Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Khejuri-bandar Ed. 1st
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
হিজলীর ইতিহাস গ্রন্থমালা দ্বিতীয় খণ্ড
খেজুৱী-বন্দ
ব
শ্ৰীমহেন্দ্রনাথ করণ
প্রণীত
প্রথম সংস্করণ
প্রকাশক
শ্রীকৌস্তুভকান্তি করণ ও শ্রীকোহিনুরকান্তি করণ
ক্ষেমানন্দ-কুটীর
ভাঙ্গনমারি, জনক। পােষ্ট, মেদিনীপুর।
১৩৪
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ]
প্রিন্টার-অবিনাশচন্দ্র মণ্ডল
সিদ্ধেশ্বর প্রেস
নন্দকুমার চৌধুরী ২য় লেন, কলিকাতা।
কৃতজ্ঞতা স্বীকার অতীব কৃতজ্ঞতার সহিত স্বীকার করিতেছি—মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম থানার অন্তর্গত কালীচরণপুর (পং গুমগড়) গ্রামনিবাসী দেশ- হিতৈষী, বিদ্যোৎসাহী ও বদান্ত জমিদার মাহিষ্যকুল-গৌরব শ্ৰীযুক্ত সাগরচন্দ্র দাস মহাশয় কৃপাপূৰ্ব্বক এই পুস্তক মুদ্রণ ও প্রকাশের সমস্ত ব্যয়ভার গ্রহণ করিয়া অশেষরূপে উপকৃত করিয়াছেন। তদীয় মহানুভবতা, গ্রন্থকার সংশােধন ও সংযােজন অশুদ্ধ পৃষ্ঠা পংক্তি য়ুরােপীয় ইণ্ডো-য়ূনরাপীয় ৪১ ৪৭ ১৮ রামচকে মেদখালী গ্রামে মন্দ্র বৈকুণ্ঠ ৬৫ পৃষ্ঠায় বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাধি প্রাপ্ত ব্যক্তিগণের যে তালিকা দেওয়া হইয়াছে,-তাহ ইং ১৯২৬ সাল পর্যন্ত বলিয়া ধরিতে হইবে। এই পৃষ্ঠার শ্ৰীযুত ক্ষীরােদচন্দ্র দাস বি, এল, সৰ্ব্ব প্রথম গাজুয়েট না হইয়া সৰ্ব্বপ্রথম বি, এল, হইবেন। শ্ৰীযুক্ত গােপালচন্দ্র মাইতি সৰ্ব্বপ্রথম এ্যাজুয়েট, শ্ৰীযুক্ত ত্রৈলােক্য- নাথ মাইতি সর্বপ্রথম উকীল (প্লাডার শীপ পরীক্ষোত্তীর্ণ । ও শ্ৰীযুক্ত রালালকৃষ্ণ মণ্ডল সর্বপ্রথম এম, বি, ! ৬৬ পৃষ্ঠায় গ্রন্থকারগণের তালিকায় কামদেবনগর গ্রামনিবাস। “সাগর- স্নান” নামক কবিতা পুস্তকের লেখক শ্ৰীযুক্ত কৈলাসচন্দ্র মাইতি এবং সাঁওতান চক গ্রামনিবাসী “কবিতা: কুসুম” ও “নূতন বর্ণপরিচয়” নামক পুস্তকদ্বয়ের প্রণেতা উমাচরণ মাইতির নাম হইবে। শেযােক্ত বই দুইখানি বিদ্যালয়ের পাঠ্যতালিকাভুক্ত হইয়াছিল।
কল্যাণীয়
মানচুণীলাল মণ্ডল
1
কল্যাণীয়া
শ্ৰীমতী প্রমীলাবালা দেবী
করকমলেষু।
No text on this page.
००००००००० ०००००००००००००००००००००००००००००००००००००००० ००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००० ०००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००० ०००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००००० ১৯১২, মার্চ
No text on this page.
নিবেদন। ‘খেজুরী-বন্দর’ ও ‘কাউখালীর আলােকগৃহ’ প্রবন্ধগুলি মাসিক বসুমতীতে প্রকাশিত হইয়াছিল। হিজলীর ইতিহাস গ্রন্থমালার দ্বিতীয় খণ্ড স্বরূপে তাহাই খেজুরী থানার কথঞ্চিৎ বিবরণ-সহ প্রকাশিত হইল। তৃতীয় খণ্ডে কবা হিজলীর বিবরণ প্রদত্ত হইয়াছে, শ্রীভগবান করিলে তাহা অচিরে প্রকাশ করি- বার আকাঙ্ক্ষা আছে। এই পুস্তক আমার রােগ-শয্যাতেই লিখিত, মুদ্রিত ও প্রকাশিত হইল, সুতরাং ক্রটি পদে পদে। সুধিবৃন্দ অনুগ্রহপূর্বক এই রুগ্ন গ্রন্থকারের এই নগন্য সংগ্রহ স্নেহের চক্ষে গ্রহণ করিলে কৃতার্থ হইব। বসুমতী’র স্বত্বাধিকারী শ্ৰীযুক্ত উপেন্দ্রনাথ মুখােপাধ্যায় মহাশয় ছবির ব্লকগুলি ব্যবহার করিতে দিয়াছেন ; “ভারতবর্ষ প্রিন্টিং ওয়ার্কসের সুযােগ্য ম্যানেজার ও প্রসিদ্ধ সাহিত্যিক শ্রীযুক্ত রামকৃষ্ণ ভট্টাচাৰ্য মহাশয় মুদ্রণ-বিষয়ে সাহায্য করিয়াছেন, এজন্য তাহাদিগের নিকট আমি কৃতজ্ঞ। ইতি- ক্ষেমানন্দ কুটীর ভাঙ্গনমারি, জনক। পােঃ জেলা মেদিনীপুর ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ। শ্ৰীমহেন্দ্রনাথ করণ
ভুল সংশােধন
পৃষ্ঠা
পংক্তি
A midist
Amidst
৩০
১
২
পান খাই
মিউটেশন ক্লার্ক,
কুবাড়াহাটী
৯
জলপাই
মিউটেশন ক্লার্ক ১,
কুড়াহাটী
যেরূপভাবে
বজেট
৫৭ ৫৭
যেরূপতাবে উপর
হইতে বজেট
৫৭
২২
খেজুৱী বন্দর ভাগীরথীর মােহানার পশ্চিমতটবর্তী নিভৃত বিলাতী ঝাউ-শ্রেণীর ( Casuarina tree) মধ্যে বিখ্যাত প্রাচীন বন্দর থেজুরীর দুই একটি অট্টালিকা সমুদ্রযাত্রিগণের দৃষ্টিপথবৰ্ত্তী হইয়া থাকিবে। খেজুরী মেদিনী- পুর জিলার কঁথি মহকুমায় অবস্থিত। ইহার ভৌগােলিক অবস্থান ২১°৫২২২” অক্ষাংশ ও ৮৮°১৭” দ্রাঘিমাংশের মধ্যে ; সমুদ্র-পৃষ্ঠ হইতে উচ্চতা কিঞ্চিদধিক ২২ ফুট মাত্র। ইহা ঈষ্ট-ইণ্ডিয়া কোম্পানীর আমলে একটি প্রয়ােজনীয় পোতাশ্রয় ছিল। একদিন খেজুরীর নদীবক্ষে শত শত অর্ণবযান আশ্রয়লাভ করিত,-নানা দিদেশবাসী সার্থবাহিগণের কোলাহলে এই স্থান মুখরিত থাকিত। ইহার অত্যল্পকালস্থায়ী অতীত জীবনেতিহাসের গৌরবময় পৃষ্ঠা উন্মুক্ত করিলে সুখসৌভাগ্যের জ্বলন্ত কাহিনী চিত্রিত দেখা যায়। ভাগীরথীর পলিতে যে সমস্ত দেশভাগ ক্রমান্বয়ে উদ্ভূত হইয়াছে, তন্মধ্যে খেজুরী অন্যতম। প্রাচীনযুগে সুদূর তাম্রলিপ্তির নিকটবর্তী বঙ্গোপসাগর আজ খেজুরী-সীমান্তবর্তী হইয়া বিরাজ করিতেছে;-আজিও সমুদ্রগর্ভে যে সমস্ত নূতন চরের সৃষ্টি ও পুষ্টি সাধিত হইতেছে—অদূর-ভবিষ্যতে তাই। সে উৰ্ব্বর ও সুশ্যামল মুর্তিতে জাগ্রত হইয়া বঙ্গভূমির কলেবরের বৃদ্ধিসাধন- পূৰ্ব্বক খেজুরীকে সমুদ্র হইতে দূরবর্তী করিবে, সে বিষয়ে সন্দেহ নাই। যােড়শ শতাব্দীর প্রারম্ভ হইতে খেজুররি অবয়ব-সংগঠন আরম্ভ হইয়াছিল বলিয়া বােধ হয়। ডি ব্যারেজ, (১) (৫৫৩) ও ব্লেভের (>) Map of Bengal in Jao De Barros' Da Asia, Pt. II.
(১) (১৬৬০) মানচিত্রে খেজুরী ও হিজলীর অবস্থানপ্রদেশে একটি দ্বীপ উদ্ভূত হইতেছে দেখা যায়। ভ্যালেন্টী (২) (১৬৬০), জর্জ, হিরােণ (৩) ( ১৬৮২) ও বৌরীর (৪) (১৬৮৭) মানচিত্রে হিজলী ও খেজুরী দুইটি দ্বীপাকারে স্বতন্ত্রভাবে চিহ্নিত হইয়াছে। যখন কলিকাতার প্রতিষ্ঠাতা জব চার্ণ ১৬৮৭ খ্রীষ্টাব্দে শায়িস্তা খা কর্তৃক হুগলী হইতে বিতাড়িত হইয়া আশ্রয়ােদ্দেশে হিজলীতে আগমনপূর্বক বাদশাহী সৈন্যকর্তৃক আক্রান্ত ও অবরুদ্ধ হয়েন, সে সময় খেজুরী স্বতন্ত্র দ্বীপাকারে বর্তমান ছিল। ১৭০৩ খ্রষ্টাব্দের নাবিকগণের, (৫) ১৭৬৯ খ্ৰীষ্টাব্দের হুইট চার্চের (৬) ১৭৭০ খ্রষ্টাব্দের বােল্টর () ও ১৭৮ খ্ৰীষ্টাব্দের রেণেলের (৮) মানচিত্রে খেজুরী দ্বীপ দৃষ্ট হয়। খেজুরী ও হিজলী দ্বীপদ্বয়ের ব্যবধানবৰ্ত্তী জলভাগের নাম কাউখালী নদী ছিল। কাউখালীর আলােক-গৃহের নিকটে এই নদীর ক্ষীণ অবশেষ এখনও কাউখালীর খাল” রূপে বৰ্তমান আছে। উত্তরদিকে এই দ্বীপদ্বয়কে স্থলভাগ হইতে বিচ্ছিন্নকারী জলস্রোতের চিহ্ন ‘কুঞ্জপুর 1873; () Reproduced copy of Blaev's Magni Mogoleo Imperium in bis Theatrum Orbis Terrarum, vol. II, in J. A. S. B., pt. I. also Bloclimau's Contributions to the Geogruphy and History of Bengal, Appendix. (2) Vanden Brouck's Map of Bengal in Valentyo's Memoir, val, V. (9) George Heron's Chart of Poiot Valmıyra to lugli in the Bay of Bengal, -Hedges' Dary, rol. III, Appendix. (8) Thomas Bowery's Chart of the Hughly River in his Geographiral Account of the Countrira round the Bay of Bengal. (c) Mitinapur Di, Garrilir, P. 9. (s) Whitchurch's map of Bengal from actual survey, reproduced by Cap. Melville in Surveyon! Goneral's Office, Calcutta, May, 1866, (9) Vidnapore Gacetter, I'. 9. (b) Rennell's Atlas, Platı No. XIX.
[ ৩ ] খাল’রূপে এখনও দৃষ্ট হয়। (১) সম্ভবতঃ ষ্ট্ৰীশ্যাম মাষ্টার তার দৈনন্দিন লিপিতে এই কুঞ্জপুর খালকেই নির্দেশ করিয়া লিখিতেছেন,-১৬৭৯ খ্রষ্টাব্দ, ১৯শে ডিসেম্বর। আমরা খেজুরীতে বজরায় অবস্থান করিলাম, এবং কেঁদুয়া (বর্তমান কঁথি। গামী নদীতে প্রবেশ করিলাম। এই নদীটী অতিশয় গভীর ও জাহাজের শীতঋতু যাপনের পক্ষে নিরাপদ হইলেও প্রবেশপথে অগভীর।” (২) ইহার দ্বারা অনুমান হয়, তিনি বর্তমান রসুলপুর নদীকেই কথিগামী নদীরূপে বলিয়া থাকিবেন। বালিআড়ির উপরেই কঁথি অবস্থিত,-সুতরাং সেই সুদূর অতীতকালে ভিন্নরূপে কঁথির পার্শ্বদেশ দিয়া রসুলপুরের প্রবাহিত হওয়া অসম্ভব নহে। কুঞ্জপুর থাল খেজুরী হইতে আরম্ভ হইয়া রসুলপুর নদীর সহিত সংযুক্ত হইয়াছে। এতদ্বারা প্রতীতি হয়—স্ট্রীনা মাষ্টার কুঞ্জপুর খাল ও তৎসংযােজক রসুলপুর নদীকেই ‘সুগভীর নদী বলিয়াছেন। হিরােণের মানচিত্রে কুঞ্জপুর খালের অবস্থান-নির্দেশক জলস্রোতগুলি পাঁচ হইতে সাত ‘বাম (Fathom) পৰ্য্যন্ত গভীর বলিয়া চিহ্নিত আছে। সম্ভবতঃ উনবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভ হইতে খেজুরী দেশভাগের সহিত সংযুক্ত হইয়া থাকিবে। ১৮২ খ্রীষ্টাকে লবণ রপ্তানীর সুবিধার জন্য কুঞ্জপুর খালের পঙ্কোদ্ধারের বিষয় সরকারী কাগজপত্রে জানা যায়। (৩) (») "The Kunjapur Khal was then a deep, brond stream, which completely cut off' Khejri and Tlijli from mainland, and these again woro divided into two distinct islands by the river Cowcolly of which the channel now completely vanislıes." Wilson's Early Annals of the English in Bengal, rol. I. P. 105, (2) Diaries of Streynsliam Master, rol II, P. 577. 19) "In 1802 the Kinjapur Khal from the Rasulpon to the Hngli was executed to facilitate the carriage of salt iu Calcutta, and possibly the Klal follows the line of the old branch which mado [ ৪ ] “খেজুরী' নাম সম্ভবতঃ খেজুরগাছের সংস্রবে সৃষ্ট হইয়া থাকিবে। এই স্থান ‘খেজুরী’ অপেক্ষা ‘খাজুরী’ নামেই অধিক পরিচিত। বোরী ‘খেজুরী’কে ‘ক্যাজুরী’ (casuree) করিয়াছেন (১) ১৭১ খ্ৰীষ্টাব্দের নাবিকদিগের চাটে ‘গ্যাজুরী’ (Gajouri) আছে। (২) ১৭৬৩ খ্রীষ্টাব্দে ডি, এভিল ‘ক্যাজোরী’ (Cajori) লিখিয়াছেন। (৩) সেয়ার (১৭৭৮) কর্তৃক প্রস্তুত মানচিত্রগুলিতেও ক্যাজোরী (Cajori) দেখা যায়। (৪) রেণেলের ম্যাপে (১৭৮০) কাজেরী (Cudjeree) পাওয়া যায়। (৫) এই নামগুলি খাজুরী’রই বৈদেশিক স্বরূপ হইতে পারে। বৈদেশিক লেখকগণ স্ব স্ব ভাষা-সুলভ উচ্চারণের তারতম্যে খেজুরী’ নামের আরও নানা প্রকার বানান লিপিবদ্ধ করিয়াছেন। যথা,-হিরােণ Redgerye, উইলিয়ম হেজেস Kegelia, (৬) হ্যামিল্টন্ Kedgerie, (৭) ১৬৭৯ খ্রীষ্টাব্দের হুগলী কুঠীর কাগজপত্রে Redgaree (৮) প্রভৃতি। ইম্পীরিয়াল গেজেটিয়ারে Khijuri ও Kijuri, মেদিনীপুর গেজেটিয়ারে Khejri এবং Hiji an island." A. K. Jameson's Final Report on the Surrey and Settlement Operations in the Disto Dzielna pore, P. 6. (১) এই 'Casure' কখনই ('austria বা বিলাতী ঝাউ বৃক্ষের সংশ্রবে নহে। সপ্তদশ শতাব্দীতে খেজুরীতে বিলাতী বউয়ের অস্ত্বিত্ব ছিল না নিঃসন্দেহ। স্বকীয় ভাষা ও উচ্চারণের ধারার সহিত সঙ্গতিরক্ষার জন্য বৌরী ('asure করিয়াছিলেন বলিয়াই বোধ হয়। (২) lledges Dianol. IIl, 1, 20s. (0) Yule and Burnell's Flouson-Jobsun S. V. Kedgeree. (8) Hedge's Diary, 201. III, P. 208. (P) Reunell's Atlas, Sheet No. XIX. ( ) lleuge's Diary, col. 1, P. 07. (5) Hedge'x Diary, rol. IIT, P. 208. 16) l'uctory records, Hugli No.2, 1679, 27th April, qnoted by Temple iu Bowery.
[ ৫ ] লিখিত হয় । বেলীর সেটেলমেন্ট রিপাের্টে Kajooreah আছে। (১) বর্তমান পাের্ট ট্রাষ্ট সারভে Khajuri বা Date palm place করিয়াছেন। (২) সারভে ইণ্ডিয়া প্রকাশিত Bengal sheetএ এই বানানই দেখা যায়। (৩) নামটি বর্তমান Khajri ও Kedgeree দুই প্রকারে থানার নাম Khajri এবং পােষ্ট, আফিসের নাম Kedgeree ; খেজুরীর সুখ-সৌভাগ্যের দিনে শেষােক্ত নাম ব্যবহৃত হইতে আরম্ভ হইয়াছিল। সম্ভবতঃ ‘খেজুরী’কে মুখরােচক খিচুড়ি নামক খাদ্যের সমসংজ্ঞক ভাবিয়া য়ুরােপীয়েরা Kedgered করিয়াছেন। কারণ, খিচুড়িকে ইংরাজীতে Kedgeree বলে। আমাদের মনে হয়, নদী বা খালের মুখে নৌকা প্রভৃতির আশ্রয়স্থানে দৃশ্যমানভাবে একটী খেজুরগাছ বর্তমান ছিল,--তাহা দেখিয়া দেশীয় নৌ-চালকেরা খেজুরী নামকরণ করিয়া থাকিবে। খেজুরী বন্দরকেই স্থানীয় লােক ‘খাজুরী ঘাট’ বলিত। নৌকা বা জাহাজের মালপত্র ওঠা-নামা করিবার স্থানকে (landing place) ‘ঘাট” বলে। যশােহর জিলায় খাজুরিয়া গ্রাম আছে, সেখানে খেজুরের সংস্রবে এই নামের সৃষ্টি বলিয়া বেশ অনুমান হয়। কঁথি মহকুমার সীমান্তেই সবং থানায় অন্যতম খাজুবী গ্রাম আছে। (৪) এই নাম ও খেজুরগাছের নিদর্শন ভিন্ন অন্য কি হইতে পারে ?-গাছের নামের অনুকরণে বাঙ্গালার বহু পল্লীর নাম সৃষ্ট। (3) II. V. Bayley's Report on the settle noent of the lajmempuluh Xxlute in the district of Nilumpore, 1841, P. 85, l'arl ... (2) Votes in Heilyps' Diary vol. III, P. 208. (6) Bengal sheet No. 739 (৪) 'Tliana Sabang Juristliction list, village No. 313; পােষ্ট অফিসের তালিকা দৃষ্টে জানা যায়, বনু ভূপাল ও টোচী উপত্যকায় খ জুরী | Klaajuri) এবং ফৈজাবাদের দুই স্থানে 'খেজুর হাট” অছে।
হিজলী, পিপলী, গরাণিয়া, তেঁতুলিয়া, করাঞ্জি প্রভৃতির উল্লেখ করা যাইতে পারে। কলাগেছে, আমগেছে, পলাশবাড়ী, জামবাড়ী প্রভৃতির ত কথাই নাই। খেজুরীর পাশেই তালপাটী গ্রাম, খাল ও ঘাট আছে। সম্ভবত তালগাছের নামসংস্রবে তালপাটী (তালপত্রী ?) হইয়া থাকিবে। দূর হইতে দৃশ্যমান তাল ও খেজুরগাছদ্বারা নদী বা খালগুলিকে চিনিবার উপায়ের জন্য এই সমস্ত নামের সৃষ্টি হওয়াই সম্ভব। হিজণীর লােক- বিত তাজ খাঁ মন-ই-আলার বংশীয়গণের রাজত্ব- ললাপের পর (১৬৬১), (১), খেজুরী ও হিজণীদ্বীপদ্বয় পােতুগীজ ও মগ্- দদিগের অত্যাচারে অধিবাসিবজ্জিত হইয়া হিংস্ৰজন্তুপূর্ণ অরণ্যে পরিণত হয়। হিরােণ ও রেণেলের মানচিত্রে এই সমস্ত স্থানে দীর্ঘ অরণ্য (Long wood”) ও ঘনসন্নিবিষ্ট বৃক্ষাবণী চিহ্নিত আছে। ওলন্দাজ লেখক স্কাউটেন (Ganter Schouten) লিখিয়াছেন,—“আমরা ১৬৬৪ খ্রষ্টাব্দের ১৬ই জানুয়ারী জলেশ্বর নদী (২) বামে রাখিয়া (গঙ্গার মােহানার দিকে) যাইতেছিলাম। এখানে দেশভাগে কিয়দ্র বিস্তৃত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অরণ্য দৃষ্টিগােচর হইয়াছিল। ঐ সমস্ত অরণ্য সর্প, গণ্ডার, বন্তমহিষ ও ব্যাঘ্রাদি হিংস্ৰজন্তুতে পরিপূর্ণ ছিল। এইজন্য বঙ্গদেশের লােকে সমুদ্রসন্নিহিত স্থানে বাস করে না।” (৩) তাজু খাঁ মসনদ-ই- ( Valentyn's Meinoir, vol. V. p. 158; (f. রামপুর নবাবের লাইব্রেরীতে রক্ষিত ফাসী “মরৎ-ই-হাসান হস্তলিপি ( শ্রদ্ধেয় ঐতিহাসিক অধ্যাপক শ্ৰীযুত যদুনাথ সরকার মহাশয়ের অনুগ্রহে প্রাপ্ত) "Hijli has been conquered by the imperial forces. Bahadur, with his family has been captured as a punishment for liis disobedience (i. e, rebellion) (probably in Jin, or Feb. 1661 ]" Muruqat-Jolio No. ii6. গ্রন্থার প্রণীত 'হিণীর মদ-ই-আলা দ্রষ্টব্য। (২) জলের নদী সম্ভবতঃ সুবর্ণরেখাকে উদ্দেশ করিয়া বলা হইয়াছে। (0) Schouteu's Voige aux Indes Orientales, vol. 12, P. 143 (Sir R. Temple's traoslation ).
[ ৭ । আলার সমৃদ্ধিপূর্ণ রাজধানী হিজলী এবং তাহার উপকণ্ঠ খেজুরীর এই দুরবস্থা বােম্বেটে ও লুণ্ঠকগণের নির্দয় হন্তের চিহ্ন ভিন্ন অন্য কিছুই নহে। সাগরদ্বীপের নিকটবর্তী রােগস রিভার (Rogues River) (১) এই সমস্ত জলদস্যুর আজ্ঞা ছিল। ইহার। দুর্ধর্ষ ডাকাতী ও লুণ্ঠনবৃত্তিতে গঙ্গার মােহানাবর্তী সমগ্র সুন্দরবন, হিজলী ও খেজুরী প্রভৃতি সমৃদ্ধ কানগুলি জনমানবহীন অরণ্যে পরিণত করিয়াছিল। (২) কোম্পানীর বঙ্গদেশীয় কুঠীসমূহের প্রথম গবর্ণর উইলিয়ম্ হেজেস ১৬৮৩ খ্রীষ্টাব্দে খেজুরী দ্বীপে অবতরণ করিয়া একটি পুরাতন মৃন্ময় দুর্গের ভগ্নাবশেষ দেখিয়াছিলেন। উহাতে দুইটি ছােট কামান ছিল। শ্যাম মাষ্টার ১৬৭৬ খ্রীষ্টাব্দে বােধ হয় এই দুর্গকেই লবণ প্রস্তুতের কারখানা- রক্ষার্থ মুঘল নির্মিত দুর্গ বলিয়া নির্দেশ করিয়াছেন। (৩) স্কাউটে ১৬৬৪ খ্রীষ্টাব্দে গঙ্গার মােহানাবন্তী অরণ্যের মধ্যে একটি মৃত্তিকা-নিৰ্ম্মিত দুর্গ দেখিয়াছিলেন,-উহাতে কতকগুলি দুর্দশাপন্ন কৃষ্ণাঙ্গ ছিল। (৪) (১) হেজেসেয় টীকাকার Mr. Barlowর মতে রােগ রিভার বর্তমান চ্যানেল ক্রীক’ ( মুড়িগঙ্গা নদী) (lledges Diary, col. III, P. 908. ) Hobosor Jobson Yule and Burnell ইহা ‘কুপী ক্রী’ বলিয়া সিদ্ধান্ত করিয়াছেন। ( Hobson-Jobson s. v, Rogues' River ). (2) of. Bornier-They inade womon slaves, grout and stall, with strango cruelty, and burst all they could not carry away. And hence it is that there are seen in the mouth of the Ganges so many fine cities quite deserted." (0) "On the other side was the western channel by the island of Hili, where the Mogul had built a small fort to protect his salt works." Diary of Streynsham Master, vol. I, p. 321. (8) "Therfore on our way we only saw a little clay fort where some Negroes were existing wretchedly enough." Schouten, vol. II. p. 143-Temiple's translation.
[ ৪ ] সম্ভবত এই দুর্গ মসনদ-ই-আলা ও তদ্বংশীয়গণের দুর্গের ভগ্নাবশেষ। শাহজাহানের রাজত্ব-সময়ে এই সমস্ত জলদস্যুর অত্যাচার নিবারণজন্য হিজলীতে ‘ফৌজদারী প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল। (১) হিজলীর তাজ খাঁ মসনদ-ই-আলা ও তদ্বংশীয়গণ ফৌজদারের ভার প্রাপ্ত হইয়া এই দুর্গ নির্মাণ করেন বলিয়া সম্ভব। পােতুগীজ মিশনরী সিব্যাষ্টিয়া ম্যানরিক ১৬২৯ খ্রষ্টাব্দে গঙ্গাসাগরের সমীপবর্তী চরে পােতদুর্ঘটনায় হিজলীর উপকূলে উপস্থিত হইলে মসনদ-ই-আলার রক্ষিসৈন্য ও রণতরী মুঘলদিগের পক্ষে তাহাদিগের জাহাজাদি আটক করিয়াছিলেন। (২) যাহা হউক, হেজেস এই দ্বীপটিতে প্রচুর বরাহ, হরিণ, মহিষ ও ব্যাঘ্রাদি বন্যজন্তু দেখিয়াছিলেন। এই দ্বীপটি তাহার নিকট উর্বর ও আনন্দদায়ক বােধ হইয়াছিল। (৩) হেজেস কথিত খেজুরীতে এই সমস্ত বন্যজন্তুনিবাস-ইহার দর উপদ্রবে উচ্ছিন্ন হওয়ারই সমর্থন করে। এলেকজাণ্ডার হামিল্টন্ তাহার *Account of the East Indies* পুস্তকে (১৭২৩) লিখিয়াছেন— (9) "The Arakanese and Portuguese pirates now began to commit depardations on the Orissa coast and in Mijli. Tracts of lands becamo depopulated and the ryots left their fields. Shahjahan thereupon undexed Hijli to Bengal so as to enable the imperial fleets stationed. at Dacca to guard against these piratical raids." J. A. Campos. listory of the Portuguese in Bengal, p. 95. ef. Hunter's S. A. B. ??ol. III, p. 199 this Foujdari or Magistracy was macle apparently for the purpose of subjecting the whole coast liable to the invasions of the Maglis, to the Royal. jurisdiction of the Nawara or Admiralty fleet of boats stationed at Dacca. (2) Bengal : Peest ond Present, vol. XII, 1916. pp. 281-286- Padre Maestro Fray Seb. Maprique in Bengal. (৩) Hetes' Diary vol, II3p. 67, •• { ৯ ] “খেজুরী দ্বীপে মৎস্যজীবিদিগের বাস, ইহাতে প্রচুর পােষা শূকর অতি সুলভে পাওয়া যায় আমি প্রত্যেকটীর ওজন ৫০ হইতে ৮০ পর্যন্ত হইবে এরূপ ২১টা শূকর ১৭ টাকা মাত্র মূল্যে ক্রয় করিয়াছিলাম।” (১) বর্তমান সময়ে খেজুরী অঞ্চলে মৃত্তিকাগর্ভে যে সমস্ত ভগ্ন দেব-মূৰ্তি আদি পাওয়া যায়, তাহাতে ইহার প্রাচীন জননিবাসই প্রতিপন্ন হয়। (২) হিজলী দ্বীপের যমজ সহােদর এবং প্রায় একাঙ্গীভূত খেজুরী কখনও হিজলীর গৌরবের দিনে পরিত্যক্ত অরণ্য ছিল না। চাণক্ দ্যুবিধ্বস্ত হিজলীকে ভয়ঙ্কর স্থান ( direful place) বলিয়াছিলেন। (৩) অষ্টাদশ শতাব্দীতে কালক্রমে নদীর প্রণালী (channel) পরিবর্তিত হওয়ায় খেজুরী একটি পােতাশ্রয়ে (Anchorage) পরিণত হয়। হিজলী জিলাভুক্ত খেজুরী ১৭৬৫ খ্রীষ্টাব্দে কোম্পানীর দেওয়ানী গ্রহণের সময় বৃটিশ অধিকারভুক্ত হয়। (৪) সুতরাং খেজুরী এই সময়ে বা ইহার অত্যল্প- কাল পরে ঈষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর কাৰ্য্যস্থল হইয়া থাকিবে। কোম্পানীর 19) "It is now juliabited by Fishers, as are also Ingellie, and Kolycrrie two neiglıbouring Islands on the west side of the Mouth of Ganges. These Islauds abound also in tamc Swine, where they itre sold very clienp, for I have bought one and twenty good llogs, bel ween 50 und 80 Pound weight ench for 17 Rupees or 45 Shillings Sterling." it. llamilton's Account of the East Inelees, vol. II, Chup. IX p. +. (২) সম্প্রতি অজানবাড়ী গ্রামের শ্ৰীযুত বরেন্দ্রকৃষ্ণ মিদ্যার একটা ও সাতক গ্রামে একটী পুষ্করিণী খননে সুন্দর ভগ্ন দেবমূৰ্ত্তি পাওয়া গিয়াছে। এগুলি লেখক কর্তৃক বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদে প্রদত্ত হইয়াছে । (9W. W. IIunter llistory of British India. vol. II. 1.258. (8) "Hijili and Tamluk did not come under company's administration until the grant of the Diwani in 1765. l'imminger's Fifth Report, rol. 1. Introduction, cerit..
[ ১ ] আমলে দ-বিধ্বস্ত খেজুরীর বন-জঙ্গল কাটিয়া মনুষ্যবাসােপযােগী করা হয়। এইজন্য খেজুরীকে রাজস্বসম্বন্ধীয় কাগজপত্রে জঙ্গলবুরি’ মৌজা বলে। মেদিনীপুর কালেক্টরীতে রক্ষিত ১৭৮৮ খ্রীষ্টাব্দের পঞ্চবার্ষিক লিপিতে (Quinquinnial Register ) জনৈক বন্দোবস্ত গ্রহীতার দখলে খেজুরীর উনত্রিশ বাটি (১) ১৫ বিঘা ৮ ছটাক জমি দৃষ্ট হয়। (২) সম্ভবতঃ এই ব্যক্তিকে জঙ্গল আবাদের জন্য বন্দোবস্ত দেওয়া হইয়াছিল। ইতঃপূৰ্ব্বে কোম্পানীর বৃহৎকায় বাণিজ্য-জাহাজগুলি বালেশ্বর পর্যন্ত আসিলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাহাজে মালপত্র পরিবর্তিত করিয়া হুগণী পর্যন্ত প্রেরিত হইত। কারণ, ঐ সমস্ত জাহাজ ভাগীরথীর মোহনায় চরবহুলতার জন্য আর এইদিকে অগ্রসর হইতে পারিত না। সর্বপ্রথম ১৬৭২ খ্রীষ্টাব্দে ক্যাপ্টেন্ জেমস্ “রেবেকা” নামক জাহাজকে পথি প্রদর্শক নাবিকের ( Pilot) সাহায্যে ভাগীরথী পর্যন্ত আনিতে সমর্থ হয়েন। ক্যাপ্টেন ষ্ট্যাফোর্ড, ১৬৭৯ খ্রীষ্টাব্দে ‘ফ্যাক’ ( Falcon) নামক জাহাজ ভাগীরথী পর্যন্ত আনয়ন করেন; ঐ সময় হইতে বালেশ্বরে বৃহৎ জাহাজগুলির মল পরিবর্তন না হইয়া হিজলীতে পরিবর্তিত হইবার রীতি হয়। (৩) এই সময় হিজণী বন্দরের স্থানাধিকার করে। ইহার অত্যল্পকাল (১) বাট’ উড়িষ্যায় প্রচলিত এক প্রকার ভুমির পরিমাণ-২০ বিঘাতে এক ‘বাট’ হয়। এই হিসাবে খেজুরীর বন্দোবস্তকৃত ভূমি স্থানীয় মাপের প্রায় ৬০০ বিঘা হয়। এই পরিমাণ ষ্ট্যান্ডার্ড ৭৫০ বিঘার উদ্ধ হইবে। খেজুরীর প্রচলিত এক বিঘ-(৭ ফু ১০ই x২০) (৭ ফুট ১০২”x১৬) বা ২২০৫ বর্গ গজ। বর্তমান সময়ে খেজুরী মৌজার পরিমাণ ৪ার্ড, বিথ। । সম্ভবতঃ ৫াগুক্ত বন্দোবস্ত আনুমানিকভাবে হইয়া -থাকিবে। 12) Bayley's Mujnamoottah Report, P. 85. (9) Bowery's Countriex round the Bay of Bengal. p. 166, n2, [ ১ ] পরে খেজুরীও সামুদ্রিক বন্দর ও বাণিজ্যকেন্দ্রস্থল হইবার সূচনা দেখাইয়াছিল, কারণ, উইলিয়াম্ হেজেস তাহার বিখ্যাত রােজনামচায় লিখিয়াছেন, ১৬৮৪ খ্রীষ্টাব্দে পেতুগীজের খেজুরী ও হিজলী দ্বীপদ্বয় অধিকার করিতে ইচ্ছুক হইয়াছিল। (১) খেজুরীর প্রয়ােজনীয়তা বৃদ্ধি হইলে ইহা পােতুগীজদিগের প্রলােভনের বস্তু হইতে পারিত না। অতঃপর কোম্পানীর বাণিজ্যসমৃদ্ধির দিনে জাহাজের মালপত্র পরিবর্তনের কাৰ্য্য খেজুরীতে সংঘটিত হইলে স্থানটা সুরম্য নগরের শ্রী-শােভা ধারণ করে। (২) এসিষ্ট্যান্ট, রিভার সারভেয় মিষ্টার রীস (H. G. Reaks) খেজুরী সম্বন্ধে লিখিয়াছেন,-“কলিকাতার অভ্যুদয়ের সহিত সামুদ্রিক নৌ-যাত্রার আরম্ভ-পথ খেজুরীতে সুন্দর পােতাশ্রয় সৃষ্ট হওয়ায় উহা একটী প্রয়ােজনীয় স্থানে পরিণত হয়। মােহানার ঐ স্থান হইতে ভাগীরথীর পথে কলিকাতা পর্যন্ত যাতায়াত বৃহৎ জলযানগুলির পক্ষে কষ্টসাধ্য ও বিপজ্জনক ছিল বলিয়া পথিমধ্যে খেজুরীতে এই সমস্ত জাহাজ অবস্থান করিত এবং সেই স্থানে মালপত্র ও আরােহী পরিবর্তিত করিয়া প’ ( sloop) নামক ক্ষুদ্র জাহাজের সাহায্যে কলিকাতায় আমদানী-রপ্তানী চলিত। প্রতিনিধির (Agent) নিবাস-গৃহ, পাের্ট অফিস এবং জাহাজত্রিগণের জন্য বিশ্রামকক্ষ (waiting room) নির্মিত হইয়া স্থানটী একটী শহরে পরিণত হইয়া উঠিল। তৎকালীন “কলিকাতা গেজেটে প্রকাশিত পশ্চাল্লিখিত বিজ্ঞাপন দর্শনে (5) Yule, Diary of Iledges, rol. I, P. 172. (২) খেজুরী কোন্ সময় হইতে পােতাশ্রয়ে পরিণত হয়, ঠিক জানা যায় না। সম্ভবতঃ ১৭৮ খ্রীষ্টাব্দের পূর্ববর্ত কোনও সময়ে হইয়া থাকিবে। কারণ, ঐ সময়ে প্রস্তুত রেণেলের মানচিত্রে (sleet no xix) খেজুরী দ্বীপের তীরভূমির পার্শ্বে দিয়াই জাহাজের পথ (Cadjaree Road) চিতুত আছে।
[১২] হইত। জানা যাইবে,—অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগে এই স্থান কিরূপ সমৃদ্ধিপূর্ণ হইয়া উঠিয়াছিল ;-*১৭৯২ খ্রীষ্টাব্দের ২৯শে মে তারিখে খেজুরীতে অল্লাধিক ৮ বিঘা জমীর উপর অবস্থিত একটি বৃহৎ বাহির-দালান’ (hall), চারিটী শয়ম-গৃহ এবং উন্মুক্ত বারান্দা-সংবলিত একটি দ্বিতল অট্টালিকা নীলামে বিক্রীত হইবে। “এই সময়ে খেজুরী হইতে কলিকাতা যাতায়াত নৌকাদ্বারা নিষ্পন্ন কলিকাতায় প্রচারিত সংবাদপত্রসমূহদ্বারা প্রেরিত দ্রুতগামী ডিঙ্গী নৌকাগুলি খেজুরী হইতে বহিঃসমুদ্রে গমন করিয়া য়ুরােপের সৰ্ব্ব- প্রথম সংবাদের জন্য নবাগত জাহাজে উপস্থিত হইত। শহরে এইরূপে লব্ধ নূতন সংবাদ প্রচারের জন্য স্বভাবতঃই একটি উত্তেজনাপূর্ণ ‘দৌড়াদৌড়ি’ পড়িয়া যাইত। উত্তরকালে কলিকাতা পর্যন্ত পাখা’ (arms) সঞ্চালনশীল সঙ্কেতবাহক মঞ্চসমূহ প্রতিষ্ঠিত হইয়া সংবাদ আদান-প্রদান নিৰ্বাহ হয়। ১৮৫২ খ্ৰীষ্টাব্দে বৈদ্যুতিক বার্তাবহ যন্ত্র স্থাপনদ্বারা এই প্রথার পরিবর্তন সাধিত হইয়াছিল। এখনও কতকগুলি সংবাদ বহনের উচ্চ সতে-মঞ্চ নদীতীরে বর্তমান ; বড়ল (Brul), ধজা (?) ও হুগলী পয়েন্টে এরূপ দেখিতে পাওয়া যাইবে। ১৭৮৪ খ্রীষ্টাব্দে খেজুরী হইতে কলিকাতা যাতায়াত কিরূপ সহজসাধ্য ছিল, তাহা ঐ বৎসরের ১৯শে আগষ্ট তারিখের এই বিজ্ঞাপন দর্শনে জানা যাইবে,—‘বেরিংটন্ জাহাজের মিডশিপম্যান্ নামক কর্মচারী জন্ ল্যাম্ব, গত ২০শে জুলাই থেজুরীস্থিত উক্ত জাহাজ হইতে পলায়ন করিয়া অত্যল্পক্ষণ পরেই কলিকাতায় দৃষ্ট হইয়াছিল।” ১৬৩৬ খ্ৰীষ্টাব্দে শুল্ক-বিভাগের কর্মচারিগণ খেজুরীতে জাহাজগুলি পরি- দর্শনপূর্বক সমুদ্রযাত্রার অনুমতি প্রদান করিতেন। খেজুরীর সমীপবর্তী নদীপথ ১৮৬৪ খ্ৰীষ্টাব্দ পর্যন্ত বর্তমান থাকিয়া পরে, মধ্যনদীতে পরিবর্তিত হইয়াছিল। অতঃপর খেজুরী পােতাশ্রয় ও নদীপ্রণালী সত্বরে বিনষ্ট হয়।
( ১৩ ) জাহাজগমনাগমনবর্জিত হইয়া খেজুরী অপ্রয়ােজনীয় হইয়া উঠে। এক্ষণে এই স্থানে দর্শনীয় বস্তুর মধ্যে একটী জোয়ার-ভাটার সঙ্কেত-নির্দেশক-যন্ত্র (Tidal semaphore) ও সময়ক্রমে সম্মিলিত বাজার মাত্র দৃষ্ট হয়।” (১) ১৮০৮ খ্রীষ্টাব্দের “কলিকাতা গেজেটের বিজ্ঞাপন-স্তম্ভে খেজুরীতে একটী বাড়ী বিক্রয়ের এইরূপ বিজ্ঞাপন দেখা যায়,-“খেজুরী এষ্টেট। আগামী বৃহস্পতিবার ১১ই ফেব্রুয়ারী, ১৮৮ খ্রীষ্টাব্দ, টুলাে কোম্পানীর (Tulloh & Co.) নীলাম গৃহে পরলােকগত শ্ৰীযুত জন্ রাসেল ও উইলিয়াম হল্যাণ্ডের সম্পত্তির এজিকিউটরগণের অনুমতিক্রমে খেজুরীস্থিত যে বাড়ীতে ইতঃপূৰ্ব্বে শ্ৰীযুত রাসেল ও হ্যাণ্ডের (Messrs Russel and Holland । কাৰ্যালয় অবস্থিত ছিল—সেই মূল্যবান্ ও সুবিখ্যাত দ্বিতল অট্টালিকা ১৯৮৪ (Valuable and wellknown upper roonmed house) এবং অন্যান্য সুবিস্তৃত গৃহাদি মায় নূনাধিক ১ শত বিঘা ভূমি সম্পূর্ণ (without reserve) প্রকাশ্য নীলামে বিক্রীত হইবে।” (২) এই বিজ্ঞাপন খেজুরীর এককালীন সুখ-সৌভাগ্যের পরিচায়ক, সন্দেহ নাই। ১৭৬৩ খ্রীষ্টাব্দে ফরাসীদিগের কতকগুলি রণতরী বালেশ্বরে কয়েকটা ইংরাজ-জাহাজ ধৃত করে, তজ্জন্য খেজুরীস্থিত বৃটিশ জাহাজগুলি ফরাসী- কর্তৃক আক্রান্ত হইবার সম্ভাবনায় কলিকাতায় আতঙ্ক উপস্থিত হইয়াছিল। নদীর মন্দাবস্থা ও প্রতিকূল বায়ুর জন্য খেজুরী হইতে জাহাজগুলি কলিকাতা আনিবার চেষ্টা সফল হয় নাই। (৩) ইহার কয়েক বর্ষ পরে (») Benyal : Pust and Present, l'ol, II, no 2, April, 1918. (a) Hugh David Sanderson's Selections from Calcutta Guzette, col, II. (1800.1415). () "Calcutta in January 1703 was in a panic, as the French flect was iu Balasore Roads and had captured several Euglish vessels It was found they could uot remove the ships from Kedycrec to [ ১৪ ] একবার খেজুরী হইতে ফরাসীদিগের রসদসংগ্রহে বাধা প্রদানের জন্য ইংরাজদিগের সৈন্যসমাবেশ আবশ্যক হইয়াছিল। জলেশ্বরের নিকট মােহনপুরে বস্তু-ব্যবসায়-ব্যপদেশে মসিয়ে অস্যান্ট, (Monsieur Aussant) নামক জনৈক ফরাসী রেসিডেন্ট, থাকিতেন। তাহার শরীররক্ষী রাখিবার সৰ্ত্ত লইয়া ইংরাজদিগের সহিত বিবাদ উপস্থিত উপস্থিত হয়। কর্তৃপক্ষের নির্দেশমতে (১) মেদিনীপুরের ইংরাজ রেসিডেন্ট, জন পীয়ার্স, লেপ্টনান্ট, বেটম্যান্ নামক সৈন্যাধ্যক্ষকে দুই দল সৈন্য লইয়া খেজুরী ও হিজলীতে প্রেরণ করেন। ফরাসী বা ওলন্দাজগণকর্তৃক খেজুরীর উপকূলে যুদ্ধ-জাহাজ ভিড়াইয়া রসদ গ্রহণের সম্ভাবনা ছিল। বেটম্যানের প্রতি আদেশ ছিল— মালপত্র বহনােপযােগী গবাদি দেশের ভিতরের দিকে ২০ মাইল দূরে সরাইয়া দিবেন এবং সমুদায় রসদাদি নষ্ট করিবেন। বেটম্যান সৈন্যদলসহ উপস্থিত হইয়া দেখিলেন, ফরাসীরা খেজুরীতে প্রচুর চাউল সংগৃহীত করিয়া রাখিয়াছে এবং এই স্থানের অধিবাসীরাও ফরাসৗদিগের পক্ষপাতী হইয়া পড়িয়াছে। (২) যাহা হউক, ফরাসৗদিগের বিরুদ্ধ মনােভাবের Calcutta as they could not easily return on favourable, winds and very dangerous channels." Long's Notes from selection from recorila of the Govt. of India, Introduction, p. 40. Also, ibid p. 295, "A French fleet at Balasore." (>) Jolin Cartier's letter to Johın Pierce, dated 3rd March, 1770) (alcutta-Firminger's Bengal District Recorelx, Midnapore, vol II. account of tl:e uu. p, 1S), (2) "Mr. Batenian had written to say that upon enquiry he found there was a great deal of rice at Khajri felonging to the French and several peons with it. As the peoplo seemed to bu quite under the Frencht be thought it not improbable that they might move the rice into the jungles." J. C. i'rice's Noles on the Ilistory filnapore, rol, 17, 19, { ১৫ } চিহ্ন না পাইয়া ১৭৭০ খ্রীষ্টাব্দের বর্ষাকালে সৈন্যদল অপসৃত করা হয়। (১) কোম্পানীর আমলে খেজুরীর পথে নৌ-দস্যুর উৎপাত ছিল। জন্য সরকার বাহাদুর ভাগীরথীর মােহানার পথে নানা স্থানে ‘গার্ড বোট বা চৌকি নৌকার ব্যবস্থা করেন। এই সকল নৌকা পুলিসের তত্ত্বাবধানে নদীর নানা স্থানে পাহারা দিত। ১৭৮৮ খ্ৰীষ্টাব্দের ২৪শে এপ্রিল তারিখযুক্ত একটি সরকারী আদেশ হইতে জানা যায়, গবর্ণর জেনারেল বাহাদুর হিজলীর ম্যাজিষ্ট্রেটকে অন্যান্য কয়েকটী স্থান ব্যতীত তালপাটী হইতে হিজলীর বঁাক পৰ্য্যন্ত ৭ ও ৮ নম্বর বােটের পাহারার বন্দোবস্ত করিলেন বলিয়া জানাইতেছেন। প্রত্যেক চৌকি-নৌকায় একটি করিয়া লাল নিশান ও সেই নিশানের উপর সাদা অক্ষরে বাঙ্গালা ভাষায় নৌকার নম্বব থাকিবার ব্যবস্থা হইয়াছিল। (২) ভারতবর্ষে সংস্থাপিত সর্বপ্রথম টেলিগ্রাফ লাইন কলিকাতা হইতে খেজুরীর সহিত সংযােজিত হইয়াছিল। ১৮৫১ খ্রীষ্টাব্দে কলিকাতা মেডিক্যাল কলেজের রসায়নাধ্যাপক ডাক্তার ওশানেসী (Dr. W. B. O Shaughinesey) কলিকাতা হইতে ডায়মণ্ড হারবার এবং বিষ্ণুপুর, মায়াপুর, কুকড়াহাটি ও খেজুরী পৰ্য্যন্ত সৰ্ব্বসমেত ৮২ মাইলব্যাপী টেলি- গ্রাফ লাইন স্থাপন করিবার অনুমতি প্রাপ্ত হন। ১৮৫২ খ্রীষ্টাব্দে কুকড়া- হাটি হইতে খেজুরী লাইন উন্মুক্ত হয় । তৎকালে ডাঃ ওশাগনেসীর উদ্ভাবিত এক প্রকার ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক যন্ত্রসাহায্যে সংবাদ গৃহীত হইত ; পরে ১৮৫৭ খ্রীষ্টাব্দে মােস-উদ্ভাবিত যন্ত্র প্রচলিত হয়। (৩) (a) Jiddugore Di (husettorr. p. to. (২) কালকা কাল ও সেকাল, শ্রীহরিসাধন মুখোপাধ্যায় ৬৭০ (৩) ///* Garette /* Tv ( 10/?), to Ili, b, 187.
[ ১৮ } খেজুরীর পােষ্ট অফিসের কাৰ্য্য সুবিস্তৃত ছিল। য়ুরােপীয় ব্যবসায়ী, জাহাজের যাত্রী ও নাবিকগণের সহিত কাৰ্য্যসম্বন্ধের জন্য এই পােষ্ট আফি- সের ভার উচ্চ বেতনভােগী ইংরাজ-কর্মচারীর উপর গুস্ত থাকিত। ইহার ( খেজুরীর পরিত্যক্ত পােষ্ট আফিস) অধীনে অনেক গুলি ডাক-নৌকা সমুদ্রস্থিত জাহাজে যাতায়াত করিয়া চিঠিপত্রদির আদান-প্রদান করিত। এই ডাক-নৌকাগুলির দাড়ি মাঝি ও পােষ্ট আফিসেব দেশীয় কৰ্মচারিদিগের অবস্থানের জন্য পোষ্ট অফিস- গৃহের পার্শ্বে ই শ্রেণীবদ্ধভাবে দ্বাদশটী কক্ষ বিশিষ্ট প্রকাণ্ড ‘ব্যারা’ ছিল, তাহা অযত্নে অতি অল্পদিন মাত্র ভূমিসাৎ হইয়াছে। ডাক-নৌকার কৰ্ম্ম- চারিগণের বৰ্তব্য সম্পাদন বিপদ বর্জিত ছিল না। “কলিকাতা গেজেটে” [ ১ ] ১৮৬ খ্রীষ্টাব্দের ২৪শে আগষ্ট তারিখে পােষ্ট মাষ্টার জেনারাল-প্রদত্ত একটি বিজ্ঞাপনে জানা যায়—খেজুরীর একটি ডাক-নৌকা চিঠিপত্রাদি জাহাজে বিলি করিয়া ' সাগরদ্বীপের নিকট তীরদেশে নােঙ্গরাবদ্ধ ছিল, এমন সময় একটি ব্যাঘ্র লাফ দিয়া নৌকায় উঠয়া দাড়ি মাঝির এক ব্যক্তিকে লইয়া গিয়াছিল। ইহার ফলে আরও দুই জন আহত হয় এবং নৌকাখানি উল্টাইয়া যায়। (১) একবার মেরীমেড’ নামক জাহাজের কৰ্ম্মচারিগণ খেজুরীর একটি ডাক-নৌকার কর্তব্য কার্যে ব্যাঘাত উৎপন্ন করায় ফোর্ট উইলিয়ম্ হইতে সকৌন্সিল গবর্ণর জেনার ১৮০০ খ্রীষ্টাব্দের ১৮ই ডিসেম্বর তারিখে ভবিষ্যতে খেজুরীর পােষ্ট মাষ্টারের অধীনস্থ কোনও ব্যক্তির সহিত এইরূপ ব্যবহারের জন্য কঠোর শাস্তির বিষয় ‘কলিকাতা গেজেটে বিজ্ঞাপিত করেন। (২) রবার্ট নামক জনৈক ইংরাজ নাবিক তাঁহার ১৮১৭ খ্রীষ্টাব্দের ২৩শে অক্টোবর তারিখযুক্ত রােজ-নাচায় লিখিয়াছেন-“এই সময় খেজুরীতে দুই জন য়ুরােপীয় কর্মচারী ছিলেন। একজন মাষ্টার এটেন্ডেন্ট (Master Attandant) ও অন্য ব্যক্তি পােষ্ট-মাষ্টার। এই দুই ব্যক্তির মধ্যে অতি তীব্র মনােমালিন্য ও শত্রুতা ভাবের কথা রবার্ট, উল্লেখ করিয়াছেন। (৩) ১৮৬৪ খ্রীষ্টাব্দে মিঃ জে, বােটেলহে (J. Botellho) খেজুরীর পােষ্ট মাষ্টার ছিলেন। ইনি পাের্ট মাষ্টার এবং অবৈতনিক ম্যাজিষ্ট্রেটেরও কাৰ্য্য করিতেন। ১৮৬৪ খ্রষ্টাব্দের ভীষণ ঝটিকাবর্তে পুত্র ইউজী ও পত্নী মেরীসহ ইনি নিহত হন। শুনা যায়, প্রাণাধিক পুত্র প্রথমে নিরুদ্দিষ্ট হওয়ায়, শােকাতুর (») H. Sanderson's Selections from Calcutta Gusotte wol Il. (1806-1815) p 71, (2) W. S. Sotonkar's Selections from Calcutta Gusette voi. Il (1794-1405) p. 78. (o) Bengal : Past and Present, vol. xvi, 1918, nos. 31-32, p. 190. •
[ ১৮ ]
দম্পতি একটি সিন্দুকের উপর আরােহণপূৰ্ব্বক পুত্রের সন্ধানে বন্যার
খেজুরীয় সমাধিক্ষেত্রের দশ
--
জলরাশিতে ভাসমান হইয়া প্রাণত্যাগ করেন। খেজুরীর য়ুরােপীয়
সমাধিক্ষেত্রে ইহারা সপরিবারে সমাহিত আছেন। পরবর্তী পাের্ট, ও
( ১৯ ] পােষ্ট মাষ্টার মিঃ ডবলিউ, টি, মিলার এই সমাধিতে প্রস্তরলিপি যােজিত করেন। প্রাচীরবেষ্টিত খেজুরীর রূরােপীয় সমাধিক্ষেত্ৰটী এখনও গবর্ণমেন্ট সুসংস্কৃত অবস্থায় রক্ষা করিতেছেন। সমাধিক্ষেত্রে মােট তেত্রিশটি সমাধি আছে, তন্মধ্যে একুশটি ক্ষোদিত লিপিযুক্ত। সর্বাপেক্ষা প্রাচীন লিপিটির সময় ১৮০০ খ্রীষ্টাব্দ। এই সমাধিটী একটি নাবিকের, লিপিফলকটি এক্ষণে পাওয়া যায় না। একটি অস্পষ্ট ও ভগ্ন লিপিফলক আছে- সম্ভবত সেইটিই এই সমাধির লিপি হইবে। কেহ কেহ বলেন, লিপিবিহীন সমাধিগুলি আরও পূর্ববর্তী সময়ের (১) বর্তমান লিপিগুলির মধ্যে প্রাচীন তম লিপিটী ১৮১৮ খ্রীষ্টাব্দের ১০ই সেপ্টেম্বর তারিখযুক্ত। কঁথির পূর্ত- বিভাগের সুপারভাইজার মিঃ এমােস ওয়েষ্টের সমাধিটী সর্বাপেক্ষা আধুনিক ;—ইহার তারিখ ১৮৬৫ খ্রীষ্টাব্দের ১০ই অক্টোবর। সমাধিগুলির অধিকাংশই নৌ ও সৈন্তবিভাগীয় কর্মচারিগণের। নিম্নে লিপিযুক্ত সমাধি- গুলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রদত্ত হইতেছে ১। নীল ম্যাক্ ইনে—“ডুনিরা জাহাজের মিডশিপম্যান্-মৃত্যু ১০ই সেপ্টেম্বর, ১৮১৮। কুমারী সারী অ্যানিমিডুলসেক্সবাসী রেভারেণ্ড, টমাস ব্র্যাকেনের কন্যা–মৃত্যু ১২ই নভেম্বর, ১৮২০। ৩। হাের্যাশিও নেলস ড্যালাস, “লেডী মেভি” জাহাজের পঞ্চম অফিসার --মৃত্যু ২৮শে জুলাই, ১৮২০। • । - ২। (১) “A few years ago the earliest inscriptions which could be found was on a detutched and broken slab, dated 1880 and to the memory of the boatswain of a ship, but some of the graves without inscriptions were probably of an earlier date," Jidnapore Gosetter, }, 200.
[ ২ ]
৪। এমােলিয়া-দিনাজপুরের জজ ও ম্যাজিষ্ট্রেট এওয়ার্ড ম্যাক্স
ওয়েলের পত্নী-মৃত্যু ২৬শে জুলাই, ১৮২২।
৫। চান্স রাসেল ক্রোলী, ঈষ্ট-ইণ্ডিয়া কোম্পানীর কর্মচারী
মৃত্যু ২৬শে সেপ্টেম্বর, ১৮২২।
৬। রবার্ট, আলেকজাণ্ডার বেন্টণী-কলিকাতাবাসী—মৃত্যু ২২শে
নবেম্বর, ১৮২৫।
৭। সারা—হেী অবর্ণের পত্নী-মৃত্যু ৩রা জানুয়ারী, ১৮২৫।
৮। ডবলিউ, এ, চামার, ভাগলপুরের জজ ও ম্যাজিষ্ট্রেট-মৃত্যু
১৬ই জানুয়ারী, ১৮২৬।
৯। ক্যাপটেন্ জেম্স রীড, বেঙ্গল নেটিভ ইনফ্যান্টী, ১ম রেজিমেন্ট,
-মৃত্যু ২৩শে নভেম্বর, ১৮২৬।
১০। ডবলিউ, এইচ, ব্রে—কোম্পানীর বঙ্গদেশীয় নৌবিভাগের
মেট-মৃত্যু ১৩ই আগষ্ট, ১৮২৬।
১১। জোস কার্টিস ষ্টেপট—নৌবিভাগের ব্র্যাঞ্চ, পাইলট-মৃত্যু
১৪ই আগষ্ট, ১৮২৬।
জর্জ, ফর্বস, এম, ডি-অ্যাসিষ্টান্ট, সার্জন-মৃত্যু ২৩শে
অক্টোবর, ১৮৩৭।
১৩। ক্যাপটেন উইলিয়ম্ পীট—“ফাঁস ষ্টীমারের অধ্যক্ষমৃত্যু
১৭ই জুন, ১৮৩৭।
১৪। রবার্ট, পীচার—“ভ্যন্সিটার্ট,” জাহাজের ১ম অফিসার-মৃত্যু
১৯শে আগষ্ট, ১৮৩৭।
১৫: জে, এম, বার্লো-সিভিল সার্ভিস-মৃত্যু ১১ই সেপ্টেম্বর, ১৮৪১।
১৬। ক্যাপটেন্ জে ম্যাস, আমেরিকান জাহাজ “কোরিঙ্গা” –
মৃত্যু ১৯শে মে, ১৮৫৩।
১২।
[ ২১) ২১। ১৭। চার্লস উইলিয়স, মাঞ্চেষ্টরের জর্জ, উইলিয়সনের পুত্র মৃত্যু ১লা ডিসেম্বর, ১৮৫৪। ১৮। মাইকেল হােগ্যান-এ, বি, টমসন” নামক অ্যামেরিকান জাহাজের মাষ্টার-মৃত্যু ৫ই জুলাই, ১৮৫৫। ১৯। চার্লস লিটন, পাইলটু, জাহাজ “স্যাউইন”—মৃত্যু ২৫শে নভেম্বর, ১৮৫৮। ১০। জে, বােটেহো, পত্নী মেরী ও পুত্র ইউজীন-মৃত্যু ৫ই অক্টোবর, ১৮৬৪। এমােস ওয়েষ্ট , সুপারভাইজার পূৰ্ত্তবিভাগ—মৃত্যু ১০ই অক্টোবর, ১৮৬৫। কতকগুলি সমাধিলিপি এতই মর্মস্পর্শী যে, পাঠ করিলে অশ্রুসংবরণ করা যায় না। নির্জন প্রকৃতির মুক্তাকাশের চন্দ্রাতপ নিয়ে সুষুপ্ত আত্মাগুলি অনাবিল শান্তির ক্রোড়ে শায়িত। ভাগীরথী মধুর কলসঙ্গীতে এই মহানিদ্রায় সুধাবর্ষণ করে। সাগর-মতি চঞ্চল সমীরণ ব-কুসুমের সুবাস লইয়া সমাধিগুলি সুস্নিগ্ধ করিয়া তুলে ! মেদিনীপুরের ঐতিহাসিক সুহৃদর যােগেশচন্দ্র খেজুরীর সমাধিক্ষেত্র বর্ণনায় লিখিয়াছেন-“প্রকৃতি- দেবীর স্নেহময় কোলে খাজুরীর নীরব সমাধিক্ষেত্রটি হৃদয়ে শান্তির ভাব আনয়ন করে। গম্ভীর নির্জনতা এখানে দেদীপ্যমান। জনকোলাহল এখানে নীরব। পাছে মৃত ব্যক্তিদিগের শান্তির নিদ্রা-ভঙ্গ হয়, সে জন্য জড় প্রকৃতিও যেন ভীত ও চকিত।” (১) এই পবিত্র নির্জনতার মধ্যে গভীর নিশীথে জ্যোৎস্নাহাসিমুখরিত সুদূর মেঘলােক হইতে দেবদূতগণ সমাহিত আত্মাগুলির জন্য কে জানে কি সুধাই না বহিয়া' আনে। খেজুরীর সে শ্ৰী-সৌষ্ঠব আর নাই। যে জনপূর্ণ নগরী এক সময়ে নানা (১) শ্ৰীযুত যােগেশচন্দ্র বসু প্রণীত “মেদিনীপুরের ইতিহাস* ১ম খ, ৩৯৩, পৃঃ ।
[ ২২ ] দেশীয় জানবের কোলাহলে মুখরিত হইয়া থাকিত, সুরম্য সৌধশ্রেণীতে বিভূষিত হইয়া যাহা এককালে প্রাসাদ-নগরীর সৌষ্ঠব ধারণ করিয়াছিল, আজ তাহা ভ্রষ্ট হিংস্র জন্তুপূর্ণ অরণ্যভূমি! শৃগালের বীভৎস চীৎকার ও খেজুরীর সমাধিক্ষেত্র ও পরিত্যক্ত খেজুরী (পােষ্ট আফিসের উপর হইতে গৃহীত চিত্র) বিহঙ্গের কলধ্বনিমাত্র তাহার নিস্পন্দ নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করিতে বর্তমান। উপর্যুপরি প্লাবনাদি নৈসর্গিক বিপ্লবে শ্ৰীসম্পদময়ী খেজুরী বিধ্বস্ত হইয়াছে। ১৭৬০ খ্রীষ্টাব্দে খেজুরীর নিকটস্থ নদীপথ অল্পে অল্পে অগভীর হইয়া উঠিতেছিল। (১) কিন্তু ১৭৬৭ খ্রীষ্টাব্দের হুগলী নদীর সারতে রিপাের্ট (>) "In 1760 in consequency of the river gelling worse, vesuels at Kedgeree were not to draw more than 16 feet.” ।
( ২৩ ] খেজুরী নৌপথের অবস্থা উত্তম ছিল বলিয়াই জানা যায়। (১) কালক্রমে উপর্যুপরি ঝটিকাবৰ্ত্ত ও প্লাবনের আতিশয্যে খেজুরীবন্দর ধ্বংস ও নদী- প্রণালী' (channel) পরিবর্তিত হইয়াছে। ইতিমধ্যে সাগরদ্বীপের নিকট New Anchorage বা নুতন পােতাশ্রয় গঠিত হইয়া উঠিয়াছিল। ১৮১৭ খ্রষ্টাব্দের ২২শে আগষ্ট তারিখযুক্ত ইংরাজ নাবিক রবার্টের রােজনামচায় দৃষ্ট হয়, তাহাদের জাহাজ মান্দ্রাজ হইতে যাত্রা করিয়া পঞ্চম দিবসে New Anchorageএ উপস্থিত হইয়া সেখানে দশদিন অবস্থান করিয়াছিল। (২) ১৮২২ খ্রীষ্টাব্দের কলিকাতা জেনারাল পােষ্টাফিসের একটি বিজ্ঞাপনে জানা যায়, খেজুরী হইতে ডাক-নৌকাগুলির সাগরদ্বীপ পর্যন্ত যাওয়া আসা বিপজ্জনক বিবেচিত হওয়ায়, কলিকাতা হইতে সরাসরি New Ancholage পর্যন্ত জাহাজে ডাক আদানপ্রদানের ব্যবস্থা হইয়াছিল । (৩) সুতরাং এই সময়ের পূৰ্বেই ভাগীরথীর খেজুরীর নিকটস্থ ‘চ্যানে পরিবর্তিত হইয়াছিল, মনে করা যায়। ইতিমধ্যে ডায়মণ্ড হারবার বন্দরে পরিণত হওয়ায়, সেখানে খেজুরীর ন্যায় শুল্ক বিভাগীয় কাৰ্যালয়াদি প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল। (৪) Long's Selections from unpublished Records of the Govt. of India. vol, 1. Introduction, 21, xxxii. (>) "For going out or coming in of Kedgeree finds good water, not having less than 16 feet at low water spring tide." India • Gazette, Aug, 14, 1807. lbid, p. 503 (2) Bengal : Past and Present, vol. xvi, nos. 31-32 p. 189 (e) H. D. Sanderson's Selections from Calcutta Gazette, vol, V.p 641. (8) "At Diamond Harbour the Company's slips usually unload their outward and receive the greater part of their homeward bound cargoes, from whence they proceed to Saugor roads, where the .cremainder is taken in," Hamilton's East India Gasetteer of 1815.
১ [ ২ ] ১৮০৭ প্রীষ্টাব্দের ১০ই মার্চের ভীষণ ঝটিকায় খেজুরীবন্দরের যথেষ্ট ক্ষতিসাধিত হইয়াছিল। তৎকালীন ইণ্ডিয়া গেজেটে এই ঝটিকা সম্বন্ধে লিখিত হইয়াছে—“খেজুরী, সাগরদ্বীপ ও নৌপথবৰ্ত্তী জাহাজাদির ক্ষতি সম্বন্ধে প্রত্যহই সংবাদ আসিতেছে। # ১৭৮০ খ্ৰীষ্টাব্দে সংঘটিত পশ্চিম-ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের ভীষণ ঝড়ের ন্যায় এই ঝড় ভয়ঙ্কর হইয়াছিল। (১) ইহার কয়েক বৎসর পরেই ১৮২৩ খ্রীষ্টাব্দের ২৭শে মে তারিখের ভাষণ ঝটিকা খেজুরী পােতাশ্রয়ের সর্বনাশ সাধন করে। এই ঝটিকা-প্রসঙ্গে ‘কলিকাতা গেজেটে প্রকাশিত বিবরণের কিয়দ শ উদ্ধত হইতেছে ;- “গত ২৭শে তারিখের রজনীতে এক অতি ভীষণ ঝটিকাব নিকটবর্তী ৬৭ মাইল স্থান জলপ্লাবিত করিয়া খেজুরী উপকূলের বিলক্ষণ ক্ষতি- সাধিত কবিয়াছে। নদী কিংবা বৃষ্টির জলদ্বারা এই প্লাবন ঘটিয়াছে- আমরা তাহা জানিতে পারি নাই ;-কিন্তু এই স্থানে নিম্নাবস্থানের বিষয় ভাবিয়া আমাদের মনে হয়, এই অনিষ্টের পূবণ হইতে বহুদিন লাগিবে। আমরা গভীর দুঃখের সহিত জানাইতেছি যে কেবলমাত্র এই দুর্ঘটনাই ঘটে নাই। নদীবক্ষে যে পরিমাণ ক্ষতি সংঘটিত হইয়াছে - তাহা উপকূল অপেক্ষাও ভয়ঙ্কর এবং দুর্ভাগ্যবশতঃ অপেক্ষাকৃত অল্প প্রতীকারসাধ্য। রাত্রির অন্ধকারে ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা যায় নাই ;- প্রভাত হইলে হৃদয়বিদারক দৃশ্য দৃষ্টিগোচর হইয়াছিল! দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম-যতদূর দৃষ্টি যায়, সমুদয় দেশ সলিলগর্ভে নিহিত! গ্রামবাসীরা গলা-পৰ্য্যন্ত জলে বালক বালিকাগুলিকে মাথায় করিয়া বালি-আড়ির দিকে আসিতেছে। এ পর্যন্ত এই দুর্ঘটনায় হতব্যক্তির সংখ্যা নির্ণীত হয় নাই ;-কিন্তু সমস্ত বিবরণ দৃষ্টে আমাদের মনে হয়—মৃতের ' সংখ্যা (>) Indiu Gazette, Aug, 13. Tuesduy, 1807. Setonkar's Calcutta Gazette Selections, vol, IV. p. 177.
[ ২৫ } অত্যধিক হইবে। ৬০ বৎসর পূর্বে একবার এইরূপ দুর্ঘটনা। ঘটিয়াছিল বলিয়া লােকে বলিতেছে। এরূপ ভীষণ ঝড় সংবাদদাতা কখনও দেখেন নাই,অথবা অতি প্রাচীন লােকেও এরূপ ঝড়ের কথা স্মরণ করিতে পারে নাই। খেজুরী-উপকূল সম্বন্ধে সংবাদদাতার বর্ণনা প্রকৃতই বিষাদজনক। জাহাজের ধ্বংসাবশেষে নদাতীর পরিপূর্ণ ! সংবাদ- দাতার ভাষায় বলিতে গেলে বলা যায়, সেখানে জাহাজের যে কোনও অংশ-অতিকায় মাস্তুল হইতে ক্ষুদ্র পেরেক পৰ্যন্ত দৃষ্টিপথে পতিত হইবে। সমুদ্রজলের প্লাবনসম্বন্ধে এই কথা বলিলে যথেষ্ট হইবে যে, ক্যাপটে রৌস সমুদ্রের সীমা হইতে বহুদূরে একটি পুষ্করিণীতে স্নান করিতে গিয়া- ছিলেন—তাহার জল বঙ্গোপসাগরের জলের ন্যায় তুল্য লবণাক্ত।” (১) এই ঝটিকায় নিকটবর্তী জাহাজ পরিচালন-পথের সমুদায় ‘বয় ( Puoy) নষ্ট হইয়াছিল এবং মরিশসগামী “লিভারপুল, দক্ষিণ আমেরিকাগামী “হেলে” “ওরাক্যাবো”, কটকযাত্রী “কটক” প্রভৃতি বৃহৎ ও ক্ষুদ্র জাহাজগুলি খেজুরীর নিকট চরে আহত হইয়া ধ্বংস হয়। অতঃপর ১৮৩১ ও ১৮৩৩ খ্রীষ্টাব্দের ভীষণ বন্যার প্লাবন খেজুরীর দুরবস্থা বদ্ধিত করে। শেষােক্ত বর্ষের বন্যায় নদী ও সমুদ্রোপকূল বিধ্বস্ত হইয়াছিল ; জলমগ্ন হইয়া বহু মনুষ্য ও গবাদি প্রাণত্যাগ করিয়াছিল। এই জষ ও জনপদ-ধ্বংসকারী ভীষণ বন্যার বিবরণ মিঃ বেলীর সেটেলমেট, বিবরণীতে আছে। এ দেশে ইহাকে “চরিশ সালের লে না ছয়লাপি বলে। বেলীর মতে এই দুর্বিপাকে এতদঞ্চলের একচতুর্থাংশ মাত্র লােক জীবিত ছিল। ইহার জলপ্রবাহেব ভীষণ তরঙ্গাঘাত সমুদ্রবেষ্টক উচ্চ বাঁধ ও স্বতঃসৃষ্ট বালিআড়িগুলি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত করিয়াছিল ; (ə) Sauderson's Culcutta, Guzelte selections, vol. ***P1,2-47. (2) Bayley's llajnawootah Settlement Report, 1844,1... 58: IS ( ২৬ ] ১৮৪৪ খ্ৰীষ্টাব্দের সেটেলমেন্টের কাগজপত্র দৃষ্টিগােচর করিলে খেজুরীর তৎপূৰ্বেই ধ্বংসমুখে পতিত হইবার বিষয় অবগত হওয়া ধায়। জরিপী ‘বাউটা’ মঞ্চ ও প্রাঙ্গণ,- এইখানে Signal mast ছিল ( Backgroundএ ভাগীরথীর মােনা; বামপার্শ্বে অস্পষ্টভাবে একটী জাহাজ দেখা যাইতেছে। (১) কামানবাহী গাড়ী, (২) কামান, (৩) তিনটী প্রোথিত ক্ষুদ্র কামান। চিঠায় (২) কয়েক বিঘা জমি' পূর্বতন আফিস-গৃহ ও বর্তমান বালুচর বলিয়া জরিপ আছে। এই চিঠায় তৎকালীন অবশিষ্ট খেজুরীবাজারের ১৯খানি পর বর্তমান অবস্থিত বেষ্টন। উচ্চ বাঁধ নিখিত হয়। Vide keport on the lidgetee Province Embankments. (২) ১৮৪৩ খ্ৰীষ্টাব্দের ১৯শে মার্চ হইতে ২৯শে এপ্রিল পর্যন্ত মিঃ চার্লস পিটার হােয়াইট ডেপটী কালেক্টরের অধীনে খেজুৱী জরিপ হইয়া চিঠা প্রস্তুত হয়। উক্ত চঠ। মেদিনীপুর কালেক্টরীতে রক্ষিত আছে।
[ ২৭ ] “দোকান এবং ২৬ জন বারবনিতার বাসগৃহের পরিচয় পাওয়া যায়, ৮ জন সারেঙ্গের (Serang) ঘর-বাড়ী জরিপ আছে। শুল্কবিভাগের গৃহ, খেজুরী থানা, গবর্ণমেন্টের কয়েকটি আটচালা, বাবুর্চিখানা, বাগান বাগিচা, গােরস্থান, বাউটা’মঞ্চ (Signal mast), সরকারের কয়েকটি ‘কুঠি প্রভৃতি এই জরিপী চিঠায় স্থান পাইয়াছে। “মিঃ এ, এ, বােস সাহেব সম্ভবতঃ ঐ সময়ে খেজুরীর পাের্ট, ও পােষ্ট মাষ্টার ছিলেন ; শঙ্কর বাবুর্চি, খেউরূ খানসামা প্রভৃতি ইহারই পরিচারক ছিল বলিয়া বােধ হয়—চিঠায় এই সমস্ত নাম স্থান পাইয়াছে। “হিউম্ সাহেবের বিবির নামে কিছু জমির জরিপ দেখা যায়। সম্ভবতঃ ইনিই তৎসময়ে খেজুরীর শেষ ইংরাজ বাসিন্দা কোন সাহেবের দেশীয় পত্নী ; অন্য কোনও ইংরাজ অধি- বাসীর নাম চিঠায় নাই। সুতরাং য়ুরােপীয়ান্ পল্লীটী ইতঃপূৰ্বেই ভাগীরথা ধবংস ফরিয়াছিল। খেজুরী বন্দর ও বাজারের তখন বেশ নিষ্প্রভ অবস্থা সিদ্ধান্ত করা যায়। মিঃ বেশী-লিখিত ঐ সময়ের সেটেলমেন্ট, বিপাের্টে জানা যায়, খেজুরীতে শুষ্কৃবিভাগের জন্য পাঁচটী কক্ষবিশিষ্ট একটি কাচা বাংলাে এবং পােষ্ট, মাষ্টার ও তাহার সহকারিগণের জন্য দুইটি ইষ্টকালয় ছিল। বােধ হয়, এই দুইটীই এখনও বৰ্ত্তমান। ইহা ছাড়া খেজুরীর অধিবাসিদিগের সাতখানি ইষ্টকনিৰ্ম্মিত গৃহের উল্লেখ আছে। খেজুরী থানা খেজুরী বন্দরের নিকটেই অবস্থিত ছিল। (১) উহাতে এক জন দারােগা, এক জন জমাদার ও ছয় জন বৰ্ক-আন্দাজ অবস্থান করিত। বর্তমান থেজুরী থানার ন্যায় ইহা সুবিস্তৃত ছিল না। ইহার অধীনে কেবলমাত্র খেজুরী, সাহেবনগর, আলিচক, বামনচক, সাত-শিমলি ও ভাঙ্গনমারি এই কয়খানি গ্রাম ছিল। বর্তমান খেজুরী থানাভুক্ত অন্যান্য শতাধিক গ্রাম “হাড়িয়া কাঞ্চননগর থানার এলাকাভুক্ত ছিল। খেজুরীর (১) বর্তমান খেজুরী থানা ৩ মাইল দূরবর্তী জনক। গ্রামে অবস্থিত।
[ ২৮ ] ব্যবসায়-দ্রব্যের মধ্যে স্থানীয় মুসলমানগণ টাটকা মাংস, মুরগী, ফল ও শাক-সজী জাহাজে লইয়া বিক্রয় করিত। (১) তাহার পর ১৮৬৪ খ্রীষ্টাব্দের বন্যা। ভাগীরথী এতকাল ধরিয়া গর্ভসাৎ করিতে করিতে খেজুরীর যাহা বাকী রাখিয়াছিলেন,-এই নির্মম ঝটিকা- বৰ্ত্ত তাহা নিশ্চিহ্ন করিয়াছে। ইহাই এ দেশে প্রসিদ্ধ ‘বায়াত্তর সালের বন্যা”। এই বন্যায় সমুদ্রজলপ্রবাহ তীরবর্তী সমুচ্চ বাঁধের উর্দ্ধে প্রায় সার্ফ চারি ইস্ত উচ্চে উচ্ছসিত হইয়া সমগ্র দেশ প্লাবিত করিয়াছিল। ঐতিহাসিক হান্টার এই বন্যার বিস্তৃত হৃদয়বিদারক বর্ণনা প্রদান করিয়াছেন। (২) তখন খেজুরীর সৌভাগ্যসূৰ্য্য প্রায় অস্তগামা, দুই একটি কীৰ্ত্তি যা অবশেষ ছিল, এই নৈসর্গিক বিপ্লবে তাহার অবসান হয়। এই প্রদেশবাসী প্রায় বারাে আনা লােক এই বন্যায় প্রাণত্যাগ করে। মৃত্যু-সংখ্যার ভীষণতা সম্বন্ধে একটি দৃষ্টান্ত দিলে যথেষ্ট হইবে যে, এতদঞ্চলের একটি দায়রা সােপর্দ ডাকাতী মােকদ্দমায় ৩২ জন সাক্ষী ছিল, কিন্তু বন্যার পর তাহ- দিগের মধ্যে দুই জনকে মাত্র জীবিত পাওয়া গিয়াছিল! এই বন্যার জলস্রোতের বেগে খেজুরীর সামুদ্রিক বধ (Embankment) ভগ্ন হইয়া একস্থানে জলপ্রপাতের ন্যায় জল পড়িয়া একটা সুগভীর হ্রদের সৃষ্টি হইয়াছিল,-তাহ। এখনও বৰ্ত্তমান। (৩) খেজুবী-বদরের য়ুরােপীয়ান বসতির সুরম্য হগুলি নিশ্চিহ্নরূপে লুপ্ত হইয়াছে। এক্ষণে এই স্থান দেখিয়া কেহই ধারণা করিতে পারিবেন না যে, ইহা একসময়ে এত সমৃদিপূর্ণ ছিল। যুবােপীয়দিগের বাস-সংস্রবের (১) Bayleys Majnuto(otal Report, 181,, 9j-1(05. (২। Hunters S. A. B, vol. III, pp. 209-997. ১৮৩১ সালের বন্যায় সমুদ্রতীরবর্তী সমস্ত বাধ বিধ্বস্ত হওয়ার পর ১৮৩৪ খ্রীষ্টাব্দে নূতন বাঁধ'প্রস্তুতদ্বারা ভাগীরথী ও রসুলপুর নদীর জলোচ্ছাস হইতে রক্ষিত এহইয়াছিল। সেই বেষ্টন,বধ এখনও বর্তমান আছে।
[ ২৯ ) চিহ্নম্বরূপ এই স্থানটীর সাহেবনগর’ আখ্যা বর্তমান আছে মাত্র। সাহেব নগর এক্ষণে কৃষকের হলকর্ষিত ভূমিমাত্র! প্রাচীন স্মৃতির শেষ নিদর্শন- স্বরূপ দুইটী ইষ্টকালয় এখনও বর্তমান। একটী পােষ্ট আফিস ভবন ;- অল্প দিন হইল খেজুরী পােষ্ট আফিসটিও ঐ স্থান হইতে লােকালয়ে স্থানান্তরিত হইয়াছে। এই সুন্দর বাটীখানি গবর্ণমেন্ট, বিক্রয়েচ্ছ বলিয়া শুনিয়াছিলাম, কিন্তু সংস্কারের অভাবে ক্রমে গৃহটী জীর্ণ হইয়া পড়িতেছে। অন্তটীতে পূৰ্ত্তবিভাগীয় কর্মচারী অবস্থান করেন এবং ইহার একাংশ ডাক, বাংলােরূপে ব্যবহৃত হয়। পােষ্ট অফিসগৃহের ঠিক সম্মুখেই ‘বাউটা’ প্রদানের মাস্তুলদণ্ড ( Signal mast) ছিল। তাহার কর্তিত তলদেশ ও সােপানযুক্ত মঞ্চ এখনও বৰ্ত্তমান। ঐ স্থানে একটী কামান ও কামানবাহী লৌহশকট আছে। কামানটীতে ১৭৯৮ খ্রঃ ক্ষোদিত আছে। ইহা সঙ্কেতের ( Signalling) জন্য ব্যবহৃত হইত। বাউটা’ মঞ্চের প্রাঙ্গণে তিনটা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কামান এক প্রােথিত দেখা যায়। বন্দরের হিন্দুকৰ্মচারী ও ডাক-নৌকার হিন্দু নাবিকগণ যেখানে মহােৎসবে গঙ্গাপূজা করিত, সেই বিস্তীর্ণ প্রান্তর এখনও “গঙ্গাপূজার বাড়ীরূপে বৰ্ত্তমান। মুসলমান স্কররা প্রকাণ্ড প্রকাণ্ড সুসজ্জিত ‘তাজিয়া লইয়া ভাঙ্গনমারির ‘কারবেলা ময়দানে বিপুলােল্লাসে ‘মহরম’ নিষ্পন্ন করিত। খেজুরীর বালুবস্তি’ নামক পল্লী নানা প্রদেশবাসী জাহাজের মুসলমান লস্করদিগের উপনিবেশ এখনও তাহাদের কতকগুলি বংশধর জাহাজে কাৰ্য্য করিয়া থাকে। খেজুরী বাজারের আর অস্তিত্ব নাই ; তাহা এখন ভাগীরথীর কুক্ষিগত। যেখানে হাট বসিত, তাহা এক্ষণে নিবিড় অরণ্য! মানবের হাট ভাঙ্গিয়া অহি-নকুল-শৃগালের আস্তানা হইয়াছে। এখানে আসিলে কবির এই উক্তি মনে পড়ে, =
[ ৩ ]
"Amidist these lovely regions
nature dwells
In awful solitude, and nought is seen
But the wild herds that
own no master's stall.”
-
৯৯৭
খজুরীর মহরমের মিছিল ( ভাঙ্গনমারির কারবেলা ময়দান)
খেজুরীতে “লাম শাহের দীঘি” নামক একটি প্রকাণ্ড-আয়তন
বিফ সরােবর বর্তমান। ইহার কোনও ইতিহাস পাওয়া যায় না। এই
[ ৩১ ] দীঘি.“হালাম শাহ” নামক কোন ব্যক্তির খনিত, কি ইহার নাম “আলম সায়র (সাগর) দীঘি, তাহা ঐতিহাসিকগণের আলােচ্য। বঙ্গ-জননী- (হিজলীর মসনদ-ই-আলার মজিদ মন্দিরের অর্ণব-তােরণে সতর্ক প্রহরিরূপে কাউখালীর সমুচ্চ আলােকস্তম্ভ খেজুরীর সীমান্তদেশে দণ্ডায়মান আছে। এই আলােক-গৃহ—ইহার নির্মাণের সময় ১৮১০ খ্রীষ্টাব্দ হইতে এতাবৎ আলােক প্রদান করিয়া গত ইং ১৯২৫ সালে নদী-প্রণালীর (channel) পরিবর্তনের জন্য অনাবশ্যক ও অব্যবহাৰ্যবােধে পরিত্যক্ত হইয়াছে। অদূরেই বিশ্রুতনামা হিজলীর নবাব তাজ খাঁ মসনদ-ই-আলার সংস্থাপিত মসজিদ-বঙ্গোপ- সাগরের ভীষণ তরঙ্গাভিঘাত উপেক্ষা করিয়া সগর্বে স্থাপয়িতার কীর্তি ঘােষণা করিতেছে।
{ ৩২ ] জব চার্ণকের আশ্রয়লাভের সময় (১৬৮৭ খ্রঃ) হিজলী ভীষণ ম্যালে- রিয়াপূর্ণ হইয়া উঠিয়াছিল। হিজলীতে গিয়া ম্যালেরিয়ার কবল হইতে অক্ষত শরীর ও সতেজ প্রাণ লইয়া 'প্রত্যাবর্তনের অসম্ভবত একটী নেশীয় । প্রবাদের সৃষ্টি করিয়াছিল। (১) একই স্থানে অবস্থিত খেজুরীর তদানীন্তন স্বাস্থ্য সম্বন্ধেও এই কথাই প্রযােজ্য কল্পনা করা যাইতে পারে হিজলী ও খেজুরী তখন পােতুগীজ ও মগ অত্যাচারে জন-মানবহীন অরণ্যে পৰ্য্যবসিত হইয়াছিল, লােক-চেষ্টার অভাবে তীরবর্তী বেষ্টন বাধ ইত্যাদি ভগ্ন হইয়া স্থানটা জোয়ার-প্লাবনের নিত্য লীলাক্ষেত্ররূপে সদাসর্বদা আন্দ্র থাকিত, সুতরাং ইহার জলবায়ু স্বাস্থ্যপ্রদ ছিল না। অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রারম্ভে খেজুরীর সুখ-সৌভাগ্যের দিনে বহু ইংরাজ স্বাস্থ্যলাভাৰ্থ খেজুরীতে আসিয়া বাস করিতেন, দুই একটা সমাধি-লিপিতে ইহার পরিচয় পাওয়া যায়। অতঃপর লবণ-ব্যবসায়েব স্কৃিতির জন্য খেজুরী পুনরায় অস্বাস্থ্যকর হইয়া উঠে। বর্তমান ‘জলপাই (২: বলিয়া কথিত সমুদ্রতীরবত্তী জ মগুলিতে সমুদ্রের লবণাক্ত জল জোয়ারের দ্বারা প্রবিষ্ট করাইয়া আটক রাখা হইত। ঐ জলের লবণাক্ত পলিমৃত্তিকার পরিস্রবণ দ্বারা লবণ প্রস্তুত হইত। এই (>) "Su fatally malarious was the spot that the difference between going to Hijili and returning thence passed into a Hindustani proverb.” Wilson's Early Annals, vol, 1. p. 165. cf. also Hunter's History of British India-"Yet so unlealthy that it had passed into a native proverb, it is one thing to go to Hijili but quite another to corre back alive.” (3) "The Jalpai lands, it may be explained were lands which beibg exposed to the overflow of tidal water, were strongly impregnated with saline matter." llidnapore Gazetteer P. 104.
[ ৩৩ 3 বদ্ধজল পচিয়া দূষিত বাষ্পের দ্বারা অস্বাস্থের বীজ ছড়াইত। মিঃ বেলা তাঁহার ১৮৮৪ খ্রীষ্টাব্দের সেটেমেন্ট, রিপাের্টে এখানকার স্বাস্থ্যসম্বন্ধে লিখিয়াছেন,-এ দেশের জলবায়ু দেশীয়দিগের উপযােগী হইলেও বিদেশী ব্যক্তির পক্ষে মহা অনিষ্টজনক ছিল। লবণ প্রস্তুতের জামগুলি হইতে নিঃসৃত দুষিত বাষ্পই ইহার কারণ বলিয়া তিনি অনুমান করেন। (১) যাহা হউক, কালক্রমে লবণ প্রস্তুতের কারখানা উঠিয়া যাওয়ায় এবং জঙ্গলাদি পরিষ্কৃত হইয়া জন-নিবাস বর্ধিত হওয়ায় খেজুরী এখন স্বাস্থ্য- সম্পদে ভরিয়া উঠিয়াছে। এককালে ম্যালেরিয়ার আবাসস্থল বলিয়া নিন্দিত খেজুরী আজ ম্যালেরিয়া-পীড়িতের আশ্রয়স্থল হইয়া উঠিয়াছে। সমুদ্র-স্নাত স্নিগ্ধ সমীরণ নিদাঘের প্রচণ্ড উষ্ণতাকেও বসন্তের দিবসগুলির ন্যায় মধুর করিয়া রাখে। কয়েক বৎসর পূর্বে পূজ্যপাদ লেপ্টনান্ট, কর্ণেল শ্ৰীযুত উপেন্দ্রনাথ মুখােপাধ্যায় এডি, আই, এম, এস. (অবসর- প্রাপ্ত) মহােদয় এই দীন লেখকের সহিত পরিচয়সূত্রে খেজুরীতে গ্রাম- যাপন করিয়াছিলেন। এই স্থানের জলবায়ু তঁাহার নিকট এতই উৎকৃষ্ট ও প্রীতিপ্রদ বােধ হইয়াছিল যে, তিনি বলিয়াছিলেন,–এই স্থান ভারতবর্ষের বিখ্যাত স্বাস্থ্যকর স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম গণ্য হইবার দাবী রাখে। এরূপ সুলভ (২) ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাত্রা তঁাহার মতে অন্য কোনও স্বাস্থ্যকর স্থানে সম্ভব নহে। তিনি এই স্থান ওয়াটেয়ার অপেক্ষাও কোন কোন বিষয়ে অধিকতর হৃদ্য মনে করিয়াছিলেন। এমন কি, তিনি অভিমত প্রকাশ করিয়াছিলেন যে, তাঁহার বার্ধক্যাবস্থা না হইলে তিনি এখানে গৃহনিৰ্মাণ করিয়া স্থায়ী গ্রীবাস করিতেন। যাতায়াতের (:) Bayley's Ilajnamootul Arport, 1844, P, 104, (২) খেজুরীতে বিশুদ্ধ খাটি দুগ্ধের সের ১• হইতে • অনা। তরিতরকারীও দু ভ নহে। চাউলও সন্তা।
[ ৩৪ ] অসুবিধাই এই সুস্বাস্থ্যপূর্ণ স্থানকে লোেকলােচনের অন্তরালে রাখিয়াছে। আমরা প্রত্যক্ষ করিয়াছি, বহুদিনের ম্যালেরিয়া-পীড়িত অনেক জীর্ণ রােগী দৈবাৎ বা কর্মোপলক্ষে এই স্থানে আসিয়া স্বাস্থ্য ও লাবণ্য লইয়া প্রত্যাবৃত্ত হইয়াছেন। ম্যালেরিয়া-পীড়িত বঙ্গবাসী পুরী-ওয়াটেয়ার-দার্জিলিং- মধুপুর ঘুরপাক খাইতেছেন, কিন্তু গৃহের কোণে কলিকাতা হইতে অদূর- বর্তী-ডায়মণ্ড-হারবার হইতে নৌকাযােগে অনুকূল বাতাসে মাত্র দুই ঘণ্টার পথ খেজুরীর তৃপ্তিপ্রদ জলবায়ুর রােগনাশক শক্তির পরীক্ষা করিয়া দেখিবেন কি?
কাউখালীর আলােগৃহ বা বাতিঘর
[ Cowcolly Light-house )
ভাগীরথীবক্ষে যাতায়াতকারী সমুদ্রযাত্রিগণ নিশ্চয়ই এই নদীর
মােহানামুথে পশ্চিমকূলে অবস্থিত বহুদূর হইতে পরিদৃশ্যমান কাউখালীর
( কাউখালীর আলােক গৃহ)
সমুচ্চ আলােকস্তম্ভটি দৃষ্টিগােচর করিয়া থাকিবেন। গত ১৯২৩ খ্রীষ্টাব্দের
{ ৩৬ ] জানুয়ারী মাস হইতে আপাততঃ অনাবশ্যক বিবেচিত হওয়ায় এই আলােকগৃহের আমােক প্রজ্বালন স্থগিত হইয়াছে। জাহাজের যাতায়াতের পথের পরিবর্তনই ইহার কারণ। ১৬৮৮ খ্রীষ্টাব্দে জর্জ, হিরােণ ( George Heron) (1) ১ ১৬৮৭ খ্রষ্টাব্দে টমাস গৌরী (Thomas Bowrey) (২) কর্তৃক প্রস্তুত হুগলী নদীর নৌপথের মানচিত্র গুলিতে কাউখালীর অবস্থান প্রদত্ত আছে। ১৭০৩ খ্রীষ্টাব্দের নাবিকদিগের মানচিত্রে খেজুরী ও হিজলী দ্বীপদ্বয়ের মধ্যবর্তী জলপ্রবাহের নাম কাউখালী নদী বলিয়া উল্লিখিত হইয়াছে। (৩) এই নদীর ক্ষীণ অবশেষ এখন কাউখার্দী খালরূপে বৰ্ত্তমান। (৪) ১৭৮০ খ্রীষ্টাব্দে রেণে সাহেব বে মানচিত্র প্রস্তুত করেন, তাহাতে কাউখার্জীর নিকট দিয়া জাহাজের গতিপথ (Cockalee Passage ) চিহ্নিত দেখা যায়। (৫) কাউখালী খালের সান্নিধ্যে সামুদ্রিক বাধের পার্শ্বেই আলােকমঞ্চটি বিদ্যমান। স্থানটির নাম কাউখালী নহে -- থানা- বেড়িয়া। কাউখালী গ্রাম বহুপূৰ্ব্বে সমুদ্রগর্ভগত হইয়াছে। মিঃ বেলীর ১৮৪৪ খ্রীষ্টাব্দের সেটেলমেন্ট, বিবরণীতে দৃষ্ট হয়—তিনি পুরাতন কাগজপত্রে কাউখালী নামক গ্রামের নাম পাইয়াছিলেন, কিন্তু উহার (o) Copy of the chart in the British Museum (Adu. diss. 5222.8.) vide Bowrey's A (feographical tcround of the Countries round The Bay of Bengul Hakylııl Society's ein. (2) Helgex' Diury, Vol. III. (9) Sailing Directions of Warren and Wood. (8) "_thuse again were divided into two distinct islands hy the river Cow'colly, of which the channel hus now completely vanishıcd." C. R. Wilson's Early Annals of the Euglish in Bengal tul. 17, 105, (?) Reunc:ll's Atlas. -Shoct No. XIX.
[ ৩৭ ) অবস্থান অনুসন্ধানে গ্রামটি সমুদ্রগত বলিয়া প্রমাণ পাওয়া গিয়াছিল। (১) প্রাগুক্ত মানচিত্রগুলিতে কাউখালীর দক্ষিণে কক্স নামক দ্বীপ দৃষ্ট হয় ; উক্ত দ্বীপ এখন বর্তমান নাই, বহুপূৰ্ব্বে ইহা সাগরদ্বীপের অঙ্গ পুষ্ট করিয়া থাকিবে। ইহাকে কক্ আইল্যাণ্ড বা কক্ আইলও (Cock Island or Isle of Col) (২) বলিত। ইহার অবস্থান বর্তমান ফুলডুব বা মগরার দ্বীপ বা তন্নিকটবৰ্ত্ত হইতে পাবে। ওয়ারেণ, উডে। মানচিত্রে কাউখালী-ককার্লিস আইল্যাণ্ড (Cockerles Id.) বলিয়া কথিত হইয়াছে। (৩) বৌরী কাউখালীকে ক কালি (Cuckalee) এবং থরন্ট ককালি (Cockaly) (৪) করিয়াছেন। কক্স আই বা কক্ আইল নামের সহিত ককাণী, ককার্নিস বা কাউখালী নামের সম্বন্ধ পাকা বিচিত্র নহে। কারণ, কক্স্ আইলের সােজা- সুজি অদূববর্তী দেশভাগ ও নদীকে বুঝিবার জন্য নাবিকেরা উহারই অনুকরণে ককালি বা কাউখালী নাম রাখিতে পারে। কাউখাণীই ভাগীরর্থীর মােহানার কাছে অবস্থিত শেষ দেশভাগ। নাবিকগণের পক্ষে উহা চিহ্নিত হওয়া প্রয়ােজন ছিল। “কাউ” নামক এইদেশজ একপ্রকার বৃক্ষের নামের সহিত বর্তমান খালের সম্বন্ধের জন্য কাউখালী নামের উৎপত্তি অনুমান করা যায় না। কারণ, কাউখালী নবী খালে পরিণত হইবার পূর্বেও কাউখালী নামেই অভিহিত হইত। সুতরাং এককালীন সাগরদ্বীপের উত্তরপশ্চিমবৰ্ত্তী কক্স আইল্যাণ্ড নামের সাদৃশ্যে (>) 1. V. Bayley's Jellamoota Settlement Report, p. 27, (2) Bowroy's Countries rouud the Bay of Bengal, p. 209, and foot-note, (0) Nediger" Diary Vol. III. p. CCVII. () Thornton's English Pilot Pt. III. p. 7 of 1711.
[ ৩ ] “কাউখালী” নাম হওয়াই সম্ভব। এই নাম যে তৎকালীন নাবিকগণ- কর্তৃক প্রদত্ত, সে বিষয়ে সন্দেহ নাই। ১৬৭২ খ্রীষ্টাব্দে সর্বপ্রথম হিজলী পৰ্যন্ত বড় জাহাজ আসিতে আরম্ভ করে। (১) ইহার পূর্বে বালেশ্বর পর্যন্ত জাহাজ আসিতে পারিত ;- কারণ, তখন এ দিকে জাহাজের গমনাগমনের পথ বা ‘হাল’ চিহ্নিত হইয়া Pilot's establishment বা চরবহুল নদীমুথে জাহাজপরিচালনকারী নাবিকসঘ গঠিত হয় নাই। ছোট ছােট ‘সুলুপ (Sloop) নামক জাহাজে বালেশ্বর হইতে মালপত্র বােঝাই করিয়া কলিকাতাদি বন্দরে প্রেরিত হইত। এইরূপ জাহাজের গতায়াতে ও নানাদেশীয় বণিকগণের সমাবেশের জন্য ঈষ্ট, ইণ্ডিয়া কোম্পানীর আমলে খেজুরা একটি সমৃদ্ধিশালী বন্দরে পরিণত হয়। কিন্তু কাউখালীর নিকট তখন ‘হাল না থাকায় বােধ হয়, ঐ স্থানে আলােকগৃহ স্থাপনের প্রয়ােজন হয় নাই। ১৭৬৩ খ্রীষ্টাব্দে মিঃ জে, র্যান্স লিখিয়াছেন যে, কাউখালীর নিকটে একটি ‘হাল’ বা নৌ-পথ গঠিত হইয়াছে। ২) এই ‘হালই’ রেণেলের মান- চিত্রে ‘কাউখালী প্যাসে বলিয়া চিহ্নিত হইয়াছে। সম্ভবতঃ এই ‘হালের উপযযাগিতা বুঝিয়া ১৮১০ খ্রীষ্টাব্দে কাউখালীর আলােক-গৃহ নির্মিত হয়। ১৮৪৪ খ্রীষ্টাব্দের সেটেলমেন্টের বিবরণে মিঃ বেলী লিখিয়াছেন, কাউখালীর পার্শ্ববর্তী সমুদ্র ক্রমে ক্রমে সন্নিকটবর্তী হইয়া স্থলভাগের দিকে অগ্রসর (3) Sir R. Temple's note in 'Bourrey P. 166. (*) "I find no visible alteration in the river at the last survey, Cowcolly only excepted, where there is a good navigablo channel opened within the buoy of the flat of the shore, preferablu either to the outward channel commonly called the new channel or the old channel of Cowco!ly." Rev. J. Long's Records of the Govt. of India p. 10.
[ ৩৯ ) হইয়াছিল, কিন্তু বর্তমান সময়ে এই স্থানে চর পড়িতেছে। (২) আলােক- গৃহটী মেদিনীপুর জিলাৰ কঁথি মহকুমার অন্তর্গত খেজুরী থানায় অবস্থিত। ইহার আলােক ১৮১০ খ্রষ্টাব্দেই প্রদর্শিত হইয়াছিল। (৩) সাগরদ্বীপ আলােকগৃহের নিৰ্মাণকল্পনামাত্র ১৮৮ খ্রীষ্টাব্দে হইয়া- ছিল, (৪) কিন্তু ইহার আলােক প্রদর্শন ১৮২১ খ্ৰীষ্টাব্দে হয়। (১) মহানদীর মুখে ফলস পয়েন্ট আলোক গৃহের প্রম আলােকপ্রদর্শন ইহারও পরে অর্থাৎ ১৮৩৮ খ্রীষ্টাব্দে হইয়াছিল। (২। সুতরাং কলিকাতার পাের্ট, কমিশনারগণের এলাকাভুক্ত আলােকগৃহগুলির মধ্যে কাউখালীর আলােকগৃহই সর্বাপেক্ষা প্রাচীন। (2) "It was erected in 1810 to guide vessels into the Kedgeree roads, and is still useful to passenger stcamers of light draft going down the western channel to (handbali." Wilnopore District Gazetteer', p. 198. "Since it was erected the sea las considerably encroached upon the adjacent lamis.“ Mr. II. V. Davley's Jurja ootah Selllement *pport, 184. p. 102. "The light was first exhibited in 1910." (), C. Ollenbuchi's Tide tubles for the River Hooghly p. $5. (৪) "The plan of an erection of a Light bounc on Saugor Island, having been approved loy the Court of Directors an artist for the superintendence of the work was sent from England and arrived in (alcutta hy the late ships." Calcutta Gagette. January 7, Thursday, 1808. Adapted from Il. D, Sanderson's Selections from Galcutta Gazette, Vol. II. p. 191. (১) Ollcubael's looghla live, p. 86, সাগর দ্বীপের এই আলােকও সমুদ্রগত হওয়ায় কয়েক বৎসর পূর্বে, উহার উত্তরে কিয়রে এই আলােক সরাইয়া পুনঃ সংস্থাপিত করা হইয়াছে এবং কচারিগণের গৃহাদি পুননির্মিত করা হইয়াছে। (২) bidp. 87. .
{ s০ ] কাউখালীর আলােকগৃহ ৮০ ফুট উচ্চ একটী পঞ্চতল ইষ্টকস্তম্ভ। গৃহগুলি প্রশস্ত ও বাসােপযােগী ; গােল সিড়ি ঘুরিয়া ঘূরিয়া নিমতল হইতে সাগরদ্বীপের বর্তমান আলােকগৃহ ও কর্মচারীর বাসভবন (পূৰ্বের আলােকগৃহের অবস্থানভূমি সমুদ্রগর্ভসৎ হওয়ায় ইং ১৯১১ সালে ইহা একটু দূরে নিরাপদ স্থানে সংস্থাপিত হইয়াছে। পুরাতন আলােকগৃহের ফ্রেীই স্থানান্তরিত হইয়াছে। সর্বোচ্চ তল পর্যন্ত উঠিয়াছে। ২১ ৫ ০৯ ৯” উত্তর দ্রাঘিমাংশ ও ৮০ ৫৬ ৪০৯” পূৰ্ব অক্ষাংশের মধ্যে ইহা অবস্থিত। আলােকটি পূর্ণ জোয়ারের জলরেখার ৭৫ ফুট উর্ধে বৰ্তমান ছিল। মেঘ ও কুম্ফটিকা- { ১১ ] বর্জিত দিনে ইহার আলােক ১৫ মাইল পর্যন্ত দেখা যাইত। ইতপূৰ্ব্বে ইহার আলােকের আকারপ্রকার কয়েকবার পরিবর্তিত হইয়াছিল। বর্তমান আলােক কয়েক বৎসর পূর্বে স্থাপিত করা হইয়াছে। উত্তর ও উত্তরপূৰ্ব ৯৬ ডিগ্রী স্থান ব্যাপিয়া অর্ধবৃত্তাকৃতি রেখায় আলােকদান করিত। পূৰ্বে ইহা য়ুরােপীয় কর্মচারিগণের তত্ত্বাবধানে থাকিলেও ইহার শেষ য়ুরােপীয় কর্মচারী মিঃ , এইচ, ডিটোর্সের (০. H. Detours) সময়ে ইহার ভার জনৈক দেশীয় টিণ্ডালের (Tindal) উপর ন্যস্ত হয়। বােধ হয়, সেই সময় হইতে ইহার প্রয়ােজনীয়তা হাস পাইতে আরম্ভ করিয়াছিল। সুদীর্ঘ এক শতাব্দী কালের উপর প্রত্যহ প্রদর্শিত হইয়া গত জাৰ্মান্ যুদ্ধের সময় ১৯১৫ খ্রীষ্টাব্দে ‘এডেনে’র আশঙ্কায় অস্থায়িভাবে একমাসের জন্য ইহার আলােক নির্বাপিত ছিল। তাহার পর নিয়মিত আলােক প্রজ্বলিত হইয়া গত ১৯২৫ খ্রীষ্টাব্দের জানুয়ারী মাস হইতে অপ্রয়ােজনীয়তার জন্য নির্বাপিত হইয়াছে। জানি , ভাগীরথী এই আলােকগৃহের নিকটে আবার নূতন ‘হালের’ পত্তন করিয়া কখনও ইহার নির্বাণদীপ প্রজ্বলিত করাইবেন কি না! এই আলােকগৃহের কাৰ্য্য বন্ধের জন্য অনেকগুলি দরিদ্র পল্লীবাসীর অন্নের উপায় গিয়াছে। তাহারা বহুদিন এই আলােকগৃহে চাকরী করিত।
পরিশিষ্ট গান জুরিসডিকশন বা নম্বর এলাকা নম্বর ১ # # # # থানা খেজুরী [ গ্রাম সংখ্যা, পরিমাণ-ফল প্রভৃতি ] * গ্রামের নাম পরগণা রেভেনিউ সারভে নম্বর ডিহি এড়েঞ্চ কেওড়ামাল তরফ এভেঞ্চ দক্ষিণ কলমদান ২৩ আলিচক কঠিবাড়ী কাকুড়িয়া २०७४ পাটনা কুঠা জগন্নাথ চক २०७१ কুঠা ২০৬৮ অজয়া পরিমাণ- ফণ - ৫৯,২২ একর ৯ ১৯৪৩৫ একর। ১,১৬,৮৬ একর ৮৬৫,৫২ একর ১৪৪,১৮ একর ১,২৯৫,৮৪ একর ১৩০,৮ একর ৪ ৫ ৭ ১৭ ৯০৪.৮০ একর Vide Jurisdiction List. Thana Khajuri, compilul in the Settlement officer, Midnapore.
গ্রামের নাম থানা জুরিসডিকশন ব নম্বর এলাকা নম্বর পরগণ রভেনিউ রভে নম্বর ১৪ in ২০৭ পরিমাণ ফল একর ৯১ ৮ একর ৪৮২, ৮ একর। একর ৩৪৬১১ একর ৪৩৯ ২৩ একর একর ১১ ২: ৭ A ১৪ ১ ২০ ১০ A ১৭ এর ১৮ চিড় দুনিয়া ক ওড়ামাল তরফ বিশুয়ান আলী আমজদ চক আমজাদ নগর গােলকপাত্র ঠাকুর চক জাহানাবাদ কলাগেছিয়া কামারদা দেউল-পােত। কেশবচক গােলাবাড়ী দেখালী হলুদবাড়ী জগন্নাথচক নরুল্লাচক কাটারী মালদহ বাহারগঞ্জ। [ ০৪ ৩২১ একর ২৪ ৩৫৫ ৮৪ একর ৫৩৪ ২৭ ২ ৪২ ২২ ২ ৪৪ ২৪৬ একর 280 ১৫.২৪ একর ২৪ ২' ৪৫ ৭৮২০৮ একর। ২ ৪৮ ১২৯, একর পরিমাণ ফল। রগণ। রেভেনিউ সারভে নম্বর কেওড়ামাল তফ বিয়ান ১৯৭২ কে ওড়ামাল তরফ এভেঞ্চ ২০৪৭ কে ওড়মাল হরফ বিশুয়ান २००० ২০০১ ১, ৫৯.৭৮ একর ১,১৪.৭৮ একর ১,১০ ১৩৫ একর ৫৪৩,৪২ একর ২৮.০৫ একর ২০৩ কে শুড়মালি তরফ এভেঞ্চ ২০৪১ ৯১৯.০৬ একর থানা জুরিসডিকশন বা গ্রামের নাম এলাকা নম্বর ৪ সেখাচক পানখাই বারাতলা রামচক কোচিয়। গড়রঙ্গ চৌদ্দচুলী ৩৪ মুণ্ডমারি কার্তিকখালী মাদাখার্জী ৩৭ কতলা ৩৪ পিরিজপুর কুঞ্জপুর হেমন্তচক ৪১ সাটকুমারি ১২ তালপাটী ৪ মানসিংহবেড় ২০৪৫ ৪৪ কে ওভামাল তর বিশুয়ান ২০০৪ ৭৯৩২২ এর २००२ ৫৯৬ ৬৭ একর ১ ১৯৯৯ ৪৭.৪৩ একর ১৫৭ ৪৪ একর ১৯৮১ ৩৭.০৩ একর ১৮৩৮ একর t: ১; ৮০ ১৯১৯(১) কসবাহিঙ্গুলী ৭২.৫২ একর ২৪.৯ একর ১৯৭৩ ১৮ ৬৫ একব পরগণা রেভেনিউ পরিমাণ সারতে নম্বর ফল ১৯৭৮ কসবাহিজলী কেওড়ামাল তরফ বিশুয়ান ১৯৭৭ ৬৭.৬৫ একর ১৮.২৪ একর ৩৭৩৯১ একর থানা জুরিসডিকশন বা গ্রামের নাম নর এলাকা নম্বর ৪৪ চতুভূজচক ৪ ৫০ পুখুরিয়া ৪৬ ৪১ বাড়শাড়িয়া ৪৭ ৪১ সাহেব নগর ৪৮ সাহেবনগর ৪১ খাজুরী ৪৩ থােবাঘাটা বামনচক ৪৪ আলিচক ৪৫ বামনচক ১৯৭৪ ৩৭৯.২১ একর ০২ কসবাহিজলী ৪৮ ১৯৮৩ ১,২৪৫ ১০ একর ২৮১,২৪ একর ২১.৫৩ একর ৪৫ ১৯৮৪ ১৯৮৫ ১৯৮১) ১৯৮৬(২) ১৯৮৬ ৪৬ সফর চটা ৪. ৪৭ ৩৭.৮৫ একর ৪০.৪৭ একর ৩৭৯ ৬৭ একর ৩০০.০৭ একর ৫৯.৫৭ একর ১৯৮৭ ১৯৮৮ ৭৮ রাধানগর সাতশিমলি চক অরকবাড়ি ভাঙ্গনমারি ভাঙ্গনমারি কশাড়িয়া টেংরামারি ১৯৮৯ ৩১২.৫৫ একর কেওড়ামাল তর বিশুয়ান ১৯৯০ ৩০.৯৫ একর ৬৬২,৬২ একর ১১১.০৯ একর ৭৬ ২০১৮ থানা জুরি-ডিকশন বা গ্রামের নাম পরগণা পরিমাণ নম্বর এলাকা নম্বর ফল। ৭৫ কসবাহিজলী রেভেনিউ সারভে নম্বর ২০১৭(২) ২০১৭১) ১৯৯৬ ৪১.০৮ একর ১১৯.৬০ একর। ১৩ একর ৫ ৪ কেওড়ামাল তরফ বিয়ান ৬৪ ১৯৯৮ ৩০.৬৭ একর ১৯৯৭ ৭৩২৯ একর ৫৭ ১৬,৬ একর কসবাহিজলী ২০১৭ মনােহরচক চালতাতলা। শাহাপুর কাদিরপুর ফুলবাড়ি পনিখা ভূপতিচক পনিখ। পনিখা শ্যামপুর জলপাই গােড়াহার জলপাই গোড়হার গােড়াহার গোঁসাইচক কটুকা দেবী চক ১৯৩৯৯ একর ৬.৮৯ একর ও ৪ ৬৩৩.৮২ একর ২০১৭(৩) ২০০৭ ৭০ ৬৪ ২০০৮ কেওড়ামাল তরফ বিল্ডয়ান কসবাহিজলী কেওড়ামাল তরফ বিশুয়ান কেওড়ামাল। কসবাহিজলী কসবাহিজলী ৭২ ৭৪ •১০(১) ২০১০ २००७ ২৪.৮৬ একর ৪৮১.৭৯ একর ২১৬.৭৬ একর ৪২.৬১ একর ৬৩.৩৩ একর ১৭১,১১ একর ৪১৯.৩০ একর ১১২.৭৬ একর ৭৫ মুরলী চক . ৭ শ্যামপুর শ্যামপুর কটুক। ৭৭ ২০১১ পরগণা পরিমাণ রেভেনিউ সারভে নম্বর ফল কসবাহিজলী ৬২৭.৯১ একর ২০৩৯ ২২.৬ একর ৪৯৭ ৪৯৭৭ ২৪২ একর ৫৯.৭১ একর ১৪৯.৭৯ এর ৩৫৯.৭৭ একর २०७१ ২০১৪ থানা জুরিসডিকশন বা গ্রামের নাম নম্বর এলাকা নম্বর বােগা কয়ালচক। আলিপুর সুন্দরপুর ৮ খড়িপুখরিয়া ৮৩ শিল্লাবেড়া ৮৪ রায়পুর ৭০ জনক। ৭৪ দামােদরচক ৭৭ অজানবাড়ী ৮৮ সেরচক ৯ १२ জাফর চক ৭১ বড়কােফলিয়া ৯৪ আবদুল্লা চক ছােটকশাফলিয়া ০২ বড়গরানিয়া ছােটগরানিয়া ৪৭ ৯৭.৪৭ একর ৪৫৩,৬৮ একর ৩০.৫৮ একর ২৮.০৭ একর ৮৭ কে ওড়ামাল তরফ বিশুয়ান কসবাহিজলী ১৯৯৪ ২০২০ ২০২১ २०२२ २०२० २०२४ ১২২.৬১ একর ১৪২.২৭ একর ১২৫.৭৩ একর ২৩৮৮৭ একর ৭৫.৪৬ একর ২৯.১৭ একর একর কে ওভামাল তরফ বিশুয়ান ১৬৭.৭৯ থানা, জুরিসভিকশন বা গ্রামের নাম পরিমাণ নম্বর এলাকা নম্বর পরগণা রেভেনিউ সারতে নম্বর কেওড়ামাল তরফ বিশুয়ান रत्न ৩২.৭৭ একর ৯৭ ৯১ ৮৭.০১ একর २०२१ ১৯৯১ ৯৮ ৮৪ ৩১৮.৮০ একর ৮১ ১৯৯০ ৫১৭.৩৫ একর কসবাহিজলী কে ওড়ামাল তরফ বিশুয়ান কসবাহিজলী কে ওড়ামাল তরফ বিশুয়ান কসবাহিজলী ১৯৯(২) ১৬৪.৯৪ একর ১০১ ২২৭.৯৮ একর ৮৭ ৮৮ লক্ষণচক মতিলালচক ঝুটিয়াহারি থানাবেড়া অরকবাড়ী বনবাসড়া ওয়াশীলচক নাকার গােবিন্দপুর গগাবিন্দপুর যশূয়া পাচড়া কলাগাছিয়া করিমচক ছােটগরানিয়া গােপীচক আদমপুর বটতল ৮৭ ১১ একর ? ৩০.৭৯ একর ৮০.৩৭ একর। ৩২৬.৮১ একর ১০৪ কেওড়ামাল তর বিশুয়ান কসবাহিজলী ১০৬ ১•ঃ ২০২৯ ২০২৯) ২০৩০১) २०१७ २००० ২০২৬(১) ২০৩ ২০৩৫(১) ২০৩৪ ৩৬.৮১ একর ১০৭ ১০৩ ৫৪.৪৩ একর ১০৮ ১১৭.৭৬ একর ৪৯৯৬ একর ৭২.৫৬ একর ১১০ ১০৭ ১০৮ ২০৩৩ ১৩.২১ একর থানা গ্রামের নাম সডিকশন ব এলাকা নম্বর পরগণা পরিমাণ রেভেনিউ স রভে নম্বর মর ফল ২১২ ১১৪ কসবাহিজল २०७२ २०७४ ১১৪ ২০৩১২ ১১৭ ৪৭.১৭ একর ৪৫.৭৯ একর ৯.৪৯ একর ৫৫ ৫৮ একর ২০৩১৩ ১১৮ ২০৩১ রামচক ও নিপুর। নাে পাতা বেতালদিঘী মেইদিনগর পাদুরভেড়ী অলীচক নিজকশ কাদিরাব চর বালিচক ১১৭ ৪৯৭৮ ৮৬৮ একর ১১৮ ৪৯৭৯ ৪৯৮০ ৮৩,৩' একর একর। ৬৯৭.৩৪ একর। ২৪৮.৬৯ একর L গুমগড় মােট পরিমাণ ফল ১,১৬৬,৫১ একর বা ১৪২.৪৪ বর্গ মাইল। [ সেন্সাস রিপাের্ট প্রভৃতিতে পূর্ধ্বতন পরিমাণ ফল অনুযায়ী খেজুরী থানার পরিমাণ ৭৫ বর্গমাইল ধরা হইয়াছে—তাহা ভ্রমাত্মক ] পর H নূতন বিধানানুযায়ী ইংরাজী ১৯২৫ সাল হইতে হেঁড়িয়া থানার নিম্নলিখিত গ্রাম খজুরী থানার অ ভুক্ত হইয় ছ থানা জুরিসডিকশন বা গ্রামের নাম পরগণা রেভেনিউ পরিমাণ নধর এলাকা নম্বর সারতে নম্বর কল্যাচক শূজামুঠা ২০৯৭ ১৮৬৫৭ এ সূরূলিয়াচক ক ওড়ামাল তফফ এড়েঞ্চ ২০৭১ ৫৫.৪৩ একর ৩৪৪ লাগি ২৭৪ ২,৫৮১.৫৫ একর २०१ ৩৪৩ ঠাকুরনগর २०१० ৬০৯.৩৭ একর বিক্রমনগর २०१७ ৩১৭,৭ একর জরারনগর ২০৮৯ ২৯৭.৮০ একর। ২১ খড়ার ওরফে ডন বায়েন্দাবাজার ২০৯০ ২৭৫'৪২ একর २४२ ৩২৭ দেবীচক কে ওড়ামলি তরফ এড়েঞ্চ ২০৯২ ৪৩৯.৭৩ একর ৩৩ মুকুটশীল। ২০৮৬ ৬৬.৩২ একর ৩৪৪ ৩২৪ বজবজিয়া ২০৮৪ ৭৫৪.৪৫ একর ৩3 নগর ৮০৮৬ '..৩৭৩৯৩ একর ৩৪৬ মােহাটী ২০৯১ ৯৮৫.৫১ একর ৩৭ শ্যামচক ২০৮৭ ১৯৯.৬৬ একব পরিমাণ ফন পরমাণ। রেভেনিউ সারতে নম্বর কে ওড়ামাল তর বিশুয়ান ২০৮৮ • ২০৭৭ ৫৮.০০ একর ৮৯৯.৮২ একর থানা জুরিসডিকশন বা গ্রামের নাম নম্বর এলাকা নম্বর গােবিন্দচক ৩৩৪ হেড়া আত্মারামচক ৩৪৩ মিত্রচক ৩৪৭ টিকাশী ৫২ ৩৮ উত্তর কলমদান ১৫৩ ৩৪৯ ছাতনাবাড়ী २०१७ ২২.২৫ একর ২০৭৯ ১,৩৮৪,৪৮ একর ২•৮১ ১,৪৬৩,১২ একর ২০৮ ১১২.৪৩ একর [ ৫১ মােট পরিমাণ ফল ১৩,৮১,৫৫ একর। এই ১৯টী গ্রামসহ ১৪টা গ্রামসমষ্টিতে খেজুরী থানার বর্তমান পরিমাণ ফল ১৬৪.০১ বর্গমাইল হইয়াছে। পূর্ধ্বতন খেজরী থানার ৯টী ইউনিয়নে ৯ জন দফাদার ও ১০৩ ন চৌকিদর ছিল, বৰ্ত্ত'- ৩টী ইউনিয়ন নবসংঘােজিত হইয়া ১২ জন দফাদার ও ৩২ জন চৌকীদার হইয়াছে তালপাটী খ লর অর্ধা শ ও হুগলী নদীর কতক'শ খেজুরী থানার এল কাভুক্ত [ ২ ] খেজুরী থানার বর্তমান চতুঃসীমা ঃ- পশ্চিম-রসুলপুর নদী, হিজলী টাইডেল ক্যানা এবং ভগবানপুর থানার ঘােলবাগ্দা, শিমুলবাড়ী, দক্ষিণ ও উত্তর বরােজ, কাটাপুকুরিয়া, বিরিবাড়ী, ধলুয়া ও জুখিয়া গ্রাম। উত্তর-ভগবানপুর থানার ইক্ষুপত্রিকা, সাদুল্যাচক, বড় বাড়ী, মাকলাসী, পূৰ্ব্বচক ও মধুসূদন চক গ্রাম এবং তালপাটী খাল। পূর্ব ও দক্ষিণ-হুগলী নদীর মােহানা। লােকসংখ্যা ১৮৮১ ০ ০ ০ ৪২,১২৬ ৫,১৭৩ ১৮৯১ ৮ ০৪ ৫৭,৫৩৭ বাসগৃহ লােক পুরুষ প্রতি সংখ্যা বর্গমাইলে এর পার্থক্য জনসংখ্যা ৯,২৫৮ ৫৭,৩৬১ ২৮১ ২৮,২৫ ৭৫ শতকরা ৩,৩৫ এর পার্থক্য ১৯২১ ১০,১১৪ ৫৮২২২ ২৯,৩৩৩ ২৮,৭৯ ৭৭ ১. বৃদ্ধি প্রতি বর্গ মাইলে লােকসংখ্যার ঘনত্ব ৭৬৫; মেদিনীপুর জিলার সমস্ত থানাপৰ্য্যায়ে এ বিষয়ে খেজুরীর দশম স্থান। কৃষিকর্মোপযাের্গী ভূমি শতকরা ৯৪.১১,-থানা পর্যায়ে চতুর্থ স্থান। | শ্ৰীযুত বিজয়বিহারী মুখােপাধ্যায় মহাশয়ের “Chart on Midnapore A Study হইতে গৃহীত।
[ ৫৩ ] হিন্দু পুরুষ ২৭,৩৭৭ खौ ২৭,৮৩ ১৯১১ { ব মুসলমান খ্রষ্টান পুরুষ ১,৫৬ পুরুষ ও खौ ১,৩৩৮ खो পুং ১,৪৫৩ । পুং স্ত্রী ১,৪০৭। স্ত্রী ৪ ১৯২১ f পুঃ ২৭,৮৭৯ স্ত্রী ২৭,৪৭৮ শিক্ষিত বাঙ্গালা পুঃ ৭,৯৪১ खो তৃ পু ৬০৮ স্ত্রী ৪৫৩ ইংরাজী পুং ১৯৭ दो শতকরা শিক্ষিতের হার পুং ১৩৮৪ खो ০.৪৪ ১৪.৭৮ ১৯২১ { { পু পুং हो हो •.৭৭ জাতি (ডিঃ গেজেটিয়ার বি. ভলুম হইতে ) হিন্দু-১৯১১ করণ ২,২৩৭, কামার ৫৪৭, কায়স্থ ১১৫, কঁাড়রা ( কদমা) ১,০৫৪, কুমার ৬৭৬, গােয়ালা ৮০৬, তাতি ২,৮৯৭, তেলি ও তিলি ৯৭৮, ধােপ ৭৬৯, নমঃশূদ্র ২৯২, নাপিত ১৩০১, পৌণ্ড ক্ষত্রিয় ১৪,৫৯৫, বাগদী ১,১২৩, বৈষ্ণব (বৈরাগী ) ৫৭৬১ ব্রাহ্মণ ১,৭৩৮, মাহিষ। ১৬৮৩৫, রাজু, ৭৭, সদগােপ ২৪, হাড়ি ৩৮৪ মুসলমান-পাঠান ৩৮২, শেখ, ২৩৮৫ ১৯২১ সালের পােণ্ড ক্ষত্রিয় সংখ্যা-পুং ৮,৫৯৫, স্ত্রী ৮,৬৩৮ ; অন্যান্য জাতির সংখ্যা জানা যায় নাই।
৫৪ ] জন্ম মৃত্যু মৃত্যু ১,৫৪৩ ২,২৪৩ ১৯২১- ১,৬৪৩ ১৯২২- ১,৩৮৪ ১৯২৩ - ১,৮৫৭ ১,৩৩২ ১৯২৪- ১,৯৭২ ১,৫৮৭ ১৯২৫- (নূতন সংযােগসহ) ২,৮৯৪ ১৯২৬ সালে বিদ্যালয়াদির সংখ্যা [ হলুদ বাড়ী ও কলাগেছিয়া ] [ খেজুরী, বারাতলা ও অজয়া ] উচ্চ-ইংরাজী বিদ্যালয়-- ২ মধ্য-ইংরাজী উচ্চ-প্রাথমিক নিম্ন ১২০ উচ্চ-প্রাথমিক বালিকা নিম্ন প্রাথমিক (নিম্ন-প্রাথমিক বাের্ড, পাঠশালা ১) উচ্চ প্রাথমিক পার্থ বালকবালিকার সংখ্যা ঃ-( বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীসংখ্যা পৃথক ) হিন্দু মুসলমান মােট সংখ্যা বালক- বালিকা- ১৭৮৪ ১৮১৩ [ ৫ ] ৩৪৭০ ডিঃ বাের্ড নিম-প্রাথমিক পাকাঘী বালকবালিকার সংখ্যা ঃ-( বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীসংখ্যা পৃথক) হিন্দু মুসলমান মােট সংখ্যা বালক- ৩৩৯৭ १० বালিকা- २ ৩৩২ উচ্চ-প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী- সংখ্যা-হিন্দু ৯৮, মুসলমান ২, মােট ১০০ নিম্ন-প্রাথমিক বালিকাবিদ্যালয়ের ছাত্রী- সংখ্যা—হিন্দু ৩৪১, মুসলমান ১, মােট ৩৪২ নিম্নশিক্ষার জন্য সাহায্য- খাসমহাল- ১২৫৭১ ৫৭৫১ ইন্দিরীয়াল গ্র্যান্ট- ৫০৭৯১ খেজুরী থানায় পােষ্টাফিসের সংখ্যা ৪ [ খেজুরী { Kedgeree), জনকা (Janka), হলুদবাড়ী ( Haludbarih) ও কলাগাছিয়া ( Kalagachia ) -সমস্তগুলিই ব্রাঞ্চ, পােষ্ট অফিস। সরকারী দাতব্য চিকিৎসালয়—জনকা এলে জেন্দ্রা চ্যারিটেবল ডিস্পেন্সারী—ডিষ্ট্ৰীক্ট, বাের্ড, ও স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত। একজন স এসিষ্ট্যান্ট সার্জন ও একজন কম্পাউণ্ডার দ্বারা ভারপ্রাপ্ত। কথি-খেজুরী ডিঃ বাের্ড, রাস্তার পার্শ্বে দামােদর চক গ্রামে অবস্থিত। এই ডিম্পেলারী ইং ১৯১৬ সনের ২০শে মে তারিখে খােলা হইয়াছে। বার্ষিক আয়,-খাসমহল সাহায্য—৭৮০ টাকা, স্থানীয় প্রাপ্ত চাদা ১৫০ টাকা ও ডিঃ বাের্ডের সাহায্য আনুমানিক ১২৫০ টাকা। গত [ ৫৬ ] ইং ১৯২৪ সালের ১লা জানুয়ারী হইতে ইহার পরিচালনভার ডিঃ বাের্ড কর্তৃক গৃহীত হইয়াছে। ব্যয়,-ডাক্তারের বেতন ৭৬৮ টাকা, অন্যান্য কর্মচারী (কম্পাউণ্ডার, পিয়ন ও ভৃত্য) ৪৫৬ টাকা, ঔষধ-খরচ ৬০০ টাকা। রােগীর উপস্থিতির প্রাত্যহিক গড় ১৯২৪-৩২, ১৯১৫-২৯ ও ১৯২৬-৩০; চিকিৎসার জন্য সমাগত মােট ম্যালেরিয়া রােগী ১৯২৪- ৭২, ১৯২৫-৭৪ ও ১৯২৬-৭২৮ এতদ্ব্যতীত অজয়া গ্রামে শ্ৰীযুক্ত ক্ষেত্রমােহন বেরা মহােদয়ের স্থাপিত তাঁহার পরলােকগত পিতৃস্মৃতির স্মারক বৃহৎ দাতব্য চিকিৎসালয় “মাধব- চন্দ্র চ্যারিটেবল্ ডিস্পেন্সারীতে (স্থাপিত ১৯২২) ১ জন এম. বি., ১ জন সব এসিষ্ট্যান্ট, সার্জন এবং ৫ জন কম্পাউণ্ডার নিযুক্ত আছেন। ইহাদের বেতন, ঔষধ এবং অন্যান্য খরচ বাবৎ মাসিক প্রায় ২০০ টাকা ব্যয়িত হয়। প্রাত্যাহিক উপস্থিত রােগীর গড় ইং ১৯২৬ সালে ১২৫ খাসমহল কাৰ্যালয়- (“বীর বন্দর খাস তহসীল অফিস) কলাগাছিয়াতে অবস্থিত। স ম্যানেজার দ্বারা ভারপ্রাপ্ত। ইং ১৯০৪ সালের ২৪শে জানুয়ারীতে স্থাপিত। এলাকা—খেজুরী থানা সম্পূর্ণ এবং নন্দীগ্রাম ও ভগবানপুর থানার কতকাংশ। বিশেষভাবে এই সার্কেলের আয় কোনও নির্দিষ্ট মালিক পান না, সমস্ত মাজনামুঠা ও জলামুঠা এষ্টেটের আয়ের উপর মালিকানা মালিকদিগের অংশমত বিভক্ত হইয়া তাহাদিগকে প্রদত্ত হয়। আয় - খাজনা ১,২৪,৬০২২ টাকা সে মােট- ১,১,৯৪২ টাকা এই খাসমহাল সার্কেলের মধ্যে পশ্চাল্লিখিত কয়েকটা এষ্টেট আছে, - ৩,৩৪০ টাকা [ ৫৭ ) যা (১) মাজনামুঠা, (২) জুলামুঠা, (৩) বায়েন্দা বাজার কৰা খাসপতিত (৪) কেওড়ামাল ইড়িঞ্চি পানখাই, (৫) কাদিরাবাদ চর, (৬) কেউচিয়া পিরিজপুর, (৭) চর অলিচক, (৮) কঠিবাড়ী চর, (৯) নাকচির চর, (১০) খেজুরী পােষ্টাফি, (১১) জলামুঠা নিষ্পি, (১২) মাজনামুঠা নিষ্পি, (১৩) জুলামুঠা পেকোশ, (১৪) মাজনামুঠা পেশকোশ ও (১৫) কেউচিয়া পিরিজপুর পেশুকোশ। বীরবন্দর খাসমহালের কাৰ্য্য মিম্নলিখিত কর্মচারিগণের দ্বারা পরি- চালিত হয় -সব ম্যানেজার ১, হেড় ক্লার্ক, ও ট্রেজারার ১, একাউন্ট্যান্ট, ১, রেকর্ড, কীপার ১, নাজির ১, বেঞ্চ, ক্লার্ক, ১. মিউটেশন ক্লার্ক, সব ওভার-সিয়ার ১, আমিন ২, নকলনবিশ ১. পােদ্দার ১, সব ম্যানেজারের অর্ডারলী ১, ট্রেজারি গার্ড, ১, পিয়ন ১ ও ঝাড়দার ১; ইহা ছাড়া মফঃস্বলের জন্য ১৮ জন তহশীলদার এবং ৫২ জন বাড়াে’ বা গ্রামের প্রধান ব্যক্তি নিযুক্ত আছেন। বীরবন্দর খাস তহশীল সার্কেল অন্য ৩টি খাস তহশীল সার্কেল (বীর- বনর, ভগবানপুর ও কুবাড়াহাটী) সহ একজন সিনিয়র ডেপুটী কালেক্টর ম্যানেজারের অধীন। ইহার কাৰ্যালয় কঁথিতে অবস্থিত। এই সার্কেলের আদায় টাকা হইতে প্রতি বৎসর Agricultural Improvements ( গ্রাম ভেড়ী নির্মাণ ও খাল খােদাই), Sanitary Improvements ( পুকুর খােদই, আগাছা জঙ্গলাদি পরিষ্কার) Miscellaneous Improvements ( পুল নির্মাণ ইত্যাদি) জন্য কয়েক সহস্র টাকা ব্যয়িত হয়। এই ব্যয়ের কোন নির্দিষ্ট হার নাই। যে বৎসর যেরূপ ভাবে উপর হইতে বজেট করা হয় সেইরূপ ভাবে ব্যয় করা হইয়া থাকে। এই সার্কেল হইতে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য ৩৩টা উচ্চ ও ১০৫টী নিম্নপ্রাথমিক বিদ্যালয়ে অর্থ-সাহায্য করা হইয়া থাকে। শেষােক্ত সংখ্যার
। ৫৮ ]
১৫টী বালিকাদিগের জন্য। এতদ্ব্যতীত স্থানীয় জনক। দাতব্য চিকিৎসালয়ে
বাষিক ৭২ টাকা সাহায্য করা হয়।
সরেজষ্ট্রী অফিস-( Khajri খাজরী) জনক।
গ্রামে অবস্থিত। স্থাপমের সময় ইং ১৮৯৩ সাল। ইহার পূর্বে খেজুর
থানার দলিল রেজিষ্ট্রেশন কাৰ্য কাজলাগড়ে (থানা ভগবানপুর ) অবস্থিত
ছিল।
ইং ১৯২৪-১৯২৬ পৰ্যন্ত খেজুরী সব রেজিষ্ট্রী অফিসে রেজিষ্টক
দলিলাদি ও আয়ব্যয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ :-
[ ৫৯ ] ইংরাজী সন ১৯২৪ ১৯২৬ আয় ৪৩২২ টা, ৬৮৪৭৫ টা. ৯০৪১ টা, ব্যয় ৩৭৩০J•টা. | ৩৭৩৪/৬টা.] ৩৩০১৬টা, রেজেষ্ট্রীকৃত দলিলের সংখ্যা ২৬৮১ ৪৫৪ বিক্রয় কোবালার সংখ্যা ১৪০ ১২৯৭ তমসুকের সংখ্যা ১১৮৭ ১৭৫৩, २११० বাৎসরিক মােট মূল্য ২২.৬৭৭৪ ২৮১৬৫৮ ২৭৯৩৬৩ কোবালা বাৎসরিক মােট রেজেস্ত্রী ফিঃ ১৫২৭০ টা, ২৩৭৩|• টা. ২৯৯৮ টা. বাৎসরিক মােট মূল্য ১৬১১৬৭ ২১৪৭৫৬ ২৮১৩৫৮, তমসুক বাৎসরিক মােট রেজেষ্ট্রী ফিঃ ১৫২৬ টা, ২৬১৯২ ৪৩০৪ পূর্ত বিভাগ-পূর্ত-বিভাগীয় কর্মচারী জনৈক সব ওভারসিয়ার ( Sectional officer) খেজুরী গ্রামে থাকেন। ইহার উপরিতন কৰ্ম্ম- চারী তমলুক মহকুমার মহিষাদল থানায় অবস্থিত ইটা-মগাতে থাকেন।
ইং ১৯২৪-১৯২৬ সাল পর্যন্ত বার্ষিক বৃষ্টির পরিমাণ (ইঞ্চি) নিম্নে প্রদত্ত হইল। (বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্র ( Rain Gauge) খেজুরী থানা-কম্পাউণ্ডে অবস্থিত ) ইংরাজী সাল ১৯২৪ ১৯২৬ জানুয়ারী ৪৩ ১৫১ ফেব্রুয়ারী ৪ •৮ মার্চ ১৮৬ এপ্রিল ১৯৬ যে ২.১২ ২.১০ ১.৭৬ ৯.৫৪ ৩.৬৭ জুলাই ১২.৩৭ ১৭.৪২ আগষ্ট ৭.১০ ১৩,৬০ সেপ্টেম্বর ১০.১২ ১১.৩৫ অক্টোবর ৫.৪৪ ১৫.৭৮ নবেম্বর ৪.৪৯ ডিসেম্বর ৪৪.১৯ ৬৬,২৮ মােট পরিমাণ ৪৭.৩৬ ডাকবাংলাে-খেজুরী, বােগা ও চৌদ্দ চুলী এই তিনটী গ্রামে তিনটী ডাকবাংলাে আছে।
[ ১ ] থেজুরী আসিবার পথ-(১) বি. এন. রেলওয়ের কণ্টাই রােড় ষ্টেশন (বেলদা) হইতে কঁথি ৩৬ মাইল (মটর ও গরুর গাড়ী), কঁথি হইতে কঁথি-খেজুরী ডিঃ বাের্ডের রাস্তা ১৫ মাইল—গরুর গাড়ী, পাল্কী অথবা রিজার্ভ, মটর পাওয়া যায়। (২) ডায়মণ্ড, হারবার হইতে নৌকাযােগে খেজুরী “তালপাটী”র ঘাট পৰ্যন্ত হুগলী নদীতে আসা যায়। এই পথে অনুকূল বায়ু থাকিলে ২৩ ঘন্টা মাত্র সময় লাগে। নৌকা রিজার্ভ ভাড়া পাওয়া যায়। খেয়া সার্ভিস নাই। (৩) ডায়মণ্ড হারবার হইতে সৰ্ব্বদা কুল্লীঘাট হইয়া কাকদ্বীপ পর্যন্ত যাত্রি-নৌকা চলিয়া থাকে; ঐ নৌকাযােগে কাকদ্বীপ গেলে তালপাটীর ঘাটে আসিবার খেয়া-নৌকা পাওয়া যায়। নৌকা প্রতি সােম ও শুক্রবার ছাড়িয়া থাকে এবং অনুকুল বায়ুপ্রবাহে ১২ ঘণ্টায় খেজুরী উপস্থিত হয়। (৪) আৰ্মাণী ঘাট হইতে কলিকাতা ষ্টীম ন্যাভিগেশন কোম্পানীর ঘাটাল ষ্টীমার সার্ভিসে গেঁওখালী (ভাড়া ॥১০) আসিয়া সেখান হইতে ভাউলিয়া রিজার্ভ করিলে হিজলী টাইডে কেনাল ও রসুলপুর নদীযােগে খেজুরী আসা যায়। (৫) ডায়মণ্ড, হারবার হইতে খেয়াতে হুগলী নদী পার হইয়া কুকড়াহাটি হইতে খেজুরী হাঁটা-পথে আসিবার ডি ৰাের্ডের উত্তম রাস্তা আছে, যান-বাহনাদি পাওয়া যায় না। দূরত্ব-কুড়াহাটি হইতে প্রায় ৩২ মাইল। (৬) গেঁওখালি হইতে হাঁটাপথে মহিষাদল হইয়া হদি নদীর খেয়াপার দ্বারা তেরপাখিয়া আসিয়া হাঁটাপথে সরাসরি নন্দীগ্রাম থানার মধ্য দিয়া খেজুরী আসা যায়। রাস্তা মন্দ নহে। যানবাহনাদি পাওয়া যায় না। দূরত্ব-গেঁওখালী হইতে প্রায় ২৮ মাইল :
[ ৬২ ] (৭) গেঁওখালি হইতে ভাড়াটিয়া ভাউলিয়া যােগে হিজলী টাইডেল ক্যানেল দিয়া রসুলপুর নদী হইয়া রসুলপুর-খেজুরী ডিঃ বাের্ড, রাস্তার নিকট আসা যায়। হাটবাজার—ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র হাটবাজার অনেক আছে, সেগুলি উল্লেখযােগ্য নহে। অজানবাড়ী ও বীরবন্দর গ্রামে অর্ধসাপ্তাহিক প্রকাণ্ড হাট হইয়া থাকে। অজানবাড়ীর হাট প্রতি সােম ও শুক্রবার বিকালে এবং বীরবর হাট প্রতি শনি ও মঙ্গলবার প্রাতে বসিয়া থাকে। + ০ ০ ৪ ০ ০ E ক্ষুদ্রহাট — গ্রামের নাম হাটবসিবার দিন ও সময় বােগা রবি ও বৃহস্পতিবার প্রাতে। শনি ও মঙ্গলবার বিকালে । চুণপাড়া বুধ ও রবিবার বিকালে । গােড়াহার শুক্র ও সােমবার সকালে। হল্পদবাড়ী রবি ও বুধবার সকালে। মালদহ শনি ও মঙ্গলবার বিকালে । কলাগেছিয়া সােম ও শুক্রবার বিকালে। টাকাপুরা বুধবার ও রবিবার বিকালে। গড়রং শনি ও মঙ্গলবার বিকালে । রামচক শনি ও মঙ্গলবার সকালে। কুলঠা শুক্র ও সােমবার সকালে কাঞ্চননগর ( কামার-দা) শনি ও মঙ্গলবার বিকালে। মুরলা-চক শনি ও মঙ্গলবার বিকালে। গােপীচক ••• শনি ও বুধবার বিকালে। ht . ০০০ [ ৬৩ ] ০ ০ ০ ০৭ টিকাশ বুধ ও রবিবার সকালে। সুরুলিয়া চক বুধ ও রবিবার বিকালে কৃষ্ণনগর বৃহস্পতি ও সােমবার সকালে । মােহাটী রবি ও বুধবার সকালে। মেলা-পৌষসংক্রান্তিতে হিজলীর উপকূলে ভাগীরথীর মােহানায় একটী স্নানের মেলা বসিয়া থাকে। ইহা ছাড়া কাঞ্চননগর গ্রামে মাণ মাসে, ভৈমী একদশীতে গােপীচক গ্রামে চৈত্রমাসে চড়ক সংক্রান্তিতে, অজানবাড়াতে চড়কসংক্রান্তি ও বৈশাখমাসে বারােয়ারি উপলক্ষে, ঠাকুর- নগরে দোলপূর্ণিমায় বারােয়ারি উপলক্ষে ফাল্গুন মাসে, বীরবন্দর গ্রামে পঞ্চমীতে, কলাগাছিয়া , গ্রামে খাসমহাল খাসমহাল কৰ্ম্মচারিগণের উদ্যোগে নবস্থাপিত যােগেশ-বান্ধব” মেলা, শিবরাত্রি উপলক্ষে মেহদীনগর গ্রামে ভীমেশ্বর মহাদেব স্থানে, রামচকে তুফান গাজীপীরের স্থানে চৈত্র মাসে ও অন্যান্য কয়েকটী স্থানে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সাময়িক মেলা বসিয়া থাকে। বৃহৎ পুষ্করিণী-জনকা গ্রামে খেজুরী থানাগৃহের সান্নিধ্যে ডিঃ বাের্ডের পথের পার্শ্বেই একটী সুপেয় পানীয় জলের পুষ্করিণী আছে, এতদঞ্চলের মধ্যে ইহার জল সৰ্ব্বাপেক্ষা উত্তম ও ব্যবহারােপযােগী । গ্রীষ্ম- কালে বহুদুরবর্তী গ্রামের লােকে ইহার জলের দ্বারা জীবনরক্ষা করিয়া থাকে। ( প্রায় শতাব্দী পূৰ্ব্বে মাজনামুঠা ও জলামুঠা এষ্টেটের তদানীন্তন ইজারাদার রামনারায়ণ বেরার তত্ত্বাবধানে এতদঞ্চলে কতকগুলি পানীয় জলের পুষ্করিণী খনন করা হইয়াছিল,-তন্মধ্যে এই পুষ্করিণীটী অন্যতম। এখনও এই পুষ্করিণী তজ্জন্য ‘রামনারায়ণ বেরার পুকুর’ নামে অভিহিত। প্রত্যুতপক্ষে ইহা জমিদারী এষ্টেটের ব্যয়েই খণিত হইয়াছিল। এই পুষ্করিণীটা বৰ্তমান খাসমহালের তত্ত্বাবধানে আছে। রামনারায়ণ বেরা ১২৩১ হইন্তে ১২৪৭ সাল পর্যন্ত ইজারাদার ছিলেন ; ইহার পরে শম্ভরাম - মিদ্যা ইজারা গ্রহণ করেন। ( Bayley’s Jellamootha Report, 2. 331, para 107) অন্যত্র তেমন উল্লেখযােগ্য বৃহৎ পুষ্করিণী নাই। প্রাচীন দীঘি,-(১) পনিখার দীঘি [ ইহার বিস্তীর্ণ পাড়মাত্র বিদ্যমান, দীঘিটী মজিয়া কৃষিকার্যোপযােগী হইয়াছে (২) খেজুরী গ্রামের “হালাম্ শা’র দীঘি”—[ ইহা আংশিকভাবে এখনও বর্তমান আছে। ইহা ছাড়া বাসুদেব পুর রাজবংশের কীৰ্ত্তি কৃষ্ণ- নগরের দীঘিও উল্লেখযােগ্য। উল্লেখযােগ্য অধিবাসিগণ গজেন্দ্রনাথ মাইতি জমিদার ও অনারারি ম্যাজিষ্ট্রেট গােপীচক, [ এই মহাত্মার বদান্যতায় অন্নপত্র প্রদত্ত হইয়া গত ১৩২২ সালের দুর্ভিক্ষে কবাহিজলী পরগণার প্রজাবৃন্দ রক্ষিত হইয়াছে। শ্রীজগদীশচন্দ্র মাইতি-কলাগাছিয়া [ সুযােগ্য দেশকৰ্মী ও জমিদার । শ্রীক্ষেত্ৰমােহন বেরা-অজয়া,জমিদার ও প্রসিদ্ধ মাধবচন্দ্র “দাতব্য চিকিৎসালয়ের সংস্থাপক। বৈকুণ্ঠনাথ জানা-জমিদার, পানখাই। ত্রৈলােক্যনাথ মাইতি-জমিদার, সাঁওতান চক। শ্রীরমেশচন্দ্র সেন জমিদার, জগন্নাথ চক। রামহরি মণ্ডল-বােগা। চৌধুরী রাজেন্দ্রনারায়ণ * প্রায় ৮০ বৎসর পূর্বে মিঃ বেলী তদীয় সেটেলমেন্ট রিপাের্টে এই থানার কসবা- হিজলী পরগণার নিম্নলিখিত প্রতিপত্তিশালী অধিবাসিগণের নামােল্লেখ করিয়াছিলেন- (১) আমজাদ আলী (মসনদ-ই-আলার খাদিমের বংশধর) (২) পরমানন্দ দাস (৩) দামােদর গিরি (৪) শরাম মিন্যা ইজারদার (৩) জগন্নাথ মাইতি (৬) বাবুরাম গুড়িয়া (৩) বড় হাড় মণ্ডল () বংশীদাস ও (১) রামাদ সাউৎ; কালের উত্থান-পতনের নিয়মে এই অত্যল্প সময়ের মধ্যে ইহাদের অধিকাংশের বংশীয়গণের আস্থা শােচনীয় কাহারও কাহারও বংশাবলী সম্পূর্ণ উচ্ছিন্ন হইয়াছে।
[ ৩ ] মি-জমিদার, বােগা। বসন্তকুমার দাস (প্রসিদ্ধ কংগ্রেস কর্মী। রামচক। জীবনকৃষ্ণ ঘােষ—জমিদার, খেজুরী। শ্রীবৈকুণ্ঠনাথ সামন্ত দেখালী প্রভৃতি। এতদ্ব্যতীত অন্যান্য উল্লেখযােগ্য অধিবাসীর নাম-তালিকা, নিম্নে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাধিপ্রাপ্ত ও গ্রন্থকারগণের নাম তালিকায় দ্রষ্টব্য। বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাধিপ্রাপ্ত এবং অন্যবিধ উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিগণ শ্ৰীক্ষীরােদচন্দ্র দাস বি. এল. (খেজুরী থানার সর্বপ্রথম গ্র্যাজুয়েট ও উকীল, কাথি) রামচক। শ্রীরাধাকৃষ্ণ মণ্ডল এম. বি., ডি, পি. এইচ. রামচক। দেবেন্দ্রনাথ সেন বি. এল. পাঁচাড়িয়া। দীনবন্ধু দাস উকীল (ডায়মণ্ড, হারবার), ভাঙ্গনমারি। শ্রীরমানাথ দাস এম. এ. বি. এল. উকীল ( ডায়মণ্ড, হারবার ), ভাঙ্গনমারি। শ্রীসুধীরচন্দ্র দাস এম. এ., ( বি. এল পাঠাৰ্থী । কশাড়িয়া। শ্রীহরেকৃষ্ণ মণ্ডল—উকীল (কঁথি) বাটকুমারী। ঐবিনয়ভূষণ মণ্ডল বি. এ., যাকুমারী। শ্ৰীসরােজকুমার মাইতি বি. এল সাঁওতান চক। শ্ৰীরেবতীনাথ মাইতি-বার-অ্যাটু-ল, সাওতানচক। গােপীনাথ মাইতি-উকীল (কঁথি), সাঁওতানচক। শ্ৰীশ্ৰীনিবাসচন্দ্র দাস বি. এ.-ঘােলাবাড়। ঐনিকুঞ্জবিহারী মাইতি এম. এ. প্রসিদ্ধ কংগ্রেসকৰ্মী) কামারদা। অধ্যাপক শ্রীউপেন্দ্রনাথ বল এম. এ.- জাহানাবাদ। শ্রীগােপালচন্দ্র মাইতি বি. এ., বি. টি.-জাহানাবাদ। শ্ৰীঈশ্বরচন্দ্র মিদ্যাবি. এল., জাহানাবাদ। শ্রীভূপেন্দ্রনারায়ণ বেরা এম. এ., বি. এল.-(হাইকোর্ট ):অজয়া। শ্রীজ্ঞানেন্দ্রনারায়ণ বেরা, বি. এল. (উকীল, মেদিনীপুর জজকোর্ট) অজয়া। বিভূতিভূষণ মাইতি বি. এ - কলাগাছিয়া। ত্রৈলােক্যনাথ মাইতি-উকীল (কথি) কলাগাছিয়া । শ্ৰীজানকীনাথ হাজরা - মােক্তার (কাখি) কলাগাছিয়া। গিরীশচন্দ্র র ( ৬৬ । মাইতিমােকার ( কঁথি ) জানান। শান্তিরাম মণ্ডল - না শেষ-পরীক্ষায় সৰ্বোচ্চ পদকপ্রাপ্ত, রারাতলা। ঐসতীশচন্দ্র মাইতি বি. এ., কলাগাছিয়া। শ্রীপ্রবােধকুমার মাইতি বি. এ., কলাগাছিয়া। পরেশচন্দ্র মাইতি বি. এস-সি., কামারদা। শ্ৰীশচীন্দ্রনাথ সেন বি. এ., জগন্নাথ চক। খগেন্দ্রনাথ বেরা, এম. এ., লাক্ষি। শ্রীজীবনকৃষ্ণ মাইতি বি. এ., কৃষ্ণ- নগর। ক্ষীরােদচন্দ্র দাস এ. এম. পি., দেখালী। ঐগিরীশচন্দ্র মাইতি বি. এ., অজয়া প্রভৃতি। এতদ্ব্যতীত বহু আণ্ডার গ্র্যাজুয়ে আছেন। গ্রহকরণ- পুরন্দর মণ্ডল-( কশাড়িয়া) সঙ্গীত-সুধাকর, মনােশিক্ষা প্রভৃতি প্রণেতা। কেদারনাথ মণ্ডল (কশাড়িয়া) ‘ব্রাত্যক্ষত্রিয় অশৌচনিৰ্ণয়, প্রভৃতি প্রণেতা। মণীন্দ্রনাথ মণ্ডল-লােক্যাল বাের্ডের মেম্বার, প্রেসিডেন্ট পঞ্চায়েৎ ও অক্লান্ত প্রদেশকর্মী (কপাড়িয়া) আৰ্যপৌণ্ডুক, আরতি, বঙ্গীয় জনসংঘ প্রভৃতি প্রণেত।। শ্রীমহাদেব মণ্ডল— কশাড়িয়া) ‘ শিনবিকাশ’ প্রণেতা। গােপালচন্দ্র দাস-গঙ্গাসাগর-মাহাত্ম্য প্রণেতা, সাং কশাড়িয়া। চন্দ্রমােহন পুরকাইত-কলির শাশুড়ী, অশোচ ব্যবস্থা প্রভৃতি প্রণেত, সাং পানখাই।! ইনি খেজুরী থানার সর্বপ্রথম শিক্ষিত ব্যক্তি-কাঁথি মহকুমায় সৰ্ব্ব প্রথম এন্ট্রান্স পাশ করিয়াছিলেন । অধ্যাপক উপেন্দ্রনাথ বল এম. এ. (জাহানাবাদ) কলেজপাঠ্য ইতিহাস ও অর্থনীতি সম্বন্ধে কয়েকটা প্রশংসনীয় ইংরাজী পুস্তক প্রণয়ন করিয়াছেন। Dategatet 299-A Short History and Ethnology of the Cultivating Pods, হিজলীর মন ই-আলা, খেজুরী বন্দর, বঙ্গলক্ষ্মী ব্রতকথা, দুর্ভিক্ষের গান, দুন্দুভি, সমাজ-রেণু, পৌণ্ড ক্ষত্রিয়- কুলপ্রদীপ, কহিজলীর বিবরণ প্রভৃতি প্রণেতা এবং প্রতিজ্ঞা ও . পৌও ক্ষত্রিয় সমাচার সম্পাদক।
t; ৭]. হিসমিতি ও পাগল (১) দিলী বাহ্যি-সমিতি, সম্পাদক শ্রীচুনীলাল মণ্ডল। •• ••• (২) সাহিত্য মন্দির, অজানবাড়ী, সম্পাদক-ঐমিছরিলাল দত্ত, * . , (৩) বীণাপাণি লাইব্রেরী, কলাগাছিয়া, সম্পাদকীযঃমিনীভূষণ, আইতি। (৪) বীরবন্দর খাসমহাল ক্লাব, (খাসমহাল কর্মচারিগণের প্রযমে প্রতিষ্ঠিত)। আমােদপ্রমােদ (খিয়েটার (১) খেজুরী এমেচার থিয়েটার-পার্টি, ডাইরেক্টার--শ্রীমণীন্দ্রনাথ মণ্ডল, কশাড়িয়া। (২) হলুদবাড়ী, বীণাপাণি নাট্য-সমাজ, ডাইরেক্টার-রমেশচন্দ্র সেন-জগন্নাথ চক। (৩) কামারদা এমেচার-পার্টি-ডাইরেক্টার শ্ৰীক্ষীরােদচন্দ্র মাইতি। (৪) বীরবন্দর যােগেশবান্ধব নাট্যমন্দির-তত্ত্বাবধায়ক খাসমহাল কর্মচারিগণ। ৫) সেরাচক ১নং এমেচার পার্টি-ডাইরেক্টার শ্ৰীক্ষীরােদচন্দ্র মাইতি। (৬) সেখাচক ২নং এমেচার পার্টি-ডাইরেক্টার লালমােষন গুড়িয়া। । ৭) কত-এমেচার পাটি ডাইরেক্টার মণীন্দ্রনাথ প্রধান। ছাপাখানা (১) অজয়া শীতলা প্রেস, স্বত্ত্বাধিকারী—শ্রীকামিনীকান্ত পাহাড়ী। (২) হলুদবাড়ী বীণাপাণি প্রেস, স্বত্বাধিকারী-শ্রীললিতকুমার মাইতি। (৩) দেখালী কল্যাণী প্রেস, স্বত্বাধিকারী-শ্রীকেদারনাথ সামন্ত। প্রাচীন মন্দির মজিদাদি- নিজ কসবা গ্রামে তাজখ মই-আলার মসজিদ ও সমাধিমঞ্চ, (৬৮) ; জেলে মেহদিনগর গ্রামে। ভীমেশ্বর মহাদেবের (তাজ খাঁ মসন-ই-আলার দেওয়ান ভীমসেন মহাপাত্র স্থাপিত) মন্দির-গােপীচক গ্রামে চণ্ডী- কেশ্বর মহাদেবের মন্দির এবং খেজুরীগ্রামে শীতল ও জয়চণ্ডীর মন্দির প্রাচীন মন্দির ও মসজিদাদি মধ্যে অগ্রগণ্য। দামােদর চক গ্রামের নীল- কুমারীর স্থান ও প্রাচীন ; ঐ স্থানে এক্ষণে প্রতি বৎসর দোল পূর্ণিমার সময় চশিপ্রহর সংকীর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এই সময়ে এই স্থানে যথেষ্ট আতসবাজি পােড়ান হয়—তাহা স্থানীয় লােকের একটী দর্শনীয় বস্তু। নীল- কুমারী দেবীর ক্ষীরভােগ প্রসিদ্ধ। রামচক গ্রামে তুফানগাজী বা ‘তফর- গাজী পীরের আস্তানায় অসংখ্য মাটীর ঘােড়র গুপ একটী দর্শনীয় বস্তু। জাতি-ব্যবসায় মাহিষ, পৌণ্ড ক্ষত্রিয় ও করণাদি জাতির কৃষিই অবলম্বন। কৈবর্ত ও বাগীরা প্রধানতঃ মৎস্যজীবী; খেজুরী গ্রামের একশ্রেণীর মুসল- মান (“মেছে পাঠান*), হাড়ি ও কাওরাদেরও সময় সময় মৎস্য বিক্রয় করিতে দেখা যায়। ডােমেরা বাঁশ ও বেতের নিত্যব্যবহার্য জিনিস প্রস্তুত করিয়া বিক্রয় করে এবং বাদ্যকরের কাৰ্য্য করে। হাড়ির প্রধানতঃ বাদ্যকর ও পাল্কীজীবী। “দুলে’ নামক এক শ্রেণীর পাল্কীবাহক জাতি আছে। গােয়ালা জাতি দুধ, দই, ছানা, ক্ষীর প্রভৃতি বিক্রয় করে এবং এজন্য মহিষ পালন করে। যােগী জাতির সেলাই-কাৰ্য্য ও ভিক্ষা ব্যবসায়। শবর’ নামক জাতি সাপুড়ের ব্যবসায় করিয়া ভিক্ষা করে ; সময় সময় পক্ষী প্রভৃতি ধরিয় বিক্রয়ও করে। কোরজাভিধেয় জাতি হুকার নলিচা প্রস্তুত করিয়া বিক্রয় করে, সূত্রধরের কাৰ্য্যও করে। গরু- ছাগলাদির মুষ্ক ছেদন এই জাতির দ্বারা নির্বাহিত হয়। কর্মকার জাতি কামার ও স্বর্ণকারের কাৰ্য্য করে। কাটা সারা’ নামক মুসলমান জাতি মৎত ধরিবার জন্য ছিপের বড়শী ও রেশম, শর, বাঁশ এবং শৃঙ্গের চিরুণি প্রস্তুত ও মেরামৎ করে। ছাতা মেরামতও উহাদের শ্রেণীগত ব্যবসায়। তন্তুবায় জাতি তত বুনে; তেলীরা সরিষা, তিল, রেড়ির বীজ ও নারিকেল ঘানিতে ভাঙ্গিয়া তৈল প্রস্তুত ও বিক্রয় করে। সূত্রধর বা ছুতারের কাষ্ঠের কার্য্যের পরিবর্তে চিড়া, মুড়ি, হুড়ম প্রভৃতি ‘জলপান প্রস্তুত করিয়া বিক্রয় করে। অন্য কোনও উল্লেখযােগ্য ব্যবসায়ী জাতি নাই। সাধারণতঃ কৃষিই সকল জাতির অন্যতম ব্যবসায়। বঙ্গদেশের জাতি- বিভাগের সহিত কোন কােন স্থলে অসামঞ্জস্য আছে। যথা,-নবশাখ কুম্ভকার জল-অচল, দুগ্ধবিক্রয়ী গােপ বা গােয়ালা জলচল, এক শ্রেণীর বাগ্দীও জলচল দেখা যায়। ইহা উড়িষ্যার প্রথা বলিয়া মনে হয়। পূৰ্ব্বে উড়িষ্যার অনুকরণে ব্রাহ্মণের সমস্ত জল-চল ও জল-‘অচল জাতির নধ্যে বিধবাবিবাহ প্রচলিত ছিল, বেশ প্রমাণ পাওয়া যায়। এক্ষণে ঐ প্রথা নাই। উৎপন্ন, আমদানি ও রপ্তানি দ্রব্যাদি ঃ- হৈমন্তিক ধান্যই সৰ্ব্ব প্রধান উৎপন্ন ফসল, প্রতি বৎসর খেজুরী থানা হইতে প্রচুর ধান্য বিক্রয়ার্থ নৌকাযােগে হুগলী নদী ও হিজলী টাইডে ক্যানেল দিয়া কলিকাতাঞ্চলে বিক্রয়ার্থ প্রেরিত হয়। কলিকাতা হইতে ঐ সমস্ত নৌকাযােগে সৰ্ব্ব প্রকার নিত্যব্যবহার্য দ্রব্য আমদানি হইয়া স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রীত হয়। সরিষা, পাট প্রভৃতি অল্প উৎপন্ন হয়। গােলালু, কপি, বেগুণ প্রভৃতি তরিতরকারি যথেষ্ট জন্মে। খেজুরী ও মেহদি নগর প্রভৃতি গ্রাম দোআঁশ বালুকাময় মৃত্তিকাযুক্ত বলিয়া ফল ও তরিতরকারি উৎপাদনের পক্ষে বিশেষ অনুকূল। হুগলী নদীর মােহানার তীরবর্তী বালু-আড়িতে চৈত্র-বৈশাখ মাসে প্রচুর তরমুজ, ফুটি, কুড়া ও উচ্ছ। উৎপাদিত হইয়া উত্তরাঞ্চলে নন্দিগ্রাম থানায় এবং ২৪. পরগণার সুন্দরবন অঞ্চলে রপ্তানি হয়। খেজুরী, নিজস্ব, মেহদিনগর ।
[ ৭৩ ] প্রভৃতি গ্রাম হইতে বহুল পরিমাণে পাতি ও কাগজি লেবু, বাতাপি, চালতা, আনারস, বেল, পেঁপে প্রভৃতি ফল এবং মেটে-আলু (খাম-আলু) প্রভৃতি তরিতরকারি রপ্তানি হইয়া ঐ সমস্ত স্থানের হাটে বাজারে প্রচুর বিক্রীত হয়। তেঁতুলও অন্যতম রপ্তানি দ্রব্য। খেজুরী গ্রাম হইতে বাঁশ ও বেত প্রচুর পরিমাণে অন্যত্র বিক্রীত হয়। বাঁশ ও বেতে প্রস্তুত মাটির কাৰ্য্যে ব্যবহাৰ্য ঝুড়ি খেজুরী গ্রামের মুসলমানেরা বিক্রয় করিয়া থাকে । নিজকসবা, মেহদিনগর, ভাঙ্গনমারি ও খেজুরীর দরিদ্র মুসলমানেরা কৃবি- কাৰ্য্যের জন্য বর্ষায় ব্যবহাৰ্য্য তালপাতার ‘পাখি’ নামক শির ও পৃষ্ঠত্রাণ প্রস্তুত করিয়া যথেষ্ট বিক্রয় করে। ঐগুলি সুন্দরবনাঞ্চলে প্রচুর রপ্তানি হয়। বীরবন্দরের হাটে নৌকাযােগে পান, পেঁয়াজ, তঁাতের কাপড়, শরের ঝাঁপ, মাদুর প্রভৃতি খালপথে প্রতি হাটে বিক্রয়ার্থ আসিয়া থাকে। নিজক ও মেহদিনগরের বালুকা-ভূমিতে প্রচুর হিজলী বাদাম স্বভাবতঃ জন্মে। ঐ সমস্ত গ্রামে উত্তম মূল উৎপন্ন হয়। পূৰ্ব্বে নদীতীরবর্তী যশুয়া গ্রামে অগ্রহায়ণ পৌষ মাসে সামুদ্রিক মৎস্য ধরিবার জন্য ভিন্ন স্থান হইতে জেলেরা আসিয়া ‘খটি বসাইত। অধুনা কয়েক বৎসর তাহা বন্ধ হওয়ায়, দেশে কলেরা প্রভৃতি মহামারীর প্রকোপ হ্রাস হইয়াছে। বর্ষা ও শরৎকালে লােহামাছ খুব পাওয়া যায়। ভাষা -লিখন-পঠনের ভাষা বাঙ্গাল। প্রায় ৫০ বৎসর পূর্বে ওড়িরী ভাষার বহুল চলন ছিল। বৰ্তমান সময়ে উহা আদৌ প্রচলিত কথা কহিবার ভাষা বাঙ্গালার সহিত অল্প গুড়িয়া মিশ্রিত । প্রত্যেক জাতির মধ্যে কখনের ভাষার কিছু না কিছু তারতম্য দৃষ্ট হয় এবং অধিকাংশ স্থলে কথনে ভাষা হইতে জাতি-নির্ণয় শক্ত হয় না। কথার ক্রনশঃ ত জ্জিত হইয়া বলতে পরিণত হইতেছে ।
[ ১ ] ; পূজা-পার্বণ-রব্রদি- এতদঞ্চলে শীতলাéনা বহুল প্রচলিত। দুর্গোৎসবাদি অল্পই অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় প্রতি গ্রামেই গ্রাম্যদেবতার আরাধনায় শীতল ও চণ্ডীর পূজা হইয়া থাকে। কোনও কোনও স্থানে অষ্ট ও চবিবশ প্রহর কীৰ্ত্তনাদিসহ হরিনাম সঙ্কীর্তন ও তালপত্রে লিখিত জগন্নাথ দাসকৃত ওড়িয়া নবাক্ষরী পয়ারে লিখিত শ্রীমদ্ভাগবত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই শ্রীমদ্ভাগবতারাধনা ও পাঠ এ অঞ্চলে সর্বত্রই অতি বহুল ভাবে হইয়া থাকে; অধিবাসিরা প্রায় সকলেই বিষ্ণুমন্ত্রে দীক্ষিত। শাক্ত কচিৎ দৃষ্ট হয়। বঙ্গদেশে অনুষ্ঠিত অধিকাংশ বারব্ৰত এ অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হয় না। আবার এমন কতিপয় পূজা ও ব্ৰতাদির অনুষ্ঠান হয়, যাহা বঙ্গদেশে আচরিত হইতে দৃষ্ট হয় । যথা-আশ্বিনের সংক্রান্তিতে “নল” সংক্রান্তি বা নলখাগড়ার গাছে মিষ্টান্নাদি বাঁধিয়া ধান্যের জমিতে পুতিয়া ধান্যের গাছকে ‘সাধ’ খাওয়ান, অগ্রহায়ণ মাসের প্রতি বৃহস্পতিবারে নারীদিগের লক্ষ্মীপূজা ও ব্রত, পঞ্চক ব্রত, রাখী পূর্ণিমাতে গাে-পূজা (“গো মা পূর্ণিমা ), পৌষ- সংক্রান্তিতে বনি পূজা প্রভৃতি। ইতঃপূৰ্বে এতদঞ্চলে বহুল পরিমাণে সত্যনারায়ণের পূজা অনুষ্ঠিত হইত, এক্ষণে দৃষ্ট হয় না। কার্তিক, মাঘ ও বৈশাখ মাস পুণ্যমাস বলিয়া নিষ্ঠার সহিত প্রতিপালিত হয়। প্রচলিত সন- কাগজ পত্রে “আমলী” নামক সন প্রচলিত, ভাদ্র মাসের শেষে নূতন সন আরম্ভ হয়। বাঙ্গালা সনের সহিত এই সন বৈশাখ হইতে ভাদ্র পর্যন্ত এক ও অভিন্ন, আশ্বিন হইতে চৈত্ৰ পৰ্যন্ত একটী সংখ্যা বেশী। বাঙ্গালা সনও ক্রমশঃ বহুল প্রচলিত হইতে আরম্ভ হইয়াছে। জমির মাপ বিঘা কাঠা হিসাবে জমির পরিমাণ হয়। এই বিঘা কাঠা ষ্ট্যাণ্ডার্ড, [ ২ ] বিবার (৮• হাত =১/ বিঘা) অনুরূপ নহে। এই থানার সর্বপ্রধান দুইটী এষ্টেট, মাজনাযুা ও জলামুঠাভুক্ত মৌজাগুলিতে দুই প্রকার ভূমির পরিমাপ প্রচলিত। মাজনামুঠা এষ্টেটের মৌজাগুলির এক “না” বা কাঠা =৭ফুট ১২” ইঞ্চি ; এই “নলে”র এক চতুর্থাংশের নাম “চৌকা” অর্থাৎ ৪ চৌকায় ১ নল । ৪ পণে ১ চৌকা। দৈর্ঘ্য ২০ নল x প্রস্থ ১৬ নল-১/ বিঘা (ষ্ট্যাণ্ডার্ড বিঘার প্রায় ১ বিঘা ৮ কাঠা ]। এইরূপ জলা- মুঠা ষ্টেটের নলের মাপ ৮ ফুট ৬২” ইঞ্চি, ঐ নলের ২০ x১৬তে ১/ বিঘা ( ষ্ট্যাণ্ডার্ড প্রায় ১/ বিঘা ১২ কাঠা)। বাজার-ওজন সর্বত্রই ৮০ তােলার সের প্রচলিত। অজানঘাড়ীর হাটে ৯০ ভােলার ওজনে সের হিসাবে কেবলমাত্র চাউল ক্রয় বিক্রয় হয়। ধান্যের স্থানীয় পরিমাপ ‘মাণ’ নামক বেত্র-নিৰ্ম্মিত ধামার দ্বারা সৰ্ব্বত্র সম্পন্ন হয়। এক পূর্ণ ‘মাণে’ দশ সের হইতে কুড়ি সের পর্যন্ত ধান্য ধরে। ব্যক্তিগত ইচ্ছানুসারে এই মাণের আকৃতি বিভিন্ন হইলেও ধান্যের খরিদ-বিক্রয় এই মাণের পরিমাপকে ৮০ তােলার বাজার ওজনের সহিত মিলাইয়া মূল্য নির্ধারিত হয়। “মাণের পরিমাপ যাহা হউক না, উহার এক মাণ পরিমাণ সৰ্ব্বত্র চারি কাঠা বলিয়া গণ্য। ৪ মাণে এক ‘কুড়ি’, ২০ কুড়িতে এক ‘বিশ’ ও ১৬ বিশে এক সলি হয়। পাণ বিক্রয় শতকরা হিসাবে হয়। অন্য কোনও মাপের বিভিন্ন ব্যবহার দৃষ্ট হয় না। বাসহ এতদঞ্চলে বাসগৃহ সমস্তই মাটির দেওয়াল দ্বারা প্রস্তুত ; উপরে বাঁশ, হেতাল প্রভৃতি দ্বারা কাঠামাে ও উলুখড়ের দড়ির বাঁধুনি এবং খড় দ্বারা ছাউনি করা। ঘরগুলি পরস্পর স বন্ধ-অন্যান্য জেলার ঘরের ন্যায় পৃথক নহে, এই বিশেষ। সমাপ্ত বিজ্ঞাপন ‘প্রবাসী’, ‘ভারতবর্ষ’, ‘মাসিক বসুমতী' প্রভৃতি বিখ্যাত পত্রের লেখক,—প্রতিজ্ঞা ও ‘পৌণ্ড ক্ষত্রিয় সমাচার সম্পাদক শ্ৰীমহেন্দ্রনাথ করণ প্রণীত ঐতিহাসিক পুস্তক হিজলীর মসন-ই-আলা —যাহার জন্য সাহিত্যামােদী ইতিহাসপাঠলি সুধিবৃন্দ এতদিন চাঞ্চল্য ও উদগ্রীবতার সহিত অপেক্ষা করিতেছিলেন,—হিজলীর লােকবিশ্রুত নবাব রাজর্ষি তাজা মসনদ-ই-আলা ও হিজলীর তৎসাময়িক প্রত্নতত্ত্বসম্ভারে পরিপূর্ণ,—পাটন কলেজের স্বনামপ্রসিদ্ধ ইতিহাসধ্যাপক ‘সমসাময়িক ভারত এবং বহুপ্রখ্যাত ইংরাজী ও বাঙ্গালা গ্রন্থাবলী প্রণেতা শ্রীযুক্ত যােগীন্দ্রনাথ সমাদ্দার প্রত্নতত্ত্ব বাগীশ (বি. এ ; এফ. আর. জি, এস, এফ, আর. হিষ্ট, এস, এম. আর. এ. এস., বেনারস্ হিন্দুবিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলাে, পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য ইত্যাদি ইত্যাদি) মহােদয়ের লিখিত ভূমিকাযুক্ত এবং বহু হাফটোন চিত্র ও দুষ্প্রাপ্য মানচিত্রে ভূষিত হইয়া প্রকাশিত হইল। এই পুস্তকের পাণ্ডুলিপির কিয়দংশমাত্র পাঠে জগদ্বরেণ্য শ্ৰীযুক্ত প্রফুল্লচন্দ্র রায় মহাশয় গ্রন্থকারকে নিমােক্ত আশীৰ্বাণী প্রেরণে ধন্য করিয়াছেন- * গর:
[ ২ ] “যে ঐতিহাসিক বিবরণ লিখিতেছ ইহা অপূর্ব হইবে, এবং ইহাতে যথেষ্ট গবেষণার পরিচয় পাইলাম।” অধ্যাপক সমাদ্দার মহাশয় পাণ্ডুলিপিপাঠে গ্রন্থকারকে অনুগ্রহপূর্বক লিখিয়াছিলেন- “এ বিষয়ে আপনি যেরূপ পরিশ্রম করিয়াছেন, প্রাদেশিক ইতিহাস- লেখকের কেহই এরূপ করেন নাই।” ভূতপূৰ্ব ‘সুরভী’ সম্পাদক,‘বঙ্গসাহিত্যে মেদিনীপুর ‘বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতিচিহ্ন’ ‘মেদিনীপুরের ইতিহাস প্রভৃতি প্রণেতা লব্ধপ্রতিষ্ঠ সাহিত্যিক ও লেখক শ্ৰীযুক্ত যােগেশচন্দ্র বসু বিদ্যাবিনােদ এম. আর. এ. এস. মহােদয় এই গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিপাঠে গ্রন্থকারকে নিম্নোক্ত সম্বৰ্ধনার বাণীতে কৃতার্থ করিয়াছেন— * –Ms.টী এখনও শেষ করতে পারিনি” যত পড়ছি ততই মুগ্ধ হচ্ছি। আশ্চর্যান্বিত হচ্ছি, আপনার গবেষণা ও সংগ্রহ দেখে। আপনার কীর্তিতে আমাদের এই অসাড় ও নিশ্চেষ্ট মেদিনীপুরের মুখ উজ্জ্বল হবে - এটা সত্যসত্যই আমার অন্তরের কথা। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযােগ্য ভাইস চ্যান্সেলর আচাৰ্য যদুনাথ সরকার এম, এ, পি. আর. এস. সি. আই. ই.. এফ. আর. এইচ. এস. মহােদয়ের অনুগ্রহপ্রাপ্ত নানা দুষ্প্রাপ্য ফার্সী হস্ত- লিপি হইতে হিজলীর মৌলিক বৃত্তান্ত এই পুস্তকে সন্নিবেশিত হইয়াছে। সুদূর প্যারিস নগরে রক্ষিত অতি দুল ভ ফাসী হস্তলিপি ‘বহারিস্তানের হিজলী সম্বন্ধীয় আলােচনাযুক্ত একটি সম্পূর্ণ পৃষ্ঠা ও বহু মূল শিলালিপির হাফটোন প্রতিচিত্র ও অনুলিপি বিশুদ্ধ পাঠোদ্ধারসহ ইহাতে প্রদত্ত হইয়াছে। -গ্রন্থকার অকাট্য প্রমাণ-পরম্পরার সমাবেশ ধারা হিজলী সম্বন্ধে । L [ ৩ ] পাশ্চাত্য ও দেশীয় ঐতিহাসিকগণের অবলম্বিত বৃত্তান্তের 'ভ্রমাত্মকতা পদে পদে প্রতিপাদিত করিয়াছেন। প্রকৃত মৌলিক ইতিহাসের উপ- ভােগ করিতে হইলে—স্বদেশী লেখকের কৃতিত্ব, অধ্যবসায়, পরিশ্রম ও প্রতিভার প্রকৃত মূল্যবত্তা বুঝিতে হইলে—মাতৃভূমির প্রকৃত পুরাকাহিনী অবগত হইয়া গৌরব অনুভব করিতে হইলে—সকলে এই পুস্তক পাঠ করুন, এবং বাজে নাটক নভেল ক্রয়ে অর্থের অপব্যয় না করিয়া প্রকৃত সাহিত্য সম্পদ—বাণীর পবিত্র নির্মাল্য এই ইতিহাস একখণ্ড ক্রয় করিয়া গ্রন্থকারকে উৎসাহিত এবং দেশ ও মাতৃভাষার কল্যাণে সাহায্য করুন। উত্তম এন্টি কাগজে মুদ্রিত বৃহৎ পুস্তক, স্বর্ণাক্ষরে বিলাতী বাঁধাই মূল্য ৩ তিন টাকা মাত্র। গ্রন্থকারের আর একটী নূতন পুস্তক সচিত্র সমাজ রেণু [ কবিতা পুস্তক। হিন্দুসমাজের মর্মান্তিক অবিচারের চিত্রগুলি গ্রন্থকার কিরূপ হৃদয়- স্পর্শী ভাষায় ফুটাইয়া ভুলিয়াছেন—একবার পাঠ করিয়া আস্বাদন করুন । হিন্দুধর্মের এই বিপ্লবের সময় এই পুস্তকের প্রকাশ অতীব সমমােপযােগী হইয়াছে। প্রত্যেকে এক এক খণ্ড ক্রয় করিয়া গ্রন্থকারকে চরিতার্থ ‘সমাজ রেণু’ সম্বন্ধে কতিপয় অতিমত “কবিতা রচনায় লেখকের কেশ হাত আছে। আমরা দেশের মঙ্গলের অসমাজ রের বহুল প্রচার কামনা করি।” আম্মাজার পত্রিকা-২৭শে জৈষ্ট, ১৩৩৩ •—বর্ণনা ফটোর মত নিখুত, অয়েল পেন্টিং এর মত সজীব হইয়াছে। কবিতাগুলি বেশ সরল ও মর্মস্পর্শী সজীষ ভাষায় লিখিত। বিচিত্র অন্ত চিত্র এই পুস্তিকাখানির ছত্রে ছত্রে প্রকটিত রহিয়াছে।” নীহার-১৪ই আষাঢ়, ১৩৩৩ "প্রত্যেকটাই বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে চিত্রিত। সরল ছন্দে ও মধুর- ভাবে চিত্রগুলি সুন্দর ফুটিয়া উঠিয়াছে। অতি সহজ ও আড়ম্বরহীনপদ- সন্নিবেশে কবিতাগুলি বেশ উপভােগ্য হইয়াছে। লেখকের প্রাণ আছে- তাই আজ তিনি অচল মৃতকল্প-বিরাট-হিন্দুসমাজের ক্ষীণ বেদনাতুর প্রাণের সন্ধান পাইয়াছেন। হিজলী হিতৈষী-৯ই ভাদ্র, ১৩৩৩ “কবিতার ভিতর দিয়া হিন্দুজাতির সমাজের চিত্র গ্রন্থকার ফুটাইয়া তুলিতে চেষ্টা করিয়াছেন। পুস্তকখানি মন্দ হয় নাই।” হিন্দুসঙ্ঘ-১১ই ভাদ্র, ১৩৩৩ “উদ্যম প্রশংসনীয়। সমগ্র কবিতা বহিখানিই পড়িলাম, পড়িয়া ভালই লাগিল।” দৈনিক নায়ক-২২শে ভাদ্র, ১৩৩৩ “লেখকের চেষ্টা প্রশংসনীয় আত্মশক্তি-২৪শে ভাদ্র, ১৩৩৩ “যাহারা আধুনিক হিন্দুসমাজের বিষয় অবসরমত চিন্তা করিয়া থাকেন, তঁাহারা এই পুস্তক পাঠে লেখকের কবিত্ব ও সমাজচিন্তায় প্রকৃষ্ট পরিচয় পাইবেন। সময়২৫শে ভাদ্র, ১৩৩৩ “রাষ্ট্রীয় ও সমাজগত দোষগুলি বেশ উচ্ছাসের সহিত • ছন্দোবদ্ধ- ভাবে লেখক দেখাইয়াছেন। লেখার ছত্রে ছত্রে তাহার দেশপ্রেম লক্ষিত হয়। -: প্রবাসী-আশ্বিন, ১৩৩৩ ' [ ৫ ] হিন্দুসমাজের বর্তমান ক্ৰটী দেখাইয়া কৃতিত্বের সহিত কতকগুলি তীব্র মধুর কবিতায় গ্রন্থখানি সজ্জিত করা হইয়াছে। গ্রন্থকার হৃদয়- বান পুরুষ, তাই তাহার এ গ্রন্থ অনেক হৃদয় স্পর্শ করিয়া সমাজসংস্কারে : ব্রতী হইতে উৎসাহিত করিবে। ব্রাক্ষ্মণাদি অভিজাত সম্প্রদায় ইহা পাঠে 'আত্মত্রুটি উপলব্ধি করিতে সমর্থ হইবেন এবং নিম্নশ্রেণী বলিয়া কথিত জাতিসমূহ তাহাদের প্রকৃত স্থান নির্ণয়ে সমর্থ হইবেন!” মাতৃমন্দির-আশ্বিন, ১৩৩৩ “একটা ভাবকে কেন্দ্র করিয়া কবিতার সাহায্যে লােকশিক্ষা এই কাব্যগ্রন্থের মূল উদ্দেশ্য। অবজ্ঞা জাতির প্রতি হিন্দুসমাজের ব্যব- হারে যে দুরপণেয় কলঙ্ক রহিয়াছে, তাহা অধিকাংশ কবিতায়ই সুন্দরভাবে চিত্রিত হইয়াছে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘটনা সহজ অথচ মনােরমভাবে কবিতায় প্রকাশ করিয়া গ্রন্থকার বেশ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়াছেন।” মুক্তি—৩রা আশ্বিন, ১৩৩৩ “আমরা সৰ্বসাধারণকে এই পুস্তকখামি পাঠ করিতে অনুরােধ করি।” সত্যবাদী—৩রা আশ্বিন, ১৩৩৩ “Some portraits are very pathetic and at once appeal to the heart and provoke thought. We welcome this timely publication and congratulate the author on his poetic talent." Amrita Bazar Patrika.-Oct. 1926. “হিন্দুসমাজের কয়েকটা বাস্তবচিত্র এই পুস্তিকায় পদ্যে প্রকাশিত হইয়াছে। হিন্দুসমাজে আচারের নামে যে অনাচার, ধর্মের নামে যে অধৰ্ম্ম, বিচারের নামে যে অবিচার প্রবেশলাভ করিয়াছে, এগুলি তাহারই প্রতিচ্ছবি। সমাজের কর্তৃপক্ষগণ ইহা পাঠকালে ইহার মণ পৃষ্ঠে নিজেদের অরূপ দেখিয়া শিহরিয়া উঠিবেন।” বঙ্গবাণী- কার্তিক, ১৩৩৩ [ ৬ ] “ঘইখানিতে কতকগুলি প্রাণস্পর্শী সামাজিক চিত্রে হিন্দুসমাজে “আচারের নামে যে অসংখ্য অবিচার, অত্যাচার ও ব্যভিচায় প্রবেশ করিয়া দেশ ও ধর্মের অদ্ভুদ সর্বনাশ সাধন করিতেছে, তাহাই প্রতি লেখক কৰিচ্ছলে দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়াছেন। কাহিনীগুলির কয়েকটা “ভঞ্জমালের প্রাচীন আখ্যায়িকা। অন্যগুলি বর্তমান সমাজেরই প্রজা ঘটনা হইতে সঙ্কলিত। লেখায় রবিবাবুর প্রসিদ্ধ “কথা ও কাহিনীর ঝঙ্কার পাওয়া যায়। প্রতিশোেধ”, “প্রকৃত ব্রাহ্মণ্য” “পতিতের মান”, “জাতরক্ষা”, “সমাজ-ধৰ্ম্ম” প্রভৃতি ছবিগুলি চমৎকার বাস্তবতাপূর্ণ ও কারুণ্যোদ্দীপক। আমরা সর্বান্তকরণে সহৃদয় লেখকের উদ্দেশ্যের সাফল্য কামনা করি। প্রবর্তক-কার্তিক, ১৩৩৩ এই পুস্তকে গভীর স্বদেশপ্রীতির পরিচয় পাওয়া যায়। মােটের উপর কবিতাগুলি বড়ই হৃদয়গ্রাহী হইয়াছে। হিন্দুসমাজের এই ঘাের দুদ্দিনে কবি সমাজের নিখুঁত চিত্র অঙ্কন করিয়া দেশের মহদুপকার সাধন করিয়াছেন। পুস্তকখানি বাস্তবিক সময়ােপযােগী হইয়াছে। আমরা সকলকে পুস্তকখানি পড়িতে অনুরােধ করি।” ঘােগিসখা.•• কার্তিক, ১৩৩৩ কবিতাগুলির মধ্যে অনেকগুলি কবিতা অস্পৃশ্যতা সম্বন্ধে লেখা। ‘মাঙ্গলিক’, 'ভক্তের জয়’, ‘শূদ্রোদ্বোধন’ প্রভৃতি কবিতা বেশ সরস। লেখকের হাত আছে, ভাব ও ভাষা আছে। মােটের উপর পুস্তকখানি ছবিছাপার বেশ চিত্তাকর্ষক হইয়াছে।” মাধবী-কার্তিক, ১৩৩৩ “পুস্তকখানি পাঠে আমরা প্রীতিলাভ করিয়াছি। ছােট ছােট কতক- গুলি সস কবিতায় দেশ্নচারের বিসদৃশ অসামঞ্জস্য ও লােকাচারের [৭ ) { দুর্নীতির প্রতি বেশ একটু কটাক্ষপাত করা হইয়াছে। সমাজ যেন মূর্তিমান হইয়া শাস্ত্রজনের দুঃসহ ব্যভিচারের মর্মন্তুদ কাহিনী ব্যক্ত করিতেছেন। এই গ্রন্থপাঠে অনেকের চৈতন্য হইবার সম্ভাবনা। রচনার পারিপাট্যে এই জালাকর প্রতিবাদও বেশ সুখপাঠ্য হইয়াছে। সত্যই গ্রন্থখানির প্রশংসা না করিয়া থাকা যায় না।” কর্মারক্ষত্রিয় বান্ধব-অগ্রহায়ণ, ১৩৩৩ “গ্রন্থকার হিন্দুসমাজের কতকগুলি বিসদৃশ চিত্র মনােজ্ঞ কবিতায় গ্রথিত করিয়া বর্তমান হিন্দুজাগরণের অন্দোলনে সাহায্য করিয়াছেন। কবিতাগুলিতে সমাজের বাস্তব প্রতিবিম্ব সর্বত্র প্রতিফলিত। অতি শয়ােক্তির সমাবেশ নাই। গ্রন্থকারের কবিতা লেখার কৃতিত্ব চিত্রগুলিতে অতি চিত্তাকর্ষক করিয়া তুলিয়াছে। বর্তমান হিন্দু সংগঠনের যুগে এইরূপ পুস্তক হিন্দুধর্মকে শক্তিশালী করিতে সহায়তা করিবে । দেশ ও ধর্মের মঙ্গলের জন্য আমরা এইরূপ পুস্তকের সর্বত্র প্রচার কামনা করি।” স্বাস্থ্য-কার্তিক, ১৩৩৩ “সামাজিক দোষত্রুটির যে ছবিগুলি গ্রন্থকার আঁকিয়াছেন, তাহার ভিতর দিয়া তাহার মনের উদারতা ও দেশপ্রীতির পরিচয় পাওয়া যায়।” শরী—আশ্বিন, ১৩৩৩ ঋষিকল্প মনী,-বাঙ্গালীর ধ্বংসসন্মুখতার প্রকৃত নিদান-নিৰ্ণায়ক শ্ৰীযুক্ত লেগুনান্ট কর্ণে উপেন্দ্রমায় মুখাে- পাধ্যায় এম. ডি., আই. এম. এস. (অবসরপ্রাপ্ত) মহােদয় কৃপা- পূর্বক লিখিয়াছেন- “আজ কয়দিন হইল তােমার প্রণীত ‘সমাজ-রেণু পাইয়াছি। বহি- খানিও সমস্ত পড়িয়াছি। বাঙ্গালী হিন্দুদিগের যেরূপ দুরবস্থা সেরূপ দুরবস্থা, পৃথিবীর কোন জাতির কখনও হয় নাই। সাত শত বৎসরের [ ৮ ] পরাধীনতার পর এ জাতি মরিতে বসিয়াছে। আমাদের যে কিরূপ ভয়ঙ্কর অবস্থা অপর দেশের লােকে তাহা বুঝিতে পারে না। এরূপ বিকট অস্বাভাবিক আত্মঘাতী সামাজিক নিয়মের নামে দেশাচার কোনও দেশে কখনও উদ্ভাবিত হয় নাই। তােমার বহিখানির ভিতরকার ভাব লােকে বুঝিতে পারিবে না; যদি এ জাতি কখনও পুনর্জীবিত হয়,-যে মনের আবেগে বহিখানি লিখিয়াছ, তাহা কেহ কেহ বুঝিতে পারিবে। ইহার নাম ‘সমাজ-রেণু না হইয়া বাঙ্গালীর কলঙ্ক কাহিনী হইলে অধিকতর উপযুক্ত হইত।” বঙ্গীয় হিন্দুসমাজের অকৃত্রিম বান্ধব, “জাতিভেদাদি বিখ্যাত সামাজিক গ্রন্থপ্রণেতা শ্ৰীযুক্ত দিগিন্দ্রনারায়ণ ভট্টাচার্য্য বিদ্যাভূষণ মহাশয় লিখিয়াছেন— “আপনার বহিথানি আমার প্রাণের সুরে যে ঝঙ্কার দিয়াছে, তাহা ভাষায় লিখিয়া প্রকাশ করিবার নহে। আপনার লেখনীতে পুষ্পচন্দন বর্ষিত হউক।” ‘মর্মগাথা’, ‘চিত্তস্পন্দন’, ‘হাসির হল্লা’ প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থপ্রণেতা যশস্বী কবি শ্রীযুক্ত যতীন্দ্রপ্রসাদ ভট্টা- চাৰ্য মহাশয় লিখিয়াছেন— “আপনার ‘সমাজ-রেণু পড়িয়া সুখী হইয়াছি। পচা সমাজের দুর্গন্ধে আজ দেশে টেকা দায় হইয়াছে। আপনার লেখনীর খোঁচার ঘা হইতে পুজ ও রক্ত ঝরিতেছে। আশা জাগিয়াছে, হয়ত বা শীঘ্রই শুকাইয়া যাইবে। আশীৰ্বাদ করি, আপনার লেখনী জয়যুক্ত হউক। আপনি আমার গভীর প্রীতি ও আলিঙ্গন গ্রহণ করুন। ধত আপনি, লেখনীও খুলনা, নকীপুর হাইস্কুলের সুযােগ্য হেভূষ্টার, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ :[ ৪ ] অন্যতম গৌরব', শ্রীযুক্ত অনিলচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় বি. এ. (গােল্ডমেডালিষ্ট,) লিখিয়াছেন—.. “কবিতার প্রাঞ্জল ভাষায় সমাজের দুর্নীতিগুলির যে ছবি আঁকিয়াছেন তাহা. বাস্তবিকই মর্মস্পর্শ করে ও লেখকের দরদী প্রাণের পরিচয় দেয়। স্থবির স্বার্থান্ধ সমাজ-ধুরন্ধরেরা ধর্মের নামে যে বিরাট ভণ্ডামি চালাইতে ছেন, এই তথ্যগুলি তাহার মুখােস খুলিয়া শ্রমের মর্যাদাদানে হিন্দুকে উদ্বুদ্ধ করিতে সহায়তা করিবে এ আশা রাখি। “উইলিয়ম টেল” “ অশ্যের মুক্তি “বিধবা- বিবাহ” প্রভৃতি প্রণেতা শ্রীযুক্ত বিনয়কৃষ্ণ সেন বি এ. মহাশয় লিখিয়াছেন- “প্রায় সব কবিতাই ভাল লেগেছে। সমাজের দোষগুলি যে-ভাকে দেখিয়েছেন তা’ অভিনব।” গ্রন্থকার প্রণীত অন্যান্য কয়েকখানি পুস্তক 2. A Short History and Ethnology of the Cultivating Pods. [With a foreword by Dr. Panchanan Mitra M. A., P. R. S., Research Scholar and Professor of Anthropology, University College, Calcutta.] The book evinces an unknown chapter of the social history of Bengal, highly spoken of by the press and public. Every rue patriot and lover of history should read this. Extracts of some opinions :- John van Manen Esq., Librarian, Imperial Liabrary, "I have looked through your work carefully and [do] find it deckdedly interesting. I have no doubt it will prove useful for many a future reader and student.” Dr. Romesh Chandra Majumdar., M.A., P.R.S., M.R.A.S., M.O.C.B, etc., "You seem to have successfully demonstrated that the Pods have a glorious past." Prof. J N. Samaddar Pratnatatvabagish, B.A., F.R.E.S., F.R. Hist.S., M.R.S.A., M.R.A.S, Fellow and Reader in Ancient Indian History, Patna University, and Member, Hindu University, etc. "I have read with a good deal of interest and profit your book. Such literature is bound to emulate the future generation and as such its value is immense.". Sj. Hirendra Nath Dutt, Vedantaratua, M.A., P.R.S., F.T.S., etc. "I have read yonr book with intetest. It shows much research and painstaking care." Prof. Satis Chandra Mitra, BA., Kaviranjan M.R.A.S. (Principal, Hindu, Academy, Daulatpur,- the erudite schotar and author of the monumental historical work-A history of Jessore and Khulna, etc.) “I have been much impressed by it, specially by your erudite researches and charming manner of treatment which your book shows." "The Pods ought to be gratefnl to the author for his researches." The Tidián Daily News :-(March 20, 1920).
[ >> ] "The author has made out a good case for his contention." The Empire-(January 16, 1920.) "_Is more learned, as attractive on the outside as they are rich in their inner conients, We recommend it to all students of sociology and politics." The Modern Review (April, 1920.) “The work is a valuable addition to the store of historical literature, very few of which we have." The Amrita Bazar Patrika- (Jaouary 31, 1920.) The Bengalee :-( Dec. 21, 1919) [From a long rcview by Lt. Col. U. N. Mukherjee, M.D., I.M.S. (Retd)]. “The book lays down in clear aud convincing, language the origin of this simple agricultural community, Sj. Mahendra Nath Karan, and others like him are attempting what seems to be impossible." "It shows much origiuality and independence." The Devalaya Review :-(January, 1920.) “The author helps the cause by this timely publication for he brings to us knowledge which precedes action.” The Servant :-(May 11, 1922.) "It adduces convincing arguments." The Maharatta of Lolamanya Tilak (July 24, 1949)
[ ১২ ]
“লেখকের সত্যানুসন্ধিৎসা এবং তথ্য সংগ্রহে বিপুল উদ্যম ও অধ্যবসায়
দেখিয়া আমরা পুলকিত হইয়াছি। বাঙ্গালার জাতীয় ইতিহাসে এই গ্রন্থ
বিশিষ্ট স্থান অধিকার করিবে।” —ভারতী—১৩২৭, পৌষ ।
জাতিতত্ত্ব সম্বন্ধে উৎকৃষ্ট পুস্তক
-দৈনিক বসুমতী-১৩২৬, ২১শে মাঘ।
“ভাষা তেজোপূর্ণ, গভীর অনুসন্ধিৎসার পরিচায়ক”
-নায়ক-১৩২৬, ২২শে পৌষ।
“প্রত্নতত্ত্বের বিশুদ্ধ উপকরণ, কয়েক সহস্র গবর্ণমেন্ট কর্তৃক ক্রীত
হইয়া বিশিষ্ট লাইব্রেরীগুলিতে বিতরণবােগ্য
-বাঙ্গালী-১৩২৬, ১৫ই পৌষ।
“গভীর গবেষণার পরিচয় পাইয়া উপকৃত হইলাম”
-নব্যভারত-১৩২৭, বৈশাখ।
“নিপুণতার সহিত আলােচিত, অনুসন্ধিৎসা প্রশংসনীয়”
-তত্ত্ববােধিনী পত্রিকা-১৩২৯, আষাঢ়।
গ্রন্থকারের ভাষা ও সতর্ক লেখনী চালনায় এবং বিষয়সমাবেশ ও
প্রমাণ প্রয়ােগে যথেষ্ট কৃতিত্বের পরিচয় আছে
-খুলনা-১৩২৬, ৫ই চৈত্র।
“লেথকের ভাষা তেজস্বী, শাস্ত্রজ্ঞান গভীর, অনুসন্ধিৎসা ও বিচারশক্তি
প্রশংসনীয়
-জগঞ্জ্যোতি-১৩২৬, পৌষ।
ভারতবাসী এবং বিদেশীয় প্রত্নতত্ত্ববিদগণও ইহার দ্বারা বিশেষ উপকৃত
হইবেন
সময়-১৩২৬, ১৪ই চৈত্র।
“বহু জ্ঞাতব্য বিষয় রহিয়াছে। পুস্তকখানির বহুল প্রচার কামনা
শখ-১৩২৯,৮ই বৈশাখ।
[ ১৩ ]
y০
৩। বঙ্গলী ব্রতকথা-( স্বদেশী আন্দোলনের
সময় লিখিত )
মূল্য •
৪। দুর্ভিক্ষের গান-(যন্ত্রস্থ )
৫। দুন্দুভি-বাঙ্গালী সৈন্যের রণােদ্দীপক কবিতা
পুস্তক, জৰ্ম্মণ-যুদ্ধের সময় লিখিত (যন্ত্রস্থ )
পৌণ্ড ক্ষত্রিয়-কুলপ্রদীপ-পোক্ষত্রিয়
জাতির ইতিবৃত্তমূলক বৃহৎ পুস্তক, (যন্ত্রস্থ )
৭। ক হিজলার বিবরণ-হিজলীর
ইতিহাস গ্রন্থমালা--তৃতীয় খণ্ড (যন্ত্রস্থ )
শ্রীকৌস্তুভকান্তিকরণ ও
শ্রীকোহিনুরকান্তি করণ
‘ক্ষেমানন্দ কুটীর
ভাঙ্গনমারি, জনকা পােঃ-মেদিনীপুর।
বঙ্গের অপ্রতিদ্বন্দ্বী সমাজ-সংস্কারক ও যুগান্তরকারী লেখক শ্ৰীযুক্ত
দিগিন্দ্রনারায়ণ ভট্টাচাৰ্য্য বিদ্যাভূষণ মহাশয়ের সমস্ত সামাজিক গ্রন্থাবলী
উপরােক্ত ঠিকানায় প্রাপ্তব্য। ১০ অর্ধ আনার পােষ্টেজ পাঠাইলে
বিস্তৃত তালিকাপুস্তক পাঠান যায়।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.