Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Jibanamay Ed. 1st
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
জীবনময়
কাব্য ।
মদনমােহন মিত্র প্রণীত
১ম সংস্করণ
ঢাকা-স্যমন্তক যন্ত্রে
*টার শ্রীগোপীনাথ বসাক ক
মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
No text on this page.
বিজ্ঞাপন
স্বদেশ প্রীতি, বিলাসশূন্য সংসারযাত্রা, বৈরাগ্য,
জ্ঞান, ভক্তি, পরলােকের ছায়া, বাৎসল্যভাবে উপাসনা,
কবিতার জগদতীত লক্ষ্য, সুখময় জগৎ, এই ক’টি বি-
যয়ে নানা জীবনের কতকগুলি চিত্র অঙ্কিত হইয়াছে।
চিত্রগুলি “জীবনময়” নামে অভিহিত হইয়া প্রকাশিত
হইল। জীবমময় দ্বারা সাহিত্য শিক্ষার্থী ছাত্রগণের
কিঞ্চিদংশেও উপকার দর্শিলে যত্ন সফল মনে করিব।
তি।
মদনমােহন
মিত্র
No text on this page.
জীবনময়
স্বদেশ ভক্ত জীবন।
১
রাখিয়াছি চিরদুখ লুকায়ে হিয়ায়,
না ফুকুরে করি হাহাকার,
না দেখায়ে ঢালি অশ্রুধার,
কত কথা মনে ফুটি মনেই শুকায়।
२.
সুহৃদের প্রেম ভাঙ্গা খেদ নহে মাের,
নহে সুত বিয়ােগেৱ তাপ,
নহে কান্তা বিয়ােগে বিলাপ,
জনমভূমির দুখে হৃদয় বিপাের ।
(১)
স্বদেশ তক্ত জীবন।
কি বিষাদে জননীর এ বিষয় ভাব?
কি তাপে এম ম্লান মুখ?
সরে ত দেখে না কি যে দুখ,
সবে ত বোঝেনা কি যে মায়ের অভাব।
সবে জানে—আছে কত রতনের খনি,
বনে কত পারিজাত হাসে,
গগনে যােণর মেঘ ভাসে,
প্রকতি নয়নমা সবুজ বরণী।
ভূমে ফলে সােণা, নদী ধরে পুণ্যনীর,
সুধাময় বহে সমীরণ,
মধুময় কুজে পাখিগণ,
সাগর পরিখা রূপে, পাহাড় প্রাচীর ।
সে বােঝে, যে দুখেদুখী—কি অভাব আর,
পাখী থাকি সােণার ভবনে,
কি অভাবে যেতে চাহে বনে,
এ অভাব-অপনাতে পর অধিকার।
জীবনয়।
অনুভূতিময় নেত্রে দেখুক যোছে ;
শােভা হাসে বাহিরে বাহিৰে,
ভিতরে ভিতরে দুখ ফিরে,
বহিছে ভারত ভূমি মরমের দহে।
ঐন্দ্রজালী বিতরণ বহিরাবরণ,
ভিতরে করিছে চীৎকার,-
• দুরভিক্ষ বিকট আকার,
সাথে ফিরে নীমারুতি অকাল মরণ !
ভূষিত ভারত বাসী শান্তিবারি হার,
রাজনীতি মরীচিকা প্রায়,
বারিরাশি সমুখে দেখায়,
পরিবারে ধেয়ে ধেয়ে শেষে যায় মার।
চিন্তাশীল আঁখি দিয়া দেখুক ভার,
চারি দিকে নর আলো জ্বাচ্চ,
ভারতের এমনি কপাল,
ছিল যে আঁধার, আজো আছে সে আঁধার
দেশ ভক্ত জীবন।
.
ই ঠাই চিত্র শালা, বিচিত্র বাগান
সারি সারি প্রাসাদ শােভেছে,
ভারতের ভাগ্যে সবি মিছে,
‘ছল যে শ্মশ্মান, অজো আছে সে শন ।
১২
তাপে উন্মীলিত নেত্রে নেহারু আসি,
করুণার আঁখিঅহীন,
দয়ার হৃদয় স্বার্থে লীন,
Fার বদন ভর চাতুরীর হাসি ।
নেহরু-ঘটিয়াছে মােদের যে দশা,
চাকুরি সােণার বেড়ি পায়,
-হুকুমের বােল মাথায়,
বিদেশীর কৃপকণা জীবন ভরসা।
ভার বিদেশীর মনে, এ হাতে লেখনী,
লাভ বিদেশীর হাতে আছে,
ক্লান্তি শুধু আমাদের কাছে,
কথা বিদেশীর মুখে, মাের। প্রতি ধনি ।
জীবনময়।
ছিন্ন হয়ে নৃপকুল-চিহু কেতু গুলি,
• এবে পড়ি মাটীতে লুটিছে,
তাতে রাশি রাশি মিশিতেছে,
বিদেশী দলের চম্ পাদুকার ধূলি ।
ছিনু ভাল, ছিনু মােরা কেবল আঁধানে,
এল বিদেশের খদ্যোতিকা,
চমকিল আলােক কাণকা,
দেখা দিল এ নরক.ভীষ- আকারে।
কভু খেলি পুরাতন জীর্ণ স্মৃতি লয়ে,
স্মৃতি মােরে দেখায় স্বপন,
স্বাধীনতা অতুল রতন,
ছিল দু'হাজার ধর্ষ অাগে এ নিয়ে ।
১৮
ভড়িত জগত জয়ী ভারত-নিশান,
ছিল সৌধ-মেছুভেদী শির, .
ছিল ধনী, জ্ঞানী, কবি, বীর,
ছিলরে জীব অসি, জাগ্রত কামান ।
স্বদেশ উক্ত জীবন।
বিচরিত সাগরে সাগরে রণপোত,
হৰিত না কারু স্বাধীনতা,
দেখাইতে কেবল বীর,
বহাইত বণঝড় প্রতিরের স্রোত ।
হাসিয়া হাসিয়া স্মৃতি দুখীরে কাঁদায়,
কি কাজ ডাকিয়া দূর ব্যথা,
কি কাজ আনিয়া মুক্ত কথা,
কি ফল গৌরব করি লুও মহিমায় ।
হৃদয়ে নাহিক তেজ, ভুজে মাহি বল,
জ্বলন্ত সাহস নাই বুকে,
জীবন্ত কিরণ নাই মুখে,
দৃঢ়তা নাহিক মনে, বােদন সম্বল। .
: বিদেশীরা অ ঢাল স্তুতি নাহি শোনে,
“কত অশ্রু বনে গেল মরা,
ঢালিনা ভিক্ষার অশু সারা,
খানিক আরাম পাই অশ্রু বরিষণে।
জীনময়।
নবাগত বিদেশীর প্রতি আশা ছিল,
করিবেক ভারতের হিত,
ঘটাইল তার বিপরীত,
উভয়ত মিশামিশি নাহি উপজিল।
২৪
রহিয়াছে-কি এক পাষাণময় বাধা,
গঙ্গা যমুনার জল রাশি,
মিশিল না-এক ইইি.আসি,
ভারতে কি মিশে নারে কাল আর সাদা ?
কোথা আমি ক্ষুদ্র কীট, কোথা দেশোদ্ধার,
কি ফল মাতিয়া দুরাশায়,
কি ফল বিফল ভরসায়,
বিধি কৃপা বিনে দুখ ঘােচে কবে কার ?
२५
ম এবে কপাল দোষে পরের অধীনা,
তা বলে কি ছেড়ে যেয়ে মাকে
মা বলিব অপর কাহাকে ?
ছেলে কি সুখেরি ভাগী, দুখে কি দুখী না ?
স্বাদশ ভক্তজীবন।
২৭
বিপন্ন মায়েরে ফেলে চলে যায় যারা,
লুকায়ে দুখিনী মা’র নাম,
ভাই দিগে ভাবিয়ে গােলাম,
হয় পরদেশ বানী-কুসন্তান তারা।
২৮
ধিক্ তারে পর ধনে যার তুষা লেশ,
চাহিনা পরের রম্য সাজ,
রম্য পর দেশে নাহি কাজ,
অধন অমান হৌক্ তবু নিজ দেশ।
স্বদেশের নাবিকের সুর ভাঙ্গা গম,
স্বদেশের ভাঙ্গা কুড়ে গুলি,
স্বদেশে পথের কাদা, ধূলি,
জুড়ায় এ অধীনত তাপিত পরাণ ।
স্বদেশে দিবার শেষে শাকান গ্রহণ,
যদি বা স্বদেশে উপবাস,
স্বদেশে পরের ঘরে বাস,
শ্লাঘনীয় ভাবে, পর দেশ-৩ জন।
জীবনময়। স্বদেশের কারাগারে আছি, এই ভাল, দ্বীপান্তরে যাইতে চাহিনা, স্বভূমিরে ভুলিতে পারিনা, স্বভূমি মায়ের মায়া এ আঁধারে আলো। দরিদ্রতাময়—তবু জননীর কোল, হাহা-তবু জননীর ভাষ, উষ্ণ-তবু জননীর শ্বাস, শোকে তাপে ভরা-তবু স্নেহের হিল্লোল। হিংস্র বিভীষিকাময়-তবু মাতৃবন, তরজে তরঙ্গে ভয়ঙ্কর- তবু স্বদেশের জলধর, নিদাঘে তপততবু মা’র পরশন। মা হারায়ে সুখ ভােগ চাহিনা জীবনে, মাকে নিয়ে যদি যেতে পাই, তবেই স্বরগ পুরে যাই, তাও ভাল—যদি ডুবে মরি মা’র সনে।
স্বদেশ ভক্ত জীবন।
স্বদেশেরি ভাবনায় হােক আয়ু শেষ,
অভিলাষ আর কিছু নাই,
আমার শরীর হয়ে ছাই,
স্বদেশের মাটীতে মিশু অবশেষ।
স্বদেশের দুখে অশ্রু ঝরে যে নয়নে,
সেই নয়নের কাছে রাখি,
আমার এ অশ্রুঝরা আঁখি,
পরাণ খুলিয়ে কাদি, এই সাধ মনে।
হদে আছে শুকতি, স্তুতির গীত কর,
হৃদে আছে কত অশ্রুকণা,
হৃদে আছে ফুটিয়া বাসনা,
পূজিব মায়েরে, এই আজীবন ব্রত।
জনম ভূমির পদ ছায়ায় থাকিব,
জনম ভূমির দুখ-গীতি-
গাব নব নব নিতি নিতি,
স্বদেশ ভকতি লয়ে জীবন যাপিব ।
কৃষকজীবন
প্রথম দৃশ্য।
বিরাজে কৃষকপল্লী নর রণ,
মিশামিশি শত শত কুটীরে কুটীরে,
দু’দিকে বিশাল মাঠ আর দিকে বন,
নিয়খিনু বঙ্গদেশে তটিনীর তীরে।
সে নদীতে ঢেউ পরে ঢেউ লয়ে বুকে,
দুলি দুলি ধীরে এক তরী চলি যায়,
(ঢউ তােলা হাসি যেন নিশানের মুখে,
পল্লীবাসী ছেলে দল মিলি দেখে হয় ।
সে মিলিত চাহনি চঁাদের কন্যা রাশি
সমীপে পুলিনে, যেন পূণিমা ছড়াল,
পরাণের এককণা তিমির বিনাশি,
তরী আরােহীর চোখে নিমেষে ফুল ।
১০
কৃষকজীবন।
৪
আগুসরি যায় তরী, আরােহীরা দেখে-~-
আসিছে কলসী কাকে ঘাটে কত নারী,
কেহ কোলে তোলে ছেলে কসীটী রেখে,
ডুবায় কলসী কেহ তুলিবারে বারি।
কলসী দোলায়ে জল সরাইছে কেউ,
ধীরে ধীরে সরে বারি হেলিয়া দুলিয়া,
আঁখির পলকে বেগে অসি এক ঢেউ, .
শিশুর মতন কোলে ওঠে ঝাঁপ দিয়া ।
নিমজিত কণ্ঠে কত কুমারী রয়েছে,
স্নেহের কমল গুলি ভাসে যেন ফুটি,
শৈবলে জড়িত হয়ে অধিক শােভেছে,
বিরাজিছে মায়ার ভ্রমর দু’টি দুটি।
৭
গায়েরে ছাড়িয়া কোনাে বালক চপল,
ডুবি ডুবি সাঁতারিয়া কিছু দূর চলে,
শােনননা.মায়ের মানা, বিলােড়িছে জল,
অমনি জননী তাকে টেনে আনে বলে।
জীবনময়।
কোনো ছেলেখেলা করে কাদা মেখে গায়,
মেয়ের গায়েয় কাদাপােয় কোনাে নারী,
কোনাে শিশু নিকটে নাহিক হেরি মায়,
মাকে খুজে ফিরে মুখ নেহারি নেহারি ।
ঘােমটায় মুখ খানি ঢেকে ডুব দিয়ে,
জল হ’তে ঘােটা সহিত উঠি তীরে,
জলবিন্দু কোটি কোটি ছেলে যেন নিয়ে,
চলিল গৃহের দিকে নববধূ ফিরে ।
কেহ নেয়ে উঠি ভরা কলসী রাখিয়া,
গামছা জড়ায়ে চুলে নিরিছে জল,
স্নেহ ময় ফোটা ফোটা সলিল ঝরিয়া,
অবনী হৃদয় যেন করিছে শীতল।
১১.
জল ভরা কলসী লইতে কঁাকে তুলি-
মেয়েটী পারেনা, কেহ উঠাইয়া দিল,
তরণী সরিয়া গেল, যেন ছবিগুলি-
দূরতর গৱাশে পশিয়া লুকাইল ।
কৃষকজীবন।
।
দ্বিতীয় দৃশ্য।
বুঝিরে ত্যজিয়ে মণি রতন ভূষণ,
পরিয়ে মক্ষিন বাস,
কমলা করেন বাস,
কৃষকের কুটীর ভবন।
একই চন্দ্রিকা যথা শত সরােবরে,
সে:মৃত সাগর সুতা,
বিরাজেন কৃপা যুতা,
এই পল্লী মাঝে ঘরে ঘরে।
মারবল, নিরমিত সুরম ভবনে,
রতন আসনােপরি,
মায়েরে যতন করি,
রাখিতে নারিল ধনি-গণে।
৪
ছলে বলে যে ভূপতি রাখে কমলারে,
সে ত প্রতারিত হয়ে,
রত্ন রাশি বুকে লয়ে,
থাকে স্বর্ণময় কারাগারে।
জীবনময়।
যে গৃহে অকৃপাবতী কমলার বাগ,
সে
নিলয়ে দুখ ভরা,
সুখের গিলটী করা,
শালে যেন ঢাকা কুঠ রােগ ।
নিশান উড়িছে যেই প্রাসাদ চূড়ায়,
কামান প্রহরী দ্বারে,
সিংহ মূর্তি ভীমাকারে,
দীন সেথা বৃথা যেতে চায়।
৭
ভমে যদি কভু কোনো দীন হীন জন
কৃষক কুটীরে-যায়,
সেই ত জানিতে পায়,
সেথা দয়া বিরাজে কেমন।
মণি রহে খনি মাঝে লুকাইয়া মুখ,
কৃষকের নিকেতনে,
দীনতার আবরণে,
ঢাকা আছে গৃহ-শাস্তি সুখ ।
কৃষকজীবন।
দেখিনু অতিথি বেশে যেয়ে সেই খানে,
কিছুরি অভাব নাই,
মরতে স্বরগ ঠাই,
শােক তাপ কেহ নাহি জানে।
ভাবিলেম বালুকায় রতনের রেণু,
ঘরে কত দেব বালা,
বনে কল্প তরু মালা,
চরে শত শত কাম ধেনু।
বিরাজেন রাশীকৃত সেথা ধান্য দেবী,
কমলার সহচরী
কৃষি অমৃতেশ্বরী,
কৃষক অমর তারে সেবি।
কুটীরে স্বরগ ছায়া মনে লয় হেন,
কাঙ্গাল গৃহিণী সাজে,
বেড়ায় পল্লীর মাঝে,
•ান্তির প্রতিমা গুলি যেন।
৭
জীবনময়।
১৩
নাহি জানে হাব ভাব বিলাস চাতুরী,
কথা সাদা সিধা খােলা,
মন যেন ভোলা ভোলা,
মুখে মাখা করুণামাধুরী ।
১৪
বৎসল ছায়াময় যেনরে লাবণী,
হাসি যেন স্নেহ ঝরা,
যেন স্নেহরাশি ভরা
করুণ সরল চাহনি।
দয়ামাখা নিরমল সুকোমল মতি,
সুত পালনের মত,
অতিথি সেবায় রত,
অতুল উদার মায়াবতী।
জগতে কাহারাে এক মাতা বিনা নয়,
শত শত মাতা ভবে,
নিরখিবে যদি, তবে
একবার এস এ নিলয় ।
১৮
কৃষকজীবন।
ইচ্ছা হয় চিরতরে হইগে অতিথি,
সেথা সুধাময় জল,
ধুময় বনফল,
মধুর শকান্ন নব নিতি ।
তৃতীয় দৃশ্য।
অঙ্গনের কোণে বলি হাতে নিয়ে কুলো,
ধান ঝড়ে একনারী,
প্রাণের শিশুটী তারি,
কাছে খেলে-গায় মাখে ধূলাে :
২
হামাগুড়ি দিয়া চলে, আবার দাঁড়ায়
এলাে মেলাে পদ ফেলি,
ঢুলি ঢুলি হেলি হেলি,
লক্ষ্য ছেড়ে আদিকে যায় ।
ভূমে পড়ি, ক্ষণে উঠি, পুন এসে ফিরে,
দাঁড়ায় মায়ের পিছু,
ধরিতে না পেয়ে কিছু,
ঘুরে এসে ধরে কুলােলরে ।
জীবনময়।
মা উহারে মৃদুহাতে দেয় সরাইয়া,
মায়ের পরশ হারা-
হইয়ে অধীর পারা
কাদে বাছা ধূলায় পড়িয়া ।
৫
মা অমনি স্নেহময় সান্ত্বনার বোমে, '
| হাতের কুলােট ছেড়ে,
গার ধূলাে গুলো ঝেড়ে,
বাছারে আদরে লয় কোলে ।
মা’র মুখ পানে চেয়ে অধি অধ ভাবে,
অফুটে কি জানি বলে,
আঁখি ঘেরা অশ্রু জলে,
তিলেকে আবার বাছা হাসে ।
৭
মেহের পুতলী যেন হেসে, পড়ে গলি,
দেব মুকতার প্রায়,
চাদ মুখে দেখা যায়,
কটি নবদশনের কলি।
কৃষকজীবন।
অভিনব বিকশিত মায়াময় হাসে,
যেন দিব্য কোমলতা,
পুণ্যের সুবিমলতা,
স্বগের পবিত্রতা ভাসে।
মথি মথি মরত জীবন পারাবার,
বিকাশে সদয় বিধি,
সুতরূপ সুধা নিধি,
সেই জানে সুত আছে যার।
ক্ষণে আধ ঘুমে শিশু জননীর কোলে,
মুদো মুদো আঁখি দুটী,
চমকি চমকি উঠি,
এক একবার আঁখি খােলে ।
১
ধীরে ধীরে কোলে মাতা শিশুরে দোলায়,
ভালে ঘাম বিন্দু বিন্দু,
আচল চালনে মৃদু,
সেই গয় বাতাস বহায়।
জীবনময়।
* ১২
অনিমেষ নয়নেমা রয়েছে চাহিয়া
শিশুর বদন পানে,
শদ পশিলে কাণে,
শিশু কেঁদে ওঠে চমকিয়া।
ঘুম ঘােরে বুঝি হেরি স্বপন, আবার
অফুটে অফুটে কঁদে,
ক্ষণেকে কপােল চাদে,
উদে হাসি ঢেউ অমিয়ার ।
জননী সে চঁাদ মুখে দেয় স্তন আনি,
ঘুমেতে দুগধ পিয়া,
শিশুর মুগধ হিয়া,
অবশ কোমল তনু খানি।
ঘুমেতে ও বােঝে শিশু মায়ের পরশ,
মায়ের গায়ের বায়,
দুখ তাপ দূরে যায়,
আসে শান্তি আরাম হরষ ।
কৃষকজীবন।
১৬ ।
সুত বিনা নিখিল জগত্ যেন মৃত,
তনয়ের সুখে সুখী,
তনয়ের দুখে দুখী,
যেই সদা সেই ত জীবিত।
শিশু তনয়ের তনু মাখা ধূলি কাদা,
না লাগে শরীরে যার,
বিফল শরীর তার,
এ জগতে সেই দুখী সদা।
১৮
বিলাসিনী ধনিনীরা লভিয়া নয়,
পােষে তারে ধাত্রী দিয়া,
তাতে কি জুড়ায় হিয়া ?
: পিক কাকলীলা মনে হয়।
কৃষক ললনা দীনা মলিন বসনা,
* জীবন,বনের পাখী-.
সুতে লালে বুকে রাখি,
পুরে সেই সুখের বাসনা।
জীবনময়।
চতুর্থ দৃশ্য।
ছড়ায়ে শ্যামল আভা
সন্ধ্যা এল ধীরে ধীরে,
পড়িছে শামছায়া,
নদীর বিমল নীরে।
মিশিছে শ্যামল ছায়া,
হরিত বনালী শিরে,
চলে রূযীবল দল,
ধেনু পাল লয়ে ফিরে।
ভাঙ্গা চুরা মেঘ গুলি,
ছাইল গগন তল,
আকাশ চসিল যেন,
প্রকৃতি চালায়ে হল ।
-
৪
জনমিয়া রাশি রাশি,
শান্তি মুখ কৃষি ফল,
বুঝিরে রজনী কালে
বেয়াপিবে ভূমণ্ডল।
কৃষকজীবন। নিদাঘের সন্ধ্যা বায়ু, সেবি পুলকিত মন- আপন আপন গৃহে আইল কৃষক গণ । শ্রম করে সারা দিন, প্রখর আতপে যারা, মধুর বিশ্রাম সুখ নিশাকালে লভে তারা। ৭ অলস বিলাসী জন, শ্রমেতে পরাঙমুখ, পায়না আহারে তৃপ্তি, "লভেনা নিদ্রায় সুখ। ঘামবিন্দু হীন দেহে, বৃথা সুশীতল বায়ু, যে মানব কাৰ্য্য হীন, বৃথা তার পরমায়ু।
জীবনময়।
সংসারের হিত ব্রতে,
সদা যেই বত রয়,
তার কাছে এ জগত
বিমল আনন্দ নয় ।
ভবের হিতের কাজে
কৃষক যে মতি রত।
এ মরুত পুরে তার
:কে আছে রে এই মত?
১১
কৃষকের বাতাতপ,
প্রবল বরষা সঙ্গে,
সে শুভ যতন গুণে,
মানব জীবন রহে।
:১২
কৃষকেরা জনমায়,
জগতের মূল ধন,
তা হতেই রাজধানী,
রাজ হ… রাজান।
কৃষকজীবন। কৃষক শশাণিত জাত- জগতের শিল্প সাজ, সে শােণিতে পিড়ামি, সে মহাপুতুল, তাজ। ১৪ ভাবিয়ে দেখিলে-রাজা, কৃষকের অনুগত, বিনয়ী কৃষক তবু : রাজার চরণে নত । ১৫. আপনারে নীচ ভাবে, কৃষকের এই রীতি, কৃষকেরা শিক্ষা দেয়, জগতে ধরম নীতি। পঞ্চম দৃশ্য। নিশায় কৃষক এক, বসেছে আপন ঘরে, গৃহিণী যােগায় পানি, নৈশ আহারের পরে ।
জীবনময়। ' ,
ওবধ নীরব পল্লী, •
ঘুমায়েছে শিশু সব,
বউকথাকও পাখী
থেকে থেকে করে রব ।
ঘরের দুয়ার খোলা,
পশেছে চাদের ভাতি,
তাহে ঘর আলােকিত,
কি কাজ জ্বালিয়া বাতি
৪
মা হেরিয়ে সারাদিন,
আঁখি যেন তৃষাতুর,
এবে প্রিয়া রূপ পিয়া,
করে মনোরথ পূর।
কটাখ, চাতুরী নাহি,
তবু আঁখি ভাব ভরা,
উদার সরা হাসি,
সরল হৃদয় হরা ।
কৃষকঙ্গবন।
'.
**
নহে ঝুঠা অনুরাগ,
নাহি কলুষিত লাজ,
জানেনা ফুলের মালা
. গাঁথিয়ে করিতে সাজ।
ক
৭
জানেনা বাধিতে খােপা,
জানেনা পাকাতে বেণী,
এলিয়ে পড়েছে চুল,
পরা মােটা ধুতি খানি।
চাহেনা সােণার হার,
পরেছে পুতির মালা,
পরেছে কাচের চুরি,
চাহেনা সােণার বালা।
.
যুবতী নাথের পানে,
চাহিছে সরল দিঠে,
বিলম্বে পলক ফেলে
তবু নাহি সাধ মিঠে ।
জীবনময়।
দম্পতী আলাপে নহে-
রসিকতা পরিপাটি,
যাহে মিহি তার কলি,
সে সােপাত নহে খাটি।
১১
যে প্রেমে কলুষ বিষ,
বিলাসীর তাহে ক্ষুধা,
এ প্রেম সাগরে সুধু,
নিহিত বিমল সুধা।
১২
অকলুষ প্রেম লীলা,
যদি বরণিবে কবি।
দেখে নেও একবার,
কৃষকদম্পতী ছবি ।
যষ্ঠ দৃশ্য।
নূতন মেঘের জলে-
সিকত ধরণী তল,
সরু সরু ধান গাছে,
মেলেছে নূতন দল ।
৩}
কৃষকজীবন।
পাতলা সবুজ রঙ্গে-
এবে সারা মাঠ ঢাকা,
স্বভাবের ভূলিকায়
যেন রে ছবিটি আঁকা।
কিছু দিনে বষা ত
নূতন যৌবন পেল,
বাড়িল ধানের গাছ,
নূতন জোয়ার এল।
৪
ক্ষেতের বুকের পরে,
অলপ অলপে চলে।
ধান বনে লুকাইয়া,
ঢেউ হাসে তলে তলে।
সাঁতারি সারি খেলে,
বালি হাঁস জোড়া জোড়া,
ধীরে ধীরে চরে বক,
সুগভীরে ডাকে কোড়া।
জীবনময় ।
নিবিড় সবুজ আভা,
সারা মাঠ ছড়াইল,
নূতন ধানের ছড়া,.
কিছু দিনে দেখা দিল।
৭
বাড়িল বরষা স্রোত,
ডুবু ডুবু ধান কাছ,
আড়ালে অাড়ালে ভেসে,
ঝাঁকে ঝাঁকে ফিরে মাছ।
হাসে কত পদ্ম ফুল,
ভাসে কত পদ্ম পাত,
কুমুদ, কমল-কলি,
দোলায়ে বহিছে বাত।
সিঙ্গারা শৈবালে ঘেরা-
কলম্বী কুসুম হাসে,
ছােট ছােট নৌকা গুলি, .
ছুটে ছুটে যায় আসে।
কৃষকজীবন।
বউটী অনেক দিন,
রয়েছে মায়েরে ছাড়ি,
বড় আশা,. বরষায়,
যাইবে বাপের বাড়ী।
চৌদি জলের পানে,
বার বার দেখে চেয়ে,
চমকি চমকি ওঠে,
নৌকার শবদ পেয়ে।
স্বামীর আলয় হতে,
আজি বরষেক পরে,
প্রাণের নন্দিনী এল,
এক কৃষকের ঘরে।
সুখের বাপের দেশ,
সােণার বাপের বাটী,
ধেন রে পরশ মণি-
জনম গৃহের
যাত্রী
জীবনময়।
ছেলেটীরে কাকে কোরে,
মা’র কাছে মেয়ে গেল,
শরদের উমা যেন
বরষার কালে এল।
সােণার প্রতিমা মেয়ে
ফিরে আসে ঘরে যার,
মাটীর প্রতিমা তবে,
কি কাজ গড়ায়ে তার ।
উথলিল মা’র মনে,
দুখ ভেদি সুখ রাশি,
গায়ের নয়নে জল,
মেয়ের বদনে হাসি ।
১৭
মায়ের জুড়াল আঁখি,
পূরিল মনের সাধ,
পূণিমা চাঁদের কোলে,
হেরি দ্বিতীয়ারচঁাদ।
কৃষকজীবন। যুবতী হইলে মেয়ে, মাকি তারে কোলে নেয় ? আপন বদলে মেয়ে, ত। মা’র কোলে ছেলে দেয়। ১৯ নাতিটীরে কোলে এনে, সােহাগ করিছে আই, এ নিয়ে উছসিত- সুখের কিনারা নাই। প্রকৃতির লীলা রঙ্গ বঙ্গে; কত বরষায়, কৃষকের আশা বাড়ে, ভাবী দিন ভরসায় । সপ্তম দৃশ্য। হেমন্তের শেষ ভাগ, কৃষক মানস লােভা, পল্লীর সমীপে কিবা- বিশাল মাঠের শােভা।
জীবনময়।
অমেঘ গগন তল, ..
অসীম নীলিম কায়,
বাঁকিয়ে পড়েছে যেন,
দূর হতে দেখা যায়।
হরিতিম বনালীর,
মাঠ সীমে বাঁকা রেখা,
যেন রে গগন তায়-
মিশিয়াছে, যায় দেখা।
জুড়িয়ছে আধ মাঠ,
মুফলিত ধান যত,
ছড়ায় সােনার আভা,
ভারে আধ অবনত।
মাথায় সােনার চূড়া,
অমর বাহিনী যেন,
মানবের শান্তি হেতু,
ভবে এল, ভাবি হেন।
ককজীবন। অথবা বাসব যেন স্বর্ণরাশি বরষিল, ধানের আকার ধরি, মানবেরে দেখাদিল । দোলায়ে ধানের চূড়া, বহে বায়ু শর শরে, কমলা চরিত গীত- গেয়ে যেন মাঠে চরে। শােভিছে সরিষা ফুল, একদিকে বেয়াপিয়া, মহীর ভূষণ যেন, গড়া কাচা সােণা দিয়া। ৯ একপাশে উচু ভূমে, কল, শাক-নানাজাতি, একই সদুজে, নানা- ঈৎ পৃথক ভাতি.
জীবনময়। ৩৭ আর দিকে ইক্ষু বন, ছড়ানাে দীঘল পাতা, ক্লান্তি পরবশ তনু কৃষকের ছায়া দাতা। প্রান্তরের আর দিক- জুড়িয়া রয়েছে ঘাস, বিলােকন বিনােদন সবুজ বরণ ভাস। এই গােচারণ ঠাই- চরিছে গাভীর পাল, বাছুর বেড়ায় নেচে, ঝুলিছে নাভির নাল। একবার নেচে নেচে, চলে যায় বহু দূরে, আবার গাভীর কাছে, চলে এলে ফিরে ঘুরে
কৃষকজীবন।
১৪
ছাড়ি ছাড়ি ধরি ধরি,
সুরভীর স্তন গুলি,
উছলি উছলি বাছা,
দুধ পিয়ে মুখ তুলি।
স্নেহময়ী গাভী মাতা,
লেহে বৎসের দেহ,
এ নিখিল চরাচরে,
অতুল, মায়ের স্নেহ ।
ওইযে কাতরে ডাকে,
মুরভী বৎস হারা,
একদিকে চেয়ে আছে
করিছে নয়নে ধারা।
১৭
ওইযে রাখাল দল,
এদিক ওদিক্ ধায়,
খেলায়, বিবাদ করে,
হাসে, কঁাদে, লিচে, গায়।
জীবনময়। ওইযে গরজি শ্বাসে- রাঙ্গা চোখে নত ঘাড়ে- সিঙ্গে সঙ্গে লাগাইয়া বিবাদিছে ষাড়ে ষাঁড়ে। সেইত পবিত্র ঠাই, যেইখানে গাভী চরে, গাভীর পরশ সদা ধরার কলুষ হরে । বংসের পান শেষ- পয়ঃ ফেণা কণা ঝরে, সিকতিয়া গােচারণ- নিতি নিতি পূত করে। === নরের অপর মাতা, গাভী এই চরাচরে। গাভীর যতনে ধরা, নরের জীবিকা ধরে।
কৃষকজীবন।
অষ্টম দৃশ্য।
হাসিয়া পূরব দিক্, কৌতুক লীলায়
মেঘের উপর দিয়া সােণা দিল ঢালি,
নিমেষে তটিনী তনু হয়েছে সোনালী,
মাঠে শালি মিশিয়াছে সােণায় সোনায় ।
শীবল দল কৃষিফল অনুরাগী,
বাহিরিছে পল্লী হ'তে চিত কৌতুহলে,
সােণার আকর—মাঠ পানে দ্রুত চলে,
জীবিকার স্বর্ণ ফল আহরণ লাগি ।
মরকত হইতে রতন মূল্যবান্,
রতন হইতে বহুমূল্যের মাণিক,
মাণিক হইতে মূল্য ধরে সমধিক
আপন যতন জাত সুফল নিধান।
৪
পাকা ধান গাছ এবে, কাটে সবে সুখে,
সােণর বরণ ছড়া ছড়ায়ে ছড়ায়ে,
পড়িতেছে চারিদিকে গড়ায়ে গড়ায়ে,
হাসির তরঙ্গ যেন বসুধার মুখে ।
জীবনময়।
'?
শুক পাখী মেঘের মতন ঝাঁকে ঝাঁকে,
উড়ি উড়ি পড়িতেছে ধানের উপর,
তাড়াইছে কৃষীবল-বালক নিকর;
যায়, পুন আসে, নাহি যায় নাহি থাকে ।
কৃষকেরা মাথে বয়ে গৃহে আনে সব,
পল্লী মাঝে শুভদিনে নবান্ন পরব,
ঘরে ঘরে মেয়েদের হুলহুলি রব,
রােপে কলিকা, স্থাপে ঘট সপল্লব ।
সদা রত কৃষক প্রকৃত উপকারে,
এদের গুণের পানে কেহ নাহি চায়,
সবে সুধী কবি বীরদের গুণ গায়,
না হেরে হৰ্ম্মেরুভিত, পতাকা নেহারে ।
অনেকে হিতৈষী বাজি গরবে বেড়ায়,
আকাশেরে বেঁধে এনে ভেল কী কথায়,
সুললিত উচ্চ রব জগতে ছড়ায়,
শূন্যের সে বুদবুদ শূন্যে মিশি যায় ।
কৃষকৰ্জীবন ।
কত হিত করে তরু জনমিয়া ভবে,
কোন কালে গরবের কথাটা না কয়,
সেরূপ গরব হীন কৃষক নিচয়,
জগতের উপকার সাধিছে নীরবে।
সলিলের সেক, আর মাটীর আশ্রয়,
বীজের শকতি, সুরভীর সহায়তা,
কৃষকের শ্রম, এই পাঁচের একতা,
মানবে সজীব রাখে মরত নিলয় ।
আদি পুরুষের হাতে ছিল যে লাঙ্গল,
তায় ছেড়ে দিয়ে কালে তার সুতগণ,
করেছে ধনুক, অসি, লেখনী, ধারণ,
রাখিয়াছে হাতে তাঁয় কৃষক কেবল ।
আদি আৰ্য কুলের যে ছিল রীতি নীতি,
কৃষক পালিছে তায়, সেইমত বাস,
সেইমত গােপালন, সেইমত চাষ,
আদিম ধরম ব্ৰতে কৃষকেরা কৃতী।
তাপস জীবন । প্রথম দৃশ্য। হিমালয়-হৃদে এক মনাে বিনােদন- সুরম নিভৃত ঠাঁই, যাহার উপমা নাই, কোথাও মরত পুরে, ভারতের শান্তি নিকেতন। २ উদার উদার দৃশ্য মধুর মধুর, বিরল বিরল তর, রাজে নানা তরু বর, মাঝে সমতল ভূমি, কুটীর আবাস নাতি দূর ।
তাপসজীবন
সেথা তরুমূলে এক শান্ত দয়শন,
বিনােদ উদার ছবি,
যেন রে তরুণ রবি-
পরেছে উষা রঙ্গানাে-
বারিধর গেরুয়া বসন।
---
বসিয়াছে ধরাশনে উজল মূরতি,
বরণ তপত সােণা,
হরষের অশ্রু কণা,
বুলিছে নয়ন কোণে,
উথলিছে হৃদয়ে ভকতি।
স্বরগীয় ভাবময় পুলকে পুলকে-
যেন তরঙ্গিত কায়া,
বদনে আনন্দ ছায়া,
খেলিছে দয়ার দ্যুতি,
নয়নের পলকে পলকে।
জীবনময়।
এ সময়ে পেখমে পথিক এক জন,
তাপসের কাছে গিয়া,
দাঁড়াইল প্রণমিয়া,
. নবীন অতিথি পেয়ে,
তাপস করিল আলিঙ্গন
তাপসের রােমাঞ্চিত তনু পরশ
নবাতিথি বিমােহিল,
ভাবে তনু শিহরিল,
নূতন জোছনা যে,
প্রবেশিল তামস জীবনে।
ভকতি ভাবের হেন শকতি বিকাশ,
দীপে হথা দীপ জ্বলে,
এক হৃদয়ের বলে,
অপর হৃদয়ে হয়,
নুতন ভাবের পরকাশ।
(১,
তাপসজীবন।
বৃথা উপদেশ রাশি, অধ্যয়ন ভার,
পলকের দরশনে,
তিলেকের সুঘটনে,
ঘুচে যায় চির চিন্তা,
খুলে যায় মনের দুয়ার।
চির পরিচিত ভাব ময় বিলােকনে,
তাপস পধিক পানে,
নেহারে অভেদ জ্ঞানে,
তাহে পরিচয় ভাব,
উথলিল পথিক-নয়নে।
শুভ ফল দায়ীক্ষণে নয়নে নয়নে,
উপজে যে পরিচয়,
সে ত হইবার নয়,
লােক রীতি অনুযায়ী,
সম্ভাষণে শত আলাপনে।
জীবনময়।
৭
পথিকের কিবা নাম, কোন্ ঠাই ঘর,
আগমন কি লাগিয়া,
কি কাজ তা জিজ্ঞাসিয়া ?
স্বতঃ পরিচয় স্থলে
ক্ক জিজ্ঞাসার অনাদয় ।
সহ সরলতা ময় অমিয়া বচনে,
তাপস পথিকে কয়-
যদি তব রুচি হয়,
বাসকর কিছু দিন,
এ তাপস বন নিকেতনে।
১৪
পথিক সরল ভাষে, বিকাশি ভকতি,
তাপসেরে নিবেদয়,
যদি তব দয়া হয়,
মনে আশা-আজীবন,
এ আশ্রমে করিব বসতি।
৪৮
তাপসজীবন।
প্রভু! তব দরশনে ভুলিনু অবাস,
ঘুচেছে সংসার মায়া,
ও কৃপার চির ছায়া,
যাচে এ তাপিত মন,
পেয়ে নব আশার আশ্বাবু।
১৬
অঙ্গুলি নিদেশি প্রভু পথিকে দেখায়,
ওইযে কুটীর রাজী,
সেই খানে গিয়ে আজি,
পথ শান্তি কর দূর,
হেথা দেখা হবে পুনরায় ।
এছ"
১৭
প্রণমিয়া তাপমের চরণ যুগলে,,
চলিল পথিক বর,
শারদীয় বিভাকর,
বিরাজিছে এ সময়,
মাঝখানে আকাশ মণ্ডলে।
*
ীবনয় ।
দ্বিতীয় দৃশ্য।
পথিক চৌদি গিরি-সুষমা নেহারে,
জলদ গগনে চুরে,
দলে দলে থরে থরে,
লঘু লঘু সাদা সাদা,
নীল নীল ঘন ঘনাকারে ।
মেঘের উপর দিয়া মেঘ নেচে যায়;
এক যায় আর এসে, .
বায়ু স্রোতে ভেসে ভেলে,
অসীম গগনে ফিরে,
কাল দেয় চুড়ায় চূড়ায় ।
শাল শাখা চুমে আনি নামি মেঘ দল,
ডালে ডালে বায়ু বেগে,
কোলাকোলি মেঘে মেঘে,
ঝরে যেন, শেফালিকা-
পড়ে ধারা বিরল বিরল।
•
তাপসজীবন।
ডুবিয়ে রয়েছে রবি জলদ মাঝার,
কভু কভু যায় দেখা
আলােকের বাঁকা রেখা,
কভু তেজোহীন ছবি,
কভু তেজো রাশি গােলাকার।
নিম্ন দিকে চেয়ে দেখে নীল মেষ রাশি,
সাগর গিরিরে বেড়ি;
যেনরে রেখেছে ঘেরি,
উদার ওজন্ধী ভাব
দরশনে মনে ওঠে ভাসি।
উঞ্জে অধৈ গভীর গভীর গরজন,
চপলা বাণের প্রায়,
অধে নামে উন্ধে ধাঁয়,
আশ্রম সােপানে যেন,
পুণ্য পাপ দেবাসুরে রণ।
জীবনময় ।
* ৭
ধীরে ধীরে লক্ষ্যপথ করি অতিক্রম,
নিরখিছে যেয়ে কাছে,
পাশাপাশি রহিয়াছে,
অলপ অলপ দূর--
ঠাই ঠাই তাপস আশ্রম।
৮
একটী অাশ্রমে পশি চারিদিকে চায়,
নেহারে কুটীর পাশে,
বনে স্থল পদ্ম হাসে,
পাদপে সুরম্য কল,
নীরে নিরমলতা খেলায় ।
বিচরে পবন ক্লান্তি-হর সুখ,
মন্থরা ওধা ভরে
কামদুঘ ধেনু চরে,
ছড়ায়ে রয়েছে জুমে,
উদ্ভু আহরিত রত্ন চয়।
.
তাপসজীবন
ক
নিরখিল রূপ এক স্নিগদ উজল
বদনে প্রতাপ যটা,
রাজে রাজ তেজঃ ছটা;
বীর রসে শান্ত রসে-
মাখা যেন লােকন সরল ।
• ১১
মৃদু হাসি, সম্ভাষিয়া মধুর গম্ভীরে,
মেহময় সমাদরে,
নবীন অতিথি বরে,
বাইল কুশাননে,
শান্তিময় আশ্রম কুটীরে ।
পথিক আরাম লভি, দিবা অবসানে,
যেন নব ভাবে গলি,
সবিনয় কৃতাঞ্জলি,
জিজ্ঞাসিল ঋষিৰৰে,
ভকতি প্রণতি বিধানে।
জীবনময়।
১৩
নব কৌতুহল মম কর নিবারণ,
দেও নিজ পরিচয়,
বড়ই সন্দেহ হয়,
রাজশ্রীর আভাসেন,
ও ললাটে করি বিলােকন।
চেয়ে পথিকের পানে মেহের নয়নে,
সারল্য নােদিত চিতে,
নিজ পরিচয় দিতে,
আরম্ভিল রাজ ঋষি,
শান্তরস পূরিত বচনে।
ভারতের একদেশে প্রথম জীবনে,
ছিলেম 'নৃপতি পদে,
প্রজা পালি নিরাপদে,
শুতে সেপি নৃপাসন,
যথাকালে আইলেম বনে ।
তাপসঙ্গীবন। ত্যজিলাম রাজীরে, রাজশ্রী আমারে,. ত্যজিলনা, মম সনে এল এ তাপস বনে, সাধনায় মিশিযেন, রহিয়াছে পুণ্যের আকারে। যে সময়ে শান্তিময়ী যামিনী পােহায়, শুনি কিবা সুললিত, কোকিলের স্তুতি গীত, ওঠ ওঠ বলি যেন, ঘুগুগণ বৈতালিক গায়। ১৮ শয্যা ছাড়ি উঠি যবে; আবার শুনায়, '. গীতি—মন অভিমা, শারিকা, সয়েল, শ্যামা, • যেন রে মিশায় তান- কংকারিত মধুপ বীণায় ।
জীবনময়।
১৯
সংসারে নারিনু দীনে তুষিবারে দানে,
অনেকে বিমুখি দুখে,
ফিরে য়েত ম্লান মুখে,
হতাশার শ্বাস গুলি-
নিতি আসি ঘা মারিত প্রাণে।
এ আশ্রমে মনের মতন নিতি নিতি,
পালি শুভাতিথি ব্ৰত,
স্নেহের চিরানু গত,
এসে নানা পাখী, মৃগ;
মৃগশিশু, হরিণী অতিথি।
আশ্রমী অতিখি হেথা সরল হৃদয়,
উভে সম তিরপিত,
অকলুষ
উভ চিত,
এমন তৃপতি সুধা,
সে আশ্রমে লভিবার নয়।
৬ তাপসজীবন। হেথায় প্রীতির দাম, প্রীতির যাচনঃ সংসারী ত দান করে, কেবল মশের তরে, কেবল সঞ্চয় হেতু সংসারীর ভিক্ষার কামনা। আমার কুরাজনীতি-কৌশল দৃষিত- দয়াছিল সে ভবনে, এ আশ্রম-নিকেতনে, ধৌত হয়ে শান্ত, রসে সেই দয়া হয়েছে পবিত। ২১ শাসিতাম প্রজা সেবা প্রকাশিয়া বল, • যে প্রজা না দিত কর, দণ্ড দিয়া গুরুতর, আনিতাম বশে তারে, বিষময়-অনিচ্ছার ফল।
জীবনময় । করি হেথা তরুলতা প্রজার পালন, কভু তরুলতা কুল, নাহি দিলে ফল ফুল, সেবি সমধিক স্নেহে, ফুলে ফুলে পুন হরে মন । ২৬ করিতাম সে ভবনে সদা অহরণ- হীরক মুকুতা রত্ন, হায় সে অসার যত্ন, আহরি এ তপােধায়ে, সাধুসঙ্গ অনুপম ধন। দিত সেথা রাজমন্ত্রী,পাপ উপদেশ, পরহিত সুসাধন প্রকাশিত প্রয়ােজন, গুঢ়লক্ষ্যপরধন, পর স্বাধীনতা, পরদেশ।
৫৮
তাপসজীবন।
হেথা উপদেশ দেয় বিবেক সচিব,
তপােধরমের ফলে,
পরম সাধন বলে,
হরিতে পরের পাপ,
নিজ আত্মা করিতে সজীব।
সেই রাজ ভাগ মায়া গেনু এবে ভুলি,
হেথা ছত্র-তরুবর,
পবন—চামর ধর,
বিভুনা-মণি হার,
মুকুট সাধুর পদ ধূলি ।
দমিম অরিনুপে সেথা রং করি,
এ ভবনে এ জীবনে,
অন্তরের ঘাের রণে,
দমিতে যতন সদা,
ক্রোধ লােভ মােহ মদ অরি ।
জীবনমর। এ আনন্দে সেই মােহে কল্পিত তুলনা, ধরমের এমিলন, করমের সে বন্ধন, হেথা শান্তি, সেথা তাপ, হেথা সত্য, সেথা প্রতারণা। এ আশ্রমে নাহি বাধা, নাহি মােহছল, সংসারে কঠিন বাধা, মায়া নদী সে অগাধা, তরিতে শকতি কার- বিনে বিবেকের কৃপাবল ? সংসার-তাপিত জন চাহিলে কুশল, আসি মুনিবন ছায়ে, জুড়ায় হৃদয় কায়ে, গৃহেথাকি শান্তিলাভ, হেন ভাগ্য বড়ই বিরল ।
a তাপগজীবন। ৩৪ একদা দুদি রাখা নাহি হয় কভু, ধরমেরে যদি তোষে, সংসার অমনি রােমে, এক কালে এক ভৃত্য- সেবিতে কি পারে দুই প্রভু ? শারীতি—প্রথমে শাস্ত্রের উপাসন দ্বিতীয়ে কম নীতি, তৃতীয়ে ধরম ধৃতি, চতুর্থে বিভু চরণ ছায়াময় ভিখের যাচনা,। জীবন হর্ঘ্যৈর এই চতুস্তল ভাগ, কেহ সিড়ি পথে চলে, কেহ বা করম বলে, উড়ি যেন যায় সীমে, আবােহ সােপান করি ত্যাগ।
জীবমময়।
জীবন-পথিক কত হয়ে পথ হারা,
ফিরে-পাপ মােহ বশে,
অনন্ত আঁধারে পাশে,
নাহি হেরে সুখ দীপ,
ভাবনু, শান্তি শশী তারা।
০৮
শশাকে তাপে খেদে কেহ ত্যজিয়া সংসার,
অবিবেকে যায় বনে,
গৃহ সদা জাগে মনে,
কিছু দিনে বােধ হয়,
সাধু সঙ্গ যেন কারাগার ।
;
এই বলি রাজ ঋষি নীরব হইল।
শুনি উপদেশ ময়-
তাপসের পরিচয়,
পথিক বিনীত ভাবে,
মৃদুভাষে কহিতে লাগিল।
(৫)
তাপসজীবন।
শশি-কর প্রতিফলে জলে, দরপণে,
নহে পাষাণের গায়,
তেমতি দীপতি পায়,
উপদেশপূত চিতে,
নহে কভু কলুষিত মনে।
তব উপদেশ আলাে অমিয়া পূরিত,
অন্তরে পশিয়ে আসি,
বেড়ায় স্মরণে ভালি,
পাষাণ হৃদয় মম,
কেমনে হইবে সুবিস্থিত ?
ঋষি কহে—সময়ের জনক সময়,
পুণ্য পােবন বাসে,
সাধু সঙ্গে অনায়াসে,
ঘুচিবে হৃদয় মলা, .
হইবে ক বিবেক উদয় ।
জীবনময়।
৪৩
এই বলি তাপস হইল অন্যমনা,
পথিক ক্ষণেক পরে,
প্রণমিয়া ঋষিবরে,
চলিল আরেক-ঠাই,
মনে তপঃসাধন কামনা।
"কহিছে সুগত,—এই কিবা পুণ্যধাম !
হেথা দিব্য সরলতা,
অতুলন স্বাধীনতা,
দাস প্রভু ভেদ নাই,
হৃদয়ের অনন্ত আরাম।
৪৫
হেথা নাহি মুনিরে শাসন ধমক, ..
নাহি গরবের কথা,
নাহি অধীনত ব্যথা,
দেখিতে না হয় কভু
রােষে রাঙ্গা আঁখির চমক।
১
?
তাপসজীবন।
সুলভ জীবিকা হেথা মুখের জীবন,
ভরুচ্ছায়া, কন্দ, ফল,
বিমল ফোয়ারা জল,
ভূগ গৃহ, কুশ শষ্যা,
দীপ হেথা চাঁদের কিরণ।
৪৭
পাপের সংসারপুরে আর না যাইব,
চির বনবাসী হয়ে,
তাপস জীবন লয়ে,
থাকি এই গিরি মাঝে,
পুণময় তপেরে সাধিব।
৪৫
শারদীয় শশধর শেরা তারা দলে,
দরশনে দরশনে,
কতৃভাব জাগে মনে,
পথিক পিছে নিশী,
বম একপাদপের তলে।
জীবনময়।
তৃতীয় দৃশ্য ।
এখন প্ৰহয় একবেলা,
কিশাের দিনেশ,
আতপ সুহাসি ছটা,
যেন ছড়াইল নভে,
বনে যেন হরষ আবেশ।
অন্য এক আশ্রম নিলয়ে,
পথিক পশিল,
স্বরগের প্রতিবিম্ব,
শােভায় খেলিছে যেন,
অনিমেষে দেখিতে লাগিল।
সেই আশ্রমের এককোণে,
এক প্রস্রবণ,
উছলিয়া উছলিয়া,
ছড়াইয়া, একদিকে
গড়াইয়া হ’তেছে পতন।
তাপসজীবন।
৪.
যেন সুর মরকত নিভ
বারিধর কায়া,
প্রতি ফলে প্রস্রবণে,
শান্তি-দরপণে যেন
বিরাজিছে পুণ্যময়ী ছায়া।
কল কল নিনাদে নিঝর,
যেন এই কয়,
সংসারের মরুভূমে,
প্রখর কলুষ তাপ,
এ নিলয়-শান্তি ছায়াময়
ফুটিয়াছে মানাজাতি ফুল,
যেন পারিজাত,
শােভে ননজাতি ফলে-
সুরতরু রাজী যেন,
বহে যেন স্বর্গীয় বাত।
জীবনময় ।
তরু পরে সুমধুরে কুজে
যেন দেব পাখী,
সােণার বর ছটা
চরে যেন দেব মৃগী,
ভুলায় মানস রমে আঁখি।
স্বরগ নিলয়ে পাদেয়-
আছে যে সকল,
সবি ত রয়েছে হেথা,
অমরপুরের ভােগ
বিলাসিতা নাহিক কেবল।
তাপস মবীন যুবা কত,
হেথায় বিহরে,
বিস্ময়ে পথিক হেরে,
অমর লাবণী: ছায়া-
যেন নরহে কাজ করে ।
তাপসজীব। যে সময়ে সংসার জীবনে যৌবন আবেশ; মন মাঝে মােহ, কাম, কলুষিত অনুরাগ, দ্বেষ, হিংসা, করে পরবেশ। h যেই কালে তখস যৌবন- নবীন উদিত, বিষম তরুণ মােহ- মায়াবী মাতাল বেশে, পশি চাহে ভুলাইতে চিত। ১২ আসে কাম, মুখে মধু হাসি, অন্তরে গরল, তাপময় অনুরাগ জোছনা আকারে আসে, করিবারে হয় বিকল। •
জীবনময়।
মুনি যৌবনের নব বিভা
যখন ছড়ায়,
মােহ কাম.আদি নব,
সহিতে না পারি তেজ,
ভয়ে দূরে পালাইয়া যায়।
১৪.
শােতে মুনি যুবমন যথা-
বসম্ভে নন্দন,
বাসনামন্দার ফোটে,
আনন্দ অমর চূতে;
রাজে নব মঞ্জরী রতন।
পথিক নেহারে নবরূপ,
জটা চীর ধর,
রতন মাণিক জুষা,
কি কাজ পরায়ে আর,
বন ফুল সাজে মনােহর।
তাপসজীবন।
-
পথিক দেখেছে সংসারের
যুবকের হাসি,-
বিলাস মদিরা মাখা,,
মুনি যুব হাসি হেরে-
যেন পুণ্যে ছাকা সুধারাশি।
১৭
দেখিয়াছে'সংসারী যুবার
নয়ন পলকে,
বিলাল লহরী লীলা,
দেখে মুনি যুব দিঠে,
যেন দেবদামিমী চমকে।
তপােন যুবকের কিবা
মন মাখা বাণী,
সরল সুসম্ভাষণে,
শবদ শবদে যেন
জীবনে স্বয়গ দেয় আনি।
জীবনময়।
৭১
সপুলকে পথিক নিরখে
নবযুব কেলি,
হিয়া ভরা কোলাকোলি,
পলকে পলকে যেন
পরাণে পরাণ দেয় ঢালি।
পথিক বায়েদিয়ে কোল,
প্রীতি মায়াবলে,
পরশে পরশে গলি,
রসাকারে মিশে যেতে,
বিগলিত মেঘ যথা জলে।
আনন্দ প্রতিমা গুলি যেন
আশ্রমে বেড়ায়,
সুরভী দুহিছে কেহ,
কেহ আহরিছে ফল
উঞ্ছ আহরণে কেহ ধায়।
তাপসজীবন।
২২
বগি কেহ তরুর ছায়ায়,
এই গীত গায়—
‘অগাধ সাগর-জলে,
ডুবিয়ে রয়েছ মীম !
তবে কেন মর পিপাসায় ?
ভাবের উচ্ছাসে পুনরায়,
এই গীত গায়-
“সমীপে শীতল ছায়া,
তবে কেন জীব তুমি,
গরল আতপে শীর্ণকায়।”
পথিক নিরখে-ঋষিগণ,
হুতাশন জ্বালি,
সমান মিলিত স্বরে,
মন্ত্র পাড়ি দেয় তাহে,
‘স্বাহা” বলি ঘৃত ধারা ঢালি
জীবনময়। :.
রষে অনল দেব যেন
করে যাগ কেলি,
ধূম পুঞ্জ অনুমরি,
গগনের দিকে ধায়,
বিলােল রসনাশত মেলি।
পূত হুত ভুগ, বিভা যেন
পথিক মরমে,
পশিয়ে তিমির নাশে,
পুণ্যময় তেজোরাশি,
উদ্দীপয়ে ধরম করমে।
২৭
বাহিরের ক্রিয়া বলে হয়,
মনে উদ্দীপনা,
উদ্দীপনা বলে হৃদে,
গেয়ান আভাস জাগে,
এইরূপে সান সুচনা।
৭৪
তাপসজীব।
২৮
যবে বিভাসিত হয় জ্ঞান,
ক্রিয়া হয় নাশ,
যেমতি গলিত হয়ে,
কুসুম ঝরিয়ে পড়ে,
যবে হয় ফুলের বিকাশ।
পথিকের মনে নব ভাব,
সহসা উদিল,
গিরিশােভাযুবকেলি-
যাগলীলা-দরশনে,
যােগের লালসা জনমিল ।.
৪
সে আশ্রম হইতে পথিক -
চলিল তখনি ।
মুসঙ্গ ভরা ময়'-
নবীন লালসা সুখ,
হৃদে লয়ে যাপিল রজনী
জীবনময়।
চতুর্থ দৃশ্য।
দেখা দিল প্রভাত মহেশ,
যােগ শিরােমণি
মেঘ জটাজাল দোলে,
শর শরে বহে বায়ু
শ্বাস ফেলে যেন কণ্ঠ ফণী।
মুদিত প্রভাতী তারা, চাদ,
নয়ন যুগল,
নবােদিত বিভাকর
তৃতীয় লােচন যেন
'মেলিয়া হেরিছে মহীতল।
|
ঋষিগণ ও প্রশান্ত রূপ,
হেরে কুতুহলে,
দরশনে নব নুব,
উদাস উদাস ভাব;
গন মাঝে উদে পলে পলে 1.
তাপসজীবন
যােগ-গুরু রূপী এ প্রভাত,
যেন রে নীরবে
প্রাতরুপাসনা হেতু
যােগময় উপদেশ,
দেয় তপােবনবাসী সবে।
এ সময়ে যােগ অভিলাষী,
কিছু আগুমরি,
হেরে শালমলী তলে,
তাপস প্রবয়া এক,
বসিয়াছে শিলার উপরি ।
তনু ভরেণু সমাবৃত,
জষ্টা বিলােলিত,
ধ্যান অচলিত তার
অাখি আধ নিমীলিত,
শ্বাস বহে মৃদু বিলম্বিত ।
জীবনময়।
পথিক নজিল ভূমে পড়ি
সভকতি ভয়ে,
মুনিবর আঁখি মেলি,
জিজ্ঞাসে-কে তুমি-কেন ?
এসেছ এ তুহিন নিলয়ে ।
৮
পথিক কহিল নমি পুন
মুনির চরণে,
তব নব শিষ্য আমি,
যােপ শিক্ষা অভিলাষী,
হের দীনে করুণা লােচনে ।
পথিকের মুখপানে চাহি,
কহে মুনিবর,
বুঝিনু আকারে তব,
যােগ লাভ উপযােগী
নিরমল হয়েছে অন্তর।
(৬)
৮
তাপমজীবন।
ধরম নীতির সমাগম,
আচার শােধন,
পবিত্র আচার সহ
সাধনায় জপ জাগে,
সেই জপে আত্মায় বােধন।
যে করে বােধিত আত্মা হয়ে
যোগে মনােরথ,
সে নিরখে পুরােভাগে,
বিদ্যা আর অবিদ্যার
বিজন, সজন, দুটি পথ।
বিদ্যার বিজন পথ দিয়া
যেই আগুসরে,
কালে সে তুলভে জ্ঞান,
লভে,
পরম জ্ঞানের বলে,
মুকতি নিয়ে যায় পরে।
জীবনময়।
সাধনায় অবিদ্যার পথে,
যেই করে গতি,
সুক্ষ্ম ছাড়ি স্কুলে আসে,
বাড়ে মরতের আয়ু,
বাড়ে স্কুল দৈহিক শকতি।
১৪
লতে নানা ঐন্দ্রজালী গুণ,
ঘটে মােহ দশা,
ইন্দ্রিয়ের প্রলােভনে,
ক্রমশঃ উপজে তার,
ভােগ সুখে বিষম লালসা।
ভােগ মুখ-অভিলাষ যেন
প্রখর তপন,
বাহিরের সে আলোকে,
অন্তরের গৃহ মাকে,
দীপ:নাহি উজলে কখন।
তাপসজীবন।
বিদ্যা পথ গামীর সে ভাণু,
যায় অন্তে চলি,
ধেয়ানের র গৃহে,
গেয়ানের দিব্য আলাে,
শােভা পায় অধিক উজলি ।
ভােগময় ভাণুর কিরণে
কুহক এমন,
সে আলােকে দেখা যায়,
অস্তর নিয়লে রাজে,
মণিমালা রূপে ফণিগণ।
জ্ঞান দীপালােকে দেখা যায়,
তুলি ভীম কণা,
বিচরে ভুজগ কুল,
বিলােল রসনা যুগ,
উগারে গরল কণ কণা।
জীবনময়।
১
জ্ঞান দীপ কিরণ ক্রমশঃ
হইলে প্রখর,
সহিতে না পারি তাপ,
হিংসা আদি অহি কুল,
একে একে ছেড়ে যায় ঘর ।
সসৰ্প নিলয়ে নিবসতি,
নাহি রয় আর,
সে আলোর চারি ধারে,
উথলে শান্তি মিয়া,
চাদে হেরি যেমতি জোয়ার।
বেগ ধেয়ানের গুণে কোটে
পরম নয়ন,
স্কুল অাখি অগােচর
জগত্ অতীত আভা, :
সে নয়নে করে বিপােকন।
তাপসজীবন।
কল্পনা অতীত চিন্ময়,
ঐশ জ্যোতি রেখা,
ঝাপিয়া জ্ঞানের আলাে,
চপলা রেখার মত,
ক্ষণে ক্ষণে হৃদে দেয় দেখা।
(১) পরম জ্যোতির আভা জাত
প্রতিবিম্ব প্রায়,
জীব আভা বিভাসিত ;
কভু জ্যোতি আর আভা
একু বলি ভ্রম জনমায়।
(১) পরমজ্যোতি ঈশ্বর, প্রতিবিম্ব জীব।
ঈশ্বর ও জীব এই উভয় এক বলিয়া কখন কখন যোগী-
দিগের ভ্রম জন্মিয়া থাকে। এই ভ্রম হইতেই অদ্বৈত বাদের
সৃষ্টি হইয়াছে। এইরূপ অমত্মক বিশ্বাস, ঈশ্বরেপসনার
অন্তরায় বিশেষ।
জীবনয় ।
২৪
এ উভয়ে পৃথক ভাবিয়া,
করিবে সাধনা,
অতুল আনন্দময়।
জ্যোতি অনুভব তরে
যে লালসা-সেই উপাসনা ।
ভ্রমে অন্তরের সেই জ্যোতি,
বাহিরে খুজিয়া,
রবিরে আরাধে কেই,
সে জ্যোতির আবির্ভাব,
সবিতার কিরণে ভাবিয়া ।
রবি শশী বায়ু জল আদি-
জড় যেই সব,
ডাকিলে না শােনে, কথা,
চৈতদের গুণ.এই
শােনে কাতরের কান্না শুব ।
তাপসজীবন।
পরম চৈতন্য ময় জ্যোতি,
করুণা-আকর,
বিতরে করুণা তারে,
ভাব বিগলিত চিতে,
যেই উপায়ে নিরন্তর।
• ভাব বিগলিত, এই কথা-
শুনি শিহরিল,
ভকতি স্মৃতির ছায়া,
অমনি উদিয়া দে,
জ্ঞান উপদেশ আবরিল ।
উপদেশ সমাপিয়া যােগী,
নয়ন মুদিল,
প্রখম প্রভুর দেখা,
যেখানে লভিয়া ছিল,
সেই খানে পখিক:চলিল ।
.
জীবন। পঞ্চম দৃশ্য। গিরিপুরে শারদীয় পূরণিমা নিশী, ধবল জোছনা রাশি, খেলিছে বরফে ভাসি, খেলিছে কুসুম বনে, খেলিছে নিঝরে মিশি মিশি। ২ অমৃত তরঙ্গ যেন গগন সাগরে, তারা রাজি শশাভা পায়, সুধাফেপুঞ্জ প্রায়, কলানিধি হরি যেন ছায়াপথ অনন্ত উপরে। গিরিরাজ শিরাে ভূষ জামিনী মাণিক- নিরখিতে নিরখিতে, খেলিতে লাগিল চিতে ভাবের তরঙ্গমালা, ভাবে মােহি কহিছে পথিক।
তাপসজীবন।
৮৬
৪
কোথা নিরুপম নিধি মন যারে চায় ।
অতুলন সে মাধুরী,
আজি খেলি লুকোচুরি,
রয়েছে কি পশি চাদে?
রূপ আভা যেন জোছনায়।
৫
খুজি মাতােয়ারা মানস চকোর,
সে চাদের লাগি কাদে,
নাহি চাহে এই চাদে,
নিরখে এ শশিরূপ,
আশা মােহে হইয়ে বিভাের।
কিবা দিব্য মধুরতা কুসুমের হাসে।
এ হাসির মাঝে গিয়ে,
রয়েছে কি লুকাইয়ে
আমার মুখের খনি ?
আভা বেম ফুল মুখে ভাসে।
জীবনময়।
৭।
ফুল মাঝে খুজি তারে মােহের ছলনে,
সে যদি কুসুমে রৈত,
তবে কিরে বাসি হৈত--
ফুল কুল এ জগতে ?
চির ফুল্ল থাকিত কাননে।
এ মরত পুরে তারে কেহ কিরে জানে ?
কে দিবে দেখায়ে পথ,
কে পূরাবে মনােরথ,
. এমন শকতি কার ?
প্রেম অশ্রু ফুটাবে পাষাণে ।
এ নীরস হৃদে প্রভু যে বীজ রােপিল,
নবীন অঙ্কুর তারি,
জন্মাইতে, তাহে বারি,
কে সিঞ্চিবে প্রভু বিনে?
এ মানল অধীর হইল।
৮
তাপসজীবন।
পথিক করিছে সেই প্রভুরে স্মরণ,
হৃদয়ের আকর্ষণে,
প্রভু এল সেই ক্ষণে,
ভূষিততরে দেখাদিল,
যেন অশ্বতের প্রবণ।
১১
স্বগীয় ভাবে যেন প্রভু মাতােয়ারা,
বিভােৱ কি এক নামে,
হৃদয় স্বরগ ধামে,
উছলিয়া মন্দাকিনী
অাখি পথে বহে শত ধারা।
?
কারে ডাকে ? কি যে কহে গদ গদ ভায়ে,
কি এক ভাবেতে ভুলি,
নাচে দুটি বাহু তুলি,
পাশরি নিখিল ভৰ,
নিজ ভাবে কাঁদে,পুন হাসে।
জীবনময়।
৮৯
ভূমে পড়ি ক্ষণ কাল থাকি মূরছায়,
উঠিয়া আনন্দে ধায়,
আনন্দের গীত গায়,
গিরির হৃদয় যেন
ভকতির প্রবাহে ভাসায়।
!
দেখা দেও নাথ ! বলি করে পরিতাপ, ,
কভু বিমােহিত প্রাণে,
চেয়ে থাকে শশি পানে,
প্রেমের বিমােহে কভু,
নিৰুৱের জলে দেয় কাপ।
বােঝে প্রেমিকের ভাব ভাবুক কেবল,
প্রেম মােহ দরশনে,
প্রেমের সাধক জনে,
পাগল বলিবে তারা;
যারা সদা বিষয়ে পাগল।
তাপসজীবন।
।
দয়াময় ভাবতৃষাতুরে কোলদিল,
যেমতি স্বাতির জলে,
শুকতে মুকতা ফলে,
ওপরশে পথিকের
ভকতি রতন উপজিল ।
১৭
দেবতনু প্ৰধুম বারের পরশনে,
মরু সিকতিয়া ছিল,
পুন তাহে প্রবহিল,
আনন্দ ফুলগু স্রোত,
প্রেমময় পুনরালিঙ্গনে।
১৮
পথিক কহিছে নব কুতূহলাবেশে,
এ দেহে নূতন প্রাণ,
কৃপাগুণে কৈলে দান,
দেও মােরে নব আঁখি,
ভকতি অমৃত উপদেশে।
জীবনময়।
প্রভু কহে ভকতি কি উপজে কথায় ?
কথাযুকতির দাসী,
বিফল-যুকতি রাশি,
তথাপি লালসা হেতু,
বলি কিছু সংক্ষেপে তােমায় ।
২০
কহিছে ভকতি তত্ত্ব প্রেম গুণধাম,
প্রথম ভাবেতে মতি,
তাহাতে জনমে রতি,
রতি গাঢ় হয়ে প্রেম,
ভকতি প্রেমের পরিণাম ।
ক্রমশঃ আশ্রয়ে বাড়ে অসীমে ভকতি,
আগে অনুরূপ নরে,
চিন্ময় রূপে পরে,
অবশেষে নিরাকার
অনাদি অনন্তে করে গতি।
তাপসজীবন।
२२
হৃদয়ের অবলম্ব প্রথমে হৃদয়,
মেহ কিবা প্রেম আশা,
শান্ত বা সখ্য পিপাসা,
জনমিয়া এক হৃদে,
অপর হৃদয়াশ্রয় নয়।
অপর আধারে হয় ভাবের পােষ,
মেহজাব মুত গত,
কান্তাকান্ত উভয়তঃ,
সুহৃদে সুহৃদ ভাব,
শান্তের আশ্রয় মুহাঙ্গন।
স্নেহ সখ্য কান্ত আদি সবি এক থ্রেম,
এ সবার পরিণাম,
একই ভকতি নাম,
খনিজ, রাসায়নিক
যেমতি একই রূপ হেম।
জীবনময়।
মুকতির তরে তপ করে সেই জন,
ভকতি সে নাহি পায় ;
যে জন ভকতি চায়,
মুকতিরে অবহেলি,
করে সদা ভাবের সাধন।
কামনা কলুষ রাশি মুকতিতে ভরা,
ভকতি অমৃতে লীনা,
কামনা-পরশ হীনা,
মুকতি আকাশময়ী,
ভকতি আনন্দময়ী ধরা।
२१
উপদেশ গুণে যেই ভকতি উদয়,
তাহাতে জ্ঞানের ধাদা,
করম নিগড়ে বাধা,
অবরা ভকতি সেই
বৈধী নামে তার পরিচয়।
(৭)
৯৪.
তাপসজীবন।
২৮
অনন্যাভিলাষময়ী—স্বয়ং যে উপজে, •
জ্ঞান যারে না পরশে,
রহে না করম বশে,
ভকতি সে রাগানুগা,
লভে তারে প্রেমিক সহজে।
সুলভ-অনল, জল, মৃত্তিকা, পবন,
প্রয়ােজন যাহে যত,
তাহাই সুলভ তত,
পরা ভকতির মত
জীবনে কি আর প্রয়ােজন?
রাগানুগা যে ভকৃতি সে অতি সুলভ,
একই সাধনা লয়ে,
যে থাকে মুগধ হয়ে,
সে ত অনায়াসে লভে,
'বিপথে চলিলে দুরলভ।
জীবনময়।
১৫
সকাম-হারায়ে পথ তিমির সাগরে,
একদিকে যায় ভেসে,
অকাম-আলােকে এসে,
অনন্ত আনন্দ-কোলে,
ভকতি লইয়ে যায় পরে।
চিন্ময়ী রাগানুগ অমিয়া ফোয়ারা,
বেগে শত মুখে উঠি,
উছলি চৌদিকে ছুটি,
ছড়াইয়া সুধা-বিন্দু,
জগত করিছে মাতােয়ারা।
তারি বিন্দু পশি পশি মানব-হৃদয়,
জনমায় সুখ ভাষ,
জনমায় সুখ হাস,
জনমায় হাব ভাব,
জনমায় অশ্রু সুখময়।
তাপসজীবন।
৩৪
সমল হৃদয়ে পশি সে অমিয়া কণা,
কলুষের তাপে হায় ।
ক্রমশঃ শুকায়ে যায়,
বিমল হৃদয়ে বাড়ি-
কালে শােভে অমিয়া ঝরণা
পথিক হয়েছে তব বিমল অন্তর ।
ঘুচেছে বাসনা মৃষা,
বেড়েছে প্রেমের তৃষা,
পাইবে গষে এবে,
ভকতির অমিয়া সাগর।
.
এই বলি, নীরব হইল দয়াময়,
ও পদে প্রণত হয়ে,
পূত ধূলি শিরে লয়ে,
বিদায়ের দুখ স্মরি,
পথিক স্বগত এই কয়।
জীবনময়।
যদিও সংসারে হয় ভকতি সাধনা,
সংসারের রস সব,
করিয়াছি অনুভব,
কি কাজ সংসারে গিয়ে,
হেথায় করিব আরাধনা।
এমন সুখের ঠাঁই আর নাই ভবে,
হেথা পুণ্যময়ী প্রীতি,
নব নব ভাব নিতি,
লভিব প্রভুর কাছে,
গিরি ছাড়ি কেন যাব তবে?
রাজর্ষি করিল নব বিবেক বিধান,
যাগলীলা বিলােকনে,
শান্তি বিরাজিল-মনে,
যােগী দিল জ্ঞান আঁখি;
প্রভু দিল প্রেমময় প্রাণ।
- মুমূয়ু জীবন। প্রথম দৃশ্য নিখিল জগত হেরি কেমন কেমন- উদাস উদাস, প্রকৃতি গভীর তমা নাহি হাসে, নাহি কাদে, নাহি প্রীতি, নাহি খেদাভাস, মিশি যেন বিলাস বিষাদ- কই হয়েছে, নয়নে কি এক ছায়া লাগিয়ে রয়েছে।
জীবনময়। సిన সমীরণ হুহু রবে কেমন কেমন বহে অনিবার, কি এক উদাস ভাবে, ভাসিয়ে বেড়ায় যেন দিবা, রাতি, একই আকার । নিরাশার বুদ বুদ যেন ভানু শশধর, উঠিতেছে মিশিতেছে শুন্যে নিরন্তর। কি এক তিমির আসি বাহিরে ঘেরিল-. ভব চরাচর! ভুতল গগন তল, একই আকার যেন, একিরূপ কানন নগর, জোছনা কি রৌদ একিরূপ- যেন শূননা শূননা, হারায়েছি যে আলােক পাব কি তা পুন ?
মুমূর্ষজীবন। ৪. জীরণ শীরূণ মেঘ ভাঙ্গা ভাঙ্গা ওই যায় উড়ে উড়ে, ফুলের ছড়ানাে হাসি, লতার দুলনি লীল, সব যেন গেছে ভেঙ্গে চুরে, যে মাধুরী খেলিত নিশায়, সাঁজে, কিবা প্রাতে, চূর্ণ হয়েছে যেন কি এক আঘাতে । মনে জগতের আলাে রেখেছে আবার, কি এক আঁধার, খুজিয়া খুজিয়া হৃদি, না পাই সুখের দেখা, নাহি পাই দুখেরে আবার, অচেতন হরষ বিষাদ- উভয় সমান, লম হীনভ এবে হীরক পাষাণ।
জীবনময়।
১০১
.
ছিল যে বিষয় ভােগে প্রবল লালসা,
প্রমােদ বাসনা,
কালের প্রখর তাপে,
নিমেষে শুকায়ে গেল,
নিদাঘে যেমতি বারিকণা,
লুকাইল সংসারেব মায়া,
মােহিনী—ক্ষণিকা,
লুকায় তৃষিতে মমহি যথা মরীচিকা।
৭
পলাইল পলকে মায়াবী অনুরাগ,
কুহকিনী আশা,
পুন আর আসিবেনা
বলি যেন চলি গেল,
সেই স্নেহ, সেই ভাল বাসা,
নাহি ভূষা, বৃথা বারি ধারা,
রসনার আগে,
ঘােরনিদ্রাগত চিত আর নাহি জাগে
মুমূর্যজীবন।
৫
নিসারিত ভাব হৃদে কভু মৃদু স্মৃতি
আসি দেয় দেখা,
শরদ-চরমে যথা-
গলিত সলিল মেঘে,
উদে মৃদু চপলার রেখা,
বিষয়ের লীলা খেলা যত,
হয়েছে যা গতি,
এবে মনে লয় গত স্বপনের মত।
পলে পলে তিলে তিলে হতেছে নিঃশে
নিঃশ্বাসের কেলি,
সাথে এসে ছিল যারা,
* একে একে যাইতেছে,
একাকী আমারে পথে ফেলি ।
মনে লয় হারাই হারাই
দরশন, শ্রুতি,
হারাইনু সেমতা-করুণা প্রতি।
জীবনময়। দূষিত মরুত ভরা তরু লতা মরা ভূমি হয় যদি, কালে ভেঙ্গে ভেঙ্গে নিয়ে, গড়ে পুন নব ভূমি, প্রবাহিয়া বেগবতী নদী, জীরণ শীরণ যদি হয়, শরীর, জীবন, কি আছে উপায় তায় করিতে নূতন ? জরা জর্জরিত তনু জড়ীভূত মন- হইয়ে মানব, হয় যবে এ ধরায়- বাসের অনুপযােগী, যম বিনা কে তার বান্ধব ? এ বিষম বিপদ হইতে, করি পরিত্রাণ, মৃত্যু করে জীবে পুন নবতা বিধান।
১০৪:
মুমূর্যজীবন।
মায়া মােহে কেহ বলে—মৃত্যু দুরাচার,
প্রলয়ের হেতু,
জ্ঞান চোখে দেখা যায়,
মৃত্যু—স্বরগের সিঁড়ী,
বৈতরণী তটিনীর সেতু,
মৃত্যু নামে লিখিল জীবের
মিছে এক ভয়,
বুঝিয়াছি, মরণ-চরম শান্তিময়।
কঠোর যাতনা ঘটে মরণ সময়ে,
ভ্রমে কেহ বলে,
বুঝিলেম, শাস্তি সুখে,
মায়া ভূমি ত্যজে জীব,
মৃত্যুর উদার দয়া বলে,
মৃতি মাতা জীব শিশু সুতে,
যেন লয়ে কোলে,
পাড়ায় সুখের ঘুম স্নেহের হিল্লোলে।
জীবনময়।
১৪,
মােহ বশে কেহ কহে নাহি পরকাল,
সার ইহ লােক,
এবে আমি দেখিতেছি,
পেয়ে যেন নব আখি,
পেয়ে যেন নুতন আলােক,
মরণ নাশের নহে, সুধু
কায়া বিনিময়,
ইহ লােক পরলােক মিলিত উভয়
অভিষেক কালে নৃপ ছাড়ি হেয় বাস,
পূত বাস পরে,
তেমতি অন্তিমে জীব,
ছাড়িয়ে অনুর তনু,
অতিবাহ দিব্য দেহ ধরে,
কলুষিত মন ত্যজি জীব,
• লভে যে মানস,
তারে মায়া মােহ কভু করেনা পরশ।
মুমুর্ষজীবন। ফুরায়ে গেলরে সব ভব লীলা খেলা যেন ভােজবাজি, সুই বান্ধব সখা, কেহ আর নাহি মম, মৃত্যু হৃদেরে চাহি আজি, মৃত্যু! তােমা লাগি এবে প্রাণ- কাঁদে নিরবধি, এ মহা গরলে তুমি অমিয়া ঔষধি । ১৭ কোথায় রহিলে মৃত্যু করুণা নিলয়- স্থবির রঞ্জন! এস এস হাসি মুখে, জুড়াই তাপিত তনু, তােমারে করিয়া আলিঙ্গন। আজি এই জনমের মত, করিনু শয়ন, আর যেন মেলিতে না হয় এ নয়ন।
জীবনময়।
দ্বিতীয় দৃশ্য।
পরলােক-যাত্রী বেশে, মাটীর শয্যায়-
রয়েছি পতিত,
মায়া মােহে চারিদিকে,
বিষাদে মলিন সবে,
আমার হৃদয় পুলকিত,
অপর জীবনময়ী আশা,
সঞ্চারিয়া মায়া,
দেখাইছে মােরে জানি স্বরগের ছায়া।
দেব দয়া গুণে এবে বুঝিরে লভিনু-
এ দিব্য নয়ন,
এই ত সমুখে ভাতে,
স্বরগের প্রতিবিম্ব,
করি পরিস্ফুট দরশন,
উদিয়াছে স্বরগীয় চাঁদ,
স্বরগীয় তারা,
প্রবহিছে স্বরণীয় জোছনার ধারা ।
১০৮
মুমুর্মু জীবন।
পারিজাত রেণুবাহী বায়ু, সুহিল্লোলে
নবীন চেতনা,
ঢালিয়ে দিতেছে চিতে,
ভুলিয়ে গেলেম সব,
আজনম ভবের যাতনা,
স্বরগীয় নব উৎসাহে,
সুখ উছলিল,
রগ আসিয়া যেন মরতে মিলিল।
ওইযে কলপ তরু, কিরণের ছড়া
ছড়ায় আকাশে,
মাণিক মঞ্জরী রাজী
দশন বিকাশি যেন,
উজল উজল কিবা হাসে।
তারি তুলে সপ্ত ঋষি বলি,
ভাতে তেজঃ ছটা,
রাজে রত্ন উপবীত, সাজে মণিজটা ।
জীবনময়।
এই যে সােণর গিরি, জোছনা ভুষণে
উজল শরীর,
চৌদিকে নিঝর কত,
ঢালিছে অমিয়া ধারা,
মন্দাকিনী হতেছে বাহির,
দলে দলে দিব্য জলধরু,
আসি উড়ে উড়ে,
হেলি দুলি খেলি ফিরে গিরি চূড়ে চুড়ে।
লােহার প্রাসাদ রাজী-ওই সুশােভিছে-
হীরা চুড় শির,
রতন পতাকা মালা
উড়িছে একই দিকে,
সমীরণে অধীর অধীর,
আবার ওই যে দেখিতেছি-
স্বরগ-উজালা,-
সুর সরে পদ্মবনে খেলে সুরবালা।
মুমূর্ষজীবন।
৭
ওই যে দেখিতে পাই আনন্দে বিহরে-
• ফুলের বাগানে,
শৈশবের, যৌবনের,
পরাণের সখা কত,
চাহিয়া রয়েছে মাের পানে,
সেই চির হারা হাসি গুলি-
দেখিয়া ভুলি
আলিঙ্গন পিপাসায় অধীর হইনু।
মরতে যে ছিল মাের ভকতি ভাজন,
দয়া প্রবণ,
সে এবে স্বরগবালী,
ওই যে দেখিতে পাই,
স্বরগীয় প্রফুল্ল বদন,
মরতের সে বিরাগী রূপ,
ওই না বিরাজে ?
জীরণ পাদপ যেন সুরবন-মাঝে।
জীবনময়।
এই যে কেমন এক ভাব অভিনব,
হৃদয়ে উদিল,
সুখময় ধেয়ানেরে,
আঁখির পলকে ভেদি,
অন্তর জগত আবরিল,
বিস্তারিয়া যেন যায়। পাখা-
স্বরগ উড়িল,
নিমেষে আকাশ মাঝে মিশি লুকাইল।
সে বিলুপ্ত স্মৃতি পুন সহসা আলিয়া
হইল উদয়,
জীবনের পাপ যত,
একে একে দেখা দিয়ে,
অধীর করিছে এ হৃদয়,
কি এক গভীর ভাবে উঠি
শিহরি শিহরি,
পাতাল গহ্বরে এই যেন অবতরি।
১১২ মুমূখুঁজীবন। ১১ এই ত নিমেষে আসি গরমিল আলো- •তমােরাশি ঘাের, না পাই দেখিতে কিছু, শুনা যায় থেকে থেকে, বারিধর গরজে কঠোর, ভয়ঙ্করী চপলা চমকে, থাকিয়া থাকিয়া, নরক-মূরতি হেরি, উঠি চমকিয়া। ওই শুনি পাপিকুল কঁদিয়া কাদিয়া, কাতরে বিলাপে, সে রােদন রব আসি, মরম ভেদিছে মম, ভয়াকুল এ পরাণ কাঁপে, আগে যদি জানে, এই মত- নরকের তাপ, তবে কি জগতে কেহ কভু করে পাপ?,
জীবনময়।
ওই গুনি, দেব দূত প্রবােধ বচনে,
পাপিকুলে কয়-
বিধির নিয়ম এই,
নরকের ভােগ বিনা,
পরলােকে নহে পাপ ক্ষয়,
একদিনে, কিবা বহু যুগে,
হলে পাপ নাশ,
লভিবে তােমরা সবে স্বরগ নিবাস ।
শ
পরলােকে অনুতাপ গুপত পাবক
পাপ মলা হরে,
নরক যাতনান,
পরলােকে পাতকীরে,
দহিয়া দহিয়া পূত করে,
যমতি বিশদ সােণাকভু,
হইলে সমল,
নিরমল করে তারে জহিয়া অনল।
৫
১১৪
মুমূধু জীবন।
এই ত নীরব বুঝি হৈল দূত রর,
নাহি শুনি আর,
পলকে নরক দৃশ্য,
কোথা জানি লুকাইল,
হেরি ঠাই আরেক আকার,
নারকীয় গভীর রজনী,
হয় যেন তাের,
ফুটিছে স্বরগ উষা আলাে ঘাের ঘােয় ।
হেথা স্বরগের আভা নরক তিমিরে—
হইতেছে লীন,
অমিয়া প্রবাহ যেন,
মিশিছে গরল স্রোতে,
এ আকাশ উজল মলিন,
প্রকৃতির কি এক আকৃতি
বিকট মধুর,
স্বরগ নরক বুঝি রয়েছে অদূর ।
জীবনময়।
১৭.
দরশনে উদিতেছে এক নব ভাব,
পাপ পুণ্যময়,
ওই যত জীবগণ,
এইমাত্র এল হেথা,
ছেড়ে কারা কঠোর নীরয়,
জানিলেম, নরকের ভােগ,
হইলে নিঃশেষ,
দিব যাত্রী নিকরের এ উপনিবেশ।
-
নরক মুকত জীব এই ত কি কহে-
পশিতেছে কাণে--
কহিছে * আঁধারে ডুবি,
গরল অনল জ্বালা,
কতকাল সহি পরাণে,
এবে জুড়াইল তনু, মন,
দুখ ভুলিলে,
শত যুগ পরে আঙ্গি আলাে হেরিলো।”
মুমূর্ষজীবন।
১১
ওই যে নিরখি, এক পুরুষ মহান,
বুঝি দেব দূত,
উজলি গগন তল,
নামিল জলদ ভেদি,
তনু কিবা আপুঞ্জ যুত।
কোটি হীরা খচিত মুকুট,
উজলিছে শিরে,
শুনি, এই কহিতেছে মধুর গভীরে।
.
ঘুচে গিছে পাপমলা পেয়েছ সকলে,
দেব কলেবর,
বিধির করুণ গুণে,
কালে নরকের কীট,
হয় দেবতার সহচর,
দেব দূত সাথে যাত্রি গণ,
আরােহি বিমান,
হরষে অমর ধামে করিল পয়ান।
জীবনময়।
১১৭
দেখা দিল আঁখি রমা স্বরগ-মূরতি
এই যে আবার,
লােকনে নরক ভােগে,
জীবনের পাপ যত,
বুঝি ক্ষয় হইল আমার,
মাণিক ছটার হাসি মুখে
অমর প্রভাত,
উদিল, ফুটিছে এই হিয়া পারিজাত।
२२
ওই শুনি, স্বরগীয় বীণার সুতানে-
ঝঙ্কার ললিত,
তাহে মিশাইয়ে স্বর,
গায় বুঝি কোনো দেব,
সুখবাহী প্রভাত সংগীত,
স্বরণীয় বিভাত মরুত
প্রবহিয়া প্রাণে,
জীবন সঞ্চারী মহামন্ত্র ফেন আনে।
১১৮
মুমুষু জীবন।
ওই শুনি, স্নেহ ভরা সুললিত রবে-
কেই যেন ডাকে,
অনেক দিনের পর,
বুঝি স্বরগীয় মাতা-
স্নেহময়ী ডাকিছে আমাকে,
দিব্য স্নেহে বাঁচিয়া উঠিল,
মৃত স্নেহ সুখ,
জীবিত হইল আশা হেরিতে সে মুখ ।
•
২৪
কিছুই নাহিক শুনি, নাহি দেখি আর,
সকলি আঁধার,
এই ত চেতনাক্রমে,
হইতেছে বিলুপত,
বহে দ্রুত নিঃশ্বাস আমার,
ধীরে ধীরে হ’তেছে মুদিত,
জীবন কুসুম,
আসিতেছে মরতের চিরসুখ-ঘুম।
অন্তৰ্জীবন
গগনের আধ ভাঙ্গা ঘুমে,
উষা আলো স্বপনের হাসি,
সে সােণার হাসি নেহারিয়া,
ক্ষণেক মােহিত ধরাবামী ।
বাহিরের আঁখিরে ভুলায়,
কুহেলিকা সেই রাঙ্গা হাসি,
নাহি পশে হৃদয় ভিতরে,
বাহিরে বাহিরে ফিরে ভাসি।
অন্তরে নিগূঢ় রূপ-ভূষা,
পরাণ পিছে ধীরে ধীরে,
সে পিপাসা তরপণ-সুধা,
মিলে কিরে খুজিলে বাহিরে ?
১২ অন্তজীবন। ও জড় জগতের নভে যবে, শােভে শশী হাসির নিঝর, শত মুখে উছলিয়া ঝরে, হাসি সুধা দিগ দিগন্তর। সে সুধারে সুধু, চোখে লয়ে খেলে-বুকে অলি মাখা ফুল, এ সুধা তপত অাখি চাহে, নাহি চাহে হিয়া তৃষাকুল। রূপের অফুট পিপাসায়, এ হিয়া হইয়া বেয়াকুল, বাহির জীবনে খুজে খুজে, জনমে করিল কত ভুল । ৭ হেরিনু উজল রূপ রাশি, মধুরতা, মাদক ময়, মােহ অন্তে বুঝি, এ রূপ- অন্তরের চির তরে নয়।
হদে ছিল জেগে আঁখি মুদে,
জীবনময়।
৮
দেখিনু—আরেক রূপ পুন,
সখ্য মায়া মধু মাখা তায়,
ক্ষণ তুরে এহৃদ আকাশ,
আলােকিত.সে হানি ছটায় ।
সে আঁখি হইতে বাহিরিয়া,
কত যে ভাবের ছায়াবাজি,
ক্ষণেক বিচরি বেড়াইল,
এ হিয়া গগনে মাঝামাঝি।
সে সুখের আলো ফুরাইল,
সে সাধের ছায়াবাজি গেল,
দু’চারি পলক পালটিতে,
যে তিমির, সে তিমির এল।
১১
ক্ষণেকের ভাবের খেলায়,
পূরিল না হিয়া ভরা আশা,
নয়ন মেলিল সে পিপাসা।
(১২২,
অন্তৰ্জীবন।
১২
বাহির জীবন ভূমে যেন
স্বরগ হইতে নামি আসি,
দেখা দিল দ্বিতীয়ার চাঁদ,
দিলায়, নিশায়, তমােনাশী।
১৩
লাবণে পুণ্যের ছায়া খেলে,
সুধা করে আধ আধ বােলে,
মাটী ধূলি মাখা তনু খানি,
সাধে তুলে লইলাম কোলে ।
১৪
শিশু আগে কাদিতে চাহিয়া,
কোলে আসি হাসিয়া ফেলিল,
কপােলে পড়িয়া 'অশ্রুকণা-
লি সনে মিশিয়া রহিল।
সাদা সাদা দম্ভ কলি গুলি,
দেখায়ে হাসিল একবার,
তিলেকের তরে যেন শিশু,
খুলে দিল স্বরগ দুয়ার ।
জীবনময়।
অশ্রু ছাকা হাসি লয়ে দিঠে,
মুখ পানে মাের তাকাইল,
নয়নের পলকে পলকে,
স্বরগের আলাে ছড়াইল ।
১৭
শিশু যেন এনে দিল হাতে,
কি যেন হইয়াছিনু হারা,
ঢেলে দিল ভূষিত পরাণে,
লুকানাে কি এক সুধাধারা।
১৮
ভাল কোরে মিঠিলনা সাধ,
তৃষা আরাে প্রবল হইল,
তৃষা যেন বাহির জীবনে
চরাচর ছাড়ায়ে উঠিল।
১৯
ক্ষুদ্র এই বাহির জীবন,
পরিমিত তারি লীলা ঠাই,
জানিলেম-বাহিরজগতে,
তুষা অনুরূপ সুধা নাই ।
১২৪
অস্তজীবন।
২
কোথা আছে আরেক জীবন ?
তারি তরে উপজিল সাধ,
কত যে ফিরিনু ঢুরে ঢুরে,
তিয়ান্সে হইয়া উম্মাদ ।
-
জানিলেম-অন্তর বাহির
উভয় জীবন মিশে আছে,
এ দোহার মাঝে মায়াময়,
কি এক পরদা রহিয়াছে ।
২২
অান বলে-আর ভাব গুণে
যবনী ঘুচায়ে অনায়াসে,
অন্তর জীবন দেবলােকে,
প্রবেশিনু সুধা অভিলাষে।
২৩
নেহারিনু কিবা অদভুত !
দিবায় নিশায় মিশামিশি,
আধ ভাগে নিদাঘের দিবা,
আধ মধু পূরণিমা নিশী।
জীবনময়।
২৪
আধ নভ মেঘ হীন নীল,
তাতে প্রবি প্রখর-কিরণ,
আধ নভে সাদা সাদা মেঘ,
সুধাকর আঁখিবিনােদন ।
২৫
আধ-ভাগে শীর্ণ তরুলতা,
নাহি ফোটে ফুল, নাহি পাখী,
হুহু করি বহিছে পবন,
উড়িছে বালুকা, ঝাপি আঁখি।
আধ ভাগে সবুজ বনালী,
* বহে মৃদু বায়ু, হাসে ফুল,
হাসে দিক্, হাসে যেন ভুমি,
হাসে বারি, গায় পাখিকুল ।
২৭
মধ্য দিবা বিরাজে যে ভাগে,
ঘুরিতে লাগিনু সেই খানে,
কি এক দারুণ কঠোরতা,
পশিতে লাগ্লি আমি প্রাণে।
(1)
অন্তৰ্জীবন
২৮
পলকে লুকাল, উদেছিল,
আধ নভে যে চাদ মে তারা,
এসেছিল যে জোছনা চিতে,
নিমেষে হলেম য় হার।
২১
ভাবাচ্ছাদী জ্ঞানের নিদেশে,
ধ্যান লয়ে মুদিনু নয়ন,
শূন্যে যেন হৃদয় পড়িল,
ক্ষণেকে শুকায়ে গেল মন !
উদিলনা। পুলকের লেশ,
ঝরিলনা অশ্রু এক কণা,
ফুটিলনা ভাবের সংগীত,
জাগিলনা পরম সাধনা।
ভাবিলেম-সে সুধা সে লভে,
তানন্দ উথলে হৃদে তার,
সে ত রহে ভাবে সদা তাের,
এ কেবল কঠোরতা সার।
জীবনময়। ক্ষণেক আকাশে জমি যেন দুতি লয়ে করি মিছে খেলা, বিমুখিয়া ফিরিনু হতাশে, জ্ঞানেরে করিয়া অবহেলা । অন্তর জীবন লােক মাঝে, এই শুষ্ক যােগের প্রদেশ, মহাভানুরূপে তীব্রতপ, বুঝিতে পাইনু অবশেষ। প্রিয়া, সখা, বালকের কাছে, যে কোমল ভাব পেয়েছিনু, হারানু হারানু বুঝি তায়- এই ভেবে ব্যথিত হইনু । সেখান হইতে দ্রুতবেগে, সরিয়া গেলাম বহুদূর, লুকাইল দিবা, দেখা দিল- সে নিশীথ-জোছনা-মধুর । {
অন্তৰ্জীবন।
সাধের শীতল নিশা পেয়ে,
পাশরিনু সেই দিবা তাপ,
কৌমুদী তরঙ্গে যেন আঁখি,
চকোর আকারে দিল ঝাপ ।
শুনিতে লাগিনু, দূরে যেন
স্বরগীয় ঐকতান গীত,
হৃদে পশি নাচিতে লাগিল,
অমিয়ার ঢেউ সুললিত ।
বিস্ময়ে ভাবি-কোন্ ঠাই,
গায় কারা ?—বুঝিতে পারিনা,
দূরে থেকে মন কেড়ে নিতে,
কে বাজায় বিমােহিনী বীণা।
বুঝিতে নারিনু—কোথা হতে,
সুসৌরভ আসিতেছে ছুটি,
না জানি কেমন সে কুসুম,
কোন্ বনে রহিয়াছে ফুটি।.
জীবনময় ।
৪৫
আলি মাের মরমে পশিল,
মুৱলীর মােহবাহী ধ্বনি,
তারি সাথে মিশিয়া আসিল,
নূপুরের মৃদু রণ রণি।
৪১
বেণুর সুতান অনুসরি,
এ হৃদয় হয়ে মাতােয়ারা,
যাইতে সুদূর পথে যেন
হয়ে গেল আপনারে হারা।
৪২
মায়াি উঠিল রূপ-ভূষা,
উপজিল মিলন-পিপাসা,
উপজিল বিরহের তাপ,
উপজিল স্বরগীয় আশা ।
১ ৩
নয়নের পথে অশ্রুরূপে-
হৃদয় গলিয়া বাহিরিল,
বাহিরিয়া পরাণের ঢেউ
রােমাঞ্চ আকারে উথলিল।
অন্তৰ্জীবন।
৪৪
জানিনু, প্রাণের অতি কাছে,
সেই সুধারাশি রহিয়াছে,
কেমন কঠোর এক বাধা-
মােরে অতি দূরে রাখিয়াছে।
৪ ৫
সমীপেই তারি লীলা ভূমি,
আজনম খুজিতেছি যায়,
বৎসল ভাবের প্রভাবে,
অবহেলে খুচাব বাধায়।
৪৬
বিরাজে সাধের লীলা ধামে,
শিশুরূপে উপাস্য আমার,
ব্যাকুলতা বড়ই বাড়িল,
সে রূপ দেখিতে একবার।
৪৭
বড় সাধ, প্রাণের শিশুরে-
আজীবন কাছে কাছে রাখি,
হাঙ্গি ভরা চাঁদ মুখপানে,
নিমেষ হারায়ে চেয়ে থাকি।
জীবনময়।
১৩১
৪৮
বড় সাধ, শিশুরে আবার,
কথায় ভুলায়ে কোলে আনি,
রাখিয়া এ বুকের উপরে,
চুমি—মধুঝরা মুখ খানি।
৪১
এই সাধ, ছােট অঞ্জলিটা,
ভরে দিব বকুলের ফুলে,
যত বার দিবে ছুরে ফেলে,
তত বার দিব তুলে ভুলে ।
হাত হতে খেলনাট টেনে-
কেড়ে নিয়ে তিলেক কাদাব,
আবার হঠাৎ হাতে দিয়ে,
মুখ ভরা হাসিটী হাসাব।
তিলেক আড়ালে লুকাইয়া,
দেখিব, সে খােজে কি না মােরে,
চৌদি তাকালে মাের তরে,
কাছে গিয়া হাসাব শিশুরে ।
অন্তৰ্জীবন
৫২
ঘুরে ফিরে বেড়াবে যখন,
ছায়ার মতন বেড়াইব,
অঙ্গুলি নিদেশি চারিদিকে,
শাখী, পাখী, ফুল, দেখাইব।
বার বার হেসে সুধাইব,
ফুটিবে সে চাদ মুখে বাণী,
শুনিব—সে চাদ মুখে গীত,
রাঙ্গাপায় নূপুর বাজনি।
শিশুরূপী বিভুরে এরূপে --
স্নেহভাবে করিব অর্চনা,
হৃদি মাঝে ফুটিবে প্রার্থনা,
সফল হইবে উপাসনা ।
ভাবময় প্রকৃতির লীলা,
রাগময় ভকতি ভুবনে,
সেখানে আসীন ভগবান,
স্বরগীয় ভাব সিংহাসনে।
.
কবি জীবন
১
-
আরশীটিী লয়ে, আপনার মুখ
নেহারিনু আজীবন,
হ’লনা পুরণাে, এযে অফুরাণে,
বাহিরে লুকানো ধন ।
२
আপনার ভাবে, মজিয়া আপনি,
বিভাের—পাগল পারা,
পলে পলে যেন পারিজাত বনে,
হই আপনারে হারা।
•
নিমেষে নিমেষে ভাব উছলামনা,
তিলে তিলে রূপ নব,
এ দোহার গুণে, টেনে এনে বুকে,
পুষিতে চাহিনু ভব।
১৩৪
কবিজীবন।
৪
আমার রূপেরে, ভাববরে, জগত,-
নাই বা বামুক ভাল,
আপনার রূপ, আপনার ভাব,
আপন হিয়ার আলাে ।
স্নেহে আবরিতে চাহি জগত্,
জগতের কোথ। স্নেহ ?
পরাণের গীত; গরমের কথা,
নাইবা শুনুক কেহ ।
আপনার গীত, হৌক বা বেসুর,
তবু তারে ভালবাসি,
পরাণ খুলিয়া, গাহিয়া গাহিয়া,
অশ্রু অমিয়ায় ভাসি ।
৭
জগতের তানে, জগতের গানে,
পরাণ জুড়াতে চাই,
কত যে সংগীত, কাণে ভেসে ফিরে,
পরাণে না পায় ঠাই।
জীবনময় ।
৮
চাদেরে হেরিয়া, মিছে হাসি কাঁদি,
হাসেনা-কঁদেনা শশী,
আমার যে চাদ, সে ত হাসে কাদে,
হাসি কাঢ়ি কাছে বসি।
.
এলে মধু ঋতু, তারি প্রেম কণা-
পরাণ লভিতে চায়,
মধুর মধুরী, নয়নের কোণ
ঝলসি ফুরায়ে যায়।
আপন বসন্ত, আপনার কাছে,
সে বসন্তে মিছে ডাকি,
এ দেহে রােমাঞ্চ-ফোটে কত ফুল,
নাচে গায় মন পাখী।
চপল জগত আঁকিতে চাহিয়া,
দিশাহারা হয়ে থাকি।
আপনার ছরি, আপনি অকিয়া,
মুছিয়া আবার আঁকি।
কবিজীবন।
নারিনু বুঝিতে, আপন ছবিটী-
হ’ল কিনা হ’ল ঠি,
নিজ পরিচয়, অসীম প্রান্তর,
তাহে হারাইনুদি।
কে আছে এমন যে আমারে চিনে,
চিনিবে এ ছবি খানি,
করেই দেখব-কেউ কি আছেরে
যারে আমি চিনি জানি।
১৪
মিছে ঘুরে ঘুরে খুজে খুজে ফিরি,
সকলি অচেনা লাগে,
যে আধেক চেনা, সে ত কলপনা,,
আধ ঘুমে আধ জাগে ।
কলপনাময়ী রূপ ভাব ময়ী
কবিতা রূপিণী মায়া,
সদা তারে ভাবি, থাকুক যদিও
চেনা জানা ছায়া ছায়া।
জীবনময়।
সুধা’লে যদিও নাহি কহে কথা,
মুখ পানে থাকে চেয়ে,
কভু কভু তার, কাছে কাছে ফিরি,
স্নেহের আভাস পেয়ে।
১৭
এ জীবন স্রোত বহে এক দিকে,
সমুখে নিঠুর বাঁধ,
বেগে অগুনরি, ফিরে আসে পুন,
ছুটিবারে চির সাধ !
১৮
ভেঙ্গে যাবে বাঁধ, কবিতা যখন,
সদয় নয়নে চাবে,
জীবন আমার অনন্ত গতিতে,
অনন্তের পানে ধাবে।
অনন্তের ফোটা অনন্তে মিশিৰে,
আসিবেই এ সময়,
আমার এরূপ, আমার এ ভাব,
মরতের কেউ নয় ।
সুখময় জীবন
সকলি সুখের, সকলি নবীন,
ভাসিছে আমার মুখ ভাগে,
পাখী চিরদিন —এক গীত গায়,
নিতিই নূতন নূতন লাগে।
শীরণ পাদপ-ঋরিয়াছে পাতা,
তবু যে আমার ভুলায় আঁখি,
নবীনতা যেন তিলে তিলে তায়-
সুখের চেহারা দিতেছে মাখি ।
জগত্ ভরিয়া সতত্ খেলিছে,
আনন্তের ঢেউ অমিয়া ময়,
একি হাসি মাখা শত শত মুখ,
একের মতন অরুটী নয়।
জীবনময়।
* ৪
একই হরষ অনন্ত আকারে,
অসীম উচ্ছাসে, নিখিল ভরা,
একই হাসিটী লয়ে লয়ে যেন
হাসিছে গগন, হাসিছে ধরা।
সুখের যে হাসি চাদের বদনে,
সে হাসি আবার উষার মুখে,
কাড়া কাড়ি করি সে হাসিটী নিয়ে,
বিপিন, সলিল, হাসিছে সুখে ।
নবীন উল্লাসে, কুসুমের কলি,
লুকানাে অধরে সে হাসি ধরে,
সে হাসিরে নেয় আধ ফুটো ফুল,
সে হাসি লইয়া ফুটিয়া ঝরে।
৭
জ
অনন্ত প্রেমের অনন্ত মুখের,
নিঝর হইতে সে হাসি আসে,
সে হানিতে ভাসি ফিরে এ নয়ন,
সে হাসিতে মিশি পরাণ হাসে
সুখময়জীবন।
হাসির পুলক মাখি যেন গায়,
ঋতুগণ আসি সােহাগ করে,
স্নেহময়ী দিবা, স্নেহময়ী নিশা,
কোলে কোলে রাখি পুষিছে মােরে ।
*,"
সুখের জগৎ সােণার সংসার,
চির হাসি ভরা বদন ছবি,
হরষের রূপ বিষাদে আঁকিয়া,
বে দেখায়, সে ত পাষাণ করি ।
সদা আমি শুনি বাজিছে জগতে,
অনন্ত বীণায় সুখের তান,
সে সুরে মিশায়ে দুখের বেসুর,
আর যেন কেহ দহেনা প্রাণ।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.