Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Geeti-pushpanjali
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
গীতি-পুস্পাঞ্জলি।
দীন—শ্রীরামকৃষ্ণ দাস 2
গণত।
**
মূল্য ॥ ৩ আনা।
সন ১৩২৮ সাল।
No text on this page.
শরণম্।
নিবৃত্ত-তর্ষেরুপগীয়মানাং
ভবোবধাৎ শ্ৰোত্ৰ-মনােহভিরাম।
ক উত্তম-শ্লোক-গুণানুবাদাৎ
পুমান্ বিরজ্যেত বিনাপন্না।
(ভাগবত)।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
দীন—শ্রীরামকৃষ্ণ দাস কর্তৃক
প্রণীত।
শ্ৰীযুক্ত পশুপতি পাল মহাশয়ের যত্নে
গ্রন্থকার কর্তৃক প্রকাশিত।
শ্ৰীঅবিনাশচন্দ্র কোঙার
সামন্তী মধ্য ইংরাজী স্কুলের হেড পণ্ডিত
কর্তৃক সংশােধিত।
সিংহপাড়া নিবাসী-বেহালাদার শ্ৰীযুক্ত শশিভূষণ যশ
ওস্তাদজী কর্তৃক সুরতাল সন্নিবেশিত।
( সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত)
চুচুড়া সরস্বতী প্রেসে বৃন্দাবন চন্দ্র দত্ত কর্তৃক মুদ্রিত ভূমিকা। মহাশয় । আমি বিংশ শতাব্দীর একজন উন্মত্ত অশিক্ষিত ব্যক্তি। আমি সুর-তাল ণত্ব মত্ব-জ্ঞান পরিশূণ্ঠ। আমার কবিত্ব জ্ঞান, কল্পনাশক্তির স্ফুরণ কিংবা রচন শক্তির বিকাশ কিছু মাত্র নাই। আমি তৃণাপেক্ষা হেয় এবং নগণ্য হইয়াও লেখনী ধারণ পূর্বক সঙ্গীত পুস্তক প্রণয়নে যে কবি-সমাজে প্রসিদ্ধিলাভে সমুদ্যত হইয়াছি, সে কেবল পাগলের প্রলাপ অথবা বামনের চন্দ্রমা ধারণ প্রয়াসের ন্যায় বিড়ম্বনা মাত্র। আমি যন্ত্র-চালিত পুত্তলিকার ন্যায় কোন অজ্ঞাত-শক্তির প্ররােচনায় প্রণােদিত হইয়া, কতিপয় সঙ্গীত রচনা করতঃ পাঠক-বর্গ বা গায়ক-বৃন্দের সমক্ষে উপস্থাপিত করিতে প্রয়াসী হইয়াছি। ইহা মাদৃশ ক্ষুদ্রচেতা ব্যক্তির পক্ষে ধৃষ্টতা বা বাতুলতা প্রকাশ মাত্র। পাগল কখন এর প্রাণের কথা প্রাণে চাপিয়া রাখিতে পারে না; তাই আজ মুক্তকণ্ঠে পাগলের প্রাণের উচ্ছাস এই গীতি-পুস্পাঞ্জলি’ পুস্তকখানি পাঠক- বর্গের নিকট প্রকাশিত করিতে বিন্দুমাত্র ও সঙ্কুচিত হইলাম না। পরিশেষে ৮ ক্তব্য সুরতালজ্ঞ সুগায়ক পরম পূজ্য প্রভুপাদ শ্রীমৎ প্রভু রসিক চন্দ্র গােস্বামী এবং সিংহপাড়া নিবাসী স্বনামধন্য কবিৎ বেহালাদার শ্রীযুক্ত শশিভূষণ যশ মহাশয় সাতিশয় পরিশ্রম-সহকারে সঙ্গীতগুলির সুর-তাল যথা- নথ সন্নিবিষ্ট করিয়া দিয়াছেন। এজন্য আমি আন্তরিক শ্রদ্ধার সহিত ইহাদিগের নিকট চির-কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ রহিলাম। অদোষদর্শী সহৃদয় গুণগ্রাহী পাঠক মহােদয়গণ অধীনের ত্রুটী মার্জনা করতঃ যদি বিন্দুমাত্রও আনন্দলাভ করেন, তবে আমার শ্রম সফল হইবে, অলমতি বিস্তরেণ । বিনীত— শ্রীরামকৃষ্ণ দাস সন ১৩২৭ সাল গ্রাম-সিংহপাড়া, ২৪শে যান। পােঃ-বগমণা, জেলা- বর্ধমান।
উৎসর্গ পত্র।
স্বর্গীয় নিবারণ চন্দ্র মুখােপাধ্যায়
পরমপূজ্য গুরুদেব!
আজ দ্বাদশ বৎসর অতীত হইল, আপনি স্বর্গধামে গমন করিয়াছেন,
আপনার কৃপাবলে আপনার এই অযােগ্য শিষ্য বহু পরিশ্রমে যে সঙ্গী
মালা প্রণয়ন করিয়াছে, আপনার অকৃত্রিম অমেয় স্নেহের নিদর্শন স্বরূপ এই
সেই ক্ষুদ্র পুস্তকখানি ভবদীয় পদ-কমলে ভক্তিসহকারে সমর্পিত হইল।
নিবেদন ইতি—
চির প্রণত
রামকৃষ্ণ দাস,
সাং সিংহপাড়া,
জেলা বর্ধমান
সন ১৩২৭ সাল।
গীতি-পুস্পাঞ্জলি।
রাগিণী -- মিশ্র খাম্বাজ ।
তাল-—ক ওয়ালি।
কাতরে করুণা কর, শতদল বাসিনী ।
সুখদা বরদা তুমি, জ্ঞান-প্রদায়িনী।
প্রণমি মা তব পদে, রেখ মা সম্পদাপদে,
মন যেন থাকে পদে, বিপদ-নিবারিণী ।
অনভিজ্ঞ তালমানে, কেমনে রচিব গানে,
অজ্ঞান সন্তানে তুমি, সৰ্ব্ব-জ্ঞানদায়িনী।
বেদ পুরাণ আদি, না মানি নিরবধি,
হয়েছি অপরাধী, অপরাধ তার তারিণি।
সেমতি মা কালিদাসে, কৃপা করি কষ্ঠ ব'সে,
মধুর কবিতা রসে, রসনায় রস-দায়িনী---
তেমতি মা কৃষ্ণদাসে, দয়া করি নিজ দাসে,
রেখো মা পদ পাশে, ভক্তে পদ-দামিনি।
==
রাগিণী-মালকোষ।
তাল–সুরফাঁকতাল।
শত গণেশ, অশেষ গুণাকর।
পার্বতী প্রিয়পুত্র, গজানন লম্বোদর।
মূষিক বর বাহন, বালসূর্য্য বরণ,
বিঘ্নবিনাশন, ভব বিপদ হর ৷
ব্যালােল গণ্ডস্থল, মদগন্ধে আকুল,
ব্যাকুল মধুগ কুল, খর্ব মুল কলেবর।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি
সুর bষ্কর, গদা চক্রধর কর,
লেখী-পুস্তক ধর, (ভূষণে) ভূষিত কলেবর
যুগ-চরণ-সবােজ, হৃদয়ে ধরি মজ,
রামকৃষ্ণ দাসের কলুষিত অন্তর।
রাগিণী-- সিন্ধুভৈরবী।
তাল-রূপক।
ওরে ভ্রান্ত মন! চিন্ত অকারণ,
থাকিতে এমন বাহ্মণ চরণ, সহিতে হবে না ত্রিতাপ দাহন।
এ আর্য বংশেতে, জনমি ভারতে, কি অভাব তােমার আছে এ জগতে,
ছাড়ি অন্য মন, ভাৰ সৰ্ব্বক্ষণ, মুক্তিদাতা এই ভূদেব সাহ্মণ ।
ব্রাহ্মণেরই পদ, বিপদে সম্পদ, মূঢ়ত্ব প্রকাশি, ভাব তুচ্ছ পদ,
ভেবে দেখ মন, দেব নারায়ণ, সাদরে হৃদয়ে করেন ধারণ।
জন্মজন্মজ্জিত, পাতক হইতে, যদি বাঞ্ছা থাকে পরিত্রাণ পাইতে,
কৃষ্ণদাসে কয়, ভবরােগ দূরে যায়, শিরেতে যে ধরে ব্রাহ্মণ চরণ।
* -
রাগিণী-ভৈরবী। তাল-একতা।
এমন মানব দেহ যদি পেলি।
সেই সারাৎসার শ্রী গুরুর চরণে, মন কেন না সপিলি !
ও শব্দেতে হয় পাপের আঁধার, ক শব্দেতে যিনি ধ্বংশ করেন তার;
এমন গুরুরে তুই অনায়াসে পেয়ে, হেলাতে হারালি ।
যাহার কৃপাতে ধন-জন পেলি, সেই গুরুরূপী ব্রহ্মে চিনিতে নারিলি,
করের অমৃত পরিত্যাগ করে, বিষয় বিষ তুলে খেলি।
কৃষ্ণদাসে বলে সপ্তাহল’রে, কেন না ভাবিলি সেই পরম গুরুরে,
কপূর ধবল আছেন রূপ ধরে, কেন হারে না ভজিলি ।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
৩
রাগিণী-ভিমপলশ্রী।
তাল: একতালা।
আমার মন চল ত্রিবেণীতে।
যদি বাঞ্ছা থাকে মােক্ষ পেতে।
জ্ঞান পেতে তুমি কর আরােহণ, ছিন্ন হবে তােমার মামার বন্ধন,
অনায়াসে যাবে মুক্তির সদন, ভক্তিধন লয়ে সাথে ।
ত্যাগ কর সেই কুসঙ্গ ক’জন, কুপথে ঘুডায় যারা অনুক্ষণ,
সঙ্গী কর তুমি সাধু ছয় জন, বিবেক বৈরাগ্য মতে ।
কি করিবে তােমার শমন কিঙ্কর, হৃষিকের দ্বারা হৃষীকেশে স্মর,
তবে হবে তোমার হৃষিক-অন্তর, শমন ভয় এড়াতে।
পিণ্ডস্থান যথা মূল ক্ষেত্ৰধামে, শুলাষ্টকাবৃত ধরা চক্ৰনামে,
অপূৰ্ব্ব রমণী নামে কুণ্ডলিনী, তথা আছে বিরাজিতে--
ভুজঙ্গিনী মাতা আছেন নিদ্রিতা, কন্দর্প বায়ুরে করি উদ্দীপিতা,
প্রাণের সাধনে কর জাগরিতা, পথ পাবে তবে যেতে ।
পথি মধ্যে আছে ছয় দ্বারবান্, জ্ঞান ধনু ধরি যুড়ি ভক্তিবাণ,
বৃহ ভেদি চল হয়ে সাবধান, সাধন বিধান মতে।
স্বাধিষ্ঠানে আসি অধিষ্ঠিত হয়ে, মণিপুরে চল অগ্নিচক্রালয়ে,
অনাহতে গেলে বায়ুর মণ্ডলে, শুদ্ধ হবে বিগুদ্ধেতে ;-
বামে গঙ্গা আর দক্ষিণে যমুনা, মধ্যে সরস্বতী শােণিত বরণ,
আসি মূলাধার হ’তে, দ্বিদল ক্ৰতে, মিলেছেন একত্রেতে।
স্নান করি তাতে চল পূর্ণ পথে, প্রণব ঝঙ্কার নাদ বিন্দুগতে,
মাধবে হের সহস্রার মধ্যেতে, ভবে হবে না আসিতে ।
রামকৃষ্ণদাস কাতরেতে কয়, সে ভাগ্য আমার হবে কি উদয়,
অসাধ্য সাধন কখন কি হয়, গিরি সজিবে পঙ্গুতে
৪
গতি-পুষ্পাঞ্জলি ।
তাল-একতাল (প্রসাদী সুর )
আয় মন তুই কাশী যাবি।
ধৰ্ম্ম অর্থ কাম মােক্ষ, যা চাইবি তাহাই পাবি
রথে চড়ি, ছয়টা অশ্ব তায় জুড়িবি,
বিবেকে সারথি করি, বারাণসী চলি যাষি।
জ্ঞানরূপী গঙ্গাজলে, সতত তুই ডুবে রবি,
ঘুচে যাবে পাপের মলা, ভবের জ্বালা এড়াইবি #
মনের নিবৃত্তি হলে, বিয়েতে শান্তি পাবি,
চল সেই মণিকর্ণিকাতে, মনের ময়লা ধুয়ে লবি ।
কালরূপী ভৈরবেরে, সাধন মতে তায় সাধিবি,
তিনি তুষ্ট হলে পরে, মণিমন্দির যেতে পাবি।
পঞ্চকোষে ব্যাপ্ত কাশী, দেহ মধ্যে দেখতে পাবি,
তার মাঝে আনন্দধামে, শিবদুর্গার দেখা পাবি।
আত্মারূপী বিশ্বেশ্বর, শক্তি অন্নপূর্ণা দেবী,
ভক্তিভাবে পূজা কর, মােফল তুই প্রসাদ পাবি ।
রামকৃষ্ণদাসে বলে, মনের কলা মনে খাবি,
কি সাধনা আছে যে তাের, তেমন কাশী যেতে পাবি।
কাল-একতালা! ( প্রসাদী সুর)
শােন্ মা আমার কি যন্ত্রণা।
যাদের ল’রে ঘর করি না, তারা আমার কেউ হ’ল মা
দুটী জায়া আছে ঘরে, একটী প্রায় তার গেছে মরে,
তার শুষ করলে পরে, অপরা করে তাড়না।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
পরা নয় মা বল্ক্যানারী, বিবেক নামে পুত্র তারি
আমার কপাল দোষে সেও বিবাগী, আমার ঘরে সে থাকে না ।
অপরার শা বহু পুত্র, তার কন্যা আছে একটা মাত্র,
তার বিয়ে দিতে পাইনা পাত্র, নাম রেখেছি তার কামনা ।
মেয়ে সে বড় আদুরে, (তার) পেট ভরে না আহার করে,
যত দাও মা ততই খাবে, কিছুতেই তার আশা মিটে না।
মেয়ের আছে দাসদাসী, তারা পরধন প্রয়াসী,
আমার সঞ্চিত ধন যা ছিল না, হ'রে নিল সৰ ক’জনা।
অপর মা পুত্র যারা, আমার বাধ্য নয় মা তারা,
আমায় করে দিলে আপন হারা, কৃষ্ণের কৃষ্ণ সাধনা আর হল না।
রাগিণী-আশেয়ারী। তাল—আড়াঠেকা।
আমি কেন বা পীরিতি করিনু সজনি শ্যামেরই সনে।
কঠিন কপট, সে শঠ লম্পট, আগে তাকি আমি জানি লাে মনে।
ধন জন আদি পতিরে ত্যজিয়ে,সুখী হয়ে ছিলাম সখি সোম পাইয়ে,
সে সুখ আমার গেছে ফুরাইয়ে, দিবানিশি কঁদি সে শ্যাম বিনে।
আমি লাে সজনি, গােপের রমণী, সরল স্বভাবা কুলের কামিনী,
যাহার কারণে কুলকলঙ্কিনী, সে কেন আমারে ভাবে না মনে।
রসিক সুজন, জানিয়ে তখন, সপেছি সখি জীবন যৌবন,
এখন হইয়ে কুলিশ সমান, বিদরে লাে হিয়া বিরহ বাণে ॥
গােপীর চরণে, কৃষ্ণদাস ভণে, তােদেরি কারণে, শ্যাম বৃন্দাবনে,
দিবানিশি যেন, শয়নে স্বপনে,আমি তােদেরি ভাবেতে ভাবিগাে মনে।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
রাগিণী-ভৈরবী | তাল--আড়াঠেকা।
কৃষ্ণ কৃপা কর অধীন জনে।
নহিলে ভব পার হইব কেমনে।
দয়ার সাগর, তুমি হে দামােদর,
গােপীর মনােহর হ’য়েছ বৃন্দাবনে।
তুমি নারায়ণ, বিপদ ভগ্ন,
দেহ হে চরণ কুমতি সন্তান জনে—
নবীন জলধর, শ্যাম নটবর,
অধরে মুরলী ধর ভুলাতে গােপীগণে।
লীলার কারণে, এসেছ বৃন্দাবনে,
গােলােক হইতে, এনেছ সঙ্গীগণে-
শয়নে স্বপনে, কিবা নিশি দিনে,
যেন কৃষ্ণদাসের মতি থাকে ও চরণে।
রাগিণী-মিশুমঙ্গল। তাল • ঝাপতাল।
অমল ধবল জল মকর-জাল বাহিনী।
তারিতে নর, ভবসাগর হয়েছ নীর স্বরূপিনী ।
পারাবার বিহারিণী, পতিত জনােদ্ধারিণী,
পরলােক বিধায়িণী, ত্বং পতিত পাবনী ।
যদি মা জাহ্নবী বলে, যায় জীবন তব জলে,
যম যাতনা কভু থাকে না, ভব যাতনা নিবারিণী
ত্রিতাপে তাপিত হয়ে, তরঙ্গিণীর তীরে গিয়ে,
(বলে) হ'য়ে পতিত পদে পতিত, পতিতে পদ প্রদায়িণী ।
{
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
৭
দেখে শমন আগত, হয়েছি পদ-রেণুগত,.
সন্তানে দেমা সুপথ, ওগাে ত্ৰিপথ গামিনী-
জীবে যদি মরণ কালে, গঙ্গা-নারায়ণ বলে,
সাদরে তারে লও মা কোলে ওগগা কলুষ নাশিনী।
এই করোমা নিদান কালে, দিওনা ফেলে কালের কোলে,
ভাসি যেন মা তব জলে, ওগাে কেশব নন্দিনী
কৃষ্ণ বলে মরণ কালে, সপত্নীর পুত্র বলে
দিওনা ফেলে নিয়ে মা কোলে শশির বাসিনী
তাল-একতাল (প্রসাদী সুর)
আমার মন কররে কালী পূজা।
কালেরে করিতে বশ হৃদয়েতে কালী সাজা।
জ্ঞান রূপ গঙ্গাজলে, ভক্তিজবা বিদলে,
দিয়ে শুভাশুভ কৰ্ম্মফলে, মায়ের পদে মনকে মজা।
অজ্ঞানরূপ পুষ্প লয়ে, পদে পুস্পাঞ্জলি দিয়ে,
বলি দাও মন জ্ঞান খঙ্গোতে পুণ্যাপুণ্য দুটা অজা।
নানা বাদ্যের কি প্রয়ােজন, এক বাদ্য কর সাধন,
সকল বাদ্যের শব্দ হবে, বিনাঘাতে ঘণ্টা বাজা |
কৃষ্ণ বলে সময় হলে, ভবের খেলা সকল ফেলে,
ভৰ পারে যাবি চ'লে, কালী নামের উড়ায়ে ধ্বজা ।
রাগিণী—খট। তাল-ঝাঁপতাল।
আমার মন হের রে শ্যাম রুবরে।
গােপীকা বেষ্টিত হয়ে রেখেছে তরু তাহে ঘেরে ।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
রাধা লতিকা জড়াইয়ে, রেখেছে তরু সাজাইয়ে,
নবীন নীরদ কোলে দামিনী লতা হাসাইয়ে,
কিম্বা সে তমাল ডালে কনকলতা আছে ঘেরে,
হেরিলে সে তরুবরে, মন প্রাণ গাে লয় ই’রে।
রাধা লেখা গাে চুড়া’পরে, যেন ফুল ফুটেছে তরুশিরে,
দেখে গােপীর মন হরে, মনােহরের ও মন হরে,
রাধা লতিকা হেরে হেরে, বামে তরু গাে ঢলে পড়ে,
ফুলগন্ধে প্রেমানন্দে যােগীবৃন্দে (যুগলে) হেরি যােগ ছাড়ে ।
গােপের বাল ল'য়ে গােপাল, যায় সকল মাঠে মাঠে,
শুনিয়ে বেণু ছাড়িয়ে ধেনু বলিয়ে কানু যায় ছুটে
গিয়ে সে তরুর তলে, শান্তি লাভ হবে বলে,
কৃষ্ণদাস কৃষ্ণ সখাসনে তরুতলে গাে শুয়ে পড়ে।
রাগিণী—বেহাগ। তাল-আড়াঠেকা।
হরি কি হবে আমার।
ঘাের দুর্যোগে সদা করি হাহাকার
জ্ঞানসূৰ্য্য অস্ত গেছে, কাল নিশা ঘেরি আছে,
তাহে দিগ্ভ্রান্ত হয়ে, না দেখি নিস্তার ॥
আশা বায়ু প্রবল হয়ে, অজ্ঞান মেঘ উঠায়ে,
হৃদয় আকাশ মম, করিল আঁধার।
শোকতাপ শিলাপাতে, জর্জরিত ঝঞ্চাবাতে,
পুত্রকন্যা মােহ-বারি, বর্ষে অনিবার।
অহঙ্কার বজ্রপাতে, মর্মভেদ করে তাতে,
রক্ষা নাহিকোন মতে, আমার এবার।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
সাধু-সঙ্গ বিদ্যুতেতে, ক্ষণে জ্যোতিঃ খেলে চিতে,
কৃষ্ণদাস না পায় দেখিতে, ক্ষণ প্রভা তার।
রাগিণী—গৌরি। একতালা।
মন কেন মর ঘুরে ঘুরে।
তুমি চলনা আপন মন্দিরে।
ভুমি পঞ্চ দেশে নানারঙ্গরসে, পথ-শ্রান্ত হয়ে পড়িবিরে শেষে,
বুঝিবিরে মনে ভ্রমণ কারণে, সুখ কি দুঃখ অন্তরে।
পাইয়ে বিদেশে দস্যুদল এসে, সর্বস্বান্ত করে লইবেরে শেষে,
ফেলে দিবে তােরে বিজন কান্তারে পথ খুঁজে নাহি পাবিরে।
বিষয় অহিগণ করিবে দংশন, মিটিবে সাধ তাের বিদেশ ভ্রমণ,
বিষের জ্বালাতে হইবে মরিতে, খুজে বৈদ্য নাহি পাবি রে ।
কৃষ্ণদাস ভাসে চল নিজ বাসে, রবি, শশী, তারা কভু না প্রকাশে
অমলের জ্যোতিঃ বথা না বিকাশে, তথা গেলে বৈদ্য পাবিরে ॥
রাগিণী-বেহাগ। তাল-আড়াঠেকা।
তাব সে দিন কেমন।
অজপা জপের শেষ হইবে যখন।
দারাসুত আছে যারা, রাখিতে নারিবে তারা;
যেতে হবে করে ত্বরা, ভাব অনুক্ষণ ।
ক্ষিতি লয় হবে জলে, জল যাবে সে অনলে,
অনল মিশি অনিলে, করিবে গমন।
অনিল আকাশে প'শে, পা পরতত্ত্ব পাশে,
গীতি-পুস্পাঞ্জলি।
পরতত্ত্ব লবে কোলে, সেই মরণ।
রামকৃষ্ণদাসে ভণে, ভয় কর কেন মরণে,
মরণ সুখের বটে, হইলে এমন ।
রাগিণী-ভৈরবী। তাল-একতালা।
কেশব কুৰু কাম-মােহন, কুঞ্জ-কানন-চারণ।
তপন-সুতা-তীর-বিহারী, তপন-সুত-ভয়-ভঞ্জন।
(কি) নব-নীরদ শ্যামতনু, হাটকনিত পীতধরা,
(তাহে) মঞ্জুল-গুঞ্জা ভূষা ; উরস’পরে করে ক্রীড়া,
হের রূপ ম হরা ; শিরে সারঙ্গ পাখা চুঙা,
ভক্ত-জন-দুঃখ হরা ; রাধিকা হৃদি-রঞ্জন।
চাচরকেশ-অলকাদামে; (ভালে) তিলক সহ শােভিত,
যেন নীল জলরুহ শােভে ; সারঙ্গকুলে বেষ্টিত,
নয়ন দুটি নীল কমল ; কমলে কমল ফুটেছে যেন,
হেরিয়ে মদন অতনু হইয়ে ; পদতলে লয় শরণ।
চরণ সরােজ শশাভা হেরে ; রুনু রুনু করে নুপুরে,
ইন্দু-রতন জ্যোতিঃ উজলিয়ে ; চরণ নখেতে আছে পড়ে,
চঁদ ও সারঙ্গ এক স্থানে পেয়ে লােভে) চকোর মধুপ ধাইছে।
(কৃষ্ণের) প্রাণচকোর, মন ভ্রমর ; (হলাে) সুধামধু পানে মগন।
রাগিণীভূপালী। তাল-একতালা।
কেন মা তোর এমন বেশ।
পদতলে পড়ে ; আছে, ভােলা মহেশ।
পতিসূদি পদে দলি, কি লীলা মা দেখাইলি,
সতীক্ষিবাণি’য়ে দেখালি গো বে’!
;
ত-পুষ্পাঞ্জলি।
১১
ধাম করে অসি ধরে, নাশি অসুর-বরে,
বামেতরে মুণ্ড লয়ে, মা ধরিলি কেশ
পুনরপি দুই করে, বর ও অভয় ধরে,
মা, দয়ার পরিচয়, দিতেছ অশেষ ।
(তুমি) বি-সম রূপ-ধর, অভয় দিয়ে তারে মার,
কৃষ্ণ কি বুঝিবে লীলা, না পারে ভবেশ
রাগিণ-মলার।
তাল-একতালা ।
হরি আমার সে দিন কবে হবে।
কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে নয়নেরই জলে বয়ান ভাঙ্গিবে
যে দিকেতে আমি ফিরাব নয়ন,
নবঘন রূপ করবাে দরশন ;
কৃষ্ণময় হবে সকল ভুবন,
সে রূপ হেরিয়ে নয়ন জুড়াবে।
জগতে মিশিয়া রবে কাল শশী,
ভূতল আকাশ সকলেতে পশি,
সৰ্বরূপে রূপ ধরি বিশ্বরূপ
দেখা দিবে কৃষ্ণনয়ন দেখিবে ।
পবনে গাইছে তঁহারি গান,
আকাশ নাদিছে তঁারি তান,
তঁাহারি মহিমা কোকিল গাইছে ;
শুনিয়া আমার শ্রবণ জুড়াবে ।
১২
গতি-পুষ্পাঞ্জলি
রবি, শশী, তারা উদিত হইয়ে,
তঁাহারি মহিমা দিতেছে বুঝায়ে,
কৃষ্ণদাস কঘে এ সব বুঝিয়ে,
সৰ্বরূপী কৃষ্ণে সৰ্বে দেখা পাথৈ ।
রাগিণী-সারঙ্গ। তাল-কাওয়ালী।
অধীনে করুণা কর তারিণী ।
তুমি না করিলে দয়া,
কেমনে ভব মায়া,
তরি জননি ।
সংসার মায়াতে পড়ে,
আমার আমার ক'রে,
সকল খােয়াৰু আমি ; দিন যামিনী ।
প্রতি খাস ও প্রশ্বাসে,
শমন শিয়রে বসে ;
কভু নাহি ভাবিলাম, শমন-বিনাশিনি!
ধন, জন, বন্ধু, দারা,
যাদের পাইয়ে তারা
তােমারে ভুলেছি মা, সৰ্ব্ব-রূপিণি ?
সেই) ধন, জন, বন্ধু, দারা, সকলি তুমি মা তারা,
কৃষ্ণাসে এ জ্ঞান পায় যেন, সর্বজ্ঞান-দামিনি!
রাগিণী -মপ্লার। তাল-একতালা।
(হরি }ে আমার দিন গেল ফুরায়ে।
প্রতি বাসে শ্বাসে শন নিকটে আসে আগায়।
আজ কাল করি দিন পরিহরি,
বুখা কাজে কাল গেল কাল হরি,
হরি ভজন পূজন কখন বা করি,
সংসর মায়াতে মোহিত হয়ে।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
গর্ভবাসে ছিল মনেরই বাসনা,
সংসারেতে এসে করবাে উপাসনা,
(হরি হে) সে সাধ পূরণ কভু ত হলাে না,
বাসনা জালেতে জড়িত হয়ে।
আসিবার কালে প্রতিজ্ঞা সে কালে,
করেছিলাম আমি ভজুবাে সকল কালে,
হরি তব পাদপদ্মে দিব পাদ্য অর্ঘ্য,
সে সব গেল মায়াতে মিশায়ে ।
মম সম পতিত নাহি ত্রিভুবনে,
পতিত-পাবন কেবা আছে তােমা বিনে,
(হরি হে) রামকৃষ্ণের আছে এই ভরসা মনে,
দয়া করবে হরি কুপুত্র বলিয়ে।
রাগিণী—জয়জয়ন্তী। তাল-ঝাঁপতাল।
কেন এলাম আমি আশার কাননে ।
আশার কুহকে পড়ে ভ্রমি বনে বনে ।
নানাবিধ তরুরাজি সাজায়ে ফলেফুলে,
রেখেছে মানব মন মােহিত করিয়ে,
মােহিত হইয়ে পড়ি আমি,
কেমনে এড়াব বল কেবা তাহা জানে।
মনােহর ফুল ফোটা দেখে তরু-শিরে,
ছুটিয়ে আইনু আমি আকুল অন্তরে,
ফুলের ভিতর ছিল বিষ-ধর,
হৃদয়ে দংশিবে অহি জানিব কেমনে।
•
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
সুধা সম ফল হে’রে ক্ষুধাতে আকুল হয়ে,
আশার আশাতে আমি আইনু ধেয়ে,
ফল গরল সম নাহি জানিয়ে,
খাইয়ে মরিল কৃষ্ণ বিষের জ্বলনে।
রাগিণী - বৃন্দাবনী সারঙ্গ। তাল-কাওয়ালী।
মন তুমি হয়েছ পাজি।
কাজের কাজে হওনা রাজি।
গর্ভবাসে বলে ছিলি,
ভবে গিয়ে বলবাে কালী,
এখন বলাবলি চুলােয় দিয়ে,
করিস্ কেবল গলাবাজী।
তাই বলি মন কথা রাখ,
হৃদয় খুলে শ্যামা মাকে ডাক,
ডাকার মত ডালে পরে,
মা তখনি হবে রাজি।
কাজ কিরে তাের জবা ফুলে,
কাজ কিরে তাের বিদলে,
পাকা কলা আলাে চালে,
কাজ কিরে তাের ফুলের সাজি।
মনাের পুষ্প সয়ে,
ভক্তি-সুধা সমর্পিয়ে,
জয় কালি জয় কালি বলে
০৯ সাজাও মায়ের চরণ রাজি।
গীত-পুষ্পাঞ্জলি।
কৃষ্ণ বলে মনের সাথে,
মন রাখ মন। মায়ের পদে,
মা ঘুচিয়ে দেবে নিজ গুণে,
সংসারে সং সাজাসাজি।
রাগিণী-জয়জয়ন্তি। তাল-ঝাপতাল।
চিন্তায় মানস মম হরি-চরণ-পঙ্কজ।
হরের আরাধ্য ধন হৃদয়ে ধরি আঁরে ভজ।
ধ্বজ-বজাঙ্কুশ আদি পদে আছে যে লিখন,
বিরিঞ্চি-বাঞ্ছিত পদ হৃদে কররে ধারণ,
মুনি জন মানস হ্রদে ফুটে থাকে যে কোকনদ,
চরণাম্বুজ-রজ হয়ে সেই চরণে সদা মজ।
পদে জনমি সুরধুনী, ত্রিভুবনে হ’য়ে গামিনী,
মনসিজ-রিপু-গৃহিণী, হয়েছে জীব-নিস্তারিণী,
সেই ভাবিয়ে শঙ্কর, নাম ধরেছে গঙ্গাধর,
ধন্য হয়ে মান্য করে, শিরে ধরেছে বৃষঋজ।
ক্ষীরােদ-জাতা কমলা দেবী হয়ে সেই চরণে আশ্রিত,
সুরাসুর-মানবকুলে হয়েছেন তিনি পূজিতা
সেই চরণ আশা করে, মন-সারঙ্গ রূপ ধ'রে,
কৃষ্ণদাস, খোঁজ করে পদকমল সরসিজ ।
প্রসাদী সুর।
তাল-একতালা
মন রে ও কি ভাবি বসে।
রায় হরি চরণে শরণ ল’সে।
১৬
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি
}
পঞ্চ বিষয় ইন্দ্রিয় লয়ে, থাকিস্ তুইরে উন্মত্ত হয়ে,
(ওরে) বিষয় নয় সে বিষের বাতি, জ্বলে মরবি দশার শেষে #
অনিত্য সুখের তরে, সদা বেড়া ঘুরে ঘুরে ;
কিছু সুখ নাইরে তাতে, বুঝবিরে তুই অবশেষে।
পতঙ্গ, কুরঙ্গ, ভৃঙ্গ, মীনাদি সেই মাতঙ্গ,
(ওরে) বিষয় পঞ্চে পাঁচে মজে ; জীবন দেয় অনায়াসে।
এক ইন্দ্রিয় প্রবল হেতু, তাতেই তাদের হয়রে মৃত্যু ;
(ওরে তাের) পাঁচ ইন্দ্রিয় প্রবল যখন,
(তখন তাের দশা কি হবে শেষে।
কৃষ্ণ বলে কৃষ্ণনাম বসে,
যদি তোর রসনা সদাই রসে,
ওরে কি করবে তাের পঞ্চ বিষে,
বিষ অমৃত হবে শেষে।
রাগিণী—বেহাগ। তাল-আড়াঠেকা।
বৃথার জীবন গেল ।
কি কাৰ্য্য করিতে এসে কিবা হইল ।
জীবন অর্ধেক মম, পুমায়ে কাটালাম,
জরা শিশুকালে, কত দিন ফুরাল।
মাতা-পিতা-বন্ধু-সুত, হয়ে তাতে অনুগত,
সিকতাতে বারি-বিন্দু সম মিশাল ।
সেবনে বুৰতী সনে, রঙ্গ-রস আলাপনে,
সুখ মশে দিবানিশি দিন যাইল ।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
১৭
সাধনা করিতে তােমার, কভু নাহি পাই হে সময়,
মায়াপাশে বদ্ধ হয়ে, মন মজিল।
পাইবে গুণ লেশ, পাইবে কেবলই দোষ
বিচার করিবে যবে, কৰ্ম্ম, করম-ফল।
করম বিপাকে মম, যে কুলেই বা হয় জনম
কৃষ্ণদাসের মতি সদা, ভাবে কৃষ্ণ-পদ-কমল।
প্রসাদী সুর।
একতালা।
মা আমার কি হবে শেষ।
আমায় উপায় তারা বলে দিসে।
জন্ম ল’য়ে কৰ্ম্ম-ভূমে,
কাল কাটালাম কেবল ঘুমে,
তাের পাড়ান ঘুম ভাঙ্গিয়ে দে মা,
আমি শয্যা ছেড়ে উঠি বসে।
মায়া শয্যা পেড়ে দিয়ে,
মা অজ্ঞান ঘুম পাড়ায়ে,
প্রবৃত্তি রমণী ল’য়ে, দিয়েছ মা আমার পাশে।
আমারে ঘুমন্ত পেয়ে,
অজপা মূষিক আসিয়ে,
আমার জীবন-তরুর মূল মা গো,
দিবানিশি কাটছে ব'সে
মূল শিকড় মা গেলে পরে,
বৃক্ষ থাক্বে কেমন ক'রে,
আমার আয়ু-তরু আর থাকে না,
পড়ে যাবে কাগ বাতাসে।
১৮
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
এই তরু আশ্রয় করে,
আছে দুটী পক্ষী বাসা করে,
কৃষ্ণের দেহ-তরু মলিন দেখে,
পাখী উড়ে যাবে অনায়াসে।
{
রাগিণী—সােহিনী তাল—সুরকতাল।
হে শিব শঙ্কর মহাদেব হর।
ভবেশ ভবানীপতি মম কলুষ-হর।
গবেশ গণধীশ অশেষ-গুণাকর,
আদি অনাদি তুমি পরম-ঈশ্বর ;
বিভূতিভূষণ, পিণাক-ধারণ,
কালভৈরব কাশী বিশ্বেশ্বর ।
নাগ-ভূষণ, রকত লােচন বৃষভ-বাহন,
মদন-শাসন, কপাল ধারক,
উমেশ ত্র্যম্বক, গড়মালা গলে, বাদাম্বর :
ত্রিপুর-অন্তক, ব্রিতাপ-নাশক,
ত্রিলােক-পালক, ত্ৰি গুণ-ধারক ;
তারকাসুর-রিপু; রজত ভূধর-বপু,
গরল-ভক্ষক মুণ্ড-মাল ধর।
রুদ্রাক্ষ-ধারক, ত্রিদশ-রক্ষক,
কলি-ভয়-নাশক, কৃতান্ত-অন্তক ;
গতি-হীন জনে, অকৃতী সন্তানে,
রামকৃষ্ণদাসে নিজ গুণে কৃপা কর?
গীতি-পুস্পঞ্জলি।
মাগিণী-ভৈরবী। তাল-একতালা।
এমন মানব জনম গেল ব’য়ে।
আপনার দোষে, আপনি মজিনু,
শিদের শরণ নাহি লয়ে।
জননী জঠরে থাকি অনাহারে,
বিষ্ঠা-মূত্র মধ্যে কৃমির আকারে,
ন’ মাস ন দিন ভুগি কর্মভােগ,
ধরায় আইনু প্রসব হয়ে ।
এইরূপে আশিলক্ষ যােনি ঘুরে,
দেবের বাঞ্ছিত মানব দেহ ধরে,
ক্রমে শৈশব, যৌবন, বার্ধক্য ; আমার,
বিফলে গেল চলিয়ে।
এমন নরদেহ সুলভ সুদুলভ,
ভবপারের যােগ্য পাইয়ে সুপ্লব ;
এ মায়া-সাগর নারিনু তরিতে,
কর্ণধার গুরু পেয়ে।
পাইয়ে সুষুম। আপন শরীরে,
এমন সাধন-পটু দেহ লাভ করে,
পশু সম হয়ে না করি সাধনা,
কৃষ্ণদাস কঁদে আত্মঘাতী হয়ে।
রাগিণী-ভৈরবী। তাল-রূপক।
ওরে মূঢ় মন,
ত্যজে নিত্য ধন,
সুখের বাসনা কেন অনুক্ষণ।
গীতি-পুষ্প ঞ্জলি। ভেবে দেখ মনে, প্রতি ক্ষণে ক্ষণে, হতেছে তােমার নিকট শমন। মায়াময় এই নিখিল জগৎ, জলেতে উদিত জুল- বিষৎ, পত্নী-মিত্ৰাপত্য, সকলি অনিত্য ; উদিত হইয়ে হইবে বিলীন। ধন-জন-আদি জীবন যৌবন, নিমিষেতে কাল করিবে হরণ, নলিনৗ-দল-জল, যেমতি চঞ্চল, তেমতি জানিও জীবের জীবন 11 যখন জনম, পশ্চাতে মরণ, জননী জঠরে পুনরাগমন, এরূপ প্রকারে, পথে ঘুরে ঘুরে, শান্তিসুখ তাের হইবে কখন ? বালক কালেতে ক্রীড়াতে মাতিলি, তরুণ-বয়সে তরুণীগত হলি, প্রবীণ বয়সে চিন্তার পুতুলি, কখন বা ভজিবি নিত্য নিরঞ্জন । কাম ক্রোধ-আদি লােভ, মদ, মােহ, চিরদাস অচিরে ত্যজহ; কষ্ণদাস ভণে, কৃষ্ণানন্দ বিনে, সে সুখ-পূরণ হবে না কখন।
গীত-পুস্পাঞ্জলি। রাগিণী-দেশ। তাল-ঝাঁপতাল। তপন-তনয়া-তীরে, দাড়াইয়ে শ্যাম কলেবরে, 'ওরূপ যায়না ভােলা, জগৎ আলী, যুবতী ভােলা-রূপ ধ'রে। কে বলে কাল, নহেসে ভাল, তমাল-তলে কাল শশী :- লাজে গগন, ছাড়ি অরুণ, পদতলে গাে পড়ে খসি ;-- কটিতে ধরা, শিরেতে চুড়া, ভালে তিলক মনােহরা :- চাচর কেশ, মােহন বেশ, অধরে আছে মুরলী ধরে । {তথন) ধরি বাঁশরী, রাইকে স্মরি, বাজায় বাঁশরী, বলে কিশােরি, (তখন) সব পাশরি, যায় কিশােরী পরিয়ে সাড়ী নীলাম্বরী গোপের বালা, ভরিয়ে ডালা, গাঁথিয়ে মালা বন-ফুলে, হইয়ে সতী, ত্যজিয়ে পতি, গিয়ে যুবতী জলধরে ঘেরে। নবীন ঘন, জিনি বরণ; বামে চপলামালা খেলে ; মুগলরূপ, অনুপ ভূপ; ; ৪
গতি-পুষ্পাঞ্জলি।
হেরে নয়ন যায় ভুলে,
(এরূপ) যােগী না হেরে, জান কি করে,
ভক্ত হেরে প্রাণ ভরে ;-
দীন কৃষ্ণদাস,
করিয়ে আশ,
চরণ যুগ পার করে।
বাউল সুর।
এ ঘরে বাস করবি রে কেমন করে।
কাঠ কাঠাম, সকল ও তাের
দিয়েছে ঘুণে জেরে
পাঁচখান কাঠে করে কাঠাম,
চব্বিশ শলায় ঘর তাের করা ছিটাম,
তার নাইকো শাঙ্গা ঠেকননা ভাঙ্গা,
(ক্ষেপা মনরে আমার )
ঘর আছে রে তিন পাড়ের জোয়ে।
এ ঘর নয়কো সােজা, নয় দরজা,
ছ' জন চোর প্রবেশ করে করতেছে মজা ;
তোরে হাবাৎ করে দেবে ছেড়ে,
( ভােলা মন্ রে আমার)
তখন কঁাদবিরে তুই কাতরে।
ঘরের ভিতর পাঁচটা কুঠারী,
ঘরের কারিগরি যাই বলিহারি,
এ ঘরে বিরাজ করে তিন শরীরে,
( ভােলা মরে আমার)
এ ঘর দিলিরে ছারখারে।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
২৩
এ ঘর সাত মহলা, নীচে হ'তে উপর তলা,
আছে ছ’ জন নায়েব ছয় মহলে,
{ ক্ষেপা মরে আমার)
তাের জমিদার আছেরে সব উপরে।
তেরে বিনয় করি, কহি ঘােড় হাতে,
জমিদারের বাকী খাজনা, মিটে যে কোন মতে,
ঘর বাকী খাজানায় নিলাম হবে,
( ভােলা মরে আমার)
তখন যেতে হবেরে তাে ঘর ছেড়ে।
কৃষ্ণদাস তুই আমার কথা শশা,
স্বরাষ করে ধরগে গিয়ে সাধু-গুরু-মহাজন,
তাের উপায় তিনি করে দেবেন,
(ক্ষেপা মনরে আমার)
তাের রাজার দেনা শােধ হবেরে চট করে ।
প্রসাদী সুর।
ওরে মন ছাড়রে ব্যবসাদারী।
তার কাছেতে খাটবেনারে কোন মতে তাের চাতুরী।
উপাসনা পাকাসােণা, এতে কভু খাদ মেশে না,
(ওরে) কড়া গণ্ডা খাদ থাকলে পরে,
ক'ষে, ধরবে কষ্টি ধরি।
ভক্তি সােণায় ভেজাল দিলে,
তুই পড়বি ধরা অবহেলে,
কমি কত মানূবে না রে,
নেবেনা হলে পান করি
२8
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
#
তোর ভিতরেতে গিলটি তরা,
আছে উপরে রং চটক করা,
নাইটিক এসিডে পড়বি ধরা,
তাের চলবে নারে জুয়াচুরি
কৃষ্ণরে তাের ধরতে মনের চুরি,
আছে মনে একজন বাসা করি,
(তের) মনের কাৰ্য যেমন পাবে,
তেমনি দেবে তাের মজুরি।
রাগিণী-সিন্ধু ভৈরবী। তাল-তেতালা।
আমার মন যদি হয় মনের মত নবীনা যুবতী নারী
নবীন যুবা আসবে ছুটে
হৃদয়-কমল ফুটলে আমারি।
বঁধুরে ভুলাবার তরে,
সেজে কৰ্ম্ম অলঙ্কারে,
ভক্তি আতর মেখে গায়ে
আড়নয়নে নয়ন ঠারি ।
নয়নে জ্ঞানাঞ্জন দিয়ে,
প্রেমের তাম্বুল চিবায়ে,
সােহাগ পাউডার মুখে মেখে,
থাকি বাহার করি।
ভালবাসা মােহন ফাঁদে,
পরবাে লাে সেই কালাচঁদে,
"আঙ্গিন দিয়ে হেসে,
সুখে বিহার করি
গীত-পুষ্পাঞ্জলি।
২।
কৃষ্ণ বলে শোন্ যুবতি !
তাের যদি হয় বিশুদ্ধা রতি ;
তবেই পাবি পরম পতি ;
নইলে যাবি গড়াগড়ি।
রাগিণী-জয়জয়ন্তি। তাল-ঝাপতাল।
শরতে শারদা মায়ের ভাবি আগমন।
নিরানন্দ ধরা হলো আজ আনন্দে মগন ।
ফুটায়ে কাশকুসুমে যেন পরি শুক্লবাসে,
হাসিল প্রকৃতি সতী মনের উল্লাসে,
করি নির্মল আকাশ জল,
ফুটায়ে কমল ফুল,
সাজাইয়ে রাখে মায়ের পূজিতে চরণ।
নানাবিধ তরুরাজি ন'য়ে ফুল-ফল-ভার,
ধরিয়া রাখিছে শিরে মায়ে দিতে উপহার ;
শস্য-শ্যামল-ভরা,
স্বরূপে সাজিয়ে ধরা,
প্রতীক্ষা করিছে মায়ের পাইতে চরণ।
সুনীল আকাশে হাসি শরতের শশী,
আসিছে বলিয়ে মাতা রাখে জোছনা বিকাশি,
কৃষ্ণদাস সঙ্গতি শূন্য,
মায়ে কি দিবে নাহিক অন্য,
সলিল করিয়ে পূর্ণ রাখিছে নয়ন।
গীতি-পুস্পাঞ্জলি।
রাগিণী-পিলু। তাল-পােস্তা।
এস ভাই আমরা সবাই মায়ের পূজার যােগাড় করি।
মাকে বসাবার তরে, হৃমন্দিরে,
ত্রিতাপের সকল স্কুল বাড়ি।
পাঁচ ইন্দ্রিয় রিপু ষড় এদের বৈরিভাব ত্যজ্য কক্ষ
মিত্রভাবে রাখ সবে, মাতৃ পূজায় ব্রতী করি ।
নয়ন মায়ের রূপ হেরিবে,
শ্রৰণে তাঁর নাম শুনিবে,
পদের পুষ্পের ঘ্রাণ নাসায় লবে ;
র’বে স্পশে পদ স্পর্শ করি।
রসনায় নাম রসেতে,
মও হবে দিনে রে’তে,
না পাবে সময় খেতে শুতে ;
বুঝে মায়ের নাম-মাধুরী।
কামকে করে মায়ের পদ-কামী,
অহঙ্কারে তার সেবক আমি,
মােহ মদ হােক ঐশ্বর্যে মুগ্ধ,
লােভে লবে চরণ-রত্ন হরি।
অনুরাগ করি ক্রোধে,
এইরূপেতে যেই বা সাধে,
কৃষ্ণদাস কয় কাতরে,
সেই হয় চরশ পাবার অধিকারী।
২
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
রাগিণী—ইম কল্যাণ। তাল-আড়াঠেকা।
রাণি কেঁদোনা কেঁদোনা, পূরিল কামনা,
মা চাহিরে দেখনা, ঐ এলাে তাের মেয়ে।
ওগাে সংবৎসর পরে, এসেছেন তাের বারে,
ল’য়ে এসাে মায়ে, জলধায়া দিয়ে।
মা করেছিলে ব্ৰত মহা বীরাষ্টমী,
সেই কৰ্ম্মফলে কোলে পেলে তুমি,
ভবের ভবানী জগত-জননী,
এসেছেন মাগাে তােমার মেয়ে হয়ে
মুছি অশ্রুজল বাঁধ মা কুন্তল,
পাদ্য অর্ঘ্য দিতে গন্ধ পুষ্প জল,
আন ত্বরা করি কুঙ্কুম কস্তুরী,
বিশ্ব-মূলে দাও আসন পাতিয়ে ।
ল’য়ে বেদ-বিধি ষষ্ঠী কল্প আদি,
সপ্তমী অষ্টমী নবমী অবধি,
পূজা করি মায়ে পুস্পাঞ্জলি দিয়ে,
পদে কৃষ্ণদাসের ভার দে মা সমর্পিয়ে।
রাগি-দেশমল্লার। তাল-আড়াঠেকা।
সত্য করে বল মা উমা, কেমন ছিলি ভবের ঘরে।
ওগাে তাের ভাবনা ভেবে ভেবে,
আমার পাষাণ হৃদয় তাও বিরে।
শুনেছি মা পরস্পরে, হাগা জামাই নাকি ভিক্ষা করে,
বাদের ছালে কটি ঘেরে,
আমি শুনে লাজে যাই মা ময়ে।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
$
গায়ে তৈল বিনে মাখে ছাই,
আমি এমন কভু শুনি নাই,
হাড়ের মালা গলায় পরে,
শ্মশানেতে বেড়ায় ঘুরে ।
ভাঙ, ধুতুরা সিদ্ধি খেয়ে,
ভুলে থাকে ভােলা হয়ে,
বেড়ায় সদাই ভূত নাচায়ে ;
ভাবে না কি ঘরের তরে?
কৃষ্ণদাস কয় বিনয় ক'রে,
রাণি বলিস না মা এমন করে,
দেখ দক্ষের কথা মনে করে,
উমা শিব-নিন্দা সইতে নারে।
রাগিণী--বিভাষ। তাল-ঝাপতাল।
এতদিন পরে কি মা মনেতে পড়েছে তাের।
আর্জাতে বােধন করি,
ভাঙ্গাইতে নাহি পারি,
এমনি মা তাের ঘুমের ঘাের।
আমার বােধনে না রােদন হল,
কেমনে তোর ঘুখ ভাঙ্গে বল,
মায়ের ছেলে কঁাদলে পরে,
মায়ের ভেঙ্গে যায় মা ঘুমের ঘাের।
ছেলে যদি খেলায় ভুলে,
নাহি ডাকে মা মা বলে,
ছেলের ক্ষুধা পেলে আপনি যায় না,
মায়ের দয়ার নাইক ওর ।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
২
তাই বুঝে মা দয়া করে,
এলি দেখা দিতে সন্তানেরে,
প্রতিমা-রূপ ধারণ করে
ছেলের ভব-ক্ষুধা করিতে দূর *
মা, ষষ্ঠীতে সঙ্কল্প করি,
বিশ্ব-মূলে তােমায় হেরি,
মূলাতে মা প্রবেশ স্থাপন,
শিরে অর্ঘ্য, পদে পাদ্য দিই মা তাের।
দুই আষাঢ়ায় পূজা করি,
ভবে আসা যাওয়া পরিহরি,
দিই শ্রবণাতে বিসর্জন মা
বিষয়-বাসনা সকল মাের ।
দশকরে দশ অস্ত্র ধরি,
আমার দশ ইন্দ্রিয় দমন করি,
মন-সিংহ-পৃষ্ঠে আরােহি মা,
কৃষ্ণের ধ্বংস কর পাপার।
রাগিণী হাম্বির। তাল-তেতালা।
যমুনা পুলিনে সখি ! বাঁশরী বাজিল ওই।
আর কি রহিতে পারি, কুললাজ পরিহরি,
চল সখি চল যাই।
আমি লাে নবীনা বালা, জানি মদন জ্বালা,
কোথা হতে আসি কালা, মজালে লো প্রাণ সই।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
স্মরিয়ে সে কালাচাদে, সতত সে পরাণ কাঁদে,
হয়ে ব্যথিত সুর-শরে, জর জর সদা হই।
কৃষ্ণদাস কহে বাণী, শুন ওগাে বিনােদিনী ।
তাের মদনে কি করবে ধনি, মদনমােহন হৃদে ঐ।
রাগিণী-বাঙা। তাল-কাওয়ালী ।
।
আমার হবে সে কপাল।
আ বলে আসিবে কোলে নাচিয়ে গােপাল
আসিয়ে এই বৃন্দাবনে,
স’য়ে সব রাখালগণে,
বাজায়ে বাঁশরী বনে, ফিরাবে গােপাল ।
হৃদয় মাণিক আর কি পাব, অধরে ক্ষীর শর নবনী দিব,
তাপিত প্রাণ শীতল হবে, হেরিব দুলাল।
কৃষ্ণ বলে নদ রাণি, ত্রিলােকেরনাথ তাের নীলমণি,
হয়েছিস্ মা তার জননী, কার এমন কপাল।
রাগিণী—ঝি ঝিট। তাল—একতালা।
হরি কোথায় থাকহে,
কি নাম ধহে,
কি বলে ডাকিব তােমারে।
আমি বুঝিতে না পারি, প্রবেশিতে নারি,
কেবল ঘুরে মরি বাহিরে ।
পাতালে ভূলােকে থাক কি গােলকে,
সত্য জন আদি কিবা তপোলােকে,
জগত বাহিরে, আছ কি অন্তরে,
কে বলে তোমারে অন্তরে।
।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
জিয়ুস নামেতে অমরত্ব কয়,
জুপিটর নামে লােক পিতৃত্ব বুঝায়,
জিহােবা নামেতে তােমার সত্ত্বারে বুঝায়,
অহুর মসদে পাপ হরে ।
আল্লা নাম লয়ে পূজনীয় হয়ে,
যিশু নাম ধরে মৃত বাচাইয়ে,
জগৎ মাঝারে, ব্যক্ত চরাচরে,
তােমারে বুঝিতে কে পারে ।
কৃষ্ণ নাম ল’য়ে পাপ আকর্ষি,
কালী নামে হ'য়ে কলুষ-বিনাশী,
দুর্গানাম ধরি দুর্গতি-হারিণী,
জীবকে তরাবার তরে।
লােক-সাক্ষী হয়ে সূর্যনাম ধরি,
সিদ্ধিদাতা হয়ে সিদ্ধিদান করি,
শিবনাম ধরি শিব-প্রদ হয়ে,
পরিত্রাণ কর দাস কৃষ্ণেরে।
প্রসাদী সুর।
তাল-একতালা।
আমার মন হলাে কুলটা নারী।
নানামতে বুঝাইয়ে তা’রে ফিরাতে নারি।
তার মন যােগাইতে, আমার ঘুম হয় না মা দিনে রে’তে
কেবল রত কুরতিতে, এমনই সে মা ভ্ৰষ্টাচারী ॥
মা পতির ঘরে বসত করে, সদাই উপপতির চিন্তা করে,
মা, সে পতির দিকে চায় না ফিরে, হয়ে বেড়ায় কামাচারী
১২.
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
সে যুবতী এমনি সতী, চব্বিশটী তার উপপতি,
লয়ে আমােদ করে দিবারাতি, যেন ঘর হয়েছে বেশ্যাবাড়ী
কৃষ্ণ বলে শােন মা তারা,
আমার সাধ্য নয় তায় বাধ্য করা,
তারে করে দে নজর ছাড়া,
এমন মনের মরণ বাঞ্ছা আমি করি ।
প্রসাদী সুর। তাল-একতালা।
মা আমার বড় ভাবনা হলাে।
তাল ছেড়ে মা, লেয়ে চাপড়, আমার কেবল দেওয়া হলাে।
যতনে যতেক ধন, ক'রে পাপে উপার্জন,
যখন তুষেছিলাম মা প্রিয় জন,
তখন অনুগত সবাই ছিল ?
এখন জরাতে জারিত দেখে,
কেউ শুধায় না আমায় ডেকে,
বলে জ্বালালে গাে আমাদিকে,
এমন মানুষ গেলেই ভাল ।
এদের মায়ায় মুগ্ধ হয়ে,
তাের অভয় পদে মন না সঁপিয়ে,
কৃষ্ণদাসের ভাবে এসে মা,
এ কূল ও কূল দুকূল গেল।
সন্তান বলে না নিজ গুণে,
যদি স্থান দিস্ মা ঐ চরণে,
তবেই অামার গতিমুক্তি,
নইলে কোথায় দাড়াই বল।
গীত-পালি |
প্রসাদীসুর।
তাল - একতালা।
মন কেউ কারাে নয় এ সংসারে।
ভেবে দেখু দেখি মন বিচার করে।
পত্নী-পুত্র-বন্ধু-মিত্র, আপন বলি ভাবি যারে,
তাের দশা মলিন হলে,
কেউ ছোঁবে না তােয় ঘৃণা করে।
যখন ধন-উপার্জন, করেছিলি তবিল ভরে,
তখন তরুদেহে লতার মত,
সবাই ছিল তােরে ঘেরে ।
এখন ধন-উপার্জন
শক্তি তােমার গেছে দূরে,
তাই শুষ্কতরু মনে করে,
হেরে না কেউ আর তােমারে ।
কৃষ্ণ বলে বিনয় করে,
কিছু সার নাই এ সংসারে,
যদি ভাবতে পারিস মন,
সেই পরাৎপর সারাৎসারে।
রাগিণী-শ্রী।
তাল-যৎ।
জানি না সখি আমার এমন হবে ।
গােকুল-মাণিক মােরে ভুলাইয়ে পলাইবে
আমার জনম কাদিয়া গেলে, কেমনে আর সহি বল,
দশম-দশা নিকট হ'ল, নবঘন শ্যাম-অাবে।
। ৩৪
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
বৃন্দাবন শূন্য করে, গেছে লাে শ্যাম মধুপুরে,
আবার কি শ্যাম ফিরে এসে, রাইকে বাঁচাবে।
কৃষ্ণ বলে শুন ধনি, কেন কঁাদ রাজ-নন্দিনি !
শত বৎসর পূর্ণ হলে, সুখের মিলন হবে ।
রাগিণী-টোরী। তাল-একতালা।
আছি দাড়ায়ে সাগর-তীরে।
হারায়ে সম্বল,
হয়েছি বিফল,
কেমনে যাইবে পারে।
হেরি আসক্তির খর স্রোতে,
মায়া উৰ্ম্মি উঠে তাতে,
অহঙ্কার কল্লোলেতে, আমার জীবন শিহরে।।
ছেড়ে গুরু-পদ-পল্লব, কিসে তরি এ ভবার্ণব,
তাহে মন মাঝি বিরূপ মম, সদাই আমারে।
ছ’জন সঙ্গী আমার জুটে, পারের সম্বল নিলে লুটে,
এখন কৃষ্ণ এসে কৃষ্ণদাসে, পার কর কৃপা করে
প্রসাদী সুর। তাল-একতালা ..
শােন মা শ্যামা তােরে বলি।
সাধনহীন কুপুত্র বলে যেন চরণ হ’তে দিনা ঠেলি।
ঐ চরণ সম্বল করে, কত জন মা গেছে তরে,
আমি কেবল রইলাম পড়ে, কেন আমার প্রতি বিরূপ হলি।
নিজ কর্মে যদি মা তরি, বল তাতে তাের কি বাহাদুরি
আমার মত ভক্তিহীনে, যদি তরাস তবেই বলি।
কৃষ্ণ বলে শােন মা বলি, (আমার) সাধন-ভজন সময় গেছে চলি,
এখন অজপা নির্ণয়ে সেন, রসনায় বলা কালী কালী ।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
প্রসাদী সুর। তাল-একতালা।
মায়ের বিচার নয় মা এমন।
মায়ের কুপুত্র সুপুত্ৰ সমান, কমী বেশী নয় কখন ?
কেউ মলে মা মাথা ফেটে, কেউ গঙ্গা পেলে পায়ে হেঁটে,
তাদের সালােক্য সাযুজ্য দিয়ে, আমায় চরণ দিতে হলি কৃপণ ॥
নমাস নদিন গর্ভে ধরে,
সমান কষ্টে প্রসব করে,
তাদের কারে লয়ে কোলে,
আমায় দিলি জেলে,
কি দোষ দেখে বল না এখন।
যদি বলিস্ কর্মফলে,
বল সে কৰ্ম্ম আমায় কে করালে,
যদি হৃদয়েতে যন্ত্ৰী হ'য়ে, চালা মায়ার যন্ত্রে যারে যেমন ।
তুই যারে মা করিস দয়া, সেই তরে তাের অবিদ্যামায়,
কৃষ্ণদাসে তাের কি করেছে, যে তার ঘুচালি না ভবের বাঁধন।
রাগিণী-ছায়ানট। তাল-আরখেমটা।
ওগাে প্রিনয়না, হয়াে না কৃপণ,
মা আমায় চরণ দিতে।
করিয়ে করুণা, রাখ মা এ জনা,
আমায় শমন আসিছে নিতে।
ওগাে ব্ৰহ্মময়ী তারা, আমায় পেয়ে চরণ ছাড়া,
রবি-সুত-দূত এসে, দেয় মা তাড়া;
বিনে চরণ-তরি, বল না কিসে তরি,
এখন শমন-সঙ্কট হ'তে।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
দেখিয়ে শমন ভয়েতে এখন,
তব পাদপদ্মে ল’য়েছি শরণ,
(ছেলের) ক্ষুধা পেলে তবে জননী বলিয়ে,
তার মনেতে পড়ে গাে মা বলে ডাকিতে ।।
(যেমন) শিশুর বিক্ৰম করিয়ে রােদন
বাধ্য করে তার জননীর মন,
কৃষ্ণের নাই মা সাধন বল, চক্ষে নাই মা জল,
নিগুণে স্বগুণে হবে চরণ দিতে ।
রাগিণী-দেশখাম্বাজ।
তাল-আরখেমটা।
ওহে দয়াময়,
চরম সময়,
আমার হৃদয় কমলে হও হে উদয়।
ডাকি হে কাতরে, আমায় কৃপা করে,
রক্ষা কর এই শমনেরই দায়।
কেহ নাই হে পক্ষ, ওহে বারিজাক্ষ,
বারিজ-নাথের পুত্র-ভয়ে রক্ষ;
ল’য়েছি শরণ হয়ে সজলক্ষ,
নাশিয়ে বিপক্ষ রাখহ আমার ।
ওহে খােজ দিয়ে শ্রীপদ-পঙ্কজ,
এ ঘাের সঙ্কট রক্ষ খগ-ধ্বজ,
নইলে) কিসে হবে কাল তক্ষক দমন,
কাল বশে কালবিষে জেরেছে আমায় ।
প্ৰেছু নিবারণ কহেন বচন,
কৃষ্ণরে তোর ভয় কেন শমন কারণ,
ভােরে দিয়েছি যে ধন, তাতে হয় শমন বারণ
ভজলে পাবি চরণ অশ্বিম দশায় ।
এ
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
রাগিণী-মূলতান। তাল-একতালা।
রে মন ভাব সেই ব্ৰজনাখে।
এই দারাপত্য,
সকলি অনিত্য,
কিছুই যাবেনা রে সাথে
সেই আনন্দ কন্দর সমার মন্দির,
যতন করিয়ে হৃদয়েতে ধর,
পাবি সৰ্বানন্দ, যাবে নিরানন্দ ;
নন্দ-নন্দন-পরশেতে ।
মাখি তুলসীতে অগুরু চন্দন,
ইন্দিরা-বন্দিত পদে করি অর্পণ,
চিদানন্দ ধনে চিন্ত অনুক্ষণ,
এই ভবভয় এড়াতে ।
ভাগবত-প্রধান সিকচ কয়,
কৃষ্ণ, নে রে তুই কৃষ্ণ পদাশ্রয়,
হয়ে ভক্তিযুক্ত মনে, ভজ ভবারাধ্য ধনে,
সে ধন যাবে রে তাের সাশে ।
প্রসাদী সুর। একতালা।
মন কেন ভবে তাস খেলাতে এলি ।
চার, ইয়ারে খেলতে ব'সে, আপন দোষে তুই হারিলি।
আটখান কাগজ হাতে পেয়ে,
গেলিরে তুই উন্মত্ত হয়ে,
তাসের বশে খেলতে বসে, তুই আপন খেলা ভুলে গেলি।
৩৮
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
রঙের বিবি সাহেব টেক্কা পেয়ে,
ইস্তকবিন্তি না হাঁকিয়ে,
বিপক্ষের বরঙের বিন্তি,
ও তুই কেবল বাহাল করে দিলি {{
সপ্ত ধাতু সাত পেয়ে,
কোলের দশে তুরুক না মারিয়ে,
তুই দশের লােভ না ছাড়তে পেরে
অহঙ্কার গােলামে নয় ধরা দিলি ।
খেলায় বসে কেবল চুকে,
হারালে দাস রামকৃষ্ণকে,
তার হাতের পাঁচ চুলােয় দিয়ে,
ছক্কা-পঞ্জার হাতে বাধা দিলি ।
রাগিণী–টোরী তাল-কাওয়ালী ।
হরি কি হবে কি হবে হে আমার।
হারায়ে সম্বিত,
হয়েছি ভয়ে ভীত,
দেখে রবির কুমার।
আয়ু-রবি অস্তপ্রায়,
তিলেক না ভাবি তায়,
পড়িয়ে এ ঘাের মায়ায়, সদা করি আমার আমার'।
জীবনের সন্ধ্যা হল,
ভাবিং পরকাল,
কালে কালে কাল ফুরাল, কেবল বিফলে এবার।
প্রাণরূপ মহাসিংহ হেরি কাল-গুহাগত,
নির্ভয়েতে আসি এবে মৃত্যুরূপ দন্তি-যুথ,
কষ্ণের হৃদয় করে দলিত
এসে বগা কর যশোদা-কুমাৰ ।
అవ
গাতিপুষ্পাঞ্জলি।
রাগিণী-গোর সারঙ্গ। তাল-কাওয়ালী।
মন কি তােমার কভু, হবে না সকাল।
বিষয় সুখ-শয্যায় শুয়ে, আর কত ঘুমাবে বল ।
কামনা কামিনী পেয়ে, পাশ ফের না (তায়) তেয়াগিয়ে
তাহে দেখিছ আশার স্বপ্ন, তুমি সতত কেবল।
থেকে) অজ্ঞান আলস্যে পড়ে, হেরিলে না প্রবােধ কুমারে,
তবে পুন্নাম নরক হতে, তােরে কে তবে বল ।
গৃহ-কৰ্ম্ম তােমার করিতে, কভু সাধ না হলে চিতে,
কৃষ্ণ জ্বলিল তােমার চিতে, তবু চক্ষু নাহিমেল।
রাগিণী - জয়জয়ন্তি। তা—আড়াঠেকা।
কেমনে বলিলি দাম, ওরে বিদায় দিতে কামায়েরে।
আমার নাইরে সম্বল, আমি কেবল,
গােপাল ধনে ধনিনীরে।
ওরে গােপালে পাঠায়ে বনে,
আমি অন্ধকার হেরি নয়নে
আমি হই মণিহারা ফণিনীর প্রায়,
বৎসহীন গাভী যেন রে ।
আমার ঘরে রেখে মাখন চোরা,
আজ গাে-পাল ল'য়ে যা বাপ তােরা,
আমায় করি না বাপ গোপাল-হারা,
আমি তােদর করে ধরি রে
গীতি-পুস্পাঞ্জলি
কৃষ্ণদাস কয় বিনয় করে,
না, তাও কি কখন হতে পারে,
‘া মা, দাম যাবে কেমন করে,
ছায়া যায় কি,কায়া ছেড়ে।
রাগিণী—দেশ খাবাজ। তাল-ঝাপতাল।
মা কেঁদনা কেঁদনা রাণি ! আমরা এনে দিব তাের নীলমণি।
তাের কানাই কভু মানুষ নয় মা
আমরা কানাইএর গুণ বিশেষ জানি ।
আমরা সবাই গােষ্ঠে গেলে,
এসে ইন্দ্র-আদি দিপাশে,
আসে তারা নান জলে,
ধরে তাের কানাইএর পা দুখানি ।
আসি সিংহ পৃষ্ঠে এক নারী,
আমরা, কে বটে, তা বুঝতে নারি,
মা স্বরার তাের কানাইএ কোলে করি,
দশ করে খাওয়ায় নবনী ॥
কেউ চতুৰ্ম্ম,খ ব্রহ্মচারী,
কেউ ন্যাংটা জটে ত্রিশূল-ধারী,
আসি বলে কৃপা কর হরি,
দাও কৃষ্ণদাসে পা দুখানি ।
রাগিণী-বেহাগ খাম্বাজ। তাল--আড়াঠেকা।
দাম দিলাম তােদেরই করে।
আমার দরিদ্ররই পন হদয়ের মাণিক,
দেখিস যেন পা'হরে ফিরে
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
৪১
এই দেখ, মুখ-কমল, যেন নীল শতদল,
ধুরে বনপথে রবির তাপে
(দেখিস) শুকায়ে যেন যায় না করে।
পিয়াসী চাতকী যথা চেয়ে থাকে মেঘ পানে,
তেমতি রহিনু আমি সতত আকুল প্রাণে,
যেন কাল বজ্ৰ হৃদে নাহি হানে ;
(দেখিস) এসে নিদারুণ কংস-চরে।
কাতর-অন্তরে কৃষ্ণদাস কম,
অকারণে রাণি ! কেন কর ভয়,
তােমার কুমার জগৎ ঈশ্বর,
তাহারই নামে শমন ডরে
রাগিণী--বিভাস। তাল-আরখেমটা ।
সুবল ব ওরে বল, তোর চক্ষু কেন করে ছলছল।
ওরে দেখেরে তাের ছল, আমার চক্ষে আসে জল,
গােপালের আমার কি হয়েছে বল।
ওরে নিশা-শেষে আমি দেখেছি স্বপন,
কালিন্দীর জলে আমার ডুবিল নীল রতন,
তবে সত্য কি হলােরে নিশার স্বপন,
তােরে দেখে আমার প্রাণ হতেছে চঞ্চ।
(আমি) হয়ে গােপাল হারা, দিনে দেখি তারা,
আমার নয়নেতে বহে তারাকারা ধারা,
(আমি) যাব কি সাগরে, সুবল বলে দে আমারে,
(তবে) নন্দ রাজার নাম সত্যই কি ডুবিল
গীত-পুষ্পাঞ্জলি।
কৃষ্ণদাসের বাণী, শুন নন্দ-রাণি
দমন ক'রে ফণী, কোলে আসবে তাের নীলমণি,
নয় সামান্য তাের পুত্র, ধরে কর্মসূত্র,
কালীয় নাগেরে দিলেন কৰ্ম্মফল।
রাগিণী—সুরট মল্লার। তাল-কাওয়ালী ।
হরি কি দিয়ে পূজিব তােমারে।
তুমি হে জগত, তােমাতে জগত,
তােমা ছাড় নাই জগত বাহিরে।
বিশ্বের আধারে কি দিব আসন.
সৰ্ব্ব ধচ্ছের কিবা পাদ্য প্রয়ােজন,
বিশ্বেদরের কোথা বস্ত্র-আভরণ,
নিরালম্ব কোথায় যজ্ঞ সুত্র ধরে।
তুমি হে নিলিপ্ত বাসনা-রহিত,
গন্ধ পুষ্প দানে কি করি মােহিত,
নিত্য তৃপ্ত তুমি কি দিব নৈবেদ্য,
হরি কি দক্ষিণ দিব তােমারে।
(গোসাই) রসিকানন্দ, কৃষ্ণদাসে কহেন বচন,
কর অশনে পূজন, গমনে বেষ্টন,
শয়নে প্রণতি, বচনেতে স্মৃতি,
(সর্বে) হের রূপ, ব্যজন কর শ্বাস-চামরে ।
রাগিণী-সিন্ধু খাম্বাজ। তাল-ঝাপতাল।
নন ! তুমিরে আর কতদিন দবের খেলায় তুলে রবে।
খেলার সঙ্গী আছে যারা
তারা তােমায় কাজে সূলে বাইবে।
গী-পুষ্পাঞ্জলি।
খেলার ঘর পেয়ে এই পঞ্চ-কোষী,
সুখে খেলই বসে দিবানিশি,
কভু হেনারে উদয়াস্ত রবি-শশী,
ভেবে দিন এমনি যাবে ।
জুটে পঞ্চীকৃত পঞ্চভূতে,
কর্মকর্তা আর পাঁচটাতে,
দিয়ে খেলার ‘জিনিষ বিষয় পঞ্চ,
ওরে তোমার মন ভুলায় এৰে |
দ্বিজ মাধবগিরি, কৃষ্ণদাসে ভণে,
অপান ল’য়ে তুই দেরে প্রাণে,
প্রাণ দেরে পুনঃ অপানে,
(তবে তােমার ভঘের খেলার ভুল কাটিৰে ।
রাগিণী-সুরট। তাল-একতালা।
কেন সুখের বাসনা কর অনুক্ষণ।
কি সুখ লভিতে আইলি ধরাতে,
কি সুখ পাইয়ে, ভুলিলিরে মন!
জননী জঠরে থাকিয়ে কঠোরে,
বলেছিলি হরি পূজিব তোমারে,
আসিয়ে এখন এ ভব সংসারে,
বিষয় সুখেতে মজে গেলি মন !
ছাদের পাইয়ে ভুলেছ হরিরে,
কেহ না রাখিতে পারিবে রে তােরে,
তাকিঙ্করে কেশে ধরলে পরে,
কোথায় রবে তোমার পুত্র-পরিজম
৪৪ গীতি-পুষ্পাঞ্জলি যদি সুখ-বাঙ্কা, থাকেরে অন্তরে, (তবে) ঐহিকের সুখ সদা তুচ্ছ করে, কৃষ্ণের অন্তর যেন ভাবে নিয়ম, রাধা-কৃষ্ণের ঐ যুগল চরণ। রাগিণী-দেশ মল্লার। তাল-কাওয়ালী । কেন ‘আমি’ ‘আমি’ করি বল না ভাই। কেবা আমি হই, কোন্ স্থানে রই, ‘আমি’ খুজিয়ে কভু নাহিরে পাই । কোথাকার আমি কোথা হতে এসে, সাগর-তরঙ্গ (সম) যাই ভেসে ভেসে, কেবা পাঠাই, কে লইবে শেষে, এ রহস্য-কথা কারে বা উপাই । বাতাসেতে আমি হই একজন, বাতাসেই পুনঃ আমার মিলন, এ খেলা কাহার, কে দেবে বলিয়ে, আমি কাহার নিকট শুধাতে যাই- কৃষ্ণদাসে প্রভু নিবারণ ভাসে, একা বহু হ'য়ে (যিনি) এ বিশ্ব প্রকাশে, তা’হতে উৎপত্তি, (পুনঃ) তাতেই নিবৃত্তি, তিনি ছাড়া বিশ্বে কিছু নাই। রাগিণী-মাজ খাম্বাজ। তাল-একতালা। হরি আমি কি পাতকী, হইয়ে ভবেতে পড়িয়ে রব। এসেছু পরাতে, পাতকী রাতে, তবে কেন পদ নাহি হে পাৰ ।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
তুমি হে পাতকি-তারণ, ভবে নাম কয়েছ কেন,
যদি না করিবে দয়া, দিয়ে পদ-ছায়া,
তবে বল কার কাছেতে যাব ।
(হরি) শ্রীমুখে বলেছ ‘জীব তরাতে,
অবতীর্ণ হয়ে আসি এ জগতে,
(আমি) নহি ত তােমার জগত-বাহিরে,
(হরি) তবে কৃপা-বারি কেন না পাব #
বেদে বলে তোমায় অধম-তারণ,
মাের সম অধম আছে কোন্ জন?
বেদের) পাইয়ে আশ্বাস, কহে কৃষ্ণদাস,
অনায়াসে তােমার কোলেতে যাব
বাউল ।
মন যদি তাের বিষয়-বিয না ছাড়ে।
তবে পরে গৈরিক, মুড়ায়ে মাথা,
বল, তাতে তাের কি করে ?
ত্যজ্য করে পােষাক-পরিচ্ছদ,
মন। ভেবেছ কি পাবে ব্ৰহ্ম-পদ।
দেখ অজগরে বিষ না ছাড়ে,
তার গায়ের খােলস ত্যাগ করে ৷
ভেবেছ মন ! স্নান করে দু’বেলা,
ওসে ধুয়ে যে বিষয়-গন্ধ আর পাপেয় ময়লা,
দেখ মীন সদা প্রয় জলের মাঝে,
বল, তাতে কি তার গায়ের গন্ধ যায় ছেড়ে।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি। ভাগবত-প্রধান রসিকচন্দ্র কয়, কৃষ্ণরে তাের কৃষ্ণ পেতে যদি বাঞ্ছা হয়, তবে হয়ে সদা যুক্ত, কৃষ্ণ ভজরে নিত্য, মজ কৃষ্ণ-প্রেমে সৰ্ব্ব ধর্ম ত্যাগ করে । কীৰ্ত্তনাঙ্গ। ভাল—একতালা। আমার হৃদি বৃন্দাবনে, প্রেম-নিকেতনে, একবার এস হে প্রাণের হরি। আমি নয়ন মুদিয়ে, পুলকিত হয়ে, হিয়ার মাঝেতে হেরি। আমার এ পরা ভকতি, ল’য়ে রাধা সতী, দাড়াও হয়ে মুরলী ধারী। ল’য়ে মাের বাঁশরী, বলিয়ে কিশােরী, সতত বাজাও হে হরি দিয়ে নয়ন সলিল, পােয়াই ও পদ যুগল, এই বাসনা কেবল করি। আমি দিয়ে কৰ্ম্মফল, প্রেম-অশ্রুজল, সদা তােমার অর্চনা করি। দিয়ে বাসনা-কুসুম, আর শ্রদ্ধা-কুঙ্কুম, তব চরণ পূজা করি। দিয়ে জ্ঞান-দীপ জ্বেলে, আনি প্রীতি-তুলসী তুলে, দিই পদে চন-কস্তুরী। গোসাই রসিকের উক্তি, বিনা প্রেম-ভক্তি, তুই কেমনে পাইবি হরি।
গীত-পুষ্পাঞ্জলি।
৪৭
কৃষ্ণ বৃথা কর আশা,
তাের নাহিক ভরসা,
পদ গােপীতে ল’য়েছে হরি।
রাগিণী--সারঙ্গ। তাল-কাওয়ালী।
এলােকেশে, এলো কে সে, ঐ নীল-বরণা।
মুণ্ডমালা শবাসনা কে রে বামা,
সবাসনা হেরি দিগ-বসনা।
ভয়ঙ্কর-রূপ-ধরা
পদ ভরে কাঁপে ধরা,
ধরে অসি দৈত্য নাশি, কেরে রণ-মগনা।
নর-করে কটি ঘেরা, রসনায় রুধির-ধারা,
অসি-মুণ্ড-বরাভয় ধরা, আরক্তিম ত্রিনয়না।
ষড়, রস শরীরে ধ'রে, কে রে বাম কে বিহরে..
মুণ্ড কাটি পদে ধরে, করেন এ কি করুণা ।
কৃষ্ণদাস না করি চিন্তে, এ নারীকে নারে চিতে
অন্তে যেন পদ-প্রান্তে, মন হয় মা মগনা ।
রাগিণী—কানড়। তাল-ঢিমে।
এ কার রমণী-মণি কাল বরণী।
চিনতে নারি এ নারীকে, জিতে নারি এ নারী কে,
কাল-ঘরণী বুঝি কাল-বারিণী।
ঘাের ঘটা হাস্যচ্ছটা, দাপ কাপে ব্ৰহ্মাণ্ডটা,
হুঙ্কারে বজ্ৰনাদে, (প্রলয়) বিষাণ মম ঘাের নাদিনী।
হানিছে ভীষণ অসি, (যেন) খেলিছে বিজলী আসি,
বুঝি দহিল দানব কূল অকূল-কামিনী।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
বিনাশি দানব-সেনা,
শুষিছে রুধির-ক,
(নাশি) কামরূপ রক্তবীজে,
কৃষ্ণদাসের হও রিপু-দলনী।
রাগিণী-গৌরী ।
তাল-একতালা।
স্যাশা তােরে কে বলে মা মেয়ে।
কভু ভবের ঘাটের পদতৰি ল'য়ে,
পাকিস্ পারের নেয়ে হয়ে।
রামৰূপ ধরি করে লয়ে ধনু ,
সাগর বধিলি সহায় ক'রে হনু,
রা, বধিলি সীতার উদ্ধারিলি
এলি বিভীষণে রাজ্য দিয়ে।
বুদাৰনে এসে লয়ে রাপালগণে,
গোপন চরালি ঘুরে বনে বনে,
যশোদায় মা বলিলি, গােপীর কুল নাকি,
মােহন:বাঁশীতে গান গেয়ে ।।
নবদ্বীপে এসে গৌরাঙ্গ হয়ে,
এগং মাতালি হরিনাম বিলাইয়ে,
ককদাসের মন কেন না মজালি
'রে কৃ-প্রেম না দিয়ে।
রাগিণী---জয়ন্তি। তাল-ঝাপতাল।
ই মা কেমনা দয়াময়ী সেই দিনে ৩বােঝা যাবে।
শাশা • ক% কমে, মা পাবে যুব ।
-
}
গীত-পুষ্প ঞ্জলি।
৪৯
আমার ভাই-বন্ধু-সুত-দার,
যেদিন তাজ্য করবে তারা,
দেখি মাগাে ভবদারা,
সে দিন তো বিনে আর কে বা রবে।
সেই একাকী অজানা পথে,
মা যেতে হবে শূন্য হাতে,
ক্ষুধা-তৃষ্ণা পেলে পথে,
বল তাে বিনে কে খেতে দিবে ।
মা অকৃতী সন্তানের প্রতি,
মায়ের দয়া হয় মা অতি,
এ দীন হীন রামকৃষ্ণদাসে,
বল তো বিনে কে কোলে শবে ।
রাগিণী –জয় জয়ন্তি। তাল--আড়াঠেকা।
আন্তে বারি, যমুনারি, বল রাধে তুই কেন গেলি।
যমুনারই কুলে গিয়ে কুল-কলসী ভাসাইলি।
জল আবার করে ছলা, হেরতে গেলি চিকণ-কালা,
হ'য়ে কুলের কুলবালা, গাজে জলাঞ্জলি দিলি ।
(ওলে) কিরূপ দেখে গেল ভুলে,
তিন দিকে সে বেঁকে চলে,
(আমার) দেখে অঙ্গ যাগাে জলে,
(ওলাে) সেই রূপেতে প্রাণ সঁপিলি ।
(ওলাে) ভাল নঙ্গ লাে কোন কালে,
গরু চরায়সে এই গােকুণে,
সবাই তারে কাণ বলে,
সে কাপ জগৎ আলাে তুই দেখিলি।
গীতি-পুস্পাঞ্জলি।
রাগিণী—ছায়ানট। তাল-কাওয়ালী।
ওলল কুটিলে ননদিনি!
কানাইএর গুণ কি দেখিবি ওলো কুলােচনী।
নবীন নাগর শ্যাম রূপের সে খনি,
(সেরূপ) দেখবি কি লল, আছে কি তাের নয়নের মণি,
ওলাে কাল নয় সে কেলে সােণা, নীলকান্তমণি,
আমি তারে না হেরঙ্গে হই, মণিহারা ফণী।
আমি সাধ করে কি কুল-কলসী, দিই লাে ননদিনী
(ওলো; আমার তরে গােলােক ছেড়ে
এলেন হয়ে বংশীপাণি,
বিভঙ্গেতে তিন গুণতে রচি ত্রিভুবন তিনি,
সৃজন পালন করেন এই আশি লক্ষ যােনি ॥
পাপে ভরা হয়ে ধরা, গেলেন যথায় চিন্তামণি,
তাই গােরূপা ধরার ভার, এসে নিলেন আপনি,
কাল বরণ নয় লো তাঁর, কাল-বারণ তিনি,
(ঐ দেখ) কৃষ্ণদাসের দমন করেন, কালরূপ কালফণী ।
রাগিণী-বেহাগ। তাল --একতালা।
সখি বলাে স্যাম-চরণে।
সতত দহিছে রাধা তােমা বিশ্বনে।
দুর্জয় মানের তরে,
কঁাদায়ে ছিলাম 'তাহারে,
সেই অভিমান মনে করে, আমায় কি ভাবে না মনে
প্রণয় সােহাগ ভার, না হয় বলেছিলাম কটু রে,
প্রণয়ভাজন হ'য়ে, তা কি আছে সখিতে মনে।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
গত ভাবি মনে,
দোষ ক্ষ’মি নিজ গুণে,
আসিয়ে এই বৃন্দাবনে, রাধায় বাঁচাতে প্রাণে।
শুন কৃষ্ণদাসের বাণী কেন ভাব রাই কমলিনি
কভু বাধা ছাড়া নয় গাে তিনি, বাঁধা জীবন-মরণে ।
রাগিণী—বেহাগ। তাল—আড়াঠেকা।
সখি বলো বলাে রাধারই পদে।
সতত জাগিছে রাধা আমারি হৃদে ।
প্রেমের গুরু রাধা আমার,
আমি শিষ হইগাে রাধার,
রাধা মন্ত্র জপি সদা,
বিপ-সম্পদে ।
রাধার ঋণে এমনি বাধা,
লিখেছি নাম শিরে রাধা,
রাষ-গুণ গাহি সদ,
কেবল বাঁশীতে ॥
রাধারই প্রেমের দায়,
একদিন যেতে হবে সেই নদীয়ায়,
রাধার প্রেমে মত্ত হয়ে,
বেড়াতে হবে কেঁদে কেঁদে ।
কৃষ্ণদাস কি করে চিন্তে,
নারি আমি রাধায় চিতে,
ব্ৰহ্মা-আদি দেবগণে,
পড়ে আছে যে পদে।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
রাগিণী - রামকেলী। তাল –কাওয়ালী ।
প্রভাতা হইল বুঝি বিরহ ঘাের যামিনী।
উদিত হইল এসে, শ্যামরূপ দিনমণি।
গাহিল কোকিল-কুল,
মাতিল ভ্রমর দল,
ফুটিল কমল ফুল, মুদিল দুঃখ কুমদিনী।
বহিয়ে মলয়ানিল,
নাচিয়ে
ময়ুর দল,
ফুটিয়ে বনের ফুল, জানালাে শ্যাম-আগমনী
দিয়ে পদ কৃষ্ণদাসে,
দাড়ালাে রাই হেসে হেসে,
শ্যাম-সূৰ্য কোলে এসে, মিলিল রাই কমলিনী।
রাগিণী-- কামােদ। তাল—সুরফাঁকতাল।
কে বিহারে এই হৃদয় সরােজে।
ভুবন-সুন্দর,
জগত মনােহ,
হের হরিহর-রূপ বিরাজে।
আধ) শ্যাম সুন্দর নবীন জলধর, আধ কলেবর রজত ভূধর,
আধ মণি পরে ফণি গরজে, আধ শশী ভালে তিলক সাজে।
আধ শিরে জটায় খেলিছে সুরধুনী,
আধ শিখি-চুড়ে রাধানাম লিখনি,
এক কর্ণ’পর শােভিছে ধূস্থর,
‘অপরে কল-কু গুল সাজে
'আধ গলে দো েনর-অস্থি-মালা,
আধ কৌস্তুভ (সহ) বনফুল মালা,
এক করে শিক্ষা বলিছে সীতারাম,
দ্বিতীয়ে রাধা রাধা বাণীতে বাজে।
•
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
বাঘছালে আছে আধ কটি ঘেরা,
আধ কটিতটে পীতধটী পরা,
এক চরণ-পর সজল-বিদল,
দ্বিতীয়ে চন্দন-তুলসী রাজে।
আধ বৃষ-বরে করিয়ে আসন,
আধ খগরাজে লইয়ে বাহন,
হিয়ার মাঝারে হরিহর হেরে,
রামকৃষ্ণদাস ও পদে মলে।
প্রসাদী সুর।
একবার নে মা আমায় কোলে করে।
মাতৃহীন বালকের মত, আর কতদিন থাকবাে পড়ে।
ভবের কাদা মেখে গায়ে,
কেমন সেজেছি মা দেনা চেয়ে,
তাের কৃপাবারি আমায় দিয়ে,
ধুয়ে নে মা ত্বরায় করে।
করি প্রতিবারে ধূলা-খেলা,
আমার হয়েছে তাই গায়ে ময়লা,
ঘুচায়ে দে মা পাপের ময়লা,
বিবেক-হলুদ মাখায়ে মােরে ।
দেখ, চোখ হয়েছে রং ফ্যাকাসে,
আমায় জ্ঞানের কাজল আয় মা দিসে,
দিয়ে সােহগের টিপ ভালে শেষে,
র’খে বেঁধে দে মা শিরে।
৫৪ গীতি-পুষ্পাঞ্জলি। এ দীন হীন রাম কৃষ্ণদাসে, সাজায়ে দে মা দিব্য বেশে, আমার সজ্জা হেরে আদর করে, বিমাতা ও যেন হৃদে ধরে। রাগিণী-পরজ বাহার। তাল-ধামার। ধন্য ধন্য ধন্য সেই, ইন্দ্রদ্যুম্ন নর রায়, যাহার পুণ্যের ফলে, এলেন জগন্নাথ এ ধরায়। যাহার অদ্ভুত কীত্তি, রহিবে যাবৎ পৃথ্বী, উড়িছে অক্ষয়-ধ্বজ, যাহার যশ-প্রভায় । ভক্তি বলে অবহেলে, আনিয়ে এই নীলাচলে, গােলকের নীলকমলে, স্থাপিলেন এ ধরায়। রত্নবেদীর উপরে, সতত বিরাজ করে, জগয়াথ আর বলরাম, মধ্যে রাখি সুভদ্রায়। আনন্দ বাজার হে’রে, হৃদয় আনন্দে ভরে, বহু বর্ণ নারী নরে; রমাপ্রসাদ বিতরয়-- যে প্রসাদ ভুঞ্জিলে পরে, চতুৰ্বর্ণ জীবে তরে, কৃষ্ণদাসে কৃপা করে, দিও অন্তিম দশায়। রাগিণী-বেহাগ মিশ্র। তাল--আড়াঠেকা। হরি আমায় এ কোথায় আনিলে। সংসার মরুতে ফেলে, এখন নিজে লুকালে। বিবিধ আতপ তাপে, দহি সদা মনস্তাপে, সহিতে পারি না আর, কেবল মরি যে জলে ।
গীতি-পুস্পাঞ্জলি।
আশা, মরীচিকা হয়ে,
বঞ্চনা সদা করিয়ে,
পিপাসা দেয় বাড়ছে, তাহে বারিবিন্দু না মেলে।
কামনা ক্ষুধায় মোের,
অস্থির করে অন্তর,
অহঙ্কার সিরকোরে, এ প্রাণ শুষিয়ে নিলে।
নাহি পিতা, নাহি মাতা,
কে করে মমতা হেথা,
নিরাশ্রয়ে আশ্রয় দাতা, হরি তােমায় সকলে বলে।
মর-গ্ধ কৃষ্ণদাসে,
হরি শীতল কর ত্বরায় এসে,
স্থান দাও হে কৃপা করে, পদ পান্থপাদপ মূলে।
প্রসাদী সুর।
}
(ৰল) মা তোরে কে ভাল বলে।
বেশ কীর্তি দেখালি তুই, পতি হৃদি পদে দলে।
যে তােমার গো হয় মা আপন,
তার দিকে ফিরাও না নয়ন,
প্রমাণ তার লঙ্কেশ্বর রাবণ,
সবংশে তায় বিনাশিলে ।
দক্ষ রাজা তােমার পিল,
তার করলে অজের মাথা,
করে ভূতের কাণ্ড লণ্ডভণ্ড,
তার যজ্ঞ বিনাশিলে।
রাজা সুরথ তােমায় পূজিল,
লক্ষ অঙ্গ বলি দিল,
{শেষে) দিয়ে তারে বিষম শাস্তি,
ফেলে দিলি কাল কবলে ।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
পাতালেতে মহীরাবণ,
পুজেছিল তােমার চরণ,
তায় নাশিতে নিজ-হাতের
অসি কপিরাঙ্গে দিলে ।
ইন্দ্রালয়ে তাের পূজার তরে,
ফুল যােগাত নীলাম্বরে,
(মা) বিনা দোষে তায় অভিশাপি,
পাঠালে ব্যাধের কুলে।
কৃষ্ণদাস তুই মনের খেদে,
দিস না রে দোষ মায়ের পদে,
(ওরে) অগ্নিতে পুড়িলে অঙ্গ,
দেখ শীতল হয়রে সেই তাপ দিলে ।
রাগিণী-ভৈরবী। তাল রূপক।
ও মিহি উচ্চারিয়ে,
চিদঘন চিন্তিয়ে,
কভু ত দিই নাই তুলসী চন্দন।
নমি নারায়ণ,
নদ-নন্দন,
ভাবি নিরন্তর নিন্দার ভাজন।
মাে-হিত মােহ-মদে,
মাতিয়ে সম্পদে,
মন-প্রাণ মম মজে না পদে ;
-नावमा भन
ভাবি নাই কখন,
ভবরােগ হতে লভিতে পরিত্রাণ ।
গ - গতি করি,
গহি-শক্তি হরি,
ছি,হণৰ নোশক বিহারি
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি। বশীভূত নহে বদন আমার বচনে কভূত করে না বন্দন- তেমন সাধ্য নাই ত্ৰিতাপ বারিতে, বৈতরণী তীরে পেয়ে ভয় চিতে, বাহু প্রসারিয়ে, ব্যাকুল হইয়ে, বলি, বারে বারে রাখ বারিদ বরণ। সু-ত প্রতি চাহি করুণ নয়নে, সকল সংশয় ছেদ সুদর্শনে, দেবকী নন্দন, দেহি দরশন, দীন হীন জনে হে দীন তারণ— বাসনা বাগুরায় বন্দী নানামতে, বান্ধব নাহি কেহ বন্ধন নিবারিতে, য – থা তথা জনমিলে ও কৃষ্ণদাস, যেন যায় জীবন তার জপি জনার্দন। রাগিনী–ঝিঝিট। তাল-কাওয়ালী। মরি হায় হায় ! খেদে প্রাণ যে যায়। বিষয় মদে মত্ত হ'য়ে, হরি পদে মন না পায়। কি কৰ্ম্ম করতে এসে, কি বা হলাে আমার শেষে, মরি কেবল আপনােষে, বিফলে জীবন যায়। আসিয়ে এই ধরাধামে, রতি না হইল নামে, ঘেরিল কেবল কামে, এই আশার আশায়। ভাত না হতে উঠি, করি কেবল ছুটাছুটী, এবে ছুটীর সময় হলো, কভু নাহি ভাবি তার।
৫৮
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
হইল শমনাগত,
কৃষ্ণদাস তাই ভাবিত,
ডাকে অজামীলের মত, এসে মাখ হরি রাঙ্গা পায়।
রাগিণী—জাজমল্লার (মি)। তাল-কাওয়ালী।
হরি কি খেলা পেতেছ ভব সংসারে।
তোমার খেলায় জগৎ মুগ্ধ, কে বুঝে চরাচরে।।
মায়া তার ল’য়ে হাতে, রেখেছ জীব জুড়ে তাতে,
(হরি) নাচাও কাদাও তুমি, টানি তারে তারে।
কারে সাজাও রাজবেশে, কারাে কটি কাষায় ক’সে,
(হরি) পথের ভিখারী করি, ঘুরাও দ্বারে দ্বারে।
কারে কর অসুর বিজয়ী, কারে কর শয্যাশায়ী,
(হরি) কাহার কুমারে লয়ে, দাও কাহার ক্রোড়ে-
বেধে কৃষ্ণদাসে মায়াভেরে, ঘুরাও তারে বারে বারে,
(হরি) সে ভাের কাটিয়া তার, তার হে তারে মুরারে!
রাগিণী-দেশ।
তা— জলদ একতালা।
সুখ পেতে চাই,
কোথা গেলে পাই,
কে দিবে বলিয়ে, যাব তার ঠাই।
সংসার ভিতরে,
বেড়াই ঘুরে ঘুরে,
শান্তিমুখ কভু খুঁজিয়ে না পাই ।
কুমার কুমারী সহধর্মিনী নারী,
৪থ বাল করি হৃদয়েতে ধরি,
কৈ সুখ ত হলােনা, বাড়িল শাহনা,
যেন দাব দগ্ধ মৃগ ছুটিয়া পলাই ।।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
ভাবি ধনেতে পাইব সে সুখ,
উপার্জন করি পেয়ে নানা দুখ,
নারিল সে ধনে দিতে শান্তিমুখ,
কেবল ফেলিল কুপথে আশারে বাড়াই।
রূপ রস আদি বিষয় পঞ্চে মজি,
আজন্ম ঘুরি যেই সুখ খুঁজি,
সুখ না মিলিল, দুঃখে জর্জরিল,
সে সুখ কি তবে পৃথিবীতে নাই।
কৃষ্ণদাস কয় দুখের ধরায়,
সুখ আশা দিয়ে যে আনিল হায়।
আনি লুকাইল, দেখা নাহি দিল,
তঁারে খ জি আমি সতত বেড়াই।
রাগিণী-ভীমপলশ্রী। তাল-জলদ একতালা।
বল ভাই সবাই মিলে, “এই দেহে কেন (লাকে) ‘মানুষ’ বলে।
এ যে বালির উপর জলবিন্দু, শুকায়ে যায় চোখের পলে।
ক্ষিতি, অপ, তেজ ল'য়ে, বায়ু, ব্যোম তয় মিশায়ে,
মানুষ-কায়, পাঁচের ছায়া, হয় পাঁচের সহ মিলন হলে ।
পাচ মিলে গেলে পাঁচে, ছায়ার কায়া যাবে ঘুচে,
যেমন জলবিম্ব জলে উঠিয়ে, জল হয়ে সে মিশায় জলে।
মানুষ হতে মানুষ চেনা, মানসেতে যায় না জানা,
গোঁসাই রসিক বলে কৃষ্ণদাসে, চিলে মানুষ যায়রে গলে ।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
৩
প্রসাদী সুর। তাল--একতালা।
মন কেন কর বাদাবাদি।
শক্তি ব্ৰহ্ম পৃথক কিরে আছে সৃষ্টিকালাবধি।
সূৰ্য্য আর সূৰ্যতেজে, ভালে পৃথক হয় কি কাজে,
ত্যজে অনল কভু, গুণ তার শৈত্য বিরােধী ।।
যেই ব্ৰহ্ম সেই শক্তি, বেদ পুরাণের উক্তি,
নারে কেহ পৃথক্ করতে, জলের শীতলতা নিরবধি।
কৃষ্ণদাস তুই দ্বিধা ভেবে, গােলােক ধাঁধায় পড়লি এবে,
দেখ ব্ৰহ্মবীজ, অঙ্কুর শক্তি, বুঝবি ভেবে দেখিস্ যদি।
রাগিণী-বৃন্দাবনী সারঙ্গ। তাল-কাওয়ালী।
কেন বৃথা খোজ সুখ বলনা তাই।
ভেবে দেখ মনে সকলি ত সুখ,
দুখ ব'লে ভবে কিছু ত নাই।
ধরা রূপ ধরি তােরে কোলে লয়ে,
শীতল করিছে সলিল হইয়ে,
রাখিছে পরাণ প্রাণ বায়ু হ'য়ে,
তঁারে কেন তুমি ভাবনা ভাই।
তেজ-রূপ ধরি দৃষ্টি দান করি,
জগৎ দেখালে প্রেমময় হরি,
সে প্রেমে মাতিয়ে, অন্তরে কঁদিয়ে,
তাের নয়নে সলিল বহিল কই
জনক-রূপেতে দিয়ে জন্ম-দান,
জনন-আকারে করালেন স্তন্য পান,
সেই সুখময় হরি, সৰ্বরূপ ধরি,
বিরাজিছে দেখ বারেক চাই।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
যদি কৃষ্ণদাস কর সুখ-আশ,
ত্যজি বিষয়-আশ হও কৃষ্ণ-দাস,
যাবে নিরানন্দ, বাড়িবে আনন্দ,
তবে কি আনন্দ দেখ মরতে এই ॥
রাগিণী-বেহাগ খাম্বাজ। তাল-আড়াঠেকা।
এবার হাট করিলি ভাল।
ভবের হাটে লােকে এসে, দ্বিগুণ লাভ করল বসে,
তোর যে মূলধন গেল ।
যা পেয়েছিলি পুঁজি এবায়,
ছয় শতাধিক একুশ হাজার,
প্রতিদিন খরচা হললারে তাের,
তবে বল কি লাভ হলো ।
কর্মচারী কয়জন জুটে,
তাের লাভে-মূলে নিল লুটে,
কেবল ভূতের ব্যাগার মরলি খেটে,
মহাজনের পূজি ঘাটতি হল।
লাভের তরে ব্যবসা করে,
কৃষ্ণদাস তুই পড়লি ফেরে,
এখন মূল হারায়ে দোকান ছেড়ে,
তােরে পলাতে হলাে।
রাগিণী—সাহানা। তাল—আড়াঠেকা।
কে তােমায় বলে হরি দয়াময়।
তুমি কঠিন কপট শঠ অতি নিরদয় ।
७२
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি
বসুদেব আর মা দেবকী,
তাদের বাকী রেখেছ বা কি,
বুকে পাষাণ চাপ চোখে দেখি,
গেলে নন্দদালয় |
পিতা নন্দ ম যশােদায়,
কি যাতনা না দিলে তায়,
প্রভাসে করালে প্রহার,
প্রহরী দ্বারায়।
যে রাধিকা প্রেমে মজে,
কুললাজ পতি ত্যজে,
অবহেলে 'তায় কাদালে,
দিলে প্রেমের পরিচয়।
যে তোমারে ভালবাসে,
করনা বাস তার আবাসে,
বাঁধি কটি কাষায় ক'সে,
পথে পথে কেঁদে বেড়ায়।
না পেয়ে তব ভালবাসা,
কৃষ্ণদাস তাই ত্যজেছে আশা,
শত্রুভাবে দি ও স্থান,
তব পদ-ছায়ায় ।
রাগিণী-বেহাগ খাম্বাজ।
তাল-একতালা
যেন কে ডাকে আমারে।
বুঝিতে না পারি আমি মোহের ঘােরে।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
বদনে রদনহীন, দৃষ্টি শক্তি ক্ৰমে ক্ষীণ,
উড়ায়ে শ্বেত-কেতন, জানায় সঙ্কেত করে।
ইন্দ্রিয় শিথিল করি, করি একে একে নােটিস জারি,
জরা পেয়াদা পাঠায় এবার, ইস্তাহার জারি-তরে।
অলক্ষিতে বলে মােরে,
এত করে জানাই তােরে,
কৃষ্ণদাস তুই কি করিলি, যেতে ভবনদী পারে।
রাগিণী – সুরট। তাল-একতালা।
এবার আমি তােমার শত্রু হব হে হরি।
শক্রতা সাধন করিল যে জন,
দিলে তারে তুমি চরণ-তরি।
শুম্ভ-নিশুম্ভ বল প্রকাশে, কেশে ধরি তােমায় ঘুরালে আকাশে
কালীরূপ ধরি, তারে কৃপা করি,
হরি, তরালে দুস্তর ভব-বারি।
হিরণ্যকশিপু ভাবি শত্রুভাব,
অনায়াসে করে ও চরণ লাভ,
রাবণ কুতুহলে, ত্বরা মুক্তি পেলে,
লইয়ে তােমার সীতারে হরি।
দেখ মা তুল কংস তব মাতা-পিতারে,
বক্ষে শিলা দিয়ে রাখে কারাগারে,
তারে মুক্তি দিলে, কি লীলা দেখালে,
হরি, পাঠালে ত্বরায় গোলক-পুরী ॥
জগাই মাধাই মিলি দুই ভাই,
মারে কলসীর কানা, তা কি মনে নাই ?
তাহে কৰিব বহিল, তবু কৃপা হল,
জুড়ালে তাদের আলিঙ্গন করি।
গীত-পুষ্পাঞ্জলি। শক্ররূপে যদি ও চরণ মিলে, হব শক্র এবার কৃষ্ণদাস বলে, হয়ে অনুরক্ত, সাজিয়ে ভকত, • হরি বৃথা কেন তবে কঁদিয়ে মরি। রাগিণী-সুরট। তাল—একতালা। বসুদেব ভয়ে চমকিত। উঠি নিদ্রাঘােরে, চতুর্দিক নেহারে, হেরে কোটা সূৰ্য যেন সমুদিত । বলে কি দেখি নয়নে, আছি কি স্বপনে, সদাই সন্দেহ তাঁর হয় মনে মনে, একি দেবময়া, হেরি কার কায়া, হই মায়া-মমাহে আচ্ছাদিত। কিবা বরণ সুন্দর নব-জলধর, ভ গুপদ শােভে উরস উপর, চতুভুজে শঙ্খ-চক্র-গদামুজ, গলে বনমালা বিভুষিত। বারেক ভাবে মনে দেবকী সুক্ষণে, প্রসবিল পুত্র অমূল্য রতনে, আবার ভাবে মনে, দৈত্যেরই পীড়নে, বিবেক বিজ্ঞানে হয়েছি বঞ্চিত- শিশু বলে বসু আর কিবা ভয়, সবর আমারে রাখ নালয়, এল,ম দুষ্ট দমনিতে, সাধুরে পালিতে, দাস ক্লেশে হইয়া ব্যপিত ॥
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি। রাগিণী-ভৈরবী। তাল-কাওয়ালী। কিবা আনন্দিত আজ এই নালয়। দেখ ত্রিলােকের পিতা আজ ন-পুত্র-রূপে উদয় । বহিয়ে আনন্দস্রোত জগতে ভাসায়, ভক্তবৃন্দে প্রেমানন্দে তাহে মগ্ন রয়, বাজিছে মঙ্গল বাদ্য বিবিধ প্রথায়, দেবগণ স্বর্গ হতে পুষ্প বরিষয় । গােপ নাচে, গােপী নাচে আর নাচে নয়, গোলকের গােবিন্দ পেয়ে পৃথিবী নাচ, দেব নাচে, দেবী নাচে, নাচে যক্ষ সমুদয়, শিব নাচে ব্রহ্মা নাচে, আর নাচে দেবরায়। আনন্দে নাচিয়ে মেঘ, ঘন গরজ, আর'প্রেম-অশ্রু বরষিয়ে বৃষ্টি-ধারা বয়, যমুনা নাচিছে দেখ ঐ তরঙ্গ-মালায়, কেবল কৃষ্ণদাস না নাচিয়ে, একা দিয়ে বেড়ায়। রাগিণী দেশ। তাল-ঝাঁপতাল । আমার মন হের রে প্রাণ ভরে। হরবামে হররমা, আজ একাসনে বিরাজ করে। মরি মরি কি মাধুরী, এরূপ কভু নয়নে নাহি হেরি, যেন রজত-ভূধরে ঘেরি, অতসী ফুল- মারে-
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি
শােভে হর ভালেতে শশিকলা,
মায়ের ভালে অলকা করে খেলা,
যেন গুঞ্জরে ভ্রমরমালা,
ফুল-কমল-উপরে।
কি বা হরভূষণ হাড়মালা,
গৌরীর হেম-জড়িত হীরামালা,
গলে দোলে বিহুদল-মালা,
হেরে যম-যাতনা যায় দূরে
শােভে হর-অঙ্গে বিভূতি,
গৌরীদেহে চন্দন ভাতি,
মরকত খচিত অতি,
আছে কঁচুলি সাধে নেরে
শিব শিরে জটা-পিঙ্গল-কেশে,
মায়ের কেশ-কলাপ চরণ পরশে
অলিকুল সদা আকুল,
পদ-কোকন। মধু তরে
মিটাতে ভবের ক্ষুধা,
কৃষ্ণদাস পপলি রে সুধা,
ভব-ভবানী-পদ হেরে,
ৰিনাশ ভব-আলারে।
রাগিণী-পুরবী। তাল-জদ একতাল
কে ও রমণী অাধার কমল-বাপিনী।
অপরূপা বামা, নাহিরে উপমা,
যেন জগত মােহিনী ।
৬৭
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
দল চতুষ্টয়ে ব, শ, ষ, স লেখা,
চতুষ্কোণ তাতে ধরাচক্র আঁকা,
শূল
অষ্ট তাহে আছে পরিবৃতা,
চতুৰ্ব্বাহুযুত, ঐরাবত-স্থিত,
ধরা বীজলং ধারিণী ।
শিশুরূপী ব্রহ্মা ক্রোড়েতে রাখিয়ে,
বালার্ক সদৃশ তনু সাজাইয়ে,
লতা-তন্তু সম আপনি হইয়ে,
ধরেছ মা নাম কুলকুণ্ডলিনী।
ত্রৈপুর নামক ত্রিকোণ যন্ত্রে,
আছে কন্দর্প বায়ু বর্ণিত তন্ত্রে,
তথা জীবাত্মায় তুমি রেখেছ যতনে,
তােমার সঙ্গে রয়েছে দেবী ডাকিনী
লিঙ্গ-রূপী শম্ভু থাকিয়া ত্রিকোণে,
রয়েছেন তিনি অধােবদনে,
শলিল বেরি, ব্ৰহ্মদ্বার নােধি,
শশাভিতা রয়েছ জগত-জননী।
সার্ধ ত্রিতয়ে হইয়ে বেষ্টিত,
শশিরােপরি রয়েছ শায়িতা,
সুপ্ত ভুজঙ্গিনী, জ্ঞান প্রদায়িনী,
চপলা-শালা সম রূপ-ধারিণী ॥
গুণাতীত হ'য়ে ত্রিগুণ ধারিণী,
অতি সূক্ষ্মা হয়ে আনন্দরূপিনী,
জীবের আনন্দ প্ৰদানিছ তুমি,
হও কৃষ্ণের সন্ধানন্দ দায়িনী
গীতি-পুস্পাঞ্জলি।
রাগিণ-আশোয়ারী। তাল-একতালা।
গাও বিভুগান,
হয়ে এক প্রাণ,
মজ হে তঁাহারি পদে।
গাও তারই:নাম, খোজ তারই ধাম,
ভুল না বিষয়-মদে ।
রচনা করিয়া এ বিশ্ব ভুবন,
করিছেন যিনি সৃজন পালন,
তাহারি প্রেমেতে হইয়া মগন,
মাত হে মন-আনন্দে ।
বেদাদি পুরাণ ষড়, দরশন,
খুঁজে কভু যার না নিলে দর্শন,
ঘন সৈন্ধবৎ মিশেছেন যে জন,
সংসার মায়ার হ্রদে
হইয়া নির্লিপ্ত বাসনা রহিত,
স্থাবর জঙ্গম প্রতি অনুগত,
ওতপ্রােতভাবে সদা বিরাজিত,
মানসে পাবে দেখিতে ।
কাতর অন্তরে রামকৃষ্ণ কয়,
বিহু পদে মতি সদা যেন রয়,
এস, করিয়ে বন্দনা, করিহে প্রার্থনা,
সভয়ে অভ-পদে।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
৬৯
রাগিণী—বিভাস। তাল-কাওয়ালী।
কে রে কামিনী ওই কমল বনে।
মূলাধার হতে উদিত স্বাধিষ্ঠানে।
ধ্বজ-মূলে ষষ্ঠদলে,
ব,ভ,ম,য,র,ল খেলে,
বিযুক্ত সুশশাভিত বড় বরণের
অর্ধচন্দ্র চক্রাকৃতি, বং বরুণবীজ তথা স্থিতি,
শরচ্চন্দ্ৰমাবৎ মকর-বাহনে-
শ্রীবৎস-সুশশাভিত, কৌস্তুভ-অলঙ্কৃত,
চতুভূজ নারায়ণ, শােভিত পীত-বসনে ॥
নীলপদ্ম-কান্তি জিনি, উন্মত্তচিত্তা রাকিনী,
নানা অস্ত্র ধারিণী বিভূষিতা বিভূষণে-
সবে লয়ে সশরীরে, চল মাগাে মণিপুরে,
তব গমনে সঙ্গী কর, কৃষ্ণের অপান-প্রাণে
রাগিণী—সাহানা। তাল—আড়াঠেকা।
ওগাে কুণ্ডলিনি! এলি কি মা মণিপুরে।
অধােমুখ নীলপদ্মে দশদল’পরে।
অনুস্বার সুশােভিত,
ডাদিফান্ত নাদ যুত,
ক্রমান্বয়ে বর্ণমালা প্রতিদলে বিরাজ করে।
অগ্নির ত্রিকোণ মাঝে,
বহিবীজ রং বিরাজে,
মেঘপৃষ্ঠে নবােদিত সূৰ্য্যসম প্রভা ধরে।
(ঐ দেখ মা) বৃদ্ধরূপী ব্রিলােচন, ভস্ম-মাখা অরুণ-বরণ,
রুদ্র-মুর্তি অবস্থিত বরাভয় ধারণ করে।
০
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
সর্ব-মঙ্গল দায়িনী,
রূপ ধরে মা লাকিনী,
চতুর্ভুজা শ্যামাঙ্গিনী, পীত-বসন ধারণ করে—
মণিপুর লং করে,
সকলে নে মা সশরীরে,
তবে চল অনাহতে, কৃষ্ণদাসে (মায়াপাশে) ত্রাণ করে।
রাগিণী-সারঙ্গ। তাল-কাওয়ালী।
ঐ চল মা অনাহত।
বন্ধুক পুষ্পবৎ সুশােভিত।
হৃদিস্থলে দ্বাদশ দলে দ্বাদশবর্ণ বিরাজিত,
ক হইতে ঠ পৰ্যন্ত সির বর্ণে সুশােভিত,
পথ মধ্যে ষটকোণ বয় বায়ুর মণ্ডল,
কৃষ্ণসার পৃষ্ঠে যং বীজ র রে সংস্থিত।
বীজ মধ্যে করুণাময় ঈশানাখ্য শিবালয়,
তড়িৎ বরণ বিনয় কাকিনী দেবী তথা রয়,
অস্থিমালা ধারিণী হয়ে চতুর্ভূজারূপিনী,
পাশ-কপাল বরাভয় করে করে ধৃত
তড়িৎ কোটি সদৃশ আছে ত্রিকোণ মণ্ডল,
ৰাণ নামে শিব তথা স্বর্ণবৎ সমুজ্জল,
দীপ কলিকামত, আছে জীবাত্মা সুশােভিত,
সকল সহ কৃষ্ণদাসে ল’য়ে হও মা বিশুদ্ধ-গত।
রাগিণীভূপালী। তাল-যৎ।
জানি না আমার সে দিন কবে হবে।
অনাহত হতে আসি মা বিদ্ধে উদিত হবে।
ঘােল স্বর যােলদলে,
বিরাজিত কণ্ঠস্থলে,
পূর্ণ শশধরবৎ মনগগন মণ্ডলে যাবে।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
৭১
শুক্লগাজ-অধিরূঢ়,
ধরি পাশাঙ্কুশাভয়-বর,
হং বীজের ক্রোড়দেশে সদা শিব সহ মিলন হবে-
চতুভূজা শর-শরাসন,
পােঙ্কুশ করে ধারণ,
পীতবর্ণা শাকিনী মা, কৃষ্ণদাসে কোলে লবে।
রাগিণী-মুলতানী। তাল-কাওয়ালী।
মন চল দি দলেতে।
ত্যজিয়ে বিশুদ্ধ, হইয়ে বিশুদ্ধ কুণ্ডলিনী মায়ের সাথে
আজ্ঞাচক্র নামে মধ্যস্থলে,
দ্বিদ্বল কমলে হ, ক্ষ, বর্ণ খেলে,
হাকিনী রূপিনী ষড়ানন মাতা,
দেখিবে তথায় বিরাজিতে।
তদন্তরে পাবে তব নিজ স্থান;
ইতরাখ্য নামে গিয়ে শিবস্থান,
ধরি প্রণব ধনু, যুড়ি আত্ম-বাণ,
লক্ষ্য কর ব্রহ্ম বস্তুতে।
নাদ-বিন্দ ভেদি সহস্রারে চল,
পঞ্চাশং বর্ণ যথা সমুজ্জল,
আছে সু রতিতে মাতি, পুরুষ-প্রকৃতি,
(হেরে) নৰে নিৰ্ব্বাণ পায় যাতে
(গোঁসাই) রসিকানন্দ কয় পথ এ নয় সহজ,
ধরতে যদি পার পথ সে সহজ,
তবে) কৃষ্ণদাস তােরে, আসতে হবে না রে ফিরে,
এ মায়াময় সংসারেতে।
৭২
গীতি-পুস্পাঞ্জলি।
রাগিণী-সুর। তাল-একতালা।
আমার হলােনা হলােনা সে সুদিন।
ত্রিতাপ যাতনা,
গেলনা গেল,
ক্রমে ক্রমে হলাে এ তনু ক্ষীণ
সংসার প্রসঙ্গে, মজি নানা রঙ্গে,
ভাবি ত্রিভঙ্গে, জুটি কুসঙ্গে,
সঁপি এ কাল মাতঙ্গে, না রহিলে সঙ্গে,
তারা হেরিয়ে এ ঘাের দুর্দিন ।
করণ সকল মেতে দুর্বল,
এখন কি করি তা বল, দিন যে ফুরাল,
জরাতে জারিল, এ খেদ রহিল,
(ক) হরি পদে মতি না হলে লীন
করিয়ে প্রতি ডাকি না এপতি,
কি হইবে গতি ওহে প্রাণপতি,
ঘুচায়ে দুর্গতি রাখ যদুপতি,
নিকট হইল দীনের সে দিন ।
নাই ডাকিতে অভ্যাস, খুঁজে না পাই ভাষ
শিখাইয়ে ভাষ, দাও হে পীতবাস,
শেষ ভিক্ষা চাহে দাস, হয়ে অন্তরে প্রকাশ,
যবে কৃষ্ণদাস হবে বাক্যহীন।
রাগিণী ..বেহাগ খাম্বাজ। তাল--আড়াঠেকা।
প্রেম কি সামান্য রতন।
পেম ত ানে কেবল রসিক সুজন।
গীতি-পুস্পাঞ্জলি।
৭৩
এক প্রেমে দেখ ভৃঙ্গ সদা ফুলে রয়,
আর এক প্রেমেতে কীট গােময়েতে সুখী হয়,
প্ৰেম-বৃক্ষে দুটী ফল, একটী সুধা একটী গরল,
একটী খেলে অমর কেবল, একটীতে যায় জলে জীবন।
এক প্রেমে দেখ চকোর চাদের সুধা খায়,
আর এক প্রেমে পতঙ্গ অনলে প্রাণ দেয়,
প্রহলাদ প্রমেতে মজে, পায় স্থান পদ-সরোজে,
শুম্ভ নিশুন্তের দেখ প্রেমে মজে হয় নিধন।
গােপী-প্রেমে মত্ত হয়ে ব্রজে কৃষ্ণ গো চরায়,
অন্য প্রেমে হলো দেখ সূর্পণখার নাসা-ক্ষয়,
(তাই বলি) বিষয়-প্রেমেতে কভু মজোনারে কৃষ্ণদাস,
হয়ে চতুর মথুরানাথের প্রেমে সদা সপ’ মন।
প্রসাদিসুর।
তাল- একতালা।
মন তবে তােরে ভালবাসি।
করে শ্রবণ কীৰ্ত্তন রূপ অনুধ্যান,
আমায় যদি করিস খুশী।
নয়ন করে রূপ দরশন,
করেছি তাের আশা পূরণ;
এখন হেরিতে সেই কাল বরণ,
(মন) যদি হও সদা প্রয়াসী।
চ চোষ লেহ পেয়,
খাওয়ায়েছি তােয় অপ্রমেয়;
এখন আমার হয়ে প্রিয়,
যদি কৃষ্ণ বল জিহায় বসি
৭৪
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
আতর গোলাপ ল্যাভেণ্ডার,
দিয়েছি গন্ধ কত প্রকার,
এখন লওরে নির্মাল্যের প্রাণ,
চরণ তলে সদাই বসি।
গীতবাদ্য ক'রে শ্রবণ,
তুষিয়াছি তােমার মন,
এখন করে শ্রবণ হরি-কীৰ্ত্তন,
আমার ধ্বংস কর পাপ-রাশি।
তসর-গরদ পােষাক-আদি
যােগায়েছি তােয় নিরবধি,
এখন কেবল তােরে সাধি,
লও পদ-রজ গায়ে ঘসি ।
নানা রঙ্গে সদা নিঃশঙ্কে,
তােরে শােওয়ায়েছি খাট-পালঙ্কে,
এখন কৃষ্ণদাসে নিরাতঙ্কে,
শান্তি দা ও পদ-প্রান্তে আসি ।
রাগিণী রামকেলী। তাল-একতালা।
রাণীর চমকিল প্রাণ।
প্রভাতে উঠিয়ে হেরে দুয়ারে ঈশান
শিরে হানি করাঘাত,
বলে উঠ উঠ প্রাণনাথ,
এসেছেন উমা-নাথ,
আমার হরিতে পরাণ।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি। না হতে দশমী প্রবেশ, ঐ বুঝি এলো হে নগেশ, কাল-রূপে কলা-নাথ, হরে ল’তে গৌরী ধন- বিদায় দিয়ে প্রাণ-উমারে, কি ধন লয়ে থাকি ঘরে; সত্বর চল অচল, ধরিগে গিরীশের চরণ। কৃষ্ণদাসের এই নিবেদন, রাখ যত্নে এ দরিদ্রের ধন, অভয়ার ঐ অভয় চরণ, দেখাে যেন না হয়ে ঈশান । রাগিণী--সুরট মল্লার। তাল--একতালা। হরি এই ভয় সদা মানসে। হেরি কালগত হলাে কালাগত, বল ত্ৰাণ পাই তায় কিসে # পেয়ে অধিষ্ঠান হ'য়ে অহংবাণ, করি সন্ধান পেতে আত্ম-ত্রাণ, লভি নানা চেষ্টা, না করিনু চেষ্টা, মরি কেবল এই আপশেষে। আজন্ম করি করণানুগমন, করিলাম হায় যত অকরণ, কভু ত হলােনা হৃষীক দমন, ভজি সেই হৃষীকেশে;-
৭৬
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
এখন বুজুরূপে তারা বাধে অষ্টপাশে,
ডাকিতে তোমায় সদা লজ্জা আসে,
ভ্রান্তিবশে তখন না করি স্মরণ,
মজেছিলাম বিষয়-মসে।
দৈব-শক্তি লভি দেবদ্বেষী হয়ে,
কাটাইনু দিন দীনেশে ভুলিয়ে,
এখন ভানুর নন্দন করিছে তর্জন,
হেরি কাপে অঙ্গ ঘাের ত্রাসে।
কর্মদোষে পাই অশেষ যন্ত্রণা,
তবু তব পদে মতি ত গেল না,
হয়ে অবিদ্যাগত হয়েছি কলুষিত
কেমনে যাব তব পাশে
দগ্ধ হয়ে সদা ভব তাপানলে,
ডাকে কৃষ্ণদাস পরিত্রাহি বলে;
নাহি ত্যজে পিতা কুপুত্র বলিয়ে,
ভরসা এই আশার আসে।
প্রসাদীপুর।
রে দুত। আর কি তোদের ভয় রেখেছি।
আমি যখন শমন ভয় নাশিনী
অভয়ারে মা বলেছি।
মৃত্যুঞ্জয় যায় হৃদে ধরে,
তােরা করিবি বধ তার কুমারে?
দেখ দুর্গ নামের কবচ পরে; .
অচ্ছেদ্য যে হয়ে আছি।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি ।
কি ভয় দেখা আমায় বিকট,
টু চক্তে আমার মা যে প্রকট,
তােদের তুচ্ছ অসি আমার নিকট,
আমি শ্যামাময় শরীর করেছি।
তােদের রাজার কি ঐশ্বৰ্য্য,
আমার মার যে ষড়ৈশ্বৰ্য্য,
বার পদৈশ্বর্য জগৎ-পূজ্য,
সেই ব্রহ্মময়ীর ছেলে হয়েছি।
কৃষ্ণদাস তাই বলি শুন,
গাওরে সদা শ্যামা ওগুণ,
যাতে এড়াবি রে কাল শমন,
সেই রক্ষা মন্ত্র তের দিতেছি।
রাগিণী-মিশ্র ঝিঝিট। তাল-ঝাঁপতাল।
কে বটে নবীনা বামা ঐ হের কালীদহের জলে।
বিরাজে স্থিরা চপলামাল বিকচ কমল-দলে।
আহা মরি মরি কি মাধুরী, মতিভ্রম হয় মায়ের রূপ হেরি,
আছে পদ-নখরে শণী পড়ি, অরুণ খেলে ঐ পদ-তলে।
মায়ের ক্ষীণ কটি কেশরী জিনি, শুরু উরু চারু নিতম্বিনী,
হৃদি পয়োধর-ভারে বামা, ঈষং বামে-তরে হেলে ।
মায়ের মুখ জিনি শারদ-ই শােভে) ভালে অলকা সিদ্রবিন্দু,
যেন হাসি মধুর মৃদুমৃত, মাতঙ্গ উগারি গেলে ।
বলে কৃষ্ণদাস বিনয় করি, বুঝিতে নারি কার এ নারী,
এ যে ত্রিনয়না, যায় না চেনা, জ্ঞান-নয়ন পহি দিলে ।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
রাগিণী ভীমপল । তাল-একতালা।
ওরে আমার অবােধ মন।
যদি বা কর পেতে নিত্য-ধন ॥
তাইতে তােরে বলি করি কৃতাঞ্জলি,
কেন হও দগ্ধ দারিদ্র্যেতে অলি,
পাবে পূর্বধন, কর অন্বেষণ,
বিজ্ঞতম জ্যোতিষী একজন
লভ যদি সেই সৰ্ব্বজ্ঞ-প্রধান,
হবে তব গুপ্ত ধনেরই সন্ধান,
তিনি অতি সত্বরে, চিনাইয়া তােরে,
করে দিবে স্থাননিরূপণ ।
করি বিশ্বাস-স্থাপন, কর মৃত্তিকা খনন,
কভু দক্ষিণেতে না করে গমন,
তথা জুটে কৰ্ম্মফল হ'য়ে বােল ভীমরুল,
নিরবধি তােরে কবে নির্যাতন।
পশিলে পশ্চিমে পড়বি যাের ভ্রমে,
নিধি-সিদ্ধি-আদি ঘেরিবে মহা ধূমে,
তথা আছে এক যক্ষ, হ'য়ে ধনাধ্যক্ষ,
লইতে সে ধনে দিবে না কখন
কদাপি উত্তরে করােনা খনন,
আছে মুক্তিরূপ উরগ ভীষণ,
মরি কৃষ্ণকায় গ্রাসিতে তােমায়,
কমিছে ব্যাদান বিকট বদন।
৭৯
গীতি-পুস্পাঞ্জলি।
হলে পূৰ্ব্ব-গামী হয়ে ধন কামী,
মহারত্ন লাভ করিবে হে তুমি,
শুন কৃষ্ণদাস ৰাণ, হয়ে কৃষ্ণধনে ধনী,
সুখেতে করিৰি জীবন যাপন।
রাগিণী-আশােয়ারী। তাল-কাওয়ালী,
মন । যদি শান্তি ওরে পেতে।
তবে গ্রাম তরুমূলে, থাক কুতুহলে,
ছেড়ােনাকো কোন মতে।
সুর-ভােগ্য এই শ্যাম কল্প-বৃক্ষ,
চতুর্বর্গ ফলে ধৰ্ম্ম আদি মােক্ষ,
এ বৃক্ষের ফুল, ভুবনে অতুল,
সৌরভে জগৎ মাতে-
পত্ররূপে বেদ করে ছায়া দান,
ফলশ্রুতি-পুষ্প বিতরয় ঘ্রাণ,
থাকহ সতর্ক, ধরিয়া সুতর্ক,
দেখাে মজোনা সুবাসেতে ।
ভুজঙ্গ-শার্দুল হ'য়ে অর্থ কাম ফল,
দেখে যেন তােরে গ্রামে না কেবল,
পর জ্ঞান অস্ত্র, জপি ইষ্টমন্ত্র,
খাকরে সদা সাবধানেতে-
বাড়ৰে হৃদে বল ধৰ্ম্ম মােক্ষ ফল,
খেলে কৃষ্ণদাস হবিরে শীতল,
ঘুচিশ ত্রিতাপ, হাবিরে নিস্পাপ,
রবি মহানন্দে মহীতে।
গীতি-পুস্পাঞ্জলি।
রাগিণী – সিন্ধু খাম্বাজ। তাল-দর।
তোরা কে প্রেম লবি আয়।
“গৌর প্রেমের হাট বসেছে এই নদীয়ায়।
এ মহাপ্রেম অতি অমূল্য, জগতে নাই ইহার তু্য,
কিন্ত লাগেনা মূল্য, (কেবল) এক মনেতে নিলেই হয়।
এ প্রেম-সুধা শান্তি-ফল, খেলে অঙ্গ হয় শীতল,
গােলকের গােপ্য ধন, নিতাই এনেছে ধরায়-
এ প্রেম নাই জাতি বিচার, চতুৰ্ব্বর্ণ সব একাকার, ।
‘লাই) রাজা ফকির পৃথক তার, (সবে) সমভাবে প্রেম বিলা
জগাই মাধাই এই দুজনা, প্রেম দিতে মারে কলসীর কান,
নিতাই এর অপার করুণা, আলিঙ্গনে তাদের জুড়ায়
কৃষ্ণদাস তুই পাপী বলে, কঁদিস্ কেন মনের ভুলে,
ডাক গৌর-নিতাই বলে, তাের) মহাষায় হবে সহায়।
বাউল সুর।
যদি মদ খেতে তাের বাঞ্ছা থাকে আমার মন।
তবে চল ত্বরায়, এই নদীয়ায়, গৌর নিতাই শুড়ির ভবন ।
দিয়ে গুরুদও গুড় অহং ভাতে, মাখা’য়ে নিবৃত্তি-বাখর তাতে,
চড়ায়ে প্রেম-হাঁড়িতে, জেলে দিতেছে তাপ জ্ঞান-তাগুন।
বিবেক চোঙ্গ বুড়ি তাতে, এনে গ্যাস্ মন কলসীতে,
নিতাই করে চোলাই আপন হাতে, সদা ভক্তি বারি করে সেচন।
নিতাই গৌরের খোলাভাটী, এতে নাই কিছু আঁটাটি,
এ মদ নাইরে জো কেবল পাটি,
খেণে নেশায় করে প্রেম উদ্দীপন।
গীত-পুষ্প ঞ্জলি।
৮১;
কৃষ্ণদাস তুই আয়রে ছুটি, কেন বেরাস্ করে ছুটাছুটি,
ধর গৌরের ঐ চরণ দুটি, খেলে মদ পাবি ছুটি এড়াৰি শমন।
রাগিণী-ভৈরব। তাল-কাওয়ালী।
মন তুই ভৰয়ােগ হ’তে যদি চাসরে বাঁচিতে।
তবে শীঘ্ন করি, চল নদে পুরী, গৌর-বৈদ্যের বাড়ীতে।
তথা শ্রীবাসাদি অদ্বৈত, হ'য়ে সহকারী বৈদ্য,
পাকায় হরিনামের কড়ি, সদ্য (দুরারোগ্য রােগ নাশিতে
নিতাই ল’য়ে গদাধরে, মকরধ্বজ তৈয়ার করে,
চড়াই জিহ্বা-যন্ত্রে রাধামন্ত্র, ষড়রিপুর ল জারিতে
করি বিষয় কুপথ্য যােগ, হয়েছে তাের অসাধ্য রােগ,
আছে এ রােগ সারিবার সুযােগ, রাধাকৃষ্ণনাম(নুধা-সিন্ধু)রসেতে
ডাকে দয়াল গৌরাঙ্গ আপনি, ল’য়ে হরিনাম মৃতসঞ্জীবনী,
বলে কৃষ্ণদাস আয় এখনি, যদি চাস (মৃত) দেহে প্রাণ পাইতে ॥
রাগিণী—মিশ্র রাজবিজয়। তাল-জলদ একতালা।
শান্তি-সুধাময় হরিনাম পিয় রসনায়।
হরিনামে হবি অমর, ভক্ষুধা টুটে যায়।
শুনেছি এই নামের ফলে, অজামীল
মৃত্যুকালে,
ভাকি পুত্রে নারায়ণ বলে, শমন ভয় এড়ায়।
ত্রেতায় দস্যু রত্নাকরে, উল্টা রাম-নাম জপ করে,
চলে গেল গােলােপুরে, রাখিয়ে কীৰ্ত্তি ধরায় ।
মুখ কালিদাস হলাে কবি, বাণীর পদ সদা সেবি,
অস্তমিত নহে রবি, তাহারই যশ-প্রভায়।
কৃষ্ণদাস অতি নগণ্য, বিদ্যা-বুদ্ধি ভক্তি-শূন্য,
ভব-পারাবার হ'তে উত্তীর্ণ, বাঞ্ছা হরি-চ-কৃপায় ।
৮২
গীতপুষ্পাঞ্জলি।
রাগিণী –মিশ্রগৌরী। তাল-কাওয়ালী।
এ কার রমণী, বুঝি হয়-ঘরণী।
বিশ্ব-প্রসবিনী মাতা জগত-পালনকারিণী।
চতুর্ভুজা সিংহাসন, বালার্ক সম-বরণা,
প্রফুল্ল-কমলাননা, নাগ-ষজ্ঞােপবীতিনী।
নানালঙ্কার-শােভিতা, নারদাদি সংপূজিতা,
ত্রিবলিবলয়ােপেতা, নাভিনাল মৃণালিনী
আরক্তিম ত্রিনয়ন, সম্পূর্ণ নবযৌবনা,
শােণিত সম বসনা, নমামি ভব-গেহিনী
শ-সার-করা, পঞ্চবাণ-পদ্ম-ধৱা,
প্রকৃতি-পুরুষাকারা, করি-অসুর-মর্দিনী।
জিনি রক্তোৎপল-জ্যোতি, জিত অরুণ চরণ দ্যুতি,
রতন তাতি মলিন অতি, হেরি পদ-নখ-মণি--
কৃষ্ণদাস তাের কি দুরাশা, না করি পদ ভরসা,
কেমনে বারিবি তৃষা, না তারিলে কৈলাস-বাসিনী।
রাগিণী--সাহানা। তাল-ষং।
খেলনা দিয়ে আর কতকাল ভুলাইবি বল মা তাই।
ক্ষুধার জ্বালায় জ্বলে মরি সে দিকে তাের দৃষ্টি নাই ।
আশা চুষি মেরে দিয়ে, রেখেছ মা বেশ ভুলায়ে,
আমি বিফলে মরি চুমিরে, কভু ত রস নাহি পাই।
অজ্ঞান-দোলায় শাে ওয়ায়ে, মায়ার পুতুল তায় ঝােলায়ে,
রয়েছ নিশ্চিন্ত হয়ে অর ছেলে বলে মনে নাই
গীতিপুষ্পাঞ্জলি। খেলেছি মা অনেক খেলা, আর সয়না ভ-ক্ষুধার জ্বালা, কেঁদে কেঁদে প্রাণ উতলা, এসে রক্ষ মাগাে ডাকি তাই- কোথা মা পাষাণ-তনয়ে, থেকোনা পাষাণী হয়ে, তােষ কৃষ্ণদাসে শুন্য দিয়ে, মেহের উষ্ণ বাজাই। রাগিণী-ইমন ভুপালী। তাল --কাওয়ালী। এ পতি পদে করি মিনতি। বা রা খ রাখ রাঙ্গা পায় রক্ষ-কুল-অরাতি। ম ম সম অভাজনে, বিহীন সাধন-ভজনে, কৃপা কর অকিঞ্চনে, কৃপাময় জানি অকৃতী। ষ ডু, রিপুর শাসনে, শঙ্কিত সতত প্রাণে, ণ ত্ব-ষত্ব-জ্ঞান-বিহীন, নারায়ণে না করি নতি- দা নব-দলন-কারী, বলি দৈত্য দ্বারের দ্বারী, স দয় হয়ে স্বদাস ভেবে, দেহি সন্তানে সংগতি। সাংসারিক কুসংস্কারে, মােহিত মােহ-আঁধারে, সিং ই-বাহিনী-সংসেবিত, পদে স্থান না পাই সম্প্রতি। ए -হৃদয়-বিহারী, হিরণ্যাক্ষ-হননকারী, পা ষণ্ড-পামরে তারি, পাপ হরি দাও পরাগতি- রাধাকান্ত রাসবিহারি, রাজীবলােচন হরি, নিবেদন এ দাসেরি, যেন পাই পদ ত্বরাগতি। রাগিণীভীমপলশ্রী। তাল-লােফা। হরি হরি বল, দিন যে ফুরাল, মিছে কেন ভুল মায়াতে। হরিনামে, পরিণামে, দিয়ে শমনে ফাঁকি, তুই হবিরে সুখী, আর রবে না ভাবনা বেতে।
গীতি-পুস্পাঞ্জলি।
।
হরি ভজিরে, এলি সংসায়ে,
বৃথা ধন-জন পেয়ে ভুলিলি তাহারে,
সদাই হরি বল হরি বল, তাতে পাবি মোজ-ফল,
ও তুই শমন-জাল হ'তে এড়াতে ।
পেয়েছ মানব-জনম (সার),
হরি না ভজিলে পাবি না রে (আর),
বল হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ অন্তে কৃষ্ণ পাবি,
এ কষ্ট এড়াবি, সেই জননী-জঠর-(বাস। হতে
(ভবে) কৃষ্ণদাস সুখ পেলি না বলিয়ে,
তা বলে কি রবি (নামে) বিরত হইয়ে,
বল হরে রাম হরে রাম,
তাতে আরাম পাবি, তুই শীতল হবি,
আর হবে না ত্রিতাপে দহিতে ।
প্রসাদী সুর।
তাল-একতালা।
হরি কাজ নাই আর জ্ঞান-বিচারে।
তোমার ধরম করা বেদ লােকাচার
আমার ত্বরা করে লওহে হরে
বেদ-বেদান্ত-স্যায়-স্মৃতি,
সাংখ্য-পাতঞ্জল শ্রুতি,
তারা বিচার করে নেতি নেতি,
শেল ক্ষান্ত হলো স্বতি করে।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
কত যােগী-ঋষি ধ্যানে বসি,
কাটায়ে যুগ-যুগান্ত দিবানিশি,
করি তদন্ত, না পেয়ে অন্ত,
শেষে দেয় যােগ ছেড়ে।
কৃষ্ণদাস কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে,
ভেসে সদা নয়ন-জলে,
হয়ে পাগল, বাজায়ে বগল,
যেন কটা দিন যায় গুজারে।
প্রসাদী সুর।
তবে দে’মা হৃদি শ্মশান করে।
যখন বেদে লােকে সবাই বলে, শ্মশান বাসিনী তোরে ॥
ল’য়ে পাপরূপ কারাশি, তাহে চিতা প্রস্তুত করে,
জেলে দেমা জ্ঞানের আগুন জ্বলুক সদা ধূধু ক'রে ॥
কাম ক্রোধ লােভ আদি, মনােবৃত্তি অহংকারে,
এ শবরূপে সব দগ্ধ কর মা, এই চেষ্টা কৰ্ম্ম করণেরে ॥
ভূত লয়ে বাস করিস্ বলে, তাও রেখেছি যােগাড় করে,
ক্ষিতি অপ তেজ মরূৎ ব্যোম্, এই পঞ্চ মহা ভূতকে ধরে ।
কৃষ্ণদাসের হৃদয়ক্ষেত্র, দিয়ে মহা শ্মশান করে,
মা বিরাজ কর আনন্দময়, (আমি) থাকি মা তাের পদে পড়ে
প্রসাদী মুর।
মন তাের বিকার কাটবে কিসে।
সৰ্বাঙ্গ ঘেরেছে তাের, সান্নিপাতিক বিষয়-বিষে।
দিনে দিনে বাছে রে রােগ, কেবল রে কুপথ্য দোষে,
পেয়ে কামিনীরূপ আমের আচার, দিবানিশি মরূছ চুষে ।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি। ধন আশা পিপাসাতে, তোর কণ্ঠ সদাই শেষে, লভি পুত্রকন্যা, খাসা দধি, এখন বিকারে উঠলি ভেসে কৃষ্ণদাসরে বাঁচতে আশা, যদি থাকে তাের মানসে, তবে হরিনাম সুধাসি, পিয়াও জিহ্বা খাতে বসে সুলতান-একতালা। রে মন! যদি এড়াবি মরণ। তবে চল ত্বরা করে হৃদি-সাগর তীরে,ভক্তি-সুধা পানেরই কারণ ও করি মন্থন-দণ্ড মন্দর মনেরে, রঞ্জুরূপে ল’য়ে প্রাণ বাসুকিরে, প্রবৃত্তি নিবৃত্তি ডাকি দেবারে, কর হৃদি-সাগর মন্থন- বুদ্ধি উচ্চৈঃশ্রবা জ্ঞান ঐবৎ, চিত্তশুদ্ধি তাহে উঠবে পারিজা, নিধি সিদ্ধি আদি পাবি রত্ন কত, শান্তি-লক্ষী লভিবি তখন ॥ ধৰ্ম্মরূপ-বৃষ উঠিলে রে পয়ে, উঠবে অহংবিষ জগৎ ধ্বংশ তরে, তখুনি আসিয়ে বিবেক শঙ্করে করিবেন সে বিষ ভক্ষণ- তখন স্বয়ং মুক্তি আসি হয়ে ধরি, উঠিবেন ভক্তি-সুধা ভাণ্ড ধরি, মােহিনীরূপে আত্মা বঞ্চি সু-অরি, (দীন) কৃষ্ণদাসে সুধা কৰিৰে ৰন্টন । বেহাগ-আড়াঠেকা। এখন কোথা চলিলে। কি দুঃখে মনের খেদে, সন্ন্যাসী সাজিলে। প্রচণ্ড মার্তণ্ড প্রায়, উজলিয়ে এই ধরায়, কাল-রাহু গ্ৰন্ত হয়ে, প্রভাহীন কি হ'লে— পুত্র কন্যা প্রিয়া নারী, তেজ্য করি সাধের বাড়ী, পাষাণ হৃদয় ফরি, বল কেন এমন হলে।
গীতি-পুস্পাঞ্জলি।
নিত্য ধনে তুচ্ছ তাৰি, পাপ হ্রদে সদা ডুবি,
শভিলে রত্নধন, (বল) তার সঙ্গে কি নিলে
কৃষ্ণদাস কহিছে খে’দে, তাই বুঝে কি আপন হৃদে,
খাকি জেতে নয়ন মুলে, বসনে বদন ঢাকিলে
দিন ফুরাল সন্ধ্যা হলো, চলাে আপন ঘরে যাই।
ফেলি খেলা চলো এই বেলা, নহিলে আঁধার বুড়ি ধরূবে ভাই।
আর থাকিনে খেলায় ভুলে, চেয়ে দেরে নয়ন মিলে,
সূৰ্য-মামা অস্তাচলে, ভূৰি ভূবি করূছে ওই ।
আর করি না ভাই অধিক দেরি কালাধারে নিলে দেরি,
(তখন) চিবিনারে আপন বাড়ী, (পথে) কেঁদে কেঁদে মরূবি তুই
(তখন) কৃষ্ণদাস কি হবে কঁদলে, এখন চল্ মায়ের কোলে,
ওরে ভয় ভাঙ্গাতে ত্রিজগতে, (ও তাের) - বিনে আর কেহ নাই।
সুধাই হরি পদে ধরি, এই কি তব করুণ।
যে জনম ধরি ভজে হরি, তার কি নয়নবারি মুছাও না।
সেই পঞ্চ-পাণ্ডব দ্রৌপদী, সেবি পদ নিরবধি
হয়ে রাজ্য ভ্রষ্ট নানা কষ্টে, তারা জীবনে সুখ পেলে না।
স্বয়ং লক্ষ্মী সীতা দেবী, তব পদ সদা সেবি
গেল দুখে জলে রসাতলে, সেই খেদে প্রাণ আর রাখলে না-
কহে কৃষ্ণদাস করজুড়ি, বিষয়-সুখ না দাও হরি,
শেৰে দিও হরি পদ-তরি, যেন ভবঘােরে ডুবিওনা ৷
গীতি-পুস্পাঞ্জলি।
হায় হায় আমার এই কি হলো।
সাধ করি চিতে অচলে উঠিতে, পদ পিছলি পতন হলাে
প্রাণের ধ্রুবতারা লক্ষ্য করে, বাহি তনু-তরী সংসার-সাগরে,
কালমেঘ উঠি আবরিয়ে দিটী, দিগ-ভ্রান্ত মােরে করিয়ে দিল।
জ্ঞানের ক্ষীপাশােক লইয়ে করে, যাইতেছিলাম অজ্ঞান অাঁধারে,
অহংমমেতিঝড়ে নিয়ে দিয়ে তারে,ঘােতমেঘেরি বিপথে ফেলিল।
কৃষ্ণদাস বলে চরণে ধরি, বৃথা এ জনম গেলহে হরি,
পুনঃ যদি মােরে পাঠাও সংসারে, (তবে) দিওনা সঙ্গে মাের ফরম ফল।
প্রসাদী সুর-একতালা।
বলমা শ্যাম কেমন করে বাস করি এই শত্রুপরে।
আমার মিত্র বলে কেহ নাই মা, যেদিন তুই গেলি মা আমায় ছেড়ে।
কি সুখের ঘর সেই জানে মা, যার দুটী জায়া আছে ঘরে,
ওগাে সবাই তারা দন্দ করে না, কেবল আমার উপর ঈর্ষা করে ।
মিত্র রূপে আছে ছয় জন, (তাদের সেবা করি যত্ন করে,
তারা যে বিষকুম্ভ-পয়ােমুখ, তা' জাবাে মাগাে কেমন করে
দশজন আছে কর্মচারি, তাদের বেতন দিই মা অকাতরে,
কিন্তু এমনি তারা নিমকহারাম, তাদের আমার কাজেই মাথা ধরে।
একজনেরে কর্তা করে, সংসারের ভার দিলাম তারে,
আমার সােনার সংসার করে ক্ষার, মা, সর্বধন লয় গাে হরে।
কৃষ্ণদাস তুই মৰি দোষে, শ্যামা মায়ের চরণ ছেড়ে,
ওরে বিষয় বিষ খেয়ে রে তুই, কোন দিন প্রাণ হারাবি শক্ত করে।
গীত-পুষ্পাঞ্জলি।
৮
প্রসাদী মুর-একতালা।
রে মন শত্রু বলে ভাবিস কারে।
আপনি আপনার শত্রু মিছে দোষ এসবারে।
দশ ইন্দ্রিয় রিপু বড়, শক্ত বলে জানিস্ যারে,
(দেখ) সােনাতে হয় কেয়ূর কুণ্ডল, সে সােণা বই আর কিছু কিরে?
মাটা জল তেজ বায়ু শূন্য, মন বুদ্ধি অহংকারে,
অষ্ট প্রকৃতি রূপে মা, বিরাজ করেন এই চরাচরে।
জীব আর জীবনী শক্তি হয়ে পরাৎ-পরা দুই প্রকারে,
জগদ্ধাত্রী রূপে মা, রয়েছেন, এই জগৎ ধরে।
এক সূত্রে গাঁথা বিশ্ব, মণিমালার আকারে,
কৃষ্ণদাস তাের কৰ্ম্ম শত্রু, তাই চিলিনারে সে মায়েরে ।
চল ভাই তে যাই, শ্যাম পদাশ্রিয়।
যে যারে আশ্রয় করে, কভূ নাহি ত্যজে তারে দেখ তার পরিচয়।
মীন আশ্রয় করি বারি, করে খেলা উজান ধরি,
কিন্তু মদমত্ত করি, তাহে ভেসে যায়
সূর্যের আশ্রিতা হয়ে, কমলিনী জলে রয়ে,
থাকে প্রফুল্লিতা হয়ে, (কিন্তু) তাপে সলিল শুখায়।
কৃষ্ণদাস বলি তােরে, বরং বিশ্ব লয় হতে পারে,
কিন্তু তঁরে যে আশ্রয় করে, কভূ তার নাহি ক্ষ।
এখন শ্যামে তবু হেরিনি।
অন্তরে আকুল হই কেবল বঁাশরি শুনি
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
জানি না কি জানে কাল, ভূলাতে অবলা বালা,
কুলনারী কুল রাখিতে নারি মনে করি হই কলঙ্কিনী ।
শুনি ডমরুর ধ্বনি, চঞ্চল হয় যথা নাগিনী,
তেমতি আমি লাে ধনী, বাঁশি শুনে হই উন্মাদিনী।
(আর) রহে না গাে কুল লাজ, বুঝি হরে লাে রসিক রাজ,
মন উদাসি হইতে দামী, সদা চায় তাে প্রাণ সজনী
কৃষ্ণদাসও হতে দাসী, ওচরণ সদা প্রমাসি,
করি শ্রবণ মেঘ গরজন, সুখি হয় যথা শিখিনী
কেন! যাইমু যমুনা ফুল।
এক নিরূপমা বামা চপলা সমা, বদন দেখা’য়ে লুকানাে ।
ইসদ ভূক্সর টানে, হানিয়ে নয়ন বাণে,
হিয়া জর জর করেগাে আমার, সহিতা কেমনে বলো।
দেখাতে সরল মতি, হাসিয়ে মধুর অতি,
পাতি আশাফাদ ধরি মাদ, সে ফিরিয়ে কভু না দিল।
কৃষ্ণদাস কহে বাণী, সামান্য নহে সে ধনী,
তেঁ হারি কারণে এই বৃন্দাবনে, রয়েছে ফুটি সে কমল।
সখি আলমে আজি হেরিনু।
ব্রজ রাখাল সনে গেল চরাতে ধেনু।
কিব) নবীন নাগর জলদকার, রূপ হেরি শশি গগনে গর,
লাজে রতি আসি দহগতি, অভিমানে ত্যজে ধনু
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি ।
চশ যুগল’পর চাদের মালা, অরুণ গগন ছাড়ি পদে করে খেলা,
জিনি বেণু বীণা আর পিকূ ধূনি, পদে পুর করে রু রুকু ।
ধন্য ধন্য মানি এ ধরণী ধনী, অনায়াসে পেলে চরণ দুখানি,
কৃষ্ণ দাসানুদা এ কৃষ্ণদাস, সদা চাহে হতে ও চরণরেণু।
আমি শ্যামে কেন হেরিনু।
হেেিয় ভাল ছি, ছেরিয়ে আপন হারা ।
হলে কি জলে অনলে, অনিলে আকাশ তলে,
লতায় পাতায় ভূধর কায়, সকলেতে হেরি যে কানু।
করি অঙ্গ অধিকার, কি কব অধিক আর,
শিরায় শিরায় রুধির কণায়, সদা বিরাজে কায় ।
কৃষ্ণদাসেরই বাণী, শুন রাই কমলিনী,
শ্যামে সর্বকায় দেখে গাে ধরায়, অনুরাগী হইলে কা।
অামি কেমনে ধৈরজ ধরি,
হেরিয়ে কিশােরি পাশরিতে নারি, অনঙ্গ শরেতে মরি।
সে বিধুবনী-বালা, যেন গাঁথনি কুসুম-মাল,
আমি সদা মনে করি সযতনে ধরি, হিয়ার মাঝারে পরি।
ওসে অল্প বয়সী ধনী, বরণ কষিত কাঞ্চন জিনি,
তার উরস উপর চারু পয়ােধর, জগন মন হানি।
সখি বলনা এখন কি করি, আমি পাব কি সে নবীনা নারী,
(দে) কৃষ্ণদাস বলে (কেন) ভাস অশ্রুজলে, আমি মিলাবরাই পধরি।।
৯২
গীত-পুষ্পাঞ্জলি।
আমার! কই কই সে কমলিনী রাই।
আমি যাহার গুণ সদা বাঁশিতে গাই।
যে রাধার তরে নরদেহ ধরে, (রাখি) জনক-জননী কংস কারাগারে,
আনন্দ অন্তরে আসি ব্ৰজপুরে, (দেখ) নলগােপ বাধা শিরেতে বই।
যাহার লাগি গােলক ত্যজিয়ে, অবনি আসি রাখাল সাজিয়ে,
চুড়া ধরা পরি পাঁচনি করে ধরি, ঘুরি বনে বনে গোধন চড়াই।
যাহার প্রেম ভােরে উদখল পরে, বাধা থাকি আমি যশােমতি করে,
যে চরণ আশ করি কৃষ্ণদাস, জীবন যাপিছে আকুল হই।
ছি ছি সখি লাজে মরে যাই।
সমে পুড়ি সহিতে নারি, জলে ধুলে জ্বালা কভু যাবে নাই।
আজ গােধুলি সময় কালে, যাইয়া যমুনা জলে,
কুলে বাস ফেলি করি জল কেলি, লুকায়ে তনু দেখেছে কানাই।
কি কব দুঃখের কথা, আমার হৃদয়ে হে গাঁথা,
ক্ষিতি বিদনিলে যাই রসাতলে, এ মুখ আর কারে না দেখাই ।
কহে কৃষ্ণদাস করযােরে, বাজ হানিয়ে লাজ শিরে,
গিয়ে ধীরে ধীরে কানুরূপনীরে, তবে কেন ডুবিলে না রাই ।
(আজ) কেন যাইমু যমুনাতটে।
এক নবিনা নাগরী তাহারে নেহারি, আমার পরাণ কঁাদিয়া ওঠে।
তার বদন অম-কমল, নহে শারদ-শশী সমতুল,
সে ক নয়নে ভূষিত অঞ্জনে, তারে হেরিয়ে হৃদয় ফাটে।
তার গালেতে মতির মালা, যেন সুরধুনী করে খেলা,
চারু পয়ােধর গুরূগ্নিবির সেই হৃদি-ভূমি ভেদি ওঠে।
গীতি-পুস্পাঞ্জলি। একে করি-অরি জিনি কটি, তাহে আঁটিয়াছে নিলশাটা, সদা প্রাণে ভয় অঙ্গেরই বায়, পাছে ভাঙ্গিয়া ভূমেতে লােটে। গুরু-উ-রম্ভা-তরু জিনী, চরণ স্থল-কমলিনী, পদে কৃষ্ণদাস হয়ে চিরদাস, যেন মধুকর সম লােটে। ধনী করিয়ে আইলি কি? হইয়ে অবলা এত কি প্রবল, পুরুষ বধের ভয় করনা কি। তাহারে দেখা’য়ে উরােজ তাের, বাঁধিলি সখি দিয়ে প্রেমের ভাের, নি নয়নবাণ বধিলিলো প্রাণ, কানাই বাঁচে বা না বাঁচে কি। যখন গােধূলি সময় বেলা, সখি মিলে ছিলে করিতে জল খেলা, অঙ্গে নাহি দিলি বাস হেরি পীতবাস, ছি ছি একাজ করিলি কি। পড়িয়া তাের রূপেরই ফাঁদে, কানাই রাই রাই বলে দে, যেন চিত্রিত পুতলি, আকুলি ব্যাকুলি, সদাই আকাশে দেখিছে কি। হয়ে রাজমুতা এ নহে উচিত, করি যােড়হাত কর কানু হিত থাকি রাই পদ তলে কৃষ্ণদাসে বলে, নহিলে এতাের ধরমে সহিবে কি? কি কথা শ্রবণে শুনালি বলাই। আমি যে নাগরে হেরি সদা পুড়ে মরি, মাের তরে কি কঁদে সে কানাই। যেই পদ লাগি নারদ বৈরাগী, শুকদেব সুখী হয়ে সর্বত্যাগী, ব্ৰহ্মা ব্রহ্মচারি, শঙ্কর ভিখারি, (বোয়) শ্মশানে মশানে মাখিয়ে ছাই। এ মরতে কত কোটী নরনারী, যে চরণ বাঞ্ছা সদা হৃদে ধরি, কাটাইছে কাল দিবা বিভাবরী, আমি ত কি ছার গােপিনী রাই! যার বেণু শুনে ধেনু ফিরে বনে, যমুনা নাচিয়ে বহে গাে উজানে, রে পত-বসনে হৃদি-পদ্মাসনে বসাতে কভু কি পাবে এ রাই।
৯৪
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
মূলে এক ছিলে ভকতে তারিতে, (আসি) সম্বিত হলাদিনী যুগল রূপেতে,
হও উভয়ের রূপে উভয়ে মােহিত, (এ দীন) কৃষ্ণদাস করে বুঝিবে তাই।
ধনী মুছ গাে নয়ন জল ।
ঐ তাের শ্যামরূপ প্রেম-তরুতে, ফুটেছে আশার ফুল ।
তরুর যতন করােগে। সদা, তাের মিটিবে প্রেমেরি ক্ষুধা,
ভালবাসা-জল ঢাল অবিরল, ত্বরাতে পাইবে ফল।
তরু হইয়ে বিনােদ কানু, লয়ে মলয়ানিল বেণু ,
ডাকিতেছে তােরে সঙ্কেত করে, যেতে নিকুঞ্জ-কাননস্থল।
কহে কৃষ্ণদাস কর বুড়ি, নহে উচিত করিতে দেরি,
মােরে সঙ্গে করি চলােগা কিশােরী, তাপিত প্রাণ হ'তে শীতল বা
কামিনী,
বেহাগ—একতালা।
সখিরে আমায় বলল।
পরাণ আকুল চিত চঞ্চল
কেমনে যাইব সেই সঙ্কেত-স্থল।
একে ঘােরা তিমিরা গভীরা যামিনী,
তাহে আমি হই
কুলের
কভু নাহি চিনি বনের সরণী,
জানি ভালে বিধি কি লিখিল ।
বিকট তক্ষক নাদ পেচকের ধ্বনি,
ফেরু ঝিল্লিরব সদা কর্ণে শুনি,
আতঙ্কে প্রাণ শিহরে লো ধনী,
ভাবি বন শ্বাপদসঙ্কুল।
গীতি-পুস্পাঞ্জলি।
অনঙ্গ পীড়নে হইয়ে পীড়িত,
হিয়া দুরূ দুরূ করে অবিরত,
শক্তিহীন হ’লল চলিবারে পদ,
ক্রমে আমি হইলো দুর্বল।
কণ্টকাকীর্ণ সেই অরণ্যানী,
সদা বিচরণ করে কাল-ফণি,
কেমনে যাইব যথা নিলমণি,
বুঝি শ্যাম-প্রেম কা হলাে।
আনন্দিত হয়ে কৃষ্ণদাস কয়,
তুচ্ছ বাধা বিঘ্ন কেন কর ভয়,
হবে তব জয় স্মরি রসময়,
প্রেম-আয়ুধে কাটিয়ে চলাে।
বেহাগ—একতালা।
চলে রাই অভিসারে।
প্রেম-পুলকে হইয়ে পৃরিত,
পথ-বিপথ নাহি নেহারে ।
পতিকুল-লাজে দিয়ে জলাঞ্জলি,
বিঘ্নবাধা-আদি বাম-পদে ঠেলি,
(চলে) গজেন্দ্র গমনে যথা বনমালি,
যেমতি নদী ধায় সাগরে ।
কেয়ুর কুণ্ডল গজমতি হার,
ভার বােধে ধনী করি পরিহার,
শঙ্খ কর চুর, কিঙ্কিনী কটির,
ধ্বনি ভয়ে ধনি তাজি সুপুরে
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
বিগলিত কেশ স্খলিত বসন,
উন্মাদিনী বেশ করিয়ে ধারণ,
কৃষ্ণগত প্রাণে ধায় বিনােদিনী,
যথা নাগিনী মণি রাখিয়ে দূরে।
কৃষ্ণদাস কহে ভাসি অশ্রুজলে,
কৃষ্ণ প্রাপ্তি হয় সর্বত্যাগী হলে,
তাই ত্যাগ সীমা দেখাইতে রামা,
আইলেন এ ব্ৰজ-রাজপুরে।
সুবল বলনা কেন এলােনা, সে মৃগ নয়না পঙ্কজ-মুখী।
তাহারি কারণে এ কুঞ্জ-কাননে, আছি আশাপথ সদা নিরখি ।
(এখন) আমিরে ভুলেছি ভ্রমেরই বশে, নলিনী কভু ধায় কি অলির পাশে,
গগনের শশী ল’য়ে সুধা রাশি, আসে কি করিতে চকোরে সুখী।
পিপাসায় কাতর হয় পথিক যদি,
তার পিপাসা নাশিতে আসে কি ভােগ আদি,
সাধ্য কখন সাধে কি সাধককে, মণি ক কি যচে বণিককে ?
কহে কৃষ্ণদাস হইওনা নিরাশ, এখনি পুরিবে তােমারই আশ,
হবে যুগল মিলন কর দরশন, যদি:শমনে দিবিরে ফাঁকি।
২ামের চঞ্চল চিত নিরখি, হলো রাই সরােজিনী বিকশিত।
তখন আমরূপ অলি গুঞ্জন ধ্বনি ভূলি, হ’লাে মকর গন্ধে বিমােহিত।
উভয়ের রূপ উভয়ে নেহারে, নাহি নয়নে পলক পরে,
মুখে বাক্য নাহি সরে আকুল গবে, হয়ে প্রেম পুলকে পুরিত ।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
দারুণ সন্মােহন বাণে, উভয়ে মােহিত উভয় প্রাণে,
যথা কুরঙ্গ কুঙ্গী শুনি ব্যাধ সারঙ্গী, রহে হইয়ে হত-চেত।
তখন মােহিত নাগর নাগরী হেরি, কহে কৃষ্ণদাস চরণে ধরি,
ওহে মােহিনী-মােহন করি মায়াতে মগন, আর করাইওনা যাতায়াত।
আজ ভকত চকোরে ক্ষুধা বারিবারে, লইয়ে সুধার রাশি।
বিনাশি তমসি শ্যামাকাশে আসি, উদিত হ’লল রাই-শশী।
হইয়ে গােপিনী তারার পাতি, রাইয়ের বাড়ায় জোছনা ভাতি,
এ নহে সেই শশধর যে গ্রাসিত রাহুর, এ যে হরিণী হীনা পূর্ণ শশী।
তখন মন্দ মন্দ মলয় বার, সুধিবৃন্দ সুধা গন্ধে মােহিত হয়,
তারা প্রাণ ভরিয়ে অমিয় পিয়ে, জুড়ায় ব্রিতাপ যানা নাশি।
কৃষ্ণদাস তাই করি দরশন, সুধা পান তরে করে আকিঞ্চন
বথা চৰ-চটকা আকাশে উঠি, হয় সুধা পান অভিলাষী।
কে আনি এ খাম-তরু নােপিল যমুনা-তীরে।
সহ গােপিকা রাধামাধবী, সাধে ঘেরেছে সহকারে
ঘুড়াতে তাপিত কায়া, অতি শীতল ধরি ছায়া,
আছে দাড়ায়ে শাখা প্রসারি, কাতর জীবের তরে।
জীবেয়ে অনুকুল, ধরিয়ে তরু চারি ফল,
বাঞ্ছামত সদা বিতরে, করে না নিরাশ কারে,
প্রেমরূপ যমুনাবারি, সতত সিঞ্চন করি,
কৃষ্ণদাসকররে আশ, ভ-ক্ষুধা নিবারিবারে।
গীতি-পুস্পাঞ্জলি।
রহে রাস রসিকা রসবতী রাধে।
সুরত রতিতে রত রসাদে।
(সহ রসিক-রতন রাসবিহারী,
রাসে রহে রাই রাসেশ্বরী,
সুরতরঙ্গিনী রস রঙ্গধরি,
রহে রগন রঙ্গ-রসের হ্রদে ।।
(রাইয়ের) রতনে রঞ্জিত রতন তনু,
রূপ হেরি রথ রাখয়ে ভানু,
রতি প্রতি ভােলে, রতি রূপ রাশি,
রজনী-রঞ্জন লুকায় নিরদে ৷
রুণু কর্ণ করে রতন নুপুর,
রসে রঞ্জি-পদ ম কারে দর,
রামকৃষ্ণ রটে রাতুল চরণে,
যেন রতিমতি রহে রাজিব পদে ।
(আজ) মণিময় মন্দিরে মােহিনীমােহন।
(হলো) মানময়ী রাইসহ মধুর মিলন।
মােহন মুরতি মুনি মন হারি,
মরি মরি হেরি মধুর মাধুরি,
মরমে মরিয়ে মার মরে পুড়ি,
মহেশ মহা নােষে মানিয়ে কারণ।
মল্লিকা মালতী মাধবী মুকুলে,
মধু-লােভে মজে, মধুকর কুলে,
মেণ-দামিনী হেরি ময়ুর ময়ুরী,
মদনানন্দে করে মধুর নর্তন।
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি।
মৃদু মৃদু বহে মলয়ানিল,
মধুময় মিলন (গায়) পঞ্চমে কোকিল,
মলমতি অতি এ মর কৃষ্ণদাস,
কর মরণ মােচন হে মধুমৰ্দন।
মনে-প্রাণে মিশি আঁখি মিলে দেখ, জুড়াবে তাপিত তনু-মন।
সারাটি জীবন যে সাধ পুষিয়ে, রেখেছ এ দুৰ্বহ-জীবন।
আমরি কি যুগল মাধুরী গাে, দাড়ায়ে কদম্ব মূলে,
যেন নীল জলদে চপলা ঝলকে, মুনিজন মন ভােলে-
কিবা অপূৰ্ব্ব শােভার মেলা, করে চঁাদ-চকোরে খেলা,
কত কোটী ঝুড়ি কাম মরে পুড়ি, হেরিয়ে মধুর মিলন।
কিবা যুগল মুখ-কমল গাে, (তাহে) আঁখি খঞ্জন ক্রীড়া করে,
ভালে অলকা মণ্ডিত তিলকে রঞ্জিত, শিখিপাখা শােভে চূড়ে
খেলে শ্যাম-হৃদে বনমালা, রাই উয়ােজ বেড়ি মতি-মালা,
যেন কাম-কন্ধু ভড়ি ঢালি জহ্ন বারি, করিছে স্বয়ম্ভু পূজন।
কিবা গুরু উরু কটি ডমরু গো, তাহে নীল পীতবাসে ঘেড়া,
যেন হেম তারে লইয়ে নীলারে, গেঁথেছে মালার ছড়া
যিনি তরুণ অরুণ চরণ ভেলা, পেয়ে কৃষ্ণদাস কেন কর হেলা,
তরিবার তরী ধর সার করি, যদি এড়াবে গমনাগমন ।
ঘাঁধা। প্রাণ বিনিময়ে পদছায়া দিয়ে, রেখাে যতদিন তনু রবে।
কৃষ্ণ। জীবনে মরণে রব বাঁধা প্রাণে প্রাণে, কভু বিচ্ছেদ নাহিক হবে
রাধা। চরণের দাসী বলে, রেখহে চরণ তলে,
• যেন ভাসাইওনা মােরে, নয়নের নীরে, ফেলায়ে দুখার্ণবে।
গতি-পুষ্পাঞ্জলি। কৃষ্ণ। দেখ তব নাম লিখি চুড়ে, ধরেছি আপন শিরে, যুগে যুগে রব, চরণ সেবিব, যাবত রবি শশী রবে ভবে পদে কৃষ্ণদাস তবে বলে, রাই ভুলনা কপটের ছলে, হ'লে শ্যাম অনুরাগী, হবে দুঃখ ভাগী, (স্যাম) কারে সুখেতে রেখেছে কবে। ভৈরবী—একতালা। মাধ। বিদায় দাও প্রাণ নাথ ! আলি হে এখন। বিরহ রবির তাপে, যদি তনু মাের থাকে, তবে দিনান্তে নিশাতে, হবে উভয়ে মিলন। কৃষ্ণ। ত্যজি সাধে সাধে এ সুখ শৰ্বরী, বিষাদ-সাগরে ডুবাইওনা প্যারী, কেমনে বিদায় দিব প্রাণেশ্বরী, দরিদ্র পাইলে ত্যজে কি রতন জধা। দেখ মলিন হইল খদ্যোতিকা-দ্যুতি, প্রভা হীন হলাে দীপশিখা ভাতি, হীন জ্যোতিঃ ঐ তারাকুল-পতি, উষা তাবি করে বিহগে কুজন। ফঞ্চ। তব অনঙ্গ পীড়নে ব্যথিত শরীর, শ্রান্তি লভ সেবি প্রভাত সমীর, কোকিল কাকলী পাপিয়ার স্বর, শুনি ফুলে ফুলে অলির গুন-
গীতি-পুষ্পাঞ্জলি ।
একে আমি হই কুলবতী নারী,
ঘরে আছে তাহে ননদী শাশুরী,
কৃষ্ণদাসে বলে কলঙ্ক তােমারি,
হবে জাগিলে পুরবাসিগণ ॥
রাই কেন কর কলঙ্কেতে ভয়।
আমার প্রেমে মজলে পরে, কভূ কি তার কলঙ্ক স্ময়
রাধা। আমি কুলবতী তাহে যুবতী, করি সদা লােক লাজ ভয়।
কৃষ্ণ। আমার আপন হতে হলে, এ তিন না ত্যজিলে নয় ॥
রাধা। আছে প্রতিবাদী ননদী, শাশুরি বাঘিনী প্রায়,
কৃষ্ণ। এ সকল ত্যজি যে হয় আমার, কি করিবে প্রতিবাদী আমি রাখি তায়।
রাধা। সরল প্রাণে ভরি আয়ানে, জান কি সে পতি মম হয়,
কৃষ্ণ। ভেবে দেখ মনে এ তিন ভূবনে, আমি বই পতি কেহ নয়।
রাধা। সমাজ বন্ধনে আছি বাঁধা, বল বল কেমনে টুটিব তায়,
কৃষ্ণ। (যখন) মাের নামে কৃষ্ণদাসের, ভববন্ধন মােন হয়,
হরি তােমায় ভালবেসে, ভালবাসি কই
আমার যে ভালবাসা, নাই স্বার্থ মাখা বই ।
আমায় ভালবাসি বলে, তােমায় ভালবাসি ছলে,
সে ভালবাসায় কি ফল ফলে, কেবল ভালবাসা লই ॥
তােমারে ভালবাসি, কত আশা, হৃদে পুষি,
পূর্ণ হলেই হই খুসি, নইলে জ্বলে যাই ।
কোন ভালবাসা বাসলে, বল হরি তােমায় মেলে,
সে ভালবাসা কি মূলে, পৃথিবীতে নাই।
কৃষ্ণদাস ভালবাসা, যদি শিক্ষা কর আশা,
কর গােপি-পদে বাসা, তােরে শিখাবে তা রাই।
১৪
গীতি-পুস্পাঞ্জলি।
রাগিণী-বেহাগ খাম্বাজ। তাল---আড়াঠেকা।
হরি আমার শেষ নিবেদন।
আমি নহি অধিকারী,
ভেবে অধিকারী,
হরি আমায় দিও হে চরণ।
জীবনান্ত-বসরে, থেকোনা অন্তরে,
মােরে কৃপা করে, থেকোহে অন্তরে,
যেন শমন-কিঙ্করে, বাধে না আমারে,
পদে ভার করি অর্পণ।
{আমার) আত্মীয়-স্বজন করিয়ে ক্রন্দন,
দেখে যেন নাহি করে জ্বালাতন,
(আমি) তখন ভরিয়ে নয়ন, (যেন) করি নিরীক্ষণ,
রাধাকৃষ্ণের যুগল চরণ।
যখন হইবে জড়তা ওহে জগৎ-পিতা,
তখন আসি কণমূলে হয়ে ময়দাতা,
(আমার) নাশিয়ে পশুতা, দিয়ে পবিত্রতা,
রাধাকৃষ্ণ নাম করাই ও শ্রবণ ॥
রাধাকৃষ্ণ নাম দিয়ে এ তনু সাজায়ে,
বদন ভরিয়ে (তব) পদোদক পিয়ে,
‘গঙ্গা-নারায়ণ ব্ৰহ্ম উচ্চারিয়ে,
যেন) জাহ্নবী-জীবনে যায় এ জীবন
ধরি ঋষি পক্ষ গুণ করি ব্রহ্ম নিরূপণ,
সে স’নে করে কৃষ্ণদাস এ সঙ্গীত রচন,
তারে জানিয়ে নির্ণ, হয়ে সকরুণ,
(চরমে) পরম-পদে স্থান করাে’হে প্রদান।
সমাপ্ত।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.