Maju Public Library, Howrah
Dharma Biggyan Beej Pt.1,ed.2
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
ধৰ্ম্মবিজ্ঞান বীজ।
প্রথম ভাগ।
দ্বিতীয় সংস্করণ।
ধর্মঃ প্রােঝিতকৈতবােহ
পরমাে নিৰ্ম্মৎসৱাণাং সং
কলিকাতা।
৭২ নং অপার সকিউলার রােড।
বিধান য৪ে শ্রীরামসর্বস্ব ভট্রা দ্বারা মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
১৮০৮ শক।
No text on this page.
উপক্রমণিকা। মনুষ্য যখন ধৰ্ম্ম চিন্তা কিবিতে প্রবৃত্ত হয় তখন আপ • কে এই বিচিত্র জগতের অন্তর্ভ ত একটী পদার্থ বলিয়া 15া করে। প্রথমতঃ পিতা মাতা, তৎপর সংসার। পবি- ব, তৎপব প্রতিবাসী, তৎপর গ্রামবাসী, নগরবাসী, শবাসী, বিদেশবাসী, সাধারণ জগদ্বাসী মানবগণের প্রকৃতি ও সম্বন্ধেব আলোচনা করিতে থাকে। বন চন্দ্র সূণ্য প্রভৃতি জ্যোতিষ্কমণ্ডল, বায়ু ও অলোক- পূর্ণ আকাশ, মেদ, বজ, বৃষ্টি প্রভৃতি পদার্থনিচয় এবং # বায়ু, অওজ ও উদ্ভিজ প্রভৃতির অন্তর্গত গঢ়তত্ত্বসকল তাহাৰ আলোচনার বিষয় হয়। অব ইহার প্রত্যে- কেরও আপনার মধ্যে যে একটী অকাট্য সম্বন্ধ সূত্র লম্বিত অাছে তাহা এবং সেই সম্বন্ধসূত্রের মূলীভূত অদ্বিতীয় সচ্চিদানন্দ জগদ্বিধাতা পরম পুরুষ সহ নিজের ও আধারণ জগতের সম্বন্ধ সমালোচনা না করিয়া থাকিতে পারে না। জগতের এই পারস্পরিক সম্বন্ধ ও জগৎ প্রতিষ্ঠাত। মঙ্গলময় আদিপুরুষের সঙ্গে নিজের ও প্রত্যেক জড়, প্রাণ ও আত্মার সম্বন্ধ, মানব ধর্মবিজ্ঞানের মুল উপাদান। এই উপ- দান ইয়া ধৰ্ম্মম নিৰ্ম্মিত হইয়াছে। এই দ্রুমের বীজমা এই গ্রন্থ মধ্যে রোপিত হইল। ইহার যে কয়েকটা অঙ্কুব আমার জ্ঞানের অায়ত্ত ছিল, তাহা পৃথক পৃথক্ অধ্যায় নামে অঙ্কুরিত করা গেল।
No text on this page.
বিজ্ঞাপন।
ধৰ্ম্মবিজ্ঞানবীজ নামক এই পুস্তকের অভিধেয় অতি,
বিস্তৃত। আমার এমন স্বচ্ছলতা নাই যে আমি এক যােগে
সমগ্র বিষয় একত্র সমাবেশ কবিয়া পুক মুদ্রিত করি।
এজন্য ইহাব নয়টী মাত্র অধ্যায়ে প্রথম খণ্ড মুদ্রিত করা
গেল। যদি ইহার প্রতি সাধারণের অনুরাগ জন্মে এবং
ইহার দ্বারা কাহারও জীবন ধৰ্ম্ম ভাব উদ্দীপ্ত হয়, তবে
আমার ভবিষ্যৎ আশা সফল করতে যত্ন করিব।
আমার রচনা প্রণালী ভাল হইবে না। ইহা আমি জানি।
কে বল আমি কেন যে ব্যক্তি নিজের জ্ঞান বুদ্ধির পরিমাণ
জানে, সেই জানে তার কার্য উৎকৃষ্ট কি অপকৃষ্ট ; কিন্তু
আমি যে বিষয় গুলি লিখিলাম, তাই আমার নিজের বুদ্ধি
ৰচিত বিষয় নহে, তাহা সাধারণ মনুষ্যজাতির আবিষ্কৃত
সত্য। সুতরাং এবিষয়ে আমার অনুনয় বিনয় নিষ্প্রয়ো-
জন। তথাপি শিষ্টাচারানুরােধে আমি বিনয়ের সহিত
বলিতেছি, যদি ইহাতে কোন দোষ সৃষ্টি হয়, সাধুগণের
নিকট তৎসম্বন্ধে ক্ষমা চাহি।
শ্রদ্ধাস্পদ ভাই শ্ৰীযুক্ত বাবু গৌরিগগাবিন্দ রায় উপাধ্যায়
মহাশয় আমাকে এই বিষয়ে উৎসাহ প্রদান করেন,
আমি সেই উৎসাহে ও অনুবাগের বলে এই কাৰ্য্যে
প্রবৃত্ত হইয়াছি। ইহার আদ্যোপান্ত তিনি স্বয়ং সংশােধন
করিয়া দিয়াছেন তজ্জন্য ভক্তিপূর্ণ হৃদয়ে তঁাহার নিকট
কৃতজ্ঞতা জানাইতেছি।
No text on this page.
BAJU PUBLIC LIBRARY.
E3TD.
1902
"AJ, How ,
ধবিজ্ঞান বীজ।
প্রথম
অধ্যায়।
জগৎ।
জগতের সাধারণ তত্ব অবগত হইতে হইলে, অগ্রে
আলােচনা করিয়া দেখা আবশ্যক, জগৎ বলিতে বুঝায়
কি ? জগৎ ৰলিতে উৎপন্ন ৰা সৃষ্ট বস্তু বুঝায়। যাহা
কোন ভ ব্যর সাহায্য ব্যতীত ঈশ্বর আপন শক্তিতে সৃষ্টি
করেন, তাহাই সৃষ্ট, তাহাই জগৎ। জগৎ এক দিনে হয়
নাই, কিন্তু ক্রমে হইতেছে। মনুষ্যাত্মা পূর্বেও হইয়াছে,
এখনও হইতেছে, পরেও হইবে, সুতরাং যাহা কিছু সৃষ্ট
হইয়াছে, হইতেছে বা হইবে,তাহা সমুদায়ই জগৎ। ফলত
চক্ষু দ্বারা যাহা দেখি, কর্ণ দ্বারা যাহা শুনি, জিহ্বা দ্বারা
যহার আস্বাদ লই, নাসিকা দ্বারা যাহার গন্ধ পাই,
চৰ্ম্ম দ্বারা স্নাহ। স্পর্শ করি, এ সমুদায় ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুই
জগৎ। এতদ্ব্যতীত সাক্ষাৎ, অনুভূতি, অনুমান, উপমানাদি
( ২ )
বাবা সে সকল বস্তুতত্ত্ব অবগত হই, তাহাও জগৎ ?
জগৎ অগণ্য। জগতের প্রত্যেক বিষয়ের পরিচয় দেওয়া
মনুষ্য শক্তির অতীত। সুতরাং পূৰ্বাচাৰ্য্যগণ তাদৃশ দুষ্পাপ্য
ফলের আশা পরিত্যাগ করিয়াছেন। আমি কে যে তা হা
পরিত্যাগ করিব না? তাদৃশ কাৰ্য এক জন কি দুই জনের
চেষ্টায় সম্পন্ন হইতে পারে না। দুই বৎসর কি পাঁচ বৎসর
পরিশ্রম করিলেও কিছু হয় না। এমন কি সমস্ত পরমায়ু
নিঃশেষ করিলেও ইহাতে সিদ্ধকাম হও। অসম্ভব।
এখন কর্তব্য কি ? কর্তব্য এই, বস্তু সকলকে শ্রেণীবদ্ধ
করি তাহার প্রত্যেক শ্রেণীর স্বভাব ও নিয়মাদি হইতে
স্রষ্টার ষে মঙ্গলভাৰ দোহন করিতে পারা যায়, বন্ধুদিগকে
তাহাই উপহার প্রদান করা।
এই অসৗম জগৎ, যাহার এক সীমা হইতে সীমান্ত
গমন করিতে বা দর্শন করিতে কোন মনুষ্য সমর্থ হয় না,
পৃথিবী, সূর্য, চন্দ্র, গ্রহ, নক্ষত্র প্রভৃতি ৰাগর বাচ্য,
ইহার অন্তনিহিত তত্ত্বসকল অবগত হইবার উপায় কি?
জগৎ দেখিয়া যদি ধৰ্ম্মতত্ত্ব নিরূপণ করিতে হয়, জাগতিক
ঘটনাবলীর পরিচয় না পাইলে, তাহা অবগত হওয়া দুষ্কর।
অথচ উহার অধিকাংশ বিষয় পার্থিব বস্তুতত্ত্বের অভূত
হইয়া আছে। এ জন্য অগ্রে জগতের মূল উপাদন
গুলির প্রতি দৃষ্টি করা আবশ্যক। জগতের মূল উপাদান
কি ? পূৰ্ব্বকালের পণ্ডিতগণ বলিয়াছেন, আকাশ, বায়ু,
) জল, ভূমি, অগ্নি প্রভৃতি ভূত, এবং দি, দেহী, মনঃ, এই সকল জগতের উপাদান। ভূত শব্দের প্রকৃত অর্থ কি ? অমিশ্র বা রূঢ় পদার্থ। আর কিছুরই সঙ্গে যাহার সম্মুিণ নাই, যাহা ঠিক ও বিশুদ্ধ, তাহাই ভূত, সুতরাং যাহা ভূত তাহাই জড় জগতের মূল উপাদান। কিন্তু অধুনাতন পণ্ডিতগণ পূর্ধ্বতন পণ্ডিতদিগের এই ভূতবাদের প্রতিবাদ করেন। তারা বলেন, অগ্নি, বায়ু, জল প্রভৃতি বস্তু বাস্তবিক অমিশ্র নহে মিশ্র, সুতরাং তাহারা ভূত বলিয়া অভিহিত হইতে পারে না। যে সকল অমিশ্র বস্তু অগ্নি, বায়ু, জল প্রভৃতির উপাদান, এবং স্বর্ণ রৌপ্যাদি যে সমস্ত ধাতব বস্তু অমিশ্র বলিয়া রাসায়নিক পরীক্ষায় প্রতিপন্ন হইয়াছে তাহাই ভূত। এতদ্ব্যতীত দেহী ও মনকেও জগ- তের উপাদান বলিয়াছেন। দেহী অর্থাৎ যাহার দেহ আছে। দেহ নাই কা হার ? এ জগতে সকল বস্তুই দেহ- বিশিষ্ট, সকল বস্তুই নির্দিষ্ট আকৃতি বা শরীরবিশিষ্ট । সুতরাং দেহী বলাতে ধাতু, প্রস্তর, বৃক্ষ, লতা, কীট, পতঙ্গ বুঝিবার বাধা কি ? । অনেক। দেহী বলিলে যাহার দেহ আছে, তাহাক বুঝাইয়া আরও কিছু বুঝায়। “আমার এই দেহ” যাহার বােধ আছে, এবং দেহ সম্পর্কে সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব আছে, তাহাকেই দেহী বলিয়া বুঝিতে হইবে। সুতরাং দেহী বলিলে বৃক্ষ লতাদি বুঝিবার বাধা জন্মিল। কেন না যদি বলি অমুক ব্যটা আমার, তবে ০ ( ৪ ) যাহাব নিকট বলিলাম, তিনি কি বুঝিলেন? তিনি বুঝি- লেন, উল্লিখিত বস্তুতে আমার কর্তৃত্ব আছে। আমি ইচ্ছ- পূৰ্ব্বক ঐ বস্তুটী কাৰ্যে প্ৰয়ােগ করিতে পারি । অতএব যাহার দেহের প্রতি কর্তৃত্ব নাই, আমার দেহ বলিয়া বােধ নাই, তেমন ধাতু, প্রস্তর বৃক্ষ, লতাদি দেহী হইতে পাবিল না। যাহা হউক, ভৌতিক পরমাণু সকল, আত্মা ও মন প্রভৃতিই যে জগতের মূল উপাদান তাহা নিশ্চিত। ভৌতিক পরমাণু সকল নিয়মিত হইয়াই জগতের আকার প্রাপ্ত হইয়াছে। সুতরাং সমুদায় জাগতিক কাৰ্য নিয়মের অধীন। নিয়ম ব্যতীত কোন ঘটনাই ঘটিতে পারে না। জগতের যত বিষয় বিদ্যমান, তাহার প্রত্যেক বিষয়ের মূলে নিয়ম আছে এ কথা সৰ্ব্ববাদীসম্মত। না প্রসিদ্ধ জড়ত্তবিং পণ্ডিতগণ এই মত অকাট্য বলিয়া স্বীকার করিয়াছেন, এবং নানাবিধ প্রমাণ প্ৰয়ােগ করিয়া ইহার দৃঢ়তা সংস্থাপন করিবার চেষ্টা করিয়াছেন। তাহারা চেষ্টা করুন বা না করুন, এ মত যে অতিশয় দৃঢ় তাহার আর সন্দেহ নাই। এ বিষয়ে প্রসিদ্ধ ফরাসিস পণ্ডিত কোমত যে সকল কথা বলিয়াছেন, তাহা নিম্নে প্রদ- শিত হইল। কোমত বলেন, জড়তত্ব নির্বাচন করিতে মনুষ্য সমাজে তিন প্রকার ব্যাখ্যা প্রচলিত আছে। প্রথম, পৌরাণিক, আধ্যাত্মিক বা ইচ্ছামূলক। দ্বিতীয়, দার্শনিক কেন ০ কাল্পনিক বা শক্তিমূলক। তৃতীয়, বৈজ্ঞানিক, প্রামাণিক বা নিয়মমূলক। যখন মনুষ্য সমাজে জ্ঞানের ভাব অপরি- স্ ট থাকে, যখন মনুষ্যগণ প্রকৃতির সুন্দর সরল রেখার * মধ্যবর্তী থাকেন, তখন তাহারা সকল বস্তুতেই এক একটা ইচ্ছাবিশিষ্ট কৰ্ত্তা অনুমান করিয়া পয়েন। উল্লেখ করেন, তাহার ইচ্ছা না থাকিলেও একটা ইচ্ছ। কল্পনা করিয়া লন। যেমন অস্ক, টজ্ঞান বালক গতি- শীল কন্দুক ও কৃত্রিম পুত্ৰকাদিতে ইচ্ছাবিশিষ্ট কৰ্ত্ত। কল্পনা করে, যেমন বালকগণ অচেতন মৃৎপিণ্ডে বা উপলখণ্ডে আহত হইলে অথবা দেয়াল, কবাট ও কাষ্ঠাসন প্রভৃতিতে আঘাত হইলে, ঐ সকল বস্তুতে ইচ্ছ। বিশিষ্ট, কত্তা আছে বলিয়া প্ৰতিপ্রহার করে, এবং তাহারই মত তাহা- রাও দুঃখ পাইল ভাবিয়া সন্তুষ্ট হয়। শিশুরা এরূপ করে কেন ? তাহারা জগতের পূর্বে আপনাকে দেখে, অপ- নার যেমন ইচ্ছা ভাবাদি আছে বলিয়া জানে, সেইপ জড় বস্তুতেও কল্পনা করে। তাহারা আনে তাহাদিগের যাহা ইচ্ছা তাহারা তাহাই করে, যাহা ইচ্ছা হয় না তাই। করে না। সুতরাং এ জগতে সকলকেই তারা আপনার মত ইচ্ছাবিশিষ্ট কৰ্ত্তা বলিয়া বিশ্বাস করে। এইরূপ পৃথিবীর ল্যাবস্থায় সরল প্রকৃতি মনুষ্যগণ ও নিজের আনুরূপ্য লইধা জগতের সকল ঘটনাতেই কত্তা দেখিতেন। সুতরাং এই সকল কৰ্তাৰ ইষ্টানিষ্ট ফলদাতৃত্ব । শক্তি আছে বলিয়াও মান্য করিতেন। এই কারণে চন্দ্র, সূর্য প্রভৃতি জড়পিণ্ড দেবতা বলিয়া পূজিত হইয়াছে। এই কারণে অগ্নি, বায়ু জল প্রভৃতি ভৌতিক বস্তু এবং মেঘ, বজ প্রভৃতি প্রাকৃতিক ঘটনার দেবত্ব সৃষ্টি হইয়াছে। অতি পূৰ্ব্বকালের ব্যাখ্যা বলিয়া কোমত ইকে-পৌর- ণিক, এবং নিজের সচেতন ইচ্ছা বিশিষ্ট আত্মার অনুরূপ লইয়া হয় বলিয়া আধ্যাত্মিক ও ইচ্ছামূলক আখ্যা দান করিয়াছেন। পরে যখন মনুষ্যের জ্ঞান ক্ৰমশঃ পরিমার্জিত ও পবি- *ট হইতে থাকে, তখন কাজে কাজেই পূৰ্ব্ব সংস্কার পরিত্যাগ করা আবশ্যক হইয়া উঠে। একটি লােককে আমরা সাধু বলিয়া সম্মান করিতে পারি, যতক্ষণ তাহার চরিত্রে কোন কলঙ্ক না পাই, কিম্বা যতক্ষণ সেই কলঙ্কিত লক্ষণগুলি আমার অজ্ঞাত ও অপরীক্ষিত থাকে। কিন্তু যৰি পৰীক্ষা করিয়া তাহাতে অল্প মাত্রও অসাধু ভাব দেখিতে পাই, অমনি সেই সাধুজনােচিত বিশ্বাস চলিয়া যায়, উহা এক মুহূর্তও তিষ্ঠিতে পারে না। সেইরূপ চন্দ্র, সূৰ্য প্রভৃতি জড়পিণ্ড; অগ্নি, বায়ু, জল প্রভৃতি ভৌতিক পদার্থ, এবং মেথ, বিদ্যুৎ প্রভৃতি প্রাকৃতিক ঘটনা, যত দিন অপরীক্ষিত ছিল, তত দিন দেবতা ছিল। যখন পরীক্ষায় জানা গেল যে চেতনের যে সকল লক্ষণ থাকা উচিত, তাহা তাহাদিগের নাই, তখন আর তাহাদিগের দেবত্ব মনুষ্যহৃদয়ে অধিকার পাইবে কি রূপে ? সময়ে মনুষ্য বুঝিতে পারিল, ঐ সকল বাস্তবিক দেবতা নহে, উহার জড়। তবে তাহারা কা করে কি রূপে ? অগ্নি কত পুঞ্জ পুঞ্জ তৃণ কাষ্ঠ অবলীলা ক্রমে ভস্ম করি- তেছে ; বজ নিপতিত হইয়া কত মহা বৃক্ষ ও প্রাসাদ- মালা চূর্ণ করিতেছে ; সমুদ্রের জল বিক্ষুদ্ধ হইয়া কত গ্রাম নগর ও পৰ্বত পর্যন্ত প্লাবিত করিয়া ফেলিতেছে, এ সকল কাৰ্য ইচ্ছ। ও কর্তৃত্ব না থাকিলে কিরূপে হয় ? তখন অনেক তর্ক যুক্তির পর স্থির হইল যে, প্রত্যেক বস্তু- তেই এক একটা কার্যকরী ,শক্তি আছে। সেই শক্তির বলে কাৰ্য সকল সম্পন্ন হইতেছে। যেমন এলে শীতলতা, অগ্নির দাহিকা শক্তি ইত্যাদি। এইরূপ মধ্য- বস্থায় বহুলপরিমাণ বহুদর্শনের পর “শক্তি কলিত হয়। কোমত এই জন্য ইহাকে দার্শনিক, কাল্পনিক ও শক্তিমূলক আখ্যা প্রদান করিয়াছেন। কিন্তু মনুষ্যের উন্নতিশীল জ্ঞান ইহাতে তৃপ্ত থাকিতে পারে না। কেন না এরূপ সিদ্ধান্তে কোন প্রকৃততত্ত্ব জানা যাইতে পারে না। অগ্নির দাহিক শক্তি আছে, সেই জন্য সে তৃণ কাষ্ঠ প্রভৃতি দগ্ধ করিতে পারে, ইহাতে জ্ঞান তৃপ্তি হইল কৈ? অগ্নিত কোন পদার্থ নহে। অবশ্য কোন নিয়মানুসারে অগ্নির উৎপত্তি হয় এবং দহিক শক্তি সেই নিয়মের ফল। অতএব মধ্যাবস্থার
কান সিদ্ধান্ত সিন্ধান্তের চরম সীমা বলিয়া স্বীকাৰ্য্য নহে,
সুতরাং ইহাতে জ্ঞান পরিতৃপ্ত হওয়া অসম্ভব। যখন
ঈদৃশ দার্শনিক ব্যাখ্যাতেও মনুষ্য সন্তুষ্ট হইতে পাবে
না, তখন তাহারা প্রত্যেক বস্তু ও প্রত্যেক ঘটনার মধ্যে
নিয়মানুসন্ধান করিতে প্রবৃত্ত হয়। এইরূপ নিয়মানু-
সন্ধিৎসু মনুষ্যই পরিতৃপ্ত হইতে পারে। কেন না তাহারা
ধত নিপুণ হইয়া চিন্তা করিতে থাকে, ততই রাশি রাশি
নিয়মের বা প্রমাণের সূত্র সকল প্রত্যেক জগৎকার্যের মূলে
দেখিতে পায়। ইহাকে কোমত বৈজ্ঞানিক, প্রামাণিক বা
নিয়মমূলক উপাধি প্রদান করিয়াছেন।
কোমতের এই মতকে আমরা পণ্ডিতাভিমানীদিগের
দয়গ্রাহী বলিষা স্বীকার করি। ইহা দ্বারা শিক্ষিত সমাজে
যত দূব উপকার হওয়া উচিত, বস্তুতঃ তত দূর হইয়াছে কি
মা সলেই ? কোমত বলেন, নিয়মেই সমস্ত বিশ্বব্যাপার
চলিতেছে, নিয়ম ভিন্ন কিছুই হয় না ও হইতে পারে না,
এবং নিয়ম ভিন্ন মনুষ্যের জ্ঞাতব্যও আর কিছু নাই।
এ বড়ই দুঃখের বিষয় যে, নিয়ম বলিলেই যে নিয়ন্তাকে
বুঝ। অনিবাৰ্য কোমরে মুখে এ কথাটি অসিল না ।
(কবল যে এই কথাটি আসিল না তাহা নহে। কোমত
আবার বলিলেন, জগতের মূল কারণ মানুষের অপরিজ্ঞে।
ঘদিও চেষ্টা করলে এই সকল কথা দ্বারা কঞ্চিৎ নাস্তি
কতা খণ্ডিতে পারে, তথাপি কোমতের এই কথাতে দুইটা
অনিষ্ট হইয়াছে । 'প্রথমতঃ তিনি বলিয়াছেন, নিয়ম ভিন্ন মনুষ্যের আর জ্ঞাতব্য কিছু নাই, অথচ নিয়ম বলিলে নিয়ন্তাকে বুঝা স্বাভাবিক, এমন কি না বুঝিলেই চলে না। কোমত এই স্বাভাবিক বােধ্য বিষয়কে নেব পথে আসিতে বলপূর্বক বাধা দিয়াছেন। দ্বিতীয়তঃ এ জগতের মূল কারণ অপরিয়ে ” বলাতে তিনি যে নিয়মমূলক ব্যাপারকে চক্ষুষ্মতা প্রদান করিতে চাহিয়া ছিলেন, চক্ষুষ্মতী হইয়াও উহা অন্ধ হইয়াছে। কোমত জগতের নির্বাচনজন্য যে তিন প্রকার ব্যাখ্যার উল্লেখ করেন, তাহার উন্নতির ক্রম ধরিয়া দেখিলে আমরা ইহা অনায়াসে বুঝিতে পারি যে, কাল যত অতীত হইয়াছে, অনুসন্ধান যত বাড়িয়াছে, মনুষ্যগণ ততই ঈশ্ব- রের নিকটবর্তী হইয়াছে। কেননা পৌরাণিক সময়ে বরুণ জলের দেবতা বলিয়া পূজিত ছিলেন ; দার্শনিক সময়ে সেই বরুণের দেবত্ব দূর হইয়া শৈত্যশক্তির আধার বলিয়া গৃহীত হইয়াছেন; পরে বৈজ্ঞানিক সময়ে সেই বরুণ উদ- জন ও অনুজনের সমষ্টি বলিয়া পরিচিত হইয়াছেন। অগ্নি পূর্বে দেবতা, পরে দাহিকাশক্তিসম্পন্ন জড, তৎপর রাসা- যুনিক কার্যের ফল বলিয়া গৃহীত হইয়াছে। এইরূপে বুঝিতে অতি সহজ যে, যখন মনুষ্যগণ জড় বস্তুতে ঐশী শক্তি আরােপ করিতেন, তখন তাহারা প্রকৃত ঈশ্বরতন্তু হইতে অনেক দূরে অবস্থান করিতেছিলেন । দার্শনিক
( ১ ) ,
সমযে ইহার। তদপেক্ষা কিঞ্চিং নিকটসম্বন্ধে সম্বদ্ধ হইযা-
ছিলেন। তৎপর বিজ্ঞানসূৰ্য্য উদিত হইয়া মনুষাদিগকে
আলােক দান করিল। তখন মনুষ্য বুঝিল যে নিয়ম ভিন্ন
কিছুই হয় না। কোমত বলিয়াছেন, নিয়ম ভিন্ন মনুষ্য
আর কিছুই জানিতে পাবে না, একথা মিথ্যা। কেননা,
নিয়ম কাৰ্য। কাৰ্য্য কি কখন কারণ ভিন্ন হইতে পারে ?
অতএব যেমন স্কয তেমন কারণ আছেই আছে ; যেমন
নিয়ম, তেমনই নিয়ন্তা আছেই। সুতরাং নিয়মের সঙ্গে
সঙ্গে নিয়াকে বুঝাও স্বাভাবিক। কোমতও নিয়ন্ত।
না বুঝিয়া এই শৃঙ্খলাপূর্ণ জগতের কাৰ্ঘে মনােযােগ
দিতে সমর্থ হন নাই। তবে তাহা অপরিয়ে বলিয়া
চাপা দিয়া রাখিয়াছেন এই মাত্র। যাহা হউক, মনুষ্য
যখন দার্শনিকদিগের কল্পিত বন্ধুরতাপূর্ণ সোপান অতিক্রম
করে এবং বিজ্ঞানরূপ সমতল প্রশস্ত ক্ষেত্রে পদার্পণ করে,
তখনই তাহার সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরের নিকটবর্তী হয় ।
বিজ্ঞানই ঈশ্বরের বিচিত্র বিশ্বমন্দিরের প্রাঙ্গণভূমি। এই
তুমিতে পদার্পণ করিবামাত্র মনুষ্য বুঝিতে পারে, জগতের
সমুদায়ই নিয়মের অধীন। সূর্য সৃষ্টিকাল ইতে শূন্য
আকাশে ঝুলিয়া রহিয়াছে, নিয়মে। পৃথিবী প্রতিনিয়ত
সেই সূৰ্যমণ্ডল প্রদক্ষিণ করিয়া বেড়াইতেছে, নিয়মে।
চন্দ্র সেই সূৰ্য ও পৃথিবীর মধ্য দিয়া পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ
করিতেছে, নিয়মে। বিদ্যুৎ নির্ঘোষিত হয়, নিয়মে।
পফিসকল উড়িয়া যায়, নিয়মে ; কুলায় নিৰ্ম্মাণ করে,
নিয়মে ; ডিম্ব প্রসব করে ও শাৰক পােষণ করে, নিযমে ।
বায়ু বহিয়া জগতে প্রাণ বিতরণ করে, নিয়মে। ধূলি
উডিয়া যায়, নিমে। মনুষ্য মনে কখন কুত্তাব কখন
সুভাব উদিত হয়, নিয়মে। অগ্নি প্রজ্বলিত হয়, নিয়মে ;
নিৰ্বাপ্ত হয়, নিষমে; এবং তৃণ কাষ্ঠাদি দগ্ধ করে, নিয়মে ।
মেঘ আকাশে সজ্জিত হষ, নিয়মে ;
বারিবর্ষণ কবে,
নিয়মে। যেমন নিয়ম ভিন্ন কার্য হয় না, তেমনি নিয়ন্ত।
ব্যতীতও নিয়ম হয় না। কোমত বলিয়াছেন, নিয়ম ভিন্ন
মনুষ্যের আর কিছু জ্ঞাতব্য নাই, আমরা বলি, নিয়ম ভিন্ন
মনুষ্যের অতি সহজ জ্ঞাতব্য নিয়ত।
সুতরাং আমরা এখলে কোমতের শাসন মান্য করিতে
পারি না। কেননা উৎপন্ন বলিলে উৎপাদক, সৃষ্টি বলিলে
অষ্ট। এবং নিয়ম বলিলে নিয়া, স্বাভাবিকরূপে আসিয়া
উপস্থিত হয় । কোন কোন সম্প্রদায় বলেন, জগতের
মূল উপাদান ভূত বা পরমাণু সকল নিত্য। সেই পরমাণু
পুঞ্জের ষে পৃথক পৃথক প্রকৃতি আছে, তাহারা সেই প্রকৃতির
ৰলে নিয়মিত হইয়া কাৰ্য করে, সুতরাং সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব
স্বীকার করা অনাবশ্যক। আমরা এরূপ অগ্ধতা স্বীকার
করিতেও সম্মত নহি। প্রত্যেক উৎপন্নের উপযােগিতা
দেখিলে, তাহাদিগের অন্তর্নিহিত নিয়ম ও শৃঙ্খলা দেখিলে,
উৎপাদক ৰা অষ্টার মহান ভাব আপনাআপনি হৃদয়ে
( ১২ ) মুদ্রিত হয়। সুতরাং যাহারা দেখিয়া শুনিয়াও তাদৃশ মঙ্গলনিবন্দী ভাব গ্রহণ করিতে সম্মত নহেন, তাহা দিগকে অন্ধ তার দোষ হইতে চেষ্টা করিলেও বাচান যায় না। জগতের অভ্যন্তরিক ক্রিয়া হইতে আমরা কোন প্রাণ- বাহী শক্তির পরিচয় পাইতেছি। আবার জগতের বিপু লতা, জগতের সংখ্যাতিশয্য ও জগতের মনােহর কৌশ- সপূর্ণতা দ্বারা স্পষ্ট হৃদয়ঙ্গম হয় যে সেই শক্তি পরিমিত হইতে পারে না। পরিমিত শক্তির বলে তাদৃশ কাৰ্যক, লাপ সুন্দর প্রণালীমতে চলিতে পারে না। সুতরাং যাহার শক্তি অসীম, যাহার জ্ঞান অসীম, এইরূপ একটা অসীম গুণযুক্ত কৰ্ত্তার ইন্তে জগতের সমুদয় কর্তৃত্ব ভার না দিয়া আমরা কোনরূপেই থাকতে পারি না। কিন্তু মনস্তত্ত্ববিৎ পণ্ডিত জনষ্টয়ার্ট মিল ঈশ্বরকে তেমন অনন্ত গুণের আধার বলিয়া স্বীকার করিতে সঙ্কুচিত হইয়াছেন। কেবল মিল কেন? কোমতও বলিয়াছেন নিঃসন্দেহ প্রকৃতিকার্য্যে দোষ আছে”। ইহারা এরূপ বলেন কেন ? হয়ত তাহারা প্রাকৃতিক কার্যকলাপে অসা- মঞ্জস্য দর্শন করিয়াছেন, হয়ত ঈশ্বরের অপার কাৰ্য প্ৰণা- লীর মধ্যে দয়া ও প্রেমের বৈষম্য দেখিয়াছেন। নিজের সূক্ষ্ম বুদ্ধিতে তাহার নিগৃঢ় কারণ বাহির করিতে পারেন নাই, এজন্য ঈশ্বরকে অনন্ত শক্তি, অনন্ত দয়া, অনন্ত ( ১৩ ) প্রেম ও অনন্ত জ্ঞানের আধার না বলিয়া, শক্তিমান, না, গয়াবান মিল স্বীকার করিয়াছেন; কিন্তু কোমত তাহাও করেন নাই। তিনি কেবল এই বলিয়া নাস্তিক হইতে নিষেধ করিয়াছেন যে, যদি ঈশ্বরকে মানা যায়, তবে আমাদিগের কাৰ্যকৰী বুদ্ধিবৃত্তির সহিত সাদৃশ্য রক্ষা পায়, নতুবা বিশৃঙ্খল উপস্থিত হইবার কোন বাধা খো যাষ না। কোমত য িঈশ্বর না মানিয়া কাৰ্য্যাধি। বুদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখিতে পারিতেন, তবে বোধ হয় নাস্তিক হইতেন। তাঁহারা যে এতির তো আছে বলিয়া কুতির শ্রষ্টার ত্রুটি প্রতিপন্ন করিয়াছেন, তদপেক্ষ ঈ- কে পঙ্গীকার করাই ভাল ছিল। কেন না ইহাতে এক তির কার্যপ্রণালীর গভীরতার মধ্যে তাঁহাদিগের অনেক সঙ্গে প্রবেশ করা বিল হইয়াছে। বহু দিন শিক্ষা কৰি এই আয়া স্বীকার করিয়া, বস্তু গুরুর মত লইয়া তাহার কেতিক কাৰ্যবিষয়ে কিয়ৎপরিমাণে কােন লাভ করিয়- ছেন, তাহা দৃঢ় করিবার জন্য বাধ্য হইয়া তাহার। ঈ বের অঙ্কিত্ব স্বীকার করিয়াছেন। কিন্তু যাহর সৃষ্টিকৌশল মাত্র বুঝিতেই তাহাদিগের জ্ঞান পরিশ্রান্ত ও প্রত্যা- কত হইয়াছে, সেই স্রষ্টা ভুয়া ঈশ্বরের কাৰ্য্যে ত্রুটি আছে লিয়া নিজের অভ্রান্ততা ও সেই অভ্রান্ত ঈশ্বরের ভ্রান্তি এপির করিবার চেষ্টা কি সামান্য কৌতুকাবহু? তঁাহার এ আনী, সুন্নাৎ তাঁহাদের জ্ঞানের পরিমাণ শকি
( ১৪ )
হওয়া উচিত, কিন্তু এ স্থলে অস্কান ও অহঙ্কারের পরিমাণ
বেশি হইয়া তাহাদের ভম জন্মাইয়া দিয়ছে। কন না ইহা
অতি সহজেই বুঝা যাইতেছে, সৃষ্টির অপার কৌশল ও
নিয়ম দর্শন করিয়াই তঁাহার। ঈরকে স্বীকার না করিয়া
পারেন নাই, অথচ নিজের ক্ষুদ্রতা ও ভাগি পশ্চাতে
রাখিয়া ঈশ্বরের ত্রুটি দেখাইতে অগ্রসর হইয়াছেন। খি
মানুষের বিদ্রোহিতা!! ধিক মানুষের কাতা!! তাহা
দিগের এই রুপ দুশ্চেষ্ট দ্বারা ঈশ্বরের কিছুই ক্ষতি হয় নাই,
কিন্তু আমাদিগের হইয়াছে। যিনি ঈশ্বর তিনি ছোট হই,
লেও ঈর! ক্ষুদ্র কীটো প্ৰজার কি সাধ্য সেই ঈশ্বরের
ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু ইহাতে প্রজার ক্ষতি হইতে
পায়ে, যেহেতু প্রজা দুর্বল। তঁাহার। ঈশ্বরের প্রতি যেরূপ
আচরণ করিয়াছেন, তাহাতে আমাদের বির ক্ষতি হই
আছে। কিন্তু একেবারে সব ক্ষতি করিতে পারেন নাই,
উপকারও করিয়াছেন। উপকার কি ? তঁারা ঈশয়কে
যে অতি নিকৃষ্ট ভাবে স্বীকার করিয়াছেন, ইহাতেও অনেক
অনিষ্ট নিবারণ হইয়াছে। ইহা হা তাহাদিগের উন্নত
- 'অন্ধ শিষ্যগণের অনেক প্রতিকার করা হইয়াছে।
যাহাদিগের দৌরাত্মো ধম্মধৰ্ম্ম কৰ্মকৰ্ম্ম সমান হইতেছিল,
আৰু ধৰ্ম্মা গণ সব্বদা বেদনা পাইতেছিলেন, সঁহাঙ্গিণে
সাম্য লাভের এই এক মাত্র পথ আবিষ্কৃত হইয়াছে। ইহা
তেই আমরা অনেক উপকৃত হইয়াছি; কিন্তু সুখী হইতে
PUBLIS LIDRAN).
পারিলাম না .কন? ঈশ্বরের অপমান সহ্য করা যায় না
এই জন্য। আমাদিগের এক জন সামান্য বন্ধুর অপমান
আমরা সহ্য করিতে পারি না, যিনি চিরকালের বন্ধু দীন
হীনের বন্ধু তাহার অপমান কি সহনীয় ? কখনই সেই
জীবনসৰ্ব্বস্ব প্রাণের প্রাণ পরম পিতার অপমান - অনায়
সহ্য করা যায় না। সুতরাং আমরা অসুখী।
এই সকল প্রদর্শিত উপায় ধরিয়া আমরা বুঝিতে পারি
তেছি যে, ঈশ্বর জগতের অষ্টা। সুতরাং ঈশ্বর হইতে
জগৎ উদ্ভত হইয়াছে ইহা বুঝিলাম। ঈশ্বর নিয়মের সহিত
জগৎ সৃষ্টি করিয়াছেন, জগৎ সেই নিয়মে প্রতিষ্ঠিত হইয়া
আছে, ইহাও বুঝা গেল। এই সকল জগতের মধ্যে মামা-
দিগের প্রধান আলোচ্য বিষষ পৃথবা। তবে আনুষঙ্গিক
ক্লপে দুই একটা কথা অন্যত্রকাও বলা যাইতে পারে।
জগতের ভাবানুসারে ইহাকে তিন ভাগে বিভক্ত করা
গেল। প্রথম জড় জগৎ, দ্বিতীয় প্রাণিজগৎ,
ধার গৎ।
%
ESTD. 1902
MAJU,
NOWRAL
দ্বিতীয়
অধ্যায়।
জড় জগৎ।
জড় জগৎ কি? জড় বলিলে আমরা কি বুঝি?
জড় বলিলেই আমাদিগের মনােমধ্যে কতকগুলি অভাবে
তাৰ খুন্ত্রিত হয়। যাহার চলিবার বলিবার চিন্তা করিবার
বুঝিবার ও বােধাসার কাৰ্য্য করিবার শক্তি নাই, জঙ
বলিলে এরূপ কতকগুলি অবস্থিত বস্তুর ভাব আমা-
দিগের মনে পড়ে। বস্তুত আমরা যাহাকে জড় বলি,
তাই এইরূপ অভাবশালীই বটে। পূর্বে যে ভূত সকলের
কথা বলা গিয়াছে, সেই ভৌতিক
এক পরমাণু হার মূল
উপায়, তাহা এইরূপ অভাবগ্রস্ত জড়। রাজ্যের
অভাবের কথা চিন্তা করলে মনে বিস্ময় উপস্থিত হয়।
যখন ভৰিতে বলি, তখন রাজ্য দুঃখের আলয়রূপে
িেখতে পাই। তাহাদের এত অভাব তাহারা কাহা
ও মুখাপেক্ষা করে না, তাহারা আপন অভাব দূর
করিবার জন্য অনুশীলও নহে। কি চমৎকার ! অভাব
আছে অথচ অভাব বােঝে না। জঙৰ না বুঝিলে দূর
করিতে চেষ্টা হয় কাহারও বাহর নিদ্রতার সীমা নাই,
সে তাহা বােঝে না, ইহা কি সামান্য রহস্য? জন্ধের যে
এত অভাৱ, ইহার কারণ কি? ইহার কারণ কেবল
( ১৭ ) জোতিক পরমাণু উপাদান। যেমন উপাদানে গঠিত, তাহা তেমনই গুণ- শালী। ভৌতিক পরমাণু সকল অচেতন, বোধ ভাব ও ইচ্ছা বিহীন, সুতরাং অন্য সহ প্রকার গুণশালী হইলেও তারা সংগঠিত পদার্থ নিয়ে সে অভাব থাকিবেই থাকিবে। এই যে ভৌতিক পরমাণুসংগঠিত জড় রাজ্যের কথা বলিলাম, ইহার দুইটা প্রধান গুণ আছে। এক আকৃতি, অন্য বিস্তৃতি। সৰ্ব্বনিয়ন্ত। পরমেশ্বর বস্তু সফলকে যে যে গুণ বা প্রকৃতি প্রদান করিয়াছেন, তাহারা সেই সকল গুণানুসারে পরিচিত হইয়া থাকে। গুণ অনেক, কিন্তু প্রধান গুণ আকৃতি ও বিস্তৃত্তি। কেন না। এই দুইটা গুণ সৰ্ব্বাগ্রে গৃহীত হইয়া থাকে, এবং এই দুইটা গুণ পরম্প অপরিহার্য, একটা থাকিলে অন্যটি থাকা চাই। যাহার আকৃতি আছে, তাহার বিস্তৃতি একান্তই থাকিবে, এবং বিস্তৃতিমৎ বস্তুর আকৃতি অবশ্য- ভাবী। আকৃতি আছে, বিস্তৃতি নাই; এরূপ হইতে পারে আবার বিস্তৃতি থাকিলেও আকৃতি না থাকিলে চলে স্বাহার আকৃতি আছে, তাহা দি এমত, মৃন্ম হয় যে আমরা উহা চক্ষু দ্বারা দেখিতে না পাই, তথাপি তাহা যে, কিয়ৎপরিমাণ স্থান ব্যাপিয়া থাকিবে তাহার কোন সংশয় নাই। আবার যাহা স্থান ব্যাপিয়া; অবস্থান কৰি তেছে, তাহাও কোন না কোন আকার বিশিষ্ট হইবেই হইৰে। কীটাণু সকল অতি সূক্ষ্ম, অনুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্য ম]।
( ২০ ) আছে। তবে “মনুষ্যজাতিকে সুখী করাই তাদৃশ উপ- যােগিতার প্রয়ােজন বলাতে অবশ্যই দোষ হইয়াছে। না। ইতর জদিগের জ্ঞান ভাষাদির সম্ভাব নাই। সুতরাং চিৎ, যত্ন ও অধ্যাবসায়ের সামঞ্জস্য তাহাদিগের মধ্যে দৃষ্ট হয় না। এজন্য বা গুণ, ইষ্টনিষ্ট ও ফলাফল চিন্তা করিয়া তাহারা কোন কার্য্যের অনুষ্ঠান করতে তাহা না পারিলেও জড়ের উপযােগিতার ফল সম্পূর্ণ প্রাপ্ত হওয়া যায় না। অতএব অতি সহজে বুঝা যাইতেছে যে, ইন্দ্রিয়গণ ভৌতিক বস্তুর উপযােগী ইলেও তাহারা কেবল উপযােগী মাত্র। জ্ঞান, ভাৰ ও ইচ্ছা এবং চিন্তা ও যত্নের সমাধান ব্যতীত শুদ্ধ ইন্দ্রিয়মাত্র ধারা কোন প্রয়ােজন সিদ্ধ হইতে পারে না। পূর্বে বলা গিয়াছে যে, বস্তুর গুণেই বস্তু পরিচিত হয় ; ' কিন্তু কাহার নিকটে ? বস্তুর গুণানুসারে বস্তুকে গ্রহণ করা কি ইক্রিয়ের সাধ্য ? কখনই না। ইন্দ্রিয়গণ বস্তু জ্ঞানের গ্রহীতা নহে। জ্ঞানই গ্রহীতা। ইচ্ছা ও ভাব সায় না হইলে সে জ্ঞানও অচল। পশু, পকী, কীট, পতঙ্গ প্রভৃতি প্রাণী, বৃক্ষ, লতা, গুল, প্রভৃতি উাদ, সকগেই ভৌতিক বন্ধুর গুণে কখন উপকৃত কখন বা অপকৃত হইতে পারে, কিন্তু সেই সকল বন্ধুকে উপকার বলিয়া গ্রহণ করিতে পারে না। আবার উপকাৱ হউক, কি অপকার হউক, মানুষের নিকট অগীত থাকিতে মা,
(
২১ )
পারে না। অতএব যদি ও ইতর অস্তগণের মধ্যে
প্রাকৃতিক উপযােগিতার পুল কিয়ং পরিমাণে স্বীকার
করা যায়, তথাপি পূর্বোক্ত গুণসকলে অসম্ভাৰ হেতু
মনুষ্যকেই সুখলাভসম্বন্ধে সর্ব প্রধান বলিয়া গ্রহণ করতে
হইবেক।
বন্ধু একটী দুইটা গুণের আধার নহে।
অবস্থা ভেদে প্রত্যেক জড় বস্তু অখণ্য গুণের আধার।
সঙ্কোচন, প্রসারণ, অবসাদন, উত্তেজন, পরিবর্তন, পােষণ,
নিয়ােজন, ও বিয়োজন প্রভৃতি অসঙ্খ্য গুণ এবং ক্ষারত্ব,
অম্লত্ব, তিক্তত্ব, কষায়ত্ব, কটুত্ব প্রভৃতি অগণিত রস জড়
রত্নে অবস্থান করে। আবার এক বন্ধুর সঙ্গে অন্য বা
মিলিত হইলে নূতন গুণ ও রস উৎপন্ন হয়। জড় যে
এত গুণ ও রস পােষণ করে, ইহার কোনটা কি তাহার
নিজের প্রয়োজনে আইসে ? ভাবিয়া দেখিলে একটাও না।
পূর্বে ভৌতিক বস্তুর যে সকল অভাবসূচক লক নির্দেশ
করা হইয়াছে, তাহা দ্বারা জানা যায়, হারা ইক্রিয়
জানবিহিত ; এবং জ্ঞান, ভাব ও ইচ্ছা প্রভৃতি তাহা
দিগের নাই। আবার জড়রাজ্যের গুণ ও বস সকল
ইন্দ্রিয়গণের সাহায্যেই যোধ্য, অন্য প্রকারে নহে।
যখন অড়ের ঈন্দ্রিয়ান নাই, তখন যে তাহার নিজের
গুণ রসাদি অনুভব করিবার নিজের সামর্থ্য নাই, ইহা
অতি সহজে বােধ। জড় যে কি রূপ গুণশাবী, যে
( ২২ ) মিজে তাহা কিছুই জানে না; এবং জড়েছে ৫ সকল গুণ ও বস আছে, তাহা তার নিজের কোন প্রয়ােজনেও আইসে না। অথচ বিধাতা জড় রাজ্যে এত গুণ এত রস ছ ডাইয়া রাখিয়াছেন কেন? ইহা ভাবিলে দেয় পুলকে পুর্ণ হয়। ইহার প্রত্যেক গুণ ও রস মনুষ্যজাতির কৃতজ্ঞতা ও ভক্তির উদ্দীপক। জননীর গুন্য হইতে চন্দ্র, সূৰ্য প্রভৃতি প্রকাণ্ড পদার্থ নিচয় যতই চিন্তা করি, ততই দেখিতে পাই, ঈশ্বরের মঙ্গল হন্তু সর্বদা আমাদিগের মস্তকোপরি প্রসারিত রহিয়াছে। জড়ের গুণ ও হল সে নিজে অনুভব করিতে পারে না, সুতরাং স্বয়ং যথোপযুক্ত মতে যােগ বিয়ােগ করিয়া উপকৃতও হইতে পারে না। এই জন্য জড় গড়ে কোন উপকার অপকার সম্বন্ধ ও দৃষ্ট হয় না, কিন্তু জীব- গণের উপকার অপকাৰ সৰ্ব্বাই দৃষ্ট হইতেছে। জীব- গণের মধ্যে জড়ীয় গুণ কাৰ্য করিতে পারে সত্য, কিন্তু মনুষ্য ভিন্ন কোন জীব ইচ্ছা মত উপকার লাভ করতে পারে না। জড়ীয় গুণ জ্ঞানসহযােগে প্রযুক্ত না হইলে গাধা মন্দ ফল প্রসব করাই সম্ভব। গানই গড়ে সম্পূর্ণ উপযােগিতার কাল। জ্ঞান ব্যতীত অড় একেবারে ও অকর্মণ্য। সুতরাং নিশ্চিতরূপে জানা যাইতেছে জভের যাহা কিছু কার্য জগতে যে জড় পরাধীন।
( ২৩)
প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে ও হইবে তাহা সম্পূর্ণ পরাধীনতায়।
ইহা বড়ই এক রহস্য য যাহার গুণে কাৰ্য্য হয় সে কিছুই
নহে, কিন্তু অনে। তাহার ফল
অন্ধ যেমন
নিজের বলে প্রয়োজনীয় বস্তু গ্রহণে অসমর্থ, জড়ও সেই
রূপ অন্য কর্তৃক পরিচালিত ও প্রযুক্ত না হইলে উপযুক্ত
কার্য করিতে অসমর্থ।
পূৰ্ব্বা আকর্ষণ, বিকর্ষণ, অবসাদন ও উত্তেজন
প্রভৃতি ভৌতক পরমাণুর গুণ নানা স্থানে নানা ভাবে
প্রাকৃতিক নিয়মের অনুগামী হইয়া প্রকাশ পায়, তাহা
যারা আমাদিগের কখন উপকার ও কখন অপকার ইয়া
শাকে। কখন ওষধি সকলের প্রাণপােষক গুণ বায়ু জল
প্রভৃতির সহিত মিলিত হইয়া অশেষ মঙ্গল উৎপাদন
কবে, কখন তাহা প্রাণ বিনাশের কারণ হয়। কখন
বিহুগালোকের সাহায্যে অজ্ঞাত পং জ্ঞাত হয়;
কথন সেই বিদ্যুতের ভয়ঙ্কর শব্দে মৃচ্ছ। অনিয়ন
করে। কখন দুষ্ট, দধি, ঘৃত, মধু প্রভূত দ্বারা শরীর
পুষ্ট হয়, কখন এই সকল প্রাণপোষক বই বিরুপ
হইয়া আর বিনাশ করে। যখন ভৌতিক বস্তু হইতে
মন ফল ৫৫পন্ন হইয়া আমাদিগের অনিষ্ট সাধন
করে, তখন ঈশ্বয়ের মঙ্গল অভিপ্রায়ের প্রতি সন্দিহান
হইয়া আমরা অধােগমন করি, কিন্তু প্রণিধান করিয়া
দেখিলে আর সেরূপ হইতে পারে না। পৰে এঘর্শিক
( ২৪ ) হইয়াছে, ভূতের নিজের চিন্তা ভাবাদি নাই। তৌতিক পরমাণুসকল অন্য প্রকৃতির অনুগত। জ্ঞানবলে প্রযুক্ত না হইলে তাহা হইতে অবিথ মঙ্গল আসিতে পারে না। আর ইহাও বলা হইয়াছে যে ভূতের নিজের কোন প্রয়ােজন নাই, প্রয়োজন চেতনের। সুতরাং যাহার জ্ঞান আছে, প্রয়োজন ও তাহারই আছে। যাহার প্রয়োজন সে অন্ধ নহে, প্রকৃতি অন্ধ। যাহার প্রয়োজন সে যদি অন্ধভাবে না চলে, তবে তাহার মঙ্গল অসীম। নকল ঘটনাই নিয়মানুসারে ঘটে। ভৌতিক বস্তু সুফল এসব করে নিয়মে, আবার যখন দেখি তাহা হইতে কুফুল আম্মিল, তখন বলি নিয়মের ব্যতিক্রমে। তবে কোথায় কি নিয়মে কোন ফল ফলিল, সে সকল অবগত এইবার শক্তি মনুষ্যের আছে। মনুষ্য জ্ঞানবলে সেই সকল নিয়ম হইতে অাপন উপযুক্ত ফল বাহির করিয়া সইতে পারে। মে বিদ্যুৎ অন্ধভাবে পরিচালিত দুই লােকের প্রাণ বিনাশ করে, সেই বং জ্ঞানের আয়ত্ত হইয়া এাণ বিতরণ করে, এবং কৃত্যৎ দেশে দেশে সংবাদ বহন করে। সে ৰিৰ অঙ্ক ভাবে প্রমুক্ত হইয়া প্রাণ সংহাৰ রে, সেই বিষ জ্ঞান প্রভাবে প্রমুক্ত হইয়া প্রাণদান করে। এন্ধি ৰায়ু জল ও সৃত্মিক প্রভূতি ভৌতিক বৰু সৰু ৰু তিক নিয়মের অনুগত হইলেও মনুষ্য ইচ্ছামতে চাই- লিগের পরিমাণের মুল বৃদ্ধি। পয় বিবেচনা করিয়
( ২৫ }
প্রয়োগ ; ७२९ কখন নিষ্পেষণ, কখন বিলােডন,
কখন সঞ্চালন, কখন সন্তপ্ত করিতে পারে। মনুষ্য
যাহা ইচ্ছা করিতেছে তাহাতে তাহাদিগের এক
বিন্দু ও অনিচ্ছার ভাব নাই। যখন তাহারা মনুষ্যের অধী-
নতাষ মনুষ্যের ইচ্ছামতে প্রযুক্ত হয়, তখনও তাহারা
প্রাকৃতিক নিয়মের বাহিরে কিছুই করিতে পারে না।
ভৌতিক বস্তু কোথায় কি ভাবে প্রযুক্ত হইলে কি ফল
ফলিবে, মনুষ্য জ্ঞান বলে তাহা জানিতেছে এবং তাহা-
দিগকে আপন বশে বাখিয়া প্রয়ােগ করিতেছে। সুতরাং
সম্ভব ও আবশ্যকানুরূপ ফল পাইবার কোন বাধ। জন্মি,
তেছে না।
যদি ভৌতিক বস্তু সকলের স্বাধীন ইচ্ছ। ও চেষ্টা
থাকিও, যদি তাহাদিগের জ্ঞান ও ভাব থাকিত, তবে কদাচ
তাহারা অন্যের বলে চালিত ও প্রযুক্ত হইত না। সুতরাং
তাহাদিগের সাহায্যে এখন জ্ঞানরাজ্যের সীমা যে পরি
মাণে বিস্তৃত হইয়াছে, এত দূর কখনও আশা করা যাইত
না। ইহা দ্বারা নিশ্চয় জানা যাইতেছে, জড় বস্তু অন্ধভাবে
চিরকাল পরানুৰৰ্তন করিবে, মনুষ্য চতুরতা পূৰ্ব্বক তাহার
ফুলভোগ করিবে, এবং ঈশ্বরের অনন্ত প্রেম, অনন্ত দয়া
ও অনন্ত মঙ্গল ভাবের পরিচয় প্রাপ্ত হইয়া অহর্নিশ
কৃতজ্ঞ থাকিবে।
কেবল মৃৎপাষাণ প্রভৃতি প্রস্তুই যে পরাধীন, তাহা
( ২৬ ) নহে। বৃক্ষলতাদি উদ্ভিদ সকলও এইরূপ। আশ্চর্য । যাহাদিগের জীবনমরণের সংবাদ পাওয়া যায়, অতি স্পষ্টরূপে যাহাদিগকে জীবিত থাকিতে ও মরিতে দেখা যায়, তাহারাও নিশ্চল, নিস্তব্ধ ও ইচ্ছাশূন্য। যকি ইহারা এরূপ না কইত, ওষধি, ঔষধ, মহাবৃক্ষ, ফল- বৃক্ষ, শাক ও সূপ প্রভূক্তি দ্বারা আমরা এখন যত উপকার প্রাপ্ত হইতেছি, এত উপকার কখনই পাইতে পারিতাম না। আরও চমৎকার ঘটনা এই যে, যে বস্তু যত প্রয়ােজনীয়, সে বস্তু তত সুলভ । যে বস্তু যত অল্প প্রয়ােজনীয়, সে বস্তু তত দুর্লভ। লৌহ বড় প্রয়ােজনীয়, অধিক পরিমাণে ব্যবহার না করলে চলে না, এ জন্য তাহা অতি সুল। যত ব্যবহার করিতে পারি, ততই পাই। স্বর্ণ তত্ত প্রয়ােজনীয় নহে, কেবল অলঙ্কার গঠন ও নানাবিধ চাকচিক্যসাধন ও কখন, কখন শরীর পােষ- ণের জন্য অল্প পরিমাণে ব্যবহৃত হইয়া থাকে, এ জন্য তাহা অতি দুর্লভ। বহু কষ্টে অতি অল্প পরিমাণে পাওয়া যায়, যাহা পাওয়া যায়, তাহতেই প্রয়োজন সম্পন্ন হইতে পারে। আবার যে দেশে যে বস্তুর সম্ভাব অধিক, সে বস্তুর উপমােগিতাও সেই দেশে অধিক। বাদাম, পেস্তা, আকরাট প্রভৃতি উষ্ণতাসাধক, এ জন্য তাহা গ্রীষ্মপ্রধান দেশে জমে না; ইক্ষু, আনারস প্রভৃতি উষ্ণপ্রধান দেশের প্রধান সামগ্রী। আবার
( ২৭ )
শীতকালে যে বস্তু জন্মে তাহা উষ্ণবীর্য,গ্রীষ্মকালের উৎপন্ন
বস্তু শীতবী। ইহা দ্বারা আমরা স্পষ্ট বুঝিতে পারি,
মনুষ্যজাতির অশেষ মঙ্গল সাধনই জড় জগতের প্রয়ােজন।
নাস্তিকেরা মানুন আর না মানুন, আমরা মুক্তকণ্ঠে বলিব,
জগতের প্রতিপরমাণু হইতে ঈশ্বরের মঙ্গল ভাব বিজন্তিত
হইতেছে।
জড় জগৎ কি ? কোথা হইতে আসিল ? কিরূপে
অবস্থিত ? ইহার স্বভাব ও প্রয়ােজন কি ? সংক্ষেপঃ
বলা হইল, এখন প্রাণিজগতের বিষয় বলিতে প্রবৃত্ত হওয়া
যাইতেছে
তৃতীয় অধ্যায়। প্রাণিজগৎ। প্রাণিজগৎ কাহাকে বলে ? যাহার প্রাণ আছে, তাহা কেই প্রাণিজগৎ বলা যাইতে পারে। প্রাণ কি ? প্রাচীন কালের পণ্ডিতগণ শরীরস্থ পঞ্চ বায়ুকে প্রাণ বলিয়া নির্দেশ কবিয়াছেন। যথা, প্রাণ, অপান, সমান, উদান, ব্যান। শরীরগামী এই বায়ুপকের সমষ্টি সাধারণভাবে প্রাণ শব্দের বাচ্য। বায়ু নানাবিধ নাই, একই বায়ু, সুলভেদে বিভিন্ন নামে নির্দিষ্ট হইয়াছে। হৃদয়ে প্রাণ, গুহ্যে অপান, নাভিতে সমান, কণ্ঠদেশে উদান, এবং সমস্ত শরীর ব্যাপিয়া ব্যান বায়ু অবস্থান করে। আধুনিক পণ্ডিতগণ বায়ুব ভূত- ত্বের সঙ্গে সঙ্গে উহার প্রাণত্বও বিদূরিত করিয়া দিয়াছেন। তাহারা প্রাণকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জড় পদার্থের সহিত স্বরূপঃ এক কবেন নাই। প্রাণের কাৰ্য দর্শনে তাহার একটা লক্ষণ নির্দেশ করিয়াছেন। ব্যক্তিত্বসাধক সংযােগ বিয়ােগকৰ আন্তরিক দ্বিবিধ গতি তাহাদিগের মতে প্রাণ । ফলতঃ যেখানে ইন্দ্রিয়ের গমনের অধিকার নাই, সেখানে এইরূপ লক্ষণ দ্বারা পদার্থ নির্ণয়ই যুক্তিযুক্ত। উদ্ভিদ হইতে সমুদায় জীবে এই প্রাণের ক্রিয়া দৃষ্ট হয়। ইহাই জড়ীয় উন্নতর চরম সীমা বলা যাইতে পারে।
( ২৯ ) পূৰ্বাচৰ্য্যেগণ চেতন ও অচেতন দুই শ্রেণীতে পদার্থ সকল বিভক্ত করিয়াছেন। ইহাতে মনুষ্য পশু প্রভৃতি এক শ্রেণী ও বৃক্ষ প্রস্তরদি সমুদায় অপর শ্রেণীভুক্ত হইয়াছে। যথার্থরূপে বিভাগ করিলে, নিম্নতর উদ্ভিদ সজীব জড় এবং কীট, পতঙ্গ, গে, মনুষ্য প্রভৃতিকে সাধারণতঃ প্রাণী বলা যায়। কেন না উহাদিগের মধ্যে তারতম্যে চেতনের ক্রিয়া আছে। চেতনতৃসম্বন্ধে মনুষ্য সর্বাপেক্ষা উচ্চ। কেন না আব সকলের মধ্যে যাহা দেখিতে পাওয়া যায় না, তাহাতে তাহ। আছে । হাতে জ্ঞান আছে, বুদ্ধি আছে, ভাব আছে, ইচ্ছা আছে। সুতরাং বােধবিশিষ্ট জ্ঞানী অনুষ্য দিগকে পশুপক্ষীর শ্রেণীভুক্ত করাতে মনুষ্যজাতির বিশেষ অগৌরব করা হইয়াছে। এই দোষপরিহারমানসে প্রাণি- জগৎ সম্বন্ধে একটা স্বতন্ত্র অধ্যায় লিখিত হইতেছে। ইহাতে উতর সাধারণ ভাব গুলি কিছু কিছু উল্লিখিত হইবে। পূর্ব- কালের বিজ্ঞানবিৎ পণ্ডিতগণ জগৎকে চেতন অচেতন দুই ভাগে বিভক্ত করিয়াছেন। সুতরাং এই সুযােগে পুরাণ- প্রণেতাগণ পশু পক্ষীর পরলােক ও পাপপুণ্য নির্দেশ করিয়া- ছেন; এবং মনুষ্যদিগকেও পাপ করিলে পশু প্রভৃতি নিকৃষ্ট যানি প্রাপ্ত হইবার ভয় দেখাইয়াছেন। ঐ সকলের অবৈ. ধতা প্রতিপন্ন করিবার মানসেই প্রাণিজগৎ বলিয়া একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় করা আবশ্যক, নতুবা প্রয়ােজন ছিল না। আমরা সৃষ্টি কার্য্যের প্রতি মনোযােগ দিয়া চিন্তা করলে দেখিতে পাই, সমস্ত জগতেই একটা আপেক্ষিক উৎকৃষ্ট- তার ভাব আছে। সাধারণ জড় রাজ্যের বিষয় আলাে চনা করিযা ও তাহার মধ্যে আমরা এই আপেক্ষিক উৎকৃ. ৪া দেখিতে পাইযাছি। অগ্নি, বায়ু, জল, ধাতু, প্রস্তর ও মৃকি হইতে লতা গুল্মাদি উৎকৃষ্ট ও উন্নত। মহাবৃক্ষ ও ফল বৃক্ষাদি তুলুলতা প্রভৃতি হইতে উৎকৃষ্ট। আবার সে দিন আমরা যে মাংসভােজী বৃক্ষের কথা শুনিয়াছি, তাহ। যে সমস্ত বৃক্ষশ্রেণী হইতে উন্নত, তাহাতে কোন সন্দেহ নাই। ইতঃপূব প্রাণীদিগের মধ্যে অনুসন্ধান করিলেও এই আপেক্ষিক উন্নতির চিহ্ন দেখিতে পাই। প্রাণীদিগের মধ্যে কটি জাতি সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট। সকল কাট মনুষ্যের উদরে জন্ম গ্রহণ করে, যাহারা পচা ক্ষত, কিম্বা দুর্গন্ধময় বাম্পমধ্যে জন্মে, তাহারা সকলেই এক রূপ। আবার বিছা. প্রভৃতি সরীসৃপ তদপেক্ষ উৎকৃষ্ট। তদপেক্ষা টিক টিকী, গিরগি টী, সাপ, গােসাপ প্রভৃতি উন্নত। এই রূপ উন্নতির স্রোত বানর ও বনমানুষে গিয়া সীমা বদ্ধ হইয়াছে। চেতনা। পূর্বে যে প্রাণের লক্ষণ বলা হইয়াছে, উহাকে জীবনী শক্তি বলা যায় । চেতনা তদপেক্ষা উচ্চ । চেতনাশক্তিবলে জীবগণ জগতে ইচ্ছামতে বিচরণ করিতে পারে; এবং এই জন্য উহারা পূর্ধ্বতন পণ্ডিতবর্গের কৃপায় মনুষ্যের সঙ্গে সবর্গত্ব প্রাপ্ত হইয়াছে। ।
( ৩১ )
ইয়বোধ । প্রাণীদিগের ইন্দ্রিয় আছে, অর্থ, দর্শন,
শ্র রণ, রসন, ঘ্রাণ ও স্পর্শন শক্তি আছে। কিন্তু ইহা-
দিগর ইন্দ্রিয় জ্ঞান অতি যৎসামান্য। ইহরা ইশ্রিমশক্তি
দ্বারা কোন বস্তুর প্রকৃত তত্ত্ব অবগত হইতে পারে না,
কেবল সামান্য ভাবে একটা বস্তু বলিয়া বুঝে মাত্র । এই
ইন্দ্রিয়শক্তি, সকলের সমান নহে, কোন কোন পশু পক্ষী
এই শক্তির তীক্ষ্ণতা জন্য সর্বদা মনুষ্য সমাজে পূজিত ।
কুকুরের শ্রবণশক্তি ও ঘ্রাণশক্তি এত প্রবল যে একটা পতঙ্গ
উড়িলেও তাহারা টের পায়, এবং ব্যাঘ্র প্রভৃতি বন্য
জন্তুর গন্ধ পাইবাম ত্র তাহাদিগের উদ্দেশে ধাবিত হয় ।
আবার জলৌকা প্রভৃতি অনেক প্রাণীর ইন্দ্রিয়জনেবত
কথাই নাই, অনেক ইন্দ্রিযই নাই। পাদগের শ্রবণে ।
ন্দ্রিয় নাই, এজন্য তাহার চক্ষুঃশ্রবা বলিয়া প্রসিদ্ধ
এইরূপ ইতর প্রাণীদিগের কাব ইন্দ্রিয়শক্তি অধিক,
কাহার ও অল্প। আবার কাহার অধিকাংশ ইন্দ্রিয়
নাই।
বুদ্ধি। ইতর প্রাণিগণের বুন্ধি আছে, কিন্তু অতি অল্প ।
যতটুকু হইলে তাহাদিগের চলিবার সম্ভব, ততটুকু মাত্র
বুদ্ধি তাহাদিগের আছে। এই বুদ্ধিবলে ইহারা বাসস্থান
নিরূপণ ও নির্মাণ করে, ভাবী বিপৎপাত হইতে রক্ষা
পাইবার চেষ্টা করে, কখন কখন কৃতজ্ঞতা প্রতিহিংসা
প্রভূতি ও প্রকাশ করিয়া থাকে, এবং উপদিষ্ট কা
; ( ৩২ ) করিতে ও কথা শিখিতেও সক্ষম হয়; কিন্তু এই বুদ্ধির ভাগ সর্বত্র সমান নহে। এমন কি ; কোন কোন স্থানে একবারেই নাই বলিলে হয়। ইচ্ছা। ইহাদিগেব ইচ্ছা আছে। যখন ইন্দ্রিয়শক্তি আছে, তখন সুখ দুঃখ বােধ না থাকিলে চলে না। সুতরাং সুখের প্রতি ইচ্ছা, দুঃখের প্রতি অনিচ্ছা হওয়া স্বাভা- বিক। কি ইহাদিগের ইচ্ছ। বিশুদ্ধ জ্ঞানানুমোদিত নহে। উহা অন্ধ, প্রকৃতি ও ইন্দ্রিয়গণের অধীন। সুতরাং ইন্দ্রিয়গণ যে দিকে টানে, ইহা ৰা সেই দিকেই যায়, তাহার বৈধবৈধ বিবেচনা করিতে পারে না। পতঙ্গ সকল অগ্নির চাকচিক্য দেখিয়া বিমুগ্ধ হয়, হরিণ বংশীবৰ শুনিলে বিমুগ্ধ হয়, মৎস্য আংসখণ্ডাবৃত বড়িশ দেখিয়া প্রতারিত হয়, ইহা প্রসিদ্ধ। কেবল প্রতারিত হয় তাহা নহে, প্রাণ পর্যন্ত হারায়। অতএব ইহাদিগের বুদ্ধি ও তৎসহ- যােগিনী ইচ্ছ। ইন্দ্রিয়গণের অনুগত সুতরাং অন্ধ । ইতর জন্তুদিগের চেতনা শক্তি, বুদ্ধি, ইন্দ্রিয়বৃত্তি ও ইচ্ছা প্রভৃতি অল্প পরিমাণে আছে বলিয়া ইহারা কথা শিখিতে ও কার্য করিতে পারে। কথা শিখিবার সামর্থ্য পক্ষিগণের মধ্যেই প্রচুর। শুক ও সারী প্রভৃতি পক্ষি, জাতি এই বাক্শক্তির জন্যই জগতে পূজিত। হস্তী, অশ্ব, গাে, মহিষ প্রভৃতি কার্যের জন্যই আদৃত। কিন্তু ইহ- দিগের শিক্ষিত ভাষা ও কার্যপ্রণালী শিক্ষার সীমার মধ্যে
( ৩৩ )
পর্যবসি পশুপক্ষি প্রভৃতি বড় সুশিক্ষিত হইলে ও
তোহাদিগের শিক্ষার যতটুকু সীমা চিরকাল তন্মধ্যে বিচরণ
কনিতে, শিক্ষিত ভাযা অতিক্রম করিযা এক পদ ও অগ্রস
হইতে পারিবে না। পশুরা বিবিধ কাৰ্য্য করিতে পটু,
পক্ষীবা নানাবিধ কৌশলময় বাক্য বলিতে পটু, ইত।
অনেক স্থলে দেখা ও শুনা গিয়াছে। কিন্তু এরূপ ক খন
দেখা কি শুনা যায় নাই যে তাহারা আপনার শিক্ষাপদ্ধতি
অতিক্রম কবিতে পারিয়াছে । পশুগণ প্রতিদিন কিম্বা
প্রায়শঃ যে কার্সে প্রবর্তিত হয়, অথবা কার্স করিতে দেখে,
তাহাই করিতে পারে; পক্ষিগণ প্রতিদিন আপন প্রভু ৪
প্রভূর পরিবার মধ্যে যে সকল কথা শুনিতে পায়, অথবা
যাহা বলিবার জন্য উত্তেজিত হয়, তাহা বলিতে পারে ;
কিন্তু সেই প্রদর্শিত সীমার এক বিন্দুও বাহিরে যাইতে
পারে না। একটি শুক ও সারমেয় দনু গৃহে শিক্ষিত ও
পালিত ইলে, তৎপবিবাববাচিত ভাষা ও কঞ্চিং কাৰ্য্য.
প্রণ’লী শিক্ষা করিতে পারে, কিন্তু
সেই শুক
সাবমেয় স্থানান্তরিত হইলে, নুতন স্থানােচিত ভাষা ও
কার্যকলাপে মনোযােগ দিতে অসমর্থ । যে শুক কিম্বা
সারিকা বৈষ্ণব গৃহাচিত শিক্ষা পাইয়াছে, সে শাক্ত
গৃহে নাত হইলে আপন শিক্ষিত বিষ্ণু কৃষ্ণাদি নাম ভিন্ন
অন্য নাম বলিবে না, এবং তড়িত কিম্বা তিরস্কৃত হইলেও
বিষ্ণু আমার উপাস্য, আমি এ নাম পরিত্যাগ করি।
t
( ৪ )
অন্য নাম বলিব না ” বলিতে পারে না। অথবা যে
কুকুর তস্করের গৃহে শিক্ষিত, সে চোরে সাহায্য কবিতে
পারিবে; কিন্তু পরােপকাব প্রভৃতি ধৰ্ম্মের সাহায্য করিতে
পারিবে না। কেবল ইহাই বুঝিতে পাবিবে না; তাহা
নহে। তাহারা ইষ্টানিষ্ট বুঝিতে পারিবে না। উচিত,
অনুচিত, পাপ, পুণ্য, দণ্ড, পুরস্কার, সত্য, মিথ্যা, বস্তু গুণ,
কাৰ্যকারণ এ সকল কিছুই বুঝিবে না। কেন বুঝিবে
না? জ্ঞান ভাবাদি নই এই জন্য। সুতরাং সেই সকল
কাৰ্য্য করিবার প্রয়ােজন কি ? বিষ্ণু কৃষ্ণাদি নামই বা কেন
উচ্চারিত হয় ? শক্ত মহাশয়েরই বা তাহাতে অরুচি
কেম? সে তাহা জানে না এবং বুঝে না।
কেবল স্বতই
যে বুঝে না, তাহা নহে; বুঝাইলে বুঝে না। একজন
একটা পশুকে “ পরের শস্য ভক্ষণে অপরাধ ” বুঝাইলেন,
বুঝিল না। প্রহার করিলেন, তবুও বুঝিল না। আবার
পরের শস্য খাইল। কারণ কি ? আত্মজ্ঞান নাই, সুতরাং
মানাপমান বােধ ও নাই। আত্মা থাকিলেই আত্মার
থাকে, অ আদর থাকিলেই মানাপমান বোধ থাকে। যখন
আত্মা নাই, আত্মার মাই, তখন উন্নতি অবনতিও নাই।
পদিগের, পক্ষীদিগের এবং অন্যবিধ প্রাণীদিগের মধ্যে
সামাজিকতা আছে; কিন্তু তাহা কেবল প্রয়োজনীয়
বস্তুসংগ্রহ, বিপদ হইতে আত্মমোচন ও বাসস্থান নির
পণেই সীমাবদ্ধ। সুতরাং তাহাকে প্রকৃত সামাজিক
বলা যায় না। ঐ সকল কাৰ্য্য তাহাদের প্রকৃতিমূলক বল যাইতে পারে। তাহাদিগের যেমন প্রকৃতি, ঠিক সেই রূপে চলে, তাহার এক বিন্দুও অন্যথা করে না। আত্ম। ভিন্ন প্রকৃতি ও শিক্ষার প্রতি কূলে দণ্ডায়মান হইবার আর কাহারও সাধ্য নাই। বস্কৃতঃ জ্ঞান, যাহা সমস্তু মোহন্ধ- কার বিনাশের একমাত্র সাধন; উদার প্রীতি, যাহা জগৎ । ও ঈশ্বরের রসবত্তা ও বিশুদ্ধ সৌন্দয্য গ্রহণে সমর্থ ; স্বাধীন ইচ্ছা, যাহা সমস্ত পাপমলিনতার প্রতি কুলে অগ্রসর হইতে নক্ষম, ইতর প্রাণীদিগের তাহা নাই, অত এৰ ইতর জন্য দিগকে সাত্মক বলিলে বড়ই দোষ হয়। যাহার আত্মা নাই, তাহার উন্নতি অবনতিও নাই, ধৰ্ম্মাধর্ম নাই, সত্য মিথ্যা নাই, ইহকাল পরকাল নাই। ফলতঃ যাহার জন্য মনুষ্যের মহত্ত্ব তাহাদিগেতে কাহার কিছুই নাই। যেমন এক দিকে তাহাদিগের অভাবের সীমা নাই, অন্য দিকে তেমনি তাহাদিগের সদ্ভাবও অনেক আছে। তাহারা আহার্য বস্তুর স্বাদ বৃদ্ধি করতে পারে না, এজন্য স্বাদ বৃদ্ধির প্রয়ােজনও হয় না, স্বচ্ছন্দ অনায়াসলভ্য আহাৰ্যে উদর পূৰ্ত্তি করে। বস্ত্র প্রস্তুত করতে পারে না, সুতরাং বস্ত্র প্রস্তুত করিবার প্রয়ােজনও হয় না; ইহা দিগের দেহ, স্বভাবজাত নানাবিধ উৎকৃষ্ট উপকরণে সজ্জিত। বস্তুতঃ ভাবিয়া দেখিলে ইহাদিগের যাহা প্রয়ােজন তাহা আছে। জগৎপাতার অব্যাহত নিয়মে ) প্রসাদে, অক্ষুর সমদর্শিতা ও বিচারশক্তির প্রসাদে, অনেক ভাব থাকিলে ও অচলতা নাই। ইহাদিগের যাহা আছে, তাহার উপযােগিতা আছে, যাহা নাই তাহার উপযােগিতাও নাই। ইহাদিগের কিয়ৎ পরিমাণে চেতনা, কিন্তুৎ পরিমাণে বুদ্ধি শক্তি নিতান্তই প্রয়ােজনীয়। ইহাদিগের এই সকল বৃত্তি যথাযথ না থাকিলে সংসারের যত কাৰ্য্য তাহারা এখন সম্পন্ন করি- তেছে, তাহা করিতে পারি না। যদি অশ্বের চেতনা, ইন্দ্রিয়বােধ ও বুদ্ধি শক্তি না থাকিত, উহাকে যথানিয়মে পথের উপর দিয়া তীব্র বেগে চালান এবং পথই অন্য পশু ও মনুষ্যকে তাহার পদ প্রহার হইতে রক্ষা করা দুস্কর হইত। আবার রণক্ষেত্রের নির্ভীকত্ব ও গতিচাতুর্য শিক্ষা দিয়া আত্মরক্ষার সাহায্যও লওয়া যাইত না। এতদ্ব্যতীত হী, উষ্ট্র প্রভৃতি জন্তুকে এখন আমরা যেরূপ উপকারী বলিয়া বুঝিতেছি, এরূপ বুঝিতে কদাচ সমর্থ হইতাম না। বলদ ও গর্দভ প্রভৃতি জন্তুর যদি পূর্বোক্ত বৃত্তি সকল যথাযথ না থাকিত, তাহারা এত কাৰ্যসাধনোপ- যোগী কখন হইত না। আবার এখন তাহাদিগের যেরূপ অবস্থা ও যেরুপ সুখ আছে, তাহা অপেক্ষা ভরতম হইলেও পূৰ্ব্বোক্ত কাৰ্য সকল চলিবার পক্ষে বাধা জস্মিত। উন্নতিশীল জ্ঞান, উদারভাবগ্রাহিতা ও স্বাধীন ইচ্ছা প্রভৃতি খাকিলে তাহাদিগকে বশে রাখি।
( ৩৭ ) A কাৰ্য চালান দুষ্কর হইত। বশে রাখিতে না পারিলেও বিশ, ত্রিশ, চল্লিশ, আশী, নব্বই টাকায় বলদ ; শত সহস্র মুদ্রায় অশ্ব এবং দ্বি সহ বিশ সহস্র মুদ্রায় হস্তী ক্রয় করা বােধ হয় নিস্ফল হইত। কোন কোন সম্প্রদায় পণ্ড প্রভৃ• তিকে কার্যে নিযুক্ত করিয়া কষ্ট দেওয়া পাপ মনে করেন। বস্তুতঃ যদি তাহাতে পাপ হওয়া স্বাভাবিক হইত, তবে তাহারা এরূপ কার্যোপযােগী হইত না। যখন তাহাব। কার্য্যের উপযােগী, তখন কাৰ্য করান ও তজ্জন্য কঞ্চিৎ শ্রান্তি প্রদান পাপ নহে। তবে নিষ্ঠ রতা অবশ্যই পাপ । যে সকল প্রাণী দুৰ্বল, রুগ্ন ও বুদ্ধ, যাহাদিগের কাৰ্য করি বার বস্তুতঃ সামর্থ্য নাই, যাহারা আপন শরীরের গুরুত্ব বহন করিতেই অসমর্থ, অর্থের লােভে তাহাদিগকে কাষ্যে নিযুক্ত করা ও মরণােপম যন্ত্রণা দেওয়া অবশ্যই পাপ। নতুবা কেবল কার্য করা যদি পাপ হয়, তাহা হইলে মনু: য্যের পক্ষে ও কার্য করা পাপ হইতে পারে। যখন শরীর আছে, যখন শরীরের বল ও স্পর্ণ শক্তি আছে, তখন কথাঞ্চিং শ্রান্তি বােধ হওয়া স্বাভাবিক। তাদৃশ শ্রম উপ- কারী ব্যতীত অপকারী নহে। কেন না শ্রম দ্বারা শারী- রিক রক্ত ও মাংস প্রভৃতি উপাদান সতেজ হয়। সুতরাং দীর্ঘ জীবন লাভ করা যায়। শ্ৰম করা আবশ্যক জন্যই কৃপানিধান পরমেশ্বর তাহার উপযােগিতা দিয়াছেন। নতুবা এরূপ উপযােগিতা থাকিত না। ৪
চতুর্থ অধ্যায়।
অধ্যাত্ম জগৎ।
অধ্যাত্ম জগৎ কি ? যে জগতে সর্বাপেক্ষা আত্মা প্রধান
এবং আত্মাকে আশ্রয় করিয়াই আর সকল বসতি করে,
তাহাকেই আমরা অধ্যাত্ম জগৎ বলিব। আত্মা কি ?
এ প্রশ্নটি নিতান্ত সহজ নহে। জগতে এরূপ কোন পদার্থ
নাই, যাহা দ্বারা আত্মার সাদৃশ্য প্রতিপন্ন করা যাইতে
পারে।
জগতে যত ভৌতিক উপাদান আছে, তাহার
কোন উপাদানে আত্মা নির্মিত হয় নাই, সুতরাং আত্মার
পরিচও দিবার নিমিত্ত কোন নির্দিষ্ট বস্তুর সাহায্য পাইবার
আশা নাই। এই জন্য আমরা আত্মসম্বন্ধে কয়েকটি
নির্দিষ্ট লক্ষণ মাত্ৰবলিতে পারি। যথা-জ্ঞান, ভাব, ইচ্ছ।
এই তিনটি আত্মার নির্দিষ্ট লক্ষণ; অথব্য এই তিনটিকে
আত্মার অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বলা যাইতে পারে। এই তিনটি
লক্ষণ যাহাতে অবস্থান করে, তাহাই আত্মা শব্দে অভিহিত।
এখন জিজ্ঞাস্য হইতে পারে যে, এই লক্ষণয় কিসে অব
স্থান করে। ইহার উত্তরে আমরা এইরূপ বলিব, আত্মাতে।
বিষয় ও বিষয় সম্বনিৰ্বাচন শক্তির নাম জ্ঞান; হর্ষ
শােকাদি রসগ্রাহিতার নাম ভাব, এবং কার্য্যে প্রবর্তিনী
শক্তির নাম ইচ্ছা। জ্ঞান আত্মাকে বিষয় বিষয়ীর সম্ব
ব্ধের কথা বলিয়া দেয়, ভাব তাহার মধ্যে মালত। দোহন
৬
কবিতে নিযুক্ত হয়, এবং ইচ্ছ।
সেই সম্বন্ধ ও সৌন্দর্য্য
দেখিয়া যখন বিমুগ্ধ হয়, তখন আত্মাকে কাৰ্য করিবার জন্য
উত্তেজিত করে।
সুতরাং ইহাই সত্য যে এই লক্ষণত্রয়
যাহার আছে, তাহাই অাত্মা। জিজ্ঞাসু পাঠক। তুমি যদি
ইহাতে আপত্তি কর, যদি বল আমাকে স্পষ্টরূপে না দেখা-
ইলে মানি না। তবে আমি বলিব ‘‘জগতে যাহা লক্ষ্য
বা বিশেষ ভাবে খ্যাত, তাহার একটিকেও স্পষ্টরূপে বুঝা-
ইবার উপায় নাই। সকলকেই লক্ষণ বা বিশেষণ দিয়া
বুঝিতে হইবে। কেন না জগতে এরূপ কোন বস্তুর সৃষ্টি হয়
নাই, যাহা সম্পূর্ণরূপে অন্য বস্তুর সমান হইতে পারে।
যেমন আম্র একটি বিশেষ্য বস্তু ; কিন্তু আমের সমান আম
ভিন্ন আর কিছুই হইতে পারে না। সেইরূপ কোন বস্তু
সম্পূর্ণ ভাবে অন্য বর সমান হইলে, তাহার পার্থক্য
রহিল কৈ ? যদি পার্থক্য কিছুই না থাকিল, তবে অন্য বস্তুর
সমান, সুতরাং সে বস্তু এ বস্তু একই হইয়া যায়। মনে কর,
যে ব্যক্তি হস্তী কিরূপ জানে না, তাহাকে হন্তা বুঝাইতে
হইবে। তখন তুমি কি করিবে ? তুমি হয়ত, একটি হস্তীর
প্ৰতিমূৰ্ত্তি এক খানি ফলকে অঙ্কিত করিয়া দেখাইবে; অথবা
তুমি যদি আরও নিপুণ হও, এবং অধিক স্পষ্ট করিয়া বুঝা-
ইতে চাও, তবে না হয় মৃত্তিকা প্রভৃতি উপকরণ লইয়া
একটি সুন্দর হস্তীর মূর্তি গঠন করিয়া দেখাইবে। কিন্তু
তাহাতে হস্তী দেখান হইল কৈ? সে কেবল হস্তীর আকার
( ৪০ ). দেখান হইল । অতএব পুনৰ্ব্বার তোমাকে তাহার অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ও স্বভাবের লক্ষণ করিতে হইবে, নতুবা সম্পূর্ণরূপে হস্তী বুঝাইতে পারিবে না। আর যদি যথার্থ হস্তী আনিয়া দেখাও তবে সম্পূর্ণ কৃতকার্য হইতে পার। সুতরাং হস্তীর অনুরূপ হস্তী তিন্ন আর কিছুই হইতে পারিল না। এই জন্য আমরা বলি,আত্মার অনুরূপ আত্ম ভিন্ন আর কিছুই নাই। এখন মনে কর, হস্তীর যেমন পার্থিব শরীর মাত্র দেখা। যায়, কিন্তু তাহার আভ্যন্তরিক অমূৰ্ত্ত কোন বিষয় দেখা যায় না, সেইরূপ আত্মাও অতীন্দ্রিয় অমূৰ্ত্ত বস্তু, সুতরাং তাহা দেখাইবার কোন উপায় নাই। জড় বস্তুতে আকর্ষণ, বিক- যণ প্রভৃতি যে শক্তি আছে, তাহা দর্শনাদির অনায়,সুতরাং তাহার কাৰ্য্য ও লক্ষ্মণাদিকে আশ্রয় করিয়া অমর। তাহা বুঝিয়া থাকি। অতএব অমূর্ত বস্তু জানিতে হইলেই কেবল লক্ষণ ও কাৰ্য্য ধরিয়া জানিতে হইবে। তবে অমূর্ত ও * একটু গভীররূপে চিন্তা করিলে পাঠকগণ দেখিতে পাইবেন, যে সকল বস্তু অামরা দেখি, তাহার কেবল গুণ অনুভব করি, কিন্তু প্রকৃত বন্ধু দেখিতে পাই না। জড় পদার্থ কি ? এ প্রশ্নের উত্তরেও আমরা কেবল কতক গুলি লক্ষণমাত্ৰ নিৰ্দেশ করিতে পারি, তদ্ভিন্ন আর কিছুই করিতে পারি না। আত্মা অদৃশ্য বলিয়া যাহারা তাহার অস্তিত্বে অবিশ্বাস করেন, তাহারা অদৃশ্য শক্তি ও প্রাণ সম্বন্ধে কি বলিবেন? আমাদের অঙ্কুভব অতিরিক্ত জড় বস্তুর অন্তি- ত্বের প্রমাণ নাই। কোন কোন দার্শনিক এই জন্য জড় ( ৪১ ) অতীন্দ্রিয় আত্মাকে লক্ষণ ধরিয়া বুঝিলে বাধা কি ? অত- এব আমরা বলিব, পূর্বোক্ত লক্ষণত্রয় যাহার আছে, তাহাই আত্মা। কেহ কেহ জ্ঞান ভাব ইচ্ছার সমষ্টিকেই আত্মা বলেন। যাহারা এরূপ বলেন, তাহাদিগকে আমি দোষ দিতে চাই না, কিন্তু আমার নিকট উহা সুন্দর বলিয়া বোধ হয় না। কেন না জ্ঞান যে বিষয় বিষয়ীর সম্বন্ধের কথা বলে তাহা শুনে কে ? ভাব যে রসালত। বুঝাইয়া দেয়, তাহা গ্রহণ করে কে ? এবং ইচ্ছাই ৰা কাৰ্য্য করিবার জন্য কাহাকে উত্তেজিত করে ? যেমন দয়া, ভক্তি, সেই আত্মা নহে, কিন্তু আত্মার বৃত্তি ; সেইরূপ জ্ঞানভবাদিও আত্মা নহে, কিন্তু আত্মার অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ; সুতরাং আত্মাতেই ব- স্থান করে, এবং যাহার যেমন স্থল, পাইলেই কাৰ্য্য করে। এই সকল প্রমাণ দ্বারা বুঝা যাইতেছে, আত্মা বিদ্য- মান। কিন্তু কোন কোন পাণ্ডিত্যাভিমানী সম্প্রদায় বলেন, মানবদেহে আত্মা বলিয়া দেহাতিরিক্ত কোন বস্তু নাই। দেহে যে জড়ীয় উপাদান সকল আছে তাহাদিগের পর- স্পর সংযােগেই চৈতন্য জন্মে, এবং অজ্ঞ লােকেরা এই চৈতন্য শক্তিকেই আত্মা বলে। আত্মা যদি কোন নির্দিষ্ট পদার্থকে ও মনােভাব মাত্র বলেন। তাহাদের যুক্তিকে এ পয্যন্ত কেহ খণ্ডন করিতে পারেন নাই, খণ্ডন করিবার সম্ভাবনাও নাই।
( ৪২ ) বস্তু হয়, তবে তাহার নির্দিষ্ট বাসস্থান থাকা আবশ্যক। যদি আত্মার নির্দিষ্ট বাসস্থান স্বীকার করা যায়, তবে ষে স্থানে আত্মা অবস্থান করে, তদ্বতীত অন্যান্য স্থানের বােধ- শক্তি না থাকা সম্ভব; কিন্তু তাহা হয় না। আবার আত্মাকে সৰ্বশৰীবগামী বলিলেও দোষ হয়। কেন না তাহা হইলে তাহাব নির্দিষ্ট বস্তত্ব থাকে না। শরীরের কোন সামান্য অংশ অর্থাৎ হস্তপদাদি ছেদন করিলে সজীব থাকা অসম্ভব। অপিচ মস্তিষ্কের ক্রিয়াবিকার কি বিধানবিকার ঘটিলে, মনুষ্য মনুষ্যত্ব হইতে বঞ্চিত হয় । ফে ব্যক্তির মস্তিস্ক সুস্থ ও সক্রিয়, সে কেমন সুন্দর ? সে কেমন চৰ্য্য ভাবে সদসং নির্বাচন করতে সমর্থ ? সে কেমন চমৎকার ভাবে জ্ঞানগর্ভ উপদেশ দিয়া লােকের হৃদয় মন আকর্ষণ করে? আবার সেই ব্যক্তির মস্তিষ্ক বিকৃত হইলে আত্মহত্যা ও অগম্যাগমন প্রভৃতি দুষ্কর্মের অনুষ্ঠান করি- তেও সঙ্কুচিত হয় না। যখন শরীরের প্রধান অংশ মস্তিষ্ক বঁচাইয়া সামান্যাংশ হস্তাদির ছেদনে, মনুষ্যত্বের ব্যাঘাত জন্মে না, এবং মস্তিষ্ক সুস্থ ও সক্রিয় থাকিলেই আত্মা বাঁচিল, মস্তিস্ক অসুস্থ ও বিকৃত হইলেই আত্ম। মরিল, তখন মস্তিষ্ককেই আত্ম। বলিতে বাধা কি ? অর্থাৎ লােকে যাহাকে আত্মা বলে ডাহা কোন বস্তু নহে; কিন্তু মস্তিষ্কের গুণ। আবার বিজ্ঞান প্রসাদে জানা যাইতেছে যে, কোন প্রকার জড়ীয় পরমাণু যন্ত্রযােগে মৃত প্রায় দেহে প্রবেশ
( ৪৩ )
করাইতে পারিলে সেই মৃত প্রায় দেহে পুনর্বার প্রাণ সঞ্চার
হয়। যদি জড়ের অভাবে মনুষ্য জীবন হারাইল, এবং
জড়ের সংযােগসাধন ব্যতীত আত্মার অন্য প্রমাণ না
থাকিল, তবে আর শরীরাতিরিক্ত আত্মা স্বীকার কেন ?”
যাহারা এই সকল আপন্তি অনিয়া আ ত্মার অস্তিত্ব খণ্ডন
কবিতে চেষ্টা করেন, তঁাহাবা ভ্রান্ত । যে কারণে এত্ত বলা
হইল, ক্রমশঃ সেই কাবণ সকল প্রদর্শিত হইতেছে।
আপত্তিকারীদিগের, প্রথম কথার উত্তর এই--আত্ম।
নিরাকার। অকারবিশিষ্ট পদার্গেই স্থান ব্যাপ্তি নিরূপণ
আবশ্যক, আত্মাকে দেহৰ্যাপী চৈতন্যই বল, আর মস্তিষ্ক
ব্যাপীই বল কিছুই ক্ষতি হইতেছে না। যাহা জড় নহে,
জড় অঙ্গচ্ছেদে তাহার বিনাশ সম্ভাবনা কোথায় ? যদি
আত্মার নির্দিষ্ট বাসস্থান মস্তিষ্ক বলা যায়। তাহা হইলে
অগ্নি যেমন লৌহের এক প্রান্তে সংলগ্ন হইলেই অপর
প্রান্তে সঞ্চারিত হইয়া ক্রিয়া প্রকাশ করে, আত্মাও সেইরূপ
মস্তিষ্কে থাকিয়াই সৰ্বেন্দ্ৰিয় কিম্ব। সৰ্ব্বশরীরগামিনী ক্রিয়া
অনুভব করে বলিতে পারা যায়। হপদাদি শরীরের
কোন সামান্যাংশ ছিন্ন হইলে ও আত্ম নির্বিঘ্ন। আবার
মন্তক প্রভৃতি মৰ্ম্মস্থান আহত হইলে ও আত্মার নির্বিপম্নত্ব
অসম্ভব হয়, ইহা শরীরের ধর্ম আত্মার নহে। শরীর
বিনাশে কাজেই আত্মা শরীর হইতে
পৃথক হইয়া ঈশ্বরের
সুশীতল ক্রোড়ে আশ্রয় গ্রহণ করে।
৪৪ ) ' . দ্বিতীয় কথার উত্তর এই--নিরাকার আত্মার ইহ- লৌকিক কাৰ্যসাধনের জন্য শরীর চাই। আত্মার যে সকল কার্য পৃথিবীতে প্রকটিত হয়, তাহা শরীর যােগে। শরীর ব্যতীত পৃথিবীর কোন কার্য সম্পন্ন হু ওয়া অসম্ভব। যদি অসম্ভব না হইত, তবে শরীর থাকিত না; আত্মা স্বতঃ কাৰ্য্য করিতে পারি। কিন্তু বিধাতা সেরূপ নিয়মে আত্মাকে পৃথিবীতে সৃষ্টি করেন নাই। তিনি আত্মার সমুদায় ইহলৌকিক কায্য সম্পন্ন হইবার উপায়- সরূপ শরীর প্রদান করিয়াছেন; এবং বাহিরের পদার্থ সকলের সহিত সেই শরীরের উপযোগিতা রক্ষা করিয়া- ছেন। সুতরাং শরীরযােগে কাৰ্য হওয়া বিধাতার নিয়ম ; অন্যথা নিয়ম ভঙ্গ হইবেক। নিয়ম ভঙ্গ হইলে কায্য চলিবে না। ঐশিক নিয়মের ব্যতিক্রম করে, কাহার সাধ্য ? অতএব আত্মা যখন যাহা চিন্তা করে, মস্তিষ্কের পরমাণু সকলের মধ্য দিয়া সঞ্চারিত হইয়া বাক্যে তাহা আবিভূত হয়, অথবা চক্ষুরাদি অন্যবিধ যন্ত্রে বিস্ফরিত হয়। আমরা অনেক সময়ে অনেক বিষয় চিন্তা করি, কিন্তু কাহার সাধ্য না বলিলে তাহা বুঝে ? সে চিন্তার ভাব বদনে যদিও অল্পমাত্ৰ সূচিত হয়, তাহাও জড়ীয় ঘােগ । অত এব কেবল মস্তিস্ক নহে, সমস্ত শরীরের পারস্পরিক যােগাক- গাদি যত ক্ষণ সুচারুরূপে চলিতে থাকে, ততক্ষণ আত্মার ও ক্রিয়া সুস্থতাসম্পন্ন বলিয়া বোধ হয়। নতুবা যাহার
. ( ৪৫ )
যোগে ক্রিয়া প্রকাশ পাইবে উহা অসুস্থ ও বিকৃত হইলে
ক্রিয়া চলিতে পারে কি রূপে? শরীর যন্ত্র, আ ত্মা যন্ত্রী।
এই শরীর যন্ত্র দ্বারা আত্মা কাৰ্য্য করিবে; ইহা বিধাতার
নিয়ম । সুতরাং মস্তিস্কাদি যন্ত্ৰীয় অঙ্গ বিকৃত হইলে যন্ত্রী
আত্মরও পরিষ্কত জ্ঞান, সুপবিত্র ভাব ও স্বাধীন ইচ্ছা
প্রভৃতি ক্রিয়া চলিতে পারে না। বংশী ভগ্ন হইলে
বংশীবাদক চেষ্টা করিয়া কি সেইরূপ মধুর ধ্বনি করিতে
পারেন ? আপত্তিকারী বলেন, “শীর বিকৃত কিম্বা
শরীরের প্রধান অংশ মস্তিষ্কাদি বিকৃত হইলে, আত্মা
বিকৃত হয় কেন? যদি শরীর হইতে আত্মা স্বতন্ত্র, তবে
শরীর বিকৃত হইলেও আত্মা অবিকৃত থাকুক। আমরা
বলি, বস্তুতঃ তাহাই হয়, শরীর বিকৃত বা বিধ্বস্ত হইলেও
আত্মা অবিকৃত ও অবিনাশী থাকে।• কেবল বিকৃত বা
বিনষ্ট শরীরে আত্মার ক্রিয়া অচল হয় মাত্র। যেমন বংশী-
বাদক অবিকৃত থাকিয়াও বংশীর বিকৃতি জন্য কার্য্য
করিতে অক্ষম, সেইরূপ। শরীর, আত্মার কাৰ্য্য সাধনে-
পযেগেী যন্ত্র। মস্তিষ্ক সেই যন্ত্রের প্রধান অংশ। কেননা
যে কাৰ্য্য বাহিরে সঞ্চারিত হয়, তাহা মস্তিষ্কের মধ্য দিয়া
ভিন্ন সঞ্চারিত হইবার পথ নাই। যাহা হউক, বংশী যন্ত্রের
উপরে বাদকের কথঞ্চিৎ কর্তৃত্ব চলে, যেহেতু সে যন্ত্র
তাঁহার স্বকৃত, কিন্তু শরীর যন্ত্রের উপর আত্মার কোন
কর্তৃত্ব নাই, যেহেতু শরীর ঈশ্বরদত্ত। সুতরাং শরীর ভগ
হইলে আত্মা তাহা রক্ষা করিতে অসমর্থ। এইরূপ মাদক
সেবী প্রমত্ত কিম্বা উম্মত্ত ব্যক্তি যখন দুষ্কর্মে প্রবৃত্ত হয়,
তখন তাহার মস্তিষ্ক বিকৃত সুতরাং আত্মার বিশুদ্ধ জ্ঞান,
বিশুদ্ধ ভাব ও ইচ্ছা তাহার মধ্য দিয়া সঞ্চারিত হইতে পারে
না। এই জন্য কি আত্মার অস্তিত্ব অসম্ভব হতে পাবে ?
কখনই না।
জগতে যত প্রকার জড়ীয় পরমাণু আছে,
তাহার একটিতেও জ্ঞান, ভাব ও ইচ্ছা নাই। সুতং
জড়ের সংযোগবিয়ােগে যে গুণ উৎপন্ন হয়, তাহাও
জড় হইবে। তাহাতে চেতনের লক্ষণ থাকিতে পারে না।
এ পর্যন্ত যত জড়ীয় গুণ আবিস্কৃত হইয়াছে, তাহার এক
টিতে চেতনের চিহ্ন মাত্র নাই। গুড় কিম্বা দ্রাক্ষা রস
হইতে যে মাদকতা জন্মে তাহা জড় উদজন ও অন্নজন
যােগে জল হইয়াছে, তাহাও জড়। চুণ হরিদ্রা যােগে যে
রক্তবর্ণ হয় ও পারদ এবং গন্ধক যোগে যে হিঙ্গল উৎপন্ন
হয়, সকলই জড়। জড়ের গুণ জড় বৈ জ্ঞান হইতে পারে
না। জড় হইতে কিরূপে যে জ্ঞান ভাবাদি উৎপন্ন হইবে,
আপত্তি কারিগণ কি তাহার উত্তর দিতে পায়েন ? বাহার।
পৃথক পৃথক অবস্থায় অজ্ঞান ছিল, সংযুক্ত হইয়া তাহারা
কিরূপে সজ্ঞান হইবে ? ইহা কি মনে কল্পনা করিতেও
সাহস জমে ?
তৃতীয় কথার উত্তর এই-জড়ীয় পরমাণ গুণে মানব
শরীর কার্যক্ষম থাকে; এবং কোন বিশেষ অংশের বিয়ােগ
* ( ৪৭ ) হইলে শরীর বিনষ্ট হইয়া যায়; কেননা শরীব জড়। সুতরাং সংযোগবিধানে তাহা কার্যোপযোগী থাকিবে, তাহা চাই, অভাব হইলে চলিবে না। আত্মা জড় নহে, সুতরাং শরীরের ক্ষতিতে জাত্মার অল্প মাত্র ৪ ক্ষতি নাই। বিদ্যুতের অভাবে যাহার শরীর বিনষ্ট হইতে ছিল, বিদ্যুৎ প্রয়ােগে পুনৰ্ব্বার তাহা আত্মার কার্যোপ- যােগী হইতে পাবে। ভয়ঙ্কর বিষদুষ্ট বায়ুতে যাহার শরীর ভঙ্গ হইতেছিল ,তৎ প্রতীকারক ঔষধের গুণে তাহা সুস্থ ও সক্রিয় হইতে পারে। সাদির বিষ দ্বারা হচেতন মুমুমু ব্যক্তি জলসেক কিম্বা অনাবিধ জড়শক্তি প্রভাবে সুস্থ হইতে পারে। কেন পারে ? ঐ সকল বস্তু জড় এবং শরীরও জড়, সুতরাং জড়ের সহিত জড়ের সম্বন্ধ হইলে কার্যকর হইবে। কিন্তু আত্মা জড় নহে, এ জন্য আত্মার কোন ক্ষতি হইতে পারে না; কিন্তু আত্মার ক্রিয়া প্রতিরুদ্ধ হইতে পারে মাত্র। অত এই বিদ্যুৎ বিষপ্ন দ্রব্য কিম্বা সলিলাদি স্বতন্ত্র, আত্মা স্বতন্ত্র । জড়ে জ্ঞান ভাবাদি নাই, যাহাতে যাহা নাই, তাহাতে তাহা আসিবে কি রূপে ? যদি বিদ্যুৎ প্রভৃতি জড় বস্তুতে জ্ঞান ভাবাদি থাকিত, তবে তাহারাও দার্শনিক পণ্ডিতদিগের মত কখন ঈশ্বরকে স্বীকার, কখন অস্বীকার করিতে পারি। তাহারাও এম সত্য নহে” বলিতে পারিত, এবং ঈশ্বর, পরকাল, বগুণ ও কাৰ্যকারণ প্রভৃতি লইয়া বিতণ্ডা করিতে অগ্রসর হইত।
( ৪৮ ) অধিকন্ত পৃথিবীর অন্যান্য বস্তুর সহিত তাহাদিগের উপকার অপকার সম্বন্ধও থাকিত। সুতরাং জড় বস্তুতে জ্ঞান ভাবাদি আছে ইহা স্বীকার করা ভ্রম। যদি জ্ঞান ভাবাদি স্বীকার করা ভম বলিয়া বুঝিতে পারা যায়, তবে ছাত্মা দেহ হইতে ভিন্ন” বুঝিবার বাকি রহিল কি ? আর এক কথা এই, যে স্থানে আত্মা আছে, সে স্থানেই আত্মজ্ঞান আছে ; যে স্থানে আত্মা নাই, সে স্থানে আত্ম- জ্ঞানের চিহ্নও দৃষ্ট হয় না। এ জন্য চেষ্টা করিলেও পশুর আত্ম জ্ঞান জন্মান ও মনুষ্যের আ ত্ম জ্ঞান দূর করা যায় না। আমি বুঝিতেছি, আমি আছি, এ জ্ঞান মানুষের সহজ। আমি বুঝিতেছি, আমি দ্রষ্টা, শ্রোতা, ঘাত, অনুমা, তুমি যদি যুক্তি দ্বারা ইহা খাইতে চাও, তাহা কি পারিবে ? আমার আত্মজ্ঞানে কখন অবিশ্বাস জন্মা- ইতে পারিবে না; আমার জ্ঞান ভাবাদি রহিত করিতে পারিবে না। যে স্থানে জ্ঞান ভাবাদি আহে, সে স্থানে তােমার কোন যুক্তি খাটিবে না; আর যে স্থানে নাই, সে স্থানেও তোমার চেষ্টা কাৰ্য্যকারী হইবেক না। পর আত্মজ্ঞান নাই, ঈশ্বর পরকাল নাই, সত্যাসত্য নাই, তুমি কি তাহা তাহাদিগকে আনিয়া দিতে পার ? তুমি কি পশুকে বস্তুশক্তি বুঝাইয়া ভানুরুপ শিক্ষা দিতে পার ? তুমি কি পশুর নৈসর্গিক সংস্কার বিরুদ্ধে তাকে এক পদও অগ্রসর করিতে পার? কখনই না। যদি পশুর আত্মজ্ঞান ।
( ৪৯ ) ; থাকিত, তবে দুষ্কর্মের জন্য অনুতাপ হইত ; পশুর প্রতি রাজ- দ ও ব্যবস্থিত হইত; এবং হন্ত। পশুর কারাবাস করিতে হইত। তাহা হয় না কেন ? পশুর জ্ঞান নাই, সুতরাং তৎকৃত দুষ্কর্ম সঞ্চানকৃত হয় না। সজ্ঞানকৃত অপরাধ না হইলে দণ্ড হয় না, এবং হইয়াও কোন ফল নাই। কেননা দণ্ডবিধান দণ্ডিত ব্যক্তির শিক্ষার জন্য। কিন্তু সহস্র বংসর পরিশ্রম করিলেও পশু প্রভৃতি ইতর প্রাণিগণের শিক্ষা'হইতে পাবে না। অতএব নিঃসংশয় বলা যাইতে পারে, মনুষ্য দেহে আত্মা বিদ্যমান। আত্ম। অপূর্ণ । জড়ের সঙ্গে তুলনা করতে গেলে আত্মাকে সম্ভাবসম্পন্ন বলিয়া বােধ হয়। বস্তুতঃও আত্মা জড় অপেক্ষা সদ্ভাবান্বিত। জড়ের আকা নাই, আ ত্মার তাই। আছে । জড়ের আত্মজ্ঞান নাই, আত্মার আছে। জড়ের ঈশ্বর পবকাল বোধ নাই, আত্মার আছে। জড় অন্ধ, আত্মা চক্ষুস্মান। জড়ের ইচ্ছা, যত্ন ও অধ্যবসায় নাই, আত্মার আছে। কিন্তু যেমন এক দিকে আছে, তেমনি অন্য দিকে নাই। জ্ঞান আছে, বুঝিতে পারে, কিন্তু সকল বুঝে না, কিছু বুঝে, আবার কিছু বুঝে না। প্রীতি পবিত্রতা আছে । কিন্তু তাহা তেমন প্রশস্ত নহে; সকল দিকে সমান প্রীতি ও সমান পবিত্রতা রক্ষা করতে পারে না। সুতরাং তাহাতে কখন প্রীতি কখন বিদ্বেষ, কখন পবিত্রতা কখন অপৰিত্ৰতা দর্শন করা, যায়। উহা যেমন চক্ষুষ্ম , তেমনই অন্ধ। এক বিষয়ের }
( ৫০
এক দিক দেখিতে পায়, অপর দিক দেখিতে পায় না।
সুতরাং আত্মার সকল বিষয়েরই পরিমাণ আছে। উহার
কিছুই অসীম নহে, সকলই সসীম। এই সীমা অতিক্রম
করিলেই পাপ জন্মে। সুতরাং সর্বদা আপন সীমাতে
থাকিবার জন্য সতর্ক থাকা আবশ্যক। আত্মা যক্ষি
অসীম গুণ যুক্ত হইত, তবে সতর্ক হইবার প্রয়ােজন ছিল
না, উহার সর্বজ্ঞত্বাদি গুণ থাকিত। এখন পৃথিবী যেরূপ
বােগ, শোক, দুঃখ, দারিদ্র্যের আলয় বলিয়া বােধ হইতেছে,
এরূপ হইত না, এবং মানুষ না বুঝিয়া কিছুই করিত না।
বিষদুষ্ট অম্ল পানাদি আহার করিয়া পীড়িত হইও না, বায়ু
ও 'বিষদুষ্ট বায়ু কোথায় কখন প্রবাহিত হইবে, অগ্রেই
জানিতে পারিয়া সাবধান হইতে পাড়ি ; অকাল মৃত্যু,
অকাল জন্ম, গর্ভস্রাব ও গর্ভপাত প্রভৃতি দুর্ঘটনা দ্বারা মনুষ্য
জাভির বর্তমানানুরূপ ক্লেশ কদাচ হইতে পারিত না ;
রােগ হইলেও চিকিৎসকের প্রয়ােজন হইত না; এবং
নানা বিধ বিজ্ঞান দর্শনাদি শাস্ত্রের প্রয়ােজন থাকিত না।
শারীরবিজ্ঞান ভূতত্ত্ববিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান, পদার্থ,
বিজ্ঞান প্রভৃতির আবিষ্কার জন্য মনুষ্য কদাচ ক্লেশ পাইত
না। অতএব আত্মা সদ্ভাবান্বিত হইলেও অপূর্ণ। এই
অপূর্ণতার জন্যই তাহাকে অন্যের প্রতি নির্ভর করিতে
হয়। এই জন্যই সে একেবারে সকল বিষয় বুঝিতে ও
সকল কাৰ্য্য করিতে পারে না। এই জন্য সকল দিক
দেখিয়া আপনাকে নির্দোষ রাণা তাহার পক্ষে কঠিন
হইয়া পড়ে। এই জন্য একাকী এক স্থানে বাস করাও
কষ্ট কর। এই জন্য সে আপন প্রয়ােজনীয় সাংসারিক
দ্রব্য গুলি কেবল আপনার যত্নে প্রস্তুত করতে পারে না।
এই জন্য সমাজ চাই, বন্ধু বান্ধব চাই, নতুবা চলে না।
পদে পদে পাপের আবর্তে পড়িবার আশঙ্কা আছে। পদে
পদে সাংসারিক ও পারত্রিক বিঘ্ন বিপত্তি ও ক্লেশ কল্পনা
আঙ্গিতে পারে।
আত্মা আশ্রিত।-জগতের একটা বস্তুও নিরাশ্রয় নাই,
সকলই আশ্রিত। সেই রূপ আত্মাও আশ্রিত। আশ্রয়
ভিন্ন এক মুহূর্তও উহ অবস্থান করিতে পারে না।
যেমন মাধ্যাকর্ষণ জড়ের আশ্রয়, যেমন উত্তর মেরু চুম্বকের
আশ্রয়, যেমৰ লৌহ বিদ্যুতের আশ্রয়, সেই রূপ ঈশ্বর
আত্মার আশ্রয়। এ জগতের কোন বস্তু দ্বারা উহার অভাব
দূর হইতে পারে না; এবং জগতের ক্ষতিতেও উহার
কোন ক্ষতি হয় না। সুতরাং জড়ীয় পরমাণু কি তাহার
লংখােগ বিয়ােগাদি উহার আশ্রয় হইতে পারে না।
অতএব আপাততঃ আমরা আত্মাকে শরীরধারী বলিয়া
বুঝিলেও শরীর উহার অাশ্রয় হইতে পারে না; অথচ
উহা পূর্ণ। পদে পদে আত্ম অভাবে জড়িত হইতেছে,
এবং নিজের বলে তাহার প্রতীকার করিবার সাধ্য নাই।
পদে পদে আত্ম। ঋলিত ও পতিত হইতেছে, পদে
পদে ভ্রষ্ট ও বিচ্যুত হইতেছে, সুতরাং আশ্রয় না থাকিলে
তিষ্ঠিবার সাধ্য নাই। যদিও উহার বল অতি অল্প,
যদিও উহা শােক মােহাদি দ্বারা আকৃষ্ট হইয়া নিরাশ
হয়, যদিও তাহার প্রতীকার করিতে গিযা সে প্রাযশঃ
হতাশ্বাস হইয়া ফিবিয়া আইসে, তথাপি যত ক্ষণ সে
পূর্ণ মঙ্গলের আধার ঈশ্ববেতে অবস্থান কবে, যত গুণ
সেই মঙ্গলময় পিতা ও স্নেহময়ী জননীর ক্রোড়ে বসিয়া
থাকে, তত ক্ষণ উহার ভয় নাই, বিঘ্ন নাই, আপদ নাই,
এবং পড়িবার ব মরিবার সম্ভাবনা নাই। শিশু যেমন
জননীর ক্রোড়ে থাকিতে পাবিলে ভয় করে না; আত্মা ও
সেইরূপ ঈশ্বরের চরণে স্থান পাইলে নির্ভয়ে থা
আত্মা যদি নিক্সের বলের প্রতি নির্ভর করে, আত্মা
যদি আপনার বলের পরিমাণ না বুঝে এবং নিজের
দুর্বলতার পরিমাণ বুঝিয়া যদি সেই অদ্ভুত অক্ষয়
অচল পুরুষের আশ্রয় গ্রহণ না করে, যদি সর্বতোভাবে
নিজের কর্তৃত্ব ছাড়িয়া ঈশ্বরের কর্তৃত্বে বিশ্বাস না কবে,
তবে তাহার বাঁচিবার আর উপায় থাকে না। অন্য দিকে
আবার ঈশ্বরের করুণতে দৃঢ় বিশ্বাসী হইতে পারিলে আর
পতনের ভয় নাই। আমরা যদি সাধুদিগের জীবন লইয়া
আলােচনা করি তবে দেখিতে পাই, সংসারে তাহাদিগের
হিতৈষী কেহই নাই, উপকারী বন্ধু নাই, সকলেই শত্রু।
পৃথিবীর লোকেরা সাধুদিগকে পদে পদে নির্যাতন করিতে
। ৫৩ )
চেষ্টা করিয়াছে, পদে পদে তাঁহাদিগকে লাঞ্ছনা ও তিরস্কার
করিয়াছে, তাহাদিগের শােণিত পান করিতেও কুণ্ঠিত
হয় নাই; তথাপি তাহাদিগের আত্মার ঔজ্জ্বল্য, মহত্ব
এবং অমৃতত্ব বিনষ্ট করিতে পারে নাই কেন? তাঁহার
ঈশ্বরের আশ্রিত, তাহারা বাহিরের লােকদিগকে ভয়
করেন না, বাহিরের প্রলােতনকে তুচ্ছ মনে করেন, এবং
কখনও আপন আশ্রয় ঈশ্বরকে ছাড়িয়া সংসারের অনুসরণ
করেন না। এই জন্য তাহারা কখন পতিত, অষ্ট, নিরাশ
বা নিরুদ্যম হন না। নির্ভয়ে ঈশ্বরের চরণ ধরিয়া পড়িয়া
থাকেন।
আত্মা পবিত্র। আত্ম পবিত্র, এ কি কথা ? সংসারে
পবিতাত্মার প্রমাণ কোথায় ? এত পাপ এত জঘন্যতা
হাতে, সে কি আবার পবিত্র ? যদি এত পাপী আত্মা
পবিত্র, তবে অপবিত্র কে? প্রিয় ভ্রাতঃ, তুমি আত্মার
স্বভাবের প্রতি দৃষ্টিপাত কর, উহার স্বরূপ ও লক্ষণ গুলি
সুন্দর করিয়া পাঠ কর, দেখিবে উহা পবিত্র। ঈশ্বর যে
অবস্থায় উহাকে সৃষ্টি করেন, সেই অবস্থা সম্মুখে ধরিয়া
দেখ, হা পবিত্র। বস্তুতঃ উহাতে পাপ মলিনতার লেশ মাত্র
ও নাই। জ্ঞান বিবে আত্মার মন্ত্রী, আত্মা দেহ-রাজ্যের
বাঙ্গা। উহারা কি সৎ কি অসৎ উহাকে বলিয়া দেয়।
ভাব সেই মন্ত্রীর অনুবর্তী ও সহকারী, সে বিষয়ের মধ্যে
রশালতা অন্বেষণ করে। ইচ্ছা ইহাদিগের মধ্যবর্তিনী
( ৫৪ ) হইয়া আত্মাকে কার্যের জন্য পবিচালিত করে। বৃওি তিনটী অবিকৃত থাকিলে আত্মাতে অপবিত্রতা আসি- বার আশঙ্কা নাই। ইহাই উহার স্বাভাবিক অবস্থা। জ্ঞান বিবেক প্রেকৃতিস্থ থাকিলে ভাল মন্দ অনায়াসে বুঝা যায়। ভাব যদি অবিকৃত ভাবে তাহার পশ্চাদ্বন্তী হয়, তবে যাহ। সৰ্ব্বাপেক্ষা সুন্দর ও পবিত্র, যাহার তুল্য সুন্দর ও বিশুদ্ধ বন্ধু নাই, তাহারই প্রতি উহাকে আসক্ত করিবে। ইচ্ছ। এই আসক্তির সহায়তায় অনায়াসে উহাকে জ্ঞান বিবেকের উপ- দিষ্ট পথে পরিচালিত করিবে। তবে আর পাপ আসিবে কি রূপে ? ফলতঃ আত্মা যখন স্বরূপে অবস্থান করে, তখন উহাত্নে পাপ নাই, মলিনতা নাই, কলঙ্ক নাই, এবং অপবি- তার চিহ্নমাত্রও নাই। তবে এরূপ বিশুদ্ধ আত্মাতে এত অপবিত্রতা কেন? যখন উহার স্বভাব বিকৃত হয়, তখন উহা সংসারের নানা কৃত্রিমতাতে পড়িয়া আপনাকে আপনিই ভুলি া যায়, এবং জ্ঞান অন্ধভাবে কার্য করে, সুতরাং আত্মাকে মলিন ও অপবিত্র বলিয়া বােধ হয়। ইহার প্রমাণ দিবার জন্য, আমরা শিশুর পবিত্র ছবি, বিপন্ন ব্যক্তির কাতরতা ও কাকুপূর্ণ বাক্য, মৃত্যুশয্যায় শয়িত ব্যক্তির আত্মগ্লানিপূর্ণ হৃদয়ের ভাব ও ঋষিদিপের আশ্রমস্থ পবিত্র তার কথা উল্লেখ করিতে পারি। প্রিতম, তুমি সর্বদা যে সকল শিশুকে দেখিতে পাও, তাহাদিগের মধ্যে কি অপবিত্রতা দেখিছ? শিশু কি সংসারের মান সম্রম
শূন্য ও
বুঝে । শিশু কি রাজার অনুরােধ, পিতা মাতার অনুবােধ
অথবা সাংসারিক বিষয়ানুরােধে আপনার যাহা কবিবার •
তাহা ভুলে ? শিশুর সরলতা, শিশুর মাধুৰ্য, শিশুর সুস্নিগ্ধ
ও সহাস্য বদন কেমন পবিত্র। শিশুর স্বাধীন ও নির্ভীক
চিত্ত দেখিয়াছ কেমন মনােহর! তাহার যাহা ইচ্ছা হয়,
সে যাহা বুঝে, তাহাই করে। যাহা জানে তাহাই বলে,
তাহাব বাহিরে যায় না। শিশুর জ্ঞান যত টুকু পবিট,
সে তত টুকু কাৰ্য্য করে। সংসারের অনুরোধে তাহাৰ
বিপরীত করে না। শিশুর প্রেম কেমন নিরপেক্ষ ? শিশুর
দয়া কেমন অব্যাহত ? শিশুর কাৰ্য কেমন স্বার্থপরতা-
জ্ঞান অপরিস্ফট; তথাপি তাহার
ভাব ও ইচ্ছ। জ্ঞানের অনুবৃত্তি পরিত্যাগ করে না। যদি
ক্রেমশঃ জ্ঞানপরিস্ফুটের সঙ্গে সঙ্গে ভা ও ইচ্ছ। তাহার
অনুগত থাকে, যদি সংসারের কৃত্রিমতা প্রথম হইতে
তাহাকে আশ্রয় করতে না পায়, তবে কি মানব আত্মাতে
কোন কালেও অপবিত্রতা
আসিতে পারে ? অাশ্রম
বাসী গুষিগণ সর্বদা কপটতা, ছলনা, চাতুবী প্রভৃতি সাংসা-
রিক আকর্ষণ হইতে দূরে অবস্থান করেন, এই জন্য হা-
দিগের জীবন অনেকাংশে পবিত্র । তথাপি যে, কখন
কখন তাহাদিগকে কলঙ্কিত হইতে দেখা যায়, তাহা
কেবল প্রবহমাণ সাংসারিকা হইতেই উৎপন্ন হয়। যখন
নগর ও গ্রাম হইতে প্রবাহিত দোষ সমুদয় অরণ্যবাসী
জুনিদিগের আশ্রমে গিয়া বিশ্রাম করে, সেই সংসর্গে ঋষি
দিগের পবিতা বিনষ্ট হয়। যদি রাজা কিন্তু নগরবাসী
ধনী লােকের সঙ্গে ঋষিদিগের কথন সাক্ষাৎ না ঘটিত,
যদি ঋষিগণ পতনােন্মুখ রাজন্যকুল রক্ষা করিতে গিয়া স্বভা-
বের ব্যভিচার দর্শন না করিতেন, তবে কোন দিন তপঃ-
স্বাধ্যায়নরত মুনিজনের চরিত্রকে অপবিত্রতা স্পর্শ করিতে
পারত না।
আবার দেখ, ঘােরতর ঝটিকাপ্রবাহে সিন্ধু সলিল
বিক্ষুব্ধ হইল, তরঙ্গ সকল মাতঙ্গের ন্যায় ঘােরতর গর্জন
করিয়া চতুর্দি প্রতিধ্বনিত করিল, দেখিয়া দার্শনিক
নাস্তিক্যাভিমানীর কুতক প্রবণ শুকাইল। এত কাল যত
গৰ্ব পােষণ করিয়াছিলেন, যত সম্বল সঞ্চয় করিয়াছিলেন,
ধত সহায় সংগ্রহ করিয়াছিলেন, এক মুহূর্তে সকল পলা-
মুন করিল । তখন তিনি প্রাণপণে “য়াময় রক্ষা কর
বলিয়া ডাকিতে লাগিলেন। এক পলকে সকল অহঙ্কার
চূর্ণ হইল। নাস্তিক আত্মার অস্তিত্ব স্বীকার করেন না।
সুতরাং ঈশ্বরকে খোঁজ করাও আবশ্যক বােধ করেন না।
সহসা পুত্র মরিল, অথবা জীবনসৰ্বস্ব পত্নী মরিল, তখন
তিনি সকল তর্ক ভুলিলেন। স্ত্রী পুদিগকে পূর্বে যেমন মৃৎ:
পিণ্ড কিম্বা কাষ্ঠপাষাণবৎ মনে করতেন, এ সকল জড়ায়
শক্তি বলিয়া লোকের সঙ্গে বিতর্ক করিতেন, এবং 'ক্লোরো-
ফরম” ও “হাইডোসিয়ানিক এসিড়’ প্রভৃতি বিষয়ে
শকি দেখাইয়া আত্মার অস্তিত্ব অ প্রমাণ কবিতে চেষ্টা
কবিতেন, এখন আর তাহা মনে রাখিতে পারলেন না,
হৃদয় ফাটিয়া উঠিল ; দুই চক্ষু দিয়া দবদর ধারায় জল
পডিতে লাগিল, অথবা বাষ্পভরে কণ্ঠ অবরুদ্ধ হুইল ।
নামা নিৰ্বাক্ নিষ্পন্দ ভাবে শােকের সমুদ্রে ডুবিয়া
পছিলেন।
প্ৰিয পাতঃ, এস. এখন আমরা এক বার মৃত্যুশয্যায়
শষিত ব্যক্তিকে দেখিয়া আসি । দেখ ঐ যে ব্যক্তি
মৃত্ব কবাল দংষ্ট্রাঘাতে ছট ফট করিতেছেন, ইনি পূর্বে
স’সাব মদে মত্ত হইয়া অনেক পাপ করিয়াছেন। ইনি
বাহিরে সংকর্মী বলিয়া ভাণ করিতেন, গোপনে দুৰ্ম্ম
করিতেন। অর্থলােভে মিথT বলিতেন, এবং চোর দ্য
প্রভৃতিকে কারাবাসের ভয় হইতে চাইতেন। লােকের
নিকট বলিতেন, তিনি কেবল পরের উপকারের জন্যই
জীবন উৎসর্গ করিয়াছেন। নরহন্তাকে মিথ্যা বলিয়া
বাঁচাইতেন, লােকের নিকট পবোপকারব্রতের মহিমা
শােষণ করিতেন। আবার গোপনে পাপক্ষয়মানসে
চালায় করিতেন, লোকের কাছে পূণ্যসঞ্চয়ের ইচ্ছা
জানাইতেন। আবার মুখে, “মাতৃবং পরকারেযু” পাঠ
করিতেন, গােপনে অন্যের কুলবধূর কলঙ্গোৎপাদনের
চেষ্টা প্রাণ দিয়া করিতেন। এরূপ সহস্র কোটি কোটি
পাপ গােপনে করিতেন, লোকে তাহা জানিতে পাই না ?
( ৫৮ )
এখন সংসবের ভােগ ঐশ্বৰ্য্য, মান মর্যাদা, স্ত্রী পুত্র সমুদায
ছাড়িয়া যাইতেছেন। এখন বুঝিয়ছেন, যার জন্য এই
পাপ করিয়াছেন, তাহা তাহার হইল না। যাহাদিগের
তুষ্টির জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করিয়াছেন, তাহাদিগকে নষ্ট
করিতে পারিলেন না।
যে জন্য সহস্র সহস্র পাপানুষ্ঠান
কবিষছেন, সে প্রযােজন পয্যবসিত হইয়াছে। এখন
ইন্দ্রিয়গণ অবসন্ন, পরিবার বন্ধু বান্ধব, মান সসুমের আর
প্রয়ােজন নাই, সকল প্রযােজন শেষ হইযাছে। সুতরাং
পূৰ্ব্বকৃত পাপতরঙ্গে মন পুনঃ পুনঃ আহত হইতেছে, এবং
কজ্জন্য তিনি শােক ও অনুতাপ অকপট ভাবে ব্যক্ত করিতে-
ছেন আপন দুদ্ধৰ্ম্মে অন্ধ হইয়া পূৰ্ব্বে যাহাদিগকে শক্ত
বলিয়া কল্পনা করিয়াছেন, তাহাদিগের নিকটে অপূর্ণ
লোচনে কাতর ভাবে ক্ষমা চাহিতেছেন। আব উগ্ধ দৃষ্টি
করিয়া সেই বিশ্বরাজের প্রতি কাতর ভাবে সতৃষ্ণ দৃষ্টিপাত
করিতেছেন। এত কাল যাহা যত্নপূৰ্ব্বক গুপ্ত রাখিয়া-
ছিলেন ; সহস্র ব্যক্তির অনুরােধ পরিত্যাগ কবিয়াও পবি-
ত্যাগ করিতে পারেন নাই , স্বহায়া পৰম বন্ধু বলিয়া পরি-
চিত ছিলেন, তাঁরাও সে সকল গুপ্ত পাপ ঘুণাক্ষরের ন্যাৰ
অনুভব করিতে পারেন নাই; আজ সে জিম, সে সংসাবের
অনুকূল দিন ফুরাইয়াছে; আজ শত্রু মিত্র সমান হইয়াছে,
আজ বাহার শত্রু ছিল, তাহাদের নিকটই সকল পাপ ব্যক্ত
করিয়া বলিতেছেন, আর গুপ্ত রাখিতে পারিলেন না। আর
সংসারের কুটিল স্বার্থপর অনুরােধ কার্যকর হইল না।
অনুতাপানল প্রজ্বলিত হইয়া সেই পাপভাণ্ডার পুড়িয়া
ছাব খার করিল। যেমন স্বাভাবিক পবিত্র ভাব লইয়া
আসিয়াছিলেন, সেইরূপ পবিত্র ভাব লইয়া পিতার নিকট
যাইতে পারিলেন না বলিয়া এত অমুত্তাপ। প্রিয় ভ্রাতঃ,
বুঝিলে স্বভাব কেমন সুন্দর ? দেখিলে, আত্মা কেমন
পবিত্র ? বস্তুতঃ আ ত্মাতে পাপ নাই, বিশুদ্ধ জ্ঞান যখন
অন্ধ হয়, প্রেম তখন কাজে কাজেই অপাত্রে স্থাপিত হয়,
ইচ্ছ। দুব্বল হয়, দুরভিলাম অতি সহজে আত্মাকে লইয়া
পাপ পথে প্রস্থান করে। আবার যখন সমুদায় আকষণ,
সমুদায় বন্ধন ও সমুদায় কৃত্রিমতা চলিয়া যায়, অনুষ্ঠােনল
সমুদায় পাপাবরণ দগ্ধ করিয়া ফেলে, আত্মা তখন স্বত্তঃ
নিৰ্ম্মল হইয়া উঠে। পূৰ্ব্বে বলা গিয়াছে আত্মা পরিমিত,
আত্ম সসাম । জ্ঞানের এই সীমা যখন উল্লজিত হয়,
তখনই আত্ম। অপবিত্র হয়, নতুবা আত্ম। আপন সীমাতে
চিরকাল পবিত্র ।
আত্মা অমর আত্মার বিনাশ নাই। কোন পার্থিব
উপাদানে উহা নির্মিত হয় নাই। যে উপাদানে উহা
নিৰ্ম্মিত, তাহার সঙ্গে বাহ্য জগতের কোন সম্বন্ধ নাই,
সুতরাং কোন প্রাকৃতিক ঘটনা দ্বারা উহার অনিষ্ট অসম্ভব।
উহ অগ্নিতে পােড়ে না, জলে পচে না, বায়ুতে শুরু হয়
না, অস্ত্রাদি দ্বারাও ছিন্ন হয় না। বস্তুতঃ ভৌতিক প্রকৃ-
}
তির এমন কোন শক্তি নাই, এমন কোন ভৌতিক কাবণ
জগতে নাই, যাহাতে উহার বিনাশ হইতে পারে। এ জন্য
ইহলােকস্থ পদার্থ নিচয়ের শক্তি আত্মাতে সংক্রামিত
হইতে পারে না।
শবীর ভৌতিক পদার্থে নিৰ্ম্মিত, সুতরাং পার্থিব বস্তুর
শক্তিতে শরীরে উপচয় ও অপচয় হহতে পারে, এবং,
সৰ্ব্বদাই পার্থিব পরমাণুপুঞ্জের অনিষ্টকর শাকতে শরীর
বিনষ্ট হইতে দেখা যায়; কিন্তু আত্মার সঙ্গে পার্থিব বস্তুর
সেরূপ কোন সম্বন্ধ দেখা যায় না। যদি ও পার্থিব শৰীবের
সহিত আত্মার এমন একটা গূঢ় সম্বন্ধ ও যােগ দৃষ্ট হয় যে
সে যৌগিক সম্বন্ধ বিনষ্ট হইলে উহাকে অনুভব ক ব কষ্ট
কর হইয়া উঠে, তথাপি শরীর বিনষ্ট হইলেও উহার
কোন ক্ষতি হইতে পারে বাল্য, যৌবন ও
বাৰ্ধকাসস্তুত পরিবর্তন সকল ক্রমে ক্রমে শবীবের উপর
দিষ। চলিয়া যাইতেছে, আমরা বুঝিতে পারিতেছি না।
প্রথমতঃ যে চৰ্ম্ম কোমল, মসৃণ ও চিক্কণ ছিল, তাহা
ক্রমে দৃঢ় বন্ধুর হইয়া উঠিল, এবং পরিশেষে শুষ্ক লােলিত
হইয়া পড়িল, জানিতে পাইলাম না। সূক্ষ্ম পাণ্ডুর রােম
সকল দৃঢ় ও কৃষ্ণবর্ণ হইল, পরিশেষে একে বারে বিশুদ্ধ ও
কৃষ্ণবর্ণ হইয়া গেল ; কিন্তু কিরূপে হইল, জানিলাম না।
শরীরের রক্ত মাংস মেদ, বসা, শিরা ও ধমনী সকল প্রথমতঃ
কোমল ও অনায়ত ছিল, ক্রমে দৃঢ় ও আয়ত হইল।
এ ধন
আবার ক্রমে ক্রমে শিথিল হইয়া পড়িল। আগে দন্ত সকল
সূক্ষ্ম ও মৃদু, ছিল, তৎপব দৃঢ় ও স্থূল হইল, এখন ক্রমে
ক্রমে খসিয়া পড়িল। এই সকল পবিৰন কিরূপে দুটি ল
আমব। তাহার এক বিন্দুও জানিতে পাইলাম না।
কেন
পাইলাম না ? এ সকল বাহ। পরিবর্তন শরীরের, আত্মার
সুতরাং শর্থীর পবিবতি হইতেছে, আ ত্মা তাহা
জানিতেছে না। জড়ায় প্রকৃতির অতীত আ ত্মা বাল্য
যৌবন বার্ধক্য দ্বার। আক্রান্ত হয় না। ফল ৩ঃ বাল্য
যৌবন বার্ধক্য আ ত্মার নাই। আত্মা যত পৰিণত হইতে
থাকে, যত অধিক দিন অতিক্রম করে, ততই জ্ঞান ধৰ্ম্মে
সন্নত হইযা উঠে, অবনত হয় না। যেমন বাল্য যােবন
বাদ্ধক্য শরীরের অবস্থা, আত্মার নহে, সেই রূপ মৃত্যুও
শরাধের বিনাশ আত্মবি নহে ।
অ! । অনেক। যত শবীর তত অাত্ম।
বলেন, “আত্মা একটা মাত্র, তাহাই প্রতি শরীরে প্রতি-
শত এ প্রতিফলিত হইতেছে। যেমন বহু দর্পণ স্যু
কিৰণে রাখিলে প্রত্যেক দর্পণে এক একটী সূন্য আছে
বলিয়া বােধ হয়, সেই ব্যাপ একই অাত্ম। সমস্ত মানব দেহে
জ্ঞ্যোতি বিস্তাব করিযা আছে।” এ মত টা ও ভ্রমাত্মক।
এক টা আত্ম; কখন বহু দেহে থাকিয়া কায্য করিতে পারে
স্যকিরণ যেমন দর্পণে প্রতিবিম্বিত হয় মাত্র কাৰ্য্য,
করে না; মানবদেহে আত্মার যদি সেই রূপ প্রতিবিম্ব,
না ।
( ৬৪ )
দেহের অধিষ্ঠাতা হয়, তাহা হইলে একেব বালা, একের
যৌবন, অপরের বার্ধক্য, অপবের মৃত্যু কখন সম্ভবপর
হইতে পারে না।
আত্মা স্বাধীন। আত্মা আপনি আপনার অধীন।
আ ত্ম। কখন পবের অধীনতা স্বীকার করে না ও কবিতে
পারে না। জড়বাজ্যের তত্ত্বসকল দ্বিতীয় অধ্যায়ে যেরূপ
বিবুত হইযাছে, তাহাতে প্রদর্শিত হইযাছে জড় নিতান্ত
পরাধীন। পব কে ? সজ্ঞান ও সচেতন আত্মা। আত্মা আর
জড এই দুই প্রকার বস্তু লইয়া জগৎ। জ ড ও অাত্মা
ভিন্ন জগতে আর যখন বস্তু নাই, তখন জড় আত্মব
পব, আত্মা জড়ের পর, ইহা ভিন্ন অব কি হইতে পারে ?
জড আত্মার অধীন, আত্মা স্বাধীন। জ্ঞান, ভাব, ইচ্ছা,
এই তিনটা আত্মার অঙ্গ প্রত্যঙ্গ। সূৰ্য যেমন অন্ধকার ভেদ
করিয়া উদিত হয়, জ্ঞান সেই রূপ সমস্ত মােহজাল ছিন্ন
করিয়া রিত হয়। সুতরাং জ্ঞানের নিকটে যে, কোন রূপ
অন্ধকার তিষ্ঠিতে পারে না ইহা নিশ্চিত। ভাব জ্ঞানের
পশ্চাদ্বী হইয়া সৌন্দর্য ও পবিত্রতা গ্রহণ করে; আত্ম।
সেই সৌন্দর্য্য ও পবিত্রত দর্শনে বিমুগ্ধ হইয়া যায়। এই
সমযে ইচ্ছ। এত তীব্রভাবে আত্মাকে উত্তেজিত করে যে
উহার সেই তীব্রতা অনিবার্য।
তীব্রতা অনিবার্য। যেমন জল তেজের
বিরােধী হইলেও মেঘে বিহুদগ্নি নিবারিত থাকে না, সেই
রুপ ইচ্ছা বিস্ক বিত হইলে, যত প্রতিবস্তু থাকুক আত্মার
A
A
( ৬৫ ) অসঙ্গত। কাৰ্য অপ্রকাশ থাকে না। জ্ঞান বিবেক বলে যাহা কিছু কৰ্ত্তব্য, বলিয়া অবধারিত হয়, ইচ্ছা সত্বরা হইয়া তাহা সম্পন্ন করে। ইচ্ছার এই সত্বরতার নিকট কোন প্রতিবন্ধক এক মুহ্ত্ত ও তিষ্ঠিতে পারে না। এই জন্য পূর্বতন পণ্ডিতগণ জড়কে বিষয় এবং আত্মাকে বিষয় বলিয়া নির্দেশ করিয়াছেন। যাহার বিষয়, সেই বিষয়ী। সুতরাং অতি সহজে বুঝা যাইতেছে যে, বিষয় আত্মর অধীন, কাজে কাজেই আত্ম। স্বাধীন। আত্মার এই স্বাধীনতা বিষযের নিকটেই সঙ্গত। কিন্তু ঈশ্বর যিনি সমুদায় জগতের এক মাত্র স্রষ্টা, যাহাতে আত্মা ও জড় আশ্রিত ভাবে রহিয়াছে, তাহার নিকটে আত্মাব তাদৃশ বল ও সৌন্দর্য্য যিনি প্রদান করিয়াছেন, তিনি কি আ ত্মার পর হইতে পারেন? কখনই না। প্রতুত তিনি আত্মার আপনার অপেক্ষাও আপ- নার। সুতরাং যিনি ধন, মান, জ্ঞান, বল ও বুদ্ধি সমুদাষের মূল কারণ, তাহার অধীনতা পরাধীনতা নহে। আপনার, তঁাহ'র বিরুদ্ধে কার্য করিলেই প্রকৃত পরাধীনতা প্রকাশ পায়। অতএব ঈশ্বরের একান্ত অনুগত থাকিয়া বিষয়কষণের প্রতিকূলে অগ্রসর হওয়াই প্রকৃত স্বাধীনতার লক্ষণ। এই কথাটা অন্যভাবে অতি সহজে বুঝা যাইতে পারে। যে কাৰ্য্য বিষয়াসক্তিব প্রতিকূল, ঈশরের আনুগত্যে তাহ। সাধিত হইবে; আর ঈশ্বরের প্রতিকলে যাহা সম্পন্ন করিবার জন্য চেষ্টা হয়, তাহা বিষয়াসক্তির অনুকল না বরং যিনি ( ৬৬ ) } ইযা যায় না। সুতরাং ইহা অতি সহজে বুঝা যাই- (তছে যে, আমরা যতই ঈশ্ববেব অনুগত হইতে পারিব ততই স্বাধীন হইব ; এবং যতই বিষয়ের আকর্ষণে আকৃষ্ট হইব ৩তই পরাধীন হইব। এই স্বাধীনতার অধিকার কেবল মনুষ্যেৰ আছে, অন্য কাহারও নাই । অনুষ্য ইচ্ছাপক পাপ পরিত্যাগ করিতে পারে , ইচ্ছাপূৰ্ব্বক পরম মঙ্গল। ধাব ঈশ্ববের অনুগত হইতে পাবে, আর কেহ পাবে না; সুতবাৎ অাত্ম। স্বাধীন। আ ত্মা শরীরী। অাত্মা অপূর্ণ, এজন্য অনেক হওযা আবশ্যক। অনেক আত্মা সম্মিলিত হইযা পরস্পরকে সাহায্য করিলে অপূর্ণতা নিরসন এবং দুঃখ দূর হইতে পাবিবে ; এ জন্য সর্বমঙ্গলাকী পরমেশ্বর আত্মার অনেকত্ব সম্পাদন করিয়া যেমন অপূর্ণতানিবন্ধন দুঃখ দূর করিবার উপায় কবিয়াছেন, সেই রূপ আবার শীর প্রদান করিয়া আত্মসকলের পরস্পর ঘনিষ্ঠতালাভের সূত্রপাত করিয়া দিযাছেন। শৰীর আছে বলিয়াই পিতা মাতা পুত্র কন্যা এবং তাহাদিগের সম্বন্ধ ও কত্তব্যের প্রয়ােজন। শরীর আছে বলিয়াই ভাতা ভগ্নী ও তৎ সম্বন্ধোচিত কৰ্ত্তব্য আছে। শরীরের জন্যই পিতামহ, মাতামহ, মাতুল ও পিতৃস্বসা মাতৃসা প্রভৃতি পরীবার ও তৎসম্বন্ধোচিত কৰ্ত্তব্য অবশ্য- ভাবী হইয়াছে। শরীরের জন্যই রােগ, শােক, দুঃখ, দ্যবিদ্র প্রভৃতি আছে। এবং সেই জন্যই তাদৃশ পতনাে- 4 ।
( ৬৭ )
মুখ দুঃখরাশির প্রতিকার চিন্তা আছে। শরীরের জনই
মান, মস্যাদা, সুখ, সম্পদ, আহাদ ও আমােদ আছে ।
শবাবের জন্যই বাল্য যৌবন ও বার্ধক্য প্রভৃতি অবস্থা
আছে। এই সকল অবস্থার জন্যই উন্নতি অবনতি আছে ;
৩গুরু শিষ্য সম্বন্ধ আছে, এবং উভয়ের প্রতি উভযের কর্তব্য
আছে। শরীরের জন্য শাবীরবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, ভূতত্ত্ব,
বিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান। শরীরের জন্যই শিল্প, সাহিত্য
১০ গণিত প্রভৃতির প্রয়ােজন। শরীবের জন্যই অন্ন বস্ত্র,
শরীরের জন্যই সুপথ্য কুপখ্যের বিচার, শবীরের জন্যই ওর
স্বাব স মুদাষের প্রয়োজন। ফলতঃ শরীর ব্যতীত জগতে
সমুদাষ পযােজন উঠিয়া যায়। শরীর আছে বলিযাই
পূর্বোক্ত প্রয়োজন ম কৰ্ত্তব্য সকল আছে। আবার সেই
সকল কর্তব্য ও প্রযােজন আছে বলিয়াই পবশর আত্মা
সকলের মধ্যে সনিষ্ঠতা ও যোগাকষণ আছে, এবং সেই
ঘনিষ্ঠতা ও যােগাকষণের বলেই আত্মাৰ প্ৰীতি সদ্ভাব বর্ধিত
হইতে পারিতে, ২। সেই প্রতি সদ্ববাদির বলেই আবার
পাপ পূণা, সুখ দুঃখ, বিপদ সম্পদ প্রভৃতি অপূর্ণ আত্মার
অবস্থা সমুদয়ের হ্রাস বৃদ্ধি হইতেছে । অতএব শরীর
চাই, শরীর না থাকিলে আশা ভরসা, উন্নতি বিনতি,
ভক্তি কৃতজ্ঞতা, দয়া দাক্ষিণ্য প্রভৃতি সমস্ত নিৰ্ম্মল হইয়া
যায়, এবং জগৎ ভাব শূন্য ও নীরস হইয়া উঠে। তাদৃশ
জগৎ সৃজনে ঈশ্বরের রুচি নাই। সুতরাং তিনি শরীর
বিহীন আত্মার সৃষ্টি করেন নাই। যে অবস্থায় আয়। স্থাপিত হইয়াছে, এ অবস্থায় শরীর না থাকিলেই চলে না। করুণাময় পরমেশ্বর জাগতিক কার্যকলাপের যেরূপ ব্যবস্থা করিযাছেন, সেরূপ না করিয়া অন্যরূপ করিলে কি হইত, তাহা চিন্তা করিবার আমাদের অধিকার নাই। কিন্তু তাহার প্রাতষ্ঠিত ব্যবস্থার এক বিন্দ ও অন্যথা করিলে আমাদিগে ব রাশি রাশি বিঘ্ন বিপত্তি আসিতে পারে। বর্তমান অবস্থায় সেই ব্যবস্থার বাহিবে এক পদও অগ্রসর হই বার তামা- দিগের ক্ষমতা নাই, ইহাই আমাদিগের চিন্তনীয়। জগতের আত্মাব অবস্থান জন্য ঈশ্বর যেরূপ ব্যবস্থা কবিয়া দিয়াছেন, এবং তাহার পক্ষে যে সকল কত্তব্য নির্দিষ্ট কবিয়া রাখিয়াছেন, সেই সমস্ত নিৰ্বাহ করিবার জন্য যেমন শবীর থাকা আবশ্যক, তেমনি শরীরের আবার ইন্দ্রিয় থাকা প্রয়ােজন। ইন্দ্রিয়ানুরূপ আবার ইন্দ্রিয়ের বৃত্তি থাকা আবশ্যক। ইন্দ্রিয়বৃত্তি ও ইন্দ্রিয়বােধ থাকিলেই তাহার বিষয় থাকা চাই। যাহার পক্ষে যাহা আবশ্যক, তাহার পক্ষে তাহা আছে, কাহারও এক বিন্দু অভাব নাই। ইলিয- পরিরঞ্জিত এই শরীর লইয়া আত্মা শরীবী বলিয়া অভিহিত হন। শরীর আত্মার রথ, মন সারথি, ইন্দ্রিয়গণ অশ্ব, আত্মা এই শরীররথে চড়িয়া জগতে ভ্রমণ করেন; অথবা শরীর আত্মার কাৰ্যসাধক যন্ত্র, শরীর যন্ত্র দ্বারা আত্মা জগতের কাশ্য করেন।
বাজ।
}
শীবযন্ত্রের সাহায্যে আত্মার যে সকল কার্য্য কবিসার
ব্যবস্থা আছে, সেই সকল কার্য্য সাধনােপযােগী মনােবৃত্তি
তা কাও নিতান্ত প্রয়োজন। কেন না মনই ভাব বাজ্যের
ইযি সকল তাহার আবির্ভাবের স্থান মাত্র। পৃ
যে সকল সম্বন্ধ ও সম্বন্ধোচিত কর্তব্যের কথা উল্লেখ করা
হইয়াছে, সেই সকল কর্তব্য শবীর দ্বারা সংসাধন কবিতে
কিন্তু শরীর কায্য করিতে পারে না, শীব অবশ ।
সুতরাং শর কাৰ্য্যেব সাধন হইলেও তাহার পবিচাল নী
বৃত্তি চাই। সেই জন্য ভক্তি, বিনয়, কৃতজ্ঞতা, দয়া, ক্ষমা,
ন্যায়পরতা, ৰীত বগিতা, আশা, অধ্যবসায, সবলতা, উদা-
রতা, প্রীতি ও বৎসলতা, লজ্জা ও সহিষ্ণুতা প্রভৃতির সৃষ্টি
হইয়ছে। এই বুওি সকল আছে বলিয়া এই সকল বৃত্তি
নিষ্ঠ বিয়ষও আছে। পিতা, মাতা, গুরু, প্রভু, রাজা, পতি,
পত্নী, পুত্র, কন্যা, সুহৃদ, সখা, ভ্রাতা, ভগিনী, দরিদ্র, রুগ্ন,
প্রজা, শিষ্য ও ভৃত্য প্রভৃতি ঐ সমস্তু বৃত্তির বিষয়। শরীর
আছে বলিয়া এই সমস্ত শরীরনিষ্ঠ সম্বন্ধ আছে ; সম্বন্ধ
আছে বলিয়া তৎপালনােপয়াে গনী বৃত্তি আছে ; বৃত্তি
আছে বলিয়া তাহার উপযোগী বিষয় আছে। পতি পত্নী
আছে বলিয়া তদনুরূপ ভাব আছে। পুত্র কন্যা আছে
বলিয়া বৎসলতা প্রভৃতি আছে। পিতা মাতা প্রভৃতি গুরু
জন আছে বলিয়া ভক্তি বিনয় কৃতজ্ঞতা আছে। দুঃখী
দরিদ্র শােকাতুর আছে বলিয়া দয়া দাক্ষিণ্য আছে। কষ্ট
}
}
( ৭ )
যন্ত্রণা আছে বলিয়া ধীরতা সহিষ্ণুতা, অধ্যবসায় আছে।
ইষ্ট জন বিযোগ আছে বলিয়া শােক মােহ এবং তৎ সহনে
ক্ষমতা আছে । পাপপূর্ণ এই জগতে ঘৃণাস্পদ লজ্জাক
বিষয় আছে বলিয়া ঘুণা ও লজ্জা আছে এবং তাহা হইতে
বিমুক্তি লাভের জন্য অনুতাপ কবিবার সামর্থ্য আছে।
ঈশ্বর ও ঐশ্বর্গ আছে বলিয়া সমুদায় দুঃখ ও অশান্তি
হইতে নিষ্কৃতি লাভ করত সুখ শান্তিতে চিরপরিতৃপ্তি প্রাপ্ত
হুইবায় আশ ও ভরসা আছে।
পঞ্চম অধ্যায়।
একাত্মবাদ নিরাশন।
যে সকল দাশ •িকের। নিজ নিজ বুদ্ধির সীমা অতিক্রম
করিয়া দশনশাস্ত্রের অবতাৰণা বা আলােচনা করিয়াছেন,
তাহাদিগের মধ্যে কোন না কোন সম্প্রদায় এই একা -
বাদ ভ্রান্তিতে নিপতিত হইয়া উহার পরিপুষ্টি ও পরিবর্ধন
করিয়াছেন দেখিতে পাওয়া যায়। ভারতবর্ণীয় হিন্দু
শাস্ত্রের অধিকাংশ স্থানেই এই ভ্রান্তির অধিবাস আছে,
কিন্তু কোথাও আভাষ, কোথাও অতি অল্প। পণ্ডিতবর
শঙ্কবাচাৰ্য্য হইতে এ দেশে উহা একরূপ বদ্ধ মূল
হইয়াছে । কেহ কেহ বলেন, একাত্মবাদিগণের চেষ্টায়
আমাদিগের ভূরিশ অনিষ্ট হইয়াছে । কেননা উহা নাস্তি
কতার সুদৃঢ় মূল। এই মূল মানবহৃদয়ে বৃদ্ধ হইলে ক্রমে
তাহা হইতে পােরতর নাস্তিকতা উৎপন্ন হয়। মনুষ্য ঈশ্বর
ইয়া যায়, সুতরাং ইহকাল, পরকাল, উপাসনা, ধ্যান
ধারণা প্রভৃতি কিছুই থাকে না; ধৰ্ম্মধৰ্ম্ম, পাপ পুণ্য, দণ্ড
পুৰস্কার প্রভৃতিও একবারে বিলুপ্ত হইয়া যায়। অন্যতঃ,
কেহ কেহ বলেন, এই মত প্রচার হওয়াতে ভারতবাসি
{ ৭২ }
৮
r
গণেব কুসংস্কার অনেক পবিমাণে হ্রাস হইযাছে, সুভাষ
। ইহা দ্বারা যে বহু উপকার সংসাধিত হইযাছে তাহাতে
আব সংশয় নাই। যখন এ সম্বন্ধে দ্বিবিধ মত চলিতেছে,
তখন ঐ দুই মত কত দূব বিশুদ্ধ একবার আলােচনা কাব্য।
দেখা যাউক।
একাত্মবাদিগণ যে সকল কথা লইয়া বাতিণ্ডা করি-
যাছেন, তাহার সমস্ত গুলির উল্লেখ কৰিব সময় ও স্থান
নাই এবং প্রযােজনও বােধ হয় না। এ জন্য স্কুল কথা-
ওলির আলােচনা ও অবতারণা করা যাহ৮ে।
ইহাবা বলেন, সচ্চিদানন্দ অদ্বিতীয় ব্রহ্মই বস্তু,
অজ্ঞন মায প্রভৃতি সমস্ত জড় অবস্তু *।
২য। তঁাহাব। এই অবস্তুর দুইটা ভাব কল্পনা করেন,
এক সমষ্টি, দ্বিতীয় ব্যষ্টি। সমষ্টিতে বল অধিক ,
ব্যষ্টিতে
বল অল্প।
সমষ্টি ও ব্যষ্টি ভাবাপন্ন অবস্তুসম্মিলিত বস্তু
সাধারণতঃ তাহাব। চৈতন্য শব্দে উল্লেখ করেন।
* ইহারা অজ্ঞানকে ঐশী শক্তি বলেন। শক্ত বস্তুতে
শক্তি বা গুণ আধেয় ভাবে অবস্থান করে, এইজন্য অ জ্ঞান
ইহাদের মতে অবস্তু। বস্তুর যাহা শক্তি বা গুণ, তাহা অবস্তু
হইতে পারে, কিন্তু ব্ৰহ্মৰূপ বস্তুর গুণের নাম অজ্ঞান
হইতে পারে না। কেন না ব্রহ্মকে সচ্চিদানন্দ, বলিয়া
যাহারা নির্দেশ করেন, তাহারই যদি সেই ব্রহ্মের গুণকে
অজ্ঞান বলেন তবে ব্রহ্মের চিদাভাসত্ব রহিল কৈ ?
** 'ও আশফন ##। ৯ ক) unur r + এ এ- * - ৭৩ ) e মাযাসমষ্টিতে উপহিত চৈতন্যকে বলাধিক্য প্ৰক্ত তঁাহারা বিশুদ্ধসত্ত্ব প্রধান বলিয়া নিশ্চয করেন। এই বিশুদ্ধসত্ত্ব প্রধান চৈতন্য লুতন্তুর ন্যায় জগতের নিমিত্ত এ উপাদান কারণরূপে বৰ্তমান আছেন। কেন না সৃষ্টির সমস্ত কাৰ্য ইহাই উপরে নির্ভর করে। ইনি সবামুয়ামী সর্ব ও ঈশ্বর নামে খ্যাত। মলিনসত্ত্ব- প্রসূন চৈতন্যে বিশ্ব, বৈশ্বানর ও তৈজস প্রভৃতি নাম আরোপিত হইযাছে। ৪র্থ। অধ্যারােপ অপবাদ ন্যায় দ্বারা এই অবস্ত,পহিত বসুকে পৃথক্ কবিয়া বুঝিবার এবং অবস্থসভূত ভ্রান্তি দুব কবিবার উপদেশ পদত্ত হইয়াছে। আর তত্ত্বমসি। অহং ব্রহ্ম। প্রভৃতি ভ্রান্তপােষক বাক্য সত্য বলিয়া প্রমাণ করিতে যত্ন করা হইয়াছে। এইত গেল একাত্ম বাদিগণের সামান্য মত, এ বিষয়ে আমাদিগের কি মত তাহ। এখন ক্রমে ব্যক্ত করা যাইতেছে । বস্ নি ? সচ্চিদানন্দ অদ্বিতীয় ব্ৰহ্ম । বন্ধই আছেন, ব্রহ্মই সতা, ব্রহ্মই নিত্য, ব্রহ্মই অবিনাশী, ব্রহ্মই সমস্ত জুনের ও সমস্ত আনন্দের আধার এই জন্য। অবস্তু কি ? মায়া বা অজ্ঞান। কেন ? তাহা নাই, তাহা মিখ, তাহাতে জ্ঞান ও আনন্দের কণামাত্র ৭ নাই এই জন্য। যাহা আছে, তাহা অবশ্যই বস্তু, যাহা নাই তাহা অবশ্যই অবস্তু হইবে । অতএব.মাৰ অজ্ঞান ৭ শ '। **
( ৭৪ )
সে কিছুই নয়, একাত্ম বাদিগণের কথাই তাহার অকাট্য
প্রমাণ *
২য়। যাহা নাই, যাহা মিথ্যা, তাহাব সমষ্টি হইতে
পারে না। বস্তুতঃ যাহার অস্তিত্ব নাই তাহার সমষ্টি এ
কথা শুনিলে হাসি ও দুঃখ দুইই উপস্থিত হয়। বামে অস্ক
স্থান শূন্য রাখিয়া কেবল শূন্য দ্বারা যিনি রাশির গণনা
করেন তিনি কি উন্মাদ নহেন ? সুতরাং আমরা বলিতে
পারি যে মিথ্যাকে কৌশল ক্রমে সত্য বলিয়া প্রতিপন্ন
করিয়া আবার তাকে মিথ্যা বলিয়া বুঝিবার উপদেশ
দেওয়াতে লেকের জ্ঞানচক্ষু আবৃত করিবার জন্য এক
রূপ চাতুর্য্যজাল প্রস্তুত করা হইয়াছে। আবার যাহা সত্য
যাহা নিত্য যাহা বস্তু, তাহার সঙ্গে মিথ্যা বা অবস্তুর
সম্মিলন হয় না হইতেও পারে না। বস্তুতঃ যাহা নাই
কিছু নয়, তাহার সহিত সম্মিলন হবে কি রূপে ? সুতরাং
ঊর্ণনাভ যেমন স্বকৃত জালের নিমিত্ত ও উপাদান উভয়-
বেদান্তমতে এই অজ্ঞান সৎ এবং অসৎ উভয় দ্বাৰ
অনির্বচনীয়। পঞ্চদশীতেও ঐরূপ উল্লিখিত হইয়াছে। কিন্তু
যাহা সৎ তাহা সই, যাহ। অসৎ তাহা কখন সৎ হইতে
পারে না। অজ্ঞান ব্রহ্মের শক্তি, সুতরাং অজ্ঞান সৎ।
আবার অজ্ঞানের উৎপত্তি বিনাশ আছে এই জন্য তাহা
অসৎ। এরূপ হইতে পারে না; কেন না যাহা ব্রহ্মের শক্তি
" তাহা চিরকালই সৎ থাকিবে, অসৎ কখন হইবে না।
যাহারা এরূপ কল্পনা করেন তাহারা ভ্রান্ত।
;
I ৭৫ )
বিধ কারণ, মায়ী ঈশ্বর ও তেমনি নিমিত্ত ও উপাদান
কাবণ, ইহা বলা যাইতে পারে না।
উর্ণনাভেব যে
কর্তৃত্ব আছে, তাহাই তাহার স্বকৃত জালের নিমি,
আব উর্ণনাভের শরীর সেই জালের উপাদান। তবে কি
রহ্মের শরীব আছে ? অ জ্ঞান বা মায়া কি ঈশ্বরের শবীর ?
যদি মায ঈশ্বরের শরীর হয় তবে সে মায়া অবস্ত হইবে
কিরূপে ? সুতরাং মায। মিথ্যা বা অবস্তু হইতে পারে
না এবং ঈশ্ববে জগৎ ভান্তি বলিয়। একাত্মবাদিগণ যে
আড়ম্বর করিয়াছেন তাহাও হইতে পারিল না।
কেন
তাহাদিগের কথা দ্বারা মায়া ঈশ্বর হইতে ভিন্ন বা অবস্তু
বলিয়া প্রমাণ হয় না। আর যদি মায়াকে অবস্তু বলিয়া
প্রতিপন্ন করিতে চাও, তবে বস্তু অবস্তুতে সম্মিলন হইতে
পারে না, সুতরাং ঈশ্বরে জগৎ ভ্রান্তি হইতে পারিল না।
যখন বস্তুতে অবস্তুর উপস্থিতি হইতে পারে
না *, যখন মায়া কিছুই নয়, তখন তাহাতে উপাদান হই.
বার বন্ধু কোথায় ? যখন উপাদান হইবার কিছুই নাই,
তখন তাহার বিশুদ্ধসত্ত্ব প্রাধান্য এবং মলিনসত্ত্ব প্রাধান্য
* মায়া ব্রহ্মের শক্তি কিংবা গুণ বলিয়া স্বীকার করিলে
ব্রহ্মেতে মায়া থাকিতে পারে। সে গুণ বা সে শক্তি কখন
সুখ দুঃখ ও ক্ষুধা তৃষ্ণার অনুগত হইতে পারে না। যে বস্তুর
যে শক্তি তাহা সেই বস্তুর উপযুক্ত হইবে অনুপমুক্ত হইতে
পাবে না। অগ্নির দাহিকা শক্তি অগ্নির অনুরূপ। উহা ।
হণ কাষ্ঠ ভস্ম করে, অগ্নিকে ভস্ম করিতে পারে না।
কিরূপে সাত হইতে পারে, এবং তন্নিষ্ঠ ব্ৰহ্ম ঈশ্বর, পা,
বিশ্ব, বৈশ্বানর প্রভৃতি কল্পনাই বা কিরূপে হইতে পারে ?
৪। অধ্যারােপ ন্যায় কি ? অবস্তুতে বস্তু জ্ঞান।
যেমন রঞ্জু সর্প নহে, অথচ রজুতে সর্প বলিয় ভ্রান্তি জন্মে,
ইহাকে অধ্যারোপ বলা যায়। এইরূপ অধ্যারােপ ন্যায় ও
এ হলে সঙ্গত হইতে পারে না। কেন না বুজুতে যে সর্প
বলিয়া ভ্রান্তি জন্মে তাহ। কাহার ? যাহাব সর্প বিষয়ক
জ্ঞান আছে।
এক দিন যে সর্প আপন চক্ষুতে কোথাও
দেখিয়াছে, যে সর্পের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে, রজু দেখিলে
তাহারই সর্প বলিয়া ভাস্তি জন্মিতে পারে। কিন্তু যে কখন
সর্প ' কিরূপ জানে না, সর্পের অস্তিত্ব মাত্রেও বিশ্বাস
করে না, তাহার তদ্বিষয়ক ভ্রম জন্মিতে পারে না।
এব যে মায়া অবস্তু, যাহার বস্তুতঃ অস্তিত্ব নাই, তদ্বিষয়ক
জ্ঞান আসিবে কোথা হইতে ? যদি মায়াবিষয়ক জ্ঞান
পূর্ব হইতে না আসতে পারে, তবে ভ্রমও আসিতে
পারে না ।
এতদপেক্ষা আরও এক চমৎকার রহস্য আছে।
* পঞ্চদশী প্রণেতার মতে মায়া ব্রহ্মের শক্তি, সুতরাং
অভিন্না এবং অনাদিসিদ্ধা। এরূপ হইলে তজ্জন্য ভ্রান্তি
হইতে পারে না। কেন না শক্তির প্রতি শক্তের কর্তৃত্ব,
শজের প্রতি শক্তির কর্তৃত্ব নাই। আমার শক্তি দ্বার, আমি
কাৰ্য্য করিতে পারি, ভ্ৰাস্তু হইতে পারি না।
।
( ৭৭ )
“আমি ব্ৰহ্ম” এবং “তুমিও ব্রহ্ম” এই কথা লইয়া একাত্মবাদী
নাকিগণ মারামারি করিয়াছেন, কিন্তু ইহাৰ ভিতৰে
প্রবেশ করিয়া দোষানুসন্ধান কবিয়াছেন এরূপ বােধ হয় না।
আমি ব্ৰহ্ম অথচ আমি রজ্জুতে সর্প দেখিতেছি, তুমি ব্রহ্ম
অথচ তুমি শুক্তিতে রজত দেখিতেছ কেন ? আমিও
- তুমিও ব্রহ্ম, তবে ভ্রান্তি কাব ? ব্ৰহ্ম সচ্চিদানন্দ
সুতরাং ব্রহ্মের ভ্রান্তি নাই, ইহা স্বতঃসিদ্ধ। “অহং ব্রহ্মের
ভ্রান্তি' বলিলে ও সচ্চিদানন্দ ব্রহ্মেরই ভ্রান্তি বলা হইতেছে।
সুতরাং “ব্ৰহ্ম সৎ স্বরূপ, ব্রহ্ম আনন্দস্বরূপ এ সকল ফাত্য
বিনাশ প্রাপ্ত হইতেছে। ইহা যদি বিনাশ পাইল, তবে
সচ্চিদানন্দ ব্রহ্মের উপরে সাতিক খঙ্গাঘাত করা হইল।
ব্রহ্মের এত দুর্গাত, এত অবমাননা কেন ?
বিড়ম্বিত হইলেন কেন ? এ কি একাত্ম বাদিগণের মহিমা
অথবা তাহাদের কল্পিত মায়াব প্রভাব
?
মায়া যদি স্বতন্ত্র। হন, তবেই তদ্দর্শনে ব্রহ্মের ভ্রান্তি
হওয়া সম্ভব; কি একাত্মৰাদিগণ তাহা বলেন না। তাহা
বলিলে ব্রহ্মের অদ্বৈতত্ব বিনষ্ট হইয়া যায়। তথাপি মায়ার
অসীম প্রভাব কল্পনা করিয়াছেন, ইহা অল্প আশ্চহ্য নহে।
আবাৰ মায়া যদি শক্তি, তবে তাহাতে ভ্রান্তি হইবে
কিরূপে? কেন না শক্তিতে ভ্রান্তি নাই, ত্রুটিতেই ভ্রান্ত।
পরব্রহ্মে একবিন্দু ও ত্রুটি নাই, এই জন্য তিনি সর্বশক্তি-
ম ।
অনন্তশক্তি অনন্ত জ্ঞান ব্ৰহ্ম ভ্রান্ত, ইহা অপেক্ষা
নখের সংবাদ আর কি আছে ?
( ৭৮ )
ইহারা যে মায়াকে প্রথমতঃ অবস্তু বলিয়াছেন, পরে
অ'বার সেই মাকে এত দূর প্রবল প্রতাপ অর্পণ কবিয়া
ছেন যে ব্রহ্মের উপরে ও তাহার আধিপত্য ! যে মাযা অবস্তু,
সে মায়ার এত প্রভাব হইল কিরূপে ? হায় ! অবস্তুর এত
ক্ষমত। হইল যে সে বস্তুর উপরে, সচ্চিদানন্দ ব্রহ্মের উপবে
আধিপত্য করিল ? কি চমৎকার! কি অসঙ্গত ভ্রান্তি ।
অনেকে এই মতকে আবার অতি উচ্চ জ্ঞানে আলিঙ্গন
করিয়া থাকেন। তাহাদিগের প্রতি আমার বিনীত নিবেদন,
যদি তঁাহাবা বা অন্য কেহ এই মারাত্মক মতে যােগ দিতে
যান, তবে অগ্রে ইহার গঢ় অহা ঘটিত সত্যাসত্য বিশেষ
রূপে আলােচনা কবিয়া দেখিবেন। যদি বিশ্বাসযােগ্য হয়,
পরে গ্রহণ করিবেন।
সহসা অন্য কর্তৃক পরিচালিত
হইয়া ইহাতে বিশ্বাস স্থাপন করিলে সত্যের প্রতি অন্ধ দৃষ্টি
হইয়া পড়িবেন ।
যাহা বলা হইল তদ্বারা সুন্দর বুঝা যাইতেছে যে
একাত্মবাদ মিথ্যা, অলীক এবং অপ্রমাণ, সুতরাং অগ্রাহ্য ।
যদি একাত্মবাদ অগ্রাহ, তবে গ্রাহ্য কি ? অবলম্বণীয় কি ?
কোন্ মত আশ্রয় করলে আমাদিগের মঙ্গল ? ইহার এক
মাত্র উত্তর এই, যাহা বিশ্বাসসিদ্ধ, তাহাই অবলম্বনীয়।
বিশ্বাস্য এবং বিশ্বাস বাখিবার স্থানই বা কোথায় ? একাত্ম
বাদিগণ ব্রহ্মের যে লক্ষণ উদ্ধত করিয়াছেন, আমরা কেবল
মাত্র সেই টী ধরিয়া আলােচনা করিলে বিশ্বাস রাখিবার
।
( ৭৯ }
অনেক স্থান পাইতে পারি, কিন্তু তবতা ও পূত
শ্রুতিসকল অনুসন্ধান করিলে আরও সুন্দর বিশ্বাসের ভূমি
পাইতে পারা যায়।
একাত্মবাদীরা বালন,
সংসরূপ, চিংস রূপ,
অানন্দ স্বরূপ এবং দ্বিতীয়। সংস্কপ কি ? যিনি সকল
দেশে ও সকল কালে সমান রপে বিদ্যমান। চিং
স্ব কপ কি ? যিনি গুপ্ত ও প্রকাশ্য সকল তত্ত্ব জানেন।
কোন বিষয়ে যা হার এক বিন্দ ও অল্প তা নাই। আনন্দ
কি ? যাহাতে দুঃখ, শােক, ভয়, বিষাদ প্রভৃতি নাই।
অদ্বিতীয় কি ? না—যাহাব আর দ্বিতীয় নাই অর্থাৎ
যাহার অনুরূপ কোথাও নাই। এতদ্ব্যতীত স্তন্যান্য
শ্রুতিকাগণ ইহাকে সর্বশক্তিম সাশ্রয়, সর্বনিযা,
মঙ্গলম, শুদ্ধ, অতিম নল যা নির্দেশ কৃবিছেন।
যিনি দেশ ও কালে পরিচ্ছন্ন, স্থল, সূক্ষ্ম, গুপ্ত ও প্রকট,
বেদ্য ও অবেদ্য সকল জানিতেছেন, য! হাতে দুঃখ, শোক,
ভয়, বিষাদ প্রতি স্থান পাইতে পারে না, তিনি অবশই
সৰ্বশওি মা। যিনি সর্বশক্তিমান্ র্তাহার এক বিন্দু ও ত্রুটি
থাকিতে পারে না। ত্রুটি থাকিলে সর্ব 'তা সব্বশ জমও।
থাকে না। যাহার ক্রটি মাত্র নাই, সঁহব অজ্ঞাত যিয়
মাত্র ও নাই, যাহাতে দুঃখ শােকাদি আসিতে পারে না,
।
* “সক্মনিয়ন্ত, সৰ্ব্ববিৎ সৰ্বশক্তিমদ, ধ্রুবং পূর্ণম
প্রতিমমিতি।”
( ৮০ ), * । হার মত যে আর নাই, ইহা বুঝিবার আর সংশয় রহিল মা। পূর্বোক্ত ব্যক্তিগণ ব্রহ্মের অদ্বিতীয়ত্ব রক্ষা করিতে গিয়া তাহাকে সকল প্রকার কাৰ্য হইতে অবসর প্রদান কবিয়া- ছেন। কাম্য না করিলেও চলে না দেখিয়া কাষ্যকী এক মায়া কল্পনা করিয়া আবার সেই অদ্বৈতত্ব নষ্ট করিয়াছেন। কিন্তু এরূপ করিয়া যে কি লাভ হইল, তাহা একবারও ভাবিয়া দেখেন নাই। বস্তুতঃ অদ্বিতীয় কি? অামরা পূব্বেই বলিয়াছি, তাহার অনুরূপ আর নাই সুতরাং তিনি অদ্বতীয়। এক গুচ্ছ তৃণের সঙ্গে ব্রহ্মে বু দ্বৈতত্ব কল্পিত হইতে পারে না। এই বিশ্ব তাহার নিকটে এক গুচ্ছ তৃণ- সদৃশ, তাহার সঙ্গে ব্রহ্মের আনু রূপ্য কি প্রকারে হইবে ? যাউক, যখন ব্ৰহ্ম জগৎ সৃষ্টি করেন, তখন বস্তুতঃ এক গুচ্ছ তৃণও ছিল না। যখন তৃণটী মাত্রও ছিল না, তখন তিনি আপন ঐশী শক্তিপ্রভাবে এই সমুদায় সৃষ্টি করি- ছেন *। কুম্ভকার যে ঘট প্রস্তুত করে, স্বর্ণকার যে কুণ্ডল প্রস্তুত করে, তাহার নাম নির্মাণ, সৃষ্টি নহে। কেন না মুত্তিকা ছিল, অন্যান্য উপকরণ ছিল, সেই সকল বস্তুর সাহায্য লইয়া মনুষ। নিজের বুদ্ধিপ্রভাবে ঘটকুণ্ডলাদ প্রস্তুত করিতে পারে, সুতরাং এরূপ কার্যের সঙ্গে ঐশী শক্তির তুলনা হইতে পারে না। সৰ্ব্বশক্তিমান ঈশ্বরের যে । “ব্ৰহ্মৈবৈকমিদমগ্র আসীন্নান্যৎ কিঞ্চনাসী, তবে সমজৎ।” t
( ৮১ )
সৃষ্টি, তাগ’ত করণ উপকৰণ কিছুই চাই না। করণ বা
উপকরণ চাহিলেই ত্রুটি আসিবে, সুতরাং সর্বশক্তিমত্তা
আব থাকিবে না। একাত্ম বাদিগণ নিজের ত্রুটী চিন্তা
করিয়া দেখিয়াছেন, কোন উপকরণ না পাইলে কিছুই
করতে পাবেন না। সুতরাং ঐ স্থান হতে ফিরিয়া নিশ্চষ
করিয়াছেন যে উপাদান ব্যতীত যখন কোন বস্তু হইতে
পাবে না, তখন ঈশ্ববের জগৎ কাযেও উপাদান চাই।
এই রূপে নিজের অসামর্থ্য ঈশ্ববের স্কন্ধে আরােপ কবিয়া
মাথা ব্যতীত কেবল বিশুদ্ধ ব্ৰহ্ম কোন কাৰ্য্য করিতে পারেন
ন', ইহাই স্থির সিদ্ধান্ত করিয়াছেন। আমরা এরূপ বলি
আমরা বলি, ঈশ্বরের জগৎ কর্তৃত্বে উপাদান চাই
না, উপকরণ করণ কিছুই চাই না, কেবল তার শক্তি
চাই । কেন না এ সকল চাহিলেই ত্রুটি আইসে, তাহার
সব্বশক্তিমত্তা, অদ্বৈতত্ত্ব, চিৎ স্বরূপ, আনন্দস্বরূপে কলঙ্ক
আইসে। অতএব ঈশ্বর আপন ঐশী শক্তিপ্রভাবে
সমুদায বিশ্ব সৃষ্টি করিয়াছেন, আপন শক্তি প্রভাবে জানেন,
ও রক্ষ! করেন। মনুষ। পশু প্রভৃতি সচল ও অচল
সমুদায় তাহার আশ্রিত, তিনি সকলের আশ্রয় । তঁাহার
মহত্ত্ব, সৌন্দর্য্য, এবং অপ্রতিম ভাব দেখিয়া মনুষ্য তঁাহার
উপাসনা করিবে, ইহাই যথার্থ, ইহাই সত্য, ইহাই
বিশ্বাস্য।
--
২. অ ও ৫০ জন
ক) ১-অজ।
t,
যুদ্ধ-অধ্যায়
ঈশ্বর।
জগতে যত পদার্থ আছে, তাহার একটীরও পূর্বে নাম
ছিল না। তাহাদের স্বভাব ও শক্তি অনুসারে পবে মনুষ্য
কর্তৃক প্রত্যেক বস্তুর নাম প্রদত্ত হইয়াছে । যখন মনুষ্যগণ
বস্তু সকল ব্যবহার করিতে প্রবৃত্ত হয়, তখন তাহাদের
সভাব ও শক্তির আলােচনা না করিয়া থাকিতে পারে না।
সেই সকল বস্তু যখন কার্যে প্রয়ােগ করিবার আবশ্যক
হইল, তখন তাহাদিগের নামও হইল।
ঈশ্বর সম্বন্ধে ও সেই রূপ। যখন জগৎ ছিল না, যখন
জগতে জ্ঞানবান মনুষ্য ছিল না, তখন ঈশ্ববকে কে অনুভব
করিবে । সুতরাং তৎকালে তঁাহাব নামও ছিল না। বস্তুতঃ
ঈশ্বর নিরুপাধি । দেশভেদে, ভাষাভেদে, মনুষ হৃদয়ের ভাব
ও উন্নতিভেদে লোকেরা তাহাকে পৃপক্ পৃথক্ নাম দিয়া
তাহার স্বভাবের আলোচনা করিয়া যখন মনুষ্য
বুঝিতে পারে তাহার শাস্তৃত্ব আছে, কেহ তাহার শাসন
অতিক্রম করিতে পাবে না, তখন তাহাকে শশু। বলিয়া
সম্বোধন করে। যখন তাহাতে পালকের স্বভাব দেখিয়া
বিমুগ্ধ হয়, তখন তাঁহাকে পিতা বলিয়া ডাকে। যখন
ডাকে।
( ৮৩ }
হতে বিছাবকের ভাব দেখিতে পায়, তখন তাকে
রাজা বলিষা সম্বোধন করে। যখন মনুষ্য হার ঐশী
শক্তির পরিমাণ কবিতে ন! পাবিয়া ফিবিয়া আইসে, তখন
তাহকে সর্শ্বশক্তিমান, ও যখন দেখিতে পায় তাহাতে
দুঃখ শােক ভয বিষাদ কিছু মাত্র নাই, তখন তাহাকে
আনন্দ সরূপ বলিয়া আনন্দে গলিয়া যায় । যখন দেখিতে
পায় তাহার সহ সকল কালে ও সকল দেশে বিদ্যমান,
খন
হাকে
সতরূপ না বলিয়া থাকিতে পারে
না।
যখন তাহার স্নেহ ও মমতা, ক্ষমা ও সহিষ্ণুতার
পরিচয় পায়, তখন ব্য গ্রতা সহকারে তাহাকে জননী
বলিয়া পরিতৃপ্ত হয়।
যখন তাহার জ্ঞান শক্তির আলো-
চনা কবি। তার নৈপুণ্য ও অসীম জ্ঞাতৃত্ব অনুভব
করতে পারে, তখন তাহাকে স্রষ্ট। নিয়ন্তা ও সৰ্ব্বদশী
বলিয়া সম্বোধন করে। যখন মনুষ্য ভাবিয়া দেখিল
ঈশব ভিন্ন এক মুহুত্ত বাঁচিবার যাে নাই, একটী নিশ্বাস
প্রেশ্বাসও তাহার করুণ ভিন্ন প্রবাহিত হইতে পারে না,
তখন তাহার নাম জীবনের জীবন আত্মার আত্মা রাখিল।
এইরূপ চিন্তা ও উপলব্ধি দ্বারা মনুষ্য ঈশ্বর হইতে যখন যে
ভাব দোহন করতে পারে, তখন সেই ভাবের অনুরূপ
একটা নাম দিয়া হাকে ডাকে। বস্তুতঃ তাহার কোন
নাম নাই, যদি পূৰ্ব্ব হইতে তাহার কোন নাম থাকিত, তবে
সকল দেশীয় নরনারী তাহাকে একটা মাত্র নাম ধরিয়া
যখন মনুষ্য বুঝিল যে ঈশ্বরকে ছাড়িয়া থাকিলে জীবন শূন্যভাৰ ধারণ করে, তখনই তাহার নামের প্রয়ােজন হইয়াছিল, এবং তখন হইতে কমে তাহার অনন্ত শক্তির পরিচায়ক অনন্ত নাম জগতে ব্যাপ্ত হইল। ঈশ্বরের কোন ভৌতিক আকার নাই, ঈশ্বর নিরাকার। ঈশপকে নিরাকার বলিলে ইহা বুঝায় । যে তাহাব কিছুই হার যাহা আছে, তাহাই সমস্ত জগতের মূল কারণ, কি উহা ইন্দ্রিয়গণের অবিষয়ীভূত। ভৌতিক বস্তু বা সৃষ্ট বস্তুর প্রতিই ইন্দ্রিয়গণের অধিকার। সৃষ্টির অতীত বস্তুর প্রতি ইন্দ্রিয়ের কর্তৃত্ব চলে না *। ঈশ্বর সকলের স্রষ্টা, তিনি সৃষ্ট নহেন; সুতরাং তিনি সৃষ্টির অতীত। সৃষ্টির অতীত ঈশ্বর ভিন্ন আর কিছুই নাই; জন্য তাহার নিকটে ইয়িদিগেরও কোন ক্ষমতা নাই । ইমি আমাদিগের জ্ঞান লাভের প্রধান উপায়। যে স্থানে ইন্দ্রিয়ের কোন অধিকার নাই, সে স্থানে আমাদিগের জ্ঞানও অচল। তবে কি আমবা ঈশ্বরকে অনুভব কৰিতে অনধিকারী ? চিন্তা করিলে প্রতীত হইবে যে আমরা তাহাকে না অনুভব করিয়াই থাকিতে পারি না। জান বাহ্য জগতে কার্য করিতে গিয়া যেমন ইন্দ্রিয়দিগের মুখ- পেক্ষা করে, অন্তর্জগতেও তাহাকে তাহাই করিতে হয় । * “নেতি নেতীতি নেভীতি শেষতঃ যৎ পর পদম্। নিয়াক মশকত্বাৎ তান্তীতি সুখী ভব।”
. ৮৫ )
}
}
হইল না।
4
শবেব নিকটে যাইতে ইন্দিয়গণের সাহায্য পরম্প বা-
সম্বন্ধে, সাক্ষাৎ সম্বন্ধে নহে। প্রথম ইলিযগণের সাহায্যে
বাহা বস্তু, বাহ্য বস্তুর সাহায্যে অাত্মা, আত্মার সাহায্যে
পরমাত্মাকে প্রাপ্ত হইয়া থাকি। ইহাতে ঈশ্বর স্বতঃসিদ্ধ
রূপে জ্ঞানের আয়ত্ত, এ কথার কোন বাধা উপস্থিত
কাবণ 'বাহবস্তু জ্ঞান এবং আত্ম জ্ঞান যেমন
মুগপৎ প্রস্ফুটিত হইতে থাকে, আত্মজ্ঞানের সঙ্গে সঙ্গে
তেমনি ঈশ্বর জ্ঞান ও প্রস্থ, টিত হইতে থাকে। একেবারে
স্বতঃসিদ্ধ না বলি যা পরম্পরা প্রদর্শন করা কে বল ?
অভ্যুদয়ের গ্রুম দেখাই' বব জন্য, এবং ইহাতে বিষয়টি
বুঝিবার পক্ষে সহজ হয় এই জন্য।
আমরা যখন জননীর ক্রোড়ে শায়িত থাকিয়া স্তন
পান করিতাম, তখনই ঈশ্বরের পবি চায়ক অসঙ্খ্য বস্তু বিদ্য
মান ছিল।
তখন যদি উপযুক্ত জ্ঞান প্রস্ফুটিত হইত,
ভাহাদিগের নিকট ঈশ্ববের সংবাদ অতি সহজে লাভ
কহিতে পারিতাম। চিন্তাপথে আপনাকে পূর্বাবস্থায়
স্থাপিত
যখন দেখি জননী এক অনির্ধায্য
প্রকৃতি দ্বারা পরিচালিত হইয়া আমাকে লালন পালন
করছেন ; যখন দেখি সে প্রকৃতিকে অবরুদ্ধ করিয়া
রাখিবার তঁাহার শক্তি নাই, অনেক সময় বিরক্ত হইয়া,
অথ। কেশবহনে অসমর্থ হইয়া ভালবাসিতে
চাহেন না; অথচ ভাল না বাসিয়াও থাকিতে পা-
( ৮৬ ),
*
রেন না; যখন দেখি প্রবল শীতের সময় দুঃখিনী জননী
স্বয়ং অনাবৃত শরীরে থাকিয়া অসীম দুঃখরাশি বহন
করিতেছেন, অথচ যাহা কিছু আচ্ছাদন সম্বল ছিল, সমুদায়ে
আমার শরীর আবৃত করিতেছেন, দুর্গন্ধময় আশয্যায়
নিজে শয়ন করিয়া আমাকে শুষ্ক ও “পরিস্কৃত শষ্যায়
রাখিতেছেন; যখন দেখি অসঙ্কুচিত চিত্তে আমার মল
মুত্রাদি ধৌত করিতেছেন, তাহাতে বিন্দুমাত্রও অনিচ্ছ।
বা বিরক্তির ভাব নাই; এই সকলের মূল কারণ কি
যদি একবারও সে সময়ে চিন্তা করিয়া দেখি, তখনই হৃদয়ে
ঈশ্বরের মূর্তি স্পষ্ট বিশ্বরিত দেখিতে পাই।
বার দেখি সেই স্নেহের প্রতিমার সহিত আমার
অতি সুন্দর সামঞ্জস্য রহিয়াছে। বাল্যকালে আমি সৰ্ব্ব
বিষয়ে অক্ষম। শয়ন, ভোজন, গমন, বাক্যদ্বারা মনের
ভাব ব্যক্ত করণ, ইহার কিছুই করিতে পারি না। রােগ
কি, সুস্থতা কি, হিত কি, অহিত কি, পথ্য কি,
অপথ্য কি কিছুই বুঝিতে পারি না। আমি আপনি
আপনার কোন বিষয় নিশ্চয় করিতে কি তদনুসারে
কাৰ্য্য করিতে অসমর্থ। এমন কি আমি ভুঙ্গে।
মুখে হাত দিতেও সঙ্কোচ করি না। ७ चदशत्र
সেই গেহের প্রতিমা জননী ভিন্ন আমি এক মুহুর্ত ও
জীবন বাঁচাইতে পারি না। কোথা হইতে জননী আসি-
লেন? জননীর অনিচ্ছাসগুত সেই মেহরস
সেই মেহরস কোথা
করেন।
হইতে আসিয়া তাহার হৃদয় অধিকার করিল; এবং সে
স্নেহে আমার এত উপযোগী কে করিয়া দিল, এ সকল
কথা চিন্তা করিলে কি আর ঈশ্বরকে বুঝিবার বাকী থাকে ?
আবার দেখি জননী আমার শরীরপোষণ জন্য স্তন্য পান
সে স্তন্যের প্রতিও তঁাহার কোন কর্তৃত্ব নাই ।
যখন তঁাহার শরীর রুগ্ন হয়, অথবা শারীরিক অবস্থার
কোন ব্যতিক্রম ঘটে, তখন ইচ্ছ। ও যত্ন করিয়া জননী
স্তনে দুগ্ধ আনয়ন করিতে পারেন না; আবার যখন সুস্থ
ও সবল শরীরে থাকেন, তখন আপনা হইতে এত দুগ্ধ
প্রবাহিত হইয়া পড়ে যে সেই প্রবল দুগ্ধ প্রবাহ নিবারণ
করিতে না পারিয়া অনেক সময় তঁাহাকে পীডার হস্তে
পড়িয়া কঠোর যন্ত্রণা সহ্য করিতে হয়; যখন দেখি
স্তন্য দুগ্ধের প্রতি জননীর নিজের কোন ক্ষমতা চলে না,
এবং কেবল আমার জীবন রক্ষার উপায় ভিন্ন অন্য কোন
প্রয়ােজনেও আইসে না, তখন সেই অন্যের স্রষ্টা স্নেহেময়
পিতাকে না বুঝিয়া আর থাকিতে পরি না।
শিশুকোল অতিক্রম করিয়া বুদ্ধির কিঞ্চিৎ পরিপাক
হইল, বয়ঃক্রমও কিঞ্চিৎ বৃদ্ধি পাইল, এখন জননীর নিকট
হইতে ক্রমেই সংসারের দিকে চলিলাম, সম্মুখে বিস্তৃত
পরিবার। তন্মধ্যে প্রথম পিতাকে পরম পিতার প্রতিনিধি,
রূপে প্রাপ্ত হইলাম। আমার সুখের জন্য পিতা কত ক্লেশ
বহন করেন, কত যত্ন কষিয়া আমার জন্য আহার ও পৰি-
( ৮৮ )
চ্ছদ যোগাইয়া দেন ; আমাকে পবিত্র, বিনীত, সুশীল ও
ধৰ্ম্মা নুরক্ত দেখিলে, আমাকে সুস্থ ও সবল শরীর দেখিলে
পিতার হৃদয়ে আনন্দ আর ধরে না। আমি যখনই চিন্তা
কবি তখনই দেখিতে পাই,তাহার সমস্ত দিন কেবল আমার
মঙ্গল চিন্তাতেই অতিবাহিত হয়। আমাকে আহার কবিতে
দেন মঙ্গলের জন্য, আহার কবিতে নিষেধও করেন মঙ্গলের
জন্য, দণ্ড দেন মঙ্গলের জন্য, পুরস্কার দেন মঙ্গলের জন্য।
আমার প্রতি যাহা কিছু কবিতে দেখি সকলেরই উদ্দেশ্য
কেবল আমাৰ মঙ্গল। আমার আহারের নিয়ম, আমার
শয্যার নিয়ম, আমার বস্ত্রের নিয়ম, যখন পিতাকে এই
সকল নিয়মকর্তারূপে সম্মুখে দেখিতে পাই, তখন সমস্ত
মঙ্গলের আধার সেই পরম পিতাকে আর না বুঝিয়া
থাকিতে পারি না।
আবার পিতাকে ছাড়িয়া খুল্লাত, জ্যেষ্ঠ তাত প্রভৃতির
নিকটে গেলে আও নূতন রূপে তঁাহার প্রেমের সংবাদ
পাই। মাতৃসা, পিতৃস্বসা, ভ্রাতা ভাগনী যাহার নিকটে
যাই, তাহারই মুখজ্যেতিতে সেই সত্য সুন্দর মঙ্গল
পুৰুষকে দেখিতে পাই। তঁহাদিগের স্নেহমাখা সম্বােধন,
স্নেহমাখা দৃষ্টি, স্নেহমাখা আলিঙ্গন ও মুখচুন প্রভৃতি
যেমন অকৃত্রিম মনােহর, তেমনই সেই পরম পিতার
পরিচাক। এই সকল সুখের পরিবার কোথা হইতে
আসিল ?
কে এমন সুখের পরিবার মধ্যে আমাকে সংস্থা
( ৮০ ) পিত করিল ? এ চিন্তা কি বিরাম পায় যতক্ষণ সেই বিশ্বপিতার সুন্দর পরিচয় না পাইতে পারি ? ইহা অপেক্ষা যখন বুদ্ধি পরি , ট ও পরিত হইতে আৰম্ভ হইল, তখন নিজের শরীর ও জগতের সাধারণ কাৰ্য্য প্রণালীর উপর দৃষ্টি পড়িতে লাগিল । নিজের শরীরে দেখি হস্ত, পদ, চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা প্রভৃতি অপূৰ্বসাধন ও কালঙ্কার বিদমান। ইহার প্রত্যেক সাধনের প্রয়ােজন ও সৌন্দর্য যদি চিন্তা করি তবে একেবারে অক্ ও নিস্তব্ধ হইয়া যাই । প্রথম হস্ত । হস্ত এক অদ্ভুত প্রয়োজনীয় সাধন। হস্ত যদি এক দিন বিকল থাকে, তবে সকল সংসারকে অসার বলিয়। বােধ হয়। হস্তের গঠন ও পরিমাণ এবং উপযােগি- তব বিষয় চিন্তা করলে হৃদয় পুলকে পূর্ণ হয়। ইহার দৈর্থ, ইর আয়তন, ইহার সন্ধি: সকল অতি নির্দোষ ও প্রয়োজনীয় । ইহার অ লি সকল ফোন টী হ্রস্ব কোনটা দীর্ঘ, কিন্তু এই রূপ হ্রস্ব দীর্ঘ না থাকিলে কাৰ্য্য চলে না এবং দেখিতেও সুন্দর হয় না। আমরা যত ভাবি, ততই ইই মধ্যে অদ্ভুত বিচার শক্তির পরিচয় পাই। র পর পদ। পদের বিষয় চিন্তা করিলে আপনাকে কত সুশা:সৗভাগ৷ীল বলিয়া বিবেচনা কর, তাহা ব্যক্ত করা দুকর। ইহার প্রয়ােজনীয়ত। ইহার র্দোষ গঠন- প্রণালী জাতি, অপূর্ব। ইহার সমুদায় বিষয় বিস্তার করিয়া তুল্য হইত। লেখা নিষ্প্রয়োজন। কেননা প্রতি পদনিক্ষেপে প্রত্যেক মনুষ্যই তাহা সুন্দররূপে অনুভব করিতেছেন। অতঃপর চক্ষু। চক্ষু না থাকিলে আমার সম্বন্ধে বাছ জগৎ থাকা না থাকা আমি সেই পরমােপকারী চক্ষুর সাহায্য ব্যতীত এক পদ ও চলিতে পারি না, এবং আমার প্রয়ােজনীয় একটা বস্তু বাছিয়া লইতে কিম্বা কাৰ্যে প্ৰয়ােগ করিতে পারি না। এমন কি চক্ষুর অভাব হইলে নিজের খাদ্য বস্তু পৰ্যন্ত দেখিতে পারি না। চক্ষু ব্যতীত আমি একেবারে অচল। আবার দেখি এই চক্ষু শরীরের অনুপম সৌন্দৰ্য সম্পাদন করে চক্ষু অভাবে অতি রূপবান পুরুষও শ্রীহীন বলি যা প্রতীত হন। সেই চক্ষু এমন সুনিয়মে উপযুক্ত স্থানে স্থাপিত হইয়াছে, যে, তাহার অক্স মাত্রও ব্যতিক্রম করিলে আর সৌন্দর্য্য থাকে না। পদ্ম যেমন কোমল, সুতরাং নির্জল স্থানে থাকিলে শুকাইয়া যায়, চক্ষুও সেইরূপ কোমল পদার্থে নির্মিত 'বলিষ্মা তাহ) সৰ্ব্বদা সজল ভাবে অবস্থান করে। আবার বাহ্য জগতের নানা প্রকার ঘট, নাতে সেই সুন্দর চক্ষু অতি সংজে বিনষ্ট হইতে পারে, এ জন্য অতি সুন্দর কৌশলময় দুই টী কবাটে তাহা জাবৃত হইয়াছে। সেই কবাট এমন সুন্দর কৌশলে ব্যব- পিতষে, বিপদ উপস্থিত হইলে সে আপনা হতে চকে যক্ষা করে, কার কিছু মাত্র চেষ্টার প্রয়োজন
( ১১ )
করে না। আবার সেই পাশ্বস্থ কবাট সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম কসব
লােমরাজিতে সজ্জিত রহিয়াছে, তাহা দ্বারা বাহিরের
আলােক ও উত্তাপ, কীট ও বালু কাকণাদি হইতে চক্ষু
রক্ষিত হইতেছে। চক্ষুৰ ন্যায়
প্রয়োজনীয় বস্তু, এক টা
হইলে বিলক্ষণ ত্রুটি হইত, কাৰণ দৈবাৎ এক টী বিষ্ট হই,
লেই সমুদায় জগৎ অন্ধকারে নিমগ্ন হইত। এক টী নষ্ট হই.
লে ও অন্যটার দ্বারা কাৰ্য্য চলিতে পারে, এজন্য চক্ষু
হইয়াছে। এই চক্ষুর দর্শনশক্তির বিষয় চিন্তা করিলে
আরও বিস্মিত হইতে হয়। যত সূক্ষ্ম ও দূর প্রস্থ বিষয় অব
লোকন করিতে না পাবিলে অনিষ্ট সম্ভব, চক্ষু তাহ।
সকলই দর্শন করিতে সক্ষম। অাবার উতাৰ যে অংশ
দৃষ্টির কার্য সম্পন্ন করে তারা একটা ক্ষুদ্র তৃণের ন্যায়
পৃক্ষ, কিন্তু তাহার শক্তি এত ব্যাপক যে, সে এক পলকে
অর্ধ জগৎ নিরীক্ষণ করিতে পারে। এই দর্শন শক্তি এত
শীঘ্রগামী না হইলে আমাদিগের কৰ্য্য অচল হইত।
তার পর কর্ণ । কর্ণ যে বিষয়ে উপযােগী বাহিরে
কাহার সমুদায় সামগ্রী বিদ্যমান। শশ্রবণ কর্ণের বিষয়,
কিন্তু উহা কেমন আশ্চর্য্য ভাবে আমাদিগের প্রয়ােজন
সম্পন্ন করে তাহা চিন্তা করিলেও অতুল আনন্দ প্রাপ্ত হওয়া
যায়। কর্ণের স্থান ও রচনা প্রণালী কেমন অভিনিগঢ়
কৌশল সম্পন্ন এবং তাহা দ্বারা মানুষ কেমন সুন্দর বলিয়া
প্রতীত হইতেছে। কাহার সাধ্য এইরূপ কৌশলপুৰ
-
ঘ। ঐ ব অনুরূ প ত করে ? এই পৃথিবীতে সুমধুৰ সঙ্গীত ১৭ বাদ্যনিনাঙ্গ, জননীর স্নেহ বাক্য, পিতার আশীর্বাদ গুরুর উপদেশ, ভ্রাতা ভগিনী ও কী পুত্রদির সুমধুর সম্ভাষণ, শত্রুর কর্কশ বাক্য ও কঠোর বজ্র নিনাদ, এ সকলই কর্ণের উপযােগী। কল না থাকিলে এ সকল সুখ কি রূপে অনুভব করিতাম, এবং ইহার মধ্যে ভিন্ন নির্দেশই বা কি রূপে করিতাম ? ভাবিয়া দেখিলে , প্রতীত হইবে, যদি আমাদিগের কর্ণ না না থাকিত জগতের অধিকাংশ সুখ হইতে আমাদিগকে বঞ্চিত থাকিতে হইত। নাসিকাও আমাদিগের পরমাপকারী যন্ত্র। শক্তি । ও উপযোগিতা অদ্ভুত। আপাততঃ দেখিতে নাসিকতে কেবল দুই টী বিবব মাত্র দৃষ্ট হয়। কিস ঈহার নিচ কৌশল নিচষের প্রতি মনােনিবেশ করিলে বিস্ময়ের অ'র ইয়ত্তা থাকে না। জগতে যত পদার্থ আছে, সকলই গন্ধের আবাস। কখন কোন গন্ধ বিষপূর্ণ হইয়া প্রবাহিত হইতেছে, এবং তাহা দ্বারা জগতের নানা অনিষ্ট ঘটিতেছে ; কখন বা গন্ধ জগতের প্রাণ বিতরণ করিতেছে। সুগন্ধ *স্প, সুগন্ধ থাক, ও সুগন্ধ প্রাণবাহী ঔষধ এ সকলই নাসিকার বিষয়। কোন গন্ধে শরীরনাশক বিষশক্তি ব- গান করে, কোন গন্ধে জীবনীশক্তি অবস্থান করে, কোন গন্ধ সুখের ও কোন গন্ধ দুঃখেব, তাহা নির্বাচন কথা নাসিকার কাৰ্য। নাসিকা ভিন্ন এ সকল কার্য অবধারিত । .
{ ১৩ )
হইতে পাবে না। আমরা যে পৃথিবীতে বাস করি,
ইহা নানাবিধ সুগন্ধ দুর্গরে আধাৰ। এনে নাসিকা
না হইলে এক মুহূর্তও চলে না। নাসিকা বিরক্ত না
হইলে ঐরূপ গন্ধ প্রবাহ পরিওলিত হওয়া অসম্ভব হইত ।
আবার ঐ নালিকা বিবর যদি বোমযুক্ত না হইত, বায়ুকে
বিশােধিত কবিয়াকে অভ্যবে লইয়া যাইত ? প্রত্যেক
বায়ুপ্রবাহে পূলি প্রভৃতি অনিষ্টকর পার্থ অভ্যস্তবে নীত
হইয়া প্রাণবিনাশ ইত। নাসিক। যে স্থানে আছে,
ঐরূপ স্থান ভিন্ন মনুষ্য এক বিকটকার জব্ধ হইত । বিনা
কর্তা ও বিনা চিন্তাতে কি এমন সুন্দর ও উপযোগী সাধন
প্রস্তুত হইতে পারে ?
ইহার পর রসনা।
রসনাও এক অপুর্ব কৌশল
ইহাতে বস্তু নিক্ষিপ্ত হইব। মাত্র তার কটুত্ব, তিক্তত্ব,
অম্লত্ব, মধুবত্ব প্রভৃতি গুণ বাহির হইয়া পড়ে ; সুস্বাদ
কি বিস্বাস অবধারিত হয়। আপাততঃ দেখিলে জিহাকে
এক খণ্ড পেশীসহ মাংসফলক বলিয়া বােধ হয়। কি
উহার আশ্চার্য শক্তির প্রতি মনােনিবেশ কৰিলে নিসুর
বিচারশক্তি, নিয়ন্তার মঙ্গল ইচ্ছ', নিস্তার উচ্চ অাভ পায়
বুঝিবার কিছুমাত্র অবশিষ্ট থাকে না। সমস্ত শরীরই
চৰ্ম্ম, মাংস, পেশী ও ঝিল্লি প্রভৃতি উপাদনে নিৰ্ম্মিত, কিন্তু
জিহ্বাতে তেমন গুণনির্বাচক শক্তি কোথা হইতে আসিল ?
শরীরের অন্য স্থানেই বা তাদৃশী শক্তি দৃষ্ট হয় না কেন?
ন
( ১৪ )
এ সকল বিষয় চিন্তা করিলে হৃদয় স্তম্ভিত হয়। জিহ্বাতে
ঐরূপ শক্তি থাকা প্রযুক্ত তাহা আমাদিগের খাদ্য বস্তু
নিৰ্ব্বাচনে নিতান্ত উপযুক্ত হইয়াছে। জিহ্বা না থাকিলে
আমাদিগের কত যে অমঙ্গলের সম্ভব ছিল, তাহা প্রত্যেক
ব্যক্তিই অনুভব করিতে সমর্থ ।
তার পর দস্ত। আমরা যখন নিতান্ত শিশু ছিলাম,
যখন দুগ্ধ ভিন্ন আমাদিগের অাহার ছিল না, তখন আমা-
দিগের দন্তও ছিল না। দন্ত নিষ্পেষণ ছেদন বিদ্ধ করণ
প্রভৃতি কার্যের সাধন। যখন দুগ্ধ মাত্র আহার ছিল,
তখন এ সকল কার্য্যের কিছু মাত্র প্রয়োজন ছিল না।
ৰখন কঠিন বস্তু আহার করা প্রয়োজন হইল, তখন অক
মাৎ কোথা হইতে মাংসশি ভেদ করিয়া দন্ত সকল শ্রেণী
বদ্ধ হইয়া বাহির হইল। এতদ্ব্যতীত ওষ্ঠ, তালু, চৰ্ম্ম,
লোম, নখ ও কেশ প্রভৃতি বাহ জগতের উপযােগী অতি
প্রয়ােজনীয় সজ্জানিচয়ে আমাদিগের শরীর সুসজ্জিত
হইয়াছে। এ সকল সজ্জার অভ্যন্তরভাগে অাবায় খাদৃশ
সুনিপুণ কৌশল বিদ্যমান রহিয়াছে তাহা ভাবিলে স্তম্ভিত
হইতে হয়। ইহার প্রত্যেক সজ্জা স্থষ্টিকর্তার অসীম মঙ্গল
ভাব ও বিচার শক্তির পরিচয় দিতেছে। এই অপূর্ব
কৌশলই প্রসিদ্ধ প্রাচীন শবচ্ছেদক চিকিৎসাতত্ত্বরে
কঠোর নাস্তিকতা চূর্ণ করিয়াছিল। এ সকল আমাদিগের
পরম সম্পদ।
?
( ১৫)
আমরা যখন জননীগর্ভে বাস করিতেছিলাম, তাহার
প্রথমাবস্থায় আমাদিগের এ সকল সম্পদ কিছুই ছিল না।
এই পৃথিবীতে আসিবার পুৰ্কে এক জন জ্ঞানবান্ পুরুষ
হইতে আমরা এই সব ল প্রাপ্ত হইয়াছি, এবং এই সকল
কম্প লইয়া এই অজ্ঞাত পৃথিীতে আসিয়াছি। পৃথিবীতে
আসিলে আম দিগের এ সকল সামগ্রীর প্রয়ােজন হইবে,
ইহা বিবেচনা করিবার কেহ না থাকিলে কি প্রকারে আমরা
এই সকল লাভ করিলাম ? বিবেচনা ব্যতীত উপযুক্ত বস্তু
প্রাপ্ত হওয়া যায় না, কিন্তু বিবেচনা কাহার? বিবেচনা কথন
শুন্য
হইতে আসিতে পারে না, তাহার পাত্র থাকা আবশ্যক।
আবার যখন গর্ভাশয়ের কার্যপ্রাণী অনুসন্ধান করি,
তখন ঈশ্বরের জীবন্ত সত্তা সুস্পষ্ট দেখতে পাই। যেরূপে
পর্ভ সংতি হয়, যে রূপে তাহা পুষ্ট হয়, যে রূপে শা,
বি উপাদানসকল সংগৃহীত হয়, যে রূপে রক্ষিত ও সজীব
হয়, তাহা ভাবিলে শরীর কন্টকিত হইয়া উঠে, হৃদয়
ভক্তিরসে প্লাবিত হইয়া যায়। ভুণের অহির, ফুণের
অবস্থাননাপযােগী আবাস, তাহার শরীর পেষণণাপযােগী
বায়ু, যাহা প্রয়োজন কিছুরই অভাব দেখা যায় না। কোথা
হইতে সেই অভাৰ সকল পূর্ণ হয়, কে তাহার উপযাে-
গিতা নিশ্চয় করে, কি অভাবনীয় কৌশলে অতি সু-
এল রূপে কাৰ্য সকল সম্পন্ন হয়, তাহা চিন্তার অতীত।
সেই অনন্তজ্ঞান ও জনশক্তির আধার ঈর ভিন্ন কি এ
( ১৬ ).
৫।
সকল কাৰ্য্য হইতে পারে ?
কেহ কেহ বলেন, আমবা
প্রকৃতি হইতে এ সকল পাইয়াছি। সৃষ্টি কৰ্ত্ত। কেহ নাই,
জ্ঞান, প্রেম, ইচ্ছা প্রভৃতি সেই প্রকৃতির ওগুণ, কিন্তু প্রকৃতি
অন্ধ। প্ৰকৃতিৰ বিচারশক্তি নই, সুতরাং যাহাবা
তাদৃশ কুতর্ক দ্বারা নাস্তিকতা আনয়ন করেন, তঁাহাব।
চক্ষুষ্ম অন্ধ।
আমাদিগের দেশীয় তান্ত্রিক ও পৌৰাণিকগণ ঐ
প্রকৃতিকে ঈশ্বরেরই প্রকৃতি বলিয়া নির্দেশ করেন।
গণ ইহাকে জড় শক্তি বলেন।
কেহ বা প্রকৃতি বলিয়া
একটী স্বতন্ত্র পদার্থ স্বীকার কবেন। যাহারা প্রকৃতিকে
ঐশী শক্তি বলেন, তার পড় মন্দ বলেন না। কি
যাহারা প্রকৃতি স্বতন্ত্র বলিয়া নির্দেশ করেন, তাহাদিগের
নির্দেশের মূল নাই। যাহার। প্রকৃতিকে জড়শক্তি বলেন,
তাহাদের প্রতি তেমন গুণ সম্পন্ন হইতে পারে না,
যাহাতে সৃষ্টি হইতে পারে। পূর্বেই বলা হইয়াছে জড়
প্রকৃতি অন্ধ । ঐ রূপ জড় প্রকৃতি দ্বারা কদাচ জগতের
নিয়ম, শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থা ব্যবস্থাপিত হইতে পারে না।
যদি প্রকৃতির তেমন শক্তি থাকিতে পারে, প্রকৃতি কর্তৃক
যদি তেমন সুন্দর ব্যবস্থা ব্যবস্থাপিত হইতে পারে, তবে
আমরা তাহাকেই ঈশ্বর বলিব, অর্থাৎ ঐরূপ শক্তিসম্পন্ন
যে সেই ঈশ্বর। আশ্চৰ্য্য!! ইহারা একটী অন্ধ শক্তি
পরে জগতের সমুদায় ভার অর্পণ করিয়া সুখী হইতে
( ১৭ ) চান, তথাপি ঈশবকে স্বীকার করতে চান না। ঈশ্বরের প্রতি কেন যে ইহাদের এত আক্রোশ, তাহা বুঝিতে পার ক্ষর। দূষিত নীতি নাস্তিকতার মূল অনেকে বলিয়া থাকেন। ভাবিয়া দেখিলে তাই সত্য বলিয়া প্রতীত কারণ অন্ধ প্রকৃতি জগতের অষ্টা হইলে স্বেচ্ছাচা- রিত্বে বিলক্ষণ সুযোগ হয়। যাউক, এথমে এ বিষয় লইয়া বিচার করা নিষ্প য়ােজন। কেননা ইহার পূর্বে ঈশ্বরের নিয়ন্ত ত্ব বুঝিবার যে সকল উপায় প্রদর্শিত হইয়াছে, যাহার জাত্ম আছে, জ্ঞান গ্রাছে, হৃদয় আছে, তাহাই তাহার বিশ্বাসের জন্য দৃঢ়তর ভিত্তি স্বরূপ। যদিও জননী, নিজের শরীরে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, পিতা, পিতৃব্য ও অন্যান্য পরিবার কলই ঈশ্বরের অকাট্য পরিচয় সুল, তথ্যপি আমাদিগে বয়ঃক্রম বাড়িতে থাকে, জ্ঞান যত প্রশস্ত হইতে থাকে, সম্মুখে জ্ঞাতব্য বিষয় যত অসীমরূপে বিস্তৃত দেখিতে পাওয়া যায়, ততই আর শুদ্ধ উহাতে জ্ঞান তৃপ্ত থাকিতে পারে না। ক্রোম ব্রুমে প্রশস্ত সংসার কর্ষক্ষেত্র হয়। অমর পরিবার ও আপনাকে হাড়িয়া দূরেও ঈশ্বরের সংবাদ লইতে খাই । যখন পরিবার ও আপনাকে ছাড়িয়া সমাজে যাই, থ- নও ঈশ্বরের বিচিত্র মূর্তি দেখিয়া স্তম্বিত হই। তথাকার ঐক্য ভাব, তাকাৰু কাৰ্যপ্রণালী, তথাকার কৃতজ্ঞতা ও প্রেম অতি, চমৎকার। সেই স্থানে গিয়া দেখি কেহ ( ৯৮ ) ক্ষেত্ৰ কৰ্ষণ করে, কেহ বস্ত্র প্রস্তুত করে, কেহ দূর দেশে গিয়া নানাবিধ প্রয়ােজনীয় বস্তু আনয়ন করে, কেহ অস্ত্র শস্যাদি প্রস্তুত করে। এই রূপে নানা লােক নানা কাৰ্য্যে ব্যাপৃত রহিয়াছে। তন্মধ্যে এমন সুন্দর বিনিময়ের প্রথা প্রবর্তিত আছে যাহাতে সকলেরই সকল অভাব দূর হই- তেছে। এখানে উত্তম ও অধমর্থের ভাৰ, রাজা ও প্রজার ভাব, প্রভূ ও ভূতের ভাবও চমৎকার। দেখিলেই হৃদয় আনন্দে পূর্ণ হইয়া যায়। মনুষ। আহষ। সাপেক্ষ জাব, জনসমাজ ভিন্ন তাহার এক মুহূর্তও বাঁচিবার উপায় নাই। সংসারে যাহা কিছু প্রয়ােজনীয় সমুদায়ই অনেক লোকের একমত ব্যতীত হয় না, সুতরাং সমাজ আমাদিগের নিতান্ত উপযােগী। এরুপ সমা- জবন্ধন ব্যতীত মনুষ্যের চলে না। রাজা না হইলে প্রজার চলে না, প্রজা না হইলেও রাজার চলে না। কৃষক না হইলে শস্যোৎপন্ন হয় না, শস্যোৎপাদন ব্যতীত মনুষ্যজীবন বাঁচে না। এইরূপ অন্যোন্যসাপে- ক্ষতা হইতে সমাজবন্ধন ও পরস্পরের সদ্ব্যবহার দেখিয়া আমরা ঈশ্বরের বিচিত্রতার পরিচয় অতি সুন্দররূপে প্রাপ্ত হইতে পারি। আবার লােকসমাজ ছাড়িয়া যদি পশুরাজ্যে যাই, সেখানেও ঈশ্বরের অনন্ত সত্তা দেখিতে পাই। তাহাদিগের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, তাহাদিগের বিচিত্র গঠনপ্রণালী, তাহা
৯৯ )
দিগের শরীরের লোমরাজি, তাহাদের প্রয়োজনীয় বস্তুর
মিলন ও পরিমাণ অতি আশ্চর্যভাব প্রকাশ করিতেছে।
জাহাদিগের সকল বিষযই অতি
সুশৃঙ্খল এবং
উপযােগী। কাহার শৃঙ্গ আছে, কাহাব শৃঙ্গ নাই।
কাব খুর, কাঙ্গর নখর, কাহার খুব তাণ্ড ৩, কাহার
খণ্ডিত। সকলেই আপন প্রয়ােজনোপযােগী সামগ্রী
প্রাপ্ত হইয়াছে। কোথাও এক বিন্দু বিশৃঙ্খলা বা অনু-
পযোগিতা নাই। যাহার যেমন খাদ্য ও বাসস্থান
হওয়া উচিত সে তাহাই পাইয়াছে, খাদ্য বেশীই আছে,
কম নাই।
এইরূপ পক্ষীদিগের মধ্যে অন্বেষণ কবিলেও ঈশ্বর
অপরিচিত থাকিতে পারেন । ইহাদিগের পক্ষ,
ইহাদিগের শরীবাবরক পত্র, ইহাদিগের চঞ্চু ও পদ এবং
পদের অঙ্গুলী ও নখ সকলই চমৎকার ও প্রয়ােজনােপ
যােগী। ইহাদিগের স্নেহ মমতা, ইহাদিগের প্রীতি ও
কৃতজ্ঞতা, ইহাদিগের সন্তানপালনের নিয়ম যেরূপ হওয়া
উচিত, যাহার যেরূপ হইলে সুন্দর চলিরে, কোন ক্লেশ
যন্ত্রণা হইবে না, তাহাকে তাহাই প্ৰথ হইযাছে। কাহা-
বও উড়িবার শক্তি কম, কাহারও অধিক। যাহার কম,
তাহার শরীরের আয়তন ও গুরুত্ব অধিক। যাহাব উড়িবার
প্রয়ােজন অধিক, তাহার শরীর ক্ষুদ্র ও লঘু । কাহার
কাহার কণ্ঠস্বর ও বাকশক্তি অতি মনোহর, এবং অবস্থা
}
( ১০০ )
ভেদে বুদ্ধিশক্তিরও
নাই। কুলায়নিৰ্মাণ,
থদাহরণ, বিপদ হইতে আত্মমােচন, তজ্জন্য স্থাননিরূপণ
প্রভৃতি তাহার পরিচায়ক। ঈশ্বর ব্যতীত এমন সুন্দর
শিক্ষা, সুন্দর অঙ্গাবণ, ৩ অক্ষেপাদান, সুন্দর কণ্ঠস্বর
ও বাকশক্তি তৃহারা কোথায় পাইল?
এইরূপ মৎস্য প্রভৃতি জল জঙ্ক ও কীট পতঙ্গ প্রভৃতি
প্রাণিগণের বিষয় যত আলােচনা করি, ততই ঈশ্বরের সুস্পষ্ট
পরিচয় পাইয়া বিমুগ্ধ হই। যাহার নিকট জিজ্ঞাসা করি,
সেই তাহার পরিচয় প্রদান করে, কেহ কোন সন্দেহ রাখে
আবার প্রাণীদিগকে ছাড়িয়া যদি উদ্ভিদরাজ্যে
যাই, সে স্থানে তাহার সাক্ষাৎ পাইয়া সুখী হই। ভাল,
তমাল, শাল, পিয়াল, নারিকেল, খর্জুর, বট, অশ্ব, শমি,
এদির প্রকৃতি বৃক্ষ,
বংশ প্রভৃতি গুল্ম, মাধবী
প্রভৃতি লতা, পূবৃ, ফলবৃক্ষ,
পূর্ব, ফলবৃক্ষ, শাক সূপ, ওষধি
প্রভৃতি যাহাকে সম্মুখে লইয়া চিন্তা করি, জিজ্ঞাসা করি,
তাহাৱাই নিকট তাঁহার পরিচয় পাই। ইহাদিগের
নিৰ্মাণকৌশল ইহাদিগের অবস্থার ব্যবস্থা নিতান্ত
উপযুক্ত, সেই সেইরূপ না করিয়া দিলে তাহাদিগের
ও আমাদিগের চলিত না। সুতরাং শিরা, বন্ধনী,
সানশক্তি ও আকৃতিপ্রভৃতি নিতা উপযােগী করিয়া
সৃজিত হইয়াছে। গুপ, রস, ফল, পুষ্প সকলই উপযুক্ত।
এইরূপ প্রয়োজনানুসারে মূল, রুক্ষ, শাখা, উপশাখা
( ১০১ ) লক্ষ্য। পত্র, বল্কল, ফল ও পূষ্পদির ব্যবস্থা ব্যবস্থাপক না হইলে হয় না। মহাবৃক্ষ মহাবৃক্ষ সকলের কার্যোপযােগিতা, ব্যঞ্জন দ্রব্যের সারবত্ত ও রসালতা, ওষুধি সকলের শরীর পােষকতা, ঔষধি সকলের রোগ নিবারকতা আলােচনা কবিলে হৃদয় ওক্তি ও কৃতজ্ঞতাতে অবনত হইয়া পড়ে। সে ভক্তি ও সে কৃতজ্ঞতার পাত্ৰকে, এই বলিয়া যদি প্রশস্ত ও নিম্মল হৃদয়ে ডাকি, অমনি সেই অনন্ত প্রেমের আধারকে সম্মুখে দেখিতে পাই । জগৎ পুস্তক, ঈশ্বর অভিধেয়। জগৎ লক্ষণ, ঈশ্বর জগৎ বাচক, ঈশ্বর বাচ্য। জগৎ আবির্ভাব, ঈশ্বর ভাব। জগৎ কাৰ্য, ঈশ্বর কারণ! এই পুস্তকের প্রতি যত মনোযােগ দিয়া পাঠ করিব, • ততই ইহার অভি- ধেয়কে সুন্দররূপে ঈদ অঙ্গম করিতে প্লাবিব। এই লক্ষণ সকল যত আলোচনা কৰিব, ততই ইহার লক্ষ্য বস্তু সুন্দর- রূপে চিনিতে পারিব। ইহাকে যত আগ্রহ সহকারে জিজ্ঞাসা করিব, ততই তাহার দর্শনের উপায় শুনি কৃতার্থ হইব। বাহিরে দেখিয়া যত ভিতরে দিকে তাকা- ইব, ততই উজ্জ্বল ভাবে তিনি দর্শন দিবেন। উৎপন্ন দেখিয়া উৎপাদক বলিয়া যত ভাবিব, ততই তাহাকে নিকটে পাইব। ইন্দ্রিয় গ্ৰান্য ধন, ইন্দ্রিয় গ্রাহ্ অন্ন, ইন্দ্রিয় গ্রাহ বস্ত্র বিতরণ করিতে দেখিলে যেমন অতীন্দ্রিয় দয়া,,
(
১২ ),
ইন্দ্রিয় ব্যাপার ঔষধ বিতরণ দেখিয়া যেমন অতীন্দ্রিয়
পবোপকারিতা, ইন্দ্রিয়গ্রাহ অশ্রুজল দেখিয়া যেমন
অতীন্দ্রিয় হর্ষ শােক, ইন্দ্রয়গ্রাহ্য ভীতকে দেখিয়া যেমন
অতীন্দ্রিয় ভয়কে না বুঝিয়া থাকিতে পারা যায় না।
সেইরূপ ইন্দ্রিয়গ্রহ জগৎ দেখিয়া, ঈগতের শৃঙ্খলা
ও নিধুম দেখিয়া, অতীন্দ্রিয় পরমেশ্বযুকে না বুঝিয়া
থাকিতে পারি না। বিষয় বুঝিতে যেমন ইন্দ্রিয় সহায়,
আত্মা বুঝিতে যেমন বুদ্ধি সহায়, ঈশ্ববকে বুঝিতে তেমনি
প্রজ্ঞা সায়। ঈশ্বর যুক্তি ও তর্কের ফল নহেন, কিন্তু স্বতঃ-
সিদ্ধ বিশ্বাসের ফল। যেমন কার্যকারণের ভাব স্বতঃসিদ্ধ,
যেমন বস্তু গুণের ভাব স্বতঃসিদ্ধ, যেমন ঐক্যানৈকের
ভাব স্বতঃসিদ্ধ, সেইরূপ ঈশ্মরের ভাব স্বত:সদ্ধ ইহা
আত্ম। ব্যগ্রতার সহিত গ্রহণ করে। প্রথম হইতেই মনুষ্য
আপনা আপনি ইহা বিশ্বাস করিয়াছে, কেহ তাহাকে শিক্ষা
দান করে নাই। মনুষ্য আপন হয়ে যে অবিনশ্বর প্রজ্ঞা
ধন লাভ করিয়াছে, সেই ধনের বলে সে যেমন
সকল সম্পদ পায়, সেইরূপ সে আপন হৃদয়স্থ অক্ষর
ধনের বলে ঈশ্বরকেও পাইতে পারে। আমার নিজের
অস্তিত্ব বা জগতের অস্তিত্ব যেমন স্বতঃসিদ্ধ বিশ্বাসের
ফল, ঈশ্বরের সত্য ভাবও সেই রূপ স্বতঃসিদ্ধ বিশ্বাসের
ফল। আমি আছি কি না জগৎ আছে কি না, ইহা লইয়া
যেমন কেহ তর্ক করে না, কিন্তু বিশ্বাস করে, ঈশ্বর আছেন
কিনা, ইহা লইয়াও তেমনি কেহ তর্ক কবে না, কিন্তু বিশ্বাস
করে।
সকলেই যদি তাহাকে বিশ্বাস করে, তবে সাকত।
কোথা হইতে আসিল ? আমি বলি নাস্তিক ও স্বতঃসিদ্ধ ৰূপে
ঈশ্বরকে অন্তরে অন্তরে বিশ্বাস করে, কিন্তু অহঙ্কারবশতঃ
মুখে স্বীকার করে না। মনুষ্যের স্বভাব যখন সংসারের
ননা কৃত্রিমতাতে পডিয়া বিকৃত হয়, তখনই উহ
বলপূর্বক হৃদয়ের বিশ্বাসকে অবরুদ্ধ করিয়া থাকে ।
যখন ঈশ্বরদত্ত সম্পন্ পাইয়া মনুষ্য অসহায় হয়, যখন
সে চতুর্দিক হইতে সাহায্য পাইয়া গাব্বত হয়, যখন
সে আপনাকে ধনী, মানী, জ্ঞানী বলিয়া বিশ্বাস করে,
যখন ঐষ্যমদে মত্ত হইয়া সে আপনাকে পর্যন্ত ভুশি যা
যায়, তখনই সে ঈশ্বরকে অস্বীকার কড়িয়া বাঁচিতে চায়।
কি সেই অবস্থায় চিরকাল থাকিতে পারে না। কত অহ.
কাবী ও গতিদিগকে দেখা গিয়াছে যে, তাহারা বহু কাল
ঈশ্বরকে অস্বীকার করিয়াও যখন সকল সম্পদ হইতে
বঞ্চিত হইয়াছে, তখন পুনৰ্ব্বাব ঈশ্বরের শরণাপন্ন হইয়াছে।
যখন অহঙ্কারের আবরণ উম্মােচিত হইয়া যায়, যখন সে
আপনার শক্তি বুঝতে পারে, যখন সে দেখিতে পায় খে
তাহার নিজের কোন ক্ষমতা নাই, সে এক বিষয় বুঝে
আর এক বিষয় বুঝে না, একটা কাৰ্য্য করিতে পারে, হয়
তো অন্য টী করিতে পারে না, এক বস্তু দেখিতে পায় অন্য
( ১০৪ )
বস্তু দেখিতে পায় না, আপন অন্তরনিহিত ক্ষুধা তৃষ্ণাকে ও
সে অতিক্রম করিতে পারে না, অথচ সে ক্ষুধা তৃষ্ণাকে
তাহার দেহের নিতান্ত উপযােগী বলিয়া বুঝিতে পারে ;
তখন সে আপনাকে নিঃসম্বল ও অসহায় জানিয়া ঈশ্বরের
শরণাপন্ন হয়। এ সকল বিষয়ে প্রমাণের অভাব নাই।
জগতে মনুষ্যচরিত্র পাঠ করিলে ইহার অলঙ্ প্রমাণ
প্রাপ্ত হওয়া যায়। আমাদিগের অন্তরে যে নির্ভরের
ভাব আছে, যদি তাহার প্রতি মনােযােগ করি, তাহা
হইলেও বুঝিতে পারি মনুষ্য এক মুহূর্তও ঈশ্বর ভিন্ন
বঁচে না। অতি বাল্যে জননীর প্রতি, তৎপর জনকের
প্রতি, তার পর গুরুর প্রতি মনুষ্য নির্ভর করিয়া বাঁচে ;
কিন্তু যখন ইহাদিগের ক্ষমতা, ইহাদিগের বল, ইহাদিগের
বুদ্ধি ও বিচারশক্তির পরিমাণ জানিতে পাইয়া স্পষ্ট বুঝিতে
পারে যে ইহারা সকল প্রকার বিপদে আমাদিগের সহায়তা
করিতে ইচ্ছা থাকলেও পারে না, তখনই সকল আশ্রয়
ছাড়িয়া মনুষ্য দৌড়িয়া ঈশ্বরের চরণতলে উপস্থিত হয়।
মনুষ্য কখন নিরাশ্রয়ে অবস্থান করিতে পারে না।
অতীন্দ্রিয় ঈশ্বরকে কিরূপে অনুভব করা যায়, কি
উপায়ে তঁাহাতে অটল বিশ্বাস স্থাপন করা যায়, তাহা
প্রদর্শিত হইল। ঈশ্বর কিরূপ? তাহার লক্ষণ কি ?
এ সকল বিষয়ে কিছু বলা হয় নাই। এসকল বিষয়
বিশেষ করিয়া লিখিবার ও স্থান নহে। উপাসনাতত্ত্ব
লিখিবার সময়ে সে সকল বিশেষ করিয়া লিখিবার ইচ্ছ।
বহিল।
সপ্তম
অধ্যায়।
গুরু বা আচাৰ্য ।
ঈশ্বব এবং জগৎ এই দুয়ের মধ্যে যে সম্বন্ধ, তাহার
নাম ধৰ্ম্ম। অথবা ঊর্থে অনন্ত ঈশ্বর নিয়ে জগৎ, এই
দুই দিকে মনুষ্যের যে দুইটা কর্তব্যের শ্রোতঃ প্রবাহিও
আছে, তাহারই নাম ধৰ্ম্ম । অতি অল্প কথায় ধরে
লক্ষণ নির্দিষ্ট হইল, কিন্তু ইহার আভ্যন্তরিক গুরুত্ব ও
বিভাগ অল্প নহে। এই সম্বন্ধ অনুভব করিবার এবং
এই সম্বন্ধোচিত কাৰ্য করিবার শক্তি মনুষ্য ব্যতীত আর
কাহারও নাই। সুতরাং এই সম্বন্ধের ভাব জগতের
সত্ৰ বিকীর্ণ থাকিলেও মনুষ্যই উহার একমাত্র বিশ্রাম
স্থান । কিন্তু মনুষ্য জাতির অবস্থা সর্বত্র সমান নহে।
কাহারও মনে স্বতঃ ধর্মভাব উদিত হইয়া তাহাকে ও
সমাজকে অলঙ্কৃত করে । কেহ বা সহ প্রকার উপদিষ্ট
হইলেও নানা কলঙ্ক আনিয়। আপনাকে ও সমাজকে
কলঙ্কিত করে। যেমন নিক নিঃসৃত জল বস্তুতঃ নিৰ্ম্মল,
কিন্তু মৃত্তিকা ও মৃত্তিকাজাত বস্তুর শক্তি অনুসারে তাহার
।
( ১০৬ )
অবস্থা পরিবর্তিত হয়, যেমন বায়ু প্রকৃতি একরূপ হইলেও
স্থানবিশেষে তাহা পরিবর্তিত হইয়া থাকে, সেই রূপ
অনুষ্যমনের গতি ও ধারণাশক্তি ও সময়ে সময়ে পবি।
বতি ও পরিবর্ধিত হইয়া থাকে। সুতরাং পিতা মাতা
পূর্বপুরুষ ও দেশকাল প্রভৃতির অবস্থানুস্কারে মনুষ্যজা-
তির মধ্যেও কেহ সুবুদ্ধি, কেহ কুবুদ্ধি, কেহ তীক্ষ্ণ বুদ্ধি,
কেহ জড, কেহ বাকশক্তি হীন, কেহ শ্রুতিশক্তি হীন
ইত্যাদি রূপে রূপান্তরিত ও ভাবান্তরিত হইয়া এই পৃথি-
যীতে জন্মে। এই সকল কারণে ধৰ্ম্মসম্বন্ধীয় গৃঢ় মৰ্ম্ম গুলি
শিক্ষা ব্যতীত সকলের মনে নির্দোষরূপে স্বতঃ বিস্কুরিত
হওয়া অসম্ভব। যাহা কিছু সম্ভব, তাহাও স্থান, শৈশবাদি
অবস্থা ও সংসৰ্গদোষে কাৰ্যকর হইতে পারে না; এবং
চিন্তাশীল ব্যতীত তর্কে বিষয় মীমাংসিত হইতে পারে
উপধুক্ত লােকের নিকট উপদিষ্ট হইলে ঐ সকল
জটিল দুরূহ বিষয় অল্প পরিশ্রমে, অল্প আসে ও অল্প
যত্নে শিক্ষা হয়। শিক্ষা পদ্ধতি থাকিলে উপযুক্ত শিক্ষক
থাকা চাই। যাহারা এই শিক্ষা কার্য্যের ভার
গ্রহণ করেন সাধারণ ভাবে তাহাদিগকেই গুরু বা আচার্য্য
বলা যায়। আপাততঃ আমার এই শব্দটী সাধুচরিত্র
সনুষ্ঠায়ী উপদেষ্টা মানবদিগের প্রতি ব্যবহার করিয়া
থাকি। বস্তুতঃ উহা মনুষ্যের প্রতি তেমন খাটে না।
ফদি বল গুরু শব্দে সদুপদেষ্টাকে বুঝাইবে, তাহা হইলেও
উহা মনুষ্যের প্রতি অ প্রযােজ্য। যিনি সর্বদশী ও সব্বা- স্তগামী, সেই ঈশ্বর মনুষ্যহৃদয়ে উপদেশ না দিলে, ঈশ্বরের কৃপা মনুষ্য হবে না পড়িলে, মনুষ্যকৃত উপদেশ কখনও কার্যকর হয় না। গুরুর নিকটে যে শিষ্য উপ- দিষ্ট হইতে যন্ত, তাহার কারণ-ঈশ্বরের কৃপাপরিচালিত শিষ্যের ইচ্ছা। যদি ঈশ্বরকণা হৃদয়ে বিৰিত হইয়া শিষ্যের ইচ্ছাকে উত্তেজিত না করে যঙ্কি সেই কারণে সে অাপনার জীবনের অপবিত্রতা অনুভব করতে সক্ষম না হয়, যদি আপনার মহান অভাবের জন্য তাহারই হৃদয় ব্যথিত না হয়, তবে উপদেশ দিলেও সে শুনে না, শুনি, লেও মনোযোগ দেয় না। সুতরাং মনুষ্যকৃত উপদেশ কাষ কবিতে পারে না। দ্বিতীয়তঃ অাচার্য্য যে উপদেশ প্রদান করেন, তাহাতে মনুষ্যের অতীত নূতন কিছুই হইতে *শশু বিষ্ণুরশেস্য জগত: যে হৃদি স্থিত। তমুতে পরমাত্মানং জঃ কঃ কে শাষ্যতে । বিষ্ণুপুরাণে প্রহলাদ বচনং । সানুকূলেন নভস্বতেরিতং, শ্ৰীমদ ভাগবতং । মঃ গুনে গুরু ত্মৈব পুৰুষস বিশেষতঃ। শ্ৰীমদ ভাগবতং। ভগবদ্ভক্তিযুক্তস্য তৎ সাদাত্মবোধ। মুখং বন্ধবিমুক্তিঃ স্যাদেষ গীর্থসংগ্রহ। শ্ৰীধর স্বামী।
পারে না। বাহা পুবতন, যাহা সহজ, যাহা ঈশ্বর কৃপা প্রসূত, সেই জ্ঞান, সেই ভক্তি, • সেই বিশ্বাস উদ্বোধিত হয় মাত্র। অতএব ঈশ্বই যথার্থ গুরু, ঈশ্ববই আদি গুরু, ঈশ্বরই চিত্ত প্ৰভব ক। কেননা সহজ জ্ঞান ব্যতীত ঈশ্বরের বিশেষ করুণা ব্যতিত কোন উপদেশই কার্যকর হইতে পারে না। যদি তাহা পাৱিত, তবে গুরু কৃত উপদেশ শুনিয়া পপক্ষীও জ্ঞানলাভ করিত। এত বলিয়াও স্বীকার করিতে হইবে গুরু শিষ্যসম্বন্ধ একুতিমূলক। কেন না ইহা মনুষ্যের প্রকৃতিগত দুর্ব- লতা হইতে অাপনি উদিত হয়। মনুষ্য যখন অভিজ্ঞতা বলে নিজের দুর্বলতা বুঝিতে পারে এবং সেই দুর্বলতা দূর করা প্রয়ােজনীয় বলিয়া বিশ্বাস কবে, তখন সে আপনা আপনি গুরুর জন্য উত্তেজিত হইয়া উঠে; এবং আপন অপেক্ষা অধিক জ্ঞানী কোন মনুষ্যের নিকট হইতে আপনার অভাব সকল দুর করিয়া লইতে যত্ন পায়। কিন্তু এই জন্য যে প্রত্যেক মনুষ্যকেই গুৰু স্বীকার লা করিলে চলিবে না, এরূপ নহে। আমাৰ পূৰ্বে বলিয়াছি, ঈশ্বরের বিশেষ করুণ ভিন্ন মনুষ্য আপন অনভিজ্ঞতা বুঝিতে পারে না। ঈশ্বরের কপায় যখন সে আপন অভাব অনুভব করিতে তখন সে হয় ঈশ্বরের প্রত্যাদেশ বলে, না হয় রূপদেশের ফলে ধৰ্ম্মজ্ঞান লাভ করে। অনেক মনুষ্য এমন ভাগ্যবান পারে, ( ১০৯ ) আছেন, অনেকের প্রতি ঈশ্বরের দয়া এমন বিশেষরূপে প্রকাশিত হয় যে তঁাহাবা বিনা উপদেশে আপনা হইতে অনেক সত্য অতি সহজে হৃদয়ঙ্গম করিতে পারেন । অন্যে বহু চেষ্টা করিয়া যাহা আয়ত্ত করতে না পারে, তিনি ঈশ্বৰকুপায় বিনা অধ্যয়নে সে সকল দেখিতে পান। ধম্ম জগতে যত সত্য আবিস্কৃত হইয়াছে, তাহার অধিকাংশ ঐরূপ প্রত্যাদিষ্ট সাধুদিগের জীবনের ফুল। যাহা হউক, এরূপ মনুষ্য সৰ্ব্বদা সংসারে জন্মে না। সংসারে সাধারণতঃ যে সকল মনুষ্য পূর্বে ছিল এবং বর্তমানে অাছে, তাহাব। অল্প জ্ঞ, অল্পবুদ্ধি, অল্পচিন্তাশীল, অল্পমীমাংসাপ্রিয় ও অল্প- স' ফু । এ জন্য গুরু বা আচার্য্য স্বীকার করা এক রূপ প্রকৃতি সিদ্ধ । আরও এক কথা অাছে। যখন সুবিধা আছে, যখন এক জন কৃত িদ্য সাধুব নিকট গমন করিলে অনায়াসে অনেক কষ্ট বারিত হইতে পারে, তথন নিরর্থক কষ্ট পাই- বার প্রয়ােজন কি ? যৎ ক লে মনুষ্যগণ নিতান্ত বন্যবেশে ক ল যাপন করি, যখন সকলেই প্রায় তুল্যাবস্থায় ছিল, সে সময় কেহ যে কাহাকেও সাহায্য করিতে পারিবে একপ আশা ছিল না, তথাপি মনুষ্যের প্রাকৃতিক অভাব ও দুর্বলতাই তাহাদিগকে পরম্পর সাহায্যের জন্য উত্তপ্ত করিয়াছে, এবং সেই কারণেই মনুষ্য জাতি সমাজবদ্ধ হইয়াছে ; পারিবারিক, পারিবারিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক উন্ন ১০ ( ১১০ } . তর পথে অগ্রসর হইয়াছে ; এবং ধৰ্ম্মসম্বন্ধে নীতিসম্বন্ধে শক্ষকপরম্পরা আশ্রয় করা আবশ্যক বোধ করিয়াছে। বিশেষতঃ বাল্য যৌবন ও বার্ধক্য এই তিনটী মনুষ্যেব প্রাকৃতিক অবস্থা। ইহার প্রত্যেক অবস্থার ফল তা হাব পরবর্তী অবস্থার ভােগ্য। যেমন পূৰ্ব্বে হস্ত পদাদিব সৃষ্টি হইয়াছিল বলিয়! পরে হামাগুড়ির সুবিধা হইয়াছে ; যেমন পূৰ্ব্বে জিহ্বা ও ওষ্ঠ ছিল বলিয়া দুগ্ধ চুষির পক্ষে সুবিধা হইয়াছে ; যেমন এই পৃথিবীতে আসিবার পূর্বে ইন্দ্রিয়গণ ছিল বলিয়া বিষয়জ্ঞানলাভ সহজ হই- কাছে ; সেই রূপ বাল্যের উপার্জিত শিক্ষাই যেীব- নের ভােগ্য হইবে এবং যৌবনের নৈপুণ্য ও কশ্মিষ্ঠতাই বৃদ্ধ বয়সে শান্তি ও আনন্দ প্ৰদ হইবে । অতএব বাল্য- কালে মানবহৃদয়ে সহজে যে অঙ্কুর উদ্ভূত হয়, তাহার পুষ্টির জন্য বিশেষ চেষ্টা চাই। সেই সহজ জ্ঞানের অঙ্কুরকে পােষণ করিবার জন্যই উপযুক্ত আচার্যের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজনীয়। নতুবা শিশুর হৃদয়স্থ জ্ঞানাঙ্কুর অতি সহজে ভগ্ন শুল্ক নির্জীব ও নিষ্প ভ হইতে পারে; অথবা কুটিলভাবে বর্ধিত হইয়া মন্দ ফল প্রসব করিতে পারে। অতএব প্রত্যেক মনুষ্যেরই বাল্য হইতে আচাৰ্যস্বীকার কর্তব্য। যিনি বিশেষরূপে ঈশ্বরপ্রসাদ প্রাপ্ত হন তঁাহার পক্ষে ও উহা অকৰ্ত্তব্য নহে; বরং কর্তব্য বলিয়াই প্রায় পৃথিবীর সমস্ত জাতির মধ্যে এই প্রথা { ১১১ ) চলিযা আসিতেছে। আমাদের জন্মস্থান ভারতভূমিতে ও ইহা বহুকাল হইতে প্রচলিত আছে। কিন্তু ভারতবাসী- দিগের প্রায় সমুদায় কাৰ্য্যেই আতিশয্যদোষ প্রবিষ্ট হই- য়াছে, ইহাতে ও তাহাই হইয়াছে। ভারতবর্ষীয় আচায্য- গণ ঈশ্বরের আসনে উপবিষ্ট হইতে সঙ্কোচ কবেন না। তাহারা ঈশ্বরাপিত পূজা, ও ঈশ্বরাপিত স্তব স্তুতি সং গ্রহণ করিতে লজ্জা বােধ করেন না। ঈশ্বরাপিত দ্রব্যাদি লইয়াই তাহার জীবনযাত্রা নিৰ্বাহ কবিয়া থাকেন, এবং ছল, বল, কল, কৌশলে উপদিষ্ট ব্যক্তির যথাসপ আত্মসাৎ করিতে পারিলেই আপনাদিগকে ধন্য মনে কবেন। আবার ভবিষ্যৎ কল্পিত নবকাদির ভয়, প্রদর্শন করিয়া শিষ্যের উপার্জিত ধন ঐশ্বৰ্যাদি হরণ করিতেও কুতি বা ভীত নহেন। তঁাহারা বৈধ ও ব্যবস্থায় বলিয়া অযৌক্তিক ও অসঙ্গত প্রতিজ্ঞাবাক্য পাঠ করাইতেও পাপ মনে করেন না। যদি এই রূপ হইল, তবে গুরুর গৌরব রহিল কৈ ?? গুরুর গুরুত্ব পদ কি জন্য ? ঈশ্বরকে প্রাপ্ত হইতে গেলে কি কি বাধা বিপ্ন আছে, তাহা * রােগ্রে পৃথক্ পূজা সাপূজা নিফল। ভবেৎ। । আত্মদাবাদিকঞ্চৈব সগ রুভ্যো নিবেদয়েৎ। + গুরুবে বহবঃ সন্তি শিষ্যবি :পহাবকাঃ । দুল্লভাে গুৰু রেকোহি শিষ্য সন্তাপহারকঃ ॥
( ১১২ )
।
দেখাইয়া দিতে পারেন এই জন্য গুরু যুদি সাং
ঈশ্বর হইলেন, তবে অব সে প্রয়োজন রহিল কৈ ?
যে ভৃত্য স্বয়ং প্রভুরূপ ধারণ করিয়া প্রভুর জন্য উপহৃত
দ্রব্যাদি ও পূজাবন্দনাদি স্বয়ং অপহরণ করেন, তিনি
যে প্রভূর ব্যাপহারী চোর তাহাতে আর সন্দেহ কি ?
এরূপ আচার্য্যকে চোৰ্যাপবাদ হইতে রক্ষা করিবাব কি পথ
আছে ? কখনই না।
কেবল এই রূপ করিয়া ও ইহারা সন্তুষ্ট হইতে পাবেন
নাই। যাহা তঁহাদিগের অবশ্য কর্তব্য, যাহার জন্য
'হাব। বিশেষরূপে দাখী, যাহাৰ অভাবে তাহাদিগের
সমস্ত গোবব বিলুপ্ত হইয়া যায়, সেই উপদেশকার্সে ও
হয়। সম্পূর্ণ উলন। rি"
২। '
झिा
হইবে ? উপদেশের বিষয় কি ? জটিল
ও অঞ্জল
শাসকলের মীমাংসা কি ? কি রূপ উপায় অবসুন
করিলে উপদিষ্ট ব্যক্তি পাপ, তাপ, দুঃখ যs 11 অতিক্রম
করিতে পারিবে, এ সকল কথা তাহারা স্বপ্নেও মনে কবেন
না। মনেই বা কবিযেন কিরূপে? যাহারা নিজে সহস্র
সহস্র পাপের কপে ডুবিয়া রহিয়াছেন, তারা পবের
উদ্ধারের উপায় কবিবে কিরূপে? যাহারা বাযুবিক্ষিপ্ত
* তৎপদং দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ ।
ভগ, রুং প্রপদ্যেত জি জানুঃ শ্রেয় উত্তমং ।
শব্দে পরে চনিষ্ণতং ব্ৰহ্মণু শমায়ং || শ্রীমদ্ভাগবত ]
%
তুষের ন্যায উদ্দেশ্যবিহীন হইয় সংসারে বিচবণ করেন, তাহারা জীবনের লক্ষ্য স্থির করিবেন কিরূপে? যাহার • ভমেও কখন ঈশ্বরের দিকে দৃষ্টিপাত করেন না, তঁাহাবা সে পথের বিপ্ন বিপত্তি জানিবেন কিরূপে ? নিজে না জানিয়াই বা অন্যকে উপদেশ দিবেন কি প্রকাবে ? যেমন বণিগণ পণ্য দ্রবের ব্যবসায় করেন, এবং তদ্বারা জীবন যাত্ৰা নিৰ্বাহ কবেন, সেই রূপ গুরুতর গুরুর কাৰ্যও অজ্ঞ লােকের জীবনােপায়ের ব্যবসায় হইয়াছে। যে সকল দোষের কথা উল্লিখিত হইল, উহা অতি গুরু, তর এবং অনেক সময়ে অপবিহা হইলেও যে মূল হইতে ইহা উৎপন্ন হইয়াছে তাহা মন্দ নহে। মনুষ্য যখন যে কার্স করে তাহা কৰ্তব্য ও বৈধ জানিয়াই করে, কিন্তু কালে সেই হিত হইতেই সংসাবসক্ত লােকের হাতে পড়িয। জহিত উৎপন্ন হয় । যখন ভারতীয় বীর রূপী স'ধু আচার্য্য- গণ স্বর্গীয় ভরে অপার ছিলেন, যখন সেই বীররূপী সাধু- গণ পদাঘাতে পাপের মস্তক চর্ণ করিতে সমর্থ ছিলেন, যখন তাহাদিগের লেশমাত্র ও স্বার্থপরতা ছিল না, যখন তাহারা ইলি সংযমে, সত্যনিৰ্ব্বাচনে ও সত্য পালনে সকলের অগ্রগণ্য ছিলেন, যখন মনুষ্যগণ বুকিয়া- ছিল তঁাহারা দয়া ও প্রেমের অবতার, যখন তাহাদিগের স্বগীর বীরত্বদশনে লােকসমাজ চমৎকৃত ও বিস্মিত হইয়াছিল, যখন জনসমাজ দেখিল ভারতীয় সাধুগণ, ৬
(
১১৪
}
যাহা করে তাহা দেবতা ভিন্ন মনুষ্যের দুঃসাধ্য,
নই তাহাব। আপনাপনি সেই আচকুলকে ভক্তি
করা অবশ্যক বলিয়া বুঝিয়াছিল। বস্তুতঃ তাদৃশ মহ -
প্রধান লােক ভক্তিভাজন সন্দেহ নাই। এমন কি ইহা-
দিগকে ভক্তি শ্রদ্ধা না করাই পাপ। কেননা হাবা
আমাদিগের ধৰ্ম্ম ভাববর্ধনের জন্য, আমাদিগের পাপ
প্রবৃত্তি কমাইবাব জন্য, আমাদিগের ঈশ্বরে ভক্তি পবিত্রতা
বর্জনের জন্য প্রাণ দিয়া যত্ন করিয়াছেন, আমাদিগকে
পাপী, অত্যাচ রী, কদর্য্যচষ্য, ভ্রান্তিশিপ্ত দেখিয়া যাহারা
দ য়ত গলিয়া গিয়াছেন, আমাদিগের উপকারের
জন্য যারা নিজের শারীরিক মানসিক কোন সুখের
প্রতি ক্ষেপ করেন নাই, আমাদিগের জন্য যাহার
সমস্ত পার্থিব সুখে জলাঞ্জলি দিয়া কত কঠিন নিয়মে
কাল যাপন করিয়াছেন, তাহাদিগকে কি ভক্তি না করিয়া
থাকা যায় ? কখনই নহে।
কখনই নহে। এই সময়ে ময়গণের হৃদয়
নিহিত ভক্তি শ্রদ্ধ! অত্যন্ত বেগে প্রবাহিত হইয়া আপন
সীমা অতিক্রম কবে । যখন মানবহৃদয়ের বৃত্তিবিশেষ
কোন দিকে বেগে ধাবিত হয়, জ্ঞানিগণ জ্ঞানযােগে তাহা
নিয়মিত করিয়া থাকেন। জ্ঞান মনুষ্যের পাপরূপ দুঃখ
সমুদ্র হইতে উত্তীর্ণ হইবার উড়,প। এই জ্ঞানােড়প বঁাহারা
পতিমুগ করেন, তঁাহারা নিশ্চয় পাপসমুদ্রে ডুবিয়া
মরেন। এই জ্ঞান ও ভক্তি উভয়ের সঙ্গে উভয়ের
( ১১৫ ) সামঞ্জস্য আছে। মনুষ্য বপন দান হাইযা কেবল 'অন্ধ ভক্তির অশষ গ্রহণ করে, তখন সে ভওিস্রোতের প্রবল (বগ সম্বরণ কবিতে না পারিয়া পৌত্তলিক হইয়া দাঁড়ায়। অবার ভৰি মৰ্যাদা অতিক্রম করিয়া জ্ঞানের শরণাপন্ন হইলে ও সে শুকা, ও বিকৃত ভাবাপন্ন হইয়া নাস্তিকতা অথবা একাত্ম বাদে ব শবপন্ন হইয; পড়ে। বস্তুতঃ পিতা, মাতা, আচার্য প্রভৃতি উচ্চ শ্রেণীর লােক- দিগকে ভক্তি বিশ্বাস করা, স্ত্রী পুত্রদিগকে প্রীতি বাৎসল। করা, দাস দাসী ও দীন দরিদ্র প্রভৃতিকে দযা করা, সাং- বিক কর্তব্য। এ সকল না কবিলে পাপ হয়! কিন্তু এ সকল কাযেরও সীমা আছে। সেই সীমার মধ্যে থাকিতে পারিলে আর পাপের ভয় নাই, লঙ্ঘিত হইলেই পাপ। মনুষ্যদয়নিহিত জ্ঞান এই সীমার নিয়ামক । ভক্তিস্রোতের মুখে নিপতিত হইয়া জ্ঞানের উপদেশ ভাব- জ্ঞাত হইলে নিশ্চয়ই বিনাশ। এই জন্য দেখা যায় মনুষ্য এক সময়ে যাহা বিশুদ্ধ উপকারের প্রত্যাশায় করে, তপন সীমাতে না থাকিতে পারিয়া তাহা হইতেই আবার অত্যন্ত অপকৃত হয়। ন্যায়ের সীমা উল্লম্বন করিয়া দীন দরিদ্রের প্রতি অবশ্য কর্তব্য দয়ার অনুষ্ঠান করিতে গিয়া যেমন পাপ জন্মে, ধৰ্ম্মের বিরােধে স্ত্রী পুত্রগণের প্রতি অবশ্য কর্তব্য প্রীতি স্নেহ অধিক হইলে যেমন পাপ হইয়া থাকে, বিবেকের আদেশ অবহেলা করিয়া পিতা মাতার প্রতি ( ১১৬ ) নতান্ত কর্তব্য ভক্তি শ্রদ্ধা করিলে যেমন পাপ হয়, উপ- দোকে ঈশ্বরের স্থলাভিষিক্ত করিয়া তৎপুতি ভক্তি বিশ্বাস স্থাপন করাও ঠিক সেই রূপ। যাহার যাহা ন্যায্য প্রাপ্য তাহা তাহাকে না দিলে যেমন বিশ্বাসঘাতক ও কৃত ধ্ব বলিয়া গণ্য হইতে হয়, এক জনের প্রাপাংশ অপবকে দিলে ও ন্যায় বিচারে সেইরূপ বিশ্বাসঘাতক ও কৃতঘ্ন বলিয়া গণ্য হইতে হইবে । সুতরাং ঈশ্বরের প্রাপ্য ঈশ্বরকে ও গুরুর প্রাপ্য গুরুকে দিতে হইবে, একের প্রাপ্য অপরকে দিতে পারা যায় না, দিলেই বিশ্বাসঘাতক বা চোর বলিয়া গণ্য হইতে হইবে। মনে কর স্ত্রী ও কন্যা উভয়কেই প্রীতি করা কর্তব্য। কিন, ওর প্রীতির অংশ কন্যাকে এবং কন্যার প্রীতির অংশ স্ত্রীকে দিবে বলিয়া কি কল্পনাও করতে পার ? যদি না পাব, তবে ঈশ্বরের প্রাপ্য পূজা ভকি বা স্তুতি বন্দনাদি কদাচ গুরুকে দিতে পার না। এইরূপে জ" যাইতেছে যে, এক জনের প্রাপ্য অপরকে দিবার অধিকার বস্তুতঃ কাহারও নাই। অধিকার না থাকিলেও জ্ঞানশূন্য ভক্তি হইতে যে এক প্রকার মােহ জন্মে সেই মোহ আমাদিগের কর্তব্যজ্ঞান ভুলাইয়া দেয়, এবং আমাদিগকে উন্মত্ত করিয়া তােলে। সেই মত্ততায় পড়িয়াই আমরা একের প্রাপ্য অন্যকে দিতে ভয় করি না। এই কারণে ভারতে ‘ব্যাসে। গারায়ণঃ পয়ং" পঠিত হইয়াছে। এই কারণেই শঙ্করাচার্য .
( ১১৭ ) } } , " । শবঃ সামা বসিয! কীৰ্ত্তিত হইয়াছেন। এই কর, ণেই চৈতন্য, তাদ্বৈত, নিত্যানন্দ প্রভৃতি বৈষ্ণবগণ ঈশ্বরা। বব বলিযা পবিগৃহীত হইয়াছেন। এই কারণেই দাশ- রথি, ভাগব, বাসুদেব প্রভৃতি রাজন্যবর্গ ঈশব বলিয়া পূজিত হইয়াছেন। এই কারণেই ভাবতে “গুরুৰ্বিশ্বেশ্ববঃ সাক্ষাং গুৰুৰ্দেবো। মৃহেশ্ববঃ।” পঠিত হইয়া থাকে। এই কাবণেই শিষ্যগণ ঈশ্বরের প্রাপ্য যথাসর্বস্ব ধরুব চবণে দিয়া কৃতার্থ হইতে চায়। আবার এই অনুচিত অধিকার হস্তগত কবিয়াই ভারতীয় আচাস্য বংশ অধঃপাতে গিয়া ছেন । ইহারা যখন দেখিলেন শিষ্যগণের অন্ধ হইবার তার বাকি নাই, যখন দেখিলেন শিষ্যগণ অটল বিশ্বাস সহকারে সমস্ত ঐশী মৰ্যদা তাহাদিগকে অর্পণ করি- তেছে, এবং যাহ। কখন কল্পনা করেন নাই তাহা নির্বিঘ্নে পাইতেছেন, তখন তাহারা আনন্দে আপনাদিগের ভাবি পতন দয়া গেলেন। সুতরাং ইহাদিগের স্বার্থ সাধনের উৎকৃষ্ট সুযােগ হইল। এই সুযােগে তাহারা। পুরাতন হিন্দু শাস্ত্রের স্থান বিশেষের অর্থ পরিবর্তন করিতে প্রবৃত্ত হইলেন, এই তন্ত্র নামক অভিনব ধৰ্ম্ম শাস্ত্রে সেই পরিবর্তিত আদর্শ স্পষ্ট করিয়া আপনাদিগের মনােবথ সিদ্ধির উপায় প্রস্তুত করিলেন। আমরা একটা প্রমাণ উদ্ধত করিতেছি, তাহা দেখিলেই বুঝা যাইবে, উক্ত র বংশীয় উপদেষ্টত্ব কেমন পূৰ্ততাপূর্ণ।
১১৮ )
৫
শ্ৰীমদাগবতে লিখিত আছে ‘আচার্সং মাং বি ক্ষানীয়ৎ
নাবমন্যেত কহিচিৎ । ন মসুদ্যা সূযেত সৰ্ব্বদেবমযে
গুরুং। ইহাব অর্থ কি ? ভগবান বলিয়াছেন, আমাকে
আচার্য্য বলিয়া জানিবে, মনুষ্য জ্ঞান করিয়া তাঁহাকে অজ্ঞ।
করিবে না, এবং অসূয়ও করিবে না। কেন না গুৰু সৰ্ব্ববে
ময়। ইহার প্রকৃত ভাব কি ? সরল ভাবে ইহা হইতে কি
ভাব প্রাপ্ত হওয়া যায় ? গুরু যে সকল কার্য কবেন ও যে
সকল বাক্য বলেন তাহা তাহার নিজের নহে, তাহা
ঈশ্বরের প্রত্যাদেশ। তিনি ঈশ্বর হইতে যাহা প্রাপ্ত হন
তাহা অবিকৃত রাখিয়া জগতে প্রকাশ কবেন। তাহাতে
তঁাহার নিজের বিন্দুমাত্রও কর্তৃত্ব নাই, স্বার্থ নাই।
সুতরাং গুৰুৰ কাৰ্য, গুরুর বাক্য সকলই ঈশ্বরত্ন, সকলই
দিব্য ভাবে পূর্ণ, অতএব ইহা বলা যায় যে, গুরু যদি ও
মানুষ তথাপি তঁাহাকে অবজ্ঞা কৰ্ত্তব্য নহে; তঁাহার
গুণে দোষ দৃষ্টি কর্তব্য নহে। কেননা গুরুর কথা
ও কাৰ্য সকলই ঈশ্বরের, সর্ব প্রকায়ে তাহা দিব্য
ভাবের আধার। কিন্তু অধস্তন আচার্য্যবংশীয়গণ এই
সুযােগে তন্ত শাস্ত্রে লিখিলেন, গুরু অর ঈশ্বর এক,
পূজা ও ভক্তি যাহা কিছু সকলই গুরুকে কর।
গৃহে উপস্থিত থাকিতে ঈশ্বরকে পৃথকৃ করিয়া পূজা
করা পরাধ, অতএব তাহা কর্তব্য নহে ! পূজা ভক্তি
সকলই গুরুচরণে অর্পণ কর। গুরু সন্তুষ্ট থাকলেই
( ১১৯ )
দেবতাব স.ষ্টি অস ঠুির দিকে শিষ্যের না
তাকাইলেও ক্ষতি নাই, গুরুর সন্তুষ্টি নিতান্তই চাই, উহা
না হইলেই' চলিবে না। এই সকল ঘৃণ্য মত বহুলপরি,
মাণে প্রচারিত হইলে আচার্যগণের
হইলে অাচাৰ্যগণের উত্তর বংশীয়ের
অলস, বিলাসদ্রয়, শ্রমবিমুখ, নির্দয় ও স্বার্থপর হইতে
লাগিল । এই জন্য ক্রমে তাহারা অর্থলােভী, ঈশ্বরদ্রোহী,
ভদ্রতাবর্জিত হইয়া উঠিল। এখন দুই এক জন ব্যতীত
কেহ বিদ্যা শিক্ষা আবশ্যক মনে করেন না।
যাহারা কিছু শিক্ষা করেন, তাহাদিগের মূল উদ্দেশ্য
অর্থোপার্জন।
ছল বল ও কৌশল।
লক্রমে অতি সুবিধায়
অথ পাইবেন এই জন্য হাদিগের বিদ্যা শিক্ষা। শাস্ত্র
মতে এ সকল গুরু একান্ত পরিত্যাজ্য। এমন কি,
এক বার মন্ত্র গৃহীত হইয়া থাকিলেও উপযুক্ত লক্ষণ
সম্পন্ন গুরু প্রাপ্ত হইলেই ইহাদিগকে পরিত্যাগ করিবার
বিধি আছে। সদৃশ লােক গুরু হইলে কেবল অনিষ্ট হয়,
সুতরাং আজীবন যদি বিনা গুরুতে কাটাইতে হয় তাহাও
ভাল, তথাপি অভদ্রতার অভিনেতাকে গুরু বা আচার্য্য
বলিয়া স্বীকার কর্তব্য নহে।
পরিচৰ্য্যাষ (শাবিউলিপ শিষ্যাদ গুরু নহি।
। তদেতৎ পরমার্থ গুৰ্ব্বাশ্রয়ে ব্যবহারিক গুৰ্বাদি
পবিত্যাগেনাপি কৰ্তব্য ইত্যাশয়েনাহ, “কুর্ন স শ্যাৎ
স্বজনে। ন সসাদি" ত্যাদি। ভক্তিসন্দর্ভে।
- - - - 130 FUEL LIDRADE ১ ২০ } বিনি উদার, যিনি তপস্যনিরহ, যিনি সত। পবাযুণ ও দযশীল, যিনি কাযম•ে বাক্যে ঈশ্বরের প্রভুত্ব জগতে প্রতিষ্ঠিত করিবার জন্য প্রতিজ্ঞা কট, যিনি আপনাকে সর্বতােভাবে গুপ্ত বাখিয। ঈশ্ব বকে পকাশ করেন, যিনি লোকের পাপ দর্শন ক ২য় কপাপবশ* হই যা প্র ৭ দিয়া। তাব পাপ দূর করিতে যত্ন করেন, তিনিই ৬০ ভাজন আচাগ্য, তিনি উপদেষ্টা। তাহাকে সেই পরিমাণে ভিকি কর, তাহাকে সেই পরিমাণে শ্রদ্ধা কর, যে পরিমাণে তিনি তোমার ঈশ্বর দর্শনের স য় । বিনি ঈশ্ববলাভের পথের বিপ্ন প্রদর্শন দূরে থাকুক প্রত্যুত আপনিই বিঘ্ন রূপ হইয়া মধ্যস্থলে উদিত হন, তিনি চৌধু মনুষ্যবিহীন পশু। } - * We .. trip. 192 faqi, Hown At- কৃপাশ্চ সুসম্পন্নঃ সৰ্ব্বসত্বেপকারক।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.