Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Parihas

Laha,rasamay · 2009/12/4

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

শ্রীরসময় লাহ

( গ্রন্থকার কর্তৃক প্রকাশিত
সৰ্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।)
ঃঃ
টাকা গেলে, টাকা আসে,
স্বাস্থ্য গেলে তাই;
চরিত্র হইলে নষ্ট,
পরিত্রাণ নাই।
প্রিন্টার-নন্দলাল শাল
“অক্ষয় প্রেস”
২৭৫ নং তারক চাটুৰ্যের লেন,
কলিকাতা।

কৃতকৰ্ম্মা, চরিত্রবানজুবৎসল
শ্রীযুক্ত মনােমােহন গঙ্গোপাধ্যায়
বিদ্যারত্ন B.E..R.A.S..
সাহিত্য-রসিক সুরে--
পরিহাসের পাতায় ভরে আমার যত বাসি দুল,
গেঁথে তােমায় দিচ্ছি সখা, ভেবনা এ আমার ভুল ।
প্রত্নতত্ত্ববিদ না তুমি?-পুরাতনেই তােমার প্রতি,
শুষ্ক ফুলে মধু পাবার, তুমিই জান সূক্ষ্ম রীতি।
নিক্তির কাটায় ওজন করা, নয়ক বিচার বিশেষ ;
হৃদয় দিয়ে বুঝতে যে হয়—তুমিই সেটা জান বেশ।
তােমার স্নেহে এ ফুল রাশি, তাজা রবে মধুর রসে ;
দোষ ভুলে তাই কৌতুহলে, হাসিমুখে দেখবে দশে।
পরিহাসের পাতায় ভরে দিলাম বাসি ফুলের মালা,
হেসে গলায় পর সখা - ঘূচিয়ে দিয়ে হুলের জ্বালা।
পঞ্চমী, সন ১৩৩১ সাল ;
লাহ বাড়ী
৭, জয়মিত্রের ষ্ট্রীট, কলিকাতা।
শ্রীরসময় লাহা

পৱিতাপ যে পুণ্যাত্মার নামে পরিহাস উপহৃত হইয়াছে, তিনি অকালে ইহলােক হইতে অপ - সূত; তিনি ইহার পাণ্ডুলিপি আদ্যন্ত পাঠে পরিতৃপ্তি জানাইয়া ছিলেন বলিয়াই ইহা প্রকাশ করিবার সার্থক উপলব্ধি করিতেছি ; গভীর পরিতাপের বিষয়, মুদ্রি পরিহাস, তাহার কর- কমনে দিবার অবসর ঘটিল না—ইহাকেই বলে অদৃষ্টের পরিহাস। ইতি -রচয়িতা। জন্মাষ্টমী, সন ১৩৩৩ সাল ।

পরিহাস
পরিহাস
( ১ }
“কাগজে, কলমে, কালির তরঙ্গে,
বেশ বসে আছ, মজে নানারঙ্গে,
পাইনা কহিতে কথা তব সঙ্গে,
ভাল বিবাহের ফঁাস।”
( ২ )
বলিলাম---“প্রিয়ে শোন এইবার,
সুখ-দুঃখ মাখা বিচিত্র সংসার,
রচেছি কৌতুকে, কিবা চমৎকার,
মিটাতে তোমার আশ।”
}
E
হাসি কহে কান্তা চোখে অভিমান,
“ক্ষেপ-প্রেমী:কবি” তিনই সমান।
কে শুনিবে বসি’ পাগলের গান ?-
অষ্টের পরিহাস।”
-

পরিহাস
ঘুম-ভাঙান
চাদের আলাে ফুরিয়ে এল
ডাকছে পাখী—-চোখ গেল’
বসন্তের এই ভােরের আলােয়,
ফুলের গন্ধে উষা এল।
“পিয়া কঁহা-পিয়া কঁহা”
কে ডাকে ঐ কাতর সুরে ?
ঘুমাচ্ছে তাের কোথায় প্রিয়া,
খুঁজিস কি তাই ঘুরে ঘুরে ?
প্রকৃতির আজ ঘুম ভাঙ্গাতে
কুঞ্জবনে শতেক পাখী,
গাইছে কেমন ঐক্যতানে
উঠ প্রিয়ে, মেল আঁখি।
শুন প্রিয়ে, কঠোর সত্য
বুঝায় বায়স কা-কা-রবে-
কামিনী-কাঞ্চন তরে
এ সংসারে পাগল সবে।
কু-হু-সুরে সায় দিয়ে তা’য়
মিষ্ট গলায় কোকিল হকে,
মন্দের মধ্যে ভাল এবং
দুঃখের মধ্যে সুখও থাকে।

পরিহাস
মানিনীর কি মান ভাজিতে
ডাকছে -বউ কথা কও?
ওকি প্রিয়ে, কঠিন কেন?
তুমি মোর তেমন নও।
আমি পাগল, আমি কবি,
কিম্বা প্রেমিক, জানই বেশ ;
বেশী মাত্রায় বুঝতে পারি,
পশুর কথা, পাখীর রেশ।
কেবল তোমায় বুঝতে—আমার
ব্যর্থ কষ্ট সকল ঝোঁক।
ডাক্‌ছে শােন সােণর পাখী--
“খােকা হােখােকা হােক।”
কালাে সাটিন জামা গায়ে,
টছে দোয়েল কি রাগিণী ।
উঠ প্রিয়ে, উঠ আমার
চিরানন্দ-বিলাসিনী ।
উঠ, তােমার সর্বস্বধন
স্বামী কোচ্চেন ডাকাডাকি ;
তোমার নাকও ডাকছে তোমায়,
কি ঘুম বাবা-ভাঙবে না কি ?

পরিহাস
অদৃষ্টের পরিহাস
কেন ভালবাসি প্রিয়ে, তােমায় চিরদিন,
তাহাও কি বুঝাইতে হবে ?
রূপ-রস-গন্ধ-স্পর্শ-শব্দ, একাধারে,
তােমা ছাড়া কোথাও সম্ভব ?
ভুলায় পিক, কুহুস্বরে, সুগন্ধে চামেলী,
রূপে শরতেরি রামধনু ;
রসে নিদাঘেরি বারি, স্পর্শে চন্দনের
পলকে মিগিধ করে তনু।
সমষ্টি আকারে কিন্তু, শক্তি ততােধিক
জানি কোথায় তব আছে ?
সমস্ত ইন্দ্রিয় শান্ত, তুমি আছ বলে
প্রাণ-মন তৃপ্ত তোমার কাছে।
প্রকৃতির এ শােভারাশি, আনন্দ কল্লোল,
জেগে উঠে তোমারে হেরিয়া ;
কি রহস্যে—জানিনা সে-কটাক্ষে তােমারি,
নেচে উঠে পুলকে এ হিয়া।
তথাপি অশান্তি আসে বিতৃষ্ণার সনে,
ভেঙ্গে যায় সে সুখের স্বপন;
ভুলে বাই যে সে মুহূর্তে, তুমি লো প্রেয়সী,
বিধাতারি অপূৰ্ব জন।

পরিহাস
ভুলে যাই, ও রূপ যখন, রত্ন আভরণে
ঢেকে ফেল মদগর্ব ভরে ;
ভুলে যাই, ও রসের তনু, ফেল মলিন করে
যখন মিছে অভিমানের তরে।
ভুলে যাই, ও কান্ত তনুর গন্ধটুকু, যখন
ঢাক ঢেলে এসেন্সের শিশি ;
ভুলে যাই ও স্পর্শ, যখন কর্কশ করে তােল
রসিকতায় এনে রেষারিষি।
ভুলে যাই, ও কণ্ঠ তোমার ক্ষিপ্ত হয়ে যখন,
বাশী ছেড়ে, ঢাকের শব্দে ওঠে,
কাব্য তখন গুড়িয়ে ফেলে, ভাববে কি আর কবি,
একেবারে শিবের মত লোটে।
তবু আমি জানি প্রিয়ে, তুমি সরলমনা,
তাইতে তােমায় বড়ই ভালবাসি ;
তােমার রাগটা, অনুরাগের বিকার বলেই মানি,
অনায়াসে উড়াই তাই সে হাসি।
কিন্তু যখন, শাঁখা-সিন্দুর-অতি-সাড়ীর মান,
ভুলে বাড়াও বাহ্যিক বিলাস ;-
তখন অতি দুঃখেও আমি, হেসে ফেলি বেগে,
অদৃষ্টের একি পরিহাস!

পরিহাস
ভালবাসা
স্বামী...প্রিয়ে, ভালবাসা তােমারি সে ধন, -
সে হল কপােলে রচেছে শয়ন।
স্ত্রী...না, না, এ কপোলে, ফোটে না গোলাপ,
ভালবাসা হেথা, করে না আলাপ।
যুগলে...
গােলাপী কপােলে, নিতি ভালবাসা,
বিরাম লভিতে, করে না যে বাসা --
আমার হৃদয়ে তাহার সদন,
সুখে থাকে তথা তােমারি কারণ।
স্বামী...প্রিয়ে, ভালবাসা হয়ে অচপল,
তােমারি নয়নে বিলাসে কেবল।
স্ত্রী...না, না, এ নয়নে, নাহিক সে জ্যোতিঃ ;
ভালবাসা হেথা করে না বসতি।
যুগলে...
কমল-নয়নে মধু-ভালবাসা,
করেন কখন চিরদিন বালা;-
এ হৃদ কমলে তাহার সদন,
সুখে থাকে তথা তােমারি কারণ।

পরিহাস
র তে
কোথায় যাচ্চ তরুবালা? দেখতে তােমায় বেড়ে ।
“দুধ যুগিয়ে আসছি ফিরে, দেখছ না এই কেঁড়ে?”
তােমার সঙ্গে নিয়ে আমায়, যাবে তােমার ঘর?
“দয়া করে এস যদি, আমার প্রিয়---বর।”
তোমার বাপের বিষয় কত-বর যে হ’ব তরু?
“মরাই ভরা ধান আছে, আর, গােয়াল ভরা গরু।”
২
তােমার বর কি হ’ব শেষে, দিয়ে বি, এ, পাশ ?
“ভুলে গেলে বিনা পণে পবে বিয়ের ফাস ?”
গ্রাজুয়েট কি হয়ে’ শেষে, বিয়ে করূব ফঁাকা ?
“রূপের চেয়ে হ’ল বুঝি বড় রূপার টাকা.?”
আমি এখন ‘এ ঘােষ’ যে, বুঝতে পাচ্ছ তরু?
“বুঝব কি সে ? আমাদের যে গােয়াল ভরা গরু।”
বিনা টাকায়, তােমায় বিয়ে কলে কি আর সুখ?
“কেন? অবাক হয়ে শুধু দেখবে আমার মুখ ।”
রূপের সঙ্গে রূপার মিলন বাড়ায় ভালবাসা ;
“বেশ তত টাকা উপায় করে, মিটয়াে মনের আশা ।”
মােটা টাকা যৌতুক নৈলে বিয়ে কি হয় তরু?
“কারণ এখন এ ঘােষ যে, নও ত আর সেন।
১১

পরিহাস ৪ ? তােমায় বিয়ে করলে পরে লাভ কি হবে শুনি “এই রূপের লোভে এখনো যে হচ্চ খুনোখুনি।” কিন্তু টাকা নৈলে বিয়ে করি কেমন করে ? “না করলে ত বয়ে গেল সাধছে কে পায়ে ধরে? । চোটনা এই বিদ্যের চোটেই বুদ্ধি হ’ল সরু। “থুবড়ি থাকি সেও ভাল--- চাই না অমন গরু।” শকটে থার্ডক্লাস গাড়ী দ্বারে দাড়াইল এসে, স্থলাঙ্গিনী নারী এক, ঢুকিলেন ক্লেশে। গদি জুড়ে বসিলেন—একেবারে প্যাক । সূক্ষ্ম স্বামী বসিবে কি ?-দেখেই অবাক ! নারী কহে রুক্ষ স্বরে-----চাহিয়া বিকট-- “আধখানা দেহ নিয়ে কর লটপট- “সমুখের গদিতেই বসে পড় গিয়ে”- “তুমি আধখানা হ'লে ভাল ছিল প্রিয়ে।” ১২

পরিহাস
অত্যুক্তি
নারী যেন হাতের পুথি, পুরুষ তাহার পাঠক,
থাক্ না যতই ভুল ভ্রান্তি, কথার নাইক আটক।
যতই দেখ উল্টে পাল্টে, ততই বাড়ে ধাধা,
সাজিয়ে রাখ কি চমৎকার, সােণার কাজে বাধা।
গৃহশ্রী তাই গৃহিণী যে, আললা করেন গেহ ।
সালঙ্কারা কন্যা-কাব্য, লভ্য বটে শ্রেয়ঃ ।
আমার কিন্তু ওরি মধ্যে, আছে শুচিবাই,
কাব্য কিম্বা পুথিগত, হ’তে রুচি নাই।
কাজেই আমি বিয়ে কৰ্ত্তে, হতে পারি রাজি ---
বছর বছর স্ত্রী যদি পাই,-যেমন নূতন পাজি।
--
সাবাস ভায়া, দেখ ছি তােমার, গুণের নাইক অন্ত,
পড়েই যে, সমালােচন, কষ্ট-নারী-গ্রন্থ।
হয়নি তােমার আজো তাহার, অক্ষর পরিচয়,
প্রণয়ের “প” বুঝবে পরে, ঘটুলে পরিণয় ।
সব জান্তা হয়ে বসা, রােগটা খারাপ ভায়া ;
হৃদয় সনে হৃদয় মিশে, বুঝবে কি তা’ কায়া ?
সাঁতার শিখতে গেলে আগে, নামতে যে হয় জলে,
নারী-গ্রন্থ বুঝতে পারূবে, বিবাহেরি ফলে।
বিয়ে করে ফেল ভায়া, শিক্ষার হয়ে বশ,
পাঁজিতে নয়- কাব্যেই আছে, নিতুই নব রস ।

পরিহাস মনের কথা উজ্জল আঁখি, গোলাপী গণ্ড, উন্নত পয়ােধরা - পিয়ানাে বাজাতে হাসিতে, কাশিতে, মুচ্ছিতা হয়ে পড়া সােফায় হেলান তােফা কৃশ তনু, মন-নভেলের পানে, গুছায়ে ছড়ান লােল কুন্তল কত অযতন ভাণে; কৃষ্ণৈকাদশী শশিকলা সম হাসিটী মিলায় মুখে, যেন সুখে থেকে কিলােয় বা ভুতে নব কল্পিত দুখে ;- চাহি না ললনা ;- আমি চাই—যা’র নয়নে সলাজ দিঠি, অল্পে চিত্ত যাহার তুষ্ট সরলা-মনটি মিঠি। ইহার উপরে রেধে যদি দুটি দেয় গো তপ্ত ভাত, দিবসে গুছায় বসন, বাসন, ঘুমায়ে কাটায় রাত । ১৪

পরিহাস
সুস্থ সবল
রাখে দেহখানি
গৃহকাজ করে হেসে ;-
ভাবিব,-করিল
মােরে নারায়ণ
স্বয়ং লক্ষ্মী এসে।
,
কিন্তু আমার - বলে রাখা ভাল -
ছেড়ে যেতে পারে নাড়ী,
দুঃখভরে যদি
বলেন শাশুড়ী...
“মেয়ের গলায় হাঁড়ি।'
ফটো দেখা
“হের নাথ, কি সুন্দর উঠিয়াছে ফটো,
দেখায় আমার পাশে তােমায় কি ছােটো ।”
“বেটে বলে’ করিতে কি চাহ মাের দোষী ?
টেঙা হয়ে তুমি বুঝি বড়ই রূপসী।”
“আমি ত বলিনি কিছু মিছে কেন চটো
শুধু দেখায়েছি এই আমাদের-ফটো।”
“তুমি বুঝি ভাব আমি মস্ত বড় বােকা ?”
“না--না, তুমি ছােটখাট যেন কচি খােকা।”

পরিহাস
অতিকাব্য
(পূর্বরাগ )
হতেম মৌমাছি, তুমি হলে বঁধু-চাক্‌,
ঢালিয়া দিতাম মধু তোমাতে বেবাক্।
সাগর হইলে তুমি, হতেম জাহাজ,
পা’লভরে করিতাম, তােমাতে বিরাজ।
হইলে বিড়াল তুমি, হতেম ইদুর,
আমারে পাইতে হ’তে, আনন্দে বিধুর।
হতেম পুকুরের-পােনা, তুমি হলে জাল ;
যেতাম তােমার কোলে, ঘুচায়ে জঞ্জাল ।
বাঘিনী হইতে যদি, হতেম ছাগল,-
ডাকিতাম প্রেমে তব, হইয়া পাগল ।
কৃপাণ হইলে তুমি, হতেম পিধান ;
তুমি আদি হ’তে যদি-আমি অবসান।
মাথামুণ্ড হতে যদি, হইতাম কঁধ ;
ঘুঘু হইতাম, যদি হ’তে তুমি ফাদ।
আকাশ হইলে তুমি, হতাম বিমান ;-
উড়ে উড়ে লইতাম, তােমার সন্ধান।
কালি হইতাম, তুমি হইলে দোয়াত
গুড়ি হইতাম, তুমি হইলে করা।
-

পরিহাস
গুহা হইতাম, তুমি হইলে পৰ্বত ;
তুমি লােটা হলে আমি হতেম সৰ্ব্বং।
তুমি রাহু হলে—আমি হইতাম দ ;
তুমি বন্যা হলে--আমি হইতাম বাঁধ।
কপূর হতাম--যদি হইতে ফানুস,
তুমি যে মানুষী, হায়, আমিও মানুষ ।
তুমি কি হইলে আমি কি যে হইতাম,
কবি হলে, উপমায় কত বলিতাম।
বকিছু বিতােল চিতে, আবােল তাবােল ;
তুমি কবে শুনাইবে, মিঠেকড়া বােল ?
( অনুরাগ )
তুমি কনে, আমি বর, কি মিলন রাত !
প্রসন্ন বিধির বরে, দোহার বরাত।
অদৃষ্টে ঘটায়, হয় পর আপনার ;
তুমি সুখে থাকিলেই, সন্তোষ আমার।
সালঙ্কার বালা তুমি, আমি সুপুরুষ,
তােমারে লভিয়ে আরাে বাড়িল জলুষ।
সংসারের সব কাজে, রবে তব হাত ;
তুমি রেধে দিলে—আমি খেতে পাব ভাত।
১৭

পরিহাস - - ( বিরাগ ) ক একি বধু? নিদ্রা গেলে তুমি বেমালুম্ ; অামার দু’চোখ থেকে কেড়ে নিয়ে ঘুম। জমাট পিরীতি মাের,-বিরাট-আসল ; পলক ফেলিতে কিনা-করে দিলে জল ! (রাগ) পিরীতি, সুখের ভরে ধায় উড়ে উড়ে, মিথ্যা সে, কেবল দুঃখ বহে বক্ষঃজুড়ে। থাকিলে তাহার পক্ষ, উড়াতাম হেসে, পিরীতের ফলে, রাগে, ফুলে মরি শেষে। ( উপরাগ ) পূৰ্বরাগ, অনুরাগ, বিরাগ, কি রাগ, ভাবিতে, জাগিতে, গেল নিভিয়া চেরাগ! উপজিল উপরাগ -এর ঘুমাব- এক নিঃশ্বাসেই হ’ল ইতি--অতিকাব্য। আই বিয়ের সময় যৌতুক পেলাম তলাহীন এক গৰ্ত্ত । সতত সে জড়িয়ে থাকে হাড়-মাংস-রক্ত।

পরিহাস
পে-রঙ
তােমার মােহিনীরূপ, হেরিবে যেদিন ;-
বরের ঘুরিবে মাথা হবে দৃষ্টিহীন।
যেদিন দাড়াবে পরি’ বসন বেগুনি,
সেদিন তােমারে পেতে হবে খুননাখুনি।
আসমানী সাড়ী পরে দাঁড়ালে সুমুখে,
আশ্চান করিবে সে, নিতে তার বুকে।
যেদিন পরিবে হেসে, নীলাম্বরী-কালাে
হেরিবে তােমার রূপে পূর্ণিমার আলো।
পরিলে সবুজ সাড়ী -অবুঝের প্রায়,
বনদেবী ভেবে, ফুলে পুজিবে তােমায় ।
পরিয়া বাসন্তী সাড়ী-বসন্তের দিনে
কটাক্ষে লইবে তারে চিরতরে কিনে।
জাফরাণী সাড়ী অঙ্গে—অতি মনােহর।
তাহার বাহার দেখে, হবে সে কাতর।
গােলাপী সাড়ীতে সেন, মাখা ভালবাসা ;
পরিলে তােমারি বুকে, লইবে সে বাসা।
রামধনুকের রঙ,—যাই বলিহারি,
সে সাড়ী পরিলে, আহা, মরিবে বেচারি ।
ভুলেও পরেনা ডুরে-ফিফিনে সাদা-
তাহলেই একেবারে বনিবে সে...।

পরিহাস
ফুলশয্যা
বৌ এসেছেন, দাদার কনে,
লক্ষ্মী ঠাকুরাণী ;
কতই নূতন বসন-ভূষণ -
ফুলের আমদানী ।
নূতন সুখের ঢেউ লেগেছে,
সারা ভবন ভেসে গেছে,
উলুধ্বনি ছড়িয়ে শাঁখে
উঠছে আশিসবাণী ;
বৌ এসেছেন---দাদার কনে-
লক্ষ্মী ঠাকুরাণী ।
৬
সবার মাঝে--বৌদিদিকে
মানাচ্চে আজ ভালো ;
ফুলের মালায়-ফুলের ভূযায়
ঘর করেছে আলাে।
স্বজনেরা আসছেন হেসে
সেজে গুজে নানা বেশে
কেউ বা অমল, কেউ বা শ্যামল,
কেউ বা কোমল কালো ;
সবার মাঝে বৌদিদিকে
মানাচ্চে আজ ভালো।

পরিহাস
দাদার বুকে নূতন সুখের
স্বপন আজি রাজে;
পাবেন নূতন বধূ-রতন
কুসুম:শয়ন-মাঝে।
লুকিয়ে মধুর চাপা হাসি,
মুখটী বধূর দেখেন আসি,
আমায় মিছে শাসন করে’
বোকে ফেলেন লাজে ।
দাদরি বুকে নূতন সুখের
স্বপন আজি রাজে।
ফুলশয্যায় ফুলের বাঁধন
যুগল-মিলন-মালা ;
বেলা যে সব পড়ে এল,
সাজের আলো জ্বালা।
আজ আনন্দের কলরবে,
প্রীতি-ভভাজে রত সবে,
জেগে থাক্ এ সুখ-স্মৃতি
অসীম তৃপ্তি ঢাল',
ফুল-শয্যায় ফুলের বাঁধন,
যুগল-মিলন-মালা।

পরিহাস শুধু কন্যাদান পণ নম-পূজা টাকা কি গহনা, তৈজস, বিছানা, দিইনি বিয়ের তরে ; করিলাম আজ, এক এম এ পাশ বরে। ঘাের অমায়িক মাের বৈবাহিক পরম ধর্মাবতার, এ আদর্শ দেখে শিখ করিবারে সমাজের উপকার। তবে এক কথা বিবাহের আগে বিয়ানের পদতলে- টানে পড়ে রেখে এসেছি—হাজার- গিনিভরা এক থলে। বয়সের ফল ‘ভাগ্যবানের স্ত্রী মরে—অভাগার ঘোড়া এ প্রবাদ সত্য নয়, কিন্তু আগাগোড়া । বয়সে হারালে পত্নী-শুভ বড় নয়, তার চেয়ে ঘােড়া মরা সুখের নিশ্চয়। কচি হাড় ভেঙ্গে গেলে, জোড়া লাগে বেশ, বুড়ার ভাঙ্গিলে হাড়, বাড়ে শুধু ক্লেশ। বৃদ্ধের তরুণী ভাৰ্য্যা-ভাগ্য ভাল বটে, সে সুখ সহেনা, কিন্তু বিপরীত ঘটে । ২২

পরিহাস
সুখক্ষ ছিলেন আমার
লক্ষ্মীর সমতুল ;
সহিল না সুখ, নারায়ণ রে
লইলেন করি’ ভুল ।
দ্বিতীয়পক্ষ ছিলেন আমার
নহেক নেহাৎ মন্দ ;
যমদূত এসে নিয়ে গেল রে
করি’ গৃহ নিরানন্দ।
তৃতীয়পক্ষ হয়েছেন বিনি,
বাপ-কি বচন তার।
জ্ঞানে অজ্ঞানে- লইতে ইহারে
কেহ ত আসে না আর ।
‘জন্ম-আয়তি হয়ে গেছে ’র।
কোথায় লভিয়া ত্রাণ ;
ইনি যে আমায়, কথায় কথায়,
তথায় পাঠাতে চান ।

পরিহাস
মুগধর্ম
( ১ )
পুত্রার্থে ক্রিয়তে ভাৰ্য্যা, পুত্ৰ-পিণ্ড প্রয়োজন,
সে সব এখন কথার কথা, শাস্ত্রের বৃথা আস্ফালন।
এখন আমরা সে সব বিধি, সে সব বিচার ছেড়ে দিয়ে,
শুদ্ধ বিলাস সম্ভোগ তরে, আচি মনের মত প্রিয়ে।
( ২ )
চক্ষে এখন সােণার চসমা, কারণ দৃষ্টি বড়ই সূক্ষ্ম ।
পাশ্চাত্যেরি অনুকৃতি, করুলেই ঘােচে সৰ্ব্ব দুঃখ ।
রূপের দিকেই খুলছে নজর, রূপের তৃষায় ফাটছে প্রাণ
ধর্মভীরুর সম্পদ লোটে, পুরুষকারে বুদ্ধিমান।
( ৩ )
আত্মত্যাগের অর্থ এখন, স্বার্থসিদ্ধি ষােল আনা ;
পরার্থেই এ মোটর চড়া, পরার্থেই এ আৰ্য্যয়ানা।
এ সাহেবি আৰ্য সাজায়, দেশাত্মবােধ জলছে চেগে,
ভাইদের আতুর ফতুর করে’ উঠছে চতুর প্রচুর বেগে।
( ৪ )
দেশের ছেলে দিশেহারা-একুল ওকূল দু’কুল ভ্রষ্ট,
বিদ্যা যে চাই অর্থকরী, অর্থ নইলে জীবন নষ্ট ;
মাটীতে আর নাইক শিকড়, বাড়ছে সবাই টবের তরু, :
হন্যের মতন ছুটছে বেগে, দড়ি ছেড়া বাঁধা গরু।
২৪

পরিহাস
ঋণ কৃত্বা ঘৃতম্ পিবেৎ-মম্ব-দ্রষ্টা মুনির কথা ;
ঋণের পূজায় চলছে জগৎ,রাজাভোগ আর সুসভ্যতা।
শাকান্ন আর পায়না খেতে, অঋণী কি অ প্রবাসী ;
বরের অন্ন নিঃশেষে শেষ, করছে জাহাজ সর্বগ্রাসী।
( ৬ )
দীনের প্রতি দয়া এখন, দেয় না দেখা দ্বারে দ্বারে ;
দুঃস্থ বিষম ব্যস্ত হয়ে, পাছে হস্ত থিয়েটারে।
পাপের মুখে পুণ্য-ধারার, খৈ ফুটছে অনর্গল ;
ধর্মের ঝোঁকে খাচ্ছে লােকে, মদের গ্লাসে গঙ্গাজল।
( 1 )
সেকালের সব মেয়েদের কাজ,পুরুষেরা নিচ্চেন হাতে ;
পর ঘর ঘর চরকা ঘুরাও, থাকবে সুখে দুধে ভাতে।
দেশোদ্ধারে মহিলারা, যাচ্চেন হেসে কারাগার ;
রাজা-প্রজার ভঙ্গী দেখে, ভক্তি এখন পগার পার ।
( ৮ )
পায়ে মাথায় এক হয়েছে,বুঝবে কে আর ইহার মর্ম ?
কাণ্ডারী যে, ছাড়ে বা হাল-ধন্থ বটে যুগধর্ম ।
হুজুগ-বশে আসল ছেড়ে, চালিও না আর নকল ভেল;
মাথাটি বেশ ঠাণ্ডা করে,'যে যা’র চকায় দাওগে তেল।
২৫

পরিহাস
সহজ জীবন
আমার বাপের ভিটায় থেকে, বাড়ল আমার আয়ু,
দেশের মাটি-জল-বাতাস-তাপ—আমার পরাণ-বায়ু।
জমী চষে পাই যে আমি—নানা ফসল ধান,
শাক-সবজী, ফল-মূলাদি, মায়ের অসীম দান।
জুড়ায় তৃষা দীঘীর বারি-ভরা অগাধ মাছে ;
পূর্বপুরুষের দয়া মাখা, তাদের পোঁতা গাছে ।
দেবীর মতন গাভীর শােভা—কুটির আলাে করা,
নধর গঠন গৃহিণী মাের, সেবায় দু’হাত ভরা।
চাষের তুলা চায় কেটে, সুতায় কাপড় পাই ;
খাওয়া পরার অভাব কভু, আমার ঘরে নাই।
নাই ভাবনা অসুখ হ'লে—আমার আঙিনায়,
পাই বে হেলায় কতই ভেষজ, রােগীর চিকিৎসায় ।
নাইক বালাই চিকিৎসকের—মােটর-হরণ, ঠুকে-
পকেট ভরে ফেরেন যারা, রােগীও শিঙে ফুকে।
খাইনি কোন ভেজাল জিনিষ—ঢেকিশালে টেকি ;
গাছ-পাথরের পূজা করি,--জীবনটা নয় মেকি।

পরিহাস
শিখিনি তাই টাকার ভজন, ছেড়ে ভগবানে ;
জপে থাকি সাঁঝ-সকালে, খাটি দিনমানে।
দুপুরবেলায় অশথ ছায়ায়, শীতল করে দেহ ;
শীতের রাতে আগুন পোহাই, নাই মহাজন কেহ।
গভীর ঘুমে রাতটি কাটে, সকালে হই তাজা ;
আমার মতন ভাবনা হীন কি -রাজা, মহারাজা ?
সারি সারি ধানের মরাই, সবুজ মাঠের কোলে ;
মাথার উপর ছড়িয়ে কিরণ, নীল চাদোয়া ঝােলে।
হেসে খেলে, ছেলে মেয়ে বেড়ায় মনের সুখে ;
রামায়ণ আর মহাভারত তাদের মুখে মুখে।
পরের দুঃখ মােচন করে’ পাই সে পরিতােষ ;
বাড়ে আমােদ অতিথসেবায়—দোষ দেখলেই রোষ।
বাধলে বিবাদ কারু সনে, মিটাই কোন মতে ;
উকীল বাবুর কোকিল সুরে, ধাইনা আদালতে।
সহরবাসী চাইনা হ’তে, শিখতে কুটিল চাল;
ভাগীরণীর কোল যেন পাই-আসবে যখন কাল।
নীতি
ধৰ্ম্মে মতি, জীবে প্রতি, সাধু সনে সখ্য,-
পরহিত-ব্ৰত কর জীবনেরি লক্ষ্য।
२१

পরিহাস
সােজাকথা
পশুত্বেই ভরা এ জগৎ,
হ’তে চায় মৌখিক মহৎ,
নীতির বড়াই করে’
পিনাল কোড়ের জোরে,
দেখাই আমরা কত সৎ;
চলি, বক ধাৰ্ম্মিকঃ বৎ।
বিপরীত শিক্ষার কৌশলে,
সাহেব সেজেছি কুতূহলে,
একতার শক্তি ভুলে,
গরিমায় উঠি ফুলে,
দলাদলি করি দলে দলে ;
ভক্তি নাই এদিকে আসলে।
উচ্চে ডাকি দেশকে মা বলে
ভাই ভাই আমরা সকলে ;
পাকা সােণা হতে খাঁটি
ছেড়েছি দেশের মাটী,
তুলে দিয়ে পর-করতলে ;

পরিহাস ৪ শিখিয়াছি ফাকির কৌশল ; মুখে এক, মনে আর,--খল। নিজেরে বিশ্বাস নাই, অপরকে ডাকি ভাই, অমায়িক কতই সরল ; বাগে পেলে উগারি গরল । শঠে শঠে হয় কোলাকুলি, মুখে মধু-~-শঠতার বুলি- ঠকি যদি একবার, ভাবি কিবা চমংকার, ঠকালে রে-চোখে দিয়া তুলি, গুরু বলে’ লই পদধূলি। পাপ পূণ্য তে কিছু নাই- থলে ভরে’ অর্থ যদি পাই ; করিয়া বিষম রােষ, দেখাই যার দোষ, তাহারি প্রসাদ মেগে খাই, এস লক্ষ্মী-যাওগো বালাই ।

পরিহাস
সােজাকথা
১
পশুত্বেই ভরা এ জগৎ,
হতে চায় মৌখিক মহৎ,
নীতির বড়াই করে
পিনাল কোড়ের জোরে,
দেখাই আমরা কত সৎ ;
চলি, বক ধাৰ্ম্মিকঃ বৎ।
२
বিপরীত শিক্ষার কৌশলে,
সাহেব সেজেছি কুতূহলে,
একার শক্তি ভুলে,
গরিমায় উঠি ফুলে,
দলাদলি করি দলে দলে ;
ভক্তি নাই এদিকে আসলে।
উচ্চে ডাকি দেশকে মা বলে
ভাই ভাই আমরা সকলে ;
পাকা সােণা হতে খাটি
ছেড়েছি দেশের মাটী,
তুলে দিয়ে পর-করতলে ;
হাসি খেলি-মজিয়া নকলে।

পরিহাস
৪
শিখিয়াছি ফাকির কৌশল ;
মুখে এক, মনে আর,—খল।
নিজেরে বিশ্বাস নাই,
অপরকে ডাকি ভাই,
অমায়িক কতই সরল ;
বাগে পেলে উগারি গরল।
শঠে শঠে হয় কোলাকুলি,
মুখে মধু-~-শঠতার বুলি-
ঠকি যদি একবার,
ভাবি কি চমংকার,
ঠকালে সে চোখে দিয়া চুলি,
গুরু বলে সই পদধূলি ।
পাপ পূণ্য তে কিছু নাই
থলে ভরে অর্থ বদি পাই ;
করিয়া বিষম রোধ,
দেখাই যাহার দোষ,
তাহারি প্রসাদ মেগে খাই,
এস লক্ষ্মী-যাওগো বালাই।

পরিহাস
৭
দেশ জননীর অপবাদ
ঘুচাইতে ঘটাই প্রমাদ ;
ক্লাইভ হইতে যত,
লাটে গালি পাড়ি কত,
থামি -পেলে রজত-প্রসাদ ;
নব নব যত ‘উমিচাদ।
পড়ে হই ডাক্তার, উকিল,
পথ লই বড়ই কুটিল ;
কেহ করি প্রাণনাশ,
কেহ করি ধনগ্রান,
চাল রাখা নহিলে মুস্কিল ;
মুখে ফোটে বেদান্ত ও মিল।
চরিত্র গিয়েছে অধঃপাতে,
চুণকাম করি বােজ প্রাতে
রুচির বড়াই করি
সুকৌশলে যুক্তি ধরি--
গণ্য-মান্ত সজ্জনের সাথে,
পণ্যনারী ধন্য হয় রাতে।

পরিহাস
সাহিত্যেও ঘাের ব্যভিচার--
অর্ধনগ্ন চিত্রের বাহার।
কলা-শিল্প-মনস্তত্ত্ব,
হরি’ শুচিতার স্বত্ব
পুরুষার্থে করিয়া সংহার,
ঘটায় যে চিত্তের বিকার।
অন্তঃসার শূন্য মনঃবাক,
ফেলে দাও সাহেবী পােক ;
সিংহচৰ্মাবৃত গাধা,
ঠেলিতে পারে কি বাধা ?
শােনে যদি কেশরীর ডাক—
প্রাণে তার লেগে যায় তা।
শোৰ্য-বীৰ্য্য-ধৈৰ্য উদ্দীপন
করি’ কর জীবন শােধন ;
ইংরাজের দেশভক্তি?
জাগাও সে আনুরক্তি-
সাধ’ শক্তি লভিয়া মিলন,
আন’ হৃদে জাতীয় যৌবন।
১

পরিহাস
কন্তু কীৰ্ত্তন
( ১ )
সুদীর্ঘ দাড়ী; কুঞ্চিত ভালে রক্ত-তিলক কাজ ।
গুম্ফবিদারি’ দোদুল দন্ত—কৃতান্ত কবিরাজ।
অট্ট হাসির ঢক নিনাদ-কর্ণপটহ শূল ;
ঘাের তান্ত্রিক, যেন কাপালিক, বাধায় বা হুলস্থুল ।
গাে-ব্রাহ্মণে গভীর ভক্তি -আকাঙ্ক্ষা করি’ লােপ,
বংশবৃত্তি ধ্বংস করেছ-সংশয়ে সদা কোপ।
তর্ক-দক্ষ, মোক্ষ প্রয়াসী, ভিষ সেজেছে আজ ;
গাে-সেবা ক্লান্ত, নৃসেবামন্ত, কৃতান্ত কবিরাজ।
যশস্বী বটে, সে কৃতকৰ্ম্মা—মূর্ত অ-সহযােগ ;
দৃপ্ত দুর্বাসা, অগ্নিশর্মা, সােহহং গৰ্বরােগ।
বিকাইনি মাথা স্বার্থ কুহকে, পরাৰ্থ করি’ সার ;
ষেটের বাছা সে, ষাটটি বরষ হেসেই করিছে পার।
দৈন্যদৰ্পে বুঢ়ার দুর্দিন দলি’ পদে
জীবনে ঠকাতে শিখিল না কভু, ঠকিয়াও পদে পদে।
দান-শৌসে, কভু বা ভিখারী, অবিচল সে মেজাজ
বুকে বেদান্ত, মুখে বাপান্ত-কৃতান্ত কবিরাজ।

পরিহাস
( ৩ )
সখের মধ্যে সােণার চসমা, অ অ করে চোখ ;
তুলে নিল তা’য় পকেট মারায়, অবাক্ পথের লােক।
সময়ে তার পাবেনাক’ দেখা, অসময়ে অকারণ,
হাে-হো হা-হাসি, দন্ত বিকাশি,দেন আসি’ দরশন।
পয়সার মায়া পারে না বাঁধিতে,
গুরুর নিয়মে, জরুর বিহনে, চরুই স্বপাকাহার।
তবু ফুটে উঠে দয়ার ফোয়ারা, তাহার হৃদয়-মাঝ ;
ভীষণে কান্ত, শান্ত, দান্ত, কৃতান্ত কবিরাজ।
অদ্ভুত, দুৰ্ব্বার
( ৪ )
পণ্ডিত ন্যায়পঞ্চাননের সিদ্ধ সে ভাবী বাণী ;-
‘বট করিল সকলি, দেখা’তে মৌলিক কাদানি।
সংসার-নিকষে পড়িল না দাগ-বুদ্ধিতে সে যে খর ;
চিকিৎসাতেও হইয়া প্রবীণ-হ’ল ঘটেশ্বর।
সার্থক আহা ভবিষ্যবাণী-শাস্ত্রী সরস্বতী
ছাপার কালিতে,কালী হয়েগেল, পুটলন। নিহজ্যোতি
তবু সানন্দ, শিশুশ্র মুখে, অঘাের বিবশ সাজ ;
কি অভ্রান্ত, যেন মােহান্ত, কৃতান্ত কবিরাজ।

পরিহাস
( ৫ )
অস্ত করিছে যত তার কৃত, কৃতান্ত বলি তাই
যম ভেবে ভুল করােনা তাহারে,যম-শালী সে সদাই।
রােগীরে দেখিছে,বড়িও দিতেছে,অনুভূতি ভরা প্রাণ
কত শত লােক হতেছে নীরােগ, ধন্য নাড়ী-জ্ঞান।
ভাণ নাই তার কথায় বা কাজে,ভেষজে,আসবে,দামে;
পেটের অসুখ কলেরায় এনে,বিকাতে চাহে না নামে।
টেকে তিনমাস-গঙ্গা-যাত্রা করেছ বাহার আজ ;
এমনি মন্ত্র ধরে অনন্ত-কৃতান্ত কবিরাজ।
মর মর রােগী,ধাও তার পাশে,শুনিবেনা কথা আর ;
মরেছে যে জন, ছুটিল তাহার করিবারে সৎকার ।
তর্কের জালে বিপন্ন দ্বিজে হেরিলে তখনি তার
হাতের রােগীরে ছেড়ে, ব্রাহ্মণে করেন যে উদ্ধার।
ঘণ্ট। দশেক কেটে যদি যায়, তাহে ক্ষেপ নাই ;
রােগীরে বুঝায়,বিপ্রে বাঁচাতে দেরী হয়ে গেল ভাই।
কহিতে সুহৃৎ, তােমার চরিং, ছড়াই কথার লাজ ;
হঃ হ হ হন্ত, আগে কে জান্ত, কৃতান্ত কবিরাজ।
৩৪

পরিহাস
হাতুড়ে
কবিরাজের বড় পাকায়,
হরিচরণ সারাদিন।
নানারকম রঙের বড়ী,
কেউবা পৃথু কেউবা ক্ষীণ।
মমাটেই কিছু বোেঝ না সে,
পাকিয়ে যাওয়াই তাহার কাজ ।
কোন্ বড়ী কোন্ রােগে লাগে,
জান্তে তাহার ইচ্ছা আজ।
সর্ষের মতন বিষের বড়ী, ,
পাকায় সেদিন দেখতে লাল --
যার প্রয়ােগে কাটে বিকার,
এলে রােগীর নিদানকাল ।
সব ওষুধের সেরা ওষুধ,
হরিচরণ ভেবে মনে,
গােটা পচিশ তুলে নিয়ে,
রাখলে কাছে সংগােপনে।
মাসখানেকের ছুটি নিয়ে,
হরিচরণ চল্লো দেশে,
বড়ীগুলো বেঁধে নিলে,
কবিরাজী কবে শেষে।

পরিহাস
4
গ্রামের রাস্তা হেঁটে হেঁটে,
চলছে হরি তাড়াতাড়ি ;
সন্ধ্যা হতেই পৌঁছিল সে,
এসে তার পিসির বাড়ী।
পিসিমাকে প্রণাম করে,
বসলাে এসে হাত পা ধুয়ে ;
দেখলে তাহার পিসেমশাই,
ভুগছেন জ্বরে শেযে শুয়ে।
জ্বর হয়েছে দু’দিন তাহার,
মাথাটা বেশ ধরে আছে ;
আস্তে আস্তে হরিচরণ,
ব’স এসে তাহার কাছে।
“মিছে কেন পিসেমশাই,
ভুগছেন জ্বরে দু’দিন ধরে’,
আমার কাছে বড়ী আছে,
সেরে যাবেন কালকে ভোরে।”
পিসেমশাই বল্লেন হেসে-
“কবিরাজী শিখলি কবে?”
পিসিমা তা’র বল্লেন শুনে-
“সে কি ? বছর পাঁচেক হবে ;
৩

পরিহাস
হরি আমার কবিরাজী,
শিখছে ভাল বদ্যির কাছে ;
তােমার কেমন সব কথাতে,
ঠোকর দেওয়া স্বভাব আছে।
ওকি তোমার মন্দ করূবে ?
ওর বড়ীতেই ভাল হবে-
“বিশ্বাস হয় না পিসেমশাই,
দেখুন আমি খাচ্চি তবে।”
বলে হরি খেলে দুটো ;
পিসি বলেন “পিসের তাের,
সন্দেহতে মনটি ভরা,
নাইক একটু মনের জোর।”
একটা বড়ী, পিসেকে তাই,
খাইয়ে দিলে হেসে হরি ;
জল একটু মুখে দিয়ে,
বল্লে থাকুন চুপটি করি।”
হরিচরণ চলে গেল,
খেতে শুতে অপর ঘরে ;
পিসেমশাই গিন্নিকে তার,
ডেকে উঠান খানিক পরে।

পরিহাস
“ওগো আমার প্রাণটা এখন,
কোচ্চে বেজায় আইঢাই,
একটু না হয় পাখা কর,
গায়ের জ্বালা কিসে জুড়াই?”
হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে উঠেন ক্রমে,
জোরে জোরে ফেলেন শ্বাস ;
চেঁচিয়ে পিসি ডাকে-~-“হরি,
করলি কিরে সর্বনাশ।”
দেখলেন ঘরে নাইক হরি,
দাওয়ায় কিম্বা বাইরে মাঠে ;
“ওরে হরে,” চিৎকার করে,
ছুটলাে পিসি পুকুরঘাটে।
জলের উপর ভােরের আলাে ---
শুচে হরি পিসির হাঁক্ ;
জল থেকে তাই মুখটি তােলে-
মাথায় মাখা পান-পা।
কি খাওয়ালি আলপেয়ে ;
পিসে যে তাের মারা যায়।”
“আমিই কি ছাই ভাল আছি ?”
বললে হরি বিষের জ্বালায় ।

পরিহাস
চিকিৎসা
অন্ধকারে রােগ-রােগী মিলে বাস করে,
চিকিৎসক ছেড়ে দিল, আঁধারে সে ঘরে ;
লাগিলে রোগের গায়, ঢিল দৈববশে--
পলায় সে রােগ, লোকে চিকিৎসায় যশে।
রােগীরে লাগিলে কিন্তু আবাত বিশেষ ,-
রােগ আর বােগী হয় একত্রেই শেষ ।
মদ ময়-অসব
শােণ্ডিক সনে পথে হল দেখা ঠিক তিন দিন পরে,
“একি বাবু আর দেখি না দোকানে ?”
রাধু কহে ক্রুর স্বরে--
“দেখিছ না চেয়ে অশৌচ আমার, ঠাকুরের হ’ল কাল,
হবিষ্য করে খেতে যাব মদ, হারাইয়া পরকাল ?”
জিহবা কাটিয়া কহে শােণ্ডিক “সে কি কথা মহাশয়,
পণ্ড করিব ধৰ্ম্ম তােমার একি সম্ভব হয় ?
তবে কি না মােরা শুদ্ধ আচারে, গােপনে যত্ন করে,
আলােচাল থেকে চুয়াই আদব, হবিষ্যাশীর তরে।”
শুনিয়া রাধুর রুক্ষ মেজাজে, পড়িল শান্তি বারি ;
হাসি কহে তবে দিও আজ থেকে হইয়া শুদ্ধাচারী।”

পরিহাস “মদ খেয়ে রােজ চাদর হারাবে, কিছুতে শােননা কথা; আজ এক ছােটে করগে আপিষ, চাদর পাইব কোথা ? “না না আর প্রিয়ে, চাদর কখন, হারাব না খেয়ে মদ ; আজিকার মত কর উদ্ধার, নাকে কাণে দিনু খং।” খুজে শশিমুখী করিল বাহির, জীর্ণ চাদর খানি; তাই গায়ে দিয়ে আপিষে মিহির, চলিল ভাগ্য মানি। খাবে না সে মদ • ভীষণ এ পণ ঠেলিয়া উঠিছে বুকে । এক মনে তাই আপিষের কাজ, করিতেছে হেঁট মুখে। সঙ্গী তাহার ছিল রামদাস, লক্ষ্য করিল বেশ- মিহিরের আজ নাহিক স্ফ স্ফুর্তি, হৃদয়ে দারুণ ক্লেশ। ৪ পরিহাস পাঁচটা বাজিল, তবু কাজে মন, মিহির ওঠেনা আজ ; রাম এল তার সঙ্গে লইতে, যাবেন। সে, ফেলে কাজ। অর্থাৎ কিনা রামের সঙ্গে, বাড়ী যেতে রােজ পথে, মদের দোকানে ঢুকিয়া দুজনে, নেশা করে বিধিমতে। নিষ্কৃতি আজ লঙিতে মিহির, গেলনা রামের সনে, হতাশ হইয়া চলে গেল রাম, কত কি ভাবিয়া মনে। রাধাবাজারের পথেই দোকান ঢুকিয়া তাহাতে রাম, হেরিলা অদূরে আসিছে মিহির, পূর্ণ মনস্কাম- বাহিরে আসিয়া ধরিল মিহিরে- “না না খাইব না মদ ; মাতাল হইয়া চাদর হারাই, যেতে যেতে সারা পথ। ৪১

পরিহাস
“ভয় নাই ভাই দিতেছি চাদর,
তােমার কোমরে বেঁধে ;
হারাবে না আর সাথে নিয়ে যাব”
রামদাস কহে সেধে।
আগে গররাজী, ক্রমে নিমরাজী,
রাজী হ’ল তা’র পর ;
মদ খেয়ে দেহে টলিতে, টলিতে,
ফিরিল যে যার ঘর।
ন’টা হ’ল রাত, শশীমুখী হেথা,
ভাবিছে অকুল মন ;
এমন সময় সদর দুয়ারে,
কড়া বাজে ঝ ঝন।
ব্যস্ত হইয়া খুলিল দুয়ার,
ত্রস্ত নয়নে শশী,
হেরিল স্বামীর মত্ত মূরতি,
বসন গিয়াছে খসি'।
“হা পােড়া কাপাল” কেঁদে কহে শশী,
“কাপড় হারালে শেষে ?
“ত’বলে’ চাদর হারাইনি খেপি”
কহিলা সে যাক হেসে।

পরিহাস
চল্ চল্ চল্ লালে লাল- তরল সুরা মরি ;
কানায় কানায় উপচে ফেনায়, নিচ্চে হৃদয় হরি।
তুমি রাণী সর্বনাশী, আমরা তােমার রাজ্যবাসী,
তােমার ভাবে মত্ত থাকি, দিব-বিভাবরী ;
সূৰ্য্য সবে বসল পাটে, আমরা যে সব দাড়িয়ে ঘাটে,
সাগরটাকে পানের চোটে, নিঃশেষে শেষ করি।
সংজ্ঞা যখন লুপ্ত হবে, তখন না হয় ছাড়ব সবে,
লক্ষ্মীছাড়া বেহায়ার দল, আমরা কারে ডরি ?
তােমার কৃপায় অধঃপাতেই যাচ্চি সুরেশ্বরী।
মাতালের গান
অনুরক্ত আমরা ভক্ত, তােমার সেবা করি
কৃপা করি’ কৃপা কর, দেবী, সুরেশ্বরী।
ভাব সবাই সুখের কূলে, সকল দুঃখজালা ভুলে,
ভক্তদলে লও গাে তুলে, ভরে পাপের তরি।
চষক ভরে’ কব পান, ভাবে ভােলা ভােলা প্রাণ,
গাইব তােমার যশোগান, আকাশ পাতাল ভরি।
রেখ করে’ চিরদাস, নানা রােগে বারমাস,
জীবন যত পাবে হ্রাস, রাখবে তুমি ধরি।
থাকব তােমার ঝেকে সুখে,তােমার স্তুতি ছুটবে মুখে,
পড়ব লুটে ধরার বুকে দিয়ে গড়াগড়ি ;
যাগগে পুত্র পরিবার-অনাহারে মরি।

পরিহাস
মদোলাস
(ড্রাইডেনের সুরে)
হেরিনু স্বপন মরি কি মধুর,
এখনও যেন শুনি সেই সুর,
( অনুকরণের পতন প্রচুর )
উৎসাহ জড়িত ললিত গান ;
রমণীয় কণ্ঠে হইল ধ্বনিত,
রমণীর কণ্ঠ তাহাতে মিলিত,
দিগদিগন্ত করিয়া কম্পিত,
করিয়া সস, বিরস প্রাণ।
২
গাহিছে গায়ক, গায়িকামণ্ডলী,
স্বাধীনা রমণী, প্রেমের পুতলি,
ঘােরে আসেপাশে, নেন বা বিজলী,
খেলিছে বিতরি’ উৎসাহ-ভাতি ;
রূপে ঝলমল, আজি সভাতল,
সভ্য-সভাপতি মহিলামণ্ডল,
স্বাধীনতারসে উল্লাসে বিহ্বল,
উদ্যান-ভােজন-সেবনে মাতি।
৪৪

পরিহাস “ঢাল’ ঢাল’ সুরা, ঢাল লৈ আবার, আমরা নহিলে জাতির উদ্ধার, কে দেখায় আর করিয়া বিচার, কে রাখে অটল জাতীয়মান ? ফেলে দিয়ে দূরে কলঙ্ক-পশরা রমণীর মান রেখেছি আমরা, হেরি সে বীরত্ব স্তব্ধ বসুন্ধরা, ধর পুনঃ সুখে কর লো পান।” s গরজি আবার উঠিল সে গান- “বীর বিনা আহা জাতীয় সম্মান, অটল রাখিয়া মােদের সমান, কে পারে উজল করিতে মুখ ? স্বাধীনা প্রকৃতি-সয়ােজ সমান, বীর বিনা কেবা রাখে তার মান, বীর বিনা কা’র শােভিবে বুক ? স্বাণীনা প্রকৃতি-কুসুম সমান, বীর বক্ষঃ বিনা কোথা ত’র স্থান, বীর বই কে বা লভে সে সুখ?

পরিহাস
ধর ধর ধর, সুখে কর পান,
আর তিন বার-স্বাস্থ্যের নিদান
রাখিতে অটল জাতীয় সম্মান,
ধর হে বচন-কৃপাণ সবে,
আমরা যখন মিলেছি আবার,
উজলিতে নব স্বাধীনতাসার,
লভিতে হবে সে সম্পদ এবার,
তবে এ পণ পূরণ হবে।”
উঠিল সঙ্গীত পিয়ানাের সঙ্গে,
মাতিল সবাই সে সুরতরঙ্গে,
উল্লাস-লহরী বহিল কি রঙ্গে,
বহিল নিন্দিয়া নন্দন-সুখ ;-
“স্বাধীনা প্রকৃতি বিপুল গৌরব,
কুসুমের যথা মধুর সৌরভ,
বীর বই কা’র উজলে বুক ?
সরােজ সদৃশ-প্রকৃতি স্বাধীনা,
বীর বিনা কার হবে বাহুলীনা,
বীর বই কা’র উজলে মুখ ?
৪৬

পরিহাস
“এস বীরবালা, ঢাল’ঢাল’ ফের,
কিবা আছে আর দ্বিতীয় মােদের,
স্বাট বিরাট ধন গৌরবের,
ভরলো পিয়ালা প্রণয়-ভরে ;
এ যামিনী আজি বড় সুখ ভরা,
হাসে শরতের শশী সহ ধরা,
গড়ায় উল্লাসে, সুরায় বিভাের,
পতনপ্রণালী চেতন হরে।
সুরায় বলে জল মিশাতে-মাথা যাদের মাটা ;
সুরার তাহে ঘটে বিকার, জল ও রয়না খাটী।
সুরায় এমন বেতার করূতে, কে চায় বল, দাদা ?
তাহার চেয়ে শত গুণে, শ্রেয়ঃ এ জল সাদা।
এটা তুমি বুঝতে পাচ্চ-জলের মতন বেশ
কারণ আমার সুরার উপর একটুও নাই দ্বেষ।
বিজ্ঞের মতন ধর গেলাস-কর এ জল পান ;
বাচাও আমার টাকা এবং বাচাও তোমার জান ।
৪৭

পরিহাস
টাকা
( টিপ্পনী )
টাকা—রূপ চঁাদ--পূর্ণ যােলটি আনায় ;
শশী যথা বিকশিত ষােড়শ কলায়।
যােলটি শােলকে তাই টাকার এ ছড়া;
পূর্ণ বটে রসাবেশে –ঠাসে, মিঠেকড়া।
টাকা কারাে বশ নয়, রাখে সবে বশে ;--
কৌরবের বাধা ভীষ্ম —টাকারই রসে।
সংসারে টাকার কথা সুধার সমান ;
ভণে কবি রসময়, শোনে ভাগ্যবান্।
টাকা টাকা-টাকা
তুমি সুশীতল, কঠিন, প্রবল,
রজতে উজল চাকা ;
রাজার মুণ্ড ধরিয়া বক্ষে,
বিশ্বাস আন’ প্রজার চক্ষে,
তোমার বসতি যাহার কক্ষে,
তাহারি বচন বাকা;
তুমি দেববর ,
রূপ মনােহর,
জড়েও অজড়, টাকা।
৪

পরিহাস টাকা টাকা—টাকা— বাজে তব ধ্বনি, পড়ে যে তখনি, সকল রাগিণী ঢাকা ; নর্তকী নাচে, কতই বিলাসে, গায়িকা, নিত্য গায় তব আশে, নায়িকার.প্রেম ? নায়কের পাশে, তুমি না থাকিলে ফাকা ! ঢাল’ নব বুন, কঠিন পরশ- হলেও তুমি যে, টাকা । টাকা-টাকা-টাকা- জগতের সার, তুমি গোলাকার, হে দেব রূপার চাকা । ওঙ্কার মূক-ঝঙ্কারে তব, নিমেষে ক্ষান্ত-রণ-বিপ্লব, লভে শ্রীবৃদ্ধি শিল্প-বিভব,- দেশের সমৃদ্ধি কা; হে সুদর্শন, জিনি নারায়ণ - চক্র তুমি যে, টাকা। ৪৯

পরিহাস
টাকা-টাকা-টাকা-
কবি, শূর, বীর, ধরিতে অধীর,
তােমায় রূপার চাকা;
শত শত লােক ধাইছে নিত্য,
পাইতে তোমায়, হে গােল বিত্ত,
কেহবা মরিছে জ্বলিয়া পিত্ত,
কেহ খায় ভ্যাবাচাকা ;
রজতের চাদ, পাত’ ভাল ফাদ,
সুধা-বিষে মাখা; টাকা।
I/০
টাকা-টাকা-টাকা~~~
সজাগ দেবতা,
জুড়াইতে ব্যপা
নিয়ত তােমায় ডাকা ;
বিবাহের পণ করিতে চুক্তি,
কন্যার দায়ে লভিতে মুক্তি
হইল বিকল-সকল যুক্তি,
বেহাই বড়ই ন্যাকা ;
আসে তাঁর বোধ পাইলে নগদ,
বরের ওজনে টাকা।

পরিহাস
in
–
টাকা-টাকা-টাকা--
কত অপকারে,
কত উপকারে,
ঘুরিছ রজত-চাকা
এধারে তােমার জাগিছে কুশল,
ওধারে তােমার অশুভ মুষল,
রজনীর মত ঘুরিছ ভূতল,
পাশাপাশি অমা-রাকা;
কারে কর চুর,
কারে বা প্রচুর
দাও সুখ-মােমাখা।
টাকা-টাকা---টাকা-
তােমার বিহনে,
হেরি যে নয়নে,
এ ভুবন ফঁাকা-ফাকা ;
মিছে এ জীবন, ভূতের এ কায়া,
মিছে ভালবাসা, স্নেহ, দয়া, মায়া,
মিছে সখা, সখী, ছেলে, মেয়ে, জায়া,
জ্যেঠা, মামা, পিসে, কাকা;
তােমারই স্নেহে
বল পাই দেহে,
রুধির, তুমি যে টাকা ।

পরিহাস
টাকা-টাকা-টাকা-
ষীর কুটীরে, হেরি যে ধনীরে,
ধান তার হলে পাকা;
ডাক্তার ঘােরে মােটর হাকিয়া,
কৌন্সেল ওড়ে—গাউন আঁটিয়া,
এঞ্জিনিয়ার-হাটু ধাঁকাইয়া,
মুটে ছোটে লয়ে ঝাঁকা ;
ফেরাও সবারে ভবের বাজারে
হে রজত-রূপী টাকা।
টাকা-টাকা---টাকা-
পাপ-পূণ্য ভুল,
তুমিই যে মূল,
যতদিন ভবে থাকা ;
তােমার প্রভাবে যশােমাল্য পরি’
সাধু হয় লােক, পরধন হরি’,
জিতেন্দ্রিয় সে, ভৃঙ্গত করি’
সব দোষ যায় ঢাকা ;
হোক কদাকার,
ফটো উঠে তার,
মদনমােহন বাঁকা।

পরিহাস
টাকা-টাকা-টাকা-
সংসারীর সার, চাদি গােলাকার,
সৰ্বস্ব তুমি একা ;
তুমিই ব্ৰহ্ম-নাহিক দ্বিতীয়,
কিবা ছােট বড়-সবাকার প্রিয়,
তুমি না থাকিলে আঁধার যে গৃহ,
হে গৃহ-দেবতা পাকা ।
কুরূপা প্রেয়সী
হয় যে রূপসী
সাথে যদি আসে টাকা।
•
টাকা-টাকা-টাকা-
এত পাশ দিয়ে, বিনা পণে বিয়ে
করে দায় ঘরে টাকা ;
জোগাইতে মন--তরুণী বামার,
দিতে হবে রে চিরুণী সােণার।
রাখিতে আয়তি চাই যে হার
দু’গাছি গিনির শাখা;
শুনিয়া কবিতা, ভোলে না বনিতা,
চিনেছে তোমায়, টাকা।

পরিহাস
টাকা-টাকা-টাকা--
তুমি ছাড়া নাই
মানুষ যাচাই
করিতে নিকােকা;
কৈকেয়ী, ভরত, দ্রুপদ ও দ্রোণ,
তুমিই দেখা’লে কে কেমন জন,
ত্যাগ ও স্বার্থ—মধুর, ভীষণ
চিত্র তােমাতে আঁকা ;
জেলে যায় শশী,
কঁদে চোখ ঘসি’
প্রমদা–ছাড়ে না টাকা।
টাকা-টাকা-টাকা
হায়রে শক্ত
তােমায় ধরিয়া রাখা ;
সভাবে তব বুঝা যায় বেশ
জোছনা, বাঁশরী, কোকিলের রেশ,
কুসুমে, মলয়ে, ভরে যায় দেশ,
ময়ূর মেলে যে পাখা ;
সরিষার ফুল
হেরে কবিকুল,
অভাবে তােমার, টাকা।

পরিহাস
•
টাকা-টাকা-টাকা
বাড়িলেই লােভ, জেগে উঠে ক্ষোভ,
অশান্তি দেয় দেখা ;
মরণের কালে লুণ্ঠিত ধন,
হেরি মামুদের ঝরে দুনয়ন,
সকলি বিফল-বিভব-রতন,
ফেলে যেতে হয় একা ;
‘রাইভে’র ফঁাদ,
মরে, তব শশাকে, টাকা ।
ঘুঘু ‘উমিচাদ
টাকা-টাকা-টাকা---
ভা-সমিতিতে, রেসে, রণহিতে,
হাসি মুখে দাও দেখা ;
তােমার কারণে হয় রােজ ফাদা-
কতই উপাধি,-বক্তৃতায় কাদা,
করুণার নামে তােলা হয় চাদা,
দেশে দেশে খুলে শাখা;
কঠিন, ধবল, কুটিল, সবল,
তুমি যে সচল টাকা।

পরিহাস
টাকা-টাকা-টাকা-
তুমি ভরা পেটে রহিলে পকেটে,
যায় বেশ তেজে থাকা ;
রােগে, শশাকে, তুমি দাও বরাভয়,
সৃজন, পালন, ঘটাও প্রলয়,
ঘুরিয়া বেড়াও এ ভুবনময়,
যেন নিয়তির চাকা ;
দেবর সার,
নমি বার বার,
সাকার রূপার টাকা।
( স্তব )
অখণ্ড মণ্ডলাকারে ব্যপ্ত চরাচরে,
খণ্ডরূপে প্রকাশ-রৌপ্য কলেবরে।
পরিলে লালসাঞ্জন—সুখ-শলাকায়,
ফুটে উঠে দিব্যচক্ষু-লভিতে টাকায়।
ধৰ্ম্ম-অর্থ-কাম-মােক্ষ—টাকা সর্বোত্তম ;
টাকা মৰ্ম্ম, টাকা কৰ্ম্ম, টাকাই বিক্রম।
সংসারে সবাই সঙ, টাকা মাত্র সার,
টাকার চাকার তলে কোটি নমস্কার।

পরিহাস
(অথ মাহাত্ম্য কীৰ্ত্তন)
১
সব ঠাকুরের সেরা তুমি, সাবাস তােমায় টাকা;
দেখছি এ দুনিয়া-ভূমি, তােমারি এলাকা।
তেত্রিশ কোটী দেবতা আছে,
কলকে পায়না তােমার কাছে,
তুমি নইলে হয় যে পাছে,
উপােস করে থাকা;
সুস্থ হবার পরশমাণিক,
দুঃস্থ দেহের তুমিই টনিক
বল-বুদ্ধি-ভরসা ক্রমিক
তােমার তরেই রাখা ।
জগৎ চালান জগন্নাথ,
কিন্তু তাহার কোথায় হাত ?
তােমার চক্রে চলছে ফি হাত
ক্যাবৎ মজার চাকা।
দাতা তােমার কদর জানে,
দেশের হিতে উদার প্রাণে,
তোমার কীর্তি নিত্যদানে,
দেখান কতই পাকা।

পরিহাস
৪
কৃপণ তােমায় করে’ জড়,
মনে মনেই মস্ত বড়,
চিনির বলদ—বৈতে দড়,
ভাগ্যে নাই তার চাখা ;
তাপে তুমি গল’ তবু,
গলে না তার হৃদয় কভু,
তােমার চাপেই হেন প্রভু
ভঙ্গী ধরেন বাঁকা।
ব্যাঙ্কে কর আনাগােনা,
কারবারে যে ফলাও মােগা,
করূতে তােমার উপাসনা,
চারি যে চায় ভ্যাক।।
সচ্ছল রবে নিরবধি,
বইবে যাবৎ জীবন-নদী,
তােমার পুণ্যে উড়ায়ে দি’
বিজয়-পতাকা।
আমি কে?—ত্রিলােকে খুঁজে দেখ একবার ;
গােলকে, নরকে, দেখা পাইবে আমার।

পরিহাস
মানুষ
টাকা হ’ল হাতের ময়লা—এলে গেলেই বেশ,
তা’র নেশা'টা বড়ই খারাপ, বাড়ায় বটে ক্লেশ।
ন্যাংটার নাই বাটপার ভয়, স্বাস্থ্য হ’ল সার,
জাম-জোড়ায় কাজ কি? বিশাল বুকের পাটা যা’র।
হােগে জগৎ উলটপালট, তার কিবা তা’য় আসে ?
সুখদুঃখের ঢেউ মানেনা, থাকে মহােলাসে।
ধার কর্তে চাহে না সে—মহাজনের কাছে,--
উচু নীচু ভেদ কোথায় আর ? শ্মশান যখন আছে ।
মানুষ কেন কর্তে যাবে আপন মাথা নীচু ?
যে করে তার অধঃপতন-স্বার্থ আছে কিছু।
নয়ক’ সাধু-ভও তারা, নিচ্চে যারা ভেট ;
পরের মাথায় কাটাল ভেঙ্গে, ভছে নিজের পেট।
ধ্যান-সাশাল’ শিষ্যা লাভের-বাইরে নির্বিকার ;
মুখে–সােহহং সর্বত্যাগী, নারী নরক-দ্বার।
সিল্ক-গেরুয়া, সােণার চসমা, সৌখীন ভেকের পাল,
ছড়িয়ে পাতে, বেদ-বেদান্ত-চণ্ডী-গীতার জাল ।
পরার্থে যার হৃদয় কাঁদে, সেইত মানুষ পাকা;
হাে বিষয়ী কিম্বা যােগী, মােক্ষ নয় তার টাকা।
টাকার লােভে হৃদয়টাকে কবে কেন ক্ষুন্ন ?
দশের হিতে, উদার হৃদে, নিত্য বাড়াও পুণ্য।

রহাস
M
কর্মী
উঠ জাগ’ সবে হও অগ্রসর, তােমরা দেশের কর্মী,
বক্তার স্থান হেথা অবসান, কি করিবে বক-ধৰ্মী?
কৰ্ম্মের ডাক্ শােন চারিভিতে, জগৎ দিতেছে সাড়া,
সম্মুখে আসি’ দাড়াও বাঙ্গালী, মেরুদণ্ড করি’ খাড়া।
পরের কথায় আপনারে হেয়, কখন কেরিনা জ্ঞান,
তুমিও তাদের মত একজন, তােমারাে রয়েছে মান।
কৰ্ম্মের আজ নূতন আলােকে—দীপ্ত অতীত স্মৃতি ;
হের, স্রষ্টার স্ফুলিঙ্গ, তব হৃদয়ে করিছে স্থিতি।
।
তুমিও মানুষ-মানুষের মত ফুলাইয়া চল বুক ;
ঘুচাও মনের পরাধীন ভাব—লভিতে মুক্ত সুখ ।
কৃষী, শ্রমজীবী, অথবা কেরাণী—কেহই নহেক হীন;
খােল ইতিহাস, কেরাণী “ক্লাইভ’ ছিলনা কি একদিন ?
৪
কোর না ভাগ্য বিক্রয় কভু, অপরের পদতলে ;
কৰ্ম্ম করিয়া যাও হে কৰ্ম্মী, শৌর্য-সাধুতা-বলে।
অর্থের দাস হয়ােনা—ক্ষুদ্র স্বার্থের মােহবেশে;
করে’ যাও কাজ-কৰ্ম্মি-চরণে-অর্থ লুটায় এসে।

পরিহাস দেশের মাটি দেশের মাটি ছেড়ে দিয়ে, দেশটা মাটি কচ্চি সবাই ত্রিশঙ্কুবৎ শূন্যে থেকে, পরের হাতেই হচ্চি জবাই। মাড়বার,দিল্লী,গুজরাটবাসী,ব্যবসায় ধনী বাংলায়এসে ; ইঙ্গবিদ্যার রঙ্গে ভঙ্গে বঙ্গের ছেলে বেড়ায় ভেসে। নিছক সত্য বিষম তিক্ত,মিথ্যার মােহ মদি; বিনা চিনির আচ্ছাদনে চলেনা আর কুইনিন্ পিল। স্বদেশীতে বিদেশী ঢঙ,- মজ্জাগত হাড়ে হাড়ে ; সর্ষের ভিতর ভূতের বাসা,সে সর্ষেতে ভূত কি ছাড়ে? এমনি আমরা জন্মান্ধ যে,শিশুর খাদ্য পাইনা দেশে; এলেরি-হলে ক্স-মেলিন্স,বিলাত থেকে যােগায়হেসে। নিষ্ঠাচারে ঘুণ ধরেছে-- মালা-তিলক-টিকিই সার; চায়ের পাত্রে চুমুক বিনা, ভােরের বেলা উঠাই ভার। আহার বিহার পরিচ্ছদ,কি গৃহ সজ্জা, যে দিকে চাই- পরের জিনিষ ঘরে ভরা- নিজের বলে কিছুই নাই। খােল, বেসন, কি মাথাবসায়, হয় না অঙ্গ পরিষ্কার; নকলনবীশ সাবান-এসেন্স, বাড়ছে দেশী কারখানার ।

পরিহাস
৫ . - - * *
বিলাত করে’গড়তে চাই দেশ,এম্‌নি মায়ের প্রতিটান
ইংরেজেরি মানস-পুত্র--দেশের যত সুসন্তান।
গােলামিতে ভরা চিত্ত, ঘােলায় নিত্য পূৰ্ব্বস্মৃতি ।
বিদ্যাপীঠতাই গাছতলায় নাই,বিল্ডিংএতেইপরমপ্রীতি।
শিক্ষা এখন বিজ্ঞান-বলে, ফুটবলেতেই ঢাছে প্রাণ ;
কুস্তি কিম্বা কপাটির আজ,দাঁতকপাটি নাই সে মান।
খাদ্য বিপর্যয়ে নিত্য, হচ্চে স্বাস্থ্যের মাথা হেঁট;
মেলেরিয়ায় মজেছে দেশ, যকৃৎ প্লীহায় ভরূছে পেট।
ধ্বংসের মুখে ধাইছি সবাই,ভাবছি কি ছাই পরিণাম
পিছুচ্ছি,তাই পলাই বেঁচে,আপনি বাঁচলে বাপেরনাম
গানের নেশায় মত্ত হয়ে গেয়ে বেড়াই ‘আমার দেশ’ ;
নিদান কালের হরিনাম,—কণ্ঠাগত জীবন শেষ।
তবু আশা দেখাচ্ছে পথ—দিচ্ছে আবার নূতন প্রাণ
কৃষী-শিল্পে, দেশের কাজে, রাখ’ স্বমৰ্যাদা জ্ঞান।
দেশের মাটী কামড়ে ধরে ছেড়ে বিলাস, সহবাস
পল্লী মা-টির কগে সেবা, মানুষ যদি হতে চাস।

পরিহাস
ঘুড়ি
খুব উচুতে উঠে ঘুড়ির মাথা গেল ঘুরে ;
কলে জাহির আপনকথা, তেজে জাকের সুরে।
“নিজের জোরে উঠতে আমি পারি না যে আর,
সূতা বেটাই নীচের দিকে টানছে অনিবার।
নইলে আমি চলে যেতাম মেঘগুলােকে ফুড়ে ;
সে উচুতে পারেনাক—চিও যেতে উড়ে।
তবে কেন থাকব আমি, হয়ে পরাধীন ?”
সূতার বাঁধন ছিড়ে ঘুড়ি, হ’ল সহায় হীন।
নিজের ভারেই অধীর হ’ল-উড়া দূরে থাক্ ;
বাতাস-দোলে পড়ল ভূমে-ভেঙে গেল জাক।
মূঢ়ের মতন হ’ল পতনগরব করে নানা ;
সূতার টানেই ঘুড়ি ওড়ে-বিধান যে চাই মানা।
সমস্যা
তপন, কিরণদানে, কমলে ফোটা,
ছুটে এসে মধুকর, মধু লুটে খায়।
গর্বভরে, ধনবানে কেনে দামী বই,
জ্ঞানবানে পড়ে তাহা, করে’ যুৎসই।
এ সমস্যা, দুনিয়ায় বুঝাযায় কই ?
‘যা’র ধন তার নয় নেপো মারে দই।

পরিহাস
যােগ
(বালকের রচনা হইতে পয়ারে গ্রথিত)
অশ্ব মানে ঘােড়া-বড় ভাল জানােয়ার
চারি কোণে খুটি সম, চারিটী পা তার।
সমুখে তাহার মুখ, পিছে লেজ ঝুলে ;
হাতীর দু’দিকে কিন্তু দুটী লেজ দুলে।
ঘােড়াদের পায়ে জুতা, আমাদের মত ;
খুলিতে দেখিনি কিন্তু হইয়া বিব্রত।
অশ্ব আছে নানাজাতি, বিবিধ আকার ;
ঘাস-ছােলা-নিরামিষ এদের খাবার।
নাকেতে তিলক কাটা-বাবাজীর মত,
ঘােড়া দেখা যায় পথে, ছোট বড় কত।
বাজী--মানে ঘােড়, কিন্তু বাবাজী তনয়,
বাবাজী,মাপাে-ভক্ত,হরি-কথা কয়।
চুচাবাজী, হতে পারে ছুচাদের ঘােড়া;
ডিগবাজী, বাঁশবাজী, এরা তার জোড়া।
ছায়াবাজী—একবার দেখেছিনু বটে ;
ঘােড়া নয়-ঘােড়ার মতন কিন্তু ছােটে।
পক্ষীরাজ ঘােড়া উড়ে বেড়ায় আকাশে;
ঠাকুমার গল্পে শুনে, চোখ বুজে আসে।

পরিহাস
সশব্দে আকাশে ওড়ে, কলের জাহাজ
পক্ষীরাজ ঘােড়ার সে, ডানার আওয়াজ।
আমার কাঠের ঘােড়া, একেবারে লক্ষ্মী;
ছােটালেই ছােটে, আর উড়ালেই পক্ষী।
ঘােড়ার মতন আমি চাহিনা হইতে;
রােদে ছুটাছুটী কয়ে’ কে যাবে মরিতে ?
গরুর মতন হলে অাছে বটে মুখ ;
ঘরে বসে’ জাব খাও-নীচু করে মুখ ।
কটা, কাল, লাল, পীত, পাটুকিলে, শাদা,
ঘােড়া ধরে নানা রঙ ,~~ধরে না তা' গাধা
বাঙ্গালী, ঘােড়ার মত বিবিধ বরণ;
সাহেবের একরঙা-কা’দের মতন ?
আমিনা
পিছন দিকে দাড়াও যদি
আমি তােমার নই ;
সামনে আমার এলে
তােমায় বুকে করে’ লই।
*

পরিহাস
নিবত্তি
(১)
উথলে উঠল স্বদেশ-ভক্তি-বন্দেমাতরম্
বলেই আমি করে ফেল্লাম প্রতিজ্ঞা ভীষণ।
ছোঁবনা আর বিলাতী চিজ,—যত দূর ষা’ পারি-
সইটাও শেষ করে দিলাম-বড়ই তাড়াতাড়ি।
(২)
একদমেতে ত্যাগ কল্লেম মুখের বার্ডসাই;
( তার বিরহে, প্রাণটা বটে কচ্চে আই টাই।)
দেশের লােকে ধমূলে সামনে এনে দেশী বিড়ি,
ধুমপান কি ছাড়া যায় ?—পেলাম স্বর্গের সিড়ি।
(৩)
বিশেষ মায়ের স্নেহের সে দান-দিলাম সুখে টান,
হােগ গে তিক্ত -বাঁচে যদি স্বদেশ-ভক্তপ্রাণ।
মুখে আগুন সারই হল—প্রাণ গেল কি করি,
এমন সময় উঠল দেশে ‘সিগার’ মরি মরি।
( 3 )
টালেম এনে দেশী সিগার-বেশ বিদেশী গন্ধ ;
বিশ্লেষণে কাজ কি ?-টাচি করে চক্ষু বন্ধ।
ভাবছ কি ভাই? বাক্সে দেখ এই স্বদেশী ছাপ ;
ত্যাগের চেয়ে টানাই ভাল- বাচা গেল বাপ।

পরিহাস
(৫)
প্রতিজ্ঞাটা সহজ বটে-পালনের নাই শক্তি;
বিলাসিতায় মগ্ন থেকে দেখাই স্বদেশ-ভক্তি।
‘যতদুর পারি এই একটা কথার জোরে,
চলছে সবই—ভেদটা কিছুই নাইক পূৰ্ব্ব-পরে।
( ৬ )
তারি জোরে হুইস্কি ঢালি, চালাই মটর-কার
দেশের টাকা যাচ্চে উড়ে?-অভাব কারখানার।
কুহক-বলে লাগিয়ে চমক, বাহির করে পৈতে—
বক্তৃতা দিই শাস্ত্রমতে-নৈলে কি আর সৈতে ?
(৭)
ভিক্ষুকেরও ভিক্ষা নিয়ে, ভরাই টাকার থলে ;
দেশের কাজ এ, মায়ের কাজ যে—উচচ গলায় বলে।
সােজা বাঙ্গালায় লেক্চার দিচ্ছি, সাহেবী বেশ খুলে ;
কালীগঙ্গায় মাচি এখন, সাহেব-দেবতা ভুলে।
(৮)
অসুর-মায়ায় পশুর দলে, ধরি আশুগতি,
বৃটিশ-দ্রব্য বয়কট করে’-সেজেছি আজ সতী।
স্বার্থপর, তাই প্রবৃত্তির দাস-নিবৃত্তিটা ভাণ ;
মুলে কিন্তু-গোরার প্রতি গাঢ় অভিমান।

পরিহাস
বাহুবল
দুঃখে যখন ঝত নয়ন ধারা,
তুলেছিলাম কতই হাহাকার ;
সখারা সব ভেবে ভেবেই সারা,
অপরে পথ দেখলে যে যাহার।
মৌখিক তার দিতেন উপদেশ,
পাছে কিছু চেয়ে বসি ধার;
শুনিয়ে দিলাম আমি তাদের শেষ,
কৃপা করে এসনা আর।
ভরসা আমার-ভগবান্ আর হাত,
জুটে যাবে এতেই কাপড় ভাত।
সাহস এল, পেলেম বুকে বল,
পরাণ ভরে কাজে দিলাম মন ;
হাতে খেটে দুঃখ গেল তল,
পয়সা এসে দিলেন দরশন।
সখাদের সব পেলেম আবার ফিরে,
তাদের মলিন মুখে ফুটল হাসি ;
সুখের সাথী ঘুরূছে জগৎ ঘিরে,
চচে ফাকির ভালবাসা-বাসি।
সহায় থাকু, ভগবান্ আর হাত,
পরম সুখে কাটবে দিবা-রাত।

পরিহাস
হিতে বিপরীত
পড়ে পড়ে চোক গেছে খরে,
মধু দেখে টেবিল উপরে,-
একগাছি মালা সুচিকণ
ফুলগুলি বিবিধ বরণ।
সযতনে, তাজা রবে বলে-
রাখে মালা ভিজাইয়া জলে ;
অতঃপর চসমা আঁটিয়া
‘মায়াবাদ পড়ে মন দিয়া।
বধু আসি’ সুধাল হায়--
“মালা মাের রাখিলে কোথায় ?”
আনমনে মধু তারে বলে-
“যতনে রেখেছি ওই জলে।”
“ কপাল-কাগজের ফুল
চোখেও দেখনি—এত ভুল!
সখের মালাটি দিলে জলে ?”
“নকল!-তা’ বুঝিনি আসলে।”

পরিহাস
বিফল মিলন
হাতটি ধরে’ মিলেছিনু,
হয়নি মিলন হৃদয়-মনে ;
আর কখন হাতটি ধরে
মিলবনাক তােমার সনে ।
মিশেছিলাম সেদিন বটে--
সখা বলে তােমায় আমায়,
দেখছি কেবল মুখের আলাপ,
সে অনুরাগ এখন কোথায় ?
তােমায় ভালবেসেছিলাম--
লয়ে বুকে শত আশা ;
বৃথায় গেছে-বৃথায় গেছে
বারেকের সে ভালবাসা।
হাতটি ধরে’ মিলেছি,
হয়নি মিলন হৃদয়-মনে ;
আর কখন হাতটি ধরে
মিনাক তােমার সনে।
রসনায় বেশ রসান্ যাহার,
যায় না বুঝা তাহার মন ।
হৃদয় এসে মেশে না তাই,
পেলে হাতের পরশন।

পরিহাস
মরমে বিষ, মুখে সুধা,
তাতেই বেশী বিপদ ঘটে ।
কপট সখা চাইনা আমি,
বরং অরি ভাল বটে।
সানে পাহাড় দেখতে পেলে,
জাহাজ তবু বাঁচতে পারে ।
থাকলে পাহাড় জলে ডুবে,
বাচায় বল কে তাহারে ?
হাতটি ধরে’ মিলেছি,
হয়নি মিলন হৃদয়-মনে;
আর কখন হাতটি ধরে
মিনাক তােমার সনে।
বিদায় তবে—বিদায় তবে,
চাইনা হাতের পরশন ;
ধৰ না আর হাতটি তােমার,
এই বাসনা সারাখণ।
কাতর হয়ে’ বলচি তােমায়,
কর দেখি পরিহার -
আমাদের এ মৌখিক বিনয়,
হৃদয় হীন এ শঠতার।

তবেই দেহে হ'তে পারি,
হৃদয়-সখা, এখনাে ভাই ;
আমিও যদি ঘৃণা টুকু,
একেবারেই ভুলে যাই।
হাতে হাতে সংযােগ হলেই,
হয় না মিলন হৃদয়-মনে ;
আর কখন হাতটি ধরে,
মিনাক তােমার সনে।
বিধান
দিলেন ব্যবস্থা আসি’ শেষে পুরােহিত,
‘এ রােগের প্রায়শ্চিত্ত এখনি উচিত।
রােগী কহে “প্রায়শ্চিত্ত করে কোন্ জন?
যার কোন আশা নাই—নিকট মরণ।” .
শিহরিয়া পুরােহিত কন্“যমদূত
সিড়িতে উঠিতে আমি দেখিনু অদ্ভুত।”
“সত্য না কি?” কহে রােগ “চেহারা কেমন ?”
“ঘাের কালভীষণ সে-মােষের মতন।”
“বুঝিয়াছি” কহে রােগী হাসিয়া খেয়ালে
“দেখেছেন আপনারি ছায়া সে, দেয়ালে।”
৭২

শ
স্পষ্টকথা
ফুরাইয়া যায় বেলা,
তােমার এ লীলা-খেলা,
সাঙ্গ কর’ এই বেলা
দিন হ'ল শেষ ;
জগতের জীবগণ,
জন্ম-অন্ধ-অচেতন,
জানে না কে ত্রিলােচন ---
কেবা পরমেশ ?
ভুলাতে তাদের সব,
ধর নিত্য অভিনব,
হাব-ভাব—কি কৈতব,
দেখাও অশেষ ;
কভু নেচে, কভু হেসে,
ভুলাইয়া অবশেষে,
সেবা চলে বিনা ক্লেশে--
নাহি চিন্তা-লেশ।
পরেই মস্তকে জটা,
ভালে ত্রিবলীর ঘটা,
গেরুয়া-বসন-ছটা,
আঁটা কটিদেশ;

মহা
শুনায়ে বিচিত্র বুলি,
দিতেছ চরণ-ধুলি,
সবার মস্তকে তুলি
হইয়া ভবেশ।
প্রভু হয়ে কুতূহলে,
সুখে দিন যায় চলে,
এ দিকে মায়ার কলে
হয়ে আছ মেষ ;
দেখেছ কি চক্ষু মেলে ?-
কি উপায়ে যাবে ঠেলে
শিয়রে কৃতান্ত এলে
হলে আয়ু শেষ ।
চাও যদি পরিত্রাণ,
ত্যজ তবে অভিমান,
শীঘ্র ছাড় মিথ্যভাণ,
ভণ্ডামীর বেশ ;
হয়ে আছ কেষ্ট-বেষ্ট,
হলে হতে পার কষ্ট,
কিন্তু ভাই, বলা স্পষ্ট
সব চেয়ে বেশ।
৭৪

;
সর্জনের শ্রেষ্ঠ গুণ -স্বল্পে পরিতােষ
অথচ রাজার পক্ষে,তাই মহাদোষ।
নারী, লজ্জাশীলা হলে, প্রশংসে সবাই ;
বিলাসিনী পক্ষে তাহা,বিষম বালাই
।
গৃহস্থের—পুত্রলাভে ফুলে উঠে বুক ;
ধনীর সংসারে, কন্থা বেশী হলে সুখ।
আশয়-জীবন বাড়ে, লালসায়---নাশ;
বিদ্যা -কামদুঘা ; তৃপ্তিলাভে-স্বর্গবাস।
;
সুবিধা
মাংস কেনাে-দিতে হবে হাড় তা'য় বাদ ;
মাছ কেনাে --কাটা, আঁসে, ঘটায় প্রমাদ।
ফল কেনােফলা যাবে খােদ, বীচি, আঁটী ;
দুধ কেনাে-কখনই পাবে না সে খাটী ।
সুরা কেনাে---তেল নাই, সবটাই সার ;
মাত্রা ঠিক রেখে খাও—সব্যয় টাকার।
ঔষধার্থে সুরাপান যুক্তি বটে বেশ ;
নেশায় পড়িয়া, ঘটে সর্বনাশ শেষ ।

পরিহাস
কি
চিত
দেড় ঘণ্টায় চারটি মাইল, রােজ বেড়াচ্চি ভােরে ;
সুধীর সনে মহিমস্তব, পাঠ কচ্চি জোরে।
চার পুরুষের(?)আমদানীতে মুক্তি নাইক মােটে;
মেজাজ যত ঠাণ্ডা রাখছি-ততই যাচ্চি চটে।
রাজ-ডাক্তার ব্যবস্থা দেন—খেতে একটু ছােল
দোলা ছিড়ে পড়ে গেলাম--যেমন খেলাম দোল।
সাঁওতাল নাচের শব্দ শুচি,বেজে উঠছে ঢাকে;
কাঠবিড়ালী ছেড়ে মা-হাতী গেলেই ডাকে।
দাদা-দাদা বলে, তারা টলে টলে হাঁটে;
বাবাকে তার খুঁজে বেড়ায় গােলাপ বাগের মাঠে।
মাছ ছেড়েছি—আর জানইত খাইনা আমি বরি;
কিন্তে কিন্তে ক্লান্ত হচ্চি, তেল, নূন, ঘি, লড়ি ।
তার উপরে জলের কষ্ট,বলব কত আর ;-
বাড়ায় বাতিক কার্ত্তিক’-বেটার ধৃষ্ট ব্যবহার।
দুধে ভাতে আছি বটে, বাঁচছে তাতেই প্রাণ ;
ভাবনা-চিন্তা’ গেছে ছেড়ে; সহায়-“ভগবান্ ।
তার উপরে তােমার অসুখ, ভুগছ গিয়ে ঘরে ;
দেখে শুনে, বুকটা আমার ধড়া ধড়াস করে।
তবু পূজার সময় ভায়া, সকল দুঃখ ভুলে,
বিজয়ার এই আশিস—সবায় জানাচ্চি প্রাণ খুলে।
৭৬
•

পরিহাস
যােলআনা মিহিদানা, আর দু’টাকায়—
ষােলজোড়া পাকে পাকে ন্যাংড়া-বস্থায় ;
একপণ লিচু, আর বিশ জামরুল,
দু’সের পটোলে, হ’ল টাকাটি ওগুল।
বাকি টাকা--ঝুড়ি, কুলি, রেলের মাশুল ;
পঞ্চ মুদ্রা হ’ল শেষ—হিসাব নিভুল।
সুখ দিবে আশা করি, পাঠালেম যাহা ;
পথে মারা গিয়ে যেন-বাড়ায় না হাহা।
স্যায় দর্শন
ভাবছি বসে বসে ভায়া, ভগবানের ন্যায় কি সূক্ষ্ম ;
কিন্তু সেটা যায় না বুঝা, এইটে হচ্ছে মহাদুঃখ।
দেখনা এই টাটকা ঈলিস, বাড়ায় ক্ষুধা কি প্রবল,-
গঙ্গাগর্ভে বসতি যা’র, গভীর জলে—কি শীতল !
একটি খেলেই পেটটি গরম, ফলটি তাহার বিপরীত ;
খাবার সময়,আঃ কি স্বাদু! জ্ঞান থাকেনা হিতাহিত ;
আবরদেখ,কি উচুতে,নারিকেল-কাদি ঝুলছে গাছে।
রোদের তাপে হচ্চে গরম,ডাবেরপেটে যে জল আছে।
পান কর কি সুশীতল, পেটের গরম কেটে যাবে ;
ঈলিসখেয়ে যাচ্ছিল প্রাণ,আবার সে প্রাণ ফিরেপা’বে।
যে অদ্ভুত দর্শন ভায়া, ভগবানের ন্যায় কি সূক্ষ্ম ।
যুক্তি তর্কে যায় না বুঝা, এইটে হচ্ছে মহাদুঃখ ।

পরিহাস।
বর্ষ বৰ্ত্তন
১
সন তেরশ উনত্রিশ সাল,কাল-সাগরে ডেবে-ডােবে,
পেলাম আমরা হাতে কিযে হিসাব করে’দেখি তবে।
বিশ্ব-বিদ্যার সরস্বতী, দিলেন এতই বিদ্যা-ভার,
মেধা, বিষম ধাঁধায় পড়ে, চসমা চোখে অস্থিসার।
২
নীতির এখন পথে, ঘাটে, দেখছি নিত্য অপমান ;
জাল-জরি-জুয়ার স্রোতে, ভাসছেন সাধু মতিমান্ ।
প্রতিভার সে সিংহ-মূৰ্ত্তি কোথায় তেজের পরিচয় ?
ফিছে মাথায় ফেরুর ফন্দী, ভুলে গেছে আত্মজয়।
দেখছি বটে ‘স্যর আশুতােষ’, রাজশাৰ্দল বাঙ্গালার,
দেখালেন, ত্যাগ-পত্রের তেজে,শক্তি-আত্মমর্যাদার।
হিহিন্দুর স্বদেশপ্রীতির খুলে গেল আবরণ ;
পাশ হ’ল না তাইত আইনগগাকুল-বিনাশ-নিবারণ।
৪
অসহযােগ কবে কি আর ? পক্ষাঘাতে পঙ্গু সব;
গৌরের বিল--সহযােগের তুলে ধ্বজা অভিনব ।
নিমকহারা নইক মােরা,
গরীবের যে সম্বল নূন।
মানুলেনা তালাটের কলম সদস্যদের মুখটি চুণ।

পরিহাস
ধনীর গরম যাচ্চে কেটে, শ্ৰমীর এখন পৌষমাস ;
মাঝে আছেন মধ্যবিত্ত শিয়রে ত’র সর্বনাশ।
দেশের বুকে রেলের বাঁধন, সুখের বাহার অসহারে ;
বাড়ছে মারী-বন্যার স্রোতে বঙ্গ ভাসে হাহাকারে।
দেখছি তাতেই ফছে সুফল,ব্যথারব্যথীদেশেরছেলে,
আতুর সেবায় উঠছে জেগে,আচারজীর্ণ ধৰ্ম্ম ফেলে ।
হাল ধরেছেন ‘স্যর প্রফুল্ল’– প্রফুল্ল তাই ছাত্রগণ ;
ত্যাগীর শক্তি নিত্যজয়ী ‘দেশবন্ধু তার নিদর্শন।
চকা ঘোরে নিত্য বটে - চড়কের পাক বরষ-শেষ ;
দেপা-দেপা,হাসাও সবা,হেলেও নাও ভুলে ক্লেশ ।
ভালমন্দ কাজ কি বিচার? কাজ করে’যাও হাসিমুখে ,
স্বাগত-হে নববষ’
হর্ষভরা আশা বুকে।
জীবন
জীনটা যে নাট্যশালা, বলতে পারি বেশ ;
এখানে নট, কলা-বিদ্যা দেখায় সবিশেষ।
কেহবা হেসেই কাটায় জীবন-যেন প্রহসন;
কেহবা কেঁদে দেখায়--ভুবন, দুঃখে নিন।

পরিহাস
ষে কাৰ
-
স্বামী...
এত চুণ দিয়ে পান আর কভু
সাজিওনা প্রিয়তমা,
মুখ পুড়ে গেল--অাজিকার মত
করিনু তােমায় ক্ষমা।
স্ত্রী...
ক্ষমাগুণে ভরা দেবতা আমার
বচনে হইনু সুখী;
তােমার বকুনি, বুঝিনিকি আমি,
ভাব’ আজ’ কচিখুকী ?
স্বামী...
খুকী কেন হবে? সেটা বুঝি বেশ,
বয়স গিয়েছে বেড়ে ;-
নহিলে কি এত, নথ-নাড়া দিয়ে
সমুখে এসেছ তেড়ে ?
স্ত্রী...
আমারি বয়স বাড়িতে দেখেছ,
কি তােমার পােড়া চোখ ?
আমার চেয়ে যে তুমি ঢের বুড়ো,
জানে তা দেশের লোক।

পরিহাস
স্বামী
৪ ।
আমি বুড়া হই, ক্ষতি নাই তায়,
তুমি বুড়ী হলে মাটী
সাধ করে হয়, পরাব কাহায়
এনে টাঙাইল সাটী
স্ত্রী...
সাধের বালাই নিয়ে মরে যাই,
পাইনাক দেশী সাড়ী ;
কি প্রাণের সখ-বাচিয়ে খবচ
মুখে ছাগল-দাড়ী।
স্বামী...
তোমার কি ক্ষতি, বল না তাহাতে ?
এ তােমার বড় ভুল ;-
দাড়ি ফেলে দিব? আগে কাট দেখি
তােমার চিকণ চুল।
;
খোঁপা কেটে দিবে ? দাও, কেটে দাও,
আমিই হয়েছি দুষী
পান খেয়ে, মুখ পুড়ে গেছে তাই,
বলিতেছ যা খুসী ।
১

পরিহাস
.
স্বামী:..
দোষ যদি নিজ বুঝে থাক প্রিয়ে,
মিটে গেল গােলযােগ ;
যে যাহার দোষ বুঝিতে পারিলে
থাকে না যাতনা-ভোগ।
খ্রী
জানিতাম আগে, পান থেকে চূণ
খসিলেই হয় দোষ ;
জানিলাম আজ,বেশীতেও তার
দেবতার বাড়ে রােষ ।
স্বামী...
জেনে রাখ আরাে, যে, ভালবাসার
সংযম মঙ্গগুণ,
কম হলে ঝাল-বেশীতেও জালা
যেমন পাণেতে চূণ।
০
মুনটাও ঠিক ভালবাসা সম,
বেশী-কমে বাধে গােল ;
তুমি-আমি কেহ, নহি কম-শী
আমি কঁসি, তুমি ঢোল ।
উভয়ে
হরিবােল! হরিবােল !!

পরিহাস প্রাচীন ছবি আমার চক্ষে হচ্চ প্রতিভাত- কে তুমি মা সৌম্যবেশা নারী ? কুশের বলয়, তােমার দু’টি করে, পরণে, এক রাঙাপেড়ে সাড়ী। উষার মতন সােণর ভূষায় সেজে, রাজার রাণ, তীরে উষালােকে ;-- গঙ্গাস্নানে তােমার বিশদকান্তি, দেখচেন চেয়ে মহিমময় চোখে। দেবী তুমি—হে নিরাভরণা, হাস্যময়ী-দিব্য স্বাস্থ্য-ছটা অলঙ্কারের সেরা অলঙ্কার সীমন্তে ঐ দীপ্ত সিদুর ফোটা। ৪ সন্ঠঃ মাতা---কি পবিত্র মন, মায়ের আমার সদানন্দ প্রাণ ; রাণীর সজ্জা, জাকজমকে ভরা, হয়ে এল তাহার কাছে ম্লান। -----

পরিহাস
রাণী,তখন ভক্তিপ্রবণ চিতে,
লুটিয়ে পড়লেন মায়ের চরণ পরে ;
শুভ আশীর্বাদে-মা আমার,
উঠালেন ত’য়, ধরে’ মেহের করে।
বল্লেন রাণী—কি বিনীত স্বর--
“হে জননী, আদেশ করুন মােরে,--
যদি কোন অভাব থাকে তব,
ঘুচা’ৰ মা, আমি ভক্তিভরে।”
ভেবেছিলেন রাণী মহীয়সী,
অধ্যাপকের ভূষণহীনা সতী,
ইঙ্গিং যদি করেন ঘুণাক্ষরে,
সাজাব তা’য় দিয়ে জহরমােতি।
‘‘আমার অভাব? কৈ কিছু নাই
বল্লেন সতী, শুচি হাস্যময়ী,
( সন্তোষ যাহার বিরাজ করে চিতে
লােভের মুখে সে জন চিরজয়ী।)
৪

পােস অধ্যাপনায় সদানন্দ প্রাণ- স্বামী আমার, বিদ্যদানে রত; গুরুগৃহে, ব্রহ্মচর্য্যধারী শিষ্যেরা সব, চির অনুগত। “কিসের অভাব? তারাই ভিক্ষা আনে, রেধেবেড়ে খাওয়াই সুখে আমি ; কোন অভাব থাকে না সে নারীর, পেয়েছে যে শিবের মত স্বামী। ১১ ক্ষুন্ন মনে, নামূলেন স্থানে রাণী, বন্দি মায়ের চরণ ভক্তিভরে ; ফুল্ল মনে—“আয়ুষ্মতী হও” বলি দেবী ফিরে গেলেন ঘরে। সৌজন্য “ভেঙ্গে দিলে প্রিয়ে, মাের সুখের স্বপন ভ্রমতে ছিলাম আমি, নন্দনকানন।”-- “দেখেছ নিশ্চয় তথা, অপ্সরী-কিন্নরী?” দিলেন যে সে সুযােগ, তুমিই সুন্দরী -

পরিহাস
- - -
মিনতি
তোমরা ললনা,ধৈৰ্য্য-প্রতিমা -একাধারে দেবী-দাম
কি সাহসে সহ শতেক যাতনা, আননে সলাজ হাসি
সরলা, কোমলা,মধুর শীতলা,তােমরা মােদের গতি
কভু বা মানিনী,প্ৰবলা দামিনী—চকিতে সদয়াঅতি
ধরমে, কমে, সদা পূতমতি, অকারণ কর ‘আহা’ ;
কারণ দেখাও-খরচের বেলা,কি নিপুণ ভাবে তাহ
তােমরা বিনীতা, অশ্রুগলিতা,কথায় কথায় দেখি ;
ও চরণতলে রয়েছে পড়িয়া, কত যে ঘরের টেকি।
থাক’ পরিপাটী সুরুচি সােহাগে,তােমরা নিরন্তর;-
সাজিয়া যতনে, ভূষণে, রতনে,আলাে করে আছ ঘ
বসুধার সেরা কুসুম তোমরা, বিধির অবাক্ সৃষ্টি
স্নেহ-প্রেম-প্রীতি-পরিমলভরা, সংসারের শুভদৃষ্টি ;
;
৪
জননী-ভগিনী-সুতা-জায়ারূপে করপুটে সেবা ভরা
কি স্বচ্ছন্দে রেখেছ সংসার—তােমাদের হাতে গড়া
সােণার এ ঘর করে’ ছারখারঅধিকারে’ঢেলে প্রাণ
এসনা বাহিরে,পুরুষের কাজে-হারা’তে নারীরমা

পরিহাস
বিংশ শতাব্দীর শিবের গান
(১)
সতী তিনি, দাক্ষায়ণী,--আমি পাগল শি;
পতির নিন্দা শুনে কাণে,
ঘা লাগেনা আর সে প্রাণে,
বাপের বাড়ীর গুণ-গানে-সতত উদগ্রীব।
(২)
তপস্বিনী উমা তিনি, আমি তাপস শিব
ছেলেবেলা আমার ধ্যানে,
ছিলেন কিনা-কেবা জানে,
এখন তাহার প্রেমের টানে, বেরিয়ে আসে জিভ,।
( ৩ )
তিনি ধন্থা, অন্নপূর্ণা, আমি কাঙাল শিব ;
পাইনা এখন খেতে পায়,
পাচ্চি বটে হাতার ডাঙস
সাবাস তাহার শক্তি-সাহস-পুরুষ যে হয় ক্লীব ।
( 4 )
তিনি জায়া--মহামায়া, আমি অঘের শিব ;
দেখলে তাহার করাল বদন,
আঁৎকে পামে হৃদ্স্পন্দন,
চরণতলে লভি’ শয়ন--গণি যে, নসিব ।

পরিহাস
৭ws
( ৫ )
গৌরী তিনি, গরবিণী, আমি ভােলা শিব ;
স্বামী আমি-ভুলে হা রে!
সব ক্ষমতা দিলাম তারে,
এখন বাঁধা কারাগারে—তিনি যে মনিব ।
--
তিনি নারী—বিশ্বেশ্বরী-দিগম্বর এশিব ;
বিশ্ব দিয়ে তাহার করে,
নিঃস্ব আমি--কাজ কি ঘরে ?
ভস্ম মেখে তাইত ঘােরে—এ নিরীহ জীব।
চোৱ ৱা
“আমার কি হ’ল প্রিয়ে, খুঁজিয়া না পাই--
এ ঘরে যে চোর আছে কভু ভাবি নাই।”
বিস্মিত হইয়া প্রিয়া,কহে শুষ্ক মুখে,
“আমি ছাড়া এ ঘরে ত কেহ নাহি ঢুকে।”
স্বামী কহে করেছ তুমিই তবে চুরি,
আমার নিকটে মিছে করিছ চাতুরী।”
রেগে গিয়ে কহে বালা-“একি পরমাদ ?
দিওনা আমার নামে, মিছে অপবাদ।”
সজোরে ধরিয়া বুকে,স্বামী হেসে কয়—
তুমিই কবেছ চুরি -আমার হৃদয়।”
৮৮

পরিহাস তোমার সহজরূপে, এস প্রিয়ে, চুপেচুপে, লালপেড়ে সাড়ী অঙ্গে, সীমন্তে সিন্দুর শ্রদ্ধা-প্রীতি-মেহ-রসে, দাড়াও--দেখুকু দশে, কি আনন্দে, ঘরে ঘরে বিরাজ হিন্দুর। তােমার প্রভাব গন্ধ, সতীত্বের মকরন্দ- ছড়ায়ে রয়েছে বকরি’ ভরপুর । তোমার পবিত্র স্পর্শ, সংসারে বাড়ায় হর্ষ, পূত চিতে পূজ গৃহ-দেবতা-ঠাকুর। তোমার বচন-লব্ধ - কল্যাণ-নিদান শব্দ মলিন তাহার পাশে-রাগিণী মধুর : কলুষ করিয়া শূন্য, তুমি মূর্তিমতী পুণ্য, এনেছ ত্রিদিব-বার্তা---অমিয় প্রচুর।

পরিহাস
মনে ঘূৰ্ত্তি, দেহে শক্তি,
গুরুজনে প্রেমভক্তি,
উদর অপত্য-মায়া, ব্যপ্ত পরিজনে ;
সেবায় প্রফুল্ল কান্তি,
রোগে, শােকে, ঢাল শান্তি,
দীনে দয়াবতী, সাধ্বী-কুশল-সাধনে।
শােভে শথি-পদ্ম-হন্তে,
গুণ্ঠন-বিনম্র মন্তে,
চরণে, অলক্তরাগ---উজলে অায়তি ;
রূপে, রসে, গন্ধে, স্পর্শে,
শব্দে, কিবা সুধা বর্ষে,
বঙ্গ-কুললক্ষ্মী, পতি-হৃদয়ে বসতি।
এস, চির মনােরমা,
তুমি বাণী, তুমি রমা.
কবির গভীর জ্ঞানে, আনন্দ-দায়িনী ;
অন্তরে, বাহিরে, ধ্যানে,
তুমি জেগে আছ প্রাণে,
কল্পনায় দেবী তুমি,---বাস্তবে গৃহিণী ।

পরিহাস “আমার হেরেছ তুমি রূপ! ছন্দে তাহা প্রচারের কিবা প্রয়ােজন? দেখিতে পারনা করি’ চুপ। আমার পেয়েছ তুমি ৱস; অবাক করেছ মোরে তুমি রসময়, তবুত হলে না কভু বশ ? গিয়ে, আমার পেয়েছ তুমি গন্ধ। কাছে পেয়ে, দুরে কেন গাও গান-- হয়েছ কি একেবারে অন্ধ ? ৪ আমার পেয়েছ তুমি স্পর্শ; ধরি ধরি’ করি, তবু, ধরা নাহি দাও- কোথা তুমি, এ জীবন-হর্ষ ? ১১

পরিহাস
আমার শুনেছ তুমি শব্দ।
কি ভুল, সে ঝনৎকার
চুড়ির আমার,
তােমারেই করিবারে জব্দ।”
এস প্রিয়ে, কবির আনন্দ;
কবি উথলি পরে
বনিতা-মিলনে
লেখা তাই হল আজ বন্ধ ।
পরিশেষ
পাপের দেওয়া সুখের মাঝে-
শতেক যন্ত্রণা ;
পণ্যের দেওয়া দুখেও রাজে—-
অশেষ সান্ত্বনা ।
৯২

পৃষ্ঠা পত্রাক ( * চিহ্নিত কবিতাগুলি যুক্তাক্ষর বিহীন ) বিষয় উপহার পরিতাপ পরিহাস ঘুমভাঙান অদৃষ্টের পরিহাস ভালবাসা ১ ৮ . । ১১ ৫ ও ১৪ অত্যুক্তি প্রত্যুক্তি মনের কথা ফটো দেখা অতিকাব্য আংটি ১৮ রূপে-রঙে ফুলশয্যা পণ নষ-পূজা २२ বয়সের ফল २२ তৃতীয়পক্ষ যুগধর্ম ২৪ ২৬ পরিহাস সহজ জীবন * নীতি সােজাকথা কৃতান্ত কীর্তন হাতুড়ে চিকিৎসা ২৮ ৩২ মদ নয়-আসব ৩৯ ৪ ০ চাদর সুরার স্তব ৪৩ মাতালের গান ৪৩ ৪৪ মদোল্লাস বাঁচাও টাকা ৪৭ s৮ ৫৮ মানুষ ৬১ কশ্মী দেশের মাটি ঘুড়ি সমস্য ৬৪ আয়না * নিবৃত্তি ৬৬ ১৪ পরিহাস বাহুবল * হিতে বিপরীত # বিফল মিলন * বিধান স্পষ্টকথা ৭০ ৭২ ৭৫ ভালমন্দ সুবিধা सिटि ৭৬ ফর্দ ৭৭ ন্যায়দর্শন ৭৭ ৭৮ বর্ষ-বর্তন कोचन ৭৯ দোষ কা’র . ৮০ ৮৫ প্রাচীন ছবি সৌজন্য মিনতি বিংশ শতাব্দীর শিবের গান ৮৬ ৮৭ চোর ধরা ৮৮ গৃহী ৯১ পরিশেষ ৪

No text on this page.

No text on this page.

Parihas

Author
Laha,rasamay
Title
Parihas
File name
Parihas
Text
OCR done
Citation
1924
Published
2009/12/4
Publisher
Rasamay Laha,kolkata
Language
Sanskrit
Pages
102
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Laha,Rasamay
DLI number
513033
Barcode
4990010020050.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
S2cTUKonqlZ
Download PDF

Parihas