Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Ritubarnan
Front matter
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
ঋতুবর্ণন।
শ্রীগঙ্গাচরণ সরকার।
রচিত।
কুঁচুড়া
সাধারণী যন্ত্রে পাঁচকড়ি রায় কর্তৃক
মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
১৮৭৪।
(ইহার প্রথম ভাগ “বসন্ত” কলিকাতা বৌবাজার
স্মিথ এণ্ড কোম্পানির যন্ত্রে মুদ্রিত হইয়াছিল।
No text on this page.
অশুদ্ধ সংশােধন। বসন্ত। পৃষ্ঠা পংক্তি অশুদ্ধ যুড়ী যুড়ি ६ হয়ে ২ ১৮ ক্রমে এমে সেই ৪ যেই ১৭ তিল ভুপ ভূপ করিবেন বােলাচয় করি বেনবোলায় ৫ ঐ ১ কুতুহলে মুবক আখি পারলাদি যুথিকা লহরি কুতূহলে যুবক আঁখি পারুলাদি যথিকা লহরী পুলকে বিনােদিনী ৭ ১২ ৫ ঐ পূলকে বনােদিনী ৭ ১৪ ফণ কুঞ্জে ফুলকুঞ্জে তায় ১ . বসন্তরে বসন্তেরে शर्छ। পংক্তি অশুদ্ধ উষা ১৪ উষ। ১৭ ১০ ৩ : * * * * বেণ সভার পূরাণেতে সভে প্রেমোদিত বেণু, সবার পুরাণেতে সবে প্রমােদিত যারা ১৪ যারা সভাকার চাস সবাকার চাষ २२ নাঙ্গল খেঠে লাঙ্গল খেটে সবে ৭ ১ পরিষদ ধ্বজারাজি হেথা ২ সতে পারিসদ ধ্বজ রাজি হেত। নামাইছে সভ উড়াণী মাজে কূলবর্তী ৪ নামায়েছে সবে উড়ানী মাঝে ২৮ কুলবতী কূলে কুশে ৩ কেই পৃষ্ঠা পংক্তি অশুদ্ধ তটিনীর কুল তটিনীর কুল কুলে ৩৪ ৩৮ স্বাস্থ্যকারী করি বিধুর। আমার ৪০ ঐ সাত কূলে শাখী স্বাস্থ্যকরী কার বিধূরা আমায় সাথ কুতূহলী কুমারী मौ ধূলা চেল তুল বিলয় ৪১ ৪১ কুতুহলি কুমারী সঙ্গি ঐ ধুলা ঐ ১৭ চল ৪২ ४२ অতুল বিনয় নাশা ববিধ ঐ ৯ ঐ নাসা বিবিধ ১৭ ৪৪ কুতুহলে অন্নপুর্ণ ৪ 8 ১২ কুতূহলে অন্নপূর্ণা বসুধায় ঐ বসু ধায় ? ? হারে যবে থরে থরে কফমফ ঝকমক নিদাঘ। পৃষ্ঠা পংক্তি অশুদ্ধ ফাটে ১৭ ফাটি ১৪ খরশর ৭ ১০ কৃষি কৃষী সবে দুৰ্ব্বার দূৰ্ব্বার হারিমানী হারি মানি গোলাম গোলাপ লােলুপম ধুপ লােলুপ মধুপ ১৪ ২০ ২১ ৪ যুথিকা বারাণ্ডায় কঁপিয়ে যুথিকা বারান্দায় কাপায়ে ২৪ ১৫ ৩৩ ৩ ৪ ৫ br এই চিহ্ন থাকিবে না। ভাঙ্গি ৪৬ ১৪ ভঙ্গি
প্রাণােপম প্রিয়পুত্র অক্ষয়চন্দ্র,
তুমি জান, আমাকে রাজকাৰ্য্য নিবন্ধন
সময়ে সময়ে বিরলবান্ধব স্থানে অবস্থান করিতে
হইয়াছিল; সেই সেই স্থানে অবকাশকাল
কথঞ্চিৎ সুখে যাপন করণার্থ পদ্য রচনা
করিতে চেষ্টা করিতাম সেই চেষ্টার ফল
স্বরূপ এই “খাতু বর্ণন” অভিহিত গ্রন্থখানি
হইয়াছে। গ্রন্থখানি সামান্য, এজন্য কোন
বড় লােককে উৎসর্গ না করিয়া ইহা তােমা-
কেই মর্পণ করিলাম। তুমি সন্তান, পিতৃদত্ত
সম্পত্তি ভাল হউক বা না হউক, তােমাকে
আদরের সহিত গ্রহণ করিতেই হইবে।
ইতি।
অগ্রহায়ণ
শ্রীগঙ্গাচরণ সরকার।
১২৮১
No text on this page.
১)
কক
অনানি অনন্ত যিনি সৰ্বশক্তিমান্,
অখিল আবার আর নিখিল নিদান ;
অসীম জগত যার মন্দির স্বরূপ,
স্থল জল ব্যোম যাহে শােভে বেদীরূপ;
রবি শশী দীপ হয়ে করিছে উজ্জ্বল,
তারকা হীরকাবলি করে ঝলমল ;
তরুলতা ফুল ফল দিয়ে উপহার,
নতশির হয়ে করে অর্চনা যাহার;
যেই নাথে মলয়ার মৃদু সমীরণ,
যতনে বিজন করে সৌরভে সেবন ;
বিবিধ বিহঙ্গ যুড়ী সুললিত তান,
শাখায় বসিয়া গায় যার গুণগান।
প্রবল পবন আর জলধর সব,
মহানক্ষে করে যার শক্তির উৎসব ;
আলু খালু হয় যেন ভাবেতে বিল,
কোলাহলে করে পূর্ণ নভােক্ষিতি হুল ;
( ২ )
অনলের ধ্বজাধরি চপলা প্রকাশে,
গভীর দুন্দুভি ঘন নিঘোষে আকাশে ;
মহােৎসবে মগ্ন সবে প্রমত্ত হইয়া
সাগর সলিল নাচে তরঙ্গ তুলিয়া;
অচল চঞ্চল আর ধুলায় ধসর,
হইয়া লুটায় ধরা কত তৰুবর ।
যাহার আদেশে পুন: হয় সবে স্থির,
পুলকেতে পােধর শর্ষে প্রেমনীর ;
বিল শ্যামল বাস পরি বসুমতী,
যাহার দয়ার ভাবে হয়ে মেহবতী ;
পালিতে রাখিতে সুখে প্রাণীপুঞ্জ সব,
আহারীয় দ্রব্য কত করেন প্রসব ;
লইয়া সলিল রাশি হয়ে বেগবতী,
বিস্তারি বিশাল কায়া যত ভ্রাতস্বতী ;
পরিয়া হিল্লোল মলা কল্লোল করিয়া,
যার বল গেয়ে চলে নানা দেশ দিয়া।
যেই মহেশের আজ্ঞা পাইয়া তপন,
ধরুভর কর ঐমে করে সম্বরণ ;
প্রস্থান করিয়া যায় যত বারিধর,
বিমল ভাতিতে রাতি শোভে সুধাকর ।
প্রতি গভীর ভাব ধরিয়া কখন,
সেবে সেই জগন্নাথ করিয়া যতন ;
কুজঝটিকা ছলে পরি ধমল বসন,
নীহারের জপ মালা করিয়া বারণ ;
সুধীর সুস্থির হয়ে অতি ভক্তি ভরে,
নীরব ভাবেতে দেবী যার জপ কর ।
এই রূপ বিশ্ব মাঝে যত চরাচর,
যেই মহেশের পূজা করে নিরন্তর ;
প্রকাশে বিবিধরূপে যাহার মহিমা,
দেখায় নিয়ত যার কৰুণা অসীম
তিনি পিতা তিনি পাতা তিনি সারাৎসার,
প্রণাম তাহার পদে প্রণাম আমার।
•
( ৪ )
( ২ )
কুতুহলে তিমিররি
পেয়ে কুম্ভ রাশিবারি
মান করি বসিল আকাশে।
ঘুচল মালিণ্য ভাব হইল লাবণ্য লাভ
ক্রমে ক্রমে বিক্রম বিকাশে।
অহ কিবা মনোলোভা নভাের নবীন শোভা
দরশনে নয়ন সফল।
অখিল আলােকে ভাসে ভূলােক পুলকে হাসে
দিগ দশ হয় সমুজ্জ্বল।
বিমল কিরণ জাল বিমানে ব্যাপিল ভাল
তিরােহিত হইল তামস।
নীল নিত নভাে মাঝে রজতের আভা সাজে
হেরে হয় মােহিত মানস
দীপ্ত কর দিননাথ
সুখান সুপ্রভাত
চক্ষু মেলি প্রকৃতি চাহিল ।
প্রমোদের কোলাহল, পরিপূর্ণ মহীতল
নি দ্রা হতে জগত জাগিল।
(৫)
সকলেরে শোভা হীন রূপ আভা কান্তিক্ষীণ
করে ছিল দুরন্ত হিমানি।
এখন পাইয়া বল যেন তার প্রতিফল
দেয় রবি কর শর হানি।
প্রভাকর প্রভা শীত হেরিয়ে হইল ভীত
জড়সড় করিল শরীর ।
কি দশা হইল হায় দীন হীন (চার প্রায়
দিন মানে না হয় বাহির।
ঘুমাইলে দিনমণি
তখন সুযােগ গণি
চুপে চুপে নিশা কোলে বসে।
(শাকেতে শিশির ছলে আঁখি জল ধরাতলে
বিন্দু বিন্দু কঁাদিয়া বরষে।
হিমে হেরি হীন বল
ক্ষুব্ধ তার দলবল
সভাকরি ঘুচিল সহায়।
কুহেলিকা কাকার
নিষ্ঠ র নীহার আর
একে একে সকলে পলায়।
নিরমল হল দিবা
ভুবন তিল কিবা
সমুজ্জল মিহির মহিমা ।
তারাবলি ত্রিমায় • অপরূপ শােভা পায়,
মনােহর গগণ গরিমা।
উত্তরীয় সমীরণ
ক্রমে করে পলায়ন
দেখা দিল মলয় সমীর।
দুরাগমে পথশ্রান্ত
পরিমল ভারাক্রান্ত
তাই বুঝি গতি অতি ধীর।
হয় কত সুখােদয়
নীরস সরস হয়
পরশনে জুড়ায় জীবন।
জরাজীর্ণ ছিল যারা
হইল সবল তারা
মৃত দেহে অমৃত সেচন।
শীতের যে ছিল লেশ করিয়া তাহার শেষ
বিলাইয়া আনন্দ অনন্ত।
সমাদরে শুভক্ষণে কাল রাজ্য সিংহাসনে
বসাইল বিনােদী বসন্ত।
সুকুমার নবভুপ
ভুবন মােহন রূপ
ঢল ঢল লাবণ্য ললিত।
নবকান্তি মনোহর
জীব জন্তু চরাচর
দেখে সবে পুলকে পূরিত।
( ৭ )
লাল পত্র মাজে মাজে সবুজ পল্লব সাজ
তৰু কুল ন মুঞ্জরিত।
আহা কিবা শােভা তায় বসন্ত রাজার কায়
ধূপ ছায়া বসন শােভিত।
সরস শাখার কোলে নবীন পব দোলে
মরি মরি কিবা ভাব তায়।
মলয়ার সমীরণ
ভুষিতে রাজার মন
ধীরে ধীরে চামর দুলায় ।
কিবা দিব। কিবা রাতি ফুটে ফুল নানা জাতি
নানা বর্ণে মাধুরি বিকাশে।
অপরূপ শােভা হয়
আভরণ মণিময়
পরে যেন যুবরাজ হাসে।
কাঞ্চন লাঞ্ছন কর কমনীয় কান্তি ধরি
বিকশিত কাঞ্চন কাননে।
দেখ কি মাধুরি তায় তৰু শির শােভা পায়
মণিময় মুকুট ভূষণে।
কতই পলাশ রাজি মনােহর বেশে সাজি
করে সাভে পুলক প্রদান।
( ৮ )
কেমন উজ্জ্বল লাল কানন করিল আল
দূর হতে দাবানল জ্ঞান।
তরুণ অৰুণ জয়
করিবেন বােলা চয়
নিজ রূপ করিল বিস্তার ।
কিব। ফুল
কিবা পর্ণ
সভার লােহিত বর্ণ
দরশন অতি চমকার
হের প্রিয় তৰুবরে
মাধবী প্রণয় ভরে
বাহু মেলি জ ভাইয়া সুখে।
সুগন্ধ কুসুম হার
দেয় কান্তে উপহার
হাসি হাসি মধুভরা মুখে ।
হইয়া সহাস্যমুখী ফুটিল শিরীষ সুখী
আহা কিবা সুকোমল কায় ।
পাছে ভরে ভেঙ্গে যায় এই ভয়ে অলি তায়
নাহি বসে চুম্বিয়া বেড়ায়।
বিকশিত রক্তশােক নর লােক মুক্ত শােক
(হারে যার রূপ সুশােভন।
ফুটিল মন্দার ছলে পারিজাত ধরাতলে
পরিহরি নন্দন কানন।
(৯)
পুন্নাগ কি শোভা ধরে ঢল ঢল মধুভর
পরিমল জ্ঞান লয় হরি।
ফুটে কত মতিচুর ছুটে গন্ধ অতি দূর
লুটে মধু ভ্রমর ভ্রমরী ।
কামিনী যামিনী হল হাস্য গুখে কতুহল
দেয় খুলে ভাণ্ডার আপন।
সমীর সানন্দ হয়ে
সৌরভ রতন লয়ে
ঘরে ঘরে করে বিতরণ
প্রফুল্ল লেবুর ফুল
সৌরভের নাহি তুল
সকলেরে করে সমাকুল।
মুবক যুবতী দল
সদা যাচে তার তল
মধুগন্ধে অন্ধ অলি কুল।
কেতুকে কানন মাঝে কনক কেতকী সাজে
গুণ গর্কের হয়ে গরবিত।
বিলাইয়া অজচ্ছল
চরাচর করে আমােদিত।
সৌন্দর্য্যের সহকার মুকুলিত সহকার
সহকার তুল্য তার ঘটা?
অনুপম পরিমল
{১}
সবুজ শীষের দেখা তাহাতে লােহিত লেখা
বসন্তের মুকটের ছটা ।
অতিমনােহর বাস নিরানন্দ করে নাশ
সুখ বহ হইল সমীর।
পুলকিত দিগ দশ মুনি মন ইন বশ
পথিকের গতি অতি ধীর।
গােলাপ সহাস্য হয়ে লােহিত লাবণ্য লয়ে
শোভা ধরে অতি মনোেহর।
গর্ব ভূমি বিধাতার
উদ্যানের অহঙ্কার
ফুল ফুলে রাজ রাজেশ্বর
দেবের দুল ভ নিধি বিরলে বসিয়া বিধি
সমাদরেজন করেছে।
নরের নিষ্ঠুর করে পাছে লণ্ডভণ্ড করে
এই ভয়ে কণ্টকে বেরেছে।
বর্ণ নহে বর্নিবার
হেরি রূপ যত বার
আখি তৃষা বাড়ে তত আর ।
গন্ধের গরিমা কিবা
গন্ধ বহ নিশি দিব।
ধন্য হয় বয়ে যার ভর #
(১১)
প গুণে অনুশন
ভুবন ভূষণ সম
হেন নিধি জগতে বিরল।
মােহিনী মােহিত করে ধীরের ধীরতা হয়ে
কবিদের প্রলাপের স্থল ॥
এই রূপে নানা মত ফুটে ফুল কব কত
পারলাদি করবী কলিকা।
মপ্লিকা যুথিকা ঝাটি চাপা জবা পরিপাটি
কেহ ফুল কেহ বা কলিকা।
দুরন্তু হেমন্তু বাতে প্রিয়তম প্রাণ নাখে
দীন হীন নিরখি নয়নে।
(খনেতে নলিনী সতী হইয়া মলিনী অতি
নিজ রূপ ডুবায় জীবনে !
এখন গগনে রবি
বিকাশি বিমলা ছবি
দেখ কিবা সহাস্য বদনে।
আপন উজ্জ্বল করে প্রেয়সীর হাত ধরে
ধীরে ধীরে তুলিছে যতনে।
কাণ্ড কর পরিশন
কান্ত রূপ দরশন
কমলিনী আনন্দিত হয়ে।
(১২)
সুখের সলিলে ভাসে নয়ন মলিয়া হাসে
কত্ত কর ধরিয়া হৃদয়ে ।
সূল জল এইরূপ
ধরে অপরূপ রূপ
ধরা ডােবে শোভার সাগরে ।
মন্দ মন্দ বায়ু, বয়
মাধুরি লহরি হয়
দরশন জ্ঞান লয় হরে।
পেয়ে যেন সুসময়
বিপিন বিহঙ্গ চয়
প্রেমানলে মিলিয়া সকলে ।
রাজার মঙ্গল গায়। বর্ষে মধু দ্বারা তায়
সভাকার শ্রবণ যুগলে।
প্রথম পঞ্চমম্বরে
কোকিল অখিল ভরে
গায় গীত অতি মনােহর।
সে রবে যুড়িয়া রব লকে পাপিয়া সব
ছাড়ে সুর শুনিতে সুন্দর।
বস্তু গু ডু গুড়ি পরে
উপরি ভান ধরে
রয়ে রয়ে রাখিতেছে মান ।
মাহন মনি। দল
ছাড়ে কিবা কঠ কন
বাজে যেন বিলাতি আগান ।
(১৩)
নানা বিধ বুল বুলি
বলিয়া বিবিধ বুলি
করিতেছে সুললিত গান।
লয় মান মিশাইয়া রাগ রঙ্গে আলাপিয়া
বামারে শ্যামা ধরে তান।
দৈয়াল রসাল রাগে প্রেয়সীর অনুরাগে
ছাড়ে স্বর বসিয়া শাখায় ।
বনােদিনী বেনেবধ, সঙ্গে লয়ে নিজ বধু
গায় আর নাচিয়া বেড়ায়।
শত শত শুক সারী গীতের আলাপ চারী
করিতেছে হয়ে আমােদিভ।
মনিকা মনোসাদে নানা বিধ সুর সাধে
শুনে সবে হয় বিমােহিত।
কপােত কপােতী কত মিলে খেলে অবিরত
নাচে কত প্রমােদে খঞ্জন
হরিতাল হীরামণ
সুরকানে হরে মন
ধরিরূপ নয়ন রঞ্জন।
বিহগের কলচ্ছলে
রসােল্লাসে কুতূহলে
প্রেম ভরে প্রকৃতি সুন্দরী।
(১৪)
ধরিয়া
মধুর
তান আপনি করিছে গান
উথলিছে লালিত্য লহরী।
আপনার ইচ্ছামত
তুলে সুর নানা মত
নানা রাগে করিয়া মিলিত।
গাইছে অপূৰ্ব গীত করে সবে বিমােহিত
আপনিও হইয়া মােহিত।
মরি কি সুতার তার কোথায় সেতার তার
কোথা আর রবাবের রব।
বাশি বীণা এসরাজ
সকলে পাইয়া লাজ
একে একে মানে পরাভব।
অখিল আনন্দময়
অমৃতের স্রোত বয়
মগ্ন তায় হল চরাচর।
করে নর সুধা ভােগ যােগী জন হতযােগ
শিখে গীত অপসর কিন্নর।
দেখ আর পুঞ্জে পুঞ্জে কত মধুকর গুঞ্জে
ফল কুঞ্জে বগুণ গুণ রবে।
মানে হয় অনুমান
রাখিতে সুরের তান
তানপূরা ছাড়িতেছে সবে।
(১৫)
লইতেছে মধু তুলে
কোন খানে ঝাঁকে ঝাঁকে মধুমাছী লাখে লাখে
উড়িতেছে মনের আনন্দে।
তারের ঝঙ্কর সম
ধ্বনি করে মনােরম
মিঠা অতি মাখা মকরন্দে।
বসিতেছে ফুল ফুল
খাইতেছে নিজ নিজ ধাম।
আসিতেছে পুনরায়
মধু লয়ে পুন যায়
এই রূপ শ্রমে অবিরাম।
আর আর জীব যত
কুতুহলে নানা মত
করে কেলি কত শােভা তার ।
কুই চরে কেই চলে কেহ বা খেলিছে জলে
ডালে ডালে কেহ বা লাফায়।
প্রােষিত ভর্তৃকাসতী
পুনরায় পেলে পতি
মনোেসাদে বেশ ভূষা করে ।
বসন্তরে করে লাভ প্রকৃতির সেই ভাব
মুখভরে কত শােভা ধরে।
কিবা শূন্য কিবা স্থল
কিব। গিরি কিবা জল
সব দেশ সদা সুশােভিত।
(১৬)
কিবা পশু কিবা পক্ষী কিবা কীট কিবা মক্ষ।
জীবকুল সবে হরষিত।
সকলেই মনােল্লাসে আমােদ সাগরে ভাসে
অবিরত সুখ দ্বারা বয়।
মহানন্দ মহাৎসব প্রেম পরিপূর্ণ সব
বিশ্ব রাজ্যে শব্দ জয় জয় ।
নিরখিয়া সুসময়
শােভমান সমুদয়
প্রবাহিত প্রেমের পাথার।
গােবিন্দ সানন্দ মনে নিত্য ধাম বৃন্দাবনে
করিলেন লীলা চমৎকার।
পোমাসী নিশা শেষে নিশানাথ নিদ্রাবেশে
নামিছেন অস্তাচল পাশে।
গগনের পূর্বভাগে
দিনেশের অনুরাগে
উদেবী মৃদু মৃদু হাসে।
তখন বিপিন হরি বিশ্বধরে বেণু ধরি
ধরিলেন গােপগুণ গীত।
(১৭)
চতুর্দিকে সুধাবর্ষে প্রাণীকুল পিয়ে হর্যে
চরাচর হয় চমকিত।
প্রভাতীয় কলরব
না করে বিহঙ্গ সব
আছে তারা শাখায় সুস্থির।
দিন পতি দুহিতার
হয় কল্লোল আর
শান্ত ভাব গতি অতি ধীর ॥
মলয়ার সমীরণ
করি রব আকর্ণন
বৃন্দাবন নাপারে ত্যজিতে।
হইয়া প্রফুল্ল আস্য
ফল রাজি করে লাস্য
ধরাকোলে বেণুর ধ্বনিতে।
ঋষিগণ যেতে মানে মােহিত হইল গানে
পথে আর পদনাহি চলে ।
শুনে তান তৰুদল কত প্রেম অ জল
ফেলিতেছে শিশিরের ছলে।
ব্রজ গােপ বালা যত নিকেতনে নিদ্রাগত
বশিরব শ্রবণে পশিল ।
শুনি মাত্র চমকিত হয়ে সতে জাগরিত
নীলােৎপল নয়ন খুলিল ।
(১৮)
দেখে গেহে গুৰুজন করে নাই জাগরণ
আছে সভে সুখদ শয়নে।
শ্যামের বাঁশির গান
হয়েছে সভার জ্ঞান
দিয়ে যেন নিধূলি নয়নে।
সাজিল গােপের বালা লইল কুসুম মালা
আবীরাদি তুলসী চন্দন।
চন্দ্ৰজিনি জ্যোতিঃজলে চঞ্চল গমনে চলে
করিবারে শ্যাম দরশন।
আসিয়া নিকুঞ্জবনে প্রণমিয়া চরণে
ভক্তিরসে প্রেম মিশাইয়া।
মুখে বলে হরি হরি
কুতুহলে খেলে হরি
রাধামে দোলে দোলাইয়া।
হইয়া আবীরে লাল লইয়া কানায়ে লাল
কতরূপ করিল বিলাস।
সেই অপরূপ লীলা
যত্নসহ বিরচিলা
পূরাণেতে কবিবর ব্যাস।
অদ্যাপি ভারতবর্ষে বসন্তু আইলে হর্ষে
রাধা কৃষ্ণ যুগল মুরতি।
(১৯)
দোলে তুলে সমাদরে
উল্লাসে উৎসব করে
হয়ে লােক প্রমােদিত অতি।
নিশাতে অনলােৎসব মহামন্দে করে সব
ৰাজিপুঞ্জে গগন উজ্জ্বল।
দিনে দোলমঞ্চোপরি বসায় শ্রীমতী হরি
হয় সভে পুলকে বিহ্বল।
স্থান স্থানে যাত্রা হয়, কৃষ্ণলীলা অভিনয়
করে কিবা বালক সকল ।
সকলে আমােদে রত উড়ায় আবীর কত
রক্তবর্ণ ধরে ধরাতল।
কেহ কেহ হরি গায় কেহ দেয় ফাগ গায়
কেহ করে কুঙ্কম ক্ষেপণ।
কেহ লয়ে পিচকারি লােহিত গােলারি
বরষিয়া ভিজায় বসন।
বসেছে দোকান কত বিকি কিনি অবিরত
করে লােক হয়ে হরষিত।
নর নারী দলে দলে নানা সাজে পথ চলে
হয়ে তারা আবীরে লােহিত।
( ২০ )
দিবানিশি নৃত্যগীত নরকুল পুলকিত
মত্ত প্রায় যত হিন্দু স্থানী।
নিয়ত ফাগুয়া গায় কোলাহলে পথে ধায়
“হােরি হ্যায়” মুখে এই বাণী।
মনােহর সুসময়
নিরানন্দ কেহ নয়
প্রেমােদিত মানব সকল।
অন্তরে উথলে সুখ হাসিতে শােভিত মুখ
শরীরেতে লাবণ্য উজ্জ্বল।
ধন হীন লোক যারা শীতের শাসনে তারা
দীন ভাবে ছিল দিন রাত।
অতি শুদ্ধ কলেবর
কম্পান্বিত থর থর
যােড় জানু বুকে দুটি হাত।
শুভকর সুপালন
সভাকার দুঃখ যায় দূরে।
শরীর সরস হল
দেহেতে পাইল বল
প্রেমানন্দে, চিত্ত গেল পুরে ।
ঋতু রাজ আগমনে
(২১)
শীত হতে পেয়ে ত্রাণ পুন যেন পায় প্রাণ
কুতুহলে কুদিয়া বেড়ায়।
কলেবর ঢাকিবার ভাবনা ত নাহি আর,
যথা তথা মুখে নিদ্রা যায়।
সমভাব সজনে
দয়া দান দীনগশে
ধর্যশীল ভূপতির ধর্ম।
বসন্ত সুবােধ অতি দুঃখীরে সদয় অতি
হয়ে করে সেই রূপ কৰ্ম ।
ফুরাইল যত চাস
এম হতে অবকাশ
কিছুদিন কৃষক পাইল।
মসিনা মটর সব
মুগ বুট গম যব
মাঠ হতে ক্রমেতে উঠিল ।
অন্তরে সানন্দ হয়ে
নিজ পরিবার লয়ে
ক্ষেত্র পাল বসিয়াছে বাসে।
সখেতে শিশু যত নেচে কুঁদে খেলে কত
দেখে কৃষী মুখার্ণবে ভাসে।
(২২)
উঠানে খার পালা রােয়াকে গুণের ছালা
কোণে আছে জুয়াল নাঙ্গল।
অদূরে পথের কাছে বলদ বন্ধনে আছে
কৃষকের চাসের সম্বল।
শ্রম সহ করে কৰ্ম্ম শির হতে পড়ে ঘর্ম
মাঠে মাঠে খাটে চির কাল ।
সুদি কিছু দিন ভরে গহে সুখ ভােগ করে
তাহে কেহ দিওনা জঞ্জাল।
খদর অধিক অংশ কৌশলে করেছে ধ্বংশ
ভূমিস্বামী আর মহাজন।
অবশেষে ছিল যাহা ভাগ্য ক্রমে পেয়ে তাহা
কৃষকের পুলকিত মন।
স্থির স্থির মহাজন স্থির ভূমি পতিগণ
আর কেন বাড়াইছ কর ।
মূল আর মিতি বলে অনেক লয়েছ ছলে
ততােধিক বলে ভূমিকর ।
কেন কর সর্বনাশ রাখ হে চাসের আশ
বৃক্ষ গেলে কি ফল পাইবে ?
(১৩)
গেলে পরে দিন কত মাঠে খেঠে অবিরত
তােমাদেরি ভাণ্ডার ভরিবে ।
শুন যত ভাগ্যবান কৃষীকুলে পীড়া দান
লােভ বশে করনা কখন।
কৃষকের শ্রম ফলে
থাকে দেশ সুমঙ্গলে
ভুঞ্জে সুখ রাজা প্রজা গণ ।
আছে সভে কুতূহলে
বিভব বিটপী তলে
ছায়া যার দুঃখ তাপ হরে ।
পারিসদ পক্ষী যায় বসিয়া সঙ্গীত গায়
মধুমাখা তােমােদ স্বরে।
যার মিষ্ট ফল রসে কত লোেক থাকে বশে
আমােদিত করে যার ফুলে।
দেখ সেই তৰুবরে
কৃষক পালন করে
শ্রম জল ঢালি তার মুলে ।
দেখ এ বসন্ত কালে কত কৃষী বানশালে
আছে ব্যস্ত লয়ে নিজ জন।
যতনে বাধিয়া আটি
কলে আনি করিছে পীড়ন।
মাঠ হতে
ইক্ষু কাটি
(২৪)
সুই দত্ত একাকারে গায়ে গায়ে দুই ধারে
ঘোরে কল হয়ে পবশ।
ইক্ষু দণ্ড দন্তে ধরি চিবায় চীৎকার করি
অ বয়ে ফেলিতেছে রস।
অনলেতে চড়াইয়া সেই রস জ্বাল দিয়া
করে কৃষী গুড় অপরূপ।
কিবা মিষ্ট তার তার না হয় তুলনতার
থাক নর দেবতা লােলুপ ।
গুড় হতে ভারে ভার হয় চিনি চমৎকার
সুধা সম যার আস্বাদন।
ভােগ সুখ বাড়ে তায় নানা দেশে লয়ে যায়
বণিকেরা বাণিজ্য কারণ।
এই যে ভারতবর্ষে নতাে হতে বর্ষে বর্ষে
বর্ষে বারি বারিধরগণ।
সেই জলে যত চাষী উৎপাদিয়া শস্য রাশি
করে দেশ স্ক্ষী নিকেতন।
যত ধনী মহাজন
ধে গােলা অগণন
পূরে তায় খন্দ নানা মত।
,
(২৫)
প্রতুল ঐশ্বৰ্য হয়
সতত স্বাধীন রয়
কত লােক হয় অনুগত।
বিপুল বাণিজ্য তরী ভারত সাগরােপরি
কত তার তটিন উপরে।
শিলিঙ্গ ভাসাইয়া ধ্বজ রাজি উড়াইয়া
জাপরি কিবা শােভা ধরে।
গর্ধে যেন স্ফীত হয়ে চলেছে উদরে লয়ে
নানা দ্রব্য ভারত ভূজাত ।
বাণিজ্য উন্নতি পায় দীনতা দূরেতে যায়
হয় আর অভাব নিপাত ।
সৌভাগ্যের মূলাধার ভারতের অহঙ্কার
কৃষী-বলে জানি নিশ্চিত।
সে সভায় পীড়াদান ধন মদে অপমান,
করা কভু ন হয় উচিত ।
হতা ধনীগণ যত
পেয়ে ( মনােমত
ভুঞ্জিতেছে আনন্দ অপার ।
(২৬)
বসন্তের অধিকার
শীত ভয় নাহি আর
নামাইছে বসনের ভার ।
কাশ্মীয়ার জামিয়ার ৰুমাল দোশাল আর
লুই লেপ সভে লুকাইল।
অপপ আনারসী বাহারের বাণরসী
সমাদরে দরশন দিল।
দেখতে সুন্দর অতি
সুচিকণ সরবতী
সাজাইছে কত ধনী মানী।
মুকুলিন মলমল
করিতেছে ঝাল মন্দ
কার অঙ্গে উড়িছে উড়াণী ।
মন বাস কায়
তেমনি মুনসি ভায়
লেৰেণ্ডর গােলাপ আতর।
বিনােদী বিকাল বেলা চলেছে বাবুর মেলা
দরশাল অতি মনোহর।
এদিকে রবির রথ ভ্রমিয়া আকাশ গ
অস্তাচলে করিছে গমন।
(২৭)
তাহার লােহিত ছটা বিস্তারি অপূৰ্ব্ব ঘটা
সুশােভিল পশ্চিম গগন ।
খান্দ মন্দ গ বহু
নবীন পল্লব হ
শান্ত ভাবে খেলে রূপরে ।
মুকুলিত সহকার
লইয়া সহায় তার
অকাতরে সৌরভ বিতরে।
পথের পথিক বার। নিজ নিজ স্থানে তার
উত্তরিতে দ্রুত বেগে ধায়।
বিবিধ বিহঙ্গ সব
করি কল কল নব
উড়ে আসি বসিছে শাখায় ।
গোপাল মনের সুখে
গােষ্ঠ হতে ও হুখে
আসিতেছে লয়ে ধেনু পাল।
সহজ মধুর স্বরে
উচ্চ রবে গান করে
দূর হুতে শুনিতে রসাল।
গহ কাজ যত্নে সারি
যতেক যুবতী নারী
বিম্বধির তাম্বলে রঞ্জিয়া।
বসিল সানন্দ হয়ে
করেতে কুন্তল লয়ে
বিলাইতে বেণী বিনােদিয়া ।
( ২৮ )
কনক অঙ্গলি মাজে কেশ রাজি কিবা সাজে
দরশনে ভুলায় নয়ন।
যেন মধুবলী চুম্বিয়া চম্পক কলি
সারি দিয়া করিছে গমন।
সমাখে মুকুর রেখে গ্রীবাভাঙ্গে তাহে দেখে
নিজ রূপ নলিনী নয়নে।
শশী জিনি মুখ ভাতি দুলিছে অলকা পাতি
হেরে হাসে উল্লাসিত মনে।
কত সতী কুলবতী করি ধরি ধরি গতি
যাইতেছে সরােবর বুলে।
কক্ষে ধারে বারি কুম্ভ বক্ষে শােভে করি কুম্ভ
দরশনে মুনি মন ভুলে ।
গহ কথা পরস্পরে
কহিতেছে মৃদুস্বরে
আস্য সদা হাস্যে সুশােভিত।
কি কব সে মুখ শোভা জগতের মনোলােভ।
লাজে হল নলিনী মুদিত।
এইরূপ দিন শেষে প্রকৃতি মােহন বেশে
সজ্জাকরি তােষে সজনে ।
(২৯)
সুখবহু সুসময়
পেয়ে যত ধনীচ
যাইতেছে সমীর সেবনে।
হক অশ্বে কেহ গজে কেহ চলে পদব্রজে
কেহ করি গাড়ি আরােহণ।
কেহ বন্ধুগণ লয়ে মনেতে প্রফুল্ল হয়ে
উপবনে করিছে অটন।
কেহ ভাগীর তীরে
ভ্রমিতেছে ধীরে ধীরে
পরিপূর্ণ পুলকে অন্তর ।
সেবিতেছে সমীরণ করিতেছে দরশন
প্রদোষের শােভা মনােহর ॥
কাচ মণি সম জল
মৃদু বাতে ঢল ঢল
মিলে তায় লােহিত কিরণ।
করেছে মাধুরি অতি সিন্দরে প্রকৃতি সভী
মাজে যেন দর্পণ আপন।
পর পারে তৰু যত প্রতি বিম্বে নানা মত
জল মধ্যে জলের হিল্লোলে।
কভু কভু লুপ্তকায় কভু স্থির দেখা যায়
কভু যেন বায় ভরে দোলে।।
(৩০)
জলচর পক্ষীকুল ত্যজি তটিনীর কুল
উর্ধে পক্ষ করিল বিস্তার ।
তটিনীর দুই পাড়ে
পরস্পরে রব ছাড়ে
চক্রবাক চত্রবাকী আর ।
হাল দড় লয়ে তুলে
ধজি পুতি নদী কুলে
তরি তায় করিয়া বন্ধন ।
ক্ষুধাতুর মাঝীগণ
হয়ে অতি সতন
চুল্লী ঘেরি করিছে রন্ধন।
প্রাচীন ব্রাহ্মণ কত
হইলেন সমাগত
দেৰীতীরে ভক্তিযুক্ত মনে।
পূত বারি স্পর্শ করি যজ্ঞসূত্র করে ধরি
বসিলেন সন্ধ্যার বন্দন।
দ্বিজ গণ দরশনে
ভট বিহারীর মনে
কভ ভাব লাগিল উঠিতে।
মগ্ন হয়ে চিন্তারসে
তটিনীর ভীরে বসে
এই রূপ লাগিল ভাবিতে ।
* এই ত ব্রাহ্মণ বংশ
নরকূল অবতঃস
এক কাল ছিল ধরাতলে ।
( ৩১ )
সদানন্দ সদাচারী
মুল তার ফলাহারী
স্বপাকাক্ষী ছিলেন সকলে।
সামান্য বিষয় রসে
জঘন্য ধনের বশে
কভু নাহি রাখিতেন মন ।
রিয়া বল্কল বাস করিয়া কুটীর বাস
করতেন ব্রহ্ম নিরূপণ ॥
পপি ভাপ শােক শূন্য
জপ বাগ জন্য পুণ্য
লভিতেন ইয়ে ধৰ্ম্মে রত ।
হইয়া তানন্যম
নানা জ্ঞান গবেষণা
করিতেন যত্নে অবিরত।
অতি পূৰ্ব্বতন কালে অজ্ঞানতা তমােজালে
অন্য দেশ আছন্ন যখন।
ভারতে ব্রাহ্মণ জাতি বিদ্যার বিমল ভাতি
করিলেন বিস্তার তখন।
(বদ শাস্ত্র চমৎকার ব্রহ্মজ্ঞান তত্ত্ব যার
কহিলেন করিয়া যতন।
"র চলেন কাব্য কত
দর্শন বিবিধ মত
যার তাৰে মুগ্ধ জন গণ ।
( ৩২)
শাজ্জিত
ত করিল ভাষা কেহ নাহি করে আশা
করিবারে সমতুল যার।
গ্রহ উপগ্রহ আর করি ক্রমে অধিকার
জ্যোতিজ্ঞন করিল প্রচার।
এই রূপ শুভকরী বিদ্যারূপা কীর্তি করি
সাধিলেন মঙ্গল বিস্তর ।
স্বাধীন ভারতবর্ষে
সভ্যতার সুধা বর্ষে
ঋষিদের জ্ঞান সুধাকর ।
নাবিধ গুণগ্রামে
তুলে ভূদেব নামে
আছিলেন ভক্তির ভাজন।
সমুকুট শিরে নভ
হয়ে নরপতি যত
পূজিতেন বিপ্রের চরণ।
কিন্তু কিবা চমকার কোথা সেই জ্ঞান তার
কোথা সেই মানের প্রভাব।
(কাথ। সেই ঋষিগণ কোথা সেই সুশােভন
ভারতের সমুজ্জ্বল ভাব।
কলিতে সকল হয়
জন পালন লয়
হইতেছে কালের কৌশলে।
(৩৩)
কালে বৃদ্ধি কালে হাস কাল সবে করে গ্রাস
আপনার করাল কবলে ।
কালে জল স্থল হয়
স্থল কালে জল ময়
কালে গিরি বায় রসাতল ।
কালে বন রাজধানী রাজধানী অরণ্যানী
করে ক্রমে কাল মহাবল ।
শুষ্ক এই তৰুবর ছিল কিবা শোভাক
প্রাণীপুঞ্জে ফলেতে তুষিত।
বিস্তারি বিশাল কায়া পথিকের দিয়ে ছায়া
নিজ তলে সুখেতে রাখিত।
কত নর কত নারী
মূল দেশে দিয়ে বারি
ভক্তি ভরে পালিত হয়।
বসন্তে ছাড়িয়া তান গাইত
মধুর
গান
পক্ষী যত বসিয়া শাখায় ।
শেষে নিদারুণ কাল ভাঙ্গিল সকল ডাল
তুলে এক প্রবল পবন।
বিনাশিল শােভা তার উপকারী শক্তি আর
একে বারে করিল নিধন ॥
(৩৪)
কীট ভাহে দিন দিন করিতেছে রসহীন
সার ভার করিয়া ভক্ষণ ।
মে শুষ্ক কলেবর
হয়ে শাখি জর জর
করে কবে ভূমিতে শয়ন ।
এই রূপে দ্বিজ যত হইয়াছে শােভা হত
শক্তি শূন্য হয়েছে এখন ।
নাহি বুদ্ধি বল আর সমাজ শাসন ভার
নাহি পারে কওিতে বহন ।
যে দিন যবন গণ
মহাবল প্রভঞ্জন
ভাবে এই ভারতে আইল ।
তদবধি ক্ষীণক্ষুঃ
তেজোরূপ শোভা শূন।
বিকুল হইতে লাগিল।
নীচাশয় কীট হয়ে অন্তরে তাবাস লায়ে
উদারতা নাশিছে আবার ।
দিন দিন হীন বল
দিন দিন হতেছে অসার।”
এই রূপ চিন্তা করি নদী কূল পরিহরি
চলে তট বিহারি তখন।
এই হেতু
হেতু দ্বিজদল
(৩৫)
হেথা ক্রমে বিভাবরী তিমির বসন পরি
ধরাতলে দিল দরশন।
দেবীর চিকুর জাল ঘেরিয়া সাজায় ভাল
হীরাবলি রাবলি ছলে।
খদ্যোত নিকর তায় শ্যামকায় শােভা পায়
পুঞ্জ পুঞ্জ পদ্ম রাগ জ্বলে ।
ঘরে ঘরে যত বালা জ্বলিয়া দ্বীপের মালা
করে যেন আরতি দেবীর ।
আমােদিত শিশুদল করিতেছে কোলাহল
মাতৃ কোলে কেহ বা সুস্থির।
শঙ্খ ঘন্টা করভাল
মধুর মৃদঙ্গ ভাল
বাজিতেছে মঙ্গল বিধানে।
কীৰ্ত্তন কুশল যারা প্রেমাননে মাতি তারা
করে গান ভূপালী কল্যাণে।
হে রম্য হৰ্ম্মচয়
হইল আলােক ময়
ননি। সাজে অতি সুশােভিত ।
বসে তায় ধনী গণি
নান। ধিধ আলাপন
করিতেছে বান্ধব সহিভ ।
(৩৬)
কোথাও পণ্ডিত লয়ে ভক্তি রসে মগ্ন হয়ে
শাস্ত্র কথা শুনিছে সকলে।
কোথাও রসিক গণ আমােদে ডুবায় মন
কমনীয় কাহিনী কৌশলে।
কালােয়তি কোন স্থানে নৈপুণ্য দেখায় গানে
কোন স্থানে বাজিছে সেতার ।
কিবা রস তার ভারে বােধ হয় তারে তারে
তার নয় সুধার আধার।
কোথাও প্রেমারা তাস করিতেছে সর্বনাশ
দেখেও না দেখে মুঃ জন।
কোথাও টেবিল ঘেরি চলিছে শ্যাম্পেন সেরি
পানে সবে পুলকিত মন।
কেহ নাচে কেহ গায় কেহ ঢলে পড়ে গায়
কেহ হাসে মনের উল্লাসে।
কেহ এলাে কথা কয়
কেহ বা নীরব হয়
কেহ সুখ পারাবারে ভাসে ।।
এই রূপ বাবু যত
আমােদ বিবিধ মৃত
করি সবে ক্রমে হয় স্থির ।
(৩৭)
হাসি হাসি শ্রোতস্বতী করি ধরি ধীরি গতি
নিজ নাথ সিন্ধু পাশে যায়।
প্রতিবিম্ব তারকার যেন কত হীরাহার
তটিনীর অঙ্গে শােভা পায় ।
মলয়ার সমীরণ
বেশিয়া স্কুল বন
করিয়াছে সৌরভ হরণ।
এখন তাহার ভারে ত্বরাকরি যেতে নারে
মন্দ মন্দ করিছে গমন।
লতিকারে কোলে নয়ে
নিতান্ত নীরব হয়ে
স্থির ভাবে আছে তরু চয়।
প্রিয়তম নিদ্রা যায় পাছে বিযু হয় তায়
নাহি নড়ে কথা নাহি কয় ।
শ্রান্তি যুক্ত যত নর
পেয়ে এই মনােহর
সুখকর সীতল
সময়।
শষ্যায় শয়ন করি লইয়াছে স্বাস্থ্যকরী
নেত্রচরী নিদ্রার আশ্রয়।
শান্তির কোমল কর ব্যাপিয়াছে চরাচর
সুধাসিক্ত বসুধার লােক।
(৩৮)
মনের বেদনা লুপ্ত দেহের চেতনা সুপ্ত
দূরে গেছে চিন্তা তাপশােকে ।
কিন্তু কিবা অপরূপ নিদ্রাযােগে কতরূপ
কতজন
দরশন।
দেখে নানা বিধস্থান মত লােকবিদ্যমান
ইয়ে করে কত আলাপন ।
চিতে নাহি জ্ঞানভাব অথচ বিবিধ ভাব
অবিভুত ভাবনা আমারে।
কার হে মুখােদয় কাহার অন্তরে ভয়
কেহ ভাসে শােক পারাবারে।
কোথায় যুবতী সতী বিরহে বিধুৱা অতি
প্রাণ পতি ভাবিতে ভাবিতে।
হয়ে এলালিত কেশ অতিদীন হীনবেশ
নিদ্রাগেছে কাঁদিতে দিতে।
এখন স্বপন বশে দেখে পতিকাছে বসে
হেরিতেছে সতৃষ্ণ নয়নে।
যেন সেই প্রেয়সীর বিগলিত অাঁখিনীর
মুছাইছে কতই যতনে ।।
সাইয়া নিজপাশ বেধেদেয় কেশ পাশ
নিজকরে আদর করিয়া ।
রতনের কৌটাখুলি মুকুতার মালাতুলি
গলদেশে দেয় পরাইয়া।
যে কান্তে একান্ত মন করে সদা আকিঞ্চন
আঁখি সদাচায় দেখিবারে।
হেরিতার বিধু মুখ দূরে যায় সবদুখ
ভাসে সতী প্রেমের পাথারে ।
অধরে নাহাসিধরে মধুমাখা মৃদুস্বরে
বলিতেছে অমিয় বচন।
ওহে নাথ জীবিতেশ গিয়াছিলে কোন দেশ
বল তথা ছিলে হে কেমন ৷৷
ওহে সশ কোনছলে তোমার অধিনী বলে
কভুকি হ আমার ভাবিতে।
আমি অতি অভাগিনী চিরদিন বিরহিণ
তব সেবা না পাই করিতে ।
বহু দিন পরে নাথ মিলন তােমার মাথ
প্রণিপাত বিধাতার পায়।
।
(৪৫}
স্বর ধর পাব ধর
ক্ষণেক বিশ্রাম কর
ছেকথা তোমায় আমায় ।।
হন রূপ সম্ভাষিয়া দেয় হাত বাড়াইয়া
লাগে কর পালঙ্ক দণ্ডায়।
কঙ্কণের রুমৎকার স্বপ্ন সুখ নাহি আর
আঁখি জলে বক্ষ ভেষে যায় ।
যেই প্রিয় পরিবার প্রিয় জম্মু ভূমি আর
ভাবে সদা বিদেশে প্রবাসী ।
সেই প্রিয় পরিজন
করিতেছে দরশন
স্বপ্নবেশে নিজ দেশে আসি।
অতি আদরের ধন সুকুমার শিশু গ
খেলিতেছে হয়ে কুড়ুহলি।
সি হাসি কাছে যায় আহা কিবা শােভা তায়
প্রকৃতির স্নেহের পুতলি।
কোন শিশু টলি টলি
ধীরি ধীরি যায় চলি
যায় আর পড়িছে ভূতলে ||
জননী যতনে তায় কোলে তুলি চুম খায়
বিধু নিদি বদন কমলে।
{ ৪১)
কণ্ঠে পরি কণ্ঠ মালা নবীন কুমারী বল
খেলাঘর পাতি আঙ্গিনায়।
সঙ্গে লয়ে সঙ্গি যত রাধা বাড়া নানা মত
ধুলা খেলা খেলিছে হয়।
চেল চর পরাইয়া নানা সাজে সাজাইয়া
নানা বিধি বিচিত্র পুতুল।
বেটা আর মেয়ে বলে বিয়ে দেয় কুতুহলে
ভূঞ্জে সবে আনন্দ অতুল ।।
এ ভাব বিনয় পায়
যেন লুকাইয়া যায়
অন্য ভাব হয় উপনীত।
অকালে যে মিত্রর গিয়াছেন লােকান্তর
তার রূপ হেরে আচম্বিত ||
ঘূৰ্ত্তি অতি সুগভীর ক্ষীণ অঙ্গ অতি ধীর
খর্ব কিছু বরণ শ্যামল ।
কৃশা ওষ্ঠ সুনির্মিত স্থল গােপ সূশােভিত
যুক্ত ভুরু নয়ন উজ্জ্বল।
সখ সঙ্গ মখা পেয়ে পরস্পর মুখ দিয়ে
করিতেছে কত আল পিন
(৪২)
প্রেয়সীর অনুরক্তি ভাইদের ভাবভক্তি
প্রতিবেশী যে জন যেমন ||
যেন আর দোহে মেলি আমােদে করিছে কেলি
আনাইয়া সুবিচিত্র তাস।
বিবিধ কথার ছলে কৌতুক বিদ্রুপ চলে
হয় নানা বিধ পরিহাস।।
স্বপ্নের বিচিত্ররঙ্গ গড়িতে গড়িতে ভঙ্গ
করে সব এই ব্যবহার।
কথা পুত্র পরিবার কোখ সেই মিত্ৰ অাৰ
সবে মাত্র আছে অন্ধকার ।।
ভমিতীর্থ বহুতর
দেখিয়াছে যেই নর
শৈল সিন্ধু, সাগর নগর ।
নিদ্রায় স্বপন তায়
দেখাইছে পুনরায়
সেই সব শােভা মনােহর।
নিরখিছে তীর্থ কাশী যেখানে জাবী আমি
হয়েছেন উত্তর বাহিনী।
অতি রমনীয় ধাম
আনন্দ কনিন নাম
শােভা যার মানস মােহিনী।
( ৪৩)
শত শত শিবম সাজায়ে তটিনীত
ধজারা জি উড়ায় বিমানে।
শোভেকত বান্ধাঘাট বিবিধ দোকান পাট
বাটীঘর নিৰ্ম্মিত পাষাণে।
দেবপূজা হোম বাগ
তপ জপ অনুরাগ
বেদ পাঠ করে দ্বিজকত।
সিদ্ধ সাধু দণ্ডধারী ৰান প্রস্থব্রহ্মচারী
কেহ ভ্রমে কেহ ষাগে রত ।
কোথায় ভিক্ষুকদল
করিতেহে কোল ছিল
ঘেরেলয়ে যত যাত্রী গণ।
কোন স্থানে পুণ্যবান করিতেছে অ দিন
কোন স্থানে কুমারী ভােঙ্গন।
সকলে মিছে চলি শিবলিঙ্গ অলিলি
কুতুহলে হেরিছে নয়নে।
কতই কুলের নারী
ঘটে পূরি পূত বারি
যাইতেছে আনন্দিত মনে ।
কিহান মনোহর রাজা যায় বিশ্বেশ্ব।
ভাবত। অন্নপূর্ণা রা ।।
{ ৪১ )
পুলকিত যত নর বোম বোম হর হর
সবাকার মুখে এই বাণী।
এই ভাব পরি হরি যেন তসি শৈলোপরি
অকস্মাৎ হেরে হার দ্বার।
যথা হতে বধু ধায় মন্দাকিনী ধার: ধ
দরশনে অতি চমৎকার |
নগরাজ হিমালয়
ভেদ করি মেঘালয়
উদ্ধে যেন মাপে নভোদেশ ।
হারে যবে শৃঙ্গ রাজি তুর ভূনন সাচ্চি
দেখাইছে আশ্চৰ্য্য অশেষ।
উজ্জল ভানুর করে রূপা জিনি রূপ ধরে
মফ অতি শোভাকর।
দেখে হয় তনুমান হবে বুঝি এই স্থান
উমেশের কৈলাস শিখর।
ক কালে চরিছে ঘন
তলে কত তরুণ
ফুলফলে হয়েছে ভুষিত।
আহা কি অপুৰ্বসাজ ধরেছে মণি রাজ
নিরখিলে আঁখি পুলকিত।
( 58
মধু অাশ্চর্য ভাব উভয়ের অবির্ভাব
নাহি তায় বৃহত্তর সীমা।
বলে শুনর
ধন্য ধন্য কারিক
ধন্য তার তত মহিম: {}
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
নিদাঘ।
প্রবল প্রতাপে আর প্রখর কিরণে
তীক্ষ্ণকর প্রভাকর প্রকাশে গগণে;
প্রভূত প্রচণ্ড প্রভা, পাবক প্রজ্বল
ঝলকে ঝলকে ঝরি ঝলসে ভূতল;
রুষিয়া শুযিয়া লয় সরসীর জল;
স্রোতস্বতী মন্দগতি দুঃখেতে দুর্বল।
শুকাইয়া তরু ত্যজি তলে পড়ে ফল:
দুঃসহ দীধিতি দেখ দহে দুৰ্ব্বাদল;
সন্তপ্ত সিকতা রাশি যেন বহ্নিস্থল,
সাধ্যকার তদুপরি পাতে পদতল?
বাল বৃদ্ধ কিবা যুবা অস্থির সকল;
চর্ম ভেদী ঘৰ্ম্ম বহে দেহে নাহি বল;
তৃষাতুর হয়ে সবে বিষম বিকল,
হা জল যাে জল মুখে বলিছে কেবল;
মধ্যাহ্নেতে মধ্যে মধ্যে পবন সঞ্চার,
বায়ু সঙ্গে লাগে অঙ্গে জ্বলন্ত অঙ্গার;
রস বিনা মাটী ফাটে হয়েছে চৌচির ;
ঋতু বর্ণন।
বদন মিলিয়া যেন ধরা চাহে নীর;
ধুউধু করিছে মাঠ দূর দরশনে,
: জলাশয় জ্ঞান হয় রবির কিরণে,
পিপাসু পথিক কত মনের উল্লাসে,
ত্বরা করি সেই দিকে ধায় জল আশে ;
যত ধায় মরীচিকা
তত যায় সরে,
অবশেষে শ্রান্ত পান্থ হাহাকার করে।
• দারুণ রৌদ্রের রাগ চাহা নাহি যায়,
অসহ্য গরল রাশি ঢালিতেছে গায় ;
তপনের তাপ হেরে মনে হয় ভয়,
বিশ্ব বিনাশিয়া বুঝি করিবে প্রলয়;
যেমন, সংহার মূর্তি
ধরি মহা কাল
রােষ ভরে লয়ে করে ত্রিশূল বিশাল
মহাদর্পে বিশ্বমাঝে করিছে ভ্রমণ,
-ভীমকার ভয়ঙ্কর ভীষণ দর্শন---
ধ্ব ধ্বক্ জলে বহ্নি ললাট হইতে,
ত্রাহি ত্রাহি বলে জীব না পারে সহিতে;
ভাহাতে ত্রিশূলাঘাত, হতেছে আবার,
সৃষ্টি নষ্ট হয় বুঝি না দেখি নিস্তার !
নিদাণ ।
সেইরূপ, রৌদ্র পতি মহা রুদ্রবেশে
প্রভাপুঞ্জ পরাক্রমে ভ্রমে নভােদেশে;
দিগদাহ তেজ রাশি ঢালে ভূমণ্ডলে,
শত শত তপ্ত শূল বিঁধিছে সকলে;
সমাকুল প্রাণীকুল জ্বলিছে জ্বালায় ;
যাতনায় কত জীব যমালয়ে যায়;
জীবন নাশক একি দেখি রবি কোপ,
সংসার সংহার হয় সৃষ্টি পায় লােপ;
ভয়ানক ভাব দেখে মনে এই হয়,
তপন হয়েছে যেন তপন তনয় ।
মধ্যাহ্ন সময়,
মহী দীপ্তিময়,
সন্তাপিত চরাচর,
কে হয় বাহির ? হানিছে মিহির
খরতর খরশর ;
পথে চলাচল
হইল বিরল,
পুড়িতেছে ধরাতল,
যত জীবকুল তৃযায় আকুল,
বহে দেহে শ্রমজল;
ঋতু বর্ণন।
তরুর ছায়ায়
শরীর জুড়ায়,
কেহ কেহ গুহা বাসী;
কেহ নদে গিয়া
অঙ্গ ডুবাইয়া,
আছে পেয়ে জল রাশি;
পুণ্যবাগণ করেছে স্থাপন,
জল ছত্র স্থানে স্থানে,
তৃষায় কাতর পথিক বিস্তর
ধাইতেছে সেইখানে ;
মৃগেন্দ্র, শার্দল, হিংস্র পশুকুল,
সুস্থির বিবরােদরে;
হইয়া নীরব আছে পক্ষী সব
পাতা ঢাকা তরূপরে ;
মহিষ সকলে পঙ্কিল পন্বলে
ধাইছে তাপিত হয়ে;
কতই মাতঙ্গ ঢালিয়াছে অঙ্গ
বড় বড় জলাশয়ে;
দূর দরশনে,
দেখায় নয়নে,
যেন কত শিলাখণ্ড
ভাঙ্গিয়া প্রলয়ে গিরিচ্যুত হয়ে,
'নিদঘি।
ধবলী,
পড়ে আছে লণ্ড ভণ্ড;
শিশু গােপচয় লয়েছে আশ্রয়
বট বিটপীর তলে ;
বাজায় বাঁশরী, দোলে জটা ধরি,
কেহ ঘুমে ভূমে ঢলে ;
শ্যামলী,
গাভী বৎসাবলা,
ধীরে ধীরে পাশে চরে,
করিয়া শয়ন, গিলিত চর্বণ
কত খেজুগ করে ;
কাছে বহে বিল লইয়া সলিল
মৃদুভাবে ধীরে ধীরে,
‘পন জ্বালয় ধয় পিপাসায়
কত গাভী তার তীরে ;
মনে রাখাল ছাড়ি ধেনু পাল
ধেয়ে গিয়ে সেই জলে,
পিপাসা নিবারে, কেহ বা সাঁতরে,
পাবন কে দলে ;
মাঠে হল দিয়া,
বাদ লইয়া,
দেখ কী দেয় চাষ,
ঋতু বর্ণন।
তাপে অঙ্গ দহে,
শ্রম বারি বহে,
বহে ঘন ঘন শ্বাস,
মস্তক উপর
ঢালে প্রভাকর
কিরণ অনলাম,
তথাপি আয়াসে রত হয়ে চাষে
করিছে কতই শ্রম;
শ্রান্ত হয়ে পরে হল পরিহরে
অলম্বে তরুন্তল,
যথা নারী তার এনেছে আহার,
আর সুশীতল জল;
প্রবল ক্ষুধায়
সুখে কৃষি খায়
যেমন সুধার তারে;
সে তার কেমন,
নাহি ধনীগণ
জানে, পলা আহারে।
হেন খরতর
তপনের কর,
গ্রীষ্ম তাহে অতিশয়,
তবু নানা কাজে নগরের মাঝে
আছে ব্যস্ত লােকচয় ;
গরুর শকট নিনাদে বিকট
নিদাঘ।
নানাবিধ বোেঝাভারে
চলে পথ যুড়ে,
ধূলারাশি উড়ে,
কেহ পথে যেতে নারে ;
কেহ চড়ি গাড়ি যায় তাড়া তাড়ি,
কারাে ছত্র আচ্ছাদন,
কেহ পরস্কন্ধে চলিছে আনন্দে,
করি পাল্কী আরােহণ;
শিরেতে তপন সহি কত জন
পদব্রজে করে গতি,
ঘেমেছে প্রচুর, তৃষার আতুর,
তবু কাজে ব্যগ্র অতি;
বিবিধ আশয়ে ব্যস্ত সব হয়ে
এইরূপ আসে যায়,
রজ নিকেতনে,
বাণিজ্য ভবনে,
কিম্বা পণ্যবীথিকায়;
এ হেন সময়,
ভাগধর চয়,
সুশীতল তল ঘরে
পাতি পরিপাটী সুশীতল পাটি
রয়েছে শয়ন করে ;
খাতু বর্ণন। শাণে ঢালি বারি, তক্তপোষ সারি বিস্তারিয়া কেহ তায়, সুজনি সুন্দর, সুখদ শাবর, পাতি, সুখে নিদ্রা যায়; খশখশে টাটি কৌশলেতে আঁটি রাখিয়াছে দ্বারে দ্বারে, কিঙ্কর সকল ছিটাইয়া জল, দেয় তাতে বারে বারে ; উশীরের মূল, নানাবিধ ফুল, সুবাসিত করে গেহ, টানাপাখা তায় ডাকিছে নিদ্রায় দোলাইয়া নিজ দেহ; দেখ এই মত ভাগ্যধর যত আছে কথঞ্চিৎ সুখে, দীন হীন জন অসহ্য উপন- কিরণে দহিছে দুখে ; নাহি দাসী, দাস, নাহি ভাল বাস, রৌদ্র রাগ নিবারিতে, আবার তাহায় উদরের দায়
নিদাষ।
৯
হয় কতই খার্টিতে;
দগ্ধ হয়ে করে ছট ফট করে,
দাব দগ্ধ মৃগ প্রায়,
নাহি পরিত্রাণ, কতজন প্রাণ
ত্যজি, যমালয়ে যায়।
সম্বর সম্বর মােষ দেব অংশুমালি!
কেন দহ জীবকুল বহ্নি রাশি ঢালি ?
জগৎ জীবন তুমি জগৎ পালক !
তােমার আলােকে হয় বিশ্বের পুলক ;
আশ্চৰ্য্য আধার এই
বিশাল সংসার,
তোমার প্রকাশে হয় প্রকাশ ইহার ;
তুমি না থাকিলে দেব! সকলি আঁধার,
হইত চরাচরে আনন্দ প্রচার ;
যে দেশে তােমার কর না করে প্রবেশ,
সে দেশে উল্লাস নাই, নাহি সুখ লেশ;
তােমার দীধিতি বিনা না হয় দিবস;
নিরন্তর নিশা তথা পালিছে তামস;
ফল ফুলে সুশােভিত সুরম্য কানন,
ঋতু বর্ণন। জীবের জীবন যাহা-মহীর ভূষণ- অলঙ্কত সেই দেশ কভু নাহি করে, শ্যামল দুৰ্বার দল ধরা নাহি ধরে ; কেবল কুহেলীসহ তুষার অশেষ আবরিয়া অনিবার আছে সেই দেশ; প্রকৃতি হয়েছে যেন বিধবা সেথায় ; বেশ ভূষা নাহি তাই ধরে নিজকায়, পরিহরি নীল নিভ বিচিত্র বসন মলিন ধবল ধব করিয়া পিন্ধন, আস্তে হাস্য নাই আর বিমর্ষ বয়ান, মেনিভাবে থাকে দেবী হয়ে ম্রিয়মাণ। এই দশা দিনমণি বিরহে তােমার, স্বভাবে অভাবে তব দুখ অনিবার, তােমার বিভাতি বিনা বিশ্ব নাহি ভাসে, নাহি হয় চরাচর উৎফুল্ল উল্লাসে; তব গুণে তরু লতা শােভা ধরে স্থলে, কমনীয়া কমলিনী হাস্যমুখী জলে; জলদানে জগতের করিতে পালন অম্বরে অম্বুদগণে দিতেছ জীবন;
মিদাঘ।
১১
তােমা হতে সভাকার পােৰণ ভূষণ
তােমার উচিত নয় করিতে নিধন।
স্তবে যেন দিনেশের দয়া উপজিল,
আপনার করজাল গুড়াতে লাগিল,
ধীরে ধীরে যায় চলি পশ্চিম অচল;
ক্রমে ক্ষিতি ছায়াময়, ক্রমেতে শীতল;
দক্ষিণ হইতে বহে সুমন্দ বাতাস
--প্রকৃতি পাইয়া ত্রাণ ছাড়িল নিশ্বাস
শালগ্রাম বারা বারি করি পরি হার
এখন দিলেন আসি সিংহাসনে বার,
গৃহস্বামী বৈকালিক বিবিধ প্রকার
ভক্তিনত হয়ে দেবে
হয়ে দেবে দেয় উপহার,
পুলকিত পুরােহিত করে নিবেদন;
মাথে লয়ে দ্বিজালয়ে যায় ভৃত্যগণ;
ছাল ছােলা ডাব, আর মুগের দ্বিদল,
তরমুজ, খরমুজ, পেঁপে, পানিফল,
আম্র, ইক্ষু, আলু, লােনা, কদলী, কেসুর,
সুগন্ধ গােলাপ জাম, সুমিষ্ট খর্জুর,
ফুটী, কলা, নিচু, শশা, বেল, বেলপানা,
ঋতু বর্ণন। == মিছরি, মাখন, সর, দধি, দুগ্ধ, ছানা, মণ্ডা, মুণ্ডী, ক্ষীর উঁচ বিবিধ প্রকার, চতুর্থীর চন্দ্রাকৃতি চন্দ্রপুলি আর, এইরূপ নানা দ্রব্য থালে থালে শােভে, পড়িলে নয়ন তায় লাল সরে লােভে, দেবদ্রব্য দ্বিজে লভে, লােভে কাজ নাই, দিন যায় চল সবে অটনেতে যাই- দেখ এই সহকারে, যার শাখা, ফলভারে দুলিতেছে, হয়ে অবনত, কত পৰু ফল তায় স্বর্ণ বর্ণে শােভাপায়, লােভে উড়ে আসে পক্ষী কত; বিধিকত পুণ্যফলে করিয়াছে আম্রফলে, তুল্য তার নাহি কোন খানে, লাজে সুধা অভিমানী, পলায়েছে হারিমানী, সকলঙ্ক শশী সন্নিধানে। এদিগেকাটালগাছে, দেখ কিবা ফলিয়াছে, গাংয়ে শয়ে কত বড় ফল, দর্শনে বৃহদাকার, আস্বাদনে চমৎকার, হে ফল জগতে বিরল।
নিদাঘ।
১৩
পাকিতেছে নিচুফল, পাছে খায় পক্ষীদল,
এইভয়ে ঘেরিয়াছে জালে;
কিবা রাঙ্গা টুক টুক, খাইতে বড়ই সুখ,
তাপবহ নিদাঘের কালে;
দুলিছে গােলাম জাম, গন্ধ যার অভিরাম,.
ভক্ষণেতে মিষ্ট তার পাই;
দেশী জাম কালকাল, মজাইয়া খেতে ভাল,
কিন্তু আজো পাক ধরে নাই ;
সবুজ পত্রের মাঝে, লােহিত বরণে সাজে
শত শত সুস্বাদু মাদার;
বিছাইয়া তরুতল পড়িছে জাল ফল,
ডালে ডালে শােভে কত আর;
এইরূপ তরু রাজি নানাবিধ ফলে সাজি
আহামরি কিবা শােভমান।
পক্ষীকুল বসে তায়, কল কণ্ঠে কিবা গায়,
মৃদুস্বরে বৈকালিক গান ;
আর কর দরশন কত বিহঙ্গিনীগণ .
করিতেছে অপূৰ্ব্ব কুলায়,
নানাস্থান বেড়াইয়া, তৃণলােম আহরিয়া
খ
ঋতু বর্ণন।
পুনঃ পুনঃ তরূপরি ধায়;
কেহবা যতন করি, আছে বসে নীড়ােপরি,
অঙ্গতাপে ডিম্ব ফুটাইতে,
কেহ কেহ ব্যগ্র হয়ে আসিছে আহার লয়ে
নিজ নিজ শাবক পালিতে।
এসব দর্শন হলাে, অন্য দিগে যাই চল,
হেথা আর নাহি প্রয়ােজন,
চল হেরি অন্যভাব, অতুল আনন্দ লাভ
যাহাহতে করিবে নয়ন।
এসাে এই ফুলােদানে, সুখ শােভা যেইখানে
দোহে মেলি করিছে বসতি;
মানবের কারিকরি, প্রকৃতি আশ্ৰয় করি
করিয়াছে অপরূপ অতি ;
মিলাইয়া লতাপুঞ্জ, কত কমনীয়কুঞ্জ
কারুগণ করেছে কৌশলে,
আহা কিবা মনােহর, উদ্যানের শােভাকর,
দেখ দেখ নয়ন যুগলে ;
ঘনপত্র আচ্ছাদিত, হয়ে তাহে বিকশিত
ফুল দল ধরে কিবা সাজ ;
নিদাঘ।
দূরে হেরে জ্ঞান হয়, সবুজ সাটীন ময়
হীরা পান্না মুকুতার কাজ ;
মধ্যাহ্নের দিবাকর তার মধ্যে নিজকর
নাহি পারে করিতে চালন,
কেমন সুন্দর তল, সদাতন সুশীতল,
নিদাঘেতে নিদ্রা নিকেতন।
পাষাণে নিৰ্মাণ করা কত চারু চবুতরা
সুশােভিত করেছে উদ্যান,
সুধাংশুর বেদীসম, দরশনে মনােরম,
বিকালেতে বিরামের স্থান।
এদিগে ভ্রমণ করি, ' নিরিখ নয়ন ভরি,
অপরূপ কৌশল চাতুরি-
ফুয়ারা ফুৎকারে’বারি, ধারা উঠে সারি সারি,
মরি কিবা মােহিনী মাধুরি!
কৃত্ৰিম কুসুম চারা বিদরিয়া পড়ে ধারা,
উঠে, আর পড়ে ঝর ঝর ;
অস্তগামী রবিকরে, বিচিত্র বরণ ধরে
সুবিমল সলিল শীকর ;
জ্ঞান হয় ভােগবতী ভেদকরি, বসুমতী
ঋতু বর্ণন। . নানাধারে নিজ ধারা তােলে; সেই স্রোত জলে ভাসি উঠি নানা রত্ন রাশি নেচে নেচে পড়ে ধরা কোলে; দেখ আর পরিপাটী, কেমন কুসুম বাটী সাজায়েছে আনন্দ আরাম- ফুল রাজি নানা জাতি বিকাশে বিবিধ ভাতি, নাহি হেথা শােভার বিরাম; হইয়া প্রফুল্ল আস্ত কত ফুল করে হাস্য বিস্তারিয়া সৌরভ গৌরব ; রূপ আভা নানামত, ধরিয়া কুসুম কত ইন্দ্রধনু করে পরাভব ; নভােপানে নিরখিয়া, কেহ হাসে মুচকিয়া শশী আশে ভাসে মনােমুখে ; তপন বিরহে কেহ হইয়া মলিন দেহ মুদে আঁখি অবনত মুখে; কেহবা রহস্য রঙ্গে, ঢলে পড়ে সখি অঙ্গে; ঈর্ষাভাবে কেহবা বিরূপ; কতই কুসুম দল, রসে তনু ঢল ঢল, দেখে ধায় লােলুপ দ ধুপ;
মিদাঘ।
কিবা স্থান সুশােভন, নিন্দিয়া নন্দন বন
ধরাতল করেছে উজ্জল,
নয়নের অভিরাম, নাসার আনন্দ ধাম,
নিরানন্দ নিপাতের স্থল ;
পুষ্পবী গরিহরি, চরণ চালন করি
চলে যাই দেখি সরোবর,
বসি এই তরু তলে,
কর দৃষ্টিকুতুহলে,
তীরে নীরে শোভা মনােহর ।
কম শণের ঘাট, কিবা সিঁড়ি পাটে পাট,
বিবা আর চার চাতলি,
বকুল বিটপী তাতে, শীতল ছায়া পাতে,
বিস্তারিয়া মাধুরি বিশাল ;
হংসী সহ হংস মেলি কৌতুকে করিছে কেলি,
মাঝে মাঝে করে কল কল,
বিমল ধবল কায়, কেমন ভানিয়া যায়,
দেখ কিবা নাহি টলে জল ;
ক্রৌঞ্চ কত ধীরে ধীরে, আধ তীরে অব নীরে
পাদ্যক্ষেপ করে গয়ে রয়ে ;
ডাহুক ডাহুকীগণ ছাড়ে ডাক ঘনে ঘন
১৮ ঋতু বর্ণন। প্রেম ভরে পুলকিত হয়ে ; নীরবাসী মীন রাশি তটের নিকটে আসি করে কেলি অঙ্গ ভাসাইয়া, আহার দেখিতে পেলে, বদন মেলিয়া গেলে, কভু ভয়ে যায় পলাইয়া; অদূরে দেখহ আর, কিবা ভাব চমৎকার ধরি, শােতে কমল কানন, অপরূপ রূপে সাজি, বিরাজে নলিনী আজি সরসীর অতুল্য ভূষণ; তপনের করম্পর্শে হাস্য মুখী হয়ে হর্ষে সুবিমল কাচ কান্তি জলে ভ্রমর ভ্রমরী সঙ্গে হেলে দুলে নানা রঙ্গে ছিল কত কেলি কুতূহলে, বিকশিয়া শতদল, মনােহর পরিমল সুধাস্বাদ জিনি মকরন্দ কনকের কৌটাহতে বিলায়ে বদান্য মতে দিতেছিল সকলে আনন্দ- এখন পশ্চিমাচলে, দেখি রবি, যায় চলে, কমলিনী হয়ে ম্রিয়মান
নিদাঘ।
নয়ন মুদিত করে, যেন প্রিয় প্রাণেশ্বৰে
মনে মনে করিতেছে ধ্যান।
নলিনীর ভাবান্তর হেরি ত্যজি সরােবর
অলিগণ নানাদিগে চলে,
কুমদিনী বৃন্তোপরি, বদন উন্নত করি
আঁখি মেলি হেরে ব্যঙ্গছলে ; .
কুবলয় পাশে পাশে, মৃদুভাবে আধ হাসে
ভঙ্গ করি কৌতুকে কলার,
কি বা সবে শােভা পায়, নয়ন ভুলিল তায়
অন্য দিগে নাহি চাহে আর।
মলয়ার সমীরণ মন্দ মন্দ সঞ্চালন
করিতেছে সলিল উপরি,
কেমন সরসী কোলে নীরজনিকর দোলে
উঠে তায় রূপের লহরী।
দেখিলে সুরস ভাব হইল আনন্দ লাভ
হেথা হতে চলছে এখন,
উপনীত হলাে রাতি, ঢাকিছে শােভার ভাতি
করি এসাে ছাদে আরােহণ।
২
ঋতুবর্ণন।
*
হইল দিবস শেষ,
যেন দেব দিবসেশ
শ্রান্ত হয়ে গগন ভ্রমণে,
বিশ্রামের অভিলাসে, শীতল ছায়ার আশে,
নামিলেন পশ্চিম কাননে ;
তখন সন্তাপইরা, শ্যাম কান্তি মনােহরা
বিভাবরী দিল দরশন।
আহা কি দেবীর বেশ, হীরাপুঞ্জে শােভে কেশ,
সাথিতলে ল আভরণ;
বিমল কালিমা মাসে, রজতের অভা সাজে,
নভোদেশ কি শোভিত,
তাপ ত্যজে ধরাতল, চরাচর সুশীতল,
প্রাণীকুল ফুখে পুলকিত;
সুধাকর করস্পর্শে কুমুদিনী হাসে হর্ষে,
জগর খানা ঘূচিল,
তাহে মন্দ সমীরণ
এমিয়া কুসুম বন
পরিমলে ভুবন ভরিল ;
মল্লিকা যুথিকা যাতি, নানা ফুলে মালা গাথি
মালাকর ডাকে গলি গলি,
বাসে পথ সুবাসিত, হয়ে কত আমােদিত,
নিদাঘ।
পথিকেরা যায় পথে চলি
রবি তাপে জ্বলাতন
ছিল নর নারীগণ
সুসময় পাইয়া এখন,
ছাদে কিম্বা বারাণ্ডায়, কৈহ বাসি আঙ্গিনায়
করে সুখে সমীর সেবন।
মেদিনী মাধুরিময়, শান্তি সুখ স্রোত বয়,
পান করে মানব সকল,
হেন কালে আচম্বিত, হয়ে সবে চমকিত
শুনে এক ঘাের কোলাহল ;
পূৰ্বদিক নিরখিয়া হেরে সভে চমকিয়া,
ধূমপাশি উঠিছে আকাশে,
প্রজ্বলিত বৈশ্বানর ধরি ভাব ভয়ঙ্কর
মাতিয়াছে নরপুরী নাশে ;
একে ত নীরস কাল, শুষ্ক যত গৃহচাল,
বায়ু তার সহায় আবার,
শত শত শিখা উঠে, চতুর্দিকে উখা ছুটে,
গেল দেশ রক্ষা নাহি আর।
২২
ঋতু বর্ণন
বায়ু সঙ্গ চালি অঙ্গ দেখ অগ্নি রােষিছে,
শুষ্ক ঘাস, রঞ্জু, বাঁশ শক্তি তার পােষিছে ;
দীপ্ত কায় মত্ততায় ভীম মূর্তি খেলিছে ;
রশিভাগ রক্তরাগ পল্লিমাঝ মেলিছে;
গেহচাল, বৃক্ষডাল, দাহি বহ্নি মাতিছে,
শূন্যপূরি ভূরি ভূরি বিস্ফুলিঙ্গ ভাতিছে ;
ধূমরাশি ভাসি ভাসি উর্ধ্বদেশ যাইছে ,
ভস্মভার অন্ধকার অন্তরীক্ষ ছাইছে ;
উচ্চরােল সােরগােল তাপতেজ বাড়িছে;
বংশরাজি বােম বাজি তুল্যশব্দ ছাড়িছে;
ধেনুপাল অলিথাল উল্ক ফুল্ক চাহিছে ;
দগ্ধকায় শারিকায় মৃত্যুগীত গায়িছে;
“বারি আন” “চাল টান, লােকপুঞ্জ হাঁকিছে ;
দীনতায় কাতরায় দেবতায় ডাকিছে;
দূৰ্ব্ব, ধান, বস্ত্র, পান, অগ্নিমাঝ ডালিছে ;
বাষ্পবারি কুম্ভবারি একতায় ঢালিছে ;
আৰ্তনাদি তৈজসাদি আঙ্গিনায় নাড়িছে ;
কেহ কেহ বাস গেহ ভাঙ্গি ভূমি পাড়িছে ;
মুক্ত কেশ, ছিন্ন বেশ, দৌড়দৌড়ি ধাইছে;
নিদাঘ।
২৩
তপ্তঅঙ্গ, চিত্ত ভঙ্গ, পানবারি চাইছে ;
গেল বাস, সৰ্ব্বনাশ, বালবৃদ্ধ কঁদিছে ;
একি দায়! চোর তায় চৌর্যবৃত্তি সাধিছে;
বহ্নিজাল পণ্যশাল ঘেরি দেখ লাগিছে ;
মাস, মূগ, তৈল, পূগ, খায় আর রাগিছে;
গেল ঠাট, জিপাট, মুদি মুণ্ড কূটিছে ;
হায় হায় ! মৃত্তিকায় দেহপাতি লুটিছে ;
নষ্টদেশ, অর্থশেষ নাহি কার থাকিছে ;
ছারখার ভস্মভার দগ্ধধাম ঢাকিছে
গ্রামখণ্ড লণ্ডভণ্ড অগ্নিচণ্ড নামিছে ;
দাহিবার নাহি আর ধীকি ধীকি থামিছে।
এইরূপ উপদ্রব করি বৈশ্বানর
পােড়াইল ঘর বাড়ী প্রাণী বহুতর,
দেবালয়, নরালয়, হলাে ছারখার ;
পুড়িল বণিকালয়, দোকান, বাজার;
পুড়িল অনেক দ্রব্য সংখ্যা নাহি তার,
বাসন, বসন, খাদ্য, নানা অলঙ্কার ;
পুড়িল সােণর পুরী, লণ্ড ভণ্ড দেশ,
ঋতু বর্ণন
দেখিতে দেখিতে সব হলাে ভস্মৃশেষ ;
ধিক্ ধিক্ ধনঞ্জয় ধিক্ তাের কাজ ।
তাের সম নিদারুণ নাহি বিশ্বমাঝ;
মনােহর নরবাস বিস্তর বিভব,
কেমনে করিয়া ছাই,
বিনাশিলি সব ?
এহেন দুর্জয় দুষ্ট কাল ভয়ঙ্কর,
—চরাচর নাশকর নাহি যার পর--
সেও দেখ একেবারে নাহি করে লয়,
ক্রমে জীর্ণ করে, আর ক্রমে করে ক্ষয়
উত্তাল তরঙ্গ তুলি তটিনী তুফানে
ডুবাইয়ে তরী যদি নিজ তলে আনে,
তবু তথা তরণীর থাকে অবয়ব,
সময়ে সুযােগে তার উদ্ধার সম্ভব;
মহাবীর প্রভঞ্জন আসিয়া যখন
কাপিয়ে বিশাল শৈল পাড়ে তরুগণ,
ঝাপটে দাপটে কত ঘর ভেঙ্গে ফেলে,
আলথাল করে চাল শূন্যে তুলে খেলে,
তথাপি তাহার সেই ভঙ্কর কোপ
একেবারে বস্তু বৃন্দ নাহি করে লােপ;
নিদাঘ।
তাের কিন্তু একি কাজ দেখরে অনল,
মেলাইয়া শত জিহ্বা খাইলি সকল,
পােড়ায়ে করিলি সব কেবল অঙ্গার,
কোথা গেল ধন ধান্য চিহ্ন নাহি তার।
এইরূপ প্রকাশিয়া মহা ভীমবল,
অবশেষে শান্ত হয় নিষ্ঠুর অনল ।
দিগে দিগে যত নর, গেল নিজ নিজ ঘর,
দগ্ধগেহ জনগণ রহিল কেবল,
ঢালিবারে ভস্মােপরি উষ্ণ অশ্রুজল।
নাহি আর কোলাহল ত্রিযামা পর্ভীর,
উত্তাপ তেজিল ক্রমে
অঙ্ক অবনীর।
চরাচর স্তব্ধ অতি, শান্তিময়ী বসুমতী,
সুধা বরষিয়া চলে সুধীর সমীর,
সুপ্তি কোলে শান্তভাবে জগৎ সুস্থির।
সন্তাপ নাশিনী নিদ্রা নিখিল জুড়ায়,
অভাগার নেত্রে কিন্তু নাহি স্থান পায়
গ।
ঋতু বর্ণন।
শেষে শষ্যা পরিহরি, বসিলাম ছাদোপরি,
দেখি, শশী ধীরে ধীরে যেন অনিচ্ছায়,
নিশার নিকট হতে লতেছে বিদায়।
হেরিলাম তারাবলি গগন মণ্ডলে
পূৰ্ব হতে পশ্চিমেতে পড়িতেছে চলে,
আহা মরি কিবা সাজে! অনন্ত বিশ্বের মাঝে,
অগণ্য দীপক মালা
যামিনীতে জ্বলে,
জানি রচনা কার দেখাতে সকলে !!
জানি থাকিয়া এরা
কতই অন্তরে,
বিন্দু বিন্দু আলােরূপে ঝিকিমিকি করে ?
আহা মরি কিবা শােভা, সভার নয়নলােভা,
শ্যামাঙ্গী শৰ্বরী তায় কিবা রুচি ধরে,
-শােভিত হয়েছে যেন হীরক নিকরে।
কি কারণে এই সব
গগন ভূষণ ?
অনন্ত বিভুর বুঝি অনন্ত লােচন ।
যামিনীর অরণে,
চুপে চুপে সঙ্গোপনে,
নিদাঘ।
পাপ কৰ্ম্ম করে যত
আকাশ হইতে এরা
পাপীয়ানগণ,
করে দরশন।
জ্যোতির্বিদ পণ্ডিতেরা
এই কথা কয়,
আলাে বিন্দুমাত্র যত দেখ তারা চয়,
এসব সামান্য নয়, এক এক তারা হয়
এক এক প্রভাকর, জানিও নিশ্চয়,
আকারে প্রকাণ্ড অতি, তেজে প্রভাময়।
কি আশ্চৰ্য্য কথা এই অতীত চিন্তন,
অগণ্য তারকাবলি অগণ্য তপন !
গ্রহ উপগ্রহ তবে, ঘেরি এই রবিসবে,
আকাশের নানা পথে করিছে ভ্রমণ,
সঙ্গে লয়ে পারিষদ
শশী অগণন ।
কতই ভূধর,
হতে পারে তরঙ্গিত
কতই সাগর,
জড়িত জলদ জালে
কত বন, উপবন, কত নদনদীগণ,
ফল ফুলে বিভূষিত
শােভিয়াছে সেই সব
দ্যুলােক নিকর
২৮
ঋতু বর্ণনা।
অথবা প্রকৃতি তথা সাজি অন্য সাজে,
দেখাইছে নিজ শক্তি অন্য বিধ কাজে ;
মানবের বােধাতীত, মানবের অদর্শিত,
হেন কীৰ্ত্তি করি কত তথায় বিরাজে,
অন্যরূপ নানারূপ ভৌতিক সমাজে।
স্বর্ণ বলে এথা যারে
এত ভাল বাসি,
হতে পারে গ্রহান্তরে শুদ্ধ ধূলা রাশি,
অমূল্য হীরক রত্ন, বারে এত করি যত্ন,
কণা মাত্র যার পেতে এত অভিলাসী,
অঙ্গার সমান ভাবে সেই গ্রহ বাসী।
এমনাে হইতে পারে সাগরের নীর,
মধুর সুধার তারে জিনিয়াছে ক্ষীর,
এমনাে হইতে পারে, সেই সব সিন্ধু ধারে,
পুঞ্জ পুঞ্জ মুক্তাফলে শােভে তরু শির,
ধরার পাদপে যথা নিশীর শিশির।
নিদাঘ।
;
হতে পারে কোন গ্রহে নাই ঘাের ঘন,
ভাসিতেছে তপনের তরল কিরণ ;
নাহি বর্ষে বারি ধারা, কিন্তু কি অপূর্ব ধারা,
অদ্ভুত উদ্ভিদ রাজি
জন্মে সদান,
দেখিতে সুন্দর অতি নয়ন রঞ্জন ।
কোন গ্রহে ক্ষীণ ভাবে পশে রকির ;
কিন্তু তারে ঘেরে আছে কত সুধাকর :
যামিনীর অন্ধকার,
নাহি পায় অধিকার,
কৌমুদী কিরণ জালে ব্যাপি নিরন্তর
সেই অপরূপ গ্রহ করে শোভাকর।
কোন গ্রহ আপনার তপনের করে
অয়ােগােলকের সম তীক্ষ্ণ তাপধরে ;
নাহি তথা তৃণ ঘাস, জীব নাহি ছাড়ে শ্বাস.
স্থলে নাহি জল বিন্দু, অদ্ভুদ স্বরে,
কেবল আগ্নেয় গিরি অনল উগরে ।
ঋতু বর্ণন।
ভয়ঙ্কর ধূমকেতু কোন গ্রহােপরে ;
আসিয়া ফেলিছে ভেঙে খণ্ড খণ্ড করে ;
প্রাণীকুল ধ্বংশ হয়,
তূর্ণ চূর্ণ গিরিচয়,
প্রকৃতি বিকৃতভাবে ভীম মূৰ্ত্তি ধরে,
ভাবিলে রােমাঞ্চ তনু,
অন্তর সিহরে !
কোন স্থানে কোন গ্রহ শুদ্ধ জলাধার,
হয় নাই অদ্যাবধি
স্থলের সঞ্চার,
ঘুরিছে বিরাট বেগে, তাহে ঝঞ্ঝাবাত লেগে,
উঠিতেছে উর্মিমালা
পৰ্বত আকার,
ভয়ঙ্কধ্বনি করি পড়িছে আবার।
এমনে হইতে পারে অগণ্য দ্যুলােকে ;
পেয়েছে আবাস স্থান কোটি কোটি লােকে ;
ধরার মানব প্রায় জীবনের পথে ধায়,
কভু হাসে, কভু কাঁদে, কভু মগ্ন শােকে,
কভু দীন, কভু সুখী সৌভাগ্য আলােকে।
নিদাব।
১
কোথাও বা হেন লােক করিছে বসতি,
মানব যাদের কাছে
ক্ষুদ্রতম অতি,
মহাবলে বলীয়ান, গুরু জ্ঞানে গরীয়ান,
ধরে অপরূপ রূপে মােহিনী মূরতি,
বিবিধ ইন্দ্রিয় বলে অপূৰ্ব্ব শকতি ;
মনের উল্লাসে করে সদা সুখ ভােগ,
নাহি জানে শােক তাপ, নাহি জানে রােগ,
নাহি তথা হিংসা দ্বেষ, নাহি বৈরিভাব লেশ,
তচ্ছেদ্য প্রণয় পাশে দম্পতির যােগ,
স্বর্গীয় প্রণয় ; তার নাহি ত বিয়ােগ।
তাহাদের গ্রহপুঞ্জ
নিত্য সুখ ধাম,
নাহি তথা ক্ষণমাত্র বসন্ত বিরাম,
মধুভরে ফুল দল, করে সদা ঢল ঢল,
পক্ষীকুল গায় সদা শ্ৰতি অভিরাম,
আনন্দ আরামে স্থান ভুবনললাম।
এইরূপ কত লােক অতীত ভাবনা,
চিত্রিতে মানস পটে পারে কল্পনা,
১২
ঋতু বর্ণন।
যত এই চিন্তা করে,
আশ্চৰ্য সাগরে হয়
অনন্ত বিশ্বের মাঝে
ততই ভকতি ভরে,
মনসী মগনা,
অনন্ত রচনা।
এদিকে ধরণী তলে যামিনী পােহায়,
একে একে তারাগণ গগনে লুকায় ;
তবে কেন মগ্ন হয়ে, ভাবি আর তারা লয়ে,
তারা যদি গেল চলে ফেলিয়া আমায়,
এখন যুড়াই আঁখি প্রভাত শােভায়।
মরি কি তরল
অমল কিরণে,
ঢল ঢল আভা ঢালিয়া ভুবনে,
পুলক জনক
আলােক ভুষণে,
প্রাচী নভােদ্বারে উষা উপনীত,
আরক্ত অধরে কিবা হাসি হাসে,
সে হাসি হিল্লোলে চরাচর ভাসে,
নিশার তামস মিশায় আকাশে,
হেরিয়া হইল অখিল মােহিত।
নিদাঘ।
মােহিনী মাধুরী করি দরশন
প্রণয় প্রয়াসে আপনি তপন
আদরেতে কত করে প্রসারণ,
রূপসীরে যেন
হৃদয়ে ধরিতে,
অপরূপ রুচি
মানস রঞ্জন,
শান্তির সহিত শােভার মিলন,
সে রুচি দেখাতে বিহঙ্গমগণ
জাগায় জগৎ মধুর ধ্বনিতে।
তাপিত ভূতল;
সুধীর গমনে সমীর শীতল
চলেছে জুড়াতে
প্রফুল্ল আননে প্রসূন সকল
পরশনে তার নাচে ধীরে ধীরে ;
নলিনী নিকর তাহার হিল্লোলে
কাচসম স্বচ্ছ সরসীর কোলে
হাসি হাসি মুখে আধ আধ দোলে,
নিরখি গগণে নবীন মিহিরে।
৩৪
ঋতু বর্ণন।
কুসুম কলাপ
রূপের আধার ;
স্থল জল কিবা শােভে চমৎকার;
তাহাতে খুলেছে
সৌরভ ভাণ্ডার;
কতই আমােদ মধুপ মণ্ডলে।
যুথে
যুথিকার কুঞ্জে,
চামলি চুম্বিয়া ভ্রমে পুঞ্জে পুঞ্জে,
মল্লিকার মধু কত শত ভুঞ্জে,
কমল কাননে কত শত চলে।
যুথে বসে
পেয়ে মকরন্দ অতুল উৎসবে
ঝঙ্কারে আনন্দে মধু মাছি সবে,
অলি করি গান গুণ গুণ রবে
ফুল হতে ফুলে
করিছে বিহার ;
কখন কখন উড়ি আচম্বিতে
ধায় অন্য দিকে সকোপধ্বনিতে,
যেন বনস্পতি দেবে জানাইতে
দ্বিজের দৌরাত্ম্য, মালীর আচার
লিদাঘ।
ব্রাহ্মণ পণ্ডিত দুর্গা দুর্গা বলি,
ক্ষৌম বাসসহ লয়ে নামাবলি,
পুলকে প্রত্যুষে ধরি ধরি চলি,
প্রাতঃস্নানে নামে জাহ্নবীর জলে।
সুখদা শয্যার সুখ পরিহরি
এল সেই জলে কত কুলনারী;
আহা কিবা রুচি। সুর ধুনী বারি
সুশােভিল যেন সরােজিনী দলে।
নাহিক কল্লোল তটিনীর জলে,
তরঙ্গের রঙ্গ অঙ্গে না উথলে,
অতি মৃদুগতি চলে কি না চলে,
এখনাে বুঝি বা অবশ নিদ্রায় ।
তীরে শােভালায় নানাবিধ তরী,
দুই একখানি স্থির বক্ষোপরি ;
ৰূপ ৰূপ রবে দণ্ড ক্ষেপ করি,
সুখে মাঝিগণ ধিকি ধিকি বায় ।
ঋতু বর্ণন
দাস দাসীহীনা কুলাঙ্গনা কত
সরােবর ঘাটে হয়ে সমাগত
মাজে খাল ঘটী কথা নানা মত,
কহে পরস্পরে মনােদ্বার খুলি ।
গৃহে কোন নারী দধি বিলােড়িয়া
তুলিছে নবনী সানন্দ হইয়া,
শিশু যাচে ননী হাত বাড়াইয়া,
যাচে ননী যেন ননীর পুতুলি।
লয়ে ধেনুপাল মন্থর গমনে
চলেছে রাখাল চিন্তাযুত মনে,
ভাবে কোন্ মাঠে যাবে গােচারণে,
শুকায়েছে শম্প দারুণ নিদাঘে;
চলেছে সত্বর কৃষক সকল,
বলীবর্দ আগে,
কন্ধেতে লাঙ্গল,
চির প্রিয় হুকা সুখের সম্বল,
চাপিয়া অধরে
টানে অনুরাগে।
নিদাৰ ।
হয়েছে প্রভাত মৰ্ণিং ইস্কুল,
নৈশনিদ্রা ত্যজি বালক বিপুল,
উড়াইয়া অঙ্গে ধবল দুকূল,
চলে দলে দলে;
কেহ কোন কথা
অপরে সুধায়,
ঘণ্টা বাজা ভয়ে
কেহ দ্রুত যায়,
কেহ দুটি ফুল পেয়েছে কোথায়,
বার বার তাই
পুস্তক লইয়া
সেঁকে কুতূহলে।
তরুণ বয়স কান্তি ঢল ঢল,
যেন প্রাতঃস্ফুট
নব পুষ্পদল,
যেমন কোমল, তেমনি বিমল,
হেরিলে আঁখির
পাপ দূরে যায় ;
পড়াতে সুখ্যাতি
পাইবে কেমনে
করে চিন্তা এই, কেহ ভাবে মনে
পুনরায় গৃহে যাব কত ক্ষণে,
কতক্ষণে সবে মাতিব খেলায়।
ঋতু স্বনি
স্বভাবে সকলে যেমন সরল,
হেরিছে তেমনি জগত সকল,
কপটতা অহি বিদ্বেষ গরল
ঢালে নাই আজো কারাে ঋজুমন;
জীবনের পথ হেরিছে সুন্দর,
কুটিল কণ্টক, পিচ্ছিল গহবর,
করে নাই আজো নােচন গােচর,
হেরিছে সকলি আশার নয়নে ।
ইহাদের মাঝে কেহ হতে পারে,
গরীয়সী বিদ্যা বুদ্ধি সহকারে,
মন্ত্রীবর কোন রাজ দরবারে,
রাখিতে প্রজায় প্রভূত কুশলে ;
কেহ উচ্চতম
বিচার আসনে
জেতৃগণ সনে,
ভাঙ্গিতে, গাড়িতে মুখের বচনে
কওমর ভাগ্য
বিচার কৌশলে ;
মিঘ।.
হতে পারে, কেহ বিবিধ সভায়
নাচায়ে বাণীরে
নিজ রসনায়,
উদ্দীপনা ভেরি বাজাবে ধরায়,
মাতায়ে অনেকে আপনার মতে;
লেখনীরে কেহ
করিয়া রসনা
বিপুল সাহসে
করিবে ঘােষণা,
রাজার দৌরাত্ম্য, প্রজার যাতনা,
বৰ্ত্তাবহ পত্র বিতরি জগতে ;
হেন হতে পারে, কেহ বিদ্যাবলে
দেখিবে প্রবেশি গগণ মণ্ডলে,
কেবা কত দূরে,
কোন পথে চলে,
জ্যোতিষ্ক সকলে অনন্ত আকাশে ;
সারস্বত নীরে কেহ করি স্নান,
কবিতা দেবীরে দিয়ে কণ্ঠে স্থান,
মানস রঞ্জন
সুধা মাখা গান
গাইলে গাইতে পারিবে অনা(য়া)সে ;
ঋতু বর্ণন।
কিন্তু হেন রূপ হবে কয় জনে ?
অনেকেই হায় ! সংসার কাননে
ঘুরিবে বেড়ায়ে
বিফল ভ্রমণে,
সৌভাগ্যের দেখা কভু নাহি পাবে ;
অনেকে আয়াসে
লভিবে কেবল
জীবন তরুর
কটুক্তি ফল,
অনেকের হৃদে দৈন্য দাবানল
নিয়ত পোেড়াবে ;
দুঃসহ জ্বালায়
এমনাে হইলে
হইবারে পারে,
সকলেই এরা ভাগ্য সহকারে
স্বনাম ঘােষণা করিবে সংসারে
বিশাল বিদ্যার বুদ্ধির প্রভাবে ;
কিন্তু হেন আশা মনে নাহি আসে,
এর মাঝে কেহ
যুদ্ধ যশাে আশে
করিয়া হুঙ্কার বীরত্ব উল্লাসে
ধাইবে সমরে রণ ভেরি রাবে;
নিদাঘ।
বঙ্গের সন্তান।
হইয়া সাহসী,
লইয়া কামান,
তরবারী, অসি,
দেখাবে বীরত্ব রণ মাঝে পশি,
ইচ্ছা বড় মনে কিন্তু আশা নাই ;
এখনাে সকলে ঘুমায় যেমন,
এরাও তেমনি ঘুমাবে তখন,
ঘুমপ্রিয় অতি বঙ্গবাসীগণ,
বৃথা মম ইচ্ছা
-আমিও ঘুমাই !!!
বহুদিন বারি নাই, নীরস সকল,
প্রচণ্ড মার্তণ্ড তাপে দগ্ধ ক্ষিতিতল,
পাষাণ সমান ভূমি, নাহি চলে হল,
নিরাশ হইয়া চাসে কঁদে কৃষীবল ;
ভাঙ্গিতে কঠিন মার্টি দেখি উপায়,
অবিরল আঁখিজলে অবনী তিতায়।
কত কত গ্রাম হতে
কত কুল নারী
গিয়াছিল কতদুরে
আনিবারে বারি,
কিন্তু তথা জল নাই, আসিতেছে ফিরে,
ভরিয়া কক্ষের কুম্ভ
নয়নের নীরে।
ঋতু বর্ণনা
পিপাসায় দিগে দিগে ধায় ধেনু পাল,
ধরিয়া রাখিতে আর পারে রাখাল ;
চিৎকারিয়া চাতকিনী ডালে ডালে ফেরে,
জলদে জলদে বলি
ডাকে জলদেরে ;
ভয়ঙ্কর রােগ যত ভ্ৰমিছে ধরায়,
যাতনায় জীব কত যমালয়ে যায়,
হাহাকার করি লােক ডাকে বিধাতায়,
ঘন আশে ঘন ঘন ঊৰ্ধ পানে চায় ;
হেন কালে নভােদেশে নব নীরধর
আসি হল সভাকার নয়ন গােচর,
দূর হতে নীল নগ
দেখায় যেমন,
তেমতি আকারে ঢাকে পশ্চিম গগণ ;
নিরখি নীরদ কান্তি বিশ্ব পুলকিল,
সুখ সিন্ধু সভাকার চিত্তে উথলিল,
আশাধন পেয়ে হর্ষে নর নারীগণ
সমাদরে ভক্তিভরে করে সম্ভাষণ ;---
“এস এস জলধর, এসহে ত্বরায়,
বরযিয়া সুধা বারি বাঁচাও সভায়,
তব জল বিনা দেখ জ্বলিছে জগত,
নিদাঘ। তৃণ লতা তরু রাজি পুড়িছে তাবত, মাটিতে ফেলিলে বীজ বিনষ্ট তখনি, করে প্রসব কিছু জননী ধরণী ; সভার জীবন তুমি জীবন আধার! তােমার জীবন বলে বস্তু বসুধার, এই যে ভারত বর্ষ বর্ষের প্রধান, -~~-ভুবন ভূষণ সম সদা শােভমান--- --প্রকৃতির প্রিয় স্থান নয়ন রঞ্জন প্রকৃতি সতত যথা সহাস্য বদন--- --যার ক্ষেত্র শস্য রাশি, তরু নানা ফল দিয়ে পালে পশু পক্ষী মানব সকল, কুসুম কানন যার অতি মনােহর, নিরন্তর আমােদিত করে চরাচর, -বহুবিধ ভােগদ্রব্য যথা বিদ্যমান, জগতের গােলা আর, বিশ্বের বাগান, -যাহার সন্তান গণ অন্নের কারণ দেশ ছাড়ি অন্য দেশে করে গমন- --বলা নাহি যায় যার ঐশ্বৰ্য অশেষ, --যার ধনে ধনী করে কত ভিন্ন দেশ,
ঋতু বর্ণন।
বিপুল বিভবে দেশ শােভা করে অতি
লক্ষী যেন আসি হেথা করেন বসতি,
-~-ভূপাল বৃন্দের যাহা লালসার ধন
বিক্টরীয়ার মুকুটে অমূল্য ভূষণ,
এসব ঐশ্বৰ্য্য দেখ তব কৃপাবলে
সােণার ভারতে সােণা ফলে তব জলে
বলিতে বলিতে মেঘ বিস্তারি শরীর
ব্যাপিল আকাশ দেশে নিবিড় তিমির,
ঘনতম ঘাের ঘটা
ক্রমে ঘাের তর,
চতুর্দি অন্ধকার
অতি ভয়ঙ্কর,
চপলা চমকি প্রভা করিছে বাহির ;
ভীষণ নিনাদে ঘন নির্ঘোষে গভীর ;
হেন কালে সন্ সন্ শব্দ দূরে হয়,
শুনিয়া সকল লোেক হইল সভয়।
ভীমাকার ভাবে, করিয়া তজ্জন,
স্বনঃ স্বন্ নাদে গরজি গভীর,
প্রভূত প্রবাহে
এলাে প্রভঞ্জন,
কঁপে চরাচর হইয়া অধীর;
নিদাঘ
৪৫
স্তপে স্তুপে ধূলি উৰ্ধ দেশে উঠে,
কেহ আর কিছু না পায় দেখিতে,
গাভী হম্বা রবে
উচ্চ পুচ্ছে ছুটে,
পথেতে পথিক পারে চলিতে ;
অপৰ্ক সুপক্ক ফল বহুতর
পড়ে রাশি রাশি বিছায়ে মৃত্তিকা,
দোলে ঘর দ্বার, কঁপে থর থর
পাষাণ নির্মিত ; সৌধ অট্টালিকা।
ক্ষণেক যুঝিয়া, বড় বড় শাখী
মড় মড় শব্দে পড়িছে ভাঙ্গিয়া,
শাবক সহিত হত কত পাখী,
শূন্যে শূন্য নীড় চলিছে উড়িয়া।
কুটীর বিস্তর
করি লণ্ড ভণ্ড,
অবলীলা ক্রমে
তুলে নভেদেশে,
দারুণ দুর্জয় পবন প্রচণ্ড
খেলিছে, ফেলিছে দূরে অবশেষে।
ঋতু বর্ণন।
ধূমল মূরতি
হেরি বায়ু দর্প গগণে তখন,
নীরদ নিকর
আরম্ভিল রােষে ঘােরর রণ,
সঘােষে নির্ঘোষে ভেরী ভয়ঙ্কর।
চপলা চমকে,
ঝলসে অনল,
পড়িছে করকা আচ্ছাদি অবনী;
বর্ষে বৃষ্টি জল ;
বিকট নিনাদে আরাবে অশনি।
মুষল ধারায়
জীবজন্তু সবে
ভয়ে সশঙ্কিত ;
মাঠে গােঠে মরে
কত ধেনু পাল ;
পথে কত জন হতেছে মূচ্ছিত ;
শঙ্কা শােক শীতে কঁদিছে রাখাল।
সলিল সহিত
সমীর ঝাপটে
ভঙ্গি পড়ে কত
ইটের আগার,
মরিছে অনেক
তাহার চাপটে,
চারি দিকে উঠে ধ্বনি হাহাকার।
নিদাঘ।
দেখ হ্রদে নদে আর পারাবারে
কেমন মেতেছে ঝঞ্ঝা মহাবল,
---কালান্তক যেন করাল আকারে
করিছে প্রলয় নাশিয়া সকল।
কল্লোলিনী
কুল
করিয়া কল্লোল
উথলিছে কোপে তার উত্তেজনে,
তুলা স্তুপ তুল্য তরঙ্গ হিল্লোল
দম্ফে লম্ফ দিয়া উঠিছে সঘনে ।
উন্মত্ত মারুত মায়া পরিহরি
সেইত ভীষণ উচ্ছসিত নীরে
কি খেলা খেলিছে লয়ে যত তুরী,
হেরিলে শােণিত শুকায় শরীরে ।
কত ডিঙ্গী, পান্দি,
পিনেস, বজরা,
ফেলে উলটিয়া তরঙ্গিত নীরে ;
একেবারে কত ডুবাইছে ভরা,
কতই ভাঙ্গিছে আছাড়িয়া তীরে।
৪৮
ঋতুবর্ণন।
বাল বৃদ্ধ যুবা
আরােহী সকলে
ঘাের আর্তনাদে তুলিল রােদন,
কেবা কারে দেখে ? যায় রসাতলে
হারায়ে অকালে জীবনে জীবন।
এ হেন দুৰ্যোগে কি ভীম আকার
ধরেছে জলধি, কর দরশন,
সহজে ভীষণ
তাহাতে আবার
ঝঞা বাতসহ হয়েছে মিলন।
উর্ধে নতভাদেশ ঘন কালিমায়
লয়েছে ঘেরিয়া
ঘন ঘােরতর ;
নীচে ঘননীল নীর রাশি তায়
উথলিছে কোপে অতি ভয়ঙ্কর।
উত্তাল তরঙ্গ উঠে নগাকারে,
—যেন নিজাঙ্গজ অম্বুদে চুম্বিতে—
পড়িছে আবার ভাঙি স্বীয় ভারে,
করিয়া তজ্জন বিরাট ধ্বনিতে।
নিদাঘ ।
৪১
বিস্ময় জনক
জলস্তম্ভ কত
উঠিছে নীরদে নীরধি হইতে,
--যেন সুরেশের দন্তী শত শত
নামায়েছে শুণ্ড সলিল শােষিতে;
লয়ে পােত কত নিষ্ঠর উল্লাসে
খেলিছে সাগর ভয়ানক রঙ্গে ;
ল ও ভও করি কল বল নাশে;
পুতুলের মত
নাচায় তরঙ্গে
বিস্ফারিত কোপে করি কলেবরে
বিশাল জাহাজে তুলিছে আকাশে;
কভু ফেলে যেন
গিরির গরে,
উন্মাদিত উৰ্ম্মি উঠে দুই পাশে ;
পবন তাহার ভাঙিল মাল,
ছিন্ন ভিন্ন করি ফেলে যত পাল,
তরী ভরি জল উঠিছে বিপুল,
অতুল তুফানে সব আল থল ;
ঋতু বর্ণন।
যাত্রিক নাবিক করি হাহাকার
বর্ষে অশ্রুধারা পড়িয়া সঙ্কটে,
গেল গেল প্রাণ নাহি রক্ষা আর,
দেখিল আইল শমন নিকটে,
অর্ণবের কোপে কতক্ষণ রয় ?
বহুজলযান
গেল রসাতলে,
নর নারী কত নীরে লুপ্ত হয়,
-জলবিম্ব যেন মিশাইল জলে ;---
থামগো ! প্রকৃতি! একি খেলা খেল ?
ভৌতিক মেলায় ভীম ভাব ধরি,
হলো সৰ্ব্বনাশ, বুবি সৃষ্টি গেল,
কেন গো হইলে হেন ভয়ঙ্করী ?
জিনিয়া চামুণ্ডা
প্রচণ্ড রপিণী,
বিকট হাশিয়া হুঙ্কারিছ রব,
আলু থালু বেশ। ভৈরবী ভামিনী ;
ত্রাস্তি জগত দেখে তব ভাব ।
নিদাঘ ।
১
বল বল দেবী কাহার উপরে,
প্রকাশিছ এই বিভীষণ কোপ ?
তুমি গাে রাগিলে কেবা রক্ষা করে ?
এখনি হইবে বিশ্বের বিলােপ।
ক
দেখি গিয়া পরদিন, জনপদ শােভা হীন,
লণ্ড ভণ্ড মানব বসতি;
দুরাচার প্রভঞ্জন দৌরাত্মের নিদর্শন
গেছে রেখে, শােচনীয় অতি
কতশত তরুবর মূল সহ কলেবর
মৃত্তিকায় করেছে বিস্তার ;
আর নাহি তুলি কায়া, পথিকেরে দিবে ছায়া,
ফল ফুলে তুষিবে না আর।
তাহাদের অধিবাসী, বিহঙ্গম রাশি রাশি,
আছে পড়ে এখানে সেখানে ;
কত বৃক্ষ কাণ্ড সার,
নাহি শাখা অলঙ্কার,
স্থাণু হয়ে আছে স্থানে স্থানে।
নরবাস আলথাল, গৃহ হতে কত চাল
দূরে গিয়া, শুয়েছে ভূতলে ;
ঋতু বর্ণন।
;
অনেক ইটের গেহ, ত্যজেছে প্রাচীন দেহ,
অঙ্গহীন হয়েছে সকলে।
পথে চলা কষ্ট অতি, ডালে চালে রােধগতি,
স্থানে স্থানে সেতুর নিপাত ;
বিনষ্ট বাজার হাট, ভেঙেছে দোকান পাট,
হানে মুদী শিরে করাঘাত।
মাঠে ঘাটে, জলে ঝড়ে, মরে মরে আছে পড়ে
থেনু মেষ মহিষ বিস্তর
কত নর ভাগ্য দোষে পড়িয়া ঝঞ্ঝার রােষে
গেছে চলে শমনের ঘর।
ভাসে শব নদীনীরে, কত বা লেগেছে তীরে,
কতদ্রব্য স্রোতে ভেসে যায়,
উলটিয়া কত তরী ভাসিছে সলিলােপরি,
ভেঙে কত রয়েছে চড়ায়।
বিদলিত কত কুঞ্জ, ছিন্ন ভিন্ন লতা পুঞ্জ,
বিহঙ্গের নাহি কণ্ঠকল,
নর নারী হত জ্ঞান, হয়ে অতি ম্রিয়মাণ,
ফেলিতেছে নয়নের জল।
নিদাঘ
যেমন ভামিনী নারী লয়ে কোন বামাচারী,
সুরাপানে করি মাতা মাতি,
শ্রান্ত হয়ে অবশেষে, ক্ষুন্নভাবে ছিন্ন বেশে
শুয়ে পড়ে, ভূমে দেহ পাতি;
আল থাল অঙ্গবাস, এলালিত কেশ পাশ,
অলঙ্কার ফেলিয়াছে দূরে,
বিশ্বধরে নাহি হাস্য, নির্জীব মলিন আস্ত,
নাহি কথা মধুমাখা সুরে ;
সেইরূপ ভাব ধরি, প্রকৃতি উন্মাদে করি,
মাতা মাতি ভৌতিক মেলায়,
এখন নিস্তেজ হয়ে, বিষাদের সঙ্গ লয়ে,
আছে পড়ে বিকৃত দশায় ;
নাহি অঙ্গে অলঙ্কার, নাহি গলে পুষ্প হার,
ক্ষত দেহ, বিছিন্ন বসন,
গীত শূন্য সুধাস্বর, কান্তি শূন্য কলেবর,
দীনহীন বিমর্ষ বদন।
গুন গাে প্রকৃতি শুন! মােহিনী মাধুরি পুনঃ
ধরি দেবি, হাস পুনরায়;
ঋতু বর্ণন।
নীলাম্বর চমৎকার, নানাবিধ অলঙ্কার,
পরি পুনঃ, ভুলাও সভায়।
তুমি গাে সামান্যা নও, বিশ্বের জননী হও,
আদ্যাশক্তি তুমি নিরুপমা,
জিনি পূর্ণ প্রেমার, অখিল ঐশ্বৰ্য্য যার,
হও তুমি তার প্রিয়তমা।
তুমি আছ দীন তায়, একি কভু শােভা পায় ?
ত্যজ ত্যজ এ ভাব ত্বরিত,
মনােমঞ্জু বেশে ভাস, উৎফুল্ল আননে হাস,
যে হাসিতে বিশ্ব হরষিত;
হােক ধ্বনি জয় জয়, জগত প্রমােদ ময়,
হেরে সেই চিত্তরমা ছবি,
নাচিয়া গাইয়া ভPে আনন্দে চলুক সভে,
যাচে দেবি! এই ভিক্ষা কবি ।
সমাপ্ত।
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.
No text on this page.