাসবে লহু হু ।
বালিকাগণ।
ওরে রাজা, ওরে রাজা, ওরে বাজারে।
বালকগণ।
কেননা রাণী, কেননা রাণী, কেননা রাণীরে।
বালিকাগণ।
দামাদ আন্বে শিকার মেরে, বেটী রাঁধবে মাস
বালকগণ।
বেঠা ফিবে লঢ়াই করিয়ে, বহুর হােবে হাস, ॥
উভয়ে। আমরা নাচবাে বারমা।
আমরা গাইবাে বারমা।

দ্বিতীয় অঙ্ক। মানসী। মুঞ্জি ! দেবদেবীর নাম শুনেছি, চক্ষে কখনও দেখিনি, কিন্তু তােদের দেখে যেন দেবদেবী দর্শন হােলাে বলে বােধ হচ্ছে । ১ম বা। দেবদেবী কি দিদি ? মানসী। দেবদেবী মানবের পূজনীয়। দেবদেবী জগতের উপকারের জন্য জগৎ পিতার অদ্ভুত সৃষ্টি | দেবদেবীর রক্তে- মাংসে গড়া শরীর নাই। দেবদেবী জ্যোতিতে গড়া-আলােকের মূর্তি। দেবদেবীর ভিতর বার নাই! সরল স্বচ্ছন্দ নিত্যানন্দময়- অযােনী-সম্ভব স্ত্রী পুরুষ তাঁরা। তাদের শরীর চামড়ায় ঢাকা নয়, স্বচ্ছনিৰ্ম্মল স্ফটিকের মধ্যে যেমন, তেমনিই। তাদের অন্তরের অন্তস্তল পৰ্যন্ত সমস্ত দেখা যায়। মানুষের মত লুকিয়ে রাখবার তাঁদের কিছু নাই। তাদের ইন্দ্রিয় আছে—ইন্দ্রিয়ের বিকার নাই; মাটীতে তাদের পা ঠেকে না, শরীরের ছায়া পড়ে না। চক্ষে তাদের পলক নাই, নিশ্বাস প্রশ্বাসের জন্য বায়ুর আবশ্যক করে না। নিদ্ৰা নাই—আহার নাই--সুধাপানে অমর, দেব- দেবী অনিদ্র অবস্থায় অনবরত ত্রিলােকের শুভসাধনে ব্রতী হয়ে আছেন। তাঁরা স্বর্গে বাস করেন। ১ম বা। স্বর্গ কোথায় দিদি! দেবদেবীতত বেশ! কোন্ পাহাড়ে স্বর্গ আছে দিদি ? মানসী। স্বর্গ হেথায় নাই মুঞ্জি ! ওই যে আকাশ দেখতে পাচ্ছিস—ওকে বলে শূন্য, ওই শূন্যের পর মহাশূন্য, সেই মহা- শূন্যের ওপর সপ্তস্বর্গ । স্বর্গে এখানকার মত মাটী নাই, এখান- কার মত গাছ-পালা, ফল-ফুল, পাহাড় পর্বত, নদ-নদী এসব কিছুই নাই। সেখানকার মাটী মানিক, গাছ-মন্দার, ফুল- লুলিয়া। পারিজাত, পাহাড়-সুমেরু, নদী-মন্দাকিনী। সেখানে এখানকার মত অন্ধকার নাই, সুধুই আলােক। সেখানে এখানকার মত হিংসা দ্বেষ নাই—দুঃখ-শােক-নাই –জ্বালা-যন্ত্রণা নাই। প্রেমের আদান প্রদান আর ভালবাসাবাসিই সেখানকার সিদ্ধ বিদ্যা। সেখানে কেউ কারু মন্দ কোৰ্ত্তে জানে না,কেউ কারু মনোকষ্টের কারণ হয় না। নিরবচ্ছিন্ন সুখ-সুনির্মল হাসি-আর অনাহত আনন্দ রােলেই সেই অনিন্দ্য সুন্দর স্বর্গরাজ্য পরিপূর্ণ থাকে। ১ম বা। বাহবা দিদি, বাহবা! তুই কি সেই রাজ্যের লােক, নাকি ? তুই ও তাে কেবল ভালবাসিস—আর হামাদের ভাল- বাসা। তােহার তাে মুয়ে হাসি লেগেই থাকে—কখনও তাে মুখ ভার কোর্ল্ডে দেখি না। মানসী। না মুঞ্জি না! অভাগিনী আমি--আমি স্বর্গ কোথা পাব বােন। তাই তােদের সরল মুখের সরস কথা-ঢলু ঢুলু চক্ষের ঢল ঢল চাহনি, আর সুমধুর ওষ্ঠাধরের স্বর্গীয় হাসি দেখে আমি স্বর্গের কল্পনা কোরেও সুখে থাকতে চেষ্টা করি। তােদর হাসি আমি কোথায় পাব বল ? ১ম বা। তাের তবে দুঃখু আছে ? এত দুঃখু তুহার কিসের দিদি ? তুই ভাল খেইতে পােরুতে পাইস্ না, তাই কি ? তাের দাদা তােকে বেমারির ঝোঁকে-বকে ঝকে-তাই কি? না তাের বিয়া হয়নি, তাই ? মানসী। না বােন, ও সব কিছুই নয়। আমার জ্বালার কথা তােদের বােল্লে বুঝতে পাৰ্বিনি। ১ম বা। সেই বস্ তু বলবিনি দিদি! অাচ্ছা না বলি, এখন তাের দাদাকে যে দেখাবি বলিছিলি দেখা! সে তত ভাল দ্বিতীয় অঙ্ক। হেইয়েছে, আরতাে তু ধাওয়াপাতি চাস না ? কেবল ফল-মুল ‘আমরা যা অনিয়া দিই তাই নি ? 'মানসী। হঁ্যা দিদি ! তােমাদের ওষুধে তার সমস্ত ক্ষত সেরে গেছে। এখন শরীরে কেবল একটু বল পেলেই হয়! আচ্ছা আমি তাকে খবর দিই, যদি আসতে পারেন, এখনি আসবেন। ( গহ্বর মধ্যে প্রবেশ ) ১ম বা। দিদি বলে ওহার দুঃখু আছে। এমন কি দুঃখ ভাই ? ১ম বা। দুঃখ কত রকম আছে। ওর হয়তাে বাপ-মা-নাই ঘর দুয়ার নাই, কেউ আদর যতন করে না, দরদ কোরে কেউ দুটা মিষ্টি কথা বলে না! ( মানসীর পুনঃ প্রবেশ ) মানসী। দাদা আসছেন বো, ঐ দেখ,! (গর মধ্য হইতে দিব্যকান্তর আগমন) ১ম বালি। বা রে দাদা, বা রে দাদা! মানসী দিদির দাদা —আমাদেরও দাদা, বা রে দাদা, বা রে দাদা! ( হাততালি দেওন ) সকলে। বা রে দাদা, বা রে দাদা ! (হাততালি দেওন) দিব্য। দেখ, তােমরা আমার বাপ-মা! যে বিপদ থেকে তােমরা আমায় রক্ষা কোরেছ, সে উপকারে প্রত্যুপকার কর- বার ক্ষমতা আমার নাই। আমি কায়মনােবাক্যে বলছি ভগবান সূৰ্য নারায়ণ তােমাদের মঙ্গল করুন।

৫৪ লুলিয়া। ১ম বালি। বেশ দাদা বেশ তু ভালই বলেছিস ? সূষ্য- ঠাকুর আমাদের বাপ, দাদাদের ভাল রাখুন, আমরা তার পূজা করি, আর তুই ভাল হােয়েছিস বােলে, তাঁর ভােগ লাগিয়ে দিই। দিব্য। আহা! দয়াময় দয়াময়ী! তােমরা আমার ধন্বন্তরি । যে ঔষধে আমার ক্ষত আরােগ্য কোরেছে। তা এ নর লােকে দুল্লভ। বিশেষ আমার সেই অসময়ে তােমরা যদি আমাকে এই নিভৃতস্থানে লুক্কায়িত না কোরে রাখতে, তাহােলে দুবৃত্ত দস্য- দলের হাত হােতে আমার রক্ষা পাওয়া দুষ্কর হােত। মানসী। আর সময় মত উপযুক্ত ফল মূলাদি আহরণ কোরে না দিলে হয়তাে দাদা আপনার অনাহারে প্রাণ যেতাে। ১ম বালি। এহি কাজের জন্যে তােরা আমাদের সুখ্যেত কচ্ছিস দিদি ? এ কাজ তাে সবাই করে। একটা মানুষের বেমারি হােলে কেউ কি তারে ফেলিয়ে দেয়, না তার সেবা না কোরে বােসে থাকতে পারে ? দিব্য। ধর্মপ্রাণ যারা—এ সৎকাৰ্য্য তারাই কোরে থাকে। ১ম-বালি। ধরম করম তো আমরা কিছুই বুঝিনা দাদা! রােগী দেখলো সেবা কবৃনু। খাওয়া নাই-খাওয়া দিমু, পিয়াস হােলাে জল দিনু, পহিরণ নাই, পরিহণ দিনু ; কেহু রাস্তা হারি- য়েছে, রাস্তা দেখিয়ে নিয়ে গেনু, ঘরনাই—ঝােপড়া বেঁধে দিমু কাজ কোর্ল্ডে না পারে কাজ কোরে দিনু; বাস! এমে ধরমবি, বুঝি না, আর করমবি সুঝিনা। কোরতে হয় করনু-বাপদাদা কোরিয়ে এসেছে, আমরাও ক, আমাদের বেটা বেটীরাও কোরবে।

দ্বিতীয় অঙ্ক।
৫৫
দিব্য। সরল সুবােধ তােমরা! সংসারের অনেক উচুতে
বাস কর, তাই তােমাদের কাৰ্য্যও এই–কথাও এই।
১ম-বালি। উচা নই—আমরা খুব নিচা দাদা। আমরা
পাহাড়িয়া জঙ্গলে থাকি। আমাদের আর সুখ্যেত করি না।
আমরা ওসব কথা শুনতে পারি না বড় লজ্জা হয়। আমরা হাসি
করি, খেলা করি, বেশ থাকি।
( বালক বালিকাগণের নৃত্যগীত )
গীত।
হাঁসি খেলা করি আমরা, হাঁসি খেলা করি—ওরে ও।
যেমােন দেখি তেমােন শিখি, তেমন ধারা ধরি -ওরে ও।
চঁদ হাসে আকাশে, তারা নিতুই করে খেলা,
ফুল হাসে বাতাসে, লয়ে মধুকরের মেলা ;
পশুপাখীর খেল নিরখি, আহা মরি মরি – ওরে ও।
হস করে আর খেল করে ঐ, তরু গিরি দরি--ওরে ও।
•
{ বালক বালিকাগণের প্রস্থান।
মানসী। আহা! ওরাই সুখী! ভগবান! আমাকে ওদের
মত কোল্লেনা কেন?
দিব্য। মানসী! ভগবানের কোন কাৰ্য্যত অসঙ্গত নয়।
তাঁর রাজ্যে অনিয়ম নাই।
মানসী। তাই যদি হবে ভাই, তবে আমার এ দশা কেন?
ধনবান বৈশ্য কন্যা আমি, নগরে আমার জন্ম। পিতামাতার

লুলিয়া। প্রসাদে বিদ্যাশিক্ষাও করিছি। তবে এই ষােল বৎসর বয়সে দস্য হন্তে ভগবান আমায় দিলেন কেন। দিব্য। হয়তাে আমায় রক্ষা করবার জন্য তিনি তােমায় তথায় রেখেছিলেন। মানসী। ভাল তারপর ? দিব্য। তারপর এখন তুমি স্বাধীন, সুমুখে কাৰ্য্যক্ষেত্র । কাৰ্য্য কর। মানসী। কি কাৰ্য কৰ্ব্বো? দিব্য। যাকে রক্ষা কোরেছে। এখন পর কাৰ্য কর। তার- পর রমণীর কাৰ্য্য ঢের আছে। সমাজ বন্ধনের মূলই রমণী ! এখনও অনেক কাৰ্য তোমায় কোর্নে হবে। মানসী। আপনার কি কাৰ্য কোর্নে হবে বলুন? দিব্য। তাই বলছি। তােমায় বােধ হয় বলিনি, আমি কাশ্মীরের মৃত মহামাত্যের একমাত্র পুত্ৰ,আমার নাম দিব্যকান্ত! মানসী। বটে ? তবে আর এখানে কেন ? গৃহে চলুন! দিব্য। না, এখন যাব না! কেন যাবনা তাই বলছি।”দেখ মানসী! এই কাশ্মীরের বর্তমান মহামন্তের একমাত্র কন্যার সঙ্গে আমার বিবাহের সম্বন্ধ স্থির হােয়ে আছে। মৃগয়া হতে ফিরে এলেই বিবাহ হবার কথা, এখন আমার সঙ্গে যে শিকারী গেছলাে, সে যদি ফিরে গিয়ে থাকে, তাহােলে অবশ্য বলেছে যে হয় দস্যু কর্তৃক আমি বন্দী হহয়েছি, নয় দস্যুরা আমায় হত্যা কোরেছে। আর যদি সেই শিকারী দ্য কর্তৃক হত হােয়ে থাকে, তাহােলে ও নগরস্থ সকলেই ভেবেছে—হয় মৃত্যু নয় নিরুদ্দেশ ! এ অবস্থায় সেই বাদা কুমারী সরসা সুন্দরী

দ্বিতীয় অঙ্ক।
কিরূপ আছে, কি কোরছে, তা জানতে ইচ্ছা করি। যদি কুমারী
এ অবস্থায় বিবাহ না কোরে আমার আশা পথ চেয়ে থাকে
তবেই যাব নচেৎ আর কাশ্মীর রাজ্যে থাকবে না, এই আমার
প্রতিজ্ঞা। সরসাকে পরহস্তে দেখার অপেক্ষা না দেখাই ভাল।
মানসী। বেশ কথা—আমি এখনই যেতে প্রস্তুত আছি।
দিব্য। কিন্তু মানসি! এতে বিশেষ কৌশল চাই। কেউ
যেন না জানতে পারে যে, তুমি আমার প্রেরিত! আমি জানি
স্ত্রীলােক স্বভাবতঃই তীক্ষ্ণ বুদ্ধিশালিনী! তােমার বুদ্ধির উপর
আমি নির্ভর কোতে পারি। আর এক কথা, আমার বাটীর
অবস্থা কি, তাও জেনে আসবে। আমার এক সদাশয় বন্ধু
আছেন, তার নাম অরবিন্দ ! তার কাছে গিয়ে কোন রকমে
সংবাদ সংগ্রহ কোর্বে !!
মানসী। ভাল ভাই যেরূপে পারি আমি আপনার কাৰ্যো-
দ্বার কোরে আসবাে। আমি আসি, খুব সাবধানে থেকো !
[ প্রস্থান।
দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক।
অরবিন্দের কক্ষ।
( অরবিন্দ ও আরতীর প্রবেশ)
অর। কদিনের পর দেখতে তাে পাওয়া গেছে। এখন
তােমার কি মত?
আরতী। তােমার ও যে মত—আমারও তাই।

লুলিয়া।
অর। আচ্ছা তাই যদি হয়, তাহােলে আসল দিব্যকান্ত যায়
কোথায় ?
আরতী। হয়তাে তিনি দস্যু হস্তে হত হােয়েছেন, না হয় ঐ
নরাধমটা তাকে কোন রকমে লুকিয়ে ফেলেছে।
অর। উহু! ও নগন্য নীচ নির্বোধ মানুষটার যে অত
সাহস হবে, আমি তা বিশ্বাস কোর্তে পারি না।
আরতী। তা না পাল্লে পারে। কিন্তু ও যে দিব্যকান্ত নয়
এটাতাে ঠিক বিশ্বাস কর ?
অর।
আরতী। তবে এখন এটা প্রকাশ হবার কি ?
অর। প্রকাশ হওয়া বড় সহজ নয়।
আরতী। কেন? রাজাকে জানালে হয় না ?
অর। জানিয়ে কি হবে ? সত্য হােলেও তাকে বিশ্বাস
করবার প্রামাণ চাইতাে ? প্রথমতঃ সাধারণকে বিশ্বাস করানাে
চাই। তাই বা কি কোরে হয় ? আমরা যেন তার আচার
ব্যবহার প্রত্যক্ষ কোরে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। কিন্তু
জন সাধারণ তা দেখবে না, ও ত দেখা দিতে চাইবে না। তারা
চেহারা দেখেই সাব্যস্ত কোৰ্ব্বে, ঐ দিব্যকান্ত। কেননা দিব্যকান্ত
চিরদিনই প্রায় আপন পাঠগৃহে অবস্থান কোর্তো কদাচ কখন
বাহিরে বার হােত সুতরাং ও সে নয় একথা বলে আমাদের
কেবল মাত্র উপহাস্পদ হতে হবে।
আরতী। তা হই হবে। কিন্তু সাধারণের কাছে যে কোন
প্রকারেই হােক, ওর নীচ লােকের ন্যায় আচার ব্যবহার, কথা
বার্তা, আর নিৰ্বদ্ধিতা প্রকাশ কোরে দেওয়া চাই।

দ্বিতীয় অঙ্ক।
অর। ভাল সে বিষয় বিশেষ বিবেচনা কোরে দেখতে হবে।
আরতী। সে আর কবে হবে ? এদিকে সরকার অবস্থা তাে
দেখ ছছ ? তার ধ্রুব বিশ্বাস ঐ দিব্যকান্ত অথচ যে কোন
কারণেই হােক তাকে আচ্ছল্য কোরে এই বিবাহ কোরেছে।
সে আর কারাে সঙ্গে কথা কইতে চায় না, কোন সান্তনার কথা
বােল্লে একেবারে কেঁদে ভাসিয়ে দেয়। বিশেষ পপড়াপিড়ি
কোল্পে বলে, যখন ওঁকেই আমি ফিরে পাবাে, আমি আশা
ছাড়বাে না। এজন্মে না হয় ফিরে জন্মের পথ তাে কেউ রােধ
কোর্নে পাৰ্বে না! ভগবান আমার জন্যে ওঁকে আর ওঁর জন্যে
আমাকে সৃষ্টি কোরেছেন।
নেপথ্যে-অঞ্জন। পিতৃব্য ঠাকুর! আমি এসেছি।
অর। কেরে ? অঞ্জন? আয় ভেতরে আয়।
( অঞ্জনের প্রবেশ ও অভিবাদন)
আরতী। কিরে বাপু কি ? তাের কিছু কথা আছে নাকি ?
অঞ্জন। আজ্ঞে হ্য। মা ঠাকরুণ! বিপদের সময় আপনাদের
স্মরণ না নিয়ে কোথায় যাব বলুন ?
অর। কেন? তােদের অমন সদাশয় প্রভু বর্তমানে আবার
বিপদ কি ?
অঞ্জ। আজ্ঞে বাল্যকাল হােতে প্রভুর অন্নে প্রতিপালিত
হােয়ে এসেছি। এখন বুঝি সে অন্ন আর থাকে না।
অর। কেন ? কি হােয়েছে ?
অঞ্জ। যা হােয়েছে তা বড় লজ্জার কথা! মাঠারুণের
সুমুখে বােলতে আমার মাথা কাটা যাচ্ছে।
আরতী। লজ্জা কি বাবা! আমিতো তােদের পেটের

লুলিয়া।
L
ছেলের মত দেখে থাকি! লজ্জা কি ?
কি বলবার আছে,
তাের পিতৃব্যঠাকুরকে স্বচ্ছন্দে বল।
অঞ্জ। পিতৃব্যঠাকুর ! আপনাকে আর কি বােলবাে।
প্রভু যাকে বিবাহ কোরে এনেছেন, তিনি বড়ই মন্দ চরিত্রের
স্ত্রীলােক।
অর। কি রকম? তােদের সঙ্গে কি সে ভাল ব্যবহার
করে না ?
অঞ্জ। ভাল ব্যবহার কাকে বলে—তা সে জানে না।
শিকারী যখন বেঁচেছিল, তখনই তার দৌরাত্মে পল্লির যুবকদের
তিষ্ঠোন ভার হয়ে উঠেছিল। এখন আরও ভয়ানক মূৰ্ত্তি
* থােরেছে।
অর। বটে ? কি রকম শুনি ?
অঞ্জ। আগে আগে পথে ঘাটে যেখানে যখন আমার সঙ্গে
দেখা হােত, সেখানে তখনই আমার পিছনে লাগতাে, আমি
পালিয়ে বাঁচতুম। এখন এখানে এসে পর্যন্ত আমাকে একেবারে
ব্যতিব্যস্ত কোরে তুলেছে। খেতে শুতে কেবল সেই কথা
কাল থেকে আবার ভয় দেখাতে আরম্ভ কোরেছে।
অর। বটে? তা তুই কেন তাের প্রভুকে জানা না ?
অঞ্জ। তিনি যদি রাগ করেন, সেই ভয়ে তাকে বলিনি।
অর। স্ত্রী যে এরূপ স্বভাবের তা সে টের পেয়েছে ?
অঞ্জ। কিছু কিছু টের পেয়েছেন বলে বােধ হয়। কিন্তু
কোন কথা কন্ না। প্রভু তাকে যেন ভয় কোরে চলেন।
অর। তােদের প্রভু তােদের সঙ্গে কিরূপ ব্যবহার করে ?
আগের মত কি ?

দ্বিতীয় অঙ্ক।
অঞ্জ। আজ্ঞে না। অতি অসৎ ব্যবহার করেন।
অর। এ পরিবর্তনের কারণ তােরা কিছু বুঝি ?
অঞ্জ। আচার ব্যবহার, কথা-বার্তা,চেহারা আর ভাব ভঙ্গির
ঢং দেখে আমাদের ত্ৰিপণ্ড বলে ও কখনই মনিব নয় ও
শিকারী।
অর। ও যে শিকারী তার অন্য কোন প্রমাণ তাের
পেয়েছিস ?
অঞ্জন। বিশেষ কিছু পাইনি—তবে অপর কোন নতুন
লােক হােলে যেমন করে, ওঁর সব কাজই সেই রকম।
অর। আচ্ছ। ও যদি শিকারী হয় তা হােলে ওর স্ত্রী অবশ্য
জান্তে পেরেছে ?
অঞ্জ। তা হবে।
অর। হবে কেন ? তাই ঠিক! এখন তুই এক কাজ কর
অঞ্জ। কি বলুন।
অর। তার কথায় সম্মত হেয়ে আসল কথাটুকু বার কোরে
নে দিকি ?
অঞ্জ। তা কি বােলবে ?
অর। অবশ্য বােলবে। ওরূপ চরিত্রের স্ত্রীলােকেরা
উপপতির ভালবাসা পাবার জন্যে সব কোর্ডে পারে। আচ্ছা
অপরাহে সেটা কোথায় থাকে ?
অঞ্জ। আজ্ঞে ছাদে বেড়ায়।
অর। বেশ হােয়েছে। তুই এই সময় যাছাদে গিয়ে
কোন গতিকে ওকে তাের পায়ে ধরাগে দেখি। আমার ছাদে

লুলিয়া।
যে সময় লাল নিশেন দেখতে পাবি, ঠিক সেই সময়ে পায়ে ধরাণ,
চাই।
অঞ্জ।
অঞ্জ। যে আজ্ঞাতা পাব্বো। তবে আসি।
[ প্রস্থান ]।
আরতী। এ আবার কি ?
আজ অপরাহ্নে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবার জন্যে
সেটাকে বিশেষ কোরে অনুরােধ কোরে পাঠিয়েছি, তাতে
জাননা?
আরতী।
ওঃ বুঝেছি। তা তাতে ছেলেটার তো কোন
বিপদ হবে না ?
অর। বিপদ আবার কি হবে ? আর যদিই হয় আমি
আছি।
আরতী। নিশেনটা তবে আমাকেই ওড়াতে হবে দেখছি।
( কালাশােকর প্রবেশ।)
কালা। এত জোর তলব কেনে হে সখ ?
অর। সহজে না পাল্লে বেঁধে আনতে হয় তাতো জানাে ?
কালা। বটে ? আমি কি তবে জানােয়ার ?
আরতী। না না ওকথা তুমি শুনন না সখা ! তুমি জানাে-
যার কেন হেতে যাবে? জানােয়ায়দেরও তত হিতাহিত জ্ঞান
থাকে।
কালা। আমার কি তাও লেই ?
অর। তা থাকলে কি আর তুমি ভূতের মত কতকগুলাে
কাৰ্য্য কর ?
অর। ঠিক কথা-আমার বােধ হয় তােমায় ভূতে পেয়েছে।
০

দ্বিতীয় অঙ্ক।
৬৩
গীত।
;
আরতী। তােমায় ভূতে পেয়েছে।
তােমায়, উল্টে পাল্টে পিটে পুটে ঠিক ভূটী বানিয়েছে ।
কলা।
কে ভূত, কোত্থেকে এল,
আমায়, কেমনে বা পেলাে ;
আরতী।
ও সেই, ব্যাধটা মােরে,অপঘাতে ভূত আপনি হােয়েছে।
তারে, ফেলে পালিয়ে এসেছিলে তাই সঙ্গ নিয়েছে।
অরবি।
তুমি ঠাউরেছ যা ঠিক,
সখা তাই এত বেঠিক ;
কালা। ওহহ তা যদি হয়, তা হােলেতে মাের
মাথাটী খেয়েছে।
ও সেই তিনি—না ন সেই—সেই বেটা মাের
মাথাটী খেয়েছে।
কালা। আচ্ছা ভূতে পাওয়া লােকের মত আমি কি কাজ
কোরেছি ?
অর। প্রথম ধর এই বিবাহ।
কালা। এতে কি অল্যায়টা করা হোয়েছে ?
অর। ন্যায্যই বা কি হোয়েছে ? ঐ নীচজাতিয় স্ত্রীলােকটা
কি তােমার উপযুক্ত ?
কালা। কিসে লয় ?
অর। তুমি সন্ত্রান্ত লােকের পুত্র--কোন সন্ধান্ত পরিবারের

--
৬৪
লুলিয়া।
সঙ্গে তােমার কুটুম্বিতা হওয়া উচিত। তা না হােয়ে তুমি যাকে
হয় দুঃখিত হবে, নয় কাপুরুষের মত রাগ কোরে উঠবে।
কালা। তুমি বলনা হে—বলনা! যত পার মুখ ছােটাও না
আমি রাগও কোর্ব না, তাপও কোর্ব না।
অর। তবে বলি- ওটাতে বাজারে—
কালা। বাজারে কি ?
অর। বাজারে বেশ্যা বােললেই হয়!
কালা। দেখ সাবধাল! মুখে সামাল দাও!
অর। না দিলেম না ।
[ আরতীকে ইঙ্গিত ও আরতীর প্রস্থান।
কালা। দিতেই হবে। না দিলে আমি কিছুতেই সহি
কোৰ্ব লা! আমার আর সেদিন লেই ?
অর। কোন দিন নাই হে? ও আবার কি কথা ?
কাল। না—তাই বলছি! ঐ একটা কথা! তাই
বলছি!
অর। আর রােলতে
হবে না। ওই ছাদটা কার বাড়ীর
বল দেখি ?
কালা। কেন? আমার (চমকিয়া) ওকি ?
অর। ঐ কির জন্যই এত কথা ।
কালা। অঞ্জুনে বেটা লা? ওই বেটাই দেখছি খারাপ
কোচ্ছে। ওর মাথাটা কড়মড়িয়ে চিবিয়ে খাবাে।
অর। ওরই অপরাধ হােলাে--আর ওটা যে পায়ে পােরে
সাধছে, তা বুঝি নজরে ঠেছে না? পুরুষ হওতাে আগে গিয়ে

দ্বিতীয় অঙ্ক।
ওর মাথাটা কেটে ফেলগে। যাও -হতভম্ব হােয়ে দাঁড়িয়ে
রইলে কেন ?
'কাল। তাই যাই। যা থাকে কপালে-খুন কো !
এত বড় কথা! খুনই কোর্ব ।
। উভয়ের উভয় দিকে প্রস্থান।
তৃতীয় গর্ভাঙ্ক।
• -
দিব্যকান্তর অট্টালিকার ছাদ।
( অঞ্জন ও লুলিয়া উপস্থিত)
অঞ্জ। আচ্ছা পা ছাড়ো, পা ছাড়াে! এখন বল কি কোরে
জাতে পালে ?
লুলি। কি কোরে জাননু তা তােমার জেনে কাজ কি চাদ ?
জান্বার রকম আছে, মাগ ভাতার যে—বুঝছে না ?
অঞ্জ। তুমি জাতে পেরে যখন বােল্লে তখন স্বীকার
লুলি। স্বীকের না কোরে পােড়ামুখ যাবেন কোথা? সব
খুলে খেলে বােল্লে।
অঞ্জ। আমাদের আসল মনীবের কি হােল তা কিছু
বােলেছে ?
লুলি। তাকে ডাকাতে মেরে ফেলেছে বল্লে ?
অঞ্জ। বটে? আচ্ছ। তবে এখন
[ প্রস্থানােত।

৬৬
লুলিয়া।
লুলি। ওকি ? যাও যে?
অঞ্জ। কি কোর্ব ?
লুলি। এত কথার পর কি কোর্বো ? যে জন্যে তােমার
পায়ে ধােরে কদমু, যা স্বীকের করাতে মুই সব কথা খুলে খেলে
বনু-তা ?
অঞ্জ। সেটা তাে বড় সহজ নয় গিন্নি! প্রভূর স্ত্রী তুমি,
ফস্ কোরে বিশ্বাসঘাতকতা কোরে ফেলবাে ? একটু ভাবতে
চিত্ততে সময় দাও!
লুলি। বটে, এই বুঝি কথা হােল? তবে স্বীকের কোল্লে
কেনে ?
অঞ্জ। তােমার ভয়ে।
লুলি। মুই কি ভয় দেখানু চাদ ?
অঞ্জ। কত ভয় ? বােল্বলে
চাকরি ছাড়িয়ে দেবে।
সােয়ামীকে বােলবে যে, আমি তােমাকে মন্দ পথে নে যাবার
চেষ্টা করিছি। এ ছাড়া আরো কত কি ?
লুলি। সে যাই বােলে থাকি, সে কেবল তােমাকে পাবার
জন্যে তো ? বল কি ? আজ বছর ফিৰ্ত্তে যায়, তােমায় হাত
করবার চেষ্টা করছি; অন্যে হােলে এদ্দিন মাের পায়ের গােলাম
হােয়ে থাকতাে!
অঞ্জ। এখন একরকম গােলামই তাে হােয়েছি।
লুলি। ও গােলামে কি মন ওঠে চাদ? ওতো পা টেপ বার
গােলাম। মুই যা চাই তা জানত?
অঞ্জ। মনীবে চাকরে কি সেটা সাজে ?
লুলি। দুর মুখ! এ কাজে সব সাজে। তাই বলি, কেনে

দ্বিতীয় অঙ্ক।
চাদ আর অমন কর ? ও নিষ্ঠুরপনা ছাড়া দিয়ে পরাণের ঠাকুর
হােয়ে বােসসা। তােমার মনীব হতভাগা কুকুরের মত ফ্যা ফ্যা
করুক। মুই দুচক্ষি পেড়ে পােড়র মুখােকে দেখতে পারি না।
গীত।
লুলিয়া।
তারে দেখলে আসে জ্বর।
ওসে কাছকে এলে গন্ধে মরি, (বলি) কেবলই
সসর।
অঞ্জন।
তবু স্বােয়ামী তাে তােমার,
তবু স্বায়ামী তাে তােমার ;
লুলিয়া।
ও তার, চোখভরা পিচুটী, ঠোঁটে লাল ঝরে, ঝ ঝ।
অঞ্জন।
তবু স্বােয়ামী তত তােমার,
তবু স্বােয়ামী তাে তােমার
লুলিয়া।
ও তার কথায় ছােটে থুতকুড়ি, গায়ে ঘাম পড়ে, দরুদ ।
তবু স্বােয়ামী তত তােমার,
তবু যােয়ামী তত তােমার ;

লুলিয়া।
=.
?
লুলিয়া।
ও তার কাজ দেখলে পিশে পলায় নােংরা লখিন্দর।
ও তার সব বিটকেল বিকট ব্যাভার প্যাতনা ছুছুন্দর
মাের সখের স্বামী মাথার মণি সত্যি স্বামী পর।
অঞ্জ। তাকে যদি এতই অপছন্দ হয়, তবে এদ্দিন তার সঙ্গে
এক জায়গায় কাটালে কি করে ?
লুলি। সে কি জান ? পেড়ে মারে না সয় ভাল। সেই যে
কথায় বলে “রােগী যেন নিম খায় মুদিয়ে নয়ন।” মাের ও তাই
হােয়ে ছ্যালাে! পেট্টা আট্টা চালাতাে আর বাইরে হাতটাত
বাড়ালে কিছু কইতাে না, তাই চোখ কান বুজে, এক রকমে ওর
ঘর কোরিছি।
অঞ্জ। তখন গরীব ছিল তাই। এখন বড় মানুষ হয়েছে,
এখন যদি ধরাবাঁধা করে ?
লুলিয়া। ওর মুয়ে ঝাটা মেরে--তােমার সঙ্গে বেরিয়ে
যাবাে।
অঞ্জ। আমি গরীব মানুষ - তােমায় খাওয়াব পরাবাে
কোথেকে ?
লুলি। ট্যাকা মুই খরচ কোৰ্ব্ব।
অঞ্জ। কোথায় পাবে?
লুলি। ও হতভাগাই দেবে। জানে না—মোর কাছে কি
কথ। পেরকাশ কোরেছে-লা দিয়ে যাবে কোথা ?
অঞ্জ ! সে যদি বলে—ও বেবুশ্যে মাগীর মিছে কথা।
লুলি। সে কথা একবার বােল্লতে হয়। দশজন নােকর
কাছে ব্যাভোনােমও হবে--ধরাও পােড়বে।

দ্বিতীয় অঙ্ক।
অঞ্জ। কিসে ব্যভভাম হবে ?
লুলি। তার কল মাের হাতে আছে। সে বােলতে না-
শুনতে নজ্জা! লজ্জার মাথা যখন খাবােতখন হাটের মাঝে সে
হাঁড়ি ভাঙ্গবাে।
অঞ্জন। তবেই তাে—তােমরা কোৰ্বে দাঙ্গা আর মাঝে
থেকে আমার মাথাটা কাটা যাবে। দেশশুদ্ধ, লােক ভাল বােলে
জানে, তাদের কাছে একেবারে মুখ দেখান’ দায় হবে। এ কাজে
এগুতে আমার মন সােরচে না।
লুলি। কিছু ভয় নেই। মুই তােমারে - আবডাল দে
রাখ বাে।
অঞ্জ। নাঃ-ও কোন কাজের কথা না। তুমি আমায়
ছেড়ে আর কাউকে দেখ।
লুলি। বটে ? এই কথা হলাে? তুমি যে নেহাৎ মােরে
বাজারে নটী মনে কোচ্চ দেখছি।
অঞ্জ। আরে রামচন্দ্র ! তা কি মনে কোর্তে পারি। ও কথা
তােমায় কি বােলেছি--তােমার কাজে বােলছি। তা আজ না
হওদুদিন বাদে তাে হােতে হবে।
লুলি। তাইতাে! যত বড় মুখ, তত বড় কথা ?
অঞ্জ। আজ্ঞে না গিন্নি! আর হবে না—আমায় ক্ষমা করুন
আমি বড় গরীব।
লুলি। ওকি অভিমান হােললা ? ওকি চোখে জল কেন?
ছি-ছি-ছি মাের মাথাটি খাও -কেঁদোনা।
আমার বরাতই খারাপ।
( অশ্রুমােচন )

৭০
লুলিয়া।
লুলি। হঠাৎ কোরে মুখদে একটা কথা বার হােয়ে
পােড়েছে। মােরে মাপ কর, মুই আর কখনাে বােলবো না। তবু
কাঁদতে নাগলে ? তােমার হাতে ধচ্চি মােরে মাপ, কর। তবু লা?
এই তােমার পায়ে ধচ্চি, মােরে মাপ, কর (পদধারণ) একটী-
বার হেসে কথা কও।
(দুই হস্তে দুই ছােৱা লইয়া পাঁয়তারা করিতে করিতে
কালাশােকের বেগে প্রবেশ)
কালা। খুন কোর্বো! খুন কোৰ্ব্ব ? খুন কোৰ্ব্ব ? গায়ের
ছাল ছাড়িয়ে লােব : বুকের রক্ত শুষবাে।
(পাঁয়তাড়া করণ)
লুলি। ইস! তাইতাে! কাকে খুন কোৰ্বি ?
কালা। ওই ওকে! ঐ বেটা পাজী নচ্ছারকে।
লুলি। তাইতাে! ভারি মদ্দ যে দেখি! কই কর দেখি
কেমন কোরে খুন কোর্ভে পারিস?
কালা। সােরে যা! খুন চেপেছে-সােরে যা।
লুলি। ফের ঐ কথা? এখনি এক ধাক্কা দিয়ে এখান থেকে
নিচেয় ফেলে দোব জানিস ?
কালা। না না ধাক্কা দিসনা পােড়ে মােরে যাবাে। ওকে
বাগিয়ে ধর,-আমি খুন কোরে ফেলি।
লুলি। আহাহা কি মোর সােহাগ গো। মুই বাগিয়ে ধরি,
উনি খুন করুন। ফেলেদে ছােরা, ফেলে দে বােলছি, নইলে
কেড়ে নিয়ে ঐ ছাের। এখনি তাের বুকে বসিয়ে দেব। মােরে
জানিস তাে ?

দ্বিতীয় অঙ্ক।
৭১
কালা। খুব জানি! এখনাে ক’জায়গার দাগ শুকোয়নি।
লুলি। তবে ফ্যাল ছােরা! মুই বলি শােন্ ।
কালা। ফেললেই যে বেটা পালাবে -আমার খুন করা
হবে না। তুই বােলবি বলছােরা থাক !
লুলি। ওকে খুন কোৰ্বি কেনে?
কালা। ও তােকে মজাচ্ছে !
লুলি। ম হতভাগা ! ও মােরে মজাচ্চে না মুই ওরে
মজাচ্চি ?
কাল। তা তুইই বা কেন মজাবি ?
লুলি। মাের বরাবর অব্বেশ ! আজ তত লতুন নয়।
কালা। সে যখন ছেল তখন ছেল, এখন ওসব চোলবে না।
লুলি। চোলবে না কিরে মড়া, এখন আরাে খুব বেশী
কোরে চোলবে। এখন তাে তুই মোর মুটোর ভেতর আছিস
জানিস না ?
কাল। তা তাে জানি, তাতাে জানি কিন্তু তবে
লুলি। কিন্তু তবে টবে বুঝি না! আমার যা খুসি তাই
কোর্লো।
কালা। না তা হবে না। দশজন ভদ্র মানুষে আমায়
ছােট নােক বােলে থােরে ফেলবে। আমি ওকেও খুন কোর্বো,
তােকেও খুন কোর্বো ।
লুলি! বলিস কিরে ? লেতো একখানা ছােরা কেড়ে
অঞ্জন, মুই একখানা লিচ্চি।
( উভয়ের উভয় ছােরা কাড়িয়া লওন)
কালা। দে ছােরা, দে ছােরা, দে বলছি, ছােরা দে।
}

৭২
লুলিয়া।
লুলি। এই যে দিচ্চি। কে আছিস আয়তো রে, তােদর
মুনিব পাগল হােয়ে খুন কোর্তে এসেছে।
(ত্রিপণ্ড ও অন্যান্য ভূত্যের প্রবেশ)
কালা। দে ছাের, দে ছােরা, আমি খুন কোর্ব,দে ছােরা।
লুলি। তাের দাড়িয়ে দেখছিস কি ? পাগল হােয়েছে।
ধর, জাপটে ধােরে বেঁদে ফ্যাল।
( সকলের তথাকরণের উদ্যোগ।
কালা। এই ও বাঁদিস নি ! দে ছােরা খুন কোর্বো!
লুলি। বাঁধ, বাঁধ, দেরি করিসনি।
( সকলের তথাকরণ)
কালা। দে ছোরা -খুন কোর্বো ! দে ছােরা খুন
কোর্বো !
লুলি। টেনে নিয়ে বিছানায় ফেলবি চ। একজন ছুট্টে
বদ্দি বাড়ী যা, শিগ্যির ডেকে নিয়ে আয়।
কালা। দে ছােরাখুন কোর্বোদে ছােরা-খুন কোর্বো।
[ টানিয়া লইয়া সকলের প্রস্থান।

দ্বিতীয় অঙ্ক।
৭৩
চতুর্থ গর্ভাঙ্ক।
সরসার উপকক্ষ।
( গান করিতে করিতে সজনীগণের প্রবেশ )
গীত।
আমাদের হাসি এসেছে।
যার হাসিতে আমরা হাসি, আজ সে হেসেছে।
কান্না নিয়ে ঘর করা কি যায়,
ছিল সে এক বিষম দায় ;
উঠতে বােসতে খেতে শুতে কেবলই হায় হায় ;
আজ সে সব গেছে ঠোটের পাশে হাসি ভেসেছে।
২য়-স। আজ অবিশ্যি কিছু একটা হােয়েছে।
৩য়-স। হােয়েছেই তাে! নইলে সেই মুখ আর এই মুখ।
৪র্থ-স। তাই তো! মেঘ জল ঝড় বৈ যেখানে আর কিছু
ছিল না, সেখানে মেঘ ও কম-ঝড় তত একেবারে নাই বােল্লেই
হয়। এর ভেতর নিশ্চয়ই কিছু আছে। হা লা তপতি! তুই
কিছু জানিস ?
১ম-স। না বােন্! আমি কিছুই জানি না।
২য়-স। একেবারে কিছু না ?
১ম-স। একেবারেই কিছু না! তবে-
৩য়-স। হ্যা তবে কি লা?
৭

৭৪
লুলিয়া।
!
১ম-স। তবে কি না আজ সকাল বেলা
৪র্থ-স। হ্যা বলতে সকাল বেলা কি ?
১ম-স। এই সকাল বেলা রাজবাড়ী থেকে একজন
নােক~~~
২য়-স। বল চুপ, কোল্লি কেন ? রাজবাড়ী থেকে একজন
লােক এসেছিল, তারপর ?
ম-স। তারপর সে কি দিয়ে চোলে গেল।
৩য়-স। কি দিয়ে গেল লা? বলনা।
১ম-স। কি জানি বােন! একখানা বুঝি চিঠি! আর
৫র্থ-স। আর কি ?
১ম-স। আর একটা বুঝি আংটী ।
২য়-স। সে কোথাকার চিঠি আর কার আংটী কিছু
শুলি?
১ম-স। না। তবে কি না
৩য়-স। হঁ্যা তবে কি না তারপর ?
১ম-স। তারপর সেই চিঠিখানা পােড়তে পােড়তে দিদি
ঠাকরুণীর আমাদের একবার হাসি, একবার কান্ন', তারপর
আবার হাসি-আবার কান্না।
৪র্থ-স। চিঠিখানা কার লেখা তা কিছু শুনলি ?
১ম-স। তা শুনিনি। তবে নাকি কত্তা মশাই পাঠিয়েছেন।
২য়-স। বটে? লেখাটা কি তপতি?
১ম-স। তা কি দেখেছি ? তবে দিদি ঠাকরুণ বল্লেন যে,
কর্তা নাকি বনের ভেতর একদল ডাকাত থােরেছেন। তাদের
দলপতির হাতে দিব্যকান্ত ঠাকুরের আংটী দেখে

দ্বিতীয় অঙ্ক।
৭৫
৩য়-স। হ্যা আংটী দেখে কি বােল্লেন ?
১ম-স। কি জানি তাকে বুঝি জিজ্ঞাসা কোরেছিলেন।
তাতে সে বুঝি বােলেছে যে, তারা দিব্যকান্ত ঠাকুরের সমস্ত
কেড়ে কুড়ে নিয়ে তাকে মেরে ফেলে একটা গর্তে ফেলে
দিয়েছিল ।
৪র্থ-স। এ! সে কি কথা? তারপর ?
১ম-স। তারপর নাকি সরা বােলেছে যে তারপর দিন
তারা সেই গর্তের কাছে এসে দেখে যে, দিব্যকান্ত ঠাকুরও
সেথায় নেই, আর তাদের একটা যুবতী মেয়েও কোথায়
পালিয়েছে। ওই আংটীটে সেই তারই আংটী।
২য়-স। এ তাে বড় আশ্চৰ্য্য কথা --দিব্যকান্ত ঠাকুরতাে
এসে এসব কথা কিছুই বলেনি।
৩য়-স। ওলল চুপ, কর! চুপ, কর!
ঐ যে ঠাকুণটী
আসছেন।
( গান করিতে করিতে সরসার প্রবেশ )
গীত।
আমি কারে রেখে কারে ভাবি কারে বা বলি আমার।
জানি, ইনি কি তিনি, কে দেবতা পূজিবার ।
যারে সপিয়াছি প্রাণ,
সদা যার করি ধ্যান ;
(তারে) চিনিতে নারিলে কি সে, হবে আশার সুসার ।
৪র্থ-স। দিদি ! যা খােয়েছে, তাতে তুমি কি ঠাওরাচ্ছ?

লুলিয়া।
সরসা। যা হােয়েছে, তাতে মনে হয় ইনি তিনি নন্। তিনি
হয় তাে আর কোথাও আছেন।
৩য়-স। সে কি ? তা কি হােতে পারে ?
সরসা। আবার তাইতে। ভাবি। কিন্তু তাই যদি না হবে
তবে তারা এ আংটী কোথায় পেলে ! ইনি তাে বােলেছিলেন যে
ডাকাতরা সেই শিকিরিটাকে মাচ্চে দেখে ইনি পালিয়ে এসে
ছিলেন।
২য়-স। তাইতল! এ যে বড় বিষম কথা দিদি ?
সরসা। বিষম কেমন ? এক জ্বালায় জ্বালছিলেম, এযে
আবার আর এক জ্বালা এলাে বােন্! ইনিতাে যা করবার তা
কোরেছেন, তবু আশায় বুক বেঁধে আছি, একদিন না একদিন
পাবই ! ভগবান একদিন না একদিন আমার মনস্কামনা পূর্ণ
কোর্বেন। আবার ইনি যদি তিনি না হন, তাহােলে তাে আরাে
জ্বালা; একে দেখতে পাচ্ছি, আশা আছে। তিনি কোথায়
আছেন, কি কোচ্ছেন কিছুই জানি না! বেঁচে আছেন কি না,
তারও ঠিক নাই।
( আরতীর প্রবেশ )
আরতী। সরাে! তাের অপরের ওপর আর এক নতুন থপর
আছে।
সরসা। কি দিদি -কি খপর ?
আরতী। সেই ডাকাতদের যুবতী মেয়েটা এসেছে।
সরসা। কই ? কই ? কোথায় দিদি ?
আরতী। আমাদের বাড়ী খুজে এসেছিল। আমাদের ইনি
তাকে, ওই ওকে দেখাতে নিয়ে গেছেন।

দ্বিতীয় অঙ্ক। ৭৭ সরসা। সে কি বােড়ে দিদি? আরতী। সে বল্লে এ নয়, তিনিই দিষ্যকান্ত। সরসা। তিনি কোথায় আছেন ? আরতী। তা কিছু বােল্লে না। সরসা। প্রাণে বেঁচে আছেন তাে ? আরতী। তাও কিছু বােল্লে না। এই যে আসছে ! [ সখিদের প্রস্থান। ( মানসীও অরবিন্দের প্রবেশ ) অধ। জান আরতী! শিকারীটাকে দেখে এই মানসী মেয়েটা একেবারে চোমকে গেছলাে ! আরতী। কেন ? অর। ওতো জানতাে না যে দিব্যকান্তের অনুরূপ কেউ 4 আছে। মানসী। আজ্ঞে হ্যা ঠাকরুণ ! যে অবস্থায় দিব্যকান্ত দাদ। আমার কাছ থেকে চোলে গেছেন, তাতে হঠাৎ দেখে আমি মনে করেছিলেম তিনিই। সরসা। কি অবস্থায় তিনি গেছেন ? মানসী। তার বাকৃদত্তা প্রণয়িনী কি আপনিই ? আপনিই বটে! এমন রূপরাশী না হােলে কি আর তার মত মহতের মন- প্রাণ বিচলিত হয় । সরসা। তা যাই হােক, তিনি এখন কোথায়, আমায় বলুন। মানসী। শুনে আপনি কি কৰ্বেন ? আপনার কথা আমি সমস্তই শুনেছি। তার মুখে যা শােনবার, তাতে শুনিইছি।

৭৮
লুলিয়া।
তারপর এর মুখে আপনার অসাধ্য সাধনার চেষ্টা শুনে আশ্চৰ্য্য
হােয়েছি।
আরতী। কি অসাধ্য সাধনের কথা ?
মানসী। প্রাণের টানে হারানিধি ফিরিয়ে আনার কল্পনা।
যাকে প্রাণ সমৰ্পণ কোরেছেন, তিনি অপরের সঙ্গে বিবাহিত
দেখেও যে রমণী তারই ধ্যানে মগ্ন থাকেন, তিনি ধন্য! তার
সাধন অসাধ্য সাধন।
আরতী। তা বটে।
সরসা। আহাহ! তিনি এখন কোথায় আছেন, তাই
বলুন না !
মানসী। সময় পেলে বােলবাে সুখী হবেন । এখন শুনে
কেবল কষ্ট পাবেন বৈ তাে নয়।
সরসা। কষ্ট পাই পাবাে-আপনি বলুন।
মানসী। আমায় আপনি বােলবেন না, আমি দাসী, বৈশ্য
কন্যা!
সরসা। তা হােল্ক বলুন।
মানসী। যখন এত কোরে বােলছেন তখন কিছু না বােল্লও
দেখছি আপনি ছাড়বেন না। কিন্তু শুনে কোন ফল হবে না।
ভরসা। না হয় না হােক, আপনি বলুন।
মানসী। দেখুন, যেদিন দস্যরা তাকে আহত কোরে মৃত
বিবেচনায় একটা গর্তে ফেলে দিয়ে চোলে গেল, তারপর দিন
কে জানে কেন আমার প্রাণ কেঁদে উঠলাে, আমি সেই গর্তের
কাছে গিয়ে দেখি,তঁর চৈতন্য হােয়েছে। আমি আর কাল বিলম্ব
মা কোরে তাকে নিয়ে বহু দূরে এক গ্রামে আশ্রয় নিলেন।

দ্বিতীয় অঙ্ক। ৭৯ অর। তারপর ? মানসী। গ্রামবাসীরা আমায় যথেষ্ট সাহায্য কোত্তে লাগলাে। তাদের দয়ায় আর এই দাসীর শুশ্রুষায় ক্রমে ক্রমে তিনি আরােগ্য লাভ কোল্লেন। সরসা। তারপর কি হােললা ? মানসী। বলছি শুনুন। শয্যাশায়ী অবস্থায় তিনি কেবল আপনার নাম আর মধ্যে মধ্যে এই সখা সখীর নাম কোর্তেন। আরতী। আহা ধন্য তার সখ্যতা! তারপর ? মানসী। এইবার না বােল্লে নয়, আপনারা কিছুতেই ছাড়- বেন না, তাই বলছি। আরােগ্য হবার তিন দিন পরে একদিন হঠাৎ মূচ্ছিত হােয়ে পােড়লেন। দ্বাদশ দণ্ড পরে সেই মুচ্ছ। ভঙ্গ হােলাে। অর। কি বিপদ! তারপর ? মানসী। মূচ্ছা ভঙ্গের পর হােতেই ঠিক উন্মাদের মত ব্যব- হার কোৰ্তে লাগলেন। সরসা। কি সর্বনাশ! তারপর ? মানসী। তারপর নিরুদ্দেশ। সরসা। হায় হায় ! পেয়ে নিধি হারালেম। দিদি ! আমার কি হবে? আমি যে অকূল সাগরে ভাসলেম। আশা ছিল, প্রাণ ছিল, আজ যে সে আশাও নিৰ্ম্মল হােলল ! আমি মরি তাতে ক্ষতি নাই, কিন্তু মৃত্যুকালে যে একবার তার মুখ দেখে মর্তে পাবে না, এই দুঃখেই প্রাণ ফেটে যাচ্ছে। (বােদন) মানসী। আপনি শান্ত হােন, শান্ত হােন।

লুলিয়া।
গীত।
ফুরিয়ে তাে যায় নি আশা, ভালবাসার বাঁধন তত আছে।
রসিতে নােল পােড়েছে ক’সলে ফিরে আসবে তাে কাছে।
যত যে যায় দূরে দূরে,
তত সে চায় ফিরে ঘুরে ;
জানে তার বাঁধন আছে, টান চলেছে দিনরাতই পাছে ।
সরসা। যে অবস্থায় তিনি গেছেন, তাতে আর আশা থাকে
না। যে অদৃষ্ট অামার, তিনি যে ফিরে এসে আবার আমায়,
আমার বােলে জ্ঞান কোর্বেন • তা তাে বােধ হয় না।
মানসী। মানুষ পাগলও হয় -- ভালও হয় ! কোথাও চোলেও
যায়—ফিরেও আসে। বিশেষ আপনার প্রতি তার যে রকম
প্রাণের টান, তাতে কোন্ দিন এসে পােড়বেনই পােড়বেন।
আপনারা কি বলেন ?
আরতী। আমার তাে তাই বােধ হয়।
অর। আচ্ছা—চোলে যাবার সময় তােমাকে কিছু বদলে
যানি !
মানসী। কিছুনা বােললেই হয়।
অর। কি রকম ?
মানসী। কি আর বােলবাে ?
কেন ?
মানসী। সে পাগলের কথা!
অর। তবু কি শুনি না ?
মানসী। বােল্লেন ঠিক তাে ঠিক।

দ্বিতীয় অঙ্ক।
৮১
অর। আর কিছু না ?
মানসী। না।
সরসা। এ কি কথা?
মানসী। পাগলের কথা, পাগল না হলে, কে বুঝবে বলুন।
অর। আমার বােধ হয়—তার আবার মাথা স্থির হবে।
মানসী। আমিও তাে তাই আশা করি।
আরতী।
আচ্ছা তাই হােক! ভগবান আশা পূর্ণ করুন।
সরসা আমাদের হারানিধি ফিরে পাক!
অর। চল একটু বাগানে বেড়ানাে যাকগে । ওরে তােরা
মেয়েটাকে ভাল কোরে যত্ন কোরগে যা।
[ মানসীর প্রস্থান।
সরসা। হারানিধি আবার পাব কি দিদি ?
আরতী! যতক্ষণ শ্বাস-ততক্ষণ আশ! বেঁচে যখন আছেন
—তখন একদিন না একদিন আসতে পারেন।
অর। আমার তাে মনে হােচ্ছে যে, আবার সখাকে ফিরে
পাবাে!
সরসা। কি জানি বােন! আমি ত কিছুই বুঝতে পাচি না।
( সকলের প্রস্থান।

লুলিয়া।
পঞ্চম গর্ভাঙ্ক।
দিব্যকান্তের স্ফটীকাগার।
( শয্যার উপর তােষকাবৃত মুণ্ডিত মস্তক--কালাশােক।)
( নেপথ্যে গীত।
ধ ধর্ মার, মার, কাট কাট রে।
কটাক কেটে মার মা রে ।
কালা। (শয্যামধ্য হইতে) কেরে? কেরে ? খুন কোল্লেরে ।
খুন কোল্লেরে !
( প্রতিমূর্তির গীত )
হুটপাটু কোরে ঢােক ঝট পটু রে
রে।
লুটপাট, কোরে ভাগ, সট, সট, রে।
কালা। (মুখ বাহির করিয়া) ওরে—ওরে-- সব লিলে রে !
সব লিলে রে!
(লুলিয়া ও ভৃত্যগণের প্রবেশ )
লুলি। কি হেয়েছে ? ষাঁড়ের মত চিঁচাচ্ছিস যে ?
কালা। (বসিয়া ) আরে মরু! ডাকাত পােড়েছে—এখনি
কেটেকুটে সব লুটপাট কোরে নিয়ে যাবে ।
লুলি। এই রে—এই আবার এক উপসর্গ হােয়েছে
দেখছি। ডাক্ বদ্দি যা হয় এসে করুক!

দ্বিতীয় অঙ্ক।
৮৩
ত্রিপ। এবার বােলেছে ঘাড় ফুড়ে দেবে।
কালা। হারে হারামজাদা--বেটাচ্ছেলে পাজি! ঘাড়
ফুড়ে দেবে বৈকি ? এদিকে যে ডাকাত পােড়েছে—তা কোন
শালাশালীর দুষ, লেই।
লুলি। ডাকাত পড়াচ্ছি এই যে একবার বদ্দি এলে হয়।
যা না রে! একজন কেউ গিয়ে লিচে থেকে ডেকে আন্ না।
কালা। এই বেটা, যাসনি –যাসনি ! বন্দিশালাও কি এক
জোট হােয়েছে? আস্ত মানুষকে পাগল বলে বেটাচ্ছেলে হাত
পা বেঁধে ফেলে রেখেছে আজ দুদিন ধােরে খেতে পৰ্য্যন্ত
দেয় নি।
লুলি। আরও কদিন যায় দেখ।
কালা। তার চেয়ে একেবারে মেরে ফ্যানা কেনে?
লুলি। তাই তো চাই। তা মরিস্ কৈ—তাের যে কৈমাছের
প্রাণ ! তবু দাড়িয়ে আছিস্যা না!
কালা। তেবু যায়—ওরে বেটা যানি-যাসনি—আমি
বাড়ীর কর্তা-আমার কথা শুবিনি ? ( ভৃত্যের প্রস্থান)
গেলি! যাঃ শালা পাজি! ওরে দেরে—আমার হাতের পায়ের
দড়ি খুলে দে - আর এক পাত্তর জল দিয়ে বাঁচা।
লুলি-খপরদার! কেউ দিনি! ও রােগী মানুষ! ওর
কথা শুনে কাজ কোল্লে ও এখনি মারা যাবে।
কালা!-আরে মােলো! এ বেটা বেটীরা যে আমায় সত্যিই
পাগল কোরে তুলে।
(বৈদ্যের প্রবেশ)
কালা। -এইরে যমদুত বেটা এয়েছে। দেখি, বেটাকে

৮৪
লুলিয়া।
;
একটু বুঝিয়ে বলে দেখি। হাহে বন্দি মশাই ! তােমার
নাড়ী জ্ঞানতত খুব টটনে, আস্ত মানুষকে পাগল বানিয়েছে।
এখন বাড়ীতে যে ডাকাত পােড়েছে তার কিছু খপর রাখ ?
বৈদ্য।—কই না!
কালা।—অন্মেলান বদনে বােল্লে কই না। আর আমি যে
স্বকর্ণে তাদের হুঙ্কার শুনু-এই ঘরের ভেতর দিয়ে গ্যালাে-
হয় এদিকে, নয় ওদিকে, নয় ঐদিকে; আর নয় ওই ওদিকে,
এক দিকে না এক দিকে তারা গেছেই। হয়তাে এতক্ষণ বা
পেঁড়া ভেঙ্গে নয়নেত্য কোরে ফেল্লে ।
বৈদ্য ।--এইটে বুঝি নতুস উপসর্গ ।
লুলি।--হ্যা।
বৈদ্য ।-বটে! আচ্ছা ওরে এক কাজ ক দেখি। একতাল
খুব তেজালাে সর্ষে বাট দেখি--তাতে গােটাকতক খুব ঝাঁঝালাে
কাচা সূর্যমুখী লঙ্কাও বেটে দিস্। মাথায়পটি বসাতে হবে।
( ভৃত্যের প্রহান)
কালা। ওরে বেটা বদ্দি বলিস কি ? এই মাথা কামিয়ে
দিয়ে দু তিনশাে ঘড়া পচা পুকুরের জল ঢেলেও তাের সাধ
মেটেনি, আবার পটি বসাবি? কই বসা দিকি কেমন কোরে
বসাবি। যে বেটা বেটী আমার কাছে আসবে, তাকে কামড়ে
ছিড়ে ফেলবাে।
ও কামড়ানােও একটা উপসর্গ।
লুলি। তবে কি হবে ?
কালা। হবে তাের মাথা আর তাের গুষ্টির ছেরাদ্দ ! পাজী

দ্বিতীয় অঙ্ক।
৪৫
!
বেটা, সচ্ছার বেটী আমায় খুন কোরে তবে ছাড়বি? এ
শালাও বুঝি তাের সঙ্গে জুটেছে, নইলে এত কেনে?
লুলি। ঘা কতক দোব নাকি ?
কালা। না না থাক্ থা!
লুলি। তবে যা হয় কিছু কর। লইলে মাথায় পটি বসাতে
দিবে না।
বৈদ্য। তা,কচ্ছি! তােরা এক কাজ কর দেখি! গাছ দুই
খুব শক্ত রশি এনে ওকে আচ্ছা কোরে খাটের সঙ্গে বেঁধে থাে ।
(ভূতের প্রস্থান।
কাল। ওরে তােদের পায়ে পড়ি, আমায় আর বাঁধিসনি।
( ভৃত্যের দড়ি লইয়া পুনঃ প্রবেশ)
লুলি। বাধ, বাঁধ, দাড়িয়ে দেখলে কি হবে ?
( সকলের তথাকথিত কাৰ্যে নিযুক্ত)
কলা। ওরে বাঁধিনি বাঁধিনি, মােরে যাব বাঁধিনি।
ও পাজী বেটার, ওরে নচ্ছার বেটারা! ওরে হতভাগা বেটারা
তবু বাঁধছিস, তবু বাঁধছিস! উহুহু গেলুম যে রে। হাড়গুলাে
যে মড় মড় কোরে উঠছে। উহুহু। ( মোেহ )।
বৈদ্য। ভিরমি গেলেন! আপনি ঠাকরুণ না দেখতে
পারেন—অন্য ঘরে যা। এ সব আমাদের কর্তব্য।
ত্রিপ। আজ্ঞে বদ্দি মশাই। ঘাড় কুঁড়ে দেবেন যে বােলে
ছিলেন।
বৈদ্য। আজ তায় প্রয়ােজন নাই, তুমি দেহি আমাগাের
দেশী মানুষ—পটিতে না হােলে কাল তাই করা যাবে।

লুলিয়া।
( লঙ্কাবাটা ইত্যাদি লইয়া ভৃত্যের প্রবেশ )
লুলি। কে দেবে ? আপনি না পারেন তাে এই অঞ্জনকে দিন
ও রােগীর সেবা বেশ জানে।
অঞ্জ। কামড়ায় যদি ?
লুলি। কামড়াবে কি ? চ-মুই ওর মুখে কাপড় গুজে
দিচ্ছি।
বৈদ্য। তাই কর ! এই ঠিক সময় অজ্ঞান হােয়ে আছেন।
দাও এই পাট লাগিয়ে। (তথাকরণােদ্যোগ)
কালা। (জ্ঞানান্তে) একি রে? একি রে ? তাই কচ্ছিস
লাকি ? ওরে বেটাবেটী-(লুলিয়া কর্তৃক মুখে কাপড় চাপিয়া
ধরণ) ( অঞ্জন কর্তৃক পটি বসাইয়া দেওন)।
বৈদ্য। একবার অবুধ থােরে গেলে হয়। বাস! তা
যােলেই নিশ্চিন্ত।
লুলি। তুই সােরে যা অঞ্জন! মুই মুয়ের কাপড় খুলি ।
( তথাকরণ )
৩
কালা।
ওরে বাবারে মলুম রে; ব্যাটাবেটীরা কি কোল্পে
রে! কুলকাটের আঙ্গরা চাপিয়ে দিলে রে? (কমােচ্চকণ্ঠে)
ওরে বাবারে মলুম রে! এই গেল গেল গেল-ওরে মাথার খুলি
ফেটে গেল যে -ফেটে গেল রে! ওরে ব্যাটা বদ্দি খুলে দে! ওরে
হারামজাদা বেটারা খুলে দে! জল ঢাল-জল ঢাল-জল ঢাল
ওরে তােদের চোদ্দপুরুষের মাথায় পয়জার মারি তুলে নে।
ওরে শালার বেটা শালারা তুলে নে, ওরে তুলে নে—ওরে গেলুম
যেরে! ওরে বেটী বেউশের মেয়ে বেউশ্যে, তুলতে বলে দে।

দ্বিতীয় অঙ্ক।
৮৭
অর ।
( অরবিন্দ ও আরতীর প্রবেশ )
অর ও আর। একি ? একি ?
কালা। (যােদন করিতে করিতে) ও সখা মশাই! মােরে
রক্ষে কর। আমায় রক্ষে কর! এই বেটা বেটীর জুটে আমায়
খুন কোরে ফেল্লে উ হু হু হু হু ! গেলুম রে বাবারে মলুম রে !
কি হােয়েছে ?
লুলি। কি আর হবে ? দেখছেন লা পাগল হয়েছে ।
পাগল হয়ে আমাদের খুন কোত্তে এসেছিল।
কালা। ও কথা শুনে লা সখা মশাই! ও কথা শুনো লা।
সেই জন্যে—সেই জন্যে ! তােমার পায়ে পড়ি সখা মশাই।
আমার মাথার পটিটে তুলে দাও।
অর। কিসের পটি ?
কালা। লঙ্কাবাটার হে লঙ্কাবাটার! উ হু হু ! জ্বেলে গেল
জ্বেলে গেল!
আরতী। লঙ্কাবাটা কেন ?
বৈদ্য । আজ্ঞে ওটা একটা দাওয়াই।
কালা। দাওয়াই না তাের গুষ্টির পিণ্ডিরে বেটা বন্দি।
লুলি। ফের গালাগাল, দাও তত বদ্দি মশাই ঘাড় ফুড়ে
দাও তাে!
অর। সত্য পাগলের তল লঙ্কাবাটা ঔষধ নয়।
লুলি। বদ্দি মশাই বােলছে, অনুধ লয় বােল্লেই হােলো?
অর। আর খানিক থাকলে যে মানুষটা মােরে যাবে।
লুলি। মরে মরুক। রোগতাে ভাল হবে ও পাগল হােয়ে
বেঁচে থাকার চেয়ে মরা ভাল।

৮৮
লুলিয়া
আরতী। ছিঃ! ও কি কথা?
কালা। বলতে সখী মশাই! বলতাে।
লুলি। কি বােলবেরে হতভাগা–কি বােলবে! মাের জিনিস
মুই যা ইচ্ছে কোর্বো। কারু বলা কয়া মুই শুনতে গেনু আর কি!
ভারি দায়।
অর। অবশ্য শুনতে হবে! রাজা ব্যতিত একটা মানুষকে
মেরে ফেলবার ক্ষমতা কারাে নাই। ওহে বৈদ্য! ও লঙ্কা বাটার
পটি এখনি তুলে দাও ! তুলে দাও বলছি! ( তরবারির মুষ্টি ধারণ)
বৈদ্য। (কপিতে কাপিতে) আজ্ঞে এই দিলেম। (বৈদ্য
কর্তৃক লঙ্কাবাটা তুলিয়া দেওন )
কালা। তবু আলা—তবু আলা!
অর। জ্বালা নিবারণের ঔষধ মাখিয়ে দাও। এখনি দাও।
বৈদ্য। আজ্ঞে এই যে দিচ্ছি। (তথাকরণ )
লুলি। বা-বাবা-একি ? জোর নাকি ?
অর। চুপ। ওরে, এখনি ওর বাঁধন খুলেদে !
( ভৃত্যগণ তথা করণে নিযুক্ত)
কালা। বেঁচে থাক বাবা সােমশাই। বেঁচে থাক। আঙ্গ
বাপমায়ের কাজ কোলে।

দ্বিতীয় অঙ্ক।
৪৯
যষ্ঠ গর্ভাঙ্ক।
সরসার উদ্যান দ্বার।
( মানসীর প্রবেশ)
মানসী। (স্বগতঃ ) চক্ষু ওপর দেখায়, মন ভেতর বুঝে
নেয়। দুই-ই চাই। চক্ষু না থাকলে তো মনের মতন রতনটী
দেখতে পেতেমনা ; আবার মন না থাকলেও তো রতনটীর মন
পাওয়া দুষ্কর হতাে। ভগবান পাঠান একা একা, যার ধন সে
খুঁজে নেয়, দুই এক হােয়ে যায়। এই এক না হােতে পাল্লেই
যত জ্বালা যত যন্ত্রণা। তাই ভাল মন্দ বিচারের ভার মনের ওপর।
যার মন ঠিক পালে, সে বেঁচে গেল, আর যার মন শুধু চোখের
দেখাতেই মজে গেল, তারই যত খােয়র। আমার অদৃষ্টে কি
আছে কে জানে? একবার মাত্র দেখেই তাে মজে গেছি।
( অঞ্জনের প্রবেশ)
মানসী। এস, এস !
অঞ্জন! আগ বাড়িয়ে যে? ব্যাপার কি ?
মানসী। প্রণের টানটা নতুন যে—তাই !
অঞ্জন। চোখের খেলা শেষ হােতে না হতেই প্রাণের খেলা
সুরু হয়েছে নাকি ?
মানসী। যাদের হয়, তাদের এই রকমই হয়।
অঞ্জ। হওয়া হওয়ি কই বুঝলেম না তাে!
মানসী। বুঝছে খুব, তবে বােলছে না। চাপা মানুষ
কি না?

লুলিয়া।
অঞ্জ। চাপা খােলা বুঝলে কি কোরে ?
মানসী। স্ত্রীলােক সে বিদ্যায় স্বতঃসিদ্ধ।
অঞ্জ। আমি মনে কোরেছিলেম, হাত গুণে বুঝি।
মানসী। হাত গােনা এখনাে ধরিনি, দিন কয়েক আগে
যাক।
অঞ্জ। কেন?
মানসী। আগে একটা বাঁধাবাঁধি না হােলে গুণতে গিয়ে
কি শেষ গােড়ায় গলদ কোরে বােসবাে ?
অঞ্জ। বাঁধাবাঁধি হােলে গুণবে কি ?
মানসী। সকালে গুণবাে, গুনপুরুষ খাবেন কি ? দুপুরে
গুণবাে, বিকেলে যাবেন কোথা! বিকালে গুণবব, সন্ধ্যার আঁধারে
কোথাও চুরি চামারি কোচ্চেন কি না? সন্ধ্যায় গুণবাে, কতরাত্রে
অধিনীকে দর্শন দিতে আসবেন। আর রাত্রে গুণবাে, সকালে
সুখে নিদ্রাভঙ্গ হবে কিনা।
অঞ্জ। সবতাে শুনলেম ভাল। কিন্তু ঐ সন্ধ্যার অন্ধকারের
সন্দেহটী এলাে কেন ?
মানসী। উটী না থাকলে স্ত্রীর স্ত্রীত্ব বজায় থাকে না।
অঞ্জ। সন্ধ্যায় যারা ঘরে থাকে তাদের কি
মানসী। স্ত্রীলােক তাদের দেখতে পারে না। লােকে
বলে তারা স্ত্রীজাতি পুরুষ ! রমণীর অঞ্চলই তাদের সম্বল। গুরু-
জনের কাছে তাদের স্ত্রীদের লজ্জা হয়, বয়স্তাদের টিটকিরিতে
কান পাতবার যাে থাকে না।
অঞ্জ। তা হােলে ত পুরুষদের দুদিকেই কাটা।
কোর্বে কি ?

দ্বিতীয় অঙ্ক। মানসী। কি কোর্বে তা মেয়ে মানুষে বােলে দেবে কেন ? অঞ্জ। তবে পুরুষও গুণতে বােসবে। মানসী। গুণলেই বােলবাে কাপুরুষ! মন কসাকসির সুত্র পাত হবে। অঞ্জ। তবে তুমিই গুণোস্ত্রীত্ব বজায় রেখাে। মানসী। কথায়—এই প্রথম হার হােলাে। অঞ্জ। তা হােক এ হার পরে দেখে না। কাজে না হার- লেই হােলো! গীত। অঞ্জন। আমি কথায় হারি হার্বো, কিন্তু কাজেতে হারবাে না। ভাল কাজ দেখবাে; উৎরে যাবাে, হারতে পারবাে না। মানসী। আমি দেখবাে কাজের, খুৎ কোথা আছে, কাজের আগে না পাছে ;- যদি পাই খুজে খুৎ, একটু বেযুত,ছুত তাে ছাড়বাে না। তখন হাবে কাজী, দেখবাে বােসে, রা টি কাড়বাে না। কাজের—আগের পাছের, খুৎ ধরা যার রােগ, ও তার সুধুই কৰ্ম্ম ভােগ ; তুমি আগে চাইবে, পাছে চাইবে, আমি তা চাইব না । সেরে, মাঝ থেকে কাজ, কোর্বো মজা, কথাটা কইবাে না।

১২
লুলিয়া।
মানসী।
তুমি ভাবছো যেমন,
ঘটবে না তেমন,
কাজে হাৱে হে প্রাণধন ;
অঞ্জন।
তুমি, যাই বল আর, যাই কও, ও কথাতে ভুলবাে না ।
আমি, কাজের মানুষ, ঠিক জেনাে,
ঠক-ঠকিতে ঠোকবে না।
মানসী। এই যে কুমারী এই দিকেই আছেন। তবে এই
খান থেকেই বিদায় নিয়ে যাই চল
অঞ্জ। তাই চল। আমার তো আর এক মুহূর্তও বিলম্ব
কোর্তে ইচ্ছে হচ্ছে না।
( সরসার প্রবেশ )
মানসী। কুমারী ঠাকরুণ! এ রাজ্যে সুসংবাদ দাতার ভাগ্যে
কি ফল ফোলে থাকে ?
সরসা। কেন ? একথা কেন ?
মানসী। তাই জিজ্ঞাসা কচ্ছি ।
সরসা। কেন? কিছু আছে নাকি ?
মানসী। কি পাওয়া যায় শুনলে বােলতে পারি ।
সরসা। কি হােয়েছে বল মানসী! তার কোন সংবাদ
পেয়েছে ?
মানসী। কি দেবেন বলুন -বলছি!
সরসা। যা চাইবে তাই দেবাে। আমার সর্বস্ব দিয়েও যদি

দ্বিতীয় অঙ্ক। তার সুসংবাদ পাই-এখনি তা দেবাে। আমি পিতার একমাত্র দুহিতা, আমার সুখশান্তির জন্য তিনি—তার সমস্ত সম্পত্তি দিতে পারেন। মানসী। না সরসা ঠাকরুণ। আমি অত কিছু চাই না। আমার প্রতি দয়া রাখবেন – তা হােলেই আমার যথেষ্ট হবে। সরসা। তা রাখবাে --কি হােয়েছে এখন বল ? মানসী। তিনি ফিরে এসেছেন। সরসা। ফিরে এসেছেন? ফিরে এসেছেন? কোথায় মানসী ? কোথায় তিনি ? আমার সর্বস্বধন কোথায় আছেন বল ? মানসী। সুধু ফিরে আসা নয়—সুস্থ শরীরে সেই যে পল্লিতে তিনি আরােগ্যলাভ কোরেছিলেন, সেই পল্লীতে এসে পেছে- ছেন। সেই পল্লীর একটী লােকের সঙ্গে আমার এইমাত্র সাক্ষাৎ হােয়েছিল। সরসা। তবে চল মানসী! আমায় সঙ্গে কোরে নিয়ে চল। আমি গিয়ে তাকে এখানে আনি। ভগবান! ধন্য তুমি! ধন্য তােমার দয়া ! মানসী। আপনাকে যেতে হবে না। আমি এখনি এই তাঁর প্রিয় অনুচরকে সঙ্গে নিয়ে তাকে নিয়ে আসিগে! আপ- নার হঠাৎ তথায় যাওয়াটা ভাল দেখায় না! সরসা। তবে তাই যাও! যত শীঘ্র পার নিয়ে এস। আমি আশা পথ চেয়ে রইলেম। [ মানসী ও অঞ্জনের প্রস্থান।

৯৪
লুলিয়া।
( সজনীগণের প্রবেশ )
গীত।
আহা—প্রাণদিয়ে ঠিক প্রেম করে যারা,
তারা হয় নাকো সারা।
তাদের বিচ্ছেদে প্রেম দ্বিগুণ বাড়ে,
মিলন হয় ক্ষারা।
চাদ
কুমুদে
কেঁদে কাটায় দিন,
রবির লেগে, নিশায় জেগে, কমল হয় মলিন
ফিরে-সময় পেলে, আবার মেলে,
প্রাণ খুলে তারা।
যারা—সরল প্রাণের প্রেমিক,তাদের,
প্রেমের এই ধারা।

তৃতীয় অঙ্ক।
প্রথম গর্ভাঙ্ক।
অর।
অরবিন্দের কক্ষ।
( অরবিন্দ ও আরতী উপস্থিত।)
আরতী। তােমার কি মনে হয় ?
আমার মনে হয়--মানসী মেয়েটী অবিশ্বাসী নয়।
আরতী। তা হােলে, সখা যে সেথায় এসেছে তা ঠিক ?
অর। ঠিক না বােলে বােলবাে কি ?
আরতী। সে যে তাকে আনতে গেছে, আর তিনি যে
এখানে আসবেন -একবাটাও তা হােলে ঠিক ?
অর। ঠিক বৈ কি ? নইলে অঞ্জনকে নিয়ে যাবে কেন?
আরতী।
তা যদি হয়, তা হোলে এ বাঁদরটাকে নাচিয়ে কি
হবে ?
অর। নাচানাে চাই! নগরবাসীদের বােঝানো চাই, যে,
এমন অকাল কুম্মা আমাদের সেই বুদ্ধিমান বিদ্বান দিব্যকান্ত
হােতে পারে না।
আরতী। তিনি এলেই তাে সব মিটে যাবে।
অর। যদি না যায় ? লােকে যদি তাকেই জুয়াচোর বােলে
জ্ঞান করে। এ হতভাগাটা তাে কারুর সঙ্গে দেখাও করেনি,

লুলিয়া। নিজে যে কি দরের লােক তা ও জানায় নি। লােকে মনে কার্ল্ডে পারে, যে, এইই দিব্যকান্ত; আর তিনি শিকারী কালাশােক। আরতী। বেশ, তা যেন বুঝলেম ! কিন্তু বাঁদরটাকে নিয়ে তুমি যা কোর্তে বােসেছে তাতে তােমারও তাে দায় দফা আছে ? অর। আসল দিব্যকান্তকে পেলে, নগরবাসী আর রাজ- অমাত্যগণ এটাকে একটা বিশেষ রহস্য বােলে কৌতুক কোর্বে ; আমারও দায়িত্ব ঐখানে লােপ পাবে। আরতী। তা হােলেই তাে বাঁচি। যা হােক কাৰ্য্যটা আজই আরম্ভ হবে নাকি ? অর। আজ না হয় কাল তাে বটেই। অনেক সাজ সজ্জার দরকার, অনেক ব্যয় ভূষণের প্রয়ােজন। আরতী। তাতাে বটেই। এখন শেষ রক্ষা হােলে বাঁচি। অর। আচ্ছা-ধরাে যদি মানসী মেয়েটার মিছে কথাই হয়, যদি দিব্যকান্তকে না পাওয়া যায়, তা হােলেই বা কি? এ সব যে আমিই করেছি, তার প্রমাণ কি ? আরতী। প্রমাণ—ঐ কালাশশাকের কথা। অর। কাশ্মীরের নাগরিকরা এখনও এমন নির্বোধ হয়নি, যে, ওই নীচ লােকটা নীচের ভাষায় কথা কইবে, সেই কথা, সত্য বলে মনে কোর্বে ? আরতী। জিজ্ঞাসার তলে পােড়লে, তােমায় তাে কিছু কিছু মিথ্যা কথা কইতে হবে ? অর। তা হবে। আরতী। তবেই তাে ! অর। তবেই তাে কি ? নিজের জন্যে তাে মিথ্যার সহায়তা

তৃতীয় অঙ্ক।
নিতে হবে না? প্রথমতঃ—নিজেতাে হবেই না। যদিই হয়
তা হলে মনকে বােঝাবার জন্য পুরাণ আছে, পুরাণের মধ্যে
মহাভারত আছে—মহাভারতে “অশ্বথামা হত ইতি গজ”
আছে।
আরতী। সে কথায় তাে মনকে বােঝন যায় না-মনকে
চোখ ঠাৱা হয়!
অর। কি রকম?
আরতী। আমি স্ত্রীলােক,পুরুষকে তা কি কোরে বােঝাব।
পরম পুরুষ বােঝাতে গিয়েই আমতা আমতা কোরেছিলেন
অথচ ধৰ্ম্মপুত্রের নরক দর্শনটা বাদ যায়নি।
অর। তা দেখতে হয় দেখবো,তবু পাপের প্রশ্রয় দেবাে না।
অবতী। আমার কথায় কি রাগ কোলে ?
ঠিক রাগ করিনি! তবে, একটু ক্ষুব্ধ যে না
হােয়েছি-তা নয়।
আরতী। ক্ষুব্ধ হােয়য়া না, রাগও কোরাে না। আমরা
স্ত্রীলােক, সহজেই নির্বোধ।
অর। ও কথা যে ঠিক—তা আমি স্বীকার করি না। তবে
তােমরা যে সময়ে সময়ে আবদারের ছলে, একটু বেশী এগিয়ে
পড়, তা এক রকম স্বতঃসিদ্ধ ! সেটা তােমাদের নিৰ্বদ্ধিতা নয়,
বরঞ্চ অধিক বুদ্ধি পরিচালনার পরিচায়ক।
আরতী। তাই যদি হয়-হােক? আমাদের শত দোষ
মার্জনীয়।
( ত্রিপণ্ডের প্রবেশ )
অর। ত্ৰিপণ্ড যে ?

লুলিয়া।
ত্রিপ। আজ্ঞা হ্যা।
অর। হঠাৎ তাের আবির্ভাব হলাে যে ?
ত্রিপ। এখন যাই কোথা ঠাকুর ?
অর। কেন? কি হােয়েছে ?
ত্রিপ। আর কি হােয়েছে ? আমার মারিচের দশা হােয়েছে
আর কি ? এখন রাবণে মাল্লেও মাৰ্ব্বে - রামে মাল্লেও মার্বে।
অর। ও সমস্যা রাখ এখন কি হােয়েছে তাই বল।
ত্রিপ। কি আবােলবাে ঠাকুর। সেই অঞ্জনে ছোড়াই
যত নষ্টের মূল ! গিন্নীর ঠ্যালায় কর্তা বলে--পিণ্ড সব জানে।
গিন্নী বলে—“বল্ বেটা সে কোথায় গেল?
অর। “জানি না” বােল্লেই তাে তাের দায় দফা চোকে ।
ত্রিপ। তা শশানে কৈ ? ওটা হােললা তার ভেড়া-আর
সেটা হােলে পর ঘাঁটা। ওটা মনে মনে হাসে আর মার
খেয়ে মরে, সেটা মারে আর অঞ্জনের জন্যে কাঁদে ! আমি মাকে
থেকে বিনিদোষে মারা যাই।
অর। ওদের তা হােলে চোলছে ভাল ?
ত্রিপ। কেমন ভালাে? গাওন। এখন জমজমাট।
অর। কি রকম ?
ত্রিপ। এর মুখ থেকে রাগিনী নিয়ে ও ভজছে, ওর মুখ
থেকে রাগিনী নিয়ে এ ভাঁজছে! এমন হুলাের হাউ হাউ আর
মেনীর মিউ মিউ কেউ শশানেনি—শুনবে না। থাবাটা খুবােটা
আর আঁচড়টা কামড়টা তত চোলেছেই ?
অর। তা চোলেছে চোলেছেই তাতে তাের কি হােয়েছে ?
ত্রিপ। আঃ ঠাকুর! আমায় ছাড়ছে কৈ ? এও তাল

তৃতীয় অঙ্ক।
৯৯
খাখছে আমার উপর, ও-ও তাল রাখছে আমার উপর। আমি
বেটা যেন কৰ্ম্ম বাড়ীর ময়দা তাল,যে পাচ্ছে সেই ঠাস দিচ্ছে।
অর। শেষ মীমাংসা কিছু হােয়েছে ?
ত্রিপ। তাদের মীমাংসা তারা কোচ্ছে, আমি এক কথা
কোয়ে দিয়ে পালিয়ে এসেছি।
অর। কি কথা ?
ত্রিপ। আমি বােলেছি সেই যে বুনাে ছুড়ি এসেছিল, অঞ্জু-
নের খপর সেই জানে। সে এখন সরস ঠাকরুণের বাগান
বাড়ীতে আছে।
তাতে কি বােল্লে ?
ত্রিপ। বলা আর শােনে কে? বােলেই মেরেছি ছুট।
(নেপথ্যে) কালাশােক। আমি এসেছি সখা ! যেতে
পারি কি ?
ত্রিপ। ঐ এসেছে! ভাগ বাে নাকি ?
অর। না থাক্। এসে নাহে! এখানে আসবে—তার আর
বলা কওয়া কি ?
(কালাশশাকের প্রবেশ)
কালা। তুই এখানে যে ?
ত্রিপ। না এসে যাই কোথা ? ঠ্যালাটী কেমন ?
কালা। হাঁ হাঁ ! আচ্ছা আচ্ছা! বাস কৰু, সে কথায় কাজ
লেই।
অর। কথাটা কি হে সখা ?
কালা। লা, এমন কিছু লয়! ওটা একটা ঘরােয়া কথা।
তা যাক, ও কথা যাক! এখন এদিকার কি ?

১০০
লুলিয়া।
অর। এ দিকের সমস্ত স্থির এখন কেবল তােমার সম্মতি
সাপেক্ষ।
কালা। আমায় কি কোৰ্ত্তে হবে বল ; ও সাপেক্ষ মাপেক্ষ
বুঝি না।
অর। ইতিপূর্বে তুমি অধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হােতে চাও
কি না জানবার জন্য সূৰ্য্য দেউলের সদস্যগণ তােমাকে যে পত্র
লিখেছিলেন তা মনে আছে ?
কালা। শুধু মনে আছে কি হে সখা ! সেখানা আমি ইষ্টি
কবজ কোরে রেখেছি, এই যে সেখানা।
অর। বেস। তাতে তুমি সম্মত হােয়ে তাদের যে পত্র
লিখেছিলে তা মনে আছে তাে ?
কালা। খুব আছে ! দশজন ভদ্দর নােকের সঙ্গে মিলমিস
হবে যাতে, তা মনে থাকবে না।
অর। ভাল! এখন সেই পত্রের উত্তর এসেছে। তারা
সর্বসম্মতিক্রমে তােমাকে অধ্যক্ষের পদে নির্বাচিত কোরেছেন।
কালা। কোরেছেন ? কোরেছেন ? তবে আমি অধ্যমি
হােয়েছি ?
অর। হা হােয়য়ছ। এখন গিয়ে বােসলেই হােলে।।
কিন্তু পটা খুব উচ্চ দরের তাতে জানাে? পূৰ্বে যাঁরা সে পদে
বসেছেন, তাঁদের মত—এমনকি তাঁদের অপেক্ষাও অধিক আড়-
অরে সেথায় যাওয়া চাই। রাজা রাজ ডার মত লােজন দ্রব্য
সভার সঙ্গে নিয়ে, দান ধ্যান কোর্তে কোর্ল্ডে গেলে,তবে মানাবে।
কালা। তা যাবে। সিন্দুকে অনেক টাকা আছে, যত
খরচ লাগে দেবাে।

তৃতীয় অঙ্ক।
১০১
অর। কত টাকা আছে ?
কালা। তা কি ছাই গণেছি ?
অর। তােমার টাকা ? তুমি জান না?
কালা। জানা উচিত বটে। কিন্তু কিন্তু
অর। তা যাই হােক্। এখন যা যা কোর্তে হবে, তার
একটা বন্দোবস্ত করা চাইতো ?
কালা। যে রকম কোল্লে ঠিক আধ্যিক্ষ্য মানায়—তুমি
তার সব ঠিক ঠাক কর। আমার ট্যাকা-তােমার বুদ্ধি
কেমন ?
অর। আচ্ছা তাই হবে !
কালা। তবে এখন সেই পাকা পতোর খানা আমায় দাও।
সেই খানাইতাে আমার নিশেনা পন্তোর হবে।
অর। এই যে সেইখানা নাও। { প্রদান।
কালা। বাহােব! বাহােবা! বেশ দেখতে! ছাপ, মােহর
রােয়েছে। আমি এখন তবে সূর্য্য দেউলের সব্বময়ী কত্তা ! যা
হুকুমকোর্বো, তাই হবে। বেঁচে থাক সখা-বেঁচে থাক।
সখীকে নিয়ে খুব সুখ কর—খুব সুখ কর।
অর। তাতে হবে। এখন আর বিলম্ব কোল্লে চোলবে না।
যত শীঘ্র পার, আয়ােজন করােগে।
কালা। তাতে কোর্বো! আয় বেট। তিরপণ্ড আয় ।
আমার অনেকে কাজ নেই—তুই অয়! তােকে দিয়েই আমি
সব কাজ চালাবাে।
ত্রিপ। চলুন—কিন্তু ধাক্কাটাক্কা খেতে পাৰ্বো না। সে
কাজে আপনি থাকেন থাকবেন—আমি নেই

১০২
লুলিয়া।
কালা। ভয় নেই—ভয় নেই- সে সব আর ভয় ছুই
আয় ।
[ ত্ৰিপণ্ড ও কালাশাকের প্রস্থান।
আরতী। আচ্ছা সূৰ্যদেউলের এ সব চিঠিপত্র, সই-মােহর
সংগ্রহ হলাে কি কোরে ?
অর। দেউলের বর্তমান অধ্যক্ষ আমার বিশেষ বন্ধু-তার
সঙ্গে পরামর্শ কোরে এসব সংগ্রহ হহয়েছে।
আর। ঘটে ? তা বেস! এখন শেষ রক্ষাই রক্ষা!
[ উভয়ের প্রস্থান।
দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক
সরসার উদ্যানদ্বার।
( সরসা উপস্থিত)
গীত।
আশা নিরাশার মাঝে পােড়ে মন, সু-বা-কু-ভাবিতে
পারে না।
এ এলে সে আসে, বিপরীত ভাষে, কারাে কথা মনে
ধরে না।
আশা বলে ভাল যা চাহিছ তাই,
নিরাশা অমনি বলে নাই নাই ;

তৃতীয় অঙ্ক।
কে বলে ঠিক, কেবা সে বেঠিক, বুঝিবারে মন সরে না।
সন্দেহ দোলায়, দুলে যায় মন, হাঁ-কি-না-কিছুই করে না।
সরসা। (স্বগতঃ ) কে জানে কি হচ্ছে ? এত বিলম্ব কেন?
মনে করি সন্দেহকে মনে স্থান দেব না। কিন্তু মন তাে মানা
শুনে না, আমি না বােল্লে কি হবে ? আমি কে? মন ছাড়া
আমি কি ? কিছুই না! সন্দেহ বলে মানসী কি ঠিক ? মানসীর
কথা কি সত্য? উহু কই না! তিনি যদি সুস্থ শরীরে বােগ
মুক্ত হােয়ে এসে থাকেন। তবে একেবারে এখানে কেন এলেন
? কে আলিঙ্গন কব্বার জন্য এখানে যে তার আত্মীয়-স্বজন,
বন্ধু-বান্ধব সকলেই ব্যগ্র হােয়ে আছে। এ কথা তাে তিনি
জানেন ? তবে কেন এলেন না ? এই জন্যই তো সন্দেহ হয়।
তারপর আবার আমার সেই ভয়ানক স্বপ্ন
( গান করিতে করিতে সজনীগণের পবেশ।)
গীত।
ফুলের বাণ মেরে প্রাণ পুড়িয়ে মারে।
(পােড় ) ঠাকুরটী সবার।
জানে পােভােনে ছাই হলেও ফিরে প্রাণ
পাবে আবার।
যেমন কাট, পােড় কয়লার,
পুড়ে-ময়লা যায় আবার ;
খাঁটি হয় সুবর্ণ, চাপার বর্ণ ( প্রভায় )
প্রভাকরের হয় হার।

১০৪
লুলিয়া।
১ম স। ও কি ঠাকরুণ ? মুখখানা আবার অন্ধকার কোলে।
যে ? ঠাকুরটী আসছেন, এখন ধুয়ে মুছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হবেন;
তা না এ আবার কি ?
সরসা। ভয়ে ভাবনায় তপতি।---ভয়ে ভাবনায় এমন
হােয়েছি।
১ম-স। তিনি আসছেন—ভয় ভাবনা আবার কিসের ?
?
(লুলিয়ার প্রবেশ।)
লুলি। এই যে এরা সব এখানে রোয়েছে ? এই তােরা তো
সব এই বাড়ীর চারাণী ?
১ম-স। আমােলাে! এ মাগী কেরে ?
লুলি। মুই মাগী ? মোরে চিনিস না বুঝি ? মুই যে দিব্যি-
কান্তির ইস্তিরি! তােদের মত অমন দশ বিশটে চারাণী মাের
ঘরে তা জানিস?
১ম-স। আমর! এ মাগী যে দেখছি গায়ে পােড়ে ঝগড়া
কোত্তে এসেছে !
লুলি। ঝগড়া কোত্তে আসিনি। তােদের একজন মাের
সব্বনাশ কোরেছে, তাই তার তল্লাসি কোত্তে এইছি।
১ম-স। আমরা কারু সৰ্ব্বনাশ করি না ?
লুলি। সব্বনাশ করিস লা তাে কি ? মাের একজন ভাল
বাসার লােককে ভুলিয়ে এনেছিস জানিস লা? হয় তাকে
ফিরিয়ে দেনইলে সালিস বসাবাে–মাথা মুড়িয়ে ঘােল ঢেলে
সব চুরুণী বেটীকে সহরের বার কোরে দেওয়াব।
১ম। আম! হতভা বেটী ! কাকে কি বলে তার ঠিক

তৃতীয় অঙ্ক।
রাখে না! মর! মর!
এখানে কে রােয়েছেন, তা জ্ঞান
নেই। ঘােট লােকের ঘরের মেয়ে কি না ? তার আর কত
ভাল হবে ?
লুলি। আরে থাম—যে রােয়েছে সে আপন ঘরে রােয়েছে।
মাের কি? আর এমনই বা কি বড় নােক রে? যে নিজের ঘরে
চোর পােষে-তাকেও তাে নােকে চোর বলে।
১ম-স। তবে রে মাগী পাড়ার্কুলী! যত বড় মুখ তত বড়
কথা? এখনি মুখ থেতো কোরে দোব জানিস?
লুলি। তা করিস করিস-আগে মাের অনেরে বার
কোরে দে, তারপর কে কার মুখ থেতাে করে, তা দেখা যাবে।
১ম-স। কে তাের অঞ্জনের পর রাখে ?
লুলি। তােরা রাখিদে বার কোরে দে! নইলে—
১ম-স। নইলে কি কোৰ্বি ?
লুলি। গালাগালি দে ভূত ছাড়িয়ে দোব। তাতে না হয়
আঁচুড়ে কামড়ে তােদের রক্তপাত কোরে ফেলবে। তাতেও না
হয়, লােকজন ডেকে এনে বাড়ী ঘেরাও কোর্ব ।
১ম-স। তাই কোরগে যা।
লুলি। আগে কোৱঁ ? আগে গালাগাল খা।
১ম-স। গালাগাল দিলে ঝেটিয়ে জঞ্জাল সাফ কোর্ব।
লুলি। তাই একবার করুনা দেখি। দেখি না কোন্ বেটীর
বুকের বল কত ?
১ম-স। তবু তুই এখান থেকে যাবি না?
লুলি। যাবে কি লাে ! মাের জিনিষ লা নিয়ে অনি
যাবাে ?

লুলিয়া। ১ম-স। তাের জিনিস হেথায় নেই ভালয় ভালয় এখনও. বােলছি চোলে যা-নইলে ঝাটা খেয়ে গতর চূৰ্ণ হােয়ে যাবে। লুলি। চাকরাণী কি না? তাই তােদের এত বড় আম্পন্দা। তা যাই বল আর যাই ক’-মুই সহজে যাচ্ছি না। ১ম-স। বটে? তবে মজাটা দেখ। চলুনতাে ঠাকরুণ আপ- নাকে রেখে আসি । [ সরসাকে লইয়া সকলের প্রস্থান। লুলি। ওরে চোখ খাগী চুললামুখীর! পালালি কেন? মাের জিনিষ মােরে দিয়ে যা–ভাল জিনিস পেয়ে যে,ক’বেটা চুনীতে ভাগাভাগি কোরে খাবি, তা হবে না। মুই নিয়ে তবে যাবাে। ওরে ও বেটী ডাকসাইটে ছেনাল মাগীর দল। দেবার কোরে দে! নইলে এই মুই তােদের পাছে পাছে চন্ন! ( অগ্রসর )। ( কাঁটা হস্তে সজনীগণের পুনঃ প্রবেশ) গীত। সজনীগণ। ঝাটামার, ঝাটামার, ঝাটামার মার। ঝাটামেরে কোরে দিই ফটকের পার। লুলিয়া। কে মারবি কই আয়নালাে, মার না খেলে যে যায়নালাে ; সজনী। মার, মার, মার, মার, মার, মার, মার। ঝাটা পেটা না হােলে হবে না বার । •

তৃতীয় অঙ্ক।
১০৭
লুলিয়া।
মুয়ের মার ওই মুয়েই রাখ,
ঝাটা মারা তােদের মুয়েই থাক, ;
সজনীগণ।
কেন আর, তবে আর দেরি আর কার ।
ঝাটামেরে আয় করি ফটকের বার।
[ ঝাটামার ঝাটামার ইত্যাদি বলিতে বলিতে ঝাটা প্রহার
ও লুলিয়ার চিৎকার করিতে করিতে পলায়ন।
তৃতীয়
গর্ভাঙ্ক।
সূৰ্যদেউল তােরণ।
{ তােরণরক্ষী ও তদনুচর)
তাে-র। ওদিকে ধোঁয়া ধোয়া ঠেছে কেনরে?
অনু। কৈ ধোঁয়া ? ও যে ধুলল।
তাে-র। ধূলাে যদি, তবে আকাশ ছেয়ে এদিকে ছুটে আসছে
অনু। ( উপরে উঠিয়া দেখিতে দেখিতে) ও মশাই ওকি
ব্যাপার ? হাতি ঘােড়া উট দলে দলে। আশাশে টা নিশেন
কাতারে কাতারে। ঐ শুনুন শিঙ্গে কাসর ঘন্টা আর ঢাক ঢােলের

১০৪ লুলিয়া : বাদ্যি। ভোঁ ভোঁ ঝন্‌ ঝন্ গুন্ গুন্ টন্ টন্ ক্রমে এগিয়ে আসছে। তাে-র। তাইতাে ? ব্যাওরা খান কি ? অনু। ব্যাওরা খানা ওই যা তাই। ওৎরাই থেকে চড়াইয়ে উঠলেই দেখা যাবে কি ? তাে-র। যাইহােক ঘটা কোরে কিছু একটা আসছে। ঐ যে রে দেখ দিকি ওটা কি ? অনু। হাতি ঘােড় উট আর আশাশোঁটার নিশেনের সার। তারমাঝে তাঞ্জামে চড়া একটা মানুষ। পিছনে বাজনা বাদির- রােল, তার পরে কেবল ধূলাে, কেবল ধূলাে। তােরণ-র। এসে পােড়ল যে দেখছি। এগিয়ে যা। ও যেই হােক, বােলগে যা, এ দেউলের দরজার একশাে হাত দূর থেকে পায়ে হেঁটে আসা নিয়ম। তা রাজাই হােন্ আর মহারাজাই হো। [ অনুচরের প্রস্থান। তােরণ-রক্ষী। (স্বগতঃ ) মানুষটা কে ? এত জকু জমক কোরে যে আসছে তাতো আগে থেকে খপর দেয়নি ? খপর না দিয়ে এমন কোরে তােকৈ কেউ কখন এ সূৰ্য্য দেউলে আসে ? এই সাড়ে বারগা বছরের ভেতর তাে এ রকমটা আমার চোখে ঠেকেনি? যাই হােক এলেই বােঝা যাবে। তীর্থযাত্রী হােলে, যাহােক কিছু লভ্য তো হবে ? তা হােলেই হােলো, আমার তা হােলেই হােলাে। { অনুচরসহ উৎকৃষ্ট পরিচ্ছদ পরিহিত কালাশশাকের প্রবেশ). 'কালা।. দ্বারপাল তুমি?

তৃতীয় অঙ্ক। ক তো-র। আজ্ঞে হাঁ। কালা। তােমার তাে ভারি তেজ দেখছি ? আমায় হেঁটে আসতে হুকুম পাঠাননা ? তাে-র। আজ্ঞে মহাশয়। আপনি কে ? কালা। আমি কে? আমি কে তা পরে বুঝিয়ে দিচ্ছি। এখন কথা হােচ্ছে সদস্যিরা সব কোথা ? মন্দিরের চাকর বাক- রেরা আমাকে আহ্বান করবার জন্যে হাজির লেই কেনে? দেব দাসীরা গান কোর্ভে কোর্ল্ডে ফুল ছড়াতে ছড়াতে আসেনি কি জন্যে ? তাে-র। এতটা অবদার হােচ্ছে কেন মশাই? আপনি কে তাই আগে বলুন না। তারা সব এসে আপনাকে নিয়ে যাওয়া পরের কথা, আপনি কে না বােল্লে, এ দরজায় ঢুকতেই পাবেন , তা জানেন ? কালা। কি? এত বড় কথা ? সামান্যি একটা চাকরের চাকর তস্য চাকর, তার এত আম্পদ্দা? সব ঠিক কোরে দেব সব দুরস্ত কোরে দোব। এত বড় দেউড়ি, সাজানো চুলােয় যাক একটা নিশেন পর্যন্ত লেই। যার গাফলতি বুঝবে, তাকে দূর কোরে দেবই, তা ছাড়া যাতে এই দেউলের তিরসিমানায় না আসতে পারে, তার আইন জারি কোরে দোব। তাে-র। আইন জারি কোচ্চেন যে মশাই! আপনি মানুষটা কে তাই বলুন না ! নইলে যে চাকরের চাকর তস্য চাকরের চাকর বাকরেরা, গলায় হাত দিয়ে এখান থেকে বার কোরে দিয়ে আসবে। কালা। তবেরে ছােটনােক! তাের খোলা মুখ ভোঁতা ১১০ লুলিয়া। বটে ? কোল্লে দেখছি চোলছে না ?' কে আছিস! কাগজখানা দেতাে। ( ত্ৰিপণ্ড কর্তৃক কাগজ অর্পণ) এই শিলমােহর চিনিস? এই লেখ বুঝিস? আমি যে তােদের অধ্যক্ষ হােয়ে এসেছি তা এখন বুঝতে পাচ্ছিস তো? এই তােদের মিত্যুবান! এক এক বেটাকে ধাের্বো আর গর্দান দিয়ে বিদেয় কোর্লো। আমায় অপমান যানে না ? তাে-র। (স্বগতঃ ) তাইতাে? একি হােলাে ? এ সিল- মােহরতাে দেউলেরই এ লেখনও তাে অধ্যক্ষপদের নিয়োগ পত্তর। কি রকমটা হােল ? কালা। কিরে চাকর! কি ? এখন ঘাড় হেঁট কোরে নিয়ে- যাবি, লা, কি ? তাে-র। আজ্ঞে না তা পারি না। আপনি এইখানে অপেক্ষা করুন। সদস্য মহাশয়দের না বােলে আমি হঠাৎ কোন কাৰ্য কোরতে পারি না। কালা। আরে মর! তাের সদস্যি মশাইরা যে এখন আমার চাকর'; তাদের আবার মত লিবি কি ? তাে-র। তা নিতেই হবে। ওরে দেখিস আমি যতক্ষণ না আসি, ততক্ষণ এদের কেউ যেন তােরণের মধ্যে পদার্পণ কোর্ল্ডে পারে। কালা। যদি জোর কোরে ঢুকি ? তাে-র। তাহােলে শ্রীচরণযুগল এইখানে রেখে কোমরে হেঁটে ফিরে যেতে হবে। [ প্রস্থান।

তৃতীয় অঙ্ক। ৭ নেই। পি। প্রভু! একি! গলাধাক্কায় সুরু। শেষ নাগােরা খেতে হবে না কি ? কালা। ইস! তা আর হােতে হয় না। কাগজখানা দেখে দেখলি না ? বেটার একেবারে রা হােরে গেল ! ত্রিপ। তা যাই হােক আমার কিন্তু বড় ভাল ঠেছে না। কালা। কেনে বল দিকি ? ত্রিপ। বলে যার বিয়ে তার মনে নেই, পাড়া পােড় শির ঘুম এযে দেখছি তাই হােয়েছে। যারা নেমন্তন্ন কোরে আলে, তাদের কারাে দেখা নেই, অথচ আপনাকে এখন, গাঁয়ে মানেনা আপনি মােড়ল, হবার জন্যে জে কোচ্ছেন। কালা। একবার দেখা পেলে হয়, তাদের চিন্টু কোরে দোবাে। ত্রিপ। তাদের ঢিট করা ঢের দূরের কথা, এক চাকরের মুখ তাড়াতেই অস্থির কোরে দিয়েছে। কালা। সে বেটার মুণ্ডচ্ছেদ কোরে ফেলবো। ত্রিপ। তা আর কোৰ্ত্তে হয় না। দরজায় ঢুকতে গেলে আপনারই ঠ্যাংচ্ছেদ হােয়ে যাবে। কালা। কৈ হােক দিকি ? ত্রিপ। আপনি ভেতরে ঢুকুন দেখি ! ( তােরণরক্ষীসহ অধ্যক্ষ ও সদস্যগণের প্রবেশ) কালা। কিরে চাকর ? প্যাট প্যাট কোরে চেয়ে দেখছিস কি ? আমি যে কে তা এখন বুঝতে পেরেছিস তে ? তাে-র। আজ্ঞে না,আগে এরা আপনাকে বুঝে নিন, তার- পর দেখা যাবে, কে কারে বােঝে ?

১১২
লুলিয়া।
কালা। আচ্ছা তাই হােচ্চে। হা হে বাবু সদস্যির দল।
তােমাদের আক্কেলটা কি বল দেখি ?
অধ্যক্ষ। কেন মহাশয় ?
কালা। আবার কেন মশাই ? নজ্জা করে না? আমায় কি
একটা হেঁজি পেঁজি নােক ঠাউরেছ নাকি ?
অধ্য। কেন কি হােয়েছে ?
কালা। আবার বলে কি হােয়েছে ? যেন কিছু জানে না।
হ্যা দেখ ওসব বাকচাতুরি রাখাে! কাজে যে গাফিলি হােয়েছে
বাপের সুপুত্তর হােয়ে তা স্বীকের কর, আমি দয়া কোরে মাপ
কচ্চি।
অধ্য। কে আপনি ? কি আবল তাবল বােকছেন ?
কালা। কে আমি? হাহাহা! ওরে তিরপণ্ডে। শশান্ শােন্
এরাও বলে কে আপনি? কিছু বােলছি না বােলে হতভাগারা
একটা তামাসা পেয়ে গেছে দেখছি। ওরে বাপু! আমি যে
তােদের অধ্যক্ষী হােয়ে এয়েছি সেটা বুঝি খেয়াল নেই? সব
নেশা করিছিস নাকি ?
অধ্য। কি রকম অধ্যক্ষ ?
কালা। কি রকম অধ্যক্ষী ? যার গুতাের ঠেলায় সব
সােশে ফুল দেখবি, সেই রকম অধ্যক্ষী ? মরু বেটারা
নিজে নিজে নিব্বাচান না কি ছাই কোরে, এখন যেন বােক
সাজছে ?
অধ্য। ব্যাপারটা কি খুলেই বলনা ?
কালা। ব্যাপারটা কি এই দ্যাখ,।
( কাগজ অর্পণ )

তৃতীয় অঙ্ক। ১১৩ অধ্য। [ কাগজ পাঠ ও অন্যান্য সদস্যের সহিত পরামর্শ ও হাস্য পরিহাস ইত্যবসারে কালাশােকের আত্ম- গরিমাসূচক অঙ্গভঙ্গি ইত্যাদি।] এ কাগজটা কোথায় পেলে ? কাল। তােরাই তাে পাঠিয়েছিস! আবার বলে কোথায় পেলে ? অধ্য। এ সিলমােহর দেউলের নয়, এ স্বাক্ষর সদস্যেরও নয় ; এখানা জাল। কাল। কি রকম ? জাল কি রকম ? অধ্য। কেউ হয়তাে তােমার সঙ্গে রহস্য কোরেছে। কালা। ওকথা আমি বুঝি না! আমি কালাশােক শিকিরি, না দিব্যিকান্তি ঠাকুর, আমার সঙ্গে রহস্য কোন শালা করে ? আমি একরাশ ট্যাকা খরচ কোরেছি, জিনিস পত্তোর বানিয়েছি, লােকজন জমিয়েছি, এত পথ এয়েছি ; আমি কিন্তু সহজে ছাড়ছি না। অধ্য। ছেড়ে কি কোৰ্ব্বে ? কাল। জোর কোরে সেদিয়ে গদিতে গিয়ে বােসবক। অধ্য। সূৰ্য দেউলের প্রহরীরা তবে কি কোত্তে আছে। কালা। তাতে আছে ? তা বাবা আর কেন মস্করা করিস! অনেক হোয়েচে; এখন আমায় নিয়ে চ। গদিতে বােসে আমার মানব জন্মটা সফল কোরে আসি! কিছু টাকা লা হয় আমি তােদের পান খেতে দেবাে। অধ্য। যা হবে না, সে জন্য আর কেন চেষ্টা কর। যাও, যে তােমায় পাঠিয়েছে, তাকে গিয়ে ধর। কালা। সেততা সেই অরবিন্দ। সে বেটা জুয়াচোরের

১১৪
লুলিয়া।
সদ্দার। সেই ত দেখছি আমায় মজিয়েছে। এখন কি হবে ?
সহরেই বা মুখ দেখাব কেমন কোরে ? আর এত টাকা যে নষ্ট
হােললা তারই বা শােধ লেবাে কি কোরে ?
অধ্য। ও সব কথার জবাব আমরা আর কি দেবাে বল ?
এখন আস্তে আস্তে প্রস্থান কর। প্রহরি! সাবধান! বিনানু,
মতিতে কেহ যেন এ তােরণের মধ্যে প্রবেশ না করে।
[ অধ্যক্ষ ও সদস্যগণের প্রস্থান।
কালা। ওরে তিরপুণ্ডে ! কি হােলােরে ?
ত্রিপ। যা হবার তাই হােলাে। এখন ঘরের ছেলে ঘরে
ফিরে চল।
কালা। দল বেঁধে তাে যাওয়া হবে না।
ত্রিপ। তাকি হয় ? তা হােলে সহরের লােকের নাগাের।
কি আর পায়ে থাকবে, সব তােমার মাথায় পােড়বে।
কালা। তা হােলে লুকিয়ে চুরিয়ে যেতে হয়।
ত্রিপ। তাই চলে। কিন্তু যাদের এনেছেন, তাদের পাওনা
গণ্ডা না চুকিয়ে যেতে হােলে তো, লুকিয়ে যাওয়া চোলবে না।
কালা। কেন চোলবে না? ঠিক চোলবে! আর ট্যাক।
পয়সা আমি দিতে পাৰ্বো না।
তো র। ওরে বেটা জুয়োচোর! গরীবদের কঁকি মারবার
পরামােশ আঁটছো ? তা হবে না। ( উচ্চৈঃস্বরে) ওরে তােদর
ফাকি দিয়ে এ বেটা পালাবার যােগাড়ে আছে। এই সময়
থােরে তােদের পাওনা গণ্ডা আদায় কোরে নে।
কালা। দূ বেটা পাজি!
[ প্রস্থান - নেপথ্যে গােযােগ—মা মার শব্দ ইত্যাদি।

চতুর্থ গর্ভাঙ্ক রাজপথ—দিব্যকান্তের বাটির সম্মুখ। ( অরবিন্দসহ অঞ্জন ও মানসীর প্রবেশ ।) অর। তারপর ? অঞ্জ। কি আর বােলবাে পিতৃব্য ঠাকুর! গিয়ে যা দেখ- লেম তাতে যে আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে, তা নিশ্চয় বুঝতে পাল্লেম। হা জগদীশ্বর ! কি কোল্লেন ? কূলে এসে যে নৌকা ডুবি হবে, তাতো একবারও ভাবিনি প্রভু! হায় হায় কি হােলল! কি হলাে! ( মস্তকে হস্ত দিয়া উপবেশন। অর। কি হােয়েছে, শুনিই না। মানসী! তুমিই না হয় বল ? দিব্যকান্তর সংবাদ কি, তুমিই না হয় বল । মানসী। যে সর্বনাশ হয়ে গেছে, তা আর কোন্ মুখে বােলবাে? হায় হায় ! আমি হতভাগিনী কেন তাঁকে এলা ফেলে চোলে এসেছিলেম। আহাহা ! দুর্বল শরীরে কি সাংঘাতিক ঘটনাই ঘােটে গেছে। অর। কি হােয়েছে ? ছি ছি ছি কি হয়েছে বলনা ? মানসী। আর কি হােয়েছে! যা হবার তাই হােয়েছে, বিঘােরে প্রাণ গেছে আর কি ? অর। সেকি ? সেকি? দিব্যকান্ত নাই! কি কোরে জানলে ? মানসী। যেখানে ছিলেন, সেখানে গিয়ে দেখলেন তিনি নাই। 5 লুলিয়া। t অর। সে কোথায় ? মানসী। মহাদেও পাহাড়ের জলপ্রপাতের পার্শ্বের এক গঘরে। অর। সেখান হেতে কোথাও চোলে গিয়ে থাকতে পারেন তো ? মানসী। হায় হায় ! তা হােলে তো বাচতেম কিন্তু তা কই ? যা দেখে এলেম, তাতে যে আর কোন সন্দেহই নাই। অর। কি দেখে এলে ? অঞ্জ। প্রপাতের কাছে গিয়ে কোথায় প্রভু, কোথায় প্রভু বােলে চীৎকার শব্দে ডাকতে লাগলেম-হায় হায় কেবল প্রতিধ্বনি হােলাে, কোথায় প্রভু-কোথায় প্রভু-প্রভুর আমার কোন উত্তর নাই! তখন গহ্বরের সম্মুখে গিয়ে যা' দেখলেম- তাতে আমাদের আত্মাপুরুষ শুকিয়ে গেল । অর। কি দেখলে ? অঞ্জ। দেখলেম-শােণিতের ছড়াছড়ি, যেন ঢেউ খেলছে আর এই শােণিতাক্ত গাত্রাবরণ অর। মানসী। এ আর কারাে নয়—এ তার । আমি ভাল জানি এ তার। অর। এতে দেখছি ছিন্ন ভিন্ন। অঞ্জ। আজ্ঞে হ্যা! তাই বলছি। দেখলেম গহ্বরের দ্বার পর্যন্ত শােণিতাক্ত! তখন গহ্বরের দ্বারে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে ডাকলেম “প্রভু”। উত্তরে গহ্বর মধ্য হােতে ভীষণ সিংহের গর্জন শুনতে পেলেম। আবার উন্মত্তের ন্যায় ডাকলেম “প্রভু”।

তৃতীয় অঙ্ক।
১১৭
আবার সেই গর্জন। তখনই জানলেম আমাদের অদৃষ্ট
ভেঙ্গেছে—প্রভু আমাদের আর ইহজগতে নাই।
অর। ও হােহাে! এমন সর্বনাশ হােয়ে গেছে! ও হােহাে
দিব্যকান্ত! সখা আমার ! এত বিপদ হােতে রক্ষা পেয়ে এসে,
অবশেষে সিংহকবলে প্রাণ বিসর্জন দিলে ?
( দিব্যকান্তের সর্বাধ্যক্ষের প্রবেশ।)
সৰ্বা। আমাদের প্রভু! আমাদের প্রভু!
অর। কি বলেন ? কি বলেন?
সৰ্বা। আমাদের প্রভু আসছেন--আমাদের যথার্থ প্রভু
আসছেন ।
অর। কি বলেন ? পাগল হােলেন নাকি ? আপনাদের
যথার্থ প্রভু কি আর আছেন !
সৰ্বা। আছেন কি বােলছেন—তিনি আসছেন, আমি
স্বচক্ষে দেখে এলেম, তিনি আসছেন।
'অর। কোথায় দেখলেন ? কখন দেখলেন ?
সৰ্বা। এইমাত্র! মহা সামন্ত মশাই যুদ্ধ জয় কোরে ফিরে
আসছেন, রির সঙ্গে তিনি বােয়েছেন।
অঞ্জ। সত্য নাকি ? সত্য নাকি ? আমি যাই দেখিগে ।
[ দ্রুত প্রস্থান।
অর। সর্বাধ্যক্ষ মহাশয়! সত্য বলুন, আমার সখা
দিব্যকান্তকে তাে ঠিক দেখেছেন?
সৰ্বা। ঠিক দেখেছি--ঠিক দেখেছি, কথা পৰ্যন্ত কোয়ে
এসেছি।

১১৮
লুলিয়া।
অর। বটে ? দেব-দিনমণি ! ধন্য আপনি ! ধন্ঠ আপনার
করুণা!
সৰ্ব। ওই দেখুন—ওই দেখুন-এই পথেই আসছেন।
( শরীর রক্ষকগণ সহ রবিরঞ্জ সৌরি ও অঞ্জন ও
দিব্যকান্তের প্রবেশ)
অর। সখা সখা!
দিব্য। সখা ! ( উভয়ে আলিঙ্গন )
রবি। অরবিন্দ! তােমার সখাকে পেলে-এখন সেই দুষ্ট
কালাশােকটা কোথা ?
অর। আজ্ঞে বাটীতে নাই, এখনি আসবে।
রবি। আচ্ছা, আমার রক্ষক কয়েক জন এই স্থানে রইলো।
সে পাপিষ্ঠ এলে যেন বন্দী অবস্থায় আমার নিকট প্রেরিত হয়,
দুষ্ট বিশেষরূপ শাস্তির উপযুক্ত।
অর। যে আজ্ঞে ।
[ রবিরঞ্জের প্রস্থান।
দিব্য। সখা! মহাসামন্ত মহাশয়ের কাছে আমি কালা-
শশাকের চাতুরির কথা সমস্ত শুনেছি।
অর। আমরাও মানসীর কাছে তােমার বিপদের কথা
সমস্ত শুনেছি।
দিব্য। আহা! মানসী দেবকন্যা! আমার জীবনদাত্রী
জননী!
মানসী। আপনার জীবন রক্ষায় আমার পাপের প্রায়শ্চিত্ত
হােয়েছে।
দিব্য। অঞ্জন! কেমন আছ ?
:,

তৃতীয় অঙ্ক।
১১৯
অঞ্জ। আজ্ঞে প্রভু! জীবন্ত হােয়েছিলেম।
মানসী। আপনি সিংহের গ্রাস হােতে কেমন কোরে রক্ষা
পেলেন ?
দিব্য। এবারও সেই পাৰ্বতীয় মহাত্মারা রক্ষা কোরেছেন।
গহ্বরের সম্মুখে তােমার আগমন প্রতীক্ষায় পদচারণা কোচ্ছি,
এমন সময় একটা দুরন্ত সিংহ লম্ফপ্রদানে আমার উপর পতিত
হয়। কিন্তু শরীরে কোন আঘাত কোর্তে সমর্থ হয়নি। গাত্রা-
বরণটা ধরবামাত্র আমি সেটা ত্যাগ কোরে সােরে এলেম—তখন
পুনরায় যেমন আক্রমণ করবার চেষ্টা কোরেছে অমনি পাহাড়ের
উপর হােতে তীরের পর তীর ক্রমে তাকে বিদ্ধ কোর্তে লাগলাে।
তখন সেটা যন্ত্রনায় ছট ফটু কোর্তে কোর্তে শশাণিতস্রাবে অবসন্ন
হােয়ে পলায়ন কোল্লে ; আমিও পাৰ্বতীয় মহাত্মাদের আশ্রয়
গ্রহণ কোল্লেম। তারপর মহাসামন্ত মহাশয় ফিরে আসবার সময়
আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় !
তর। সূৰ্যনারায়ণ রক্ষা কোরেছেন। এখন চল, ভিতরে
গিয়ে বিশ্রাম কোরবে। অঞ্জন! তুমি এইখানে থাক। কালা-
শােক এলে, এই রক্ষীদের হস্তে তাকে সমর্পণ কোর্বে।
[ অঞ্জন ও রক্ষিগণ ব্যতিত সকলের প্রস্থান।
( অন্যদিক হইতে লুলিয়ার প্রবেশ )
লুলি। এই যে মাের অঞ্জুনে! ওরে অঞ্জুনে! পােড়ারমুখাে !
মুই তাের জন্যে সহর তােলপাড় কচ্ছি, আর তুই কিনা,
অঞ্জ। বেশ তা কি হয়েছে ?
লুলি। হবে আর কি ? তােকে পেয়েছি আর কি ?
অঞ্জ। তারপর ?

১২০
লুলিয়া।
৫।
লুলি। তারপর আর কি ? এখন চ’ বাড়ীর ভেতর ঘাই।
অঞ্জ। এ বাড়ীতে তুমি আর ঢুকতে পাবে না?
লুলি। ইস! তাই তাে রে! বড় রােসকে হােয়েছিস যে!
তা এ বাড়ী না হয়, চ’, মাের পুরােণ বাড়ীতে চ’। তােকে পেলে
মুই বনে ঘর কোরতে পারি, তা জানিস তাে ?
অঞ্জ। তাতাে জানি, এখন ওই কে আসছে দেখ।
(কালাশােক ও পিণ্ডের প্রবেশ।)
কালা। চ’ তিরপুঙে চ ! চুপ কোরে বাড়ীর মধ্যে সেধিয়ে
যাই—কোনো বেটা না দেখতে পায়।
১ম-রক্ষী। এই ও, কোথায় যাও?
কালা। কেন? আমার বাড়ীতে।
১ম-রক্ষী। যেতে পাবে না। আগে মহাসামন্ত মহাশয়ের
কাছে তােমায় যেতে হবে !
কালা। কেনে ?
১ম রক্ষী। কেননা টেনো জানি না, নিয়ে যাবার হুকুম ;
সহজে যাও তাে ভাল-নইলে বেঁধে নিয়ে যাবাে।
কালা। একি কথারে অনে! এ বেটারা এ কি বলে ?
১ম রক্ষী। বাঁধাে বদমায়েসকে।
( অন্যান্ত রক্ষী কর্তৃক বন্ধন।
লুলি। একি ? বাধে ক্যানে ?
অঞ্জ। কি জানি ? ( ত্ৰিপণ্ডের কানে কানে কথন )
ত্রিপ। (সাহলাদে) বলি কিরে ? বলিস কিরে ? বলিস
কিরে? (বাটীর মধ্যে প্রবেশ)।

তৃতীয় অঙ্ক।
১২১
কালা। কার হুকুমে বাঁধছিস! জানিস লা বুঝি আমি
১ম রক্ষী। খুব জানি। এখন ভালয় ভালয় চল, নইলে
এই ধাক্কা মাৰ্ত্তে মাত্তে নিয়ে যাব। ( ধাক্কা দেওন )
কালা। সত্যি নিয়ে চোললাে যে! ও লুলিয়া আয় না,
আমায় রক্ষা কর না।
(রক্ষিগণের ধাক্কা দিতে দিতে কালাশােককে লইয়া প্রস্থান কালে
কালাশােকের)
গীত।
কালা। আমায় নিলে যে, নিলে যে, ওরে আয়না ।
লুলি। ছাড়, বায়না।
তােরে নিলে বােলে মাের, বােয়ে গেল কি,
মুই তাের চেয়েও তাে স্যায়না।
কালা আমায় বেঁধে যে ফেলেছে রে,
লুলি। ভাল সুবিধে কোরেছে রে
মুই, তুই গেলে খুব মারবাে মজা,যারে তারে হেনে নয়না।
কালা। তাের মনেতে আছে যা,
মুই মরিস করিস তা ;
এখন বােলে কোয়ে মােরে ছাড়িয়ে দেরে,
আর যে জ্বালা সয়না ।
;

লুলিয়া।
লুলি। মাের দায় পােড়েছে তােয় ছাড়াতে,
তােয়তে পরাণ চায়না।
তােরে নিলে বােলে মাের, বােয়ে গেল কি,
মুই তাের চেয়েও তাে স্যায়না।
লুলি। যাক-মরুকগে! মাের কি ! কি বলিস অঞ্জন?
অঞ্জ। তােমাকেও যেতে হবে।
লুলি। মুই কোথায় যাবে ।
অঞ্জ। ওর সঙ্গে।
লুলি। তা যাব না। মুই তাের সাথে যাব।
অঞ্জ। আমি এই বাড়ি সেধুলুম !
লুলি। মুইও সেধুবাে।
অঞ্জ। তুমি সে ধুতে এলে এই রক্ষী মশাই গলা ধাক্কা মেরে
বার কোরে দেবে।
( বাটির মধ্যে প্রবেশ )
লুলি। আমিও যাই!
রক্ষী। সাবধান!
লুলি। কি মাের সাবধান কবার মরদ রে !
( প্রবেশের উপক্রম)
রক্ষী। নিকালাে মাগী ছিনার । (গলাধাক্কা দেওন)
সুলি। ওরে বেটা হতভাগা! (গলাধাক্কা) ওরে বেটা
হাড়হাবাতে ! (গলাধাক্কা) ওরে বেটা গুণ্ডো! (গলাধাক্কা )
ওরে বেঠা ষণ্ডামাক ! ( গলাধাক্কা দিতে দিতে প্রস্থান।)

পঞ্চম গর্ভাঙ্ক।
উদ্যান।
(সরসা ও সজনীগণ উপস্থিত।)
সজনীগণের গীত।
দুঃখ আছে তাই সুখ রেয়েছে, নইলে তাে সুখ
থাকতাে না।
আঁধার আছে, তাই আলাের গরব, নইলে তাে কেউ
বুঝত না।
কান্না সুধু থাকলে কি হােত;
হাসির মজা কেউনা তায় পেতাে ;
কা। হাসি দুই থাকা চাই, নইলে তাে কেউ
হাসত না ;
বিরহের পর মিলন মজার নইলে তাে কেউ
মজতে ;
সাধের প্রেমে নইলে তাে কেউ
মজতো না ।
সর। আমার কান্না পাচ্ছে।
১ম-স। ও কি
ও কি অলুক্ষুণে কথা !
পরসা। প্রাণ কেমন কোচ্ছে, শরীর কেঁপে কেঁপে উঠছে
চকে যেন জল রাখতে পাচ্ছি না।

১২৪ লুলিয়া। ১ম-স। বড় আহলাদ হােলে ও রকম হয়। সরসা। কেমন ভয় ভয় কোচ্ছে ? ১ম-স। ভয় আবার কিসের ? এদ্দিনের পর সত্যিকার বর আসছে, আবার ভয় কিসের ? সরসা। যদি তিনি মনে কোরে থাকেন—আমি তাকে ভুলে ছিলেম ? ১ম-স। আর যদি না মনে কোরে থাকেন, তা হােলে ? ( দিব্যকান্তকে লইয়া অরবিন্দ ও আরতীর প্রবেশ) আরতী। সরসা! আর ঘাড় হেঁট কোরে কেন? চোখ তুলে দেখ-আসল কি নকল! দিব্য। শুনেছি সরসা ! নকল নিয়ে বড় জ্বেলেছাে, ভয় নেই আসলে জালাবে না। (হস্তধারণ ) সরসা। আবার জ্বালা-ভগবান আজ আমার সকল আল নিবারণ কোল্লেন। অর। অঞ্জন আর মানসী'কোথা ? এদের মিটলাে এখন তাদের জ্বালাটা মেটাতে পাল্লেই যে হয়! দিব্য। তাদের আবার কি জ্বালা? অর। তাদের দুজনেরই জিনিষ চুরি গেছে, দুজনে দুজন- কেই চোর বােলে ধােরেছে,এর একটা মীমাংসা হওয়া চাইতাে ? দিব্য। বটে ? বেসতো ! আরতী। ওই যে দুজনেই আসছে,ঠিক চোরের মত নয় কি? (অঞ্জনও মানসীর প্রবেশ) অর। ওরে অঞ্জন! ও মানসী! দিব্যকান্ত তােদের দুজন- কেই চোর সাব্যস্ত কোরেছে।

তৃতীয় অঙ্ক। ১২৫ * আর। শাস্তিও দিয়েছেন জন্মের মত কারাবাস ! এই শৃঙ্খলে আবদ্ধ হােয়ে উভয়ে উভয়ের হৃদয় কারায় বন্দী হহয়ে খগে। (পুষ্পমাল্য উভয়ের হস্ত বন্ধন) [ উভয়ের প্রস্থান। (রক্ষীর প্রবেশ ) রক্ষী। প্রভু আগত প্রায় ! (অরবিন্দ ও আরতী ব্যতিত সকলের প্রস্থান) ( অন্যদিক হইতে রক্ষিগণসহ বন্দী কালাশােক ও রবিরঞ্জের প্রবেশ) কালা। মিছি মিছি ভদ্দর নােকের অপমান! অর। মিছি মিছি বটে ? ( ইঙ্গিত ও দিব্যকান্তের প্রবেশ ।) রবি। (কালাশােকের অবস্থা দেখিয়া ) ধূর্ত প্রবঞ্চক! বােঝ, দিকি কি সর্বনাশ কোরেছিলি ? লা। আজ্ঞে-আজ্ঞে-মাজ্জনা- : (কপিতে কাঁপিতে দিব্যকান্তের চরণে পতন ) রবি। এ গুরুতর দোষের মার্জনা নাই। কাশ্মীরের ব্যব- হার শাস্ত্রে এ দোষের শান্তি-শূল ! কালা। প্রভু! দয়া-দয়া- রবি। শােন দিব্যকান্ত। মহারাজের আদেশ-এ পাপাত্মার শাস্তি--তােমার ইচ্ছানুসারে হবে। শূল, শিরচ্ছেদ, হিংস্র পশু মুখে অর্পণ, জীবন্ত সমাধি, যেরূপ শাস্তি দিতে ইচ্ছা . কর, তাই হবে।

১২৬ লুলিয়া। কালা (ক্রন্দন করিতে করিতে ) ও হােহে। ও হো হো ও হহ হহ ! দিব্য। আমার অনুরােধ-নির্বোধটাকে দেশান্তরী করা হােক। ওর প্রাণ বধে আমার রুচি নাই। রবি। ভাল -তাই হােক! রক্ষী! মাথায় কাঁটার মুকুট পরিয়ে গলায় নাগোেরার মালা দিয়ে গাধার পিঠে চড়িয়ে, কোড়া মার্তে মাৰ্ত্তে এই নরাধমটাকে একেবারে কাশ্মীর রাজ্যের বাহিরে, দিয়ে এস! h [ কালাশােককে লইয়া রক্ষীর প্রস্থান। রবি। শােন দিব্যকান্ত! তােমার স্বর্গীয় পিতামাতার সঙ্গে আমরা স্ত্রীপুরুষে যে প্রতিজ্ঞাপাশে আবদ্ধ হােয়েছিলেম-আজ সেই বন্ধন হতে মুক্ত হবার সময় উপস্থিত। ( সরসা ও সজনীগণ উপস্থিত) রবি। (সরসার হস্ত ধারণ করিয়া) বৎস! আমার এই একমাত্র কন্যারত্ন আজ তােমার হস্তে অৰ্পণ কোল্লেম! (দিব্য- কান্তের হস্তে প্রদান ) দেখে বৎস! দেখাে আমার এই বিশ্ব ধনকে সমাদরে রেখাে, কখনও অনাদর কোরাে না। লক্ষ্মী- স্বরূপিনী জননী আমার। আমি আজ উপযুক্ত পাত্রে তােমায় অর্পণ কোল্লেম। দেখাে বৎসে দেখে! পতিব্রতধৰ্ম্মের অঙ্গ- হানী না হয়। আজ হােতে এই পতিকেই তােমার সর্বস্ব যােলে জ্ঞান কেৰ্বে! ইনি তােমার দেবতা! একে দেবতার ন্যায় পূজা কোরাে। পতির ধর্ম রক্ষার সহকারিণী হােয়ে, ইহলােকে যশােধৰ্ম্ম সঞ্চয় কর। বীরপুত্র প্রসব কোরে পতিকে পুন্নাম নরক হােতে রক্ষা কর। আর ঐ দেখ বৎসে! ওই দেখ তােমায়

তৃতীয় অঙ্ক।
১২৭
***
f * মাতৃ ও শ্বশুর কুলের কুল পাবকগণ স্বৰ্গ হােতে সতৃষ্ট নয়নে
এই সুখের সম্মিলন সন্দৰ্শন কোচ্ছেন। তাদের মুখ রক্ষা
কোরোদের কুল রক্ষা কোরাে।
(দিব্যকান্ত ও সরসার প্রণাম)
আশির্বাদ করি—তোমাদের দাম্পত্যের পবিত্র পরিমলে পার্থিব
জনগণ পরিতৃপ্ত হােন।
[ প্রস্থান।
---
অর। হাতে হাতে তো হােলাে-এখন ?
আরতী। এখন যা হয়ে থাকে-তাই
অর। কি ?
আরতী। আহা! মিন্সে যেন ন্যাকা কিছু জানেন না!
বলে—জন্ম গেল ছেলে খেয়ে, আজ বলেন ডাইনি কি ?
দিব্য। ঝগড়ায় কাজ নেই। এখন সরসা ! তুমি বলতে।
কি হবে ?
সরসার গীত।
আমি বিয়ে দিয়েছি আমারে।
যা ছিল আমার, সব দিছি তােমারে।
মন দিছি, প্রাণ দিছি, দিছি এ হৃদয়,
এ নব যৌবন সহ এ দেহ নিলয়
আর মম কিছু নাই,
দিয়েছি তােমার ঠাই ;
আমি মগ্ন হােয়ে গেছি, তুমি পাথারে।
••

১২৪
লুলিয়া।
পট পরিবর্তন।
সজনীগণের গীত
( এদের) ভালবাসাবাসি টুকু বেশ।
দেখ মিললাে কেমন শেষ।
ইনি সুতাে টাছিলেন হেথায়,
উনি সুতে টানছিলেন সেথায় ;
(র) শক্ত সুতাের জোর টানি যায়নিকো বৃথায় ;
উনি টানের চোটে আপনি এসে মিশলেন অবশেষ।
(এখন, বিরহ ব্যাথার গান থামলো রইলাে সুধু রেশ।
যবনিকা পতন

No text on this page.

No text on this page.

Luliya

Author
Mitra ,atulkrishna
Title
Luliya
File name
Luliya
Text
OCR done
Citation
1907
Published
2010/03/26
Publisher
Gurudas Chattopadhya, Kolkata
Language
Sanskrit
Pages
139
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Drama
Keywords
Sarasa
DLI number
511187
Barcode
4990010018357.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
NDw8ZryYIzu
Download PDF

Luliya