Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Raban-kanya Maithili Ed.2

Dhar, Banku Bihari · 2009/10/12

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

মৈথিলী পৌরাণিক দৃশ্যকাব্য

‘মৈথিলী’ প্রণেতার অন্যান্য গ্রন্থাবলী
সচিত্র উপন্যাসাবলী সচিত্র নাটকাবলী
স্ত্রীপাঠ্য রজসং, সুলভসং
পৌরাণিক
কাকীমা ১১, ৮০ উৰ্বশী-উদ্ধার ॥
গৌরী-দান ১০, ১১
পিসী-মা ১০ ১১
ববাহন
1y0
আৰ্য-কাহিনী!/০,০- আকবরের স্বপ্ন ৭০
• বিষ-বিবাহ ১/০ জীবন-চিত্র ১০
সতী কি কলঙ্কিনী।/
সকল পুস্তকের ছাপা, কাগজ, চিত্রাবলী অতুৎকৃষ্ট,
কি রচনানৈপুণ্যে, কি চরিত্রচিত্রে, কি ভাবমাধুর্যে বস্তু
বাবুর পুস্তকাবলী সম্পূর্ণ নুতন ও ধর্মভাবে পূর্ণ। তাহার
উপন্যাপাবলী হিন্দী, উর্দ. কোরিজ ভাষায় অনুবাদিত
হইতেছে।
গ্রন্থকার—২২ নং ফকিরচাদ চক্রবত্তীর'লেন
অথবা আমার নিকটে প্রাপ্তব্য
শ্রীগুরুদাস চট্টোপাধ্যায়।
• ২১ নং কর্ণওয়ালিস্ স্ট্রীট, কলিকাতা।
s**

প্রাকঃ-কম্য
মৈথিলী
পৌরাণিক দৃশ্যকাব্য
বন্ধুবিহারী ধর-প্রণীত
দ্বিতীয় সংস্করণ
CALCUTTA
The Bengal Medical Library
201, Cornwallis Street.
191 3,
All rights «eserved.
মুল্য/• আনা

CALCUTTA.
Published by the Author
FROM THE "BOSUDHA AGENCY
22, Fakir Chand Chakrabutty's Lane.
Printed by G. B. Dey, at the "Oriental Printing Works
327, Upper Chitpur Road.
Illustrated by Srijut Preo Copal Das.
1913.

দ্বিতীয়বারের বিজ্ঞাপন
অদ্ভুত রামায়ণের সীতার জন্ম বৃত্তান্তের ক্ষীণ ছায়া-
বলম্বনে, আমার দুর্বল কল্পণার তুলিকায় “মৈথিলীর চরিত্র
অঙ্কিত হইয়াছে। এই পুস্তকের প্রথম সংস্করণ বহু দিবস
নিঃশেষ হইলেও, নানা কাৰ্যে ব্যস্ত থাকায় দ্বিতীয় সংস্করণ
সময়ে প্রকাশ করিতে পারি নাই, সে জন্য নানা স্থান
হইতে তাগিদ পত্র পাইয়াছি, সহৃদয় পাঠক পাঠিকাগণ,
আমার অনিচ্ছাকৃত বিলম্বের জন্য ত্রুটি মার্জনা কবিবেন।
এবার স্থানে স্থানে পরিবর্জিত, পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত
হইয়াছে। দুইখানি হাফটোন ছবিও প্রদত্ত হইল।
গ্রন্থকার
বসুধা-কাৰ্যালয়,
২২, ফকির চাদ চক্রবর্তীর
লেন, কলিকাতা।
১০ই আশ্বিন, ১৩২০ সাল।

অভিনয়ােলিখিত পাত্রগণ বিষ্ণু •• • * * * • • • কুশধ্বজ বৃহস্পতিপুত্র সৃজনকর্তা মদন কামদেব পালনকর্তা রাবণ লঙ্কাধিপতি মহেশ্বর সংহারকর্তা বিভীষণ ঐ ভ্রাতা স্বর্গাধিপতি মেঘনাদ ঐ পুত্র যম মৃত্যুপতি জনক মিথিলাধিপতি পরশুরাম বিষ্ণুর অংশপ্রাপ্ত সারণ জনৈক ব্রাহ্মণ। বিদুষক, পবন, বরুণ, বৃহস্পতি ও ঋষিগণ, দ্বারপাল ইত্যাদি ঐ চর পাত্রীগণ বেদবতী (জন্মাতে) মৈথিলী মন্দোদরী نے কুশধ্বজ-কন্যা সরমা রাবণ-কন্যা পার্বতী জনকপালিতা মহিষী রাবণ-পত্নী সখীগণ, জলবালাগণ ইত্যাদি বিভীষণ-পত্নী মহেশ্বৰ-পত্নী জনক-পত্নী মদন-পত্নী।

No text on this page.

দানব-দুহিতা আমি, রাবণ ঘরণী- [ মৈথিলী-২৯ পৃঃ

মৈথিলী
প্রথম অক
প্রথম গর্ভাঙ্ক
কুটীরাশ্রম
কুশধ্বজ আসীন
কুশ।
মায়াময় হেরি ত্রিসংসার, মায়ার
আগার, সুত-দারা-পরিবার সকলি
মায়াময় ; বুঝিতে না পারি, ভেবে মরি
দিবস শৰ্বরী, মায়া ঘােরে প্রতিকুল
নেহারি সদাই। ব্যাকুল পরাণ, নাহি

२
মৈথিলী
হয় অনুমান, কেমনে সে তনয়ায়
রাখিব বন্ধনে! গেল যাগ, গেল যােগ
তনয়ার হেতু, ধৈৰ্য্য নাহি মানে মন,
উচাটন হয় সদা ; ভেদিয়া গহন
কানন, কুটীরাশ্রম, কে যেন কি কয়,
পরিণয়-পরিণয় সরলা বালার ;
আহা! পড়ে মনে তার জন-কাহিনী।
}
[ বেদবতীর প্রবেশ ]
বেদ। হায় তাত! বিষাদিত কেন আজি হেরি
ও আনন? হেরিলে যাহারে দূর হতে
দূরান্তরে সম্ভাষ সাদরে, কেন তারে
নেহারি সম্মুখে, অধােমুখে অবস্থান
তব ? কহ দেব, কি আক্ষেপ হ’ল আজি ?
কুশ। আমা প্রতি থাকে যদি মতি, শুন মন
দিয়া আজি মাের কথা, ক’রনা অন্যথা,
অতীব যতনে পালিয়াছি তােমা ধনে।
মাতৃহীনা বালা তুমি মাের, স্নেহ ভাের
জান জননীর, জন্ম তব অতীব
বিস্ময়, মনে হয় রাখি তােমা নয়নে

মৈথিলী
MAA
নয়নে, কিন্তু শ্ৰেয় তাহা নয়, ভাবিয়া
করেছি নির্ণয়, পরিণয় দিব এবে
তব, উপযুক্ত পাত্র করি অন্বেষণ।
বে। এই হ’তে চিন্তা যদি তাত, কেন হও
উচাটন ? তনয়ায় দেহ এই বর,
যেন সৃষ্ঠিস্থিতি-লয়কারী, নররূপী
পরব্রহ্ম হরি পাই পতিত্ব বরণে।
কুশ। আশা তবু পূরিবে নিশ্চয়, দেবেরই
বাঞ্ছিত তুমি, দেবেরই সৃজন, দেবে
তােমা করে আকিঞ্চন, ত যােগ্য পতি,
বিনা সে শ্রীপতি নাহি হেরি অন্য জনে।
কায় মনে ভজ নারায়ণে, উচ্চ আশা
জাগিতেছে হৃদি মাঝে, পরে পরে হবে
সম্পূরণ, বিচলিত নাহি হ’ব তায়
অৰ্পিৰ তােমারে, মাধবের করে, বহু
ভাগ্য মানি ইথে। কিন্তু জেন স্থির, নহে
সে সামান্য জন, যাঁরে পঞ্চমুখে সদা
পঞ্চানন, করে আরাধন, বর্ণিবারে
নাহি পারে মহিমা অপার। বেদবতি।
হরিতে দুর্গতি তব দুইমাত্র হেরি
;

৪
মৈথিলী
•••••
পথ, প্রথম অতীব দুর্গম, নিগম
জানে কেহ তার। দ্বিতীয় নাহি হয়
তাদৃশ বিফল, অনিত্য জীবন জানি
ইষ্টমন্ত্র দীক্ষা লও আমার সমীপে,
মােহ যাবে, আপন সাধন বলে পতি
পাবে ; আমরা এ আর্যঋষি অহর্নিশি
তপস্যায় রত, উচ্চব্রত যােগ কর
সার, লীলাধার কল্পতরু জনার্দন
হইবে তােমার জানিও নিশ্চয় বালা।
বেদ। কল্পতরু যদি জনার্দন, আকিঞ্চন
অবশ্য পূরিবে মম ; শুনিয়াছি কত
বার শ্রীমূখে তােমার, ভকতির হরি
নারায়ণ, ভক্তি-ভােরে বাঁধা তিনি হন।
কুশ। দৃঢ় হতে দৃঢ় করি পণ—আজি হতে
করি অঙ্গিকার, যতদিন দেহে রবে
প্রাণবায়ু, সাধ্যমত করিব আয়াস
তৰ পরিণয় হেতু ; তবে যদি দৈব
বিড়ম্বনে সরলা বালিকে। নাহি মিটে
আশা, জেন’ স্থির, দেহ হতে দেহান্তরে
আজন্ম ঈপ্সিত সাধ অবশ্য পূরিবে ।

মৈথিলী
বেদ। হে জনক, দীক্ষা দেহ, যাহে অহরহ
নারায়ণে রহে মতি চিরতরে মাের।
কুশ। চিন্তা ত্যজ মা আমার! সবার আধার,
বেদ মম সার, বেদপাঠে জন্মিয়াছ
তুমি, পুনঃ বেদে দিয়া মন,
উচ্চব্রত
করিব সাধন এই প্রতিজ্ঞা আমার।
[ উভয়ের প্রস্থান।

দ্বিতীয় গর্ভা
ক্রীড়া-কানন
বেদবতীর সহিত সখীগণের গীত গাহিতে
গাহিতে প্রবেশ।
সখীগণ।
হা-সরেতে কমল-কলি দেখা দেছে ওই।
আঁখি মেলে বদন তুলে দেখলে প্রাণ সই।
মধুলােভে মন-ভ্রমরা
আশে পাশে দিচ্ছে সাড়া
হতাশ বায়ে দেশে তাড়া, সরম ছেড়ে কই।
(ওলাে তােমারে কই) অবল। সরলা সই।
ৰে। সজনীলে, আজ যেন আমার প্রাণ কেমন করছে,
যেন কি একটা ভাবী বিপদের আশঙ্কায় আমার
কাঁপছে; কি জানি ভাই, তোদের সঙ্গে ছেলেবেলা থেকে
খেলা করছি, কিন্তু এমন ত’কখনত হয় নি। ওলল আমায়
ধ, আমি আর দাঁতে পারছিনে, এইখানে বসি।
[ উপবেশন।

মৈথিলী
A ••••••••••••••••••
০১৭ ।।।।।।
১ম সখী।
(গীত)
বিহনে হৃদয় মণি, ও তাের প্রাণ সজনি,
অমন করে।
নিদয় নিঠর বিধি, কঠিন প্রাণে নিরবধি,
শালায় তােরে ॥
সখগণের। না জানি তাের কি যে পণ, প্রেমিক আসে অগণন,
ওলাে মনে কি ধরেনা তাের ?
ফিরে যায় হতাশ প্রাণে, চেয়ে সব আকাশ পানে,
উদাস মনে হােয়ে বিভাের ॥
বেদ। সখী, উপহাস নাহি কর আর, অঙ্গ
ঢালি দিছি ঝাপ দুরাশা-সলিলে, ভেসে
যাব—পাই পাব অভীষ্ট রতন, নহে
অকুলে না হারাইব কুল। সজনিলাে।
ধরহ বচন, নিবেদন করি তােরে,
যাওলো সত্বরে, হের গহন কানন,
যােগাশ্রম জনকের মাের! বুঝিতে না
পারি বিড়ম্বনা, কুভাবনা ঘেরিতেছে
হৃদয়-আকাশ, চরণ না চলে আর,
এ দেহ ভার বহিতে না পারি, কি করি
উপায় ? থর থর কাঁপে আঁখি ; সভয়

৮
মৈথিলী
r://
;
।
অন্তর, নিরন্তর বিভীষিকা হেরি
বললাে সজনি! কি হেতু এমন হল?
১ম সখী। সত্য কহি সুলােচনে, কতদিন এই
স্থানে মিলি, নিরিবিলি করিয়াছি খেলা,
দূরে গেছে হৃদিজালা, কিন্তু আজি কিবা
অসময়ে পশেছি কাননে, শ্যামলা ধরিত্রী
বক্ষে যত শােভা মনােলােভা নহে কিছু,
কুসুম-কলিকা ওই বাস নাহি ধরে,
পিককুল নাহি রবে, মলয় সমীঃ-
স্থীর ধীর যেন হয় অনুমান মাের।
২৪। ওলাে সই, করি মানা, নারায়ণে আশা
ক’রনা, ছেড়ে দাও তার আশা, চাও লো
যদি ভালবাসা, নহে বসি দিবানিশি
অলিবে মরমে, সরমে নাহি সরিবে
বচন ও তব প্রফুল্ল বদনে চারু।
৩য়। অতীব নিঠর কালা, যে ভজেছে পেছে
জালা মরমে মরমে ;
শুন সখি, করি
এ মিনতি, দেহ মতি অন্য পতি আশে,
নহে যদি ভজ শ্যামে, সুখ নাহি পাবে,
দুঃখে কাল যাবে। হের নিদর্শন, উচ্চ

মৈথিলী
• • •
পতি বরেছে যে নারী, কত দুঃখ হয়
তার ; দেব-দেব ত্রিলােচন, বরি রে
অনুক্ষণ শিবা পায় দুঃখ, সুখ নাহি
ক্ষণকাল, সদা খেদ, জীবনে বিষাদ
সদা; নিরানন্দ জীবন প্রবাহ হয়
অনশ্বর অজর অমর সুরকুলে।
বেদ। সুলােচনে, থাকে বটে মৃণালে কণ্টক,
তাহে হয় কি আটক তার, চ’য়ে যেই
প্রফুল্ল কমলে ? মক্ষিকা মরণ-ভয়ে
বিমুখ কি হয় কভু মধু আহরণে?
আজীবন মনে জ্ঞানে প্রাণে ভজিয়াছি
নারায়ণে, অন্যে নাহি জানি, ঘটিবে এ
ললাট মাঝে যা আছে লিখন। যাই
এবে পিতৃ পাশে ; কি জানি কি তরে ধৈৰ্য্য
নাহি ধরে প্রাণ, কম্পমান দেহ মম।
[ সকলের প্রস্থান।
"?

তৃতীয় গর্ভাঙ্ক যোগ-আশ্রম রক্তাক্ত কলেবরে মৃত্যুশয্যায় কুশধ্বজ শায়িত, পাশ্বে বেদবতী উপবিষ্ঠা। কুশ। বৃথা-পরিশ্রম, আকিঞ্চনন—মিটিল মাের; শুন—বৎসে—ফুরায়—জীবন- দেহে---না—হি-বল,—সকলই—বিকল হ’ল-দৈত্য-করে। উঃ-প্রাণ যায়—কহিব । কাহারে—দারুণ দুর্গতি। বে—দ—বতি ! হের এ কুটিল—সংসার-অনাচারে পূর্ণ মহী, নহে ইহা সুখ-স্থান ; প—লে পলে-আয়ু হয় ক্ষীণ ; ভাবি তাই, চারি— দিকে—ভীবণ-প্রান্তর—নিরন্তর ঈর্ষা পরস্পরে, চরাচরে কে আছে আপন, যারে-করি তােমা দান—সুস্থ করি ব্যাকুল

মৈথিলী
১১
****
****
পরাণ সুখে কাটায়েছি কাল, এৰে
বিষম জঞ্জাল, দৈত্য চায় বরিবারে
তােম। ;-পণ নাহি নড়ে-গর্বিত অন্তরে
স্পর্ধা তার বিবরিনু পরে, তাহে-হেন
দশা ঘটেছে আমার। গুন বালা! হ’ও
উতলা-অন্তিম—সময়—মােরন
উপদেশ ! যােগ-ধ্যান, যােগ——জ্ঞান,
-জ্ঞান, যােগ
—কর সার, যােগিনী বালার নাহি রবে
ভয়, শঙ্কর সদয় হবে--তমঃ-মােহ
হৰে নাশজ্যোতির্ময়ী হইবে প্রকাশ
স্বর্গ-মর্ত-অন্তরীক্ষ -আলােকিত-করি।
[ মূচ্ছ।
দে। হায়! কি হ’লকি হ’লজনক লুঙ্গীত
ধরায়, ক’ব কায় মনঃ দুঃখ ; হে হরি
এই ছিল মনে শেষ তব ? পিতঃ, পিতঃ,
কোথা যাও ? কার কাছে রাখিয়া আমায় !
[ জল সেচন ]

১২
মৈথিলী
Advans', '..
h
[ মূচ্ছ। ভঙ্গে ]
কুশ। উঃ—প্রাণ যায় বাক্য না যুয়ায়,হাঃহাঃহ
কি মধুর মুর—
তিনেহারি। নারা—
ওই—ওই—যে শিয়রে দাঁড়ায়ে আমার।
বেদ। পিতঃ, পিতঃ, হের—আমি বেদবতী তৰ
( জল সেচন
কুশ। বেদ-বতি ? প্রাণের নন্দিনিকরি মাল
উৎসাহ-ত্যজনা; দেহান্তরে পূরিতে
বাসনা তব ; নেহার জ্বলন্ত উপমা
মাতৃ-রূপাভগবতী-কত জন্ম করিয়া
ভ্রমণ, পতিরূপে বরিল ভােলারে ;
কত যুগ-করি আরাধনা-সাবিত্রী
সুষমা পতিরূপে লভিল ধাতারে।
হরি-প্রিয়া—সতত চঞ্চলা, জনার্দন
যারে স্বীয় বাম অঙ্গে করিলা সৃজন,
সেই সে কমলা, কতকাল করিয়া তপস্যা
নারায়ণে করেছে বরণ ; হেরি তােমা
লক্ষ্মী-রূপা নারীর লক্ষণ-আরাধন
কর তুমি, জন্মান্তরে বনমালি তব

মৈথিলী,
Arr
আশা করিবে পূরণ। জেন’ স্থির, উচ্চা-
সন করিতে অর্জুন, বহু বিঘ্ন ঘটে
তায়, অন্তে পায়—অভীষ্ট রতন, ধীর
যেই,—রাখে—মতি—সদা-
গােবিন্দের—পদে।
( উদগার উঠন ও মৃত্যু)
দেব। কাল পূর্ণ হ’ল জনকের, কি করিব
উপায়? বুদ্ধি না যুয়ায় ; হােক, ললাট
মাঝে যা আছে লিখন। বুঝিলাম স্থির,
এই ধরাতল মহাপরীক্ষার স্থল।
ইষ্টধন সহজে না হবে উপার্জন।
পিতঃ! পিতঃ! হায়, কি দশা আমার হবে।
[ ক্রন্দন ]
কতিপয় ঋষির প্রবেশ।
১ম ঋষি। উতলা হ’ও না মাত! নশ্বর সংসারে
হের নিতি নিতি আসে প্রাণীগণ, পুনঃ
যায় কালের কবলে ; পলে পলে আয়ু
যায়, শমন নিকটে আসে ; বৃথা আশে
ফিরে যত জীব, নিজ শিব ভাবে না

১৪
মৈথিলী
কখন। স্থির কর মন, অনিত্য সংসার,
অনিত্য এ বপু, অলীক স্বপন সম।
বৃথা চিন্তা, বৃথা শােক, মায়া মােহ করি
পরিহার, ভাব দেখি একবার, কেবা
কার পিতা মাতা, দুহিতা সন্তান? এক
প্রাণ, ভিন্নাকারে ব্যাপ্ত এই চরাচরে,
মহাসিন্ধুনীর যথা বিভিন্ন ঘটেতে।
এক হ’তে দু’য়ের উদ্ভব, ক্ৰমে হয়
পরে, তরুরাজি হ’তে যথা শাখার
বিস্তার। ত্যজ মাতঃ ! চিত্তের বিকার,
নিত্য সার নারায়ণে দেহ মতি, পাইবে
নিষ্কৃতি স্থির সংসার বন্ধনে। এস
সাথে হ’ওনা বিমনা, স্পন্দিত এ মৃত
দেহ উচিত সৎকার সাধন ত্বরা।
(বেদবতীকে লইয়া ঋষির প্রস্থান।
তৎপরে কুশধ্বজের মৃত দেহ লইয়া
সকলের প্রস্থান।)

চতুর্থ গৰ্ভাৱ
নিবিড় বনস্থিত পৰ্বতমালা
যােগিনী বেশে বেদবতী যােগে মগ্না, পশ্চাদ্ভাগে
চিতা প্রজ্জ্বলিত।
(মদন ও রতির গীত গাহিতে গাহিতে প্রবেশ)
উভয়ের।
(গীত )
ফুল বাণে বিধি সবার প্রাণ।
(তায় ) চরাচরে রাখতে নারে মান।
হেরিয়া কুসুমে ভুলিতে নারি,
পাগল করে রূপের মাধুরী,
শর সাথে ফিরি, করিয়া সন্ধান।
কঠিন প্রাণে ছাড়াই অভিমান।
.
প্রাণেশ্বর ! বৃথা আড়ম্বর, যােগভ্রষ্টা
নাহি হবে বালা, ছাড় ছল, হের, মুদি
দু'নয়ন, অনুক্ষণ অভীষ্ট রতন
ভাবে। নহে এ সামান্যা নারী। ফুলশর
ভস্ম হবে দীপ্ত-দেহ পরশে ইহার।

৫ ।
••••••• • • •
•
মৈথিলী
মদন। প্রিয়তমে কভু নাহি হৈরি হেন রূপ।
যথা আমার উদয়, প্রেম সৰ্বময়,
কঠিনতা যায়, সুরূপা কুরূপ ভজে ।
আমার প্রভাবে। অধিক কি ক’ব আর?
হিতাহিত না থাকে বিচার, অন্ধকার
মােহ-পূর্ণ হয় মহী; যােগী আরাধনা,
ত্যজি ছলনায় ফিরে মাের পায় ! কিন্তু
বিপরীত হেরি এই নারী! বহুবিধ
করিয়া যতন নারিনু ফিরাতে মন !
এস প্রিয়ে, নহে যেই রিপু পরবশ,
তার কাছে বল-বুদ্ধি পরাজিত মম।
[ উভয়ের প্রস্থান
[ ব্যস্তভাবে অস্ত্রাদি শােভিত রাবণের প্রবেশ।
রাবণ। পশ্চিমে আগত ভানু রক্তিম বরণ,
করক্ষয় হয় ধীরি ধরি, আসিতেছে
বিভাবরী, কি করি উপায় ? শত শত
অক্ষৌহিণী সেনা মম, হতাশ অন্তরে
সন্ধানিছে মােরে। হায় ! কি মহাসমস্যা
ঘােরে পড়িলাম আজি। নিরবধি সাধ,

মৈথিলী।
NA,
* ***
**
স্বর্গচ্যুত করি মুকুল, আপনার
করগত করিব সকলে। কিন্তু আজি
নাহি জানি কেন শােক-সিন্ধু উথলে
হৃদয়ে। একি হেরি ?.মরি কি সুন্দরী এ
বিজন বিপিনে। কি মােহিনী ছবি ! কি
আঁখি খঞ্জন-গঞ্জন! সুনােচনে, কেব
তুমি বসিয়া নির্জ নে ? কহ ত্বরা করি,
পূরাইব আশা তব ; লঙ্কার রাবণ
আমি রাজা দশানন, দিগ্বিজয়-আশে
ভ্ৰমি অনুক্ষণ ! আজি সুদিন উদয়,
দেহ তব পরিচয়।
রাখি তােমা প্রাণে
প্রাণে, প্রেমের বন্ধনে রহিব দু’জনে,
অবিরাম বহিবে প্রবাহ আনন্দের।
দিবানিশি বসি হেরিব ও রূপরাশি ;
লাে সুন্দরি ! কহি সত্য করি, পিপাসিত
প্রাণ মম, প্রেম-বারি দানে রাখ মােরে !
( নিকটবর্তী হইয়া )
নারী হােয়ে অবহেল ? লঙ্কার রাবণ,
[ ২ ]
:-

মৈথিলী । । । । । A = • ** ** ।।।। ** নিমগন ? যাচে প্রেম, তায় কর অযতন? ছাড় ছল, নহে নিস্তার না পাবে মােরে পাশে। ( বিস্ময়ে ) কিছু না বুঝিতে পারি, কেবা এই ধ্যানে কেন বা পশ্চাতে জ্বলিছে চিতা ? হের আঁখি মেলি, ব্যাকুল পরাণ মম ! বেদ। (ধ্যানভঙ্গে) কে তুমি উদয় দেব ? চিনিতে না পারি, জ্ঞান-হীনা অভাগিনী আমি, হইয়া সদয়, দেহ বর, যেন পাই নারায়ণে পতিত্ব বরণে ; এই মাত্র আশা, বিনা সে ভরসা, অবলার নাহি কিছু আর। রাণ। সুলােচনে। কেবা সেই নারায়ণ? পাই যদি দরশন তার, দমি অহঙ্কার, এখনি নাশিব তারে। যক্ষ-রক্ষ-দেব- গন্ধর্ব-কিন্নর সদা ভরে মােরে। দেহ আলিঙ্গন, এই মাত্র আকিঞ্চন মম ; কৃশােদরি! অষতনে ফিরাও বদন। পুনঃ বলি শুনলাে রুপসি, অভিলাবি

• • • • • , ।
মৈথিলী
১৯
••••~~~~~
প্রেম তব, দেহ দান, ছাড় অভিমান,
নতুবা জানিও স্থির, লঙ্কার রাবণ
আমি,-ঘাের অত্যাচার হবে মাত্র সার।
বেদ। আরে আরে পাপাচারী দুরন্ত রাৰণ !
যােগে মগ্না বালা, অহঙ্কারি অবহেল
তায়? পারি তােমা এখনি নাশিতে মূঢ়।
রাবণ। অয়ি দুশ্চারিণি ! কটুভাষা কহ মােরে?
ভাল, ভাল, প্রতিফল হের এবে তার !
(সবলে কেশাকর্ষণ )
বেদ। (সকাতরে যুগ্মকরে )
সাক্ষি বন, উপবন, সমীর সতত
প্রবাহী, সাক্ষি হও অবলার দেবতা
তেত্রিশ কোটী ! ঘাের অত্যাচারী দুরন্ত
রাবণ, একাকিনী পাইয়া, অবলায়
করে আজি বিক্রম প্রকাশ ! নারায়ণ,
বল দেহ হৃদে, কাঁদে প্রাণ, ধৈৰ্য্য নাহি
ধরে। পতি ধ্যান, পতি করি জ্ঞান, ভজি
ইষ্টদেবে, পতি সেবা করি নিরবধি,
তপস্বিনী পতির সাধনে। এ সাধন

মৈথিলী
«» MVV
f
বৃথা যদি হয়, ওহে দয়াময় হরি।
পতি-ভক্তি, সতী-ধৰ্ম্ম উঠিবে ধরায়।
রে দুৰ্ম্মতি, বিষ-লতা রােপিলি হেথায়,
কালে ঘেরিয়া হৃদয়-তরু, বিষময়
ফলদানে বংশ ক্ষয় হইবে অচিরে।
মম কেশে ধরি, যেই মত পাপাচারি।
করিলি অন্যায় আচরণ, তেমতিরে
পুনঃ যবে রমণীকে আক্রমিবি বলে,
বংশমূলে পড়িবেক কুঠার আঘাত,
প্রাণপাত হবে তাের আম' হতে।
( চিতার নিকটবর্তিনী হওন।)
রাবণ। একি, একি ভস্মিভূত হৃদি হ’ল মাের।
[ প্রস্থান।
বেদ। বৃথা আর বহি দেহ 'ভার, বারেক মা।
বসুমতি! প্রীতির নয়নে হের, স্তব
স্তুতি নাহি জানি, অনাথা তনয়া আমি,
কর মা! করুণা, অপমান নাহি সহে
আর। হায়! কি করি উপায়, অঙ্গ মম
পরশিল নীচ নিশাচরে? কাতরে মা
!
।

মৈথিলী
ডাকি অয়ি গাে জগতি! নিরবধি পূজি
তো মাতৃ বােধে, দেহ কোল, সম্বল
তুমিই মম। রে মন, মমতা কই
ছেদন, অপবিত্র দেহ আদি দাও
বিসর্জন, ঘুচে যাগ, জীবনের জ্বালা।
চিতানলে ঝম্প প্রদান।

পঞ্চম গর্ভা
আশ্ৰমস্থল
কতিপয় ঋষি ধ্যানে মগ্ন
রাবণ।
রাবণের প্রবেশ
শুন ওহে তপশ্চিমগুলি । সাগর।
ধরণীর একচ্ছত্র পতি আমি রাজা
দশানন, যাচি অনুগণ রাজ-কর
তােমাদের ঠাই, কিন্তু বার বার কর
প্রতারণা ? একি আচরণ! রে সবে,
আপনি আগত এই লঙ্কা-অধিপতি,
স্থির করি মাত, রাজ-কর দানে প্রীত
কর মােরে! এই সুবিস্তৃত বসুন্ধরা
অসীম বিস্তার, ঘােষে অনিবার যশ
মম, রাজ-চক্রবত্তী পদে অধিনতা
কে না চাহে করিতে স্বীকার যােকরে?

মৈথিলী
২৩
১ম ঋষি। হে বীর-কেশরি ! মােরা ফল মূলাহারী,
তপস্যা আচরি সবে, কি পাব কোথায়,
রাজ-কর কি দিব তােমায় ? অদ্বিতীয় ;
রাজা তুমি এ মহীমণ্ডলে, বলে কোন
বলী করে সাহস তব সনে করিতে
বিবাদ ? পরমাদ কেবা করে সাধ
আপন ইচ্ছায় ? শুন শুন লঙ্কেশ্বর,
রাজকর অবশ্য দানিব।
আন পাত্র,
রুধিরে সেবিব তােমা আজি বীরবর।
রাবণ। ভাল, ভাল, তাই হােগ, হে ঋষিমণ্ডলি !
[ প্রস্থান।
১ম ঋষি। শুন ওহে ভ্রাতৃগণ! হয়ে এক মন,
লঙ্কার রাবণ আজি উদয় এখানে,
বিদারিয়া নিজ নিজ উরুদেশ, এস
শােণিতে তুমি সবে নিশাচরে, মরিবে
মরিবে রাবণ এই শােণিতপ্রবাহে।
একটী কলসী হস্তে রাবণের পুনঃ প্রবেশ।
রাবণ। হের দৈব যােগে মিলিল এই সুরম্য
কলসী, ধর হে ঋষি, সন্তুষ্ট হৃদয়ে !

নে
২৪
মৈথিলী
ঋষিগণের স্ব স্ব নখাঘাতে উরু ভেদ করিয়া
শােণিতে পাত্র পূর্ণ করণ।
২য় ঋষি। ধর ধর বৃঙ্কেশ্বর! রাজধ স্বরূপ
এই রুধির প্রবাহ। তন মন দিয়া,
নহে ইহা রমণীর পেয়, সঙ্গোপনে
রাখা শ্ৰেয় জানিও য়াজন! পিয়ে যদি
নারী, গর্ভবতী হবে এই শােণিত
প্রভাবে, উদিবে তনয়া; তাহেই হবে
তব নাশ! ইথে না হবে অন্যথা কভু।
রাৰণ। বৃথা এ ভাবনা! নর কিম্বা নারী, কেহ
পিয়িবে ইহা, স্বার্থত্যাগ আত্মবলি
আদর্শ এ রুধির কলসী,রাজগৃহে
রহিবে সাদরে ইহা রাজ-কর রূপে।
স্বগত) বিষম সমস্যা আজি উদয় অন্তরে।
ভাল, বিষ বলি দিব ইহা মন্দোদরী-
করে,.রবে অন্তঃপুরে মাের সমাদরে।
জীবনের মমতা থাকিতে, নরনারী
নাহি পিবে ইহা আপন ইচ্ছায় কভু।
[ কলসী লইয়া প্রস্থান।

দ্বিতীয় অঙ্ক প্রথম গর্ভা অন্তঃপুরস্থ উদ্যান রাবণ ও মন্দোদরী আসীন মলো। কেন নাথ ! পুনঃ পুনঃ কহ হেন বাণী? বহুদিন বৃক্ষরায়, আছি’ অপেক্ষায় তব, চাতকিনী যথা বারি আশে। আজি দাসী পাশে যদ্যপি উদয়, আর না ছাড়িব কভু! আঁখি জলে ধৌত করি চরণ যুগল, মুছি এই কেশদামে, হৃদাসনে রাখিয়া যতনে সদা, প্রেম- পুস্পাঞ্জলি দানে সিদ্ধ হবে মনস্কাম। ৰণ। প্রিয়ে। মহাকাৰ্য্য সম্মুখে আমার, অন্তে মৈথিলী •••".0 AM তাহা করি সমাপন, অবিচ্ছেদে স্বর্গ- সুখ ভুঞ্জিব লঙ্কায়। চিন্তা কেন কর অয়ি সুহাসিনি ! ও চারু অধরে হাসি, অমিয় বচনে তুষি,—বিদায় পতিরে। মন্দো। মহাকাৰ্য্য কি বা তব কহ প্রাণেশ্বর? রাবণ। সুলােচনে, মহাসিন্ধুমাঝে যথা তরঙ্গে তরঙ্গ ফেলি নাচায় তরণী, তেমতি এ হৃদি-সিন্ধু মাঝে, চিন্তার লহরী খেলি জয়-তরি নাহার সতত। অবিরত সাধ, অমরনিচয় সবে হবে মম আজ্ঞাধীন। সীমা হতে সীমান্তরে পবনে বহা’ব সুশ মন ; হলে প্রতিবাদী, হেরিবে দুর্গতি তার। করিয়াছি ভুবন বিজয়, ইচ্ছা এবে স্বর্গ মর্ত করিব এই করতল; ভুজ-যুগ-বলে কার সাধ্য তিষ্ঠয়ে সম্মুখে আমার ? উতলা হওনা রাণি ! দানহ মেলানি, যাই এবে, ত্রিভূবন জয়ি পতি আসিবে আবার ফিরে, লঙ্কালয়ে থাক তুমি সুখে। [ প্রস্থানােদ্যোগ।

২৭
ক.
''
মৈথিলী
nnnnnnnnnn
মনো। আছি তব মুখ চেয়ে, দেখা দিয়ে
ত্বরা যাবে চলি ? আকাঙ্কিণী, এ অবলা,
একাকিনী বিরহের জ্বালা, অহঃরহ:
কেমনে সহিবে? হে রাজন! নিত্য তুমি
থাকিয়া প্রবাসে ভুঞ্জ সুখ অভিনব, ;
নিত্য নব ললনার প্রেম-অনুরাগ,
অলি যথা কুসুম নিয়ে হেরি সদা।
রাবণ। প্রাণেশ্বরি,-কহি—সত্য করি, অনুরাগে
ঘটেছে বিরাগ, অভিশাপ করিয়াছি
লাভ আমি, বলে যদি হরি কভু নায়ী,
হৃদি-ী করি ভেদ, প্রাণ-পাখী ত্বরা
তেয়াগিবে এ দেহ পিঞ্জুর, ভয়ঙ্কর
শাপানলে জ্বলে মরি পলে পলে। কিন্তু
প্রিয়ে ! লঙ্কার রাবণ আমি, দশানন
বীর, নাের কিব! ভয় ? পরাজয় করি
সে শমনে, মৃত্যু নাম লােপিব ধরায় ;
চরাচরে ব্যাপ্ত হবে ব্রাবণের খ্যাতি।
মন্দো। লঙ্কাপতি, থাকে যদি আশা খ্যাতি তব
স্থাপিতে ধরায়, ধর অধিনীর বাণী;
নৃপমণি, কোরনা হেলন ; ভেবে দেখ !

মৈথিলী
ভুবন মাঝারে মুগ্ধ সবে অনজের
শরে, অনঙ্গ প্রতাপে পিতা পুত্রে খন্দ
করে। সতী, ত্যজি ধরম আচার, পাপ
কৰ্ম্মে দেয় মতি, উপপতি পাশে ধায়
হাস্য মুখে। অধিক কি ক’ব, মন্দোদরী,
রাণী তৰ, অনুক্ষণ জ’লে মরে সেই
মদনের শৰে। ভাৰ আপনা নেহারি,
অপকারী কত সে অনঙ্গ, কতকাল
করি ধ্যান, অমরত্ব করিলে বাসনা,
পূরাইল বিধি তাহা ? কিন্তু ভাব, কি
পাগল করেছে কর্প, স্বেচ্ছায় মৃত্যু
আনি রেখেছ শিয়রে ; নিরবধি সাধি
নাথ, মেননা ব্যাঘাত, কর কামজয়,
অক্ষয় অমর কীৰ্ত্তি থাকিবে ধরায়,
রবি-শশী আছে যথা অনন্ত গগনে।
রাবণ। উপেক্ষার কথা রাণি! দিগ্বিজয়ে মাের
নতশির হবে জনে জনে ; বীর বলে
গণি অনঙ্গে ; দর্প তার সুকোমল
কামিনী-হৃদয়ে। [ বেগে প্রস্থান।
মন্দো। ভুলায়ে না পাবে ত্রাণ! [ পশ্চাদ্ধাবান।

দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক
মন্দোদরীর কক্ষ
আলুলায়িতা কেশে, শােকাতুরা বেশে
মন্দোদরী উপবিষ্ঠা
মনো। দানব-দুহিতা আমি রাবণ-ঘরণী,
মেঘনাদ পুত্র মম, অনুপম ধরা
মাঝে ;-কিন্তু মাের ভালে নাহি সুথলেশ।
কাদি আজি আমি প্রেমাধিনী একাকিনী
বসিয়া বিরলে, স্বামী মম সতত
প্রবাসী, অহর্নিশি ফিরে রণ আশে ;
মােহবশে না করে বিচার, অত্যাচার
করে পলে পলে। কি বলে প্রবােধি মনে ?
রাজ্যময় উঠে সদা হাহাকার, নাহি
সু-বিচার, সতীর সতীত্ব নাশ হেরি
অনায়াসে! মন সতত অস্থির, পদ্ম

মৈথিলী
পত্রে-নীর যথা করে টলমল ; ঝরে
অবিরল আঁখি-বারি, নিবারিতে নারি
প্রেমের উচ্ছাস, নাহি মিটে এ প্রেমের
পিয়াস, কিবা আশ ছার জীবনে ? দিব
বিসর্জন। অকারণ দেহ ধরি ; এই
বিষপূর্ণ সুবর্ণ কলসী, বহুদিন
হতে রাখিয়াছি যারে সমাদরে, আজি
করি সেই বিষ পান, নির্বাণ হউক
আলা পতির বির, কত স’ব আর ?
( ঋষি প্রদত্ত রুধির পান করণ।)
হয়েছে সময়, অঙ্গ মম ধীরে ধীরে
হতেছে অবশ, আধা-অাঁধার-হরি
'চারিধার, ভাত-মুদি-খি চিরতরে।
শয়ন।

তৃতীয় গর্ভাঙ্ক
রাজ-কক্ষের সম্মুখস্থ পথ
সরমা ও বিভীষণের প্রবেশ
সরমা। কহ নাথ, হৃদয় রতন, ও প্রফুল্ল
আননে কেন বিষাদ-কালিমা ? কি হেন
বেদনা উঠেছে অন্তরে ? ধরি করে, না
করিও ছলনা; বহুদিন হতে প্রভু!
সেবি ও চরণ, কিন্তু হেন ভাব কভু
না হেরেছি, ভয়ে মরি, আকুল পরাণ,
করুণায় কহ তব বিষাদ কারণ।
বিভী। প্রিয়ে। বিভীষণ হেরিছি স্বপন কালি
নিশা অবশানে, যেন লক্ষ্মী-স্বরূপিণী-
কুমারী বালিকা এক বসিয়া শিয়রে
মাের, মৃদুস্বরে কহিল আমারে, ন
শুন, ধার্মিক প্রবর, লঙ্কেশর, জ্যেষ্ঠ

মৈথিলী
তব, অহঙ্কারি রিপুবশে, অনায়াসে
যােগভ করিল আমার হরিবারে
সতীত্ব রতন, সেকারণ ত্যজি সেই
অপবিত্র-তনু, মন্দোদরী-গর্ভে আমি
ধরিনু জনম, নাশিতে কৰ্ব্বকুল।
বিন্দু বিন্দু বারিপাতে ক্রমে যথা স্রোত
হয় প্রবাহিত, তেমতি সে রাবণের
পাপ সমুদয় হইয়া সঞ্চিত, হল
প্রায়শ্চিত্ত স্রোতে আজি প্রবাহিত। হেরি
ফিরে শিয়র প্রদেশে, কিন্তু নির্ণয় না
হ’ল কিছু তায়, সেই হ’তে শঙ্কা হয়
পলে পলে ; জলি চিন্তানলে অহঃরহঃ।
সরমা। স্বামী তুমি, কি ক’ব অধিক, নহে ইহা
ভাবিবার কথা, বৃথা কর অন্দোলন।
বিভী।
ধর সতি। বাক্য মম, হের স্থির ভাবে
করির সন্ধান, গর্ভবতী হয় কিম্বা ।
নহে মন্দোদরী! অকারণ নাহি হয়
ঊষার স্বপন।
অমঙ্গল হবে স্থির,
রক্ষদল মাঝে ; দশানন, জ্যেষ্ঠ মম,
ভাবি ভবিষ্য রেখা, দর্পভরে, মহা

মৈথিলী
সংসার-সাগরে বাহি এ জীবন-তরি,
নাহি করি ভয়, জয়-স্রোতে ভেসে যায়।
একাধারে ; লঙ্কা বলি না ভাবে অন্তরে।
সরমে। সরমে মরি যতবার ভাবি
সে স্বপন কথা এ মাের অন্তর মাঝে।
সরমা। বৃথা এ ভাবনা তব, স্বামী সনে নাহি
যার সহবাস, গর্ভ তার অসম্ভব।
বিভী। সরমে, জেনাে’ মনে, এ ধরাতল হয়
শিক্ষা-দীক্ষা স্থল, নর ও নারী ধাতার
সৃজন,
পরীক্ষা
কারণ, নহে উদ্দেশ্য
বিহীন, ধীর যেই জন-রিপুচম সে
করে দমন। হের, মানবের হৃদয়
মাঝে, উচ্চ অধিকার রিপু বিনা আছে
কার? রিপুবশে অগ্রজ আমার, ত্যজি
পতিপরায়ণা আপন অঙ্গনা, পর
নারী করে আলিঙ্গন। নাহি জানে কি যে
হয় আপন আলয়ে, ক্রীড়ার পুত্তলী
ভাবে রমণীর সতীত্ব রতন। কিন্তু
হায়! সতীরে পীড়ন করে যেই জন,
হেরি নিস্তার, অনুতাপানল তার

৩৪
মৈথিলী
। • • • • • • • • • •
• • • • •
* । । । ।
জীবনে মরণে সাথি। এলােচনে, যাও
সঙ্গোপনে ত্বরা আজি রাণীর ভবনে,
আন বার্তা, কি ভাবে রয়েছে মন্দোদরী।
সরমা। উতলা কি হেতু নাথ ! কিঙ্করী রয়েছি
পাশে, গিয়া বার্তা আমি এখনি আনিব।
[ প্রস্থান
বিভী। আরে মন, কি হেতু উতলা আজি ?
কেন আঁখি কাঁপিছে সঘন, অন্তস্তল
হয় বিচলিত? বুঝিতে না পারি কিছু!
যত ভাবি স্বপনের কথা, তত ব্যথা
জাগায় অন্তরে ; কি করি উপায় ? ভাল ।
করিয়া সন্ধান, যদি হয় অনুমান,
গর্ভবতী রাণী মন্দোদরী, তা হইলে
নিশ্চয়, রক্ষ দল হবে ক্ষয় এ গর্ভ
প্রসবে ; হৃদিমাঝে স্তরে স্তরে জ্বলন্ত
অক্ষরে রবে লেখা সে স্বপনের কথা।
[ প্রস্থান।

চতুর্থ গর্ভা
সমুদ্রতটস্থ লঙ্কা
{ মেঘাচ্ছন্ন আকাশে সৌদামিনী-খেলা, ঘন ঘন
বজ্রনাদ ও বারিবর্ষণ )
পবন।
পবনের প্রবেশ।
কৰ্ম্মালয় এ মহা সংসার, কভার
বাহক সকলে ; নিজ শক্তি বলে দেৰ
যক্ষ-দানব-মানব বললাচিত কৰ্ম্ম
সব করে সম্পাদন । প্রভঞ্জন আমি,
মমােপরি দেবােপম কর্মভার বিধি
করিলা অর্পণ। বিধি-বিধি কে লঘিবে ?
প্রচণ্ড উত্তাপ রবি করে বিকিরণ,
শশী তার বিপরীত। কর্মশূর আজি,
নিজ শক্তি বলে কৰ্ম্মভূমে স্বীয় কাম্য
করি সমাপন, কৰ্ব্ব রী-কামনা-নাশ
করিব অচিরে। কে পারে রােধিতে মােরে ?
4

মৈথিল
সমুদ্র গর্ভে প্রবেশােদ্যত ও তথা হইতে
বরুণের প্রবেশ।
বরুণ। হে জীব-জীবন, আজি কি সৌভাগ্য মাের,
তেঁই তব সন্দর্শন নেহারি সম্মুখে ;
কহ সুবর, বিমল হাসির রেখা
কেন ও চারু অধরে তব ? দেব-ত্রাস
দুর্জয় রাবণ-নাশ ঘটিল কি আজি ?
কহ সখে, ত্বরা করি, পাশরি
পূর্বের
স্মৃতি, রাবণের ভীমাকৃতি, হৃদি পটে
করি বিমােচন জুড়াই তাপিত প্রাণ।
পবন। নহে সে সৌভাগ্য, কিন্তু বটে জলেশ্বর।
সূত্রপাত আজি হল তার। ওই হের
দুরে বৃক্ষ-কুলবধূ সমাগতা প্রায় ;
এস! অন্তরালে মনােভাব প্রকাশিব।
( উভয়ের জলগর্ভে প্রবেশ)
আলুলায়িতা কেশে মৃগয় পাত্র হস্তে ধীরে ধীরে
সরমার প্রবেশ ও জলোচ্ছাস।
সরমা। ওই–ই–উত্তাল-তরঙ্গ-মাল-পূর্ণ
পারাপারে, শয়-কন্যা-কন্যা এ অযােন

No text on this page.

গন্ধর্ব-নন্দিনী আমি, বিভাষণ রাণী--- [ মৈথিলী-৩৭ পৃ:

মৈথিলা
৩৭
সম্ভবা অচিরে বিলীন হবে। —নারী
আমি, এ নৃশংস কাজ আমা হতে নাহি
হইবে সাধন। আমা সম বিধি-সৃষ্ট
ক্ষুদ্র এই বপু, হইলে রক্ষিত হতে
পারে মহা উপকার,—কিন্তু—নিশ্চয়তা
কিবা তার ? ভবিষ্য জীবন-স্রোতে হতে
পারে বিপরীত ; না-না—প্রতিজ্ঞায় বদ্ধ
আমি করিব পালন ;-ধীরে-ধীরে চল
মন! মহাকাৰ্য্য হবে করিতে সাধন।
(জলে অবতরণ )
গন্ধৰ্ব্ব-নন্দিনী আমি, বিভীষণ-রাণী
অকলঙ্ক রাখিবারেরমণী-রতন,
আগমন মহাসিন্ধু-কূলে ভাসাইতে
আজি এই সে অপূর্ণ-গভচুত-শিশু
অস্ত্রাঘাতে বহিস্কৃতা মন্দোদরী হতে।
করিয়াছি অসীম সাহস, একাকিনী
এ ঘােরা যামিনী-যােগে কর্তব্য ভাবিয়া।
দুই কৰ্ম্ম হেরিতেছি সম্মুখে আমার,
পতির আদেশ, আনিতে স্বরূপ বার্তা
যে ভাবে আছয়ে মন্দোদরী, অন্যদিকে

মৈথিলী
হায়! সতীর সরস্ব যায়, যদি না
গােপনে রাখি সতীর এই ব্যথা। কোন্
কাৰ্য্য সাধন অধিক শ্রেয়ঃ ? সতী চায়
সতীর আদর! মন্দোদরী—গভজাত
অপূর্ণা কুমারী, সাগর সলিলে তুমি
হও নিমগন। গােপন রহিবে এই
বক্ষ-কুল-কথা? প্রকাশ না হবে ।
( মৃন্ময় পাত্রস্থিত মন্দোদরী কন্যাকে জলে
ভাসাইয়া দেওন ও পবন প্রবাহে
বিপরীত স্রোতে গমন।)
একি সমীরণ! প্রবাহি প্রচণ্ড দাপে
দূর স্থানে ল’য়ে যাও লঙ্কার বারতা !
এ নহে সম্ভব ; রক্ষ-কথা রবে গাঁথা
চিরতরে এই সাগর তলেতে আজি
( সরমার অধিকতর দূরজলে অবতরণ করিয়া
পাত্রকে ধরিবার উদ্যোগ করণ, কিন্তু পবন :
প্রবাহে পাত্রের ও দূরতর জলে গমন ও
ঘন ঘন অশনি পাত )

মৈথিলী + A A ওহহা পুনঃপুনঃ ভীষণ গর্জন, দেব- গণ, থাকি অনন্ত গগণে অশনির নাদে লয়ে যাও এই রক্ষ-কুল-কথা ? বুঝিয়াছি স্থির ! দেবতার লীলা ইহা, দেব বলে গর্ভের সঞ্চার, দেব-বলে গর্ভের বিকার, দেব-বলে পেলে ত্রাণ, দেব-বলে হইয়া পালন, দেব-কাৰ্য করিবে সাধন এই রক্ষ-বালা; রক্ষ- কুল নাশ হবে এই সাগর সলিলে। মৃন্ময় পাত্রের উজানে প্রবাহিত হইয়া অদৃশ্য হওন, হতাশ অন্তরে সরমার সেই দিক লক্ষ করিতে করিতে প্রত্যাবৃত্ত হওন ) তৃতীয় অঙ্ক প্রথম গর্ভাঙ্ক ব্ৰহ্ম-লােক ( ব্রহ্মা, ইন্দ্র, যম, বরুণ, বৃহস্পতি, বসুধা ও পবন আর্দীন। পল। পূর্ণ অভিলাষ ! কার সাধ্য রােধে গতি নিয়তির ? পলে পলে করি কাল ভেদ, অযােনিজা, উজানেতে প্রবাহি প্রবল, মিথিলা মাঝারে তারে করেছি স্থাপন; পিতামহ ! আত্ম-কাজ হইল সাধন, সফল.সৃজন তব ! কৰ্ম্মফল সার। বিষ্ণুপ্রিয়া ভজি বৈকুণ্ঠ ভুবন, ধরি নরাকার, অনুঢ়া বয়সে দশানন- করে ত্যজিয়া জীবন, আবার কলত্র-

মৈথিলী
৪১
উদরে তার ধরিল জনম , কৰ্ম্মফেরে
ঘটে এই সংঘটন। কিন্তু জেন স্থির।
এক আত্মা দু’য়ে হয়ে পরিণত, খেলে
নিয়তির খেলা সদা ; পরমাত্মা আছে
বিষ্ণুপদে অধিষ্ঠান ; ছায়া যথা কায়া
পাশে! কৰ্ম্মবশে হয় আত্মা-গতাগতি।
অনর্গল বাষ্পরাশি যথা ধীরে ধীরে
মিশিলে গগনে, বিমনিল নাহি হয়,
তেমতি এ অন্তরের রিপু সমুচয়
মিশিয়া আত্মায়, পরমাত্মা করে না
মলিন, অলিপ্ত থাকে সদা, বারি যথা
পদ্ম-পত্রোপরে।
তব বলে দশমন
বলী, একি অবিচার? সহজে রাক্ষস
জাতি, অনিত বিক্রমে মাতি—অত্যাচার
করে সর্বোপরি ; অবলা আমি, আর না
সহিতে পারি অসীম দৌরাত্ম তাহার।
ব্রহ্মা। বসুধে ! কালপূর্ণ যতদিন না হয়
দুরন্ত রাবণে, আনত বদনে সহ
অত্যাচার, নহে সে সামান্য জন, অতি

০২
মৈথিলী
A
বিচক্ষণ ছিল বৈকুণ্ঠের দ্বারী, বিষ্ট,
অরি এবে কৰ্ম্মফেরে। তার তরে রমা
ত্যজিয়া আবাস, করে বাস মিথিলার
ক্ষেত্র মাঝে। যাও সতি! অপূর্ণ এখনাে
রয়েছে, স্বভাবে করহ পালন তুমি।
শু। সৌভাগ্য অপার, ত্রিদশ-পূজিতা রমা,
দুহিতা আমার হবে জগতে বিদিত।
বরুণ। বসুমতি! ভাগ্যবতী নহ তুমি একা,
তব সম আমি তারে ধরেছি হৃদয়ে।
যম। পিতামহ ! রচিয় সুরম্য পুরী, মােরে
আধিপত্য-ভার তার প্রদানিলে তুমি,
সংসার ভবের হাটে কেনা বেচা সাঙ্গ
করি জীর্ণ তনু জীবচয় আসে তায়
পালটিতে। কিন্তু হায়, সৃষ্টি যায়, সব
ফুরায় বুঝি দুৰ্ম্মতি রাবণ-প্রভাবে।
অক্ষা। মৃত্যুপতি, কৰ্ম্মফল জেন মাত্র সার !
কৰ্ম্মফলে লভে এ বিক্রম, কৰ্ম্মফলে
হইবে পতন, উচাটন বৃথা কেন?
ইজ। হে বিধাত, অত্যাচার পূর্ণ মাত্রা হের
এবে লঙ্কার রাবণে ! সুরকুলে দিয়া

মৈথিলী
৪৩
41. A
লাজ, সাজিয়া ভীষণ সাজ, বীরদাপে
স্বেচ্ছায় জনে জনে সিংহাসনে উঠায়
বসায়, অভিপ্রায় নাহি যায় জানা ! হে
পদ্মযােনি! করহ বিধান আজি, যাহে
অচিরাৎ লঙ্কার রাবণ হয় নাশ ।
বৃহ।
গুরু আমি তােমা সবাকার, ধর সবে
বাক্য মাের, চল যাই শ্রীহরি সকাশে,
যথায় এখন সেই অনন্ত-মূরতি
অনন্ত শয়নে শয়ান ; তঁারই পাশে
মনােভাব করহ প্রকাশ, ভকতের
দাস, পূরাবেন অভিলাষ দেবতার ।
সুরজ্যেষ্ঠ !
কি দেখিছ বসিয়া নীরবে,
দেবের দেবত্ব যায়, লুপ্তপ্রায় দেব
পরাক্রম? ধীর, স্থির, নিশ্চল, অচল
অবনীতল একমাত্র রাবণের
অত্যাচারে সঘনে কম্পিত
ব্রহ্ম।
বৃহস্পতি ?
সুমতি-সুধীর, সুৱশ্রেষ্ঠ মহাজ্ঞানী
তুমি, দেহ সুমন, যাহে ধরাতলে

১৪
মৈথিলী
চির শান্তি করয়ে বিরাজ।
পদ্মেযােনি।
আপনি সৃজিলা তুমি রক্ষ সমূদয়
দেখাইতে চরাচরে উচ্চতার
ইয় যেরূপ পতন। স্থির কর মন,
সত্ত্ব গুণে করেছ সৃজন, রজোগুণ
হইয়া বর্ধন, তমােতে,সংহার হবে।
দুশ্চ্যবন, প্রচেতা, পবন, এস সাথে
সহস্রাস্য পাশে অচিরে পুরিবে আশ ।
( সকলের প্রস্থান ।

দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক
রাজপথ
মেঘনাদ, বিভীষণ, শুক ও সারণের প্রবেশ
মেঘ। হায় তাত! কি ক’ব অধিক ? বজ্র হতে
দৃঢ় হৃদি আজি সঘনে উঠিছে কাঁপি,
উচাটন মন, অলক্ষণ হেরি সদ।।
প্রতিক্ষণে মনে হয়, প্রায় প্রমাদ
বুঝি ঘটিল লঙ্কায় ! দিব্য চক্ষে হেরি
লঙ্কার ভবিষ্য ছবি অতীব ভীষণ !
বিভী! বৃথা কেন চিন্তিত সুধীর ? মতিমান
রাজদূত জনে জনে প্রেরি, বার্তা আজি
লইব ত্বরায় ; স্থির কর মতি, লঙ্কার
গৌরব-রবি অস্তমিত নাহি হইবে
সহসা। হে শুক, অমাত্য প্রধান, হের
করিয়া সন্ধান, কেবা জনমিল আজি
মহাপুণ্যবান্ শ্যামল এ ধরাতলে।
মেঘ। খুলতাত ! সহেনা বিলম্ব আর, দেহ
আজ্ঞ', এই দওে, এই অনির প্রভাবে

৪৬
মৈথিলী
!
খণ্ড খণ্ড করি ধরিত্রী-শির, নির্বিঘ্নে
স্বর্গসুখ ভুঞ্জি এ লঙ্কায়, রক্ষ অরি
ধরা না ধরিবে আর।
বিভী।
কাল সৰ্বসার
বৎস! কালে লয়, কালেতে উৎপত্তি
হয়, কালাধীন এই ভব-সংসার।
কালেতে ধর এ জীবন, কালে হইবে
বিলীন, মহাপাপ স্ত্রীবধ পাতকে কি
কাজ অর্জনে ধীমান! ভুবন-বিজয়ী
বিক্রমে কেশরী জনক তােমার, তুমি
বাসব-বিজয়ী। সহােদর কুম্ভকর্ণ
মম, অনুপম বলে, একত্ৰ থাকিলে
সবে, লঙ্কার এ সিংহাসন অচল
রহিবে, যথা রবি শশী অম্বর মাঝে।
মেঘ। হে পিতৃব্য ! তব বাক্যে বিমুগ্ধ পরাণ,
কি আর কহিব ? শুভাশুভ এ রাজ্যের
লক্ষণ হেরি, করহ মঙ্গল বিধান।
বিভী। দূতশ্রেষ্ঠ হে শুক সারণ, এস সাথে,
স্বয়ং যাইব আজি নগর ভ্রমণে।
যথা আজ্ঞা মহারাজ।
[ সকলের প্রস্থান
উভয়ে।

তৃতীয় গর্ভাঙ্ক
ক্ষীরােদ-সাগর
(সাগর বক্ষে অনন্তশয়নে নারায়ণ শায়িত,
কূলে দেবগণ আসীন )
নারা। সূরীবর, নহি বিস্মরণ, জাগে স্মৃতি,
সে বৈকুণ্ঠ ভুবনে অভিশাপ লভেছি
দুর্জয়। ত্যজহ সংশয় ! পূর্ণ হবে
আকিঞ্চন ; হের নিদর্শন, কাল চক্রে
অবিরত ঘুরি, প্রেমময়ী রমা মাের
ধরায় উদিত। বৃথ! ভয়, প্রত্যয়েতে
বাঁধ বুক, অহম্ এ স্মৃতি-জ্ঞান, করি
দান বিস্মৃতি-সলিলে, তমােময় ধরি
নরাকার, ধরাতলে ধরিব জনম ;
অখণ্ডন নিয়তির রেখা, সমাভাবে
রবে দীপ্তিমান অনন্ত কালের তরে।
বৃহ। একমাত্র ভরসা তােমারই হরি।

৪৮ মৈথিলী - ******** **** s দেবেন্দ্রমণ্ডলে। তুমি আদি, তুমি অন্ত ! যুগে যুগে বার বার ধরি নব অঙ্গ, খেল রক্ত নিতি নব ; এবে হে শ্রীপতি। সবার মিনতি রাখ, নররূপ ধরি ধরায়-রাবণ স্বদন নাম প্রচার লীলাবশে, ত্রাস বাবে দেবের সমাজে। ব্ৰহ্মা। নারায়ণ, দশাননে দিয়াছি অভয়, দেব যক্ষ-গন্ধৰ্ব্ব-কিন্নর, সক্ষম না হবে কেহ বিনাশিতে তায়, এবে তুমি হে উপায় কর দয়াময়! কর দয়াময়! নরাকার ধরি অরিরূপে রক্ষরাজে নাশ ত্বর, নহে সৃষ্টি হবে লয়, প্রলয় ঘটিবে। বিষ্ণু। ভাল বিধি ! বিধি তব হবে সম্পুরণ ; কিন্তু এক কথা শুনহ বিধাতা, শিব- শক্তি বিনা কেমনে হইবে সংহার ? বৃহ। (সহাস্যে) সে ভার আমার ওহে বঙ্কিম বিহারি। স্তবে তুষ্ট সদা বিভাের ভােলা, বিধাতা, পবনাদি যত দেবগণ, জনে জনে ধরি নানা রূপ বিশ্ব মাঝে, সহায়তা করিব তােমার। অঙ্গীকার রবে ঠিক,

মৈথিলী
৪৯
সৃষ্টি থাকে ধরাতলে তােমার উদয়ে।
বিষ্ণু। সংসার সাগর বিধি অখিল বিস্তার,
উৰ্ম্মি সম খেলে প্রাণীগণ বিপুচয়-
স্রোতে;'নাহি রয় আত্ম-স্মৃতি, বিস্মৃতির
মােহ পড়ে, হৃদি-তন্ত্রী বাঁধা থাকে সদা
মমতা বন্ধনে। কেমনে বলহে বিধি।
বার বার ধরি নরাকার, ধরাতলে
মানব আচারে ফিরি ? আত্ম-বলে
করিয়া সৃজন, যবে দানিলে,অভয়,
প্রয়ােজন ছিল কি আমায় ? এবে চাহ
মােরে করিবারে নিমিত্তের ভাগী ? ভাল,
আমি কর্তব্যেরই অনুগামী, কর্তব্য
বাঁধিয়া বুকে, কর্তব্যেরই অনুরােধে,
মহাকাৰ্য হেরি অবনীতে! একাঙ্গে না
হবে তাহা সমাপন, সেই সে কারণ,
হের হের এই নবীন মূরতি মাের!
(সহসা বামে লক্ষী সহ চারি মূর্তিতে
পরিবর্তিত হওন।)
সকলে। জয় হরি দয়াময়, আর কিবা ভয়!
(সহসা জলবালাগণের আবির্ভাব ও গীত)
৪'
.

মৈথিলী
nina
নব-বালা।
(গীত )
মুরতি নবীনে,
দেব নারায়ণ
হের হের মেলিয়া নয়ন।
বামেতে কিশােরী, রূপের মাধুরা,
মরি--কিবা চিত-বিমােহন।
স্ব-অঙ্গ শ্রীহরি, বিভকত করি,
চতুরূপে আজি অবতারণ।
কিবা আশে পাশে,
লয়িবার আশে,
তপরূপ রক্ষ নিসূদন ।

চতুর্থ গর্ভাঙ্ক রাজ-অন্তঃপুর ( জনক-মহিষীর গীত গাহিতে গাহিতে প্রবেশ) জনক, ম। (গীত ) আশা-আশে, ব'সে ব'সে কাল-রেখা কালে মিশায়। একি হায়, ঘাের দায়, আশা-নেশা ত’ না যায়। অধর কুঞ্চিত হ’ল দিনে দিনে দিন গেল ও মন, আর কেন ভুল ; মিছে সে ছার আশায়। আর কেন মন ? আশার ছলনায় আর কতদিন মুগ্ধ হয়ে থাক? অয়ি আশে, তােমার কি বিশ্ববিমােহিনী শক্তি, তা’না হলে এই যৌবনের শেষাবস্থাও সংসার-সাগরের স্ফটিক সলিলে তােমারই প্রতিবিম্ব দেখি। এখনও মনে হয় যে, আমি মাতৃস্নেহে পুত্ৰধনে কোলে পাব। আশা, তােমার কুহকেই মুগ্ধ হয়ে অতুল ঐশ্বৰ্য্যের অধিপতি আমার প্রাণ- পতি আজ পুত্রকামনায় শরাধনায় রত। হাঃ ভগবান!

মৈথিলী
এমন কি পাপ করেছিলাম, যাতে আমায় এ জন্মে তুমি পুত্র
স্নেহে বঞ্চিত কোলে। হাঃ অদৃষ্ট। এ জন্মে ত’ আর
কেউ মা, মা, বলে ডাকলে না, যাই নিজেই মুখ ভরে
জীবনের শেষ পর্যন্ত মা ভগবতীকে মা, মা, বলে ডেকে
নি। রে মন, তােমার চাঞ্চল্য কি কিছুতেই গেল না? তুমি
আশারই দাস ; হায়, ঘটনাস্রোতে সংসারে এসেছিলাম,
ঘটনাস্রোতে ভেসে যাব। এই অনিত্য সংসারে সকলই
লয় হবে! বৃক্ষ পত্র সকল যেমন শুষ্ক হয়ে ঝ’র পড়ে
আবার নব নব পত্র-পল্লবে সুশােভিত হয়ে, সেই বৃক্ষের
অস্তিত্ব রক্ষা করে, তেমনি জীবচয় জীবন ত্যাগ করে, কিন্তু
তাহাদের বংশধরগণ পুরুষানুক্রমে তাহাদিগের অস্তিত্বের
পরিচয় দেয়। হায়! আমাদিগের এমন দুরদৃষ্ট যে ভগবান্
সে অস্তিত্বও রাখলে না। হাঃ অদৃষ্ট !
[ প্রস্থান।

পঞ্চম গর্ভাঙ্ক
শিব-লােক
হর-পাব্বতী দৃশ্য
পাৰ্ব। ভােলানাথ, ত্রিলােচন করি উন্মিলন,
ত্রিধার ঘটনা-স্রোত কর বিলােকন
আজি ! হের অতীত ঘটনা, স্বাধ্বী-সতী
বিষ্ণুপ্রিয়া রমার উৎপত্তি ধরায়,
বর্তমান কিবা মনােহর হের, মিথিলার
অধিপতি, ত্যজি অতুল সম্পত্তি, করে
আরাধনা তব ! ভবিতব্য কি ভীষণ ?
পূর্ণব্রহ্ম নারায়ণ, ভূভার হরিতে
চতুমূৰ্ত্তি করেছে ধারণ ; হেথ তুমি
অনুক্ষণ ভাঙেতে বিভাের, ভক্ত রােল
শুন শ্রবণে ?
ভক্ত মান, ভক্ত মম
প্রাণের সমান, নহে আন তায়! কিন্তু,
তনয়-আশা ধরিয়া অন্তরে, জনক

মৈথিলী
নৃপতি উপাসনা করে মাের, কেমনে
পূরাই তাহা বল ত শঙ্করি! উপায়
হেরি সান্ত্বাইতে সে ভকত-প্রবরে।
পার্ব। পুত্র অকিঞ্চন জনক রাজন, পুত্র
দানে ছলনায় তুষহ তাহার মন।
হর। পুত্র কন্যা নাহি ভালে তার, কিবা দোষ
মাের? কার ধন কারে আমি অর্পিবারে
পারি? কার সাধ্য সতি! নিয়তি ঘনে ?
পাৰ্ব। শুন নাথ উপায় তাহার, দৈববলে
মন্দোদরী গর্ভজাত-ত্যক্ত-সুতা পূর্ণ
অঙ্গ এতদিনে বসুধা-পালনে যেই,
বররূপে দেহ তাহা এই জনকেরে ।
কীৰ্ত্তি রবে, জগৎ দেখিবে বসুন্ধরা
সুতা আবিভূতা জনকের তপস্যার
বলে ; জনকও তরিবে, অন্তিমেতে
গােলােকে পাবে স্থান, লক্ষ্মীরূপা নারীর
পালনে;ক্রমে কাল আকর্ষণেধরায়
লক্ষ্মী-নারায়ণ হইবে মিলন যােগ।
হর। ভাল সতি। উপযুক্ত যুক্তি এ তােমার,
শুভক্ষণে জনকে হলতে করিয়া

মৈথিলী
৫৫
নিযুক্ত, কর্মক্ষেত্র কৃষি ক্ষেত্রে, রমার
উৎপত্তি আমি মিথিলায় প্রচারিব।
মােহ যাবে, মম বরে জনক ভূপতি
পাবে কোলে স্নেহের সন্ততি। ত্রিভুবনে
কহিবেক চরাচরে, জনক-নন্দিনী
সীতা “মৈথিলী” বলিয়া।
[ উভয়ের অন্তর্ধান।

ষষ্ঠ গর্ভাঙ্ক
তপনােক
কুশধ্বজ ও বৃহস্পতি আসীন
কুশ।
কালের বিচিত্র স্রোত, বিচিত্র প্রবাহ,
কেমনে জানিব তাত! মূঢ় আমি, কহ
দেব, অকৃতি সন্তানে, কেমনে করিবে
ভ্রমণ পূর্ণব্রহ্ম নারায়ণ, ধরায়
মানব আকারে ? কেমনে হইয়ে বল
কাল-পরবশ সামান্য মানব সম
সহিবেক ক্লেশ ?
মতিমান তুমি বৎস্য!
জেন’, হরিতে ভুভার অবতার নরাকারে
আপনি শ্রীহরি, দেখাইতে চরাচরে
যন্ত্রণা দানিতে পরে, নিজোপরে কত
পড়ে দুঃখ। মনেতে বাসনা ধরে নাশ
অপরের ; এই হেতু অশেষ যন্ত্রণা
পাবে, অতিকৃচ্ছ ভাবে যাপিবে জীবন।
বৃহ।

মৈথিলী
বৃহ।
কুশ। হে তাত! কেমনে সহিবে ক্লেশ নন্দিনী
আমার ? কেমনে করিবে বল চিত্তের
চাঞ্চল্য নাশ, যবে অবলা পতি-ব্যথা
জানিবে মরমে !
নাহি সে নন্দিনী আর?
এবে কৃতান্ত কবল স্রোতে অবগাহি
দেহ, ভিন্নাকৃতি পরমা প্রকৃতি রূপে
ধরা মাঝে আবিভূত; পূৰ্ব্বকৃত কৰ্ম্ম
ফল আপনি সহিবে বালা, প্রতিহিংসা-
আলা করিতে নির্বাণ, হবে অধিষ্ঠান
ধরাতলে, ইথে চায় ক্লেশ-শ্রম-বারি।
জীব পাশে অবিরত নিয়তি ফিরিছে,
নিয়তি ছলনে হয় চিত্তের বিকার,
অনিশ্চয় অধিকার করি, পাশরিয়া
নিজবল, পরস্পরে করে কোলাহল।
বিষময় ফল, অনুতাপ হৃদে ধরি
জীবচয় দোষে সদা বিধির বিধান।
বৎস্য! যার ধ্যানে পূর্বকালে তনয়া
তােমার, কুমারীর মঙ্গল ব্ৰত সাধি
অবিরত, নররূপী দেব নারায়ণে

মৈথিলী
*** ANAN
NAM• ••••••••
",'*
বরিতে আছিলা যােগেতে মগন, পূর্ণ
তাহা এতদিনে। কাল আকর্ষণে সেই
পূর্ণব্রহ্ম, স্ব-মুরতি চারি অঙ্গে করি
বিভকত, ভব-নদী স্রোত একাধারে
বাহিত করিতে, তরাইতে পাপী তাপী-
জনে, শুভক্ষণে ধরিলা জনম আজি ।
আকিঞ্চন পূরিবে সবার, ভবপারে
ভাসাইল তরি, কাণ্ডারী রূপেতে হরি
স্বয়ং আপনি ; নন্দিনী তােমার, পূৰ্ব্ব
জমে যাঁর আশে, দেহ পাত করেছে
আপন, সেই বেদবতী এবে নিয়তি
ছলনে,
কৰ্ম্মবীর আদর্শ রমরূপী
নারায়ণে করিবে বরণ, কিন্তু হায়!
প্রতিহিংসা নিৰ্বাপনে জাল সহি সদা,
কালের প্রবাহে যাইবে চলিয়া, সেই
গােলােক পূরীতে সাধিয়া আপন কাজ।

চতুর্থ অঙ্ক
প্রথম গর্ভাঙ্ক
মিথিলাস্থ কৃষিক্ষেত্র
( এক ভূপতিত মৃন্ময়পাত্র দেখিতে দেখিতে
জনক রাজা। একি হেরি হলি অগ্রে মাের ? মেধাবৃত
শশীসম, কিবা আভা মনােলােভা করি
বিলােকন, কি মােহিনী ঠাম! সর্বকাম
হয় নাশ জ্যোতির বিকাশে। স্নেহরসে
গলি, ব্যাকুল পরাণ হেরিতে মাধুরি।
(পাত্রের নিকটস্থ হওন)
কি হেরি! ত্বিষম্পতি-কর সম, ঝলসি
হৃদয় মম, নয়নে আনন্দধারা করে
বরিষণ।
(সহসা মহাদেবের আবির্ভাব )

৬০
মৈথিলী
• • • • • • • •
মহা।
স্টঃ
নেহার রাজ! স্থির চিত্তে
করি আন্দোলন ; যার তরে ত্যজি গৃহ
দার, উপাসনা করেছ আমার, এবে
সেই ধন, যাহে চির অকিঞ্চন তুমি
ঋষিবর! প্রসবিলা উর্বরা ধরিত্রী,
তব হল ব্ৰত-মহা-যজ্ঞ সমাপনে।
মতিমান্ ধরাপতি তুমি হে রাজর্ষি!
দশদিশি তব অধিকার, ধর বাক্য
মাের ; ত্যজি চিত্তের বিকার, জনকত্ব
ভার এর করহ গ্রহণ। মম বরে
পূরিবে কামনা ! দিব্য চক্ষু উন্মিলন
করি, কর দরশন, উদিল সিতাগ্রে
আজি মােক্ষ ফল-ডাল আঁধার জগতে।
( মৃন্ময় পাত্রের নিকটস্থ হইয়া পাত্র মধ্য হইতে
মৈথিলীকে উত্তোলন করিয়া জনকের
হস্তে অর্পণ।)
৮
স্থির চিত্তে ধর উপহার, যদি থাকে
ভকতির ধার, পাইবে নিস্তার ঘাের

মৈথিলী
সংসার বন্ধনে! অন্তে পাবে গােললাকে
আবাস, সর্বশক্তি-স্বরূপিনী তনয়া
পালনে।
হা।
প্রণমামি ও রাজীব চরণে!
( বাধা প্রদানপূৰ্ব্বক)
যাও বৎস! আলয়ে তােমার, স্নেহাধার
অমূল্য এ ধন, রাজ্ঞী-করে সমর্পণ
করি, সুস্থ কর ত্বরা মন প্রাণ তার।
[ অন্তর্ধান ।
জনক। দেবদেব তুমি মহাদেব, দেব-মায়া
ভেদিতে নারিল দাস, অভিলাষ ছিল
আজীবন, সেবি তব শ্রীচরণ নিজ
আকিঞ্চন করিব পূরণ। কিন্তু আজি
তব বরে সফলকাম ; হে গুণধাম,
অচিন্ত চিন্ময়, সৃষ্টি-স্থিতি-লয় তােম।
হতে হয়, কি জানিব মহিমা তােমার ?
সংসার-সাগরে ভাসি, কূল নাহি পাই,
যথা যাই নৈরাশ্য অপার। তাই বুঝি

মৈথিলী
২, ২০১৮
Nov
লীলাধার, ভবঘােরে ফেলিয়া আবার,
স্নেহময়ী দুহিতা-রূপিণী-তরি, ভব
পার তরে করিলে অর্পণ, ভাল, ভাল,
ইচ্ছাময়! তব ইচ্ছা হউক পূরণ।
[ মৈথিলীকে লইয়া প্রস্থান

দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক
লঙ্কাপুরি—রাজ-সভা
( সিংহাসনে রাবণ উপবিষ্ঠ, পার্শ্বে বিভীষণ,
মেঘনাদ, শুক, সারণ ও অন্যান্য সভা-
সদ্‌গণ আসীন।)
রবণ। সহসা কেন আজি শিরােশােভ কাঁপিছে
সঘন ? কাপে সিংহাসন, কাপে আঁখি,
কাপে বক্ষস্থল, কাপে এই ধরাতল
ভূকম্পন সম! এ কি ? যেই দিকে ফিরি,
হেরি ঐ বহ্নিরাশি ধূ ধূ জ্বলে ধাঁধিয়া
নয়ন মাের! চিন্তা ঘোর উদিয়া হৃদে
ডুবায় অনন্ত আঁধারে।
এ ভীমদেই—
সহ বল অপ্রমেয়, এই বজ্রমুষ্টি—
দেবহষ্টি-বিপৰ্যয় যাহার প্রভাবে,
আজি তাহা পলে পলে হ’তেছে অবশ।
পুনঃ ও কি ধ্বনি? শুন ধার্মিক অগ্রণি !
শুনরে নন, গুন গুন সভাসদগণ,

৬৪
মৈথিলী
পুরনিবাসিনী যেন কে রমণী, মম
নাম ধরি, ক্ষীণকণ্ঠে করিছে লােদন!
কহ ভাই বিভীষণ! হেন নিদর্শন
অমঙ্গল নহে কি রাজ্যের ?
বিভী।
রক্ষোমণি,
হেন অনুমানি যেন শুভক্ষণে নব
দানবারি নর জন্মিল ধরায়, হবে
ভায় হাহাকার রক্ষ-পুরে ; অধিক কি
ক’ব, তব সম আমারও হৃদি মাঝে
পলে পলে জাগি উঠে ভীতির সঞ্চার ।
মেঘ। হে পিতৃব্য ! হেন বাক্য উপহাস্য হব।
স্বয়ং আপনি—যিনি ত্রিভুবনজয়ী,
পুত্র যার ইন্দ্রজিৎ ভুবন-বিখ্যাত,
কি ভয় তঁাহার বল জগৎ মাঝারে ?
বৈশ্বানর বরে, নাহি আর শমনের
উর, দেবযক্ষ যে হয় সে হয়, ভয়ে
নত করে শির লঙ্কার বীরত্ব স্মরি।
বিভী। সত্য রে বাছনি। কিন্তু হেন অনুমানি
বহুদিন গত প্রায়, সেই সে ঘটনা,
ভাবি যাহা, পিতৃ সম তােমারে অন্তর

মৈথিলী থর থর হয়েছে কম্পিত, আজিও তা স্মৃতির বিমল পটে রয়েছে অঙ্কিত। মেঘ। অতীত ঘটনা এবে বৃথা আলােচিত। বিভী। কহি তাই আমিও সুধীর! অতীতের বীরত্ব গাঁথা, বিস্মৃতির অতল-নীরে করি নিমজ্জিত, নবোৎসাহে হও হে তৎপর নাশিতে এ নব অরি; দিনে দিনে দিন হরি, দিনমণি দিষ্ট দিন করিছে বিমল ; মেলি আঁখি, অস্তাচল- গামী হের রক্ষ-কুল-সৌভাগ্য-ভাস্কর। কাৰণ। বিভীষণ! বিভীষণ বিভীষিকা নাহি ডরি, ত্রৈলােক্য সাধয়ে যদি বৈরী-ভাব মাের, তথাপি জানিও স্থির, অয়ঃসম এ হৃদয়, বজে যাহা নত নয়, তাহা হবে ক্ষণতরে ভীত! বীর-চিত, তজ্জনী শাসনে কভু হয় কি কম্পিত ? ভুবন পূজিত দেবেশ দেবেশী যার বাঁধা লঙ্কাপুরে, অমরনিকরে আজ্ঞা যার পালে অবনত শিরে, কি ভয় তাহার ? বিরিঞ্চি-বরে, দেব-যক্ষ-গন্ধৰ্ব্ব-সবে মৈথিলী করিয়াছি পরাভূত; কি ছার সে নয় ! কিবা ডর? ভক্ষ্য মাঝে ধৰ্ত্তব্য আমার। বিভী। মতিভ্রম মাত্র তব, দেব নারায়ণ লভিলা জনম আজি, সাধিতে স্বর্গতি রক্ষ সবে ; সাধ্য কার নিয়তি লঙ্ঘনে ? রাবণ। ভাল ভাই! তব বাক্যে অভিমত মোর! হে ৩ক, অমাত্যবর, হের পর্গ-মর্ত- রসাতল মাঝে করিয়া সন্ধান, কোন জন লভিলা জনম আজি? দৃঢ় করি মন দানহ সংবাদ। অচিরে নাশিব তারে, নহিলে বিলম্বে বিপদ সম্ভব। এক ও সা। যথা আজ্ঞা মহারাজ! [ প্রস্থান। মেঘ। বৃথা এ বিলম্ব ভাত! দেহ আজ্ঞা আনি অবিলম্বে শরাসন, তীক্ষ্ণ বাণ যােজি তায়, ভেদি এ মেদিনী আনাই এখনি আমি জগতের স্বরূপ বারতা। রাবণ। উতলা হওনা মেঘনাদ। অল্পমতি অনুজ আমার, ভ্রান্তিবশে কহে হেন

মৈথিলী
৬৭
ভাষ, জানিও স্থির, অরি নাই জগতে
আমার কেহ !
সভাসদগণ। তাল, ভাল, বুঝা যাবে ফিরে আসিলে
সারণ, ওক।
( সভাভঙ্গ)
.
তৃতীয় গর্ভা
অযােধ্যার রাজপথ
শুক ও সারণের প্রবেশ
রে সারণ, সার্থক জনম আজি হল
দোহাকার, নরাকারে হেরি আহা লক্ষ্মী-
নারায়ণে ; কিন্তু রাখ মনে, এ কাহিনী
নাহি ক'ব মােরা দোঁহে রাজা দশাননে।

মৈথিলী . সারণ। হে শুক! যে মূরতি হেরিনু নয়নে মাের, কি ভয় রাবণে তার? সেই পূর্ণব্রহ্ম নারায়ণ বিরাজিছেন পুরে, নেহার অদূরে ঐ প্রভূর আবাস, ভক্ত চ্ছিাস বিলাইতেছে সবে,-ঘরে ঘরে আনন্দ- লহরী খেলে, দামিনী-সম জলে যত রত্নের প্রদীপ, সুখস্থান নাহি হয় অনুমান ইহা হ’তে বৈকুণ্ঠ-ভূবন। শুক। সত্য বটে, কিন্তু হেন লয় মাের মনে, দশানন শুনে কথা ঘটাবে প্রলয় ! সারণ। অজ্ঞানে অজ্ঞতা অপার! যার মানসে হয় সৃষ্টি-স্থিতি-লয়, কোটী কোট কোট দশানন হইয়া উৎপত্তি, প্রতিপালে কালের যে গতি, চিন্ময় মুরতি সেই দশরথ-ঘরে, কি ভয় ইহার শুক! দুরন্ত রাবণে? অতি দর্পে দর্পিত সে দুৰ্ম্মতি, লভিবে স্বতি ত্বর। প্রভুর শ্ৰীকরে ; এস সাথে, যথা সাধ্য রাখিব গােপনে এ অযােধায় রাম-জন্ম-কথা। [ উভয়ের প্রস্থান।

চতুর্থ গর্ভাঙ্ক
মিথিলা রাজ্য রাজান্তঃপুর।
জনক রাজা ও মহিষী আসীন
প্রিয়ে পেয়ে কোলে স্নেহের সন্তুতি, দিনে
দিনে প্রাণ মােৰ হ’তেছে অস্থির। নাহি
জানি, কেমনে সমর্পিব তারে যােগ্য
পতি-করে। এতদিন ছিল না তনয়া,
এ কাল ভাবনা-মেঘ, ঘেরিত না এ
হৃদয় আকাশ।
শিব-বরে পেয়ে সীত,
কি চিত্তা পরিণয়ে তার ? সুলক্ষণা সে
মাের ললনা, সুপাত্র আসিবে অনেক,
ইচ্ছা মত বরমাল্য দিবে বালা যােগ্য
পতি-গলে।
তব যােগ্য বাণী ইহা, কিন্তু
হিয়া হয় বিচলিতু, যবে বালা পিত
:

৭০
মৈথিলী
ব’লে করি সম্বােধন ধেয়ে আসে পাশে।
প্রাণের পুতলী সে যে নয়নের মণি,
স্বামীর আলয়ে সে গেলে চলিয়ে, প্রাণে
কেমনে ধৈরজ ধরি রহিব এ পুরে ।
জম। তুলনা সে কথা, সেই দিন পড়ে যদি
মনে মাের, হৃদি হয় অতীব ব্যাকুল।
জ-রা। সুমধ্যমে ! সরলা সুমতি সে মৈথিলী
সুষম, অনুপম হেরি অঙ্গ তার, তব
স্নেহে হয়েছে বর্ধন, তব পাশে রহে
অনুক্ষণ, তব কাৰ্য করহ সাধন,
কোমল তাহার মন, মেহ রসে করি
আলােড়ন, পতি-ভক্তি, পতি-সেবা আদি
যথাবিধি শিখাও সুনীতি, অতুলন
চরিত্র ফুটাও তার, তব শিক্ষাদানে।
-ম। সে নহে তেমন নাথ! সঙ্গী-সাথ খেলে
এতদিন, কিন্তু বিবাদ না করে কভু।
বৃথা ক্রোধ, হিংসা, দ্বেষ, অসুয়া ব্যভার,
নাহি জানে প্রাণসম মৈথিলী আমার।
বিদুষকের প্রবেশ।
বিদু। মহারাজ যে, বাল একবার অভাগাকে খবরটা

মৈথিলী
৭১
দিতে হয়, লুচি মণ্ডার ব্যবস্থা হচ্ছে,-তা’ খবর না পেলেও
এ ব্রাহ্মণ গন্ধ শুকে শুকে দৌড়ে আছে। বাবা, লুচির
গন্ধ বড় সােজা নয়—অনেক দূর পর্যন্ত ছােটে, আর মণ্ডা,
তার ত কথাই নেই, হঁা করে ভিতরে ফেলে দিলেই প্রাণ
ঠাণ্ডা।
জ-রা। সখে, বলছ কি, লুচির গন্ধ এখানে কোথায় ?
বিদু। আর সখা, ভাড়াও কেন, এই এত সুপাত্র
আসছে, প্রাণে ব্যথা উতলে পড়ছে, এতেও কখন বুঝতে
বাকী থাকে কি ?
জ-মা। না ঠাকুর! ও সব কিছু নয়, তুমি আমার
মৈথিলীর বিয়ের যােগাড় দেখ। দেখতে দেখতে সে বড়
হয়ে পড়ছে,-মেয়ে ছেলে পরের ঘরে যাবে, তবে ভাল
পাত্রের হাতে পড়লেই সুখ ।
বিদু। কিছু ভেবােনা রাণি ! কিছু ভেবােনা,-তুমি
আমার আরও এক হাঁড়ি মােণ্ডার নিত্য ব্যবস্থা কর,
ও যে মেয়ের লক্ষণ, তাতে কিছু ভাবনা নেই, ভুই ফুরে
মেয়ে উঠেছে—পাত্রও আকাশ ফুরে জুটবে।
এক দ্বারীর প্রবেশ।
যারী। অবধান কর নরবর, উপনীত
পশ্চিম দ্বারেতে, যােগী এক তেজঃ-পূঞ্জ

१२
মৈথিলী
কায়, ভয়ঙ্কর ধনু করে, পৃষ্ঠে ধৰি
তুণ, আকিঞ্চন করে তব দরশন।
-রা। লয়ে এস তীরে ত্বরা অতি সমাদরে।
দ্বারীর প্রস্থান ও পরশুরামের সহিত
পুনঃ প্রবেশ।
-রা। এস এস যােগীবর,
এস এস যােগীবর, সৌভাগ্য আমার
আজি, তেঁই তব পদার্পণে সুপবিত্র
হইল মাের এ মহানগরী, কহ হে
তাপস! কি আশে হেথায় আগমন ?
পরশু। হে রাজন! শুনিনু বস্তু-মুখে, কন্যা
তব সুলক্ষণা সরলা সুমতি, দিনে
দিনে হতেছে বর্ধন ; এই আকিঞ্চন
করি তব পাশে, পরিণয় দেহ তার
মাের সনে, সুখে র’ব চিরতরে। কিন্তু
নহে এবে, যাইতেছি যােগ আরাধনে,
নিৰ কাৰ্য্য করিয়া সাধন, আসি
আবার ফিরে, অঙ্গীকারে বদ্ধ রং তুমি।
রা! কন্য! মম তব করে হলে সমর্পণ,
ৰহু ভাগ্য মানি ইথে ; কহ জিবর,
কতদিনে পুনঃ তব হবে আগমন?

মৈথিলী
৭৩
পর। নিশ্চয়তা নাহি তার, কিন্তু নরনাথ।
ধর আজি এই শিব-দত্ত ধনু মাের,
করি এ আদেশ, প্রত্যাগম পুরৰে
আমার, ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় কিম্বা যে হােক,
সে হক, গুণ দিলে এই ধনুকেতে
কন্যা তব সুরূপা সুমতি সপিও
তাহায়, দেশে দেশে এই বার্তা করিও
জ্ঞাপন, কন্যা-সম্প্রদানে ধনুর্ভঙ্গ
পণ মম অচল অটল হৃদি মাঝে।”
(স্বীয় হস্তস্থিত হর-দত্ত ধনু প্রদান।)
জয়া। প্রিয়, তাদেশ শিরােধার্য মাের।
[ পরশুরামের প্রধান।
বিদ। বাস্, দেখলে রাণী। পাত্র আপনি এসে
উপস্থিত, তুমি মণ্ডা খাওয়াও, আমি প্রাণ ঠাণ্ডা করে
আশীৰ্বাদ করছি, তােমার মৈথিলী জগতের আদর্শ দুহিতা
হবে। ভারতের ঘরে ঘরে লােকে তার নাম যুগযুগান্তর কাল
যােষনা করবে। আহা সরলা বালিকা যখন সখীদের সঙ্গে
পুষ্পোদ্যানে দেব গুণ গান কৰুতে করতে সানন্দে পরিভ্রমণ
করে, তখন তাকে দেখলে, আমার মােঝ হাঁড়ি ফেলে,
তার কাছে ছুটে যেতে ইচ্ছা হয়।

৭৪
মৈথিলী
জ-মহি। এই যে, বাছা আমার গান করতে করূক্তে
সখীদের সঙ্গে এই দিকেই আসছ।
( সখীগণের সহিত মৈথিলীর গীত গাহিতে
গাহিতে প্রবেশ।)
সখীগণ ও নৈ। ( ‘ীত )
জয় শিব জয় শিব নমাে নমো শিব শিব
শিব শিব শিব ব'লে নাশিব সব অশিব।
শিব শিব শিব ব'লে
ভব-ভয় যাৰ ভুলে
হাসিব নাচিৰ সদা বলিব জয় শিব শিব ।
বদনে বলিব শিব,
হৃদয়ে হেরিব শিৰ
শিব শিব শিব বলে ভূমিতলে লুটাইব।
বাসনা সব তজিব অঙ্গেতে ভষ্ম মাখিব
শিব শিব শিব ব'লে গলে ফণি দোলাইব।
শিব শিব শিব ব'লে
ভাসিব নয়ন জলে
পাপরাশি ধুয়ে ফেলে কৈলাসেতে পলাইব।
সেখানে আনন্দমনে মিলি ভূত প্রেতসনে
শিব বামে শিব রাণী হেরে প্রাণ জুড়াইব ১
দেখ, ভাই। এখানে একটা কি প্রকা
ধনুক পড়ে রয়েছে, উঃ কি ভয়ানক—দেখলে ভয় করে।
মৈথি। (ধনুকে হাত দিয়া) তাইত, উঃ এটা কি
ভারি। হুঁ, বাবা! এ ধনুক কোথা হতে এল ?

মৈথিলী
৭৫
জুন। মা ! এই দুর্জয় ধনুকে যে গুণ দিয়ে ভাঙতে
পারবে, তারই সঙ্গে তােমার বিয়ে হবে।
মৈথি। এ ধনুক কি ভাঙা যায় বাবা, এ ধনুক
কেউ ভাঙতে পারবে না, তবে বুঝি আমার বিয়ে ও
হবে না।
বি। আহা—প্রতি বাক্যে সরলতা মাখা; যেন
আমার সাধের রসগােল্লার রস ঝরছে।
অনক। দেবলীলা শুন মা মৈথিলী ! স্বয়ম্ভুর
ছলনায় পাইয়াছি তােম, পুনরায়
তার ছল হেরি পরিণয়ে তব। কেব।
আমি, কি করিতে পারি? ভাগবে।
পাশে করিয়াছি দারুণ প্রতিজ্ঞা, যেই
জন গুণ দিবে হর ধনুকেতে, তার
সনে দিব তব পরিণয় ; অদৃষ্টের
লেখা না হবে খণ্ডন, উচাটন বৃথা
কেন হব ? দেখিব—কেবা সেই পুরুষ
প্রধান, পারে শিব ধনু ভাঙ্গিবারে।
বিদু। যে ভাঙবার সে ভাঙবে, সে জন্য ভাবনা কি
রাজা? যা মা তােরা শিব নাম গান করতে করতে
খেলা করগে, আমি তােদের খুব পেট ভরে খাওয়াব,

মৈথিলী
তােরা ভাবছিস কি ? এই ধনুক ভাঙ্গা পণে জনকের ঘরে
মহাপুরুষের পদার্পণ হবে, আমি দিব্য চক্ষে বেশ দেখছি।
সখীগণ। যা হয় হবে—আয় ভাই ! আমরা সৰ
গান করতে কতে বাগানে ফুল তুলিগে।
| সখীগণের সহিত মৈথিলীর পূৰ্ববংগান
গাহিতে গাহিতে প্রস্থান ।
যবনিকা

সকলকেই পড়িতে অনুরােধ করি প্রতিভাবান্ সুলেখক শ্ৰীযুক্ত বন্ধুবিহারী ধর-প্রণীত সচিত্র উপন্যাসাবলী - বঙ্গসাহিত্যে বেশ প্রতিষ্ঠা লাভ করিয়াছে। গার্হস্থ্য ও সমাজ চিত্র অঙ্কনে গ্রন্থকার সিদ্ধহস্ত—এ কথা আমাদিগের নিজস্ব নহে—দেশের গণ্য- মান্য শিক্ষিত সমাজ ও সুধীবৃন্দ তাহা এক বাক্যে স্বীকার করিয়াছেন এবং আগ্রহের সহিত হিন্দী উদ ও কেনারিজ ভাষায় অনুবাদিত হইয়াছে ও হইতেছে। তাহার গ্রন্থাবলী ধর্মভাবপূর্ণ, সুন্দর কল্পনাপ্রসূত, আবেগময়ী ভাষার ঝঙ্কার হৃদয়ানন্দদায়ক, कि রচনানৈপুণ্যে, কি চরিত্র-চিত্রে, কি ভাব- মাধুর্য্যে, কি ভাষার লালিত্যে বন্ধু বাবুর উপন্যাস সর্বতােভাবে নূতন ও চিত- কৰ্ষক ! তঁাহার প্রত্যেক পুস্তকে প্রসিদ্ধ চিত্রকর প্রিয়গােপাল বাবুর স্বহস্তে অঙ্কিত সুন্দর সুন্দর হাফটোন ছবি আছে ! তাঁহার কিকি পুস্তক বাহির হইয়াছে, পর পৃষ্ঠায় দেখুন !!

প্রতিভাবান্ সুলেখক শ্ৰীযুক্ত বন্ধুবিহারী ধর-প্রণীত কাকীমা সচিত্র গার্হস্থ্য উপন্যাস এমন ভাব বহুল, বর্ণনা বহুল, শিক্ষা, দীক্ষাপূর্ণ প্রাতৃ- প্রেমানুরাগগাদ্দীপক সচিত্র গার্হস্থ্য উপন্যাস বঙ্গসাহিত্যে অতি বিরল। যদি কোনও অঞ্জনশীল যুবক সংসারের কর্তৃত্বলাভ করিয়া ভাই ভাই, ঠাঁই ঠাই হইতে সঙ্কল্প করিয়া থাকেন, তাহা হইলে একবার “কাকী-মা” পাঠ করুন। দেখবেন; ভাই ভাই ঠাই ঠাই হইলে বাঙ্গালীর সােণার সংসার কিরূপে ছারখার হয়। ইহার নায়ক- নায়িকার চরিত্র সৃষ্টি সম্পূর্ণ নূতন; পরােপকারী ম্যরে সাহেব, অফিসমাষ্টার মিঃ টন, পুলিস-ইনস্পেক্টর শরচ্চন্দ্র, জ্যেষ্ঠ সহােদর গােপাল, কনিষ্ঠ গােবিন্দ, বড় বৌ মােহিনী, পতিতা সরােজিনীর আত্মােৎসর্গ ও ( কাকী- মার) কমলার চরিত্র পাঠে বুঝিবার ও শিখিবার অনেক বিষয় আছে। ইহা প্রত্যেক গৃহস্থেরই পাঠ করা উচিত। পাঁচখানি সুন্দর সুন্দর হাফটোন চিত্ৰশোভিত। মূল্য বাের্ডে বাঁধাই, রূপার জলে নাম লেখা দ• আনা। কাপড়ে বাঁধাই, সোণার জলে নাম লেখা ১ টাকা মাত্র।

প্রতিভাবান্ শ্ৰীযুক্ত বন্ধুবিহারী ধর-প্রণীত গৌৰী-দান সচিত্র নূতন সামাজিক উপন্যাস ইহা একখানি বাঙ্গালীর সমাজ, সংসার ও ধর্মের নিখুঁত চিত্র। কে আছেন, কন্যাদায়গ্রস্ত হিন্দু সন্তান, কে আছেন বাঙ্গালীর বরপক্ষীয় অভিভাবক, একবার গৌরী-দান উপন্যাস পাঠ করিয়া বাঙ্গালীর প্রকৃত অবস্থা, কাৰ্য্য ও কর্তব্য নির্ণয় করুন। স্বদেশ, সমাজ ও মাতৃ- দ্রোহী কাশীনাথের অধঃপতন, তোষামােদী দয়াময় ও বলাইচাদের অপমৃত্যু, স্বদেশ ও মাতৃভক্তবীর হরবল্লভের *গৌরী-দান” ও ঋণ-পরিশােধ, ব্রাহ্মণ হলধরের সমাজ- শৃঙ্খলা-সংৰক্ষণ-স্পৃহা, অর্থপিশাচ বরকা শ্যামচরণের অধােগতি, বৰবেশী শাস্তিময়ের অসামান্য স্বার্থত্যাগ, মুসল- মান সর্দার রেজা ধাঁর প্রভুভক্তি,ইংরাজবণিক মিঃ ইলিয়ট, মিঃ হ্যারিংটন, মিঃ রুস ইত্যাদি সাহেবদিগের কাৰ্যকলাপ, ধৰ্ম্মবীর-মাতা মানদাসুন্দরীর উপদেশ, ষড়ৈশ্বৰ্যময়ী কুসুম- স্বরূপিণী হিন্দু-বিধবা সুহাসিনীর স্বধৰ্ম্মপালন, পতিপ্রেম- ৰঞ্চিতা বৌ-মা লক্ষ্মীমণি ও মুসলমান সর্দার-পত্নী জোবেদা ও জোহেরার চরিত্র-সৃষ্টি সম্পূর্ণ নূতন। ছাপা কাগজ উৎকৃষ্ট, মূল্য বাের্ডে বাঁধা ১ টাকা, কাপড়ে বাঁধা ১৩। শাঁচখানি সুন্দর সুন্দর হাফটোন চিত্র আছে।

প্রতিভাবান্ শ্রীযুক্ত বন্ধুবিহারী ধর-প্রণীত
পিসী-না
সচিত্র গার্হস্থ্য উপন্যাস
যাহার রচিত “কাকী-মা, “গৌরী-দান” প্রভৃতি
উপন্যাস আজ বঙ্গের ঘরে ঘরে পঠিত ও উচ্চভাবে আদৃত,
সেই বন্ধুবাবুর লেখনী নিঃসৃত আর একখানি নূতন গার্হস্থ।
উপন্যাস। বিধবা-বিবাহের চিত্র ও চরিত্র লইয়া ইহা
লিখিত, ঘটনাবলী বড় হৃদয়স্পর্শী, ভাবের পর ভাব-স্রোতে,
একটীর পর আর একটী ঘটনারঙ্গে এ উপন্যাসের প্রথম
হইতে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করিয়া রাখিবে ।
মা-লক্ষ্মীগণের পাঠোপযােগী এরূপ উপন্যাস রঙ্গসাহিতে
অতীব বিরল। হিন্দুপলনাকুল আদর্শ পিসী-মার (মহামায়ার
চরিত্র-সৃষ্টি অপূৰ্ব্ব, সৎশাশুরীর হস্তে ফুলকুমারীর নির্যাতন,
প্রাণস্পশী পতিভক্তি, যােগ মায়ার আত্মত্যাগ, বহুরূপীর
স্বর্গীয় সুন্দর চরিত্র গ্রন্থকারের এক অভিনব রহস্য সৃষ্টি ।
সব সুন্দর—সব মনােহর, তিন বর্ণে রঞ্জিত ও অনেক
হাফটোন ছবি আছে,-কাপড়ে বাঁধা—১/• সিকা,
বাের্ডে
টাকা মাত্র।
১) এক

শ্ৰীযুক্ত বন্ধুবিহারী ধর সম্পাদিত
জীবন চিত্র
ইহাতে বুদ্ধদেব, শঙ্করাচাৰ্য, চৈতন্য, জয়দেব, চণ্ডীদাস,
বিদ্যাপতি, নরহরি, লােচন দাস, তুলসীদাস, রামানুজাচাৰ্য,
ত্রৈলঙ্গ স্বামী,বিজয় কৃষ্ণ গােস্বামী,কবির,ভাস্করানন্দ, রামকৃষ্ণ,
বিবেকানন্দ প্রভৃতি সাধক ভক্ত মহাত্মাদিগের বিস্তারিত জীবনী
এবং হাফটোন ছবি আছে। যেমন ভাষা, তেমনি রচনা, বড়
উপাদেয় গ্রন্থ। ২৭৫ পৃষ্ঠায় সমাপ্ত। এমনটি হয় নাই,
পাতায় পাতায় হাফটোন ছবি।
মূল্য কাপড়ে বাঁধা ১• এক টাকা চারি আনা মাত্র।
উত্নশী-উদ্ধার
(পৌরাণিক ইতিবৃত্তমুলক সচিত্র নাটক)
দণ্ডীপৰ্বাবলম্বনে লিখিত, দুইখানি সুন্দর হাফটোন ছবি
আছে। অবন্তীপতি দীরাজের বীরধর্মপালন, উৰ্বশীলাভ,
সুভদ্রার নিষ্কাম ধর্মপালন, ভীমের প্রতিজ্ঞা রক্ষা, শ্রীকৃষ্ণের
সহিত পাণ্ডবদিগের যুদ্ধ, দুর্বাসা, নারদ, ধর্ম ও অষ্টবজের
একত্র সম্মিলন প্রভৃতি অপূৰ্ব্ব ঘটনাবলীতে পূর্ণ, সরল
মর্মস্পর্শী ভাষায় লিখিত। বােড়ে বাঁধা মূল্য ॥y• মাত্র।
ববাহন (পার্থ পুরাজয় )
(সচিত্র পৌরাণিক নাটক)
বীরশ্রেষ্ঠ অর্জুনের সহিত বাহনের সম্মুখ সংগ্রাম,
ইহাতে রণস্থলের ও রণশায়ী অর্জনের উৎকৃষ্ট হাফটোন
চিত্র আছে। ছাপা, কাগজ, ছবি, উৎকৃষ্ট-মূল্যy• অনা।

} শ্ৰীযুক্ত বন্ধুবিহারী ধর প্রণীত বিষ-বিবাহ সচিত্র সামাজিক উপন্যাস “কাম, ক্রোধ, লােভ, মােহ মদ ও মাৎসর্য্য” এই ছয় রিপু অবলম্বনে সুন্দর ভাবে লিখিত ; দুইখানি হাফটোন ছবি আছে, বিবিধ বর্ণে রঞ্জিত সচিত্র কভার, বােড়ে বাধাই মূলা।/ পাঁচ আনা। সতী কি কলঙ্কিনী অপরূপ প্রণয়-কাহিনী সুন্দর সুন্দর হাফটোন ছবি আছে, গল্পাংশ মধুর বড় মধুর জ্যোৎস্নাপ্লাবিত যামিনীর ন্যায় প্রাণােন্মাদকারী, প্রত্যেক বঙ্গ রমণীর পাঠ্য। বােড়ে বাঁধাই, তিনবর্ণে রঞ্জিত হাফটোন ছবি-আছে, নানাবর্ণে রঞ্ছিত কভার মূল • আনা। আৰ্য-কাহিনী [ সচিত্র ] রাণী দুর্গাবতী, লক্ষ্মীবাই, কৰ্ম্মদেবী, হামির পৃথিরাজ, রাণাপ্রতাপ, শিবাজী, প্রভৃতির চিত্র ও চরিত্র লইয়া “আৰ্য- কাহিনী” লিখিত। ইহাতে লক্ষ্মীবাই শিবাজী, রাণাগ্রতাপ রণজিৎ ও মানসিংহের হাফটোন ছবি আছে। বেড়ে বাঁধাই 19• আনা, কাগজের কভার।• আনা। শ্রীগুরুদাস চট্টোপাধ্যায়, ২০১ নং কর্ণওয়ালিস ষ্ট্রীট, কলিকাতা।

শ্ৰীযুক্ত বন্ধুবিহা ধর
“গৌরী-দান” উপন্যাসের ছবির নমুনা
লাশ - ভাল আনে ভু! আছে।

প্রতিভাবান, ঔপন্যাসিক
শ্ৰীযুক্ত বন্ধুবিহারীর প্রণীত
'পিসৗ-মা” উপন্যাসের ছবির নমুনা
( ভিতরে বিজ্ঞাপন দেখুন)
নিবর্ণে রক্ষিত এইরূপ ও অন্যান্য অনেক ছবি আছে
Cover Printed at the Bishnu Press, Calcutta.

No text on this page.

No text on this page.

Raban-kanya Maithili Ed.2

Author
Dhar, Banku Bihari
Title
Pouranik Drishyakabya
File name
Raban-kanya Maithili Ed.2
Text
OCR done
Citation
1913
Published
2009/10/12
Publisher
Bengal Medical Library,calcutta
Language
Sanskrit
Pages
99
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Plays
Keywords
Bedbati
DLI number
513125
Barcode
4990010020132.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
OQotZElL4YF
Download PDF

Raban-kanya Maithili Ed.2