Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata

Nupur

Dutta,debendranath · 2009/12/6

PDF Proofread

Front matter

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

নূপুর

No text on this page.

দেবেন্দ্রনাথ দত্ত, এম, এ।
খ্যাতনামা সাহিত্যিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যের
অধ্যাপক শ্ৰীযুক্ত চারু বন্দ্যোপাধ্যায়
লিখিত ভূমিকা সম্বলিত।
জগন্নাথ হল। রমণা, ঢাকা।
১৩৩৪। ভাদ্র।
সর্ব সংরক্ষিত।

( চার )
প্রকাশক-ফণীন্দ্রনাথ দত্ত।
বাসাবাড়ী রােড়। ময়মনসিংহ।
প্রাপ্তিস্থান।
ভট্টাচাৰ্য এণ্ড সন্স,। শ্ৰীমণিভূষণ দত্ত, বি, এ।
ময়মনসিংহ লাইব্রেরী। ৫৩|৩ বি শ্ৰীগােপাল মল্লিক লেন
ময়মনসিংহ।
কলিকাতা।
দেবেন্দ্রনাথ দত্ত, এম, এ।
জগন্নাথ হল। রমণা, ঢাকা।
রামসুন্দর রাধাশ্যাম প্রেস।
প্রিন্টার-কিশােরী মােহন দে
৯১০ বংশাল রােড, ঢাকা।

ভূমিকা। শ্ৰীযুক্ত দেবেন্দ্রনাথ দত্ত তার পরিচিত-মহলে কবিখ্যাতি অর্জন করেছেন। সেই সুখ্যাতিতে সমুৎসাহিত হয়ে তিনি তার প্রথম রচনার অর্ঘ্য হাতে নিয়ে বঙ্গীয় সাধারণের সঙ্গে পরিচয় করতে উপস্থিত হয়েছেন। খাদ্যের গুণ-পরিচয় যেমন তার স্বাদে, কাব্যের গুণ-পরিচয় তেমনি তার আনন্দ-দানের শক্তিতে। খাদ্য না খাইয়ে তার স্বাদ যেমন কাউকে কথায় বুঝিয়ে দেওয়া শক্ত, কাব্যের মাধুৰ্যও তেমনি অপরের কথায় উপলব্ধি করা কঠিন। সহৃদয় পাঠক এই কাব্য পাঠ করলে দেখতে পাবেন নবীন কবির ছন্দের উপর ও শব্দ-নির্বাচনের উপর অসাধারণ অধিকার জন্মেছে ; তাঁর কবিতা ছন্দের নৰ্ত্তনে ও শব্দের ঝঙ্কারে নৃত্যকুশলা নটীর পায়ের নূপুর-নিকণের মতনই শ্রুতিমধুর হয়েছে। বঙ্গবাণীর মন্দির প্রাঙ্গণে নবীন পূজারী যে নূপুর নিত করলেন আশা করি তার ঝঙ্কারে পাঠক-চিত্ত আনন্দ লাভ করবে এবং আগন্তুক নবীন কবিকে যথােচিত সমাদর করে তাঁর কাব্যসাধনায় উৎসাহ ও নূতন নূতন সৃষ্টিতে প্রবর্তন। জোগাবে। ক্ষুদ্র বীজের মধ্যেই বনস্পতির বৃহৎ সম্ভাবনা গুপ্ত থাকে ; উৎসমুখের ক্ষীণধারার মধ্যেই সমুদ্রগামিনী স্রোতস্বিনীর

( ছয় )
অকূল-জলবিস্তার লুক্কায়িত থাকে ; তেমনি এই নবীন কবির
প্রথম প্রয়াসের মধ্যে ভবিষ্যৎ সাফল্য নিহিত আছে। কবির
সেই ঐশ্বৰ্য উদ্ঘাটন করে কবিকে সকলের সঙ্গে সুপরিচিত
করে তুলতে পারুলে আমি আনন্দিত হবো।
চারু বন্দ্যোপাধ্যায়
রমণা, ঢাকা।
ভাদ্র, ১৩৩৪।

হরি নুপুরের মধু শিন্যে
মনোমঞ্জুর উঠেছে বাজি,
তারে সপিলাম অন্তরে-গড়া
গুঞ্জনভর দুপুরজি

No text on this page.

সূচী। ••• নুপুর তরী ••• ০ ০ ০ + ০ ০ রজনীগন্ধা সন্ধ্যারতি ... মরণ-পথে • মূর্তি হেনা ••• বন্ধু-বিরহে ... ••• ••• ৫ । . ••• বসন্ত ••• ১২ ১৪ ... ••• এ ৫ ০ ••• শিশু সূর্যমুখী ••• ফাগুনে করুন। শিবাজী আঁধারে আলাে ••• ১৭ ও , ১৯ ২• ••• পরের ঘরে ... ••• ২১ ২৩ ২৪ * * * ••• ••• ঢলাঢলি কে তুমি ••• বধূ-বাসন্তী বস্ত্রদান ••• বুলবুলি ••• ২৫ + ••• ••• o ••• ••• ( দশ ) . . ••• ০ ০ ০ ০ ০ ০ বরষা প্রার্থনা জীবন যৌবনপথে ••• ••• ••• ৩২ ০ ০ ০ ফুল ৫। ৩ •• ৮ ।। ••• ••• বান্ধব ••• ••• ••• ••• ••• ••• ৩৭ ৩৮ ৪ . . ••• ••• ••• ৬ । ••• ••• ••• ৪ ••• ৪১ চরকারাণী... লুকোচুরি . ধীরে পূজারিণী সূর্যাস্ত সেফালিকা ••• বশিষ্ঠাশ্ৰম ... বিরহ-ব্যথা বার্ধক্য ভালবাসি অনুশীলন সখীসনে বাসন্তিকা ••• ৪২ ••• ৪৪ * * * ••• - ৪৬ ••• • • • ••• ••• ৪৭ ০ ০ ••• ••• ৪৮ ••• •• ৪১ ••• ••• ৫০ ••• ••• বন্ধু ঝর্ণা ••• ••• ••• ••• ••• ••• কবির প্রতি n এ মনে হয় ৫ ০ ০ ৫৭ ••• ( এগার ) ৫ ০ ০ ০ ০ ০ ••• ••• ••• ••• বাসি-ফুল আনমনে ভুবনেশ্বরী .. ভাদ-প্রভাতে ৩২ ••• * * * ••• পথচলা ৫ ••• ••• ••• ৩৭ আবাহন চাঁদিমা • ০ ০ ••• ••• রঙ খেলা ••• ৩৯ ও ৮ দুঃখ ও শোক ••• ৭০ ••• ••• মনােভাব ৭২ ••• • * ৩ . . দেববালা ••• . . . ••• ••• ৩ পাগল ••• ৭৪ রূপের ছলা ••• ••• ০ ০ ০ ••• ••• ••• ৫ ••• ৭৭ ••• ••• ••• যৌবন পুতুল-খো চাদের পূজা জীবন-ভেলা মিন-রাত্রি গিন্নী আশীৰ্বাদ বাসন্তী হাট নিঝরিণী ৮ ৭৯ ৮১ ৮২ ••• ••• ... ••• •• + + ••• ৮3 ••• W ০ ০ ০ ৮৮ ( বার ) ১ দোল পূর্ণিমা ••• ••• খাটি পূজা ৯২ ••• ••• ** ০ ••• । .. t. নব আশ। অভিসার বৈতরণী ••• ... ৯৭ ০ + ০ ••• # ০ ০ ০ ০ ০ মধুমাসে মিলন-দোলায় ••• ••• ••• ১০০ * * * ••• অভিমান ••• ••• ১০২ ••• ১০৪ ••• দূর থেকে ১০৭ + ০ ০ প্রেমের পথে ভিখারিণী ফাগুন-বিরহে ৪ + ০ ১০৮ ন •• ••• ১১২ • ০ ০ ••• ••• ••• + + ১১৪ ••• ••• ••• ... • • ••• কলিকা যৌতুক কল্লোল মুকলি নীলিমা সুধী-আহ্বানে আলী ৰাণী-সেবা ••• ••• ... ১১ 4 ••• • • • ••• ••• ••• to

নুপুর।
নুপুর।
ঝুমুর ঝুমুর ঝুমকো-নূপুর বাজছে নব-বধূর পায়,
স্বর্গপুরীর অপ্সরাদের নাচন-মধু মন মাতায়।
চছে কি আজ ব্রজের রাধা গােপন অভিসার-পথে,
প্রাণের ঠাকুর কেলেসােণায় তুলতে হিয়ার প্রেমরথে ।
দখিণ বায়ু স্বস্বনিয়ে যায় কি গেয়ে ফুল-ঘুমি !
কোকিল ডাকে কু-উ কু-উ কোথায় প্রিয় কই তুমি?
নিঝর কি রে ককলিয়ে সাগরপানে যায় ছুটে !
সেতার-তারে উঠছে কি ও মীড়-গমকের চুম ফুটে !
ভ্রমর-বঁধু আসছে বুঝি গুণ-গুণিয়ে ফুল-পদে !
তা-না তা-না তানসেনী তান্ তুলছে নূপুর সুর-মদে ।
চিকণকালার নূপুর-ঝুমুর গোপাঙ্গনার মন-আলা,
প্রাণে আমার ঝুমকো-দোলায় নিত্য প্রেমের দীপ জ্বালা !

তরী।
ছুল আমার
প্রেমের তরী
পাল তুলিয়া,
দরিয়ার ঐ
মাঝখানেতে
দো দুলিয়া ।
তীরের মত
হাল মানেনা,
কোন দিকে যে
চতে হবে
তাও জানে না।
ছুটছে তরী
কুলের খোঁজে
অসীম কোলে
যায় নাচিয়া,
প্রেমণয়ের
প্রেম যাচিয়া।
সুদূর পথে
পথের শেষে
তার দরশে,
থাবে তরী
সফল হবে
পথ চলা মাের
প্রেম-পরশে।

পুর।
ক্তধারা।
নিদয়-পাষাণ নিঠুর-হিয়ায়
বাঁধলে মােরে যেই,
মুক্তি-পথের গােপন-কথা
শিখায় মােরে সেই।
ভাতে শিখায় পাষাণ-কার,
ঢাতে শিখায় শীতল ধারা,
চতে শিখায় পাগলপারা,
বাঁধন যেন নেই।
কঠিন-পাহাড়-পরশ-ব্যথা
হালে বুকে যেই,
বিশ্ববীণার প্রণয়-গাঁথা
বুঝতে শিখায় সেই।
ছুটতে উধাও তারার মত,
লুটতে ধরার কুসুম যত,
সাধতে ত্যাগের পরম ব্রত
বাঁধন যেন নেই।

দুপুর
নীরব নিথর আঁধার কোণে
বাঁধলে মােরে যেই,
তরুণ-অরুণ মুক্তি-প্রভায়
পথ দেখাবে সেই।
টুটবে সকল বন্ধ বাধা,
ঘুচবে চোখের গােলক ধাঁধা,
শুনবে তখন কণ্ঠসাধা
বাধন যখন নেই।
৪

রজনীগন্ধা।
পুষ্পরাণীর কন্যা তুমি নাম রজনীগন্ধা,
সূৰ্য-ডুবির
সঙ্গে ফোটা,
স্নিগ্ধ রূপের
রঙ্গে ললাটা,
মঞ্জু হাসির বন্যা তুমি ভাসাও মধু-সন্ধ্যা।
অন্ধকারের বন্ধ ঘরে রও রজনীগন্ধা,
শুভ্র নিচোল
অঙ্গে ঢাকা,
কম্ৰ বীচির
ভঙ্গে বাঁকা,
ওষ্ঠে মধুর ছন্দ ক্ষরে দ্বন্দ্ব-সুখানন্দা।
মূৰ্ত্ত প্রেমের ঝর্ণা তুমি হও রজনীগন্ধা,
-কক্ষ-কারা,
বিশ্ব মাতায়
বক্ষ-ধারা,
সূৰ্য্যমণির বর্ণা তুমি মলয়-বঁধু-বন্দ্যা।
মুক্ত পটল

ফুপুর।
সন্ধ্যারতি।
সান্ধ্য আঁধার ঘনিয়ে এল মলিন করি প্রাঙ্গনে,
চলছে ধীরে প্রদীপ হাতে পল্লীবধূ অঙ্গনে।
ঘােমটা আছে মাথায় উঠে মুখে সে কি তৃপ্তিরে।
সিদুর-ফোঁটা জ্বলছে যেন পেয়ে তারার দীপ্তিরে
মূর্তিমতী ভক্তি ও কি পল্লীগৃহ-চন্দনা !
নিত্য করে সন্ধ্যারতি তুলসীমূলে বন্দনা !
বিচ্ছুরিত পুণ্যলেখা বধূর সারা অঙ্গেতে,
বিষ্ণুপ্রিয়া ইন্দিরা কি আমাদের এই বঙ্গেতে !
ও

সুর।
মরণপথে।
জন্ম হলেই মরতে হবে,
অমর হয়ে কেউনা রবে,
দিনের আলাে,
হবেই কালো,
মৃত্যু-নদীর তীরে।
ধ্বংস-পথের পথিক হয়ে,
চল্‌বে সবে জীবন বেয়ে,
নৈশ আঁধার,
বক্ষে তাহার,
রাখতে চাবে ঘিরে।
সেই কালােতে পথ দেখাতে,
আঁধারনাশী দীপশিখাতে,
যে জন আছে,
ডাক্‌ছে কাছে,
দিতেছে হাতছানি।
যবনিকার অন্তরালে,
সেই পুরুষে দেখতে পেলে,
ঘুচবে কালাে,
জুলবে আলাে,
শুনবে তঁাহার বাণী ॥

দুপুর
মূর্তি।
শিশু যেমন ধূলা-খেলায়
ক্ষণেক মজে থাকে,
একটু পরে চমকে উঠে
“কই মা” বলে ডাকে ;-
চিত্ত যদিও দিন-যামিনী
লিপ্ত নানা কাজে,
হৃদয়-মাঝে তেমনি প্রভু
মূৰ্ত্তি তােমার রাজে।

‘পুর ।
হেনা।
তোরে যে
করব বিয়ে
বুঝলি হেনা !
ফুল জনমের
ছিলি যে
আগেও চেনা ।
শুনিবি
বাসর-ঘরে
ভুলিবি
প্রেমের কথা,
ছাড়াছাড়ির
সকল ব্যথা।
ফুটিয়া
রইবি সখি
আমার বুকে,
পড়বি ঢলে
স্বপন-সুখে।
আদরে
ঢালিব
উঠিবি
তরল সুধা
অধর-ঠোঙায়,
চমক দিয়ে
চুমায় চুমায় ।
৬

ফুপুর ২
মাতনে
যদিই আসে
তন্দ্রা চোখে,
জড়ায়ে দুই বাহুতে
রাখব তােকে।
কাটায়ে ঝুলন-দোলে
বাসর-রাতি,
মরণ-ঘুমে
রইব মাতি।

স্থর।
বন্ধু-বিরহে।
বন্ধু যে আর
কয়না কথা
আমার সাথে,
স্বপ্নবেশে
দেয় সে দেখা
নিশীথ রাতে।
ধরতে গেলে
ডালে কাছে
যায় সে সরে,
রয় সে দূরে,
দুই ফোঁটা জল
নয়ন-পাতে।
অমনি আসে
বন্ধু যে দিন
আমার পানে
রইবে চেয়ে,
হাতটি ধরে
লইবে তুলে
খেয়ার নেয়ে,
সে দিনের সে
বধূব তারে
মরণ-বুকে
শুভক্ষণে,
আলিঙ্গনে,
ধরব পাড়ি
মিলন গেয়ে।

ফুপুর। বসন্ত। এস এস। जन শীতঘন-কম্পিত ভয়ভীতি.শঙ্কিত জগজীবানন্দিত হে! বিনাশন- জটাজুট-ধূর্জটি •সম লােক-বন্দিত হে নভোনীল-নিৰ্ম্মল বায়ুপথ-স্বচ্ছল ঋতুরাজ বাঞ্ছিত হে! দশদিশি-উজ্জ্বল উষা-বধূ-চঞ্চল বালারুণ-লাঞ্ছিত হে! প্রমুদিত-হিল্লোল ফুলবালা-হিন্দোল সুখরস-লুষ্ঠিত হে! মধুলিহ-গুঞ্জন এস जम লাজমান-কুণ্ঠিত হে! বিবসন-খণ্ডিত ফুল-পাতা-মণ্ডিত বনরাজি-বান্ধব হে!

দুপুর।
जम
এস
মনসিজ-অঙ্কিত
প্রিয়ালাগি শঙ্কিত
প্রজাপতিতাণ্ডব হে!
ছায়াপথালত
মুকতারা-ঝক্কত
ঝিকিমিকি উচ্ছল হে !
ধরানন-চুম্বিত
শ্লথদেহ-বিম্বিত
সিতানন প্রােজ্জ্বল হে!
নবতৃণ-সজ্জিত
রূপশােভালজ্জিত
গােঠমাঠ-রঞ্জন হে!
চূততরু-মুঞ্জরী
মধুপান-গুঞ্জরী
বধূমান-ভঞ্জন হে!
কুহু-কুহু উচ্ছাস
সকরুণ-নিশ্বাস
ব্যথাভরা-ছন্দিত হে!
সুশীতল-নিঝর
পথক্লেশ-জর্ডর
কবিজন-বন্দিত হে।
पन
এস

পুর।
শিশু।
কি সুন্দর কি মধুর ছােট ছােট শিশুগুলি !
কত মধুমাখা সেই মুখে আধ-আধ বুলি ।
নিষ্পাপ পবিত্র দেহ দেখে ভুলে যায় মন,
ভাবি তাই কেবা এরা কোন্ স্বরগের ধন !
কোথা ছিল কেন এল খেলিতে এ ধরামাঝে,
কে দিল পাঠায়ে হেথা সাধিতে কি মহাকাজে ?
কোথাকার কোন্ স্মৃতি সদা মনে ওঠে জাগি,
ক্ষণে হাসে ক্ষণে কাঁদে কোন্ সুখ-দুখ লাগি ।
শয়নে স্বপনাবেশে নয়নে হাসির রেখা,
বদনে বিমল বিভা বিস্ফরিত যায় দেখা।
কখন ঘুমের ঘোরে থমকি চমকি চায়,
ছল ছল আঁখি জল কপােল ভাসিয়া যায়।
বদন-কমলােপরি স্বরগের পূত ছায়া,
জ্বলিছে নয়ন মাঝে মায়ারূপে মহামায়া।
মনােহর যত কিছু সবি সত্য শিবময়,
তাই বুঝি শিশু মাঝে বিভু বিরাজিত রয়।
হে স্রষ্টা প্রণমি তােমা প্রণমি হে চিত্রকর।
শিশুহৃদে প্রাণময় জ্ঞানময় গুণধর !
১৪

পুর।
সূৰ্য-মুখী।
ধন্য সতী পতিব্রতা সূর্যমুখী তুই,
প্রাণ-মন দিয়ে ডালি,
বরে নিলি অংশুমালী,
তারে ছাড়া এ জগতে জানিলি না দুই।
বিস্ময় বিহল চিত্ত প্রেমের প্রভায়
র’লি চেয়ে অনিমিখে,
দিনপতি সেই দিকে,
ফিরালিনা আঁখি তোের সারাদিনটায়।
রবির প্রখর তেজ ভাই তাের ভালাে,
সুস্নিগ্ধ চঁাদের হাসি,
মিশেনা ও প্রাণে আসি,
ভুলাতে পারেনা তোরে দিয়ে মধু আলাে।
যত দিন রবি বেঁচে সাধ্বী ফুলরাণী !
সূৰ্য্য তােরে দিবে জ্ঞান,
সূৰ্য তাের অনুধ্যান,
সূৰ্য-প্রেমে ভরপূর পুণ্য হিয়াখানি।

ফাগুনে।
কোন্ প্রেমিকের বন্দনাতে
দখিণ হাওয়া বইছেরে।
কোন বিরহের শেষ কথাটি
ঐ কুহুতান কইছেরে!
কোন্ অতিথির আগমনে,
ফুল বালারা হাসছে বনে,
দোল্ দিয়ে ঐ মলয়-সনে
সােহাগ-ব্যথা সইছেরে ।
কোন্ মায়াবীর বক্ষপটে
আকাশ-বাতাস ভাসছেরে ?
কোন্ প্রাণেশের সঙ্গ অশে
পৃথী এমন হাসূছেরে!
কোন্ দেবতার শিরােমণি,
নূপুর-ঝুমুর মধুর রণি,
পঞ্চম-সুর কণ্ঠ ধ্বনি,
ধরায় নেমে আসছেরে !

কল্পনা।
কেমন করে কবে,
বতে মােরে হবে,
হৃদয় জুড়ে আসন পেতে বসেছিলে রাণী ।
পাইনি কিছু সাড়া,
ভাঙলে কবে কারা,
দখল করে নিলে আমার সারা-চিত্তখানি।
ঘুমের ঘােরে এসে,
জ্যোৎস্না-মধু হেসে,
বুলিয়ে দিলে সােনার কাঠি মেদুর পরশে,
তাই কি জেগে উঠে,
কুসুম-সম ফুটে,
চরণ-তলে লুটিয়ে পড়ি অমনি হরষে !
তােমার মায়া বলে,
আমার পুণ্য-ফলে,
সােণার গাছে মুক্তার ফল ফতে দেখেছি,
রঙিন তুলি দিয়ে,
চিত্ত-ফলক নিয়ে,
পরীর দেশের মােহন ছবি কতই একেছি।
১৭

দুপুর ।
উঠছে নবশশী,
বাণী-কুঞ্জে বসি
ইন্দ্রধনুর রঙ গলিয়ে দিচ্ছি আলিপনা,
চুপটি করে এস,
হৃদয়-কোণে ব’স,
কাব্য-কুসুম দিয়ে তােমায় করব আরাধনা।
১৪

দূপুর ।
শিবাজী।
অমৃতের বরপুত্র! বড় শুভক্ষণে
বিধাতৃ মানসপটে ফুটেছিলে তুমি
সর্বগুণময় হয়ে ধৰ্ম্ম-প্রয়ােজনে,
আবির্ভাবে ধন্য তব পুণ্য আৰ্যভূমি।
হিংসা-দ্বেষ জাতিভেদ অস্পৃশ্যতা হেতু,
অতীতের ধৰ্ম্মরাজ্য হলে বিখণ্ডিত,
উঠিল ভারতকাশে যেই ধূমকেতু,
যুঝিলে তাহার সনে বীরত্ব-মণ্ডিত।
রাত্রিদিব অনশনে কান্তারে প্রান্তরে
অশ্বপৃষ্ঠে ছুটাছুটি, জীবন যাপন
কত দুঃখ-দৈন্য মাঝে, জাগ্রত মন্তরে
চেষ্টা পুনঃ ধৰ্ম্মরাজ্য করিতে স্থাপন।
লভিয়াছ অমরত্ব শিব শক্তিধামে,
জাগিছে মাতিছে দেশ শিবাজীর নামে।
iG

দুপুর ২
আধারে আলাে।
অমানিশার আঁধার-ঘেরা
হৃদয়-আকাশখানি,
তারার মত সেই আকাশে
জছ তুমি জানি।
সন্ধ্যা যখন ঘনিয়ে আসে
যায়না কিছু দেখা,
সেই আঁধারে পথ দেখাতে
তুমিই আলােক-রেখা।
দেহ-খাচায় পরাণ-পাখী
বদ্ধ মায়ার ডােরে,
তােমার গানেই আছে তবু
কণ্ঠ আমার ভরে।
শেষের দিনে যে দিন আমি
বাঁধন ছিড়ে যাই,
সে দিন যেন সাধনার ধন
তােমার দেখা পাই।

পরের ঘরে।
পরের ঘরে চলিনু সখি করিতে পরে আপনা,
আজি যে আমি পরেরি বধূ,
নহি ত সখি তােদেরি শুধু,
পরের সাথে করিতে হবে আমারি দিবা যাপনা।
বনের পাখী চলিল সখি খাঁচাতে বাঁধা পড়িয়া,
নিজের কথা সকলি ভুলি,
বলিতে হবে শিখান বুলি,
' চলিতে হবে পরেরি ঘরে ঘােমটা মাথে করিয়া।
আপন জনে ছাড়িয়া সখি কখন আমি থাকিনি,
খেলিয়া সখি পুতুল খেলা,
তােদেরি সাথে কেটেছে বেলা,
ভুলেও সখি খেলিতে আমি কখন পরে ডাকিনি।
তবুও পরে ছুটিয়া এল বাঁধিল বাহু-পাশেতে,
টানিয়া মােরে লইল বুকে,
জানি কেন কিসের সুখে,
কঁপিয়া সখি উঠিল হিয়া কি যেন মধু আশেতে।

নূপুর।
ছাড়িয়া সবে চলেছি সখি শিহরে দেহ স্মরিতে,
কিছু যে সখি ভাবিতে নারি,
নয়নে ঘন বহিছে বারি,
ভুলােনা সখি চলিনু আজি পরেরি ঘর করিতে ।

পুর।
ঢলাঢলি।
ঢঢলে মুখখানি লাখ-ইন্দু,
জঙ্খলে চোখ কোটি তারা-বিন্দু।
কুচকুচে কালাে চুল মেঘ শূন্যে,
দোল্ দোল ঢেলে বেণী কোন্ পুণ্যে !
টুকটুকে লাল ঠোট চুম মত্ত,
তুলতুলে রাঙা গালে ফুল-তত্ত্ব।
ঝলমলে সিমণি দুই কণে,
ফুটফুটে হেমপ্রভা ওই বণে।
ঝুরঝুরে বহে শ্বাস নাসারন্ধে,
দুরু দুরু কঁাপে হিয়া প্রেমমন্ত্রে।
মন চায় ঘুম যাই ওই বক্ষে,
মিলে যাই মিশে যাই চার চক্ষে।

পুৰু
কে তুমি।
কে তুমি শ্যামল আকাশের গায়
ধীরে ধীরে ভেসে যাও।
কে তুমি তড়িৎ আলােক উজলি
ধরা-সখী পানে চাও !
পরাণে জেগেছে যদি ভালবাসা,
এস তবে নেমে পূরাইতে আশা,
মিলন-মধুর হরষে মাতিয়া,
বধূ-গুণ-গান গাও!
?
কে তুমি শ্যামল মূরতি মােহন
সুদূরের পানে ধাও!
ক্ষণিকের তরে পুলক বরষি
বক্ষ ভাসায়ে দাও !
নিদাঘ-তাপিত ধরণীর হিয়া,
প্রেম-পরশনে যাক্ জুড়াইয়া,
হে চির মহান্ প্রেমিক-প্রধান
ধরা-সখী-বুকে আও!

দুপুর।
বন্ধু-বাসন্তী।
নয়ন-সিক্ত বসন-রিক্ত শীত-কম্পিত ধরণী,
লভিল সজ্জা ঘুচিল লজ্জা রাগ-উজ্জ্বল বরণী।
কুহেলি-কক্ষে হিমিকা-বক্ষে মধুভাস্বর ভাসিল,
সােহাগ-মগ্ন হৃদয়-লগ্ন বধূবাসন্তী
হাসিল।
পীযূষকান্তি
ঘুচাল ভ্রান্তি চত
চুত
ফুটিল,
কুসুমগন্ধ মধুরছন্দ বায়ু-হিন্দোলে ছুটিল।
সুরসভক্ত মধুপ মত্ত
মৃদুগুঞ্জনে মাতিল,
পরাগপূর্ণ রেণুকাচূণ কাল-অঙ্গেতে ভাতিল।
বাঁধনশীণ পাষাণ-দীণ সিত-নিঝর জাগিল,
রভস-রঙ্গে নব-বিভঙ্গে প্রিয়দর্শন
মাগিল।
কিরণ-পুষ্ট তারকাতুষ্ট গগনাবত্মে উজলে,
পৃথিবী সুপ্ত চেতনা-লুপ্ত
চেতনা-লুপ্ত মধুচন্দ্রমা
কোকিল-কণ্ঠে সুরভি-ঘন্টে সুধা-সঙ্গীত মুখর,
লতিকা বন্ধে মলয়-ছন্দে ফুল-নৰ্ত্তন কর।
ফাগুন-যত্নে সবুজ-রত্নে
প্রীতি-উজ্জ্বল ধরণী,
মধুর-দৃষ্টি ললিত-সৃষ্টি
বধূ-বসন্ত
উছলে।
-ঘরণী।

পুর।
বস্ত্রদান।
হারাইয়া রাজ্যপাট হারাইয়া ধন জন,
হতমান যুধিষ্ঠির দ্রৌপদী করিল পণ।
শকুনির কূটচক্রে হ’ল তার পরাজয়,
সতী পত্নী দূত-ছলে কৌরব জিনিয়া লয় ।
দুষ্টমতী দুঃশাসন ধরিয়া সতীর কেশে,
নিয়ে এল সভামাঝে কৃষ্ণা পাগলিনী বেশে।
বাক্যবাণে জজ্জরিত সতীর বসন ধরি,
বিবস্ত্র করিতে তারে টানে দুঃশাসন অরি।
অবলার বল পতি বসে আছে অধােমুখে,
কে রাখিবে সতী-মান কে তার ঘুচাৰে দুখে ?
“রক্ষা কর কোথাপতি’—ডাকে সতী বারবার,
পণে বদ্ধ পাণ্ডুসূত নয়নে বহিছে ধার ।
না হেরি উপায় কৃষ্ণা ডাকে “কৃষ্ণ, রাখ মান,”
পাণ্ডব-জীবন কৃষ্ণ শূন্যপথে অধিষ্ঠান।
“কৰ্ম্মফলে ঘটে সব আমি কি করিব সতী ?
কৰ্ম্মে হয় কৰ্ম্ম ক্ষয় কৰ্ম্মেতে সবার গতি।
লজ্জা নিবারণ করি রাখিবারে পারি মান,
যদি কভু দুখীজনে করে থাক বস্ত্রদান।

৪৫
}
যাগ-যজ্ঞ দান-ধ্যান করে থাকে পতি তার,
বিরস-বদনা সতী ভেবে নাহি পায় পার।
আকুলব্যাকুল হয়ে ভাসি নয়নের জলে,
ভাবিয়া ভাবিয়া ধনী কাতরে কেশবে বলে ;-
“মনে পড়ে একদিন শৈশবে পিতার ঘরে,
দরিদ্রা ব্রাহ্মণ-কন্যা বসন যাচিলা মােরে।
নিজবস্ত্র টেনে লয়ে ছিড়ে করি আধখান,
হেরি তার দুখদশা করেছি আধেক দান।”
শুনি কৃষ্ণ ক'ন হাসি-“হয়েছে আমার কাজ,
অতীতের এই পুণ্যে ঘুচাব তােমার লাজ।”
অবিরাম দুঃশাসন যতই বসন টানে,
ব্যর্থ হয় শ্রম তার পরিশেষে হার মানে।
কোন্ কালে অনাথারে করেছিল বস্ত্রদান,
সেই পুণ্যফলে আজ সতীর রহিল মান।
২৭

দুপুর ।
বুলবুলি।
আমি যখন সঁঝের বেলা
মনের বনে ফুলতুলি,
দূর থেকে ঐ দুষ্ট, সুরে
কী যেন গায় বুলবুলি !
চমকে আমি ফিরে তাকাই
এলিয়ে মাের ফুলগুলি,
আড়াল থেকে উদাস প্রাণে
কে যেন চায় টুলটুলি !
হাত বাড়িয়ে উধাও ছুটি
মালার কথা যাই ভুলি,
আমায় দেখে পালায় পাখী
তড়িৎ বেগে দুলদুলি।
আবার যখন ফিরে এসে
কুড়িয়ে নেই ফুলগুলি,
মলার সূতা কতই ছিড়ে
মনের কোণের বুলবুলি !

দুপুর ।
বরষা।
ওই এল বুঝি বরষা !
গগনে বারিদ ডাকে ঘন ঘন ;
কম্পিত ধরা শুনি সেই রণ,
স্পন্দিত লাগি সুধা-বরিষণ,
—স্নিগ্ধ শীতল পরশা !
ওই এল বুঝি বরষা !
আকাশের বুকে চপলার হাসি
ঘনঘাের কালাে তমসায় নাশি,
পৃথিবীর বুকে ওই আসে ভাসি,
—দ্যুতি-চঞ্চল-দরশা!
ওই এল বুঝি বরষা !
নিদাঘ-পিত হিয়ার মাঝারে,
সুখ-শান্তি-বারি ঢালে বারে বারে ;
ভরা নদী আজ এপারে ওপারে,
—যৌবন-জল-সরসা !

নুপুর ।
প্রার্থনা।
কদম-কেতকী-কামিনী-কুসুমে
সুরভি তােমার রয়েছে ভরি,
গগনে গহনে গিরিতে গুহায়
মােহন মূরতি আহা কি মরি।
ঘেষে ঘনঘটা ঘর্ঘর ঘােষে
সঘন গগনে তোমারি নাম,
চমকি চপলা চকিতে চাহিয়া
হেসে চলে যায় স্বরগ ধাম।
জপি জপমালা জগতের জীব
জগৎ-জীবন তােমারে ডাকে,
ঝরণার জল ঝরি ঝর ঝর
তােমারি মূরতি হৃদয়ে আঁকে।
তাড়িতে তিমির তাপস তােমায়
কতনা করিছে সাধনা প্রভু!
দানব-দলন!
দুঃখ দলিতে
ডাকিছে তােমায় তাপিত কভু।

পুর।
ধরণীর ভার ধরি ধরাধর।
ধৰ্ম্মের বল দেখাইলে সবে,
নীরব নিথর নিবিড় নিশীথে
জ্বলে কোটি আঁখি সুনীল নভে।
পতিত-পাবন তুমি প্রজাপতি!
তােমারি দয়ায় রয়েছে বিশ্ব ;
বহিতেছে বায়ু , বিজন বিপিনে
বিতানে বিহগ তােমারি শিষ্য ।
ভাস্করের ভাতি ভুবন ভরিল
তাই বেঁচে আছে জগৎবাসী,
মধুর-মূরতি-মােহিত-মানব
মাগে মুক্তি আজি হে তুমােনাশী।

জীবন।
দেহের মাঝে
কে যেন চাহে
মধুর বাসে
ফুটিতে !
মাতায়ে ধরা
লুটিতে!
!
শতশ বাধা
কতনা চাহে
দমাতে !
ভিতরটারে
ঠাণ্ডা করে
জমাতে।
জনম হতে
চলে যে রণ
মরণে,
জীবন নামে
রহেগাে তাই
স্মরণে।

পুর?
যৌবনপথে ।
ওই নন্দন
-বন চন্দন
-বাস অন্তর ভরপুর,
ওই মন্দার ফুল মঞ্জুল হাস আস্যের প্রেমম্বর।
ওই গৌরব আর সৌরভ তার যৌবন-বন নাম,
ওই সুন্দর মুখ
বক্ষের আর চক্ষের সুখ-ধাম।
ওই রক্তিম রাগ উচ্ছল তার
ওই রত্নের সার ওষ্ঠের লাল
ওই মৰ্ম্মের তার নৰ্ম্মের সাধ
ওই অস্থির দুই
গণ্ডের ফুলবন,
উল্লাসকর ধন।
অক্ষির কোল ভায়,
স্পর্শন সুখ পায়।
ওই অম্বর -নীল প্রচ্ছদ -পট উজ্জ্বল তার গায়,
ওই চঞ্চল তার কাঞ্চন হার হিন্দোল দোল খায়।
ওই কুণ্ডল আর কুন্তল দেয় চুম্বন বারবার,
ওই মন্থর
ধীর মঞ্জীর গায় নিস্তুল প্রেম তার।
৩

দুপুর ।
ফুল।
আপন মনে মলয় বায়ে
উঠছে ফুটে ফুল,
ধরার বুকে কিই বা আছে
তাহার সমতুল!
দোল দিয়ে ঐ শূন্য-দোলায়,
হাসির ছটায় মন যে ভুলায়,
রূপের ঝলক্ চমক দিয়ে
উথলে উঠে কূল।
মন-মাতান গন্ধে তাহার
আকুল করে প্রাণ,
কণ্ঠে আমার ঢেউ খেলে যায়
তাহারি গুণ গান ;
স্বার্থ ত্যাগের মূর্তিখানি,
মনে হয় যে বক্ষে টানি,
স্নেহ-রসের চুম্বনে তার,
ঘুচাই লাজমান।
৩৪

পুর ।
বান্ধব।
বান্ধব-বিহীন যেই কোথা তার সুখ ?
অশান্তির নিকেতন আবাস তাহার,
চিরসাথী জীবনের বুক ভরা দুখ,
ঘেরা চারিদিকে তার গভীর আঁধার।
প্রেমময় প্রাণপাখী চায় ভালবাসা,
দিতে চায় স্নেহরাশি নিতে চায় ফিরে,
আদান-প্রদানে তার তাই সুখ-আশা,
নিজেরে বিলায়ে ভাসে প্রেম-অশ্রনীরে।
স্নিগ্ধ নম্র স্বভাবের দৃঢ় আকর্ষণ,
প্রাণে প্রাণে টানাটানি স্নেহ বিনিময়,
প্রিয়জন-মধু-ভাষে পীযূষ-বর্ষণ,
আলােড়ি হৃদয়-সিন্ধু সুখ উথলয়।
বন্ধুজন-পূতস্নেহ জীবনের সার,
দাবদগ্ধ মানবের শান্তির আগার।

পুর?
চরকারাণী।
আয় ফিরে আয় চরকারাণী বাংলা তােরে চায়,
সুদর্শনের ঘূর্ণিপাকে,
স্বর্গ-ভূমের পূর্ণ জঁকে,
আয় নিয়ে তাের মুক্তিবাণী সময় বয়ে যায়।
আয় ফিরে আয় চরকারাণী বাংলা তােরে চায়,
অহিংসকের অস্ত্রখানি,
ব্ৰহ্ম-তেজের মূৰ্ত্ত শানি,
ঝঞাবাতের শক্তি হানি’ ত্বরায় নেমে আয়।
আয় ফিরে আয় চরকা-রাণী বাংলা তােরে চায়,
মন্দাকিনীর ছন্দসুখে,
শাস্তি-বিহীন বঙ্গবুকে,
আয় নিয়ে তাের নৃত্যতালে, সব ফুরিয়ে যায়।
আয় ফিরে আয় চরকারাণী বাংলা তােরে চায়,
সূত্র-মাতার পুণ্যরাশি,
বঙ্গবাসীর দুঃখ নাশি',
হয়ত আবার আনতে পারে আস্যে চারুতায়।

মূহুর
লুকোচুরি।
মুখে কিছু বলে না সে তবু ও যে ভালবাসে,
যেতে চায় দূরে চলে তবুও সে ফিরে আসে।
মনােভাব লুকাইতে যত তার হয় সাধ,
ততই বাহিরে ফুটে ভাঙিয়া সকল বাঁধ।
জ্বল জ্বল দুটি আঁখি মুচকি মুচকি হাসে,
ক্ষণতরে ক্ষণপ্রভা মনের অাঁধার নাশে।
কপােলে গােলাপ হাসি উছলি উছলি ভায়,
অধরের অধীরতা কাছে ডাকে ইসারায়।
যত কিছু লুকোচুরি মন তার মুখে ভাসে,
ও হাসির মানে কি সে যদি নাহি ভালবাসে।

ফুপুর ।
ধীরে।
ধীরে অতি ধীরে উড়ে ঘুরে ফিরে
কত কি যে গেয়ে যায় অলি ।
শুনি গুণ গানে উলসিত প্রাণে
ফুটে উঠে ধীরে ফুলকলি !
হাসে ফুলৰালা
দশদিশি আলা,
মধুকর ধায় মন-সুখে,
মাতি প্রীতিরসে ধীরে গিয়া বসে
কলিকার সুকোমল বুকে ।
গাহি গুণ-গীতি প্রণয়ের রীতি
মূরছিয়া রহে অলি দলে,
বিতরিয়া মধু
ঘুমাবেশে ধীরে পড়ে ঢলে ।
প্রিয় ফুলবধূ

পুর
পূজারিণী।
আমি শৈশবে কত ডাকিয়াছি তােমা “আয় চাদ আয় বলে,
তুমি সুদূরে থাকিয়া রয়েছ চাহিয়া হাসিয়াছ কত ছলে।
আমি দেখিয়াছি তােমা তারকার রূপে গগনে সন্ধ্যাকালে,
তুমি দূর থেকে শুধু রহিলে তাকায়ে টিপ, নাহি দিলে ভালে।
আমি ছুটিয়াছি কত “তুমি সেই” বলে’ প্রজাপতি পাছে পাছে,
তুমি ফিরিয়াও কভু তাকালেনা বঁধু কভু আসিলেনা কাছে।
আমি পাপিয়ার পাছে কত ছুটিয়াছি মনে করি তব গান,
তুমি কখনত এসে কোন কথা বলে জুড়ানাে মাের প্রাণ।
আমি কৈশােরে কত ভাবিয়াছি তােমা বসি নিরজনে একা,
তুমি পূজারিণী-বালা প্রেম-অঞ্জলি লভিতে এলেনা সখা।
আমি সখীদের সাথে খেলিতে খেলিতে হয়ে গেছি আনমনা,
তুমি বুঝিলেনা কভু মরমের ব্যথা না ছড়ালে প্রেম-কণা।
আমি যৌবন-পূত মন্দিরে পশি’ যেই ডাকিলাম স্বামী!
তুমি বক্ষ জুড়াতে অমনি আসিলে মম অন্তর্যামী।

ফুপুর। সূৰ্যাস্ত। ঐ চলে যায় নদীর জলে, রাঙা ববির ঐ নেবে যায়, ঐ ডুবে যায় কিরণ-রেখা রক্তমাখা উৰ্ম্মিমালা, গগন-তলে। সােনার জলে হেলে দুলে দেখে না হায়! করছে খেলা, যায় যে বেলা চমক দিয়ে অস্তাচলে। জল থেকে ঐ উথলে-ওঠা আলােক-রেখা উধাও ছুটে, চুম্বনে তার নীল গগনে দুই পাড়েতে সােনার মুকুট রাগ মেখে ঐ হাসির ছটা উঠছে ফুটে। পাহাড় শিরে, শােভে কি রে ! শ্যামল তীরে লাবণ-ছটা পড়ছে লুটে। গৌহাটিতে। ६०

ফুপুর ।
সেফালিকা।
শরতের শান্তস্নিগ্ধ
রস করি পান,
উলসিত শ্বেতকান্তি নয়নাভিরাম,
সদ্যফোটা কুসুম-বালিকা,
গন্ধভরা মধু সেফালিকা,
পুলকিত স্মিত আস্তে সুধা করে দান,
রচিয়া বাসর-সজ্জা ভরা তার প্রাণ।
মলয়ের সহবাস
ক্ষণেকের তরে,
অমনি কোমল অঙ্গ
এলাইয়া পড়ে,
অক্ষিপুট ঢাকে তন্দ্রালস,
চানন নিরস বিরস,
কোন্ অজানিত ব্যথা প্রাণ যেন ভরে।
বৃন্তচুত ফুলবাল
ধীরে যায় ঝরে।
অতি ক্ষিপ্র সমাপিয়া আপনার কাজে,
বিসজ্জিায়া চিরতরে
বধূন-লাজে,
মভূমে করি আত্মদান,
নৃত্যলীলা হয় অবসান।
ক্ষণিকের লীলা খেলা শূন্য দোলা মাঝে,
জনমের পরিণতি
মরণের সাজে।
৪১

পুর।
বশিষ্ঠাশ্রম। #
গুরু-শিষ্ঠ-আশ্রমশিলা-সংঘাত-স্ফীতকায়,
গুরু-গম্ভীর ওঁকার ধ্বনি,
পর্বত-মুখ-চুম্বন রণি,
সন্ধ্যা-ললিতা-কান্তা-ত্রিধারা বন্দনা-গীতি গায়
ধর্মের জয় সত্যের জয়,
সংঘঘাষি ঘন মৃত্যুর ক্ষয়,
মুরমর্দন-মুরদ-ছন্দ স্বর্গাভিমুখে ধায়।
গুরু-শিষ্ঠ-আশ্রম-ঘেরা বনানীর শ্যামছায়,
প্রেম বিহবল পর্বত-বালা,
স্বচ্ছ-সলিল অঙ্গেতে ঢালা,
উচ্ছল-ছল চিত্ত-আবেগে চঞ্চল চোখে চায়।
যৌবন-মদ আবরি বক্ষে,
ফেনিল-পুষ্প-ডালিকা কক্ষে,
বন্দিতে গুরু ঋষি-সত্তম নৰ্ত্তন-তালে ধায়।
আসামে -গৌহাটির সন্নিকটে।
৪২

দুপুর ।
গুরু-শিষ্ঠ-আশ্রমপাশে উন্নত-পীত-শির,
মূৰ্ত্ত মূরতি স্পন্দনহীন,
শ্বেত-কুঙ্কটি-অঞ্চল-লীন,
স্তম্ভিত চিত সঙ্গীত শুনি নির্মম শিলাবীর।
ধ্যায়ান-মৌন সন্ন্যাসী-বেশ,
হাসি-কান্নার নাই কোন লেশ,
নির্বাণ তরে প্রার্থনা করে নিশ্চল-বপু ধীর।
গুরু-শিষ্ঠ-আশ্রম-পদে মন্দির পুরাতন,
অন্ধ-আঁধার গহ্বর-মাঝে,
ঋষি-আরাধ্য ঈশ্বর রাজে,
পূর্ণিত করে পুণ্য দরশে ভক্তের পূত মন।
সন্ধ্যা-ললিত-কান্তার সুর,
ঝঙ্কারে ভরে অন্তরপুর,
মুনি-পুঙ্গব-উদ্দেশে করি’ ছন্দন নিবেদন।

নুপুর।
বিরহ-ব্যথা।
সে ত
আমি
বাসেনা আমারে ভাল,
তার ছবি বুকে ধরি;
সুখে কাটাইছে কাল,
তার কথা ভেবে মরি।
আমি
আমি
বুঝিল না মাের ব্যথা,
কেমনে কাটাব দিন!
ভাবে না আমার কথা,
ভেবে হয়ে যাই ক্ষীণ।
সে ত
আমি
আমি
নিয়াছে সকলি মাের,
লুকায়ে রাখিনি কিছু;
মম মনােমধু-চোর,
তাই ছুটি তার পিছু।
আমি
আমি
ভালবাসে লুকোচুরি,
কত ভেবে হই সারা ;
হানিছে বিরহ-ছুরি,
হয়েছি আপন-হারা।
সে ত
আমি
8

নূপুর ।
আমি
গাহিছে সুখের গান,
কেমনে বল না হাসি।
নিয়ে আছে অভিমান,
নয়নের জলে ভাসি।
সে ত
আমি
সে ত
আমি
এল না এখনাে
আরত সহিতে নারি।
দেখিল না প্রাণ চিরে,
চিরদিন শুধু তারি।
সে ত
আমি
৪৫

দুপুর।
বার্ধক্য।
জীর্ণ বয়স
গীর্ণ ভাবনা
কীর্ণ সকল দুখে,
শীর্ণ শরীর দীর্ণ হৃদয়
চূর্ণিত করে সুখে !
ছিন্ন বাসনা ভিন্ন আনন
ভিন্ন সকল কৰ্ম্মে,
ভগ্ন দেউলে মগ্ন হইয়া
লগ্ন পরম ধৰ্ম্মে।

‘সুপুর। ভালবাসি। শুকতারা উষাধারা ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসি নিশাশেষে প্রভাময়ী মলয়ার আনমনে নবোদিত নীলাকাশে কোকিলার ঝরণার মেঘবালা ক্ষণপ্রভা রামধনু নিশাকাশে গােধুলির ছায়াপথে বনানীর সারিকার শিলাপতি সরসীর পৃথিবীর প্রেমকলা সুশীতল ফুটেওঠা দিনপতি রাগভরা কুহুকুহু প্রাণঢালা এলাইত ক্ষণিকের বুকেভাসা বিকশিত ঝিকিমিকি তারকার দেহভরা রাধানাম অচপল ঢেউতােলা অপরূপ কলাকেলি মধুহাসি, তমােনাশী। দেহখানি, ফুলরাণী। অরুণিমা, সুনীলিমা। প্রেমগান, সুধাতান। কেশপাশ, মধুহাস। রঙফলা, শশিকলা। একতারা, শ্বেতধারা। রূপরাশি, সাধাৰশী। গেইশােভা, মনােলােভা। রূপঘর, যাদুকর। ৪৭

অনুশীলন।
বিরহের ব্যথা নাহিত আমার
বিরহ কোথায় বল না !
মননামাঝে তুমি রয়েছ সদাই
একি মিছে কথা ছলনা!
দেহটি তােমার বল দেখি সই
কামনা-আধার নহে কি?
মনে মনে যদি হয়ে যায় মিল
বাকী আর কিছু রহে কি !
বিরহ বালাই নাই সখি নাই
সুখী আমি চির মিলনে,
দেহ মন তব যখনি যা পাই
রহি তারি অনুশীলনে
৪৮

পুর।
সখীসনে।
জড়িয়ে আমি গিয়েছি সখি তােমারি চারু চিকুরে,
দুলি যে আমি তােমারি সাথে দোলনা।
হেরি যে আমি আমারে সখি তােমারি আঁখি
মুকুরে,
নয়ন মুদে করােনা মিছে ছলনা ।
কপােল ফুল-বাগানে সখি ঘুরি যে ফুল তুলিতে,
নিরাশ করে দিওনা কভু তাড়ায়ে।
পিতে মধু অধরে তব নেশাতে থাকি ঢুলিতে,
মানে যাই তােমাতে আমি হারায়ে ।
বাধা যে আমি পড়েছি সখি তােমারি বাহু-পাশেতে,
বাঁধন যেন কখন তুমি খুলনা ।
মূরছি আমি রয়েছি সখি তােমারি বুকে নিশুতে,
রাখিতে হেন কখন রাণি ভুলনা !
৪

পুর ।
বাসন্তিকা।
ঐ এল সই
বাসন্তিকা
বধূর বেশে,
যৌবনের
হসন্তিকা
মধুর হেসে।
নীল আকাশের
নীল নীলিমা
মস্তকে তার,
চন্দ্র-তারার
ঐ লালিমা
মৌক্তিক-হার।
সবুজকরা
তরুলতার
উজল সারি,
সই এল তাই কাননিকার
আদর ভারি।
বাগানে ঐ
ফুল ফুটেছে
উদাস হিয়া,
মলয় রথে বাস ছুটেছে
আঙিন দিয়া।

.
পুর।
কোয়েল বধূ
সঙ্গীতে সই,
কইছে কথা,
কুহু-কুহুর
ভঙ্গীতে ঐ
জানায় ব্যথা।
ঝরণা-জলে
স্বচ্ছ শীতল
আকাশ ভাসে,
উধাও অলি
কমল দলে
মধুর আশে।
দখিণ বায়ু
চুম্বনাভা
লজ্জিত সই,
চমক-দেয়া
দীপ্ত প্রভা
রঞ্জিতা ওই।
ঐ
বাসন্তিকা
এল সই
বছর পরে,
যৌবনেরি
হসন্তিকা
আমার ঘরে।

কুর।
বন্ধু।
বন্ধু আমার
ভুলেই আমায় আছে,
একটি বারও পাইনা তাহার দেখা,
যদিও আসে কাছে
বন্ধু-ভােলা স্বভাবটি তার শেখা।
বন্ধু আমার
বন্ধু আমায়
বড়ই ভালবাসে,
তাইত আমি বন্ধু ভেবে সারা,
আর কবে বা আসে
তাই ভাবিয়া নয়নে বয় ধারা।
বন্ধু আমার
বন্ধু আমার
আসবেত অঙ্গনে
ঝাঁট দিয়ে তাই রাখব হৃদয়খান,
বধূবে আলিঙ্গনে
পরাণে মাের বইবে সুখের বান।
বন্ধু আমায়

দুপুর । ঝর্ণা। অন্ধকারের ছন্দনহীন মুক্তি-মদের স্বাধীনতার অন্ধকারায় বদ্ধ আমি থাকবনা, স্যন্দনে আর ত্রাহি ত্রাহি ডাক্ব। মদিরতায় পাষাণকারা টুটবেরে, দিব্যালােকে সত্যধরম ফুটবেরে । দুর্বলতার তন্দ্রাঘােরে ক্ষুদ্র পাহাড় -প্রহরীদের মুক্তি-সাধন -পুণ্য ফলে স্বাধীনতার উছল ধারা আর ঘুমিয়ে রইবনা, চোখ রাঙানি সইবনা। কঠিন হিয়া টবেরে, পাষাণ ভেদি গবেরে । উথলে উঠে আছাড় খাব ভাঙব মাথা মুক্তি-পথের দিব্যরথে স্বাধীনতার জনমভূমে চলব ছুটে কাউকে কিছু বনা, ভয়-বাধাতে টনা। সকল আশা ছুটবেরে, শান্তিকুসুম ফুটবেরে। কূল প্লাবিয়ে দেশ ভাসাব তরঙ্গেরই ঘাতপ্রতিঘাত মুক্তি-মাতন ছন্দে এবার স্বাধীনতার স্বপন-ঘােরে উৰ্ম্মিবুকে দুনা, নৃত্যতাল আর ভুলবনা। ধরার বুকে বইবরে, সকল দুখই সইবরে।

দুপুর ২
বক্ষধারা লক্ষ ধারায়
বিলিয়ে দিতে ছাড় বনা,
স্বার্থপর ঐ পাষাণ-কুলের কোন ধারই ধারবনা।
মুক্তিলাভের স্বপ্ন দেখা
সত্যি এবার ফল্‌বেরে,
স্বাধীনতার বহ্নিশিখা
ঝর্ণা-জলেই জ্ববেরে ।
৫৪

পুর।
আশা।
কী আশাতে বসন্তের ঐ
ফুলগুলি সব উঠছে ফুটে !
কার উদ্দেশে বদ্ধ হিয়ার
সকল আশা যায় বা ছুটে !
বুক ফাটেত মুখ ফোটেনা,
চুপ করে ত দিন কাটেনা,
কোথায় অলি! কোথায় অলি।
হিয়ার বাঁধন যায় যে টুটে।
মনের টানে কে এল ঐ
চমকে এল প্রেমের টানে ।
ফুল-বালার আকুল হিয়া
বিধিয়ে দিল চিকণ বাণে।
বুকভরা ঐ গুঞ্জরণ,
শান্তি-সােহাগ মুঞ্জরণ,
পূরিয়ে দিল সকল আশা,
এক নিমেষের মাতন গানে।

দুপুর।
কবির-প্রতি।
‘বড়বেশী বােঝা যাচ্ছে’–এও কি হ’ল কবিতা?
‘সূর্য কি আর পদ্যে খাটে ?—কেটে বসাও ‘সবিতা।
ছােট্ট কথা ছন্দে গেঁথে লিখৃছ তুমি ও কি ছাই ?
ডিক্সেনারির ‘ষণ্ড ‘অণ্ড’ দেখছি এতে কিছুই নাই !
ছন্দ নিয়ে দ্বন্দ্ব কেন ?—ভাবের ঘােরে যাও লিখে,
হঠাৎ কভু যাবেই মিলে।
যাবেই মিলে। জোর জুলুমে কেউ শিখে ?
সত্যিকারের নাই যে কিছু, কেৰল নিছক কল্পনা,
এও নিয়ে কি করতে আছে, কখন কোন জল্পনা ?
লােপ পেয়েছে বুদ্ধি বুঝি, আলে শীতে বসন্ত ?
শব্দ শেষে ‘অ'-কার তবু ভুলেই দিলে হসন্ত !
প্রিয়ায় যদি বিলিয়ে দিলে এই দুনিয়ার মাঝেতে,
আর কি কভু খুঁজলে পাবে সকাল-বিকাল-সাঁঝেতে।
শব্দগুণে-পদ্য লেখা চলবেনাকো বাজারে,
স্বর্গে গেলে দেখতে শােভা ফেলবে মেরে তাজারে।

সুপুর।
মনে হয়।
মনে হয় ঐ আলােক-ভরা উষায় বুকে জড়িয়ে ধরি,
গন্ধবাহী ঐ মলয়ার পরশ পেয়ে এলিয়ে পড়ি।
মনে হয় ঐ ফুলের বুকে বাঁধূব বাসা সকাল করে,
থাকনা কেন যতই মধু লুট তাহা জীবন ভরে।
মনে হয় ঐ নীলাকাশের ঐ নীলিমায় গা ঢেলে দেই,
ঐ পরদার অন্তরালে শান্তি ছাড়া আর কিছু নেই।
মনে হয় ঐ মেঘের গায়ে করব সদাই ছুটাছুটি,
লুকিয়ে দিব সৌদামিনীর উছল বুকে লুটালুটি।
মনে হয় ঐ ঝিকিমিকি তারার সাথে থাকূব ভাসি,
রাত দুপরে স্নিগ্ধ মধুর হা উঁদের জ্যোৎস্নারাশি।
মনে হয় ঐ পাহাড়-বুকে ঝর্ণা হয়ে উথলে উঠি,
প্রেমের করুণ কঁাদন নিয়ে সাগরপানে যাই যে ছুটি।
মনে হয় ঐ হিমালয়ের ব্যায়ান-মগন মূর্তিপাশে,
স্তব্ধ হয়েই থাক্‌ব বসে অরূপ রতন পার আশে।
মনে হয় ঐ সিন্ধুনীরে ডুবদিয়ে রই চিরতরে,
রত্নাকরের দীপালােকে সকল আঁধার যাবে দূরে।
মনে হয় ঐ পাখীর তানে সুর মিলিয়ে ধরুব গান,
জীবনভরে ডাকব আমি জগৎভরা জগৎপ্রাণ।
৫৭

ফুপুর
বাসি-ফুল।
যৌবন-সাজ,
আজ কেন তাের এমন দশা সই।
কোথায় গেল
আনন-ভরা রক্তিম লাজ,
উছলধারা লাবণ-ছটা কই !
আজ কেন সই এমন হ'লি বল ।
মলয় বায়ে দোদুল দোলা,
মন-মাতান বাসের ঝোলা,
সব গিয়েছে এও কি লো তাের ছল!
আজ কেন সই এমন দশা তাের !
এলিয়ে-পড়া অঙ্গখানি,
বঁধুর সনে কাণাকাণি,
নাই কেন আজ বস্ না মনচোর!
আজ কেন তুই নীরব হ’লি সই
বিলিয়ে দিয়ে গন্ধমধু,
রইলি ভুলে পরাণ-বঁধু,
নীরস জীবন কেমনে বা আর বই !

পুর। আনমনে। সজনী মনের ভুলে ঘােষ্টা খুলে দোদুল দুলে খােপার-কারা —বাধনহারা আছেরে ! কবরী পাগলপার ভাসছেরে ! সিথিতে ফাগের রেখা অরুণ-লেখা মধুর রে ! কপালে যায় যে দেখা সিঁদুর-ফোঁটা তারার ছটা রাগের ঘটা বধূর রে ! ভুরুতে ভ্রমর-বধু লুকিয়ে সুধু পিয়ায় মধু তড়িৎ-বালা বাকিয়ে চলা কপট রে ! নয়নে চপল খেলা প্রকট রে।

দুপুর ।
নাসাতে
শ্যামের বাঁশী
মরণ-নাশী
বয় উদাসী
পরাণ রে!
কপােলে
গােলাপ-রাগে
ঊষার ফাগে
লাল সােহাগে ছড়ান রে !
অধরে
আদর ভুলি
রস দুলালী
ডালিম-ফুলী
ফুটছে রে !
বদনে
মােতির মালা
সাদায়-ঢালা
উজল আলা
ছুটছে রে !
চিবুকে
মােহন-বাণে .
রসের টানে
মদির-পানে তাতন রে !
কঁাচলি-অাঁটা
বেদন-ফাটা
জোয়ার-ভাটা মাতন রে !
বুকেতে

কাণেতে
উতল-চিতা
বাঁধন-ভীতা
অপরাজিতা
খুলছে রে ।
পাণিতে
পাঁচটি দলে
স্থল কমলে
মলয় দোলে
দুলছে রে।
দেহেতে
রস-নাগরী
রূপ-সাগরী
ভর-গাগরী
বিরাজ রে !
নিচোলে
নীলােৎপলে
প্রেমের ছলে
দাদূরা-তালে কী সাজ রে !

ফুপুর৷ ভুবনেশ্বরী। নীলাচল পর্বতের সম্বরিয়া শ্বেতকান্তি বিরাজে ভুবনেশ্বরী দরশে প্রফুল্ল সদা সর্বোচ্চ শিখরে, কুক্সটি-নিকরে, —মন্দির শােভন, ভক্ত-পূত-মন। নীলিমা উজল, মস্তক উপরে নীল প্রদীপ্ত ভাস্বর করে চরণ বিধৌত করি করে ঝলমল ; ব্রহ্মপুত্র নদ, স্মরিয়া শ্রীপদ। বয়ে যায় কাল-স্রোতে অতি উচ্চ গিরিশ্রেণী প্রকৃতির লীলাভূমি বাক্যহীন বিঘােষিছে ক্ষুদ্ৰাদপি ক্ষুদ্র নর স্তব্ধ মৌনী বেশে, রম্য সেই দেশে, এ বিশ্ব বিশাল, যেন পঙ্গপাল। অদুরে স্বভাব শােভা ব্রহ্মপুত্র-পূতুজলে পুষ্প-ভালি নিয়ে কক্ষে ভক্তিগদগদ চিত্তে গৌহাটি নগরী, ভরিয়া গাগরী, মন্দিরের দিকে, চায় নিমিখে ।

দুপুর ২ নয়ন-নন্দন-গিরি ‘উমানন্দ মহেশ্বর ভীমবেগে আছাড়িয়া চূর্ণ হয়ে শতভাগে ব্ৰহ্মপুত্র মাঝে, তারি বক্ষে রাজে, কৃষ্ণশিলা গায়, ফেণ-পুঞ্জ ধায়। স্বর্গ-ভ্ৰষ্টা ‘উর্বশী’র ‘কৰ্ম্মনাশা’ সখী তার যৌবন-জল-তরঙ্গ জল-ক্রীড়া-কুতূহলী পাষাণ মূরতি, শিলা রসবতী, ঘাত প্রতিঘাতে, ব্ৰহ্মপুত্র সাথে। ও পারেতে ‘অশ্বক্লান্ত রুক্মিণী-হরণ-চিহ্ন অনন্ত-শয্যায় শুয়ে সর্পরাজ শেষ-তঙ্কে পাহাড়ের গায়, আজো দেখা যায় ; সেথা ভগবান, করে অবস্থান। বসিয়া ভুবনেশ্বরী মন মাের বন্ধহারা মন্দিরের ছায়, স্বর্গপুরে ধায় ; সেই পুণ্য স্থানে, দেবীপদ-ধ্যানে। সাধ হয় নিরজন মরে থাকি চিরতরে

পুর।
ভাদর-প্রভাতে।
ভাদরের ঐ ভরা নদী
উথলে ওঠে
কূল,
দুই কিনারার
সকল বাঁধন-ভুল।
ভাসিয়ে দেয়
প্রভাতের ঐ
অরুণ-রেখা"
উজলে দশ দিশি,
অমানিশার আঁধাররাশি
অমনি যায় মিশি।
ভাদরের ঐ প্রবল বানে
চলছে কবি ভেসে,
প্রভাতের ঐ
জানি কোন দেশে?
দীপ্ত পথে

ফুপু ?
পথচলা।
চলতে পথে
চমক লেগে
অনেকবারই
উছ খেয়ে পড়তে যাই,
অমনি ভাবি
এবার বুঝি অক্কা পাই।
বন্ধু কে এক
হাতটি ধরে নেয় তুলে,
সরসরিয়ে
ছুটতে থাকি বেশ দুলে।
তখন যেন
আবার আমি
চলতে পথে
আঁধার ঘোরে
যখনি যাই পথ ভুলে,
মনে ভাবি এবার বুঝি
মৃত্যু আমায় নেয় তুলে।
বন্ধু কে এক
অমনি জ্বালে দীপশিখা,
আবার আমি
স্পষ্ট দেখি
সামনে উজল পথ লিখা।
তখন যেন
।

পুর।
চলুতে পথে
উথলে ওঠে
শেষের দিনে
নয়ন-ধারা বয় যদি,
সামনে আমার
পথের শেষে দুখ-নদী,
বন্ধু আমায়
হাত ধরে নেয় পার করে,
এই পথিক যেন
শান্তি লভে তার ঘরে!
তখন যেন
পথচলা

পুর।
এস
এস
पन
এস
এস
আবাহন।
পূরব-গগন-রক্তিম-রাগ-রঞ্জিত ঊষা-বেশে।
স্নিগ্ধ শীতল মলয়-মধুর ভৈরবী-রাগে ভেসে।
নব-যৌবন-ঢলঢল-হিয়া পুষ্পের মধু গন্ধে।
কুঞ্জ-কানন-গুঞ্জিত চারু শুক-সারি-প্রেম-বন্ধে।
রজত-শুভ্র শিশির-সিক্ত তরুলতা-স্নাতবক্ষে।
সঞ্চিত-রস-মন্থনকারী-মধুলিহ-বধূ-কক্ষে।
ব্যোম-বিহারী-গভীর-আরাবীমত্তময়ুর-রণে।
দ্যুতি-চঞ্চল চকিত-চাহনি-বারিদ-সখীর সনে।
গগাধূলি-ভাল-উজ্জ্বল-শােভা ঝিকিমিকি-তারকায়।
নৈশ-গগন-স্য-কিরণ-মধুভরা চাদিমায় ।
পাষাণ-কঠিন-বক্ষ বিদারি’ নিঝর-ঝর গীতে।
নিদাঘ-তাপিত-ধরা-কাঙ্ক্ষিত বর্ষণ-মাধুরীতে।
ফান-বন-নবকিসলয়-চুম্বিত কুহুতানে।
চির-বসন্ত-প্রাণ-প্রতিমা দোয়েল-শ্যামার গানে।
এস
এস
এস
এস

দুপুর
চাদিমা।
মনে যা কর করাে
বলল না মুখ ফুটে,
কখনাে চাঁদিমারে
চেওনা নিতে লুটে।
থাকিও দূরে দূরে
ডাকিও এস এস,
পারিলে প্রেমভরে
গােপনে একা হেসে।
যদি সে দূরে থাকে
লাগিবে বড় ভালাে,
রবে না কাছে এলে
মাধুরী মধু আলাে।

পুর
রঙ খেলা।
ফুটে ওঠে ফুলবালা
অপরূপ সৃষ্টি,
দেহ-ভরা রূপরাশি
মধুভরা দৃষ্টি।
হেলে দুলে দোল খেলা
মলয়ের কক্ষে,
প্রেম-রসে ঢলাঢলি
উলসিত বক্ষে।
মৃদু মৃদু হাসে বালা
কত যেন লজ্জা,
পরিধানে আজ তার
বাসরের সজ্জা।
কারে যেন ডাকে ফুল
ছড়াইয়া গন্ধে,
য়া কে আসে যেন
গুণ গুণ ছন্দে।
বঁধুসনে ফুল
আজি
প্রীতি-রসে মগ্ন,
বুকে মুখে রঙ খেলা
কি সুখের লগ্ন !

নুপুর।
দুঃখ ও শােক।
নিত্যসাথী,
আত্মঘাতী ।
দীপ্তহাসি,
দুঃখ মানুষ সইতে পারে
দুঃখ যে তার
শােকের বােঝা বইতে নারে
শােক যে তাহার
বৃষ্টি-বাদল যাবেই চলে
আবে রােদের
সুখের আশা ঘুচায়ে দিবে
মানব-মনের
শােকের মাঝে শুধুই জ্বালা
পাজর-ভাঙ্গা
জীবন-ব্যাপী ভস্ম-হওয়া
জড়িয়ে আগুন
দুঃখরাশি।
দীর্ঘশ্বাস,
মৃত্যুপাশ

দুপুর । সে যে সুখ-আশা-মণ্ডিত সে যে সে যে সে যে সে যে সে যে রক্তিম রাগভার নন্দিত মধুভরা চুম্বন-বিকশিত ভাস্বর-ভানুকর যৌবন-লাজভার গুঞ্জিত-মধুকর দম্পতী-রসসুখ সন্ধ্যা-গগন-ভাতি পূর্ণিমা-ঢলঢল দীর্ণ-পাষাণ-কার। সে যে সে যে সে যে সে যে উজ্জ্বল ধ্রুবতারা, -লাঞ্ছিত ঊষাধারা। হিল্লোল মলয়ার, উচ্ছলা কলিকার। কাঙিক্ষত অরুণিকা, -শঙ্কিত মাধবিকা। -ভুঞ্জিত ফুলবালা, -হিন্দোলা প্রেমমালা। চঞ্চল তারা-প্রভা, চন্দ্রমা চারুশােভা। -নিঝর-প্রেমলীলা, প্রােজ্জ্বল চারুশিলা। -শিঞ্জিত বীণাবেণু, -বিচ্ছুরি নাগরেণু। কল্পনা-চিরসাথী, -জম্পর্তী-শুভরাতি। -মঞ্জরী-রেণুকণা, মল্লিকা আনমনা। -মন্থিত প্রীতি-মধু -উন্মনা প্রাণবধূ। কণ্ঠ-ভূষণ-হার সে যে সে যে সে যে সে যে সে যে সে যে বাসন্তী-প্রিয়সখ সুন্দর-নারী-ভাল রঞ্জিত-রামধনু পুষ্প-শয়ন-সুখ মঞ্জুল মধুমাস বিদ্ধ-বিরহব্যথা বাঞ্ছিত-মনসিজ উচ্ছল প্রেমছল সে যে সে যে সে যে সে যে ৭১

দুপুর।
মনােভাব।
শৈশব-সুঠাম-অঙ্গ কুসুম-কোরকে,
পটলে পটলাবৃত কিঞ্চল্কের মত,
নিভৃত হৃদয়-কোণে লুকাইয়া আছে,
মানবের সুকোমল মনােভাব শত।
সুশীতল মরুতের মধুর হিল্লোলে,
তেজোময় অংশুমালী-অংশু বুকে ধরি,
বিলসি যৌবন-মদে ফুটে উঠে ফুল,
ঢলঢল মধুরিমা সুগন্ধ বিতরি।
তেমতি মানব-মন স্নেহ-সিক্ত হয়ে,
জ্ঞানগর্ভ উপদেশ করি সদালাভ,
যৌবন-সৌরভে ভরি হয় প্রধাবিত,
ঘুচাইতে জগতের সহস্র অভাব।

ফুপুর ।
দেববালা।
স্বর্গচ্যুত দেববালা স্রষ্টার বিধানে,
উজলিল গৃহ মাের লাবণ্য-ছটায়,
আনিল অমৃত-বিন্দু রূপ-রস-ঘ্রাণে,
মারের মধুগন্ধ প্রেম-মালিকায়।
মন্দাকিনী-পূতধারা নিয়ে, এল প্রাণে,
সঞ্জীবনী শক্তি দিয়ে জাগাল আমায়,
গেয়ে গেল বাণী-কণ্ঠ কলকণ্ঠ-তানে,
উলসে নয়ন হেরি ঢারু সুষমায়।
সাজিল সে হােমবহ্নি গৃহ-তপােবনে,
হাসিল সারাটি গেহ ত্যাগের আলােকে,
দেখাইল মুক্তি পথ যজ্ঞহােতৃগণে,
বাঁধিল কুণ্ডলী দিয়ে দ্যুলােক-ভূলােকে।
চরণ-পঙ্কজ-তলে আজি গৃহ মম,
মনে হয় গয়াকাশী পুণ্যতীর্থ সম!

শুর
পাগল।
পাগল হ'লে আবল তাবল সবাই ব’কে থাকে,
আপন মনে উদাস প্রাণে ভাবের ছবি আঁকে।
প্রায় সকলেই ধনের পাগল কেহ পাগল জ্ঞানে,
প্রেমে পাগল কেহ কেহ কেউবা পাগল ধ্যানে।
রূপের ফাঁসি গলায় পরে পাগল হ’ল কেহ,
হতাশ প্রেমিক পাগল হয়ে ছাড়ছে এ ছার দেহ
দুঃখ-জ্বালায় কেউবা পাগল ভাসে নয়ন-জলে,
সুখের পাগল কত মানুষ আনন্দে যায় গলে।
পাপের ভয়ে পাগল কেহ শান্তি কিছুই নাই,
নিয়নিবাস মনে করে তুলছে কেবল হই।
মরণ-ভীতি সদাই মনে কেউ বা কাটায় কাল,
কেউবা পাগল বদ্ধ হয়ে ষড় রিপুর জাল।
মদ খেয়ে কেউ মাতাল হয়ে পাগল সাজে বেশ,
অহঙ্কারে মত্ত পাগল করছে ক’জন দ্বেষ।
মানুষ গুলি পাগল সেজে করছে ছুটাছুটি,
ধরার বুকে ধূলি-কাদায় দিচ্ছে লুটাপুটি।
মরণ-ঘুমে মুদলে আঁখি থামবে পাগল-বক,
আকুল ব্যাকুল পাগলপারা ভাবের ছবি আঁকা।
৭৪

পুর।
রূপের ছল।
নৃত্য-লীলা
কৃষ্ণ মেঘের
ঢেউ খেলে যায়
সখীর মাথে,
সৌদামিনীর চপল খেলা
নয়ন পাতে।
সান্ধ্য তারার রক্ত সিদুর
উজল ভালে,
সদ্যফোটা গােলাপ যেন
সখীর গালে ।
ডালিম ফুলের
অধর পুটে,
কর্ণে সখীর অপরাজিতা
উঠছে ফুটে।
উরসে রয়
ফুল কুমারী
ঘুমন দোলে,
অন্তরে তার
উৰ্ম্মিবালা
নাচন তােলে।
হস্তেতে তার
পদ্য ফোটে
পঞ্চদলে,
পরাণ আমার
রূপের ছলে।
রইল মজে

পুর।
যৌবন।
মঞ্জুল যৌবন-কুঞ্জে চিত্ত-মধুকর,
গুঞ্জরে মঞ্জরী-মাঝে সুরভি সুন্দর।
সুনীল নিৰ্ম্মল নভ-চন্দ্রাতপ-তলে,
জ্যোৎস্নার মধুহাসি হৃদয় উজলে।
মলয় মালিনী-ছন্দে কত কথা কয়,
মধুর ব্যজনে তার প্রেম পরিচয়।
বাসন্তী-সুষমা চক্ষে কর্ণে কুহুতান,
অন্তরে ঝঙ্কারে সদা মিলনের গান ।
৭৬

দুপুর
পুতুল-খেলা।
চামেলী বকুল দুই বাড়ীতে দুইটি ছােট মেয়ে,
পুতুল-খেলায় মত্ত সদাই বকুলতলা যেয়ে ।
আহলাদে প্রাণ আটখানা তাই করুত ছুটাছুটি,
হাসির ছটায় গাছতলাতে কেবল লুটালুটি।
আপন মনে কুড়িয়ে ধূলি বঁধৃত তারা ঘর,
পুতুল-খেলা তাহার ভিতর সাজিয়ে কনে-বর।
ঘােমটা টানা মেয়েকে তার চামেলী দিত বিয়ে,
বকুল ছেলে বিয়ের পরে বাসায় যেত নিয়ে।
হুলুধ্বনির কতই ঘটা কতই আশীর্বাদ,
ধান-দুবার ছড়াছড়ি মিটায় তাদের সাধ।
রান্নাবান্না কতকিছু কতই খাওয়ার ধুম,
বর-কনেতে দুইজনাতে দিত কতই চুম!
মেয়ে যাবে শশুর-বাড়ী চামেলী কেঁদে সারা,
পুত্রবধূ আসবে ঘরে বকুল পাগলপারা।
হাসি-কান্নার পালা তাদের যখন ই’ত শেষ,
দুই জনাতে বসে তখন গল্পে মজে বেশ।
ক্ষণেক পরে হাত তারা দেখে নাতির
মুখ,
প্রাণের ভিতর উচ্ছ্বসিত কতই তাদের সুখ।
মায়ের ডাকে চমকে উঠে গৃহের পানে ধায়,
পুতুল-খেলার সকল ছল ভেঙে চুরে যায় !
৭৭

নুপুর।
চাদের পূজা।
=
“আয় চাদ আয় চাদ,”-
তবু চাদ আসে না,
ছুটে এসে টিপ দিয়ে-
কভু ভালবাসে না।
তবুও সে প্রতিদিন
‘আয় চাদ’—ডাকেরে,
হাসিভরা চঁাদিমার
ছবি মনে আঁকেরে!
ভাল যারে বাসে তারে।
মন চায় পূজিতে,
দিবানিশি তাই বুঝি
রহে চঁাদ খুঁজিতে।
৭৮

পুর ।
জীবন-ভেলা।
আমার চোখের মেঘঞ্জনে
রূপের ঝিলিক্ লেগে,
চঞ্চলার ঐ চপল প্রভা
উঠল প্রাণে জেগে।
সেই প্রভাকে বক্ষে ধরি,
হাসির ছটায় জগৎ ভরি,
চছি আমি উধাও ছুটে
চষ্কা তড়িৎ-বেগে।
আমার কাণের নীরব কোণে
ঝঙ্কারে সুর-তান,
দোয়েল-শ্যামা কণ্ঠ-সুধা
করায় মােরে পান।
তাল দিয়ে সেই সুরের বুকে,
ভাবের ঘােরে পড়ছি ঝুকে,
মত্তমদির ছন্দনে তাই
চছি গেয়ে গান।
สด

আমার প্রাণের কুঞ্জবনে
চলছে হােলীর খেলা,
আঁধার গৃহের দুয়ার খুলে
হাসূছে মধুর বেলা।
হাস্য-পুলক আলােক-বাণে,
আকাশ বাতাস আমায় টানে,
দোল দিয়ে সেই প্রভার বুকে
ভাসছে জীবন-ভেলা।

সুপুর।
মিলন-রাত্রি।
দীর্ঘ তপস্যার পরে,
আজি এ মিলন রাত্রে,
ভেঙে যাক্ সংযমের বাঁধ।
বধুয়ারে বুকে করে,
মেদুর অধর-পাত্রে,
মিটে যা হৃদয়ের সাধ ।
ফিরিয়া আসুক আজি,
সে দিনের ফুল-সজ্জা,
দিয়ে যাক, নবমল্লী-বধূ।
সাহানা উঠুক বাজি,
প্রেয়সী ছাড়িয়া লজ্জা,
এনে দিক, ভাণ্ডারের মধু।
কোমল মৃণাল-বাহু
জড়াক আমার কণ্ঠে,
বাহু মাের থােক, উপাধান।
তৃষিত মুর্মুর-রাহু
কপায়ে অধর-বন্টে
করুক গােলাপী রস পান।

গিন্নী।
ক’টা কথা শােন না, এস নব-গিন্নী।
কেন কি হয়েছে তা বল না !
বুড়ােকালে হেন স্ত্রী, সে যে বড় পুণ্যি !
আহা, হা ! শােনা আর হল না !
—না, বসাে, যেওনা, তবে কি না গিন্নী।
ভাব কি! খুলে কেন বল না !
হাঁ-হাঁ, আমি তােমাকে বুকে পেয়ে ধন্যি,
বাহবা ! বাজে কথা ছলনা ।
যাও কেন ।
এস না, বসাে কাছে গিন্নী।
ডাক যে হয়েছে কি বল না ।
এ বয়সে পােড়ালে জ্বেলে প্রেম-বহ্নি!
ছাই হ’তে শ্মশাণেতে চল না ।
৮২

দুপুর।
আশীৰ্বাদ।
সমুদ্রমন্থনােব ইন্দিরার সম,
রূপ-রস-গন্ধে ভরি, শ্ৰী-হ্রী-ধী-র সাজে,
বিধাতৃ-বিধান মানি প্রিয় শিষ্যা মম,
নামিয়া এসেছ হেথা মানবের মাঝে।
কল্পবৃক্ষ-ফল তুমি দিলে সবে অনি,
উদ্ভাসিত পিতৃগেহ তব পুণ্যালােকে,
ধীর স্থির অচঞ্চল সৌম্য মূর্তিখানি
ধ্যায়নে বেঁধেছে যেন দ্যুলােক-ভূলােকে।
কমলা-লাবণ্য-ছটা স্মিতাননে রাজে,
পারিজাতন্মধুগন্ধ প্রফুল্ল অন্তরে,
বীণাপাণি-সুধাকণ্ঠ তব কণ্ঠে বাজে,
সৃজিল বিধাতা তােমা মাধুরী মন্তরে।
প্রাণখুলে নববর্ষে আশীর্বাদ করি,
স্নেহ-প্রেম-অনুরাগে ওঠ শিষ্য। ভরি।

পুর।
বাসন্তী।
বঙ্গুল বসন্ত-কুঞ্জে
মুঞ্জরিত সুখ-আশা,
মঞ্জুল মধুপ-পুঞ্জে
গুঞ্জরিছে মধুভাষা।
পুষ্পিত পাদপ-সজ্জা
উচ্ছলিত দশদিশি,
চুম্বিত লতিকা-লজ্জা
হিন্দোলিয়া যায় মিশি।
মন্থর মলয়-ছন্দে
সংঘােষিত মধুবাণী,
প্রফুল্ল কুসুম-গন্ধে
উল্লসিত উষারাণী।
নিৰ্ম্মল নিঝর-কক্ষে
উদ্বেলিত প্রেমলীলা,
উম্মুক্ত আকাশ-বক্ষে
বিচ্ছুরিত চিরনীলা
৮৪

পুর।
চন্দ্রমা মধুর দৃষ্টি
সংক্ষোভিত চিত্ত-তটে,
অপূর্ব তারকা-সৃষ্টি
প্রজ্বলিত শূন্যপটে।
উন্মত্ত আকুল বক্তে,
কণ্টকুহু-কুহুতান,
মন্মথ-মােহন মন্ত্রে
বিদ্ধ করে মনপ্রাণ।
রক্তিম অরুণ-প্রভা
উৎসারিত তমােনিশা,
বাসন্তী সুষমা-শােভা
তৃপ্ত করে প্রেম-তৃষা।

হাট।
ওই বসিয়াছে হাট
দূর হতে শুনি
কত কল রব,
ভেসে আসে ধ্বনি
গম্ভীর ঘটা
কত অভিনব,
ঘেরা চারিদিকে মাঠ।
একাকার সব,
ওই বসিয়াছে হাট।
দলে দলে লােক
আসে শত শত,
শ্রান্ত পথগুলি
পদভরে নত,
পথিকেরা সবে আলাপনে রত,
ছেড়ে আসিয়াছে বাট।
ওই বসিয়াছে হাট!
লােক জন সব করে বিকিকিনি,
যন কলরােল
উঠে রিণিঝিনি,
আদান প্রদান চিনি বা না চিনি,
কত অপরূপ ঠাট।

দুপুর।
ওই ভেঙ্গে যায় হাট!
ওই বুঝি দিব। হয় অবসান,
থেমে বুঝি যায় কলকল তান,
হাটুরেরা সবে ছুটে গৃহপান,
তুলিয়া দোকান-পাট।
ওই ভেঙ্গে গেল হাট !
নিভে গেল ওই
দিবসের আলো,
ঘিরিল আঁধার
ঘনঘাের কালাে,
লােকজন সব
ছুটিয়ে পালালাে,
পহুছিতে খেয়াঘাট ।
৮৭

পুর। নিঝরিণী । আমি স্বরগের পূত মন্দাকিনী কঠিন পাষাণ-বুকে, মরতের মধু নিঝরিণী বয়ে যাই কত সুখে ! আমি আমি ঘুমাবেশে গিরি স্বপ্নরাণী আমি আমি আমি স্নিগ্ধধারা, আমি বিলসি হৃদয়ে তার, মুকতির সুধা -কণ্ঠবাণী গেয়ে যাই অনিবার। উলসিত হিয়া বস্তুহারা উছল উজল কায়, সুশীতল জল মহীয়সী গরিমায়। উতরােল-বােল ছন্দবীণা মূরছন পূরবীর, ধরাসখী-সুখ -বলীনা প্রেমরস সুগভীর। যােগীজন-ধ্যান কুণ্ডলিনী শকতি জাগাই প্রাণে, কবি-মনােমধু নিঝরিণী মাতাই বিভােল গানে। আমি আমি আমি ৮৮

ফুপুর ।
দোল পূর্ণিমা।
পূর্ণিমা-মধুরাতে
কল্পনা-বধূ সাথে
হিন্দোল।
মল্লিকা--বধূ-গায়
সঞ্চারে মধুবায়
হিল্লোল।
পূর্ণিমা-মনােরথ
উদ্ভাসে বায়ুপথ
স্বচ্ছল।
চন্দ্রমা ঢালে মধু,
উচ্ছল দিগবধূ
বিহ্বল।
পূর্ণিমা-সুখনিশি
বাঞ্ছিত-সনে মিশি
চঞ্চল।
উজ্জ্বল সিতম নি ।
-বিম্বিত ধরারাণী
অঞ্চল ॥

দুপুর ।
পূর্ণিমা-মধুবায়
পৈঞ্জষে ঢেলে যায়
কঞ্জন-টলটল
কুঞ্জেতে চল-চল
অন্তর ।
বঙ্কুল-মাধবিকা
অঞ্চিত শ্রীরাধিকা
-বল্লভ।
উচ্চল নীল ভুরু
কম্পিত চূততরু-
পল্লব।
চুম্বিত সুধাধর,
শিঞ্জিত পিকস্বর
উচ্ছ্বাস।
হিন্দোল-পুলচিত,
চন্দন-সুরভিত
নিশ্বাস।

দুপুর ।
অঙ্গেতে ফাগ, মাখা
শূন্যেতে দোল রাকা
হিল্লোল
কাঙিক্ষত ফুল-বধূ
মন্থিত প্রীতি-মধু
কল্লোল।
সুন্দর সুরসাধা
সঙ্গীত রাধা-রাধা
ছন্দন।
নৰ্ত্তন তালে তালে
ফুল্লিত ফুল-দলে
বন ।

মুপুর খাঁটি-পূজা। বাগানে ফুটেছে ফুল, বাতাসে ছুটেছে বাস, আলােতে ভরেছে এলায়ে মাথার চুল, আননে উছলি দিক! হাস, ঠিক! সেজেছে কুসুম আজ, ফুল, পূজারী তুলিয়া দেবতা তাইত আসিবে লইবে তুষিবে সুষমা তায়! সাজ, পরেছে পরাগ দুল, গায় । রেণুর হলুদ হ’ল যে বেলা, আলাে, চোখের অনেক নিভিছে ফুরায় রঙের বাস ! বুকের সােনালী যা কিছু খেলা, ভাল, “মনের সকলি হয় যে নাশ!

দূর। দাড়ায়ে কবি, অদূরে অবাক্ কুসুম রয়েছে -বালিকা ভাতিয়া গিয়েছে পানে ! ছবি, নয়নে হৃদয় ছেয়ে, ধ্যানে ! কবি যে মগন নয়ন কবির বিধিল আকুল জানি স্বরূপ কবিরে ফুলের করিল কিসের সুবাস করিল -বাণে, হিয়া, প্রাণ। টানে, নিয়া, দান । আঁখিতে নিশাসে চলিল মাধুরী লুটিয়া বিজয়ী লুটি, বাস, কবি । ফুটি বাগানে মনের উঠিল হাস, ফুলের সােহাগ আদর সবি !

ফুপুর
নিয়েছে
কবিত
দেহটি
বোঁটার
রয়েছে
কাটায়
মন,
পড়ে
আঁটি !
নিলে সে
-ধন
কুসুম
-পূজার
হবে কি
তরে,
সে পূজা
খাটি।

সুর ।
নব আশা।
নব বরষের আগমনে আজ
নব আশা জাগে প্রাণে রে।
চারিদিক হতে কি সুখের তান
ভেসে আসে মাের কাণে রে।
ভরিয়াছে আজ আঁখিপুটে মাের
সুষমা-কাজল, বহে প্রেম-লাের
কাহার লাগিয়া, কে আজিকে যেন
গৃহ-পানে মােরে টানে রে!
নব ভাবে আজ ভরে ওঠে প্রাণ
নব অনুরাগে মাতি রে ।
অতীতের ঘাের তমসায় নাশি’
পােহাইল দুখ-রাতি রে !
এ বরষ হবে আরাে সুখময়,
সে যদি গাে মাের বুকে ফুটে রয়,
বাহুপাশে যদি স্বাধিবারে পারি
জীবন-মরণ সাথী রে !

অভিসার।
সে দিন রাতে তােমার সাথে
আমার অভিসার,
সকল কাজে
মনের মাঝে
পূর্ণ বিকাশ তার।
নয়নতারা
আলােক-ভরা
ঘুচায় তমােরাশি,
অনিনখানি
সুধার খনি
বড়ই ভালবাসি।
তােমার গানে আমার কাণে
লেগেছে যেই সুর,
তাহার রেশ
ঘুচায়ে ক্লেশ
পরাণ ভরপুর।
আজ ও সবি
প্রাণ-ফলকে আঁকা,
গােপন কথা
ভুলায়ে ব্যথা
এমনি রবে রাকা।
সুখের ছবি

দুপুর? বৈতরণী। আমি আমি আমি চিনি না আমার বাড়ী, ভুলিয়া গিয়াছি সব, কেমনে জমাব পাড়ি, বৈতরণী কলরব ? শুনি আমি অামি আমি কোথা চলে যাব শেষে, কিছু তার নাহি জানি, স্রোতজলে চলি ভেসে, কাহার আদেশ বাণী ? পেয়ে আমি আমি আমি চিনি না আপন জনে, ভুলেছি তঁাহারে আজ, পাব না কি সেই ধনে, মম সুখদ-হৃদয়-রাজ? y পাব তারে আমি পাব, আমি আমি আমি আজি রব না হেথায় আর, যাব তার কাছে যাব, হব বৈতরণী পার ।

পুর।
দুঃখ।
দুঃখ রে তুই ভাবি কেন
থানা আমার সাথে সাথে,
তুই যে আমার পরম বন্ধু
রাখব তােরে সদাই মাথে।
সুখের কোলে দোদুল দোলায়
দোল্ দিয়ে ভাই ভুলতে পারি,
জগৎপাতা পরম পিতায়
সকল জীবের দুঃখহারী ;
তাই বুঝি দুখ মাঝে মাঝে
অামায় নিয়ে কছ খেলা,
ভাসিয়ে দিয়ে হৃদয় মাঝে
জীবন-মরণ-তরণ ভেলা।
প্রাণের ভিতর দুঃখ আমার
জ্ঞানের প্রদীপ জ্বেলে দিলে,
শিখালে ভাই কেমন করে
মরণ-হরণ-চরণ-মিলে।

পুর।
মধুমাসে।
আজি মধুমাসে,
ফোটাফুল হাসে,
বুক ভরা বাসে,
'দুখজ্বালা নাশে।
আজি
ফুলদলে
ভ্রমরেরা চলে,
মধুপান ছলে,
কত কিছু বলে।
আজি ঋতুরাণী,
হাতে ফুলদানি,
মুখে মধুবাণী,
কত কাণাকাণি !
আজি উষা-প্রভা,
ঢল-চল শােভা,
অরুণিমা-আভা
অতি মনোলােভা।
আজি কুহুতানে,
মধুমাখা গানে,
উলসিয়া কাণে,
সুধা ঢালে প্রাণে।
আজি ব্ৰজকালা,
গলে দোলে মালা,
বৃকভানু-বালা
চিত করে আলা।

দুপুর। মিলন-দোলায়। ওই ঊষার মত ওই 17 ওই ই ওই আঁধারনাশী আমার জীবন প্রভাতে, মসী-বরণ কালােচুলের উছল উজল বিভাতে, সৌদামিনীর চমক-দেওয়া নয়ন-মণির সরসে, চাদের মত জ্যোৎস্না-ভরা আননখানির দরশে, বীণার মত রাগ-রাগিণী কণ্ঠ-সােহাগ ধ্বনিতে, জমাটবাঁধা প্রেম-রসের অধর-সুধার খনিতে, মূর্তিমতী ভালবাসায় বক্ষে পাওয়ার হরষে, শান্তি-সুখের নিঝরিণী পরাণ বধূর পরশে,- হিয়ার মাঝে সদাই যেন চলছে মধুর হােলিয়া, চিত্ত-চকোর যৌবনেতে খেছে দোদুল দোলিয়া। ওই ওই ওই ওই op পুর। মেঘ। বারীশে জনম লভি মলয়ের রথে চড়ি অপরূপ লীলা খেলা এই হাসি এই কাঁদা উপরেতে ঘন ডাক হেসে মেঘ যায় চলে কখন প্রেমের ভারে ফেলিছে ধরার বুকে স্বরগের যাদুকর ছুটে চলে আনমনে হাতে লয়ে রামধনু চপলারে বুকে লয়ে নয়ন আড়ালে দূরে মেঘ দিল নীল সাড়ী ঢেকেছে গগন মেঘে বিরসবদনা ধরা ভেদিয়া সে ঘন মেঘ তরুলতা নদনদী মায়াবী সে কালাে মেঘ ক্ষণে হাসে ক্ষণে কাঁদে আকাশের গায় গায়, কালাে মেঘ ভেসে যায়। প্রতিক্ষণে দেখি তার, বুঝিবে শকতি কার ? জীবগণ দিশে হারা, পড়ে না একটি ধারা। নীরবেতে আঁখি জল, করি তারে সুশীতল। কত মায়া আছে জানা, শোনে না কাহারাে মানা। পূরব গগনে ভাসে, থমকি চমকি হাসে। পাহাড় দাড়ায়ে আছে, মনে হয় কত কাছে। কোথা তার নাই ফাঁক, হারাইয়া সব জাঁক। তপন চাহিল হাসি, অমনি উঠিল ভাসি। কত তার লীলা খেলা, সাজায়ে প্রেমের মেলা।

অভিমান।
(১)
কালাে বরণের আলাের ছটায়
মােহিত হৃদয়খানি,
দিয়াছি তােমার চরণে সঁপিয়া
প্রেমিক রসিক জানি।
ও কালাে মুখের গুণ গুণ গান
শুনিয়াছি অবিরল,
বুঝি নাই হায় সকলি ছলনা
আশীবিষ হলাহল!
এতদিন পরে চিনিলাম তােমা
পরতে পরতে কালো,,
বাহিরে দেখাও যত ভালবাসা
ভিতরে আগুণ জ্বাল।
এ ফুলে সে ফুলে কত ছুটাছুটি
পিয়াসা না মিটে তবু,
এ বনে সে বনে কত গুণ, গুণ,
তিয়াসা মিটে না কভু।
চিনেছি ভ্রমর ! ভাল করে তােমা,
এস না আবার কাছে,
দূর হয়ে যাও, কুটীল হৃদয়!
ফিরে না কমল পাছে।
১০২

ফুপুর ।
(২)
কেন বিষাদিনী প্রিয় কমলিনী,
কেন এত অভিমান ?
কেন কালােরূপে বিরূপ হইলে
ভুলে গেলে গুণ গান?
প্রেমের সাধনা নহেত ছলনা
কেমনে যাইব ছাড়ি?
কালাে হৃদয়ের অত ভালবাসা
তুমি বুঝিলে না নারী !
যেথা সেথা যাই ফুলে ফুলে চাই
তাতে কেন অভিমান ?
ফিরি বনে বনে সদ। আনমনে
করি তব গুণ গান।
প্রেমে মাতােয়ারা পাগলের পার
করি সদা ছুটাছুটি,
ঘুরে
ফিরে আসি তােরি
বুকভরা মধু লুটি।
যতদিন কালাে রবে কাছে কাছে
চিনিবে না তারে ভালাে,
ছেড়ে গেলে সই বুঝিবে তখন
কত ভাল ছিল কালাে।
বুকে বসি

নূপুর শবরী। কবরী, কালোচুলে দেহখানি আঁখি দুটি কিঙ্কিনি রদ যেন মালিকা, ফুল যেন কুচকুচে ফুটফুটে ছলছল রিণিঝিনি ধবধবে আধফোটা ছুটাছুটি ঠণ্ঠ ঝটপট, চুপচাপ, গুরুগুরু দুরুদুরু ঝঝম্‌ থরথরি কোথা পিয়া ঝঝ ভেবে চলে এল কি না সরসর টুকটুকে পতি তার হানে শর দিনমণি মধুকর কালাে মেঘ হিয়া তার এল ঝড় কাপে সব পিয়াবলি ধনুশর সুন্দরী এল পতি দু’পা ফেলে বন্ধন সুন্দরী শবরী। জ্বলজ্বল জুলিছে, হেলেদুলে চলিছে। মুক্তার নিষাদের বালিকা। সারাদিন বনেতে, পশুবধ মনেতে। চলে গেল অচলে, ছেড়ে গেল কমলে। ঘনঘন ডাকিছে, থেকেথেকে কাঁপিছে। ঝরঝর বৃষ্টি, যায় বুঝি এখন ত এল না । রেখে কোল দিল না। কুটরের বাহিরে, জুড়াইতে আঁখিরে। এল ব্যাধ ছুটিয়া, বুকে নিল লুটিয়া। সৃষ্টি। বধূ তার

দুপুর।
দূরথেকে।
ফাগুনবনে আগুন মনে
উঠছে ফুটে ফুল,
দূরথেকে তায় আমার আলিঙ্গন।
মলয়-বায়ে প্রেম জানায়ে
ভাঙছি তাহার ভুল,
দূরথেকে তায় করছি ত চুম্বন।
আনন-প্রভা কানন-শােভা
করছে হৃদয় আলা,
দূরথেকে তায় স্নেহাভিনন্দন।
রূপরসেরি ভরগাগরী
আদর-সােহাগ-ঢালা
দূরথেকে তায় করছি ত বন্দন।
ঘুমের ঘােরে ভুলায় মােরে
বুকের সুধা ঢালি,
দূরথেকে তায় জানাই আকিঞ্চন।
চুপটি করে গোপন ঘরে,
প্রেমের আগুন জ্বালি’
দূরথেকে তায় ঢালছি ত ইন্ধন।
১০৫

দুপুর।
জীবন-মাঝে সকল কাজে
ফুলের লীলাখেলা,
দূরথেকে তায় সাতশত চুম্বন।
মরণ-পথে ফুলের সাথে
দোল দিয়ে যায় বেলা,
দূরথেকে তায় আমার আলিঙ্গন।
১০৬

নুপুর। প্রেমের পথে। শঙ্কিত বন্ধুর যৌবন সন্ধানি অতি ধীরে পথ হার্টি, -নদী-তীরে প্রেম-বাটী। -বনশােভা পর্বত সুন্দরী বাঞ্ছিত মন্দির ফুলবালা, মনােলােভা করে আলা। উচ্ছল অন্তর জল রাগে ওঠে ভরি, পুরােভাগে প্রেম-তরী । অক্ষির চঞ্চল সাথে ধীরে সঙ্গিনী নৌকাতে যৌবন উল্লাসে উঠি হাসি, -স্রোত-নীরে চলি ভাসি। ১০৭

পুর।
ফাগুন-বিরহে।
উতলা কোয়েলা আজি এ ফাগুনে কি যেন গাহে।
কত কুহুকুহু বসি তরুশাখে,
প্রাণঢালা সুরে কারে যেন ডাকে,
কেহ শুনিল না,
ভালবাসিল না,
বৃথা উকি ঝুকি তাই পাতা ফাকে,
আকাশ-বাতাস করি ছুটাছুটি কি যেন চাহে !
ফুটি ফুলবালা আজি এ ফাগুনে কি যেন মাগে!
উজলিয়া দিশি রূপসী বিজনে,
দোল দিয়ে বুঝি ডাকে প্রাণধনে,
কেহ আসিল না,
ভালবাসিল না,
বৃথা ডাকাডাকি বসি গৃহ-কোণে,
বিরহ-বিধুরা পরাণে আজিকে কি আশা জাগে !
১১০

সিত জলধারা আজি এ ফাগুনে কি যেন যাচে।
সুশীতল বারি আবরিয়া বুকে,
গায় অবিরাম কুলু-কুলু মুখে,
কেহ জানিল না,
কাছে টানিল না,
বৃথা হ'ল গান তার মনােদুখে,
মনের আগুনে এ মধু ফাগুনে ছেড়েছে নাচে।
কোকিলার ডাকে আজি এ ফাগুনে কে আসে ছুটি।
কালাে বরণের আলাের ছটায়,
ফুলবালা পানে কে আজি কে ধায়।
কে লইবে টানি,
আপনার জানি;
প্রেম জলধারা পুলকিত কায় ।
কোয়েল কুসুম তটিনী সােহগে পড়িবে লুটি!

ফুপুর । সই। সকল কষ্ট সই দিল মাের তাই হেথা আজ সই ঢেলে দিল তাই দেহ-মন সই দিল মাের তাই ভুলে গেছি সই এসে কাছে তাই মনােমাঝে সই এল কাছে তাই উজলিল সই এসেছিল তাই ছুটে যায় সই এসে মােরে তাই চলিয়াছি অক্ষিযুগলে মধু অঞ্জন মাখি, নির্জনে বসি সুন্দর ছবি আঁকি। কর্ণকুহরে সঙ্গীত-সুধা রস, বাঙ্কারে আজি পুলক তন্দ্রালস। অঙ্গে বুলায়ে কোমল হস্তখানি, নিন্দা সকল গ্লানি। মঞ্জু হাসিয়া চঞ্চল চোখে চায়, উচ্ছল-ছল বিদ্যুৎ খেলে যায়। দীপ্ত উষার লাবণ্য-প্রভা সাথে, অন্তর মম শান্তি-আলােক পাতে। কঞ্জন-বধূ -খঞ্জন-অভিসারে, মুক্ততরণী যৌবন-নদী-ধারে। বক্ষে তাহার আস্তে লইল টানি, কল্লোলে ভাসি কোন্ দিকে নাহি জানি। ১১২

নূপুর ।
কলিকা।
খুলে যায় কলিকার
পাপড়ির বন্ধন :
গগয়ে যায় কাণে তার
মালয়ের ছন।
দেহে তার মাখা বুঝি
শিশিরের চন্দন,
বালারুণ
দীপ ধরে
করে তার যন্দন।
ছুটে আসে মধুলিহ
মুখভরা
পুলকিত ফুলবালা
পেয়ে প্রেম-চুম্বন।
ক্রমে ক্রমে ভরপূর
প্রীতিরসে অন্তর,
মদলিসে টলটল
বিধাতারি মন্তর।
তারপর থেমে যায়
প্রণয়ের উচ্ছ্বাস,
ঢলে পড়ে ফুলবালা
পেয়ে কার নিশ্বাস ।

দুপুর।
যৌতুক।
৫
বিয়ের যতুক
যা পেয়েছি
সাতটি রাজার ধন,
সাগর-সেচা
মাণিক-মালা
মিলন-দোলার পণ।
কৃষ্ণ কেশর হীরার খনি
পেয়েছি সই মাথে,
সূৰ্য্যমণির
প্রদীপ-লেখা
বধূর আঁখিপাতে।
পদ্মরাগের
উজল ছটা
কপােল করে শােভা,
চন্দ্রমণির
রঙ,-ফলান
অধর মনােলােভা।
আননখানি
সােণার খনি
বরকে-দেওয়া ধন,
জীবন-পথের
পাথেয় তাই
বিয়ের পাওয়া পণ।

ফুপুর। কল্লোল। কঞ্জল উচ্ছল স্বচ্ছল কুঞ্চিত ছলছল হাসিভরা কেশদাম পরােধর অঞ্চিত কম্পিত মৌক্তিক মধুমাল বিম্বিত অঙ্কিত শঙ্কিত কুণ্ডল সুন্দর সিন্দুর চঞ্চল পুষ্পিত চিহ্নিত মন্দগ নৰ্ত্তিত কুষ্ঠিত সুধাধর কুট্টিম মধুলিহ . যুগ অাখিতার। চৌদিক ঝলমল কর্ণের হেমহার অঙ্গেতে ললাটিকা লাঞ্ছিত বাহুলতা সঞ্চালি ভামরস গণ্ডের মনসিজ অক্ষির পাদযুগ মন্থর কটিদেশ কঞ্জন কুহুকুহু শ্ৰীকণ্ঠ বলয়ার নিক্কণ নয়ানে বয়ানে, শিরসি, উরসি, প্রভাতে, শােভাতে, বিহারে, নিহারে,- খেলান, দোলনা, কপালে, দোদুলে, লালিমা, কালিমা, গমনে, রমণে, ধ্বনিতে, রণিতে, হাসিয়া, ভাসিয়া। ভরে ওঠে যৌবন মন্তরে কল্লোলে ভাদরের

মুক্তকলি।
বন্ধনে বাঁধা রব না ত আর
সকল বাঁধন
এ কারা-যাতনা সহে না ত আর
ফুটব আমরা ফুটব।
রবির কিরণ বুকেতে ধরিয়া,
মুকতি-মন্ত্রে উঠিব ভরিয়া,
ছিড়ে ফেলে দিব পটল-বাঁধন
এবার জাগিয়ে উঠবে।
প্রাণের ভিতর ফুকারি উঠিছে
বাঁধন-বেদনা-ক্রন্দন,
শৃঙ্খল-ধ্বনি ঐ রিণিঝিনি
তুলিছে বেহাগ-ছন্দ!
কোথা রবির এস না হাসিয়া,
বন্ধন-ডাের যাক না খসিয়া,
টয়া উঠুক হৃদয়ে মােদের
স্বাধীনতা-সুখ-স্পন্দন।
১১৬

দুপুর ।
লভিৰ শকতি উঠিব মাতিয়া
মাতাব জগৎ গন্ধে,
মােদের বারতা বহিবে বাতাস
রটিবে পরমানন্দে।
চির-দিন তরে নহে এ বাঁধন,
হবে অবসান হতাশ-কাদন,
টুটিব, ফুটিব, উঠিব জাগিয়া
মুকতি-মাতন ছন্দে

দুপুর ।
নীলিমা।
;
স্বরগ হতে মন্দাকিনী নামিয়া এল ধরাতে,
দু'কূলে শােভে নন্দন-বন-লালিমা ;
পুণ্যসলিল উথলে উঠি শূন্য-পথ ভরাতে,
সৃষ্টি হলে পুণ্যরাণী নীলিমা।
আদরে তােমা বরিয়া নিল চন্দ্র-তারা সকলে,
বিলিয়ে দিল তাদেরি কিছু অনিমা,
হাসিয়া ধীরে আসিল ঊষ বােধিতে তােমা অকালে,,
ভরায়ে দিল তাহারি চারু শােণিমা।
চপলা এল ছুটিয়া কাছে হাসিয়া গেল পালায়ে,
রাখিয়া গেল তাহারি মধু গরিমা,
দখিণা তােমা ব্যজন করে আচলখানি চালায়ে,
লভিলে তুমি তাহারি মৃদু ভরিমা।
কমলা তােমা তুলিয়া নিল ধরিয়া পাণিকমলে,
ভারতী দিল ভরায়ে তারি সিতিমা,
শােভিলে তুমি ভাসিলে তুমি হাসিলে তুমি অমলে!
মানসে যেন বিরাজে দেবী-প্রতিমা।
১১৮

সুপুর।
সুধী-আহ্বানে। #
বঙ্গ-জননী-সুধী-সন্তান বাণী-কল্যাণী-পূজারীদল !
আজি পূর্ণিমা-পুণ্য-আরতি,
পুলকাঞ্চিত বঙ্গ-ভারতী,
রসােপন্যাস-কাব্যসারথি গীর্বাণসেবী বাঙ্গালী-বল ।
মধুপূর্ণিমা-হিন্দোল-দোলে,
প্রেম-উচ্ছ্বাস-সঙ্গীত-রােলে,
জ্ঞান-অঞ্জন-শলাকা-বিদ্ধ উদ্ভাসি আজি এ গৃহতল ।
पन
म
म
নন্দন-বন-সুরগিন্ধ-অন্তরভরা অতিথিগণ।
কবিতা-অর্ঘ্য-প্রীতি-চন্দনে,
কুহু-গুঞ্জন-মধুছন্দনে,
কল্পনা-সাথী-প্রেম-বন্দনে হৃদয়-মঞ্চে ভাবুকজন।
নিঝর-ঝরা-রভস-রঙ্গে,
নৰ্ত্তন-তাল-বীচি-বিভঙ্গে,
ভাব-চঞ্চল রস-বিহ্বল উচ্ছল-ছল হে মহাজন।
म
* বাসন্তী পুর্ণিমায় জগন্নাথহল সাহিত্য-সম্মিলনে পঠিত।
১১০

এস
এস
সম্মিত চারু দীপ্ত-আনন জ্ঞান-প্রােজ্জ্বল প্রেম-নিধান!
গােপীবল্লভ-কিশােরী সঙ্গে,
হলাদিনী-শক্তি-আবির অঙ্গে,
মাধবীকুঞ্জ-বাঞ্ছিতজন-মিলনােল্লাস-বশিরীন।
জ্যোমিেল ভাববান্ধব,
চূত-মঞ্জরী-রস-সম্পদ,
চির-যৌবন-কুহ-শিঞ্জিত মধুঞ্জিত ফাগুয়াগান।
এস
এস
তমখণ্ডন-চিতমগুন-চিরকাঙ্ক্ষিত প্রেমিকদল !
নিত্য নূতন আদর্শ গড়ি,
নবােন্দীপনা সৰ্জন করি,
মুফতি-মন্ত্রে-জীক্ষিত কৃতি জাগাতে বঙ্গ প্রদানি বল।
কণ্ঠ-বীণার মধু ঝঙ্কারে,
আৰ্যজাতির প্রেম-কারে,
বাণী-উদ্যান-মালী-আহ্বানে সাহিত্যসেবী এ গৃহতল।

পুর।
মালী।
আয় বুকে মাের বাগানের মালী,
তুই মাের প্রিয় ভাই,
তোর সাথে আজ দিয়ে কোলাকুলি
সব জ্বালা ভুলে যাই।
দিবানিশি তুই কতনা যতনে,
ফুটাইলি গাছে কুসুম-রতনে,
সে ফুলের হাসে বুকভরা বাসে
তাের কোন আশা নাই।
ভোগ বিলাসের মাঝে করি বাস
তাের কোন সাধ নাই।
বাগানের কাজে সদা মুখে হাস
দেখে বলিহারি যাই।
প্রাণঢালা তাের আদর-সােহাগে,
ফুটাইলি ফুল নব অনুরাগে,
মনে কি রাখিবে তাের কথা সবে
দূরে যদি যা ভাই।

নুপুর -
তােরি মত যেরে বাগানের মালী
আমি গাছ পুতে যাই।
মানবের মনে ফুটাইয়া ফুল
লাভ কিছু নাহি চাই।
ঢালি সেহরস ঐ ফুলদলে,
সাজায়ে চলেছি রঙিন নিচোলে,
আমি চলে গেলে সুদূরের পথে
স্মৃতিটুকু বুবি নাই !
১২২

ধুর ?
বাণী-সেবা
উলসিত মনে
বাণী-মধুপনে
অতি মনােরম
সেই বনমাঝে
বাণী-দেবতার
সুমধুর কম
মধু ফুল-সাজে
ফুটে আছে কত ফুল,
নাহি তার সমতুল ;
আমি যেন ফুটে রই,
পরিমল ভার
পুলকিত চিতে বই।
কত শত নেয়ে চলিয়াছে বেয়ে জীবন-তরণীখানি,
বাণী-দরিয়ায় কল্পনা-বায় ধরিয়াছে পাল টানি;
আমার জীবন
বাহিতে তাদেরি মত,
দরিয়ার মাঝে কবি-নেয়ে সেজে সদা প্রেম-গানে রত।
চাহি অনুখন
ফুলসম ফুটি
হাসি কুটিকুটি তারি ক্ষণকাল পরে,
বিতরি এ হাস বুকভরা বাস
ধীরে যদি যাই ঝরে,
তরণী বাহিতে নাচিত গাহিতে যদি ঘুমে ঢুলে পড়ি,
বাণী-পদত সেবকের দল নিবে মােরে পার করি।

No text on this page.

পুর বর্ণানুক্রমিক সূচী। অন্ধকারের অন্ধকারায় বন্ধ আমি থাকব না, অমানিশার অাধারঘেরা হৃদয়-আকাশখানি, মৃতের বরপুত্র! বড় শুভক্ষণে আজ কেন তাের এমন দশা সই ০৫ ০ ১১, ০ ! আজি মধুমাসে ৩। ০ ০ ০ ০ ২. • • • . . . ৭৮ • • • ১২১ আপন মনে মলয় ৰায়ে উঠছে ফুটে ফুল আমার চোখের মেধাঞ্জনে রূপের ঝিলিক লেগে আমি চিনি না আমার বাড়ী আমি যখন সাঁঝের বেলা মনের বনে ফুল তুলি আমি শৈশবে কত ভাবিয়াছি তােমা “আয় চাদ আয়” বলে আমি বরগের পূত মন্দাকিনী কঠিন পাষাণ-বুকে “আয় চাদ আয় চাদ’-তবু চাদ আসে না আয় ফিরে আয় চরকারাণী বাংলা তােরে চায় আয় বুকে মাের বাগানের মালী তুই মাের প্রিয় ভাই উচ্ছল ছলছল কজ্জল নয়নে উতলা কোয়েল৷ আজি এ ফাগুনে কি যেন গাহে এস পূরব-গগন-রক্তিমরাগ-রঞ্জিত উষা-বেশে এস বঙ্গজননী-সুধীসন্তান বাণীকল্যাণী-পূজারীদল এস শীতঘনকম্পিত ভয়ভীতিশঙ্কিত জগজীবনন্দিত হে ঐ এল সই বাসন্তিকা বধূর বেশে ঐ চলে যায় ঐ নেৰে যায় ঐ ডুবে যায় নদীর জলে ওই উষার মত আঁধারনশী আমার জীবন-প্রভাতে ওই এল বুঝি বরষা ওই নন্দনবন চন্দনবাস অন্তর ভরপুর ৫ . . • * ১২ ৪ ৮ । । ৫ ১২৫ ৮৬ ১০ ৮২ ১৪ ১০৪ ৪ ০ २8 ১৬ ০ ০ ০ ৪২ ০ ওই বসিয়াছে হাট ক’টা কথা শােন না, এস নং-গিন্নী কদম-কেতকী-কামিনী-কুসুমে. সুরভে তােমার রয়েছে ভরি কালাে বরণের আলাের ছটায় মােহিত হৃদয়খানি কি সিন্দুর কি মধুর ছোট ছােট শিশু গুলি কী আশাতে বসন্তের ঐ ফুলগুলি সব উঠছে ফুটে কুচকুচে কালাে চুলে বন্ধন কবরী কৃষ্ণ মেঘের ঢেউ খেলে যায় সখীর মাথে কে তুমি শ্যামল আকাশের গায় ধীরে ধীরে ভেসে যাও কেমন করে কবে বলতে মােরে হবে কোন্ প্রেমিকের বন্দনাতে দখিণ হাওয়া বইছে রে খুলে যায় কলিকার পাপড়ির বন্ধন গুরুশিষ্ট-আশ্রমশিলা-সংঘাত স্ফীতকায় চলতে পথে অনেকবারই উছটু খেয়ে পড়তে যাই চামেলী বকুল দুই বাড়ীতে দুইটি ছােট মেয়ে ছুটল আমার প্রেমের তরী পাল তুলিয়া জড়িয়ে আমি গিয়েছি সখি তােমানি চারু চিকুরে জন্ম হলেই মরতে হবে জীর্ণ বয়স গীৰ্ণ ভাবনা কীর্ণ সকল দুখে ঝুমুর ঝুমুর ঝুমকো-নূপুর বাজছে নব-বধূর পায় ঢলঢলে মুখখানি লাখ ইন্দু তােরে যে কব বিয়ে বুঝলি হেনা ! দীর্ঘ তপস্যার পরে, আজি এ মিলন রাত্রে দুঃখ মানুষ সইতে পারে দুঃখ যে তার নিত্যসাথী দুঃখ রে তুই ভাবিস কেন দেহের মাঝে কে যেন চাহে ফুটিতে ৮ ৩ ৪১ ••• ও ৫ ৭ ০ ০ ০ ও ৮ ৮ २० ০ ০ ০ ৯ ৮১ ৯৮ শুধুর। ০ + ০ ৭৪ ••• ৮৯ ৮৪ এ এ . ধন্য সতী পতিব্রতা সূর্যমুখী তুই? ধীরে অতি ধীরে উড়ে ঘুরে ফিরে কত কি যে গেয়ে যায় অলি নব বরষের আগমনে আজ নব আশা জাগে প্রাণে রে ... নয়নসিক্ত বসনরিক্ত শীতকম্পিত ধরণী নিদয়-পাষাণ-নিঠুর-হিয়ায় বাঁধলে মােরে যেই নীলাচল পর্বতের সর্বোচ্চ শিখরে পরের ঘরে চলিনু সখি করিতে পরে আপনা পাগল হলে আবল তাবল সবাই বকে থাকে পুষ্পরাণীর কন্যা তুমি নাম রজনীগন্ধ। পূর্ণিমা মধুরাতে কল্পনা বধূসাথে হিন্দোল ফাগুন বনে আগুন মনে উঠছে ফুটে ফুল ফুটে ওঠে ফুলবালা অপরূপ সৃষ্টি বঙুল-বসন্ত-কুঞ্জে মুঞ্জরিত সুখ-আশা ‘বড় বেশী বােঝা যাচ্ছে এও কি হল কবিতা? বন্ধনে বাঁধা রব না ত আর সকল বাঁধন টুটব বন্ধু আমার ভুলেই আমায় আছে বন্ধু যে আর কয় না কথা আমার সাথে বাগানে ফুটেছে ফুল বাণী মধুবনে উলসিত মনে ফুটে আছে কত ফুল বান্ধববিহীন যেই কোথা তার সুখ বারীশে জনম লভি আকাশের গায় গায় বিয়ের যতুক যা পেয়েছি সাতটি রাজার ধন বিরহের ব্যথা নাহিত আমার ভাদরের ঐ ভরা নদী উথলে ওঠে কূল ভালবাসি নিশাশেষে শুকতারা মধুহাসি ভিখারিণী বেশে আসিয়াছি নাথ। ৫০ এ ৫ ও ১০ ১১৪ ৪ * ০ ০ ৬৪ ৪৭ ১০৮ ১২৭ ৱ ০ ০ ০ ••• ০ ০ ০ ••• ৭ং | ০ ০ ০৪ ১১২ মত যৌবনকুঞ্জে চিত্ত-মধুর মনে যা কম করে বলাে না মুখ ফুটে মনে হয় ঐ গালেকভরা উষায় বুকে জড়িয়ে ধরি মুখে কিছু বলে না সে তবুও যে ভালবাসে শঙ্কিত অতি ধীরে বন্ধুর পথ হাটি শরতের শাক মিস করি পান শিশু যেমন ধূলাখেলায় ক্ষণেক মজে থাকে শৈশব-সুঠাম- কুসুম-কোরকে সই দিল মাের অক্ষিযুগলে মধু অঞ্জন মাখি সজনী মনের ভুলে ঘােষ্টা খুলে দোদুল দুলে আসছেরে... সমুদ্র-মনােৰ ইন্দিরার সম সান্ধ্য আঁধার ঘনিয়ে এল মলিন করি প্রাঙ্গণে সে ত বাসে না আমারে ভাল সেদিন রাতে তােমার সাথে আমার অভিসার সে যে মুখ-আশা-মণ্ডিত উজ্জ্বল ধ্রুবতারা বগ হতে মন্দাকিনী নামিয়া এল ধরাতে বর্গচ্যুত দেৰবাৰা অষ্টার বিধানে হারাইয়া রাজ্যপাট হারাইয়া ধনজন ••• ০ ০ ০ ৫৪ ... ১১ ১২৮

No text on this page.

No text on this page.

No text on this page.

Nupur

Author
Dutta,debendranath
Title
Nupur
File name
Nupur
Text
OCR done
Citation
1927
Published
2009/12/6
Publisher
Fanindranath Dutta,dhaka
Language
Sanskrit
Pages
144
Library
Bangiya Sahitya Parishad, Kolkata
Classification
Bengali Poetry
Keywords
Dutta,Debendranath
DLI number
513006
Barcode
4990010020025.00
Scanning centre
C-DAK, Kolkata
Digital publisher
Digital Library Of India
Rights
In Public Domain
VMLT id
SkYH2Urd7uJ
Download PDF

Nupur