Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Driro Rasik Ananya-baishnab-dharmo Ed.1st

Lalji,govardhan · 2009/12/26

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

ভ-সিক
অনন্য বৈষ্ণবধর্ম।
----
গোস্বাগগাবর্দ্ধন লাল জী!

No text on this page.

শ্রীশ্রীরাধাবল্লভভ কমতি
বড় লসিক
অনন্য-বৈষ্ণব-ধৰ্ম্ম ।
( ঐকান্তিক ভক্তি যোগের একখানি শাস্ত্র গ্রন্থ
জগদীশ, মহাপ্রসাদ মহিমা, প্ৰেমশতক, শঠ শতক,
বিলাসিনী ও কঠী বাঈ প্রভৃতি
বহুল গ্রন্থরচয়িতা এবং প্রেমপুষ্প সম্পাদক
কবিচূড়ামণি
গােস্বামী শ্রীগােবর্ধন লালজী
কর্তৃক
মুল হিন্দী হইতে বাঙ্গালা ভাষায়
অনূদিত
প্রথম সংস্করণ
প্রকাশক
গােস্বামী ব্রাদাস
১৩, মহেন্দ্র বােসের লেন, বাগবাজার
কলিকাতা
ইং ১৯১৯ সাল
( মূল্য • আন

বিকোষ প্রেস
৯ বিশ্বকোষ লৈ
শ্রীরাখালচন্দ্র মিত্র কর্তৃক
অদ্রিত। ১৩

ভূমিকা “দৃঢ়-রসিক অনন্য বৈষ্ণবধর্ম গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ প্রকাশিত হইল। এ স্থলে এই গ্রন্থেৎপত্তির এবং ইহাতে সন্নিবিষ্ট আলােচ্য বিষয়ের কিঞ্চিৎ বিবরণ প্রকাশ করা আবশ্যক। গত ১৯১১ খৃষ্টাব্দে প্রয়াগে বড়য়া ঘাটে ত্রিবেণীতটে বেনারসের মহারাজের প্রাসাদে রিবা মহারাজ কর্তৃক চতুঃসম্প্রদায় বৈষ্ণব ও বৈষ্ণবাচাৰ্যগণের এক বিরাট সভার অধিবেশন হয়। এই সভায় চতুঃসম্প্রদায়ের শত শত বৈষ্ণব শুভাগমন করিয়া- ছিলেন। সভার তৃতীয় দিবসের অধিবেশনে আমি যে হিন্দী-ভাষায় বক্ত তা করিয়াছিলাম, তাহাই সমাগত বৈষ্ণবাচাৰ্যগণের অনেকের অনু- রােধে প্রথমতঃ রিবা মহারাজের সাপ্তাহিক পত্র *শুভ চিন্তকে তঁাহারই অভিপ্রায়ানুসারে প্রকাশিত হয়। পরে উহা গ্রন্থাকারে প্রকাশ করার জন্য রিবা মহারাজ আমায় অনুরােধ করেন। তদনুসারে উহা গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয়। তৎপূৰ্ব্বে মৃজাপুর বৈষ্ণবধর্ম সভায়, শ্ৰীবৃন্দাবনে শ্রীরাধা- বল্লভের পুরাণ মন্দিরে রাধাবল্লভীয় গােস্বামিগণের ও তদীয় শিষ্যবর্গের সমক্ষে এই বক্ত তা পাঠ করা হইয়াছিল। অতঃপরে পাটনা ও মুঙ্গের জিলাস্থ গােগরীগ্রামেও এই বক্তৃতা পঠিত হইয়াছিল। গােগরীগ্রামের সভায় শাক্ত ও বৈষ্ণব উভয় সম্প্রদায়ের শ্রোতৃবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তথায় এই প্রবন্ধ পঠনকালে শ্রোতৃবর্গের মধ্যে অনেকেই ইহার সারবত্তা অনুভব করিয়াছিলেন। এমন কি, হরিচরণ ত্রিবেদী নামক একজন শাক্ত ব্রাহ্মণ শ্রোতা এই প্রবন্ধ শ্রবণে এমন অভিভূত হইয়াছিলেন, যে তিনি অতীব আৰ্ত্তির সহিত আমার নিকট উপস্থিত হইয়া বৈষ্ণবমন্ত্রে দীক্ষা স্মাণ করেন। ।

• অতঃপরে পুরীধামে ঐশ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরের বহিঃপ্রাচীয়ের যেখার মধ্যে তত্ৰত্য সনাতন ধৰ্ম্মরক্ষিণী - সভার এক বিশেষ অধিবেশন হইয়াছিল। সেই সভায় বহুসম্প্রদায়ের বহুতর সাধু পণ্ডিত, নানাবিধ শাধিকারী ও শ্রীজগন্নাথদেবের প্রধান প্রধান পাণ্ডাগণ উপস্থিত ছিলেন। সেই সময়ে উক্ত সভায় শ্রীমৎশঙ্করাচার্য সভাপতি পদে বুত হইয়াছিলেন। এই প্রবন্ধ শ্রবণে পুরীধামে একটি অভূতপূর্ব ফল টিয়াছিল। ইতঃপূর্বে শ্রী-একাদশী উপবাস-দিবসে পাণ্ডাগণ মহা- প্রসাদ গ্রহণ করিতেন না। কিন্তু এই প্রবন্ধ শ্রবণের পর অনেক পাণ্ড শাস্ত্রযুক্তির সামঞ্জস্য সন্দর্শনে একাদশীব্ৰত দিবসেও মহাপ্রসাদ ভক্ষণে সেই সভাস্থলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েন। কলতঃ যে যে সভাস্থলে এই প্রবন্ধ পঠিত হইয়াছে, সেই সকল সভাতেই বহুতর পণ্ডিত উপস্থিত থাকিতেন, তাহারা সকলেই এই শাস্ত্র- মুক্তি গবেষণাপূর্ণ প্রবন্ধের ভূয়সী প্রশংসা করিয়াছন। আমি রিবারাজের এবং অন্য পণ্ডিতগণের অনুরােধে এই প্রবন্ধ তিন বৎসর হইল পুস্তকা- কারে হিন্দিভাষায় মুদ্রিত করি। তৎপরে গৌড়ীয় বৈষ্ণবাচাৰ্যগণের মধ্যে অনেকেই এই গ্রন্থ পাঠ করিয়া মহাপ্রসাদ মহিম সম্বন্ধে এই প্রবন্ধের পুনঃ পুনঃ প্রশংসা করেন। এমন কি, গৌড়ীয় বৈষ্ণবাচাৰ্যগণের মধ্যে অনেকেই এই গবেষণার নিমিত্ত আমাকে ধন্যবাদ প্রদান করেন। আনন্দ- বাজার পত্রিকাতেও ইহার অনুকূল সমালােচনা প্রকাশিত হইয়াছিল। তখনও ইহার বঙ্গানুবাদ প্রকাশ করার জন্য অনেকে অনুরােধ করিয়া- ছিলেন। কিন্তু এ স্থলে ইহাও বক্তব্য যে গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণের মধ্যে বৃন্দাবন- বামী রাধারমণী গােম্বামিদের মধ্যে দুই এক ব্যক্তি প্রকাশ্যে এ নিমিত্ত আমার প্রতি খঙ্গহস্ত হয়েন। তঁাহাদের বক্তব্য এই যে আমি এই • এন্থে তাহাদের সমাদৃত শ্ৰী-একাদশী ব্রতের খণ্ডন করিয়াছি। বলা বাহুল্য, তাহাদের এই বিশ্বাস অমূলক। মহাপ্রসাদের নিকট একাদশ ৰত যে অতি তুচ্ছ ইহাই এই গ্রন্থে প্রকাশিত হইয়াছে। মহাপ্রসাদের তুলনায় একাদশী যে কিছুই নহে, একথা কে স্বীকার না করিবেন। ফলতঃ যে স্থলে মহাপ্রসাদের অভাব, সেই স্থলেই একাদশী ব্রত বৈধীভক্তি অনুসারে পালনীয়। কিন্তু যেখানে মহাপ্রসাদের প্রভাব বিদ্যমান, সেখানে প্রসাদ পরিত্যাগের প্রত্যবায় অবশ্যই স্বীকার্য। সুতরাং তৎতং স্থলেই একাদশী ত্যাগেও প্রসাদ-গ্রহণের ব্যবস্থা এই গ্রন্থে প্রকাশিত হইয়াছে। বলা বাহুল্য, প্রসাদ গ্রহণ বেলায় ইহা বিশেষ বিধি। সামান্য অপেক্ষা বিশেষ বিধি সৰ্ব্বত্রই বলবান্ ইহাতে আমি শাস্ত্রের বিহিত বিধি একাদশী ব্রত খণ্ডন করি নাই, ফলত একটি গুরুতর বিশেষ বিধি মাত্র প্রদর্শন করিয়াছি। যাহারা মহাপ্রসাদে তাদৃশ বিশ্বাস না করিতে পারেন, অথবা মহাপ্রসাদ গ্রহণে খাহাদের সতত সৌভাগ্য ঘটে না তাহারা একাদশী ব্রত সম্বন্ধীয় শাস্ত্রীয় বিধি প্রতিপালন কৰিয়া শাস্ত্র-মৰ্যাদা রক্ষা করিতে পারেন, আমার প্রবন্ধে ইহাই লিখিত হইয়াছে। অসমদর্শীরা আমার উক্তিসমূহ সম্যকরূপে আলােচনা না করিয়া আমার প্রতি যতই কটুক্তি করুন না কেন, তাহাতে আমার দুঃখ নাই। আমি শাস্ত্র ব্যতীত কোনও কপােল কলিত অভিপ্রায় এই গ্রন্থে প্রকাশ করি নাই। আমার প্রত্যেক কথাই শাস্ত্র দ্বারা সমর্থিত ও পরিপুষ্ট । অপরন্তু এই গ্রন্থের উদ্দেশ্য অতি মহান্ । একাদশী ব্রত খণ্ডন সম্পূর্ণ ধত কথা। সে জন্য আমার এ প্রয়াস নহে। বৈষ্ণব ধৰ্ম্মের সার ম স্বাক্ষরে প্রকাশ করাই এই গ্রন্থ-বিরচণের প্রধানতম উদ্দেশ্য । এই গ্রন্থে আমি অনন্ত ও দৃঢ় ভক্তির আলােচনা করিয়াছি এবং রসিক ভক্তগণের হৃদয়ে কি প্রকার দৃঢ় ও অনন্য-ভক্তি বিকশিত, বিবর্জিত সম্পুষ্ট হয়, তাহারই ক্রমসমূহ শাস্ত্রযুক্তি ও উদাহরণ প্রভৃতি দ্বারা সরস ও বিশদরূপে এই গ্রন্থে আলােচনা করিয়াছি। আমি শ্রুতি, স্মৃতি, শ্রীমদ্ভাগবত, ভগবদগীতা ও নানাবিধ পুরাণ প্রমাণ ও আমাদের রাধাবল্লভীয় সম্প্রদায়ের সাধু ভক্তগণের পদাবলী প্রভৃতি সংগ্রহ করিয়া এই গ্রন্থে দৃঢ় অনন্য-ভক্তির শ্রেষ্ঠতা প্রতিপাদন করিয়া বিধিবিহিত কর্মকাণ্ডের তুচ্ছতা সপ্রমাণ করিয়াছি। চতুঃসম্প্রদায় বৈষ্ণব মাত্রেরই যে উহাই চরম সাধনা, ইহা সর্বসম্মত। সার্বভৌমিক সনাতন ভজন সাধনের সার-তাৎপর্য। এই গ্রন্থে প্রদর্শিত হইয়াছে। একান্ত ভজনশীল বৈষ্ণবগণ এই গ্রন্থ পাঠে যদি কিঞ্চিত্রও সন্তুষ্ট হয়ে তবে আমার পরিশ্রমের যথেষ্ট সাফল্য হইবে । অধুনা বঙ্গভাষাজ্ঞ বঙ্গীয় বৈষ্ণবগণের পাঠের জন্য আমি এই গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ করিলাম । মুল প্রমাণগুলি দেবনাগর অক্ষরে প্রদত্ত হইয়াছে। কিন্তু বাঙ্গালা ভাষায় উহাদের অনুবাদ প্রদত্ত হইয়াছে। বাকী গৌড়ীয় বৈষ্ণবগণ ও একান্ত ভজনের পক্ষপাতী। তাহারা ইহাতে | শ্রীরাধাগােবিন্দের একান্ত ভজন সম্বন্ধে প্রচুর প্রমাণ দেখিতে পাইবেন। নিষ্ঠাবান্ ভজন-প্রিয় বৈষ্ণবগণের জন্যই আমার এ প্রয়াস, তাহার। কিঞ্চিৎ সন্তুষ্ট হইলেই আমি কৃতার্থ হইব। অলমতি বিরেণ-- কলিকাতা শ্রীগােস্বামী গােবর্ধন লাল ঐহিতোৎসব সম্বৎ ১৯৭৬। ১৩নং মহেন্দ্র বসুর লেন, বাগবাজার।

Hnimls list.ith.in
ओवृन्दावन धाम का श्रीगधाबल्लभाय सम्प्रदाय के
आद्याचार्य महाप्रभुः
R
.
listinuleisti
श्री १००१ गोस्वामि श्रोहितहरिवंशचन्द्रजो महाराज।

श्रोगधावल्लभन्नाल जी महाराज
श्री वृन्दावन धाम
04tarte
.
-M
श्रीराधावल्लभ, श्री हरिवंश ।
श्री वशीक्ट.
श्रो यमना ।
धा वृन्दावन, श्री बनचन्द ।।
श्री हितगधा, श्री पुलिना ॥

শ্রীরাধাবল্লভােজয়তি। ঐহিতহরিবংশচন্দ্রেজয়তি অনন্য বৈষ্ণবধর্ম। "भक्त्यात्वनन्यया लभ्यो हरिरन्यद् विडम्बनम् “কেবল অনন্য ভক্তিদ্বারাই হরিলভ্য হয়, অন্যান্য সাধন বিড়ম্বনা মাত্র।” ভগবান শ্রীবিষ্ণুর প্রতি জীবের যে দৃঢ় অনন্য ভক্তি উহাই বৈষ্ণবধর্মের যথাসর্বস্ব। বৈষ্ণবধৰ্ম্ম হইতে যদি বৈষ্ণবধর্মের অনন্যতা দূরীভূত করা যায়, তবে বৈষ্ণবধর্ম সংসারের অন্যান্য ধর্মের ন্যায় কেবল কথার কথা মাত্র হইয়া দাঁড়ায়। এই কারণে অনন্যতাই বৈষ্ণবধৰ্ম্মের প্রাণ। অনন্যতা ব্যতীত বৈষ্ণবধর্ম আর শ্রীমুর্তি-বিরহিত শ্ৰীমন্দির-জল বিনা সরােবর এবং প্রাণ বিনা দেহ—এ সকল একই কথা । স্বীয় অনন্ত অবিজ্ঞাত এবং অচিন্ত্যশক্তিপ্রভাবে শ্রীভগবান্ শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং যেমন অত্যন্ত সুলভ ও অত্যন্ত দুর্লভ, সেই প্রকার বৈষ্ণবধর্মও উহার অনন্যতাহেতু অত্যন্ত দুর্লভ ও অত্যন্ত সুলভ হইয়া থাকে। এই পরিদৃশ্যমান্ সমস্ত জগতে যদি কোন ভাবের একই সময়ে সুলভ ও দুর্লভ এই দুই অবস্থা প্রাপ্তির সম্ভাবনা থাকে, তবে তাহা কেবল এক বৈষ্ণব- ধর্মের ভক্তগণদ্বারা, শ্রীভগবানের প্রতি সময়ে সময়ে প্রকটমান ভক্তির এই অনন্যভাব ব্যতীত আর অন্য কিছুতেই হয় না।

অনন্য বৈষ্ণবধর্ম সমস্ত বৈষ্ণবধৰ্ম্মের অনন্যভাব অন্যান্য ধর্মভাব হইতে অত্যন্ত পৃথক। জগতে ধৰ্ম্মের জন্য ভারতবর্ষের ভূখণ্ড বিশেষলক্ষণযুক্ত। বহু প্রকার ধৰ্ম্মমত ভারতবর্ষে দেখিতে পাওয়া যায়। ভারতবর্ষের সর্বপ্রকার ধৰ্ম্ম হইতে বৈষ্ণবধর্ম বিশিষ্টতমলক্ষণে বিশিষ্টলক্ষণযুক্ত। আবার সেই বৈষ্ণব- ধর্মের মধ্যেও এই অনন্য সর্বাপেক্ষা বিশিষ্ট লক্ষণান্বিত। ভক্তিযােগ, অব্যভিচার ভক্তিযােগ এবং তীব্র ভক্তিযােগ,-ভক্তির এই ত্রিবিধ ভাব প্রসিদ্ধ। ইহাদের মধ্যে শ্রীভক্তির অব্যভিচার ও তীব্রতার মৌলিকতাই অনন্যতা। ভক্তিবৃক্ষের আর যত ভাব আছে সেই সকল ভাবের মধ্যে কোনটী বা শাখা অপর কোনটী বা পত্র। কিন্তু অনন্যতাই উহার মূল। এই কারণে বৈষ্ণবধৰ্ম্মের অনন্যতা সৰ্ব্ব প্রাচীন। অদ্য শ্রীমৎ রেওয়া মহারাজের নবােৎসাহে সংস্থাপিত চতুঃসম্প্রদায়ী এই শ্রীবৈষ্ণৰ মহাসভায় স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অনন্যভক্তির বিষয় আমার যথামতি ও যথাশক্তি কিছু বলিবার আছে। আশা করি আপনারা শ্রীকৃষ্ণভক্ত বৈষ্ণবগণ, এক দৃঢ় রসিক অনন্যভক্ত বিষ্ণুপ্রিয় হিতপ্রেমকবির দৃঢ় রসিক অনন্যোক্তি সম্বন্ধে দুইটী কথা আপনাদের নিজের কথা বলিয়া মনে করিয়া স্নেহদৃষ্টি রাখিয়া শ্রবণ করিবেন। বৈষ্ণবশাস্ত্রে দৃঢ় অনন্যধৰ্ম্ম সম্বন্ধে সতীধৰ্ম্ম ও শূধৰ্ম্মের সহ উপমা দৃষ্ট হয়। এ সম্বন্ধে আমাদের শ্রীনাগরীদাস জীর একটা পদ আছে ; সে পদটী এই बड़ोई कठिन है भजन ढिंग ढरिवो तमकि सिन्दूर मेलि माथे पै, साहस सिन्धु सतो कैसो जरिवो। रन के बीच फिरत ज्यों घायल, অনন্ত বৈষ্ণবধর্ম मुरनि गरूर सूर कैसो लरिवो। নামৰী কাৰ সুলভ ভলি ভানী, श्रीहरिवंश पन्थ पग धरिवो। - ইহার বঙ্গানুবাদ এইরূপ,—“ভজনের অভিমুখে ঢলিয়া পড়া বড়ই কঠিন। সাহস-সিন্ধু-স্বরূপিণী সতী রমণী যেমন মাথায় সিন্দুর পাড়িয়া স্বামীর জ্বলন্তচিতায় বেগে গমনপূর্বক নিরুদ্বেগে মৃত স্বামীসহ জ্বলন্ত অনলে দগ্ধ হয়েন, বীব যেমন রণক্ষেত্রে আহত হইয়াও পৃষ্ঠপ্রদর্শন না করিয়া আত্ম- অভিমান বজায় রাখিয়া যুদ্ধ করেন, ভজননিষ্ঠ ভক্তও সেই প্রকার আপন নিষ্ঠা বজায় রাখিয়া নিজের অনন্যভাব রক্ষা করেন, কোন ক্রমেও বিচলিত হয়েন না। শ্ৰীনাগরীদাস বলেন, “শ্রীহরিবংশের পথ অবলম্বন করিয়া ভজন করাকে কেহ যেন সুলভ বলিয়া মনে না করেন।” হরিভক্তগণের শ্রীবাণীসমূহের মধ্যে মহাত্মা নাগরীদাসের কৃত এই পদটী ভক্তগণের পক্ষে হৃদয়ের রসায়নস্বরূপ। শ্ৰীনাগরীদাসজীর এই পদটী অতি সংক্ষিপ্ত হইলেও ইহাতে তিনি অতি তীব্রভাবে সতীধৰ্ম্ম ও শূবধৰ্ম্মের সার মর্ম বলিয়াছেন। শ্রীভগবান্ হরির প্রতি দৃঢ় অনন্যধৰ্ম্ম, এই উভয় ধৰ্ম্মেরই সমান। সতী রমণী আপন পতির আসন্ন অনিষ্ট আশঙ্কাজনিত অনুল্লঙ্ঘনীয় অশুভ চিহু দেখিয়া, তাঁহার আপনার যথাসর্বস্ব জীবনধনের অবশ্যম্ভাবী চিরবিরহ বেদনার চিরদারুণ দুঃখ সমাগত দেখিয়া উহার আশু নিবৃত্তির জন্য এবং আপন পতির পদারবিন্দে চিরাভিলষিত চিরসঙ্গতিজনিত নিত্য- সুখলাভের জন্য অদ্ভুত উৎসাহে উন্মত্ত হইয়া এবং বিশুদ্ধ পতিপ্রেম- রসােন্মত্ত হইয়া যেমন নিকটে দণ্ডায়মান নিজের পিতামাতা, শ্বশুর শাশুড়ী, ভাই, দেবর, পুত্র কন্যা, ধন-ধামাদি সৰ্বসম্পত্তি এমন কি নিজের ৪ অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম দেহকেও স্বপ্নসমান বিফল,-বাজীকরের কুহকের ন্যায় অলীক এবং সমুদ্র- তরঙ্গের ন্যায় ক্ষণস্থায়ী ও মিথ্যা মনে করিয়া এক বিপলের মধ্যেই এই এই সকল বিষয় হইতে চিত্তের আসক্তি অসম্ভাবিতরূপে তুলিয়া লইয়া অগ্নিশিখাভিমুখে ধাবিত পতঙ্গের ন্যায় পতিপ্রেমের তীব্র সাত্ত্বিক প্রভাবে কপালে সৌভাগ্যচিহু সিন্দুর ধারণ করিয়া স্বীয় চিত্তের পূর্ণ উৎসাহে স্বামীর জ্বলন্ত চিতায় আনন্দ ও শান্তিসহকারে ও অত্যন্ত অদ্ভুত পতিপ্রেম- পূরিত চিত্তে আপন দেহ প্রজ্জ্বলিত করেন, দৃঢ় অনন্য বৈষ্ণব ভক্তেরও ঠিক এই অবস্থা। সতী রমণী যেমন পতিপ্রেমের সমক্ষে সংসারের অপরাপর যাবতীয় পদার্থ মাত্রকেই তিরস্কার ও তুচ্ছ বােধে ত্যাগ করেন ঠি সেই প্রকার দৃঢ় অনন্য বৈষ্ণবভক্ত আপন প্রাণনাথ, শ্রীকৃষ্ণরূপ পতির জন্য এবং উহার অবতার সমূহের জন্য, উহাব সকল লীলার জন্য, উহাব সকল আজ্ঞার জন্য, উহার প্রবর্তিত বৈষ্ণবধৰ্ম্মের জন্য, অধিকন্তু উহার ধামসমূহের জন্য আপনার যাবতীয় দারাগার পুত্রাদি পৰ্যন্ত সকল প্রিয় পদার্থ ও কর্তব্যকৰ্ম্মাদি প্রতি বিপলে শ্রীকৃষ্ণচরণে অর্পণ করার নিমিত্ত উৎসুক থাকেন এবং চরণারবিন্দে সমর্পণ করেন, ইহার প্রত্যক্ষ ও অনন্ত প্রমাণ শ্রীমদ্ভাগবত, ভক্তমাল ও রামরসিকাব্যাদি বৈষ্ণবগ্রন্থে ঘরে ঘরে দেখিতে পাওয়া যায়। শূধৰ্ম্ম সম্বন্ধে ওড়ছা নিবাসী আমাদের শ্রীব্যাসজী যে পদ লিখিয়া গিয়াছেন, সে পদটী এই अनन्य ब्रत खांड़े कोसी धार । অর্থাৎ “অনন্তব্ৰত অসিধারের ন্যায় তীব্র।” . ইনি আরও বলেন- मी कि मारे सांचो शूर অনন্য বৈষ্ণবধর্ম - पौठन देय दौठ के परिदल सुनत समर के तूर ॥ जनम भूमि जजियत पद भजई फिरै न मलिता पूर। बिरद सम्हारि गारि के डर रजपूत जु मरै मजर वैसांदर डर सती न उलटे सिर पै मेल सिंदूर ॥ एमसीस सहै हथ्यारहि मुरै न छाडि गरूर ॥ कहत आपने मुख हर वाई दुरै न भख्यो कपूर सर्वोपरि हरि भक्ति व्यास रवा रती नहि भूर ॥ के অর্থাৎ “যথার্থ বীর কখন রণে ভঙ্গ দেয় না, সে হয়ত শক্রর প্রাণ সংহার করে, কিম্বা নিজের প্রাণ উৎসর্গ করে, সময়ের তুৰ্য্যধ্বনি শুনামাত্রই এবং শত্রুদল দেখা মাত্রই সৰ্ব্বদাই অরিদলের সম্মুখীন হইয়া, তাহাদের প্রতি ধাবিত হয়, কিন্তু কখনও পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে না, জন্মভূমির পদ- ভজনই তাহার জীবনব্রত। সরিৎপ্রবাহ যেমন নিরন্তর সম্মুখদিকে প্রবাহিত হয় কিন্তু পশ্চাৎদিকে প্রবর্তিত হয় না, যথার্থ বীরের কাৰ্যও সেই প্রকার। পিতৃপুরুষের যশ স্মরণ করিয়া এবং নিন্দার ভয় করিয়া রাজপুত সমরষজ্ঞেই প্রাণের আহুতি প্রদান করে, কিন্তু কখনই যুদ্ধ অনন্ত বৈষ্ণবধর্ম হইতে প্রতিনিবৃত্ত হয় না। সতী রমণী সীমন্তে সৌভাগ্য চিঃ সিন্দুর পরিধান করিয়া স্বামীর জ্বলন্তচিতায় আত্মসমর্পণ করেন, তিনি অগ্নি- জালার ভয় করিয়া পশ্চাৎপদ হয়েন না। যথার্থ বীরও এই প্রকারে আপন শিরে অস্ত্রপ্রহার সহ্য করিয়া সমর-ক্ষেত্রে মৃত হন কিন্তু কখনই আত্মাভিমান ত্যাগ করেন না। অনন্ত ভক্তের অবস্থাও তদ্রুপ।” ব্যাসজী বলেন, “মদ্যপায়ী যেমন মদের গন্ধ গােপন করার জন্য কপূর ভক্ষণ করিয়া আসে, কিন্তু উহাতে তাহার মদগন্ধ দূরীকৃত হয় না, সেইরূপ কপট ভক্তগণ অনন্যভক্তির ছদ্মভাব দেখাইতে প্রয়াস পায়, কিন্তু আমার সেরূপ ভাব নহে ইহাতে রতিপরিমাণ সূন্দুমাত্রাতেও অসারত বা কপটতা নাই।” এই অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্মও অসিধারার ন্যায় অথবা শূরধৰ্ম্মের ন্যায়। শূরের ন্যায় বৈষ্ণবধর্মও মায়াবাদী বা বিষ্ণুবিরােধী কল্পিত মতবাদী আদি অরিদলকে দেখিয়া কখনও পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেন না, প্রত্যুত ধৰ্ম্মযুদ্ধে যুদ্ধ করিয়া তাহাদের প্রাণ বিনাশ করেন অথবা নিজে নিহত হয়েন, কিন্তু কখনও রণক্ষেত্র হইতে পলায়ন করেন না, এবং স্বীয়সিদ্ধান্ত ত্যাগ করেন । অনন্য বৈষ্ণবধর্মী নিখিল পদার্থের মায়া মােহ বিসর্জন দিয়া আপন পথে অগ্রসর হয়েন, বৈষ্ণবধৰ্ম্মের শাস্ত্রসমূহের পংক্তিতে পংক্তিতে ইহা লিখিত আছে। উদাহরণ স্থলে আমরা দেখাইতেছি যে, এই শ্ৰীবৈষ্ণব মহাসভার স্থাপনকালে যাহারা উপস্থিত ছিলেন তাঁহারা ইহার প্রত্যক্ষ প্রমাণ দেখিয়া থাকিবেন। কোন এক ব্যক্তি যখন অন্যায় ও অনধিকার চর্চা করিয়া বৈষ্ণবধৰ্ম্মের প্রতি অবজ্ঞা-প্ৰকাশ করিয়াছিলেন তখন সভাস্থ বৈষ্ণবধর্ম ও বৈষ্ণবগণের জনৈক প্রকৃত রক্ষকের ধৰ্ম্মদীপ্ত মুখমণ্ডলে শান্তি ও গম্ভীর তেজযুক্ত সাত্ত্বিক বিক্রমের ভাব দেখিয়া সকলেই সন্তুষ্ট হইয়াছিলেন। A অনন্য বৈষ্ণবধর্ম যেমন বীর আপন দেশের জন্য, আপন কুললজ্জার জন্য অথবা আপন প্রভুভক্তি প্রদর্শনের জন্য সংসারের অপরাপর উচ্চ নীচ ভাবগুলিকে লােক বেদের, সকল বিধি নিষেধ আজ্ঞা সমূহকে এক বীর-সূত্রে দেশপ্রেম- রূপ ফুলগুলির সহিত মালা গাথিয়া আপন গলে পরিধান করিয়া ধৰ্ম্মযুদ্ধে প্রবৃত্ত হন, ঠিক সেই প্রকার লােকিক ও বৈদিক সকল প্রকার বিধি- নিষেধের ভাব, ও সকল আদেশ একবারে নিরাদর করিয়া অনির্বচনীয় দৃঢ়তা সহ প্রকৃত অনন্ত বীর বৈষ্ণব আপনার প্রভুর অদ্ভুত ভক্তিরূপ যুদ্ধে প্রবিষ্ট হন এবং সেই প্রকারে ধৰ্ম্ম যুদ্ধে যুদ্ধ করিয়া অপরকে নিহত করেন অথবা নিজেই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন। বীরের এই দুই অবস্থা উপলক্ষ করিয়াই শ্রীভগবান্ গীতায় বলিয়াছেন "हतो वा प्राप्ससि खगं जित्वा वा भोक्षसे महीम्।" গীতা শাস্ত্রের মতে ধৰ্ম্মবীরের দুই দিকেই লাভ প্রদর্শিত হইয়াছে। এই প্রকার ভগবান্ আপন অনন্ত ভক্ত সম্বন্ধেও বলিয়াছেন— ‘ল ন মক্ক: সময়নি।” অর্থাৎ “আমার ভক্তের বিনাশ নাই।” গীতাশাস্ত্রে অনন্য ভক্তকে লক্ষ্য করিয়া এইরূপ বহু অভয়বাণী কথিত আছে। অপরন্তু ইহলােক ও পরলােক এই দুই লােকের জন্য অনন্য ভক্তের সম্বন্ধে যে সকল নির্ভয়বাণী আছে, দৃঢ় রসিক অনন্ত ভক্ত বৈষ্ণব ওড়ছ। নিবাসী শ্ৰীব্যাসজীর বাক্যে সেই সকল কথা পরিস্ফুট হইয়াছে। তদথা - "हमारें वृन्दावन व्योहार। संपति गति वृन्दावन मेरे करम धरम करतार । खारथ परमारथ वृन्दावन गथ पथ विधि ब्यौपार।

৮
অনন্য বৈষ্ণবধর্ম
रूप शोल
वृन्दा विपिन गोत कुल मेरें कुल विद्या प्राचार।
वृन्दावन मेरे गुरू नगार सिङ्गार।
वरस मास ऋतु पच्छ ऐन युग कल्प सवै तिथि वार ।
फागु दिवारी परव वार वन वृन्दावन त्योहार ॥
शूर सुघर बन्दावन मेरे रसिक अनन्य उदार ।
वन्धु सहोदर सुत वृन्दावन राजा राज भंडार ॥
श्रीराधा ललितादिक मेरे जीवन प्राण अधार ।
सर्वस व्यास दास को वन है वृन्दावन हियभार ॥"
অর্থাৎ “বৃন্দাবনই আমার ব্যাবহার—বৃন্দাবনই আমার সম্পত্তি,
বৃন্দাবনই আমার গতি, বৃন্দাবনই আমার কৰ্ম্ম, বৃন্দাবনই আমার ধর্ম, এই
উভয়ের কর্তাও বৃন্দাবন। বৃন্দাবনই আমার স্বার্থ ও পরমার্থ ; গাথা পথ
বিধি এবং ব্যবস্থাও বৃন্দাবন। বৃন্দাবনই আমার গােত্র, বৃন্দাবনই আমার
কুল, বৃন্দাবনই আমার কুলবিদ্যা ও আচার। আমার রূপ ও শীলবৃন্দাবন,
বৃন্দাবনই আমার গুরু, বৃন্দাবনই আমার শােভা। বর্ষ, মাস, ঋতু, পক্ষ,
অয়ন, যুগ, কল্প, তিথি ও বার এ সকলই বৃন্দাবন। ফল,ৎসব, দেওয়ালী
পৰ্ব ইত্যাদি উৎসবও বৃন্দাবন। শর, বিদগ্ধ উদার অনন্য রসিকও
বৃন্দাবন। আমার বন্ধু বৃন্দাবন, সুত সহােদর ও বৃন্দাবন, বৃন্দাবনই
আমার রাজা, বৃন্দাবনই আমার রাজভাণ্ডার। শ্রীরাধা ললিতাদি আমার
জীবন ও প্রাণের আধার। ব্যাসদাসের সমগ্র হৃদয়ের ধনই বৃন্দাবন।”
ইনি আরও বলেন :-
"रसिक पनन्य हमारी जात ।
স্কুল ইনী ৰাধা বানী,
खेरो ब्रजवासिन सौंपांत।

অনন্য বৈষ্ণবধর্ম
गीत गोपाल जनेज माला,
शिखा शिखण्ड हरि मन्दिर भाल,
हरिगुन नाम वेद धुनि सुनियत,
मूज पखावज कुश करताल।
शाखा जमुना हरिलोलाखट,
कर्म प्रसाद प्राणधन रास ।
सेवा विधि निषेध जड़ सङ्गत,
वृत्तिसदा वृन्दावन बास ॥
सुमृत भागवत कृष्ण नाम,
संध्या गायत्री तर्पण जाप।
वंसी रिषि यजमान कल्पतरु,
ब्यास न देत असौससराप॥"
“অনন্ত রসিক আমার জাতি, আমার কুলদেবী শ্রীরাধা, বরষাণ আমার
পল্লী এবং ব্ৰজাবাসিগণ আমার পংক্তির লােক। গােপাল আমার গোত্র,
মালাই আমার যজ্ঞােপবীত, শিখণ্ডই আমার শিখা, হরিমন্দিরই আমার
কপাল। আমি হরিণ গানকেই বেদধ্বনি মনে করিয়া শুনিয়া
আসতেছি। পাথােয়াজং আমার মুঞ্জা, করতালই আমার কুশ। যমুনা
আমার বেদশাখা, হরিলীলা আমার ষট্‌কৰ্ম্ম, রাস ও প্রসাদ আমার
প্রাণধনস্বরূপ। আমি বিধি-নিষেধের সেবা জড়সঙ্গত বলিয়া মনে করি।
বৃন্দাবনে বাসই আমার বৃত্তি। ভাগবত আমার স্মৃতিশাস্ত্র, কৃষ্ণ নামই
সন্ধ্যা, গায়ত্রী, তর্পণ ও জপ। বংশী আমার ঋষি, কল্পতরু যজমান, এই
জন্য ব্যাসজী বলিয়াছেন আমি কাহাকেও আশীৰ্বাদ বা শাপ দিই না।”

১০ অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম ইহাই দৃঢ়তা, ইহাই রসিকতা, ইহাই অনন্যতা, ইহাই বৈষ্ণবতা, এবং এইগুলিই অনন্য বীর বৈষ্ণব ভক্তসমুহের নিরপেক্ষ ধৰ্ম্ম সাহস-সিদ্ধ অতি তীব্র উপদেশ বাক্য। অনন্য ভক্তি সম্বন্ধে বীর ধৰ্ম্মের ন্যায় এই প্রকার তীব্র উপদেশ- তরঙ্গিণীর কতিপয় লহর পুরাণশাস্ত্ররূপ গঙ্গা হইতে প্রদর্শন করা যাইতেছে। মহাভারতের সভাপৰ্ব্বে শ্রীনারদজী বলিয়াছেন জন্ম জয়নাল লাহিনি য না। जीवन्मतास्तु ते ज्ञ या न सम्भाष्या कदाचन ॥ অর্থাৎ কমল নয়ন ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে যে সকল মনুষ্য পূজা না করে সেই সকল মনুষ্য জীবন্ম ত সদৃশ। তাদৃশ মৃতদের সহিত কখনও বাক্যালাপ করিতে নাই। বাল্যসিদ্ধভক্ত প্রহ্লাদজী এই অনন্য ভক্তিসম্বন্ধে যেরূপ বর্ণন করিয়াছেন তাহা বামন পুরাণের নিম্নলিখিত শ্লোকে পরিস্ফুট হইয়াছে। ত্যথা :- वृथा व्रतं वृथा यन्ना वृथा वेदा वृथा श्रुतम् । वृथा तपश्व कीर्तिश्च यो हेष्टि मधुसूदनम् । অর্থাৎ যে কেহ ভগবান্ মধুসূদনের প্রতি অনন্য ভক্তি না করে, অথবা তাহাকে দ্বেষ করে, তাহার ব্রত, যজ্ঞ, বেদ, কত, তপস্যা ও কীৰ্ত্তি সকলই বৃথা। শ্ৰীভাগবতেও হরিবিমুখজনের নিন্দা অতিপ্রিয় অনন্য ভক্তির প্রশংসা ও পুষ্টি পরিলক্ষিত হয়, ত্যথা :- धिक् जन्म धिक त्रिविद् विद्यां धिगवतम् धिग् बहुजताम् । धिक् कुलं धिक क्रियादाच्य विमुखा ये त्वधोक्षजे । - অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম অর্থাৎ যাহারা ভগবান্ অধােফজ শ্রীকৃষ্ণের প্রতি অনন্য ভক্ত নহে, অধিকন্তু ভগবানের প্রতি বিমুখ, উহাদের জন্ম, উহাদের কৰ্ম্ম বেদাধ্যয়নাদি) উহাদের ব্রত (কৃচ্ছচান্দ্রায়ণাদি) উহাদের বহুজ্ঞতা জ্ঞানবিজ্ঞানাদি ), উহার কুল (ব্রাহ্মণাদি) আর ক্রিয়াদক্ষতা আদি- এ সকলের প্রতিই বার বার ধিক্। স্কন্দপুরাণে লিখিত আছে - स कर्ता सर्वधर्माणा भक्तोयस्तव केशव । म का सर्वपापाणां यो न भक्तस्तवाच्युत, অর্থাৎ হে ভগবান্ কৃষ্ণ, যে ব্যক্তি তােমার ভক্ত, তিনি সর্বপ্রকার ধৰ্ম্মেরই কৰ্ত্তা, আর যে তােমার ভক্ত নয় সে সর্বপ্রকার পাপাচারী। শ্ৰভাগবতের প্রতি শ্লোকেই শ্রীকৃষ্ণের প্রতি এই দৃঢ় অনন্য ভক্তির পুষ্টি দৃষ্ট হয়, আবার অপরপক্ষে যদি কেহ উক্ত তীব্র ভক্তি হইতে বিমুখ হয়, তবে সে যে, কেহ হােক না কেন, তাহার প্রতি নির্ভয় এবং বিস্পষ্টভাবে উক্ত ভাগবত শাস্ত্রে নিন্দা ও উহার শাস্ত্রীয় দণ্ড শাসন পরিদৃষ্ট হয়। যদি কোন ব্যক্তি জাতিতে ব্রাহ্মণ হন, এবং তৎসঙ্গে হরিভক্ত হন, তবে তাে তাঁহার প্রশংসার সীমাই নাই, তৎসম্বন্ধে ভাগবত কেন, স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ বলিয়াছেন ঃ- জি নাঘা বৃ মাসযথা। কিন্তু যে ভগবদ্ভক্ত নহে, অধিকন্তু যে ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণের অভক্ত, সে ব্যক্তির বৈশ ক্ষত্রিয়াদি জাতিত্বের কথা তাে দুরের কথা, ষট কৰ্ম্মশালী ব্রাহ্মণও দূরের কথা, দ্বাদশ গুণে শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণ হইলেও শ্রীমদ্ভাগবতে তাহার নিম্নলিখিত নিন্দাবাক্য শুনিতে পাওয়া যায় :-- ১২ অনন্য বৈষ্ণবধর্ম विप्रादिषड़गुणयुतादरविन्दनाभ. पादारविन्दबिमुखात् स्वपचं वरिष्ठ मन्ये तदर्पितमनोवचनेहितार्थ- प्राण पुणाति स कुलं नतु भूरिमानः ॥ অর্থাৎ সমাজশ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণ দ্বাদশগুণযুক্ত হইয়াও যদি অরবিন্দনা শ্রীহরিতে ভক্তিযুক্ত না হন, আর অতি নীচ চণ্ডাল যদি শ্রীভগবানে মনােবাক্য চেষ্টার্থ ও প্রাণ ভগবানে সমর্পণ করিয়া অনন্তভক্ত হয়েন, তবে তাদৃশ ব্রাহ্মণ হইতে এবম্বিধ চণ্ডালকেও শ্রেষ্ঠ বলিয়া মনে করি, কেন না, এতাদৃশ চণ্ডাল নিজের কুল পর্যন্ত পবিত্র করে, আর তাদৃশ বৃথাগব্বী ব্রাহ্মণ নিজকে পবিত্র কবিতেও অসমর্থ হয়। ব্রাহ্মণসমূহের দ্বাদশ গুণ থাকা সত্ত্বেও হরিভক্তিবিহীন হইলে হরিভক্ত চণ্ডাল হইতে তাদৃশ ব্রাহ্মণ তুচ্ছ-ব্রাহ্মণগণের এই দ্বাদশ গুণ কি কি। মহাভারতে উদ্যোগ পৰ্ব্বে তাহার উল্লেখ আছে, শ্রবণ করুন :- মান' ৰ অন্ত : স্বন অমী নিনিলিয়া। यज्ञश्च दानञ्च तिः शमश्च महाव्रता: दादश ब्राह्मणस्य। অর্থাৎ জ্ঞান, সত্য দম, ক্ষত, অমৎসর, হী (লজ্জা) তিতিক্ষা ( ক্ষমা ), অনুসূয়া, যজ্ঞ দান এবং তি—ব্রাহ্মণের এই দ্বাদশ মহাব্রত, এই সকলকেই দ্বাদশ গুণ বলা হয়। ভাগবতের উক্ত শ্লোকের উদ্দেশ্য এই যে ব্রাহ্মণ যদি ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণ চরণে অনন্যভক্তি হইতে বিমুখ হয়, তবে তাহার একটী বা দুইটী গুণ তত দূরের কথা, তাহার দ্বাদশ গুণ থাকিলেও এক মাত্র অনন্যভক্তিবিহনে অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম ১৩ তৎসমস্তই বিফল হয়। যখন সৰ্ববর্ণশ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণেরও ভগবদ্ভক্তি না থাকিলে তাহার প্রতি শাস্ত্রের এইরূপ কঠোর বিধান প্রবর্তিত হইয়াছে, এ অবস্থায় দেহধারী জীব মাত্রের পক্ষেই যে শ্রীকৃষ্ণের দৃঢ় অনন্য ভক্তি করা প্রয়ােজনীয় তাহা বলাই বাহুল্য। এই প্রকার দৃঢ় অনন্য ভক্তি সম্বন্ধে আমাদের শ্রীরাধাবল্লভীয় সম্প্রদায়ে কেবল একখানা দুখানা নয়, সংস্কৃত ও ভাষায় শ্রুতি স্মৃতি ও পুরাণের প্রমাণংপুষ্ট সাতশত ৭০০ হস্তলিখিত গ্রন্থেরত্ন আমাদের নিকট সুরক্ষিত আছেন। এই সকল গ্রন্থের মধ্যে সংস্কৃতে লিখিত “সুশ্লোকমণিমালা” এবং ভাষায় বিরচিত অনন্য রসিক ভক্তমাল” গ্রন্থ হইতে আমরা আপনা- দিগকে স্বসম্প্রদায়ের এক সৰ্বোত্তম বিদ্বৎশিরােমণি পবিত্র কীৰ্ত্তি পণ্ডিত- প্রবর দৃঢ় রসিক অনন্য হরিভক্ত শ্রীস্বামী চতুভুজ দাসজীর সংক্ষিপ্ত চরিত শুনাইতেছি। শ্রীস্বামী চতুর্ভুজ দাসজী এই শ্ৰীচতুভুজ দাসজী আমাদের শ্রীরাধাবল্লভীয় ব্রহ্মসম্প্রদায়ের বিশ্ব- বিখ্যাত আচাৰ্য্যচরণ শ্রীমদ্ গােস্বামী শ্ৰহিত হরিবংশ চন্দ্রজী মহাপ্রভুর জ্যেষ্ঠ পুত্র স্বনাম ধন্য শ্ৰীমন্ গগাস্বামী শ্ৰীবনচন্দ্রজী মহারাজের শিষ্য ছিলেন। এই অনন্য রসিকপ্রবর শ্রীচতুভুজ দাসজী গৌড়বানাদেশ পবিত্র করিয়াছিলেন। ইনিই শ্রীহিতহরিবংশজী মহারাজের আবিষ্কৃত এই দৃঢ় রসিক অনন্য ধর্ম সম্বন্ধে সুবিজ্ঞ এবং উক্ত ধর্মের অকৃত্রিম পালনকর্তা। ইহার মতি গতি আপন ইষ্টদেব শ্রীশ্রীরাধাবল্লভজী মহারাজের জগদ্ধারক চরণকমলে এমন দৃঢ়ভাবে আসক্ত ছিল, যে ইহার ব্যবসায়াত্মিকা বুদ্ধি এক বিপলের তরেও তাঁহারশ্রীচরণের দৃঢ় আশ্রয় ছাড়িয়া অপর কোন দিকে বিচলিত হয় নাই।

১৪ অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম ১ম । ২য়। এই নিমিত্ত অতি অল্প দিনের মধ্যেই ইহা দ্বারা ইহার উপাস্য দেবের অদ্ভুত প্রতাপ এবং এই ভক্ত প্রবরের বিশুদ্ধ অনন্য যশ সৰ্ব্ব জগতে ব্যাপৃত হইয়া গেল। প্রৌঢ় এবং স্বতন্ত্র বিচার দ্বারা প্রাগুক্ত দৃঢ় অনন্ত ভক্তি সংসারে বিস্তার করিয়া জীবমাত্রেরই মঙ্গলের জন্য শ্রীস্বামী চতুভুজ দাসজী “দ্বাদশ যশ” নামে এক অপূৰ্ব্ব ও অদ্ভুত গ্রন্থ রচনা করিয়াছিলেন। উত্ত গ্রন্থ দ্বাদশ বিভাগে বিভক্ত। এক এক বিভাগে এক এক যশ নাম দিয়া গ্রন্থ লিখিত হইয়াছে। সেই সকল যশের নাম যথা,- সকল শিক্ষাসমাজ যশ ধৰ্ম্ম বিচার যশ ৩য় ! শ্রীভক্তিপ্রতাপ বশ ৪র্থ। শ্রীসন্ত (সাধু) প্রতাপ যশ ৫ম। শিক্ষাসার যশ ৬ষ্ঠ। ঐহিতউপদেশ যশ পতিতপাবন যশ ৮ম। শ্ৰীমােহিনী যশ ৯ম। শ্ৰীঅনন্যভজন যশ ১০ম। শ্রীরাধাপ্রতাপ যশ ১১শ। শ্রীমঙ্গলসার যশ ১২শ। বিমুখমুখভঞ্জন যশ ঐহিত হরিবংশজীর চরণে চিত্ত রাখিয়া শ্ৰীস্বামী চতুভুজদাসজী দৃঢ় রসিক অনন্য ভক্তির লােক বেদদুর্লভ দ্বাদশ যশ নামক এই অদ্ভুত গ্রন্থ এই দ্বাদশ যশে পরিসমাপ্ত করিয়াছেন। গ্রন্থখানি বড়ই সুন্দর। শ্ৰীচতুভুজ স্বামীর সঙ্গে সৰ্ব্বদাই দুইশত পণ্ডিত ও সাধু থাকিতেন। ৭ম ।

অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম শ্ৰীশ্ৰীকৃষ্ণচন্দ্রের চরণে অনন্য ভক্ত তৎকৃপায় নিকুঞ্জ প্রাপ্ত পরম ভাগবত- শিবােরত্ন মহামহিমান্বিত মহারাজাধিরাজ বান্ধবেশ মহারাজ রঘুরাজ সিংহ জি বাহাদুর শ্রীভক্তমালা বা রাম রসিকাবলি নামক একখানি গ্রন্থ লিখিয়া গিয়াছেন। এই গ্রন্থখানি ভক্তিসিন্ধুতে ভাসমান হরিচরণ-পােত সদৃশ। ইহাতে আমাদের এই চতুভুজ দাসজীর সহচর প্রায় এক শত সাধু পণ্ডিতের পুরা নাম লিখিত আছে। ধন্য এই মহারাজ। ইহার ভক্তমালে ইনি বহু শ্ৰম করিয়া সকল সম্প্রদায়ের ভক্তগণের পুরা নাম ও ইতিহাস লিখিয়া বৈষ্ণব সম্প্রদায় মাত্রেরই পরম উপকার করিয়া রাখিয়াছেন। ইনি আমাদের শ্রীহিত হরিবংশজী মহারাজ আচাৰ্য মহাপ্রভুর জীবন চরিতে পৌরাণিক বচন দ্বারা সপ্রমাণ করিয়াছেন যে ইনি ভগবৎ- অবতার। ইহাতে আমাদের সমাজের পক্ষে বহু উপকার সাধিত হইয়াছে। স্বামী চতুভুজ দাসজী এই দুই শত সাধু পণ্ডিত লইয়া দেশে দেশে ভ্ৰমণ করিয়া বহু অজ্ঞানী জীবের উদ্ধার সাধন করিয়াছেন এবং সমগ্র দেশে অখণ্ড অনন্য ভক্তি স্থাপন করিয়া দিয়াছেন। এই প্রকার অনেকানেক দেশ পরিভ্রমণ করিয়া স্বামীজী অল্প দিনেব মধ্যেই অসঙ্খ্য জীবের দুষ্কৃতি বিনাশ করিয়া ও অনন্য ধৰ্ম্ম স্থাপন করিয়া জীবগণের উদ্ধার সাধন করিয়াছেন। ইনি মালা তিলকের মাহাত্ম্য, শ্রীচরণােদক এবং মহাপ্রসাদের মাহাত্ম্য বলিয়া দিয়া এবং দেখাইয়া দিয়া দেশের লােকের মধ্যে শ্ৰীবৃন্দাবন-বিহারীর দৃঢ় অনন্ত ভক্তি লােকের হৃদয়ে জীবন্ত মূর্তিতে প্রতিফলিত করিয়া গিয়াছেন। ইনি শ্রুতি স্মৃতির সার অবলম্বনে যে সকল কবিতা রচনা করিয়া গিয়াছেন, তাহাতে মুরলীধারীর ভাবচ্ছবি অঙ্কিত হইয়া রহিয়াছে।

অনন্ত বৈষ্ণবধৰ্ম্ম ইহার এই স্বভাব ছিল যে ইহার নিকট যখন যে ধন আসিত, তৎক্ষণাৎই সেই সকল ধন শ্রীজীর উৎসবানন্দ ব্যাপারে এবং সাধুগণের সেবায় ব্যয় করিয়া দিতেন। এই জন্য অতি অল্পকালের মধ্যেই স্বামীজীর জয়জয়কার দেশের সর্বত্রই ব্যাপৃত হইয়াছিল এবং উহার সুষশের কীর্ভিধ্বজা উড্ডীন হইয়াছিল । পরিতাপের বিষয় এই যে বিধাতার একটা এমনই ধিক্কারযােগ্য বিধি অথবা পরশ্রীকাতরতা আছে যে তাহারই কুহকে স্বামী চতুভুজদাসজীর সদৃশ বিশুদ্ধ পরােপকারী এবং অনন্য হরিভক্তের উৎকর্ষও দেশের নীচ নিন্দুকেরা সহ্য করিতে পারিল না। আধুনিক সময়ের ন্যায় তখনও অনেক দুষ্ট লােক ছিল, ইহারা অকারণে স্বামীজির সহিত বৈরিতা করিতে প্রবৃত্ত হয়। পরন্তু সেকালের ও একালের সাধু বৈষ্ণব বিরােধী শঠ অসজ্জনকে আমরা এই এক অত্যন্ত চমৎকারজনক, আনন্দদায়ক ও সর্বোপকারী সম্বাদ শুনাইতেছি ও দৃষ্টান্ত দ্বারা দেখাইতেছি যে, “যে মহাপ্রাণের হৃদয়- সিংহাসনে দৃঢ় অনন্য ভক্তির অনবরুদ্ধ আরাধনায় ভগবান্ শ্রীরাধাবল্লভ লাল নিত্য বিরাজমান রহেন, উহাকে কোনও সাংসারিক দুঃখ-সুখাদি বা কাল ও মায়ার প্রভাব কখনও কোনও প্রকারে স্পর্শ করিতে পারে । অধিকন্তু উহার ভগববিভূতির ক্ষণিক সংঘর্ষে সাংসারিক শঠ- দিগের আর তাহার সহিত সাংসারিক সাধারণ জীবগণের অজ্ঞাতরীতিতে উদ্ধার সাধিত হয়। স্বামী চতুভুজদাস দ্বারা শঠদের এইরূপ উদ্ধার সাধন হইয়াছে। গৌড়বানাদেশে একটা বড় বাগিচা ছিল। এই বাগিচায় একটা বড় বট বৃক্ষে ভূত-প্রেত থাকিত। যে কেহ উহার নিকট আসিত ভূত- প্রেতগুলি তাহাদের প্রতিই উপদ্রব করি। উহার ভয়ে ঐ বাগিচায় অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম ১৭ পাশে কৃষকেরা পর্যন্ত জমি কর্ষণ করিতে সাহসী হইত না। ঐ ভূত কৃষকদের বলদগুলিকে মারিয়া ফেলিত, শস্যসমূহ নষ্ট করিয়া ফেলিত এবং সৰ্ব্বদাই নানাবিধ উপদ্রব কৱিত এবং নর-নারী ও বালকদিগকে জীবিত অবস্থায় উঠাইয়া লইয়া কৃপাদিতে ফেলিয়া দিত। কোন সময়ে স্বামী চতুভুজদাসজী আপন ভক্তমণ্ডলী লইয়া এবং মুরলীধরজীর পাকী লইয়া ভ্রমণ করিতে করিতে গৌড়বানাদেশের কোন নগরের নিকট যাইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, সেখানে ঠাকুর সেবার কোন উপযুক্ত স্থান আছে কি না? সংসারিক, কৰ্ম্মঠ ও শঠ লােক, স্বামীজীর সাধুমণ্ডলী ও স্বামীজীকে দেখিয়া মৎসরতবশে মনে মনে ভাবিতে লাগিল আজ এই সকল রঙ্গিয়া সাধু খুব ভাল ঈদেই পড়িবে। আজ ইহাদের বুজরকী ভাল- রূপেই বুঝা যাইবে। এইরূপ মনে মনে ভাবিয়া পরে প্রকাশ্য ভাবে স্বামীজীকে বলিল, “স্বামীজী মহারাজ! ঐ যে সন্মুখে বড় বাগিচা দেখিতে পাইতেছেন, উহার মধ্যে যে ঐ বড় বট বৃক্ষটি আছে, উহার মূলে আপনাদের বাসের উপযোগী একটি সৰ্বাঙ্গ সুন্দর স্থান আছে। উহার শীতল ছায়ায় আপনি ও আপনার সাধুগণ খুব সুখে থাকিতে পাবিবেন। যত যত সাধুর এখানে আগমন হয়, সকলেই ঐ স্থানে অবস্থান করেন। ঐ স্থানটীতে ফল ফুল ও জলাদি আছে, সুতরাং বাসের অত্যন্ত উপযােগী এবং নির্জনও বটে। স্থানটা এতই নির্জন যে সাধুলােকেরা এখানে নিন ও উলঙ্গভাবে হরিগুণগান ও নৃত্যাদি করিতে পারেন।” স্বামীজী এই বাক্য শুনিয়া অত্যন্ত প্রসন্ন হইলেন, এবং সংবাদ- দাতাকে ধন্যবাদ দিয়া বলিলেন, “তােমাদের নিকট থাকিতে আমাদের বাস্তবিকই সঙ্কোচ হয়। হরিভক্তগণ নির্জনে থাকিতেই ভালবাসেন। অনন্তর স্বামীজী আপনার সাধুগণকে ডাকিয়া ঐ স্থানটীকে পরিষ্কার २ ১৮ অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম ও পবিত্র করিয়া লইলেন এবং ঐ স্থানে বটবৃক্ষ মুলে একটা মণ্ডপ প্রস্তুত করাইয়া সেই মণ্ডপে শ্ৰীশ্ৰীমুরলীধরকে স্থাপন করিলেন, এবং নিত্যনিয়ম অপেক্ষা বিস্তারপূর্বক সেবাপূজা করিয়া শ্রীচরণামৃত গ্রহণ করিলেন। এই সময়ে অন্যান্য মহাপ্রতগুলি ক্রীড়ার জন্য অন্যত্র চলিয়া গিয়াছিল, কেবলমাত্র ত্রিশটী ভূত ঐ স্থান রক্ষার জন্য ঐ স্থানে ছিল। এই ত্রিশটী ভূত শ্রীভগবানের আরতির ত্রিলােকতারণ জ্যোতি সন্দর্শন মাত্রই সুগতি প্রাপ্ত হইল, এবং উহাদের প্রেত দেহ তিরােহিত হইল । এই সময়ে উহাদের সাথী ভূতপ্রেতগণ ফিরিয়া আসিল। এই পিশাচদের রক্ষার জন্য ইহাদের সহিত অনেক যমদূত থাকিত। এই সকল ভূত প্রেতের ইচ্ছা ছিল যে ইহারাও স্বামীজীর দর্শন ও আরত্রিকের জলের ছিটা পাইয়া উদ্ধারপ্রাপ্ত হইবে, কিন্তু যমদূতগণ ইহ- দিগকে স্বামীজীর নিকটে যাইতে বাধা দিল—দূরে রাখিয়া দিল। ঐ প্রেতগুলি দূর হইতে হাহাকার করিতে লাগিল এবং স্বামীজীর নিকট আসিবার জন্য উচ্চৈঃস্বরে চীৎকার করিতে লাগিল। তখন চতুভূজদাসজী এই চীৎকার শুনিয়া আসন হইতে উঠিলেন এবং অগ্রসর হইয়া বলিলেন, “তােমরা কে এখানে চীৎকার করিতেছ ?” তখন ভূতগণ বিনয়পূৰ্ব্বক চীৎকার করিয়া বলিতে লাগিল :- “হে মহারাজ । আমাদিগকে আপনি উদ্ধার করুন। আমরা সাংসারিক জীব ছিলাম। মরণান্তে যখন আমরা যমরাজের নিকট গেলাম তখন আমাদের কৰ্ম্মানুসারে যমরাজ এই দারুণ দুঃখদায়ী প্রেতযােনিতে অবরুদ্ধ করিয়া এই দূতগণের রক্ষণাবেক্ষণে আমাদিগকে এখানে পাঠাইলেন। সেই অবধি যমরাজের আদেশ অনুসারে আমরা এখানেই আছি। কিন্তু আজ আপনি আমাদের এই স্থান ঘেরাও করিয়াছেন, এবং এই স্থানের অনন্য বৈষ্ণবধর্ম ১৯ রক্ষক আমাদের সহচর যে সকল ভূত ছিল, তাহাদিগকেও কৃতার্থ করিয়া- ছেন। আর আমরা সেই পাপযােনিতেই আছি। প্রভো! আপনি আমাদের প্রতি দয়া বিস্তার করিয়া আমাদিগকে নরক হইতে উদ্ধার করুন। প্রভু! আমরা আপনার চরণামৃত পাইলে অতি শীঘ্র উদ্ধার পাইব। হে প্রভাে! এই যমদূতের দুঃখ যাতনায় আমরা আপনার নিকট প্রার্থনা করার জন্য আসিতে সমর্থ নহি, আমরা আসিয়া যে আমাদের আপন বৃত্তান্ত শুনাব এমন উপায় পর্যন্ত নাই। হে প্রভাে। আপনিই কৃপা করিয়া আমাদের উদ্ধারের জন্য কিঞ্চিং কেশ স্বীকার করিয়া একটা কাজ করুন। একটা বড় গর্ত খনন করুন, উহা জলে পূর্ণ করুন, আর সেই গর্তের জলে সাধুগণ চরণ-প্রক্ষালন করুন, তারপর উহাতে আপনার চরণামৃত ঢালিয়া দিন। আমরা তণ্ঠ নিশীথ সময়ে এই চরণামৃত পান করিব এবং আপন আপন শরীরে প্রক্ষেপ করিব। এইরূপ কবিলে নিশ্চয়ই আমাদেব উদ্ধার হইবে এবং যমতেবাও তখন আপন স্থানে ফিরিয়া যাইবে।” পরমদয়ালু স্বামীজী ইহাদের শ্রদ্ধানুসারে তাহাই কবিলেন। তখন প্রেতগুলি যথাসময়ে বৈষ্ণবগণের চরণামৃত প্রাপ্ত হইয়া তৎক্ষণাৎ প্রেতযােনি হইতে উদ্ধারপ্রাপ্ত হইল এবং দেশে পরমমঙ্গলসাধন হইল। যমদূতগণ সহসা এই আশ্চর্য কাণ্ড দেখিয়া দৌড়িয়া যমের নিকট গমন করিল। সেখানে পৌছিয়া আপন মালিককে আদ্যোপান্ত সকল ঘটনা শুনাইল, এবং বলিল, “হে প্রভাে! চতুভুজজীর ভগবদ্ভক্তির এমনই প্রভাব ও মাহাত্ম্য যে,--ঐ স্থানের প্রেতগুলি পৰ্য্যন্ত উদ্ধার পাইয়াছে, এবং ঐ স্থানের বহুদূর পর্যন্ত স্থানগুলিতে ভগবদ্ধামের ন্যায় হরিভক্তি বিস্তৃত হইয়া পড়িয়াছে। এমন কি চতুভুজজীর তেজপ্রভা সহ করিতে অসমর্থ অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম হইয়া আমরা অপরাধী প্রেতগুলির নিকটেও যাইতে পারি নাই; ইহ এক আশ্চর্যের বিষয়।” এই বাক্য শুনিয়া যমরাজ আপনার দূতদিগকে বুঝাইয়া বলিলেন, “এ সকলই সত্য। তােমরা নিজ নিজ পাপের জন্য ঐ সকল মহাত্মা দিগকে চিনিতে পাব নাই, এবং উহাদের নিকট যাইতে পার নাই পাপীর ভক্তব পাশে যাইতে পারে না। অপরন্তু ভক্তের নিকট না গলে ফল পাওয়া যায় না। প্রেতগুলির ভাগ্যক্রমেই ঐ স্থানে হরি- ভক্তগণেব সমাগম হইয়াছে। আর এই সংঘােগে ঐ সকল প্রেত তাহাদের দর্শন পাইয়াছিল, অধিকন্তু উহারা বৈষ্ণবগণেব চরণােকও পাইয়াছিল। এই কারণে উহাদের নিস্তাব হইয়াছে। হরিভক্তগণের মহিমা এই প্রকারই বটে।” যে সময়ে যমরাজ ও তাহার দূতগণের এইরূপ কথাবার্তা হইতেছিল, ঠিক সেই সময়ে এক ব্রাহ্মণকে লইয়া অপুর যমদূতগণ যমপুরে উপস্থিত হইয়াছিল । যমরাজ প্রথমাগত দূতগণের সহিত কথাবার্তা শেষ করিয়া নবানীত ব্রাহ্মণকে দেখিয়া অত্যন্ত আশ্চর্যান্বিত হইলেন, এবং গৌড়বানা দেশ হইতে যে সকল দূত এই ব্রাহ্মণকে লইয়া আসিয়াছিল তাহাদিগের প্রতি অতিশয় ক্ৰোধ করিয়া বলিলেন, “তােমরা ইহাকে এখানে কেন এখনও তে ইহার আরও আয়ু আছে! এখনও এই জীবের দেহ চিতানলে প্রজ্জ্বলিত করা হয় নাই। অতি শীঘ্র এই জীবকে লইয়া তােমরা উহার দেহে রাখিয়া দিয়া আইস।” যমদুতেরা তাহাই করিল। ব্রাহ্মণের মৃত দেহ প্রাণ পাইল। ঘুমন্ত ব্যক্তি যেমন জাগিয়া শয্যা হইতে উত্থিত হয়, ব্রাহ্মণও চিতা হইতে সেইরূপ উঠিয়া আসিল। ব্রাহ্মণ গৃহে ফিরিয়া যমপুরে পিশাচ-বিমােচন সম্বন্ধে যে আশ্চর্য আনিলে ?

অনন্ত বৈষ্ণবধ ২১ ঘটনা দেখিয়াছিল ও শুনিয়াছিল তাহা আনুপোর্ষিক সকলকে কহিয় দিল । এই প্রকারে মহাত্মা সাধু স্বামী শ্ৰীচতুভুজদাসজীব অস্তুতকীৰ্ত্তি শুনিয়া এবং উক্ত বাগানের ভূতের উপদ্রব শান্তি হইয়াছে জানিয়া গৌড়- বাসে দেশের লােকমাত্রেই আশ্চর্যান্বিত হইল। এই দেশের প্রজারা স্বামীজীর এই উপকার মনে করিয়া সকলেই ধন্য ধন্য করিতে লাগিল। উক্ত দেশের রাজা নিজ প্রজাদের এইরূপ অসম্ভাবিত উপকারের কথা শুনিয়া এবং স্বামীজীর অদ্ভুত চরিত্ৰ-কাহিনী জানিয়া বহু ধন সামগ্রী লইয়া প্রজাগণ সহ স্বামীজীর নিকটে উপস্থিত হইয়া উহার চরণে ধন সামগ্রী আদি উপহার প্রদান করিলেন এবং যথাবিধি পূজা উপহাৱাদি দিয়া স্বামীর চরণে আত্ম সমর্পণ করিয়া তাহাকে দীক্ষা মন্ত্র দেওয়ার জন্য মিনতি করিতে লাগিলেন। পরম দয়ালু শ্ৰস্বামীজী রাজার শ্রদ্ধা দেখিয়া বাজাকে মন্ত্রোপদেশ করিলেন এবং ভগবান্ শ্রীবাধাবল্লভজীউর চরণে দঢ় অনন্য রসিক ভক্তি এবং অষ্ট কালীয় সেবাপদ্ধতি রীতি শিক্ষা দিলেন। প্রজা লােকেরাও উহার চেল হইলেন। গৌড়বাসে দেশের রাজা প্রজা সকলেই একই সময়ে স্বামীজীর কৃপায় অনন্য ভক্তি প্রাপ্ত হইলেন। কিছু দিন পরে স্বামী শ্ৰীচতুভুজদাসজী পৰ্য্যটনের ক্রমানুসারে এই স্থান হইতে অন্য স্থানে গমন করিলেন। সেই সময় হইতে আর কখনও উক্ত বাগানে কোন ভূতােপদ্রব দেখা যায় নাই। তখন হইতে জন সাধারণ আনন্দে বসবাস করিত এবং কৃষকদেরও আবাদাদি উত্তমরূপেই হইত। স্বামী শ্রীচতুভুজজীর চরিত্র রচনার উপসংহারে রসিকঅনন্যভক্ত- মালের গ্রন্থকর্তা শ্রীভক্ত ভগবতমুদিতজী যে দোহা লিখিয়াছেন তাহা এই :

২২ অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম আমি বৃনম্বল বন্য জন্তু, ল ন ভ মুন। विना कृपा खालो गये, धर्मगजके दूत ॥ অর্থাৎ স্বামী চতুভুজজীর চরণ জল গ্রহণ করিয়া ভূতগুলি ত্ৰাণ পাইয়া চলিয়া গেল। কেবল যমদূতগুলিই তাহার কৃপা হইতে বঞ্চিত হইল। সাধারণ বৈষ্ণব চরিত্রেও চমৎকার আছে। কিন্তু আপন ধৰ্ম্মের দৃঢ়তা ও অনন্যতার জন্য স্বামী চতুভুজদাসজীর দিব্য দেহে তাহা অপেক্ষাও বিশিষ্ট ও অতি শ্রেষ্ঠ চমৎকার গুণাদি বৰ্তমান ছিল। সম্বন্ধে একটি ঘটনা ও উদাহরণ বলা যাইতেছে। এক সময়ে স্বামীজী আপন শিষ্যগণ-পরিবেষ্টিত হইয়া পৰ্যটনে প্রবৃত্ত হয়েন। ইহার এই স্বভাব ছিল যে ইনি হরিবিমুখজনের কোনও পদার্থ গ্রহণ করিতেন না। পথিমধ্যে ভক্তগণ একটা কুপ দেখিতে পাইলেন। তাহাদের ইচ্ছা হইল যে তাহার এই কূপ হইতে জল গ্রহণ করেন। তখন স্বামীজী অগ্রসর হইয়া উক্ত কূপের পার্শ্বচর ব্যক্তিদিগকে ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “কাহার ধনে এই কূপ নিৰ্ম্মিত হইয়াছে ?” তখন জানা গেল যে কোন অবৈষ্ণবের অর্থেই এই কূপ খনিত হইয়াছে। ইহা শুনা মাত্রই স্বামীজী ঐ কূপে জল ত্যাগ করিয়া অগ্রসর হইতে লাগিলেন। স্বামীজী শাক্ত শৈব প্রভৃতি অবৈষ্ণবগণের অন্ন তো দূরের কথা কূপের জল পর্যন্তও গ্রহণ করিতেন না। তিনি এমনই দৃঢ় অনন্য ভক্ত ছিলেন যে যদি কোন গ্রামে অতি ক্ষুদ্র প্রাণি হত্যাও হইত, তবে তিনি তিলা- মাত্র সময় সেখানে অবস্থান করিতেন না। ইহার অনন্য দৃঢ় ভক্তি দেখিয়া সেই সময়ের আশ্রমী লােকেরা আশ্চর্যান্বিত হইতেন, এবং আপন অবৈষ্ণব চরিত্রতার বিচার করিয়া দুঃখিত হইয়া এবং আত্ম ঘৃণা করিয়া স্বামীজীর শিষ হইতেন। বহু অনন্ত বৈষ্ণবধর্ম শত পণ্ডিত স্বামীজী ও স্বামীজীর সাথী অপরাপর ভক্ত পণ্ডিতগণের সহিত বিচারে পরাস্ত হইয়া তাহার শিষ্যত্ব গ্রহণ করিলেন। স্বামী চতুভুজজী এই প্রকার দিগ্বিজয় করিতে করিতে একবার এক নগরে উপস্থিত হয়েন। এই নগরে এক সরােবর তীরে সুন্দর সুন্দর শ্যামল বৃক্ষশ্রেণীর মধ্যে এক অতি সুন্দর দেবীমন্দির ছিল। উহার নিকটে একটি শুদ্ধ পরিষ্কত স্থানে স্বামীজী বিশ্রাম স্থান করিলেন। এই সময় বামমার্গীয় এক দল লােক একটি ব্রাহ্মণ কুমারকে বলি- প্রদানের জন্য ঐ স্থানে লইয়া আসিল। ব্রাহ্মণ বালকের মাতা বােদন করিতে করিতে শ্রীস্বামী চতুভুজদাসজীর চরণ ধরিয়া পড়িলেন এবং উহার নয়ন-তারা-স্বরূপ নিরীহ পুত্ৰটীকে বাঁচাইয়া দেওয়ার জন্য বৈষ্ণব স্বামীজীর সম্মুখে বিকল ভাবে নিবেদন করিতে লাগিলেন যে-- बलिहित मोर पुत्त्र ले जाही নাছি রাঙ্গি বজী হল জাী । ते सठ सकल बजावत बाजे । ले गवने विज सुत बलिकाजे ॥ অর্থাৎ ইহারা বলি দেওয়ার জন্য আমার পুত্রকে লইয়া যাইতেছে ইহাকে ইহাদের হস্ত হইতে রক্ষা করুন, রক্ষা করুন। কিন্তু উহারা বাদ্য বাজাইতে বাজাইতে ব্রাহ্মণ কুমারকে বলি দেওয়ার জন্য লইয়া যাইতে লাগিল। এই দেখিয়া স্বামীজীর অত্যন্ত দয়া হইল, তিনি তখন ঐ ব্রাহ্মণীটীবে বলিলেন, “মা তুমি শােক করিও না।” এই কথা বলিয়া তিনি সাধুগণকে লইয়া হত্যাকারীদের নিক গিয়া বলিলেন-

२४
অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম
"कधी मोहि वलि तुम दै देह ।
মুম্বন অাৰ না।”
অর্থাৎ তােমাদের বলি দিতে হয় আমাকে বলি দাও এই ব্রাহ্মণ
পুত্রকে গৃহে যাইতে দাও।
কিন্তু ঐ খল লােকগুলি এমনই পাষাণ হৃদয় যে উহারা কোন
প্রকারেই ব্রাহ্মণ বালককে ছাড়িয়া দিতে সম্মত হইল না, পরন্তু উহাকে
মারিতে মারিতে বধ-স্থানে লইয়া গেল।
স্বামী তখন ঐ চণ্ডালদিগকে ত্যাগ করিয়া আপন সাধুদিগকে লইয়া
ক্রোধ করিয়া দেবীমন্দিরে প্রবেশ করিলেন এবং খঞ্জা সহ দেবীর হস্ত নিজ
মুষ্টিতে ধারণ করিলেন। এই প্রসঙ্গে ভক্তমালে লিখিত আছে :-
"दास चतुरभुज तेज को, सहि न सको सो देवि ।
उटि सिला वाहिर पड़ी, मनहु पखान रकेवि।
অর্থাৎ চতুভুজদাসজীর তেজ সহ্য করিতে না পারিয়া দেবী এক
ভয়ঙ্কর শব্দ করিয়া মন্দিরের বাহিরে গিয়া পড়িলেন।
যে সকল কঠোর হৃদয় জুর কৰ্ম্মা ব্যক্তিগণ ব্রাহ্মণ বালককে বধ
করার জন্য লইয়া গিয়াছিলেন, সে সকল ভয়ে মুচ্ছিত হইয়া পড়িলেন।
স্বামীজী ব্রাহ্মণ বালকের জীবন রক্ষা করিয়া উহার মায়ের হাতে উহাকে
প্রদান করিলেন
১)
.
বী কন্যা অদ্ভু এৰি আয়।
दास चतुर्भुज पद মিলায়
কান্ত অনুশল বিয় চল মালা।
জদ্ধ মাল মিয়া।

অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম অর্থাৎ অতঃপরে দেবী কন্যা রূপ ধারণ করিয়া চতুভুজদাসজীর চরণে শির লুটাইয়া পড়িলেন। স্বামীজী তাহার গলে তুলসী মালা ও কপালে উৰ্দ্ধ পুও তিলক পড়াইয়া দিয়া উহাকে শিষ্যা করিলেন এবং এই উপদেশ দিলেন যে অদ্য হইতে যেন তােমার মন্দিরে কোন প্রকাব জীবহিংসা না হয় এবং এই দেশে যেন কোন দুষ্ট হত্যাকারী আর না থাকিতে পারে। "जो खल भूप भाजि घर आयो। ताको देवी स्वप्न दिखायौ।" স্বপ্নে দেবী ঐ দেশের রাজাকে বলিয়া দিলেন যে, তুমি প্রজাদি সকলকে লইয়া বীর বৈষ্ণব চতুভুজদাসজীর শিষ্য হও, নচেৎ আমি ক্রোধভরে তােমাদের সকলকেই বধ করিব। রাত্রি প্রভাত হওয়া মাত্রই রাজা প্রজাদিগকে লইয়া শ্রীস্বামী চতুভুজ দাসজীর চরণে প্রণত হইলেন এবং রাজা প্রজা সকলেই তাহার উপদেশ মন্দাকিনীর ভক্তি জলে বিধৌত হইয়া অচিরে দৃঢ় রসিক অনন্য বৈষ্ণব হইয়া উঠিলেন। এই রাজ্যে পরম ভক্তির প্রকাশ হইল । ভক্তবীর মহারাজ রঘুরাজ সিংহজী তদীয় গ্রন্থে শ্ৰীচতুভ জ দাসজীর আরও অনেক অদ্ভুত চরিত্র লিখিয়াছেন। সেই সকল কথা প্রকাশ করিতে হইলে, ব্যাখ্যা বাড়িয়া যাওয়ার আশঙ্কা বশতঃ এবং অনন্যধৰ্ম্ম সম্বন্ধে আরও অপরাপর কথা বলার লােভে সেই সকল কথা বলিতে নিরস্ত হইলাম। তবে এস্থলে স্বামী চতুভুজ দাসজীর অনন্যভক্তি পরিদ্যোতক এবং বৃথাকৰ্মকাণ্ডনিসনজনক কতিপয় বাক্য তদীয় “সকল শিক্ষাসমাজ প্রথম যশ” হইতে দৃষ্টান্তস্বরূপে এবং আপন কথার পুষ্টির প্রমাণস্বরূপ ১৭ চৌপাই হইতে ৫০ চৌপাই পৰ্যন্ত উদ্ধত করিয়া এবং উহা দৃঢ় বৈষ্ণবসমাজে নিবেদন করিয়া স্বামী চতুভুজদাসজীর প্রসঙ্গ পূর্ণ করিতেছি :-

অনন্য বৈষ্ণবধর্ম
जौ लगि कपट कपाट न उघरहिं,
तौ लगि बिधि निषेध नहिं डगरहिं।
जौ लगि कनक कामिनी भावे,
तो लगि कृष्ण न उर में प्रावै ॥१७॥
कोटि कुकर्म धर्म करि पावे.
विषय वासना चित हि नचावै।
तीरथ पथ प्रवगाहत चाहत.
हरि गहि मूढ़ प्रयागहि गाहत। १८॥
कामधेनु तजि अजा बिसा है,
सुर द्रुम छोड़ बहेरी चाहै।
केसर तजि क्योला तन रांचे,
हरि तजि मूढ़ पानको जांचे ॥१८॥
पौगुन गिरिसम मनहिं न पाने
गुन तिल सम सुमेर सौ जाने ।
कपटी
चतुरन
सों चतुराई,
सर्वसु वकसत प्रीति भुराई ॥२०॥
क्रोध मरै जब ऋपु को मारे,
पर दारिद्र काम को जारे।
लोभ परो सन्तोष सम्हारे,
नित प्रति बढ़त न पहुँचत पारै ॥२१॥

অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম
१
भूल न चरण धरतधर,
अरु टिटिहरी न चढ़त रूख पर।
पशु पक्षी सुर प्रायुस माने,
नर शठ सुमति न मनमें पाने ।२२॥
नौर सात सागरमें जेतो.
जननी पय प्यायौ है तेती।
गिरिवर सम सब अन्न नसायो,
भरत खण्ड तब नर तन पायौ ॥२३॥
दुरलभ तन पायो सुरलभ करि,
गुरु केवट हरि नाम नावकरि।
एहि समाज भव तर न पारगौ,
तो अपघात प्रापने करभौ २४॥
माया को फल ग्रहमुत जाया,
सब संसार घूर को छाया।
बाजीगर कोसी सब चौंधी,
सन की गति चपलासी कौंधी ॥२५॥
दिन परले देखे न प्रयानी,
महाप्रले सुनकै सिसकानी ।
जिनसों प्रीति देह के नाते,
सो फोटक कागद पुतराते ॥२६॥

प
অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম
पौ में पानी पीवत मिल के,
जित कित गये सब चल हिलि के।
नदी नाव एकत व उतरत,
जैसे
प्रापु पापु
कों डगरत ॥२७॥
तिन सो हित हरि को विसरावहि,
ऐसो पुनि समाज नहिं पावहि ।
यह जुग दीप देह बल नीको,
भजिहरि भेटि सकल दुखजीको ॥२८॥
बालक घर करि मेटत जैसे,
गन्धबै नगर देखत हैं तैसे ।
यह सब माया को नम भाई,
सांची भक्ति भूल बिसराई ॥२८॥
धरि सिर भार कनक कुण्डल करि,
जो न नवै हरिके चरणन तरि ।
मृतक तुल्य कर कडून कच्चन,
चितवत नहों चरण मोहन धन ॥३०॥
कम्मं करै ताको फल पावै,
ऊंच नीच पद ताहि दिखाई।
कबहुंक इन्द्र कबहुँ तिर्यक तन,
गुण प्रवाह में पखौ विषय बन ॥३१॥

অনন্য বৈষ্ণবধ
चौदह वार भयो यह सुरपति,
अब यह चरणहीन चेंटा गति। .
अर्जुन कों हरि पापु बतायौ,
मौन पुरान व्यास यह गायौ ॥३२॥
उत्तम जल तजि विनते छायो
देखत मृग तृष्णाको धायौ।
कम्मे धर्म देवन को जो फल,
बिना भक्ति फटकत ज्यों खलनन्न ।३३॥
बोस हाथ जा लेजु बनावे,
एक हाथ घट नीर न आवै ।
ऐसें विधि निषेध साधन करि,
अभय न होय भजे बिन श्री हरि ३४॥
.
जहाँ कर्म तहं भक्ति न पावै,
रवि किति कैसे राति बतावै।
के काजर को सेतु बनावे,
कर्मनि मांझ भक्ति तौ पावै ॥३५॥
मोठी मैल खांड़ ते डारे,
फिर के परै तो खांड़ विगारे।
यों कर्मनि मधि भक्तिहिं सानत,
जठनि मांझ निवातहि वानत ॥३॥

অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম
ज्यों कर्पूर विसाहन हारो,
पूछे गाजर बेर पसारो।
पसत पुरानन में का पाव,
कम्मनि में जे भक्ति बताये ॥३७॥
श्रोभागवत देखि विचारहि,
जाते क्रूटि जात संसारहि ।
वर्णादिक धर्मान में साखी,
कर्मठ सोधि कण्ठ के राखी ॥३८॥
मन की रुचि के अर्थ बखाने,
श्रीधर स्वामी कही न माने ।
स दूध दे सबनि जिवावे,
आपुन ताको स्वाद न पावै ॥३८॥
जे भतानि के कर्म वताये,
ते तेरे मन माझ न आये।
जनम करम लीला अभिनव करि,
आपु तरै कुल सकल जाहि तरि ॥४०॥
सुरसरि तजे सुरा जल न्हाये,
होय न शुद्ध श्याम विन गाये।
कर्म भरोसो करि शठ मोठे,
उल्मुक क्यों प्रकाश तम खोवै ॥४१॥

অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম
दर्पन दिया नैन बिन जैसे,
देव पितर सब हरि बिन तैसें।
हरि सेवत निहार नहिं प्राव,
सिंहिन सुतहिं स्थार डरपावै ॥४२
हस्ती चढ़ी खान ते डरिहै,
सांप कहा पावक को करिहै।
दावानलहि न प्रोस बुझावे,
गज की प्यास न कुहुर गवांव ॥४३॥
नदी प्रबल पावस को पानी,
रोक त्रण यह कौने मानी।
विधि निषेध सब देई देवा,
हरि सेवत निकरत सब सेवा ॥४४॥
सुधासिन्धु तट प्यासो मरई,
कर्म करै हरि भक्ति न करई।
ऊट अगर कपूर चलावे,
मृग मृगमद को मरम न पावै ॥४५॥
बिन सत संग भति बिन कोन्ह,
हैं हरि निकट जात नहिं चीन्हे।
ज्यों तिल तेल रहत छत पयमहं,
अगिनि दारु संयोग जहां तह ॥४६॥

অনন্য বৈষ্ণবধ मथन उपाय बिना क्यों पावै, साधु बिना हरि कौन बतावै। मन को सब सन्देह गमावे, भक्ति भेद भागवत दिखावै ॥४७॥ सुख दुख धन पूरब कत पावे, सत सङ्गति बिनु भक्ति न पावै । माया के सब हरहि बिकारहिं, कम्म बीज जुग जुग के जारहिं ॥४८॥ एक नौर बहु बरण दिखावै, सङ्गति के समान गुण पावै। स्वाति बूंद सुक्ता मुक्ता फल, केरि कपूर सर्प हाला हल ॥४८॥ राजति अति पुरइन पातनि पर, तपत लोह पर परत झराझर । त्यों जैसी सङ्गति नर पावै । तैसे गुण अरु की कग ५०॥ অর্থাৎ—যখন পর্যন্ত কপটের কপাট খুলে না তখন পর্যন্ত বেদের বিধি নিষেধ পলায়ন করে না। যখন পৰ্য্যন্ত কনক ও কামিনী ভাল লাগে, তখন পর্যন্ত ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হৃদয়ের ভিতরে আসেন না। ২৩। কোটি কোটি কুকৰ্ম্ম এবং ধৰ্ম্মকাৰ্য্য করিয়া এস না কেন, মানসিক বিষয়ের বাসনা মনকে নাচাইবেই নাচাইবে। লােকে তীর্থে অবগাহন অনন্ত বৈষ্ণবধর্ম করে, কিন্তু মুখেরা বুঝে না যে যারা ভগবান শ্রীহরিকে গ্রহণ করিয়াছে তাহারা কেন নিজকে প্ৰয়াগের হাতে সমর্পণ করে১৮ মৃঢ় মনুষ্য ভগবান শ্রীহরিকে ছাড়িয়া অন্যান্য দেবতার কি শক্তির সম্মুখে যাচনা করে, কিন্তু তাহার কাৰ্য্য এইরূপ যেরূপ কেহ কামধেনু ত্যাগ করিয়া একটা অজা (ছাগ) কিনে, সুরম ছাড়িয়া বহেড়া চায় । অথবা কেশর ফেলিয়া দিয়া কয়লার ছাই দ্বারা নিজের অঙ্গরাগ সুসম্পন্ন করে। ১৯॥ নিজের গিরি সমান দোষকে ত কেহই কিছুই মনে করে না, অধিকন্তু নিজের তিল সমান গুণকেও পাহাড়ের মতন মনে করে ও ধ্যাপন করে। অবােধ মনুষ্য এরূপ চতুরশিরােমণির কাছেও নিজের এই কপট চতুর চালাইতে লজ্জা বােধ করে না, যিনি একটুও প্রীতির সরলতা জানিতে পারিয়া নিজের যথাসর্বস্ব প্রদান করিবার জন্য প্রতি মুহূর্ত উৎসুক থাকেন। ২০। ক্রোধ মারিলেই অন্যান্য রিপুসকল মরিবে। ক্রোধকে আগে মারিয়া তাহার পর কামরূপী দারিদ্র্যকে মারিবে। যে মনুষ্য লােভে নিমগ্ন থাকিয়াও সন্তোষের দিকে চায় সে অত্যন্ত নিরীহ। কেননা লােভ ত প্রতিদিন অত্যন্ত বাড়ে, তাহার কখনও পার পাওয়া যায় না। ২১ হারিল (পক্ষীবিশেষ) কখনও ভূলিয়াও ভূমির উপর পা দেয় না, আর টিটহরী (পক্ষীবিশেষ) কখনও বৃক্ষের উপর আরােহণ করে না। পশুপক্ষী আর দেবতারা এইরূপ আজ্ঞা মানে কিন্তু মানব এতই শঠ যে সে এ সব সুমতিকে মনেও করে না ॥ ২২। সাত সমুদ্রের মধ্যে যত জল আছে, জননী ততই দুগ্ধপান করাইয়াছেন, আর গিরিবরের মত অন্নসমূহ নষ্ট করিয়াছ, এত করিয়াই এই ভারত- খণ্ডে জন্মগ্রহণ করিতে পারিয়াছ। ২৩ ॥

অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম মানুষের শরীরটা অত্যন্ত দুর্লভ, তাহাকে তুমি সুলভের মতন লাভ করিতে পারিয়াছ। আরও দেখ, হরিনামের নৌকার উপর গুরুরূপী কেবট (মাঝী) প্রাপ্ত হইয়াছ। যদি এইরূপ হিন্দুসমাজের ভিতরে থাকিয়াও ভবসাগর পার না হও তবেই বুঝিবে যে তুমি নিজের অপঘাত নজের হাত দ্বারাই করিয়াছ। ২৪। গৃহ, সুত আর জায়া এ সব মায়ার ফল। এই যে সমস্ত সংসাব দেখিতেছ সে সব ধূলির ছায়ার মত মিথ্যা। বাজীকরের ভেল্কি আর চপলার' চমকের মত মত ক্ষণস্থায়ী। মানুষের মনকে কখনাে বিশ্বাস করিওনা ॥ ২৫ | • মুর্থ মনুষ্য প্রতিদিনের প্রলয়কে ত দেখিয়াও দেখে না কিন্তু মহা- প্রলয়ের নাম শুনিয়াই কাদে, যাদের সঙ্গে দেহের ও পিরীতির সম্বন্ধ মনে কর তাহারা কাগজের পুতুলের মত একেবারে অসার। ২৬। যেমন পানশালায় ললাকে একত্র হইয়া জলপান করে কিন্তু তাহার পর সকলে নিজ নিজ গন্তব্য পথে চলিয়া যায় এবং নদীতে নৌকার উপরে সকলে একত্র হইয়া পরপার যায়, কিন্তু সেখানে পঁহুছিবামাত্রই পুনঃ পৃথক পৃথক হইয়া যায়, তেমনই এই সংসারযাত্রাকেও মনে করিবে। ২৭। যাদের এই কাগজের পুতুলের মত অবস্থা, তাহাদের সঙ্গে প্রীতি রাখ আর ভগবান শ্রীহরিকে ভুলিয়া যাইতেছ, ইহাই কি তােমার বুদ্ধি- পরিচয় ? দেখ এই যুগ, এই দ্বীপ, এই দেহ ও দেহের বল ভাল পাইয়াছ, এ গুলিকে বৃথা যাইতে দিও না। এই সকল সমাজের সহায়তায় ভগবান শ্রীহরির ভজন করিয়া হৃদয়ের সব দুঃখ মিটাও। ২৮ বালক যেমন নিজের একটা ঘর তৈয়ারী করিয়া আবার তৎক্ষণই তাহা মিটাইয়া দেয়, "আর যাদুকরেরা যেমন ক্ষণেকের জন্য একটা নগর প্রস্তুত করে, তেমনই এই সব সংসার মায়ার ভ্ৰমমাত্র, আর কিছুই নহে।

অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম হে ভাই! তুমি সেই ভ্রম দেখিয়াই ভগবান শ্রীহরির সত্যভক্তিকে ভুলিয়াছ, ইহা বড়ই পরিতাপের বিষয় ॥ ২৯। যে মনুষ্য সােণার মুকুট আর কুণ্ডলের ভার শিরের উপর বহন করে আর শ্রীমনমােহনের চরণের দর্শন করে না অথবা শ্রীচরণের দিকে সেই স্বর্ণভারযুক্ত মাথা নােয়ায় না, তাহার কাঞ্চনের কঙ্কণ আর সেই কুণ্ডলাদি এমনই শােভা পায় যেরূপ মৃতকের গায়ে কেহ সেই সব কুণ্ডলাদি সাজিয়া রাখিয়াছে । ৩০ | যে কৰ্ম্ম করে সে তাহার ফলপ্রাপ্ত হয়, সেই ফলানুসার সে উচ্চ এবং নীচ পদ পাইয়া থাকে। সে কখনও ইন্দ্র হয় এবং কখনও তির্যক শরীর প্রাপ্ত হইয়া থাকে। এইরূপ সে গুণপ্রবাহের বিষয় হইয়া সদা গমনাগমন করে। ৩১। মৎস্যপুরাণে দেখা যায় স্বয়ং ভগবান একবার একটা চরণহীন পিপীলি- কার প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ পূৰ্ব্বক কহিয়াছিলেন যে দেখ অর্জুন এই যে পঙ্গু পিপীলিকা দেখিতেছ, ইহা নিজের কৰ্ম্মানুসারে পূর্ব পূৰ্ব্ব-জন্মে চৌদ্দবার ইন্দ্র হইয়াছিল। ৩২। উত্তম জল ছাড়িয়া মৃগের ন্যায় লােক তৃণাচ্ছাদিত জলের দিকে ধাবিত হয়। কৰ্ম্ম, ধৰ্ম্ম এবং দেবগণের যে সব ফল, সে সকল ভক্তি বিনা বৃথা, কেবল ভগবৎ ভক্তি বিনা কৰ্ম্মাদির ফল এমনই বৃথা, যেমন ধান্য বিনা কেবল তুষ বৃথা। ৩৩ | যেমন বিশ (কুড়ি) হাত রঞ্জুদ্বারা কূপ হইতে যে জল তুলিতে পার যায়, তাহা দুই হাত কম রজ্জদ্বারা কখনও তুলিতে পারা যাইবে না, তেমনই যে নির্ভয় ভগবান শ্রীহরির ভজন দ্বারা প্রাপ্ত হয় তাহা কেবল বিধি এবং নিষেধ যুক্ত কৰ্ম্মানুষ্ঠান দ্বারা প্রাপ্ত হইবে না। ৩৪। কৰ্ম্ম এবং ভক্তির অত্যন্ত পার্থক্য, যেখানে কর্ম সেখানে ক্তি যাইতে অনন্য বৈষ্ণবধর্ম পারে না। রাত্রির অন্ধকার, পৃথিবীতে সূর্যের অস্তিত্ব কেমন করিয়া ব্যক্ত করিবে। যদি কজ্জলের সেতু তৈয়ারী করিতে পারা যায় তাহা হইলেই কর্মগুলির মধ্যে ভক্তির সন্ধান পাওয়া যাইবে ॥ ৩৫। ভক্তির মধ্যে কর্মের সংমিশ্রণ করা, এমনই অন্যায় যেমন চিনি হইতে চিনির ময়লা বাহির করিয়া পুনঃ তাহাতেই তাহাকে প্রক্ষিপ্ত করা। এই কাৰ্য্যদ্বারা চিনি খারাপ হবার মত কর্মের মিশ্রণে ভক্তিও ব্যভিচারিণী হইয়া যায়। কর্মের মধ্যে ভক্তির সংমিশ্রণ উচ্ছিষ্টের মধ্যে অনুচ্ছিষ্টের সংমিশ্রণের মত সকলের অনিচ্ছিত ॥ ৩৬ | অসৎ পুরাণ গুলিতেই দেখিতে পাইবে যে কর্মের মধ্যে ভক্তির বর্ণন হইয়াছে, সেই পুরাণগুলিতে ভক্তির অনুসন্ধান করা এমনই হাস্যাস্পদ যেমন কোন কপূর ব্যবসায়ী গাঁজার এবং বদরীফলের বাজারে নিজের গ্রাহক অনুসন্ধান করে। ৩৭। বিচারপূর্বক শ্ৰীভাগবতপুরাণ দেখ, ইহাদ্বারা সংসার হইতে বিমুক্ত হওয়া যায়, কর্মঠ পণ্ডিতেরা ইহাতেও বর্ণাশ্রমাদিধৰ্ম্মের সাক্ষ্য অনুসন্ধান করিয়া মুখস্থ করিয়া রাখিয়াছে। ৩৮। নিজের মনােৰুচি অনুসারে তাহারা ভাগবতের অর্থ করিতেছে, শ্ৰীধৰস্বামী যাহা বলিয়াছেন তাহা তাহাৱা মানে না, এজন্য তাহারা ঠিক একটা মহিষের মত। যে মহিষ অন্যকে দুগ্ধদান করে কিন্তু নিজে তাহার আস্বাদ জানে না ৩৯। ভক্তদিগের যে সকল কৰ্ম্ম বলা হইয়াছে সেগুলি ত তােমার মনে শ্রীভগবানের জন্ম এবং কর্মের লীলা সকল প্রতিদিন নূতন নূতন প্রকারে করিলে নিজের অথচ পিতৃপুরুষগণেরও উদ্ধার সাধিত হয়। ৪০ | কিন্তু এই ভক্তগণের অনুষ্ঠেয় কৰ্ম্মগুলির ত্যাগ করিয়া যাহারা অন্যান্য বৈদিক কর্মের অনুষ্ঠান করিয়া আত্মশুদ্ধির আশা করে তাহাদের 'কাৰ্য্য অনন্য বৈষ্ণবধর্ম ঠিক সুরসরিৎ গঙ্গাজল ত্যাগ করিয়া সুদ্বারা শুদ্ধিলাভের আশার মত বৃথা, এবং যাহারা কৰ্ম্মের ভরসায় শয়ন করে তাহারাও উল্লুকের মত আকাশের তম হরণের চেষ্টা করে। ৪১। যেমন দর্পণ আর দীপক এ দুই পদার্থই নেত্র বিনা বৃথা, তেমনই দেবতা এবং পিতৃগণও ভগবান শ্রীহরি বিনা বৃথা। যাহারা শ্রীহরির সেবক তাহারা সিংহিনীর সুত, তাহাদিগকে শৃগাল হইতে ভয় পাইবার কোন কারণ নাই। ৪২। হস্তীর আরােহী কুকুরের ভয় করিবে কেন? আর অগ্নিকে সর্প- দংশনের কোন ভয় থাকে না। দাবানলকে তুষার নির্বাপিত করিতে পারে না ? আর গজের পিপাসাও শিশির দ্বারা প্রশমিত হয় না। ৪৩। বর্ষাঋতু-উদ্বেলিত প্রবল নদীর জল একটা তৃণদ্বারা কেহ রুদ্ধ করিতে পারে না। বিধি, নিষেধ এবং সমস্ত দেবী আর দেবতারা ভগবান্ শ্রীহরির সেবায় স্বয়ংই দূরীভূত হইয়া থাকেন। ৪৪ | যে মনুষ্য কৰ্ম্ম করে, কিন্তু ভগবান্ শ্রীহরির ভক্তি করে না তাহার এমনই দুর্ভাগ্য সুধাসমুদ্রের তটে থাকিয়াও পিপাসিত মনুষ্যের মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার ন্যায়! যদ্যপি উষ্ট অগুরু এবং চন্দনের ভার বহন করে, কিন্তু তথাপি সেগুলির সুগন্ধি হইতে সে বঞ্চিত থাকে আর মৃগ যেমন নিজাঙ্গনিবসিত কস্তুরির সৌরভ জানে না সেই পশুসমূহের সমান সেই মনুষ্য সকলকেও জানিবে। যাহারা কর্মজঞ্জালে বিজড়িত থাকিয়া হৃদয়ের প্রান্তভাগে দণ্ডায়মান ভগবান শ্রীহরিকে দেখিয়াও দেখে না ॥ ৪৫। যদি ভগবান শ্রীহরি নিকটেই দণ্ডায়মান থাকেন, তথাপি সৎসঙ্গ ও ভক্তি বিনা তাহাকে চিনিতে পারা যায় না, যেমন তিলের মধ্যে তৈল আর দুগ্ধের মধ্যে ধৃত আছে, কিন্তু অগ্নি আর কাঠের সংযােগ বিনা দেখা যা , সেইরূপ সৎসঙ্গ আর গুরুর সংযােগ বিনা হরিপ্রাপ্য হন না। ৪৬ ৩৮ অনন্য বৈষ্ণবধর্ম মথন বিনা সার পাওয়া যায় না অথচ সাধুসঙ্গ বিনা হরিকে কেহ চিনাইয়া দেয় না, শ্ৰীভাগবত মনের সব সন্দেহ ঘুচাইয়া দেয় আর ভক্তির ভেদ প্রকাশ করে। ৪৭ | সুখ, দুঃখ এবং ধনাদি লােকে পূৰ্ব্বকৰ্ম্মানুসারে প্রাপ্ত হয় কিন্তু সৎসঙ্গ বিনা ভক্তি কোন উপায়েই প্রাপ্ত হওয়া যায় না। ভক্তির প্রকাশ হইলেই মায়ার সব বিকার বিদূরিত হয় আর জন্ম- জন্মান্তরের কর্মবীজ নষ্ট হইয়া যায় । ৪৮। যেমন একটা জল নানা বর্ণে ভিন্ন প্রকারের দেখা যায়, অর্থাৎ সঙ্গতির সমান রূপ ধারণ করে অর্থাৎ স্বাতিনক্ষত্রে জলবিন্দুর বংশলােচন স্পর্শে মুক্তার রূপ ধারণ করে, কপূর আর সর্পের হলাহল বিষও সেই জলবিন্দু দ্বারাই প্রস্তুত হয়। ৪৯ | সঙ্গতির গুণ দেখ। পদ্মপত্রের উপর জলের কি শােভা! আর সেই জলটা যখন উত্তপ্ত লৌহের উপর নিপতিত হয় তখন তাহার কি দুর্দশা ! এই প্রকার একটা মনুষ্য সংগতি অনুসারে সুখ এবং দুঃখ নানারকম অনুভব করিয়া থাকে । ৫০ | ইহাই আদর্শ অনগ্নতা, ইহাই আদর্শ দৃঢ়তা, এবং ইহাই আদর্শ- রসিকতা! ইহার এক এক চৌপাই, অনন্যতার সূত্রস্বরূপ ও ভগবৎ- ভক্তিশাস্ত্রের তেজস্বরূপ। শ্রীচতুভুজদাস জীর এই দ্বাদশ যশ গ্রন্থের অতি সুন্দর সংস্কৃতভাষায় লিখিত এক ব্যাখ্যা আছে। এই ব্যাখ্যায় শ্রুতি, স্মৃতি পুরাণাদির বহুল প্রমাণ দ্বারা মূলগ্রন্থের বাক্যাবলীর পুষ্টিসাধন করা হইয়াছে। মালাদি সাধারণ ভক্তগণের ইতিহাসে ও “রসিক অনন্যমাল” আদি সাম্প্রদায়িক অসাধারণ ভক্তগণের ইতিহাসগ্রন্থাদিতে স্বামী চতুভুজ দাসজী, শ্রীনবাহনরাজ, শ্ৰীব্র বদাসজী, শ্রীব্যাসজী, শ্রীসেবক জী, অনন্ত বৈষ্ণবধৰ্ম্ম . শ্রীনাগবীদাস জী, শ্রীবিঠঠল জী, শ্রীনবল জী, শ্রীমােহন জী, শ্ৰছৰীলদাস জী, শ্রীহরিদাস জী, শ্রীনহরমল জী, শ্রীগােবিন্দ জী, শ্রীজয়মলরাজা, শ্রীভুবন জী, শ্ৰীখসেন জী, শ্রীহরিবংশদাল জী, শ্রীপরমানন্দ জী, শ্ৰীষমুনা, শ্রীগঙ্গা, শ্ৰীকৰ্ম্মঠা, শীভাগমতীকই জী, শ্ৰীকরস্বামী জী, শ্রীপ্রবােধ জী, শ্রীকল্যাণ জী, শ্রীস্বামীলাল জী, শ্রীদামােদর জী, শ্রীপুর জী, শ্রীসুন্দরদাস জী, শ্রীহরিদাস জী, শ্রীতুলাধার জী, শ্ৰীযশবন্তরাজা, শ্ৰীরসিকদাস জী, শ্রীহরিকৃষ্ণজী, শ্রীমােহনদাস জী, শ্ৰীমাধুরীদাস জী, শ্রীদ্বারিকাদাস জী এবং শ্ৰীশ্যাম শাহ জী আদি রসিক ভক্তগণের চরিত লিখিত হইয়াছে। ইহাদের ন্যায় ভক্ত ঐ সময়ে অতি অল্পই ছিলেন। দৃঢ় অনন্যরসিক ভক্তিতেই জীবের উত্তমাগতি সিদ্ধ হইতেছে, এই নিমিত্ত বৈষ্ণবমাত্রেরই “অনন্ত- রসিক ভক্ত হওয়া কর্তব্য। গীতার অনন্যতা স্বীয় অনন্য বৈষ্ণব-ধৰ্ম্ম, স্বীয় অনন্য বৈষ্ণব পরিচৰ্য্যা এবং স্বীয় অনন্ত বৈষ্ণব ভক্তগণ সম্বন্ধে স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আপনার অনন্য বৈষ্ণব-ধৰ্ম্ম গ্রন্থ গীতায় বলিয়াছেন :- নায়িন্ধিী যীশী আনিয়াছি মনীষিকাঃ कर्मिश्चाधिको योगी तस्माद योगी भवार्जुन। অর্থাৎ কৃচ্ছ-চান্দ্রায়ণাদি তপরূপ পুরুষার্থ সাধনকারী তপস্বী অপেক্ষা যােগ অধিক শ্রেষ্ঠ, শাস্ত্রের অমােঘ জ্ঞানশীল জ্ঞানী অপেক্ষা যােগী অধিক শ্রেষ্ঠ, অগ্নিহােত্ৰাদি কৰ্ম্মকারী কর্মী অপেক্ষা যােগী অধিক শ্রেষ্ঠ, হে অর্জুন এই নিমিত্ত তুমি যােগী হও। (অঃ ৬ শ্লোক ৪৬) যীমিনামৰি ৰা মাননানান। श्रद्धावान् भजते यो मां स मे युक्ततमो मतः ।

অনন্ত বৈষ্ণবধর্ম যােগিগণের মধ্যে আত্মসমাধিপরায়ণ, হিরণ্যগর্ভ, রুদ্র, ইন্দ্র, আদিত্য আদির আরাধক যােগী এবং উহাদের মধ্যে সহস্র জন্মার্জিত পুণ্য ফলে অথবা সদাচার উপদেশ বলে সৰ্ব্বজ্ঞ, সর্বশক্তি, সৰ্ব্বকারণ, সর্বকৰ্ম্মফল- দাতা ঈশ্বর পরমাত্মা এবং পুরুষােত্তম আদি নামধারী যে আমি আমাকে ছাড়িয়া অন্যান্য দেবতার নিকট ফল কামনার সাধন যাহারা তুচ্ছ বলিয়া মনে করিয়া অনন্ত ভক্তি ভাবনা দ্বারা নিরতিশয় প্রতিবশ যে আমি পরমা- নঘন ভগবান্ বাসুদেব এই আমাতে যে শ্রদ্ধাবান্ (গুরু ও শাস্ত্ৰবাক্যানু- সারে সর্বাভীষ্ট ফলপ্রদ কেবল এই ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণ। এই নিমিত্ত সৰ্ব্বাত্ম- ভাবে কেবল ইহারই ভজনা করা কর্তব্য। এইরূপ সুদৃঢ় বিশ্বাসযুক্ত) তিনি জানেন যে আমি ঈশ্বরত্ব, জ্ঞান বল শক্তি বাৎসল্য কারুণ্য দয়া আদি অশেষ কল্যাণগুণসমুদ্র, সর্বশরণ, প্রণতদুঃখহারী এবং স্বীয় ভক্তের কামনাপূরণকারিরূপে বাসুদেব-নন্দন নামে যদুকুলে অবতীর্ণ হইয়াছি। ইহারা আমাকে এইরূপে ভজন করে, অর্থাৎ অৰ্চন বন ধ্যান আদি দ্বারা সর্বদা আমার সেবা করে। যাহারা এইরূপ সমাহিত চিত্ত হইয়া সৰ্ব্ব পরমেশ্বররূপী আমাকে ভজনা করে, তাহারাই সর্বশ্রেষ্ঠ যােগী। এই নিমিত্ত হে অর্জুন তুমি আমার এতাদৃশ অনন্য ভক্তিযােগে যােগী হও। (অঃ ৬, শ্লোকঃ ৪৭ ) तभवत्यल्पमेधा 1 মান फलं तेषां देवान् देवयजो यान्ति महता यान्ति मामपि । অন্যান্য দেবতার প্রতি শ্রদ্ধাভক্ত এবং আমার অনন্য ভক্তের প্রভেদ এইরূপ:-অন্য দেব ভক্ত অপেক্ষা আমার অনন্য ভক্তের শ্রেষ্ঠ এইরূপ হইয়া থাকে যে মন্দ প্রজ্ঞা হেতু তত্ত্ববিবেচনে অকুশল অল্প মেধা- বিশিষ্ট লােকেরা ফলাশয়ে অন্যান্য দেবের আরাধনা করে, কিন্তু আমিই অনন্য বৈষ্ণবধর্ম ৪১ সেই সকল দেবতার অধ্যক্ষ হইয়া ফল দান করি। কিন্তু সাক্ষাৎ আমার আরাধনা না করায় ঐ কাৰ্যফল অন্তবৎ হইয়া পড়ে, সুতরাং ফলের বিনাশ হয়। ফল কামনায় যাহারা ইন্দ্রাদি দেবতার আরাধনা করে, তাহাদের আরাধনাফলও স্থায়ী হয় না, কেন না তাহাদের আরাধ্য ইন্দ্রাদি দেবতা নশ্বর। কিন্তু আমার অনন্য ভক্ত আমার প্রসাদে প্রথমতঃ ইহলােকে কৰ্ম্মফল তােত অবশ্যই প্রাপ্ত হয়; অতঃপর আমার ভজনপ্রভাবে নিষ্কাম হইয়া অনন্ত গুণশালী যে আমি, এতাদৃশ আমাকেই তাহারা প্রাপ্ত হয়। এই নিমিত্ত আমার সকামভক্ত ও অন্য দেবতার ভক্তের ন্যায় সংসারের পতগতিতে আপতিত হয় না, ইহাই বিশেষতা। (অধ্যায় ৭ শ্লোক ২৩) अनन्यचेताः सततं यो मां स्मरति नित्ययः। तस्याहं सुलभः पार्थ नित्ययुक्तास्य यागिनः । ভগবান এবম্প্রকারে সামান্য যােগীর কথা বলিয়া এখন আপন বিশিষ্ট অনন্য ভক্ত যােগীদিগের প্রাপ্তি সম্বন্ধে বলিতেছেন অনন্যচেতা যােগীর চিত্তের ন্যায় অপর যােগীর চিত্ত নহে। অনন্ত চিত্ত যােগী নিরন্তর প্রেমপূৰ্ব্বক নিরতিশয়প্রিয় যে আমি এই আমার স্মরণ করে, এই নিমিত্ত অন্যের অচিন্ত্যস্বরূপণঐশ্বৰ্য্যবিশিষ্ট হওয়া সত্ত্বেও আমি স্বকীয় ভক্তের বিয়ােগ দুঃখ সহিতে না পারিয়া বাৎসল্য কারুণ্য সৌহার্দ্য আদি গুণে ভক্ত বশ হইয়া আমি আমার অনন্ত যােগকারী অতিশয় প্রিয় ভক্তগণের অতি সুলভেই প্রাপ্ত হইয়া থাকি। ভগবান বলেন, এক ভক্তির বশীভূত হওয়াই আমার স্বভাব। বেদে লিখিত আছে- १। शृण्वन्तोऽपि बहुवीयं न विदुः। २। नायमात्माप्रवचनेन लभ्यो । * 82 অনন্য বৈষ্ণবধর্ম न मेधया न बहुना श्रुतेन यमेवैष वृणुते तेनलभ्य ব্রয়ল আলা মুন নাম-খুনি। অপিচ- भक्ति रवैनं दर्शयति भक्तिरेवेनं वईयति भक्तिवशः पुरुषः মলিন মুয়ী—নি। গীতার অষ্টম অধ্যায়ের ১৪ শ্লোকের ইহাই ভাষ্যার্থ । सततं कीर्तयन्तो मां यतन्तश्च दृढव्रताः नमस्यन्तश्च मां भक्तमा नित्ययुक्ता उपासते। আমার এই প্রকার ভক্তের রীতি ইহাই যে অনন্য ভক্ত আমার রূপ গুণ ও নামে অন্তঃকরণ অভিনিবিষ্ট করিয়া আমার গুণ ও লীলার উদ্দীপক নাম সমূহের স্মরণ করিয়া, পুলকিত হইয়া, হর্ষগগদ কণ্ঠে, মাধব মুকুল মধুসূদন কৃষ্ণ ও বাসুদেবাদি নামযুক্ত স্তোত্রপ্রবন্ধ ভজন কীৰ্ত্তন করিয়া অৰ্চন বন্দন নৰ্ত্তন নমস্কার করেন, আমার প্রসাদের প্রতি আদর করেন, আমার মন্দির সমক্ষে আগমন করিয়া নিরতিশয় প্রেম সহকারে হস্ত জানু বক্ষ শির আঁখিমন ও বাণী সহকারে অষ্টাঙ্গ প্রণাম করেন, ক্ষণমাত্রও আমার বিয়ােগ সহ্য করিতে পারেন না এইরূপে আমাতে নিত্যযুক্ত হইয়া আমার উপাসনা করেন। (অঃ ৯১৪) অই অধ্যায়ের ২২ শ্লোকে শ্রীভগবান্ নিষ্কাম অনন্য ভক্তের প্রশংসা করিয়াছেন। দয়াল ভগবান অনন্য নিষ্কাম ভক্তের প্রতি এমনই প্রসন্ন হয়েন যে ভক্তের যােগক্ষেমের ভার নিজেই বহন করিয়া থাকেন।

অনন্য বৈষ্ণবধর্ম ৪৩ । এইরূপে শ্রীভগবান স্বীয় অনন্য ভক্তকে প্রেমােৎসাহ প্রদর্শন করেন। আহা, নিৰ্ধনের ধন গিরিধারীর কি অদ্ভুত প্রেম পরিপাটী। এই অধ্যায়ের আরও কিছু অগ্রে শ্রীভগবান্ অৰ্জ্জুনের নিকট অনন্য ভক্তের কেমন প্রশংসা করিয়াছেন, ভগবান্ বলিতেছেন—হে অর্জুন আমার ভক্তের অলৌকিক প্রভাবের কথা শ্রবণ কর, আমার অনন্য ভক্তের দুরাচার হওয়া অসম্ভব। বৈদিকাচারবিরােধী ব্যক্তিকে জন্মান্তরীয় বলিষ্ঠ কৰ্ম্মফলে অন্ত্যজাদি নীচ যােনি প্রাপ্ত হইতে হয়, ভগবদপরাধের কারণ সৎসম্প্রদায়ােক্ত শাস্ত্রীয় সদাচার হইতেও মানুষ পতিত হয়, এবং দুঃসঙ্গ মধ্যে তাহার জন্ম হয়। আর যাহাকে এতাদৃশ দুরাচার বলা হয়, এই দুরাচারীর যদি পূৰ্ব্ব কৰ্ম্মের সুকৃত থাকে, তবে সেই ভাগ্যোদয় বলে অন্য সাধন, অন্য প্রয়ােজন ও অন্যসম্বন্ধশূন্য হইয়া যদি আমার অনন্য ভজন করে, সৰ্বসাধনরূপ সৰ্ব্ব যােগক্ষেমকারী আমাকে মুক্তের প্রাপ্য সৰ্ব্বসম্বন্ধাশ্রয় এবং মুমুক্ষুধ্যেয় নিশ্চয় করিয়া সৰ্বাত্মভাবে আমাকে ভজন করে আমার, অনন্য ভজনকেই একাবলম্বন করে, তবে এতাদৃশ দুরাচারকে অবশ্যই সাধু বলিয়া এবং সদাচারবান্ একান্ত ভক্ত বলিয়া জানিবে । কেন না, এই ব্যক্তিই সম্যক্‌ব্যবসিত বুদ্ধিমান্, সম্যক্‌ব্যবসায় সম্পত্তিযুক্ত। এই প্রকার ভক্তের দৃঢ় বিশ্বাস এই যে, “সৰ্বমুমুক্ষুধেয়, জগজ্জন্মদিহেতু, বৈদিক প্রমাণগম্য, বেদান্তপ্রতিপাদ্য, মুক্তপ্রাপ্য ভগবান শ্রীপুরুষােত্তম, রমানিবাস গােপীপ্রিয়, রাধাপ্রাণনাথ এবং সৰ্বসম্বন্ধরূপ সৰ্বাত্মা শ্রীকৃষ্ণ ব্যতীত সাধ্য সাধন সম্বন্ধে আমার সমাশ্রয়ের যােগ্য আর দ্বিতীয় কেহই নাই। যদিও আমার পাপ এত অধিক যে বৈদিক আচার প্রতিপালন করিতে আমি একবারেই অনধিকারী, প্রত্যুত আমি একবারেই অধঃপাতের যােগ্য হইয়া পড়িয়াছি, তথাপি এই নিরতিশয় দয়া-কারুণ্য তিতিক্ষা- বাৎসল্যাদি গুণ মহােদধি ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণ আপন অসাধারণ গুণ পরবশত।

৪ অনন্ত বৈষ্ণবধৰ্ম্ম এবং নিৰ্হেতুক করুণা বলে তাঁহার প্রতি আমাকে অনন্য ভজনের যােগ্য মনুষ্য ভাব প্রাপ্ত করাইয়া, আপনার নিয়মভূত আমার দেহেন্দ্রিয় অঙ্গের দ্বারা আত্মার সৎগতি প্রকাশ করিয়া তাহার দীনবৎসল গুণ- ধ্যাপনের জন্য আমাকে অনন্ত ভক্ত করিয়া আমার উৎকর্ষ সাধন করিয়া লইবেন। এই নিমিত্ত উহার এই উপকার আমি শিরােধার্য্য করিষা আমি সৰ্বাত্মভাবে কেবল উহারই ভজনা করা কর্তব্য বলিয়া বােধ করি।” ভগবান্ বলেন আমার ভক্তের ইহাই সম্যক ব্যবসায়। এই ভক্ত নিজের বিশ্বাসাত্মক দৃঢ়নিশ্চয়ে দুরাচার ত্যাগ করিয়া অতি শীঘ্র মহাভাগবত লক্ষণসম্পন্ন ধর্মাত্মা হইয়া উঠেন। তৎপরে মদ্ভাবাপন্নলক্ষণান্বিত হইয়া শান্তি এবং ক্রমে মুক্তি পৰ্য্যন্ত প্রাপ্ত হয়েন। এতাদৃশ ভক্তের কখনও নাশের আশঙ্কা ঘটে না। ইহাতে আশঙ্কা হইতে পারে যে পূর্ব অভ্যস্ত দুরাচার হইতে কদাচিৎ আবার উহার দুষ্কর্মে রুচি এবং দুঃসঙ্গ নিমিত্ত পুনরায় অধৰ্ম্ম ঘটিতে পারে, তাহা হইলে এই দুরাচার কি প্রকারে সাধু হইবে, এবং কি প্রকারেই বা ইহার শান্তি ঘটিবে ? ফলতঃ এই দুরাচার ব্যক্তিরতত একবারে অধঃ- পাতই নিশ্চয়।” এরূপ আশঙ্কার কোনও কারণ নাই। ভগবান্ বলেন “হে অর্জুন তুমি আমার ঐ প্রতিজ্ঞা জানিবে যে পরমকারুণ্য বাৎসল্য সােহার্দ্য, ক্ষমা, অনুকম্পা, সৌজন্য, সর্বশরণত্ব আদি অনন্ত কল্যাণ গুণ-সাগর সত্যসঙ্কল্প, জ্ঞানেশ্বৰ্য্যাদিষড়গুণবিশিষ্ট শ্রীপুরুষােত্তম ভগবান্ মাধব যে আমি, আমার ভক্ত দুরাচার সম্পন্ন হইলেও,সৰ্বসাধন হীন হইলেও আমাতে অনন্যশরণ হওয়ায় কখনই তাহার বিনাশ হয় না। বিষ্ণুপুরাণে লিখিত আছে--

অনন্য বৈষ্ণবধর্ম
৪৫
হুমমিষী বা
वदति यमः किल तस्य कर्णमूले
परिहरि मधुसूदनप्रपवान् प्रभुरह
মযান ঘ্যান
कमलनयन वासुदेव विष्णो
धरणिधरायुत शचक्रपाणे
পৰমৰীয়লি ৪ ন
त्यज भट दूरतरेण तान पापान्
অর্থাৎ যমরাজের দুত যখন প < <ণ :
ব্যক্তির
বাঁধিয়া যমপুরে আনয়ন করিতে যায়, তখন যমরাজ তাহাকে দেখিয়া
তাহার কর্ণমুলে বলিয়া দেন-হে দূত, ভগবান্ মধুসূদনের অনন্যভক্তকে
ছাড়িয়া অপর লােককে বাঁধিয়া লইয়া এস, কেন না, আমি যমরাজ অপর
লােকেরই প্রভু, অনন্যভক্তের প্রভু নহি। বৈষ্ণবের প্রভু, ভগবান বিষ্ণু,
এই বিষ্ণু আমারও প্রভু। এই নিমিত্ত তুমি ভ্রমক্রমেও বৈষ্ণবকে স্পর্শ
করিও না।
অপিচ যে ব্যক্তি ভগবানকে “কমল নয়ন, বাসুদেব, বিষ্ণো, ধরণীধর,
অচ্যুত শঙ্খচক্রপাণে এবং ভবনশরণ” ইত্যাদি রূপে আহ্বান করে, হে দূত,
নিশ্চয়ই তুমি সেই নিস্পাপগণকে দূর হইতে ছাড়িয়া চলিয়া আসিবে
শ্ৰসাত্বত গ্রন্থে লিখিত আছে :-
दुराचारोऽपि सर्वाशी कृतम्रो नास्तिकः पुरा।
समात्रयेत् पादिदेवं अहया शरणं हि यः ।
निर्दोषं विषित जन्तु प्रभावात् परमामणः ।

৪৩
অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম
অর্থাৎ সৰ্বাশী, কৃতঘ্ন ও নাস্তিকাদি যেরূপ দুরাচার হউক না কেন,
ইহাদের মধ্যে যে শ্রদ্ধাপূৰ্ব্বক আদি দেব ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণের সম্যক্ প্রকারে
আশ্রয় গ্রহণ করে তাহাকে নির্দোষ বলিয়া জানিবে, কেন না, পরমাত্মার
এমনই প্রভাব।
শ্রীভগবান্ বৈষ্ণব-ধম্মে স্বয়ং শ্রীমুখে বলিয়াছেন :-
अपि पापेष्वभिरता मदभता पाण्डुनन्दन ।
मुच्यन्ते पातकैः सर्वैः पद्मपत्रमिवाम्भसा।
অর্থাৎ হে পাণ্ডব, পাপে নিতান্ত অভিরত হইলেও, পদ্মপত্রে জলের
ন্যায় আমার ভক্তে কখনই পাপ লগ্ন থাকিতে পারে না।
অপিচ
मेरुमन्दिरमानोऽपि राशिः पापस्य कर्मणः
केशवं वैद्यमासाद्य दुव्याधिरिव नश्यति ।
न वासुदेवभक्तानां अशुभं विद्यते क्वचित् ।
দুর্ব্যাধি যেমন সদ্বৈদ্য প্রাপ্তিমাত্রেই নষ্ট হয়, সেইরূপ কেশবকে
প্রাপ্তিমাত্ৰই সৰ্বপাপ নষ্ট হইয়া যায়। অপিচ ইহাও নিশ্চয় যে ভগবান
বাসুদেবের অনন্য ভক্তের কখনও কোন অশুভ হইতেই পারে না।”
অঃ ৯, ৩০ ৩১ শ্লোক।
-----
अपि चेत् सुदुराचारीभजतेमामनन्यभाक्
साधुरव समन्तव्यः सम्यक व्यवसितो हि सः ।३०
ঘি'মনি লন্সিয়ম্বন মানি' লিনি
कौन्तेय प्रतिगामी हिममे भत. प्रयवसि ।३१

অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম ৪৭ ধন্য শ্রীভগবানের ভক্তপ্রিয়তা। তুমি নিজে যদি তােমার ভক্তের মহিমা বৃদ্ধি না কর তবে আর কে বাড়াইবে ? অমানীকে মান দেওয়াই তােমার বিশেষ বিভূতি! যদি অনুকূল ভক্তিভাবে শ্রীগীতা শাস্ত্রের আলােচনা করা যায়, অথবা শ্রীকৃষ্ণ-ভক্তি হৃদয়ে রাখিয়া গীত কণ্ঠা করা যায়, তাহা হইলে উহা হইতে এই অমৃত ধ্বনি শুনিতে পাওয়া যায় যে, “কেবল স্বীয় অনন্য ভক্তই শ্রীভগবানের অতি প্রিয়। ভগবানের এই অনন্য ভক্তই তাহার দর্শন প্রাপ্ত হন, অনন্য ভক্তই তাহার মিলন প্রাপ্ত হয়েন, অনন্য ভক্তি ভিন্ন আর কিছুতেই তাহার দর্শন মিলে না। বিশ্বরূপ দর্শন করাইয়া ভগবান্ অর্জুনকে অতি স্পষ্টরূপেই এই রীতির কথা বলিয়াছেন যথা : नाहं वेदेनंतपसा न दानेन न चेज्यया शक्यं एवम्बिधो द्रष्टुं दृष्टवानसि मां यथा ॥ মালনন্ময়া ময় অসন বিভীন। রান্ত ছুৰ নৱন দৰম্ব যন। (মীনা স্মৃ: ৫ং-২,৪৪) অর্থাৎ হে অর্জুন, হে পরন্তপ, তুমি আমার যে দুর্লভ-রূপের দর্শন পাইলে ইহা অন্যের অগম্য। বেদ, তপ দান ইজ্যা (বহুল বিধি-নিষেধ। জ্ঞাপক বৈদিক কৰ্ম্ম ) প্রভৃতির কোন সাধনা দ্বারাই আমার এইরূপ দর্শনযােগ্য হয় না। কিন্তু অনন্য ভক্তের পক্ষে এইরূপ সন্দর্শনে কোনও বাধা নাই। আমার অনন্ত ভক্ত দান ও তপস্যা করুক আর না করুক, কেবল অনন্ত ভক্তি দ্বারা সে আমার এতাদৃশ রূপ সহজেই দৃষ্টিগােচর করিয়া থাকে। কেবল যে রূপ দৃষ্টিগােচর হয়, এমন নহে; অনন্য ভক্ত আমার প্রকট ও অপ্রকট উভয় রূপই সহজেই জানিতে পারেন, ২৮ অনন্য বৈষ্ণবধর্ম সহজেই দেখিতে পান, এবং সহজেই আমার রূপ-তত্ত্বজ্ঞানে প্রবেশাধি- কার লাভ করিতে সমর্থ হয়েন, এবং উহাতে প্রবেশ করেন। (১১ অধ্যায় ৫৩-৫৪ শ্লোক) এই সকল বাক্যের ফলস্বরূপ সমস্ত গীতার সিদ্ধান্ত করিতে যাইয়া সমস্ত সদ্ধৰ্ম্মের সার ও অনন্য ভক্তিমার্গের দিকে যেন অঙ্গুলি নির্দেশ করিয়া ভগবান্ গীতার অন্তে এই সার কথা বলিতেছেন- सर्वधर्मान् परित्यज्य मामेकं शरणं व्रज । अहं त्वां सर्वपापेभ्यो मोधयिष्यामि मा शचः । অর্থাৎ যজ্ঞ, তপ, দান, অগ্নিহােত, দর্শ এবং পৌর্ণমাসাদি নিত্য- নৈমিত্তিক সাধনাঙ্গ ও উহাদের ফলাদি ত্যাগ করিয়া-*এই করিলে আমার ভাল হইবে” এই ফলাশা ত্যাগ করিয়া, “এই কাৰ্য্য করিলে এই গুণ হয় এই কাৰ্য্য করিলে এইরূপ দোষ ঘটে,” এই সকল বিচার পরিত্যাগ করিয়া, কেবল এক আমারই শরণ গ্রহণ কর, আমাকে নিখিল হেয়গন্ধশূন্য ভগবান, জ্ঞান-শক্তি-বল-ঐশ্বৰ্য-তেজবীৰ্য-বাৎসল্য-কারুণ্য-দয়া-ক্ষমাদি অনন্ত কল্যাণ গুণার্ণব, সর্বনিয়ন্তা, সফলদাত, সচ্চিদানন্দমূৰ্ত্তি, এক, অতিশয় সাম্যশূন্য ব্ৰহ্মদ্রোদিদেববন্দ্য সৰ্বমুমুক্ষেপা, শরণাগতশরণ্য, প্রাপ্য, ও শরণাগতরক্ষক বলিয়া জানিয়া, আমার অনুকূলেই সঙ্কল্লাদি আচরণ ও অধ্যবসায় কৰ্ম্ম করিয়া অন্য দেবতার অপেক্ষা না করিয়া- কেবল এক শ্রীকৃষ্ণের অনুগ্রহেই আমি কৃতার্থ হইব” এইরূপ বিশ্বাস করিয়া, নিজের স্বতন্ত্র অভিমান ত্যাগ করিয়া, “আমার হিতাহিত সকলি শ্রীকৃষ্ণের অধীন এইরূপ নিশ্চয় করিয়া-প্রকর্ষ প্রেমরূপ গঙ্গা-প্রবাহের কায় আমাতে অনবচ্ছিন্ন চিত্তবৃত্তি রাখিয়া আমার সেবা কর । এরূপ আশঙ্কা করিও না যে এই প্রকার সকল ধর্মেরই অনাদর অনন্য বৈষ্ণবধর্ম ৪৯ করিলে পাপ হইবে” কেন না, আমিই তােমাকে কৰ্ম্ম ত্যাগরূপ পাপ হইতে উদ্ধার করিবে। আমি স্বতন্ত্র ও সর্বেশ্বর ; নিজ ভক্তিমার্গ রক্ষা করার জন্য স্বকীয় আরাধনা, ধর্ম প্রচার করার জন্য--এবং স্বকীয় ইচ্ছায় ভক্তের প্রতি অনুগ্রহ করার জন্য আমি যদুকুলে অবতীর্ণ হইয়াছি। এইজন্য আমার প্রতি অতিশয় ভক্তি-সংরক্ষণের নিমিত্ত নিত্য- নৈমিত্তিক কর্মে অনাদরকারী এবং মদেক শরণ যে তুমি তােমাকে আমি সৰ্ব্ব পাপ হইতে মুক্ত করিব। স্বকৃত্য কাৰ্য্যের অকরণ, ও অকৃত্য কার্যের করণ নিবন্ধন বহু জন্মসঞ্চিত পাপ, এবং এ জন্মেও প্রায়শ্চিত্তাদি অকরণ- জনিত সুবর্ণাশ্রম ধৰ্ম্মোচিত আচরণের অনাদর, এবং বন্ধ বধাদি নিমিত্ত উৎপন্ন পূৰ্ব্ব জন্মের দুস্কৃত এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতে যে সকল পাপ হইতে পারে, সেই সকল পাপ হইতে আপন নিজ সামর্থ্য দ্বারা তােমার উদ্ধার সাধন করিব। অর্থাৎ তােমাকে সৰ্ব্ব প্রকার পাপ হইতেই মুক্ত করিব। সুতরাং তুমি এমন অনুশােচনা করিও না যে “প্রায়শ্চিত্তাদি অকৃরণনিমিত্ত স্বধৰ্ম্মে অনাদর করায় এবং বন্ধু বধাদি পাপ করায় আমার কি প্রকারে উদ্ধার হইবে ?” কদাচিৎ কেহ বলেন যে- ন ৰূযাসন্মান লীন। नियतस्य तु सन्यासः कम्मणो नोपपद्यते ॥ मोहात् तस्यपरित्यागस्तामसः परिकीर्तितः। শ্রীমদ্ভগবদগীতােক্ত এই শ্লোকে কাহারও কদাচিৎ আশঙ্কা হইতে পারে যে স্বধৰ্ম্মাচরণের আবশ্যকত্ব-প্রতিপাদন-কৰ্ত্তা স্বয়ং ভগবানেরই কথাতেই ইহাতে বিরােধ দৃষ্ট হইতেছে। এই স্থলে জানা উচিত যে এই বন্ধন ভক্তিহীনের জন্যই নিয়মিত আছে কিন্তু জিজ্ঞার জন্য, কিংবা অনন্য ভক্তের জন্য নহে। কেন না বেদ বলেন- * } ৪

অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম
ননন স্বান্তনৰ ৰাঞ্চল বিনিমিলি ।
যন কানন নাচলামৰূননি ।
ইহাতে জানা যাইতেছে যে উহা বিবিদিষার জন্য নির্ণীত হইয়াছে।
জিজ্ঞাসায় প্রবৃত্ত ব্যক্তির জন্য শ্রীমদ্ভাগবতে একাদশ স্কন্ধে লিখিত
হইয়াছে
निवृत्तं कर्म सेवेत प्रवृत्तं मत्परः त्यजेत् ।
ভিন্নধায়া বসনা নাযিৰ ৰূক্ষ্মীন।
নাৰ ৰূল্মীৰি ৰূলীন ৰ নিৰিন যাবনা।
मत्कथाश्रवणदौ वा श्रद्धायावन जायते ।
অর্থাৎ ভক্তিহীনের কর্ম করা প্রয়ােজন, কিন্তু যে ব্যক্তি জিজ্ঞাসায়
সংপ্রবৃত্ত হইয়াছে, অথবা যে জন আমার অনন্য ভক্ত হইয়াছে, উহার
সম্বন্ধে কর্মের কর্ত্তব্য নাই। কেন না, কৰ্ম্মতত সেই পৰ্য্যন্তই করা
প্রয়ােজন, যাবৎ পৰ্যন্ত নিৰ্বেদ উপস্থিত না হয়, অথবা যে পর্যন্ত আমার
কথা শ্রবণ কীৰ্ত্তনাদি নবধা ভক্তিতে শ্রদ্ধা না জন্মে। অর্থাৎ শ্রীভগবান্
বলেন যে আমার একান্তভক্তের কৰ্ম্ম করার আবশ্যকতার জন্য অথবা
কর্ম না করাকেও ভয় পাইবার জন্য তাহার কোন চিন্তা নাই, কেন না,
কেবল আমার অনন্য ভক্তিতেই উহার সকল স্বার্থ পূর্ণ হয়।
শ্রীভগবান্ গীতাশাস্ত্রে এই বাক্যই বলিয়াছেন তদখা :-
न वेद यज्ञाध्ययन ने दाने
न च क्रियाभितपोभिः ।
एवं रूपःशका अहं लोके
द्रष्ट त्वदन्येन कुरुप्रवीर ।

অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম ইত্যাদি পরমেশ্বরূপ দর্শনের প্রসঙ্গে যজ্ঞ-দান-আদির অকিঞ্চিৎকারিতার উপদেশ করিয়া স্বীয় অনন্ত ভক্তেরই উৎকর্ষ বর্ণন করিয়াছেন। ইহাই ভগবৎ-বাক্য। এই বাক্যসমূহের প্রতি কি উক্ত শঙ্কাশ্মলের দৃষ্টিপাত হয় ? অধিকন্তু भिद्यते हृदयग्रन्थिश्छिद्यन्ते सर्बसंशयाः। क्षीयन्ते चास्यकम्माणि तस्मिन् दृष्टे परावरे ॥ অথাৎ যখন শ্রীভগবানে মন সংলগ্ন হয়, তখন স্বতঃই হৃদয়ের গ্রন্থিনিচয় খুলিয়া যায়, সকল সংশয় ছুটিয়া যায়, এবং জীবের সকল কর্ম ক্ষীণ হইয়া পড়ে। এই বাক্য দ্বারাও প্রতিপন্ন হইয়াছে যে, অনন্ত ভক্তের কৰ্ম্ম করার প্রয়ােজন হয় না। ভগবানের কৃপা ভিন্ন কেবল কর্মে ভগবানের দর্শন প্রাপ্ত হওয়া যায় না। প্রত্যুত একেবারেই কৰ্ম্ম ব্যতীত কেবল ভগবানের কৃপাতেই ভগবানের দর্শন প্রাপ্ত হওয়া যায়। বেদে লিখিত আছে - न स शक्यः सुरैष्टुं न चान्यैरपि सत्तम। यस्य प्रसादं कुरुते स वै तं द्रष्टु महति । শ্রুতি-স্মৃতির বাক্যে ইহাই সিদ্ধ হইয়াছে যে, ভগবৎ দর্শনের হেতু কৰ্ম্ম নহে, তাহার কৃপাই তদ্দর্শনের হেতু। ভগবানের দর্শনের হেতু ভুত- ভাবন ভগবানের এই কৃপা বা প্রসন্ন, তাহার অনন্য ভক্তেরই লভ্য। শ্রীভগবান্ নিজেই ইহা বলিয়াছেন যথা :- नास्ति भक्तात् प्रियतरा लाके कश्चन विद्यते। অঙ্গ মাঘীনী ভন্ন স্কুল ছিল साधुभिस्तहदयो भनी जनप्रियः । শাালালামাৰ মগ ভাগিনি।

অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম । श्रियमात्यन्तिकों ब्रह्मन् येषां गतिरहं परा। न मे प्रियश्चतुर्वेदी मभक्त खपचः प्रियः तस्मै देयं ततोग्राह्यं स च पूज्यो यथाधहम् ইত্যাদি মহাভারত, শ্রীভাগবত এবং রেবাখাদিতে শ্রীভগবানের স্বকীয় শ্রীমুখবচনে ইহা নিৰ্বিবাদে প্রতিপন্ন হইয়াছে যে, ভগবানের অনন্য- ভক্ত তাঁহার যেমন প্রিয় এমন আর কেহ নহে। এই নিমিত্ত ভগবান্ আপনার অনন্য-ভক্তকে কৃপা করেন। ভগবান্ আপনার অনন্য ভক্তের প্রতি এতই প্রসন্ন হয়েন যে, এই প্রকার ভক্ত জাতিতে চণ্ডাল হইলেও চতুর্বেদবিদ ব্রাহ্মণ অপেক্ষাও উহাকে শ্রেষ্ঠ মনে করিয়া নিজের ন্যায় পূজনীয় বলিয়া মান্য দান করেন। এইজন্য সকল প্রকারেই ইহা সিদ্ধ হইতেছে যে, ভগবান্ নিজ অনত্য-ভক্তকেই চান। এইরূপ ভক্তের প্রতি ভগবান্ প্রসন্ন হইয়া উহাকে দর্শন দান করেন, এবং উহাকে আপনার সহিত মিলাইয়া লয়েন। আর কিছুতেই কাহারও এইরূপ অধিকার হয় না। ধৰ্ম্ম- শাস্ত্রকারগণের মধ্যে মহর্ষি যাজ্ঞবুল্ক, একজন শ্রেষ্ঠ শাস্ত্রকার, ইনি বলেন:- দুৰামীৰা কানাঘায় রূষা। अयन्तु परमोधर्मो यदयोगेनात्मदर्शनम् ॥ অর্থাৎ ইজ্যা, আচার, দম, অহিংসা, দান ও স্বাধ্যায়-আদি কৰ্ম্ম- সমূহের মধ্যে যে যােগ দ্বারা যে শ্রীভগবানের দর্শন প্রাপ্ত হওয়া যায়, তাহাই পরম শ্রেষ্ঠধৰ্ম্ম। এই নিমিত্ত তিতি এবং পুরাণাদির উক্ত বচন-প্রমাণসকল দ্বারা ইহাই সিদ্ধান্তিত হয় যে, শ্রীভগবানের অনন্য ভক্তিই পরম ধর্ম।

অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম কিন্তু এই যে কৰ্মত্যাগের কথা বলা হইল, তাহা কেবল অনন্য- ভক্তের স্থলেই ধৰ্ত্তব্য। সাধারণ জীবসমূহের জন্য নহে। কেননা যে জীব ভগবৎপ্রীতিশূন্য ও ভক্তিহীন, সে যদি সুবর্ণাশ্রমােক্ত ধৰ্ম্মোচিত কাৰ্য্য ত্যাগ করে, তাহা হইলে ভগব আজ্ঞার বিরুদ্ধতার জন্য তাহার নিশ্চয় অধঃপতন হইয়া থাকে। পরন্তু ভগবান তাঁহার আপন অনন্ত- ভক্তের জন্য বলিয়াছেন যে, আমার অনন্যশরণ ভক্ততে আমারই প্রতি ভক্তির আবেশে থাকে, সে যজ্ঞাদি করুক বা না করুক, তাহাতে তাহার প্রত্যবায় হয় না। আমার অনুগ্রহে কদাপি কোনও প্রকারে সে পুরুষার্থ ভ্রষ্ট হয় না। মহাভারতীয় মােক্ষধৰ্ম্ম-পৰ্ব্বাধ্যায়ে নারায়ণীয় আখ্যানে লিখিত আছে যে, ভগবৎ অনন্যশরণ প্রপত্তি দ্বারাই সৰ্ব্বপাপ ক্ষয় হয় এবং সৰ্ব্ব পুরুষার্থ প্রাপ্তি হয় তদযথা :- अनेनैव प्रपत्रस्य भगवन्तं सनातनम् । নাৰা: আনঃ স্বল নয়লি নন্যা। कतान्यनेन सर्वाणि तपांसि तपतां वर। বলনীয়া: মূল: লালানি না। कृत्यान्यनेन मोक्षश्च तस्यहस्त न संशयः। অন্তু যল জান জাল বা বালান: मुमुक्षुषा यत्सांख्येन योगे नापिच भक्तितः। प्राप्यते परमं धाम यतो नावर्तते यतिः । तेन तेनाप्यते तत्तत्न्यासेनैव महामुने । অমালা অ ননৰ অন দ্বীনমঃ।

অনন্ত বৈষ্ণবধর্ম } या বাধনমুন্দি ঘাঘ বহুম। तया विना तदाप्रोति नरो नारायणाश्रयात् । অর্থাৎ অনন্যধৰ্ম্ম প্রাপ্ত হইলে মনুষ্যের সর্বপ্রকার কৰ্ম্মানুবন্ধ বিনষ্ট হয়, সে তৎক্ষণাৎ আপন কৰ্ম্মবন্ধ হইতে মুক্ত হয়। যিনি ভগবানের অন-ভক্ত হয়েন, উহার সকল তপ, সকল তীর্থ, সকল দান, সকল যজ্ঞের ফল তৎক্ষণাৎ অনন্য ভক্তি হইতেই লব্ধ হয়। ইহাতে কোনও সংশয় নাই যে, মােক্ষ অনন্ত ভক্তের একবারেই হস্তগত। সাংখ্য হইতে, যােগ হইতে ভক্তির অন্যান্য সাধন হইতে দীর্ঘকালে মুমুক্ষুগণ যে পরমধাম প্রাপ্ত হয়েন, অনন্যভক্তি দ্বারা তৎক্ষণাৎ তাহা লব্ধ হইয়া থাকেন। পরমাত্মা পুরুষােত্তম অনন্য ভক্তেরই সুখসাধ্য। পুরুষার্থচতুষ্টয়ের সাধন- সম্পত্তি ব্যতীতও অনন্য ভক্তের পুরুষার্থ চতুষ্টয় সিদ্ধ হইয়া থাকে। পুণ্ডরীক আখ্যানে লিখিত আছে :- অদমনবিদ্যা বালায়মনতি। नाप्नुवन्ति च सुगतिं नारायणपरामुखाः ॥ য ম াকালঃ আব্বানা । ते पि यान्ति परं धाम नारायण-पदाश्रयात् ॥ অর্থাৎ যাহারা শ্রীকৃষ্ণের অনন্য-ভক্তি-বিমুখ, তাহারা অশ্বমেধ, বাজ- পেয়াদি যজ্ঞ সাধন করিলেও অন্তে নরকে পতিত হইয়া থাকেন। আবার অপরপক্ষে যাহারা ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণের অনন্যভক্ত, তাহারা অত্যন্ত নৃশংস, দুরাত্মা এবং পাপাচারী হইলেও অন্তিমে পরমধাম প্রাপ্ত হয়। এই প্রকারে এইরূপ অন্বয়-ব্যতিরেক বাক্যে জানা যায়, কেবল যজ্ঞাদিকৰ্ম্মে পরমপদ প্রাপ্ত হওয়া যায় না। কিন্তু কেবল অনন্ত-ভক্তিতে উহা প্রাপ্ত হওয়া যায়।

অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম ভগবদ্গীতার ১৮ অধ্যায়ের অন্তিমে ৬৬ শ্লোকের ইহাই প্রকৃত ব্যাখ্যা, ইহাই দৃঢ়, ইহাই অনন্যতা, ইহাই দৃঢ় অনন্য বৈষ্ণবধর্ম, এবং ইহাই গীতার দৃঢ় অনন্যতা। ভাগবতেও এই প্রকার কিম্বা ইহা অপেক্ষাও কিছু বিস্তাররূপে দৃঢ় অনন্যতার বিচার আছে। কিন্তু এক্ষণে আমি গীতা ও ভাগবত অনুসারে বিস্তারপ্রাপ্ত আমাদের আপন “শ্রীরাধাবল্লভ-সম্প্রদায়ের দৃঢ় অনন্যতার বর্ণন করিতেছি। আমি প্রথমতঃই বলিয়া রাখিয়াছি যে, আমাদের সম্প্রদায়ে এইরূপ দৃঢ় রসিক অনন্যতা পরিদ্যোতক সাত শত গ্রন্থ আছে। এই সকল গ্রন্থের মধ্যে গােস্বামী শ্ৰীব্রজলাল মহারাজজী বিরচিত “সেবা-বিচার” নামীয় গ্রন্থ হইতে কএকটী শ্লোকও উহার অর্থ এস্থলে উদ্ধত করিতেছি :- সেবাবিচারের অনন্যতা। राधावलममिष्टदेवमतुलं सन्तज्य नो सेवयेत् भन्यांमूत्तिमथाग्रहेण च तथा दम्भेन लोभेण च । खेच्छातः समुपागतां तु तदनु ध्यानेन संसेवयन् खीयाचार्य निषेविते निजमनः खेष्टेन दध्यात् सदा । দৃঢ়-রসিক অনন্য ভক্তের এই উচিত যে, অতুলােপম শ্রীরাধাবল্লভ ইষ্ট-দেবতাকে ত্যাগ করিয়া অপর মূর্তি স্থাপন করিব, এইরূপ আগ্রহ, এইরূপ পাষণ্ডতা, এইরূপ মনের কুটিলতা উপরের সদাচারিত্ব দেখাইবার প্রয়াস, উহা দম্ভ, আমরা নূতন মূর্তি স্থাপনা করিলে লােকে আমাকে বড় সাধু অথবা স্বতন্ত্র গুরু বলিয়া স্বীকার করিবে, অথবা নূতন মন্দিরে অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম নূতন শ্রীবিগ্রহ স্থাপন করিলে আমার খুব লাভ হইবে ইহাই লােভ। এইরূপ আগ্রহ, দম্ভ ও লােভ ত্যাগ করিয়া স্বকীয় অতুল ইষ্টদেব শ্রীরাধা- বল্লভের উপাসনা করা কর্তব্য। এইভাবে আপনার শ্ৰীইষ্ট-মূৰ্ত্তির সমান অন্য ইষ্ট-মূর্তির সেবা-পূজা করাও কর্তব্য নহে। কিন্তু যদৃচ্ছ- ক্রমে শ্রীরাধা-কৃষ্ণের যুগল শ্ৰীমূর্তি সম্প্রাপ্ত হওয়া যায়, তবে উহাও আপনার ইষ্ট শ্রীরাধাবল্লভদেব ভাবিয়া উহার সেবা করা কর্তব্য। পরন্তু নিজের মন সৰ্ব্বদাই স্বীয় শ্রীআচাৰ্য্যবরহিতহরিবংশচন্দ্রজী নিসেবিত শ্রীশ্রীরাধাবল্লভ ইষ্টদেবের শ্রীমূৰ্ত্তির শ্রীচরণকমলে রাখিতে হইবে। অঙ্গীনসনীনিয়নমত্তি না নানীময় বিদ্যা वैधौं भक्तिच भक्तो निगमनिगदितां तावदेवारभेत । यावत् प्रेमै केसीने रुचिररुचिभृते राधिकावल्लभाय । वाचा-ज्ञानुरूपं विमलमिहनिजं मानस नार्पयेत ॥४२॥ একমুখ্যপ্রেমিকসীমা সকল প্রেমাস্পদ সুরুচিসমূহ হইতেও সমুজ্জ্বল কান্তিধারী ভগবান্ শ্রীরাধাবল্লভ জীউর শ্রীচরণকমলে আপনার আচাৰ্য গুরুর আজ্ঞানুরূপভাবে যে পর্যন্ত আপনার বিমল মন সমর্পিত না করে, এবং তাদৃশ আত্মসমর্পণ না করা যায়, তাবৎ পৰ্যন্ত শ্ৰপ্ৰসাদাদিতে বিশ্বাস আবিষ্কৃত হয় না, সুতরাং বৈধী ভক্তিতে একাদশী আদি শ্রীবিষ্ণুব্রত করিতে হয়, অথবা অন্যান্য বিধি-নিষেধাদি রচিত সুতকাদি বর্জ্য, ভক্তি-সেবাদি করিতে হয়। কিন্তু যখন মানসিক আত্মসমর্পণ করার কাৰ্য শেষ হয়, তখন দৃঢ়-রসিক অনন্য ভক্তের উচিত এই যে, বিশুদ্ধভাবে সৰ্বাত্মভাবে কেবল এক শ্রীরাধাবল্লভলাল জীউর শ্রীচরণকমলে একাগ্রভাবে স্বীয় মন সংলগ্ন করিয়া রাখা।

অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম শ্রীমদ্ভাগবতে লিখিত আছে - अहो ययं सम्पर्णा भवन्त्यो लोकपूजिताः । वासुदेवे भगवति या स्वामित्यर्पितं मनः । যা যা আছিী মঘি লাহিমি। বলনী মা মা মা য়ন যথা । অর্থাৎ আহা ! আপনার পূর্ণার্থ হইয়াছেন, আপনার লােকপূজিত হইয়াছেন, কেন না আপনারা আপনাদের মন ভগবান্ বাসুদেবে সমর্পণ করিয়া রাখিয়াছেন। শ্রীভগবান বলেন, আমার শিষ্য সনকাদি বলেন যে, “সকল বিষয় হইতে মনকে আকৃষ্ট করিয়া উহাকে শ্রীভগবানে সংলগ্ন করিয়া রাখাই প্রকৃত যোগ।” ৪২ ग्राह्यं ना वैष्णवानां मथदुरितकतां निन्दकानां जनानाम् অশ্বালা জল মিযান: লম্বা বল भूजीत स्वेष्टभुक्त प्रपिवतु सततं तेन पीतं जलादि धातं पुष्यादि जिनेन् मधुरपदयुतं तस्य गीतं च गायेत् ॥४३॥ ভগবান্ বিষ্ণুই যে একমাত্র সেব্য ইহা যাহারা জানেন না, এমন যে অবৈষ্ণব, বিষ্ণু-মন্ত্রে অদীক্ষিত, দুরাচার, বেদাদি শাস্ত্র, দেবাদি শ্রীবিগ্রহ ও তীর্থনিক, অশ্রদ্ধায় ভেট-ভােগাদি দাতা প্রভৃতির প্রদত্ত দ্রব্য-ভূষণ- পৃথী-গৃহ-বস্ত্র-অন্ন-জল আদি কোন পদার্থ ই অনন্য দৃঢ়-রসিক শরণাগত বৈষ্ণব ভক্তের পক্ষে গ্রাহ্য নহে। শ্রীভগবাকে অনিবেদিত কোনও দ্রব্য কোনও রূপে নিজ কাৰ্যে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। অনন্য ভক্ত শ্রীভগ- বানের নিবেদিত প্রসাদ ভক্ষণ করিবেন, তিনি আপন ইষ্টদেবের পান-শেষ ইক্ষুরস, দুগ্ধ ও জলাদি পান করিবেন, এবং স্বীয় ইষ্ট-দেবের আয়াত ও পুষ্পদির গন্ধ গ্রহণ করিতে হইবে। { অনন্য বৈষ্ণবধর্ম অনন্য-ভক্ত আপনার উপাস্য শ্ৰীশ্ৰীযুগলমূর্তির সমক্ষে নিত্যবিহাররস- রঞ্জিত মধুরপদযুক্ত চতুরাশিজি পদাবলী কীৰ্ত্তন করিবেন- এই সব বলার তাৎপৰ্য এই যে, প্রথমতঃ অপাত্রের নিকট হইতে কিছু মাত্র গ্রহণ করিবে না। অপরন্তু উপযুক্ত পাত্র হইতেও যাহা গ্রহণ করা যায়, তাহাও ভগবানকে নিবেদিত করিয়া না দিয়া কিছুই নিজের কাৰ্য্যে ব্যবহার করিবে না। শ্রীভগবান্ গীতায় আজ্ঞা করিয়াছেন যে, হে কৌন্তেয় ! তুমি যাহা কিছু করিবে, যাহা কিছু ভােজন করিবে, যাহা হােম করিবে, যাহা দান করিবে, যে তপস্যা করিবে, সে সকলই প্রথমতঃ আমাকে অর্পণ করিয়া করিবে। পদ্মপুরাণে শ্রীগৌতম অম্বরীষ-সংবাদে লিখিত আছে- पम्बरोष राई पर यदभोट বান पनिवेद्य हरिं भुजन् सप्तकल्प स नारको পদ্মপুরাণের উত্তর খণ্ডে শ্রীশিব-উমা-সংবাদে আরও লিখিত আছে যে- अवैष्णवानां अवच पतितानां तथैवचः মননি নয় বিন্যা: নাৰ বহুম মন চতুরাশী পদসমূহ হইতে একটি দৃষ্টান্তস্বরূপ নিয়ে উদ্ধৃত করিয়া দেওয়া গেল। "वह एक मन बहुत ठोर करि कहि कोने सच पायी। जहां तहां विपति जार युवती ज्यों प्रगट पिंगला गायौं । तुरङ्ग पर जोर चढ़त हठि परत की नप धायो। খিী বীল অন বা স্ত্রী লিজা নুন সায়ী। मोहितहरिश प्रपञ्च बच सब काल व्याल को खायो। यह जिय जानि ध्याम श्यामा पद कमल सकौ सिर मायौ।" ই

অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম
पनिवेश तु यो भुत हरये परमात्मने
অনলি ভিন নয় লব্ধ মাৱনীৰমাঃ
আরও লিখিত আছে যে
অলী ন ব জল মন্মৰান্ধি
अत्वा विष्णू पभुक्त तु सदा सेव्यं नरोत्तमः
এই সকল শ্লোকের তাৎপৰ্য্য এই যে, হে অম্বরীষ । যে খাদ্য শ্রীহরিকে
নিবেদন না করিয়া দিয়া খায়, তাহাকে শত কল্পকাল পর্যন্ত নরকভােগ
করিতে হয়। অবৈষ্ণবের অন্ন, পতিতের অন্ন, আর ভগবান্ বিষ্ণুর অনিবে-
দিত অন্ন কুকুর-মাংস সদৃশ। পরমাত্মা হরিকে অন্নাদি নিবেদন করিয়া না
দিয়া ভােজন করিলে অনন্তকাল নরকভােগ করিতে হয়। হে অম্বরীষ
নূতন বস্তু, নূতন ফল, নূতন অন্ন, নূতন রসাদি শ্রীবিষ্ণুকে নিবেদন করিয়া
দিয়া ব্যবহার করা কর্তব্য—যদি কোন দূরদেশে কোন শিষ্য ভােজন
করাইবার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন, তবে দুগ্ধ ও ফলাদি শ্রীনাম-সেবা,
অথবা ধ্যান-সেবা দ্বারা আপন ইষ্টদেবতায় নিবেদন করিয়া দিয়া প্রসাদ
গ্রহণ করিতে হইবে। ৪৩ |
दासोभूत्वा समयं प्रतिदिन ममलं भोजनं खामिने तत्
২য় মৃঙ্কান যন্ত্র দ্বিনি যৰি ৰা ৰানন
एकादश्यां कथं स त्यजति निजपतेभुक्ताशेषं शेषं ।
वेदाभिप्रायवेत्ता दृढ़हृदयगति स्तत्प्रसादानभोजी
দাস সম্বন্ধে শ্রীমৎভাগবতে লিখিত আছে-
यबाम अतिमात्रेण पुमान् भवति निर्मलः ।
ময় নীয় জিলা ভাষা নাম মিমিন ।

অনন্য বৈষ্ণবধম্ম तावत् रागादयोः स्तेना स्तावत् काराष्ट्रहं ग्रह। নাৰ নীভিলিড়ী যাৰ জন্য ন ন না। শ্রীকৃষ্ণের এমন দাস হও যাহাতে তুমি অন্যাশ্রয়রহিত ও কেবল তাঁহারই অনন্যভক্ত হইতে পার। অনন্যভক্ত সর্বদা প্রতিদিন নিজ প্রভুকে নিৰ্ম্মল ভােজন অৰ্পণ করিয়া সেই ভােগের প্রসাদের দ্বারায় আপনার উদর তৃপ্তি করেন, এবং সুখে সময় অতিবাহিত করেন। যার হৃদয়ের গতি দৃঢ় হইয়া গিয়াছে, আর যিনি প্রেমভক্তিপরায়ণ, আর যিনি আপন স্বামীর প্রসাদগ্ৰহণাত্মক অনন্যদাসের ধর্মাবলম্বী এবং বেদের অভিজ্ঞতা, তিনি একাদশীতে কি প্রকারে আপন প্রভুর প্রসাদ ত্যাগ করিতে পরেন? অভিপ্রায় এই যে, দৃঢ়-রসিক অনন্য দাসের ধৰ্ম্ম এই যে, তিনি একাদশী দিনেও আপন উপাস্থ ইষ্টদেবের শ্রীপ্রসাদা ত্যাগ করেন না। অপরন্তু নির্ভয় ও নিন্দ চিত্ত হইয়া প্রতিদিনের ন্যায় শ্রীপ্রসাদান্ন ভােজন করিয়া থাকেন। শ্রুতিতে লিখিত আছে- "एकएव नारायण पासौवब्रह्मानेमाद्यावा पृथिव्यो सर्वे- देवाः सर्वे पितरः सबैमनुष्याः विष्णुनाऽर्पित मनन्ति विष्णुना- মান জিনি, বিদ্যনাৰীন বিলি, নক্সা নিৱাৰী নিন্য এ- জুন মর্যন্তু।” যাহাৱা প্ৰসাদ-মাহাত্ম প্রতিপাদক শাস্ত্রাবলােকন করে নাই তাহারাই গৌতমােক্ত “বৈষ্ণবাে যদি ভুঞ্জীত একাদশাং প্রমাদতঃ অথবা নারদোক্ত- “যানি কানিচ পাপানি ব্ৰহ্মহত্যা শতানি চ” - অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম ৬১ ইত্যাদি বাক্য-বলে একাদশী দিন প্ৰসাদান্ন ত্যাগ করেন, কিন্তু ইহাদের জানা কর্তব্য এই যে, শ্রীভগবানের অনিবেদিত অন্ন ভােজন সম্বন্ধেই একাদশী ব্রত প্রতিপাদক বচনগুলি ব্যবস্থিত হইয়াছে, কিন্তু প্রসাদা- সম্বন্ধে ঐ সকল বচন প্রযােজ্য নহে। প্রত্যুত প্রসাদ-মাহাত্ম্য প্রতিপাদক বচনসমূহ পাঠে জানা যায় যে, প্রসাদের সমক্ষে একাদশীব্ৰত অতি তুচ্ছ ও উহা পরিত্যাজ্য। পদ্মপুরাণে লিখিত আছে :- "एकादशीसहरण हादशीनां शतेनच । অনৃদ্ধল মন নীতি বিঘনঘ্যান্। एकादशी सहरंतु मासोपोषणकोटिभिः । নষ্ফল সায়ন স্বনিৰন্ত ম্যান। ব্ধি নয় নীঘ; কি : কি নামি: মি: । प्रसादभोजिनां पुंसां कि ब्रहधारिभिः । प्रतोपवासनियमैः ক্ষুদ্বায়াবিমি: যুনানাবিধ সীমাকিমি। तुलापुरुषदानाद्यैः कोटिब्राह्मणभोजनैः । सम्यगाचरितैर्बिप्रा यत्फलं लभते नरः । নল ৰমৰাষ্ট্ৰীনি বিদ্যালমান। এই সকল শ্লোকের তাৎপৰ্য্য এই যে, হাজার হাজার একাদশী, শত শত দ্বাদশী এবং পৌর্ণমাসী ব্রতকরণের যে ফল হয়, কেবল বিষ্ণুর প্রসাদ- ভক্ষণেই সেইফল লাভ হইয়া থাকে। তীর্থজনিত পুণ্য, তপস্যা, যজ্ঞ, ব্ৰত, উপবাস, নিয়মপালন, কৃচ্ছ, চান্দ্রায়নাদি এবং নানাবিধ পুণ্য, দান, যজ্ঞ, জপ, হােমাদির সম্যক্ আচরণ, তুলা-দান, ব্রাহ্মণভােজন প্রভৃতি হইতে যে পুণ্য জন্মে, নিত্য প্ৰসাদাভােজীর সেই পুণ্য লাভ হইয়া অনন্য থাকে। সুতরাং বৃথা শ্ৰম করিয়া কেবল বৃথা সময় ক্ষেপ করা মাত্র। স্কন্দপুরাণে লিখিত আছে - - षड़भिर्मासोपवासैस्तु यत्फलं परिकीर्तितं । विष्णोर्नैवेद्यशिक थेन तत्फलं भुजतां कली অর্থাৎ ছয় মাস কাল ক্রমাগত উপবাসাদি করিলে যে ফল হয়, বিষ্ণুর উচ্ছিষ্টের একটিমাত্র তণ্ডুল-ভক্ষণে তৎক্ষণাৎ সেই ফল হয়। প্রসাদভক্ষণ- মাহাত্ম্যর নিকট একাদশীব্রতাদিবিষয়ক বচনসমূহ একবারেই অনর্থক হইয়া পড়ে। মহাপ্রসাদ ও একাদশীব্ৰত সম্বন্ধে নারদপঞ্চরাত্রি দেখা আবশ্যক। উহাতে লিখিত আছে, দক্ষের যজ্ঞান্ত-সভায় নারদ, ব্রহ্মা, বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণগণ- মন্ত্রষ্টা ঋষিসমূহ ও ভক্তিমার্গাবলম্বিগণ বিরাজমান ছিলেন। এতদ্ব্যতীত সেই সভায় গৃহস্থ, বাণপ্রস্থী, পরমপদকামী পরমহংস-আদিও উপবিষ্ট ছিলেন। এইপ্রকারে ত্রিলােকবাসিগণ কর্তৃক সেই যজ্ঞমণ্ডপ শােভমান ছিল। এইস্থলে ঋক, যজু, সাম ও অথৰ্ব্ব এই চারি বেদ মূৰ্ত্তিমান হইয়া বিরাজিত ছিলেন। সেই সময় ব্রত, তীর্থ, জপ, দান, দক্ষিণা ও অনেক শ্রুতিকৰ্ম্ম-আদির সঙ্গে স্বয়ং একাদশীও মূর্তিমতী হইয়া উক্ত সভায় উপস্থিত হইলেন। দক্ষ প্রজাপতির সঙ্কেতানুসারে নারদ একাদশীকে প্রশ্ন করি- লেন যে, “হে বিষ্ণুমনিরতে, তুলসীদামরঞ্জিতে, বিষ্ণুনামপ্রিয়ে একাদশি আজ তােমারই দিন, আর তুমি স্বয়ং মূর্তিমতী হইয়া এখানে উপস্থিত হইয়াছ। এ খুব ভালই সংযােগ হইয়াছে, আজ জগতের লােকের সংশয়- বিমোচনের জন্য তােমাকে একটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিতেছি।—প্রশ্ন এই ঝে অভিমানী ও পাষণ্ডগণ তােমার দিনে শ্রীভগবান বিষ্ণুর প্রসাদ ত্যাগ করার উপদেশ দেয়, তােমাকে এখন জিজ্ঞাস্য এই যে, বল দেখি, “তুমি অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম বড়, কি ভগবানের প্রসাদ বড় ?” অ কোন অপ্রত্যক্ষের কথা হইতেছে , তুমি নিজেই এখানে উপস্থিত আছ। ব্রহ্মলােকে সকলেই এই প্রশ্নের উত্তর শুনিবেন, তুমি উত্তর দান কর। আজ এ বিবাদ মিটিয়া যাইবে এবং কাঁচামতও পাকা হইয়া যাইবে। দেখ, দক্ষ, হরিভক্ত, বিরক্ত, গৃহস্থ, সন্ন্যাসী, হংস, ব্রহ্মচারী ও দিগীশগণ এই সভায় উপস্থিত আছেন। সকলে নিভ্রম হইয়া ভগবান্ বিষ্ণুর শ্ৰপ্ৰসাদে যাহাতে বিশ্বাসী হয়েন, তজ্জন্য আমি বহুবার এই প্রসাদের বড়াই করিয়া বলিয়াছি যে, ভাইগণ । এ প্রকার অন্ন ঘৃতপক্ক ভগবদর্পিত পদার্থ এ জগতের জীবােদ্ধারকরণে সমর্থ। কিন্তু যজ্ঞ, যােগ, ব্রত, দান ও তীর্থের বৃথা প্রমাদর পাশে পড়িয়া পণ্ডিতম্মন্য ব্রাহ্মণাদি আমার এই শ্রুতিসম্মত বাক্য মান্য করেন না। এই নিমিত্ত হে হরিদাসি। একাদশি! আজ যখন স্বয়ং প্রমাণস্বরূপা তুমিই এখানে মূর্তিমতী হইয়া উপস্থিত হইয়াছ, তুমি আজ আমার এই প্রশ্নের উত্তর দাও, যেন তােমার উত্তরে জগতের দ্বিধা নিরাকৃত হয়, এবং তােমার উপাসকগণও নিম হয়েন।” এই কথার পর বৈষ্ণব- শিরােভূষণ ভগবান শিবশঙ্কর বলিলেন-হে শিবে, আমার সাক্ষাতে নারদের এই প্রশ্নের উত্তরে ধন্যাতিধন্যা বৈষ্ণবী একাদশী সকল লােকের জ্ঞান-চক্ষু উন্মীলন করিয়া নির্ভীক চিত্তে বলিয়াছিলেন :- 'रहस्यं परमं पृष्ट देवा देव दुलभं । সুন্ন কালী ঃ সুজা অযা সভা। साइमेकादशी विप्रा बराको फल्गु पुण्यदा। মৰাৱা মীমন্ত বাবন মস্তু ছিল: ववेमा यत्र या विद्या बुद्रखर्ग फलप्रदा। বল্প : মলি মন জাতি ।

অনন্য বৈষ্ণবধর্ম ।
वाहुमुत्क्षिप्य बन्देहम् विधेशत् कतो सुराः ॥
हरि प्रसाद सदृशं पावनं नास्ति नास्त्यहो।
काहमेकादशी मन्दा कप्रसादो हरेस्तथा ॥
मदतं ये प्रवन्ति तेऽपि कालान्तरे पिच ।
हरि प्रसादरुचयो हरि यास्यन्ति नान्यथा ।
व्रतानि तीर्थ नियमा क्रतवी दान दक्षिणा।
भवन्ति पुण्य कर्माणि नाच्यतान्न समान्यहो ।
प्रीति पूर्वा च्युतावस्य शिक्थं यो प्राप्नुयाद्यदि।
तदास्मदादि कोटिभ्यो पुण्ये किं मुक्तं भवेत् ।
जानन्ति मुनयःसर्व विबुधा मानवास्तथा ।
व्रत क्रतु क्रियादानं प्रसादाग्रे तृणोपमा ।
हरि भक्त :प्रसादान यहिने नोप भुज्यते।
तद्दिनविफलं पुमां ब्राह्मणानां विशेषतः ।
इन्द्रादि चूदेवाना मुहे शात्यावकेहुतम्।
उद्देश मपि भुनन्ति महिनन हरिः कथाम् ॥
प्रसह्य हरि दत्तानं ये भुजन्ति नरोत्तमाः।
तानालोक्य पवित्राह मेकादशा द्विजोत्तमाः।
वर्शिक फलान्याहु मन्म खानि ब्रतान्यहो।
माधवस्य प्रसादस्तु भक्तो: साधन मुत्तमम् ।
--
व्रतानि तीर्थानि तपांसियानि
यन्नख दानादि, दया दमश्च ।

No text on this page.

অনন্য বৈষ্ণবধর্ম हम करोड़ मिल कर न सके जो कण प्रसाद इक तारे। प्रौति पूर्वक प्रेम भक्ति मन कर अनन्य उर धारे। व्रत मख दान रणोपम अन्यहु हरि प्रसाद फल ऐसो। नर मुनि सुर सब जानत दृढ़ व्रत हरि प्रसाद वल जसो ॥ ह्व हरिभक्त प्रसाद न पावै महिन व्यर्थ गवांव । हिज विशेष निष्कल वादिन ध्रुव श्रीप्रसाद नहिं खावै । सहि अपमान भखें हरि जूठन महिन जे हिज भक्ता । तिन्हें देख नित पूत होत हम हरि प्रसाद आशता : हम त्रिवर्ग फल देंय शास्त्रविधि हरि प्रसाद हरिविधी। हम निधन धनवान प्रसादी साधन हेतु न सिद्धी । व्रत तीरथ तप यज्ञ दान दम दया धर्म श्रुति जेते। हरिप्रसाद समता नहिं पावें वृथा कम्म दुख देते ॥ इनके बल निबुद्धि न माने श्रीप्रसाद को जोई। छुआछूत अपरसौभूत मरि हरि प्रसाद अरिसोई । हम प्रसाद सम मिथ्या यह भुवि अहंकार नहिं मोरे । अलंकार मणि वस्त्र विभूषित वृथा भङ्गध्वज कोरे । वोले शिव सुनशिवा महातम श्रीप्रसाद को देखो। एकादशियों कहि बिरमत भइ अन्तरहित हरि लेखौ। অর্থাৎ হে নারদ ! আপনি অতিদুর্লভ পরম-রহস্য প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিয়াছেন। ব্ৰহ্মলােকস্থিত দেবর্ষি, মুনি-ঋষি প্রভৃতি সকলে আমার বাক্য শ্রবণ করুন। আমি অতিতুচ্ছা, ক্ষুদ্র পুণ্যপ্রদায়িনী একাদশী তিথি, আমি বা কোথায় আর বহু পুণ্যফলপ্রদ পবিত্র শ্রীভগবৎ প্রসাদ- অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম ৬৭ অন্নই বা কোথায়? অপিচ হে ব্রাহ্মণবর্গ! ক্ষুদ্র স্বৰ্গফলপ্রদায়িনী বজ্ঞক্রিয়া বা কোথায় ? আর আমার ব্রতজনিত ফল অপেক্ষা কোটী গুণাধিক ফুলবিশিষ্ট শ্রীহরির প্রসাদ নৈবেদ্যই বা কোথায়? আমি উৰ্দ্ধ- বাহু করিয়া, বন্দনা করিয়া বলিতেছি, শ্রীহরির প্রসাদসদৃশ পবিত্র অন্য আর কিছুই নাই। কোথায় বা হরির প্রসাদা, আর কোথায় বা আমি অতি অধমা একাদশী। যাহারা আমার ব্রতের অনুষ্ঠান করে, তাহাদের দীর্ঘকাল পরে হরি-প্রসাদের রুচি জন্মে এবং প্রসাদের রুচি হইতে শ্রীহরিকে লাভ করে। ব্রত, তীর্থ, নিয়ম, যজ্ঞ, দান, দক্ষিণ, প্রভৃতি পুণ্যকর্মসমূহ হবির প্রসাদেব সহিত সমতুল হইতে পারে না। মুনিগণ, দেবতাগণ এবং মনুষ্যগণ জানুন যে, ব্ৰত, যজ্ঞ, ক্রিয়া, দান, প্রসাদের সমক্ষে তৃণের ন্যায় তুচ্ছ। ব্রাহ্মণগণ এবং হরিভক্তগণ যে দিন প্রসাদ-অন্ন ভক্ষণ করিতে পান না, সেই দিন তাহাদের পক্ষে একান্ত যে সকল নর ভক্তিপূৰ্ব্বক হরির প্রসাদ প্রাপ্ত হন ; আমি একাদশী স্বয়ং তাহাদিগকে দেখিয়া পবিত্র হই। আমার ব্রত প্রভৃতি ত্রৈবর্গিক ফুল প্রদান করে বলিয়া বিখ্যাত। কিন্তু মাধবের প্রসাদ- সৰ্ব্ব উচ্চসাধন। যাহার ব্রত, তীর্থ, তপস্যা, যজ্ঞ, দান, দয়া ও দম প্রভৃতির সহিত শ্রীহরির প্রসাদের তুলনা করে, সেই সকল অধম নরত্বেও যােগ্য নয়। আমি প্রসাদের তুল্য, এই মিথ্যা অহঙ্কার কেন করিব। ধ্বজভঙ্গ- বিশিষ্ট ব্যক্তি সুন্দর বসন-ভূষণ পরিধান দ্বারায় কখন কি পুরুষত্ব- বিশিষ্ট ব্যক্তি বলিয়া গণ্য হইতে পারে।” শিব পার্বতীকে বলিলেন, স্বয়ং একাদশী পূর্বকালে ব্রহ্মার সভায় এই কথা পুনঃপুনঃ সত্য বলিয়া অন্তর্হিত হইয়াছিলেন। প্ৰসাদা-ভক্ষণ-প্রতিপাদক বচনসমূহে দেখিতে পাওয়া যায় যে, বিফল।

৩ অনন্য বৈষ্ণবধর্ম { একাদশী দিনে প্রসাদ-অন্ন গ্রহণের প্রত্যক্ষ বিধান আছে। কিন্তু একাদশী-প্রতিপাদক বচনসমূহের কোথায়ও প্রসাদান্ন ত্যাগের স্পষ্ট উল্লেখ নাই। তবে সাধারণ অন্ন-ত্যাগের নিষেধ আছে বটে। এই কারণে একাদশী-আদি ব্রতে কেবল সাধারণ অর্থাৎ অনিবেদিত অন্ন- ভােজন-ত্যাগের বিধান আছে, কিন্তু প্রসাদ-ত্যাগের বিধান নাই। অধিকন্তু হরিদাসের পক্ষে তো ইহাই পরমধৰ্ম্ম, স্বীয় স্বামীর উচ্ছিষ্টেই উদরপূরণ করিতে হইবে। শ্রীমৎ ভাগবতের একাদশ স্কন্ধে উদ্ধবের বাক্য এই যে, "त्वयोपभुक्तस्रग्गन्धवासोऽलङ्कारचर्चिताः । उच्छिष्टभोजिनी दासास्तव मायां जयेमहि ।" অর্থাৎ হে ভগবন্! আপনার প্রসাদী ফল, মালা, চন্দন এবং অলঙ্কার প্রভৃতি দ্বারায় আমাদের অঙ্গ চর্চিত এবং আপনার উচ্ছিষ্ট ভােজন করিয়াই আপনার দাস-আমরা আপনার মায়াকে জয় করিব। "हृदिरूपं मुखेनाम नैवेद्य उदरे हरेः । पादोदकं च निमाल्य मस्तके यस्य सोऽच्युतः ॥" অর্থাৎ যাহার হৃদয়ে হরির রূপ, মুখে তাহার নাম, উদরে তাঁহার নৈবেদ্য, মস্তকে তাহার চরণামৃত ও নিৰ্ম্মাল্য, তিনি সাক্ষাৎ হরি তুল্য। গরুড়পুরাণে লিখিত আছে :- "पादोदकं पिवेत्रित्व नैवेद्य भक्षयेत् हरेः। शेषाश्च मस्तके धाया इति वेदानुशासनम् ॥" অর্থাৎ প্রতিদিন হরির উচ্ছিষ্ট ভােজন করিতে হইবে, তাহার চরণ- মৃত পান করিতে হইবে, নিৰ্ম্মাল্যাদি মস্তকে ধারণ করিতে হইবে, ইহাই বেদানুশাসন।

অনন্য বৈষ্ণবধর্ম পদ্মপুরাণে লিখিত আছে :- कौतुकं शृणु मे देवि विष्णुनिर्माल्यबहिना । মামিন নামমায়ানি বিমান অর্থাৎ শ্ৰীমন্মহাদেব, পাৰ্বতী দেবীকে বলিতেছেন-হে দেবি, এক কৌতুকের কথা শ্রবণ কর, বদ্বিারা তাপ বাড়ে, কিন্তু বিষ্ণুর নির্মাল্য- বরি (প্ৰসাদাদির) এমনই গুণ যে, উহাদ্বারা ব্ৰহ্মহত্যাদি পাপজনিত সন্তাপ সদ্য-সদ্য বিনষ্ট হয় । ভবিষ্যপুরাণে লিখিত আছে : यानिकान्यप पापानि महा पापानि यानिच । নালি ৰাখি ময়নি লাঘৰ সত্য। অর্থাৎ ভগবান শ্রীহরির প্রসাদা ভক্ষণে যাবতীয় উপপাপ ও মহাপাপ দূরীভূত হইয়া যায়। গরুড়পুরাণে লিখিত আছে "भक्या लोभात् कौतुकाहाक्षुधा संशमनायच । आकण्ह भक्षितोनित्यं पुनाति सकलां हि सः ॥ লিলি ই নন মুঃ আঙিন মানিন। खयं दण्डधरः तेषु सहतेनापराधिषु । व्रतस्थाविधवाचैव सर्ववर्णा ঘাষ: নামনন মুয়ন ৰীনিম্বালি দ্বীনি?” অর্থাৎ শ্ৰীপ্রসাদের এমনই মাহাত্ম্য যে ভক্তিতে হউক, লােভে হউক, কৌতুকে হউক অথবা ক্ষুধা-প্রশমনের জন্যই হউক, প্রসাদ আকণ্ঠ ভক্ষিত হইলে সর্বপ্রকার পাপী জীবকেই উদ্ধার করিতে সমর্থ। যে মূঢ় বা ৭০ অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম ক পণ্ডিতম্মন্য ব্যক্তি প্রসাদের নিন্দা করে, স্বয়ং দণ্ডধর ভগবান্ উহার দণ্ড- বিধান করেন। ব্রতচারিণী বিধবা, সৰ্ববর্ণস্থ ও সৰ্বাশ্রমস্থ ব্যক্তিগণ, যজ্ঞদীক্ষিতগণ ও অগ্নিহােত্রিগণ সকলেই শ্রীশ্রীভগবানের প্রসাদ ভক্ষণ- মাত্রেই পবিত্র হয়েন। এইরূপ বেদানুশাসনাভিজ্ঞ দৃঢ়রসিক অনন্যদাস ভক্তবৈষ্ণব একাদশী দিনে কি প্রকারে আপন প্রভুর শ্রীপ্রসাদ ত্যাগ করিতে পারেন ? কেহ কেহ বলেন, “যখন হরিবাসরে (একাদশী) দিনে অন্নে পাপ বর্তমান থাকে, এতাদৃশ অবস্থায় একাদশীতে শ্রীভগবাকে ফলাহারাদি তভাগ সমর্পণ করাই বিধেয়।” এই কথার উত্তরে বলা যাইতেছে যে, শ্রীভগবান বিষ্ণুর কেবল ফলাহারাদিতে ভােগ দেওয়া চলে না, রাজভােগসেদিতে অন্নাদি ছাপ্পান্ন প্রকার ভােগ সমর্পণের বিধান আছে। একাত্যাদিতেও অন্ন- ভােগেরই ব্যবস্থা আছে। বিশেষতঃ বৃহৎ বিষ্ণুপুরাণে লিখিত আছে । देवानाञ्च पिटणाञ्च ऋषीणां सर्वदेहिणाम्। नाव दद्यात् सविदतिः भगवन्तं हरिं विना অর্থাৎ কেবল একমাত্র ভগবান শ্রীহরি ব্যতীত অন্য দেবতাগণকে, পিতৃগণকে, ঋষিগণকে এবং দেহধারিগণকে একাদশীর দিনে অন্ন দিতে নাই। এইরূপে একাদশী দিনে যখন অন্নদ্বারা শ্ৰীভগবানের ভােগসমর্পণ করিতে হয়, তখন সেই অন্ন প্রসাদ হয়েন। অন্ন প্রসাদে পরিণত হইলে শ্রীভগবানের অনন্যদাস উহা কি প্রকারে পরিত্যাগ করিতে পারেন ? এই নিমিত্ত এই সিদ্ধান্ত স্থিরীকৃত হইয়াছে যে, “দৃঢ়রসিক অনন্যভক্তের পক্ষে একাদশী-আদি ব্রতদিবসেও আপন ইষ্টদেব শ্রীভগবানের প্রসাদা ভােজন করাই পরমধর্ম। (৪৪)। = অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম ৭১ "नोपुत्रादि निमित्तमन मुक्ती संपूजयेत् शीतला । নান্য ন্তুন্ নাৰিমৰাৰাঘ যন্। नोवा जीवन हेतवेऽपि विमुखान् मत्याच संसवयेत्। योगक्षेमकरो हरिविजयतेऽवन्या श्रयाणां सताम् ॥६३॥ অর্থাৎ দৃঢ়রসিক অনন্যভক্তের উচিত এই যে, ভগবদ্ভক্তি-পথে বিচরণ করিয়া পুত্র-আদির কল্যাণ নিমিত্ত শীতলার পূজাদি না করা—প্রতাপ- বর্ধনের নিমিত্ত ও বিভববন্ধনের নিমিত্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দেবগণের অচ্চন ও পুরশ্চরণাদি না করা,-জীবিকা-নিৰ্বাহের জন্য হরিভক্তিবিমুখ লােকের ( রাজা, মহারাজা শেঠ, সাউকার প্রভৃতি যে শ্রেণীর লােকই হউক না কেন) স্তুতি (খােসামদ) ও সেবাদি না করা, ইহাতে আশঙ্কা হইতে পাবে যে এই নিয়ম প্রতিপালন করিতে গেলে জীবিকা-নিৰ্বাহ কি প্রকারে হইবে, সেইজন্য এই পদ্যেই ইহার সমাধান করিয়া বলা হইয়াছে—“যােগক্ষেমকরো হরিজিয়তে অনন্যাশিতানাং সম্” অর্থাৎ পুত্রাদির কল্যাণকৰ্ত্তা, প্রতাপাদির বৃদ্ধিকৰ্ত্তা এবং জীবিকাদির প্রদাতা এবং যােগমেদ্বারা অনন্যভক্তের পৃষ্ঠপােষণকর্তা ভগবান শ্রীহরি অনন্য- ভক্তের নিকট তে সর্বদাই বর্তমান আছেন, সুতরাং তজ্জন্য বৃথা প্রয়াসের কি প্রয়ােজন ? ॥৬॥ অপিচ :- "खोयेष्टेदत्तचित्तः क्वचिदपि न मनचालयेदन्यदेवा दृष्टाः कार्यान्तराद्यै निज विभुमतितो वन्दनीयाननिन्द्याः एतल्लोकस्य कर्मव्यवहति सहज देहयावानिमित्तं कुर्वाणो नैव कुर्यात् हरिभजनमृत पारलौकीयकम्म। ॥६४ যাহার ইষ্টদেব সহায়, সৰ্বপুৰুষাৰ্থপ্ৰদাতা, আর যাহার আপন চিত্ত সেই ইষ্টদেবেই সতত লগ্ন থাকে উহার উচিত এই যে, ব্ৰহ্মাদি অন্যদেবের ৭ ৪ অনন্য বৈষ্ণবধম্ম ক চরণে সতত সংলগ্ন রাখিতে হইবে। অন্যান্য দেবগণকে কেবল লােক- ব্যবহারানুসারে ও রীতি-অনুসারে নমস্কারমাত্র করিবে। কিন্তু ব্ৰহ্ম- রুদ্র-ইন্দ্রাদির চরপােদক বা প্রসাদ গ্রহণ করিতে হইবে না। কেনন শাস্তুবাক্য এই যে :- শান্তনৰ ভিলায় । भुक्ता केशवनैवेद्यं सर्वपापात् प्रमुच्यते ॥ অর্থাৎ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রসাদ ত্যাগ করিয়া অপর দেবতার প্রসাদ গ্রহণ করিলে অত্যন্ত পাপ হয়, এমন কি চান্দায়ণাদি প্রায়শ্চিত্ত না করিলে ঐ পাপ দূরীভূত হয় না। কিন্তু ভগবান্ কৃষ্ণের প্রসাদান গ্রহণ করিলে সর্বপ্রকার পাপ হইতে মুক্তিলাভ করিতে পারা যায়। কিন্তু পরমপুরুষ শ্রীকৃষ্ণের প্রসবশতঃ অন্যান্য দেবতাদিগের নমস্কার অনন্যভক্তের পক্ষে কোনও হানির কারণ নাই। শ্ৰভাগবতে লিখিত আছে ঃ- "खं वायुमग्नि सलिलं महिञ्च ज्योतिषि सत्त्वानि दिशो द्रुमादीन् सरित् समुद्रा श्च हरे: शरीरं यत्किञ्च भूतं प्रणमेदनन्यः।" অর্থাৎ আকাশ, বায়ু, অগ্নি, জল, পৃথী চন্দ্র, সূৰ্য্য, দিক, দ্রুম, নদী, পৰ্বত এবং সমুদ্র-আদি সকল বস্তুই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শরীর। অনন্যভক্ত এই জানিয়া যাহা কিছু প্রত্যক্ষ করিবেন, তৎসমস্তই ভগবান্ শ্রীহরির অংশ জানিয়া সকলকেই প্রণাম করিবেন। ইহাই হইতেছে এই শ্লোকের পূৰ্ব্বার্ধের ব্যাখ্যা। এক্ষণে ইহার উত্তরার্ধের ব্যাখ্যা করা যাইতেছে। ইহার উত্তরাদ্ধে প্রসঙ্গক্রমে অনন্যধৰ্ম্মের নির্ণয় করা হইয়াছে। অর্থাৎ অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম ৭৫ নিষ্ট অনন্য-ভক্তের কর্তব্য এই যে, আপনার পরলােকের উৎকৃষ্ট গতির জন্য তিনি আর কোনও কৰ্ম্ম করিবেন না। কেননা পরলােকের সুগতির জন্য কেবল একমাত্র হরিভক্তিই উত্তম উপায়—যজ্ঞাদি নহে। কদাচিৎ কেহ শঙ্কা করিতে পারেন যে, তাহা হইলে কি লৌকিক কৰ্ম্মও ত্যাগ করিতে হইবে ? ইহার সমাধান এই যে, লৌকিক স্নানাদি কৰ্ম্ম করা আবশ্যক, কেননা উহা সহজ ও স্বাভাবিক। গীতায় লিখিত আছে - नहि कश्चित् क्षणमपि यातु अकर्मवत् कार्यते ह्यवशः कर्म सबै प्रकृतिजगणः । অর্থাৎ কি জ্ঞানী, কি মূখ দেহধারী জীবমাত্রেই বৈদিক অথবা লৌকিক কৰ্ম্ম না করিয়া জীবনধারণ করিতে পারে না। কেননা স্কুল অথবা সূক্ষ্মদেহের হেতু হইতেছে—কৰ্ম্ম। এই সকল জগৎ প্রকৃতি দ্বারা উৎপন্ন হইয়া থাকে, সুতরাং দেহ প্রাকৃতিক। অতএব মানুষকে বিবশ হইয়া প্রাকৃতিক কৰ্ম্মসমূহ অবশ্য করিতে হয়। এই নিমিত্ত অনন্য ভক্তের উচিত এই যে, তিনি ভক্তির অনুকূল উপযােগী কৰ্ম্ম করিবেন। পরন্তু দেহযাত্ৰানিৰ্ব্বাহের জন্য যে সকল ক্রিয়া আছে, সে সকল কৰ্ম্ম উদ্যমসাপেক্ষ, তাহাও জীবকে যেমন উদ্যম ব্যতীত ভােজনাদির ব্যাপার নিষ্পন্ন হয় না, অনাহারেও দেহ রক্ষা পায় না। এই জন্য ভগবৎ ভক্তির অননুকূল দেহ- যাত্রনির্বাহের জন্য সহজ ও স্বাভাবিক কৰ্ম্মগুলি অবশ্যই করিতে হয়। ইহার জন্য ব্যবস্থা এই যে-মনুষ্যমাত্রের জন্যই বেদে কর্তব্যাকৰ্ত্তব্যতাত্মক কৰ্ম্ম অকৰ্ম্ম এবং বিকৰ্ম্মের কথা লিখিত হইয়াছে “রূক্ষ্মা নিজনি বাৰী নারী।” ইহাতে বৈষ্ণবের জন্য এই ব্যবস্থা হইয়াছে যে, অকৰ্ম্ম ও বিকৰ্ম্ম এই উভয়টীকে সর্বথা পরিত্যাগ করিয়া কৰ্ম্ম করিতে হইবে। আবার কৰ্ম্মের করিতে হয়।

অনন্য বৈষ্ণবধর্ম মধ্যেও যে সকল কর্ম ভক্তির প্রতিবন্ধক, সেই সকল কর্ম পরিত্যাগ করিয়া ভক্তির অনুকূল ও আবশ্যক কৰ্ম্ম করিতে হইবে। আবার কর্তব্য- কর্মের মধ্যেও কাম্য কৰ্ম্মত্যাগের উপদেশও সর্বত্রই দৃষ্টগােচর হয়। গীতাশাস্ত্রের আদিতে নিত্যনৈমিত্তিক আবশ্যক কর্মের ব্যবস্থা আছে, কিন্তু এগুলি নিষ্কামভাবে সম্পন্ন করাই গীতাশাস্ত্রের আজ্ঞা। যে সকল মনুষ্য ভগবৎ সেবাকার্যে শিথিল, তাহাদের জন্যই বিধি- পূৰ্ব্বক নিত্য-নৈমিত্তিক কাৰ্য্য করার বিধান প্রদত্ত হইয়াছে, কিন্তু সেবা- নিরত ভক্তগণের জন্য সেবা কৰ্ম্ম সম্পাদনের আজ্ঞাই বিহিত হইয়াছে। যথা গীতায়- (২) “না নননা” (২) “ মন” (২) “ মন্ নবী” ইত্যাদি শ্লোক দ্রষ্টব্য। শ্রীমদ্ভাগবতেও লিখিত আছে :- 'तत्कर्म हरितोषं यत्' “যদি মলি মনজিম্বনা सर्वगुणतंत्र समासते सुराः हराव भक्तास्य कुतो महदगुणा मनोरथनासति धावतो वहिः।" "दान ब्रत तपो होम जप स्वाध्याय सयमैः স্বয়সি ৰিধি : জঘমল্পিন্থি কান” অর্থাৎ দান, ব্ৰত, তপ, হােম, জপ স্বাধ্যায় আদি যত প্রকার শ্রেষ্ঠ কৰ্ম্ম শাস্ত্রে কথিত হইয়াছে, সেই সকলই শ্রীকৃষ্ণ ভক্তির সাধন।

অনন্য বৈষ্ণবধর্ম ৭৭ যদি কৰ্ম্মমাত্রই ভক্তির সাধনরূপে গণ্য হয়, তবে অনন্য ভক্ত, শ্রবণাদি ভক্তিমার্গের অনুষ্ঠানপরায়ণ অনন্ত ভক্ত, সেবা সময় প্রতিবন্ধক নিত্য নৈমিত্তিকাদি কৰ্ম্ম কি প্রকারে সম্পন্ন করিতে সমর্থ হইবেন? এই নিমিত্ত ভক্তিমার্গে নিত্য নৈমিত্তিক কৰ্ম্ম-সাধনে অবশ্যই শিথিলতা ঘটে। শ্রীমদ্ভাগবতে “তাবৎ কৰ্ম্মাণি কুৰ্ব্বীত” ইত্যাদি শ্লোক লিখিত আছে। উহার তাৎপর্য এই যে, যখন কেবল শ্রবণ ভক্তিতে ভক্তের চিত্ত লগ্ন থাকে তখন বেদবিধিপূৰ্ব্বক কৰ্ম্ম করার নিমিত্ত ভক্তের অবসর থাকে না। এই অবস্থায় ভগবৎ সেবানিষ্ঠ ভক্ত আপনার প্রভুর পরিচৰ্য্যা ত্যাগ করিয়া কি প্রকারে সন্ধ্যা-বন্দনাদি করিবেন! আর যখন এতাদৃশ ভক্ত সেবা- পরিচর্যা না করেন, অথচ তাহার চিত্ত শ্রবণাদি ব্যাপারে থাকে, তখন নিজের প্রভুর গুণ, শীল, নাম ও সদ্যউদ্ধারক চরিত্ৰকথা ত্যাগ করিয়া নিত্য বিধানের সৰ্ব্বদিনব্যাপী বাহ্য কৰ্ম্ম তিনি কি প্রকারে করিতে সমর্থ হইবেন ? স্মৃতিতে লিখিত আছে -- स्मर्तव्यः सततं विष्णुः विस्मर्तव्यो न यातु चित्। सबै विधिनिषेधाःस्यु रेतयोरेव किङ्गराः ॥ प्रमादात् कुवैतां कर्म प्रच्यवेदध्वरेषु यत् ঘোন্ত নথি: মুখ কিনিনি। অর্থাৎ সৰ্ব্বদাই ভগবান্ শ্রীরাধাবল্লভের স্মরণ করিতে হইবে, ক্ষণমাত্রও তেঁাহার যেন বিস্মরণ না হয়। কেননা, যত বিধিনিষেধ আছে, সমস্তই এই দুই শক্তির কিঙ্কর। অপিচ যজ্ঞাদি কর্মের যে সকল ক্ৰটী থাকে ভগবৎ-স্মরণে তৎসমস্তই সংপূর্ণ হয়।

অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম
এইদ্ব্যতীত গীতায় আরও প্রমাণ আছে যথা :
(१) अपिचेत् सुदुराचारः;
(२) क्षिप्रं भवति धम्मात्मा ;
"मां हि पार्थ ब्यपाश्रित्य येऽपिस्यः पापयोनयः ।
स्त्रियोशूद्रा तथा वैश्या: तेऽपियान्ति परांगतिः ।"
ইত্যাদি ভক্তিমাহাত্ম্যসূচক স্বয়ং ভগবৎবাক্য সমূহ শুনিয়া অনন্যভক্তের
কি প্রকারে ভক্তিপ্রতিবন্ধক কৰ্ম্ম করার ইচ্ছা হইতে পারে ? শ্ৰীভাগবতে
निथिल जाट :-
"एतावानव लोकस्मिन् पुंसां धर्मः परः स्मृतः ।
भक्तियोगो भगवति तन्नाम ग्रहणादिभिः ।
नालं हिजत्वं देवत्वं मृषित्वचासुरात्मजाः ।
प्रोण नाय मुकुन्दस्य न वित्तन बहुज्ञता ।।
न दानं न तपो नेज्या न शौचं न ब्रतानिच ।
प्रीयते ऽमलया भक्तमा हरिरन्यत् विडम्बनं ।
অর্থাৎ এই লােকে ভগবানের নামসঙ্কীৰ্ত্তনাদি দ্বারা উহার ভক্তি
করাই পরমধর্ম। ভগবান্ মুকুন্দকে প্রসন্ন করার জন্য দ্বিজত্ব, দেবত্ব,
ঋষিত্ব, বিত্ত, বহুজ্ঞতা, দান, তপ, ইজ্যা, শুচি এবং ব্রদি পৰ্যাপ্ত নহে,
কেনন! ভগবান্ কেবল বিমল ভক্তিতেই প্রসন্ন হয়েন, এতদ্ব্যতীত অপর
সকলই বিড়ম্বনামাত্র। (৬৪)
श्राद्धादीनवकुयाइरिशरणवले, नैवपूर्वेकतार्थाः,
सन्देहतारयेत्तान् प्रतिदिन भगवबाम संकीर्तनेन ।
श्राबादीनां तुलाया ग्रहणसमयजं, दानमव धनंवा,
नयाचं नासमप्य क्वचिदपि हरये, प्रेमभक्तरमन्यः ।

অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম অর্থাৎ ভগবান শ্রীহরির প্রেমভক্তিতে ও শ্রবণাদি ভক্তিমার্গে শ্রদ্ধাশীল অনন্যাশ্রয়রহিত অনন্যভক্তের শ্রাদ্ধাদি পিতৃকৰ্ম্মও করিতে হয় না। গীতায় লিখিত আছে - যানি কল্পনা কান্ বিন আলি সিনা। भूतानि यान्ति भूतेज्या यान्ति मद्याजिनोपि माम् ॥ অর্থাৎ দেবতাসমূহের পূজকগণ দেবতাগণকে প্রাপ্ত হয়েন। পিতৃগণের পূজকেরা পিতৃদিগকে প্রাপ্ত হয়েন, ভূতপূজকগণ ভূতকে প্রাপ্ত হয়েন, আর যাহারা আমাকে পূজা করেন তাহারা আমাকেই প্রাপ্ত হয়েন। এই নিমিত্ত পিতৃলােকের নিত্যনৈমিত্তিককৰ্ম্ম অনন্যভক্তের পরিত্যজ্য। ইহাতে কাহারও মনে আশঙ্কা হইতে পারে যে, তাহা হইলে পিতৃলােকসমূহের উদ্ধাব কিরূপে হইবে ? শঙ্ককারীর জানা আবশ্যক যে, পিতৃলােকগণ তো হরিশরণাগত হইয়া সেই বলেই উদ্ধাবপ্রাপ্ত হইয়াছেন। যে সকল পুরুষ ভগবদ্ভক্ত ছিলেন, তাহারা তাে তপন আপন ভজনবলেই নিস্তার প্রাপ্ত হইয়াছেন, কিন্তু পিতৃপুরুষগণের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বয়ং ভক্ত ছিলেন না অথচ অভক্ত অবস্থায় মরিয়া গিয়াছেন, তাহার উত্তরাধিকারী স্বয়ং হরিশরণগত হইয়া সেই বলে উহাকে উদ্ধার করিবেন। যজ্ঞধ্বজব্যাখ্যানের আরম্ভে লিখিত হইয়াছে - "यो विष्णुभक्तान् निष्कामान् भोजयेत् श्रद्धयान्वितः । निःसप्तकुलसंयुक्तः स याति हरिमन्दिरम् ॥" অপিচ-- "तारयेद वैष्णवःपुत्रोदशपूर्वान् दशापरान्" অর্থাৎ যে ভক্তবৈষ্ণব শ্রদ্ধাপূৰ্ব্বক নিষ্কাম সাধুবৈষ্ণবগণের ভােজন করান, তিনি আপনার কুলের একুশ পুরুষগণ সহ বিষ্ণুধাম প্রাপ্ত হয়েন।

৮০ অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম অপিচ কোন বংশে কাহার পুত্র বৈষ্ণব হইলে তিনি স্বীয় ভজনবলে পূর্ব দশ পুরুষ এবং পরবর্তী দশ পুরুষের উদ্ধারসাধন করেন। ইহার তাৎপর্য এই যে, কেবল ভগবৎ প্রসাদে সাধুমাহাত্মাদিগকে ভোজন মহােৎসব করাইলে, অথবা কুলে এক বৈষ্ণব পুত্ৰমাত্র উৎপন্ন হইলেই পিতৃপুরুষ- গণ উদ্ধার প্রাপ্ত হয়েন এ অবস্থায় শ্রাদ্ধাদি ষট্‌কৰ্ম্ম কেন করিবে ? অপর পক্ষে দেখা যায়, তুমি নিয়তই শ্রাদ্ধাদি কৰ্ম্ম করনা কেন, কিন্তু যদি বৈষ্ণব হও, অথবা বৈষ্ণবের যদি নিন্দামাত্রও কর, তাহা হইলেও পিতৃলােকের নরক হইবে, যথা স্কন্দপুরাণে :- निन्दा कुर्वन्ति ये मुढ़ाः वैष्णवानां महात्मनाम् । पतन्ति पिटभिः साई महारोरवसंज्ञिते ॥ অর্থাৎ যে মূখ বৈষ্ণবের নিন্দা করে, সে স্বীয় পিতৃলােকগণের সঙ্গে মহারৌরব নরকে পতিত হয়। এই সকল বচন দ্বারা প্রমাণিত হইতেছে যে, পুত্রের সৎকৰ্ম্ম বা অসৎ কর্মে পিতৃলােকের সদ্গতি ও অসদ্গতির নির্ণয় হইয়া থাকে। কোথাও কাহারও বৈষ্ণব পিতৃপুরুষগণের প্রেতযােনি প্রাপ্তির উল্লেখ দৃষ্ট হয় না, যদি কোথাও কাহারও সেবাপরাধরূপ প্রবল কৰ্ম্মদ্বারা পিতৃ- লােকের প্রেতযােনিপ্রাপ্তির সন্দেহ হয়, তাহা হইলে প্রতিদিনকৃত্য ভগবং সেবা বা ভগবন্নামসঙ্কীৰ্ত্তন দ্বারাই তাহার উদ্ধার হইয়া যায়। ইহার প্রামাণিক দৃষ্টান্ত এই গ্রন্থের আদিতে স্বামী শ্ৰীচতুভুজজীর চরিত্রকথন- প্রসঙ্গেই প্রদত্ত হইয়াছে। এই নিমিত্ত অনন্যভক্তের কর্তব্য -ভক্তিদ্বারাই পিতৃলােকের উদ্ধার সাধন করা—গয়াশ্রাদ্ধাদিছরা নহে। শ্ৰীভাগবতে লিখিত আছে ? "योगनैव दहेदहम्" ক অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম ৮১ ইহার তাৎপর্য এই যে, যিনি যে যােগে লগ্ন থাকিবেন, তিনি সেই যােগেই পাপ পরিহার করিবেন। যিনি ভক্তিযােগাবলম্বী, তিনি ভক্তি- যােগেই স্বীয় পাপ হইতে মুক্ত হইবেন। তজ্জন্য তাঁহাকে অপর কোন সাধনের অঙ্গীকার করিতে হইবে না। এই প্রকার তুলাদানাদির দান- প্রতিগ্রহাদি অনন্যভক্তের কর্তব্য নয়, এবং দানাদিতে লব্ধ দ্রব্য ভগবানকে অর্পণ করাও অনুচিত। विष्णाभतो प्रभूते मुरमुनिपितरो हर्षयुक्ता वदन्ती त्यस्माकं मूलभूत भगवति हि यतःप्रेमपूर्णोज नोऽयम् तहारास्मानशेषान् भजति तरुदलान् मूलसेकेन यहत् तस्मादस्माभिरोषोऽमल सकलसुखे निस्प होऽप्याश योज्यः । এরূপ শঙ্কা করিতে হইবে না যে শ্রাদ্ধাদিদ্বারা পিতৃপূজন না করিলে পিতৃগণ কোপ করিবেন। তাহাদের কোপের কথা দূরে থাকুক, আপন কুলে বৈষ্ণব পুত্ৰ উৎপন্ন হইলে, দেবতা, ঋষি ও পিতৃগণ হর্ষযুক্ত হইয়া বলেন,-“দেখ ইহা কি আনন্দের সংবাদ, আমার কুলে প্রেমময় শ্রীহরির পরম-ভক্ত পুরুষ উৎপন্ন হইয়াছেন। বৃক্ষমূলে জল-সেচন করিলে যেমন উহার সুদূরবর্তী পত্র-সমূহও সেই জলে পরিতৃপ্ত হয়, সেইরূপ ভগবদ্ভুক্ত বৈষ্ণব-পুত্র ভক্তিদ্বারা উৰ্দ্ধগত পুরুষ যে আমরা, ইনি এই আমাদিগেরও পরিতৃপ্তিসাধন করিবেন। যদিও এই বৈষ্ণব-পুত্র এখানকার ভােগ- সুখাদিতে নিস্পৃহ হয়, তথাপি ইহাকে কিন্তু ভােগসুখ দেওয়াই প্রয়ােজন।* এই প্রকারে পিতৃগণের ক্ষোভের কথা দুরে থাকুক, প্রত্যুত তাহারা অপরপক্ষে সুপ্রসন্নই হইয়া থাকেন। শীভাগবতে লিখিত আছে, যথামীমুললিবলল, ঘলি নর্জন্মজীবযাৱা प्राणोपहाराच यथेन्द्रियाणा, तथैव सर्वाहणमच्युतेन्या ।

১২
অনন্য বৈষ্ণবধর্ম
অর্থাৎ যে প্রকার তরুর মূলে জল-সেচন করিলে উহার স্কন্ধ, ভূজ ও
উপশাখাদি পরিতৃপ্ত হয়, সেই প্রকার ভগবান্ বিষ্ণুর পূজনে দেবর্ষিগণ,
পিতৃগণ ও প্রাণিমাত্রেই প্রসন্ন ও সম্পূজিত হয়েন। বৃক্ষের সজীবতা
সংরক্ষণের জন্য উহার মূলেই জল-সেচনের বিধি আছে, কিন্তু শাখা বা
পত্রে জল-সেচনের বিধি নাই, পরন্তু উহাতে অবিধিই দৃষ্ট হয়। এই
প্রকার ঈশ্বর-ভজনেই বিধি ও বিপরীতি অবিধি শাস্ত্রে লিখিত
আছে। শ্রীভগবদগীতায়—
“লাম্বিনী না”
ইত্যাদি শ্লোকে অনন্যভাবে শ্রীকৃষ্ণের ভজন করাই বিধিপূৰ্ব্বক
পূজনের কথা লিখিত হইয়াছে, অন্যান্য দেব, ঋষি ও পিতৃগণের পৃজনে
তাহারই পূজা হয় বটে, কিন্তু অবিধিপূৰ্ব্বক হয় ইহাই উক্ত হইয়াছে।
যথা
येप्यन्यदेवता भक्त्या यजन्ते श्रद्धयान्विताः ।
aऽपि मामेव कौन्तेय यजन्त्यविधिपूर्वकम् ॥
বিধি-সম্বন্ধে স্বয়ং ভগবান্ আরও বলেন :-
महात्मानस्तु सा पार्थ
ইনী সনিমাখিনা।
भजन्त्यनन्यमनसो ज्ञात्वा भूतादि मव्ययं ।
सततं कोतयन्तो मां यतंतश्च दृढ़ताः ।
नमस्यन्तख मा भक्त्या नित्ययुक्ता उपासते॥
অর্থাৎ যে কেহ শ্রদ্ধাপূৰ্ব্বক অপর দেবতার পূজা করে, তাহারা
অবিধিপূৰ্ব্বক পূজা করে, আর যাহারা সৰ্ব্বপ্রাণীর মূল যে আমি, ইহা
জানিয়া আমাকেই দৃঢ় অনন্যতাসহ পূজা করে, তাহার বিধিপূৰ্ব্বক পূজা
| t*,
'
?

অনন্য বৈষ্ণবধর্ম
কেহ কখনও এরূপ আশঙ্কা করিতে পারে যে, ভগবানের ভক্ত
ইলেও দেব-ঋষি ও পিতৃঋণ পরিশােধের জন্য শ্রাদ্ধাদি কৰ্ম্ম করা
আবশ্যক। কিন্তু এ কথা ঠিক নয়। কেননা শ্ৰীভাগবতে লিখিত আছে ।
देवर्षिभूताप्तनृणां पितृणाम्
ল জ্বিী নাৰী ৰ ৰাজন
বললিনা যঃ মৰয মন্ত্র
गतो मुकुन्दस्य परिहृत्य कृत्यम् ।
অর্থাৎ যে ব্যক্তি আপনার সর্বপ্রকার কর্তব্য-কৰ্ম্ম ত্যাগ করিয়া
সৰ্বাত্মভাবে সৰ্ব্বশরণ্য ভগবান মুকুলের শরণ গ্রহণ করেন, তিনি
কখনও দেবতা, ঋষি, পিতৃ বা অন্য কাহারও ঋণী বা কিঙ্কর হয়েন না।
কেননা দৃঢ় অনন্যভক্ত হইলে মনুষ্য সকলের ঋণদায় হইতে মুক্ত হইয়া
পরম স্বাধীন হন।
পদ্মপুরাণে লিখিত আছে :-
त्यक्तःसर्वकुलाचारी महापातकवानपि
विष्णुभक्ति समाश्रित्य नरो नार्हति यातनाम्
আর ভক্তিহীন হইলে কুলাচারাদি প্রতিপালনও কিছু নয়, যথা :-
कि वेदैः किंशास्त्रैर्वा किम्बातीर्थ निसेवनैः ।
विष्णुभक्तिविहीनानां किंतपोभिकिमध्वरैः ।
স্কন্দপুরাণে
पापं भवति धर्मोपिकतोऽभक्त स्तवाच्युत ।
লিমনন্ধনী অধী যৰি নাম।
वसते नरके नित्यं प्रवाहापिस उच्यते।

অনন্য বৈষ্ণবধর্ম অর্থাৎ আপন কুলাচার-আদি ত্যাগ করিয়া মহাপাতকী হইলেও কোন ব্যক্তি যদি বিষ্ণুভক্ত হয়, তাহা হইলে সে সর্বপ্রকার যাতনা হইতে মুক্তিলাভ করে । অপরপক্ষে ভক্তি না থাকিলে তাহার কুলাচারাদি প্রতিপালন যে মুক্তির পক্ষে কিছুই নহে তাহাও শাস্ত্রকার বলিতেছেন, যথা :- যে ব্যক্তি ভগবান্ বিষ্ণুর ভক্ত নহেন, উহার তীর্থবাস ও বেদশাস্ত্র অধ্যয়নাদি কোন ফলপ্রদ হয় না। স্কন্দপুরাণে লিখিত আছে, নিঃশেষ ধৰ্ম্মসাধন করিয়াও যদি কেহ শ্রীভগবান্ অচ্যুতের ভক্ত না হন, তবে উহার সকল ধর্মই পাপ হইয়া যায়, তাহার নরকে বাস হয়, তাহাকে ব্ৰহ্মহত্যাকারী বলা যায়। এই নিমিত্ত ত্রিবিধ ঋণশােধের জন্য শ্রাদ্ধাদি করা, শ্রীহরিভক্তের পক্ষে প্রয়ােজনীয় হয় না ॥৬৮ प्रातः श्रीहरिमङ्गलोत्सवव्रतां मध्याह्नकाले पुन भॊगाद्यगामन्त्रदत्तमनसा सायं पुन: से विनाम् एवं श्रीकृषभानुजापतिपदन्यस्त क्रियाणां सतां सन्ध्यावन्दनतर्पणाद्य करणे न प्रत्यवायो भवेत् ॥६॥ কদাচিৎ কেহ কেহ বলিয়া থাকেন, শ্রাদ্ধাদি পিতৃকৰ্ম্ম নাই বা হউক, কিন্তু প্রত্যয়ের হাত এড়াইবার জন্য শাস্ত্র বচনানুরােধে সন্ধ্যা- তর্পণাদি তো অবশ্যই করা উচিত। এইরূপ উক্তিকারীদের জানা কর্তব্য যে, দঢ়-অনন্য হরি-সেবকের সন্ধ্যা-বন্দনাদি করার একবারেই অবকাশ নাই। সন্ধ্যা-বন্দনাদি না করিলে ভক্তগণের কোনও দোষ হয় না। কেননা ভক্তের কৰ্তব্য এই যে, প্রাতঃকালে শীঘ্র শয্যা হইতে গাত্ৰোথান করিয়া ধ্যানাদি করার জন্য সত্বরে স্নানাদি করিয়া আপন প্রভুর নীরাজন অর্থাৎ মঙ্গল- আরতি করা,-এইরূপ মঙ্গল-আরতি করিতে প্রবৃত্ত হইলেই উহার প্রাতঃ অনন্য বৈষ্ণবধর্ম সন্ধ্যার সময় অতিবাহিত হইয়া যায়। আবার মধ্যাহ্নে প্রভুর ভােগা রাধনার জন্য রন্ধনাদি প্রস্তুত করা ও ভােগ সমর্পণাদি কাৰ্যে মধ্যাহ সন্ধ্যার সময় অতিবাহিত হয়, সন্ধ্যার সময় আবার শ্রীমূর্তির উত্থান, সন্ধ্যাভােগ ও সন্ধ্যা-আরত্রিক প্রভৃতি কাৰ্য্যে সায়ংসন্ধ্যার সময় অতি- বাহিত হইয়া যায়, সুতরাং ভক্ত সন্ধ্যাদি করিবেন কোন সময়ে ? এই প্রকারে শ্রীবৃষভানুজাপতিপদে যাহারা সমস্ত ক্রিয়া অর্পণ করেন, তাহাদের পক্ষে সন্ধ্যা-বন্দনাদি অকরণে কোনও প্রত্যবায় হয় না ॥৬৯ नित्यं कर्म मुकुन्दसेवनमिदं प्रोक्त पुरैवाहिक ये दोलादिमहोत्सवा निगदिता स्तान विधि नैमित्तिकान्। राधावल्लभपादसेवनवतां पुंसां न कम्मच्युति भूयात् क्वापि कदापि चेदवसर स्तन्नामजल्पेत् तदा ॥७॥ ভক্তিযােগের ঘােগাদের জন্য প্রাচীনগ্রন্থে বিবিধ বিধি-ব্যবস্থা লিখিত হইয়াছে। আমাদের এই সেবা-বিচার গ্রন্থে লিখিত হইয়াছে যে মঙ্গল আরতি হইতে শয়ন-আরতি পর্যন্ত প্রভুর সেবাই আহ্নিকাদি নিত্য-কৰ্ম্ম । দৃঢ়-রসিক অনন্যভক্তের পক্ষে এই সকল কৰ্ম্ম না করিলে প্রত্যয় হয়। দোল-আদি বার্ষিক-কৰ্ম্মই ইহাদের নৈমিত্তিক-কৰ্ম্ম। এই প্রকার নিত্য-নৈমিত্তিক কৰ্ম্ম করিলেই পরমাত্মা ভগবান্ শ্রীরাধাবল্লভ চরণসেবী দৃঢ়-রসিক অনন্যভক্তের কোথাও এবং কোনও সময়েই লৌকিক ও বৈদিক কৰ্ম্ম-কাণ্ডোক্ত কাম্য-কৰ্ম্ম অকরণে প্রত্যবায় হয় না ; এবং তজ্জন্য প্রায়শ্চিত্তও করিতে হয় না। উপাসনা-কাণ্ডোক্ত সেবা-আরা- ধনাদি কৰ্ম্ম হইতে যখন অনন্যভক্তের অবসর ঘটে, তখন আপন ইষ্ট- দেব শ্রীহরির নাম-সঙ্কীর্তন করা কর্তব্য। অর্থাৎ এই নাম-সঙ্কীর্তন দ্বারা অনন্যভক্তের সন্ধ্যা-বননার অভাব পূর্ণ করা উচিত। বেদের তিনটি কাণ্ড আছে। যথা- - অনন্য বৈষ্ণবধর্ম কর্মকাণ্ড, জ্ঞানকাণ্ড ও উপাসনাকাও। উপাসনাকাণ্ড ভক্তি কাণ্ডেরই অন্তর্গত। যে, যে কাণ্ডের অধিকারী, তাহাকে তদনুসারে কর্মকরা উচিত। এই নিমিত্ত শ্ৰীভাগবতে লিখিত আছে :- खखेपधिकार या निष्ठा বযঃ এৰিীনিন: এই নিমিত্ত যে পৰ্য্যন্ত মনুষ্য জ্ঞানযােগী অথবা ভক্তযােগী না হয়, তাবৎ তাহাকে কৰ্ম্মযােগী হইয়া কাম্য-কৰ্ম্মের সর্বপ্রকার আড়ম্বর ত্যাগ করিয়া কেবল আবশ্যকতার অনুরােধে নিত্য-নৈমিত্তিক কৰ্ম্ম করা আবশ্যক। এই প্রকার কৰ্ম্ম করিতে করিতে অন্তঃকরণ শুদ্ধ হয় এবং শ্রবণাদি হরিভক্তিতে শ্রদ্ধা জন্মে। তখন “তাবৎ কৰ্ম্মাণি কুব্বীত” এই বিধান-অনুসারে কর্মকাণ্ডোক্ত সর্বপ্রকার কৰ্ম্ম ত্যাগ করিয়া উপাসনা- কাণ্ডোক্ত সকল কৰ্ম্ম করিতে হয়। আর যদি পূৰ্ব্ব সংস্কার অনুসারে সাধক জ্ঞানযােগী হয়, তাহা হইলেই নিৰ্বেদপ্রাপ্ত হইয়া কৰ্ম্ম ত্যাগ করে। অধিকন্তু পূৰ্ব্বসম্বন্ধবশতঃ সদ্গুরুর উপদেশে অথবা শ্রীভগবানের কৃপায় যে ব্যক্তি প্রথম হইতেই ভক্তিযােগী হয় অর্থাৎ শৈশবকাল হইতেই ধ্রুব-প্রহলাদাদির ন্যায় দৃঢ়-অনন্তভক্ত যােগী হয়, সে ব্যক্তি ভক্তি-শাস্ত্রোক্ত প্রভু:সেবারূপ কৰ্ম্ম এক পলমাত্র সময়ের জন্যও পরিত্যাগ না করিয়া কৰ্ম্ম- কাণ্ডের কোনও কৰ্ম্ম করে না। কিন্তু অনন্যভক্তের উচিত এই যে, যখন আপন জ্ঞানে প্রভুর সেবা না হয়, তখন প্রভুর ধ্যান করা এবং ত্রিসন্ধ্যা আপন শ্রীগুরুমন্ত্র এবং গায়ত্রী জপ করা। কিন্তু ঐ গায়ত্ৰীতে অন্য দেবতার ধ্যান না করিয়া স্বীয় অভীষ্টদেবেরই ধ্যান করিতে হইবে। কেন না গায়ত্ৰীতে অপর কোন দেবতা ধ্যানের বিষয় নহেন, কিন্তু ভক্তের ইষ্ট পূর্ণ-ব্ৰহ্ম স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণই গায়ত্ৰীতে ধানের একমাত্র বিষয়। শ্ৰীভাগবত-প্রশংসায় লিখিত আছে-“গায়ত্ৰী ভাষ্য- অনন্য বৈষ্ণবধর্ম রূপােহসৌ, অপিচ শ্রীভাগবতের প্রথম শ্লোকে, যে—“সত্যং পরং ধীমহি” ইত্যাদি লিখিত আছে, উহাতে গায়ত্রীর অর্থ নিরূপণ করা হইয়াছে। এই নিমিত্ত সেবা-অন্তে অবকাশ-সময়ে আপন ইষ্টসাধনপূর্বক গায়ত্রী জপ করিতে হইবে। অথবা ঐ অবকাশ সময়ে তুলসী জপমালায় “রাধা- কৃষ্ণ রাধাকৃষ্ণ” “শ্রীরাধাশ্যাম” বা “শ্রীরাধাবল্লভ আদি ইষ্টনাম জপ করিতে হয়। কেন না নিগমাগম শাস্ত্র দ্বারা ইহাই প্রতিপন্ন হইয়াছে যে, কলিযুগে সব সাধন হইতে নাম সাধনই শ্রেষ্ঠ সাধন। শাস্ত্রে লিখিত আছে : न नाम सदृशं ज्ञानं न नाम सदृशं तपः । न नाम सदृशो धर्मो न नाम सदृशौ गतिः । অর্থাৎ জ্ঞান, তপ, ধৰ্ম্ম ও মুক্তি প্রভৃতি কিছুই শ্রীভগবানের নামের সমান নহে। শ্ৰীভাগবতে লিখিত আছে- नामोच्चारण-माहात्म्यहरः पश्यत पुत्रकाः। অজামিলীঘি বনষ আমাক অন । प्रायेण वेद तदिदं न महाजनोऽयं । देव्या विमोहित मति वंत माययालं । अय्यां जड़ीकत मति मधुपुष्पितायां । নলিন্ধ পন্থনি হৃদঘি গ্রীষ্মমাল। অর্থাৎ যমরাজ আপন দূতের সমীপে অতীব যত্নপূৰ্ব্বক বলিতেছেন— “দেখ ! ভগবৎ নাম উচ্চারণের কেমন মহিমা। যে নামের প্রভাবে মহা- পাপী অজামিলও মৃত্যু-পাশ হইতে অনায়াসে মুক্তিলাভ করিল” আবার অন্যত্র লিখিত আছে—এই বড় খেদের বিষয় যে, ধর্মশাস্ত্র-কর্তা স্বয়ম্ভুবাদি মহাজনেরাও নাম-মাহাত্ম জানেন না। কেন না হরি বিমুখ হইলে

৮
অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম
A
মায়াদেবী তাদৃশ লােকের মতিকে অত্যন্ত বিমােহিত করিয়া রাখেন। ঐ
মায়া ফলস্থানে মধুর ফুল প্রতিপাদনকারী স্বর্গপরায়ণ বেদবাক্যে উহাকে
এমনই জড়মতি করিয়া দেয়, যে এতাদৃশ ব্যক্তিরা দুর্ভাগ্যবশতঃ
অত্যন্ত শ্ৰমত অল্পফলপ্রদ বৈতনিক যজ্ঞ আদি ত্যাগ করিয়া অল্পশ্রমে
উচ্চারণমাত্র লভ্য অনন্ত ফলদ ভগবানের নামের প্রতি আর দৃষ্টি
করে না। স্কন্দপুরাণে লিখিত আছে ।
राजसूयाखमेधानां ज्ञानसाध्यात्मवस्तुतः ।
অক্ষয় কুৰি লা; বিনা স্তু নাম।
অর্থাৎ ভগবান্ শ্রীহরি রাজসূয়-অশ্বমেধাদির জ্ঞানসাধ্য বস্তু আকর্ষণ
করিয়া আপন নামে সংস্থাপিত করিয়া রাখিয়াছেন।
বিষ্ণুপুরাণে লিখিত আছে :-
ন কম-লিয়মী ৰাজব্দাল-নিয়ম।
লীহ্নিছারী লি স্বীলগ্নি নন।
অর্থাৎ ভগবান্ শ্রীহরির নামে দেশ ও কালের কোনও নিয়ম নাই,
উচ্ছিষ্ট মুখেও নাম করা যায়, তাহাতে কোন দোষ হয় না।
বিষ্ণুধৰ্ম্মোত্তরে লিখিত আছে :--
ऋग्वे दोहि यजुर्वेदः सामवेदो प्यथर्वणः ।
प्रधीतास्तेन येनोक्त हरि रित्यक्षरद्दयम् ।
অর্থাৎ ‘হরি এই দুই অক্ষর যিনি উচ্চারণ করেন, তাহার ঋগ্বেদ,
যজুৰ্বেদ, সামবেদ ও অথৰ্ব্ববেদ পাঠ করার ফল হয়। এই নিমিত্ত ভগবান
শ্রীকৃষ্ণের দৃঢ়-অনন্যভক্তের পরম ধৰ্ম্ম-কৰ্ত্তব্য এই যে, যখন প্রভুর সেবা
আদি হইতে অবসর প্রাপ্ত হওয়া যাইবে, অথবা প্রভুর সেবা-ভার স্বীয়
মস্তকে না থাকে, তখন তুলসীমালা হস্তে গ্রহণ করিয়া প্রভুর নাম জপ

অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম ৮৯ করিতে হইবে ।* শ্ৰীমদ গোস্বামী ব্রজলালজী মহারাজকৃত সেবা-বিচার অথবা সেবাশতক গ্রন্থের উক্ত কয়েক শ্লোকের ইহাই তাৎপৰ্য ইহাই দৃঢ়, ইহাই রসিকতা, ইহাই অনন্যতা এবং ইহাই দৃঢ়রসিক অনন্ত-বৈষ্ণবের পরম ধৰ্ম্ম । সুসিদ্ধান্তোমগ্রন্থের অনন্যতা আমাদের শ্রীরাধাবল্লভ সম্প্রদায়ের সমুজ্জ্বলরত্ন রীবরাজ্যগুরু শ্ৰীশ্ৰী- প্রিয়াদাসজী মহারাজ স্বীয় সুসিদ্ধান্তোত্তম নামক অত্যন্ত গ্রন্থে ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণের দৃঢ়-অনন্যভক্তি প্রতিপাদনাৰ্থ লিখিয়াছেন ঃ- भक्तियोगेऽपरचापि जाते सथिविन्मुनिः । कमज्ञानविरागादोन्स्तत्वा कृष्ण भजेद् बुधः । যখন স্বতন্ত্র ভক্তিযােগে উপজাত হয় তখন সৰ্বার্থবিৎ (অর্থাৎ ভক্তি- যােগের গুণ দোষাদি অভিজ্ঞ ) মুনি কৰ্ম্ম জ্ঞান ও বৈরাগ্যাদি ত্যাগ করিয়া কেবল শ্রীকৃষ্ণ-ভজন করেন। কৰ্ম্ম-আরম্ভকালে ও ফুলকালে দোষ ও দুঃখ প্রদান করে। শ্রীমদ্ভাগবতে একাদশ স্কন্ধে স্বয়ং ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণ বলিয়াছেন :- धर्मःसम्पद्यते षड़भिरधर्मस्त विपर्ययः । নানা জিয়াযীলা: মুল স্মৃমি-রুম: । অর্থাৎ দেশ-কাল-দ্রব্যকারক মন্ত্র এবং কর্মের বিশুদ্ধ অনুবৰ্তনে ধৰ্ম্ম- সম্পাদন হয় এবং এই ছয়ের বিপর্যয়ে অর্থাৎ এই ছয় বিষয়ের কোন প্রকার অশুদ্ধ ঘটিলে অধৰ্ম্ম হইয়া থাকে। কাৰ্যতঃ এই ছয়ের শাস্ত্রোক্ত * আমি মদীয় “প্রেমজগদীশ” নামক গ্রন্থে নাম-মাহাত্ম্যসম্বন্ধে বিস্তারপূর্বক লিখিয়াছি। যদি কোন বৈষ্ণব মহানুভাৰ উহা দেখিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন, তবে গােস্বামী মুলাদ লালের নামে ২নং সীট, বড়বাজার কলিতার ঠিকানায় পত্র লিখিলেই উক্ত গ্রন্থ পাইবেন।

অনন্ত বৈষ্ণবধর্ম শুদ্ধি দুর্লভ। কৰ্ম্মের শুদ্ধি তো অত্যন্তই দুর্লভ। এমন কি কর্মের আরম্ভে যে আচমন করিতে হয় তাহার শুদ্ধিই অসম্ভব। কেন না বিশ্বা- মিত্ৰকল্পগায়ত্রী পদ্ধতিতে লিখিত আছে :- गोकर्णावतिहस्तेन माषमग्न जलं पिवेत् । तन्यूनमधिकं तोयं मुरापानसमं भवेत् । অর্থাৎ দক্ষিণ-হস্তের গােকর্ণাকৃতি তালুতে মাষমাত্র ডুবিতে পারে এমন জল লইয়া আচমন করিবে কিন্তু উক্ত পরিমাণের কিঞ্চিৎ বেশী বা কিঞ্চিৎ কম হইলেই উক্ত জল পান করিলে সুরাপানের ন্যায় পাপ হয়। ইহা এক প্রকার অসম্ভব তাে বটেই। এই প্রকার যে সকল ক্রিয়াযােগ আছে, সেই সকল ক্রিয়াযােগ শুদ্ধ ও অশুদ্ধ এই দুই অবস্থা মিলিত হইয়াই হইয়া থাকে। এইজন্য বর্ণাশ্রমাচারশীল মনুষ্যগণের যে সকল ক্রিয়াযােগ আছে, সেই সকল ক্রিয়াযােগ সংসারপ্রাপ্তির কারণ হইয়াই দাড়ায়। অর্থাৎ উহারা দুঃখদায়ক হয়। শ্রীমদ্ভাগবতে ইহা স্পষ্টতঃই লিখিত আছে যথা कम्माणि दुःखोदौणि कुर्वन् देहेन तैः पुनः । देहमाभजते तत्र किं मुखं मत्तामणाम् । অর্থাৎ দুঃখই যাহার অন্ত্যফল জীব তাহার দেহ দ্বারা তাদৃশ কৰ্ম্ম সম্পাদন করে, আবার ঐ দেহকৃত কৰ্ম্ম দ্বারা জীব পুনর্বার তাহার দেহেরই সেবা করে। যে কৰ্ম্মের আদিতে ও অন্তে কেবলই দুঃখ, মর্ত্যধর্মাবলম্বীরা ঐরূপ কার্য্যের অনুষ্ঠান করিয়া কি সুখ লাভ করিতে পারে ? উহাতে কোনও সুখ নাই। কেন না উহার সুখেও কেবল দুঃখেরই অনুভব হয়। এই নিমিত্ত ভগবৎ-ভজনে কৰ্ম্ম ত্যাগই গুণজনক। ইহাতে কদাচিৎ কেহ আশঙ্কা করিতে পারে যে যদি কৰ্ম্ম ভক্তি ত্যাগ অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম দ্বারা পরিপাকে কেহ কৃতার্থ হয়, তাহা হইলে তাে অবশ্যই কোনও চিন্তা নাই, কিন্তু ভক্তির পরিপাকজনিত কৃতার্থতালাভের পূর্বে যদি ভক্তি- সাধকের মরণ হয়, তাহা হইলে কৰ্ম্মত্যাগজনিত প্রত্যবায়ে তাহার পক্ষে অত্যন্ত অনর্থ ঘটে। এরূপ আশঙ্কার কারণ নাই। শ্ৰীভাগবতের প্রথম স্কন্ধে শ্রীনারদ বলেন :- त्या खधर्म चरणाम्बुजं हर: भंजनपक्कोऽथ पतेत् ततो यदि यत्र कवा भद्रमभूदमुथ कि জী বাঘ আামী সজনা ধন। অর্থাৎ স্বীয় বর্ণাশ্রমাচার ধর্ম ত্যাগ করিয়া অদ্মহর ভগবান হরিচরণ ভজন করিতে করিতে যে ব্যক্তি পরম ভক্তি লাভ না করিয়া যদি মরিয়া নীচ যােনিপ্রাপ্ত হয়, (এই শ্লোকে যে ‘বা’ শব্দ আছে উহাতে ইহাই কটাক্ষ করিয়া বলা হইয়াছে যে, এতাদৃশ পুরুষের পতন একবারেই অসম্ভব ) তা হইলেই কি উহার কোন প্রকার অভদ্র ঘটিবে ? কখনই কেন না শবরী ও গজেরে ভক্তির কোনও ব্যত্যয় ঘটে নাই। আবার অপর পক্ষে, যে ব্যক্তি ভগবদ্ভক্ত না হয়, তাহার স্বধৰ্ম্মাচরণাদিতেই বা কি ফললাভ হয় ? অর্থাৎ কোনও লাভ হয় না। এইজন্য ভজনানু- রক্ত ভগবদ্ভক্তের এই সকল কৰ্ম্ম ত্যাগে কিঞ্চিত্রও ক্ষতি হয় না। কেন কৰ্ম্মত্যাগই ভক্তের ধৰ্ম্ম। ভাগবতে ১১শ স্কন্ধে লিখিত আছে—“তাবৎ কৰ্ম্মাণি কুৰ্ব্বীত” এই কথা বলিয়া শ্রীভগবান্ স্বয়ংই কৰ্ম্মের সীমা নির্দেশ করিয়া দিয়াছেন। তাৎপৰ্য এই যে—“যাবৎ পৰ্য্যন্ত দেহ আদিতে বশীকারাখ্য বৈরাগ্য উপ- জাত না হয় তাবৎ পৰ্যন্ত নিত্যনৈমিত্তিক ও কাম্য-কৰ্ম্ম এবং প্রায়শ্চিত্ত- অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম আদি কৰ্ম্মসমূহ করিতে হইবে। কিন্তু যখন আমার কথা শ্রবণাদিতে (নবধা ভক্তিতে ) নিশ্চয়াত্মিকা শ্রদ্ধা উৎপন্ন হইবে, তখন আর কৰ্ম্ম করার প্রয়ােজন হইবে না।” সন্ধ্যোপাসনাদিকে নিত্য-কৰ্ম্ম, বলে- জন্ম-মরণ, চন্দ্র-সূৰ্য-গ্রহণ আদিতে যে সকল ক্রিয়া করা হয়, উহাদিগকে নৈমিত্তিক কৰ্ম্ম কহে, এবং দর্শ-পূর্ণমাস্যা ও চতুর্মাস-আদিতে যে সকল ক্রিয়া করা হয়, তাহাদিগকে কাম কৰ্ম্ম বলা হয় । শাস্ত্রে লিখিত আছে :- हिंस्त्र द्रव्यमयं काम्यमग्निहोत्राघशान्तिदम् दर्शश्च पूर्णमासश्च चातुर्मास्यम्पशु: सूतः । एतदिष्ठ प्रवृत्ताख्य इतं प्रहुतमेव च । অর্থাৎ পশুষজ্ঞ, সােমযজ্ঞ, বৈশ্বদেব, এবং বলিহরণাদি এই সকলই প্রবৃত্তিজনিত কৰ্ম্ম আর এই সকল কর্মে যদি কোন ছিদ্র থাকে তখন উহাদের রফু করণের জন্য যে ক্রিয়াদি করিতে হয়, তাহারই নাম প্রায়শ্চিত্ত। প্রায়শ্চিত্ত সম্বন্ধে লিখিত আছে -- प्रायः पापं विजानीयात् चित्तं तस्य विशोधनम् । प्रायश्चित्तं तु तत्प्रोक्तं कर्म कमविदां वरैः ॥ উদ্দেশ্য এই হে-যে পৰ্যন্ত এই বিশ্বাস দৃঢ় না হয় যে, আমার পরম- শ্রেয় স্বয়ং ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণের শ্রবণাদি ভক্তি হইতেই হইবে, তাবৎ পৰ্যন্ত নিত্য-নৈমিত্তিক, কাম্য এবং প্রায়শ্চিত্তাদি ক্রিয়া-কৰ্ম্ম করা চাই, কিন্তু যখন হইতে শ্রবণাদিতে নিশ্চয়াত্মিকা শ্রদ্ধা উৎপন্ন হয়, তখন বর্ণাশ্রমাচারােচিত যাবতীয় কর্মধৰ্ম্মত্যাগ করাই অনন্যভক্তের পক্ষে ধৰ্ম্ম বলিয়া পরিগণিত। কেননা, তখন আর উহার পুনবার কর্মে অধিকার থাকে না। এই অনন্ত বৈষ্ণবধর্ম জন্য যিনি উত্তমরূপে কৰ্ম্মত্যাগ করিয়া শ্রীভগবান্‌কে ভজনা করেন, তিনিই উত্তম। কেননা শীভাগবতে লিখিত আছে - पाजायैवं गुणान् दोषान् मयादिष्ठानपि खकान् धर्मान् सन्तज्यः यः सर्वान् मां भजेत् स च सत्तमः । তার্থাৎ যে ব্যক্তি আপন বর্ণাশ্রমকৰ্ম্মাদি সকল ধর্ম ত্যাগ করিয়া,- এই সকল কর্মকরার বাসনা পৰ্যন্ত ত্যাগ করিয়া এবং ত্যাগ করার প্রত্যয়জনিত ভয় পৰ্যন্ত ত্যাগ করিয়া—আমাকে ভজনা করে, সে আমার সর্বপ্রকার কৰ্ম্মজ্ঞান ও বৈরাগ্যমিশ্রভক্ত অপেক্ষাও উত্তম। কেননা এই ব্যক্তি আমার বিশুদ্ধ আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছে। কৰ্ম্মজ্ঞান বৈরাগ্যাদি যদিও আমারই আজ্ঞানুসারে করা কর্তব্য বলিয়া বল। হইয়াছে। কেননা লিখিত আছে “শ্রুতি-স্মৃতি মমৈবাজ্ঞা কিন্তু তথাপি এ সকলও আমারই জন্য ত্যাগ করিবে। কেহ কেহ শঙ্কা করিয়া বলেন, “তবে কি অজ্ঞাননিবন্ধন এবং নাস্তিকতা নিবন্ধন কর্মত্যাগ করিতে হইবে?” না, এমত কথা নহে। অজ্ঞান অথবা নাস্তিকতা নিবন্ধন কৰ্ম্মত্যাগ করার কথা নয়। পরন্তু বর্ণাশ্রম- ধম্মপরয়ণ সত্নশুদ্ধাদি গুণ সমূহের প্রতিকূল প্রত্যবায় দোষগুলি উত্তম- রূপে জানিয়া, কে কৰ্ম্ম এবং উহার প্রায়শ্চিত্তকে ভক্তি বাধক জানিয়া, অধিকন্তু উহারা আমার ধ্যানের বিক্ষেপক ইহা জানিয়া-এবং “কৃষ্ণ- ভক্তিতেই সৰ্বার্থ সিদ্ধি হয়, এই দৃঢ় বিশ্বাস করিয়া ভাগবতধৰ্ম্ম বাধক শ্রাদ্ধ, অগ্নিহােত, বিদ্ধৈকাদশী, কৃষ্ণেকাদশী, উপবাস, অনুপবাস, অনিবে- দিত ভক্ষণ এবং সূতকাদিতে অনৰ্চ্চনাদি কৰ্ম্ম ত্যাগ করিতে হইবে। এই নিমিত্ত ভগবানের অনন্য ভক্তের সম্বন্ধে কৰ্ম্মত্যাগই গুণ, কৰ্ম্মত্যাগ না করাই দোষ। ধৰ্ম্মাধৰ্ম্মবি স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ উদ্ধবগীতায় বলিয়াছেন :- ৯৪ অনন্য বৈষ্ণবধর্ম ख खेऽधिकारे या निष्ठा सगुणः অৰিহ্মীনিন: বিষয় : মীর নিস্বঃ। অর্থাৎ ভক্তির অধিকারে স্বধৰ্ম্মত্যাগই গুণ। কেননা ভক্তিই ধৰ্ম্ম এবং কৰ্ম্মের অত্যাগই দোষ কেননা উহাই অধৰ্ম্ম। বর্ণাশ্রমধর্মাচরণ- কারীর পক্ষে স্বধৰ্ম্মাচরণই গুণ, উহার পরিত্যাগই দোষ। এই উভয় ধৰ্ম্ম সম্বন্ধে এই সিদ্ধান্ত রহিয়াছে। সুতরাং বৈষ্ণবের জন্য বর্ণাশ্রমধম্মত্যাগই গুণ এবং অবৈষ্ণবের পক্ষে বর্ণাশ্রম ধৰ্ম্মত্যাগই দোষজনক। “ধৰ্ম্মা অবিন্ত মামলা ময় জল” এই বাক্যে শ্রীভগবান্ স্পষ্টতঃই বলিয়াছেন যে, হে অর্জুন “মন্মনাভব” ইত্যাদিতে আমার প্রতিপাদিত ভাগবত ধৰ্ম্ম গ্রহণ করিতে প্রবৃত্ত হইয়া--বর্ণশ্রমাদি ধৰ্ম্ম সম্বন্ধে যাহ। বলা হইয়াছে তাহা ত্যাগ করিয়া- দ্বিভুজ শ্যামসুন্দর সচ্চিদানন্দবিগ্রহ যদুকুলপালক যে আমি আমারও শরণ গ্রহণ কর। কেননা আমার ভক্তের পক্ষে কৰ্ম্মত্যাগই ধৰ্ম্ম । এই নিমিত্ত এই প্রকারে কর্মত্যাগ করিলে কোনও প্রত্যয় হয় না। কিন্তু তুমি যদি আপনার অজ্ঞানবশতঃ এমন মনে কর যে “কৰ্ম্মত্যাগ করিলে দোষ হইবে” এমন ভয় করিও না। কেননা, আমি তােমাকে সকল পাপ হইতে উদ্ধার করিব।” গীতার এই শ্লোকে যে প্রত্যক্ষ ধৰ্ম্ম- ত্যাগের উপদেশ আছে, অনেকে বলেন, উহা ধৰ্ম্মত্যাগের উপদেশ নহে, কৰ্ম্ম-ফলত্যাগের উপদেশ মাত্র। কিন্তু এ ব্যাখ্যাও ঠিক নহে, বাস্তবিক অর্থ-ধৰ্ম্মত্যাগ করা। কেননা “শ্রেয়া স্বধৰ্ম্মো বিগুণঃ ইত্যাদি যে বলা হইয়াছে, উহা অধিকারানুরূপ ধৰ্ম্মেরই উপদেশ। অর্থাৎ বর্ণাশ্রমনিষ্ঠ অবৈষ্ণবের নিমিত্ত ইহাই বলা হইয়াছে যে বর্ণাশ্রম ধম্মে থাকিয়া মরণই ভাল। এ উপদেশ বৈষ্ণবের জন্য নহে। কেননা পর্ব- উহার অনন্য বৈষ্ণবধর্ম ধর্মান্ পরিত্যজ্য” আদি তো একবারেই ভাগবত বৈষ্ণবগণের জন্যই আজ্ঞা। এই নিমিত্ত এ সম্বন্ধে কোনও বিরােধ দৃষ্ট হয় না। যদি এরূপ অর্থ না করা হয়, তবে ‘অহং ত্বং সর্বপাপেভ্যো মােক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ এই বাক্য ব্যর্থ হইয়া যায়। কেননা স্বধৰ্ম্মাচরণাবলম্বাদিগের তো কোনও পাপ হয় না। এই নিমিত্ত এই আজ্ঞাটী যে বৈষ্ণবের জন্য, তাহা স্পষ্টতঃই বুঝা যায়। ভগবানের ভক্তিযােগই সকলের পক্ষেই পরমধৰ্ম্ম। কেননা শ্রীভাগবত আদিতে এতাবানপি লােকেস্মিন” আদি উপদেশ আছে, উহার উদ্দেশ্য এই যে বেদ আদি শ্ৰতি স্মৃতি সমূহে উৎকৃষ্টতা ও স্বাভাবিকতানিবন্ধন সকল জীবের পক্ষেই ভগবদ্ভক্তি করা পরমধৰ্ম্ম বলিয়া নিরূপিত হইয়াছে। কেননা বর্ণাশ্রম ধৰ্ম্ম আগন্তুক ধৰ্ম্ম । অধিকারভেদে ও জন্মান্তরে উহার বিয়ােগ হয় কিন্তু ভাগবতধৰ্ম্ম জীবের স্বাভাবিক এবং সহচরধৰ্ম্ম । ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণের নাম রূপ লীলা ও গুণের শ্রবণ কীৰ্ত্তনাদি নবাঙ্গ দ্বারা ভগবানে যে ভক্তিযােগ জন্মে উহা জীবমাত্রেরই ধৰ্ম্ম। উহা সকলেরই পূৰ্ব্বকথিত দৃঢ়তা ও অনন্যতা সহকারে প্রতিপালন করা কর্তব্য। কীৰ্ত্তনাদি ভাগবতধৰ্ম্ম সমগ্র সাংসারিক জীবের পরমধর্ম। এইজন্য এই পরমধর্ম ভিন্ন অন্য ধৰ্ম্মত্যাগই বিহিত। অধিকন্তু সাধনফলকালে ভক্তিবিরােধী দুঃখদ কৰ্ম্মের হেয়ত্ব শ্রুতিসম্মত, কেবল ইহাই নহে এই প্রকার যোগ জ্ঞান ও বৈরাগ্যাদি যে ভগবৎ ভক্তির নিকট ব্যর্থ তাহাও, শ্রুতিসম্মত। শ্রীভাগবতে শ্রীনারদবচন- यमादिभिर्योगपथः कामलोभहतो मुहुः । मुकुन्दसेवया यदवत् तथात्माडा न शाम्यति । অর্থাৎ মুক্তিদাতা ভগবান মুকুন্দের সেবামুখােদয়ে যে প্রকারে অনন্য বৈষ্ণবধর্ম সাক্ষাৎ সম্বন্ধে আত্মার শান্তি হয়, যম নিয়ম আসন প্রাণায়াম প্রত্যাহার ধারণা ধ্যান এবং সমাধি আদি অষ্টাঙ্গ যােগ দ্বারা ইন্দ্রিয়বৃত্তিনিরােধহেতু কামলােভাদিহত আত্মা ঐ প্রকার শান্তিলাভ করিতে পারেন না। এই নিমিত্ত অনন্যভক্তিমার্গে যােগের কোনও আবশ্যকতা দেখা যায় না। প্রত্যুত ইহাতে যােগের সাধন ত্যাগ করাই উচিত। এই প্রকার ভক্তি- সাধনের পক্ষে জ্ঞান এবং বৈরাগ্যেবও কোনও প্রয়ােজন দৃষ্ট হয় না। শ্ৰভাগবতে লিখিত আছে- == ज्ञात्वाज्ञात्वाथ ये वै मां यावान् यथास्मि यादृशः। भजन्त्यनन्यभावेन ते मे भक्तातमा मताः ॥ নাৰূিযুলায় যামিনী ন সাক্ষন। न ज्ञानं न च वैराग्य प्रायःश्रेयो भवेदिह । অর্থাৎ অপরিচ্ছিন্ন সচ্চিদানন্দ বিগ্রহ বিশ্বত, সৰ্ব্বসম যে আমি, এই আমাকে জানিয়া অথবা না জানিয়া যে কেহ অনন্যভাবে আমার ভজন করেন, তিনি আমার সৰ্বোত্তম ভক্ত। কেননা ভক্তি কেননা ভক্তি ও ভক্ত আমার অতি প্রিয়। এই জন্য এই সংসারে আমার ভক্তের জ্ঞান ও বৈরাগ্যের কোনও প্রয়ােজন হয় না। কেননা জ্ঞান ও বৈরাগ্য দ্বারা আমার ভক্তের কোন প্রকার সুফল ফলে না। প্রত্যুত অনিষ্টই হইয়া থাকে। জ্ঞান ও বৈরাগ্য আমার অনুরাগের বাধক। যে জ্ঞানের অপর পর্যায় কৈবল্য-- তাহ। ভক্তিব বাধক, বৈরাগ্য তাে কেবলি শুষ্ক, অধিকন্তু উহা আমার প্রতি অনুরাগের পরম শত্রু। মৎসম্বন্ধীয় জ্ঞান এবং মৎসম্বন্ধীয় ভক্তি- লাভের জন্য সংস্কার ত্যাগের বিরুদ্ধে আমার ইহা বক্তব্য নহে। সংসার-বৈরাগ্য সুতরাং উহা আমার ভক্তের জন্য নহে। প্রত্যুত যাহারা আমার ভক্তির বিরােধী, উহা তাহাদের জন্য। কেননা আমার ভক্ত অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম সর্বদাই আমার রূপধ্যাননিষ্ঠ হইয়া সকলযােগী, সকলজ্ঞানী ও সকল বৈরাগ্যশীল অপেক্ষা ভক্তিযােগী শ্রেষ্ঠ হইয়া থাকে। কেননা তাহার আত্মা ও তাহার মন সর্বদাই আমাতে মিলিত থাকে। এই নিমিত্ত সৰ্বসাধন হইতে ভক্তিযােগই শ্রেষ্ঠতম সাধন। শ্রীভগবান্ স্বয়ং বলেন : যশিয়নঘষা মানায়ন যন্। योगेन दानधर्मेण श्रेयाभिरित रपि । सव्वं मदभक्तियोगेन मदभता लभतेऽजसा । মানুষ মান্ধবি যদি যানি। न किञ्चित् साधवोधोरा भत्ता कान्तिनो मम। আচ্ছবি ময়ান কমন नैरपेच्यं परं प्राहु निःश्रेयस् मनल्पक নাক্সিমিমামনি নিথ দ মন। অর্থাৎ যজ্ঞাদি হইতে যে স্বর্গাদি ফল প্রাপ্ত হওয়া যায়, অতীব কঠিন তপস্যা হইতে মহৰ্জনাদি লােকের যে ফল প্রাপ্ত হওয়া যায়, জ্ঞান ও বৈরাগ্য হইতে সত্যলােকাদি রূপ যে ফল প্রাপ্ত হওয়া যায়, মােগজনিত চিত্তবৃত্তি নিরােধ হইতে যে ফল ফলে, সৰ্বস্বানে যে ফলপ্রাপ্তি ঘটে, বর্ণাশ্ৰমধৰ্ম্ম- পালনাদি ইতর শ্ৰেয়কৰ্ম্ম হইতে যে ফলোদ্ভব হয়, এসব ফল ব্যতীত অন্যান্য বহুবিধ কর্মের ফল আমার ভক্ত কেবল আমার ভক্তিতেই লাভ করিয়া থাকেন। আমার ভক্তের কোন বাঞ্ছা থাকে না। আমার ভক্ত অর্গাপ- বর্গ এমন কি আমার ধাম পর্যন্তও অভিলাষ করেন না। তথাপি আমি তাহাকে সত্বরে উহা প্রদান করি। কিন্তু আমি আমার এই প্রকার ভক্তকে স্বর্গীপবর্গ প্রদান করিলেও তিনি আমার ভক্তির সমক্ষে কৈবল্য ও অপুনর্ভবাদি প্রভৃতি অদেয় দুর্লভদান ত্যাগ করিয়া কেবল অনন্ত বৈষ্ণৰধৰ্ম্ম আমার ভক্তিকেই গ্রহণ করেন। আমার অনন্য ভক্তের ইহাই বিশেষ মাহাত্ম্য। এই মাহাত্মের কারণ এই যে, আমার ভক্ত সুখ-দুঃখাদি সমজ্ঞানে নিরীক্ষণকারী ধীরস্বভাব । আমার ভক্ত প্রাণিমাত্রেরই হিতসাধক সাধু এবং আমাতেই আপন আত্মা সমীক্ষণকারী একচিত্তী হয়েন। সুতরাং এই প্রকারে তিনি নিরপেক্ষ হইয়া থাকেন। সৰ্ব্ববেদ ও মুনি- ঋষিগণ এই নিরুপেক্ষতাকে সর্বপ্রকার নিঃশ্রেয়সের সমুদ্র বলিয়া থাকেন। এই নিমিত্ত আমার নিরাশিষ ভক্তের আমার প্রতি রাগাত্মিক ও নিষ্কাম ভক্তি জন্মে। ভক্তের পক্ষে এই নৈরপেক্ষ ও নিষ্কাম ভক্তিই যথাসর্বস্ব। এইজন্য দৃঢ় অনন্যভক্তের উচিত এই যে, কৰ্ম্মযােগ ও জ্ঞানযােগাদি সর্বপ্রকার সাধন ত্যাগ করিয়া কেবল আমার প্রতি উক্ত প্রকার দৃঢ় অনন্যভক্তিপূৰ্ব্বক শ্রীরাধিকাসহ আমার সেবা করিবে। প্রিয়াদাসজী মহারাজকৃত সুসিদ্ধান্তোত্তম গ্ৰয়ােক্ত শ্লোকের ইহাই অর্থ এবং ইহাই দৃঢ়তা, ইহাই রসিকতা এবং ইহাই অনন্যতা এবং ইহাই দৃঢ় রসিক অনন্য বৈষ্ণবধর্ম । অনন্যতা ও অনন্যতার দৃঢ়তা সম্বন্ধে এ পর্যন্ত অনেক প্রমাণ বলা হইয়াছে। এখন রসিকতাসম্বন্ধে কিছু বলা যাইতেছে। রসিকতা রসের উপাসনা করাই রসিকতা। রস ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণেরই এব নাম। শ্রুতিতে লিখিত আছে :- "रसो वै सः रमं येवायं लब्धा भानन्दी भवति ।" ভগবান শ্রীকৃষ্ণই নিখিল রসের আশ্রয়। শ্রীমদ্ভাগবতে লিখি , অনন্ত বৈষ্ণবধর্ম సన { r নালামলিন যা নাৰ জীঘা ৰী সুন্নিা শাৰীলা ও নানা বিনিমুল মাদা: বিনা: মি:, मृत्योर्भोजपते दिराड़ विदुषां तवं परं योगिनां ঘীলা এবষননি বিহিনী ন ম্বল। অর্থাৎ পরমানন্দ রস স্বরূপ সৰ্বব্যাপক এক অদ্বিতীয় শ্রীকৃষ্ণ যখন বলরামসহ কংসের রঙ্গভূমিতে উপস্থিত হইয়াছিলেন, যদিও সেই সময়ে তিনি ভিন্ন ভিন্ন লােকের ভাবনার অনুকূল ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ করেন নাই, তথাপি ভিন্ন ভিন্ন ভাবনার লোেকদের মনে তাহার ভিন্ন ভিন্ন রূপের অনুভব হইয়াছিল। অর্থাৎ জন সাধারণ দেখিলেন শ্রীকৃষ্ণ পুরুষােত্তম, স্ত্রীলােকেরা দেখিলেন, তিনি যেন মূর্তিমান্ কামদেব অর্থাৎ শৃঙ্গাররসমূৰ্ত্তি। শ্রীদামাদি গােপগণ দেখিলেন যে তিনি তাহাদের স্বজন, আপনাদের মিত্র ও মূৰ্ত্তিমান্ হাস্যরস, নন্দ ও বসুদেব দেখিলেন যে তিনি তাঁহাদের শিশু অর্থাৎ বাৎসল্যাত্মক মূর্তিমান্ করুণরস। কৃষ্ণ- বিমুখ অসজ্জন রাজারা দেখিলেন শ্রীকৃষ্ণ যেন তাহাদের শাসনকর্তা অর্থাৎ মূৰ্ত্তিমান্ বীররস। চাণুর ও মুষ্টিক প্রভৃতি মল্লগণের বােধ হইল, শ্রীকৃষ্ণ যেন বজের ন্যায় সাক্ষাৎ রৌদ্ররস। সাধারণ লােকেবও অত্যন্ত উৎসাহরূপী বীররস বলিয়া প্রতিভাত হইয়াছিলেন। ভােজপতি কংস মনে করিলেন ইনি যেন সাক্ষাৎ যম। সুতরাং তাহার নিকট শ্রীকৃষ্ণ ভয়ানক রসরূপে প্রতিভাত হইলেন। অবিদ্বান্ মীমাংসকগণের নিকট তিনি বিরাটুরূপী বীভৎসরূপে প্রতিভাত হইলেন। শ্ৰীভাগবতের প্রথম স্কন্ধে লিখিত আছে, যােগী ও ঋষিরা তাহাকে পরব্রহ্ম বলিয়া নির্দেশ করেন, উহা শান্তরস। সুতরাং যােগিগণের সমক্ষে তিনি মূর্তিমান্ শান্তরস।, উদ্ধ- বাদি বৃষ্ণিগণ শ্রীকৃষ্ণেরদাস, তাহারা তাহাকে পরমদের পরমেশ্বরূপে ত্যক্ষ করিলেন, এখানে ভক্তিরস প্রকটিত হইল। একই গ্রীকৃষ্ণ অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম এরূপ ভিন্ন ভিন্ন মূৰ্ত্তিতে এককালে অনুভূত হওয়ার কারণে ঐশুক, দেবজী বলিয়াছেন, শ্রীকৃষ্ণ ভগবান্ আমাদিগকে মাধুর্যের মধ্যেও পরম ঐশ্বৰ্য্যদর্শন করাইয়া মূর্তিমান্ অদ্ভুত রসরূপেই অনুভূত হয়েন। এই নিমিত্ত পূর্ণতম ভগবান্ নদ-নন্দন সৰ্ব্বরসের আধারভূত অদ্ভুতরসস্বরূপ। মৃত্তিকা- ভক্ষণ ও দমবন্ধন-লীলায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আপনার মাতা যশােমতীকে এই অদ্ভুতসই দেখাইয়াছিলেন। ভগবানের যত যত অবতার, তৎ- সকলই তাঁহার পৃথক পৃথক্‌ শক্তির আশ্রয়। শ্রীকৃষ্ণই সর্বশক্তির লীলাধার। কেননা সৰ্বশক্তিই শ্রীকৃষ্ণ হইতে প্রাদুভুত হয়েন। একই ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে পােদা মাতা গর্ভোদশায়িরুপে দর্শন করেন, অক্রুর ক্ষীরোদশায়িরূপে, অৰ্জ্জনাদি নারায়ণবিগ্রহরূপে, বৎসহরণ-ব্যাপারে ও দ্বারকায় ব্রহ্মা উহাকে কারণবশান্তিরূপে প্রত্যক্ষ করিয়াছিলেন। পদ্মপুরাণে লিখিত আছে :-“পৃষ্ট। ব্রাহ্মণমাগত্য হইতে আরম্ভ अथ स्मृत्वा मुकुन्दे न हारवत्यां श्रुतं तदा । মুন্তাজা রূতি লীজকাল কামনা। अष्टवक्ता चतुःषष्ठो वक्ता शतमुखा स्तथा। सहस्त्रवक्ता लचास्याः कोटि वताविरञ्चयः । रुद्राश्व নিয়নি मुखा स्तथा पञ्चदशानना: মন বন্ধ। ধাৰা: লন্থ অং মিনা। ইহা অদ্ভুতেরও অদ্ভুত। এই অদ্ভুতানন্দরস উহার আশ্রয় ছিল, এইরূপে ভগবানকে যিনি উপাসনা করেন, তাহাকে রসিক বলা যায় এবং তিনিই দৃঢ়-রসিক অন্যন্য কৃষ্ণভক্ত। মহামহিমান্বিত ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই সকল স্কুল-সূক্ষ্ম মহিমার অন্ত অনন্য বৈষ্ণবধর্ম নাই। অপার ভগবানের মহিমাসাগরের পারাপার নাই। বিশুদ্ধাদ্বৈত রস মূল ভগবান্ শ্রীরাধাবল্লভের মাহাত্ম্য বর্ণনাতীত। ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণ হিততত্ত্বরূপী এক বস্তু । রাধােত্তরপিনী শ্রুতিতে কথিত হইয়াছে- एकोहि तत्वो हितः অর্থাৎ শ্রীরাধা ও শ্রীকৃষ্ণ হিততত্ত্বরূপী একই। শ্রীনাগরীদাসজী স্বীয়হিষ্টকে বলিয়াছেন—“রাধিকাদেহ হরিবংশ মন রাধিকা অর্থাৎ শ্রীরাধা ও শ্রীকৃষ্ণের দেহ ত হিত অার এই হিতের মন শ্রীরা ও শ্রীকৃষ্ণ। এই প্রকার শ্রীরাধা ও শ্রীকৃষ্ণের জলতরঙ্গের ন্যায় বিশুদ্ধ একতা স্বীকার্য। কিন্তু এক স্বরূপ হইতে তো লীলা-মাধুৰ্য্য প্রকাশ হয় এইজন্য আপন বৃন্দাবন-বামের দৃঢ় অনন্যরসিক ললিতা, বিশাখা, ঐহিতহরিবংশজী, শ্ৰীবনচন্দ্ৰজী এবং শ্রীকৃষ্ণদাসাদি অভিন্ন ভক্তগণের প্রতি কৃপা করিয়া উহাদিগকে আপন বিশুদ্ধ দাম্পত্য নিত্য নিকুঞ্জবিহার- সুখ অনুভব-আস্বাদন করাইবার নিমিত্ত শ্রীভগবান শ্রীবাধা ও কৃষ্ণনামে দুই মূর্তি ধারণ করেন। সম্মােহন তন্ত্রে লিখিত আছে :- ।” "तस्माज्जयोतिवभूधा राधामाधवरूपकम् অর্থাৎ সেই এক হিত প্রকাশ হইতে রাধা ও মাধব নামে দুই তেজঃ প্রকাশিত হইলেন। অথব শ্রুতিতে লিখিত আছে- येयं राधा यक्ष कृष्णो रसाधिदेशकः । क्रीड़नार्थे विधाऽभूत् यथा च्छायया शोभमानः । অর্থাৎ রসের অবধি রাধাকৃষ্ণ একই। যজুর্বেদে লিখিত আছে। त्वयि सबै रसे एकरसो विधाविधाय सर्वमेव रमयाकार।

অনন্য বৈষ্ণবধর্ম অর্থাৎ আপন একরসস্বরূপ হইলেও দুইরূপ ধারণ করিয়া প্রকট রমণ করেন। সুতরাং এই দুইয়ে একইরূপ। ইহাদের ভেদ নাই। এইজন্য অভেদভাবে শ্রীরাধার সহিত শ্রীকৃষ্ণের উপাসনা করা কর্তব্য। শ্রীরাধার সহিত শ্রীকৃষ্ণ সেবত হইলেই তিনি ভুক্তিমুক্তিসহ ভক্তি প্রদান করেন। কেহ কেহ শঙ্কা করিয়া বলেন—কেবল একমাত্র শ্রীকৃষ্ণভজনে কি দোষ হয় ? ইহাদের ইহা জানা আবশ্যক যে, কেবল শ্রীকৃষ্ণভজনে বাস্তবিকই দোষ আছে। সম্মােহনতন্ত্রে শিবশঙ্কর বলেন :- गौरतेज: विना यस्तु श्यामतेज: समर्चयेत् जपेहा ध्यायते वापि म भवेत् पातको शिवे । स ब्रह्महा सुरापि च स्वर्णस्तेयोच पञ्चमः । एतै दर्दो विलिप्येत तेजोभेदान्महेश्वरि ॥ অর্থাৎ যদি কেহ গোঁৱতেজ ( শ্রীরাধিকা) ভিন্ন শ্যামতেজের (শ্রীকৃষ্ণ অনা করেন, জপ করেন বা ধ্যান করেন, তিনি পাতকী হয়েন। তাঁহার ব্রহ্মহতা, সুরাপান, স্বর্ণস্তে, গুরুপত্নীগমন এবং গােহত্যাদি-দোষ ঘটে। এইজন্য কখনাে তেজোভেদ কবিতে নাই, স্বয়ং ভগবাই এই দোযের ফলের কথা বলিতেছেন যথা- आवयोर्भद बुद्धिश्च यः करोति नराधमः । तस्यवास: कालसूवे यावञ्चन्द्र दिवाकरी। অর্থাৎ যে নরাধম আমাদের ভেদ-বুদ্ধি রাখে, তাহাকে যাবচ্চন্দ্র- দিবাকর নরকভােগ করিতে হয়। এই নিমিত্ত জানা আবশ্যক যে, রাধাকৃষ্ণে ভেদবুদ্ধিতে দোষ হয়। এই দুই বিগ্রহ এমনই অভেদ যে, *রাধাকৃষ্ণ” এই নাম উচ্চারণে কোনরূপ ব্যতিক্রম হইলেই উহাতে দোষ ঘটে, এ সম্বন্ধে স্বয়ং নারায়ণ বলেন :-

অনন্য বৈষ্ণবধর্ম
पादौ राधां समुच्चार्या पश्चात् कृष्णं वदेहधः ।
व्यतिक्रमे ब्रह्महत्यां लभते नात्र संशयः ॥
প্রথমতঃ শ্রীরাধা-নাম উচ্চারণ করিয়া পরে কৃষ্ণ-নামােচ্চারণ করিতে
হইবে। ইহার ব্যতিক্রম হইলে ব্ৰহ্মহত্যাদোষ ঘটে, ইহাতে সংশয় নাই।
কেননা এই দুইই এক। বেদে লিখিত আছে -
বাধয়া অভিনীনী নাৰ ৰ খ্রিহ্মা।
अनयोर्मेदं पश्यति स संमृते मूतो न भवति ॥
ব্ৰহ্ম-সংহিতায় লিখিত আছে :-
यः कृष्णः सापि राधाच या राधा कृष्ण एव च ।
মনীনৰামী ল'ৰাৰ নিম্বন !
এই নিমিত্ত মুমুক্ষেরও রাধাকৃষ্ণের ভেদজ্ঞান করা উচিত নহে।
কেননা উহাদের ভেদতো একবারেই সম্ভবপর নহে। ব্রহ্মপুরাণে লিখিত
আছে ।
‘ধা নিজা নিন্ত জঘী ধান্ধী ।”
অর্থাৎ রাধাকৃষ্ণাত্মিক, এবং কৃষ্ণরাধাত্মক ইহাতে কোনও ভােদ
নাই ইহা ধ্রুব। এই নিমিত্ত রাধাকৃষ্ণের ভেদভাব স্বীকার করা কোনও
মতে কৰ্তব্য নহে। কিন্তু এই উভয়কে উক্ত প্রকার দৃঢ় অভেদ জানিয়া যদি
কেহ একমাত্র শ্রীরাধা বা একমাত্র শ্রীকৃষ্ণের অর্চনা করেন, তবে তাহা
দোষাবহ হয় না। পরন্তু গুণজনকই হয় । কেননা তাদৃশ উপাসকের
মনে তাে কোন ভেদ নাই। বৈষ্ণবাগমে লিখিত আছে -
ब्रह्मानन्दरसादनन्त गुणितो रग्यो रसो वैष्णवः ।
तस्मात् कोटिगुणो ज्वलच मधुरः श्रीगोकुलेन्द्रोरसः ।

অনন্য বৈষ্ণবধর্ম নান মনিঃ সনিৰ ৰষনা অ। श्रीराधापदपअमेव परमं सबखभृतं मम। অর্থাৎ ব্রহ্মানন্দ রস হইতে অনন্তগুণ অধিক রম্য বৈষ্ণবরস। উহা হইতে কোটিগুণ অধিক উজ্জ্বল ও মধুর শীগগাকুলেন্দ্র রস এবং উহা হইতে অসংখ্যগুণ অধিক চমৎকারযুক্ত প্রতিমুহূর্তে সৰ্বরসবর্ষণশীল শ্রীরাধিকার পাদপদ্মরস, আর উহাই আমার যথাসর্বস্ব। শ্রীমৎ রাধারসসুধানিধি গ্রন্থে লিখিত আছে :- धर्माद्यर्थ चतुष्टयं विजयतां किंतत् वृथा वातया। से कान्तेखर भक्तियोगपदवीत्वारोपिता मूई नि यो वृन्दावन सीमिकाचन धनाश्चर्यः किशोरोमणि स्तत्को वयं रसामृतादिह पर चित्ते न मे रोचते । অর্থাৎ ধৰ্ম্ম অর্থ কাম মােক্ষ এই যে চতুর্বিধ পদার্থ আছে ইহাতে আমার কি প্রয়ােজন ? আমার সম্বন্ধে এই সকল বাক্যাদি একান্ত বৃথা। কেননা ধৰ্ম্ম তিন প্রকার। এক আচাররূপী, দ্বিতীয় ব্যবহার- রূপী, তৃতীয় প্রায়শ্চিত্তরূপী। আচারের নিয়ম একটা শুনুন, “একোলিঙ্গে গুদে তি” এইরূপ আচারধৰ্ম্মেতো কেবল লিঙ্গ ও গুদের কথাই স্মরণ হয়, ভগবৎবার্তা তাে ইহাতে নাই। ব্যবহারে “ইহাই কৰ্তব্য, এই কর্তব্যে ভাগিনেয়, জামাতা, শ্বশুর, শালা ইত্যাদির ব্যবহার সম্পাদন করিতে হয়, ইহাতে ভগবানের নাম পর্যন্ত নাই। অপর প্রায়শ্চিত্তে “অমুক পাপের এই প্রায়শ্চিত্ত এইরূপ পাপের কথা লইয়াই দিনরাত অতি- বাহিত করিতে হয়। ভগবানের নাম কখনও করা হয় না। ইহাতে দেখা গেল ধর্মতত একরূপ বৃথা হইল। অর্থের কথা এই যে, ইহাতে স্তেয় আদি ১৫টা অনর্থের মূল আছে। সুতরাং উহার আবার গৌরব কি? তাহা হইলে অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম উহাও বৃথা। তৃতীয় বিষয়-কাম-উহা অতি ঘৃণাজনক, সুতরাং ইন্দ্রিয়- প্রীতিরই বা একটী গৌরব কি? অতঃপরে মােক্ষের কথা। মােক্ষ কি ? মােক্ষ তাে সর্বথা নামরহিত। ইহার জন্য আর বৃথা পরিশ্রম কেন ? কোন সময়ে কেহ আমায় প্রশ্ন করেন যে “আপনি কিসের বলে উক্ত চারি পদার্থের অনাদর করিতেছেন ?” ইহার উত্তরে বলিব যে, “অনন্যের ঈশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণেরই ভক্তি-যােগপদবী নিজের মাথায় নিশ্চল- রূপে ধারণ করিয়াছি। এই নিমিত্ত অন্য পদার্থ আমার শিরে স্থাপিত হওয়ার যােগ্য নহে, অপরন্ত আমার এতদ্ব্যতীত আর দ্বিতীয় কোনও কৰ্তব্যতা নাই । কেননা শ্ৰীবৃন্দাবনে যে সর্বদা এক নিবিড় ঘন-আশ্চৰ্য্যরূপ কিশােরীমণি (শ্রীরাধিকাজী ) আছেন, উহার কৈঙ্কৰ্য্য রসামৃত ছাড়িয়া অন্য কোন পদার্থে আমার চিত্তের রুচি নাই। রুচি ভিন্ন কোনও কাজ হয় না।” অপিচ :- पलं विषयवार्तया नरककोटिवीभत्सया। ভুয়া সুনি-সুমী বন বিমৰি লবন: অমলনী যদি মায়া জি নন। परन्तु मम राधिका पदरसे मनोमज्जतु ॥ অর্থাৎ কোটি নরক হইতে বীভৎস জনক যে বিষয়ের বার্তা, তাহাতে আমার কি প্রয়ােজন ? “স্বাধ্যায়ােহধ্যেতব্য” এই বিধি অনুসারে বেদা- ভ্যাস যাহাদের কর্তব্য হয়, তাহারা তাহা করুন, আমার হাতে কি প্রয়ােজন, কেননা বেদের কথায় পরিশ্রম করা বৃথা। অপরন্তু মোক্ষের কথা আমার নিকট অতীব ভীতিজনক কেননা নরকাদির তাে তবু নামধাম আছে, কিন্তু মােক্ষের একেবারে নামধাম নাই, অপিচ শুক, সনকাদি মুক্ত অবস্থা প্রাপ্ত হইয়াও পরমেশ্বর ভজনমদে প্রমত্ত।

অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম
যাহাহউক তাহারা যদি সে ভজনে ভাল থাকেন থাকুন, আমার তাহাতেও
কোন সম্বন্ধ নাই। কেননা আমার নিকট তাদৃশ ভজনও রুক্ষ বলিয়াই
প্রতিপন্ন হয়। কিন্তু আমার মন শ্রীরাধাকৃষ্ণের ভক্তিরসসাগরেই নিমজ্জিত
হউক, ইহাই আমার অভিলাষ।
এই প্রকার শ্রীকৃষ্ণৱস অথবা দাম্পত্যভাবযুক্ত নিত্য কিশােরকিশােরী-
দম্পতি, নিত্য বৃন্দাবন, নিত্য নিকুঞ্জবিহারী ভগবান্ শ্রীরাধাবল্লভের
কিঙ্করীভাবরসে, যাহার দৃঢ় উপাসনা হয় তিনিই রসিক, তিনিই
রসিকশিরােমণি। ইহাই রসিকতা। আমার এই গ্রন্থের প্রারম্ভে
যে “দৃঢ়-রসিক অনন্য পদ ব্যবহত হইয়াছে, উহাতে যে রসিক শব্দ আছে
উহা এতাদৃশী রসিকতাউপাসনাকারীর জন্যই আছে। দৃঢ়-অনবৈষ্ণব-
ধৰ্ম্মের শ্রেষ্ঠতা ও প্রয়ােজনীয়তার দৃষ্টান্তে সতীধৰ্ম্ম ও শূৱধৰ্ম্ম প্রদর্শিত
হইয়াছে, আমি এই গ্রন্থের প্রারম্ভে নাগরীদাসজী এবং উড়ছানিবাসী
ব্যাসজীর অদ্ভুত পদাবলি উদ্ধত করিয়াছি এবং ভক্তি শূর ধম্মের ঐতি-
হাসিক প্রমাণে স্বামী চতুভুজদাসঙ্গীর সংক্ষিপ্ত চরিত্র লিখিয়াছি, এখন এসব
হইতেও অত্যন্ত অদ্ভুত-আনন্দ-রসরঞ্জিত দৃঢ় রসিক অনন্য ভাবাভাবিত
ভক্ত-শিবােমণি রসিকরাজ বিদ্বৎকুলকমলসূৰ্য্য শ্ৰীমদগােস্বামি শ্রীকৃষ্ণদাসজী
মহারাজের সংক্ষিপ্ত স্বভাবসুধাররস উহার কৃত কৰ্ণানন্দনামক আশ্চর্য্য
কবিতাগ্রন্থ হইতে পঞ্চদশটা শ্লোক দৃষ্টান্ত স্বরূপ উদ্ধত করিয় পাঠক-
গণকে সেই সুধারস পান করাইয়া এই গ্রন্থের পরিসমাপ্তি করিতেছি—
-
---
“বালায়মাৰিৰীৰিমানন,
जात त्वं पद तत्पदार्थ मनने केषांचिदन्तर्मनः ।
অগ্রজুনিৰ ল হৰিজা ৰীৰৱাল
प्रासादेनिवसंघकात हदये ओराधिकावल्लभः ॥४॥

অনষ্ঠ বৈষ্ণবধৰ্ম্ম
०१
वादीन्द्रा:प्रतिवादिनोऽभिभवितुतर्कादिसंचिन्वतां
ये ऽलङ्काररसातिदक्षिणहद स्तेकाव्यमातन्वता ।
ये वेदान्तनितांतदत्तमतयस्तेब्रह्मसंमन्वतां
केचिद्ये तु वयं निकुञ्जरसिक क्रीडाविनोदाः स्फ टम् ॥५॥
कैश्चित् प्राक्तनकर्मभोगवशगे तरसूयाकुले
दर्दोषो मय्यवरोप्यतामुत तथा मित्रैगुणग्राहिभिः ।
सधर्मार्जवबुहिसौष्टवयुतं शीलं मम स्त यता
चेतःश्रीवृषभानुजासहचरं निर्विघ्नमालंवताम् ॥६॥
केचिद्भावभिदातिरिक्तमतयोब्रह्मान युः किं गतं
श्रीमच्छोपति पादपद्मरसिका केचिद्भवेयुः शुभं ।
उत्कालंभजतां यथारु चिविभु भक्तोऽखिल: किन्तु नः
श्रीराधामृटुकण्ठ कंदलभुजेक्लष्ण मनोमज्जतु ॥७॥
रक्ष निर्जन वने राइथवा, देहि जन्म सुकुलेपि वा यथा ।
कीर्तिमथवापकीर्तनं मुदा,
नैव विस्मृतिमुपेहि मे विभो ॥११॥
किं नु देयमखिलार्थशेवधे, किं नु नेयमपि वा परात्मनः ।
चन्द्रचन्द्रकपरागशीतला, त्वत्कथा श्रुतिमलं विगाहताम् ॥१२॥
स्फट तृष्णागरलाधि रूढ़मोहो विषयाशी विषमानसोऽपिपहम्
पात्मनमवैमि ते भिधानात्म नुतः श्रीगुरुणा हरेनु गीतात् ॥१३
येषां त्वय्यखिलोत्तमोत्तम मति ास्यादगुरुपासना
तेषां का निजकर्मपद्धतियुजां भक्त: कथा सापि न ।
लोकपोत्थमिदं यथातिशिशवः तवत्तिभेदा बुधा
अन्तिख कमकं त्यजन्ति खल वत्त्वज्ञास्तु तत्काक्षिणः ॥१५॥

অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম किंकरोमि निजवर्णवैभव, नंदतादपि स पात्रमविरं। पामरैरपि रहौतमान, भक्तितस्तमहमाश्रये रिम् ॥१७॥ यदपि निगमदिष्ट खोयकर्माधिकारी, विषयमतिरकल्पः खैरमुन्मार्गगामी। सदपि हरि पदाल न्यस्त सर्वोत्तमाशा, मति वदति तदर्थ हा जनोभूरिमोहः । श्रद्धव नान्यत्र करोमिकिम्बा, श्रद्धा विना कर्म फलं न सूते । श्रद्धातु या ता हरिभक्ति भावे, लोकः सदा तुष्यतु रुष्यताहा ॥ अहं त्वदीयो यदिति व्रतं मे, त्वं तुष्य मातुष्थ पति स्वमेव । भर्तयं तुष्टेपि हरे न लिम, साध्वीयसी या युवति स्तदन्यम् ॥ यद्भुताशेषादुपवास हडि, यंत्पादतोया हहु तीर्थलाभः । यत्कीर्तनात्मशुभार्थसिद्धि, स्त कृष्णचन्द्रप्रणमामि नित्यं । शृस्वन्तुसर्वे पितरः सदेवाः, मत्तोनिराशा वलितो भवन्तु । जातोभिलाषी तु वलो मुकुन्दो, हानि क ग्रहणीतजनान्तरेभ्यः ॥ नोकि समंजसमिहत्यसमंजसंवा, वेदेतिगूढ़सरसो कलयामि किंचित् । एतेन सर्व कलनं भवताबवाय, होविन्द पादभजनादितरबजाने। निंदापरा बंधुवराबुधानां तत्वेन जानन्तु त एव धीराः । जातंमलंदैव वशादतस्ते खेनापि कर्षन्ति रसन्द्रियेण । भो निन्दका भो बहुतकंवादाः, शृण्वत्वसूया रसिकास्तथेदं । शूरा भवन्तः खरसे वयंतु, खेलण भावे किमुकातराःमः ॥

+ অনন্ত বৈষ্ণবধৰ্ম্ম स्वधर्ममुद्दृष्य मां दभिनो दंभयुतंवदंतु, प्रमत्त चित्ता धनिनचमत्तं অলীসিন; কামনা লু', যা বিনিজঘ। चेदर्थ हानिः ममनापरस्य, हो कि विवादं जनता विधत्ते। हरि भजन्वा প্রয় ছানি অবলমাৰ ঘৰ।” অর্থাৎ দৃঢ়-অনন্যরসিকরাজ গােস্বামী শ্রীকৃষ্ণদাসজী মহারাজ স্বীয় স্বভাবসুলভ সিদ্ধান্ত এবং আপন প্রকৃতি-আদি বর্ণন করিতে করিতে বলিয়াছেন, “সৰ্ব্ববেদের শিরােভাগ বেদান্তের বিশেষ জ্ঞান বিভবের সামর্থ্য হইতে যাহার তর্করূপ ভ্রম বিনষ্ট হইয়াছে এবং তৎ ও ত্বম পদের অর্থ মননদ্বারা জীবের উপাধি-অংশনিষেধে জীব ব্রহ্মের একতায় দৃঢ়বিচার যাহার হৃদয়ে সাব্যস্ত হইয়াছে, এই সকল যােগীর হৃদয়ে শুদ্ধ-চৈতন্য ব্ৰহ্ম ভালরূপেই প্রকাশ হউক না কেন, কিন্তু তাহাতে আমার কোনও হানি লাভ নাই, কেননা আমার হৃদয়ে ত যমুনাকুল-কমনীয় বঙ্কুলনিকুঞ্জ-মন্দিরে বিরাজমান শ্রীরাধাবল্লভীরই পূর্ণ প্রকাশ রহিয়াছে । ৪। যে বাদী অর্থাৎ বিপক্ষ প্রতিবাদীদিগকে হয়রান করার জন্য তর্ক- শাস্ত্রাদির সম্যক্‌ অভ্যাস করে, যে আলঙ্কারিক (সাহিত্যের ষমকাদি শব্দা- লঙ্কার ও উৎপ্রেক্ষাদি অর্থালঙ্কার অভিজ্ঞ ) অলঙ্কারের যাবৎ নিয়ােজনে সুদক্ষ, যিনি স্বীয় কবিত্বশক্তির বিকাশ করিয়া কাব্যশাস্ত্র বিস্তার করেন আর যিনি বেদান্তশাস্ত্রে অত্যন্ত মতিমান্ এবং ব্রহ্মকে ভালরূপে জানেন ও মানেন, তাঁহারা সেই সব করুন কিন্তু আমাদের তাে এই প্রকৃতি যে, নিকুঞ্জরসিক রাজাধিরাজ ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণের দাম্পত্যবিহার লীলায় আপন মনের পরম সুখ হইয়া থাকে। আমার যে পূৰ্ব্ব-জন্মের শুভাশুভ কৰ্ম্মফল আছে, আমি যখন উহা ভােগ করিতে করিতে সুখ-দুঃখ ভােগ করি, তখন আমাকে নিক- ১১০ অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম বংশীয় লােকগুলি যদি দোষারােপ করে, করুক; কেননা প্রারভােগই দোষারােপণ করার সন্ধি, কিন্তু তাহা হইলেও ইহা নিশ্চয় যে আমি ঐ সকল কৰ্ম্মফল ভােগ হইতে নিস্তার পাওয়ার কামনায় অন্য প্রকার পুরুষার্থ সাধনের চেষ্টা কখনই করিব না। কেননা আমার জন্য তাে শ্রীমদ্ভাগবতে লিখিত হইয়াছে - तत्तेऽनुकम्पा सुसमीक्षमाणो, भुञ्जान एवात्मकतं विपाकम् ।" আর যে ব্যক্তি আমার গুণগ্রহণকারী আমার মিত্র, যে আমার আচরিত সদ্ধৰ্ম্মের মৃদুতা, আর আমার বুদ্ধির তীক্ষ্ণতা ও আমার শীলতা- দির প্রশংসা করেন, তিনিও উহা করুন, উহার প্রশংসাতেও আমার চিত্ত ভােলে না। আমার চিত্ত ত উক্ত প্রকার নিন্দা ও প্রশংসার অগম্য থাকিয়া শ্ৰীবৃষভানুনন্দিনী সহচর শ্রীকৃষ্ণকে নির্দিষ্ম রূপে অবলম্বন করিবে। কোন কোন ব্যক্তি এমন আছেন, যাহাদের বৃদ্ধি শরীবাদি ভেদ করিয়া ব্ৰহ্মকে প্রাপ্ত হয়েন এবং ব্রহ্মকে ভজন করেন। তাহারাও ভালই করেন। উহাতে আমার ক্ষতি কি ? কেননা তাহারা স্বয়ং ভক্তিরস হইতে বঞ্চিত হন। আর কোন কোন ব্যক্তি এমনও আছেন, যাহারা লক্ষ্মী- পতি ভগবান্ বৈকুণ্ঠনাথের কোমল চরণকমলে সুরসিক, ইহাও পরম শুভ কথা। তাঁহার মন ঐ শ্রীচরণে অনুরাগপূৰ্ব্বক লাগিয়া থাক। তাহাতেও আমার কোনও বিবাদ নাই। কিন্তু আমার তত এই কামনা যে শ্রীরাধার কোমল কাশ্লেষী শ্রীকৃষ্ণেই যেন আমার মন নিমগ্ন থাকে। হে শ্রীকৃষ্ণ! আপনি আমায় লােকসঞ্চারশূন্য নির্জন বনেই রাখুন, কিংবা পরিজনসঙ্কুল গৃহেই রাখুন, ব্রাহ্মণাদি উত্তমকুলেই আমার জন্ম দিন, অথৰ চণ্ডালাদি দুস্কুলেই আমার জন্ম হউক, জনসমাজে আমার কীর্কি প্রতিফলিত করুন, কিংবা অকীর্তি উদেঘাষিত করুন, আপনার অনুন্য, বৈষ্ণবধর্ম ১১১ বিধানে যেমন হইবার হউক, কিন্তু আমার তো ইহাই অভিলাষ, আপনার ধ্যান হইতে কখনও যেন আমার মন বিচলিত না হয়।১১ হে অখিলাৰ্থশেবধে! আপনাকে প্রদান করার জন্য আমার কি আছে ? কেননা আপনি তাে সকল অর্থের নিধি। হে পরাত্মন্ ! আপনার নিকট হইতেই বা আমি কি লইব ? কেননা, আমাসহ নিখিল পদার্থের আত্মা তাে আপনি! তজ্জন্য আপনি এই কৃপা করুন যে, দেনা নেনা তাে কিছুই হয় না, কিন্তু আপনার অবিচ্ছেদ স্মরণ বজায় রাখার জন্য রসিক সৎসঙ্গাদি দ্বারা চন্দ্রাংশু-কিরণসদৃশ সমগ্র তাপপাপশমক আপনার কথার ধারাবাহিক রীতি যাহাতে আমার কর্ণে স্থান পায় তাহার বিধান করুন।১২ হে হরে! স্কুট-তৃষ্ণারূপগরল হইতে আমি মােহপ্রাপ্ত, আমি বিষয়াশী ও বিষয়মানস হইয়াও আমি যে দেহাদি ভিন্ন আপনার অংশভূত চিদাত্মা, নিত্য সুখস্বরূপ, ইহাতে আপনি শ্রীগীতায় প্রকাশ করিয়াছেন আর শ্রীগুরুপ্রদত্ত ত্বদীয় মন্ত্রবলেই তাে তাহা জানিয়াছি।১৩ হে অখিলােত্তমত্তম কৃষ্ণ! পুনঃপুনঃ কৰ্ম্মানুষ্ঠান জন্য সংস্কারবশ কৰ্ম্ম- পদ্ধতিতে যাহার বন্ধন ঘটিয়াছে এবং শ্রীগুরুকৃপাবল না থাকায় যাহার মতিগতি আপনাতে নাই, উহারা এমনই অবােধ, যেমন শিশুগণ আপ- নাদের ক্রোড়স্থ সুরক্ষিত স্বর্ণ গ্রহণ না করিয়া উহা ত্যাগ করে, কেননা উহারা উহার বৃত্তিভেদ অর্থাৎ ভােগ জানে না। এই প্রকার শ্রীগুরু-কৃপা- বল ব্যতীত বৃথাকর্মে প্রবৃত্ত অবােধমানবগণ আপনাকে জানে না, আপনার ভজনও করে না। আবার অপর পক্ষে যাহার আত্মজ্ঞান আছে, তাহার অবস্থা ইহার বিপরীত। যেমন স্বর্ণজ্ঞ ব্যক্তি স্বর্ণ দেখিলে তাহার প্রাপ্তির লালসা করে, আত্মজ্ঞব্যক্তিও সেইরূপ আপনাকে প্রাপ্তির লালসা করে।১৫। হায়। লােকের কি প্রকার অবিবেক ও মােহ ! বিষয়-বাসনায় আর অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্ম মার্গ হয়। থাকিয়া বেদনির্দিষ্ট আপন অনুষ্ঠেয় কৰ্ম্মরণে স্বয়ং তত অসমর্থ হয়। আর আপন বিষয়-বাসনা পূরণের জন্য অকৰ্ম্ম-বিকৰ্ম্ম করিয়া স্বয়ং উচ্ছ জ্বল- আর ঐ সকল কর্মের জন্য এতাদৃশ ভগবদ্ ভক্তগণকে নিন্দা করে, যাহারা আপনাদের সর্বপ্রকার উত্তম আশয় ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণ- চরণে সমর্পণ করিয়া দিয়াছেন। অর্থাৎ যদিও স্বয়ং তো ক্ষুদ্রবিষয় সুখ- সম্ভোগের অনুরােধে বিহিত কৰ্ম্মের অনাদর করে তথাপি অসুর-স্বভাবের পরিচয় দিতে দিতে কেবল ভক্তিকে সহিতে না পারিয়াই সেই স্মৃত্যুক্ত কৰ্ম্মগুলির পক্ষ সমর্থনের মিথ্য। ভাণ করিয়া ভক্তগণের নিন্দা করে। ১৬। আমি আপন ব্রাহ্মণাদি বৈভব অথবা আপন গৃহস্থাদি আশ্রম-সম্পত্তি লইয়া কি করিব? যাহাদের ইহা আছে, তাহারা ইহা লইয়া সুখী হউন। আমি তাে বর্ণাশ্রমসম্বন্ধে নিরপেক্ষ হইয়া ভক্তির সহিত সেই শ্রীহরির চর আশ্রয় করিব, যাহার হৃদয় বর্ণাশ্রমাদি রহিত নীচজনেরও ভক্তি দ্বারা ঐতি। ইহা হইতেই পারে না যে, যে সময়ে শ্রীভগবানের আশ্রয় গ্রহণ করিব এবং ঠিক সেই সময় বিহিত কৰ্ম্মও করিব। আমি কেমন করিয়াই বা কি করিব ? ভগবানের আশ্রয় ছাড়িয়া অন্যান্য অনুষ্ঠেয় কৰ্ম্মরণে আমার একেবারেই শ্রদ্ধা নাই। শ্রদ্ধা ভিন্ন কোনও অনুষ্ঠানই সম্পন্ন হয় না। তার শ্রদ্ধা ভিন্ন কখনও যদি কোন কাজ হয় উহার ফল হয় না। আমার শ্রদ্ধা তো হরিভজন-ভাবনায় উৎপন্ন হইয়া উহাতেই পৰ্য্যবসিত হইয়াছে। ঐ শ্ৰদ্ধাকে তো এখন অপর স্থানে লওয়া অসম্ভব। আমি সে বিষয়ে অসমর্থ। এইজন্য লােক-ব্যবহারে আমার প্রতি চাই কেহ তুষ্ট হউন, চাই কেহ কষ্ট হউন, কাহারও অনুগ্রহ বা নিগ্রহে আমার কোনও লাভ বা হানি নাই।১৮ আর হে হরি । আমার এই স্বভাবে লােকের কথা আর কি, আপনার তুষ্টি কুষ্টিরও কোন কুষ্টিরও কোন চিন্তা নাই। আপনি চাই আমার প্রতি প্রসন্ন হউন, চাই অপ্রসন্ন হউন। আপনার স্বকীয় অনন্ত বৈষ্ণবধর্ম প্রভুবলে আমার প্রতি যেমন ব্যবহার করিতে ইচ্ছা করেন, তাহাই করুন; তাহাতে আমার কোনও চিন্তা নাই। কিন্তু আপনিলে আমার পতি। আমি তো আপনারই। আমার তত ইহাই ব্রত এবং ইহাই ধর্ম। এই নিমিত্ত আমি আপনার ভক্তির বিনিময়ে আপনার প্রসাদ সম্পাদন ও তল্লাভে আগ্রহ প্রকাশ করি না। কিন্তু ইহা আমার ব কর্তব্য যে পতিব্র যুবতী যেমন স্বীয় পতিকে রুষ্ট জানিয়াও অপর পতির ইচ্ছা করেন না, সেই প্রকার আপনাকে কষ্ট দেখিলেও আমি কখনও অপরের মুখপানে তাকাইব না।১৯। অতএব আমি সৰ্বার্থসিদ্ধির জন্য সেই শ্রীকৃষ্ণচন্দ্রকে প্রণাম করি- তেছি, যাহার উচ্ছিষ্ট প্রসাদ ভােজনমাত্রেই সর্বপ্রকার একাদশ্যাদি ব্ৰত- ফল অপরিমিত গুণে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। আর যাহার চরণামৃত-পানমাত্রে সর্বপ্রকার তীর্থজল নিমজ্জনের ফল পাওয়া যায়। স্কন্দপুরাণে লিখিত আছে- মিমি মিন যা নিন্ম আৰী । किं करिष्यन्ति ते लोके तीर्थकोटिमनोरथैः । স্মৃতিতে লিখিত আছে ? ন জ্ঞান: সুলনী বলয় ভীঘিন:। আলআমমিলনীয় যsমি অনাব। गङ्गागोदावरीरेवा नद्यो मुक्तिप्रदा स्तु याः। লিলি বনীঘাৱা মায়াম মিলাজৰ । অর্থাৎ যাহার মস্তকে সর্বদা শ্রীহরির-চরণামৃত বৰ্তমান থাকে, ইহার পক্ষে কোটি কোটি তীর্থের মনােরথে কি প্রয়ােজন ? আর যিনি শালগ্রাম (এস্থলে কেবল চরণামৃতই প্রমােন, মুর্তিভেদের কথা পর্ব অনন্ত বৈবাবধ ম) শিলার জলে অভিষিক্ত হয়েন, উহার সতীর্থ নফল সম্পন্ন হয় এবং সর্বষজ্ঞে দীক্ষাফল লাভ হয়। শালগ্রাম শিলাজলে, গঙ্গা, গােদাবরী, সেবা প্রভুতি মুক্তিপ্রদ মদীগণ আপন আপন তীর্থসহিত সৰ্ব্বদা বিরা মান থাকেন। অধিকন্তু শ্ৰভগবানের নাম কীৰ্ত্তনমাত্র দ্বারা সৰ্ব্ব পুণ্যফল সিদ্ধি লাভ হয়। যথা শ্ৰীভাগবতে इदं हि पुमस्तुयसः श्रुतस्य वा स्विष्टस्य सूक्तास्य च बुद्धिदत्तयोः । अविच्युतोऽर्थों कविभिनिरूपितो यदुत्तमनाक गुणानुवर्णनम् । এখন আমি পিতৃদেব এবং ঋষ্যাদি লােক দিগের নিকট ইহাই বলিতেছি যে, হে পিতৃগণ ও দেবগণ! আপনারা শ্রবণ করুন। আপনারা আপনাদের বলি ও উপহাৱাদির জন্য আমার নিকট হইতে নিরাশ হইয়া যাউন্ । কেন না, এখন ভগবান্ মুকুন্দ- দেবকেই আমি আমার আপন দেব ও পিতৃ-আদি যথাসর্বস্ব করিয়া লইয়াছি এখন ইনিই আমার নিকট হইতে বলি, ভেট, পূজা-আদি গ্রহণ করিতে অভিলাষী। আপনারা এখন আপনাদের অনুরক্ত লােকগণের নিকট হইতে বলি ভেট আদি গ্রহণ করুন। কেন না, যাহারা আপনাদের অনুরক্ত তাহারা আপনাদিগকেই চাহে। ইহাতে দুই দিকই বজায় থাকিবে। আপনাদের পিণ্ডদান ও তর্পণাদিতে বিচ্ছেদ হওয়ার আশঙ্কা থাকিবে না, আমারও ভগবৎভঙ্গনে কোন বাধা হইবে না। অন্যথা, ভগবানকে পূজাব্য ও উপহারাদি প্রদানের কামনা করিয়া যদি আমি আপনাদিগকে উহা প্রদান করি, তাহা হইলে লােকসকল মহারাজ- ক্রবর্তী, প্রাপ্য ডেট মালিককে প্রদান করিলে যেমন অপরাধী হয়, আমাকেও তন্দ্রপ অপরাধী হইতে হইবে।২২ নর বৈষ্ণব বেদে কি সনাতন বিধি অাছে, কি অসমঞ্জস্য নিষেধ আছে, আমি তাহার কিছুমাত্র বিচার করিব না। কেন না, লােকাৰ্থ বেদের তর্কবাদ- সয়ণী অত্যন্ত গুঢ় এবং দুবিজ্ঞেয়। শ্রীমদ্ভাগবতে একাদশ স্কন্ধে এভগবানের বাক্য এই যে- “হুম হুময়িমনীষয়। पनन्तपारं गंभीर दुविगाह्यं ममुद्रवत्॥ অর্থাৎ এই যে প্রাণেন্দ্রিয় মনােময় শব্দব্রহ্ম বেদ, ইহা অত্যন্ত দুর্বোধ, ইহার কিছুমাত্র পারাপার নাই। এই নিমিত্ত ইহা সমুদ্রের ন্যায় গন্তীর ও দুৰ্ব্বিগমন। অপিচ :- कि विधत्ते किमाचष्टे किमनद्य विकल्पयेत् इत्यस्याहृदयं लोके नान्यो महट कवनः । এইজন্য আমি আপনার উত্তম বিচারে এই করিব যাহাতে সৰ্ব্ব শ্রুতির তাৎপর্যস্বরূপ ভগবান্ কৃষ্ণের চরণকমল ত্যাগ করিয়া আমার মন যেন আর দ্বিতীয় শ্রেয়ের অনুসন্ধান না করে। এই নির্ণীত দৃঢ়তা হইতে আমি বলি যে, চারিবেদ এক ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণেরই তৎপর। ভগবানের বাক্য এই যে- मां विधत्तेभिधत्ते मां विकल्यायोद्यतेद्यहं। যনাৰাৰ নাঘ सव आस्थायमा भिदा অধিকন্তু গীতায় লিখিত আছে :- ‘নঃস্ব স্বৰ মৰ: অর্থাৎ ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণ বলেন যে ইন্দ্র, অগ্নি, সূৰ্য্য, মিত্র, বরুণ, বায় প্রভৃতির প্রতিপাদনকারি চতুর্বেদের অন্তিম বেত আমি ভিন্ন আর কিছুই নয়। কেন না, আমি সর্বাত্মা। ক

১১
অনয় বৈষ্ণব
e
ঐতিহে লিখিত আছে -
सर्ववेदा यत्पदमामनन्ति नामानि सर्वाणि
यमाविशन्ति सबै वेदा यवैकोभवन्ति ।
মহাভারতে লিখিত আছে-
“বনৗকৰকলি মনীন্ত সম্পানি।
সুম এই মায সমান।
গ্রীনীভিমানি যানিলী,
त्रयोलोकालोकपालास्त्रयोच ।
वयोऽग्नयवाहुतयच पञ्च, सर्वे देवा देवकीपुत्र एव ।
লমামা, সনিস্তা যন্ত মানী।
वासुदेवपरा वेदा, वासुदेवपरामखाः ।
वेदेरामायणेचैव पुराणे भारते तथा।
पादावन्तेचमध्येचहरिः सर्वत्रगोयते ।"
অর্থাৎ এই ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণকে কেহ অগ্নি, কেহ প্রজাপতি, কেহ ইন্দ্র,
কেহ প্রাণ, কেহ শাশ্বত ব্ৰহ্ম বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন। যত জ্যোতি-
সমূহ, যত প্রকাশসমূহে এই লােক বিভাসিত হয়, তিন লােকে, লােকপাল,
তিনবেদ, তিন অগ্নি, পাঁচ আহুতি, সৰ্ব্ব দেবতা আদি যত কিছু আছে সেই
সকলই এই দেবকীপুত্র শ্রীকৃষ্ণ।” “যে বাসুদেবে সকল বেদের প্রতিষ্ঠা
আমি সেই ভগবানকে নমস্কার করি। কেন না, বেদ যজ্ঞ-আদি সকলই
বাসুদেবপরায়ণ।” “বেদে, রামায়ণে, পুরাণে ও মহাভারতের আদি,
অন্ত ও মধ্যে সৰ্ব্বত্রই শ্রীভগবান্ শ্রীকৃষ্ণই পরিকীর্তিত হইয়াছেন।
এই সকল মহাবাক্যসমূহ দ্বারা ইহাই সিদ্ধ হইয়াছে যে, বেদ-আদি

অন বৈষ্ণবধর্ম সকল ধর্মশাস্ত্রই শ্রীকৃষ্ণপরায়ণ। এই নিমিত্ত আমি বেদসমুহের মুলীত ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণচরণকমলের দৃঢ়-অনন্য ভজন করিব।২৩ অতএব যাহারা ভগবৎসম্বন্ধে আমার এই দৃঢ়তা না বুঝিয়া নিলা করিবে, তাহাতে আমার কোনও ক্ষতি হইবে না, প্রত্যুত উপকারই হইবে। কেন না, নিন্দাপরায়ণ লােক বুদ্ধিমান মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু। কারণ এই যে, দৈবযােগে কোনও ধীর লােকের যদি কোন মল লাগে, নিন্দুক আপন রসনেন্দ্রিয় দ্বারা উত্তমরূপে উহা মুছিয়া দেয়। হরিবল্লভ সুষােদয়ে লিখিত আছে :- लोके गरीयसी माता माटतोऽप्यधिकः खलः माता मलं तु हस्ताभ्यां खलचालति जिह्वया । অর্থাৎ এই জগতে মাতা স্বর্গাদি হইতেও গৰীয়সী বলিয়া প্ৰসিদ্ধা, কিন্তু মাতা হইতেও নিন্দুক অধিকতর হিতকারী। কেন না, মাতা মল আদি হস্ত দ্বারা তুলিয়া ফেলেন, কিন্তু নিন্দুক আপন জিহ্বা দ্বারা উহা তুলিয়া ফেলে। এইজন্য নিন্দুকও এক প্রকার উপকার করে। ২৪। হে নিন্দুক লােকসমূহ! হে তর্কবাদিগণ ! হে অসূয়ারসিকগণ ! শ্রবণ- কর! যখন নিজের নিন্দা আদি-তুচ্ছ কদৰ্য্যরসে তুমি নির্লজ্জতাবশত এত বৃঢ়তা ও শৌৰ্য প্রকাশ কর, তখন আমি সৰ্ব্বসুখাগার শ্রীকৃষ্ণভাবরসে নিমগ্ন থাকিতে কেনই বা তােমার ভয় করিব ? অর্থাৎ তােমার এত দৃঢ়তা যে মহজ্জনের নিন্দাতেও তুমি আপন নিন্দারস ত্যাগ করিতে পার না, তখন কেন আমিই বা তােমার অনুরােধে কিরূপে উত্তম পুরুষার্থভূত ভক্তিরস ত্যাগ করিতে পারি। অধিকন্তু তােমার দৃঢ়তা দেখিয়া আমিও আপন দৃঢ়তা বৃদ্ধি করিব এবং ইহাতেই আমার যথেষ্ট উপকার হইবে। ২৫। ভগবদ্ভজনে আরও অনেক অন্তরায় আছে, কিন্তু ঐ সকল হইতে আমার কোনও হানি হইবে না। দম্ভীলােক আমাকে দম্ভী বলিবে, প্রমগুচি অনন্য বৈষ্ণব নী আমাকে লােভী বলিবে আর যে, যে রসে নিমগ্ন সেও আমাকে সেই রশে রসিক বলিবে, ইহাতে আমার কোনও চিন্তা নাই। কিন্তু আমি যে কোন প্রকারে আপন এক আশ্রয়, একমাত্র গতি ভগবান্ শ্রীকৃষ্ণেরই ভজন করিব। ২৬। আপন বর্ণাশ্রমধর্ম-কৰ্ম্ম ত্যাগ করিয়া দৃঢ় অনন্যতা সহিত ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভজনে যদি আমার ধন-পুত্রাদির হানি হয়, তাহাতে আমারই হইবে, অন্যের তাে হইবে না । একের ব্যবহার-হানিতে অপরের পীড়া কেন? আর ভগবানের ভজন করিলে যদি ধর্মেরই হানি হয়, তবে আগুন লাগুক, এমন ধৰ্ম্মে,সে ধৰ্ম্ম আমি চাই না। পরন্তু বাস্তবিক একথা হইতেই পারে না। কেন না ভগবৎ ভক্তিতে সৰ্ব্বার্থের সিদ্ধি হয়। তবে যে কথা বলা হইল, উহা অপরাপরের অভিপ্রায় মাত্র। ইহা বড়ই আশ্চর্যের কথা যে, এ সম্বন্ধে জনসাধারণ কেন অমূলক বৃথা ঝগড়া করে। এইজন্য সিদ্ধান্ত এই যে এমন দুঃস্বভাব বৃথা নিন্দুকের সম্যক্ উপেক্ষা করিয়া দৃঢ়-রসিক অনন্যতা সই আপন সৰ্বেশ্বর ভগবান শ্রীরাধাকৃষ্ণের নিরন্তর ভজন করাই প্রয়ােজনীয়। হে প্রিয় শ্রোতৃবৃন্দ। ইহাই দৃঢ়তা—ইহাই রসিকতা ইহাই অনন্যতা --- আহ ইহাই দৃঢ়-রসিক অনন্তবৈষ্ণৰ ধৰ্ম্ম। প্রাণপ্রিয় শ্রীকৃষ্ণভক্তগণ! আমি তাে এ পর্যন্ত শ্রীজীর কৃপায় আপন অভিলাষানুরূপ আপন বুদ্ধি ও আপন শক্তি-অনুসারে উপমা, দৃষ্টান্ত, জীবন-চরিত, শ্রুতি, স্মৃতি, পুরাণ-ইতিহাস এবং সাম্প্রদায়িক গ্রন্থসমূহ দ্বারা পুষ্ট প্রমাণসমূহে এবং স্বভাব-বর্ণনে পূর্ণ করিয়া দৃঢ়রসিক অনন্ত- বৈষ্ণবধৰ্ম্ম সম্বন্ধে যথাসাধ্য দুই কথা বলিলাম। আশা এই যে, এখন আরও অন্যান্য সাম্প্রদায়িক বৈষ্ণব ব্যাখ্যাকারি মহাশয়গণ আপন আপন সম্প্রদায়ের দৃঢ় অনন্যতা সম্বন্ধে বর্ণন করিয়া আপনাদিগকে শুনাইবেন।

অনন্ত বৈষ্ণবধর আমায় আপন সম্প্রদায়ের বিশেষ অবস্থা আমার স্বাভাবিক রীতিতেই জানা আছে। এইজন্য দৃঢ় অনন্যতা” সম্বন্ধে আমি দৃষ্টান্তের প্রয়ােজন- সায়ে আপন উত্তরদানের দায়িত্ববােধে স্বীয় সম্প্রদায়ের অধিক প্রমাণ দিয়াছি। কিন্তু এখন এই মহাসভায় সমুপস্থিত প্রসিদ্ধ প্রসিদ্ধ সাম্প্র- দায়িক ব্যাখানকা মহানুভব ভক্তবৃন্দগণ আপন আপন সম্প্রদায়ের অত্যন্ত প্রবৃদ্ধ প্রমাণসমূহ দ্বারা বৈষ্ণবমাত্রের যথাসর্বস্ব গণ্যমান্য এই “দৃঢ় সিক অনন্য বৈষ্ণবধৰ্ম্মের পরিপুষ্টি করিবেন। ইতি শুভ। (শ্রীশ্রীরাধাবল্লভচরণার্পণমস্তু) । বিজ্ঞাপন প্রশ্ৰৱাৰা প্রেস। ১৩, মহেন্দ্র বসুর লেন, বাগবাজার, কলিকাতা। ( শ্যামবাজার ও বেলগেছিয়া ট্রাম রাস্তার উত্তরে) সংস্কৃত নাগরী ), হিন্দী, বাঙ্গালা ও ইংরাজী ভাষার নানাপ্রকার নূতন ও সুন্দর অক্ষরে (type) শ্রীশ্রীরাধা প্রেসে মাসিকপত্র পত্রিকা, পৌরাণিক গ্রন্থমালা, কলেজ ও স্কুলের পাঠ্যপুস্তক প্রভৃতি উৎকৃষ্ট রূপে মুদ্রিত হয়। এতদ্ভিন্ন পছন্দ মত ও নূতন ধরণ ডিজাইনে (design) প্রতি উপহার, নিমন্ত্রণ পত্ৰ, লেটার হেডিং, Invitation বা Visiting Card, ডাক্তার খানার লেবেল, ডিষ্ট্ৰীক্ট বাের্ড ও মিউনীসিপা- লিটীর ফৰ্ম্ম, সকল প্রকার কমার্শিয়াল ফৰ্ম্ম ( Commercial forms ), ক্যাশ-রেজিষ্টার, প্রভৃতিও ছাপা হইয়া থাকে। প্রােগ্রেম প্লাকার্ড ( Foster ), দাখিলা, রসিদ, বিল, চালান প্রভৃতি কাৰ্য বিশেষ তৎপরতা ও দক্ষতার সহিত সম্পাদিত হইয়া থাকে। হাফটোন ব্লক ( Halftone or Process block) ইলেক্টো বা ষ্টিরিও ব্লক এবং উড এনগ্রেভিং সুন্দররূপে প্রস্তুত করা হয় এবং ইচ্ছামত দুই বা তিন বর্ণের কালীতে ছাপা হয়। মফঃস্বলের অর্ডার সমূহ আমাদের পরিদর্শকের তত্ত্বাবধানে সুন্দররূপে মুদ্রিত হইয়া যথাসময়ে সরবরাহ করা হয়। ইতি ম্যানেজার-ঐশ্রীরাধা প্রেস ১৩, মহেন্দ্র বসুর লেন, বাগবাজার, কলিকাতা।

প্রেমপুষ্প (বাঙ্গালা ) বাঙ্গালা ভাষায় শ্রীধৰ্ম্মের সেবা ও তৎসম্বন্ধে মতামত প্রচার-প্রাণিত সাপ্তাহিক সংবাদ পত্র। গৌরাঙ্গ সেবক ও আনন্দবাজার ও বিষ্ণুপ্রিয় পত্রিকার তিরােধানের পর ত’হারই সুযােগ্য সম্পাদক পণ্ডিত রসিকমােহন বিদ্যাভূষণ মহােদয় কর্তৃক পত্রিকার ছাচে ও ছাদে দুই বৎসর হইতে পরি- চালিত হইতেছে। শ্রীধর্মের সেবক স্বনামধন্য লেখকগণও ইহার লেখন- য় গ্রহণ করিয়া আমাদের কৃতার্থ করিয়াছেন। বর্তমানে বৈষ্ণব ধর্মের ও সমাজের পরচয় বিজ্ঞাপনের ইহাই মুখপত্র বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। সাধারণের পক্ষে অগ্রিম বার্ষিক মুল্য ২, টাকা। রাজা, জমীদার, তালুকদারের নিয়ম নাই দানই প্রার্থনীয় । প্রতি সংখ্যার নগর মূল্য ১০ পয়সা। এক বৎসরের কম গ্রাহক শ্রেণীভুক্ত করা হয় না। বিনি যে তারিখে মূল্য দিবেন সেই সপ্তাহ হইতে তাহার বৎসর গণনা করা হইবে। গ্রাহক ইচ্ছা করিলে প্রকাশিত পূৰ্ব সংখ্যা লইয়াও বৎসর পূর্ণ করিতে পারেন। ম্যানেজার—“প্রেমপুস্প” ১৩, মহেন্দ্র বসুর লেন, বাগবাজার, কলিকাতা। গােস্বামী ব্রাদাস পাবলিশিং হাউস বৈষ্ণব সমাজের বিশেষতঃ রাধাবল্লভী ও গৌড়িয়া সম্প্রদায়ের শাৰতীয় ধর্ম গ্রন্থ সমূহ প্রতিমাসে সংখ্যা ক্রমে প্রকাশিত হইতেছে। হিন্দীভাষা ভিন্ন সংস্কৃত ও বাঙ্গালা ভাষায় বহুতর গ্রন্থ প্রকাশের ব্যবস্থা হইছে। সম্প্রামদ্বয়ের পুষ্টি ও প্রচারে সহায়ক কোন প্রাচীন গ্রন্থ পুথি) কাহারও নিকট থাকিলে তিনি তাহা মুদ্ৰণাৰ্থ আমাদের হন্তে অর্পণ করিলে আমরা কৃতার্থ হইব। ধর্ম প্রাণ ও বিদ্যেৎসাহী কোন ব্যক্তি অতি গুরুপ কোন গ্রন্থ নিজ ব্যয়ে প্রকাশের বাসনা করেন, তাহা হইলে সুক্ষণ ভার গ্রহণ করিয়া তদ্বিষয়ে যথাসাধ্য সাহায্য করিতেও প্রস্তুত গছি। মূল কথা, যে কোন সুত্রে বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের উন্নতি সাধন হয় গই আমাদের মঙ্গল এবং তাহাই শ্রেয় বলিয়া মনে করি। বিনীত প্রকাশক-গােস্বামী ব্রাদাল ১৩ নহেব সেন, বাগ বালা, কলিকাতা। 7 গগাস্বামী ব্রাদার্স অডার সাপ্লাইং এজেন্সী উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-ভারতবাসী জনসাধারণের বাণিজ্য সম্বন্ধ আপনােদ্দেশে আমরা নিম্নলিখিত ঠিকানায় গােস্বামি ব্রাদার্স এজেন্সী স্থাপন করিয়াছি। কলিকাতা এবং তদুপকণ্ঠে সাধারণের আবশ্যকীয় দেশী ও বিলাতী যে সমস্ত দ্রব্য পাওয়া যায় বা উৎপন্ন হয়, ভারতের বিভিন্ন প্রদেশবাসীর প্রয়ােজনানুরূপ ঐ সমস্ত দ্রব্যের বিনিময় যাহাতে সুচারুরূপে প্রচলিত হয় তাহার জন্য আমরা বিশেষ চেষ্টাবান হইয়াছি। ব্যবসায়ী মহাজন অথবা কোন মহােদয় ব্যক্তি যদি য়ুরােপ, আমেরিকা, জাপান প্রভৃতি দেশজাত দ্রব্যসম্ভারের, অথবা রাঢ়, বিহার ও উড়িষ্যায় উৎপন্ন শস্ত অথবা শিল্পজাত কোন দ্রব্য প্রয়ােজন বােধে খরিদ করিতে ইচ্ছুক হন, তাহা হইলে পত্র অথবা টেলিগ্রাম দ্বারা আমাদের জানাইবেন। আমরা তদণ্ডেই প্রত্যুত্তর সঙ্গে দর জ্ঞাপন করিয়া দ্রব্য খরিদ বিষয়ে তাঁহার অভিমত জানিয়া লইব এবং যথাসাধ্য পরিশ্রম সহকারে উৎকৃষ্ট দ্রব্য উপ- যুক্ত দরে সংগ্রহ করিয়া পাঠাইয়া দিব। সর্বত্র পরিচিত এইরূপ ব্যবসায়ে সাধারণকে ঠকাইয়া লাভবান হই- বার উদ্দেশে আমরা এই এজেন্সীর ভার গ্রহণ করি নাই। বাণিজ্য ক্ষেত্রে পয়স্পরের সহানুভূতি ও ব্যবসায়ে প্রসার বৃদ্ধির জন্যই আমরা এই কাৰ্য্যে তী হইয়াছি। সাধারণের উপকারাথে সহজ উপায়ে দ্রব্যসমুহের পরস্পর-বিনিময় (Mutual Exchange)ইর মুখ্য উদ্দেশ্য। বিভিন্ন স্থানজাত দ্রব্য আবশ্যক মত স্থির ও সঠিক মূল্যে পাইবার প্রত্যাশায় আমরা এই এজেন্সী খুলিলাম, লাভের প্রত্যাশা আদৌ রাখি না। কেবল মাত্র মাল খরিদ ও তাহা পাঠাইবার ব্যবস্থা ইত্যাদি জন্য শতকরা ২ দুই টাকা মাত্র কমিশন লইয়া থাকি। রেল মাশুল ও গাড়ীভাড়া (Trani charge) খরিদ্দারের দেয়। প্রত্যেক অর্ডার পানির সহিত সিকি মূল্য পাঠাইতে হয়। ব্যবসায়ী মহাজনদিগের জন্য নিয়ম কাতর। জাত বিষয় পত্র লিখিলে কানাৰ হয়। বিনীত গােস্বামী ব্রাদাস ১৩, মহের বােস লেন, বাগান, কলিকাতা । T

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Driro Rasik Ananya-baishnab-dharmo Ed.1st

Author
Lalji,govardhan
Title
Driro Rasik Ananya-baishnab-dharmo Ed.1st
File name
Driro Rasik Ananya-baishnab-dharmo Ed.1st
Text
OCR done
Citation
1919
Published
2009/12/26
Publisher
Goswami Brothers. Kolkata
Language
Sanskrit
Pages
146
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Essays
Keywords
Lalji,Govardhan
DLI number
511037
Barcode
4990010018222.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
SDZPv9bgfae
Download PDF

Driro Rasik Ananya-baishnab-dharmo Ed.1st