Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Hasir Tora Ed. 2nd

Bhattacharyya, Mohinimohan · 2010/02/15

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

ও নমাে নরদায়
সচিত্র
হাসির তােড়া
১
(BROAD-Grins)
( প্রথম ও দ্বিতীয় স্তবক)
মােহিনীমােহন ভট্টাচাৰ্য বি, এ
প্রণীত।
এw us
( দ্বিতীয় সংস্করণ)
ঘােড়ামারা, রাজশাহী।
ভাদ্র-১৩২৭।
All Rights Reserreu.
মূল্য ৫০ আনা।

প্রকাশক ঃ-
শ্রীভূপেন্দ্রচন্দ্র দাস এম্, এস সি
on behali of
Bhatta Das Dutta Choudhuri
Printed liy T. C. Das
ul the Cherry Press Liu.
93/14, Bowbazar Street, Calcutta.

প্রাক্ত-উপহার
To
By
•••
তারিখ
০ ০ ৫।
৪ । । ।

No text on this page.

সুচীপত্র প্রভাত বর্ণন কলেজের ছাত্র ৩। দশের কথা ১৮ ২৪ ৩২ ... ১৭ ৪। বরের দোকান আজব দেশ ( A land of oddities } অভ্যস্ত বুলি ৭। বাঙ্গাল কবির আত্মকাহিনী ৮। আদর্শ স্কুল বয় আমাদের দেশ ১। বােডিং জীবন ১১। “ট”এর ট্রেনে চড়া ১২। আক্ষেপ বড় লােক ও ছােট লােক = ০ ০ ৮০০ ১৪। সুখ তত্ত্ব ৮৪ ৮৮ ১৬। প্রাইভেট-টিউটার সব সমান ১৮। নীতি-পঞ্চাশৎ ( Fifty.morals ) ১৯। বিজ্ঞাপন-বৈচিত্র ১২৭ ০৫ ১৪ • ২০। "Wanted" . . ১৪৪

No text on this page.

গ্রন্থকারের নিবেদন, ‘হাসির গােড়ার দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হইল। অর্থাভাবে ও পারিবারিক নানা ঝাটে ‘হাসির তােড়ার পুনঃ প্রকাশ বন্ধ ছিল। কতিপয় বন্ধ সাহায্য করায় কাগজের এই মহার্ঘ্যতার দিনেও ইহার পুনঃ প্রকাশ সম্ভবপর্য হইল। রাজসাহী গভর্ণমেন্ট কলেজের প্রবীন অধ্যাপক শ্রীযুক্ত যতীন্দ্র চন্দ্র গুহ এ, এ, ও বঙ্গের হাস্যরসাত্মক গদ্য-সাহিত্যের সুপ্রসিদ্ধ লেখক ও সমালােচক শ্রীযুক্ত ললিত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্যার, এম, এ, মহােদয় বিশেষ যত্নসহকারে ‘হাসির তোড়ার আদ্যোপান্ত দেখিয়া দিয়া এবং শ্রদ্ধেয় ললিত বাবু শয্যাগত-কাতর অবস্থাতেও ‘হাসির তােড়র' ভূমিকা লিখিয়া দিয়া হাসির তোেড়া’কে অশেষ গৌরবমণ্ডিত করিয়াছেন। এ জন্য তাহাদিগকে আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করিতেছি। ‘মুখে হাসি বুকে ব্যথা লইয়া হাসির তােড়া’ বঙ্গের পাঠক পাঠিকার সম্মুখে উপস্থিত হইল। একজনও যদি ইহার মনের কথা বুঝিয়া আপনার দেশের দিকে সমাজের দিকে তাকান তবেই আমার পরিশ্রম সার্থক জ্ঞান করিব। চেষ্টা সত্ত্বেও যে সমস্ত প্রম, প্রমাদ ও ক্রটী রহিয়া গেল—তাহার জন্য পাঠকপাঠিকার নিকট মার্জনা ভিক্ষা করিতেছি। তেঘড়ীভট্ট পােঃ আঃআটিয়া-মহম্মদপুর (টাঙ্গাইল) মােহিনীমােহন ভট্টাচার্য্য

No text on this page.

ভূমিকা 2 হাসির তােড়া” নামটি দেখিয়াই হয়ত কেহ কেহ ভাবিবেন এটি ছাপায় ভুল অথবা বাঙ্গালা ভাষার ‘কায়া’য় যে অনর্থক ‘আ’কার-গ্রহণের রেওয়াজ আছে ইহাও তাহারই জের ; প্রকৃত পাঠ -হাসির ‘তােড়’ অর্থাৎ প্রবল বেগ। ফুলের তােড়া’ ‘টাকার তােড়া- এই ত জানি; হাসির তােড়া আবার কিরূপ? অজ্ঞাতনামা কবি ইংরেজীতে ছড়া বাঁধিয়াছেন, "Money, money, money ! Brighter than sunshine, sweeter than honey," আমরা ইহার পাল্টা-হিসাবে বলিতে পারি, শুভ সংযত হাস্য সূৰ্য্যালােক অপেক্ষাও উজ্জল, মধু অপেক্ষা ও মধুর, আবার রজত-কাঞ্চন অপেক্ষাও মূল্যবান, কুসুম-স্তবক অপেক্ষাও মােলায়েম ও মনােজ্ঞ। সুতরাং ‘হাসির তােড়া' নামকরণ ঠিকই হইয়াছে। হাসি মানবের নিজস্ব সম্পত্তি। বৈজ্ঞানিকগণ মানবের সহিত ইতর জীবের প্রভেদ নির্দেশ করিতে গিয়া বলিয়াছেন, প্রাণিজগতে একমাত্র মানুষই হাসিতে জানে। হাসি সুস্থ মানবত্বের লক্ষণ। অদৃষ্ট-বৈগুণ্যে অন্নকষ্ট মহামারী প্রভৃতি নানা উপদ্রব-প্রপীড়িত বাঙ্গালী আর আগেকার মত হাসিতে পারে না। সঙ্গে সঙ্গে বাঙ্গালা সাহিত্যেও যেন বাঙ্গালীর দুরদৃষ্ট-বশতঃ হাস্যরসিকগণের ক্রমেই তিরােধান হইতেছে। হুতােম টেকচঁাদ বহুদিন হইতেই নীরব, গুপ্তকবি লুপ্ত। T বঙ্কিমচন্দ্র বাঙ্গালার সাহিত্যাকাশ হইতে অন্তহিত। ইন্দ্রনাথ ঘােগে- চন্দ্র অক্ষয়চন্দ্র আর নাই। রবীন্দ্রনাথ ‘হাস্যকৌতুক’ ‘ব্যঙ্গকৌতুকের বহু উর্দ্ধে উঠিয়া আধ্যাত্মিকতার মহাব্যোমে সঞ্চরণ করিতেছেন। অমৃতলালের হাস্য অমৃতের সিন্ধু’ আজ রােগ ও জুরার নিষ্পেষণে বিশীর্ণ বিক। দ্বিজেন্দ্রলাল-রজনীকান্ত অস্তমিত। বাঙ্গালা সাহিত্য আর এখন হাস্যরসের অজস্র অনাবিল ধারায় অভিষিক্ত নহে। এক বীরবল সবুজ পত্রে’র আবডালে শশান জাগরণ করিতেছেন। ফলতঃ একদিকে আধদবিক আধিভৌতিক উৎপাতের আবির্ভাবে, অপর দিকে শক্তিশালী হাস্যরসিক লেখকগণের তিরােভাবে, বাঙ্গালীর হাসির সাগরে ভাটার টান পড়িয়াছে এই দুর্দিনে নবীন লেখক শ্ৰীযুক্ত মােহিনীমােহন ভট্টাচাৰ্য মােহন তুলিকায় হাসির চিত্র অঙ্কিত করিয়া বঙ্গসাহিত্যের আঙ্গিনা সাজ- ইয়াছেন। আমরা কি এই চিত্র গুলি সাদরে গ্রহণ করিব না ? এ গুলিতে অতি উচ্চ শ্রেণীর প্রতিভার পরিচয় না থাকিলে ও হাস্য- কৌতুকের এই দুর্ভিক্ষের দিনে তাহার প্রদত্ত মুষ্টিভিক্ষা বাঙ্গালীর অবসাদগ্রস্ত দেহমনে নবজীবন সঞ্চার করিবে। দশ বৎসর পূর্বে তিনি ছাত্রাবস্থায় ক্ষুদ্র আকারে হাসির জােড়া বাধিয়া বাঙ্গালী পাঠক- সমাজকে উপহার দিয়াছিলেন। তখন দ্বিজেন্দ্রলাল-রজনীকান্তের উচ্চহাস্যে বাঙ্গালার আসর জমজমাট। তথাপি তাহার ক্ষুদ্র তোড়ার আদর হইয়াছিল বাঙ্গালী পাঠক আগ্রহের সহিত অতি অল্পদিনের মধ্যেই সমগ্ৰ সংস্করণ নিঃশেষ করিয়াছিল। সেই অবধি পুস্তক আর ছাপ নাই। বহু পাঠক নুতন সংস্করণের জন্য উদগ্রীব রহিয়াছেন। এত দিনে গ্রন্থকার সেই ক্ষুদ্র পুস্তকখানি পরিবর্ধিত ও সংশােধিত করিয়া নূতন সংস্করণ বাহির করিলেন। আশা করা যায়, পূৰ্ব্বাপেক্ষাও এবার ‘হাসির তােড়া’র আদর হইবে। কেননা এখন দশ বৎসরের অভিজ্ঞতার ফলে রচনা পূৰ্ব্বাপেক্ষা পরিপক। (আনন্দের প্রাণ-খােলা হাসি বড় মিষ্ট। ইহা ছাড়া আর এক রকম হাসি আছে, তাই একটু অম্ল-মধুর, একটু মিঠে-কড়া। কিন্তু তাহ। সমাজের অধিকতর উপকারী ও প্রয়ােজনীয়। উচ্চশ্রেণীর হাস্যরসিক- গণ সেই রসেরই কারবারী। তাহার উদ্দেশ্য নাগরিক বৃত্তি-অবলম্বনে, শ্লেষ-ব্যাজস্তুতি ব্যঙ্গবিদ্রুপের ভিতর দিয়া, পরােক্ষভাবে সমাজের গলদ দেখান ও তাহার সংশােধনের চেষ্টা। মােহিনীমােহনের অধিকাংশ হাসির কবিতাই সেই ভাব-প্রণােদিত। তিনি সমাজে যেখানে অনাচার অত্যাচার কপটতা ভান দেখিয়াছেন, সেখানেই নিপুণ তুলিকার স্পর্শে তাহার চিত্র ফুটাইয়াছেন, হাস্যকৌতুকের ( Rontgen-rav's ) রঞ্জন- রশ্মি-সম্পাতে সেই সব গলদ ধরাইয়া দিয়াছেন, সমাজের প্রকৃত স্বরূপ প্রদর্শন করিয়াছেন। ছাত্রাবস্থা ও শিক্ষকতা এই উভয় জীবনেরই তাহার অভিজ্ঞতা আছে, তাহার ফলে তিনি ছাত্র-জীবন হইতে অনেকগুলি চিত্রের উপকরণ সংগ্রহ করিয়াছেন। সুতরাং ছাত্র-সম্প্রদায় মােহিনী- মােহনের এই রসভাণ্ডার হইতে আনন্দ-উপভােগের, তথা পরােক্ষে শিক্ষালাভের যথেষ্ট খােরাক পাইবেন। সাধারণ পাঠকও এই আনন্দ- উপালগ ও পরােক্ষে শিক্ষালাভ হইতে বঞ্চিত হইবেন না) গ্রন্থকার বর্তমান লেখকের উপর প্রতিশ্রদ্ধা-বশতঃ ভূমিকা লেখার ভার দিয়াছেন। তাহার এই প্রীতি-শ্রদ্ধার উপযুক্ত প্রতিদান করিতে না পারি, তাহার উপাদেয় পুস্তকের উপযােগী মুখবন্ধ লিখিতে না পারিয়া লজ্জিত ও দুঃখিত হইলাম। তাহার যৌবনের আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সহিত সুর মিলাইয়া ভূমিকা লিখিব, এই প্রৌঢ় বয়সে সে শক্তি কোথায় ? বিশ্বেশ্বরের বিধানে আমার হাসির ফোয়ারা শুকাইয়াছে, সুতরাং এমন

T
( ৪ )
সরস পুস্তকের ভূমিকা নিতান্ত নীরস হইল। তবে এই ভরস, কর্কশ
কণ্ঠে ‘বেল ফুল’ হাঁকিয়েও বেল ফুলের সৌরভ নষ্ট হয় না; আমার
নীরস ভূমিকায় ‘হাসির তাে’র পরিচয় প্রদত্ত হইলে ও ‘হাসির তােড়া’র
মনােহারিতা কমিবে না। ইত্যলমতিবিস্তরেণ।
;
বঙ্গবাসী কলেজ,
কলিকাতা।
ললিতকুমার শর্ম
(বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভাদ্র ১৩২৭।

হাসির হাট

No text on this page.

li,
99%
ভতবর্ণন
খােকা সব করে রব, রাতি পােহাইল,
খুকী সব কীল খেয়ে ‘কাঁদন’ জুড়িল ।
ঘুমন্ত স্বামীর নাকে বাজিছে সাহানা,
নববধূ চুপে চুপে ত্যজিল বিছানা)
বাসন-পর্বত-পাশে ‘ঝি’য়ের ঝঙ্কার ।
ঝাঁটা হাতে রাজপথে এল ঝাড়দার ;
বায়ুসেবী ছড়ি হাতে হইল বাহির,
‘ষ্টেথােস্কোপ' পকেটেতে ডাক্তার হাজির,
উকিল গম্ভীর হয়ে বসে সেরেস্তায়,
দোকানী তুলিছে হাই ক্রেতার আশায়);
‘প্রিভিতে’ বসিয়া বাবু সিগারেট-মুখে,
‘বেয়ারা’ ‘বেয়ারা’ বলি কালাসাহেব হাঁকে।
টেবিলে আসিল ‘টি, যুদ্ধের খবর
সম্পাদক চক্ষু বুজে কাটছে জাবর !
সাবান্ মাখিছে গালে নাপিত-নন্দন।
ছােলাভােজ-স্যাণ্ডে সব করে বুম্ভ,

•
;
বােকা ছেলে মুখ ধুয়ে পাঠে দিল মন,
বুদ্ধিমান্ চক্ষু বুজে ঘষিছে দাঁতন !
নয়ন মুদিয়া গিন্নী গুড়া দেন দতে,
‘জগড়নাথ’ তৈল মাখি চলিলা নদীতে ;
মল-গন্ধা মন্দাকিনী ছুটে কল্ কল,
নবাব শুইয়া ড্রেনে খুজিছে বােতল !
মেথর-যুবতী চলে বাতি-মাথায়,
মদন ঢাকিয়া না ফিরে ফিরে চায় ।
আশায় অধীর হয়ে ধায় উমেদার,
নােট’বুক হাতে ছুটে প্রাইভেট-টিচার
চাকর বাজারে ধায় হাতেতে খালুই,
অজীর্ণের মহৌষধ ভাজিছে হালুই!
রাধাকৃষ্ণ-নাম-ছাপ সর্বাঙ্গে মারিয়া,
আনন্দে বাবাজী নাচে মাতাজী লইয়া।
ব্রাহ্মণ পূজায় বসে মাখিয়া চন্দন,
কেহ করে নিরাকার ব্রহ্ম-দরশন !
পেটীকোট, হ্যাট, বুট, সু, ও ছেড়া-চটি,
গাউন্, চমা, ধুতি, ছাতি, টাকি, ঘটি ;
Beg-your-pardonDon't care'কেয়াবাৎ মােচ
রংদার নেটাই, Forget-not ব্রোচ,
কারুলিং-মেসি-মেড টেড়ি নানা জাতি,
তাপাতার সেপাই ও দুই পায়া-হাতী ;

;
[ ৩ ]
ঢাকাইছাট, ফেঞ্চ-কাট, মােগলাই-দাড়ী,
চেপ্টা গােল, ঢােলাকার নানাবিধ ভুড়ি ;
নেভিকাট, সিজারস্, থি ক্যাসল, বিড়ি,
ট ট, বাইক, মটর, শ্যাম্পেন, জুড়ি,
মৃগচক্ষু, বিড়ালাক্ষী, সুমেরু-কুমেরু !
সােনালী-রূপালী-কাল নানাবিধ ভুরু,
‘মঙ্গোলিয়া', মন্ট-এভারেষ্ট’, ‘কেকমােরিনা,
‘টেবল, ল্যাণ্ড, ওয়েসিস্’ নানাবিধ টাক ;
‘রা-হাইড়ো-“উড়ে-গােদ’, ‘মাদ্ৰাজী-ঘ্যাগ’ *
গ্ল্যাডষ্টো-ক্যাভা-আফগানী-ব্যাগ, ;
গুড মর্নিং, হাসে, হাডুডু নমস্কার,
মিস্ মিসেস, বাবু, সার, ডক্টার, মিষ্টার,
তর্ক, গল্প, প্রেমালাপ, কোলাহল, হাসি
রাস্তা দিয়ে অবিরাম যাচ্ছে পাশাপাশি।
হা করে চেয়ে কবি!—হাতেতে পেন্সিল,
পদ্য গদ্য একাকার !–বিষম-মুস্কিল ।
‘যাগ -গলগণ্ড।

কলেজে
ছিল
(ব্যাঙের মুর)
(১)
শুন, আমি গাে কেমন ছাত্র,
সাহটীবার পফেলর পরে,
পাশ করেছি গো মাত্র।
এখন কলেজে পড়ি,
শনিবারে যাই বাড়ী,
কনের বাপেতে ঘর ভরে যায়,
(কারণ) আমি পাশ-করা পাত্র !
(২)
আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা গ্রামের একমুখে সবে বলে,
হয়নি, নাই, হবেনা কখনন, এমন তুষাের ছেলে !”
কিন্তু, বাবার বুদ্ধি নাই,
পরীক্ষা নিকটে তাই,
বিবাহ দিবার নাটী করে না।
রাগে জলে মাের গাত্র।

[ ৫ ?
(৩)
ক্ষুর ছয় মাস করে ব্যবহার, মােচের কৃষ্ণ রেখা-
ওষ্ঠ উপরে দুই এক গাছি, ধীরে যাইতেছে দেখা !
চোখের defect নাই,
চসমা নিয়েছি তাই,
Zero-power গােন্ডেন-ফ্রেম,
ছেড়েছি চাদর ছত্র !
(৪)
কখনাে পরি রিষ্ট-ওয়াচ, কখনাে পকেট ঘড়ি,
চেষ্টী পলিশ-ব্রাউন-লেদার, কখনাে বা আইভরি ;
ওয়াকিং-ষ্টি হাতে,
দৃষ্টি ঊদ্ধ পথে ;
চলনটি মাের কায়দামাফিক,
কসুর নেই গো কুত্র !
(৫)
Morning-duty দস্ত-ধাবন, স্পিরিটুষ্টোটি জ্বালা
Condensed-milkua Lipton's Tea 597 6727565101,
মাঝে মাঝে খাে-গল্প,
পড়ার সময় অল্প,
তাই কোনরূপে ইংলিস্টা
দেখেনি দু’ এক ছত্র !

[ ৬ ]
(৬)
নিত্যই গায়ে সাবান মাখি, চুলে কাটি বাঁকা টেড়ি,
সিগারেট, ম্যাচে রাখতে হয় গাে দুইটি পকেট ভরি !
তাই খরচটা কিছু বেশী,
দুই মাসে গড়ে আশী!
বাবা যদি তায় বলে কোন কথা,
বন্ধ করি চিঠি-পত্র ।
(৭)
অাপত্তি কখনাে নাইকো আমার লুচি মাংস আর চপে,
মনটি সদাই পড়িয়া থাকে ‘রহিম’ ঠাকুরের shopএ!
মাকে দিয়ে নানা ফাঁকি,
মাঝে মাঝে শুধি বাকি,
তবু, গরীব পিতার কন্যার মত,
বাড়ে দেনা দিন রাত্র !
(৮)
বছরের মধ্যে নয় মাস ভাই বইএর লইনে খোজ,
(কিন্তু) ইয়ার-বন্ধুর হাত ধরে ভ্রমণ চাই-ই প্রতি বােজ।
এদিকে ‘তালাইমারী’ *
ওদিকেও কাছারী,
ঘুরি Recurring decimal সম
খুলিয়ে গল্প সত্ৰ !
রাজশাহী শহরের স্থান বিশেষ।
}

[ ]
(৯)
দুপুরবেলায় প্রায়ই করি ইস্তক-বিন্তি কাবার,
কোন্ দিন পাশার শ্রাদ্ধ, কিস্তিমাৎ দাবার,
(কিন্তু) রেজিষ্টারিতে ভাই
কভু Absent নাই !
Proxyতেই ও কাজটা চালান্
আমার জনৈক মিত্র।
(১০)
আরামটি ভাই স্কুলের থেকে কলেজে অনেক বেশী,
পড়া-জিজ্ঞাসা নাইকো হেথা, নাইকো কষাকষি
নাইকো নাসিকা-ডলা,
সুমধুর কাণ-মলা,
নাইকো হেথা ‘বােম্বাই-কীল’,
পণ্ডিতমশায়ের বেত্র !
(১১)
পড়াটি শিখে কোন কালেই যাইনে আমি ক্লাশে,
(আর) প্রােফেসার যদি ভুলক্রমে, প্রশ্ন করেই বসে,
তাতেও করিনে ভয়,
আমি তেমন ছেলেই নয়!
অমনি বলিয়া May I go out Sir'
উধাও যত্র তত্র !

(১২)
পানেতে প্রচুর গুণ্ডি সূর্তি, নাসিকায় টানি নস্য,
Leisure hourএ আসর জমাই চারিদিকে বহু শিষ্য ।
লেকচারার প্রােফেসার,
কেবা good কে better,
594 best 'good-for-nothing'
ডিগ্রি-হােল্ডার মাত্র !
(১৩)
কেইবা শুধু হাত পা ছুড়েন ! কেইবা উঠেন ঘেমে
You see you see' 'That is to say'-
মাঝে মাঝে যান থেমে।
কেবা চুলকান মাথা,
কার শুধু বাজে কথা,
কার বা সম্বল yes’ আর ‘no
বড় বড় দুটী নেত্র !
(১৪)
এ সব চর্চা করেগাে মধুর সরস-পত্নী-তত্ত্ব
‘বিবাহ-রাতির হঠাৎ-প্রেমের সুরসাল-ইতিবৃত্ত !
‘কারটি এখনাে বালিকা,
‘কাহার কয়টি শ্যালিকা,
কোন্ জন লিখে দশপাতা চিঠি
‘কে পায় ক'খানা পত্র’
-

[ ১ ]
(১৫)
“টিফিন খাওয়ার পয়সা বাঁচিয়ে কেবা দেয় “উপহার” ?
পছন্দসই পাত্রী না হলে কেবা রবে bachelor
‘কারটা কেমন রূপসী’,
‘কিশােরী কিম্বা ঘােড়শী
‘বিয়ের বছরে সব করে মাটী
কাহার হয়েছে পুত্র !
(১৬)
Permanently দখল করেছি পাছের বেঞ্চটাকে,
প্রােফেসর বলে,“No noise please” আমার নাকের ডাকে।
রেজেষ্টি যেমনি হয়,
'আবার কাহারে ভয় ?
মাথা নীচু করে চম্পট দেই,
রইনে ক্ষণে তত্র !
(১৭)
পড়ার সময় ঘুমিয়ে কাটাই, ঘুমের সময় পড়ি,
পরীক্ষাটী নিকটে আসিলে, রাত জেগে জেগে মরি!
প্রতিজ্ঞা করিয়ে কই,
‘এবার যদি পাশ হই
নােটের বাপের শ্রাদ্ধ করিব
সকাল-বিকাল-পাত্র !

[ ১০)
(১৮)
পরীক্ষার হলে”, হাতখানি চলে, পাঞ্জাব মেলের গাড়ী।
বাজিতে ‘বেল, বের হয়ে আসি, লিখি খাতা খান্ কুড়ি ।
(কিন্তু) নম্বর ‘গােল-আলু !
দেখিয়ে শুকায় তাল !
বলি—“পরীক্ষটাই বড় partial
নাই সন্দেহ মাত্র !

es
শের কথা
মামলা করে মিয়াজা চাচা
রেহান রেখে বাড়ী,
উকীল বাবু মহােল্লাসে
কিনেন্ জুড়ি-গাড়ী !
মফঃস্বলে ম্যালেরিয়ার
মাত্রই “লেজার” নাই,
ডাক্তার-গিন্নী গোঁ ধরেছেন
নেলে এবার চাই ।
বাকী-খাজনায় নীলাম হল
প্রজার ঘর বাড়ী,
দেখতে দেখতে ফুলে উঠল
নায়েব বাবুর ভুড়ি!

f
১২ ]
উমেদার মল গলায় গেঁথে
সার্টিফিকেটের মালা,
ঢারিটী পেল হেড-অফিসের
বড় বাবুব শালা !
মেহের মিঞার সর্বস্ব
চোরেরা নিল লুটে,
‘থা ছিল তাহাও গেল
জোর তদন্তের চোটে ।
জমিদার বাড়ী হৈ রৈ ।
পােষ্য-পুত্রের বিয়ে,
অধরদাস করছে উপাস
ছেলে-পেলে-স্ত্রী নিয়ে ।
“ঈগল-সিংহে” করে লড়াই,
‘ধানের’ বেরােয় প্রাণ,
মেহন বার ‘ফন পরে
শ্বশুর বাড়ী যান ।
সহর থেকে বাইজি এল—
রাজার মেয়ের বিয়ে,

[ ১৩ ।
বিদ্যাভূষণ ভিক্ষা মাগে
বিব্রত কন্যা দায়ে
পাচ করেছে পলায়ন,
গৃহিণী যাননা পাকে,
উকীল বাবু উদর পূর্ণ
কচ্ছেন চিপিটকে।
‘মিঞা’ ‘মহাশয়’ অন্ধ দুজন
করছে মারামারি,
‘মিষ্টার’ ভায়া মুচকি হেসে
লুটছে টাকা কড়ি ।
রামা শ্যামা পৈতা নিয়ে
করছে টানা টানি,
উপবীতে কড়ি বাঁধলেন
বেগতিক শিরােমণি ।
সম্পাদকের হিষ্টিরিয়া
আই-জুজুর ত্রাসে,
‘ভক্তিনারায়ণ’-তেল দু'বেলা
মাখছেন শিবরাদেশে ।

( ১৪ لا Compulsory-Free-Education- -গন্ধ আছে নাকে ! মিদার বাবু চমকে উঠে রুমালে মুখ ঢাকে ! গ ‘অমুক’ বলছে ভেবে চিন্তে, “তাও তো বটে কথা সবাই শিখলে লেখা পড়া, চাকর মিবে কোথা ?” লবণ-কাপড় লুঠ করেছে ভরা-হাটের মাঝে, নার মালে মুচকি হেসে চলেন সেজে গুজে । মেয়ের বাপ দেওয়া জানেনা, নেহাৎ ছােট মন, “বউকে ছেড়ে দিচ্ছিনাক” গিন্নী করেন পণ ! আচাৰ্য কচ্ছেন উপাসনা, কাদেন চক্ষু বুজে,

}
لا
মন্মথ তাকায় মিটি মিটি।
সুন্দর মুখ খুজে !!
পুরুত মল উপােস করে
পূজার খরচ চ !
হুইস্কি নিল হাজার টাকা,
৫০০ খেমটা নাচ ।
চিকিৎসা হ’লনা রুগ্ন পিতার
বৃথা-খরচ-ভয়ে !
মােগ্য পুত্র করিল শ্রাদ্ধ
হাজার-টাকা-ব্যয়ে!
স্যানিটারি-ইং' মার্কেটেতে
খুজছে পচা মাছ,
গিন্নী বাসায় মা বেঁটে
উনুনে দিচ্ছে আঁচ।
*
লাঠী বলছে “কছি আমি
ন্যায়ের জন্য লড়াই
স্বার্থ বলে মুচকি হেসে
“ঠিক বলেছ ভাই !”

{
বাবু-সাহেব হাওয়া খাচ্ছেন
চড়িয়ে মােটর জুড়ি,
চূর্ণ হ'ল চাকার তলে
গরীব কাণ। বুড়া !
ঘুষের বাড়ী পাকা দালান
উঠল রাতারাতি ।
সরস্বতী ভাত পায় না,
পরছে ছেড়া ধুতি ।
রেগে মরছে গরীব প্রজা
ট্যাক্স বাড়ল ভােটে
হাজার টাকার বাজি পােড়ে
মুন্সপালের মাঠে।
নামের জোরে বিকিয়ে যাচ্ছে
বস্তাপচামাল,
সােনা কেঁদে ঘরের কোণে
কাটায় চিরকাল ।
সৎবেচারা নেহাৎ বেকুব,
খেটে খেটে মরে,

: ১৭
1
“বাহােবা” পেল সরফরাজ খাঁ
ঘন সেলামের জোরে ?
শটী কিম্বা বার্লি গুড়ো
উপরে পুরুসর--
ক্ষীর বেচিয়ে চতুর ঘােষ
উঠায় পাকা ঘর ;
ভিতরেতে ছাই ভস্ম,
উপরে রাজার ছবি-
'এ বই নিশ্চয় স্কুল পাঠ্য।
বলে রাখল কবি।

বরের দোকান
বিজ্ঞাপন
খুলেছি বৃহৎ বরের দোকান
কসাইখানা-ীটে ।
চলে আসুন মেয়ের বাপ, সব
টাকার ছালা পিঠে !!
‘ইউনিভারসিটির মার্কা-মরা,
সাঁচ্চা নুতন চিজ,
হরে কছম হাজার রকম,
করছে গিজগিজ ।
এম, এ, বি, এ, ম্যাটি কুলেট,-
যাহার যাহা চাই,
সব রকমই মিলবে হে,
কোনই চিন্তা নাই ।
হাকিম, হকি, ডাক্তার,
উকিল, ব্যারিষ্টার,
কেরাণী, বাবু, মুনসেফ,
দারােগা, জমিদার ;
;

( ১৯ ]
পণ্ডিত ও চেয়ারম্যান,
টিকটিকি-মাষ্টার,
পরীক্ষার্থী, লেকচারার,
ছাত্র, প্রােফেসার ;
ইঞ্জিনিয়ার, ওভারসিয়ার,
সর্টহ্যাণ্ড-টাইপিষ্ট,
অডিটর, ও একাউন্ট্যান্ট,
শিক্ষানবিশ, কপিষ্ট ;
উমেদার ও ভবঘুরে
কবি ও চিত্রকর,
ব্রোকার, এজেন্ট, মারচেন্ট.
প্রিন্টার, এডিটর ;
ওরেটার ও রিফরমার
গাথক, প্রচারক,
সম্পাদক ও সমালোচক
লেখক ও পাঠক।
D.S.P, P. M., l).T.S.
S. MI, T.C, S.I.
সব পাবেন সব পাবেন—
কোনই চিন্তা নাই !
নায়েব, নাজির, মহাফেজ,
এটর্নি, মােক্তার,

نسمة २० السما } পেস্কার ও পীরের যাড়, খাজাঞ্চি, মানেজার ; ধৰ্ম্ম পুত্র, পােষ্য পুত্র কুমার ভূইফোর, পকেট-মারা, বােতল-মার, জেল-ফেৰ্তা চোর, কাণা, টারা, ন্যাংড়া, খোড়া ভ্যাবা, বিদূষক, কাটা-কান, বাঁধা-দাত, ন্যাকা ও উজব ; ঘুণেধরা, উইয়ে-খাওয়া মরচে পড়া ছেলে, টোটো-এ-কোংর কাঁচা-পাকা- যেখানে যাহা মেলে- জ্যাঠা, ঠাটা, অতিবুদ্ধি, পাথাওয়াল! বর, কলেজ-তাড়ান, “love'-এ-পড়া” ছাত্র নিশাচর ; 'T)yspeptic', Diabetic' Parasitic” হাজার- বাহির চট ফুল-বাবুদের দেখুন কত বাহার। -

[ ২১ ]
ঝেড়ে মুছে সাজিয়ে গুজিয়ে-
রেখেছি ফিফা।
দরটী পেলেই দিচ্ছি ছেড়ে
সবি লটকে লাট, !
‘ম্যারেজ-প্রুফ’ নিকষ কুলীন,
বাছাই করা মাল,
খাঁটী, দেশী, বিলেত-ফেৰ্ত্তা,
টাটকা ও ভেজাল ;
গুদাম ভরে রাখিয়াছি,
চলে আসুন ক্রেতা,
টাকার তােড়া মাথায় করে’
ব্যস্ত কনের পিতা !
"Second-hand” 790 70
মজুত আছে স্টকে,
জিনিষ বুকে দরটী দিলে
ঠকাই নাকো কাকে।
ঔষধ-সাথী’ ‘কলপ-দেওয়া
‘মােদ-খাওয়া” বরে,
বার্ণিশ-দেওয়া চক্চকে “সুকে
দিয়েছে অবাক করে !
এ

[ ২ ]
নূতন ! নূতন! দিব্যি নূতন !
চোখে লাগবে ধাঁধা ।
সত্যি বলছি, পরখ করে
দেখুন না কেন দাদা
ঝাটা খাবে, লাথী খাবে
কথা কবে না ভয়ে।
গয়নার ভারে মেয়ে আপনার
ভূয়ে পড়বে নুয়ে !
সব variety ও এuality
করেছি আমদানি,
কেমন বটী চাই আপনার
বলুন দেখি শুনি?
নীচের দর হাজার টাকা।
এর কমে নাই মাল,
কি করি বলুন ? সব জিনিষই
চড়েছে আজকাল
চাউল বিকাচ্ছে চারি সের,
ছয় টাকা জোড়া ধুতি,
কেরােসিন সের চারি আনা,
চারি টাকাতে ছাতি ;
যুদ্ধ লেগে জাহাজ ডুবেছে,
আসছে না মাল, মােটে,
;

( ২৩ ]
এমনি হলে ব্যবসায়ী মােদের
কেমনে দিন কাটে ?
কাজে কাজেই চড়ে গিয়েছে
বরের বাজার দর,
দিন দিনই এখন হতে
চড়বে অতঃপর !
পছন্দ করে কিনে ফেলুন
দিতেছি আমি সস্তা,
ভাবছেন কি ? নামা’য়ে রাখুন
নােটর কয়টা বস্তা !!
বিক্রেতা
স্বরের পিতা
ও তস্য মাতা”

জিজেগুচ্ছ
A LAND OF ODDITIES
অচিন-দেশের দক্ষিণেতে,
সুদূর সাগর-পার,
অাছে একটী আজব-দেশ,
সবই নূতন তার !
সবই সেথা উট। রকম,
সবই সেথা সােজা ।
চিন্তা করে বুঝতে গেলে,
কিছুই যায় না বােবা !
মানুষ সেথায় চতুস্পদ,
লাঙ্গল আছে লম্বা,
সিংহ শৃগাল সবই সমান,
সবাই বলে ‘হাম্বা’!
আঁধার সেথা বড়ই সাদা,
আলােক বড়ই কাল,
ভালটা বড়ই মন্দ সেথায়
মন্দটা বড়ই ভাল !

।
( ২৫
খােকারা সেথা আফিসে যায়,
বাপেরা খায় দুধ !
খাত সেথা টাকা লাগায়
মহাজন দেয় ভদ!
রােগী সেথা ডাক্তার গুলে খায়,
ঔষধেরা খায় পথ্য,
মােদ চড়ি বৈদ্যের ঘাড়ে
করে তাণ্ডব-নৃত্য !
ছাত্র সবই মাষ্টার সেথা
মাষ্টার সবাই ছাত্র,
বেঞ্চে বসে চেয়ার টেবিল,
কাণমলা খায় বেত্র !
নিন্দা সেথা নিম-হারাম,
ধৰ্ম্ম বাজায় ঢাক,
স্পষ্ট-কথা চসখাের
হিংসার কাটা না ।
কুলীন করে কসাইণিরি,
শূদ্রে লেখে শাস্ত্র,
কুমার সেথা কাপড় কাচে
কামার বুনে বস্ত্র ;
শিরায় সেথা শােণিত নাই,
আগা গােড়াই তেল,

}
সেলাম সেথায় রাজি মন্ত্রী,
বেকুব খাটে জেল ;
মরার ভয়ে মানুষ সেথা
আগেই মরে ভূত !
ঝাঁঝড়া সেথা ঝগড়া করে
সূচের ধরি খুত।
পর্দা সেথায় সভা করে,
শ্রোত। সবাই কালা,
নেতা সদা নৃত্য করেন
উচু করিয়ে গলা ?
পরের ধনে পােদ্দার সব,
চাচা আপন বাঁচায়,
উচিত কথা বোবা সেথায়
সঙ্গীনেরি খেচায় ।
মাষ্টার সব মেয়ের বাপ,
উকিলের হয় ছেলে,
বাপের শ্রদ্ধে সাহের খায়,
ব্রাহ্মণ নাহি মেলে।
মদেরা সেথা মানুষ খায়,
বানরের খায় তাড়ি,
টাকি করে দোল দুর্গোৎসব,
নিমন্ত্রণ খায় ভুড়ি

السا
]
শান্ত সবাই দুষ্ট সেথা,
বুদ্ধিমান্ সব মূখ,
অন্ধেরা সবই চোখে দেখে,
বােবা জুড়ে দেয় তর্ক ?
কপিরা সব কবি সেথায়,
কেরানীরা সব বক্,
( আর) পত্রিকারাই টিকেট, মেরে
পাঠায় সম্পাদক !
বাবুর্চি সেথা সমালােচক,
মুরগীরা সব লেখক,
কলম করে ছুরির কাজ,
খানা খায় সব পাঠক্ ?
সস্তা সবই আক্রা সেথায়,
আক্রাটা বড়ই সস্তা ;
লােহা সকল সবই শোেনা,
সােনাগুলি সব দস্তা ;
মশা সেথা মশারি খাটায়,
মানুষ ঘুমায়
দিনে
“বিভীষণ,-ব্রাদাস’ সন্দেশ বেচে
রাজ প্রাসাদের কোণে।
জ্বণ-হত্যা সেথা মহাপুণ্য !
বিধবার বিয়ে পাপ ।
;

[ ২৮ ]
ধৰ্ম্ম সেথা ধনের কুকুর,
বেঙ্গের পােষে সাপ;
ক্ষত্রিয়-ব্রাহ্মণ জুতা বয়,
চামার মেথর কৰ্ত্তা,
বালক সবাই বৃদ্ধ সেথা,
ভাৰ্যারা সব ভর্তা;
মাষ্টার সেথা ডিটেক্টিভ
পােষা পায় পূজা ;
প্রজার ভিটায় ঘুঘু চরে,
লাঙ্গল কিনে রাজা!
ব্রাহ্মণ সেথা তফন পরে,
আর, পৈতা পরে মােল্লা,
‘হরি’ বলে ফকির মিসকিন
বৈরাগীর বলে ‘আল্লা’!
খােকারা টানে হুক্কা সেথায়,
খুকীর টানে সিগার !
পুত্র করেন বাপের শ্রাদ্ধ
(বলি) ‘ড্যাম’, “বাডি” “”” “নিগার”।
স্ত্রীলােক সেথা চাকরি করে,
পুরুষ বাঁধেন ভাত ;
বৌয়ের করেন গিন্নিপনা,
গিন্নিরা কুপােকা !

[ ২৯
L1
মজুর সেথা সবাই হুজুৰ,
ভৃত্য সবাই বাবু,
কৰ্ত্তা সেথা তামাক সাজেন,
খানসামা খেলে ‘গ্রাবু।
গর্দভ সবই গায়ক সেথা,
গায়ক সবাই গাধা ;
পত্নীরা সব, ভগ্নী সেথায়,
দিদিরা সবই দাদা ।
হাকিম সেথা জেলে যায়,
কয়েদী করে বিচার,
ছাত্রের সব পরীক্ষা দেয়
পাশ হয়ে যায় টিচার ।
ফেল হয় সেথা পরীক্ষা দিলে,
পরীক্ষা না দিলে পাশ ।
চোরে সেথা পায়গো ‘মেডেল,
সাধুর হয়গাে ফস্ ।
পুলিশ সেথা সবাই ফুলিশ,
(আর) ফুলিশ, সবাই পুলিশ,,.
ডাকাত সেথা পাহারা দেয়
চোরেরা করে নালিশ !
মক্কেলে করে ওকালতি
উকীলে ধরেন ধামা ;

[
3
মুহুরী সব সালা পরে,
চালায় মােকদ্দমা !
ফাসী:কাষ্ঠে কয়েদী মরে
আপিলে হয় খালাস,
মনু সেথা চরায় ধেনু,
আইনেরা কাটে ঘাস্ ।
বিদ্যা মরে উপপাস্ করে,
ব্যবসা জমায় তামা,
অর্থ করেন যােতল-পূজা।
স্ফুর্তি লুটেন ধামা !
সায়েন্স করে ডেপুটিগিরি,
সংস্নাত বেচে বড়ি,
গণিত লেখে জমা খরচ,
বানরের হাতে ছুরি ;
ভূত করে চাকর প্রসব,
সিংহ বিয়ায় ভেড়া !
কলেজ, বিয়ায় ‘মেসি-গান
ও শুর-বস-করা !!
‘ঘুষ”কে বলে “নজর” সেথা,
কেহ বলেন ‘ডালি’
কলে সেথা বেগার ধরে,
কালেরা ধরে কুলি ।
;
;

{ ৩১ }
চাকরি গজায় তেলের ভাঁড়ে,
রাজা গজায় দানে ।
ধর্ম বেড়ায় হাঁসের পাখে,
নেতা গজায় ধনে।
পত্রিকা করে ঘটগিরি,
ফটোরা খুজে পাত্র,
কনে করে বরকে বিয়ে,
বাবার জ্বলে গাত্র !
কাণমলা সেথা বড়ই মিষ্টি,
লাথিগুলি সব মিঠে,
একটী দিলে বলবে অম্নি
আর এটা দাও না পিঠে।
বরফ, সেথা গরম বড়,
আগুন বড়ই ঠাণ্ডা ;
পাখীগুলির নেইকো পাখা
ঘােড়ায় পাড়ে আণ্ডা!
আজব দেশের ইতিহাট।
এইখানে আজ রাখি,
অন্য দিন বলব আবার
রইল যে সব বাকী !

অভ্যস্ত-বুলি
শেয়াল জিজ্ঞাসে ও ক্যাহুয়া ?
কুকুর বলেন ‘ঘেউ'-
মুরগী বলেন ‘ঢুড়তে হো !
বুল-ভগ, বলে ভেউ।
মাষ্টার বলেন “Attention, please
ছাত্র বলেন “Sir”,
ফেরিওলা বলে “চানাচুর ভাজা
খাতি বড় মজাদার !”
“পায়খানা ভাল, খাবেননা ভাল !”
হােটেলওয়ালা হাঁকে,
ইমাক্ট বলে “এই জুতা লেন,
( বাবু), লাগবে মুখে মুখে।
হকার হাঁকেন “চাই চা গরম”
ষ্টেশনে থামিলে গাড়ী,

হাসির জােড়া
[ ৩৩।
অভ্যস্ত বুলি
২
নাপিত-ভায় বলে “ক্ষৌরী হবেন ?”
দেখিলে লম্বা দাড়ি!
দোকানী বলে “আপনি বলেই
দিচ্ছি এমন সস্তা”
গাড়ােয়ান বলে “হট, যাও লােক্
জলদি ছােড়কে রাস্তা”
ফকির বলে “আল্লা, আল্লা,
ভিখ, দেইন একমুষ্ট”,
বৈরাগী বলে নাড়িয়ে চৈতন
“জয় জয় রাধেকেষ্ট” ,
উকীল বলেন “বাদীর বর্ণনা
আগা গােড়াটাই সত্য,
ডাক্তার বলেন “অবস্থা সঙ্গী,
দেখে যেতে হবে নিত্য
মােক্তার বলেন “টাকা বের কর,
মােকদ্দমা তাের যায়”
মােসাহেব বলে “আপনার মত লােক
নেইকো দুনিয়ায়”;
যুবক বলেন “ডিসপেপসিয়া মাের,
দেবেন বড়ই কম--
বৃদ্ধ বলেন “তােদের বয়সে
লােহাও করেছি হজম্ !”.
ত?

হাসির তােড়া
[ ৩৪ }
অভ্যস্ত বুলি
স্বামী বলে “বাঁচবাে নাগাে আমি
তােমায় ত ছেড়ে প্রিয়ে।”
বিপত্নীক বলে “ছেলে পিলের দুঃখে
কৰ্তে হচ্ছে মাের বিয়ে” ;
ত্রিপত্নী বলেন “আমার তাহার
কথাগুলি বড় মিষ্টি !”
জ্যোতিষী বলেন “সামনে আপনার
আছে এক মহা রিষ্টি।”
পাত্র বলেন “আর যাই হােক,
কনেটী সুন্দরী চাই!”
পরীক্ষার্থী বলে “পুস্তক এবার
স্পর্শও করি নাই”
মহাজন বলে “টাকার এবার
বড়ই টানাটানি,
চেষ্টা করে দেখি দিতে পারি কিনা,
সুদ কত দেবে শুনি ?”
কবি বলেন “প্রেমিক না হলে,
হয় না কখনাে কবি,”
চিত্রকর বলেন “ভাবুক না হলে
বুঝবে নাকো মাের ছবি ।”
| সম্পাদক বলে “মাের কাগজের
কাটুতি সবার বেশী”
;

হাসির তােড়া
| ৩৫ ]
অভ্যস্ত বুলি
o
লাভাদ বলে “কি দেখছেন বাবু?
এ কাপড় খটী দেশী;”
“স্বর বসে গেছে ঠাণ্ডা লেগে লেগে”
গায়ক বলেন কেসে,
“ওতেই বেশ হবে—হােক একখানা”
শ্রোতারা বলেন হেসে ;
| শ্বাশুড়ী বলেন “এখন বৌদের
গুরুজনে নেই ভক্তি,
“বাক্যি শুনলে হাড় জ্বলে যায়”
বধুর মধুর উক্তি।
পেটুক বলে “দেখুন ঐ পাতে
লাগে বুঝি সন্দেশ--
আমাকে কেন ? আঃ করেন কি !
ক্ষীরটী দিয়েছে বেশ !”
নাম-পাঠান্তেই সমালােচক
বলেন বুলায়ে শ্মশ্রু,
লেখক বইয়ের পত্রে পত্রে
ঢেলেছে বুকের অশ্রু!”
বর বলে কাণে “তােমায় যে আমি
বডডই ভালবাসি
আঃ ছিঃ যাও” কনে বলে রেগে
অধরে মুচকি হাসি
=

বাঙ্গাল কবির আত্মকাহিনী
(প্রথম সর্গ )
আমি হইতে চাই দ্যাশের মধ্যে
মস্ত একজন কবি,
ফেইলা পশ্চাতে লবীন মাইকেল,
হেমচন্দ্র আর রবি !
(কিন্তু) ছাশের লােক বােঝেনা মােটেই
মাের কবিতার মৰ্ম্ম,
চিনেনা তাহারা কোন্ডা চামড়া,
আর কোনাই বা চৰ্ম্ম !
সােমস্ত রাত্রি জাইগা জাইগা,
আখর কইরা মি,
ভাবশেওলায় করিগাে পূর্ণ
দীর্ঘ-কবিতা বিল।
এত কইরাও হইতে নারিনু
বৃখ্যাত একজন কবি,
এ দোষ, আমি কার ঘাড়ে দিব ?
নসিবের দোষ সবি।
সে দিন রাজত্মে অন্তরে আমার
ভাব উঠল ফুইটা,

হাসির তোড়া
[ ৩৭ ।
বাঙ্গাল কবি
ভাবতে লাগলাম কবিতার ছন্দ
মুইদা লােচন দুইটা,
ভাবতে ভাবতে এক দোকানীর
রস-গােলক-ভাণ্ডে,
চরণ আমার পতিত হইল
অকস্মাৎ এক দণ্ডে !
দোকানী পাষণ্ড অকাল কুণ্ড
ধইরা গর্দান মাের,
বলিল “ওরে বে-আক্কে-পাজি,
চক্ষু কোথায় তাের ?”
আমি বল্লাম—“চক্ষু মুইদা
ভাবতাছি আমি পছ—
শুইনা দোকানী মারিল পিঠে
আরও দুচারটী সদ্য !
অজ্ঞ ময়রার মূর্খতার আমি
আর কি দিব গো ফর্দ ?
কীল গুতা খাইয়াও না দিমু চম্পট।
(কারণ) আমি একজন মর্দ !
ক্রোধে ফুইলা হইনু ‘ভাইয়া-ব্যাঙ্গ,
খাড়া হইয়া উঠল চুল,
* ভাইয়া ব্যাঙ্গ-কোলা ব্যাঙ্গ।

হাসির তােড়া
[ ৩ ]
বাঙ্গাল কবি
আঁখি দুইডা হইল রক্তবর্ণ
( য্যান্) উষ্ণ তামাকের গুল্ !
“হালা কই যে? তুই কি আমার
বিবাহ করছিস ভগ্নী ?”
এতে কইয়া সিংগের মতন
রাইগা হইলাম অগ্নি!
গােলমা শুইনা চারদিক্ থনে
ভদ্রলােক হইল জমা,
অনুরােধে পইড়া আমিও ব্যাটারে
করলাম শ্যাষে ক্ষমা !
কবিতার লাইগা এম্‌নি দিবালিশি
হইতাছি বড় পাগ,
ভাবতে ভাবতে হইয়া গেছি আমি
ল্যাজকাটা রামছাগল ?
কাব্য-লেখাডা ছাড়বার চাইনা
যতদিন আছি জ্যান্ত,
আর এক দিবসের কাহিনী কইয়া
হইবার চাই ক্ষ্যান্ত ;
চেয়ারে বইসা শিক্ষক মশয়
পড়াইছেন উচ্চস্বরে,
আমি কিন্তু ভাবতাছি কবিতা
পুস্তক লইয়া করে ;

হাসির তােড়া
{ ৩৯ ]
বাঙ্গায় ককি
ড্যাস্কর উপর মস্তা রাইখা
লয়ন দুইডা বুইজা,
চারদিক্ থনে অন্তরে আমার
পয়ার আছি খুইজা ;
(তারপর) কল্পনা আইসা ধরুল ঠাইস,
জাইগা উঠল ভাব,
কাগজ লোকায় দিলাম ঢাইলা
মধুর-কবিতা-গাব ।
ভাবের ঘােরে লয়নে আইল লিভ্রা
উঠিল লাসিকা-গর্জন,
মস্তক-সমুদ্রে কাব্যের ঢেউ
করতে লাগল তজ্জন,
অনুমান্ হইল কবিতা-সুন্দরী
ক্যাশে ধইরা মাছে টা,
লয়ন উর্মিলন কইরা দেহি
(শিক্ষক মশয়) ধইরা আছে দুই কাণ!!
( দ্বিতীয় সর্গ)
মাষ্টর মশ’র কান্ডলা খাইয়া
ছাইড়া আইসা ক্ল্যাশ,
বাবার নিকটে কইরা নালিশ
অধ্যয়ন করলাম শ্যাষ ;

হাসির তােড়া
[ ৪০
]
বাঙ্গাল কবি
।
পিতা শুইনা রাইগা হইল খুন,
আমারে লইয়া সাথে,
বিদ্যালয়-পানে ধাবমা হইল,
ছত্ৰডী ধইরা মাথে,
আমি ভাবলাম আজ মাষ্টরের বা
মস্তক হইবে ছাদন,
কিম্বা হইবে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে
হনুমানের বন্ত্র হরণ !
ক্রোধের ত্যাজেতে বাবার দ্যাহের
লােম হইয়াছিল উচ্চ,
বিদ্যালয়-প্রাঙ্গণে গমন কইরা
খুইলা গেলেন কচ্ছ!
হুঙ্কার কইরা জন্মদাতা মাের,
মারিলেন এক লক্ষ,
সে ভয়াঙ্কার-মূর্তি দর্শন কইরা
আমারাে উঠিল কম্প;
হাড়-মাষ্টর চেয়ার উপরে
বইসা রইলেন চুপ,
মুখব্যাদা হইল তাহার
দেইখা অপূর্বরূপ !
বুড়া অঙ্গুলী দর্শন করাইয়া
দন্তে কইরা ঘর্ষণ,

হাসির তােড়
[ ১ ]
বাঙ্গাল কবি
কইলেন পিতা “কি হক কথা
কলাম আমি শ্রবণ ?
ছাইলা মাের কপি হইতে চায়,
তুমি দাও কান্ডলা !
এতেক আস্পর্ধা! ঘুঘু দ্যাখছ
ফাঁদ দ্যাখনি হাল ?
তােমারে দিছি মাসে আট আনা
মায়না কিসের জন্য ?
তিন দিবসের বৈরাগী হইয়া তুমি
পুত্ৰডী আমার লেইখা পইড়া
হইতে চায় বিদ্বান,
কিন্তু তুমি তার যখন তখন
মর্দন কর কাণ!
কান্ডলা বুঝি গাছের গােটা,
আর ছাওয়াল বুঝি সস্তা?
বােঝ বা ক্যাম্নে ইহার মর্ম ?
বইছ কাগজের বস্তা !
তােমার ইচ্ছা, মাের ছাইলা হ’
মুখ তােমারি মতন,
আর তুমি বইসা লৰাবের মত
মায়নাডী কর ভক্ষণ!

হাসির তােড়া
৪২ ]
বাঙ্গাল কবি
কিছু কইনা দেইখা চিত্তে তােমার
গর্ভ হইয়াছে বেশী,
তাই হাসতে লাগছ দেইখা মােরে
লয়নে পইরা ঠুসি ?
ছাত্রর কাছে অপমাল্ডা আর
করবার চাইনা আমি,
নইলে দ্যাখ, তা আমি ক্যামন বাবা,
(আর) ক্যামন মাষ্টর তুমি !!”
এমত কইয়া ত্যাজিল ইস্কুল
পিতা পশুরাজ-সিংগ,
অনুগমন আমি করলাম তার
( য্যান্) ভোঁমরার পাছে ভৃঙ্গ ।
গ্রামে গ্রামে ইহা রটনা হইল,
পইড়া গেল এক শব্দ,
“বিদ্যার জোরে মাস্টরেরে আমি
কইরাছি বড় জব্দ !”
সুখ্যাতি শুইনা চারদিক্ থনে
বিয়ার ঘােটকগণ,
পিপড়ার মত ইসা মােদের
ছাইল ভদ্রাসন,
পিতা মােরে কইলেন একদিন
ডাইকা বৈঠক্‌ ঘরে,

হাসির ভােড়।
[ ৪৩ ]
বাঙ্গাল কবি
;
“ইচ্ছা এক অনেক দিন হইতে
জাগতাছে অন্তরে,
তােমার বিয়াড়া সম্পন্ন কইরা
লাতির ধইরা গলা,
জীবন-প্রদীপ নিভাবার চাই,
জুড়াবার চাই জ্বালা
কপির তুমি হইছ দ্যাশের,
বিদ্বান্ হইছ মস্ত,
পিতৃ-বাক্যডী কইর না লঙ্ঘন
ধরছি তােমার হস্ত ;
তােমার বিদ্যার গৈরব শুইনা
কন্যার বাবা হকল,
প্রেরণ কইরাছেন মাের কাছে
এই ঘােটকের দল ;
শুনাও দেহি তুমি মশয়গণে
নূতন কাব্যের কথা,
লাজ কি বাপ? ভদ্রগােণের কাছে
আর্ট করছ ক্যান মাথা ?
লজ্জাবতী লতা হইয়া গেছ ক্যান্
বিয়ার প্রস্রাব, শুইনা ?
( কিন্তু বিদ্যার হানি হইলে পরে
বিয়া করবার কইনা
;

হাসির ভােড়। [ ৪৪ ] . বাঙ্গাল কবি তােমার মােত্ কি বাবা এ বিষয়ে শুনবার চাই পষ্ট, চুপ কইরা থাইকা মাের মনে দিওনা আরও কষ্ট! জনক বাক্য শ্রবণ কইরা উষ্ণ হইল মাের যুক্ত, মাইকেলি ছন্দে উত্তর দিলাম- (কারণ) আমি কবিতার ভক্ত। “থাম বাবা, ত্যজ দুঃখ, ছাড়হ সন্দেহ, পরিহর ভয়ডর-পুরাইব তব বাঞ্ছা পরাণের—বিবাহ করিব আমি; ছােট কালে উদ্বাহ করিলে, লেখাপড়া উঠে চাঙ্গে, পড়ে বাধা কাব্যালােচনায়, সেই হেতু পরিণয়ে নাহি ইচ্ছা মম ; ছিল আশা, হব ভয়ঙ্কর-শ্রেষ্ঠ-কবি সেখ-পীর শ্যালী বাইরণ হেমচন্দ্র রবীন্দ্র, মাইকেল--যত যত মহাকবি, পড়িয়া কাঁদিবে মম বাহির বাড়ীতে ! ‘ছাগ শিশু কঁাদে যথা যুপ-কাষ্ঠ-পাশে, কিম্বা যথা কুলবধূ পতিপাশে কাঁদে গহণার লাগি ।

হাসির জােড়া
[ ৪৫ ।
বাঙ্গাল কবি
ঐশ্বৰ্য্য সম্পদ।
একচ্ছত্র সম্রাট হব কাব্য-হিংসাসনে,
চতুর্দিকে শােভিবে আমার বাঙ্গালার
মস্ত মস্ত কবিরাজহংস পাশে যথা
মােরগের ছানা, কিম্বা ক্যারােসিল্যাম্প
শােভে যথা হারিকেন লণ্ঠণের পাশে।
এই সব উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল মম মনে,
তেঁইহেতু পরিণয়ে নাহি ছিল মত;
কিন্তু রাম পিতৃসত্য করিতে পালন
গিয়াছিল গহন জঙ্গলে—ত্যজি রাজ্য
কাটিল পরশুরাম
পিতৃবাক্যে মাতৃমাথা! পিতার কারণে
ভীষ্ম করিলনা বিয়া-কাঁচা বাঙ্গ, খা'
পুড়িল আগুণে-সরিলনা একপদ
স্বীয় স্থান হতে!-( ইঙ্গ কবি কহে ইহা)।
শুন পিতঃ, শুন স্তব্ধ-ঘটক-মণ্ডলি।
শুন মম প্রতিজ্ঞা ভীষণ ! যা বিশ্ব
চূর্ণ হয়ে সূর্য চন্দ্র নক্ষত্র নিকর।
উড়ে যা বজ্রনাদী প্রবল ঝঞায়
তুঙ্গ-হিম-গিরিশৃঙ্গ, ধূলি-কণা সম
লণ্ড ভণ্ড খণ্ড খণ্ড ব্ৰহ্মাণ্ড বিরাট ।
*Casabianca

হাসির জােড়া
[ ৪৬ ]
বাঙ্গাল কবি
করিব পূরণ !
ফেটে যা কোটী বজ ঘর্ঘর নিনাদে !
তথাপি পিতার বাক্য নারিব লঙ্ঘিতে !!
বীর আমি পিতৃ-বাক্য করিতে পালন
করিব বিবাহ ! বাবার মনের বাঞ্ছা
দেখাইব
ভূমণ্ডলে
পিতৃভক্তি পরাকাষ্ঠা—উঠিবে চৌদিকে
ধন্য ধন্য মহারােল-ভাৰী কবিগণ
নানাচ্ছন্দে গা’বে মম কীৰ্ত্তি সুমহান,
নেতৃবৃন্দ স্থাপন করিবে মহােল্লাসে
মৰ্ম্মর মূরতি, লিখিয়া রাখিবে তলে
স্বর্ণ-বর্ণ-জ্বলন্ত-অক্ষরে-বাকবি
পিতৃ-বাক্যপালিবারেকরেছিল বিয়া!”
যবনিকা-পতন!

আচ্ছ,
স্বয়
{ ব্যাণ্ডের সুর)
যখন ছিলাম স্কুলে,
পড়াটী শিখিনি বলে,
মাষ্টার মশায় যখন তখন,
দিতেন কানটী মলে ।
স্কুল-বিল্ডিং দেয়ালে,
শুভ্র-ল্যাটিন-ওয়ালে,
মাস্টারের সব ঠিকুজীকুষ্ঠী
লিখতে নিত্য খেয়ালে ।
(ছিল) ভূগােলের জ্ঞান খাসা-
অর্থাৎ-তিব্বত, সিটি “লাশ” !
পাটীগণিত-প্লাস্ মাইনাস্,
অভিধান-হীন ভাষা !
ছিলাম ক্লাশের পাণ্ডা
বাহিরে মস্ত ‘যণ্ডা,
পড়া জিজ্ঞাসিলে স্বামী-মৌনানন্দ
শান্ত, শিষ্ট, ঠাণ্ডা।

ঢাসির তােড়া
{ ৪৮ ]
আদর্শ স্কুল-বঃ
একদা আমি ও নন্দী,
বাহির করিনু ফন্দী,
মাষ্টারে বাখি শিকল দিয়ে
পায়খানাতে বন্দী।
দপ্তরী আসিলে স্কুলে,
দরজাটী দিল খুলে,
মাষ্টার মশায় উঠলেন তখন,
তেলে ও বেগুণে জ্বলে।
কাচা বেতের চোটে
কাল শিরা হ’ল পিঠে।
(কারণ) অল্প করিয়ে পড়িয়ে ছিল
ত্রিশ চল্লিশটী মােটে ।
পণ্ডিত মশায় ঘুমে,
পড়েছেন একদা ঝুমে,
মুচকি হাসছে ছাত্র সকল,
যত জন ছিল রুমে ?
দীর্ঘ আকফলা,
ধরি চেয়ারের গলা,
করিতেছিল হেলিয়ে দুলিয়ে
গল্প গুজব ও খেলা!

হাসির তােড়া
[. ৪৯ )
আদর্শ-স্কুলবয়
আমিও ঝোঁকের ভরে
লম্বা টাকিটা ধরে,
চেয়ারের সাথে রাখিনু বাঁধিয়ে
আচ্ছা শক্ত করে।
হ'লে নিদ্রা অবসান,
পণ্ডিত চৌদিকে চান,
এদিক ওদিক্‌ ফিরাইতে মাথা
টকিতে লাগিল টান !
পণ্ডিত মশায় জব্দ ।
মুখে হুঙ্কার শব্দ।
চোখ দুটী হ’ল জলন্ত-আগুণ !
ক্ল্যাশের সকলে স্তব্ধ !
“এমন করেছে কেটা ?
হবে নির্ঘাত ছড়ি-পেটা”
বলিতেই চেয়ারে ছিড়িয়া থাকিল
পাকা তরমুজের বোঁটা !
আমি হয়ে গম্ভীর,
বিনয়ে নােয়া'য়ে শির,
বলিনু “শুনুন আসল-ব্যাপার
হইয়ে একটু স্থির,”
৪

হাসির তোড়া
( ৫০ ।
আদর্শ-স্কুলবয়
“গভীর ঘুমের ঝোঁকে,
মাথাটা গেছিল বেঁকে,
(আর) একটু হলেই পড়িয়ে যেতেন
আপনি চেয়ার থেকে !”
“হঠাৎ ঘুমের ঘােরে,
পড়িলে মেঝের পরে,
জামা ও কাপড় হ’ত ধূলামাখা,
আঘাত লাগিত শিরে!”
“সেই ভয়ে হয়ে ব্যস্ত,
কৌশল করেছি মস্ত,
চেয়ারের সাথে বাঁধিয়ে রেখেছি
টকিটী তাৰ্ধ হস্ত !”
বলিয়ে হলেম ক্ষান্ত,
যত নির্বোধ শান্ত,
খিল খিল করে হাসিতে লাগিল,
বাহির করিয়ে দন্ত !
পণ্ডিত রাগিয়ে লাল,
দিলেন আমায় গাল,
পড়িতে লাগিল “গুড়ম” গুড়ুম”
পিঠে ভাদরের তাল!

হাসির জােড়া
৫১ }
আদর্শ স্কুলবয়
{
শেষেতে উঠি বেত্র,
দেখিয়ে মুদি নেত্র !
ভয়েতে অস্থির, ঝটিকায় যেন
কঁপিছে কদলী পত্র !
টন্টনে ছিল জ্ঞান
ফিটের করিনু ভান,
দুরে সেথা লইলাম মাটি,
দিতে পণ্ডিতে আক্কেল-খান।
হ'ল পণ্ডিত হতভম্ব,
থামিল যতেক দন্ত,
সুযােগ বুঝিয়ে গা ঝেড়ে উঠিয়ে
সটান্ দিলাম লম্ব !!

আমাদের দেশ
পরীক্ষাত হয়েই গেছে
কোন দেশেতে নাইরে মানুষ,
শুধু ‘ফানুষ’ শূন্য রে !
কোথায় দিয়ে রাজায় গালি
ভাবে মহা পুণ্য রে !
‘ডিষ্ট্রিক্ট-বাের্ড’ ‘মুন্সীপালে',
যাহার যত যােগ্যতা,
পরীক্ষাত হয়েই গেছে
কখনাে কি কথ্য ত!' ?
আপন নিয়ে ব্যস্ত সবাই,
হস্ত আপন পকেটে।
ট্যাক্সদাতা গন্ধে মরে
অন্ধকারে হুচোটে ।
হিংসা কোথা অট্টহাসে,
ধৰ্ম্ম ধুকে গলিতে,
পরােপকার বেড়ায় ঘুরে
চড়ি স্বার্থ-টুলিতে।
আত্ম-শাসন জানে না গাে,
কৰ্তে চায় দেশ শাসন।

গলি দে
[ ৫৩ ]
আমাদের দেশ
রুটী নিয়ে কামড়া কামড়ি-
তারাই কোথা হয় ‘নেশন্ ?
নিজেব কদর’ জেনেও কোথা
করে লাফালাফি রে ।
শিশু নাহি ছুরি' পেয়ে
করে শাপশাপি রে!
কোথায় আপন ভাই এর দুঃখে
নাহি চোখে অশ্রু লেশ ?
সেই ত মােদের জন্মভূমি,
সেই ত মােদের বঙ্গদেশ !
কোন দেশেতে বক্তা সবাই,
সভাস্থলে সবাই বীর
তাড়া খেলে অনি সুকান
আঁচলতলে গৃহিণীর !
কোন দেশেতে যেথা সেথা
সতীর হয় রে অপমান ?
ভাই এর
বুকে
ভাই হেসে চলে যান !
কোথায় নারী কঁাথা পরে ?
ভাতে নাহি জোটে নুন !
?
লাথী মেরে
খাবার চেয়ে ছেলে কোথায়
মায়ের হাতে হ’ল খুন ?

হাসির ভােড়।
[ ৫৪ }
আমাদের দেশ
অনাহাবে মরছে স্বামী
গলায় দড়ি দিয়ে রে।
সে আমাদের বাঙ্গালা দেশ,
আমাদের বাঙ্গালা রে ।
কোথায় ধনীর চড় চাবুক্‌
ঘুসী থাকে পথে বাটে ?
গার্ডেন” “মিলে” কুলীর কোথা
কেঁদে কেঁদে জীবন কাটে ?
কোন দেশেতে রােদে পুড়ে
প্রজা ক্ষেতে বােনে ধান ?
করিবারে টাকার শ্রাদ্ধ
জমিদার “বিলাত” যান ।
গরীব কোথ। বল্লে “উহুঃ”—
ধনী গলা টিপে রে ?
সে আমাদের বাঙ্গলা দেশ,
আমাদেরি বাঙ্গালা রে।
ধনীর বৈঠক্-খানায় কোথায়
দিবা নিশি নাচে বাই ?
‘ডালিতে’ যায় হাজার টাকা
প্রজার ঘরে অন্ন নাই ?
রাস্তা ঘাটে ‘সেলাম কোথায় ?
‘হুজুর’ পথে পথে রে ।

হালির তােড়
[ ৫৫ )
সে আমাদের বাঙ্গালা দেশ!
আমাদেরি বাঙ্গালা রে !
কোন্ দেশেতে কথা বেশী ?
কাজের মাত্রা বড় কম !
মা বাপ মরে অনাহারে,
ছেলে মাখে পমেট !
কোথায় চুপে সবি খাদ্য
যাচ্ছে পেটে দিবারাতি,
রাম-পাখীতে নাইকো মানা,
(কিন্তু) বিলাত্ গেলেই যায় রে জাতি।
কোন্ দেশেতে দিনে টাকি,
গায়ে আঁকা হরি নাম!
রাত্রি কালে রহিম-চাচা
পূর্ণ করেন মনস্কাম ?
ভাইএ ভাইএ বাগড়া কোথায়, ।
নেতায় দলাদলি রে ?
মায়ের কথা কেউ শশানে না,
সে যে মােদের বাঙ্গালা রে !
কোথায় মেয়ের বিয়ে দিতে
বাপের হয় রে সর্বনাশ ?
কোথায় করে কসাইগিরি
যত “এম, এ”, “বি, এ” পাশ ?

হাসির তােড়া
আমাদের দেশ
কোন্ দেশেতে পুরুষের,
বিয়ে করে ডজন ডজন ?
বিধবা-মেয়ে আট বছরের
কেঁদে রে সারাজীবন ।
৬০ বছরে ষষ্ঠীর দাস
কলপ দিয়ে পাকা চুলে,
টাকার জোরে জামাই সেজে
উদ্ধার করেন কুলীনকুলে?
নারী কোথায় কেনা-দাসী ?
পুরুষ কোথায় প্রভু রে-- ?
সে আমাদের বাঙ্গালা-দেশ ।
আমাদের বাঙ্গালা রে !!

বােডিং-জীবন
{ বাংগুর সুর।
(১)
| শুন) আমরা যতেক বাের্ডার,
‘গােরী সেনে’র (Grulson মােরা,
Model of rule and order !
( আমরা ) উঠিয়ে ভােরের বেলা,
মুখে দেই জিব-ছােলা,
লাগাই দন্তে ঘণ্টা খানেক
কার্বলিক টুথ পাউডার !
(২)
তারপর, আয়নাটা দিয়ে মুখখানি দেখি মাথায় উঠাই ঢেউ,
‘রেলওয়ে লাইন’ কাটি কোন জন, ‘মিউনিসিপাল রােড’ কেউ,
কেহ বা হরেক রকম,
ধরেন ময়ুর-পেখম,
কেকা উঠাই শঙ্কঃ-পুচ্ছ,
কেউ বা উচ্চ-পাহাড় !

হাসির তােড়া
( ২৮ }
বাের্ডিং জীবন
(৩)
এসব কৰ্তব্য করি সমাপ্ত, পুস্তক লইয়ে বসি,
খুলিয়ে দেইগো গল্পের ‘ছালা’! উচ্চরােলের হাসি ।
‘সুপারিন্টেন্টে' ঘরে,
যদিই বা এসে পড়ে,
বইএ মুখরেখে করি বিড় বিড়
ধরিবে সাধ্য কাহার ?
(৪)
ভিঃ পিঃ পার্শ্বেল কার্ড লেফাফার বিপুল ব্যাগটী ঘাড়ে,
চিনির বলদ ‘পােষ্ট-ম্যান’ ভায়া যবে দেখা যায় দূরে,
স্কোয়ার খামের আশে,
ঘুরি রাস্তার পাশে,
কেহবা ব্যস্ত পাইবে কখন
“ডেইলি নিউজ-পেপার” !
()
চিঠি ফিটি থাক বা না থাক্‌, উর্দ-শ্বাসেতে ছুটি,
হুড়াহুড়ি করে ডাক্-পিয়নের চারিপাশে গিয়ে জুটি ;
কারাে বা আসেগাে টাকা,
‘পূজনীয়া’ আঁকা বাঁকা ।
'মালিক-ভিন্ন-খােলা-নিষেধ
ঘটে ভাগ্যে কাহার !

হাসির তোড়া
[ ৫৯ ]
বাের্ডিং জীবন
(৬)
দার্শনিক তর্ক জুড়ে তৎপর যতেক টাকিধারী,
নাপিত ভায়া কারাে কাটে চুল, কারো ছাটে মােচ দাড়ি !
পড়িলে স্নানের বেল,
মাথায় মাখিয়ে তেল,
মহিষের মত পুকুরে ঝাঁপাই,
কেউবা কাটিগাে সাঁতার!
(৭)
খাওয়ার প্রথম ঘণ্টা পড়িলে, কর্ণ হয়গো বধির,
চারিদিক হতে চট-ফট' শব্দ উঠেগাে চটির,
( যেয়ে) কেহবা পায়ণগ; খাল,
কেহবা ফুলা’য়ে গাল,
‘সেকেণ্ড-বেলের আশে ফিরে যায়,
মুখটী করিয়ে ভার !
(৮)
আসেন তৎপর পাচক ঠাকুর, হস্তে ডালের হাঁড়ি,
কিমধুর আহা! ঝরেগাে ঘৰ্ম্ম বহিয়ে লম্বা দাড়ি।
ডালেতে দুচার ফোঁটা,
পড়েনা কহিবে কেটা ?
—ক্ষুধার কাছে সকলি মিষ্টি,
করে দেই সব সাবাড়।

হাসির জােড়া
( ৬০ )
বােঙিং জীবন
(৯)
তৎপর আসেন আঁসটে-গন্ধ-বাের্ডিং-বিখ্যাত “ঘাঁটা”,
পটোল-বেগুন-লাউ-কুমড়ার Combination পরিপাটী !
এই বৈজ্ঞানিক-ফুড,
হজমী মেডিসিন্ গুড, !
(কিন্তু) বাের্ডার ভিন্ন হজম করে ইহা
এমন সাধ্য কাহার?
(১০)
আসেন অতঃপর মাছের ঝােল টী, হলদে-গঙ্গার জল !
ছাত্র মহলে অম্নি উঠে গাে আনন্দের কোলাহল ।
(যদিও) মা অভিমান ভরে,
এক পাশে থাকে সরে,
মাছগুলি সব অৰ্দ্ধ দগ্ধ !
কিম্ভুতকিমাকার !
(১১)
বেগুণ আনন্দে কাটিছে সাঁতার, তেল করে জলকেলি !
কচ্ছপ সম গােলালু খণ্ড ভাসিতেছে পিঠ মেলি ?
পােড়া মহেশ্বর লঙ্কা!
মনে নাহি কয়রা শঙ্কা,
চেয়ে চেয়ে খাই—তাও নাহি পাই ।
আক্র হয়েছে বাজার!

হাসির তােড়া [ ৬১ } বাের্ডিং জীবন ৪ (১৮) দাঁতভাঙ্গা-চাল, কলাই এর খােসা, মৎস্য সলিলে ভাজা, খাওনি তােমরা, বুঝিবে কিরূপে খাইতে কেমন মজা ? সবি রুচিকর খাদ্য, পরিপাক সদ্য সদ্য- নাসিকা সিট কালে কি হইবে ভায়া? অভ্যাস, সেকেণ্ড, নেচার'। (১৩) কোন জন বলে “লবণ চাই গাে”, কেহ বা বলেন “ডাল”, কেহ বা বলে “ঠাকুর কেন গাে, সিদ্ধ হয়নি চা’ল” ? ছােট্ট ছােট্ট ছেলে, করুণ-কণ্ঠে বলে, “ঐ কাঁটাখানা দাও গাে ঠাকুর, দোহাই লাগে তােমার !” (১৪) মুগের ডালের স্বাটা একদিন, লাগলো বড়ই মিঠে, খেলেমও বহু ঠেসে ঠুসে, আঁটল গাে যত পেটে, ঠাকুরকে নগেন্ বলে, “(রুইএর) মাথা যে রেধেছ ডালে, হয়েছে উহা বড়ই মধুর, বড়ই চমৎকার !”

হাসির তােড়া
[ ৬২ ]
বোর্ডিং জীবন
(১৫)
“দাওনা মাথা আর একটুকু—” বলিল নগেন চুপে,
“মা কোথা বাবু ?” বলিয়ে ঠাকুর উঠিল রাগেতে ক্ষেপে,
প্রদীপ আনিয়ে স্বরা,
দেখিল লম্বা-চড়া
ভেক-প্রভু এক সমাধি-মগ্ন
মুগের ডালের মাঝার !!
(১৬)
সত্যি কথাটা বলে জানিগাে তােমরা বলিবে ‘বােকা,
খেয়েছি মক্ষিকা ফরিঙ্গ সিদ্ধ, টিটিকি-তেলাপােকা !
রান্না ঘরের ঝুল,
ঠাকুরের নখ চুল,
কত যে আমরা করেছি হজম
হিসাব নাইকো তাহার ।
(১৭)
খাওয়ার কষ্ট বলিলে রুষ্ট, ইয়েন ম্যানেজার,
বলেন তামনি “উদ্ধত বড় তােমাদের ব্যবহার !
জন প্রতি চারি আনা,
করিলাম জরিমানা,
সাবধান, এমন হকারণ গােল,
করনাকে পুনর্বার ?”

হাসির তােড়া
বাের্ডিং জীবন
(১৮)
খাওয়ার কষ্টে ভুড়িটী তাহার, ক্রমেই হচ্ছে উচু !
শরীর শুকা’য়ে হয়ে গেছে গাে আষাঢ়ের মানকচু !
(কারণ) আস্ত ভাজা মাছ দুটী,
(আর) ইলিশ মাছের পেটী,
রুইএর মাথা, এক বাটী দুধ,
মাত্রই করেন আহার !
এত অল্প আহারে কিগাে স্বাস্থ্য কখনাে টিকে ?
ম্যানেজার বাবুর শরীরটা তাই ক্রমেই উঠছে ফিকে !
ম্যানেজার বিবরণ,
এখানেই সমাপন,
প্রণমামি আমি বােডিং-ঈশ্বর !
কচ্ছপ-অবতার !
( ২০ )
স্বাধীন আমরা নই কোন মতে, যেন সবে ‘কুলবধূ!
ম্যানেজার' যেন পতি আমাদের, যাতনা দেয় গো শুধু ;
‘মণিটর’ আছে যত,
সবি ননদের মত,
‘সুপারিন্টেন্টে’ শ্বাশুড়ী মােদের
শ্বশুর ‘হেড, মাষ্টার’!

হাসির তােড়া
( ৪১ ।
বাের্ডিং জীবন
(২১)
খাইতে শুইতে বাহিরে যাইতে, চাই সদ! “পারমিশন
তাই কি আবার সহজে মিলে গো ? হতে হয় জানে।
পড়া শুনা হয় ঘণ্টা,
বাহিরেই থাকে মন্ট,
সহরে যেদিন হয় গো যাত্রা,
সার্কাস, থিয়েটার ।
( ২২ )
আহার ব্যতীত সকল রকমে আমরা নবাব সাজি,
ফেঞ্চ ইংলিশ, কোন ফ্যাসনেই নই কভু গররাজি।
(বল) মোদের সমান কেব; *
লাগে টাকা দেয় বাবা !
“রূপেয়া” আসিয়ে হয় গাে হাজির,
মাটা হইলে কাবার !
(২৩)
প্রতি রবিবারে বাের্ড এতে এসে ধােপ নিয়ে যায় কাপড়,
ঝক্ বাক্ করে ইস্ত্রি করা সার্ট । ধপ ধপ করে চাদর ?
(ইস্ত্রি) একটু হইলে মন্দ,
টাকা দেওয়া করি বন্ধ,
অর্ধচন্দ্রদানে করি গাে ধােপায়
বাের্ডি’ এর সীমা পার ।

হাসির ভােড়।
[ ৬৫ ]
বােড়ি জীবন
(২৪)
সিগারেট ও তাম্রকুটেতে না দিলে দুই এক টান,
কেতাবেতে কভু মন্তী বসেন, প্রাণ করে আচা !
‘সিজার’, ‘নেভি’, ‘হাওয়াগাড়ী',
(রাখি) গােলাপী-গন্ধ-বিড়ি,
খাটের তলে ‘হাব-বাব',
ঘুমান নির্বিকার।
(২৫)
‘উড়ে ঠাকুরে’র রাজ্য এখানে, পূত জগন্নাথক্ষেত্র !
ছােওয়া-মেলার ধারও ধারিনে—জাতিভেদ নাই মাত্র ।
মাের ‘লিবারেল খাটী,
বিছানায় খাই রুটী !
মানিনা আমরা মনুর শাস্ত্র,
সমাজ আচার বিচার ।
(২৬)
বাের্ডিংএতে যত দেখ ছেলে, সবি ‘গ্লটনের ছা,
ডা’ ভাত, ঘণ্ট লাবড়া ফাবড়া—কিছুতে নাইকো “না” ।
তাই, সহরের কোনজন,
মােদের করেনাকে নিমন্ত্রণ,
যদিও ভুলে করে কোন বােকা,
সব করি তার উজার ।

হাসির তোড়া
[ ৬৬ )
ৰাের্ডিং জীবন
(২৭)
ছুটীর দিনে Sumptuous-feast! বাজাই উদর-ডঙ্কা!
We extort a forced tax--per head ge ut!
পেটভরা ঝােল-খিচুড়ি,
মাংসও একটু উপুরি’!
তাতেই পূর্ণ থার্ডক্ল্যাশ-গাড়ী!
টিকেট পাওয়াই ভার!
(২৮)
তৎপরদিন গাড়হস্ত মুক্ত-কচ্ছ বীরগণ,
মহা ঘাের রােলে কঁপা'য়ে চৌদিক করেন ভীষণ রণ।
কেহ খান এরারুট,
6** 'Benger's food',
কেহ নির্জলা হাওয়া-একাদশী,
কেহবা বালি-পাউডার !

“ট”এর টেনে চড়া
ট্রিা ল’য়ে হাতে
টিকেট কিনে,
স্টেসনে দাঁড়ায়ে টেনু
সিগারেট টানে।
টেনের পড়িল ঘণ্টা,
টাইম্ ত শর্ট,
‘টাস্টাসী’ টেবিলেতে
রাখিল ‘টি-পটু ।
টুপী হাতে গট গট
বুট পায়ে চলে,
টেপাটেপি টিটকারি
নেটিভ, মহলে!
পয়েন্টম্যান্ টেনে করে
সিগনাল ডাউ,

হাসির তোেড় [ ৬৮ । টেনে চড়া “টেলি”-বলে ছাড়ে ট্রেন নাটোর টাউন; কটা-আঁখি-খাট-কান্ -স্টেসন-মাষ্টার, ‘খ’ ‘খ’চাহে চটে প্রাইভেট number : “ঘণ্টি দেউচি” ছােটে টিকি বেঁধে এটে, পেটারা-পাের্টমেন্ট-মাের্ট টানিতেছে মুটে ; “ভেইয়া হাে”—টিকস মাঙ্গে সাপটি কপাট, “পুলটিশ” ধরিয়ে টুটি করিছে সপাট, ! চুরুট, টিপিয়ে ঠোঁটে, বাবু চটপট, ‘ইন্টার’ ‘সেকেণ্ড’ ‘ফাষ্ট কাটে কটাকট, । দেড়-সের-রুটা মেরে ল্যাঙ্গট-সম্বল- Without-ticket-atat গুটায় কম্বল !

তালির তােড়া
[ ৬ ]
ট্রেনে চড়া
--
ঘােট-শকটে এল
পুলিশ-কট,
খাকী-সার্ট-কোট-টুপী—
বেজায় চটক্ !!
‘হট, যাও’ ‘হট, যাও’--
হুড়াহুড়ি গেটে,
মিনিটে হইল সাক্
চাবুকের চোটে ।
মােটর উষ্টসাথে
লাগা’য়ে টক্কর,
টলিতে টলিতে আসে
বিষম ফক্কর !!
কটিতটে তাম্রকুট,
খুটে বাঁধা নােট,
শুকা কল্কি লয়ে মিঞা
খাইল হুচোট !
হল্টেজ-মাইলেজ,পুষ্ট
*I have the honour'
Servant obedient'ffc?
হেডকোয়াটার ।
সাথে শ’টা ছােট আণ্ডা।
ভেট, গােটা পাঠা,

হাসির তােড়া
[ ৩ ]
ট্রেনে চড়া
ঘটী বাটী-ভিটা-বাঁধা-
টাকা টাকে আঁটা ।
সাটাকাটি চোট-পাটে
কান্ ঝালাপালা !
লাটু বলে খাট সুরে
“কোথা যায় শা?”
ট্রেন্ এল একটায়
করে হুটপাট,
প্যাসেঞ্জারে প্ল্যাটফরম্
হইল ভরাট।
৪
“চ প উঠে পড়–”
“পটোল কোথায়?”
“টেনে তােল ছেলেটাকে
পিঠ, মাের যায় !”
কাঠফাটা রােদে গাল,
লাল, টক টক্ !
সােড়াওয়াটার মেম
গিলে ঢক ঢক !
টস্ ট ঝরে পানি
ভেজা-শাটী হ'তে-

ট্রেনে চড়া
হাসির তােড়া
[ ১ ]
হােট বৌর কোলটায়
খােকা দেহে-
টপাটপ গিলে গােল্লা
টেপু চাটে পাত,
“আল, এটু, লস্ দাও”-
পাতে এটো হাত।
স্টাইলােপেন্ চট্ করে'
আঁটিয়ে পকেটে,
মােটা মােটা প্ল্যান্ট
গার্ড দাতে কাটে ;
ঘােষ্টা-চস্মা-আঁটা,
পায়ে-পরা-চটি
ডেপুটী-গৃহিনী হেঁটে
যান গুটি গুটি ।
ডেপুটী-বিরাট-পেট,
কঠোর কপাট,
ঠোকাঠুকি করি শেষে
করে মিটমাট !
পশ্চাতে হঠাৎ ওকি ।
হােয়াইট-কুটি !
"No room, get down. man"
গার্ড দিল সিটি।

হারি তোড়া [ ৭২ ] কবাট, নিকটে রুষ্ট জনতা জমাট, ঠেলা খেয়ে প্ল্যাটফর্মে কেহ সাটপাট । টানাটানি, সাটা সাটি, কথা কাটাকাটি, হাঁটাহাঁটি, ঠেলাঠেলি, শুধু চটাচটি। “এটাত ইন্টার ক্লাশ, কোন্টায় যাবে?” ‘আগেত উঠিতে দিন, সেটা পরে হবে “ঠিক করে দিব বাপু, ঠেলনা কপাট “হাত চটা কথা কেন ? বেটা যেন লাট।” “মালটাল, পটাপট- ঠাকুর দা নাকি?” “হট তেরা মাল লেকে” খােট্টা দেয় খুেঁকি! “জায়গা টায়গা নেই বাপু-” “মকা সিট, চাই ?”

হাসির জােড়া [ ৭৩ ] ট্রেনে চড়া “চাই পান সিগারেট বিড়ি দেশালাই ?” “চাই টাকা সন্দেশ, ?” “চাই ‘ষ্টেটম্যান্ ?” “চোখ, টোক নেই বাপু?” “ঠ্যালা দাও ক্যান্ ?” “অত মালসাট, কেন ? দরােজাটা ছাড়ন—” “বটে! বেশী ঘাটা’ওনা, যাব ডেরাড়ুন” “জনানা আছে! কুন্তি যাউছি ?” টিকি চটে লাল! “লৈহাটী যাইবু মুই- লিয়ে এস মাল” ; “নিকটে আছে কি টুকু খাবার টাবার ? জলটল খেয়ে নাও এবাক্সটা কার ?” ছাতি-ফাটা-তেষ্টায় যাত্রী ছট ফট ! পানি-পাড়ে ক্ষৈনি টিপে, ব্যবস্থা উৎকট ।

যদি তােড়া
[ ৭৪ ]
ট্রেনে চড়া
পাত্রী বেচে “পরিটান”
দুটা পয়সায়,
পাপীটাপী নির্ভয়েটে
লাল পানি খায় ।
ফিকির চাদ ‘ফ্রেঞ্চ-leave'এ
বাটীতে পিট্টান !-
ভয়ে ভয়ে মুখ ঢেকে
বেঞ্চেতে সটান ।
টেনেতে হাঁপায় উঠে
বৈষ্ট, ঠাকুর,
মুষ্টি বেয়ে গােল্লা ঝবে
টাপুর টুপুর !
কাবুলী উঠিল রুখে,
বিষম বিভ্রাট।
বৈষ্টবী কটাক্ষে তুষ্ট
পাঠান সম্রাট।
Last vanএ চট করে
গার্ড উঠে! বাস্।
‘সিট নিয়ে হট্টগোেল
করে থার্ড ক্লাশ !
টং টং ঘণ্টা ধ্বনি,
উঠিল স্টার্টার,

केन 5
হাসির জােড়া
[ ৭৫ ]
স্টার্টি-টেনেতে উঠে
টীকেট চেকার ;
পকেট করিল টে
ওলট-পালট,
সটাকেট-নােট-কে
দিয়েছে চম্পট !

আক্ষেপ
( সুর-রামপ্রসাদী)
সংসারে এমন জ্বালা।
জানলে আগে ছাত্র হয়ে
কে বহিত দুঃখের ছালা ?
যেমনি রাত্রি তাের হবে,
বইটী নিয়ে বসতে হবে,
নইলে হবে বাবার গালে
কর্ণ দুইটী ঝালাপালা !
আমি একটু কাটলে টেড়ি
হয় গাে সেটা বাবুগিরি !
এতে কিন্তু নাই কোন দোষ
বাবা ও.মাষ্টারের বেলা।
সিগারেট, ও তামাক খেলে,
কীলের চোটে ফাটে পিলে,
‘ডাবা’ দেখে খাপ্পা সবাই
ধমকে লাগায় কাণে তালা ।

হলির তোড়া
[ ৭৭ }
স্কুলে যেয়েও সুখ নাহি পাই,
প্রতি দিনই গালি-রস খাই,
(ক) সরল-ভেদী-কীল-বটী
অনুপান্ তার কাণ মলা।
বইয়ের সাথে আমার ঘুমে
মজেছে ভাই গভীর প্রেমে,
যুটী অনি আসে ধেয়ে
যেনি বইয়ের পাতা খােলা :
দোকানদারও এমনি চাষা,
সন্দেশ খেলেই চায় পয়সা।
(আর) ক্ষুধারও নাই চক্ষুলজ্জা
সামনে পেলে খাবার থালা ।
বাবার কাছে মা কেদে কেটে
বিয়েটা মাের দেছেন বটে,
(কিন্তু) “তিনি থাকেন পিত্রালয়েই,
আমি হেথায় শুকাই গলা !
আমার নামে খামের চিঠি
দেখলেই বাবার খিটিমিটি !!
নভেল প'ড়ে হ'লেম মাটী
এই হল তাজপমালা

গলির ভেড়া
[ ৭৮ ]
বাপে
বছর শেষে ‘এক্সামিনেশ
পাশ না হলে নাই প্রােমােশন,
(আবার) মাষ্টার মশায় এমনি কৃপণ
“মার্ক” দিতে তার গাত্র জ্বালা !
তাই পরীক্ষার নােটিশ পেলে,
প্রায়ই যাই গো লেপের তলে,
কিম্বা “প্রিভি-কাউন্সিলে”
খেয়ে “পারগেটিভ” দু'চার তােলা !
তার পর ‘দেন sir' ‘পারব sir
মহামন্ত্র করিয়ে সার,
বাবা ডাক্তারের লয়ে লেটার
সুরু করি অশ্রু-ঢালা।
এত কষ্টের লেখা পড়া,
তবু বাবা বলেন “ভেড়া
বুড়ী পাজী শূয়াের”,
আর কত কি যায় না বলা।
কি গা’ব আর দুঃখের গাথা,
( রাগে আমার জ্বলে মাথা !)
যার সাথে দেই বােনের বিয়ে
সেই বেটাই এসে বলে “শালা!”

বড়লােক ও ঘােটলােক
যদিও মােদের, তােমাদেরি মত, দাড়ি গোঁফ, চুল,
নাক কান্ মুখ চোখ ;
তাই বলে কেহ ভেব না কখনাে আমরা হই গাে-
তােমাদেরি মত লােক!
উভয়ের মধ্যে তফাৎটা কেমন ?—জানইত ?
শত ও সহত্র হস্ত!
অদৃষ্টের ফেরে তােমারা হচ্ছ সবি ছােট লােক,
মােরা বড় লােক মস্ত !
নিশিদিন সুখে সুন্দর শােভন অট্টালিকায়
আমরা করি গাে বাস;
তােমরা জীর্ণ পর্ণ-কুটীরে না জানি কেমনে
কাটাও বারটী মাস!
আমরা ভ্রমণ করি হাল্যাণ্ডো হাঁকা’য়ে,
চড়ি ফার্স্ট ক্ল্যাশ-গাড়ী !
তােমরা নেহাৎ অসভ্যের মত, রৌদ্র মাথে নিয়ে
পায়ে হেঁটে যাও বাড়ী।

হাসির জােড়া
[ ৮০ ]
বড়লােক ও ছােটলােক
আরামে আয়েসে, চপ, কাটলেট, ক্ষীর ও নবনী,
মােরা খাই দিবা নিশি,
যদি জোটে, শুধু মােটাভাত, শা-ডাল খেয়ে
তোমরা বড়ই খুসী!
va
রৌদ্র বৃষ্টি মাথায় নিয়ে লাঙ্গল বেয়ে
তােমরা বুন গাে ধান ;
আমরা তখন “বাগান বাড়ী” সেবিয়ে “ম”কার
স্ফুর্তিতে মাতাই প্রাণ !
আর্তস্বরে তােমরা যখন কর হাহাকার
গৃহেতে খাবার নাই !
তখন তােমাদের রক্ত সম তপ্ত টাকায়
আমরা নাচাই বাই !!
তােমরা মর না, তাতে দুঃখ কি ? খাজনার তরে
আমরা করি যে নালিশ।
নীলাম হয়ে যায় শেষে মাটী ঘর দোর বাড়ী,
জেলে নিয়ে যায় পুলিশ !!
মােদের ভাণ্ডার করিতে পূর্ণ তােমরা নিত্য
করিছ জীবন ক্ষয়,
একটা নিমিষে মােদের কিন্তু উড়ে লাখ টাকা
‘টাইটেল, করিতে ক্রয় !
এমনি বােকা তােমরা আবার, ভিখারী এলেই
চাল দিবে এক মুষ্টি,

হাসির ভােড়া
[ ১ ]
বড়লােক ও ছােটলােক
মােদের চতুর দারােয়ান সব ভাগায় তাদের
দিয়ে কীল চড় যষ্টি !
ঢালি তেল মােরা তৈল সিক্ত সেই সব মাথে
যাহা হতে হয় স্বাথ,
গরীবের ঝুলি করিলে পূর্ণ বল কিবা ফল ?
নষ্ট হয় শুধু অর্থ !
প্রজা এসে বলে “পড়েছি কৰ্ত্তা বিষম কষ্টে,
দু' বেলা জোটে না ভাত ;
খােকা বাবুদের বিয়েতে “মাগন” দিতে পাবো না,
গরীব আমি নেহাত !”
“তুমি ত বাপু হে, জমিদারকে ফাঁকিটী দেবার
ফন্দী করেছ পাকা !
নাচ গান বাই বাজি পােড়া কিছু হবে না বিয়েতে,
কেহই দিবে না টাকা ;
ঘরের টাকা ভেঙ্গে আমি দিব ছেলের বে’!
- লুটবে তােমরা মজা ?
ফের ও কথাটী আনলে মুখে, লম্বা জুতায়
করব এখনি সােজা !”
জুতার ভয়ে কর্জ করেও টাকা দেয় প্রজা,
চোখে বয়ে যায় নদী ।
কলকাতা থেকে মহা ধূম ধামে নিয়ে আসি মােরা,
বুঝলে কি না—ইত্যাদি !”

সির ভােড়
[ ৮২ ]
বড়লােক ও ঘােটলােক
“বাবু আমি যে গরীব বড়ই, ছেলে একটা
এবার দিবে সে এলে”,
পরীক্ষার ‘ফি' জোটাতে পারি নি, কি হবে উপায় ?
আপনি কিছু না দিলে !”
“ও সব কিচ্ছু হবে না বাপু ! ওই বাজে কাজে,
আমি বড়ই নারাজ !
নিজের পায়ে দাঁড়াইতে শেখ, ভিক্ষায় শুধু
হয় কি কোনও কাজ ?”
এই উপদেশে না হলে তুষ্ট, হইগাে রুষ্ট,
ভৃত্যকে ইসারা করি ।
“নিলি আভি হিয়াসে বেকুব গােত্ করাে মত,
গর্জি ওঠে গিরিধারী ।
কিন্তু যখন হ্যাট-কোট-পরা ব্যক্তি বিশেষের
উদ্ধৃ-গোঁফ, চাপরাসী
‘সেলাম বাবুজি' বলিয়ে চঁাদার খাতাটী হস্তে
সমুখে হাজির আসি,
আমরা তখন সবাই হইগো মুক্ত হস্ত,
লাগা’য়ে দেই গাে তাক্ !
“ইভনিং পার্টি’, ‘বে নিস্ ক্লাব' প্রভৃতির ঘর,
কিছুই রাখিনে ফাঁক !
বড় লােক কি না, দাল্টা সুতরাং সততই মােরা
বড় লােককেই করি ।

হাসির ভােড়া
{ ৮৩ ]
বড়লােক ও ছােটলােক
ঘােট ও গরীব লােককে জানিও অযথা কখনাে
দেইনে একটী কড়ি।
আমরা বড় লােক, দৃষ্টিটাও কাজেই উচ্চ,
কখনাে নীচের দিকে,
ভুলেও কেহ তাকাই না, তাই ছােট লােক টোক
পড়ে না মােটেই চোখে !
মােট কথা এই, আমরা কেবল নরমের যম,
শক্তের সবাই ভক্ত !
তা ছােট লােক সুতরাং এ সব রহস্য গভীর
তােমাদের বুঝা শক্ত!

তা
( সুর-রামপ্রসাদী )
(১)
সুখ কিসে হয় ধরাতলে ?
আপন ভাবে মত্ত সবাই
আসল খবর কেউ না বলে।
(২)
জামাই বলে “বড় সুখময়
অৰ্ধাঙ্গিনীর পিতৃ-আলয় !
আব র সুখের উপর পােয় বার,
শালী যদি কানটী মলে !”
(৩)
পেটুক বলে “এপ্রেসূ গজা,
লেপীটা টাকা ভাজা,
কেমনে বুঝাই কেমন মজা
পরস্মৈপদী যদি মিলে !”

হাসির জােড়া
( ৮৫ ]
(৪)
শাক্ত বলে “বছ মিছে,
সুখ ঝুলে ভাই পাঁঠার পিছে!
স্বর্গ-সুধা কোথায় লাগে
ঘি, মায় পাটী হ'লে ?”
(৫)
বৈষ্ণব বলে “সুখ আর কোথায় ?
সুখ নাইরে ভাই কাছা দেওয়ায় !!
সুখ আছে রাধা-কৃষ্ণ- নামে-
( সেবা দাসী যদি মিলে ! )
.
(৬)
ব্রাহ্মণ বলে “বল্ছ ওকি ?
সেই সুখী যার আছে টিকি!
{আর) সেই সুখী যার নিমন্ত্রণে
আগে আগে ভুড়ি চলে !”
(৭)
আসে বলে “বছ বৃথা,
সুখ কি মিলে যথা তথা ?
শীতকালেতে ভােরের বেলা
সুখটী থাকে লেপের তলে !”

হাসির তােড়া
( ৮৬ )
(৮)
‘গুড়-গুড়ি’র ভক্তটি কয়
“কেমনে বুঝাই কেমন সুখ হয়,
হাড় ভাঙ্গা খাটুনির ফাকে
একটি পূরা ছিলিম পেলে !”
(৯)
বরের বাবা বললেন কেসে-
“সুখের নাগাল পেয়েছে সে
যার গৃহিণীর নেইকো মেয়ে,
‘ফি’ বছরেই একটি ছেলে !!”
(১০)
কেরাণীবাবু বলে হেসে
“সুখ নাইরে ভাই কলম পিষে!
সুখ সেই দিনই, যে দিন সাহেব
আদর করে শালা বলে !”
(১১)
নবকান্ত বলে “রাখ,
সে যে কি সুখ বুঝবেনাক,
পােস্টাফিসে ধন্না দিয়ে
নূতন বৌয়ের চিঠি পেলে !”

হাসির তােড়া
[ ৮৭ ]
(১২)
হেসে বলে কোন ছাত্র
“সুখ সেই দিনই কিছুমাত্র,
যেদিন পিঠে বােমা ফাটে
পণ্ডিতমশা’র ‘গুম’-কীলে !”
(১৩)
কেহ বলে দিয়ে বি, এ
বড় সুখ ভাই কল্লে বিয়ে।
আরও সুখ ভাই ফের-বছরেই
খােক। যদি না বাবা বলে !”
(১৪)
কবি বলেন “সবই ফাঁকা।
সেই সুখী যার আছে টাকা !
| বিদ্যা বুদ্ধি সুখ সােয়াস্তি
সবই গজায় টাকার কলে!!”

কর তত্ত্ব
(১)
কাকা দিতেন পড়ার খরচ,
বাস কৰ্তেম মেসে,
পােলাও মাংস কমে ধ্বংস,
বন্ধু-বান্ধব মিশে ;
সােনার ঘড়ি ঝুত বুকে,
পায়ে ডস-বুট,
ঘুৰ্তেম সুখে লাগায়ে মুখে,
গন্ধমাখা চুরুট ;
বসন ছিল মােমের মত
ফরাশ-ডাঙ্গা ধুতি,
মাখতে রােজ হােয়াইট-রােজ,
‘পিয়াস নিতি নিতি ;
পেছনদিক্‌ কৰ্তেম খাট,
সামনে লম্বা ঝুটি !

হাসির তােড়া [ ৮৯ ] ‘মেসিন দিয়ে কাটতে সুখে ‘আলবার্ট’ পরিপাটী ! গুরুজনকে কর্তে প্রণাম বড়ই হ’ত কষ্ট- ভয় হত পাছে আমার টেড়িটী হয় নষ্ট ! মাথাটী নােয়ায়ে সাবধানে, -ধুলিব পাছে লাগে নমস্কাটী কৰ্তেম্ ভয়ে অঙ্গুলিত্রয়-যােগে ! বন্ধের আগে কর্তে ‘প্লে” সাজতেম আমি Hero'! সব বিষয়েই পরীক্ষাতে পেতেম মস্ত “Zero” । বাহিরে ছিলাম বুদ্ধিমন্ত, ক্লাশে ছিলাম গাধা! পড়ায় ছিলাম সবারি ছােট, বয়সে “বড় দাদা”। পণ্ডিত মশায়ের ছিল নাকো চক্ষুলজ্জার লেশ, যখ তখন্ কৰ্তে তিনি কাণের দফা শেষ!

হাসির জােড়া
[ ৯০
--
বােম্বে হতে আমদানি-করা
‘কীল' নামীয় ফলে,
প্রায়ই মাের ‘টিফিন হত
ক্লাশের মধ্যস্থলে !
১;
(২)
এবারে নরমে গরমে
সেস হ’ল শেষ,
ডাক্তারের সার্টিফিকেটে
All wed' হলেম বেশ ;
‘ইউনিভারসিটীর’ দয়ার গুণে
ভেড়া গরু যায় তরে।
‘ম্যাট্রিকুলেশ’ পরীক্ষা দিয়ে
আমি কি খাব পড়ে ?
(৩)
চমা এটে তাম্বুল-রাগে
লা করিয়ে ঠোঁট,
গায়ে দিয়ে ‘ডবল-ব্রেষ্টের
‘আপাক্কার কোট,
সবুট-পদে মমসিয়ে
ঢুকে পড়লেম হলে,
2

হাসির তােড়া
[ ১ ]
-
উথলিল এসেন্সের ঢেউ
টেড়ি শােভ-চুলে !
(কিন্তু) প্রশ্নপত্র দরশন মাত্র
হইল চক্ষু স্থির !
চিন্তার আর সময় কই ?
‘বদর পাঁচপীর !
ছিল
সম্মুখের
ছাত্রীর
হাতের লেখা বড়,
আমিও ছিলাম-“বুঝলেত ?
‘নলিফাইং’এ দড় !
সুতরাং অর্থাৎকাজে কাজেই
চলল হাতের পেন্,
আকাশ-মার্গে পবন-বেগে
যথা এয়ারােপ্লেন !
গার্ড বেটা নিশ্চয়ই ছিল
পূর্ব জন্মে কসাই !
নইলে অহহ ! এম্নি সময়
কল্প মােরে জবাই'।
হঠাৎ এসে চটাৎ করে
ধরে ফেলল হাত !
আমিও নেহাৎ চমকে উঠে
বেঞ্চে হলেম কাত !

হাসির তােড়া
[ ৯২ ]
“What are you doing sir ? »
“\Vhat are you doing?
আমি বল্লেম “III ?
I am not copying !_*
অতঃপর বুঝতেই পার,
'ilaif-n(){) লভি ঘাড়ে,
বিদ্যালয়কে সেলাম করে
মেসে এলাম ফিরে।
-
শি
(৪)
পত্র দিলাম কাকার কাছে-
“পরীক্ষা হ’ল সারা,
প্রশ্নগুলি যদিও এ বার
বড়ই ছিল কড়া,
তথাপি আমি লিখেছি ভাল
এখন-জানেন সরস্বতী,
ভয় একটু, উত্তর গুলি
লম্বা হয়েছে অতি ;
‘সিণ্ডিকেট, পাশের ‘পারসেন্টেজ,
কমা'য়ে দেছে এবার,
ফেল হইবে অনেক ছেলে
শুছি রিউমার;

হাসির ভােড়।
{ ৯৩ ]
তা যাই হােক, পাশ, ত হবই,
—বৃত্তিও পেতে পারি,
দিন পনর মােলর মধ্যে
পৌছব আমি বাড়ী”।
আমার হাতের চিঠি পেয়ে
তুষ্ট হলেন কাকা !
পাঠা’য়ে দিলেন অবিলম্বে
পথ খরচের টাকা !
“বিশেষ একটী প্রয়ােজন,
চলিয়ে এস বাড়ী,
এক মুহূর্তও তথায় তুমি
করিও নাকো দেরী ;”
খুড়া মশা’র আদেশ পেয়ে,
বিদেশ করি ত্যাগ,
ঘরের ছেলে ঘরে এলেম
হাতে গ্ল্যাড ষ্টোন’ ব্যাগ ।
(৫}
বাহির বাড়ী নহবৎ বাজে,
ভিতর বাড়ী মল,
জ্ঞাতি কুটুম্বের কোলাহলে
ভবন টলমল ।

হাসির তােড়া
{ ৪৪ ]
ছােট বােটি আল ছুটে
পুতুল কোলে নিয়ে,
হঠাৎ অমি বলে ফেল
“দাদা তােমার বিয়ে !”
ভয়ঙ্কর এই বার্তা শুনে
ঘুরে উঠল মাথা—
শুয়ে পড়লেম বিছানাতে
রাখিয়ে জুতাে ছাতা।
সবে তখন ভাব ল মনে
‘ব্যাপার গুরুতর।
এম, এ,
সাধাসাধি করল কতই
যত আপন পর ;
‘বিবাহ আমি করবাে নাকো
হইলে
প্রতিজ্ঞা শুনিয়া হুলস্থূল
পড়িয়া গেল গ্রামে।
কেউ বলিল এমন ছেলে
কভু হবার নয়,
হাজারের মধ্যে দু একটী
কচিৎ ক্রমে হয় ;
কেহ বলে “এই বয়সেই
এত পড়ার ঝোঁক !

হাসির তােড়া
[ ৯৫ ]
নিশ্চয়ই এটি ভবিষ্যতে
হবে একটা লােক!”
এমন ছেলে জামাই করা
নয় গাে সােজা কথা-
ত্রিশ শ টাকায় এম্নি বর
মিবে বল কোথা ?”
ম
শe
(৬)
নয়ন জলে কাকীমায়ের
বয়ান গেল ভেসে,
দেখিয়ে অন্য উপায়,
হাত ধরিলেন এসে
“বল্ব কি আর কাকীমা ?
তােমার অনুরােধ,
পালন মাের কৰ্ত্তেই হবে
যতই হাে ক্রোধ ;
‘দশচক্রে ভগবান্ ভূত',
অমতে নাই ফুল,
ক্ষতি হ'লেও করব বিয়ে
মুছ আঁখির জল !”
তুষ্ট হলেন কাকীমা মাের,
সবাই হ'ল খুসী,

হাসির তােড়া
[ ৯৬ ।
কোমর বেঁধে লাগল কাজে
চাকর দাস দাসী ;
বিবাহে মাের,
কি
বুঝলে না,
ছিল না ইচ্ছা মােটে,
দেখলেই ত শুনা মাত্রই
কেমন গেছি চটে।
বিয়ে না কল্লে সকলেরি
মনে থাকবে খেদ,
সেই কারণে আমিও বেশী
কল্লে ম নাকো জেদ !
৯
ক্ষ
শ:
( ৭ )
চাহিয়া দেখি রাত, ফরসা !
দোর জানালা খােলা,
বর দেখতে পঁাড়া’য়ে আছে
“Would-be”শালী-শালা।
উঠতে বড় দেরী হয়েছে-
বেলা বেজেছে ‘নয়',
বাহির বাড়ী বাজছে ঢালে
‘ঠাকুর কর্তার জয়’!
প্রাণটী মাের উঠল নেচে,
ঢােলের তালে তালে,

হাসির তােড়া
نما
মুখ ধুয়ে মাখলে আমি
‘হেজেলিন্ স্নাে' গালে !
সেজে গুজে বলে গিয়ে
‘বৈঠখানা ঘরে,
পাশের বাড়ী বিয়ের গােলে
গিয়েছে তখন ভরে
কেউ ধরূছে বাজার ফর্দ,
কেউ মাপছে দই,
কেউ বলছে “ওগাে মশায়,
সন্দেশ, রাখি কই ?”
কেউ হাতেতে কাজ না পেয়ে
গোঁফেই দিচ্ছেন “তা”,
কেউবা শুধুই তাকা’য়ে আছেন
মুখটী করিয়ে হা!
কন্ধে সদা আছেন গরম,
পুড়ছে বালাখানা,
কেউ খাচ্ছে-কেউবা আশায়
সাধছে তা-না-না-না।
কেউ বলছে “বুঝলে কিনা ?”
কেউ নাড়ছে মাথা !
“ই—কোথা গেল ?” বলিয়ে কেউ
খুজছে এথা সেথা !

হাসির ভােড়া
[ ৯৮।
কাজের সূক্ষম
‘গল্প বাগীশ’ লুটছে ভাণ্ডার,
মারছে লাখ, হাতী,
‘বাক্যবাগীশ’ বুঝিয়ে দিচ্ছেন
রীতি
‘তর্কবাগীশ’ নস্যি নাকে
হাঁচেন অনর্গল।
উকি মেরে হাসছে হিঃ হিঃ
দুষ্ট ছেলের দল !
‘ব্যস্ত-বাগীশ, কালী ঢেলে
“ওঃ যাঃ”-ভােঃ দৌড়!
নিত্যানন্দ ছাড়ছে হাই
বলিয়ে প্রাণ-গৌর' !
ভৃত্যবর্গ একটীও নয়
ভােজনেতে নাচার,
কেউবা খাচ্ছে গালাগালিই
কেউ খাচ্ছে আছাড় !
বউ ঝিয়েরা উঠান্ ভরি’
দিচ্ছে ‘আলিপনা,
শিশু সেপাই কচ্ছে লড়াই!
শুনছে নাকো মানা;
কেউবা খাচ্ছে রসগােল্লা,
কেউ দেখছে চেয়ে,

হাসির ভােড়
[ ৯৯ ]
কেউ ছিড়ছে মায়ের চুল,
-রুষ্ট ধমক খেয়ে !
(৮)
=
ইত্যাকার ব্যাপার যখন
সূৰ্য গেলেন অস্ত,
“পাত্র যাত্রা কৰ্ত্তে হবে
পুরুত ঠাকুর ব্যস্ত!
মেয়ে মহলে পড়িয়ে গেল
বিপুল সােৱগােল,
বেজে উঠল সানাই, বাঁশী,
কাশী, কাড়া ও ঢােল !
এদিকে আমি ড্রয়িংরুমে,
ব্যস্ত কেশ-সেবায়,
“দেরী কিসের ?” দিলেন তাড়া
রুষ্ট খুড়া মশায় !
মনের মত একটা “টেড়ি”
হয় না কেন আজ ?
ব্যাকুলভাবে কেশ-কলাপে
কচ্ছি কত তােয়াজ!
চুলগুলিও সময় বুঝে .
সবে উঠল ক্ষেপে,

হাসির ভােড়
( ১০০ )
এক মিনিটও যথাস্থানে
রাখতে নারি চেপে ।
চুলের সনে চিরুণী-ব্রাস
করিল ভীষণ-রণ।
কেউ না হারে, কেউ না জিতে,
সবারি প্রাণ-পণ !
কেশের কেউ রহিল সােজা,
কেউ হইল বাঁকা,
কেউবা চলিল কলিকাতা,
কেউ রওনা টাকা !
কেউ শুইল সটান চিৎ ।
কেউ রচিল ‘দুর্গ,
চিরুণী পড়িল ফাঁফরেতে,
বিষম উপসর্গ ।
গুচ্ছ কয়েক বেয়াড়া চুল,
সর্প লাঙ্গুল প্রায়,
জড়ায়ে ধরিল চিরুণী-অঙ্গ,
আর সে কোথা যায় ?
বহু কোস্তাকুস্তি, ধস্তাধস্তি
“চিরুণী-চুলে” যুদ্ধ !
হঠাৎ হস্ত হেচকা-টান্
মারিল হয়ে ক্রুদ্ধ!

হাসির তােড়া
| ১০১ ]
ভগ্ন-দম্ভ-চিরুণী হইল
কেশ-কবল-মুক্ত!
উপাড়িল শত শিবরারুহ,
ঝরে মস্তকে রক্ত !
বাহির হ’তে ধাক্কা কবাটে
“এই একটু দেরী !”
সাজ সজ্জা সকলিত শেষ
বাকীই শুধু টেড়ি !
বেগতিক দেখে গালির ভয়ে,
করতে হ’ল ইতি ;
গোজামি দিয়ে সােজাসুজি
তৈরি কল্লেম সিথি !
রুমালে চুলে করিয়ে ত্বরা
এইচ, বােস্’কে সাবাড়,
বাহির হলেম পায়ে দিয়ে
“ক্ৰকোডাইলেদার” ;
‘বাহবা ! বেশ, ! জামাইবাবু !
সাবাস্ কেয়াৎ ।
ফেণ্ড স্-দল্ স্তব্ধ অবাক !
একাই কিস্তিমাৎ !!
বধির-করা উলুধ্বনি
আশীর্বাদের মাঝে,
০

হাসির জােড়া
[ ১০২ ]
শুভকাৰ্যে যাত্রা কল্লেম!
সাতটা তখন বাজে।
৯
(৯)
“বর এসেছে”-পড়ল সাড়া,
এয়ােতে থই থই!
“স্ত্রী আচারের সময় যায়,
নাপিত বেটা কই ?”
ভীষণ কষ্টে ভিড় ঠেলিয়ে
নাপ্তে এসে হাজির
“কোলে নে, ওরে! কোলে নে”,
হুকুম হ'ল জাহির ;
লজ্জায় আমি জড়সড়,
মুখটা মাের নত,
নাপ্তে আমায় তুলিল কোলে
বিষম থতমত ;
নামিয়ে দিল ‘ধপাৎ করে
এয়ো ব্যুহের মাঝে ।
“উলু” “উলু” “উলু” রণ-ভেরী
সঙ্গে সঙ্গে বাজে !
স্ত্রী আচারটা কেমন জিনিষ
ছিল নাকো জানা,

।
হাসির তােড়া
[ ১০৩ ]
নীরব আমি পিড়ির পরে,
চৌদিকে নারী সেনা !
শুধু হাসাহাসি, ঘেষাঘেষি,
অলঙ্কারের ধ্বনি,
কিশােরী করছে কলরব,
যুবতী কাণাকাণি !
কেউ বলছে “দিব্যি বরটী”
কেউ বলছে “বাঃ!”
“তােরটীও ভাই এম্নি বুঝি ?”
কেউ
বলছে
“যাঃ!”
কেও বছে “বরের বর্ণ
কেমন মিহিকাল—
“রাধার পাশে কেষ্ট ঠাকুর
মিলন হবে ভাল !”
কেউ বল্লে “আলকাতরাতেই
তিঃী হাজার ডাক !
সাদা হলে কনের বাবাকে
লাগিয়ে দিত তাক !!”
“বঙ্গটী দেখাে ফরসা হবে,
বিয়ের জল পেলে,”
“এ বর আর হয় না সাদা
ধােপা বাড়ীও গেলে !”

হাসির তােড়া
[ ১০৪ ]
“বরের বয়স-”কেউ বলছে
“নয়কো তেমন বেশী,”
“তাের বরটী এম্নি হলে
হতি বুঝি খুসী ?”
“দেখছি না লাে কামায়েছে
মুখের গোঁফ দাড়ি ?
দেখতে কচি খােকা হলেও,
বরটী বুড়ো ধাড়ী !”
“পাউডার দিয়ে কাল মুখে
করেছে চুকা !
আসল রঙ্গটী যাচ্ছে দেখা,
ঝরছে যেথা ঘাম !
স্ত্রীলােক হ'লে বরটা হ'ত
দশটা ছেলে মা !”
কেউ বলল “দূর দূর দূর” !
কেউ বলল “ই”।
মুচকি হেসে নয়ন টেনে
কোনও সুরসিকা,
মাঝে মাঝে কচ্ছে আবার
‘মল্লিনাথের টীকা-
“পােষাকেরি বা কিবা ঢং!
টেড়ীর কিবা ছিরি।

হাসির জােড়া
[ ১০৫
বাছা হনু ধরেছেন শিরে
‘গন্ধমাদন’ গিরি।”
প্রশংসাগুলি ‘কুইনাইন-পিল’!
গিলছি কোন মতে,
এগাের সব কচ্ছে বরণ
চালুন-'বাতী হাতে।
এসবই ঠাট্টা, জানইত ?
সত্যি কিছুই নয়,
পিড়ির’পরে দাড়ায়ে আছি
Like a good boy
হঠাৎ ওকি! মলেম! বাপরে !
বাহিরায় যে প্রাণ!
দুদিক থেকে দুইটী এয়ে
ছিড়ে ফেলল কাণ !!
চৌদিক হতে “উলু” ববের
উঠল মহা ঢেউ,
হাসির গােলে “উহুঃ”টা আমার
শুল নাকো কেউ।
অতিকষ্টে খাট্টাঠাট্টা
কল্লেম পরিপাক,
( প্রাণ বাঁচানাে দেখছি দায় !
বিয়েত চুলােয় যাক্, )

যসির জােড়া
( ১০৬ )
(১০)
“সারাদিনটা উপােস্ গেছে,
রাত্তির হ’ল ঢের,
এখনাে দেখছি মিলনাকো
স্ত্রী আচারের জের!
একি! মেরে ফেল্ল ছেলেটাকে,
কেউ শুনেনা মানা!”
পুরােহিতের ধমক খেয়ে
রুষিল এয়ােসেনা !
কটাক্ষণ কেউ হানিল ।
কারাে মুখেতে ঝড়!
সবেগে দিয়ে নােল-নাড়া
কেউ চলিল ঘর ;
ফোঁস, ফোস ফণিনীর মত
গর্জিয়া কেউ উঠে,
“সরে দাড়ানা—বলিতে “ঠা”
পড়িল খুকীর পিঠে!
কেউ রােষেতে রণ-চণ্ডী !
বাঁকিল কারাে ঠোট !
কেউবা খেলেন রাগের চোটে
মস্ত এক হুছােট !

হাসির তােড়া
[ ১০৭ )
স্ত্রীআচারের অভিনয়ে
পড়িল ‘ডুপসি',
সানাই আবার ‘পে ধরিল,
ডােল ‘তাতা-ধিন্ ।
(১১)
“বর আসিল-”সভাস্থলে
পড়িয়া গেল সাড়া !
হর্ষে সবাই উঠল মেতে-
যুবক-ছেলে-বুড়া !
মস্ত একটা তড়িৎ-তুফান্
সভায় গেল ব'য়ে।
আছে দেখি হাজার নয়ন
আমার দিকে চেয়ে !
আজ যেন গাে আমি একটা
দিগ্বিজয়ী বীর !
সৌভাগ্য মাের চরণতলে
হর্ষে নেয়ায় শির ;
কোথায় তােমার সেরাজদৌল্লা ?
কোথায় তােমার লাট ?
আজকে সবাই চমকে যাবে,
মাবে সবে ঘাট

হাসির জােড়া
{ ১০৮ )
এযে কি সুখ ! বুঝবে নাকো
বিয়ে করনি যারা,
জীবনের মাঝে এ দিনটা
সব দিনের সেরা ।
চারিদিকেই শার্ট-কোটের
বিষম ঠাসাঠাসি,
বাগবিতণ্ডা, কাণাকাণি,
মুচকি হাসাহাসি ;
এসেন্স গন্ধে থই থই,
সুন্দরীদের হাট!
ঝলসে যায় নয়ন দেখি
অলঙ্কারের ঠাট।
রঙ্গিন্তীর ছড়াছড়ি,
আলােয় লালে লাল,
“প্রতি-উপহার” স্কন্ধে ঘুরে
নব্য কবির পাল !
“কনে আন” সভার আদেশ :
শিউরে উঠল গা !!
বুকের মাঝে ‘ধপাস্ ধপাস' !
কাঁপছে কেন পা ?
লাল শাড়ীতে শরীর ঢাকা,
সােণার পাতে মােড়া,

হাসির তােড়া
[ ১০৯ ]
ঠিক যেন এক গুটী-পােক।
রেশম জালে পােরা ।
আট বছরের গৌরী এল
ফুলের মালা হাতে,
ঘুমে ঘাড়টী পড়ছে নুয়ে,
সােনার মুকুট মাথে ।
ও এ
(১২)
সমাপ্ত হ’ল সাত পাটী,
শুভ দৃষ্টি হবে !
বন্ধু মহলে হুড়াহুড়ি
ঘিরল আমায় সবে
চারিদিকেই গ্যাস লাইট!
ঝলসে যায় চোখ !
না জানি “সে” দেখতে কেমন !
গিলছি আমি ডােক!!
ঘােষ্টা-মেঘের আড়াল ত্যজি
বধূর মুখ শশী,
দুলু ঢুলু মৃগ-নয়ন
সামনে উঠল ভাসি!
তাকাও তাকাও চেয়ে দেখ’-
সবাই করে হুকুম,

হাসির তােড়া
[ ১১০ ]
আমি ত চেয়ে আগাগােড়াই,
“ওর চোখে যে ঘুম
রুদ্ধশ্বাসে দাড়ায়ে আছি
নিষ্পলক নেত্র !
মেলিল আঁখি এই বুঝিবা-
ঘামিল মাের গাত্র !
চাহিতে চাহিতে চাহিল না,
ঘুমায় চক্ষু মুদে !
হাঁকাহাঁকি ছেড়ে ঝাঁকাঝাকি—
হঠাৎ ফেল কেঁদে!
(সুতরাং) একতরফা হ’ল শুভ-দৃষ্টি !
তাতেই আমি তুষ্ট,
নিরেট-গদ্যে বিয়েটা হ’ল
এই যা মনঃকষ্ট ।
-উপসংহার
কাব্য শুনিয়ে নব্য-পাঠক
বােধ হয় চটিতং !
সমালােচকও ভ্যাবাচেকা,
পাঠিকা রেগে টং !
সুতরাং এখন তাড়াতাড়ি
করতে হ’ল ইতি-

হাসির জােড়া
[ ১১১ ]
আজকে আমার ফুলশয্যা' !
নিভিয়া গেছে বাতী ;
আতর এসেন্স বায়ু সনে
করছে ছুটোছুটি,
বিছানাতে বকুল-বেলী
খাচ্ছে লুটোপুটি।
ঘরের মাঝে হাসির রােল,
এয়ােদিগের গলা,
মিঠে হাতে কড়া ভাজা
টাকা-কাণ-মলা,
দোরের পাশে ফিফিসানি,
চাপা চাপা হাসি,
টিপে টিপে পা’ট ফেলা,
সবজান্তা-কাশি,
সকলি তখন থেমে গেছে,
রাত্রি প্রায়ই শেষ,
তখনো আমি জেগে আছি,
নাইকো ঘুমের লেশ;
পাশের “তিনিও অচেতন,
নাস্তি নড়া চড়া,
পেছন্ ফিরে শুয়ে আছেন
শাড়ী-শ্যামেজ-মােড়া!

হাসির জােড়া
[ ১১২ ।
আদর যত্ন সাধাসাধি,
সব হয়েছে বৃথা,
প্রসন্না মােটে হনি দেবী,
কহেননিকো কথা !
বন্ধুদিগের অভিজ্ঞতা,
যুক্তি, মন্ত্রণা, দীক্ষা,
ভেসে গেছে ঘুমের বন্যায়
নভেলের যত শিক্ষা ;
কাতুকুতু-চুম্ব-চিটি
ঠাণ্ডা নরম গরম
Psychophysical Scientific
Process হরেক রকম,
সবি যখন ব্যর্থ হয়েছে,
অস্ত্র সবই কাবার,
;
অগত্যা তখন চক্ষু বুজে
করছি ঘুমের জোগাড়
হঠাৎ মাথে চাপল খেয়াল,
দেখব বধুর মুখ,
আলাে জ্বেলে যােণ্টা খুলে
মিটায়ে মনের সুখ !
যেমন ইচ্ছা তেমনি কাজ,
জ্বালিমু দেশালাই,

হাসির জােড়া
[ ১১৩ ]
বুকের মাঝে ধড়াস্ ধড়াস্ !
আমাতে আমি নাই।
আস্তে আস্তে চোরের মত
বাঁ হাতে মােমবাতী,
ডা’ হাতে ঘােটা খুলি
নিদ্রিতা শ্ৰীমতী।
ঠিকরে পড়ে উজ্জ্বল আলো
কোমল মুখের 'পরে !
কি দেখিনু সেই নিমিষে!
স্বল্ব কেমন করে ?
সুন্দর! কি সুন্দর গাে !
পরীর মত মুখ!
কাল কাল জোড়া ভুরু,
টানা টানা চে খ !
তাসুল-রাঙ্গা ঠোঁট-দুখানি,
ভূলিতে যেন লেখা!
স্বপ্নে ফোটে সােহাগ-মধুর
সােজ হাসি রেখা।
কম্পমা হস্ত আমার
নিশ্বাস গেল থেমে !
প্রদীপ-উজ অধর পানে
মুখটী এল নেমে

হাসির জোড়া
{ ১১ } •
হঠাৎ ওকি! সর্বনাশ!
জ্বলন্ত-মােম্ গলে
পড়ল অনল-ধারা সম
নব বধূর গালে !!
“বাবাগাে” “মাগো” “মলেগাে”-
বিক চীৎকার ।
আমিও অবাক ! হতভম্ভ !
চক্ষে তান্ধকার!
“কি হ’ল” “কি হ’ল”চারিদিকে
বিষম হৈ চৈ !
একি ফ্যাসা! কি করা যায় ?
ভাবতে সময় কই ?
বাতীটী ফেলে কবাট খুলে
আমিত হরিবােল, !
“চোর”, “চোর”, “চোর”-বাড়ীময়
বিষম সােরগােল,
হুছােট, ধাক্কা, ইট পাটকেল
গ্রাহ্য নেইকো কিছু!
দৌড়! দৌড় ! বিষম-দৌড়!
ছুটছে লােক পিছু !!
রায় বাড়ীর গণ্ডার সিং
জবর পালােয়ান,
}

হাসির তেড়া
"
[ ১১৫
চোর ধরিতে সে ছাতুও
হইল অংগুয়ান!
ব্যখ্রসম ভীষণ লক্ষে
পড়িল আমার ঘাড়ে,
সামলাতে নারি উপুড় হয়ে
পড়িনু পথের ধারে ;
বজ-মুষ্টি পড়িল পৃষ্ঠে
ওজন বিরাশী-সিক্কা!
বিকটু-দাপটে বিরাট-চাপ !
আমার উঠিল হিক্কা।
গর্জি উঠিল গণ্ডার সিং
“কঁহা পালাওগে শালা ?”
“পাড়াে” “পাড়াে” বলিয়ে কেগাে
ধরিল টিপিয়ে গলা ?
সরিষা-পুষ্প চক্ষে হেরিনু,
উর্ধে উঠিল তারা।
ধূলি শয্যায় চেতনা লুপ্ত,
“তস্কর” পড়ে ধরা !!
ইতি চোধরা পালা সমাপ্ত।
|-
==

পাইভেট টিউটার
deggagggggggg isgggg
উপার্জনের নামটী নেই,
বাটি বসে বসে একা,
করিতেছি ডাল ভাতের শ্রাদ্ধ !
রেগে রেগে খুন কাকা !
চাকুরী কি বাপু স্বর্গ থেকে
আপনি চলিয়ে আসে ?
খবর রাখনা খরচ কত যে
লাগিতেছে প্রতিমাসে !
বসে বসে’ যদি দিন চলে যায়,
কি হবে চাকুরী খুঁজে ?
কাকার ঘাড়ে চাপায়ে সংসার
নিজে আছ চোখ বুজে !
রুষ্ট-বাক্যে কষ্ট উপজিল
প্রতিজ্ঞা করিনু মনে,
‘ফিরিব না আর না হলে চাকুরী,
মিশিব না কারাে সনে'।
.

সির তােড়া
( ১১৭ ।
প্রাইভেট টিউটার
অতঃপর দুর্গা নাম স্মরি,
লইয়ে চাদর ধুতি,
গৃহ হতে হইনু বাহির,
পায়ে চটি, শিরে ছাতি।
‘সেলামী’ দিয়ে চাপরাশীকে
পাঠায়ে দিলেম কার্ড,
“No Vacar.cy, all right babu”
afwa Mr. Hard ;
কষ্প-বক্ষে, আঁধার চক্ষে
পার না হইতে গেট,
‘ঘেউ ঘেউ' ঘাের গর্জন করি
ধাইল মেমের pet !
শ্বেতাঙ্গিনী হাসিয়া অস্থির !
আমিগাে অস্থির ভয়ে !
আৰ্দালী আয়া দেখছে মজা
Babies কোলে নিয়ে
"Come back my darling" (fa)
ফিরে সারমেয় ক্রুদ্ধ ;
কাপড় জামা ধুয়ে গঙ্গায়
করিনু চিত্ত শুদ্ধ !!
:

হাসব তােড়া
( ১১,
প্রাইভেট টিউটার
=
অধম-তারণ ‘teaching-line:
সেথাও বিষম-ভিড়।
লড়াই করছে প্রাণপণে
যত গ্র্যাজুয়েট-বীর :
“অণ্ডারের” ত পাত্তা নেই
‘ম্যাটিক ’ ভয়েই চুপ,
'B.T.' 'Experience'go
পায়তাড়াটা খুব,
ত্রিশ-টাকায় ঘছে এম, এ !
‘বি,এ’র, নাই নাড়ী ।
Distinction' খাচ্ছে খাবি,
“অনাস” গড়াগড়ি ।
“আই, এ,” করছে একাদশী,
“এন্টী” হাঁপায় পথে।
'Recommendation' 15 217
“প্রাইভেট চিঠি”র সাথে !
“দরখাস্তের পাহাড় দেখে
হেড, ক্লার্কের ফিট।
“ক্যাণ্ডিডেটের” শ্রাদ্ধ করেন
চেয়ারে চাপিয়ে পিঠ !

হাসির তোড়া
[ ১১৯
প্রাইভেট টিউশর
সব অফিসেই মারামারি,
কোথাও নাইকো ফাঁক্ ;
খাটছে আশায় অনাহারী
Apprentice'এর ঝাঁক।
‘চেনা-মুখের কেল্লাফতে,
‘ধর-পাকড়ে’র জয় ;
My-man'এর পােয়া-বারাে,
‘জোগাড়ে’র নাই ভয় ;
“নমিনেশন্‌-মেশিন” ঘুরে,
কেরানীর হাতে চাবি !
‘পান-খাবার’ টাকার তলে,
চাপা পড়ছে দাবী !
Angry হয়ে যাচ্ছে ফিরে,
Hungry-graduate !
‘বড়-বাবু’ হাসছে হােঃ হােঃ— !
বুলা’য়ে দাড়ি পেট !
সাহেব মত্ত মেমকে নিয়ে,
কেবা শুনে কান্ কথা !
"See me in the office Sir !"
বলে ঝাকিয়ে মাথা ।

হাসির তােড়া
[ ১২০ }
প্রাইভেট টিউটার
নানাস্থানে গলা-ধাক্কা খেয়ে,
শেষে উপনীত ঢাকা,
‘প্রাইভেট-টিচারি’ মিলিল এক,
মাহিনা চৌদ্দ-টাকা।
( আর যাই হােক্, কপালে আমার
ছাত্র ছিল না মন্দ,
হইত পড়া জিজ্ঞাসিলেই
মুখের কথাটা বন্ধ !
যতই বক,
যতই রোখ,
যতই নাড়না মাথা,
সে শ্রীমুখে সে দিনের মত
ফুটিবে না আর কথা :
ত্যক্ত হয়ে যেনি এক্টী
মেরেছি পিঠেতে চড়,
আরত বাপু নাইকো রক্ষা,
অমনি উঠলাে ঝড় !
“কে মারে গাে বাছাকে আমার ?
মাষ্টার মশায় বুঝি ?”
ধমক শুনেই আত্মা ঠাণ্ডা,
পকেটে হাতটী গুজি ?
ব্যাপার মন্দ দেখিয়ে ছাত্র
ফন্দী করিল বাহির,

হাসির ভােড়।
( ১:
প্রাইভেট টিউটার
অতি সাবধানে বিদ্যাবুদ্ধি
করতে লাগল জাহির ;
বাক্সে দেখি ‘মনি-ব্যাগ’ নাই !
কোথায় বা চটি ছত্র ?
পকেট থেকে হারা'নু একদা
খােকার মায়ের পত্র !
ছাত্রে বলিনু “বলত সত্যি
এ সব কাহার কাণ্ড,
সত্যি বল, নইলে তােমায়
দিব গাে বিষম দণ্ড !”
শুষ্ক কণ্ঠ হইল শিষ্যের,
মুখটী মলিনবর্ণ !
কঠোর স্বরে কহিনু উচ্চে,
ধরিয়ে দুইটী কর্ণ,
“চৌর্য-বৃত্তি শিখেছি কোথা
ওরে নির্বোধ দুষ্ট ?”
চাহিয়া দেখিনু ধাইয়া আসিছে
ছাত্র জননী রুষ্ট
উগ্রচণ্ডা-মূরতি আসিল
হাতেতে দীর্ঘ ঝাঁটা !
( আমার ) দুধের বাছাকে বলিবে চোর,
কারগো বুকের পাটা ?”

হাসির তোড় প্রাইভেট টিউটার রাগে গরগর কর্তা এসে চাহিয়ে আমার দিকে, হুকুম দিলেন “ঘাড়টা ধরে বের করে দাও একে- গ্রীবাটা মাের বাঘেব মত ধরে এসে রামদীন। আমি বল্লে “আমিই যাচ্ছি, নাহিন মিটায়ে দিন- “মাহিনা লেগে বেইমান ? নিকাল হিয়াসে তুম— বতে হতে নিমেষেতে শব্দ উঠে ‘দুমাদু’! . এক মাসের পাওনা মাের রূপেয়া নগদ চৌদ্দ, বদলে তা’র হইল পৃষ্ঠে পাকা কঁঠালের শ্রাদ্ধ !

সব সমান
১৬
বামণ-চোষা হুকা আর
গােয়াল-চোষা গাই ;
বাদুর-চোষা নারিকেল,
আর ছেলে চোষা মাই
আমলা-চোষা জমিদার,
“ষ্টাইল”-চোষা হাকিম ;
মােক্তার-চোষা মক্কেল,
ফরিঙ্গ-চোষা ডালিম্ ;
পােষাক্‌-চোষা নূতন-জামাই,
জামাই-চোষা শ্বশুর ;
মোসাহেব চোষা হঠাৎ বাবু;
জেলে-চোষা পুকুর ;
*চোষ আসামী ও
খাতির-চোষা দোকান,
“ম”কার-চোষা যুবা-পুরুষ,
বয়স-চোষা মান ;
ক

গলির তােড়া
[ ১২৪ |
সব সমান
প্রকাশ-চোষা গ্রন্থকার,
অভাকচোষা ঠাট;
চঁদা-চোষা রায় বাহাদুর,
বাছুর-চোষা বাঁট ;
সাহেব-চোষা মহারাজা,
নায়েব-চোষা প্রজা ;
মহাজন-চোষা দেদার,
খেতাব,-চোষা রাজা ;
পাচ-চোষা ঘন দুধ,
বাচ্চা-চোষা ছাগী ;
চাকর-চোষা বাজার-ফর্দ,
ডাক্তার-চোষা রােগী ;
থিয়েটার-চোষা কুলবধু
ব্যারাম-চোষা দেশ;
ফ্যাসন-চোষা বাবুগিরি,
বাহার-চোষা বেশ ;
বন্ধু-চোষা ব্যবসায়,
বাহােবা চোষা দাতা ;
আচার-চোষা আরাধনা,
কৰ্ত্তা-চোষা নেতা ;
আইন-চোষা স্বাধীনতা,
খেয়াল-চোষা প্রেম;

হাসির জােড়া
[ ১২৫]
সব সমান
নভেল-চোষা ডাগর মেয়ে
'কোর্টসিপ’চোষা মেম ;
স্বার্থ-চোষা পরিবার
হিংসা-চোষা বধূ ;
সেলামী-চোষা চারি আর,
ডেয়ে চোষা মধু ;
কন্যা-চোষা পিতৃ-বিত্ত,
আল্ডা-চোষা ছেলে ;
ঘানি-চোষা সরিযে আর,
নিকারী-চোষা জেলে ;
পঙ্গ-চোষা পাকা ধান,
সঙ্গচোষা স্বভাব
ঘুণে-চোষা কাঁচা বাঁশ,
কায়দা-চোষা নবাব
নিকেশ-চোষা তহশীলদার,
রৌদ্র-চোষা কাঠ, ;
এয়ার-চোষা রাজকুমার,
খরা-চোষা মাঠ ;
স্যাক্রা-চোষা সােণা আর,
মােড়ল-চোষা গাঁ,
আদর-চোষা নন্দন,
পাটনী-চোষা না :
;
;

হাসির তেভা
সব সমান
“পার্টি”-চোষা ব্যারিষ্টার,
হুজুগ-চোষা প্লিডার ;
উকীল-চোষা মােকদ্দমা,
পক্ষ-চোষা বিচার ;
সব সমান সব সমান,
সব সমান ভাই।
বাহিরেতে চটকদার
ভিতরে কিছু নাই।
@

@@@@
@@@@@@@
নীতি-পাশ।
FIFTY MORALS.
@@@@@@@@
(১)
সাহেব দেখিলেই করিবে ‘সেলাম,
পুলিশ দেখিলে লম্বা’!
উদার হৃদয়ে করিবে গগ। ক্ষমা
পিঠেতে কসিলে “বােম্বা” !
(২)
মনিবের গালি শুনিবে নীরবে
“ড্যাম্” ও “শূয়াকা বাচ্ছা”
বলিবে “হুজুর, আপনি মা বাপ,
যা, বলেন তাই আচ্ছা !”
(৩)
নিমন্ত্রণ পেলে গাদিবে ঠাসিয়া
দিবে প্রাণ পণে পাল্লা,
ফুলিবে উদর? তাতে ক্ষতি কি?
নিত্য মিলিবে কি গােল্লা ?

গলির তােড়া
[ ১২৮ ]
নীহ-পঞ্চাশৎ
অন্দর মহলে ঢুকিতে হইলে,
ডাক্তার হওয়াই যুক্তি ;
বিনা পয়সায় বিলাইবে জল,
বাড়িবে রােগীর ভক্তি।
( ৫ )
টিকেট না কিনে চড়িবে টেণেতে
যদি পার কোন ফাঁকে।
দেশের অর্থ দেশেতে থাকুক।
দিবে কেন বিদেশকে ?
( ৬ )
হােটেলে গেলেই ছাপাইবে জাত,
সাজিবে ব্রাহ্মণ সাচ্চা ;
পকেটে রাখিবে শুভ্র পৈতা এক,
হওনা বাহারি বাচ্চা।
( ৭ )
যােলর আগেই বিয়ে দিবে ছেলে,
বধূটী আনিবে মস্ত!
নইলে দেখাে’ ছেলে, বদ করে দিবে
তাহার যতেক দোন্ত!

হাসির তােড়া
[ ১২৯ }
নীতি-পঞ্চাশ
(৮)
নেতাই যদি হও, বক্তৃতা দিয়ে
আগেই খুলিবে “ফগু”।
কিছু হাতাইয়ে চুপ মেরে যাবে!
বলুক না লােকে ভও?
(৯)
আইন পড়িলে, মিথ্যা কথাটাকে
আগেই করিবে মক্স ;
পাওনাদারের তাগাদা কমাবে
ভাঙ্গিয়ে মায়ের বাক্স।
(১০)
পত্নীর নামেই জমাইবে টাকা,
স্ত্রী-ধন নহেগাে ভাজ্য ;
ভাই ভাই যবে ঠাই ঠাই হবে
প্রাপ্য বুঝে নিও ন্যায্য ।
(১১)
‘সরকারী অফিসে চাকরী করিলে,
কাগজ, কলম, চুরি,
ছেলের যা লাগে—কিনিওনা কভু
ইহা নহে যেন চুৰি ।

ছাসির তোেড়া [ ১৩০ ] নীতি-পঞ্চাশৎ । (১২) কত্তার কাছে গরুড় পক্ষী দেখাইবে হৃদি কম্প, সমানের কাছে করিবে গজ্জন, বক্তৃতা ও লম্ফ ঝম্প ! ( ১৩ ) কাজ কৰ্ম্ম কভু কর বা না কর, খাতা পত্রে থেক ঠি! “অডিটর” সাথে করিবে আপােষ, যদি দেখ বেগতি ! (১৪) প্রজার শােণিত করিবে শােষণ, আইন রাখিয়ে হাতে ; সভায় দেখিলে চঁাদার খাতাটী, পলাইবে কোনমতে ! - (১৫) ছুটি নিতে হলে ‘টেলিগ্রাম’ চাই- “Wife seriously ill" ! অথবা কিনিবে ডাক্তারের চিঠি খেয়ে দু’টী “বেড, পিল”।

হাসির জােড়া নীতি-পঞ্চাশৎ ( ১৬ ) মেম্ রেখে দিয়ে শিখাবে মেয়েকে সেলাই, সঙ্গীত, নৃত্য ; হাওয়া খেতে গেলে পাঠাবে সঙ্গে বিশ্বাসী বেকুব ভৃত্য । (১৭) পত্নীকে দিবে পূর্ণ স্বাধীনতা যখন করিবে কলহ, লেপ মুড়ি দিয়ে জাগিয়া ঘুমাবে ঢাকিয়ে কর্ণপটহ। ( ১৮ ) পরিবার না থাক্‌, জেনানা-গাড়ীতে মাঝে মাঝে দিবে উকি । প্ল্যাটফরমে করিকে পায়চারি, ব্যস্ত হয়ে ডাকাডাকি । (১৯) বেঞ্চ বেমালুম দখল করিয়া শুইবে ঢাকিয়া দেহ, বলিবে “মশায় ! টাইফয়েড জ্বর- যখন ডাকিবে কেহ !

হাসির ভােড়।
{ ১৩২ ।
नौडि-
(২০ )
হাটু কোর্ট পরি ট্রেনেতে চড়িবে,
মুখে ইংলিশ তুবড়ি!
সভয়ে সম্রমে দূরে দাঁড়াইবে
‘পাড়াগেঁয়ে’ ও ‘পাগড়ী’!
(২১)
‘তৃতীয় শ্রেণী’র টিকেট করিয়ে
‘ইন্টারে’ চড়িবে ভুলে !
“চোর” ধরিলে পকেটে তাহার
Something' দিবে ফেলে।
(২২)
করিবে হজম গৃহিণীর গালি,
ফিরিঙ্গীর ঘুসী-ধাক্কা,
প্রমাণ-বিহীন গচ্ছিত-ধন
ওয়ারিশ গেলে মক্কা!
(২৩)
“Public money” পড়িলেই হাতে
চূষিবে আকণ্ঠ ভরি’,
দশের টাকায় কিনিবে বেনামী
বাগান দ্বিতল বাড়ী

[ ১৩৩ ]
নীতি-
পৎ
( ২৪ )
অন্তিম-শয্যায় শয়ান জনক
যখন চেতনা-হারা,
আস্তে ও গােপনে কোমর হইতে
খুলিবে চাবির তাড়া!
(২৫)
হাকিমের পাশে বসিয়া লিখিবে,
বাঁ হাত পেছনে পাতি।
স্বচ্ছাকৃত দান তুলিবে পকেটে
নীরবে নির্ভয়ে অতি!
( ২৬ )
পুলিশ হইলে বােতল-মার্কা
হবে ‘ম'কারের ভক্ত,
শিক্ষিতের কাছে লইওনা ঘুষ,
চাষার চূষিও রক্ত!
(২৭)
বড়লােক হলে লাখ টাকা দিয়ে
সহরে কিনিবে বাড়ী;
রাখিবে বাগান, সহরের সেরা!
ফিটন মােটর গাড়ী।

যদি তােড়া
( ১৩৪ ।।
নীতি-পঞ্চাশ
( ২৮ )
পরীক্ষার হলে” নকল করিবে,
কিম্বা বদলাইবে খাতা।
পকেট বােঝাই করিয়া লইবে
ছিড়িয়া বইএর পাতা !!
( ২৯ )
পরীক্ষক যদি দেয় ফেল করি’
Have
you. understood ?
Rustication? হয় হবে হোক,
Teach him a lesson good
(৩০ )
পাচ রাখিবে ফিটফাট, বাবু,
কখন-না-হয়-ক্রুদ্ধ !
মুখে-চোখে-হাসি চতুর রসিক,
“সবাই” সেবায় মুগ্ধ !
( ৩১ )
হক সুন্দরী-ধনী-কন্যা সনে
বিবাহ দিবে গাে পুত্রে ;
লইবে না “পণ”—পাঠাবে খবর
কাগজে বিশ্বস্তসূত্রে !

হলির তােড়া
[ ১৩৫ ]
নীতি-পঞ্চাশ
(৩২)
বড়লােক টোক মুরুব্বী না হলে
উন্নতির আশা অল্প,
দেখা হইলেই নিবে পদধূলি
সুবিধা পেলেই গল্প!
( ৩৩)
আফিসের হেড় হইলে, করিবে
অপরের আশা চূর্ণ,
শ্যালকুজামাতা কুটুম্ব-স্বজনে
ভেক্যাসি’ করিয়ে পূর্ণ !
(৩৪)
‘টিউটরু হলে প্রশ্ন বলে দিবে,
গােপনে ‘প্রাইভেট ছাত্রে।
এদিক ওদিক সে দিক্‌ করিয়া
পাশ করাইবে পুত্রে ?
(৩৫)
চরম-পথেতে চলিও না কভু,
ধ’র মাঝামাঝি রাস্তা,
সুবিধা বুঝিয়া বদলাইবে মত,
কিনিবে যা পাবে সস্তা ?

হাসির জােড়া
( ১৩৬ ]
নীতি-পঞ্চাশৎ
(৩৬)
চাটুবাদ শুনে’ চটিও না কভু !
ভেব না উহার তুচ্ছ ;
তারাই তােমার প্রচারিবে যশঃ,
করিবে তােমায় উচ্চ ।
(৩৭ )
মফঃস্বলে যাওয়া হােল্ক বা না হােক
সেজন্য হ'খােনা ব্যস্ত,
বাসায় বসিয়া লিখিবে “ডায়েরী”,
ট্রাভেলিং-বিল মস্ত !
(৩৮)
বাবার থাকিলে টাকার যােগাড়,
আবার কিসের চিন্তা ?
লেখা পড়া শিখে কোন কাজ নাই,
নাচ ‘তেড়ে—তা-ধিন্ ।
(৩৯)
সাবালক হয়ে, নবীন-যৌবনে
হাতে পেলে জমিদারি,
দু’হাতে ফুৰ্ত্তি লুটিবে নিয়ত,
ভূমে যাবে গড়াগড়ি !

হাসির জােড়া
[ ১৩৭ !
নীতি-পঞ্চাশৎ
( ৪০ )
কখনাে বিশ্বাস কর না কাহাকে
আপন গৃহিণী ভিন্ন,
কৃষ্ণ সম যত্নে ধরিবে বক্ষেতে,
রাতুল চরণ-চিহ্ন।
(৪১)
অৰ্ধাঙ্গিনীর অভিমান রােগে
ঔষধ শুধু গহনা,
“টাকা নাই বলে দিও না তাহার
কোমল-চিত্তে বেদনা ।
(৪২)
গৃহিণীর সাথে গল্পে-গুজবে
খেয়ে দেয়ে ভরপেট,
যখন খুসী অফিসেতে যেও,
(কিন্তু) খাতায় লিখনা “late”
{ ৪৩ )
‘বর-যাত্রী হলে, কন্যাপক্ষের
নাচিবে চড়িয়া ঘাড়ে
রসগােল্লা দিয়ে খেলিবে ‘ক্রিকেট’!
“যা খুসী” রাখিবে ভাড়ে।

হাসির জােড়া
{ ১৩৮ }
নীতি-পঞ্চাশৎ
( ৪৪)
খুন সুট চুরি ডাকাতি করিয়া
যখন পড়িবে ধরা,
“এভার হয়ে আপনি বাঁচিবে
‘দল’কে বানা'য়ে ভেড়া।
(৪৫ )
হােটলােক সক ব্যবসা করুক,
তােমরা করিও চাকুরি,
মহিলা কমেও নাহি লোন,
যদি থাকে তায় ‘উপুরি”।
( ৪৬ )
বড় চাকুরেরা কহিওনা কথা
গরীব বন্ধুর সাথে,
নইলে দেখো' তারা প্রশ্রয় পেয়ে
চড়িয়া বসিবে মাথে
( ৪৭ )
পরের কুৎসা, গুপ্ত প্রণয়
স্বখ্যাতি সদাই মিষ্টি।
নিজের গলদ ঢাকিয়া রাখিয়ে
কাটিবে পরের কুষ্টি।

হাসির তােড়া { ১৩৯ ] নীতি-পঞ্চাশৎ ( ৪৮ ) বৃদ্ধ বয়সে ব্রহ্মচারী হবে, শিথিল যখন অঙ্গ- যৌবনে করিবে যাহা প্রাণ চায়, শুধু ভােগ-রস-রঙ্গ! (৪৯) বাহিরে, হইকে 'Strict-moralist কাৰ্যে না হলেও, গুল্পে ! ভিক্ষুক হইলে; জোর করে নিবে, তুষ্ট হ’ওনা অল্পে ! ( ৫ ) “বইএর সেবা কর বা না কর; করিবে বউএর সেবা। বিদ্বান্ হইলে মুর্থ-পিতায় কভু বলিওনা ‘বাবা’ !! ফও- ‘উপহার আশে কিনিওনা বই উপদেশ দেয় কবি, ‘পরের পুস্তক পড়িতে আনিয়া ছিড়িয়া রাখিও ছবি !

বিজ্ঞাপন-বৈচিত্র
-১নং-
লণ্ডভণ্ড লণ্ডন, দোর্দণ্ড জেপেলিনে।
ইউরােপে হুলস্থুল!! কৈশরের ফাঁসি
আপনি মাখুন সুখে নিশ্চিন্ত মনে,
সেখ মসিউল্লা কৃত ‘গােলাপ-নিৰ্য্যাস।
রঙ্গবেরঙ্গে বাহির হল
‘হাসির-তােড়া-কাব্য !
ছেলে-বুড়াের পাঠ্য ইহা,
সবারি ইহা শ্রাব্য ।
১৯৯৯
ন

{ ১৪১ )
পড়লে খাবে লুটোপুটি,
হাঃ হাঃ হিঃ হিঃ শব্দ!
শুনলে হবে হেসে খুন,
কিনিলে জব্দ!
‘হাসির তােড়া পেয়ে হবে
মেয়ে সব ঠাণ্ডা।
বাবুভায়া ছেড়ে দিবে
খাওয়া ছােট-আণ্ডা !!
পরীক্ষাতে পাশ হবে
যত গাধা ছাত্র,
চাকুরেরা প্রমােশন
পাবে দিন রাত্র।
নেতা সব ছেড়ে দিবে
রাজনীতি-চর্চা,
জেলখানা বেচে যাবে
কয়েদীর খচা !
ক-বধূ ছেড়ে দিবে
নভেলের সঙ্গ।
ছেলে হবে গম্ভীর
ছেড়ে রসরঙ্গ ।
ডাক্তার ছেড়ে দিবে
বােগী-বধ-কাৰ্য্য,

[ ১৪২ }
হরিনামে মেতে যাবে
যত সুরাচাৰ্য !!
চাপরাশী ভুলে যাবে
ঘুষি-গলা-ধাক্কা!
'একটিনি’ হয়ে যাবে
স্বীয় পদে পাক্কা!
ভাইএ ভাই মারামারি
নাহি রবে দ্বন্দ্ব,
টিচারেরা মাসে মাসে
প্রায়ই পাবে বন্ধ !
নববিবাহিত ঘন
পাবে “তার” পত্র।
বের হাটে বিকাবে না
চড়া দামে পাত্র !!
গৃহিণীরা ঝাঁটা নিবে
ছেড়ে দিয়ে মানটা,
মাঝে মাঝে মলে দিবে
স্বামীদের কানটা !!
হাকিমেরা ঘন ঘন
নাহি হবে বদলি,
সাহেবেরা দেশে যাবে
খেতে খেতে কদলী

{ ১৪৩ }
উকিলেৱা কাশী যাবে
ছেড়ে দিয়ে মালা,
মক্কেলে টানাটানি
কবে ধরে শালা !
স্বামী-স্ত্রী করিবে না
বৃথা-বাক্‌-যুদ্ধ।
ছেলে সব বের নামে
হবে অতি ক্রুদ্ধ !!
যারা) ছন্দ নিয়ে দ্বন্দ্ব কবে,
মিল নিয়ে ঝগড়া,
নারিকেলের রস পাবে না,
চুষবে শুধু ছোবড়া !
মজার-সেরা হাসির তােড়া
বারাে আনা মূল্য,
অর্ডার দিন পাঠ মাত্রই
অধ্যই! নয় কল্য!
{ পাপড়ি )
ত

WANTED
No. I.
WANTED immediately
One private teacher
To coach my five boys,
And only daughter ;
For three hours in the morning,
Three hours at night;
Two read in class X.
Others in IV and VIII ;
Experienced, energetic,
Hard-working M. A.
May apply, no hope
For without-honours B. A.
Preference will be given
To a bonafide candidate,
Golden opportunity for a young
Competent graduate ;
Pay, of course, handsome--
Rupees fifteen cash!
Apply to "Statesman"
Box No.

[ 145 ]
No. II.
WANTED a good governess,
- A fair-looking miss !
Willing and painstaking,
Over and above this,
Must know needle-work,
Fine art and music ;
For five years she sh'd give
Guarantee to stick ;
Age-not more than twenty !
But preferable, if lower ;
She's to take care of orphans
Of a 'Hakim' widower ;
Pay according to qualification,
This is his motto !
Candidate sh'd apply personally,
Or with a photo !!

[ 16 ]
No. III.
WANTED a competent Ad. Master
For an aided H. E. School,
With good teaching experience
of twenty years («s a rule);
Qualification---English M. A.
B. T. too has a chance !
Who likes o shine in this line
Should apply at once.
The initial pay is Rs. 40,
The final has no limit;
The promotion being very rapid
It's easy to reach the sumnit ;
Boarding free on tuitions
Which are very cheap !
For convenience of the Hd, master
A free house we keep;
We deduct from the salary
The house-rent rupees ten;
It's no doubt a trifling sum,
Can be paid by all men;
The school is not very distant,
Only an hour's stride!

[ 147 ]
It is always too comfortable
To bike or to ride.
There lives long no doctor,
Health--you may imagine,
Men are not in the habit
Of taking medicine !
Apply to the Secretary
*Maulavi Faziluddin Ghani,
On or before the 12th proximo
With a good testimony.
caminan

[ 148 ] No. IV. WANTED a very beautiful Most accomplished bride, She must be of good blood, Must have fair hide ! Eyes must be lotus-like, Hair curling black ! In good manners and jollity She must not lack ! Nose and lips well-cat, Rosy and blushing cheek, She must be not below teens, A girl of good physique ! Education little little Expert in writing letters, Must know house-wifery And to respect the betters; The bride-groom is under-matric, A good promising 'boy, Age not more than twenty-five- And naturally very coy! Has every chance of passing the M.A. If lie gets the money He is a rising fertile poet And always drinks honey!

[ 149 ] He takes up all the fashions, Modern and up-to-date, You can't get a more refined husband, That we can bet ! To settle the terms first We take every care, He'll see the bride personally If he gets the fare ! Highest bidders may win the groom At a very cheap rate! Anxious father sh'd be forward, Must repent if late ! Charge not very exorbitant, Five thousands in all ! Cycle, gramophone, watch etc- Dowry too very small !! Particulars on application with an anna-stamp, Communicate to Ghatak & Sons At Merchant-of-Venice Camp ! www mm

[ 150 ]
No. V.
WANTED husbands for export
By the next mail,
Applications are invited,
Candidates must n't fail !
Many a soldier's lost and killed
At the German battle,
Miss and maids roam about
Like the stray cattle !
Offices are over-crowded,
All seized by gowns !
Ladies fight for husbands
In all big towns !
Dire famine of bride-grooms
Threatens Europe !
Sweet sixteens are starving,
Widows have no hope !
Golden opportunity for those
who are not married !
By Aeroplane to Europe
They will be carried !
Bride-grooms of all types,
-Be they black or white,
Second-third- fourth hands too
Would have chance quite !

[151]
No troubles of courtship now,
ust go see and marry !!
After sweet 'Honey-moon'
May divorce or carry !
Apply for marriage-tickets
Which are given free!
Get
you
booked all at once,
Go by air or sea !
Mr. HUSBANDMAN
Manager, Foreign Marriage Service.
BOWBAZAR, CALCUTTA.
!!
off
GOOD BYE !
wwm

No text on this page.

শ্ৰীযুক্ত মােহিনীমােহন ভট্টাচাৰ্য্য বি, এ প্রণীত “হাসির তােড়ার প্রথম সংস্করণ সম্বন্ধে কতিপয় অভিমত ঃ- ১। বঙ্গবাসী কলেজের অধ্যাপক শ্রীযুক্ত ললিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্যারত্ন এম্ এ লিখিয়াছেনঃ- “হাসির তােড়া উপহার পাইয়াছি। এক নিশ্বাসে সব গুলি পড়িয়া ফেলিয়াহি ও খুব হাসিয়াছি। * * * কলেজের প্রত্যেক ছাত্রের এই ক্ষুদ্র পুস্তক একখণ্ড ক্রয় করা উচিত, তাহাতে statics Dynamics বিড়ম্বিত জীবনে একটু সুখের হাওয়া বহিবে, পরীক্ষাগ্নিতে ভাজা ভাজা হাড়ে একটু বাতাস খেলিৰে।.....বইএর get up অতি সুন্দর হইয়াছে। মূল্যও খুব কম।” ২। বেথুন কলেজের প্রােফেসার দার্শনিক শ্ৰীযুক্ত কৃষ- চন্দ্র ভট্টাচাৰ্য (M, A, P, R, s.) লিখিয়াছেন :-‘হাসির তােড়া পড়িয়া বড়ই আনন্দ পাইলাম। লেখক ইহাতে উৎকৃষ্ট রসজ্ঞান ও কবিত্ব শক্তির পরিচয় দিয়াছেন।” ৩। কৃষ্ণনগর কলেজের প্রােফেসার শ্রীযুক্ত রামপদ মজুমদার এম এ লিখিয়াছেন :-* ** “এ কথা খুব নিঃশঙ্ক- চিত্তে বলিতে পারি যে অনেক দিন বঙ্গ সাহিত্যে এরূপ ‘হাসির জােড়ার উপহার প্রদত্ত হয় নাই। এবং যদি কোনও পাঠক কৌতূহল বশতঃ পুস্তিকাখানি ক্রয় করেন তাহা হইলে পরে তাঁহাকে নাম প্রসিদ্ধ “দিল্লির লাড্ড” বলিয়া জুতপ্ত হইতে হইবে না।”

রাজসাহী কলেজের ভুতপূর্ব অফিসিয়েটিং প্রিন্সিপাল প্রসিদ্ধ বৈজ্ঞানিক লেখক যুক্ত পঞ্চানন নিয়ােগী ( M.A. P.B.S. PID) মহোদয় লিখিয়ছেন :-* ‘হাসির ভােড়া পড়িয়া খুবই হাসিলাম। কবিতাগুলির প্রতি ছত্রে একটা দেশী ভাবের humour বেশ ফুটিয়া উঠিয়াছে। আমার শেষ বক্তব্য এই যে লেখকের প্রাথমিক চেষ্টা আশাতীত সাফল্য লাভ করিয়াছে।” “সির তােড়ার জন্য “পোঃ আঃ ঘােড়ামারা, রাজসাহা” এই ঠিকানায় “গ্রন্থকারের নিকট পত্র লিখুন। ১। সচিত্র “হাসির তােড়া” ( দ্বিতীয় সংস্করণ) মূল্য ৮০ ২। সচিত্র পাপড়ি মুল্য / নিবেদক- ভট্টদাস দত্ত চৌধুরী।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Hasir Tora Ed. 2nd

Author
Bhattacharyya, Mohinimohan
Title
Hasir Tora Ed. 2nd
File name
Hasir Tora Ed. 2nd
Text
OCR done
Citation
1920
Published
2010/02/15
Publisher
Sri Bhupendra Chandra Das
Language
Sanskrit
Pages
176
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Amader Desh
DLI number
511087
Barcode
4990010018267.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
PL3ztOhvK9m
Download PDF

Hasir Tora Ed. 2nd