Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Ajabilap

Bhattacharyya, Shibakrishana · 2009/12/25

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

অজবিলাপ।
শ্ৰীযুক্ত শিবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য্য
প্রণীত
কলিকাতা
ব্রাহ্মসমাজ যন্ত্রে
'।
মুদ্রিত।
সন ১২৭৪ সাল।
PRINTED BY KALLY DASS CRUCKERFUTTY.

No text on this page.

বিজ্ঞাপন।
আমি যখন মহাকবি কালিদাস প্রণীত রঘুবংশ
পড়ি, তখন অষ্টম সর্গের এই ভাগটী আমার নিতান্ত
মধুর বােধ হওয়াতে বাঙ্গলা পদ্যে ইহার অনুবাদ করি-
বার ইচ্ছা হয়। কিন্তু কিয়দ্দর মাত্র করিয়া আমি এক
প্রকার নিশ্চেষ্ট থাকি; পরে কতিপয় বন্ধুর উৎসাহে
আবার লিখিতে আরম্ভ করি এবং জগদীশ্বরের অনুগ্রহে
এত দিনের পর এক প্রকার সম্পন্ন করিয়া তুলিয়াছি।
কিন্তু জানি না আমার চেষ্টা কতদূর সফল হইবে।
আমি যে কবিকুল কেশরী কালিদাসের অমৃত-পূৰ্ণ ভাৰ
ও অসামান্য বচন-চাতুরী রাখিতে পারিয়াছি এরূপ
বোধ হয় না। বিলাপের অশংটী সংস্কৃতের অবিকল
অনুবাদ করিতে যথেষ্ট প্রয়াস পাইয়াছি। অবশিষ্ট
ভাগ প্রায়ই স্বকপােল-কম্পিত। এক্ষণে এই পুস্তক
খানি সাধারণের গ্রাহ হইলে এম সফল বোধ করিব।
পরিশেষে কৃতজ্ঞতার সহিত স্বীকার করিতেছি, আমার
প্রিয়বন্ধু শ্ৰীযুক্ত বাৰু শিবনাথ ভট্টাচাৰ্য্য এবিষয়ে
অামাকে অনেক সাহায্য করিয়াছেন।
শ্ৰশিৰকৃষ্ণ শর্মা।
১২৭৩ সাল
১ লা পৌষ
মজিলপুর

No text on this page.

উৎসগপত্র ।
মাদৃশজন-প্রতিপালক
যুক্ত বাবু যােগীন্দ্রনারায়ণ দত্ত
জমিদার মহাশয় সমীপেষু।
মহাশয় !
আমি কবিগুরু কালিদাসকৃত রঘুবংশের অষ্টম
সর্গের অজবিলাপ অবলম্বন করিয়া এই পুস্তক
খানি লিখিয়াছি। আমার নিতান্ত ইচ্ছা যে,
আমি মহাশয়ের নামে ইহা উৎসর্গ করি। আপনি
অকারণ আমার প্রতি যেৰূপ স্নেহ ও প্রীতি
প্রদর্শন করেন, তাহাতে আমার যে কতদূর কৃতজ্ঞ
হওয়া উচিত বলিতে পারি না। কিন্তু আমার সে
কৃতজ্ঞতা অন্য কোন প্রকারে প্রকাশ করিবার
ক্ষমতা নাই। সুতরাং কৃতজ্ঞতার চিছু স্বৰূপ এই
নবােদ্যমের ফলটী আপনার নামে উৎসর্গ করিতে
বাধ্য হইলাম। এক্ষণে, আমাকে যেৰূপ চিরদিন
সমেহনয়নে নিরীক্ষণ করেন সেই ৰূপ এই ক্ষুদ্র
পুস্তক খানিও কৃতজ্ঞতার উপহার বলিয়া গ্রহণ
করুন।
মেহাকাক্ষী।
শিবকৃষ্ণ ভট্টাচাৰ্য্য।

No text on this page.

অজ-বিলাপ ।
;
ভারতে সরযূ যেথা হয়ে ভঙ্গিমতী,
কলকল রবে যায় বেগে স্রোতস্বতী ;
সেখানে অযােধ্যা পুরী ছিল মনােহর ;
আজিও ভারত-বাসী, শ্রবণ-কুহর
জুড়ায়, যাহার নাম করিয়া শ্রবণ ;
যাহার অমৃত কথা বিচিত্র রচন,
গাঁথিয়া কবিতা-গুণে কবি-প্রত্নাকর
রেখেছেন রামায়ণে করিয়া আদর।
এবে সেই রাজপুরী, ধরার উদরে
রহেছে ঝাপিয়া মুখ, দীন ভাব ধরে ;
হরেছে দুরন্ত কাল কালেতে সকল,
রহিয়াছে সে কালের সরযূ কেবল।
তুঙ্গ-শৃঙ্গ সৌধ-মালা গিয়াছে পড়িয়া ;
তদুপরে কত তরু আছে দাঁড়াইয়া।
রাজার ভবন ছিল এবে যমালয়,
a
১

;
;
( ২
কাননে ঢাকিয়া মুখ দেয় পরিচয়।
পুরাকালে সেই পুরে ছিল নরবর,
অজ নামে ক্ষিতিপতি, গুণের অকর,
দয়ার আধার, দেব প্রেমের সাগর ;
অপূর্ব শরীর কান্তি ; যেন হুতাশন
জ্বলিত নয়নে তঁার, করিলে শ্রবণ
তাঁহার ভেরীর ধ্বনি সমর-সাগরে,
কাঁপিত শত্রুর মন থর থর করে ।
হুঙ্কারে ফাটিত ধরা, টলিত সাগর ।
মূৰ্ত্তিমান নিজে যেন দেব বৈশ্বানর।
এ দিকে অপার দয়া, সম্মিত-বদন,
করিত সতত যেন কৃপা বরিষণ।
অগতির গতি দেব, দুর্বলের বল,
অনাথের চির বন্ধু, হইত শীতল
হাতে মনের তাপ সব অভাগার ;
হতাশ না হতাে অর্থী নিকটে হার।
ইন্দুমতী নামে তাঁর ছিল প্রণয়িনী ;
নলের রমণী কিম্বা মদন-কামিনী ;
পতি-রতা, পতিব্রতা, বিনীত বদনা,
“ভুবন-মােহিনী ৰূপে,” হরিণ-লােচনা,
*

;
প্রণয়েতে পরিপূর্ণ কোমল হৃদয় ;
বিকসিত মুখ শশী স্মিত সুধাময় ;
কমল নিন্দিত কান্তি ; নয়ন রঞ্জন ;
খেলিত শরীর ধামে নবীন যৌবন ;
সরল শীতল দৃষ্টি, স্নেহের আধার,
করিত প্রণয়-বৃষ্টি যেন বার বার।
শত শত গিরিবরে অবহেলা করি,
যেমন তটিনী যায় ঘাের বেগ ধরি,
করে বিলম্ব কভু না মানে বারণ ;
সগর্বে চলিয়া যায় যথা লয় মন,
অবশেষে মিলে আসি সাগরের সনে ;
সে ৰূপ বরিল সতী, আপনার মনে,
স্বয়ম্বর স্থলে তারে, প্রণয়ের ভরে ;
শত শত রাজগণে অবহেলা করে।
নবীনা মাধবী যথা সহকার সনে,
পতিম্বরা মিলে আসি আনন্দিত মনে
সে ৰূপ যুবতী রে বরমালা দিয়া,
বরিল সভার মাঝে দেখিয়া শুনিয়া।
নিজে তৰু শিরে যথা, সহে ঝড় জল,
রক্ষা করে মাধবীর নিতান্ত দুর্বল

( ৪ )
;
;
কুসুম কোমল তনু ; তথা নববর,
জিনিয়া অরাতি-গণে করিয়া সমর,
নৃপতি-তনয়া লয়ে, নিজ বাহু বলে,
আসিলেন নিজ ধামে উত্তর কোশলে
নবীন দম্পতী হরে সুখেতে সময় ;
উথলে প্রেমের সিন্ধু ; প্রগাঢ় প্রণয়।
লজ্জাবতী শশিমুখী, বিনম্রবদন,
না মিসায় পিয় সনে সহসা বচন ;
অধোমুখে থাকে সতী ; যবে নরবর,
চুম্বেন আদরে তার ঘন বিদাধর।
বলিতে লজ্জায় যেন জড়ায় রসনা,
খুলিয়া না বলে সতী মনের কামনা।
এৰূপে দিবস যায়। কিছু দিন পরে,
সুতশশী প্রকাশিল মহিষী-উদরে।
রাজ-বালা গৰ্ভতরে হইলা মন্থর।
নরেশের উথলিল সুখের সাগর।
পলাল বালিকা-ভাব, চঞ্চল হৃদয়
হইল সুস্থির এবে পাইয়া সময় ;
সুধা মাখা আধ হাসি ছাড়িল বদন।
হারাল সহজ জ্যোতি কুরঙ্গ নয়ন।

( ৫ )
;
;
যৌবন প্রমত্ত মন হইল গম্ভীর।
খঞ্জন, চপল দৃষ্টি ক্রমে হলাে স্থির।
কুচাগ্র মলিন হলো ; বিনীত বদন
ঈষৎ পাণ্ডুর কান্তি করিল ধারণ।
ক্রমে ক্রমে পূর্ণগব্রা অতি শুভ ক্ষণে,
প্রসবিল বীর-পত্নী কুমার-রতনে।
আমােদে অযােধ্যা পুরী করে টল টল,
কেহ নাচে কেহ গায় বোর কোলাহল।
স্থলাহুলি পুর-বধূ দেয় ; প্রতি ঘরে,
আনন্দের নাহি পার ; প্রফুল অন্তরে
কুজ খঞ্জ আদি নাচে, নিজে নববর
করেন অজস্র দন হরিষ অন্তর ।
বাড়িতে লাগিল শিশু মাতার যতনে,
অপার আনন্দ আর নাহি ধরে মনে ।
স্নেহেতে ভাসিয়া সতী করে চুম্ব দান,
কমল বদনে তার ; করে স্তন পান
জননীর কোলে শুয়ে—আহা সে সময়,
কে পারে বর্ণিতে তাহা কত শােভা হয়।
কি অদ্ভুত পরিবর্ত! আজি সেই মন
ছিল যাহা ব্যস্ত লয়ে অশন ভূষণ।
;

জননীর স্নেহে পূর্ণ চপল নয়ন,
স্থির ভাবে চারি দিক করে নিরীক্ষণ ।
নরনাথ অন্তঃপুরে আসেন যখন,
আর সতী দ্রুত পদে করে না গমন।
হৃদয়-রতনে করে যতনে হৃদয়ে,
মৃদু পদে যায় বাম পুলকিত হয়ে।
কোমল অঙ্গুলি দিয়ে নবীন কুমার,
দেখায় মনুজ-নাথে আহা বার বার ।
স্মিত মাখা সুধামুখ আসিয়া সুন্দরী,
দাড়ান নাথের পাশে, মুতে কোলে করি
কি শােভা ধরেন আহা ভূপাল-কামিনী
শুক্র দেবে কোলে করি যেন নিশীথিনী
দাড়াল হাসিয়া আসি শশধর-পাশে,
মাতৃ কোলে চারু শিশু ঘন ঘন হাসে।
রুচির দশন দুটী মরি কি সুন্দর,
আধ আধ কথা কয় শোভিত অধর।
জননীর ক্রোড়ে হতে পিতৃ কোলে যায়,
হাসিয়া মাতার কোলে আসে পুনরায় ।
এই ৰূপে করে খেল। দাড়ায়ে দম্পতী,
ভুবন-মােহিনী ভাৰ্য্যা গুণােত্তম পতি।

যন সুখে জায় পুত্র লয়ে মহীপাল,
আসেন অানন্দ নীরে নিরন্তর কাল।
এক দিন প্রিয়াসনে, বিহরিতে উপবনে,
চলিলেন অজ মহীপতি।
আহা যেন শচী সনে, তাপন নন্দন বনে,
উপস্থিত দেবতার পতি।
প্রবেশি কাননে ভূপ, দেখি শােভা অপৰূপ,
প্রিয় ভাষে প্রেয়সীরে কন।
বসন্তের আগমনে, কি শেভ হয়েছে বনে,
দেখ দেখ জুড়ায় নয়ন।
ফুটে নানা জাতি ফুল, ভ্রমিতেছে অলিকুল,
কিবা শােভা আজি উপবনে।
হেন লয় মম মনে, নগর ছাড়িয়া বনে,
খেলিতেছে প্রকৃতি বিজনে।
ওই যে মল্লিকা বধূ,
মধুপিয়ে অলি বঁধু,
মধুপানে আশা পুনরায়।
তাই কি কাঁপিছে খেদে ভাসিছে নীহার স্বেদে,
ধন্য বটে মদনের দায় ।।

( ৮ )
ওই দেখ সারি সারি, তমালে বসিয়া সারি,
মুখে শুক মুখে মুখ দিয়ে।
ভাসিছে মুখ-সাগরে, মাতিয় অনঙ্গ তরে,
আর দিকে চেয়ে দেখ প্রিয়ে ৷
কপােতী মানের তরে, প্রণয়-কলহ করে,
অধােমুখে কাঁন্দে অবিরত।
মান ভাঙ্গি বার তরে, কপােত চরণ ধরে,
মাথা নাড়ি বুঝাইছে কত।
আর দেখ সহকারে, মাধবীর সহকারে,
হয়েছে কি শোভা মনােহর।
নিজে স্বয়ম্বর বধূ,
পেয়েছে হৃদয়-বঁধু,
উথলিছে সুখের সাগর ।
লবঙ্গ লতিকা সতী, মনের মতন পতি,
বকুলে বরিতে আশা মনে।
অতি মৃদু ওই বালা, কৃশাঙ্গী অতি কোমলা,
নিকটেতে যাইবে কেমনে।
ভাবিতেছে অধােমুখে,
মালতী মনের সুখে,
হাসিতেছে দাড়াইয়া পাশে।
দেখেছ উহার ভাব, অশােকে করিয়া ভাব,
রসালেতে যায় রতি আশে। }

( 9 )
ঐ কি বলিছে বুলি, বউ কথা কও বলি,
কুঞ্জবনে পাখী ঘনে বন।
চল প্রিয়ে ত্বরা করি, নিকুঞ্জে প্রবেশ করি,
জুড়াইবে শুনিয়া শ্রবণ।
এত বলি প্রিয়া সনে, প্রবেশি নিকুঞ্জ বনে,
বসিলেল বেদীর উপরে।
সময় পাইয়া স্মর, হানিলেন পঞ্চ শর,
দোঁহে ভাসে মুখের সাগরে।
নব যুবা নর রায়, নবীনা নাগরী তায়,
প্রেম সিন্ধু উথলে উঠিল।
বিহগে ধরিয়া তান, চারি দিকে করে গান,
দম্পতীর মানস টলিল।
কভু বকুলের মালা, মন সাধে রাজবালা,
দোলাইয়া হৃদয় উপরে।
সুধা মুখে আধ হাসি, নাথের নিকটে আসি,
প্রেম ভরে দেখান আদরে।
কভু মৃগ চৰ্ম্ম পরে, যােগিনীর বেশ ধরে,
জটাজুট করিয়া কুন্তলে।
পবিত্র অজিন বাসে, বসেন নাখের পাশে,
যােগী-বেশ ধর নাথ বলে।

( ১০ )
কতু লাহুলি দিয়া, দেন মাধবীর বিয়া,
মনােমত রসালের সনে।
কন্যাত্রী নিজে সতী, বরকা মহীপতি,
মন মুখে ভাসে দুই জনে।
কভু বা তুলিয়া ফুল, শ্রবণে পরেন দুল,
কবরীতে কেতক-কেশর।
গলে বকুলের মালা, করে মৃণালের বালা,
কটি তটে কাঞ্চী মনে হয়।
শ্রুতি-যুগে ইন্দীবর, হাসি মাখ। বিয়ধর,
প্রেমে পূর্ণ চটুল নয়ন ।
দেখিয়ামোহিত রায়, বলেন কি ৰূপে হায়,
হেন ৰূপ করিব বর্ণন।
একে ত কুসুম ভূমি, কুসুম-কোমল তুমি,
কুসুমের ভূষণ আবার।
বল শুনি সুলােচনে,
ভেবেছ কি মনে মনে,
ভুলাইবে অখিল সংসার।
কভু বা করেন গান, শুনিলে জুড়ায় প্রাণ,
শুদ্ধ হয়ে শুনে চরাচর।
ছেড়ে নিজ কুহুরব,
শুনিছে কোকিল সব,
স্থির হয়ে শুনে তরুবর ।

( ১১ )
সরােবরে মধুকর,
ভুলিয়া আপন স্বর,
নলিনীর হৃদয়ে বসিয়া।
ভুলিয়াছে মধুপান, একমনে গুনে গান,
আছে যেন জীয়ন্তে মরিয়া।
পুলােকে পুরিল কায়,
বিমােহিত নর রায়,
মুখে আর সরে না বচন।
আছেন হইয়া মূক, চাহিয়া মহিষী মুখ,
বসে চিত্র পুতুলি মতন।
এই ৰূপে প্রিয়া সনে, বিহবেন উপবনে,
নরনাথ যত মনে লয় ।
মন্ত্রী-করে রাজ্য-ভার, সুখের নাহিক পার,
যায় যেন উড়িয়া সময়।
এক দিন রাজ-বালা, গাঁথেন বকুল মালা,
নরপতি কুসুম যােগান।
বহে মন্দ সমীরণ, মৃদু কঁপে তরুগণ,
শাখি শাখে পাখী করে গান।
আহা কি দৈবের খেলা, সুর-পথে এই বেলা,
দেব-ঋষি যান বীণা করে।
ঈশ্বরের গুণ গান, করিতে করিতে যান,
মন সুখে সুমধুর স্বরে)

সুর কুসুমে গ্রথিত,
অতিশয় সুশােভিত,
মালিকা বীণার শিরে ছিল।
গন্ধ লােতে সমীরণ, বেগেতে করি গমন,
সেই মালা হরণ করিল।
অনিলে হরিলে মালা, যতেক মধুপ মালা,
কুসুমের পাছুতে ধাইল ।
বীণা বুঝি সেই ছলে, অঞ্জন কলুষ জলে,
মনন দুখে কাঁদিতে লাগিল।
সেই মালা পরিমল, বাসিয়ে ধরণী তল,
ইন্দুমতী হৃদয়ে পড়িল।
মনে এই অনুমানি, মালা ৰূপ কাল ফণী,
আসি আজ রাণীরে দংশিল ।
সুন্দর কুচ-সঙ্গিনী,
মালা দেখি বিননাদিনী,
ক্ষণ মাত্রে বিবল হইল।
আহা পূর্ণ শশধরে, রাহু যেন গ্রাস করে,
মনােহর কৌমুদী নাশিল।
দেখিতে দেখিতে সতী,
পতি সহ ইন্দুমতী,
একেবারে হইল নােহিত।
তৈল বিন্দু সহ যথা,
দীপ-শিখা পড়ে তথা,
ধরাতলে হইল পতিত ।

( ১৩)
যত পাশ্বচরগণে, বিষাদ ভাবিয়া মনে,
তারস্বরে কাঁদিতে লাগিল।
শুনি সেই অৰ্ত্ত রব, পশু পক্ষী আদি সব,
সম দুখে দুখিত হইল।
পাইয়া চেতন,
করিতে ব্যজন,
উঠিয়া তখন বসেন রায়।
সেই ৰূপ ধনী, রহিল অমনি,
ভূতল শায়িনী হইয়া হায়।
থাকিতে পরাণ, করিলে বিধান,
তবে সে তাহার ফলিবে ফল।
অনল নিবিলে, তাহে ঘূত দিলে,
অকালে কি লাভ হইবে বল।
পরে নরবর, ধুলায় ধূষর,
দেখিয়া প্রিয়ার মােহন কায়।
হারায়ে চেতন,
পাগল মতন,
ধরাতে শয়ন করেন রায়।
যত অনুচর,
হইয়া ফকির,
ভুলিয়া ব্যজন করে যতনে।
২

{
১৪ )
বলে হায় হায়, ঘটিল কি দায়,
এই কি বিধির ছিল রে মনে।
উঠিয়া রাজন,
বসেন তখন,
হৃদয়-রতনে হৃদয়ে করে।
বিতন্ত্রী বীণার, মতন আকার,
দেখিয়া সঘনে নয়ন ঝরে।
ছি ছি এ কেমন, তৰ আচরণ,
কি দুখে হয়েছ বলনা দুখী।
পরিচিত কোলে, ভুলিয়া কি বলে,
পড়িয়া ভূতলে কমল-মুখি ।
হারায়ে জীবন,
মলিন বরণ,
পতির কোলেতে বসিয়া সতী।
ম্লান মৃগ লেখা, শশধর রেখা,
সমান শােতেন ধরণীপতি।
বহে শত ধার, নয়নে রাজার,
১ প্রেয়সীর শােকে হৃদয় জ্বলে।
ইথে কি সংশয়, লােহা যদি হয়,
অনল যােগেতে তখনি গলে।
উথলিল তার, শােক-পারাবার,
ধীরতার তরি ডুবিল তায়।

( ১৫ )
কুসুমে জীবন,
ঘন বাষ্প ভরে, বন না সরে,
কাতরে বিলাপ করেন রায়।
হরিল যখন,
অকালে সুমুখী ত্যজিল প্রাণ।
জানি কি তবে, কালেতে না হবে,
অভাগা বিধির মরণ বাণ।
কোমল কোমলে, বিনাশিবে বলে,
বুঝি বা শমন করেছে মনে।
প্রমাণ তাহার, পড়িলে তুষার,
সরােজ মিলায় কমল বনে ।
ভাল এই মালা বধিল যেন।
হৃদয়ে রেখেছি নামরি কেন ।
বিধির বাসনা কে করে নয়।
কোথা অমৃত গরল হয় ।
কোথবা গরল সরল হয়ে।
অমৃত সমান কাজ সাধয়ে ।
অথবা আমারি কপাল বুঝি।
অশনি বিধাতা গড়েছে বুঝি #)

তরুর মাথায় বাজ না পড়ি।
তাহার লতাকে ফেলিল পাড়ি।
শত অপরাধ করেছি যবে।'
কখন কিছুই বল নি তবে।
এখন ছাড়িয়া সেই সে পতি।
কোথায় পলালে বল না সতী ।
হাসিতে প্রেয়সি ! বুঝিনু এবে।
আমাকে কপট প্রেমিক ভেবে।
ছিড়িয়া সহসা প্রণয়-ডাের।
সুখের রজনী করিয়া তোের ।
এই ত চলিলে জীবন ধন।
আমি কি কথারাে নহি ভাজন ।
রে পােড়া জীবন ! প্রিয়ারি সনে।
গেছিলি আসিলি কি ভেবে মনে।
আপনি হইলি আপন কাল।
সহরে বেদনা জীবন কাল।))
মনেও কখন কিছু বলিনে।
কি দোষে ত্যজিলে বল অধীনে।
নামে সবে বলে পৃথিবীপতি।
কেবল তােমাতে প্রণয়রতি।

( ১৭ )
কুটিল কুন্তল, দোলে অবিরল,
বিধুমুখি এবে পবন-তরে।
হেরি মর্ম মন,
হতেছে এখন,
পুন বা জীবন পাইলে ফিরে ॥
আর কেন প্রিয়ে, এখনি উঠিয়ে,
মনেরি অাধার করলাে নাশ।
ওষধি নিকরে, যথা গিরিবরে,
তমো বিনাশিয়া হয় প্রকাশ।
কোমল কপােলে, ঘন ঘন দোলে,
আহা মরি তৰ অলক চয়।
সরে বচন, আছ অচেতন,
দেখিয়ে ফাঠিছে মম হৃদয়।
হইলে যামিনী, যথা কমলিনী,
বদন কমল মুদিত করে।
তাহারি ভিতর, থাকে মধু কর,
গুগুণ গুণ রব আর না ধরে ।
শশীমুখি শশধরে, নিশা পুন পায় পরে,
চক্রবাকী মিলে প্রিয়-সনে।
সেই
হেতু তারা পারে, সব জ্বালা সহিবারে,
আমি বল সহিব কেমনে।

( ১৮ }
অকারণ ছাড়ি গেলে, বিরহ অনল জ্বেলে,
সদদহে যেন দাবানল।
চলিলে জনম মত,
বল না সহিব কত,
কিসে প্রাণ করিব শীতল।
কিশলয় শয়নেতে,
শয়নে অসুখী হতে,
বল দেখি কেমনে এখন।
কঠিন হৃদয় হয়ে, আজি সেই তনু লয়ে,
চিতানলে করি বিসর্জন ।
দেখিতেছি মুবদনি, রেখেছ মধুর ধ্বনি,
কোকিলাতে করিয়া যতন।
বিলােল ঈক্ষণ আছে, হরিণ-রমণী কাছে,
কলহংসে বিলাস গমন।
সুরলােকে যাবে বলে, সত্য প্রিয়ে এ সকলে,
তব গুণ রেখেছ যতনে।
কিন্তু লাে তব বিচ্ছেদ, হৃদয় করিছে ভেদ,
প্রবােধ না মানে কভু মনে ॥
বড় সাধ ছিল মনে, ফলিনী লতিকা সনে,
সহকারে মিলাইবে প্রিয়ে।
কিন্তু তাহা সম্পাদন, না করিয়ে কি কারণ,
শশমুখি ! গেলে পলাইয়ে।

( ১৯
অশােকে দোহদ দিয়ে, এই ত চলিলে প্রিয়ে,
এবে হবে যে কুসুম চয়।
অলকে না দিয়ে তায়, কিৰূপে তর্পণে হায়,
দিব হয়ে পাষাণ-হৃদয়।
নূপুর পরিয়া পায়, আঘাত করিতে যায়,
আহা সেই অশােক এখন।
কুসুম নয়ন ধার, কেলিতেছে অনিবার,
স্মরি তব কোমল চরণ।
এই যে আমার সনে, কুতূহলে সুবদনে,
বকুলের রসনা গাঁথিলে।
বল মনে কি ভাবিয়ে, কটি-তটে পরিয়ে,
বিধুমুখি নয়ন মুদিলে ।
তােমার দুখেতে দুখী, তােমার সুখেতে সুখী,
এই সেই সহচরী গণ ।
প্রতিপদ শশধর, সম প্রিয় কলেবর,
তব এই কুমার রতন।
বিনােদিনি তােম। বিনে, আমিও কিছু জানিনে,
তবে বল কি দোষ পাইয়ে।
জনমের মত গেলে, সুখের সংসার ফেলে,
সব সুখে জলাঞ্জলি দিয়ে।

টুটিল ধৈর্য্যের বল, বিষয়েতে কিবা ফল,
আভরণে কিবা প্রয়ােজন।
নীরবিল গরিব, ঋতু হলাে 'নিরুৎসব,
শূন্য হলাে আমার শয়ন।
গৃহিণী মন্ত্ৰিণী তুমি, বিজনে রহস্য-ভূমি,
ছিলে সতি শিষ্যা নৃত্যগীতে।
শমন তোমাকে হরি, কি রাখিল প্রাণেশ্বরি,
অভাগার বল অবনীতে।
খঞ্জন-লােচনে মনে, ভেবে দেখ ও বদনে,
করিয়াছি মুখ মধু দান।
এখন কিৰূপে বল, অশ্রু মাখা পিজল,
সুধামুখি করিবে লাে পান।
থাকুক রাজত্ব ধন, তােমা বিনে প্রাণধন,
সব সুখ গেল এতক্ষণে।
তােমা ছাড়া কিছু নাই, কি ৰূপে নিস্তার পাই,
মনেজ্বালা নিবাই কেমনে ।
এৰূপে উন্মত্ত প্রায়, বিলাপ করেন রায়,
প্রিয়া-শােকে কাতর বচনে।
চারি দিকে ভিন্ন মন,
রস-ছলে তরুগণ,
কঁদে যেন আকুল-নয়নে।

( ২১)
ক
শেষে অতি কষ্টে সবে, যুবতীরে নিল তবে,
মনাে দুখে যত পরিজন।
অগুরু চন্দন দিয়া, আগে চিতা সাজাইয়া,
পরে সবে করিল দাহন।
পাছে লােকে বলে বনে, মরিল প্রিয়ার সনে,
অজরাজ হয়ে নরপতি।
সেই ভয়ে নরবর, রাখিলেন কলেবর,
কিন্তু ভােগে নাহি ছিল মতি।
পরে দশ দিন পরে, মহা সমারােহ করে,
মহীপাল পুর উপবনে ।
গুণশেষ ভামিনীর, উদ্দেশে দিলেন নীর,
যথাবিধি বিমরিষ মনে।
নিজ পুরে শােক ভরে, প্রবেশ করেন পরে,
প্রিয়া বিনা কাতর-হৃদয়ে।
আজ বিনা ইন্দুমতী, হত-প্রত নরপতি,
শশী যথা ক্ষণদার ক্ষয়ে।
একাকী দেখিয়া রে, পুরনারী নাহি পারে,
নিবারিতে নয়নের জল।
সবে করে হাহাকার, নেত্রে বহে শতধার,
ভেসে গেল বদন কমল।

( ২২ )
বলে বল শুনি রায়, কোথায় রাখিয়া য়,
এলে হয়ে নিতান্ত মলিন।
আমরা কোথায় যাব, কোথা গেলে দেখা পাব,
দেখিনাই আহা কত দিন ।
সবে বলে হায় হায়, এ দুখ জানাব কায়,
পােড়। বিধি কি কাজ করিলি ।
ধৰ্ম্মশীল মহীপতি, সদয় সুশীল অতি,
ভঁরে এই প্রতিফল দিলি ?
এত যদি ছিল মনে, ঘটাইলি কি কারণে,
নিদারুণ একি আচরণ।
মণি কাঞ্চনের যােগে, বাড়াইলি সুখ ভােগে,
শেষে কেন হলাে বিঘটন।
ফুরাতে সুখ আশ, ছিড়িয়া সংসার-পাশ,
হরে নিল দুরাত্মা শমন।
নাম মাত্র হলাে সার, দেখিতে না পাব আর,
হাসি মাখা সে বিধুবদন ।
এ দিকেতে মহীপতি, বিনা ইন্দুমতী সতী,
দিবানিশি শােকেতে কাতর।
ভােগ-মুখে নাহি আশ, রাজ্য ভােগ বন-বাস,
ভেবে ভেবে ক্ষীণ কলেবর ।
))

দিবস রজনী যায়, শােকাতুর নর-রার,
কিছুই না হয় অনুমান।
ইন্দুমতী ভাবনায়, দিন দিন ক্ষীণকায়,
বিরহিত বাহিরের জ্ঞান।
ও দিকেতে তপােবনে, কুলগুরু তপােধনে,
সুমুদায় যােগেতে প্রকাশ।
যেন বহি মূর্তিমান, তপের চরম স্থান,
কি অদ্ভুত জ্ঞানের বিকাশ।
ভূত, ভাবী, বর্তমান, যােগবলে বর্তমান,
নয়নের সমীপে তাঁহার।
দেখিলেন প্রিয়া তরে, ঝর ঝর সদা ঝরে,
দু নয়নে সলিলের ধার।
রাজ্য ভােগে নাহি মন, জীবন কণ্টক বন,
সমুদ্ভুন্তি পাগলের প্রায়।
কে দেখে রাজ্যের গতি, শােকে মগ্ন ক্ষিতিপতি,
প্রজাগণ করে হায় হায়।
চতুর্দিকে বিশৃঙ্খল, রাশি রাশি অমঙ্গল,
ঘটে রাজ্য রসাতলে যায়।
পাঠালেন সে কারণে, প্রিয় শিষ্য এক জনে,
রাজধানী যথা অজ রায়।

মহীপতি মুনিবরে, বিনয়ে 'প্রণাম করে,
বসিবারে দিলেন অসিন।
কুশল সম্বাদ দিয়া, নর পালে সম্বােধিয়া,
বলে মুনি করি সম্ভাষণ।
তােমার মনের গতি, জেনেছেন মহীপতি,
কুল-গুরু বসিয়া সেখানে।
তােমাকে আনিতে পথে, আমাকে আশ্রম হতে,
পাঠালেন তব সন্নিধানে।
শুন সব বিবরণ, মিছে শােক অকারণ,
কেন কর না বুঝি বিশেষ।
হৃদয় সুস্থির কর, গুরুর বচন ধর,
সাবধানে শুন উপদেশ |
পুরাকালে ঋষিবর, তৃণবিন্দু ঘাের তর,
করিলেন তপের সাধন।
কঠোর তপস্যা বলে, স্বর্গ মর্ত র তলে,
সশঙ্কিত হলাে সৰ্ব জন।
করি তপ দরশন, শচীপতি ভীতমন,
বুঝি যায় সুখ-সিংহাসন।
অপ্সরা হরিণী নামে, ডাকি তারে নিজ ধামে,
বলিলেন করি সম্ভাষণ।

( ২৫ )
বলি শুন মুলােচনে, তৃণবিন্দু-পােবনে,
শশীমুখি কর লাে গমন।
অবিলম্বে তথা গিয়া, মুনিবরে ভুলাইয়া,
ভঙ্গ কর কঠোর সাধন।
শুনিয়াছি তুমি ধনি, চতুরের শিরােমণি,
সুলােচনে যাও একবার।
যখন সফল হয়ে,
আসিবে ত্রিদশালয়ে,
উপযুক্ত দিব পুরস্কার।
আমাদের মাতা খাও, বিধুমুখি যাও যাও,
বড় ভীত আছি লাে অন্তরে ।
বুঝি রাজ্য পদ যায়, না জানি কি করি হায়,
তপাে ভঙ্গ করিবা কি করে ?
এত বলি তার প্রতি, নীরবিলা শচীপতি,
সুরনারী প্রণমিয়া পায়।
বেশ করিবার আশে, আসিল আপন বাসে,
দেব পাশে লইয়া বিদায়।
পরিল চিকন বেশ, বিয়ে বাঁধিল কেশ,
নানা রত্ন করে পরিধান।
সভয় কম্পিত মনে, উতরিল তপােবনে,
যথা ঋষি করে ধূম পান।

বিধুমুখে মৃদু হাসি, মুনির নিকটে আসি,
কত মায়া করিল বিস্তার।
করে কত শত ছল, রসে তনু টল মল,
ঢলে যেন পড়ে অনিবার।
কভু নাচে কভু গায়, চপল চপলায়,
খেলে যেন তরল নয়ন।
মুখশশী হাসি হাসি, অধরে মধুর বাঁশি,
করে কভু প্রেম আলাপন।
এই ৰূপ আয়ােজনে, ক্রমেতে মুনির মনে,
সঞ্চারিল মদনের শর।
ভাঙিল কঠোর ধ্যান, চঞ্চল হইল প্রাণ,
উথলিয়া উঠিল অন্তর।
এক দৃষ্টে বার বার, মুখশশী হেরি তার,
যােগাবর হইল বিকল ।
ধন্য ধন্য ফুলধনু,
ধন্য তব ফুল-ধনু,
যার শরে টলিল অচল।
কিন্তু ক্ষণকাল পরে, হৃদয় সংযত করে,
ক্রোধে যেন জ্বলে মুনিবর ।
যেন নিশীথের না, স্থলিল নয়ন তারা,
থর থর কাপে কলেবর।

কুটী দেখিয়ে তাঁর, ভয়ে কাঁপে ত্রিসংসার,
সুরনারী ভয়ে অচেতন।
বুঝি অভিশাপ দিয়া, ভস্ম করে পােড়াইয়া,
কেবা রক্ষা করিবে এখন।
বলে মুনি রোষ ভরে, কেন মরিবার তরে,
এলি আজ এই তপোবনে।
ভাঙিলি আমার ধ্যান, কেমনে বাঁচাবি প্রাণ,
দেখি দেখি রাখে কোন জনে ।
অমর-পুরীতে বাস, স্বর্গ ভােগ বার মাস,
তাই বুঝি এত অহঙ্কার।
অবনীতে জন্ম লবে,
মানবী হইয়া রবে,
দর্প চূর্ণ হইবে তােমার ।
বিরমিল মুনিবর, যেন নব জলধর,
নীরবিল করিয়া গর্জন।
বজ্রাহত লতা প্রায়, মলিন হইল হায়,
সুরবালা করিয়া শ্রবণ।
শুনি সেই বাণী, হরিণী রমণ
অমনি তখনি, ধরিয়া পায়।

করিয়া মিনতি, করে কত নতি,
অধীনীর গতি, কি হবে হায়।
পরেরি অধীন, হই চির দিন,
সাধি চির দিন, পরেরি কাজ।
পরেরি কথায়, আইনু হেথায়,
তাইতাে মাথায়, পড়িল বাজ ।
এছ।
বিনয় বচন শুনি, সদয় হইয়া মুনি,
কহিলেন হরিণীর প্রতি।
বােজ বংশে জন্ম লয়ে,
অজের রমণী হয়ে,
কিছুকাল থাক লাে যুবতি
যবে সুর ফুল পাবে, তবে অভিশাপ যাবে,
ফিরে পাবে নিজ অধিকার।
আমি বলিলাম যাহা, কার সাধ্য খণ্ডে তাহা,
এই ৰূপে পাইবে নিস্তার ।
সেই নারী তব ধামে,
ছিল ইন্দুমতী নামে,
এতদিন, শুন নরবর ।
আজি পেয়ে সুরমালা, শাপমুক্ত হলো বালা,
গেল পুন অমর-নগর।
1

( ২৯ )
অতএব কেন আর, মােহে মুগ্ধ অনিবার,
কেন আর ব্যাকুল হৃদয়।
শোক তাপ পরিহর, এজার পালন কর,
চির দিন কেহ কারাে নয়।
ছিছি একি মহারাজ, ছাড়িয়া সব ল কাজ,
রাজ ধৰ্ম্ম করে পরিহার ।
কেন বালকের মত, শােকে মগ্ন অবিরত,
দিবানিশি কর হাহাকার।
বিধির নিন্ধ যাহা, কে পারে খণ্ডিতে তাহা,
কাদিলে কি শুনিবে সমন ?
সময় হইবে যবে, কে বল থাকিবে তবে,
কে না যাবে শমন *দন ১
মায়াময় এ সংসার, চির দিন কেবা কার,
কালে যাবে সকলে ছাড়িয়া।
জায় পুত্র আদি সবে, চির কাল কেবা রবে,
সময়েতে যাবে পলাইয়া ।
কিছু দিন মােহ ভরে, আমার আমার করে,
ভ্রমে জীৰ সংসার ভিতরে।
হইলে যাবার বেলা, ভাঙিয়া সুখের খেলা,
সব ফেলে পলায়ন করে।

( ৩০ )
এত যে সাধের কায়, ইহাও শেষেতে হায়,
হইবেক চিতার অঙ্গার।
কোথা সংসারের মায়া, কোথা রবে সুত জায়া,
কোথা রাজ্য রবে সুবিস্তার !!!
কোথা রবে সুখধাম, সকলে ভুলিবে নাম,
কোথা রবে দাস দাসীগণ।
কোথা রবে সেই বল, লয়ে যাহাদের বল,
জিনিয়াছ ঘাের তর রণ।
কত শত্ৰু বলি দান, করিয়াছ মতিমান,
ভাসায়েছে শােণিতে সাগর।
নয়ন মুদিবে যবে, সে হেন প্রতাপ রবে,
বল তবে কোথা নরবর ।
সকলি মায়ার খেলা,
অদ্ভুত ভবের মেলা,
কেহ আসে কেহ ফিরে যায়।
সুধীর বিবেকী যারা, বিয়ােগে না টলে তারা,
ইতরেতে চেতনা হারায়।
কাদিলে কি পাবে আর, অনুমৃত হলে তার,
দরশন পাবেনা রাজন।
কৰ্ম্মফল যথা যার, সেই ৰূপ গতি তার,
হয়ে থাকে হইলে মরণ।

( ৩১
৩১ )
ত্যাজ শােক গতি মান্, প্রেয়সীর পিণ্ড দান,
কর দেব করিয়া যতন।
স্বজনের নেত্রজলে,
প্রেতের শরীর জ্বলে,
শুনিয়াছি বলে সৰ্বজন
শুনেছি পণ্ডিতে কয়, মরণ প্রকৃতি হয়,
শরীরীর বিকৃতি জীবন।
যদি ক্ষণকাল তরে, থাকে জীব প্রাণ ধরে,
লাভ তার হয় ততগুণ।
যতেক অ বােধ নরে, প্রিয় নাশে মনে করে,
হাদে যেন শল্য প্রবেশিল ।
সুপণ্ডিত জ্ঞানী যারা, বন্ধু নাশে ভাবে তারা,
মনঃশূল যেন বা উঠিল।
আপন শরীর যবে, কালে ধূলিসাত হবে,
দেহ দেহী হইবে অন্তর।
তখন পরের শােকে, টলে কি সুবােধ লােকে,
জ্ঞানবান হয় কি কাতর।
সুধীর হইয়া রায়,
ইতর ও রি প্রায়,
কেন হায় হইলে কাত
যদি বা পবন-বলে,
ভূধর বিপি চলে,
উভয়ের কি থাকে ।
{

( ৩২ )
তথাস্তু বলিয়া উয়, বিদায় দিলেন রায়,
ফিরে বনে গেল তপােধন।
বুঝি শােক-পূর্ণ মনে, স্থানাভাবে তার সনে,
ফিরে গেল গুরুর বচন।
কষ্টে অষ্ট বর্ষ কাল, যাপিলেন নরপাল,
কুমারের শৈশব কারণ।
চিএে প্রিয়া-মূৰ্ত্তি দেখি,কখনাে জুড়ান আঁখি,
স্বপনে বা কতু দরশন।
প্রজার পালন তরে, কুমারে নিয়ােগ করে,
বসাইয়া নিজ সিংহাসনে।
প্রিয়াশােকে নরবর,
ত্যজিলেন কলেবর,
সুরধুনী সরযূ মিলনে।
সম্পূর্ণ

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Ajabilap

Author
Bhattacharyya, Shibakrishana
Title
Ajabilap
File name
Ajabilap
Text
OCR done
Citation
1867
Published
2009/12/25
Publisher
N.a
Language
Sanskrit
Pages
48
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Bhattacharyya, Shibakrishana
DLI number
510837
Barcode
4990010018040.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
QbXxnZIUs3a
Download PDF

Ajabilap