Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Janma-arostri

Bhattacharya, Suranath · 2009/10/10

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

জন্ম-এযেখ্রী
( সামাজিক নাটক
ঠe
* If I keep
My virgin flower uncropt, pure, cbaste and fair,
No goblin, wood-god, fairy, elf, or fiend,
Satyr or other power that haunts the grove,
Shall hurt my body, or by vain illusion,
Draw me to wander after idle fires."
FLETCHER.
সুরনাথ ভট্টাচার্য্য
প্রণীত ।
হারাণচন্দ্র মুখােপাধ্যায় কন্টক
প্রকাশিত।
CALCUTTA:
Printed by Narayan Chunder Hazra
at the Universal Press,
No. 27, Bonomaly Chatterjee's Street, Taia.
1489.

No text on this page.

উঃ। সাহিত্য-প্রিয় স্বজনবৎসল শ্ৰীযুক্ত বাবু মহেন্দ্র নাথ পাল মহাশয় নিরাপচ্চিরজীবে । মহেন্দ্র বাবু ! “পরীক্ষিতের ব্রহ্মশপি” প্রণয়নকালে বলিয়াছিলাম, সময়ান্তরে দেখা করিব ; অতএব অদ্য আমার সেই সময়ান্তর, অদ্য শুভক্ষণে আমার যত্ন সঞ্চিত জন্ম-এয়াে- স্ত্রীকে আপনার সমীপে পাঠাইলাম। আশাকরি, আপনি স্নেহচক্ষে স্নেহময়ী জন্ম-এয়ােস্ত্রীকে দেখিবেন। জন্ম- এয়োস্ত্রী সরলা বালিকা—নির্দয় পতি পীড়নে নিতান্ত উৎপীড়িতা,অথচ স্বধর্ম নিরতা পতিব্রতা পবিত্র। { জন্ম-এয়ােস্ত্রী সৰ্ব্বথা অপনার নিকট আদর পাইবে—যত্ন পাইবে ইহা সুনিশ্চিত। বহু চেষ্টা করিয়া পতি- পরায়ণ, পবিত্ৰদৰ্শনা জন্ম-এয়ােস্ত্রীকে জীবিতা রাখিতে পারিলাম না। অতএব মহা অন্ ! এক্ষণে জন্ম-এয়ােস্ত্রীর পুন্যময় জীবাত্মা যাহাতে অক্ষয় স্বর্গ উপভােগ করে, আপনি তাহাই করিবেন। নিবেদন ইতি। গােবরডাঙ্গা, শুভার্থী – ১ কাশ্বিন ১২৯৩ রনথি {

No text on this page.

নাটকীয় পাত্রগণ পুরুষ। অরবিন্দ ঘোষ গােপালনগর নিবাসী জনৈক ব্যবসায়ী ভদ্রলোক। হরকালী যোষ ঐ ভ্রাতা। গে। ল ক বসু হরকালীর ইয়ার ও উপদেষ্টা। মহেশ মিত্র হর কালী বাবুর ইয়ার ও গোল- কের একজন স্নেহাস্পদ ব্যক্তি । বিলাস দত্ত হরকালীর শ র ৷ কেশব ঘোষাল জনৈক মাতা। উমাচরণ বসু গ্রাম্য ভদ্রলোক। হেড কনষ্টেবল, ও কনষ্টেবলগণ ইত্যাদি। ক ল প্রভ * * * নিতম্বিনী অরবিন্দ বাবুর স্ত্রী। হরকালী বাবুর স্ত্রী। গোলক বাবুর-ধি বা কন্যা। ঐ রক্ষিতা দাসী। জনৈক বেশ্যা! डामिनी

No text on this page.

জন্ম-এয়ােস্ত্র
পয়ন ঘর )
অরবিন্দ বাবু ও উমাচরণ উপবিষ্ট।
অর। আপনারও মত তাই ?
উমা।তা আর বলতে, যখন এতদূর হয়েছে, তখন ত্যাগ
করাই কর্তব্য।
অর। দাদা, আমি বড় বিপদেই পড়েছি। আবার এক এক
বার ভাবছি ত্যাগ করিই বা কি করে। এগুলে ও
সর্বনাশ, পেছলে ও তাই, এযে বিষম বিভ্রাট।
উমা। তা আর কি করবে বল ; ভিন্ন না হলে যখন
শুনবে না, তখন কাজে কাজেই ।
অর। দাদা, দুঃখে অন্তর দগ্ধ হয়ে যাচ্ছে। পিতার মৃত্যু
'লে ভাবলেম পিতার সেই সব অতুল কীর্তি
আমরাই বজায় রাখবে। তা, দাৰা, কিছুই হল
না, সবই বিফল হ’লমনের অংশ মনেই কান

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
হ’ল। এখন আর কি কৰ্ব্বো বলুন-স্থির করেছি
ছেলে দুটিকে লয়ে কাশী যাই। এরূপ উপদ্রব
আর সইতে পারি নে।
উমা। সত্য কথা—কিন্তু তােমার দোষ কি, কাশী যাবে
কেন? সংসার ত্যাগ কেন ? ওতে বুদ্ধিমানের কথা
নয়।
;
র। দাদা, ভিন্ন হতে বলছেন বটে, কিন্তু আমার মন
যে তা চায় না। বাবা যখন অন্তৰ্জলে,
তখন
আমার স্ত্রীকে ডেকে তার হাত ধরে কঁাদ কঁাদ
হয়ে বল্‌তে লাগিলেন, “বৌ মা, আমার হরকালী
সুতিকা গৃহেই মাতৃহীন হয়েছে ; তুমি তাকে মানুষ
করেছ, এতদিন পর্যন্ত কায়ক্লেশে লালন পালন
করেছ। দেখাে, আমার কালী যেন কোন কষ্ট না
পায়, যেন ওর কোন ক্ষোভ না থাকে”। আমি
বাবার সেই কথা শুনে বল্লেম ‘আপনার কোন
চিন্তা নাই, হরকালী আমার ডান হাত, হরকালী
এই পৃথিবীতে আমার একমাত্র স্নেহের পাত্র,
অামি যত দিন বেঁচে থাকবে, আপনার হরকালীর
জন্য কোন ভাবনা নেই”। হা, এখন কি করি
বলুন দেখি, এখন কি করে ভিন্ন করে দি। সেই
অন্তৰ্জ লস্থ পিতার নিকট যে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন,
কি করে তার এখন অন্যথা করি বলুন দেখি ?
সেদিন এ পর্যন্ত বলেন, ভাইরে ! পিতার কীত্তি,
পিতার নাম যাতে বজায় থাকে, যাতে আমাদের
!
}

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
T
চিরলক্ষ্মী স্থির থাকেন, তা, অবশ্য কর্তব্য।
তুমি বালক নও, লেখা পড়া জান, অবােধ নও।
ও সব পাগলামী মীচতা ত্যাগ করে আমাদের
একমাত্র উন্নতির সােপান সেই দোকানে ম নাে-
নিবেশ করে। গােলকের পরামর্শে যেও না,
গোলকের কথায় থেক না, ওর নাম পর্যন্ত কর
না। তা বল্লে, “ও সব জোচ্চ রী ফরম্ রেখে
দেও। ভাল চওিতো ভিন্ন করে দেও, নচেৎ হাতে
এই যে ব্যাক্তি দেখছে।-এতেই এসপার কি ও
পাৱ”। বাড়ীতে আর আর সব লােক ছিল, তারা
শুনে অবাক।
উমা। তুমি অতি সাধু ব্যক্তি, তুমি স্বর্গীয় কার কীর্তি
পতাকা। ভাল জিজ্ঞাসা করি, গােলককে জবাব
দিলে কেন ?
অর।
হা অদৃষ্ট, তাও কি শােনেন নি ? তারইতো সব
চক্র, সেই চক্রী মাতালইতো আমার সােণার সংসার
ছারখার করে দিলে, সেইতো আমার হরকে তৈয়ার
করে তুলে।
উমা। কি রকম, গােলক বাবু মদ খান! স্বর্গীয় কৰ্ত্তার
তাে খুব বিশ্বাসী ছিলেন।
অৱ । ওর আদ্যোপান্ত শুনুন। বাবা মৃত্যুকালে বলে
গেলেন, “অরবিন্দ, গােলককে জবাব দিও না,
দোকানে বরাবর রেখো”। আমি তার কথানুসারে
গােলককে দোকানের সর্বেসর্বা করে রেখেছিলেম ।
{

জন্ম-এয়ােস্ত্রী। ও মা, প্রায় এক বৎসর হ’ল একদিন শুলেম, গোলক বাবু মদ খান, কিন্তু বিশ্বাস হলো না। একদিন স্বচক্ষে দেখি, ভামিনী বলে একটা বেশ্যা আছে, তার বাড়ী থেকে গোলক বেরুলেন। মনটা বড় খারাপ হলো, কিন্তু কিছু বল্লে ম না। তার পর বাবু আরম্ভ কল্লেন কি-অপিসের চারে বাবুর মত বেলা দশটা বাজলে দোকানে একটু একটু অাসেন, এসেই আবার কিছুক্ষণ পরে ইলিশ কি বড় বড় কৈ মাছ, হাঁসের ডিম প্রভৃতি সংগ্রহ করে মান-মন্দিরে গিয়ে ঢোকেন। আবার সৰ্ব্বদাই চ’ক লাল দেখি । বড় ভয় হল, এত টাকা যার হাতে, তার এমন দূষিত চরিত্র! অার কিছু না বলে একদিন নিজে তহবিল মিল করে দোকানের কাগজ পত্র বুঝে .দেখি, এক বৎসরে প্রায় ৪ হাজার টাকা লােক্সান, নগদ তহবিল প্রায় তিন শত টাকা গরমিল। হরিবোল হরি ! আমারতো চক্ষুঃ স্থির। ওকে বল্লেম, “বো মশায়, এত লােকসান কেন, নগদ তহবিলই বা মেলেনা কেন ? বাবু তখন, চৌরঙ্গে অাছেন, “বল্লেন চোপ- রাও ষ্টুপিড! আমি কে তা জানিস্ ? তাের বাপ আমায় ম্যানেজার করে গিয়েছে, সে অামার মহিমা জানতো। তুই কি বুঝি, চলে যা দোকান থেকে”। আমি দেখলেম, তখন বলা বৃথা-বাতাসে অসি প্রহার, নিবিড় অরণ্যে অন্তর্ভেদী চীৎকার-

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
উমা।
কোন ফল নেই। পরে বাবুর চৈতন্য হলে সব
বল্লেম, আর দোকান থেকে জবাব দিলেম। বাবু
গম্ভীর মেজাজে গুটিকতক ভদ্রোচিত ভাষায় আমায়
গালি দিয়ে দোকান থেকে বেরুলেন। এখন এই
সব কাও তারই।
ও-এর মর্ম বুঝলেম। গােলকই হরকে খারাপ
করেছে ।
অর। সেত চ’কের উপর দেখছি। এখন সে কেবল
গােলকের। মতলবে ভিন্ন হওয়ার জন্য এত জিদ
কচ্চে। বৈরমপুরে মহেশও-সেই গো, যে বেটা
বেশ্যার অন্নে পালিত, সেও গােলকের এক ইয়ার।
গােল ক না কি ওদের গুরু হয়েছেন। হর প্রায়ই
বলে “গুরুর ইচ্ছা, গুরুর কৃপা, গুরুই ভরসা”।
তবে তােমাদের এ ঘটনার প্রধান নায়ক বা মূল
গোলক। ওরা নাকি বেশ্যালয়ে ক্রমান্বয়ে ৪। ৫
দিন করে পড়ে থাকে ?
অর। s। ৫ দিন কি-হয়তো এক পক্ষ সেই তীর্থ ভূমিতে
অনাহারে কেবল বোতল বারি পানে পড়ে থাকেন।
ওরা নাকি সেই বেশ্যাটার ভাতও খায়।
উমা। ছি ছি! ধন্য মদের মােহিনী শক্তি! বেশ্যার ভাত
পর্যন্তও চলছে! কায়স্থের ছেলে-
অর। ওদের সেই বিচার খুব। সে যাই হক দাদা,
একটি প্রধান ভাবনা এই, ভিন্ন হলে বৌ মার
অনন্ত দুর্গতি হবে। আহা মা আমার সংসারের
উমা।

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
লক্ষ্মী! মা আমার সতী কুলের আদর্শ স্বরূপ।
মার মুখে কথা নেই। এত গাল, এত তিরস্কার,
কোন দিন প্রহারও মার উপর হয়ে থাকে, তবু
বৌ মা আমার নিরুত্তরে স্বামী সেবায় সযত্না।
উমা। ছোট বোকে হর মারে ।
অর। বিনা দোষে। (সজল নয়নে) বিনা অপরাধে মা
আমার নিত্য প্রহার খান। ঐ শুনুন বাবু বুঝি
বাড়ী এলেন।
নেপথ্যে-“শরীর পতন কিম্বা বিজয় সাধন।
বিজয় সাধন কিম্বা শরীর পতন”।
উমা। ও কি বলে !
কাল থেকে ঐ বােল ধরেছে-
মাতাল অবস্থায় টলিতে হরকালী বাবুর প্রবেশ।
হর। কৈ দেও, আবি দেও, জলদি জলদি বিষয় দেও।
কদিনেই ছােড়েগা--বাবার বিষয় একা খাবে,
একা ভােগ দখল করবে ? হোবেনা, হােবেনা,
দেও, কুচ নেই ছােড়েগা।
উমা। হরকালী, এই বয়সে এত দূর ! ছি ছি--
কেও উম দাদা! (সরােদনে) দাদা, আমার উম
দাদা, দেখ আমায় ফাঁকি দেয় শালা—আমায় কিছু
দেয় না। আমার উম দাদা, রক্ষে কর বাবা !
উমা। আঃ-তুমি যে হদ্দ কলে! চুপ কর।
অর। এখুন একটু গাল দেওয়া বন্ধ কর। লােকে বলবে

জন্ম-এয়ােস্ত্রী। উমা। কি ? দাদাকে শালা! তােমার ভাবা উচিত আমি তােমার জ্যেষ্ঠ হর। (অতীব ক্রোধে) চোপরাও ড্যাম্, মাই ডগ! তােমারও ভাবা উচিত আমি তােমারআষাঢ়। উনি আমার জ্যৈষ্ঠ। অর। (উমাচরণের প্রতি) দেখলেন দাদা, উত্তর শুনলেন ? ওর কি আর মতি গতি আছে ? ওর কথা শুনবে। কি। (হর কালীর প্রতি) আচ্ছা, তুমি গােলমাল করােনা, কাল আমরা এসে সব বিষয় সমান ভাগ করে দেবো। যে আজ্ঞে । শ্রীচরণে দণ্ডবৎ, তবে বিদায়-কেষ্ট তবে মথুরায় যায়। (অরবিন্দের প্রতি) শুনলে হে পরামাণিক শালা, মনে থাকে যেন। নচেৎ এই- ( হস্তস্থিত লগুড় প্রদর্শন পূর্বক প্রস্থান)। উমা। অবাক। অর। শুনলেন সব ? উমা। আর শুনবো কি ? ব’স আজ যাই এখন। ( প্রস্থান) অর। (স্বগত) কি করি, কিছুইতাে ভেবে পাইনে। ভিন্ন মা কল্লেও নিস্তার দেখিনে। মানুষের প্রাণে আর কত সয়। আরে সহােদর প্রেম! তুমি অন্ত- হিত হও। হে স্বর্গলােক-নিবাসিন, পিতঃ ! আজ তােমার অরবিন্দ অধার্মিক হয়। বাবা, আজ তােমার স্নেহের হরকালীকে তোমার পাপিষ্ঠ পুত্র অরবিন্দ পরিত্যাগ করে, জন্মের মতন সহোদর २ জন্ম-এয়োস্ত্রী। প্রেম ভাসিয়ে দেয়। না পারবো না, হরকে, অামার প্রাণের সহােদরকে ত্যাগ কৰ্ব্বো না। (কিয়ৎক্ষণ নিস্তব্ধ ভাবে অবস্থিতি করতঃ ) কিন্তু বৃথা। গােলকের করাল কালকূট ওর সর্বশরীর অধিকার করেছে। বৃথা চেষ্টা, বৃথা প্রয়াস, বৃথা মায়া। সম্বন্ধ কি কিছুই না। সংসারে কাৰ্য্য নিয়েই সম্বন্ধ। কৰ্তব্যহীন মানুষ-মানুষই না। কৰ্তব্যই প্রাণের জিনিস, ভালবাসার সামগ্রী ! এত অপ- মান! যারে এত যত্নে মানুষ কল্লেম, যারে এক তিল না দেখলে থাকতে পারিনে, যার সুখে সুখী, দুঃখে দুঃখী, যাকে পুত্ৰাপেক্ষাও ভালবাসি, সেই সহােদর জ্যেষ্ঠ বলে তৃণ জ্ঞানও করেনা ! ওরে তবু তুই তার মায়া ছাড়তে পারিসনে ? পবিত্র ভালবাসা—যে ভালবাসায় সংসার চালিত হয়, যে ভালবাসায় জীব মর্ত্যে স্বর্গ সুখ উপ- ভােগ করে, সেই অমূল্য ভালবাসা কি এক জন অকৃতজ্ঞ মনুষ্যত্বহীন অপ্রকৃতিস্থ মাতালের উপর সংস্থাপন করা যায়? কখনই না। কমলপ্রভার প্রবেশ । নিলজ্জ প্রাণ, কম। ভাশুর কি বলেন ? অর! উম দাদাও বলেন ভিন্ন করে দেও। কম। না, তা আমি পারবাে না। আমার হরকে অামি পর কর্তে পারবোনা।

জন্ম-এয়ােস্ত্রী। গর। কমল প্রভা, তুমি তুমি আমাকে মজাবে দেখছি; ভিন্ন না হলেও কিছুতেই হলেও কিছুতেই শুনবেনা শেষে আমার প্রাণ পৰ্যন্ত যাবে। আজ আবার উম দাদার সানে কতকগুল শালা চোৎ করে গেল। বল দেখি, মানুষের প্রাণে কত সয় ? আর তুমিওততা বােঝাতে কম কচ্ছনা। ওকি কিছু শােনে? তােমাকেও পর্যাপ্ত অজি কাল মা’র ধরেছে। কি করে চ’কের উপর সব দেখি বল দেখি? কম। ( অরবিন্দের চরণ মূলে পতিত হইয়া) তােমার পায় পড়ি, তুমি ওর গালাগালিতে রাগ করো না। ঠাকুর আমায় বলেছেন, “মা, হর যেন কষ্ট না পায়, হয় তােমারই ছেলে”। (সরােদনে) বল দেখি এখন আমি কি করি ? আমার সােনার ছােট বৌ, আমার যে মা লক্ষ্মী-বন দেখি কোন্ প্রাণে নিষ্ঠুর হয়ে ওদের ত্যাগ করবে। আমি বলছি তুমি একবার গােলককে বল, না হয় একটু অপমান হবে। গোলক বল্লেইও ভিন্ন হবে না। মদ == অর। গোলককে বলবো ? ওহরি! তবেই হয়েছে। গােলকের মতলবই এই ( নেপথ্যে রোদন) অর। ওকি, বিজয় কঁদে কেন ? ( নেপথ্যে) বাবা, কাকা আমায় বােতলের বাড়ি মেরে গেল- উহুঃ, মাথাদে রক্ত পড়ছে- } ১০ জন্ম-এয়ােস্ত্রী। অর। কি! ওর গায় হাত! তবেরে পাজি, তােমার মৃত্যু নিকট— (বেগে প্রস্থান) কম। আঃ কি কর, কি কর- (বেগে প্রস্থান) দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক। বেশ্যাপল্লী ভামিনীর গৃহ। পৰ্যঙ্কোপরি ভামিনী সুষুপ্তা। পার্শ্বে তাল বৃন্ত হস্তে মহেশ উপবিষ্ট। নয়ন মহে। (স্বগত) বাস্তবিক, ভামিনী ঘুমুলে মুখ খানি যেন ওর আরও সুশ্রী হয়। চন্দ্রলা ! হেমাঙ্গিনি। কুসুমকামিনি! বিজনবাসিনি ! একবার উন্মীলন কর, একবার চাও, তােমার চির- গােলাম মহেশ সশরীরে স্বর্গে যাক্। ভামিনী আমায় এত মরে, এত গাল দেয়, এত দূর ছাই করে, তব, আমার এক দিনের জন্যও বিরক্তিবোধ

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
হয় না। অারে তা হবে কেন ? প্রেম! প্রেম !!
প্রেম !!! জগতে প্রেম কি অমূল্য বস্তু । আহা,
মরে যাই-প্রেমিক না হলে কি কেউ প্রেম বোঝে ?
আমাদের দেশে প্রেমিক আর কাউকে দেখতে
পাইনে। যা একট, অদক গোলক বাব; আর
হরকালী বাবুও হতে পারেন, কেননা গোলক বাবু,
ওকে শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছেন। আর কে ? কৈ-কেউ
না। যত বেটা বনমানুষ, নমুঙ্ক, যাঁড়ের না-
কোন কাজে লাগে না। আর আমি হচি প্রেমিক
চূড়ামণি। দেবতার মধ্যে হলেন শ্রীকৃষ্ণ প্রেমিক,
আর নরের মধ্যে হচ্ছেন মহেশ বাবু প্রেমিক।
এরই ত্রিলােকের গণ্যমান্য-পূজনীয়। আমি
হচ্চি নর, অার কৃষ্ণ হচ্ছেন নারায়ণ। বাবা, বেড়ে
হয়েছে দ্বাপরে নর-নারায়ণ কৃষ্ণ আর অর্জুন ছিল, আর
কলিযুগে নর-নারায়ণ মহেশ আর কৃষ্ণ। কি মজা!
কি মজা ! আচ্ছা নর-নারায়ণ হলে খাণ্ডববন তো
চাই। খাববন হবে যত গোড়া শালারা। বলেন,
ময়শা সব উডুলে-দিবা-রাত্রি বেশ্যার বাড়ী পড়ে
থাকে, তার ভাত খায়, মাছ খায়। অাহ; আর
শালারা কি পণ্ডিত ! আরে ষাঁড়ের নাদ শালারা,
এটা ভাবিনে, বে যদি বেশ্যাসক্ত হও। পাপ
হ'ত, তা হলে ভগবান যিনি শ্রীকৃষ্ণ, তিনি কখন
চন্দ্রাবলী ইত্যাদিতে আসক্ত হতেন না। তার
নামই হ’ল যার গােপীবল্লভ-রাধানাথ-মদনমোহন।

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
!
মাইরি, কৃষ্ণ মদনমােহনই বটে! কৃষ্ণের গাঁটি২
মদন, ব্ৰজে কি প্রেমই বঁধিয়েছিল।
“আবার কদম তলায় দাড়িয়ে কালা বাঁশরী বাজায়।
চূড়ার উপর ময়ূর পাখা গোপীর মন ভুলায়”।
হা হা হা, প্রেম যদি মন্দ হত, তা হলে ভগবান
আর এ কাজ কত্তেন না। আমি কি অপূৰ্ব্ব
প্রেমিক! বিষয়, আশয়, লজ্জা, মান সবই এই
ভামিনীর অমূল্য প্রেমে ত্যাগ করিছি। এমন কি
জাতি পৰ্য্যন্তও বিসর্জন দিইছি। কৃষ্ণের চাইতে আমি
আরও প্রেমিক। কৃষ্ণ সহস্ৰ জনের প্রেমে বদ্ধ, আর
আমি হচ্চি এক জনের প্রেমে আবদ্ধ ! আমি কি
স্থির প্রতিজ্ঞ! কি জিতেন্দ্রিয় ! কি বিক্রম-কেশরি ।
যেন সাক্ষাৎ ধৰ্ম্মপুত্র যুধিষ্ঠির! যেন মূর্তিমান্
শান্তনু! দূর ছাই, শান্তনু কেন, ভীষ্ম। শান্তনু
যে ৯৪টা বিয়ে করেছিল। হা হা হা, সত্যবতীর
জন্য অত বড় একটা দূরেল, রাজা কি কেলে-
ক্ষারিটেই কল্পেগাে! আরে মেয়ে মানূষের জন্য
সবাই পাগল। সব্বাই! সব্বাই! যা’হক ভগবান
আমার উপর ভারি " সদয়। চিরকালটা আমােদে
রাখলেন। আগে পয়সার জোরে আমােদে ছিলেম,
এখন পয়সা যদিও নেই, কিন্তু আমোদে আছি।
ভামিনী আগে একটু আদটুক গাল দিত, এখন
আর সেটি পৰ্যন্ত ও পাৰ্বে না। তারে যে দুল
-
*-

জন্ম-এয়ােস্ত্রী। ১৩ বাবু জুটিয়ে দিছি। এই রকম করে যে ক'দিন যায়। কাল কিন্তু ভামিনী: আমার উপর ভারি চটেছে। তা কি কৰ্ব্বো। আমার নাষ্টা কিন্তু বদলাতে হচ্চে। মহেশ নাম উঠিয়ে দিয়ে ভামিনী- কুমার--দূর দূর কি বল্লেম, ভামিনী-কুমার কেন, ভামিনী-নাথ কি ভামিনীমোহন রাখতে হবে । কৃষ্ণ গোপীমােহন আর মহেশ ভামিনীমােহন- বেড়ে হয়েছে। ( কীৰ্ত্তণ সুরে গীত ) “মানময়ি ত্যজ মান আমি তব কিঙ্কর চিরদিন” ভামি। ( নিদ্রোখিত হইয়া বিরক্তি সহকারে ), চুপ কর, অরে মলাে! পােড়র বঁাদরের জ্বালায় একটু ঘুমােবারও যো নেই। বল্লেম পা টিপতে, ও গান ধরে বসলো। আবার কেত্তন সুর! অ বুড় শালি- কের ঘাড়ে রে।! পা টেপ। ( মহেশ কর্তৃক ভামিনীর পদসেবা ও ভামিনী কর্তৃক বেশ বেশ, আহা জুড়াল, এই দিকে ইত্যাদি শব্দ প্রয়ােগ” ) মহে। {পা টিপিতে২ ) ভাসিনি, তোর পা টিপে অাজ আমার ভারি ফুতি হচ্ছে"। প্রিয়ে, শ্যামসোহাগিনি, একটা গান ধরন।

১৪ জন্ম-এয়ােস্ত্রী। ভামি। কি বল্লি কলের সেপাই ! তোমার বড় ফুরতি। রও, এই ফুৰ্ত্তি বার করে দি। (প্রহার ) মহে। কেন বাবা এত রাগ কেন ? ভামি। ফের তুই কথা কচি বেহায়া ! তােরই জন্যেত কাল আমার এত অপমাম হ’লতােরই জন্যেত সেই লক্ষ্মীছাড়া অরবিন্দ আমায় এত অপমান কল্লে । তুই দূর হ’, আমার বাড়ী আর একতিল থাকতে পাৰ্বিনে। বেহায়া-বেইমা-খানকীর ছেলে। মহে। আহ, কি গা’লই দিলেন গাে ! আমি খানকীর ছেলে, আর আপনি কি ? আপনি বুঝি খানকী ন? আপনি বুঝি সাক্ষাৎ জগদ্ধাত্রী চতুভুজা? বাবা, কথার বাদন চাই, অমনি গাল দিলে হয়না। ভামি। আমি খাকী তা কি ? মহে। না, কিছু না-আপনি প্রেমময়ী। ভারি। মর—আবার ইয়ারকি কৰ্তে লাগলো। সময় নেই- অসময় নেই-সকল সময়ই ইয়ারকি ? দূরহ, দৃষ্টির বাইরে যা। ( প্রহার ) মহে। মাই ডিয়ার, অত মেরােনা বাবা! হাড় ভেঙ্গে যাবে। ভামি। হাড় কোথায় তাের পেঙিমাল ! তিন খান অস্থি সার। মহে। অ। অামার গায় হাড় নেই! ওমা! কে বল মাংস নাকি ? হা হা, আমার কি কোমল গা, যেন মৃণাল—ভামিনি, তুই মৃণালিনী। ভামি। আমি মৃণালিনী ? লক্ষ্মীছাড়া আপদ! অামাদের ।

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
দেবতা বলা ?. আমার . অকলেন করা? দূরহ
দূর-দূরহ পুনঃ পুনঃ প্রহার )
মহে। (অতিশয় চীৎকার করিয়া) ওরে কেউ ধররে, ওরে-
মৃণাল ডুবে গেলরে-
বেগে কেশব ঘােষালের প্রবেশ ।
কেশ। কি ভামিনি, সকাল বেলাই যে রাম-রাবণের যুদ্ধ,
ব্যাপার কি ?
মহে। ( ভঙ্গি বিশেষে দাড়াইয়া) দ’ই ধৰ্ম্ম অবতার। কিছু
বলিনি—কিছু করিনি, কেবল মৃণালিনী বলিছি।
কেশ। আরে চুপকর। কালকের রাগটা বুঝি তুলে ভামিনি!
লি, কালকের গতিটা কি ?
ভামি। গতিক আবার কি ? যা আমার কখন হয় নি,
তা’ এই কালামুখোর হাতে হয়েছে। ( মহেশকে
নির্দেশ। )
মহে। আমার দোষ কি? অপমান কল্পে অরবিন, দোষ
হল আমার ? অবিচার কেন বাবা!
তাের দোষ না ? তুইতো আগে গান ধল্লি।
(কেশবের প্রতি ) শােন ভাই, রাত যখন একটা, তখন
তো হরকালী আমায় ওদের বাড়ীতে নিয়েগেল ।
তারপর হরকালী যে ঘরে শোয়, সকলে সেই ঘরে
বসে টিপী টিপী মদ খাওয়া গেল। তখনও সব
চুপচাপ, কোন গোলযােগ নেই। তার পর এই
বাদর গান ধরে বসলো। সেই ষাড়ের ডাক শুনে
ভামি।

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
আর লক্ষ্মী-
অরবিন্দ তাড়াতাড়ি দোতলা থেকে নেমে এসেই
আমাদের ঘরে ঢুকলাে। যেই ঢোকা, আর অনি
এই বদর উঠোনে টোপকে পড়ে পালাল। হরকালী
রুকে দাদার সঙ্গে লড়াই কর্তে গেল।
ছাড়া বেগতিক দেখে পাজি পাজি কওেঁ কৰ্ত্ত
উপরে উঠলো। তার পর আমরা বাড়ী এলেম।
এসে দেখি, পােড়র-বাঁদর আগে ঘর দখল করে
বসে আছেন।
কেশ। ওঃ-তবেতাে কাল ভারি কেলেঙ্কারি হয়েছে।
হরকালী বাবু ও গোলক বাবুর প্রবেশ।
হর। ( ভামিনীর প্রতি ) প্রিয়তমে, মাপ কর বাবা ।
দাদা, শালাকে এর উচিত সাজা দেব, তবে
ছাড়বে। শালাকে খুন কৰ্ব্বো। কাল শালা ভারি
বাগড়া দিয়েছে।
গােল। কুচ, পােয়া নেই, হাঁদোলকে সিদে করে দেওয়া
যাবে।
আমি। আরে যাও যাও, বিদ্যে-বুদ্ধি কাল সব দেখিছি।
অরবিন্দের কাছে জড়সড় -সেখানে তো কোন মুখ
ফুটলো না!
গোল। ডিয়ার, তুমি আমার স্বভাব জাননা, আমি অতি
তেজস্বী পুরুষ।
ভামি। ওগো, চুপ দে ও, যে থপথপ আছ, সেই ভাল।
',

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
১৭
বলে- “বড় হাতী গেল তল,
গাধা বলে কত জল”।
হরকালীবাবু এমন তেজাল, তাই পাল্লেন, উনিতে।
কোথায়, লাগেন।
নহে। তাইতো। “চোরে চোরে মারামারি।
সিংহী উঠলাে খেজুর গাছে”।
ভামি। আরে তুই চুপ কর। ওটাকে দেখলে আমার
আপাদ ব্ৰহ্মাণ্ড জ্বলে। কি বাঁদরই তুমি হইছিলে ।
বলে,
“রূপ নাহি দিলি বিধি, গুণ দিলি,
কি সাধেতে তবে মােরে মানুষ গড়িলি।
মহে। বাঃ ময়না, ছােলা খাও। ভামিনী কিন্তু বেশ ।
হর। মহেশ!
মহে। বলুন, হাজির আছি।
হর। দুটো নিয়ে এস (গোলকের প্রতি ) কেমন দুটোতে
হবে ?
গােল। যথেষ্ট।
হর। এই টাকা নেও।
(মহেশকে মুদ্রা প্রদান ও মহেশের প্রস্থান।)
হর। বোস মশাই! হে গুরুদেব, তুমি আমার ভরসা,
তুমি আমার বল। (সরােদনে) গুরুদেব, দাদা

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
শালা ভারি লেগেছে, আমার শক্তিকে নিয়ে
যাবার জন্য আমার শ্বশুরকে পত্র লিখেছে। কি
হবে বাবা ।
গোল। ওকি, ঈদ কেন ? আর আমাকে বাবা বলনা।
আমি যে তােমার দাদা হই সােনারাদ।
হর। আঃ—আপনি পুনঃ পুনঃ ঐ কথা বলেন কেন ? লাল
চ’কে আবার সম্বন্ধ কি—আমরা যে লাল প্যায়দা।
কেশ। হরকালী বাবু, ভিন্ন ভাগ সব হয়ে গেল?
সব ক্লিয়ার।
কেশ। কার ভাগে কি পড়লাে?
হর। আমি সব নগদ বুঝে নিলেন। দোকান আর
যা কিছু, সব দা দা শালার।
কেশ। নগদ কত টাকা পেলেন ?
হর। ৫০ হাজার !
৫০ হাজার ! আঃ-খুব চলবে।
চলবে বৈকি। চক্ বুজলেই অন্ধকার।
গোল। সে মন্ত্রণাটা আবার কার—-বলে যেও।
হর। তুমি আমার বৃহষ্পতি বাবা।
গােল। ভামিনি! প্রাণ,
ভামি। হরকালী বাবু, আমার একটী কথা শুনুন। আপনি
যদি আলাদা বাড়ী কেনেন তবে ভাল, নইলে
তােমার দাদার বাটীতে আর যাবনা।
হর। আলাদা বাড়ী কিবো বৈকি। বােস্ মশাই, একটা
বাড়ীর সন্ধান করুন। আলাদা বাড়ী না কলেও
নীরব কেন ?

জন্ম-এয়ােস্ত্রী। বৌ বিটিকে মদ খাওয়া যাবেনা। ঐ যে বুড়। বিটী বড় বৌ, ও বিটা থকৃতে বৌটাকে মতে আনতে পারা কঠিন হবে। বৌকে মদ না খাওয়ালে শক্তি উপাসনাই হবে না। গোল। [ স্বগত ] আমিও তাই চাই—জ্ঞানদাকে হাত করাই চাই। তবে টাকার প্রতি নজর রাখতে হবে। তা সঙ্গে সঙ্গে একটা বাড়ী কেনা যাক, নইলে অরবিন্দের স্ত্রী নিকটে থাকতে জ্ঞানদা মদ খাবে না; মদ না খেলেও আমার বাসনা সিদ্ধ হবে না। ভামিনীকে আমার উপর ভারি চটাং বােধ হয়। হ’য় হ’-আর ক দিনই বা রামলীলে। হর। গোলক বাবু, কথা কন না যে ? গেল। বাড়ী অবশ্যই হবে—না হলেও মঙ্গল নাই ; আমরা মাতাল নই, প্রকৃত শাক্ত---অর্থাৎ শক্তি- উপাসক। হর। ঠিক কথা। ভামিনি, বিনােদিনি, কমলিনি, রাই- কিশােরি। একটা গান গাও বাবা! ভামি। গান? কালকের অপমানের কিছু জরিমানা করবো, তবে গাইব। হর। জরিমানা ? এই লও ! (২৫ টা মুদ্রা প্রদান ) গোল। (স্বগত) আঃ কি কল্লে ? অত টাকা একেবারে। প্রকাশ্যে) এক মাসের শােধ বল। ভামি। ভুমি ভাঙ্গা গাঁয়ের মােড়ল, হও কেন? তােমার । কি ?

২০
জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
হর। গনি ধর।
ভামি।
[ গীত]
কালেংড়া-কাওয়ালী ।
মনােলােভা নারীজাতি পুরুষ-রঞ্জন।
প্রমাণ ইহার কত আছে অগণন ।
বিচারিয়ে মনে মনে, নারীর শ্রেষ্ঠ ধনে।
নির্জনেতে একমনে বিধি করেছে গঠন।
রূপে গুণে নিরুপমা, নারীর নাহি উপমা,
ধরণীতে নারী সমা, নহে কেহ অন্য জন ।
মদ্য লইয়া মহেশের প্রবেশ।
মহে। বাবা, আমি একটু নাচি। (বােতল রাখিয়া নৃত্য
ভামি। আ-বাঁদর, একটু লজ্জাও করেনা ?
গােল। নাও, সকলে ভামিনীকে মাঝখানে নিয়ে চক্রাকারে
বসো দেখি।
হর। হঁ্যা হঁ্যা, আর দেরি কাজ নেই। মদ আনতে এত
বিলম্ব হ’ল কেন ?
মহে। শুড়ীবাবু দোকানে ছিলেন না।
( ভামিনীকে মধ্যস্থলে রাখিয়া সকলের
চক্রাকারে উপবেশন।)

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
গোল। (মদ ঢালিয়া মনে মন্ত্র পাঠ কণানন্তর) ওঁ শক্তি-
রূ পায় নমঃ।
( ভামিনী ব্যতীত সকলে, ও শক্তিরূপায় নমঃ)
গোল। ভামিনি, প্রসাদ কর।
(ভামিনীর মদ্যপান ও তৎপরে সকলের
মদ্যপান ইত্যাদি)
ভামি। ময়শা, আজ গোলােক বাবুর বাড়ী থেগে যা। আমি
আজ রবিবা না। হরকালী বাবু বসো।
গােল। (স্বগত) হু! পয়সা যার, মান তার। পিরীতটে
ভারি এঁটেছে দেখছি।
হর। না, আমিও যাব ।
গােল। না, তুমি থাক। ভামিনী বলেছে-তুমি থাক ।
হর। বাড়ীর সন্ধান আজই কৰ্তে হবে।
গোল। তা আর বলতে ? চল্লেম।
গােলােক ও মহেশের প্রস্থান।
ক
ভামি। চল মাইডিয়াম, স্নান করিগে।
উভয়ের প্রস্থান।

তৃতীয়
গর্ভাঙ্ক।
r
(অরবিন্দ বাবুর বাড়ীর সম্মুখস্থ পথ )
অর্ধরাত্রে গগনমধ্যে পূর্ণচন্দ্র সমুজ্জ্বল।
অরবিন্দ বাবু, বিলাস বাবুও চেয়ার লইয়া একজন
ভৃত্যের প্রবেশ।
অর। (ভৃত্যের প্রতি) চেয়ার দুইখান এই খানে রাখ।
চলুন না কেন বাড়ীর ভিতর যাওয়া যাক, ভারি
হিম্ পড়ছে।
বিল।। হিম্ ? হা অরবিন্দ বাবু, হিমে আমার কি করবে,
শরীর হু হু করে জ্বলছে, অন্তঃকরণে তুষানল জ্বেলে
দিয়েছে। সামান্য হিমে কি আর অসুখ হবে-
হিম্ বরং আরও ভাল লাগছে।
অর। না তা বলছিনে। বলি এত রাত্রে পথের মাঝে
কথােপকথন-তাই বলছি।
বিলা। পথে তা দোষ কি? আমরা তো মাতাল নই,
আমরা তো ৰাজবিদ্রোহী দ্য নই। যারা মাতাল,
যারা দম্য, যারা ঘাের লম্পট-তাদেরই জন্য
গবর্নমেন্ট স্বদলে রাজপথে মন্ত্রণা কৰ্তে নিষেধ
করেছেন। এখন আদ্যোপান্ত বল।
অর। বলবে। আর কি-পত্রে সমুদায়ই জ্ঞাত হয়েছেন।

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
বৌমাকে শীঘ্র নিয়ে যান। মা আমার লক্ষ্মী।
মার কপালে যে এ দুর্গতি কেন হ’ল বলতে
পারিনে।
বিলা। বাড়ী আলাদা কিনেছে কতদিন হলো ?
অর। প্রায় মাসাবধি হবে। বাড়ী আলাদা হয়েছে
বলেই তো আরও ভয়—মইলে এক বাড়ীতে
তত যন্ত্রণা ভােগ কৰ্তে হত না ;
আমরা চ’কে চ’কে রাখতেম।
এখন আর কি
করি বলুন। আমার স্ত্রী প্রত্যহ এক একবার
বউ মাকে ওর বাড়ীতে দেখতে যেত বলে সেদিন তারে
পর্যন্ত মেরেছে। সহােদর বলে, অন্তরের এখনও
টান আছে বলে কিছু বলিনে ; নইলে এত
উ পদ্রব অত্যাচায় ‘আ’জকে সহ্য করে বলুন
থাকতে বোমার
দেখি ?
বিলা। গােলকই বুঝি মুল? তাই হবে। গোলকের
সঙ্গে ওর বাল্যকাল হতে ভালবাসা। এত লেখা
পড়া শিখেছিল, সব মাটী কল্লে। সে যাই হক
অরবিন্দ বাবু, এখন আর অন্য কথার সময়
নাই এখন কি উপায়ে মাকে এখান থেকে
নে যাই বল। আমিতো ওর মুখ দেখবে না,
ওর সঙ্গে আলাপও করবো না। গোলকের যেরূপ
চক্র দেখছি—তাতে নিজে গিয়ে যদি ওকে অনু-
রােধ করি, তা হলে যে. কথা রাখবে, এমনতো
বুঝিনে। বরং অপমান হওয়াই সম্ভব।

২৪ জন্ম-এয়ােস্ত্রী । অর। তা ঠিক, বলা কওয়ার কাজ নয় ; কৌশলে কাৰ্যে- দ্ধার কৰ্ত্তে হবে। আপনার আমার বাড়ী অন্ন ৪। ৫ দিন থাকতে হবে। বিলা। তােমাদের গােপালনগরে না অনেক ভদ্রলোকের বসতি ? কেউ কিছু বলেনা ? অর। কারও কথা কি ওরা শশানে ? একটা ইতর লোক পৰ্যন্তও ওদের সঙ্গে আলাপ করে না। নিতম্বিনীর হস্ত ধরিয়া রােদন করিতে করিতে যশীর প্রবেশ। যশী। বড় কাকা এখানে ? ও কাকা, কি কাণ্ড করেছে দেথ-মাতালদের আচরণ দেখ। আমার নিত- স্বিনীকে 'একেবারে মেরে ফেলেছে। আহা ! বাছার পিট ফুলে উঠেছে। ওগাে, কি হবে গো, ওগো দেশে কি আর মানুষ নেই ? একি রাজির অবিচের গাে! অর। কি হয়েছে ? যশী। ডাগরার। পঙ্গপাল সঙ্গে করে বাড়ী এসেই আমারে অর নিতেকে এলােবিলি মারতে লাগলো। ওগাে ! আমারে মেরেছে মারুক, আমার বাছার অঙ্গ যে ফুলে উঠেছে। কাকা; কাকা; ((রাদন করতঃ ) আজ যদি নিতের স্বামী থাকতো, তবে বল দেখি, কেন ওর মার খাবে ? বিধেতা একেবারে সর্বনাশ কুলে। ।

জন্ম-এয়ােস্ত্রী। '২৫ অর। (বিলাস বাবুর প্রতি). দেখলেন সব আচরণ ? যশী তুই আর ও বাড়ী যাসনে, নিতম্বিনীকে আম- দের বাড়ী নিয়ে যা। আমার সম্পর্কে ভাইঝী তো। বিলা। গােলক। একেবারে অধঃপাতে গেল, বিধবা কন্যার গায়ে হাত ! হা কৃত স্ন! যশী। কে ও, ঠাকুরদা মশায় ? কখন এলে দাদা? দাদা, জ্ঞানদাকে শীগগির নিয়ে যাও। ওরা সব মরেছে, ওরা সব উচ্ছন্নে গেছে, ওরা আর ভাল হবে না। দাদা, আহা, জ্ঞানদার, কষ্ট আর দেখা যায় না। অর। চলুন বাড়ী যাই। উম দাদাকে কাল ডেকে বো মাকে আনার জন্য যা ভাল হয় একটা পরামর্শ করা যাবে। বিলা। চল। জ্ঞানকে এখান থেকে না নিয়ে যেতে পাল্পে কিছু ভাল লাগছে না—মন ভারি অস্থির হয়েছে। সকলের প্রস্থান। অপর দিক দিয়া গেলােক, হরকালী, মহেশ | ও ভামিনীর প্রবেশ। হর। বােস মশায়, যশীকে আর নিতেকে তাড়িয়ে দিয়ে ভেরি ওয়েল কাজ করেছ বাবা-ভেরিগুড হয়েছে। গোল। বাড়ী খোলসা কল্লেম। বিশেষ ঐ যশীকে তাড়ি য়েছি বলে মনে বেজায় আনন্দ হয়েছে। ও বিটী ভারি বদমায়েশ।

২৬
জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
হর। বিটী অতিশয় নিমক হারাম। আমরা বৈঠকখানায়
বসে যা একটা অধট। পরামশ করি, বিটী
টিপি টিপি দুয়াের ধারে দাঁড়িয়ে সব শােনে ;
বিটি বড় • হারামজাদি। যাক ও সব। বোস
মশায়, আসুন, একবার রজনীর স্তব করি। আহা,
কি মনােহর যামিনী ! একে ফুটন্ত দের ফুটন্ত
জ্যোতি, তাতে আবার ঝাউ বৃক্ষ বিশােভিনী।
গোল। বাস্তবিক, রাস্তার ধারে বৃক্ষ বড়ই বিরামদায়িনী,
বড়ই মনােমােহিনী।
মহে। ঠিক যেন শঙ্খিনী
গোল। এস, এখন একটু রজনীর স্তব করি ।
হর। আলবেৎ। পদ্যে না গদ্যে ?
গোল। যিনি যা’তে পার।
গোল। আমি গদ্য, ধল্লেম,
হে, রাত্রি, হে গায়ত্রি,
হে জ্ঞানদাত্রি, হে ত্রিভুবনকত্রি, তুমি আমার
প্রতি প্রসন্না হও মা।
মহে। হে নিশি, হে পিসি, হে মাসি, তুমি আমার
প্রতি প্রসন্না হও. মা।
গুরুদেব, রাত্রিকে পিসী, মাসী বলা যায় ?
গােল। রাত্রিদেবী হচ্ছেন মাতৃবৎ, সুতরাং পিসী, মাসী
বলা যায়। এইবার আমি শুরু করি।
জয় জয় রজনী মা মাতাল মনােমমাহিনী,
ঘােরৰূপা অমানিশা মহা ভয়দায়িনী।

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
২৭
খড়গ করে সচীৎকারে শত্রুদল ঘাতিনী,
শ্মশানে স্বামীর সনে ধেই ধেই নাচিনী ।
-
হর। ও বোস মশায়, যে শক্তির স্তব ।
গােল। হে ভ্রান্ত বালক, হে জ্ঞানান্ধ মূঢ় সন্তান ! শক্তি
ও রাত্রি একই পদার্থ।
হে গুরুদেব, হে পরম কারুণিক, ওটা আমি
বুঝিতে পারি নাই।
গোল। হ্যা ঠিক হয়েছে। যখন আমি যে ভাবে কথা
কইব, ঠিক তার অনুরূপ উত্তর দেবে। ধন্য শিক্ষা।
হর। ভামিনি, নীরব কেন ? গান
এস আজ
তােমায় নিয়ে পথবিহার করা যাক। জলবিহার,
স্থলবিহার, নৌকাবিহার, সকল বিহারই হয়েছে-
আজ পথবিহারটাও হয়ে যাক।
গােল। বাবা, কি মৎলবই বার করেছ-পথবিহার।
ভামিনি, শুনলেত, এখন একটা গান ধর।
ভামি। পথের মাঝে আমি গাইতে পারব না।
হর। কোন দোষ নেই বাবা, প্রাণ ঠাণ্ডা কর ।
মহে। বরফবং করে দেও।
ভামি। থাম্ না। আচ্ছা একটা গাই।
গােল। মাঝখানে দাড়াও, আমরা চারি পাশে গােল।
কার হই।
হর। মােটে তিন জন, তার গোলাকার কি ?
গােল। তবে ত্রিকোণাকার হই।

২০
জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
হর। না, আমরা তিন জনে কৃষ্ণ রূপে শ্রেণীবদ্ধ হয়ে
দাড়াই, ভামিনী সাম্নে পঁড়িয়ে গান করুক।
গােল। সেই ভাল, কৃষ্ণলীলাটা হয়ে যাক। কিন্তু তিন
কৃষ্ণ কি করে হয়?
হর। ঠিক কথা। কি হবে গুরুদেব ?
গেল। রও, একটু ধ্যানমগ্ন হই।(চিন্তা করিয়া) আমি
হচ্চি জ্যেষ্ঠ, অতএব আমিই হই কৃষ্ণ। তোমরা
দুই জনে স্ত্রীবেশ ধারণ করে চন্দ্রাবলী ও রাধিকা
হয়ে আমার দুই পাশে দাড়াও, ভামিনী বৃনে
দূতী হয়ে সম্মুখে গান করুক।
হর। ঠিক ঠিক। গুরুদেব না হলে মতলব, বেরােয় না।
(হরকালী ও মহেশের স্ত্রীবেশ ধারণ
এবং ভামিনীর গীত ।)
পরজমি—আড় খেমটা।
ভাল সাজে সাজিয়াছে যুবক যুবতীগণ।
দেখিলে এমন শােভা প্রেমেতে উথলে মন।
বৃন্দাবনে প্রেমময়, লয়ে নর নারীচয়,
কত রূপে করে বিহার হরিয়ে গোপিনীমন।
কখন যমুনাতীরে, স্বকরে বাঁশরী ধরে,
কভু বা কদম্ব তলে ভুলায় নাগরীগণ।
কখন নিকুঞ্জ বনে, মানময়ী রাই সনে,
কভু নন্দগােপনে করে মাঠে গােচারণ।

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
গােল। (স্বগত) আঃ প্রাণ জুড়াল। কিন্তু জ্ঞানদাকে
নিয়ে যদি এই রকম কর্তে পারি, তবে বাসনা সফল
নিশ্চয়ই হবে। চার ছড়িয়ে ছিপ,
ফেলেছি, এক মনে ছিপ্ ধরে বসে আছি। মাছও
এসেছে, চায়ের গােড়ায় ফিরে ফিরে বেড়াচ্ছে, টোপ
কি ধ'ৰ্ব্বে না? তাও কি হয় ?
বাৰা, ভামিনী বেঁচে থাক। তােমাকে আশীর্বাদ
করি, তুমি কোকিলকণ্ঠী হও।
ভামি। (স্বগত) কেবল মুখেই বাবা, যাই হক, এরূপ
রুক্ষু ইয়ারকি দিলে কোন ফলই নেই। হরকালীর
যেরূপ সাদা মন, তাতে আমি বেশ গুছিয়ে নিতে
পাত্তেম। কিন্তু কেবল গােলকের কৌশলে তাতে বঞ্চিত
হচ্চি। গোলােকের মুখে মধু, কিন্তু অন্তরে বিষ।
হরকালীর সঙ্গে গােলকের বিচ্ছেদ না হলে, কোন
রকমে সুবিধে দেখিনে। কিন্তু ওদের যেরূপ মনে
মনে প্রাণে প্রাণে মিল, তাতে বিচ্ছেদ করাওতো
সহজ কাজ নয়। হরবাবু ভাবে গোলকই আমার
সব ; কিন্তু আমি গােলকূকে বেশ চিনেছি-ওকে
তাড়াতে পাল্লেই আমার বাসনা সিদ্ধি। এত বড়
খোলা বাবু পেয়ে, যদি হাজার টাকাও না নিতে
পা’রবাে-তবে বেশ্যা নাম লেখানই বৃথা। ময়শাও
আমার দুই চক্ষের শূল হয়েছে। ওর সঙ্গে এখন
আমার সম্বন্ধ কি-ওর যা ছিল সব নিয়েছি, তবে
কেন ও আর ইয়ারকি দেয় ? আমাদের সম্বন্ধ পয়সার

জন্ম-এয়ােস্ত্রী। সঙ্গে, রূপের সঙ্গেও নয়, গুণের সঙ্গেও নয়। যতক্ষণ পয়সা, ততক্ষণ বেশ্যার ভালবাসা। ময়শা গােল- কের বড় প্রিয়পাত্র, ময়শাকে তাড়ালেই গেলােক আপনা হতেই যাবে। ও যে রকম মাতাল, তাতে ময়শা নইলে ওর এক দণ্ড চলবে না। এই যুক্তিই ঠিক, ময়শাকে তাড়াব, কাজেই গেলােকও যাবে। গোলােকে ছাড়িয়ে হরবাবুর পয়সা কি নিতে পারবাে না। আমাদের এই ত্রিভুবন জয়ী মন্ত্র কি বিফল হবে! কখনই না। { হর। কি ভাবছ ভামিনি ? গোল। (স্বগত) ভাববে আর কি ? আমিও যা চাই, ভামিনীও তাই চায়—তবে আমি আরও বেশী চাই। ভামিনি, এইবার পরাস্ত হলে, গােললাকের নিকট তোমার কোন মন্ত্রই খাটবে না—যতই ভাব, কেবল পরিশ্রমমাত্র, কাজে- কিছু না। হর। ও ভামিনি, কথা কওনা যে। ভামি। না—কিছু ভাবছিনে, চুল বাড়ী যাই। বড় মাথা ঘুরূছে। ও কিছু না। সন্ধ্যে থেকে অনবরত মদ খাওয়া হয়েছে, তাই ওরূপ হয়েছে। চল সব যাওয়া যাক। সকলের প্রস্থান।

দ্বিতীয়।
প্রথম গর্ভা।
( হরকালী বাবুর গৃহ)
করতলে কপােল বিন্যস্ত পূর্বক জ্ঞানদা উপবিষ্টা।
(গীত)
পাহাড়ী-আড়ঠেকা।
অন্ধকারে এ নরকে, বুঝি প্রাণ যায়রে।
দুৰ্বল রমনীপ্রাণে আর কত সয়রে।
সতত দারুণ যন্ত্রণা, সহিতে আর পারিনা,
অকারণ অন্যায় তাড়না, করি কি উপায়রে।
অন্তরেতে হাহাকার, চারিদিকে অন্ধকার,
কে আছে আমার অরি, উকি দিয়ে চায়রে।
দিদি, তুমি—তুমিও আমায় ত্যাগ করে ? তবে
আর কেন, তবে ওরে পাড়াপ্রাণ ! তুই আর কার
আশায় রয়েছিস্? আমার আর কেউ নাই। মা, আজ
তুমি কোথায় ? ওমা, তুমি যে আমায় চকের আড়
কত্তে না। ওমা! আঁজ দেখে যাও; সেই তােমার অতি
আদরের জ্ঞানদার কি দশা হয়েছে। মা, তুমি স্বর্গে
*
৪

হয়। আহা, দিদি আমার স্বয়ং লক্ষ্মী, ভাশুর আম। "দেখে শীতল ? ৩২ জন্ম-এয়ােস্ত্রী। গিয়েছ, আমি যে নরকে পড়ে অহােরহঃ ছটফট কচ্ছি। স্বামিসহবাস স্ত্রীলােকের স্বর্গসুখ, স্বামীর নিকট থাকা আর স্বর্গে থাকা সমান কথা। মা, আমি তােমার অসতী মেয়ে, সেই স্বামিসঙ্গ নরক বলে উচ্চারণ কল্লেম। নাথ! তােমার কি অার মতি গতি হবে না? আমি যে তােমার জন্য প্রতিদিন অসংখ্য পাপে পাপিনী হচ্চি। প্রাণেশ্বর, আমি তােমার সহ- ধর্মিণী, অামার যাতে পাপ হয় তা কি তােমার করা উচিত ? আমি তােমার নিকট কিছু চাইনে, কেবল দিনান্তে একবার দেখা দিয়ে, একটি মিষ্ট কথা বলে আমার মনস্কামনা পূর্ণ কর। আর একটি ভিক্ষা নাথ, আমাকে প্রহার ও তিরস্কার ক’চ্চ কর, কিন্তু আমা: দিদিকে—ভাশুরকে গ্য’ল দিওনা, অপমান করন। তাতে আমার বুক ফেটে যায়, তােমারও ঘাের পা সাক্ষাৎ নারায়ণ। দিদি প্রত্যহ এক একবার অতেন বঞ্চিত কল্লে ! কেন কান্ত, সেদিন তাকে মে তাড়িয়ে দিলে ? দিদিতো তােমার শত্রু নন, তিনি এ তােমার জননীস্বরূপিণী। অহহ হৃদয়েশ! পূৰ্ব্বেতে তােমার মুখেই শুনেছি, দিদি তােমায় মাতার ন্যা প্রতিপালন করেছেন। হায়, আজ তোমার সেই কথ সেই জ্ঞান কোথায় গেল? ওরে এমন করে ? আমার সর্বনাশ কল্পে ? আমার আশার ধন-হৃদয়ে

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
আনন্দ-উপাসনার দেবতা আমার পিপাসার জল,
শয়নের নিদ্রা-পুণ্যের স্বর্গ—আমার সুখের আকর
স্বস্তির উৎস:-শান্তিনিকেতন আমার সেই আরাধ্য
দেবতাকে এমন করে কে বিমুখ করালে ?
নেপথ্যে—জন্ম-এয়ােস্ত্রী ঘরে ?
সুন। (উল্লাসের সহিত) কে ও দিদি?-ঘরে ভিন্ন কোথায়
বাব দিদি?.
কমল প্রভার প্রবেশ।
এস দিদি, তুমি ভিন্ন আর আমায় কেউ জন্ম-এয়ােস্ত্রী
বলে না; তােমার বাক্য সফল হােক, আমি যেন
জন্ম এয়ােস্ত্রী হই। তোমার ছােট বােনকে কি মনে
পড়লাে দিদি? কি করে এই তিন দিন ছিলে ? দিদি,
তোমার পায় পড়ি, তুমি এক একবার আমায় দেখা
দিও। তুমি বই আর আমার কেউ নেই।
কৃমলপ্রভার স্কন্ধোপরি বন রক্ষা
করিয়া ক্রন্দন),
কম। ওরে, আমার সোনার প্রতিমে। আমার জন্মএয়োস্ত্রী-
পতিসােহাগিনি, কায়মনে আশীর্বাদ করি, তুমি
স্বামীর সােহাগ পাও। আর কঁদিসনে বো। আজ
ক’দিন কি কষ্টে ছিলেম, তা ভগবানই জানেন।
আজ তােকে একটা সুখৰয় দিই ছােট বৌ, তাের
বাপ তোকে নিতে এসেছেন।

জন্ম-এয়োস্ত্রী।
জন। কি বল্লে দ্বিদ্ধি, বাবা ওয়েছেন? এখানে আসবেন
না ?
কুম। আসবেন, তবে অন্যভাবে। তুমি প্রস্তুত হও।
এখন ওরা সব বৈঠকখানায়, কি সেই বিটীর বাড়ী
এই অবকাশে তােমায় নিয়ে যাবেন। নইলে হরকে
বলে তাে পাঠাবে না ।
জাম। দিদি, আমার হরিষে বিষাদ। আমার কোন দিকে
সুখ নেই। আমায় জান তো; তাকে না বলে, কি
করে বাবার সঙ্গে যাই বল দেখি দিদি।
কম। তবে কি তােমার এখান থেকে যাবার মত নেই ?
জ্ঞান। আমার যাবার মত নেই দিদি ? আমি যেতে পালে
বাঁচি। কিন্তু অমতে কি করে যাব ?
কম। এর জন্য আর মত নেওয়ার দরকার নেই। যখন আবার
ওর মতি গতি হবে-তখন মত নিও। না গেলে
যে, এ রকম করে ভেবে ভেবে মারা যাবে।
জ্ঞান। দিদি, গেলে কি ভাবনা দূর হবে ?
কম। জ্ঞানগা, তুমি বড় ছেলে মানুষের মত কথা বলতে
লাগলে।
জ্ঞান। দিদি, রাগ করনা। আমার যাওয়ার কোন অক্ষত
নেই, কিন্তু বোন, না বলে যেতে পারবােনা। প্রাণ
ক'দিন খাবে, আজ হক, দুদিন পরে হক,
প্রাণ তো যাবে দিদি। তবে বল দেখি, তুচ্ছ
প্রাণের জন্য কেন সেই প্রাণের দেবার অপমান
কবাে।

܂
শুধু প্রণের ভয়, নয়। যে বাৰু চক্র। সুন্য ভয়ও
. বিলক্ষণ আছে? ঃ ক ? ২
জ্ঞান, দিদি,১কোন ভয় নেই! :: ফদি. জান্নার পতিপদে
মতি থাকে, যদি আমাসেই পূজনীয় চির বাঞ্ছিত
স্বামীর প্রতি অতুল শ্রদ্ধা থাকে, তবে দিদি তোমার
আশীৰ্বাদে আমার কোন ভয় নেই ( হঠাৎ
উন্মাদিনী ভাবে কমলপ্রভার চরণ ধরিয়া) দিদি,
বল আমি জন্ম-এয়ােস্ত্রী
কম। ( বিস্মিত হইয়া), জ্ঞানদা-সাবিত্রি, ধন্য তােমার
পতি ভক্তি। আমি; আর তর্ক করবো না, আমি
সমুচিত শিক্ষা পেয়েছি।
জ্ঞান। ওকি দিদি, ওকথা কেন? আমার কাছে কি শিক্ষা
পাবে! দিদি, দিদি, বল-একবার বল, একবার
তোমার সেই মধুমাখা কথা শুনি।
কম বা জ্ঞানদা, আমার গুণবতী সতি। সংসারে যত জীব
আছে; সকলেই বলবে :‘জ্ঞানদা জন্ম এয়োস্ত্রী।
জ্ঞান। দিদি, আর কিছু চাইনে, তোমার মুখে ফুল চন্দন
পড়ুক। -আমি যেন জন্ম-এমো স্ত্রী হই
বিলাস বাবুর প্রবেশ
1.
জ্ঞান। ( বিলাসকে দেখিয়) বাবা, তােমার জ্ঞানদার দুর্দশা
দেখ বাবা! (উচ্চতর রোদ) ?
বিলা। চুপ করমা। আমি তোমার নিষ্ঠ র পিতা, জ্ঞানদ।।
হায় হায়, তােমার এই নিদারুণ যতনা দেখে, এই

জন্ম-গোত্রী। মর্মান্তিক করে কথা শুনে আমি নিশ্চিন্ত আছি। না, আমায় যে আর কেউ নেই-সংসারে ভাল- বাসার সামগ্রী সবই জামার চলে গেছে। শ্রী নেই-- পূত্র নেই, একমাত্র কন্যা তুমি। কিন্তু আমার এমনি দুরদৃষ্ট যে, তােমাকে ও দুখিনী কর্তে পালেম না। কি করে জানি বল-স্বর্ণাক্ষরে লৌহের উৎপত্তি হয়, এতে কখন শুনিনি। ঈশানবাবু সৰ্বাংশেই শ্রেষ্ঠ। জ্ঞানী, মানী, অতুল সম্পত্তিশালী—পরোপকারী অতি উচ্চ প্রকৃতিরই লােক ছিলেন ; দেখে অপর আনন্দ হলে, ভাবলেম-মা! এই সম্বন্ধে তুমি চির সুখিনী হবে। কিন্তু ভাগ্যবিড়ম্বনা-সেই দেবতার ঔরসে এক অলৌকিক্ পশু জন্মগ্রহণ কল্পে। জ্ঞান। (স্বগত) বাবা, নিন্দা করে কি হবে ? বিলা। এখন চল। অরবিন্দ বাবুর বাড়ী তােমাকে রেখে, আমি এলাহাবাদ গিয়ে একটা বাড়ী ঠিক করেই তােমায় নিয়ে যাব। আমি সেই মাতাল নয়ামের নিকট আর এক দণ্ড ও তােমায় রাখতে পারবেনা। জান। (স্বগত) বাবা, তােমার পায় পড়ি, তুমি আর আমার সামনে তার নিন্দা করােনা! বাবা! তুমিও কি ভ্রান্ত হলে ? নিন্দা করে কি লাভ? তাঁর দোষ কি, আমারই অদৃষ্টের দোষ। বিলা। জ্ঞানদা! উত্তর দাওনা কেন? আমার সঙ্গে এখনি চলো, এইই দিব্য অবসর। চান। কি বলি বাবা!-(মােন)

জন্ম-গােত্রী।
বিলা। কঁদ কেন মা? তােমার কোন ভয় নেই। আমার
সঙ্গে চল। আমি এই নরক থেকে তোমায় উদ্ধার
কবের জন্য, প্রাণ পণ করিছি।
( অরবিন্দ বাবুর প্রবেশ।)
অর। না, ও যুক্তি ঠিক হয়নি, উম দাদা বারণ করেন।
তিনি বলেন-আগে একবার হরকালীকে বলে দেখি,
অস্বীকার করে, তখন অনেক উপায় আছে। নইলে
হঠাৎ না বলে কয়ে বাড়ী শূন্য করে নিয়ে গেলে
অনেক বিপদের সম্ভাবনা।
জ্ঞান। (স্বগত) আঃ!-ভাশুর আমার অন্তর্যামী ভগবান ।
বিলা। না অরবিন্দবাবু, ও কথা মনে লাগে না। “শঠে
শাঠ্যং সমাচরেৎ”। সে, যেমন লােক, তার সহিত
তদ্রপ ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাৰ্য। সে পাজি,
তার সঙ্গে আবার সততা কি ?
জ্ঞান। (স্বগত) বাবা! ও আবার কি? আবার নিন্দে
কেন? ভাশুরের কথা শোন বাবা।
কম। ( জনান্তিকে জানার প্রতি মৃদুস্বরে) ছােট বউ,
তাের কপালে কি হবে! হায় ভগবান, একটা সুবিধে
ক'রে দেও।
অর। সততা বলেও নয়, এরূপ করে নিয়ে যাওয়া ভদ্রোচিত
কাজ নয়।
বিলা। আমার আর উচিত।নুচিত বােধ কেন ?
অর। বিপদ হয়েছে বলে ধৈর্য হারাবেন না। শাপনি
k

জন্ম-এয়ােস্ত্রী জ্ঞানী, একটু চিন্তা করে সমুদায়, বুঝুন।.বলে হােক, না বলে হোক যে উপায়ে হোক—আপনি যখন এসেছেন, তখন বৌমাকে এখান হতে নেযেতেই হবে। কিন্তু আগে একবার আপনি হরকালীকে বলে হানি কি। বেগে যশীর প্রবেশ। *, যশী। ওগো তোমরা শীগগির বেরােও, ওগাে, সর্বনাশ হলো গো, ওগো, শীগ্‌গির বেরেও। অর। কেন কি হয়েছে ? যশী। ওগো, ভ্যারা সব অড়ায় কোমর বাঁধছে, এখুনি এল বলে, এসে তােমাদের সব মারে। অর। মাবে.? মার মুখের কথা! এখনকি তারা আডডায় ? যশী। হ্যা, এইযে দেখে এলেম। সব হুলুস্থুল বাঁধিয়েছে। হর ব’লছে এত বড়স্পর্ধা, অমুর বাড়ী গিয়ে সব হল্লা করে । অর। আমরা এখানে এসেছি, কি করে জানলে তারা ? যশী। তা কি জানি, ঘাটে জল আনতে গিছলেম, দুয়োর ধারে উকিমেরে দেখি, বাবুরো সব সেখানে। হর বছে ‘গুরু ঠাকুর শীগগির চল, আমাকে না বলে, দাদা শালার কথা শুনে শ্বশুর শালা, তার মেয়ের সঙ্গে আমার বাড়ী দেখা কর্তে গেল ! এত বড় অস্পর্ধা!” গোলকা বলছে চল, আজ রামরাব- ণের যুদ্ধ করিগে।

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
৩৯
বিলা। (অরবিন্দের প্রতি) আড়া সব কোথায়?
অর। গোলােক বাবুর একটি ঘর অথবা একটি বৈঠকখানা
আছে। সেই খানেই বাবুরা অবশিষ্ট কাল অতি-
বাহিত করেন।
যশী। গােল কা যেই বলে ৰাময়ৰখে যুদ্ধ করিগে,
হকাৰী অমূনি চেঁচিয়ে বলে, আজ শ্বশুরের মাথা
নেব।
বিলা। কি? আমার মাথা নেবে? (সরােষে ) দেখি
কে কার মাথা নেয়।
বৈগে প্রস্থান।
অর। অশিকি করেন ? দাড়ান-দাড়ান।
পশ্চাৎ প্রস্থান।
জ্ঞান। (কমল প্রভার প্রতি) দিদি ! আমার দশা কি হবে ?
বাবা একে রাগী, দিদি। পরমেশ্বর আ’ল কি কল্লেন !
যশি! তুই কেন ও কথা এসে বলি?
কম। বলবেনা ? বলে আরও ভাল হয়েছে। ছােট বউ
ভাষিনে, যা’ কপাতে থাকে তাই হবে। আমি
যাই দেখিগে, উনি ফিকতে পারেন কি না।
যেগে হয়কালী বাবুর প্রবেশ।
হর। কৈ, সব কোথা গেল ? তাের কায়া ? (কমল
এভার প্রাতি) বেনাে, বেনাে বিটা। হারামজাদি।
ভজতে এনেছ? এখুনি ৰেৱে। ও বােস মশায়,
আসুন না এই দিকে।

জন্ম-এয়ােস্ত্রী। যশী। ছোট কাকা, তােমার একটু আক্কেল নেই ? হর। তুই কে? তুইও এসেছিস? দূরহ’, কাকা কাকী পাহাতে হবে না। ছেনালের সদ্দার, দূরহ। ( যশীকে গলাধাকা দেওন ) যশী। এই দূর হলেম। কিন্তু এর ফল পাবি, পাবি, পাবি। আঙ্গুল মকাইয়া প্রস্থান। হর। ( কমল প্রভার প্রতি) তুই, বিটী বদমায়েশের শিরোমণি, যাবে না নাকি? এখনও বছি প্রস্থান কর। ( গলাধাকা দিতে উদ্‌যোগ কিন্তু জ্ঞানদা কর্তৃক বাধা প্রাপ্তি ) হর। ( সক্রোধে) হারামজাদি, আমার গায় হাত। ( সজোরে জ্ঞানদাকে ভূতলেনিক্ষেপ।) কম। হর! কি কল্লি । ( তাড়াতাড়ি জ্ঞানদাকে তুলিতে উদ্যােগ, কিন্তু হরকালী কর্তৃক ভূতলে পতিতা।) হর। শোন বড় বউ, যদি আপনার মঙ্গল চাও, তবে এখনি প্রস্থান কর, নইলে আজ তুমুল সংগ্রাম, লােমহর্ষণ ব্যাপার! কম। (উঠিয়া) আমি যাই, কিন্তু হর- সরােদনে প্রস্থান। জ্ঞান। { হয়কালীর - চরণতলে পতিত হইয়া প্রাণেশ্বর, দিদিকে মাল্লে কেন? আমায় কেন মালে না? 1

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
৪১
হর । তোমার আর উদার চিত্ত দেখাতে হবেনা। জেঠা
মশাই! ওঁকে মাল্লেনা কেন; তাের আ’জ হয়েছে
কি ? আজ তােকে নিকেশ করবো, তবে
ছাড়বাে।
জ্ঞানা। তা কর, কিন্তু কি অপরাধে ?
হর। সহস্র অপরাধ! সমান উত্তর ! বাইজীর মত হাত
নেড়ে বল্লেন, কি অপরাধে। তাের লেখা পড়ার
•পিণ্ডীচ’টকে।
( একটি প্রকাণ্ড, চপেটাঘাৎ )
জ্ঞান। কেন একেবারে মেরে ফেলনা! ( রোদন।)
হর। তোর বাপ কই বলেদে; নইলে তাের নিস্তার নেই।
জ্ঞান। বাবা এখানে এসেছিলেন, কিন্তু এখন কোথায়
কি করে বলবাে ?
হর। উঃ। ধন্য তাের সাহস! তাের বাপ এখানে এসে
ছিল অনায়াসে অম্লান বদনে আমার সম্মুখে বলি ।
কিছুমাত্র ভয় হলো না ?
জ্ঞান। পতির কাছে সতীর ভয় কি ?
আল্লাদে কাজ নেই,আর, আমার আল্লাদ চুড়ামণি !
যাও গােবিন্দ অধিকারীর ' দলে থাকগে—আল্লাদ
সাজগে, ৫০ টাকা মাইনে হবে। বাপের সঙ্গে
গেলেন কেন?
জ্ঞান। যাব বলিনিতো।
হর। বল্লেই আরকি যেতে পাও।
জ্ঞান। তোমার পায় পড়ি, আমার সঙ্গে একটু মিষ্টিমুখে

82
জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
কাখা কও। অামি তো তোমার কাছে কোন
অপরাধ করিনি, তবে কেন আমায় দেখতে
পায়না?
হর। একটি কাজ ক’ক্সে দেখতে পারি।
জান। কি কাজ বলো, আমি তোমায় জন্যে প্রাণ দেব।
ইর। মদ খেতে হবে। আর আমাদের এই গােলক বাবু,
মহেশ, অর্থাৎ আমরা যে ক’জন এক ইয়ার, আমা-
দের সকলের কাছে বসে গাইতে হবে আর নাচতে
হবে-ভামিনীর মত সমান ইয়ারকি দিতে হবে।
জ্ঞান। (হেট মুখে নিরুত্তরে যােদন}
হর। বােস মশাই !
গোলকের প্রবেশ।
হর। এতক্ষণ বাইরে ছিলেন কেন ?
গােল। তােমার শশুরকে যে দেখলেম না ?
হর। শুনলেম প্রভু, এসেছিলেন, আমাদের আসবের আগে
চম্পট দিয়েছেন। দেখুন বােদ মশাই! এমন অবাধ্য
শ্রী কখনও দেখিনি। আজ পায় ধরে সাধ্য সাধনা
কল্লেম, তবু মদ খাবে না। সাথে আমার কাছে মা’র
খায়। দিব্য ম খা, আমাদের সঙ্গে ইয়ারকি দে,
ভামিনীর মত হাকভাব শে। তা না।
গােল। উনি গুণবতী সতীপতির অবাধ্য হওয়া, পতির
কথার অন্যথা করা ওর উচিত নয়। ওর ইচ্ছা,
আমি কি বলব বল।

জন্ম-এয়ােস্ত্রী
৪৩
জ্ঞান। যম! কেন আমায় ভুলে রয়েছ ?
প্রস্থান।
হর। (উচ্চৈঃস্বরে) যা’ষে ! খাড়া রও হিয়া।
(পশ্চাদ্ধাবনে অগ্রসর।)
গােল। আহা, কি করে ? ক্রমে হবে, এখন রাগলে
চলবে না। চল বৈঠকখানায় যাই--অনেক কথা
আছে।
হর। চলুন, কিন্তু বন্ করা ভার হলো।
উভয়ের প্রস্থান।
দ্বিতীয় গর্ভা।
( হরকালী বাবুর বহিৰাটী।).
( গােলক বাবু ও হরকালী বাবু উপবিষ্ট।)
হর। আমার হ’ল মাগ, আর ওর হ’ল মেয়ে
সঙ্গে জিদ করে পারে ? - ১

৪৪
জম্মু-এয়ােস্ত্রী।
* -
ওরে
তারা তাে তােমার শ্বশুরকে স্পষ্ট বলে, হরকালী জি
ক'লে তুমি মেয়ে নেযেতে পার না।
হর। ন্যায্য কথা কেন বলে। দাদা শালারও যেমন জ্ঞান,
এ বেটার ও তেনি বুদ্ধি ।
গােল। বিলাস বাবু এলাহাবাদ গেছে ? সেখানে কি চাকরী
করে ?
হর। ওর কপাল জানে। চাকুরী বড়, খানসামাগিরি
কাজ! বেটা বলে আলবােৎ মেয়ে নেষাব।
আমার খানসামারে ! বেটা বোধ হয় দূর হয়ে গেছে ।
সে সব কথা থাক। বােস মশাই! হে গুরুদেব !
কাল শনিবার, কাল কি মজাই হবে-শক্তি উপাসনা।
আঃ-কি চমৎকার মতলবই বার করেছ বাবা।
গোল। উপাসনা নইলে কি হয়। আমরা মাতাল, প্রকৃত
শাক্ত। তন্ত্রে তন্ন তন্ন করে বলছে মদ খাও—নিজের
স্ত্রীকে শক্তিস্বরূপিণী কর—অক্ষয় স্বর্গ হাতে হাতে।
যা তুমি যেন ছােট বউকে আজ কিছু বলােনা।
হর। বিলক্ষণ। যা যা বলেছেন সব মনে আছে। আস্তে
বলুন, বিটী চালক বড়, হয়তাে উকি মেরে কোথা
থেকে শুনবে। আচ্ছা, কাল যদি সহজে মদ না খায়
তবে জোর করে তো কার্য্যেদ্ধার কৰ্ত্তে হবে ?
গােল। অবশ্য। নইলে উপাসনা হবে কেন।
হর।. বসুন, শীঘ্র অছি।
প্রস্থান।
।

জন্ম-এয়ােস্ত্রী। ৪৫ গোল। (স্বগত) জ্ঞানদা! রে দপিণী রমণি ! কাল তােমার সকল দর্প রসাতলে যাবে ; কাল গােলকের, আশ্চর্য কৌশলে তোমার ঐ ত্রিদিব দুল্লভ প্রফুল্ল বদন, গােলকের বদনে নীত হবে-কাল তোমার ঐ দেব বাঞ্ছিত রূপসমুদ্রে গোলক সন্তরণ কৰ্বে। জয় কালি ! কাল একটু সদয় হয়ে মা। ল মহেশের প্রবেশ। মহে। গুরুদেব ! কি করি বলুন দেখি, ভামিনীর যে কিছু তেই মন পাইনে। আজ দেখুন সমস্ত দিনটে ওকে সেবা কচ্চি। হেগেমুতে ঘর বাড়ী ডুবিয়ে রেখেছিল- সমস্ত পাে’স্কার কলেম। গা টেপা, পা টেপায় কিছু তেই ত্রুটী করিনে; তবু কেবল খিট মিট করে, আমায় দেখলেই জ্বলে ওঠে। । প্রণয়াস্পদ মহেশ! আর বেশী দিন তােমার কষ্ট সইতে হবেনা। ও তােমাকে কেন, আমাকেও যথো- চিত অপমান কচ্ছে ; কালকের কাটা হয়ে যাক, তার পর সব ক্লীয়ার হবে। ও মরণ কামড় কামড়ে নি না। মহেশ, কাল কি আনন্দ! সতত বাসনা মনে, কমনীয় নারী সনে, একাসনে একশয্যায় কাল আমি বসিব। মহে। আমিও গুরুদেব, কিছুভাগ পাইব। গোল। অবশ্য অবশ্য মাই ডিয়ার। ;

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
মরি মরি সুকেশিনী, সুনাসা মধুভাষিনী।
মরি মরি মনোহরা মানবতোষিনী।
মহে। মরি মরি মরি, মরি মরি
গোল। ও কি মহেশ, কেবল মরি মরি বলে যে !
মহে। মিলুতে পাজেমনা-তাই পতন ছন্দঃ হ'ল।
মরি।
!
হরকালীর প্রবেশ।
হর। মহেশ! ভামিনী কেমন আছে ?
মহে। অনেক উপশম, এখন ঘুমুচ্ছে।
হর। গুরুদেব! হে অরূণোপম তেজস্বি। কল্য শ্ৰীমতী
ভামিনী সুন্দরী দ্বিতীয় শক্তিরূপিণী সুস্থ থাকলে
উপাসনার ভারি ধূমপাশি উখিত হতাে।
গেল। হরকালি? এখনতো তুমি সাধুভাষা দিব্য বলতে পার,
সংস্কৃত যা পড়েছিলে মনে আছে কি ?
হর। মদ খাই বলে কি লেখাপড়া ভুলে যাব গুরুদেব ?
গেল। কল্যকাৰ দিনটে শুভালাভালি কেটে গেলে বাঁচি।
হর। কোন ভয়নেই, পথ কণ্টকহীন—পরিস্কার ; আমার
স্ত্রী তো ?
গােল। চল বৈটক খানায় যাই।
সকলের প্রস্থান ।
;
হরকালীর পুনঃ প্রবেশ।
হর। না—না। ও সব মনে কৰ্বোনা। আমার সাদামন,

জন্ম-এয়ােস্ত্রী। ৪৭ আমার অত তর্ক কেন? ভামিনী মিছে কথা বলে। গুরুদেব আমার প্রাণের বন্ধু, ছেলেবেলা থেকে গুরুদেব আমায় ভালবাসেন, অভিন্নহৃদয় জ্ঞান করেন ; ও সব, বেশ্যাদের কুহক জাদুকরী বিদ্যা। ভামিনী বলে, “হর কালি বাবু, তোমার স্ত্রীকে গেল- কের সম্মুখে নিয়ে যেওনা, ওর মতলব খারাপ”। কি মতলব খারাপ ? আর যদি নিয়ম ধর-তবে আমার স্ত্রীও যা—আমার ইয়ারের স্ত্রীও তাই। এইতো সাদা মনের সংস্কার। না না না, ও সব ভাববোনা। গােলক অামার পরম বন্ধু, জীবনের সুহৃৎ, উপসনার শুরু। ভামিনী আরও বলে, গোলক অামার সব টাকা কড়ি গুলি হাত কৰ্ব্বে, এও মিথ্যা কথা। অমর টাকাতে. সব গুরুদেবের ছাতে, নিলে এত দিন নিতে পাৰ্ত্তনা? মন, স্থির হও, সন্দেহ ছেড়ে দেও। উঃ! স্ত্রীলোকের কি ভয়ানক প্রকৃতি। সাধে কদের বলেন “হরকলি স্ত্রীকে মদ খাওয়াতে না শেখালে মন সাদা হয় ন”। যথার্থ গুরুদেব, ধন্য ত:মার গভীর জ্ঞান!, অামার স্ত্রী যদি কাল নদ না খায় তবে কেটে খণ্ড খণ্ড করবো, মদ খাওয়াব, খাওয়াব, খাওয়াব। আচ্ছা ভামিনী তো মদ খায় - তবে ওর মন সাদা হলােনা কেন? ও। তার কারণ আছে, ওরা যে বেশ্যা, ওদের সঙ্গে নিয়ম টেনা। গুরুদেব তুমিই ধন্য। তবু মন অত খুও ২ কর কে ? অামি মাতাল--অামার সাদা, মন

৪৮
জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
অামার অত তর্ক কেন ? অাহা কাল কি দিন।
শক্তি উপাসনা ! শাক্ত উপাসনা! শক্তি উপাসনা !
তাল ঠুকিয়া লম্ফদিয়া প্রস্থান।
তৃতীয় গর্ভাঙ্ক।
( হরকালী বাবুর দরদালান )
কাপিতে কাঁপিতে জ্ঞানদার প্রবেশ।
জ্ঞান। কোথায় যাই ? কোন ঘরে যাই ? কার কাছে যাই ?
বাবা ! তুমি কেথায় ? এলাহাবাদ গেছ ? কেন
* গেলে বাবা, আর দুদিন কেন থাকলেনা। মা, মাগো।
স্বর্গ হতে এক বার এস মা-অজ আমায় উদ্ধার
কর মা। ওমা! আজ তােমার জ্ঞানদার সর্বনাশ হয়।
উঃ আজ যে, কেউ নাই! হায়! এখন কোথায় যাই ?
কে রক্ষাকরে ! কাউকে যে কিছু বলতে পাল্লেমনা,
কেউযে কিছু জানতে পাল্লেন। হায় কাল যখন পরামর্শ
গুলেম, তখনি কেন গলায় দড়ী দিলেম না! তাইব।
কখন দিই! কাল থেকে অষ্টপ্রহর চকে চ'কে
রেখেছেন; এখন রাত দুপুর, এখন তাদের আন্তে
চলে গেলেন-সদর দরজা পর্যন্ত বন্ধ করে গেছেন।
এখন কি করে কোথায় যাই ? ওমা-আমার যে,

.
។
... যে এল বলে! ওমা
জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
৪৯
আজই যে শনিবার, বিকট অমানিশা! আজ আমার
শাক্ত নাম হবে, আজ আমি গােলক মহেশের
কোলে বসবে; আজ তারা অামায় শক্তি সাজিয়ে
মদ খাওয়াবেন-মনােবাঞ্ছা পূর্ণ করবেন! না-না-
এখনও চন্দ্র সূর্য উদয় হচ্ছে, এখনও দিবা-রাত্র
বিদ্যমান রয়েছে; পাবেনা-পাঝেনা ! সতী রমণী
স্পর্শ ? কলঙ্কিত হস্তে ? হৰেন-কদাচই হবেনা।
দিদি! তােমরা যে কিছুই জান্তে পাল্লেন। তােমরা
আমায় সর্বদা দেখতে, যত্ন, কর্তে, প্রাণাপেক্ষা ভাল
বাসতে। কিন্তু দিদি। সময় গুণে আজ তােমরাও
কিছু কর্তে পাল্লেন। তােমার আদরের জন্ম-এয়ােস্ত্রীর
আজ সর্বনাশ হ’ল দিদি। ( হঠাৎ উন্মাদিনী ভাবে)
ওকে! ওকে ! গােলক না! ওমা আমিতো ওর জোরে
পাৰ্বনা। ওমা-ওযে ভীম পুরুষ ! কালান্তক যম!
কেন! কেন গােলক আমার সঙ্গে যুদ্ধ কৰ্বে ? আমি
দুৰ্বল, আমি শক্তিহীন, আমি শক্তি নই। গােলক,
ফিরে যাও, ফিরে যাও। এদিকে-পিছনে কেও!
মহেশ! মহেশ! তুমিও এসেছ মহেশ! ( উচ্চৈঃস্বরে )
ওমা আমাকে যে, ঘেরাও কলে ; সপ্তরথী সমবেত
হয়ে পুড়িয়ে মারে। কিহবে ! কিহবে। (অত্যন্ত
কম্পন) একি। আমি কি পাগল হলেম ? না-না,
পাগল হ'লেও তো বিস্তার নাই। বর, তাতে আরও
সম্পূর্ণ ভয়! কেহই কি সুহৃৎ নেই? আছে, সুহৃৎ

৫০
জম্মু-এয়ােস্ত্রী।
আছে। কে সুহৃৎ! উদ্বন, অভাগিনীর সুদৎ উদ্বন্ধন।
না মরবেনা, আর একবার দেখবাে ; শেষ দৈখা,
এজন্মের শেষ কান্না, আর একবার কঁাদবাে। বড়
আসুন, আমি পায় ধরে বলবো, নাথ! আমার সর্বনাশ
করােনা। পতিপায় সতীর রােদন কি কোন কাজের
হবেনা ? নাহয় সেই পবিত্র পায় জীবন যাবে, মনো-
বাঞ্ছা পূর্ণ হবে। ওকি ! কিসের শব্দ হচ্চেনা। (উৎকর্ণ
হইয়া দণ্ডায়মান)।
নেপথ্যে.। না বাড়ীর ভিতর চল, দর দালানে সভা হবে।
জ্ঞান। ওরে কোথায় আমি
ক
বেগে প্রস্থান।
গােলক হরকালীও একটি বৃহৎ ধামাহস্তে
মহেশ বাবুর প্রবেশ ।
হর। টাকার পুত কলোণ বাবা।
গেল। তা’আর বলতে, টাকার জোরেই সব কচ্চ,
বহরমপুরের মামলাটা তো, টাকার জোরেই ভিস
মিস হয়ে গেল।
মহে। এইখানে সকলে উপবেশন করুন।
গােল। মহেশ, ঠিক হয়েছে, আজ তােমরা সকলে কে
সাধু ভাষায় কথা কইৰে।
যে অজ্ঞে, অাপনার আদেশ শিরােধা ; কে
উপবেশন করো ।

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
৫১
গােল। সুপবিত্র দালান ভূমিতে কি শক্তির উপাসনা কাৰ্য্য
সম্পন্ন হইবেক ?
হর। আজ্ঞে, এই স্থানই তাে, প্রভু নির্দেশ করিয়াছেন
গােল। উত্তম হইয়াছে। সকলে বসে, কিন্তু মধ্যস্থল শূন্য
রাখিতে হইবেক, গােলাকারে বসিতে হইবেক।
হর। কেন ?
গােল শক্তিস্থান, শক্তি মধ্যস্থলে উপবেশন করতঃ লীলা
বিকাশ করিবেন।
হর। তবে গমনং কুরু। শক্তিকে আনয়ন করি ?
গােল। প্রাণের বন্ধু! অত ব্যস্ত কেন ? অগ্রে একবার স্তব
স্তুতি করা আবশ্যক বােধ হইতেছে, নইলে শক্তি
অপ্রসন্ন হইবেন।
তবে একটু বােতল বার পান করা যাউক।
গােল। ওঁ বিষ্ণু। তাহা কি হইতে পারে ? অদ্য কি অন্য
দিনের মতদিন ; অদ্য মহাদিন, উপাসনার দিন ।
শক্তি আগমন করুন, তঁাহাকে মদ্যাদি উৎসর্গ করিয়া
দিয়া পান করাইয়া আমরা ভক্তবৃন্দ পান করিব।
হর। যে আজ্ঞে কুল দেবতা। তবে স্তব স্তুতি করুন ।
গেল। অবশ্য। (মুদিত নয়নে)
অয়িশ্যামা কপালিনি করালি কামিনি,
কৃতান্ত দলনী শিবে কৃতান্ত মােহিনী।
দানব দলনী
দুর্গে, দল রিপুগণ,
শত্রু নাশ করাে মাতা ওমা শত্রুঘন।
••

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
মহে। গুরুদেব, আমার কথা না কইলে চলনা, সাধু ভাষায়
পাব্বোনা-এমনি অসাধু ভাষায় বলি! আমায় ক্ষমা
কবেন। আচ্ছা কৃতান্তমােহিনী কি করে হলেন ?
গোল। এইটি তােমার জিজ্ঞাস্য ? কৃতান্তকে যিনি মােহন
করেন, তিনিই কৃতান্তমােহিনী।
মৃহে। মােহন মানে ?
গােল। বাঁশী। বুঝিয়াছ?
মহে। অনেকক্ষণ বাবা।
হর। শুরুর ভুল ধর, মাইডগ ? আপনি স্তব করুন।
গােল। (কর যােড়ে মুদিত নয়নে)
অয়িশ্যামা, কপালিনি করালি কামিনি,
কৃতান্ত পলনী শিবে কৃতান্ত মােহিনী।
দানব দলনী দুর্গে দল রিপুগণ,
শত্রু নাশ কর মাগাে ওমা শত্রুঘন।
কৌশিকী কৃপণা কালী ওমা হেমলতা,
ফিরে চাও, রাখ কথা খাও শত্ৰু মাখা।
হর। এই বার আমার পালা
বিকট হাসিনী, কালী বিকট দশনা।
হে গুরুদেব! আমিযে মিলাইতে পারিলাম না।
গােল। পুনরায় পদটি একবার বল।
হর। বিকট হাসিনী কালী বিকট দশনা, তার পর ?
গােল। ( সহাস্যে) এইতােদিব্য মিল রহিয়াছে।

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
৫৩
বিকট হাসিনী কালী বিকট দশনা,
ছলনায় ভুলায়ােনা হরের অঙ্গনা।
মহে। আমি মূখ, তবু একবার স্তব করি।
( কথােযােড়ে মুদিত নয়নে),
ডাকিতেছি তারা তােমায় হ হ রবে,
দয়া করে চা’নয়নে বাছুরেরে শিবে।
গােল। বা, বা, বেশ মহেশ ! কে তােমায় মুখ বলে, তুমি
অতি উত্তম কহিয়াছ, মা! আমি বাছুর, তুমি
গাই স্বরূপ, আমায় দুগ্ধ প্রদান করিয়া রক্ষা কর।
মহেশ, তুমি চিরজীবি হও, শক্তির কৃপা সর্বাগ্রেই
তােমার উপর হইবেক।
গুরুদেব! আমার স্তব যে সম্পূর্ণ হইল না।
গেল। তুমি আমাকে প্রতিনিধি প্রদান কর।
হর। তথাস্তু।
.গােল। এইবার তােমার হয়ে আমি স্তব করি। শক্তি।
এই স্তবটি হরকালীর জবানি হইতেছে। ( করযোড়ে
মুদিত নয়নে).
তুমি স্বর্গ, তুমি জয়, তুমি মর্ত্য, তুমি ভয়,
তুমি মা পাতাল স্বরূপিণী ।
তুমি নর তুমি নারী, তুমি মা মদের অরি,
পুনঃ মদ তুমি প্রসবিনী।
• -
.:.'

৫৪
জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
তুমি নেশা, তুমি জ্ঞান, তুমি মা মাঠের ধান,
নীল ক্ষেত্রে তুমি নীল তরু,
তুমি সুধা, তুমি বিষ, তুমি আঁ’স নিরামিষ,
দুগ্ধ দানে রীখ মাতা গরু।
স্তব সমাপ্ত হইল, এইক্ষণে চাটাদি উৎসর্গ করিয়া
দিই। (ধামায় হস্ত দিয়া মনে মনে মন্ত্র পাঠ )
যাও শক্তিকে আনয়ন কর।
হর। যথাআজ্ঞে, মহামুনি।
প্রস্থান।
গােল। মহেশ ! নয়ন মুদ্রিত করে তিনবার বলো, শক্তি
প্রসন্ন হও। (মহেশ ও গোলক নয়ন মুদ্রিত করিয়া
করযােড়ে) শক্তি প্রসন্ন হও, শক্তি প্রসন্ন হও, শক্তি
প্রসন্ন হও।
নেপথ্যে। (সরােদনে) ওগো তােমার পাপড়ি, ওকথা বলনা
আমায় রক্ষাকর, আমায় ছেড়ে দাও।
নেপথ্যে। (অন্যস্বরে) এখনও সমানে চল, নইলে বড় অন্যায়
হবে।
গেল। আহ ওকি! সাধুভাষায় বল; ইতরভাষা প্রয়ােগ
কর কেন ?
নেপথ্যে। গুরুদেব! মুখদিয়া সাধুভাষা বাহির হইতেছেনা,
ক্রোধে অঙ্গ জ্বর জ্বর হইতেছে, চক্ষু দিয়া অগ্নি থর থর,
বাহির হইতেছে, অন্তঃকরণ থর থর কঁপিতেছে ।
ক্ষমা করবেন । { ক্রোধরে ) চল শছি ।
৫।

জন্ম-এয়ােস্ত্রী। জ্ঞানদার হস্ত ধরিয়া টানিতে টানিতে হরকালীর প্রবেশ। গোল। ( ব্যস্ততা সহকারে ) মহেশ। শীঘ্র উত্থিত হও, শক্তির অমর্যাদা হয়। শীঘ্র স্তব কর। গােল ও মহে। (করযােড়ে) ও শক্তি রূপায় নমো। শক্তি শক্তি প্রসন্ন হও, শক্তি প্রসন্ন হও, শক্তি প্রসন্ন হও। ( ক্রোধব্যঞ্জক স্বরে জ্ঞানদার প্রতি) এত স্তব স্তুতি কচ্চে, তবু ওঁর মন পাওয়া যায়না। ভাল চাওতো বোস, নইলে মৰ্বে আজ। জ্ঞান। অামায় মার, আমায় একেবারে মেরে ফেল; এই আমার প্রার্থনা। আমি তােমার স্ত্রী, আমার একটী কথা -তুমি আমারতো একটী কথাও শোননি, এই একটী শেষকথাও কি শুনবে না? তােমার পায় পড়ি, আমি বড় কাতর হয়ে বলছি আমায় মেরে ফেল; আর যন্ত্রণা দিওনা, আমার একেবারে সর্বনাশ করোনা; দোহাই তােমার। তুমি আমার ইহকাল পরকাল নষ্ট করোনা। আমি স্ত্রী-তুমি স্বামী-তুমি আমার জীবন- তুমি আমার রক্ষক–তুমি আমার পরকাল ত্রাতা- তুমি কি বলে আমার ধর্ম নষ্ট কৰ্তে চাও? তুমিতো অজ্ঞান নও, তুমিতাে নিষ্ঠুর নও, আমাকে ছেড়ে দাও। ইর । ন্যাকাম ছাড়; স্বমানে সভায় বসে। গোল । (করযােড়ে ) হে শক্তি! অত চিন্তা করিতেছ কেন ? আমরা তােমার প্রকৃত সাধক ব্যতীত আর কিছুই

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
নয়। সভায় এস, গৃহ পবিত্র কর, সভা উজ্জ্বল কর ।
( ধরিবার উদ্যােগ )
জ্ঞান। নরাধম ! আমায় ছুনে বলছি।
হুর । নরাধম ? আমার গুরুর অপমান।
( সজোরে জ্ঞানদাকে বসাইবার চেষ্টা )
জ্ঞান। (উচ্চৈঃস্বরে সরােদনে) এসময় সতীর সহায় কোথায়
তুমি সতি! বাবা এসময় তুমি কোথায়।
( নেপথ্যে উচ্চৈঃস্বরে ভয় নেই মা)
রূদ্রমূর্তি বিলাস অরবিন্দ ও যশীর প্রবেশ।
বিলা। ( সজোরে হর কালীকে দূরে নিক্ষেপ করতঃ জ্ঞানদাকে
ক্রোড়ে ধারণ ও জ্ঞানদার অত্যন্ত শরীর কম্পন )
ভয় নেই মা। যশি! আজ তুই কি উপকার কল্লি !
অরবিন্দ বাবু, বেটাদের একেবারে মেরে ফেলে দি ।
অর। না, আর মা’র ধর কেন ? পাপের ফল আপনারাই
ভােগ কৰ্বে। ধৰ্ম্ম আছেন।
বিলা। ধৰ্ম্ম ? কলিকালে আবার ধর্ম ! ধৰ্ম্ম থাকলে কি
এমন হয় ! আমার এমন মার এমন দুর্গতি হয়
ও সব বালকের কথা, ও সব স্ত্রীলােকের কথা;
ও সব মিথ্যা কথা। (গোলকের প্রতি ) পাজি,
বদমায়েশ ! (গােলককে রীতিমত প্রহার।)
গেল। (উচ্চৈঃস্বরে) ওরে মেরে ফেল্লেরে-পুলিস্ !
বিল। পুলিস ? হা নরাধম ! হা অকৃতজ্ঞ মাতাল ! তুই
মথ তলে কথা কচিস? আমাদের দেখে
অাবার

জন্ম-এয়ােস্ত্রী। ৫৭ তাের কিছুমাত্র লজ্জা হ’ল না? আবার মাথা তুলে, আবার ঐ পাপ মুখ তুলে পুলিস্ বলে ডাকছিস্? একবার ভাবলিনে ? একবার তাের ঐ পশু পরি- ত্যজ্য কাৰ্য্য কর্তে কিছুমাত্র বিচার কলিনে? ওরে মাতাল ! ওরে পশ্বধম । তোর পূর্বাবস্থা স্মরণ কর দেখি—তাের এই লােক ঘৃণিত পিশাচ বর্জিত ঘাের দুস্কার্যের কথা একবার ভাব দেখি-দেখি তাের যালট ফেটে প্রাণ বিনির্গত হয় কি না!-দেখি, তাের ঐ চণ্ডাল হৃদয় বিদীর্ণ হয় কি না! তাের পাপের ইয়ত্তা নেই, তাের যন্ত্রণার অবধি নেই। তাের পাপে বসুমতী সকম্পিত, তাের পাপে সমুদ্র সলিল বিশুদ্ধ ! ঐ দেখ পামর, ঐ আকাশ পানে চেয়ে দেখ-অনন্ত নরক তােকে গ্রাস্ কৰ্ত্তে সমুদ্যত হয়েছে! উঃ!—ওকে? মহেশ বাবু? ধন্য তােমার জন্ম ! তােমার জমে ধরাতল পবিত্র হয়েছে - তােমার স্পর্শে জাহ্নবীরও পাপ ভার কমে গিয়েছে। ওরে পশু । তুই বেঁচে আছিস্ কেন বলতে পারি? বেশ্যার অন্ন যার জীবন, পাপ বৃত্তি যার ব্যবসা, বিশেষতঃ সতী রমণীর সতীত্ব নষ্ট যার নিত্যধৰ্ম্ম- তার এখনই মৃত্যুবিধি। আয় আগে তােকেই শেষ করি—তাের উপর আমার আরও রাগ হচ্চে। অহেশ। আমার উপর রাগ হবেই তো; আমি পেণ্ডি মাল কি না। ওদের কাছে ঘেঁদতে পাপ্পেন না, ওরা হল হৃষ্টপুষ্ট ।

জন্ম-এয়ে স্ত্রী। হর। বাহার যাও সব। বিলা। চোপ, রও। উমাচরণের প্রবেশ। উমা। কি কাণ্ড হ্যা অরবিন্দ বাৰু ? এ সব কি, বিলাস বাবু, এলাহাবাদ যাওনি ? বিলা। আর মশায় এলাহাবাদ ! উমা। কি রকম হ্যা ? বিলা। কি রকম আর কি করে বলবাে বলুন ; গুণবতী যশী আমার মুখ রক্ষা করেছে। সেদিন জানেন, ও সালিসিদের নিকট পাঠাতে অস্বীকার কলে, আমি ভেবে চিন্তে আর না পেরে অরবিন্দ বাবুর সহিত পরামর্শ করে এলাহাবাদ ফিরে যাওয়াই স্থির কল্লেম। পরস্ব যাওয়ার উদযোগ কচ্চি—এমন সময়, যশী এসে আমাকে বলে আপনার আজ যাওয়া হবেনা। আমি বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞাসা কলেম কেন ? যশী বলে ওরা জ্ঞানদাকে নিয়ে শনিবারে শক্তি উপ- সনা করবে—আমি বৈঠকখানা থেকে শুনে এলুম। আমি তাে অবাক, শক্তি উপাসনা কারে বলে শুনেই তাে হতজ্ঞান ! অরবিন্দ বাবু যশীর মুখে ঐ কথা শুনে ভয় কাতর স্বরে আমার কথায় বাধা দিয়ে বল্লেন আপনার শনিবার পর্যন্ত এখানে থাক্‌তে হচ্চে। আমি আরও বিস্মিত ও ভীত হয়ে পুনরায় অর- বিন্দ বাবুকে জিজ্ঞাসা কলেম ব্যাপার কি ? উনি

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
৫৯
বল্লেন, “এখানে একজন চিকিৎসক আছে, তার
একটী রাখিত বেশ্যা আছে, সেই বেশ্যাটাকে
মদ খাইয়ে শনি মঙ্গল বারে তাকে নিয়ে নানা
কাণ্ড কারখানা করে ; আমার ভয় হচ্চে পাঁছে
বৌউ মাকে নিয়ে এরা সেই রকম করে।” আমি
শুনে স্তম্ভিত। আর এল বাদ যায় কে। আজ
সকাল থেকে আমরা সকলে পাহারা দিচ্ছি-দিন
মানে কিছুই না ; রাত্রি ১০ টার সময় হরকালী
বাড়ী থেকে বেরুল দেখলেম, সেই সময় যদি
এসে জ্ঞানকে নিয়ে যাই, তো করি ভাল, কিন্তু
অরবিন্দ বাবুর মত হ’ল না। কাজেই সকলে দাঁড়িয়ে
রাত জাগতে লাগলে। ২৩ ঘণ্টা বাদে আবার বাবুরো
সব এসে ঢুকলেন। আমিও সেই সঙ্গে আছিলেম
তখনও অরবিন্দ বাবু আসতে দিলেন না-বল্লেন
“যখন আমরা এসে পড়েছি তখন ভয় কি ?”
উমা। তবে তােমরা কখন এলে? কোনরূপ অত্যাচার
হইনি তাে ?
বিল।। আজ্ঞে না; আর একটু না এলে হতো বটে।
অরবিন্দবাবু আসতে দিলেন না-আমি দাঁড়িয়ে কাটা
কইয়ের মত ছটফট কর্তে লাগলেম। অনেক ক্ষণ বাদে
মায়ের কান্না শুনতে পেলেম; একটু জোরে না কঁ। দুলে
আমার সর্বনাশ হতো। মা আমার নিখুত সতী,
তাই রক্ষা হ’লনইলে আমাদের, বিশেষ অরবিন্দ
বাবুর যে রকম বুঝবের ভুল হইছিল, তাতে নিশ্চয়ই

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
.
বিলা।
সৰ্ব্বনাশ হত। একি সহজ ভূল ? বাড়ী এসে, স্বচক্ষে
ওদের বাড়ীতে ঢুকতে দেখে আমরা অবাক জড়ের
মত পাচিলের ধারে দাঁড়িয়ে রইলেম ।
উমা। অরবিন্দ, এ রকম মন হ’ল কেন ? ওরা যখন বাড়ী
এসে পড়লে তা’দেখেও স্থির ছিলে কি বলে ?
অর। কি জানি, ভাবলেম হয়তো ওরা একটু বসে আবার
এখুনি বেরিয়ে যাবে; মিছে মিছে রাত্রে একটা বাস্যম
কৰ্ব্বো। কিন্তু এখন দেখছি সেটি আমার বুঝবের
সম্পূর্ণ ভুল !
এসে দেখি, দুর্জয় দত্যু আমার গুণধর জামাই,
আমার মাকে সেখানে বসাতে চেষ্টা কচ্চেন, গলা-
টিপে ধরেছেন ; মা আমার উন্মাদিনী—দুইচক্ষু জবা
কুসুম -নিষ্কলঙ্ক বদন চন্দ্র কালিমায় আবৃত ;-দেখে
হৃদয় বিদীর্ণ হ’লব্ৰহ্মাণ্ড জ্বলে গেল, সেই ঝোঁকে
ক’জনকেই নিকেশ, কম্,ে কেবল অরবিন্দ বাবু
বারণ কল্লেন বলে, ওদের নিস্তার ।
উমা। ওঃ-কি ভয়ানক! যাইহােক যশী বড় উপকার করেছে।
বিলা। যেশী নারীরূপে, সতীশ্বরী ভগবতী';
আমাকে
বাঁচাতেআমার কুল, মান, লজ্জা রক্ষা কর্তে যশীর
আবির্ভাব; যশীর গুণ বর্ণনাতীত।
উমা। চল সব ; বৌমাকে নিয়ে এনরক থেকে সব উদ্ধার
হই।
সর। আর কেন- আর এখানে কি ?
বিলা। যশি, মার কঁপুনীটি একটু নরম পড়েছে কি ?

জন্ম-এয়ােস্ত্রী। ; যশী। হ্যা, এখন আর গা কাপছে না। বিলা। তবে কোলে লও। ( জ্ঞানদাকে ক্রোড়ে লইয়া অগ্রে যশী, পচাতে বিলাস অরবিন্দ, উমাচণের প্রস্থানােযােগ সহ হরকালী বিকট চীৎকারের সহিত) পুলি! আবি হি য়া আও; আমার অমতে, আমায় খুন করে দগণ আমার স্ত্রীকে নিয়ে যায়। (বেগে যশীর নিকটে গমন করতঃ যশীর হস্ত ধরিয়া টানন) বিলা। চোপরও পাজি। হরকালীকে ধাক্কাদান ও হর- কালীর ভূতলে পতন ) জ্ঞান। (স্বগত) জগদীশ্বর ! আমার প্রাণেশ্বরকে রক্ষা কর । হরকালী, গােলক ব্যতীত সকলের প্রস্থান। হর। ( উঠিয়া) উঃ! শালা যেন লৌহ মুদগর! গুরুদেব! কিছুই হল না। আসুন একটু একটু টেনে নিদ্রা যাই। মহে। প্যাদাসাহেব রােজা, কাজে কাজেই । ( সকলের মদ্যপান করতঃ শয়ন ও নিদ্রা ) তৃতীয় অঙ্ক। প্রথম গর্ভাঙ্ক। (বেশ্যাপল্লী-ভামিনীর গৃহ) ভামিনী উপবিষ্টা। ভামি। এইবার বিধাতা দিন দিয়েছে—এতেও যদি গােল- কের সঙ্গে না বিবাদ বাধিয়ে দিতে পারি, তবে আর আমার উপায় নেই। বেইমাদের জন্যে যে, দু’কথা হরবাবুকে বুঝিয়ে বলি তারও যাে নেই; যখন আসবে, আপদগুল অমনি সঙ্গে সঙ্গে থাকবে-বিশেষ গােস্কা এক তিলের জন্য ও কাছ ছাড়া হয় না। মন একটু ফাক পাইনে যে, ভাল করে মন্ত্র ঝাড়ি! গোলকা আমার দুই চক্ষের বিষ! এমন বাবুটি পেয়ে কিছু কর্তে পালেম না ! হায় হায়, এ দুঃখ আমার আর রাখবার জায়গা নেই। গোলকা জমায় ঠকালে । এই বয়েসে কত জনকে সাবাড় কল্লেম, কত চালাক চতুর, দিষ্টিকৃপণকে উচ্ছন্যে দিলেম, শেষ কি না একটা বুড়র কাছে ঠকে গেলেম! না, আর ভেবে চিন্তে পারি নে—আজ ওদের দুটকে স্পষ্ট বলবে এখানে তারা যেন না জাসে। গাল দে, ঝটা মেরে যাতে

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
পারি ময়শাকে আর গােলকাকে তাড়াব। কিন্তু
যদি ওরা না এলে হরবাবু ও না আসে ? তা হলে
তাে সব মতলব মাটী হবে। না-তা হবে না, হরকালী
বাবুর মেয়েমানুষ চাই, মেয়েমানুষ না হলে ও
একদণ্ড থাকতে পাৰ্ব্বে না—এটী আমি নিশ্চয়
জানি। আমায় ত্যাগ কৰ্ত্তে গোলকাও বোধ হয়
পরামর্শ দেবে না, আমি জানি হর বাবুর যাতে
ঝোক পড়ে, গােলক তাতে বারণ করে না—তবে টাকা
খরচের সময় দেখিচি বাধা দেয় ; তা, ভাববে
আমাকে ২৪ টাকা করে দিলেই হবে, এই ভেবে
নিষ্টিবিষ নিরস্ত হতে পারে। যাই হােক, এমনও তো
কিছু হ’ল না, দেখি এক খেল খেলে, না হয় নেই
নেই। ওরা দূর হলে হর বাবু একা হলে সব ঠিক করে
নিতে পাৰ্বে। হর বাবুকে একা সন্ধ্যাবেলা অতে
বলিচি-একা কি আসবে না ? এলেও পারে। ঐ যে
নাম কৰ্ত্তে কৰ্ত্তে।
হরকালী
বাবুর প্রবেশ।
হর। ভামিনি! আমার উপর আজ এমন নিষ্ঠর আজ্ঞা
হ’ল কেন ? গুরুদেবকে আনতে পাৰ্ব্বো না-
মহেশকে আন্‌তে পাৰ্ব্বো না-এরূপ আজ্ঞার কারণ
কি ? প্রাণেশ্বরি! তুমি বিশেষ করে একা আসতে
বলেছ,একা না এলে পাছে রাগ কর, সেই ভয়েতে
তাদের না বলে নিজে চলে এলেম । কিন্তু তাতে

৬৪
জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
অামার সুখ হচ্ছে না। গুরুদেব বিন আমি একদ
থাকতে পারিনে।
ভামি। হরকালী বাবু! আমি জানি তুমি লেখা পড়া জান,
তোমার দিব্যজ্ঞানও আছে। মদ খাও বলে তুমি
অজ্ঞান নও। কেন একা অতে বলিচি, তার অনেক
কারণ আছে। শােন, যদিও আমি বেশ্যা হইচি, আমার
ধৰ্ম্মে জলাঞ্জলি দিয়ে যদিও আমি নীচ কাজে রত
রইচি, কিন্তু তাতে তুমি আমায় ঘৃণা করো না। আমি
বেশ্যা, কিন্তু আমার অন্তঃকরণ বেশ্যার ব্যবহারে
বড় নারাজ। আমি এখন জ্ঞান পেয়েছি, তাই
তােমাকে রােজ বলি বলি করি, কিন্তু বলার ফাক
পাইনে—তাই একা আতে বলিচি। হরকালী বাবু,
প্রণয় এক জনের সঙ্গে হতে পারে, দশ জনের সহিত
ভালবাসা হয় না—তা তুমি জান। আমি কি বলবো
তােমাকে প্রথম দিন দেখে অবধি আমি আপন হারা
হইচি, আমি আর অন্য পুরুষের সহিত আলাপ পর্যন্ত
কর্তে ইচ্ছা করিনে তােমার ঐ
সুন্দর রূপ আমায়
পাগল করেছে। আমার গোলক মহেশের দিগে
তাকাতে ঘৃণা করে, বল দেখি আমি কি করে ওদের
সহিত ইয়ারকি দিই? তুমি আমাকে কিছু দিও না,
আমি তােমার কাছে একটা পয়সারও প্রয়াসী নই।
তুমি সর্বদা আমার চ’কের উপর থাক, আমি সর্বদা
তোমায় দেখি, এই আমার বাসনা।
হর। কেন ভামিনি, গােলক মহেশ তো আমার পর নয়,

জন্ম-এয়ােস্ত্রী। ৬৫ আমিও যে-ওঁরাও তাই-একপ্রাণ একমন। আমার বউকে পর্যন্ত এ কথা বলছি। আমি। আচ্ছা, তােমার বউকে যে ওদের কাছে নিয়ে গিয়ে এত ঢলাঢলি ক'লে, তাতে তােমার লজ্জা হ’ল না ? হরবাবু! তুমি আমায় যাই ভাব, কিন্তু আমি তােমার হিতের জন্যই বেড়াই। শােন, গোলকের মতলবে ফির না, ও বড় ভয়ঙ্কর লােক। তোমায় কতবার বলি চি, এখনও বলছি, ওকে তুমি ত্যাগ তোমার স্ত্রীর উপর ওর ভারি ঝোঁক—এতে। তুমি চ’কের উপর দেখছ, তবু ওর মতলব বুঝতে পার না? হর। ভামিনি! তোমার পায় পড়ি, তুমি গুরুদেবের নিন্দে ক’র না। আচ্ছা ব’স, আমি এখনি আছি। সহসা প্রস্থান। - ভামি। হরিবোল হরি! ভাবলেম এক, হ’ল আর এক। মনে কলুম ওর স্ত্রীকে নিয়ে যে কেলেঙ্কারীটে হ’ল, সেটা বুঝিয়ে বল্পে গোলকের উপর চটতে পারে ; কিন্তু কিছুই হল না। কি করি, টাকার বড় দর- কার—টাকা! টাকা! টাকা। যে উপায়ে পারি টাকা, হাত কৰ্ত্তে হবে। প্রাণপণ কৰ্বো, তবু লোভ ছাড়ব না। টাকার বড় দরকার! টাকায় সুখ, টাকায় স্বস্তি, টাকার বড় দরকার। কিন্তু কি করে নেব, কে এমন সুপরামর্শ দেবে-কে টাকা নেওয়ার কৌশল

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
শিখিয়ে দেবে কার কাছে যাই! টাকার লোভ
ছাড়তে পাব্বো না। গোলক ! তুই এখনিই মর!
এখনিই মর! (দন্ত কিড়মিড় পূৰ্ব্বক আঙ্গুল মকান)
ওরে, তুই তো আমার আশা ভাসিয়ে দিলি। যাই
দিদির কাছে যাই ; দিদি ! দিদি ! তোমার কাঙ্গা-
লিনী বােকে বঁাচা ও-মন্ত্র বলে দেও। টাকা,
টাকা, টাকা !
প্রস্থান ।
ন
দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক।
গোলক বাবুর বৈঠকখানা।
মহেশের প্রবেশ।
খুন ! কাজটা যেন, নেহাত অন্যায় হয়। আমি
যে আমি, আমার ও প্রাণটা যেন এক একবার কেঁদে
কেঁদে উঠছে। বেচারি নিরেট ভাল মানুষ, এ কাজটা
না। কল্লে হত। গুরুদেবের ইচ্ছা হয় হয়ে যাক্।
নিষ্কণ্টকে রাজ্য ভােগ! ভামিনীর অহঙ্কারটাও ঘুচে
যায়, আমারও হাড় জুড়ােয়। গুরুদেব বড় কে ও
লােকটা নন, ভাল না হলে, আমাদের জয় জয় কার
না হলে তিনি কি আর এ কাজ করেন।

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
গোলকের প্রবেশ।
গল। মহেশ, সব যােগাড় হয়েছে ?
সব প্রস্তুত। শ্যামপিন দুটো, হাঁসের ডিম ভাজা,
আর ঐ ছুরী-বেবাক যােগাড় ; এখন খােল কাটলে
হয়। আজ যেন আগে মদ খেয়ে বেহেড় হবেন না !
গোল। বেহেড় ? হা মহেশ! বেহেড হব ? এত মদ খাই,
আমাকে কি কখন বেহেড, হ’তে দেখেছ মহেশ ?
আমি বেহেড, হলে কি রক্ষা খাতো--তাহলে
কি এত দিন ওর একটি পয়সাও থাকতাে ? তাহলে
এত দিন ভামিনীর মনােরথ পরিপূর্ণ হ’ত-রাজ
রাজেশ্বরী হয়ে বসে থাকতে পাৰ্ত। মহেশ ! আমি
আশ্চৰ্য্য মাতাল, আবহ্ম স্তম্ভ পৰ্যন্ত মদ খেয়েও অটল
থাকি, কিছুমাত্র নেশা হয়না। লোকে বলে মদ খেলে
জ্ঞান থাকেনা, বুদ্ধি একেবারে খেলেন, এসমস্তই
ভুল কথা। তার সাক্ষি দেখনা কেন, এত মদ খাই,
কিন্তু এক দিনের জন্যেও আমার উন্মত্ততা জানতে
পেরেছ কি ? ইয়ারকি দি, হাসি খেলি, কিন্তু নিজের
কাজ একদণ্ডের জন্যও ভুলিনি। আমার গোড়া থেকে
মতলবই এই—ওকে ওর দাদার সহিত ভিন্নকরিয়ে
মদ খাওয়াতে শেখাব, বেশ কয়ে শিক্ষা দিয়ে পরি-
শেষে যখন সময় হবে, তখন মেরে ফেলে সমস্ত
টাকাগুলি হত কৰ্ব্বো।
| মহে। আচ্ছা, আপনার একটুও মায়া হচ্চেনা ?

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
গোল। মায়া ? আমার আবার মায়া ! মায়া মােহ কিছু
জানিনে মহেশ। আমার মায়া মদে; মদ আমার
সাক্ষাৎ স্বর্গ সাক্ষাৎ মুর্তিমান দেবতা! কাজ হাসিল
অনেক দিন কৰ্ত্তেম, কিন্তু কেবল এক প্রতিবন্ধকে
এত দিন পেরে উঠিনি; এখন সে অংশা দূর হয়েছে,
সে সুখ সমূলে সংহার হয়েছে। মহেশ ! এমনি
কৌশল করেছি ম; যখন যা বলিছি তাই করেছে ।
সংকল্প প্রায় সকলই সিদ্ধি হয়েছে, একটি বাসনা
কেবল অপূর্ণ—কেবল একটি মর্মান্তিক ক্ষোভ রইল,
সেই ক্ষোভটিই প্রধান, সেই ইচ্ছাটিই জীবনের একমাত্র
সুখকর--জ্ঞানদা! এত কল, এত কৌশল করে ও
জ্ঞানদাকে লাভ কৰ্তে পাল্লেমনা। যক, মানষের
সকল আশা মেটেনা, সকল দুঃখ ঘােচনা। তার
আর কি কৰ্ব্বো বল । মহেশ, অনেক বেশ্যা দেখেছি,
অনেক, কুলকামিনী চ’কে পড়েছে, কিন্তু ভাই
জ্ঞানদার মত সুন্দরী রমণী আমি কখন দেখিনি।
কিকরেই মুখের গ্রাটি কেড়ে নিলে।
হর বাবুকে, আচ্ছা জাদু করেছেন কিন্তু। সে দিন বলে,
“গুরুদেব, আপনি যদি বারণ করেন তবে আমিও
ভামিনীকে ত্যাগ করি।”
গােল। ভামিনীর গুমাের কেবল কঁাকা আওয়াজ। বিটীকি
অত্যাচারই যে আমাদের উপরকরেছে তার সীমানেই।
ভাবলে আমাদের তাড়িয়ে দিলে হরকালী ওর বশ
হবে--পয়সা সবনিতে পাঝে, সেই জন্যে নানা উপদ্রব

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
করে তোমায় আমায় শীব্র শীঘ্র তাড়ালে। আরে
তাওকি হয় ? হয়কালীকে গোলক যে একেবারে
মন্ত্রমুগ্ধ করেছে---তারকি।
সংহে। শালী ভারি নেমকহারাম। গুরুদেব ! ওকে কিনা
দিইচি, ওর জন্যে কিনা করিচি। একবারও
ভাবলে না, শেষে ঝাটা নাতি মেরে তাড়িয়ে দিলে
পয়সা নেই বলে, এতদূর কল্লে, একটু চক্ষু লজ্জাও
কল্লেনা।
গোল। দুর্গাবল। বেশ্যার অাবার চক্ষু লজ্জা! মদই সার
বাবা।
মহে। আচ্ছ। গুরুদেব! হয় বাবুকে মেয়ে, বেশী কি লাভ
হবে ?
গোল। নিষ্কণ্টকে রাজ্যভােগ ! নিষ্কণ্টকে মদের আড্ডা।
মহে। না মালে কন্টকই বা কি ?
গাল। মহেশ ! তুমি আমার বাল্যবন্ধু, তােমার সহিত
অামার অন্তরে অন্তরে এক মিল। মনের কথা বৱা-
বর সবই বলে আসছি, আজ অার নূতন করে কিছু
বােঝাবার সময় নেই। মনে কর, না মাল্লে টাকা-
গুলি কি আমার হবে ? টাকার আমার বড় দরকার।
প্রত্যহ মদ চাই ; আমার পুজিপাটা য!’ ছিল, সবই
ঘুচে গিয়েছে। এই বয়েসে মদের জন্যে শেষে কার
কাছে গে ভিক্ষা কর্পো? যদি বল, যা বলছি সবই
তো হচ্ছে, কিন্তু মানুষের মন-চিরদিনই কি সমান
কে রে ? অবার ওর মন ফিৰ্তে কতক্ষণ? সে সব তর্ক

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
এখন থাক--আমি অনেক বুঝেই একাজ কচ্চি।
না মালে নিষ্কণ্টক হব না, টাকাও হাত কর্তে পারবে।
না। একথা আমার প্রথম সংস্কার, এযুক্তি আমার
গোড়ায় অটিনি-এর অন্যথা হবে না। শােন এক
কথা বলি, তুমি খুন করেই সা করে আমার কাছ
থেকে চাবি নিয়ে-বরাবর ওর বাড়ী যাবে, গিয়ে
টাকাগুলি সিন্ধুক থেকে সমস্ত বার করে নিয়ে শীঘ্র
ফিরে আসবে। আমি ততক্ষণ লাশ নিয়ে বসে
থাকব, তুমি এলে, এই রাত্রেই লাশ নিয়ে ভামি-
নীর ঘরের দাওয়ার উপর ফেলে রেখে আবো;
প্রভাতে আমাদের কেউ শােভে কৰ্তে পারবে না।
আমরা হরকালীকে মেরেছি, কে বিশ্বাস কৰ্ব্বে ?
সহে। ভামিনী যদি টের পায় ?
গােল। আরে পাগল! “আটে কাটে দড়, তবে ঘোড়ার উপর
চড়।” সে সব ঠিক না করে কি আজ এই কাজে
অনি অগ্রসর হলেম ? ভামিনী আজ বাড়ী নেই,
তার দিদির বাড়ী গিয়েছে—ঘরে আ’জ চাৰি বন্ধু।
শই। তা হলে ঠিক হয়েছে। আচ্ছা, আমাদের তো কেউ
শােভে কৰ্ব্বে না সত্য, কিন্তু যখন টাকার তদন্ত হবে,
তখন কি কৰ্বেন ?
গোল। আমরা ব'বো, টাকা হরকালী নিজেই খরচ কৰ্ত্ত,
টাকা ওর আছে কি না আমরা কি জানি। উজন
ভামিনীর ঘাড়ে চাপ দেব, বলবো ভামিনী জানে।
লোকেও সহজে বিশ্বাস করবে।

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
মছে। ছুরী কি বুকে বসাব ? তা না করে আপনি একটা
গুড়াের কথা। সে দিন বলছিলেন, তাই কেন মদের
সঙ্গে মিশিয়ে দিন না।
গল। আহ, তা হলে তো বড় ভাই হত ; কিন্তু সদ।
নাউ কুমড়ো ফলান, হটাৎ তা আজ যােগাড় হ'য়ে
উঠলো না। আজ তো নিকেশ করার কথা নয়,
কেবল ভামিনী আজ বাড়ী নেই বলেই মত করা
তা না, একটা পুর শ্যামপী খাওয়ালে
ঘোর নেশা হবে, সেই অবকাশেই। আর শােন.
আমিত খাবই না -তোমাকে খেতে বল্লে খেয়ো না
ব’ল, দিনমানে অনেক থেইচি এখন অায় গায়ি
নে। কি জানি, ডেমাের নেশা টেশা হয়ে পড়লে
বড় গোলযোগ হবে। মহেশ। দুই জনে আমার
বাড়ী অভিড়। গাড়বো, এতদিন আমরা বেঁচে থাকবে।
কেবল মদ-কেবল মদ ; বেশ্যা টে। 'অর নয়।
ঐ অাসছে বুঝি!--
হৱকালীয় প্রবেশ ।
.
গুরুদেব, সৰ্ব্বনাশ হয়েছে, ভামিনী আমার ।
টাকা নিয়ে চম্পট দিখেছে ।
গল। কি বলে -কি বলে ? হাজার টাকা নিয়ে চম্পটু
দিয়েছে ? হাজার টাকা! কেন ? কেন ? তাহ
টাকা সে পেলে কি করে ? হাজার টাকা।
হ'র। গুরুদেব, 'তুমি অন্তর্যামী ভগবান! তােমাকে না বক্ষে
?

१२
জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
যেমন আমি তার কাছে রেখেছিলেম তেমনি ফল
পেইচি।
গোল। হাজার টাকা! কেন, তার কাছে রেখেছিলে কেন?
আর সিন্ধুকের ঢাবি তাে আমার কাছে থাকে, তবে
সে টাকা পেলেই বা কি করে ?
হর। ওগো, রায় মশাই যে কাল রাত্রে সেই টাকা গুলি
দিয়েছিলেন। আমি রাত্রে আর এখানে আপনার
কাছে না রেখে,
ভামিনীর কাছে রেখেছিলেম,
সকালে অাতে মনে হয় নাই। ভেবেছিলেম দুপুর
বেলা গে নিয়ে আবাে। দুপুর বেলা গে ওখানে
শুলেম, সে তার দিদির বাড়ী গিয়েছে। এখন
কেশব বল্লে তার দিদির বাড়ী সে নেই ; নাকি চম্পট
দিয়েছে।
গেল। (স্বগত) “কর শ্রাদ্ধ কে করে, খেলা কেটে বাম ন
মরে।” আহা! কি সব্বনাশই হ'ল! ও টাকাটার
কথা যে আমার আদৌ মনে ছিল না --তা হলে কি
হাত থেকে যায় । আমি আমায় ঠকিয়ে গেল হ্যা।
বাক, তারও কিছু হ'ল। ( প্রকাশ্যে ) যাক, তা আর
ভেবে কি হবে। এদিকে আজ খুব যোগাড়, খুব
আমোদ কর । ও শালীকে চিরকালই জানি। তবে
তোমার ঝোক পড়ল, কাজেই চুপ করে রইলেন -
বারণ কল্লেম না ।
হর। ছেড়ে দিন ওকথা। আজ কি এত যোগাড় ?
গােল! আজ খুব যােগাড়। সন্ধ্যাকালে বড় ইচ্ছ। হ’ল
।

জন্ম-এয়ােস্ত্রী। ৪টা শ্যামূপিন, আলেম, যােগাড় করে হাঁসের ডিম আলেম, তুমি না আসতে আতে দুটো আমরা দুই জনে নিকেশ করছি; রাগ করনা-আজ আর দেরি সইল না-বলবতী পিপাসা। ভেরি গুড, কাজ করেছেন। রাগ কি। হাসের ডিম ভাজা চাট ?—আজতো ঘুম হবে না--সমস্ত রাত পাঁচ শে আমোদ করা যাক। কই মহেশ ! দেখ একবার শ্যাম্পী। ( মহেশের হরকালীকে বােতল ও হসডিম্ব প্রদান ) গুরুদেব! ধরুন। গেল। না, আমি আর না। অনেক হয়েছে। প্রসাদী করে দিন, সংশোধন করুন, এক গ্লাস খান। গল। অবশ্য ( মনে মনে মন্ত্র পাঠ করণানন্তর গ্লাসে মদ ঢালিয়া এক গ্লাস মদ্য পান)। হর! মহেশ ! ধর এক গ্লাস। {{ল। না, ওকে আর দিও না। বেশী খেলে হেগে মুতে মর্বে। হয়। গুরুদেব! তবে বােতলে চুমুক মারি, গ্লাসে আর দর- কার নেই একটাই সাবাড় করি। গেল। তা, হলে বড় সন্তুষ্ট হই । একটাই সাবাড় করে । যে অজ্ঞে। ( বােতলে চুমুক দিয়া মদ্যপান)। গােল। ভেরি গুড, ভেরি গুড! ( মহেশের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ)।

৭৪
জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
গুরুদেব গান ধরি না কেন ?
গোল। অবশ্য।
(হর কর্তৃক গীত)
ভজ সুদ্ধ সুরাদেবী যদি স্বর্গ পাবে হাতে।
ভজিলে ছাই তব পড়িবে ভােজন পাতে।
মদ মাংস আদি যত, খাও সবে অবিরত,
নারীপ্রেমে হও রত, এই উক্তি তন্ত্র মতেতে।
( গীত সমাপ্তে নৃত্য করণ।)
মহে। ( মৃদুস্বরে ) গুরুদেব, ধরেছে।
গােল। ( মৃদুস্বরে ) ধৰ্বেন—একটা শ্যামপী সহজ কথা?
মহে। ( মৃদুস্বরে) এত শীগগির ধল্লা ?
গােল। ( মৃদুস্বরে ) আর দেরি কেন ? লাগাও।
মহে। ( মৃদুস্বরে) আর একটু দেরি ।
গোল। ( মৃদুস্বরে) আবার দেরি কেন? ঠিক্ হয়েছে,
দেখছােনা নাচবের ঘটা !
নহে।
( মৃদুস্বরে) তবে উঠি।
( মহেশ কর্তৃক সবলে হরকালীকে ভূতলে ফেলিয়া
বক্ষে ছুরীকাঘাৎ ও হরকালীর বক্ষঃ হইতে প্রবল
বেগে শােণিত
বিনির্গত।)
মহে। ও-হ-কি কল্লেম ! ও গােলক কি কলি ?
গেল। চুপকার, ব্যস্ত হয়ােনা; এখনও মরেনি।
মহে। -হে- হো-কি কল্লেম। সমস্ত দেহ রক্তে প্লাবিত
(প্রস্থানেদাত)

জন্ম-এয়ােস্ত্রী। ৭৫ গেল। ওকি ? কোথায় যাও? এরকম কচকেন ? (সম্মুখ অবরোধ ) ও হে --হে, দেহ রক্তে প্লাবিত ! পিশাচ! গোলকে ঠেলিয়া ফেলিয়া বেগে প্রস্থান। গোল। ( উচ্চৈঃস্বরে ) কোথায় যাও? একি হল! বেগে প্রস্থান। হর। (চক্ষুরুন্মীলন করতঃ) পালালে? নরাধমের। পালালে । ধৰ্তে পাব্বেনা ! প্রায়শ্চিত্ত্ব হবে না !-উঃ!-কি অভাবনীয় কল্পনা ! কুটীলের কি অদ্ভুত কুচক্র ! কি ভীষণ ব্যাপার। এতে। এক দিনও ভাবিনি। ও- এখন যে সব মনে হ’ল! জন্মে যা যা করিচি, এই পাপ শরীরে পশুর অধম হয়ে যা যা করিচি এখন যে সব মনে হল ! এ পবিত্র জ্ঞান এত দিন কোথায় ছিল । এখন কেন হ’ল - এখন হ'ল ! মদের পরিণাম দেখবে : জন্য! মদের ভবিষ্যৎ ফল জানবের জন্যে? কিন্তু বৃথা! বৃথা ! এখন জেনে আর কি হবে। উঃ! এতে একদিনও ভাবিনি। ভাবিনি বলছি! কি ভেবেছি। কি কাজ ভেবে করেছি। পশু পক্ষী ও একটা ভেবেকাজ করে- কিন্তু আমি এমনি অধম যে এই পূণ্যময় সংসারে এসে কোন কাজ কর্তেই ভাবিনি! সব পাপ সহ্য হবে, সবপাপ বহন কৰ্ব্বো। কিন্তু একটি কাজ। একটি পাপ! না না মনে কর্তে পাল্লেম না। দয়াময় - জন্ম-এয়ােস্ত্রী। হর! স্মৃতিনাশ কর, প্রাণ বায়ু নির্গত কর। আমি পাব্বো না, আমি সে পাপ-সে কাজ মনে কণ্ঠে পারবো না। না না জগদীশ্বর ! একবার নামটি মনে করে দাও; পাপেরমুখে, মদের মুখে, একবার সতীর- একবার পতি প্রাণার নামটি ম করে দাও। মুখ পবিত্র করি --পাপ অবসান করি। {নটি কি-জ্ঞানদা! আঃ! তৃপ্ত হলে, সহস্র বৃশ্চিকের দংশন হতে অনেক রক্ষপেলেম । এখন মৃত্যুকালে একবার সেই নাম জপ করি ; পাপদূরে যাবে, নরক যন্ত্রণা তিরােহিত হবে। জ্ঞানদা! অধম পতির অপরাধ কি মার্জনা কৰ্ব্বে না? নানা সাত ! তুমি আর আমার দিকে ফির না। অাবার মনে হল--- আবার যন্ত্রণা বাড়লো। ওরে পাষণ্ড হরকলি ! সতী সহধর্মিণীর উপর এই উপদ্রব। সতীকে মাতাল সভায় আনয়ন ! পতিকর্তৃক পতির পাষণ্ড ইয়ার কর্তৃক সতীকে মদ খেতে অনুমতি ! আরও আছে--আর বলতে পারিনে। হায় হায়, সেই হতেই বঞ্চিত, সেইদিন হতেই একেবারে এজীবনের মত বঞ্চিত হইছি। সেইদিন হতেই প্রিয়ে, তুমি আমায় ত্যাগ করেছ, সেইদিন হতেই তােমার পবিত্র চক্ষু এ নরাধমের উপর আর পতিত হইনি। প্রিয়ে, একবার এস, এক বার সম্মুখে দাড়াও। অামার প্রাণের জন্ম এয়োয়ি। প্রসন্না হও, আমায় পরকালে অব্যাহ: : .. ", আর হ’লন--না জ প আর কৰ্ত্তে : : প্রাণ অবসাদ-দেহ কম্পিত জন্ম-এয়ােস্ত্রী। ৭৭ চক্ষুঃ অন্ধকার—আর না। কষ্টে সৃষ্ট আর দুটি নাম করি—দাদা আর বড় বউ। দাদা বড় যত্নে মানুষ করেছিলে, বড় ভাল বাসতে, কি আমি তার সমুচিত প্রতিফুল তােমায় দিইচি। বড় বউ! আমার পূজ- নীয় হিতৈষিণী মাতৃদেবি! একবার সেই রকম ক'রে, সেই আদরমাখা স্বরে একবার আমায় হর বলে ডাক। বড় বউ! একটী আবদার,—মৃত্যুকালে, অন্তিমকালে তােমার হরর এক টী অবদার শোন--তােমার জন্ম- এয়ােস্ত্রীকে দেখাে, চিরদিন তা েরক্ষা করেছ—স্নেহ- ভরে রেখেছ, এখনও সেই স্নেহে, সেই যত্নে তাকে রক্ষা কর । জগদীশ্বর ! আমি পাপী, আমার প্রার্থনা তােমার কাছে অগ্রাহ্য-কিন্তু দেব ! এই অধমের একটা কথা শোন---যেন নরে’ আর মদ খায় না। এমন সর্বনেশে নেশায় উন্মত্ত হয়ে অভাগ্য মানবগণ, যেন সকল কাজ ভুলে যায় না, সকল সুখ নষ্ট করে । না, আর পারিনে, একটু জল -একটু জল কে দেবে ? --পাপীর কথা কে শুনবে ? পাষণ্ড গােল ক- মহেশ ! কি অপরাধে খুন- জল --জল- জ্ঞানদা- ----জন্ম-এয়ােস্ত্রি ! ( মৃত্যু ) উন্মাদ বেশে মহেশের প্রবেশ । মহে। উঃ ! দেহ রক্তে প্লাবিত। যা চন্দ্র অস্তে গেছে- ভামিনীর দেহ রক্তে প্লাবিত !-আমার প্রাণের

৭৮
জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
গোপালের এমন দশা ! ছি, ছি, ধূলায় শয়ন, মুদে
নয়ন, রক্ত পড়ে গায়, মুখ দেখে, বুক ফাটে কোথা
বাব হায়। দেহ রক্তে প্লাবিত, রক্তের স্রোত, রক্তের
নদি ! গােলক, নৌকা নিয়ে আয়, হাল ধর, মহেশ,
দাড় টান্।
( হরকালীর মৃত দেহের নিকট উপবিষ্ট হইয়া
তদীয় মস্তক স্বীয় ক্রোড়ে রক্ষা করণ )
গােলকের প্রবেশ।
গােল। মহেশ ! এসেছ ? আমি তােমায় ব্রহ্মাও খুজে
এলেম। যাও, ওঠ। রাত্রি যে প্রায় প্রভাত হয়।
মহে। দেহ রক্তে প্লাবিত কুকুর ভেসে যায়,
কি কাণ্ড কল্লি গোঁসাই মাল্লি এক ঘায় ।
গােল। ওকি মহেশ ? ওঠ।
",
মহেকেমন দেখ, চাদের আলােয়, ভানুমতীর বাজি।
দেহ রক্তে প্লাবিত কল্লে মহেশ পাজি।
দেখে পায় হাসি হাসি হাসি।
( বিকট হাস্য)
গেল । ও মহেশ ! একি ? পাগল হলে নাকি ?
মহে। মনে যার লাগে ব্যথা,
সে শােনে কি পরের কথা ?
ওঠ আমার প্রাণের গােপাল !
(মৃত দেহ চুম্বন)

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
৩৯
গোল। উঃ! মহেশও পাগল ! কিন্তু পাগল হয়েও মহেশের
উদার হৃদয়ের পয়িচয়ও দিচ্ছে। আমি কি কচি
কিছুই না। আমার যে চারি পাদ পূর্ণ ! মহেশও
পাগল! গােলকের কি হবে? উঃ-( উচ্চৈঃস্বরে )
খুন-খুন, হরকীকে খুন করিচি। তােমরা এস,
তােমরা যে যেখানে থাক, এসে গ্রেপ্তার কর-খুনে
আসামীকে, খাঁধ। পুলি! পুলিস! কি! ইংরাজ
রাজত্বে পুলিস্ নেই!
বেগে প্রস্থান।
বেগে জ্ঞান ও তংপশ্চাৎ যশীর প্রবেশ।
জ্ঞান। ওরে যা’ ভেবেছি তাই রে ।
যা শুনলে .
তাই রে !
( মূচ্ছিত হইয়া ভূতলে পতন )
যশী। ওমা! একি কাণ্ড, রক্তের যে নদী হয়েছে।
বেগে অরবিন্দ বাবু ও তৎপশ্চানিতম্বিনীর।
প্রবেশ।
যশী। ও বড় কাকা! সর্বনাশ হয়েছে।
একি ? কে এমন কল্পে ! আহা! আমি যে দেখতে
পারিনে ! বুক যে ফেটে গেল।
( হরকালীর মৃতদেহের নিকট উপবিষ্ট।)
যশি! বৌমাকে একটু দ্যাখ। মহেশ ! কে এমন
কাজ কলে ?

জন্ম-এয়োস্ত্রী।
নহে। চন্দ্র সূৰ্য্য দিবারাত্র সাক্ষি আছে।
ভামিনীর মায়া গেল সব নিরাকার ৷
অর! ওকি মহেশ ? তােমার কথার যে কোন অর্থ পাইনে ?
শীঘ্র বল, কে এমন কাজ কলে, কার ঘাড়ে সাতটা
মাথা ?
মহে। নিরুত্তরে হেসে হেসে প্রাণফেটে যায়।
কুরুক্ষেত্রের অভিমন্যু মল রণে হায় ।
( বিকট হাস্য ও উঠিয়া একটী লম্ফ দিয়া।
পুনরায় পূৰ্ব্ব ভাবে অবস্থিতি।
অর। একি ?–মহেশও পাগল নাকি? আরে কিছুই যে
বুঝতে পাচ্ছিনে। কাকেইবা জিজ্ঞাসা করি। ভাই
প্রাণাধিক্ ! আজ এ ভাবে শয়ন কেন ? হরকালীরে
আজ আমার সমস্ত দুঃখ উথলে উঠলাে। ভাই
একবার ওঠ। আমি তােমায় কিছু বলবো না-
একেবার ওঠ। ও ভাই, কালও যে এতক্ষণ কত
আমােদ করেছ ; আজ ভাই, কি অভিমানে, কি দুঃখে
সব বিসর্জন দিয়ে চলে গেলে ? হরকলি ! আমার
প্রাণের সহােদর ! একবার কথা কও। ভাই কেন
অভিমান ? কেন আমার উপর রাগ করে নীরবে
রয়েছ ? ওঠ। আমি কিছু বলবো না--তােমার
যা ইচ্ছা হয় কর।
ভূজবদ্ধ গোলকে লইয়া কনষ্টেবল ও
হেড কনষ্টেবলের প্রবেশ।
অব। একি ? গোলক বাবু, এ সব কি কাণ্ড ?
;
।

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
গাল । কি কাণ্ড জাননা বড় বাবু ? ও সব মাতালের
মাতলাম, পাপীর পাপাচার, নারকীর অনাচার,
চোরের চৌর্য, শঠের শঠতা, ধূৰ্তের, ধূর্ততা, ইতরের
ইরম, কি কাও জাননা অরবিন্দ রাবু ?
অর। গােলক বাবু, কে এমন কাজ কর্লে, কোন নরাধম
আমার সর্বনাশ কল্লে ?
গোল। কে কল্লে ? আমি করিচি, টাকার লােভে আমি
খুন করিচি; আমিই তােমার সর্বনাশ করিচি। তো-
মার সোনার সংসার ধর্মের সংসার আমিই ছারখার
দিইছি। আমার কত লােভ ছিল, তা আর বল বাে
না-~-অন্তিম সময়ে সে পাপ লােভের কথা আর
বলবাে না। কই? কই আমার মা কৈ ? সতী
কুলেশ্বরী জ্ঞানদা কই ? এই যে, এই মাত্র মাকে
এখানে দেখলেম। মা মা গো! ওমা একবার প্রসন্ন
হও। সতি! আমায় পরকালে অব্যহতি দেও।
র। তুমি খুন কয়েছ, গোলক ? এখন অনুতাপ কচ্চো ?
তুই নররূপী কে? পিশাচ ! না, তার ও অধম, অধমের
অধম। ওরে কত! ওরে বিশ্বাসৰাতক মাতাল ।
তুই খুন করিছিস? পাজি অকৃতজ্ঞ ।
শশী। ওমা, তােমার এই কাজ কাকা? ওমা আমি কোথায়
যাব।
গল। বড় বাবু। গাল দিলে কি হবে ? মার, দগ্ধে মার;
যা’তে পার আমায় নিকেশ কর। (রোদন) আনি
আর সইতে পারিনে, পাপতার অাৰ বইতে পারিনে।
!

৮২
জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
।
প্রণের বন্ধো স্বর্গগত হরকালি আমি তােমার
গুরুদেব, আমি তোমার একমাত্র অকৃত্রিম উপকারী
মিত্র ! দেখেছ কেমন উপকারী! দেখলে, আমি
আমি কেমন তোমার অকপট সুহৃৎ ! বড় বাবু!
একবার আমার কোলে দিন, একবার ঐ মহদুপকারী
মহাত্মার সরল দেহ আলিঙ্গন করি ; যন্ত্রণা দূরে যাক,
পাপজ্বালা কমে যাক্।
অর। যশি, তুমি আর নিতম্বিনী বৌমাকে নিয়ে যাও, মূচ্ছ।
তাে এখনও ভাংল না।
বশী। আর সর্বনাশ হ’ল মামা!
মূচ্ছিতা জ্ঞানদাকে লইয়া যশী ও
নিতম্বিনীর প্রস্থান।
কন। (গােলকের প্রতি) বলি, মালে কে? তুমি, না ঐ
পাগলাটা? (মহেশকে নির্দেশ )
গোল। আমি বলিছি, আমি মূল, আমার উপদেশ, আমিই
সব-তবে ছুরী মেরেছে ঐ পাগল।
হেড। সে সব এখন থাক। থানায় গিয়ে সব হবে। কনষ্টেবল ?
ঐ পাগলাকে বাধ।
উমাচরণের প্রবেশ।
উমা। একি কাণ্ড অরবিন্দ বাবু ?
জর। দাদা এসেছেন, আমার সর্বনাশ হয়েছে দাদা,
গোলক আমার সর্বনাশ করেছে দাদা।

জন্ম-এয়ােস্ত্রী। উমা। গোলক ? কেন ? কেন দাদা কি করে বলি বলুন মাতালের অনন্ত- লীলা কি করে বুঝি বলুন। সেই ঘটনা হয়ে গেলে, বিলাস বাবু বৌমাকে আমার বাড়ী রেখে গেলেন। ওরাও দেখি, হরকালীর বাড়ী ত্যাগ করে সকলে বৈঠকখানায় গিয়ে আডড গড়লাে। প্রত্যেহ রাত্রে বাড়ী থেকে ওদের চেঁচামিচি শুনতে পাই। আজ ভাের বেলা, বৌমা, বড় বোকে বল্লেন গেন কে বৈঠকখানায় কাছে। আমি বল্লম, ও সব কিছু না। মদের নেশায় মােহিত হয়ে মাতালের কখন কানে, কখন হাসে, কত রকম করে তার ঠিক নেই। বলতে বলতে শুনতে পেলেম কে চীৎকার করে বলে ঠিক স্বর বুঝতে পাল্লেম না--“হরকালীকে খুন করিচি।” এই মৰ্ম্মভেদী কথা শুনতে পেয়েই ছােট বোন। উন্মাদিনীর মত হয়ে ছুটে এলেন, আমি ও সঙ্গে সঙ্গে এসে দেখি, এই বিভ্রাট। উমা। উঃ ! পােলক! তুমিই ধন্য। { { জ্ঞান। বেগে জ্ঞানদা তৎপশ্চাৎ ঘশী ও নিতম্বিনীর প্রবেশ । দিদি, ছেড়ে দাও ঐ শুনছে না---নাথ আমি স ডাকছেন। শুধু ডাকা নয়, জন্ম এয়েস্ত্রী বলে ডাক, ছেন! আর কি থাকতে পারি। কতদিন ডাকিন-লি, কতদিন কথা কন নি।-এই নাথ, আমি এখনিই বা

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
তিলার্ধও দেরি করবো না। আমি সতী : ছি, ছি,
কি ঘৃণার কথা কি মিথ্যা কথা। আমি আবার সতী।
যে নারী পতিছেড়ে, পতির গৃহ ছেড়ে সুখন্বেষণ করে
সে আবার সতী! (মৃত দেহের নিকট বসিয়া )
ওঠ কান্ত! আমি কোথাও যাব না, আর তােমার
অবাধ্য হব না। ওঠ নাথ! ওঠ আমার প্রাণের
দেবতা! নাথ! তুমি সরল, অখল -আমি ঘোর
কুটীলা। তুমি স্বার্থ শূন্য, আমি স্বার্থের দাসী-আমায়
কেন তুমি দয়া কৰ্ব্বে ? কেন অনুগ্রহ কৰ্ব্বে ? কিন্তু
নাথ ! আমি যত অপরাধে অপরাধিনী হই-আমাকে
তুমি সঙ্গে করে লও। আমাকে নাথ, সেখানে যে,
তোমার প্রয়ােজন হবে। আবার যদি সেখানে এই
রকম কপটী কুটীল ধূর্ত মিত্র পাও, তবে কান্ত! তুমি
তাে চিন্তে পাৰ্বে না। আবার হয় তাে, তারা তােমার
ঐ রকম দশা কৰ্ব্বে-এম্নি নিদারুণ যন্ত্রণা দেবে।
তাই বলছি নাথ! আমাকে সঙ্গে লও, এই কুটীল।
প্রখরাকে সঙ্গে লও। কিন্তু তােমার আর কোন
উপকার হবে না, এই পাপিনীর দ্বারায় কোন স্বস্তি
হবে না—কেবল সরল, আর কুটীল ধূর্ত চিতে
পাৰ্বে। নেবে না নাথ! সঙ্গিনী কৰ্ব্বে না? হে
প্রভাে! সেই পূৰ্ব্বে, সেই নাথ সেই তোমার কামিনী-
কমনীয় ফুটন্ত মুখে তুমিও তো একদিন আমায় জন্ম,
এয়ােস্ত্রী বলে ডেকেছ। তবে কেন আজ সঙ্গে নিতে
বিমুখ হও? ( হঠাৎ উন্মাদিনী ভাবে দাড়াইয়া)

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
৮৫
!
, না, নৱক যন্ত্রণা! নরক যন্ত্রণা! পৃথিবী শূন্য!
ত্রিভুবন শূন্য! কেউ কোথাও নাই। (অরবিনের
প্রতি) নারায়ণ ঠাকুর! ওঠ, আমার প্রাণেশ্বরকে
ছেড়ে দেও। তােমার লজ্জাবতী লতা আজ লজ্জা
ভাসিয়ে দিয়েছে, তােমার লোভ হীনা লক্ষ্মী অাজ
অলক্ষ্মী হয়ে ডা’ হয়ে বসে সংসার গ্রাস কচ্চে। না,
না, যাই-যাই-কেন দেরি কৰ্ব্বো! এই যে—এই সে
নাথ ! ওগাে, আমি যে জন্মাএয়ােস্ত্রী
( কটিদেশ হইতে চুরীকা বাহির করতঃ বক্ষে আঘাৎ
পতন ও মৃত্যু।)
অর। (উচ্চৈঃস্বরে) ওরে কি হল ? ওরে আমি লক্ষ্মী
নারারণ বিসর্জন দিলেম। ওরে আমি একেবারে
ছারেখারে গেলেম! ও গোলক! ও মাতাল! 'ওরে
কি কল্লি ! ওরে মদের জন্যেই সব গেল ।
গােল। (উর্দ্ধমুখে) জয় জন্ম-এয়ােস্ত্রীর জয়! জয় আমার
মার জয়!
উমা। উঃ! মদের পরিণাম কি ভয়ানক।
হেড। অরবিন্দ বাবু! কান্না কাটন। সব রাখুন। পুলিস্
সম্মুখে আত্মহত্যা -বড় বিষম কেস ! কনষ্টেবল ?
একখান গাড়ি আন্-লাশ পুলিশে নিয়ে যেতে হবে।
কনস্টেবলের প্রস্থান ।
গােল। হা অরবিন্দ বাবু! আমি যে কাজ করিচি, তাই এ
রূপ দণ্ড পৃথিবীতেই নেই।-এখানে অধিক দণ্ড আর

জন্ম-এয়োস্ত্রী। কি হবে -ফঁাশ ? কিন্তু বড় বাবু! শত সহস্র শূল ফশ এর দণ্ড নয়। আমার পাপের সমুচিত সাজা, ঈশ্বর অদ্যাপি সৃষ্টি করেন নি। আমার জন্যে এই বার একটী নূতন দণ্ডের সৃষ্টি হবে। কিন্তু সে কিরূপ সাজা, তা আমার ক্ষুদ্র পশুবুদ্ধিতে আসে না। আমার মাথার, আমার সম্মুখে, আমার চতুর্দিকে অনন্ত নরক জ্বলছে, আমি সেই অনন্ত নরকের অনন্ত যন্ত্রণা অন- বরত উপভোগ কচ্চি। আমার কোন বাসনা নেই, আপনার নিকট কোন প্রার্থনা নেই। কেবল একটা প্রার্থনা রাখবেন-অভাগিনী পিতৃ মাতৃহীন নিত- ম্বিনীকে রক্ষা কৰ্বেন। তার পর পরলােকে তো সত্বরই যাব, সেখানে গিয়ে আমার প্রাণের প্রাণ, আমার একমাত্র অতৃপকারী পরম সুহৃং মহাত্মা হরকালী বাবু ও সাধ্বী যশস্বিনী মা জ্ঞানদার নিকট ক্ষমা চাব । তারা কি আমায় দয়া কৰ্ব্বেন না? তারা কি এই পরি- তাপপীড়িত অধম গােলকের উপর একটুও সদয় হবেন না ? না, না, তারা যাবেন কোথায় আর আমি যাব কোথায়। তাদের স্থান-শােকদুঃখ বিবর্জিত, পাপপরিশূন্য, আমােদ আনন্দ সম্পূরিত অপূৰ্ব্ব লােকে, আর আমার স্থান-জ্বালা, যন্ত্রণা, হিংসা, দ্বেষ, অনাচার, ব্যভিচার, হাহাকার, অত্যাচারময় লােকে। তঁারা থাকবেন কোথায়-আর আমি থাকবো কোথায়। হায় হায়, তবে কি করে আমার সঙ্গে দেখা হবে। আমি যে আর সহ করিতে পারিনে। '

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
৮৭
;
কখন প্রাণ বহির্গত হবে ; মদ্য-পরিপূর্ণ দেহ, মহা-
কলুষ সংবিশিষ্ট শরীর কখন শৃগাল কুকুরের ভক্ষ্য
হবে ! হে পতিতপাবন। এই মহাপতিত পাষণ্ডের
উপর দয়া কর । আরে, অধম ভ্রান্ত নর! মদ খেয়ে
, খেয়ো না, খেয়ো না। সাধ করে, ইচ্ছা করে,
পাপসমুদ্রে ডুব না। অতি অকিঞ্চিৎকর অসার সুখের
লােভে পড়ে, পৃথিবীয় সকল সুখ, সকল আনন্দ,
সকল কর্ম, সকল ধৰ্ম্ম অতল জলে ভাসিও না। মদে
কত পাপ, কত তাপ, কত জ্বালা, কত শোক, কত
অসুখ, কত অশান্তি তার একমাত্র জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হত
ভাগ্য হর কালী ঘােষ, গােলক চন্দ্র বসু আর মহেশ্চন্দ্র
মিত্র !
হেড,। চুপ কর, আর লেকচার দিতে হবে না।
কনস্টেবলের প্রবেশ।
কন। গাড়ি এসেছে।
হেড। (অরবিন্দের প্রতি ) সকলকেই থানায় যেতে হবে।
কনষ্টেবল! পাগলাকে এখনও বাধনি ?
( মহেশের প্রতি) আরে ওঠ
মহে। উঃ!-দেহ রক্তে প্লাবিত !
আরে ওঠ না—মেরে এখন দেহ রক্তে প্লাবিত কর্তে
লাগল।
( মহেশের হস্থবন্ধন )
গােল। (নিতম্বিনীর প্রতি) মা, চল্লেম।

৮৮
জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
নিত। (উচ্চতর রােদন করতঃ ) আমাদের ছেড়ে কোথায়
যাবে বাবা? আমি যেতে দেব না।
উমা। উঃ! মদের পরিণাম কি ভয়ানক।
হেড,। উঠুন গাে সব।
অর। (দীর্ঘনিঃশ্বাস ত্যাগ করতঃ ) না—আর দেরি কেন।
কালচক্র। তোমায় নমস্কার ।
দুইটি মৃতদেহ লইয়া অরবিন্দ ও উমা-
চরণের প্রস্থান, পশ্চাৎ গােলক ও
মহেশকে লইয়া হেড কনষ্টেবল ও
কনস্টেবলের প্রস্থান ।
নি। ( উচ্চৈঃস্বরে রোদন করিতে করিতে) ও বাবা, কোথায়
যা ও ?
বেগে প্রস্থান।
ও দিদি-তুই কোথায়-~-
বেগে প্রস্থান ।
(নেপথ্যে নারীকণ্ঠে রোদনধ্বনি)
বিষগ্নমনে অরবিন্দ বাবুর পুনঃ প্রবেশ।
অর। উঃ ?--বড় বউ, নিতম্বিনী আর যশীর দারুণ রোদনে
পৃথিবী যেন কঁপছে! না-না---পুলিসে আর যাব
না~-আর সে মৃত দেহ দুটি দেখতে পারিনে! কোথায়
যাই ? বাড়ী ও তিষ্ঠিবার যো নাই। ভাই আমার
সংসার শ্মশান করে গিয়েছে। না-না-কিছুই না।
--

জন্ম-এয়ােস্ত্রী। সংসারে কেহ কারু নয় ; সবই ছায়া বাজি—সবই মােহকী ভেল্কি ! কেবল পরিবর্তন, কেবল এই আছে এই নাই। সংসার একটি প্রশস্ত নাট্যশালা, মানবকুল তার অভিনেতা। কেহ রাজা সাজে কেহ ভিখারী সাজে। কেহ পণ্ডিত সেজে জ্ঞান প্রচার করে-কেহ মূখ সেজে তাই উৎকর্ণ হয়ে শােনে। ক্ষণপরে আর কিছুই নয় —মূহুৰ্ত্ত মধ্যে সব কোথায় চলে গেল ; কোথায় গেল সেই রাজা-আর কোথায় গেল সেই লােক-ঘৃণিত দীন দরিদ্র! আর কারও সাড়া শব্দ নেই--অস্তিত্ব পর্যন্ত একেবারে বিলােপ । হায়, হায়, এত দেখে ও মানব, জ্ঞান হয় না-এত দেখেও শিক্ষা পাও না? যদ মাৎস্য ছাড় না-- তেজঃ গৰ্ব্ব ত্যজ না--বিন্দুমাত্র ও ধৰ্ম্মকে ভাব না। অহে! সব সম্পূর্ণ হ’ল, আমোদ, আনন্দ, শোক, বিষাদ, শক্রতা, মিত্ৰতা সব সম্পূর্ণ। হতভাগ্য হর- কালী ঘোষের জীবন নাটকের শেষ অঙ্ক সম্পূর্ণ। অহহা, সংসারযাত্রা! কি অসার যাত্রা ! কি মহান অনিত্যতা!-(উদাসমনে পরিক্রমণ করিতে করিতে কি ভাবিয়ে ভ্রান্ত নর সংসার মায়ায়, মোহিত হইয়ে সবে কর্তব্য হারায়। কি ভাবিয়ে অজ্ঞানেরা মজে মহামােহে, জানেনা এভুবনে কেহ কার ও নহে।

জন্ম-এয়ােস্ত্রী।
মুদিত হইলে নেত্র সব অন্ধকার,
তবু নর কেন করে ‘আমার আমার।
মায়া-মােহ দু’টি যাহা দেখিছ ভুবনে,
মহাশত্রু হয় নরের এরা দুই জনে।
দূর কর দূর কর মায়া-মমহ জাল,
শীঘ্র সাজ দিগম্বর পর বাঘ ছাল ।
পূত কমণ্ডলু করে ধর ধর ধীর।
বিভূতি লেপন করি সাজাও শরীর।
দীর্ঘ জটা শিরে বাঁধি করহে প্রস্থান,
বম বম্ করে গাও পরমেশ গান।
অরণ্যে শৈলেতে আর ভীষণ প্রান্তরে,
বেড়াও ঈশ্বরে বাঁধি প্রেমভক্তি ডােরে।
অনিত্য সংসায়ে নর মজাইলে প্রাণ,
দেখিবে সকল দিকে বিকট শ্মশান।
সবিষাদে প্রস্থান ।
যুবনির পতন।
গুণ নাহি দিলি।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Janma-arostri

Author
Bhattacharya, Suranath
Title
Samajik Natika
File name
Janma-arostri
Text
OCR done
Citation
1889
Published
2009/10/10
Publisher
Haranachandra Mukhopadhyay,calcutta
Language
Sanskrit
Pages
102
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Drama
Keywords
Kamalprabha
DLI number
512716
Barcode
4990010019763.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
NUgHlIQtW7X
Download PDF

Janma-arostri