Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Chitta-ranjika

Chattapadhyay,ishwarchandra · 2009/11/25

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

চিত্ত-রঞ্জিকা।
এঈশ্বরচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-প্রণীত
ও প্রকাশিত
" Aud as imiygination bolics foril
"I'};e forms of things unknown ; the poet's new
l'urns them to sbapes and gives to airy thing
A local habitation and a mame,"SH SPEARE.
কলিকাতা।
অযুত ঈশ্বরচন্দ্র বসু কোং, বহুৱাজারস্থ ২.৪৯ সংখ্য
ষ্টানহোপ যন্ত্রে মুতি।

No text on this page.

শুদ্ধিপত্র ।
ভ্রম
সংশােধন
৪ পশিলে
পশিল
১.
Fired Nature's &c. Tired Nature's &c.
৩ তরু’পরে
ভরূপরে
স্বভাবের শােভা দেখ স্বভাবের শােভা দেখ
দেখিতে গগন,
- The clouds
৯ From
many
&c. From many &c.
& I care not. Fortune &c. I care not Fortune
দেখিতে গগন,
&c..

No text on this page.

চিত্ত-রঞ্জিক
“There is a pleasure in poetic pains
Which only poets kuow."-COWPER.
সমাগত গ্রীষ্মকাল তপন-কিরণ-জাল,
প্রখর হইল দিন দিন ;
গ্রীষ্ম-রাজ্য বর্নিবারে, মন কহিছে আমারে,
বুঝিয়া নিজ শক্তি দীন।
মনেরি কি দোষ দিব, 'বুঝিতে আপন শিব,
হইবে সে কেমনে সক্ষম ;
কাব্যমধু পান লােভে, মনােমক্ষি গিয়া ডােবে,
না ভাবিয়া কি হবে চরম ।
নিজ করে কাব্যহার, গাঁথি পির সুধা তার,
এ দুরাশা কেন হলাে মনে ;
সুধাময় পূর্ণ চাঁদে, পেতে করে শিশু কাঁদে,
সে ঘটনা ঘটিল এজনে।
গ্রীষ্মের প্রভাত কাল, মধ্যাহ্ন অতি ভয়াল,
অপরাহ্ন অতি সুখকর।

২
চিত্ত-রঞ্জিকা।
যতন ;
রচিবারে ইচ্ছা করি, হেন শক্তি কিবা ধরি,
তৃপ্ত করি উৎসুক অন্তুর ।
জমে সন্ধ্যাফাল রাতি, চন্দ্রমা নক্ষত্র ভাতি,
বরণিব করিয়া
বুদ্ধিতে না হবে যাহা, যতনে লভিব তাহা,
বীণাপাণি করি আরাধন।
বুদ্ধিরূপ পেতে চড়ি, গুণাকর আদি করি,
পারাবার পর কাব্যোদ্যানে ;
যাইয়া কুনুম তুলি, দিয়া পদ ফুল গুলি
গাঁথি হার সুজনে প্রদানে।
সেই কাব্যরূপ হার, ভুবন সৌরভে যার,
অদ্যাপিও পূর্ণ রহিয়াছে ;
তুষিছে মানব-মন, সার্থক করে জীবন,
কোন্ দ্রব্য সম তার কাছে ?
মম বুদ্ধি ভগ্ন-তরী, তাহে আরােহণ করি,
যেতে চাই সেই কাব্যোদ্যানে ;
উত্তাল তরঙ্গোপরি, বুদ্ধিরূপ ভগ্ন-তরী,,
চূর্ণ হবে না ভাবিনু মনে।
গাথিবারে কাব্যহার, বাসনা-শিখা আমার,
‘অন্তরে জ্বলিছে নিরন্তর ;
যে যাহারে ভাল বাসে, প্রাণ দেয় তার আশে,
পতঙ্গের শিখায় কি ডর ?

চিত্ত-রঞ্জিক।
“Now Morn, her rosy steps in the eastern clime
Acivancing, sow'd the earth with orient pearl."-MILTON.
০
উদেবী আসি, মৃদু মৃদু হাসি
পূর্ব দিক্ করে আলাে;
চাৰু সুশােভন, ধরিল গগন
বিস্তারি লােহিত জাল ।
লােহিত বরণ, লােহিত বসন,
কেশপাশে সুখতারা ;
রমণী রতন,
কবরী ভূষণ,
পরিলে যেমন ধারা।
ধীরে ধীরে আসি, উষাসতী হাসি,
কহিছে আমায় ধীরে,
উঠ উঠ জ্বর, আইস আমরা,
ভাসিগে আমােদ-নীরে।
শুনি সেই স্বর, প্রফুল্ল অন্তর,
তখনি ভাঙ্গিল যুম,
উষাসতী সনে, চলিনু নির্জনে,
দেখিতে আনন্দ ধূম।
নিশিতে আঁধারে, ৰুদ্ধ কারাগারে,
পাখিগণ ছিল যত,
নিরখি উষারে, সন্তাষে উহারে,
হরষেতে পক্ষী শত।

৪
চিত্ত-রঞ্জিকা।
যত পাক্ষিগণে
একতান মনে,
আরব্ধ করিল গান,
কি মধুর স্বর, জুড়ায় অন্তর,
শীতল স্যুপ্ত প্রাণ।
শুনি এ সংগীত, বীণা পরাজিত,
হইবে সন্দেহ কিবা ;
বাঁশী কোন্ ছার, উপমা কি তার,
ইহার সনেতে দিবা ?
ইচ্ছা হয় মনে, বসিয়া কাননে,
শ্রবণ সদা জুড়াই ;
চাহি তৰু পানে, তৃপ্ত করি প্রাণে,
প্রকৃতির গুণ গাই।
প্রকৃতি সুন্দরী, ঘুমে বিভাবরী
কাটায়ে এই জাগিল ;
অবসাদে হাই, তুলে ধনী তাই,
সমীর মৃদু বহিল।
সঞ্চরিলে গায়, শরীর জুড়ায়,
মন হয় বিমােহিত ;
পাতায় পাতায়, বাতাস লাগায়,
* কিবা স্বল্প সমুখি!
কর্ণ আছে যার, যদি এ সবার,
শুনে প্রভাভে গান,

চিত-রঞ্জিকা।
বধির নিতান্ত, নীরস একান্ত,
সেই নাহি হে আন।
খদ্যোত সকল, ক্রমেতে বিরল
হইল না যায় দেখা ;
মনটদুখে তার, নিজ জ্যোতিঃহারা,
হইয়া বিষাদে মাখা।
বােধ হয় মনে, যেন তৰুগনে,
পরিহরি নিজ ভূষা;
করিয়া যতন,
তুলি সে রতন,
'রাখিল হেরিয়া উযা।
বাতুলিকা যত, হয়ে বুদ্ধিহত,
যামিনীর
অদর্শনে
ঊর্ষ পদ করি, মহীৰুহহাপরি,
পশিলে বিষন্ন মনে।
যেন বােধ হয়, যত তময়
ফল ফলি রহিয়াছে;
দেখিতে সুন্দর, জুড়ায় অপ্তর,
শােভায় শােভিত আছে।...
ক্ৰমে গেল ভাের, ক্ৰমে গেল:ঘাের,
ভ্রমিতে ভ্রমিতে বন ।
আলো ক্রমে আসি, আঁধারে বিনাশি,
প্রকাশিল এ ভুবন।
;

চিত্ত-রঞ্জিক।
. Glorious Orb ! the idol
Of early nature, and the vigorous race
Of undiseased" mankind."--MANFRED.
আহা কিবা শােভা, অতি মনােলােভ,
ধরিল স্বভাব নব ;
তপন গগনে, লােহিত বরণে,
উদিত সেবিতে ভব।
লােহিত বরণ, লােহিত বসন,
লােহিত ভূষণ পর;
কিবানু খানি, মনে হেন মানি,
হীরা কাৰু করি করা।
হেরি হেন রূপ, সুধাংশু বিরূপ
হইল দেখ না চেয়ে,
রাখিবারে মান, মুখ করি ক্লান,
পলাইছে লজ্জা পেয়ে ।
অস্ত নিশাকর, নক্ষত্র নিকর
দেখি, মুখ পরিহরি,
মন দুঃখে হায়, গগনে
লুকায়,
নীলিমা বরণ ধরি।
লেহিত গগন, লােহিত ভুবন,
লােহিত পদপ-শিরে;

মগন আনন্দ নীরে।
চিকি।।
প্রকৃতি সুন্দরী, রক্ত বাস পরি,
পদ্মিনী সুন্দরী, কান্তুি পরিহরি,
বিষন্ন আছিল অতি,
হেরিয়ে তপনে, নবীন যৌবনে,
দৈখায় প্রফুল্লমতী।
হেরি দিবাকর, রূপ মনোহর,
আর কি রহিতে পারে,
হইতে গগন, করে আলিঙ্গন,
কর প্রসারি তাহারে।
নিরমল জল, “তাহে: শতদল,
বিকসিত শত শত।
মনে জ্ঞান হয়, শত চন্দ্রোদয় ;
কি শােভা তা কব কত।
সয়ােৰুহােপরে, বসি অলিবরে,
কি শােভা উদয় ভারি,
মনে জ্ঞান হেন, চক্ষুতার যেন,
দর্শকের নিল কাড়ি।
সবােবর জলে, মহা কুতূহলে,
ইংস হংসী করে কেলি,
দিতেছেসাঁতার; কিবা শােভা ভার,
সকলে একত্রে মেলি।

৮
চিত্তরঞ্জকা।
তীরস্থিত, তৰু, তারি শাখা সৰু,
সমীরে ধীরে কাঁপিছে,
প্রতিবিম্ব তাৱি, করলি নাড়ি,
বিদ্রুপ যেন কৰিছে।
কিম্বা বােধ হয়, বুঝি জলাশয়,
অঙ্গুলি নির্দেশ করি,
ডাকিছে মানবে, মাতিয়া উৎসবে,
কিবা চাৰু ছবি ধরি।
এস নরগণ,
করিয়া যতন,
প্রকৃতি সতীর ছবি,
করহ চিত্রিত, যখন শােভিত,
গগনে.ললাহিত রবি।
সেই ছবি খানি, রহিছে যেখানি,
পশিয়া আমার বুকে ;
অমুল্য রতন, করিবে গ্রহণ,
ভাসিবে নয়ন মুখে।”
যৌবনে গর্বিত,
শােভিত হয়ে বরণে ;
কান্ত আনিবারে, সুরভি প্রিয়ারে :
প্রাের অতি প্রীত মনে।
মুরভি সুন্দরী, বায়ুষান চড়ি,
জল মন মােহিচলে।
পুষ্প বিকসিত,

চিত্ত-ঞ্জিকা।
;
হেতা মধুকর • প্রফুল্ল অন্তর,
শূন্যে ধায় কুতুহলে।
গুন গুন স্বরে, পশে পুষ্পেপরে,
মধুর মধু
পীতে
সে স্বর শ্রবণ, করি কোন্ জন,
মােহিত নহিবে চিতে?
পেচক কোটরে, বিষন্ন অন্তরে,
জিপিছে দিনমণি ;
দুৰ্বল যেমন করে আস্ফালন,
বীরজনে পিছে গণি। .
পাখী করি রব, দল বাধি সব,
উড়ি যায় কি বাহার ।
গগনের গায়, যেন শোভা পায়,
গাঁথা মুচিক্কণ হার।
যেন ঘন পাশে, সৌদামিনী হাসে,
নিরখি আঁখি জুড়ায় ।
ইচ্ছা হয় মনে, নিমেষ নয়নে,
হেরি সেই চাৰুতায় ।
শুনি পক্ষিরব, জাগিল মানব,
আর দিবাচর যত ;
নিদ্রা দিনমণি, নিরখি অমনি
করি মাথা অবনত,

চিত্ত-রঞ্জিকা।
৫
আঁধার যেখানে, পলায় সেখানে,
আলােতে বিপদ অতি ;
চুরি করি চোর, ভাঙ্গিতে না ঘাের,
পলায় সে দ্রুতগতি।
নিদ্রা আন-চোর, করি সেই জোর,
চুরি করে জ্ঞান ধনে,
যে সম্বল বলে, মানব সকলে,
প্রভুত্ব করে ভুবনে ।
শয্যা ত্যজি সব, “উঠিল মানব,
পুলকে অস্তুর ভরা,
আপন আপন, কাৰ্যেতে গমন,
করিছে করিয়া ত্বরা।
বালক সকল, করে কোলাহল,
কেহ হাসে কেহ নাচে ;
কেহ করে খেলা, কেহ ছুড়ে ডেলা,
কেহ ছুটেকার পাছে ।
যত পান্থগণ,
হরষিত মন,
উঠে নিজ শয্যা হতে;
স্বকাৰ্য্য সাধিতে, চলিছে ত্বরিতে,
- কিবা শােভা পায় পথে।
ব্যবসায়িগণ, লাভেরি কারণ,
বােঝ মাথে যায় হাটে ;

চিত্ত-ঞ্জিকা ।
১১
বলদ
লইয়া গােপাল, চলিছে রাখাল,
গােচারণ জন্য মাঠে।
কৃষক সকল, কাঁধে ফেলি হল,
চসিতে চলিছে মাঠে ;
সকল, চাসার সম্বল,
বােঝা সহ যায় হাটে।
গ্রীষ্মের কারণ, আকুলিত মন,
ছিল সমস্ত রাতি ;
সেবি, সুশীতল, বায়ু নিরমল,
হেরি তৰু নানা জাতি ;
শুনি পক্ষি-গান, প্রকৃতি বয়ান,
দেখিয়া হাস্য সহিত ;
দুঃখ হলাে দূর, আনন্দ প্রচুর,
মনাকাশে উপস্থিত।
যেই গ্রীষ্মকালে, উঠিয়া সকালে,
হেরিল উসতী ;
গ্রীষ্ম উষাকালে, যে জন বিরলে,
হেরিল বসুমতী ;
হসিত বদনে শােভিত কিরণে,
( তৰুণ অৰুণ ভাতি );
সুচাৰু মল্লিকা,
সুগন্ধ যূথিকা,
আর লতা নানা জাতি ;

১২.
চিত্ত-ঞ্জিকা।
সহকার শাখী, তারি ফল পাকি,
রহিছে ঘেরিয়া শাখা,
কি চাৰু বরণ, জুড়ায় নয়ন,
শ্যামলে কাঞ্চন দেখা ;
সহিত এসব, প্রকৃতি উৎসব,
না হেরিল যে সকালে,
বৃথা জন্ম তার, সুধ, দুঃখ ভার,
বহন তাহার ভালে ।
মন-দ্বার খুলি, দারামুত ভূলি,
অর্থ চিন্তা পরিহরি,
নদীতটে বসি, কিম্বা মাঠে পশি,
কিম্বা
ক্ষুদ্র গিরি’পরি,
প্রভাত সময়, ইচ্ছক যে হয়,
দেখিতে রবি উদয় ;
প্রকৃতি বদন, জিনিয়া কাঞ্চন,
মােহন মূরতিময়,
সহৃদয় বলি, তাহারি কেবলি,
প্রশংসা করিতে পারি ;
নতুবা যেজন, অর্থ ভরে মন,
বেচিল--তাহারে করি।
;

চিত্ত-রঞ্জিকা।
A nighty mass of brick and snioke and shipping.-Byron.
'Tis liberty alone that gives the flower
Of fleeting life its lustre and perfume;
And we are weeds without it.-COWTER.
নয়টা বাজিল আফিসে চলিল,
কর্মচারিগণ ;
কে চলি যায়, কেহ বা নৌকায়,
শকটে কার গমন।
নৌকাযানে যারা, যায় কিবা তারা,
অনুপম সুখ পায় ;
নিরমল বায়, বহিছে ভথায়,
লাগিলে জুড়ায় কায় ।
কল কল স্বরে, স্রোতস্বতী সরে,
শুনিয়া তৃপ্ত শ্রবণ ,
তরী শত শত, চলে অবিরত,
হেরিয়া তৃপ্ত নয়ন।
মাজি ঝিকি মারে, ঊড়ি ফেলে উড়ে,
শুনিতে মধুর শব্দ ;
কর্ণ আছে যার, শুনিয়া তাহার,
হয় না কি মন স্তব্ধ ?

১৪
চিত্ত-রঞ্জিকা ।
এ হেন সময়, কিবা শােভাময়,
হয় ঘল কলিকাতা ;
দেখি তুষ্ট মন, দ্রব্য সুচিক্কণ,
বিরাজিত লক্ষনীমাতা।
উচ্চ মাথা করি, গির্জা রূপ ধরি,
কাল দশ বাজাইল ;
শত শত গাড়ি শব্দ ঘর ধরি
করিয়া পথে চলিল।
ছাইল ধূলায়, চল নাহি য়,
নির্মল নভােমণ্ডল ;
নাহি চলে দৃষ্টি, কুজঝটিকা বৃষ্টি,
যেন করে ভূমণ্ডল।
লোক কলরব,
গাড়ির ঘর্ঘর শব্দ ;
দূরেতে যেমন, বহিছে পবন,
শুনি হয় মন স্তব্ধ।
যত কর্মচারী, চলে তাড়াতাড়ি,
মন্তকে পাগড়ি পরা,
চাপকান গায়, ইষ্টাকিন পায়,
বুট " বানিস করা ;
চলে দ্রুতগতি, মনে ভীত অতি,
যেতে গেণি পাছে হয় ;
ঘােটকের রব,

চিত-ঞ্জিকা।
১৮
তার,
p
মনিব ভৎসিবে, বেতন কাটিবে,
মনে শঙ্কা অতিশয় ।
কষ্ট বটে তার, বিদেশে যাহার,
চিরকাল বাস করা;
কষ্ট বটে তাৱ, শরীর যাহার,
রোগ শােকে হয় জ্বর।।
কষ্ট বটে ভর,
রমণী যাহার,
অপ্রিয়-বাদিনী হয় ;
কষ্ট বটে
তনয় যাহার,
গুৰু জন বাধ্য নয়।
কষ্ট বটে তার, প্রতিবেশী যার,
হয় কাণ্ডজ্ঞান শূন্য ;
কষ্ট বটে তার, সদাই যাহার,
রহে মন অতি ক্ষুন্ন ।
কষ্ট বটে তার, অন্তুর যাহার,
দহে অন্যের সম্পদে ;
কষ্ট বটে তার, ধৈরজ যাহার,
রহে ঘাের বিপদে।
চাকুরে যে জন,
কষ্ট হয় এ সংসারে,
সে কষ্টের কাছে, আর কিবা আছে
কষ্ট মনুষ্য মাঝারে ?
তাহার যেমন,

১৬.
চিত্ত-ঞ্জিকা ।
• এই যে ভুবন,
পরাধীন জন,
মৰু সম জ্ঞান করে ;
দিন যে তাহারি, হয়ে দণ্ডধারী,
প্রহারে তাহার করে।
সামান্য আলয়, সদা যেই রয়,
সে যদি স্বাধীন হয়,
তাহারি যে সুখ, সে সুখে বিমুখ,
অধীন জন নিশ্চয় ।
থাকে যদি ভারি, অট্টালিকাবাড়ি,
পাল্কি, গাড়ি, লােকবল ;
তাহারি যে সুখ, সুখে ঢাকা দুখ,
যেমন মাখাল ফল
বাহির সুন্দর, লাল মনােহর,
নয়ন তৃপ্ত হেরিলে ;
কালিমা অন্তুর, সুখের অন্তর,
অন্তরে তাহা ভাবিলে ।
ওমা স্বাধীনতা! বাস কর যথা,
(মা বলি আমি কেমনে ;
তব পুত্র নই, অধীনতা, বই,
মরণ সম জীবনে ;)
ওগাে স্বাধীনতা ! বাস কর যথা,
দেশ সমুজ্জ্বল কর ।
*

চিত-রঞ্জিকা।
১৭
সুখের আবাস,নাহি কোন ত্রাস,
সর্ব দুঃখ পরিহর।
ওগাে স্বাধীনতা ! বীর-জন-মাতা,
তব যে মহিমা কত ;
হইয়া অধীন, কেমনে এ দীন,
বর্নিতে হইবে রত ।
বিদ্যা-প্রসকিনী, জ্ঞান-প্রদায়িনী,
সমৃদ্ধি-বৃদ্ধি-কারিণী,
সন্তোষ-দায়িনী, আশঙ্কা-নাশিনী,
বাণিজ্য-শিল্প-রক্ষিণী।
বিদ্যারসায়ন,
ভূ-ভাগ বর্ণন,
সকল-শাস্ত্র-জননী ;
তব পুত্রগণ, গৌরব কারণ,
উজ্জ্বল করে ধরণী ।
মনুষ্যত্ব যারে, বলে এ সংসারে,
আছে তা মুতে তােমার ;
যে রাজ্য অধীন, তারি পুত্র দীন,
বুঝিবে সে কি প্রকার ?
আবৃত তুষারে, আবৃত নীহারে,
যদি কোন রাজ্য হয় ।
অর্থ সে বিপুল,
যদি সেথা নাহি রয় ;
ঐশ্বৰ্য অতুল,

চিত্ত-রঞ্জিকা ।
ছয় মাস রাতি, বিতরে না ভাতি
দিবাকর ছয় মাস ;
নাহিক সুখাদ্য, মৃগ
উৎপাদ্য,
ভিন্ন দুগ্ধ আর মাস ;
যদি স্বাধীনতা, বাস করে তথা,
এ দুঃখ বিষম নয় ;
তাহারি যে মুখ, সে মুখে বিমুখ,
অধীন জন নিশ্চয়।
ই
গোলে একাকার যতেক বাজার,
জনাকীর্ণ হলাে জনে ;
দোকানিরা যত, দ্রব্য কত শত,
বেচিছে প্রফুল্ল মনে ।
দ্রব্য নানা জাতি, অনুপম ভাতি,
দেখিয়া আঁখি জুড়ায় ।
ইচ্ছা হয় মনে,
নিরখি নয়নে,
দাড়ায়ে সে চায় ।
কত প্রবঞ্চক, কত শত ঠক,
বেড়াইছে গলি গলি;
সুযােগ পাইলে, ঠতে ঠকে মিলে,
ঠকায় সে মিঠে বলি।

চিত্ত-রঞ্জিকা ।
পল্লিগ্রামবাসী, তােক যবে আসি,
বাজারে প্রবেশ করে,
মাৰ্জার যেমন, মূষিকে দর্শন,
করিয়া তাহারে ধরে ;
ঠক সেই মত, হেন লােক কত,
ফেলে প্রবঞ্চনা ফাদে ;
অবশেষে তারা, হয়ে বুদ্ধি-হারা,
করে মাথা দিয়া কাদে।
বিদালয়ে যত, ছাত্র শত শত,
যাইছে করিয়া ত্বরা ;
পাছে গৌণ হয়, গুৰু মন্দ কয়,
আশঙ্কা অধরে ধরা।
All conqnering Heat, О intermit thy wrath !
-THOMSON.
AAAAA
হলাে দু প্রহর, মস্তক উপর,
অই এলাে দিবাকর ;
তপন ভীষণ, করে বরিষণ,
প্রচণ্ড রৌদ্র প্রখর।
সব রৌদ্রময়, দেখি হয় ভয়,
ঝলসে কোমল আঁখি ;

२०
চিঞ্জিকা ।
৯
সাধ্য আছে কার, বাহির হবার,
সাধ্য কি যে শূন্যে দেখি ।
যত বাতায়ন, দেখ লােকগণ,
বন্ধ করে হয়ে ভীত ;
বােধ হয় হেন, গৃহ ভয়ে যেন,
করিল মুখ কুঞ্চিত।
প্রাণ ওষ্ঠাগত, স্বেদ অবিরত,
ঝরিছে সর্ব শরীরে।
বােধ হয় হেন, দেহ ক্লেশে নি,
ভাসিছে নয়ন-নীরে।
স্থির নহে মন, সলিলে যেমন,
নিক্ষেপ করিলে চিল;
পাখা ধরি করে, ক্লান্ত করে করে,
সুখ নাহি এক তিল ।
বিষম তৃষ্ণায়, প্রাণ বাহিরায়,
ইচ্ছা হয়' এই মনে,
অতি সুশীতল, জল সুনির্মল,
করি পান প্রতিক্ষণে।
পূরিলে বাসনা, জীবন কামনা,
তারি কিছুক্ষণ পরে ;
আই ঢাই প্রাণ, বারি নাহি দান,
সুস্থিরতা দেহে করে।

চিত্ত-ঞ্জিকা।
১
ক
যত ; পাখী। সব, হইয়া নীরব,
পশিল শাখায় ঘন ;
বায়স বায়সী, শাখী’পরে বসি,
করিয়া চঞ্চু ব্যাদন।
যেন বােধ হয়, পাইয়াছে ভয়,
হেরিয়া অদ্ভুত অতি ।
বুঝিতে না পারে, তারা কি প্রকারে,
; পাইবে ইহাতে গতি।
যy পান্থগণ, পথ
পৰ্যটন,
করিয়া বিষম ক্লান্ত ;
ছায়া সুশীতল, নীর নিরমল,
পাইতে ইচ্ছা একান্ত ;
ভৰু-তলে আসি, পথ-ক্লেশ নাশি,
জুড়াইছে ক্লান্ত কায় ।
গত পরিশ্রম, আলস্য বিষম,
আঁখিতে আসি জড়ায় ।
যত গাভীগণ, কিরণ ভীষণ,
পারি আর সহিতে,
হয়ে শ্রান্ত অতি, রােমন্থন তথি,
করিছে প্রফুল্ল চিতে।
যত জলাশয়, প্রায় শূন্য-পয়,
কমে কেবল ভরা ;

চিত্ত রঞ্জি
এ হেন
যতেক শূকর, হরিষ অন্তর,
যাইছে তথায় ত্বরা।
দেখ" রবি-করে, মহিষ নিকরে,
আর সহিতে পারি,
পল্বলে যাইয়া, সঘনে চাহিয়া,
মুখ জাগাইয়া ভারি।
হেন বোধ হয়, যেন জলাশয়,
বাহির করিয়া আঁখি,
সজল নয়নে, কহিছে তপন,
যাতনা তাহারে ডাকি।
সময়,
মাঠ সমুদয়,
ভীষণ আকার ধরে ;
দেখি লাগে ভয়,
প্রাণ শুষ্ক হয়,
আকুল হৃদয় ভরে।
নাহি তৰু ল, সরােবর তথা,
নাহিক লােক-আলয় ;
ধূ ধূ করে মাঠ, রবি করে সাঠ,
হেরি' প্রাণে ভয় হয় ।
স্ফুলিঙ্গ অগ্নির, হতেছে বাহির,
দেখি হয় মন স্তব্ধ ;
বুঝি দিবাকর, নাশিবে ভূচর,
মনে হয় উপলব্ধ।

চিতয় কা ।
অগ্নি-কণা সম পৰন বিষম,
বহিছে প্রচণ্ড বেগে.;
পরশিলে গায়, দেহ দগ্ধ প্রায়,
দগ্ধ লৌহ দেয় দেছে।
অরে রে পবন, এ ভব কেমন
স্বভাব বুঝিতে নারি;
প্রভাত সমর, ছিল সুধাময়,
এখন গরল-ধারী ।
আমি তব দোষ,
দিয়া অসন্তোষ,
প্রকাশ কেন বা করি ;
সহচর, এবে দিবাকর,
তারি গুণ আছ ধরি।
সংসর্গ যেমনি, প্রকৃতি তেমনি,
হইবে সন্দেহ কিবা ;
এই ধরাতলে, মানব মণ্ডলে,
হেরি যাহা রাতি দিব।।
এ হেন সময়, যথা ভৰুময়
বাস কিবা সুখকর!
কি সাধ্য রবির, কোন্ সেই বীর,
বরষিতে সেথা কর।
দেখি তরু সৰু, সঞ্চালি, পল্লব,
ডাকিছে মানবগণে;
* -

২৪
চিত্ত-ঞ্জিক।
}
( এস সবে এস,"মম তলে বস,
আশঙ্কা না কর মনে।
মস্তক উপর ধরি ভানু-কর,
রাখিব আমি তা জেনে ;
জুড়াবে শরীর, মন হবে স্থির,
উপকার কিন্তু মেনন”।
দেখ ভাইগণ, রবির কিরণ,
মহীৰুহ ধরি মাথে,
সহে কষ্ট কত, তথাচ বিত,
নাহে কভু সে তাহাতে।
শরীর যাহার, দয়ার আধার,
পর দুঃখ নিরখিতে,
কভু সেই নারে, দ্রব করে তারে,
যথা বহ্নি নবনীতে ।
' এ হেন সময়, পতঙ্গ নিচয়,
আনন্দে কেবল ভাসে;
পক্ষ সুচিক্কণ,
সুচিক্কণ, করি দরশন,
পরাণ উল্লাসে হাসে।
রে পতঙ্গগণ! যদিও
ভুবন,
স্বল্প ক্ষণ বাস কর ;
জান ভাবনা, কষ্ট বিড়ম্বনা;
প্রফুল্ল সদা অন্তর।

চিত্ত-ঞ্জিকা।
কেহ পুপে বসি,কেহ পত্রে পশি,
কেহ উড়ি
উড়ি ঘূরি,
করে কীর্তন, প্রকৃতি শােভন ;
যাগ মন-দুখ উড়ি।
রে পতঙ্গগণ! করে কীর্তন,
প্রকৃতি শােভন তাের;
কলহ বিবাদু, মিথ্যা প্রমাদ,
নয়ে সুখে থাকি মােরা।
Clused was the Teacher's task. --LONGFELLOW.
চারি টা বাজিল, বালক ধাইল,
বিদ্যালয় হতে ঘরে ;
স্রোতে বাদ দিয়া, দিলেক কাটিয়া,
যথা পায় সে সত্বরে।
মহা কোলাহল, বিদ্যালয় স্থল,
কুদি কাটি শিশু ধায় ;
আনন্দে মগন, তাহাদেরি মন,
নিরখি জুড়ায় কায় ।
জননীর মন, গাভী গো। যেমন,
বৎস-হাৱা হলে হয় ;
গ

চিত্ত-রঞ্জিকা।
৪।
সেই মত প্রাণে, দেখ, পথ পানে,
জননী চাহিয়া রয়।
হেরি নিজ মুত, সুখে অভিভূত,
দেহেতে এলো জীবন ;
ছুটি কোলে করে, চুষিয়া অধরে,
প্রফুল্ল আনন্দে মন ।
বাছার মুখানি, যেন দ খানি
রাহুগ্রস্ত হলে হয় ;
স্বেদ বিন্দু বিন্দু, দেখ মু-ইন্দু,
পরি কিবা শােভি রয়।
অঞ্চলের ধারে, পুঁছি স্বেদ-ঘারে,
সুমিষ্ট সামগ্রী আনি,
দেয় খাইবারে, যতনে তাহারে,
বলি কত মিষ্ট বাণী।
কর্মচারিগণ, হরষিত মন,
চলিছে আপন ঘরে ;
দিবস, খাটিয়া অবশ
অঙ্গ, ব্যথিত অন্তরে।
কতক্ষণে বসে, দারা সুত পাশে,
যাইব এই বাসনা,
প্রতি পদার্পনে, হেন চিন্তা মনে,
উদয় বল হয় না?

চিরঞ্চি। ; "Now came still Evehing ou and twilight gray Had in her sober livery all things clad: Silence accompanied."-MILTON. si Fired Nature's sweet restorer, baliny sleep."-.YOUNG. অহঙ্কত সন্ধ্যা সমাগত হলো দিবা অবসান, প্রকৃতি সুন্দরী ভূষা করি পরিধান, ধরিল তাপূৰ্ব্ব বেশ কিবা মনােহর, হেরিয়া জুড়ায় আঁখি প্রফুল্ল অন্তর । তপন কিরণ, দেখ, মহীৰুহ মাথে, ঝিকি মিকি করিতেছে আৰুত আঘাতে। দিবাকর দু প্রহর বেলার সময়, উচ্চ পদে অতিশয় । সকল জীবের প্রতি অত্যাচার করে, দুঃখের কি কব কথা জীবে পুড়ি মরে । পাছে কেই মনােনুঃখ চক্ষু ফিরে কয়, প্রহরী দ্বারেতে কর শত শত রয়। পদ পরিভ্রষ্ট এবে দিনমণি, কোথায় বল সে আর প্রহরী তেমনি। রক্তিমা বরণ কায় কাঁদিয়া পাসরিছে মনােদুঃখ জলে ঝাঁপ দিয়া। উচ্চ পদ পেয়ে যেই করে অহঙ্কার, দিবাকর সম দশা। নিশ্চয় তাহার । কাদিয়া,

চিত্ত-মঞ্জিকা।
পশ্চিম গগন আহা কি শােভা ধরিল,
যাহার শােভায় ধরা যেন উজ্জলিল।
পাখী সব করি রব নিজ নীড়ে যায়,
শ্ৰেণী বাধি শূন্য পথে কিবা শশাভা পায় ।
কৰ্মস্থান হতে লােকে নৌকা আরােহিয়া,
চলিছে আপন বাস প্রফুল্ল হইয়া।
দাড় ফেলে চলে দাড়ি, মাজি ঝিকি মারে,
কিবা সুমধুর স্বর উঠে সে প্রহারে ।
জলের হিল্লোল উঠে
মৃদু মীরণে,
লাগিতেছে আসি তটে জুড়াতে শ্রবণে ।
রাখাল গৰুর পাল লয়ে যায় ঘরে,
কৃষক আবাসে চলে প্রফুল্ল তান্তরে।
গ্রীষ্মের গােধূলি কাল কিবা রমণীয়,
হে পাঠক। চিন্তা কর মনে, ভবদীয়
কি রস উদয় আসি হয় মনাকাশে,
বিরস লিখনে কি হে সে রস প্রকাশে ?
२
যামিনী-কামিনী পরিধিয়ে কাল বাস,
কুলটা
রমণী মত
অন্তরে উল্লাস,
প্রবেশে আবাস গৃহে মানবে ভজিতে,
আলিঙ্গন করে লােক হরষিত চিতে।

চিত্ত-রঞ্জিকা।
মার্তণ্ড প্রচণ্ড তাপে, লুকাইয়া শশী,
আছিল আপন গেহে অন্ধকারে বসি ।
সুকোমল তনু খানি যদি তাপ পায়,
চিকণ হবে নষ্ট হ্রাস চাৰুতায় ;
রবি অস্ত গেল কি না জানিবার তরে,
পাঠাইল সখী এক অতীব সত্বরে।
সে নক্ষত্র অই কিবা মনােহর,
সুখ পারাবারে তব ভাসিবে অন্তর।
দিনমণি অস্তগত শুনি
শশধর,
উদিত হতেছে
উদিত হতেছে ধরি রূপ মনোহর ;
হেরিলে জুড়ায় আঁখি তৃপ্ত হয় মন,
মনুজগণেরে সুধা করে
বরিষণ।
তৃপ্ত বটে হয় মন সুমধুর গানে ;
পিপাসায় তৃপ্ত মন স্নিগ্ধ পয়ঃপনে ;
তৃপ্ত বটে হয় মন পুত্র করি কোলে ;
তৃপ্ত বটে হয় মন বালকের বােলে ;
পথশ্রান্তে তৃপ্ত মন পেলে ভৰু-ছায়া ;
রােগ উপশমে স্নানে তৃপ্ত মন, কায়া ;
সুষুপ্ত শিশুরে হেরে তৃপ্ত বটে মন ;
তৃপ্ত হয় মন শুনি নিঝর পতন;
পূর্ণ শশধর কিন্তু, নির্মল আকাশে,
গ্রীষ্মকালে কর-জাল যখন প্রকাশে,
০

৩০',
চিত্ত-রক্তিক।
তৃপ্ত মন
মন তাহাতে , যেমন হয় বল,
তৃপ্ত কি তেমন মন করে এ সকল ?
কৰ্ম্মস্থান হতে লােকে আসিল আবাসে,
“বাবা এলি” বলি শিশু পিতারে সম্ভাষে,
“বাবা এলি” বলি কেহ ছুটে উঠে কোলে,
ধরিছে অঙ্গুলে কেহ “কি এনেছ”-বােলে ;
সমস্ত দিনের কষ্ট কোথা গেল বল,
আধ কথা শুনি প্রাণ হইল শীভল ।
পদ প্রক্ষালন করি করি জলপান,
বনিতার করন্থিত লয়ে করে পান,
গ্রীষ্ম ভারি” বলি শেষে বাহিরে গমন ;
“আমি যাব” বলি শিশু করয়ে রােদন।
বাতাসের লেশ নাই গ্রীষ্ম একশেষ,
বাহিরে আসিয়া তবু কিঞ্চিৎ বিশেষ ।
“বাতাসেরে ডাকি” বলি শিশু গান করে,
“শিয়ালির নােটা কাণ” কহি আধ স্বরে।
পবন পড়িল হােত বিষম বিপাকে,
রহিতে না পারে আর শিশু তারে ডাকে,
বালকের মিষ্ট রবে তুষ্ট হয়ে
মন,
বহিতে
লাগিল,
দেখ,
মৃদু সমীরণ।

চিত্ত-রকি।
৩১
০
ঝর ঝর বায়ু বহে জুড়ায় শরীর,
অস্থির আছিল মন হইল সুস্থির
তৰু’পরে পড়ি চাৰু চন্দ্রের কিরণ,
ঝক মক করে যেন রৌপ্য আভরণ।
৪।
বহু দিন
ক্রমে শশী উঠে আসি আকাশ উপর,
পদে অহষ্কৃত হয়
শশধর ;
নীচু পদ ছিল যবে নমু ভাব ছিল,
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তারা সহ বেষ্টিত আছিল,
এখন তাদেরি করি বিদায়, দেখনা,
বড় বড় তারা সহ রাজ্য আলােচনা।
এমন দৃষ্টান্তু বহু লােক মাঝে পাবে ;
যার সনে বয়সের ভাবে,
ক্ষেপণ করিলে কাল, সে যদি কখন,
উচ্চ পদে ভাগ্য ফলে করে আরোহণ,
পুনঃ যদি তার সনে কভু দেখা হয়,
সম্ভাষণ দূরে থাক হেট মাথে রয়।
বড় যদি চক্ষু-লজ্জা তার, ভাই, থাকে,
দুটা মিঠে কথা কয় পড়িয়া বিপাকে,
জ্ঞান চক্ষু দিয়া যদি অন্তর তাহার,
পরীক্ষা করিয়া তুমি দেখ একবার ;

৩২. চিত-ব্লঞ্জিকা। বটে হয় বন্ধু জগতে বড় অক্ষরেতে সেথা দেখিবে অঙ্কিত, এ আপদ কোথা হতে” ভাইরে, নিশ্চিত বাড়ে নিশি, হলাে আসি আহার সময়, আহারাতে প্রফুল্লিভ, মন, অতিশয় । নিদ্রাদেবী চোর সন আসি গুড়ি গুড়ি, সকল লােকের দেখ ড্রোন করে চুরি । বন্ধু বটে, সেই জন যিনি জন্মদাতা ; বন্ধু বটে হন তব স্নেহময়ী মাতা ; বন্ধু বিদ্যা মহাধন ; বন্ধু বটে হয় ধীরতা রতন ; সুপুত্র সমান বিরল ; অর্থের সমান বন্ধু নাহি ভূম ও ; বন্ধুতায় পরাজয় করে সকলে নিদ্রাদেবী নিঃসন্দেহ এই ধৱভলে। কালের করাল গ্রাসে সুপুত্র পড়িলে, সে কারণ তব মন শােকেতে দহিলে, কাহার সান্ত্বনা মান অবনী ভিতরে, কাহার প্রবােধ ধর শ্রবণ কুহরে ? অন্যের সান্ত্বনা শুনি বৃদ্ধি সে আগুন, সন্দেহ কি আছে তাতে হইবে দ্বিগুণ। সংসার জ্বালায় যবে শরীর দহিবে, তখন সান্ত্বনা, বারি: কে বল সিকিবে ?

চিত্ত-ঞ্জিকা।
রােগের জ্বালায় দু হইলে বিকল,
নিবাইবে কোন্ জন বল সে নল ?
নিদ্রাদেবী নিঃসন্দেহ জেন তুমি মনে,
এমন দয়ালু বন্ধু না পাবে ভুবনে।
রমণী,
মন মুগ্ধ
নিস্তব্ধ জগৎজন, পুৰুষ,
জনশূন্য স্থান যেন হইল ধরণী।
অনুপম
বেশ
ধরি প্রকৃতি সুন্দরী,
উজ্জ্বলিল এ. ভুবন চাৰু ভূষা পরি ।
স্বভাবের শােভা দেখ--দেখিতে গগন,
বাহির করিল তাই সহস্র লােচন ।
কি শােভা ধরিল আহা যত তৰু লতা,
হয় দেখি তারি
তারি চিকণতা।
কালিমা বরণ বাস পরিধিয়ে তার,
জোনাকি সােণালি দিয়া তাহে গুলমারা;
থাকি থাকি ঝকমকে ঝলসে নয়ন ;
চোক মুদি চোক চাই করি দরশন।
ওহে ভাই । ধনীজন হীরক লইয়া,
অহঙ্কার না পাই ভাবিয়া ।
কামিনী কোমল কায় করিয়া যতন,
সাজাইয়া দেহ তুমি দিয়া সে রতন।

৩৪',
দি-রঞ্জিকা'।
বল দেখি শ্রেষ্ঠ কেবা হয় চাৰুতায় ?
তৰু-অঙ্গ? কি তব কামিনীর কায়?
মধ্যে মধ্যে দিবাভৗত করে কলরব।
বিবাদ করিছে ঐ বাতুলিকা সব ;
উর্ষ পদে ধরি শাখা পাখা গুটাইয়া ;
খাইছে সুপক্ক ফল মুখ
ঝুলাইয়া।
মধ্যে মধ্যে ঝিল্লিকায় করিতেছে রব,
আরব্ধ করেছে যেন মহা মহােৎসব।
নানা জাতি সর্প ডাকে গুনি লা েত্রাস,
যাহার দংশন মাত্র জীবন বিনাশ ।
শৃগালের কলরব, শুন, শৰ নিয়া
বিষাদে কুকুর তাই কাদে ফুকারিয়া।
নিযুপ্ত জগৎজন আমি জাগরিত,
নিদ্রা চক্ষে নাহি আসে মন ব্যাকুলিত ।
নদীর তরঙ্গ যথা নদীতটে আসে,
সেইমত আসে কত চিন্তা মনাকাশে।
মানব জনম ধরি করি কি কাজ,
উন্নত কি করিলাম আপন সমাজ ।
যে দেশেতে জনমিনু তাহে শত শত,
কুসংস্কার পরিপূর্ণ হেরি অবিরত ;
তাহার উচ্ছেদ তরে কি কাৰ্য্য করিনু;
আপন উদর জন্য সকলি ভুলিনু।

চিত্ত-ঞ্জিকা।
শনে :
এইমত শত শত চিন্তা আসি,
ঘুমাইতে নাহি দেয় চিন্তাৰে ভাসি ।
বিবাদ লাগিল ঘাের চিন্তায় নিদ্রায়,
জিনিবে বলহ কেব—সমান দোহায় ।
স্বভাব আসিয়া শেষে সাহায্য নিদ্রায়
যে করিল, চিন্তাদেবী পরাজয় পায় ।
অমনি আসিয়া নিদ্রা বসিল আঁখিতে,
চিন্তুাদেবী, পলাইল অন্তর হইতে।
দবী
* * * * *
-Froin inany a horrid rift... ....pour'd
Fierce rain with lightning mixed &c."-PARADIS REMAINED.
‘কোথা কাদম্বিনি, মরি, বাঁচা গাে আসিয়া,
প্রচণ্ড মার্তণ্ড তাপে বিদরিছে হিয়া।
মম পয়ঃ পীয়ে মাগো, গঠন তােমার,
তাে হেন সুতা রহিত যাতনা আমার ?
বিদীর্ণ মম
হয় পিপাসায়,
মুখে ধূলি বাটে দেখ প্রাণ বাহিরায়।
মম সুত জীব জন্তু
ছট ফট করে,
মম সুতা তৰু লতা দেখ পুড়ি মরে।
গ্রীষ্ম-রাজ্য তারা আর না সহিতে পারে,
শর সম রবি কর রবি গো প্রহারে ।

চিত্ত-ঞ্জিকা।
আঁধার ভুবন,
তাে হেন কন্যা রবিতে সহি এত কষ্ট,
তাে হেন কন্যা রহিতে জীব হয় নষ্ট।
পৃথিবী বিলাপ দুঃখে করে এই মতে,
জানিল সে মেঘমালা নিজ গৃহ হতে।
প্রতি প্রতি এতই
য'তন,
দুখেতে উঠিল সেই করিয়া রােদন।
‘গুড় গুড় শব্দ করি গগন ছাইল,
ক্ষণমধ্যে তপনের প্রতাপ নাশিল ।
ঘন রাশি করে আসি
ক্রোধেতে উঠিল পুনঃ করিয়া গৰ্জ্জুন।
জল আসে দূর হতে কিবা শব্দ উঠে,
পুচ্ছ তুলি গাভীগণ উৰ্দ্ধ মুখে ছুটে ।
‘ঝম ঝম্ বৃষ্টি হয় মধুর শুনিতে,
ব্যাদন করে বদন ক্ষিতি বারি পীতে।
জীবন করিল পান প্রাণ তৃপ্ত করি,
তত জল কোথা গেল আমরি আমরি ।
তৃষ্ণায় কাটিয়াছিল হৃদয় তাহার,
শুষিয়া উদরে নিল যত জল ভার।
মধ্যে মধ্যে বজ্রপাত শব্দ কড় মড়ি,
জাপটি ধরয়ে শিশু মায়ে ভড় বড়ি।
ফাপর হইয়া গ্রীষ্ম ছুটি পলাইল,
বরষা আসিয়া নিজ রাজ্য বিস্তারিল।

চিত-রঞ্জিকা । ৪ চক্কণ মানব, ভেকগণ আনন্দে মাতিয়া করে রব, আরন্তিল তারা যেন মহা মহােৎসব। শুনিয়া সে স্বর উঠে নৰ ভাব মনে, অন্তরে কি সুখােদয় বর্ণিব কেমনে । শিখণ্ডিনী সন্তোষিনী শিখণ্ডির সনে, পুচ্ছ ধরি, নৃত্য করে ঘন করে ঘন গরজনে। সুচিত্র পুচ্ছ কতই বরণ, নিরখি নয়ন তৃপ্ত কাড়ি লয়, মন। শীতল হইল ক্ষিতি শীতল শীতল হইল জীব জন্তু আর সব। আনন্দ নীরে মগন হইল, বলদ হল লইয়া মাঠেতে চলিল ; জমিতে লাঙ্গল দিয়া ধান্য বীজ বুনে, গান। গায় সুমধুর মন তৃপ্ত শুনে। , বরষা করিছে রাজ্য সুখে এই মতে, রবিকর দেখা ভার এই সে জগতে। ঘনঘটা শােভাছটা ভুবনে প্রকাশে, মধ্যে মধ্যে সৌদামিনী মুচকিয়া হাসে; কি চাৰু বরণ মরি ঝলসে ক্ষণ মধ্যে আলোক মধ্যে আলো করে এভিন ভুবন । নয়ন,

৩৯,
চিত্ত-রঞ্জিকা ।
ভাই রয়,
কত
রজনী
তামসাবৃত । চন্দ্রমা বিহীন,
তাহে যদি ঘন রাশি বরণ মলিন,
আচ্ছাদন গগন করিয়া
মুষলের ধারে যদি বৃষ্টি তাহে হয় ;
কিবা ভয়ঙ্কর কাল সেই নিশা হয়,
মানস মন্দিরে
শঙ্কার উদয় ।
যে দিকে ফিরাই আঁখি অন্ধকারময়,
সম্মুখস্থ কোন বস্তু দৃষ্টি নাহি হয় ।
মনে মনে জ্ঞান হয় যেন 'অন্ধকার
গ্রাসিল নিজ উদরে এতিন সংসার।
এ হেন রজনী-যােগে মলিম্বুচগণ ;
আনন্দ সাগরে ভাসে সুযােগ কারণ ;
সুযােগ তাদেরি বড় চোৰ্য-বৃত্তি তরে,
সিদ কাটে বসি সুখে, পর বস্তু হরে ।
সেই অন্ধকার নিশি কিছু শঙ্কা নাই;
ফণিকরে কণা হেট চোর কাছে ভাই।
তুমি আমি এস দেখি যাই অন্ধকারে,
এখনি দংশিবে ফণি নিজ ফণা ধরে ।
সংসারের গতি বুঝে সাধ্য আছে কার,
ধার্মিক ‘শুকায়ে মরে পাপী স্থলাকার।
ঝম ঝম বৃষ্টি হয় বড় সুখ মনে,
যদি না থাকিত ভয় মলিসুচগণে।
t

চিত-রঞ্জিকা।
৩৯
ক্ষণে ক্ষণে ক্ষণপ্রভা
স্খলিত বসনে,
দেখায়, দেখ হে ভাই আপন আননে।
ভীষণ
মূরতি ধরি ঘাের অন্ধকার,
ধরিবারে প্রসারে যুগল কর তার।
অমনি লুকায় সৌদামিনী ঘন পাশে,
দ্বিগুণ আঁধার আসি বিস্তারে আকাশে।
জল পূর্ণ হলাে নদ, নদী, সরােবর,
মীন হয় দিন দিন প্রফুল্ল অন্তর ;
প্রসব করয়ে ডিম্ব বরষা সময়,
ধীবরে ধরয়ে যাহা প্রফুল্ল হৃদয়।
ছিপ ফেলি কেহ মাছ ধরে সরোবরে,
প্রবঞ্চনা করি সুখী কতই অন্তরে।
বঁড়িশেতে গাঁথি টোপ চুপ করে বসি,
ফাতা পানে অনিমিষে দৃষ্টি আছে পশি,
যেই সে নড়িবে ফাতা দিবে এক টান,
জীবেরে আহার দিয়া বধে তার প্রাণ।
হায় রে নিষ্ঠুর নর হৃদয় পাষাণ!
নিশ্চয় তােমার তায় নাহি কোন আন ।
কেহ যদি খাদ্য, সহ বিষ মিসাইয়া,
তােমার জীবন বধে হিতৈষী হইয়া ।

৫০',
চিত্ত-রক্তিকা।
পঞ্চত্ব পাইবা কালে কিবা মনে কর ?
দহে না কি অনুতাপে তােমার অন্তর ?
ভাল কি বাস হে নর সেই প্রবঞ্চকে ?
শত ধিক দেহ না কি তুমি সেই ঠকে ?
ক্রোধাগ্নি হৃদয়ে আসি উঠে না তােমার ?
দিতে কি হয় না ইচ্ছা প্রতিফল তার ?
ঘাট প্রায়,
তৰুণ হরিত ধান্য মাঠ ব্যাপি রয়,
তাহাতে বলহ কিবা শােভার উদয় ।
হেরিয়া সে চাৰু রূপ জুড়ায় নয়ন,
সন্তপ্ত জীবন স্নিগ্ধ সুখী হয় মন।
কর্দমে পূরিয়া রয় পথ
যাতায়াতে মানবের শোণিত শুকায় ।
বেণে দেশে বাণ আসি একাকার হয়,
দেখিয়া জলের স্রোত মনে হয় ভয়।
তৰু সমুদায় হায় কিবা ভাব ধরে,
দেখিয়া সে চাৰু ৰূপ উল্লাস অন্তরে।
নিবিড় সবুজ পত্রে কিবা মনােহর,
শাখা অবমত কত পেয়ে বারি ভর ।
ভয়াকুল হয়ে তায় বিহঙ্গমকুল,
বসিয়া শ্রীহীন হয়ে দেখি মনাকুল।

চিত্তরঞ্জক।
$১
সুচিত্ৰ চিকণ পক্ষ বারি সিক্ত তায়,
ভ্রষ্ট সে চাৰুতা মরি হায় হায় হায় !
পিপীলিকা পক্ষ পেয়ে উড়িবারে চায়,
অমনি বিহগকুল ধরি ধরি খায়।
শুন ভাইগণ দুটা মন-কথা কই,
উপদেশ পেতে পার ইহাতে কতই।
যে কৰ্ম্ম অসাধ্য ব তাহা সাধিবারে,
করাে না যতন কভু কহি হে তােমারে ।
মূঢ় লােক যদি চায় হতে কালিদাস,
লাভ মাত্র হয় তার সুধু
উপহাস।
সমুদ্র লঙ্ঘিতে যেই দেয় সন্তরণ,
অবশ্য জানিবে তার নিকট মরণ।
ক্ষমতা বুঝিয়া নিজ কর্মে হাত দিবে,
সফল হইবে যত্ন রতন লভিবে।
আতা, আনারস, জাম, কাঁঠাল, পিয়ারা,
বরষা কালেতে হয় পরিপক্ক তারা।
খাইতে মধুর বড় প্রাণ তৃপ্ত হয়,
পাকা কাঁঠালের গন্ধ দিক ব্যাপি রয় ।
আনারস খাইতে মুরস বড় ভাই,
এক খানি হলে খা’য়। তার খানি চাই ।

৪২
চিত্ত-রঞ্জিকা।
কি চাৰু
আতা অতি সুমিষ্ট, গীতল দেহ করে,
রসেতে ফাটিয়া রহে বৃক্ষের উপরে ।
কাঠাল খাইতে বটে অতিশয় মিষ্ট,
তােমা আমা জনার না করে সেই ইষ্ট ।
কঁঠাল যেমন ভুদো, ভুদো লােক চাই,
দুর্বলের পক্ষে ইহা বড়ই
বালাই ।
কদম্ব কুসুম ফুটি রহে ভৰুময়,
আহা মরি কিবা শােভা তাহাতে উদয় ।
নক্ষত্র যেমন শোভে গগন উপরে,
সেই রূপ ফুলগুলি শােভে তরূপরে।
সৌরভ তার মন তৃপ্তকর,
সুখ শশী হৃদে পশি আঁধার অন্তর।
কেতকী কুসুম ফুটি, আমোদ সাগরে
ভাসায় মানব মন, দুঃখ দূর করে।
যে স্থলে কেতকী ফুল প্রফুল্লিত রয়,
তারি চারি দিক্ গন্ধে আমােদিত হয় ।
বরষা বঙ্গের বটে
বড় হিতকারী,
ধান্য ধন মহাধন যার অজ্ঞকারী ।
বরষা নহিলে দেশে হয় মারীভয়,
বিষম দুর্ভিক্ষ আসি জন করে ক্ষয় ।
বরযা সময় কিন্তু মানবের
মন,
হয় সে জানহ যথা
কলুষ দর্পণ।

চিত্ত-রঞ্জিকা।
'৪৩
;
প্রকৃতি সতীর প্রতিমূর্তি নাহি পড়ে,
সকলি আঁধার ভাব এই ধৱা ধরে ।
নাহি পাই সেবিতে মুসেব্য সমীরণ ;
নাহি পাই পান হেতু নির্মল জীবন ;
নাহি পাই দেখিবারে রবির উদয়
নাহি পাই বেড়াইতে প্রদোষ সময় ;
নাহি পাই হেরিবারে নির্মল গগন,
শােভিত চন্দ্রমা সহ আর তারাগণ।
ঘনমাল রূপ পিঞ্জারের অভ্যন্তরে,
মন-পাখী ৰুদ্ধ থাকি ছট ফট করে ।
গগন করিয়া ভেদ উড়িবারে চায়,
অভেদ্য পিঞ্জর সেই বাদ সাধে তায় ।
।
“Ye stars ! which are the poetry of lieaven."-BYWN.
Look how the floor of leaven
Is thick inlaid with patinos of bright gold."-SMAKSPEABE
বরষা ভরসাহীন আইল,
প্রকৃতি সুন্দরী আহা কি শােভা ধরিল।
বৱষা হইল বৃদ্ধ শুভ্র হলাে কেশ,
কেশে ফুল কেশ যার জেন সকিশষ ।
অতি বৃদ্ধ হলে পর শক্তি নাহি থাকে,
রাজ্য কাৰ্য্যে অক্ষম সে হয় ভারি পাকে।

৫৪
চিত্ত-রঞ্জিকা ।
বরণ,
তারি তরে বরষা হইল রাজ্যচ্যুত,
শরৎ জগতে তাই হলো অবিভূত।
কি শােভা প্রকৃতি সতী দেখ গো ধরিল,
যাহার প্রভায় ধরা যেন উজ্জ্বলিল ।
নির্মল নভােমণ্ডল নীলিমা
শরতের যাহা হয় অঙ্গ আবরণ।
নীলিমা বসনােপরি হীরকের গুল,
কিবা চাৰু শােভা পায় যত তারকুল ।
অমূল্য রতন এক আছে তারি করে,
“শরদিন্দু” নাম ধরি ডাকে সব নরে ;
এ হেন অমূল্য ধন পরিধান করি,
শরৎ যামিনীকালে আসি স্বর্গেপরি,
রাজ্য কাৰ্য যবে সেই করে গো আরব্ধ,
অনুপম রূপ হেরি লােকে হয় স্তব্ধ ।
সেই আভরণ জ্যোতিঃ বিকাশে ভুবনে,
“কৌমুদী” যাহার নাম কহে সুধীগণে!
সুন্দর দেখিতে বটে ধান্যপূর্ণ ক্ষেত্র,
যাহার চাৰুতা হেরি তৃপ্ত হয় নেত্র ;
সুন্দর দেখিতে বটে দূর হতে গিরি,
ইচ্ছা হয় সদা দেখি আঁখি ফিরি ফিরি ;
নিরমল
ঢল জল পূর্ণ সর,
সুন্দর দেখিতে বটে জুড়ায় অন্তর ;
ঢল

চিত-রঞ্জিকা।
.৪৫
তাহে যদি রহে পুন: কমল প্রফুল্ল,
সুন্দর দেখিতে বটে সে ধন অমূল্য ;
সুন্দরী রমণী নিধি
প্রফুল্ল আনন,
সুন্দর দেখিতে বটে জুড়ায় নয়ন,
সলজ্জ স্বভাব যদি তাহে ধনী ধরে,
সৌন্দৰ্য্য রতন বৃদ্ধি তাহে আরো করে ;
মনােহর পুষ্পোদ্যান দেখিতে সুন্দর,
দেখিয়া জুড়ায় আঁখি, জুড়ায় অন্তর ;
কিন্তু দেখ শরতের পূর্ণ-শশী যবে,
নীলিমা নভােমণ্ডল শােভা করি রবে,
সৌন্দৰ্যতে এ সকলে করে পরাজয়,
কি আছে সন্দেহ হে বল সুধীচয়।
শরৎ করিছে রাজ্য সুখে এই মতে,
যাহার শােভয় মুখ ধরে না জগতে।
রাজ্যেরি এমনি লোভ দেখ ভাইগণ।
বরষা করিতে নারে লােভ সম্বরণ ;
পাঠাইল সহচর মেঘ রাশি রাশি,
শরতে হারতে সেই বিক্ৰম প্রকাশি।
কোথা গেল পূর্ণ শশী কোথা গেল ভার,
শরৎ হইল ভেকো হলাে প্রভা-হারা।

৪৬',
টি-রঞ্জিকা ।
বরষা শরতে ঘাের সংগ্রাম লাগিল,
টুপ টুপ বৃষ্টি ছলে স্বেদ বরষিল ।
বরষা হয়েছে বৃদ্ধ
বৃদ্ধ শরৎ বলিষ্ঠ,
বরষা বুঝে না তবু আপনারি ইষ্ট ;
পরাজিত হয়ে শেষে পলাইল ছুটে,
শরৎ লইল পরে ঘন রাশি লুটে।
বহিরিল পূর্ণ শশী, বাহিরিল তারা,
কিছু পূর্বে আছিল যাহারা প্রভা-হারা।
পূৰ্ব্বমত চন্দ্রিকা ভুবনে প্রকাশিল,
যাহার শােভায় ধরা যেন উজ্জ্বলিল ।
শরৎ রজনী-যোগে শাসন গগন,
করে সেই দেখা যায় হইতে ভুবন।
দিবসে সে রাজ্য করে এই ধরাতলে,
যাহার শাসনে লােক প্রফুল্ল সকলে।
গগনে শোভার ছটা রবি প্রকাশিল,
বরষা ভয়েতে যেই নিস্তেজ আছিল ।
জলে শতদল বিকসিত,
মধু লােভে অলি ধায় হয়ে পুলকিত।
স্থলপদ্ম বিকসিত কি চাৰু বরণ,
হেরিলে নয়ন মন করে সে হরণ ।
দু-পাটী কুসুম ফুটি কিবা শােভা পায়,
সাদা রাঙা গোলাপি মিসান আছে তায়।
সরোবর

চিত্ত-রঞ্জিকা।
• ৪৭
নিরমল নীরে কুমুদিনী বিকসিত,
নিরখি সে চাৰু ৰূপ মন পুলকিত।
তারি প্রতিবিম্ব পড়ি বারির ভিতরে,
নীলিমা গগনে যেন শােভা তারা করে।
তপন পেতে তারা ব্রাসিত অন্তরে,
গােপনে বিষন্ন মনে যেন সরােবরে ।
শশী সােহাগিনী ধনী নিশীথিনী কালে,
বিকসিত মুহসিত শশী-রশ্মি-জালে ।
মৃদু সমীরণ
বিকাল বেলায় যবে রবি অস্তে যায়,
তখন প্রকৃতি সতী কিবা শােভা পায় ।
ক্ষেত্র পূর্ণ নব শস্য সবুজ বরণ,
নিরখি সে চাৰু রূপ প্রফুল্ল নয়ন।
বহে তদুপরি
কিবা চাৰু শােভা ধরে আহা মরি মরি ।
নদীর হিল্লোল যথা উঠে সমীরণে
সেই মত উৰ্ম্মি উঠি জুড়ায় নয়নে।
ওহে ধনি, নিকৃষ্ট প্রবৃত্তি তৃপ্তি তরে,
অট্টালিকা মধ্যে বাস করহ সহরে ।
ঘােড় গাড়ি পাল্কি চড়ি বেড়াও সহরে,
জমির উপরে পদ পড়ে না গুমরে ;

8 baris
চিত্ত-রঞ্জিকা ।
.
;
মনে কর ঐশ্বৰ্য আমােদে সুখ পাবে,
মনের মালিন্য তব এ সবাতে যাবে ।
এ তােমার অতি ভ্রম জানহ নিশ্চয়,
এ সবাতে মনসুখ কভু নাহি রয় ।
নিরমল মুখ যদি কিসে রহে বল,
মম সনে এস ভাই কহিব সকল ।
নিরখিয়া দেখ অই শস্য ক্ষেত্র পানে;
শাখী’ পরি পাখী গান করে শুন কাণে ;
শরতের রবি দেখ যায় অন্ত গিরি
সন্ধ্যা সমীরণ অই বহে ধিরি ধিরি ;
তৰু গুলি নড়িভেছে কিবা শব্দ ভার,
মন দিয়া শুন কর্ণ জুড়াবে তােমার ।
মালতী কুসুম ক্রমে হলাে প্রফুল্লিত,
যাহার আঘ্রাণে মন হয় পুলকিত।
শেফালিকা ফুল অই আধ বিকসিত,
প্রফুল্ল হইলে গন্ধে মন আনন্দিত,
শশী-সােহাগিনী ধনী ফুটে নিশাকালে,
শশী অস্ত গেলে ভূমি পড়িবে সকালে,
অশ্রু পাত ছলে ফুলদল তেয়াগিয়া,
রহে শেফালিকা তৰু দুখেতে ভাসিয়া।
বক ফুল প্রফুল্লিত দেখ তৰুময়,
কি চাৰু বরণ তার কি শােভা উদয় ;

চিত্ত-ঞ্জিকা।
'৪১
রাত্রিচর বাতুলিকা • মধু পান তরে,
পশিতেছে আসি ক্রমে উহার উপরে।
স্বভাবের শােভা হেরি সুখ নিরমল
পাইবে সুধু রে ভাই, তা ছাড়া গরল।
প্রতি রমণী কান্তি নিরখি নয়নে,
চাহিবে কাটাতে কাল বসিয়া ভবনে ?
বাসনা আমার ভাই সদা হয় মনে,
বাস করি সদা আমি বন উপবনে।
জগতের গতি দেখি বাক্য নাহি ফুটে,
মানব প্রকৃতি দেখি মন কাদি উঠে ।
দুর্বলের প্রতি প্রবলের অত্যাচার,
কলহ বিবাদে ধরা দেখি একাকার।
ধৰ্ম শূন্য হলাে ধরা অধম্মেতে ভরা,
বলিষ্ঠ অধৰ্ম বৃত্তি ধৰ্ম্ম-বৃত্তি জরা।
"Oft did the harvest to their sickle yield;
Their furrows oft the stubborn glele bas broke
How jocund did they drive their teams afield."--QRAY,
শরৎ হইল গত হেমন্তু আগত,
সঙ্গে করি সহচর তার আছে যত।
হেমন্তের হিম ক্ষমতায় ভীম সম,
মানবের পক্ষে যেই কালান্তক যম ।

চিত্ত-রঞ্জিকা ।
লাগিলে সে দেহে, হয় কফ, কাশী, জ্বর,
রােগ কীটে দেহ-তৰু কাটে নিরন্তর ।
অপরাহ্ন হতে হিম বরষে গগন,
প্রত্যুষেতে জ্ঞান হয় বারি বরিষণ।
কিম্বা হতে পারে উহা নিশা-অশ্রুনীর,
রবি অন্ত হলে ফেলে হইয়া অস্থির,
মানবের দুরাচার কর্ম দেখে যত ;
পাপ পথে সদা মন যাহাদের রত।
প্রভাত সময় তৰু হিমে সিক্ত রয়,
রবি-কর পড়ি তাহে কি শােভা উদয় !
বােধ হয় তৰুময় শােতে মুক্তা-হার ;
রূপের উপমা নাই জগতে তাহার ।
কামিনী কোমল কণ্ঠে গজমতি হার
সুদৃশ্য কি নহে ভাই ? হেন রূপ কার ?
কামিনী কোমল বক্ষ সহ মুক্তাহার
হইতে পারিত ভাই মূল উপমার,
ভিতরে যদি না তার রহিত গরল,
বিড়ম্বনা সে তুলনা জানহ কেবল।
উত্তর হইতে বায়ু বহে ধীরে ধীরে,
ভয়ের সঞ্চার হয় যাইবারে নীরে।

চিত্তরঞ্জিকা।
৫১
কার্তিকের প্রথমেতে মাঠ সমুদায়,
কিবা চাৰু শােভা ধরে মরি হায় হায় !
হরিত বরণ শস্য শীষভরে নত,
অপনীত মন হতে চিন্তা কীট যত
নিরখি তাহার সেই অপরূপ রূপ।
আনন্দনীরেতে পূর্ণ হয় মনকূপ ।
কতই নবীন ভাব উঠে মনাকাশে,
নদীৱ হিল্লোল যথা উঠয়ে বাতাসে।
যা হাতে পদার্থ আছে সেই নত হয়,
শীষ সহ শস্য দেখ অবনত রয়।
ফল ভরে মহীরুহ রহে হেট মাথে,
নীর ভরে নব ঘন নরে পায় হাতে।
হাতে পদার্থ আছে সেই হয় নত,
পদার্থ হইলে শূন্য স্বভাব উদ্ধত।
অপদার্থ অসার যাহার হয় মন,
সার মাত্র জেন তার কেবল গর্জন ।
ভুবন সে জন দেখে যেমন শরাব,
দম্ভে পরিপূর্ণ দেহ উদ্ধত স্বভাব,
অন্য নরে জ্ঞান করে যেন পশু মত,
কু-করমে অধরমে মন সদা ব্রত।
যে মানুষে আছে সার পূর্ণ শিষ্টাচারে,
সব লােকে সন্তুষ্ট যাহার ব্যবহারে।

চিত-রঞ্জিকা।
সদা তার নয় ভাব দাম্ভিকতা নাই,
মু-করমে মন রত তাহার সদাই ।
এইকালে চাসীগণ বুনে রবি,
মাঠ হেরি হৃদয়েতে উদয় আনন্দ।
কোন চাসী হাসি শাসি প্রকাশি দশন,
অনিমিষে ধান্যশীষে করে দরশন।
মনে করে “ উচ্চ দরে বাজারে বিক্রয়,
এ বৎসরে ধন্য ধন যদি মাের হয়,
এক খানি নূতন পত্তন দিব ঘরে,
ছেলেটির বিয়া দিব আমি তার পরে।”
এইরূপে চিন্তাকূপে হয়ে নিমগন,
বায়ুপর বাঁধি ঘর
স্বঘরে গমন।
কোন চাসী ভূমি চসি বুনিছে মটর।
মমুর মুগ বা কেহ বপনে তৎপর।
কোন চাসী বলদের ঘাড়ে ফেলি হল,
কৰ্ষণ করিছে মাঠ প্রকাশিয়া বল ।
কোন চাসী বেগুনের মূলে দেয় মাটী,
কোন চাসী বিদে আনে হতে তার বাটা
কোন চাসী ধান্য কাটে হরষিত মন।
কোন চাসী আলু তুলে করিয়া যতন।

চিত্ত-ঞ্জিকা।
ওহে সভ্য ভ্রাতৃগণ ! অসভ্য না চাস, .
বলি সম্বােধন কর-করহ তামাসা।
কিন্তু ওহে ভাই সব ভেবে দেখ মনে,
চাসা সম হিতকারী নাহিক ‘ভুবনে।
কোন্ জন হতে অন্ন করিয়া ভক্ষণ,
হৃষ্টপুষ্ট হয়ে ও প্রিয় দরশন ?
সুখাদ্য সুমিষ্ট দ্রব্য কেই বা যােগায়।
অঙ্গ বস্ত্র পরিধান কাহার কৃপায় ?
যাহতে জীবন রহে সে জন অসভ্য,
যাহতে জীবনধ্বংস সেই সভ্য ভব্য ?
তােমাদের দোষ নাই দোষ এ কালের।
কৃতজ্ঞতা মহা ধর্ম নহে এ ভবের।
কর্মীদল ঢাকি জল প্রসূন উগরে,
দেখিয়া সুচাৰু রূপ উল্লাস অন্তরে।
মােরগ কুসুম ফুটি উদ্যানের শােভা
নয়নে প্রদানে দেখ অতি মনােলােভা ।
গাঁদা ফুল নয়ন আকুল করে ভাই ।
মনে হয় তারি রূপ নিরখি সদাই।
সুগন্ধ গােলাপ ফুটে অতি মনােহর,
যাহার শোভায় হয় প্রফুল্ল অন্তর।

৫:৪
চিত্ত-রঞ্জিক।
পুষ্প মধ্যে গােলাপের বড়ই আদর,
মনােহর পরিমলে করে
দেখিতে সুদৃশ্য পুনঃ হেন কোন্ ফুল ?
যাহার মাধুরী দেখি আনন্দ অতুল ।
দেখিতে অনেক পুষ্প আছে মনােহর,
গন্ধ বিনা তত কিন্তু নাহি সমাদর।
তেমনি জেন হে ভাই মানবের মাঝে,
নিগুণ পুরুষে রূপ ভাল নাহি সাজে।
দিন ছােট রাতি বড় এই কালে হয়,
দিবসে করিতে কাৰ্য্য না পাই সময়।
দেখিতে দেখিতে দশ বাজয়ে ঘড়িতে,
“ নাকে দড়ি দিয়ে টানে ” প্রিয় চাকুরিতে
চাকুরি কুকুরি মজাইল বঙ্গবাসী,
অর্থ দিয়া চাকুরির যাহার প্রয়াসী ।
চাকুরি করিয়া মন নিস্তেজ হইল,
তােমােদি বঙ্গজনে সেই শিখাইল।
প্রাণ ওষ্ঠাগত ভাই চাকুরির দায়,
শােণিত হইল শুষ্ক চাকুরি কৃপায় ।
মনিবের মন সদা রাখিতে রাখিতে,
কিছুই নাহিক তেজ আর এ শােণিতে।

চিত্ত-রঞ্জিকা।
কি বলিতে কি বলহ কিছু জ্ঞান নাই ?
বিষয় বুদ্ধিতে
শূন্য দেখিবারে পাই ।
আর কিছু বলি নাই ও ভাই সকল,
জীবন ধারণ তরে চাকুরি কেবল
উপায় ভেবে না মনে ; অর্থাগম তরে,
কতই উপায় আছে জগত ভিতরে।
শ্রম সৌভাগ্যের জেন আকর স্বরূপ,
সৌভাগ্য আকারে যেতে শ্রম পথ রূপ।
অর্জন স্পৃহাই যদি এত তব হয়,
সেই কৰ্ম্ম শিক্ষা কর যাতে মান রয়।
মানবের মনুষ্যত্ব সুধু লয়ে মান,
মান অর্থে নাহি বুঝ কৌলীন্য সম্মান ।
মান অর্থে নাহি বুঝ দলাদলি মনি,
মান অর্থে নাহি বুঝ অসার সম্মান।
যে মানের কথা ভাই কহিতেছি আমি,
এ ভুবনে সে মানের কয় জন স্বামী ?
সে মান অমূল্য নিধি, তাহার আকর,
বিদ্বান, শান্ত জনের পবিত্র অন্তর ।
সে মান সামান্য জ্ঞান করে রাজ্য ভার,
নিরমল জল তুল্য স্বভাব তাহার
বিপন্ন যদ্যপি হয়। মানী মান তরে,
ধন জন জীবন সামান্য জ্ঞান করে ।
p

চিত্ত-রঞ্জিকা।
যে মান হারে কহে হয়ে তুমি নর,
অন্য নরে কি প্রকারে পূজিতে সত্বর।
যে মান হারে কহে হইয়া মানব,
কেমনে ত্যজিবে সত্য হেতু সে বিভব ।
যে মান তাহারে কহে হইয়া মনুষ্য,
কেমনে করিবে তাহা যাহা জান দূষ্য।
An envious speaping frost
That bites the first-boru infants of the Spring."-SHAK PEARE.
হেমন্ত হইল অন্ত, দুরন্তু একান্ত
শীতকাল সম কাল ভয়াল নিতান্তু
আসিল শাসিতে ধরা—যার অধিকারে,
প্রকৃতি সতী গাে অতি দীন ভাব ধরে ।
ৰুদল অশ্রু জল করি ছল পাতা,
ত্যজিয়া শ্রীহীন হয়, মুড়া হয় মাথা।
উত্তর হুইতে বায়ু বহে সন্ সন্,
ধরিল মানবে দেখ বিষম কম্পন।
শীত নিবারণ বস্ত্র সবে, দেয় অঙ্গে,
জলের নিকট কেহ না যায় আতঙ্গে।
স্নান করিবার কালে ভয় হয় মনে,
শরীর শিহরে উঠে বারি পরশনে।

চিত্ত-ঞ্জিকা।
'৫৭
সর্প, ভেক, আদি করি সরীসৃপ গণে,
বিবরে লুকায় গিয়া শীতের তাড়নে।
প্রত্যুষে কেবা সে চাহে শয্যা ত্যজিবারে,
লেপ মুড়ি দিয়া পড়ি শীতের প্রহারে।
যখন তপন ধরা নব করজালে,
ঢাকিয়া শোভিয়া রহে তৰুগুলি ভালে ;
উঠিতে বাসনা তবে করে সর্ব জন ;
৫ আয় রোদ হেনে” বলি ডাকে শিশুগণ।
শুনিতে অতি মধুর সেই কথা গুলি,
মধুমাখা কথা শুনি রহি কৰ্ম ভুলি।
পৌষ মাসে কৃষকের বড়ই আহলাদ,
ধান্য পরিপূর্ণ ঘর লক্ষনীর প্রসাদ।
কেহ শীষ সহ ধান্য মাঠ হতে আনে,
কি সুন্দর মনোেহর শব্দ শুনি কাণে।
মধুর শুনিতে নাহি হবে সেই স্বর ?
লক্ষীদেবী চলিতেছে কৃষকের ঘর ।
মণিময় আভরণে ভূষিত রমণী
যাইতে হয় না পথে নূপুরের ধ্বনি ?
শুনিয়া সে ধ্বনি মন হয় না মােহিত ?
লক্ষীর ভূষণে সব হবে না উথিত ?

৫৮
চিত্ত-রঞ্জিকা।
হর্ষ মনে,
মধুর অধিক সেই শব্দ নাহি হবে ?
লক্ষী, নারী মধ্যে বল প্রভেদ কি তবে?
খামার প্রস্তুত কেহ করে
মরাই বাঁধিছে কেহ আপন ভবনে।
আছাড়িছে কেহ ধান্য প্রকাশিয়া বল,
ধান্যের পালুই বাঁধে কেহ বা চঞ্চল।
গােলাঘরে তুষ্টান্তরে কেহ তুলে ধান,
এস পৌষ নাহি যেও, কেহ করে গান।
কৃষকের হর্ষ দেখি বল কোন জন,
নহিবে সস্তুষ্ট ভাই পুলকিত মন ?
কৃষিকৰ্ম্ম দেখি চক্ষে না যায় কাহার,
হৃদয় হইতে বল যত দুঃখ
দুঃখ ভার ?
কৃষকের পল্লী যবে বেড়াইতে যাই,
কৃষকের কাৰ্য দেখি মানস জুড়াই।
হৃদয় গগনে কত নব ভাব উঠে,
কতই নবীন চিন্তা মনে আসি জুটে।
ওহে ভাই ধনী জন
যেমন
সন্তুষ্ট সে মােটা অম্নে তুমি কি তেমন
চৰ্ব্ব, চূষ্য, লেহ, পেয় করিয়া আহার ?
কৃষকের ক্ষুধা কভু হয় কি তােমার ?
কৃষক যেমন মুখে ভূমে নিদ্রা যায়,
সে নিদ্রা কি হয় তব শয়নে খায় ?

চিত-রঞ্জিকা।
* ৫৯
অধিক বলিব কি হে, ভেবে দেখ মনে,
তুলনা হয় না তব চাসীমুখ সনে।
মধ্যে মধ্যে কুজঝটিকা ব্যাপিয়া গগন,
প্রভাকর করে সেই করে আচ্ছাদন।
রবিখন্দ শিশিরের জলে বৃদ্ধি হয়,
মূলা ফুল ফুটি ক্ষেত্ৰ কিবা শােভি রয়।
শ্বেতবর্ণ ফুল গুলি শীষ সহ উঠে,
তাহার মাধুরী দেখি দুঃখ ভার, ছুটে।
সরিষা কুসুম ভূমি আলাে করি রয়,
দেখিয়া মনেতে নব ভাবের উদয় ।
হরিদ্রা প্রসূন গুলি অতি মনােহর,
নয়ন রঞ্জন করে. জুড়ায় অন্তর।
মটরের ফুল ফুটি ক্ষেত্র পূর্ণ রয়,
সুচাৰু বরণ. দেখি প্রফুল্ল হৃদয়।
উচ্চদিকে মাথা করি যদি পুনঃ চাই,
চাৰু শােভাঞ্জন ফুল দেখিবারে পাই ।
ডাল ভরা ফুল গুলি অতি মনােহর,
বহু সংখ্যা আছে বলি নাহিক আদর।
অন্য রূপ আদর মানবে তারে করে,
ব্যঞ্জনের সহ কত যায় সে
বাতাবী লেবুর ফুল সৌরভ বিতরে,
আম্রাণে অতুল সুখ জনমনে হরে।
উদরে ।

চিত-রক্তিক।
মাযের শেষেতে ইক্ষু মাড়ে চাসীগণ,
দূর হতে শুনি যাহা জুড়ায় শ্রবণ।
ইক্ষু চক্রে ইক্ষুদণ্ড কাদে একস্বরে,
সিছলে অশ্রুজলে ফেলে সকাতরে।
রসের হাঁড়ায় চাসী বসি দেয় জাল,
জলীয় অংশটি উড়ি গুড় হয় লাল।
গুড় হতে হয় চিনী, সুখাদ্য চিনীতে।
কৃষকের ধার কভু পারিবে শােধিতে?
ওহে সভ্য ভ্রাতৃগণ! বলি আমি ভাই,
চাসা সম হিতকারী এজগতে নাই।
ওহে সভ্য ভ্রাতৃগণ বলি আমি তাই,
কৃষকেরে মনে কর সহােদর ভাই।
ওহে জমিদার ভাই বলি আমি তাই,
পীড়ন না করে চাসা ধৰ্ম্মের দোহাই।
P
I care not. Fortune! what you me deny,
You cannot rol me of free Nature's grace."--TxOMsu
নৃপ স্বেচ্ছাচারী, হইলে তাহারি,
কিছুতে সন্তোষ নয়,
প্রজার পীড়ন,
করিয়া সে জন,
মনে দুঃখী নাহি হয় ।

চিত্ত-রঞ্জিকা।
আপনার সুখ, পাইতে ইচ্ছ,
অন্য দুঃখ নাহি বুঝে ;
কিসেতে আপনি, দিবস রজনী,
সুখে রবে এই খুঁজে ।
দেখ শীতকাল, কালান্তের কাল,
৩ষিয়া সকল ধন
করেছে হরণ, তাই তৰুগণ,
ভাই ভ্রষ্ট
আভরণ।
শীত-রাজ্য অন্ত, আইল বসন্ত,
প্রফুল্ল মানব-মন ;
শীত-ঋতু যবে, আছিল এ ভবে,
চাৰুতাহীন ভুবন।
পর দুখে দুখী, পর মুখে সুখী,
হয় যে জনার মন,
সে কি কভু পারে, অপর জনারে,
হেরিতে দুখে মগন ?
বসন্ত আইল, দেখ অরভিল
সাজাইতে ভৰু লতা ;
নবীন পল্লব,
সব,
চিত্রিত কি চিকণত।
সমুদায়, মুন পাতায়,
হইল ক্রমে আবৃত ;
মঞ্জরিল
চ

৬।
চিত্ত-কি।
কি সুন্দর রূপ, অতি অপরূপ,
জগতে অতি আদৃত।
শাখা মঞ্জরিল, কুটল ধরিল,
শােভায় শােভিল তৰু ;
ইচ্ছা হয় মনে, সদাই নয়নে,
হেরি তারি রূপ চাৰু।
সহকার শাখী, দিয়া তব আঁখি,
নিরখি দেখ মানব,
পুর্নিত মুকুলে, বিহঙ্গম কুলে,
করিছে তাহাতে রব।
কিবা মনােহর, সৌরভ, সুন্দর,
আম্রাণে সুখ অতুল ;
গুন গুন স্বরে, তাহারি উপরে,
ভ্ৰমিছে ভ্রমর কুল।
যেই তারি তলে, পৰ্যটন ছলে,
প্রভাতে শুনেছে গান,
বিস্মৃত সে জন, হবে না কখন,
থাকিতে দেহেতে প্রাণ।
তাহারি উপরে, কোকিল কুহরে,
মন দেয় উড়াইয়া ;
কোথায় যে মন, রহে সেই ক্ষণ,
ভাবুক দেখ ভাবিয়া।

চিত্ত-ঞ্জিক।
পাপিয়ার রব, করে পরাভৰ,
সুম্বরে সকল পাখী ;
সেই সে পাপিয়া, আনন্দে মাতিয়া,
ঝঙ্কারিছে থাকি থাকি।
শীত ঋতু যবে, আসি এই ভবে,
রাজ্য বিস্তারিয়া ছিল ;
পাপিয়া কোকিল, নৃপতি দুঃশীল
রাজ্যে আর না রহিল ;
তারা মন দুখে, ম্রিয়মাণ মুখে,
বিদেশে লুকায়ে ছিল ।
বসন্ত আগত, দেখি হর্ষ কত,
মােহিতে ধর আসিল।
শীত সহচর, বাতাস উত্তর,
দিয়াছিল খেদাইয়া
মলয় পবন, আসিল এখন
সেই সুযােগ পাইয়া।
মৃদু
সমীরণ, করিয়া
চুম্বন,
সৌরভ সংযুক্ত ফুল;
মন্দ মন্দ হয়, কি ভাব উদয়,
বিতরে সুখ অতুল।

চিত্ত-ঞ্জিকা।
লেবু ফুল ফুটে,
পরিমল ছুটে
উল্লাসিত করে মন ;
কুটজ প্রফুল্ল, সৌরভ অতুল্য,
অঘ্রাণে তৃপ্ত জীবন।
শালমলি শাখী, দিয়া তব আঁখি,
নিরখি দেখ না চেয়ে ;
বিহঙ্গ
সকল, হয়ে কুতুহল,
পশিছে তাহাতে ধেয়ে,
করে মধু পান, কিবা সুখ দান
করে নয়নে বল না ;
মাহি ডালে পাতা, ফুলে অঙ্গ গাথা
চাৰু কিবা দেখ না!
তৰু ভরা ফুল, নয়ন আকুল,
হেরি রক্তিমা বরণে ;
দূর হতে যেন, হুতাশন হেন
জ্ঞান হয় জনমনে।
শজিনা পাদপ, করে ধপ ধপু,
যে দিকে দেখি ফিরিয়া ;
ভাল ভরা ফুল, নয়ন আকুল,
“সে মাধুরী নিরখিয়া।

চিত্ত-ঞ্জিকা।
চম্পক ফুটিল, সৌরভ ছুটিল,
মিঠে লাগে দূর হতে ;
সুন্দর বরণ, করি নিরীক্ষণ,
ভাসে মন হরষেতে।
গােলঞ্চ ফুটিল, সুগন্ধ ছুটিল,
জন মন মােহিবারে,
নাহি ডালে পাতা, ফুল ভরা মাথা,
কি সুন্দর দেখিবারে।
বিকচ কমল, ছুটে পরিমল,
তাহে অলিদল বসি ;
হেন বােধ তায়, নিরমল কায়
কলঙ্ক ধরেছে শশী ।
ঘেঁটু ফুল ফুল,
নিরখি সৌন্দৰ্য্য তারি,
আলাে করি বন, রহিছে কেমন,
বরণ যারি ।
নয়ন প্রফুল্ল,
ধবল
বােধ হয় মনে, ধবল বসনে,
বন-দেবী অঙ্গ ঢাকি,
সৌন্দৰ্য্য রতনে,
যেন জন গণে,
দেখাইছে সেই ডাকি,

চিতৰঞ্জিকা।
পলাশ কুনুম, কি শােভারি ধুম
ফুটি হইয়াছে গাছে ;
লােহিত বরণ, যেন আবরণ,
তনু খানি ঢাকি আছে।
তৰু পৰ্ণ হীন, মন মুখে লীন,
হেরিলে সে রূপ চাৰু;
ফিরাইয়া আঁখি, দেখি দূরে থাকি,
নিমেষ পড়ে না কাৰু।
পালিতা মাদার, কি বাহার তার,
রক্তিমা বরণ ফুল ;
দেখি ফুল চয়, মন তৃপ্ত হয়,
নয়ন করে ব্যাকুল।
সোঁদাল প্রমুন, কিবা চাৰু গুণ,
অালাে করি রহে বন ;
নিরখি নয়নে, ত্যজিয়া কেমনে,
যাইব দগ্ধ
হেন গুণ যার, আদর তাহার,
মানব মাঝারে নাই;
ত্যজি সুধী জন, বর্বরে যেমন,
বেষ্টিত ধনী সদাই।
গগন মণ্ডল,
ক্রমে নিরমল,
তাহে সুধাময় চাঁদ
ভুবন।

চিত্ত-গকি।
যােধ হয় মনে, বসন্ত গগনে,
পাতি মন-ধরা ফাদ ।
যেই মধুমাসে, মলয় বাতাসে,
সেবল বিরলে বসি ;
যেই মধুমাসে, বিহঙ্গ সম্ভাষে,
শুনিল কাননে পশি;
জানে সেই জন, মন যে কেমন,
তখন উল্লাসে
রাজ্য-সুখ,ভার, জ্ঞান হয় ছার,
সন্দেহ কি সুধীচয়!
প্রকৃতি সুন্দরী, নব ভাব ধরি,
ভুবন মােহিতে এলাে ;
দেখি তারি রূপ, অতি অপরূপ,
মনের আঁধার গেলো।
হেন বােধ করি, প্রকৃতি সুন্দরী,
ভূষা পরিহরি
নুতন ভূষণ, নুতন
অঙ্গেতে পরিল ধরি।
রাজ্য কোন ছাৱ, কি গৌরব তার,
ইহার নিকট বল ।
পূর্ব
}
বসন,

চিত্ত- রকা। চাহি না সম্পদ, ঘটাতে বিপদ, আম্পদ যেন কেবল। ইচ্ছা এই মনে, বসিয়া নির্জনে, স্বভাবেরি শোভা হেরি ; যখা ভৰু-লতা, বাস করি তথা, যথা পাখী শাখী ঘেরি। যথা স্রোতস্বতী, হয়ে বেগবতী, কল কল স্বরে খায়, তারি তটে বসি, প্রকৃতি রূপসী, নিরখি জুড়াই কায় । কিম্বা পুস্পােদ্যানে, যথা মুখ দানে, ভৰু না কভু বিরত, বসি সেই স্থানে, চাহি পুষ্প পানে, নাশি দুখ আছে যত। যদি আমি পাই, এসবে সদাই, কি ছার বিপুল অর্থ ; যাহা হতে ধরা, কলহেতে ভরা, যাহাতে যত অনর্থ ।

চিত-রঞ্জিকা।
The sploon is seldom felt where Flora reigns."--CowPBR.
এক বন্ধুর পুষ্পোদ্যান।
কিবা মনােহর, উদ্যান সুন্দর,
'নিরখি আখি জুড়ায় !
যেন ভূলি দিয়া, রেখেছে আঁকিয়া,
কোন চিত্রকরে তায়।
নব দূর্বাদল, অতীব কোমল,
চিকণ গালিচা মত ;
তাহে তৰুগণ, প্রসূন চিক্কণ
ভরে মাথা অবনত ।
ফটক খুলিয়া, দেখ নিরখিয়া,
তিনটি পথ পাইবে,
মধ্যটি প্রশস্ত, রামধনু
মত,
বাকিয়া গেছে দেখিবে।
কেন রামধনু,
সদৃশ কহিনু,
কোথা রম-শরাসন ?
শরণী লােহিত, তারি পার্শ্বস্থিত
ঘাস সবুজ
সেই ঘাসে নব, হিম-বিন্দু সব,
নিশায় পড়ে যখন,
বরণ;

চিত্ত-ঞ্জিকা।
।
তাহারি উপরে, প্রতিবিম্ব পড়ে,
প্রসূন নানা বরণ।
এরূপে দেখিবে, নিশ্চয় পাইবে,
রামধনুর রং সাত,
অত্যুক্তি বর্ণন,
করে না কখন,
যাহার কবির হাত।
লতা বিনােনিয়া’* ফটকে উঠিয়া,
বেষ্টন করেছে তায় ;
প্রমুন যখন, করে উদগীরণ,
অনুপম শােভা পায় ।
রাজ পথ দিয়া, যে জন চলিয়া
যায়, দেখে ঊর্ধমুখে
তারি রূপ চাৰু,
পালট না কাৰু
পড়ে, মন মগ্ন সুখে।
. তারি ডানি পাশে, কোয়ালিশ’ হাসে,
হেট মাথে লজ্জাবতী ;
ফুটে তারি ফুল, জলধি অকুল,
জলে যবে দিনপতি।
নিশা সহচরী, শুভ্র বর্ণ ধরি
'রহে, বিকসিত কালে ;
* বিয়োনিয়া ভিনসটা।
কুইস কোয়ালিশ।

চিত্তরঞ্জিকা।
'৭১
উদয়
তপন, হইবে
যখন,
শোভিত তখন লালে।
কিবা মনােহর, সৌরভ সুন্দর,
আম্রাণে সুখ অতুল ;
কিবা তারি রূপ, অতি অপরূপ,
নয়ন করে অাকুল।
সম্মুখে ইরি, আছে দুটী দ্বারী,
ফটকের বাম পাশে ;
ঝাউ-তৰু নাম, দেখিতে সুঠাম,
মুচকি মুচকি হাসে।
শরণী প্রশস্ত, ভারি বাম হস্ত
পাশে, চ'নকা ঘেরিয়া
শােভিছে গোলা, যায় মনস্তাপ,
সে মাধুরী রিখিয়া ।
ম্যাডম ম্যাসন,
করে সুচাৰু বরণে ;
যেন বােধ হয়,
রবির উদয়,
সকালে পূর্ব গগনে।
দেখ ভিক্টোরিয়া, বিকচ হইয়া
যেন খেত শতদল ;
* এক প্রকার গোলাপের নাম।
।
ရဲ

৭২ '
চিত-রঞ্জিকা।
কি বােধ হয়,
চাঁদের উদয়,
হইল এ ধরাতল।
- সার ওয়াল্টর,* জুড়ায় অন্তর,
আঘ্রাণ করিলে তায়,
দেখিতে যেননি, সৌরভ তেমনি,
সােনায় সােহাগা হায়।
সময়, হইলে উদয়,
হে বন্ধো! অামােদে ভাস,
আনন্দে মগন
হয় তব মন
অঘ্রাণে তাহার বাস।
দেখিতে উদ্যান, যদি কেহ যান,
কুতূহলী হয়ে মনে ;
অঘ্রাণের ভরে, ধর ফুল করে,
আনন্দ-ফুল্ল নয়নে।
‘মারস্যাল নীল, চেয়ে এক তিল,
দেখিলে এ বােধ হয়,
গােলাপের গাছে, গাঁদা ফুটি আছে
কি শােভা হে উদয় ।
সন্তান পালন, করয়ে যেমন
জননী কত যতনে,
* এক প্রকার গােলাপের নাম।
ঐ
===

চিত্ত রঞ্জিকা ।
৭৩
তুমি সেই মত, • করি যত্ন কত
পলিহ তৰু রতনে।
মাধবী, মালতী, চাৰু পুষ্প অতি,
প্রসবে কুসুম কালে ;
কি চাৰু সৌরভ,
মন করে দ্রব,
প্রফুল্ল হয় বিকালে ।
‘মধু-গন্ধা # প্রাণে, জুড়ায় পরাণে,
কি সুখ হয় উদয় !
ক্ষুদ্র পুষ্পগুলি, যে সৌরভে ভুলি
দুখময়।
‘শিরােপেজি' ফুল, রাণ আকুল
করে তারি মিষ্টবাসে ;
ফুলগুলি সাদা, অতি প্রীতি-প্রদা
কি শোভা বল প্রকাশে ।
নব মল্লিকার,
কিবা গন্ধ তার, •
আম্রাণে মােহিত মন ;
অস্ত গেলে রবি, তাহার সুরভি,
প্রফুল্ল করে জীবন।
ঘূথিকা, মল্লিকা, জাতি, শেফালিকা,
গন্ধরাজ, ভূচম্পক।
হনি-স;;

৭8
চিত-রঞ্জিকা।
স্থলপদ্ম, জবা, কিবা তারি প্রভা,
সেঁওতি সহ কণ্টক।
চম্পক, কুটজ, পদ্ম সে জলজ
সুচাৰু রজনীগন্ধ,
পুষ্প ঝুমকা লতা, যুতা চিক্কণতা,
আঘ্রাণে মানব অন্ধ।
‘ভারবেনা ফুল, নয়ন আকুল
করে তাহার বরণে ।
পাখী-লতা-ফুল,
যেন পাখিকুল
বসিয়া হরষ মনে।
লতা লজ্জাবতী, কোমলাঙ্গী অতি,
পরশে পত্র মুদিত;
নারী লজ্জাবতী, পরশে যেমতি
অপর পুৰুষে ভীত।
পলাশ,
জুড়ায় নয়ন,
সুচাৰু বরণ হেরি।
পাদপকামিনী, আনন্দ-দায়িনী
শ্বেত-ফুলে রহে ঘেরি।
পুষ্প ‘জেমিন, মন মুখে লীন,
আঘ্রাণে সৌরভ তারি।
রক্ত ঘেঁটু ফুল, নয়ন আকুল,
নিরখি রূপ ভাহারি।

চিত্ত-ঞ্জিকা।
'৭৫
ভুজ্জপত্ৰ ভৰু, পত্ৰ সৰু সৰু,
তাহাতে সুবাস আছে।
বন-মল্লিকার, কি সৌরভ তার,
গন্ধে কমি কার কাছে ?
‘উইলাে’ তৰুটী, চাৰুতায় ত্রুটি,
কাহার নিকট নয় ;
যেন ভূমি পড়ি, দেয় গড়াগড়ি,
অনীরে ভাসি রয় ;
শাখা, অবনত, দেখি মনে কত,
ভাবের
মনে মনে করি, উইলাে সুন্দরী,
অভিমানে হেঁটে রয় ।
সহচরী যত, অলঙ্কৃত কত,
কুসুম ভূষণ পরি,
আভরণ নাই, তাই সে সদাই, •
রহে মুখ ম্লান করি ।
উদয় হয় ;
বিগ্নোনিয়া গ্রাণ্ডি ফ্লোরা’ দেখিতে সুন্দর,
দেখি ভারি চারু রূপ প্রফুল্ল অন্তর ;
ফুল ঝাড় হেরি তার তৃপ্ত হয় মন,
কি চাৰু বরণ মরি জুড়ায় নয়ন।
এক প্রকার ফুল।

৭৬
চিত্ত-রঞ্জিকা।
মিনিয়া’ কুসুমগুলি নীল বর্ণ ফুল,
তাহার মাধুরী দেখি নয়ন আকুল ।
‘ফাপিসিয়া লাটী ফোলি’ প্রমুন সুন্দর,
আঘ্রাণে তাহার বাস সুতৃপ্ত অন্তর।
পত্র শিনিয়া রিজিয়া’ কুসুম চিক্কণ,
হেরি মন
মুগ্ধ হয় সন্তুষ্ট নয়ন।
এইরূপ শত তৰু কত কব আর,
বিকট নামের হেতু গাথা হেথা ভার।
অরকিট? তৰুগুলি শাখী’পরি হয়,
এহেন অরকিট কত তথা শােভি রয়।
কি সুন্দর ফুল তার মন তৃপ্ত-কর,
মােম ফুল গুলিমত শােভে তরূপর।
কাহার গঠন যেন স্বর্ণ-ময়
যথিকার হার মত
গঠন কাহার ;
বসন্তের শেষে ফুটে প্রীতিকর অতি,
সদা হেরি মনে করে ইচ্ছা বলবতী।
উদ্যানেতে শােভি রয় কত ক্যাকটাস,
যাহার গঠন দেখি মনে পায় হাস ।
রক্ত শ্বেত চন্দন, মরিচ, হরিতকী,
এলাইচ, সাগুদান, শুনিয়া চমকি।
হার,
এক প্রকার উদ্ভিদ।

চিত্ত-রঞ্জিকা।
'৭৭
দাচিনী, তেজপত্র, কপূর, সুবাস,
কতই রঙ্গিন তৰু তথায় প্রকাশ।
‘লাইকোপােডিয় বাইক্লর এক লতা,
নয়ন করে হরণ তার
চিকণ ;
পাতাগুলি, তার যেন কলকার মত,
সুচিক্কণ কাৰুকরি তাহে করা কত।
হে বন্ধো! তােমার এতে কতই যতন,
মনে কর তুমি ইহা অমূল্য রতন ;
মনাকাশে, হয় এসে উদয় আমার,
তােমার মনের ক্লেশ হেতু সে ইহার ।
একটা ইহার পত্র ছিন্ন হয়েছিল,
বার বার রি কথা কতই হইল ।
কতই যতন
তুব উদ্যানের তরে ;
কতই ভাবনা তব যদি উঠে ঝড়ে ;
কতই আনন্দ তব কুসুম ফুটিলে ;
কতই আনন্দ তব সৌরভ ছুটিলে ;
তব নিরমল সুখ কে বুঝিতে পারে ?
তব মত কয় জন আছে এ সংসারে ?
মনােহর অট্টালিকা সম্মুখে ইহার,
কত পরিচ্ছন্ন হয় সম্মুখ তাহার ।
প্রভাত সময়ে যবে গগনেতে রবি,
যেন ইহা শােভা পায় সুচিক্কণ ছবি ।

৭৮
চিত্ত-ঞ্জিকা।
নব দূৰ্ব্বাদলে যত হিম-বিন্দু পড়ি,
বােধ হয়, রহে যেন মুক্তা রূপ ধরি ।
বিন্দু বিন্দু হিম পাতি ঝােলে তরূপরে,
মুক্তাহার ভৰু গায় যেন শােভা করে ।
একেত গােলাপ তায় মুক্তাহার পর,
প্রেম ফাসি রহে যেন তার অঙ্গে ধরা।
কুসুম বরণ নানা
বিকসিত রয়,
হেরি ভারি চাৰু ভাব মন ফুল হয় ।
সৌরভে আমোদে সেই স্থান করি রহে,
মৃদু সমীরণ তাহে ধীরে ধীরে বহে।
লাগিলে সে দেহে মন হয় পুলকিত,
মধু বরিষণ করে তনু লােমাঞ্চিত।
হায় রে মানবগণ! বিষয় তৃষ্ণায়,
চাহ না প্রতি পানে একি মাের দায়।
সদত , উন্মত্ত রই অর্থ বাসনায়,
প্রবঞ্চনা প্রতারণা কর পায় পায়।
প্রকৃতি সতীর প্রেমে পড়েছে যে জন,
জন জানে এ ধন কেমন।
বিষয় বাসনা ঘােরে অন্ধ যেই জন,
প্রকৃতি সতীর রূপ দেখিবে কেমন।
পর-হিংসা, পর্ব-দ্বেষ, পর-উৎপীড়নে,
মনের আঁধার তার পূর্ণ সর্বক্ষণে।
সুধু সেই

চিত্ত-রঞ্জিকা ।
প্রকৃতি সতীর ছবি স্থান নাহি পায়,
হায় রে নির্বোধ নর হায় হায় হায় !
কলুষ দর্পণে নাহি প্রতিবিম্ব পড়ে
গগন কলুষ হ্রদে শোভা নাহি করে ;
সেই মত কলুষ মনেতে নাহি রয়
প্রকৃতি সতীর ছবি, জানহ নিশ্চয়।
বিকাল বেলায় যবে রবি অস্তে যায়,
মনােলােভ শােভা তবে এ উদ্যান পায়।
কৰ্ম স্থান হতে আসি বেড়াইতে যাই,
উদ্যানের শােভা হেরি মানস জুড়াই।
মানস মন্দিরে মম যত দুখ ধরে,
ছুটিয়া পলায় তারা কতই সত্বরে ।
চিন্তাৱােগ নাশিবারে উদ্যান যেমন,
কি ঔযধ ধরা ধরে বল হে এমন।
কোন তৰু ফুল ভারে রহে অবনত ;
কাহার সৌরভে মন পুলকিত কত ;
কাহার কুসুম কিবা বরণে রঞ্জিত ;
কতই বরণে কাৰু পত্ৰ সুরক্ষিত।
সুচিকণ কিশলয় কাৰু অঙ্গোপরে ;
যাহার চাৰু হেরি প্রেম বারি ঝরে।
সস্তাপ-হারক
কোরক সুন্দর,
শােভা পায় কাৰু গায় জুড়ায় অন্তর।

৮০
চিত্ত-ঞ্জিকা।
এ হেন অমূল্য নিৰি নিরখি নয়নে,
পরাণ. নাচিয়া উঠে ভার্সি মুখ মনে।
দুঃখ রাশি দূরবাসী হয় গিয়া তারা,
সুখ রাশি মনে আসি উদয় তাহারা।
সম্পূর্ণ
Printed by I. C. Bose & Co., Stanhope Press,
2.19, Boru-bazar Street, Calcuttú.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Chitta-ranjika

Author
Chattapadhyay,ishwarchandra
Title
Chitta-ranjika
File name
Chitta-ranjika
Text
OCR done
Citation
1923
Published
2009/11/25
Publisher
Ishwarchandra Chattapadhyay,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
94
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Chitta-Ranjika
DLI number
512561
Barcode
4990010019624.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
NgoVRjtcP4e
Download PDF

Chitta-ranjika