Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Partha-parakram Ed.1
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
পাখ-পরাক্রম
(নাটক)
শ্ৰীকালীভূষণ মুখােপাধ্যায়
বিরচিত
গােবিন্দ চন্দ্র ধর কর্তৃক
প্রকাশিত।
}
১ম সংণ
১৩১১
মূল্য ॥ আনা
ঢাকা, স্যমন্তক-যন্ত্র।
ঐ মুন্সী একাব্বর প্রিন্টার দ্বারা
মুদ্রিত।
যিনি
শৈশব হইতে আমাকে
প্রাণের সহিত মমতা করিয়া আসিতেছেন,
যিনি
আমার রচিত পুস্তকাদি
পাঠ করিতে সর্বদাই বিশেষ অাগ্রহ প্রকাশ করিয়া থাকে।
অকৃত্রিম স্নেহময়ী, করুণ হৃদয়,
পরমারাধ্যা
ভাওয়াল-রাজ-দুহিত।
শ্রীযুক্ত কৃপাময়ী দেবী
ঠাকুরমাতা ঠাকুরাণীর
পদারবিন্দে,
এই
ক্ষুদ্র পুস্তকখানি
তদীয় চির-স্নেহপালিত
এস্থিকারের
অকৃত্রিম ভক্তির সহিত
উৎসর্গীকৃত
হইল।
No text on this page.
গ্রন্থকারের নিবেদন।
কালীগঞ্জের ভদ্রমণ্ডলী কর্তৃক মরচিত “ফেরব কলঙ্ক"
নাটক স্থানীয় অমিয় থিয়েটারে গত ছয়মাস যাবৎ
অভিনীত হইতেছে। ভগবানের কৃপায় অভিনয়ে সকলেই বিশেষ
প্রীতিলাভ করিয়াছেন। উক্ত থিয়েটার সম্প্রদায়ের অভিনয় জন্ত
এই নাটকখানিও রচিত হয় এবং গত শ্রীপঞ্চমী দিন অবধি
ইহাও ঐ থিয়েটারে অভিনীত হইতেছে। কৌরব-কলঙ্কের”
ন্যায় এই নাটকনিও নানাস্থানের অভিনয়ের আগ্রহাতিশয়ে
মুদ্রিত করিতে বাধ্য হইলাম। বিশেষতঃ প্রয়ােজনে বাধ্য হইয়া
এই পুস্তকখানিও মাত্র ৮ ৯ দিনের মধ্যে লিখিয়া দিতে হইয়া-
ছিল; কাজেই বই খনিতে নানাপ্রকার ভ্রম যে রহিয়াগিয়াছে
তাহ। বলা বাহুল্য। কালীগঞ্জের “অমিয় থিয়েটার পার্টি
আমার নাটক দুইখানি দীর্ঘকাল ব্যাপিয়া অভিনয় করত এবং
অন্যান্য প্রকারে, আমাকে যে অপরিসীম উৎসাহ প্রদর্শন
করিয়াছেন; তজ্জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ রহিলাম।
কালীগঞ্জ, ঢাকা।
কালীভূষণ মুখোপাধ্যায়।
১৩১ সাল, ২৩শে মাঘ।
No text on this page.
নাট্টোক্ত ব্যক্তিগণ।
পুরুষগণ।
বিষ্ণু, শ্রীকৃষ্ণ, হর ( মহাদেব ), ব্রহ্মা, ই, মাতলি, নন্দী,
কিরাতরূপী মহাদেব, চিত্রসেন গন্ধৰ্ব্ব, দেববালকগণ,
ব্যাসদেব, যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন, দুৰ্য্যোধন,
দুঃশাসন, কর্ণ, শকুনি, নিবাতকবচ,
বিদূষক, মুনিগণ, প্রমথগণ,
ঋষিবালকগণ, দৌবারিক,
প্রতিহারী, নিষাদগণ,
উদ্যানরক্ষক,
তীর্থযাত্রী,
সৈন্যগণ,
প্রভৃতি।
স্ত্রীগণ।
লক্ষী, পার্বতী, ধরিত্রী দেবী, দেববালাগণ, উর্বশী,
মেনকা, তিলোত্তমা, ঘৃতাচি, প্ৰমথিনীগণ,
কুন্তী, দ্রৌপদী, ব্রাহ্মণী, নর্তকীগণ,
ফুলওয়ালীগণ, তীর্থযুবতীগণ,
উদ্যনিরক্ষয়িত্রীগণ,
তীর্থযাত্রীনারীগণ,
প্রভৃতি।
No text on this page.
পাখ-পরাক্র
( নাটক।
প্রস্তাবনা।
(কৈলাস-শিখর )
হরপৰ্ব্বতী, নন্দী ও প্রমথ প্রমথিনীগণ ।
প্রমথগণ। ভােলানাথ, বম্ জয় পিনাকারী,
ভবেশ ত্র্যম্বক হর ত্রিপুরারি।
প্রাথিনীগণ। ভবের ঘরণি, দুগ্নতি নাশিনি,
জয় কাত্যায়ন, শিবে শুভঙ্কার।
প্র-গণ। শমনহারী, শ্মশান চারী,
প্র-নীগণ। সুখদা মােজদা বরদা শঙ্কর।
প্র’-গণ।
কুলু কুলু নদে শিরে বহে সুরধুনী,
প্র-নীগণ। উলঙ্গী রঙ্গিনী নৃমুশুমালিনি !
প্রস্তাবনা
-গণ। 'পতিত পাবন, ভৈরব ভক্তের জীবন
ধরাভারহারী -
-নীগণ। অভয়দায়িনি, ত্রিতাপনাশিনি,
হে মোক্ষদায়িনি জয় ক্ষেমঙ্করি
{ ইন্দ্রের প্রবেশ )
ইন্দ্র।
প্রণমি চরণে
ওহে চন্দ্রচূড় !
নমি গো অভয়পদে
ওম। অভয়দায়িনী উমে!
এস এম পুরন্দর,
কহ স্বর্গের কুশল ।
এ সময়ে
কহ কোন প্রয়োজনে
সুরেশ্বর !
'অাসিয়াছ,হেথা ?
অাবার তো কে
:
নৰ উপদ্রব,
ঘটে নাই স্বর্গপুরে ?
শিবষয় শিব সদা সহায় যাদের,
যাদের মঙ্গলরে
ব্যস্ত সদা দপনি অম্বিকা-
পার্থ-পরাক্রম
তাদের কি উপদ্রব ।
সম্ভবে শঙ্কর ?
তবে যে সময়ে
ঘটে কোন উপর
ত্রিদশ অলিয়ে
তাহা শুধু
হর।
ইজ।
মদোন্মত্ত দেবকুল শিক্ষার তরে।
সত্য যা কহিলে সুরনাথ,
দেবকুল তরে
সদা ব্যস্ত শঙ্কর শঙ্করী।
এবে কহ শুনি,
কি মানা করি’ অাইলে কৈলাসে।
আশুতোষ,
নাভির সুগন্ধে মাতি’ কুরঙ্গ যেমতি
ধায় সেই গন্ধ অন্বেষণে,
তেমতি তত মোরা
যদিও বিরাজি বিভু পাশে,
যদিও লভেছি সুদুল সুরজন্ম,
তথাপি মােহের পাশ
নারি কাটিবারে সদা।।
তেঁই আসি’ পশি শান্তিপুরে
তালিবামে শান্তি সুখ।
হে ঈশান,
এতে কহি তবে
..
৪
প্রস্তাবনা ।
যেই দুঃখ জানাইতে আই হেথায়।
মহাদে,
কুলাঙ্গার অনীর রাজা
পাপ দুৰ্য্যোধন :
কত যে দিতেছে বালা,
ধর্থীর পাণ্ডুপুত্র গণে,
জানত মহেশ ?
এলে পাওবের বিষম দুর্গতি!
ত্যজি’ রাজ্য ধন কাটাইছে তারা কাল
গহন কাননে অতি কষ্ট।
অহহ! সে দৃশ্য হেরিলে
পাষাণও বুঝি হয় দ্রবীভূত।
হে পিনাকী!
এই কিহে ধৰ্ম্ম-পরিণাম?
এদের দুর্গতি বিভোভাব কি গন্তয়ে ?
(সহাতে) হে সুরে,
বালক তুমি, তাই কহ হেন ।
ওরে, আমি কি তাৰিব ছাই,
পাণ্ডবের তরে।
তুমি ভাব ঘরে,
আমি ভাবি যারে-
সেই ভাবনায় অধিকারী সদ
আপনিই পাণ্ডবের
ভাবনায় অাছেন জাতি।
হর।
পার্থ-পরাক্রম।
ই।
ফেলে দূরে পাণ্ডব-ভাবনা,
এবে পবিত্র হইবে সবে
পাণ্ডবেই ভেবে।
অহে, ধ পাণ্ডব ?
তারাই চিনেছে সার ;
ভোলানাথ শুধু
ভুলেই কাটা’ল!
আবার ধাধায় প্রভো, চাহ ফেলিসারে ?
হর ভাবে হরি,
হরি ভাবে হরে,
এ ধাধায় তো ঘুরিতেছি সদা।
এবে ত্যজিয়া হলনা
কর দে, যে হয় বিধান।
হুহু করে জ্বলে প্রাণ
বাছ৷ অৰ্জ্জুনের তরে।
পুত্রের দুর্গতি পিতার পাশে
অর্সহ ভবেশ!
ভােলানাথ,
আর কেন ভুলাও দাসেরে।
সহেনা-সহেনা বিভো,
কহ কি ইচ্ছা তােমার ?
(অােবদনে স্থিতি)
. শান্ত হও সুরেশ্বর,
ভোলা তােমা’ ভুলায়নি কদু।
প্রস্তাবনা।
যা কহি সত্য কথা।
কেন মিছে অর্জুনের তরে
ভাবি’, হও উচাটিত ?
নহে সে সামায় না,
নর-নারায়ণ রূপে অবতীর্ণ।
এ হেন অৰ্জ্জুনে
ভুলিতে কি পারে কভু তোলা ?
যাও ইন্দ্র, আপন আলয়ে,
পাণ্ডবের নিত্য সাথী আমি।
শঘ্রই বাঁধিবে মহারণ মহীতলে ;
বসন-বেষ্টিত অনল যেমতি
বাহিরায় আপনার বেগে,
তথা পাণ্ডবের ধর্মবল
ছড়াইবে ধরামাঝে,
ধ্বংশি কুরুকুল।
অশ্বিস্ত হইল প্রাণ।
ঘুচিল ভাবনা।
তুমি যার সহায় ভবেশ,
’র অার কি ভয়?
যাই তবে আপন অলিয়ে,
কিরে রাখিও পায়
এই মাত্র ভিক্ষা তব পাশে।
(ইলের এস্থান)
পার্থ-পরাক্রম
৭
নন্দী।
দুনিয়ার আজব খেলা
একটা কালা একটা ধলা।
পাগল আবার কি বলে!
নন্দী।
পাগল দেখে পাগলের খেলা,
সবাই পাচ্ছেন কাচ্ কলা।
হয়। সে কিরে নন্দী।
নন্দী। নন্দী বলে পাগলা কথা,
শোনলে হয় মাথা ব্যথা।
কাল ঠাকুর আর ধলা ঠাকুর
সংসারটা এদেরই চক্কর।
বাবা আমার ভোলানাথ,
জানেন বেশ বুলাতে হাত!
শেষে কিন্তু অনেক জানি
নিজকে নিয়েই টানাটানি।
তুই আবার কি নিয়ে?
নন্দী।
বর দিছিলে ভস্মারে।
সস্তা আশুতােষেয় তুষ্টি
শেষে কিন্তু কষ্টাকষ্টি।
কুরুক্ষেত্রেও হবে তাই
পাগলা মনে দেখতে পাই।
পার্বতী। পাগলার কথা গুলো বড়ই মিষ্টি। থাক আর
পাগলকে খাটিয়ে কাজ নেই।
আচ্ছা, যা পাগলা, এখন সিরি বেটে আন।
আর একটা হল্পিগুণ-গান গা -
প্রস্তাবনা
Www
নন্দী।
(তােমার) গরল থাকে ভাব হরি,
নন্দীর কি কাজ হরি টরি !
হয়ে সামান্য বেপারি
কাজ কি মোর খবরে ভারী।
বাজিয়ে বগল সকাল বেলা
নন্দীয়াম গা বব ভোলা -
নন্দীরাম গা বব ভােলা।
( নন্দীর প্রস্থান)
এরই নাম ভক্তি! নন্দী অামারশান্তির প্রস্রবণ
পটক্ষেপ।
হয়।
প্রথম অঙ্ক।
প্রথম গর্ভাঙ্ক।
(হবিনাপুর-মোদন )
দুৰ্য্যোধন, শকুনি, কর্ণ, ও বিদূষক
অাসীন।
নর্তকীগণের প্রবেশ ও গীত।
সুখে ফুটেছে কলি,
(মধু লুটিছে অলি)।
মলয় বায়ে, হেলে দুলে, সােহাগে ঢলি।
ছুটছে সুবাস ধীরি ধরি আকুল ক'রে,
প্রাণে প্রাণ ড়ে ধরা, জুড়াল প্রাণের জ্বালা,
অাদরে গলি’---
প্রাণের বাধন, প্রাণের রতন, সব দিয়ে খুলি,
নতুন প্রেমে, নতুন ভাবে, খেলিছে জলি।
বিদ। আরে বা-রে-বা! 'এইবার অমরাবতী রসাতল।
এ যে সাক্ষাৎ উর্বশী, মেনকা, রম্ভা ! আর আমিও গান
১০
পার্থ-পরাক্রম।
(১ম ঃ )
১৭
শুনে হতভম্ব!! ওগো, রইলে কেন দাড়িয়ে ? দাও
সুধা ছড়িয়ে
গীত।
এস বিজনে দু’জনে মিশিয়ে রই।
হয়ে মুখোমুখী, করে চোখচোখি,
রাণে পরাণ ঢালিয়ে দেই।
নীরবে নীরব প্রাণের কথা,
কহিয়ে জুড়াব প্রাণের ব্যথা,
অাধ আধ ঘুমে, রহিব নিঝুমে,
প্রীতির নিঝরে ভাসিয়ে ঐ
সুখে হাসিবে চঁাদ, প্রেমে পাতিব ফাঁদ
বিহ্বল পরানে উদাস হই।
বিদূ। এইবার বাজিমাৎ! সুপায় হাবুডুবু খাচ্চি । দম্ ছাড়তে
যে আর পারিনি। আঁখির ঠারে, প্রেমের ধারে, গানের
সুরে প্রাণ যায় প্রাণ যায় ! বেঁচে থাক মামা ঠাকুর
চিরঞ্জীবী হয়ে। হর তিন খান জুটিয়েছিল ভাল।
হাড়ের ঠোকা-ঠেকিতে চোখ-চোখি দেখে প্রাণ যায় ।
{ দুঃশাসনের প্রবেশ )
ধন্য ধন্য মামা তুমি !
তোমারই কৃপায় আজি
অতুল ঐশ্বর্য-সুখ
ভুঞ্জিছে কৌরব নিৰ্বিরোধে।
(১ম :)
গর্থপরাক্রম।
শকুনি।
এই তো আমার সাধ।
তোমাদের হেন সুখ হেরিলে নয়নে
জুড়ায় মামার প্রাণ।
হেন সুখে তোমাদিগে রিলে রাখিতে
মামার পরাণ সদ। নাচেরে আনন্দে।
বিদূ। (স্বগত) আহা, মামা • ভাগিেেয়র ভালবাসার কি
অপূৰ্ব্ব সম্মিলন।
দুঃশা। আশীর্বাদ কর মামা,
থাকিলে সহায় তুমি,
কৌরবের সুখরবি
হবেনা কখনো অস্তগামী।
বিদূ। ঠিক বলেছ দুঃশাসন। এ সংসারে গামা সহায় জয়
শুরু সহায়, প্রায় একই কথা। তার আর ভয় কি ?
বিশেষ এ মামা যেমন তেমন মামা নয়, স্বয়ং শকুনি ।
দুৰ্যে।। বয়স্য,
মান। অামাদের
প্রকৃতই হিতাকাঙ্ক্ষী অহি।
এ ঐশ্বৰ্য্য, এ বিভব, মাহা কিছু আজি
ঘটিয়াছে ভাগ্যে আমাদের,
সবই তাহা মামার কৃপায় !
বিদু। তা সত্য মহারা, তা সত্য। এমন মাম। কারুর হবেনা
হয়নি তো পরের কথা! এমন মামার আমি বালাই নিয়ে
মরি, আমার প্রীতিতে সবে বল হরি হরি । মহারাজ,
এমন আনন্দের দিনে সবাই তো আনন্দ কচ্ছে, কেবল
33
পার্থ-পরাক্রম।
(১ম গ)
«
অামরা ব্রাহ্মণকুল কি শুকিয়ে থাকবো ?
দুর্যো। তােমাদের আবার আনল কিসে?
বিদু। “নৃত্যন্তি ভােজনে বিনা”।
দুর্যো। তা হবে -হ'ৰে। ব্যস্ত কেন?
বিদু। রাজা রাজরার খেলা, খেল সকাল বেলা, বিশেষত
“শস্যঞ্চ গৃহমাগতং” অর গেটঞ্চ ফলার ভক্ষণং। এরপর
কি হয় কে জানে ?
সখে, নীরস রহস্য নহে ইহা,
কথায় কথায় তব
অাছে বহু উপদেশ ।
যদিও অানন্দে এবে
মাতোয়ারা কুরুদণ,
কিন্তু দুৰ্য্যেধন প্রাণে
আশঙ্কা নিয়ত আছে জাগরূক ।
যদিও পাণ্ডবে মোরা
তাড়িয়েছি বিজন বিপিনে,
তবুও আমরা
শহীন হই নাই কভু।
স্রোতস্বতী-স্রোত বাধিলে কর্দমে।
সেই বঁাধ আর থাকে কত কাল ?
তাই নানা শঙ্কা মনে জাগে অনুক্ষণ ।
কেন বুথ। ভাবনায় ভাবি
হইই ব্যাকুল রাজা?
এৰে নিষ্কণ্টক ভূমি,
কর্ণ ।
-
(১ম গঃ)
পার্ধ-পরাক্রম।
কর সুখে রাজ্য ভোগ
ভারত-গৌরব কৌরব ঈশ্বর হয়ে,
বনচারী পাণ্ডবে ভাবিয়ে
হইতেছ ভীত নৃপ ?
আর কোন মুখে তারা হলে সম্মুখীন ?
একান্তই যদি তারা ঘৃণা লজ্জ। তাজি
পুনঃ দাড়ায় বিপক্ষ হ'য়ে
তাতেই বা কেন ভয় ?
ফুৎকারে ছাড়বে তারা ভন্মরাশি সম।
কুরুপুরে ঘরে ঘরে বালবৃদ্ধ যুবা,
বীর অবতার সবে ;
আছে কি এ বিশ্বে কোন জন
অাটিতে সমরে একা ভীষ্মদেব সনে ?
বিভু থাকিলে সহায়,
একা কর্ণ পারে ডুবাইতে পাণ্ডবেরে
বারিধির তীরে।
দাদার হৃদয়ে
চিরকাল ঐ এক ভাব!
বালকের মত জুজু ভয় চিতে।
তারকানিক-শাভি-দ্বিজ রাগ হ'য়ে,
খদে।ত-অলোক হেরি
হও ভীত-চিত ?
ছি-ছি দাদা.
হাসাইলে তুমি ক্ষত্রিয় সমাজ!
পার্থ-পরাক্রম। (১ম খ)
কৌরবের সৌভাগ্য-গগনে
সুখ-রবি এৰে সমুদিত ।
এখনো আতঙ্কে তুমি কাটাইবে কাল ?
বিদ।
ঠিক ভায়া ঠিক, “তথাপি চেংরা নচ ভদ্রলোক ।
মহারাজকে বুঝিয়ে ওঠা দায়। বুঝতে যা কিছু বােঝেন
মামা, আর কিছু কিছু এই শৰ্ম্ম।আহা, এমন আনন্দের
দিনে, আনন্দ-উদ্যানে কেন আর নিরানন্দে কাটাচ্ছি।
আনন্দের সবই আয়ােজন হয়েছে, তবে কেবল
একটারই অভাব দেখছি -
দুঃশকিসের?
দ। এই মেঠাই মণ্ডা মিষ্টান্ন ইত্যাদির।
দুঃশা। বামুন কেবল চিনেন পেট!
বি। তা চিব বই কি? রাজার সম্বল রাজ্য, ধনীর সম্বল
ঐশ্বৰ্য্য; শিশুর সম্বল কান্না, স্ত্রীর সম্বল গয়না; কৃপণের
সম্বল কড়ি, মানিনীর সম্বল কলসী আর দড়ী; মূর্খ পণ্ডি
তের সম্বল টিকি নাড়া, অামার বেরাহ্মণীর সম্বল মস্ত
খেংরা, তর্পণের সম্বল কোশা, আর মামার সম্বল পাশা ;
তােমার সম্বল মামা শকুনি, আমার সম্বল গিন্নীর বকুনি ;
চোর দ্য আর নুতন জামাইর সম্বল রাত্রি, ঘটকের
সম্বল,বিয়ের পাত্ৰী; লম্পটের সম্বল পরের স্ত্রী, বুড়োর
সম্বল তরুণী স্ত্রী, নুন রাঙ্গার সম্বল ভেট,আর বামুনের
সম্বল পেট।
দুর্য্যে।। (সহাস্যে ) দুঃশাসন,
কর পরিতুষ্ট সখানে আমার।
(১ম গঃ)
পার্থ-পরাক্রম।
1
(বিদূষকের প্রতি) সখে।
শান্তিময় এমোদ-কাননে আসি
কুষানল কিহে তব বাড়িল দ্বিগুণ।
বিজু। মহারাজ, প্রমোদ উদ্যানে মরে যে সব অঙ্গয়াদিগকে
স্থান দিয়াছেন, তাদের গলার মুরগুলি বড়ই হজমী!
সুর-সুধা পান করে আমার ক্ষুধানল যেন দাউ দাউ
করে জ্বলে উঠছে।
(প্রতিহারীর প্রবেশ
মহারাজ!
পাণ্ডব-বারতা নিয়ে।
গুপ্তচর দ্বারে উপনীত।
দুৰ্য্যো। ( শশব্যন্তে) আসিয়াছে গুপ্তচর!
মাতুল, যা তারে নিয়ে
নিভৃত প্রকোষ্ঠে।.
যাও কর্ণ, যাও দুঃশাসন,
আমিও যাইব সেথা ক্ষণকাল পরে ।
বেগে প্রস্থান ও পশ্চাৎ পশ্চাৎ
শকুনি, কর্ণ, দুঃশাসনের প্রস্থান)
বিন্দু। শিশুর চরিত্র আর রাজার চরিত্র প্রায় একরূপ !
হাসাতেও পারেন কাদাতেও পারেন! ভাল খেলা খেলেছ
মামা ঠাকুর ! আর খুব মামাগিরিও করে নিলে। বড়
লোকের অনেকগুলি “গিরি” থাকে, যথা শালাগিরি,
ঘামাইগিরি, মোসাহেবগিরি, সামাগিনি, ইত্যাদি।
এখন দেখছি মামাগিরিই সব চেয়ে সেরা! বড় মানুষের
*.
১৬ পার্থ-পরাক্রম। (১ম অঃ) • বাড়ী আসভার জিনিস পওর ঢের থাকে, যথা-হাতী, ঘোড়া, গাড়ী-তদ্রুপ শাল, মামা, এয়ার শুভূতি লোয়াজিমাও থাকা চাই। যা সে কথা। (নর্তকীগণ প্রতি) ওগো, সােণার চঁাদের। আর দাড়িয়ে রইলে কেন? আর দু'একটা গান টা শুনাও, তার পর চলে যাই। ১ম নকী। একবারের সুরের চোটেই পেট জ্বলেছে, এরপর যে ভস্ম হয়ে যাবে। আর গানে কাজ নেই, গণ ছাড়, চ'লে যাই। বিদু। তা হচ্ছেন। সোনামণি! এই দাড়ালুম পথ ঘুড়ি। গীত। নর্তকীগণ। অছি-ছি-ছি, অ-ছি-ছি ছি, একল। রমণী পেয়ে এত কেন জা? বিদূ। বে-বেশ- বেবে, বেলে-বেশ বেশ এখন তোদের ভারি ভুরি রাখ। নর্ভকীগণ। মুখ পানে কেন চাও। পিছু পিছু কেন ধাও, ভেঙ্গে দিতে চাও বঁধু সরম-কপাট; বিন্দু। এ লাজুনি, এস হানি, ঠে’রে চোখ খানি, কেড়ে প্রাণ খনি, কাছে ঘে’শে হেসে লাগাও তাক।
১৭
* । । । * *
(২য় গ)
পার্থপর ক্রম।
~~~~~
নর্তকগণ। পথ ছাড়, ওকি কর,
এ কি রূপ বিধান ;
বিন্দু। চুপ-চুপ চুপ-চুপ, কোনে কথা,
লাগে প্রাণে টা।
নর্ত কীগণ। পীরিতির কি এ রীতি বন্ধু,
দেও ঘুরন ক্ !
( গাইতে গাইতে স্থান।
যুবি।
দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক।
(দৈতবন)
যুধিষ্ঠীর, ও দ্রৌপদী ।
( স্বগতঃ )
মানবের অদৃষ্ট গম্বরে
অস্তমিত হয় যবে সৌভাগ্য-তপন,
কত বিভীষিকা মাঝে
যাপে কাল মানব তপন।
জীবের পরীক্ষা স্থল
এর চেয়ে সস, নাই ঘোরতর।
কালচক্র বিঘূর্ণনে ইয়া ঘূর্ণিত
মানবত্ব ছেড়ে
ত্ব লভয়ে কত নর।
কি আজব সংসারের গতি।
১৮
পার্থ-পরাক্রম।
(১ম অঃ)
}
,
কি আজব মানবের খেলা।
কি বিষম প্রহেলিকা ময়
মানব জীবন।
আজি স্বর্গে, কালি মৰ্ত্তে, পরখ পাতালে,
আজি রাজা, কালি প্রজা, পরশ ভিখারী
আজি শিশু, কালি যুবা, পরখ স্থবির,
আজি ভােগী, কালি রােগী, পরখ শ্মশানে-
এই তো জীবের গতি।
এ প্রপঞ্চে বঞ্চে জীব জীবন কেবল !
হে ভবেশ!
কি খেলা যে খেলিতেছ তুমি
তুমিই তা জান শুধু।
কি সাধ্য জীবের
ভেদিতে এ রহস্য বিষম !
বামনের সাধ ধরিতে চন্দ্রমা,
অার সামান্য জীবের সাধ
ভেদিতে এ দুর্বোধ রহস্য -
উভয়ই সমান।
এ বিষয়ে অজ্ঞতাই সুখের নিদান।
নারায়ণ !
আর কিছু নাহি চাই,
কর আশীৰ্বাদ,
থাকে যেন মতি সদা ভয়-চরণে।
(২য় গঃ)
পার্থ-পরাক্রম,
AN
দ্রৌপদী ।
মহারাজ।
আর কি ও বদন-সয়ে।ঙ্গে
দেখিবেনা হাসি দাসী ?
অার কি পাণ্ডবদের প্রিয় সম্ভাষণ
পশিবেনা শ্রবণ-বিবরে ?
হায়!
যুধি।
ধৰ্ম্মবীর বলি’ যারা বিখ্যাত ধরায়,
এই কি তাদের ধর্ম-পরিণাম ?
পাঞ্চালি।
আছে কি শকতি কারাে এ মহীমণ্ডলে
এড়াইতে কর্মভোগ?
ছায় যথা কায়া সনে
ঘোরে সর্বস্থানে,
তথা মানবের কফল
খাকে নিত্য মানবের মনে।
প্রিয়তমে,
একেত রমণী তায় রাজার দুহিতা:-
কেন বা স্বেচ্ছায় তুমি
• ঝাপিলে এ দুখের পাথায়ে !
তব দশ। হেরিলে নয়নে
ফেটে যায় বুক!
হায়, হয়েছিল বিধি কিরে
ঐ চারু দেহ
ভুঞ্জিতে এ নিদারুণ নবাস-জালা?
২০
পর্গাৱংক্রম।
{১ম অঃ)
... ।।। ... !
দ্রৌপদী।
ছি-ছি নাথ,
ওকি কথা ক হ ?
শতিপদ পূজা বিনা রমণীর সুখ
আছে কি জগতে তার ?
স্বামী যদি যাগে কাল বিজন বিপিনে,
রমণীর অট্টালিকা-বাস,
ই শুধু শশা-সম।
যে ভাবে যে স্থানে স্বামী যাপন জীবন,
সতীও সে ভাবে সেথা কাটাইবে কাল
পূজি’সদা পতিপদ।
ইহাই সতীর কাম্য,
ইহাই মীর সুখ,
ইহাই সতীর স্বর্গ ।
এইতো কহিলে তুমি
মানবের সুখ দুঃখ-ধু কর্মল।
তবে কেন নাথ,
অনর্থক বাক্যনিলে দহ এ দাসীরে ?
(ভীমৰ্জ্জুনের প্রবেশ
অাদেশ পুলিয়া দাদা, আইনু ফরিয়া।
যোগী, ব্ৰতী, তপশ্চারী-
অাছে যত দ্বিজ এই বনমাবো,
সকলেরই তপোবি
করি বিদুরিত,
লভিয়াছি আশীর্বাদ দেহে।
অর্জুন।
( ২ ) পার্থ-রাক্রম। khan v অর্জুন। ভাই। এইতো ক্ষত্রিয়-ধৰ্ম্ম ! দেবদ্বিজে রক্ষাকর। ক্ষত্রিয়ের কাজ। ব্রাহ্মণের আশীর্বাদে ভগবানও হন তুষ্ট। নাশিকারে পাপতাপ এই সংসারের অবতীর্ণ নারায়ণ নিজে । ব্রাহ্মণ-রূপেতে এ ধরায়। ব্রাহ্মণের পদ-পদ্ম লভিলে ভক্তিতে, ব্ৰহ্মপদ অনায়াসে হয় ভাই লাভ। তেই কহি দ্বিজ-পদে মতি থাকে যেন সদা তোমাদের। এবে করহ বিশ্রাম ভাই, শুকিয়েছে প্রিয়মুখ খানি। মহাপাপী আমি, নরকের কীট আমি, তেঁই মোর তরে, সহিতেছ সবে অশেষ যন্ত্রনা ! * * দ্রৌপদী। মহারাজ। চাই, চাহ একবার ফিরি’ ত ভ্রাতৃদ্ধয় পানে। হের হের মুখ দোহাকার। হয় প্রাভাে। ! ' গাষণে কি বঁধিয়াছ হি? ,
পার্শ্ব-পরাক্রম।
(১ম অঃ)
www
কুকরা-অপমান,
বিষ্ঠাকাট অনুজের তার
অশেষ লাঞ্ছনা, সহিয়াছি ধীরে।
কিন্তু নাথ।
অার নাহি পারি সহিবারে,
আর নাহি পারি দেখিয়ে,
পাণ্ডব দুর্গতি।
এ সংসারে ভুঞ্জে যদি নারী
অনন্তু দুঃখের অালা,
হে যদি নারীর পরাণ সদা শোকাণে -
তবু থাকে সুখী,
যদি পায় একবার দেখিবারে
পতির প্রসন্নমুখ!
নিতে কি পাও মহারাজ !
শ্রবণে কি পশে সমুদয় ?
ছেড়ে দাও রাজ-বর্ণ,
ছেড়ে দাও -ধৰ্ম্ম ;-
সামান্য মানবও ভবে
করে প্রাণপণ রক্ষিত অবল।।
এই মাত্র তুমি,
কত উপদেশ দিলে, বিয়ে দিতে।
কিন্তু দাদা,
নাই কি ধর্মের বিধান কোন
নারী রবি?
,
(২য় ঃ )
পার্থ-পরাক্রম।
AAA
সুপি।
হয় কি স্মরণ !
অহো ! অসহ্য সে স্মৃতি !
এখনও সেই দৃশ্য-সে’ নরক,
ভাসে যেন চোখের সম্মুখে!
কুরুসভা-প্রিয়ার সে আৰ্তনাদ!
উ:--অসহ-অসহ!
আর নাহি। সহে প্রাণে!
অহো! মহারাজ!
বহে নাকি রক্ত-বিন্দু শিরায় তোমার?
লভ নাই কি জন্ম ক্ষত্ৰকুলে?
ভাই উম! শাস্তকর মন ;
সহিষ্ণুতা এ জগতে,
বীরের প্রধান ধর্ম।
দুখের উপরে দুখ কেন দাও প্রাণে।
বিধাতার যাহা ইচ্ছা হবে তা নিশ্চয়,
বিভুপদে স’প ভাগ্য!
কেন বৃথা হও বিচলিত।
কি কহিব দাদা,
ছি-ছি,
হাসাইলে তুমি ক্ষত্রিয়-সমাজ।
মহার্ণবে ঝঙ্গাবাতে
কে কবে কোথায় থাকে ছেড়ে দিয়ে হাল?
তেমতি কভু কি ৰীয়
চাহি' ভাগ্য পানে গলে ভবিষ্যৎ?
ভীম।
২৪
পার্থ-পরাক্রম।
(১ম অঃ}
কাপুরুষই করে তাহা ।
পাপমতি কুরুদল সনে
হইতাম যদি পরাজিত মোয়া
সম্মুখ সমরে,
বলিত না প্রাণ এই।
কপট আচারে, কপট পণেতে
নিন পাপিগণ রাজ্যধনসব,
মন্ত্রমুগ্ধ সর্পমত থাকিতে শকতি
নারিনু লইতে প্রতিশােধ।
কাপুরুষ মত সব ত্যজিনু হেলায়,
ইহাই কি ক্ষ-ধৰ্ম দাদা?
প্রত্যেক অনুজ ত.
পারে হেলে জিনিবারে সমস্ত ভুবন।
ইহাতেও সহিছ গঞ্জন। শত,
সহিতেছ অপমান কত,
ইহাই কি বীর-ধৰ্ম্ম দাদা?
অধৰ্ম্ম। কপটি জনে
শাস্তি দানিলে ,
যদি হয় ধৰ্ম্ম লোপ,
যা হেন ধৰ্ম্ম জলধি-গছে।
পুন কহি রাজা,
একবার জাগাও হয়।
কর অজ্ঞা বাতৃগণে
শান্তি দিতে
{ ২য় গঃ)
পার্থ-পরাক্রম।
**৭* *
বুধি ।
নরক সমান পাপ-দুৰ্যোধনে।
ভাই বৃকোদর,
য।' কহিলে বটে সত্য সব
কিন্তু ভাই,
যদিও করহ গণ কুরুরাজ মনে,
পারিবে কি অবহেলে পরাজিতে তারে ?
ভীষ্ম, দ্রোণ, কর্ণ, শল্য, জয়দ্ৰথ,
অশ্বত্থামা, কৃপাচার্য অাদি
অসংখ্য বীর-কেশরী কৌরব-সহায়,
না লিনিয়ে উহাদিগে
কিরূপে জিনিবে কুরাগে ?
ভবিষ্যৎ চিন্তা কভু কর নাকি ভাই ?
হ'তে পার চারিভাই বীর চূড়ামণি,
কিন্তু অগণিত ধুরন্ধর বীরগণ সনে
কিসে বা অটিবে ভাই সমর-প্রাঙ্গণে ?
চিন্তি' মনে এ সকল করিও উত্তর।
দেব।
(জনৈক দৌবারিকের প্রযেপ )
মহারাজ, মহর্ষি ব্যাসদেব এইবনে ঋষিদের
অাশ্রমে বিশ্রাম কচ্ছেন। অাপনাকে স্মরণ করেছেন।
অহে, ধন্য আমি অাজ ।
তাই এ অধমে পদজ দিতে
স্মরেছেন কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন।
যুধি।
পার্থ-পরাক্রম। (১ম অঃ )
যাও দৌবারিক,
পূজিবারে মহর্ষিকে চলি এখনি।
( যুধিষ্ঠিরের প্রস্থান)
অর্জুন।
( ভীমের প্রতি)
এতদিনে বিধি বুঝি হইলা সদয়,
তাই এ দুর্দিনে
মহামুনি ব্যাসদেব কমিলা স্মরণ
হতভাগ্য পাণ্ডব-ঈশ্বরে।
( সকলের প্রস্থান
তৃতীয় গর্ভাঙ্ক।
(দ্বৈতবন-আশ্রম )
ঋষিবালকগণের গীত।
শাখি-শিরে পাখীগণে হরিগুণ গায় রে।
মধুর মোহন রবে পরাণ জুড়ায় রে ॥
মৃদুল মধুর মলয় বায়,
বহে ধীর ধীরি জুড়ায়ে কায়,
কুঁহু কুহু কুঁহু, পিউ পিউ পিউ,
কোকিল পাপিয়া তানেরে ॥
( গাইতে গাইতে ঋষিবালকগণের প্রস্থান)
(৩য় গঃ )
পার্থ-পরাক্রম।
(ব্যাসের প্রবেশ
আহা! কি মধুর ভান,
জুড়াইল তাপিত পরাণ ।
বালকের সুধামাখা কণ্ঠহ'তে
ঝরিতেছে যেন অমিয়ের ধারা,
আত্মহারা হইনু শুনিয়া!
( যুধিষ্ঠিরের প্রবেশ)
প্রণিপাত করি পায়
হে ভারতবিভূষণ।
পরম সৌভাগ্য অজি,
তেঁই তব সন্দর্শনে
হইল পবিত্র পাপ দেহ মোর।
ধৰ্ম্মরাজ !
এতদূর না হইলে পুণ্যশ্লোক বলি
অভিহেনা খ্যাতি ভবে।
এতদূর না হইলে
থাকিত কি বাধা পাশে
আপনি শ্রীহরি ?
হেরিলে তোমায় রাজা জুড়ায় পরাণ,
যেন কোন মোহমন্ত্রে টানে প্রাণখানি।
আর আমি কোন্ ছার?-
যেই আকর্ষণে পারে টানিবারে
০
D
গ্ৰহরঙ্গে,
২৮
পার্থ-পরাক্রম।
(১ম অঃ)
উপগ্রহ সেই-টানে পারে কি তিষ্ঠিতে ?
যার-টানে পড়িয়াছে বাধা
আপনি মাধব,
পারে কি সহিতে সেইটান
কৃষ্ণ-দ্বৈপায়ন ?
ধন্য যুধিষ্ঠির তুমি,
ধন্য হবানুজ চারিজন ?
এবে কহি রাজা,
আসিয়াছি স্থানে যাহার কারণে -
হে মহর্বে !
কেন অার ভুলাও দাসেয়ে ?
নারায়ণ তুমি-
নাশিতে ধরার ভার
অবতীর্ণ অবনীতে সেদব্যাসরূপে।
যুধি ।
হে পথ,
কেন অার কর ছল অধম কিরে ?
ব্যাস!
এবে কই তো !
কি আদেশ করিবারে স্মরিয়াছ দাসে।
শোন রাজা,
জগতের মঙ্গল ফায়ণ
বিভুর ইচ্ছায়
আসিয়াছি তব পাশে নৃপ !
জানি তুমি হইয়াছ ভীত
কৌরবের হয়ে।
৩য় গ)
পার্থপরাক্রম।
• দ.
তাই তুমি পরায়ুখ
সম্পাদিতে ধরার মঙ্গল
শাস্তিদিয়া পাপ কুকদলে।
এবে তােম। প্ৰদানিব জামি
“প্রতিস্মৃতি” বিদ্যা।
যাহার প্রভাবে,
করিবে অভীষ্ট লাভ মহাবা ধনঞ্জয়।
হে রাজন!
পাঠাও অর্জুনে দেবগণ পাশে,
করি তপে তুষ্ট তাহাদিগে
লভিকে গয়াজি পার্থ মহাবল
ত্যজ এই বন তােমরা এখন,
করহ গমন বনান্তরে।
যুধি।
চল এবে,
* তিস্মৃতি বিদ্যা তোমা করিয়া প্রদান
যাইব আপন স্থানে।
হে মঙ্গল নিদান ব্যাসদেব,
ধন্য তুমি !
• তোমা হতে পাণ্ডবের
দুর্গতি হইবে দূর-বুঝিলাম এবে।
দিও স্থান পাওবেরে চরণের তলে!
এবে চল প্রভো!
অাজ। তব করিব পালন।
বিধাতার ইচ্ছ। কেবা পারে বাধা দিতে ?
( উভয়ের প্রস্থান)
:
দ্বিতীয় অঙ্ক ।
প্রথম গর্ভাঙ্ক।
(বন)
তপস্বিবেশে অর্জুন।
অর্জুন।
বহু কাল হয় গত,
অনশনে অনিদ্রায় থাকি
ডাকিতেছি কাতর হৃদয়ে
দেবরাজে,
তবুও তাহার দয়া নাহি হ’ল ।
পশে নাকি আৰ্তনাদ মাের
শ্রবণে তঁাহার?
নাই কি পরণে তার দয়া-মায়া-লেশ ?
প্রাবৃটের বারিধারা,
গ্রীষ্মের দারুণ উত্তাপ,
শীতের প্রখর প্রকোপ
সহিতেছি অছেলে।
(১ম গঃ )
পার্থ-পরাক্রম।
তবুও হৃদয় তঁার গলিল না হয় ।
হে পিতঃ ! হে ত্রিদিব পতে।
কত আর কষ্ট দিবে অভাগা সন্তানে?
সন্তানের আর্তনাদ পিতা হয়ে তুমি,
কেমনে সহিছ তাত।
কঁদিলে সন্তান পারে কি তিঠিতে পিতা ?
এত কি পাষাণচাপা হৃদয় তোমার ?
না, নহ তুমি পাষাণ-হৃদয়,
আমিই কুপুত্র তব, তাই তুমি বাম !
জীবন পর্যন্ত পণ মম,
দেখি কত দিনে, তুমি হও হে সদয়।
( ধ্যানে মগ্ন হওয়া )
( ইন্ত্রের প্রবেশ)
(স্বগত) হায়! হায়!
কি কঠিন হৃদয় আমার !
অামার কারণে বাছা ত্যজিয়া সংসার
ত্যজি’ সুখ ভােগ আদি অাহার বিহার
কত কষ্টে -কত যাতনায়
মনে যাণে ডাকিতেছে মেয়ে অহর্নিশ।
আর আমি ?
সাক্ষাৎ শ্রীহরি অংশ হেন পুত্র ধনে
অাছিনু ভুলিয়া ?
-না-অারন,
৩২ পার্থ-পরাক্রম। (২য় অঃ ) এনে দিয়ে দেখা কেিগ সান বছরে আমায়। ( নিকটে যাইয়া) বৎসরে। অর্জুন। ই। হের একবার, আসিয়াছে তোর হতভাগ্য পিতা, আর কেন কষ্ট পাও যাদুমণি! কে তুমি ? পুনঃ কোন্ মায়ায় আসিয়াছ ভুলাইতে ০ারে ? দুর হও-এস্থান হইতে। অার কেন দুঃখ দিস্ বাছাধন। একবার চক্ষু মেলে দেখরে চাহিয়া আসিয়াছে পিতা তাের তলি’ স্বর্গধাম । (নয়ন মেলিয়া) কই - কই কই ? অহে! আসিয়াছ পিতা ? পড়িয়াছে মনে এত দিলে অবােধ সন্তানে? পিতা! পিতা! পিতা দেহ পদজ দাসে , পবিত্র হউক মাের পাপ দেহ খানি। অর্জন। ! সংসারের দুঃসহ অনলে এলিতেছে কায়,
(১ গঃ )
পার্থ-পরাক্রম।
•,,,
ও পদ পরশে
করি একবার প্রাণ সুশীতল ।
অর্জুন!
অর্জুন।
কেন আর বাক্যানলে দহ পিতৃ প্রাণ?
আর দুঃখ করিসনেরে বাপ!
দুঃখ-দুঃখ? হে সুরে।
অর্জুনের দুঃখ-রাশি,
হইবে কি দূর এ জনমে ?
হায় হায় ।
পতি ই যা’র পিতা,
তাহার এ দশা ভবে ?
কং পিতা, কহ দয়া করে
কেমনে এ কষ্ট সহিব পাণে?
চিন্ত মনে তাত !
গাণ্ডুপুত্রগণ-দশা।
ত্যজি’ রাষ্য-ধন-জন
গহন কাননে তারা কত কষ্ট হয়
বাপিতেছে কাল !
ইহাই কি হ’ পিতা
তাহাদের গতি ?
অর্জুন!
পাণ্ডবের দুঃখ রাশি হইবেক দূর।
সত্যপাশে এবে বন্ধ যুধিষ্ঠির,
সত্যভঙ্গ-ভয়ে ভীত চিত্ত তার।
ই ।
৩৪
পার্থ-পরাক্রম।
(২য় অঃ }
সত্য-কাল হইলে বিগত
পাণ্ডবের ভাগ্যাকাশে
উদিবেন সৌভাগ্য-তপন।
হইবেক পরাজিত পপ কুদস
পাণ্ডব-তাপে।
জানি আমি সব,
পাঠায়েছে হোয়ে ধৰ্ম্মরাজ
লছিয়ে দেবগঞ্জ,
ব্যাসের অাদেশে।
পূর্ণ হবে মনোরথ তাের ।
এসে শুদ্ধচিত্তে করি’ তপ:
তোষ অশুভতযে।
লত পাশুপত অস্ত্র তোষিয়া শরে,
পশ্চাতে বাইও বাহা
অামার অালয়ে।
উপদেশ মম করহ পালন,
সৰ্ব্ব কাৰ্য্য সিদ্ধি হইবে নিশ্চয়।
এবে আমি যাই সুরলোকে।
( অন্তর্ধান ) ।
অর্জুন।
প্রণিপাত করি পিতা,
অাজ্ঞা তব করিব পালন।
( প্রস্থান)
(২য় গঃ)
পার্থ-পরাক্রম।
৩৫
১ম মুনি।
দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক।
(কৈলাস শিখর।
হর পার্বতী ও নন্দী।
(মুনিগণের প্রবেশ)
হে পিনাকি,
প্রসীদ তপথিগণে।
তপোবিঘ্ন কর বিদুরিত।
আবার কি বিঘ্ন ঘটিল ধরায়,
থাকিতে জীবিত স্মরহর,
কার ইেন সাধ্য এ জগতে
১ম মুনি।
ঘটাইতে পােবাধ ?
কহ মুনি কে হেন সাহসী ধরায় ?
তৃতীয় পাণ্ডব মহাবল ধনঞ্জর
ঘোরতপে করিছে কম্পিত
পােবন।
পারি তিঠিতে মােরা।
ও! হইল স্মরণ,
বুঝিয়াছি সব।
যাও নিতঙ্কে ঋষিগণ,
অাপনার স্থানে।
ঘটিবে বিঘ্ন কোন,
ত্যজি’ শঙ্কা নিজকাৰ্য্য করহ এখন।
মুনিগণ।
দয় জয় হ!
( মুনিগণের প্রস্থান)
পার্থ-পরাক্রম।
(২য় অঃ)
4 \'
* \ ।
ধরিত্রী।
( ধরিত্রী দেবীর প্রবেশ )
পিতা পিতা, রক্ষা কর তনয়ারে হব।
আর না সহিতে পারি,
থর থর করি’ কাপে কলেবর !
অর্জুনের তপোতেজ, অসহ এখন
কর পিতা উপায় ইহার।
হে ধরিত্রী দেবি।
যাও নিস্থানে,
করিও ভয়।
পিতা,
কিঙ্করীরে রেখে রাঙ্গ পায় ।
( প্রস্থান)
ধরিত্রী
ননী।
বারেবা কি মজার খেলা,
দেখরে নন্দী! খেলছে ভোলা।
তুই আবার কি মজা দেখলিরে ?
নন্দী। নন্দী দেখছে ব'সে মজা,
কাজট। কিন্তু নয়কো সোজা।
(এবার) বাবা মায়ের দৌড়দৌড়ি,
প্রমথগণের হুড়ােহুড়ি,
খেয়ে ভাঙ্গ ধুতর গাজা,
বব বলে বগল বাজা
বব বলে বলে বগল বালা।
(বেগে প্রস্থান)
(৩য় গঃ)
পার্থ-পরাক্রম।
৩৭
হে শরি।
মভূমে হইবে যাইতে মোর সনে
কিরাত মূর্তিতে।
ঐ শোন ডাকিতেছে ধনঞ্জয়,
না পারি তিষ্ঠিতে আর।
পাৰ্বতী। নাথ, ভক্তের প্রতি যদি সদয়ই হইলে, তবে অপর
মূর্তিতে দেখা দেওয়ার প্রয়োজন কি?
ইর।
পরীক্ষিতে ভক্তি-বল।
সংসারের জীব
সহজেই হয় পথচ্যুত।
যে অাধারে যে জিনিস রাখা প্রয়োজন,
সে অাধার সে জিনিস
ধারণে সক্ষম কিনা,
সুধীজন আগে দেখেন বিচারি তাহে
তাই কিরাত রূপেতে
পরীক্ষিয়া অর্জনেরে,
পরে হইব সদয় ।
চল দুর্গে।
বিলম্ব করিতে নারি অার।
( প্রস্থান)
তৃতীয় গর্ভাঙ্ক।
হিমালয় একে-অরণ্য)
.
পার্থ-পরাক্রম।
(২য় অঃ )
তপৰিবেশে অর্জুন।
অর্জুন।
হয়,
আর কত কাল কাটাইব হেন ভাবে?
হে মহেশ ! হে আখতােষ !
আর কত কষ্ট দিবে এ কিঙ্করে?
কত মায়া ফাঁদ পাতিলে চৌদিকে,
কত ভীতি সঞ্চারিলে পরাণ মাঝারে,
এবে প্রাণ হ’ল কণ্ঠাগত,
ক্ষীণ হ’ল কলেবর,
এখনও প্রভো হবেনা কি দয়া ?
যার যা প্রাণ,
তবু হর, না হব বিচ্যুত
আপন কর্তব্য হ'তে।
( সচকিতে) ও কি!
সাসিতেছে ভয়ঙ্কর বরাহ এবার
করিবারে গ্রাস!
(ধনুতে জ্যায়োপণ )
{ কিরাত বেশে মহাদেব ও পার্বতীর প্রবেশ
কিরাত। স, সবর অস্ত্রবেগ।
হে তপস্বিন,
নাহি হান বান এই বরাহের প্রতি।
তব অর্থে আমি করিয়াছি লক্ষ্য
ৰধিতে বাহরূণী এই দানবেরে ।
( ৩য় গঃ)
পৰ্থ-পরাক্রম।
অর্জুন।
নির্দোষী জমেরে
যদি কেহ বিনা দোষে করে আক্রমণ,
অবশ্য সে বধ্য শতবার।
কে তুমি ?
কি হেতু মােয়ে কর নিবারণ ?
না শুনিব বাধা তব।
এই হানিলাম শয়।
(শর নিক্ষেপ )
করাত।
দেবি কেবা কত শক্তি।
(শর নিক্ষেপ )
(নেপথ্যে শরের প্রতিঘাতজনিত ভীষণ শব্দ)
অর্জুন
কে তুমি?
দেব, কি দানব কহ ব্যক্ত করে।
কি হেতু ফিরিছ ধনে লয়ে বামাগণ?
নাহি হয় ভয় প্রাণে?
ফেন বা করিলে বিদ্ধ শরজাল
মোর লক্ষ্য বরাহরূপী
রাক্ষসেরে ?
মৃগঙ্গার ধর্ম, ইহা নহে কতু।
এই পাপে তুমিও, অামার বধ্য,
ক্ষমার অযােগ্য তুমি।
ওরে রে ভণ্ড তপন্থী।
এই বুঝি তোর পােযপ !
হও অগ্রসর,
কিরাত।
৪০ •
পার্থ-পরাক্রম।
(৩য় অঃ)
উপযুক্ত শিক্ষা অতি প্ৰদানিব তোরে।
রে ভণ্ড! রে নষ্ট! রে পাষণ্ড!
এস একবার,
মৃগয়ার ধর্ম শিক্ষা দিয়ে উচিত।
(যুদ্ধ করিতে করিতে সকলের প্রস্থান।
!
!
(দুইজন বন্য নিষাদের প্রবেশ)
১ম নিঃ। ওরে বাবারে! গেছিরে ! এই বুঝি এলােরে ! হায় !
হায়! হায়! হায়! হায়! কেমন করে প্রাণটা যাবে রে
২য় নিঃ। অায়ে কি হয়েছেরে! বলিনায়ে! ওরে বন্ শিগগির
ব! অার যে ছুটতে পারিনে।
১ম নি। তুই কিছু জানিনে তবে ছুটলি কেন?
২য় নি। তুই দৌড়চ্ছিল দেখে আমিও দৌড়লুম। এখন ৰ
শিগগির কি হয়েছে।
১ম নিঃ। ওরে সে কথা কি বলবরে ! আমার প্রাণ কেবল
চিংড়িমাছের মত লাফাচ্ছেরে ! ওরে ভাই, কোথা যাবরে।
২নি। আরে কেবল চেচাচ্ছে, আছে বলে ফেনা। বল্
শিগগির।
১ম নি। ওরে বনের ভেতর কি একটা যেন এসেছে। তার
নাকি তিনটে চোখ, পাঁচটা কাণ, দু’ট পেট, আটট।
পা’! যে বেটারা শুরর মারে, তালিগকে ধরে টকাটক
টকাট গিলে ফেলেছে। আমায় ধরেছিল আর কি ।
ও বাবারে! গেলুমরে ! এঃ! এ ! (কম্পন)
২য় নি। ওরে কি বলিয়ে ! টকাট গিলে ফেলেছে ! হায়
(৪র্থ গঃ)
পার্থ-পরাক্রম
হায়! হায়! তবেইত গেছিরে ! হারে তুই সেটাকে
দেখেছিস্?
১ম নিঃ। পরে দেখলে কি আর অন্ত থাকতুম! একটা লােক
দৌড়ে যাচ্ছিল আর এই কথা বলে গেল ! ওরে বাবারে ।
ঐ বুঝি এলােরে ! ওরে আমার দাত গুলো শির শির
ক'রে উঠছেরে! পেটের ভাতগুল ছাতু হয়ে গেলরে ?
কাণটা ছোভো কচ্ছেরে! হায়! হায়! কোথা যাবরে।
ওর আর দাড়িয়ে কেন ? চল্ ছুটে ! ঐ বুঝি এলোরে !
(প্রস্থান)
• চতুর্থ গর্ভাঙ্ক।
(গােলোক ধাম)
সিংহাসনে বিষ্ণু ও লক্ষ্মী।
দেবকন্যাগণের গীত।
হের দু-নয়নে, লক্ষীনারায়ণে,
হেররে পরাণ ভরে।
জলদের পাশে,
বিজলী হাসে,
উজলি’ চারি ধারে।
আয়রে সকলে,
চরণ কমলে,
মজিগে ভকতি ভরে,
পার্থ-পরাক্রম।
(২য় অঃ)
AAAAAv
বিপদ ঘুচিবে, শমন পালা’বে,
হরি-হরিহরি সুরে।
লক্ষ্মী।
কই নাথ,
কেন এ গােশােক আসন,
কাপে ঘন ঘন ,
মূর্তিমতী অস্থিরতা যেন
বিরাজে চৌদিকে ।
বিষ্ণু।
হে কমলে,
ধমাঝে মম অংশ অবতংশ
অর্জুনের সনে,
যুঝিছেন রণে চন্দ্র চুড়।
তাই ভূমণ্ডল কাপে পদভরে।
পরাজিতে কৌরবেরে
শঙ্করের তপঃ করিল। করিটী,
অলাত অাশে।
তাই পরীক্ষিতে অর্জুনের বল
কিরাত রূপেতে শিব বাঁধাইলা রণ।
ব্ৰহ্মা।
(ব্রহ্মার প্রবেশ )
হে নারায়ণ,
সৃষ্টি বুঝি যায় রসাতল।
কাপে মঙ্গদেম-শিব-পার্থ-পদভয়ে।
( ৪র্থ গ)
পার্থপরাক্রম।
৪৩
কহ বিভো, কি হবে উপায় ?
রণজে মাতি
হয়েছে উন্মত্ত ভোলানাথ।
কিন্তু হায় ! বিষ্ণুসখা বলে,
বিষ্ণুতেজে পরিপূর্ণ পার্থ-মহারথ,
শিবতেজঃ তারে কি করিতে পারে ?
তাই এবে বিষম শঙ্কট।
হে গােবিন্দ ।
কর এবে যে হয় বিধান।
বিষ্ণু।
ব্রহ্মা !
শান্ত কর চিত।
যে যুক্তি উপযুক্ত কহিব তোমার।
অর্জুনের দেহ হতে
হরি’ ল’ব বিষ্ণুতেজঃ আমি।
তা’ হলেই ধনঞ্জয়, তুষি’ আশুতােষে
হইবেক সিদ্ধকাম-ঘুচিবে ধরার ভয়।
যাও চতুৰ্ম্ম খ,
কহ গিয়ে ঈশানীর
থাকিতে মহেশ পাশে।
জয় হরি দয়াময় ।
(ব্রহ্মার প্রস্থান)
তা ব্যবস্থাটা মন হ’লন। অপার দয়ার সিন্ধু
কিনা? তাই তরঙ্গ আর থামেনা ! ক্ষণেক পরে-
পরেই উথুলিয়ে পড়ে।
ব্ৰহ্মা।
লক্ষ্মী।
৪৪ পার্থ-পরাক্রম। (২য় অঃ) বিষ্ণু। কেন, কি হলো? হবে আবার কি ? চিরকাল যা হয়ে আছে তাই হল । যাহ’ক একটা মানবকে দমন কত্তে, মোক্ষ- দাতা অার সৃষ্টিকর্তা জুটে যে পরামর্শটা এটে উঠে হা ছাড়তে পারেছে। তাই রক্ষে। বিষ্ণু। তবু যা,হক আমার একটা স্থিরতা আছে। আর কমলা যে নিয়তই চঞ্চল।। লক্ষ্মী। বটে! তা কমাতে আর ছটাকখানে মাখনের লােভে কেউকে বাপ ডাকে নেই ? আর একটু চন্দন পেয়ে কারুর গুজো কুজও সােজা করে নেই। বিষ্ণু। তাও ভক্তের মুক্তির জন্যেই বটে। লক্ষ্মী। তা’ মুক্তিদাতার মুক্তি ত ঐরূপ করেই বটে! একবার সাধী তুলসীকেও মুক্তিদান ক'রে জগতে বেশ নাম জাকিয়েছিলে! মোক্ষদাতা না হলে অমন জলজীয় মোক্ষদান কি কেউ কত্তে পারে? ভক্ত শঙ্খচূড়ের প্রতি বেশী টান ছিল কিনা, তাই সেই টানে তার পত্নী তুলসীর গায়ে টলে পড়েছিলে! আর ষড়ৈশ্বর্যময় ভগবান কিনা, তাই স্বীয় মূর্তিতে মোক্ষদান কত্তে যেতে সাহস হয় নেই বলেই, তার স্বামীরূপ ধরে মুক্তিদান করেছিলে! বিষ্ণু। তা’ চির কালই তোমার জয়। আমি চুপ করলুম ! লক্ষ্মী। তা’ এখন করবে বই কি? লাগতে অাস কেন ? ভক্তকে ত্রাণ কর, মােক্ষদান করবেশ! তবে তা নিয়ে লক্ষ্মীর কাছে জাক কওে এসনা। বিষ্ণু। তা তুমি যদি বিবেচনা না করে কেবল আমার (
(৪র্থ গ)
৪র্থ-পরাক্রম।
৪৫
ছিদ্রান্বেষণই কর তবে আর আমি কি কবে ?
লক্ষী। যার গায়ে সহস্র ছিদ্র তার আবার ছিদ্রান্বেষণ কি?
তুমি সৃষ্টিছাড়া কিনা তাই তােমার সবটাই বেশী থাকা
চাই, নইলে ভগবানচন্দ্র কেন ?
বিষ্ণু। লক্ষ্মী! তবে কি তােমার ইচ্ছা যে অদ্য বিষ্ণুতেজে আর
শিবতেজে সংঘর্ষণ হ'য়ে সৃষ্টিটা ডুবে যাক!
লক্ষ্মী। তা যার সঙ্গে যিনি লাগতে যাবেন তিনি আগেই ভেবে
চিন্তে যেতে পারেন, শেষে টানাটানি কেন? ভগবানের
বেলা সবই সাজে! মহাদেব অগে না ভেবে লেগেছেন
তাই এখন সৃষ্টিকর্তার মাথা ব্যথা।
বিষ্ণু। এই জন্যই তো তুমি সংসারে মহামায়া রূপিনী । তাই
তুমিও সময় সময় আত্মহারা হয়ে থাকি। শোন প্রিয়ে।
অর্জনের বিষ্ণুতেজঃ হরণ দ্বারা কোন অনিষ্ট না হয়ে
বরং তাহার বিশেষ ইষ্ট এবং তারা জগতের বিশেষ
মঙ্গল সাধিত হবে। অর্জুন ত্রিপুরারির নিকট পাশুপত
অস্ত্র লাভ করে ভুবন-বিজয় হবে এবং তাহাদ্বারাই
জগতের উপকার সংসাধিত হবে। এখন চল, যাহাতে
এই কার্য সম্পন্ন হয় তাহার বিধান কত্তে হবে।
( প্রস্থান) ,
দেশবালগণের গীত।
হরি হরি তানে,
হবিগুণ গানে,
মঙ্গরে, ভাসরে সবে দিবসরজনী।
পার্থ-পরাক্রম।
২য় তা )
মাতরে, গাহরে হরিনাম গান,
ধ্যান কর সদ। শ্রীহরিচরণ,
পলাইবে দূরে রবির নন্দন,
কলুষ নাশিয়ে সুখে জুড়াবে পরাণি ।
কর পান মুখে হরিনাম সুধা,
যাবে চলি’দূরে এই ভব-ক্ষুধা,
শীতল হইবে তাপিত জীবন,
নাচরে, ভজরে সদা হরি পা দু'খানি-
গাধা-গা-মা-পা-ধা-নি-সা সুরে,
সানি-ধা-পা-মা-গা-ঋ-সা ধারে,
রাধা-গাধা-নি-ধা-পা-মা, হরি-হরি-পা-পা-ধা-মা
-খা-গা-মা রাধা কৃষ্ণ, কর প্রেসধ্বনি।
পঞ্চম গর্ভাঙ্ক।
( হিমালয় প্রদেশ -অরণ্য)
যুদ্ধ করিতে করিতে কিরাতবেশী মহাদেব
ও অর্জুনের প্রবেশ
(
কিরাত।
ওরে মূঢ়!
ঝাপিলে পতঙ্গ জলন্ত পাবকে,
আর কি সে পরে ফিরিবারে ?
(৫ম গঃ)
পার্থ-পরক্রম।
৪৭
অর্জুন।
জীবনের আশা এবে কর পরিত্যাগ,
স্মর ইষ্টদেবে।
মৃত্যু তোর বসিল শিয়রে ।
আরে-রে কপটী,
আরে-রে অবোধ কিরাত।
বাক্য গাড়ম্বরে বীরের হৃদয়
হয় কি কখনো ভীত ?
হও অগ্রসর,
উভয়ের যুদ্ধ ও অৰ্জ্জুনের অস্ত্র।
অর্জুন।
(স্বগত) হায় !
ফুরাইছে অস্ত্রহাজি ধীরে ধীরে,
শূন্য হ’ল তুণ !
দেব কি দানব ইনি বুঝিবারে নারি।
ক্রমে ক্রমে যেন
অবসন্ন হইতেছে দেহ;
না পারি যুঝিতে আর!
ঘুচেছে বিজয়-অাশা,
পরাণের আশা বুঝি ঘোচে এইবার ।
এ ভীষণ বিজন বিপিন!
ভানুর কিরণে হেথা নাহি পশে হয়ে ।
এ হেন কাননে
কে-ই বা হইৰে সহায় ?
এ কি!
কিরাত।
৪৮ পার্থ-পরাক্রম। (২য় অঃ) অর্জুন। এই কি হে বীরত্ব তােমার ? বীরপশা হইল কি শেষ? হে কিরাত। ধন্য তা সমর-কৌশল! এবে অবসন্ন হইয়াছে দেহ বুঝি তব সনে। পালং বীরের ধর্ম, ক্ষণকাল লভিতে বিশ্রাম কর অনুমতি, পশ্চাতে করিব রণ। ( সহাস্যে ) তোমারে যে দশ ধীর আমার ও তাই। ভাল লহ বিশ্রাম ক্ষতরে পশ্চাতে হইবে রণ। (কিরাতের প্রস্থান) কিন্নাহ। . অর্জুন। । হয়, কত অার যুঝিব একাকী, কতবার পরালি কিরাতেরে, কিন্তু পুনঃ গর্জি স্মাসি’ করে আক্রমণ। প্রজ্জ্বলিত বহ্নিশিখা মাঝে চালিলে সলিল, ক্ষণ থামি’ তে তার বাড়ে পুনরায় তথ। কিয়াতের লেঃ বাড়ে নামবার।
(৫ম : ) পার্থ-পরাক্রম। ৪৯ •• •••". এবে কি হবে উপায়, কিছুই বুঝিতে নারি ! অন্তরীক্ষে থাকি যেন কোন জন, দেহ হতে লইছে কাড়িয়া বলবীৰ্য সব। হায়! হায়! ভাঙ্গিল সকল আশা। জীবন হার’ব বলে দুঃখ নাই মনে, কিন্তু, পাণ্ডুপুত্রগণ ভাসিল যে দুর্গতির অকূল পাথারে, এই দুঃখে জলে মন প্রাণ। হায় ধৰ্ম্মরাজ, বড় আশা করে-বড় সাধ করে পাঠাইয়েছিলে মোরে পাণ্ডবের দুঃখরাশি করিবারে দুর। অহো ! পূরিল সকল সাধ! ভাঙ্গিল কপাল! হে শঙ্কর! হে ত্রিপুরারি। কত কষ্ট পেয়ে-কত জালা পেয়ে ডাকি তােমায়, কিন্তু হায়, পাষাণ তােমার প্রাণ হইলনা দয়া প্রভো! চাহিলেনা মুখ তুলি কিঙ্করের পানে। শুকাইল অশ্রুবিন্দু নয়নে কেবল, তিতিলনা হৃদয় তোমার- দ্রবীভূত হইলনা প্রাণ!
৫৩ পার্থ-পরাক্রম। (২য় অঃ) হে ঈশান, হে মৃত্যুঞ্জয়, আমি মরি -থে নাই তা ; কিন্তু “শঙ্করে ডাকিয়া মরিল অর্জুন” গাইবে যে ধরবাসী ইহা চিরকাল, এই দুঃখ র’ল মনে। যায় যাক প্রাণ যাক ধনান, যা রাজ্য-যাক ভ্রাতৃপণ, তথাপি পাকিব সদা পাদপদ্মমূলে । ধর মহেশর- ভকতি চন্দন মাখ। অন্তিম অঞ্জলি লহ কৃপা করে আন্তম প্রণতি : - জঃ বিশ্বেশ্বর ভৈরব মৃড় চচুড়, এর আশুতোষ ত্র্যম্বক বৃ-মারূঢ়। জন্ধু মহেশ উমেশ ঈশান শঙ্কর, জস্ব বিভূতি ছাদন মদন মান-ইর! অর ভোলানাথ ভবেশ নবম হর, নকশায় করে প্রসীদ পরমেশ্বর ৫ { ধীরে ধীরে কিয়াতের বেশ ; অর্জুন কর্তৃক মাল্য প্রদান ও কিরাতরূপি-শিৰ কর্তৃক নি গলায় মাল পরিধান।
( ৫ম গঃ )
পার্থপরাক্রম।
(কিরাত প্রতি চাহিয়া মচকিতে )
অ্যাঃ! একি হল! একি হল!
অহো ! চিনেছি--চিনেছি ভাে।
আর কোথা যাবে, আর ফাকী দিতে
নারিবে দাসেরে। পড়িয়াছ ধরা!
* রসোড়ে ) হে মহেশ, হে ভবেশ, হে অশুতোষ,
হে অনাথনাথ! এতদিনে কি দাসকে মনে পড়েছে ?
এতদিনে কি হৃদয় গলেছে। হে পাষা। এতদিনে কি
পাষাণ দ্রবীভূত হয়েছে? পিতাকে? গণ যে কথাগত
হয়েছে। আর যে তোমায় ডাকতেও পারিনে! কে
পতিতপাবন? হে অপমহারণ। হে দুর্গতিনাশন! সন্তান
কে আর কতই না দুলাসে! এখনও কি ভয়াবনা এতো ।
না নিয়ে দেববাহিত দেহে শরাঘাত করেছি বলে কি
এতো, কিকরে সদয় হবেন।? বল না , যদি তাই হয়
তবে আমি এখনই এই অস্ত্রাঘাতে ঔ সহ পদতলে প্রাণ
বিসর্জন দিচ্ছি।
কিন্নাত।
( বাধা দিয়া)
ক্ষান্ত হও মাছ ধন,
হেরে তৰ অপূৰ্ব ৰীর,
হইয়া তুষ্ট মাশুতোষ।
তাই এর সদর তোমারে।
ধন্য ধনঞ্জয় ! ধন্য তুমি এই ৱাতলে,
হসীৰ্য যা’র রণে অাদি
অাপনি শঙ্কর।
পার্থ-পরাক্রম।
{ ২য় অং)
অক্ষয় হউক তৰ তৃণ
ফুরাইনু যাহা মায়া বলে।
হে অর্জুন,
নহ তুমি সামান্য মানব ,
বিষ্ণুর সহায় তুমি চিরকাল।
এযে যাচই বাঞ্ছিত বৰ,
কর সম্পাদন ধরায় মঙ্গল।
অর্জন। এভো ! ধন্য আমি অলি!
জনম সফল হল।
দীননাথ! তব দরশন
লয়ে যেজন ভবে,
1. অপূর্ণ কি থাকে কোন সাধ তার ?
দিবসনে জনসনে থাকি
কত কত' মহান ,
কাটাইছে কাল বিজন কাননে ।
হেরিতে তোমার
দেবের দুর্লভ ঐ অভয় চরণ
যোগীন্দ্র, মুনীল কত ভূখর-ফরে
করিতেছে ধ্যান ঐ চরণ-সরোজ,
সেই বিহারি-হয় আজ
সম্মুখে আমার ;
আর কি বাসনা প্রভো, থাকিবে হৃদয়ে?
তবে যবে সদয় হইয়ে
চাহিয়াছি তুষিবারে দাসে বা দানে,
{ ৫ম গঃ ) পার্থ-পয়ান্স। ^^^^^••••• A- তোমার আদেশ নাথ, করিব পালন। দেহ দুই বর দাসে - এক বরেদেখাও কিঙ্করে আপন মূয়তি তব; দাড়াও সম্মুখে , ল'য়ে বামে দুর্গতিহারিনী অভয়ারে। সবরেদেহ সে ত্রিলােকসংহারকারী অস্ত্র পাশুপত । কিরাত। হে কীরিটী । বাঞ্ছা তব করিব পুরণ, হৃদে স্মরি ইষ্টদেবে চাহ একবার ( কিরাতের অন্ধান ) পট পরিবর্তন। অর্জুন। হর পার্বতী। মরি! মরি! মরি। নয়নরে ! হের হের একবার ! ধ! ধন্য অামি আল ! গীত। হেররে আঁখি ভরিয়ে আজি শঙ্কর শঙ্করী দোহারে। মানব জনম সফল হবে ভয়ে শমন যাবে দূরে-রে।
পার্থ-পরাক্রম।
(২য় পঃ )
কলুষ পালাবে
গাওরে আনন্দে বলে বববন্
নাচরে আনন্দে নাচ অবিরাম,
দুর্গতি ঘুচিবে,
মাতিবে ভকতি-মদেরে-
হর হর ভােলা, দুর্গে দুঃখহর
ডাক অবিরত, ঘুচে যাবে জ্বালা
ভকতি-চন্দনে প্রণতি-কুসুম
মাখিয়ে, দেও হে চরণ, পরে।
হে গাৰ্থ! এই মহীমণ্ডলে তুমিই এই ত্রিলোক
সংহারকারী পাশুপতঅস্ত্র ধারণে সক্ষম। আমি আর
সন্তুষ্ট হয়ে তোমাকে সেই অস্ত্র প্রদান করলেম ; তুমি
ভুবনবিজয়ী হও। ( অস্ত্র প্রদান) যাও, আমার আশী-
বাদে এখন দেবতারাও প্রসন্ন হয়ে তােমায় দেবগঞ্জ
দিবেন।
অর্জন।
জয় শিব শঙ্কর।
প্রণমি চরণপত্মে।
( অন্ত্ৰগ্ৰহণ ও এম)
f
(বেগে নন্দীর প্রবেশ
ননী।
(দুর্গার প্রতি)
দেলে মা এখন মজার খেলা *
কেমন খেলা থেমে গেল?
(৫ম গ)
পার্থ-পরাক্রম।
যেই খেলেন দু’ট ঘ।
অনি বরটি দিলেন, মা !
বাবার স্বভাব এমন বটে
নন্দী মরে মাথা কুটে।
তোর আবার হিংসা হল নাকি? তা যাক,
তােকেও একটা বর দেব ।
নন্দী কেন চাবে বর,
সংসারে তার কারে ডর?
শিবের দ্বারে রক্ষে দ্বার,
নী।
গার কারুর না ধরে যায়।
নন্দী।
গেয়ে সদ্য বব ভোলা
যমকেও নন্দী দেখায় কলা।
খালে নদীর সিদ্ধির থলে,
তবেই দিন তার যাবে চলে।
তা তাের যেমনি কপাল তেমনি হবে।
আর বাবার অামার কপাল সেরা,
নাম করেছেন কপাল-পােড়া!
(আমার) মা’র ভাগ্যেতে অন্ন খান
কুকাতে দিন কাটান।
ভোলানাথের কেবল ভুল,
ভাব্দ, ধুতুরায় বাধায় গােল।
বাজিয়ে বগল তা-ধি-খি
নন্দীরাম গায় নিশি দিন।
( হর হর নিশিদিন)।
৫৬
পার্থ-রাম।
(২য় অঃ)
(স্বগত) আহা! নন্দী আমার সর্বদাই আনন্দে
বিহঘল ! এতির ফোয়ারা।
'ভক্তির বল এমনই প্রবল। প্রকাশে) চল পাগল,
এখন কৈলাগে চল।
( প্রস্থান)
তৃতীয় অঙ্ক।
প্রথম গর্ভাঙ্ক।
(বিদূষকের বাটী)
বিদু।
বিদূষক।
মহাজনেরা বলেন “হতী হও সহণে”। আমি বলি
“রাজা হন্ত সংখ্যেম। হাতী যদি ছাপা হাত দূরে
থাকা ভাল, তবে রাজারাজরারও অসংখ্য হাত দূরে
থাকা ভাল! বাবা, আজারজরার ঘেসাধেসিতে জীবন
কাটান কি বিষম সমস্য! যেন পদ্ম পত্রের জল, সদাই
টলম! বড় মাসের বাড়ীর দাসী বাদী হ’তে উপরে
মন্ত্রী উপমন্ত্রী প্রভৃতি সকলেই রাজার এক একটি
সাক্ষাৎ ছোটখাট বিগ্রহ! এই দৈনিক কার্যের তালি-
কাট। দেখনা-রাজা হাসলেন ত হতে হবে, গাইলে
গানের সুরে যদি পেট ফেঁপেও ওঠে তবু বাহবা দিতে
হ'লে! রাজার ছেলেটি যদি নেহাত গােবরগণেশও
হয়, তবু তাকে সাক্ষাৎ বৃহস্পতি বলে ব্যাখ্যা কত্তে
হবে। এরূপ আর কত বলব? তারপর রাজার যদি সখ
পার্থ-পরাক্রম। (৩য় অঃ ) ভুল বানরের সাজ পতে, তাও পরতে হবে-ইত্যাদি। চেয়। এই তো গেল কত্তার হিসেব। এর পর মামা বাবু, শালা বাবু, বােনাই বাবু, জামাই বাবু প্রভৃতি অাছেন, গুরুজি আছেন! সবার উপরে আছেন গোলাপমণি, নয়ণী, কমলমুখী, বিশালাক্ষী প্রভৃতি শক্তিরূপিণী- গণ। এদের কারুর বকুনি, কারুর কাকুনি, কারুর কাণ- না, কারু গলাধাক্কা, আবার কারুর অবদায়, কারুর ক্ষুরধারের চোটে একবারে পেটের ভাত চাল, গায়ের রক্ত জল, ক্রমে হজম শক্তির হ্রাস, কাজেই শষ্যাপরে বাস, তারপর ঘন ঘন কাশ, আর গিন্নীর ঘন শ্বাস, কমে লুপ্ত নেত্র পল, কাজেই আত্ৰ কাষ্ঠল। পরের চাকরির এমনি মঙ্গা! তা বাবা মেথরই হও আর ঝালমন্ত্রীই ই। কম্বেট। দিন । িম নক্ষপ হেৰু আঁচছি, দু’বেল। চাটী খাচ্চি, অার সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত তিনশ বিরেশী সিক্ত ওজন ঘুম !দচ্ছি। তবে মাগীর শালায় তিষ্ঠা ভার-সদাই তার মুখ ভার! অর্থ না হলে ত দাম্পত্য প্রেমের পূর্ণ বিকাশ হয়না! জীবন ভরে যত কিছু উপার্জন, সবই ত ঐ শ্রীচরণে সমর্পণ, এতে ও মাগীর শন ওঠেন।। ঐ বুঝি আছে আমার উগ্রচণ্ডা, এবার খেতে হবে মেঠাই কি মণ্ড! (ব্রাহ্ম- শীর দিকে চাহিয়া) অয়াহি ৰয়দে দেৰি-আসা খালি পড়ে অাছে। (ব্রাক্ষণীর আশে) ৰাহ্মণী। বারে অামার চিন্তামণি, সরস নসিকতার অসাশ (১ম গ) পার্থ পরাক্রম। . বিন্দু। খনি, মুখে বুঝি পড়েনি’ অাগুন তাই কেটে ফেটে বেরুচ্ছে গুণ। বিন্দু। আহা! মহাভারতের কথা অমৃত সমান। কাশীরাম দাসে কহে শোনে পুণ্যবান !” ব্রাহ্মণী। বাঃ! গায়ে বুঝি খুব তেল বেড়েছে। কয়েকদিন বাধা খাওয়া হচ্ছে কিনা, তাই বাড়ী বসে বসে কেবল কথার জাহাজ পোলা হচে! বিদু। তা তােম। হেন ঘানি গাছই সামনে বিদ্যমান। তার জন্য অত চিন্তে কেন ? ব্রাহ্মণী। মিন্সের দেখছি খুব মুখ ছুটেছে! যেন বিদ্যালিগঙ্গ- জের টোলের পড়ুয়া! তা’ নইলে কি হতেম ভোর ভেড়? ব্রাহ্মণী। বারে বা! এ যে দেছি সাক্ষাৎ শাকচকচি ! কড়া তেলে ভাজা লুচি। বিদ। বারে আমার রসের নাগরী, চেপ্টানাকী স্কুলােদরী। খেংরা শোভিত বিশালহস্তে, ভয়াল গৃহিণীং নমস্তুতে। { সুযোগে বাৰে কথা রেখে এবে ইয়ে তৎপর, গিন্নীর বন্দনা কিছু কৰিব পােচ- ব্রাহ্মণী। তবেরে পোড়ারমুখে, বিষ্ঠাখেকো মৰ্ক অবতার। বেড়েছে বড় বার! কিছু বলছিনে ৰলে বেড়ে উঠে- ছেন! (ঠোন। মারিতে ২) দুবেলা বাড়ী বসে দু’থাল তাতে কঁাড়ি ধ্বংস করা, আর আমার নামে গাওয়া ছাড়া- (রে। ঠোন। মে’র যেবা নামী পতি পানে চায়
পার্থ-পরাক্রম।
(৩য় অঃ)
AW Awatch
লক্ষ্মী বলে সেই নারী গয়না পরতে পায় !
সুবুদ্ধি গিন্নীর আমার কুবুদ্ধি ঘটিল,
খেংরা ছেড়ে কেন ঠোন মারিতে শিথিল
ব্রাহ্মণী। তবে-রে বেহায়া আমার সঙ্গে ফকিকারী, এইবার
তাের টিকী ছিড়ি।
বিদু। গিন্নি গাে ! এইবার দণ্ডবৎ, দিচ্ছি পুনঃ নাকে খৎ।
“অপরাধ করিয়াছি-হুজুরে হাজির আছি”।
ব্রাহ্মণী। চুপ কর থেরখেকো। বাড়ী এসে যেন সিংহ
অবতার হয়েছেন। কেউ গুণ করেছে নাকি?
বিদূ। গুণ করে নেই লো পাগলী! ঘুণ ধরেছে।
ব্রাহ্মণী । ভালো ল্যাঠা জুটলো ! কলসীতে যে আর চাল
নেই, রাজবাড়ী যাবেনা? এখন উদরে দেবে কি ?
বিদু। কেন চাল না থাকে দড়ীতে আছে। রাজবাড়ী যাব
কি করে ? শরীর যে নেহাত রুগ্ন।
ব্রাহ্মণী। ও মা, সে কি গো ! দু'বেলা অাড়াই সেক্স করে
চাল মঙ্গাচ্ছ, তোমার আবার কি রোগ হলো?
বিদু। বড় ভারী রােগ! গৃহিণী রোগ !
ব্রাহ্মণী । সে-কি-গা! গৃহিণী রােগ আবার কেমন ? গ্ৰহণী
রােগ এনেছি। এটা আবার কেমন য়ােগ ?
বিদু। এই হালের আমদানী ! গৃহিণী রোগেই ত দেশ খেলা!
নব যুবারাই এয়োগে বেশী কষ্ট পায়, আর পান শেষ
কালের বিবাহিত বুড়ারা।
ব্রাহ্মণী। তা তােমার এমন রোগ হয়ে পড়লো, এখন পেট
চলবে কেমন করে?
(১ম গঃ )
পার্থ-পরাক্রম।
?
বিদূ। কেন পেটপোড়া খেয়ে
ব্রাহ্মণী। বাঃ তােমার যে আজ বৃদ্ধত্বং জরস। বিনা”।
বিদূ। আর তােমারও ত দেছি গৰ্ভত্বং স্বামিনা বিনা !
ব্রাহ্মণী। দেখ, বিটলে বামুন, আজ তাের কপালে আছে খুব
সাজা, দাড়াও দেখাচ্ছি মজা! তবেরে হতচ্ছার (কাণ
ধরা ও ঠোনা মারা) আমি আর কিছু বুঝিনে-
বিদূ। আঃ, এয়াড়কি কর কেন?, আঃ ছাড়! এয়াড়রি কি
আর সময় অসময় নেই।
ব্রাহ্মণী। তবে বল রাজবাড়ীতে যা’যে কখন ? ঘরে যে কিছুই
নেই, বামুণ যেন অন্ধ !
বিদূ। এই অজই যাব, অজিই যাব। এখন ছাড়, তােমার
মাথা খাই, একবার ছাড়, “যা দেবী মমগৃতেষু গৃহিণী
রূপেণ সংস্থিতা, নমস্তস্মৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্মৈ নমাে নমঃ।
ব্রাহ্মণী। আবার বেহায়া আবার ( শক্ত করে কাণ ধরা )।
বিদু। ও মা গো, আমি গেছি গো ! লক্ষ্মী, সােণা, আর
কিছু বলবনা। এখন ছাড়। তুমি রসুই ঘরে গিয়ে
শিগগির রান্না বসাও। আমি খেয়েই রাজবাড়ী যাচ্ছি।
ব্রাহ্মণী। অাচ্ছা, এই চলুম।
( প্রস্থান ।
বিদু। আর, আমিও বাঁচলুম। মাগীর গায়ে কি জো,
এইবারই তো দ্বিতীয় জরাসন্ধবধ হয়েছিল আর কি।
মাগীর শরীরটা যেন দুরমুজ করা; যাই এখন বই
ঘরের দিকে।
(প্রস্থান)
৬২
পার্থ-পরাক্রম।
(৩য় অঃ
দ্বিতীয় গভাঙ্ক।
ইন্দ্রপুর।
(নন্দন কানন)
উর্বশী, মেনকা, তিলােত্তমা, ঘৃতাচী, অপ্সরাগণ।
৩
গীত।
ওলো নীরবে খেল্ব দোহে কেলি কাননে।
অফুরন্ত কথা কত ক’ব দুজনে।
হাসিব চঁাদের হাসি, গণিব তারারাশি,
ধ্বনিবে লে দশ দিশি সুমধুর তানেরে
মধুরে আসিব মিলি, বঁধুর সনে।
দেখুলে সথি, বিধুমুখি, শোভা কাননের,
মে। মলয় বায়ে, চলছে নিয়ে, গন্ধ কুসুমেয়।
তি। পরাণ সঁপে, হৃদয় চাপে, অবশ হ’ল কায়,
( তাের) নুতন কলি, ছুইলে অলি ঘটবে বিষম দায়।
উ। হাসছে যেন বাগানখানি, কি এক রসে রসে,
মে। ছুটছে চাদের আলােরাশি, চারি দিকে হেসে।
তি। হেরে শােভা, মনোলােভা, উদাস হ’ল প্রাণ,
দু। জুটবে নাগর, রূপের সাগর, নবীন যৌবন।
উ। দেনা ভাই, রাজার সনে, কে ঐ মনচোর,
মে। বারির গাশে, চাতক আসে, জুটল বুঝি বর।
২য় গঃ)
পার্থ-পরাক্রম।
তি।
যে হক সে হক তাতে তাের কেন লাে ডর?
ওগো ছুইলে ঘটবে বিষম দায়-সৰু সৰু সৰু সৰু ।
গীত।
ওলো সৰু সৰু সৰু তোর আধফোটা ফুল,
বুঝি দেয়লাে অলি হ।
শেষে কি কেঁদে, পড়বি ফঁাদে,
হাইবি কু।
নারীর যৌবন বালির বাঁধ
ভাঙ্গে বঁধু পে’তে ফাঁদ
ছুইলে প্রাণে,
লইবে টেনে,
বাইবে গাে।
.
উ। চুপ চুপ চুপ এলাে য়ালা, চুপ চুপ চুপ চুপ,
তি। মুখে তাে চুপ, বুকে কিন্তু কছে দুপ দুপ।
(ইন্দ্র, অর্জুন ও চিত্রসেনের প্রবেশ
চিত। শোন উৰ্বশি, শােন তিলােত্তমা, তােময়া আজি মধু
মিলন সঙ্গীত ও নৃত্যাদি দ্বারা দেয়াজের মনস্তুষ্টি
সাধিত কর।
উর্বশী। যে আজ্ঞে।
৬৪
পার্থ-পরাক্রম।
(৩য় অঃ)
গীত।
জুড়াইছে দু’টি প্রাণ প্রেম-মিলনে।
হৃদয় বিভােরে, অধরে অধরে।
হৃদয় হৃদয় ফুটি’ ছছটে সােহাগধারা।
পরাণে পরাণ ললাটে হয়ে প্রাণহারা।
মধুর মধুরে শিহরে দোহারে ;
ক্ষরিছে সুধার ধারা মজায়ে মনে।
চিত্রসেন। বা! বেশ! অায় একটি গাও।
গীত।
(ওলে।) সরমে মরম কথা কইতে পারিনি।
পরাণভরা সােহাগরাশি জানাতে পারিনি।
চোখের পিয়াস বইলে চোখে,
বুকের জ্বালা রইলাে বুকে,
অধরে অাদরে সুধা ঢাতে পারিনি
পীরিতির এত জ্বালা আগে জানিনি।
ই। চমৎকার ! কি মধুরঙ্গীত! যেন সুধার এস্রবণ! হে
চারুনেত্রা অপ্সরাগণ! তোমরা এখন ক্ষণকাল বিশ্রাম
সুখ ভোগ করগে।
(অপ্সরাদের স্থান।
বৎস ধনঞ্জয়,
লভিয়াছ দিব্য অস্ত্রবাজি,
(২য় গঃ )
পার্থ-পরাক্রম।
৬৫
অর্জুন।
ইন্দ্র।
শিখায়েছি গুঢ়তম যুদ্ধের কৌশল,
এবে চিত্রসেন সনে
নৃত্য গীত আদি শিক্ষাকর কিছুদিন।
সৰ্ববিদ্যা সুপণ্ডিত হও বাছা তুমি,
বাসনা ইহাই মাের।
পূজ্যপাদ পিতৃদেব,
অাজ্ঞা তব করিব পালন।
এবে রজনী গভীর
করহ আদেশ দাসে লভিতে বিশ্রাম।
যাও বৎস, লভগে বিরাম।
( অৰ্জ্জুনের প্রস্থান)
শোন চিত্ৰসেন,
অপ্সরার ত্যকালে
হেরিলাম সুখের ব্যাপার।
উর্বশীরে হেরি’
আকৃষ্ট হইল। বঞ্জয় ;
নেত্রে নেত্রে হয়েছে মিলন !
উর্বশীও মজিয়াছে ঘোর।
এবে যাও তুমি উর্বশীর পাশে,
কহগে তারে
ভজিতে অর্জুনে এই নিশীথ সময়ে।
বিচিত্র ভূষণে চারু হয়ে বিভূষিতা,
বল গে তাহারে
যাইতে পার্থের পাশে।
পার্থ-পরাক্রম। (৩য় আঃ ) এ মিলন বিশেষ মঙ্গশকর হইবে ধরার। যাও তবে চিত্রসেন, আমিও চলিঃ এবে বিশ্রাম অাগারে। (চিত্রসেনের প্রস্থান) (স্বগত) অর্জুন, ঘাের পরীক্ষা তব এই বার। ( অপরদিক দিয়া উর্বশী ও তিলােত্তমার প্রবেশ) উর্বশীর গীত। ও কে গােপনে করে চুরি মন। আমিত আমাতে সখি, নইলে এখন ল’য়েছে কাড়িয়া জীবন-যৌবন। পলকে নিরখি’ ভাসি আঁখি-নীরে, পরাণ উদাসী হৃদয় শিহরে, রমণীমােহন রূপ মনোহর, হেরয়ে হারানু ধরম ভরম- বল সখি, কিসে ধরি জীবন । সই, চলেনা চরণ আর। অবশ হয়েছে প্রাণ, কহ সখি ! কে ঐ রমণীমোহন চুরি করে নারীর পরাণ।
(২য় গঃ)
পার্থ-পরাক্রম।
৬৭
তিলে!
উর্বশী ।
ছি-ছি, সই
ত্যজিলে কি নারীর ভূষণ-লজ্জা ?
শান্ত কর মন,
কেন হও উচাটিত কুভাবনা ভাবি’?
ত্যজিয়াছি লজ্জা, সই
ধরম ভরম ;
হয় হউক নরকে নিবাস,
দ্বণিতা পিশাচী বলি?
ঘোষুক জগত, ক্ষতি নাই তায়।
টানিলে চুম্বকে লৌহ
মানে কি সে বাধা ?
তরঙ্গিনী ধায় যবে বারিধির পানে
মানে কি সে বাধা কভু ?
আপনার বেগে
ধায় যবে খ-ধূপ অম্বরে
পারে কি নােধিতে কেহ গতি তার?
তবে কেন বৃথা সই, কহিছ এরূপ?
যাহে পারি ধরিবারে প্রাণ
করহ বিধান তার,
ছুটিবারে চাহে প্রাণ
বাধা নাহি মানে!
পাগল করেছে মোরে
নয়নের বাণে।
ধৈৰ্য্য ধর সই
তিলো।
পার্থ-পরাক্রম। ( ৩য় স্থাঃ) উর্বশী। তিলো। বঁধ প্রাণ-ঘুচিবে এ চিত্তের বিকার। কার প্রাণ বাঁধিব লাে সই ? প্রাণ যদি হত মোর বাঁধিতাম তারে। কিন্তু প্রাণত আমার নিয়ে গেছে চুরি করে প্রাণচোর। এবে চায় ও যাইতে সেথায় উধাও হয়ে। অামাতে কি আমি আছি আর কায় মাত্র অাছে হেথা প্রাণ গেছে প্রাণধন পাশে। শান্ত হও সই, ঐ বুঝি আসে চিত্রসেন। (চিত্রসেনের প্রবেশ) হে উৰ্বশি, আইমু তোমার স্থানে দেবেশ আদেশে; এবে সাধিতে হইবে প্রয়োজন তঁার। কহ দেব অাদেশ তঁাহার, অবশ্য তঁাহার সাজ্ঞা করিব পালন। উর্বশী যে চিরদাসী তঁার। শোন বনাননে, অাজি নৃত্য কালে, হেরেছিলে যেই মহবিলে দেবেন্দ্রের পাশে, চিত্র। উর্বশী। চিত্র।
(২য় গ)
পার্থ-পরাক্রম।
•• • • • vower
পুত্র তিনি সুরেত্রের,
নাম তঁার ধনঞ্জয়-তৃতীয় পাণ্ডব ;
নরনারায়ণরূপে জনমিল। মহীতলে।
লভি" দিবাঅস্ত্র দেবগণ পাশে
এবে তিনি রাজিছেন ইন্দ্ৰসনে।
আজি এ নিশায় তুমি ভজিবে তঁাহায়
ইহাই দেবেশ-বাঞ্ছা।
বিচিত্র ভূষণে হইয়া ভূষিত
মনোবাঞ্ছা করই পূরণ ;
মিলনে তোমার হবে ধরার মঙ্গল।
যাও চন্দ্রাননে- যাই আমি নিজস্থানে।
{প্রস্থান)
উর্বশী। (স্বগত) একি স্বপ্ন।
অথবা কি দৈববাণী ?
এতই কি ভাগ্যবতী আমি?
পূর্ণ কি হইবে আশা ?
দগ্ধ প্রাণে ঢালিলরে আজ
সুশীতল বারি !
অথবা কি অাশা মায়াবিনী
পাতিল এ মায়া ফঁাদ ?
আকুলি ব্যাকুলি করিছে প্রাণ,
কিছুই বুঝিতে নারি।
বলি, আর কেন চুপ করে রইলে? পুরস্কার পাৰ
কি ? ঢেলা ফেলার কড়ি এখনই দিয়ে যাবে কি? নূতন
তিলে ।
৭৩
পার্থ-পরাক্রম।
(৩য় অঃ )
WWWWWWW\r\•••
নাগর পেয়ে শেষে কি কিছু মনে থাকবে?
উর্বশী। কেন সই, মনাগুন
জালাও দ্বিগুণ ?
তিলো।
এখন মনাগুন নয়, এখন যে প্রেমের আগুন দ্বিগুণ
জ্বলবে, আর তাতে মদন জাহােম কবে। চল, এখন
সাজিয়ে গুছিয়ে দেইগে।
উৰ্বশীর গীত ।
চলিতে চরণ চাহেন সই অবশ পরাণ।
বুকে দুর দুর প্রাণে হু হুড়,
ব্যাকুলিত হ’ল মন।
সাধ করে সই চলি ছুটে, লাজে মরি মাথা কুটে,
প্রাণের মাঝেতে সখি, করে লো কেমন।
উভয়ের প্রস্থান)
তৃতীয় গর্ভাঙ্ক।
(ইন্দ্রালয় -একোষ্ঠ)
অর্জুন।
কি ভয়ঙ্কর অতীতের স্মৃতি।
সেই সব কথা জাগিলে হৃদয়ে
প্রাণের ভিতরে যেন বহে ঘোর ঝড়।
হয়। বৈজয়ন্ত ধামে-
নিত্যশান্তিময় সুরপুরে,
( ২য় গঃ) পার্থ-পরাক্রম। সুরপতি সনে যাপিতেছি কাল অনন্ত সুখের শোতে। বিলাস কানন-নন্দন বন, অঙ্গের ভূষণ-পারিজাত, কোটিচন্দ্র জিনি’ রূপ যাহাদের সেই অনিন্দিতা রূপবতী অঙ্গরা নিকর তােষে মন নৃত্যগীত দানে। আর পাণ্ডুপুত্রগণ ? অহো ! ঘৃণিত নারকী আমি- নরকের বিষ্ঠাকীট আমি। অনন্ত রৌরবে মাের নাহি হবে স্থান- পাণ্ডুপুত্রগণ-গহন কাননে, বৃক্ষতলে, ধূলিশয্যা’পরে, ফল মূলাহারে যাপি কাল আছে পথ পানে চেয়ে মোর তরে! পাঞ্চালীর নেত্রনীরে ভাসিছে ধরণী। আর আমি-এ বিশাস ভােগে কাটাইছি কাল সুরলোকে ? ধিক মেয়ে ধিক! ( সচকিতে ) ওকি! সহস্র বীণার ঝঙ্কার যেন হয়ে একত্ৰিত-পশিছে শ্রবণে। কোথা হতে আসে এ মধুর তান?
१२ পার্থ-পরাক্রম। (৩য় অঃ) এ আবার কোন প্রহেলিকা! দেখি ক্ষণকাল- ( গাইতে গাইতে উর্বশীর প্রবেশ) গীত। পরাণে উধাও হয়ে উধাও প্রাণে ছুটে আসি। হৃদয়ের বড় আশা, প্রেম পিপাসা বিধুমুখে মধুর হাসি। তুলিয়ে বদনখানি, হৃদয়মণি, চাওনা ফিরে দাসীর পানে, পড়েছে পরাণ বাঁধা, আর কি বাধা, কভু মানে- ( টানে প্রাণ জোর টানে দিয়ে গলে প্রেমসি) অর্জুন। কে তুমি লো রূপবতি ? ভুবন উজল করি রূপের ছটায়, কি হেতু ফিরিছ হেথা এই নিশাকালে ? শােন ধনঞ্জয়, উর্বশী আমার নাম জনম অপ্সরা কুলে! হে বীরেন্দ্র, ইন্দ্রাদেশে এবে জাসিয়াছি হেথা ভঙ্গিতে তোমারে আজি নিশাকালে। হে প্রিয়দর্শন, বাঞ্ছা মম করহ পূরণ- উৰ্বশী । !
( ৩য় সঃ)
পাখ-পরাক্রম।
অর্জন।
ও নয়নবাণে হরিয়ায় প্রাণ মন
মৃত্যসভ। মাঝে।
ছি-ছি! হে সুন্দরি।
না ভাষিও হেন,
আনিও হেন কথা মুখে।
মম পিতৃকুল অংশ,
পূৰ্ব্ব পূৰ্ব্ব মহাজনভোগ্য। তুমি,
তাই উৎসুক নয়নে
হেরিনু তোমায় নৃত্যভামাকে।
দেবারাধ্যা তুমি, ধনি,
পরম আরাধ্য মোর।
কেনলো পানে!
করিছ ছলনা দাসে?
হে প্রিয়দর্শন।
এই কি হে প্রেমিক-হৃদয় ?
এই কি হে প্রণয়ের রীতি।
গীত।
পীরিতির রীতি বঁধু ইহা কি ?
অবলা পাইয়ে এভাল কি?
চুপি চুপি’ লুকি’ লুকি’ প্রাণ চুরি করিয়া
ধরতে গেলে পালাও বঁধু ছুটিয়া ধাইয়া
নিঠুর বঁধুয়া,
পার্থ-পরাক্রম।
(৩য় অঃ)
*** ৪ ''
নারীর প্রাণে এত সহে কি ।
এই কি বঁধু ভালবাসা অ-ছি-ছি-ছি-ছি!
সন।
হায়! হায়!
এ আবার কোন প্রহেলিকা।
হে মহেশ !
এ আবার কোন খেলা খেলাইছ প্রতে!!
দগ্ধ হনু বুঝি।
হে উৰ্বশি,
ক্ষমাকৰ দাসে-কেন ভাষ হেন ?
আমি গো অপম মানব
তুমি পূজ্য মম।
মাতৃসম মানি লো তোমায়।
যে অনলে দহিতেছে মন
অার জ্বালা তার উপরে দিওনা কখন।
উর্বশী ।
ছি-ছি বঁধু
এ কি রীতি তব ?
ও নবযৌবন চারুদেহ খানি,
জিল কি বিধি যাইতে বিফলে
হেন নিশা কালে?
দাসী আমি ত—কেন হও বাম ?
পুর্বক মনষ্কাম মাের।
তুমি প্রভু—আমি হে কিঙ্করী
তুমি সুৰ্য্য-আমি পঙ্কলিনী,
:.
(৩য়ী গ)
পার্থ-পরাক্রম।
তুমি মায়-আমি বটে রতি
তুমি অলাে—আমি হে আঁধার।
তুমি অলি - অমিত কুসুম
তুমি যে-মি হে চাতকী
তুমি রাজা—আমি রাণী,
কিঙ্করীরে কেন পার ঠেলিছ প্রাণেশ।
এস হে ক্ষিন সুখে ৰঞ্চি এ রজনী।
গীত।
আমি দাসী প্রেমপিয়াসী, কেন বধ, ঠেল পায় ।
কাছে এসে হেসে হেসে’ জুড়াও এই তাপিত কায় ।
ভরা গাঙ্গে ঢেউ উঠেছে বাধন ভেঙ্গে যায়,
নতুন ডালে ফুল ফুটেছে সুবাসে মাতায় -
অার সখ। দিয়ে দাগ। কঁাদাও কেন অবলায় ।
অর্জুন। (কাপিতে কঁপিতে)
অহো । ভস্ম হ'ম বুঝি।
চতুর্দিকে বিষম অনল হ’ল প্রজ্জ্বলিত,
• বাড়াইছে লক লক শিখা।
কোথা যাই-কোণ যাই ?
কে গাছ কোথায় বৃক্ষ কুর মোরে ।
ঐ-ঐ পুনঃ
হানিতে আসিছে তীক্ষ্ণ শয়।
হায়াইনু প্রাণ হারাই প্রাণ!
৭
পার্থ-পরাক্রম।
(৩য় :)
AWAA+%A
.
রক্ষায় মােরেয়কর মেয়ে।
উর্বশি। উর্বশি।
মাতা তুমি মোর
কুন্তী সম পূজি তোমা হৃদয় মন্দিরে।
ক্ষমা কর দাসে,
ঢেকে ফেল ত ল ল শিখা!
ধরি পা-ভস্মীভূত করিওনা আর।
( পাবে। আর নাহি পারি তিষ্ঠিতে হেথায়
ডুবিসা বুঝি অনন্ত নরকে।
অনন্ত জনলে যেন দহিছে পরিণ !
হে দেবে।
পিতা! পিতা! কোথা তুমি এবে ,
হের পুত্র তব অাজ,
হারাইছে প্রাণ পিশাচিনী করে।
( অভাবে) আয়ে রে পিশাচি ,
দুম হও সম্মুখ হইতে মাের।
আরে রে কামুকা! আরে রে পাপিনি।
যুগে যুগে বিস্তারিয়া কুহকের ফঁাদ,
করেছি সর্বনাশ কত মহাজনে
পাপের অতল গর্ভে ডুবায়েহিস্ কত শত জীৰে
তবুও কি মিটিল না সাধ ?
তবুও কি পাপশিখা তাের
নিভিলনা কদু।
পুনঃ কবি বা কয়,
( ৩ গ)
পার্থ-পরাক্রম।
পাণ্ডবের বাসভূমি, নহে গণিকার ক্রীড়াল,
দু-হ পাপিনি-দূরহ রাঙ্গলি-
(পুষ্পবৃষ্টি)
উর্বশী।
আরে নরাধম,
সামান্য মানব হ'য়ে এত অহঙ্কার ?
দেবকুলে কর অবহেলা ?
আইনু হেথায় আমি
পিতার আদেশে গুৰ,
নিজ হ’তে যাচিলাম রতিসুখ ।
মাতিয়া গবে সব বিদলিলে পায় ।
ভাল, উপযুক্ত ফল লত এইবার,
মৰ অভিশাপে,
ক্লীব হয়ে কাট কাল অবনীমণ্ডলে,
জলে, স্থলে, অনলে, অনিলে
ভূধর-কদয়ে কিংবা জলধি-গছে—
কোথাও না পাইবে নিস্তার
উর্বশীর অভিশাপ হতে।
নেত্ৰাসারে ভাংক মেদিনী,
হৃদয়ের শান্তি-মুখ যা’ক রসাতলে,
চিরঅস্থিরতানলে পুড় ক. পাশ,
শান্তির শতশিখা বেরুক চৌদিকে,
অনুতাপে পরিতাপে হুক জীবন।
ক) মম না হলে গন্যথা।
(ৰেণে প্রস্থান ।
৭৮
পার্থ-পরাক্রম।
( ৩ )
অর্জন।
ঘোর বিপদ তরঙ্গমালা !
এক যায় আর অাসে ;
উর্বশীর অভিশাপ না হবে বিফল,
লতিব ক্লীবত্ব এবে!
হে নিতো! অর্জুনের ভালে
আর কত লিখিয়াছি তুমি
জানিব কেমনে?
নিতান্ত নায়ক আমি,
তাই ভাগ্যে মাের অনন্ত যন্ত্রণা।
অভাগার দুঃখ-বিভাবরী
কবে যে প্রভাতা হবে
বলিব কেমনে ?
(বেগে ইন্দ্রের প্রবেশ)
বৎস রে, ধন্য তুই মাের !
কীৰ্ত্তি তব ঘোষিবে জগত
অনন্তু কালের তরে।
চিত্রসেন পাশে শুনিয়াছি সব কথা।
তাই আসিয়াছি হেথা,
করিবারে আলিঙ্গন মেয়ে।
আনন্দে নাচিছে প্রাণ আজ,
গন্ত আমি-তেঁই তুই মোর
পুত্ররূপে অবতীর্ণ অবনীতে
বাড়াইতে মান মোর।
উকট কাঞ্চন ফেলিলে অনলে
।
(৩য় গ)
পার্থ.পরাক্রম।
৭৯
হয় দ্বিগুণ উজ,
তথা তুই অজি উজলিলি ত্রিভুবন।
উর্বশীর অভিশাপে হয়োনা ব্যথিত বাপ!
হইবে মঙ্গল তায়।
ত্রয়োদশ বর্ষে, যবে বনবাসে
করিবে অজ্ঞাত বাস,
সেই একবর্ষ থাকিবে ক্লীবত লাভ’
করিবে বিবাহ।
সেই বর্ষ অন্তে ঘুচিবে ক্লীবত্ব তব।
এবে ভরে বিশ্রাম,
কল্য পাঠাইব তোম।
হেরিবারে সপ্ত-স্বর্গ।
পিতা! পিতা।
হব চরণ প্রসাদে,
কত জ্ঞান লভিল এ দাস সংখ্যা নাই তার।
অধম মানব আমি
তেঁই মেহজালে পড়ি
মঙ্গলেও জাৰি অমঙ্গল,
এলে মভূমে, পাঠাও দাগেয়ে
অাছে পাণ্ডুপুত্রগণ পথপানে চেয়ে।
মম অদর্শনে মৃত প্রায় আছে সবে
- বাছা- না কহিঃ হেল।
ভাবিও পাণ্ডব-ভাবনা।
সাসিবে লোমশ ঋষি
জন।
ইজ।
পার্শ্ব-পরাগ।
(৩য় অঃ)
কালি মম স্থানে,
পাঠাই তারে ধর্ণমা পাশে
বলিতে বারতা তব।
এবে মহকিছুকাল হেথা
লভ সব গান।
করহ বিশ্রাম এলে,
যাই শামি লভিগে বিরাম।
( দুইদিকে দুইজনের প্রস্থান)
চতুর্থ গর্ভাঙ্ক।
নিবাতকবচের প্রাসাদসম্মুখীন রায়পখ)
(ফুলওয়ালীগণের প্রবেশ )
গীত।
এমন প্রাণহরা বনফুলের মালা গেঁথেছি বাহার।
বাহবা-বাবা, বড় মজাদার।
সদ্যফোটা বনের ফুল, ছোয়নি অলি দেয়নি হুল,
(বামে) পাগল করে প্রাণ ক্ষয়ে মূল ধার
পাপড়ীতে এর মধু ঝড়ে, কত চোরা বাঁধা পড়ে,
ফুরফুরফুরফুর,
( মলয়) ছড়ায় মধু তার।
(৪র্থ গ)
পার্থপরাম।
৮১
গন্ধ পেয়ে অন্ধ হয়ে, মনচোরা ছুটছে ধেয়ে,
প্রেমেতে বিভোর
(হ’য়ে ) পরে প্রেম-হার।
{ প্রস্থান)
অর্জন।
মাতলী।
( অৰ্জ্জুন ও মাতলীর প্রবেশ)
হে মাতলি,
পিতার নির্দেশ মত,
সপ্তম্বৰ্গ যমালয় করি’ প্রদক্ষিণ
পাইলাম কালকেয়
নিবাতকবচ-দেখে।
কিন্তু কোথা সেই পিতৃদ্রোহী দৈত্যৰম ?
শাস্তি দিতে সেই পাপাচারে
নাচিতেছে অস্রোত মনীভিতরে।
হে বীরেন্দ্র।
এখনও শোন কথা মােয়।
মহাবলীয়ান নিবাতকবচ
পরাজিত দেবসেন। যাহার প্রতাপে।
একাকী তুমি দমিবে কেমনে ত’য়ে ?
এবে পাঠাও বারতা দেবেন্দ্রের পাশে
নিয়ে দেবসেন।
করিও সময় নিবাতকবচ সং।
হি - ছি তীরে।
না ভাষিও হেন!
৮
অর্জুন।
পার্থ-পৱক্রিম।
(৩য় )
মাহলি।
একে ঝল, কোথ। সেই দৈত্যাধম।
ঐ-ঐ বুঝি পার্থ !
হুঙ্কারিয়া ভৈরব নিনাদে
আসিতেছে নিদত কবচ।
হও হে প্রভূত শক্রত।
নিবতি।
(সৈন্যগণ সহ নিতকবচের প্রবেশ)
দাড়ারে দুৰ্ম্মতি মানব!
পিপীলিকামত সাধ
পাশা পেয়ে, উড়িতে আকাশে ?
যাহার তাপে স্তম্ভিত ব্রহ্মাণ্ড,
জাসিতঅন্তর সদা দেবকুল,
তঁার সনে সাধে বাদ
হীনজন্ম ধরার মানব?
অহে।! কি দুরাশা!
কে বাসনা করে পরাজিত অহি,
সামান্য শফী চাহে জিনিতে নক্রেয়ে,
মেষ চাহে শৃঙ্গ-বলে
উপারিতে দুর্ভেদ্য ভূধর!
ছি-ছি ঘৃণায় পূরিল প্রাণ।
ভুবনবিজী দৈত্যবীর নিবাতকবচ
পরাজিয়া সুরগণে
বুঝিবেক আজি রণে মানবের মনে?
এ দুঃখ রাখিতে ঠাই নাই তুমগুলে!
হারে তস্কর-হারে অধম !
মণ্ডকে
(৪র্থ গঃ )
পার্থ-পরাক্র।
*** ** **
, ''
a -
অর্জুন।
আর কিরে পাইবি নিস্তার ?
মানব-জীবন-সাধ ঘুচিল এখায়,
এখনি পাঠাব তোয়ে কৃতান্তসদন।
শোন দৈত্যাধম ।
নহে ইহা রমণী হৃদ—শুনিয়া তর্জন তাের
হইবেক ভীত।
ও সব আস্পর্ধা কেন দেখাও অর্জুনে?
হেন আস্ফালন দেখাইও
দৈত্যবালাগণ পাশে।
সুরজিৎ বলি কেন আয় কর অায় ?
এখনি পরীক্ষা হবে,
হওরে প্রস্তুত।
( উভয়ের যুদ্ধ)
মতলি, মাতাল,
বাজিয়াছে বুকে বড় শেলত !
ভীষণ, দুর্ধর্ষ এই দৈত্যৰী,
পরাজিতে নাহি পারি।
কহ এবে কি করি বিধান?
ফুৎকারে আলিলে সামান্য অনল,
ধরিলে সে গৃহবস্তু যখগরজে ভীষণ,
তথা এই দৈত্যসনে বাধাইয়ার
খটা প্রমাদ !
কই যুক্তি উপযুক্ত যেবা হয়।
বিষম ভুজঙ্গাসে :
৮৪ পার্থ-পরাক্রম। ( ৩য় অঃ) করিয়াছি হস্তক্ষেপ ! মাতলি। । হে পাণ্ডব। এই হেতু করেছিনু নিবারণ। এবে কর এক কাজ লভিয়াছ যেই অস্ত্র মহেশের পাশে মহেশে স্মরিয়া, হান সেই অস্ত্র এই দৈত্যের উপর। ইহা ভিন্ন অার যুক্তি নাই। এ মহীমণ্ডলে তুমিই সঙ্গম শুধু নিক্ষেপিতে সেই অস্ত্র পাপত। হে বিভৎস! তেঁই কহি পুনঃ, বধ সেই ভীম অস্ত্রে এই দৈত্যাধমে, রাখহ শাশ্বতঃ কীৰ্ত্তি এই ভূমণ্ডলে ? ভাল কথা করালে অরণ! হে শঙ্কর, প্রসন্ন হইও দাসে। (পাপ অঞ্জ গ্রহণ) একি বীর। ঘুচিল কি জয়াশা এবার ? ওরে মূঢ়। প্রতিফল ভরে এবার – খুড় ও পাপত পছু নিক্ষেপ ও নিবাতকচের মৃত্যু) হে অর্জন। অনুন। নিৰাত। জন। মাহলি।
(৪র্থ গঃ)
পার্থ-পঞ।
অক্ষয় কীরতি জাজ ৰাখিলে ধরায়
বিনাশিয়া এই মহাবল দেবাগ
নিবাতকবচে।
নিঃশঙ্ক হইল দেবকুল
লভিলে শাশ্বতকীৰ্ত্তি অসনীমণ্ডলে।
চল এবে বীর ,
আনন্দে সুরেন্দ্র দিযে আলিঙ্গন
তোমাহেন নন্দনের।
ধন্য ধন্য পার্থ মহারথ !
ত্রিদিবের ত্রাস আজ ঘুঢ়াইলে বাহুবলে।
যতদিন রবিশশী থাকিবে ধরায়
ততদিন পাবে তব এ বিজয় গাঁথা।
যাও ঘরে আশীর্বাদ করে দেবগণ
পাপত অস্ত্র কভু করােনা ক্ষেপণ
মানবের’পর।
নেপথ্যে ।
(পুশবৃষ্টি
মাতলি।
আশীসিছে দেবগণ,
করিছেন পুষ্পবৃষ্টি।
ধন্য তুমি বীর ধনঞ্জয়।
চল এলে ইন্দ্রপুরে।
(স্থান)
৮-
চতুর্থ অঙ্ক।
প্রথম গর্ভাঙ্ক।
( হস্তিনাপুর - রাজকক্ষ।
দুঃশাসন, শকুনি ও বিদুষক।
শকুনি। ( দুঃশাসনের প্রতি) বাবাজি হে! এই যে অতুল
সুখ-সম্পদ ইহার এখনও পূর্ণ বিকাশ হয়নি। একটু
বাকী আছে!
বিদু। হু - এক-টু-উ বাকী আছে। তা কি জান? এই
অতুল ঐশ্বর্যের আসল মূলাধার এই মামাজির পোদে
একটা ব্যাপ দিয়ে প্রকাশ্য রাজপথে বসিয়ে রাখ ;
বাবাজিকে যে কেউ টের পেলনা, এমন মাণিক কেউ
চিনলে না।
শকুনি। চুপ কর নির্বোধ ব্রাক্ষণ।
বিদু।
দুঃশাসন। পূর্ণ সুখের কি বাকী রইল মামা!
শকুনি। হা-হে বাবালি শত্রুপক্ষ যদি এইসব না দেখলাে-
তাদের চোখ যদি না বললো, তবেইতে মজাটা আর
হলোনা।
}
.
সাঃ।
(১ম গ) পাধ-পরাক্রম। ৭ বিদু। দু। শকুনি! বিদু। শকুনি । বা – বা.- বা! এইবার পূর্ণাহুতি! সােণায় সোহাগা হবে । ঠিক বলেছে মামা! এখন কি কত্তে হবে? আহা মামা! তুমি না হলে ত আর বুদ্ধি জোটেনা ! ঠিক বলেছ ভায়া ! মামা আমাদের বুদ্ধির সাক্ষাৎ ভারত মহাসাগর। মামার পেটে কতই না বুদ্ধির ছালা আছে! মামা ঠাকুর। একবার দয়া করে ছালা না হউক অন্তত একটা ছেড়া থ’লে দিলেও বেঁচে যাই। মুখ সামলিয়ে কথা বলি। : খেপ কেন মামা ঠাকুর? ঐ মহারাজ আসছেন। তাহাকে সব বুঝিয়ে বল । এরপর যা’হয় পরামর্শ দেব। '( দুর্যোধনের প্রবেশ মামা! সফল সকল কাম এবে তোমার কৃপায় । তব বুদ্ধিবলে অতুল বিভব আলি ভুঞ্জে দুর্যোধন। কিসে তুষিব তোমারে মামা, ভেবে স্থির নাহি পাই। আমার কি সাধ অর? মামার সাধতােমার ঐশ্বৰ্য্য শুধু। সুখে র’লে তুমি মামা ভাসে মুখের পাথারে। শকুনি ।
পার্থ-পরাক্রম।
(র্থঃ অঃ)
ৰিদু। আহা! মামায় এতই নিঃস্বার্থ ভালবাসা—নিত
প্রেম! মামা ঘ গৃহে নাপ্তি খালক ন দিতে,
অংতেন গন্তব্যং যথারণ্যং তথা গৃহম্। অর্থাৎ বা
ঘরে মামা বা খালা নেই, তার গৃহ ত্যাগ করিয়া বলে
যাওয়াই ভাল।
শোন দাদা,
এবে এক ভাল কথা কহিলেন মামা-
অতুল ঐশ্বৰ্য্যমুখ ভুগিতেছি মোর,
কিন্তু এ ঐশ্বৰ্য-এ বিভব
না দেখিল শত্রুপক্ষ;
এবে করি’ যুক্তি কামাসনে কর বিধান,
মোদের সম্পদরাজি
দেখাইতে পাণ্ডবেয়ে।
দুৰ্যো। ধন্য মামা তুমি!
উত্তম প্রস্তাব করিয়াছ মামা।
কই এবে কিরূপে হইবে
উদ্দেশ্য সফল?
শকুনি।
শোন বাছা গম উপদেশ।
নিলে এসব কথা অন্ধরাজ
নিশ্চয় ঘটাবে বাধা।
এবে পাব সকল
কামালনে করিছে বসতি,
স্কুরে ফিরে প্রভাস তায়েতে।
মোযাত্রা—শান্তের বিধান
{ ১ম গ) পার্ধ পরাক্রম। ৮৯ রাজার কর্তব্য সদা । ঘোষবালা কথা বলে অন্ধকাজ পাশে চল গবে প্রভাসতীর্থেতে ইয়ে সবারে। নবনাবী অনুচর আছে যত কৃপয়ে 'য়ে সবে কর যাত্রা। সিদ্ধ হলে না। তব। নালি বুদ্ধি মামা। হে বম যাও তুমি- কুপুরে ঘরে ঘরে এ স দ ক বিঘোষিত অবশষে এই টেরা বার ভাব ? ৬ লে' । জামা ঘাড়ে। তথাও মজা -'তবে আ'ম । । *দব্য পর্ণকৃ•*-৯। দুর্গা ? গা। । বিষয়ক প, মাম।। নাচছে। খাল অ'হ্য কি পা , মামা ২াটাইশ থাক। না রহিলে তুমি মুহর্তেই টককৃশ যার বাতশ । দুঃশাসন। জাও সৈনিকগণে কই স1 কুরুপুর- ধনবন্দ্র অলঙ্কারে হতে বিভূষিত । যাই-অামি পিতার মনে
পার্থ-পরাক্রম।
(৪র্থ অঃ)
s
ইবারে অনুমতি।
( দুর্যোধনের প্রস্থান)
মামা চল তবে,
ইচ্ছা হয় কঁাধে নিয়ে তোলা
নাচি নিশিদিন ।
চল এবে করিগে উদযোগ।
( প্রস্থান)
.
দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক।
( বিদূষকের বাটীর সম্মুখ।
( তীর্থযাত্রী-রমণীগণের প্রবেশ)।
গীত।
আমরা তীর্থে যেতে সেজেছি।
পরিয়ে গেড়য়া বসন, ত্য’জে ভূষণ
ঝুলী কঁাধে নিয়েছি।
এটেছি কোমরে বাঁধ, আর কভুনা পাতবো ফাঁদ
টিপ্ না কেটে, ঐ ললাটে, গঙ্গামাটা দিয়েছি।
ছেড়েছি মুচকি হাসি, প্ৰেমফাঁসি .
তুলসী মালা লয়েছি।
চাইবনা আড়নয়নে, গুরুনাম ক্ষছি মনে,
জোছনালোকে, ফুলবাগানে, যাবনা দিব্যি করেছি,
(২য় খঃ)
পাখ-পরাক্রম।
'
এখন জয় রাধে রাধে ব'লে
তপস্বিনী হয়েছি।
( লাঠী হাতে বেগে বিদুষকে প্রবেশ)
বিদু। দাড়া মাগীর দাড়া! অজি লাঠিয়ে তীর্থ যাত্রার মজাট।
দেখাবো। (লাঠী হাঁকান)।
রমণীগণ। ওলে। বামুন খেপেছে। চল্ ছুটে পালাই।
(নারীগণের প্রস্থান)
বিদু। অপি গেল। আমার বাড়ীতে যেন বিয়ের নূতন
ৰয় এয়েছে! দিন নেই, রাত নেই, কেবল বেটা আর
বেটীরা অাছে অার যাচ্ছে। জ্বালাতন করে খেলে !
এ বলে আমায় নিয়ে যাও, ও বলে আমায় নিয়ে যাও
অামি যেন সবার বৈতরণীর ষাড় ! ( সচকিতে। ওটা
অাবার কে ? অ্যাঃ-
( গাইতে শ্রীহট্টদেশীয় জনৈক তীর্থযাত্রীর প্রবেশ )
গীত।
(ওরে) ছনা বাই, খে খেযোবি থীৰ্ত পরিতে,
রাজার সইঙ্গেণে।
জুয়ান,বুরা,মাইয়া, ফুত, চুর,চুট্টা,আর হাদুর সুত,
খারুর মানা.নাইকো যেতে।
লাগবেনা বাই ঠাখা খরি, খাইতে ফাবে ফেট বকি,
হাদুর সঙ্গ ফারবি খত্তে।
৯২
পার্থ-পরাক্রম।
(৪র্থ অঃ)
১০
তীর্থযাত্রী। ঠাখুর খা! ফেরাম খরি। সইঙ্গে পরি গর্তে
লইয়া যাইবেন নি ?
বিদু। কি জালা! কোথাকার মরা কোথায় এসে মরে।
ভী- যা। ঠাউরখত্তারে অত রাগ দেহা যায় খেয়ে।
বিদু। তা’ তীর্থে যেতে হয় যাবি, এখানে মত্তে এলি কেন?
তী-ব। খায় তো মহারাজের মধু বান্দৰ -- এহেৰারে
ইস্থানের ঠেকা। ধৰ্তার দয়া অইলেই তাে গরীব বাই
যায়। থান্ধ মনে খইলে খিনা অইত ফারে? খৰ্ত্তার মনে
ইল্পে আশীবছরে বিয়া অইত ফারে, জাতি ব্যাট উইড
যাইথ ফারে, গরের মাউগে বা ডাথে। ফারে, বিধবার
ছাইলা অইথে। ফারে, এই গরু আইলে শা’ ও ফাওয়া
যাইথে। ফরে।
বেরহ বেটা ছিলোটে ভূত! বেরহ এখান থেকে।
তী-ষা। থা, ছিট্টা ভুত থইয়া অথ ছােট ফাট, খয় খেরে।
আমাগো ছিলট্ট খি একঠা খম্ দ্যাশ এহন পো খলিখল
ফড়বে; খলিখলে যে বাঙ্গলা দাশ পর্যন্ত দীরে ধীরে
আমাগো ছিলই সামিল স্পাইয়া আসামে যাইবে। ছিল
হিলটী বইলে ঠাট্টা খর, আর রাজা রাখা খমল খাওয়ার
বেলায় খাে খুব ফার!
যিদু। (গ) কি গেয়ে! ( প্রকাশ্যে )
এখন। তোকে নিয়ে যাবো।
তীযা। এইবার খর্ত। ফতে আইসা। আমরা অনেক
অমেক দ্যাশ গুরি, ডের ডের সুখ দেহি।
বিহু।
(২য় :) পার্থ-পরাক্রম। Wh, F বিদু। বিদু। রলে পেলেম! বাম দিয়ে জ্বর ছাড়লো। “পড়িলে ভেড়ায় শৃঙ্গে ভাঙ্গে হীরার খার ব্যাপার কিন্তু সেইরূপই হয়ে উঠেছিল। ঐ আবার আসছেন গিন্নী, জাবার না। জানি কোন কৈফিয়ত দিতে হয় - (ব্রাহ্মণীর প্রবেশ) ব্রাহ্মণী। ওগো, আমিও যাব। বিন্দু। জামলো মাগী। তুই আবার কোথা যাবি। ব্রাহ্মণী। কেন রাজার সঙ্গে তীর্থে । বিন্দু। ওলো, ণ-প্রেয়সী! তা কিছুতেই পারবোনা। ব্রাহ্মণী। কেন? ও শাবা! সেথা লােকের যে হুড়োহুড়ি, দৌড়াদৌড়ি। অতবড় গেলে তোকে ত সবই তিল তিল করেই চুয়ে ফেলবে; শেষে কি আমি উত্তরী গলায় দিয়ে, গায়ে ঘরে ফিরবো ? ব্রাহ্মণী। না-আমি যাবই। তুমিকেন নিষেধ কচ্ছে! আঁা - আঁা - অ (জন) শাঃ! কি বেতালা বেসুরো গংলা পাহাড়ী ধ্রুপদ চৌতাল মিশ্রিত বক্ আওয়াজ ! ভাত গুলো ও যে হজম হবেনা? ওগাে, খাম গো থাম। তােমার চরণে ওবৎ , একবার থামাে। ব্রাহ্মণী। তবে বলো, জামায় নিয়ে যাবে! বিহু। গিন্নি, ঘরে বসেই ঢের পুণ্য সঞ্চয় করে, আবার এমের বের হতে চাও কেন? পুণ্য কে শেষে ফারিত হয়ে পড়বে। বি।
১৪
পার্থ-পরাক্রম।
(৪র্থ অঃ)
ব্রাহ্মণী। -যাবোই।
বিদু। একান্তই প্রাণেশ্বরি, যাবে যদি যাও! (গ)
তীর্থের নামে মাগীগুল যেন ক্ষেপে উঠে । ( প্রকাকে।
তা, জিজ্ঞেস করি বামনী ঠান। তীর্থেত যাবে,
এখন গেল! পাই কোথা? এ হেন বপু ধরে, এমন
দোলা তো আর ফরমাস না দিলে মিলবে না।
অাচ্ছা দেখ, নাগরদোলায় বসে যেতে পারবে কি?
ব্রাহ্মণী। কেন, তুমি কাঁধে নিয়ে যেতে পারবে না।
বিদ। তা মানিনীরা অনুমতি করূলে কঁাধে কেন, অজি
কাল কার দিনের মিন্সেরা মাথায় করে নিতেও প্রস্তুত।
তবে সােনার চাদ, এ গরীব সে বিষয়ে কিছু নাচায় ?
তাহলে যে পাষাণ চাপা হতে হবে। একেবারেই কংশ
বন্ধ!
ব্রাহ্মণী। তা’ যাক। অচ্ছিা রাজবাড়ী থেকে কে কে যাবেন ?
বিদু। একবারে কাঠাম শুদ্ধ সব! কুকুর বেড়াল পর্যন্ত।
ব্রাহ্মণী। তবে যে দেখছি ব্যাপার বিরাট!
বিদূ। কাঠুরেরাও ভয়ে কাটছে কাঠ।
ব্রাহ্মণী। কেন ?
বি। আরে বােকি। তাৰ্থ হ'তে কি আর সকলেই পুণ্যেয়
জাহাজ নিয়ে সজ্ঞানে সশরীরে ফিরবেন। তবে আর
তীর্থের মাহাত্ম্য কি, যদি না বললে চিতের বি ? এক
একটা তীর্থযাত্রা পড়ে, আর চিত্রগুপ্তের খাটুনি বাড়ে।
কু, এখন চল- ৰেচল। ঝামটাম দিয়ে শরীরটা
( ৩য় পঃ )
পার্থ-পরাক্রম।
১৫
WA
মে’জে গুজে সব ঠিকঠাক করগে। আর আমিও একটু
খাটে পড়িগে।
( এস্থান)
তৃতীয় গর্ভাঙ্ক।
(প্রভাস তীর্থ)
( তীর্থযুবতীগণের প্রবেশ)
গীত।
চলো ধেয়ে আসি নেয়ে গাঙ্গের কিনারায়,
ঐ দেখ জোয়ার বয়ে যায়।
উজান বেয়ে লাগে তরী ঘাটের কিনারায়,
বিষম লেঠা জুটবে লো সই ঘটবে শেষে দায়,
ওলাে হনহনিয়ে আয়।
ভরা কলসী নিয়ে কাকে জল ছুটে আয়,
মিশের সব হা করিয়ে মুখের পানে চায়,
ওলো হনহনিয়ে আয়।
কুলবধূ নদীর কূলে জল আনিতে যায়,
ঘােমটাতলে খেমটা নেচে আড়নয়নে চায়,
ছি-ছি-লজে প্রণযায়—লো হহনিয়ে আয়
( প্রস্থান)
(চিত্রসেন গন্ধর্বের, উদ্যানরক্ষক ও রক্ষয়িত্রীগণের প্রবেশ।)
স
পার্থ-পরাক্রম।
(৪র্থ অঃ)
১ম রক্ষয়িত্ৰী। হা ভাই! সেই গানটা গানা?
২য় রক্ষয়িত্রী। কোনটা?
বুক। ঐ যে কাল, গেয়েছিলি-লালটুক টুক”
গীত।
অন লাল-টুক-টুক লাল-টুক-টুক মুখে আঁখির ঠার
হে’নে কেন কেড়ে প্রাণ নিচ্ছ বঁধু অার ?
হেলে দুলে, লহর তুলে, উজান চলে যাও,
অমন করে কেন বঁধু অবলা মজাও,
প্রেমের গাকে, লুকিয়ে, খে'কে কত না কাদাও
(আবার) হেচকে টানে, টেনে প্রাণে, হান ক্ষুরধার
রক্ষক। মেরে ফেল খান।
( গাইতে গাইতে গান )
{হৰ্য্যোধন, দুঃশাসন, শকুনি, কর্ণ প্রভৃতি বেশ)
দুর্যো। হের ভাই, হের হে মাতুল,
কত সুখে মাতি’আজ
বিরাজিছে কৌরবনিকর
এ এভাসে।
দেখিহে পাণ্ডবগণ ঐশ্বৰ্য্য মােদের।
অহো! সেই রাজসূয় কথা
এখনও মনে আছে সাগরুক।
অাজি রতিশোধ তার।
(৩য় গ)। পার্থ-পরাম। ৯৭ উঃ রক্ষক। দুর্যে। (উদ্যানরক্ষকের পুনঃ প্রবেশ) মহারাজ, বিরাজিছ তুমি যেই স্থানে শ’য়ে কুরুদণ, যটে ইহা চিত্রসেনের উদ্যান। তব পার্শ্বচরগণ করিতেছে ছিন্ন ভিন্ন সব। তেঁই কহি ত্যজি’ এইস্থান যাও স্থানান্তরে! তব মঙ্গলের তরে করি সাবধান। ওরে ধৃষ্ট। কাহারে দেখাও ভয় ? কা’র ভয়ে ত্যজিব উদ্যান ? পালাও দুৰ্ম্ম খ হেথা হতে, নলে, পাবে শাস্তি যথোচিত। (উদ্যানরক্ষকের প্রস্থান) মহারাজ! আজি সার্থক জীবন! উন্মত্ত, দাম্ভিক পাণ্ডুপুত্রগণ আজি পাইয়াছে প্রতিশোধ! এ জয়েই হেথা আসা; শত্রু যদি নাহি দেখে আপন বিব, তবে সে বিভবে ধিক। কর্ণ। শকুনি।
পার্থ-পরাক্রম'। (৪র্থ অঃ) '' বি। বিন্দু। নারীর যৌবনে কিলা ফল যদি নাহি দেখে পতি? শোন কোলাহল হতেছে বাহিরে, উঠিছে বিষম রোল! দেখ অগ্রসরি, কি ঘটিল উদ্যান মাঝারে। ( বিদূষকের প্রবেশ সর্বনাশ! সর্বনাশ! কেবল ধছে অার বঁধছে গো, কেবল ধরছে আর বঁধূছে। ওগো, কি হবে গো! কোথায় যাব গো। ও! ও! কি হয়েছে বল ত্বরা করি? ওগো! সৰ্ব্বনাশ গো! সর্বনাশ! কতকগুলি গন্ধর্বসেন। এসে মেয়ে, বুড়, বালক সবাই কে ধছে আর বাঁধছে, ধরছে আর বাঁধছে! ওগো। কি হবে গাে! ওগো আমার গিন্নী কোথা গো! সে বুঝি নেই গাে নেই। বুঝিলাম, গন্ধর্বের বনে সৈন্যগণ করিল উৎপাত, তাই তারা আসিতেছে লতে প্রতিশােধ! বীরগণ! সাহ সকলে কর গন্ধৰ্বেয়ে দণ্ড সমুচিত। ( চিত্রসেনের শৈয়গণসহ প্রবেশ) এই যে এই যে দুৰ্যা। চিত্র
(৩য় : )
পার্থ-পরাক্রম।
৯
।
মস্তিগণ রয়েছে হেথায়।
সৈন্যগণ,
বধ পাপাচার গল্পে।
কর শান্তি যথোচিত।
(যুদ্ধ ও গন্ধ সেনাগণ কর্তৃক
কৌরবগণের বন্ধন)
বিন্দু। ওরে বাবারে! ও গিন্নি! ওমা তুমি কোথায় রইলে গো ।
ওগো আমারে বেঁধােনা গো বেঁধােনা! আমি তোদের
বুড় বাবা ! হায় হায় ! কি হবে গো ! এইবার তো
মাত্র বন্ধন? এরপরই তাে মস্তশুল! আঃ অত জোরে
কেন? হাতে বড় লাগে যে! কোথাকার ছােট লোক।
(সকলকে বঁধিয়া গন্ধর্বগণের প্রস্থান)
( অপর দিক দিয়া যুধিষ্ঠির ভীম ও
অর্জুনের প্রবেশ ।
ভাই ভীম! ভাই অর্জুন।
পড়িল বিষম কোপে
কৌরব সকল।
ভুলে যাও শতাব এৰে
বিপদে কৱহ রক্ষা কুৰুভ্রাতৃগরে ।
অবিলম্বে যাও সবে
বিলম্বে ঘটিলে পরমাদ।
(সকলেৱ স্থান)
(বেগে চিত্রসেনের প্রবেশ).
উপযুক্ত শাস্তি এবে
০
চিত্র।
পার্থ-পরাক্রম। (৪র্থ অঃ ) দিব পাপিগণে। ঐশ্বৰ্যগরবে হইয়ে গর্বিত, দেবদ্বি সৰে করে অবহেলা দস্তি দুর্যোধন। ( ভীমার্জুনের প্রবেশ হে গন্ধর্বয়াৰ চিত্ৰসেন, এবে শােন অনুরােধ পণ্ডিসের ছেড়ে দাও কোরবনিকরে অর্জুন। কর কম সব অপরাধ। চিত্র। কি আশ্চর্য! একি কথা কহ ধনঞ্জয়! অর্জুন। মন অপমান-সব কিহে দিলে জলাঞ্জলি ? পাওসের চিরশত্রু কোরবনিকর সে কৌরবতরে করিতেছ অনুরোধ মেরে ? ধিক্ হানজন্ম মনুষ্যনিকরে ! শোন চিত্রসেন, যদিও কোরবগণ শত্রু পাণ্ডবের, তবু তারা রক্তমাংসে বাধা একত্রিত পাওয়ে সনে। বিপদে অাপন জনে কম পরিত্রাণ- শাস্ত্রের বিধান। মধুপােকাগণ আপনা আপনি
( ৩য় গঃ )
পার্থ-পরাক্রম।
কয়ে কলহ নিশি দিন,
চিত্র।
ভীম।
কিন্তু বহিঃশত্রু অাক্রমণে
সবাই একত্র হয়ে করে প্রাণপণ ।
তেঁই মােরা জাসিয়াছি
রক্ষিতে কৌরবে।
(স্বগতঃ ) অহো কি উন্নত হৃদয়।
এজন্যই যুধিষ্ঠির “পুণ্যশ্লোক” ভবে ।
(প্রকাশ্যে ) অপরাধী বলি’
বঁধিয়াছি কুরুদলে
না করিয়া শাস্তির বিধান,
পারি ছাড়িতে কভু।
ভাল নাই কিরে মনে বাস ?
এখনও বলি,
যদি নিজ হিতাশা কর চিত্ৰসেন,
ছেড়ে দাও কুরুগণে।
অত ভঙ্গি দেখা কাহারে ভীম, ?
ও ভয়ে না হবে ভীত চিত্রসেন।
যদি সাধ অস্ত্রবিনিময়ে
কুণ্ঠিত তাহাতে নহি কভু।
না ছাড়িব কুকদলে।
থাকিলে শকতি, নই,
যুঝি মোর মনে!
রে দম্ভি! রে বর্বর !
গৰ্ব তোর চুর্ণিব এবার,
চিত্র।
ভীম।
পার্থ-পরাক্রম।
(৪র্থ অঃ)
ইওরে প্রস্তুত।
যুদ্ধ ও সকলের প্রস্থান)
(একদিক দিয়া যুধিষ্ঠির ও অপর দিদিরা ভীমার্জুন ও
দুৰ্য্যোধন, শকুনি, বিদূষক ইত্যাদির প্রবেশ)
অর্জুন। দাদা,
অাজ্ঞা তব করেছি পালন।
মুক্ত এবে কুরুদল।
যুধি। ( দুর্যোধনের প্রতি)
এস ভাই করি আলিঙ্গন।
পাইলাম নবীন জীবন
হেরি তোমা সবে।
যাও ভাই নিজস্থানে,
যাই মােরা এবে।
( যুধিষ্ঠির ও ভীমার্জুনের প্রস্থান)
দুৰ্য্যেধন। অহো! কি অপমান।
সহ নাহি হয় আর।
বনবাসী হয়ে,
এখনও যেন মহানুধে
কাটাইছে কাল।
হিংসানল-হিংসানল
জ্বলিল হৃদয়ে দাউ দাউ করে।
শকুনি। বৎস, আর পরিতাপে কাজ নেই।গলায় কাটা
ফুটলে, বেড়ালেরও পায় ধন্তে হয়। চল এখন, মামা বেঁচে
থাকলে এর বিধান হবেই হবে। তবে দায়ে পড়ে যে
.
( ৩ গ)
পার্থ-পরাক্রম।
বরটা দিতে হ’ল এই বড় দুঃখ।
(বিদূষক ব্যতীত সকলের প্রস্থান।)
বিদূ। মারো ধরো ভালো মাথা, তবু না যাবে বেড়ালের
বড়াইর কথা ! মামালি কুরুবংশটাকে চিতার ছাই না
বানিয়ে আর ছাড়বেন না ! যম এত লােককে ধরে টানা-
টানি করেন, কিন্তু শকুনি যেন তার কাছেও মৌরসি পাট্টা
নিয়েছে। মা জগদম্বা। একবার কৃপা করগাে-জোড়া
মােষ দিয়ে পূজো দেবো। বাবা, আয়জন্মের কোন
পুণ্যের জোর ছিল, আর মাগীরও কপাল ভাল, তাই
রক্ষেট। পেলেম। নচেৎ তীর্থদর্শনং-কুললক্ষণং ব্যাপার
‘শূলারােহণং ব্যাপারে পরিণত হতো! না জানি কোন
গণ্ডমূখ ব্যবস্থা লিখেছেন “আচারে। বিনয়ে। বিদ্যা প্রতিষ্ঠা
তীর্থদশনৎ, নিষ্ঠাবৃতি স্তপোদানং নবধা কুললক্ষণং”-নেহাত
অৰ্বাচিনের কথা! আরে আজকালের প্রকৃত কুলীনের
লক্ষণ হলো “অলসতা পেটুকতা আইবুড়ো মেয়ে গৃহে
রক্ষণং, বহুবিয়ে দস্তখতবিদ্যে শশুরথুহে তিষ্ঠন, পিতাপুত্রে
ভায়রা-ভাই সম্বন্ধের বন্ধনং, বেশ্যাবৃত্তি মদ্যপানং নবধা
কুললক্ষণং। তা’যাক মামজির এখনও কুলীনত্বের অনেক
লক্ষণ ফলাতে বাকী অাছে। তা’ফলাতে হয় ফলাও,
অামি অর না। খুব তীর্থযাত্রা হ’লনাকটা আর কানটা
নিয়ে যে ফিড়ে যেতে পারলুম ইহাই যথেষ্ট। আর মাগী
-তীর্থের নামে লাফিয়ে উঠেছিল-বারণ করলুম তবু
শোনলেন; এবার বাড়ী গিয়ে শ্যালীকে ঠেঙ্গাতে ঠেঙ্গাতে
বাপরে বাপরে ক ছাব, তবে ছাড়বাে !
(বিদূষকের প্রস্থান)
।
১০৪,
পার্থ-রাক্রম।
(৪র্থ অঃ )
চতুর্থ গর্ভাঙ্ক।
(বিদুরের বাটা
কুন্তী।
গীত।
ওমা দুর্গে দুঃখহরা, বিপহর। তারা,
এই কি বিধান কলি মা।
মায়ের কোল খানি, করে গো মা খালি
রত্নগুলি কই নিলি মা।
কি দোষে দাসী, দোষী ও চরণে
কেন বা বঞ্চিত কলি পুত্রধনে
হইয়ে পাষাণী, পাষাণ-নন্দিনী
এত দুঃখ দিলি মা।
হৃদয়ের জ্বালা, বলিব কেমনে,
কিছু কি গো ওমা পশেনা শ্রবণে
ভেসে গেল ধরা নয়নের জলে,
তের, প্রাণ কি মা গলেনাঃ-
বড় ব্যথা পেয়ে ভকি গো-মা তোরে
বড় দুঃখ পেয়ে কঁাদি গাে কাতরে,
মা হয়ে মায়েরে, কেমন করিয়ে
চরণে ঠেললি ।
==
। =
(৪র্থ গঃ)
পার্থ-পরাক্রম।
কুন্তী।
ঘোর অন্ধকার!
কিছু নাহি যায় দেখা!
হৃদয়ের অন্তঃস্থল হতে ফুটি’ এ আঁধার,
বেলিরে চারিদিক।
আঁধার পরাণ, আঁধার ভুবন,
আঁধার হয়েছে দশ দিশি।
শূন্যে শূন্যে মিশি সে আঁধার
ছুটিছে অনন্তে!
কোপা যাই-কোথা যাই ?
অন্ত নাহি পাই-অন্ত নাহি পাই।
ওকি ? ওকি ?
অসংখ্য বিজলী ছটা একত্রিত হয়ে
ছাইল অম্বর-ধাধিল নয়ন ?
নিবিল দামিনী ছটা পুনঃ আচম্বিতে,
আঁধার-আঁধার পুনঃ
কিছু নাহি যায় দেখা,
কিছু নাহি ষায় দেখা।
( অন্যভাবে।
ধবীর যুধিষ্ঠীর,
মহাবল বৃকোদর,
ভুবনবিজয়ি- ধনঞ্জয়-পুত্র মম !
সপত্নী-তনয় নকুল সদেব
বীর চূড়ামণি-বলি বিখ্যাত ধরায়।
এ হেন পাঁচটি রতন
পার্থ-পরাক্রম। (৪র্থ অঃ ) উজলিত মাের হৃদয় মন্দির, হাসিত পরাণ, হাতিরে মনঃ, হাসিত সংসা-নাচিত গত, বিভাসিত ছিল সব হা’দের অালােকে। এগবে গরবিনী কুন্তী নিশি দিন, এ সুখে নাচিত নিত্য কুন্তীর হৃদয়। কিন্তু কোন্ শাপে? কোন্ পাপে। না জানি বিধাতা ভাসাইলা অভাগীরে দুঃখের পাথারে! পাষাণ-পাষাণ হৃদয় মোয়, তাই এখনও বহি দেহ ভার। সুখশয্যা’পরে-সুখস্বপ্ন হেরি যাপিতেছি বিভাবরী আমি; অার ছাগণ ? . অহো ফেটে যায় বুক। ফেটে যায় প্রাণ। অার মালা সহেনা পরাণে, কাদিতে না পারি আর রােধে কণ্ঠস্থল। রাজভোগে যারা কাটাইত কাল, ইন্দ্রপুরীসম হাতলে পাকি, ভূতলের ইপ লতিল যাহার তারা কিনা অঙ্গ- ভয়াবহ কানন-কলরে, ",
(৪র্থ গ)
পর্থি-পরাক্রম।
তৃণশয্যাতলে-খেয়ে ফল মূল
কাটাইছে কাল।
নিতান্ত নারকী আমি
নিতান্ত পাপিনী আমি,
তাই মাের পাপে, এ দুর্গতি বাছাদের কাজি।
হায়! হায়! কোথা যাই
কোথা গিয়ে জীবন জুড়াই!
পথ নাই! পথ নাই।
পুড়ে গেল পুড়ে গেল প্রাণ।
দগ্ধ হনু বুঝি, দগ্ধ হনু বুঝি।
লোকে পুত্র চায় কত অাশা করে
ইহলোকে—পয়লোকে
মুখ ভুঞ্জিবরে-
কিন্তু হায়!
পুত্র সত্বে পুত্রহীনা আমি,
হইলাম কাঙ্গালিনী ভবে !
কে বুঝিবে দুঃখ মাের ;-
पमानना
কোথা গিয়ে জুড়াইব হায়!
গীত।
অামার এই প্রাণের ব্যথা,
কে-রে বুঝিবে বল।
তাপিত পরাণে মোর, কে ঢালিবে শাম্ভিল
র্থ-পরাক্রম।
(৪র্থ অঃ)
এ জীবনের সাধ ঘুচিল ঘুচিল মাের,
জীবন মরণ মোর সকলই সমান,
অনাথিনী বলে, কে লইবে তুলে
মুছাবে কে আঁখি-জল।
ঘোর দাবানল জলিল চৌদিকে,
বাড়াইছে দীপ্তশিখাল ল ল !
জ্বলিতেছে দাউ দাউধক ধক ধক!
ভস্মীভূত হইলাম বুঝি ?
বাগণকোথা তােরা এবে ?
মরিল দুঃখিনী জননী জাজ
ঘোর দাবানলে!
এস বাগণ-এস দুঃখিনীর প্রাণ
একবার বক্ষে করি’ জুড়াই জীবন
কই? কেহ নাহি হইল সদয়,
গলিলনা কাহারো হৃদয়,
পুত্রহারা জননীর নয়নের নীরে !
*দিলনা কারো প্রাণ দুঃখিনী দুখে!
যাই-যাই!
আর, এ পাবে কিবা কাল ?
নিবাই অনলরাশি
জাহ্নবীর নীরে-
(গগনোদ)
(৫ম গঃ ) পার্থ-পরাজ।
দৈববাণী।
কোথা যাও উন্মাদিনি, শান্ত কর মন।
আত্মহত্যা মহাপাপ জান না কি সতি।
ক্ষণজন্মা পুত্রগণ তথয়ার মঙ্গল,
বঁধা যাহাদের পাশে ভকতির ডোরে
আপনি শ্রীহরি ।
কেন তাহাদের অমঙ্গল চিন্ত কারণ?
তেঁই কহি ধনি, সাধিও না তাহাদের
অমঙ্গল কভু।
ৰাও ঘরে দুঃখরাশি হইবেক দূর,
ধন্য হবে এ ভারত পুত্রধনে তব।
কুষ্ঠী।
অহে! সম্মুখে গীবত বাধা
দহিতে আবায়।
(বেগে এনি)
পঞ্চম গর্ভাঙ্ক।
( কাম্য বন)
শ্রীকৃষ্ণ।
এত দিনে পুর্ণবল পাণ্ডবেরা।
ইচ্ছ। মম হইবে পূরণ হয়।
সফলকাম হইয়াছে ধনঞ্জয়,
লতিমাহে দিব্য অলি,
পথ-পরাক্রম।
(৪র্থ অঃ)
এতদিনে ঘুচিবে ধরার ভার,
ধ্বংশ হ'বে তুরুকুল;
বাজিবে ধৰ্ম্মের ডঙ্কা-
লীলার মাহাত্ম্য মাের হইবে এচাম ।
ৰাই এবে,
দেখা দিয়ে পাণ্ডবনিকরে
করি গিয়ে শা িদান।
সাহ।! পাওবের সহবাস
বড়ই মধুর মাের,
গােলোকেও এত মধু নাই।
ঐ ঐ বুঝি আসে
পাণ্ডুপুত্রগণ।
যুধি।
( যুধিষ্ঠির ও ভীমার্জুনের প্রবেশ )
হে মুরারে,
এত দিনে দাসগণে পড়িল কি মনে?
ভুলিয়ে কি ছিলে নখ দুর্ভাগ্য পাবে?
হে মাধব, মগতের সব কষ্ট
পারি মহিবারে অবহেলে,
কিন্তু তব বিরহের জ্বালা
নাহি সহে প্রাণে।
এ কি কথা কহ ধৰ্ম্মরাজ?
কৃষ্ণ কি পাব ছাড়া পারে রহিবারে ?
কি এক মােহন বাঁধে বেধেই তোমরা,
তাই পিড়য়াছি বাধা,
(৫ম গঃ
পার্থ-পরাক্রম।
ধরিয়েছি নাম পাণ্ডবের সখা।
অর্জুন।
-
সখা হে,
পাণ্ডবের সখা ব'লে কিহে
হরেছিলে তব তেজ আমা হতে
কিয়াত-সমরে ।
তেঁই তুমি পুর্ণ কাম জাজি।
চিরস্থায়ী কীৰ্ত্তিস্তম্ভ
স্থাপিলে মহীতে।
না হরিলে বিষ্ণু তেজঃ
সৃষ্টিখানি যে’ত বসল।
পূর্ণব্রহ্ম নারায়ণ তুমি,
অনন্ত মহিমা তব,
রং তোমার বোঝে সাধ্য কার ?
হে মঙ্গলময়,
সর্বকাৰ্য্য তব মঙ্গলনিদান
কৃষ্ণ
ধরাতলে।
এবে দীননাথ,
বাঞ্ছা মম এক জাগিছে হৃদয়ে
পুরানে কি দয়া করে দেব?
কহ ধৰ্ম্ময়া,
কি বাঞ্ছা তোমার।
মনোয়খ তব করিব পূরণ।
বাংকল্পতরু সম্মুখে যাহার,
... তা'র কি আর অন্য বা
মুধি ।
১১২
পার্থ-পরাক্রম।
(৪র্থ অঃ)
থাকয়ে হৃদয়ে?
এবে এই মাত্র বা মনে-
যাহাদের কৃপা বলে
অর্জুন আমার লভিল অক্ষয় কীর্তি
ধাদের করুণা বলে হয়ে বলীয়ান
ভাই মোর উতরিল বিপদ-পাথার,
তাদের মােহন মুর্তি দেখিবারে সাধ
হৃদয়ে আমার।
করুণা নিদান, দেখাও করুণা করে
এক স্থানে—একাধারে
লক্ষ্মীনারায়ণ আর হাপার্বতীরে,
হেরিয়া ঘুচাই সব ভবের জঞ্জাল।
ধর্মবীর,
তববাঞ্ছা পূব এবার
জপ ইষ্টদেবে হৃদয় মন্দিরে,
হের ওই
(কৃষ্ণের প্রস্থান)
পট পরিবর্তন।
(উজ্জ্বল দৃশ্য )
লক্ষ্মীনারায়ণ ও হর পার্বতী।
দেবদেবীগণ।
গীত।
নমো দামােদর নমো পীতাম্বর
কাবীকেশ জনার্দন।
৫.
দেবগণ।
(৫ম গঃ)
পার্থ-রাক্রম।
দেবীগণ। নমো নারায়নি পতিত পাবনি
কেশব হৃদিরঞ্জন
দেবগণ। নমো ব্যোমকেশ মৃড় কীৰ্ত্তিবাস
বিরূপাক্ষ ত্রিলােচন।
দেবীগণ। নাে হৈমবতি অপূর্ণ। পাৰ্বতি
দেহি গাে অভয় চরণ।
দেবগণ। বাসুদেব গোবিন্দ
ধরাভার হারী
দেবীগণ। (রা) শ্রীহরিপ্রিয়ে পালিয়ে
নমো নমো ক্ষেমঙ্কর।
গঙ্গাধর ভূতেশ উমেশ ধূর্জটি
দেবীগণ (গৌরি) শিবানি উমে হররমে ।
নমাে নমো ভগবতি।
দেবগণ।
দেবগণ। নমে। নারায়ণ বম্ বম্ হর
বলরে ভরিয়ে বদন।
দেবীগণ। কেশব মােহিনী বল কাত্যায়নী
লাইযে দূরে শমন।
যবনিকা পতন।
No text on this page.
কুৰুক্ষেত্ৰ-কলঙ্ক। [ কাব্য ] শ্রীকালীভূষণ মুখোপাধ্যায় বিরচিত। উড়িষ্যা বিভাগের ভূতপূৰ্ব্ব কমিশনার, বঙ্গের সু প্রসিদ্ধ লেখক, স্বনামধন্য শ্রীযুক্ত রমেশচন্দ্র দত্ত সি, আই মহাশয় বলেন- “আপনার” কুরুক্ষেত্র কলঙ্ক” কাব্যখানি সুন্দর হইয়াছে। চিরস্মরণীয় মধুসূদনের অনুকরণ বড় সহজ নহে, তথাপি আপনি সে ছন্দ রচনায় বেশ প্রতিপত্তি লাছ করিয়াছেন। বিশেষত আপনার ছন্দ অতি সরল ও সহজ, পড়িয়া পরম আনন্দ লাভ করিয়াছি ।* কলিকাতার সাহিত্য সভার সেক্রেটারী, টাকার বিখ্যাত জমিদার শ্রীযুক্ত রায় যতীন্দ্র নাথ চৌধুরী এম, এ, বি, এল, বলেন : “আমি পুস্তকখানি যত দুর পড়িয়াছি তাহাতেই উহার ভাষা এবং রচনা নৈপুণ্য দেখিয়া বিশেষ আনন্দানুভব করিয়াছি। গ্রন্থের বিষয়টি মহাভাৱতমূলক সুতরাং সুপরিচিত হইলেও আপনার লিখন কৌশলে “কুরুক্ষেত্র কলঙ্ক” নুতন আকার ধারণ করিয়া সকলের চিত্তাকর্ষক হইবে বলিয়া বিশ্বাস করি।” কলিকাতা হাইকোটের ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতপূর্ব ভাইস চেনসেলার মাননীয় ভাতার গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এম, এ, বি, এল, বলেন :-*কাব্যখানি সুন্দর হইয়াছে”। কলিকাতা হাইকোর্টের জজ মাত্মনীয় বাবু চন্দ্রমাণব ঘোষ, . পার্থ-পরাক্রম। বলেন- “আপনার “কুরুক্ষেত্র কলঙ্ক” কাব্য পাঠে বিশেষ প্রীতিলাভ করিয়াছি। উক্ত পুস্তকে আপনার কবিতা রচনা শক্তির বিলক্ষণ পরিচয় হয়।” কলিকাতার ছোট আদালতের জজ শ্রীযুক্ত লাল গোপাল সেন বলেন-“আমি ইহা (কুরুক্ষেত্র কলঙ্ক ) পাঠ করিয়া পরম প্রীতি লাভ করিলাম। ইহার রচনা ও বিষয় অতি সুন্দর হইয়াছে (ইংরেজীর অনুবাদ) কলিকাতা রামবাগানের দত্তবংশীয় বিখ্যাত মুন্সেফ যুক্ত নরে কৃষ্ণ দত্ত বলেন : “তুমি যে এত সুন্দর লিখিত পার তাহা দেখিয়া বিস্মিত হইলাম। এমন কি এরুপ রচনায় একজন শ্রেষ্ঠ কবিও যশম্বী হইতেন। তোমার এই প্রথম উদ্যম নিশ্চয়ই তোমাকে বর্তমান বঙ্গীয় শ্রেষ্ঠ কবিদিগের মধ্যে আসন দান করিবে।” (ইংরেজীর অনুবাদ)। স্কুলের ডেঃ ইনসেপটার, “জীবনও এলাঞ্জলি প্রভৃতি বহু গ্রন্থ ঋচয়িতা শ্ৰীযুক্ত অক্রুর চন্দ্র সেন বলে :-“পুস্তক খান। সুন্দর হইয়াছে। লেখা সরল, স্থানে স্থানে কবিকল্পনার মাধুৰ্য্য ছে। দ্বিতীয় সর্গে চিত্র দর্শনের অবতারণা অভিনব। উহাতে পুস্তকের শােভাবর্ধন করিয়াছে। অভিমন্যুর যুদ্ধযাত্রা ও বৃহ- মধ্যে প্রবেশ করিয়া যু, আপনি সুন্দর রূপেই বর্ণনা করতে সমর্থ হইয়াছেন। পুস্তকখানি পড়িয়া ত হইলাম।” ডেঃ মাজিষ্ট্রেট ও ডে কালেক্টার বাবু দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ বলেন- “আপনার “কুরুক্ষেত্র কলঙ্ক” খনি উপাদেয় সামগ্রী হইয়াছে। যেমন রচনা মাধুৰ্য্য, তেমন চরিত্র বিন্যাস, বদিক
পার্থ পরক্রিম।
v
দিয়াই ধরাযা, সাহিত্যক্ষেত্রে লব্ধপ্রতিষ্ঠ কাব্য শ্রেণীতে ইহা
বিশেষ স্থান পাইবার অধিকারী।
হিতবাদী (১৩০৮। ৫ ই পৌষ) বলেন -
লেখক নবীন, তিনি কবিতার চর্চা করিলে এৰীৰ কালে
যশস্বী হইতে পারিবেন।”
অনুসন্ধান (১৩৯। ২২ শে অগ্রহায়ণ) বলেন,
“যে পুকদ্বারা সমাজের কোন না কোন শ্রেণীর বিন্দু
পরিমাণও উপকার দর্শিতে পারে বিবেচনা করি, তাহারই
আমরা সুখ্যাতি করিয়া থাকি। এ বিষয়টি কাব্যেচিত, তদ্বি-
যয়ে সন্দেহ নাই। লেখকের দৃশ্য বর্ণনার শক্তি আছে, মে
স্থানে পড়িতে ভাল লাগে। আমরা এই নবীন কবির প্রশংসাই
করিলাম, শুদ্ধ সৎসাহিত্যের সেবায় তিনি যশস্বী হউন।
ঢাকা গেজেট (১৩০৮। ২৮ শে মাথ) বলেন :-
“ইহা একখানি বীরকক্ষপণাত্মক কাব্যগ্রন্থ। সপ্তরথী
মিলিয়া কুরুক্ষেত্ৰযুদ্ধে একটি বীশিকে অন্যায়ৰূপে নিহতকর।
হইয়াছিল, তাহারই পুণ্যকাহিনী মনােহর আমিত্রাক্ষর ছলে
এ গ্রন্থে বিবৃত হইয়াছে। বীর শিশুকে গহিতরূপে বিলি
হইতে দেখিয়া গ্রন্থকায় মর্মে মর্শে মরিয়া গিয়াছেন, এ গ্রন্থখানি
সেই মারই ক্ষীণ অভিকজি। গ্রন্থের স্থানে স্থানে তার
জালিষ্ঠ ও মনােহর ভাবোচ্ছাস দেখিয়া আমরা মুগ্ধ হইয়াছি।”
সারস্বত পত্র (১৩০৮১০. ই বৈশাখ) বলেন:-
“বইখানি সুন্দরবধান এবং ভাল অক্ষরে ভাল কাগজে
পরিপাটীরূপে মুদ্রিত হইয়াছে। কাব্যের বিষয়, অভিমন্যুবধ ।
যোড়শ বর্ষীয় বালক অভিমন্যুকে সপ্তমহারথীর একযোগে
পার্থ-পরাক্রম আক্রমণ এবং নিরস্ত্র অবস্থা তাহার প্রাণ সংহার, বীরনামের কলঙ্ক নয় ত কি? এই হেতুই কৰি, অভিমন্যুবকে বীরক্ষেত্রের কলঙ্করূপে নির্দেশ করিয়া কাব্যের নাম “কুরুক্ষেত্ৰ-কাৰু” রাখিয়াছেন। নামটি ঠিক হইয়াছে। এই কাব্যের প্রায় সমস্তই অমিত্রাক্ষর ছন্দে লিখিত, মাঝে দুইচারিটা ক্ষুদ্র কবিতা মিত্রা- করেও লিখিত হইয়াছে। এই অমিত্রাক্ষর ছন রচনায় মুধুসূদ নের সমকক্ষ কেহ এখনও হইতে পারেন নাই, কালীমূষণও সেইরূপ। কিন্তু পদবিন্যাসের মাধুরী ও প্রাঞ্জলতায় মধুসূদনের অনুকারী অমিত্রাক্ষর লেকদিগের মধ্যে কালীভূষণও প্রথম শ্রেণীতে আসন পাইবার বােগ্য। মাঝে মাঝে দুই-একটা ব্যাকরণগতভুল ও মুদ্রাকর প্রমাদ রহিয়াছে। ইহা না থাকিলে কাশীভূষণের এই ছন্দোবদ্ধ ভাষাকে ঈদৃশ পদ্য রচনায় মাই- কলের পরে ভাষা বিষয়ে বিশুদ্ধ আদর্শরূপে নির্দেশ করিতে পারিতাম । কুরুক্ষেত্ৰ-কলঙ্কের স্থানে স্থানে কবি পরিস্ফুট দেখিয়া আমরা প্রতিপাত করিয়াছি। আমরা দেখিয়া একান্ত মুখী হইয়াছি যে কালভূষণের কুরুক্ষেত্র কলঙ্কের কোন চরিত্রে ফোন দিক দিয়া কলঙ্কম্প ঘটে নাই। যেটা যেমন হওয়া উচিত প্রায় ঠিক তেমনি হই- কাছে। প্রথম চেষ্টায় ইহাই যথেষ্ট। আমাদিগের বিশ্বাস যত্ন করিলে কালে কালীভূষণ, কবিভূষণ হইয়া কৃতার্থ হইতে পারিবেন”।
পার্থ-পরাক্রম।
/
বঙ্গের কলঙ্ক।
(কাব্য)
শ্রীকালীভূষণ মুখোপাধ্যায় বিরচিত। বঙ্গের বর্তমান সু-
সিদ্ধ “কবি ঔপন্যাসিক” শ্ৰীযুক্ত রায়সাহেব হারাণচন্দ্র রক্ষিত
বলেনঃ-*যে বিষয় অবলম্বন করিয়া আপনি আপনার কাব্য
কৌশল দেখাইয়াছেন, উহা অতি মনােহর ও প্রকৃত স্বদেশানুরা-
গের পরিচায়ক। বঙ্গের কলঙ্ক’ বিমোচন করিতে করিতে ক্রমে
আপনারা ভারতের কলঙ্কও অপনোদন করিতে পারিবেন
ইহা আমি আশা করি। বঙ্কিমবাবু অনেকাংশে এই পথ সুগম
করিয়া গিয়াছেন, এখন অাপনাদের ন্যায় সাহিত্যসেবী কবির
সেই পথে বিচরণ করা প্রার্থনীয়। আপনার সে শক্তি ও
সৌভাগ্য আছে, গ্রন্থের কিয়দংশ পাঠ করিয়াই আমি তাহা
বুঝিয়াছি।
কলিকাতা হাইকোটের জজ, মাননীয় বাবু সারদাচরণ মিত্র
এম, এ, বি এল মহোদয় বলেন : মহাশয়ের “বঙ্গের কলঙ্ক
স্থানে স্থানে পাঠ করিয়া দেখিলাম। যাহা পড়িলাম তাহাতে
কবিত্বের যথেষ্ঠ পরিচয় পাইলাম।”
ডেপুটি মাজিষ্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টার বাবু দক্ষিণারঞ্জন
ঘোষ মহাশয় বলেন :
“বঙ্গের কলঙ্ক” কাব্য খানি বেশ সুন্দর হইয়াছে। ভাষা
এমন প্রাঞ্জল ও মধুর যে পড়িতে আরম্ভ করিলে একটানা
শেষ না করিয়া ছাড়িতে ইচ্ছা করেনা।”
'
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.