Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Subho-adhibas

2009/10/6

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

শুভ-অধিবাস।
গীতি নাট্য
“জাগভু বৃকভানু-দুলালি মোহন যুবরাজে’
সুরেশচন্দ্র দে কর্তৃক
প্রকাশিত।
কলিকাতা।
গদাধর মল্লিক কর্তৃক
২১ নং নাথেরবাগানটি আলফ্রেড ঘধ্যে মুদ্রিত।

No text on this page.

অশেষ-গুণসম্পন্ন পূর্ণচন্দ্র-প্রভ- শ্ৰীযুক্ত পূর্ণচন্দ্র বসু মহাশয়ের পবিত্র করে এই ক্ষুদ্র গ্রন্থ খানি কৃতজ্ঞতাবনত গ্রন্থকারের আন্তরিক প্রীতি ভক্তি সহকারে উৎসর্গীকৃত হইল। অ- নাট্যাল্লিখিত ব্যক্তিগণ। পুরুষগণ। উজ্জয়িনী-রাজপুত্র। . - যুবরাজ বিজয়রঞ্জন স্ত্রীগণ। বসন্তলতা বরদা-রাজকুমারী। '। ' ঐ রাজকন্যার সহচরীগণ। যমুনা প্রমদা মাধুরী সুহল যােগিনী রাজপরিচারিকা : বিন্ধ্যাচলবাসিনী। দ্রষ্টব্য। কথিত আছে উজ্জয়িনী-রাজপুত্রের সহিত বরদা-রাজ- কুমারীর বিবাহ সম্বন্ধ স্থির হওয়ায় উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে বরদা-রাজ বহুল ব্যয়ে বিন্ধ্যাচল-উপত্যকায় এক উদ্যানবাটী প্রস্তুত করেন-যথাকালে বিবাহ কারণ রাজপুত্র জনগণ সমবিত্যাহারে তথায় উপস্থিত হয়েন-বরদা-রাজও স্বীয় দুহিতা ও অন্যান্য জনগণ সহ উৎসবকারণ উপনীত হয়েন। উক্ত বিষয় যধামত লিপিবদ্ধ হইয়া “শুভ-অধিবাস” নামে অভিহিত হইল।

শুভ-অবিশ্বাস।
প্রথম অঙ্ক।
প্রথম গর্ভাঙ্ক।
বিন্ধ্য উপত্যকা সন্নিধিস্থ বন-সম্মুখ ।
(বসন্তুলতাকে লইয়া সখীগণের গাহিতে গাহিতে প্রবেশ ।)
গীত। (নং ১)
নীলাম্বর খিত বিগলিত তপনে।
শীতল ধরণী বন আলু থালু পবনে।
তটিনী উমাস চিতে, উছুলে বিজন শীতে,
আকুল আকুল আশে হেলে কুল বাঁধনে,
বিহাের বিহগ গায় বিশ্বনিত নীলিমায়
শিহরে শিখর ধন, হাসে ফুল গােপনে।
জিল প্রবাহ চলে, অনশনস্থলে--
কােলে শী সী যে বিকশিত।
সমীর দুনিত, আমি কি শিনােল,,
এমদ।

নাভ অধিবাস। মাধুরী। - s প্রমদা। ; সুদূর তটিনী তানে মন বিমােহিত! ক্রমে ঘন বন ঘিরে, ওনাকো আর, আঁধার অঞ্চল হের সন্ধ্যার সঞ্চার ; গীতবাদ্য জনর, সুদূরে শুনায় সব, লুকায় তটিনী, গিরি গহন আড়ে ; আঁধারে আকুল কায়, দিকহারা ভেসে যায় । ফিরে চল পথহারা হই ভয় বাড়ে ! কি কারণ কর ভয়, ওই হের হেমময়, উজ্জ্বল কেমন, উচ্চ কুঞ্জবাস শির! পুলকে পবনসনে পতাকা অধীর। এ নদী ত কুতূহলে কুঞ্জের অশােক তলে, সােহাগে চলিতে টলে, উছলে সনীর কি ভয় ! হবনা হারা তটিনীর তীর ? বিজন বিপিনে সই, কেন লাে বিহ্বল হই । চল লাে সকলে মিলে ওই শিলাতলে ; তুলিয়া ললিত তান, সুখ-সুধা করি দান হৃদয়-নিবর চালি অচলমণ্ডলে । নীরবে কেন লাে সই, কথা কও কথা কই আমরা কি সুখী নই তব সুখে ধনী? ভালবাস বলি তাই, নীরবিলে ব্যথা পাই, মখ মনে কি ভাব লাে বল না ভাবিনী? রহ লে দুদিন সই, পাবে রসরাজ । মিলিবে মনে যে, মুখে কি বলিতে যাবে বিবাহের নামে সইব কি শো না? সুহাস। হাস। ৫ ৫

গর্ভা।
প্রথম অঙ্ক।
বসন্তলতা।
গীত (নং ২)
সজনী তাে মনে কত হয়।
চাপি মৃদু আসি, লাজে না প্রকাশি,
স্বপন সমান নাহি পরিমাণ।
জাগে বলা হৃদয়ম ॥
বিভােব অন্তবে কি সুখে ভাসি,
কত নবছবি ভুলায় আসি,
কত কুঞ্জ ঝকে, কত ফুলহাসি,
মধু পবিমল পবন বয় ॥
যেন বীণাতানে স্থিরা নিশিথিনী,
সমীর সােহাগে শিহরে মেদিনী,
জোছনাব নীরে হেমতরী ফিবে,
তালে তালে নাচে লহরে হবে-
উধাও হৃদয়ে ভাসাইয়ে লয়ে,
সুখের কাহিনী শুনতে শুনাতে
পাগল করিয়া পায় লাে লয় ।
প্রমদা।
সখি লাে?
কি সুখ—তখন বুঝিবে—তথা !
ধবে রসের সাগর মিলিবে নাগর,
হৃদয় ভৱিষা, আধ মিটাইয়া ,
শুনিৰি মধুৰ বঁধুর কথা,
সদা রঙ্গে ফিরিবে বঁধুর সঙ্গে
*মােরা সুন্নীলে
সুহাস।
ক

শুভ অধিবাস। [ প্রথম মাধুরী। সুহাস। মাধুরী। ? প্রমদা। কুসুমের হার পাইব হেম অঙ্গে এ রূপ সাগর, চতুর গির, ভাসিবে প্রেম তরঙ্গে! ভাল সবে ভাল রয়েছ ভুলে, কোথায় যমুনা, সাথে আছে কি না, দেখিতে নাই কি নয়ন তুলে ? এইত সে ছিল, কোথা লুকাইল ! এমন চপল দেখিনে সই। আঁধার গহনে কোন পথে গেল, কেমনে বা তার সমাচার লই নদীতীরে যাব বলিয়া গেছে, কত তরী ভাসে—হেরিব উল্লাসে ; চল ফিরে যাই পাইব পাছে । গীত (নং ৩) ধূসর অঞ্চল চালি সুচঞ্চল, শীতল নিশা ওই আসে। ব্যাপ্ত তিমির দল সব দিক মণ্ডল, মত্ত কি ঘাের বিলাসে। ভেদি অতল জল, শােভি উৰ্দ্ধতল, পূর্ণশশী পরকাশে ;- হেরি তিমির গণ, ধায় শৈলবন ; তারকাকুল হাসে। ( সকলে গমনােত। সকলে।

গর্ভাঙ্ক
প্রথম অঙ্ক।
মাধুরী। যাইতে হবে না দেখলে দূরে,
আর কা সনে ওই মা যমুনা
তরু তলে তলে আসিছে ঘুরে ?
(যােগিনী সহ যমুনার প্রবেশ)
প্রমদা। বিজন বনেও তােমার সঙ্গিনী,
কোথায় মিলিল ? তুমি ধন্য ধনী।
যমুনা।
(বসন্তলতাকে দেখাইয়া)
হের গো যােগিনী। যাহার কারণ
উৎসব প্লাবনে মগ্ন বিন্ধ্যবন!
বরদারাজের আদরের ধন,
কনকবরণি কুসুম-প্রতিমা,-
রাজবালা ওই মােদের সখী
উজ্জয়িনী রাজকুমারের সনে,
শুভ প্রতিপদে বিবাহ মিলনে
কর আশীৰ্বাদ যেন দুইজনে,
মনের হরষে হয় গাে সুখী ।
এমদা। কুমারের করে সপিয়া সজনী,
মােরা সহচরী দিবস রজনী,
যেন এই মত রহি অবিরত,
হেরিয়া যুগল, জুড়াই আঁখি।
ৰসলতা। প্রণমি যােশিনী! পুজিতে না জানি-
ক্ষম গাে বালিকা আমি।
কর আশীর্বাদ না ঘটে প্রমাণ,
রহে যেন মন সুপথগামী।

শুভ অধিবাস।
( প্রথম.
*
যােগিনী। মনােমত পতি পাবে রাজবালা,
ভুঞ্জিতে হবে না কভু গখালা ;
হবে রাজসুতা, রাজারবনিতা,
ভাগ্যবতী তুমি হবে রাজমাতা ;
হবে তব যশে ভুবন আলা !
মাধুরী। ফুটিছে শশীর হাসি চল ত্বর ফিরে যাই।
সকলে ব্যাকুল হবে যদি হেরে ঘরে নাই।
ৰসন্তলতা। উপবন মাঝে যাবে কি যােগিনী ?
ফুটেছে কুমুদী শশী-সােহাগিনী,
আরও কত ফুল ফুটেছে বহুল,
জনমে না কভু যে সকল বনে,
পিতার আদেশে এসেছে যতনে
কত শিল্পকার গৌরব কেতন
রচিয়াছে কত মানস মােহন।
মণিশুম্ভরাজি--হেম হরি,
মরকত কুঞ্জ শােভিত দুধারি ;
প্রস্তর-প্রাঙ্গণে রেখেছে কেমনে,
শীতল স্ফটিক বারি !
হীরক খচিত পতাকালে,
পুলকে পবম নাচিয়া চলে ;
কতশত দীপ জ্বলিবে মিশায়, হেরিব সকল রে
কিৰে স্বতন মণি কত শত,
চল না বােগশী মনে ত দূরে।
যােগিনী। বাৰু এৰে বালা তটিনীর তীরে,
শ:

প্রথম অঙ্ক।
আছি দিবা উপবাসী;
মরকত ম িচিনিব কেমনে,
আমরা কুটীরবাসী?
বসন্তলতা। যাবে না কি তবে উপবনে ?
মােগিনী। যাৰ কালি, শুন বরাননে।
(যােগিনীর প্রস্থান।)
বসন্তলতা। কালি যবে আসিবে যােগিনী,
আসিব কুটীরে তার !
শুনিব তাহার যতেক কাহিনী,
জানিব কে আছে আর!
যমুনা। রজনী বাড়িছে চল সবে ঘরে,
বিলম্বে কি কাজ অরণ্য ভিতরে ?
সকলে!
গীত (নং ৪}
মাধুরী ঢল ঢল, মধু মলয়ানিল,
বিপিন বিকাশিত চাদ করে।
উছলে রজত জল, অম্বর উজ্জ্বল,
সুখ নিশি শােভিত সাধভরে।
বিজন শিখরদল বিধুমুখ বিল,
সুধা সমাকুল দিক কুল লল,
ফু প্রাণ চল ফুল্ল করে।
(সকলে সুহান।)
।

দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক
কুঞ্জবনের একপাশ্ব।
(সম্মুখে দীপাবলি সজ্জিত অট্টালিকা মধ্যে মৃদু নহবত বাস্ত
(বসন্তলতা সহ সখীগণের গাহিতে গাহিতে প্রবেশ।)
গীত (নং ৫)
জাগিছে মধুর কুঞ্জ জাগ কুঞ্জবাসী।
জাগলে কুসুম-কলি হেরি রূপরাশি।
হের হৃদি মাঝে হায় মধু উছলিয়া যায়,
আনন্দে বিহর নিশা মধুনীরে ভাসি।
প্রমদা । সকলে জাগিয়া সকলে মাতিয়া
আমােদে অধীর সই।
চল, আমরাও গাঁথি কুসুম ভূষণ,
কুসুমে মিলায়ে রই।
সুহাস। দেখেছ কেমন দূর হতে সই,
শােভিছে প্রমােদ-কুঞ্জ ?
থরে থরে কিবা কিরণ প্রকাশি
হাসিছে আলােক পুঞ্জ ?
মাধুরী।
ভিতরেও কিবা আলােক মলে,
রতন মণিয় কিরণ ছুটে।
নে দলে দলে আতিয়া মঙ্গলে,
রবি শশী তারা রয়েছেস্কুটে।

প্রথম অঙ্ক
যমুনা। মরকত বন শশাভিত যেমন,
তেমন সজনি হয়নি আর।
হেমতরু শােভে রজত পল্লবে,
হ্রদহৃদে শােভা কি কব তার।
মাধুরী। প্রবালের দলে নবীনা ব্রততী
তরুকায়ে কায় রয়েছে মিশে,
মরকত ফুল ফুটি রাশি রাশি
কে কবে সে, সবে কৃত্রিম কিসে?
প্রমদা । নিঝরে ঢালিছে সুশীতল বারি,
গােলাবের বাস তায় !
সমীর স্বননে পরিমলে তার,
কানন ভরিয়া যায় ।
সুহাস। তরু তলে তলে বসিতে আসন,
রতন খচিত বসনে ঢাকা ;
বিহরে দুধারে ময়ূর ময়ুরী,
ধরিয়া গরবে রতন পাখা ।
নবতৃণ মুখে উৰ্দ্ধকর্ণে কিবা,
রতন হরিণ রাজে।
প্রাণ হর গুণ বিনায়ে কেমন,
ব্যাধের রাঁশরী বাজে
মাধুরী। বুর্ষেক ধরিয়া যত শিল্পকার,
রচিয়াছে যত দেখেছি সবে
সারা উপবন করেছি ভ্রমণ,
নৃপতি সনে আছিলে যকে !
যমুনা।
-"""
ব;

শুভ অধিবাস।
[ দ্বিতীয়
G
বসন্তলতা। জননী বিহীনা আশৈশব সই,
পিতার আদরে না হয় মনে ।
যবে সিংহাসনে বসি জার পাশে,
সভাজন যত সুভাষে সন্তাষে,
স্নেহের সাগর তরঙ্গ নিচয়,
উথলিয়া উঠে পরশে হৃদয় ;
সি লাে হরষে তাহার সনে।
সুহাস। কালি কিসে সই আসিলা নৃপতি,
একসাথে সবে ছিঃ ত মােরা !
প্রমদন।
কুমার কি জানি—আগে আসে যদি,
তাই দ্রুত হয়ে আইলা ত্বরা।
বসন্তলতা। আমরা আসিলে অভাব না হয়,
এই হেতু অগ্রে আগমন তার ।
যমুনা। বিবাহের পরে এ কানন মা কি,
দিবেন দম্পতি-করে উপহার ?
মাধুরী। শুনেছ সজনি, এসেছে কুমার সহ সহচরগণ ?
নৃপতি আদেশে পূরব প্রাঙ্গণ
হইয়াছে বাস হেতু নিরূপণ,
সচিব প্রধান তুষিতে কুমারে আছে তথা অনুক্ষণ!
সুহাস। কুমারের নাম জান কি যমুনা ?
মাধুরী। চল মন্ত্রীপাশে সব যাবে জানা।
প্রমদা।
গিয়াছিনু সবে গহন দর্শনে,
অনুচর কেহ ছিল না সনে;
নি কষ্ট ভুপ কহিল বিজেপ,

গর্ভাব্দ ।
প্রথম অঙ্ক।
দেখিলে সভয় প্রহরিগণে!
যমুনা। গিয়াছে বিজয় বারতা দিতে।
সুহাস। রাজাদেশে এই আসে লাে নিতে।
{ রাজপরিচারিকার প্রবেশ ।)
রাজপরিচা। কাতর ভূপতি, উচাটন অতি
নৃপতিনন্দিনী কোথায় ছিলে ?
বসন্তলতা। গিয়াছিনু গহন দর্শনে-
সজনী সকলে মিলে !
রাজপরিচা। আসিয়াছে এক গায়কপ্রবর
রূপেগুণে যেন সিদ্ধ বিদ্যাধর !
কুমার প্রেরিত, কি মধুর স্বর,
মােহিত সভায় শুনিল যত !
তােমারে শুনাতে নৃপ অনুমতি।
যমুনা। কোথা সে গায়ক কহ লাে সুনীতি ?
রাজপরিচা। লয়ে গেছে তারে মন্ত্রী গণপতি,
মরত কুঞ্জে আদেশমত।
(রাজপরিচারিকার প্রস্থান)
নমুনা। এস এস সবে যাই গায়ক ঘথায়।
বসন্তলতা। আহা! হের সখি কত ফুল ধুলায় লুটায় ।
সানরূপরাশি, ফুরায়েছে হাসি,
অলি আসি, না গলি তায়
সামনে সঞ্চলে যায়।
মদ। ফিরিয়া আসিয়া শাঁধিব লো সই
সায়ানিশি খসি কুমুসহায়।

শুভূ অধিবাস।
: দ্বিতীয়
মাধুরী।
সকলে
চল আগে হেরি কেমন গায়ক,
বুঝিব কুমারে হেরি সাী তার !
গীত (নং ৬)
দেখে না দেখে না ফিরে মধুকর কুটিল।
ভুলায়ে নবীনকলি মধু ছিল লুটিল ।
সাধিয় আপন কাজ যাবে যদি রসরাজ ।
দেখে যাও গুণনিধি ফুলহৃদি টুটিল ।
( গাহিতে গাহিতে সকলের প্রস্থান)
তৃতীয় গর্ভাঙ্ক ।
মরকত কুঞ্জের প্রমুখ।
বসালত সহ সখীগণের গাহিতে গাহিতে প্রবেশ)
(
গীত (নং ৭)
মরি কি অপরূপ সাজে।
মরকত কুঞ্জ বিৱাজে জলমাঝে।
মধুর সমীর রূহেবাস উড়ে।
কোকিল কুহরে ঘন কুচুদে।
শাে হেরি নুরপুর নন্দন লাজে

গর্ভাঙ্ক)
প্রথম অঙ্ক।
(সকলের কুঞ্জমধ্যে প্রবেশ ও নির্দিষ্ট আসনে উপবেশন।
(বিজয় গায়কের প্রবেশ।)
সুহাস। হের লাে সজনি অনুমতি তরে-
দাড়ায়ে গায়কবর !
যমুনা।
কে তুমি গায়ক! কি আশে হেথায় ?
প্রমদা । কি নাম কোথায় ঘর ?
গায়ক। নাম মম বিজয়রঞ্জন, উজীনগরে বাস;
কুমার সদয়, সদা সহচর,
তাহার মঙ্গল আশ!
রাজ তনয়ায় শুনাইতে গীত,
আগমন হেথা—তাহারি প্রেরিত ।
যমুনা। কুমার আদেশ নতশিরে ধরি,
এই রাজবালা-মােরা সহচরী ;
ধন্য ভাগ্য আজ !
মাধুরী। ধন্য হােক প্রাণ,
সঙ্গীত সুধায় তােষ মতিমন।
বিজয়-গায়ক। রাজকুমারীর কিবা অনুমতি,
জানিতে বাসনা করে মূঢ়মতি !
বসন্তলতা। কহলােগায়কবরে কি সাধ্য আমার,
কেন হেন সম্ভাষণ।
সৌভাগ্য সবা, তেঁই কৃপা তার।
যথা রুচি তব গাহ মহাজন!
গায়ক
মধুবৃন্দান, সুর মনােমােহন,
মুনা।
গীত।

৪
শুভ অধিবাস
দ্বিতীয়
বেণু ধ্বনি বহি মধুর সমীরণ,
মগ্ন গােপকুল সে সুখআকুল,
গােল সুপ্ত বিলাসে,
নিশীথ নীরব নিশি অবকাশে।
যমুনা তট’পরি কুঞ্জ চারী হরি,
রাজিত রঞ্জন প্রেম মূৰ্ত্তি ধরি,
শুদ্ধ প্রেমময় নিত্য সুখোদয়,
ভূক্ত চিত্ত তম নাশে,
সুখদ সুধাকর কিরণ প্রকাশে ।
সুহাস ।
আহা বনমালী মুরলীবদন
‘গাও গাও ব্রজলীলা করিব শ্রবণ ।
প্রমদা।
গায়ক।
গত।
-
মধুবংশীরব চকিত মুগ্ধ সব,
মুরলীধর বর সুন্দর মাধব,
ফুল বদমঘন, ভভয় ভঞ্জন,
সুর সঙ্গীত উল্লাসে,
সে রসঙ্গে ত্রিভুবন ভাসে।
প্রীত পুলিনবন উজ্জল দরশন,
নীরব কোকিল শুনি আলাপন,
ব্ৰজরমণীগণ স্মরি মনােরঞ্জন,
জবঁধু বিপিন নিবাসে,
অতি দ্রুতগতি মতি মধুময় আশে।
কুমিত কুন্তল বেণী ঝলমল,

গর্ভা।
প্রথম মঞ্চ।
বাসস্থলিত ভয়-কম্পিত কুচদল,
সুরমদ সজ্জিত, সরস সুলজ্জিত,
নুপুর ঝনর ভাষে,--
পুলক মত্ত বঁধু প্রেমপিয়াসে।
আসি মিলিল সব ব্রজবল বৈভব,
রাধাশ্যাম কি শােভা অভিনব,
দৃশ্য দীপ্তবর–পূর্ণচন্দ্র-কর,-
ঢল ঢল নীলাকাশে,
ম্লান বিম্বসম ইহযুগ পাশে।
;
যমুনা।
মাধুরী। জয় রাধা জয় শ্যাম বৃন্দাবন ধন !
যমুনা । শুন গীত, কেন হও অধীর এমন ।
গায়ক। সুরস শ্রীরাস গীত, কবিকুল বিবর্ণিত ;
এ গাথা কি নহে মনােহর ?
বিষম সংশয় মনে, নাহি কঁপা অভাজনে
রাজবালা কেন নিরুত্তর।
সখি ! শুনিলে কি গায়কের নিবেদন ?
অন্যমনঃ কেন হেরি মোন কি কারণ !
বসন্তলতা। (কণ্ঠহার মােচন করিয়া)
সখি, লহ এই রত্ন-হার গায়কের পুরস্কার ;
এ গীত সুন্দর অতি মানসমােহন।
হে গায়ক! তব গী ত রসপূর্ণ সুললিত.
লহ এই পুরস্কার রতনের হার।
গায়ক। শিরােধার্য্য সুপ্রসাদ রাজতনয়া
D
যমুনা।

শুভ অধিবাস
অনুমতি হয় চাহি বিদায় এখন ;
আদেশিলে পুনঃ আসিকরিব দর্শন।
( গায়কের প্রস্থান ।)
মাধুরী। ধন্য এ গায়ক, কি মধুর স্বর ;
যেন শ্রুতিমূলে সুধার নিঝর !
বসন্তলতা (স্বগত) গায়ক সুন্দর হেন নাহি ছিল বােধ
আহা মধুর মােহন গায় ।
প্রাণ এত পক্ষপাতী—একি অনুরােধ
ভাল দেখা দেখি ভাল দায়।
যমুনা।
কি ভাবিছ সুলােচনে, যাবেনাকো ঘরে ?
বসন্তলতা। সখি, সাধনা কি হেন গীত শিখিতে আদরে ?
যমুনা। শিখিবে সােহাগে সখি কুমারের বামে ।
বসন্তল। শয়ন মন্দিরে চল জুড়াই বিরামে।
সুহাস । সে কি সখি গাঁথিবে না বসি ফুল হার ?
বসন্তলতা। অভাব কি কালি প্রাতে গাঁথিব আবার !
গীত (নং ৯)
নিৰ্ম্মল অম্বর সুন্দর ভাতি।
উজ্জ্বল চঁাদ কি উজ্জ্বল রাতি।
স্নিগ্ধ কুসুমকর, স্নিগ্ধ চরাচর।
চঞ্চল অনিল সুসৌরভ মাতি।
e
সকলে।

দ্বিতীয় অঙ্ক।
প্রথম গর্ভাঙ্ক।
কুঞ্জবন।
( সন্তলতাকে লইয়া সখীগণের গাহিতে গাহিতে প্রবেশ ।)
গীত (নং ১০)
চল চল চল কুঞ্জকাননে চল লাে বিমল হাসি।
কুসুম চয়নে কুরঙ্গনয়নে, চল লাে হরষে ভাসি ॥
নিশীর শিশিরে শােভিত বিস্তর,
প্রসূন পীযুষ লােভে মধুকর
নিরের নীরে, শীতল সমীরে সরস সুবাস বাসি।
শিরে ধরি হের রাঙ্গা ফুলডালা,
হেরি তােমা তরুবিলাসিনী বালা।
নামিছে চুমিছে চরণ চারু ঢালিছে কুসুম রাশি।
সজনী লাে।
শীতল ধরণী, শ্যামল বরণী,
নীহারের হারে শশাভিত কিবা ।
উষার ছটায় বিমল বিভায়-
সরস হৃদয়ে হাসিছে দিবা ।
মধুর প্রকৃতি-শােভা হের লাে ফিরে,
হের লাে রূপের ছটা সরসী-নীরে।
প্রমােদি প্রস্থানে হের গুন-গুনে,
ফিরি মধুকর করিছে সেবা !
মাধুরী।

শুভ অধিবাস [ প্রথম সুহাস। নিঝরে নীর ঝরে রজত ধারা- বিমােহন স্বরে মন আপনা হারা ! পুলকে আলােকে বন, বিলাসিত বিচরণ ; নীরবে মগন এবে রহে বা কেবা ! যমুনা। সখি লাে ! নীরস নলিনী কেন প্রভাতে প্রকাশে ? নীলাভ কেন লাে রাঙ্গা বদনে বিকাশে ? প্রমদা। বিচলিত ঝটিকায় ব্রততীর প্রায়, কেন বিমলিনী মুখে হাসি না যুয়ায়! মাধুরী। কোথা সে মধুর হাসি চঞ্চল চরণ- বিজড়িত কি বিষাদে লাে বিধুবদন ? বসন্তলতা। সজনী লে যামিনীতে বিরামে ব্যাঘাত, কু-স্বপনে ভীত চিত হ’ল অকস্মাৎ ! মাধুরী। কি স্বপনে বিরসিত বল লাে সত্বরে ? বসন্তলতা। না সখি ভাবিতে নারি শরীর শিহরে । যমুনা । জানাব কি মহারাজে? বসন্তলতা। না সখি মরিব লাজে তাহে কাজ নাই । প্রমদা । বল যদি তবে গিয়ে কুমারে জানাই ? বসন্তলতা। আগে কুসুম তুলি গাঁথিব লাে সই, ফুল-হার বিনাইতে যদি ভুলে রই । সকলে। গীত (নং ১১) চল লাে চল লাে ফুলবনে। তুলি ফুল দুকুল ভরিয়া মধুমনে। নবীন মুকুল বাছিয়া আনি।

দ্বিতীয় মুঙ্ক।
১৯
সাজাব সখীরে কুসুমরাণী।
গাহিব মিলিয়া ভ্রমরা সনে।
কেলি-কাননে।
( গাহিতে গাহিতে সকলের প্রস্থান।)
বসন্তলতা। (স্বগত)
এ কি হ’ল দায়--কি হবে উপায়-
কে দিবে প্রবােধ মনে।
নাহি মানে মানা, ভূলে ত ভূলে না,
সদা সেই ধ্যানে জ্ঞানে।
যতেক বাসনা সুখের সঞ্চয়,
সে অধর হাসে লয়েছে আলয়,
আর আমার নয়---আমার হৃদয়,
কেন এ সুখের ভাণ!
কারে বলি ব্যথা, কে দিবে বলিয়া,
কি দিয়া বাঁধিব প্রাণ।
বসন্তলতা। গীত (নং ১২)
এ বাসনা বারি কেমনে।
সতত জাগিছে চিতে স্বপনে কি জাগরণে।
না জানি এতেক আগে, একি হ’ল অনুরাগে,
দরুশনে রূপ জাগে, প্রেম জাগে মনে মনে।
!
বসন্তল। (স্বগত }
নিশার স্বপন মিশাল নিশায়

ও অধিবাস। জাগিনু প্রভাতে কাদিতে সুধু ! খসিল কল্পনা কুসুমের হার সুকাইল ফুল ফুরাল মধু! রাজার কুমারী ভুবন বিদিত, অনুচিত জনে অনুরক্ত চিত; সত্য বটে, কিন্তু কেন মনে হয়— রাজবেশ হীন, হীন ত সে নয়। নাহি রাজ্য তার—এ হৃদয় আছে, ঐশ্বৰ্য্য সাম্রাজ্য তুচ্ছ এর কাছে ! { গাহিতে গাহিতে সখীগণের ফুল লইয়া প্রবেশ ) গীত (নং ১৩) ফুল গাঁথিব মনসাধে চল চলে চল । অলি আসে পাশে একি জালা হ’ল ॥ শিশিরে শীতল ধরা --চলা যায় না ত্বরা। যন পিছলে পা—ফুল ঢল ঢল ॥ মুনা। এনেছি সজনি এনেছি লাে ফুল মধুকর ধেয়ে আসে। হের লাে রূপের সুষমা অতুল- অনিল আকুল বাসে ! গাঁথ লাে সজনি চিকণ মালা, কুমারে পাঠাব ডালা; ফুলের ভূষণ রচিয়া সকলে সাজাব নরেশ বালা।

গর্ভাঙ্ক ]
দ্বিতীয় অঙ্ক
সুহাস। এনেছি গােলাব মুকুট তরে!
প্রমদা। আনিয়াছি বেলা দিব লো থরে,
আনিয়াছি যুথী, বকুল মালতী,
হের লাে নয়ন আলা ।
মামুরী। এনেছি নলিনী আসন সাজায়ে,
সজনী বসাব সুখে ;
কত যে কণ্টক পীড়িল লো করে,
ভুলিব তবে সে দুঃখে !
বসন্তলতা। উদিত তপন হের খর করে--
মলিন কুসুম সই।
অতীত প্রভাত পিতা কি ভাবিবে,
চল গিয়া ঘরে রই ।
যমুনা। সে কি গাে সজনি গাঁথিবে না হার ?
একি এ নয়নে।
-এ যে অনিবার।
বসন্তলতা। (নীরবে রােদন)
মাধুরী।
বলনা লো কি হ’ল অন্তরে,
বল না, পাই যে ব্যথা, বচনে না সরে ।
বসন্তল। হায় লাে! পিতার যতনে অভার জানি না,
মাতার বিরহ না জানি ক্ষণে।
এ নব স্বপনে হৃদয় ভাষায়ে-
কোথা যেতে হবে না পশে মনে।
সখীগণ।
গীত (নং ১৪)
ভেবনা ভেবনা আদরিণী।
রাজ-নন্দিনী,

শুভ অধিবাস
সােহগের হাসি তুমি লাে-সবার ;
সুখ যে তােমা বন্দিনী।
চাতকের নীর, চঁাদের সুধা ।
নয়নে নিবার চকোর ক্ষুধা,
স্বরগে ভুবনে তুমি বরাননে ;
লাজে বাণীরমা দ্বন্দিনী।
=
বসন্তলতা। চল লাে তপন তাপে তাপিত কায়া !
যমুনা। চল তবে যথা ওই শীতল ছায়া।
বসন্তলতা। না সখি চল লাে ঘরে—এড়াই তপন করে ।
সুহাস। ফুল তােল খালি মিছে, গাঁথিবে না হার ?
বসন্তলতা। মলিন কুসুম গাথি কি হবে অসার ?
মাধুরী।
চল তবে ঘরে যাই ছড়াইয়ে ফুল,
সখি লাে ফুলের ঘায়ে হবে কি আকুল ?
সখীগণ।
গীত (নং ১৫)
ঢালি ফুল ললিত কার,-
পূজি ফুল প্রতিমায়, সৰে আয় আয়,
নবীন হৃদয়ে নব অভিসার--
দেহ রে কানন হাসি উপহার,-
সুথে পাখি সুললিত গায়।
ফুলরেণু মাখি ভ্ৰমিছে ভ্রমরা,
গুঞ্জরিয়া কিবা মধু-মাতুয়ারা,
কহি শুভ সমাচার কলিকায়।
( সখীগণ বসন্তলতার অঙ্গে পুষ্প নিক্ষেপ করিতে করিতে
ও গাহিতে গাহিতে প্রস্থান।)
1

দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক।
বন মধ্যস্থ পথ।
গায়ক।
-
(বিজয়রঞ্জন ও গায়কের প্রবেশ ।)
বরদা-বালার সহচরী সনে
যাইছে যােগিনী বুঝি কুঞ্জবনে!
বলিবে কি কিছু মম বিবরণ !
বিশেষ করিয়া করেছি বারণ।
আহা—মূর্তিমতী দয়া যােগিনীর বেশে
শান্তি সুধাময় এ বিজন দেশে,
স্নেহ ভরা বাণী করিয়া শ্রবণ,
স্থির হয়ে ছিল বিচঞ্চল মন ;
সুরূপ সদগুণে বুঝি দিব্য পুরস্কার,
সসম্মান সমাদর বিধানধাতার ;
তাই ফুল ভালবাসি, তরুতলে আসি,-
ব্রততীরে যতনে সম্ভাষি।
পাখী যদি গেয়ে যায়—কত ডাকি তায়,
শশী তারা সনে কত হাসি।
সাগর অতল জলে, সমুচ্চ শিখর দলে
ভ্রমে মন কত কুতুহলে!
রমণী রূপের রাশি—সরল শিশুর হাসি,
সনে যৈন কি সুন্দর বলে!
সুন্দরের পক্ষপাতি নহে কেন মন,
সুন্দর-বন্ধনে আজি জড়িত এমন ।
( গায়কের ভ্রমণ করিতে করিতে প্রস্থান।

দ্বিতীয় অঙ্ক।
যমুনা।
( যােগিনীর সহ যমুনার প্রবেশ।)
মান কুমুদিনী যেন, মলিনা সজনী
কি ভাবনা বাল হৃদয়ে তার ?
कि
দুঃখ স্বপনে-যাপিলা যামিনী-
বিশেষ জেনেছি আর ।
গায়কের গুণ যদি বা গেয়েছি,
বুঝিতে মানস ছলে ;
আর কত তার চাহে যেন বালা-
নিচল নয়ন জলে।
কিছু ত বলে না-কিছু ত শুনে না,
সভিত আপন মনে ;
কিছু যেন তার হৃদয়ে লাগে না
মলিন:বিষাদ সনে।
প্রবেশের দ্বারে বহু সমাগম
কেমনে পশিবে:তায়।
পাছুর দুয়ারে নৃপতি-আদেশ -
নিরাপদে যাওয়া যায় !
এই পথে এস দেবী নদী তীরে তীরে
পশ্চিমে অশােক দ্বার পাইব অচিরে ।
(সকলের প্রস্থান।)
যােগিনী
যমুমা।
---

তৃতীয়
গর্ভাঙ্ক।
কুঞ্জবন।
( সখীগণের গাহিতে গাহিতে প্রবেশ )
গীত (নং ১৬)
নলিনয়না লুকালাে কোথা। (সই লাে)
মলিনবদনা বিনা জাগিছে ব্যথা।
মলিনবদনা কমলিনী সরে।
হেরিয়া মলিন কিরণাকরে ।
ভ্রমর আদরে বুঝাইতে নারে।
হেরিনু ফিরিনু নাহি ত তথা ॥
মাধুরী। বুঝি বা যমুনা সনে--
যােগিনী-কুটীরে গিয়াছে সজনী।
সুইস। চল তবে ত্বরা যাই,
পথ কিন্তু জানা নাই,
কি হবে যদি না পাই আসিলে রজনী ?
প্রমদা। কোথা তবে আছে আর, খুঁজি ত চারিধার।
নিশ্চয় এ মনে লয়, যােগিনী-কুটীরে তারা।
নদীতীর জানা আছে হ’বনাক পথহারা ।
সকলের প্রস্থান।)
(বসন্তলতার প্রবেশ ।)
বসন্তলতা।
গীত (নং ১৭)
যায় যাতনা হায় নয়নের জলে।
দারুণ দহে যেমন বিষাদ-অনলে।

শুভ অধিবাস।
( তৃতীয়
চিতা যে হইল চিতে, বাকী শুধু প্রাণ দিতে।
প্রেম সাধ সমাধিতে, জলিতে জড়িত জ্বলে।
ছি ছি লােক লাজ ভয়, পরিহরি সমুদয়,
দুরাশা এ ভালবাসা, অকূলে ভাসিতে বলে।
(স্বগত) যামিনী! আজি কি তুমি রাখিবে আমায়?
দেখা দিতে কালি প্রাতে বিষাদ-সজ্জায়।
দিয়াছি গলার হার, পরাণ দানিতে আর,
এ পােড় মনের জালা জানাব না কায় ;
বিদায়-সুখের সাধ বিদায়-বিদায়।
একি আসিয়াছি কানন-সীমার পার!
ওই আসে হায় রঞ্জন আমার ।
পাগল নয়ন একি সাধ কর?
কুলমান লাজ কেমনে পাশরি।
(বসন্তলতার অন্তরালে অবস্থান।)
(বিজয়রঞ্জনের প্রবেশ ।)
বিজয়। শীতল কানন ঘন-ই-আলিঙ্গনে
বিহরে ব্রততী সুখে ।
শাখি-শাখে গায় নিশি আগমনী,
পাখীকুল মধুমুখে ।
সুন্দর কানন সম্মিলন তরে,
মচিলা বরদা আজ।
সুন্দর সকলি হৈৎ করিছে বিরাজ।
(আহা) তরুতলে সিত বেদিতে বসিয়ে

গর্ভাঙ্ক ]
দ্বিতীয় অন্ধ।
আবাহনে মধু সমীরণ ।
ক্ষণ বসি হৃদয় বিলাসি,
করি এ শােভারে বিলােকন।
( বসিয়া )
জগত জীবন রবি আজিকার মত,
লীলা তব হ’ল অবসিত।
সুখে দুঃখে অবনীর ভবিতবাতার
এক পৃষ্ঠা হইল পূরিত ।
গীত (নং ১৮)
কঁদে কমল নীরে'।
প্রেম প্রাণ বিলাইয়া দুরে মিহিরে
শঠ রিপু ষ পদে দলে হৃদি মধু মদে। •
অভিলাষে ফিরে অধীরে।
অবলা সহিতে নারে মনােদুঃখ কহে কারে।
কত মন্দ বলে সমীরে।
নেহারিয়া দিনকরে কত সুখ সে অন্তরে।
গ্রাসিল সকলি হায় রাহু তিমিরে।
ভাল ফুল ভালবাসা তবু না টুটিল আশা ।
বিবশা বিষম বিষে দুখিনী রে !
(সখীগণের নেপথ্যে গীত।)
গত (নং ১৯)
দেখেছিস কেউ কি যেতে বলনা তােরা বিজনবাসি।
হারানিধি কোন পথে সে যার বিনােদ-মুখে বিধুর হাসি।

২৮
শুভ অধিবাস।
[ তৃতীয়
কাতরা ঘুরে সারা—কোথায় গেল বল্ ভ্রমরা,
হার মােরা নয়নতারা, সে মধুর হাসির অভিলাষী।
গায়ক।
।
!
আসে বুঝি কুলবালাগণ কানন ভ্রমণ আশে,
ৰসিব না আর, যাই আপন আবাসে ;
যামিনীতে কি প্রকারে করিব দর্শন
রাজপুত্র জানিবে কি! বুঝিব তখন।
( প্রস্থান।)
(বসন্তলতার গাহিতে গাহিতে প্রকাশ)
গীত (নং ২০)
দুঃখ নিশা ঢাকিল নভােনয়নে।
হৃদি কমলে কাদাইয়ে কোথা লুকালে,
দিনকর নিদয় মনে #
ভালবাসিয়ে, নিরাশার নীরে ভাসিয়ে
তবু ছিল সুখ যে মুখ হেরিয়ে,
ফির ফির নাথ হে মরি বিজনে।
(যােগিনী সহ যমুনার পশ্চাৎ হইতে প্রবেশ ।)
যমুনা। কিসের কারণ হেরি উচাটন
বিষাদ কিসের তরে?
দু'নয়নে বারি, রাজার ঝিয়ারি,
কেন লাে ঝরে?
ছি ছি লাে লুকাতে পারিবে না আর,
দেখেছি বুঝেছি যে ভাব তােমার;

গর্ভাঙ্ক। দ্বিতীয় অঙ্ক। ২৯ পরবধূ তার এ হেন আচার- কেমনে মান সে ধরে! বসন্ত। গীত (নং ২১) মানসে কি আছে সখি আর। হরিল যে ধ্যান জ্ঞান সতত ভাবনা তার। এত যে নয়নবারি বাসনা ফিরাতে নারি। উপায় করি কি মরি ফণী যে গলার হার । (সখীগণের গাহিতে গাহিতে প্রবেশ।) সখীগণ। পুনশ্চ গীত (নং ১৯) দেখেছিস কেউ কি যেতে বল না তােরা বিজনবাসি। হারানিধি কোন্ পথে সে যার বিনােদ মুখে বিধুর হাসি। কাতরা ঘুরে সারা-কোথায় গেল বল্ ভ্রমরা। হারা মােরা নয়ন তারা সে মধুর হাসির অভিলাষী। মাধুরী। ( বসন্তলতাকে দেখিয়া ) এই যে হেথায় সখী-কোথা গিয়াছিলে ? সারা বন ঘুরে-করেছি ভ্রমণ খুঁজেছি সকলে মিলে। প্রমদা মম অনুমান দেখিলে প্রমাণ ? বলেছিনু যােগিনী-কুটীরে ! পেতেম অবশ্য দেখা গেলে নদীতীরে সুহাস। আঁধার অন্তরে, কন্দরে কন্দরে • সুধায়ে সকলে ফিরেছি কত।

শুভ অধিবাস। ৫ [ তৃতীয় মাধুরী। প্রমদা । . প্রতিধ্বনি সনে বিজন বিপিনে সখি সখি বলে ডেকেছি যত । যমুনার সনে গােপনে গােপনে আমাদের ফেলে যেও না আর। এসসা লাে আলয়ে যােগিনীরে লয়ে এখানে ত কিছু নাহি দেখিবার ! বনফুল-হার গেঁথেছি সকলে হের লাে সজনি পর পর গলে। (রহস্যে) গীত (নং ২২) বল লাে সখি কোন্ পথে গেলে পাব শ্যাম। ত্যজি লাজ মান দিয়ে মন প্রাণ, ফিরি পথে পথে অবিরাম। সুহাস। যমুনা। t বসন্তলতা। ছিছি লাে যমুনা একি আচরণ ? কেন কর জ্বালাতন ! কোথা যাবে তবে অভাগিনী আর--- তােমরাও যদি না ভাব আপন? নমি গাে যােগিনী হের দেবী মনে, কত জ্বালা সয়ে রয়েছি কেমনে। জীবনে বাসনা নাহিক আর-- সােণার স্বপনে কালিমা ভরা । কাতর নয়নে আঁধার ধরা, হৃদয়ের সুখ হইয়া বিমুখ বহিছে দুঃখের ভার ! ==

গর্ভা।
দ্বিতীয় অঙ্ক।
N,
!
যােগিনী। চপলতা ত্যজি হও বালা ধীর,
মুছহ সত্বর নয়নের নীর ;
বিবাহ তােমার ভাব লাে ললনে-
অভাব রেখ না মনে!
যুবতী-জীবন সদা মােহময়,
হেন কত ভাব হয় লাে উদয়
পুনঃ পায় লয়-
অসার নিচয়,
নব আশা আলিঙ্গনে।
যমুনা। হৃদয় আসনে যুবরাজে রাখি-
সখী গাে ভুলিবি ব্যথা !
গায়ক কি ছার মদনে বিকার--
সে রূপ স্বরূপ কোথা?
মাধুরী । বুঝিলাম নিশি হ’তে কেন ভাবান্তর।
তুমি লাে রসিকা ভাল—ছলনা বিস্তর ।
যমুনা। (রহস্যে )
গীত (নং ২৩)
কি গুণ জানে-কালা কি গুণ জানে।
মেরেছে আমারে ও সই নয়ন বাণে ।
বসন্তলতা। (নত মুখে বােদন)
সখীগণ।
(গীত নং ২৪)
তুল লাে তুল লাে আনত আনন মরি মরি প্রাণে বাজে।
এ শুভ উৎসবে নবীনা নায়িকা তমারে হেন না সাজে।

শুভ অধিবাস।
( তৃতীয়
শুভ অধিবাস আজি লাে সজনী
দেখ শােভে সিত বাসন্তী রজনী।
চল লাে ভবনে প্রমুদিত মক্তন বিধু বিকশিতে লাজে ।
যমুনা। যুবরাজ পাশে বসিবে বিলাসে যুবরাজ রাণী,
দেশে দেশে ভাসি গাবে যােরাশি
সমীরে বাখানি।
তপনে নিরখিকমল কভু কি সখি
থাকে হীন মানি ?
বসন্তলতা।
গীত (নং ২৫)
কেমনে কহ না সখি পশি ঘরে।
রাজরাণী নাহি হৃদয় আমার ।
ভিখারিণী হ’তে, প্রতি পলে পলে-
বরিতে কাতর-হৃদয় তার।
সােণর স্বপন, সুখের বাসনা
বিদাইতে নহে জড়িত রসনা-
কি গুণ জানি না সুকবি করেছে।
নয়ন চাহে না সে বিনা আর।
যমুনা ।
(রহস্যে)
গীত (নং ২৬)
ভুলাইয়ে কোথা লুকাল।
সহে না যাতনা, তােরা গরল আনিয়ে দেশে ।
বিহনে সে নটবর—তনু মন জর জর।
প্রেম করে নিরন্তর কঁদিতে জীবন গেল ।

গর্ভা।
দ্বিতীয় অঙ্ক।
৩৩
;
বসন্তলতা।, হে যােগিনি
কি মন্ত্র তােমার দেহ কৃপা করি,
কর এ দাসীরে তব সহচরী
রহিব বিজন বাসে !
জন-কোলাহল না রবে শ্রবণে,
শুনাব নীরব তরু গুল্ম বনে ;
যতেক বেদন জাগে মনে মনে,
জুড়াব তাদের পাশে !
যােগিনী। কেন পাগলিনী হওরে বাছনি
ধরহ বচন মম।
বিহর আনন্দে সখীগণ সনে,
পাবে পতি মনােরম ।
বসন্তলতা। হে যােগিনি।
সেই পতি মম পতি নাহি আর,
দিয়াছি যাহায় গলার হার!
যােগিনী। ধর মম বাণী ভেব না সুশীলা
রবে না তােমার বিষাদ-ভার।
(স্বগত)
বালক বিজয় করিয়াছে মামা-
কি কাজ বলিয়া-না-না বলিব না।
কালিকারে তবে ভুলাই কি ছলে।
ভাল ভুলাইব মন্ত্রের কৌশলে!
( প্রকাশ্যে )
পূর্ণিমা রজনী খুন সখীগণ,

০৪ দ্বিতীয় অঙ্ক। [ তৃতীয় আজ কলানিধি কিরণে ভরা ; কৌমুদী-চুমিত যতেক কুসুমে যতনে তুলিয়া আগে ত্বর ! মাধুরী। ফুটিয়াছে ফুল বহুতর বনে কত বা তুলিব সবে ? যােগিনী। যত পার মিলি আনগে তুলিয়া ! প্রমদা। বাসর সাজাতে হবে ? যােগিনী। কুসুম নিগড় রচি নিজ করে— নায়িকা পরিবে গলে। কুসুম-ভূষণে কুসুম-আসনে- বিহরিবে কুতূহলৈ ! সুহাস। ইহাতে কি গুণ কহ বিশেষিয়া হে দেবি শুনিব সবে । যােগিনী। মনােমত জনে মানসে চিন্তনে- ট্রিয়ে মিলন হবে । যমুনা। কম্পিত হৃদয় দেবী কি কহিব আর- কুলনারী সাজে কি গাে হেন অভিসার ? যােগিনী। নির্ভয় হৃদয়ে বাল হের মন্ত্র-গুণ- অপকর্মে দেব-মন্ত্র কভু না নিপুণ ! (যােগিনীর প্রস্থান।) সুহাস। তবে কেন আর ভাব লাে সজনি ? বিহিত বিধান ঘরে । আনি তুলি ফুল—গাঁথু চিকনিয়া ( নাগরে হৃদয়ে ধরে।

তৃতীয় অঙ্ক।
সখীগণ।
গীত (নং ২৭)
চল লাে যতনে তুলি কুসুম রাশি।
বাঁধিব মধুর হারে বধু উদাসী।
বুঝি লব রাখি পণে মনােচোর সে কেমনে।
হেরিব বদনে বিধু বিনােদ হাসি।
তৃতীয়
অঙ্ক।
প্রথম গর্ভাঙ্ক।
কুসুম-সজ্জিত বসন্তলতার শয়ন কক্ষ।
( যােগিনী সহ কুসুম ভুষিত বসলতাকে লইয়া
সখীগণের গাহিতে গাহিতে প্রবেশ।)
সখীগণ
গীত (নং ২৮)
হাসে রে বাসর, আজি নিশা মধু সাগর।
প্রণয় পীয়াসে মন ট্রর ঢর পাগর।
হাসে রে কুসুমকলি উপজে মধু।
আজি আসিবে বঁধু,
বাঁধিব সােহাগ-ডােরে নাগরী নাগর ।
বসন্তলতা। হে যােগিনি প্রণাম চরণে
গেঁথেছি গাে হার আদেশ মত,
অজানিত ইয়ে কাতর হৃদয়ে

শুভ অধিবাস। [ প্রথম : নাহিক সুখের বাসনা তত ! আশাতীত হায় বাসনা আমার- দারুণ প্রমাদ নহে দূরিবার, দুঃখভার ল’য়ে ঝাঁপ দিব জলে মনের অনল নিভিবে তবে ; পাগলিনী হয়ে এ বাসনা ল’য়ে, কেমনে কহ না রহিব ভবে ? যােগিনী। কেন ভয় বাস স্নেহের পুতলি- কি ভয়-দেবতা রাখিবে ততরে ! বদন-সুষমা সরলতা মাখা- মলিন হ’তে কি দুঃখের ঘােরে ? দেহ দেহ মালা হের বালা বসি, কি ফল মিলায় পূর্ণিমার শশী ( মালা গ্রহণ) জান কে সঙ্গিনী! গাও গাও শুনি বিরহের গাথা দুঃখের গান। বিরহ-ব্যথিত আঁধার হৃদয়ে আশার আলােক কর লাে দান! মুমুনা। ব্ৰজ মাঝে শুনি রাধা বিরহিণী—- তার দুঃখ দেবী সকলে জানে! সপি শ্যাম-পদে জীবন যৌবন, পেয়েছিল ব্যথা সরল প্রাণে। প্রমদা । কেহ কৃহে শুনি মিলন হইতে, বিরহ ভাবিতে ভাল; --- { তীয় অঞ্চ। মিলনে পাশরে আপনার সুখ- বিরহ হৃদয়ে আলাে। মাধুরী। আমি জানি দেবি—এক বিরহিণী সদা বিষাদিনী ছিল। মলিন থাকিত—গান ত শুনিনি। নীরবে পরাণ দিল । মহাষ। স্বপনের মত হয় গাে শরণ; অনেক দিনের কথা। দেখিয়াছিলাম এক উন্মাদিনী, গাহিত দুঃখের গাথা। আপনার মনে হাসিত কাদিত, বনে বনে ঘুরে গাঁতি হার। সদা যেন কার আশায় থাকিত, জানি আমি গীত একটী তার। যােশ্বিনী। শুনায়ে সে গীত নৃপ-কুমারীরে, পরায়ে দেহ এ মালা। আশার সুসার হইবে অচিরে, জুড়াবে প্রাণের আলা! মহাস। (যােগিনীর কর হইতে মালা গ্রহণ ও গীত।) গীত (নং ২৯) শীর কিরণে কুসুমের বাস, প্রণয় পুরিত বিচলিত দাস, অনিল উছলে মন-মালা। শিহরে দলিত লতা পাতা ,

শুভ অধিবাস।
( প্রথম
শিহরে সাজে বাজে গুরু উরু,
নিদারুণ দায়ে নবীনা বালা।
চকিত জাগিয়া ৰাস লুকায়
প্রাণধন বিনা বৃথা প্রমদায়,
শুকায় সাধের ফুলের মালা ।
কুসুম-নিগড়ে বাঁধিয় হৃদয়,
আন আন দুতি সে বঁধু নিদয় ।
নয়নের নীরে কহিও সখীরে।
শ্রীপদে পীরিতি পরাণ ডালা #
(সুহাসের বসন্তলতার কণ্ঠে মালা প্রদান )
যােগিনী। ধর ধর পর গলে সাধনার হায়,
অচিরে মনের সাধ মিটিৰে তােমায়।
(স্বগত)
ধন্য রে মনােজ, ধন্য ফুলবণ !
ধন্য সনােহন-অব্যর্থন্সন্ধাৰ ।
শক্ত তুমি রে অনুক্ত অতি-
কটাক্ষে ফিরতে জীবনের গতি।
(প্রকাশে),
যাই আমি আপন কাকল,
নব সুখ আশে কুমাও সোহাগ বালা!
বসন্তলতা'। তব পদে প্রাণ করি সেকি জাদ,
জুড়াক মনেরমাল।
যােগিনী। কেন ভয় বাস মুখোর পর

তৃতীয় অঙ্গ।
৩৯
দেখিবে অচিরে বুঝিবে তখন!
( প্রস্থনােতা )
বসন্তল। যেওনাকো দেবি রহ মম পাশে,
এ দাসীরে ঠেলি যেওনা আবাসে ।
যােগিনী। নির্ভয় হৃদয়ে রহ বাছাধন,
যাব আমি এবে আছে প্রয়ােজন।
{ স্বগত)
নৃপতি-সদনে জানাব নিশ্চয়,
শুভলগ্ন আজি অতীত না হয় ।
যমুনা।
এস দেবি, এই পথে পাইবে দুয়ার।
যােগিনী। দেখিও ব্যাঘাত যেন না ঘটে নিদ্রার ।
(যমুনা ও যােগিনীর প্রস্থান।)
বসন্তলতা। যােগিনীরে ফিরে ডাক সই
জানি কি পাপে প্রাণ কাপে,
মনস্তাপে সারা হই ।
বল বল এ বিপাকে কিসে রই
( ধীরে ধীরে শয়ন।)
(নেপথ্যে যমুনার গীত।)
যমুনা।
গীত (নং ৩০ )
মিলি মধু যামিনী প্রিয় জন সঙ্গ।
আজ সােহগে বিহার সুরঙ্গ।
অমিয়া বরখে বিধু, ফুল বরখে লে মধু।
মধু মলয়ানিলে প্রেম তরঙ্গ ।
জাগ প্রেম উদাসিনী জাগ বা বিরহিণী।
?

৪ ০
শুভ অধিবাস।
[ প্রথম
জাগ সােহাগ-মদ বিভাের অঙ্গ।
বােলরে পাপিয়ারা নি না যাও পিয়ার।
পীরিতি মাতােয়ারা জাগে অনঙ্গ।
(রাজপরিচারিকার প্রবেশ)
রাজপরিচা। হে রাজকুমারি !
নিদ্রায় মগন !
তুলহ সত্বর সহচরীগণ।
নৃপ-অনুমতি
আসিছে কুমার,
সসন্মান সবে পূজ যথাচার।
বসন্তলতা। (জাগ্রত হইয়া)
শুন সখি—
এ কি হায় ফুরাল স্বপন।
(যমুনার দ্রুত প্রবেশ।)
যমুনা ।
এস রাজধালা রাখ আলস্য এখন।
প্রমদা। কেন লাে যমুনে আসিছে কুমার ?
যমুনা। এস এস পরে গুন সমাচার!
(রাজপরিচারিকা ব্যতীত সকলের প্রস্থান।)
রাজপরিচা। রাজার কুমারী-মানি-আদরিণী
যা করে তা শােভা পায়।
সহচরী তােরা, এত কি গরব !
আমাদের কথা কাণে না যায় ?
যাই গিয়ে দেখি কোথায় কি হয়-

গর্ভাৰু ]
তৃতীয় অঙ্ক।
৪১
জুড়াতে দু’দণ্ড নাহিক সময়।
( রাজপরিচারিকার প্রস্থান।)
( রাজকুমারীর বেশে সজ্জিতা মাধুরীকে লইয়া প্রমদার প্রবেশ
ও প্রমদার প্রস্থানােম।)
মাধুরী। কেন সখি চলে যাও ?
কি করিব বােলে দাও--
রহিব কোথায়!
প্রমদা । রহ শয্যায় মগন --
আসিলে কুমার যেন না দেখে বদন
মাধুরী। যমুনা এতও জানে ?
প্রমদা। রহিবে নায়িকা ভাণে !
যাও যাও ঐ দেখ আসে যুবরাজ।
মাধুরী। পায় ধরি ধর তুমি নায়িকার সাজ,
হৃদে বাসি লাজ বড়—তুমিত সকলে দড় ;
আনি আমি আহ্বানিয়া কুমীরে হেথায় !
প্রমদা।
থাক্ মেনে লাজ তুলে রাখ লাে মাথায়,
বদনে বসন দেহ।
মাধুরী।
আর যদি আসে কেহ ?
প্রমদা। বলিব গায়কে আর মাধুরীতে বিয়ে
হবে ত মনের মত রহগে বসিয়ে ?
মাধুরী। হে সখি গায়ক নাকি কুমাররঞ্জন ?
প্রমদ। যমুনা কি তবে বল-বলিল এখন
সচিবের মুখে শুনি কুমাররঞ্জন!
রাজকুমারীর যত প্রশংসা বর্ণন—

n শুভ অধিবাস। {: [ প্রথম ছদ্মবেশে দের্থিবার সাধ হয় মনে, সদুপায় জিজ্ঞাসয়ে সচিব সদনে। সচিবের সহকারে গায়কের বেশ, গােপনে গােপনে কেহ না জানে বিশেষ মাধুরী। দেখা দিতে শুভক্ষণে দেখা হইল ডাল। প্রমদা । ক্রমে মন্ত্রী মুখে সব ভূপতি শুনিল, তুষ্ট তায় নৃপবর দিল অনুমতি ; আজি শুভ-অধিবাসে মিলাতে দম্পতি। মাধুরী। দেখ কি অতুল রূপ, গৰ্ব গরিমার ! প্রমদা । দেখ বুঝে পার যদি বিজয় তােমার ? ( মাধুরীর মুখ আবরণ পূর্বক শয্যায় উপবেশন (যমুনা কুমারকে লইয়া গাহিতে গাহিতে প্রবেশ।) গীত (নং ৩১) হের পুরজনে। অলীক আশ অধিক আজি হের নয়নে রূপের কিরণে চমকে দিক- ভুবনমােহন মদনে ধিক্। চলে যুবরাজ চন্দ্র সুধা বরিষণে ॥ কুমার। . কোথা সােহাগিনী নৃপতি নন্দিনী- কহ সহচরী করুণা করি’? নিদ্রায় মগনা আছিল ললনা- নয়ন নাহি কি ? কহিতে ডরি। প্রমদা।

গর্ভাঙ্ক । তৃতীয় অঙ্ক। ৪৩ কুমার। ( মাধুরীর প্রতি) বদনে বসন কিবা প্রয়ােজন। হেন আবরণ কিসের তরে ? উঠ উঠ প্রিয়ে দেখলাে চাহিয়ে, শিয়াও করুণা অধম নরে ! ( বসন্তলতা ভ্রমে মাধুরীর মুখাবরণ উন্মােচন চেষ্টা, মাধুরীর প্রকাশ।) সকলে। গী ত (নং ৩২) ছি ছি ছি ছি ছুয়ােনা চুয়ােনা রসরাজ রাখ লাজ কুল নারী মরি মরি বল বঁধু কিবা কাজ । কেন হে এমন কর, পায়ে ধরি, পরিহর। ওহে শঠ নটবর, সর সর সর আজ ॥ মাধুরী। যমুনা। কি সাহসে আসে নৃপতি-নন্দিনী এ হেন পুরুষ পাশে ? উদ্ধত সদাই লাজে মরে যাই- ছি ছি হে সকলে হাসে! কেমন তুমি হে শঠ-চূড়ামণি হারিলে নারীর কাছে ? কটাক্ষে জিনিতে পারহ ভুবন হারায় হেন কে আছে। (গায়ক-বালক বেশে বসন্তলতাকে লইয়া সুহাসের প্রবেশ।) হে রাজকুমার, লহ উপহার, কুমার। সুহাস। - শুভ অধিবাস। [ প্রথম প্রমদা। কুমার। যমুনা । কুমার । বালক অতিথি তুমি এখানে। এই যে বালক এও সুগায়ক, নৃপতি-নন্দিনী মােহিত গানে ! ঘুমায় কুমারী বশিরী সমান শুনিয়া ইহার স্বর, তুমি ত পণ্ডিত শুন ক্ষণ গীত, মানিবে মধুর হে কবিবর । শিখাও আমারে বালক ধীমান, শুনাও তােমার সে মােহন গান ! গাওনা, কি লাজ তায় আর । গাও গাও শুনি সুস্বর তােমার ! গী ত ( নং ৩৩) পিক উঁহ কাহে কুঞ্জবনে বিমু বনোয়ারি। ফুল কমল কেন আজ বিকাশল- ম্লান হৃদি কমল হামারি । আকুল আঁখি ঝুরতহি ঝর ঝর-- আকুল অন্তর রােত নিরন্তর । বােলব কোন কঁহা শ্যামর- সুন্দর (পিয়া মঝু ) মাধব মুরারি। বিদগধ মানে না কহি বাণী--- আব না মানে অথির পরাণি । ঐছন নিরদয় কব না জানি কি দোষ করমু ময় নারী। বিহান ভেয়ল জাগল লোেক, বিদায় অন্তর সরমকি শক, ।

গর্ভাঙ্ক ]
তৃতীয় অঙ্ক।
চরণ চলিতে ঘর বাধত খে,
চিত রাখিতে নারি ম
বন-বল্লরী কণ্টক হিয়া’ পরি দাগে,
নটর-কর-লিখন যমু জাগে।
কহব কলঙ্কিনী ননদি বিরাগে,
ভালা মানিনী পিয়ারী।
কুমার।
(গায়ক বালকের আবরণ উন্মােচন পূর্বক
বসন্তলতাকে প্রকাশ করিয়া কুমারের গীত)
গীত (নং ৩৪ )
লুকাইতে পারে কে তায়-
কত বা শারদ-শশী মেঘে ঢাকা যায়।
যে সুধা নয়নে জাগে কমল আননে,
বসনে কি আবরিবে হায়।
হৃদয়ের ধন তুমি এসলাে হৃদয়ে,
দেহ মন জুড়াইতে চায়।
বসন্তলতা। নাথ রমণীর সব সাধ সপেছি তােমায়,
প্রাণ মন বিকায়েছি পায়।
সখী সকলে-
গত (নং ৩৫)
যুগল মিলন কিবা মাধবী-তমাল প্রায়,
ভুবন ভুলান ধন হৃদয়ে-হৃদয়ে হয়।
মধুর হাসির ছলে প্রেমের তুফান চলে,
অষর অধর’পরি সুখ-প্রেম-গাঁথা গায়।

শুভ অধিবাস।
বাসনা কানন ফুল, নাহি নাহি সমতুল,
নয়ন নয়নে মজিপলক ভুলিয়া চায়।
শুভ প্রেম-অধিবাসে, কি সুখে সকলে ভাসে,
আমরি সােনায় নিশা সােহগেজে গলে যায়
.

বলা বাহুল্য যে, সুকবি টমাস মুরের সুবিখ্যাত ‘লালারুক গ্রন্থের ঘটনা লক্ষ্য করিয়া শুভ অধিবাস” গ্রথিত হইয়াছে- নাট্যরসামােদী সুধীসজ্জনগণকর্তৃক ইহা এক্ষণে অনু- গৃহীত হইলে কৃতার্থ হইব। গ্রন্থকার- ==

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Subho-adhibas

Author
Not Available
Title
Giti Natya
File name
Subho-adhibas
Text
OCR done
Citation
1814
Published
2009/10/6
Publisher
Suresh Chandra Dey,calcutta
Language
Sanskrit
Pages
58
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Lyrics
Keywords
Suhash
DLI number
513355
Barcode
4990010020341.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
QwEqYGh0eVc
Download PDF

Subho-adhibas