Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Manab Tattwa Kabya

Mukhopadhayay,durgadas · 2009/11/25

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

মানব তত্ত্ব কাব্য
৫ই জমি পেম্প* # ১০
* সি খোশ,{ ।
* শসীম শাহ আ গে !
• 92 k k: '০'ss: 0: ] EX
BARA:4:4.40
PAINTED BY
ANEXYK: Satu CạCKRAYERTY; *1 222.
NORTE SEBIRBA PRK4.:
1875,
* **২।।***
.

No text on this page.

মুখবন্ধ। এই মানবতত্ত্ব কাব্য কোন মূতন গ্রন্থ নহে। ইহা ইংরাজি, কবি পােপ কৃত মানবতত্ত্ব কাব্যের মর্মানুবাদ মাত্র। মূল গ্রন্থের সকল ভাবই যে এই অনুবাদে সংরক্ষিত হয় নাই ইহা বলা বাহুল্য। তবে নি- তান্ত আবশ্যক নাহইলে কিছুই পরিত্যাগ করি নাই :ান কোন স্থানে বা নুতন কিছু সন্নিবেশিতও হইয়াছে। ফলতঃ কিছু স্বাধীভাবে অনু- বাদ কার্য সম্পন্ন করা গিয়াছে। ইংরাজি ভাষানতি এদেশীয় সর্ব সাধারণের সুখবোধ করিবার জন্য এতল্লিখিত ঋক্তিদিগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ সংগৃহীত হইয়াছে। দুরূহ ভাবাদিরও টীকা করিয়া দেওয়া গেল। যাহা হউক, কাব্যানুবাদ কেহ কেহু ভাল বাসেন, নিতান্ত পাঠ্য না হইয়া থাকে, মঙ্গল। পােপ, মানবতত্ত্ব, কাব্যের পরিশিষ্টরূপে. ঊহার সর্ববাদী ; সম্মত স্তোত্রটি প্রচারিত করেন। বস্তুতঃও, তৎপ্রণীত সৰ্ববাদী সম্মত স্তোত্রেতে তাঁহার মানবতত্ত্ব কাব্যের পরিসমাপ্তি হইয়াছে। এই বিবেচনায় এই গ্রন্থের ও পরিশিষ্টে উ পরিগৃহীত হইল। পরিশেষে অবশ্য স্বীকার্য যে এই গ্রন্থ মুদ্রাঙ্কন বিষয়ে শ্রদ্ধাস্পদ শ্ৰীযুক্ত বাবু শশিপদ বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় এবং পণ্ডিতবর যুক্ত কালাচাদ উকীল মহাশয় আমার বিশেষ সাহায্য করিয়াছেন। বন হুগলি , শ্রী দুর্গাদাস শর্মা। ১১ মাঘ ১২৮১ সাল।

সুচি পত্র।
প্রথম সৰ্থ-জগৎ সম্বন্ধে মনুষ্যের অবস্থা এবং প্রকৃতি।
১ হইতে ১৫ পৃষ্ঠ।
সভায় সর্গ,
-মনুষ্যের আপন প্রতি, শক্তি এবং দুর্বলতা।
তৃতীয় স;-মনুষ্যের সামাজিক প্রতি।
৩৪ হইতে ৫০ পৃষ্ঠা
চতুর্থ সন্ধা-মনুষ্যের সুখ ; ৫১ হইতে ৭৪ পৃষ্ঠা
"রশিষ্ট,-সৰ্ববাদী সম্মত স্তোত্র ; পৃ৫ হইতে ৭৭ পৃষ্ঠা

মানব তত্ত্ব, কাব্য। '
-০*():*-*
প্রথম সর্গ
এস মিত্রবর!.(১) ছাড়ি সামান্য বিষয়,..
সামান্য জনেরে, ক্ষুদ্র জীবন সময়,
বিনিয়ােগ করি, শ্রেষ্ঠ তত্ত্বানুসন্ধানে
মানব জীবন কিবা, অন্ততঃ এখানে।
অতীব জটিল
নরতত্ত্ব সুমহান্‌;
কিন্তু সে নিয়মশৃন্য, নাহি হয় জ্ঞান।
যাহা হ” মানব জীবন-ক্ষেত্র বন,
বৃক্ষ লতা তথা সব স্বতঃ সুশােভন,
কিম্বা স উদ্যান সহ নিয়ম শাসন।
এস মাের। মিলি ইথে পৰ্য্যটন করি,
দেখি এর কোথায় কি নৈপুন্য মাধুরি,
নিম্নল ভাগ কিম্বা সুউচ্চ শিখর,
কিম্বা অন্ধতম কৃমী মৃত্তিকা উপর,
কিম্বা সে খেচর যার গগন বিহার,
সুধু চক্ষে দেখি, হেন তীক্ষ দৃষ্টি কার?
সর্ববিধ প্রকৃতি করিব আলোচনা,
ধরিব বৃথায় থাকে এক কুমন্ত্রণা।
এস মিত্রবর--কবি স্ব সমান কোন বিজ্ঞান-বিৎ পণ্ডিতকে সমভি-
ব্যাহারে লইয়া এই তত্ত্বানুসন্ধানে প্রবৃত্ত হয়েন।

মানব উত্ত্ব কাব্য।
পরীক্ষা করিব কার কেমন ব্যাভার,
বেদবি উপহাস্যে যত কদাচার।
সম্মান প্রদানে কভু নহিব কৃপণ,
যেখানে দেখিনা, ন্যায় ভদ্র আচরণ।
নিয়ত ভ্রমিব কিন্তু করিয়া সন্ধান,
প্রমাণিতে, সর্বত্রেতে বিভু দয়াবান।
ঊর্ধে বিভু ধরায় মানব, যাই বল,
তর্কের সােপান জ্ঞান নতুবা বিফল ।
নরের অবস্থা যথা প্রত্যক্ষ হেথায়,
তাহাই ধরিয়া তর্ক মীমাংসাও পায়।
অসংখ্য জগতে বিতু মহিমা প্রকাশ,
আমরা দেখিব কিন্তু হেথা যে আভাস।
বিস্তীর্ণ নভোমণ্ডলে প্রবেশি নয়ন,
নিরীক্ষণ করে যেই বিশ্ব-বিধারণ।.।
নির্ণয় করিতে পারে কি চাৰু কৌশলে,
একের নিয়মে অন্য অন্য সৃষ্টি চলে।
কোন্ লোকে কেমন মানব যেই জানে ,
সেই জানে কেন নর এমন এখানে।
কিন্তু তুমি কার কি কহিতে নিশ্চয়
এ সৃষ্টির নিয়ম বন্ধন সমুদয় ?
কাহাতে হাতে এর নৈকট্য অধিক,
কে কাহার অধীন, স্বাধীন স্বাভাবিক ?
কিম্বা কিব। শৃঙ্খলা ইহাতে বিদ্যমান?
পারনা ; অংশ কি কভু সমষ্টি সমান।
যে মহান রুজু এ ব্ৰহ্মাণ্ড বান্ধ। যাতে,
বিভুনা তােমার, সেই রঞ্জু, কার হাতে?
গর্বিত মানব! সদা নির্ণখিতে চাই,

প্রথম সগ
কেন বা দুর্বল, তুমি তীক্ষ দৃষ্টি নহ।
ওকথা রাখিয়া আগে এমীমাংসা কর,
কেন না হইলা ওহে ক্ষীণ অন্ধভর।
কন্ধরা জননীরে জিজ্ঞাস তােমার,
সাল বড় কেন, মুম এত বৃক্ষ আর।
কিম্বা অই দ্যুলােকে সুধাও, কি কারণ,
স্রষ্টার সমান নহে সৃষ্ট জীবগণ,।
জন প্রণালী মাকে যদি এনিশ্চয়
অনন্ত জ্ঞানের কাৰ্য মরুল আলম।
পুর্ণ বা অপুর্ণ তথা যাবৎ কিঞ্চিৎ;
লঘু গুৰু ক্ৰম পরস্পর যথােচিত।
তবে এই বুদ্ধিজীবী জীব শ্রেণী মাঝে
মানবের উপযুক্ত স্থান এক আছে।
অতঃপর প্রশ্ন এই করহ সন্ধান
কোন স্থান মানবের উচিত সন্মান
স্থাপিল। হারে যথা পরম ঈশ্বর,
কিম্বা র আছিল উন্নত গত্যন্তর ।
মানব বিষয়ে যাহা মন্দ জ্ঞান হয়
চরাচর সম্বন্ধে কভু মন্দ নয়।
বহু পরিশ্রমে আর বিবিধ কৌশলে,
মানবের একটি কম্পনা মাত্র ফলে।
ঈশ্বরের উদ্দিষ্ট অনেক প্রয়ােজন,
একোপায়ে সুসিদ্ধ সে বুঝে কোন্ জন।
অতএব মানব যে প্রধান এখানে
হয়ত সেবয়ে আগে অন্য জন স্থানে।
বৃহৎ জগৎ ষত্র কে জানে সকল,
ক্ষুদ্র এক চক্র তার এই মহীতল,

৩ ও
মানব তত্ত্ব কাব্য।
ইহার গতিতে চলে তান্য চক্রাবলী,
একের, স্বাস্থ্যেতে সুস্থ জগৎ মণ্ডলী।
উচ্চগ্রীব তুরঙ্গম জানিৰে যে দিন,
তেজঃপুঞ্জ,. তথাপি সে কেন নরাধীন ?
কেন যবে জানবে বলদ মন্দগতি,
কভু হলচলন, আদেশ তার প্রতি।
কভু বা বিনষ্ট সে, নরের ভক্ষ্য তরে,
কেন বা তাহারে নর পুজয়ে মিশরে ।
তখন বুঝিবে দন্তী নর বিচেতন,
কেন সে হইল, তার কেন হদি মন।
কেন কভু কাৰ্য, কভু দুঃখ বা তাড়না,
কঠিন দাসত্ব কদা দেব সম্মাননা।
অতএব কহা নহে নর পূর্ণ নয়,
বিধাতা করিলা তার দুঃখের আলয়।
বুঝিয়া দেখিলে নর সেই পরিমাণে,
পাইয়াছে বুদ্ধিবল সঙ্গত এখানে।
যাদৃশী অবস্থা তার উপযুক্ত জ্ঞান,
মুহুৰ্ত্ত সময়, এক বিন্দুমিত স্থান।
পূর্ণতা লভিবে নর যদি এনিশ্চয়,
ক্ষতি কি এখানে কিম্বা অন্য লোকালয়।
সুদিন যেমন:আজি ঠিক সেপ্রকার,
শত বর্ষ পুৰ্বেতে বা ঘটিল যাহার ।
ক্রমশঃ উন্নতি লাভ চরমে পূর্ণতা,
সর্বত্র সমান বিধি করিলা বিধাতা।
ভাবী গ্রন্থ গুপ্ত জীবে দেৰ অভিপ্রায়,
বর্তমান বিনা কেহ জানিতে নাপায়।
বুদ্ধিহীন জীবের অধিক জ্ঞাত নরে,

প্রথম সর্গ
নরের অধিক পুনঃ বিদিত অমরে।
এইরূপ সসীম নহিত যদি জ্ঞান,
জীবের কুশল কোথা, কে ধরিত প্রাণ?
যেই মেষে আজি তুমি বধিবে এখনি,
তব জ্ঞান পাইলে সে করিত কঁদনি?
যতক্ষণ না লাগে আঘাত তার গায়,
তখন নির্বোধ দেখ অর্ধ প্রতি ধায়।
উত্তোলিত যেই হস্ত বধিবার তরে,
সেই হাত চাটিছে সে দেখ স্নেহভরে।
বিধি নিয়ােজিত এই ভাবীর অজ্ঞান,
ইহাতে জীবের, আহা! কতই কল্যাণ।
যদি করি বিধি ভাবী সংগোপন,
বিভু আজ্ঞা নারিত পালিতে কোন জন।
সকলে দেখেন তিনি সস্নেহ নয়নে,
চটকের পতন যেমন বীর রণে।
পরমাণু কি কোন প্রকাণ্ড আকার,
সৃষ্টির বিলােপে সদা সমচিন্তা তার।
অতএব না ভাবিহ নিরাশ এখন,
সাবধানে এই পথে করহ গমন ।
যতদিন সুশিক্ষক মৃত্যু নাহি আসে,
পূজ বিভু পদ ভাবী মঙ্গল আশ্বাসে।
ভৰ্যি-কল্যাণ-জ্ঞান, পাও নাই বটে,
তুল্য সুখ আশা তার দেখ চিপটে ।
সুখ আশে পূর্ণ সদা মানব অন্তর,
অদ্য সুখী নহে নর সুখী 'অতঃপর ।
নির্বাসিত কারারুদ্ধ সদত যেমন,
প্রয়ে সুখের তরে কারা বিমােচন।

মানৰ তত্ব কাব্য।
অসুখী মানব আত্মা রূদ্ধ ভিন্ন দেশে,
একমাত্র নির্ভর সুখের অবশেষে।
দেৰ অই অন দরিদ্র বর্বয়,
মেঘেতে হেরয়ে যেই পরম ঈশ্বর।
অশিক্ষিত তবু তার শ্রবণ বিবরে,
বায়ুর স্বনন সর্বশক্তি গান করে।
গর্বিত বিজ্ঞান নাহি শিখাইল হয়।
কোন পথে ককে কোন অহ তাষে যায়।
তথাপি তাহার মন প্রকৃতি প্রসঙ্গে,
স্বর্গ সুখে আশ্বামিত, শান্তি সাধে।
নাহ’ক উন্নত তত প্রার্থনাহার,
একদিন সুখী হৰু আশা ত তাহার।
অভ্রভেদী শৈল-স্কন্ধে নিভৃত আলয়
কিম্বা কোন রম্য দ্বীপ সাগর মাঝায়।
ভাবে সে যাইবে যখ দাসত্ব কঠিন,
স্বর্ণাতুর চর তার, হৃদয় বিহীন,
নারিবে ক্লোশিতে তারে আর একদিন।
স্বাভাবিক ইচ্ছা তদধিক নাহি যাচে,
অমরের জ্যোতিঃ পাখা ৰিভব যা আছে।
সকলে সমান, নাহি দাসত্ত্ব যন্ত্রণা
হেন স্থানে অর্থ তার একান্ত প্রার্থনা।
সরলা প্রেয়সী আর বিশ্বাসী কুকুর,
পিতে তালের রস ঐশ্বৰ্য্য প্রচুর।
যাও, বিজ্ঞতর তুমি বিধির বিধানে,
ওজন করিয়া দেখ বুদ্ধি তুলামানে।
অপূণ বলহযথা ক্রটি বােধ হয়,
পূর্ণ কহ গিয়া যথা অপুর্ণ নিশ্চয়।

প্রথম সর্গ
বধ গিয়া জীব-দলে কৌতুক আবেশে,
কিম্বা শ্রেষ্ঠ তুমি তব ভােজন উদ্দেশে।
অথচ অসুখী নর, দৈব অবিচারে,
এই বলি, খেদ কর নিন্দ বিধারে।
মানবেরি মুখামুধ মানব কল্যাণ,
সবে ফেলি, কেন নাহি চিন্তে ভগবান।
গুৰুতর অন্যায় এ অতি অবিচার।
কাড়ি লও রাজ-দণ্ড, কর্তৃত্ব তাহার।
কর্তৃত্বের ভার রাখে হেন জন হাতে।
আপনি ব্যবস্থা কর সুবিধা যাহাতে।
যেখানে যেখানে দেখ কিছু অবিচার,
ঈশ্বর-ঈশ্বর তুমি,, ভুল ধর তার।
অহংকার বুদ্ধির গৌরবে ভুলি, হায়।
আত্ম গ্রাম ছাড়ি নােক উর্ধদিকে ধায়।
অহংকার সদত যাহার অনুধ্যান,
লভিতে প্রধান পদ উচচতম স্থান।
নর চাহে দিব্যধাম অমর সম্পদ,
অমর প্রার্থনা পুনঃ স্রষ্টা বিভুদ,
দেবত্ব (১) আকাঙ্খী যদি, অময় শতিত,
নর-অমরতা স্পৃহা, অবশ্য গর্হিত।
উলটাইতে চাহে যেই, প্রকৃতিক গতি,
নিখিল কারণ আগে, পাপী সে কুমতি।
জিজ্ঞাস, কিহেতু অই জ্যোতিষ্কমণ্ডল,
পৃথিবী কি হেতু? দন্তী বলে সে সকল।
(১) দেবত্ব ইত্যদি-ইংৰাজ কৰি মিল টন স্বর্গের অমরদিগের ঈশ্বর
বিরুদ্ধে বিদ্রোহিত চারণ এবং তঁহাদের পত্তন বিষয়ে অতি উৎকৃষ্ট
কাব্য প্রণয়ন করিয়া গিয়াছেন।
-

৮
মানব তত্ত্ব কাব্য।
তার তরে; প্রকৃতি উদ্যক্তা নিরন্তর,
বানাইতে বৃক্ষ লতা পুষ্প মনােহর।
বর্ষে বর্ষে, তার তরে গোলাপ, আঙ্গুর,
আকর্ষণ করে রস সৌরভ প্রচুর।
তার তরে, সমুজ্জল খনি শতশত
মহামূল্য রতন হীরক মরকত।
সহস্ৰ নিৰ্বর হতে, ঝরে তার তরে,
সুখ স্বাস্থ্য স্রোত প্রকৃতি স্তরে স্তরে।
সমুদ্র বাহন, তার, আলাে দিবাকর
পৃথিবী আসন, নভঃ দোয়া সুন্দর।
প্রকৃতির সদয় এভাব কি কখন,
হয় বিরূপ, যবে, প্রচণ্ড তপন,
অসংখ্য জীবের প্রাণ করয়ে নিধন ?
কিম্বা যবে, ভুমিকম্প অতি, ভয়াবহ,
অর্ধেক নগর গ্রাসে, গৃহ দ্বার সহ ?
কিম্বা যবে ঝটিকা উড়ায়ে লয়ে যায়,
সাগর তরঙ্গ তলে দেশ সমুদয় ;
তদুত্তরে কহে সে, না;-জগত কারণ,
একই নিয়মে সবে করেন পালন।
অমঙ্গল একের, অন্যের হিতকর,
সেই হেতু দেখা যায় হেন ভাবান্তর।
অল্প পরিবর্ত ইথে, বহুদিন পরে,
সৃষ্টির মঙ্গল ভাব হ্রাস নাহি করে।
ত্রুটি শূন্য কিবা বল, জগন্মগুলে;
তবে যে সে ক্ষুব্ধ নর পূর্ণ নহে বলে ?
মানবেরি সুখ যদি একি অভিপ্রায়,
তাহলে প্রকৃতি বটে প্রতিবাদী তায়।

প্রথম সর্গ ৯ নর সে প্রকৃতি গত, সেও তত প্রায়। মানব সুখের তরে প্রকৃতি যেমন, সময়ে সুবৃষ্টি রোদ্র করিবে প্রেরণ। তেমনি মানব, নিজ হৃদয় অলয়ে, শাসনে রাখিবে শত বাসনা নিয়ে। অক্ষয় নিঝর যথা নির্মল আকাশ, তথং নর-মিলচার, শান্তি অভিলাষ। ভাল, যদি দেবােদ্দেশ্য বিফলীকৃত নয়, ভূমিকম্পে, মড়ক বা অন্য দুঃখােদয় । রঘাে (১) বা সিজর (২) তবে কেন দোষী হয়? কে জানে বিধাতা বিনা, যার এক হাত, সাগরের বৃদ্ধি; আর বাত্যা বজ্রপাত। কেন তিনি দিলেন সে সিজরের মনে, দুর্দম্য, বাসনা বা রঘাের লােভ ধনে। (১) বুঘোরঘাে সিন্ধ নাম ডাকাইত ; জেলা ২৪ পরগণার অন্তঃপতি? পাইঘাটির নিকট বসিদিনি গ্রামে ইহার নিসি ; এই দ্য জাতিতে বহ্মিণ ছিল, কথিত আছে উহার দৌরাতে এককালে তাবৎ বঙ্গ- দেশ না হউক ইহার অনেক গুলি জেলার লোক অতিমাত্ৰ উৎপতি গ্রস্থ হইয়াছিল। বরাহনগর নিবাসী জগন্নাথ চট্যোপাধ্যায়ের বাটীতে রঘুরমের শেষ দৌরাত্ম, তৎপরে ধৃত হইয়া কাশীপুরে রামহরি ঠাকুরের বাগানে, তাহার ফাঁসি হয়। রামহরি ঠাকুর মহাশয় বক্ষিণ শােণিত পাতে নিজ উদ্যান অপবিত্ৰীকৃত জ্ঞানে তথায় দ্বাদশটি শিবমন্দির প্রতিষ্ঠিত করেন। প্রসিদ্ধ জমীদার বাবু প্রাণ নাথ চৌধুরী মহাশয়ের কাশিপুরের বটির পূর্বদিকে, ঐ সেই দ্বাদশ মন্দির। শুনা গিয়াছে রঘরাম লুণ্ঠিত বহু অর্থ, কন্যা-দায় ও পিতৃ মা দায়গ্রস্ত ব্যক্তিদিগকে দানও করিতেন । (১) সির,রোমীয় সেনাপতি জুলিয়স সিজর ইনি অতি ঘৃণিত ভাবে সমুদয় রোম • রাজ্য অধিকার করিতে উদ্যত হইয়া ছিলেন। ; F মানব তত্ত্ব কাব্য। কিলাগি বা যুবক আমন (১) সে প্রকার, লণ্ড ভণ্ড করিল সুসভ্য স্থাপনার। অহংকারে আমাদের বিচার বাসনা, ভাল মন্দ ভৌতিক, নৈতিক বিড়ম্বনা। ভূমিকম্প হউক তাহাতে ক্ষতি নাই, সিজারের প্রাদুর্গৰ সহিতে না চাই। ধাতার নির্দেশ, তার এই সুবিচার, মানবের অকুণ্ঠিত বশ্যতা স্বীকার। আমাদের শুভ বলি যেন বােধ হয়, নির্বিরোধ ভূত গণে, শান্ত রিপুচয়। জল বায়ু কদাচ বিবাদী, রস্পরে, সদত সম্ভাব, ধর্ম মানব অন্তরে। কিন্তু ভুতণ নিজ স্বভাবানুসারে, বিবাদ নহিলে তারা থাকিতে না পারে। রিপু গণণা, মানবের জীবন সহায়, তাদেরিত্র ভক্ষ্য, ভােজ, বাঁচিয়াছি যায়। ভৌতিক যে নিয়ম, স্থলা ভগবান, বক্ষে জীব মানবেও, তাই সুবিধান। কিন্তু সে মানব, হায়, তুষ্ট নহে হে, কভু দেব-দৌত্য, কভু উচ্চ , কভু উচচ সত্ত, চাহে। কভু ধরাতলে আসি, ক্ষুব্ধ মনে মনে, (১) যুবক আমন মে,-আলেকজারকে বুঝাইবে ইনি ইউরোপের অন্তর্গত মাসিভেনের অধিপতি ফিলিপের পুত্র ছিলেন, এবং নিজৰাহুবলে অনেক দেশ অনেক রাজ্য জয় করেন। ইহার দিগিজয় সমস্ত অতি ভয়াবহ, উদ্বারা যে কত রাজ্য ছি ভিন্ন, দগ্ধ ও ভী ভূত হইয়া ছিল তাহার ইয়ত্তা করা যায়না। অভিমানী, দিগিজয় কালে প্রসিদ্ধ জুটির অমিন দেবের মন্দিরে গিয়া পণ্ডিাদিগের ধারা অাপনাকে জুপিটাৰ অামনের পুত্র বলিয়া প্রচারিত করিতে চান, সুক ও ভীত পণ্ডিারা তাহাতেই সম্মত হয়।

প্রথম সর্গ
১১
বষভের বলধিক্যে, ভল্লুক-বসনে।
তব সেবা হেতু যদি নিখিল কারণ,
জিলা বৃষভ আদি যত জীব গণ।
পুনঃ কি লাগিয়া বল, শক্তি সবার,
দিবেন তােনারে এযে বৃথা আবদার।
জীৰ সবে প্রকৃতি সদয় যথােচিত,
অর্পিলা ইন্দ্রিয় শক্তি, যথা যে বিহিত।
একটি অভাব পূর্ণ অন্যবিধ দানে,
দ্রুত গামী অতি যে, সে অল্প বলাধানে
যেমন অবস্থা যার প্রকৃতি তেমন
যােগ বা বিয়ােগ সহে নাহি একজন।
প্রতি শশু, প্রতি কীট, জিজ্ঞাস সবারে,
কেহ ক্ষুন্ন নহে, নিজ অবস্থানুসারে।
সন্তুষ্ট তাবৎ জীব, তাবৎ প্রকৃতি,
বাম কি বিধাত। শুদ্ধ মানবের প্রতি ?
বুদ্ধিজীবী যাহারে গড়লা ভবন,
সকলি তাহু!র চই, বৃথ। অভিমান।
মবের মুখ (দন্ত যদি উহা পায়,)
মনুষ্যত্ব ছ'ড় নহে, নিহত ভাহায়।
এই হস্ত পদ যদি আবির্ভূত হয়,
অন্য কে। জীবের সামর্থ্য সমুদয় ।
কিন্তু যদি এঅাত্মাতে কচিৎ সঞ্চারিত,
অণর কাহার ফুৰ্ত্তি প্রকৃতি অতীত।
অসম্ভব যদিও এসুখের কনা,
সাধ্য কি ধারণ করি হেন বিড়ম্বনা।
অনুবীন সদৃশ নয়ন কেন বিধি,
দিলা মানবে এই তৃর্ক কর যদি ?

মানব তত্ত্ব কাব্য।
মক্ষিকার তাদৃশ নয়ন প্রয়ােজন,
মানব মদিকা নহে, এই সে কারণ।
ক্ষুদ্রতম দ্রব্য মাত্র, তাহে দেখা যায়,
নর কি অরগ শােভা দেখিবেনা তায়।
স্পর্শ জ্ঞান যদ্যপি হইত সুপ্রবল,
বায়ুস্পর্শে কঁাপিত বাঁদিত অবিরল ।
তথৈব আঘ্রাণ যদি তীক্ষ অতিশয়,
গােলাপ-সৌরভে ভ নর মরিত নিশ্চয়।
কিম্বা যদি অসহ বাজিত নর কানে,
ক্ষুদ্র ঝি ঝি রব সে অশনি পরিমাণে।
মৃদুল বায়ুর শব্দ নদীর কল্লোল,
কেমনে শুনিতে তুমি গীতি মধুরােল।
অতএব কে বলিবে বিভু অসদয়,
গড়িল। মানবে হেন, হেন বস্তুচয়।
সৃষ্টির শৃঙ্খলা ক্রম যতদুর যায়,
জড় হৈতে জীব, ক্ষুদ্র হৈতে বৃদ্ধি পায় ।
ক্ষুদ্রতম পতঙ্গুেতে যে অল্প মাত্র জ্ঞান,
তদূর্ধ শ্রেণীতে উহা কত বলবান।
দর্শনের তীক্ষমতা কেমন বাড়িয়াছে,
অন্ধ প্রায় চুচা, আর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি বাজে।
শিকারানুধাবিতা সিংহীর আম্রাণ,
সারমেয় ক্ষমতার কত পরিমাণ।
শ্রবণের পারিপাট্য দেখ কি বাহার,
জলচর সবে, শূন্যে বিহঙ্গম আর।
মাকড়ের স্পশ জ্ঞান কত সুক্ষতর,
মক্ষিকা ছুইতে জাল ব্যস্ত সে পামর ।
সুন্দর মৌমাছি পুনঃ দেখ কি বিচ,

প্রথম সর্গ
গরল তত্যজিয়া শুধু লয় পুষ্পসার।
কর্দম অবলুণ্ঠিত শকরের সনে,
বুদ্ধির প্রাখৰ্য্য দেখ হয়, হস্তীগণে।
বুদ্ধিহীন শূকরের বুদ্ধির তুলনা,
জ্ঞানবান্ মাতঙ্গে কেবল বিড়ম্বনা।
পশু বুদ্ধি আর জ্ঞানে কতই প্রভেদ,
কতই নিকট কিন্তু সুক্ষ্ম পরিচ্ছেদ।
বিবেচনা স্মৃতিতে নৈকট্য চমৎকার,
কত বিভিন্নত। কিন্তু চিন্তা চেতনার।
মধ্যবর্তী প্রকৃতি অত্যষ্পে ধরাযায়,
তথাপি বিভিন্ন কত সূক্ষম বেড়া তায়।
এই বিভিন্নতা হেতু বশ এ উহার,
বুদ্ধিমান হেতু তুমি প্রভু সবাকার।
সকলের প্রভুত্ব লভিলা যেই বলে,
সৰ্ব্ব জীৰ বল তব হইল না ফলে ?
দেখ এই আকাশ সমুদ্র মহীতলে,
জড় জীব মনুষ্য হতেছে কি কৌশলে।
ঊর্ধে, কত উন্নত চেতন সন্তাবিত,
চতুর্দিকে নিম্নশ্রেণী কতই বিস্তৃত।
বিস্তীর্ণ জীবের শ্রেণী আরম্ভ ঈশ্বরে,
বিভিন্ন প্রকৃতি, দেব, নর, পরে পরে।
পশু পক্ষী মৎস্যাদি কীটাণু ক্ষুদ্রতম,
চক্ষুর অদৃশ্য, হেন কাচ সে অধম।
অসীম ঈশ্বর হৈতে সসীম তােমাতে,
তােমা হইতে নিম্নে ভুত, সৃজন যাহাতে।
উচ্চতম জীবের শকতি যদি চাই,
নিম্নতম চাহিবে মােদের কথা নাই।

১৪
মানব তত্ত্ব কাব্য।
এই রূপে সুজন শৃঙ্খল, এক স্থানে,
ভাঙ্গিৰে, ভাঙ্গিবে যথা তথা পরিমাণে।
প্রকৃতি শৃঙ্খল গ্রন্থি একটি ভাঙ্গিলে,
দশম বা দশ সহস্ৰম, সব ভয় ফলে।
পৃথিবী প্রভৃতি গ্রহ এবিশ্বমণ্ডলে,
পরস্পর সংবদ্ধ থাকিয়া ঠিক চলে।
কিন্তু যদি একের অন্যথা কিছু হল,
সমুদয় বিচ্ছিন্ন বিনষ্ট সে সকল।
নিজ কক্ষ ছাড়ি যদি পৃখিবী পলায়,
ছুটিবে তাবৎ গ্রহ সূৰ্য্য বা কোথায়।
দেবগণ বিচুত পড়িলে ভিন্ন স্থানে,
কোথা নর কোথা জীব, জ্যোতিষ্ক গগনে।
জগতের মুল-মধ্য টলিবে সকলে,
সৃষ্টি বিকম্পিত আসি বিধি পদতলে।
কার তরে, ভাঙ্গিবে এ সুচাৰু শৃঙ্খলা,
তাের লাগি, পামর মানব, দূর পলা!
পদ যদি না চলিয়া, হস্ত কৰ্ম্ম ফেলি,
মস্তকের স্থানে গিয়া বসে কুহলী।
মস্তক নয়ন পুনঃ, কি কর্ণদ্বয়,
সেবিতে মানসে যদি অসম্মত হয়।
তথৈব অন্যায় যদি অঙ্গ অঙ্গান্তর,
আক্রমণ করে ছাড়ি নিজ কর্ম, ঘর।
তথৈব অন্যায় দুঃখ বিধির বিধানে,
সব্ব সৃষ্টি কর্তা তিনি সৰে ভঁয় মানে।
তাবৎ সুজন এক দেহ সুমহান,
মাে' সবে অন্ধু তার, বিভু তার প্রাণ।
সেই প্রাণ ভিন্নরূপে সবে অবিরত,

প্রথম সর্গ
পৃথিবীতে যেমন, আকাশে ওতপ্রােত।
ঘূৰ্যে সেই তেজঃ সেই শৈত্য সুমলয়ে,
তারকা জ্যোৎস্না সেই পুষ্প বৃক্ষ চয়ে।
সকল জীবের প্রাণ, সর্বত্র বিস্তৃত,
অখণ্ড প্রভাবে ব্যাপ্ত নুন কদাচিত।
আমাদের আত্মার প্রাণন, তাহা হৈতে,
দেহের গঠন, বল, সৌন্দয়্য তাহাতে।
পূর্ণ বিচক্ষণ যথা ক্ষুদ্রতম চুলে,
তথা সুমহান তত্ত্ব র হৃদি মুলে।
নীচনরে, পামর সে সদা গণ্ডগােল,
আর সে অমরে যার স্তুতি উভৱােল ।
তার কাছে ছােৰ্ট বড় সকলে সমান,
পূর্ণ তিনি সবে একই করেন বিধান।
ক্ষান্ত হও, তবে আর অপূর্ণ বলনা,
মানবের সুখ তাহে তুমি যা ভাবনা।
আপন অবস্থা বুঝ, এ শক্তিভােমার,
বিভু পরিমিত দান, সুখের আধার!
বশ্যতা স্বীকার কর, হেখা বা সেথায়,
নিশ্চিত সে সুখে তুমি অধিকারী যায় ।
এক মূল শক্তি, যার কর্তৃত্ত্ব অধীনে,
মঙ্গল তােমার, কিম্বা জন্ম মৃত্যু দিনে।
প্রকৃতি, কৌশল চাৰু তুমি জ্ঞাত নও,
অদৃষ্ট, আদেশ, তুমি দেখিতে নাপাও।
বৈচিত্র্য, নিয়ম, নর বুঝিবারে নারে,
জনৈকের বিপদ মঙ্গল সবাকারে।
দন্তী যাহা বলুক, ভ্ৰমান্ধ যা বলয়,
এক সত্য স্থির, এ সুজন শিবময়”।

মানব তত্ত্ব কাব্য।
দ্বিতীয় সর্গ
অতএব হে মানব! সাহস করনা,
গুৰু বিভু তত্ত্বে আগে জিজ্ঞাস আপনা।
অসীম মলালয় আত্মপরিচয়,
সে বিনা বিফল অন্য জ্ঞান সমুদয় ।
মধ্যবর্তী স্থানে নর তব অবস্থিতি,
একদিকে পশুত্ব, অপরে দৈব জ্যোতিঃ।
পশু হৈতে শ্রেষ্ঠ, নহ অমর সমান,
কভু পূর্ণ অভিজ্ঞতা কভু অজ্ঞান।
সুদিব্য মহত্ত্বে তুমি কভু বিভূষিত,
কদাপি আবার, হায়! হীন অনুচিত!
জানিও, কহিতে নার ষ্টোয়িকের (১) সনে,
জানিনা বা কেমনে কহিবে দন্তমনে।
মধ্যে লম্বমান তুমি জাননা নিশ্চয়,
পশুত্ব দেবত্ত্ব কিম্বা তােমার নির্ণয় ।
শরীর বা আত্ম শ্রেষ্ঠ সুবিদিত নহ,
নতুবা সংশয় কেন, কেন ভীত রহ।
জনম মরণ হেতু কিবা কাৰ্য্য আর,
ভ্রম হেতু বুদ্ধি ? কই তৰ সুবিচার ?
অল্প বা বিন্তর নর, যত চিন্তা কর,
সমান অজ্ঞান তুমি সম ভ্রান্তিপর,
রিপু কলুষিত সদা ধীশক্তি তােমার ।
অনুচিত পথে তাই যাও বার বার,
(১) স্টোয়িক - রােমীয় পণ্ডিত সম্পদায় বিশেষ, ইহারা ধর্মের অতিশয়
সমাদর করিতেন; জিতেন্দ্রিয় হওয়া, ইন্দ্রিয়দিগকে সম্পূর্ণ রূপে দমন
করা কর্তব্য মনে করিতেন; ইহাদের মতে আত্মহত্যা, পাপ নহে এবং
পরলোকের শাস্তি পুরস্কারের ভয় ও অাশা না করিরা মনুষ্য স্বকৰ্তব্য
সাধন করিবে।

১৭
দ্বিতীয় সর্গ
আপন প্রকৃতি সেই মলিন দর্পণে,
দেখিতে নাপাও তা বা পাইবে কেমনে।
পুত উৎস সন্নিধানে বহে যতক্ষণ,
বিমলা তটিনী, তদানুস্বচ্ছ দর্পণ।
প্রতিভাত প্রকৃতি হাতে অবিকল,
প্রকাণ্ড পর্বত সহ রম্য বনস্থল।
কিন্তু সে নীচগা যবে গিরি উৎস হতে,
সমাগতা সুদুর মলিন পৃথিবীতে।
পৃথিবীর অনুরােধে, ধরেনা সে আর,
বিধি বিরচিত রূপ যেমন যাহার।
অর্ধেক উন্নত, অর্ধ নিকৃষ্ট তােমার,
সকলের প্রভু, তবু অধীন সবার।
সত্যাসত্য বিচারে একাকী অধিকারী,
তথাপি সদত এমে, সদা বশ তারি।
জগৎ মহিমা পুর্নঃ তামাসা তাহার,
নররূপ হিয়ালি বুঝিবে সাধ্য কার।
চমৎকার জীব! উঠ, বিজ্ঞান শিখরে
মাপ গিয়া মেদিনী পবন, প্রভাকরে।
নির্ণয় করিয়া বল জলধির ফাপ,
ভাটা আর জোয়ারের বাসন্ত প্রতাপ।
অথবা কহিয়া দেও অই গ্রহগণে,
সদত যেপথে তারা, ভ্রমিৰে গগনে।
সময় গণনা যদি ঠিক নাহি থাকে,
রবি ঘড়ি ফিরাইয়া আন তায় অকে। (১)
(১) অকে-রাশিচক্র, বার অঙ্ক ; এক মাসে পৃথিৰী এক ২ রাশিতে পদ
নিক্ষেপ করত সম্বৎসরে সৰ্যকে প্রদক্ষিণ করিয়া আইসে ; চৈত্র
সংক্রান্তিতে বৎসর সারব্ধ হয়।

মানব তত্ত্ব কাব্য।
ধীর পেটো (১) সনে গিয়া উঠ সে গগনে,
আদি সত্যু মঙ্গল পুৰুষ যেই স্থানে।
অথবা চলহ, পরে চলিল যেমন,
কুটিল কুতর্ক পথে তাঁর শিষ্যগণ ।
পোত্তলিক ভাবে বিভু প্রতিমূর্তি গড়ি,
শির নমাইয়া পুজ বুদ্ধি পরিহরি।
অনন্ত জ্ঞানের আজি শাসন শিখাও,
আত্ম তত্ত্বে হারি কালি আপনা লুকাও।
উন্নত অমরগণ দেখিলা যখন,
মর নর নিসর্গ করিছে নিরূপণ ।
প্রিযমানি, পার্থিব আকারে দৈবজ্ঞান,
নিউটন (২) বেশে, দেখা দিল পূন্যবান।
মানব যেমন কভু পশুবেশ ধরে,
পশুর অতীত নৃত্য নান.ক্রীড়া করে।
তবু দেব নিউটন নারিলা কহিতে,
কোন শক্তি বলবান নর চল চিতে।
ধুমকেতু নিয়মে যে করিল নির্ণয়,
মানব সৃজন,.শেষ, জানেনা নিশ্চয়।
কি আশ্চৰ্য্য নরের উন্নত বৃত্তিচর,
১) প্লেটো - গ্রীসদেশের অতি প্রাচীন ও প্রসিক পণ্ডিত; তাঁহার গুরু
সক্রেটিস ; ইহুরি ঘোর পৌত্তলিকদের মধ্যে থাকিয়াও পৌত্তলিকতাকে
অতি ঘণিত পপি জ্ঞানে পরিহার করেন। অত্মিার অমরতা ইহার।
অতি বিশুদ্ধ ভাবে সপ্রমাণ করিয়া গিয়াছেন। ইহাদের জীবনের
অদিশ’অতি উচ্চ। ইহাদের শিষ্যগণ ক্রমে আবার সেই গো-
লিকতাতে প্রত্যাবৃত্ত হয়েন।
(২) নিউটন ;-প্রসি ইংরাজ বিজ্ঞানবিৎ পণ্ডিত নিউটন, সৌরজগত সম্বন্ধে
অনেক বার্তা আবিস্কৃত ও প্রচারিত করেন। মাধ্যাকর্ষণত্ব আবি,
কার ইহুরি বিশেষ প্রতিষ্টার ভমি। বস্তুতঃ ইনি বড়, গুণবান্ লোক
ছিলেন। কবির প্রশংসাবাদ তত অসঙ্গত নয়।

দ্বিতীয় সর্গ
অব্যাহত অন্য তত্ত্ব করিতে নির্ণয়।
নিরন্তর এক হৈতে আরে ব্যগ্র খায়,
আপনা সন্ধানে কিন্তু চঞ্চল সদায়।
বিবেকের উপদেশে যদি অগ্রসর,
সদা প্রতিবাদী তায় প্রবৃত্তি নিকর।
ত্যজ এ ঔদাস্য, কর আত্মানুসন্ধান,
আত্মতত্ত্ব নর তব প্রকৃত কল্যাণ।
তত্ত্ব বিদ্যা উপার্জন দুরূহ নিশ্চয়,
কিন্তু যত ভাবে লােক তত গুরূ নয় ।
বিনম্র হৃদয়ে আর সহ দৃঢ় মন,
প্রবেশহ, মন্দিরে, পাইবে দরশন,
দেখছ যে বাহিরে বিবিধ অলঙ্কার
পাণ্ডবদের প্রদত্ত সে নহে বিমলার,
আপন গৌরব তরে বৃথা আড়ম্বরে,
লুকারে রেখেছে মায়, টীকা ভাষ্য স্তরে
সূত্র, ভাষ্য টীকা ফাকি, কটাৰ্থ নিচয়,
জ্ঞানীদের অভিমান, সন্তুম আলয়,
অর্ধেক উলঙ্গ আর উর্দ্ধ দীর্ঘ ফোটা;
সভায়রাহণের দানে বেশ মােটা সােটা।
বাম মুষ্টি উপরে দক্ষিণ করাঘাতে,
বিস্মিত সকলে যে যে আছিল সভাতে।
তর্কের চাতুর্য দেখি কহে লােকচয়,
মানব মস্তিষ্ক এত প্রসারিত হয়।
চমৎকার সন্তুম আশ্চৰ্য্য অভিমান,
বিদ্যারে দুষ্পাপ্যা করা যার অনুধ্যান।
দাৰুণ অজ্ঞানানল দহে লক্ষ জনে,
জ্ঞান উৎস রুদ্ধ করা বিহিত কেমনে।

২০
মানব তত্ত্ব কাব্য।
পৌষ মহত্ব ইথে নাহি এক কনা,
বুদ্ধি স্ফুৰ্ত্তি ইহাতে নিতান্ত বিড়ম্বনা ।
দুরে ফেলি জ্ঞানীর গর্বের আড়ম্বর,
তর্ক ভাষ্যটীকা, বাঞ্জাল শােভাকর।
চতুর্বিংশ তত্ত্ব, তন্ত্র, ষড় দরশন,
শ্রীমৎ ভাগবৎ, গীত শ্লোক অগণন।
কত অল্প সরল এ সকলের সার,
কত অল্প জ্ঞানেতে মঙ্গল হেথাকার।
কতই অর্শ বা অতঃপর প্রয়ােজন,
তাহাও দেখিবে জ্ঞান সুলভ কেমন।
দুই বৃত্তি মানব প্রকৃতি ভােগ করে,
এক আত্মদর, অন্য প্রজ্ঞ। নাম ধরে।
প্রথমের উৎসাহে মানব কাৰ্য্যে ধায়,
দ্বিতীয়ের বিচার মানব ইষ্ট যায়।
প্রজ্ঞা হিত আত্মদর অহিত আকর,
এরূপ ব্যাখ্যান কভু নহে ন্যায়পর।
আত্মদর প্রজ্ঞা দুই উপাদেয় নরে,
নরসুখ প্রজ্ঞামােদিত আত্মদরে।
মানবের সম্পদ বিপদ সমুদয়,
আত্মদর প্রজ্ঞার প্রাবল্যে নয় হয়।
প্রজ্ঞা চেয়ে আত্মদর অধিক প্রবল,
মূল গতি শক্তি হে চালিত সকল ।
প্রজ্ঞা তুলামানে সদা করে পরিমাণ,
মানবের কোন কাৰ্যে কত অকল্যাণ।
আত্মদর বিনা সবে নিশ্চেষ্ট থাকিত,
প্রজ্ঞা বিনা বৃথা কিম্বা অকাযে ভ্ৰমিত।
৩. বৃক্ষ যথা স্থাপিত ধরায় একনে,

২১
দ্বিতীয় সর্গ
কিছু দিন বাড়ি ততঃপর শুল্ক প্রাণে।
কিম্বা যথা উস্কাগ্নি আকাশে ভ্রাম্যমাণ,
অসীম মিছে বিনা অধিক কল্যাণ।
ইষ্ট কিম্বা অনিষ্ঠ বাঞ্ছিত নহে তার,
তথাপি অনিষ্ঠ করে কাছে যায় যার।
সঞ্চালনী শক্তির বলের প্রয়ােজন,
এমকাৰ্য্যে সদা চাই দৃঢ় আকর্ষণ।
আত্মদর কাৰ্য্য অতি কঠিন নিশ্চয়,
প্ররােচনা বলে খণ্ড আলস্য দুর্জয় ।
অলঙঘ্য পৰ্বত আর সাগরের পারি,
স্বার্থ বিনা লয়ে যায় হেন সাধ্য কার ।
ধীর শান্ত বিচার শক্তির অধিষ্ঠান,
লাভ ক্ষতি গণনা কল্যাণ অকল্যাণ।
বলবতী প্রবৃত্তি বিষয় সন্নিধানে,
প্রজ্ঞা বলবান পরিণাম অনুমানে।
নিকট যে শুভ তাই দেখে আত্মদর,
প্রজ্ঞার বিচার কি হইবে অতঃপর ।
প্রলােভন অধিক সংশয় তত নয়,
প্রজ্ঞা সাবধান কিন্তু ক্ষীণ অতিশয় ।
প্রবলের বলহানি সাধিবার তরে,
প্রজ্ঞার আদেশ ধর মস্তক উপরে ।
পূর্বাপর দেখি কাৰ্য্য করিতে করিতে।
বিচার অভ্যস্ত হয় অভিজ্ঞতা চিতে।
বিচার পটুতা আর পরিণমি জ্ঞান।
প্রজ্ঞা পুষ্টি হেতু, নাশে আত্ম অভিমান।
যা বলে বলুক জ্ঞানী সুক্ষ দশচয়।
আত্মদর প্রজ্ঞা কে কার শত্রুনয় ।

২২
মানব তত্ত্ব কাব্য।
দাশনিক গণের বিবাদ অভিপ্রায়,
সামঞ্জস্য ভাব অন্য ভাল বুঝা যায়।
সুমতি, সৎকাষ আর প্রজ্ঞা অভিলাষে,
বিবাদ বাধায়ে দিয়া দার্শনিক হাসে।
শব্দ লয়ে বাতুলে করয়ে বিসম্বাদ,
অর্থে যদি এক হয় কেন যুদ্ধ সাধ।
আত্মদর প্রজ্ঞার একই অনুধ্যান,
অসুখ দুয়েরি বিষ, আমােদ কল্যাণ।
আত্মদর পেটুক বিচার নাহি তার,
প্রজ্ঞা পুষ্প রাখি করে অমৃত আহার।
আমােদের ব্যাখান যেরূপ সেপ্রকার
কদাপি আমােদ পুণ্য কভু দূরাচার।
আত্মদর নিঃসৃত যাবৎ বৃত্তি চয়,
রিপু নামে আখ্যাত ছত্রিশ কিম্বা ছয়।
বথার্থ মঙ্গল কিম্বা মঙ্গল আশ্বাসে,
সদা ভ্রাম্যমাণ তারা ফেরে দেশে দেশে।
সাধারণ হিত চিন্তা অসাধ্য যখন
প্রজ্ঞার ব্যবস্থা, সাধ আপন আপন।
রিপুগণ আত্মম্ভরী, কিন্তু যদি কাজে,
কেহ নাহি দুঃখ পায় মানব সমাজে।
তবে তায় পবিত্র প্রজ্ঞার সম মানি,
আর যে বিষয় ভােগে কার কিবা হানি?
রিপূ মাঝে যতেক সুউচ্চ লক্ষ্যে ধায়,
ধৰ্ম্ম বলি তাদের প্রশংসা করা যায়।
অকর্মণ্য আলস্যে ষ্টোয়িক দম্ভ করে,
তার ধর্ম সুখ দুঃখ বিহীন অন্তরে।

দ্বিতীয় সর্গ
সংযত সকল রিপু, প্রীতি, আশা ভয়,
মানব মনের স্বাস্থ্য, বল, তাতে নয়
স্থির জড় ভাৰ নর শক্র সুনিশ্চয়।
উত্তাল তরঙ্গে আত্মা আকুলিত করে,
কিন্তু হে অল্প ক্ষতি বহু গুণ ধরে।
বিস্তীর্ণ সংসারার্ণবে এই দেহ তরি,
রিপুর বাসে চলে, প্রজ্ঞা হাল ধরি।
শান্তি সমাগমে যথা, তথা জলে ঝড়ে,
সৰ্বত্ৰ সমান বিভু সবে ব্যক্ত করে,
ক্ষিতি অপ মৰুদ্বেমি হুতাশন আর,
পঞ্চভূত পরস্পরে দ্বন্দ অনিবার।
কিন্তু সবে মিলিয়া জগৎ সৃষ্টি করে,
মহাভূত সম রিপু মানব অন্তরে।
পরস্পর বিৰুদ্ধ তথাপি রিপুগণ,
প্রত্যেকে মানব হিত করে অন্ষেণ।
রিপুগণ প্রধান সহায় নরণে,
তাবৎ ঐশ্চৰ্য্য সুখ শান্তি সম্পাদনে ।
পঞ্চভূত লইয়া বাহিক সমুদয়,
রিপুগণ সম্মিলনে মানব হৃদয়।
শ্রেষ্ঠ আত্মা বলবান্ যাহাদের বলে,
কেমনে অধম হেন বল সে সকলে।
কেমনে বা চাহ নর রিপূ নাশিবারে,
রিপু বিনাশিবে আগে নাশ আপনারে।
রিপুর উচ্ছেদ চেষ্টা বৃথা আকিঞ্চন,
কেহ না হইল ইথে সক্ষম কখন।
যথেষ্ঠ, যদ্যপি তুমি চল এসংসারে,
প্রকৃতির পথে রাখি রিপু সবাকারে।

২৪
মানব তত্ত্ব কাব্য।
বিভু অভিপ্রায়, প্রকৃতির গৃঢ় স্বর,
প্রতি রণে প্রীত মানব, ঈশ্বর।
প্রীতি, আশা, উল্লাস সুখের পরিবার,
অসুখের সহচর, মৃণাভয়, ভার।
কৌশলে মিশায়ে, প্রীতি ঘৃণা আশা ভয়,
আপন আপন শান্তি সাধিবে নিশ্চয়।
কৃষ্ণ শুভ্র বর্ণ লয়ে যথা চিত্রকর,
কৌশলে রচনা করে পট মনােহর।
মানবের সুখ হয় আজি উপস্থিত,
নতুবা হইবে কালি সদা প্রত্যাশিত।
উপস্থিত আস্বাদন ভাবী অনুধ্যান,
নর দেহ মনের একই অনুষ্ঠান।
সুখের বিষয় যত সবে মনোহর,
নর মন একেতে আসক্ত গাঢ়তর ।
এই হেতু মানবে বিভিন্ন রিপুগণ,
যার যথা প্রকৃতি, বিচার, আম্মাদন।
অপিচ মানব যাহে মত্ত একবার,
কিসাধ্য সে আর তারে করে পরিহার ।
আর যত রিপু কেহ প্ৰেবেশিতে নারে,
অখণ্ড রাজত্ব র হৃদয় আগারে।
প্রত্যুত যেমন সদা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নদী,
সুপ্রবল প্রবাহেরে পােষে নিরবধি।
তথৈব মানব হৃদে যত শক্তি আর,
প্রবল রিপুর বৃদ্ধি সাধে অনিবার।
পাইল জৗবন আস মানব যখন,
মৃত্যুর অধীন যথা হইল তখন।
যৌবনের রােগ যাহা বিনাশিবে শেষে,

দ্বিতীয় সর্গ
বয়ঃ বৃদ্ধি সঙ্গে বাড়ে দিবসে দিবসে ।
তদ্রুপ মানব মনে রিপু রূপ লােগ,
প্রবেশিয়া বাড়ে তার নাহি হে বিয়ােগ ।
প্রত্যেক উত্তম রস আত্মা পুষ্ট যাহে,
সদত পােষণ করে প্রবাহিত তাহে।
মানব হৃদয় যত বলবান হয়,
প্রস্ফুটিত যখনি মানব শক্তিচয় ।
কল্পনা নিযুক্ত করে কুবাতাস তার,
বাড়াইতে সেই ব্যাধি শেষ নাহি যার।
প্রকৃতি সম্ভুত অনুধ্যানের পালনে,
সদত বাড়য়ে রিপু বুদ্ধির যতনে।
শ্রেষ্ঠ প্রজ্ঞ। সেও শক্ত পােষকতা করে,
মিষ্ট ইক্ষুরস কটু প্রভাকর করে।
রিপুর রাজত্বে বল কিবা অধিকার,
হতভাগ্য প্রজা মাের। পূজা করি কার ?
না অাছে অস্ত্র রিপু না জানে শাসন,
বিপদে আশিতে সদা কহে কুবচন।
অমঙ্গল নিবারে এম সাধ্য নাই,
মানব প্রকৃতি মন্দ বিলাপ সদাই।
বাতুল আমরা তাই বরিনুযাহারে,
বিধি নিয়ােজিত মন্ত্রী ঠেলিয়া প্রজ্ঞারে।
নিন্দায় তৎপর কিন্তু সংশােধনে নাই,
এমন হিতার্থী বন্ধু কোথায় বা পাই?
প্রথমে লইল রিপু বিচারের ভার,
বিচারে হারিয়া এৰে ওকালতি তার ;
ভাল হইয়াছে কাৰ্য কহিয়া এখন,
নানা বাক্যে আত্ম পক্ষ করে সমর্থন।

মানব তত্ত্ব কাব্য।
ক্ষুদ্র রিপু সকলে করেছি পরিহার,
অপদার্থ হায়! এই অহংকার তার।
কিন্তু যে একটি ইথে হইল প্রবল,
সহস্র দুর্বল রিপু তা হতে মঙ্গল।
ক্ষুদ্র শত ফোটক ব্যামহ বড়নয়,
এক মহাব্ৰণে নর জীবন সংশয় ।
বিধির নির্দিষ্ট পথ সদা শ্রেয়ঃ নরে,
মীমাংসা প্রজ্ঞার নহে প্রজ্ঞা রক্ষা করে,
সৎপথে চালন প্রজ্ঞার অধিকার,
রিপুর নিধন
কভু লক্ষ্য নহে তার ।
রিপুসনে শত্রু তাহার অনুচিত।
মানবের হিতার্থে সে ঈশ্বর প্রেরিত,
অধিক প্রবল লােক রিপুর আবেশে,
নিয়ত বিক্ষিপ্ত দেখ বিষয় বিশেষে।
দ্বন্দী বায়ু সম সুপ্রবল রিপুচয়,
আপন অভীষ্ট পথে লইবে নিশ্চয়।
প্রভুত্ব বিজ্ঞান, কিম্বা প্রিয় ধন মান,
আলস্য-আসক্তি কিম্বা অতি বলবান্ ।
যাবৎ জীবন লোক ফেরে সে সন্ধানে,
সৰ্বস্ব প্রস্তুত দিতে নাহি আস্থা প্রাণে।
বণিকের শ্রম জ্ঞানীজন ভূষ্টীভাব,
সন্ন্যাসীর শীল বীরের ইক দাব।
বিসদৃশ যদিও থাপি সমুদয়,
কাহার বুদ্ধিতে দেখ অংসগত নয় ।
অনন্ত বিধির বিধি মঙ্গল আকর
অমঙ্গল মঙ্গল প্রসবে নিরন্তর।
বহু অমঙ্গলাকর নর রিপুদল,
*।

দ্বিতীয় সর্গ
২৭
তদুপরি অঙ্কুরিত সম্ভাব সকল।
পমানে পারদ শৈত্যোষ্ণ পরিমাণ
মরে রিপু, ধর্মাধর্ম ক্ষীণ বলবান।
প্রবল যেমন রিপু ধৰ্ম্মও তেমন,
খাদেতে দঢ়িষ্ট যথা মিশ্র ধাতুগণ।
নির্মল প্রকৃতি ধর্ম শুদ্ধ অতিশয়,
রিপুর সংযােগ বিনা সংসারে কি রয়?
দেহসনে আত্মার মিলন সাধিবারে,
রিপুক্ষেত্রে ধর্মান্ধুর তাই শােভাকরে।
বহু বৃক্ষ আছে যাহা নাফলে যতনে,
অযতনে অঙ্কুরিত দেখগাে কাননে।
প্রতি কাননে তথা শোভে গুণগণ,
অমিল প্রকৃতি উভে করেন পালন।
সবিষাদ, একায়ােহ, পূর্ণ ঘৃণা ভয়,
তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, সততা তাহার সুনিশ্চয়।
ক্রোধীর ব্যর্থতা আর দুঃখেতে সাহস
ধনলােভী সাবধান জ্ঞানী জাড্যবশ।
কাম কমনীয় প্রেম, অল্প মার্জিতে,
বামাকুলে আদৃত কি হেন পৃথিবীতে?
হীন জনে হিংসা যা, বিদ্বান্ বীর মনে,
শ্রেষ্ঠতম ঈষ। বলি খ্যাত ত্রিভুবনে।
কিবা নর নারী গর্ব সদত কুৎসিত,
লজ্জা এক পুরস্কার, আর কি উচিত?
এইরূপে তাবৎ সদ্ভাব, গুণ চয়,
দোষ বৃন্ত কাছে কাছে সমুৎপন্ন হয় ।
বিবেক কুপ্রবৃত্তিরে না দিবে যাইতে,
অনিষ্ঠ যেখানে, অমঙ্গল যেই পথে।

মানব তত্ত্ব কাব্য। ইখে লােক মহৎ ইহাতে ভাগ্যবান, নিরাে (১) মলমতি সে টাইট (২) সমান। প্রচণ্ড ক্যাটিলীনে (৩) অতি ঘৃণাকর, ডিসশে (৪) হারি লােক করে সমাদর। এক উচ্চ অভিলাষে ধ্বংস, পুনঃ প্রাণ, তাহাতেই দেশ হিত, তাহে অকল্যাণ। এই জ্যোতিঃ অন্ধকার পাপ পুণ্য দ্বয়, মানব প্রকৃতি ধন্ধে মিলিত উভয়। (১) নিরো - একজন প্রসিদ্ধ রোমীয় সম্রাট, ইনি প্রথমে অতি ভদ্র ও বিনীত ছিলেন, কিন্তু ক্রমে অতি দুঃশীল নৃশংশ স্বভাব হইয়া পড়েন। ইহার অত্যাচার সকল অতি ঘৃণাকর হইয়া উঠে, তন্মধ্যে নিজ মাতৃ হত্যা কাণ্ড ও নিজ রাজধানী রেনিমগর দাহন অতি শোচনীয় ব্যাপার। (২) টাইটস-ইনিও একজন রোমীয় সম্রাট, কিন্তু ইনি নিরের সম্পূর্ণ বিপরীত স্বভাবের লোক ছিলেন। নিরো প্রথমে যেমম কিছু ভদ্র ও শান্ত স্বভাব ছিলেন পরে নর পিশাচ রূপে পরিবর্তিত ও পরি- বন্ধিত হন, ইনি উদ্বিপরিতে প্রথমে বরঞ্চ কিছু অসৎসঙ্গ প্রিয় ও উদ্ধত স্বভাব ছিলেন এমনকি সিংহাসন প্রাপ্তি কালে কেহ কেহ ইহাকে দ্বিতীয় নিরো অাশঙ্কা করিতেছিল, কিন্তু কি সৌভাগ্য বলে ইনি অতি ভদ্র ও বিনীত মনুষ্য মাত্রের ও রাজাদিগের পর্যন্ত অাদশ সুল হইয়া উঠিয়াছিলেন। কথিত আছে একদিন ইনি আপন কাৰ্য্য স্পর পর্যালোচনা করিতে করিতে আপনাকে সদনুষ্ঠান বিমুখ জানিয়া সা লোচনে খেদ করিয়া কহিয়াছিলেন, তাঁহার একটি দিন বথা অপব্যয় হইল। (৩) ক্যাটালীন-অতি উগ্ৰস্বভাব' রোনীয় ভদ্র বংশোদ্ভব যুবক, ইনি আপন বিভৰ সমস্ত কুক্ৰিয়াদিতে অপব্যয় করিয়া সসমান কতকগুলি দশীল লোকের সঙ্গে মিলিয়া সমুদয় রাজমন্ত্রী সভাসদগণকে বধ করত রোম নগর লঠ- ও ভস্মসাৎ করিবার মণ করেন । একদল সৈন্যও সংগৃহীত হয়। কিন্তু অন্যতর রাজমন্ত্রী প্রসিদ্ধ সদ্বক্তা সিসিরে কর্তৃক ধৃত ও প্রকাশিত হইয়া কেহ কেহ পলায়ন করে, অনেকে দণ্ডিত হয়। ক্যাটালীনের এই ষড়ষন্তু রোমনগরের অতি প্রসিদ্ধ ভয়াবহ বিপদ। (৪) ডিসশ-এক জম প্রসিদ্ধ রোমীয় রাজ কর্মচারী ও সেনাপতি ; ইনি অতি তৈজস্বী বীরের ন্যায় স্বদেশ রক্ষ হেতু রণক্ষেত্রে অত্ম সমর্পণ করেন।

২৯
দ্বিতীয় সর্গ
কিবা পাপ কিবা পুণ্য কে কবে সন্ধান,
বিভু তব হৃদে যিনি সদা মূৰ্ত্তিমান।
প্রকৃতির বৈপরিতে সম ফল ফলে,
নরে বৈপরিত্য কেন জানেনা সকলে,
প্রত্যেকে গ্রাসিতে চায় অন্য অধিকার,
সুচিত্র পটেতে যথা জ্যেতিঃ অন্ধকার।
এমনি সমিষ্ট দুই বুঝা নাহি যায়,
কিপৰ্যন্ত পুণ্য, পাপ আরম্ভ কোথায়।
নির্বোধ যে জন ইথে করে অনুমান,
পাপ পুণ্য নাহিক, কল্যাণ অকল্যাণ।
কৃষ্ট শুভ্র মিশিয়া সহ বর্ণ হয়,
কত কষ্ট শুভ যদি নাহয় নির্ণয় ।
তাতেকি এমন কেহ কহিবারে পারে,
কৃষ্ট শুভ্র অলীক সে নাহি এসংসারে।
সরল হৃদয়ে যদি দেখ একবার,
অবশ্য মানিবে ইহা নহে সুবিচার ।
পাপ মায়ারাক্ষসীর এমনি গঠন,
দেখিলেই ঘৃণা ভয় উচ্ছলিত মন।
পুনঃ দরশনে কিন্তু সেই ভাব আর,
থাকেনা আমরা ক্রমে পক্ষ হই তার।
প্রথমেতে ঔদাসিন্য ক্রমে স্নেহ মন,
সদা সহবাসে পাপ করি আলিঙ্গন।
পাপ পরাকাষ্ঠা কিন্তু কেহ হি নে,
যাহারে জিজ্ঞাস কেহ আপনা না মানে।
জিজ্ঞাসিলে কোন ঠাঁই ঠিক পূৰ্বদিক
কেহ বলে হিন্দুস্থান কেহ সিফিক।
কেহ না স্বীকারে নিজ পাপ অতিশয়,

৩০
মানব তত্ত্ব কাব্য।
প্রতিবাসী অতি পাপী সকলেই কয়।
পাপ কন্ধি মাঝে সদা বস যার,
পাপে জরজর তবু করে অস্বীকার।
সদাত্মা যাহার নামে কম্পিত হৃদয়,
তন্মধ্য নিবাসী দেখ অসন্তুষ্ট নয়।
বরঞ্চ সে দম্ভ করি কহে অন্য সবে,
সে যদি পাপিষ্ট কেবা পুণ্যাত্ম এভবে
পুণ্যাত্মা পাপিষ্ট এই দ্বিপ্রকার নর,
অন্তিম অস্পই সবে ইতর ইতর।
অধম নির্বোধ কভু পুণ্যব্রত হয়,
চিৎ অধর্মে রত জ্ঞানী মহােদয় ।
সম্যক অনিষ্ট ইষ্টে কেহ নাহি যায়,
ধম্মাধর্ম মতি গতি আত্ম অভিপ্রায়।
সকলের সন্ধান সদত একি নয়,
ভিন্ন ভিন্ন অর্থেতে ধাবিত লােকচয়।
পরমার্থ এক একি দেব অভিপ্রায়,
সে উদ্দেশ্য আবার অখণ্ড পূর্ণতায় ।
সেই এক পথে লোক চলিবে সকলে,
এক পথ এক মত জন্মগুলে।
বিভু অভিপ্রায় সেই পাপ প্রতিকুল,
বিনাশে সকল ধন্দ কলহের মূল।
নৈরাশ করয়ে তাহে কুক্রিয়ার ফল,
তাহাতে মনুষ্য দেশ বিশেষে দুর্বল।
এক এক দূর্বলতা আছে সবাকার,
যথা, যুবতীর লজ্জা গরব বৃদ্ধার ।
মন্ত্রীর সংশয় সেনাপতির সাহস,
স্থপতি লােলুপ সদা স্বরাজ্যের যশঃ ।

দ্বিতীয় সর্গ
সামান্য লােকের মনে প্রত্যয় অধিক,
বিনা তর্কে বিশ্বাস করয়ে সব ঠিক।
এসকল দুর্বলতা শুভ বহু স্থলে,
বহু সাধু ইচ্ছা সুসম্পন্ন এসকলে।
প্রশংসাই একমাত্র যাচে অহঙ্কারি,
উহার লাগিয়া কত সাধু কাজ তার।
একের অভাব ত্রুটি দেখ কি কৌশলে,
মানব আনন্দ বৃদ্ধি করে ধরাতলে।
অন্যের অধীন বিধি করিলা মানবে,
প্রভু ভৃত্য বন্ধতায় সুসম্বদ্ধ সবে।
পরস্পর সাহায্য সবার প্রয়ােজন,
একজন-দৌর্বল্যে বলিষ্ঠ ত্রিভুবন।
অনাটন দুর্বলতা আর রিপুচয়,
সাধারণ মলে বন্ধয়ে সমুদয় ।
ইহাদের প্রসাদে মিত্ৰতা সুনির্মল,
অকপট প্রেম য!হে সুখী গৃহস্থল।
ইহাদের প্রসাদে আবার এ জীবন,
বার্ধক্যে উত্তীর্ণ যবে ক্ষীণ আকিঞ্চন।
প্রজ্ঞা উপদেশ আর জ্বর ক্ষয় কর,
উভয়ে শিখায় নরে ত্যাগ শ্রেয়স্কর।
উভয়ে শিখায় সুখে করিতে প্রবেশ,
মৃত্যু মুখে বিনা ক্ষোভ, মােহ বিনা ক্লেশ ।
যার যাহে মন, জ্ঞান, যশঃ; কিম্বা ধনে,
বদলিতে নাহি চাহে প্রতিবাসী সনে ।
বিদ্বান সন্তুষ্ট বিশ্ব সংসার চিন্তনে,
বাতুল সন্তুষ্ট তার অল্প ভাবনা মনে।
ধনাগম ধনী তুষ্ট দুষ্টদুঃখীজন,

মানব তত্ত্ব কাব্য।
বিধাতা সদত তারে করেন রক্ষণ।
দেখ অন্ধ ভিক্ষুক আনন্দে নৃত্য করে,
খঞ্জ গান গায় কত প্রহৃষ্ট অন্তরে।
প্রমত্ত আপন দেখে মহা বীৰ্য্যবান,
উন্মত্তের আনন্দ রাজত্ব অভিমান।
অন্নাভাবে ক্লিষ্ট তবু স্বর্ণ অকিঞ্চন,
মণিকার মনেতে জাগ্রত অনুক্ষণ।
সদা সুখী কবি কাব্য দেবীর ধ্যানে
সকলেরি আনন্দ সমান পরিমাণে।
এক বা অপর মুখে সুখী সর্বজন,
মুখ ভানে অসুখী সদত হৃষ্ট মন।
যাবৎ জীবন লােক, সদা অবিরত,
এই নয় অই প্রবৃত্তির অনুগত।
সকল অবস্থাগত আশা অনিবার,
মৃত্যু পরপারে আশা শেষ নাহি তার।
দেখ অই বালকের প্রকৃতি কেমন,
সামান্য খেলনা লয়ে খেলে অনুক্ষণ।
তেমনি সামান্য কিছু চাকচক্য ময়,
ফিতা, মােজাবন্ধ স্বর্ণে রত জ্ঞানােদয় ।
বার্ধক্যে উত্তীর্ণ যবে অন্ত্র দন্ত হীন,
সন্ধ্যা উপাসনা জপমালা সেই দিন।
বাল্যে, যথা ক্রীড়াসক্ত বার্ধক্যে তেমন,
যাবৎ নহিবে শেষ নিদ্রায় মগন।
এইরূপে যেমন জীবন প্রবাহিত,
মানব বিচার করে আপন চরিত।
সকলি সুন্দর লাগে আশ্বাসিত মনে,
. মেঘাত গগন চন্দ্রমা সন্মিলনে।

দ্বিতীয় সর্গ
সুখাভাব যেমন পূর্ণিত আশা ছলে,
জ্ঞানাভাব পূর্ণ তার অহঙ্কার দলে।
জ্ঞান যত ভাঙ্গুে, দপআশা তত গড়ে
নির্বোধের আনন্দ ত কিছুতে না পড়ে।
একের নিধনে অন্য আশার উদয়,
তাপদার্থ জনের গরব বৃথা নয়।
যত অহঙ্কার তার সবে একে একে
সমভাবে তােষে তায় সবে কাজে লাগে।
আত্মদর জঘন্য তবু সে দৈব বলে,
তুল সম মাপিতে পরের দুঃখ দলে।
অতঃপর দেখ এক আনন্দ বিশেষ,
নর মুঢ় মতি কিন্তু জ্ঞানী পরমেশ।
০ঃঃ***ac.

মানৰ তত্ত্ব কাব্য।
তৃতীয় সর্গ।
এইটি সিদ্ধান্ত তবে, “জগত কারণ,
বিবিধ উপায়ে বিশ্ব করেন পালন”।
'অপ্রেমময় স্বাস্থ্যে কিম্বা বহুধন মানে,
সাধারণ মঙ্গল উদ্দিষ্ট সব্ব স্থানে।
নিশি দিন মনে রেখাে এই সত্য সার,
বিশেষে বাঞ্ছিত যদি প্রার্থনা, প্রচার।
বিস্তীর্ণ সংসার এর দেখ সব্বাই,
অনন্ত ঈশ্বর প্রেমে কেবা বদ্ধ নাই?
প্রজাবতী প্রকৃতি গড়েন অনুক্ষণ,
যতেক সংযােগ সৃষ্টি রক্ষার কারণ।
প্রতি পরমাণু অন্যে আকর্ষন করে,
সে পূনঃ আকৃষ্ঠ পরমাণু অন্যতরে ।
এই রূপ পরম্পর করে আকর্ষণ,
সংযােগ ধরম এই জগত জীবন।
জড় হৈতে জন্মে দেখ যতেক প্রকার,
উদ্ভিজ্জ, চেতন, সবে এক লক্ষ্য তার।
মুমুয়ু উদ্ভিজ্জ গণ জীবের তশন,
জীব দেহে পুষ্ট পুনঃ বৃক্ষ ল গণ।
চৈতন্য পরশে জড় ধরে নানাকার,
উদ্ভিজ্জ প্রভৃতি নর কত কব তার!
নষ্ট এক আকৃতি অপরে পরিণত,
একে একে সৃষ্ট মােরা একে একে হত।
জড় মহার্ণবে জীব জল বিশ্ব প্রায়,
এই সমুখিত এই ভগ্ন লীন তায়।
জড় জীব যতেক পদার্থ সমুদায়,
জগতের অংশ সবে অসম্বদ্ধ নয়,
{.......

তৃতীয় স
সব্ব বস্তু গত এক আত্মার প্রভাবে,
সম্মিলিত রক্ষিত সকলে এই ভাবে।
বিস্তীর্ণ অবনী মাঝে নাহি কোন ঠাই,
এক হেন জীব যার সাপেক্ষতা নাই।
ক্ষুদ্রের সহায় শ্রেষ্ঠ, ক্ষুদ্র শ্রেষ্ঠ বল,
পশু নর হিতে, নর পশু হিত স্থল ।
সবে উপকৃত ইথে উপকারী সবে,
কেহ নিরাশ্রয় নাহি, কেবা একা রবে ?
সাপেক্ষতা শৃঙ্খল সব্বত্র বিদ্যমান,
কেহ নাহি জানে তার কোথা অবসান।
অবোধ মানব! শুধু তােমার কারণ,
সুমহৎ বিশ্ব ধাতা করিলা সৃজন?
তব সুখ, ঐশ্বৰ্য্য, বিলাস, তব বেশ,
সেই হেতু সৃজিলা এতেক পরমেশ।.
তােমার আহার লাগি মৃগ সমুদয়,
তাহাদের তরে ক্ষেত্র নহে তৃণময় ?
তােমারে তুষিতে প্রাতে বিহ সকল
মনােহর রবে পূর্ণ করে বন স্থল,
আপন আনন্দে তারা নহে কুতুহল !
ময়ূরের মৃত্য কি তােমার তৃপ্তি তরে,
ময়ূরীর প্রেমে সে না প্রফুল্ল অন্তরে ?
দ্রুতগামী অশ্ব পৃষ্ঠে করি আরােহণ,
গৌরবে বিল তুমি পুলকিত মন।
তব সে গৌরবে কিন্তু অংশ অাছে তার
প্রভু সুখে সুখী ভৃত্য সর্বত্র প্রচার।
তব কি মানব সেই সব শস্যচয় ?
বপন করহে যাহা তব’ক্ষেত্রময় ।

মানব তত্ত্ব কাব্য।
খেচরের আহার রাখিল সযতনে,
অঙ্কুর নহিতে কত ভুক্ত পক্ষীগণে।
অঙ্কুরিত যেবা, যেবা ফলিত তাহার,
তাইকি সকল নর হইবে তােমার ?
সুপকূ না হ’তে তার কত জীবে খাবে,
অবশিষ্টে তুমি, তব বলদ বাঁচিবে।
শূকর কদাপি যেই লাঙ্গলে খাটয়,
কিম্বা অন্য আজ্ঞা তব সমাদরে বয় ;
সেও তব শ্রমে প্রভু সংরক্ষিত হয়।
সৰ্ব্ব জীবে সমান ধাতার অবধান,
ভল্লুকের বস্ত্ৰ আজি রাজ পরিধান।
গৌরবে মানব বলে “সৃষ্টি সমুদায়,
মম সুখ হেতু” আর কিবা অভিপ্রায়।
মানব আমার” পুনঃ হংস গব্ব করে,
এইরূপ অহংকার জীব পরস্পরে।
উভয়ের ভ্রম যেই একা সব চায়,
কিম্বা যেবা কহে একে সবে সুখী নয় ।
মানিনু সবল সদা দুৰ্বল দমন,
বুদ্ধি শ্রেষ্ঠ নর অনন্য করে প্রপীড়ন।
বিধাতৃ কৰুণা কিন্তু দেখ জীব সবে,
দুঃখী জীব হিতার্থী করিলা সে মানবে ।
সদা ব্যস্ত নর অন্য জীবের চিন্তায়,
আপনি ক্ষুধিত তবু অপরে খাওয়ায়।
শিকারী পাখী কি কভু ছাড়ি যায় প্রীত,
কণ্ঠশির ঘুঘুর দেখিয়া সুচিত্ৰিত ?
বিচিত্র বসন দেখি পতঙ্গের গায়,
কাক কি আহার রাখি উড়িয়া পলায়?

তৃতীয় সর্গ
কবে বা শুনিল বাজ কোকিলের রব,
কিম্বা শ্যামা, পক্ষী মাঝে অতুল গৌরব।
প্রবল মানব কিন্তু সবে যত্নবান,
জল, স্থল, শূন্যে, যথা যার বাসস্থান।
দিলেন কানন নিজ খেচর নিকরে,
তৃণজীবী গণেক্ষেত্র, সিন্ধু, জলচরে।
স্বার্থের প্রেরণে কারে করেন যতন,
আমােদার্থে বহু বিলাসার্থে বহুজন।
অপদার্থ প্রভুর ব্যয়েতে সর্বজনে,
অপয্যাপ্ত সুখভােগ করে জীবগণে।
যে জীবে মারিয়া নর করিবে আহার,
দুর্ভিক্ষ বা হিংস্র বন্যে ভয় নাহি তার।
সচ্ছন্দে সে নানা সুখ উপভােগ করে,
যাবৎনা প্রভু তারে পােরেন উদরে।
প্রাণ দণ্ডে পশুর অধিক দুঃখ নয়,
এখন খাইছে তৃণ নাহি অস্ত্র ভয়।
জীবনের সুখ সেই করিল সম্ভোগ,
ভােগ অন্তে তব প্রাণে হইবে বিয়ােগ।
অবােধ পশুর প্রতি বিভু কৃপাবান,
নাদিলা জানিতে তারে মৃত্যুর সন্ধান।
নর মাত্রে সেই জ্ঞানে দিলা অধিকার,
সুধু ভয় নহে, মৃত্যু আশানরা আধার।
মরিতে হইবে কিন্তু কবে কোন ক্ষণে,
সদা দূরজ্ঞান তবু নিকট সঘনে।
এমন আশ্চর্য্য জ্ঞান আর কার নাই,
নিশ্চয় মরণ তবু নির্ভয় সদাই।
প্রজ্ঞা বা সহজ জ্ঞান যে বৃত্তি যাহার,

} মানৰ তত্ত্ব কাব্য। সেই উপযুক্ত সেই সুখকর তার। উভয় শক্তিতে জীব করে অন্বেষণ, একি বস্তু সুখ, নয় তদুপকরণ। সহজ জ্ঞানেতে যদি জীব সুচালিত, মহাপ্রভু (1) মন্ত্রণা (২) কি হেতু? অপ্রার্থিত। অত্যুজ্জ্বল প্রজ্ঞাও শীতল অতিশয়, জীবের সেবায় সদা মনােযোগী নয়। যদিও আইসে কাৰ্যে সাধিতে সাধিতে, তবু সদা নহে সেই ঠিক জীব হিতে । সাধুব্রত সহজ জ্ঞানের ব্যবহার, সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ভিন্ন, নহে সে প্রকার। সাধিলেও বুদ্ধিরে না পাই উপকারে, আপনি সহজ জ্ঞান সাধে সবাকারে। কখনও নাহি তার লক্ষ্য উল্লঙ্ঘন, বুদ্ধি তবু, কভু খর্ব কভু উদ্ধহন। সুতীব্র প্রকৃতি সেই সাধিবে নিশ্চয়, উদ্দিষ্ট মঙ্গল, যাহে বুদ্ধি ক্লান্ত হয়। অপিচ সহজ জ্ঞান শ্রমিবে নিয়ত, কতক্ষণ বুদ্ধি সেত এখনি বিরত। পুনঃ সে সহজ জ্ঞানে ভ্রম নাহি ঘটে, বুদ্ধির প্রমাদ দেখ কিটে নিকটে । উভয় শক্তিই শুভ উদ্দেশ্যে সমান, (১) মহাপ্রভু; কোন কোন ধর্ম সম্প্রদায় মহাপুৰুষ মানেন; খৃষ্টান মণ্ডলীতে পোপ মহা পুরুষ; ইনি অভ্রান্ত জ্ঞানসম্পন্ন; কর্তব্য ক্য বিষয়ে ইংরি আদেশ ও বিধান সৰ্ব্ব লোক মান্য। মন্ত্রণা ; ধর্মমত লইয়া সৰ্ব্বত্র বাদানুবাদ উপস্থিত হয়, তদ্রুপ বিবাদ অনার্থি বিশেষ সভা করিয়া তর্ক বিতর্ক দ্বারা একটা মীমাংসা করিয়া লওয়া হয়; সেই ইতি কর্তব্যতাবধারণ মণ।

তৃতীয় সর্গ। কাৰ্য বা বিচার, নরে দুই বিদ্যমান। জীৰ মাত্ৰ সহজ জ্ঞানেতে সঞ্চালিত, চিরসেব্য পথে, উহা সদা যথােচিত। যতই প্রজ্জ্বল কর বুদ্ধি কিন্তু নয়, ঈশ্বর আদেশ, ঠিক, শ্রেয়ঃ, নিরাময় । কার উপদেশে অই বন্য জীবগণ, বিষ হৈতে আহার করে নির্বাচন। কার উপদেশে তারা করয়ে নির্মাণ, শ্রোতঃ বা ভয় এড়ি দিব্য বাসস্থান। কে শিখালে মাকড়শায় ডিমের মত, সান বিনা আঁাকে সে সুসমান্তরাল কত।:১) কেবা শিখাইল বকে করিতে সদ্ধ ন, কলম্বস (২) সদৃশ নূতন অন্নস্থান। কে আহ্বানে ভাসবে কে করে দিন স্থির, অর্ধেক আকাশে যৰে হয় হে বাহির, (১) ডিইরি; ইনি এক জম ফরাসিস পণ্ডিত, গণিতে ইহার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল। ইনি রূল কিম্বা মনির, না লইয়া ক্ষেত্র সকল আঁকিতে পারিতেন; মাকড়সার জালের তম্ভ গুলি সরল রৈখিক অথচ তাহাদের কল বা মপি কাটি কিছুই নাই। ২) কলম্বস,; আমেরিকার অাবিষ্কর্তা, অতি প্রসিদ্ধ ব্যক্তি ; কচাকাশ প্রভৃতি ভিন্ন দেশ জাত কতক গুলি উদ্ভিজ্জ ইউরোপের পশ্চিম অটি- লান্টিক মহাসাগরে ভাসিতে দেখিয়া ইনি নিশ্চয় করিলেন যে তৎ- পশ্চিমে কোন দেশ অশ্য থাকিবে যখী হইতে সেই উদ্ভিজ্জ সমস্ত প্রবাহিত হইতেছে। এবং সেই হইতে নানা চেষ্টা দ্বারা অর্থ সাহায্য সংগ্রহ করত ঐ অসরিজ্ঞাত প্রকাণ্ড মহাদেশ আবিষ্কৃত এবং মানৰ সমাজের প্রভূত কল্যাণ সাধন করিলেন। ৰক অথবা বক জাতীয় এক প্রকার জলচর পক্ষী, বৎসরের মধ্যে কখন কখন এক প্রদেশ প্রদেশান্তরে শত শত প্রাণী দলবন্ধ হইয়া উড়িয়া গিয়া অধিক খাদ্য- সুলভ অনুকুল জল বায় বিশিষ্ট স্থান আবিস্কার করিয়া থাকে; কলম্বসের সাদৃশ্যে অথবা ইহুেিদর সাদৃশ্যে কলম্বাসের প্রয়োগ ছে।

মানব তত্ব কাব্য।
শ্ৰেণী বদ্ধ সৈঙ্গ সম, কিম্বা কোন জন,
সেনাপতিতার করে পথ প্রদর্শন।
প্রতি জীব প্রকৃতিতে ধা কৃপা,
অনুরূপ সুখলাভ করিলা বিধান।
অপিচ সে সুখের মর্যাদা কতদূর,
তাও নির্ধারিত উহা অপবা প্রচুর।
যাবৎ জন তৎভাবতের হিত,
সাধিতে জিলা এই মারৎ কিঞ্চিৎ।'
সেই হেতু একের অভাব, উপকার,
অন্য অন্য জনে কি সৃজন চমৎকার !
পরস্পর অভাব সৌভাগ্য পরম্পর,
আদি হৈতে ব্যাপ্ত এ শৃঙ্খলা নিরন্তর,
জীবগণ বদ্ধ ইথে বদ্ধ নরে নর।
যতেক উদ্ভিজ্জপ্রাণী সম্ভাবিতস্থলে,
সূক্স ব্যোমে, শূন্যে, কিম্বা নিম্ন জলতলে ।
একই স্বভাব সবার প্রাণােন্নতি,
স্বভাবেতে পুষ্টি পুনঃ তাহেবিজোৎপত্তি।
কেবল মানব নহে জীব সমুদয়,
জলস্থল শূন্যে বা যেখানে যেই রয়।
আপনারে প্রিয় জ্ঞান করে সর্বজন,
আপনার প্রীতিতেও তুষ্ট নহে মন।
স্ত্রী পুৰুষে মিলন সম্পূর্ণ পরিণয়,
এই আকিঞ্চন শূন্ম নাহিক হৃদয়।
গাঢ় আলিঙ্গন নহে একই কৌতুক,
অপত্য পালনে সবে একান্ত সােৎসুক।
পেশু পক্ষী সন্তানে সমান মেহে রত,
মাতার লন ভার রক্ষা পিতৃত।

তৃতীয় সর্গ
যাবৎ শাবকগণ উড়িতে অক্ষম,
অথবা চলিতে যার যে রূপ ধরম।
তাবৎ সহজ জ্ঞান ব্যস্ত পুত্র তরে,
সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত পিতা মাতা তার পরে।
পুনঃ সম্মিলনাকাঙ্ক্ষী হারা 'তখন,
পুনঃ প্রেম, নীড়, পুনঃ প্রজা প্রবন্ধন।
অসহায় মানবে অধিক স্নেহ চাই,
আবদ্ধ অধিক পিতা, মা, পুত্র, তাই ।
বুদ্ধি বিবেচনা আর প্রীতি আশা ভয়,
নিয়ত সে স্নেহ সূত্রে দ্রঢ়িষ্ট করয়।
মনােম পাত্রেতে ধাবিত প্রেম ভাব,
গুণ প্রতি রিপু মিলে প্রবল প্রভাব।
যতেক অভাব তত উপায়, যতন,
ক্রমে নর নারী দুয়ে সম্পূর্ণ মিলন।
এক দুই ক্ৰমশঃ সন্তান যত হয়,
প্রথমের চেয়ে স্নেহ পর প্রতি বয় ?
যত পুত্র জনমে সকলে পিতা মা,
পালেন একই মেহেভিন্ন মাত্র কথা।
শেষের সন্তান তবু নহে ক্ষমবান,
জরা সমাগত সেই বংশের নিদান।
স্মৃতি বাল্য, কল্পনা বাৰ্ধক্য, দুঃসময়,
অনিয়া সন্তান মনে করয়ে উদয় ।
কৃতজ্ঞ সন্তান সেৰে বাপ মায় আগে,
আপন সঞ্চয় ভাবী, থাকে বা না থাকে।
আমােদ, প্রত্যুপকার, আশা এই তিন
তিনেতে সংসার, লােক বৃদ্ধি চির দিন।
ভুক না ভাবিও নর অসভ্য দশায়,

২
মানব তত্ত্ব কাব্য
অনিয়মে চলিল সম্পূর্ণ অঙ্গ প্রায়।
বিধাতর শ্রেয়ঃকর শাসনে তখন,
সুখেতে আছিল, হেন নহে সে এখন
স্বার্থ, সামাজিক প্রীতি, সৃষ্টির সহিত,
দুই বিভু দয়ালু করিলা প্রকটিত ।
যেমন ঐক্য বল অন্য বস্তু সবে
তেমনি মানবে কিম্বা অধিক সম্ভবে।
একতার বিৰুদ্ধ গেরিব, অভিমান,
ছিল না তখন, কোথা বিদ্যা বা বিদ্বান্ ?
বনে বনে মানব ভ্ৰমিত অনুক্ষণ,
সম অধিকারী বনে যথা পশুগণ।
আহার যে স্থানে, সুশয়নে তথায়,
প্রাণী বধ ছিল না কি অন্ন বস্ত্র দায় ।
রম্য স্নিগ্ধ বন-সুমন্দির অভ্যন্তরে,
স্বরবান, জীব মাত্রে স্তুতি গান করে।
শােণিত কলঙ্ক শূন্য, স্বর্ণ অশােভিত,
আছিল মন্দির, অকপট পুরােহিত।
সৰ্ব্ব-জীবকল্যাণ, সুদেব অভিধান,
নর রাজা কিন্তু রাজ দণ্ড ক্ষমাবন।
তেমন মানব, হায়! কই আজি আর,
অর্ধ জীব নিহত মানব-মাংসাহার।
অবশিষ্ট অর্ধেক, কিলিষ্ট অন্য মতে,
স্বজাতি পৰ্যন্ত নর হিংসে শত শতে।
বিলাস ব্যসন সঙ্গে সদা ব্যাধিগণ,
পীড়য়ে খুণীনে যথা হিব্রু মহাজন।
জীব হিংসা জনিত উদ্ধত রিপুচয়,
ক্রমে নর-পশু অন্য নরে নিপীড়য় ।

তৃতীয় সর্গ
–
সভ্যতা সােপানে নর যবে অগ্রসর,
তখনাে উন্নতি গর অতি স্বল্পতর।
প্রথমে মানব বুদ্ধি ক্ষীণ উদ্ভাবনে,
প্যাদির সংস্কার শিখিলা যতনে।
বিশ্বমাতা প্রকৃতি দেখিয়া সে দুর্গতি
কহিলা কাতরা যেন তনয়ের প্রতি ;--
* ক্ষুধায় আকুল নর, নাহি গৃহ বাস,
কি খাইবে, কি পরিবে, চিন্তিয়া হতাশ।
জীবগণে সুধাও ইহার সুসন্ধান,
পরকার্য দেখি, কর আত্ম অনুমান।
সুধাও পাখীরে কিবা সুস্বাদু আহার,
নিকুঞ্জ নিকর পারে দিতে উপহার।
স্বাস্থ্য সংরক্ষণে পশু পটু অতিশয়,
তাহারে জিজ্ঞাস বৃক্ষ আরােগ্য আলয়।
মক্ষিকার সন্নিধানে নির্মাণ অভ্যাস,
মৃত্তিকা খনন শিখ ছুছন্দরী পাশ।
মাকড়ের ভন্তু দেখি কে নারিবে বল,
সন্ধান করিতে বস্ত্র, বয়ন কৌশল ।
(১) নটিলস, নাবিক শিখহ তার ঠাই
নাবিকতা, বায়ুর সুবিধা বা বালাই।
হীন জীব মাঝে তুমি শিখহ মানব,
সামাজিক তত্ত্ব ভব প্রকৃত গৌরব।
অভ্রান্ত প্যাদি জ্ঞান বিবেকী মানবে,
উপদেশ দিক্ আজি ক্ষতি কি বিলম্বে ?
ভূমধ্য প্রাচীর, গড়, ভূমধ্য নগর,
১) নটিলস, ; এক প্রকার জলচর ; মেকায় যেরূপ পাল, ইহাদের শরীরে
তদ্রুপ সংযোজন আছে; উহাতে তাহাদের গতির সাহায্য করে।

মানব তত্ত্ব কাব্য।
শূন্যে শত সহর দোদুল্য বৃক্ষোপর ।
বুঝ কি নিয়মে চলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতি,
পিপীলিকা মধুকর ইন্দুর প্রভৃতি।
পিপীলিকা কেমনে রাখয়ে এক ঠাই,
সবাকার উপার্জন তবু দ্বন্দ্ব নাই।
অরাজকে এ প্রকার শৃঙ্খলা কোথায় ?
মধুকর গণে? রাজা আছে ত তথায় ?
মধুচক্রে দেখ পুনঃ রাজত্ব কেমন,
সকলে সম্ভোগ করে, কুটারি আপন।
পক্ষপাত শূন্য, কিবা নিয়ম সুন্দর,
জীবকুল পালিতেছে দেখ নিরন্তর।
জীবকূল নিয়ম বিধাতৃ প্রকটিত,
সমীচীন, দৃঢ়, আর সদা সুবিহিত।
বৃথা তব বুদ্ধি নর চাহু রে স্থাপিতে,
সূক্ষাতর বিধি জাল, ন্যায়েরে ধরিতে।
আবদ্ধ সে তক জালে অবিভূত “ন্যায়?
তব সূক্ষ গণনায় ন্যায় ও অন্যায়।
বলবান জনেরে বান্ধিতে আপারক,
আতুরে নিয়ম দৃঢ় রহস্য জনক।
এই তৰ কাৰ্য, তবু বিস্তার খায়,
প্রবল প্রভুত্ব যথা সবে অন্ধ প্রায়।
সামান্য পশ্বাদি জ্ঞানে যতেক সম্ভব,
* তাহাতে লভিতে চাই রাজত্ব গৌরব?
মহামতি প্রকৃতির উপদেশ শুনি,
নগর নির্মাণ নর চলিল অমনি ।
নগর, সমাজ, ক্রমে ক্রমে প্রতিষ্ঠিত,
*কোথা লাভ, প্রেম কোখা, ভয়-সমানিত।

ল। •
তৃতীয় সর্গ
নির্মুলা তটিনী হেথা, তথা বহু ফল।
বিক্রম সুলভ কেহ, বাণিজ্য কৌশল
শত্রু হয়ে আইল যে বিসম্বাদ চিত্তে,
মিত্ৰতা পাইয়া হৃষ্ট, গলিল প্রীতিতে।
প্রেমালাপ ধরিত প্রবল পরাক্রম
প্রেম স্বাধীনতা যবে, প্রকৃতি নিয়ম।
জনপদ স্থাপিত হইল এপ্রকার,
বিনা রাজাকেবা জানে নাম গন্ধ ভার।
যাবৎ না সবে মিলি সবার পালন,
বিচক্ষণ জনৈকে করিল সমৰ্পণ।
রাজ্য ভার পাণ্ডিত্য, কি শাস্ত্র, শত্রুগণে,
সর্ব জন মঙ্গল সাধন কায়মনে।
যাহার লাগিয়া পুত্ৰ পুজে পিতৃ পদ,
প্রজাকুল পিতা রাজা পিতৃ গুণাস্পদ।
প্রতিষ্ঠিত যাবৎ নহিল রাজাসন,
বিভু দত্ত রাজত্ব করিলা পিতৃগণ।
প্রতিকূল পতি প্রতি ধাইত নির্ভর
বিধাতৃস্বরূপ কেবা পৃথিবী ভিতর।
পিতার নয়ন সবে নিয়ম নিদান,
দৈৰ বাণী তাহার বচন, সুবিধান।
ক্ষেত্ৰ হৈতে দৈনন্দিন অন্ন আহরণ,
অগ্নি, বায়ু, হিম, বৃষ্টি, বজ প্রশমন।
হিংস্র বন্য, বাজ বা ভীষণ জলচর,
কিম্বা আপদাখী কোন মানৰ বৰ্ব্বর।
সর্ব কাৰ্য্যে কৰ্ত্তা পিগ ব্যবস্থা সঁহার,
কেবা উল্লঙ্ঘন করে আগু যায় আর।
সর্ব কাৰ্যে মন্ত্রী তিনি বহু দরশনে,

৪৬
মানব তত্ত্ব কাব্য।
উহার আজ্ঞায় রণ, সন্ধি ভারি রণে।
যাবৎ জীবিত পিতা তাবৎ মানবে,
পিতারে পূজিল সবে অমর সম্ভবে।
জরা প্রপীড়িতে তিনি পাইলে নিধন,
সবে খিদ্যমান পিতা মর্ত্ত এ কেমন !
ততঃপর পূর্ব পূৰ্ব করিয়া সন্ধান,
আদি অদ্বিতীয় পিতা করি অনুমান।
অজ অবিনাশী বলি ভাবে সেই এক,
তিনিধি মর্ত্তে তাঁর দেখে এ জনকে
পরম্পরাগত বাক্যে এই তত্ত্ব জ্ঞান,
পি পুত্রে ক্রমশঃ হইল বহমান।
কাৰ্য হৈতে কৰ্ত্তা ভিন্ন, এই সুনির্ণয়,
সরল বিবেক কাছে মান্ত অতিশয়,
একাধিক কর্তৃত্ব তাহার প্রিয় নয় ।
এই সত্য আলােকে সন্তুষ্ট ছিল সবে,
অঘটিত যাবৎ দ্বৈত কুবুদ্ধি মানবে।
সকলে মানিত ভূমে ভ্ৰম অকল্যাণ,
এক নাই কোন ঠাই, সব সুবিধান।
আনন্দে ধর্মের পথে চলিল সকলে,
ঈশ্বরে সেবিত যা পিতা ধরাতলে ।
প্রেমই বিশ্বাস ছিল প্রেমই সম্মান,
নরে ঐশী শক্তি ভ্রম সদা অকল্যাণ।
অমঙ্গল আশঙ্কা ঈশ্বরে অনুচিত,
সর্বশ্রেষ্ঠ পুরুষ যে, সর্বজন হিত।
সরল বিশ্বাস আর সরল ব্যাভার,
পুর্ব দেবভক্তি, পর প্রণয় উদার ।
দাসত্ব শৃঙ্খল বল আগে কোনজন,

৪৭ তৃতীয় সর্গ বাড়াইল বান্ধিতে নাশিতে রাজ্য মন! ভয়ঙ্কর এমতে ;- একাৰ্থে বহু জন।” (১) যত লোক তত মত যার যে প্রত্যয়, ভাল মন্দে কেহ কভু পরাধীন নয় । প্রকৃতির নিয়ম এ উলটিয়া দিয়া, বিভু প্রতিকুল কাৰ্যে দঢ় কোন হিয়া? বলে আগে রাজ্য জয়, রাজবিধি জয়ে, পরে উপধৰ্ম্ম, সৈ আনিল অতিভয়ে। (২) উপধৰ্ম্ম জেতৃকে অর্পিল দৈবমান, “দাস জিতগণ”এই হইল প্রমাণ। স্বর্গ মর্ত্ত নিনাদিত উপধৰ্ম রবে, ভূধর অধীর পৃথী কম্পি নীরবে । অতি অত্যাচারী ভ্ৰম অক্ষুব্ধ হৃদয়, সবল দুর্বল নাই, সবে নিপীড়য়। নতশিরঃ নিস্তেজ, তেজস্বী স্তব করে, তবু কেহ নাহি জানে কোন.দেব বরে। উপধৰ্ম প্রভাবেতে ভমান্ধের চিত্তে, ৬০ দেব দেবী সমুর্শ্বিত ভূগর্ভ হইতে। বিদীর্ণ আকাশে বিদ্যুল্লত হেরি ভীত, জানি উহাতে কোন দেব অবস্থিত। ইহকাল ভীষণ, সুখদ অতঃপর, ভয়ের দেবত ভত, আশার সুন্দর। এর্থে বহুজন; পণ্ডিতবর এরিসটটেলের মতে নৃপতি ও যথেচ্ছা- চারিতে বিভিন্নতা এই যে নপতি আপনাকে প্রজা-পুঞ্জের সুখশান্তি। হেতু জ্ঞান করেন কিন্তু যথেচ্ছাচারী সেরূপ দায়িত্ব স্বীকার করে না, প্রত্যুত যথেচ্ছাচারী সমস্ত প্রজা তাহার সুখ ও সেবার জন্য সংযােজিত মনে করেন। রোমীয় সম্রাটগণ অনেকটা, “কার্যে বহু ; জন,” এই যথেচ্ছচ্চিার মতে রাজকার্য নির্বাহ করিয়াছিলেন। অতিভর ; অর্থে অত্যাচার বা যখোর।

৪।
মানব তত্ত্ব কাব্য।
ভান্তের ঠাকুর, সদা হীন কামাতুর,
দ্বেষ হিংসা গুণ, আর ক্রোধ সে প্রচুর।
ভীৰু সুধু তা সবে, পুজিতে শ্রদ্ধাবান্,
আর যেবা তৎসম, মৃশংস অজ্ঞান !
একালের ধর্শ্বভাব মিথ্যা সুধু দ্বেষ,
স্মৃণা রসাতল, স্ব মাৎসর্য বিশেষ।
ভক্তিভাবে কেহ নাহি চাহে ঊর্ধপানে,
পুজা, বলিদান দান, নিজ্জীব পানে।
শুষ্ক তৃণ হুতাশন করিত আহার,
ভ্রম আরম্ভিল আজ জীব বলি তার।
অনন্তর গড়িয়া হারে ভীম কায়,
মানব শােনিতে দিল রাঙ্গাইয়ে তায়।
বজ্ৰপাণি ভীষণ আকৃতি ভয়াবহ,
চির-রণ-প্রিয় দেব, দেব নর সহ।
এইরূপে আত্মদর চেষ্টিত সদাই,
জনৈকের ঐশ্বর্য্যে, অন্যায় ন্যায় নাই।
সেই আত্মদর পুনঃ সৰ্বজন হিতে,
গড়িল রাজত্ব রাজবিধি হৃষ্ট চিত্তে।
আপন সমান যদি সবে বাঞ্ছা করে,
কে সেবিবে কারে, যদি প্রভু পরস্পরে ?
কেমনে রাখিবে, তব প্রিয় বস্তুচয়,
অরাজকে, তাহাতে অন্যের লােভ হয় ?
বলবান তুমি ? কিন্তু বৃথা সে সাহস,
দুৰ্বলে এড়িতে নার যবে নিদ্রাবশ।
আতুরক্ষা হেতু সে সম্মভ আত্মদর,
স্বাধীনতা রত্নেরে করিতে হস্তান্তর।
সবে মিলি রক্ষিব সম্পত্তি সবাকার,

তৃতীয় সর্গ।
মুজত্ব স্থাপনে এই এক লক্ষ্য তার।
আত্মরক্ষা হেতু দুষ্ট ধর্মপরায়ণ,
আত্মম্ভরী দাতা, রাজা ক্ষমান্বিত মন।
আত্মদর সঙ্কীর্ণ ত্যজিল ক্ষুদ্র পথ,
সাধারণ্যে, দেখিয়া মঙ্গল অব্যাহত। –
অতঃপর অত্যুদিত পুরু রতন,
দেব আজ্ঞাবন্তী, নরহিত প্রতি মন।
স্বদেশ হিতৈষী অার কবি শ্রদ্ধার,
প্রকৃত বিশ্বাস নীতি করিতে উদ্ধার।
সনাতন ধর্মালােকে করিলা চিত্রিত,
দেব প্রতিরূপ কিম্বা যথা তদোচিত।
প্রজা রাজাউভয়ে করিল উপদেশ;
মিলিত উভয়ে কত মঙ্গস বিশেষ।
শিখাইস৷ দৃঢ় একে কি অনিষ্টপাত,
অপর শৈথিল্যে কিবা বেদনা আঘাত।
সমাজ যন্ত্রেতে রাজা প্রজা দুই তার,
পরস্পর শিলায়ে বান্ধিলা এ প্রকার;
এক সমস্পৃষ্টে অন্য সমপৃষ্ট হয়,
একৈক অনিষ্ট, ইষ্ট, উভয় উভয় ।
সবাকার ইটানিষ্টে, সবাকার মন;
সু-লয় রাজত্ব তন্ত্রে হইল স্থাপন।
সামঞ্জস্য এহেন জগতে সর্ব চাই
সর্বত্র উদ্দিষ্ট নিয়ম ঐক্য সই।
বড় ঘােট, দুব্বল, সবল ভূমণ্ডলে,
বলপ্রদ ; শৃঙ্খলা বান্ধিতে দলে দলে।
পরম্পর সেবা পরস্পর উপকার,
সকলের লক্ষ্য, নহে অনিষ্ট"কাহায় ।

৫০
মানব তত্ত্ব কাব্য।
দুব্বল সাহায্য-বল কভু নাহি চাই,
সবলে এমন শক্তি? কই কার নাই।
সাধারণ্যে অহিত, সম্পদ হেন বল,
কাহাকে না দিল, চাৰু বিধাতৃ কৌশল!
সমাজ বন্ধনে সবে সমানিত ইখে,
পশু, নর, প্রভু, ভৃত্য, রাজা, হৃষ্ট চিত্তে।
শাসন প্রণালী লয়ে মূর্থ দ্বন্দ করে,
উৎকৃষ্ট ত যাহাতে সুবিধি প্রভা ধরে।
ধর্মমত ভাল মন্দ তকে কি ফল,
ভ্রান্ত তার নহে যেই সাধু অবিরল ?
বিশ্বাস আশাতে লােক মিলে কদাচিত,
সৰ্ব্ব-লােক ধ্যান কিন্তু “সৰ্বজন-হিত।”
উদার এ হিতার্থ বিরােধী যেই হয়,
অবশ্য কপট সেই কভু সত্য নয়।
যা-হতে মানৰ কুল সুখী সংমার্জিত,
দেব প্রিয় সদা, তিনি ঈশ্বর চিতি।
সহকার আলিঙ্গনে লতা বলবতী,
দুর্বল মানব কূল সবলে তেমতি।
যথায় মিলন হেন তখ। এ প্রকার,
স্বীয় লাভ আছে শুধু নহে উপকার।
মীর কক্ষে ভ্রমণ করয়ে গ্রহণ,
সংসাধিত কিন্তু তাহে সূৰ্য্য আবৰ্ত্তন।
সেই রূপ দুইটি উদ্দেশ্যে নর হৃদি,
সদা সঞ্চালিত হেথা দেখ নিরবধি।
এক আত্ম উন্নতি আপন সুখ মান,
অপর অপর হিত, জগত কল্যাণ।
এই রূপে চরাচরে ঈশ্বর বিধানে,
আত্মদর যত্নবান্ সমাজ কল্যাণে।

মানৰ তত্ত্ব কাব্য।
চতুর্থ সর্শ।
সুখ, নর জীবনের এক লক্ষ্য, সার,
আমােদ সন্তোষ শুভ যে নাম তার।
নিৰুপম সামগ্রীসে যাহার গিয়া,
চির-উচ্ছসিত, চির-ক্ষুব্ধ নর হিয়া।
সুখ আশে সদা মােরা আছি প্রাণ ধরি,
হরি আসে হেন, মরিতে না ডরি।
পরম পদার্থ সুখ, কভু সমাগত,
অতীব নিকটে কভু দূর পরাহত।
নিৰুদ্দেশ বাতুলে জ্ঞানীর অনুমানে,
পূর্ণ এ অবনী, দ্বি-গুণ পরিমাণে। (১)
স্বর্গীয় সুখের কাজ নর ভাগ্য বলে,
অঙ্কুরিত যদি হেখা জামণ্ডলে ;
সুখ, তুমি কই মােরে তব বার্তা আর,
কে আছে কহিবে ঠিক, জগত মাঝার।
কই কোন হৃৎ ক্ষেত্র, মানব উদ্যান,
তব অনুগ্ৰ পাত্ৰ তব জন্ম স্থান।
রাজাসন সম্মুখে কি তােমার মন্দির,
বু রাজি মাঝে কিম্বা উজ্জল খনির।
বরাদার প্রসাদে উন্নত যেই জন,
কিম্বা শ্রমী কৃষক তােমার প্রিয় জন?
কোখা মুখ? কোথায় তাহার অসঞ্চার।
নিৰুদ্দেশ ইত্যাদি দ্বিগুণ পরিমাণে। সুখ প্রাপ্তি বিষয়ে দুই মত
আছে; এক, ধর্ম না থাকিলেও ঐশৰ্য্য সামগ্রীতে সুখ প্রাপ্ত;পর
মত, শুধু ধর্ম নয়, তৎসহ পাখিৰ ঐ পাইয়া মনুষ্য সুখী হয়;
এই দুইটি মতই অমকি বলিয়া পোপ এই সর্গে ইহাদের খণ্ডন
করত ধর্মই মুখের নিদান ইহা সমর্থন করিয়াছেন।

মানব তত্ত্ব কাব্য।
যদ্যপি অঙ্কুর হেথা নাহিদেখ তার ;
কর্ষণের দোয়ে সে, জানিৰে শুনি,
ভূমি অনুব্বা কেন কদাচিত নয়।
সুখ, কভু নিমতলিক এক স্থানে
নহিবে, অমিশ্র সুধ প্রাপ্য সব স্থান।
সদত অজেয়, পণ নাহিক উজার,
বিধার সদাৰতে অবারিত দ্বার।
রাজ-গৃহ ত্যজি ওহে দীন সাধু জন,
তােমার কুটীরে মুখ দেখ শান্ত মন।
বিজ্ঞগণে জিজ্ঞাস, সুখের সদুপায়,
তাহারাও অন্ধ, সবে ভিন্ন অভিপ্রায়।
কেহ কহে সেবিতে মানবে কার মনে,
পরসেবা পরবশ সুখের কেমনে।
কেহ কহে কাৰ্য্যে, কেহ কহে সুখধাম,
নিশ্চেষ্ট জীবন, যাহে নিয়ত বিশ্রাম।
আনন্দ আখ্যাত সুখ ক্রিয়াবাদী মতে,
সন্তোষ সুখের নাম নিষ্ক্রিয় জগতে।
জ্ঞান হীন জনের আমােদ অনুন্নত,
পরিণাম দুঃখ তার আছেই নিয়ত।
পূর্ণ অভিমান যারা অহং ব্ৰহ্ম জ্ঞান,
হাদের মতে ধর্ম ব্যথা অনুষ্ঠান।
কেহ বা অলসতম, অতিরিক্ত সবে,
সকলি বিশ্বাস করে সম্ভবাসম্ভবে,
অথবা প্রত্যয় যােগ্য কিছু নাহি ভবে।
এ প্রকার কহে যে, তাসকার কথা।
সুখ সুখ, এপৰ্য্যন্ত কিবা বিভিন্নত,
প্রকৃতির পথে চল বহুলতা ত্যজ।

মানব তত্ত্ব কাব্য।
সবে সু-আয়ত্ত, সুখ-কম্পনা সহজ।
সূলভ শুখ সামগ্রী অতিরেকে নাই,
সাধু চিন্তা আর সুদ্ধ অভিপ্রায় চাই।
সামান্য বলিয়া মােরা করি না রােদন;
সুখ ও সহজ ভন একই সৃজন।
শুন, নর জগত কারণ বিধাতার,
একের মঙ্গল চিন্তা নহে, সবাকার।
সেই হেতু, আমাদের প্রকৃত মঙ্গল,
সংঘটিত যাহে সুখী যাবৎ সকল।
এক জন মাত্র সুখী হেন সুখ নাই,
জাতীয় সম্পর্ক তাহে আছে সৰ্ব্ব-ঠাই ।
স্বকীয় সন্তোষ মাত্র এক অভিপ্রায়,
ভীষণ তস্কর, সেও তুষ্ট নহে তায়।
অত্যাচারী নৃশংশ যে পূর্ণ দন্ত মান,
উদাসীন বন, শিরি-গুহা বাসস্থান।
কেহ তুষ্ট নহে, সদা সবে আকাঙিক্ষত,
সম-সুখ-দুঃখী এক বান্ধব সুচিত।
লােকালয় পরিত্যাগ নরে ঘৃণা ভাণ,
সকল আয়াস শুধু মৈত্রানুসন্ধাণ।
অন্যের মনের সুখ-চন্তা যদি দেখ,
প্রকৃতার্থে দুঃখ, সুখ নহে তার এক !
সকলের এই গতি, অন্য উপার্জন,
উপার্জন ক্লেশ মাত্র, সুখ বিড়ম্বন।
সুশৃঙ্খলা বিধাতার প্রথম নিয়ম,
তাই বড় ছােট; তাই উত্তম অধম ;
কিন্তু ধন অথবা অধিক জ্ঞান যােগ,
সংঘটিতে ফুটে কি সর্বত্র সুখ ভােগ ?

• ৫৪
মানব তত্ত্ব কাব্য।
পক্ষপাত শূন্য বিধি তবে স্থির মানি,
সুখ দুঃখে সমান যদ্যপি সৰ্ব্ব-প্রাণী ?
কিন্তু সুখ পরস্পর অভাবে বর্জিত,
প্রাকৃতিক বিভিন্ন প্রকৃতির হিত।
ঐশ্বৰ্য্য সামগ্রী তাহে কিবা আসে যায়ঃ
একই বস্তু ত সুখ, রাজা বা প্রজায় ?
যেবা রক্ষা কৰ্ত্তা, আর রক্ষিত যে জন,
যেবা মিত্র, মৈত্র যেবা করে অন্বেষণ ।
জগতের সকাঅঙ্গে বিধি নিহত,
একি সুখ দেহে যথা প্রাণ প্রতিষ্ঠিত।
কৰ্ম্ম ফলে সবার সমান অকিন ,
তাহে যদি সখী কেহ : ও তাহার।
সবে সুখী হক, বটে কিভু তডিয়া,
বাহ্যিকে সন্তোষ তবু না লিলা কায় ।
ভাগ্য তাঁর ঐশ্বৰ্য কৰু বিতরণ,
এরে ছড়ি ওরে ভার যবে যারে মন।
ইনি ভাগ্যবন্ত উনি দুঃখী ভাগ্য হীন,
এই কথা সংসারে রটুক কিছু দিন;
ঈশ্বরের ন্যায় ভুলে, সম দুই জন,
এর আশা, ওর ভয়, বড় কেহ নন।
উপস্থিত সুখ দুঃখ, সুখ দুঃখ নয়,
সুখ দুঃখ পরকালে কি আছে কি হয়।
হে সংসারি ! সাধ, কি উঠিতে উচ্চতর
আকাশে, পর্বত মাখি, পর্বত উপর ?
অসম্ভব আশা বিধি হেন বাতুলতা,
নিশ্চিত বিফল করে জানিহ কথা।
যেবা যেই শুভ হেথ, কর উপভোগ,

{
চতুর্থ সর্গ।
সকলি বরের স্তরে বিধাতৃ নিমােগ।
বিবেকের আমােদ, ঐন্দ্রিয় সুখ যত
স্বাস্থ্য, শান্তি, ধন, তিনে, প্রাপ্ত অবিরত।
সর্বত্রেতে মিচার স্বাস্থ্যের সাধার,
অমৃত ধর্মেতে বিনা শান্তি কোথা আর ?
সদসৎ উভয়েই ভাগ্য ফলবান,
সত চেয়ে অসতে অধিক পরিমাণ ।
অসতের নে কিন্তু কেহ সুখী নয়,
সজ্জনের অর্থের নাহি হে অপব্যয়।
ধন কিম্বা আমােদের তরে কোন জন,
বিহিত পথেতে প্রধাবিত অনুক্ষণ।
অপর কাহার পুনঃ মতি এ প্রকার,
ধন লাভে সদসৎ করে নং বিচার।
এদুয়ের কার লাভ, তাছিই অধিক,
এ প্রশ্নের সিদ্ধান্তু কি কহ আগে ঠিক।
ধার্মিক নির্ধন, পাপী ধনাট্যের মাঝে,
কেবা কৃপাপাত্র, বল মানব সমাজে ?
পাপিষ্ট ধনীর হক যতই সম্পদ,
ধৰ্মাতার নিকটে সে সদা ঘৃণম্পদ।
সৰ্ব্ব মতে সখী যদি ধৰ্ম্ম হীন জন,
সাধুবাদ তবু তার নহিৰে কখন।
পাপী সুখী সাধু দুঃখী যেবা হেন কহে,
ভ্ৰমান্ধ, ঈশ্বর সৃষ্টি সেত জ্ঞাত নহে।
সুজন মাহাত্ম যেই বুবিয়াছে সার,
সখ জানিয়াছে সুখ-পথে মতি ভর।
দৈব বিড়ম্বনা কিম্বা কচিত, দুর্গতি,
কেবা তার বশ নহে দেখ না প্রতি।

মানব তত্ত্ব কাব্য।
তার তরে সাংকে একাকী দোষ কেন?
তার তুরে সাধ দুঃখী প্রলাপ বচন ।
ফল ও অপায়ু সেত সাধু ধবা, (১)
দেবােপম টরিনীবিগ্রহে হত মান। (২)
আহত সমর মাঝে সিডনি সুজন, (৩)
কি লাগি বল না এরা কি লাগি নিধন।
ধর্ম হেতু অথবা জীবন তুচ্ছ করি,
ত্য জল সংসার সবে সুখ পরিহরি।
ধার্মিকের অগ্রগণ্য তুমি ইহ লােকে,
দিগ্বি! ধৰ্ম্ম কি তােমা সপিলা হত্যুমুখে ? (৪)
কহ কেন মরিছে পিতার বিদ্যমানে,
অল্প!য়ু তনয়, তবু নব তেজ প্রাণে ?
কেন বা তাবৎ রাজ্য পীড়িত যখন,
ফলণ্ড মহাদ্য ফলণ্ড ইংরজি রজি প্রথম চালশ এবং তদীয়
মন্ত্রী স্টাফোর্ডের অত্যাচার সমস্ত অসহিষ্ণু হইয়া প্রজা-পক্ষ হম ;
কিন্তু পরে আবার প্রজাপক্ষ পরিত্যাগ পূৰ্ব্বক রাজ পতাকানুৰী
হইয়া সমরশায়ী হয়েন। ফলণ্ড সম্বন্ধে প্রসিদ্ধ ইতিহাসবেত্তা
ক্লারেনড বিশেষ প্রশংসার সহিত লিখিয়া গিয়াছেন, যে ৩৪
বৎসর মাত্র বয়সে, তিনি যে উন্নত জ্ঞান রাশি উপার্জন করেন,
অতি বন্ধেরা অনেকে তাহাতে পরাংমুখ হইয়াছেম, এবং তিনি
যে রূপ নির্মল ও নিষ্কলঙ্ক ভাবে সংসার হইতে অবত হয়েন,
সেরূপ নির্মল ও নিষ্কলঙ্ক ভাবে অনেক যুব সংসারে প্রবেশ
করিতে পারেন কি না সন্দেহ।
(3) টরিণী, ফরাসিস সেনাপতি টরিণী ও স্বীয় সৈনিক যশঃসোরত অতি
প্রশস্ত করত এবং নিষ্কলঙ্ক রাখিয়া মুন্ধে প্রাণত্যাগ করেন।
(৩) সিডনি, রণপণ্ডিত এবং দয়ার সাগর সর, ফিলিপ সিডনি ও সমর
ক্ষেত্রে আহত হইয়া প্রাণত্যাপ করেন।
(৪) দিগি, অভি সন্ধান্ত বংশীয় যুব সুবিনীত, সাধুও ধর্মশীল।

চতুর্থ সর্গ। অক্লিষ্ট ধাঁচিল সেই যাজক রতন। (১) কি হেতু ৰা দিলা বিধি দীর্ঘজীবী করে , আমার মাজারে মােরে, সুখিবার তরে? (২) নৈসর্থিক অশুভ, অধ্যাত্ম অমঙ্গল, প্রকৃতি বিকৃতি তথা, হেথা মনঃ চল । বুঝিলে অশুভ মহে ঈশ্বর বাঞ্ছিত, অথবা আংশিক ক্ষতি সাধারণ হিত। পরিবর্ত উদ্দিষ্ট বা কদাপি প্রকৃতি, শিখলা, কিন্তু সে দশা অসদত অতি। তেমন অহিতে যদি খেদ সুসঙ্গত, তবেত কান্দিতে হয় আয়ুৰ নিয়ত। কেন, হস্তে কি হেতু আৰে ধৰ্মৰা নিহত, জিজ্ঞাস তবে বিভু সন্নিধান। জিজ্ঞাসহ, কি হেতু পিতার কৰ্ম্ম দোষে যাজক রতন; ফুান্সের অন্তঃপাতি মাশেলস নগরে খৃঃ ১৭২০ সালে অতি ভয়ানক মড়ক হইয়াছিল ; তৎকালে তথায় যিনি যাজক নিযুক্ত ছিলেন তিনি অতি প্রশংসিত ভদ্র লোক; সেই দুঃসময়ে তিনি স্বীয় যজমাম দিরে বিবিধ প্রকার উপকার সাধন করেন, কথিত আছে তিনি এক দ যাজক, শিক্ষক কবিরাজ এবং মাজি- ষ্টেটের কাৰ্য্য মিৰ্ব্বাহ করত যাবৎ উক্ত মহামারির শেষ মা হয় তাবৎ কাল তথায় ছিলেন। পরে রাজা পঞ্চদশ লুই এবং তদানিন্তন পোপের নিকট বহু এন্মান ওগুৰু পর ১৭৫৫ অব্দে মানৰ নীল। সংবরণ করেন। (২) পোপের মাতার দীর্ঘায়ু উল্লিখিত হইয়াছে। (৩) কেম, ও অবেল, দুই সহোদর, বাইবেলে সৃষ্টি করণে কথিত হইয়াছ, যে ঈশ্বর প্রথমে যে নরনারীকে সৃষ্টি করেন তাহাদে কেন ও আৰে'ল, নামে দুই সন্তান হয়, কেম দুষ্টবুন্ধি আৰেল জু, ধর্ম- শীল ; দুই ভাই একদা ঈশ্বরোদ্দেশে বলি উৎসর্গ করিলে, কেনের বলি, তুহি, ও অাবেলের বলি গ্রাহ্য হইল, কেম, হাতে কক্ষ হইয়া অাল হত্যা করে।

:
মানবতত্ত্ব কাব্য।
সুশীল সন্তান জীর্ণ দিবসে দিবসে।
কিন্তু এ আক্ষেপ, বৃখা নিখিল কারণ,
কদাপি, ভূপতি যথা কখন কখন,
উল্লঙ্ঘনে রত, প্রিয় বয়স্যের তরে,
চির প্রতিষ্ঠিত রাজনিয়ম নিকরে,
কদাপি ভাঙ্গেন এক বিধি আপনার
একি বিধি সর্ব কাল এর ওর তার।
অগ্নিগর্ভ গিরি কি পণ্ডিত প্রয়ােজনে
অগ্নৎপাত, গর্জন, রাখিবে সংগােপনে। (১)
বদলিবে সমুদ্র কি ভীম আস্ফালন,
কিম্বা বায়ু বিস্মৃত রহিৰে সাইকল?
ভন্ন গিরি চূড়াতলে তােমা নিরখিয়া,
আকর্ষণ অবনী কি রবে শরিয়া। (২)
পতন উন্মুখ কোন প্রাচীন মন্দির,
তৰ প্রাণ বাঁচাইতে থাকিবেক স্থির।
তবু মনােনীত নহে এই ভূমণ্ডল,
(যদিচ ইহাতে এত শঠতা প্রবল।
প্রিয়তর অন্যত্রে যাইতে অভিলাষ,
ভাল, চল, যথা শুধু স' আবাস।
কিন্তু ভাৰ আগে, সেই সাধু পরস্পরে,
কেমন কুশলে, কিম্বা অসুখে বিহরে।
সাধু মাত্রে ঈশ্বরের বিশেষ যতন,
অবশ্য লভিবে সাধু জন কৃপা, ধন।
(১) এট মা ও ভিভিয়, আয় গিরিদ্বয়ের অতি নিকটবর্তি যাইয়া
অগ্নৎপাত কার্বনিসম্ফনি তে গিয়া গ্ৰম্পিকলিস, এবং নিী
নামে দূই জন কৃতি তত্বা ":"য়িী পণ্ডিত বিনষ্ট হন জব্দেশে।
(২) আকর্ষণ, ম্যাকর্ষণ।

চতুর্থ সর্গ। কিন্তু কে সাধু অসাধু কে, বার্তা সার, ঈশ্বর ব্যতীত ঠিক বুঝে সাধ্য কার ? কেহ বলে কবিনের শিরে বরষিল, প্রভুর পবিত্র আতা অমৃত সলিল। কেহ পুনঃ কহে তিনি নরকের দ্বার, তাহা হৈতে অসুখী এ তাবৎ সংসার। কলবিন, দুঃখী বা সুখীতে কেহ কয়, (১) ভগবান, আছেন অবশ্য, কেহ নয়। এক জন প্রীত যাহে তাহে আর জন, অসন্তুষ্ট অস্বীকৃত বিভু প্রশাসন। এক বিধি বিৰুদ্ধ মতন্তু দুই জনে, সমসূখ প্রদ বল হইবে কেমনে? সাধুতম লােকেও এহেন বিসংবাদ, শ্লাঘনীয় ধর্ম তব, মম অপরাধ? বিধ সংকল্পিত, সৃষ্টি মঙ্গল আলয়, এ অবনী সিজরের, টাইটসেরে নয় ? কিন্তু সে দুয়ের মাঝে সুখী কোন জন? সিজর না টাইটসকর নিরূপণ, প্রজারে বান্ধিল যেবা দাসত্ব শৃঙ্খলে। কলনি; সুধার ও কলবিন, খৃষ্টধর্ম সংস্কারক; একদা খৃষ্ট- ধর্ম অতি শোচনীয় কুসংস্কার ও দুমচ্ছিন্ন হইয়া পড়ে। প্রধান পুরোহিত পোপ যজমান দিগের নিকট অপমাকে অৱাৰ করিয়া তুলিয়া ক্ৰমে পরিত্রাণ পত্র বিক্রয় করিতে আবৃত করেন ইহাতে প্রথমে খার কলাবন, প্রস্তুতি কএক জন যাজক সমতি- ব্যাহারে লইয়া পোপের অনুগত রাঙ্গাদিগের নিকট গিয়া তদীয় অত্যাচারের প্রতিবাদ জন্য অনুরোধ করেন, তদবধি খৃষ্ট ধর্মা- বলম্বীদের মধ্যে রোমান কাথলিক এবং তা প্রতিবাদী এটেষ্টান্ট এই দুই দল হইল। প্রটেষ্টান্ট দিগের মধ্যেও বুথ ও কলৰিনের মতের ঐক্য ছিল না সুতরাং তৎ মতাবলম্বী দিগের মধ্যে লাদলি উপস্থিত হয়। (১)

মানব তত্ত্ব' কাব্য।
কিম্ব। যে বিবাদমগ্ন, দিনেক বিফলে ।
অধাৰ্মিক পূর্ণ, সাধু অন্ন বস্ত্র হীন,
অসম্ভব নহে, এত আছে চির দিন।
দোষই কি তাহাতে ধর্মের পুরস্কার
অন্ন বস্ত্র নহে সেত শ্রমশীলতার।
হক সে অসাধু যদি কৃষি কাৰ্য করে,
হউক অসাধু যদি সাগরে সাগরে।
যুদ্ধ কিম্বা তিমি হেতু করয়ে প্রয়াণ,
অবশ্য লভিবে অন্ন কতু নহে আন,।
সুজন দুর্বল যদি উদ্যম বিমুখ,
প্ৰাচুৰ্য্য কদাপি নহে তুষ্টি তার সুখ।
মনে কর, সাধুরে প্রদত্ত বহু ধন,
আর কিছু তার কি হবে আকিঞ্চন ?
বিনা স্বাস্থ্য প্রতাপ, সম্পূর্ণ সুখ নয়,
ক্রমে চাহে যদি সে পার্থিব বস্তু চয়?
ধন, স্বাস্থ্য, প্রতাপ তা পরে যদি বলে,
অসীম রাজত্ব বিনা কি ফল সকলে।
পুনঃ যদি কহে কেন নহিল মানব,
ঈশ্বর সদৃশ, ধপূর্ণ স্বর্গেরিব !
এরূপ জিজ্ঞাসে যেই কে বুঝাবে তারে,
যথেষ্ট দানিলা ধাত। কত সে ভাণ্ডারে।
যত্ শক্তি বাড়ি বাড়িত আশা তত,
নিরাকাঙক্ষ কৈ ? কোথ, রাখিত সে অত!
দেব তুল্য উন্নত হইলে নরগণ,
প্রকৃতির মাঝে কোখা থাকিত তখন।
পৃথিবীতে কিছু যাহা নাহি দিতে পারে,
বিনাশিতে কি, যা প্রাপ্ত কারাগারে,

৬১
চতুর্থ সর্গ।
আত্মার প্রশান্ত জ্যোতিঃ সু-আতা প্রসাদ,
ধার্মিকের পুরস্কার, সেই যে আলাদ।
ইহা হৈতে অধিক বাসনা যদি থাকে,
রথ আশ্ব প্রদান(১) কহ নম্রতাকে।
তরবারি নায়েরে, জেতৃজন মানা
মন্ত্রীপদ-বসন, সত্যেরে কর দান।
সাধারণ হিতৈষীরে ঔষধ তাহার,
সাদরে প্রদান কর রাজত্ত্বের ভার।
মন বুদ্ধি নয়! একি কভু সম্ভব।
ধর্মের উচিত মান পার্থিব বিভব ?
বাতুল মানব হেথা ব্যস্ত যার তরে,
তা দিয়া তুষিৰে ধাতা পুনঃ অতঃপরে?
বয়াধিক্যে বালক বালক নহে আর,
তথাপি খেলনা বাঞ্ছা নহে শিষ্টাচার
আ.ফুকা নিৰাসী যথা যাচে মনে মনে,
বনিতা কুকুর সুর', যাবে তার সনে ।
এদেই ত্যজি সে যবে করিবে গমন,
স্বরগে, পৰ্বত স্কন্ধে প্রত্যয় যেমন।
তুমি ও তাহার মত থাক প্রত্যাশিত,
সকলি পাইৰে তথা যা যা অভিপশিত।
ইহাও ভাবিও যে সে সামান্য বিষয়ে,
[১] বুথ তা প্রদান ইত্যাদি। বুখ অশ্ব প্রভৃত ঐশ্বর্য। নম তার প্রতি
বস্তু নহে সুতর” অনুচিত দান। দু,প ন্যায়কে তরবারি, এবং
নপিদোচিত পোশাক অনুচিত দনি। সাধারণ হিতৈষী ব্যক্তিকে রাজত্বের
ভার প্রদান করিলে তাহাকে সাধারণের হিতার্থ ৰাজদ্বারে অনুরোধে বিমুখ
হইয়া পড়িতে হয়। সুতরাং রাজ ভার দেশহিতৈষিতার ঔষধ ৰূপে উক্ত
হইয়াছে।

মানব তত্ব কাব্য।
কিবা সুখ দিবে তথা, দিব্য জ্ঞানেদিয়ে ।
রাজ্য, ধন, ঐশ্বৰ্য, কি ধর্ম পুরস্কার,
কিবা লাভ তাহে যাহে পূর্ণ ৰিয় তার।
কতবার এরূপ ঘটিল পৃথিবীতে,
যৌবনের সাধুভাব বিনষ্ট ষষ্টতে।
করে ধন, সম বা প্রত্যয় বিতরে?
আনন্দ সন্তোষ কি? সাধু ন্যায় পরে ?
বিচারপতি বা মন্ত্রী সভা সদগণ,
স্বর্ণ-লব্ধ অসম্ভব নহে কদাচ,
শ্রদ্ধা প্রীতি কিন্তু কভু, অপ্রমিত ধনে,
মহিল, নহিবে ক্রিত হেনলয় মনে?
নির্বোধ ! নতুবা তুমি হেন মনে কর,
সু-আত্মা-মানব প্রতি রাষ্ট-দীনেশ্বর।
প্রেমময় নরকুল-প্রীতি মূর্তিমান,
হেন জনে কুপিত কদাপি ভগবান্?
আত্মা যার নির্মুল নিরোগ যার দেহ,
হউন নিধন তিনি সুখী নিঃসন্দেহ।
মানু অপমান আর, অবস্থা ঘটিত,
ভ মেও ভেবনা ইহা সত্য কদাচিত।
যেবা যেই অবস্থায় স্থাপিত হেথায়,
সুনির্বাহে মান, তদন্যখা, মান যায়।
ভাগ্য বিভিন্নতা অল্প, যদি বুঝ সার,
চীরস কার, কার শতেক প্রকার।
চামারের কৌপীন, গুরুর সুধবল,
পেন্দ্রে, যোগীর বল কল।
এ হতে অধিক কিন্তু বিভিন্নতা আছে,
এ সব লঘু অতি লঘু,ঘার কাছে।
পটবাস ৫

চতুর্থ সর্গ।
দেখ, যদি নর নাথ, কাৰ্য্যে একবার,
উদাসীন সম, তবে কি দূর্দশা তার।
কিম্বা গুরুদেব যদি চামারের মত,
অবশ্য বুঝিবে দুয়ে বিভিন্নতা কত,
গুণে ভদ্র লােক আর দোযে লক্ষী ছাড়',
তাহাতে প্রসংসা তাহেরেশম, চামড়!।
বিবিধ উপাধি তব অসম্ভব নহে,
রাজা কিম্বা রাণী যদি সুপ্রসন্ন রহে।
সৎকুল গৌরব, তাও পারে থাকিবারে,
আদিমুর অনিলেন তােমার পিতারে।
কিন্তু যদি পিতৃ গুনে পুত্র গুণ ধর,
কহ কে কে আছিল সে কুলে ন্যায় নি।
বহু কালাগত কিন্তু যদ্যপি সে কুলে,
নষ্ট দুষ্ট বিনা সাধূ না জন্মিল। ভুলে।
কি ফল হারাযে পিতৃ পিতামহ মান,
ত্যজ গিয়া এখনি সে কুল অভিমান।
আধুনিক বংশােদ্ভব ভান কর গিয়া
প্রাচীন অধম কুলকুচি কিয়া।
নীচ, ভী, মদ্যপের মৰ্যাদা উদয়,
সমস্ত সাধুর শুক্রে হয় কি না হয় ।
মহত্ত্বের প্রতি দৃষ্টি কর অতঃপর,
সুধাও কোথায় সেই সম্মান আকর।
কোথা-আর মহত্ত্ব, শুনহ সাবধানে,
সংসার কহিছে উহা-বীরত-যেখানে ।
মহত্ত্বের দ্বিতীয় সােপাল কেহ বলে,
দীপ্ত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, রাজত্ব কৌশলে ।
মত্ততায়, যত শুর প্রায়ই, সমান,

মানব তত্ত্ব কাব্য। দ্বাদশ চারল, (১) কিম্বা ফিলিপ সন্তান (২)। জীবনের আশ্চৰ্য্য উদ্দেশ্য তাসবার, নরকুল অহত, সুইষ্ট কিবা আর । পূর্বাপর দৃষ্টি শুন্য সদা ব্যগ্র মন, বিজয়ে, বিনাশে বৃথা, মততা এমন। রাজনীতি বিশারদ পণ্ডিত সকল, অতীব কুটিল বুদ্ধি, সংশয় প্রবল। নির্জনে, যখন কেহ নিকটে না থাকে, আপনা না দেখি, ভীৰু কহে যাকে তা ভাল, যদি বিজয়ে, পারগ শুর দল, চাতুরিতে পটু কিম্বা, কিম্বা বুদ্ধি বল, তাৰলে কি কুকর্মাকে মহান সম্মান, প্রদান বিহিত, নহে অহিত নিদান? অসাধু কাৰ্যেতে যেই সুনিপুণ অতি, কিম্বা যেই সাহসে অসুর মত্ত হস্তী। প্রথমে অধম আর দ্বিতীয়ে ৰাতুল, এই আখ্যা ঠিক; অতুম নাহি ভূল । সদুপায়ে সাধু ব্ৰত সাধিতে যে জন, সদা যত বান, থাকে যায় বা জীবন। পুৰুষ পুঙ্গব সেই জগত মাঝার, মহান খ্যাতিতে সত্য অধিকার ভার । (১) দ্বাদশ চালস, সুইডেনের অধিপতি, একাদশ চারলসের পুত্র । ইনি ১৬৯৭ খৃষ্টাব্দে পিতৃসিংহাসনে অধিকহয়েন অতিবীল্য কাল হইতেই ইহার অলেক জারের মত দিগবিজয়াদি কার্যের বাসনা ওল হয় উঠে। এবং পঞ্চদশ বর্ষ বয়ঃক্রম কালে রাজ পদ পাইয়া অবধি নানা যু যাবজ্জীবন অতিবাহিত করেন। রূসিয়ার সম্ভাট, পিটালের সহ যুগ্ধ “মাত্ৰাই তঁাহার জীবনের এক মাত্র গো রব বা অপশের, বুন্ধি মা বা হাতু তার কাৰ্য্য { ) ফিলিপ-সন্তান অালেক জণ্ডারের পিতার নাম ফিলিপ। জগুরের ৬৫ চতুর্থ সর্গ। অরিলস (১) সম ভঁর ঘটে রাজ মান, কিম্বা সক্রেটিস, মত কালকট পান। বশঃ কি? অপর বাক্যে কল্পিত জীবন, আহা মৃত্যু আগে কীৰ্ত্তি-ছিন্নকত জন ! যতটুকু শ্ৰত যশঃ তন্মাত্র তােমার, অবশিষ্ট স্থিরতা-কি তাের না তার। অনুভূত যাহা তা বা ব্যাপ্ত কত দূর, তুমি তব পিতা, মাতা, মাতুল, শ্বশুর। আর বৈরী দল হৃদে, শুভাশুভউভে, সম আন্দোলিত উহ, কিম্বা লােভ ক্ষোভে। আর সবে খ্যাতি কিম্বা অখ্যাতি তােমার, সম গ্রাহ্য মৃত কিম্বা জীবিত সিত্ত্বার। অথবা কখন কোথ। লভিলা সম্মান, বিক (২) তটে কিম্বা নীল (৩) সন্নিধান। কৌতুক কুশল ভাঁড় লঘু তৃণ প্রায়, সর্দার লণ্ডছু লােক প্রতাড়িততায়। ন্যায়পর সাধুর জনম, অধিষ্টান, যতেক সৃজন মাঝে,একই প্রধান। (১) অরিকলস মার্কস, অরিলস জনৈক রোমীয় সমটি ১৬১ হইতে ১৮০ খৃস্টাব্দ পর্যন্ত ইনি রাজত্ব করেন। ইহুর সচ্চরিত্রতার বিশেষ খ্যাতি আছে। ইংরাজ রাজা অলিডের সহিত, ইংরি বিচক্ষণতার এবং ধর্মের যেমন সোসাদৃশ্য ছিল, দূঃখ ভোগ বিষয়ে ও ঠিক তদ্রুপ। (২) ইটালি দেশের অন্তর্গত একটি ক্ষুদ্র নদী ইহার উৎপত্তি উস্কানি প্রদেশ, এবং অাড়িয়াটিক হ্রদে মিলন। এই নদী পার হইয়া, জলিয়স সিজার রেমিরাজ্যের মধ্যে দারুণ গৃহ যুদ্ধ প্রজ্জলিত করেন। সিজাৰ সমগ্র রাজশক্তি আপন হয়ে লইয়া একাধিপত্য করিবেন অাশঙ্কা করিয়া রোমীয় সাধারণ রাজসভা তাহাকে রুবিকন নদী পার হইতে নিষেধ করিয়াছিলেন, উচ্চাভিলাষী তাহা অগ্রাহ্য করত সহযোগীদিগের সহিত একাধিপত্যের জন্য বিষম বিবাদে প্রবৃত্ত হন। (৩) নীল মিশর দেশের একটি নদী।

মানব তত্ত্ব কাব্য।
অসাধুর নাম, কীর্তি, বৃথা চেষ্ট পায়,
সজীব রাখিতে, এ যে অসম্ভব দায়।
শ্মশান হইতে তুলি দোষীর বিচার,
হেন ভ্রষ্টাচার ভিষ্ঠে জগত মাঝর।
যে দেহ বিস্মৃত দহে নিক্ষেপ কল্যাণ,
সে দেহ টাঙ্গায়ে গাছে দুর্গন্ধ বাড়ান।
যথার্থ গুণের, বিনা খ্যাতি অসঙ্গত,
মন খেলে হৃদি কিন্তু অনা সদত।
সােৎফুল্ল হৃদয় এক মুহুর্ত প্রমাণ,
নির্মম জনের হৃষ্ঠ শতায়ু, সমান।
পদানত মন্ত্রী বলে সিজ্বার যে সুখ,
লভিতে অশক্ত, হে সদা পংমুখ।
মার্শিলস, (১) নির্বাসিত উবু তার মনে,
বিরাজিত সে আনন্দ দেখ প্রতিক্ষণে।
উন্নত বুদ্ধিতে, কহ, কিবা সুখােদয়,
কেবা জ্ঞানী? তুমি তাত জ্ঞাত সুনিশ্চয়।
অল্প মাত্র জানিমােরা এই যেই জানে,
পর ছিদ্র দেখে, কিন্তু নিজ ক্রটি মানে।
সেই জ্ঞানী যথার্থ ; নভবা যেই জন,
অবিশ্রান্ত কাৰ্যান্তরে ব্যস্ত অনুক্ষণ।
বিশেষ নৈপুণ্যে যেই ব্যাপৃত সদাই,
অদ্বিতীয়, গুর কিম্বা সমকক্ষ নাই ।
সত্যের প্রচার কিম্বা রাজ কাৰ্য ভার,
কেই বা বুঝিবে, অত্যুন্নত বুদ্ধি তাঁর।
[১] মাশিলন, একজন প্রসিদ্ধ রোমীয় সৈম্যাধ্যক্ষ ছিলেন, ইনি
হন । সময়ে পপির পক্ষ হওয়াতে সিজার তাহাকে দেশ বহিস্কৃত কবিয়া

চতুর্থ সর্শ। ৬৭ এক জন নাই যে না হারে ডরায়, সাহায্য সম্ভাষা খাদেখিয়া পলায়। অতিশয় উন্নতি এ, দুঃখের নিলয়, আপনারে যাহাতে অভ্রান্ত জ্ঞান হয়। আর যাহে তিলেক এ দীর্ঘাষ্ট প্রহরে, অবসর নাহি, এক অন্য চিন্তা করে। দেখিলে ত একে একেযতেক বৈভব, আর তার অনুসঙ্গ দুঃখ বা যে সব। বিচার করিয়া এবে, কহ তার সার, আপদ, অসুখ বাদে, সুখ কত কার। একটি সুখের তরে কত টুকু ক্লেশ, তাহে কি অভিষ্ট লব্ধ? দুঃখ মাত্র শেষ। মহত্তর সম্পদ কি নহে এর সনে, অতি অসঙ্গত সেত লব্ধ প্রাণ পণে। এতাবৎ বিচার করিয়া পুনঃ যদি, এ সুখ বাসনা তব বাড়ে নিরবধি । অসার উপাধি তরে ব্যগ্র তােমার ? দেখ কি সেজেছে তাহে মৃপেন্দ্র কুমার (1) কাঞ্চন ঔজ্জ্বল্যে বিমােহিত তব মন, অনুদার কৃপণেরে কর নিরীক্ষণ । বিদ্যা বা উন্নত বুদ্ধি যদি বড় সাধ, বেকনে দেখিয়া তার বুঝ পরমাদ। বেকনের (২) বড় কে, পাণ্ডিত্যে পৃথিবীতে, প্রতিভা, জ্ঞানেতে কিম্বা, নিকৃষ্ট চরিতে। (১) নপেন্দ্র কুমার, “রাজা বাহাদুর” উপাধির অনুচিত পাত্র বিশেষ। (২) বেকন্ -সিন্ধ্র রাজনীতি বিশারদ বিজ্ঞানবিদ, পণ্ডিত লডি বেকন সর নিকোলাস বেকনের পুত্র। ইহার বুদ্ধিমত্তা এবং পাণ্ডিত্যের বিশেষ প্রশংসা অাছে। ইহার রচিত সাহিত্য গ্রন্থ সকল অতি সমাদরে এখন পর্যন্ত পঠিত হইয়া আসিতেছে বিজ্ঞান বিষয়ে ইংরি নুন আবিস্কার সকল লইয়াই ইংরাজি বিজ্ঞান-অটালিকা পূর্বাপেক্ষ, দঢ়ষ্ট এবং সুসজ্জিত হইয়া উঠিয়াছে। ইনি ইংলণ্ডের প্রধান ২ রাজকার্যে নিযুক্ত হয়। ছিলেন। স্কিন্তু অতি উচ্চ প্রধান বিচারপতির কার্য নিযুক্ত হইয়া বিন্ধ ভাবে ঐ গুরুভার নির্বাহ করতে পারেন নাই। ধনলোভী হইয়া বিচার্থীর নিকট অর্থ গ্রহণ অপরাধে রাজ দ্বারে দণ্ডিত ও অপমানিত হইয়া। ছিলেন অত্যল্প দোষে বহুগুণের যে বিনাশ তাহাই,বেকনের টিনাছিল। ***

মানব তত্ত্ব কাব্য।
নাম, যশঃ গীতে যদি মােহিত হৃদয়,
দুৰ্য্যোধন দেখ কি যশের আলয়।
এসব একত্রে যদি চাহে তব মন,
পুরাবৃত্ত পড়ি, সবে শিখ অযতন।
পুরাবৃত্তে পাবে নাম যশঃ মান ধনে,
কৃত্রিম সুখের ভরা পূর্ণিত কেমনে ;
রাজগণ মেহে, রাজ মহিষী সম্প্রীতে,
কোখা কে অসুখী সুখী, পাইবে দেখিতে ।
রাজার প্রণয় ঠিক বালুকায় বাঁদ,
রাজ্ঞীর ভীষণতর মরিবার ফাদ ।
রাজ সমাদর লাভ ঘটে যে উপায়ে,
কি জঘন্য হায় ! শুনে জ্বর আসে গায়ে।
অপূর্ব গৌরবে শোভে ভিনিশ নগরী, (১)
বিনির্মিত কিন্তু সে কদ্দম মলােপরি।
রাজ সভা সদ,গণ, অহা মরি হায় ?
আজ যে উন্নত, কাল অবসন্ন প্রায়,
প্রত্যেকে, দেখই, গুণ দোষ সেতি বহে।
একই প্রভাবে, কিছু কেহ নুন নহে,
উন্নতি কারণ গুণ প্রভূর সন্তোষ।
মনুষ্যত্ব, বিচার অইত তব দো;
ইউরােপ মাঝে কভু বিজয় পতাকা।
উড়ডীন কাহার, কিন্তু নর রক্ত মাখা,
অথবা উৎকোচ লােভসম্বত কি থাকে।
(১) ভিনিস, ইটালিদেশে অাড়িয়াটিক হ্রদের তট পূর্ণ করিয়া লইয়া
এই প্রাচীন নগরনিৰ্মিত হয়। ইহার শোভা ও সমৃদ্ধির ইয়া ছিলনা।
রাজ সভাসদগণ রাজাদিগের তোষামােদাদি জঞ্জাল কর্দমোপরি রাজ
অনুগ্ৰহরূপ মুখসমৃদ্ধির সূত্রপাত করাতে 'ভিনিস 'নগরের সহিত সাদৃশ্য
হইয়াছে।

৬৯
A
চতূর্থ সর্ব ।
মলিন বীরত্ত্ব কার সে কলঃ দাগে,
কেই ভগ্ন দেহ, ধন সম্পত্তি সংগ্রহে।
কিম্বা কেহ নিমগ্ন বিরম সুখ দতে,
কার অপষশঃ লুঠি, দূর রাজ্য দেশ।(১)
কুণ্টিত তদ্ধেও অজ, দ্বিতীয় ধনেশ,
অধম সমৃদ্ধি হায়! কোন পুণ্য কাজে,
না যায় কলঙ্ক তাের হেট মুখ লাজে ।
ইহাদের শেষ গতি দেখ বা কি হয়,
তাই বা সুখের কোথ। বিষাদ আলয়।
পেটুক কিঙ্কর কার, জরা সমাগমে,
আত্মসাৎ করিল তাবৎ ক্রমে ক্রমে।
কাহার বনি কিম্বা, পতি অনুরাগে,
লইলা সম্পত্তি যত তাঁর মৃত্যু আগে।
দ্বিতল ত্রিতল গৃহ সন্তু ম নিদান,
অন্য হস্তগত, দেখ, বৃদ্ধ নিয়মান।
এই স্বায়ং প্রাতঃ ৰিা দেখিয়াছ আগে,
মধ্যাহ্ন মুহুর্ত সুখ যদি কহ রাগে (২)।
এত যশঃ এত মান, কিন্তু দেখ তার,
অত্যম্প গৌরব সবি লজ্জার ব্যাপার ।
অতএব অবনিতে জান এই ঠিক,
এ হইতে মানবে কি জানিবে অধিক?
এ ধৰ্ম্ম ত্ৰক সুখ ” আর সকলি অলিক,
ধম্মই কেবল মাত্র অবিমিশ্র সুখ।
বিনা এক বিষ্ম, বিনা কিঞ্চিৎ অসুখ,
(১) দূর রাজ্য দেশ-ভারতবর্ষকে লক্ষ্য করিয়া লিখিত ইংলণ্ডের নথি
সভার অনুগত লোক ভারত প্রত্ তি অধীন রাজ্য শাসনে নিযুক্ত হইয়া
বি:শষ ধনৈশ্বর্য লাভ করেন। (২) অনুরাগে।

মানব তত্ত্ব কাব্য।
সন কেবল হেথা সমাদর পায়।
আদান প্রদানে, সুখী সাধু সমুদায়,
অনুপম আনন্দ অভিষ্ট যদি ফলে।
দুঃখিত ও নহে সাধু বাসনা বিফলে,
যতই বাড়ুক সুখ বিস্বাদু না লাগে ।
বরঞ্চ অধিক দূঃখে, পীত অনুরাগে,
নিবুদ্ধিতা নিমম যে মহােল্লাযে চরে।
প্রশস্ত এমন কই, সেত শূন্যান্তরে,
ধর্মাত্মার অশ্রু বিন্দু, চাৰু শােভা ধরে
শুভ সৰ্ব্ব স্থানে, আর যখন তখন,
সদা হৃষ্ট অনুষ্ঠানে, সাধু ক্লান্ত নন।
অপর বিপদ পাত দুঃখের আলয়,
পরসুখে সাধু চিত্ত বিষাদিত নয়।
আর এক, অন্যবিধ বাসনা অভাব,
যদি থাকে, ধৰ্ম্মের লাগিয়া তাত লাভ।
এই, হেন সুখ ধাতা করিলা নির্ণয়,
সৰ্ব্বলােক হেতু, এ দুষ্প্রাপ্য কার নয়।
অনুভব প্রবল, গভীর চিন্তা ধান,
এতৎ সম্ভোগে কিন্তু সাধন প্রধান।
অসাধু কদাচ ইহা পারে লভিবারে,
ধনেতে কুবের, জ্ঞানে প্রসিদ্ধ সংসারে।
সাধু কিন্তু বিনা ধন, বিনা উপদেশ,
লভিবে এ সুখ, এক আশ্চর্য্য বিশেষ।
সম্প্রদায় বিশেষের নহে অনুচর,
আপন্ন কম্পিত কিম্বা নাহি পথান্তর,
প্রকৃতি-ঈশ্বর দৃষ্ট প্রকৃতি বিজ্ঞানে।
দৃঢ় মন সদা সাধু হারি ধেয়ানে,

৭১
চতুর্থ সর্গ।
সেই সূত্র প্রতি তাঁর দৃষ্টি অনুক্ষণ।
সুসম্বদ্ধ হে এই নিখিল সৃজন,
স্বর্গ মত্ত, কম্পিত যাহাতে মরমর।
সেই সূত্র প্রতি তার নিয়ত নির্ভর,
কেহ নাহি পারে এক সুখ সন্তোগিতে।
একাকী অবশ্য হবে অন্যে অংশ দিতে,
সমস্ত জগতে এই ঐক্যতা দেখিয়া ।
নিরূপণ করেন কি হেতু নর হিয়া,
হেতু মানব আত্ম; কিবা প্রয়ােজনে।
সৃজিলা ; বিশ্বাস, শাস্ত্র, নীতি, কি কারণে,
অবগত সাধু আদি অন্ত এসবার।
বিভু প্রীতি-কাম, আর নরে প্রেমােদার,
সাধু জন মাত্রে আশা, জগন, মণ্ডলে।
নৈরাশের লেশ নাই সংকটের দলে,
আশা পূর্ণ আত্মা ভর, দ্রঢ়িষ্ট প্রত্যয়ে।
অপ্রত্যক্ষ অর্থ দীপ্ত সাধু হদি চয়ে,
আশায় অমিত সুখ হয় উপজয়।
সুখ চেয়ে সুখময় সুখের প্রত্যয়,
বিশ্বাসী জনেয় মনে স্পষ্ট এই জ্ঞান ।
কেন ধাত। মানবে করিল। আশা দান,
বিধাতার দান কভু
ব্যর্থ নাহি হয়।
মানবে এদান ব্যর্থ নহিবে নিশ্চয়,
জ্ঞানময় ঈশ্বর যােজিল। এই নে,
মানব শ্রেষ্টত্ব ধর্ম, পরম কল্যাণে।
আপন উরতি কিম্বা জাতীয় মঙ্গল,
উভয় সাধনে, ইহা উৎসাহ প্রবল।
আতাদর দেখ সে চালিত এ প্রকারে ।

৭২. । মানব তত্ত্ব কাব্য। সামাজিক কাৰ্য্যে, কিম্বা এসংসার পারে, প্রতি বান্নী সুখ শান্তি তােমার অন্তরে। আপন সমান কিম্বা বেশি বল ধরে, অমিত সম্ভাব, সু-উদার তব চিত্তে, অত্যন্ত অল্প কি তুমি ভষ্ট নহ ইথে। বিস্তার জাতীয় প্রেম উন্মুক্ত হৃদয়, প্রতিবাসী সূখি, ধর দুর, শত্রু চয়। গ্রহণ করনা সে প্রণালীসিদ্ধ দানে, ' স্পন্দাম্বিত জীবমাত্রে, সুধুকেন জ্ঞানে। (১) দয়া যত, সুখ তত, সাধ্য পরিমাণ, অত্যন্ত আনন্দ ত অত্যন্ত শান্তি দান। বিধা মমতা আগে সৃষ্টি সমুদয়ে, তাপরে অংশদি প্রত্যেক বস্তু চয়ে। নর আতা কিন্তু সে অংশাদি একে একে প্রীত করি, প্রশস্ত প্রীতির অতিরেকে। আতাদরে জাত, চালিত নরন্ত, শান্ত হ্রদে লােস্ট্রপাতে নি-নিকর ; হদ মধ্য আন্দোলিতে বত্ত উর্মি চয়, এক ক্রমে উঠিয়া চোদিক সুবেষ্টয় । শেষ প্রান্ত যাবনা বেষ্টিত তাহার, সদ বিস্তারিত বৃত্ত পুনঃবর বার। প্রথমে মানৰ মিত্ৰ মাতৃ পিতৃ রত, প্রতিবাসী পরে, পরে দেশ জগত। বিস্তৃত মানব মন, ফুল্ল হদি তার, (১) সু কেন জানে ইত্যাদি। সৰ্ব্ব জীবে দয়াই প্রণালী সিদ্ধ দা; অতএব স্পন্দ বিশিষ্ট অর্থাৎ জীব মাত্রে দয়া কর সুধু কেন মিলন মনুষ্যক দয় করিয়া ক্ষান্ত থাক। স,

চতুর্থ সর্গ।
গ্রাসিবে প্রত্যেক জীব যথা য়ে প্রকার।
চারি দিক বিসিত সুখ এব্য চয়ে,
বিধাতৃ প্রতি দয়া নরসু হৃদয়ে।
ফিরি চল মিত্রর, চল ফিরি যাই,
সমাপ্ত সংগীতে তুমি মম শক্তি, ভাই ।
যখন কবিত্ব শক্তি নত নিম্ন দিকে
যবে বা উন্নতি তাঁর ঊর্ধ অন্তরীক্ষে।
তুমি শিখাইলে ইথে কৰিছে বর্ণন,
নর নীচ রিপুর উচ্চ প্রয়ােজন।
তব তৃপ্তি হেতু তব সুরূচি উদ্দেশে,
সসস্তুমে নমিল যে বিষয় বিশেষে।
তব সহ মন্ত্রণা করিয়া কত বার,
ঋজু হৈতে গাম্ভীর্য্যে হইল আসার।
কতু বা সজীব, কতু তীব্র অতিশয়,
কদাচার সংশােধনে কতু কষ্ট হয়।
সুতেজস্বী, সদ্ভাব সুসমর্থন তরে,
বাগী, কিন্তু বিনা বৃথা বাক্য আড়ম্বরে।
সংকল্প সদত সত্য নিরূপণ সার,
কুতর্ক ছাড়য়া সদা পূর্ণ শিষ্টাচার ।
কাল সোতঃ প্রবাহে, কহ হে যশোধাম,
প্রবাহিত লভয়ে সম্মান তব নাম। •
কহ হে থাকিবে কি এ ক্ষুদ্র মম তরি,
লভিতে একাংশ তার তাসহ সঞ্চ?
নিধন যখন রাজা রাজ মন্ত্রী দল,
তাদের পুত্রের। দুঃখী, বুঝি পিতৃ ছল।
প্রচারিবে এ সংগীত, সেই দূর দিনে,
সাহচর্যে সর্পিলা তুমি এই দীনে?

মামৰ তত্ত্ব কাব্য।
তব সে প্রেরণা যাহে, কাব্যে নিয়ত
ভাষা নয়, সামগ্রী, কল্পনা নয় চিত।
বুদ্ধির মুকুরে বৃথা আলাে অভিমান,
প্রকৃতির আলােকে, সে খদ্যোত প্রমাণ।
দেখাইতে বৃখা গর্বে, সৃষ্টি সমুদায়,
সৰ্বাঙ্গ সুন্দর, পূর্ণ, শিব-অভিপ্রায়।
প্রজ্ঞা, আত্মদর সৃষ্ঠ মানব মণ্ডলে,
সাধিতে একই কায, ছলে বা কৌশলে।
আদরে স্বার্থ মাত্র, করয়ে সন্ধান,
অলীক একখা, তার লােকে ধর্মে টান।
ধৰ্ম্মেতেই সুখ, তাহেকৈবল্য সঞ্চয়,
আর আতা পরিচয় জ্ঞান শিময়।
মানিবতন্তু কাৰ্য সমাপ্ত।

সৰ্ববাদি সম্মত স্তোত্র।
নিখিল কারণ, ওহে! সর্বজন পিত।
চিরকাল, তুমি প্রভু সর্বত্র পুজিত ;
সাধু, বন্য কি-জ্ঞানী যত জাজন,
জিহােবা (১) তােমারে, কেহ প্রভু জোভ (২)কম
হে আদি কারণ, ভুমা, কে জানে তােমায়,
প্রদত্ত যে জ্ঞান হে এই জানা ৰায় ;
তুমি সর্ব শিবময় আমি নিরন্তর,
নিতান্ত সসীম-জ্ঞান, অন্ধ ভূমপর।
অন্ধ তবু হেথা যথা অবস্থা আমার,
ভাল মন্দ বিচারে দিয়েছ অধিকার ;
তাবৎ সংসারে বাধি অভেদ্য বন্ধনে,
বাড়ায়েছ মানবেরে স্বাধীনতা ধনে।
বিবেক আমারে যেই কাৰ্য্য আজ্ঞা করে,
নির্দেশ করে বা যাহা, ত্যজিবার তরে,
নরক সমান যেন নিষিদ্ধ বজনে।
বিধি রক্ষা বা সম খুজি প্রাণপণে,
তব সদাতে পাই যত দ্রব্য চয়।
ভােগ করি সবে যেন কৃতজ্ঞ ঘদয় ;
তুমি তুষ্ঠ জানি যদি নরে তব দান।
উপভুক্ত; দান উপভােগে দাড়, মান,
(১) জিহহাব,-হিব্রু ভাষায় সর্ব সৃষ্টিকর্তা পরমেশ্বর এই নামে
অভিহিত হন। এই অখ্যা ঈশ্বরের সন্তুত্বের প্রতিপাদক।
(১) জোত-লাটিন ভাষায় ঈশ্বর জোত মানে অাখ্যা। ফলতঃ নানা
দেশে নানা ভাষায় পরমেশ্বরের ভিন্ন ভিন্ন নাম ! প্রভু আমিন,
গ্রভৃতি সেই অনিচনীয় পুরুষের সম্বোধন এবং আখ্যা।

এক এই পৃথিবী দেশ মিত স্থানে।
রাখ নাই বান্ধিয়া আমার বুদ্ধি জ্ঞানে ;
মানব ঈশ্বর তুমি আর কার নয়,
কেমনে কহিব, চারি দিকে লােকচয় ?
এই সুদুৰ্বল হস্ত যেন নাহি যায়,
নিক্ষেপিতে তব বজ কাহারাে মাথায় ;
দুঃখ দিতে কিম্বা কারে, কেন কি কারণে?
তােমার বিরূদ্ধতারা অনুমানি মনে।
}
অভান্ত যদ্যপি আমি মােরে দয়া কর,
অভান্ত পথেতে যেন, থাকি নিরন্তর
আর যদি কুপথে পতিত ভ ম বশে,
শিখাও উঠিতে মােরে, দিবসে দিবসে।
না ঘটে এ চিত্তে যেন, দম্ভ অভিমান,
অসন্তোষ কিম্বা না পেয়ে ইষ্ট দান ;
যা কিছু দিয়েছ, শুভ তব অভিপ্রায়,
অশুভ জানিয়া অন্য না দিল আমায়।
}
পর দুঃখে, দুঃখ প্রভু শিখাও আমারে,
পর দোষাে অধীন ঢাকিতে যেন পারে ;
যেই দয়া অপরে দেখাই ভগবান,
সেই দয়া মােরে তুমি কর সুবিধান।
নীচ যদি, তথাপি নিতান্ত নীচ নয়,
তুমি যে দিয়েছ মােরে এ প্রাণ, হৃদয়।
যথা যাই সঙ্গে আজ থেক হে সদাই,
‘ক জানি বাচি কি আজ মরি ঠিক নাই।

স্তোত্র।
অদ্যকার অন্ন দিও, দিও শান্তি আর,
আর যে আকাশ নিম্নে দ্ৰব্য নানাকার ;
কি দিবে না দিবে তার তুমি জান ভাল ।
তব ইচ্ছা সম্পন্ন হউক চির কাল।
তবােদ্দেশে, যাহার মন্দির সু-অসন,
সৰ্ব্বত্র, বিস্তীর্ণ ধরা, সাগর গগন ;
তুবােদেশে, কৰু সকলে শুতি পাঠ,
যশঃ ধূপ দান আর, সৰ্ব্ব সৃষ্টি ঠাট।
সমাপ্ত।

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Manab Tattwa Kabya

Author
Mukhopadhayay,durgadas
Title
Manab Tattwa Kabya
File name
Manab Tattwa Kabya
Text
OCR done
Citation
1875
Published
2009/11/25
Publisher
N.a
Language
Sanskrit
Pages
89
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Mukhopadhayay,Durgadas
DLI number
512899
Barcode
4990010019929.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
RDsYeFjuJzM
Download PDF

Manab Tattwa Kabya