Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Khudkura

Roy,kalidas · 2009/12/13

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

একালিদাস রায়
মুল্য ৩ খানা,
উৎকৃষ্ট বাঁধাই ও আনা

প্রকাশক
একীর্তিচন্দ্র রায়চৌধুরী এম, এ,
ইণ্ডিয়ান বুকাব,
কলেজস্ট্রীট মার্কেট, কলিকাতা।
১৩২৯। পৌষ সংক্রান্তি
ভিটার-শ্রীশীতলগ)
মানসী প্রেস
|S,রম বা < is

উৎসর্গ
আমার
স্নেহাস্পদ সাহিত্যানুজগণের
করকমলে।
বীর
উটজানে,
স্বাগত তরুণ অতিথিগণ।
তােমাদের পানে
আশাভরা প্রাণে
চেয়ে আছে মাের আকিঞ্চন।
রাজরাণী-পাটে
বসাও মায়রে,
গড় মন্দিরে কনক-চুড়া।
'তরুণ বা-
বৃন্দ আমার,
ধর আতিথ্য এ ক্ষুদকুঁড়া।
.
চিশুভার্থী
কালিদাস দাদা।

No text on this page.

গ্রন্থকারের নিবেদন। এই ক্ষুদ্র গ্রন্থের কবিতাগুলির অধিকাংশ প্রবাসী, ভারতী, মানসী ও মর্মবাণী, ভারতবর্ষ, বসুমতী ও অন্যান্য মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হইয়া- ছিল, বহুদিন পরে একত্র করিয়া গ্রন্থাকারে প্রকাশ করিলাম। নানা- কারণে গ্রন্থপ্রকাশের আর উৎসাহ ছিল না। প্রধানতঃ যশ কিংবা অর্থের লােভে পুস্তক প্রকাশের আগ্রহ জন্মে। প্রথমতঃ, বাংলা দেশের শিক্ষিত সমাজ আজকাল উৎকৃষ্টতর কাব্যরসের আস্বাদ গ্রহণ করিতে শিথিয়াছে—এ সকল কবিতায় আর তাহাদের মনােরঞ্জন হইবে না। ইহাদের সাহায্যে প্রতিষ্ঠা বা যশ বিন্দুমাত্র বাড়িবে না সে বিষয়ে আমি নিঃসংশয়। দ্বিতীয়তঃ, 'অর্থের কথা আর নাই বলিলাম- কবিতার পুস্তক বিক্রয় করিয়া যে কিছুই লাভ হইতে পারে না একথা সামান্য বালকেও জানে। যাহাদের কবিতায় যথার্থ রস ও সৌন্দৰ্য্য আছে তাহারাই বিশেষ কিছুই পান না। যুদ্ধের সময় হইতে মুদ্রণব্যয় ও কাগজের মূল্য অত্যন্ত বাড়িয়া গিয়াছিল, আমার মতন দরিদ্রের গ্রন্থ প্রকাশের দুরাশা ত্যাগ করিতেই হইয়াছিল। সামান্য শিক্ষকতা করিয়া ও প্রাইভেট পড়াইয়া যাহাকে অতিকষ্টে গ্রাসাচ্ছাদন সংগ্রহ করিতে হয় তাহার পক্ষে কবিতায় পুস্তক ছাপাইয়া মুখের অন্ন নষ্ট করা রীতিমত দুষ্কৃতি। ইহা অপেক্ষা যদি পাঁচ জনের রচনা সংগ্রহ করিয়া কোনাে ছাত্রপাঠ্য পুস্তক সংকলন করিতে পারিতাম এবং দশগনের চরণসেবা করিয়া অনুমােদিত করাইতে পারিতাম তাহা হইলেও কিছু লাভ হইত। অথবা যদি নভেল বা গল্প লিখিয়া (তা সে যত পাঠ্য ও কদর্য্য হে না কেন) ৪রী ও প্রকাশকের শরণাপন্ন হইতাম তাহা হইলেও যশ না হােক অর্থ হইত। কিন্তু কবিতার পুস্তক প্রকাশ করিয়া তাহার যুণ ব্যয়টাও বিক্রয়লব্ধ অর্থে কুলায় না। এখন প্রশ্নহইতে পারে কেন তবে এ দুৰ্ম্মতি? এ দুৰ্ম্মতির একটি কারণ আজকাল কাগজের দরটা একটু কমি- মছে এবং পুস্তকখানিও ক্ষুদ্র। আর দ্বিতীয় কারণ রচনাগুলির প্রতি একটা অবুঝ মায়া। রচনাগুলি সুন্দর না হইলেও ইহাদের প্রতি একটা বৎসলতা জন্মিয়া গিয়াছে। বিচ্ছিন্ন কবিতাগুলিকে গ্রন্থে গ্রথিত দেখিবার আগ্রহগত দুর্বলতাটুকু ত্যাগ করিতে পারিলাম না। যারা আমাকে ভালবাসেন তাহারা ‘আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে আমার অপদার্থ রচনা- গুলি হইতেও আনন্দ পান, এরূপ শুনিয়াছি। তাহাদের একটু প্রীতি সম্পাদনের বাসনাও যে মনে মনে নাই তাহাও নহে। যাহারা আমাকে ভালবাসেন তাহাদের মধ্যে সাহিত্য সংসারে যাহারা আমার স্নেহাস্পদ অনুজ তাহাদিগকে এই ক্ষুদ্র পুস্তকখানি উৎসর্গ করিলাম। তাঁহাদের নাম নিম্নে প্রদত্ত হইল। শ্রীমান বিশ্বপতি চৌধুরী, শ্রীমান পরিমলকুমার ঘােষ, মান কাজীনজরুল ইসলাম, মান যতীন্দ্ৰপ্ৰসাদ ভট্টাচাৰ্য, শ্রীমান বিজয়রত্ন মজুমদার, শ্রীমান সাবিত্রীপ্রসন্ন চট্টোপাধ্যায়, শ্রীমান পতিপ্ৰসন্ন ঘােষ, এমান প্যারীমােহন সেনগুপ্ত ও মান চণ্ডীচরণ মিত্র। ছাপা কাগজ বাঁধাই ইত্যাদি মনােজ্ঞ করিতে কেন পারি নাই তাহা বন্ধুগণের অবিদিত নাই,এজন্য কুটা স্বীকারের প্রয়ােজন দেখি না। ইতি।

ক্ষুদটা
S.
বঙ্গবাণী
জয় তব জয় এ ভুবনময় দীন দুখীদের জননী।
যুগে যুগে যুগে তব পদযুগে প্রণত নিখিল অবনী।
অনশনে ম্লান তোমার আনন
জীর্ণ তােমার ভূষণ ভবন,
তবু শমণি মুকুটে শােভন তব ধূলিমাখা চরণ-ই।
চারি
বে, বেদাত, পুরাণ, তন্ত্র আপন অঙ্কে বহিয়া,
গিয়েছে, ওমা, সােমরস, তোমা জ্ঞানত্রিদিবের অমিয়া
মহাভারতের বারিধি অতল
চিন্তামণিতে ভরেছে চল,
ঋন্ধ করেছে রামায়ণী ধারা পতিতপাতকিপাবনী।
কৰিছে আশিস তোমায় গিরীশ চিরবরাভানে,
তুমি না মেধা মেনকাণীয় অসলিল সিনে।

ক্ষুদকুঁড়া
বৈত কাম্য দওবন
রচেছে তােমার দর্ভ-আসন
বৃন্দাবনের সুরভিরা ত যােগায় ভােগের নবনী।
বিজয়-পূৰ্য্য বাজে য়ুৰুপার চুভাগম্বুজ-মিনারে,
নিশীথ-লুৰ্য রমার করে প্রেরিত অর্থ তােমারে।
দূর কানাডায় জাগে বিষয়,
মরুতে মেরুতে জয় জয় ।
ইরাণ তুৱাণ বই গুলে সাজায় তােমার তরুণী।
P
আজি
বাণ কালিদাস ভবভূতি ভাস জামী রুমী গেটে দান্তে,
হগাে মিলটন ওমার হােমার মিলেছে ত্রিদিবপ্রান্তে।
তব শির’ পরে পুষ্প বরষে
করে কোলাকুলি প্রেমের হরবে,
তব গৌরব-গীতি-মুখরিত আজি অ্যালােকের সরণী।
কল
কঠে তােমার অভয়-মন্ত্র,দৃষ্টিতে তৰ অমৃত,
পরশে তােমার সঙ্গে অপসার পাপ শাপ তাপ অমৃত।
চিত্তে মা তব অয়ে ভক্তি
সঙ্গীতে নব অজেয় শক্তি,
তৰ পদসেবা অপবর্গা,স্বর্গের অধিরােহণী ।
।
২

ক্ষুদকুঁড়া
নিবেদন
জননি ভারতি, তােমার আরতি করি যে এমতি শকতি কই?
ধেয়ানে নাহিক গেয়ানের আলাে মানস-নয়নে সে জ্যোতিঃ কই ?
হৃদয়-তন্ত্রী বৈষ্ণ-দীর্ণ,
শতগ্রন্থিল তন্ত্র জীর্ণ,
অঙ্গুলি গুলি অবশ শীর্ণ-সঙ্কোচে নতমৌলি রই।
করতাল করে ধরিতে পারিনা কঠ নাহিক শঙ্খতান,
ছন্দে বাজেনা কঁাসরঝঝর জরাজৰ্জর তাহার প্রাণ।
করযােড়ে রই দেউল তােরণে
সকল সাধনা জীবনে মরণে
সপিতে পারি যে রাতুলচরণে, তেমন অতুল ভকতি কই।
বসন্তের আগমনী
এস মেহময়ি মাত বঙ্গে।
দেহ মন আঁখে অাথে
ধনবনশাখে শা,
গেহে গেছে, ঋতুপতি সঙ্গে।
অপসারি কুহেলিকা
ব্যোমে ব্যোমে নীলিমায়
ভূমায় ভূতিতে কর পূর্ণ,
হরি’ মােহ প্রহেলিকা, রবি সােমেশীলার
ইজিত আনাে মাগাে তুর্ণ,

পুকুঁড় আলাে বন অরুণিমা পাটলে শােণিতশাকে, বাগধুম নিপীড়িত তাপসের চোখে চোখে, হরিত কান্তি আনে। বলের মৃত স্নান ও তুষারশিশিৱজড় অঙ্গে। । এস ক্ষেতে ক্ষেতে পীতিমায় যেতে যেতে জোছনা ক্রমে ক্রমে নব নব পণে। নিজ হাতি সিতিমায় বিশ্লেষি’ সাত রঙে, নীল লােহ শ্যামধূম পর্ণে। দীপ্ত অভয় বাণী জাগুক সপ্তরে, সপ্ত তন্ত্রে ক’ সুপ্ত জীবন জুড়ে, সাত কোটি সন্ততি সাত জ্ঞান অষুধি গরি পর’ হােক রঙ্গে। নাগাে=এখনাে পল্লী-বাটে রাজিছে মূঢ়তাশীত- জর্জর নিশাতম পুঞ্জ। এখনাে ঝিঙ্গীত শাখিশাখে এক মূক, জাগরূক নহে পিককুঞ্জ। জাগেনি কুহেলিদের মন তরু গায়ে গায়ে নবকুলি মঞ্জরী আজো মধু বায়ে বায়ে এস মা শুভঙ্করি, ততি-সঙ্কোচ- কুণ্ঠাজড়তাত্রমভঙ্গে।

আগমনী
(শরতের)
আজি-নবনীহৃদয়। এসম অভয়া মণিমঞ্জযা করে,
প্রাণে-হরষ বরষি সস করিয়া বঙ্গে বয়ষ পরে।
এস-শারদগগন মগন করিয়া শুচি জোছনার বানে,
গিরি-বন প্রান্তরে হরিত বরুণ ঘনতরুণিমা দানে।
এস—একটিয়া তারাপুঞ্জ,
গুঞ্জনে ভরি পুঞ্জ
ককূজনে মুখরি মেরু-কুলায় রঞ্জিয়া জলধরে।
এস–পয়স্বিনীর আপীন ভরিয়া অমৃত গােরস রসে,
জীননিঃন্দের গৃহ শস্যে ভরিয়া, বিশ্ব উজলি যশে।
এস,-পুষ্প ভরিয়া গন্ধে
মঞ্জুতা-মকরলে।
এস-হ্রদ সরােবর ভরি কোননে কুমুদে ইন্দীবরে।
এস-নদনদী ভরি’ মীন-বৈভবে কান্তার ভরি’ কাশে,
তরু-বল্লরী ভরি ফল-গৌরবে তড়াগ ভরিয়া হাসে।
ভরি—শালিসম্পদে ক্ষেত্র করুণায় ভরি নেত্র
এস-বক্তৃত করি গিরিকর নিঝর ঝরঝরে।
এস-শির হাস্তে উজলি কাশ্যে আঙিনা ভরি’
নব-স্বাস্থ্যে ভরিয়া শীর্ণ অঙ্গ, জীর্ণ জড়তা হরি।
কর-বিতরি ও অন্ন,
সত্তানগণে ধন্য,
এস-বিশ্বভরা সন্তাপহাবুলের বরে ঘরে।

ক্ষুদকুঁ
বঙ্গভূমি
নমি শ্যামা কোষেয়-বসনা,
করিহরিশাল-শাসনা।
মঠে মঠে পূজা তব,
তটে ৩টে বৈভব,
দেশে দেশে তব যশােঘােষণা ॥
ঘনবটনুশীতল নবঘন-কুন্তলা,
সরসিজবিলােচনা ফুটনীপকুণ্ডলা,
উশীরানুচর্চিত।
ধূপদীপে অর্চিতা-
কুলকোরকচারুশনা।
মেহ তব খনিভরা, তনুরা বনভূষা ;
শিতফণিমণিমালা, ধৃহহহমম ;
গিৰিবন্ধুরদেহ
বেতসকুগেহ,
বিরচিতমীনযুখরশন।
নদগগদ-মধুনাবলিতা,
চমীবীজিকয়া মৃগমদগন্ধিতা,
সিন্ধুদোলনতা, সুরধুনীথানাপুতা,
তুষারশত-সিতসনা ।

ক্ষুদকুঁড়া
তভাৰত
এই ভারতের প্রাণের অর্ঘ্য ধৃত অঞ্জলিপুটে
অই বিধাতার পাদপীঠতলে চিরদিন আছে উঠে।
উঞ্জলিরে হিমগিরি কয় বিশ্বের লােক যত
কুকুটজ-গন্ধে তাহার নিখিল শ্ৰদ্ধানত।
ভক্তিতে তার চোখে ধারা বয় দেবতার শুভনামে,
ব্ৰহ্মপুত্র-রূপে দরদর বয়ে’যায় ধরাধামে।
রেখেছেন প্রভু পাণি প্রসন্ন ভারতের শিরে স্নেহে,
পাঁচটি
আঙুল জাগে মঙুল পঞ্চনদের দেহে।
গঙ্গায় তার করুণার ধারা শুভাশিস মঙ্গল,
ললাটে কণ্ঠে শতমুখী হয়ে ঝরিতেছে আবরল,
বহিতেছে জ্ঞানপুণ্যে বিচি কূলেকুলে পােবন,
বিতরি তীর্থে মঠমন্দিরে পারমার্থিক ধন।
ধরণীর মুখে তরুণীর বুকে, বারিধিবক্ষ তলে
গ্রামে জনপদে পুরে প্রান্তরে পণ্যে শস্যে ফুলে,
ইহজীবনের স্পৃহনীয় ধন জমিতেছে অবিরাম,
মানে পানে রত-জীবলােক যত গাহিছে হর্ষসাম।
এবে অনারত আশিসের ধারা ভক্তের সংসারে,
এনে ভারতে বিশ্বে কেহকি নিঃস্ব করিতেপারে ?

ক্ষুদকুঁড়া
কমলাকান্ড
খামার চরণকমল-ভৃঙ্গ কমলাকান্ত তুমি,
তােমার জন্মভূমিতে তােমার চরণচিহ্ন চুমি।
তৰ আশ্ৰমরেণুতে জনমি জীবন ধন্য গণি,
শক্তির বনদন তুমি ভক্তের শিরােমণি।
চিন্ময়দীপে উজল করেছ দীপান্বিতার রাতি,
নিজচিতানলে জেলে গেছ তুমি স্বর্গপথের বাতি।
শ্মশানে শ্মশানে বিষাণ বিষণে তৰ আহানবনি,
শক্তির বরনন্দন তুমি ভক্তের চূড়ামণি।
প্রমথ পিশাচে ভক্তিমন্ত্রে দানিলে দীক্ষা নব,
লালসা-বিলাস ভােগের মৃত্যু, যােগের ত্রিশূলে তব।
দ্য দানব চরণে জুটি, লুটিল সিংহ ফণী,
শক্তির বরনন্দন তুমি ভক্তের শিরােমণি।
লক্ষপতির বঙ্গে জাগালে পরমেক্ষের তৃষা,
সে তৰ পঞ্চমুণ্ডীর তলে বঞ্চিল কত নিশা, .
মিলালে শ্মশান-ভস্মের তলে অপবর্গের খনি,
শক্তির বরনন্দন তুমি ভক্তের চুড়ামণি।
তােমার উগ্ৰসাধনার তেজ জয় জয় জলে
তােমার ভক্তি-অমৃত সাধুর নয়নে নয়নে গলে।
বঙ্গের মঠমন্দিরে বাজে তব বাণী সনাতনী
শক্তির বরনন্দন তুমি, ভক্তের শিরােমণি।

ক্ষুদকুঁড়া
মধুমাসে
সেথা—কি সুখে রয়েছ বধু মথুরা পুরে?
হেথা—মধুমাস এলে ফিরে গােকুল জুড়ে,
সারা-বকুলবনে
হের-ব্যাকুলমনে
ঘুরে—উতলা দখিনবায় কাহারে চড়ে।
পুন-পিয়াল তলায় মৃগ এসেছে ফিরে,
শুনদোয়েল ফিরেছে তার তমালনীড়ে।
ক—শারিকা দুই
সুখে-কূজিছে মুহ
বনে-কোকিল কুজিছে কুহু করুণরে।
পাপিয়া ডাকিছে পিউ কাহারে বলি
কায়ে-বনে বনে গুঞ্জনে খুজিছে আলি
হায়-ফিরিয়া ঘর
হলােহতাশ বড়,
তার—নিশিত কুমশর কোথায় মুড়ে ?
নব-পলাশ জাগিয়া পুন আলসে ঢলে,
রাঙা—অশােক সশােক বুকে ঝরিছে মূলে,
ফুত-মুকুলদলে,
মধু-বৃথাই গলে
বধু-যমুনার জল হতে কাদিয়া ঘুরে।
হায়—আজি মধুমাসে বুৰি বরষা এলো,
তায়-গােল অকালমেঘে ছেয়ে যে গেল।
রাঙা-আঁখির পুটে
মুছ—বিজুরী ছুটে,
কালাে-কাজর গলিয়া লোর অঝোরে ঝুরে।

কুকুঁড়া
ওগাে-আজি মধুঋতু শ্যাম, সফল কর
বুকে-চপকিশাের, ব্যথা-উপল হর।
সেথাকি-মধু লভি,
বঁধুভুলিলে সবি?
কবিশেখর ভনে হে সখা, থেকনা দূরে।
পল্লী-ব্রজ
গ্রামের ঐ-প্রান্তঘেরা বনটি আজি কেন আমার মনটি হরে ?
সুদূরের-কুন্তরণ মুখর নদী কালিন্দীর রূপটি ধরে।
বাগানের,নিমসজিনা, আমার পোতা
তমালের-শ্যামলতা পেল কোথা?
ওপারে-কাশের বনে দুধের সাগর, গােকুল আমার মনে পড়ে।
.
ও কি ও-ঝিল্পী?-না-না, ঝুমুঝুমুর ঘুঙুর বাজে-
কি শুনি?-শুকসারী ঐ কইছে কথা বনের মাঝে ?
সাদামেৎযায় না চেনা আজকে দেখে,
ধেনুর,নামছে যেন পাহাড় থেকে,
আজিকে,—কীচকবনের উতল হাওয়া পাগল হলাে বেণুর ধরে।
ফুলে নুইয়ে পড়ে কৃষ্ণচূড়ার উজল শাখা,
দেখা যায়,-উহার তলে কারে যেন পায় আলতা-আঁকা,
কোকড়া,চুলে গোজা সন্ধ্যামণি,
কোমরে-গামছা বাঁধা, ঐ পাঁচনি,
রাখালেরবেশটি মােহন বকা চলন আজি আমায় উদাস করে।
১০

ক্ষুকুঁড়া
ধবংস-বেগ,
মিখা আমি তােমায় ভরি, মিথ্যা কাপি মৃত্যু স্মরি,
করকরােটি অমৃতে তব পূর্ণ,
মরণে তুমি করেছ জয় শরণে তব কিসের ভয়?
শঙ্কর,-এ শঙ্কা কর চুর্ণ।
ঈশান তব বিষাণ রবে প্রয় আসে ভীষণ, তবে
বিশ্ব নব তাহাতে লভে সৃষ্টি,
মাভৈ বাণী গর্জি কহ
শুনিতে শুধুশঙ্কাৰ,
বজ্ৰ-ছলে জীবনই কর বৃষ্টি।
তৃতীয় আঁখে বহ্নিছটা
বিথরে জলদর্জি ঘটা
গঙ্গা পুনঃ তােমারি জটাপুঞ্জে,
ইন্দু তর ললাটে জ্বলে
জনম দেয় প্রসূন ফলে
ওষধি-মধু-ভেষজ গিরিকুঞ্জে।
অট্ট রবে শঙ্কা রটে
তবুও তত হাস্য বটে
অভয়া, যেন কস্তু,
উরুগ শত অঙ্গে ধরি
ঘুরিছ প্রেত সঙ্গে করি
পিতৃস্নেহ লুকাবে কোথা শম্ভু ?
পিণাক তব জ্বলিছে করে, পুত্র তাহে মিথ্যা ডরে
ক্ষণিক তব ছলনাভরে যােব হে,
ভের লাগি ধ্বংস কর ধ্রুবের লাগি সুর্ব হয়
তুমি যে ভােলা তুমি যে আশুতােষ হে।
it।

।
ঞ্জিব বা তাহারি তরে
সূল তােমার করে
কাপুৰু ভয়ে ত্রিপুর, হেম-লঞ্চ,
তোমার দ্বারা শরণ লতে লড়েছে তারা ময় কবে ?
ধ্রুবের ছায়া-মোদের কিসে শব্দ?
করুণা তব লভিল অহি
ধন্য বিষ, কণ্ঠে মহি,
হৃদয় তব পাবেন প্রেম-অষ্ট।
মৃতেরাে হেয় অস্থিগুলি আপন দেহে লইলে তুলি
জীবন কিগাে হবে না। নিঃশষ্ট ?
প্রমথ পঃ পিশাচগণ
হইল তৰ আন জন,
পাবেনা ঠাঁই মানুষ তব সদ্মে ?
বিষ-ধুতুরা চরণে তব লভিল চির শরণ, প্রভা,
নেবেনা তুমি মােদের হৃদিপদ্মে ?
মরণ লভি বনের পী বহিয়া জয় কীৰ্ত্তি লিপি
কৃত্তি-পটে শােভিছে তব পদে।
জন্ম হয়ে উম হব
তবুত তব অঙ্গে রব
ডরি না তাই তোমার রােষ-রঙ্গে।
যা কিছু ভাবে ত্যাজ্য হেয় তােমার ভুয়া ভােজ্য পেয়
অধম আমি নিরাশ নহি তাই গো
নামাতে তুৰ অংশ বাহা পাবেনা প্রভু ধ্বংস তাহা
হাড়ের চেয়ে লভিবে উচু ঠাই গাে।
চির অমৃত উষার লাগি রয়েছি পিতর আশায় জানি
নাশ’হে মম জীবনমােরাত্রি

ক্ষুদ্র আমি কত্রে যব চুর্ণ হয়ে পূর্ণ হব
,,
বিশ্ব হ'তে বিশ্বনাথে যাত্রী।
মনের বনে
দাও গাে দেখা মেহন সধা গহনমনের
বনপথে বনমালী।
বনবিহারী তােমার তরে জীবন জুড়ে
গহনত বল্পী পালি’
দুঃখশােকের অশোকতমাল শাখে শাখে
নিবিড় তম দিনদুপুরে আটকে রাখে।
পিয়ালতলে ভয়ালরবে শিয়াল ডাকে,
অকল্যাণে রটায় খালি ॥
E
কী আমার কথায় কথায় লতায় লতায়
কাটায় কাটায় জড়াজড়ি।
ব্যথায় মর্মরিত পাতায় পাতায়
ঝরাফুলের ছড়াছড়ি।
জীর্ণ মম পারফকের বাঁকে বাঁকে,
স্মৃতির ঝিঝি ঝঝির বাজায় ঝাঁকে ঝাঁকে।
বসে আছি তোমার লাগি আকুল আঁখে, ১
শীর্ণ আশাৰ জোনাক জালি।

কুকুঁড়া
জয়ার প্রতি উমর
কৃত্তিপট যে এত মনােহর আগে তা বুঝিনি সই ;
ফণীক্ষণিনীর ফেস-ফেসানিতে আর শঙ্কিত নই।
খুলে নে’লো জয়া গজমােতিমালা,
খুলেনে, কনক মাণিকের বালা।
সাজেনা আমায় অক্ষবলয় আর ফণিমালা বই
বিনােদ-কবরী বিনাসনে সই, চাহিনা চিকনঘটা,
তৈলবিন্দু দিক শিরে, খুচুলে হােক জটা।
আলতাকাল রুচেনা আর,
চাহিনা উশীর চন্দনসার।
দেলো দে মাখায়ে শ্মশানভস্ম মুঠো মুঠো এনে ঐ।
ধুতুরাফুলের অবতংসটি রচে দে আমার কাণে,
মণ্ডিত কর কটিতট, মহাশঙ্খ—মেখলাদানে।
বৃষভক-কুলে উপাধান করি
বাপিবলো সখি সুখ শৰ্বরী,
করোটিমুণ্ডে প্রেততাণ্ডবে আর চণ্ডিমা কই ?
প্রভুর ভূষণে ভীষণ বলিয়া সবে করে পরিহার,
কিবা আছে শিব-সীমন্তিনীর তা’হতে কান্ত আর ?
প্রেম করিয়াছে বড় সুমধুর
সব রুদ্র পরাণ বঁধু,
প্রিয়ের বা প্রিয় শিরে ধরি তাই আজিকে ধন্য হই ।

ক্ষুদকুঁড়া
ইউসুফের প্রতি জুলেখা
(খী )
দেবতা, তোমায় দেছেন বিধাতা গুলতি তব কপােলে ফুটে,
রূপ-চঞ্চল দুনিয়া পাগল, হের তব পদ যুগলে লুটে।
ও ললাট-তটে যে দ্যুতি প্ৰকটে চন্দ্রমা ভয় পাও স্নান,
তব পাজে চারু রূঙ্গে পেল অনঙ্গ ধনুর্বাণ ।
তােমায় তনুর বসনে ভূষণে শুভ সুষমার আলোক লাগে,
লােহিত সুসিত কুসুম অযুত ফুটে যেন তায় ছালােক বাগে ।
মধুর অধরে মদির হাসিটি চারু কোরকের বিকাশসম
গুলের পাপড়ি-ঝরার মতন তব পদক্ষেপ মানস-রম।
তুমি আছ বলি সর্বংসহা সব গুরুভার বহিতে পারে,
তােমারে হারালে সে বুঝি পাতালে অতলে ডুবিবে ভূধর-ভারে
তুলে ধর’ মােরে, ডাকি করজোড়ে শরণ-বন্ধু, করুণা কর
গুন এ কাকুতি প্রাণের আকুতি ব্যথা হর’ মাের শােনা হয়।
তপ্ত গলনে বহ্নি-শােষণে চপল অশ্রু উপল যায়,
অশনি-আহত অশথের মত অন্তর মাের বিদরি যায়।
প্রলেপ ডিগ্ধ কৰি নিদিগ্ধ ভুলও দগ্ধ হৃদির জ্বালা,
দুলাও বন্ধু দুলাও কঠে তােমার বাহুর নিথির মালা। .
নিরাশা-তপন দহেছে স্বপন, হয়েছে জীবন সাহারা যেন,
খােসবাগানের খােসবাে এমন বহাইলে তায় আহারে কেন?
বহাইলে যদি ঝলসিত হৃদি-কুটালে ঢালে সােমের সুধা,
চির-অনশন-ক্লিষ্ট জীষন, মিটাও মােহন, প্রেমের ক্ষুধা
২১

।
গিৰিকুসুমের প্রতি কৰি
( ৰাণস)
অরুণ-হৃদয় তরুণ কুসুম-ফুটেছিলি
চেয়েহিলি অনিমেষে,
সাক্ষাৎ হলো, কুক্ষণে তুই দেখা দিলি
নিরজন গিরি দেশে।
নিঠুর চরণে দলিত করেছি হায় হায়
ললিত জ তাের,
আহা, আজি তােরে বাঁচায়ে তুলিতে পুনরায়
শকতি নাহি মোর।
+
আমি নহি তাের প্রিয় প্রতিবেশী চন্দনা
মুখের দুখের সাথী,
তাের পরে বসি গাহে যে অরুণ বন্দনা
পােহালে দারুণ রাতি।
তার পদভয়ে দুলে দুলে তুই পরিহাসে
নেচেছিলি মনােরম,
মাের পদভারে কেমনে বাচিবি ? তাের পাশে
আমি বনগজ সম।
উত্তরবায়ু মৃত্যুশীতল বয়েছিল
তুই যবে জনমিলি,
হুতাশনসম ভানুর তোরে হেছিল
তবু তুই বেঁচে ছিলি।

যে বা তুজ বারিধারা
গেল তাের পর দিয়ে,
তবু ছিলি জীয়ে, কোথা হতে এই পথহারা
প্রাণ তাের যায় নিয়ে ?
এনমিলি এসে নিরজন দেশে, স্মিতাননা
ছিলি না কাহারো পথে,
মাগিসনি তুই একটু বিন্দু বারিকণা
কাহারো কুম্ভ হ'তে।
ভালবাসা হয় পাসনিক তুই এ জীবনে
চাসনিক কারো স্নেহ,
ভাবিসনি তুই প্রাণ নিতে তাের নিরজনে
এখানে আসিবে কেহ।
.
সােহগে যতনে পুর উপবনে ফুল কত
গরবে হায়ার জাগে,
নিমিষে ফুটছে নিমিষে লুটিছে কত শত
তবু কার মনে লাগে ?
উলিলি তুই যে ঠাই, অয় যে আর নেই
গেলি যে গাধার করে,
হৱ পও বাচায়ে রাখিল, ব্যথা এই
মানুষ বলি তোরে

ক্ষুদকুঁড়
অলিৰ প্রতি কুসুম
এস কালােবঁধু মম গাহি গান, প্রিয়তম,
নিশি দিন ডাকি যে তােমায়,
ফুল-জীবনের সার
তারুণ্য, লাবণ্য-ভার
সুকুমার এ কৌমার দিতে তব পায়।
রূপ-দৃপ্ত প্রজাপতি
কয়ে গেছে, রুপবতি
তব প্রেম যে লভিবে বড় ভাগ্য তার।
সমীর ছাড়িয়া শ্বাস
বলে গেছে “ক্রীতদাস
হতে আমি রাজী আছি শােভনে, তােমার।”
সরীসৃপ পশু পাখী কেহ বনে নাহি বাকী
চারি পাশে জুটি ঘষে আমার গৌরব।
যত বন-দেবতারা
হয়ে অভিমানহার
যাচিয়াছে এক কণা আমার সৌরভ।
এ সব কিসের লাগি বহিয়া রজনী জাগি ?
বল বল কিসের আশায়,
কালাের্বধু যদি তুমি মম রস-হৃদি চুমি
না মিটাও মধু পিপাসায়।
।
রূপ গাছে গাছে রস,
রয়েছে গরে বণ,
আছে স্পর্শ শীতল মধুর,
নাহি শব্দ নাহি গান মৌন মূক শুদ্ধ এণ
রেণুবন আসে তাই বেদনা আর।

ক্ষুদকুঁড়া পাখার পরশ দিয়া দাও তনু কণ্টকিয়া কেশন-রােমাঞ্চে হিয়া কহে চঞ্চল, গাহি গুণ-গুণ গান বিকল এ মূকপ্রাণ মুখর করহে সথা রভস-বিভল। তুমি বিনা সবই ছার লাবণ্য হয়েছে ভার লালিত্য, লুলিত তার ওগাে কালােবধু, সুগন্ধ পীড়য়া প্রাণে কৃতান্ত-যন্ত্রণা আনে কালকূট হয়ে দহে পরাণের মধু। কাব্যের বৈভব বহি আর কতকাল রহি কবি বিনা সকলি বৃথায়। সঙ্গীতের উপাদান অঝঙ্কত মৌন ম্লান, দাও সুর দাও প্রাণ তায়। নীরব এ নাট্যশালা, মধু গন্ধ এত আল গান বিনা অলস স্বপন, এত ঋদ্ধ গয়ােজন বিনা হৃদ্য প্রিয়জন কনীনিকাহীন যেন অরুণ নয়ন। কালার বাঁশরী বিনা পিয়ারী মলিন দীন। ফুলের দোলনা তার ধুলায় লুটায়, কালাে জলদের বাণী মাতালে হৃদিখানি কলাপী চকছটা বিষাদে ওটায় । কালাে কোকিলের গীতি বিনা, জড় শীত স্মৃতি কে ঘুচাৰে কাননের অর নয়।

বি দুটী কালাে আঁখি,
শুধু লােরে যাধি
লজ্জারুল গও কভু শােভে কি সুন্দর।
কালাে দীঘিটির বারি
তাপজালালাহহারী,
কালাে ছাড়া উপায় কোথায় ?
এল কালােবধু মাের কুসুমকোমার চোর,
আপারে সপি তব পায় ।
প্রেম ও পুজা
পূবের আকাশ লাল হয়ে ঐ এলো,
উঠেছে অই শুকতারাটি জ্বলি।
জাগো নিয় নয়ন দুটী মেলে,
জাগাে আমার হৃদয়কোষের অলি,
সারাটি রাত জেগেই আছি আমি
প্রহর পল অনুপল
গুণি,
জাগাে বধু ফুরিয়ে আসে স্বামী
ভাের-আরতির ঘণ্টা কাসর শুনি।
হাজার চোখে পুব আকাশে চাই
হাজার কানে শুনছি প্রতি বনি,
ফুল সব আর যে দেরী নাই
জাগাে আমার হাজার চোখের মণি,

জয়শ জগদখা বলে হায়
নিঠুর বামুন উঠেছে এই জেগে,
হন্তে সাকী, নামাবলী গায়
এ দিক পানে আসছে দ্রুত বেগে।
বারেক জেগে আমায় বিদায় দাও,
হে এ চোখ শিশিরে যায় ভাসি,
শেষ কথাটি গুরিয়া গাও
কৰে বহি বিদার নিক এ দাসী।
দেবীর পায়ে ভিক্ষা এবার সব
জন্ম দিও, এবার নিয়ে প্রাণ
এমন দেশে, হয় না যেথা তব
পূজার লাগি প্রেমের বলিদান।
পল্লবের প্রার্থনা
(শেখ সাদীর ভাৰাৰলম্বনে)
গোলাপগুচ্ছে পল্লব হেরি কহিল ডাকি
শাহজাদী, তার প্রিয় সহচরী আসমানীরে,
*লের সাথে ও পাতাগুলাে কেন আনিলি সাকী ?
ফুলজানী হতে তুলে তুলে সব ফেলে দে ছিড়ে।
পল্লবগুলি নিসি কয় “রানুলালী-
অনেনি সাকী, আমরা এসেছি গুলের সাথে,

ক্ষুদকুঁড়া
বে-দরদী তুমি আমাদের তাই দিতেছ গালি,
সাকীরে বলিছ ছিড়িয়া ফেলিতে নিঠুরকরে।
নাইক মােদের সুষমা গন্ধ, যাইনি ভুলি
সঙ্গে রহিয়া গুলের সুষমা বাড়াই তবু,
সুদিনে তাহার উৎসব মােরা জমায়ে তুলি ।
দুর্দিনে মাের সখীরে মােদের ছাড়িনা কভু।
আজিকে সখীর বড় দুর্দিন-মরণ দশা
কনক আধারে বৃথাই সাদরে বাঁচাতে চাও;
প্রহরের লাগি কেন ঘুচাইবে শেষভরসা,
ফুলদানে তার সাথে আমাদেরাে মরিতে দাও।
বনমালী
(কালাংড়া কাওয়ালী)
ওরে বনমল্লিকা বনদুলালী
প্রাণে হরষণ পর-শন বুলালি।
আজি ঘন বনছায়
গন্ধিত সুষমায়
আবেশে আমার দু’ন-ঘন দুলালি।
গােলাপ ঢাড়িতে গিয়ে বৃথ ভ্রমিয়া
গেছি তাের রূপ পিয়ে হেথা থামিয়া ;
হেরিবারে তাের হাসি
হবে আমি বনবাসী
ছলছল অখে মাের মন দুলাবি॥
*

ক্ষুদকুঁড়া
।
পুষ্পবিলাস
দাদাঠাকুর, ফুল তুলনা বলছি পুনঃ পুনঃ,
চক্ষুজ্জ। আর চলেনা সাফা কথাই শুন।
আচ্ছালাম এই গাছগুলাে সব অনেক সেচকুড়ে,
অনেক জলে ভিজে এবং রােদের তাতে পুড়ে।
নিজের বুকের বাছার মত ওদের দেখি আমি
ওরা আমার চক্ষু জুড়ায় প্রাণের চেয়েও দামী।
বছ বটে “ফুল নিয়ে তুই করবি কিরে পাজি ?
কৈফেয়ৎটা দিতে তােমায় একবারে নই রাজী
তােমার ঠাকুর পুজবে তুমি আমার ফুলে কেন?
আমার ঠাকুর পুজতে আমি জানিইনাক যেন।
তুমি বামুন, তােমার আছে ঠাকুর পূজা শেখা,
দিনদুনিয়ার মালিক যেন বামুনজাতের একা।
ফুল না ছিড়ে যেন তাহার হয়না পূজা কভু,
ফুটফুল থাকতে বোঁটায় নেবেন আমার প্রভু।
কোল হতে মার ছেলেয় কেড়ে তােমার বলিদান,
আমার পুজা মায়ের বুকে শিশুর সুধাপান।
করুন তিনি পুষ্পবিলাস ফুলের বনে বনে।
চেয়ে চেয়ে দেখে আমার জুড়াই দু’নয়নে।
তােমার কোপে শাপে যদি উচ্ছন্নেই যাই
ফুলের বনে তারেই পাবে-দুঃখু আমার নাই। •
২৯

কুকুঁড়া
গ্রাম-প্রবেশ
।
ধানের জমি বুইল পিছে ফুরিয়ে গেল আলের পথ,
পাল-ডাবা গ্রামের পথে নামবে এবার চরণয়।
দু’পাশে তার আখের জমি সকলকে তার পাশের বাড়ি,
নীলকণ্ঠের পদ শুনা যায় আগের মতই রসটি বার।
কৃষাণ করে ক্ষেতের পাইট আলের পরে পাজাল জলে।
শশানের মুড়ি মাথায়, বুড়ী গােবর ঝুড়ি কঁাখে চলে।
কাটাদেওয়া পগার-ঘেরা ফুরিয়ে গেল আউশ ভূঁই,
গায়ের দীঘি খেলে যথায় কাৎলা কালােবাউস কই।
ঝটপটে হাঁস পদ্ম ফুটে পানকৌড়ি ছাড়ছে ডাক,
নালার ধারে আঁচল ভরে’ বঙ্গী-বুড়ী তুলছে শাক।
অন্তকরে গাঁয়ের বধু ব্যস্ত করে পুকুরঘাট
উঠতে হবে বটের তলে যথায় বসে গাঁয়ের হাট।
মউল বনে দোয়েল ডাকে তেঁতুলগাছে বছর ঝােলে,
শিকড়’পরে ঘােড়ায় চড়ে রাখাল, নামাল ধরে ফেলে।
তেলের ভিজে জাটী শুকায়, শুকায় তাদের যােলার ভেলা,
গাঁয়ের বালক অইল গায়ে ভাঙাগুলি করছে খেলা।
পথিক দেখে পাশ কাটিয়ে ঘােমটা দিয়ে দাঁড়ায় বধু,
জেলের ছেলে নেচে বেড়ায় কল্কেফুলের খেয়ে মধু।
তালবােনটীর মাথার পরে ডেকে বেড়ায় শঙ্খচিল,
পিছন ফিরে তাকালে আর বায়না দেখা মাঠের বিল।

কু
দুপাশে বাঁশ বাগান ঘন ভুয়ে পড়ে সুয়ে দুয়ে,
ঢুকতে গায়ে তােরণ রচে পথের এপার ও পার চুয়ে।
গাড়ীর চাকার দাগে ভরা টুকবে এবার গায়ের পথে।
ছাতার ধ্বজা গুটিয়ে নিয়ে ধূলিমাখা চরণরথে।
শেষ সৰল
পেলেছি যে ছাগলছানা একরত্তি হতে,
দাদা ঠাকুর বেচতে তাত নারব কোনমতে।
খালি এ কোল ভরতে পালি ছাগল দুটো ঘরে,
করিনিক ব্যবসা পঠার তােমার পেটের তরে।
বলছো তুমি কালীপূজোর জন্যে নেবে পাটা,
সেই ডরে হায় মােটেই এগায় দিচ্চেনাক কাটা।
উচ্ছন্নে তায় যেতে হবে বলছ বটে হাঁকি।
সেখানে হায় যেতে ঠাকুর আছে কি আর বাকী।
অনেকগুলি ভাটো সাঁটো অনেক কচি কাচা,
মা-কাশীরেই বছর বছর দিইছিত হয় বাছা।
দেখা হলে বলো ঠাকুর এবার মা মাকে,
“পাগল বুড়ী হয়না রাজী ছাগল দিতে তাকে।
পেটের বাছা অনেক দিছি মিটেনি তার ক্ষোভ।
মানুষ খেয়ে পেট ভরেনি ছাগলছানায় লােভ।
মরার বাড়া আর নেই শাপ, বলাে ঠাকুর, যাও
সকাল সকাল বুড়ীটাকেই এবার মা নাও'
T
৩

কুকুঁড়
গাভীহাৱা
ধনদৌলত মধ্যে পুজি ছিল কেবল একটি গাই,
হায় দুনিয়া আঁধার আমার আজ গােয়ালে সেইটি নাই।
উঠাভরা আছে শুধু চারটি তাহার ক্ষুরের দাগ,
কাদায় আমায় আধ খাওয়া তার চাকড়াভরা নােটের শাক।
বাছুরটি তার পড়ছে শুয়ে কোলের কাছে গুটিশুটি,
হাডাকটি শুনলে দোহে আচমকা আজ চমকে উঠি।
মা বলে ঠিক দাঁড়াত সে ফিরে এসে উঠানটিতে
ভরুতা পেট চরাণীতে হায়রে গােটা খরাণীতে।
কাজ ফেলে সব, ছুটে যেতাম ভাতের ফেনের গামলা নিয়ে
গার ঘাম তার নিতাম মুছে আপন শাড়ীর আঁচল দিয়ে।
লকলকিয়ে উঠেছে ঘাস ষ্টীমাসের পশলা পেয়ে
সবুজ পাথর এসে আজ ঐ ভহর পগার ফেল্পে ছেয়ে।
পায়ের দাগে দাড়াল জল ধানের নােআ উঠল ঝেড়ে
হায়রে আমার শূন্য গােল গড়াগড়ি দুধের কেঁড়ে।
বাগানমুখাে কখখনো সে হয়নি চারা গাছের টানে,
খোয়াড়ে তা হয়নি যেতে পায়নি কারো খামার পানে।
মরে গেলেও পরের ক্ষেতে দুব্বো ছিড়েও খায়নি ভুলে,
শিঙ দুটি তার মন্ত ছিল মারেনি তা কাউকে তুলে।
হাত না দিতে বাট গুলিতে ঝরত রে দুধ বাধারে
মােড়টি তাহার দুইহাতেও ধরতে কেহ পারত নারে।

৮
কু
ছয়টি তার ছুড়ে বেড়ায় পায়না মায় ঘাটে মাঠে
শাল বেয়ে তার রা রে চোক বুজ মাের হাতপা চাই।
পাতা কুটাই পেত সদাই-পেতনা খােল জানা হত
শরীর ছিল নাদুশনুদুশ নরম হি-মনীর মত।
পিঠটিলে ঢেউ খেলিত লােম নাচায়ে সকল গায়ে
গলাটি তার বাড়িয়ে, ঘাড়ে রাখত সে মুখ চুলের ছায়ে।
র না ছেরে খড় ক’টি হায় রেখেছিলাম যত্নে বুকে
কে থাৰে সেই সঞ্চিতধন। যাগে পুড়ে আবার মুখে।
বিসংসারে নেই কেহ মাের মাত্ৰপুঁজি ছিলই সে যে,
তাই আমার গায়ের গােয়াল ছিল শশাবার ঘরের মেজে।
ফুল হয় পােয়াল জেলে গােয়ালে সাঁজ সাঁজাল আজ
খার বিষৰে শান এর ফুল মাের সকল কাজ।
মজুরের গােহারী
{
সাহেব বিচ্ছ ধুমুক-দাও
আমরা তাতে মােটেই কাতর নই,
জুগে মেলেও সইতে হবে তাও
নই ত কিছু জুতাের নফর বই।
শায়া নাে তই কো কেন,
মজুরীটা কম করো না যেন,
।
--
N

নগদ সেটা চুকিয়ে দিও, খলে বাকী সত্যি কার হই,
ইমত দিচ্ছ ধনুক তাতে যাৰ মােটই হীল নই।
সতা ছিল সত্যি, ৰটে আগে
টাকায় ছিল মজুর গােটা ,
একটাতে আজ এক আধুলি লাগে
এটা তােমার সহ কি আর হয়।
জামা জুতােন বােতল ঘড়ি,
চশমা চুরুট চেয়ার টেবিল ছড়ি,
গিন্নীদের গয়না এত, এ-কি সবই হালী রেওয়াজ নয়।
পেটের দাবী সয় না শুধু নতুন নতুন খরচা এত সয়।
এক টাকাতে চৌদ্দ পােয়া দুধ
টাকায় যা হায় কিনতে বারাে সের,
কর্জ নিলে লাগছে কত সুদ
অনেকে ত পাচ্ছ তাকাে টের।
চাল ডাল তেল ময়দা চিনি নুন,
মাধ্যি দ্বিগুণ কেউ বা চতু,
দাম দিয়ে ত কিনছ সবি, সবের তরেই রইচ টে,
এতই যদি সয়, সবে না। পেটেরুদাবি কেবল আমাদের।
ভাবছ বুঝি মুনীষ খেটে মােরা
মজুরীটা নিচ্ছি বেশী দরে,
ভাবছ খুঝি কিনৰ হাতী ঘােড়া
কিংবা টাকা রাখৰ কাম ঘরে।
=

ভাবছ বুৰি পয়ব জুতাে মা,
খাবাে মিঠাই মােখা মাখা থামা,
কত মুন তাই জোটে না, রাক্ষুসে পেট কেমন করে তরে।
নাই ত বাগান জমি জমা, কিনতে যে হয় সবই চড়া দরে।
বিচা করে একটু সদয় হয়ে,
ঘরের খবর ভাবলে এ বুক ফাটে
ঠি ছেলে পেটেও ছেলে বয়ে
মেয়েগুলােও খাটছে মাঠে ঘাটে।
পেটের জ্বালায় রােগের জালাও ভুলি,
আট বছরের ছেলের হাতে তুলি
দিছি পাচন, কাখে ঝুড়ি গােবর কুড়ায় বুড়ী মা মাের মাঠে,
ওবু সবার পেট ভরে না, আধ পেটাতে অনেক রাতই কাটে।
দুধের ছেলে কাদলে রােয়ারই
ক্ষুদের মাড়ে ভুলাই আহা তাকে,
কালকে খাবি বড়গুলােয় কই
আধেক রাতে খিদেয় যখন ডাকে।
তাদের তরে লুকিয়ে রেখে ভাত,
বাড়ীর ওরা শুধুই কাটায় রাত,
হল দিয়ে সে পেটের জ্বালা, গামছা দিয়ে লজ্জাটুকুন চাকে,
বলার কথা নয় এসব, বলে কি ফল? বলব বলে কাকে ?
।
বলছ ‘ব্যাটা বেজায় ছােট লােক,
সত্যি হোট-টমও তােমার, বড়,
.

কুঁড়া
ৰাৰ ভাৱো জয় জয়কার হাে
মজুরীটায় একটা মা কর
সারাটি দিন মাথার ফেলি ঘাম
চাচ্ছি কি তার বেজায় চড়া দাম ?
আজ সবই, ইৰে শুধু বুকের রক্ত সস্তা এমনতর।
সবই তােমার সহ হলো, মানুষ হতে সবই হলাে বড়।
অনারই
।
=
বরুণের আশীর্বাদ
দেবেরে পালা
এবার পুরৰে করেনি বর্ষণ,
অফ এ হেমন্তে তাই কান্তি আশা শান্তি নাই
নীয় অঙ্গে নাই পুলক-হর্ষণ।
জমিতে উড়িছে ধূলাে
ফুল না শীষগুলাে
গােরুর খােরাক হলে যেন তুচ্ছ ঘাস,
নিরাশার ভাল হত,
কৃষক জাগিছে রাত
দীর্ঘশ্বাসে তপ্ত করি তুলে অল্পগ্রাম।
বলে ভিজে গেলে পুড়ে
খেটে খুটে ঘুরে ঘুরে
লাক্ত হইয়াছে শেষে দীপ জ্বর,
নাহিক বৈদ্যের কড়ি,
রূপা নাই এক ভক্তি
বাধা দিয়ে নিবে যে পণ্যের যােগাড়।

কুকুঁড় দেহ স্থির কেহ নাহি কে বা মহাজন দু নয় কেবল সেলামে আশ্বিনের কিন্তী বাকী গােমা বলেছে কি দিলে, বাদ-লোড়া চড়াৰে নিলামে। হাতে পৈচা দুইখানি চেয়েছিল যে কাণ অনশন কত দিনই কাজি সে লুকায়। বৃথা আর জল টানা একের চা না আশা ভরসার মত সকলি খায়। মেয়ের আনিবে বর নূতন বাধিৰে ঘর চাষা করেছিল আশা এখন বাড়ে, যেই ঘরখানি গাছে তাই বা কেমনে বা ছাওয়ায়ে মাখিবে হয় কি দিয়ে তাহারে ? পুকুর অনেছে পাকে মাছ নাই, ব্যাঙ ডাকে জালী কঁাধে জেলে-বউ ফেরে স্নান মুখ, ছেলেগুলো কি যে খাবে আঁখিজলে তাই ভাবে; পুজি আছে শুধু দুটো ওলী শামুক। অস্থির পর্ণকায় গােক, চাল টেনে খার নাহি তৃণগাছা হায় হতে পারে, কাদাজল পান করে একে একে যায় মরে রােগে ভুগে ভুগে শেৰে চলেছে গাছে। বন্ধ আজ গাই দেখা দেয় না এ পোকা যে গাই ঢালিত দুধ, দুই তিন কেঁড়ে,

গােয়ালা তাড়াটা গােটা খুঁজে নাহি এক ফোঁটা
মেলে দুধ;ফাটে বুক রােগী, শিশু হেরে।
চাষী'ৰে কোন্ পাপে বুঝি কোনো লেৰ শাপে
ভাবে করিয়া কবে কার অপকার,
দুধে মিশাইত জল গােপ ভাবে তারি ফল
মনে মনে বলে পাপ করিবে না আর।
যাট নাই সাের গােল ঘাটে নাই কল রােল
গােঠে বাটে মাঠে নাই নীলকণ্ঠী গান,
রোগ শোেক ঘরে ঘরে কে দেখে বাে ধরে
যাত্রা মহড়ায় নাই হাস্য কলতান।
মাসে হাট আট দিন তাও ক্রমে হয় ক্ষীণ,
কিনিবার বেচিবার নাহিক কিছুই
মাঠ ও অলাভাবে রবিশস্য কে লাগাবে ?
পড়ে আছে মেদে বাদা আউসের ভুই।
উঠানে বেগুন চারা
সবগুলি গেছে মারা
উঠিতে পারেনি চালে আজো পুঁই লতা,
লাউ কুমড়ার ভার
ভাঙিত মাচান যার
হৃদি ভাঙে আজি তার আঙিনার ব্যথা।
বনে বাগে নাই ফল,
এবার শিউলী তল
হয়নিক পীত-সিত ফুলে ফুলে আলা।
নিতা মরণ নাই
ধুতুরা ফুটেছে তাই
পুকুরের তরে তুলে পল্লীবালা।
,

পিপাসিত পাখী অলি দেশ ছেড়ে গেছে চলি,
রাতে ধু পেচ' ডাকে, দিনে চিলাক
লবিন্দু নাই ভাবে। মধু বিন্দু কোথা পাবে।
ফুল নাই, মৌমাছিরা ওছেনি মৌচাক।
মল গড়ার
মড়া তা বাড়ায়
ফুলন্ত শর বনে উঠে হাহাকার,
মান লতা তরু
এ দেশ হয়েছে ,
বর্যজননীর দেহ না লভি এবার।
মেছুনী
সােয়ানী ছিল ডাকাবুকো ভাসাধ্যে জেলে
যখন জোয়ান, মেছের রাজা অমুক মাঝির ছেলে,
ঝকা কালো কোকড়া চুলে কাটত চেরা সীথি,
কই কাৎলা ভাসিয়ে শােলা আনত ধরে নিতি।
কাপপড়ে কাপড় পরে হাতে সােনার বাল
বেচতে যেতাম গাঁয়ের ভেতর কাখে গাছের ডালা।
ভদ্ররের বোঝিদেরও হয় না নসীব হেন,
ছোটলােকের মেয়ের দেখা হবেই বা কেন?
সেই যে কে কালে গেল না আলো
ননদ ছিলনাক ৰাভীর কোনো কাজও।

শীথির সিঁদুর মুছে নিল হঠাৎ ওলাউঠো,
সইল না সুখ সইল রে দুখ, কপাল আমার ফুটো,
দুষ্টলােকের চেষ্টা হলো কুপথে মােয় টানে,
গর্জে গেলাম আঁসের বটি হাতে তাদের পানে।
গাল পাড়তাম দেখতে পেতাম বাড়ীর পাশে থাকে
ইজ্জৎটায় রাখতে গেলে লজ্জাশরম থাকে।
ছুটলো যে মুখ আজো তা যে থামূলক ভুলেও
ঘােমটা বলো মাজায় বাঁধা উঠলাে না আর চুলেও,
ছয় বছরের ছেলে রেখে মােড়ন গো মরে
মানুষও তা করেছিলাম দুখ মেহনৎ করে।
বিয়ে দিলাম, সেও হলো এক মদ জোয়ান জেলে,
ফাঁকি দিয়ে সেও পালাল কচি কাচায় ফেলে।
কাদি তাদের বুকে বাঁধি আঁধার চারি দিক,
বলাে দেখি কেমন করে মাথায় থাকে ঠিক?
সেই যে মাথা বিগড়ে গেল, মেজাজ হলাে চড়া,
কারাে কথা সয়না গায়ে নাই কড়া কড়,
বৌকে আমার বাহির হতে দেই না কোনো মতে,
ছ’ক্রোশ দূরে মাছ কিনে আজ হাঁকছি পথে পথে।
তেরে নানা দাম, দেবে বার বারাে না কেন,
তাই কি সবাই নগদ কেননা প্রায়ই রাখে দেন,
৪মাস আগের পাওনা আদা আদায় কইয় হয়ে
মুখের কথা মিষ্টি হবে কেমন করে বলে

ওপাড়ার রূপসী
109 TT The Passionate shepherd to his lover et
হণে।
দাড়াও দাড়াও ওগাে দখিণ পাড়ার রূপসী,
দয়া করে আমার মনে হওগাে প্রেয়সী।
দিব শাড়ী শান্তিপুরে গামছা দিব রঙীন দুরে,
জল আনিতে দিব তােমায় পিতল কলসী।
।
ফিতে কাকুই দেব তােমায় বেণী রাধিতে
দেব নতুন তাতারসি পাস বাঁধিতে।
পৈছ শখ দেব হাতে,
খাওয়াইব দুধে ভাতে
নাহয় নিজে বাদল রাতে থেকে উপােষী।
বেনাক মাজতে বাসন গােয়াল বাড়িতে,
টেক জাতা চালুন পাবে নিজের বাড়ীতে।
নাঠে ঘাটে যাওয়া আসায় মনের কথা কইতে পাড়ায়
নেক পাবে সই-স্যাঙাতী সমান বাসী।
হাঁটতে পাছে কাদা লাগে আপরা পায়
আষাঢ় মাসে ঝামা পেতে দেব আঙিনায়।
নতুনহাওয়া আমার ঘরে নতুন-বােনা হয় পরে
এসো তােমায় পূজব দিয়ে দুর্বো ভুলী।

পাড়াৰ মেয়ে
(আলী কবিতার অনুকরণে )
যতগুলি আমি কিশােরীরে জানি তার মত কে সুন্দরী।
মােদেরি পাড়ায় বাস করে সেযে আমারি পরাণ মন হরি,
ধনীর বাড়ীতে এত যে রূপসী তার মত বল কোন্ না?
যুকে নিশিদিন বালাইয়া বীণ ফিরিতেছে সেধে গুঞ্জরি।
চৌকীয়ের কাজ করে বাপ পালে গুটি পাঁচ সন্তানে,
মুড়ি চিড়ে ভেজে তার মাতা, পাড়ার লােকের ধান ভানে,
তারা হেন মেয়ে কেমনে লভিল বিশেরে করি বঞ্চনা?
এই রূপসীরে কত ভালবাসি শুধু তা-এ মোর প্রাণ জানে।
ভুলে যাই কাজ, পথ দিয়ে যবে চলে যায় মাের প্রাণমণি
শনিব আসিয়া গালি দিয়ে বলে ‘দুর হয়ে যারে এক্ষণি।
নয় দেবে মােরে দূর করে আর করুক যতই লাঞ্ছনা,
প্রিয়ারে আমার নারি ছাড়িবারে এততেও নাহি দুখ গণি।
মনি আমারে পাঠালে বাজারে প্রিয় পাশে যাই টুক করি
ভিনগাঁয়ে মােরে পাঠাতে চাইলে ব্যায়ামের মত মুখ করি,
তামাক টানিতে টানিতে যদিবা হন কভু তিনি আনমনা,
প্রিয়ার ঘরের জানলায় গিয়ে হেরি তারে আমি বুক ভরি।
ধুতির বদলে শাড়ী নিৰ চেয়ে ভেবেছি, এবার আশ্বিনে,
যা কিছু পাই সকলি জমাই দিব তারে আমি দুল কিনে,
হানার টাকা পেলেও কোথাও তার কাছ ছাড়া রাখব না,
জীবনের চেয়ে ঢের বেশী সেধে, কাহারো কথায় ভুলছিনে।

দিনগুলাে কেন লম্বা বেজায় গুলো আরো, কই চলে।
এই ফাগুনের পরে ফাগুন। যুগ ভাবি আমি এক পলে,
পাড়ার লোকের চোখ ঠাঠারি করে দেয় মােরে গয়না,
তারা ত গানে না তার সাথে পেলে যেতে পারি বনজঙ্গলে।
মিলেনােৎকণ্ঠিতা
চুলগুলাে সই অমন করে’ৰাধিস না আজ টেনে
এমন খোপা বাসেনা সে ভালাে,
গঙ্গাজলী ডুরে খানা দে-না পুটী এনে
আমায় কি আজ দেহে বসন কালো ?
নখের পরে আলম টিপ দিন। পায়ে ধরি
পরতে যেন করেছিল মানা
কাচপােকাটিপ কাজ নেই বােন সি’দূরটিপই পরি
কি চায় সে যে আমার আছে জানা।
বছর ধরে নাইক দেখা স হলো তার আজি,
হা সই আদি কখন হবে সাজ?
ইমাস হতে গুণছি যে দিন দেখছি শুধু পাঁজি,
মুখ তুলে কি চাবেন হরি আজ?
মাস হতে যাচ্ছি বাবেল, আচ্ছ। নিঠুর স্বামী
ৰ লো-বােন কিসে জীবন ধরি।
১৩

যতক্ষণ না দুচোখ নেলি দেখছি তারে আমি
ততক্ষণ তার ভরসা কি আর করি ।
প্রাণে কত ধুকপুকুনী,-কত যে সংশয়
দেখে কি আর প্রাণটা কভু খুজে
গগি এ হিয়ার ভিতর নিত্য নূতন ভয়
পুরুষমানুষ ভাবে কি না বুঝে।
যাকগে সে সব বুঝাব তায় আজকে নয়ন জলে
নারীবধের পাপীরে বােন পেয়ে,
মুখখানি আজ সারারাতি হয়েখে চরণ তলে
তুলবনা আর, দেখৰনাক চেয়ে।
নইলে দিদি বলিস দি কইব না তার কথা
পিছু ফিরে মুখ ফিরায়ে রবো,
বে-দরদী,-বুঝে না যে অভাগিনীর ব্যথা
তার কাছে বােন নরম কেন হবে?
বলছি বটে তেমনি করে কেমন করে বই
আসছে সেযে বছরখানেক পরে,
দূর প্রবাসে হয়ত বড় কষ্টে ছিল সই,
একবারে সে যদিই গলা ধরে
বলছি ৰে সৰ হয়ত কিছুই হবেইনা কাজে,
কেমন যেন লা করে বড়,
অনেক দিনই হয়নি দেখা, হয়ত আবার লাজে
হবে নতুন বউটি জড়সড়।
৪১

হয়ত অনেক রােগে ভুগে শরীরখানা ক্ষীণ,
Bী আগে পায়নি কোন মতে,
নাহারে হাত আহ আসছে সারাদিন
হয়ত অনেক কষ্ট পেরে পথে।
মাকে আমার মাথায় যেন ঘুরছে হাজার জাতা,
প্রাণে বলক উঠছে এমন কেন?
শােন না কেমন বুকের কাছে আনা সখি মাখা
ঢেকির মূষল পড়ছে বুকে যেন।
হাত পা কাপ চলতে গিয়ে পড়ছি কেবল টলে
কম দেখে নিজেই মরি লাজে,
আয় ননদি মাথা আমার রাখিলে তাের কোলে,
পারে ধরি ডাকিস না আজ কাজে।
হাজার হাজার নৌকো যে আজ ভিড়ে মনের তটে
কানের ভিতর হাজার হাজার গাড়ী,
এতি পায়ের শব্দে কেমন ভ্রান্তি কেবল ঘটে
শৰলে এই এলােই বুঝি বাড়ী।
যদিল না বােন কড়া আগে আই সে ফিরে
আর কি শুধু আসার আশায় ভুলি,
হাসি এখন দেখিস যেন আমার নয়ন নীরে
নাহি তিতে তােদের আঁচলগুলি।

কুকুঁ
আসম-পরিণয়
কেমন তর হবেলে সই কেমনই সেটা হবে,
হাসিয়া সবে বলিৰে বৌ থুতনী ছুয়ে যবে।
কোথা যাবে উচ্চ হাসি বাঁধনৰাধাহীন।
চলতে সদা সাবধানতা চাই যে নিশিদিন।
চাকতে হবে ঘোমটা আড়ে সতত মুখখানি,
পরতে হবে জড়ায়ে কাজে সেমিজ শাড়ী টানি।
রূপেরে মাের বিচার হবে কহিলা সভামাবে
বলিবে কেউ বেশত খাসা মরিয়া যাবে তাকে,
কেউ বা কবে ততটা নয় যতটা কিছু বটে।
‘আহামরি না ছি-ছি ও না চলনসই বটে।
গয়না গায়ে সয়না মাের, পরিতে হবে সৰি,
ঘরের কোণে বইতে হবে পটের যেন ছবি।
পুজোর বলি ছাগের মত রইতে হবে বঁধা,
হয়ত সবে সইবে না তােদের তরে কাদা।
অনেক জ্বালা সইতে হবে তবু সই ডলি,
দিচ্ছে মোর শরীরে কাটা সকলি মনে করি।
বাঁচোখ যেন উঠছে নেচে হৃদয় দুরু দুরু,
অজানা কোন সুখের লােভে পরাণ উড়ু উড়।
পাগলহাতী আমারে তুলে করবে কি লাে রাণী?
'পরীর দেশে কাহারা যেন দিতেছে হাতছানি।

প্রােষিতভর্তৃকা
দুখের কথা বলব কি সই বুক ভেসে যায় জলে,
শ্বশুরবাড়ী কর আমায় ক্রমেই বেড়ে চলে।
কেমন করে মন যােগাৰ পাইনে দিশে কুল,
আনমনে তাই ক্ষণে ক্ষণে কেবল করি ভুল।
গল্পগুজব আমােদোৎসব সবই লাগে ছাই
ঠাণ্ডা মেজেয় শুয়ে শুয়ে কেবল তুলি হাই।
পনেরো দিন চুলবাধিনি, পড়ল চুলে ফাস
খেতে বসে ভাত রুচে না লাগে আখার পাশ।
সাধ বায় না ময়লা ছেড়ে ফরসা কাপড় পরি
নাপতিনী-মে ডাকলে পরে অ-সুখের ভান করি।
আঙুল কাটি মনের ভুলে কুটনা কোটার কালে
বাটনা শীলে বাঁটতে জলে চকু দুটা ঝালে।
দিনের ভেতর সতেরাে বার হারাই মিঙের চাবি,
বাণিশ তুলে কঁাকন রেখে কোথায় গেল ভাবি।
তেলের গুড়ে হুচোট খাই আর আলাের ভাঙি কাচ,
চিলের ছেয়ে সকলি দেই বাছতে গেলে মাছ।
রান্না ঘরে যেদিন ঢুকি এমনিতর রাখি,
উপােস করে বাড়ীর লােকে, ধোয়ার ছলে কবি
কিছু বা আধ সিদ্ধ করা কিছুতে নুন বেশী,
খাশুড়ী কন “বৌ-মা ছিছি বাধন এ কোন দেশ ?
৪৭

.
গােটা গায়ে নেই হেন বৌ লক্ষ্মীছাড়া হাবা,
নিত্যি শুনি মায়ের পােয়র বাদ যা বাবা।
দেওর বলে বড় বউয়ের সদাই চিঠি লেখা
এমন চিঠি-লিখিয়ে বৌ যায়না কোথাও দেখা
নন বলে ঘুম না এলে ‘ঘুমােও পায়ে পড়ি
তুমিই কেন জেগে আছ? জিজ্ঞাসা আয় করি।
সারাটাদিন সকল কাজ করে সে টিস টিস,
দুকথা তায় শুনিয়ে দিতে গা করে গিস গিস।
ভাইটি যদি বিদেশে রয় ভাজটি খুটি নাটি,
কেমন করে কাজ গুলাে সব করবে পরিপাটি।
প্রিয়ার কৈশাের
আজিকে বসন্তরাতে শরি তােমা, প্রিয়ার কৈশাের,
মম নবযৌবনের প্রিয়তম প্রাণের দোসর।
তােমায় আমায় দেখা এ জীবনে ক’দিনের লাগি ?
স্মৃতির মাণিক্য-মঠে তবু তুমি নিতি আছ জাগি।
মনে পড়ে স্মিতম কুঠান তােমার মুরতি,
আরক্ত আনত মুখে হর্ষে ভয়ে ব্যাকুল মিনতি।
অরি সে বাহিৰে বাম, জাভী, অন্তরে দক্ষিণ
তোমার মধুর ভঙ্গি, সন্ধ্যামান নয়ন-মলিন।
s

নখে ক্ষিতিচিত্র, লময় প্রণয়-অষ্ণু
মম দৃষ্টিমহােৎসব লীলায়িত গঠন বন্ধুর,
মল্লিকার বনে বনে তােমা সনে লীলা কুতূহল,
নিরুদ্দেশ বিহণ, অভিমান কত ভান ছল।
আধ আধ সমুৎসাহে পদে পদে বাধ’ বাধ ভাব,
বিবিধ কৌশলকলাছনায় তব সঙ্গ লাভ।
শীলাভরে সাজাইতে ফুলধনু নব নব ফুলে
সুরতি কুসুমাসব উচ্ছলিত অধরের কূলে।
তরুতলে ঘিন্নাঙ্গুলে ফুলমালা গাঁথিতে যখন,
পিছু হতে ধীরে আসি রুধিতাম তােমার নয়ন।
কখনাে এৰণত্যন্ত চম্পালু ভূল তাড়নায়
চকিতচকিত হয়ে আঁকড়িয়া ধরিতে আমায় ।
জানিতে মােদের বার্তা, নেশুতি কত কুতুহলী
কোপে ঝাড়ে আশে পাশে উকি দিয়ে ঘুরিত কেবলি।
আমার কিশাের বন্ধু দিয়াছিলে অপূৰ্ব জীবন,
খুব সাহচর্যে মম সত্য হলাে স্বপ্নের ভুবন,
বায়ুধময় হলাে শি’ পরে অনন্ত আকাশ
অফুরন্ত পরিমলে ভরে গেল উন্মাদ বাতাস।
চরণতলের মাটী হলো যেন শিরীষ-পেলব
দেবত্ব ছিল যেন নিখিলের সকল মানব।
মহোৎসবময়ী হলো নৃত্যগীতে জানাতে ধরা,
সৰ পেয় হশে সীধু সব ভক্ষ্য হলো মধুভরা।
১৯

কুলকুঁড়া
পক্ষে পদে নাহ রে গেল যেথা যত ।
ভূলে ভূঙ্গে ভরে গেল নিখিলের সকল মল।
গুঞ্জন করেনি হেন মধুব্রত ছিল না তখন
মানস হচেনি হেন কাজ করিনি শ্রবণ।
সুস্বপ্নে ভরিল সুপ্তি, মুজাফলে হৃদশুক্তিতল,
আকাজে ভৰিল দিন, বিভাবরী চন্দ্রিকা উচ্ছল।
বউকথা কও আর এক পি পাপিয়ার সুরে
সব কোলাহল যেন ডুবে গেল ঝঙ্কার সায়রে।
বস ভমিল মাের ফাগে ফাগে হােলীর মিলনে
ৰরিষা ভরিয়া গেল নিশি নিশি ঝুলনে ঝুলনে।
ভরিল হেমন্তসন্ধ্যা রাস-রসে মাধুরী-উচ্ছাসে
সুখ হইল শীত পরিরম্ভে উষ্ণ ঘন শ্বাসে।
কবিত্বে অলি চিত্ত, সব বাণী ভরিল সঙ্গীতে
প্রকৃতি রিয়া গেল লীলায়িত প্রসঙ্গ ভঙ্গিতে।
শাবার মাধবী নিশা কালচক্রে আসিয়াই ফিরে
বাজে না তোমার বাণী মম প্রেম-যমুনার তীরে।
পলাশে বিলাস নাই। রাশেক আজি শােফারুণ,
কোকিল পাপিয়া-কঠ বাজিতেছে বেহাগ করুণ।
শুষ্ক আজ শুকক নাহি রদ বসা মুকুলে,
আকুঞ্চিত চঞ্চল নাহি বনলক্ষ্মীর দুকুলে।
জি ব্যর্থ রজনীতে দীর্ঘশ্বাস তেয়াগি কেবল,
যার কেশােন, তব মধু-স্মৃতি করিয়া সম্বল।

r
ৱেবা-ৱােসি
(বােয়োপসি বেতসীতরুতলে তেঃ সমূৎকণ্ঠতে)
মন পড়ে আছে রেবাতটভূমে বেতসকুঞ্জতলে,
যেখানে তােমারে পেয়েছি সখা মালতীর পরিমলে
হেথায় পৌর সৌধনে
নিবিড় তােমার বাহর ধাঁধনে
সেই স্মৃতি আজো অন্তরে ঘুরে সস্তরি আঁখিজলে।
.
সেই লুকোচুরি গােপনাভিসার সেই দুরুদুরু বুক
বানী-বনের নিভৃত আঁধারে ক্ষণিক মিলনমুখ,
সে সুখের তুলা নাহি এ জীবনে
সে সুখ-বিরহ আজি এ মিশনে
ধকি ধিকি জ্বলে, তােমার সাধের জতুগৃহ তায় গনে।
-নূপুর খুলিয়া নীলবাসে সেই টিপি টিপি আসাযাওয়া
বন-ময়মরে চমকি চমকি ঠায় আশাপথ চাওয়া,
বিদায়ের ক্ষণে হৃদয় বিশ
আঁখিজলে লেণা চুম্বন,
সবখতিগুলি ফুটে আছে বুকে রক্তিম শতদলে।
আছে বা কেমন আহা রেতটে সেই তরুলতা গুলি,
হয়ত তাহারা নব অনুরাগে আমাদের গেছে তুলি;
জানেন হেথায় ষােণা পিরে
বনের পাখীরা ছটফট করে,
পাছায় নিভৃত কুলায় মিতেছে পলে পলে।
শ
।
T
।

কুকুঁড়
3
বাসস্থতি
ভুলিনি সই ভুলিনি সেই প্রেমজীবনের প্রথম সুদিন,
হলাম যে দিন, হৃদয়রাণী, তােমার অপার কপার অধীন,
লতিয়ে-পড়া অঙ্গখানি, লুলিত সেই মৃণাল-পাণি,
অঙ্কুরিত প্রেমের বাণী, তন্দ্রাহত নয়ন-মলিন,
ভুলিনি সেই সঙ্কুচিত শঙ্কানত দৃষ্টি মলিন।
।
অলির প্রথম গু সেদিন ফোট-ফোট কলির ফাকে
খােদশীর শশীর পাশে প্রথম মানস-চকোর ডাকে,
মমাদের অশােককুলবাগে মলয় সেদিন প্রথম জাগে,
জীবন প্রথম মধুর লাগে কিশাের হিয়ার মধুর চাকে ।
তারুণ্য মাের প্রথম সেদিন রসানী পরল আখে।
।
ভুলিনি সই ভুবন-ভােলা প্রথম ভালবাসার রাতি,
তােমার আখি থাকত মুদে মেল্পে আখি বাসর বাতি।
প্রথম চুমায় যেদিন দোহার, খুলে গেল ত্রিদিবদুয়ার
কপােলতটে উঠল ফুটে পারিজাতের হিরণ ভাতি,
ভুলিনি হেম-সিংহাসনে মোদের প্রেমের বরণ-রাতি।
}
, কোলাহলের মাঝে, যেন কতই অপাখী,
গয়না পাছে শব্দ করে রেখেছিলে কষ্টে বাঁধি।
কিশােরপ্রাণের সব অনুভব গােপন করে রইলে নীরব,
রােমাঞ্চ হৃৎস্পন্দ ঘন গােপন করায় হলো বাদী-
কইতে কথা, মনে পড়ে। সেদিন আমি কতই সাধি?
'

- । } 3 . কথার লতা জড়িয়ে গেল ক-তরুর অঙ্গ ভরে অকথিত বচন তোমার বাচাল হবে নয়নলোড়ে। আলসে চোক জড়িয়ে এল দেহরেই মুদে গে, স্বপন ঘােরে আপন ভেবে বাধলে আমায় মৃণাল ডোরে, 'যৌবনের এই ভাটীর দিনেও সেই স্মৃতি দেয় বিবশ করে। L । ভুলিনিক যেদিন প্রথম বসলে হয়ে হৃদয় রাণী, সিংহাসনের একটী কোণে-সঙ্কুচিত পা-দুখানি। কিরীট হেলায় পড়ছে খসে’, চাইতে সরম সভায় বসে ইর চামর ধরতে নিজেই বাড়িয়ে দিলে কমল-পাণি, সে সব স্মৃতির ঝক্তরূপ ধরো, আমার গানের বাণী। . এখন ও তখন । প্রথম যখন বাসরস্বপনে তােমার চুমাটি লভিনু ঠোটে, তীব্র ঝাঁঝাল দ্রাক্ষার ঝাৰি হেনমত তায় ছিল মেটে। মহুয়াফুলের সুরার মতন আজি লাগে তব প্রেমের মতন, চীনেকবীর মধুর সােয়দ তেমন, অধরে আর জোটে। লভিনু যখন প্রথম পরশ সহজ পেলব জাগিল হন, . পােষা কপােতেরে গণ্ডে বুলালে যেমন পুলক অঙ্গে ছোটে। পারাবতপ্রীতি, করবীর মধু তখনাে জড়ায়ে সেহে তব, বন্ধু, চপলাবালার দীঘিজল কেলি তখনো তােমায় চিকুরে লােটে। তাই দীঘিবুকে গাহনের সম লভিনু তৃপ্তি সুশীতলতম, আজি বাহুপাশে, নেশাঘাের আসে, উন্মায় তনু তাতিয় ওঠে। =

{
নীড়ের স্মৃতি
জাগাে বিদায় আজ অভাগায় পল্লীবনের প্রবাসভুমি,
আপন গৃহ হতেও প্রিয় স্পৃহনীয় আমার তুমি।
তিত নীর ঝরণা সম অশ্রু ঝরে নেত্রে মম,
বিদায় দিনে সবার তােমার পথের ধূলি চুমি।
শােন বিদায় ব্যথার গীতি আমার প্রীতির বাসভুমি
তরুণ প্রেমের লীলাভুবন তােমার সাদর মেয়ের কোলে
প্রিয়ার সহ ছিলাম অহো আনন্দ হিল্লোলের দোলে।
কত খেলা, মান নিদান সারাবেলা গেম অভিযান,
তাদের স্মৃতি জীবন-ভরা কেমন করে এমন ভােলে।
পাখিয়াৰ পেলাম হিয়ায় বিৰিক্ত ঐ তোমার কোলে।
}
েসৰ দিন আর ফিরবেন সে সব দিনের পুতি
পরে আছে তোমার খুলা আকাশ বাতাস কুঞ্জবীথি।
বােখে রাতে হেনার সুবাস মধুতের সিগ্ধ নিশান
গ্নিরে মাের প্রিয়তরা কাতরা কত নিতি।
উচ্ছসিত অশ্রুধারা জাগায় যে আজ সে সব স্মৃতি।
শার রাতে জ্যোৎস্নারাণী আচল খানি দিত পেতে,
বসে তাতে দুই জনাতে ফুল তুলিতাম আকাশ-ক্ষেতে।
শীতের স্পর্শ নিবিড়তা উষ্ণ মধুর পীবরতা
তেছিলাম তােমার নীড়ে দুরু দুরু আনন্দেতে।
যৌবনের মোতময় পান করেছি মাঘেয় রেতে।
A

শ্রবণয়াতে, মনে পড়ে, জৈমিনিরে কেন গরি । ফলল লের শোতে টলমল বনতরী মেঘের গর গরজনি, পাগলা হাওয়ার হাহাধ্বনি, দিত আকুল উদ্দীপনায় আশ্লেষণে নিবিড় করি, বর্ষানিশার শঙ্কা-মধুর হয় আবেশ আজকে অরি। শতেক অভাব জটি নিয়ে ছােট্ট গৃহস্থালী পাতি, তােমার কোপের অন্তরালে নিত্যি মােদের চড়িকাতি, একটা নীড়ে আমরা দুজন, চলত সদাই কাবাকুন, শাসন করার দূষণ ধরার কেউ ছিলনা সীসাথী। পেতেছিলাম তােমার কোলে গৃহস্থালীর খেলাপাতী। অনভ্যাসের বিড়ম্বনা, উপহাসের কতই ব্যথা, লাগাইল দোহার পরে দোহার অটল নির্ভরতা। fাই হলেন দিবারাতি সচিব সখ শিষ্যা সাথী। -এস কল সফল পুষ্পিত তার বাহুলতা, তার সাহসে সমুৎসাহে ভুলে যেতাম বিদেশ ব্যথা। } যৌবনেরি করুষরগ! অতুল তোমার অতল প্রীতি ইলায় মন পেলেও শরখে আমি তোমায় নিতি । নখুৱাৰি আয়ােজন ভুলায় ফিরে বৃন্দাবন ? অঝােধ্য- আহম্মাে কি যায় গােদাবরী-তটের স্মৃতি। মােয় জীবনের স্বপ্নভুবন, শােন আমার বিদায়-গীতি।

ক্ষুদকুঁড়া
পুনর্মিলন
প্রথম রাতে ঝগড়া ঝাটি করে
শেষের রাতে মিলনটা যে হয়,
সাধ কয়ে’ কি মিটাই মােরা তাই?
দোহার মাঝে কম্‌তি কেহ নয়।
ঘুম-পাহাড়ের কোন্ পরী যে এসে
কুকভরা মায়ার পাশ দিয়া,
আচ্ছাদিয়া স্বপন পাখার তলে
মিলাইয়া দেগো দুটা হিয়া।
প্রথম রাতি পূৰ্ব্ব জনম যেন,
মধ্যরাতি কাটে গহন মােকে,
শেষ রাতিতে সকল স্মৃতি হারা
ফুটে উঠি এক বোটাতে দোহে।
প্রথম রাতের ছাড়াছাড়ির পাল,
আড়াআড়ির বাড়াবাড়ি যত
নী পাথারে সব মুছে যায় ধুয়ে
সাগর বেলায় টানা রেখার মত।
স্বপ্ন-ঘনিকায় পরপারে
মিলন আরো নিবিড় হয়ে উঠে,
নূতন পরশ দেয় সে রোমাঙ্কুরে
নূতন সােয়াদ দেয়সে এধর পটে।

ক্ষুদকুঁড়া
প্রথম রাতির থাকত যদি স্মৃতি
হােত কি আর মিলন গাঢ় অত।
মোদের মাঝে কম ত কেহ নয়
কেহই মােরা হতাম নাক নই।
তৃষ্ণা
একটি বুগের তব আয়ােজন প্রিয়া
সহস্র যুগের মাের চিত্ত-ব্যাকুলতা।
দুটি মাত্র শ্রুতি তব, একখানি হিয়া,
বহু বরষের মাের বুকভরা ব্যথা।
অঞ্জ চকোর মাের হৃদয় গগনে
দ্বাদশীর চাঁদ তব কতটুকু সুধা?
একটা থালায় অন্ন, তােমার ভবন
সুদীর্ঘ দুর্ভিক্ষ ইদ্ধ মাের তীব্র ক্ষুধা।
একটি সরোজ মা তব সরোবরে
শত লক্ষ অলি গােয় অক্ষি তারকায়।
Hত নিদাঘের জ্বালা মাের বক্ষ ভরে
কটি বিন্দু কণায় কি হবে হয় ?
তব রূপসি হেরি ব্যাপি দশ দিশা
তাতেই বা কিবা। মাের অগস্ত্যের তৃষা।

ক্ষুদকুঁড়া
রাণী
তোমায় আমি করব রাণী ছিল মনে,
গিয়েছিলাম—সিংহাসনের অন্বেষণে।
গেলাম তোমার বাধন ছিড়ি পার হয়ে বন নদী গিঞ্জি
জিজ্ঞাসিলাম মিলবে কোথা জনে জনে
তােমায় আমি করব রাণী ছিল মনে।
ভাবতাম আমি, তােমার ভাবেই আত্মহারা,
‘রাজা যারা আমার মতই মানুষ তারা,
আমার মতই কাদে হাসে, খায়, পরে, গায়, ভালবাসে,
আমিই তবে কেন বাে লক্ষ্মীছাড়া?
ছিলাম কি না। তোমার প্রেমে ক্ষ্যাপার পারা।
এই ধারণায় ঘুরে এলাম দেশে দেশে,
তুঙ্কোনাক পিঠে, কোনো হাতীই এসে।
খুল্লনাক সিংহগুয়ার,
উঠলনাক জয় জয় কার,
“আসুন হুজুর বল্লেনাক উঃীর হেসে।
তোমার পাশে কাঙাল বেশে এলাম শেষে।
মেলেনাক রাজত্বটা কেবল খুঁজে,
এখন আমি ঘুরে ঘুরে দেখছি বুঝে।
মেলোক ভিক্ষে করে কিনতে তা হয় গায়ের গোরে,
• জিতে তা হয় শৌর্য্য দিয়ে অনেক বুঝে
মিনাক মুলুক মুলুক এলাম খুজে।
৫৮

ক্ষুদকুঁড়া
উলটে বরং করতে ভড়ং পুজি পাটা
সব গেল মাের, মিটুল নাক আকাক্ষাটা
চোর তেবে রাজপ্রহরীরা
দিল আমায় অনেক পীড়া,
পাগল বলেও পেলাম অনেক লাথি ঝাটা,
নিঃস্ব আমি,-গেছে সবি পুঁজিপাটা।
পাইনি বলে তবু হতাশ হইনি রাণী,
একটি জবর দেশের আমি খবর জানি।
তার অধিকার আমায় পেতে হবে না কোথাও যেতে।
আমার পানে চাওলো, তােল’ বদনখানি-
সেথায় আমি করব তােমায় মহারাণী।
আমার মানস রাজ্যে বস’ সিংহাসনে,
বিহার কর আমার প্রেমের কল্পবনে।
রা, আমার জীবন জুড়ে তায় তব জয়কেতন উড়ে।
কাব্য-মা বরবে তােমা আলিঙ্গনে,
হে কল্যাণ, হলো রাণী চিৎভুবনে।
প্রেমের গান
আমাদের-দোহার প্রেমের দুই পাখাতে দুর করে গান
ছুটলো দেশে দেশে,
বলাকা-শ্রেণীর মত মাল্য রুচি নীল আকাশে
চললে ভেসে ভেসে।
।

ক্ষুদকুঁড়া
চমকি-পল্লীবধূ ঘাটের পথে কলসী কাখে,
থমকি—ভুলবে গ্রীবা, চাইবে কিবা উদাস আঁখে।
নাগরী-হচুড়ে নাগর গিয়ে নভরে
দেখাবে তম হেসে ।
সহসা–তরুণ পথিক তাদের হেরে উদাস প্রাণে
যাত্রা যাবে ভুলে,
মাঝিরা-দেখবে অবাক, ঠেকবে তাদের অলস দাঁড়ের
নৌকা গিয়ে কুলে।
ইহারা-বাসর ঘরের বাতায়নের আশে পাশে।
সারারাত-করবে কুজন, শুনবে দুজন রসোল্লাসে,
আঙিনায়-মুচবে কুলায় তুলসী তলায়, বধূ সভায়
বসবে পেয়ে ঘেষে ॥
এ গানে-সুবর্ণরে পায়ে ঠেলে সুবর্ণরেই
বসবে সবাই ভালো,
ইহার-নীরদ আঁধার জীবন নিশার আনবে উষ
চলবে প্রেমের আলো।
ইহরা-উড়ে উড়ে বসবে অনেক হৃদয় জুড়ে
এ গানে-মানিনীদের মান অভিমান যাবে দূরে।
এরা সব-পাখার হাওয়ায় উড়িয়ে বাধা তরুণ জগৎ
জিনবে অবশেষে ॥

ক্ষুদকুঁড়া
বিদায় না আহ্বান ?
চোখে জল ? না না প্রিয়ে মুছু মুছ ত্বরা
বিদায়ের ক্ষণে মােরে করন চঞ্চল,
করুণ ভিখারী আঁখি বড় দৈ ভরা,
সর্বনেশে, যাত্রাভঙ্গ করিবার ছল।
আই তপ্ত অশ্রুধারা, তরল হৃদয়,
করিবে পিচ্ছিল মাের সারাপথ হায়,
সমগ্র প্রবাস হবে-বিড়ম্বনাময়,
সর্বকৰ্ম্ম, কণ্টকিত লাঞ্ছনা লজ্জায়।
যদি শুত মাগ’ প্রিয়ে কৃপা করি তবে,
নিঠুর কঠোর ভঙ্গি জাগাও বয়ানে,
নিরাপদ হবে পন্থা যাত্রা শুভ হবে
ফিরিতে মাথার দিব্য কমােনা নয়ানে।
সর্বনাশ! মাগিছে বিদায় চুম্বন,
এই কি বিদায় । এষে পুনরাবাহন।
বিদায়া
বিধুমুখি সখি একি একি দেখি কপােল গড়ল চোখের জল,
সলিল যে হিয়া কোথা গেল প্রিয়া এত গরবের বুকে বল ?
বলেছিলে সখি বিদায়ের ক্ষণে
রহিবে অটল দেহে প্রাণে, মনে
হাসিমুখে হায় দানিবে বিদায় এবে হেরি সব মুখের দুল।
=
+

ক্ষুদকুঁড়া
বড় ছিল ভয় বিদায় সময় শুষ্ক নয়ন হেরিতে হবে
সারপথ মম, ধূধূ মরুসম মৃগতৃষ্ণায় জ্বলিতে হবে।
আহা সখি আঁখি মুছনা মুছনা,
শুচি শােচনার ও শুভ সূচনা,
বয়ানে চলেছে নয়নে গলেছে প্রেম মিলনের মুখের ফল।
বিদায়
বিদায়, বিদায়, বুক ফেটে যায় তবুও বিদায় দিতেই হবে,
প্রেমলীলা শেষ, নিয়তি নিদেশ মাথা পেতে সখি নিতেই হবে।
এ ভুলােক নহে অলকা ভবন,
কোথা শাশ্বত হেথায় মিলন ?
চুম্বনহারা বিশ্ব অধরে বিরহনি পিতেই হবে।
বিনা নিয়ে কোনো সম্ভোগ এম বিশ্বে নাইগাে নাই ?
দুইদিন আগে দুইদিন পরে মুখের শুল্ক দেওয়াই চাই।
মিলে সুরলােক তপ উপচয়ে
ফারাইতে হয় পুন তপ ক্ষয়ে,
মিলন-বর্গ ফিরিতে বিরহে পুন এপ আচরিতেই হবে।
বিচ্ছেদে
মনে মনে তোমা কত বাসি ভালো প্রাণে প্রাণে আজ বুঝেছি সই,
প্রণয়ের শীলা আঙ্গিকে ফুয়াল সহসা ঝটিকা উঠিল এই।

কুকুঁড়া
আজি মরমের পাজরে পরে
বেদনার টান পড়িছে সজোরে
‘আঁখি দিয়ে হদি ঝরিছে অঝােরে আখিকে এ-আমি সে:আমি নই।
হাঁড়িতে যে হবে সহসা এমন ভুলেও কখনাে ভাবিনি মনে
হেলফেলা মাকে তােমার মহিমা হল কোথায় ঘরের কোণে
হাজার বাহুতে কি বাধন দিয়ে
নিভৃতে নীরবে বেঁধেছিলে প্রিয়ে।
আজি বাহুপাশ বসাইতে গিয়ে বুকের শােণিতে সিক্ত হই।
বিরহে
মিলনে তােমার পাইনি যা সখি বিরহে তার সকলি পাই,
আজি সখি তুমি জুড়ে বসে আছ মম মানসের নিখি-ঠাই।
আজি তুমি সখি নহ করুণ
আখি যুগ আজি নহে রােষারুণ,
আজি নই তুমি মানিনী ভামিনী আজিকে নয়নে কুটী নাই।
আজি নহ তুমি মনের বাহিরে মানবৃন্তে রয়েছ ফুটি
প্রেমদেবতার সেবা-অপরাধে কনাক আজ হাজার হটি।
শিশিরসিক্ত নয়নােৎপল,
করুণায় কাজ করে ছলছল,
বাজিকে তােমার প্রতিবিন্দুটি আমার জীবন পেয়েছি তাই।

ক্ষুদকুঁড়া
নৈরাশ্যে
মালা গেঁথে আর কি হবে বলােনা মালিকাবিলাস হয়েছে শেষ,
কি হবে টানায়ে ফুলের দোলনা নিয়ে এস সখি যােগিনী-বেশ,
ছিড়ে ফেলে দাও শীলাশতল
দ্রাক্ষার বনে জ্বালাও অনল
মল্লীকুঞ্জে চাও কুঠার রেখনাক তার সুষমালেশ।
পিজর দুয়ায় মাও খুলে দাও উড়ে যাক মাের ময়না শুক,
প্রিয় বঁধু মাের হলাে অকরুণ কুসুমশয়নে সয়না মুখ।
খুলে ও সখি হেম আভরণ
ধুয়ে দাও মাের রাঙান চরণ
মুছে দাও রাঙা ঠোটের বরণ, মুড়াইয়া দাও মাথার কেশ।
জীর্ণদেউলে
দীনদে উলের হে দেবায়িত, আমি হব চির সেবিকা তব,
তৰ বেদিকার ধূলিমলাভার মাথার চিকুরে মুছিন্ন লব ।
দীনের ছদ্ম রয়েছ গােপনে
সে কথা আমি যে জেনেছি স্বপনে,
সারানিশি ভাঙাদেউসােপানে চল বিছায়ে ইয়া রব।
নাহি ও দেউলে ভাস্করকলা, জ্বলেনা শীর্ষে কনকচূড়া,
অশথের মূল বেড়িয়া বেড়িয়া তােরণস্তন্ত করেছে গুড়া।
আসিনিক আমি দেউলে পৃজিতে
এসেছি তো তােমারে খুঁজিতে,
কৰিব প্রাণের অলিতে জীবন-দেউল পুনর্ণ।

কুকু
প্রিয়া-প্রশক্তি
এ কবি-জীবন অবলম্বন-নন্দন বন-মালিকা,
মম যৌবনমন্থন-ধন-নয়ন-পাবন বালিকা,
ব্যথা যন্ত্রণা-শােকে সানা, এ-জীবনে মূর্তসাধন।
যুগে যুগে আলো করে আছ মম কল্পচিত্র-শালিকা।
পুৱাজনমের আহুতকৃতি, হলে শরীরিণী লয়ে শতস্মৃতি
অন্তলােকে অন্নপূর্ণা-জীবলােক-প্রতিপালিকা।
চিৎসৱােহসিনী কমলা, সরল অবল অখলা অমলা,
ভ-শুটিনীর দুইপারে তুমি প্রান্তপথ-চালিকা।
ত্রিধারা
নৰ্মলীল-কুতুহল ভােগবতি, তুহিনশীতলা,
নাগরদ্ধাঞ্জলা রঙ্গময়ী তরঙ্গচঞ্চল,
খােৰনের ফলােচ্ছাসে এস টুটি পুলিন-কফুক,
রূপ দিয়ে তব বঙ্গে লভি অবগাহনের মুখ।
এস ভাগীরথীধারা শুভঙ্করী পুণ্যতােয়া অয়ি,
শিবজটা বিনির্গত তপােব্রতা ধ্রুব-শিবময়ী,
আন শুদ্ধি ক্ষেম ঋদ্ধ স্বর্ণ শস্য পণ্যের সম্ভার,
তােমার ও মেধ্য তটে অয়ি হৃদ্যে পাতিব সংসার।
এস এস মন্দাকিনী ছায়াপথচারিণী সুন্দরী,
পারিজাত মারের রেণুগন্ধে মােদিত লহরী ।

ক্ষুদ
প্রেমের তরণী বেয়ে তব বঙ্গে যাব ভেসে ভেসে,
তোমার জনম-ক্ষেত্র বিষ্ণুপদে উপজিব শেষে।
মী
ঘােমটা ওয়া আর চলে না কোমরের অচল খানা,
ঘােমটাটানা চললে পরে গৃহস্থালী যায়না টানা।
প্রবল স্রোতে নৌকখানা ধরতে হবে হাতের জোরে
ঘােমটা খুলে হালের বাঁধন দিতে বে চল ডোরে,
চলে না টিপ আলতা পা আসতে খেতে আয়না দে,
সার করেছি হাতের শাখা সাপেয় সতীর সিদূর খে।
গয়না গায়ে সয়না আর আগে যেন বিড়ম্বনা
জড়সড়ো বসন ভূষায় হয়না এমন গিন্নীপনা।
খোঁপা বাঁধা আর সাজে না মাথায় বাধি চুলের মুড়ি
তেল হলুনেই ময়লা উঠে, সাবান ফেনা গেছে উড়ি।
আর চলে না শুধুই গাধা পশম রেশম সুতার মালা,
সবার মুখে ধরতে বে হয় দুবেলা আজ ভাতের থালা!
করেন। আজ কথায় কথায় ঠুনকো প্রাণে চোরে কল
শােকার্নেরে বুকে টেনে দিতে যে হয় সাহস বল ।
কচি কাচা বাছারা সব বেঁচে আছে আমায় ধরে
হাঁপ ছাড়িয়ে নেই অবসর আয়েস করি কেমন করে।
চাইতে না হয় আশে-পাশে শুন্য দিতে শিশুর মুখে,
ধরতে হয় আজ বরণ ডালা হাজার লােকের সম্ভার বুকে।

কুকুঁড়া
স্কুলের পাতা ঝরে গিয়ে চিত্ত নমে ফলের ভারে
আজকে মায়ের গৌরবে চাই শাশর্বাদের অধিকারে।
গত আজি রাখতে না হয় ওষুধ খেয়ে সেমিজ পরি
--সংযমে আর সেবার শ্রমে স্বাস্থ্য সবল আজকে ধরি।
আলস্য ভোগ বিলাসিতাই লজ্জা বলি করি মনে,
কাজেয় বাধা বাজে সম ছেড়েছি আজ সখের সনে।
কে বলে এই বাংলাদেশে নেইক নারীর স্বাধীনতা।
কইত কারো নই পরাধীন, কড়া আইন আমার কথা ।
আগন্তুক
মােদের দোহার মধ্যখানে কে এলি তুই বল ।
একুল ওকুল পূর্ণ করি সােহাগ গাঙের ঢল।
দিবারাতির মধ্যে যেন জ্যোতির্ময়ী উষা,
দুইটা বুকের অন্তরালে গজমতির ভূষা।
জীবন বীণার কঠিন কাঠে মায়মুকুল মরি,
ঝঙ্কত তুই দুইটি তারে মিলে কোমল কড়ি।
দুইটি হিয়ার নবীন বাঁধন পারিজাতের মালা,
নুতন করে পরিণয়ের তুইরে বরণ ডালা।
নিবিড় আলিঙ্গনেও বাধন ছিলইনাক দৃঢ়,
একটুখানি পৃথক করি দিলি বাধন চর!

ক্ষুদকুঁড়া
একটু পৃথক করলি বটে বাঁধলি অটুট ডােরে...
একই ব্ৰত ভয় ভাবনায় দোহারে এক , করে।
মমাদের প্রণয় করলিরে তুষ্ট কষিত কাঞ্চন,
যৌবনের এ উন্মাদনায় রে শুভ শাসন।
শৎ-কমল, হয়লি হৃদঃ-বাপী-নীরের মল,
মোদের দেহের মধ্যখানে কে এলি তুই বল ?
আকাশ-পথের প্রণয় মােদের ছিলইনাক স্থির,
সংসারে এ কুঞ্জবনে বাধালি তায় নীড়।
সু-দেবের আরাধনায় মত্ত ছিলাম হায়,
মমাদের মাথা নোয়ালি তুই স্মররিপুর পায়।
আবেশ-মূঢ়ে জীবন-পথের লক্ষ্য দিলি এনে,
ভীরুদের আজ নিয়ে গেলি জীবন রণে টেনে।
তুই প্রণয়ের পরিণতি
অমৃত মঙ্গল,
মমাদের দেহের মধ্যখানে কে এলি তুই বল ?
দুইটা কচি হাতে আজি দুইটি না ব
তােকে নিয়েই আমাক মোদের সকল হাসাকাদ
একটি ফুলের পাত্রে মােরা আজকে মধু খাই,
একটী সুধার উৎসে ক্ষুধা পিপাসা জুড়াই।
উঠলি মেহের ধোঁয়া ভেদি পুণ্যশিখা জ্বলি,
পুষ্ট করুক দুইটী হিয়ার স্নেহের ধারা গলি।
কুশণ্ডিকার কুশের বনে তুইরে কুসুম ফল,
মােদের দেহের অঙ্ক জুড় কে এলি তুই বল ?

ক্ষুদকুঁড়া
সহধর্মিনী
দেবতা হতে নাইক মােটেই সাধ
চাইনা আমি তােমার আরাধনা,
শুনতে আমি চাইনা তােমার মুখে
‘হুজুর প্রভু জনাব জাহাপনা।
বাইরে পরের নফর গােলাম হয়ে
ঘরের ভিতর তােমায় সেলাম নিয়ে,
মর্যাদা মান শৌর্য সমাজ মাঝে
একটি কণাও বাড়বেনাক প্রিয়ে।
কে হবে মাের সঙ্গিনী বা সধী
করই যদি কেবল চরণ-সেবা।
পূজারিণী হয়েই যদি রও
সচিব তবে মার হবে কেবা?
প্ৰেমীক্ষায় শিষ্যা কোথায় পাই
নিজকে যদি অবোধ শুধু ভাবাে,
সঙ্কোচে রও শৃঙ্খলিতাই যদি
গৃহিণী মােয় কোথায় তবে পাবাে ?
কষ্টে তােমার কুণ্ঠা কেন গিয়ে?
কুঠা পথের কন্টকই কেবল।

কুঁড়া
গুনের এই পর্ণহি দিয়ে
সুকাও কেন প্রেমের ফুল ও ফল।
মিথ্যা মােহে সত্যে যদি ত্যজি
নিত্য করো তীব্র তিরস্কার,
বিপদে মাের সহায় হয়ে তুমি
বিপথ পানে রুদ্ধ করে। জ্বর।
শাসন কর ব্যসন যদি বরি,
গায়ের দিকে হতে ধরে টেনো,
মাতৃজাতির মর্যাদাটি দেবি,
বজায় রেখে সকল আদেশ মেনে।
ভামিনী হও, সইতে পারি তাও
কামিনী মাের শুধুই না হও যেন,
পথের সাথী হওগো পতিব্রতে,
আমার খেলার পুতুল হবে কেন ?
ভীরু যারা ভােগের পৎ যারা
রিংসাতেই ক্লিন্ন যাদের মন,
পুয়ের দেবতা সেজে তারা
দাসীর বুকে পাতুক রাজাসন।
মি তােমার চাই না গালীপনা
টের বেশী চাই তার চেয়ে বেশি
চাইযে আমি তােমার ভালবাসা
পূজার চেয়ে অনেক বেশী দামী।

কুকুঁড়া
যাত্রা
তে রিক্তা বা একে একে সবত গেল চলে
যাত্রা করার কাজ শুভদিন পাজি দেখে পুরুৎ গেছেন বলে।
সকাল হতে মনটা খারাপ বা তোষক হচ্ছে বাঁধা ছায়া,
ভাকাত যেন নিচ্ছে লুটে, ব্যস্ত হয়ে ঘুরছে বড় দাদা।
এত অনুৎ, কেমন করে বলল।
আজকে তোমার দিনটা শুভ হলো?
জাফকে প্রিয়ার অাখি ফিরায় মােরে কেবল পিছু ডেকে,
প্রণাম কালে মা কেঁদে কন এদুটো দিন গেলি না বাপ থেকে ।
আধ’ আধ’ কথায় খােকা বলে না-না আঁকড়ে ধরে ছুটে,
চাইতে পিছে সজল চোখে বুকটা যেন গুমরে গেল টুটে।
আজকে তবু দিন যদি হলো
হায় জীবনে কুদিন কারে বলে ?
বৃষ্টি কি ঝড় এমি কিছু একটা আসে, হয়না খাওয়া শেষে
চলতে পথে ভগ্নসা মনে ফিরায় যদি জোড়ে কেহ এসে।
হয়গো ফেরি পাইন গাড়ী, বাড়ী ফিরে পিটাই তবে হাল,
ঠিক গাড়ী হয় দাড়িয়ে আছে গেলই ছেড়ে আমায় করে গ্রাম
পেলাম গাড়ী, দুর্যোগাে না হলে,
সনি তবে কেমন করে বলো?

ক্ষু
দুটী পাখী
প্রবাস হইতে বহুদিন পরে গৃহে আসিলাম ফিরি,
হেরি মাের প্রিয়া ঘােমটা টানিয়া উঠে গেল ধরি ধরি।
দেখা হতে দেরী, বাসনা বড়ই কথাটি শুনতে তার
আস্রের শাখে বৌকথাকও ডেকে উঠে বারবার।
প্রবাসে ফিরিব, প্রিয়ার সকাশে বিদায় লইতে গিয়া
পাবিনা রুধিতে কঠিন প্রয়াসে অাঁখি জল, কাটে হিয়া।
চোখে কি পড়িল বলি ছল করি আঙিনায় আসিলাম,
নিষের শাখে চোখ গেল করে উপহাস অবিরাম।
চোখ গেল
চোখ গেল চোখ গেল আই ও কি করুণ রােদন।
কিসে চক্ষু দগ্ধ হলাে? চক্ষু যে গো পরম ভন।
প্রাণপণে ফুকারিছ যাতনায় আকুল অধীর
ধরায় হায় হায় সকলে কি হয়েছে বধির।
কারো প্রাণ গলেনাক সবে মত্ত প্রমােদ-লীলায়
খে না বাঁচাতে ধায় ব্যথা তব দিগন্তে মিলায়।
কোন অপরাধে তাের চোখ গেল রে ব্যথিত পাবী?
প্রাণ না লইয়া তাের কেন নিল এধিক আঁখি।
এত কি প্রচও পাপ যার ও এত নিদারুণ।
• ঋদায় না বিশ্বজনে প্রায়শ্চিত্ত এমন করুণ।
१२

ক্ষুদকুঁড়া
তুমি বুঝি ছিলে পাখী বাদশার হয়েমের মাঝে
ইরাণী বেগম হয়ে হীরামােতি জড়োয়ার সাজে,
অন্দরের অন্ধকারে ছিলে তুমি আগর প্রাসাদে
দিতনা খােজারা তোমা যেতে কভু ঝরােখ বা ছাদে।
পর্দার উপর পর্দা, চারিদিকে নির্দয় শাসন
সােণার জিঞ্জিরে পুন সে পিঞ্জরে শতেক বঁধন।
বেগম জীবন তব হাবশীর ভঙ্গি শঙ্কিত,
এক দিন ছিল রুদ্ধ, মুক্তবায়ু আলােকবঞ্চিত।
শারদ সন্ধ্যায় কবে চন্দ্রোজ্জা কালিন্দী দর্শনে,
ঝরাখা করিলে ফাক সেই দোষে হারালে লােচনে।
এ জনমে লভিয়াছ মুক্তানিল উদার আকাশ,
অবাধ আলােকাজ্য প্রাণভরা মুক্তির নিশ্বাস
তবু সেই নেত্ৰব্যথা বহ্নিময়ী পানি ভুলিতে,
বিশ্বে কত বিগলিত ‘চোখগেন ব্যথিত বুলিতে।
আজো রাজভয়ে যেন, হে বেগম বিহঙ্গম বাণী,
কেহ নাহি কহে দুটী মূখ ফুটি কার বাণী ।
কাক
রে কর্কশ-কষ্ঠ পক্ষী মসীকৃষ্ণ কাক কুদর্শন,
মূর্তিমান-তমিস্রার মুহুর্মুঃ বিদায় বচন,
অরুণ-রথের শব্দ ক তব ধ্বনিত আকাশে,
মঙ্গল-সন্দেশ তুমি জান নিত্য মানৰ আৰালে।

লাখ ভ্রা স্বপ্ন বাই লভি বিদায়
আলােকে পূন যে এটলিকায়।
কে আই এসবি ক্ষণে কোণে মুদি ৰয়ৰ
বহে যায় সৌমত ৰাক্ষদ, কর উম্মলন।
সুপ্রসন্ন দৃষ্টিপাতে এটা পুন চাহে সৃষ্টিপানে,
বরি এই বিমানে বিমানে গত রানে।
হায়েনা এহওঁ সারাদিন ব্যর্থতায় ভরি
# যবে জীবনের শতদলে একটি পাপড়ি।
বনে বনে গে কলি পক্ষী অলি গা সমী,
বড় পরুন, বন-গুন।
দিশি দিশি প্রত্যাসঃ বিধাতার প্রসন্ন ঈজিত
সাত হয়ে সেই ভয় ল সতি।
কে এলো মুণ্ড? ত্যা | বসা
বার করাে কর্মক্ষেত্রে আনিয়াছি আনন্দ সংবা ।
তােমার আয় কণ্ঠ, হে বাস শুনি এই বাণী,
হে ঋষি প্রবুদ্ধ কর জনে জনে জ্ঞানাঙ্কুশ হানি।
মধুর কুন যার সে বিহঙ্গ সঙ্গীতের তানে
তরল তারে আরো ধীরে ধীরে সান্দ্র করে আনে।
কে জাগিবে না বিধিলে তীক্ষ্ণ স্বরে কর্ণের পটহ ?
চৈতন্য ৰা দেয় তা যে চিরদিন এক দুঃসহ।
সত্য কহি যেইজন ভেঙ্গে দিবে মােহর বিরাম
সে কি কভু প্রিয় হয় সে কি হয় নয়নাভিরাম ?
সত্যস, বৈলিক, ডাকো তুমি আলোকের পথে,
জানি আমি হিতবাক্য মনেহী দুভ জগতে।

মাল
অরালগ্ৰীৰ মাল ভৰ দুগ্ধে ধােয়া অঞ্চ,
তােমায় দেখে ইচ্ছে আমার লইগাে তােমার সঙ্গ।
তড়াগ বুকে তােমার মত আনন্দে দেই ঝম্প,
তােমার মত উঠুক প্রাণে মুক্তিপুলক কম্প।
পদ্মাসনার চরণ তলে'পদ্মবনের সষ্মে,
তােমার মত পূজি হয় সদ্য’চত পদ্মে।
নন-মােহন বাণীর বাহন আমায় কর সঙ্গী
শিখাও আমায় বাণীর পূজার নূতনতর ভঙ্গি।
কোন মানসের যাত্রী তুমি? ল ওগাে মােরে পৃষ্ঠে
মায়ার দেশে যাও না লয়ে তােমার গুণনিষ্ঠে ?
যথায় করে সােণার কমল ঠোট দুখানি স্বর্ণ
ঙ্গুিল তটের রেণু যথায় আঙুলে দেয় বর্ণ।
নাগখালা যায় করে সলিল ফেলি মঞ্চে
কুলে উঠই পরে যারা জ্যোৎস্না দুকুল অঙ্গে।
ওগো তথায় উধাও করে গিরি শিখর লজি,
মৃণাল নৰ খাইয়ে দিব কর আমার সঙ্গী।
সােণার যুগে ছিল তোমার অঙ্গখানি স্বর্ণ
রজত যুগে বদলে হলাে রজতসিত বর্ণ,
এককালে যে করেছিলে সােনার মৃণাল ছিন্ন
চঞ্চু পদে এখনও ঐ জাগছে তাহার চিহ্ন।

ক্ষুদকুঁড়া বৈঠীর সাক্ষা রাঙ্গা চল চরণ তলে শিখলে গতি আজও আছে বলধারার সঙ্গে। কাংশু-যুগে ক্রেত আজ মধুর তব কণ্ঠ, সােণায় রূপায় কঁাসায় রচা ঐ ক্যগীতি বন্ট। সুন্দরীর স্নানের ঘাটে নাইছে আধ’ নগ্ন। - কেউ আমেখল কই কেউ আবক্ষ কেউ মগ্ন। কি কাঙ্গ তােমার হােথায় সবা? বি প্রয়োগে আর্কা কোন্ রূপসীর আনলে তুমি প্রিয়তমের বার্তা। তরী হয়ে আসছে, তারে তুলবে গিগা পক্ষে? পার করে তায় নিয়ে যাবে প্রিয়বঁধুর বঙ্গে? ইংসদূতের বংশু তুমি সুন্দরীদের মিত্র- অঞ্চলে তাই হর্ষে তারা বহে তােমার চিত্র। -- মূর্ত তুমি শরৎ ঋতু পুষ্পমন্ত্রী কান্তি, পক্ষী বা কি পুষ্প তুমি হয়গো তাহেই ভ্রান্তি। স্যাম সায়রে হেৰি যখন তােমার দোলন লাস্ক, মনে যে হয় শম্পদলে শিউলী ফুলের হাস্য। চঞ্চু তোমার বিশ্ব সম অঙ্গ তোমার কন্তু, শিখাও মােরে গুঙ্ক নিতে ফেলে ধরার জন্ধু। চুদেরে মাের শিখাও প্রিয় শোন গতির ও পদ্ম বনের পক্ষি, অক্ষয় কর তােমার সঙ্গী।

ক্ষুদকুঁড়া
আহভা হরিণী
(T. Moore )
এস লাঞ্ছিত লােক-গঞ্জিত শায়ক-মাহতা হরিণী,
কেন অধােমুখে ? এস তােম। বুকে করেনি।
সবে তােমা (ঠলে-ফলে গেছে দূরে,
আছে তব ঠাই এ হৃদয় পুরে
থাক তুমি মাের প্রাণ মন জুড়ে আমি আছি, দূরে সরিনি।
আমার অধরে আদরের হাসি তেমনি রয়েছে,-মরেনি।
কিসের প্রণয়? যদি সুখে দুখে যদি দৈন্তে বিভবে
যদি গৌরবে গ্লানিতে সমান না রবে ?
আমি জানি প্রেম, জানি নাক ঘৃণা,
আমি ধাৰ না, জানিতে চাহি না,
-হৃদয়ে তব পাপ আছে কি না, জানিয়া আমার কি হবে ?
আমি শুধু জানি ভালবাসি রাশি, ভাল বেসে যাব নীরবে।
প্রথম প্রণয়ে আধ কাজ ভয় আমারি হদয়ে হিয়া,
দেদূত বলে ডেকেছিলে মেয়ে হে-প্রিয়া
আজি দুর্দিনে দেবদূতই হব
সব লাঙ্গ গ্লানি বুক পেতে লব,
বহিকুণ্ডে পশিলেও রবো সাথে সাথে দাহ সহিয়া,
এ বুকে আশুলি বাঁচাবাে তোমায় অথবা মরিব দহিয়া । *

কুকুঁড়া
মহাদেবী
(H. Wotton)
ওগাে গগনের রূপ-গর্বিত তারকালী,
জাবিতেছ বুঝি দ্যুতি তোমাদের মানসহরা,
ক্ষীণদ্যুতি নিয়ে তখন আর রহিবে অলি ?
জনতার মত সংখ্যায় শুধু বিমান ভরা।
আকাশ আলােকি নিশাপতি ধীরে উদিবে যবে
তখন দেমাক এত শত জাক কোথায় রবে।
ওগাে গহনের বিহগপুঞ্জ কু মাঝে,
গর্বিত, কলরব করি ভাবিছ বুঝি
স্বভাব-রাণীর বীণাবুকি ঐ কণ্ঠে বাজে,
গাও গাও ঢালো কণকণ্ঠের যা কিছু পূজি,
নিখিল পুলকি কোকিল কুরে গাহিবে যবে
স্বগৌরব কলকলরব কোথায় রবে?
ওগাে কাননের অশােক-পলাশ কুসুম রাজি,
মধুৎসবের গর্বিত। যত তরুণী যেন,
আগে হতে এসে রঞ্জিত বেশে ভূষণে সাজি
সারা মধু মাস কয়েছ খল ভাবিছ হেন,
মধু সৌরভে নব গৌরবে গােলাপ যবে
কুটিবে শোভন তােমরা তখন কোথায় রবে?
ওগো রসবতী রূপদী তরুণী রমণী শেণী.
রূপ-গৌরবে করিতেছ হেলা নিথি জনে,
৭৮

দুদকুঁড়া
ভূষা বৈভবে প্রমােদে মেতেছ দুলায়ে বেণী,
হাসে উপহাসে মানুষে মানুষ করনা মনে।
মহাদেবী মাের যদি আসে খে। এ স মাঝে
সমুখে তাহার কোথায় বদন লুকাৰে লাজে ।
প্রেমের তত্ত্ব
( Shelley)
ঝরণা মিশছে তটিনীর সাথে তটিনী মিশিছে বারিধি সনে,
সমীরের সাথে সমীর মিশিছে প্রাণের আবেগে তারকা বনে।
এ নিখিলে কেহ নাকি একেলা বিধির এমন বিধান ?
সবাই মিলিছে, তব সাথে মাের কেন নাহি হবে মিলন শুভ।
ফের নগরাজ চুমিছে গগন চুমােচুমি করে লহরী গুলি
প্রকৃতি জননী ক্ষমেন যদি ৰা ফুলে ফুল চুমে’ না পড়ে তুলি।
সিন্ধুরে চুমে ইন্দুজ্যোছনা রবিক চুমে শ্যামলা ভূমি,
এক্ত যে চুমায় কিবা আসে যায় মােরে চুমা যদি না দাও তুমি ?
वनको
(Lovelace )
--সতী হৃদয়ের মন্দির ত্যজি চলেছি বলিয়া হৃদয় রাণী,
সজল নয়নে নিষ্ঠুর বাণ পিছু তে আজ রেখনা টানি।
যেই না করে বরয়া আনিতে, চলিয়াছি আজি শস্ত্র করে
আসিব না ফিরে, হাত এশিরে দিতে হবে বল তাহার তরে,

।
তােমাহ শেষে আরো বরণীয় অভিমান ভয়ে কেঁদনা প্রিয়ে,
তোমা ভালবাসি এ হৃদয় সপি তারে ভালবাসি পরাণ দিয়ে।
সঙ্গ : তবু সেষে হবে তব প্রাণসমা অাখির আলো,
তারে ভালবাসি তাই প্রিয়তমে, তােমারে এতটা বেসেছি ভালাে ।
প্রিয়ায়মান
(Coleridge )
চক্ষে দেখিতে নহে সে শ্ৰীমতী গরবিনী ধনিবালার মত,
মেয়ে যবে চাহিল প্রথম বৃষি আসে রূপসী কত।
দেখিনু মরি সে কত মনােরম দেবগৃহে যেন গন্ধধূপ,
উচ্ছল তার আখি তারা, সেসে আলাের ফোয়ারা রসের কূপ।
আজি তার দিঠি কুণ্ঠা জড়িত উদাসীন প্রেমকরুণাহার
চলে গেছে সে যে দূর দূরতর প্রেমের প্রলাপে দেয় সাড়া ।
তবু আমি দেখি তাহারি আখিতে মাধুরী দীপ্তি তেমনি জাগে,
রূপসীগণের হাসিরাশি চেয়ে তাহারি কুটী মধুর লাগে।
অভিশাপ
(J. Wilmot)
যাহার পরাণ চরণে ঠেলিলে তাহার কি আর রাখিলে বাকী ?
নিরাশা অনলে দহি পলে পলে মরণ যে তার আনিবে ডাকি।
মেদিনীর মে-ক্রোড়ের ছায়ায় ব্যথা তার শেষ হইবে যবে,
সেদিন হইতে প্রণয়ের শাপ ধিকি ধিকি তোমা দহিতে মুবে।
তাহার পরাণ যেমন কৰিছে তোমারে তেমনি করিবে, জেন,
বিধাতা কি নাই? সতীর হৃদয় বিফলে বৃথায় ভাগিবে কেন?

ক্ষুদকুঁড়া
বিরহে
( Burns)
যতদিক হতে বায়ু বয়ে আসে, তার মাঝে
আমি-দখিনের বাসি ভালো,
সেই দিকে মাের মনপ্রাণচোর প্রিয়া রাজে,
আহা-সেইদিক করে আলো।
বন প্রান্তর পল্পী নগর খনি
হায়-দোহমাঝে রহে কত,
তারি সাথে থাকি মম মন-পাখী দিবারাত
ঘুরে ফিরে অবিরত।
আমি হেরি তায় কুসুমসভায় গুণ্ঠনে
যেন---পুষ্পিত অনুনয়,
নি তার স্বর মধুপনিক-গুঞ্জনে
কল--মধুঝঙ্কার মম।
যত ফুটে ফুল সুরভিব্যাকুল নামহীন
হ্রদ---সরোবর উপবনে
যত পাখী গায় শাখায় শাখায় নিশিদিন
তারা-তারে শুধু আনে মনে।
আয়রে অধীর দখিনা সমীর বয়ে আয়
যতগাছে গাছে ফোটা ফুল,
পুলকি’ হৃদয়, বনপথময় লয়ে আয়
শত-প্রজাপতি অলিকুল।
এনে দে ফিরায়ে হৃদয়কুলায়ে প্রিয়ধনে

কুকুঁড়া
যার—নাম জপি দিবা স্বামী
গান তার হাসি, সবলারাশি-বিমােচনে
বুকে-তারে শুধু চাই আমি।
বিদায়ের ব্যথা কত কাতরতা দুহমাঝে
মুখে-কত যে শপথবাণী
আহা সেই শেষ মিলন পাবেশ, আজো বাজে
বুকে-তিশেল-শূল হানি।
কি ব্যথা যে প্রাণে আর কেবা আনে, ভগবান
এক—তিনিই জানেন শুধু,
আজি খনে খনে তাহার বিহনে মম প্রাণ
হা-মম করে ধু-ধূ।
জুলেখা
{জামীহইতে গৃহীত)
বয়ান তাহার ইয়াম বাগের মাত্র
নানা বরণের গােলাপের যথা বি,
ভােমরার মত যেন মধুপান রত
কালো তিলটা তাহাতে শশাভিছে কিব।
রজতের কূপ চিবুকের টোল তার
অমৃতের রস সঞ্চিত তাহে
লভিয়া কেবল শীকর-গন্ধ ভার
ঋষিরা চিত্ত স্নিগ্ধ পাবন হয়।

কুকুঁড়
লালসালুব্ধ,-ঐরাবতের
তার রূপ-গাঙে কোথায় ভাসিয়া যায়।
দ্বিরদের রদে রচিত কণ্ঠ খানি,
নয়নের তার বিশ্বে নাহিক তুলা,
হরিণশিশুরা অর্ঘ্য বহিয়া আনি
বার বার চুমে তার চরণের ধূলা।
একবার হেরি কান্তি নেহারি তার
গােলাপদুলালী মাথা হেঁট করি ঝুরে
বুলবুল করি গুলবাগ পরিহার
তাহার কেশের আরতি করিয়া ঘুরে,
অলকের লােভে বায়ু তার অনুগত
ভালতটে তার নিয়ত বীজন-হত।
উরসিজযুগ সরসিজ সম ধূত,
মনসিজ তায় পূজিছে কৃত্তিবাসে,
কাফুরের রসবিম্ব হতেও পূত
আলােক-গােলক হৃদিনভে যেন ভাসে।
অথবা যেন তা শােভিছে কুঞ্জছায়
একটি বৃন্তে দুইটি আনার ফল,
চক্ষুতে কভু পরশ করিবে তায়
বাসনা-ওকের নাহি হেন বুকে বল।
গী দেবতার বীণাবার জিনি
মধুর নুপুর বাজে পায় রিনিঝিনি।

ক্ষু
সনেট
(১)
যা কিছু সুন্দর আছে বসুন্ধরা তলে,
উষাশ্রীতে সন্ধ্যারাগে ইন্দুসুষমায়,
বর্ণে গন্ধে গুঞ্জরণে পর্ণফুল ফলে,
সবি যেন অধিশ্রয় লভেছে তােমায়।
যা কিছু মঙ্গল জাগে জীবের জীবনে,
স্বস্তি তুষ্টি নিষ্ঠা পুষ্টি গৃহ-সম্পদে,
সেবা-পুজা শঙ্খধনে সতীর কণে,
পুঞ্জিত যেন ও মঞ্জুর-কোকনদে।
যাহা কিছু সত্য ধ্রুব নিত্য সনাতন,
জ্ঞানকর্মে ধ্যানধর্মে ঋষি দেবতায়-
যাহা লাভে সমাহিত মানস নয়ন,
বিম্বিত সকলি তব প্রেম-স্বচ্ছতায়।
মুৰ্ত্তি ধরে এসেছ কি পরম প্রসাদ
সত্যশিব সুন্দরের শুভ আশীর্বাদ ।
(২)
আশৈশব সুন্দরের বদনার তরে,
বিন্দু বিন্দু করি অর্ঘ্য করি আহরণ,
সাজায়ে রাখি মর্মবেদীটির পরে,
তােমার বরণ-লাগি রচিনু তোরণ।
সুন্দরের পাটে এলে কল্যাণের রূপে,
সীমকে সিরবিন্দু পুণ্যশঙ্খ করে,

সুদকুঁড়া
চন্দনচর্চিত পুষ্পে, দীপে গন্ধধূপে
কল্পারম্ভ হলো সেই মঙ্গলবাসরে।
সমাহুত অর্ঘপুঞ্জ, দেবতা কোথায় ?
এলে তুমি সুন্দরের প্রতিনিধি সম,
নিশ্চিন্ত হলাম, সবি সপি তব পায়
সার্থক হইল সৰ্ব্ব আয়ােজন মম।
কোথা তাই পূৰ্ব্বরাগ? মূর্ত মন্ত্রবাণী ।
একই দিনে হলে ইহপরত্রের রাণী।
(৩)
তােমারে লভিনি যবে, পশিত শ্রবণে
যে ভূষাশিঞ্জন মঞ্জু, কুজনে গুঞ্জনে,
ৰে মধুর বাণী বীণাবেণুর ঝঙ্কারে
যে পরশ লভিতাম মলয়-সঞ্চারে,
যে নয়ন-প্রসন্নতা নির্মেঘ আকাশে,
চরণ-চারুতা স্বাহা সমােজ বিলাসে,
যে কৃষ্ণ-কুণ্ডল-কান্তি আষাঢ় নীরদে
যে লাবণ্য-বন্ধুরতা গিরির সংসদে,
যে অধর-অরুণিমা সন্ধ্যাভ্ৰস্বপনে
হেরিতাম,নিত্যনৰ মানস-নয়নে,
তোম। আজি গৃহে লভি, তােমা পানে চাই
একে একে তার সবি কেবলি মিলাই
কেমনে,অবাক হয়ে ভাবি বসে ঘরে
মিলিছে সে কল্পষ্টি অক্ষরে অক্ষরে ?
৫

জা
(৪)
সকল জীর্ণতা শাের কিশাের আশার
ফিসলরে ভরে গিয়ে হইল অরুণ,
চির উষরতা আজ শাঘল-প্রসার,
আনন্দে শিহরি মরি হইল তরুণ।
সফল দীনতা মাের ভরিলে মঙ্গলে,
পূর্ণ করে দিলে তব আত্মার বৈভবে,
সকল হীনতা মাের সাজায়ে কৌশলে
দেবতার পায়ে দিলে ভক্তির গৌরবে।
সকল বেদনা মাের হইল সাধন।
সৰ পরিতাপ মম ধুপ হয়ে এলে,
তপস্যা হইল মম সকল লাঞ্ছনা ;
গঙ্গারি হয়ে মােৰ সৰ অশ্রু গলে,
অভিশাপ হলো বর, সকল বঞ্চনা
পরম লাভের পূর্বে গােপনব্যঞ্জনা !
(৫)
আমি কোথা ছিনু আর তুমি কোথা ছিলে,
কেমনে ঘটিল এই অপূর্নমিলন
বিজনারণ্যমাবে কেমনে চিনিলে?
মিলাইয়া দিল কোন্ ৰৈ আকৰ্ষণ?
ধু তাই নয় সখি, প্রথম মিলনে,
সারা এ জীবনজোড়া সঞ্চিত প্রণয়
সকলি লইলে হরি মুহুর্তের কণে,
বিনা পূর্ব আয়ােজনে একেবারে জয়।

কুকুঁড়া
তাই মনে হয় সৰি তাই মনে হয়,
উৎসবের মধুময় ভর ক্ষণে,
সমারােহ হেরি গহনময়
শুনিয়া মধুর বংশী সবি এলাে মনে,
জন্মান্তরসৌহৃদের স্মৃতি এলাে ফিরে
পূর্নমিলনের প্রেম সৰি ধীরে ধীরে।
(৬)
প্রাক্তনজন বিদ্যা তুমি মাের প্রিয়া,
জীবাত্মার গুপ্ততলে আছিলে নিহিত,
সহসা যে শুভক্ষণে হৃদয় মথিয়া
অন্তরের অন্তরীক্ষে হইলে উদিত।
প্রেমকাম-মুয়ারে মথিল যখন
আমার জীবনসিন্ধু, উদিলে ইন্দিরা,
সঙ্গে ইন্দু পারিজাত কৌস্তুভরতন,
পিয়ে নিল জয়ী প্রেম অমৃতমদিরা।
সহসা জাগিলে তুমি প্রভাপূঙ্গোপম,
মহৌষধিমঙ্গে, নৈশ মিপরশে।
গঙ্গাবকে লক্ষ লক্ষ মরলের সম
শায় সঙ্কেত মাত্ৰে জাগিলে হরষে,
প্রাক্তন-জনমবিদ্যা তুমি মাের প্রিয়া,
ব্যক্ত হলে প্রকৃতির ইঙ্গিত লভিয়া।
(৭)
তােমারে গড়েছি আমি বিন্দু বিন্দু করি
মাধুৰ্য্য সুষমা সৰি কৰি অহয়,

ক্ষুদ
তিলে তিলে তিলোত্তমা হে মাের সুন্দরি,
আমারি বাসনাক্তে রক্ত ও চণ।
আকৈশাের লাে কিশােরী অর্চনার লাগি
কল্পকাননের পুষ্প করিনু চয়ন,
কামনার ধূপ জ্বালি’ রহিলাম জাগি,
সকল রূঢ়তা :ঘষি চিনু চন্দন।
সমারােহ-মুখরিত সেইদিন সাজে
হলাে বুঝি শুভক্ষণে সে অধিবাসনে
প্রাণের প্রতিষ্ঠা তব প্রতিমার মাঝে ;
কলারম্ভে কল্পলক্ষ্মী নামিলে ভবনে।
তোমার বেদীর পাশে সেই হতে আমি
অর্থহন্ত ত্রস্ত আছি চির দিবা স্বামী।
(৮)
অামারে গড়েছ তুমি নুতন করিয়া,
আমাতে জাগালে তুমি আমার দেবতা।
এ হৃদি অণ্যমাঝে হে তাপসী প্রিয়া
কত করিলে তুমি অমৃত বারতা।
দিতে গিয়ে তব নামে প্রাণের আহুতি
তােমার আড়ালে হেরি আরো দুটি পানি,
তৰ প্ৰেমন মাঝে হতো অনুভূতি,
কোন্ চিদানন্দ, যা সত্তা নাহি জানি।
অতীতের ‘আমি’ পানে চেয়ে দেখি যত,
পৃথক জীবন বলি মনে মাের লয়,

ক্ষুদকুঁড়া
নূতন উষায় ধরা আবার জাগ্রত,
হইল নিজের প্রতি শ্রদ্ধার উদয়।
ত্বগত করিয়া প্রিয়ে সৃজিয়াছ মােরে
তৰ অপূৰ্ব্বতা দিয়ে চিত্ত দিলে ভরে।
( )
যে চোখে তোমারে দেখে সর্বসাধারণ
সেই চোখে তােম। যদি আমি হেরিতাম,
তাহলে তােমার পায়ে জীবন যৌবন,
সবি কিগাে নির্বিচারে দিতে পারিতাম ?
তুমি যে আমার চোখে কি মহায়তন
মুকুরে হেরিয়া অঙ্গ নারিবে বুঝিতে,
দিতে যদি পারিতাম আমার নয়ন
আমার তােমাকে তবে হতনা খুজিতে।
আমার অন্তরচক্ষু দৈহিক নয়নে
লুপ্ত করিয়াছে, রবি চন্দ্ররে যেমন।
অন্তর হেরে যে তার অন্তরের ধনে ;
এ যেন ঋষির মহামন্ত্রের দর্শন।
আমার ‘তুমিটি, সেযে সবার তােমাকে,
চিরদিন ঘুরিঘুরি অন্তরালে ঢাকে।
(১৫)
বলেছেন ভর্তৃহরি-নারীর যৌবন,
অস্থি মজ্জা রক্তমাংস ক্লেদ মল ময়
তার লাগি এত কেন লালসা লোভন ?
কেন তার পায়ে দিবে আজন্ম সঞ্চয়।

বৈরাগী কবি পায়ে করি নমস্কার,
শুধু বাক্লেদয়ে, শুধাই কবিরে,
করেছি কি তােমা মাের জীবনের সার ?
দেৰত সুন্দর যেগাে করেছে মন্দিরে।
পরের অস্থলে যে আছে জাগি
তারি লাগি অঙ্গারে মাথা কোটাকুটি
দুটী দেহব্যবধান টুটাবার লাগি
লক্ষ্যহারা হয়ে শুধু ভ্রান্ত ছুটাছুটি।
ভোগময় আলিঙ্গন-বঙ্গে নিপীড়ন
কঠিন প্রয়াসে শুধু তাৰি অন্বেষণ।
(১১)
পেলে প্রাণের সাড়া অস্থিমাংসয়ে
তৃপ্তি লাগি কেবা বল যাবে বারে বারে ?
না পেলে প্রেমের সড়। অঙ্গে অঙ্গ দিয়া,
কে জুড়াবে রক্তমাংসে তৃতপ্ত হিয়া।
দেবতা জাগ্রত যদি না রহে দেউলে,
কে জাগিবে নিশিদিন সোপানের মূলে?
সুরে মিলেনা বলি বুকে বুক দিয়া
লাখ লাখ যুগ ধরি, জুড়ায় না হিয়া।
রূপে মিলেনা বলি নাই তিরপিতি
নয় অবধি রূপ নেহারিয়া নিতি।
বাঁশরী বাজারে কার কোথায় লুকায়,
আমরা টুড়িয়া ফিরি ঝোপে ঝাড়ে তার।

-
মানিনা কন্টকক্লেদ, আধ্যে পল,
মের সন্ধান সবি করেছে নির্মল।
(১২)
হে দেবতা, খুলে গাও মন্দিরের ,
মন্দিরে সুন্দর করি করিছ বঞ্চনা,
মন্দিরে করেছি তাই জীবনের সার,
কতদিন রবে তথা লুকায়ে আপনা?
তোমার মন্দির যদি এতই সুন্দর,
কি সুন্দর হবে তুমি বল’ হে মােহন,
পাষাণে মজিল যদি আমার অন্তর,
ততম পেলে কোন রসে মগ্ন হবে মন?
মন্দিরে আকড়ি যবে খুরি আত্মহারা,
পথভ্রান্ত সৌন্দর্যের লালসালীলায়,
নিবিড় আবেশ মাকে পাই তব পাড়া,
হে আনন্দরসময়, শিলায় শিলায়।
প্রিয়া সহ প্রেমলীলা ওগাে প্রাণনাথ,
তব রুদ্ধারে শুধু নিত্যকরাঘাত।
(১৩)
ধ্রুবতৃজ্ঞা জীবাত্মার গুপ্ত সহচর
এ তৃষ্ণা মিদ্ধ চিত্তে নিত্য চিরন্তন,
শাশ্বতের লাগি প্রেম সে যে অনখর
পূর্ণ হবে একদিন তার আকিঞ্চন।
অবের প্রেম সেত সম্ভোগের স্মৃতি
বিশেষে তারা হয়ে যায় স্নান,

ক্ষুদকুঁড়া
নখরের চিত’পরে নশ্বরের প্রতি
সহমৃতা হয়ে শেষে লভিবে নির্বাণ।
কান্তার প্রান্তর ভরা আলেয়া বিভ্রমে,
গগনে জ্যোতিষ্ক-গ্ৰহ আবর্ত্তে চঞ্চল,
এক শুধু ধ্রুবতারা চিরস্থির ব্যোমে,
সেবি হবেনা ভবে এ যাত্রা সফল।
অনৃতে দহিবে যজ্ঞে ঋতানল শিখা
সম্মুখে দাড়াবে ধ্রুব পরি ভস্মটীকা ।
(১৪)
লভেছে ধ্রুবের সঙ্গ ভাগ্যে যেই জন,
সেই শুধু মহাতীর্থ যাত্রা-অধিকারী।
অধ্রুবের শক্তি কোথা? দীনাত্মা কৃপণ
কতদূর যাবে? সেষে কৃপার ভিখারী।
বিৰ মােরা নিঃস্ব, পুজি সকলি নশ্বর
প্রেমবিনা আর কিছু নাহিক সম্বল,
তীর্থপুণ্য চাহে তবু এ দীন অন্তর,
অবেতে খুজি তাই ধ্রুবেরে কেবল।
প্রি-প্রেম দিব আমি ধ্রুপদতলে
ভৃত্য করি, দাস্য বরি নিবে শির’পর,-
ক্রমে কৃপা লভি তার বহু সেবাফলে
যাপণে সে তাহার হবে সহচর।
“দীন যথা যায় দূর তীর্থ-দরশনে
রাজেন্দ্রসঙ্গমে—তৰে যাবে তার সনে।

ক্ষুদকুঁড়া
(১৫)
দুলভ বলিয়া চিত্ত হয়ােনা হতাশ,
অধ্রুবের জয়চিহ্ন যেন না ভুলায়,
ধরণ করিবে তার রথচক্রগ্রাস
আপাতবিজয়-কেতু লুটিবে ধূলায়।
এ পৃথী বিপুল আর কাল-ও নিরবধি
হের জাগে পুরোভাগে জন্মজন্মান্তর,
এ জীবনে ভ্রম তব নাহি ঘুচে যদি
আগামী জীবনে তবু হবে অগ্রসর।
নীড় হতে নীড়ান্তরে ঘুরি পক্ষিগণ
হারাবে আশ্রয় যবে কালিঝঞ্চাবায়
অনাদি শাশ্বত সেই বিমুক্ত গগন
তখন করিবে সার নিৰ্ম্মল উযায়।
আপাতসুথের মােহে যায় যেবা দূরে
অমৃতলােকের লােভে আসিবে সে ঘুরে।
(১৬)
বাশয়ী শুনেছি, তা দেখিনিক চোকে
তুমি প্রিয়া তার সাথে মিলনের দূতী,
এ লােক হইতে নিয়ে যাও অন্যলােকে
ওগাে ৰাহা, জীবনের সকল আহুতি।
তােমারে সকলি সপি নিরুদ্বেগ আমি,
জনমিল পূর্বরাগ তােমারি কৃপায়,
মম নিবেদিত অৰ্য তুমি দিবা যামী
বহিছ গােপন পথে সে প্রভুর পায়।

কুকুঁড়া
তুমি যদি মাের প্রেম না কর’ হন
একেবারে তাঁর কাছে দাড়াব কেমনে?
লজ্জায় কুণ্ঠায় প্রেম হইবে স্বপন
অভিসা-পন্থা যদি না দেখাও বনে।
তােমারে বিরাগী কবি বলে ঘৃণ্য ? হয়।
দেব উলের সিড়ি ভাঙিবারে চায়?
বিকল
হায়রে আমার মানবজীবন চারিদিকেই বিফল হলো।
এছার অসার জীবনের ভার হিঁচড়ে টেনে কি ফল বলে।
জ্ঞানের মহাসিন্ধুকূলে ঝিনুক নিয়ে রইনু ভুলে,
অনন্তের এই আভাষ প্রাণে পেলামনাক একটী পল-ও।
মিটলনাক প্রেমের পিয়াস ঘুচলনাক প্রাণের ক্ষুধা,
মুখে রসের পাত্র ধরে কেড়ে নিল এই বসুধা।
জীবনসমক্ষেত্র পরি
লক্ষ্যহারা সকল শাই
পদাতিকের মেলার মাঝে হাতের অসি হতেই হলো।
গাইতে গিয়ে প্রাণের বাণী আটকে গেল কণ্ঠতলে
কতে গিয়ে তুলীর রেখা ধুয়ে গেল অশ্রুজলে।
গাঁথতে গিয়ে চুনোহারে
সূত্র হারাই অন্ধকারে
মরার আগেই সত্তা আমার হীনতায় ডুবেই মলো!

এযুক্ত কালিদাস রায় প্রণীত গ্রন্থাবলী সম্বন্ধে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ বলেন- “তােমার কবিতা বাংলা দেশের মাটির মতই মিষ্ট ও শ্যামল। বাংলা দেশের প্রতি গভীর ভালবাসায় তােমার মনটি কানায় কানায় ভয়া-সেই ভালবাসার উচ্ছলিত ধারায় তােমার কাব্য-কানন সরস হইয়া কোথাও বা মেদুর কোথাও বা প্রফুল্ল হইয়া উঠিয়াছে। তােমার এই কাব্যগুলি পড়িলে বাংলার ছায়াশীতল নিভৃত আঙিনার তুলসীমঞ্চ ও মাধবীকুঞ্জ মনে পড়ে। ঋতুমঙ্গল মূল্য ॥•সুদৃশ্য বাঁধাই : প্রবাসীর মন্তব্য। যড়হুর বিচিত্র বিলাসলীলা, রূপবৈচিত্র্য ও সম্পদ সপ্তারের বিশেষত্ব অবলম্বন করিয়া বহু খণ্ড-কবিতার সমষ্টি এই ঋতুল। কবি বিচিত্র হলের কবিতায় প্রকৃতির যড়ঋতুর বিশেষত্বের সহিত বাঙ্গালীর অন্তরে ােেগ সাধন করিয়া দিয়াছেন। যারা প্রকৃতির বিচিত্রতার মধ্যে মানৰ মনের ভাৰ ঐশ্বর্যের ওতপ্রােত আদান প্রদান অনুভব করিতে চান তারা ঋতুসংহার-রচয়িতা মহাকবি কালিদাসের চরণাঙ্কনুসারী এই কবি কালিদাসের ঋতুমঙ্গল পাঠ করিয়া আনন্দিত হইবেন। প্রবাসী চৈত্র ১৩২৫। বল্লরী (২য় সংস্করণ, পরিবর্ধিত ) আবাঁধা • বাধা মূল্য দ, ভারতীর মন্তব্য-কৰিছাগুলির অধিকাংশই ভাবে লিঙ্গ, ভাষায় সুর কারে রমণীয়, ছলের অপূর্ব লীলায় মনােরে। শব্দচয়নেও লেখকের ক্ষত অপূর্ব। এই তরুণ কবির ঝঙ্কারে এমন একটা রিকতা ছেৰে প্রাণের ভয় সে রে সখন শক্ষিত ইয়া উঠে।

• ব্রজবে মূল্য • বাধা : d কবিবর শ্রীযুক্ত প্রমথনাথ রায় চৌধুরী বলেন- তোমার বাৰে মৰমে পশিলগে আকুল করিল নােম প্রাণ। আধুনিক কবিকুলে তুমিই একমাত্র ব্রকবি, তােমার বিশেষত্ব-তুমি ব্রজের মধ্যে ব্রহ্মাণ্ড দেখিয়াই। ধর্মকে এমন কর্মজগতের উপযােগী সরস সরল স্বাভাবিক করা প্রথম শ্রেণীর কবির কাজ-তুমি তাই। জবেণু আমাকে এ আকুল করে নাই-বা করিয়াছে।” ভারতবর্ষ। বধূমঙ্গল—শীঘ্রই প্রকাশিত হইবে। পর্ণপুট ১মখণ্ড (তৃতীয় সংস্করণ) উৎকৃষ্টবাধা, ১০ কবিতাগুলিতে সাৰ আছে--সত্যসুন্দর ও মঙ্গলের সমাবেশে হৃদয়গ্রাহী”. ভারত। কবিতাগুলি পড়িয়া সত্যসতাই মুগ্ধ হইয়াহি---অশ্বিনীকুমার দত্ত। পর্ণপুটের কতগুলি কবিতা আমার খুব ভাল লেগেছে”--দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন। ভাষায় ভাবে, অলঙ্কারে অঙ্কনে চিত্রণে কবি শক্তিমান"---বাবাসী। পর্ণপুট-২ ২য়খণ্ড—উৎকৃষ্ট বাঁধা মুল্য ১০ প্রবাসী-অধিকাংশ কবিতাই বেণ সহ সুন্দর-অনেকগুলি প্রদেশ থেমেও জাতি গৌরবে অনুপ্রাণিত। পল্লীসম্বন্ধীয় কবিতাগুলি স্নিগ্ধ। বসুমতী:-সাহিত্যের অপূৰ্বসম্পদ,---ভাবে প্রাণস্পর্শী, শব্দলালিত্যে যােজলায় অভিনব। কলিকাতার প্রধান প্রধান পুস্তকালয়ে ও ৩০২, অপার সাকুলার নােভে সুষীকেশ চক্রবর্তী বি, এর নিকট প্রাপ্তব্য।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Khudkura

Author
Roy,kalidas
Title
Khudkura
File name
Khudkura
Text
OCR done
Citation
1922
Published
2009/12/13
Publisher
Indian Book Club,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
109
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Roy,Kalidas
DLI number
512821
Barcode
4990010019859.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
O2oxEiAMuea
Download PDF

Khudkura